(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: -)
أحوال المحتضر   (محمد عبد العزيز أحمد العلي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: أحوال المحتضر

المؤلف: محمد عبد العزيز أحمد العلي

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة 36 العدد 124 - 1424هـ.

عدد الصفحات: 158

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মৃত্যুপথযাত্রীর অবস্থা   (মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ আহমদ আল-আলী)

বিভাগ: ফিকহি মাসয়ালাসমূহ


গ্রন্থ: মৃত্যুপথযাত্রীর অবস্থা

লেখক: মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ আহমদ আল-আলী

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: ৩৬তম বর্ষ, ১২৪ সংখ্যা - ১৪২৪ হিজরি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৬৯)
ال‌‌مقدمة

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.

أما بعد..

فإن معرفة الاحتضار ودراسة أحوال المحتضر، الثابتة في كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، من أصول الإيمان عند أهل السنة والجماعة، التي بمعرفتها والإيمان بها يحصل صلاح الباطن المترتب عليه صلاح الظاهر واستقامة السلوك، وقد لحظت خلو المكتبة الإسلامية من كتاب يحقق أحوال المحتضر، فيثبت ما ثبت في النصوص الشرعية، ويترك ما لم يثبت في مصدري التلقي، فلم تفرد ـ حسب علمي ـ أحوال المحتضر، مع أهميتها العقدية والشرعية، في كتابة مستقلة محققة، وإنما وجدت منثورة في بعض الكتب التي تحدثت عن الموت واليوم الآخر، ودون تحقيق وتمحيص، يثبت ما أثبته الشارع من تلك الأحوال، ويستبعد ما يذكره بعض الوعاظ والقصاص من الأمور التي ليس لها سند من كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم؛ ولذا عقدت العزم على جمع مسائل هذا الأمر العظيم، وتحقيقها، إسهاماً في نشر عقيدة أهل السنة والجماعة، وزيادة في نشر العلم الشرعي، وعظة وعبرة لأولي الألباب.

وقد بدأت هذا البحث بمقدمة ذكرت فيها أهمية الموضوع وأسباب اختياره إجمالاً، ثم كتبت تمهيداً عرفت فيه بألفاظ الاحتضار والموت والوفاة، وبينت فيه أن الموت حق لازم لكل مخلوق.

وبعد ذلك قسّمت البحث إلى عشرة مباحث.

تحدثت في المبحث الأول عن سكرات الموت وغمراته، وجعلته في ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: في تعريف السكرات والغمرات.

المطلب الثاني: في الأدلة من الكتاب والسنة على سكرات الموت وأقوال بعض أهل العلم في ذلك.
ভূমিকা (المقدمة)

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর।

অতঃপর...

নিশ্চয়ই মৃত্যুযন্ত্রণা (احتضار) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং মৃত্যু পথযাত্রীর অবস্থাসমূহ নিয়ে গবেষণা করা—যা মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণিত (ثابت)—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট ঈমানের অন্যতম মূলনীতি (أصول الإيمان); যা অবগত হওয়া ও তার ওপর ঈমান আনার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সংশোধন অর্জিত হয়, যা বাহ্যিক সংশোধন ও আচরণের অবিচলতাকে (استقامة) ত্বরান্বিত করে। আমি লক্ষ্য করেছি যে, ইসলামি লাইব্রেরিগুলো এমন কোনো কিতাব থেকে শূন্য যা মৃত্যু পথযাত্রীর অবস্থাসমূহকে বিশ্লেষণ (تحقيق) করে; অর্থাৎ যা শরয়ি পাঠসমূহে (نصوص شرعية) প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে তা সাব্যস্ত করবে এবং যা গ্রহণের এই দুটি উৎসে প্রমাণিত (ثابت) হয়নি তা বর্জন করবে। আমার জানা মতে, মৃত্যু পথযাত্রীর অবস্থাসমূহকে—এর আকিদাগত ও শরয়ি গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও—স্বতন্ত্র ও সম্পাদিত (محققة) কোনো রচনায় আলোচনা করা হয়নি। বরং এগুলোকে মৃত্যু ও পরকাল সংশ্লিষ্ট কিছু কিতাবে বিক্ষিপ্তভাবে পাওয়া যায়, যা পর্যাপ্ত বিশ্লেষণ (تحقيق) ও সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই (تمحيص) ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে; যেখানে বিধানদাতা (শারেই) কর্তৃক সাব্যস্ত হওয়া বিষয়গুলো সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং কতিপয় ওয়ায়েজ ও কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনাকারীদের উল্লিখিত ভিত্তিহীন বিষয়গুলোকে বর্জন করা আবশ্যক ছিল, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহতে যার কোনো সনদ (سند) নেই। তাই আমি এই মহান বিষয়ের মাসআলাসমূহ একত্রিত ও তা বিশ্লেষণ (تحقيق) করার সংকল্প করেছি, যাতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা প্রচার ও শরয়ি ইলম প্রসারে অবদান রাখা যায় এবং যা বুদ্ধিমানদের জন্য উপদেশ ও শিক্ষা স্বরূপ হয়।

আমি এই গবেষণাটি (بحث) একটি ভূমিকা (مقدمة) দিয়ে শুরু করেছি যাতে বিষয়ের গুরুত্ব এবং এটি নির্বাচনের কারণসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর আমি একটি প্রারম্ভিকা (تمهيد) লিখেছি যেখানে মৃত্যুযন্ত্রণা (احتضار), মৃত্যু (موت) ও ইন্তেকাল (وفاة) শব্দগুলোর পরিচয় প্রদান করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে, মৃত্যু প্রতিটি সৃষ্টির জন্য এক অনিবার্য সত্য।

এরপর আমি গবেষণাপত্রটিকে দশটি পরিচ্ছেদে (مباحث) বিভক্ত করেছি।

প্রথম পরিচ্ছেদে (المبحث الأول) আমি মৃত্যুর যন্ত্রণা (سكرات الموت) ও এর তীব্রতা সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং একে তিনটি অনুচ্ছেদে (مطالب) বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): মৃত্যুর যন্ত্রণা (سكرات) ও তীব্রতার (غمرات) সংজ্ঞায়ন।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): কিতাব ও সুন্নাহ থেকে মৃত্যুর যন্ত্রণার স্বপক্ষে দলীলসমূহ (أدلة) এবং এ বিষয়ে একদল উলামায়ে কেরামের বক্তব্য।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৭০)
المطلب الثالث: بيان أن سكرات الموت تحصل لكل المخلوقات، وأنها تختلف في درجة الإحساس بها.

المبحث الثاني: تحدثت فيه عن وصف حال توفي الملائكة الكفار.

المبحث الثالث: كتبت فيه عن حضور الملائكة مع ملك الموت لقبض الروح وتبشيرهم المحتضر، وفيه ثلاثة مطالب.

المطلب الأول: ذكرت فيه أن مع ملك الموت ملائكة يعاونونه في قبض الروح.

المطلب الثاني: بيان بشارة الملائكة المؤمن برضوان الله ورحمته، وفرحه بذلك.

المطلب الثالث: بيان بشارة الملائكة الكافر بالعذاب.

المبحث الرابع: تحدثت فيه عن انقطاع التوبة بحضور الموت.

المبحث الخامس: بينت فيه أن العبد يطلب الرجعة إلى الدنيا عند الاحتضار.

المبحث السادس: تكلمت فيه عن حضور الشيطان عند العبد لإغوائه عند الاحتضار.

المبحث السابع: ذكرت فيه مشروعية تلقين المحتضر: لا إله إلا الله وقول الخير عنده.

المبحث الثامن: تحدثت فيه عن وجوب إحسان الظن بالله تعالى وبخاصة عند الموت.

المبحث التاسع: تحدثت فيه عن تخيير الأنبياء بين الحياة والموت.

المبحث العاشر: بينت فيه أن الأعمال بالخواتيم، وفيه ثلاثة مطالب.

المطلب الأول: الأدلة على أن الأعمال بالخواتيم.

المطلب الثاني: حسن الخاتمة وأبرز علاماتها.

المطلب الثالث: سوء الخاتمة وأبرز أسبابها.

ثم ختمت هذا البحث بخاتمة ذكرت فيها خلاصته وأهم فوائده إجمالاً.

أسال الله إخلاص النية وصلاح العمل
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মৃত্যুযন্ত্রণা সকল সৃষ্টির জন্যই অবধারিত এবং তা অনুভবের তীব্রতায় ভিন্নতর হয়ে থাকে—তার বর্ণনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি কাফিরদের জান কবজের সময় ফেরেশতাদের অবস্থার বিবরণ নিয়ে আলোচনা করেছি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি রুহ কবজ করার জন্য মালাকুল মউতের সাথে ফেরেশতাদের উপস্থিতি এবং মুমূর্ষু ব্যক্তিকে তাদের সুসংবাদ প্রদান সম্পর্কে লিখেছি; এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: এতে আমি উল্লেখ করেছি যে, মালাকুল মউতের সাথে এমন কিছু ফেরেশতা থাকেন যারা রুহ কবজ করার কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মুমিন ব্যক্তিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমতের সুসংবাদ প্রদান এবং তাতে তার আনন্দিত হওয়ার বর্ণনা।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: কাফির ব্যক্তিকে আজাবের সুসংবাদ প্রদানের বর্ণনা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এতে আমি মৃত্যুর উপস্থিতিতে তাওবার দ্বার রুদ্ধ হওয়া সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: এতে আমি বর্ণনা করেছি যে, মুমূর্ষু অবস্থায় বান্দা পুনরায় দুনিয়াতে ফিরে আসার আকুতি জানায়।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এতে আমি মুমূর্ষু অবস্থায় বান্দাকে পথভ্রষ্ট করার জন্য শয়তানের উপস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: এতে আমি মুমূর্ষু ব্যক্তিকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' তালকিন করা এবং তার উপস্থিতিতে উত্তম কথা বলার বিধান সম্পর্কে উল্লেখ করেছি।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: এতে আমি মহান আল্লাহ সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করার আবশ্যকতা সম্পর্কে আলোচনা করেছি, বিশেষ করে মৃত্যুর সময়।

নবম পরিচ্ছেদ: এতে আমি নবীদের জীবন ও মৃত্যুর মধ্য থেকে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ প্রদান সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

দশম পরিচ্ছেদ: এতে আমি বর্ণনা করেছি যে, আমলসমূহ শেষ পরিণতির ওপর নির্ভরশীল; এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: আমলসমূহ শেষ পরিণতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সপক্ষে দলিলসমূহ।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: উত্তম সমাপ্তি এবং এর প্রধান লক্ষণসমূহ।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মন্দ সমাপ্তি এবং এর প্রধান কারণসমূহ।

অতঃপর আমি এই গবেষণাপত্রটি একটি উপসংহারের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি, যেখানে এর সারসংক্ষেপ এবং গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলো সামগ্রিকভাবে উল্লেখ করেছি।

আমি আল্লাহর নিকট নিয়তের একনিষ্ঠতা এবং আমলের সংশোধন প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৭১)
‌‌التمهيد

1-‌‌ تعريف الاحتضار ـ الموت ـ الوفاة.

2- الموت حق لازم لكل مخلوق.

تعريف الاحتضار:

الحضور: نقيض المغيب والغيبة، يقال: حَضَر الرجل يَحْضُرُ حُضُوراً وحِضَارة، ويعدّى فيقال: حَضَرَه، يَحْضُرُهُ، وأحْضَرَ الشيء وأَحْضَرَه إياه، وكان ذلك بِحَضْرَةِ فلان وحِضْرَته وحُضْرَتِهِ، وحَضَرِه ومَحْضَرِه، وكلّمته بِحَضْرَةِ فُلان وبمَحْضَرٍ منه، أي بمشهد منه.

وحَضْرَةُ الرجل: قُرْبه وفِناؤه، والحَضْرة: قرب الشيء، يقال: أُكْرِم فلانُ بِحَضْرة فلان وبمَحْضَرِه، ويقال: حَضَرَت الصَلاة.

ورجل حَضِرٌ وحَضُرٌ: يتحيّن طعام الناس حتى يَحْضُرَه، تقول العرب: اللبن مُحْتضِرٌ ومَحْضُوْرٌ فَغَطِّه: أي كثير الآفة، يعني يحتضره الجنّ والدواب وغيرها.

وقوله تعالى: {وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ} 1 أي: أعوذ بك من حضور الشياطين في شيء من أمري2.

وحضره الهمُّ واحْتضره وتَحَضّرَه إذا نزل به.

وحُضِر المريض واحْتُضِرَ إذا نزل به الموت3.

نخلص مما سبق إلى أن الاحتضار هو حضور الموت ونزوله بالعبد.

--------------------------------------------

1 سورة (المؤمنون) ، الآية 98.

2 انظر تفسير القرآن العظيم 3/247.

3 انظر لسان العرب 1/658، 659.
ভূমিকা

১-‌ মৃত্যুযন্ত্রণা (احتضار), মৃত্যু ও ইন্তেকালের সংজ্ঞা।

২- মৃত্যু প্রতিটি সৃষ্টির জন্য এক অনিবার্য সত্য।

মৃত্যুযন্ত্রণা (احتضار)-এর সংজ্ঞা:

উপস্থিতি (حضور): এটি অনুপস্থিতি বা অদৃশ্যের বিপরীত। বলা হয়: ব্যক্তি উপস্থিত হয়েছে, সে উপস্থিত হচ্ছে, তার উপস্থিতি ও অবস্থান। ক্রিয়াটি সকর্মক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যেমন: সে তার নিকট উপস্থিত হয়েছে, সে তার নিকট উপস্থিত হচ্ছে, সে কোনো বস্তুকে উপস্থিত করেছে এবং সে তাকে সেটি উপস্থিত করিয়েছে। এটি অমুকের সান্নিধ্যে বা উপস্থিতিতে এবং তার সামনে বা চাক্ষুষ উপস্থিতিতে ঘটেছে। আমি তার সামনে কথা বলেছি, অর্থাৎ তার উপস্থিতিতে বা তার চাক্ষুষ সাক্ষ্যতে।

ব্যক্তির 'হাদরাহ': তার নিকটবর্তী স্থান বা আঙিনা। আর 'হাদরাহ' মানে কোনো কিছুর নৈকট্য। বলা হয়: অমুককে অমুকের সান্নিধ্যে বা উপস্থিতিতে সম্মানিত করা হয়েছে। একইভাবে বলা হয়: নামাজের সময় হয়েছে বা নামাজ উপস্থিত হয়েছে।

যে ব্যক্তি মানুষের খাবারের সময়ের অপেক্ষায় থাকে যাতে সে সেখানে উপস্থিত হতে পারে, তাকে 'হাদির' বা 'হাদুর' বলা হয়। আরবরা বলে: দুধ হচ্ছে 'মুহতাদার' (محتضر) বা 'মাহদুদ' (محضور), অতএব তা ঢেকে রাখো। অর্থাৎ এটি অধিক আপদযুক্ত, যার অর্থ জিন ও চতুষ্পদ জন্তু সেখানে উপস্থিত (يحتضره) হয়।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার নিকট তাদের উপস্থিতি (حضور) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি} ১ অর্থাৎ: আমার যেকোনো কাজে শয়তানদের উপস্থিতি (حضور) থেকে আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি ২।

দুশ্চিন্তা উপস্থিত হওয়া বা চেপে বসা বলতে তা কারো ওপর আপতিত হওয়াকে বোঝায়।

অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'হুদির' বা 'উহতুদির' (احْتُضِرَ) বলা হয় যখন তার মৃত্যু উপস্থিত হয় বা মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হয় ৩।

উপরিবুক্ত আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, মৃত্যুযন্ত্রণা (احتضار) হলো বান্দার নিকট মৃত্যুর উপস্থিতি (حضور) এবং তার ওপর মৃত্যু অবতীর্ণ হওয়া।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ৯৮।

২ দেখুন: তাফসীরুল কুরআনিল আজিম ৩/২৪৭।

৩ দেখুন: লিসানুল আরব ১/৬৫৮, ৬৫৯।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৭২)
يستوفي مُدَد آجالهم في الدنيا، وقيل يستوفي تمام عددهم إلى يوم القيامة1.

الموت حق لازم لكل مخلوق:

حضور الموت ووقوعه حق لازم لكل مخلوق؛ لقوله تعالى: {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ لَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} 2، وقوله تعالى: {كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلالِ وَالْأِكْرَامِ} 3 وقوله سبحانه: {كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ} 4، وخاطب الله تعالى محمداً صلى الله عليه وسلم بقوله: {إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ} 5، وقوله: {وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِنْ قَبْلِكَ الْخُلْدَ أَفَإِنْ مِتَّ فَهُمُ الْخَالِدُونَ} 6، وعن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال”أعوذ بعزتك الذي لا إله إلا أنت الذي لا يموت، والإنس والجن يموتون”7.

وللموت وقت محدود عند الله تعالى لا يستطيع أحد من المخلوقات مجاوزته، فإنه مدركه لا محالة، وملاقيه أين كان، قال تعالى {وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتَاباً مُؤَجَّلاً} 8، وقال جل وعلا: {أَيْنَمَا تَكُونُوا يُدْرِكْكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِي بُرُوجٍ مُشَيَّدَةٍ} 9، وقال سبحانه: {وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لا

--------------------------------------------

1 انظر لسان العرب 3/960، 961.

2 سورة القصص، الآية 88.

3 سورة الرحمن، الآيتان 26 وَ 27.

4 سورة آل عمران، الآية 185.

5 سورة الزمر، الآية 30.

6 سورة الأنبياء، الآية 34.

7 رواه البخاري، كتاب التوحيد، باب (7) ح 7383.

8 سورة آل عمران، الآية 145.

9 سورة النساء، الآية 77.
তিনি দুনিয়াতে তাদের জীবনের সময়কাল পূর্ণ করেন, আর বলা হয়েছে যে তিনি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাদের পূর্ণ সংখ্যা পূর্ণ করেন১।

মৃত্যু প্রতিটি সৃষ্টির জন্য এক অবধারিত সত্য:

মৃত্যুর উপস্থিতি ও তার সংঘটন প্রতিটি সৃষ্টির জন্য এক অবধারিত সত্য; কারণ মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহর সত্তা ব্যতীত প্রতিটি জিনিসই ধ্বংসশীল। বিধান তাঁরই এবং তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে} ২, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {ভূপৃষ্ঠের সবকিছুই নশ্বর। কেবল আপনার মহিমাময় ও মহানুভব রবের সত্তাই অবশিষ্ট থাকবে} ৩ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের কর্মফল পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হবে। অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফলকাম হবে। আর পার্থিব জীবন তো কেবল ছলনাময় ভোগ ছাড়া আর কিছুই নয়} ৪। আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সম্বোধন করে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আপনি মরণশীল এবং তারাও মরণশীল} ৫, এবং তাঁর বাণী: {আমি আপনার পূর্বেও কোনো মানুষকে অমরত্ব দান করিনি। সুতরাং যদি আপনার মৃত্যু হয়, তবে তারা কি চিরঞ্জীব থাকবে?} ৬। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি আপনার সম্মানের আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, যিনি মৃত্যুবরণ করেন না, অথচ মানুষ ও জিন মৃত্যুবরণ করবে”৭।

আল্লাহ তাআলার নিকট মৃত্যুর একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে, যা অতিক্রম করা কোনো সৃষ্টির পক্ষেই সম্ভব নয়। মৃত্যু তাকে অবশ্যই পাকড়াও করবে এবং সে যেখানেই থাকুক তার সাক্ষাৎ পাবে। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কারও মৃত্যু হতে পারে না, তা এক সুনির্ধারিত লিপিবদ্ধ বিধান} ৮, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি তোমরা সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করলেও} ৯, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {প্রত্যেক জাতির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আছে, যখন তাদের সেই নির্ধারিত সময় আসবে তখন তারা...

--------------------------------------------

১ লিসানুল আরব ৩/৯৬০, ৯৬১ দেখুন।

২ সূরা আল-কাসাস, আয়াত ৮৮।

৩ সূরা আর-রাহমান, আয়াত ২৬ ও ২৭।

৪ সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫।

৫ সূরা আয-যুমার, আয়াত ৩০।

৬ সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ৩৪।

৭ বুখারি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুত তাওহিদ, অধ্যায় (৭) হাদিস ৭৩৮৩।

৮ সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৪৫।

৯ সূরা আন-নিসা, আয়াত ৭৭।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৭৩)
يستوفي مُدَد آجالهم في الدنيا، وقيل يستوفي تمام عددهم إلى يوم القيامة1.

--------------------------------------------

1 انظر لسان العرب 3/960، 961.
দুনিয়াতে তিনি তাদের নির্ধারিত জীবনকাল পূর্ণ করেন, আর বলা হয়েছে যে, তিনি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাদের সংখ্যার পূর্ণতা দান করেন১।

--------------------------------------------

১. দেখুন লিসানুল আরব ৩/৯৬০, ৯৬১।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৭৩)
‌‌الموت حق لازم لكل مخلوق:

حضور الموت ووقوعه حق لازم لكل مخلوق؛ لقوله تعالى: {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ لَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} 2، وقوله تعالى: {كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلالِ وَالْأِكْرَامِ} 3 وقوله سبحانه: {كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ} 4، وخاطب الله تعالى محمداً صلى الله عليه وسلم بقوله: {إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ} 5، وقوله: {وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِنْ قَبْلِكَ الْخُلْدَ أَفَإِنْ مِتَّ فَهُمُ الْخَالِدُونَ} 6، وعن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال”أعوذ بعزتك الذي لا إله إلا أنت الذي لا يموت، والإنس والجن يموتون”7.

وللموت وقت محدود عند الله تعالى لا يستطيع أحد من المخلوقات مجاوزته، فإنه مدركه لا محالة، وملاقيه أين كان، قال تعالى {وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتَاباً مُؤَجَّلاً} 8، وقال جل وعلا: {أَيْنَمَا تَكُونُوا يُدْرِكْكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِي بُرُوجٍ مُشَيَّدَةٍ} 9، وقال سبحانه: {وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ

--------------------------------------------

1 انظر لسان العرب 3/960، 961.

2 سورة القصص، الآية 88.

3 سورة الرحمن، الآيتان 26 وَ 27.

4 سورة آل عمران، الآية 185.

5 سورة الزمر، الآية 30.

6 سورة الأنبياء، الآية 34.

7 رواه البخاري، كتاب التوحيد، باب (7) ح 7383.

8 سورة آل عمران، الآية 145.

9 سورة النساء، الآية 77.
মৃত্যু প্রতিটি সৃষ্টির জন্য এক অনিবার্য সত্য:

মৃত্যুর উপস্থিতি এবং এর সংঘটন প্রতিটি সৃষ্টির জন্য এক অবধারিত সত্য; কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: {তাঁর সত্তা ব্যতীত সবকিছুই নশ্বর। বিধান তাঁরই এবং তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে} ২, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবই নশ্বর। কেবল মহিমাময় ও মহানুভব আপনার রবের সত্তাই অবশিষ্ট থাকবে} ৩ এবং সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদের পূর্ণ প্রতিফল দেওয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন তো কেবল ছলনাময় ভোগসামগ্রী} ৪। মহান আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আপনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে} ৫, এবং আরও বলেছেন: {আপনার পূর্বেও আমি কোনো মানুষকে অমরত্ব দান করিনি; সুতরাং আপনার মৃত্যু হলে তারা কি চিরঞ্জীব হয়ে থাকবে?} ৬। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি আপনার সম্মানের আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করেন না; অথচ মানুষ ও জিনেরা মৃত্যুবরণ করে" ৭।

মহান আল্লাহর কাছে মৃত্যুর একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে, কোনো সৃষ্টিই তা অতিক্রম করতে সক্ষম নয়। মৃত্যু অনিবার্যভাবে তাকে পাকড়াও করবে এবং সে যেখানেই থাকুক না কেন, তার সাথে সাক্ষাৎ ঘটবে। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারও মৃত্যু হওয়া সম্ভব নয়, এটি একটি সুনির্ধারিত বিধান} ৮। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, যদিও তোমরা সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করো} ৯। সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: {প্রত্যেক জাতির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে; যখন তাদের সেই সময় উপস্থিত হবে...

--------------------------------------------

১ লিসানুল আরব ৩/৯৬০, ৯৬১ দেখুন।

২ সুরা আল-কাসাস, আয়াত ৮৮।

৩ সুরা আর-রহমান, আয়াত ২৬ ও ২৭।

৪ সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫।

৫ সুরা আজ-জুমার, আয়াত ৩০।

৬ সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ৩৪।

৭ সহিহ বুখারি, কিতাবুত তাওহিদ, অধ্যায় (৭), হাদিস নং ৭৩৮৩।

৮ সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৪৫।

৯ সুরা আন-নিসা, আয়াত ৭৭।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৭৪)
يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلا يَسْتَقْدِمُونَ} 1، وقال: {قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلاقِيكُم} 2، ونحو ذلك من الآيات.

نعم إن كل نفس ميتة، والسعيد الفائز من زحزح عن النار وأدخل الجنة، وأنت يا عبد الله “في وقت بين الوقتين، وهو في الحقيقة عمرك، وهو وقتك الحاضر بين ما مضى وما يستقبل، فالذي مضى تصلحه بالتوبة والندم والاستغفار، وذلك شيء لا تعب عليك فيه ولا نصب، ولا معاناة عمل شاق، وإنما هو عمل قلب، وتمتنع فيما يستقبل من الذنوب، وامتناعك ترك وراحة، ليس هو عملاً بالجوارح يشق عليك معاناته، وإنما هو عزم ونية جازمة، تريح بدنك وقلبك وسرك، فما مضى تصلحه بالتوبة، وما يستقبل تصلحه بالامتناع والعزم والنية، وليس للجوارح في هذين نصب ولا تعب، ولكن الشأن في عمرك وهو وقتك الذي بين الوقتين؛ فإن أضعته أضعت سعادتك ونجاتك، وإن حفظته مع إصلاح الوقتين اللذين قبله وبعده بما ذكر نجوت وفزت بالراحة واللذة والنعيم، وحفظه أشق من إصلاح ما قبله وما بعده، فإن حفظه أن تلزم نفسك بما هو أولى بها وأنفع لها وأعظم تحصيلاً لسعادتها، وفي هذا تفاوت الناس أعظم التفاوت، فهي والله أيامك الخالية التي تجمع فيها الزاد لمعادك، إما إلى الجنة وإما إلى النار؛ فإن اتخذت إليها سبيلاً إلى ربك بلغت السعادة العظمى، والفوز الأكبر في هذه المدة اليسيرة، التي لا نسبة لها إلى الأبد، وإن آثرت الشهوات والراحات واللهو واللعب، انقضت عنك بسرعة، وأعقبتك الألم العظيم الدائم، الذي مقاساته ومعاناته أشق وأصعب وأدوم من معاناة الصبر عن محارم الله، والصبر على طاعته، ومخالفة الهوى لأجله”3

--------------------------------------------

1 سورة الأعراف، الآية 34.

2 سورة الجمعة، الآية 8.

3 كتاب الفوائد ص116، 117
“...তারা এক মুহূর্ত বিলম্ব করতে পারবে না এবং এক মুহূর্ত এগিয়ে আসতে পারবে না।” ১, এবং তিনি বলেছেন: “বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়ন করছো, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে।” ২, এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াতসমূহ।

হ্যাঁ, নিশ্চয়ই প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী; আর সেই ব্যক্তিই প্রকৃত সৌভাগ্যবান ও সফলকাম যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। আর তুমি হে আল্লাহর বান্দা! তুমি “এমন এক সময়ে অবস্থান করছো যা দুই সময়ের মধ্যবর্তী, আর প্রকৃতপক্ষে এটিই তোমার জীবন। আর তা হলো তোমার বর্তমান সময়, যা অতীত ও ভবিষ্যতের মাঝে অবস্থিত। সুতরাং যা অতীত হয়ে গেছে তা তুমি তওবা, অনুশোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে সংশোধন করে নাও। আর এটি এমন এক কাজ যাতে তোমার কোনো ক্লান্তি বা শারীরিক পরিশ্রম নেই এবং কোনো কষ্টকর আমলও করতে হয় না; বরং এটি কেবল হৃদয়ের একটি আমল। আর ভবিষ্যতে তুমি গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখবে; তোমার এই বিরত থাকা হলো নিছক বর্জন ও প্রশান্তি, এটি শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের এমন কোনো কাজ নয় যার কষ্ট তোমাকে ভোগ করতে হবে। বরং এটি কেবল একটি সুদৃঢ় সংকল্প ও নিয়ত, যা তোমার শরীর, অন্তর ও গোপন সত্তাকে আরাম প্রদান করবে। সুতরাং যা অতীত হয়েছে তা তুমি তওবা দ্বারা সংশোধন করো, আর যা সামনে আসবে তা তুমি বিরত থাকা, সংকল্প ও নিয়ত দ্বারা সংশোধন করো। এই দুই ক্ষেত্রে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কোনো ক্লান্তি বা পরিশ্রম নেই। কিন্তু মূল বিষয় হলো তোমার বর্তমান জীবন—যা উক্ত দুই সময়ের মধ্যবর্তী সময়; যদি তুমি এটি নষ্ট করো, তবে তুমি তোমার সৌভাগ্য ও মুক্তিকে নষ্ট করলে। আর যদি তুমি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ের সংশোধনের সাথে সাথে এই সময়টিকেও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করো, তবে তুমি মুক্তি লাভ করবে এবং অনাবিল সুখ, স্বাদ ও নিআমত লাভে সফল হবে। আর এই বর্তমান সময়ের সংরক্ষণ করা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ের সংশোধনের চেয়েও অধিক কঠিন। কেননা এর সংরক্ষণ হলো নিজের নফসকে এমন কাজে নিবিষ্ট রাখা যা তার জন্য অধিক উত্তম ও উপকারী এবং তার সৌভাগ্য অর্জনে অধিক সহায়ক। আর এ বিষয়েই মানুষের মধ্যে অনেক বড় ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। আল্লাহর কসম, এগুলোই হলো তোমার সেই অতিবাহিত দিনসমূহ যাতে তুমি তোমার পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করছো; হয় জান্নাতের দিকে অথবা জাহান্নামের দিকে। যদি তুমি এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তোমার রবের দিকে পৌঁছানোর পথ অবলম্বন করো, তবে তুমি সেই মহাসাফল্য ও মহান বিজয় অর্জন করলে যার ব্যাপ্তি অনন্তকালের তুলনায় অপরিসীম। আর যদি তুমি কুপ্রবৃত্তি, আরাম-আয়েশ এবং খেল-তামাশাকে প্রাধান্য দাও, তবে তা তোমার থেকে দ্রুতই নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং তোমাকে এমন এক দীর্ঘস্থায়ী ও মহান যন্ত্রণার সম্মুখীন করবে, যার কষ্ট ও যন্ত্রণা সহ্য করা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়সমূহ থেকে ধৈর্য ধারণ করা এবং তাঁর আনুগত্যে ধৈর্য ধারণ করা ও তাঁর সন্তুষ্টির জন্য প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ করার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন ও দীর্ঘস্থায়ী।” ৩

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩৪।

২ সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত: ৮।

৩ কিতাবুল ফাওয়াইদ, পৃষ্ঠা: ১১৬, ১১৭
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৭৫)
‌‌المبحث الأول: سكرات الموت وغمراته

‌‌المطلب الأول: تعريف السكرات والغمرات

أولا. تعريف السكرات:

السكرات جمع سَكْرة، مأخوذة من الفعل سَكِرَ يَسْكَرُ سُكْراً وسُكُراً وسَكْراً وسَكِراً وسَكَرَاناً فهو سَكِرٌ وسَكْرانُ، والأنثى سَكِرَةٌ وسَكْرَى وسَكْرَانةٌ، والجمع سُكَارَى وسَكَارَى وسَكْرَى.

والسَّكْرَانُ: خلاف الصاحي، والسُّكْرُ: نقيض الصَّحْوِ، وقولهم: ذهب بين الصحوة والسكرة إنما هو بين أن يعقل ولا يعقل.

وسكرة الموت: شدّته، وسكرة الميت غشيته التي تدل الإنسان على أنه ميّت1. قال الراغب الأصفهاني ت 502?:

“السكر حالة تعرض بين المرء وعقله، وأكثر ما يستعمل في الشراب المسكر، ويطلق في الغضب والعشق والألم والنعاس، والغشي الناشئ عن الألم وهو المراد هنا”2.

فالمراد بالسكرات، إذن، شدائد الموت وأهواله وكربه التي تصيب المحتضر، بسبب نزع الروح.

ثانيا. تعريف الغمرات

الغمرات جمع غَمْرَة، وهي الشدة، وغَمْرةُ كل شيء: مُنْهَمَكه وشدّته، كغمرة الهم والموت ونحوهما، وغَمَراتُ الحرب والموت وغِمَارُها: شدائدها.

وأصل الغَمْر: الماء الكثير، يقال: ماء غَمْر، أي: كثيرٌ مُغرِّق بيّن الغُمورة،

--------------------------------------------

1 انظر لسان العرب 2/170، 171.

2 انظر مفردات القرآن ص236، وفتح الباري شرح صحيح البخاري 11/362.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: মৃত্যুর যন্ত্রণা (سكرات الموت) এবং এর বিভীষিকা (غمراته)

‌‌প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: মৃত্যুর যন্ত্রণা (السكرات) এবং বিভীষিকার (الغمرات) সংজ্ঞা

প্রথমত: মৃত্যুর যন্ত্রণার (السكرات) সংজ্ঞা:

'সাকরাত' (السكرات) শব্দটি 'সাকরাহ' (سكرة) শব্দের বহুবচন। এটি 'সাকারা-ইয়াসকারু' (سَكِرَ يَسْكَرُ) ক্রিয়া থেকে গৃহীত, যার বিভিন্ন ক্রিয়ামূল বা মাসদার হলো 'সুকরান' (سُكْراً), 'সুকুরান' (سُكُراً), 'সাকরান' (سَكْراً), 'সাকিরান' (سَكِراً) এবং 'সাকারানান' (سَكَرَاناً)। এর পুরুষবাচক রূপ হলো 'সাকির' (سَكِرٌ) এবং 'সাকরান' (سَكْرانُ); আর স্ত্রীবাচক রূপ হলো 'সাকিরাহ' (سَكِرَةٌ), 'সাকরা' (سَكْرَى) এবং 'সাকরানাহ' (سَكْرَانةٌ)। এর বহুবচন হিসেবে 'সুকারা' (سُكَارَى), 'সাকারা' (سَكَارَى) এবং 'সাকরা' (سَكْرَى) শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়।

'সাকরান' (السَّكْرَانُ) হলো সচেতন ব্যক্তির বিপরীত। 'সুকর' (السُّكْرُ) হলো সুস্থ মস্তিষ্কের বিপরীত অবস্থা। ভাষাবিদদের বক্তব্য: 'তিনি সচেতনতা ও সংজ্ঞাহীনতার মাঝখানে চলে গেছেন'—এর অর্থ হলো তিনি বোধশক্তি থাকা এবং না থাকার মাঝামাঝি অবস্থায় রয়েছেন।

মৃত্যুর 'সাকরাহ' (سكرة الموت) বলতে এর তীব্রতাকে বোঝায়। মৃত ব্যক্তির 'সাকরাহ' হলো তার সেই আচ্ছন্নতা (غشيته), যা মানুষের মৃত্যুর ওপর প্রমাণ বহন করে।১। রাগেব আল-ইসফাহানি (মৃত্যু ৫০২ হি.?) বলেন:

“সুকর (السكر) হলো এমন এক অবস্থা যা মানুষের এবং তার বিবেকের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এটি সাধারণত নেশাজাতীয় পানীয়ের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে ক্রোধ, প্রেমাসক্তি, বেদনা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা এবং ব্যথার তীব্রতা থেকে সৃষ্ট মূর্ছা যাওয়া (الغشي) বোঝাতেও এটি ব্যবহৃত হয়; আর এখানে এই শেষোক্ত অর্থটিই উদ্দেশ্য।”২।

সুতরাং, সাকরাত (السكرات) বলতে মৃত্যুর সেই তীব্রতা, ভয়াবহতা এবং যাতনাকে বোঝায় যা প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার (نزع الروح) কারণে মুমূর্ষু ব্যক্তির ওপর আপতিত হয়।

দ্বিতীয়ত: বিভীষিকার (الغمرات) সংজ্ঞা:

'গামরাত' (الغمرات) হলো 'গামরাহ' (غمرة) শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হলো তীব্রতা। কোনো কিছুর 'গামরাহ' (غمرة) বলতে এর নিমগ্নতা ও কঠোরতাকে বোঝায়; যেমন—উদ্বেগ এবং মৃত্যুর কঠোরতা ইত্যাদি। যুদ্ধ ও মৃত্যুর 'গামরাত' (غمرات) এবং 'গিমার' (غمار) বলতে এগুলোর ভয়াবহতাকে বোঝায়।

'গামর' (الغمر) শব্দের মূল অর্থ হলো প্রচুর পানি। বলা হয়—প্রচুর পানি (ماء غمر), অর্থাৎ যা অনেক এবং ডুবিয়ে দেয়; যার প্রাচুর্য বা গভীরতা (الغمورة) সুস্পষ্ট।

--------------------------------------------

১ দেখুন লিসানুল আরব ২/১৭০, ১৭১।

২ দেখুন মুফরাদাতুল কুরআন পৃষ্ঠা ২৩৬ এবং ফাতহুল বারি শারহু সহিহ বুখারি ১১/৩৬২।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৭৬)
وغَمَره الماء يَغْمُرُهُ غَمْراً واغتمره: علاه وغطاه، ومنه قيل للرجل: غَمَرَه القوم يَغْمُرونه إذا علوه شرفاً، وجيش يغتمر كل شيء: يغطيه ويستغرقه1.

قال الطبري ت310?: “والغمرات جمع غمرة، وغمرة كل شيء كثرته ومعظمه، وأصله الشيء الذي يغمر الأشياء، فيغطيها”2.

وغمرات الموت سكراته التي تغمر المحتضر، أي تغطي عقله وتستره، فيصاب بالغمرة والإغماء3.

--------------------------------------------

1 انظر لسان العرب 2/1013، 1014.

2 جامع البيان في تفسير القرآن 7/182، 183.

3 انظر النهاية في غريب الحديث والأثر ص678.
পানি তাকে নিমজ্জিত করেছে এবং আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। এর থেকেই কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়: ‘লোকেরা তাকে ছাপিয়ে গেছে’ যখন তারা মর্যাদার দিক থেকে তাকে ছাড়িয়ে যায়। আর এমন এক বিশাল বাহিনী যা সবকিছুকে গ্রাস করে নেয়: অর্থাৎ যা সবকিছুকে আবৃত ও পরিবেষ্টন করে ফেলে১।

ইমাম তাবারী (মৃত্যু ৩১০ হি.?) বলেছেন: “'গামরাত' হলো 'গামরাহ'-এর বহুবচন। কোনো কিছুর 'গামরাহ' বলতে তার আধিক্য ও অধিকাংশকে বোঝায়। এর মূল উৎস হলো এমন বিষয় যা অন্য সবকিছুকে নিমজ্জিত করে এবং তা ঢেকে দেয়”২।

আর মৃত্যুর কঠিন যন্ত্রণাসমূহ হলো তার সেই তীব্রতা যা মুমূর্ষু ব্যক্তিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, অর্থাৎ তা তার বিবেক-বুদ্ধিকে আবৃত ও আচ্ছন্ন করে দেয়, ফলে সে মোহগ্রস্ত ও অচেতন হয়ে পড়ে৩।

--------------------------------------------

১ লিসানুল আরব ২/১০১৩, ১০১৪ দ্রষ্টব্য।

২ জামিউল বায়ান ফী তাফসীরিল কুরআন ৭/১৮২, ১৮৩।

৩ আন-নিহায়া ফী গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, পৃ. ৬৭৮ দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৭৬)
‌‌المطلب الثاني:

الأدلة من الكتاب والسنة على سكرات الموت

أولا: الأدلة من كتاب الله تعالى:

ذكر الله سبحانه وتعالى في كتابه الكريم، القرآن العظيم، سكرات الموت وشدائده في أكثر من آية، منها:

1- قوله تعالى: {وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ} 1.

قال الطبري في تفسير هذه الآية: “يقول تعالى ذكره لنبيه محمد صلى الله عليه وسلم ولو ترى يا محمد حين يغمر الموت بسكراته هؤلاء الظالمين … ، فتعاينهم وقد غشيتهم سكرات الموت، ونزل بهم أمر الله، وحان فناء آجالهم … ، والغمرات جمع غمرة، وغمرة كل شيء كثرته ومعظمه”2، ثم روى عن ابن عباس في قوله

--------------------------------------------

1 سورة الأنعام، الآية 93

2 جامع البيان في تفسير القرآن 7/182.
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ:

কুরআন ও সুন্নাহ থেকে মৃত্যুর সাকরাত (سكرات الموت) এর প্রমাণসমূহ

প্রথমত: মহান আল্লাহর কিতাব থেকে প্রমাণসমূহ:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাব মহান কুরআনে মৃত্যুর সাকরাত (سكرات الموت) ও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে একাধিক আয়াতে উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

১- মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি যদি দেখতেন, যখন জালিমরা মৃত্যুর মহাকষ্টের (غمرات الموت) মধ্যে থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে বলে, 'তোমাদের প্রাণ বের করো...'} ১।

ইমাম তাবারী এই আয়াতের তাফসীরে বলেন: “মহান আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলছেন— হে মুহাম্মাদ! আপনি যদি দেখতেন যখন মৃত্যু তার সাকরাত (سكرات) দিয়ে এই জালিমদের আচ্ছন্ন করে ফেলে... তবে আপনি তাদের প্রত্যক্ষ করতেন যখন মৃত্যুর সাকরাত (سكرات الموت) তাদের ঢেকে নিয়েছে, আল্লাহর নির্দেশ তাদের ওপর আপতিত হয়েছে এবং তাদের আয়ু শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে...। আর ‘গামারাত’ (غمرات) হলো ‘গামরাহ’ (غمرة)-এর বহুবচন; কোনো জিনিসের আধিক্য ও তার বিশাল অংশকেই ‘গামরাহ’ বলা হয়।” ২। অতঃপর তিনি ইবনে আব্বাস থেকে তাঁর এই উক্তি সম্পর্কে বর্ণনা (روى) করেছেন

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আনআম, আয়াত ৯৩

২. জামিউল বায়ান ফি তাফসীরিল কুরআন ৭/১৮২।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৭৭)
تعالى: {وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ} . أنه قال: سكرات الموت1.

يقول السعدي ت 1376?:

“ولما ذم الظالمين ذكر ما أعد لهم من العقوبة حال الاحتضار، ويوم القيامة فقال: {وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ} أي: شدائده وأهواله الفظيعة، وكربه الشنيعة، لرأيت أمراً هائلاً، وحالة لا يقدر الواصف أن يصفها، {وَالْمَلائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ} إلى أولئك الظالمين المحتضرين بالضرب والعذاب … ”2.

2- قوله تعالى: {قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الْمُعَوِّقِينَ مِنْكُمْ وَالْقَائِلِينَ لِإِخْوَانِهِمْ هَلُمَّ إِلَيْنَا وَلا يَأْتُونَ الْبَأْسَ إِلَّا قَلِيلاً أَشِحَّةً عَلَيْكُمْ فَإِذَا جَاءَ الْخَوْفُ رَأَيْتَهُمْ يَنْظُرُونَ إِلَيْكَ تَدُورُ أَعْيُنُهُمْ كَالَّذِي يُغْشَى عَلَيْهِ مِنَ الْمَوْتِ فَإِذَا ذَهَبَ الْخَوْفُ سَلَقُوكُمْ بِأَلْسِنَةٍ حِدَادٍ أَشِحَّةً عَلَى الْخَيْرِ أُولَئِكَ لَمْ يُؤْمِنُوا فَأَحْبَطَ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيراً} 3.

3- وقوله تعالى: {وَيَقُولُ الَّذِينَ آمَنُوا لَوْلا نُزِّلَتْ سُورَةٌ فَإِذَا أُنْزِلَتْ سُورَةٌ مُحْكَمَةٌ وَذُكِرَ فِيهَا الْقِتَالُ رَأَيْتَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ يَنْظُرُونَ إِلَيْكَ نَظَرَ الْمَغْشِيِّ عَلَيْهِ مِنَ الْمَوْتِ فَأَوْلَى لَهُمْ طَاعَةٌ وَقَوْلٌ مَعْرُوفٌ فَإِذَا عَزَمَ الْأَمْرُ فَلَوْ صَدَقُوا اللَّهَ لَكَانَ خَيْراً لَهُمْ} 4.

فقوله تعالى في الآية الأولى {رَأَيْتَهُمْ يَنْظُرُونَ إِلَيْكَ تَدُورُ أَعْيُنُهُمْ كَالَّذِي يُغْشَى عَلَيْهِ مِنَ الْمَوْت} يعني ينظرون إليك يا محمد صلى الله عليه وسلم تدور أعينهم خوفاً من القتل وفراراً منه كالذي يغشى عليه من الموت، أي كدوران عين الذي يغشى عليه من الموت النازل به وما يعانيه من سكرات وكرب5.

--------------------------------------------

1 المصدر السابق ص183.

2 تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان ص227.

3 سورة الأحزاب، الآيتان 18، 19.

4 سورة محمد، الآيتان 20، 21.

5 انظر جامع البيان في تفسير القرآن 21/89.
মহান আল্লাহ বলেন: {আর আপনি যদি দেখতেন, যখন জালেমরা মৃত্যুর যাতনায় থাকে}। তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেন: মৃত্যুর আচ্ছন্নতা বা সকারাত।

আস-সাদী (মৃত্যু ১৩৭৬ হি.?) বলেন:

“যখন তিনি জালেমদের নিন্দা করেছেন, তখন তাদের মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার সময় এবং কিয়ামতের দিন তাদের জন্য যে শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন তা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: {আর আপনি যদি দেখতেন যখন জালেমরা মৃত্যুর যাতনায় থাকে} অর্থাৎ এর কঠোরতা, ভয়াবহতা এবং যন্ত্রণাদায়ক ক্লেশসমূহের মধ্যে থাকে, তবে আপনি এমন এক ভয়াবহ বিষয় ও অবস্থা দেখতেন যা কোনো বর্ণনাকারী বর্ণনা করতে সক্ষম হবে না। {আর ফেরেশতারা তাদের হাত বাড়িয়ে রাখে} ওই জালেম মুমূর্ষু ব্যক্তিদের দিকে প্রহার ও শাস্তির মাধ্যমে … ”২।

২- মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ অবশ্যই জানেন তোমাদের মধ্যে যারা বাধা দানকারী এবং যারা তাদের ভাইদের বলে, ‘আমাদের কাছে এসো’। তারা যুদ্ধে অল্পই অংশগ্রহণ করে। তারা তোমাদের ব্যাপারে কৃপণ। অতঃপর যখন ভয় আসে, তখন আপনি দেখবেন তারা আপনার দিকে তাকিয়ে আছে, তাদের চোখগুলো ঘুরছে ওই ব্যক্তির মতো যার ওপর মৃত্যুর মূর্ছা আপতিত হয়েছে। অতঃপর যখন ভয় চলে যায়, তখন তারা শাণিত জিহ্বায় তোমাদের বিদ্ধ করে, কল্যাণের ব্যাপারে চরম কৃপণ হয়ে। তারা ঈমান আনেনি, তাই আল্লাহ তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল করে দিয়েছেন। আর এটা আল্লাহর জন্য সহজ।} ৩।

৩- এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা ঈমান এনেছে তারা বলে, ‘কেন একটি সূরা নাযিল করা হলো না?’ অতঃপর যখন একটি সুস্পষ্ট (محكمة) সূরা নাযিল করা হয় এবং তাতে যুদ্ধের উল্লেখ থাকে, তখন আপনি দেখবেন যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা আপনার দিকে ওই ব্যক্তির মতো তাকাচ্ছে যার ওপর মৃত্যুর মূর্ছা আপতিত হয়েছে। সুতরাং তাদের জন্য ধ্বংস বা দুর্ভোগ। অনুগত থাকা এবং ন্যায়সঙ্গত কথা বলাই ছিল শ্রেয়। অতঃপর যখন যুদ্ধের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়, তখন যদি তারা আল্লাহর প্রতি সত্যনিষ্ঠ হতো, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো।} ৪।

প্রথম আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী {আপনি দেখবেন তারা আপনার দিকে তাকিয়ে আছে, তাদের চোখগুলো ঘুরছে ওই ব্যক্তির মতো যার ওপর মৃত্যুর মূর্ছা আপতিত হয়েছে} এর অর্থ হলো—হে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি তাদের দেখবেন যে, হত্যার ভয়ে এবং তা থেকে পলায়নের উদ্দেশ্যে তাদের চোখগুলো ঘুরছে ঠিক ওই ব্যক্তির চোখের মতো যার ওপর মৃত্যু উপস্থিত হয়েছে এবং সে যে মৃত্যুর যন্ত্রণা ও সংকটের সম্মুখীন হয় তার কারণে চোখ যেভাবে ঘোরে।৫।

--------------------------------------------

১ আল-মাসদার আস-সাবিক, পৃষ্ঠা ১৮৩।

২ তাইসীরুল কারীমিল রাহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃষ্ঠা ২২৭।

৩ সূরা আল-আহযাব, আয়াত ১৮, ১৯।

৪ সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ২০, ২১।

৫ দেখুন: জামিউল বায়ান ফী তাফসীরিল কুরআন ২১/৮৯।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৭৮)
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية ت728هـ: “من شدة الرعب الذي في قلوبهم يشبهون المغمى عليه وقت النزع؛ فإنه يخاف ويذهل عقله، ويشخص بصره، ولا يطرف، فكذلك هؤلاء؛ لأنهم يخافون القتل”1.

4- قوله تعالى {وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ} 2.

والمراد بسكرة الموت شدته وغمرته وغلبته التي تغشى الإنسان وتغلب على عقله، ومعنى (بالحق) أي من أمر الآخرة، فتبينه الإنسان حتى تثبته وعرفه، بمعنى أنه عند الموت يتضح له الحق، ويظهر له صدق ما جاءت به الرسل من الإخبار بالبعث، والوعد والوعيد، وقيل الحق هو الموت، فيكون المعنى: وجاءت سكرة الموت بحقيقة الموت، كما قرأ أبو بكر الصديق وابن مسعود {وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ} ”3.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: “.. {وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ} أي جاءت بما بعد الموت من ثواب وعقاب، وهو الحق الذي أخبرت به الرسل، ليس مراده أنها جاءت بالحق الذي هو الموت؛ فإن هذا مشهور لم ينازع فيه، ولم يقل أحد: إن الموت باطل حتى يقال جاءت بالحق”4.

5- قوله تعالى: {فَلَوْلا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ. وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لا تُبْصِرُونَ. فَلَوْلا إِنْ كُنْتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ. تَرْجِعُونَهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} 5. هذا دليل على سكرات الموت6؛ فإن الله سبحانه وتعالى يقول: مهلاً إذا بلغت النفوس عند خروجها من أجسادكم، أيها الناس، حلاقيكم، ومن حضرهم

--------------------------------------------

1 مجموع فتاوى شيخ الإسلام أحمد بن تيمية 28/456.

2 سورة ق، الآية 19.

3 انظر جامع البيان في تفسير القرآن 26/100، 101، وفتح القدير 5/75.

4 مجموع فتاوى شيخ الإسلام أحمد بن تيمية 4/265.

5 سورة الواقعة، الآية 83- 87.

6 انظر التذكرة في أحوال الموتى وأمور الآخرة 1/41.
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (ওফাত ৭২৮ হিজরী) বলেন: “তাদের হৃদয়ে বিরাজমান তীব্র ভীতির কারণে তারা মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে আচ্ছন্ন বা অজ্ঞান হয়ে পড়া ব্যক্তির সদৃশ হয়ে যায়; কেননা সে তখন আতঙ্কিত থাকে এবং তার বুদ্ধি বিলুপ্ত হয়, তার দৃষ্টি স্থির হয়ে থাকে এবং চোখের পলক পড়ে না। তদ্রূপ এই ব্যক্তিরাও; কারণ তারা নিহত হওয়ার ভয় করে।”১

4- মহান আল্লাহর বাণী: {আর মৃত্যুর যন্ত্রণা (سكرة الموت) যথাযথভাবে উপস্থিত হয়েছে; এটাই সেই বিষয় যা থেকে তুমি পলায়ন করতে চাইতে}২।

মৃত্যুযন্ত্রণা (سكرة الموت) বলতে এর তীব্রতা, আচ্ছন্নতা ও প্রভাবকে বোঝায় যা মানুষকে আচ্ছন্ন করে এবং তার বিবেকের ওপর প্রবল হয়। আর ‘যথাযথভাবে’ (بالحق) এর অর্থ হলো আখেরাতের বিষয়াদি, যা মানুষের সামনে স্পষ্ট হয় ফলে সে তা সুনিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করতে পারে এবং চিনতে পারে। অর্থাৎ মৃত্যুর সময় তার কাছে সত্য স্পষ্ট হয়ে যায় এবং পুনরুত্থানের সংবাদ, প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণী নিয়ে রাসুলগণ যা নিয়ে এসেছিলেন তার সত্যতা তার নিকট প্রকাশ পায়। কারো মতে ‘আল-হক’ (الحق) অর্থ হলো স্বয়ং মৃত্যু; তখন অর্থ হবে: মৃত্যুর যন্ত্রণা মৃত্যুর হাকিকত নিয়ে উপস্থিত হয়েছে, যেমনটি আবু বকর সিদ্দিক ও ইবনে মাসউদ পাঠ করেছেন: {আর মৃত্যুর যন্ত্রণা উপস্থিত হয়েছে}।৩

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ বলেন: “.. {আর মৃত্যুর যন্ত্রণা যথাযথভাবে উপস্থিত হয়েছে} অর্থাৎ তা মৃত্যুর পরবর্তী সওয়াব ও আজাব নিয়ে উপস্থিত হয়েছে, আর এটাই সেই সত্য (الحق) যার সংবাদ রাসুলগণ দিয়েছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য এটি নয় যে, তা ‘আল-হক’ তথা মৃত্যুর সাথে উপস্থিত হয়েছে; কারণ মৃত্যু একটি সুপরিচিত বিষয় যা নিয়ে কেউ দ্বিমত করে না। কেউ বলেনি যে মৃত্যু একটি বাতিল বা অলীক বিষয়, যার প্রেক্ষিতে বলতে হবে যে তা সত্য নিয়ে উপস্থিত হয়েছে।”৪

5- মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর কেন নয়? যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হয়। এবং তোমরা তখন তাকিয়ে থাকো। আর তোমাদের চেয়ে আমরাই তার অধিক নিকটবর্তী, কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাও না। সুতরাং যদি তোমরা প্রতিদানপ্রাপ্ত হওয়ার যোগ্য না হও, তবে তোমরা কেন তা ফিরিয়ে আনো না, যদি তোমরা সত্যবাদী হও}৫। এটি মৃত্যুযন্ত্রণার (سكرات الموت) একটি দলিল;৬ কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: থামো, যখন প্রাণ দেহ থেকে বের হওয়ার সময়, হে মানুষ, তোমাদের কণ্ঠনালীতে পৌঁছে যায় এবং যারা সেখানে উপস্থিত থাকে...

--------------------------------------------

১ শাইখুল ইসলাম আহমদ ইবনে তাইমিয়াহর মাজমুউল ফাতাওয়া ২৮/৪৫৬।

২ সূরা ক্বাফ, আয়াত ১৯।

৩ দেখুন: জামিউল বায়ান ফি তাফসিরিল কুরআন ২৬/১০০, ১০১ এবং ফাতহুল কাদির ৫/৭৫।

৪ শাইখুল ইসলাম আহমদ ইবনে তাইমিয়াহর মাজমুউল ফাতাওয়া ৪/২৬৫।

৫ সূরা আল-ওয়াকিয়াহ, আয়াত ৮৩-৮৭।

৬ দেখুন: আত-তাযকিরাহ ফি আহওয়ালিল মাওতা ওয়া উমুরিল আখিরাহ ১/৪১।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৭৯)
منكم من أهليهم حينئذ إليهم ينظر، ونحن أقرب إليه بالعلم والقدرة والرؤية منكم، ورسلنا الذي يقبضون روحه أقرب إليه منكم ولكن لا تبصرون، فلولا إن كنتم غير مربوبين ومملوكين وغير مجزيين ترجعون تلك النفوس التي بلغت الحلقوم عند سكرات الموت إلى مقرها الذي كانت فيه، إن كنتم صادقين بأنكم غير مربوبين ولا مجزيين، ولن ترجعونها فبطل زعمكم1.

قال ابن كثير ت774هـ في تفسير هذه الآيات:

يقول تعالى {فَلَوْلا إِذَا بَلَغَتِ} أي الروح {الْحُلْقُومَ} أي الحلق، وذلك حين الاحتضار، كما قال تعالى: {كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ. وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ. وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ. وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ إِلَى رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمَسَاقُ} ؛ ولهذا قال ههنا {وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ} أي إلى المحتضر، وما يكابده من سكرات الموت {وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ} أي بملائكتنا {وَلَكِنْ لا تُبْصِرُونَ} أي ولكن لا ترونهم، كما قال تعالى في الآية الأخرى {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَيُرْسِلُ عَلَيْكُمْ حَفَظَةً حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لا يُفَرِّطُونَ. ثُمَّ رُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلاهُمُ الْحَقِّ أَلا لَهُ الْحُكْمُ وَهُوَ أَسْرَعُ الْحَاسِبِينَ} 2، وقوله تعالى: {فَلَوْلا إِنْ كُنْتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ} معناه فهلا ترجعون هذه النفس التي قد بلغت الحلقوم إلى مكانها الأول، ومقرها من الجسد، إن كنتم غير مدينين”3.

6- وقد روى ابن كثير ت774هـ عن جماعة من السلف أن المراد بقوله تعالى {وَالنَّازِعَاتِ غَرْقاً وَالنَّاشِطَاتِ نَشْطاً} 4: الملائكة حين تنْزع أرواح بني آدم، فمنهم من تؤخذ روحه بعسر، فتغرق في نزعها، ومنهم من

--------------------------------------------

1 انظر جامع البيان في تفسير القرآن 27/120، 121، ومعالم التزيل 4/290، 291.

2 سورة الأنعام، الآيتان 61، 62.

3 تفسير القرآن العظيم 4/301.

4 سورة النازعات، الآيتان 1 وَ 2.
তখন তোমাদের মধ্য থেকে যারা সেখানে উপস্থিত থাকে তারা তার (মুমূর্ষু ব্যক্তির) দিকে তাকিয়ে থাকে, আর আমরা জ্ঞান, ক্ষমতা ও দর্শনের মাধ্যমে তোমাদের তুলনায় তার অধিক নিকটবর্তী। আমাদের যে রাসূলগণ (ফেরেশতারা) তার আত্মা কবজ করে তারা তোমাদের তুলনায় তার অধিক নিকটবর্তী, কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাও না। অতএব, তোমরা যদি কারও অধীনস্থ না হও এবং তোমাদের প্রতিদান দেওয়া না হয়, তবে কেন তোমরা সেই প্রাণগুলোকে ফিরিয়ে আনছ না যা মৃত্যুযন্ত্রণার সময় কণ্ঠনালীতে পৌঁছে গিয়েছে? যদি তোমরা তোমাদের এই দাবিতে সত্যবাদী হও যে তোমরা কারও অধীনস্থ নও এবং তোমাদের বিচার করা হবে না; কিন্তু তোমরা তা কখনোই ফিরিয়ে আনতে পারবে না, ফলে তোমাদের দাবি অসার প্রমাণিত হলো।১

ইবনে কাসির (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি) এই আয়াতগুলোর তাফসিরে বলেন:

মহান আল্লাহ বলেন, {অতঃপর কেন নয় যখন পৌঁছে} অর্থাৎ যখন আত্মা {কণ্ঠনালীতে} অর্থাৎ গলার কাছে পৌঁছে যায়, আর তা হলো মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার সময়; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {কখনোই নয়, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হয়। এবং বলা হয়, ‘কে ঝাড়ফুঁক দিবে?’ আর সে মনে করে যে, এটিই বিদায়ক্ষণ। আর পায়ের গোছালির সাথে পায়ের গোছালি জড়িয়ে যায়। সেদিন তোমার রবের কাছেই হবে যাত্রা}। এই কারণেই তিনি এখানে বলেছেন {আর তোমরা তখন তাকিয়ে থাকো} অর্থাৎ মুমূর্ষু ব্যক্তির দিকে এবং মৃত্যুযন্ত্রণার যে কষ্ট সে ভোগ করছে তার দিকে। {আর আমরা তোমাদের চেয়ে তার অধিক নিকটবর্তী} অর্থাৎ আমাদের ফেরেশতাদের মাধ্যমে {কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না} অর্থাৎ তোমরা তাদের দেখতে পাও না; যেমনটি মহান আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেছেন: {তিনিই তাঁর বান্দাদের ওপর পরাক্রমশালী এবং তিনি তোমাদের জন্য হিফাজতকারী ফেরেশতা পাঠান, এমনকি যখন তোমাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন আমাদের প্রেরিত ফেরেশতারা তার প্রাণ হরণ করে এবং তারা কোনো ত্রুটি করে না। অতঃপর তারা তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরে আসে। জেনে রেখো, ফয়সালা করার অধিকার কেবল তাঁরই এবং তিনি দ্রুততম হিসাব গ্রহণকারী}২। আর মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা প্রতিদান বা বিচারের অধীন না হও} এর অর্থ হলো—তবে কেন তোমরা এই আত্মাকে, যা কণ্ঠনালীতে পৌঁছে গেছে, তার আদি স্থানে এবং শরীরের সেই আবাসস্থলে ফিরিয়ে আনছ না, যদি তোমরা প্রতিদান বা বিচারের অধীন না হও?৩

৬- ইবনে কাসির (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি) একদল পূর্বসূরি (سلف) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, মহান আল্লাহর বাণী {শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা ডুব দিয়ে প্রাণ হরণ করে এবং যারা স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে প্রাণ বের করে আনে}৪—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ফেরেশতারা যখন বনী আদমের আত্মা কবজ করে। তাদের মধ্যে কারও আত্মা অত্যন্ত কষ্টের সাথে কবজ করা হয় এবং তা টেনে হিঁচড়ে বের করা হয়, আবার কারও...

--------------------------------------------

১ দেখুন: জামিউল বায়ান ফি তাফসিরিল কুরআন ২৭/১২০, ১২১ এবং মাআলিমুত তানজিল ৪/২৯০, ২৯১।

২ সূরা আল-আনআম, আয়াত ৬১, ৬২।

৩ তাফসিরুল কুরআনিল আজিম ৪/৩০১।

৪ সূরা আন-নাজিআত, আয়াত ১ ও ২।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৮০)
تؤخذ روحه بسهولة، وكأنما حلته من نشاط1.

وقال ابن تيمية ت728هـ: “وأما {وَالنَّازِعَاتِ غَرْقاً} فهي الملائكة القابضة للأرواح، وهذا يتضمن الجزاء، وهو من أعظم المقسم عليه”2.

وقال البغوي ت516هـ: “ … {وَالنَّازِعَاتِ غَرْقاً} : يعني الملائكة تنْزع أرواح الكفار من أجسادهم، كما يغرق النازع في القوس، فيبلغ بها غاية المدّ، وقال ابن مسعود: ينْزعها ملك الموت من تحت كل شعرة ومن الأظافر وأصول القدمين، ويرددها في جسده بعدما ينْزعها حتى إذا كادت تخرج ردها في جسده بعدما ينْزعها، فهذا عمله بالكفار … ، {وَالنَّاشِطَاتِ نَشْطاً} هي الملائكة تنشط نفس المؤمن، أي تحل حلاً رفيقاً فتقبضها، كما ينشط العقال من يد البعير، أي يحل برفق”3، وروي في تفسيرها غير ذلك4.

7- قوله تعالى {كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ. وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ. وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ. وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ إِلَى رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمَسَاقُ} 5.

دلت هذه الآية على سكرة الموت؛ فقوله {كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ} أي النفس

{التَّرَاقِيَ} فحشرج بها عند سكرات الموت، والتراقي جمع الترقوة، وهي العظام بين ثغرة النحر والعاتق، فدل ذلك على الإشراف على الموت، {وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ} أي: قال من حضره هل من طبيب يرقيه ويداويه، فيشفيه برقيته أو دوائه، {وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ} أي أيقن الذي بلغت روحه التراقي أنه مفارق الدنيا، حيث تتابعت عليه الشدائد، فلا يخرج من كرب إلا جاءه أشد منه، واجتمع فيه

--------------------------------------------

1 انظر تفسير القرآن العظيم 4/468.

2 مجموع فتاوى شيخ الإسلام أحمد بن تيمية 13/320.

3 معالم التنزيل 4/441.

4 انظر جامع البيان في تفسير القرآن 30/18- 20، ومعالم التنزيل 4/441، 442.

5 سورة القيامة، الآية 26- 30.
তাঁর প্রাণ অত্যন্ত সহজে কবজ করা হয়, যেন তাঁকে কোনো বন্ধন থেকে অবলীলায় মুক্ত করে দেওয়া হলো।১

ইবনে তাইমিয়াহ (মৃত্যু ৭২৮ হি.) বলেন: “আর {কসম সেই ফেরেশতাদের যারা ডুব দিয়ে আত্মা টেনে বের করে} তারা হলো সেই সকল ফেরেশতা যারা রূহ কবজ করে। এটি প্রতিদানকেও অন্তর্ভুক্ত করে এবং এটি সেই সকল মহান বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর শপথ করা হয়েছে।”২

আল-বাগাউই (মৃত্যু ৫১৬ হি.) বলেন: “ … {কসম সেই ফেরেশতাদের যারা ডুব দিয়ে আত্মা টেনে বের করে}: অর্থাৎ ফেরেশতারা কাফিরদের আত্মা তাদের দেহ থেকে টেনে বের করে, যেমনভাবে তীরন্দাজ ধনুককে তার পূর্ণ বিস্তারে টেনে নেয়। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: মালাকুল মাউত প্রতিটি চুলের নিচ থেকে, নখ এবং পায়ের তলদেশ থেকে আত্মা টেনে বের করেন। বের করার পর তিনি তা পুনরায় তার দেহে ফিরিয়ে দেন, এমনকি যখন তা বের হওয়ার উপক্রম হয় তখন বের করার পর পুনরায় তা দেহে ফিরিয়ে দেন। কাফিরদের ক্ষেত্রে তাঁর আমল এমনই হয় … , {আর কসম সেই ফেরেশতাদের যারা আত্মা হরণ করে স্বাচ্ছন্দ্যে} এরা হলো সেই সকল ফেরেশতা যারা মুমিনের আত্মাকে স্বাচ্ছন্দ্যে বের করে আনে, অর্থাৎ অত্যন্ত কোমলতার সাথে বাঁধন খুলে তা কবজ করে নেয়; যেমন উটের পা থেকে দড়ি অত্যন্ত নম্রভাবে খোলা হয়।”৩, এবং এর তাফসিরে অন্য বর্ণনাও বর্ণিত হয়েছে ৪।

৭- মহান আল্লাহর বাণী: {কখনো নয়, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হবে। এবং বলা হবে, কে ঝাড়ফুঁক দিবে? আর সে নিশ্চিতভাবে মনে করবে যে, এটিই বিদায় বেলা। আর পায়ের গোছার সাথে পায়ের গোছা জড়িয়ে যাবে। সেদিন তোমার রবের দিকেই হবে যাত্রা।} ৫।

এই আয়াতটি মৃত্যুর যন্ত্রণার ওপর প্রমাণ পেশ করে; আল্লাহর বাণী {কখনো নয়, যখন তা পৌঁছাবে} অর্থাৎ আত্মা—

{কণ্ঠাগত হবে} তখন মৃত্যুর যন্ত্রণার কারণে ঘড়ঘড় শব্দ হবে। 'তরাকি' হলো 'তরকুয়াহ'-এর বহুবচন, যা কণ্ঠনালি ও ঘাড়ের মধ্যবর্তী হাড়। এটি মৃত্যুর নিকটবর্তী হওয়ার প্রমাণ বহন করে। {এবং বলা হবে, কে ঝাড়ফুঁক দিবে?} অর্থাৎ উপস্থিত ব্যক্তিরা বলবে, কোনো চিকিৎসক কি আছে যে তাকে ঝাড়ফুঁক করবে বা চিকিৎসা দিবে, ফলে তার ঝাড়ফুঁক বা ওষুধে সে সুস্থ হয়ে যায়? {আর সে নিশ্চিতভাবে মনে করবে যে, এটিই বিদায় বেলা} অর্থাৎ যার প্রাণ কণ্ঠাগত হয়েছে সে নিশ্চিত বিশ্বাস করবে যে, সে দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছে; যেখানে তার ওপর একের পর এক বিপদ আপতিত হবে, একটি কষ্ট থেকে বের হতে না হতেই তার চেয়ে কঠিন কষ্ট আসবে, আর তার মাঝে একত্রিত হবে...

--------------------------------------------

১ তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৪/৪৬৮ দেখুন।

২ মাজমুউ ফাতাওয়া শাইখিল ইসলাম আহমদ বিন তাইমিয়াহ ১৩/৩২০।

৩ মাআলিমুত তানযীল ৪/৪৪১।

৪ জামিঊল বায়ান ফী তাফসীরিল কুরআন ৩০/১৮-২০ এবং মাআলিমুত তানযীল ৪/৪৪১, ৪৪২ দেখুন।

৫ সূরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত ২৬-৩০।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৮১)
الحياة والموت، والتفت ساقاه1.

يقول السعدي في تفسير هذه الآيات:

“يعظ تعالى عباده بذكر المحتضر حال السياق، وأنه إذا بلغت روحه التراقي، وهي العظام المكتنفة لثغرة النحر، فحينئذ يشتد الكرب، ويطلب كل وسيلة وسبب يظن أن يحصل به الشفاء والراحة؛ ولهذا قال {وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ} أي: من يرقيه، من الرقية؛ لأنهم انقطعت آمالهم من الأسباب العادية، فتعلقوا بالأسباب الإلهية، ولكن القضاء والقدر إذا حتم وجاء فلا مرد له، {وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ} للدنيا، {وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ إِلَى رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمَسَاقُ} ، أي: اجتمعت الشدائد، والتفت، وعظم الأمر، وصعب الكرب، وأريد أن تخرج الروح من البدن، الذي ألفته، ولم تزل معه، فتساق إلى الله تعالى؛ ليجازيها بأعمالها ويقررها بفعلها، فهذا الزجر الذي ذكره الله يسوق القلوب إلى ما فيه نجاتها، ويزجرها عما فيه هلاكها، ولكن المعاند الذي لا تنفع فيه الآيات لا يزال مستمراً على غيه وكفره وعناده”2

ثانيا: الأدلة على سكرات الموت من السنة والأثر:

ثبتت أحاديث عن الرسول صلى الله عليه وسلم تدل على أن للموت سكرات، ومن ذلك:

1- ما أخرجه البخاري بسنده عن عائشة رضي الله عنها أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كانت بين يديه رَكْوَة3، أو علبة فيها ماء، فجعل يدخل يديه في الماء، فيمسح بها وجهه ويقول: “لا إله إلا الله، إن للموت سكرات، ثم نصب

--------------------------------------------

1 انظر معالم التنزيل 4/424، 425 وجامع البيان في تفسير القرآن 29/121.

2 تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان ص833.

3 الركوة: إناء صغير من جلد يشرب فيه الماء، والجمع رِكاء، انظر النهاية في غريب الحديث والأثر ص375.
জীবন ও মৃত্যু, এবং তাঁর পদদ্বয় জড়িয়ে যাবে।১

আল-সা'দি এই আয়াতগুলোর তাফসিরে বলেন:

“আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে মুমূর্ষু ব্যক্তির প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার অবস্থা স্মরণের মাধ্যমে উপদেশ দিচ্ছেন; যখন তার আত্মা কণ্ঠনালীতে (تراقي) অর্থাৎ নহরের গর্তকে বেষ্টনকারী হাড়ের নিকট পৌঁছে যায়, তখন কষ্ট তীব্রতর হয় এবং সে এমন প্রতিটি উপায় ও মাধ্যম সন্ধান করে যা দ্বারা আরোগ্য ও স্বস্তি অর্জিত হবে বলে সে ধারণা করে। এই কারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ} অর্থাৎ: কে তাকে ঝাড়ফুঁক (رقية) দিবে? কারণ পার্থিব উপায়-উপকরণ থেকে তাদের আশা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফলে তারা ঐশী উপায়গুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়। কিন্তু ফয়সালা ও তাকদির (قدر) যখন অবধারিত হয়ে আসে, তখন তা ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো পথ থাকে না। {وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ} অর্থাৎ দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার কথা সে নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারে। {وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ إِلَى رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمَسَاقُ} অর্থাৎ: বিপদসমূহ ঘনীভূত হয়, একে অপরের সাথে জড়িয়ে যায়, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর হয়ে ওঠে এবং যন্ত্রণা কঠিন আকার ধারণ করে। আত্মা সেই দেহ থেকে বেরিয়ে আসতে চায় যার সাথে সে দীর্ঘকাল অভ্যস্ত ছিল, অতঃপর তাকে মহান আল্লাহর দিকে পরিচালিত করা হয়; যাতে তিনি তার আমল অনুযায়ী প্রতিদান প্রদান করেন এবং তার কৃতকর্মের চূড়ান্ত ফয়সালা করেন। আল্লাহ তাআলা এখানে যে ভীতি প্রদর্শন করেছেন তা অন্তরসমূহকে সেই বিষয়ের দিকে পরিচালিত করে যাতে মুক্তি নিহিত এবং সেইসব বিষয় থেকে সতর্ক করে যাতে ধ্বংস রয়েছে। কিন্তু জেদি ব্যক্তি, যার ক্ষেত্রে কোনো নিদর্শন উপকারে আসে না, সে তার বিভ্রান্তি, কুফরি ও হঠকারিতার ওপর অটল থাকে।”২

দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ ও বর্ণনা (أثر) থেকে মৃত্যু যন্ত্রণার প্রমাণসমূহ:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন কিছু হাদিস প্রমাণিত হয়েছে যা নির্দেশ করে যে, মৃত্যুর যন্ত্রণা রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো:

১- ইমাম বুখারি তাঁর সূত্র (سند) অনুসারে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে একটি চামড়ার পানির পাত্র৩ অথবা একটি কৌটা ছিল যাতে পানি ছিল। তিনি তাঁর হাত পানির ভেতর প্রবেশ করাতে লাগলেন এবং তা দিয়ে তাঁর চেহারা মুছছিলেন আর বলছিলেন: “আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, নিশ্চয়ই মৃত্যুর জন্য মৃত্যু যাতনা (سكرات) রয়েছে।” অতঃপর তিনি হাত উত্তোলন করলেন...

--------------------------------------------

১ দেখুন: মাআলিমুত তানজিল ৪/৪২৪, ৪২৫ এবং জামিউল বায়ান ফি তাফসিরিল কুরআন ২৯/১২১।

২ তাইসিরুল কারিমির রহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান, পৃষ্ঠা ৮৩৩।

৩ রাকওয়া: চামড়ার তৈরি ছোট পাত্র যাতে পানি পান করা হয়, এর বহুবচন হলো রিকাআ; দেখুন: আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিসি ওয়াল আসার (أثر), পৃষ্ঠা ৩৭৫।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৮২)
يده فجعل يقول: في الرفيق الأعلى، حتى قبض ومالت يده”1.

2- وعن أنس رضي الله عنه قال: لما ثقل النبي صلى الله عليه وسلم جعل يتغشاه فقالت فاطمة: واكرب أباه، فقال لها: “ليس على أبيك كرب بعد اليوم”، فلما مات قالت: يا أبتاه أجاب رباً دعاه، يا أبتاه من جنة الفردوس مأواه، يا أبتاه إلى جبريل ننعاه، فلما دفن قالت فاطمة عليها السلام: يا أنس أطابت نفوسكم أن تحثوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم التراب2

3- ما أخرجه البخاري بسنده عن عائشة رضي الله عنها قالت: ”مات النبي صلى الله عليه وسلم وإنه لبين حاقنتي وذاقنتي3، فلا أكره شدة الموت لأحد أبداً بعد النبي صلى الله عليه وسلم “ 4.

4- ما رواه الترمذي بسنده عن عائشة رضي الله عنها قالت”ما أغبط أحداً بهون موت بعد الذي رأيت من شدة موت رسول الله صلى الله عليه وسلم “5.

قال أبو حامد الغزالي ت505هـ: “اعلم أنه لو لم يكن بين يدي العبد المسكين كرب ولا هول ولا عذاب سوى سكرات الموت بمجردها لكان جديراً بأن يتنغص عليه عيشه، ويتكدر عليه سروره ويفارقه سهوه وغفلته، وحقيقاً بأن يطول فيه فكره، ويعظم له استعداده، لا سيما وهو في كل نفس بصدده … ، واعلم أن شدة الألم في سكرات الموت لا يعرفها بالحقيقة إلا من ذاقها، ومن لم

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري في كتاب الرقاق، باب سكرات الموت ح6510، وفي كتاب المغازي، باب مرض النبي صلى الله عليه وسلم ووفاته ح4449.

2 رواه البخاري، كتاب المغازي، باب مرض النبي صلى الله عليه وسلم ووفاته ح4446.

3 الذاقنة: الذقن، وقيل طرف الحلقوم، وقيل ما يناله الذقن من الصدر، انظر النهاية في غريب الحديث والأثر ص328.

4 رواه البخاري، كتاب المغازي، باب مرض النبي صلى الله عليه وسلم ووفاته ح 4462.

5 رواه الترمذي، كتاب الجنائز، باب ما جاء في التشديد عند الموت ح979، وصححه الألباني في صحيح سنن الترمذي 1/502 ح979.
...হাত (উত্তোলন করলেন), তারপর বলতে লাগলেন: "উচ্চমর্যাদাবান বন্ধুর সাথে", পরিশেষে তাঁর প্রাণ কবজ করা হলো এবং তাঁর হাত নুয়ে পড়ল।”1.

2- আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন নবি (সা.)-এর রোগযন্ত্রণা বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি বারবার সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ছিলেন। তা দেখে ফাতিমা (রা.) বললেন: হায় আমার বাবার কী নিদারুণ কষ্ট! তখন নবি (সা.) তাঁকে বললেন: “আজকের পর তোমার বাবার আর কোনো কষ্ট নেই।” যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, ফাতিমা (রা.) বললেন: ওগো আমার আব্বাজান! তিনি তাঁর রবের ডাকে সাড়া দিয়েছেন যিনি তাঁকে ডেকেছিলেন। ওগো আব্বাজান! জান্নাতুল ফিরদাউস যাঁর আবাসস্থল। ওগো আব্বাজান! জিবরাইল (আ.)-এর কাছে আমরা তাঁর মৃত্যুসংবাদ পৌঁছাই। এরপর যখন তাঁকে দাফন করা হলো, ফাতিমা (আ.) বললেন: হে আনাস! রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র দেহের ওপর মাটি চাপা দিতে কি তোমাদের মন সায় দিল?2

3- ইমাম বুখারি তাঁর নিজস্ব সনদে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “নবি (সা.) আমার বুকের ওপরের অংশ ও চিবুকের মাঝামাঝি স্থানে হেলান দেওয়া অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।3 নবি (সা.)-এর মৃত্যুর তীব্রতা দেখার পর আমি আর কারো মৃত্যুর কষ্টকে অপছন্দ করি না।” 4.

4- ইমাম তিরমিজি তাঁর সনদে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মৃত্যুর তীব্রতা দেখার পর কারো সহজ মৃত্যু দেখে আমি তাকে ঈর্ষণীয় মনে করি না।”5.

আবু হামিদ আল-গাজালি (মৃত্যু ৫০৫ হিজরি) বলেন: “জেনে রেখো, যদি এই অসহায় বান্দার সামনে মৃত্যুযন্ত্রণা ব্যতীত আর কোনো কষ্ট, আতঙ্ক বা আজাব না থাকত, তবে সেটিই তার জীবনকে বিষাদময় করে তোলার জন্য যথেষ্ট ছিল। তার আনন্দগুলোকে তা ম্লান করে দিত এবং তার উদাসীনতা ও গাফিলতি দূর করে দিত। আর তার জন্য সমীচীন ছিল যে, সে দীর্ঘ সময় ধরে এ নিয়ে চিন্তা করবে এবং এর জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। বিশেষ করে যখন সে তার প্রতিটি নিঃশ্বাসে এর মুখোমুখি হচ্ছে … , আর জেনে রেখো, মৃত্যুযন্ত্রণার তীব্রতা কেবল সেই প্রকৃতভাবে অনুধাবন করতে পারে যে তা আস্বাদন করেছে। আর যে ব্যক্তি তা

--------------------------------------------

1 বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন 'কিতাবুর রিকাক', মৃত্যুযন্ত্রণা অধ্যায়, হাদিস নং ৬৫১০ এবং 'কিতাবুল মাগাজি', নবি (সা.)-এর অসুস্থতা ও মৃত্যু অধ্যায়, হাদিস নং ৪৪৪৯-এ।

2 বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, 'কিতাবুল মাগাজি', নবি (সা.)-এর অসুস্থতা ও মৃত্যু অধ্যায়, হাদিস নং ৪৪৪৬।

3 আল-জাকিনাহ: চিবুক, বলা হয় কণ্ঠনালির প্রান্তভাগ, আবার বলা হয় বুকের ওপর চিবুকের স্পর্শস্থল। দেখুন: আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, পৃষ্ঠা ৩২৮।

4 বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, 'কিতাবুল মাগাজি', নবি (সা.)-এর অসুস্থতা ও মৃত্যু অধ্যায়, হাদিস নং ৪৪৬২।

5 তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন, 'কিতাবুল জানাইজ', মৃত্যুকালে কঠোরতা সংক্রান্ত অধ্যায়, হাদিস নং ৯৭৯; এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ সুনান তিরমিজি ১/৫০২, হাদিস নং ৯৭৯-এ।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৮৩)
يذقها فإنما يعرفها إما بالقياس إلى الآلام التي أدركها، وإما بالاستدلال بأحوال الناس في النَزع على شدة ما هم فيه.

فأما القياس: الذي يشهد له فهو أن كل عضو لا روح فيه فلا يحس بالألم، فإذا كان فيه الروح فالمدرك للألم هو الروح، فمهما أصاب العضو، جرح أو حريق سرى الأثر إلى الروح، فبقدر ما يسري إلى الروح يتألم، يتفرق على اللحم والدم وسائر الأجزاء، فلا يصيب الروح إلا بعض الألم؛ فإن كان من الآلام ما يباشر نفس الروح ولا يلاقي غيره فما أعظم ذلك الألم وما أشده، والنَزع عبارة عن مؤلم نزل بنفس الروح فاستغرق جميع أجزائه، حتى لم يبق جزء من أجزاء الروح المنتشر في أعماق البدن إلا وقد حل به الألم … ، فألم النَزع يهجم على نفس الروح ويستغرق جميع أجزائه؛ فإنه المنْزوع المجذوب من كل عرق من العروق، وعصب من الأعصاب، وجزء من الأجزاء، ومفصل من المفاصل، ومن أصل كل شعرة وبشرة من العرق إلى القدم، … فلا تسل عن بدن يجذب منه كل عرق من عروقه، ولو كان المجذوب عرقاً واحداً لكان ألمه عظيماً، فكيف والمجذوب نفس الروح المتألم، لا من عرق واحد، بل من جميع العروق، ثم يموت كل عضو من أعضائه تدريجياً، فتبرد أولاً قدماه، ثم ساقاه، ثم فخذاه، ولكل عضو سكرة بعد سكرة، وكربة بعد كربة، حتى يبلغ بها إلى الحلقوم، فعند ذلك ينقطع نظره عن الدنيا وأهلها”1.

أخرج ابن أبي الدنيا عن شداد ابن أوس رضي الله عنه قال: “الموت أفظع هول في الدنيا والآخرة على المؤمنين، والموت أشد من نشر بالمناشير، وقرض بالمقاريض، وغلي في القدور، ولو أن الميت نُشر2 فأخبر أهل الدنيا بألم

--------------------------------------------

1 كتاب الموت: ص65- 67 ونقله ابن الجوزي في: الثبات عند الممات ص61- 63.

(2) النشر: البعث والإحياء، انظر لسان العرب 3/635.
...তা আস্বাদন করেনি, সে তা কেবল তার অনুভূত যন্ত্রণার সাথে তুলনা করে অথবা মৃত্যুযন্ত্রণার (النزع) সময় মানুষের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাদের তীব্র কষ্ট সম্পর্কে অনুমানের মাধ্যমে জানতে পারে।

আর তুলনার বিষয়টি হলো: যা এর সাক্ষ্য দেয় তা হলো, প্রতিটি অঙ্গ যাতে প্রাণ নেই তা ব্যথা অনুভব করে না। আর যখন তাতে প্রাণ থাকে, তখন ব্যথার অনুভবকারী হলো প্রাণ। সুতরাং অঙ্গে যখন কোনো ক্ষত বা দহন ঘটে, তার প্রভাব প্রাণের দিকে ধাবিত হয়। যতটুকু প্রাণের দিকে ধাবিত হয়, প্রাণ ঠিক ততটুকুই ব্যথিত হয়। এই যন্ত্রণা মাংস, রক্ত ও অন্যান্য অংশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে প্রাণের কাছে ব্যথার কেবল একাংশ পৌঁছায়। কিন্তু এমন কোনো যন্ত্রণা যদি থাকে যা সরাসরি খোদ প্রাণের ওপর আপতিত হয় এবং অন্য কিছুর সাথে মিলিত না হয়, তবে সেই যন্ত্রণা কতই না মহান এবং কতই না তীব্র! আর মৃত্যুযন্ত্রণা (النزع) হলো এমন এক যন্ত্রণার নাম যা খোদ প্রাণের ওপর আপতিত হয় এবং এর সকল অংশকে পরিবেষ্টন করে নেয়। এমনকি শরীরের গভীরতম প্রদেশে ছড়িয়ে থাকা প্রাণের কোনো অংশই অবশিষ্ট থাকে না যেখানে সেই যন্ত্রণা প্রবেশ করে না … , সুতরাং মৃত্যুযন্ত্রণা (النزع) খোদ প্রাণের ওপর আক্রমণ করে এবং তার সকল অংশকে গ্রাস করে। কারণ তা প্রতিটি শিরা, প্রতিটি স্নায়ু, প্রতিটি অঙ্গ, প্রতিটি জোড়া এবং চুলের গোড়া থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত প্রতিটি লোম ও চামড়া থেকে ছিনিয়ে আনা হয় ও টেনে বের করা হয়, … এমন শরীর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না যার প্রতিটি শিরা থেকে টেনে বের করা হচ্ছে। যদি কেবল একটি শিরা টেনে বের করা হতো তবে তার যন্ত্রণাই হতো ভয়াবহ, তাহলে সেই অবস্থা কেমন হবে যখন খোদ ব্যথিত প্রাণকে টেনে বের করা হয়—একটি শিরা থেকে নয় বরং সকল শিরা থেকে? অতঃপর শরীরের প্রতিটি অঙ্গ পর্যায়ক্রমে মৃত্যুবরণ করে। প্রথমে তার পা দুটি ঠাণ্ডা হয়ে যায়, তারপর পায়ের নলা দুটি, তারপর উরুদ্বয়। প্রতিটি অঙ্গের জন্য একের পর এক মৃত্যুযন্ত্রণা (سكرة) এবং একের পর এক ক্লেশ (كربة) আসতে থাকে, যতক্ষণ না তা কণ্ঠনালী পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সেই মুহূর্তে দুনিয়া ও দুনিয়াবাসীদের থেকে তার দৃষ্টি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।”১

ইবনে আবিদ দুনিয়া শাদ্দাদ ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: “মুমিনদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে মৃত্যু হলো সবচেয়ে ভয়াবহ আতঙ্ক। করাত দিয়ে চেরা, কাঁচি দিয়ে কাটা কিংবা ডেকচিতে ফুটানোর চেয়েও মৃত্যু অধিক যন্ত্রণাদায়ক। যদি কোনো মৃত ব্যক্তিকে পুনরুত্থিত (نشر) করা হতো এবং সে দুনিয়াবাসীদের যন্ত্রণার খবর দিত...

--------------------------------------------

১ কিতাবুল মউত: পৃষ্ঠা ৬৫-৬৭; এবং ইবনুল জাওযী এটি আস-সাবাত ইনদাল মামাত পৃষ্ঠা ৬১-৬৩ এ বর্ণনা করেছেন।

(২) আল-নাশর (النشر): পুনরুত্থান ও পুনর্জীবন; দেখুন লিসানুল আরব ৩/৬৩৫।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৮৪)
الموت، ما انتفعوا بعيش، ولا لذوا بنوم”1.

وأخرج ابن سعد ت 230هـ عن عوانة بن الحكم قال: كان عمرو بن العاص يقول: عجباً لمن نزل به الموت وعقله معه كيف لا يصفه، فلما نزل به قال له ابنه عبد الله: يا أبتِ إنك كنت تقول: عجباً لمن نزل به الموت وعقله معه كيف لا يصفه؟ فصف لنا الموت قال”يا بنيّ الموت أجل من أن يوصف، ولكن سأصف لك منه شيئاً، أجدني كأن على عنقي جبال رضوى، وأجدني كأن في جوفي الشوك، وأجدني كأن نفسي تخرج من ثقب إبرة”2.

--------------------------------------------

(1) انظر كتاب الموت ص69.

(2) طبقات ابن سعد 4/260، وانظر سير أعلام النبلاء 3/75، وفتح الباري شرح صحيح البخاري 8/346.
মৃত্যু—তাঁরা না জীবনের দ্বারা উপকৃত হতে পেরেছে, না ঘুমের স্বাদ নিতে পেরেছে।১

ইবনে সাদ (মৃত্যু ২৩০ হি.) আওয়ানা ইবনুল হাকাম থেকে উদ্ধৃত করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: আমর ইবনুল আস বলতেন, "সেই ব্যক্তির জন্য বিস্ময় যার নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়েছে অথচ তার বুদ্ধি স্থির রয়েছে, সে কেন মৃত্যুর বর্ণনা দেয় না?" এরপর যখন তাঁর নিজের মৃত্যু উপস্থিত হলো, তখন তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ তাঁকে বললেন, "হে পিতা! আপনি তো বলতেন: 'সেই ব্যক্তির জন্য বিস্ময় যার নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়েছে অথচ তার বুদ্ধি স্থির রয়েছে, সে কেন মৃত্যুর বর্ণনা দেয় না?' সুতরাং আমাদের নিকট মৃত্যুর বর্ণনা দিন।" তিনি বললেন, "হে বৎস! মৃত্যু বর্ণনা করার ঊর্ধ্বে; তবুও আমি তোমার কাছে এর কিছুটা বর্ণনা করছি—আমি অনুভব করছি যেন আমার ঘাড়ে 'রাদওয়া' পাহাড় চেপে আছে, আমার পেটের ভেতর যেন কাঁটাযুক্ত ডাল রয়েছে এবং আমার প্রাণ যেন সুঁচের ছিদ্র দিয়ে বের হচ্ছে।"২

--------------------------------------------

(১) দেখুন: কিতাবুল মউত, পৃষ্ঠা ৬৯।

(২) তাবাকাত ইবনে সাদ ৪/২৬০, আরও দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ৩/৭৫ এবং ফাতহুল বারী শারহু সহিহিল বুখারি ৮/৩৪৬।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৮৪)
‌‌المطلب الثالث: سكرات الموت تحصل لكل المخلوقات

كل المخلوقات تجد سكرات الموت ويشهد لهذا عموم قوله تعالى {كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ} 1، وقوله صلى الله عليه وسلم “إن للموت سكرات”2، لكن تختلف المخلوقات في درجة إحساسها بالسكرات3.

فالعبد المؤمن تخرج روحه بسهولة ويسر، ودليل ذلك ما ورد في حديث البراء ابن عازب أن الرسول صلى الله عليه وسلم قال عن وفاة المؤمن: “ثم يجيء ملك الموت عليه السلام حتى يجلس عند رأسه فيقول: أيتها النفس الطيبة [وفي رواية: (3) سورة آل عمران، الآية 185.

--------------------------------------------

(4) سبق تخريجه في ص: 82.

(5) انظر التذكرة في أحوال الموتى وأمور الآخرة 1/50، 51.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মৃত্যুর যন্ত্রণা সকল সৃষ্টির ক্ষেত্রে ঘটে থাকে

প্রত্যেক সৃষ্টিই মৃত্যুর যন্ত্রণার সম্মুখীন হয় এবং মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা এর সাক্ষ্য দেয়: {প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে} ১, এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: “নিশ্চয়ই মৃত্যুর যন্ত্রণা রয়েছে” ২; তবে যন্ত্রণার তীব্রতা অনুভবের ক্ষেত্রে সৃষ্টিজীবের মধ্যে তারতম্য হয়ে থাকে ৩।

মুমিন বান্দার রূহ অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে নির্গত হয়। এর প্রমাণ বারা ইবনে আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, যাতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুমিনের মৃত্যু সম্পর্কে বলেছেন: “অতঃপর মালাকুল মাউত (আলাইহিস সালাম) এসে তাঁর শিয়রে বসেন এবং বলেন: হে পবিত্র আত্মা [অন্য বর্ণনায় (رواية): (৩) সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১৮৫।

--------------------------------------------

(৪) এর তাখরিজ (تخريج) ইতিপূর্বে ৮২ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৫) দেখুন: আত-তাযকিরা ফি আহওয়ালিল মাওতা ওয়া উমুরিল আখিরাহ ১/৫০, ৫১।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৮৫)
المطمئنة] اخرجي إلى مغفرة من الله ورضوان، قال: فتخرج تسيل كما تسيل القطرة من في السقاء1، فيأخذها … ”2.

أما الكافر فإن روحه تخرج بشدة وصعوبة يتعذب بها، لقوله صلى الله عليه وسلم في حديثه عن وفاة الكافر [وفي رواية الفاجر] : “ثم يجيء ملك الموت حتى يجلس عند رأسه فيقول: أيتها النفس الخبيثة اخرجي إلى سخط من الله وغضب قال: فتفرق في جسده، فينتزعها كما ينتزع السفود3 الكثير الشعب من الصوف المبلول، فتقطع معها العروق والعصب”4.

هذا بالجملة وإلا فإنه قد تشتد السكرات على بعض الصالحين؛ لتكفير ذنوبهم، ولرفع درجاتهم، كما حصل للرسول صلى الله عليه وسلم حيث عانى من شدة سكرات الموت، كما في صحيح البخاري في الحديث السابق ذكره5.

قال ابن حجر: “وفي الحديث " لا إله إلا الله إن للموت سكرات ": أن شدة الموت لا تدل على نقص في المرتبة، بل هي للمؤمن إما زيادة في حسناته، وإما تكفير لسيئاته”6.

وقد ترجم ابن ماجه ت275? في سننه بعنوان: “باب ما جاء في المؤمن

--------------------------------------------

(1) السقاء هو ظرف الماء من الجلد، ويجمع على أسقية، انظر النهاية في غريب الحديث والأثر ص436.

(2) الحديث رواه أحمد 4/2876 وَ 295 وَ296 وأبو داود، كتاب السنة، باب في المسألة في القبر وعذاب القبر ح 4753.

(3) السفود: حديدة ذات شعب معقفة، يشوى بها اللحم، انظر لسان العرب 2/154.

(4) سبق تخريجه.

(5) عند الإحالة ص: 82.

(6) فتح الباري شرح صحيح الباري 11/363.
প্রশান্ত আত্মা] আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে বেরিয়ে এসো। তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বলেন: "অতঃপর তা নির্গত হয় যেভাবে মশক থেকে পানির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ে১, এরপর তিনি তা গ্রহণ করেন … ”২.

পক্ষান্তরে কাফিরের প্রাণ অত্যন্ত কঠোরতা ও কষ্টের সাথে নির্গত হয় যার মাধ্যমে সে শাস্তি ভোগ করে। কেননা কাফিরের মৃত্যু সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর হাদিসে [অন্য বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী পাপাচারী (فاجর)] ইরশাদ করেছেন: “অতঃপর মালাকুল মাউত এসে তার শিয়রে বসেন এবং বলেন: হে অপবিত্র আত্মা, আল্লাহর অসন্তোষ ও রাগের দিকে বেরিয়ে এসো। তিনি বলেন: তখন তার আত্মা শরীরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে, আর তিনি তা এমনভাবে টেনে বের করেন যেভাবে অনেক কাঁটাযুক্ত লোহার শিক ভেজা পশম থেকে টেনে বের করা হয়, যার ফলে এর সাথে রগ ও স্নায়ুগুলো ছিঁড়ে আসে”৪.

এটি একটি সাধারণ নিয়ম, অন্যথায় কোনো কোনো নেককার বান্দার মৃত্যুযন্ত্রণা তীব্র হতে পারে; তাদের গুনাহের কাফফারা হিসেবে এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য। যেমনটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল যখন তিনি মৃত্যুযন্ত্রণার তীব্রতায় কষ্ট পেয়েছিলেন, যা ইতোপূর্বে উল্লেখিত হাদিসে সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে৫.

ইবনে হাজার বলেন: “এবং হাদিসে এসেছে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, নিশ্চয়ই মৃত্যুর রয়েছে তীব্র যন্ত্রণা': অর্থাৎ মৃত্যুর তীব্রতা মর্যাদার হ্রাসের ওপর নির্দেশ (دلالة) করে না, বরং মুমিনের জন্য এটি হয় তার নেকি বৃদ্ধির মাধ্যম অথবা তার গুনাহের কাফফারা”৬.

এবং ইবনে মাজাহ (ওফাত ২৭৫ হি.) তাঁর সুনানে একটি শিরোনাম দিয়েছেন: “অধ্যায়: মুমিন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

--------------------------------------------

(১) সিকা (السقاء) হলো চামড়ার তৈরি পানির পাত্র, যার বহুবচন আসকিয়াহ (أسقية)। দেখুন: আল-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, পৃষ্ঠা ৪৩৬।

(২) হাদিসটি বর্ণনা (رواه) করেছেন আহমদ ৪/২৮৭৬, ২৯৫ ও ২৯৬ এবং আবু দাউদ, কিতাবুস সুন্নাহ, কবর সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর ও কবরের আজাব অধ্যায়, হাদিস ৪৭৫৩।

(৩) সাফুদ (السفود) হলো অনেকগুলো বাঁকানো শাখাযুক্ত লোহার শিক, যা দিয়ে মাংস ঝলসানো হয়। দেখুন: লিসানুল আরব ২/১৫৪।

(৪) এর উদ্ধৃতকরণ বা তখরিজ (تخريج) পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৫) পৃষ্ঠা ৮২-এর উদ্ধৃতিতে।

(৬) ফাতহুল বারি শারহু সহিহিল বুখারি ১১/৩৬৩।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৮৬)
يؤجر في النَزْع”، وساق تحته قوله صلى الله عليه وسلم: “المؤمن يموت بعرق الجبين” 1، كما قد جاء في حديث آخر قوله صلى الله عليه وسلم: “الشهيد لا يجد ألم القتل إلا كما يجد أحدكم ألم مس القرصة” 2.

وهذا يدل على أن الأصل تخفيف نزع روح المؤمن، إلا أنها قد تشدّد على من أراد الله سبحانه وتعالى من المؤمنين؛ تكفيراً لسيئاتهم، أو رفعاً لدرجاتهم؛ قال القرطبي في معرض حديثه عن سكرات الموت: قال القرطبي: (قال علماؤنا رحمة الله عليهم: فإذا كان هذا الأمر قد أصاب الأنبياء والمرسلين والأولياء فما لنا عن ذكره مشغولين؟ وعن الاستعداد له متخلفين؟ قالوا وما جرى على الأنبياء صلوات الله عليهم أجمعين من شدائد الموت وسكراته فله فائدتان:

أحدهما: أن يعرف الخلق مقدار ألم الموت وأنه باطن، وقد يطلع الإنسان على بعض الموتى فلا يرى عليه حركة ولا قلقاً، ويرى سهولة خروج روحه، فيغلب على ظنه سهولة أمر الموت ولا يعرف ما الميت فيه، فلما ذكر الأنبياء الصادقون في خبرهم شدة ألمه مع كرامتهم على الله تعالى، وتهوينه على بعضهم قطع الخلق بشدة الموت الذي يعانيه ويقاسيه الميت مطلقاً لإخبار الصادقين عنه، ما خلا الشهيد قتيل الكفار....

الثانية: ربما خطر لبعض الناس أن هؤلاء أحباب الله وأنبياؤه ورسله، فكيف يقاسون هذه الشدائد العظيمة؟ وهو سبحانه قادر أن يخفف عنهم أجمعين. فالجواب: أن “أشد الناس بلاءً في الدنيا الأنبياء ثم الأمثل فالأمثل” 3

--------------------------------------------

(1) رواه ابن ماجه في كتاب الجنائز، باب ما جاء في المؤمن يؤجر في النزع ح1452 وصححه الألباني في صحيح سنن ابن ماجه 1/245ح 1188.

(2) رواه ابن ماجه، كتاب الجهاد، باب فضل الشهادة في سبيل الله ح 2808 وصححه الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة ح960 وصحيح سنن ابن ماجه 2/130ح 2260.

(3) طرف من حديث رواه الترمذي، كتاب الزهد، باب ما جاء في الصبر على البلاء ح 2398 ورواه ابن ماجه، كتاب الفتن، باب الصبر على البلاء ح4023 وصححه الألباني في صحيح سنن ابن ماجه 2/371 ح3249.
"মৃত্যু যন্ত্রণায় সওয়াব লাভ করা হয়", এবং তিনি এর অধীনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি উল্লেখ করেছেন: "মুমিন কপালে ঘাম নিয়ে মৃত্যুবরণ করে" ১, যেমনটি অন্য এক হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী এসেছে: "শহীদ হত্যার কষ্ট কেবল ততটুকুই অনুভব করে, যতটুকু তোমাদের কেউ চিমটির (বা পিঁপড়ার কামড়ের) কষ্ট অনুভব করে" ২।

এটি প্রমাণ করে যে, মূলত মুমিনের রূহ কবজের কষ্ট লাঘব করাই নিয়ম, তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুমিনদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা করেন তার ওপর এটি কঠিন হতে পারে; তাদের পাপের কাফফারা হিসেবে অথবা তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য। ইমাম কুরতুবী মৃত্যু যন্ত্রণা সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে বলেন: (আমাদের উলামায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম বলেছেন: যদি এই বিষয়টি নবী, রাসূল এবং ওলীদের ওপর আপতিত হয়ে থাকে, তবে আমাদের কী হয়েছে যে আমরা এটি স্মরণ করা থেকে বিমুখ হয়ে আছি? এবং এর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ থেকে পিছিয়ে আছি? তারা বলেছেন যে, নবীগণের (তাদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) ওপর মৃত্যুর যে কঠোরতা ও যন্ত্রণা আপতিত হয়েছে তার পেছনে দুটি উপকারিতা রয়েছে:

প্রথমত: যাতে সৃষ্টিজগত মৃত্যুর যন্ত্রণার পরিমাণ সম্পর্কে জানতে পারে এবং এটি যে একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় তা অনুধাবন করতে পারে। কখনও মানুষ কোনো মৃত ব্যক্তিকে দেখে তার মধ্যে কোনো নড়াচড়া বা উদ্বেগ দেখতে পায় না এবং তার রূহ সহজে বের হয়ে যাওয়া অবলোকন করে, ফলে তার প্রবল ধারণা হয় যে মৃত্যুর বিষয়টি সহজ এবং মৃত ব্যক্তি কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা সে জানতে পারে না। কিন্তু সত্যবাদী নবীগণ যখন আল্লাহর কাছে তাদের উচ্চ মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও এর তীব্র যন্ত্রণার সংবাদ দিয়েছেন এবং কারও কারও ক্ষেত্রে তা সহজ করার কথা বলেছেন, তখন সৃষ্টিজগত নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করল যে মৃত ব্যক্তি মূলত কী পরিমাণ মৃত্যুর যন্ত্রণা ভোগ করে, কারণ সত্যবাদীরা সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন; কাফেরদের হাতে নিহত শহীদ ব্যতীত...

দ্বিতীয়ত: কারো মনে হয়তো এই ধারণার উদয় হতে পারে যে, এরা তো আল্লাহর প্রিয় বান্দা, তাঁর নবী ও রাসূল, তবে কেন তারা এমন মহান কষ্টের সম্মুখীন হন? অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের সকলের থেকে এই কষ্ট লাঘব করতে সক্ষম। এর উত্তর হলো: "দুনিয়াতে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার সম্মুখীন হন নবীগণ, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী এবং এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী" ৩

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ এটি জানাজা অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, 'মুমিন মৃত্যু যন্ত্রণায় সওয়াব লাভ করে' পরিচ্ছেদে, হাদিস ১৪৫২; এবং আলবানী একে সহিহ (صححه) বলে আখ্যায়িত করেছেন সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ ১/২৪৫, হাদিস ১১৮৮-এ।

(২) ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন, জিহাদ অধ্যায়, 'আল্লাহর পথে শাহাদাতের মর্যাদা' পরিচ্ছেদে, হাদিস ২৮০৮; এবং আলবানী একে সহিহ (صححه) বলে আখ্যায়িত করেছেন সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ, হাদিস ৯৬০ এবং সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ ২/১৩০, হাদিস ২২৬০-এ।

(৩) তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিসের অংশবিশেষ, যুহদ অধ্যায়, 'বিপদে ধৈর্য ধারণ' পরিচ্ছেদে, হাদিস ২৩৯৮; এবং ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন, ফিতনা অধ্যায়, 'বিপদে ধৈর্য ধারণ' পরিচ্ছেদে, হাদিস ৪০২৩; এবং আলবানী একে সহিহ (صححه) বলে আখ্যায়িত করেছেন সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ ২/৩৭১, হাদিস ৩২৪৯-এ।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৮৭)
كما قال نبينا عليه السلام … فأحب الله أن يبتليهم تكميلاً لفضائلهم لديه، ورفعة لدرجاتهم عنده، وليس ذلك في حقهم نقصاً ولا عذاباً، بل هو.. كمال رفعة، مع رضاهم بجميل ما يجري الله عليهم، فأراد الحق سبحانه أن يختم لهم بهذه الشدائد، مع إمكان التخفيف والتهوين عليهم، ليرفع منازلهم، ويعظم أجورهم قبل موتهم، كما ابتلى إبراهيم بالنار، وموسى بالخوف والأسفار وعيسى بالصحارى والقفار، ونبينا محمداً صلى الله عليه وسلم بالفقر في الدنيا ومقاتلة الكفار، كل ذلك لرفعة في أحوالهم وكمال في درجاتهم.

ولا يفهم من هذا أن الله شدد عليهم أكثر مما شدد على العصاة المخلطين؛ فإن ذلك عقوبة لهم، ومؤاخذة على إجرامهم، فلا نسبة بينه وبين هذا) 1.

فشدة السكرات تخفف من الذنوب، وكل ما يصيب الإنسان من مرض أو شدة أو هم أو غم حتى الشوكة تصيبه فإنها كفارة لذنوبه، ثم إن صبر واحتسب كان له مع التكفير أجر ذلك الصبر الذي قابل به هذه المصيبة التي لحقت به، ولا فرق في ذلك بين ما يكون عند الموت، وما يكون قبله، فالمصائب كفارات لذنوب المؤمن2، وقد أخبر الرسول صلى الله عليه وسلم بأنه: “ما من مسلم يصيبه أذى من مرض فما سواه إلاحط الله به سيئاته كما تحط الشجرة ورقها” 3، وكذلك قوله صلى الله عليه وسلم: “من يرد الله به خيراً يصب منه” 4 وقوله صلى الله عليه وسلم: “ما يصيب المؤمن من

--------------------------------------------

(1) التذكرة في أحوال الموتى وأمور الآخرة 1/48- 50.

(2) انظر فتاوى الشيخ محمد صالح العثيمين 2/989.

(3) رواه البخاري، كتاب المرضى والطب، باب أشد الناس بلاء الأنبياء ثم الأول فالأول ح5648. ورواه مسلم، كتناب البر والصلة والآداب، باب ثواب المؤمن فيما يصيبه من مرض أو حزن ونحو ذلك، حتى الشوكة يشاكها ح2571.

(4) رواه البخاري، كتاب المرضى والطب، باب ما جاء في كفارة المرض وقول الله تعالى {مَنْ يَعْمَلْ سُوءاً يُجْزَ بِهِ} ح5645.
যেমন আমাদের নবী (সা.) বলেছেন … আল্লাহ তাঁদের মর্যাদা পূর্ণ করার জন্য এবং তাঁর নিকট তাঁদের স্তর সমুন্নত করার জন্য তাঁদেরকে পরীক্ষায় (ابتلاء) ফেলার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এটি তাঁদের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি বা আযাব নয়, বরং এটি হচ্ছে তাঁদের মর্যাদার পূর্ণতা। এর সাথে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের ওপর যা কিছু পরিচালিত হয় তার প্রতি তাঁদের সুন্দর সন্তুষ্টি বিদ্যমান থাকে। তাই মহান আল্লাহ চেয়েছিলেন এই কঠোরতার মাধ্যমে তাঁদের জীবনের সমাপ্তি টানতে, অথচ তিনি চাইলে তাঁদের জন্য বিষয়টি সহজ ও শিথিল করতে সক্ষম ছিলেন; যেন এর মাধ্যমে মৃত্যুর পূর্বে তাঁদের মাকাম বৃদ্ধি পায় এবং তাঁদের প্রতিদান মহান হয়। যেমন তিনি ইবরাহিম (আ.)-কে অগ্নিকুণ্ড দ্বারা, মুসা (আ.)-কে ভয় ও সফরের দ্বারা, ঈসা (আ.)-কে মরুভূমি ও জনশূন্য প্রান্তরের দ্বারা এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে দুনিয়ার দারিদ্র্য ও কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাধ্যমে পরীক্ষায় (ابتلاء) ফেলেছিলেন। এ সবকিছুই ছিল তাঁদের অবস্থার উন্নতি ও স্তরের পূর্ণতার জন্য।

এর দ্বারা এমনটি বোঝার অবকাশ নেই যে, আল্লাহ পাপী ও অপরাধীদের ওপর যতটা কঠোরতা আরোপ করেন, নবীদের ওপর তার চেয়ে বেশি কঠোরতা আরোপ করেছেন; কারণ অপরাধীদের ক্ষেত্রে তা হলো দণ্ড এবং তাদের অপরাধের কারণে পাকড়াও। সুতরাং এই দুটির মধ্যে কোনো তুলনা হতে পারে না। ১

মৃত্যু যন্ত্রণার (سكرات) তীব্রতা গুনাহ হ্রাস করে। মানুষের ওপর আপতিত প্রতিটি রোগ, কষ্ট, দুশ্চিন্তা বা বিষণ্ণতা—এমনকি একটি কাঁটা বিঁধলেও তা তার গুনাহের কাফফারা (كفارة) স্বরূপ হয়। এরপর যদি সে ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের প্রত্যাশা করে, তবে গুনাহ মোচনের পাশাপাশি সে ওই বিপদে ধৈর্য ধরার কারণে প্রতিদানও লাভ করবে যা তাকে স্পর্শ করেছে। মৃত্যুর সময়ের কষ্ট এবং তার আগের কষ্টের মধ্যে এ ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই। মুমিনের ওপর আপতিত বিপদসমূহ তার গুনাহের কাফফারা (كفارة) স্বরূপ। ২ রাসূলুল্লাহ (সা.) সংবাদ দিয়েছেন যে: “এমন কোনো মুসলিম নেই যাকে রোগ বা অন্য কোনো কষ্ট স্পর্শ করে অথচ আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ঝরিয়ে দেন না, যেমন গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়।” ৩ একইভাবে তাঁর (সা.) বাণী: “আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে বিপদে (يصب منه) ফেলেন।” ৪ এবং তাঁর বাণী: “মুমিনের ওপর যা কিছু আপতিত হয়...”

--------------------------------------------

(১) আত-তাযকিরাহ ফি আহওয়ালিল মাওতা ওয়া উমুরিল আখিরাহ ১/৪৮- ৫০।

(২) দেখুন ফাতওয়া শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-উসাইমিন ২/৯৮৯।

(৩) বুখারি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল মারদা ওয়াত-তিব্ব, অধ্যায়: মানুষের মধ্যে নবীদের ওপর সবচাইতে কঠিন পরীক্ষা আসে, এরপর যারা তাঁদের নিকটবর্তী এবং তারপর যারা তাঁদের নিকটবর্তী (أشد الناس بلاء الأنبياء ثم الأول فالأول), হাদিস ৫৬৪৮। মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল বিররি ওয়াস-সিলাতি ওয়াল আদাব, অধ্যায়: রোগ বা দুঃখ ইত্যাদিতে আক্রান্ত মুমিনের সওয়াব, এমনকি একটি কাঁটা বিঁধলেও, হাদিস ২৫৭১।

(৪) বুখারি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল মারদা ওয়াত-তিব্ব, অধ্যায়: রোগের কাফফারা (كفارة) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে এবং আল্লাহর বাণী {যে মন্দ কাজ করবে তাকে তার ফল দেওয়া হবে}, হাদিস ৫৬৪৫।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৮৮)
وصب1 ولا نصب2 ولا سقم ولا حزن حتى الهمّ يهمّه إلا كفر به من سيئاته” 3، وفي رواية قال صلى الله عليه وسلم: “ما يصيب المسلم من نصب ولا وصب ولا هم ولا حزن ولا أذى ولا غم حتى الشوكة يشاكها إلا كفر الله بها من خطاياه” 4.

--------------------------------------------

(1) الوصب: دوام المرض ولزومه، وقد يطلق الوصب على التعب وفتور البدن، انظر النهاية في غريب الحديث والأثر ص974.

(2) النصب: التعب، انظر النهاية في غريب الحديث والأثر ص918، وفتح الباري شرح صحيح البخاري 10/106.

(3) رواه مسلم، كتاب البر والصلة والآداب، باب ثواب المؤمن فيما يصيبه من مرض أو حزن ونحو ذلك، حتى الشوكة يشاكها ح2573.

(4) رواه البخاري، كتاب المرضى والطب، باب ما جاء في كفارة المرض وقول الله تعالى: {مَنْ يَعْمَلْ سُوءاً يُجْزَ بِهِ} ح5642.
ব্যথা-বেদনা (وصب)1, ক্লান্তি (نصب)2, অসুস্থতা বা দুঃখ-বেদনা—এমনকি কোনো উদ্বেগ যা তাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে—এর বিনিময়ে তার পাপরাশি মোচন করা হয়” 3। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “একজন মুসলিমের উপর যে কোনো ক্লান্তি (نصب), রোগ (وصب), উদ্বেগ, দুঃখ, কষ্ট বা দুশ্চিন্তা আপতিত হয়, এমনকি তার গায়ে যদি একটি কাঁটাও ফোটে, আল্লাহ এর মাধ্যমে তার পাপসমূহ মোচন করে দেন” 4।

--------------------------------------------

(1) আল-ওয়াসাব (الوصب): রোগের স্থায়িত্ব ও অবিরাম থাকা। কখনও কখনও 'ওয়াসাব' শব্দটি ক্লান্তি ও শরীরের অবসাদ অর্থেও ব্যবহৃত হয়। দেখুন: আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, পৃষ্ঠা ৯৭৪।

(2) আন-নাসাব (النصب): ক্লান্তি। দেখুন: আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, পৃষ্ঠা ৯১৮ এবং ফাতহুল বারি শারহু সহিহিল বুখারি ১০/১০৬।

(3) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাতি ওয়াল আদাব, পরিচ্ছেদ: মুমিনের রোগ, শোক ও অনুরূপ বিষয়ে সওয়াব লাভ, এমনকি কাঁটা বিঁধলেও, হাদিস ২৫৭৩।

(4) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, কিতাবুল মারদা ওয়াত তিব্ব, পরিচ্ছেদ: অসুস্থতার কাফফারা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যে মন্দ কাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে}, হাদিস ৫৬৪২।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৮৯)
‌‌المبحث الثاني: وصف حال توفي الملائكة الكفار

أخبر الله سبحانه وتعالى في كتابه الكريم عن حال توفي الملائكة الكفارَ، وذلك بأن الملائكة يضربون وجوه الكفار وأدبارهم، ويبشرونهم بعذاب الحريق، قال تعالى: {وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُوا الْمَلائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ. ذَلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ وَأَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ} 1.

قال ابن كثير: “يقول تعالى ولو عاينت يا محمد حال توفي الملائكة أرواح الكفار لرأيت أمراً عظيماً هائلاً فظيعاً منكراً؛ إذ يضربون وجوههم وأدبارهم، ويقولون: لهم: ذوقوا عذاب الحريق”2.

وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ ارْتَدُّوا عَلَى أَدْبَارِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْهُدَى الشَّيْطَانُ سَوَّلَ لَهُمْ وَأَمْلَى لَهُمْ. ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لِلَّذِينَ كَرِهُوا مَا نَزَّلَ اللَّهُ سَنُطِيعُكُمْ فِي بَعْضِ الْأَمْرِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِسْرَارَهُمْ. فَكَيْفَ إِذَا تَوَفَّتْهُمُ الْمَلائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ. ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اتَّبَعُوا مَا أَسْخَطَ اللَّهَ وَكَرِهُوا رِضْوَانَهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ} 3، أي كيف حال الكفار إذ جاءتهم الملائكة لقبض أرواحهم وتعاصت الأرواح في أجسادهم، واستخرجتها الملائكة وهم باسطوا أيديهم يضربون وجوههم وأدبارهم، يقولون لهم أخرجوا أنفسكم4.

والخبر الوارد في سورة الأنفال نزل في وصف وفاة الكفار يوم بدر إلا أنه وصف عام لوفاة الكفار في كل وقت، قال ابن كثير في تفسيره للآية السابقة:

--------------------------------------------

1 سورة الأنفال، الآيتان 50 وَ 51.

2 تفسير القرآن العظيم 2/305.

3 سورة محمد، الآيتان 27 وَ 28.

4 انظر جامع البيان في تفسير القرآن 7/182 وتفسير القرآن العظيم 4/182.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কাফেরদের মৃত্যুকালে ফেরেশতাদের আচরণের বর্ণনা

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবে কাফেরদের মৃত্যুকালে ফেরেশতাদের অবস্থার সংবাদ দিয়েছেন। তা হলো, ফেরেশতারা কাফেরদের মুখে ও পিঠে আঘাত করে এবং তাদেরকে দহন যন্ত্রণার সংবাদ দেয়। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যদি তুমি দেখতে যখন ফেরেশতারা কাফেরদের জান কবজ করছিল, তারা তাদের মুখে ও পিঠে আঘাত করছিল এবং বলছিল: তোমরা দহন যন্ত্রণা ভোগ করো। এটা তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি বিন্দুমাত্রও জুলুমকারী নন} ১।

ইবনে কাসীর বলেন: “আল্লাহ তাআলা বলছেন, হে মুহাম্মদ! তুমি যদি কাফেরদের আত্মা কবজ করার সময় ফেরেশতাদের অবস্থা প্রত্যক্ষ করতে, তবে তুমি এক মহান, ভয়াবহ, লোমহর্ষক ও অত্যন্ত কঠিন বিষয় দেখতে পেতে; যখন তারা তাদের মুখে ও পিঠে আঘাত করছিল এবং বলছিল: তোমরা দহন যন্ত্রণার স্বাদ গ্রহণ করো” ২।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই যারা তাদের নিকট হিদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর পশ্চাদপসরণ করেছে, শয়তান তাদের কাজকে শোভন করে দেখিয়েছে এবং তাদেরকে দীর্ঘ আশার প্রলোভন দিয়েছে। এটা এ কারণে যে, যারা আল্লাহর নাজিলকৃত বিষয়কে অপছন্দ করে তারা তাদেরকে বলেছিল: আমরা কোনো কোনো ব্যাপারে তোমাদের আনুগত্য করব। আর আল্লাহ তাদের গোপনীয়তা সম্পর্কে অবগত। তবে কেমন হবে যখন ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করবে এবং তাদের মুখে ও পিঠে আঘাত করবে? এটা এ কারণে যে, তারা এমন পথ অনুসরণ করেছে যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে এবং তারা তাঁর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছে, ফলে তিনি তাদের আমলসমূহকে নিষ্ফল করে দিয়েছেন} ৩। অর্থাৎ, কাফেরদের অবস্থা কেমন হবে যখন ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করতে আসবে এবং তাদের দেহে থাকা প্রাণ বের হতে অস্বীকার করবে, তখন ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে তাদের মুখে ও পিঠে আঘাত করে তা বের করে আনবে এবং তাদেরকে বলবে—তোমরা তোমাদের প্রাণ বের করো ৪।

সূরা আল-আনফালে বর্ণিত সংবাদ (خبر) মূলত বদরের যুদ্ধে কাফেরদের মৃত্যুর বর্ণনায় নাজিল হয়েছে, তবে এটি সব সময়ের কাফেরদের মৃত্যুর একটি সাধারণ বর্ণনা। ইবনে কাসীর পূর্বোক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেন:

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আনফাল, আয়াত ৫০ ও ৫১।

২ তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ২/৩০৫।

৩ সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ২৭ ও ২৮।

৪ দেখুন জামিউল বায়ান ফি তাফসীরিল কুরআন ৭/১৮২ এবং তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৪/১৮২।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৯০)
“وهذا السياق وإن كان سببه وقعة بدر، ولكنه عام في حق كل كافر؛ ولهذا لم يخصصه الله تعالى بأهل بدر، بل قال تعالى: {وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُوا الْمَلائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُم} وفي سورة القتال [محمد] مثلها، وتقدم في سورة الأنعام قوله تعالى: {وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُم} 1، أي باسطوا أيديهم بالضرب فيهم بأمر ربهم؛ إذ استصعبت أنفسهم وامتنعت من الخروج من الأجساد أن تخرج قهراً، وذلك إذا بشروهم بالعذاب والغضب من الله، كما في حديث البراء أن ملك الموت إذا جاء الكافر عند احتضاره في تلك الصورة المنكرة يقول: أخرجي أيتها النفس الخبيثة إلى سموم وحميم وظل من يحموم، فتفرق في بدنه، فيستخرجونها من جسده كما يخرج السفود من الصوف المبلول، فتخرج معها العروق والعصب؛ ولهذا أخبر تعالى أن الملائكة تقول لهم ذوقوا عذاب الحريق”2.

ويشهد له قوله تعالى: {فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِباً أَوْ كَذَّبَ بِآياتِهِ أُولَئِكَ يَنَالُهُمْ نَصِيبُهُمْ مِنَ الْكِتَابِ حَتَّى إِذَا جَاءَتْهُمْ رُسُلُنَا يَتَوَفَّوْنَهُمْ قَالُوا أَيْنَ مَا كُنْتُمْ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ قَالُوا ضَلُّوا عَنَّا وَشَهِدُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوا كَافِرِينَ} 3، ففي هذه الآية يخبر سبحانه وتعالى أن الملائكة إذا توفت المشركين تفزعهم عند الموت وقبض أرواحهم ويقولون لهم: أين الذين كنتم تشركون بهم في الدنيا وتدعونهم وتعبدونهم من دون الله ادعوهم يخلصونكم مما أنتم فيه الآن من الفزع والموت الواقع بكم، قالوا: ذهبوا عنا فلا نرجو نفعهم ولا ضرهم، وأقروا واعترفوا على أنفسهم بالكفر والضلال4.

--------------------------------------------

1 سورة الأنعام، الآية 93.

2 المصدر السابق 2/305.

3 سورة الأعراف، الآية 37.

4 انظر جامع البيان في تفسير القرآن 8/127، وتفسير القرآن العظيم 2/23.
“এই প্রেক্ষাপটটি যদিও বদর যুদ্ধের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল, কিন্তু এটি প্রত্যেক কাফিরের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে প্রযোজ্য; এ কারণেই আল্লাহ তাআলা একে কেবল বদরের অধিবাসীদের জন্য নির্দিষ্ট করেননি, বরং তিনি ইরশাদ করেছেন: {আর আপনি যদি দেখতেন যখন ফেরেশতারা কাফিরদের প্রাণ হরণ করছিল, তারা তাদের মুখে ও পিঠে আঘাত করছিল}। আর সূরা আল-কিতাল [মুহাম্মাদ]-এও এর অনুরূপ আয়াত রয়েছে এবং সূরা আল-আনআমে আল্লাহ তাআলার এই বাণী অতিবাহিত হয়েছে: {আর আপনি যদি দেখতেন যখন যালিমরা মৃত্যু যন্ত্রণার মধ্যে থাকে এবং ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে, তোমাদের প্রাণ বের করো} ১, অর্থাৎ, তারা তাদের রবের নির্দেশে তাদের প্রহার করার জন্য হাত প্রসারিত করে; যখন তাদের প্রাণগুলো বের হতে কষ্টবোধ করে এবং শরীর থেকে বের হতে অস্বীকার করে, তখন তা জোরপূর্বক বের করা হয়। আর এটি তখন ঘটে যখন তাদের আল্লাহর পক্ষ থেকে আযাব ও ক্রোধের সংবাদ দেওয়া হয়, যেমনটি বারা বিন আযিব (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, যখন মালাকুল মাউত বা মৃত্যুর ফেরেশতা কাফিরের মুমূর্ষু অবস্থায় সেই বীভৎস (منكرة) আকৃতিতে আগমন করেন, তখন তিনি বলেন: হে খবিস আত্মা! নির্গত হও আগুনের উত্তপ্ত বাতাস, ফুটন্ত পানি এবং কালো ধোঁয়ার ছায়ার দিকে। ফলে তা দেহের ভেতর ছড়িয়ে পড়ে, তখন তারা একে শরীর থেকে এমনভাবে টেনে বের করেন যেমনভাবে ভেজা পশম থেকে লোহার কাঁটাযুক্ত শলাকা বের করা হয়, ফলে এর সাথে রগ ও শিরাসমূহও ছিঁড়ে চলে আসে; একারণেই আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে ফেরেশতারা তাদের বলে, দহন যন্ত্রণার স্বাদ আস্বাদন করো” ২।

এর সপক্ষে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সাক্ষ্য দেয়: {অতএব তার চেয়ে বড় যালিম আর কে যে আল্লাহর নামে মিথ্যা রটনা করে কিংবা তাঁর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে? তাদের ভাগ্যে যা নির্ধারিত আছে তা তাদের নিকট পৌঁছে যাবে, শেষ পর্যন্ত যখন আমাদের প্রেরিত ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করার জন্য তাদের কাছে আসবে তখন তারা বলবে, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকতে তারা এখন কোথায়? তারা বলবে, তারা আমাদের ছেড়ে উধাও হয়ে গেছে এবং তারা নিজেদের বিরুদ্ধে এ সাক্ষ্য দেবে যে তারা কাফির ছিল} ৩। এই আয়াতে মহান আল্লাহ সংবাদ দিচ্ছেন যে, ফেরেশতারা যখন মুশরিকদের মৃত্যু ঘটায়, তখন মৃত্যুর সময় এবং আত্মা কবজের সময় তাদের আতঙ্কিত করে এবং তাদের বলে: তোমরা দুনিয়াতে যাদের আল্লাহর সাথে শরিক করতে এবং আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকতে ও ইবাদত করতে তারা এখন কোথায়? তাদের ডাকো, তারা যেন তোমাদের ওপর আপতিত এই আতঙ্ক ও মৃত্যু থেকে তোমাদের রক্ষা করে। তারা বলবে: তারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে, এখন আমরা তাদের থেকে কোনো উপকার বা অপকারের আশা করি না। এভাবে তারা নিজেদের ওপর কুফরি ও পথভ্রষ্টতার (ضلال) স্বীকৃতি ও স্বীকারোক্তি দেবে ৪।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আনআম, আয়াত ৯৩।

২. পূর্বোক্ত উৎস ২/৩০৫।

৩. সূরা আল-আরাফ, আয়াত ৩৭।

৪. দেখুন: জামেউল বায়ান ফি তাফসিরিল কুরআন ৮/১২৭ এবং তাফসিরুল কুরআনিল আযিম ২/২৩।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৯১)
وكذلك قوله تعالى: {الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلائِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ فَأَلْقَوُا السَّلَمَ مَا كُنَّا نَعْمَلُ مِنْ سُوءٍ بَلَى إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ. فَادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا فَلَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِينَ} 1.

فالله سبحانه وتعالى يخبر في هذه الآية أن المشركين الظالمين لأنفسهم عند احتضارهم ومجيء الملائكة إليهم لقبض أرواحهم الخبيثة يظهرون السمع والطاعة قائلين {مَا كُنَّا نَعْمَلُ مِنْ سُوءٍ} فقال الله مكذباً لهم {بَلَى إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ. فَادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا فَلَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِينَ} أي بئس المقيل والمقام من دار هوان لمن كان متكبراً عن آيات الله واتباع رسله، وهم يدخلون جهنم من يوم مماتهم بأرواحهم، وينال أجسادهم في قبورها من حرها وسمومها؛ فإذا كان يوم القيامة سلكت أرواحهم في أجسادهم وخلدت في نار جهنم2.

فقوله تعالى {فَأَلْقَوُا السَّلَمَ} أي الاستسلام والخضوع، والمعنى أنهم أظهروا الطاعة والانقياد، وتركوا ما كانوا عليه من الشقاق، فالمشركون في الدنيا يشاقون الرسل ويخالفونهم ويعادونهم؛ فإذا عاينوا الحقيقة ألقوا السلم وخضعوا وانقادوا، وذلك عندما يعاينون الموت أو يوم القيامة، ولكن لا ينفعهم ذلك؛ لأن الانقياد عند معاينة الموت لا ينفع3.

وقد توعد الله تعالى في كتابه العزيز من تركوا الهجرة مع قدرتهم عليها حتى ماتوا بأن الملائكة الذين يقبضون أرواحهم يوبخونهم توبيخاً عظيماً، قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّاهُمُ الْمَلائِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ قَالُوا فِيمَ كُنْتُمْ قَالُوا كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الْأَرْضِ قَالُوا أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُوا فِيهَا فَأُولَئِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَسَاءَتْ مَصِيراً. إِلَّا

--------------------------------------------

1 سورة النحل، الآيتان 28 وَ 29.

2 انظر تفسير القرآن العظيم 2/548.

3 انظر أضواء البيان في إيضاح القرآن بالقرآن 3/259، 260.
তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: {যাদের মৃত্যু ফেরেশতারা এমন অবস্থায় ঘটায় যে তারা নিজেদের প্রতি জুলুমকারী ছিল, তখন তারা আত্মসমর্পণ করে বলবে, 'আমরা তো কোনো মন্দ কাজ করতাম না।' হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তোমরা যা করতে সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক পরিজ্ঞাত। সুতরাং তোমরা জাহান্নামের দরজাগুলো দিয়ে প্রবেশ করো সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য; আর অহংকারীদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট।} ১।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই আয়াতে সংবাদ দিচ্ছেন যে, নিজেদের প্রতি জুলুমকারী মুশরিকরা তাদের মৃত্যুকালে এবং তাদের অপবিত্র রূহ কবজ করার জন্য ফেরেশতাদের আগমনের সময় শ্রবণ ও আনুগত্য প্রকাশ করে বলে {আমরা কোনো মন্দ কাজ করতাম না}। তখন আল্লাহ তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করে বলেন {হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তোমরা যা করতে সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক পরিজ্ঞাত। সুতরাং তোমরা জাহান্নামের দরজাগুলো দিয়ে প্রবেশ করো সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য; আর অহংকারীদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট}। অর্থাৎ যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলি এবং তাঁর রাসূলদের অনুসরণের ব্যাপারে অহংকারী ছিল, তাদের জন্য লাঞ্ছনার আবাসস্থলে অবস্থান ও ঠিকানা কতই না নিকৃষ্ট। তারা তাদের মৃত্যুর দিন থেকেই রূহের মাধ্যমে জাহান্নামে প্রবেশ করে এবং তাদের কবরে থাকাকালীন তাদের দেহ জাহান্নামের উত্তাপ ও বিষাক্ত হাওয়া অনুভব করে; অতঃপর যখন কিয়ামতের দিন আসবে, তখন তাদের রূহগুলো দেহে প্রবেশ করানো হবে এবং তারা জাহান্নামের আগুনে চিরস্থায়ী হবে ২।

মহান আল্লাহর বাণী {তখন তারা আত্মসমর্পণ করবে} এর অর্থ হলো আত্মসমর্পণ ও বিনয় প্রকাশ। এর মর্মার্থ হলো তারা আনুগত্য ও বশ্যতা প্রকাশ করবে এবং তারা যে বিবাদ ও বিরোধিতায় লিপ্ত ছিল তা পরিত্যাগ করবে। মুশরিকরা দুনিয়াতে রাসূলদের বিরোধিতা করত এবং তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করত; কিন্তু যখন তারা প্রকৃত সত্য প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা আত্মসমর্পণ করবে এবং বিনত ও অনুগত হবে। এটি ঘটবে যখন তারা মৃত্যুকে প্রত্যক্ষ করবে অথবা কিয়ামতের দিনে, কিন্তু তা তাদের কোনো উপকারে আসবে না; কারণ মৃত্যু প্রত্যক্ষ করার সময়ের বশ্যতা কোনো কাজে আসে না ৩।

আল্লাহ তায়ালা তাঁর সম্মানিত কিতাবে ঐ সকল ব্যক্তিকে সতর্ক করেছেন যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হিজরত ত্যাগ করেছে এমনকি তাদের মৃত্যু এসে পড়েছে। যে ফেরেশতারা তাদের রূহ কবজ করেন তারা তাদেরকে কঠোরভাবে তিরস্কার করবেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: {নিশ্চয়ই যারা নিজেদের ওপর জুলুম করছিল, ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করার সময় বলবে, 'তোমরা কী অবস্থায় ছিলে?' তারা বলবে, 'জমিনে আমরা অসহায় ছিলাম।' ফেরেশতারা বলবে, 'আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না যে তোমরা সেখানে হিজরত করতে?' এদেরই আবাসস্থল জাহান্নাম এবং তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল। তবে...

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নাহল, আয়াত ২৮ ও ২৯।

২. দেখুন: তাফসীরুল কুরআনিল আজিম ২/৫৪৮।

৩. দেখুন: আদওয়াউল বায়ান ফি ইদাহিল কুরআন বিল কুরআন ৩/২৫৯, ২৬০।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৯২)
الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ لا يَسْتَطِيعُونَ حِيلَةً وَلا يَهْتَدُونَ سَبِيلاً} 1.

قال الطبري في تفسير هذه الآية: “إن الذين تقبض أرواحهم الملائكة ظالمي أنفسهم، يعني مكسبي أنفسهم غضب الله وسخطه … ، قالت الملائكة لهم {فِيمَ كُنْتُمْ} في أي شيء كنتم من دينكم، {قَالُوا كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الْأَرْضِ} يعني قال الذين توفاهم الملائكة ظالمي أنفسهم: كنا مستضعفين في الأرض، يستضعفنا أهل الشرك بالله، في أرضنا وبلادنا … معذرة ضعيفة وحجة واهية،

{قَالُوا أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُوا فِيهَا} يقول: فتخرجوا من أرضكم ودوركم، وتفارقوا من يمنعكم بها من الإيمان بالله واتباع رسوله صلى الله عليه وسلم..، وذُكر أن هاتين الآيتين والتي بعدهما نزلت في أقوام من أهل مكة كانوا قد أسلموا وآمنوا بالله وبرسوله، وتخلفوا عن الهجرة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حين هاجر، وعُرض بعضهم على الفتنة فافتتن، وشهد مع المشركين حرب المسلمين، فأبى الله قبول معذرتهم، التي اعتذروا بها، التي بينها في قوله، خبراً عنهم: {قَالُوا كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الْأَرْضِ} … ”2.

وقال السعدي: “قوله {فَأُولَئِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ} … فيه ذكر بيان السبب الموجب، فقد يترتب عليه مقتضاه، مع اجتماع شروطه، وانتفاء موانعه، وقد يمنع من ذلك مانع، وفي الآية دليل على أن الهجرة من أكبر الواجبات، وتركها من المحرمات، بل من أكبر الكبائر”3.

--------------------------------------------

1 سورة النساء، الآيتان 97، 98.

2 جامع البيان في تفسير القرآن 5/147، 148، وانظر معالم التنْزيل 1/469.

3 تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان ص159، 160.
{অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশুদের মধ্যে যারা কোনো উপায় অবলম্বন করতে পারে না এবং কোনো পথও পায় না} ১।

তাবারী এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: “নিশ্চয়ই যাদের প্রাণ ফিরিশতারা নিজেদের প্রতি জুলুমকারী অবস্থায় কবজ করেন, অর্থাৎ যারা নিজেদের জন্য আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টি অর্জনকারী … , ফিরিশতারা তাদের বললেন {তোমরা কী অবস্থায় ছিলে} অর্থাৎ তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে তোমরা কীসে লিপ্ত ছিলে, {তারা বলল: আমরা যমীনে অসহায় ছিলাম} অর্থাৎ যাদের প্রাণ ফিরিশতারা নিজেদের প্রতি জুলুমকারী অবস্থায় হরণ করেছিলেন তারা বললেন: আমরা যমীনে দুর্বল ছিলাম, আমাদের ভূখণ্ডে ও দেশে শিরককারীরা আমাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আমাদের দুর্বল করে রেখেছিল … এটি একটি দুর্বল (ضعيفة) অজুহাত এবং একটি অসার যুক্তি,

{তারা বলল: আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যে তোমরা সেখানে হিজরত করতে?} অর্থাৎ: যেন তোমরা তোমাদের ভূমি ও ঘরবাড়ি থেকে বের হতে এবং যারা তোমাদের সেখানে আল্লাহর ওপর ঈমান আনতে ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণে বাধা দিচ্ছিল তাদের ত্যাগ করতে পারতে। আর উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই আয়াত দুটি এবং এর পরবর্তী আয়াতটি মক্কার এমন এক কওমের ব্যাপারে নাযিল হয়েছিল যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছিল, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হিজরত করেন তখন তারা হিজরত না করে পেছনে থেকে গিয়েছিল। তাদের কেউ কেউ ফিতনার সম্মুখীন হলে ফিতনায় নিপতিত হয় এবং মুশরিকদের সাথে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ফলে আল্লাহ তাদের সেই অজুহাত কবুল করতে অস্বীকার করেন যা তারা পেশ করেছিল এবং যা তিনি তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন: {তারা বলেছিল: আমরা যমীনে অসহায় ছিলাম} … ” ২।

সাদী বলেন: “তাঁর বাণী {তাদের আবাসস্থল হলো জাহান্নাম} … এতে সেই আবশ্যকীয় কারণের বিবরণ রয়েছে যা কার্যকর হতে পারে যদি এর শর্তাবলি বিদ্যমান থাকে এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো অনুপস্থিত থাকে। আবার কখনো কখনো কোনো প্রতিবন্ধক একে বাধা দিতে পারে। আর এই আয়াতে প্রমাণ রয়েছে যে, হিজরত করা অন্যতম বৃহত্তম ওয়াজিব এবং তা বর্জন করা হারামসমূহের অন্তর্ভুক্ত, বরং এটি অন্যতম কবিরা গুনাহ।” ৩।

--------------------------------------------

১ সূরা নিসা, আয়াত ৯৭, ৯৮।

২ জামিউল বায়ান ফি তাফসিরিল কুরআন ৫/১৪৭, ১৪৮; আরও দেখুন মায়ালিমুত তানজিল ১/৪৬৯।

৩ তাইসিরুল কারিমির রাহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান পৃ. ১৫৯, ১৬০।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৯৩)
‌‌المبحت الثالث: حضور الملائكة مع ملك الموت وتبشيرهم المحتضر

‌‌المطلب الأول: مع ملك الموت ملائكة يعاونونه في قبض الروح بأمر الله تعالى

…

المبحث الثالث: حضور الملائكة مع ملك الموت وتبشيرهم المحتضر

المطلب الأول: مع ملك الموت ملائكة يعاونونه في قبض الروح بأمر الله تعالى.

إذا حان أجل العبد وأراد الله تعالى قبض روحه أرسل إليه ملك الموت ومعه ملائكة يعاونونه على قبض روح ذلك العبد، قال تعالى: {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَيُرْسِلُ عَلَيْكُمْ حَفَظَةً حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لا يُفَرِّطُونَ} 1، فقوله {حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ} أي احتضر وحان أجله، {تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا} أي ملائكة موكلون بذلك، روى ابن كثير في تفسيره عن ابن عباس وغير واحد قولهم: إن لملك الموت أعواناً من الملائكة يخرجون الروح من الجسد فيقبضها ملك الموت إذا انتهت إلى الحلقوم2.

يقول الطبري: “يقول تعالى ذكره: إن ربكم يحفظكم … إلى أن يحضركم الموت، وينْزل بكم أمر الله وإذا جاء ذلك أحدكم توفاه أملاكنا الموكلون بقبض الأرواح ورسلنا المرسلون به وهم لا يفرطون في ذلك، فيضيعونه؛ فإن قال قائل: أو ليس الذي يقبض الأرواح ملك الموت فكيف قيل {تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا} والرسل جملة، وهو واحد، أو ليس قد قال {قُلْ يَتَوَفَّاكُمْ مَلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ} 3، قيل جائز أن يكون الله تعالى أعان ملك الموت بأعوان من عنده،

--------------------------------------------

1 سورة الأنعام، الآية 61.

2 انظر تفسير القرآن العظيم 2/131.

3 سورة السجدة، الآية 11.
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মালাকুল মাউতের সাথে ফেরেশতাদের উপস্থিতি এবং মুমূর্ষু ব্যক্তিকে তাদের সুসংবাদ প্রদান

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর নির্দেশে রূহ কবজ করার কাজে মালাকুল মাউতকে সাহায্যকারী ফেরেশতাগণ

…

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মালাকুল মাউতের সাথে ফেরেশতাদের উপস্থিতি এবং মুমূর্ষু ব্যক্তিকে তাদের সুসংবাদ প্রদান

প্রথম অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর নির্দেশে রূহ কবজ করার কাজে মালাকুল মাউতকে সাহায্যকারী ফেরেশতাগণ।

যখন কোনো বান্দার নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয় এবং মহান আল্লাহ তার রূহ কবজ করার ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তার নিকট মালাকুল মাউতকে প্রেরণ করেন এবং তার সাথে এমন কিছু ফেরেশতা থাকেন যারা সেই বান্দার রূহ কবজ করার কাজে তাকে সহযোগিতা করেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনিই তাঁর বান্দাদের ওপর পরাক্রমশালী এবং তিনি তোমাদের ওপর হেফাযতকারী প্রেরণ করেন। অবশেষে যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন আমার প্রেরিত ফেরেশতারা তার রূহ কবজ করে এবং তারা কোনো ত্রুটি করে না} ১। সুতরাং তাঁর বাণী {যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়} এর অর্থ হলো যখন সে মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হয় এবং তার নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসে। {আমার প্রেরিত ফেরেশতারা তার রূহ কবজ করে} অর্থাৎ এই কাজের জন্য নিয়োজিত ফেরেশতাগণ। ইবনে কাসীর তার তাফসিরে ইবনে আব্বাস ও আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা বলেছেন: মালাকুল মাউতের কিছু সাহায্যকারী ফেরেশতা রয়েছে যারা শরীর থেকে রূহ বের করে আনেন, অতঃপর যখন তা কণ্ঠনালীতে পৌঁছে, তখন মালাকুল মাউত তা কবজ করেন ২।

তাবারী বলেন: “মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের হেফাযত করেন... যতক্ষণ না তোমাদের নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং তোমাদের ওপর আল্লাহর নির্দেশ অবতীর্ণ হয়। আর যখন তোমাদের কারো সেই সময় উপস্থিত হয়, তখন রূহ কবজ করার দায়িত্বে নিয়োজিত আমাদের ফেরেশতারা এবং এই কাজে প্রেরিত আমাদের প্রতিনিধিরা তাকে পুরোপুরি গ্রহণ করে নেন এবং তারা এক্ষেত্রে কোনো অবহেলা করে না বা তা নষ্ট করে না। যদি কেউ প্রশ্ন করে: রূহ কবজ করার কাজ তো মালাকুল মাউত করেন, তবে কেন ‘আমার প্রেরিত ফেরেশতারা’ (বহুবচন) বলা হলো, অথচ প্রেরিতরা একটি সমষ্টি এবং তিনি (মালাকুল মাউত) একক? অথবা মহান আল্লাহ কি বলেননি {বলুন, তোমাদের মৃত্যু দান করবেন মালাকুল মাউত, যাকে তোমাদের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে} ৩? এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি সম্ভব যে মহান আল্লাহ মালাকুল মাউতকে তাঁর পক্ষ থেকে কিছু সাহায্যকারীর মাধ্যমে সহায়তা করেছেন,

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আনআম, আয়াত ৬১।

২ দেখুন তাফসির আল-কুরআন আল-আজিম ২/১৩১।

৩ সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত ১১।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুল মুহতাদির (পৃষ্ঠা: ৯৪)
فيتولون ذلك بأمر ملك الموت، فيكون التوفي مضافاً، وإن كان ذلك من فعل أعوان ملك الموت إلى ملك الموت؛ إذ كان فعلهم ما فعلوا من ذلك بأمره، كما يضاف قتل من قتل أعوان السلطان، وجلد من جلدوه بأمر السلطان إلى السلطان، وإن لم يكن السلطان باشر ذلك بنفسه، ولا وليه بيده”1.

فالمتأمل في نصوص القرآن الكريم يدرك أن الله سبحانه وتعالى أسند التوفي للملائكة كما في قوله تعالى: {الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلائِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ} 2، وقوله: {الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلائِكَةُ طَيِّبِينَ} 3، وقوله {توفته رسلنا} 4، وغيرها من الآيات، وأسنده في آية أخرى لملك الموت، قال تعالى: {قُلْ يَتَوَفَّاكُمْ مَلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ} ، وأسنده سبحانه في آية أخرى إليه جل وعلا، قال تعالى: {اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا} 5، ولا معارضة بين الآيات المذكورة، فإسناد التوفي إليه سبحانه وتعالى؛ لأنه لا يموت أحد إلا بمشيئته وإذنه كما قال تعالى: {وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتَاباً مُؤَجَّلاً} 6، وإسناده لملك الموت؛ لأنه هو المأمور بقبض الأرواح، وإسناده للملائكة؛ لأن لملك الموت أعواناًُ من الملائكة ينْزعون الروح من الجسد إلى الحلقوم؛ فيأخذها ملك الموت7.

--------------------------------------------

1 جامع البيان في تفسير القرآن 7/139.

2 سورة النحل، الآية 28.

3 سورة النحل، الآية 32.

4 سورة الأنعام، الآية 61.

5 سورة الزمر، الآية 42.

6 سورة آل عمران، الآية 145.

7 انظر أضواء البيان في إيضاح القرآن بالقرآن 3/267، ودفع إيهام الاضطراب عن آيات الكتاب ص236.
তারা মালাকুল মউতের নির্দেশে এটি সম্পন্ন করে। তাই প্রাণ হরণকে (توفي) তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করা হয়, যদিও এটি মালাকুল মউতের সহযোগীদের কাজ; যেহেতু তারা তাঁর নির্দেশেই এটি করে থাকে। যেমন সুলতানের সহযোগীদের দ্বারা সংঘটিত হত্যা বা বেত্রাঘাত সুলতানের নির্দেশে হওয়ার কারণে তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করা হয়, যদিও সুলতান নিজে সরাসরি তা করেননি বা স্বহস্তে তা সম্পাদন করেননি।”১

পবিত্র কুরআনের বক্তব্যসমূহ (نصوص) পর্যবেক্ষণ করলে অনুধাবন করা যায় যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রাণ হরণকে (توفي) ফেরেশতাদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যাদের মৃত্যু (توفي) ফেরেশতারা এমন অবস্থায় ঘটায় যে তারা নিজেদের প্রতি জুলুমকারী ছিল} ২, এবং তাঁর বাণী: {যাদের মৃত্যু (توفي) ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় ঘটায়} ৩, এবং তাঁর বাণী {আমাদের প্রেরিতরা তার প্রাণ হরণ (توفي) করে} ৪, এবং এ জাতীয় অন্যান্য আয়াতসমূহ। আবার তিনি অন্য আয়াতে একে মালাকুল মউতের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তোমাদের মৃত্যু (توفي) ঘটাবেন মালাকুল মউত, যাকে তোমাদের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে}। আবার অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ একে নিজের দিকেই সম্বন্ধ করেছেন। তিনি বলেন: {আল্লাহই প্রাণসমূহ গ্রহণ (توفي) করেন তাদের মৃত্যুর সময়} ৫। আর উল্লিখিত আয়াতসমূহের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য (تعارض) নেই। কেননা প্রাণ হরণকে (توفي) আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করার কারণ হলো, কারো মৃত্যু তাঁর ইচ্ছা ও অনুমতি ব্যতিরেকে ঘটে না, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারো মৃত্যু হওয়া সম্ভব নয়, তা সময় নির্ধারিত ও লিপিবদ্ধ} ৬। আর একে মালাকুল মউতের দিকে সম্বন্ধ করার কারণ হলো তিনি রুহ বা আত্মা কবজ করার জন্য আদিষ্ট। আর ফেরেশতাদের দিকে সম্বন্ধ করার কারণ হলো মালাকুল মউতের এমন কিছু ফেরেশতা সহযোগী রয়েছে যারা দেহ থেকে রুহ টেনে কণ্ঠনালী পর্যন্ত নিয়ে আসে; অতঃপর মালাকুল মউত তা গ্রহণ করেন।৭

--------------------------------------------

১ জামিউল বায়ান ফী তাফসীরিল কুরআন ৭/১৩৯।

২ সূরা আন-নাহল, আয়াত ২৮।

৩ সূরা আন-নাহল, আয়াত ৩২।

৪ সূরা আল-আনআম, আয়াত ৬১।

৫ সূরা আজ-যুমার, আয়াত ৪২।

৬ সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৪৫।

৭ দেখুন আদ্বাউল বায়ান ফী ইদাহিল কুরআন বিল কুরআন ৩/২৬৭, এবং দাফউ ইহামিল ইদতিরাব আন আয়াতিল কিতাব পৃ. ২৩৬।