(খণ্ড: ১)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: -)
نيل الأوطار شرح منتقى الأخبار - ت حلاق القسم: شروح الحديث
الكتاب: نيل الأوطار من أسرار منتقى الأخبار
المؤلف: محمد بن علي الشوكاني
حققه، وخرج أحاديثه وآثاره وعلق عليه: محمد صبحي بن حسن حلاق
الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، السعودية
الطبعة: الأولى، 1427 هـ
عدد الأجزاء: 15
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 ربيع الأول 1445
নাইলুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - তাহকীক হাল্লাক বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
কিতাব: নাইলুল আওতার মিন আসরারি মুনতাকিল আখবার
লেখক: মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শাওকানি
তাহকীক করেছেন, হাদিস ও আছারসমূহ বের করেছেন এবং টীকা যুক্ত করেছেন: মুহাম্মদ সুবহি বিন হাসান হাল্লাক
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি প্রকাশনা ও বিতরণ, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ১৫
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٥)
الإهداء- إلى العالم العامل، الذي أفرغ جهده في خدمة القرآن والسنة تعلمًا وتعليمًا
… محيي الحلقات العلمية .. العاكف في زوايا المساجد الجامعات، لينير الطريق أمام طلاب العلم، بعلمه الغزير المتدفق، وفقهه السهل الواسع، وأسلوبه الشيّق الممتع
…- إلى العالم الفقيه الزاهد، الذي لم يتطلع إلى زخارف الدنيا وحطامها ومناصبها، بل جاءته صاغرة
… صاحب الخلق القرآني .. أنموذج الصدق والإخلاص والتواضع .. نبراس النقاء والصفاء والطهر .. ومثال العفاف والزهد والحب ..
- إلى شيخي وأستاذي، العالم الرباني، شوكاني عصره، الذي حباني بأوفي رعاية وأمثل توجيه، وأفضل عناية العلامة القاضي محمد بن إسماعيل العمراني، أحسن الله إليه في الدارين، وأكرمني وإياه برفقة محمد صلى الله عليه وسلم في الفردوس الأعلى.
أتقدم بهذا الجهد وفاءً وتقديرًا
ولدكم وتلميذكم
أبو مصعب
محمد صبحي بن حسن حلاق
উৎসর্গ- সেই কর্মনিষ্ঠ আলেমের প্রতি, যিনি কুরআন ও সুন্নাহর সেবায় শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণের মাধ্যমে নিজের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন
… ইলমি হালকাসমূহের পুনরুজ্জীবনকারী... জামে মসজিদসমূহের নিভৃত কোণে অবস্থানকারী, যাতে ইলম অন্বেষণকারীদের সামনে পথ আলোকিত করতে পারেন তাঁর প্রবাহমান গভীর ইলম, সহজ ও বিস্তৃত ফিকহ এবং চমৎকার ও আনন্দময় শৈলীর মাধ্যমে
…- সেই আলেম, ফকীহ ও যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ) ব্যক্তির প্রতি, যিনি দুনিয়ার চাকচিক্য, তুচ্ছ সম্পদ ও পদের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি, বরং দুনিয়া নিজেই তাঁর কাছে অবনত হয়ে এসেছে
… কুরআনী চরিত্রের অধিকারী... সত্যবাদিতা, ইখলাস ও বিনয়ের এক মূর্ত প্রতীক... স্বচ্ছতা, নির্মলতা ও পবিত্রতার আলোকবর্তিকা... এবং চারিত্রিক শুদ্ধতা, যহদ ও ভালোবাসার এক অনুপম দৃষ্টান্ত...
- আমার শাইখ ও উস্তাদ, রব্বানী আলেম, তাঁর যুগের শাওকানী, যিনি আমাকে পরিপূর্ণ তত্ত্বাবধান, সর্বোত্তম দিকনির্দেশনা এবং শ্রেষ্ঠ যত্ন প্রদান করেছেন; আল্লামা কাযী মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমরানী—আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর প্রতি কল্যাণ বর্ষণ করুন এবং আমাকে ও তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য নসিব করে ধন্য করুন।
কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ আমি এই ক্ষুদ্র প্রয়াস নিবেদন করছি।
আপনার সন্তান ও ছাত্র
আবু মুসআব
মুহাম্মদ সুবভী বিন হাসান হাল্লাক
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٦)
• تمثلت بما قاله أبو حيان الأندلسي:
- عِداتي لهم فضلٌ عليٌّ ومنَّةٌ
… فلا أذهَبَ الرحمنُ عني الأعاديا
- هُمُ بحثوا عن زلتي فاجتنبتُها
… وهم نافسوني فاكتسبتُ المعاليا
أبو مصعب
• এটি আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসির বাণীতে প্রতিফলিত হয়েছে:
- আমার শত্রুদের আমার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুগ্রহ রয়েছে
… সুতরাং পরম করুণাময় যেন আমার থেকে শত্রুদের দূরীভূত না করেন
- তারা আমার ভুলগুলো অন্বেষণ করেছে, ফলে আমি সেগুলো পরিহার করেছি
… এবং তারা আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, ফলে আমি উচ্চমর্যাদা হাসিল করেছি
আবু মুসআব
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٧)
أولًا مقدمة المحققإنَّ الحمدَ لله، نحمَدُه ونستعينُه ونستغفرُه، ونعوذ بالله من شرور أنفسِنا، ومن سيئات أعمالِنا، من يهْدِه اللَّهُ فلا مُضِل له، ومن يضلل فلا هاديَ له.
وأشهد أن لا إله إلا اللَّهُ وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبدُه ورسولُه.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}
(1).
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}
(2).
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)}
(3).
أما بعدُ:
"فإن أصدقَ الحديثِ كتابُ الله، وأحسنَ الهْديِ هَدْيُ محمدٍ، وشرَّ الأمورِ مُحدثاتها، وكلَّ مُحْدَثةٍ بدعةٌ، وكلَّ بدعةٍ ضلالةٌ، وكل ضلالةٍ في النار".
وبعدُ:
فقد أدرك الإمامُ الشوكانيُّ رحمه الله مدى أهميةِ التضلُّعِ في عِلْم الحديثِ لمن أراد تحمُّلَ مسؤوليةِ الاجتهادِ، والإسهامَ في حقوق الشريعةِ الغراءِ، من فقه وتفسير.
فقال في كتابه: "أدبُ الطلبِ ومُنتهى الأرب"
(4): "إنَّ اشتغالَ أهلِ العِلْم به -
--------------------------------------------
প্রথমত: মুহাক্কিকের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
(১){হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।}
(২){হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করে। (৭১)}
(৩)অতঃপর:
"নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদের পথনির্দেশ। সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।"
এরপর:
ইমাম শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ) হাদিস শাস্ত্রে গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জনের গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন তাদের জন্য, যারা ইজতিহাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে চান এবং ফিকহ ও তাফসিরের মতো দীপ্তিময় শরিয়তের অধিকারসমূহে অবদান রাখতে চান।
তিনি তাঁর কিতাব "আদাবুত তলাব ওয়া মুনতাহাল আরাব"
(৪)-এ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আহলে ইলমদের এর (হাদিস শাস্ত্রের) চর্চায় নিয়োজিত থাকা —
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٨)
أي بالحديث أعظمُ من اشتغالِ أهلِ سائرِ الفنون بفنونهم، وتنقيحَهم له، وتهذيبَه، والبحثَ عن صحيحه، ومعرفةَ عللهِ، والإحاطةَ بأحوال رُواتهِ وإتعابَ أنفسِهم في هذا الشأن، ما لا يَتعَبُه أحدٌ من أهلِ الفنون في فنونهم، حتى صارَ طالبُ الحديثِ في تلك العُصورِ لا يكونُ طالبًا إلا بعد أن يَرْحلَ إلى أقطارٍ متباينةٍ، ويسمعَ من شيوخٍ عدَّةٍ، ويعرِفَ العاليَ والنازلَ وغيرَه على وجه لا يخفى عليه مخْرَجُ الحرفِ الواحدِ من الحديث الواحدِ، فضلًا عن زيادة على ذلك" اهـ.
ثم أضاف في كتابه "أدب الطلب"
(1) منتقدًا علماءَ كبارًا لعدم دراستِهم علومَ الحديثِ وفنونَه: "ومن أراد الوقوفَ على حقيقةِ هذا فلينظرْ مؤلفاتِ جماعةٍ هم في الفقه بأعلى رُتبةٍ، مع التبحُّرِ في فنودب كثيرةٍ: كالجُويني [ت: 478 هـ / 1085]، والغزاليِّ [ت: 505 هـ/ 1111 م] وأمثالِهما، فإنهم إذا أرادُوا أن يتكلموا في الحديثِ جاؤُوا بما يُضحكُ سامِعَه وَيَعْجَب، لأنهم يوردونَ الموضوعات فضلًا عن الضِعاف، ولا يعرِفُون ذلك، ولا يفطَنون له، ولا يفرّقون بينه وبين غيرهِ، وسببُ ذلك عدمُ اشتغالِهم بفنِّ الحديثِ كما ينبغي" اهـ.
فلذا نجد الشوكانيَّ قد عكَف في أوائل الطلبِ، ومَيْعةِ الشباب على دراسة الحديثِ الشريف وعلومِه بجهد كبير، وفهم حصيف، وإدراكٍ بالغ، باعترافِ شيوخه وهم كبارٌ في عصره
(2). فأخذ عنهم "الصِّحاحَ" و "السننَ" و "المسانيدَ" و "المعاجِمَ" و "المستدرَكاتِ" و "التخاريجَ" و "الشروحَ" بالإضافة إلى دراسة علمِ "مصطلح الحديث" وأنواعِه، ومعرفةِ دَرَجاتِ علمائهِ، وسلاسل رجالِهِ ورواتِه،
--------------------------------------------
অর্থাৎ হাদিসের চর্চা অন্যান্য সকল শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিজ নিজ শাস্ত্রের চর্চার চেয়েও মহত্তর; এর সংশোধন, পরিমার্জন, বিশুদ্ধতা নিয়ে অনুসন্ধান, এর ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া, বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে পরিবেষ্টন করা এবং এই বিষয়ে নিজেদের এমনভাবে বিলীন করা, যা অন্য কোনো শাস্ত্রের পণ্ডিতরা তাঁদের শাস্ত্রে করেন না। এমনকি সেই যুগে হাদিসের একজন ছাত্র ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ছাত্র হতে পারতেন না, যতক্ষণ না তিনি বিভিন্ন প্রান্তে সফর করতেন এবং বহু শায়খের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করতেন এবং উচ্চ ও নিম্ন সনদসহ অন্যান্য বিষয় এমনভাবে আয়ত্ত করতেন যে, একটি হাদিসের একটি বর্ণের উৎসও যেন তাঁর কাছে অস্পষ্ট না থাকে, তদুপরি এর চেয়ে অতিরিক্ত বিষয় তো রয়েছেই।" সমাপ্ত।
অতঃপর তিনি তাঁর "আদাবুত তলাব"
(১) গ্রন্থে বড় বড় আলেমদের সমালোচনা করে যোগ করেন, যেহেতু তাঁরা হাদিস শাস্ত্র ও এর শাখাগুলো অধ্যয়ন করেননি: "আর যে ব্যক্তি এই সত্য সম্পর্কে অবগত হতে চায়, সে যেন এমন এক জামাতের রচনাবলি দেখে যারা ফিকহ শাস্ত্রে সর্বোচ্চ স্তরে আসীন, পাশাপাশি বহু শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী: যেমন আল-জুওয়াইনি [মৃত্যু: ৪৭৮ হিজরি / ১০৮৫ খ্রিষ্টাব্দ], আল-গাজালি [মৃত্যু: ৫০৫ হিজরি / ১১১১ খ্রিষ্টাব্দ] এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। কেননা তাঁরা যখন হাদিস সম্পর্কে কথা বলতে চান, তখন এমন সব বিষয় নিয়ে আসেন যা শ্রবণকারীকে হাসায় এবং বিস্মিত করে; কারণ তাঁরা দুর্বল হাদিসের পাশাপাশি জাল হাদিসও উল্লেখ করেন, অথচ তাঁরা তা জানেন না এবং এ বিষয়ে সচেতন নন, এমনকি তাঁরা এগুলোর মধ্যে পার্থক্যও করতে পারেন না। এর কারণ হলো হাদিস শাস্ত্র নিয়ে তাঁদের যথাযথভাবে ব্যস্ত না থাকা।" সমাপ্ত।
একারণেই আমরা দেখতে পাই যে, শাওকানি তাঁর জ্ঞান অর্জনের শুরুর দিকে এবং ভরা যৌবনে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম, সূক্ষ্ম বোধশক্তি ও প্রগাঢ় উপলব্ধির সাথে হাদিস শরিফ ও এর শাস্ত্রীয় জ্ঞান অর্জনে নিমগ্ন ছিলেন, যা তাঁর সমসাময়িক বড় বড় শায়খগণও স্বীকার করেছেন
(২)। তিনি তাঁদের নিকট থেকে "সিহাহ", "সুনান", "মাসানিদ", "মাআজিম", "মুসতাদরাকাত", "তাখরিজাত" এবং "শরহ" (ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ) গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তিনি "হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা" ও এর প্রকারভেদ, মুহাদ্দিসগণের স্তর এবং এর বর্ণনাকারী ও রাবিদের পরম্পরা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٩)
وكلِّ ما قيل فيهم من تعديل أو جَرْح، وغيرُ ذلك كثيرٌ، حتى بات حُجَّتَه وناقِدَه، مما ساعد ذلك الإمامَ الشوكانيُّ في متابعة حياتِه العلميةِ والعمليةِ بالتدريس والتأليفِ في فنون عدة، رُغمَ مشاغلِه ومسؤولياتِه، وشراسةِ خصومِه، وجَهالةِ الجامدين المتعصّبين، وميلهم إلى التقليد، وإعراضِهم عن العمل بالبرهان.
ولْنستمع إليه وهو يُخبرنا عن ذلك في كتابه: "أدب الطلب"
(1): "وإني أُخبرُك أيها الطالبُ عن نفسي، وعن الحوادث الجاريةِ بيني وبين أهلِ عصري، ليزدادَ يقينُك وتكونَ على بصيرة فيما أرشدتُك إليه:
… كنتُ بعد التمكّنِ من البحث عن الدليل والنظرِ في مجاميعه أذْكُر في مجالس شيوخي، ومواقفِ تدريسِهم، وعند الاجتماعِ بأهل العلم، ما قد عرَفتُه من ذلك، لا سيما عند الكلام في شيء من الرأي مُخالفٍ للدليل، أو عند ورود قول عالمٍ من أهل العلم قد تمسَّك بدليل ضعيف وترك الدليلَ القويَّ، أو أخْذٍ بدليل عامٍ وبعمل خاصٍّ أو بمطلقٍ وطرحَ المقيّدَ، أو بمُجمل ولم يَعرِفْ المبيَّنَ، أو بمنسوخٍ ولم يَنتَبِهْ للناسخ، أو بأوَّل ولم يعرِفْ بآخرَ، أو بمحضِ رأْيٍ ولم يبلُغْه أن في تلك المسألةِ دليلًا يتعيّن العمل به، فكنتُ إذا سمِعتُ بشيء من هذا، لا سيما في مواقف المتعصبين، ومجامع الجامدين - تكلمتُ بما بلغتْ إليه مقدرتي، وأقلُّ الأحوال أن أقول: استدل هذا بكذا، وفلانٌ المخالفُ له بكذا، ودليلُ فلانٍ أرجحُ لكذا، فما زال أُسَراءُ التقليدِ يستنكرون ذلك ويستعظمونه، لعدم الفهمِ به، وقَبولِ طبائعِهم له حتى ولّد ذلك في قلوبهم من العداوة والبغضاءِ ما اللَّهُ به عليمٌ.
ثم كنتُ إذا فرغتُ من أخذ فنٍ من الفنون، أو مصنَّفِ من المصنفات على شيوخي - أقبل جماعةٌ من الطلبةِ إليَّ، وعوَّلوا عليَّ في تدريسهم في ذلك، فكان يأخذُ أترابي شيء من الحسد الذي لا يخلو عنه إلا القليلُ، ثم تكاثر الطلبةُ عليَّ في علوم الاجتهادِ وغيرِها، وأخذوا عني أخذًا خاليًا عن التعصب، سالمًا من الاعتساف، فكنتُ أقرِّر لهم دليلَ كلِّ مسألةٍ، وأوضح لهم الراجحَ فيها وأصرح لهم بوجوب المصير إلى ذلك، وكانوا قد تمرّنوا وعرَفوا علومَ الاجتهاد، وذهب عنهم
--------------------------------------------
তাদের সম্পর্কে প্রশংসা বা সমালোচনা যা কিছু বলা হয়েছে এবং এ জাতীয় আরও অনেক বিষয়, এমনকি তিনি নিজেই তাদের ওপর প্রমাণ ও সমালোচক হয়ে উঠেছিলেন। এসব কিছুই ইমাম শাওকানিকে তাঁর কর্মব্যস্ততা ও দায়িত্বসমূহ, প্রতিপক্ষের উগ্রতা, গোঁড়া ও অন্ধ অনুসারীদের অজ্ঞতা, তাদের তাকলিদের প্রতি ঝোঁক এবং দলিলের ভিত্তিতে কাজ করা থেকে তাদের বিমুখতা সত্ত্বেও বিভিন্ন শাস্ত্রে শিক্ষাদান ও গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জীবন চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
আসুন আমরা তাঁর কাছ থেকেই শুনি, যখন তিনি তাঁর 'আদাবুত তলাব'
(1) গ্রন্থে সে সম্পর্কে আমাদের জানাচ্ছেন: "হে জ্ঞানান্বেষী! আমি তোমাকে আমার নিজের সম্পর্কে এবং আমার ও আমার সমসাময়িকদের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি সম্পর্কে বলছি, যাতে তোমার দৃঢ় বিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং আমি তোমাকে যে বিষয়ে পথপ্রদর্শন করেছি সে বিষয়ে তুমি অন্তর্দৃষ্টি লাভ করতে পারো:
… দলিলের অনুসন্ধান এবং এর উৎসগুলো পর্যালোচনার সামর্থ্য অর্জনের পর, আমি আমার শায়খদের মজলিসে, তাদের পাঠদানের স্থানে এবং আলেমদের সমাবেশে আমি যা জেনেছিলাম তা উল্লেখ করতাম। বিশেষ করে যখন দলিলের বিপরীত কোনো মতামতের কথা আসত, অথবা যখন কোনো আলেমের এমন কোনো উক্তি আসত যেখানে তিনি দুর্বল দলিলকে আঁকড়ে ধরেছেন এবং শক্তিশালী দলিল বর্জন করেছেন, অথবা সাধারণ দলিল গ্রহণ করে বিশেষ আমল করেছেন, কিংবা শর্তহীন বর্ণনা গ্রহণ করে শর্তযুক্ত বর্ণনা বর্জন করেছেন, অথবা সংক্ষিপ্ত বর্ণনা গ্রহণ করেছেন কিন্তু বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানেন না, অথবা রহিত হওয়া বিধান গ্রহণ করেছেন কিন্তু রহিতকারী বিধান সম্পর্কে লক্ষ্য করেননি, অথবা আগেরটি গ্রহণ করেছেন কিন্তু পরেরটি জানেন না, কিংবা নিছক ব্যক্তিগত মতের ভিত্তিতে ফতোয়া দিয়েছেন অথচ তাঁর কাছে এ সংবাদ পৌঁছায়নি যে সেই মাসআলায় এমন দলিল আছে যার ওপর আমল করা অপরিহার্য। যখনই আমি এর কোনো কিছু শুনতাম, বিশেষ করে গোঁড়াদের অবস্থানে এবং অন্ধ অনুসারীদের সমাবেশে—তখন আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী কথা বলতাম। অন্তত এতটুকু বলতাম যে: ইনি অমুক দলিল দিয়েছেন, আর তাঁর বিরোধী অমুক ব্যক্তি এই দলিল দিয়েছেন এবং অমুকের দলিল এই কারণে অধিক শক্তিশালী। ফলে তাকলিদের বন্দিরা অনবরত এর প্রতিবাদ করত এবং একে অনেক বড় অপরাধ মনে করত; কারণ তাদের এটি বোঝার ক্ষমতা ছিল না এবং তাদের স্বভাব এটি গ্রহণ করত না। এমনকি এটি তাদের অন্তরে এমন শত্রুতা ও বিদ্বেষ তৈরি করেছিল যা আল্লাহই ভালো জানেন।"
তারপর যখন আমি আমার শায়খদের কাছ থেকে কোনো শাস্ত্র বা কোনো গ্রন্থ পড়ে শেষ করতাম, তখন একদল ছাত্র আমার কাছে আসত এবং সেই বিষয়ে পাঠদানের জন্য আমার ওপর নির্ভর করত। তখন আমার সমসাময়িকদের মধ্যে কিছু হিংসার উদ্রেক হতো, যা থেকে খুব অল্প লোকই মুক্ত থাকে। এরপর ইজতিহাদ ও অন্যান্য শাস্ত্রে আমার কাছে ছাত্রদের ভিড় বেড়ে গেল। তারা কোনো প্রকার গোঁড়ামি ছাড়াই আমার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করত এবং তা ছিল বিভ্রান্তিমুক্ত। আমি তাদের কাছে প্রতিটি মাসআলার দলিল সুপ্রতিষ্ঠিত করতাম, সেখানে অধিকতর গ্রহণযোগ্য মতটি স্পষ্ট করতাম এবং সেই দিকেই ফিরে যাওয়া যে আবশ্যক তা তাদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতাম। তারা এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল এবং ইজতিহাদের জ্ঞানসমূহ অর্জন করেছিল, আর তাদের থেকে দূর হয়ে গিয়েছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ما تكدَّرت به فِطَرُهم من المغيِّرات، فزاد ذلك المخالِفين عداوةً ومناعةً وحسدًا وبغضًا، وأطلقوا ألسنتَهم بذلك، وكان مع ذلك تردُ إليَّ أبحاثٌ من جماعة من أهل العلمِ الساكنين بصنعاءَ، وغيرِهم من أهل البلاد البعيدة والمدائنِ النائية، فأحرِّر الجواباتِ عليهم في رسائلَ مستقلةٍ، مما يرغّب تلامذتي لتحصيل ذلك، وتنتشر في الناس، فإذا وقف عليه المتعصبون، ورأوه يخالِف ما يعتقدون، استشاطوا غضبًا، وعرَضوا ذلك على من يرجون منه الموافقةَ والمساعدةَ، فمِن ثالِبٍ بلسانه، ومُعترضٍ بقلمه، وأنا مُصمِّمٌ على ما أنا فيه، لا أنثني عنه، ولا أَميل عَن الطريقة التي أنا فيها، وكثيرًا ما يرفعون ذلك إلى من لا عِلمَ عنده من رؤساء الدولةِ الذين لهم في الناس شهرةٌ وصَولةٌ، فكان في كل حينٍ يبلُغني من ذلك العَجبُ، ويناصحني مَنْ يُظهر لي المودَّةَ، وَمَنْ لا تخفى عليه حقيقةُ ما أقولُه وحقِّيتُه، مع اعترافهم بأن ما أسلُكُه هو ما أخذه اللَّهُ على الذين حمَلوا الحجةَ، لكنهم يتعلَّلون بأن الواجب يسقُط بدون ذلك، ويذكرون أحوالَ أهلِ الزمان، وما هم عليه، وما يخشَونه من العواقب، فلا أرفع لذلك رأسًا، ولا أعوِّل عليه
… " اهـ.
وأما كتابُ (نيل الأوطار) فإنه يُعَدّ من أجلِّ مؤلفاتِ الإمام الشوكانيِّ وأشهرِها، بل لعله أكثرُها متانةً تُنْبئ عن عظيم الجُهدِ المبذولِ فيه، رغم أنه يعتبر باكورةَ نتاجِه العلميِّ الموسوعيِّ الكبير.
وقد شرَع في تأليفهِ بإرشاد شيخيه العالِمَيْن الكبيرين عبدِ القادر بن أحمدَ والحسنِ المَغربِي وأتمَّه بعد موتِهما، أي في بداية تولّيه منصِب القضاءِ الأكبرِ عام - 1209 هـ - 1794 م - فقد توفي الأول عام - 1207 هـ - 1792 م - والآخر في السنة التي تليها
(1).
وبهذا توفر للشوكاني عواملُ التفرُّغِ الكاملِ قبلَ الانشغالِ بالقضاء الذي شكا منه كثيرًا، واستقامت له غزارةُ المعارفِ التي نهل من مَعينها، وارتباطُه بكل المصادرِ والمراجع تدريسًا وانطلاقًا في مرحلة متقدمةِ هي بلوغُه درجةَ الاجتهادِ وتصدّرُه قبل ذلك للإفتاء.
--------------------------------------------
যা তাদের প্রকৃতিকে (ফিতরাত) পরিবর্তনকারীদের দ্বারা ঘোলাটে করে তুলেছিল, ফলে তা বিরোধীদের শত্রুতা, প্রতিরোধ, হিংসা এবং বিদ্বেষ বাড়িয়ে দিয়েছিল; তারা এ বিষয়ে তাদের জিহ্বা খুলে দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও, সানআ-তে বসবাসরত একদল আলেম এবং দূর-দূরান্তের জনপদ ও বিদেশের অন্যান্যদের কাছ থেকে আমার কাছে গবেষণাধর্মী জিজ্ঞাসা আসত। ফলে আমি স্বতন্ত্র রিসালায় সেগুলোর উত্তর তৈরি করতাম, যা আমার ছাত্রদের তা অর্জনে আগ্রহী করত এবং মানুষের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ত। যখন গোঁড়া ব্যক্তিরা তা দেখতে পেত এবং দেখত যে তা তাদের বিশ্বাসের পরিপন্থী, তখন তারা রাগে ফেটে পড়ত। তারা সেই উত্তরগুলো এমন ব্যক্তিদের কাছে পেশ করত যাদের কাছ থেকে তারা সমর্থন ও সহযোগিতার আশা করত। কেউ তার জিহ্বা দিয়ে নিন্দা করত, কেউ কলম দিয়ে আপত্তি করত। কিন্তু আমি যা করছি তাতে অটল ছিলাম, তা থেকে পিছু হটিনি এবং যে পথে আছি তা থেকে বিচ্যুত হইনি। তারা প্রায়শই বিষয়টি রাষ্ট্রের এমন অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের কাছে নিয়ে যেত যারা জনগণের মধ্যে খ্যাতি ও প্রতিপত্তির অধিকারী ছিল। ফলে প্রতি মুহূর্তে আমার কাছে অবাক করা সব খবর আসত। যারা আমার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করত এবং যাদের কাছে আমার বক্তব্যের বাস্তবতা ও সত্যতা গোপন ছিল না, তারা আমাকে নসিহত করত। তারা স্বীকার করত যে, আমি যে পথ অনুসরণ করছি তা সেই প্রতিশ্রুতি যা আল্লাহ প্রমাণ বহনকারীদের কাছ থেকে নিয়েছেন। কিন্তু তারা অজুহাত দিত যে, এর চেয়ে কমেই দায়িত্ব পালন হয়ে যায়। তারা সমসাময়িক লোকদের অবস্থা, তাদের অবস্থান এবং সম্ভাব্য পরিণতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করত। কিন্তু আমি সেদিকে কর্ণপাত করিনি এবং তাতে নির্ভর করিনি
...।" ইতি।
আর 'নাইলুল আওতার' কিতাবটির কথা বলতে গেলে, এটি ইমাম শাওকানির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রসিদ্ধ রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়। বরং সম্ভবত এটি তাঁর সবচেয়ে সুসংহত কাজ যা এর পেছনে ব্যয়কৃত মহান প্রচেষ্টার সাক্ষ্য দেয়, যদিও এটি তাঁর বিশাল বিশ্বকোষীয় জ্ঞানতাত্ত্বিক ধারার প্রথম ফসল হিসেবে গণ্য হয়।
তিনি তাঁর দুই মহান শিক্ষক শায়খ আব্দুল কাদির ইবনে আহমদ এবং হাসান আল-মাগরিবি-র নির্দেশনায় এটি লেখা শুরু করেন এবং তাঁদের মৃত্যুর পর তা সম্পন্ন করেন; অর্থাৎ ১২০৯ হিজরি - ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রধান বিচারপতির পদ গ্রহণ করার শুরুর দিকে। প্রথমজন ১২০৭ হিজরি - ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে এবং দ্বিতীয়জন তার পরের বছর মৃত্যুবরণ করেন
(১)।
এর মাধ্যমে শাওকানির জন্য বিচারকার্যে ব্যস্ত হওয়ার আগে পূর্ণ একাগ্রতার সুযোগ তৈরি হয়েছিল—যে ব্যস্ততা নিয়ে তিনি অনেক অভিযোগ করেছেন। তাঁর অর্জিত জ্ঞানের প্রাচুর্য এখানে সুশৃঙ্খল রূপ পেয়েছে, যা তিনি তার মূল উৎস থেকে গ্রহণ করেছিলেন। সেইসাথে তাঁর সকল মূল উৎস ও তথ্যসূত্রের সাথে নিবিড় সংশ্লিষ্টতা, পাঠদান এবং ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানো ও তার আগে ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর অগ্রগণ্য হওয়ার একটি উন্নত পর্যায়ের সূচনা হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ١١)
ومع ذلك فقد اعتذر في البداية لمشايخه من عدم القيامِ بشرح "المنتقى" متعللًا بأسباب عديدة. ولنستمع إليه وهو يقول: "
… حَمَلَ حسنُ الظنِّ بي جماعةً من حَمَلةِ العلمِ، بعضُهم من مشايخي على أن التمسُوا مني القيامَ بشرحِ هذا الكتاب - المنتقى - وحسَّنوا لي السلوكَ في هذهِ المسالكِ الضيِّقةِ التي يتلوَّنُ الخِرِّيتُ في مُوعِراتِ شِعَابها والهضابِ، فأخذتُ في إلقاءِ المعاذيرِ، وأبنتُ تعسُّرَ هذا المقصِدِ على جميع التقادير، وقلتُ: القيامُ بهذا الشأنِ يحتاجُ إلى جُمْلَةٍ من الكُتبِ يعِزُّ وجودُها في هذهِ الديارِ. والموجودُ منها محجوبٌ - بأيدي جماعةٍ - عن الأبصارِ بالاحتكارِ والادِّخارِ، كما تُحجبُ الأبكارُ. ومعَ هذا فأوقاتي مُسْتَغرَقةٌ بوظائفِ الدرسِ والتدريسِ، والنَّفْسُ مؤْثرةٌ لمُطارحةِ مهَرةِ المتدرِّبين في المعارِفِ على كُلِّ نفيسٍ، ومَلَكتي قاصِرَةٌ عن القدْرِ المعتَبرِ في هذا العلم الذي قد درَس رسمُه، وذهبَ أهلُه منذ أزمانٍ قد تصرّمتْ فلم يبقَ بأيدي المتأخرين إلا اسمُهُ، لا سيَّما وثوبُ الشبابِ قَشِيبٌ، ورِدْنُ الحَداثةِ بمائِها خصيبٌ، ولا ريبَ أن لعلوِّ السِّنِّ وطولِ الممارسةِ في هذا الشأنِ أوفرَ نصيبٍ.
فلمَّا لم ينفعْني الإِكثارُ من هذه الأعذار، ولا خَلَّصني من ذلكَ المطلَبِ ما قدَّمْتُه من الموانعِ الكِبار صمَّمْتُ على الشروع في هذا المقصِدِ المحمود، وطمِعْتُ أن يكون قد أُتيح لي أنِّي مِنْ خدَمِ السُّنَّةِ المطهَّرةِ معدودٌ، وربما أدركَ الطالعُ شأوَ الضليعِ، وعُدَّ في جملةِ العقلاءِ المتعاقِلُ الرقيعُ
… " اهـ
(1).
وقد اشتمل "نيل الأوطار" على مزايا قلَّ أن توجدَ في غيره من الكتب المؤلّفةِ في أدلة الأحكام.
(منها): أنه تعرّض لتخريج الحديثِ وبيان طُرقِه، واختلافِ ألفاظِه، وما قيل فيه من صِحّة أو ضَعف، وسبب ضعفه، وأقوالِ أئمةِ هذا الشأنِ فيه، وإبداءِ رأْيهِ في ذلك.
(ومنها): كشفُ معاني ألفاظِ الحديثِ في الغالب، وأقوالِ علماءِ اللغةِ فيها، وبيانُ اشتقاقِها إذا احتاج الأمرُ لذلك، مع إيضاح معناها الاصطلاحي الشرعيّ.
--------------------------------------------
তা সত্ত্বেও তিনি শুরুতে তাঁর শিক্ষকদের কাছে অনেক কারণ দর্শিয়ে "আল-মুনতাকা" এর ব্যাখ্যা করার ব্যাপারে অক্ষমতা প্রকাশ করেছিলেন। আসুন আমরা তাঁর কথা শুনি, তিনি বলছেন: "
… একদল আলেম, যাঁদের মধ্যে আমার কিছু শিক্ষকও রয়েছেন, আমার প্রতি সুধারণা পোষণ করে আমার কাছে এই কিতাব— আল-মুনতাকা —এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার অনুরোধ করেছেন। তাঁরা আমার কাছে এই সংকীর্ণ পথে চলার বিষয়টি সহজভাবে উপস্থাপন করেছেন, যে পথের বন্ধুর গিরিপথ ও টিলাসমূহে বিচক্ষণ গাইডও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। তখন আমি ওজর পেশ করতে শুরু করলাম এবং সবদিক থেকেই এই লক্ষ্য অর্জনের কঠিন দিকগুলো বর্ণনা করলাম। আমি বললাম: এই দায়িত্ব পালন করার জন্য এমন অনেক কিতাব প্রয়োজন যা এই জনপদে পাওয়া দুষ্কর। আর যা পাওয়া যায়, তাও একদল লোকের হাতে মজুতদারী ও সংরক্ষণের কারণে অন্তরালে রয়ে গেছে, যেমন পর্দানশীন কুমারীদের আড়াল করে রাখা হয়। তা ছাড়া, আমার সময়গুলো পড়াশোনা ও শিক্ষকতার কাজে ব্যয় হয়ে যায়; আর মন প্রতিটি মূল্যবান বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষার্থীদের সাথে জ্ঞানচর্চাকে প্রাধান্য দেয়। তদুপরি, এই বিদ্যায়—যার বাহ্যিক রূপ বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে এবং যার যোগ্য ব্যক্তিরা বহু বছর আগেই বিদায় নিয়েছেন—প্রয়োজনীয় যোগ্যতা আমার মাঝে কম রয়েছে। ফলে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে কেবল এর নামটুকুই অবশিষ্ট আছে। বিশেষ করে, যখন যৌবনের পোশাক এখনো নতুন এবং তারুণ্যের সতেজতা বিদ্যমান; অথচ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ক্ষেত্রে বয়সের পরিপক্বতা এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতারই বেশি অবদান থাকে।
অতঃপর যখন অধিক ওজর পেশ করা আমার কোনো কাজে আসলো না এবং বড় বড় প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরাও আমাকে এই দাবি থেকে নিষ্কৃতি দিল না, তখন আমি এই প্রশংসনীয় উদ্দেশ্য শুরু করার সংকল্প করলাম। আমি আশা পোষণ করলাম যে, হয়তো আমাকে পবিত্র সুন্নাহর সেবকদের কাতারে শামিল হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সম্ভবত কোনো নবাগত ব্যক্তি অভিজ্ঞ ব্যক্তির স্তরে পৌঁছাতে পারে এবং বিবেকহীন ব্যক্তিও জ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে
… " সমাপ্ত
(১)।
"নাইলুল আওতার" এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যা আহকামুল হাদিসের ওপর রচিত অন্যান্য কিতাবে খুব কমই দেখা যায়।
(তার মধ্যে একটি হলো): তিনি হাদিসের তাখরিজ (উৎস নির্ণয়), এর বিভিন্ন সূত্র বর্ণনা, শব্দের বিভিন্নতা এবং এর বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, দুর্বলতার কারণ এবং এই বিষয়ের ইমামদের মতামত বর্ণনা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে নিজের অভিমতও প্রকাশ করেছেন।
(আরেকটি হলো): অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাদিসের শব্দের অর্থ বিশ্লেষণ করা, এ বিষয়ে ভাষাবিদদের বক্তব্য তুলে ধরা এবং প্রয়োজনে শব্দমূল বা ব্যুৎপত্তি বর্ণনা করার পাশাপাশি এর শরিয়তসম্মত পারিভাষিক অর্থ স্পষ্ট করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ١٢)
(ومنها): استنباطُ أحكامِ الفقهِ منها، ووجهُ دِلالتِها عليها، وأقوالُ علماءِ الصحابةِ والتابعين فيها، وبيانُ مذاهبِ علماءِ الأمصار ومن احتج منهم بالحديث ومن لم يحتجَّ به، وحجةِ كل مع بيان الراجح في ذلك عنده بدون تعصبٍ ولا تعسُّف. ونصر ما ظنّه الحقَّ بقدْر ما بلغتْ إليه مَلَكتُه ولو خالف الجمهورَ.
ولذلك قال في خطبته: "وأما في مواطن الجدالِ والخِصامِ فقد أخذتُ فيها بنصيب من إطالة ذيولِ الكلامِ لأنها معاركُ تَبين عندها مقاديرُ الفحول، ومفاوِزُ لا يقطع شعابَها إلا نحاريرُ الأصول، ومقاماتٌ تنكَسِرُ فيها النِّصالُ على النِّصَالِ، ومواطنُ تُلجَم عندها أفواهُ الأبطالِ بأحجار الجِدال، ومواكبُ تُعرفُ فيها جباهُ رجالِ حلِّ الإشكالِ والإعضال - إلى أن قال - فدونك مَن لم تذهبْ ببصر بصيرتِه أقوالُ الرجال، ولا تدنّستْ فطرةُ عزماتِه بالقيل والقال، شرحًا يشرح الصدور، ويمشي على سَنن الدليلِ، وإن خالف الجمهور"
(1).
(ومنها): تطبيقُ الأحكامِ الجُزْئيةِ الفرعية، على القواعد الأصولية، مع ذكر أقوالِ فحولِ علماءِ الأصولِ في ذلك.
ولمّا كان الكمالُ المطلقُ إنما هو لله سبحانه فقد وقع الإمامُ الشوكانيُّ في بعض الأخطاءِ التي لا يسلَمُ من أمثالها بشرٌ، لذلك جاء تحقيقُ الكتاب تتويجًا لعمله الجليلِ حيث تم - ضمن التحقيق - استدراكُ الأخطاءِ التي وقع فيها حسب ما وصل إليه جُهدي البشريُّ الذي قد لا يسلم هو أيضًا من الخطأ.
ومن أمثال هذا الاستدراكِ:
1 - يعزو الإمامُ الشوكانيُّ الحديثَ أحيانًا إلى من لم يخرِّجْه من أئمة الحديثِ، فأنبّه على ذلك.
2 - يأتي الحكمُ منه على بعض رجالِ السندِ بالتوثيق أو التضعيفِ، وهو على خلاف ذلك عند أئمة الجرحِ والتعديل، فأنبِّه على ذلك.
3 - يقع الخطأ في اسم الراوي، فأصحح ذلك.
4 - نجد أحيانًا أن نقلَه لكلام بعض أهلِ العلمِ فيه إخلالٌ بزيادة أو نقصٍ، فأُثبِتُ
--------------------------------------------
(তন্মধ্যে অন্যতম হলো): সেগুলো থেকে ফিকহ শাস্ত্রের বিধিবিধান উদ্ঘাটন করা, সেগুলোর ওপর দলিলের ধরণ বর্ণনা করা, সে বিষয়ে সাহাবী ও তাবিঈ আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের আলেমদের মাযহাবের বিবরণ প্রদান করা। আর তাদের মধ্যে কে হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করেছেন এবং কে করেননি তা উল্লেখ করা, এবং কোনো প্রকার গোঁড়ামি বা অনমনীয়তা ছাড়াই তাঁর নিকট যা অগ্রগণ্য মনে হয়েছে তার দলিলসহ তা বর্ণনা করা। তিনি যেটিকে সত্য বলে মনে করেছেন, তা প্রতিষ্ঠায় তাঁর যোগ্যতা অনুযায়ী প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যদিও তা জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলেমদের পরিপন্থী হয়।
সেজন্য তিনি তাঁর খুতবায় (উপস্থাপনায়) বলেছেন: "আর বিতর্ক ও বাদানুবাদের স্থানগুলোতে আমি আলোচনার পরিধি দীর্ঘ করার একটি অংশ গ্রহণ করেছি; কারণ এগুলো এমন এক লড়াইয়ের ময়দান যেখানে মহান ব্যক্তিদের সক্ষমতা প্রকাশ পায়, এবং এমন এক মরুপথ যার গিরিপথগুলো উসূল শাস্ত্রের সুগভীর পণ্ডিতরা ছাড়া আর কেউ পাড়ি দিতে পারে না। এগুলো এমন এক অবস্থান যেখানে তীরের ফলকে তীরের ফলক বিদ্ধ হয়ে ভেঙে যায়, এবং এমন স্থান যেখানে বিতর্কের পাথরের আঘাতে বীরদের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। এগুলো এমন এক সমাবেশ যেখানে সমস্যা ও জটিলতা নিরসনকারী পুরুষদের ললাট চেনা যায় - এই পর্যন্ত বলার পর তিনি বলেন - সুতরাং তোমার সামনে এমন এক ব্যাখ্যাগ্রন্থ উপস্থিত, যার অন্তর্দৃষ্টি মানুষের কথা দ্বারা আচ্ছন্ন হয়নি এবং যার সংকল্পের প্রকৃতি 'বলাবলি' দ্বারা কলুষিত হয়নি; এমন এক ব্যাখ্যা যা বক্ষকে প্রশস্ত করে এবং দলিলের পথ ধরে অগ্রসর হয়, যদিও তা জমহুরের পরিপন্থী হয়"
(১)।
(তন্মধ্যে আরও রয়েছে): উসূলী কায়দাগুলোর ওপর শাখা-প্রশাখার বিশেষ বিধানগুলোর প্রয়োগ ঘটানো এবং সে বিষয়ে উসূল শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করা।
যেহেতু পরম পূর্ণতা একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য, তাই ইমাম শাওকানি এমন কিছু ভুল করে ফেলেছেন যা থেকে কোনো মানুষই নিরাপদ নয়। সেজন্য গ্রন্থটির তাহকীক (সম্পাদনা) তাঁর এই মহান কর্মের মুকুট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে; যেখানে তাহকীকের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে তাঁর কৃত ভুলগুলোর সংশোধন করা হয়েছে আমার মানবিক সাধ্য অনুযায়ী, যা নিজেও হয়তো ভুল থেকে মুক্ত নয়।
এই সংশোধনীগুলোর কিছু উদাহরণ হলো:
১ - ইমাম শাওকানি কখনও কখনও হাদিসকে এমন কোনো হাদিস ইমামের দিকে সম্বন্ধ করেন যিনি তা বর্ণনা করেননি, তখন আমি সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছি।
২ - সনদের কোনো বর্ণনাকারীর ব্যাপারে তিনি নির্ভরযোগ্যতা বা দুর্বলতার যে সিদ্ধান্ত দেন, তা 'জারহ ও তা'দীল' ইমামদের নিকট তার বিপরীত হয়; ফলে আমি সে বিষয়ে সতর্ক করেছি।
৩ - বর্ণনাকারীর নামে ভুল হয়ে থাকে, আমি তা সংশোধন করেছি।
৪ - কখনও কখনও আমরা দেখতে পাই যে, কোনো কোনো আলেমের বক্তব্য উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে তাতে কমবেশি হওয়ার কারণে ত্রুটি রয়ে গেছে, তাই আমি নিশ্চিত করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ١٣)
النصَّ الأصليَّ، أو أنبه على مصدره ليتيسَّرَ للقارئ الرجوعُ إليه.
وأما موقعُ كتاب "نيل الأوطار" بالنسبة للكتب النافعة التي ألفها الإمامُ الشوكانيُّ، فهو باكورةُ نتاجِه العلميِّ الموسوعيِّ، ثم يليه "وبلُ الغمام على شفاء الأُوام"
(1) ثم "متنُ الدررِ البهية في المسائل الفقهية"
(2) ثم "الدراري المُضية"
(3) ثم "فتح القدير"
(4) ثم "السيلُ الجرّار"
(5).
* * *
وأما منهجُ الشوكانيِّ لشرح "المنتقى" فأوضحه بالآتي:
1 - بيانُ حالِ الحديث، وتفسيرُ غريبِه، وما يُستفاد منه بكل الدلالات.
2 - ضَمَّ إلى كل حديثٍ - في الغالب - بقيةَ الأحاديثِ الواردةِ في الباب مما لم يذكُره صاحبُ المنتقى.
3 - ضبط الأسماءَ وصحَّح ما كان مَظِنةَ تحريفٍ أو تصحيف، مع بيان حالِ من وُجد منهم في حاجة إلى التنبيه.
4 - لم يقم بترجمة الرواةِ لتوفر ذلك في كُتُب التراجم.
5 - جعل ما كان لابن تيميةَ من الكلام على فقه الأحاديث، وما يَستطرد إليه من الأدلة في غضونهِ، من جملة الشرح في الغالب، إلا أنه كان ينسِبُ ذلكَ إليه، ثم يتعقّب ما ينبغي تعقُّبهُ عليه، وتكلم فيما رأى أنه لا يحسُنُ السكوتُ عليه، ومما لا يستغنى عنه.
6 - مراعاتُه الشديدةُ للاختصار بقدر الإمكان، عملًا بنصيحة شيخِه العلامةِ عبدِ القادرِ بن أحمدَ
(6).
فلذا جاء هذا الشرحُ كما أراد له صاحبُه شرحًا وافيًا، كما ذكر في مقدمته:
--------------------------------------------
মূল পাঠ, অথবা আমি এর উৎসের দিকে ইঙ্গিত করি যাতে পাঠকের পক্ষে তাতে ফিরে যাওয়া সহজ হয়।
আর ইমাম শাওকানী কর্তৃক রচিত উপকারী গ্রন্থসমূহের মধ্যে "নাইলুল আওতার" গ্রন্থের অবস্থান হলো, এটি তাঁর বিশ্বকোষীয় ইলমি গবেষণার প্রথম ফসল; এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে "ওয়াবিলুল গামাম আলা শিফাউল আওয়াম"
(১) এরপর "মাতনুদ দুরারুল বাহিয়্যাহ ফিল মাসাইলিল ফিকহিয়্যাহ"
(২) এরপর "আদ-দুরারুল মুদিয়্যাহ"
(৩) এরপর "ফাতহুল কাদির"
(৪) এরপর "আস-সাইলুল জাররার"
(৫)।
* * *
আর "আল-মুনতাকা" এর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে শাওকানীর মানহাজ (পদ্ধতি) আমি নিমোক্ত পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট করছি:
১ - হাদিসের অবস্থা বর্ণনা করা, এর কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা করা এবং এর সমস্ত প্রকার তাৎপর্য থেকে যা কিছু ফায়দা অর্জিত হয় তা বর্ণনা করা।
২ - অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিটি হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে বর্ণিত অবশিষ্ট হাদিসগুলো যুক্ত করা যা আল-মুনতাকার লেখক উল্লেখ করেননি।
৩ - নামসমূহ সঠিকভাবে নির্ধারণ করা এবং যেখানে বিকৃতি বা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল তা সংশোধন করা, আর যাদের অবস্থা সম্পর্কে সতর্ক করার প্রয়োজন ছিল তা বর্ণনা করা।
৪ - বর্ণনাকারীদের জীবনী বর্ণনা করেননি, কারণ জীবনী গ্রন্থসমূহে তা সহজলভ্য।
৫ - হাদিসের ফিকহ এবং এর ফাঁকে ইবনে তাইমিয়ার যে সকল প্রাসঙ্গিক আলোচনা ও দলিল রয়েছে, সেগুলোকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি তা তাঁর (ইবনে তাইমিয়ার) দিকেই সম্বন্ধ করতেন, এরপর সেখানে যে সকল বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন মনে করতেন তা করতেন, এবং এমন সব বিষয়ে কথা বলেছেন যেখানে চুপ থাকা সমীচীন নয় এবং যা ছাড়া গত্যন্তর নেই।
৬ - তাঁর উস্তাদ আল্লামা আব্দুল কাদির বিন আহমদের উপদেশ অনুযায়ী যথাসম্ভব সংক্ষিপ্তকরণের প্রতি গভীর লক্ষ্য রাখা
(৬)।
ফলে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি এর লেখকের ইচ্ছানুসারে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যেমনটি তিনি তাঁর মুখবন্ধে উল্লেখ করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ١٤)
"يمشي على سَننِ الدليلِ، وإن خالفَ الجمهورَ، وإني مُعْتَرفٌ بأن الخطأ والزَّلَلَ هما الغالبان على مَنْ خَلَقهُ اللَّهُ من عجلٍ، ولكنِّي قد نصرتُ ما أظنُّه الحقَّ بمقدار ما بلغت إليه الملَكةُ، ورُضْتُ النفسَ حتى صَفَتْ عن قَذَرِ التعصُّبِ الذي هو بلا ريبٍ الهلكةُ"
(1).
وكذلك حدد الشوكانيُّ مصادِرَه التي اعتمد عليها، من حديثيَّة، وفقهيَّة، ولُغَوية، وتاريخية، وكتب "الجرح والتعديل"، وفيما يلي نذكر أهمَّها:
1 - صحيحُ البخاري. محمد بن إسماعيل (ت: 256 هـ/ 870 م).
2 - صحيح مسلم. مسلم بن الحجاج. (ت: 261 هـ/ 875 م).
3 - مسندُ أحمدَ بن حنبل. (ت: 241 هـ/ 855 م).
4 - سُنن ابن ماجه. محمد بن يزيدَ القزويني. (ت: 273 هـ/ 886 م).
5 - سنن أبي داودَ. سليمانَ بن الأشعثِ السِّجستاني. (ت: 275 هـ/ 889 م).
6 - جامع التِرمذي. محمد بن عيسى. (ت: 279 هـ/ 892 م).
7 - سنن النسائي. أحمد بن علي. (ت: 303 هـ/ 915 م).
8 - سنن الدارَقُطني. علي بن عمر. (ت: 385 هـ/ 995 م).
9 - مستدرَكُ الحاكم النيسابوري. (ت: 404 هـ/ 1014 م).
10 - سننُ البيهقي. أحمد بن الحسين. (ت: 458 هـ / 1066 م).
11 - معاجمُ الطبراني (الكبير، والأوسط، والصغير). سلمان بن أحمد. (ت: 360 هـ/ 971 م).
12 - مجمعُ الزوائدِ للهيثمي. علي بن أبي بكر. (ت: 807 هـ/ 1405 م).
13 - الجامعُ الكبيرُ. للسيوطي (عبد الرحمن). (ت: 911 هـ/ 1515 م).
14 - تيسيرُ الوصول إلى جامع الأصولِ. لابن الديبع (ت: 944 هـ / 1576 م).
15 - شرحُ صحيحِ مسلم. للنووي (ت: 676 هـ / 1277 م).
16 - سبلُ السلام الموصلة إلى بلوغ المرام. لابن الأمير الصنعاني. (ت: 1182 هـ / 1769 م).
--------------------------------------------
"সে দলিলের পথে চলে, যদিও তা জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ)-এর পরিপন্থী হয়। আর আমি স্বীকার করছি যে, ভুল এবং বিচ্যুতি সেই সত্তার ওপর প্রবল হয় যাকে আল্লাহ তাড়াহুড়ো থেকে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু আমি যেটিকে সত্য মনে করেছি তাকে সাধ্যমতো সাহায্য করেছি যতটুকু আমার যোগ্যতা পৌঁছেছে। আর আমি নফসকে এমনভাবে পরিচালনা করেছি যাতে তা গোঁড়ামির আবর্জনা থেকে মুক্ত হয়, যা নিঃসন্দেহে ধ্বংসাত্মক"
(১)।
তেমনিভাবে শাওকানী তাঁর নির্ভরকৃত উৎসগুলো চিহ্নিত করেছেন; যা হাদিস, ফিকহ, ভাষা, ইতিহাস এবং "জারহ ও তাদিল" সংক্রান্ত গ্রন্থাবলি থেকে নেওয়া। নিম্নে আমরা সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণগুলো উল্লেখ করছি:
১ - সহীহুল বুখারী। মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল (মৃত্যু: ২৫৬ হি./ ৮৭০ খ্রি.)।
২ - সহীহ মুসলিম। মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ। (মৃত্যু: ২৬১ হি./ ৮৭৫ খ্রি.)।
৩ - মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল। (মৃত্যু: ২৪১ হি./ ৮৫৫ খ্রি.)।
৪ - সুনানে ইবনে মাজাহ। মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ আল-কাযভিনী। (মৃত্যু: ২৭৩ হি./ ৮৮৬ খ্রি.)।
৫ - সুনানে আবু দাউদ। সুলাইমান ইবনুল আশআস আস-সিজিস্তানি। (মৃত্যু: ২৭৫ হি./ ৮৮৯ খ্রি.)।
৬ - জামে আত-তিরমিযী। মুহাম্মদ ইবনে ঈসা। (মৃত্যু: ২৭৯ হি./ ৮৯২ খ্রি.)।
৭ - সুনানে আন-নাসায়ী। আহমাদ ইবনে আলী। (মৃত্যু: ৩০৩ হি./ ৯১৫ খ্রি.)।
৮ - সুনানে আদ-দারা কুতনী। আলী ইবনে ওমর। (মৃত্যু: ৩৮৫ হি./ ৯৯৫ খ্রি.)।
৯ - মুস্তাদরাকুল হাকেম আন-নাইসাপুরী। (মৃত্যু: ৪০৪ হি./ ১০১৪ খ্রি.)।
১০ - সুনানে বায়হাকী। আহমাদ ইবনুল হুসাইন। (মৃত্যু: ৪৫৮ হি./ ১০৬৬ খ্রি.)।
১১ - তাবারানীর মা'আজিমসমূহ (কাবীর, আওসাত ও সাগীর)। সুলাইমান ইবনে আহমাদ। (মৃত্যু: ৩৬০ হি./ ৯৭১ খ্রি.)।
১২ - হাইসামীর মাজমাউয যাওয়ায়েদ। আলী ইবনে আবু বকর। (মৃত্যু: ৮০৭ হি./ ১৪০৫ খ্রি.)।
১৩ - আল-জামেউল কাবীর। সুয়ূতী (আবদুর রহমান)-এর। (মৃত্যু: ৯১১ হি./ ১৫১৫ খ্রি.)।
১৪ - তাইসীরুল উসূল ইলা জামিউল উসূল। ইবনুদ দাইবা' (মৃত্যু: ৯৪৪ হি./ ১৫৭৬ খ্রি.)।
১৫ - শারহু সহীহ মুসলিম। নববী (মৃত্যু: ৬৭৬ হি./ ১২৭৭ খ্রি.)-এর।
১৬ - সুবুলুস সালাম আল-মুসিলা ইলা বুলুগিল মারাম। ইবনুল আমীর আস-সানআনী। (মৃত্যু: ১১৮২ হি./ ১৭৬৯ খ্রি.)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ١٥)
17 - المحلَّى. لابن حزم الأندلسي. (ت: 456 هـ 1064 م).
18 - المجموعُ شرحُ المهذب. للنووي. (ت: 676 هـ / 1277 م).
19 - الإحكامُ في أصول الأحكام. لابن حزم الأندلسي. (ت: 456 هـ/ 1064 م).
20 - فتحُ الباري شرحُ صحيحِ البخاري. لابن حجر العسقلاني. (ت: 852 هـ/ 1449 م).
21 - تلخيصُ الحبير. لابن حجرٍ العسقلاني. (ت: 852 هـ 1449 م).
22 - تهذيبُ التهذيب. لابن حجر العسقلاني. (ت: 852 هـ / 1449 م).
23 - تقريبُ التهذيب. لابن حجر العسقلاني. (ت: 852 هـ / 1449 م).
24 - لسانُ الميزان. لابن حجر العسقلاني. (ت: 852 هـ / 1449 م).
25 - البحرُ الزخّار في مذاهب علماءِ الأمصار. لأحمدَ بن يحيى المرتضى. (ت: 840 هـ / 1437 م).
26 - أساسُ البلاغة. للزمخشري. (ت: 538 هـ / 1144 م).
27 - شمس العلوم في اللغة. لنشوان الحِمْيَري. (ت: 753 هـ / 1178 م).
28 - العِللُ. للدارقطني. (ت: 385 هـ/ 995 م).
29 - النهايةُ في غريب الحديث لابن الأثير. (ت: 606 هـ).
30 - الثقاتُ لابن حبان (ت: 354 هـ/ 965 م).
31 - نوادرُ الأصول للحكيم الترمذي (ت: 255 هـ).
32 - الزهدُ لابن المبارك. (ت: 181 هـ).
33 - المصنّف لابن أبي شيبةَ. (ت: 235 هـ).
وغيرُ ذلك من كتب السيرةِ والتراجمِ والتاريخ، التي يشير إليها في أماكنها.
* * *
قد يتبادر إلى الذهن سؤالٌ، هل سبق أحدٌ من العلماء الشوكانيُّ بشرح المنتقى؟.
فأقول: نعم، لقد سبقه بشرح المنتقى والكتابةِ عليه أئمةٌ كرامٌ، وخِيرةٌ من العلماء والأعلام:
১৭ - আল-মুহাল্লা। ইবনে হাজম আল-আন্দালুসী। (মৃত্যু: ৪৫৬ হি. ১০৬৪ খ্রি.)।
১৮ - আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব। আন-নববী। (মৃত্যু: ৬৭৬ হি. / ১২৭৭ খ্রি.)।
১৯ - আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম। ইবনে হাজম আল-আন্দালুসী। (মৃত্যু: ৪৫৬ হি./ ১০৬৪ খ্রি.)।
২০ - ফাতহুল বারী শারহু সহীহিল বুখারী। ইবনে হাজার আল-আসকালানী। (মৃত্যু: ৮৫২ হি./ ১৪৪৯ খ্রি.)।
২১ - তালখীসুল হাবীর। ইবনে হাজার আল-আসকালানী। (মৃত্যু: ৮৫২ হি. ১৪৪৯ খ্রি.)।
২২ - তাহযীবুত তাহযীব। ইবনে হাজার আল-আসকালানী। (মৃত্যু: ৮৫২ হি. / ১৪৪৯ খ্রি.)।
২৩ - তাকরীবুত তাহযীব। ইবনে হাজার আল-আসকালানী। (মৃত্যু: ৮৫২ হি. / ১৪৪৯ খ্রি.)।
২৪ - লিসানুল মীযান। ইবনে হাজার আল-আসকালানী। (মৃত্যু: ৮৫২ হি. / ১৪৪৯ খ্রি.)।
২৫ - আল-বাহরুজ যাখখার ফী মাযাহিব উলামাউল আমসার। আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-মুরতাদা। (মৃত্যু: ৮৪০ হি. / ১৪৩৭ খ্রি.)।
২৬ - আসাসুল বালাগাহ। আয-যামাখশারী। (মৃত্যু: ৫৩৮ হি. / ১১৪৪ খ্রি.)।
২৭ - শামসুল উলূম ফিল লুগাহ। নাশওয়ান আল-হিমইয়ারী। (মৃত্যু: ৭৫৩ হি. / ১১৭৮ খ্রি.)।
২৮ - আল-ইলাল। আদ-দারা কুতনী। (মৃত্যু: ৩৮৫ হি./ ৯৯৫ খ্রি.)।
২৯ - আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস। ইবনুল আসীর। (মৃত্যু: ৬০৬ হি.)।
৩০ - আস-সিকাত। ইবনে হিব্বান। (মৃত্যু: ৩৫৪ হি./ ৯৬৫ খ্রি.)।
৩১ - নাওয়াদিরুল উসুল। হাকিম তিরমিযী। (মৃত্যু: ২৫৫ হি.)।
৩২ - আয-যুহদ। ইবনুল মুবারক। (মৃত্যু: ১৮১ হি.)।
৩৩ - আল-মুসান্নাফ। ইবনে আবি শায়বাহ। (মৃত্যু: ২৩৫ হি.)।
এবং সীরাত, জীবনী ও ইতিহাসের অন্যান্য কিতাবসমূহ, যা তিনি স্ব-স্ব স্থানে নির্দেশ করেছেন।
* * *
মনে একটি প্রশ্ন জাগতে পারে যে, আল-মুন্তাকা-এর ব্যাখ্যা লিখার ক্ষেত্রে কোনো আলেম কি শাওকানী-এর অগ্রগামী ছিলেন?
আমি বলব: হ্যাঁ, আল-মুন্তাকা-এর ব্যাখ্যা ও এর উপর টিকা লিখার ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বে বহু সম্মানিত ইমাম এবং শ্রেষ্ঠ আলেম ও বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ কাজ করেছেন:
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ١٦)
كالحافظ/ محمدِ بن أحمدَ بن عبد الهادي المقدِسي (ت: 774 هـ).
والعلامة/ سراجُ الدينُ عمرُ بنُ الملقِّن الشافعيُّ. (ت: 804 هـ). ولكنه لم يُتِمَّه.
والعلامةِ/ أبي العباس. أحمدَ بن المُحسنِ القاضي ابن قاضي الجبل الحنبلي. (ت: 771 هـ) ولم يُتمَّه أيضًا.
إلا أن هذه الكتاباتِ لم يقدَّر لها أن ترى النورَ - فيما أعلم -.
فكانت المكتبةُ الإسلاميةُ متلهِّفةً للجُهد الذي بذله الإمامُ الشوكانيُّ رحمه الله لأن المجْدَ بنَ تيميةَ رحمه الله لم يُبيِّنْ درجةَ الحديث من الصِحّة والحُسْنِ والضَّعف، بل يرويه ويسكُت عليه، وقد كان ذلك البيانُ ضروريًا، حتى إنه يسوق حديثَ الترمذي ولا يذكر ما ذكره التِرمذي فيه من بيان حاله، من الغرابة أو الضَّعف أو الشذوذِ أو النَّكارة، أو نحوِ ذلك.
* * *
وختامًا أقول: إن كتابَ "نيل الأوطار" اتّسم بالجَهد الكبيرِ الذي بذله الإمامُ الشوكانيُّ في تقضيه الأدلةَ في مختلف المسائلِ باجتهاد متحرِّرِ من التعصب المذهبي، أو النظرة الضيِّقة البعيدةِ عن المقاصد العامةِ للشريعة، وهذا ما جعله مقبولًا بل معتمَدًا في مختلف الأوساطِ العلمية.
فعلينا أن نعرِف لله الكريم نعمتَه، وللرسول الرحيم مزيَّتَه، ولعلمائنا الأفاضلِ قيامَهم على التَّرِكة المبارَكة قيامَ الناصحِ الأمين، وما بذلوا في نُصرتها وإعلاءِ كلمِتها المُهَجَ والأموالَ وكلَّ غالٍ ونفيس. فأيدهم اللَّهُ بنصره، وآتاهم من عظيم فضلِه، وجعلهم خيرَ أمةٍ أخرجت للناس.
যেমন হাফেজ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদি আল-মাকদিসি (মৃত্যু: ৭৭৪ হিজরি)।
এবং আল্লামা সিরাজুদ্দিন উমর বিন আল-মুলাক্কিন আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু: ৮০৪ হিজরি)। তবে তিনি এটি সম্পন্ন করেননি।
এবং আল্লামা আবুল আব্বাস আহমদ বিন আল-মুহসিন আল-কাজি ইবনে কাজিল জাবাল আল-হানবালি (মৃত্যু: ৭৭১ হিজরি)। তিনিও এটি সম্পন্ন করতে পারেননি।
তবে আমার জানামতে, এই লেখাগুলো আলোর মুখ দেখার সৌভাগ্য লাভ করেনি।
তাই ইসলামি গ্রন্থাগারগুলো ইমাম শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রচেষ্টার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিল। কারণ মাজদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) হাদিসের মান—সহিহ, হাসান বা জয়িফ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেননি, বরং তিনি সেটি বর্ণনা করে নীরব থেকেছেন। অথচ সেই বর্ণনাটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। এমনকি তিনি তিরমিজির হাদিস উদ্ধৃত করলেও সেখানে তিরমিজি বর্ণিত হাদিসের অবস্থা—যেমন গরিব, জয়িফ, শাজ অথবা মুনকার ইত্যাদি—উল্লেখ করেননি।
* * *
পরিশেষে আমি বলব: "নাইলুল আওতার" গ্রন্থটি ইমাম শাওকানি কর্তৃক বিভিন্ন মাসআলায় দলিলের গভীর অনুসন্ধানের এক বিশাল প্রচেষ্টার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এতে তিনি মাযহাবি গোঁড়ামি বা শরিয়তের সাধারণ উদ্দেশ্যসমূহ থেকে বিচ্যুত সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে মুক্ত ইজতিহাদ প্রয়োগ করেছেন। আর এটিই গ্রন্থটিকে বিভিন্ন ইলমি মহলে গ্রহণযোগ্য এমনকি নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে।
সুতরাং আমাদের উচিত মহান আল্লাহর নিআমতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, দয়ালু রাসুলের বিশেষ মর্যাদা উপলব্ধি করা এবং আমাদের সম্মানিত উলামায়ে কেরামের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া—যারা এই বরকতময় উত্তরাধিকার রক্ষায় একনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত অভিভাবকের মতো দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা এর বিজয় ও এর বাণী সুউচ্চ করার লক্ষ্যে নিজেদের প্রাণ, সম্পদ এবং সব মূল্যবান বস্তু উৎসর্গ করেছেন। আল্লাহ তাঁদের স্বীয় সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেছেন, তাঁর বিশাল অনুগ্রহ থেকে দান করেছেন এবং তাঁদেরকে মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে মনোনীত করেছেন।
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ١٧)
ثانيًا ترجمة مؤلف نيل الأوطار من أسرار الأخباروتحتوي على
الفصل الأول: اليمن في عصر المؤلف
ويحتوي على المباحث التالية:
المبحث الأول: الحالة السياسية
المبحث الثاني: الحالة الدينية
المبحث الثالث: الحالة الاجتماعية
الفصل الثاني: حياة المؤلف
ويحتوي على المباحث التالية:
المبحث الأول: نسبُه وموطنُه.
المبحث الثاني: مولدُه ونشأتُه.
المبحث الثالث: حياتُه العلْمية.
المبحث الرابع: تولِّيه القضاءَ.
المبحث الخامس: شيوخُه وتلامذتُه.
المبحث السادس: مؤلفاتُه - المطبوعة.
দ্বিতীয়ত: নাইলুল আওতার মিন আসরারিল আখবার-এর লেখকের জীবনীযা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের যুগে ইয়েমেন
এবং এটি নিম্নোক্ত উপ-অনুচ্ছেদসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: ধর্মীয় অবস্থা
তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের জীবন
এবং এটি নিম্নোক্ত উপ-অনুচ্ছেদসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর বংশপরিচয় ও আবাসস্থল।
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা।
তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি জীবন।
চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর বিচারপতির দায়িত্বভার গ্রহণ।
পঞ্চম উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রবৃন্দ।
ষষ্ঠ উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি - মুদ্রিত।
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ١٩)
الفصل الأول اليمن في عصر المؤلفويحتوي على المباحث التالية:
المبحث الأول: الحالة السياسية.المبحث الثاني: الحالة الدينية.
المبحث الثالث: الحالة الاجتماعية.
* * *
المبحث الأول الحالة السياسية
كانت الدولةُ الإسلاميةُ الكبرى تُعاني من ضعف شديد، بلغت الصراعاتُ المذهبيةُ فيها درجةً أشعلت الحربَ بين الدولتين: العثمانيةِ السُّنّية، والدولةِ الصّفَوية الشيعية. وكان المغرِبُ العربي يعاني من صراعات عِرقيةٍ وقَبَلية سهّلت اجتياحَ الحَمَلات الإسبانيةِ والبرتغاليةِ لأرجاء تلك البلادِ.
ولعبت الأُسَرية والقَبَليةُ والقوةُ الدورَ الحاسم في تولّي الحكم والسُّلطة، ومن ثَمّ تحديدِ طبيعةِ النظامِ الحاكم، وهو أمرٌ مخالفٌ لمبدأ الشورى الإسلامي.
وقد أدى وجودُ الدولِ الإسلامية المستقلةِ إلى ضَعف دولةِ الخلافةِ العُثمانية، مما أضعفَ شوكتَها أمام أعدائِها - أعداءِ الإسلام -.
وفي ظروف التفككِ والضعفِ هذه، برزتْ إلى الوجود قواتُ الغزوِ الصليبيِّ العسكري - الاقتصادي بشقّيه: الروسي والأوربي، مستهدفةً اقتسامَ بلاد المسلمين، بعد الإجهازِ على دولة الخلافةِ الإسلامية - العثمانيةِ التي أُطلق عليها يومئذ: الرجلُ المريض.
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের যুগে ইয়ামেনএটি নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক পরিস্থিতি।দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ধর্মীয় পরিস্থিতি।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সামাজিক পরিস্থিতি।
* * *
প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক পরিস্থিতি
বৃহৎ ইসলামী রাষ্ট্র তখন চরম দুর্বলতার শিকার ছিল। এমনকি মাযহাবী দ্বন্দ্ব এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তা সুন্নি উসমানীয় রাষ্ট্র এবং শিয়া সফভীয় রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের সূচনা করেছিল। আর আরব মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) জাতিগত ও গোত্রীয় দ্বন্দ্বে ভুগছিল, যা ঐ অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে স্পেনীয় ও পর্তুগিজ অভিযানগুলোর আগ্রাসনকে সহজতর করে দিয়েছিল।
শাসনক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দখলের ক্ষেত্রে পারিবারিক আভিজাত্য, গোত্রপ্রীতি ও শক্তিই চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করত, যা পরবর্তীতে শাসন ব্যবস্থার প্রকৃতি নির্ধারণ করে দিত; আর এই বিষয়টি ইসলামের শুরা (পরামর্শ) নীতির পরিপন্থী।
স্বাধীন ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর অস্তিত্ব উসমানীয় খিলাফত রাষ্ট্রকে দুর্বল করে ফেলেছিল, যা ইসলামের শত্রুদের সামনে এর শক্তি ও প্রভাবকে খর্ব করে দেয়।
বিভক্তি ও দুর্বলতার এই পরিস্থিতির মাঝে রুশ ও ইউরোপীয়—উভয় ধারার সামরিক-অর্থনৈতিক ক্রুসেডার আগ্রাসনী শক্তিগুলোর আবির্ভাব ঘটে। তাদের লক্ষ্য ছিল ইসলামী-উসমানীয় খিলাফত রাষ্ট্রকে চূড়ান্তভাবে নিঃশেষ করার পর মুসলিম ভূখণ্ডগুলোকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া, যে রাষ্ট্রকে সেই সময় ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ বলে অভিহিত করা হতো।
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وكانت الظروفُ مهيأةَ أمامَ الغزوِ الصّليبيِّ، فثغورُ المسلمين غيرُ محصّنة، وخاصةً في سواحل البحرِ الأحمرِ، وبشكل أخصَّ في بوّابتيه الشمالية والجَنوبية، والخليجِ العربيِّ والبحرِ العربي (المحيط الهندي)، بالإضافة إلى تراخي المسلمين عن الجهاد.
وخالفت الدولُ الإسلاميةُ مبدأً أساسيًا في القرآن الكريم، وهو مبدأ (الولاء) ويعني المناصرة، فكانت الدولةُ العثمانية توالي الإنجليزَ ضدّ الفرنسيين، وكان (محمد علي باشا) يوالي الفرنسيين ضد (الإنجليز)، وحلَّت العقوبةُ الإلهيةُ بكل من القوتين المسلمتين، قوة العثمانيين، وقوة (محمد علي باشا)، حيث تآمرت كلٌ من (فرنسا) و (إنجلترا) مع أربع دول أخرى على كل منهما، ومهما قيل من تحليل حول أصداءِ الحملةِ الفرنسية، فقد كانت صدمةً عسكرية - صليبيةً - لمِصْرَ وللعالم الإسلامي، حيث اكتشف المسلمون أنهم لم يواكبوا التطورَ العلميِّ - التّقْني الذي سارت في ركابه الدولُ الأوربية، مما أوجد فجوةً كبيرة بين الطرفين فساعدت على هزائم المسلمين أمام الغزوِ الأوربي المتعاضدِ حينًا والمتنافسِ حينًا آخرَ، ولو لم تكن القُوى الإسلامية - مهما بلغت من التفكك - قد بعثرتْ ما لديها من أسباب القوةِ في صراعاتها العديدة لاستطاعت مواكبةَ الركْب الأوربي، وإليك بعضَ الأشكالِ المختلفة لتلك الصراعاتِ: صراعًا عثمانيًا - صوفيًا، وصراعًا عثمانيًا - وهَّابيًا، وصراعًا عثمانيًا، - مصريًا، وصراعًا سعوديًا - مصريًا، وصراعًا إنجليزيًا - مصريًا، وصراعًا عثمانيًا - فرنسيًا، وصراعًا يمنيًا - سعوديًا، والصراعُ الأخيرُ كان صراعَ مهادنةٍ وحذَرٍ وتربّص.
وكانت هناك أربعُ قُوَى يمكن أن تمثل أملَ التقدمِ والتطورِ لبلاد المسلمين، ويمكن أن تنتصِرَ لو اجتمعت على الزحف الأوربيّ الواسعِ النِطاق، وهذه القُوى هي: قوةُ (محمدِ بن عبدِ الوهاب) وأتباعِه التي تركزت حول التغييرِ العَقَديِّ كأساس للتغيير الشاملِ والتقدمِ في كل جوانب الحياةِ بعد ذلك، ويمكن أن يُطلقَ عليها: (ثورة العقيدة)، وكانت هناك قوةُ الحركةِ الإصلاحية المعاصِرَة للحركة الوهابيةِ وهي حركةُ (محمدِ بن عليّ الشوكاني)، التي تركزت في دفع المسلمين نحو التحررِ من التقليد والجُمود، وتحريكِ عجلةِ الاجتهادِ بعيدًا عن العصبيات
ক্রুসেডার আক্রমণের অনুকূল পরিস্থিতি বিরাজ করছিল; ফলে মুসলিমদের সীমান্তগুলো সুরক্ষিত ছিল না, বিশেষ করে লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলো এবং আরও সুনির্দিষ্টভাবে এর উত্তর ও দক্ষিণ প্রবেশদ্বারগুলো, আরব্য উপসাগর এবং আরব সাগর (ভারত মহাসাগর)। এর পাশাপাশি জিহাদের ব্যাপারে মুসলিমদের শৈথিল্যও যুক্ত ছিল।
মুসলিম রাষ্ট্রগুলো পবিত্র কুরআনের একটি মৌলিক মূলনীতি লঙ্ঘন করেছিল, যা হলো 'আল-ওয়ালা' (বন্ধুত্ব ও আনুগত্য) নীতি; যার অর্থ হলো একে অপরকে সাহায্য ও সমর্থন করা। উসমানীয় সাম্রাজ্য ফরাসীদের বিরুদ্ধে ইংরেজদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিল এবং (মুহাম্মদ আলী পাশা) ইংরেজদের বিরুদ্ধে ফরাসীদের সাথে মৈত্রী করেছিল। ফলে উভয় মুসলিম শক্তির ওপরই আল্লাহর শাস্তি নেমে আসে; উসমানীয় শক্তি এবং (মুহাম্মদ আলী পাশা)-এর শক্তি—উভয়ই। কারণ ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড প্রত্যেকেই আরও চারটি রাষ্ট্রের সাথে মিলে এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। ফরাসি অভিযানের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে যে বিশ্লেষণই করা হোক না কেন, তা ছিল মিশর ও মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি সামরিক-ক্রুসেডার আঘাত। এর মাধ্যমে মুসলিমরা আবিষ্কার করল যে, ইউরোপীয় দেশগুলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যে উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে, তারা তার সাথে তাল মেলাতে পারেনি। এটি উভয় পক্ষের মধ্যে একটি বিশাল ব্যবধান তৈরি করেছিল, যা কখনো ঐক্যবদ্ধ আবার কখনো প্রতিদ্বন্দ্বী ইউরোপীয় আক্রমণের মুখে মুসলিমদের পরাজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। মুসলিম শক্তিগুলো যতই বিভাজিত হোক না কেন, তারা যদি তাদের শক্তির উৎসগুলোকে বিভিন্ন দ্বন্দ্বে অপচয় না করত, তবে তারা ইউরোপীয় অগ্রযাত্রার সাথে তাল মেলাতে সক্ষম হতো। নিম্নে সেই দ্বন্দ্বগুলোর বিভিন্ন রূপ তুলে ধরা হলো: উসমানীয়-সুফি দ্বন্দ্ব, উসমানীয়-ওয়াহ্হাবি দ্বন্দ্ব, উসমানীয়-মিশরীয় দ্বন্দ্ব, সৌদি-মিশরীয় দ্বন্দ্ব, ইংরেজ-মিশরীয় দ্বন্দ্ব, উসমানীয়-ফরাসি দ্বন্দ্ব এবং ইয়েমেনি-সৌদি দ্বন্দ্ব; শেষোক্ত দ্বন্দ্বটি ছিল এক ধরণের সন্ধি, সতর্কতা ও ওঁত পেতে থাকার দ্বন্দ্ব।
সেখানে চারটি শক্তি ছিল যারা মুসলিম দেশগুলোর উন্নতি ও অগ্রগতির আশা জাগাতে পারত এবং ইউরোপীয় বিশাল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলে বিজয়ী হতে পারত। এই শক্তিগুলো হলো: (মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব) এবং তাঁর অনুসারীদের শক্তি, যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিবর্তন ও অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে আকিদাগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছিল; একে 'আকিদার বিপ্লব' হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে। এছাড়াও ছিল ওয়াহ্হাবি আন্দোলনের সমসাময়িক সংস্কারবাদী শক্তির আন্দোলন, যা ছিল (মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শাওকানি)-এর আন্দোলন। এই আন্দোলন মুসলিমদের অন্ধ অনুকরণ ও স্থবিরতা থেকে মুক্ত করার এবং গোঁড়ামি থেকে দূরে থেকে ইজতিহাদের চাকা সচল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিল।
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٢١)
المذهبيةِ والسُّلالية فهي: (ثورة العقل)، وكانت هناك حركةٌ فتيةٌ تولَّى قيادَها (محمد علي باشا) تركزت حول الاستفادةِ الجادةِ والسريعةِ من التطور العلميّ - التقْنيِّ الذي وصل إليه الأوربيون، فكانت حركةَ (ثورة العلمِ والتكنولوجيا)، وكانت القوةُ الرابعةُ هي: قوةُ العثمانيين العسكرية التي صمَدت إلى حين أمام الغزوِ الأوربي - الصليبيّ، لولا معاناتُها من الحروب الداخلية، ومن تآمُر الحركة الماسونية المتمثّلة يومئذ بجمعية (الاتحاد والترقي) التركية - العلمانية الاتجاه، بالإضافة إلى تآمُر كلٍ من: روسيا وإنجلترا وفرنسا واليونان والنمسا عليها وعلى (محمد علي باشا)، في نهاية مطاف (الولاء) والصداقة الكاذبة، ولو قُدّر لهذه القُوى الأربعِ أن تجتمعَ في معسكر واحدٍ مكلَّلة بالإيمان لاستطاعت امتلاكَ المسيرة الحضاربةِ المعاصرة، بعيدًا عن أمراضها المادية والخُلُقية، ولتمكّنت بمشيئة الله من إنماء حياةِ المسلمين والإنسانية في كل أرجاءِ العالم.
ولم تخْلُ اليمنُ من أمراض القُوى الإسلاميةِ الكبرى، فقد وُجدت صراعاتٌ داخليةٌ في ظل نظامِ الحكم الزيديِّ الإمامي هي: صراعاتٌ أُسريةٌ على الإمامة، وصراعاتٌ فيما بين القبائل ذاتِ الشوكةِ من ناحية، وفيما بينها وبين دولةِ الإمامة من ناحية أخرى، وصراعاتٌ بين دولةِ الأئمةِ وبين قوةِ الحركةِ الإسماعيلية الباطنية - القِرْمطية، المتمركزة في منطقتي (حراز) و (نجران).
وكان حكمُ الإمامةِ يتّسم تارةً بالعدل وتارة أخرى بالجَور، وأحيانًا بالقوة وأحيانًا بالضعف. ولأخلاقيات وزراءِ الإمامِ ودعاةِ الإمامة وطبيعةِ سلوكِ الإمام تأثيرٌ كبير بالإيجاب أو السلب على طبيعة النظامِ الحاكم.
وكانت سيادةُ اليمنِ غيرَ كاملةِ على كل أجزائها، فهناك الصراعُ ضدَّ سلطةِ أشرافِ أبي عريش والمِخْلاف السُليماني، وهناك سلطناتٌ مستقلةُ كسلطنة (لَحْج) في الجنوب، وهناك سلطنةُ الأتراك في (زبيد)، وقد احتل الإنجليزُ عدَنَ عام 1255 هـ (بعد موت الشوكانيّ بخمس سنوات)، واحتل أنصارُ الدعوةِ الوهابية - السلفية - بلاد أبي عريش والمخلاف السليماني، وتمكنوا من الاستيلاء على الحديدة (أيام الإمامِ المتوكل على الله أحمد) وكانت دولةُ الأئمةِ تهادن حركةَ (محمد بن عبد الوهاب)، فتبادل أنصارُها المكاتباتِ والرسلَ، وقاموا بتطبيق ما قام
মাযহাবকেন্দ্রিকতা ও বংশীয় আভিজাত্যের বিপরীতে এটি ছিল: (বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব)। এছাড়া সেখানে (মুহাম্মাদ আলী পাশা)র নেতৃত্বে একটি নবীন আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল, যা ইউরোপীয়দের অর্জিত বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সুফল গুরুত্বের সাথে ও দ্রুততার সাথে গ্রহণের ওপর নিবদ্ধ ছিল; এটি ছিল (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিপ্লব)। চতুর্থ শক্তিটি ছিল: উসমানীয়দের সামরিক শক্তি, যা ইউরোপীয়-ক্রুসেডার আক্রমণের সামনে এক সময় পর্যন্ত অটল ছিল। যদি তারা অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ এবং তৎকালীন তুর্কি-ধর্মনিরপেক্ষ ধারার (ইউনিয়ন অ্যান্ড প্রগ্রেস) সমিতি দ্বারা প্রতিনিধিত্বকারী ফ্রিম্যাসনরি আন্দোলনের ষড়যন্ত্রের শিকার না হতো; সেই সাথে তাদের এবং (মুহাম্মাদ আলী পাশা)র বিরুদ্ধে রাশিয়া, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, গ্রিস ও অস্ট্রিয়ার ষড়যন্ত্র তো ছিলই, যা শেষ পর্যন্ত মিথ্যা বন্ধুত্ব ও (আনুগত্যের) রূপ ধারণ করেছিল। যদি এই চারটি শক্তির পক্ষে ঈমানের মুকুট পরিধান করে এক শিবিরের নিচে একত্রিত হওয়া সম্ভব হতো, তবে তারা সমকালীন সভ্যতার পথকে এর বস্তুগত ও চারিত্রিক ব্যাধি থেকে মুক্ত করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারত এবং আল্লাহর ইচ্ছায় মুসলিম উম্মাহ ও সারা বিশ্বের মানুষের জীবনকে উন্নত করতে সক্ষম হতো।
বৃহৎ ইসলামী শক্তিসমূহের রোগ থেকে ইয়েমেনও মুক্ত ছিল না। সেখানে যায়দি ইমামি শাসন ব্যবস্থার অধীনে অভ্যন্তরীণ সংঘাত বিদ্যমান ছিল, যথা: ইমামত কেন্দ্রিক পারিবারিক কোন্দল, একদিকে প্রভাবশালী গোত্রসমূহের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এবং অন্যদিকে তাদের সাথে ইমামত রাষ্ট্রের সংঘাত; এছাড়া ইমামত রাষ্ট্র এবং (হারাজ) ও (নাজরান) অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত বাতিনি ইসমাইলি-কারমাতি আন্দোলনের শক্তির মধ্যকার সংঘাত।
ইমামতি শাসন কখনও ন্যায়বিচারের দ্বারা, আবার কখনও জুলুমের দ্বারা, কখনও শক্তির দ্বারা এবং কখনও দুর্বলতার দ্বারা চিহ্নিত হতো। ইমামের উজির ও ইমামতের দাওয়াত প্রচারকারীদের নৈতিকতা এবং ইমামের আচরণের ধরণ শাসকগোষ্ঠীর প্রকৃতির ওপর ইতিবাচক বা নেতিবাচক বড় ধরনের প্রভাব ফেলত।
ইয়েমেনের সকল অংশের ওপর দেশটির পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ছিল না। সেখানে আবু আরিশ ও আল-মিখলাফ আল-সুলাইমানির আশরাফদের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে লড়াই চলছিল। দক্ষিণে (লাহজ) সালতানাতের মতো স্বতন্ত্র সালতানাত ছিল। (জাবিদ)-এ তুর্কি সালতানাত বিদ্যমান ছিল। ১২৫৫ হিজরিতে (শাওকানি-র মৃত্যুর পাঁচ বছর পর) ইংরেজরা এডেন দখল করে এবং ওহাবি-সালাফি দাওয়াতের অনুসারীরা আবু আরিশ ও আল-মিখলাফ আল-সুলাইমানি অঞ্চলসমূহ দখল করে নেয়। তারা (ইমাম আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ আহমদের আমলে) হুদাইদাহ অধিকার করতে সক্ষম হয়। ইমামত রাষ্ট্র (মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব)-এর আন্দোলনের সাথে সন্ধি বজায় রাখত। ফলে তাদের অনুসারীরা পরস্পর চিঠিপত্র ও দূত আদান-প্রদান করত এবং তিনি যা শুরু করেছিলেন তা বাস্তবায়নে তৎপর হতো।
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
به سيدنا (علي رضي الله عنه من تحطيم للقِباب وتسويةٍ للقبور بأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو سلوكٌ أثلج صدورَ علماء الحركة الوهابية - السلفية - وقد قام الشوكانيُّ بدور بارز في تلك المكاتبات والمقابلاتِ لأولئك العلماء (الرسل)، وكان له دورٌ بارزٌ أيضًا في إقامة العلاقاتِ الدبلوماسيةِ الناجحةِ مع أشراف مكة والحجاز، وأشرافِ أبي عريش والمخلاف السليماني، وقواتِ (محمد علي باشا) عبرَ مكاتباتهِ التي يُسندها الأئمةُ إليه، وغيرِ الرسل التي يوكل الأئمةُ له صلاحيةَ اختيارِهم.
وقد أبدى النظامُ الإماميُّ استعدادًا طيبًا لمشاركة المسلمين في صدّ الغزوِ الصليبي - الاقتصادي - العسكري، كاستعداده لمجابهة الحملةِ الفرنسية، وحَمَلات البرتغاليين، ورفْضِ إقامة قاعدةٍ إنجليزيةِ في باب المندَب، وتولّى الشوكاني بمكاتباته إعلانَ المواقفِ السياسية المتّصلة بهذا الاستعداد، وكان لهذه الأوضاعِ آثارُها الاجتماعيةُ والاقتصادية والإداريةُ والفكرية
(1).
المبحث الثاني الحالة الدينيةعاصر الشوكانيُّ المذاهبَ والفِرَقَ والطوائفَ الدينيةَ المختلفة، والتي كان له معها مواقفُه الخاصة، فكان ناقدًا لجوانب الخطأ في مقولاتها، ومزكيًا لجوانب الحقِّ والصوابِ من آرائها ومناهِجها.
وفي ظل الحكمِ الإماميِّ الزيديِّ عاصر الشوكانيُّ عصبيةً مذهبيةً وسلاليةً وجمودًا على أقوال العلماء والأئمة، دونما بحثٍ عن الدليل من قِبَل أربابِ التعصّب والمقلّدين، فكانت للشوكاني أدوارُه الإيجابيةُ في تشخيص ظاهرةِ التعصّب، ومحاربتها بقلمه، وتدريسه، وفتاواه، وكان له رأيُه السياسيُّ في حل الفْتنة العصبية التي أُطلق عليها (فتنة العاصمة - صنعاء) عام 1823 م. فاستجاب إمامُ زمانِه لمقترحاته التي طالبت بنفي رؤساءِ تلك الفتنةِ إلى سجون متعددة، بعيدة عن العاصمة.
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদেশে আমাদের নেতা (আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক গম্বুজসমূহ চূর্ণবিচূর্ণ করা এবং কবরসমূহ সমান করার বিষয়টি ছিল এমন একটি আচরণ যা ওয়াহাবি-সালাফি আন্দোলনের আলেমদের অন্তরকে প্রশান্ত করেছিল। শাওকানি সেই আলেমদের (দূতদের) সাথে পত্রবিনিময় ও সাক্ষাৎকারে এক বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন। মক্কা ও হিজাজের আশরাফগণ, আবু আরিশ ও মিখলাফ সুলাইমানির আশরাফগণ এবং ইমামগণ কর্তৃক তার ওপর ন্যস্ত পত্রবিনিময়ের মাধ্যমে মুহাম্মদ আলী পাশার বাহিনীর সাথে সফল কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এছাড়াও ইমামগণ তাকে অন্যান্য দূতদের নির্বাচনের ক্ষমতাও অর্পণ করতেন।
ইমামত শাসিত ব্যবস্থা ক্রুসেডারদের—অর্থনৈতিক ও সামরিক—আক্রমণ প্রতিহত করতে মুসলমানদের সাথে অংশগ্রহণের জন্য উত্তম প্রস্তুতি প্রদর্শন করেছিল; যেমন ফরাসি অভিযান ও পর্তুগিজ অভিযানের মোকাবিলা করার প্রস্তুতি এবং বাবুল মান্দাবে ইংরেজদের ঘাঁটি স্থাপনের অস্বীকৃতি। শাওকানি তার পত্রবিনিময়ের মাধ্যমে এই প্রস্তুতির সাথে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানগুলো ঘোষণার দায়িত্ব পালন করেন। আর এই পরিস্থিতির সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাব ছিল
(১)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ধর্মীয় অবস্থাশাওকানি বিভিন্ন ধর্মীয় মাযহাব, দল ও উপদলের সমসাময়িক ছিলেন, যাদের প্রতি তার নিজস্ব অবস্থান ছিল। তিনি তাদের বক্তব্যের ভ্রান্ত দিকগুলোর সমালোচক ছিলেন এবং তাদের মতামত ও পদ্ধতির সত্য ও সঠিক দিকগুলোর সমর্থক ছিলেন।
জাইদি ইমামি শাসনের অধীনে শাওকানি মাযহাবী ও বংশীয় গোঁড়ামি এবং আলেম ও ইমামদের বক্তব্যের ওপর অন্ধ স্থবিরতার সম্মুখীন হয়েছিলেন, যেখানে গোঁড়া ও অন্ধ অনুসারীরা দলিলের কোনো অনুসন্ধান করত না। গোঁড়ামির এই প্রপঞ্চটি চিহ্নিত করতে এবং তার লেখনী, পাঠদান ও ফতোয়ার মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে শাওকানির ইতিবাচক ভূমিকা ছিল। ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে 'রাজধানী সানআর ফিতনা' নামে পরিচিত গোঁড়ামিভিত্তিক ফিতনা নিরসনে তার রাজনৈতিক অভিমতও ছিল। ফলে তৎকালীন ইমাম তার প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করেন, যেগুলোতে সেই ফিতনার হোতাদের রাজধানী থেকে দূরে বিভিন্ন কারাগারে নির্বাসনের দাবি জানানো হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
ويعدّ الاجتهادُ - وهو شرطٌ من شروط الإمامة في المذهب الزيدي - ميزةً استطاع الشوكانيُّ في ظله أن يصل إلى درجة الاجتهادِ المطلق، وبذلك تمكن من الانخلاع عن المذهبية، فانتقد المتعصبين في كل مذاهب المسلمين، وقام بالدعوة إلى التمسك بالإسلام جملة، وإلى عدم التعصب لأقوال العلماء أو الأئمة بل الالتزام بالكتاب والسنةِ، اللذَينِ أمرنا الله باتباعهما
(1).
وكان اليمنيون قبل دخولِ المذهب الزيدي متمذهبين بالمذهبين المالكي والشافعي، وقد انقرض المذهبُ المالكي، وبقي المذهبُ الشافعي سائدًا في المناطق الوسطى والجنوبية والساحلية من اليمن، وكان الشوكانيُّ من الأعلام الذين دعَوا إلى اتباع السنةِ ومذهبِ السلفِ الصالح، بدون تعصُّبٍ لمذهب ما من مذاهب المسلمين، وإنما هو الاقتفاءُ للحق والدليلِ، فهما رائداه في كل ما يقرأ ويرجح من آراء.
وشهد الشوكانيُّ صراعَ الأئمة الزيديين ضد الطائفةِ الإسماعيليةِ (الباطنية - القِرمطية)، وأفتى بكفرها.
وأما المعتزلةُ فقد كان عام 544 هـ أولَ عام دخل فيه تراثُهم إلى اليمن على يد القاضي (جعفرِ بن أحمدَ بن عبد السلام - ت 573 هـ) شيخُ الزيدية والمعتزلة، وقضيةُ الاتفاقِ والاختلافِ بين الزيديةِ والمعتزلةِ مسألةٌ جدليةٌ، ويمكن تمثيلُها بمتصل في طرفه الأول طائفةٌ تمثل قمةَ الاتفاقِ وفي الطرف المقابلِ طائفةٌ أخرى تمثل قمةَ الاختلاف، وفي الوسط مواقفُ تتأرجح نحوَ هذا الطرف أو ذاك، وموقفُ الشوكانيِّ من علم الكلامِ موقفٌ له سِمَتهُ الخاصة، فهو ينصح طالبَه في كتابه: "أدب الطلب"
(2) بدراسة هذا العلمِ لكي يستطيع دراسةَ تفسير "الكشاف" للزمخشري، ودراسةَ تراثِ المعتزلة والأشاعرةِ والفِرَق الأخرى، ويتمكن بذلك من الخروج من دائرة التقوقعِ على علوم المذهبِ ومخاصمةِ أهلِ الكلام دونما علم بمقولاتهم ومصطلحاتِهم ومنطلقاتِهم، ولكنه يصف تجربتَه الشخصيةَ مع هذا العلمَ
--------------------------------------------
ইজতিহাদ—যা যাইদি মাজহাব অনুসারে ইমামতের একটি শর্ত—একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য হয়, যার ছায়াতলে শাওকানি নিরঙ্কুশ ইজতিহাদের (ইজতিহাদে মুতলাক) স্তরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি মাজহাবগত সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হতে পেরেছিলেন; ফলে তিনি মুসলিমদের সকল মাজহাবের গোঁড়া অনুসারীদের সমালোচনা করেন এবং সামগ্রিকভাবে ইসলামের ওপর অবিচল থাকার দাওয়াত দেন। তিনি আলিম বা ইমামদের মতামতের প্রতি অন্ধ আনুগত্য না করে বরং কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণের আহ্বান জানান, যে দুটি অনুসরণের আদেশ আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন
(১)।
যাইদি মাজহাব প্রবেশের পূর্বে ইয়েমেনবাসীরা মালিকি ও শাফিয়ি মাজহাবের অনুসারী ছিল। পরবর্তীতে মালিকি মাজহাব বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং ইয়েমেনের মধ্য, দক্ষিণ ও উপকূলীয় অঞ্চলসমূহে শাফিয়ি মাজহাব প্রধান হিসেবে টিকে থাকে। শাওকানি ছিলেন সেই সব বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত যারা সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের পথ অনুসরণের দাওয়াত দিয়েছিলেন। তিনি মুসলিমদের কোনো নির্দিষ্ট মাজহাবের প্রতি গোঁড়ামি পোষণ না করে বরং সত্য ও দলিলের অনুসরণ করতেন; তিনি যা কিছু পড়তেন এবং যে সকল মতকে প্রাধান্য দিতেন, তাতে এই সত্য ও দলিলই ছিল তাঁর পথপ্রদর্শক।
শাওকানি ইসমাইলি সম্প্রদায়ের (বাতিনিয়া - কারমাতিয়া) বিরুদ্ধে যাইদি ইমামদের সংঘাত প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং তিনি তাদের কাফির হওয়ার ফতোয়া দিয়েছিলেন।
আর মুতাজিলাদের কথা বলতে গেলে, ৫৪৪ হিজরি ছিল প্রথম বছর যখন তাদের ইলমি ঐতিহ্য ইয়েমেনে প্রবেশ করে। এটি সম্ভব হয়েছিল যাইদি ও মুতাজিলাদের শায়খ কাজি জাফর বিন আহমাদ বিন আব্দুস সালামের (মৃত্যু ৫৭৩ হি.) মাধ্যমে। যাইদি ও মুতাজিলাদের মধ্যকার ঐক্য ও পার্থক্যের বিষয়টি একটি বিতর্কিত বিষয়; একে এমন একটি ধারাবাহিক রেখা হিসেবে কল্পনা করা যায় যার এক প্রান্তে রয়েছে চূড়ান্ত ঐকমত্য পোষণকারী এক দল এবং অন্য প্রান্তে রয়েছে চূড়ান্ত মতভেদ পোষণকারী অন্য এক দল, আর মাঝখানে রয়েছে এমন কিছু অবস্থান যা কখনো এই প্রান্তের দিকে আবার কখনো ওই প্রান্তের দিকে ঝুঁকে থাকে। ইলমে কালামের ব্যাপারে শাওকানির অবস্থান ছিল বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তিনি তাঁর 'আদাবুত তলাব'
(২) গ্রন্থে শিক্ষার্থীকে এই শাস্ত্রটি অধ্যয়ন করার উপদেশ দিয়েছেন যাতে সে যামাখশারির 'আল-কাশশাফ' তাফসির এবং মুতাজিলা, আশায়েরা ও অন্যান্য ফিরকার ইলমি ঐতিহ্য অধ্যয়ন করতে পারে। এর ফলে সে নিজ মাজহাবের জ্ঞানচর্চার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে এবং কালাম শাস্ত্রবিদদের বক্তব্য, পরিভাষা ও মূলনীতি সম্পর্কে জ্ঞান না রেখেই তাদের বিরোধিতা করার প্রবণতা থেকে মুক্ত হতে পারবে। তবে তিনি এই শাস্ত্রের সাথে তাঁর নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
بالمرارة، وأنها تجربةٌ جلبت له الحَيرة، وأنه قد وجد أن مقولاتِه في نهاية الأمرِ مجموعةٌ من الخُزَعْبلات، وبناء على ذلك دعا طلابَه إلى نهج السلفِ الصالح الذي يقوم على هجر المصطلحات الكلامية والتمسكِ بالكتاب والسنة.
وأما الصوفيةُ فقد اشتهر أصحابُها بالتواكل وهجرِ الأسباب، واشتهر أتباعُها بتقديس زعمائِها، والخضوعِ لأقوالهم، والاهتمامِ الشديد بتشييد وتزيينِ قبورِهم والتعلقِ ببعض الخرافاتِ التي علِقتْ بمحبتهم، فكان للشوكاني معهم جولةٌ طويلة، خاصة في كتبه الثلاثة:
1 - شرحُ الصدور في تحريم رفعِ القبور.
2 - والدرُّ النضيد في إخلاص كلمة التوحيد.
3 - وقطرُ الولي على حديث الولي أو ولايةُ الله والطريقُ إليها.
بالإضافة إلى رسالته:
"الصوارمُ الحداد القاطعةُ لعلائق أرباب الاتحاد".
وأما الرافضةُ فقد كشف الشوكاني النقابَ عنهم، وفضح حقيقتَهم فيما يتظهّرون به من التشيع قائلًا:
"ولا غَروَ، فأصلُ هذا المظهرِ الرافضيِّ مظهرُ إلحادٍ وزندقة، جعله من أراد كيدًا للإسلام سِترًا له فأظهر التشيعَ والمحبةَ لآل رسول الله صلى الله عليه وسلم استجذابًا لقلوب الناسِ، لأن هذا أمرٌ يرغب فيه كلُّ مسلم، وقصدًا للتعزير عليهم، ثم أظهر للناس أنه لا يتم القيامُ بحق القرابة إلا بترك حقِ الصحابة، ثم جاوز ذلك إلى إخراجهم - صانهم الله - عن سبيل المؤمنين"
(1).
وهكذا بدت لنا الحالةُ الدينيةُ في عصر الشوكانيّ رحمه الله مما دفعتْ به إلى حمل لواء الدعوةِ إلى التمسك بالكتاب والسنةِ على فهم السلفِ الصالح رضوانُ الله عليهم.
--------------------------------------------
তিক্ততার সাথে, এবং এটি এমন এক অভিজ্ঞতা ছিল যা তার জন্য বিভ্রান্তি বয়ে এনেছিল। পরিশেষে তিনি দেখতে পান যে তার উক্তিগুলো ছিল একগুচ্ছ অসার কথা। এর ভিত্তিতে তিনি তার ছাত্রদেরকে সালাফে সালেহীনের মানহাজের দিকে আহ্বান জানান, যা কালাম শাস্ত্রের পরিভাষা বর্জন এবং কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আর সুফিদের ক্ষেত্রে, তাদের অনুসারীরা উপায়-উপকরণ বর্জন করে অলস নির্ভরতার জন্য এবং তাদের নেতাদের পবিত্রজ্ঞান করা, তাদের কথার অনুগত হওয়া এবং তাদের কবরসমূহ নির্মাণ ও সজ্জিত করার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান এবং তাদের ভালোবাসার সাথে মিশে থাকা কিছু কুসংস্কারের সাথে সম্পৃক্ততার জন্য পরিচিতি লাভ করেছিল। তাই শাওকানির সাথে তাদের দীর্ঘ লড়াই ছিল, বিশেষ করে তার তিনটি কিতাবে:
১ - শারহুস সুদূর ফি তাহরীমি রাফইল কুবুর (কবর উঁচুকরণ হারামের বর্ণনায় বক্ষসমূহ উন্মোচন)।
২ - আদ-দুররুন নাদীদ ফি ইখলাসি কালিমাতিত তাওহীদ (তাওহীদের বাণী বিশুদ্ধকরণে সুবিন্যস্ত মুক্তা)।
৩ - কাতরুল ওয়ালী আলা হাদিসিল ওয়ালী বা আল্লাহর অভিভাবকত্ব এবং তার পথে চলার মাধ্যম।
তদুপরি তার রিসালা:
"আস-সাওয়ারিমুল হিদা-দ আল-কাতিয়া লি আলাইকি আরবাবিল ইত্তিহাদ (অস্তিত্বের একত্ববাদে বিশ্বাসীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্নকারী ধারালো তরবারিসমূহ)"।
আর রাফেযীদের ব্যাপারে শাওকানি তাদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন এবং তাদের শিয়া হওয়ার যে বহিঃপ্রকাশ তারা ঘটায় তার আসল রূপ ফাঁস করে দিয়ে বলেছেন:
“এতে কোনো আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ এই রাফেযী বহিঃপ্রকাশের মূল হলো নাস্তিক্যবাদ ও ধর্মদ্রোহিতার বহিঃপ্রকাশ, যারা ইসলামের ক্ষতি করতে চেয়েছিল তারা একে তাদের আবরণ বানিয়ে নিয়েছে। ফলে তারা মানুষের হৃদয়কে আকৃষ্ট করতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইতের প্রতি শিয়া মতবাদ ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছে। কারণ এটি এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক মুসলিম পছন্দ করে। আর তাদের উদ্দেশ্য ছিল তাদের ওপর অপবাদ আরোপ করা। এরপর তারা মানুষের কাছে প্রকাশ করল যে, সাহাবীদের হক ত্যাগ করা ছাড়া আত্মীয়তার হক আদায় পূর্ণ হয় না। এরপর তারা এর চেয়েও সীমা লঙ্ঘন করে তাদেরকে—আল্লাহ তাদের রক্ষা করুন—মুমিনদের পথ থেকে বের করে দিল”
(১)।
এভাবেই আমাদের সামনে শাওকানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর যুগের ধর্মীয় অবস্থা ফুটে ওঠে যা তাকে সালাফে সালেহীনের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বুঝ অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার দাওয়াতের ঝাণ্ডা বহন করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
المبحث الثالث الحالة الاجتماعيةلقد أُصيبت الحالةُ الاجتماعيةُ بالتدهور، فكانت هناك أنماطٌ متعددة من الصراع بين القُوى الإسلاميةِ المختلفةِ: بين الأتراك واليمنيين، وبين الأتراكِ والمصريين، وبين الأتراكِ والوهابيين (السلفيين) إلخ، كلُ هذا أدى إلى توهين قوةِ المجتمع الإسلاميِّ وتضاؤُل مكانتِه في العلم.
وعلى المستوى المحليِّ كان هناك صراعٌ مريرٌ بين المتعصّبين وبين المُنصفين من العلماء وبين أدعياءِ العلمِ والعاقة من جهة، وبين علماءِ الإنصاف والاجتهادِ من جهة أخرى.
وتعرّض المجتمعُ الصنعانيُّ كثيرًا لحملات القبائلِ التي نشرت في أحيان كثيرةِ المجاعةَ حتى الموتِ، من جرّاء مطالِبها في رفع مُقرَّراتِها الماليةِ السنوية، وإن علقت ذلك بالدفاع عن المذهب السائدِ للدولة.
وكان (الجمود) سِمةً بارزةً في مجتمع الشوكاني، وأما العلماءُ فقد قعدوا عن أداء أدوارِهم الإيجابية في محو الأميةِ الدينية والثقافية، فكانوا يدارون العامةَ في معتقداتهم الخاطئة، وسلوكياتِهم المناقضة لتعاليم الإسلام مما أدى بالعامة وجَهَلةِ المتفقّهة إلى إلحاق الأذى بالمنصفين ومعهم الإمامُ الشوكاني بسبب محاربتِهم للعصبية والجمود.
وقد تهافت الظَلَمةُ الجَهلةُ على مناصب القضاء فأكلوا أموالَ الناسِ بالباطل وهم يعلمون.
وأما الظلمُ الاجتماعي فقد كان سمةً غالبةً في المجتمع اليمني تبدّت مظاهرُه في سلوكيات القضاةِ والعمّال (المحافظين) والحكامِ بمساعدة علماءِ السوءِ ووزراءِ الجور
…ومما يؤخذ على الإمام الشوكانيّ تأثرُه بالعُرف الصنعانيِّ الفاسدِ الذي كان ينظر من خلاله إلى أصحاب بعضِ الحِرَف نظرةً متدنية، ولعل هذا ما يبرر موقفَه
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থাতৎকালীন সামাজিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছিল। বিভিন্ন ইসলামী শক্তির মধ্যে বহুবিধ দ্বন্দ্ব ও সংঘাত বিদ্যমান ছিল: তুর্কি ও ইয়ামানিদের মধ্যে, তুর্কি ও মিশরীয়দের মধ্যে, এবং তুর্কি ও ওয়াহাবিদের (সালাফি) মধ্যে ইত্যাদি। এসব কিছুই মুসলিম সমাজের শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছিল এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থানকে সংকুচিত করেছিল।
স্থানীয় পর্যায়ে অন্ধ অনুসারী এবং ন্যায়নিষ্ঠ আলেমদের মধ্যে এবং জ্ঞানপাপী ও মূর্খদের সাথে ন্যায়নিষ্ঠ ও ইজতিহাদ চর্চাকারী আলেমদের মধ্যে এক তিক্ত সংঘর্ষ বিরাজমান ছিল।
সানআ’র সমাজ গোত্রীয় আক্রমণসমূহের দ্বারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা প্রায়শই মৃত্যুর ন্যায় দুর্ভিক্ষ বয়ে আনত। এর মূলে ছিল তাদের বার্ষিক আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি, যদিও তারা বিষয়টিকে রাষ্ট্রের প্রচলিত মাযহাব রক্ষার আবরণে আবৃত করত।
স্থবিরতা (জুমুদ) ছিল শাওকানির সমাজের একটি প্রকট বৈশিষ্ট্য। আর আলেমগণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিরক্ষরতা দূরীকরণে তাদের ইতিবাচক ভূমিকা পালন থেকে বিরত ছিলেন। তারা সাধারণ মানুষের ভুল বিশ্বাস এবং ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী আচরণের সাথে আপস করে চলতেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও মূর্খ শিক্ষার্থীরা ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিদের এবং সেই সাথে ইমাম শাওকানিকে কষ্ট দিত, কারণ তাঁরা গোঁড়ামি ও স্থবিরতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন।
মূর্খ জালিমরা বিচার বিভাগীয় পদের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল এবং তারা জেনে-শুনেই অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করত।
সামাজিক জুলুম ছিল ইয়ামানি সমাজের একটি প্রবল বৈশিষ্ট্য, যা মন্দ আলেম ও অন্যায়কারী উজিরদের সহায়তায় বিচারক, সরকারি কর্মকর্তা (গভর্নর) ও শাসকদের আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পেত
…ইমাম শাওকানির একটি সমালোচনা এই যে, তিনি সানআ’র কলুষিত প্রথা দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, যার মাধ্যমে তিনি নির্দিষ্ট কিছু পেশাজীবীদের নিচু নজরে দেখতেন। সম্ভবত এটাই তাঁর অবস্থানের ব্যাখ্যা প্রদান করে।
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
بعد أن ذاق مرارةَ حربِ المتعصّبين من جهلة العلماءِ الذين كان ينتمي بعضُهم إلى تلك الحِرَف
(1).
وكانت الحِرَفُ الاقتصادية الراقيةُ: "صناعةَ السيوف" "فنَّ العمارة"، "صياغةَ الذهبِ والفضة" بيد الجاليةِ اليهودية.
ولاحظ الشوكانيُّ سوءَ الأحوالِ الاقتصاديةِ والاجتماعيةِ في اليمن فحاول أن يُشخّص أسبابَ تلك الأحوالِ في كتابه "الدواء العاجل في دفع العدوِّ الصائل"، وقد عزا تدهورَها إلى الابتعاد عن حقيقة الإسلام، وهجْرِ ما يدعو إليه من عدالة اجتماعية. وحاول رسمَ سياسةٍ اقتصاديةٍ عادلةِ للنظام الإماميِّ يحقق من خلالها العدلَ، ويرفع بها الظلمَ الاجتماعي. وما أنْ بدأ تطبيقَها بعد اعتمادِها من قِبَل الدولة (الإمام) حتى تكالب عليه وزراءُ الظلم، وعلماءُ السوءِ، وقضاةُ الرِشوةِ والحَيف، وأقنعوا الإمامَ بالعدول عنها، حتى لا تؤديَ إلى تقويض الملك.
وأما الأحوالُ الإدارية فقد كانت هي الأخرى تعكِس ضَعفَ السُلطةِ المركزية
… ودعا الشوكانيُّ في كتابه المذكورِ سابقًا إلى الإدارة المركزيةِ بحيث تصل سلطةُ الدولةِ إلى كل قرية. ومن خلال هذه الإدارةِ تقوم الحكومةُ بتقديم خدماتِها التربويةِ، والاقتصاديةِ، والتعليمية
…(2).
--------------------------------------------
সেই অজ্ঞ আলেমদের মধ্য থেকে গোঁড়াদের পক্ষ থেকে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের তিক্ততা আস্বাদন করার পর, যাদের মধ্যে কেউ কেউ সেই সব পেশার অন্তর্ভুক্ত ছিল
(১)।
আর উচ্চমানের অর্থনৈতিক পেশাগুলো যেমন: "তলোয়ার নির্মাণ", "স্থাপত্য শিল্প", "স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কার নির্মাণ" ইহুদি সম্প্রদায়ের হাতে ছিল।
শাওকানী ইয়ামেনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির দুরবস্থা লক্ষ্য করেন, তাই তিনি তার "আদ-দাওওয়াউল আজিল ফী দাফয়িল আদুওয়্যিস সায়িল" গ্রন্থে সেই পরিস্থিতির কারণগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন। তিনি এই অবনতির কারণ হিসেবে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং ইসলাম যে সামাজিক ন্যায়বিচারের আহ্বান জানায় তা বর্জন করাকে দায়ী করেন। তিনি ইমামি ব্যবস্থার জন্য একটি ইনসাফপূর্ণ অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়নের চেষ্টা করেন, যার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সামাজিক জুলুম দূরীভূত হবে। রাষ্ট্র (ইমাম) কর্তৃক অনুমোদনের পর যখনই তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হলো, অমনি জালেম মন্ত্রীরা, অসৎ আলেমগণ এবং ঘুষখোর ও পক্ষপাতদুষ্ট বিচারকরা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তারা ইমামকে এই নীতিমালা থেকে সরে আসার জন্য প্ররোচিত করল, যাতে এটি রাজত্বের পতনের কারণ না হয়।
আর প্রশাসনিক পরিস্থিতির কথা বলতে গেলে, তাও ছিল কেন্দ্রীয় ক্ষমতার দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ … এবং শাওকানী তার পূর্বে উল্লিখিত গ্রন্থে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের আহ্বান জানান, যাতে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিটি গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এই প্রশাসনের মাধ্যমে সরকার তার উন্নয়নমূলক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষামূলক সেবা প্রদান করবে …
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
الفصل الثاني حياة المؤلفويحتوي على المباحث التالية:
المبحث الأول: نسبه وموطنه.المبحث الثاني: مولده ونشأته.
المبحث الثالث: حياتُه العلمية.
المبحث الرابع: تولّيه القضاء.
المبحث الخامس: شيوخُه وتلامذتُه.
المبحث السادس: مؤلفاته.
* * *
المبحث الأول نسبُه وموطنُه
ترجم الشوكانيُّ لنفسه فقال: "محمدُ بنُ عليّ بن محمدِ بن عبدِ اللَّهِ الشوكانيُّ، ثم الصنعاني"
(1).
أما الشوكانيُّ: فهو نِسبةٌ إلى هِجْرة شَوكان، وهي قريةٌ من قرى السحامية، إحدى قبائلِ خَولان، بينها وبين صنعاءَ دون مسافة يوم
(2).
وأما الصنعانيُّ فنسبةٌ إلى مدينة صنعاءَ التي استوطنها والدُه ونشأ فيها بعد ولادتِه في الهجرة
(3).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: লেখকের জীবনীএবং এটি নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর বংশপরিচয় ও স্বদেশ।দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব গ্রহণ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রবৃন্দ।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি।
* * *
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর বংশপরিচয় ও স্বদেশ
শাওকানী নিজের জীবনী বর্ণনা করে বলেছেন: "মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শাওকানী, অতঃপর আস-সানআনী"
(১)।
শাওকানী: এটি শাওকান হিজরতের সাথে সম্পর্কিত একটি নিসবত, যা আস-সিহামিয়্যাহর গ্রামগুলোর একটি; এটি খাওলান গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এর এবং সানআর মধ্যবর্তী দূরত্ব এক দিনেরও কম পথ
(২)।
আর সানআনী: এটি সানআ শহরের সাথে সম্পর্কিত নিসবত, যেখানে তাঁর পিতা বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং উক্ত হিজরতে তাঁর জন্মের পর তিনি সেখানে বেড়ে ওঠেন
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
المبحث الثاني مولدُه ونشأتُهيذكر الشوكانيُّ في ترجمته لنفسه تاريخَ مولدِه، نقلًا عن خطِّ والدِه فيقول: "ولد - حسبما وَجَد بخط والده - في وسط نهار يومِ الاثنين، الثامن والعشرين من شهر ذي القعدة سنة (1173 هـ)، ثلاث وسبعين ومائة وألف"
(1) ولا مجالَ للاختلاف في تاريخ مولدِه بعد هذا النصَّ منه ومن والده
(2).
حفظ القرآنَ وجوّده، وحفِظ عددًا كبيرًا من المتون قبل أن يبدأَ عهدُ الطلب، ولم تتعدَّ سِنُّه العاشرةَ من عمره، ثم اتصل بالمشايخ الكبارِ، وكان كثيرَ الاشتغالِ بمطالعة التاريخِ ومجامعِ الأدب
(3).
وإذا عرفنا أنه تصدّر للإفتاء وهو في سن العشرين عرَفنا كيف كانت حياةُ هذا التلميذِ الجادِّ الذي لم يسمحْ له أبوه بالاشتغال بغير العلمِ كما لم يسمحْ له أبوه بالانتقال من صنعاءَ
(4)، رغبةً منه في تفرُّغه لطلب العلم.
وكانت دروسُه تبلُغ في اليوم والليلةِ نحوَ ثلاثةَ عشرَ درسًا، (منها) ما يأخذه عن مشايخه، و (منها) ما يأخذه عنه تلامذتُه، واستمر على ذلك مدة
…(5).
وقد ذكر الشوكانيُّ في البدر الطالع
(6) الكتبَ التي قرأها على العلماء الأفاضل قراءةَ تمحيصٍ وتحقيقٍ، وهي كثيرةٌ في فنون متعددة: من الفقه وأصولِه والحديثِ، واللغةِ، والتفسيرِ والأدب، والمنطق
…* * *
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠাশাওকানি তাঁর আত্মজীবনীতে নিজের পিতার হস্তলিপির উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁর জন্ম তারিখ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "তাঁর পিতার হস্তলিপি অনুযায়ী তিনি—১১৭৩ হিজরি সালের যুল-কাদাহ মাসের আটাশ তারিখ সোমবার দিনের মধ্যভাগে জন্মগ্রহণ করেন।"
(১) তাঁর নিজের এবং তাঁর পিতার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এই বর্ণনার পর তাঁর জন্ম তারিখ নিয়ে মতভেদের কোনো অবকাশ নেই
(২)।
তিনি কুরআন মুখস্থ করেন এবং তাজবিদের সাথে তিলাওয়াত আয়ত্ত করেন। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের সময় শুরু হওয়ার পূর্বেই তিনি অনেকগুলো মূল পাঠ (মতন) মুখস্থ করে ফেলেছিলেন, অথচ তখন তাঁর বয়স দশ বছরও পার হয়নি। এরপর তিনি বড় বড় শায়খদের সান্নিধ্যে আসেন। তিনি ইতিহাস ও সাহিত্য সংকলনগুলো অধ্যয়নে অত্যন্ত নিমগ্ন থাকতেন
(৩)।
যখন আমরা জানতে পারি যে তিনি মাত্র বিশ বছর বয়সেই ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, তখন আমরা বুঝতে পারি এই পরিশ্রমী ছাত্রটির জীবন কেমন ছিল। তাঁর পিতা তাঁকে ইলম ছাড়া অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হওয়ার অনুমতি দিতেন না, এমনকি তাঁকে সানা ত্যাগ করারও অনুমতি দেননি
(৪), যাতে তিনি একনিষ্ঠভাবে ইলম অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করতে পারেন।
দিবা-রাত্রিতে তাঁর পাঠের সংখ্যা প্রায় তেরটিতে পৌঁছাত। তার মধ্যে কিছু ছিল শায়খদের কাছ থেকে গ্রহণ করা পাঠ, আর কিছু ছিল যা তাঁর ছাত্ররা তাঁর নিকট থেকে গ্রহণ করত। তিনি এভাবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন ...
(৫)।
শাওকানি তাঁর ‘আল-বাদরুত তালি’
(৬) গ্রন্থে সেই কিতাবগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন যা তিনি বিজ্ঞ আলেমদের কাছে অত্যন্ত যাচাই-বাছাই ও গবেষণামূলকভাবে পাঠ করেছিলেন। সেই কিতাবগুলো ফিকহ, উসুলুল ফিকহ, হাদিস, ভাষা, তাফসির, সাহিত্য এবং যুক্তিবিদ্যাসহ নানা বিষয়ে বিপুল সংখ্যক ছিল...
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
المبحث الثالث حياتُه العلميةوقد ساعدتْه الثقافةُ الواسعةُ وذكاؤُه الخارقُ، إلى جانب إتقانهِ للحديث وعلومِه، والقرآنِ وعلومِه، والفقهِ وأصولِه، على الاتجاه نحوَ الاجتهادِ وخلْع رِبْقةِ التقليد، وهو دون الثلاثين، وكان قبل ذلك على المذهب الزيديِّ، فصار علمًا من أعلام المجتهدين، وأكبرَ داعيةٍ إلى ترك التقليد، وأخذِ الأحكامِ اجتهادًا من الكتاب والسنة، فهو بذلك يُعدّ في طليعة المجدّدين في العصر الحديثِ، ومن الذين شاركوا في إيقاظ الأمةِ الإسلاميةِ في عصره.
وقد أحس بوطأة الجمود، وجنايةِ التقليد الذي ران على الأمة الإسلامية من بعد القرن الرابعِ الهجريِّ وأثرِه في زعزعة العقيدة، وشيوع البِدع، والتعلّقِ بالخرافات وانصرافِ الناسِ عن التعاليم الدينيةِ وانكبابِهم على المُوبِقات والمنكَرات، مما جعله يشرع قلمَه ولسانَه في وجه الجمودِ والتقليدِ ويقف حياتَه على محاولة تغييرِ هذه الأوضاعِ الفاسدة، وتطهيرِ تلك العقائدِ الباطلةِ
…(1).
ويمكن أن نبين أبعادَ هذه الحياةَ العلميةِ في ثلاثة أهدافٍ:
1 - دعوتُه إلى الاجتهاد ونبذ التقليد.
2 - دعوتُه إلى العقيدة السلفيةِ في بساطتها أيامَ الرسولِ صلى الله عليه وسلم وصحابتِه رضي الله عنهم.
3 - دعوتُه إلى محاربة كلِّ ما يُخِلُّ بالعقيدة الإسلامية.
قلت: وعلى رأس أهدافِه تحكيمُ شرع اللَّهِ في جميع مجالاتِ الحياة
(2).
* * *
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনতাঁর ব্যাপক পাণ্ডিত্য এবং অসাধারণ মেধা, সেই সাথে হাদীস ও হাদীসশাস্ত্র, কুরআন ও কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ এবং ফিকহ ও উসূলে ফিকহে তাঁর পারদর্শিতা তাঁকে ত্রিশ বছর বয়সের পূর্বেই ইজতিহাদের পথে অগ্রসর হতে এবং তাকলিদের শৃঙ্খল ছিন্ন করতে সাহায্য করেছিল। এর পূর্বে তিনি যাইদি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মুজতাহিদ ইমামগণের মধ্যে অন্যতম এক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন এবং তাকলিদ বর্জন ও কিতাব ও সুন্নাহ থেকে ইজতিহাদের মাধ্যমে আহকাম গ্রহণের সর্ববৃহৎ আহ্বায়কে পরিণত হন। এই কারণে তাঁকে আধুনিক যুগের সংস্কারকদের অগ্রগণ্য মনে করা হয় এবং তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাঁর যুগে মুসলিম উম্মাহকে জাগ্রত করতে অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি স্থবিরতার রূঢ়তা এবং তাকলিদের সেই অপরাধ উপলব্ধি করেছিলেন যা চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর পর থেকে মুসলিম উম্মাহর ওপর জেঁকে বসেছিল। তিনি আকিদাহর বিচ্যুতি, বিদআতের প্রসার, কুসংস্কারের প্রতি আসক্তি এবং মানুষের ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বিমুখ হয়ে ধ্বংসাত্মক ও গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়ার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব অনুভব করেছিলেন। এটিই তাঁকে স্থবিরতা ও তাকলিদের বিরুদ্ধে তাঁর কলম ও কণ্ঠস্বরকে ক্ষুরধার করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি তাঁর জীবনকে এই কলুষিত পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং ভ্রান্ত আকিদাহসমূহ দূর করার প্রচেষ্টায় উৎসর্গ করেছিলেন
…(১)।
এই জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনের ব্যাপ্তিকে তিনটি উদ্দেশ্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করা যেতে পারে:
১ - ইজতিহাদের প্রতি তাঁর আহ্বান এবং তাকলিদ বর্জন।
২ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যুগের সরলতার আদলে সালাফি আকিদাহর দিকে তাঁর আহ্বান।
৩ - ইসলামী আকিদাহর পরিপন্থী বা হানিকর সবকিছুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার প্রতি তাঁর আহ্বান।
আমি বলছি: তাঁর লক্ষ্যসমূহের শীর্ষে ছিল জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর শরীয়তকে বিচারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা
(২)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
المبحث الرابع تولّيه القضاءَفي عام 1209 من هجرة المصطفى صلى الله عليه وسلم توفي كبيرُ قضاةِ اليمنِ القاضي يحيى بنُ صالحِ الشجريُّ السَّحوليُّ، وكان مرجِعَ العامّةِ والخاصّةِ وعليه المعولُ في الرأي والأحكامِ ومستشارَ الإمامِ والوزارة
(1).
قال الشوكاني
(2): "وكنتُ إذ ذاك مشتغلًا بالتدريس في علوم الاجتهاد، والإفتاءِ والتصنيفِ، منجمعًا عن الناس لا سيما أهلُ الأمرِ وأربابُ الدولة، فإني لا أتصل بأحد منهم كائنًا من كان ولم يكن لي رغبةٌ في سوى العلوم
… فلم أشعرُ إلا بطُلّاب لي من الخليفة بعد موتِ القاضي المذكورِ بنحو أسبوعٍ، فذهبت إلى مقامه العالي فذكر لي أنه قد رجح قيامي مقامَ القاضي المذكور، فاعتذرتُ له، بما كنتُ فيه من الاشتغال بالعلم، فقال: القيامُ بالأمرين ممكنٌ وليس المرادُ إلا القيامَ بفصل ما يصل من الخصومات إلى ديوانه العالي في يومي اجتماعِ الحكامِ فيه، فقلت: سيقع مني الاستخارةُ لله والاستشارةُ لأهل الفضل، وما اختاره اللَّهُ ففيه الخَير، فلما فارقتُه ما زلت متردّدًا نحوَ أسبوع، ولكنه وقد إليّ غالبُ من ينتسب إلى العلم في مدينة صنعاءَ وأجمعوا على أن الإجابةَ واجبةٌ، وأنهم يخشَون أن يدخُلَ في هذا المنصِبِ الذي إليه مرجعُ الأحكامِ الشرعيةِ في جميع الأقطارِ اليمنيةِ من لا يوثَق بدينه وعلمِه، .. فقبِلْتُ مستعينًا بالله ومتكلًا عليه
… وأسأل اللَّهَ بحوله وطَوله أن يُرشِدني إلى مراضيه، ويحولَ بيني وبين معاصيه ويُيسِّرَ لي الخيرَ حيث كان، ويدفعَ عني الشرَّ، ويُقيمني في مُقام العدْل ويختارَ لي ما فيه الخيرُ في الدين والدنيا" اهـ.
قلت: وربما أن الشوكانيَّ رأى في منصب القضاءِ فرصةً لنشر السنةِ وإماتةِ البِدعة، والدعوة إلى طريق السلف الصالح
…--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর বিচারিক দায়িত্ব গ্রহণমুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের ১২০৯ সনে ইয়েমেনের প্রধান বিচারপতি কাজী ইয়াহইয়া বিন সালেহ আশ-শাজারি আস-সাহুলি ইন্তেকাল করেন। তিনি সাধারণ ও বিশিষ্ট সকলের আশ্রয়স্থল ছিলেন এবং মতামত ও বিচারিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাঁর ওপরই নির্ভর করা হতো। এছাড়া তিনি ইমাম এবং মন্ত্রিপরিষদের উপদেষ্টা ছিলেন
(১)।
শাওকানি
(২) বলেন: "আমি তখন ইজতিহাদ সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ শিক্ষাদান, ফতোয়া প্রদান ও গ্রন্থ রচনায় নিবিষ্ট ছিলাম এবং সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শাসকগোষ্ঠী ও রাষ্ট্রীয় পদাধিকারীদের থেকে বিমুখ ছিলাম। আমি তাদের কারো সাথেই কোনো প্রকার যোগাযোগ রাখতাম না এবং ইলম অর্জন ব্যতীত অন্য কিছুতে আমার কোনো আগ্রহ ছিল না... উক্ত কাজীর মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ পর হঠাৎ খলিফার পক্ষ থেকে আমার খোঁজ করা হলো। আমি তাঁর মহান দরবারে উপস্থিত হলে তিনি আমাকে জানালেন যে, তিনি উক্ত কাজীর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য আমাকেই মনোনীত করেছেন। আমি ইলমি ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তাঁর কাছে ওজর পেশ করলাম। তখন তিনি বললেন: উভয় দায়িত্ব পালন করা সম্ভব। এর মূল উদ্দেশ্য কেবল বিচারকদের সভার দিনগুলোতে উচ্চ দপ্তরে আসা বিবাদসমূহের নিষ্পত্তি করা। আমি বললাম: আমি আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করব এবং গুণী ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করব; আল্লাহ যা পছন্দ করবেন তাতেই কল্যাণ রয়েছে। তাঁর নিকট থেকে বিদায় নেওয়ার পর আমি প্রায় এক সপ্তাহ দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম। কিন্তু সানা শহরের অধিকাংশ আলেম আমার কাছে আসলেন এবং তারা একমত হলেন যে, এই আহ্বান গ্রহণ করা ওয়াজিব। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করলেন যে, ইয়েমেনের সকল অঞ্চলের শরয়ি ফয়সালার কেন্দ্রবিন্দু এই পদে যদি এমন কেউ নিযুক্ত হয় যার দ্বীনদারি ও ইলমের ব্যাপারে আস্থা রাখা যায় না [তবে তা অকল্যাণকর হবে]... অতঃপর আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তাঁর ওপর ভরসা করে তা গ্রহণ করলাম... আমি আল্লাহর শক্তি ও মহিমার উসিলায় তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করেন, আমার ও তাঁর অবাধ্যতার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেন, কল্যাণ যেখানেই থাকুক তা আমার জন্য সহজ করে দেন, আমার থেকে অকল্যাণ দূর করেন, আমাকে ন্যায়ের পথে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন এবং দ্বীন ও দুনিয়ায় আমার জন্য যা কল্যাণকর তা মনোনীত করেন।" সমাপ্ত।
আমি (গ্রন্থকার) বলি: সম্ভবত শাওকানি বিচারকের এই পদের মাঝে সুন্নাহর প্রচার, বিদআতের বিলুপ্তি এবং সালাফে সালেহীনের পথের দাওয়াত প্রসারের এক সুযোগ দেখতে পেয়েছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٣١)
كما أن منصِبَ القضاءِ سيصُدُّ عنه كثيرًا من التيارات المعاديةِ له، ويسمحُ لأتباعه بنشر آرائِه السديدةِ، وطريقتِه المستقيمة.
"والأئمةُ الثلاثُ الذين تولى الشوكانيُّ القضاءَ الأكبرَ لهم ولم يُعزلْ حتى واتتْه المنيةُ هم:
1 - المنصورُ عليُّ بنُ المَهدي عباسٌ، ولد سنةَ 1151 هـ وتوفي سنةَ 1224 هـ ومدةُ خلافته (25) سنة.
2 - ابنُه المتوكل علي بنُ أحمدَ بن المنصورِ على، ولد سنةَ 1170 هـ وتوفي سنة 1231 هـ ومدةُ خلافتِه نحوُ (7) سنوات.
3 - المَهديُّ عبدُ الله، ولد سنةَ 1208 هـ وتوفي سنةَ 1251 هـ ومدةُ خلافِته (20) سنة"
(1).
قلت: كان تولّي الشوكاني القضاءَ كسبًا كبيرًا للحق والعدْل، فقد أقام سوقَ العدالةِ بيّنًا، وأنصف المظلومَ من الظالم، وأبعد الرِشوة وخفّف من غُلَواء التعصبِ، ودعا الناسَ إلى اتباع القرآنِ والسنة.
إلا أن هذا المنصبَ قد منعه من التحقيق العلميّ، يظهر ذلك إذا ما تتبّع المرءُ مؤلفاتِه قبل تولّيه القضاءَ وبعده، تجد الفرقَ واضحًا.
* * *
المبحث الخامس شيوخُه وتلامذتُه
أولًا: شيوخه:1 - العلامةُ أحمدُ بنُ عامرٍ الحدائي (1127 - 1197 هـ = 1715 - 1783 م).
2 - السيد العلامةُ إسماعيلُ بنُ الحسنِ المَهدي بن أحمدَ ابن الإمامِ القاسمِ بن محمد (1120 - 1206 هـ).
السيدُ الإمامُ عبدُ القادر بنُ أحمدَ الكَوكبانيُّ (1135 - 1207 هـ = 1723 - 1772 م).
--------------------------------------------
তেমনিভাবে বিচারকের পদটি তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অনেক বিরোধী স্রোতকে প্রতিহত করবে এবং তাঁর অনুসারীদের জন্য তাঁর সঠিক মতামত ও ঋজু পদ্ধতি প্রচারের সুযোগ করে দেবে।
"আর সেই তিনজন ইমাম যাঁদের অধীনে শাওকানি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তিনি অপসারিত হননি, তাঁরা হলেন:
১ - আল-মানসুর আলী বিন আল-মাহদি আব্বাস, তিনি ১১৫১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২২৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর খিলাফতের সময়কাল ছিল (২৫) বছর।
২ - তাঁর পুত্র আল-মুতাওয়াক্কিল আলী বিন আহমাদ বিন আল-মানসুর আলী, তিনি ১১৭০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২৩১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর খিলাফতের সময়কাল ছিল প্রায় (৭) বছর।
৩ - আল-মাহদি আব্দুল্লাহ, তিনি ১২০৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২৫১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর খিলাফতের সময়কাল ছিল (২০) বছর"
(১)।
আমি বলি: শাওকানির বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ ছিল সত্য ও ন্যায়ের জন্য এক বিশাল অর্জন। তিনি স্পষ্টভাবে ন্যায়বিচারের বাজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, জালিমের হাত থেকে মাজলুমকে ইনসাফ পাইয়ে দিয়েছিলেন, ঘুষ দূর করেছিলেন, গোঁড়ামির বাড়াবাড়ি কমিয়েছিলেন এবং মানুষকে কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরণের দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তবে এই পদটি তাঁকে জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণায় বাধা প্রদান করেছিল; এটি তখন স্পষ্ট হয় যখন কেউ বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরের তাঁর রচনাবলি পর্যালোচনা করে, তখন আপনি পার্থক্যটি স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন।
* * *
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ ও ছাত্রবৃন্দ
প্রথমত: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:১ - আল্লামা আহমাদ বিন আমির আল-হিদাঈ (১১২৭ - ১১৯৭ হিজরি = ১৭১৫ - ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দ)।
২ - আস-সায়্যিদ আল্লামা ইসমাইল বিন আল-হাসান আল-মাহদি বিন আহমাদ ইবনুল ইমাম আল-কাসিম বিন মুহাম্মাদ (১১২০ - ১২০৬ হিজরি)।
আস-সায়্যিদ আল-ইমাম আব্দুল কাদির বিন আহমাদ আল-কাওকাবানি (১১৩৫ - ১২০৭ হিজরি = ১৭২৩ - ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
4 - القاضي عبدُ الرحمنِ بنُ حسنِ الأكوعُ (1135 - 1207 هـ = 1724 - 1772 م).
5 - العلامة الحسنُ بنُ إسماعيلَ المغرِبي (1140 - 1208 هـ).
6 - السيدُ العلامةُ عليُّ بنُ إبراهيمَ بن أحمدَ بن عامرٍ (1141 - 1208 هـ = 1728 - 1793 م).
7 - العلامةُ القاسمُ بنُ يحيى الخَولاني (1162 - 1209 هـ = 1714 - 1794 م).
8 - والدُه عليُّ بنُ محمدِ الشوكانيُّ (ت 1211 هـ).
9 - السيدُ عبدُ الرحمنِ بنُ قاسمٍ المداني (1121 - 1211 هـ = 1709 - 1796 م).
10 - العلامةُ عبدُ اللَّهِ بنُ إسماعيلَ النِّهْمي (1150 - 1228 هـ).
11 - السيدُ العارفُ يحيى بنُ محمدٍ الحوشى (1160 - 1247 هـ = 1747 - 1831 م)
(1).
12 - أحمدُ بنُ محمدِ الحرازيُّ.
13 - عليُّ بنُ هادي عرهب (1164 - 1236 هـ).
14 - هادي بنُ حسنٍ القارني
(2).
15 - يوسفُ بنُ محمدِ بن علاءِ المزجاجي (1140 - 1213 هـ)
(3).
16 - أحمدُ بنُ أحمدَ بن مطهّر القابلي (1158 - 1227 هـ)
(4).
17 - عبدُ الله بنُ الحسنِ بن عليِّ بن الحسنِ بن عليِّ ابن الإمامِ المتوكلِ على الله إسماعيلَ بن القاسمِ (1165 - 1210 هـ)
(5).
وبذلك بلغ عددُ أساتذتهِ الذين تمكن الباحثُ
(6) من حصرهم - حتى الآن -
--------------------------------------------
4 - কাজী আব্দুর রহমান বিন হাসান আল-আকওয়া (১১৩৫ - ১২০৭ হি. = ১৭২৪ - ১৭৭২ খ্রি.)।
5 - আল্লামা হাসান বিন ইসমাইল আল-মাগরিবি (১১৪০ - ১২০৮ হি.)।
6 - সাইয়্যেদ আল্লামা আলী বিন ইব্রাহিম বিন আহমাদ বিন আমির (১১৪১ - ১২০৮ হি. = ১৭২৮ - ১৭৯৩ খ্রি.)।
7 - আল্লামা কাসিম বিন ইয়াহইয়া আল-খাওলানি (১১৬২ - ১২০৯ হি. = ১৭১৪ - ১৭৯৪ খ্রি.)।
8 - তাঁর পিতা আলী বিন মুহাম্মাদ আশ-শাওকানি (মৃ. ১২১১ হি.)।
9 - সাইয়্যেদ আব্দুর রহমান বিন কাসিম আল-মাদানি (১১২১ - ১২১১ হি. = ১৭০৯ - ১৭৯৬ খ্রি.)।
10 - আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন ইসমাইল আন-নিহমি (১১৫০ - ১২২৮ হি.)।
11 - আধ্যাত্মজ্ঞানী সাইয়্যেদ ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ আল-হাওশি (১১৬০ - ১২৪৭ হি. = ১৭৪৭ - ১৮৩১ খ্রি.)
(১)।
12 - আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-হারাজি।
13 - আলী বিন হাদি আরহাব (১১৬৪ - ১২৩৬ হি.)।
14 - হাদি বিন হাসান আল-কারনি
(২)।
15 - ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন আলা আল-মাজজাজি (১১৪০ - ১২১৩ হি.)
(৩)।
16 - আহমাদ বিন আহমাদ বিন মুতাহহার আল-কাবলি (১১৫৮ - ১২২৭ হি.)
(৪)।
17 - আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন আলী বিন আল-হাসান বিন আলী ইবনুল ইমাম আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ ইসমাইল বিন আল-কাসিম (১১৬৫ - ১২১০ হি.)
(৫)।
এভাবে তাঁর শিক্ষকদের সংখ্যা, যাদেরকে গবেষক
(৬) এখন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন -
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
سبعةَ عشرَ شيخًا. وقد أخذ عنهم مختلفَ علومِ عصرِه
(1).
ثانيًا: تلاميذه:1 - أحمدُ بنُ عبدِ اللَّهِ العَمْريُّ الضَمَدي (1170 - 1212 هـ).
2 - السيدُ أحمدُ بنُ عليِّ بن محسنِ بن علي بن الإمام المتوكلِ على الله إسماعيلَ بن القاسم الصنعاني (1150 - 1222 هـ).
3 - القاضي أحمدُ بنُ محمدٍ الشوكانيُّ (1229 - 1281 هـ) وهو ابنُ الإمامِ الشوكانيِّ.
4 - أحمدُ بنُ ناصرٍ الكِبْسِيُّ (1209 - 1271 هـ).
5 - أحمدُ بنُ حسينٍ الوزانُ الصنعاني (1186 - 1238 هـ).
6 - أحمدُ بنُ زيدٍ بن عبد الله بن ناصر الكِبْسيُّ الصنعاني (1209 - 1271 هـ).
7 - المتوكلُ على الله ربِّ العالمين أحمدُ ابنُ الإمامِ المنصورِ عليِّ ابن الإمامِ المَهديِّ لدين اللَّهِ العباسِ ابن الإمامِ المنصورِ بالله حسينِ ابن الإمامِ المتوكل على الله القاسمِ بن الحسينِ بن أحمدَ بن حسينِ ابن الإمامِ القاسم (1170 - 1221 هـ).
8 - أحمدُ بنُ لُطفٍ الباري بن أحمدَ بن عبدِ القادر الوَرْد (1191 - 1282 هـ).
9 - أحمدُ بنُ عليٍّ بن محمد بنُ أحمدَ الطشي الصعْديُّ أصلًا، والرداعيُّ مولدًا (1190 - 1279 هـ).
10 - أحمدُ بنُ محمدِ بن أحمدَ بن مطهّرِ القابليُّ الحرازيُّ نسبة والده، الذماريُّ مولدًا، ولد في 1158 هـ.
11 - السيدُ العلامةُ أحمدُ بنُ محمدِ بن حسينِ بن حسن بن علي بن حسنِ ابن الإمام المتوكلِ على الله إسماعيلَ ابن الإمامِ القاسمِ عليهم السلام. ولد في عام 1210 هـ.
12 - أحمدُ بنُ يوسفَ الرباعي، ولد في صنعاءَ عام 1155 هـ، وتوفي سنة 1231 هـ.
--------------------------------------------
সতেরোজন শায়খ। তিনি তাঁদের নিকট থেকে তাঁর সমকালীন বিভিন্ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন
(১)।
দ্বিতীয়ত: তাঁর ছাত্রগণ:১ - আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ আল-আমরি আদ-দুমাদি (১১৭০ - ১২১২ হিজরি)।
২ - আস-সাইয়্যিদ আহমাদ ইবন আলী ইবন মুহসিন ইবন আলী ইবন আল-ইমাম আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ ইসমাইল ইবন আল-কাসিম আস-সানআনি (১১৫০ - ১২২২ হিজরি)।
৩ - আল-কাদি আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ আশ-শাওকানি (১২২৯ - ১২৮১ হিজরি), তিনি ইমাম আশ-শাওকানির পুত্র।
৪ - আহমাদ ইবন নাসির আল-কিবসি (১২০৯ - ১২৭১ হিজরি)।
৫ - আহমাদ ইবন হুসাইন আল-ওয়াযান আস-সানআনি (১১৮৬ - ১২৩৮ হিজরি)।
৬ - আহমাদ ইবন যায়েদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নাসির আল-কিবসি আস-সানআনি (১২০৯ - ১২৭১ হিজরি)।
৭ - আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ রাব্বিল আলামিন আহমাদ ইবন আল-ইমাম আল-মানসুর আলী ইবন আল-ইমাম আল-মাহদি লি-দিনিল্লাহ আল-আব্বাস ইবন আল-ইমাম আল-মানসুর বিল্লাহ হুসাইন ইবন আল-ইমাম আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ আল-কাসিম ইবন আল-হুসাইন ইবন আহমাদ ইবন হুসাইন ইবন আল-ইমাম আল-কাসিম (১১৭০ - ১২২১ হিজরি)।
৮ - আহমাদ ইবন লুতফ আল-বারি ইবন আহমাদ ইবন আবদিল কাদির আল-ওয়ারদ (১১৯১ - ১২৮২ হিজরি)।
৯ - আহমাদ ইবন আলী ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ আত-তাশশি, মূলগতভাবে আস-সাদি এবং জন্মগতভাবে আর-রাদাই (১১৯০ - ১২৭৯ হিজরি)।
১০ - আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন মুতাহার আল-কাবিলি আল-হারাজি (পিতার নিসবাত অনুযায়ী), জন্মগতভাবে আদ-দাহমারি, ১১৫৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।
১১ - আস-সাইয়্যিদ আল-আল্লামাহ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন হুসাইন ইবন হাসান ইবন আলী ইবন হাসান ইবন আল-ইমাম আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ ইসমাইল ইবন আল-ইমাম আল-কাসিম, তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ১২১০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।
১২ - আহমাদ ইবন ইউসুফ আর-রুবায়ি, ১১৫৫ হিজরিতে সানআয় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২৩১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
নায়লুল আওতার শারহু মুনতাকিল আখবার - ত হাল্লাক
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
13 - القاضي العلامةُ أحمدُ بنُ عليٌّ العَوديُّ.
14 - السيدُ العلامةُ إسماعيلُ بنُ إبراهيمَ بن الحسنِ بن يوسفَ ابن الإمامِ المَهديِّ محمدِ بن الحسنِ ابن الإمامِ القاسم (1165 - 1237 هـ).
15 - القاضي العلامةُ إبراهيمُ بنُ أحمدَ بن يوسفَ الرباعي، ولد عام 1199 هـ.
16 - السيدُ العلامةُ الورعُ إسماعيلُ بنُ أحمدَ الكِبسيُّ الملقب بـ"مفلس".
17 - أحمدُ بنُ عليِّ بن محمدِ بن أحمدَ الطشي المعديُّ (1195 - 1279 هـ).
18 - السيدُ إسماعيلُ بنُ إبراهيمَ (1165 - 1237 هـ).
19 - القاضي العلامةُ الحسن بنُ قاسمٍ المجاهدُ (1190 - 1276 هـ).
20 - حسنُ بنُ أحمدَ بن يوسفَ الرباعي الصنعاني. ولد تقريبًا على رأس القرن الثانيَ عشرَ وتوفي عام 1276 هـ.
21 - القاضي العلامةُ الحسنُ بن محمدُ بنُ صالحِ السَّحولي (1190 - 1234 هـ).
22 - الحسينُ بنُ علي العِماري الصنعاني (1170 - 1225 هـ)، ولد ونشأ في صنعاء.
23 - القاضي العلامةُ الحسينُ بنُ محمدِ بن عبدِ اللَّهِ العنسيُّ الصنعانيُّ الكوكباني، ولد في 1188 هـ.
24 - القاضي العلامةُ الحسينُ بنُ يحيى السلفيُّ الصنعانيُّ، ولد بعد سنة 1160 هـ.
25 - سيفُ بنُ موسى بن جعفرٍ البَحْراني، وقد إلى صنعاء عام 1234 هـ، وتركها عام 1234 هـ.
26 - السيد شرفُ الدينِ بنُ أحمدَ (1159 - 1241 هـ).
27 - الشيخ صديقٌ المزجاجي الزَّبيديُّ (1150 - 1209 هـ).
28 - القاضي العلامةُ صالحُ بنُ محمد العنسيُّ الصنعاني، ولد عام (1200 هـ).
29 - عليُّ بنُ أحمدَ هاجر الصنعانيُّ (1180 - 1235 هـ).
30 - عبدُ الله بنُ شرفِ الدينِ المهلل (1170 - 1226 هـ).
31 - عبدُ الله بنُ محسنِ الحيميُّ ثم الصنعاني (1170 - 1240 هـ).
32 - السيد عبدُ الله بنُ عيسى الكوكبانيُّ (1175 - 1224 هـ).
33 - السيد عبدُ الوهاب بنُ حسينِ بن يحيى الديلميُّ الماري (1201 - 1235 هـ).
১৩ - বিচারক আল্লামা আহমাদ ইবনে আলী আল-আওদি।
১৪ - সায়্যিদ আল্লামা ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-হাসান ইবনে ইউসুফ ইবনে ইমাম আল-মাহদি মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান ইবনে ইমাম আল-কাসিম (১১৬৫ - ১২৩৭ হিজরি)।
১৫ - বিচারক আল্লামা ইব্রাহিম ইবনে আহমাদ ইবনে ইউসুফ আর-রুবায়ি, তিনি ১১৯৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।
১৬ - সায়্যিদ আল্লামা পরহেজগার ইসমাইল ইবনে আহমাদ আল-কিবসি, যিনি "মুফলিস" উপাধিতে ভূষিত।
১৭ - আহমাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আত-তাশি আল-মুয়াদি (১১৯৫ - ১২৭৯ হিজরি)।
১৮ - সায়্যিদ ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম (১১৬৫ - ১২৩৭ হিজরি)।
১৯ - বিচারক আল্লামা আল-হাসান ইবনে কাসিম আল-মুজাহিদ (১১৯০ - ১২৭৬ হিজরি)।
২০ - হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে ইউসুফ আর-রুবায়ি আস-সানআনি। তিনি আনুমানিক দ্বাদশ শতাব্দীর শুরুতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২৭৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
২১ - বিচারক আল্লামা আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আস-সাহুলি (১১৯০ - ১২৩৪ হিজরি)।
২২ - আল-হুসাইন ইবনে আলী আল-ইমারি আস-সানআনি (১১৭০ - ১২২৫ হিজরি), তিনি সানআতে জন্মগ্রহণ করেন ও বেড়ে ওঠেন।
২৩ - বিচারক আল্লামা আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসি আস-সানআনি আল-কাওকাবানি, তিনি ১১৮৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।
২৪ - বিচারক আল্লামা আল-হুসাইন ইবনে ইয়াহইয়া আস-সালাফি আস-সানআনি, তিনি ১১৬০ হিজরির পরে জন্মগ্রহণ করেন।
২৫ - সাইফ ইবনে মুসা ইবনে জাফর আল-বাহরানি, তিনি ১২৩৪ হিজরিতে সানআতে আগমন করেন এবং ১২৩৪ হিজরিতেই প্রস্থান করেন।
২৬ - সায়্যিদ শারাফ উদ্দিন ইবনে আহমাদ (১১৫৯ - ১২৪১ হিজরি)।
২৭ - শেখ সিদ্দিক আল-মাজজাজি আজ-জাবিদি (১১৫০ - ১২০৯ হিজরি)।
২৮ - বিচারক আল্লামা সালিহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসি আস-সানআনি, তিনি ১২০০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।
২৯ - আলী ইবনে আহমাদ হাজার আস-সানআনি (১১৮০ - ১২৩৫ হিজরি)।
৩০ - আব্দুল্লাহ ইবনে শারাফ উদ্দিন আল-মুহাল্লাল (১১৭০ - ১২২৬ হিজরি)।
৩১ - আব্দুল্লাহ ইবনে মুহসিন আল-হাইমি অতঃপর আস-সানআনি (১১৭০ - ১২৪০ হিজরি)।
৩২ - সায়্যিদ আব্দুল্লাহ ইবনে ঈসা আল-কাওকাবানি (১১৭৫ - ১২২৪ হিজরি)।
৩৩ - সায়্যিদ আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে হুসাইন ইবনে ইয়াহইয়া আদ-দাইলামি আল-মারি (১২০১ - ১২৩৫ হিজরি)।