(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أحكام اللمس في الطهارة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: أحكام اللمس في الطهارة
المؤلف: عبد الله بن معتق السهلي
الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة
عدد الصفحات: 244
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
পবিত্রতা (طهارة) অর্জনে স্পর্শ করার বিধানসমূহ বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ (مسائل فقهية)
কিতাব: পবিত্রতা (طهارة) অর্জনে স্পর্শ করার বিধানসমূহ
লেখক: আবদুল্লাহ বিন মু‘তিক আল-সাহলি
প্রকাশক: ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৫)
أحكام اللّمس في الطّهارة
ال
مقدمةإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.
أما بعد:
فإن التفقه في الدين أمر يجلُّ قدره، ويعظم شأنه، نوه الله تعالى بفضله في محكم تنزيله، فقال عز وجل: {فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّين} 4 وجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم الخيرية في التفقه في الدين حيث قال: "من يرد الله به
--------------------------------------------
পবিত্রতা অর্জনে স্পর্শের বিধানসমূহ
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাথীদের ওপর অজস্র দুরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১।
{হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা বজায় রাখো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} ২
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে।} ৩।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই দ্বীনের প্রজ্ঞা অর্জন (التفقه في الدين) এক অতি মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্ববহ বিষয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর সুষ্পষ্ট ওহিতে এর ফযিলত বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না, যেন তারা দ্বীনের প্রজ্ঞা অর্জন (ليتفقهوا في الدين) করতে পারে?} ৪ আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দ্বীনের প্রজ্ঞা অর্জনের মধ্যে যাবতীয় কল্যাণ নিহিত রেখেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "আল্লাহ যার মঙ্গল চান..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৬)
خيراً يفقهه في الدين" 1 فتبين بذلك ما للفقه في الدين من مكانة ومنزلة مرموقة، فأشرف العلوم علوم أحكام أفعال العباد، إذ الله لم يخلق الخلق عبثاً بل خلقهم لتحقيق أسمى الغايات وهي العبادة ولا يتحقق ذلك إلا بالتفقه في الدين ألا وإن من الأمور التي ينبغي للمرء معرفتها وفقهها أحكام اللمس ما تنتقض به الطهارة فلا تصح معه العبادة وما لا تنتقض به، فأحببت أن أفرد هذا الموضوع ببحث مستقل أبين فيه مباحثه ومسائله وما يتعلق به سائلاً الله عز وجل الإعانة والتوفيق.
--------------------------------------------
"[আল্লাহ যার] কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন।" ১ এর মাধ্যমে দ্বীনের গভীর জ্ঞান বা ফিকহ (فقه)-এর সুউচ্চ মর্যাদা ও অবস্থানের বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়। ইলম বা জ্ঞানসমূহের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ হলো বান্দার আমল বা কর্মের বিধান সম্পর্কিত জ্ঞান। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মাখলুকাতকে উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করেননি; বরং তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন এক মহান লক্ষ্য অর্জনের জন্য, আর তা হলো ইবাদত। আর দ্বীনের গভীর জ্ঞান বা ফিকহ (فقه) অর্জন ছাড়া তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। জেনে রাখা উচিত যে, একজন ব্যক্তির যে বিষয়গুলো জানা এবং যার গভীর জ্ঞান বা ফিকহ (فقه) থাকা আবশ্যক, তার মধ্যে অন্যতম হলো স্পর্শ সংক্রান্ত বিধানাবলি; অর্থাৎ যা দ্বারা পবিত্রতা (طهارة) ভঙ্গ হয়—যার ফলে ইবাদত শুদ্ধ হয় না—এবং যা দ্বারা পবিত্রতা ভঙ্গ হয় না। তাই আমি এই বিষয়টিকে একটি স্বতন্ত্র গবেষণার মাধ্যমে উপস্থাপনের ইচ্ছা পোষণ করেছি, যেখানে এর বিভিন্ন পরিচ্ছেদ, মাসয়ালা ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি বর্ণনা করব। আমি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য ও তাওফিক কামনা করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৭)
خطة البحث
قسمت هذا البحث إلى مقدمة، وتمهيد، وثلاثة فصول:
المقدمة:
وتشتمل على الافتتاحية، وخطة البحث ومنهجه.
التمهيد:
ويشتمل على تعريف اللمس والفرق بينه وبين المس ومفهومهما في الكتاب والسنة.
الفصل الأول:
في لمس العورة، وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: في لمس الفرج، وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: في لمس الرجل فرجه.
المطلب الثاني: في لمس فرج الغير.
المطلب الثالث: في لمس المرأة فرجها.
المبحث الثاني: في لمس غير الفرج من العورة، وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: في لمس الدبر.
المطلب الثاني: في لمس الأنثيين والألية والعانة.
المطلب الثالث: في لمس فرج البهيمة.
المبحث الثالث: في كيفية اللمس، وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: في اللمس ببطن الكف وبظهره.
المطلب الثاني: في اللمس بقصد وبغير قصد.
المطلب الثالث: في اللمس من وراء حائل.
গবেষণার রূপরেখা
আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা এবং তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি:
ভূমিকা:
এটি প্রস্তাবনা, গবেষণার রূপরেখা ও এর পদ্ধতির ওপর বিন্যস্ত।
উপক্রমণিকা:
এতে স্পর্শের সংজ্ঞা, 'লামস' ও 'মাস'-এর মধ্যে পার্থক্য এবং কুরআন ও সুন্নাহতে এ দুইটির ধারণা আলোচিত হয়েছে।
প্রথম অধ্যায়:
সতর স্পর্শ করা প্রসঙ্গে, এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: লজ্জাস্থান স্পর্শ করা প্রসঙ্গে, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: পুরুষের নিজ লজ্জাস্থান স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অন্যের লজ্জাস্থান স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নারীর নিজ লজ্জাস্থান স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লজ্জাস্থান ব্যতীত সতরের অন্যান্য অংশ স্পর্শ করা প্রসঙ্গে, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: মলদ্বার স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অণ্ডকোষদ্বয়, নিতম্ব এবং নাভি-নিম্নস্থ স্থান স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: চতুষ্পদ জন্তুর লজ্জাস্থান স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: স্পর্শ করার পদ্ধতি প্রসঙ্গে, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: হাতের তালুর অভ্যন্তরীণ ও এর বহির্ভাগ দিয়ে স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃতভাবে স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: অন্তরালের মধ্য দিয়ে স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৮)
الفصل الثاني:
في لمس غير العورة من البدن، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: في لمس المرأة والرجل، وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: في لمس الرجل للمرأة والمراة للرجل.
المطلب الثاني: في لمس الأمرد.
المطلب الثالث: في لمس الرجل للرجل.
المطلب الرابع: في لمس المرأة للمرأة.
المبحث الثاني: في لمس المحارم والصغير وما اتصل بالجسم ووضوء الملموس، وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: في لمس المحارم والصغيرة.
المطلب الثاني: في لمس ما اتصل بالجسم كالشعر والظفر والسن.
المطلب الثالث: في وضوء الملموس.
الفصل الثالث:
في لمس الميت والمصحف، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: في لمس الميت، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: في لمس الميت أثناء تغسيله.
المطلب الثاني: في لمس الميت أثناء حمله أو غيره.
المبحث الثاني: في لمس المصحف، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: في لمس المصحف باليد مباشرة.
المطلب الثاني: في حمل المصحف بدون ملامسته باليد مباشرة.
الخاتمة
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:
শরীরের সতর (عورة) ব্যতীত অন্যান্য অঙ্গ স্পর্শ করা প্রসঙ্গে, এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ (مبحث) রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ (مبحث): নারী ও পুরুষকে স্পর্শ করা প্রসঙ্গে, এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ (مطلب) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (مطلب): পুরুষের নারীকে এবং নারীর পুরুষকে স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (مطلب): শ্মশ্রুহীন যুবক (أمرد) স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ (مطلب): পুরুষের পুরুষকে স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ (مطلب): নারীর নারীকে স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (مبحث): মাহরাম (محارم), অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু, শরীরের সাথে যুক্ত বস্তুসমূহ এবং যাকে স্পর্শ করা হয়েছে তার ওজু (وضوء) প্রসঙ্গে, এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ (مطلب) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (مطلب): মাহরাম (محارم) এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাকে স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (مطلب): শরীরের সাথে যুক্ত বস্তুসমূহ যেমন- চুল, নখ ও দাঁত স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ (مطلب): যাকে স্পর্শ করা হয়েছে তার ওজু (وضوء) প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ:
মৃতদেহ ও মাসহাফ (مصحف) স্পর্শ করা প্রসঙ্গে, এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ (مبحث) রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ (مبحث): মৃতদেহ স্পর্শ করা প্রসঙ্গে, এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ (مطلب) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (مطلب): গোসল (غسل) দেওয়ার সময় মৃতদেহ স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (مطلب): মৃতদেহ বহন করা বা অন্য কোনো অবস্থায় স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (مبحث): মাসহাফ (مصحف) স্পর্শ করা প্রসঙ্গে, এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ (مطلب) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (مطلب): সরাসরি হাত দিয়ে মাসহাফ (مصحف) স্পর্শ করা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (مطلب): সরাসরি হাত দিয়ে স্পর্শ না করে মাসহাফ (مصحف) বহন করা প্রসঙ্গে।
উপসংহার
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৯)
منهج البحث
سلكت في إعداد هذا البحث المنهج الآتي:
1-جمعت المادة العلمية المتعلقة بأحكام اللمس في الطهارة.
2-درست المسائل الواردة في هذا البحث دراسة موازنة، وحرصت على بيان المذاهب الأربعة في كل مسألة، وقد أذكر في المسألة أقوال بعض الصحابة والتابعين وغيرهم من الفقهاء كما أنني ذكرت قول الظاهرية في بعض المسائل مراعياً في ذلك الترتيب الزمني بين الفقهاء.
3-حرصاً مني على إخراج المسائل بأسلوب مبسط، يسهل معه معرفة الحكم في المسألة، صدرتها بالإجماع إن كانت من المسائل المجمع عليها، كما أنني إن رأيت الخلاف ليس قوياً في المسألة صدرت المسألة بقول أكثر أهل العلم وبعد ذلك أشير إلى القول المخالف ثم أذكر أدلة كل قول وما قد يرد عليه من نقاش إن وجد، ثم أختم المسألة بالقول الراجح وقد أؤخر المناقشة مع الترجيح.
4-حرصت على نقل أقوال الفقهاء من مصادرها الأصلية.
5-ذكرت أرقام الآيات القرآنية الواردة في البحث مع بيان أسماء سورها.
6-خرجت الأحاديث الواردة في البحث مبيناً الكتاب والباب والجزء والصفحة، فإن كان الحديث في الصحيحين أو في أحدهما اكتفيت بتخريجه منهما أو من أحدهما، وإن لم يكن فيهما أو في أحدهما اجتهدت في تخريجه من كتب السنة الأخرى مع ذكر درجة الحديث صحة أو ضعفاً معتمداً على الكتب التي تعنى بذلك.
7-بينت معاني الكلمات التي تحتاج إلى بيان معتمداً على الكتب التي تعنى بذلك.
গবেষণার পদ্ধতি
এই গবেষণাটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
1-পবিত্রতা অর্জনে স্পর্শ করার বিধান সংক্রান্ত ইলমি উপাদানসমূহ সংগ্রহ করেছি।
2-এই গবেষণায় উপস্থাপিত মাসআলাসমূহ আমি তুলনামূলক পদ্ধতিতে অধ্যয়ন করেছি এবং প্রতিটি মাসআলায় চার মাযহাবের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি। আমি কোনো কোনো মাসআলায় সাহাবী, তাবেয়ী এবং অন্যান্য ফকিহগণের বক্তব্য উল্লেখ করেছি; পাশাপাশি ফকিহগণের সময়ের ক্রমধারা রক্ষা করে কিছু মাসআলায় জাহিরি মাযহাবের মতামতও উল্লেখ করেছি।
3-মাসআলাসমূহ সহজভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে, যাতে মাসআলার বিধান জানা সহজ হয়, আমি ঐকমত্য (إجماع) সম্বলিত মাসআলা হলে তা ইজমা দ্বারা শুরু করেছি। যদি আমি দেখি যে মাসআলাটিতে মতভেদ শক্তিশালী নয়, তবে আমি অধিকাংশ আলেমদের মত দ্বারা শুরু করেছি এবং এরপর বিপরীত মতটি উল্লেখ করেছি। অতঃপর প্রতিটি মতের দলিল এবং সেই দলিলের ওপর কোনো আলোচনা থাকলে তা উল্লেখ করেছি। পরিশেষে অগ্রগণ্য (راجح) মতটি বর্ণনার মাধ্যমে মাসআলাটি শেষ করেছি, কখনও কখনও আলোচনার সাথে প্রাধান্য প্রদান (ترجيح) বিষয়টি পরে উল্লেখ করেছি।
4-ফকিহগণের বক্তব্যসমূহ তাঁদের মূল উৎস থেকে গ্রহণ করার চেষ্টা করেছি।
5-গবেষণায় উল্লিখিত কুরআনের আয়াতসমূহের নম্বর এবং সূরার নাম উল্লেখ করেছি।
6-গবেষণায় বর্ণিত হাদিসসমূহের কিতাব, অধ্যায়, খণ্ড এবং পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখপূর্বক উৎসের অনুসন্ধান (تخريج) করেছি। যদি হাদিসটি সহিহাইন বা তাদের কোনো একটিতে থাকে, তবে কেবল তা থেকেই তাখরিজ করা যথেষ্ট মনে করেছি। আর যদি তা সহিহাইনে না থাকে, তবে হাদিস সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করে তার বিশুদ্ধতা (صحة) বা দুর্বলতা (ضعف) উল্লেখসহ অন্যান্য সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে উৎসের অনুসন্ধান (تخريج) করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।
7-যেসব শব্দের ব্যাখ্যা প্রয়োজন, সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহের ওপর ভিত্তি করে সেগুলোর অর্থ বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২১০)
8-لم أترجم للأعلام الواردة في البحث خشية الإطالة.
9-بينت في نهاية البحث في الخاتمة أهم النتائج التي توصلت إليها.
10-وضعت فهرساً للمصادر التي اعتمدت عليها مرتباً حسب الحروف الهجائية، وآخر للموضوعات.
8-কলেবর দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার ভয়ে আমি গবেষণায় উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের জীবনী আলোচনা করিনি।
9-গবেষণার শেষে উপসংহারে আমি প্রাপ্ত প্রধান ফলাফলগুলো বর্ণনা করেছি।
10-আমি যেসব সূত্রের ওপর নির্ভর করেছি তার একটি বর্ণানুক্রমিক নির্ঘণ্ট এবং বিষয়ভিত্তিক একটি নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২১১)
التمهيدفي التعريف باللمس والفرق بينه وبين المس واللمس في الكتاب والسنة.
تعريف اللمس في اللغة:
لمس: بفتح فسكون مصدر لمس الشيء، أمسه بيده فهو لا مس، ولمس المرأة باشرها.
واللام والميم والسين أصل واحد يدل على تطلب شيء ومسيسه أيضاً. تقول: تلمست الشيءإذا تطلبته، ويأتي بمعنى الحس.
وقال ابن الأعرابي: اللمس قد يكون مس الشيء بالشيء ويكون معرفة الشيء وإن لم يكن ثم جوهر.
وقال الراغب الأصفهاني: "اللمس مطلقاً؛ لأنه يقال المس إدراك بظاهر البشرة، واللمس والملامسة المجامعة مجازاً"1.
تعريف اللمس في اصطلاح الفقهاء:
هو: قوة منبثقة في جميع البدن تدرك بها الحرارة والبرودة والرطوبة واليبوسة، ونحو ذلك عند التماس الاتصال به2.
وقيل هو: إلصاق الجارحة بالشيء وهو عرف باليد؛ لأنها آلته الغالبة
--------------------------------------------
প্রারম্ভিকা (التمهيد)স্পর্শ (اللمس)-এর পরিচয় এবং স্পর্শ ও ছোঁয়া (المس)-এর মধ্যকার পার্থক্য এবং কুরআন ও সুন্নাহতে স্পর্শ (اللمس) প্রসঙ্গে।
অভিধানে ল্যামস (لمس)-এর সংজ্ঞা:
ল্যামস (لمস): প্রথম বর্ণে ফাতহা ও দ্বিতীয় বর্ণে সুকুন যোগে; এটি কোনো কিছু স্পর্শ করার ক্রিয়ামূল। সে হাত দিয়ে স্পর্শ করেছে, অতএব সে স্পর্শকারী (لامس), আর নারীকে স্পর্শ করার অর্থ হলো তার সাথে মিলন করা।
লাম, মিম ও সিন—এই মূল বর্ণগুলো এমন একটি মূল ধাতু যা কোনো কিছু অন্বেষণ করা এবং স্পর্শ করাকেও নির্দেশ করে। আপনি বলবেন: ‘তলামমাসতু’ যখন আপনি কোনো কিছু অন্বেষণ করেন; এটি অনুভবের (حس) অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
ইবনুল আরাবি বলেন: স্পর্শ (اللمس) কখনো এক বস্তুর সাথে অন্য বস্তুর সংস্পর্শ অর্থে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো কোনো কিছু সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যদিও সেখানে কোনো বস্তুগত সত্তা না থাকে।
রাগেব আল-ইসফাহানি বলেন: "ল্যামস (اللمস) সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়; কারণ বলা হয় 'মাস' (المس) হলো ত্বকের উপরিভাগের মাধ্যমে কোনো কিছু অনুধাবন করা, আর ল্যামস (اللمস) ও মুলামাসাহ (الملامسة) রূপকভাবে যৌনমিলন (المجامعة) অর্থে ব্যবহৃত হয়"১।
ফকিহগণের পরিভাষায় ল্যামস (لمس)-এর সংজ্ঞা:
এটি হলো: পুরো শরীরে ছড়িয়ে থাকা একটি শক্তি যার মাধ্যমে কোনো বস্তুর সংস্পর্শে আসার সময় তাপ, শীতলতা, আর্দ্রতা, শুষ্কতা এবং এ জাতীয় বিষয়গুলো অনুধাবন করা যায়২।
আরও বলা হয়েছে যে: এটি হলো শরীরের কোনো অঙ্গকে কোনো বস্তুর সাথে লাগানো; আর এটি সাধারণত হাতের মাধ্যমেই পরিচিত, কারণ এটিই স্পর্শের প্রধান মাধ্যম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২১২)
،ويستعمل كناية عن الجماع1.
وقيل هو: أن يلمس الرجل بشرة المرأة والمرأة بشرة الرجل بلا حائل بينهما2.
وقيل: حقيقة اللمس ملاقاة البشرتين3.
وكما هو واضح من هذه التعاريف كلها تدل على أن المراد من اللمس ملاقاة البشرتين.
الفرق بين اللمس والمس:
ذُكرت بعض الفروق بين اللمس والمس ومن ذلك:
أن مطلق التقاء الجسمين يسمى مساً، فإن كان بالجسد سمي مباشرة، وإن كان باليد سمي مساً، وإن كان بالفم على وجه مخصوص سمي قبلة4.
أن المس كاللمس لكن اللمس قد يقال لطلب شيء وإن لم يوجد والمس يقال فيما يكون معه إدراك بحاسة اللمس5.
أن اللمس لصوق بإحساس، والمس أقل تمكناً من الإصابة وهو أقل درجاتها.
أنه يكنى بالمس عن النكاح والجنون، ويقال في كل ما ينال الإنسان من أذى مس، ولا اختصاص له باليد لأنه لصوق فقط، وهذا بخلاف اللمس فإنه
--------------------------------------------
এবং এটি যৌন মিলনের রূপক (كناية) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।১।
বলা হয়েছে: তা হলো কোনো অন্তরায় (حائل) ব্যতিরেকে পুরুষের নারীর ত্বক এবং নারীর পুরুষের ত্বক স্পর্শ করা।২।
আরও বলা হয়েছে: স্পর্শের প্রকৃত অর্থ (حقيقة) হলো দুই ত্বকের মিলন।৩।
এই সংজ্ঞাগুলো থেকে যেমনটি স্পষ্ট হচ্ছে যে, এ সবকটিই নির্দেশ করে যে লমস (স্পর্শ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুই ত্বকের মিলন।
লমস (اللمس) এবং মাস (المس)-এর মধ্যে পার্থক্য:
লমস এবং মাসের মধ্যে কিছু পার্থক্য উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
দুই দেহের সাধারণ মিলনকে মাস (مس) বলা হয়; যদি তা শরীরের মাধ্যমে হয় তবে তাকে সরাসরি স্পর্শ (مباشرة) বলা হয়, যদি হাত দিয়ে হয় তবে তাকে মাস (مس) বলা হয়, আর যদি বিশেষ পদ্ধতিতে মুখ দিয়ে হয় তবে তাকে চুম্বন বলা হয়।৪।
মাস (مس) হলো লমস (لمس)-এর মতো, তবে লমস কখনো কোনো কিছু অন্বেষণের অর্থে বলা হয় যদিও তা পাওয়া না যায়, আর মাস ঐ ক্ষেত্রে বলা হয় যেখানে স্পর্শেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অনুভূতি জাগ্রত হয়।৫।
লমস হলো অনুভূতির সাথে লেগে থাকা, আর মাস হলো স্পর্শের ক্ষেত্রে লমসের চেয়ে কম দৃঢ় এবং এটি স্পর্শের সর্বনিম্ন স্তর।
মাস শব্দটিকে বিবাহ এবং উন্মাদনার রূপক (يكنى) হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মানুষের ওপর আপতিত প্রতিটি কষ্ট বা অনিষ্টকেও মাস বলা হয়; এটি কেবল হাতের সাথে সুনির্দিষ্ট নয়, বরং এটি কেবল লেগে যাওয়া। এটি লমসের বিপরীত, কারণ এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৩)
يكون باليد1.
أن اللمس أخص من المس إذ لا يطلق إلا على مس لطلب معنى من حرارة مثلاً.
أن المس لا يكون إلا بباطن الكف، واللمس يكون بأي جزء من البدن.
أن المس يكون من شخص واحد بخلاف اللمس فإنه لا يكون إلا بين اثنين.
أن المس يختص بالفرج بخلاف اللمس فلا يختص به2.
مفهوم اللمس في القرآن الكريم:
ورد ذكر اللمس والمس في عدة آيات من القرآن الكريم:
1- قول الله تعالى: {أَوْ لامَسْتُمُ النِّسَاءَ
…} 3.
2- قول الله تعالى: {وَلَوْ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ كِتَاباً فِي قِرْطَاسٍ فَلَمَسُوهُ بِأَيْدِيهِمْ} 4.
3- قول الله تعالى: {قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءَكُمْ فَالْتَمِسُوا نُوراً
… } 5.
4- قول الله تعالى: {وَأَنَّا لَمَسْنَا السَّمَاءَ فَوَجَدْنَاهَا مُلِئَتْ حَرَساً شَدِيداً وَشُهُباً} 6.
--------------------------------------------
১. যা হাতের সাহায্যে সম্পাদিত হয়।১
নিশ্চয়ই স্পর্শ (اللمس) বিষয়টি ছোঁয়া (المس) অপেক্ষা অধিক সুনির্দিষ্ট (أخص); কেননা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য—যেমন উষ্ণতা অনুভব—অন্বেষণের জন্য ছোঁয়া ব্যতীত সাধারণত এই শব্দটি ব্যবহৃত হয় না।
নিশ্চয়ই ছোঁয়া (المس) কেবল হাতের তালু (باطن الكف) দ্বারাই সম্পন্ন হয়, আর স্পর্শ (اللمس) শরীরের যেকোনো অংশের মাধ্যমে হতে পারে।
নিশ্চয়ই ছোঁয়া (المس) কেবল একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হয়, পক্ষান্তরে স্পর্শ (اللمس) সর্বদা দুই পক্ষের মধ্যেই সংঘটিত হয়ে থাকে।
নিশ্চয়ই ছোঁয়া (المس) লজ্জাস্থানের (الفرج) সাথে সম্পৃক্ত, কিন্তু স্পর্শ (اللمس) এর ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন সুনির্দিষ্ট নয়।২
পবিত্র কুরআনে স্পর্শ (اللمس) এর ধারণা:
পবিত্র কুরআনের বেশ কয়েকটি আয়াতে স্পর্শ (اللمس) এবং ছোঁয়া (المس) বিষয়ের উল্লেখ এসেছে:
১- মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ (لامستم) করেছ…} ৩।
২- মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি আমি কাগজের ওপর লিখিত কোনো কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করতাম এবং তারা তা নিজ হাতে স্পর্শ (فلمسوه) করত} ৪।
৩- মহান আল্লাহর বাণী: {বলা হবে, তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরে যাও এবং আলোর সন্ধান (فالتمسوا) করো… } ৫।
৪- মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমরা আকাশ স্পর্শ (لمسنا) করেছি, অতঃপর দেখতে পেলাম যে তা শক্তিশালী প্রহরী ও উল্কাপিণ্ড দ্বারা পূর্ণ} ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৪)
واللمس في القرآن الكريم ليس مقصوراً على معنى واحد أو مفهوم واحد فإنه يكنى به عن النكاح حيث يقال مسَّها وماسها ومن ذلك قوله تعالى: {وَإِنْ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ} 1 والمسيس كناية عن النكاح.
ويكنى به عن المس بالجنون قال تعالى: {الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ} 2.
والمس يقال في كل ما ينال من أذى كقوله تعالى: {وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلا أَيَّاماً مَعْدُودَةً} 3.وكقوله تعالى: {مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ} 4.
وكقوله تعالى: {ذُوقُوا مَسَّ سَقَرَ} 5.
ويكنى باللمس عن الجس باليد كقوله تعالى: {وَلَوْ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ كِتَاباً فِي قِرْطَاسٍ فَلَمَسُوهُ بِأَيْدِيهِمْ} 6.
ويكنى باللمس عن الطلب كقوله تعالى: {وَأَنَّا لَمَسْنَا السَّمَاءَ فَوَجَدْنَاهَا مُلِئَتْ حَرَساً شَدِيداً وَشُهُباً} 7.
ويطلق اللمس والمس على المباشرة في الفرج ومنه قوله تعالى: {وَلا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ} 8.
--------------------------------------------
পবিত্র কুরআনে ‘লামস’ শব্দটি কেবল একটি অর্থ বা একটিমাত্র ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বিবাহের রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে বলা হয় ‘মাসসাহা’ এবং ‘মাসাসাহা’ (সে তাকে স্পর্শ করেছে)। এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা তাদেরকে স্পর্শ করার আগে তালাক দাও} ১। আর এখানে ‘মাসিস’ (স্পর্শ করা) শব্দটি বিবাহের রূপক।
আবার এটি পাগলামিজনিত আছর বা স্পর্শের রূপক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {যাকে শয়তান স্পর্শের দ্বারা মোহাবিষ্ট করে দেয়} ২।
আর ‘মাস’ শব্দটি যে কোনো ধরণের কষ্ট বা অনিষ্ট পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও বলা হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা বলে, ‘আগুন আমাদের কখনই স্পর্শ করবে না, কেবল সীমিত কয়েক দিন ছাড়া’} ৩। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তাদেরকে দুঃখ-দারিদ্র্য ও রোগ-শোক স্পর্শ করেছিল} ৪।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সাকারের (জাহান্নামের) স্পর্শ আস্বাদন করো} ৫।
হাত দিয়ে ছোঁয়া বা অনুভব করার রূপক হিসেবেও ‘লামস’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি আমি আপনার ওপর কাগজে লিখিত কোনো কিতাব নাযিল করতাম এবং তারা যদি নিজ হাতে তা স্পর্শ করত} ৬।
অন্বেষণ বা খোঁজার রূপক হিসেবেও ‘লামস’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমরা আকাশ অন্বেষণ করেছি, কিন্তু আমরা তাকে কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা পূর্ণ দেখতে পেয়েছি} ৭।
লজ্জাস্থানের প্রত্যক্ষ মিলন বা সহবাসের ক্ষেত্রেও ‘লামস’ ও ‘মাস’ শব্দ দুটির প্রয়োগ হয়। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা যখন মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় থাকবে, তখন তাদের সাথে সহবাস করো না} ৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৫)
أما قوله تعالى: {أَوْ لامَسْتُمُ النِّسَاءَ} 1. وقريء: {أو لمستم النساء} 2. فاختلف المفسرون والأئمة في معنى ذلك على قولين:
أحدهما: أن ذلك كناية عن الجماع.
الثاني: أن المراد بذلك: كل لمس بيد كان أو بغيرها من أعضاء الإنسان.
قال ابن جرير: "وأولى القولين بالصواب قول من قال عنى الله بقوله: {أَوْ لامَسْتُمُ النِّسَاءَ} الجماع دون غيره من معاني اللمس لصحة الخبر3 عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أنه قبل بعض نسائه ثم صلى ولم يتوضأ" 4.
وفسره بذلك حبر الأمة ابن عباس رضي الله عنهما الذي علمه الله تأويل كتابه واستجاب فيه دعوة رسوله صلى الله عليه وسلم وتفسيره أولى من تفسير غيره لتلك المزية5.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে: {অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করেছো} ১। এবং এভাবেও পাঠ করা হয়েছে: {অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করেছো} ২। এর অর্থের ব্যাপারে মুফাসসিরগণ ও ইমামগণ দুটি মতের ওপর মতভেদ করেছেন:
এর একটি হলো: এটি সহবাসের রূপক।
দ্বিতীয়টি: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হাত কিংবা শরীরের অন্য কোনো অঙ্গের মাধ্যমে যেকোনো ধরণের স্পর্শ।
ইবনে জারির বলেন: "উভয় মতের মধ্যে সঠিক হওয়ার ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির বক্তব্যই অধিক অগ্রগণ্য যিনি বলেন যে, আল্লাহ তাঁর বাণী: {অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করেছো} দ্বারা সহবাস বুঝিয়েছেন, স্পর্শের অন্য কোনো অর্থ নয়; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বর্ণনা (خبر)-এর বিশুদ্ধতা (صحة) ৩ প্রমাণিত যে: 'তিনি তাঁর জনৈক স্ত্রীকে চুম্বন করলেন, অতঃপর সালাত আদায় করলেন এবং অজু করলেন না' ৪।"
আর উম্মতের বিজ্ঞ পণ্ডিত ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) একে এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন, যাকে আল্লাহ তাঁর কিতাবের ব্যাখ্যা (تأويل) শিখিয়েছেন এবং তাঁর ব্যাপারে তাঁর রাসূলের দুআ কবুল করেছেন। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে তাঁর ব্যাখ্যা অন্যদের ব্যাখ্যার চেয়ে অধিকতর অগ্রগণ্য ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৬)
وبناء على هذا الاختلاف في مفهوم اللمس اختلف الفقهاء في أثر هذا اللمس هل ينتقض به الوضوء أو لا؟ وسيأتي الكلام عليه مفصلاً إن شاء الله في الفصل الثاني من هذا البحث.
مفهوم اللمس في السنة:
ورد ذكر اللمس في عدة أحاديث من ذلك:
1-حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن رسول صلى الله عليه وسلم نهى عن المنابذة: وهي طرح الرجل ثوبه إلى رجل قبل أن يقلبه أو ينظر إليه؛ ونهى عن الملامسة والملامسة لمس الثوب لا ينظر إليه1.
قال ابن الأثير: "هو أن يقول: إذا لمست ثوبي أو لمست ثوبك فقد وجب البيع"2.
2-حديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: لما أتى ماعز بن مالك النبي صلى الله عليه وسلم قال له: "لعلك قبلت أو غمزت أو نظرت؟ " 3
3-ما جاء عن عائشة رضي الله عنها في حديث البيعة أنها قالت: "ولا والله ما مست يده امرأة قط في المبايعة ما يبايعهن إلا بقوله قد بايعتك على ذلك" 4.
--------------------------------------------
স্পর্শের (اللمس) ধারণার এই পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে ফকিহগণ এই স্পর্শের প্রভাব নিয়ে মতভেদ করেছেন যে, এর ফলে অজু ভঙ্গ হবে কি না? ইনশাআল্লাহ, এই গবেষণার দ্বিতীয় অধ্যায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
সুন্নাহতে স্পর্শের (اللمس) ধারণা:
বেশ কিছু হাদিসে স্পর্শের (اللمس) কথা বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১-আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মুনাবাদাহ (المنابذة) থেকে নিষেধ করেছেন: আর তা হলো কোনো ব্যক্তি তার কাপড় অন্য ব্যক্তির দিকে নিক্ষেপ করা তাকে উল্টেপাল্টে দেখার বা নিরীক্ষণ করার আগেই; এবং তিনি মুলামাসাহ (الملامسة) থেকেও নিষেধ করেছেন। আর মুলামাসাহ হলো কাপড় না দেখেই কেবল কাপড় স্পর্শ (لمس) করা।১
ইবনুল আসির বলেন: "তা হলো এই বলা যে: যদি আমি আমার কাপড় স্পর্শ করি (لمست) অথবা তুমি তোমার কাপড় স্পর্শ করো (لمست), তবে বিক্রয় আবশ্যক হয়ে যাবে"২।
২-ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: যখন মায়িজ ইবনে মালিক (রা.) নবী (সা.)-এর নিকট আসলেন, তখন তিনি তাকে বললেন: "সম্ভবত তুমি চুমু খেয়েছ অথবা স্পর্শ করেছ (غمزت) অথবা তাকিয়েছ?" ৩
৩-বায়আত সংক্রান্ত হাদিসে আয়েশা (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "না, আল্লাহর শপথ! বায়আত গ্রহণের সময় তাঁর হাত কখনও কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি; তিনি কেবল মৌখিকভাবে তাদের বলতেন যে, আমি এ শর্তে তোমাদের বায়আত করলাম" ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৭)
ويظهر من هذه الأحاديث أن اللمس الوارد فيها هو اللمس باليد وهو ليس مقصوراً على ذلك.
بل ورد اللمس بمعنى البحث والتحري ومنه:
1-حديث عائشة رضي الله عنها قالت: "فقدت رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة من الفراش فالتمسته فوقعت يدي على بطن قدميه وهو في المسجد وهما منصوبتان"1.
2-حديث ابن عباس رضي الله عنهما في شأن ليلة القدر: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "التمسوها في العشر الأواخر من رمضان"2.
--------------------------------------------
এই হাদিসগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এখানে বর্ণিত স্পর্শ (اللمس) বলতে হাত দিয়ে স্পর্শ করাকে বোঝানো হয়েছে, তবে এটি কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
বরং স্পর্শ (اللمس) শব্দটি অনুসন্ধান (البحث) ও অন্বেষণ (التحري) অর্থেও বর্ণিত হয়েছে, যার উদাহরণ হলো:
1-আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "এক রাতে আমি বিছানায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তাই আমি তাঁকে তালাশ করলাম (فالتمسته)। তখন আমার হাত তাঁর দুই পায়ের তালুর ওপর পড়ল; তিনি তখন মসজিদে (সালাতরত) ছিলেন এবং তাঁর পা দুটো খাড়া অবস্থায় ছিল।"১
2-লাইলাতুল কদর প্রসঙ্গে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: নবী (সা.) বলেছেন: "তোমরা রমজানের শেষ দশ দিনে তা তালাশ করো (التمسوها)।"২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২২০)
الفصل الأول: في لمس العورة
المبحث الأول: في لمس الفرج
المطلب الأول: في لمس الرجل فرجه…المطلب الأول
في لمس الرجل فرجه
اتفق الفقهاء على أن من لمس فرجه بغير يده من أعضائه أنه لا ينتقض وضوءه1.
واختلفوا فيمن مس فرجه بيده على قولين:
القول الأول: أن من لمس ذكره انتقض وضوءه، وهو مروي عن عمر ابن الخطاب، وسعد بن أبي وقاص، وأبي هريرة، وابن عمر، وعبد الله بن عمرو بن العاص، وأبي أيوب الأنصاري، وزيد بن ثابت، وجابر بن عبد الله، وعائشة، وأم حبيبة، وبسرة بنت صفوان، وبه قال مكحول، وسعيد بن المسيب، وعطاء، ومجاهد، وعروة، وسليمان بن يسار، والزهري، ويحيى بن أبي كثير، والشعبي، وأبو العالية، والأوزاعي، والليث.
وهو المشهور من مذهب الإمام مالك والشافعي إذا كان اللمس بباطن الكف، وأحمد في المذهب، وداود وابن حزم2.
القول الثاني: أن من لمس ذكره لا ينتقض وضوءه، وهو مروي عن علي، وابن مسعود، وعمار بن ياسر، وابن عباس، وحذيفة، وعمران بن حصين، وأبي
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: লজ্জাস্থান স্পর্শ করা প্রসঙ্গে
প্রথম অনুচ্ছেদ: গুপ্তাঙ্গ স্পর্শ করা প্রসঙ্গে
প্রথম পরিভাগ: পুরুষের নিজ গুপ্তাঙ্গ স্পর্শ করা প্রসঙ্গে…প্রথম পরিভাগ
পুরুষের নিজ গুপ্তাঙ্গ স্পর্শ করা প্রসঙ্গে
ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যদি কেউ হাত ছাড়া তার শরীরের অন্য কোনো অঙ্গ দ্বারা নিজ গুপ্তাঙ্গ স্পর্শ করে, তবে তার অজু ভঙ্গ হবে না।১
আর যারা হাত দিয়ে নিজ গুপ্তাঙ্গ স্পর্শ করে, তাদের ব্যাপারে তারা দুটি মতের ওপর ইখতিলাফ করেছেন:
প্রথম মত: যে ব্যক্তি তার লিঙ্গ স্পর্শ করবে তার অজু ভঙ্গ হয়ে যাবে। এটি উমর ইবনুল খাত্তাব, সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, আবু হুরায়রা, ইবনে উমর, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, আবু আইয়ুব আল-আনসারি, জায়েদ ইবনে সাবিত, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ, আয়েশা, উম্মে হাবিবা এবং বুসরা বিনতে সাফওয়ান থেকে বর্ণিত (مروي)। আর এটিই মাকহুল, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আতা, মুজাহিদ, উরওয়াহ, সুলাইমান ইবনে ইয়াসার, জুহরি, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির, শাউবি, আবুল আলিয়া, আওযায়ি এবং লাইস-এর অভিমত।
হাতের তালুর অভ্যন্তরীণ অংশ দিয়ে স্পর্শ করার ক্ষেত্রে এটিই ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেয়ির মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত, এবং ইমাম আহমদের মাযহাবের একটি বর্ণনা এবং দাউদ ও ইবনে হাজমের অভিমত।২
দ্বিতীয় মত: যে ব্যক্তি তার লিঙ্গ স্পর্শ করবে তার অজু ভঙ্গ হবে না। এটি আলী, ইবনে মাসউদ, আম্মার ইবনে ইয়াসির, ইবনে আব্বাস, হুযাইফা, ইমরান ইবনে হুসাইন এবং আবু... থেকে বর্ণিত (مروي)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২২১)
الدرداء، وهو قول سعيد بن جبير، وطاووس والنخعي، والحسن بن حيي، وشريك، وابن المبارك، ويحيى بن معين، والحسن البصري، وقتادة، والثوري.
وإليه ذهب أبو حنيفة، ومالك في قول، وأحمد في رواية، واختاره ابن المنذر، وابن تيمية1.
الأدلة:
استدل أصحاب القول الأول بالأدلة التالية:
1-حديث بسرة بنت صفوان أنها سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من مس ذكره فليتوضأ" 2.
--------------------------------------------
আদ-দারদা, এবং এটি সা’ঈদ ইবনে জুবায়ের, তাউস, নাখয়ী, হাসান ইবনে হাই, শারিক, ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া ইবনে মা’ইন, হাসান বসরী, কাতাদাহ এবং সাওরী-এর অভিমত।
আর ইমাম আবু হানিফা এই মত পোষণ করেছেন, ইমাম মালিক থেকে একটি মত এবং ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনায় এটি পাওয়া যায়; আর ইবনুল মুনযির ও ইবনে তাইমিয়্যাহ এটিকে নির্বাচন করেছেন।
দলিলসমূহ:
প্রথম মতের প্রবক্তাগণ নিম্নলিখিত দলিলসমূহ দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন:
১-বুসরা বিনতে সাফওয়ান বর্ণিত হাদিস যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি তার লিঙ্গ স্পর্শ করে, সে যেন অজু করে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২২২)
2-حديث أم حبيبة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من مس فرجه فليتوضأ" 1.
3-حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إذا أفضى أحدكم بيده إلى ذكره ليس بينهما شيء فليتوضأ وضوءه للصلاة" 2.
--------------------------------------------
2-উম্মে হাবিবা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবি (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করে, সে যেন অজু করে।" 1.
3-আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবি (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার হাত দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে এবং তাদের মাঝে কোনো আবরণ না থাকে, তবে সে যেন নামাজের অজুর ন্যায় অজু করে।" 2.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৩)
4-ولأنه لمس يفضي إلى خروج المذي فأشبه مس الفرج بالفرج1.
5-أن الذكر يختلف عن سائر الجسد لأنه تتعلق به أحكام ينفرد بها من وجوب الغسل بإيلاجه والحد والمهر وغير ذلك2.
وقد اعترض على هذه الأدلة بما يأتي:
حديث بسرة اعترض عليه بعدة اعتراضات أهمها:
1-رواه عنها مروان بن الحكم وهو كان يحدث في زمانه مناكير ولذلك لم يقبل عروة منه3.
2-أن ربيعه شيخ مالك قال: "ويحكم مثل هذا يأخذ به أحد ويعمل بحديث بسرة؟ والله لو أن بسرة شهدت على هذا النعل لما أجزت شهادتها، وإنما قوام الدين الصلاة، وإنما قوام الصلاة الطهور، فلم يكن في صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم من يقيم هذا الدين إلا بسرة"4.
3-قال ابن معين: لم يصح في مس الذكر حديث5.
4-رواية ابن وهب عن مالك أن الوضوء من مس الذكر سنة فكيف يصح عنده هذا الحديث ثم يستجيز هذا القول؟ 6
--------------------------------------------
৪-কারণ এটি এমন এক স্পর্শ যা মযী নির্গমনের দিকে ধাবিত করে, ফলে এটি লজ্জাস্থান দ্বারা লজ্জাস্থান স্পর্শ করার সদৃশ।১
৫-লিঙ্গ শরীরের অন্যান্য অঙ্গ থেকে আলাদা, কারণ এর সাথে কিছু স্বতন্ত্র বিধান জড়িত; যেমন—প্রবেশ করানোর কারণে গোসল ওয়াজিব হওয়া, হদ, মোহর এবং আরও অন্যান্য।২
এই দলিলগুলোর ওপর নিম্নোক্ত আপত্তিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে:
বুসরাহ বর্ণিত হাদিসের ওপর বেশ কিছু আপত্তি রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো:
১-তার থেকে এটি মারওয়ান ইবনুল হাকাম বর্ণনা করেছেন, আর তিনি তার সময়ে অনেক অপরিচিত/অস্বীকৃত (منكر) বর্ণনা করতেন। এই কারণেই উরওয়াহ তার থেকে এটি গ্রহণ করেননি।৩
২-ইমাম মালিকের উস্তাদ রাবিয়াহ বলেছেন: "তোমাদের কী হলো! কেউ কি এমন হাদিস গ্রহণ করে এবং বুসরাহর হাদিসের ওপর আমল করে? আল্লাহর কসম, বুসরাহ যদি এই জুতার ব্যাপারেও সাক্ষ্য দিতেন, তবে আমি তার সাক্ষ্য গ্রহণ করতাম না। দ্বীনের ভিত্তি হলো সালাত, আর সালাতের ভিত্তি হলো পবিত্রতা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে বুসরাহ ছাড়া দ্বীনের এই বিধান প্রতিষ্ঠা করার মতো আর কেউ কি ছিল না?"৪
৩-ইবনে মাঈন বলেছেন: লিঙ্গ স্পর্শ করার বিষয়ে কোনো হাদিসই বিশুদ্ধ (صحيح) প্রমাণিত হয়নি।৫
৪-মালিক থেকে ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন যে, লিঙ্গ স্পর্শ করলে ওযু করা সুন্নাত। তাহলে ইমাম মালিকের নিকট এই হাদিসটি কীভাবে বিশুদ্ধ (صحيح) হতে পারে এবং এরপরও তিনি কেন এই মতটিকে বৈধ মনে করেন? ৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৪)
5-أن الرجل أولى بنقله من بسرة1.
6-أنه مما تعم به البلوى فينبغي أن ينقل مستفيضاً ولما لم يكن كذلك دل على ضعفه2.
7-إنكار كبار الصحابة لحكمه كعلي وابن مسعود وغيرهما كما تقدم في القول الثاني3.
8-أنه مخالف لإجماع الصحابة4.
9-لو سلم بصحته يحمل على غسل اليد لأنهم كانوا يستجمرون ثم يعرقون ثم يؤمر من مس موضع الحدث بالوضوء الذي هو النظافة5.
10-أنه معارض بحديث طلق، والقياس على سائر الأعضاء6.
وقد أجيب على هذه الاعتراضات بما يأتي:
1-أن مروان كان عدلاً ولذلك كانت الصحابة تأتم به وتغشى طعامه وما فعل شيئاً إلا عن اجتهاد، وإنكار عروة لعدم اطلاعه7.
2-أن عدم استقلال المرأة في الشهادة لا يدل على عدم قبول روايتها وإلا لما قبلت رواية كثير من الصحابيات.
--------------------------------------------
৫-একজন পুরুষ এটি বর্ণনার ক্ষেত্রে বুসরাহ অপেক্ষা অধিক যোগ্য।
৬-এটি এমন একটি বিষয় যা ব্যাপক প্রয়োজনের (উম্মাহর সাধারণ সমস্যার) অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি সুপ্রসিদ্ধভাবে (مستفيض) বর্ণিত হওয়া আবশ্যক ছিল; যেহেতু তা হয়নি, এটি এর দুর্বলতা (ضعف) নির্দেশ করে।
৭-প্রবীণ সাহাবীগণের পক্ষ থেকে এর বিধানকে অস্বীকার করা, যেমন আলী, ইবনে মাসউদ এবং অন্যান্যগণ, যা ইতিপূর্বে দ্বিতীয় মতের আলোচনায় অতিক্রান্ত হয়েছে।
৮-এটি সাহাবীগণের ঐকমত্যের পরিপন্থী।
৯-যদি এর বিশুদ্ধতা (صحة) মেনেও নেওয়া হয়, তবে একে হাত ধৌত করার অর্থে গ্রহণ করা হবে। কারণ তাঁরা ইস্তিজমার (পাথর দিয়ে শৌচকার্য) করতেন, অতঃপর ঘামতেন; ফলে অপবিত্রতার স্থান স্পর্শকারীকে ওযু অর্থাৎ পরিচ্ছন্নতার আদেশ দেওয়া হতো।
১০-এটি তালকের হাদিস এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপর কিয়াসের সাথে সাংঘর্ষিক।
এই আপত্তিগুলোর উত্তর নিম্নোক্তভাবে দেওয়া হয়েছে:
১-মারওয়ান ন্যায়পরায়ণ (عدل) ছিলেন, এ কারণেই সাহাবীগণ তাঁর ইমামতিতে সালাত আদায় করতেন এবং তাঁর দস্তরখানে শরিক হতেন; আর তিনি ইজতিহাদ ব্যতীত কোনো কাজ করেননি। উরওয়ার অস্বীকার করার কারণ ছিল বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর অবগত না থাকা।
২-সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে নারীর এককত্বের অভাব তাঁর বর্ণনা (رواية) কবুল না করার দলিল নয়; অন্যথায় বহু মহিলা সাহাবীর বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা হতো না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৫)
قال الشافعي: "والذي يعيب علينا الرواية عن بسرة يروي عن عائشة بنت عجرد وأم خداش وعدة من النساء لسن بمعروفات ويحتج بروايتهن ويضعف بسرة مع سابقتها وقديم هجرتها وصحبتها النبي صلى الله عليه وسلم وقد حدثت بهذا في دار المهاجرين والأنصار وهم متوافرون ولم يدفعه
منهم أحد بل علمنا بعضهم صار إليه منهم عروة بن الزبير"1.
3- إذا لم يصح الحديث عند ابن معين فقد صح عند غيره فقد صححه الجماهير من الأئمة الحفاظ واحتج به الأوزاعي والشافعي وأحمد وهم أعلام الحديث والفقه فلو كان باطلاً لم يحتجوا به، لكنه مع هذا لم يثبت عند ابن معين كما قال الحافظ ابن حجر وابن الجوزي2.
4-أن مالكاً لم يطعن في الصحة وإنما تردد في دلالة اللفظ هل هي للوجوب أم للندب؟ 3
5-أن بسرة لم تنفرد بروايته بل رواه نحو خمسة عشر من الرجال والنساء فإن في الباب عن أم حبيبة وأبي هريرة وأروى بنت أنس وعائشة وجابر وزيد بن خالد وعبد الله بن عمرو وسعد بن أبي وقاص وأم سلمة وابن عباس وابن عمر والنعمان بن بشير وأنس وأُبي بن كعب ومعاوية بن حيدة وقبيصة رضي الله عنه4.
6-أن الخبر نقل مستفيضاً5.
--------------------------------------------
ইমাম শাফেঈ বলেছেন: "যারা বুসরাহ থেকে আমাদের বর্ণনার সমালোচনা করেন, তারা আয়েশা বিনতে আজরাদ, উম্মে খিদাশ এবং এমন বহু মহিলার বর্ণনা পেশ করেন যারা সুপরিচিত (معروفات) নন, এবং তাদের বর্ণনার মাধ্যমে দলিল পেশ করেন। অথচ তারা বুসরাহকে দুর্বল (يضعف) প্রতিপন্ন করেন, যেখানে ইসলামে তার অগ্রগণ্যতা, সুদীর্ঘ হিজরত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য অনস্বীকার্য। তিনি মুহাজির ও আনসারদের উপস্থিতিতেই এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাদের কেউই এটি প্রত্যাখ্যান করেননি, বরং আমরা জানতে পেরেছি যে তাদের মধ্যে উরওয়াহ ইবনুল জুবায়েরসহ কেউ কেউ এই বর্ণনার দিকেই গিয়েছেন (অর্থাৎ এর ওপর আমল করেছেন)"১।
৩- যদি হাদিসটি ইবনে মাঈনের নিকট সহিহ (صح) না হয়, তবে অন্যদের নিকট তা সহিহ (صح) হয়েছে। অধিকাংশ হাফিজ ইমামগণ একে সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন এবং আওযাঈ, শাফেঈ ও আহমাদ এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন, যারা হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের প্রধান ইমাম ছিলেন। যদি এটি বাতিল (باطلاً) হতো তবে তারা একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করতেন না। তবে তা সত্ত্বেও এটি ইবনে মাঈনের নিকট সাব্যস্ত (لم يثبت) হয়নি, যেমনটি হাফিজ ইবনে হাজার ও ইবনুল জাওযী উল্লেখ করেছেন২।
৪- ইমাম মালিক এর বিশুদ্ধতা (الصحة) নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি, বরং তিনি শব্দের অর্থগত নির্দেশের ক্ষেত্রে দ্বিধাবোধ করেছেন যে, এটি কি ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার প্রমাণ দেয় নাকি মুস্তাহাব (ندب) হওয়ার? ৩
৫- বুসরাহ এই বর্ণনায় একক (لم تنفرد) ছিলেন না, বরং প্রায় পনেরোজন পুরুষ ও নারী এটি বর্ণনা করেছেন। এই অধ্যায়ে উম্মে হাবিবা, আবু হুরায়রা, আরওয়া বিনতে আনাস, আয়েশা, জাবির, জায়েদ ইবনে খালিদ, আবদুল্লাহ ইবনে আমর, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, উম্মে সালামাহ, ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর, নুমান ইবনে বশির, আনাস, উবাই ইবনে কাব, মুয়াবিয়া ইবনে হায়দাহ এবং ক্বাবীসা (রা.) থেকে বর্ণনা রয়েছে৪।
৬- এই সংবাদটি বহুল প্রচারিত (مستفيضاً) ভাবে বর্ণিত হয়েছে৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৬)
7-أن الحديث لم يثبت عندهم أو لم يبلغهم، وقد بلغهم حديث طلق ولم يبلغهم ما ينسخه ولو بلغهم لقالوا به ولا يجب على الصحابي أن يطلع على سائر الأحاديث1.
8-أنه لم ينعقد في هذه المسألة إجماع وإلَاّ لما ساغ الخلاف فيها ومن أراد الاطلاع على معرفة قدر اختلاف الصحابة فيها فليراجع المصادر التي ذكرتها عند عرض الأقوال في أول المسألة2.
9-أن حديث طلق الذي استدل به أصحاب القول الثاني لا يصح والقياس الذي ذكروه في قبالة النص فيكون فاسداً3.
10-أن الألفاظ الشرعية الأصل فيها أن تحمل على الحقيقة إلا إذا ورد دليل يصرفها عنها ولم يرد4 بل ورد هنا ما يخالفه كما تقدم في حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إذا أفضى أحدكم بيده إلى ذكره - ليس بينهما شيء - فليتوضأ وضوءه للصلاة" 5.
قال البيهقي وغيره: "ويكفي في ترجيح حديث بسرة على حديث طلق أن حديث طلق لم يحتج الشيخان بأحد من رواته، وحديث بسرة قد احتجا بسائر رواة حديثها، وهذا وجه رجحان حديثها على حديث طلق من طريق الإسناد؛ لأن الرجحان إنما يقع بوجود شرائط الصحة والعدالة في حق هؤلاء الرواة دون من خالفهم"6.
--------------------------------------------
7-হাদিসটি তাঁদের নিকট প্রমাণিত (ثبت) হয়নি অথবা তাঁদের নিকট পৌঁছেনি। তাঁদের নিকট তালকের হাদিসটি পৌঁছেছিল, কিন্তু সেটিকে রহিতকারী (ناسخ) কোনো বর্ণনা তাঁদের নিকট পৌঁছেনি। যদি তা পৌঁছাত, তবে তাঁরা অবশ্যই তা মেনে নিতেন। আর সকল হাদিস সম্পর্কে অবগত হওয়া কোনো সাহাবীর জন্য আবশ্যক নয়।১
8-এই মাসআলায় কোনো ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়নি; অন্যথায় এতে মতবিরোধ (خلاف) করার সুযোগ থাকত না। আর সাহাবীদের মাঝে এই বিষয়ে মতভেদের পরিমাণ সম্পর্কে কেউ জানতে চাইলে মাসআলার শুরুতে বিভিন্ন অভিমত বর্ণনার সময় আমি যেসব উৎসের উল্লেখ করেছি, তা দেখে নিতে পারেন।২
9-দ্বিতীয় মতের অনুসারীরা দলীল হিসেবে তালকের যে হাদিসটি পেশ করেছেন তা বিশুদ্ধ (صحيح) নয় এবং নসের (نص) বিপরীতে তারা যে কিয়াস (قياس) পেশ করেছেন তা অসার (فاسد) বলে গণ্য।৩
10-শরয়ী শব্দাবলির ক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো সেগুলোকে প্রকৃত (حقيقة) অর্থে গ্রহণ করা, যতক্ষণ না এমন কোনো প্রমাণ (دليل) পাওয়া যায় যা একে সেই অর্থ থেকে সরিয়ে নেয়। অথচ এখানে তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি৪ বরং এর বিপরীত বর্ণনাই পাওয়া গেছে, যেমনটি ইতিপূর্বে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন তার হাত দ্বারা তার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে—এবং তাদের মাঝে কোনো আবরণ না থাকে—তবে সে যেন নামাজের ন্যায় ওজু (وضوء) করে।" ৫
ইমাম বায়হাকী ও অন্যান্যরা বলেন: "তালকের হাদিসের ওপর বুসরার হাদিসকে প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, তালকের হাদিসের কোনো বর্ণনাকারী (راوي) থেকে শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) দলীল গ্রহণ করেননি, অথচ বুসরার হাদিসের সকল বর্ণনাকারী (رواة) থেকে তাঁরা দলীল গ্রহণ করেছেন। আর এটিই হলো সনদ (إسناد)-এর দিক থেকে তালকের হাদিসের ওপর বুসরার হাদিসের প্রাধান্য পাওয়ার কারণ; কারণ প্রাধান্য তখনই সাব্যস্ত হয় যখন বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতার (صحة) শর্তাবলি ও ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) বিদ্যমান থাকে, যা তাদের বিরোধীদের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না।"৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৭)
واستدل أصحاب القول الثاني بالأدلة الآتية:
1-حديث قيس بن طلق، عن أبيه قال: "قدمنا على نبي الله صلى الله عليه وسلم فجاء رجل كأنه بدوي فقال: يا نبي الله، ما ترى في مس الرجل ذكره بعدما يتوضأ؟ فقال: "هل هو إلا مضغة1 منه؟ أو قال: بضعة2 منه" 3
2-ما روى جعفر بن الزبير عن القاسم، عن أبي أمامه أن رجلاً سأل النبي صلى الله عليه وسلم فقال: إني مسست ذكري وأنا أصلي، فقال: "لا بأس إنما هو حذية4 منك" 5
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মতের প্রবক্তাগণ নিম্নোক্ত দলিলসমূহ দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
১-কায়স ইবনে তালকের হাদিস, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। অতঃপর এক ব্যক্তি আসলেন, যাকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি একজন মরুবাসী। তিনি বললেন: হে আল্লাহর নবী, ওযু করার পর কোনো ব্যক্তি তার লিঙ্গ স্পর্শ করলে সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: 'তা তো তার (দেহের) একটি গোশতের টুকরা বই নয়?' অথবা তিনি বলেছেন: 'তা তো তার একটি দেহাংশ (অঙ্গ) মাত্র'।" ৩
২-জাফর ইবনুল জুবাইর যা আল-কাসিম থেকে এবং তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করে বললেন: আমি নামায পড়া অবস্থায় আমার লিঙ্গ স্পর্শ করেছি। তিনি বললেন: "কোনো সমস্যা নেই, তা তো তোমার শরীরেরই একটি অংশ।" ৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৮)
3-إجماع أهل العلم على أن لا وضوء على من مس بولاً أو غائطاً أو دماً فمس الذكر أولى أن لا يوجب وضوءاً1.
وقد اعترض على هذه الأدلة بما يأتي:
1-أن حديث طلق ضعيف باتفاق المحدثين وقد بين البيهقي وجوهاً من ضعفه2.
2-أنه منسوخ بحديث بسرة لأن أبا هريرة قد رواه وهو متأخر الإسلام ووفادة طلق على النبي صلى الله عليه وسلم كانت في السنة الأولى من الهجرة ورسول الله صلى الله عليه وسلم يبني مسجده وقدوم أبي هريرة وإسلامه كان في السنة السابعة من الهجرة3.
3-أنه محمول على المس من فوق حائل لأنه قال: سألته عن مس الذكر في الصلاة، والظاهر أن الإنسان لا يمس ذكره في الصلاة بدون حائل4.
4-أن حديث بسرة أكثر رواة من حديث طلق كما تقدم5.
5-أن حديث بسرة فيه احتياط للعبادة6.
--------------------------------------------
3-আলেমগণের ঐকমত্য (إجماع) এই যে, যারা প্রস্রাব, মল বা রক্ত স্পর্শ করে তাদের ওপর ওজু (وضوء) ওয়াজিব নয়; সুতরাং লিঙ্গ স্পর্শ করার কারণে ওজু ওয়াজিব না হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত।১
এই দলীলসমূহের বিরুদ্ধে নিম্নলিখিত আপত্তিগুলো উত্থাপিত হয়েছে:
1-তালকের হাদিসটি মুহাদ্দিসগণের সর্বসম্মতিক্রমে দুর্বল (ضعيف); এবং আল-বায়হাকী এর দুর্বলতার (ضعف) বিভিন্ন দিক বর্ণনা করেছেন।২
2-এটি বুসরাহ বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে রহিত (منسوخ); কেননা আবু হুরাইরাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি পরবর্তী সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর মসজিদ নির্মাণ করছিলেন, তখন হিজরতের প্রথম বর্ষে তালকের আগমন ঘটেছিল। অন্যদিকে আবু হুরাইরাহ-এর আগমন ও ইসলাম গ্রহণ ছিল হিজরতের সপ্তম বর্ষে।৩
3-এটিকে কোনো আবরণের ওপর দিয়ে স্পর্শ করার অর্থে গ্রহণ করা হবে; কারণ তিনি বলেছেন: "আমি তাঁকে সালাতে লিঙ্গ স্পর্শ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি", আর এটি স্পষ্ট যে মানুষ সাধারণত সালাতে কোনো আবরণ ব্যতীত লিঙ্গ স্পর্শ করে না।৪
4-পূর্বেই যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, তালকের হাদিসের তুলনায় বুসরাহ-এর হাদিসের বর্ণনাকারী অধিক।৫
5-বুসরাহ-এর হাদিসটি অনুসরণের মধ্যে ইবাদতের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা রয়েছে।৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৯)
6-أن حديث جعفر بن الزبير حديث ضعيف كما تقدم في تخريجه1.
7-أن القياس الذي ذكروه قياس في مقابل النص فيكون فاسداً2.
وقد أجيب عن هذه الاعتراضات بما يلي:
1-القول بأن حديث طلق حديث ضعيف باتفاق المحدثين غير مسلم فقد صححه كما سبق في تخريجه الطحاوي، وابن حبان، وابن حزم وغيرهم3.
2-دعوى النسخ لا تقبل إذ ليس في حديث بسرة ما يدل على النسخ4
3-أن كثرة الرواة لا أثر لها في باب الترجيحات لأن طريق كل واحد منهما غلبه الظن فصار كشهادة شاهدين مع شهادة أربعة5.
الراجح:
أطال أهل العلم النقاش حول هذه المسألة وأكثروا الاحتجاج لها وذهب كل فريق يرجح حديثه الذي احتج به بمرجحات ومبررات وقد اختار شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله الجمع بين الأدلة فحمل الأمر بالوضوء من مس الذكر على الاستحباب6 وأخذ به الشيخ محمد ابن عثيمين رحمه الله للقرينة الصارفة في حديث طلق السابق ذكره وهي: "وهل هو إلا بضعة منك" وليس فيه نسخ، وحمل الأمر على الاستحباب أولى من النسخ.
--------------------------------------------
৬-জাফর ইবনুল জুবাইরের হাদিসটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস, যেমনটি ইতিপূর্বে এর উৎস ও বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের (تخريج) আলোচনায় অতিক্রান্ত হয়েছে।১
৭-তারা যে কিয়াস বা যৌক্তিক অনুমান উল্লেখ করেছেন তা অকাট্য দলিলের (نص) পরিপন্থী কিয়াস, ফলে তা অসার (فاسد) বলে গণ্য হবে।২
এই আপত্তিগুলোর উত্তর নিম্নোক্তভাবে প্রদান করা হয়েছে:
১-মুহাদ্দিসগণের ঐকমত্যে তালকের হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) - এই কথাটি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ ইতিপূর্বে এর উৎস ও বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের (تخরিج) আলোচনায় যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, ইমাম তহাবি, ইবনে হিব্বান, ইবনে হাজম এবং অন্যান্যগণ একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে গণ্য করেছেন।৩
২-রহিতকরণের (نسخ) দাবি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ বুসরার হাদিসে এমন কিছু নেই যা রহিতকরণ (نسخ) নির্দেশ করে।৪
৩-বর্ণনাকারীর আধিক্য প্রাধান্যদানের (ترجيح) ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না; কারণ উভয়ের বর্ণিত পথই প্রবল ধারণার উদ্রেক করে। ফলে এটি দুই জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের বিপরীতে চার জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।৫
অগ্রগণ্য মত (الراجح):
আলেমগণ এই মাসআলাটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং প্রচুর দলিল পেশ করেছেন। প্রত্যেক দলই তাদের উপস্থাপিত হাদিসকে বিভিন্ন যুক্তি ও কারণের মাধ্যমে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) দলিলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের (الجمع بين الأدلة) পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। তিনি লিঙ্গ স্পর্শ করার কারণে ওজু করার নির্দেশকে মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় (استحباب) হওয়ার ওপর প্রয়োগ করেছেন।৬ শাইখ মুহাম্মদ ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ)-ও এই মতটি গ্রহণ করেছেন, কারণ পূর্বে উল্লিখিত তালকের হাদিসে একটি পরিবর্তনকারী লক্ষণ (قرينة صارفة) বিদ্যমান, আর তা হলো: "তা তো তোমার শরীরেরই একটি অংশ মাত্র।" এর মধ্যে কোনো রহিতকরণ (نسخ) নেই। আর নির্দেশকে মুস্তাহাব (استحباب) অর্থে গ্রহণ করা রহিতকরণের (نسخ) চেয়ে অধিক উত্তম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩০)
وأما دعوى أن حديث طلق منسوخ لأنه قدم على النبي صلى الله عليه وسلم وهو يبني المسجد أول الهجرة، ولم يعد إليه بعد، فهذا غير مسلم لما يأتي:
1-أنه لا يصار إلى النسخ إلا إذا تعذر الجمع، والجمع هنا ممكن1 ومن أوجه الجمع:
أ-حمل حديث بسرة وما شابهه على ما كان لشهوة، وحديث طلق على ما إذا كان لغير شهوة.
ب-أن يكون الأمر في حديث بسرة للاستحباب، وحديث طلق السؤال فيه للوجوب، فهو سأل عن الواجب "أعليه" وكلمة "على" ظاهرة في الوجوب2.
2-أن في حديث طلق علة لا يمكن أن تزول، وإذا ربط الحكم بعلة لا يمكن أن تزول، فإن الحكم لا يمكن أن يزول لأن الحكم يدور مع علته، والعلة قوله: "إنماهو بضعة منك" ولا يمكن في يوم من الأيام أن يكون ذكر الإنسان ليس بضعة منه، فلا يمكن النسخ.
3-أن أهل العلم قالوا: إن التاريخ لا يعلم بتقدم إسلام الراوي أو تقدم أخذه، لجواز أن يكون الراوي حدث به عن غيره3.
وخلاصة القول في المسألة كما ذكر الشيخ محمد العثيمين: "أن الإنسان إذا مس ذكره استحب له الوضوء مطلقاً سواء مس بشهوة أو بغير شهوة وإذا مسه لشهوة فالقول بالوجوب قوي جداً وهو الأحوط"4 والله تعالى أعلم.
--------------------------------------------
আর তালকের হাদিস রহিত (منسوخ) হওয়ার দাবি এই কারণে যে, তিনি হিজরতের শুরুতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আগমন করেছিলেন যখন তিনি মসজিদ নির্মাণ করছিলেন এবং এরপর আর ফিরে আসেননি; এই দাবিটি নিচের কারণগুলোর প্রেক্ষিতে গ্রহণযোগ্য নয়:
1-রহিতকরণের (النسخ) দিকে ততক্ষণ পর্যন্ত যাওয়া যাবে না যতক্ষণ না সমন্বয় (الجمع) অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর এখানে সমন্বয় (الجمع) করা সম্ভব। সমন্বয়ের পদ্ধতিগুলো হলো:
ক- বুসরার হাদিস এবং এর সমজাতীয় হাদিসগুলোকে কামবশত স্পর্শ করার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা, আর তালকের হাদিসকে কামভাব ব্যতীত স্পর্শ করার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা।
খ- বুসরার হাদিসের নির্দেশটি মুস্তাহাব (الاستحباب) হওয়ার অর্থে গ্রহণ করা, আর তালকের হাদিসের প্রশ্নটি ছিল ওয়াজিব (الوجوب) হওয়া প্রসঙ্গে; তিনি ওয়াজিব (الوجوب) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, "তার উপর কি (অজু) আবশ্যক?", আর ‘আলা’ (উপর) শব্দটি ওয়াজিব (الوجوب) হওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট অর্থ প্রকাশ করে।
2-তালকের হাদিসে এমন একটি ইল্লত (علة) রয়েছে যা দূর হওয়া সম্ভব নয়। আর যখন কোনো বিধানকে (الحكم) এমন কোনো ইল্লত (علة) এর সাথে সম্পৃক্ত করা হয় যা অপসরণযোগ্য নয়, তখন সেই বিধানটি (الحكم) রহিত হওয়া সম্ভব নয়; কারণ বিধান (الحكم) তার ইল্লত (علة) এর সাথেই আবর্তিত হয়। আর সেই ইল্লত (علة) হলো তাঁর বাণী: "এটি তো তোমার দেহেরই একটি অংশ মাত্র।" সুতরাং কোনো দিনই মানুষের গোপনাঙ্গ তার দেহের অংশ হওয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভব নয়, তাই রহিতকরণ (النسخ) সম্ভব নয়।
3-বিজ্ঞ আলেমগণ বলেছেন যে, বর্ণনাকারীর (الراوي) ইসলাম গ্রহণ বা হাদিস শ্রবণের অগ্রবর্তিতা দিয়ে ইতিহাস বা সময়কাল নির্ধারিত হয় না, কারণ সম্ভবত বর্ণনাকারী (الراوي) এটি অন্য কারো নিকট থেকে শুনে বর্ণনা করেছেন।
এই মাসআলাটির সারসংক্ষেপ যেমনটি শায়খ মুহাম্মাদ আল-উসাইমীন উল্লেখ করেছেন: "মানুষ যখন তার গোপনাঙ্গ স্পর্শ করবে তখন সাধারণভাবে অজু করা তার জন্য মুস্তাহাব (الاستحباب), চাই তা কামবশত হোক বা কামভাব ছাড়া। তবে যদি কামবশত স্পর্শ করে, তবে তা ওয়াজিব (الوجوب) হওয়ার মতটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এটিই অধিকতর সতর্কতামূলক।" আর মহান আল্লাহ সর্বাধিক জ্ঞাত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩১)
المطلب الثاني: في لمس الرجل فرج غيره…المطلب الثاني
في مس ذكر الغير
بينت في المطلب السابق حكم انتقاض وضوء الإنسان بمس ذكره وفي هذا المطلب أذكر حكم مس الإنسان لذكر غيره.
والكلام في هذه المسألة مبني على الكلام في مسألة من مس ذكره.
فذهب الفقهاء القائلون بنقض الوضوء من مس الإنسان ذكره إلى أنه لا فرق بين مس الإنسان ذكره وذكر غيره وذهب داود وابن حزم إلى أن من مس ذكر غيره لا ينتقض وضوءه2
استدل أصحاب القول الأول بالأدلة الآتية:
1-حديث بسرة فقد ورد في بعض ألفاظه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من مس الذكر فليتوضأ" 3.
وجه الدلالة: أن الحديث على عمومه يدخل تحت عمومه ذكره وذكر غيره4.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অন্যের লজ্জাস্থান স্পর্শ করা প্রসঙ্গে…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
অন্যের পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করা প্রসঙ্গে
আমি পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে মানুষের নিজের পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার মাধ্যমে অজু ভঙ্গের বিধান বর্ণনা করেছি এবং এই পরিচ্ছেদে আমি মানুষের অন্যের পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার বিধান উল্লেখ করব।
এই মাসআলার আলোচনাটি নিজের পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার মাসআলার আলোচনার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
যে সকল ফকিহ নিজের পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে অজু ভঙ্গ (نقض) হওয়ার প্রবক্তা, তাদের মতে মানুষের নিজের পুরুষাঙ্গ এবং অন্যের পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। অন্যদিকে দাউদ এবং ইবনে হাজম মনে করেন যে, কেউ অন্যের পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করলে তার অজু ভঙ্গ হবে না।
প্রথম মতের প্রবক্তাগণ নিম্নলিখিত দলিলসমূহ দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন:
১-বুসরাহ (রাযি.) বর্ণিত হাদিস; এর কোনো কোনো ভাষ্যে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে সে যেন অজু করে নেয়।"
দলিল গ্রহণের পদ্ধতি: হাদিসটি তার ব্যাপকতা (عموم)-এর ওপর ভিত্তি করে প্রযোজ্য, আর এর সাধারণ নির্দেশনার অধীনে নিজের পুরুষাঙ্গ এবং অন্যের পুরুষাঙ্গ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩২)
2-أن مس ذكر غيره معصية، وأدعى إلى الشهوة، وخروج الخارج، وحاجة الإنسان تدعو إلى مس ذكر نفسه، فإذا انتقض بمس ذكر نفسه فمس ذكر غيره أولى وهذا تنبيه يقدم على الدليل1.
3-ولأن من مس فرج غيره أغلظ من مس فرجه لما يتعلق به من هتك حرمة الغير فكان بالنقض أحق2.
واستدل أصحاب القول الثاني بالآتي:
أنه لا نص فيه، والأخبار إنما وردت في ذكر نفسه، فيقتصر عليه3.
واعترض على هذا الاستدلال:
أن ادعاء أنه لا نص فيه غير صحيح فقد ورد في بعض ألفاظ حديث بسرة كما سبق قوله صلى الله عليه وسلم: "من مس الذكر فليتوضأ".
والراجح في المسألة:
هو كما تقدم في المسألة السابقة أن الإنسان إذا مس ذكره استحب له الوضوء مطلقاً سواء مس بشهوة أو بغير شهوة، وإذا مس بشهوة فالقول بالوجوب قوي جداً وهو الأحوط فإذا كان هذا في مس ذكره ففي مس ذكر غيره من باب أولى، والله تعالى أعلم.
--------------------------------------------
2-অন্যের গুপ্তাঙ্গ স্পর্শ করা একটি গুনাহ এবং তা কামোত্তেজনা জাগ্রত হওয়া ও বীর্য বা অন্য কিছু নিঃসরণ হওয়ার অধিকতর কারণ। মানুষের নিজ প্রয়োজনে নিজের গুপ্তাঙ্গ স্পর্শ করার দরকার পড়ে, তাই নিজেরটি স্পর্শ করলে যদি অজু ভঙ্গ (انتقاض) হয়, তবে অন্যেরটি স্পর্শ করলে অজু ভঙ্গ হওয়া আরও বেশি সমীচীন। এটি এমন একটি সতর্কতা যা সাধারণ প্রমাণের (الدليل) ওপর অগ্রাধিকার পায়।১
3-তাছাড়া অন্যের লজ্জাস্থান স্পর্শ করা নিজের লজ্জাস্থান স্পর্শ করার চেয়ে জঘন্যতর; কারণ এতে অন্যের গোপনীয়তা ও সম্মানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার বিষয় জড়িত। তাই এটি অজু ভঙ্গ (النقض) হওয়ার অধিকতর উপযোগী।২
দ্বিতীয় মত পোষণকারীরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
এ বিষয়ে সরাসরি কোনো অকাট্য পাঠ (نص) নেই; আর বর্ণনাগুলো (الأخبار) কেবল নিজের গুপ্তাঙ্গ স্পর্শ করার ব্যাপারেই এসেছে, তাই বিধানটি কেবল সে পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে।৩
এই দলিলের বিপরীতে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে:
এ বিষয়ে কোনো অকাট্য পাঠ (نص) নেই বলে যে দাবি করা হয়েছে তা সঠিক নয়। কারণ বুসরাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসের কিছু শব্দে এসেছে—যেমনটি আগে গত হয়েছে—রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে, সে যেন অজু করে।"
এই মাসআলায় অধিকতর সঠিক (الراجح) মত হলো:
যেমনটি পূর্ববর্তী মাসআলায় গত হয়েছে যে, মানুষ যখন নিজের গুপ্তাঙ্গ স্পর্শ করবে, তখন তার জন্য সাধারণভাবে অজু করা পছন্দনীয় (مستحب), চাই তা কামভাবসহ হোক বা কামভাবহীন। আর যদি কামভাবসহ স্পর্শ করে, তবে অজু আবশ্যক (الوجوب) হওয়ার মতটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এটিই অধিকতর সতর্কতামূলক (الأحوط)। সুতরাং নিজের অঙ্গ স্পর্শের বিধান যদি এমন হয়, তবে অন্যের অঙ্গ স্পর্শের ক্ষেত্রে তা আরও জোরালোভাবে প্রযোজ্য হবে। আল্লাহ তায়ালাই সবচেয়ে ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৩)
المطلب الثالث: في لمس المرأة فرجها…المطلب الثالث
لمس المرأة فرجها
تقدم الكلام في المطلب الأول على حكم لمس الرجل ذكره وفي هذا المطلب أبين حكم لمس المرأة لفرجها أهو كحكم لمس الرجل لفرجه أم أن بينهما اختلافاً؟
اختلف أهل العلم في هذه المسألة على قولين:
القول الأول: أن لمس المرأة فرجها ينتقض به الوضوء، وهو قول مالك في المشهور عنه، والشافعي إذا كان المس بباطن الكف، وأحمد في الصحيح من المذاهب1.
القول الثاني: أن لمس المرأة فرجها لا ينقض الوضوء، وهو قول أبي حنيفة ومالك في رواية، وأحمد في رواية2 الأدلة:
1-حديث أم حبيبة أنها سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من مس فرجه فليتوضأ" 3.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নারীর নিজ লজ্জাস্থান স্পর্শ করা প্রসঙ্গে…তৃতীয় পরিচ্ছেদ
নারীর নিজ লজ্জাস্থান স্পর্শ করা
প্রথম পরিচ্ছেদে পুরুষের নিজ লিঙ্গ স্পর্শ করার বিধান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই পরিচ্ছেদে আমি নারীর নিজ লজ্জাস্থান স্পর্শ করার বিধান বর্ণনা করব; এটি কি পুরুষের নিজ লিঙ্গ স্পর্শ করার বিধানের মতো, নাকি এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে?
এই মাসআলায় আলেমগণ দুটি মতের ওপর ইখতিলাফ করেছেন:
প্রথম মত: নারীর নিজ লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে ওজু ভঙ্গ হয়ে যায়। এটি ইমাম মালিকের প্রসিদ্ধ (المشهور) মত, ইমাম শাফেয়ীর মতে যদি স্পর্শ হাতের তালুর অভ্যন্তরীণ অংশ দ্বারা হয়, এবং ইমাম আহমদের নিকট এটি মাযহাবের বিশুদ্ধ (الصحيح) মত।১
দ্বিতীয় মত: নারীর নিজ লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে ওজু ভঙ্গ হয় না। এটি ইমাম আবু হানিফার মত এবং ইমাম মালিক ও ইমাম আহমদের থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)।২ দলিলসমূহ:
১-উম্মে হাবিবা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করবে, সে যেন ওজু করে।" ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৪)
وجه الدلالة: أن الفرج هنا اسم جنس فيدخل فيه قبل المرأة لأن الفرج في اللغة الفرج بين الشيئين ويطلق على القبل والدبر من الرجل والمرأة وكثر استعماله في العرف في القبل، فعلى هذا ينتقض وضوء المرأة بلمسها فرجها1.
2-حديث عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "أيما رجل مس فرجه فليتوضأ، وأيما امرأة مست فرجها فلتتوضأ" 2.
3-حديث عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "ويل للذين يمسون ذكورهم ويصلون ولا يتوضئون" قالت عائشة: "فهذا للرجال فما بال النساء قال عليه الصلاة والسلام: "إذا مست إحداكن فرجها توضأت 3.
4. ولأن المرأة آدمي مس فرجه فانتقض وضوءه كالرجل4.
واستدل أصحاب القول الثاني بما يأتي:
--------------------------------------------
দলীল প্রদানের পদ্ধতি (وجه الدلالة): এখানে 'লজ্জাস্থান' শব্দটি একটি জাতিবাচক বিশেষ্য (اسم جنس), ফলে নারীর সামনের লজ্জাস্থানও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ আভিধানিক ভাষায় 'ফারাজ' (লজ্জাস্থান) বলতে দুটি বস্তুর মধ্যবর্তী স্থানকে বোঝায় এবং এটি নারী ও পুরুষের সামনের ও পেছনের উভয় দ্বারকেই বোঝায়, তবে প্রচলিত ব্যবহারে এটি সামনের লজ্জাস্থানের ক্ষেত্রেই বেশি ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, এই ভিত্তিতে নারী তার নিজের লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে তার ওযু ভেঙে যাবে।১
২-আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে পুরুষই তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করবে সে যেন ওযু করে, আর যে নারীই তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করবে সে যেন ওযু করে।" ২
৩-আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দুর্ভোগ ওই সকল ব্যক্তিদের জন্য যারা তাদের লিঙ্গ স্পর্শ করে এবং ওযু না করেই সালাত আদায় করে।" আয়েশা (রা.) বললেন: "এটি তো পুরুষদের জন্য, তবে নারীদের ক্ষেত্রে বিধান কী?" তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমাদের কেউ যখন নিজের লজ্জাস্থান স্পর্শ করবে, সে যেন ওযু করে।" ৩
৪. আর যেহেতু নারী একজন মানুষ যে নিজের লজ্জাস্থান স্পর্শ করেছে, তাই পুরুষের ন্যায় তারও ওযু ভেঙে যাবে। ৪
দ্বিতীয় মতের প্রবক্তাগণ নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা দলীল পেশ করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল লামসি ফিত তাহারাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৫)
-أن الأصل عدم ورود دليل يدل على النقض1.
2-أن الحديث المشهور في مس الذكر وليس مس المرأة فرجها في معناه2.
3-أن مس الفرج لا يدعو إلى خروج خارج فلا ينقض الوضوء3.
4-أنه عضو منها فأشبه لمسه لمس سائر بدنها4.
وقد أجابوا عن حديث أم حبيبة بأن فيه انقطاعاً5، وحديث عمرو بن شعيب قالوا: إن الإمام أحمد سئل عنه فقال: ليس بذاك6.
وقد أجاب أصحاب القول الأول عن ذلك بأن حديث أم حبيبة حديث صحيح كما سبق تخريجه، وأن حديث عمرو بن شعيب حسن الإسناد صحيح المتن بما قبله كما سبق تخريجه.
والراجح في المسألة: أن المرأة إذا مست فرجها استحب لها الوضوء مطلقاً سواء مست بشهوة أم بغير شهوة، وإذا مست بشهوة فالقول بالوجوب قوي جداً وهو الأحوط.
--------------------------------------------
১- মূলকথা হলো, ওজু ভঙ্গ হওয়ার পক্ষে কোনো দলিল না থাকা।১।
২-প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিসটি পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার বিষয়ে, আর নারীর নিজের যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা এর সমার্থক বা অন্তর্ভুক্ত নয়।২।
৩-যৌনাঙ্গ স্পর্শ করলে সাধারণত কোনো কিছু নির্গত হওয়ার কারণ ঘটে না, তাই এটি ওজু ভঙ্গ করে না।৩।
৪-এটি তার শরীরেরই একটি অঙ্গ, তাই এটি স্পর্শ করা শরীরের অন্যান্য অঙ্গ স্পর্শ করার মতোই।৪।
উম্মে হাবিবা বর্ণিত হাদিসের ব্যাপারে তারা উত্তর দিয়েছেন যে, এতে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে।৫। আর আমর ইবনে শুআইব বর্ণিত হাদিসের ব্যাপারে তারা বলেন: ইমাম আহমাদকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: "এটি তেমন (শক্তিশালী) নয় (ليس بذاك)"।৬।
প্রথম মতের প্রবক্তারা এর উত্তরে বলেন যে, উম্মে হাবিবা বর্ণিত হাদিসটি সহিহ (صحيح), যেমনটি পূর্বে এর হাদিস শনাক্তকরণ (تخريج) আলোচনায় অতিক্রান্ত হয়েছে। আর আমর ইবনে শুআইব বর্ণিত হাদিসটির সনদ হাসান (حسن الإسناد) এবং পূর্ববর্তী বর্ণনার আলোকে এর মূলপাঠ বা মতন সহিহ (صحيح المتن), যেমনটি ইতিপূর্বে এর হাদিস শনাক্তকরণ (تخريج) আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মাসআলায় অধিকতর সঠিক (الراجح) মত হলো: নারী যদি তার যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে, তবে সর্বাবস্থায় তার জন্য ওজু করা মুস্তাহাব (مستحب); চাই সে কামভাবের সাথে স্পর্শ করুক বা কামভাব ছাড়া। আর যদি কামভাবের সাথে স্পর্শ করে, তবে ওজু ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার মতটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এটিই অধিকতর সতর্কতামূলক (الأحوط)।
--------------------------------------------