(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: -)
أحكام القضاء في الصيام القسم: مسائل فقهية
الكتاب: أحكام القضاء في الصيام
المؤلف: عواض بن هلال العمري
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: العدد 129 - السنة 37 - 1425
عدد الصفحات: 284
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রোজার কাজা পালনের বিধান বিভাগ: ফিকহি মাসয়ালাসমূহ
কিতাব: রোজার কাজা পালনের বিধান
লেখক: আওয়াদ বিন হিলাল আল-উমরি
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: সংখ্যা ১২৯ - বর্ষ ৩৭ - ১৪২৫
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৪
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২১৫)
ال
مقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلاّ الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم وبعد:
فقد شرع الله صيام رمضان على عباده المؤمنين.
قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ * أَيَّاماً مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْراً فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدىً لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} (1) .
روى الإمام أحمد وغيره عن معاذ بن جبل رضي الله عنه قال:
«أحيلت الصلاة ثلاثة أحوال، وأحيل الصيام ثلاثة أحوال، فأما أحوال الصلاة
… وأما أحوال الصيام: فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قدم المدينة فجعل يصوم من كل شهر ثلاثة أيام وصام عاشوراء، ثم إن الله فرض عليه الصيام، وأنزل الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ
--------------------------------------------
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের ওপর রমজানের সিয়াম বিধানবদ্ধ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার। নির্দিষ্ট কয়েক দিন। তবে তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তাহলে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। আর যাদের জন্য তা অত্যন্ত কষ্টকর, তাদের ওপর ফিদিয়া হলো একজন মিসকিনকে খাবার দান করা। অতঃপর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি তোমরা সিয়াম পালন কর, তবে তা তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়েতস্বরূপ এবং হেদায়েতের সুস্পষ্ট প্রমাণ ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের যে হেদায়েত দিয়েছেন সেজন্য তাঁর মহিমা ঘোষণা করতে পার এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।} (১)।
ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্যরা মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
«সালাত তিনটি পর্যায়ে পরিবর্তিত হয়েছে এবং সিয়াম তিনটি পর্যায়ে পরিবর্তিত হয়েছে। সালাতের পর্যায়গুলো হলো
… আর সিয়ামের পর্যায়গুলো হলো: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসার পর প্রতি মাসে তিন দিন এবং আশুরার রোজা রাখতেন। এরপর আল্লাহ তাঁর ওপর সিয়াম ফরজ করেন এবং মহান আল্লাহ নাযিল করেন: {হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২১৬)
قَبْلِكُمْ} . إلى قوله {وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ} . فكان من شاء صام ومن شاء أطعم مسكيناً فأجزأ ذلك عنه.
ثم إن الله عز وجل أنزل الآية الأخرى: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ} . إلى قوله {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} . فأثبت الله صيامه على المقيم الصحيح ورخص فيه للمريض والمسافر وثبت الإطعام للكبير الذي لا يستطيع الصيام، فهذان حالان.
قال: وكانوا يأكلون ويشربون ويأتون النساء مالم يناموا فإذا ناموا امتنعوا، ثم إن رجلاً من الأنصار يقال له صرمة ظل يعمل صائماً حتى أمسى فجاء إلى أهله فصلى العشاء ثم نام فلم يأكل ولم يشرب حتى أصبح فأصبح صائماً، قال: فرآه رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد جهد جهداً شديداً، قال مالي أراك قد جهدت جهداً شديداً؟ قال: يا رسول الله إني عملت أمس فجئت حين جئت فألقيت نفسي فنمت وأصبحت حين أصبحت صائماً، قال: وكان عمر قد أصاب من النساء بعد ما نام فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فذكر له ذلك فأنزل الله عز وجل: {أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ} إلى قوله: {ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ}
(1) » (2)
--------------------------------------------
...তোমাদের পূর্ববর্তীদের...} থেকে তাঁর বাণী: {আর যাদের জন্য তা অত্যন্ত কষ্টকর, তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে একজন মিসকিনকে অন্নদান করা (ফিদইয়া)} পর্যন্ত। তখন যার ইচ্ছা হতো রোজা রাখত এবং যার ইচ্ছা হতো মিসকিন খাওয়াত, আর তা তার জন্য যথেষ্ট হতো।
অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল অন্য আয়াতটি নাজিল করলেন: {রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে...} থেকে তাঁর বাণী: {সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে} পর্যন্ত। ফলে আল্লাহ সুস্থ ও নিজ এলাকায় অবস্থানকারী ব্যক্তির ওপর রোজা রাখা আবশ্যক করলেন এবং অসুস্থ ও মুসাফিরের জন্য তাতে শিথিলতা দিলেন এবং রোজা রাখতে অক্ষম বৃদ্ধ ব্যক্তির জন্য খাবার খাওয়ানো (ফিদইয়া) বহাল রাখলেন। এগুলো হলো রোজা প্রবর্তনের দুটি পর্যায়।
তিনি বলেন: তারা আহার ও পান করত এবং স্ত্রীদের নিকট গমন করত যতক্ষণ না ঘুমিয়ে পড়ত। যখনই তারা ঘুমিয়ে পড়ত, তখন থেকেই (পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত) তারা এসব থেকে বিরত থাকত। অতঃপর আনসারদের জনৈক ব্যক্তি, যাঁকে সিরমাহ বলা হতো, তিনি রোজা পালনরত অবস্থায় সারাদিন কাজ করলেন এবং সন্ধ্যা হয়ে গেল। এরপর তিনি নিজ পরিবারের কাছে এসে এশার সালাত আদায় করলেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন। ফলে তিনি কোনো কিছু আহার বা পান না করেই ভোর করলেন এবং রোজা পালন অবস্থায় সকালে উপনীত হলেন। বর্ণনাকারী বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে অত্যন্ত ক্লান্ত ও শ্রান্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে বললেন, "কী ব্যাপার, আমি তোমাকে এতোটা ক্লান্ত ও শ্রান্ত অবস্থায় দেখছি কেন?" তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আমি গতকাল কাজ করছিলাম, অতঃপর যখন বাড়িতে আসলাম তখনই আমি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। ফলে আমি রোজা অবস্থায় সকালে উপনীত হলাম।" বর্ণনাকারী বলেন: উমর ঘুমিয়ে পড়ার পর তাঁর স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছিলেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল নাজিল করলেন: {রোজার রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের কাছে যাওয়া হালাল করা হয়েছে...} থেকে তাঁর বাণী: {অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর} পর্যন্ত।
(১) » (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২১৭)
ولما كان الإنسان عرضة للوقوع في بعض الأعذار المبيحة للفطر في شهر رمضان كالمرض أو السفر، أو قد تغلبه شهوته بالأكل أو الشرب أو الجماع أثناء الصيام، وما يترتب على ذلك من قضاءٍ للأيام التي أفسد صومه فيها أحببت التعرف على أحكام القضاء من خلال ما كتبه العلماء رحمهم الله تعالى في مُؤَلَّفٍ سميته:
(أحكام القضاء في الصيام) .
وقد بذلت قصارى جهدي في جمع أقوال العلماء من الكتب المعتمدة مُؤيداً ذلك بالدليل ومُناقِشاً ما يستحق المناقشة من خلال ما قاله هؤلاء العلماء، ثم أخرج من كل مسألة بما أرى أنه الراجح الذي يؤيده الدليل.
فإن كنت قد وفقت في ذلك للصواب فهو من الله تعالى فله الحمد والشكر فهو المستحق لذلك، وإن كان غير ذلك فعذري أني من جملة البشر عرضة للخطأ والصواب ولا حول ولا قوة إلاّ بالله العلي العظيم.
* خطة البحث:
يتكون بحثي من مقدمة وتمهيد وثلاثة فصول وخاتمة.
যেহেতু মানুষ রমজান মাসে রোজা ভঙ্গের অনুমতি প্রদানকারী কিছু ওজরের সম্মুখীন হতে পারে, যেমন অসুস্থতা কিংবা সফর; অথবা সিয়াম পালনরত অবস্থায় পানাহার কিংবা যৌন মিলনের মাধ্যমে কুপ্রবৃত্তি তাকে পরাভূত করতে পারে এবং এর ফলে যে দিনগুলোর রোজা নষ্ট হয়েছে সেগুলোর কাজা (قضاء) আদায় করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, তাই আমি বিজ্ঞ আলেমদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) লেখনীর আলোকে কাজার (قضاء) বিধানসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য একটি সংকলন প্রস্তুত করার মনস্থ করেছি, যার নামকরণ করেছি:
(আহকামুল কাজা ফিস সিয়াম) ।
আমি নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ থেকে আলেমদের মতামত সংকলনে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং তা দলিল (دليل) দ্বারা সুসংহত করেছি; পাশাপাশি আলেমদের বক্তব্যের মধ্য থেকে যা পর্যালোচনার দাবি রাখে তা পর্যালোচনা করেছি। অতঃপর প্রতিটি মাসআলা (مسألة) থেকে আমি এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যা আমার নিকট অগ্রগণ্য (الراجح) এবং দলিল (دليل) দ্বারা সমর্থিত মনে হয়েছে।
আমি যদি এতে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সমর্থ হই, তবে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁরই প্রাপ্য। আর যদি এর অন্যথা হয়, তবে আমার ওজর এই যে, আমি সাধারণ মানুষেরই অন্তর্ভুক্ত যারা ভুল ও সঠিকের ঊর্ধ্বে নয়। মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপায় বা শক্তি নেই।
* গবেষণার রূপরেখা:
আমার গবেষণাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২১৮)
المقدمة في: الافتتاحية، وخطة البحث، ومنهجه.
والتمهيد في: تعريف الصوم، حكمه، أدلة مشروعيته.
الفصل الأول: قضاء الناسي والمتعمد ومن أنزل بدون جماع والمجامع نسياناً أو عمداً.
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: قضاء الناسي والمتعمد.
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: قضاء من أكل أو شرب ناسياً لصومه.
المطلب الثاني: قضاء من أكل أو شرب أو قاء متعمداً
المبحث الثاني: قضاء من أنزل بدون جماع.
المبحث الثالث: المجامع نسياناً أو عمداً.
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: قضاء من جامع ناسياً لصومه.
المطلب الثاني: قضاء من جامع متعمداً.
الفصل الثاني: في قضاء أصحاب الأعذار.
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: قضاء المريض والمسافر.
المبحث الثاني: قضاء الحامل ولمرضع.
المبحث الثالث: قضاء النائم والمغمى عليه.
الفصل الثالث: في القضاء عن الميت وصوم التطوع.
وفيه مبحثان:
ভূমিকা: প্রারম্ভিকা, গবেষণা পরিকল্পনা এবং পদ্ধতি প্রসঙ্গে।
উপক্রমণিকা: সওমের সংজ্ঞা, এর বিধান এবং এর শরয়ি বৈধতার প্রমাণাদি প্রসঙ্গে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: বিস্মৃত ব্যক্তি, স্বেচ্ছায় রোজা ভঙ্গকারী, সহবাস ব্যতীত বীর্যপাতকারী এবং ভুলবশত বা স্বেচ্ছায় সহবাসকারীর কাজা প্রসঙ্গে।
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: বিস্মৃত ও স্বেচ্ছায় রোজা ভঙ্গকারীর কাজা।
এতে দুটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: ভুলবশত পানাহারকারীর কাজা।
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: স্বেচ্ছায় পানাহার বা বমিকারীর কাজা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সহবাস ব্যতীত বীর্যপাতকারীর কাজা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ভুলবশত বা স্বেচ্ছায় সহবাসকারী।
এতে দুটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: ভুলবশত সহবাসকারীর কাজা।
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: স্বেচ্ছায় সহবাসকারীর কাজা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ওজরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাজা প্রসঙ্গে।
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: অসুস্থ ও মুসাফিরের কাজা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীর কাজা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নিদ্রিত ও বেহুঁশ ব্যক্তির কাজা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাজা এবং নফল রোজা প্রসঙ্গে।
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২১৯)
المبحث الأول: القضاء عن الميت.
المبحث الثاني: القضاء في التطوع.
الخاتمة في أهم نتائج البحث.
* منهج البحث:
سلكت في بحثي الخطوات الآتية:
درست المسائل الفقهية الواردة في البحث دراسة فقهية مقارنة وحرصت على بيان المذاهب الأربعة إلاّ من لم أجد له قولاً في المسألة، وأذكر أحياناً قول الظاهرية وبعض الصحابة والتابعين وغيرهم من الفقهاء.
إذا كانت المسألة من المسائل المجمع عليها ذكرت الإجماع فيها، وإذا كانت من غير ذلك ذكرت الأقوال فيها، ومن قال بها، ثم أذكر الأدلة وما قد يرد عليها من مناقشة، ثم أخرج بالقول الراجح منها.
ذكرت وجه الدلالة عند بعض الأدلة إذا نص المستدل على ذلك، وقد لا أذكر وجه الدلالة عند البعض الآخر لوضوحه.
اجتهد في نقل أقوال الفقهاء من مصادرها الأصيلة..
ذكرت أرقام الآيات القرآنية وأسماء السور التي وردت فيها.
خرّجت الأحاديث النبوية من كتب السنة بذكر رقم الجزء والصفحة واسم الكتاب والباب ورقم الحديث إن وجد، فإن كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما فقد اكتفى بهما أو بأحدهما وقد أزيد على ذلك، وإذا لم يكن الحديث في الصحيحين أو في أحدهما اجتهدت في تخريجه من كتب السنة مع ذكر درجة الحديث صحة وضعفاً معتمداً على الكتب المعنية بذلك.
خرّجت الآثار من الكتب المعتمدة في ذلك.
প্রথম পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাযা (قضاء) আদায় করা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নফল (تطوع) ইবাদতের কাযা (قضاء) আদায় করা।
উপসংহার: গবেষণার প্রধান ফলাফলসমূহ।
* গবেষণা পদ্ধতি:
আমি আমার গবেষণায় নিম্নোক্ত পদ্ধতিসমূহ অনুসরণ করেছি:
আমি গবেষণায় উল্লিখিত ফিকহি মাসআলাসমূহ তুলনামূলক ফিকহি পদ্ধতিতে অধ্যয়ন করেছি এবং চার মাযহাবের মতামত বর্ণনা করার ব্যাপারে যত্নশীল হয়েছি, কেবল সেই বিষয় ব্যতীত যেখানে কোনো মাযহাবের বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। ক্ষেত্রবিশেষে আমি জাহেরি মাযহাব, কিছু সাহাবী ও তাবেয়ীদের এবং অন্যান্য ফকিহদের বক্তব্য উল্লেখ করেছি।
যদি মাসআলাটি সর্বসম্মত (إجماع) বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তাতে ঐক্যমত (إجماع) উল্লেখ করেছি। আর যদি তা না হয়, তবে সেই বিষয়ে বিভিন্ন মতামত এবং প্রবক্তাদের নাম উল্লেখ করেছি। অতঃপর আমি দলিলসমূহ এবং সেগুলোর উপর সম্ভাব্য পর্যালোচনা নিয়ে আলোচনা করেছি, এরপর সেগুলোর মধ্য থেকে অধিকতর সঠিক (راجح) মতটি উপস্থাপন করেছি।
কোনো কোনো দলিলের ক্ষেত্রে প্রমাণের ধরণ (وجه الدلالة) বর্ণনা করেছি যদি সংশ্লিষ্ট দলিলদাতা তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে থাকেন; আবার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আমি তা উল্লেখ করিনি।
ফকিহগণের বক্তব্যসমূহ তাদের মূল উৎস থেকে উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেছি।
আমি পবিত্র কুরআনের আয়াতের নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট সূরার নাম উল্লেখ করেছি।
আমি সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ থেকে নবিজির হাদিসসমূহের সূত্রনির্দেশ (تخريج) করেছি। এক্ষেত্রে খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর, কিতাব ও অধ্যায়ের নাম এবং হাদিস নম্বর (যদি থাকে) উল্লেখ করেছি। হাদিসটি যদি সহিহাইন অথবা এর কোনো একটিতে থাকে, তবে কেবল তা বা উভয়ের উদ্ধৃতি প্রদানই যথেষ্ট মনে করেছি, কখনও এর অতিরিক্তও উল্লেখ করেছি। আর যদি হাদিসটি সহিহাইন বা এর কোনো একটিতে না থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করে হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف) বিষয়ক মান উল্লেখপূর্বক সুন্নাহর অন্যান্য কিতাব থেকে তা সূত্রনির্দেশ (تخريج) করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।
সাহাবী ও তাবেয়ীদের বর্ণনা (أثر) সমূহ সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে সূত্রনির্দেশ (تخريج) করেছি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২২০)
بينت معاني بعض الكلمات معتمداً على كتب اللغة.
لم أترجم للأعلام الوارد ذكرهم في البحث خشية الإطالة.
ختمت البحث بأهم النتائج التي توصلت إليها.
وضعت الفهارس التالية:
فهرس المصادر والمراجع.
فهرس الموضوعات.
আমি ভাষাতাত্ত্বিক গ্রন্থসমূহের ওপর ভিত্তি করে কিছু শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করেছি।
কলেবর বৃদ্ধির আশঙ্কায় আমি গবেষণায় উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের জীবনী (ترجمة) বর্ণনা করিনি।
গবেষণালব্ধ গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ উপস্থাপনের মাধ্যমে আমি গবেষণার সমাপ্তি টেনেছি।
আমি নিম্নোক্ত নির্ঘণ্টসমূহ তৈরি করেছি:
উৎস ও তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট।
বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২২১)
التمهيد:
تعريف الصوم وحكمه وأدلة مشروعيته
* تعريف الصوم:
الصوم في اللغة: الإمساك عن الشيء والترك له، وقيل للصائم صائم لإمساكه عن المطعم والمشرب والمنكح، وقيل للصامت صائم لإمساكه عن الكلام. (1)
وفي الشرع: إمساك مخصوص عن أشياء مخصوصة في زمن مخصوص من شخص مخصوص. (2)
قال السرخسي: إمساك مخصوص: وهو الكف عن قضاء الشهوتين شهوة البطن وشهوة الفرج.
من شخص مخصوص: وهو أن يكون مسلماً طاهراً من الحيض والنفاس.
في وقت مخصوص: وهو ما بعد طلوع الفجر إلى وقت غروب الشمس.
بصفة مخصوصة: وهو أن يكون على قصد التقرب. (3)
* حكمه وأدلة مشروعيته:
الصوم أحد أركان الإسلام الخمسة.
وقد دل على مشروعيته الكتاب والسنة والإجماع أما الكتاب فقول الله
(1) لسان العرب 4/2530 مادة (صوم) .
(2) المجموع 6/200، والمنتقى 2/35، والمغني 3/85، وكشاف القناع 2/349، والحاوي الكبير 3/394، وبدائع الصنائع 2/75 وفتح الباري 4/102.
(3) المبسوط 3/54.
উপক্রমণিকা:
সাওমের সংজ্ঞা, এর বিধান এবং এর বৈধতার প্রমাণসমূহ
* সাওমের সংজ্ঞা:
আভিধানিক (لغة) অর্থে সাওম: কোনো বস্তু থেকে বিরত থাকা এবং তা বর্জন করা। রোজাদারকে 'সায়েম' বলা হয় পানাহার ও যৌনসম্ভোগ থেকে বিরত থাকার কারণে; আর মৌনাবলম্বনকারীকে 'সায়েম' বলা হয় কথা বলা থেকে বিরত থাকার কারণে। (১)
শরিয়তের (شرع) পরিভাষায়: বিশেষ ব্যক্তি কর্তৃক বিশেষ সময়ে বিশেষ কিছু বিষয় থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে বিরত থাকা। (২)
আল-সরখসী বলেন: বিশেষ বিরত থাকা: আর তা হলো দুই প্রকার প্রবৃত্তি—উদর ও জননেন্দ্রিয়ের চাহিদা নিবৃত্ত করা।
বিশেষ ব্যক্তি থেকে: অর্থাৎ তাকে মুসলিম হতে হবে এবং ঋতুস্রাব (حيض) ও প্রসবোত্তর রক্তস্রাব (نفাস) থেকে পবিত্র হতে হবে।
বিশেষ সময়ে: আর তা হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়।
বিশেষ বৈশিষ্ট্যে: আর তা হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়ত করা। (৩)
* এর বিধান এবং এর বৈধতার প্রমাণসমূহ:
সাওম ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম।
এর বৈধতার প্রমাণ কুরআন, সুন্নাহ এবং ঐক্যমত (إجماع) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। কুরআন থেকে এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী—
(১) লিসানুল আরব ৪/২৫৩০, শব্দমূল: (صوم)।
(২) আল-মাজমু ৬/২০০, আল-মুনতাকা ২/৩৫, আল-মুগনি ৩/৮৫, কাশশাফুল কিনা ২/৩৪৯, আল-হাবি আল-কাবির ৩/৩৯৪, বাদায়েউস সানায়ে ২/৭৫ এবং ফাতহুল বারি ৪/১০২।
(৩) আল-মাবসুত ৩/৫৪।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২২২)
تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ. أَيَّاماً مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْراً فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدىً لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ..} . (1) وأما السنة فحديث ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، والحج، وصوم رمضان" (2) .
وأجمع المسلمون على وجوب صيام شهر رمضان (3) .
--------------------------------------------
আল্লাহ তায়ালা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে, তবে অন্য দিনগুলোতে তা পূরণ করে নেবে। আর যাদের জন্য তা অত্যন্ত কষ্টকর, তাদের ওপর ফিদইয়া হলো একজন মিসকিনকে খাবার দান করা। আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সৎকাজ করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর। আর রোজা রাখাই তোমাদের জন্য অধিকতর উত্তম, যদি তোমরা জানতে। রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে মানুষের হেদায়েত স্বরূপ এবং হেদায়েত ও সত্য-মিথ্যা পার্থক্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পায়, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে...}। (১) আর সুন্নাহ (السنة) থেকে প্রাপ্ত প্রমাণ হলো ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা" (২)।
আর মুসলিমগণ রমজান মাসের রোজা রাখার আবশ্যকতা (وجوب)-এর ওপর ঐক্যমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২২১)
ال
تمهيد:تعريف الصوم وحكمه وأدلة مشروعيته
* تعريف الصوم:
الصوم في اللغة: الإمساك عن الشيء والترك له، وقيل للصائم صائم لإمساكه عن المطعم والمشرب والمنكح، وقيل للصامت صائم لإمساكه عن الكلام. (1)
وفي الشرع: إمساك مخصوص عن أشياء مخصوصة في زمن مخصوص من شخص مخصوص. (2)
قال السرخسي: إمساك مخصوص: وهو الكف عن قضاء الشهوتين شهوة البطن وشهوة الفرج.
من شخص مخصوص: وهو أن يكون مسلماً طاهراً من الحيض والنفاس.
في وقت مخصوص: وهو ما بعد طلوع الفجر إلى وقت غروب الشمس.
بصفة مخصوصة: وهو أن يكون على قصد التقرب. (3)
* حكمه وأدلة مشروعيته:
الصوم أحد أركان الإسلام الخمسة.
وقد دل على مشروعيته الكتاب والسنة والإجماع أما الكتاب فقول الله
--------------------------------------------
উপক্রমণিকা:
রোজার সংজ্ঞা, এর বিধান এবং এর বৈধতার (مشروعية) প্রমাণসমূহ
* রোজার সংজ্ঞা:
আভিধানিক অর্থে রোজা: কোনো বস্তু থেকে বিরত থাকা এবং তা বর্জন করা। আহার, পানীয় এবং কামাচার থেকে বিরত থাকার কারণে রোজাদারকে 'সায়েম' বলা হয়, আর কথা বলা থেকে বিরত থাকার কারণে মৌন ব্যক্তিকে 'সায়েম' বলা হয়। (১)
শরিয়ত (شرع)-এর পরিভাষায়: নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় থেকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বিরত থাকা। (২)
ইমাম সারাখসি বলেন: নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বিরত থাকা: আর তা হলো দুই প্রকার কামনা—উদরের কামনা ও কামাঙ্গের কামনা পূরণ থেকে বিরত থাকা।
নির্দিষ্ট ব্যক্তি হতে: অর্থাৎ তাকে মুসলিম হতে হবে এবং ঋতুস্রাব ও নিফাস (সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব) থেকে পবিত্র হতে হবে।
নির্দিষ্ট সময়ে: আর তা হলো ফজর উদিত হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যে: আর তা হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়ত থাকা। (৩)
* এর বিধান ও বৈধতার (مشروعية) প্রমাণসমূহ:
রোজা ইসলামের পাঁচটি রুকনের (স্তম্ভ) একটি।
এর বৈধতার (مشروعية) ওপর কুরআন, সুন্নাহ (سنة) এবং ঐক্যমত্য (إجماع) প্রমাণ পেশ করেছে। কুরআন থেকে মহান আল্লাহর বাণী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২২২)
تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ. أَيَّاماً مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْراً فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدىً لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ..} . (1) وأما السنة فحديث ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، والحج، وصوم رمضان" (2) .
وأجمع المسلمون على وجوب صيام شهر رمضان (3) .
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা (الصيام) ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন; তবে তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আর যাদের জন্য তা অত্যন্ত কষ্টকর, তাদের ওপর ফিদইয়া (فدية) রয়েছে—একজন মিসকিনকে খাবার দান করা। তবে যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো সৎকাজ করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি তোমরা রোজা রাখো, তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে। রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়েত এবং হেদায়েত ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের সুস্পষ্ট প্রমাণস্বরূপ। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পায়, সে যেন তাতে রোজা রাখে...} (১)। আর সুন্নাহর (السنة) দলিল হলো ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল; নামাজ কায়েম করা; জাকাত প্রদান করা; হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা" (২)।
আর মুসলিমগণ রমজান মাসের রোজা আবশ্যক (وجوب) হওয়ার ওপর ঐক্যমতে (إجماع) পৌঁছেছেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২২৩)
الفصل الأول: قضاء الناسي والتعتمد زمن أنزل بدون جماع
المبحث الأول: قضاء الناسي والمتعمد
قضاء من أكل أو شرب ناسياً لصومه…الفصل الأول:
قضاء الناسي والمتعمد ومن أنزل بدون جماع
والمجامع نسياناً أو عمداً
المبحث الأول: قضاء الناسي والمتعمد
وفيه مطلبان:
المطلب الأول:
قضاء من أكل أو شرب ناسياً لصومه
لا خلاف بين الفقهاء الثلاثة أبي حنيفة (1) والشافعي (2) ، وأحمد (3) ، أن من أكل أو شرب ناسياً لصومه أن صومه صحيح ولا قضاء عليه لحديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا نسي فأكل وشرب فليتم صومه، فإنما أطعمه الله وسقاه» (4)
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ভুলকারী ও ইচ্ছাকৃতকারীর কাজা (قضاء) এবং সহবাস ব্যতীত বীর্যপাতকারীর বিধানপ্রথম পরিচ্ছেদ: ভুলকারী ও ইচ্ছাকৃতকারীর কাজা (قضاء)রোজার কথা ভুলে পানাহারকারীর কাজা (قضاء)…প্রথম পরিচ্ছেদ:
ভুলকারী, ইচ্ছাকৃতকারী এবং সহবাস ব্যতীত বীর্যপাতকারীর কাজা (قضاء)
এবং ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাসকারী
প্রথম পরিচ্ছেদ: ভুলকারী ও ইচ্ছাকৃতকারীর কাজা (قضاء)
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ:
রোজার কথা ভুলে পানাহারকারীর কাজা (قضاء)
তিন ফকিহ—আবু হানিফা (১), শাফেয়ী (২) এবং আহমাদ (৩)-এর মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, যে ব্যক্তি রোজার কথা ভুলে পানাহার করেছে, তার রোজা সঠিক (صحيح) এবং তার ওপর কোনো কাজা (قضاء) নেই। এর কারণ হলো আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস, যা নবী (সা.) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেছেন: «যখন কেউ (রোজার কথা) ভুলে যায় এবং পানাহার করে, সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। কারণ আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন এবং পান করিয়েছেন।» (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২২৪)
قال ابن دقيق العيد: فأمر بالإتمام، وسمي الذي يتم صوما. (1)
ورواه الدارقطني بلفظ: «إذا أكل الصائم ناسياً، أو شرب ناسياً، فإنما هو رزق ساقه الله إليه ولا قضاء عليه» ، وقال: إسناده صحيح، وكلهم ثقات (2) .
وقال مالك (3) وربيعة (4) : إذا أكل أو شرب ناسياً يفسد صوم الفرض وعليه القضاء دون الكفارة.
واستدل مالك على إيجاب القضاء بأن المطلوب منه صيام يوم تام لا يقع فيه خَرْم لقوله تعالى: {ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ} (5)
وهذا لم يأت به على التمام فهو باقٍ عليه، ولعل الحديث (6) في صوم التطوع لخفّته، وقد جاء في صحيحي البخاري ومسلم: "من نسي وهو صائم فأكل أو شرب فليتم صومه" (7) .
فلم يذكر قضاء ولا تعرض له، بل الذي تعرض له سقوط المؤاخذة
--------------------------------------------
ইবন দাকীক আল-ঈদ বলেন: তিনি রোজা পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যা পূর্ণ করা হয় তাকে রোজা হিসেবে অভিহিত করেছেন। (১)
দারাকুতনি এটি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «যখন কোনো রোজাদার ভুলে আহার করে বা পান করে, তবে তা কেবল রিজিক যা আল্লাহ তার নিকট পাঠিয়েছেন এবং তার ওপর কোনো কাজা নেই», এবং তিনি বলেছেন: এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح) এবং তারা সকলেই নির্ভরযোগ্য (ثقات) (২)।
ইমাম মালিক (৩) ও রাবিআ (৪) বলেন: যদি ভুলে আহার বা পান করা হয় তবে তা ফরজ রোজাকে নষ্ট করে দেয় এবং তার ওপর কাজা ওয়াজিব হয়, কাফফারা নয়।
ইমাম মালিক কাজা ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে এই দলিল পেশ করেছেন যে, ব্যক্তির নিকট থেকে এমন একটি পূর্ণ দিনের রোজা কাম্য যেখানে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো} (৫)
আর যেহেতু সে এটি পূর্ণরূপে সম্পন্ন করেনি, তাই এটি তার জিম্মায় রয়ে গেছে। আর সম্ভবত হাদিসটি (৬) নফল (تطوع) রোজার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এর শিথিলতার কারণে। অথচ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম-এ এসেছে: "যে ব্যক্তি রোজাদার থাকা অবস্থায় ভুলে আহার বা পান করল, সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে" (৭)।
সেখানে কাজার কথা উল্লেখ করা হয়নি এবং তা নিয়ে আলোচনাও করা হয়নি; বরং সেখানে কেবল জবাবদিহিতা বা গুনাহ মাফ হওয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২২৫)
والأمر بمضيه على صومه وإتمامه (1) .
قال القرطبي: هذا ما احتج به علماؤنا وهو صحيح، لولا ما صح عن الشارع، وقد جاء بالنص الصريح الصحيح ما رواه أبو هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من أفطر في شهر رمضان ناسياً فلا قضاء عليه ولا كفارة".
رواه الدارقطني وقال: تفرد به محمد بن مرزوق وهو ثقة عن الأنصاري (2) .
فزال الاحتمال وارتفع الإشكال والحمد لله ذي الجلال والكمال (3) وقال الداودي: لعل مالكاً لم يبلغه الحديث، أو أوله على رفع الإثم (4) .
الراجح:
أرى أن الراجح ما ذهب إليه الجمهور أن من أكل أو شرب ناسياً لصومه أن صومه صحيح ولا قضاء عليه لحديث أبي هريرة المتقدم. والله تعالى أعلم.
--------------------------------------------
এবং তাকে রোজা চালিয়ে যাওয়া ও তা পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (১)।
ইমাম কুরতুবী বলেন: আমাদের আলেমগণ এটিই দলিল হিসেবে পেশ করেছেন এবং এটি সঠিক (صحيح), যদি না শরিয়ত প্রবর্তক থেকে অন্য কিছু সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হতো। আর সুস্পষ্ট ও সহিহ (صحيح) বর্ণনা এসেছে যা আবু হুরায়রা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি রমজান মাসে ভুলে আহার করল, তার ওপর কোনো কাজা বা কাফফারা নেই।"
এটি দারাকুতনি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে মারজুক এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং আনসারী থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) (২)।
ফলে সংশয় দূর হলো এবং জটিলতা নিরসন হলো, আর সকল প্রশংসা মহান ও পূর্ণতার অধিকারী আল্লাহর (৩)। দাঊদী বলেন: সম্ভবত ইমাম মালিকের নিকট হাদিসটি পৌঁছেনি, অথবা তিনি গুনাহ মাফ হওয়ার অর্থে এর ব্যাখ্যা করেছেন (৪)।
অগ্রগণ্য মত:
আমি মনে করি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতটিই অগ্রগণ্য যে, যে ব্যক্তি ভুলে আহার করল বা পান করল তার রোজা সহিহ (صحيح) এবং তার ওপর কোনো কাজা ওয়াজিব নয়, কারণ উপরে আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞাত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২২৬)
المطلب الثاني:
قضاء من أكل أو شرب أوقاء متعمداً
من أكل أو شرب عامداً فإنه يفطر بذلك بدلالة الكتاب والسنة والإجماع.
أما الكتاب: فقوله تعالى: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ} (1) .
فأباح الله تعالى الأكل والشرب إلى غاية، وهي تبين الفجر، ثم أمر بالإمساك عنهما إلى الليل، لأن حكم ما بعد الغاية مخالف لما قبلها. (2)
وأما السنة: فحديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " والذي نفسي بيده لخلوف فم الصائم أطيب عند الله من ريح المسك، يترك طعامه وشرابه وشهوته من أجلي" (3)
وأما الإجماع: فأجمع العلماء على الفطر بالأكل والشرب، وممن نقل الإجماع فيه ابن المنذر. (4)
ويجب على من أكل أو شرب عامداً القضاء لما يأتي:
أولا: قياس من أكل أو شرب متعمداً في نهار رمضان في وجوب القضاء عليه على الواطئ (5) . في حديث أبي هريرة رضي الله عنه وقول النبي صلى الله
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:
ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহারকারী বা বমি বিচ্ছুরণকারীর কাজা (قضاء) আদায় সংক্রান্ত বিধান
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করবে, কুরআন, সুন্নাহ এবং ঐক্যমতের (إجماع) দলিলে তার রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
কুরআনের দলিলের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ পর্যন্ত না ভোরের সাদা রেখা রাতের কালো রেখা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। অতঃপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো।} (১) ।
আল্লাহ তাআলা একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত পানাহার করা বৈধ করেছেন, আর তা হলো ফজর স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত। এরপর তিনি উভয়টি থেকে রাত পর্যন্ত বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, কেননা সীমার পরবর্তী বিধান পূর্ববর্তী বিধানের বিপরীত হয়ে থাকে। (২)
সুন্নাহর দলিলের ক্ষেত্রে আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সা.) এরশাদ করেছেন: "যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক প্রিয়। সে আমার সন্তুষ্টির জন্যই তার খাদ্য, পানীয় ও প্রবৃত্তি বিসর্জন দেয়।" (৩)
ঐক্যমতের (إجماع) ক্ষেত্রে: আলেমগণ পানাহার করার মাধ্যমে রোজা ভঙ্গের ব্যাপারে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন। যারা এ ব্যাপারে ঐক্যমত (إجماع) বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুনযির তাদের মধ্যে অন্যতম। (৪)
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করবে, তার ওপর নিম্নোক্ত কারণে কাজা (قضاء) আদায় করা ওয়াজিব:
প্রথমত: রমজানের দিনে ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহারকারীকে কাজা (قضاء) আদায়ের বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে সহবাসকারীর ওপর কিয়াস (قياس) করা হয়েছে (৫)। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে এবং নবী (সা.)-এর বাণীতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২২৭)
عليه وسلم له: " صم يوماً مكانه " (1) .
ثانياً: أن المفطر وجب عليه الصوم بشهود الشهر، وقد انعدم الأداء عنه فيلزمه القضاء. (2)
ثالثاً: أن الله تعالى أوجب القضاء على المريض والمسافر مع وجود العذر، فلأن يجب مع عدم العذر أولى (3) .
رابعاً: قال ابن قدامة: متى أفطر بشيء من ذلك - ومنها الأكل والشرب متعمداً - فعليه القضاء لا نعلم في ذلك خلافاً. (4)
--------------------------------------------
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বলেছিলেন: "তার পরিবর্তে একদিন রোজা রাখো" (১)।
দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি রোজা ভঙ্গ করেছে, মাসটি প্রত্যক্ষ করার কারণে তার ওপর রোজা রাখা আবশ্যক ছিল; যেহেতু তার পক্ষ থেকে সেই রোজাটি সময়মতো আদায় করা সম্ভব হয়নি, তাই তার ওপর কাজা (قضاء) করা আবশ্যক। (২)
তৃতীয়ত: মহান আল্লাহ ওজর থাকা সত্ত্বেও অসুস্থ ও মুসাফিরের ওপর কাজা (قضاء) করা আবশ্যক করেছেন; সুতরাং কোনো ওজর ব্যতীত রোজা ভঙ্গ করলে কাজা করা আরো বেশি অগ্রাধিকারযোগ্য (৩)।
চতুর্থত: ইবনে কুদামা বলেন: যখনই কেউ এর কোনোটির মাধ্যমে—যার মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার অন্তর্ভুক্ত—রোজা ভঙ্গ করবে, তখন তার ওপর কাজা (قضاء) করা আবশ্যক; এ বিষয়ে আমাদের জানা মতে কোনো মতভেদ নেই। (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২২৮)
أما القيء فالجمهور من الفقهاء -أبو حنيفة (1) ومالك (2) والشافعي (3) وأحمد (4) -: أن من استقاء فعليه القضاء، ومن ذرعه القيء فلا شيء عليه. والأصل في ذلك حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من ذرعه القيء فليس عليه قضاء، ومن استقاء فليقض» (5) .
قال ابن المنذر: وأجمعوا على أنه لا شيء على الصائم إذا ذرعه القيء.
وقال: وأجمعوا على إبطال صوم من استقاء عامداً. (6)
--------------------------------------------
বমির ক্ষেত্রে ফুকাহাদের জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) — আবু হানিফা (১), মালিক (২), শাফিঈ (৩) এবং আহমাদ (৪) — এর অভিমত হলো: যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বমি করে তার ওপর কাজা (قضاء) করা আবশ্যক, আর যার অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি বেরিয়ে আসে তার ওপর কোনো বিধান নেই। এর মূল ভিত্তি হলো আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "যার অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয় তার ওপর কোনো কাজা (قضاء) নেই, আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বমি করে সে যেন কাজা (قضاء) আদায় করে।" (৫) .
ইবনুল মুনযির বলেন: আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, রোজাদারের অনিচ্ছাকৃত বমি হলে তার ওপর কোনো কিছু ওয়াজিব হয় না।
তিনি আরও বলেন: আলেমগণ এ বিষয়েও একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বমি করে তার রোজা বাতিল হয়ে যাবে। (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২২৯)
وقال الخطابي: لا أعلم خلافاً بين أهل العلم في أن من ذرعه القيء فإنه لا قضاء عليه، ولا في أن من استقاء عامداً أن عليه القضاء. (1)
وقال ابن قدامة: من استقاء فعليه القضاء، ومن ذرعه فلا شيء عليه، هذا قول عامة أهل العلم. (2)
ومعنى استقاء: أي تسبب لخروجه قصداً. (3)
وذرعه القيء: أي سبقه وغلبه في الخروج. (4)
--------------------------------------------
আল-খাত্তাবি বলেছেন: আমি আলেমগণের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ (خلاف) জানি না যে, যার অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি (ذرعه القيء) হয়ে যায় তার ওপর কোনো কাজা (قضاء) নেই, আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি (استقاء) করে তার ওপর কাজা (قضاء) ওয়াজিব। (১)
ইবনে কুদামা বলেছেন: যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি (استقاء) করবে তার ওপর কাজা (قضاء) ওয়াজিব, আর যার অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি (ذرعه) হয়ে যায় তার ওপর কোনো দায় নেই; এটিই সাধারণ আলেমগণের অভিমত। (২)
‘ইস্তিকা’ (استقاء) এর অর্থ হলো: উদ্দেশ্যমূলকভাবে বমি বের করার ব্যবস্থা করা। (৩)
‘যারআহু আল-কায়’ (ذرعه القيء) এর অর্থ হলো: অনিচ্ছাকৃতভাবে এবং প্রবলভাবে বমি বেরিয়ে আসা। (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৩০)
المبحث الثاني: القضاء من أنزل بدون جماع…المبحث الثاني: قضاء من أنزل بدون جماع
لا خلاف بين الفقهاء الأربعة - أبي حنيفة (1) ، ومالك (2) ، والشافعي (3) وأحمد (4) - أن المباشرة فيما دون الفرج، والتقبيل، واللمس، توجب القضاء إذا صاحب ذلك إنزال للمني، وكان عامداً لا ناسياً، لما ورد عن جابر بن عبد الله رضي الله قال: قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: هششت فقبّلت وأنا صائم، فقلت: يا رسول الله صنعت اليوم أمراً عظيماً، قبّلت وأنا صائم، قال: "أرأيت لو مضمضت من الماء وأنت صائم" قلت: لا بأس به، قال: "فمه"؟ (5) فوجه الدلالة: أن النبي صلى الله عليه وسلم شبّه القبلة بالمضمضة من حيث إنها من
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সহবাস ব্যতিরেকে বীর্যপাতকারীর কাজা…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সহবাস ব্যতিরেকে যার বীর্যপাত হয়েছে তার কাজা
চার ফকিহ—আবু হানিফা (১), মালিক (২), শাফিঈ (৩) এবং আহমাদ (৪)-এর মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, যৌনাঙ্গ ব্যতিরেকে সরাসরি স্পর্শ (মুবাশারাত), চুম্বন এবং স্পর্শ করা কাজা আবশ্যক করে যদি তার ফলে বীর্যপাত ঘটে এবং তা ইচ্ছাকৃত হয়, বিস্মৃত অবস্থায় নয়। এর কারণ জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: "আমি উৎফুল্ল হয়ে রোজা রাখা অবস্থায় (আমার স্ত্রীকে) চুম্বন করলাম। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আজ আমি এক বিরাট কাজ করে ফেলেছি, আমি রোজা রাখা অবস্থায় চুম্বন করেছি। তিনি বললেন: 'আপনার কি অভিমত, যদি আপনি রোজা রাখা অবস্থায় পানি দিয়ে কুলি করতেন?' আমি বললাম: এতে কোনো অসুবিধা নেই। তিনি বললেন: 'তবে চুম্বনে সমস্যা কোথায়?'" (৫) দলিলের দিক হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চুম্বনকে কুলির সাথে তুলনা করেছেন এই দিক থেকে যে, এটি হচ্ছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৩১)
مقدمات الشهوة، وأن المضمضمة إذا لم يكن معها نزول الماء لم يفطر، وإن كان معها نزوله أفطر، فدل على أن القبلة مثلها (1) .
أما إذا لم ينْزل فلا يفسد صومه بذلك لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: «كان النبي صلى الله عليه وسلم يقّبل ويباشر وهو صائم، وكان أملككم لإربه» (2)
والاستمناء باليد يوجب القضاء عند الشافعية (3) ، والحنابلة (4) . لأنه إنزال عن مباشرة فهو كالقبلة في إثارة الشهوة (5) أما إذا قبّل فأمذى، أو كرّر النظر فأنزل فقد اختلف الفقهاء فيه على قولين:
القول الأول: أن من قبّل فأمذى، أو كررّ النظر فأنزل، فعليه القضاء، لأنه قد أفسد صومه، وبه قال مالك (6) ، وأحمد (7) ، وعطاء، والحسن البصري، والحسن بن صالح (8) .
القول الثاني: لا قضاء عليه وصومه صحيح. وبه قال أبو حنيفة (9) ، والشافعي (10) وجابر بن زيد، وسفيان الثوري، وأبو ثور (11) .
--------------------------------------------
কামভাবের প্রারম্ভিক কার্যাবলি; এবং কুলি করার ক্ষেত্রে যদি পানি ভেতরে না যায় তবে রোজা ভঙ্গ হয় না, আর যদি পানি ভেতরে প্রবেশ করে তবে রোজা ভঙ্গ হয়। এটি প্রমাণ করে যে, চুম্বনও এর অনুরূপ (১)।
পক্ষান্তরে যদি বীর্যপাত না ঘটে, তবে এর দ্বারা রোজা নষ্ট হয় না; কারণ আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: «নবী করীম (সা.) রোজা থাকা অবস্থায় চুম্বন করতেন এবং স্পর্শ করতেন, আর তিনি ছিলেন তোমাদের মধ্যে নিজ কামভাব নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে অধিক সক্ষম» (২)।
শাফেয়ি (৩) ও হাম্বলিদের (৪) মতে হস্তমৈথুনের ফলে কাজা (قضاء) ওয়াজিব হয়। কেননা এটি সরাসরি স্পর্শের মাধ্যমে বীর্যপাত, তাই কামভাব জাগ্রত করার ক্ষেত্রে এটি চুম্বনের ন্যায় (৫)। আর যদি কেউ চুম্বন করে এবং এর ফলে মজি (مذي) নির্গত হয়, অথবা বারবার দৃষ্টিপাতের ফলে বীর্যপাত ঘটে, তবে এ বিষয়ে ফকিহগণ (فقهاء) দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:
প্রথম মত: যে ব্যক্তি চুম্বন করার ফলে মজি (مذي) নির্গত হয় অথবা বারবার দৃষ্টিপাতের ফলে বীর্যপাত ঘটে, তার ওপর কাজা (قضاء) আবশ্যক। কেননা এতে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। ইমাম মালিক (৬), আহমদ (৭), আতা, হাসান বসরী ও হাসান ইবনে সালিহ (৮) এই মত পোষণ করেছেন।
দ্বিতীয় মত: তার ওপর কোনো কাজা (قضاء) নেই এবং তার রোজা সহিহ (صحيح)। ইমাম আবু হানিফা (৯), শাফেয়ি (১০), জাবির ইবনে যায়েদ, সুফিয়ান সাওরি এবং আবু সাওর (১১) এই মত ব্যক্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৩২)
الأدلة: استدل أصحاب القول الأول بما يأتي:
أولاً: أن المذي خارج تتخلله الشهوة، خرج بالمباشرة فأفسد الصوم كالمني (1) .
ثانياً: أن من أنزل بتكرار النظر يفسد صومه، لأنه إنزال بفعل يلتذ به كاللمس، ولأنه نوع من الاستمتاع يكون بالنظر كما يكون بالمباشرة (2)
واستدل أصحاب القول الثاني بما يأتي:
أولاً: أن من نظر وتلذذ فأنزل لم يبطل صومه، لأنه إنزال من غير مباشرة فلم يُبطل الصوم، كما لو نام فاحتلم، أو أنزل بالفكر. ولأن النظر ليس بجماع، لأنه ليس بقضاء للشهوة، بل هو سبب لحصول الشهوة (3)
ويجاب عنه: بأن الفكر لا يمكن التحرز منه بخلاف تكرار النظر (4) .
ثانياً: أن من قبّل امرأة وتلذذ فأمذى ولم يمن لم يفطر، لأنه خارج لا يوجب الغسل، فأشبه البول (5) .
الراجح:
أرى أن الراجح أن من قبّل فأمذى، أو كرّر النظر فأمنى، أن صيامه قد فسد وعليه القضاء، وهو ما ذهب إليه أصحاب القول الأول للأدلة العقلية التي ذكروها، ولأن هذا من باب الاحتياط في العبادة والله تعالى أعلم.
--------------------------------------------
প্রমাণসমূহ: প্রথম মতের প্রবক্তাগণ নিম্নলিখিত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
প্রথমত: মজি (المذي) হলো এমন নির্গত বস্তু যা কামভাবের সাথে বের হয়। এটি স্পর্শের মাধ্যমে নির্গত হওয়ায় সিয়ামকে নষ্ট করে দেয়, যেমনটি মনি (المني) (১) এর ক্ষেত্রে হয়।
দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি বারবার তাকানোর মাধ্যমে বীর্যপাত (إنزال) ঘটায়, তার সিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ এটি এমন একটি কর্মের মাধ্যমে বীর্যপাত (إنزال) যা দ্বারা তৃপ্তি পাওয়া যায়, যেমন স্পর্শের ক্ষেত্রে হয়। আর এটি এক প্রকার উপভোগ (استمتاع) যা তাকানোর মাধ্যমে অর্জিত হয়, যেমনটা সরাসরি স্পর্শের মাধ্যমে হয়ে থাকে (২)।
এবং দ্বিতীয় মতের প্রবক্তাগণ নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
প্রথমত: যে ব্যক্তি তাকাল এবং তৃপ্তি পেল, অতঃপর বীর্যপাত (إنزال) ঘটল, তার সিয়াম বাতিল হবে না। কারণ এটি সরাসরি স্পর্শ ছাড়া বীর্যপাত (إنزال), তাই এটি সিয়ামকে বাতিল করবে না; যেমন কেউ ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নদোষ (احتلام) হলে অথবা চিন্তার মাধ্যমে বীর্যপাত (إنزال) ঘটলে (সিয়াম ভঙ্গ হয় না)। তাছাড়া তাকানো কোনো যৌন মিলন (جماع) নয়; কারণ এটি কামভাব চরিতার্থ করা নয়, বরং এটি কামভাব জাগ্রত হওয়ার একটি কারণ মাত্র (৩)।
এর উত্তরে বলা হয়: চিন্তা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়, যা বারবার তাকানোর বিষয়ের বিপরীত (অর্থাৎ বারবার তাকানো থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব) (৪)।
দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি স্ত্রীকে চুম্বন করল এবং তৃপ্তি পেল, ফলে তার মজি (المذي) নির্গত হলো কিন্তু মনি (المني) নির্গত হয়নি, তার সিয়াম ভঙ্গ হবে না। কারণ এটি এমন নির্গত বস্তু যা গোসল (غسل) ওয়াজিব করে না, ফলে এটি প্রস্রাবের সদৃশ (৫)।
অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত (الراجح):
আমি মনে করি যে, অধিকতর গ্রহণযোগ্য (الراجح) মত হলো—যে ব্যক্তি চুম্বন করার ফলে মজি (المذي) নির্গত করল অথবা বারবার তাকানোর ফলে মনি (المني) নির্গত করল, তার সিয়াম নষ্ট হয়ে গেছে এবং তার ওপর কাজা (قضاء) করা আবশ্যক। প্রথম মতের প্রবক্তাগণ যে যৌক্তিক দলিলসমূহ উল্লেখ করেছেন তার ভিত্তিতে এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে এটিই অধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৩৩)
المبحث الثالث: قضاء المجامع نسياناً أو عمداً
المطلب الأول: قضاء من جامع ناسياً…المبحث الثالث: قضاء المجامع نسياناً أو عمداً
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: قضاء من جامع ناسياً
اختلف الفقهاء في من جامع ناسياً لصومه هل يجب عليه شيء أم لا؟
على ثلاثة أقوال:
القول الأول: لا قضاء عليه ولا كفارة. وبه قال أبو حنيفة (1) ، والشافعي (2) ، والحسن البصري (3) ، ومجاهد (4) ، والثوري (5) ، وإسحاق بن راهويه (6) ، وأبو ثور (7) ، وداود (8) ، وأحمد في رواية (9) .
القول الثاني: عليه القضاء دون الكفارة. وبه قال مالك في المشهور (10) ،
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাসকারীর কাজা (قضاء) আদায়
প্রথম অনুচ্ছেদ: ভুলবশত সহবাসকারীর কাজা (قضاء) আদায়…তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাসকারীর কাজা (قضاء) আদায়
এতে দুইটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ভুলবশত সহবাসকারীর কাজা (قضاء) আদায়
রোজার কথা ভুলে গিয়ে যে ব্যক্তি সহবাস করেছে, তার ওপর কোনো কিছু ওয়াজিব হবে কি না, সে বিষয়ে ফকিহগণ মতভেদ করেছেন।
এ বিষয়ে তিনটি অভিমত রয়েছে:
প্রথম মত: তার ওপর কোনো কাজা (قضاء) নেই এবং কোনো কাফফারা (كفارة) নেই। ইমাম আবু হানিফা (১), ইমাম শাফেঈ (২), হাসান বসরী (৩), মুজাহিদ (৪), সুফিয়ান সাওরী (৫), ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (৬), আবু সাওর (৭), দাউদ (৮) এবং ইমাম আহমাদ একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী (৯) এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
দ্বিতীয় মত: তার ওপর কাজা (قضاء) ওয়াজিব, তবে কাফফারা (كفارة) নয়। ইমাম মালিক তাঁর প্রসিদ্ধ (المشهور) মত অনুযায়ী (১০) এই কথা বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৩৪)
والأوزاعي (1) ، والليث (2) ، وعطاء في رواية (3) .
القول الثالث: عليه القضاء والكفارة. وبه قال أحمد في رواية (المذهب) وعبد الملك بن الماجشون ورواه عن مالك (4) ، وبعض أهل الظاهر (5) وعطاء في رواية (6) .
الأدلة:
استدل أصحاب القول الأول بحديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من نسي وهو صائم فأكل أو شرب فليتم صومه فإنما أطعمه الله وسقاه" (7) .
قالوا: فنص على الأكل والشرب وقسنا عليه كل ما يبطل الصوم من الجماع وغيره (8) .
وورد بلفظ: " من أفطرفي شهر رمضان ناسياً فلا قضاء عليه ولا كفارة " (9) .
--------------------------------------------
এবং আওযাঈ (১), আল-লাইস (২) এবং এক বর্ণনায় (رواية) আতা (৩)।
তৃতীয় মত: তার ওপর কাজা (قضاء) এবং কাফফারা (كفارة) ওয়াজিব। ইমাম আহমাদ এক বর্ণনায় (رواية) (যা মাযহাবের সিদ্ধান্ত) এই মত পোষণ করেছেন এবং আব্দুল মালিক ইবনে মাজিশুনও এটি বলেছেন এবং তিনি এটি মালিক (৪) থেকে বর্ণনা করেছেন (رواه), এছাড়া কিছু যাহেরি মতাবলম্বী (৫) এবং এক বর্ণনায় (رواية) আতা (৬) এই কথা বলেছেন।
দলীলসমূহ:
প্রথম মতের প্রবক্তাগণ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি রোজা থাকা অবস্থায় ভুলবশত আহার করল বা পান করল, সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। কারণ আল্লাহই তাকে আহার করিয়েছেন ও পান করিয়েছেন" (৭)।
তাঁরা বলেন: এখানে পানাহার সম্পর্কে সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) প্রদান করা হয়েছে এবং আমরা এর ওপর ভিত্তি করে সহবাস ও রোজা ভঙ্গকারী অন্যান্য বিষয়গুলোকে কিয়াস (قسنا) করেছি (৮)।
এবং এটি এই শব্দে (لفظ) বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি রমজান মাসে ভুলবশত রোজা ভেঙে ফেলল (أفطر), তার ওপর কোনো কাজা (قضاء) নেই এবং কোনো কাফফারাও (كفارة) নেই" (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৩৫)
قال الكاساني (1) : والقياس أنه يفسد - أي صوم من أكل أو شرب أو جامع - وإن كان ناسياً لوجود ضد الركن حتى قال أبو حنيفة: لولا قول الناس لقلت يقضي أي لولا قول الناس أن أبا حنيفة خالف الأمر لقلت يقضي لكنا تركنا القياس بالنص وهو ما روي عن أبي هريرة (2)
وقال المرغيناني: وإذا ثبت هذا في حق الأكل والشرب ناسياً ثبت في الوقاع للاستواء في الركنية (3) .
واستدل أصحاب القول الثاني بما يأتي:
أولاً: حديث ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن الله وضع عن أمتي الخطأ والنسيان وما استكرهوا عليه" (4)
--------------------------------------------
কাসানি (১) বলেন: কিয়াস বা যুক্তি অনুসারে তা নষ্ট হয়ে যাবে—অর্থাৎ যে ব্যক্তি ভুলবশত পানাহার করল বা সহবাস করল তার রোজা—কেননা রুকনের বিপরীত বিষয় পাওয়া গেছে। এমনকি ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: মানুষের কথা (সমালোচনা) না থাকলে আমি কাজার কথা বলতাম। অর্থাৎ যদি মানুষের এই কথা না থাকত যে, আবু হানিফা নির্দেশের বিরোধিতা করেছেন, তবে আমি কাজার নির্দেশ দিতাম। কিন্তু আমরা দলিলের ভিত্তিতে কিয়াস পরিত্যাগ করেছি এবং তা হলো আবু হুরায়রা (২) থেকে বর্ণিত হাদিস।
মারগিনানি বলেন: যদি ভুলবশত পানাহারের ক্ষেত্রে এটি সাব্যস্ত হয়, তবে সহবাসের ক্ষেত্রেও তা সাব্যস্ত হবে, কারণ রুকন হিসেবে উভয়টি সমান (৩)।
দ্বিতীয় মত পোষণকারীরা নিম্নোক্ত দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন:
প্রথমত: ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিস, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুলবশত করা কাজ, বিস্মৃতি এবং যা করতে তাদের বাধ্য করা হয়, তা ক্ষমা করেছেন।" (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৩৬)
ثانياً: أنه أفطر ناسياً كالأكل، ولأن الكفارة الكبرى في الفطر تتبع الإثم بدليل انتفائها مع عدمه (1) .
واستدل أصحاب القول الثالث على وجوب الكفارة بحديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: «بينما نحن جلوس عند النبي صلى الله عليه وسلم إذ جاءه رجل فقال: يا رسول الله هلكت، قال: مالك؟ قال: وقعت على إمراتي وأنا صائم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هل تجد رقبة تعتقها؟ قال لا، قال: فهل تستطيع أن تصوم شهرين متتابعين؟ قال لا، قال: فهل تجد إطعام ستين مسكيناً؟ قال لا، قال فمكث النبي صلى الله عليه وسلم فبينا نحن على ذلك أُتى النبي صلى الله عليه وسلم بَعَرقٍ فيه تمر- والعرق: المكتل- قال: أين السائل؟ فقال أنا، قال: خذ هذا فتصدق به، فقال الرجل، على أفقر مني يا رسول الله؟ فوالله ما بين لابتيها - يريد الحرتين - أهل بيت أفقر من أهل بيتي، فضحك النبي صلى الله عليه وسلم حتى بدت أنيابه ثم قال: "أطعمه أهلك" (2) .
وأما وجوب القضاء فلحديث أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال للمجامع "صم يوماً مكانه " (3) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: সে আহার করার মতোই ভুলবশত রোজা ভঙ্গ করেছে। আর রোজা ভঙ্গের ক্ষেত্রে বড় কাফফারা গুনাহের অনুবর্তী হয়; যার প্রমাণ হলো গুনাহের অনুপস্থিতিতে কাফফারার বিলুপ্তি (১)।
তৃতীয় মতের অনুসারীরা কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তিনি বলেন: ‘একদা আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসুল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার কী হয়েছে? সে বলল: আমি রোজা রাখা অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমার কি কোনো দাস আছে যা তুমি মুক্ত করতে পারো? সে বলল: না। তিনি বললেন: তবে কি তুমি একটানা দুই মাস রোজা রাখতে সক্ষম? সে বলল: না। তিনি বললেন: তবে কি তুমি ষাটজন মিসকিনকে খাওয়ানোর সামর্থ্য রাখো? সে বলল: না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন। আমরা এই অবস্থায় থাকতেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট একটি ‘আরাক’ (খেজুরের ঝুড়ি) আনা হলো যাতে খেজুর ছিল। ‘আরাক’ হলো বড় ঝুড়ি। তিনি বললেন: প্রশ্নকারী কোথায়? লোকটি বলল: আমি। তিনি বললেন: এটি নাও এবং সদকা করে দাও। তখন লোকটি বলল: হে আল্লাহর রাসুল! আমার চেয়েও বেশি অভাবী কাউকে? আল্লাহর কসম! মদিনার এই দুই শিলাময় এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে আমার পরিবারের চেয়ে বেশি অভাবী আর কোনো পরিবার নেই। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হেসে দিলেন, এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়ল। অতঃপর তিনি বললেন: এটি তোমার পরিবারকেই খাওয়াও’ (২)।
আর কাজা ওয়াজিব হওয়ার দলিল হলো আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহবাসকারী ব্যক্তিকে বলেছিলেন: ‘এর পরিবর্তে একদিন রোজা রাখো’ (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৩৭)
وجه الدلالة: أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يستفسر من الرجل هل كان جماعه عن عمد أو نسيان، ولو افترق الحال لسأل واستفصل (1) .
قال ابن حجر: والجواب أنه قد تبين حاله بقوله «هلكت» و «احترقت» (2) فدل على أنه كان عامدا ًعارفاً بالتحريم (3) .
الراجح:
أرى أن الراجح في هذه المسألة ما ذهب إليه أصحاب القول الأول وهو أن الصائم إذا جامع ناسياً لصومه فصومه صحيح ولا قضاء عليه ولا كفارة لعموم حديث أبي هريرة المستدل به.
قال ابن قدامة: ونقل أحمد بن القاسم عنه - أي الإمام أحمد - كل أمر غلب عليه الصائم ليس عليه قضاء ولا غيره.
قال أبو الخطاب: هذا يدل على إسقاط القضاء والكفارة مع الإكراه والنسيان (4)
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: والمجامع الناسي فيه ثلاثة أقوال في مذهب أحمد وغيره (وذكر الأقوال الثلاثة المتقدمة حسب ترتيبها) ثم قال: والأول أظهر، فإنه قد ثبت بدلالة الكتاب والسنة أن من فعل محظوراً مخطئاً أو ناسياً لم
--------------------------------------------
দলীল প্রদানের ধরণ (وجه الدلالة): নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই লোকটির কাছে জানতে চাননি যে তার সহবাস কি ইচ্ছাকৃত ছিল নাকি বিস্মৃতিবশত (نسيان) ছিল। যদি অবস্থার ভিন্নতায় বিধানের পার্থক্য হতো, তবে তিনি অবশ্যই জিজ্ঞাসা করতেন এবং বিস্তারিত জানতে চাইতেন (১)।
ইবনে হাজার বলেন: এর উত্তর হলো, তার অবস্থা তার এই উক্তি দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, "আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি" এবং "আমি পুড়ে গিয়েছি" (২)। যা প্রমাণ করে যে, সে ইচ্ছাকৃতভাবে এবং হারাম হওয়ার বিষয়টি জানা থাকা সত্ত্বেও এটি করেছিল (৩)।
অধিকতর সঠিক (الراجح) মত:
আমি মনে করি যে, এই মাসআলায় অধিকতর সঠিক (الراجح) মত হলো প্রথম মতের অনুসারীদের বক্তব্য। আর তা হলো, সিয়াম পালনকারী যদি রোজা থাকা অবস্থায় বিস্মৃতিবশত (ناسي) সহবাস করে, তবে তার রোজা সঠিক (صحيح) হবে এবং তার উপর কোনো কাযা (قضاء) বা কাফফারা (كفارة) নেই; আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসের ব্যাপকতার কারণে যা দলীল হিসেবে পেশ করা হয়েছে।
ইবনে কুদামাহ বলেন: আহমাদ ইবনে আল-কাসিম তাঁর (অর্থাৎ ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণনা করেছেন—এমন প্রতিটি বিষয় যা সিয়াম পালনকারীর ওপর অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে যায়, তার জন্য কোনো কাযা (قضاء) বা অন্য কিছু নেই।
আবুল খাত্তাব বলেন: এটি বাধ্য করা হলে এবং বিস্মৃতিবশত (النسيان) হলে কাযা (قضاء) ও কাফফারা (كفارة) রহিত হওয়ার প্রমাণ বহন করে (৪)
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: বিস্মৃতিবশত (الناسي) সহবাসকারীর ব্যাপারে আহমাদ ও অন্যদের মাযহাবে তিনটি মত রয়েছে (অতঃপর তিনি পূর্বে উল্লিখিত তিনটি মত ক্রমানুসারে উল্লেখ করেছেন)। এরপর তিনি বলেন: প্রথম মতটিই অধিক স্পষ্ট (أظهر)। কেননা কুরআন ও সুন্নাহর প্রমাণের ভিত্তিতে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ভুলবশত বা বিস্মৃতিবশত (ناسي) কোনো নিষিদ্ধ কাজ করবে, তার...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৩৮)
يؤاخذه الله بذلك وحينئذ يكون بمنزلة من لم يفعله، فلا يكون عليه إثم، ومن لا إثم عليه لم يكن عاصياً ولا مرتكباً لما نهى عنه، وحينئذ فيكون قد فعل ما أُمر به ولم يفعل ما نُهى عنه، ومثل هذا لا يبطل عبادته، إنما يبطل العبادات إذا لم يفعل ما أُمر به أو فعل ما حُظر عليه. (1)
--------------------------------------------
আল্লাহ তাকে এর জন্য পাকড়াও করবেন না এবং এমতাবস্থায় তিনি এমন ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত হবেন যে এটি করেনি, ফলে তার ওপর কোনো গুনাহ থাকবে না। আর যার ওপর কোনো গুনাহ নেই, সে অবাধ্য নয় এবং যা থেকে তাকে নিষেধ করা হয়েছে তা সম্পাদনকারীও নয়। এমতাবস্থায় সে যা আদিষ্ট হয়েছিল তা সম্পাদন করেছে এবং যা থেকে তাকে নিষেধ করা হয়েছিল তা করেনি। এই জাতীয় বিষয় তার ইবাদতকে বাতিল করে দেয় না; বরং ইবাদত কেবল তখনই বাতিল হয় যখন আদিষ্ট বিষয় পালন করা হয় না অথবা যা তার ওপর নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা সম্পাদন করা হয়। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৩৮)
المطلب الثاني: قضاء من جامع متعمداًالجمهور من الفقهاء على أن من جامع في الفرج في نهار شهر رمضان بلا عذر، أنزل أو لم ينْزل، أنه يفسد صومه إذا كان عامداً، ويجب عليه القضاء (1) .
لما روى أبو هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر الذي واقع أهله في رمضان بقضائه فقال: "صم يوماً مكانه" (2) .
وقال الأوزاعي وبعض أصحاب الشافعي: إن كفّر بالصوم لا يجب عليه
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাসকারীর কাজা (قضاء)অধিকাংশ ফকিহগণের (فقهاء) মতে, রমজান মাসের দিনের বেলায় কোনো প্রকার ওজর ব্যতীত যদি কেউ যৌনাঙ্গে সহবাস করে—বীর্যপাত হোক বা না হোক—তবে ইচ্ছাকৃতভাবে (عامداً) করার কারণে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে এবং তার ওপর কাজা (قضاء) ওয়াজিব হবে (১)।
যেহেতু আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজান মাসে নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাসকারী ব্যক্তিকে তা কাজা (قضاء) করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: "তার পরিবর্তে একদিন রোজা পালন করো" (২)।
ইমাম আওযায়ী এবং শাফেয়ী মাযহাবের কতিপয় ফকিহ বলেছেন: যদি সে রোজার মাধ্যমে কাফফারা (كفارة) আদায় করে, তবে তার ওপর কাজা ওয়াজিব হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৩৯)
القضاء، لأنه من جنسه، وإن كفّر بالعتق أو الإطعام وجب عليه القضاء. (1)
قال النووي: وفي وجوب قضاء ذلك اليوم طريقان: أحدهما: يجب، والثاني: فيه ثلاثة أقوال: أصحها: وجوبه، والثاني: لا يجب وتندرج فيه الكفارة، والثالث: إن كفّر بالصوم لم يجب وإلاّ وجب.
وقال البندنيجي: أومأ الشافعي رضي الله عنه في الأم إلى قولين، سواء كفّر بالصوم أم بغيره (2) بدليل أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يأمر الأعرابي بالقضاء (3) .
والجواب عنه أن الأمر بالقضاء وإن لم يرد في بعض الأحاديث الواردة في قصة الأعرابي، فقد ورد صريحاً في حديث أبي هريرة المتقدم. (4)
--------------------------------------------
কাজা (قضاء), কারণ এটি তার স্বজাতীয়। আর যদি সে দাসের মুক্তি বা অন্নদানের মাধ্যমে কাফফারা আদায় করে, তবে তার ওপর কাজা (قضاء) ওয়াজিব হবে। (১)
ইমাম নববী বলেছেন: ঐ দিনের কাজা (قضاء) ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে দুটি সূত্র রয়েছে: প্রথমটি হলো, তা ওয়াজিব; দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে তিনটি মত রয়েছে: এর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) মতটি হলো তা ওয়াজিব হওয়া। দ্বিতীয়টি হলো ওয়াজিব নয় এবং কাফফারার মধ্যেই তা অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। তৃতীয়টি হলো, যদি রোজার মাধ্যমে কাফফারা আদায় করা হয় তবে ওয়াজিব হবে না, অন্যথায় ওয়াজিব হবে।
আল-বানদানিজী বলেছেন: ইমাম শাফেয়ী (রা.) আল-উম্ম কিতাবে দুটি মতের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, চাই সে রোজার মাধ্যমে কাফফারা আদায় করুক বা অন্য কিছুর মাধ্যমে (২)। এর দলীল হলো, নবী (সা.) সেই গ্রাম্য ব্যক্তিকে কাজার (قضاء) নির্দেশ দেননি (৩)।
এর উত্তর হলো, যদিও গ্রাম্য ব্যক্তির ঘটনায় বর্ণিত কিছু হাদিসে কাজার (قضاء) নির্দেশ উল্লেখ নেই, কিন্তু আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসে এটি স্পষ্টভাবে (صريحاً) বর্ণিত হয়েছে। (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল কাদায়ি ফিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৪০)
الفصل الثاني: قضاء أصحاب الأعذار
المبحث الأول: قضاء المريض والمسافر…الفصل الثاني:
قضاء أصحاب الأعذار
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: قضاء المريض والمسافر
من كان مريضاً في شهر رمضان فخاف إن صام أن تلحقه مشقة بازدياد مرضه، أو طوله، فيسن له الفطر، ويجب عليه القضاء إذا بريء، لقوله تعالى: {فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} . (1)
قال ابن قدامة: ويلزم المسافر والحائض والمريض القضاء إذا أفطروا، بغير خلاف، ثم ذكر الآية السابقة وقال: والتقدير: فأفطر (2) .
فإن صام أثناء مرضه أجزأه وبهذا قال الجمهور - الحنفية (3) ، والمالكية (4) ، والشافعية (5) ، والحنابلة (6) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ওজরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাজা রোজা
প্রথম অনুচ্ছেদ: অসুস্থ ও মুসাফিরের কাজা রোজা…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:
ওজরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাজা রোজা
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: অসুস্থ ও মুসাফিরের কাজা রোজা
রমজান মাসে কেউ যদি অসুস্থ হয় এবং রোজা রাখলে তার রোগ বৃদ্ধি বা প্রলম্বিত হওয়ার কারণে কষ্টের আশঙ্কা থাকে, তবে তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা সুন্নাহ (سنة) এবং সুস্থ হওয়ার পর তা কাজা করা ওয়াজিব (واجب)। কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে কেউ অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তাকে অন্যান্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করতে হবে}। (১)
ইবনে কুদামা বলেন: মুসাফির, ঋতুবতী নারী এবং অসুস্থ ব্যক্তি যদি রোজা ভঙ্গ করে, তবে কোনো দ্বিমত ছাড়াই তাদের ওপর কাজা করা আবশ্যক। এরপর তিনি পূর্বোক্ত আয়াতটি উল্লেখ করেন এবং বলেন: আয়াতের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এর উহ্য অর্থ হলো: ‘অতঃপর সে রোজা ভঙ্গ করল’ (২)।
যদি কেউ অসুস্থ অবস্থায় রোজা পালন করে, তবে তা যথেষ্ট (مجزئ) হবে। জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিম এই মত পোষণ করেছেন—হানাফি (৩), মালিকি (৪), শাফেয়ি (৫) এবং হাম্বলি (৬)।
--------------------------------------------