(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: -)
أحاديث القراءة الواردة في صلاتي الظهر والعصر   (إبراهيم العبيد)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: أحاديث القراءة الواردة في صلاتي الظهر والعصر

المؤلف: إبراهيم بن علي بن عبيد العبيد

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة السادسة والثلاثون, العدد 125 - 1424هـ/2004م

عدد الصفحات: 158

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

যোহর ও আসর সালাতে ক্বিরাত সংক্রান্ত বর্ণিত হাদিসসমূহ   (ইব্রাহিম আল-উবাইদ)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: যোহর ও আসর সালাতে ক্বিরাত সংক্রান্ত বর্ণিত হাদিসসমূহ

লেখক: ইব্রাহিম ইবন আলি ইবন উবাইদ আল-উবাইদ

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: ৩৬তম বর্ষ, সংখ্যা ১২৫ - ১৪২৪ হিজরি/২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

আল-শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ৮৯)
ال‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمد اً عبده ورسوله.

أما بعد:

فهذا بحث متواضع جمعت فيه الأحاديث الواردة في قراءة النبي صلى الله عليه وسلم في صلاة الظهر والعصر والجمعة، وسميته: “أحاديث القراءة في صلاتي الظهر والعصر”1.

وقسمته إلى مقدمة ومبحثين:

المبحث الأول: الأحاديث الواردة في القراءة في صلاتي الظهر والعصر.

المبحث الثاني: الأحاديث الواردة في القراءة في صلاة الجمعة.

وخاتمة اشتملت على أهم النتائج في هذا البحث.

وقد جمعت مادة هذا البحث من كتب السنة من مظانها مع تخريجها والحكم عليها على حسب قواعد المحدثين، فإن كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما فإني أكتفي بالعزو إليهما أو أحدهما ومن أخرجه من بقية أصحاب الكتب الستة دون غيرهم فإن لم يكن في الصحيحين أو أحدهما فإني أجتهد في تخريجه من دواوين السنة الصحاح والمسانيد والسنن والمعاجم وكتب الزوائد وغيرها.

- رتبت الأحاديث في كل مبحث على حسب درجتها الصحيحة فالحسنة فالضعيفة ما لم يكن الحديث الضعيف له شاهد من الأحاديث الصحيحة أو الحسنة فإني أجعله عقبه للعلاقة بينهما.

--------------------------------------------

1 هاتان الصلاتان جعلتهما في مبحث واحد لأن غالب الأحاديث جمعت بينهما.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

অতঃপর:

এটি একটি বিনম্র গবেষণা যেখানে আমি জোহর, আসর এবং জুমার সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিরাত পাঠ সংক্রান্ত হাদিসগুলো সংকলন করেছি এবং এর নামকরণ করেছি: “জোহর ও আসর সালাতে কিরাত সংক্রান্ত হাদিসসমূহ”১।

আমি একে একটি ভূমিকা এবং দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: জোহর ও আসর সালাতে কিরাত পাঠ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জুমার সালাতে কিরাত পাঠ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ।

এবং একটি উপসংহার যা এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো অন্তর্ভুক্ত করে।

আমি এই গবেষণার উপাদানসমূহ সুন্নাহর মূল উৎসসমূহ থেকে সংগ্রহ করেছি এবং মুহাদ্দিসগণের নীতিমালা অনুযায়ী সেগুলোর উৎস নির্দেশ (تخريج) ও মান নির্ধারণ (الحكم) করেছি। যদি হাদিসটি বুখারি ও মুসলিম বা এই দুইটির যেকোনো একটিতে থাকে, তবে আমি শুধু সেই গ্রন্থদ্বয় বা যেকোনো একটির উদ্ধৃতি এবং কুতুবে সিত্তার অন্যান্য সংকলক যারা এটি বর্ণনা করেছেন তাদের উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি। আর যদি হাদিসটি বুখারি ও মুসলিম বা এই দুইটির কোনোটিতে না থাকে, তবে আমি সুন্নাহর অন্যান্য ভাণ্ডার যেমন সহিহ গ্রন্থসমূহ, মুসনাদ, সুনান, মুজাম, যাওয়াইদ ও অন্যান্য কিতাব থেকে এর উৎস নির্দেশ (تخريج) করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।

- আমি প্রতিটি পরিচ্ছেদে হাদিসগুলোকে সেগুলোর মান (الدرجة) অনুযায়ী সাজিয়েছি; প্রথমে সহিহ (صحيح), অতঃপর হাসান (حسن) এবং এরপর দুর্বল (ضعيف)। তবে কোনো দুর্বল (ضعيف) হাদিসের যদি কোনো সহিহ (صحيح) বা হাসান (حسن) সমর্থক বর্ণনা (شاهد) থাকে, তবে আমি উভয় বর্ণনার মধ্যকার সম্পর্কের কারণে সেটিকে তার পরেই উল্লেখ করেছি।

--------------------------------------------

১ এই দুটি সালাতকে আমি একটি পরিচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত করেছি কারণ অধিকাংশ হাদিসে এই দুইটিকে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ৯০)
- إذا صح الحديث من أحد طرقه فإني لا ألتزم الحكم على جميع طرق الحديث اكتفاء بصحته.

- أنقل أقوال أهل العلم في الحكم على الحديث إن وجدت.

- إذا كان ضعف الحديث ظاهرا فإني لا أستطرد في الكلام عليه.

- أترجم للرواة الّذين تدعو الحاجة إلى الترجمة لهم ـ كمن يدور عليه الحكم على الحديث ـ من كتاب الكاشف للحافظ الذهبي والتقريب للحافظ ابن حجر ما لم أخالفهما بناء على كلام حفاظ آخرين فإني أبين ذلك.

- إذا لم يكن الراوي من رجال التقريب والكاشف فإني أترجم له من كتب الجرح والتعديل الأخرى.

- أبين الغريب الّذي يحتاج إلى بيان من كتب الغريب واللغة.

- عمل الفهارس العلمية.

- فهرس الآيات.

- فهرس الأحاديث.

- فهرس الأعلام.

- فهرس المصادر والمراجع.

- فهرس المواضيع.

هذا وقد بذلت جهدي في إخراج هذا البحث فما كان فيه من صواب فمن توفيق الله عز وجل وما كان فيه من خطأ فأسأل الله العفو والتوفيق للصواب إنه ولي ذلك والقادر عليه.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
- যদি হাদিসটি এর কোনো একটি সূত্রে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়, তবে এর বিশুদ্ধতার ওপর নির্ভর করে আমি হাদিসটির সকল সূত্রের ওপর হুকুম প্রদানের বাধ্যবাধকতা রাখি না।

- হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে আলেমগণের বক্তব্য পাওয়া গেলে আমি তা উদ্ধৃত করি।

- যদি হাদিসের দুর্বলতা (ضعف) স্পষ্ট হয়, তবে আমি সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করি না।

- যেসব বর্ণনাকারীর জীবনী উল্লেখ করার প্রয়োজন হয়—যেমন যাদের ওপর হাদিসের হুকুম আবর্তিত হয়—তাদের জীবনী আমি হাফেজ যাহাবীর আল-কাশিফ এবং হাফেজ ইবনে হাজারের আত-তাকরিব গ্রন্থ থেকে সংকলন করি; যতক্ষণ না অন্যান্য হাফেজদের বক্তব্যের ভিত্তিতে আমি তাঁদের সাথে দ্বিমত পোষণ করি। দ্বিমত পোষণ করলে আমি তা ব্যাখ্যা করি।

- যদি বর্ণনাকারী তাকরিব ও কাশিফ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত না হন, তবে আমি অন্যান্য জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ থেকে তাঁর জীবনী সংকলন করি।

- আমি দুষ্পাঠ্য বা অপরিচিত (غريب) শব্দসমূহ, যা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়, তা অভিধান ও গারিবুল হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ থেকে ব্যাখ্যা করি।

- গবেষণামূলক নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র প্রস্তুতকরণ।

- আয়াতের নির্ঘণ্ট।

- হাদিসের নির্ঘণ্ট।

- ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।

- উৎস ও সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি।

- বিষয়সূচি।

আমি এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে আমার সাধ্যমতো প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। এতে যা সঠিক হয়েছে তা মহান আল্লাহর তাওফিক স্বরূপ, আর যা ভুল হয়েছে তার জন্য আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং সঠিক বিষয়ের তাওফিক কামনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।

আমাদের নবি মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবির ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ৯১)
‌‌المبحث الأول: الأحاديث الواردة في القراءة في صلاتي الظهر والعصر

الحديث الأول:

عن جابر بن سمرة رضي الله عنه قال: قال عمر لسعد: لقد شكوك في كل شيء حتى الصلاة قَال: فأما أنا فأمد في الأولين وأحذف في الآخرين ولا آلو ما اقتديت به من صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: صدقت ذاك الظن بك أو ظني بك.

أخرجه البخاري1 ومسلم2 والنسائي3 عن أبي عون وعبد الملك بن عمير وأبو داود4 عن أبي عون كلاهما عن جابر به.

وفي لفظ للبخاري5 من طريق عبد الملك بن عمير “أما أنا فإني كنت أصلي بهم صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم ما أخرم عنها أصلي صلاة العشاء فأركد في الأولين وأخف في الآخرين …” ولمسلم نحوه دون ذكر العشاء.

وفي لفظ للبخاري6 من طريق عبد الملك بن عمير: كنت أصلي بهم صلاة

--------------------------------------------

1 في صحيحه (1/ 266 – رقم 736) كتاب صفة الصلاة باب ما يقول في الأولين ويحذف في الآخرين. وانظر رقم (722) .

2 في صحيحه (11/ 334، 335 رقم 453) كتاب الصلاة باب القراءة في الظهر والعصر.

3 في سننه (2، 174 رقم 1002، 1003) كتاب الاستفتاح، باب الركود في الركعتين الأوليين.

4 في سننه (1/ 505 رقم 803) كتاب الصلاة، باب تخفيف الأخريين.

5 في صحيحه (1/ 262، 263 رقم 722) كتاب صفة الصلاة، باب وجوب القراءة للإمام والمأموم في الصلوات كلها في الحضر والسفر وما يجهر فيها وما يخافت.

6 في صحيحه (1/ 185) كتاب الصلاة، باب القراءة في الظهر وهذا الحديث ساقط من طبعة د/ مصطفى البغا وإنما وجدته في طبعة إستنبول، وفي فتح الباري لابن رجب (7/ 5) وأشار إليه الحافظ في الفتح (2/ 238) .
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: যোহর ও আসরের সালাতে কিরাত পাঠ বিষয়ক বর্ণিত হাদিসসমূহ

প্রথম হাদিস:

জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর (রা.) সাদ (রা.)-কে বললেন: "লোকেরা আপনার বিরুদ্ধে সব বিষয়ে অভিযোগ করেছে, এমনকি সালাত নিয়েও।" তিনি (সাদ) বললেন: "আমি তো প্রথম দুই রাকাতে (কিরাত) দীর্ঘ করি এবং শেষ দুই রাকাতে তা সংক্ষিপ্ত করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের অনুকরণে আমি কোনো ত্রুটি করি না।" উমর (রা.) বললেন: "আপনি সত্য বলেছেন, আপনার সম্পর্কে এটাই আমার ধারণা" অথবা "এটাই আপনার ব্যাপারে আমার সুধারণা।"

এটি বুখারি (১), মুসলিম (২) ও নাসায়ি (৩) আবু আউন ও আবদুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে এবং আবু দাউদ (৪) আবু আউন থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই জাবির (রা.) থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

বুখারির (৫) একটি পাঠে (لفظ) আবদুল মালিক ইবনে উমাইরের সূত্রে (طريق) বর্ণিত হয়েছে: "আমি তাদের নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের মতোই সালাত আদায় করতাম, তাতে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করতাম না। আমি এশার সালাত আদায়ের সময় প্রথম দুই রাকাতে স্থির থাকতাম এবং শেষ দুই রাকাতে সংক্ষিপ্ত করতাম..."। মুসলিম অনুরূপ (نحوه) বর্ণনা করেছেন তবে তাতে এশার উল্লেখ নেই।

বুখারির (৬) অন্য একটি পাঠে (لفظ) আবদুল মালিক ইবনে উমাইরের সূত্রে (طريق) বর্ণিত: "আমি তাদের নিয়ে সালাত আদায় করতাম..."

--------------------------------------------

১. তার সহিহ গ্রন্থে (১/২৬৬ – নম্বর ৭৩৬), কিতাব: সালাতের বৈশিষ্ট্য, পরিচ্ছেদ: যা প্রথম দুই রাকাতে বলা হয় এবং শেষ দুই রাকাতে যা সংক্ষিপ্ত করা হয়। আরও দেখুন নম্বর (৭২২)।

২. তার সহিহ গ্রন্থে (১১/৩৩৪, ৩৩৫ নম্বর ৪৫৩), কিতাব: সালাত, পরিচ্ছেদ: যোহর ও আসরে কিরাত পাঠ।

৩. তার সুনানে (২/১৭৪ নম্বর ১০০২, ১০০৩), কিতাব: সালাত শুরু করা, পরিচ্ছেদ: প্রথম দুই রাকাতে স্থির থাকা।

৪. তার সুনানে (১/৫০৫ নম্বর ৮০৩), কিতাব: সালাত, পরিচ্ছেদ: শেষ দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত করা।

৫. তার সহিহ গ্রন্থে (১/২৬২, ২৬৩ নম্বর ৭২২), কিতাব: সালাতের বৈশিষ্ট্য, পরিচ্ছেদ: মুসাফির ও মুকিম অবস্থায় ইমাম ও মুক্তাদির জন্য সকল সালাতে কিরাত পাঠের আবশ্যকতা এবং যে সালাতে উচ্চস্বরে ও যে সালাতে নিচুস্বরে কিরাত পড়তে হয়।

৬. তার সহিহ গ্রন্থে (১/১৮৫), কিতাব: সালাত, পরিচ্ছেদ: যোহরে কিরাত পাঠ। এই হাদিসটি ড. মুস্তফা আল-বুগার সংস্করণে বাদ পড়েছে (ساقط), তবে আমি এটি ইস্তাম্বুল সংস্করণে পেয়েছি এবং ইবনে রাজাবের ফাতহুল বারিতে (৭/৫) এটি রয়েছে; হাফিজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারিতে (২/২৩৮) এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ৯২)
رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاتي العشي لا أخرم عنهما، كنت أركد في الأوليين وأحذف في الأخريين، فقال عمر: ذاك الظن بك”.

و”صلاتي العشي” المراد بهما الظهر والعصر كما قَاله الحافظان ابن رجب وابن حجر.

قَال ابن رجب1: صلاة العشي: هي صلاة الظهر والعصر لأن العشي هو ما بعد الزوال.

وقَال أيضا2: وقد روي حديث سعد هذا بثلاثة ألفاظ:

أحدها: هذا وهو ذكر الصلاة مطلقا.

والثاني: ذكر صلاة العشي والمراد صلاة الظهر والعصر.

والثالث: ذكر صلاة العشاء فإن كان محفوظا كان الأنسب ذكره في هذا الباب، وإنما خرجه البخاري في صلاة الظهر والعصر وخرج هاهنا الرواية المطلقة التي يدخل فيها كل صلاة رباعية لقوله: “أمد في الأوليين وأحذف في الأخريين”.

وقَال الحافظ ابن حجر3 عقب قوله: (أصلي صلاة العشاء) كذا هنا بالفتح والمد للجميع غير الجرجاني فقال: العشي، وفي الباب الّذي بعده4 “صلاتي العشي” بالكسر والتشديد لهم إلا الْكُشْمِيهَنِي، ورواه أبو داود

--------------------------------------------

1 فتح الباري (7/ 5) .

2 فتح الباري (7/ 49) .

3 الفتح (2/ 238)

4 لم أجد هذا الحديث الّذي أشار إليه الحافظ في الباب الّذي بعده وإنما وجدته في فتح الباري لابن رجب (7/5) وكذا في صحيح البخاري طبعة إستانبول كما تقدم.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্ধ্যকালীন (العشي) দুই নামাজের ন্যায়; আমি তা থেকে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করি না। আমি প্রথম দুই রাকাতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করি এবং শেষ দুই রাকাতে সংক্ষেপ করি। তখন উমর (রা.) বললেন: "আপনার সম্পর্কে আমার ধারণা এমনই ছিল।"

এবং "সান্ধ্যকালীন (العشي) দুই নামাজ" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জোহর ও আসর, যেমনটি দুই হাফেজ ইবনে রজব ও ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন।

ইবনে রজব ১ বলেন: সান্ধ্যকালীন (العشي) নামাজ হলো জোহর ও আসর নামাজ, কারণ সূর্য ঢলে পড়ার পরের সময়কেই সান্ধ্যকাল (العشي) বলা হয়।

তিনি আরও বলেন ২: সা’দ-এর এই হাদিসটি তিনটি শব্দে বর্ণিত হয়েছে:

প্রথমটি: এটি, যেখানে নামাজের কথা সাধারণভাবে (مطلقا) উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়টি: সান্ধ্যকালীন (العشي) নামাজের উল্লেখ, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জোহর ও আসর নামাজ।

তৃতীয়টি: এশার নামাজের উল্লেখ; যদি এটি সংরক্ষিত (محفوظا) হয়ে থাকে, তবে এই অধ্যায়ে এর উল্লেখ করাটাই অধিকতর উপযুক্ত ছিল। ইমাম বুখারি এটি কেবল জোহর ও আসর নামাজের অধ্যায়ে সংকলন করেছেন এবং এখানে সেই সাধারণ (المطلقة) বর্ণনাটি এনেছেন যার অন্তর্ভুক্ত চার রাকাত বিশিষ্ট প্রতিটি নামাজই হতে পারে; কারণ তার উক্তি হলো: "আমি প্রথম দুই রাকাতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করি এবং শেষ দুই রাকাতে সংক্ষেপ করি।"

হাফেজ ইবনে হাজার ৩ তার উক্তি—(আমি এশার নামাজ পড়ি)—এর পরবর্তী অংশে বলেন: জুরজানি ব্যতীত সবার নিকট এখানে শব্দটির উচ্চারণ ফাতহা ও মাদ্দ যোগে (العشاء) বর্ণিত হয়েছে; তবে জুরজানি বলেছেন: সান্ধ্যকালীন (العشي)। আর পরবর্তী অধ্যায়ে ৪ কুশমিহানি ব্যতীত সবার বর্ণনায় কাসরা ও তাশদিদ যোগে "সান্ধ্যকালীন দুই নামাজ (صلاتي العشي)" এসেছে, এবং এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ ফাতহুল বারি (৭/৫)।

২ ফাতহুল বারি (৭/৪৯)।

৩ আল-ফাতহ (২/২৩৮)।

৪ হাফেজ ইবনে হাজার পরবর্তী যে অধ্যায়ের প্রতি ইশারা করেছেন সেখানে আমি এই হাদিসটি পাইনি; তবে আমি এটি ইবনে রজব-এর ফাতহুল বারি (৭/৫) এবং পূর্বে উল্লেখিত ইস্তাম্বুল সংস্করণের সহিহ বুখারি-তে পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ৯৩)
الطيالسي في مسنده1 عن أبي عوانة بلفظ: “صلاتي العشي” وكذا في رواية عبد الرزاق2 عن معمر، وكذا لزائدة في صحيح أبي عوانة3 وهو الأرجح ويدل عليه التثنية والمراد بهما الظهر والعصر، ولا يبعد أن تقع التثنية في المدود ويراد بهما المغرب والعشاء لكن يعكر عليه قوله: “الأخريين” لأن المغرب إنما لها أخرى واحدة والله أعلم.

الحديث الثاني:

عن سليمان بن يسار4 عن أبي هريرة رضي الله عنه أنه قَال: ما رأيت رجلاً أشبه بصلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من فلان لإمام كان بالمدينة. قَال سليمان بن يسار: فصليت خلفه فكان يطيل الأوليين من الظهر ويخفف الأخريين، ويخفف العصر ويقرأ في الأوليين من المغرب بقصار المفصل ويقرأ في الأوليين من العشاء من وسط المفصل ويقرأ في الغداة بطوال المفصل.

أخرجه النسائي5 عن عبد الله بن الحارث وابن ماجه6

--------------------------------------------

(30 رقم 217)

2 في مصنفه (2/ 360 رقم 3706) كتاب الصلاة باب الصلاة ما يطول منها وما يحذف لكنه عنده بلفظ (صلاة العشاء)

(2/ 150) كتاب الصلاة، باب صفة المواخاة بين أصحاب النبي عليه السلام لكنه وقع عنده “صلاتي العشاء”.

4 سليمان بن يسار الهلالي المدني، مولى ميمونة، وقيل: أم سلمة ثقة، فاضل، أحد الفقهاء السبعة، من كبار الثالثة، مات بعد المائة، وقيل قبلها. ع. الكاشف (1/ 321) التقريب (255) .

5 في سننه (2/ 167 رقم 983) كتاب الاستفتاح، باب القراءة في المغرب بقصار المفصل.

6 في سننه (1/ 270، 271 رقم 827) كتاب إقامة الصلاة، باب القراءة في الظهر والعصر.
আত-তায়ালিসি তাঁর মুসনাদে (১) আবু আওয়ানা থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "বিকালে দুই নামাজ" (صلاتي العشي)। একইভাবে আবদুর রাজ্জাকের (২) বর্ণনায় মা'মার থেকে এসেছে এবং যায়িদাহ-এর বর্ণনায় সহিহ আবু আওয়ানায় (৩) এসেছে। আর এটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য (الأرجح)। দ্বিবচন (التثنية) এর ব্যবহার এর প্রমাণ দেয় এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জোহর ও আসর। এবং এটি অসম্ভব নয় যে, সময়ের ব্যাপ্তির (المدود) ক্ষেত্রে দ্বিবচন (التثنية) ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর দ্বারা মাগরিব ও এশা উদ্দেশ্য; তবে "পরবর্তী দুই রাকাত" (الأخريين) কথাটি এর পরিপন্থী, কারণ মাগরিবের কেবল একটিই পরবর্তী রাকাত রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

দ্বিতীয় হাদিস:

সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (৪) থেকে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: মদিনার অমুক ইমামের চেয়ে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নামাজের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ নামাজ পড়তে আমি আর কাউকে দেখিনি। সুলায়মান ইবনে ইয়াসার বলেন: আমি তাঁর পেছনে নামাজ পড়েছি; তিনি জোহরের প্রথম দুই রাকাত (الأوليين) দীর্ঘ করতেন এবং পরবর্তী দুই রাকাত (الأخريين) হালকা করতেন, আসর হালকা করতেন, মাগরিবের প্রথম দুই রাকাতে (الأوليين) মুফাসসালের ছোট সূরাগুলো (قصار المفصل) পাঠ করতেন, এশার প্রথম দুই রাকাতে (الأوليين) মুফাসসালের মাঝারি সূরাগুলো (وسط المفصل) পাঠ করতেন এবং ফজরের নামাজে মুফাসসালের বড় সূরাগুলো (طوال المفصل) পাঠ করতেন।

এটি নাসায়ি (৫) আবদুল্লাহ ইবনে হারিস থেকে এবং ইবনে মাজাহ (৬) বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(পৃষ্ঠা ৩০, নম্বর ২১৭)

২. তাঁর মুসান্নাফে (২/৩৬০, নম্বর ৩৭০৬), কিতাবুস সালাত, অধ্যায়: নামাজের যা দীর্ঘ করা হয় এবং যা সংক্ষিপ্ত করা হয়। তবে তাঁর কাছে এটি "এশার নামাজ" (صلاة العشاء) শব্দে এসেছে।

(২/১৫০) কিতাবুস সালাত, অধ্যায়: নবী (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের স্বরূপ। তবে সেখানে এটি "এশার দুই নামাজ" (صلاتي العشاء) শব্দে এসেছে।

৪. সুলায়মান ইবনে ইয়াসার আল-হিলালি আল-মাদানি, মায়মুনার মুক্তদাস, মতান্তরে উম্মে সালামার। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), মর্যাদাবান (فاضل), সাত ফকিহের একজন, তিনি তৃতীয় স্তরের (الثالثة) বড় তাবেয়িদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি হিজরি ১০০ সালের পরে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে এর আগে। আল-কাশিফ (১/৩২১), আত-তাকরিব (২৫৫)।

৫. তাঁর সুনানে (২/১৬৭, নম্বর ৯৮৩), কিতাবুল ইস্তিফতাহ, অধ্যায়: মাগরিবে মুফাসসালের ছোট সূরা পাঠ।

৬. তাঁর সুনানে (১/২৭০, ২৭১, নম্বর ৮২৭), কিতাব ইকামাতুস সালাত, অধ্যায়: জোহর ও আসরে কিরাত।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ৯৪)
مختصراً1 وأحمد2 واللفظ له، وابن خزيمة3 عن أبي بكر الحنفي4 وابن حبان5 والبيهقي6 والطحاوي7 مختصراً8 عن زيد بن الحباب والمغيرة بن عبد الرحمن المخزومي9، كلهم عن الضحاك بن عثمان10 قَال حدثني بكير بن عبد الله الأشج قَال حدثنا سليمان بن يسار به.

وحسنه النووي11 وهو كما قَال: فإن مداره على الضحاك بن عثمان تكلم فيه ووثقه غير واحد وحديثه حسن.

--------------------------------------------

1 بذكر صلاة الظهر والعصر فقط.

2 في مسنده (2/ 329، 330) .

3 في صحيحه (1/ 261 رقم 520) كتاب الصلاة، باب ذكر الدليل على أن النبي صلى الله عليه وسلم إنما كان يقرأ بطولي الطوليين في الركعتين الأوليين من المغرب ــ في ركعة واحدة.

4 عبد الكبير بن عبد المجيد بن عبيد البصري أبو بكر الحنفي، ثقة، من التاسعة مات سنة أربعين ومائتين. ع.

وقال الذهبي: ثقة. الكاشف (3/ 180) التقريب (360)

5 في صحيحه الإحسان (5/145 رقم 1837) كتاب الصلاة، باب ذكر الإباحة للمرء أن يقتصر على قصار المفصل في القراءة في صلاة المغرب.

6 في سننه (2/391) كتاب الصلاة باب قدر القراءة في المغرب. وفي (2/388)

7 في شرح معاني الآثار (1/ 214) كتاب الصلاة، باب القراءة في صلاة المغرب.

8 بذكر صلاة المغرب فقط.

9 المغيرة بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام المخزومي، أبو هشام أو هاشم المدني أخو أبي بكر، ثقة جواد، من الخامسة، مات سنة بضع ومائة. مد. الكاشف (3/ 149) التقريب (543) .

10 الضحاك بن عثمان بن عبد الله بن خالد بن حزام الأسدي الحزامي أبو عثمان المدني، صدوق يهم من السابعة. م4. الكاشف (2/ 32) التقريب (279) .

11 في خلاصة الأحكام (1/387) .
সংক্ষিপ্তভাবে (مختصراً)১ এবং আহমাদ২, শব্দশৈলী তাঁরই, এবং ইবনে খুজাইমাহ৩ আবু বকর আল-হানাফি৪ থেকে এবং ইবনে হিব্বান৫, আল-বাইহাকি৬ এবং আত-তহাবি৭ সংক্ষিপ্তভাবে (مختصراً)৮ জায়েদ বিন আল-হুবাব এবং আল-মুগিরাহ বিন আবদুর রহমান আল-মাখজুমি৯ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলে আদ-দহাক বিন উসমান১০ থেকে, তিনি বলেন, বুকাইর বিন আবদুল্লাহ আল-আশাজ্জ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুলাইমান বিন ইয়াসার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—এই সূত্রে।

এবং নববী১১ এটিকে হাসান (حسن) বলেছেন। বিষয়টি তেমনই যেমন তিনি বলেছেন: কারণ এর মূল ভিত্তি (مداره) আদ-দহাক বিন উসমানের ওপর; তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তি তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন, আর তাঁর হাদিস হাসান (حسن)।

--------------------------------------------

১. কেবল জোহর ও আসর নামাজের বর্ণনার সাথে।

২. তাঁর মুসনাদে (২/ ৩২৯, ৩৩০)।

৩. তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১/ ২৬১, নম্বর ৫২০), নামাজ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাগরিবের প্রথম দুই রাকাতের কোনো এক রাকাতে দুটি দীর্ঘতম সূরার একটি পড়তেন তার প্রমাণের আলোচনা।

৪. আবদুল কাবির বিন আবদুল মাজিদ বিন উবাইদ আল-বাসরি আবু বকর আল-হানাফি, নির্ভরযোগ্য (ثقة), নবম স্তরের, তিনি দুইশত চল্লিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। (ع)।

এবং আয-যাহাবি বলেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة)। আল-কাশিফ (৩/ ১৮০), আত-তাকরিব (৩৬০)।

৫. তাঁর সহিহ আল-ইহসানে (৫/ ১৪৫, নম্বর ১৮৩৭), নামাজ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: মাগরিবের নামাজে কেরাতের ক্ষেত্রে মুফাসসাল সুরাসমূহের ছোটগুলো পড়ার বৈধতার বর্ণনা।

৬. তাঁর সুনানে (২/ ৩৯১), নামাজ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: মাগরিবের নামাজে কেরাতের পরিমাণ। এবং (২/ ৩৮৮) এ।

৭. শারহু মাআনিল আসারে (১/ ২১৪), নামাজ অধ্যায়, মাগরিবের নামাজে কেরাত অনুচ্ছেদ।

৮. কেবল মাগরিবের নামাজের বর্ণনার সাথে।

৯. আল-মুগিরাহ বিন আবদুর রহমান বিন আল-হারিস বিন হিশাম আল-মাখজুমি, আবু হিশাম বা হাশেম আল-মাদানি, আবু বকরের ভাই, নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও দানশীল, পঞ্চম স্তরের, একশত কয়েক হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন। (مد)। আল-কাশিফ (৩/ ১৪৯), আত-তাকরিব (৫৪৩)।

১০. আদ-দহাক বিন উসমান বিন আবদুল্লাহ বিন খালিদ বিন হিজাম আল-আসাদি আল-হিজামি আবু উসমান আল-মাদানি, সত্যবাদী তবে বিভ্রান্ত হন (صدوق يهم), সপ্তম স্তরের। (م4)। আল-কাশিফ (২/ ৩২), আত-তাকরিব (২৭৯)।

১১. খুলাসাতুল আহকামে (১/ ৩৮৭)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ৯৫)
قَال أبو زرعة1: ليس بقوي، وقال أبو حاتم2 يكتب حديثه ولا يحتج به وهو صدوق وقال يعقوب بن شيبة3 صدوق في حديثه ضعف.

ووثقه أحمد4 وابن معين5 وأبو داود6 وابن بكير7 وغيرهم.

وقال الذهبي: في المغني8 لينه ابن القطان، وقال في كتابه من تكلم فيه وهو موثق9: صدوق.

وصحح الحديث ابن رجب10 وابن عبد الهادي11 والحافظ ابن حجر12 وقال هذا حديث صحيح من حديث أبي هريرة والمرفوع منه تشبيه أبي هريرة صلاة الأمير المذكور بصلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم وما عدا ذلك موقوف إن كان الأمير المذكور صحابياً أو مقطوع إن لم يكن ....

وقال أيضاً: فلم يصب من اختصره فإن أبا هريرة لم يتلفظ بقوله كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ في المغرب بقصار المفصل. 13 إنما تلفظ بالتشبيه وهو لا

--------------------------------------------

1 الجرح والتعديل (4/460) .

2 الجرح والتعديل (4/460) .

3 المغني في الضعفاء (1/312) .

4 الجرح والتعديل (4/460) .

5 تاريخ الدارمي عن ابن معين (135)

6 تهذيب الكمال (4/447) .

7 تَهْذِيب الْتهذِيب (4/447) .

(1/312) .

(102) .

10 فتح الباري (7/ 29) .

11 في المحرر (1/ 192) .

12 نتائج الأفكار (1/470) وفي بلوغ المرام (58) .

13 يشير بذلك إلى رواية الطحاوي المختصرة.
আবু জুরআ ১ বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন (ليس بقوي); আবু হাতিম ২ বলেছেন: তাঁর হাদিস লিখে রাখা যায়, তবে তা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণীয় নয় (لا يحتج به) এবং তিনি সত্যবাদী (صدوق); ইয়াকুব বিন শাইবাহ ৩ বলেছেন: তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর হাদিসে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে।

আহমদ ৪, ইবনে মাইন ৫, আবু দাউদ ৬, ইবনে বুকাইর ৭ এবং অন্যান্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) সাব্যস্ত করেছেন।

আজ-জাহাবি আল-মুগনি ৮-তে বলেছেন: ইবনুল কাত্তান তাঁকে শিথিল (لين) সাব্যস্ত করেছেন; এবং তিনি তাঁর 'মান তুকাল্লামা ফিহি ওয়া হুয়া মুওয়াসসাক' ৯ কিতাবে বলেছেন: তিনি সত্যবাদী (صدوق)।

ইবনে রজব ১০, ইবনে আব্দুল হাদি ১১ এবং হাফিজ ইবনে হাজার ১২ হাদিসটিকে সহিহ (صحيح) বলেছেন। তিনি বলেছেন: এটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত একটি সহিহ (صحيহ) হাদিস। এর মারফু (مرفوع) অংশটি হলো—উল্লিখিত আমিরের সালাতকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের সাথে আবু হুরায়রা (রাযি.) কর্তৃক সাদৃশ্য প্রদান করা; এছাড়া বাকি অংশ মাওকুফ (موقوف) যদি উক্ত আমির সাহাবি হন, অন্যথায় তা মাকতু (مقطوع) হিসেবে গণ্য হবে ....

তিনি আরও বলেছেন: যে ব্যক্তি এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন তিনি সঠিক করেননি, কারণ আবু হুরায়রা (রাযি.) নিজে এ কথা উচ্চারণ করেননি যে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের সালাতে কিসারে মুফাসসাল (সংক্ষিপ্ত সূরাসমূহ) পড়তেন’। ১৩ বরং তিনি কেবল সাদৃশ্যটি উল্লেখ করেছিলেন, আর তিনি...

--------------------------------------------

১ আল-জারহ ওয়াত তাদিল (৪/৪৬০)।

২ আল-জারহ ওয়াত তাদিল (৪/৪৬০)।

৩ আল-মুগনি ফিজ যুয়াফা (১/৩১২)।

৪ আল-জারহ ওয়াত তাদিল (৪/৪৬০)।

৫ তারিখুদ দারমি আন ইবনে মাইন (১৩৫)।

৬ তাহজিবুল কামাল (৪/৪৪৭)।

৭ তাহজিবুত তাহজিব (৪/৪৪৭)।

(১/৩১২)।

(১০২) .

১০ ফাতহুল বারি (৭/২৯)।

১১ আল-মুহাররার (১/১৯২)।

১২ নাতাউজল আফকার (১/৪৭০) এবং বুলুগুল মারাম (৫৮)।

১৩ এটি দ্বারা তিনি ইমাম ত্বহাবি বর্ণিত সংক্ষিপ্ত বর্ণনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ৯৬)
يستلزم المساواة في جميع صفات الصلاة والله أعلم.

وزاد أحمد والبيهقي1 في هذا الحديث.

قَال الضحاك: وحدثني من سمع أنس بن مالك يقول: مارأيت أحداً أشبه صلاه بصلاة رسول لله صلى الله عليه وسلم من هذا الفتى يعني عمر بن عبد العزيز، قَال الضحاك: فصليت خلف عمر بن عبد العزيز وكان يصنع مثل ما قال سليمان بن يسار.

لكن هذا الطريق فيه رجل مبهم قَال الحافظ2: وأما حديث أنس ففي سنده مبهم يمنع من الحكم بصحته والمرفوع منه أيضا التشبيه وما عداه مقطوع.

وقال ابن رجب3 عقب رواية أحمد: وخرج ابن سعد4 وغيره حديث أنس عن ابن أبي فديك5 عن الضحاك قَال حدثني يحيى بن سعيد أو شريك بن أبي نمر6 لا يدري أيهما حدثه عن أنس فذكر الحديث. 7

والفتى هو عمر بن عبد العزيز كذا قَال ابن أبى فديك عن الضحاك بالشك.

ورواه الواقدي8 عن الضحاك عن شريك من غير شك فهذا حديث

--------------------------------------------

1 في سننه (2/388) كتاب الصلاة – باب طول القراءة وقصرها.

2 في نتائج الأفكار (1/470) .

3 فتح الباري (7/29) .

4 في الطبقات (5/332) .

5 محمد بن إسماعيل بن مسلم بن أبي فديك الديلمي مولاهم المدني أبو إسماعيل صدوق من صغار الثامنة. مات سنة مائتين على الصحيح. ع. وقال الذهبي: صدوق. الكاشف (3/20) التقريب (468) .

6 شريك بن عبد الله بن أبي نمر أبو عبد الله المدني صدوق يخطئ من الخامسة مات في حدود أربعين ومائة خ م د تم س ق. الكاشف (2/10) التقريب (266) .

7 بنحو حديث سليمان بن يسار.

8 أخرجه ابن سعد الطبقات (5/332) .
এটি নামাজের সমস্ত বৈশিষ্ট্যে সমতা দাবি করে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আর আহমদ ও বায়হাকি১ এই হাদিসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।

দাহহাক বলেন: আমার কাছে এমন একজন বর্ণনা করেছেন যিনি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছেন: আমি এই যুবক অর্থাৎ উমর ইবনে আবদুল আজিজের চেয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামাজের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ নামাজ আর কাউকে পড়তে দেখিনি। দাহহাক বলেন: আমি উমর ইবনে আবদুল আজিজের পেছনে নামাজ পড়েছি এবং তিনি সুলাইমান ইবনে ইয়াসার যা বলেছিলেন ঠিক তেমনই করতেন।

তবে এই সূত্রে একজন নাম-অপ্রকাশিত (مبهم) ব্যক্তি রয়েছেন। হাফেজ২ বলেন: আর আনাস (রা.)-এর হাদিসটির সনদে একজন নাম-অপ্রকাশিত (مبهم) বর্ণনাকারী রয়েছেন যা একে সহিহ (صحيح) বলে হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে অন্তরায়। এর মধ্যে মারফু (مرفوع) অংশটুকু হলো সাদৃশ্য প্রদান করা, আর তা ব্যতীত বাকি অংশটি মাকতু (مقطوع)।

আর ইবনে রজব৩ আহমদের বর্ণনার পরে বলেছেন: ইবনে সাদ৪ ও অন্যান্যরা ইবনে আবি ফুদাইক৫ হতে দাহহাকের সূত্রে আনাস (রা.)-এর হাদিসটি তাখরিজ করেছেন। দাহহাক বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ অথবা শারিক ইবনে আবি নামর৬ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন—তিনি জানতেন না তাদের মধ্যে কে তার কাছে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন—অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন। ৭

আর সেই যুবক হলেন উমর ইবনে আবদুল আজিজ। ইবনে আবি ফুদাইক দাহহাকের সূত্রে এভাবেই সন্দেহের সাথে উল্লেখ করেছেন।

আর ওয়াকিদি৮ দাহহাকের সূত্রে শারিক থেকে কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই এটি বর্ণনা করেছেন, সুতরাং এই হাদিসটি

--------------------------------------------

১ তার সুনান (২/৩৮৮) কিতাবুস সালাত – পরিচ্ছেদ: কিরাত দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত করা।

২ নাতায়িজুল আফকার (১/৪৭০) গ্রন্থে।

৩ ফাতহুল বারি (৭/২৯)।

৪ আত-তাবাকাত (৫/৩৩২) গ্রন্থে।

৫ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে মুসলিম বিন আবি ফুদাইক আদ-দাইলামি, তাদের মুক্তদাস, আল-মাদানি, আবু ইসমাইল; তিনি সত্যবাদী (صدوق) ছিলেন এবং অষ্টম স্তরের ছোটদের অন্তর্ভুক্ত। সহিহ (صحيح) মতানুসারে তিনি ২০০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (আয়িন)। আর যাহাবি বলেন: সত্যবাদী (صدوق)। আল-কাশিফ (৩/২০), আত-তাকরিব (৪৬৮)।

৬ শারিক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি নামর আবু আবদুল্লাহ আল-মাদানি; তিনি সত্যবাদী (صدوق) তবে ভুল করেন (يخطئ), তিনি পঞ্চম স্তরের অন্তর্ভুক্ত। তিনি একশত চল্লিশ হিজরির দিকে মৃত্যুবরণ করেন। (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজিতে তায়িলিকান, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ)। আল-কাশিফ (২/১০), আত-তাকরিব (২৬৬)।

৭ সুলাইমান ইবনে ইয়াসারের হাদিসের অনুরূপ।

৮ এটি ইবনে সাদ আত-তাবাকাত (৫/৩৩২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ৯৭)
صحيح عن أبي هريرة وأنس. ا.هـ

الحديث الثالث:

عن المطلب بن عبد الله1 عن زيد بن ثابت أنه سئل عن القراءة في الظهر والعصر فقال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يطيل القيام ويحرك شفتيه.

أخرجه أحمد2 وابن أبي عمر3 وابن أبي شيبة4، والطبراني5 من طريق وكيع ثنا كثير بن زيد6 عن المطلب بن عبد الله به.

ورجال إسناده ثقات غير كثير بن زيد والمطلب بن عبد الله يدلس وقد عنعنه، ونفى أبو حاتم7 سماعه من زيد بن ثابت فقال: المطلب بن عبد الله بن حنطب عامة حديثه مرسل لم يدرك أحدا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم إلا سهل بن سعد وأنسا وسلمة بن الأكوع، ومن كان قريبا منهم ولم يسمع من جابر ولا من زيد ابن ثابت ولا من عمران بن حصين.

--------------------------------------------

1 المطلب بن عبد الله بن حنطب بن الحارث المخزومي، صدوق كثير التدليس والإرسال من الرابعة ر. ع. الكاشف (3/ 133) التقريب (534) .

2 في مسنده (5/ 186)

3 في مسنده إتحاف الخيرة المهرة (2/ 349 رقم 1845) كتاب الصلاة باب القراءة في الظهر والعصر.

4 في مصنفه (2/ 528) كتاب الصلاة، باب في القراءة في الظهر والعصر.

5 في المعجم الكبير (5/ 152 رقم 4915) .

6كثير بن زيد الأسلمي أبو محمد المدني ابن منافنّة صدوق يخطئ من السابعة مات في خلافة المنصور رد ت ق. وقال في التلخيص (2/ 133) : صدوق. والكاشف (3/ 4) ، التقريب (459) .

7 المراسيل (210) .
বিশুদ্ধ (صحيح) আবু হুরায়রা ও আনাস থেকে বর্ণিত। সমাপ্ত।

তৃতীয় হাদিস:

মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, যায়িদ ইবনে সাবিত (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত যে, তাঁকে যোহর ও আসরের কিরাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিয়াম দীর্ঘ করতেন এবং তাঁর ঠোঁট নাড়াতেন।

এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ, ইবনে আবি উমর, ইবনে আবি শাইবাহ এবং তাবারানি; ওয়াকি-এর সূত্রে, তিনি কাসীর ইবনে যায়িদ থেকে, তিনি মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর এর সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে কাসীর ইবনে যায়িদ ব্যতীত। আর মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ তাদলীস (يدلس) করতেন এবং তিনি এটি ‘আন’ (عنعنه) শব্দযোগে বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম যায়িদ ইবনে সাবিত থেকে তাঁর শোনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাবের অধিকাংশ হাদিসই বিচ্ছিন্ন (مرسل); তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে সাহল ইবনে সা’দ, আনাস এবং সালামাহ ইবনুল আকওয়া’ (রা.) ও তাঁদের সমসাময়িক ব্যক্তিগণ ব্যতীত আর কাউকে পাননি। তিনি জাবির, যায়িদ ইবনে সাবিত কিংবা ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে কোনো হাদিস শোনেননি।

--------------------------------------------

১ মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাব ইবনুল হারিস আল-মাখযুমি; সত্যবাদী (صدوق), অধিক মাত্রায় তাদলীস (التدليس) এবং বিচ্ছিন্নভাবে (الإرسال) বর্ণনাকারী, চতুর্থ স্তরের বর্ণনাকারী। আল-কাশিফ (৩/১৩৩), আত-তাকরীব (৫৩৪)।

২ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (৫/১৮৬)।

৩ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে; ইতহাফুল খাইরাতিল মাহারা (২/৩৪৯, নম্বর ১৮৪৫), কিতাবুস সালাত, যোহর ও আসরে কিরাত অধ্যায়।

৪ তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে (২/৫২৮), কিতাবুস সালাত, যোহর ও আসরে কিরাত অধ্যায়।

৫ আল-মু’জামুল কাবীর গ্রন্থে (৫/১৫২, নম্বর ৪৯১৫)।

৬ কাসীর ইবনে যায়িদ আল-আসলামি আবু মুহাম্মদ আল-মাদানি; সত্যবাদী তবে ভুল করেন (صدوق يخطئ), সপ্তম স্তরের বর্ণনাকারী, খলিফা মনসুরের শাসনকালে মৃত্যুবরণ করেন। আত-তালখীস (২/১৩৩) গ্রন্থে বলা হয়েছে: সত্যবাদী (صدوق)। আল-কাশিফ (৩/৪), আত-তাকরীব (৪৫৯)।

৭ আল-মারাসীল (২১০)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ৯৮)
وأخرجه أحمد1، وأحمد بن منيع2 من طريق أبي أحمد3 عن كثير بن زيد عن المطلب قال: تماروا في القراءة في الظهر والعصر فأرسلوا إلى خارجة بن زيد بن ثابت4 فقال: قَال أبي قام رسول الله صلى الله عليه وسلم فأطال القيام وكان يحرك شفتيه فقد علم أن ذلك لم يكن إلا لقراءة وأنا أفعله. فبين الراوي عن زيد بن ثابت وهو ابنه لكن يبقى جهالة الرجل الّذي أرسل إلى خارجة بن زيد.

لكن قَال الحافظ5 لما ساق طريق أحمد: وهكذا رواه أحمد بن منيع عن أبي أحمد.

ورواه ابن أبي عمر وابن أبي شيبة وغيرهما عن وكيع عن كثير فلم يذكروا بين المطلب وزيد خارجة بن زيد والله أعلم.

وهذا الحديث مداره على كثير بن زيد واختلف في إسناده رواه وكيع عنه عن المطلب عن زيد بذكر خارجة بن زيد والمطلب مدلس ولم يسمع من زيد بن ثابت، وخالف وكيعا أبو أحمد محمد بن عبد الله فرواه عن كثير بن زيد عن المطلب عن الرسول عن خارجة بن زيد عن أبيه، وهذا الإسناد فيه جهالة

--------------------------------------------

1 في مسنده (5/ 182) .

2 في مسنده - إتحاف الخيرة المهرة (2/ 349 رقم 1845) كتاب الصلاة باب القراءة في الظهر والعصر.

3 هو محمد بن عبد الله بن الزبير بن عمر بن درهم الأسدي أبو أحمد الزبيري الكوفي، ثقة، ثبت إلا أنه قد يخطئ في حديث الثوري، من التاسعة، مات سنة ثلاث ومائتين. ع. الكاشف (3/ 53) ، التقريب (487) .

4 خارجة بن زيد بن ثابت الأنصاري أبو زيد المدني، ثقة، فقيه، من الثالثة مات سنة مائة، وقيل قبلها. ع. وقال الذهبي: ثقة إمام. الكاشف (1/ 200) التقريب (186) .

5 أطراف المسند (2/ 386)
এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ১ এবং আহমাদ ইবনে মানি’২ আবু আহমাদের৩ সূত্রে কাসীর ইবনে যাইদ থেকে, তিনি মুত্তালিব থেকে। তিনি (মুত্তালিব) বলেন: যোহর ও আসরের সালাতে কিরাত পড়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হলো, তখন তারা খারিজাহ ইবনে যাইদ ইবনে সাবিত৪-এর নিকট লোক পাঠালেন। তিনি বললেন: আমার পিতা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতেন এবং ঠোঁট নাড়তেন। এর দ্বারা বোঝা গেল যে কিরাত ব্যতীত তা অন্য কিছু ছিল না এবং আমিও তাই করি। এখানে যাইদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনাকারীর পরিচয় স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি তাঁর পুত্র, কিন্তু খারিজাহ ইবনে যাইদের নিকট যাকে পাঠানো হয়েছিল সেই ব্যক্তির অজ্ঞাত অবস্থা (جهالة) রয়ে গেছে।

তবে হাফিজ৫ আহমাদ-এর সূত্রটি বর্ণনা করার সময় বলেন: এভাবেই আহমাদ ইবনে মানি’ আবু আহমাদের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি উমর, ইবনে আবি শায়বাহ এবং অন্যরা ওয়াকি’-এর সূত্রে কাসীর থেকে, কিন্তু তাঁরা মুত্তালিব এবং যাইদ-এর মাঝে খারিজাহ ইবনে যাইদ-এর কথা উল্লেখ করেননি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এই হাদিসটির মূল আবর্তন (مدار) কাসীর ইবনে যাইদের ওপর এবং এর সনদ (إسناد)-এ মতভেদ (اختلاف) রয়েছে। ওয়াকি’ তাঁর থেকে, তিনি মুত্তালিব থেকে, তিনি যাইদ থেকে খারিজাহ ইবনে যাইদ-এর উল্লেখসহ বর্ণনা করেছেন; অথচ মুত্তালিব একজন তাদলিসকারী (مدلس) এবং তিনি যাইদ ইবনে সাবিত থেকে হাদিস শোনেননি। আবু আহমাদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ওয়াকি’-এর বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি এটি কাসীর ইবনে যাইদ থেকে, তিনি মুত্তালিব থেকে, তিনি প্রেরিত ব্যক্তির থেকে, তিনি খারিজাহ ইবনে যাইদ থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন; আর এই সনদে (إسناد) অজ্ঞাত অবস্থা (جهالة) রয়েছে।

--------------------------------------------

১ তাঁর মুসনাদে (৫/১৮২)।

২ তাঁর মুসনাদে - ইতহাফুল খাইরাতিল মাহারা (২/৩৪৯, নং ১৮৪৫), কিতাবুস সালাত, যোহর ও আসরের কিরাত পরিচ্ছেদ।

৩ তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের ইবনে উমর ইবনে দিরহাম আল-আসাদি আবু আহমাদ আজ-জুবাইরি আল-কুফি। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং সুদৃঢ় (ثبت), তবে তিনি সাওরির হাদিসে কখনো ভুল করেন। তিনি নবম স্তরের রাবী, মৃত্যু ২০৩ হিজরিতে। আল-কাশিফ (৩/৫৩), আত-তাকরিব (৪৮৭)।

৪ খারিজাহ ইবনে যাইদ ইবনে সাবিত আল-আনসারি আবু যাইদ আল-মাদানি। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং ফকিহ (فقيه), তৃতীয় স্তরের রাবী। মৃত্যু ১০০ হিজরিতে, মতান্তরে এর আগে। যাহাবি বলেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও ইমাম (إمام)। আল-কাশিফ (১/২০০), আত-তাকরিব (১৮৬)।

৫ আতরাফুল মুসনাদ (২/৩৮৬)
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ৯৯)
الرسول مع ما قيل في كثير بن زيد من خلاف1 ولعل الاختلاف في سنده منه.

وقال الهيثمي2: وفيه كثير بن زيد واختلف في الاحتجاج به.

الحديث الرابع:

عن أبي قتادة رضي الله عنه قَال: “كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ في الركعتين الأوليين من صلاة الظهر بفاتحة الكتاب وسورتين يطول في الأولى ويقصر في الثانية ويسمع الآية أحيانا وكان يقرأ في العصر بفاتحة الكتاب وسورتين، وكان يطول في الأولى، وكان يطول في الركعة الأولى من صلاة الصبح ويقصر في الثانية”.

أخرجه البخاري3 واللفظ له ومسلم4 وأبو داود5 والنسائي6 وابن ماجه7 من طرق عن يحيى بن أبي كثير8 عن عبد الله بن أبي قتادة عن أبيه به.

--------------------------------------------

1 انظر: تهذيب الكمال (24/ 115)

2 مجمع الزوائد (2/ 115) .

3 في صحيحه (1/ 264 رقم 725) كتاب صفة الصلاة. باب القراءة في الظهر. وانظر: رقم (728، 743، 745، 746)

4 في صحيحه (1/ 333رقم 451) كتاب الصلاة، باب القراءة في الظهر والعصر.

5 في سننه (1/ 503، 504 رقم 798، 799) كتاب الصلاة، باب ما جاء في القراءة في الظهر.

6 في سننه (2/ 164 رقم 974) كتاب الاستفتاح باب تطويل القيام في الركعة الأولى من صلاة الظهر.

7 في سننه (1/ 268 رقم 819) كتاب إقامة الصلاة، باب القراءة في صلاة الفجر.

8 يحيى بن أبي كثير الطائي مولاهم أبو نصر اليماني، ثقة ثبت لكنه يدلس ويرسل من الخامسة مات سنة اثنتين وثلاثين، وقيل قبل ذلك. ع. الكاشف (3/ 233) التقريب (596) .
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে, সেইসাথে কাসীর বিন যায়দ সম্পর্কে যে মতভেদ (خلاف) বর্ণিত হয়েছে তার সাথে। সম্ভবত এর সূত্রের (سند) ভিন্নতা তাঁর পক্ষ থেকেই এসেছে।

হাইসামী বলেছেন: এতে কাসীর বিন যায়দ রয়েছেন এবং তাঁকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করার (الاحتجاج) ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

চতুর্থ হাদিস:

আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের নামাজের প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহা এবং আরও দুইটি সূরা পড়তেন। তিনি প্রথম রাকাতে দীর্ঘ কেরাত পড়তেন এবং দ্বিতীয় রাকাতে ছোট করতেন। মাঝে মাঝে তিনি আমাদের আয়াত শোনাতেন। তিনি আসরের নামাজেও সূরা ফাতিহা এবং আরও দুইটি সূরা পড়তেন এবং প্রথম রাকাতে দীর্ঘ কেরাত পড়তেন। ফজরের নামাজের প্রথম রাকাতেও তিনি দীর্ঘ কেরাত পড়তেন এবং দ্বিতীয় রাকাতে ছোট করতেন।”

এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দগুলো তাঁর বর্ণিত। আরও বর্ণনা করেছেন মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ। তাঁরা সকলে বিভিন্ন সূত্রে ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আবু কাতাদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ দেখুন: তাহযীবুল কামাল (২৪/১১৫)

২ মাজমাউয যাওয়াইদ (২/১১৫)।

৩ তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১/২৬৪, নম্বর ৭২৫), কিতাব: সিফাতুস সালাত, অধ্যায়: যোহরের নামাজে কেরাত পাঠ। আরও দেখুন: নম্বর (৭২৮, ৭৪৩, ৭৪৫, ৭৪৬)

৪ তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১/৩৩৩, নম্বর ৪৫১), কিতাব: সালাত, অধ্যায়: যোহর ও আসরের নামাজে কেরাত পাঠ।

৫ তাঁর সুনান গ্রন্থে (১/৫০৩, ৫০৪, নম্বর ৭৯৮, ৭৯৯), কিতাব: সালাত, অধ্যায়: যোহরের নামাজে কেরাত পাঠ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

৬ তাঁর সুনান গ্রন্থে (২/১৬৪, নম্বর ৯৭৪), কিতাব: ইস্তিফতাহ, অধ্যায়: যোহরের নামাজের প্রথম রাকাতে কিয়াম দীর্ঘ করা।

৭ তাঁর সুনান গ্রন্থে (১/২৬৮, নম্বর ৮১৯), কিতাব: ইকামাতুস সালাত, অধ্যায়: ফজরের নামাজে কেরাত পাঠ।

৮ ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর আত-তাইয়ি, তাঁদের মুক্তদাস, আবু নাসর আল-য়ামানি; তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুদৃঢ় (ثبت) ছিলেন, কিন্তু তিনি তাদলীস করতেন (يدلس) এবং মুরসাল বর্ণনা করতেন (يرسل)। তিনি পঞ্চম স্তরের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি একশত বত্রিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, কারো কারো মতে এর আগে। সকল কিতাবের সংকলকগণ (ع)। আল-কাশফ (৩/২৩৩), আত-তাকরীব (৫৯৬)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১০০)
وفي لفظ لمسلم “كان يقرأ في الركعتين الأوليين من الظهر والعصر بفاتحة الكتاب وسورة ويسمعنا الآية أحيانا ويقرأ في الركعتين الأخريين بفاتحة الكتاب”.

وعند أبي داود في موضع وابن ماجه عن يحيى بن أبي كثير عن عبد الله بن أبي قتادة وأبي سلمة عن أبي قتادة به.

زاد أبو داود1 وعبد الرزاق2 وابن خزيمة3 وابن حبان4 والبيهقي5 كلهم عن معمر عن يحيى بن أبي كثير عن عبد الله بن أبي قتادة عن أبيه قَال: فظننا أنه يريد بذلك أن يتدارك الناس الركعة الأولى. وسنده صحيح ولفظ ابن خزيمة: “فكنا نرى أنه يفعل ذلك ليتأدى الناس”.

الحديث الخامس:

عن عبد الله بن أبي أوفى رضي الله عنه قَال: “كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي بنا الظهر حين نزول الشمس ولو جعلت حبة6 في الرمضاء لأنضجته ثم يطيل الركعة الأولى فلا يزال قائما يقرأ ما سمع خفق نعال القوم ثم يركع ثم يقوم في الثانية فيركع ركعة هي أقصر من الركعة الأولى ثم يجعل الركعة الثالثة أقصر من الثانية،

--------------------------------------------

1 في سننه (1/ 504 رقم 800) كتاب الصلاة، باب ما جاء في القراءة في صلاة الظهر.

2 في مصنفه (2/ 104) رقم 2675) كتاب الصلاة، باب القراءة في الظهر.

3 في صحيحه (3/ 36 رقم 1580) كتاب الصلاة، باب تطويل الإمام الركعة الأولى من الصلوات ليتلاحق المأمومون.

4 في صحيحه - الإحسان (5/ 164، 165 رقم 1855) كتاب الصلاة باب ذكر الخبر الدال على صحة ما تأولنا خبر أبي سعيد الّذي ذكرناه قبل.

5 في سننه (2/ 66) كتاب الصلاة باب السنة في تطويل الركعة الأولى.

6 كذا عند البزار، وفي كشف الأستار (1/ 258) ومختصر زوائد مسند البزار (1/ 267) خبيبة، وعند البيهقي (حنبا) والخبيبة هي الشريحة من اللحم. اللسان (1/ 343)
সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনায় (لفظ) রয়েছে: “তিনি জোহরের ও আসরের প্রথম দুই রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পাঠ করতেন এবং মাঝে মাঝে আমাদের কোনো আয়াত শোনাতেন; আর শেষ দুই রাকাআতে শুধু সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন।”

সুনান আবু দাউদের এক স্থানে এবং সুনান ইবনে মাজাহ-তে ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি কাতাদাহ ও আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু কাতাদাহ থেকে এই সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

আবু দাউদ, আবদুর রাজ্জাক, ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে হিব্বান ও বায়হাকি—তাঁরা সকলে মা’মার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি কাতাদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করে অতিরিক্ত অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (আবু কাতাদাহ) বলেছেন: “আমরা মনে করতাম যে, এর মাধ্যমে তিনি চেয়েছিলেন যেন মানুষ প্রথম রাকাআতটি ধরতে পারে।” এর সনদ (سند) বিশুদ্ধ (صحيح) এবং ইবনে খুজাইমাহর বর্ণনায় (لفظ) শব্দগুলো হলো: “আমরা মনে করতাম যে তিনি এটি করতেন যাতে মানুষ উপস্থিত হতে পারে।”

পঞ্চম হাদিস:

আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “নবী (সা.) সূর্য ঢলে পড়ার সময় আমাদের নিয়ে জোহরের নামাজ পড়তেন। যদি মরুভূমির উত্তপ্ত বালিতে কোনো দানা বা গোশতের টুকরো রাখা হতো, তবে তা নিশ্চিতভাবেই সিদ্ধ হয়ে যেত। এরপর তিনি প্রথম রাকাআত দীর্ঘ করতেন এবং ততক্ষণ দাঁড়িয়ে কিরাত পড়তে থাকতেন যতক্ষণ না মানুষের জুতার আওয়াজ শোনা যেত। এরপর তিনি রুকু করতেন। তারপর দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়াতেন এবং এমন এক রাকাআত পড়তেন যা প্রথম রাকাআতের চেয়ে সংক্ষিপ্ত হতো। এরপর তৃতীয় রাকাআতকে দ্বিতীয় রাকাআতের চেয়ে আরও সংক্ষিপ্ত করতেন...

--------------------------------------------

১. তাঁর সুনান-এ (১/৫০৪, নম্বর ৮০০), কিতাবুস সালাত, জোহরের নামাজে কিরাত সংক্রান্ত অধ্যায়।

২. তাঁর মুসান্নাফ-এ (২/১০৪, নম্বর ২৬৭৫), কিতাবুস সালাত, জোহরের নামাজে কিরাত সংক্রান্ত অধ্যায়।

৩. তাঁর সহিহ-তে (৩/৩৬, নম্বর ১৫৮০), কিতাবুস সালাত, ইমামের প্রথম রাকাআত দীর্ঘ করা সংক্রান্ত অধ্যায় যেন মুক্তাদিরা নামাজে শামিল হতে পারে।

৪. তাঁর সহিহ ইবনে হিব্বান—আল-ইহসান-এ (৫/১৬৪, ১৬৫, নম্বর ১৮৫৫), কিতাবুস সালাত, আমরা ইতিপূর্বে আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে হাদিসের ব্যাখ্যা দিয়েছি, তার বিশুদ্ধতার স্বপক্ষে দলিলের উল্লেখ সংক্রান্ত অধ্যায়।

৫. তাঁর সুনান-এ (২/৬৬), কিতাবুস সালাত, প্রথম রাকাআত দীর্ঘ করার সুন্নত (سنة) সংক্রান্ত অধ্যায়।

৬. আল-বাজারের গ্রন্থে এরূপই আছে, আর কাশফুল আসতার (১/২৫৮) ও মুখতাসার যাওয়াইদ মুসনাদ আল-বাজার (১/২৬৭)-এ আছে ‘খবিবা’, আর বায়হাকির বর্ণনায় রয়েছে ‘হানবা’। ‘খবিবা’ মানে হলো গোশতের পাতলা টুকরো। লিসানুল আরব (১/৩৪৩)
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১০১)
والرابعة أقصر من الثالثة، ثم يصلي العصر والشمس بيضاء نقية قدر ما يسير السائر فرسخين أو ثلاثة، ويطيل الركعة الأولى من العصر ويجعل الثانية أقصر من الأولى، ويصلي المغرب حين يقول القائل: غربت الشمس أم لا؟ ويطيل الركعة الأولى من المغرب ويجعل الركعة الثانية أقصر من الأولى والثالثة أقصر من الثانية ويؤخر صلاة العشاء الآخرة شيئا”.

أخرجه البزار1 والبيهقي2 كلاهما من طريق أبي إسحاق الحُمَيسي3 قَال: أخبرنا محمد بن جحادة عن طرفة الحضرمي4 عن عبد الله بن أبي أوفى به وسنده ضعيف.

قَال البزار: هذا حديث لا نعلمه يروى عن ابن أبي أوفى إلا من هذا الوجه بهذا الإسناد. وقَال ابن رجب5: وفي إسناده أبو إسحاق الحميسي ضعفوه.

وقَال الهيثمي6: وفيه طرفة الحضرمي قَال الأزدي: لايصح حديثه وفيه من قيل إنه مجهول.

وقَال الحافظ ابن حجر7عقبه: طرفة الحضرمي: قَال الأزدي: لا يصح

--------------------------------------------

1 في مسنده (8/ 302، 303 رقم 3376) .

2 في سننه (2/ 66) كتاب الصلاة، باب السنة في تطويل الركعة الأولى.

3 خازم بن الحسين أبو إسحاق الحميسي بمهملتين، مصغر، البصري، نزيل الكوفة، ضعيف، من الثامنة. ر. التقريب (186) .

4 طرفة الحضرمي صاحب ابن أبي أوفى، مقبول من الخامسة لم يقع مسمى في رواية أبي داود. د. التقريب (282) .

5 فتح الباري له (7/15) .

6 مجمع الزوائد (2/133) .

7 مختصر زوائد البزار (1/268) .
এবং চতুর্থ (রাকাত) তৃতীয়টির চেয়ে সংক্ষিপ্ত হবে, অতঃপর তিনি আসরের সালাত আদায় করবেন যখন সূর্য উজ্জ্বল ও পরিষ্কার থাকে, যে সময়ে একজন পথচারী দুই বা তিন ফারসাখ পথ অতিক্রম করতে পারে। তিনি আসরের প্রথম রাকাত দীর্ঘ করবেন এবং দ্বিতীয় রাকাতটিকে প্রথমটির চেয়ে সংক্ষিপ্ত করবেন। আর মাগরিবের সালাত আদায় করবেন যখন কেউ বলে: সূর্য কি ডুবেছে নাকি ডুবেনি? তিনি মাগরিবের প্রথম রাকাত দীর্ঘ করবেন এবং দ্বিতীয় রাকাতকে প্রথমটির চেয়ে সংক্ষিপ্ত ও তৃতীয়টিকে দ্বিতীয়টির চেয়ে সংক্ষিপ্ত করবেন। আর এশার সালাত কিছুটা দেরি করে আদায় করবেন।

এটি বর্ণনা করেছেন আল-বাজার১ এবং আল-বায়হাকি২; তাঁরা উভয়ই আবু ইসহাক আল-হুমায়সি৩ এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন জুহাদা, তুরাফাহ আল-হাদরামি৪ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রা.) থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাসূত্র (سند) দুর্বল (ضعيف)।

আল-বাজার বলেন: এই হাদিসটি ইবনে আবি আওফা থেকে আমাদের জানা মতে কেবল এই মাধ্যমেই এই বর্ণনাসূত্র (إسناد) দিয়ে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে রাজাব৫ বলেন: এর বর্ণনাসূত্রে (إسنাদ) আবু ইসহাক আল-হুমায়সি রয়েছে, যাকে তাঁরা দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন।

হাইসামি৬ বলেন: এতে তুরাফাহ আল-হাদরামি রয়েছে। আল-আজদি বলেন: তার বর্ণিত হাদিস সহিহ নয় (لا يصح) এবং এতে এমন কেউ আছে যাকে অজ্ঞাত (مجهول) বলা হয়েছে।

হাফিজ ইবনে হাজার৭ এর পরে বলেন: তুরাফাহ আল-হাদরামি: আল-আজদি বলেন: এটি সহিহ নয় (لا يصح)।

--------------------------------------------

১ তার মুসনাদ (৮/৩০২, ৩০৩ নং ৩৩৭৬)।

২ তার সুনান (২/৬৬) সালাত অধ্যায়, প্রথম রাকাত দীর্ঘ করার সুন্নাত পরিচ্ছেদ।

৩ খাজিম বিন আল-হুসাইন আবু ইসহাক আল-হুমায়সি, বসরার অধিবাসী, কুফায় বসবাসকারী, দুর্বল (ضعيف), অষ্টম স্তরের। দ্রষ্টব্য: আত-তাকরিব (১৮৬)।

৪ তুরাফাহ আল-হাদরামি, ইবনে আবি আওফার সাথী, গ্রহণযোগ্য (مقبول), পঞ্চম স্তরের, আবু দাউদের বর্ণনায় তার নাম স্পষ্টভাবে আসেনি। দ্রষ্টব্য: আত-তাকরিব (২৮২)।

৫ তার রচিত ফাতহুল বারি (৭/১৫)।

৬ মাজমাউজ জাওয়ায়েদ (২/১৩৩)।

৭ মুখতাসার জাওয়ায়েদ আল-বাজার (১/২৬৮)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১০২)
حديثه.

وأخرجه ابن أبي حاتم1 من طريق معاوية بن سلمة النصري الكوفي2 عن طرفة عن عبد الله بن أبي أوفى بنحوه.

لكن قَال أبو حاتم3: أحسب أن هذا الحديث من حديث ابن جحادة، ومعاوية بن سلمة لم يدرك طرفة فأرى أن معاوية بن سلمة عن محمد بن جحادة وقد ترك في الإسناد محمد بن جحادة قلت4: ما حال معاوية بن سلمة قَال: أرى حديثه مستقيما.

قَال ابن رجب5: وقد خرجه بقي بن مخلد في مسنده بإسناد أجود من هذا6 لكن ذكر أبو حاتم الرازي أن فيه انقطاعا .....

وأخرجه أبو داود7 وأحمد8.

--------------------------------------------

1 في علل الحديث (1/158، 159 رقم 448) .

2 معاوية بن سلمة النصري بالنون أبو سلمة الكوفي، نزيل دمشق مقبول من الثالثة ق. وقال الذهبي: ليس بالقوي. الكاشف (3/139) التَّقْرِيب (538) وقَال ابن الجنيد ليحيى بن معين كيف حديثه؟ فكأنه ضعفه. لكن وثقه ابن نمير وقَال أبو حاتم: كان ثقة مستقيم الحديث، ووثقه أبو الحسين القطان فأقل أحواله أنه صدوق إن لم يكن ثقة. الجرح والتعديل (8/385) سؤالات ابن الجنيد (422 رقم 621) تَهْذِيب الْكَمَال (28/180) تَهْذِيب الْتهذِيب (10/208) .

3 علل الحديث لابن أبي حاتم (1/158) .

4 القائل ابن أبي حاتم.

5 فتح الباري له (7/16) .

6 الإشارة هنا إلى الطريق الأول الَّذِي عند البزار والبيهقي.

7 في سننه (1/ 505 رقم 802) كتاب الصلاة باب ما جاء في القراءة في الظهر.

8 في مسنده (4/ 356) .
তার হাদিস।

এবং ইবনে আবি হাতিম (১) এটি মুয়াবিয়া ইবনে সালামাহ আন-নাসরি আল-কুফি (২)-এর সূত্রে তরফাহ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

কিন্তু আবু হাতিম (৩) বলেছেন: আমি মনে করি এই হাদিসটি ইবনে জুহাদার হাদিস থেকে বর্ণিত। আর মুয়াবিয়া ইবনে সালামাহ তরফাহ-এর সাক্ষাৎ পাননি, তাই আমি মনে করি মুয়াবিয়া ইবনে সালামাহ এটি মুহাম্মদ ইবনে জুহাদা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি সনদে (إسناد) মুহাম্মদ ইবনে জুহাদাকে বাদ দিয়েছেন। আমি (৪) জিজ্ঞাসা করলাম: মুয়াবিয়া ইবনে সালামাহ-এর অবস্থা কী? তিনি বললেন: আমি তার হাদিসকে সঠিক ও সুসংগত (مستقيما) মনে করি।

ইবনে রজব (৫) বলেছেন: বাকি ইবনে মাখলাদ এটি তার মুসনাদে এর চেয়ে উত্তম সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন (৬), কিন্তু আবু হাতিম আর-রাজি উল্লেখ করেছেন যে এর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা (انقطاعا) রয়েছে...

এবং আবু দাউদ (৭) ও আহমাদ (৮) এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. 'ইলাল আল-হাদিস' গ্রন্থে (১/১৫৮, ১৫৯ নং ৪৪৮)।

২. মুয়াবিয়া ইবনে সালামাহ আন-নাসরি, উপনাম আবু সালামাহ আল-কুফি, দামেস্কে বসবাসকারী। তিনি তৃতীয় স্তরের একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) রাবি। আয-যাহাবি বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন। আল-কাশিফ (৩/১৩৯), আত-তাকরিব (৫৩৮)। ইবনুল জুনায়েদ ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে জিজ্ঞাসা করেছেন, তার হাদিস কেমন? তখন তিনি তাকে দুর্বল (ضعفه) সাব্যস্ত করেছেন বলে মনে হয়। কিন্তু ইবনে নুমাইর তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন এবং আবু হাতিম বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুসংগত হাদিস বর্ণনাকারী (مستقيم الحديث) ছিলেন। আবু আল-হুসাইন আল-কাত্তানও তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। সুতরাং তার সর্বনিম্ন অবস্থা হলো তিনি সত্যবাদী (صدوق), যদি তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) না-ও হন। আল-জারহ ওয়াত-তাদিল (৮/৩৮৫), সুয়ালাত ইবনুল জুনায়েদ (৪২২ নং ৬২১), তাহজিব আল-কামাল (২৮/১৮০), তাহজিব আত-তাহজিব (১০/২০৮)।

৩. ইবনে আবি হাতিম রচিত 'ইলাল আল-হাদিস' (১/১৫৮)।

৪. বক্তা হলেন ইবনে আবি হাতিম।

৫. তার রচিত 'ফাতহুল বারি' (৭/১৬)।

৬. এখানে ইশারা করা হয়েছে প্রথম সূত্রের দিকে যা আল-বাজার এবং আল-বায়হাকির নিকট রয়েছে।

৭. তার সুনান গ্রন্থে (১/৫০৫ নং ৮০২), কিতাবুস সালাত, যোহরের কিরাত সংক্রান্ত অধ্যায়।

৮. তার মুসনাদ গ্রন্থে (৪/৩৫৬)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১০৩)
كلاهما من طريق همام حدثنا محمد بن جحاة عن رجل عن عبد الله بن أبي أوفى أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقوم في الركعة الأولى من صلاة الظهر حتى لا يسمع وقع قدم” هكذا مختصرا وسنده ضعيف لجهالة هذا الرجل الَّذِي لم يسم. والحاصل أن هذا الحديث لا يصح.

الحديث السادس:

عن قزعة1 قَال أتيت أبا سعيد الخدري وهو مكثور عليه فلما تفرق الناس عنه قلت: إني لا أسألك عما يسألك هؤلاء عنه. قلت: أسألك عن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ما لك في ذلك من خير فأعادها عليه فقال: كانت صلاة الظهر تقام فينطلق أحدنا إلى البقيع فيقضي حاجته ثم يأتي أهله فيتوضأ ثم يرجع إلى المسجد ورسول الله صلى الله عليه وسلم في الركعة الأولى.

أخرجه مسلم2 واللفظ له وابن ماجه3 عن معاوية بن صالح عن ربيعة ابن يزيد4 والنسائي5 عن عطية بن قيس6 كلاهما عن قزعة به.

وفي لفظ لمسلم والنسائي: لقد كانت صلاة الظهر تقام فيذهب الذاهب

--------------------------------------------

1 قزعة بن يحيى البصري، ثقة من الثالثة. ع. الكاشف (2/ 344) والتَّقْرِيب (455) .

2 في صحيحه (1/ 335 رقم 454) كتاب الصلاة باب القراءة في الظهر والعصر.

3 في سننه (1/ 270 رقم 825) كتاب إقامة الصلاة باب القراءة في الظهر والعصر.

4 ربيعة يزيد المشقي أبو شعيب الأيادي القصير، ثقة، عابد، من الرابعة مات سنة إحدى أو ثلاث وعشرين. ع. الكاشف (1/ 239) التَّقْرِيب (208) .

5 في سننه (2/ 164 رقم 973) كتاب الاستفتاح باب تطويل القيام في الركعة الأولى من صلاة الظهر.

6 عطية بن قيس الكلابي، أبو يحيى الشامي، ثقة، مقرئ، من الثالثة، مات سنة إحدى وعشرين ومائة، وقد جاز المائة. خت م4. الكاشف (2/ 235) التَّقْرِيب (393) .
উভয়ই হুম্মাম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন জুহাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা.) জোহরের নামাজের প্রথম রাকাতে ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন যতক্ষণ না পায়ের শব্দ শোনা বন্ধ হতো। এটি এভাবেই সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে এবং এর সূত্র (سند) দুর্বল (ضعيف), এই ব্যক্তির অজ্ঞাত (جهالة) পরিচয়ের কারণে যার নাম উল্লেখ করা হয়নি। সারকথা হলো, এই হাদিসটি সঠিক নয় (لا يصح)।

ষষ্ঠ হাদিস:

কাযাআহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.)-এর নিকট আসলাম যখন তার নিকট মানুষের ভিড় ছিল। যখন মানুষ তাঁর নিকট থেকে চলে গেল, তখন আমি বললাম: তারা আপনার নিকট যা জিজ্ঞাসা করে আমি সে সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করব না। আমি বললাম: আমি আপনাকে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি। তিনি বললেন: এতে তোমার জন্য কোনো কল্যাণ নেই। অতঃপর তিনি পুনরায় তা ব্যক্ত করলেন এবং বললেন: যখন জোহরের নামাজের ইকামত দেওয়া হতো, তখন আমাদের কেউ জান্নাতুল বাকিতে গিয়ে তার প্রয়োজন পূরণ করত, তারপর সে তার পরিবারের নিকট এসে অজু করত এবং এরপর মসজিদে ফিরে আসত, অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) তখনও প্রথম রাকাতেই থাকতেন।

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি তাঁর। এছাড়া ইবনে মাজাহ মুআবিয়া বিন সলিহ থেকে, তিনি রাবিয়াহ বিন ইয়াজিদ থেকে এবং নাসায়ি আতিয়াহ বিন কায়স থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ই কাযাআহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

মুসলিম ও নাসায়ির এক শব্দে রয়েছে: জোহরের নামাজের ইকামত দেওয়া হতো, অতঃপর কোনো ব্যক্তি চলে যেত...

--------------------------------------------

১. কাযাআহ বিন ইয়াহইয়া আল-বাসরি, নির্ভরযোগ্য (ثقة), তৃতীয় স্তরের রাবি। আল-কাশিফ (২/৩৪৪) এবং আত-তাকরিব (৪৫৫)।

২. তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১/৩৩৫, নম্বর ৪৫৪) নামাজ অধ্যায়, জোহর ও আসরের কিরাত পরিচ্ছেদ।

৩. তাঁর সুনান গ্রন্থে (১/২৭০, নম্বর ৮২৫) নামাজ প্রতিষ্ঠা অধ্যায়, জোহর ও আসরের কিরাত পরিচ্ছেদ।

৪. রাবিয়াহ বিন ইয়াজিদ আল-দিমাশকি আবু শুআইব আল-আয়াদি আল-কাসির, নির্ভরযোগ্য (ثقة), ইবাদতগুজার, চতুর্থ স্তরের রাবি, একুশ বা তেইশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। আল-কাশিফ (১/২৩৯) এবং আত-তাকরিব (২০৮)।

৫. তাঁর সুনান গ্রন্থে (২/১৬৪, নম্বর ৯৭৩) ইসতিফতাহ অধ্যায়, জোহরের নামাজের প্রথম রাকাতে কিয়াম দীর্ঘ করা পরিচ্ছেদ।

৬. আতিয়াহ বিন কায়স আল-কিলাবি, আবু ইয়াহইয়া আল-শামি, নির্ভরযোগ্য (ثقة), কারি (মুকরি), তৃতীয় স্তরের রাবি, ১২১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর বয়স একশ বছর পূর্ণ হয়েছিল। আল-কাশিফ (২/২৩৫) এবং আত-তাকরিব (৩৯৩)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১০৪)
إلى البقيع فيقضي حاجته ثم يتوضأ ثم يأتي ورسول الله صلى الله عليه وسلم في الركعة الأولى مما يطولها.

الحديث السابع:

عن أبي معمر1 قَال: قلنا لخباب: أكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ في الظهر والعصر؟ قَال: نعم. قلنا: بم كنتم تعرفون ذلك؟ قَال: باضطراب لحيته.

أخرجه البخاري2 وأبو داود3 وابن ماجه4، من طرق عن الأعمش عن عمارة بن عمير5 عن أبي معمر به.

الحديث الثامن:

عن أبي الأحوص عن بعض أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قَال: كانت تعرف قراءة النبي صلى الله عليه وسلم في الظهر بتحريك لحيته.

أخرجه أحمد6 عن عبد الرحمن بن مهدي عن سفيان عن7 أبي الزعراء عن أبي الأحوص به.

--------------------------------------------

1 عبد الله بن سخْبرة الأزدي أبو معمر الكوفي، ثقة، من الثانية، مات في إمارة عبيد الله بن زياد. ع. وقال الذهبي: صدوق. الكاشف (2/ 81) التَّقْرِيب (305) .

2 في صحيحه (1/ 260 رقم 713) كتاب صفة الصلاة باب رفع البصر إلى الأمام في الصلاة، وانْظر: رقم (726، 727، 744) .

3 في سننه (1/ 504 رقم 801) كتاب الصلاة باب ما جاء في القراءة في الظهر.

4 في سننه (1/ 270 رقم 826) كتاب إقامة الصلاة باب القراءة في الظهر والعصر.

5 عمارة بن عمير التيمي كوفي، ثقة، ثبت، من الرابعة مات بعد المائة، وقيل: قبلها بسنتين. ع. وقال الذهبي: ثقة. الكاشف (2/ 264) التَّقْرِيب (409) .

6 في مسنده (5/ 371) .

7 كذا في الأطراف (8/ 333) والَّذِي في المسند (سفيان بن أبي الزعراء) تصحف (عن) إلى (ابن) .
...বাকিউল গারকাদে যেতেন এবং নিজের প্রয়োজন পূরণ করতেন, তারপর অজু করে ফিরে আসতেন; ততক্ষণে রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রথম রাকাআতে থাকতেন এবং তিনি কিরাত দীর্ঘ করতেন।

সপ্তম হাদিস:

আবু মা'মার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা খাব্বাবকে জিজ্ঞাসা করলাম: রাসূলুল্লাহ (সা.) কি জোহর ও আসরের নামাজে কিরাত পাঠ করতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমরা বললাম: আপনারা তা কী দিয়ে বুঝতে পারতেন? তিনি বললেন: তাঁর দাড়ি নড়ার মাধ্যমে।

হাদিসটি ইমাম বুখারি, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি আমারা বিন উমাইর থেকে এবং তিনি আবু মা'মারের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

অষ্টম হাদিস:

আবু আল-আহওয়াস নবী (সা.)-এর জনৈক সাহাবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জোহরের নামাজে নবী (সা.)-এর কিরাত পাঠ তাঁর দাড়ি নাড়ানো দেখে বোঝা যেত।

হাদিসটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে মাহদি থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু আজ-জা'রা থেকে এবং তিনি আবু আল-আহওয়াস থেকে।

--------------------------------------------

১ আবদুল্লাহ বিন সাখবারাহ আল-আজদি আবু মা'মার আল-কুফি, নির্ভরযোগ্য (ثقة), দ্বিতীয় স্তরের বর্ণনাকারী, উবায়দুল্লাহ বিন জিয়াদের শাসনকালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থের বর্ণনাকারী। ইমাম জাহাবি বলেছেন: সত্যবাদী (صدوق)। আল-কাশিফ (২/৮১), আত-তাকরিব (৩০৫)।

২ সহিহ বুখারি (১/২৬০, নম্বর ৭১৩), কিতাবুস সিফাতুস সালাত, পরিচ্ছেদ: নামাজের সামনের দিকে দৃষ্টি উঁচানো; আরও দেখুন: নম্বর (৭২৬, ৭২৭, ৭৪৪)।

৩ সুনান আবু দাউদ (১/৫০৪, নম্বর ৮০১), কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: জোহরের কিরাত পাঠ সংক্রান্ত।

৪ সুনান ইবনে মাজাহ (১/২৭০, নম্বর ৮২৬), কিতাব ইকামাতিস সালাত, পরিচ্ছেদ: জোহর ও আসরের কিরাত পাঠ।

৫ আমারা বিন উমাইর আত-তাইমি আল-কুফি, নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبت), চতুর্থ স্তরের বর্ণনাকারী, হিজরি ১০০ সালের পরে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ কেউ বলেন তার দুই বছর আগে। তিনি ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থের বর্ণনাকারী। ইমাম জাহাবি বলেছেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة)। আল-কাশিফ (২/২৬৪), আত-তাকরিব (৪০৯)।

৬ মুসনাদ আহমাদ (৫/৩৭১)।

৭ আল-আতরাফ (৮/৩৩৩) গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে। মুসনাদ আহমাদ গ্রন্থে যা "সুফিয়ান বিন আবু আজ-জা'রা" হিসেবে এসেছে, সেখানে "থেকে" (عن) শব্দটি ভুলবশত "পুত্র" (ابن) শব্দে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১০৫)
وسنده لا بأس به رجال إسناده ثقات غير أبي الزعراء1 لا بأس به كما قاله النسائي2.

قَال الهيثمي3: رواه أحمد ورجاله ثقات. اهـ

ويشهد له ما في الصحيح من حديث خباب وتقدم4.

الحديث التاسع:

عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قَال: حزرنا5 قيام رسول الله صلى الله عليه وسلم في الظهر والعصر فحزرنا قيامه في الركعتين الأوليين من الظهر قدر ثلاثين آية قدر (الم تنزيل) السجدة وحزرنا قيامه في الأخريين على النصف من ذلك. وحزرنا قيامه في الأوليين من العصر على قدر الأخريين من الظهر، وحزرنا قيامه في الأخريين من العصر على النصف من ذلك.

أخرجه مسلم6 عن يحيى بن يحيى وأبي بكر بن أبي شيبة7، وأبو داود8

--------------------------------------------

1 يحيى بن الوليد الطائي أبو الزعراء كوفي لا بأس به من السابعة. د س ق. وقال الذهبي: صالح. الكاشف (3/ 237) التَّقْرِيب (598) .

2 تَهْذِيب الْكَمَال (32 / 31)

3 مجمع الزوائد (2/ 115) .

4 برقم (7) .

5 الحزر هو التقدير والخرص. اللسان (4/ 185) .

6 في صحيحه (1/ 334 رقم 452) كتاب الصلاة باب القراءة في الظهر والعصر.

7 وهو في مصنفه (1/ 355) كتاب الصلاة باب في القراءة في الظهر قدر كم، وعند عبد ابن حميد في المنتخب من طريقه (2/ 88 رقم 938) ، وكذا عند البيهقي في سننه من طريقه (2/ 390) .

8 في سننه (1/ 505، 506 رقم 804) كتاب الصلاة باب تخفيف الأخريين.
এর সনদটি কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به) পর্যায়ের, এর সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات); কেবল আবুয যাউরা ব্যতীত, তিনিও কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به) এমন স্তরের, যেমনটি ইমাম নাসায়ি বলেছেন।

আল-হাইসামি বলেছেন: এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। সমাপ্ত।

সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত খাব্বাব-এর হাদিস এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে, যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

নবম হাদিস:

আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা যোহর ও আসরের সালাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাঁড়িয়ে থাকার স্থায়িত্ব অনুমান (حزر) করতাম। আমরা যোহরের প্রথম দুই রাকাতে তাঁর দাঁড়িয়ে থাকার সময় প্রায় ত্রিশ আয়াতের সমান অর্থাৎ 'আলিফ লাম মীম তানযিল' আস-সাজদাহ-এর পরিমাপ বলে অনুমান করলাম এবং শেষ দুই রাকাতে তার অর্ধেক সময় বলে অনুমান করলাম। আর আসরের প্রথম দুই রাকাতে তাঁর দাঁড়িয়ে থাকার সময় যোহরের শেষ দুই রাকাতের সমান এবং আসরের শেষ দুই রাকাতে তার অর্ধেক সময় বলে অনুমান করলাম।

ইমাম মুসলিম এটি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া এবং আবু বকর ইবনে আবি শায়বা থেকে এবং আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ ইয়াহইয়া ইবনুল ওয়ালিদ আত-তায়ি আবুয যাউরা কুফি, তিনি কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به) এমন স্তরের এবং সপ্তম স্তরের বর্ণনাকারী। (দ, স, ক)। ইমাম যাহাবি বলেছেন: সৎকর্মপরায়ণ (صالح)। আল-কাশিফ (৩/ ২৩৭), আত-তাকরিব (৫৯৮)।

২ তহযিবুল কামাল (৩২/ ৩১)

৩ মাজমাউয যাওয়াইদ (২/ ১১৫)।

৪ নম্বর (৭) এ।

৫ আল-হা্যর (الحزر) হলো পরিমাপ এবং অনুমান করা। লিসানুল আরব (৪/ ১৮৫)।

৬ তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১/ ৩৩৪ নম্বর ৪৫২) কিতাবুস সালাত, যোহর ও আসরের কিরাত পরিচ্ছেদ।

৭ এটি তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে (১/ ৩৫৫) কিতাবুস সালাত, যোহরে কতটুকু কিরাত পড়তে হবে পরিচ্ছেদ; এবং ইমাম আবদ ইবনে হুমাইদ তাঁর মুনতাখাব গ্রন্থে তাঁর সূত্রে (২/ ৮৮ নম্বর ৯৩৮), এবং একইভাবে ইমাম বাইহাকি তাঁর সুনান গ্রন্থে তাঁর সূত্রে (২/ ৩৯০) বর্ণনা করেছেন।

৮ তাঁর সুনান গ্রন্থে (১/ ৫০৫, ৫০৬ নম্বর ৮০৪) কিতাবুস সালাত, শেষ দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত করা পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১০৬)
عن عبد الله بن محمد النفيلي، والنسائي1، والطحاوي2 والدارقطني3 عن يعقوب بن إبراهيم الدورقي، وأحمد4 والدارمي5 عن عمرو بن عوف وأبو يعلى6 وابن حبان7 عن أبي خيثمة وابن خزيمة8 عن أبي هاشم زياد بن أيوب وأحمد بن منيع، وأبو عوانة9 عن محمد بن عيسى ومعلى بن منصور وأبو نعيم10 عن مسدد وأبي الربيع كلهم عن هشيم11 عن منصور12 عن

--------------------------------------------

1 في سننه (1/372 رقم 475) كتاب الصلاة باب عدد صلاة العصر في الحضر. وهو عند ابن خزيمة في صحيحه (1/ 256 رقم 509) والطحاوي في شرح معاني الآثار (1/ 207) .

2 في شرح مشكل الآثار (1/207) كتاب الصلاة باب القراءة في الظهر والعصر.

3 في سننه (1/ 337) كتاب الصلاة باب قدر القراءة في الظهر والعصر والصبح.

4 في مسنده (3/ 2)

5 في سننه (1/ 295) كتاب الصلاة باب قدر القراءة في الظهر ووقع عنده (هيثم) بدل “هشيم” وهو تصحيف. وهو من هذا الطريق عن أبي عوانة في مستخرجه (2/ 152)

6 في مسنده (2/ 694 رقم 1292) .

7 في صحيحه - الإحسان (5/ 167 رقم 1858) كتاب الصلاة باب ذكر خبر قد يوهم بعض المستمعين أنه مضاد لخبر أبي قتادة الَّذِي ذكرناه.

8 في صحيحه (1/ 256 رقم 509) كتاب الصلاة باب إباحة القراءة في الأخريين من الظهر والعصر بأكثر من فاتحة الكتاب.

9 في مستخرجه (2/ 152) كتاب الصلاة في باب حزر قيام النبي صلى الله عليه وسلم في الصلوات الخمس.

10 في مستخرجه (2/71 رقم 1002) كتاب الصلاة باب القراءة في الظهر وعنده أيضا عن أبي بكر بن أبي شيبة.

11 هشيم بالتصغير ابن بشير بن القاسم بن دينار السلمي أبو معاوية بن أبي خازم الواسطي، ثقة، ثبت، كثير التدليس والإرسال الخفي من السابعة مات سنة ثلاث وثمانين ومائة. ع. وقَال الذهبي: إمام ثقة مدلس. الكاشف (3/ 198) التَّقْرِيب (574) .

12 منصور بن زاذان الواسطي أبو المغيرة الثقفي، ثقة ثبت عابد من السادسة مات سنة تسع وعشرين ومائة على الصحيح. ع. وقَال الذهبي: ثقة كبير الشأن. الكاشف (3/ 155) التَّقْرِيب (546) .
عبدআল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আন-নাফীলী, আন-নাসায়ী১, আত-তহাবী২ এবং আদ-দারাকুতনী৩ বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আদ-দাওরাকী থেকে; আহমাদ৪ এবং আদ-দারিমী৫ বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আওফ থেকে; আবু ইয়ালা৬ এবং ইবনে হিব্বান৭ বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামা থেকে; এবং ইবনে খুজাইমা৮ বর্ণনা করেছেন আবু হাশিম যিয়াদ ইবনে আইয়ুব ও আহমাদ ইবনে মানী' থেকে; এবং আবু আওয়ানা৯ বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ও মুয়াল্লা ইবনে মানসূর থেকে; এবং আবু নুয়াইম১০ বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ ও আবুল রাবী' থেকে; তাঁরা সকলেই হুশাইম১১ থেকে, তিনি মানসূর১২ থেকে বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

১ তাঁর সুনান (১/৩৭২, নং ৪৭৫), কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: মুকিম অবস্থায় আসরের নামাজের রাকাত সংখ্যা। এটি ইবনে খুজাইমার সহীহ (১/২৫৬, নং ৫০৯) এবং আত-তহাবীর শারহু মা'আনিল আসার (১/২০৭) গ্রন্থেও রয়েছে।

২ শারহু মুশকিলিল আসার (১/২০৭), কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: জোহর ও আসরে কিরাত পাঠ।

৩ তাঁর সুনান (১/৩৩৭), কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: জোহর, আসর ও ফজরে কিরাতের পরিমাণ।

৪ তাঁর মুসনাদ (৩/২)।

৫ তাঁর সুনান (১/২৯৫), কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: জোহরে কিরাতের পরিমাণ; তাঁর এখানে 'হুশাইম'-এর পরিবর্তে 'হাইসাম' শব্দ এসেছে, যা একটি লেখনী বিভ্রাট (تصحيف)। এটি আবু আওয়ানার মুস্তাখরাজ (২/১৫২) গ্রন্থেও এই সূত্র থেকে বর্ণিত হয়েছে।

৬ তাঁর মুসনাদ (২/৬৯৪, নং ১২৯২)।

৭ তাঁর সহীহ - আল-ইহসান (৫/১৬৭, নং ১৮৫৮), কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: এমন একটি সংবাদ যা কোনো কোনো শ্রোতার নিকট ভ্রম তৈরি করতে পারে যে এটি আবু কাতাদাহর সেই সংবাদের পরিপন্থী যা আমরা উল্লেখ করেছি।

৮ তাঁর সহীহ (১/২৫৬, নং ৫০৯), কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: জোহর ও আসরের শেষ দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার অতিরিক্ত কিরাত পাঠের বৈধতা।

৯ তাঁর মুস্তাখরাজ (২/১৫২), কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দণ্ডায়মান হওয়ার সময়ের পরিমাপ।

১০ তাঁর মুস্তাখরাজ (২/৭১, নং ১০০২), কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: জোহরে কিরাত পাঠ; তাঁর নিকট এটি আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

১১ হুশাইম—তাসগির (ক্ষুদ্রতাসূচক রূপ) হিসেবে—ইবনে বাশির ইবনুল কাসিম ইবনে দীনার আস-সুলামী, আবু মুয়াবিয়া ইবনে আবি খাযিম আল-ওয়াসিতী; নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبت), তিনি প্রচুর তাদলীস (تدليس) এবং গোপন ইরসাল (إرسال خفي) করতেন; তিনি সপ্তম স্তরের (من السابعة) অন্তর্ভুক্ত, ১৮৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (ছয় কিতাবের বর্ণনাকারী)। আয-যাহাবী বলেছেন: তিনি একজন ইমাম, নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং তাদলীসকারী (مدلس)। আল-কাশিফ (৩/১৯৮), আত-তাকরীব (৫৭৪)।

১২ মানসূর ইবনে যাযান আল-ওয়াসিতী, আবু আল-মুগীরা আস-সাকাফী; নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبت), ইবাদতগুজার, তিনি ষষ্ঠ স্তরের (من السادسة) অন্তর্ভুক্ত; সঠিক মতানুসারে (على الصحيح) ১২৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (ছয় কিতাবের বর্ণনাকারী)। আয-যাহাবী বলেছেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন। আল-কাশিফ (৩/১৫৫), আত-তাকরীব (৫৪৬)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১০৭)
الوليد بن مسلم1 عن أبي الصديق2 عن أبي سعيد به.

وخالفهم أبو خيثمة3 ـ في إحدى روايتيه4 ـ وإسحاق بن أبي إسرائيل5 كلاهما عن هشيم عن منصور بن زاذان عن الوليد بن مسلم عن أبي الصديق عن أبي سعيد قَال: “كنا نحزر قيام رسول الله صلى الله عليه وسلم في الظهر والعصر، فحزرنا قيامه في الظهر في الركعتين الأوليين قدر ثلاثين آية كل ركعة قدر قراءة (تنزيل) السجدة، وحزرنا قيامه في الركعتين الأوليين من العصر على قدر الأخريين من الظهر، وحزرنا قيامه ـ يعني في الأخريين من العصر ـ على النصف من ذلك”.

أخرجه أبو يعلى6 وابن حبان7 فذكرا تقدير القراءة بثلاثين آية في كل

--------------------------------------------

1 الوليد بن مسلم بن شهاب العنبري أبو بشر البصري، ثقة، من الخامسة. ر م د س. وقَال الذهبي: ثقة. الكاشف (3/ 213) التَّقْرِيب (584.

2 بكر بن عمرو، وقيل: ابن قيس، أبو الصديق الناجي، بصري، ثقة، من الثالثة، مات سنة ثمان ومائة. ع. وقَال الذهبي: ثقة. الكاشف (1/ 108) التَّقْرِيب (127) .

3 زهير بن معاوية بن خديج أبو خيثمة الجعفي الكوفي، نزيل الجزيرة، ثقة، ثبت إلا أن سماعه عن أبي إسحاق بآخرة، من السابعة، مات سنة اثنتين أو ثلاث أو أربع وسبعين ومائة، وكان مولده سنة مائة. ع. وقال الذهبي: ثقة حجة. الكاشف (1/ 256) التَّقْرِيب (218) .

4 والرواية الأخرى مثل رواية الجماعة عن هشيم كما تقدم.

5 إسحاق بن أبي إسرائيل واسمه إبراهيم بن كامَجْرا أبو يعقوب المروزي، نزيل بغداد، صدوق تكلم فيه لوقفه في القرآن، مات سنة خمس وأربعين، وقيل ست وأربعين ومائتين، وله خمس وتسعون سنة، من أكابر العاشرة. بخ د س. الكاشف (1/ 60) التَّقْرِيب (100)

6 في مسنده (2/ 366 رقم 1126) عن إسحاق بن أبي إسرائيل.

7 في صحيحه - الإحسان (5/ 135 رقم 1828) كتاب الصلاة باب ذكر البيان بأن المرء جائز له أن يزيد على ما وصفنا من القراءة.
ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম১ আবু আল-সিদ্দিক২ থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

তাদের বিরোধিতা করেছেন আবু খাইসামা৩ —তাঁর বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটিতে৪ — এবং ইসহাক ইবনে আবি ইসরাইল৫, তাঁরা উভয়েই হুশাইম থেকে, তিনি মনসুর ইবনে জাযান থেকে, তিনি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি আবু আল-সিদ্দিক থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “আমরা জোহর ও আসরের নামাজে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দণ্ডায়মান থাকার সময়ের আন্দাজ করতাম। আমরা জোহরের প্রথম দুই রাকাতে তাঁর দাঁড়িয়ে থাকার সময়কে ত্রিশ আয়াত পরিমাণ আন্দাজ করতাম, যার প্রতিটি রাকাত ছিল (সুরা) আস-সাজদাহ পাঠ করার সমপরিমাণ। আর আমরা আসরের প্রথম দুই রাকাতে তাঁর দাঁড়িয়ে থাকার সময়কে জোহরের শেষ দুই রাকাতের সমপরিমাণ আন্দাজ করতাম। আর আমরা আসরের শেষ দুই রাকাতে তাঁর দাঁড়িয়ে থাকার সময়কে এর অর্ধেক আন্দাজ করতাম।”

এটি বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা৬ এবং ইবনে হিব্বান৭, তাঁরা উভয়ই প্রতি রাকাতে ত্রিশ আয়াত পাঠের পরিমাপ উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

১. ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আল-আনবারি আবু বিশর আল-বাসরি, নির্ভরযোগ্য (ثقة), পঞ্চম স্তরের অন্তর্ভুক্ত (من الخامسة)। আল-আদাবুল মুফরাদ, সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসায়ী। ইমাম জাহাবি বলেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة)। আল-কাশিফ (৩/ ২১৩), আত-তাকরিব (৫৮৪)।

২. বকর ইবনে আমর, মতান্তরে ইবনে কাইস, আবু আল-সিদ্দিক আল-নাজি, বাসরি, নির্ভরযোগ্য (ثقة), তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত (من الثالثة), মৃত্যু ১০৮ হিজরিতে। কুতুবে সিত্তাহর রাবী। ইমাম জাহাবি বলেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة)। আল-কাশিফ (১/ ১০৮), আত-তাকরিব (১২৭)।

৩. জুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে খাদিজ আবু খাইসামা আল-জুফি আল-কুফি, জাজিরায় বসবাসকারী, নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبت), তবে আবু ইসহাক থেকে তাঁর শ্রবণ শেষ বয়সে হয়েছিল, সপ্তম স্তরের অন্তর্ভুক্ত (من السابعة), মৃত্যু ১৭২ বা ১৭৩ বা ১৭৪ হিজরিতে, এবং জন্ম ১০০ হিজরিতে। কুতুবে সিত্তাহর রাবী। ইমাম জাহাবি বলেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة) প্রমাণযোগ্য (حجة)। আল-কাশিফ (১/ ২৫৬), আত-তাকরিব (২১৮)।

৪. অন্য বর্ণনাটি যেমন ইতোপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে সেভাবে হুশাইম থেকে একদলের বর্ণনার অনুরূপ।

৫. ইসহাক ইবনে আবি ইসরাইল, তাঁর নাম ইব্রাহিম ইবনে কামাজরা আবু ইয়াকুব আল-মারওয়াজি, বাগদাদে বসবাসকারী, সত্যবাদী (صدوق), কোরআন (মাখলুক হওয়া) বিষয়ে তাঁর অবস্থানের কারণে তাঁর বিষয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। মৃত্যু ২৪৫ বা ২৪৬ হিজরিতে, তাঁর বয়স হয়েছিল পঁচানব্বই বছর, দশম স্তরের প্রবীণদের অন্তর্ভুক্ত (من أكابر العاشرة)। সহীহ বুখারি (তালিকান), সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসায়ী। আল-কাশিফ (১/ ৬০), আত-তাকরিব (১০০)।

৬. তাঁর মুসনাদে (২/ ৩৬৬, নম্বর ১১২৬) ইসহাক ইবনে আবি ইসরাইল থেকে।

৭. তাঁর সহীহ-এ — আল-ইহসান (৫/ ১৩৫, নম্বর ১৮২৮) নামাজের অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: আমরা যে পরিমাণের কথা বর্ণনা করেছি তার অতিরিক্ত পাঠ করা ব্যক্তির জন্য বৈধ হওয়ার বিবরণে।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১০৮)
ركعة من الأوليين. وهذا يخالف رواية الجماعة عن هشيم حيث ذكروا تقدير القراءة بثلاثين آية في الركعتين الأوليين من الظهر والأخريين على النصف من ذلك … وهي الصواب.

وأخرجه مسلم1 عن شيبان بن فروخ واللفظ له، وأحمد2 عن يونس والطحاوي3 عن حبان بن هلال، وابن حبان4 عن قتيبة بن سعيد، وأبو نعيم5 عن يحيى بن عبد الحميد وأبي الوليد الطيالسي. كلهم عن أبي عوانة6 عن منصور عن الوليد أبي بشر عن أبي الصديق الناجي عن أبي سعيد “أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقرأ في صلاة الظهر في الركعتين الأوليين في كل ركعة قدر ثلاثين آية، وفي الأخريين قدر خمس عشرة آية أو قَال: نصف ذلك. وفي العصر في الركعتين الأوليين في كل ركعة قدر خمس عشرة آية، وفي الأخريين قدر نصف ذلك” فذكروا تقدير القراءة في الأوليين من الظهر بثلاثين آية في كل ركعة.

--------------------------------------------

1 في صحيحه (1/ 334 رقم 452) .

2 في مسنده (3/ 85) .

3 في شرح معاني الآثار (1/ 207) .

4 في صحيحه - الإحسان (5/ 133 رقم 1825) كتاب الصلاة باب القدر الَّذِي يقرأ به في صلاة الظهر والعصر.

5 في مستخرجه (2/ 71، 72 رقم 1003) وعنده أيضا من طريق مسلم السالف عن شيبان بن فروخ.

6 وضاح اليشكري الواسطي البزاز أبو عوانة، مشهور بكنيته، ثقة، ثبت، من السابعة، مات سنة خمس أو ست وسبعين ومائة. ع. وقال الذهبي: الحافظ ثقة، متقن لكتابه. الكاشف (3/ 207) التَّقْرِيب (580) .
...প্রথম দুই রাকাতের এক রাকাত। এটি হুশাইম থেকে একদল বর্ণনাকারীর (جماعة) বর্ণনার পরিপন্থী, যেখানে তাঁরা জোহরের প্রথম দুই রাকাতে তিলাওয়াতের পরিমাণ ত্রিশ আয়াত এবং শেষ দুই রাকাতে তার অর্ধেক উল্লেখ করেছেন … আর এটিই সঠিক।

এটি মুসলিম(১) শায়বান ইবনে ফাররুখ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তাঁরই; আহমাদ(২) ইউনুস থেকে; তহাবি(৩) হাব্বান ইবনে হিলাল থেকে; ইবনে হিব্বান(৪) কুতাইবা ইবনে সাঈদ থেকে; এবং আবু নুয়াইম(৫) ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল হামিদ ও আবুল ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলে আবু আওয়ানাহ(৬) থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি ওয়ালিদ আবু বিশর থেকে, তিনি আবুস সিদ্দিক আন-নাজি থেকে, আর তিনি আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহরের নামাজের প্রথম দুই রাকাতের প্রতি রাকাতে প্রায় ত্রিশ আয়াত পরিমাণ এবং শেষ দুই রাকাতে প্রায় পনেরো আয়াত পরিমাণ অথবা তিনি বলেছেন: তার অর্ধেক তিলাওয়াত করতেন। আর আসরের প্রথম দুই রাকাতের প্রতি রাকাতে প্রায় পনেরো আয়াত পরিমাণ এবং শেষ দুই রাকাতে তার প্রায় অর্ধেক পরিমাণ তিলাওয়াত করতেন।” সুতরাং তাঁরা জোহরের প্রথম দুই রাকাতের প্রতি রাকাতে তিলাওয়াতের পরিমাণ ত্রিশ আয়াত উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

১ তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১/ ৩৩৪, নম্বর ৪৫২)।

২ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (৩/ ৮৫)।

৩ শারহু মা'আনিল আসার গ্রন্থে (১/ ২০৭)।

৪ তাঁর সহিহ ইবনে হিব্বান - আল-ইহসান গ্রন্থে (৫/ ১৩৩, নম্বর ১৮২৫), সালাত অধ্যায়, জোহর ও আসরের নামাজে যে পরিমাণ তিলাওয়াত করতে হয় সেই সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

৫ তাঁর মুস্তাখরাজ গ্রন্থে (২/ ৭১, ৭২ নম্বর ১০০৩); তাঁর নিকট শায়বান ইবনে ফাররুখ থেকে মুসলিমের পূর্বোক্ত সূত্রেও এটি বর্ণিত হয়েছে।

৬ ওয়াদদাহ আল-ইয়াশকরি আল-ওয়াসিতি আল-বাজজায আবু আওয়ানাহ, তিনি তাঁর উপনামেই প্রসিদ্ধ; তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبت), সপ্তম স্তরের অন্তর্ভুক্ত, মৃত্যু ১৭৫ বা ১৭৬ হিজরি। ইমাম জাহাবি বলেছেন: হাফেজ (حافظ), নির্ভরযোগ্য (ثقة), স্বীয় কিতাব সংরক্ষণে পারদর্শী (متقن)। আল-কাশিফ (৩/ ২০৭), আত-তাকরিব (৫৮০)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১০৯)
وخالفهم يحيى بن حماد1، ومعلى بن منصور2 ـ في إحدى روايتيه3 ـ كلاهما عن أبي عوانة عن منصور عن الوليد عن أبي الصديق عن أبي سعيد قَال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقوم في صلاة الظهر في الركعتين الأوليين قدر ثلاثين آية، وفي الركعتين الأخريين قدر خمس عشرة آية، وفي العصر في الركعتين الأوليين قدر خمس عشرة آية، وفي الركعتين الأخريين قدر نصف ذلك.

أخرجه الدارمي4 وأبو عوانة5 واللفظ له فذكرا تقدير القراءة في الأوليين من الظهر بثلاثين آية في الركعتين بخلاف رواية الجماعة عن أبي عوانة، وهذه الرواية عنهما توافق رواية الجماعة عن هشيم السالفة.

وخالفهم أيضا ابن المبارك فرواه عن أبي عوانة عن منصور عن الوليد أبي بشر عن أبي المتوكل6 عن أبي سعيد الخدري قَال:”كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقوم في الظهر فيقرأ قدر ثلاثين آية في كل ركعة ثم يقوم في العصر في الركعتين الأوليين قدر خمس عشرة آية”.

--------------------------------------------

1 يحيى بن حماد بن أبي زياد الشيباني، مولاهم البصري، ختن أبي عوانة، ثقة، عابد، من صغار التاسعة، مات سنة خمس عشرة ومائتين. خ م خد ت س ق. وقال الذهبي: ثقة. الكاشف (3/223) التَّقْرِيب (589) .

2 معلى بن منصور الرازي أبو يعلى، نزيل بغداد، ثقة، سني فقيه، طلب للقضاء فامتنع، أخطأ من زعم أن أحمد رماه بالكذب، من العاشرة، مات سنة إحدى عشرة ومائتين على الصحيح. ع. الكاشف (3/145) التَّقْرِيب (541)

3 والرواية الأخرى عن هشيم كما تقدمت.

4 في سننه (1/ 295)

5 في مستخرجه (2/ 152، 153)

6 علي بن داود، ويقال ابن دُؤاد أبو المتوكل الناجي البصري، مشهور بكنيته، ثقة، من الثالثة، مات سنة ثمان ومائة، وقيل قبل ذلك. ع. الكاشف (2/247) التَّقْرِيب (401) .
ইয়াহইয়া ইবনে হাম্মাদ১ এবং মুআল্লা ইবনে মানসুর২ — তাঁর দুটি বর্ণনার একটিতে৩ — তাঁদের (অন্যান্য বর্ণনাকারীদের) বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা উভয়েই আবু আওয়ানাহ থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি ওয়ালিদ থেকে, তিনি আবু সিদ্দিক থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যোহরের সালাতের প্রথম দুই রাকাতে প্রায় ত্রিশ আয়াত পরিমাণ এবং শেষ দুই রাকাতে প্রায় পনের আয়াত পরিমাণ দাঁড়াতেন। আর আসরের প্রথম দুই রাকাতে প্রায় পনের আয়াত পরিমাণ এবং শেষ দুই রাকাতে তার অর্ধেক পরিমাণ দাঁড়াতেন।

দারেমি৪ এবং আবু আওয়ানাহ৫ এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি তাঁরই। তাঁরা যোহরের প্রথম দুই রাকাতে কিরাআতের পরিমাণ দুই রাকাত মিলিয়ে ত্রিশ আয়াত উল্লেখ করেছেন, যা আবু আওয়ানাহ থেকে বর্ণনাকারীদের দলের (الجماعة) বর্ণনার বিপরীত। তাঁদের এই বর্ণনাটি হুশাইম থেকে বর্ণনাকারীদের দলের (الجماعة) পূর্বোক্ত বর্ণনার সাথে সংগতিপূর্ণ।

ইবনুল মুবারকও তাঁদের বিরোধিতা করেছেন। তিনি এটি আবু আওয়ানাহ থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি ওয়ালিদ আবু বিশর থেকে, তিনি আবু আল-মুতাওয়াক্কিল৬ থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: “আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যোহরের সালাতে দাঁড়াতেন এবং প্রতি রাকাতে প্রায় ত্রিশ আয়াত পরিমাণ পাঠ করতেন, এরপর আসরের প্রথম দুই রাকাতে প্রায় পনের আয়াত পরিমাণ দাঁড়াতেন।”

--------------------------------------------

১. ইয়াহইয়া ইবনে হাম্মাদ ইবনে আবু যিয়াদ আল-শায়বানি, তাদের মুক্ত করা দাস, বসরি, আবু আওয়ানাহর জামাতা, নির্ভরযোগ্য (ثقة), ইবাদতগুজার, নবম স্তরের ছোটদের অন্তর্ভুক্ত, দুইশ পনেরো হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ আল-কিরাআত, তিরমিযি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ)। যাহাবি বলেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة)। আল-কাশিফ (৩/২২৩), আত-তাকরিব (৫৮৯)।

২. মুআল্লা ইবনে মানসুর আল-রাযি আবু ইয়ালা, বাগদাদে বসবাসকারী, নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুন্নাহর অনুসারী ফকিহ, তাঁকে বিচারক পদের জন্য আহ্বান জানানো হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। যে ব্যক্তি দাবি করে যে আহমদ তাঁকে মিথ্যাচারের (الكذب) অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন, সে ভুল করেছে। তিনি দশম স্তরের অন্তর্ভুক্ত, সঠিক মতানুসারে (الصحيح) দুইশ এগারো হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (ছয় কিতাবের সকল ইমাম)। আল-কাশিফ (৩/১৪৫), আত-তাকরিব (৫৪১)।

৩. হুশাইম থেকে বর্ণিত অপর বর্ণনাটি যেমন পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

৪. তাঁর সুনানে (১/২৯৫)।

৫. তাঁর মুস্তাখরাজে (২/১৫২, ১৫৩)।

৬. আলি ইবনে দাউদ, মতান্তরে ইবনে দুয়াদ, আবু আল-মুতাওয়াক্কিল আন-নাজি আল-বাসরি, তাঁর উপনামেই সমধিক পরিচিত, নির্ভরযোগ্য (ثقة), তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত, একশ আট হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ কেউ এর পূর্বেও বলেছেন। (ছয় কিতাবের সকল ইমাম)। আল-কাশিফ (২/২৪৭), আত-তাকরিব (৪০১)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১১০)
أخرجه النسائي1 فوقعت المخالفة في السند والمتن، أما السند فذكر أبا المتوكل بدل أبي الصديق.

وأما المتن فذكر تقدير القراءة بثلاثين آية في كل ركعة من الظهر ولم يقيدها بالأوليين كرواية الجماعة عن أبي عوانة.

والحاصل أن هذا الحديث مداره على منصور بن زاذان، واختلف عليه، ومخرجه واحد.

فراوه هشيم عنه، واختلف عليه لكن الأكثر يروونه عنه بتقدير القراءة بثلاثين آية في الركعتين الأوليين من الظهر وهي الأرجح عنه.

ورواه أبو عوانة عنه، واختلف عليه في سنده ومتنه لكن الأكثر يروونه عنه بتقدير القراءة في الركعتين الأوليين من الظهر بثلاثين آية في كل ركعة. وهي الأرجح عنه فيبقى النظر في هشيم وأبي عوانة في منصور.

وهشيم من أعلم الناس بحديث منصور بن زاذان كما قَاله ابن مهدي.2

وقال أيضا3: حفظ هشيم عندي أثبت من حفظ أبي عوانة، وكتاب أبي عوانة أثبت عندي من حفظ هشيم.

وقال محمد بن عبد الله بن عمار الموصلي4: إذا اختلف أبو عوانة وهشيم فالقول قول هشيم لم يُعَد عليه خطأ.

وقال ابن أبي حاتم5: سألت أبي عن هشيم فقال: ثقة، وهشيم أحفظ من أبي عوانة.

--------------------------------------------

1 في سننه (1/ 237 رقم 476) .

2 تَهْذِيب الْكَمَال (30 / 282)

3 تَهْذِيب الْكَمَال (30 / 282)

4 تاريخ بغداد (14 / 91،92) تَهْذِيب الْكَمَال (30 / 283)

5 الجرح والتعديل (9/ 115، 116) .
আন-নাসায়ী এটি বর্ণনা করেছেন, ফলে এর সনদ (السند) এবং মতন (المتن) উভয় ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে। সনদের ক্ষেত্রে তিনি আবুস সিদ্দিক-এর পরিবর্তে আবুল মুতাওয়াক্কিলের নাম উল্লেখ করেছেন।

আর মতনের ক্ষেত্রে তিনি যুহরের প্রতি রাকাতে পাঠের পরিমাণ ত্রিশ আয়াত উল্লেখ করেছেন এবং আবু আওয়ানা থেকে একদল বর্ণনাকারীর বর্ণনার মতো একে প্রথম দুই রাকাতের সাথে সীমাবদ্ধ করেননি।

সারকথা হলো, এই হাদিসের মূল কেন্দ্রবিন্দু (مدار) হলেন মনসুর ইবনে যাদান। তাঁর ব্যাপারে মতভেদ হয়েছে, যদিও এর সূত্রস্থল একটিই।

হুশাইম তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর বর্ণনার ক্ষেত্রেও মতভেদ হয়েছে। তবে অধিকাংশ বর্ণনাকারী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যুহরের প্রথম দুই রাকাতে পাঠের পরিমাণ ত্রিশ আয়াত এবং এটিই তাঁর থেকে অগ্রগণ্য (الأرجح) মত।

আবু আওয়ানাও তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সনদে (السند) ও মতনে (المتن) মতভেদ হয়েছে। তবে অধিকাংশ বর্ণনাকারী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যুহরের প্রথম দুই রাকাতের প্রতিটিতে পাঠের পরিমাণ ত্রিশ আয়াত। এটিই তাঁর থেকে অগ্রগণ্য (الأرجح) মত। ফলে মনসুরের বর্ণনার ক্ষেত্রে হুশাইম এবং আবু আওয়ানার তুলনামূলক পর্যালোচনার অবকাশ থেকে যায়।

হুশাইম হলেন মনসুর ইবনে যাদানের হাদিস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত, যেমনটি ইবনে মাহদী বলেছেন।

তিনি আরও বলেন: আমার নিকট হুশাইমের মুখস্থ শক্তি আবু আওয়ানার মুখস্থ শক্তির চেয়ে অধিক সুদৃঢ় (أثبت), আর আবু আওয়ানার পাণ্ডুলিপি আমার কাছে হুশাইমের মুখস্থ শক্তির চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য (أثبت)।

মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আম্মার আল-মাওসিলি বলেন: যখন আবু আওয়ানা এবং হুশাইম মতভেদ করেন, তখন হুশাইমের বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য, তাঁর বর্ণনায় কোনো ভুল পাওয়া যায় না।

ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি আমার পিতাকে হুশাইম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة), আর হুশাইম আবু আওয়ানার চেয়ে অধিক প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী (أحفظ)।

--------------------------------------------

১ তাঁর সুনানে (১/২৩৭, নং ৪৭৬)।

২ তাহযিব আল-কামাল (৩০/২৮২)

৩ তাহযিব আল-কামাল (৩০/২৮২)

৪ তারিখ বাগদাদ (১৪/৯১, ৯২), তাহযিব আল-কামাল (৩০/২৮৩)

৫ আল-জারহ ওয়াত-তাদিল (৯/১১৫, ১১৬)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১১১)
وروى هذا الحديث أيضا زيد العمي1 واختلف عليه في سنده ومتنه.

فرواه سفيان عنه عن أبي العالية قَال: “اجتمع ثلاثون من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا: أما ما يجهر فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم بالقراءة فقد علمناه، وما لا يجهر فلا نقيس بما يجهر به، قَال فاجتمعوا فما اختلف منهم اثنان أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقرأ في صلاة الظهر قدر ثلاثين آية في الركعتين الأوليين في كل ركعة. وفي الركعتين الأخريين قدر النصف من ذلك، ويقرأ في العصر في الأوليين بقدر النصف من قراءته في الركعتين الأوليين من الظهر، وفي الأخريين قدر النصف من ذلك”.

أخرجه أحمد2 وعبد الرزاق3 وابن أبي شيبة4 ولم يذكر أبا سعيد في سنده.

ورواه المسعودي5 عنه واختلف فيه مرة يرويه عن زيد عن أبي نضرة قَال: “اجتمع ثلاثون من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم … ” بلفظ سفيان السابق لكنه لم يذكر أبا سعيد.

أخرجه أحمد6 ومرة يرويه عن زيد عن أبي نضرة عن أبي سعيد قَال:

--------------------------------------------

1 زيد الحواري أبو الحواري العمي البصري، قاضي هراة، يقال: اسم أبيه مرة. ضعيف من الخامسة. 4. وقال الذهبي: ضعيف. الكاشف (3/ 154) التَّقْرِيب (546) .

2 في مسنده (5/ 365) .

3 في مصنفه (2/ 105 رقم 2677) كتاب الصلاة باب القراءة في الظهر لكنه مختصر.

4 في مصنفه (1/ 356) كتاب الصلاة باب في القراءة في الظهر قدر كم؟ لكنه مختصر ومرسل لم يذكر أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم.

5 عبد الرحمن بن عبد الله بن عتبة بن عبد الله بن مسعود الكوفي المسعودي، صدوق اختلط قبل موته، وضابطه أنه من سمع منه ببغداد فبعد الاختلاط، من السابعة، مات سنة ستين، وقيل: خمس وستين ومائة. خت 4. الكاشف (2/152) التَّقْرِيب (344) .

6 في مسنده (5/ 365) .
এই হাদিসটি জায়দ আল-আম্মী১-ও বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে এর সনদ (سند) ও মতন (متن)-এর ক্ষেত্রে মতভেদ হয়েছে।

সুফিয়ান তাঁর থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ত্রিশজন সাহাবী একত্রিত হয়ে বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেগুলোতে উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করতেন, তা তো আমরা জানি। আর যেগুলোতে তিনি উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করতেন না, সেগুলোকে আমরা উচ্চস্বরেরগুলোর সাথে তুলনা করব না। তিনি বলেন, অতঃপর তাঁরা একত্রিত হলেন এবং তাঁদের মধ্যে দু’জনও এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেননি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহরের সালাতের প্রথম দুই রাকাআতের প্রতি রাকাআতে প্রায় ত্রিশটি আয়াতের সমপরিমাণ তিলাওয়াত করতেন। আর শেষ দুই রাকাআতে এর অর্ধেক পরিমাণ তিলাওয়াত করতেন। আসরের সালাতের প্রথম দুই রাকাআতে জোহরের প্রথম দুই রাকাআতের তিলাওয়াতের অর্ধেক পরিমাণ এবং শেষ দুই রাকাআতে এর অর্ধেক পরিমাণ তিলাওয়াত করতেন।”

এটি আহমাদ২, আবদুর রাজ্জাক৩ ও ইবনে আবি শায়বাহ৪ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা সনদে আবু সাঈদের কথা উল্লেখ করেননি।

আর মাসউদী৫ তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতেও মতভেদ হয়েছে; একদা তিনি এটি জায়দ থেকে, তিনি আবু নাদরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ত্রিশজন সাহাবী একত্রিত হলেন … ” - এটি পূর্বোক্ত সুফিয়ানের শব্দাবলীতেই বর্ণিত, তবে তিনি এতে আবু সাঈদ-এর উল্লেখ করেননি।

এটি আহমাদ৬ বর্ণনা করেছেন। আবার কখনো তিনি এটি জায়দ থেকে, তিনি আবু নাদরাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

--------------------------------------------

১ জায়দ আল-হাওয়ারী আবু আল-হাওয়ারী আল-আম্মী আল-বাসরি, হিরাতের কাজী, বলা হয়: তাঁর পিতার নাম মুররাহ। তিনি পঞ্চম স্তরের একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী। ৪। ইমাম যাহাবী বলেন: তিনি দুর্বল (ضعيف)। আল-কাশিফ (৩/১৫৪), আত-তাকরিব (৫৪৬)।

২ তাঁর মুসনাদ (৫/৩৬৫)-এ।

৩ তাঁর মুসান্নাফ (২/১০৫, নম্বর ২৬৭৭)-এ, কিতাবুস সালাত, জোহরের কিরাত অধ্যায়; তবে এটি সংক্ষিপ্ত।

৪ তাঁর মুসান্নাফ (১/৩৫৬)-এ, কিতাবুস সালাত, জোহরে কিরাতের পরিমাণ কতটুকু? অধ্যায়; তবে এটি সংক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন (مرسل), এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

৫ আবদুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ আল-কুফি আল-মাসউদী; তিনি সত্যবাদী (صدوق) ছিলেন, মৃত্যুর আগে তাঁর স্মৃতিভ্রম (اختلط) ঘটেছিল। তাঁর ব্যাপারে মূলনীতি হলো যে, যারা তাঁর থেকে বাগদাদে শ্রবণ করেছেন তা তাঁর স্মৃতিভ্রম (الاختلاط)-এর পরের ঘটনা। তিনি সপ্তম স্তরের বর্ণনাকারী, মৃত্যু ১৬০ হিজরিতে, মতান্তরে ১৬৫ হিজরিতে। খত ৪। আল-কাশিফ (২/১৫২), আত-তাকরিব (৩৪৪)।

৬ তাঁর মুসনাদ (৫/৩৬৫)-এ।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১১২)
“اجتمع ثلاثون من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم … ” الحديث لكنه ذكر تقدير القراءة بثلاثين آية في الركعتين الأوليين من الظهر.

أخرجه الطحاوي.1

ومرة يرويه عن زيد عن أبي نضرة عن أبي سعيد الخدري قَال: اجتمع ثلاثون بدريا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا: تعالوا حتى نقيس قراءة رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما لم يجهر فيه من الصلاة فما اختلف منهم رجلان فقاسوا قراءته في الركعة الأولى من الظهر بقدر ثلاثين آية، وفي الركعة الأخرى قدر النصف من ذلك، وقاسوا ذلك في العصر على قدر النصف من الركعتين الأخريين من الظهر.

أخرجه ابن ماجه2 فذكر تقدير القراءة في الظهر بثلاثين آية في الركعة الأولى ونصف ذلك في الركعة الثانية، وهذا يخالف الروايات السابقة.

قَال البوصيري3: هذا إسناد فيه زيد العمي وهو ضعيف والمسعودي اختلط بآخرة، وأبو داود4 إنما روى عنه بعد الاختلاط.

والحاصل أن هذه الطرق مدارها على زيد العمي واختلف فيها في سندها ومتنها ولعل آفتها هو فإنه ضعيف أو المسعودي فيما رواه عنه. والله أعلم.

الحديث العاشر:

عن ابن عمر رضي الله عنهما "أن النبي صلى الله عليه وسلم سجد في صلاة الظهر ثم قام فركع فرأينا أنه قرأ (تنزيل) السجدة".

--------------------------------------------

1 في شرح معاني الآثار (1/ 207) كتاب الصلاة باب القراءة في الظهر والعصر.

2 في سننه (1/ 271 رقم 828) كتاب الصلاة باب القراءة في الظهر والعصر.

3 مصباح الزجاجة (1/ 290)

4 يعني به الطيالسي الراوي عن المسعودي.
“নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ত্রিশজন সাহাবী একত্রিত হলেন … ”—এই হাদিস; তবে তিনি জোহরের প্রথম দুই রাকাতে কিরাতের পরিমাণ ত্রিশ আয়াত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইমাম তহাবী এটি বর্ণনা করেছেন।১

আর অন্য এক বর্ণনায় তিনি জায়েদ থেকে, তিনি আবু নাদাহ থেকে, আর তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ত্রিশজন বদরী সাহাবী একত্রিত হলেন এবং বললেন: আসুন, আমরা সালাতের যে অংশগুলোতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করতেন না, তাঁর কিরাতের সেই পরিমাণ অনুমান করি। তাঁদের মধ্যে দুজন ব্যক্তিও মতভেদ করেননি। ফলে তাঁরা জোহরের প্রথম রাকাতে তাঁর কিরাতের পরিমাণ ত্রিশ আয়াত এবং দ্বিতীয় রাকাতে তাঁর অর্ধেক পরিমাণ অনুমান করলেন। আর তাঁরা আসরের কিরাতের পরিমাণ জোহরের শেষ দুই রাকাতের অর্ধেক হিসেবে অনুমান করলেন।

ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন।২ তিনি জোহরের কিরাতের পরিমাণ প্রথম রাকাতে ত্রিশ আয়াত এবং দ্বিতীয় রাকাতে তার অর্ধেক উল্লেখ করেছেন, যা পূর্ববর্তী বর্ণনাসমূহের পরিপন্থী।

বুসিরী৩ বলেন: এটি এমন একটি সনদ (إسناد), যাতে জায়েদ আল-আম্মী রয়েছেন এবং তিনি দুর্বল (ضعيف); আর মাসউদী শেষ জীবনে স্মৃতিবিভ্রাটে (اختلط) আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং আবু দাউদ৪ মূলত তাঁর স্মৃতিবিভ্রাটের পরেই তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

সারসংক্ষেপ হলো, এই সূত্রগুলোর কেন্দ্রবিন্দু হলো জায়েদ আল-আম্মী এবং এর সনদ (سند) ও মতন (متن) উভয় ক্ষেত্রেই মতভেদ রয়েছে। সম্ভবত এর ত্রুটির কারণ তিনি নিজেই, কেননা তিনি দুর্বল (ضعيف), অথবা মাসউদী তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে ত্রুটি রয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

দশম হাদিস:

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জোহরের সালাতে সিজদা করলেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে রুকু করলেন; ফলে আমরা বুঝতে পারলাম যে তিনি সূরা (তানজীল) আস-সাজদাহ পাঠ করেছেন।"

--------------------------------------------

১ শারহু মাআনিল আসার (১/ ২০৭), সালাত অধ্যায়, জোহর ও আসরের কিরাত পরিচ্ছেদ।

২ সুনানে ইবনে মাজাহ (১/ ২৭১, নম্বর ৮২৮), সালাত অধ্যায়, জোহর ও আসরের কিরাত পরিচ্ছেদ।

৩ মিসবাহুজ জুজাজাহ (১/ ২৯০)।

৪ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মাসউদী থেকে বর্ণনাকারী তায়ালিসী।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১১৩)
أخرجه أبو داود1 قال حدثنا محمد بن عيسى2 حدثنا معتمر بن سليمان3 ويزيد بن هارون وهشيم4 عن سليمان التيمي عن أمية5 عن أبي مجلز6 عن ابن عمر به.

قَال أبو داود: قَال ابن عيسى لم يذكر أمية أحد إلا معتمر.

وقال7 في رواية الرملي أمية هذا لا يعرف، ولم يذكره إلا المعتمر.

وأخرجه أحمد8 وابن أبي شيبة9 والطحاوي10 والبيهقي11 عن يزيد

--------------------------------------------

1 في سننه (1/ 507 رقم 807) كتاب الصلاة باب قدر القراءة في صلاة الظهر والعصر.

2 محمد بن عيسى بن نجيح البغدادي أبو جعفر بن الطباع نزيل أَدَنه، ثقة فقيه، كان من أعلم الناس بحديث هشيم، من العاشرة، مات سنة أربع وعشرين ومائتين، وله أربع وسبعون. خت د تم س ق. الكاشف (3/ 77) التَّقْرِيب (501) .

3 معتمر بن سليمان التيمي أبو محمد البصري، يلقب الطفيل، ثقة، من كبار التاسعة، مات سنة سبع وثمانين ومائتين، وقد جاوز الثمانين. ع. الكاشف (3/ 142) التَّقْرِيب (539)

4 هشيم هو ابن بشير.

5 أمية عن أبي مجلز مجهول من السادسة. د. الكاشف (1/ 87) التَّقْرِيب (115)

6 لاحق بن حميد بن سعيد السدوسي، البصري أبو مجلز، مشهور بكنيته، ثقة، من كبار الثالثة، مات سنة ست، وقيل تسع ومائة، وقيل قبل ذلك. وقال الذهبي: ثقة. الكاشف (3/ 217) التَّقْرِيب (586)

7 تَهْذِيب الْتهذيب (1/ 373)

8 في مسنده (2/ 83)

9 في مصنفه (2/ 22) كتاب الصلاة، باب السجدة تقرأ في الظهر والعصر.

10 في شرح معاني الآثار (1/ 207) كتاب الصلاة باب القراءة في الظهر والعصر.

11 في سننه (2/ 322) كتاب الصلاة، باب استحباب السجود في الصلاة متى ما قرأ فيها آية السجدة.
এটি আবু দাউদ১ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে মুহাম্মাদ বিন ঈসা২ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে মুতামির বিন সুলাইমান৩, ইয়াযিদ বিন হারুন এবং হুশাইম৪ সুলাইমান আত-তাইমি থেকে, তিনি উমাইয়াহ৫ থেকে, তিনি আবু মিজলাজ৬ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে একই সনদে বর্ণনা করেছেন।

আবু দাউদ বলেন: ইবনে ঈসা বলেছেন যে, মুতামির ব্যতীত অন্য কেউ উমাইয়াহর কথা উল্লেখ করেননি।

এবং তিনি৭ আল-রামলির বর্ণনায় বলেছেন যে, এই উমাইয়াহ অপরিচিত (لا يعرف), এবং মুতামির ব্যতীত অন্য কেউ তাকে উল্লেখ করেননি।

এবং এটি আহমাদ৮, ইবনে আবি শাইবাহ৯, তহবি১০ এবং বায়হাকি১১ ইয়াযিদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ তার সুনান গ্রন্থে (১/ ৫০৭ নং ৮০৭), সালাত অধ্যায়, যোহর ও আসরের সালাতে কিরাআতের পরিমাণ অনুচ্ছেদ।

২ মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন নাজীহ আল-বাগদাদি আবু জাফর বিন আল-তাব্বা, আদানা নিবাসী, নির্ভরযোগ্য (ثقة) ফকিহ, তিনি হুশাইমের হাদিস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন, দশম স্তরের (العاشرة), দুইশত চব্বিশ হিজরি সনে চুয়াত্তর বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। বুখারি (তালিক), আবু দাউদ, তিরমিজি (শামাইল), নাসায়ি, ইবনে মাজাহ। আল-কাশিফ (৩/ ৭৭), আত-তাকরিব (৫০১)।

৩ মুতামির বিন সুলাইমান আত-তাইমি আবু মুহাম্মাদ আল-বাসরি, তার উপাধি ছিল আল-তুফাইল, নির্ভরযোগ্য (ثقة), নবম স্তরের (التاسعة) বড়দের অন্তর্ভুক্ত, দুইশত সাতাশি হিজরি সনে আশি বছর বয়সের পরে মৃত্যুবরণ করেন। জামা'আহ (ছয় কিতাব)। আল-কাশিফ (৩/ ১৪২), আত-তাকরিব (৫৩৯)।

৪ হুশাইম হলেন ইবনে বাশির।

৫ আবু মিজলাজের সূত্রে বর্ণিত উমাইয়াহ অজ্ঞাত (مجهول), ষষ্ঠ স্তরের (السادسة)। আবু দাউদ। আল-কাশিফ (১/ ৮৭), আত-তাকরিব (১১৫)।

৬ লাহিক বিন হামিদ বিন সাঈদ আস-সাদুসি, আল-বাসরি আবু মিজলাজ, তিনি তার কুনিয়াত নামেই প্রসিদ্ধ, নির্ভরযোগ্য (ثقة), তৃতীয় স্তরের (الثالثة) বড়দের অন্তর্ভুক্ত, একশত ছয় হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ বলেছেন একশত নয় হিজরি, আবার কেউ বলেছেন তার আগে। আর যাহাবি বলেছেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة)। আল-কাশিফ (৩/ ২১৭), আত-তাকরিব (৫৮৬)।

৭ তাহজিবুত তাহজিব (১/ ৩৭৩)।

৮ তার মুসনাদ গ্রন্থে (২/ ৮৩)।

৯ তার মুসান্নাফ গ্রন্থে (২/ ২২), সালাত অধ্যায়, যোহর ও আসরে তিলাওয়াতের সিজদা অনুচ্ছেদ।

১০ শারহু মাআনিল আসার গ্রন্থে (১/ ২০৭), সালাত অধ্যায়, যোহর ও আসরে কিরাআত অনুচ্ছেদ।

১১ তার সুনান গ্রন্থে (২/ ৩২২), সালাত অধ্যায়, সালাতে যখনই সিজদার আয়াত পাঠ করা হয় তখনই সিজদা করা মুস্তাহাব অনুচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১১৪)
ابن هارون والحاكم1 عن يحيى بن سعيد كلاهما عن سليمان التيمي عن أبي مجلز2 عن ابن عمر به، ولم يذكرا أمية.

قَال الشوكاني3: وفي إسناده أمية شيخ لسليمان التيمي رواه له عن أبي مجلز وهو لا يعرف قَاله أبو داود في رواية الرملي عنه، وفي رواية الطحاوي عن سليمان عن أبي مجلز قَال: ولم يسمعه منه ولكنه عند الحاكم بإسقاطه قَال الحافظ: ودلت رواية الطحاوي على أنه مدلس. اهـ.

وفي رواية البيهقي: قَال أي سليمان: “ولم أسمعه من أبي مجلز”.

وقال الحاكم: حديث صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه، وهو سنة صحيحة غريبة أن الإمام يسجد فيما يسر بالقرآن مثل سجوده فيما يعلن.

وتعقبه الحافظ ابن حجر كما سيأتي.

وقال الحافظ4: وصح من حديث ابن عمر فذكره وقال: أخرجه أبو داود والحاكم وحسنه في نتائج الأفكار.5

وأخرجه البيهقي6 من طريق معتمر بن سليمان عن أبيه عن مية عن أبي

--------------------------------------------

1 في مستدركه (1/ 221) كتاب الصلاة باب أول سورة نزلت فيها السجدة الحج.

2 وقع عند الطحاوي “أبى مخلد” وهو تصحيف.

3 نيل الأوطار (3/ 114)

4 في الفتح (2/ 378، 379) لكن تعقبه الشيخ ابن باز رحمه الله في الحاشية فقال: في تصحيحه نظر، والصواب أنه ضعيف لأن في إسناده عند أبي داود رجلا مجهولا يدعى أمية كما نص على ذلك أبو داود في رواية الرملي عنه ونبه عليه الشوكاني في نيل الأوطار والله أعلم. وانظر: نيل الأوطار (3/ 114) .

(1/ 450) .

6 في سننه (2/ 322) كتاب الصلاة باب استحباب السجود في الصلاة متى ما قرأ فيها آية السجدة.
ইবনে হারুন ও আল-হাকিম১ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তাঁরা উভয়ই সুলায়মান আত-তায়মি থেকে, তিনি আবু মিজলায২ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন; আর তাঁরা উভয়েই উমাইয়াহ-এর উল্লেখ করেননি।

আশ-শাওকানি৩ বলেন: এর সনদ (إسناد)-এ উমাইয়াহ রয়েছেন, যিনি সুলায়মান আত-তায়মির শাইখ (شيخ)। তিনি তাঁর থেকে আবু মিজলাযের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি অপরিচিত (لا يعرف); আবু দাউদ তাঁর থেকে আর-রামলির বর্ণনায় এমনটিই বলেছেন। আত-তহবির বর্ণনায় সুলায়মান থেকে আবু মিজলাযের সূত্রে এসেছে যে, তিনি বলেন: তিনি এটি তাঁর থেকে শ্রবণ করেননি। তবে আল-হাকিমের নিকট এটি তাঁকে বাদ দিয়েই (উমাইয়াহকে বাদ দিয়ে) বর্ণিত হয়েছে। হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: আত-তহবির বর্ণনা প্রমাণ করে যে তিনি একজন মুদাল্লিস (مدلس)। সমাপ্ত।

আল-বায়হাকির বর্ণনায় রয়েছে: তিনি অর্থাৎ সুলায়মান বলেছেন: “আমি এটি আবু মিজলায থেকে শ্রবণ করিনি।”

আল-হাকিম বলেন: হাদিসটি শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুসারে (شرط الشيخين) সহিহ (صحيح), যদিও তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি। এটি একটি সহিহ (صحيحة) ও গরিব (غريبة) সুন্নাহ যে, ইমাম যখন নিভৃতে কেরাত পাঠ করেন, তখনও তিনি উচ্চস্বরে কেরাত পাঠের মতো সিজদাহ করবেন।

হাফেজ ইবনে হাজার এর সমালোচনা করেছেন যা সামনে আলোচিত হবে।

হাফেজ৪ বলেন: ইবনে উমরের হাদিস থেকে এটি সহিহ (صح) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন এবং বলেন: আবু দাউদ ও আল-হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং 'নাতাইযুল আফকার' গ্রন্থে তিনি একে হাসান (حسنه) বলেছেন।৫

আল-বায়হাকি৬ এটি মুতামির ইবনে সুলায়মান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমাইয়াহ থেকে, তিনি আবু... সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে (১/ ২২১), কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: হজ্জ সুরায় প্রথম যে সিজদাহর আয়াত নাযিল হয়েছে।

২ আত-তহবির নিকট এটি “আবু মুখাল্লাদ” হিসেবে এসেছে, যা মূলত একটি বর্ণবিভ্রাট (تصحيف)।

৩ নাইলুল আওতার (৩/ ১১৪)।

৪ ফাতহুল বারিতে (২/ ৩৭৮, ৩৭৯); তবে শাইখ ইবনে বায (রহ.) পাদটীকায় এর সমালোচনা করে বলেছেন: একে সহিহ (تصحيح) আখ্যা দেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। সঠিক কথা হলো এটি দুর্বল (ضعيف), কারণ আবু দাউদের নিকট এর সনদ (إسناد)-এ উমাইয়াহ নামক একজন অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তি রয়েছেন, যেমনটি আবু দাউদ আর-রামলির বর্ণনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং আশ-শাওকানি নাইলুল আওতার গ্রন্থে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন। দেখুন: নাইলুল আওতার (৩/ ১১৪)।

৫ (১/ ৪৫০)।

৬ তাঁর সুনান গ্রন্থে (২/ ৩২২), কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: সালাতে যখনই সিজদাহর আয়াত পাঠ করা হবে তখনই সিজদাহ করা মুস্তাহাব।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১১৫)
مجلز عن ابن عمر بنحوه وقال: كذا قال مية وقال غيره أمية.

وأخرجه أيضاً من طريق معتمر عن أبيه عن رجل يقال له أمية فذكره بمثله.

وأخرجه عبد الرزاق1 وابن أبي شيبة2 عن ابن التيمي عن أبيه عن ابن مجلز أن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلاً.

وهذا الحديث رواه يحي بن سعيد ويزيد بن هارون وهشيم وأبو زبيد عبثر ابن القاسم وغير واحد كما قاله المزي3 عن سليمان التيمي عن أبي مجلز ليس بينهما أحد وراه معتمر بن سليمان عن أبيه عن أمية عن أبي مجلز فزاد أمية كما هي رواي أبي داود ورجح الذهبي4 إسقاطه فقال: أمية عن أبي مجلز: لا حق لا يدري من ذا، وعنه سليمان التميمي والصواب إسقاط ما بينهما.

وعلى هذا فإذا كان الصواب إسقاطه يكون السند صحيحاً ولعل الحافظ صححه بناء على هذا وسليمان التميمي يروي عن أبي مجلز لكن يشكل على هذا ما قاله الحافظ5: أخرجه البيهقي6 من رواية محمد بن عبد الملك الدقيقي عن يزيد بن هارون عن سليمان عن أبي مجلز عن ابن عمر قَال: ولم أسمعه من أبي مجلز فقويت رواية معتمر بن سليمان.

وهذا يؤيد أن بينهما رجلاً وهذا الرجل مجهول وقال أيضاً7: قول علي

--------------------------------------------

1 في مصنفه (2/ 105) رقم 2678) كتاب الصلاة باب القراءة في الظهر.

2 في مصنفه (2/ 22) .

3 تَهْذِيب الْكَمَال (3/ 342) .

4 الميزان (1/ 276) .

5 النكت الظراف (6/ 259) .

6 في سننه (2/ 322) وكذا في رواية الطحاوي قَال: ولم أسمعه منه.

7 نتائج الأفكار (1/ 450، 451) .
আবু মিজলায ইবনে উমর থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: মায়্যাহ এভাবেই বলেছেন, আর অন্যেরা বলেছেন উমাইয়্যাহ।

তিনি এটি মুতামির থেকে, তাঁর পিতার সূত্রে, উমাইয়্যাহ নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমেও বর্ণনা করেছেন এবং অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।

আবদুর রাজ্জাক এবং ইবনে আবি শাইবাহ ইবনে তায়মি থেকে, তাঁর পিতার সূত্রে, ইবনে মিজলায থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি বিচ্ছিন্ন (مرسلاً) হিসেবে বর্ণিত।

এই হাদিসটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, ইয়াযিদ ইবনে হারুন, হুশাইম, আবু যুবাইদ আবসার ইবনে কাসিম এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন—যেমনটি মিজ্জি উল্লেখ করেছেন—সুলাইমান আত-তায়মি থেকে, আবু মিজলাযের সূত্রে; তাঁদের উভয়ের মাঝে অন্য কেউ নেই। অন্যদিকে মুতামির ইবনে সুলাইমান তাঁর পিতার সূত্রে উমাইয়্যাহ থেকে, তিনি আবু মিজলায থেকে বর্ণনা করেছেন; ফলে তিনি উমাইয়্যাহর নাম অতিরিক্ত যুক্ত করেছেন, যেমনটি আবু দাউদের বর্ণনায় রয়েছে। যাহাবি একে বাদ দেওয়াকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং বলেছেন: উমাইয়্যাহর মাধ্যমে আবু মিজলায থেকে বর্ণিত এই বর্ণনাটির কোনো ভিত্তি নেই, সে কে তা জানা যায় না, আর তাঁর থেকে সুলাইমান আত-তামিমি বর্ণনা করেছেন। সঠিক হলো তাঁদের উভয়ের মাঝ থেকে তাকে বাদ দেওয়া।

এর ওপর ভিত্তি করে, যদি তাকে বাদ দেওয়াই সঠিক হয়, তবে সনদ (السند) সহিহ (صحيحاً) হবে। সম্ভবত হাফিজ এর ওপর ভিত্তি করেই একে সহিহ (صححه) বলে গণ্য করেছেন। সুলাইমান আত-তামিমি আবু মিজলায থেকে বর্ণনা করেন, তবে হাফিজ যা বলেছেন তা এক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করে: বায়হাকি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মালিক আদ-দাকিকি থেকে, তিনি ইয়াযিদ ইবনে হারুন থেকে, তিনি সুলাইমান থেকে, তিনি আবু মিজলায থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "আমি এটি আবু মিজলায থেকে শুনিনি।" এর ফলে মুতামির ইবনে সুলাইমানের বর্ণনাটি শক্তিশালী হয়েছে।

এটি সমর্থন করে যে তাঁদের উভয়ের মাঝে একজন ব্যক্তি রয়েছেন এবং এই ব্যক্তিটি অজ্ঞাত (مجهول)। তিনি আরও বলেছেন: আলীর উক্তি...

--------------------------------------------

১ তাঁর মুসান্নাফ-এ (২/১০৫), নং ২৬৭৮, কিতাবুস সালাত, জোহর নামাজে কিরাত অধ্যায়।

২ তাঁর মুসান্নাফ-এ (২/২২)।

৩ তাহযিবুল কামাল (৩/৩৪২)।

৪ আল-মিযান (১/২৭৬)।

৫ আন-নুকাতুয যিরাফ (৬/২৫৯)।

৬ তাঁর সুনান-এ (২/৩২২); অনুরূপভাবে তহাবির বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেছেন: আমি তাঁর থেকে এটি শুনিনি।

৭ নাতায়েজুল আফকার (১/৪৫০, ৪৫১)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১১৬)
أن بينهما1 واسطة … وجرى الحاكم على ظاهر الإسناد فأخرجه من طريق يحيى القطان عن سليمان بهذا السند وقَال صحيح على شرطهما وليس كما قال لهذه العلة.

وقال أيضاً الحافظ2: ويحتمل أن هذا تصحيف من أحد الرواة كان عن المعتمر عن أبيه فظنه أمية ثم كرر ذكر أبيه والله أعلم.

لكن وقع عند أحمد عن يزيد بن هارون عن سليمان عن أبي مجلز به ثم قَال: قَال سليمان: ولم أسمعه من أبي مجلز وحكى الدارقطني أن بعضهم رواه عن المعتمر فقال عن أبيه عن أبي أمية وزيفه ثم جوز إن كان محفوظاً أن يكون المراد به عبد الكريم بن أبي المخارق فإنه يكنى أبا أمية وهو بصري والله أعلم.

والحاصل من هذا أن الحديث ضعيف.

الحديث الحادي عشر:

عن البراء رضي الله عنه قَال: "سجدنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في الظهر فظننا أنه قرأ (تنزيل) السجدة".

أخرجه أبو يعلى3 من طريق يحيى بن عقبة بن أبي العيزار حدثنا أبو إسحق عن البراء به، وسنده ضعيف فيه يحيى بن عقبة ضعفه غير واحد.

قَال أبو زرعة4: ضعيف الحديث، وقال أبو حاتم5: متروك الحديث ذاهب الحديث كان يفتعل الحديث، وقال ابن معين6 ليس بشيء، وقال

--------------------------------------------

1 تَهْذِيب التهذيب (1/ 373) .

2 تَهْذِيب التهذيب (1/ 373) .

3 في مسنده (3/ 233رقم 1671)

4 الجرح والتعديل (9/ 179) .

5 الجرح والتعديل (9/ 179) .

6 تاريخ يحيى بن معين (2/ 651)
যে তাদের উভয়ের মাঝে১ একজন মধ্যস্থতাকারী রয়েছে … এবং আল-হাকিম বাহ্যিক সনদ (إسناد)-এর ওপর ভিত্তি করে ইয়াহইয়া আল-কাত্তানের সূত্র ধরে সুলাইমান থেকে এই সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি উভয়ের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح)। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তিনি এই ত্রুটি (علة)-এর কারণে বলেছেন।

হাফিজ (ইবনে হাজার)২ আরও বলেন: এটি সম্ভবত কোনো একজন বর্ণনাকারী (رواة)-এর পক্ষ থেকে শব্দগত বিকৃতি (تصحيف), যা ছিল মুতামির থেকে তার পিতার সূত্রে, পরে তিনি একে উমাইয়্যাহ মনে করেন এবং তার পিতার উল্লেখ পুনরায় করেন, আল্লাহই ভালো জানেন।

কিন্তু আহমাদ-এর কিতাবে ইয়াযিদ বিন হারুন থেকে, তিনি সুলাইমান থেকে, তিনি আবু মিজলায থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে। তারপর তিনি (সুলাইমান) বলেন: আমি আবু মিজলায থেকে এটি শুনিনি। আদ-দারাকুতনি উল্লেখ করেছেন যে, তাদের কেউ কেউ এটি মুতামির থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: তার পিতা থেকে, তিনি আবু উমাইয়্যাহ থেকে; এবং তিনি একে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন। অতঃপর তিনি সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছেন যে, যদি এটি সংরক্ষিত (محفوظ) হয়ে থাকে তবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারেন আব্দুল কারিম বিন আবি আল-মুখারিক, কেননা তার উপনাম ছিল আবু উমাইয়্যাহ এবং তিনি বসরার অধিবাসী ছিলেন, আল্লাহই ভালো জানেন।

এর সারকথা হলো, এই হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)।

একাদশতম হাদিস:

বারা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে জোহরের নামাজে সিজদা করলাম এবং আমাদের ধারণা হলো তিনি (তানযিল) আস-সাজদাহ তিলাওয়াত করেছেন।"

এটি আবু ইয়ালা৩ ইয়াহইয়া বিন উকবাহ বিন আবি আল-আইযার-এর সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট আবু ইসহাক বারা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف), এতে ইয়াহইয়া বিন উকবাহ রয়েছেন যাকে একাধিক (মুহাদ্দিস) দুর্বল (ضعفه) সাব্যস্ত করেছেন।

আবু যুরআ৪ বলেছেন: তিনি হাদিসে দুর্বল (ضعيف الحديث), আবু হাতিম৫ বলেছেন: তিনি হাদিসে পরিত্যক্ত (متروك الحديث), তার হাদিস বর্জনীয় (ذاهب الحديث), তিনি হাদিস জাল (يفتعل الحديث) করতেন। ইবনে মাঈন৬ বলেছেন: তিনি (হাদিসশাস্ত্রে) কিছুই নন (ليس بشيء), এবং বলেছেন...

--------------------------------------------

১ তহযীবুত তহযীব (১/ ৩৭৩)।

২ তহযীবুত তহযীব (১/ ৩৭৩)।

৩ তার মুসনাদ গ্রন্থে (৩/ ২৩৩, নম্বর ১৬৭১)।

৪ আল-জারহ ওয়াত তাদীল (৯/ ১৭৯)।

৫ আল-জারহ ওয়াত তাদীল (৯/ ১৭৯)।

৬ তারিখ ইয়াহইয়া বিন মাঈন (২/ ৬৫১)।
(খণ্ড: ১) আহাদিসুল কিরাআতিল ওয়ারিদাতি ফী সালাতাইয যুহরি ওয়াল আসর (পৃষ্ঠা: ১১৭)
النسائي1 ليس بثقة، وقال الدارقطني2 متروك.

قَال الهيثمي3: وفيه يحيى بن عقبة بن أبي العيزار وهو منكر الحديث

الحديث الثاني عشر:

عن جابر بن سمرة رضي الله عنه قَال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ في الظهر (بالليل إذا يغشى) وفي العصر نحو ذلك وفي الصبح أطول من ذلك.

أخرجه مسلم4 واللفظ له وأبو داود5 والنسائي6

كلهم من طريق شعبة عن سماك بن حرب عن جابر بن سمرة به.

ولفظ أبي داود7 “كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دحضت الشمس صلى الظهر وقرأ بنحو من {وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى} والعصر كذلك والصلوات كذلك إلا الصبح فإنه كان يطيلها” وسنده صحيح.

وفي لفظ لمسلم8 “أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقرأ في الظهر (بسبح اسم ربك الأعلى) وفي الصبح بأطول من ذلك”

--------------------------------------------

1 الضعفاء والمتروكين (241 رقم 628)

2 في الضعفاء والمتروكين (387 رقم 575)

3 مجمع الزوائد (2/ 116) .

4 في صحيحه (1/ 337 رقم 459) كتاب الصلاة باب القراءة في الصبح.

5 في سننه (1/ 506 رقم 806) كتاب الصلاة باب قدر القراءة في صلاة الظهر والعصر.

6 في سننه (2/ 166 رقم 980) كتاب الاستفتاح، باب القراءة في الركعتين الأوليين من صلاة العصر.

7 قَال حدثنا عبيد الله بن معاذ حدثنا أبي حدثنا شعبة به وعبيد الله وأبوه ثقتان.

8 في صحيحه (1/ 338 رقم 460)
নাসাঈ১ নির্ভরযোগ্য (ثقة) নন এবং দারা কুতনী২ বলেছেন তিনি পরিত্যক্ত (متروك)।

হাইসামী৩ বলেছেন: এতে ইয়াহইয়া ইবনে উকবা ইবনে আবিল আইযার রয়েছেন এবং তিনি মুনকার হাদিস (منكر الحديث) বর্ণনাকারী।

দ্বাদশ হাদিস:

জাবির ইবনে সামুরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জোহরের নামাজে ‘ওয়াল্লাইলি ইযা ইয়াগশা’ পাঠ করতেন এবং আসরের নামাজেও অনুরূপ এবং ফজরের নামাজে তার চেয়ে দীর্ঘ পাঠ করতেন।

এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম৪ এবং শব্দাবলী তাঁর, আর আবু দাউদ৫ ও নাসাঈ৬।

তাঁরা সকলে শু’বাহ-এর সূত্রে সিমাক ইবনে হারব হতে এবং তিনি জাবির ইবনে সামুরা হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আর আবু দাউদ৭-এর শব্দাবলী হলো: “রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সূর্য ঢলে পড়ত তখন জোহরের নামাজ পড়তেন এবং ‘ওয়াল্লাইলি ইযা ইয়াগশা’-এর অনুরূপ পাঠ করতেন এবং আসর ও অন্যান্য নামাজেও অনুরূপ ছিল, কেবল ফজর ব্যতীত, কেননা তিনি ফজর দীর্ঘ করতেন” এবং এর সনদ সহিহ (صحيح)।

আর মুসলিমের৮ অন্য একটি শব্দাবলীতে রয়েছে: “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জোহরের নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা’ পাঠ করতেন এবং ফজরের নামাজে এর চেয়ে দীর্ঘ পাঠ করতেন”।

--------------------------------------------

১ আদ-দুয়াফা ওয়াল মাত্রুকিন (২৪১, নং ৬২৮)

২ আদ-দুয়াফা ওয়াল মাত্রুকিন গ্রন্থে (৩৮৭, নং ৫৭৫)

৩ মাজমাউজ যাওয়ায়েদ (২/ ১১৬)।

৪ তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১/ ৩৩৭, নং ৪৫৯), কিতাবুস সালাত, অধ্যায়: ফজরের নামাজে কিরাত পাঠ।

٥ তাঁর সুনান গ্রন্থে (১/ ৫০৬, নং ৮০৬), কিতাবুস সালাত, অধ্যায়: জোহর ও আসরের নামাজে কিরাতের পরিমাণ।

৬ তাঁর সুনান গ্রন্থে (২/ ১৬৬, নং ৯৮০), কিতাবুল ইসতিফতাহ, অধ্যায়: আসর নামাজের প্রথম দুই রাকাতে কিরাত পাঠ।

৭ তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে মুয়াজ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ এই সূত্রে; আর উবাইদুল্লাহ এবং তাঁর পিতা উভয়েই নির্ভরযোগ্য (ثقة)।

৮ তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১/ ৩৩৮, নং ৪৬০)