(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: -)
تعطير الأنام في تعبير المنام   (عبد الغني النابلسي)

القسم: علوم أخرى


الكتاب: تعطير الأنام في تعبير المنام

المؤلف: عبد الغني بن إسماعيل بن عبد الغني النابلسي (ت 1143هـ)

الناشر: دار الفكر - بيروت

عدد الصفحات: 381

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

স্বপ্নের ব্যাখ্যার মাধ্যমে সৃষ্টির সুগন্ধিতকরণ   (আবদুল গনী আন-নাবলুসী)

বিভাগ: অন্যান্য শাস্ত্র


গ্রন্থ: স্বপ্নের ব্যাখ্যার মাধ্যমে সৃষ্টির সুগন্ধিতকরণ

লেখক: আবদুল গনী বিন ইসমাইল বিন আবদুল গনী আন-নাবলুসী (মৃত্যু ১১৪৩ হিজরি)

প্রকাশক: দার আল-ফিকর - বৈরুত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ৪)
- بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي جعل النوم سباتاً، وخلق الناس أشتاتاً، وبسط الأرض لهم فراشاً، وجعل الليل لباساً، والنهار معاشاً، والصلاة والسلام على البشير والسراج المنير محمد النبي الرسول، الذي ألبسه الله تعالى حلة الكرامة وتاج القبول، ورضوان الله تعالى على آله الأبرار، وأصحابه الأئمة الأخيار، وعن جميع التابعين لهم بإحسان إلى آخر الزمان (أما بعد) فيقول العبد الفقير والعاجز الحقير عبد الغني بن إسماعيل الشهير بابن النابلسي الحنفي مذهباً القادري مشرباً النقشبندي طريقة أدام الله تعالى هدايته وتوفيقه: لما كان علم التعبير للرؤيا المنامية من العلوم الرفيعة المقام وكانت الأنبياء صلى الله وسلم عليهم يعدونها من الوحي إليهم في شرائع الأحكام وقد ذهبت النبوة وبقيت المبشرات الرؤيا الصالحة يراها الرجل أو ترى له في المنام على حسب ما ورد في الحديث عن سيد الأنام عليه أفضل وأتم السلام، أردت أن أجمع كتاباً في هذا الشأن يكون مرتباً على حروف المعجم ليسهل التناول منه على كل إنسان وقد رأيت كتاباً مجموعاً كذلك لابن غنام رحمه الله تعالى فهو السابق إلى هذا الأسلوب التام ولكنه مختصر لا يفي بغلة المتعطشين من ذوي الأفهام فاستعنت بالله تعالى على إتمام ما أردت فإنه ولي الإحسان وله الفضل علينا ومنه كمال الجود والامتنان وسميت كتابي هذا (تعطير الأنام في تعبير المنام) سائلاً دعوة صالحة من صالح تكون لنا في يوم زلة الأقدام وقد ابتدأته بمقدمة مختصرة جامعة إقتداء بالمصنفين في هذا العلم من الأعلام عليهم رحمة الله العلام.
- পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিদ্রাকে করেছেন বিশ্রাম, মানুষকে সৃষ্টি করেছেন বিভিন্ন দলে, তাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন শয্যা, রাতকে করেছেন আবরণ এবং দিনকে করেছেন জীবিকার সময়। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সুসংবাদদাতা ও উজ্জ্বল প্রদীপ মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি নবী ও রাসূল, যাঁকে মহান আল্লাহ সম্মানের ভূষণ ও কবুলিয়াতের মুকুট পরিধান করিয়েছেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক তাঁর পুণ্যবান পরিবারবর্গ, তাঁদের ইমামতুল্য শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী সকল তাবেয়ীদের প্রতি। (অতঃপর) আল্লাহর হিদায়েত ও তাওফীকের চির মুখাপেক্ষী ফকীর ও অক্ষম বান্দা আব্দুল গনি ইবনে ইসমাইল—যিনি ইবনে নাবুলসি হিসেবে পরিচিত, মাযহাবে হানাফী, মাশরাবে কাদেরী এবং তরিকায় নকশবন্দী—বলেন: যেহেতু স্বপ্ন ব্যাখ্যার জ্ঞান একটি উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন শাস্ত্র এবং নবীগণ (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) একে তাঁদের শরীয়তের বিধানের ক্ষেত্রে ওহীর অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন; আর নবুওয়াত রহিত হলেও কেবল সুসংবাদবাহী নেক স্বপ্ন অবশিষ্ট আছে, যা মানুষ নিজে দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়, যেমনটি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার (তাঁর ওপর সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক) হাদীসে বর্ণিত হয়েছে; তাই আমি এই বিষয়ে একটি কিতাব সংকলন করতে চেয়েছি যা বর্ণানুক্রমিক বিন্যস্ত হবে, যাতে তা ব্যবহার করা প্রত্যেকের জন্য সহজ হয়। আমি ইবনে গন্নাম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এর অনুরূপ একটি সংকলিত গ্রন্থ দেখেছি; তিনিই এই পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতির অগ্রপথিক, তবে তাঁর গ্রন্থটি সংক্ষিপ্ত হওয়ায় তা প্রজ্ঞাবান জ্ঞানপিপাসুদের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করতে যথেষ্ট নয়। তাই আমি যা ইচ্ছা করেছি তা পূর্ণ করতে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি, কারণ তিনিই অনুগ্রহের মালিক, আমাদের ওপর তাঁরই শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর পক্ষ থেকেই পূর্ণ দান ও করুণা বর্ষিত হয়। আমি আমার এই কিতাবটির নামকরণ করেছি ‘তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম’ (স্বপ্ন ব্যাখ্যার মাধ্যমে সৃষ্টির সুবাসিতকরণ)। আমি কোনো নেককার ব্যক্তির নিকট একটি নেক দোয়ার প্রত্যাশী, যা পদস্খলনের দিনে আমাদের জন্য সহায়ক হবে। আর আমি এই শাস্ত্রের প্রথিতযশা গ্রন্থকারদের অনুসরণ করে একটি সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ ভূমিকার মাধ্যমে এটি শুরু করেছি; সর্বজ্ঞানী আল্লাহর রহমত তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

- قال الله تعالى: {لهم البشرى في الحياة الدنيا وفي الآخرة} . قال بعض المفسرين: يعني الرؤيا الصالحة يراها الإنسان أو ترى له في الدنيا وفي الآخرة رؤية الله تعالى.

وقال عليه الصلاة والسلام: "من لم يؤمن بالرؤيا الصالحة لم يؤمن بالله ولا باليوم الآخر"

وقالت عائشة رضي الله عنها: أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح

وروي عنه عليه السلام أنه قال لأبي بكر الصديق رضي الله عنه: "يا أبا بكر رأيت كأني أنا وأنت نرقى في درجة فسبقتك بمرقاتين". فقال يا رسول الله يقبضك الله تعالى إلى رحمته وأعيش بعدك سنتين ونصفاً

وروي أنه عليه السلام قال له: "رأيت كأنما تبعني غنم سود وتبعتها غنم بيض" فقال أبو بكر رضي الله عنه تتبعك العرب وتتبع العرب العجم

وقد منّ الله تعالى على يوسف عليه السلام بعلم الرؤيا فقال تعالى: {وكذلك يجتبيك ربك ويعلمك من تأويل الأحاديث} . وقال: {رب قد آتيتني من الملك وعلمتني من تأويل الأحاديث} . يعني به علم الرؤيا وهو العلم الأول منذ ابتداء العالم لم يزل عليه الأنبياء والرسل صلوات الله عليهم يأخذون به ويعملون عليه حتى كان نبوأتهم بالرؤيا وحي من الله عز وجل إليهم في المنام، وما كان قبل النبي صلى الله عليه وسلم من علوم الأوائل أشرف من علم الرؤيا

وقد قال بإبطال الرؤيا قوم ملحدين يقولون إن النائم يرى في منامه ما يغلب عليه من الطبائع الأربعة فإن غلبت عليه السوداء رأى الأحداث والسواد والأهوال والأفزاع وإن غلبت عليه الصفراء رأى النار والمصابيح والدم والمعصفرات وإن غلبت عليه البلغم رأى البيض والمياه والأنهار والأمواج وإن غلب عليه الدم رأى الشراب والرياحين والمعازف والمزامير

وهذا الذي قالوه من أنواع الرؤيا وليست الرؤيا منحصرة فيه فإنا نعلم قطعاً أن منها ما يكون من غالب الطبائع كما ذكروا ومنها ما يكون من الشيطان ومنها ما يكون من حديث النفس وهذه أصح الأنواع الثلاثة وهي الأضغاث وإنما سميت أضغاثاً لاختلاطها فشبهت بأضغاث النبات وهي الحزمة مما يأخذ الإنسان من الأرض فيها الصغير والكبير والأحمر والأخضر واليابس والرطب ولذلك قال الله تعالى: {وخذ بيدك ضغثاً فاضرب به ولا تحنث} .

وقال بعضهم: الرؤيا ثلاثة: رؤيا بشرى من الله تعالى وهي الرؤيا الصالحة التي وردت في الحديث ورؤيا تحذير من الشيطان ورؤيا مما يحدث به المرء نفسه

فرؤيا تحذير الشيطان هي الباطلة التي لا اعتبار لها وفي الحديث الصحيح أن النبي صلى الله عليه وسلم أتاه رجل فقال: يا رسول الله رأيت كأن رأسي قطع وأنا أتبعه فقال: لا تتحدث بتلاعب الشيطان بك في المنام

وأما الرؤيا التي من همة النفس فمثل أن يرى الإنسان مع من يحب قلبه أو يخاف من شيء فيراه أو يكون جائعاً فيرى أنه يأكل أو ممتلئاً فيرى أنه يتقايأ أو ينام في الشمس ويرى أنه في نار يحترق أو في أعضائه وجع ويرى أنه يعذب

والرؤيا الباطلة سبعة أقسام:

-الأول حديث النفس والهم والتمني والأضغاث

-والثاني الحلم الذي يوجب الغسل لا تفسير له

-والثالث تحذير من الشيطان وتخويف وتهويل ولا تضره

-والرابع ما يريه سحرة الجن والإنس فيتكلفون منها مثل ما يتكلفه الشيطان

-والخامس الباطلة التي يريها الشيطان ولا تعد من الرؤيا

-والسادس رؤيا تريها الطبائع إذا اختلفت وتكدرت

-والسابع الوجع وهو أن يرى صاحبها في زمن هو فيه وقد مضت منه عشرون سنة

وأصح الرؤيا البشرى وإذا كان السكون والدعة واللباس الفاخر والأغذية الشهية الشافية صححت الرؤيا وقلت الأضغاث.
ভূমিকা

- আল্লাহ তাআলা বলেন: "তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনে এবং আখেরাতে সুসংবাদ রয়েছে।" কিছু মুফাসসির বলেছেন: এর অর্থ হলো নেক স্বপ্ন, যা মানুষ নিজে দেখে অথবা তার জন্য (অন্যের দ্বারা) দুনিয়াতে দেখা হয়, আর আখেরাতে আল্লাহ তাআলার দিদার।

তিনি (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নেক স্বপ্নের প্রতি ঈমান রাখে না, সে আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি ঈমান রাখে না।"

আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর ওহী আসার সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে নেক স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি এমন কোনো স্বপ্ন দেখতেন না যা ভোরের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে প্রকাশ পেত না।

তিনি (সা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু বকর সিদ্দিক (রাযিআল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন: "হে আবু বকর, আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি এবং আপনি একটি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছি, আর আমি আপনার চেয়ে দুই ধাপ অগ্রগামী হলাম।" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাঁর রহমতের দিকে তুলে নেবেন (মৃত্যু দান করবেন) এবং আমি আপনার পর আড়াই বছর বেঁচে থাকব।"

বর্ণিত আছে যে, তিনি (সা.) তাঁকে বলেছিলেন: "আমি দেখলাম যেন কতগুলো কালো ছাগল আমার অনুসরণ করছে এবং সেগুলোর পেছনে সাদা ছাগল অনুসরণ করছে।" আবু বকর (রাযিআল্লাহু আনহু) বললেন: "আরবরা আপনার অনুসরণ করবে এবং অনারবরা আরবদের অনুসরণ করবে।"

আল্লাহ তাআলা ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর স্বপ্নের ইলমের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এভাবেই তোমার পালনকর্তা তোমাকে মনোনীত করবেন এবং তোমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দেবেন।" এবং তিনি বলেন: "হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমাকে রাজত্ব দান করেছেন এবং আমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়েছেন।" এর অর্থ হলো স্বপ্নের ইলম, যা সৃষ্টির সূচনা থেকে প্রথম ইলম। নবী ও রাসূলগণ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিম) সর্বদা এটি গ্রহণ করতেন এবং এর ওপর আমল করতেন। এমনকি তাদের নবুওয়াত স্বপ্নের মাধ্যমেও শুরু হতো, যা ঘুমের মধ্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী হিসেবে আসত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পূর্বে প্রাচীন জাতিগুলোর জ্ঞানরাজ্যে স্বপ্নের ইলমের চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আর কোনো ইলম ছিল না।

একদল নাস্তিক স্বপ্নের অসারতার দাবি করেছে। তারা বলে যে, ঘুমন্ত ব্যক্তি তার স্বপ্নে কেবল তার ওপর প্রভাবশালী চারটি মেজাজ বা ধাতুর (তবিয়ত) বহিঃপ্রকাশ দেখে। যদি তার ওপর কৃষ্ণপিত্ত প্রবল হয়, তবে সে দুর্ঘটনা, অন্ধকার, বিভীষিকা ও ভীতি দেখে। যদি পিত্ত প্রবল হয়, তবে সে আগুন, প্রদীপ, রক্ত এবং জাফরানি রঙের বস্তু দেখে। যদি কফ প্রবল হয়, তবে সে সাদা বস্তু, পানি, নদী ও ঢেউ দেখে। আর যদি রক্ত প্রবল হয়, তবে সে পানীয়, সুগন্ধি ফুল, বাদ্যযন্ত্র এবং বংশী দেখে।

তারা যা বলেছে তা স্বপ্নের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত মাত্র, স্বপ্ন কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, স্বপ্নগুলোর মধ্যে কিছু মেজাজের আধিক্যের কারণে হয় যেমন তারা উল্লেখ করেছে, কিছু শয়তানের পক্ষ থেকে হয়, আর কিছু মনের খেয়াল (নাফসের কথা)। এই তিনটি প্রকারের মধ্যে সবচেয়ে সঠিক হলো 'আদগাস' (জটিল স্বপ্ন)। এগুলোকে আদগাস বলা হয় কারণ এগুলো এলোমেলো ও সংমিশ্রিত থাকে, তাই এগুলোকে উদ্ভিদের গুচ্ছের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এটি হলো মানুষের মাটি থেকে কুড়িয়ে নেওয়া ঘাসের আঁটি যাতে ছোট-বড়, লাল-সবুজ এবং শুকনো-কাঁচা সব থাকে। এই জন্য আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তুমি তোমার হাতে এক মুঠো ঘাস বা কাষ্ঠখণ্ডের আঁটি নাও, তা দিয়ে আঘাত করো এবং শপথ ভঙ্গ করো না।"

কেউ কেউ বলেছেন: স্বপ্ন তিন প্রকার: আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সুসংবাদমূলক স্বপ্ন যা নেক স্বপ্ন হিসেবে হাদিসে এসেছে, শয়তানের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক স্বপ্ন এবং মানুষের নিজের মনের সাথে কথা বলার ফলে দেখা স্বপ্ন।

শয়তানের ভীতিকর স্বপ্নগুলো হলো অসার, যার কোনো গুরুত্ব নেই। সহিহ হাদিসে এসেছে যে, জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল, আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে আর আমি তার পেছনে দৌড়াচ্ছি।" তিনি বললেন: "ঘুমের মধ্যে শয়তান তোমার সাথে যে তামাশা করে তা বর্ণনা করো না।"

আর যা মনের চিন্তা থেকে উদ্ভূত হয়, যেমন মানুষ তার প্রিয় কাউকে দেখে বা কোনো কিছুকে ভয় পায় তা দেখে অথবা ক্ষুধার্ত অবস্থায় সে খাচ্ছে দেখে অথবা পেট ভরা অবস্থায় বমি করছে দেখে অথবা রোদে ঘুমিয়ে দেখে সে আগুনে পুড়ছে অথবা শরীরের অঙ্গে ব্যথা থাকলে দেখে যে সে শাস্তি পাচ্ছে।

অসার স্বপ্ন সাত প্রকার:

-প্রথমত: মনের খেয়াল, দুশ্চিন্তা, আকাঙ্ক্ষা ও অসংলগ্ন চিন্তা।

-দ্বিতীয়ত: ঐ স্বপ্ন যা গোসল ওয়াজিব করে, এর কোনো ব্যাখ্যা নেই।

-তৃতীয়ত: শয়তানের পক্ষ থেকে ভয় দেখানো ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যা কোনো ক্ষতি করে না।

-চতুর্থত: জিন ও মানুষের মধ্য থেকে জাদুকররা যা দেখায়, তারা সে ব্যাপারে শয়তানের মতোই কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করে।

-পঞ্চমত: বাতিল স্বপ্ন যা শয়তান দেখায় এবং যা প্রকৃত স্বপ্নের অন্তর্ভুক্ত নয়।

-ষষ্ঠত: শরীরের মেজাজ বা ধাতুর বৈপরীত্য ও বিশৃঙ্খলার কারণে দেখা স্বপ্ন।

-সপ্তমত: যাতনা বা অভিজ্ঞতা, যা দ্রষ্টা বর্তমান সময়ে দেখে অথচ তা বিশ বছর আগে অতিবাহিত হয়ে গেছে।

সবচেয়ে সঠিক স্বপ্ন হলো সুসংবাদ। যখন স্থিরতা, প্রশান্তি, উত্তম পোশাক এবং রুচিকর ও আরোগ্যদায়ক খাবার থাকে, তখন স্বপ্ন সঠিক হয় এবং অসারতা কমে যায়।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ৬)
والرؤيا الحق خمسة أقسام

-الأول الرؤيا الصادقة الظاهرة وهي جزء من النبوة لقوله تعالى: {لقد صدق الله رسوله الرؤيا بالحق لتدخلن المسجد الحرام إن شاء الله آمنين} وذلك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما سار إلى الحديبية رأى في المنام أنه دخل هو وأصحابه رضي الله عنهم مكة آمنين غير خائفين يطوفون بالبيت وينحرون ويحلقون رءوسهم ويقصرون فبشر صلى الله عليه وسلم في المنام بشارة من الله من غير صنع ملك الرؤيا ولا تفسير لها مثل رؤيا إبراهيم عليه السلام في المنام في ذبح ولده كما حكى الله تعالى عنه بقوله: {يا بني إني أرى في المنام أني أذبحك}

وقال بعضهم: طوبى لمن رأى الرؤيا صريحاً لأن صريح الرؤيا لا يريه إلا الباري تعالى دون واسطة ملك الرؤيا

-والثاني الرؤيا الصالحة بشرى من الله تعالى كما أن المكروهة زاجرة يزجرك الله بها قال صلى الله عليه وسلم: "خير ما يرى أحدكم في المنام أن يرى ربه أو نبيه أو يرى مسلمين". قالوا يا رسول الله وهل يرى أحد ربه قال السلطان والسلطان هو الله تعالى

-والثالث ما يريكه ملك الرؤيا واسمه صديقون على حسب ما علمه الله تعالى من نسخة أم الكتاب وألهمه من ضرب أمثال الحكمة لكل شيء من الأشياء مثلاً معلوماً

-والرابع الرؤيا المرموزة وهي من الأرواح ومثالها أن إنساناً رأى في منامه ملكاً من الملائكة قال له إن امرأتك تريد أن تسقيك السم على يد صديقك فلان فعرض له من ذلك أن صديقه هذا زنى بامرأته وإنما دلت رؤياه على أن الزنا مستور كما أن السم مستور

-والخامس الرؤيا التي تصح بالشاهد ويغلب الشاهد عليها فيجعل الشر خيراً والخير شراً كمن يرى أنه يضرب الطنبور في المسجد فإنه يتوب إلى الله تعالى من الفحشاء والمنكر ويفشو ذكره وكمن رأى أنه يقرأ القرآن في الحمام أو يرقص فإنه يشتهر في أمر فاحش أو بِعَوَر لأن الحمام موضع كشف العورات ولا تدخله الملائكة كما أن الشيطان لا يدخل المسجد

ورؤيا الحائض والجنب تصح لأن الكفار والمجوس لا يرون الغسل وقد عبر يوسف عليه السلام [رؤيا الرجل في السجن (1) ] وهو كافر

ورؤيا الصبيان تصح لأن يوسف عليه السلام كان ابن سبع سنين فرأى رؤيا فصحت

وقال دانيال عليه السلام اسم الملك الموكل بالرؤيا صديقون ومن شحمة أذنه إلى عاتقه مسير سبعمائة عام فهو الذي يضرب الأمثال للآدميين فيريهم بضياء الله تعالى من علم غيبه في اللوح المحفوظ ما هو كائن من خير أو شر ولا يشتبه عليه شيء من ذلك ومثل هذا الملك كمثل الشمس إذا وقع نورها على شيء أبصرت ذلك الشيء به كذلك يعرفك هذا الملك بضياء الله تعالى معرفة كل شيء ويهديك ويعلمك ما يصيبك في دنياك وآخرتك من خير أو شر ويبشرك بخير قدمته أو تقدمه وينذرك بمعصية قد ارتكبتها أو تريد ارتكابها فإذا أراك رؤيا منذرة فإنها تخرج في وقت تراها لئلا تكون مغموماً وإذا أراك رؤيا حسنة فإنها تخرج بعد ذلك بأيام لتكون في نعمة

وسرور وأصدق الرؤيا ما كان بالأسحار وأصدق الرؤيا بالنهار وقال جعفر الصادق رضي الله عنه أصدقها القيلولة

وقال المعبرون من المسلمين الرؤيا يراها بالروح ويفهمها بالعقل ومستقر الروح نقطات دم في وسط القلب في رسوم الدماغ والروح معلق بالنفس فإذا نام الإنسان امتد روحه مثل السراج أو الشمس فيرى نور الله وضيائه تعالى ما يريه ملك الرؤيا وذهابه رجوعه إلى النفس مثل الشمس إذا غطاها السحاب الكثيف وانكشف عنها فإذا عادت الحواس باستيقاظها إلى أفعالها ذكر الروح ما أراه ملك الرؤيا وخيل له

(وقال بعضهم) إن الحس الروحاني أشرف من الحس الجسماني لأن الروحاني دال على ما هو كائن والجسماني دال على ما هو موجود.

(واعلم) أن تربة كل بلد تخالف غيرها من البلاد لاختلاف الماء والهواء والمكان فلذلك يختلف تأويل كل طائفة من المعبرين من أهل الكفر والإسلام لاختلاف الطبائع والبلدان كالذي يرى في بلاد الحر ثلجاً أو جليداً أو برداً فإنه يدل على الغلاء والقحط ثم إن رأى هذا الرائي في بلد من بلاد الحر البرد فإن ذلك لهم خصب وسعة والطين والوحل لأهل الهند مال ولغيرهم محنة وبلية كما أن الضرطة عندهم بشارة وسرور ولغيرهم كلام قبيح والسمك في بعض البلاد عفونة وفي بعضها من واحد إلى أربعة تزويج ولليهود مصيبة.

(واعلم) أن الإنسان قد يرى الشيء لنفسه وقد يراه بنفسه وهو لغيره من أهله وأقاربه أو شقيقه أو والده أو شبيهه أو سميه أو صاحبه صنعته أو بلدته أو زوجته أو مملوكه كأبي جهل بن هشام رأى في المنام أنه قد دخل في دين الإسلام وبايع رسول الله صلى الله عليه وسلم فكان ذلك لابنه وأن أم الفضل أتت النبي صلى الله عليه وسلم قالت يا رسول الله رأيت أمراً فظيعاً فقال عليه السلام "خيراً رأيت" فقالت يا رسول الله رأيت بضعة من جسدك قد قطعت ووضعت في حجري فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم متبسماً "ستلد فاطمة غلاماً وتأخذيه في حجرك" فأتت فاطمة رضي الله عنها من ابن عمها بالحسن رضي الله عنهم
সত্য স্বপ্ন পাঁচ প্রকার।

- প্রথম প্রকার হলো সত্য ও সুস্পষ্ট স্বপ্ন, যা নবুওয়াতের একটি অংশ। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আল্লাহ তাঁর রাসূলের স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছেন, ইনশাআল্লাহ তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে নিরাপদ অবস্থায় প্রবেশ করবে}। আর তা এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হুদায়বিয়ার দিকে যাত্রা করেন, তখন তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন যে তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ (রা.) মক্কায় নির্ভয়ে এবং নিরাপদে প্রবেশ করছেন, তাঁরা বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করছেন, কুরবানি দিচ্ছেন এবং কেউ মাথা মুণ্ডন করছেন আবার কেউ চুল ছোট করছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে এই সুসংবাদটি আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে স্বপ্নের ফেরেশতার কোনো ভূমিকা ছিল না এবং এর কোনো ব্যাখ্যারও প্রয়োজন ছিল না। যেমনটি ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাঁর সন্তানকে যবেহ করার বিষয়ে স্বপ্নে দেখেছিলেন, যে সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন: {হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে আমি তোমাকে যবেহ করছি}।

কারো কারো মতে: সেই ব্যক্তি ধন্য যে সুস্পষ্ট স্বপ্ন দেখে, কারণ সুস্পষ্ট স্বপ্ন স্বপ্নের ফেরেশতার মাধ্যম ছাড়াই স্বয়ং স্রষ্টা তাআলা প্রদর্শন করেন।

- দ্বিতীয় প্রকার হলো নেক স্বপ্ন, যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ। ঠিক যেমন অপছন্দনীয় স্বপ্ন হলো সতর্কবাণী, যার মাধ্যমে আল্লাহ আপনাকে সতর্ক করেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ স্বপ্নে যা দেখে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো তার প্রতিপালককে দেখা, অথবা তার নবীকে দেখা অথবা মুসলিমদের দেখা।" সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কেউ কি তার প্রতিপালককে দেখতে পায়? তিনি বললেন, তিনি সুলতান বা অধিপতি, আর মহান আল্লাহই হলেন প্রকৃত সুলতান বা অধিপতি।

- তৃতীয় প্রকার হলো যা স্বপ্নের ফেরেশতা আপনাকে দেখান এবং তাঁর নাম হলো 'সিদ্দিকুন'। আল্লাহ তাআলা উম্মুল কিতাব বা মূল কিতাবের অনুলিপি থেকে তাঁকে যা শিখিয়েছেন এবং প্রতিটি জিনিসের প্রজ্ঞাপূর্ণ উপমা প্রদানের জন্য যে ইলহাম বা ঐশী জ্ঞান দান করেছেন, সেই অনুযায়ী তিনি তা দেখান।

- চতুর্থ প্রকার হলো রূপক বা সংকেতপূর্ণ স্বপ্ন, যা রূহ বা আত্মা থেকে উৎসারিত হয়। এর উদাহরণ হলো, এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা তাকে বলছেন, তোমার স্ত্রী তোমার অমুক বন্ধুর হাতে তোমাকে বিষ পান করাতে চায়। এর বাস্তব রূপ এই দাঁড়াল যে, তার সেই বন্ধুটি তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত ছিল। তার স্বপ্ন এটিই নির্দেশ করছিল যে ব্যভিচার যেমন গোপন থাকে, বিষও তেমনি গোপন থাকে।

- পঞ্চম প্রকার হলো এমন স্বপ্ন যা পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য বা প্রেক্ষাপটের মাধ্যমে সঠিক প্রমাণিত হয় এবং সেই প্রেক্ষাপট স্বপ্নের ওপর প্রবল হয়, ফলে মন্দের পরিবর্তে ভালো এবং ভালোর পরিবর্তে মন্দ ফলে। যেমন কেউ যদি দেখে যে সে মসজিদে তম্বুরা (এক প্রকার বাদ্যযন্ত্র) বাজাচ্ছে, তবে সে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে আল্লাহর কাছে তওবা করবে এবং তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে। আবার কেউ যদি দেখে যে সে গোসলখানায় কুরআন পড়ছে অথবা নাচছে, তবে সে কোনো অশ্লীল বিষয়ে বা গুপ্তাঙ্গ উন্মোচনের কারণে কুখ্যাত হবে; কারণ গোসলখানা হলো গুপ্তাঙ্গ উন্মোচনের স্থান এবং সেখানে ফেরেশতারা প্রবেশ করেন না, যেমন শয়তান মসজিদে প্রবেশ করে না।

ঋতুবতী নারী এবং অপবিত্র (জুনুবী) ব্যক্তির স্বপ্নও সঠিক হতে পারে, কারণ কাফির এবং অগ্নিপূজকরা গোসল করে না অথচ ইউসুফ আলাইহিস সালাম কারাগারে থাকা অবস্থায় জনৈক কাফির ব্যক্তির স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।

শিশুদের স্বপ্নও সত্য হয়, কারণ ইউসুফ আলাইহিস সালাম যখন সাত বছর বয়সী ছিলেন তখন তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং তা সত্য হয়েছিল।

দানিয়াল আলাইহিস সালাম বলেছেন, স্বপ্নের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতার নাম সিদ্দিকুন। তাঁর কানের লতি থেকে ঘাড় পর্যন্ত দূরত্ব সাতশত বছরের পথ। তিনি মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এবং লাওহে মাহফুজে যা সংরক্ষিত আছে তা থেকে আল্লাহর নূর ও গায়েবী ইলমের মাধ্যমে কল্যাণ বা অকল্যাণ যা ঘটার রয়েছে তা মানুষকে দেখান। কোনো বিষয় তাঁর কাছে অস্পষ্ট থাকে না। এই ফেরেশতার দৃষ্টান্ত হলো সূর্যের মতো, যার আলো কোনো জিনিসের ওপর পড়লে সেই জিনিসটি দেখা যায়। তেমনি এই ফেরেশতা আল্লাহর নূরের মাধ্যমে আপনাকে প্রতিটি জিনিসের পরিচয় করিয়ে দেন, আপনাকে পথ দেখান এবং আপনার দুনিয়া ও আখিরাতে কী কল্যাণ বা অকল্যাণ পৌঁছাবে তা শিখিয়ে দেন। আপনার করা বা করতে যাওয়া কোনো নেক কাজের সুসংবাদ দেন এবং আপনার করা বা করতে চাওয়া কোনো গুনাহের বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি যখন আপনাকে সতর্কতামূলক কোনো স্বপ্ন দেখান, তখন তা দেখার সাথে সাথেই বাস্তবায়িত হয় যাতে আপনি দীর্ঘকাল চিন্তিত না থাকেন। আর যখন কোনো ভালো স্বপ্ন দেখান, তখন তা কিছু দিন পর বাস্তবায়িত হয় যাতে আপনি নেয়ামত ও সুখে থাকতে পারেন।

সবচেয়ে সত্য স্বপ্ন হলো যা শেষ রাতে দেখা যায় এবং দিনের বেলায় দেখা স্বপ্নও অত্যন্ত সত্য। জাফর সাদিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সবচেয়ে সত্য স্বপ্ন হলো দুপুরের ঘুমের (কাইলুলা) সময় দেখা স্বপ্ন।

মুসলিম স্বপ্নবিশারদগণ বলেন, মানুষ রূহ বা আত্মা দিয়ে স্বপ্ন দেখে এবং তা আকল বা বুদ্ধি দিয়ে অনুভব করে। রূহের অবস্থান হলো হৃদপিণ্ডের মধ্যস্থলে থাকা রক্তের কণাগুলোতে যা মস্তিষ্কের সাথে যুক্ত। রূহ নফসের সাথে ঝুলে থাকে, তাই মানুষ যখন ঘুমায় তখন তার রূহ প্রদীপ বা সূর্যের মতো প্রসারিত হয়, ফলে সে স্বপ্নের ফেরেশতা যা দেখান তা আল্লাহর নূর ও উজ্জ্বলতার মাধ্যমে দেখতে পায়। রূহের ফিরে আসা হলো নফসের দিকে, ঠিক যেমন সূর্য যখন ঘন মেঘে ঢাকা পড়ে আবার মেঘ সরে গেলে প্রকাশিত হয়। মানুষ যখন জেগে ওঠে এবং তার ইন্দ্রিয়গুলো স্বীয় কর্মে ফিরে আসে, তখন রূহ স্বপ্নের ফেরেশতা তাকে যা দেখিয়েছিলেন এবং কল্পনা করিয়েছেন তা স্মরণ করে।

(কেউ কেউ বলেন) আত্মিক অনুভূতি শারীরিক অনুভূতির চেয়েও শ্রেষ্ঠ। কারণ আত্মিক অনুভূতি যা ঘটবে তা নির্দেশ করে, আর শারীরিক অনুভূতি যা বিদ্যমান তা নির্দেশ করে।

(জেনে রাখুন) প্রতিটি দেশের মাটি অন্য দেশের মাটি থেকে আলাদা, কারণ পানি, বায়ু ও স্থানের ভিন্নতা রয়েছে। এই কারণে কাফির ও মুসলিম নির্বিশেষে স্বপ্নবিশারদদের একেক গোষ্ঠীর ব্যাখ্যা একেক রকম হয়, কারণ প্রকৃতি ও দেশের ভিন্নতা রয়েছে। যেমন কেউ যদি কোনো গরম প্রধান দেশে বরফ বা শিলাবৃষ্টি দেখে তবে তা দুর্মূল্য ও দুর্ভিক্ষের লক্ষণ। কিন্তু এই স্বপ্নদ্রষ্টা যদি কোনো শীতল প্রধান দেশে বরফ দেখে তবে তা তাদের জন্য উর্বরতা ও প্রাচুর্যের প্রতীক। কাদা ও পঙ্কিলতা ভারতের অধিবাসীদের জন্য সম্পদ বুঝালেও অন্যদের জন্য পরীক্ষা ও বিপদ। ঠিক যেমন তাদের কাছে বায়ু ত্যাগ করা সুসংবাদ ও আনন্দের বিষয় হলেও অন্যদের জন্য তা কুরুচিপূর্ণ কথা। মাছ কিছু দেশে পচনশীলতার প্রতীক, আবার কোনো দেশে এক থেকে চারটি মাছ দেখা বিবাহের প্রতীক, আর ইহুদিদের জন্য এটি বিপদের লক্ষণ।

(জেনে রাখুন) মানুষ কখনো নিজের জন্য কোনো বিষয় দেখে আবার কখনো নিজের মাধ্যমে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, ভাই, বাবা, সমমনা কোনো ব্যক্তি, সমনামের ব্যক্তি, পেশার সাথী, দেশবাসী, স্ত্রী বা গোলামের জন্য স্বপ্ন দেখে। যেমন আবু জাহল ইবনে হিশাম স্বপ্নে দেখেছিলেন যে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বায়াত হয়েছেন, অথচ তা কার্যকর হয়েছিল তাঁর পুত্রের ক্ষেত্রে। আবার উম্মুল ফাদল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি ভয়াবহ স্বপ্ন দেখেছি। তিনি বললেন, "তুমি ভালো স্বপ্নই দেখেছ।" তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি দেখলাম আপনার শরীরের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে আমার কোলে রাখা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হেসে বললেন, "ফাতিমার একটি পুত্র সন্তান হবে এবং তুমি তাকে তোমার কোলে নেবে।" অতঃপর ফাতিমা (রা.) তাঁর চাচাতো ভাইয়ের (আলী রা.) ঔরসে হাসান (রা.)-কে জন্ম দিলেন।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ৭)
وأخذته أم الفضل في حجرها.

(ومن أراد) أن تصدق رؤياه فليحدث الصدق ويحذر الكذب والغيبة والنميمة فإن كان صاحب الرؤيا كذاباً ويكره الكذب من غيره صدقت رؤياه وإن كذب ولم يكره الكذب من غيره لم تصدق رؤياه

ويستحب للرجل أن ينام على الوضوء لتكون رؤياه صالحة والرجل إذا كان غير عفيف يرى الرؤيا ولا يذكر شيئاً منها لضعف نيته وكثرة ذنوبه ومعاصيه وغيبته ونميمته

(وينبغي للمعبر) إذا قصت عليه الرؤيا أن يقول "خيراً رأيت وخيراً نلقاه وشراً نتوقاه خيراً لنا وشر لأعدائنا الحمد لله رب العالمين اقصص رؤياك"، وأن يكتم على الناس عوراتهم ويسمع السؤال بأجمعه، ويميز بين الشريف والوضيع، ويتمهل ولا يعجل في رد الجواب، ولا يعبر الرؤيا حتى يعرف لمن هي، ويميز كل جنس وما يليق به، وليكن العابر عالماً فطناً ذكياً تقياً نقياً من الفواحش عالماً بكتاب الله تعالى وحديث النبي صلى الله عليه وسلم ولغة العرب وأمثالها وما يرجى على ألسنة الناس، ولا يعبر الرؤيا في وقت الاضطرار وهي ثلاثة طلوع الشمس وغروبها وعند الزوال

وإذا سأل سائل عن رؤيا عناد ولم يكن رآها فلا يترك المعبر سؤاله بغير جواب فإنه إن كان خيراً فمصروف إلى المعبر وإن كان شراً فمصروف إلى المعاند لأنه مخزول والمجيب منصور على أعدائه كما ورد في قصة يوسف عليه السلام حين سأله الفتيان في السجن عناداً فيقال أحدهما إني أراني أعصر خمراً وقال الآخر إني أراني أحمل فوق رأسي خبزاً تأكل الطير منه فقال لهما يوسف عليه السلام: {أما أحدكما فيسقي ربه خمراً وأما الآخر فيصلب فتأكل الطير من رأسه قضي الأمر الذي فيه تستفتيان}

وإن عبر المعبر رؤياه عناداً على سبيل الاعوجاج فإنه إن كان خيراً فهو للسائل وإن كان شراً فهو للمعبر

ولا يقص الرائي رؤياه إلا على عالم أو ناصح ولا يقصها على جاهل أو عدو

والرؤيا على رجل طائر ما لم يحدث بها فإذا حدث وقعت

ولا يقص أحد رؤياه على معبر وفي مصره أو إقليمه معبر أحذق منه لأن فرعون يوسف لما قص رؤياه على معبري بلده فقالوا أضغاث أحلام لم تبطل رؤياه وسأل عنها يوسف عليه السلام فعبرها له فخرجت

وإذا اشتبهت الرؤيا على المعبر ولم يعرف لها تأويلاً فليأمر صاحبها إذا خرج من بيته يوم السبت أول النهار أن يسأل أي شخص يلقاه عن اسمه فإن كان اسمه حسناً كأسماء الأنبياء والصالحين فالرؤيا حسنة وإن كان غير ذلك فالرؤيا غير حسنة

ويحترز من الكذب فيها فقد روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من كذب في الرؤيا كلف يوم القيامة عقد شعيرتين ومن كذب على عينيه لا يجد رائحة الجنة وإن أعظم الفرية أن يفتري الرجل على عينيه، يقول رأيت ولم ير شيئاً"

وقال بعضهم إن الكاذب في رؤيا مدعي النبوة كاذباً لأنه ورد في الحديث كما قدمناه أن الرؤيا جزءاً من أجزاء النبوة ومدعي للجزء كمدعي الكل

(وقال بعض العلماء) ينبغي أن يعبر الرؤيا المسئول عنها على مقادير الناس ومراتبهم ومذاهبهم وأديانهم وأوقاتهم وبلدانهم وأزمنتهم وفصول سنتهم

والتعبير يكون بالمعنى وباشتقاق الأسماء

والميت في دار حق فما قاله في المنام حق وكذلك الطفل الذي لا يعرف الكذب وكذلك الدواب وسائر الحيوانات والطيور إذا تكلمت في المنام فقولها حق

وكلام الكذب في اليقظة كالمنجم والكاهن فكذلك قوله في المنام كذب

وكلام ما لم يتكلم كالجمادات آية وأعجوبة

وقد يقع التعبير بالمثل السائر واللفظ المبتذل، كقولهم في الصائغ إنه رجل كذوب، لما جرى على ألسنه الناس من قولهم فلان يصوغ الأحاديث، وكقولهم فيمن يرى أن في يديه طولاً أنه يصطنع المعروف لما جرى على ألسنة الناس من قولهم هو أطول يداً منك وأمد باعاً أي أكثر عطاء

وقد يكون التأويل بالضد والمقلوب، كقولهم في البكاء إنه فرح، وفي الضحك إنه حزن، وفي الطاعون إنه حرب، وفي الحرب أنه طاعون، وفي السيل أنه عدو، وفي العدو أنه سيل، وفي أكل التين إنه ندامة، وفي الندامة أنها أكل التين، وفي الجراد أنه جند، وفي الجند أنه جراد

(وأولى ما يكون التعبير) بالقرآن والسنة إن وجد المعبر فيهما شاهد للرؤيا، كمن يرى نفسه في السفينة فالسفينة نجاة من الخوف قال تعالى: {فأنجيناه وأصحاب السفينة} ، وكمن يرى في منامه أنه وقع في بئر فإنه يمكر به لقوله عليه السلام "بئر جبار"

وقد يكون التعبير بالشعر كمن يرى غنماً ترعى فأتى الذئب عليها ففرقها وقتل بعضها فإن ذلك يدل على أن سلطان تلك الناحية يضع رعيته حتى يتولى أمرهم عدوه لقول بعض الشعراء:

ومن رعى غنما في أرض مأسدة … ونام عنها تولى رعيها الأسد

--------------------------------------------

(1) [في الأصل: "وقد عبر يوسف عليه السلام وهو كافر" وهو خطأ واضح ولعله من قبل النساخ]
উম্মুল ফজল তাকে নিজ কোলে নিলেন।

(এবং যে ব্যক্তি) চায় তার স্বপ্ন সত্য হোক, সে যেন সর্বদা সত্য কথা বলে এবং মিথ্যা, গিবত ও চোগলখুরি পরিহার করে। যদি স্বপ্নদ্রষ্টা নিজে মিথ্যাবাদী হয় কিন্তু অন্যের মিথ্যা বলাকে ঘৃণা করে, তবে তার স্বপ্ন সত্য হবে। আর যদি সে মিথ্যা বলে এবং অন্যের মিথ্যা বলাকে অপছন্দ না করে, তবে তার স্বপ্ন সত্য হবে না।

ব্যক্তির জন্য অজুর সাথে ঘুমানো মুস্তাহাব যাতে তার স্বপ্ন নেক হয়। আর ব্যক্তি যদি পবিত্র না হয়, তবে সে স্বপ্ন দেখলেও নিয়তের দুর্বলতা এবং অধিক গুনাহ, নাফরমানি, গিবত ও চোগলখুরির কারণে তা থেকে কিছুই মনে রাখতে পারে না।

(স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীর উচিত) যখন তাকে স্বপ্ন শোনানো হয় তখন সে যেন বলে, "তুমি কল্যাণ দেখেছ, আমরা কল্যাণের সম্মুখীন হব এবং অকল্যাণ থেকে বেঁচে থাকব; আমাদের জন্য মঙ্গল আর আমাদের শত্রুদের জন্য অমঙ্গল। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এখন তোমার স্বপ্ন বর্ণনা করো।" আরও উচিত মানুষের গোপনীয়তা রক্ষা করা, পুরো প্রশ্নটি মনোযোগ দিয়ে শোনা, উচ্চ ও নিম্ন শ্রেণির মানুষের মাঝে পার্থক্য করা, ধৈর্য ধারণ করা এবং উত্তর দিতে তাড়াহুড়ো না করা। স্বপ্নটি কার—তা না জেনে তার ব্যাখ্যা না করা এবং প্রতিটি ধরণ ও তার উপযুক্ত বিষয়কে পৃথক করা। স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীকে হতে হবে আলেম, বিচক্ষণ, মেধাবী, মুত্তাকি এবং অশ্লীলতা থেকে পবিত্র; আল্লাহর কিতাব, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস, আরবি ভাষা ও তার প্রবাদ এবং মানুষের মুখে প্রচলিত কথা সম্পর্কে সুপণ্ডিত। তিনটি অপছন্দনীয় সময়ে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা উচিত নয়: সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত এবং দ্বিপ্রহরের সময়।

যদি কোনো ব্যক্তি জেদবশত এমন স্বপ্ন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যা সে দেখেনি, তবে স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারী যেন তাকে নিরুত্তর না রাখেন। কারণ সেই স্বপ্ন যদি কল্যাণকর হয় তবে তা স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীর দিকে ফিরবে, আর অকল্যাণকর হলে তা জেদকারী ব্যক্তির ওপর পড়বে। কেননা সে লাঞ্ছিত আর উত্তরদাতা তার শত্রুদের ওপর সাহায্যপ্রাপ্ত, যেমন ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে যখন জেলখানায় দুই যুবক জেদবশত তাকে প্রশ্ন করেছিল। তাদের একজন বলেছিল, 'আমি স্বপ্নে দেখছি যে আমি আঙ্গুর থেকে মদ নিংড়াচ্ছি', আর অন্যজন বলেছিল, 'আমি দেখছি যে আমি মাথায় রুটি বহন করছি এবং পাখি তা থেকে খাচ্ছে'। ইউসুফ আলাইহিস সালাম তাদের বলেছিলেন: "তোমাদের দুজনের মধ্যে একজন তার মনিবকে মদ পান করাবে, আর অন্যজনকে শূলে চড়ানো হবে এবং পাখি তার মাথা থেকে ঠুকরে খাবে। যে বিষয়ে তোমরা জানতে চেয়েছিলে তার ফয়সালা হয়ে গেছে।"

আর যদি স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারী কুটিলতাবশত জেদ করে স্বপ্নের ভুল ব্যাখ্যা করেন, তবে সেই স্বপ্ন যদি ভালো হয় তা প্রশ্নকারীর জন্য হবে, আর মন্দ হলে তা ব্যাখ্যাকারীর ওপর বর্তাবে।

স্বপ্নদ্রষ্টা যেন তার স্বপ্ন কোনো আলেম বা হিতাকাঙ্ক্ষী ব্যতীত অন্য কারো কাছে বর্ণনা না করে; কোনো মূর্খ বা শত্রুর কাছে তা বর্ণনা করা উচিত নয়।

স্বপ্ন যতক্ষণ বর্ণনা করা না হয় ততক্ষণ তা উড়ন্ত পাখির পায়ের ওপর (অস্থির অবস্থায়) থাকে, যখনই তা বর্ণনা করা হয় তখনই তা বাস্তবে ঘটে যায়।

নিজ শহর বা অঞ্চলে অধিক দক্ষ স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারী থাকতে অন্য কারো কাছে স্বপ্ন বর্ণনা করা উচিত নয়। কারণ ইউসুফের সময়ের ফেরাউন যখন তার দেশের স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীদের কাছে স্বপ্ন বর্ণনা করেছিল, তারা বলেছিল 'এটি বিভ্রান্তিকর স্বপ্ন'। এতে স্বপ্নটি বাতিল হয়ে যায়নি। এরপর যখন তিনি ইউসুফ আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তিনি এর ব্যাখ্যা দিলেন, তখন তা বাস্তবায়িত হলো।

যদি স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীর কাছে স্বপ্নের অর্থ অস্পষ্ট হয় এবং তিনি কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে না পান, তবে তিনি স্বপ্নদ্রষ্টাকে নির্দেশ দেবেন যেন সে শনিবার দিনের শুরুতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাকে প্রথম দেখে তার নাম জিজ্ঞাসা করে। যদি তার নাম সুন্দর হয়—যেমন নবীগণ বা নেককার লোকদের নাম—তবে স্বপ্নটিও ভালো হবে। আর যদি নাম অন্যরকম হয়, তবে স্বপ্নটিও শুভ হবে না।

স্বপ্নে মিথ্যা বলা থেকে বেঁচে থাকতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি স্বপ্নে মিথ্যা কথা বলবে, কিয়ামতের দিন তাকে দুটি যবের দানার মাঝে গিঁট দেওয়ার জন্য বাধ্য করা হবে (যা অসম্ভব)। আর যে ব্যক্তি নিজের চোখের ওপর মিথ্যা আরোপ করে (যা সে দেখেনি তা দেখার দাবি করে) সে জান্নাতের সুঘ্রাণ পাবে না। নিশ্চয়ই সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো ব্যক্তি নিজের চোখের ওপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া অর্থাৎ বলা যে আমি দেখেছি, অথচ সে কিছুই দেখেনি।"

কেউ কেউ বলেছেন, স্বপ্নে মিথ্যাবাদী ব্যক্তি মূলত নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদার। কারণ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, স্বপ্ন হলো নবুওয়াতের অংশসমূহের একটি অংশ। আর কোনো একটি অংশের দাবিদার পুরোটিরই দাবিদারের মতো।

(জনৈক আলেম বলেছেন) স্বপ্নের ব্যাখ্যা মানুষের অবস্থা, মর্যাদা, মাযহাব, ধর্ম, সময়, শহর, কাল এবং বছরের ঋতুর ওপর ভিত্তি করে করা উচিত।

স্বপ্নের ব্যাখ্যা অর্থের গাম্ভীর্য এবং নামের ব্যুৎপত্তি অনুযায়ী হয়ে থাকে।

মৃত ব্যক্তি সত্যের জগতে অবস্থান করে, তাই স্বপ্নে সে যা বলে তা সত্য। অনুরূপভাবে এমন শিশু যে মিথ্যা চেনে না, এবং চতুষ্পদ জন্তু ও অন্যান্য পশু-পাখি যদি স্বপ্নে কথা বলে, তবে তাদের কথা সত্য।

যারা জাগ্রত অবস্থায় মিথ্যা কথা বলে—যেমন জ্যোতিষী ও গণক—স্বপ্নেও তাদের কথা মিথ্যা হিসেবে গণ্য।

আর যা সচরাচর কথা বলে না—যেমন জড় পদার্থ—তাদের কথা বলা একটি নিদর্শন ও বিস্ময়কর বিষয়।

কখনো কখনো স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রচলিত প্রবাদ ও সাধারণ শব্দের মাধ্যমেও হয়। যেমন স্বর্ণকার সম্পর্কে বলা হয় সে মিথ্যাবাদী, কারণ মানুষের মুখে প্রচলিত আছে যে 'অমুক কথা গড়ে (বানায়)'। আবার কেউ যদি স্বপ্নে দেখে তার হাত দীর্ঘ হয়েছে, এর অর্থ সে ভালো কাজ করে; কারণ মানুষের মাঝে প্রচলিত কথা হলো 'সে তোমার চেয়ে দীর্ঘ হাতওয়ালা ও সুদীর্ঘ কর্মক্ষম' অর্থাৎ সে অধিক দানশীল।

কখনো ব্যাখ্যা বিপরীত ও উল্টো অর্থ হয়। যেমন কান্নার অর্থ আনন্দ, হাসির অর্থ দুঃখ, মহামারীর অর্থ যুদ্ধ, যুদ্ধের অর্থ মহামারী, বন্যার অর্থ শত্রু, শত্রুর অর্থ বন্যা, ডুমুর খাওয়ার অর্থ অনুশোচনা, অনুশোচনার অর্থ ডুমুর খাওয়া, পঙ্গপালের অর্থ সেনাবাহিনী এবং সেনাবাহিনীর অর্থ পঙ্গপাল।

(ব্যাখ্যার জন্য সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম হলো) কুরআন ও সুন্নাহ, যদি ব্যাখ্যাকারী তাতে স্বপ্নের কোনো সাক্ষ্য খুঁজে পান। যেমন কেউ নিজেকে নৌকায় দেখলে তার অর্থ ভয় থেকে মুক্তি, কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর আমি তাকে ও নৌকাওয়ালাদের রক্ষা করলাম।" আবার কেউ যদি স্বপ্নে দেখে সে কূপে পড়ে গেছে, তবে তার সাথে প্রতারণা করা হবে, কারণ নবী আলাইহিস সালামের বাণী: "কূপের ক্ষতিপূরণ নেই (তা বিফলে যায়)।"

কখনো ব্যাখ্যা কবিতার মাধ্যমেও হয়। যেমন কেউ যদি দেখে একপাল ভেড়া চরছে, এমন সময় নেকড়ে এসে তাদের আক্রমণ করে ছত্রভঙ্গ করে দিল এবং কয়েকটিকে মেরে ফেলল, তবে তা নির্দেশ করে যে ওই অঞ্চলের শাসক তার প্রজাদের অবহেলা করছে যতক্ষণ না শত্রু এসে তাদের নিয়ন্ত্রণভার নিয়ে নেয়। যেমন জনৈক কবি বলেছেন:

যে ব্যক্তি সিংহের বিচরণভূমিতে ভেড়া চরায় … আর সে ব্যাপারে ঘুমিয়ে থাকে, তবে সিংহ নিজেই তার পালের রাখাল হয়ে যায়।

--------------------------------------------

(১) [মূল পাণ্ডুলিপিতে আছে: "আর ইউসুফ আলাইহিস সালাম কাফির অবস্থায় ব্যাখ্যা করেছেন" এটি একটি স্পষ্ট ভুল, সম্ভবত লিপিকারদের প্রমাদ।]
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ৮)
- (واعلم) أن أصل الرؤيا جنس وصنف فالجنس كالشجر والسباع والطير وهذه رجال والصنف أن تعلم من أي صنف تلك الشجرة وذلك السبع والطير فإن كانت الشجرة نخلة كان ذلك الرجل من العرب لأن منابت أكثر النخل بلاد العرب وإن كان الطائر طاوساً كان رجلاً من العجم وإن كان ظليماً كان بدوياً من العرب والطبع أن تنظر لأطبع تلك الشجرة فتقضي على الرجال بطبعها فإن كانت جوزاً قضيت على الرجل بالعسر في المعاجلة والخصومة عند المناظرة وإن كانت نخلة قضيت بأنه رجل نفاع بالخير وإن كان طائراً علمت أنه رجل ذو أسفار ثم نظرت في طبعه فإن كان طاوساً كان ملكاً أعجمياً ذا جمال ومال وكذلك إن كان نسراً كان ملكاً وإن كان غراباً كان رجلاً فاسقاً غادراً كذاباً وللمعبرين طرق كثيرة في استخراج التأويل وذلك غير محصور بل هو قابل للزيادة باعتبار معرفة المعبر وكمال حذقه وديانته والفتح عليه بهذا العلم والله يهدي من يشاء إلى صراط مستقيم.

(জেনে রাখুন) স্বপ্নের মূল ভিত্তি হলো শ্রেণী ও প্রকার। শ্রেণী হলো যেমন বৃক্ষরাজি, হিংস্র পশু ও পক্ষীকুল—আর এগুলো দ্বারা মানুষ (পুরুষ) উদ্দেশ্য। আর প্রকার হলো আপনি জানবেন যে, উক্ত বৃক্ষ, হিংস্র পশু বা পাখিটি কোন প্রকারের। যদি বৃক্ষটি খেজুর গাছ হয়, তবে সেই ব্যক্তি আরবীয় হবে; কেননা অধিকাংশ খেজুর গাছের উৎপত্তিস্থল হলো আরব ভূখণ্ড। যদি পাখিটি ময়ূর হয়, তবে সেই ব্যক্তি হবে একজন অনারব। আর যদি সেটি উটপাখি হয়, তবে সে হবে আরবের একজন বেদুইন। আর স্বভাবের বিষয়টি হলো, আপনি সেই বৃক্ষের স্বভাবের প্রতি লক্ষ্য করবেন এবং সেই স্বভাব অনুযায়ী মানুষের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন। সুতরাং সেটি যদি আখরোট হয়, তবে আপনি সেই ব্যক্তির ব্যাপারে লেনদেনে সংকীর্ণতা এবং বিতর্কের সময় শত্রুতার ফয়সালা দেবেন। আর যদি সেটি খেজুর গাছ হয়, তবে আপনি সিদ্ধান্ত দেবেন যে সে কল্যাণের মাধ্যমে উপকার সাধনকারী একজন ব্যক্তি। আর যদি সেটি পাখি হয়, তবে জানবেন যে সে একজন অধিক ভ্রমণকারী ব্যক্তি। অতঃপর আপনি তার স্বভাবের দিকে দৃষ্টি দেবেন; যদি সেটি ময়ূর হয়, তবে সে হবে সৌন্দর্য ও সম্পদের অধিকারী একজন অনারব সম্রাট। অনুরূপভাবে সেটি যদি ঈগল হয়, তবে সে হবে একজন রাজা। আর যদি সেটি দাঁড়কাক হয়, তবে সে হবে একজন পাপাচারী, বিশ্বাসঘাতক ও চরম মিথ্যাবাদী ব্যক্তি। স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীদের জন্য স্বপ্নের ব্যাখ্যা উদঘাটনের বহু পদ্ধতি রয়েছে এবং তা সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যাখ্যাকারীর জ্ঞান, পূর্ণ প্রজ্ঞা, ধর্মনিষ্ঠা এবং এই বিদ্যায় তাঁর জন্য (আল্লাহ প্রদত্ত) দ্বার উন্মোচনের ওপর ভিত্তি করে এটি আরও বৃদ্ধির অবকাশ রাখে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিশা দান করেন।

(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌باب الألف

- (الله تعالى) الذي ليس كمثله شيء وهو السميع البصير رؤيته في المنام تختلف باختلاف السرائر فمن رآه بعظمته وجلاله بلا تكييف ولا تشبيه ولا تمثيل كان دليلاً على الخير وهي بشارة له في دنياه وسلامة دينه في عقباه وإن رآه على خلاف ذلك كانت رؤياه دالة على سوء سريرته خصوصاً أن لا يكلمه تعالى ومن راضه من المرضى مات لأنه الحق والموت حق وإن رآه ضال اهتدى لرؤيته الحق وإن رآه مظلوم انتصر على أعدائه وأما سماع كلامه تعالى من غير تشبيه فإنه يدل على بدعة الرائي وربما دل سماع كلامه على الأمن من الخوف وبلوغ المنى وربما دل كلامه تعالى من غير رؤيته على رفع المنزلة خصوصاً إن كان قد أوحى إليه وإن كان من وراء حجاب ربما كان على بدعة أو ضلالة وربما نال منزلة على قدره خصوصاً إن أتاه رسول قيل إن من رأى الله تعالى في صورة يصفها ويحدها فإن رؤياه من الأضغاث لأن الله تعالى لا يحد ولا يشبه بشيء من المخلوقات وقيل من رأى الله تعالى مصوراً في مكان فإن الرائي ممن يكذب على الله تعالى أو ينسب إليه ما لا يليق به ومن رأى أن الله تعالى يكلمه واستطاع النظر إليه فإن الله يرحمه ويتم عليه نعمته ومن رأى أنه ينظر إلى الله فإنه ينظر إليه في الآخرة ومن رأى أنه قد نزل عليه أو صلى عنده فاز برحمته ونال الشهادة إن طلبها وأدرك ما أمل من أمر دنياه وآخرته ومن رأى أنه يعانقه أو يقبله أو يقبل عضواً من أعضائه فاز بالأجر الذي يطلبه ونال من أجر العمل ما يرغبه ومن رأى أنه أعطاه شيئا من متاع الدنيا فإنه يصيبه بلاء وأسقام ويعظم بذلك أجره ويضاعف ثوابه وذكره ومن رأى أنه وعده بالمغفرة أو دخول الجنة أو نحو ذلك فإنه لا يزال خائفاً من الله تعالى مراقباً له ومن رأى الله تعالى ولم يستطع النظر إليه أو رأى عرشه أو كرسيه دونه فقد قدم لنفسه خيراً وإن رآه وكلمه واستطاع النظر إليه أو رآه على عرشه أو كرسيه نال خيراً وزيادة علم ومن رأى أنه يفر من الله تعالى وهو يطلبه وإن كان عابداً فإنه يتحول عن العبادة والطاعة وإن كان له والد يعقه ويعصيه وإن كان عبداً فإنه يتحول ويأبق من سيده ومن رأى كأن بينه وبين الله تعالى حجاباً فإنه يعمل الكبائر ويرتكب الآثام ومن رآه عبوساً أو غضبان عليه أو عجز عن احتمال نوره أو دهش أو رعد عند رؤيته أو جعل يسأل في الإقالة والتوبة والمغفرة فإنه يدل على الذنوب والكبائر والبدع والأهوال ومن رأى أن الله تعالى كلمه فإنه تحذير له ونهي عن المعاصي ومن رأى أنه يحدثه الله تعالى فإنه يكثر تلاوة القرآن ومن رأى أنه يحدثه ويفهم كلامه فإنه يسمع كلمة من سلطان أو حاكم وإن كان لا يفهم كلامه كان بحسب ذلك ومن رأى الله تعالى مسح على رأسه وبارك فيه فإنه تعالى يخصه بكرامته ويقربه منه إلا أنه لا يرفع عنه البلاء إلى أن يموت ومن رآه تعالى على صورة والد أو أخ أو ذي قربة ومودة وهو يلطف به ويبارك عليه فإنه يصيبه بلاء في بدنه يعظم الله به أجره ومن رأى أن الله تعالى اطلع على موضع أو في بيت أو نزل في أرض أو بلد أو مكان فإن العدل يشمل ذلك المكان ويكثر فيه الخير والخصب بإذن الله تعالى وإن اطلع على مكان وهو عبوس أو معه ظلمة فهو دمار ذلك الموضع وهلاك أهله وأصابه بلاء أو شدة أو وباء ونحو ذلك من البلايا ومن رآه عند مكروب أو محبوس أو محصور فإنه يفرج عنه ويكشف ما به ومن رأى أنه يسب الله تعالى فإنه جاحد لنعمته غير راض بما قسم الله له من الرزق ومن رأى كأنه قائم بين يدي الله تعالى ينظر إليه فإن كان الرائي من الصالحين فرؤياه رؤيا رحمة وإن لم يكن من الصالحين فعليه الحذر من ذلك وإن رأى كأنه يناجيه أكرم بالقرب وحبب من الناس وكذلك لو رأى أنه ساجد بين يدي الله تعالى ومن رأى كأنه يكلمه من وراء حجاب حسن دينه وأدى أمانته إن كانت في يده وقوي سلطان وإن رأى أنه يكلمه من غير حجاب فإنه يكون ذا خطيئة في دينة فإن كساه فهو هم وسقم ما عاش
আলিফ অধ্যায়

- (মহান আল্লাহ) যার সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। স্বপ্নে তাঁকে দেখার বিষয়টি অন্তরের অবস্থার ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়। অতএব, যে ব্যক্তি তাঁকে তাঁর মহানুভবতা ও মহিমায় কোনো প্রকার ধরন (তাকয়িফ), সাদৃশ্য (তাشবিহ) বা উপমা (তামসিল) প্রদান ছাড়াই দেখবে, তা কল্যাণের দলিল এবং এটি তার পার্থিব জীবনে সুসংবাদ ও পরকালে তার দ্বীনের নিরাপত্তার লক্ষণ। আর যদি সে এর বিপরীত কিছু দেখে, তবে তার সেই স্বপ্ন তার অন্তরের কলুষতার প্রমাণ বহন করে, বিশেষ করে যদি মহান আল্লাহ তার সাথে কথা না বলেন। অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাঁকে দেখবে সে মৃত্যুবরণ করবে, কারণ তিনি হলেন সত্য এবং মৃত্যুও সত্য। আর কোনো পথভ্রষ্ট ব্যক্তি যদি তাঁকে দেখার মাধ্যমে সত্যের সন্ধান পায় তবে সে হেদায়েত প্রাপ্ত হবে। কোনো মজলুম (অত্যাচারিত) ব্যক্তি যদি তাঁকে দেখে তবে সে তার শত্রুদের ওপর বিজয়ী হবে। আর কোনো প্রকার সাদৃশ্য ব্যতিরেকে মহান আল্লাহর কালাম (কথা) শ্রবণ করার অর্থ হলো স্বপ্নদ্রষ্টার বিদআত; আবার কখনও তাঁর কালাম শ্রবণ করা ভয় থেকে নিরাপত্তা ও আশা পূরণেরও প্রমাণ দেয়। কখনও তাঁকে না দেখে মহান আল্লাহর কালাম শ্রবণ করার অর্থ হলো উচ্চ মর্যাদা লাভ করা, বিশেষ করে যদি তাঁর প্রতি ওহী করা হয়। আর যদি পর্দার আড়াল থেকে হয়, তবে সম্ভবত তা বিদআত বা পথভ্রষ্টতার লক্ষণ। আবার কখনও সে তার যোগ্যতা অনুযায়ী মর্যাদা লাভ করবে, বিশেষ করে যদি তার কাছে কোনো রাসূল আসেন। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহকে এমন কোনো আকৃতিতে দেখবে যা সে বর্ণনা করে বা যার সীমা নির্ধারণ করে, তবে তার সেই স্বপ্ন অলীক কল্পনা মাত্র; কারণ মহান আল্লাহর কোনো সীমা নেই এবং সৃষ্টির কোনো কিছুর সাথেই তাঁর সাদৃশ্য নেই। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহকে কোনো স্থানে চিত্রিত অবস্থায় দেখবে, তবে সেই স্বপ্নদ্রষ্টা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপকারী অথবা তাঁর প্রতি এমন কিছু সম্বন্ধকারী যা তাঁর জন্য শোভনীয় নয়। যে ব্যক্তি দেখবে যে মহান আল্লাহ তার সাথে কথা বলছেন এবং সে তাঁর দিকে تাকাতে সক্ষম হচ্ছে, তবে আল্লাহ তার ওপর রহমত করবেন এবং তার ওপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করবেন। যে ব্যক্তি দেখবে যে সে আল্লাহর দিকে তাকাচ্ছে, তবে সে আখেরাতে তাঁর দিকে তাকাবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে আল্লাহ তার ওপর অবতীর্ণ হয়েছেন বা সে তাঁর নিকটে সালাত আদায় করেছে, তবে সে তাঁর রহমত লাভে ধন্য হবে এবং সে যদি প্রার্থনা করে তবে শাহাদাত লাভ করবে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের যা আশা করেছিল তা প্রাপ্ত হবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে সে তাঁকে আলিঙ্গন করছে বা তাঁকে চুম্বন করছে কিংবা তাঁর অঙ্গসমূহের কোনো একটি অঙ্গ চুম্বন করছে, তবে সে যে পুরস্কারের আশা করে তা লাভে ধন্য হবে এবং সে তার আমলের কাঙ্ক্ষিত সওয়াব লাভ করবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে তিনি তাকে দুনিয়াবি কোনো আসবাব দান করেছেন, তবে সে বিপদ-আপদ ও ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে এবং এর ফলে তার পুরস্কার মহান হবে এবং তার সওয়াব ও খ্যাতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে তিনি তাকে ক্ষমা করার বা জান্নাতে প্রবেশ করানোর অথবা অনুরূপ কিছুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে সে সর্বদা মহান আল্লাহকে ভয় করতে থাকবে এবং তাঁর পর্যবেক্ষণে থাকবে। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহকে দেখবে কিন্তু তাঁর দিকে তাকাতে সক্ষম হবে না, অথবা তাঁর আরশ বা কুরসিকে তাঁর নিচে দেখবে, তবে সে নিজের জন্য কল্যাণ অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর যদি তাঁকে দেখে এবং তাঁর সাথে কথা বলে ও তাঁর দিকে তাকাতে সক্ষম হয়, অথবা তাঁকে তাঁর আরশের ওপর কিংবা কুরসির ওপর দেখে (যেখানে তিনি আরশের ওপর উঠেছেন), তবে সে কল্যাণ ও অধিক জ্ঞান লাভ করবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে সে মহান আল্লাহর কাছ থেকে পালিয়ে যাচ্ছে অথচ আল্লাহ তাকে খুঁজছেন, সে যদি ইবাদতকারী হয় তবে সে ইবাদত ও আনুগত্য থেকে বিমুখ হবে; আর যদি তার পিতা-মাতা থাকে তবে সে তাদের অবাধ্য হবে; আর সে যদি গোলাম হয় তবে সে তার মনিবের নিকট থেকে পালিয়ে যাবে। যে ব্যক্তি দেখবে যেন তার ও মহান আল্লাহর মাঝে পর্দা রয়েছে, তবে সে কবিরা গুনাহ ও পাপাাচারে লিপ্ত হবে। যে ব্যক্তি তাঁকে বিমর্ষ বা তার ওপর রাগান্বিত অবস্থায় দেখবে, অথবা তাঁর নূর সহ্য করতে অক্ষম হবে, অথবা দেখার সময় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাবে কিংবা কাঁপতে থাকবে, অথবা ক্ষমা ও তওবার জন্য প্রার্থনা করতে থাকবে, তবে তা গুনাহ, কবিরা গুনাহ, বিদআত ও ভয়াবহ পরিস্থিতির দলিল। যে ব্যক্তি দেখবে যে মহান আল্লাহ তার সাথে কথা বলেছেন, তবে এটি তার জন্য একটি সতর্কতা এবং গুনাহ থেকে নিষেধস্বরূপ। যে ব্যক্তি দেখবে যে সে মহান আল্লাহর সাথে কথোপকথন করছে, তবে সে অধিক পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াত করবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে তিনি তার সাথে কথা বলছেন এবং সে তাঁর কথা বুঝতে পারছে, তবে সে কোনো সুলতান বা শাসকের কথা শুনতে পাবে; আর যদি সে তাঁর কথা বুঝতে না পারে তবে সেই অনুযায়ী ফল হবে। যে ব্যক্তি দেখবে মহান আল্লাহ তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছেন এবং তাতে বরকত দিয়েছেন, তবে মহান আল্লাহ তাকে তাঁর বিশেষ সম্মানে ভূষিত করবেন এবং তাকে তাঁর নিকটবর্তী করবেন, তবে মৃত্যু পর্যন্ত তার ওপর থেকে বিপদ দূর হবে না। যে ব্যক্তি তাঁকে পিতা, ভাই অথবা কোনো আত্মীয় ও বন্ধুর আকৃতিতে দেখবে এবং তিনি তার প্রতি দয়া করছেন ও বরকত দিচ্ছেন, তবে সে তার শরীরে এমন বিপদে আক্রান্ত হবে যার মাধ্যমে আল্লাহ তার পুরস্কারকে মহান করবেন। যে ব্যক্তি দেখবে যে মহান আল্লাহ কোনো স্থানে বা ঘরে দৃষ্টি দিয়েছেন অথবা কোনো জমিনে, শহর বা স্থানে অবতীর্ণ হয়েছেন, তবে সেই স্থানে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সেখানে কল্যাণ ও প্রাচুর্য বৃদ্ধি পাবে। আর যদি তিনি কোনো স্থানে বিমর্ষ অবস্থায় বা অন্ধকারের সাথে দৃষ্টি দেন, তবে তা সেই স্থানের ধ্বংস ও অধিবাসীদের বিনাশের লক্ষণ এবং সেখানে বালা-মুসিবত, কঠোরতা বা মহামারি ও অনুরূপ বিপদ আপতিত হবে। যে ব্যক্তি কোনো বিপদগ্রস্ত, বন্দী বা অবরুদ্ধ অবস্থায় তাঁকে দেখবে, তবে তার মুক্তি মিলবে এবং তার বিপদ দূর হবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে সে আল্লাহকে গালি দিচ্ছে, তবে সে তাঁর নেয়ামত অস্বীকারকারী এবং আল্লাহ তার জন্য যে রিজিক বরাদ্দ করেছেন তাতে সে সন্তুষ্ট নয়। যে ব্যক্তি দেখবে যেন সে মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আছে এবং তাঁর দিকে তাকাচ্ছে, স্বপ্নদ্রষ্টা যদি নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে তার স্বপ্ন রহমতের স্বপ্ন; আর যদি নেককার না হয় তবে তার সাবধান হওয়া উচিত। যদি দেখে যেন সে তাঁর সাথে গোপনে কথা বলছে (মুনাজাত করছে), তবে সে নৈকট্যের মাধ্যমে সম্মানিত হবে এবং মানুষের নিকট প্রিয় হবে; একইভাবে যদি দেখে যে সে আল্লাহর সামনে সিজদাবনত আছে। যে ব্যক্তি দেখে যেন তিনি পর্দার আড়াল থেকে তার সাথে কথা বলছেন, তবে তার দ্বীন সুন্দর হবে এবং তার কাছে কোনো আমানত থাকলে তা সে আদায় করবে এবং তার প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাবে। আর যদি দেখে যে তিনি পর্দা ছাড়াই তার সাথে কথা বলছেন, তবে সে তার দ্বীনের ব্যাপারে গুনাহগার হবে; অতঃপর যদি তিনি তাকে পোশাক পরিধান করান, তবে তা তার আমৃত্যু চিন্তা ও রোগের কারণ হবে।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ১০)
ويستوجب بذلك الأجر الكبير فإن رأى كأن الله تعالى سماه باسمه واسم آخر علا أمره وغلب أعداءه فإن رأى أن الله تعالى ساخط عليه دل على سخط والديه عليه ومن رأى أن والديه ساخطان عليه دل ذلك على سخط الله تعالى عليه ومن رأى أن الله تعالى غضب عليه فإنه يسقط من مكان رفيع ولو رأى أنه سقط من حائط أو سماء أو جبل دل ذلك على غضب الله تعالى ومن رأى مثالاً أو صورة فقيل له إنه إلهك وظن أنه إلهه فعبده وسجد له فإنه منهمك في الباطل على ظن أنه حق ومن رأى الله تعالى يصلي في مكان فإن رحمته ومغفرته تجيء ذلك المكان والموضع الذي كان يصلي فيه ومن رأى الله تعالى يقبله فإن كان من أهل الصلاح والخير فإنه يقبل على طاعته تعالى وتلاوة كتابه أو يلقن القرآن وإن كان بخلاف ذلك فهو مبتدع

ومن رأى الله تعالى ناداه فأجابه فإنه يحج إن شاء الله تعالى وأما تجليه على المكان المخصوص فربما دل على عمارته إن كان خراباً أو على خرابه إن كان عامراً وإن كان أهل ذلك ظالمين انتقم منهم وإن كانوا مظلومين نزل بهم العدل وربما دلت رؤيته تعالى في المكان المخصوص على ملك عظيم يكون فيه أو يتولى أمره جبار شديد أو يقوم إلى ذلك المكان عالم مفيد أو حكيم خبير بالمعالجات وأما الخشية من الله تعالى في المنام فإنها تدل على الطمأنينة والسكون والغنى من الفقر والرزق الواسع ومن رأى كأنه صار سبحانه وتعالى اهتدى إلى الصراط المستقيم ومن رأى كأن الحق تعالى يهدده ويتوعده فإنه يرتكب معصية.

- (استعاذة) من رأى أنه يكثر الاستعاذة بالله من الشيطان في المنام فإنه يرزق علماً نافعاً وهدى وأمناً من عدوه وغنى من الحلال والحرام وإن كان مرضاً أفاق من مرضه خصوصاً إن كان يصرع الجان وربما دلت الاستعاذة على الأمن من الشريك الخائن والطهارة من النجس والإسلام بعد الكفر.

- (آيات القرآن) فإن كانت آيات رحمة فإن كان القارئ ميتاً فهو في رحمة الله تعالى وإن كانت آيات عقاب فهو في عذاب الله تعالى وإن كانت آيات إنذار وكان الرائي حياً حذرته من ارتكاب مكروه وإن كانت آيات مبشرات بشرته بخير ومن رأى أنه يقرأ آية عذاب فإذا وصل إلى آية عذاب عسر عليه قراءتها أصاب فرحاً ومن رأى أنه يقرأ آية عذاب فإذا وصل إلى آية رحمة لم يتهيأ له قراءتها بقي في الشدة.

- (إنجيل) من رأى من أهل الإسلام أن معه إنجيلاً تجرد للعبادة وتزهد وآثر السياحة والرياضة ولانقطاع والعزلة وإن كان ملكاً فهو عدوه وربما دلت رؤيته على الكذب والبهتان وقذف المحصنات وربما غلب في مخاصمته إن كان محاكماً وإن كان شاهداً شهد بالزور أو تكلم فيما لا يعنيه وإن كان مريضاً سلم من مرضه وربما دلت رؤيته على علم الهندسة أو النقل عن العلماء فيما يعلم وربما دلت رؤيته على الكتاب وأرباب التصاوير والغناء والطرب.

- (إسرافيل عليه السلام من رآه في منامه ينفخ في الصور وظن أنه سمعه وحده دون غيره فإنه يموت وإن كان يظن أن أهل ذلك الموضع سمعوا ظهر في ذلك الموضع موت ذريع وقيل هذه الرؤيا تدل على بسط العدل بعد انتشار الظلم وعلى هلاك الظلمة في تلك الناحية ورؤية إسرافيل عليه السلام دالة على تجهيز الجيش والأسفار والمشقة والخوف والجزع والتوعد ووجود الضائع وقضاء الديون والمجازاة بالأعمال وإسقاط الحوامل وتدل رؤيته أيضا على عمران الخراب وقيل إن نفخته الأولى تدل على الوباء والثانية على الحياة ورفع الطاعون.

- (آدم عليه السلام من رآه في المنام فإنه أذنب ذنباً فليتب منه وربما دلت رؤيته على الوالد أو السلطان أو على العلم ومن رأى أنه يذبح آدم عليه السلام فإنه يغدر بالسلطان أو يعق والديه أو معلمه ومن رأى آدم عليه السلام على هيئة نال ولاية إن كان لها أهلاً فإن رأى كأنه كلمه نال علماً وقيل من رأى آدم عليه السلام اغتر بقول بعض أعدائه ثم يفرج عنه بعد مدة فإن رآه متغير اللون والحال دل ذلك على انتقال من مكان إلى مكان ثم العود إلى المكان الأول أخيراً ومن صار آدم عليه السلام أو صاحبه أو انتقل إلى صفته فإن كان للخلافة أهلاً نالها وإن كان عالماً انتفع الناس بعلمه أو نال علماً لا يجاريه أحد من الناس وربما دلت رؤيا آدم عليه السلام على عابر الرؤيا لأنه أول من رأى المنام في الدنيا وعلم عبارتها وتدل رؤيته على الحج والاجتماع بالأحباب وربما دلت رؤيته على كثرة النسل وتدل رؤيته أيضاً على السهو والنسيان وربما دلت على المكيدة والحيلة وعلى معاشرة من يعالج الحياة أو
এর মাধ্যমে সে অনেক বড় সওয়াব লাভ করবে। যদি সে স্বপ্নে দেখে যে আল্লাহ তাআলা তাকে তাঁর নিজের নামে অথবা অন্য কোনো সুন্দর নামে ডেকেছেন, তবে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং সে তার শত্রুদের ওপর বিজয়ী হবে। যদি সে দেখে যে আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অসন্তুষ্ট, তবে তা তার প্রতি তার পিতা-মাতার অসন্তুষ্টির লক্ষণ। আর যে ব্যক্তি দেখে যে তার পিতা-মাতা তার ওপর অসন্তুষ্ট, তা তার প্রতি আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টিরই প্রমাণ। যে দেখে যে আল্লাহ তাআলা তার প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন, তবে সে কোনো উচ্চ স্থান থেকে নিচে পড়ে যাবে। আর যদি সে দেখে যে সে কোনো প্রাচীর, আকাশ বা পাহাড় থেকে নিচে পড়ে গেছে, তবে তা আল্লাহ তাআলার ক্রোধের পরিচয় দেয়। যদি কেউ কোনো প্রতিকৃতি বা ছবি দেখে এবং তাকে বলা হয় যে এটিই তোমার উপাস্য, আর সেও তা নিজের উপাস্য মনে করে সেটির ইবাদত ও সিজদা করে, তবে সে মিথ্যার মধ্যে নিমজ্জিত আছে অথচ সেটিকে সত্য বলে মনে করছে। যদি কেউ দেখে যে আল্লাহ তাআলা কোনো স্থানে সালাত আদায় করছেন, তবে সেই স্থানে এবং যে জায়গায় তিনি সালাত আদায় করছিলেন সেখানে তাঁর রহমত ও মাগফিরাত অবতীর্ণ হবে। যে ব্যক্তি দেখে যে আল্লাহ তাআলা তাকে চুম্বন করছেন, সে যদি সৎ ও নেককার লোক হয়, তবে সে মহান আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর কিতাব তিলাওয়াতের প্রতি নিবিষ্ট হবে অথবা তাকে কুরআন শিক্ষা দেওয়া হবে; আর সে যদি এর বিপরীত হয় (অর্থাৎ অসৎ হয়), তবে সে একজন বিদআতি।

যে ব্যক্তি দেখে যে আল্লাহ তাআলা তাকে ডাকছেন এবং সে তাঁর ডাকে সাড়া দিচ্ছে, তবে ইনশাআল্লাহ সে হজ্জ পালন করবে। আর কোনো বিশেষ স্থানে তাঁর তাজাল্লি বা জ্যোতির বিকাশ ঘটা সম্ভবত সেই স্থানটি বিরান থাকলে আবাদের এবং আবাদ থাকলে তা ধ্বংস হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। যদি সেখানকার অধিবাসীরা জালেম হয়, তবে তিনি তাদের থেকে প্রতিশোধ নেবেন; আর যদি তারা মজলুম হয়, তবে তাদের ওপর ইনসাফ কায়েম হবে। কোনো বিশেষ স্থানে আল্লাহ তাআলার দর্শন লাভ করা সম্ভবত সেই স্থানে কোনো মহান রাজার ক্ষমতালাভ বা কোনো কঠোর শাসক কর্তৃক সেখানকার দায়িত্বভার গ্রহণ অথবা কোনো উপকারী আলেম বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে দক্ষ কোনো প্রাজ্ঞ ব্যক্তির আগমনের ইঙ্গিত বহন করে। স্বপ্নে আল্লাহর ভয় পাওয়া প্রশান্তি, স্থিরতা, দারিদ্র্য থেকে মুক্তি এবং প্রশস্ত রিজিকের লক্ষণ। যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহ তাআলার বিশেষ কোনো রঙে বা অবস্থায় উপনীত হতে দেখে, সে সিরাতুল মুস্তাকিমের হিদায়াত প্রাপ্ত হবে। যে দেখে যে আল্লাহ তাআলা তাকে ধমক দিচ্ছেন এবং ভয় দেখাচ্ছেন, তবে সে কোনো পাপে লিপ্ত হচ্ছে।

(আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া): যে ব্যক্তি স্বপ্নে শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে অধিক পরিমাণে পানাহ (আশ্রয়) চাইতে দেখে, সে উপকারী জ্ঞান, হিদায়াত, শত্রু থেকে নিরাপত্তা এবং হালাল রিজিক লাভ করবে। যদি সে অসুস্থ থাকে তবে আরোগ্য লাভ করবে, বিশেষ করে যদি সে জিনগ্রস্ত হয়ে থাকে। এছাড়াও পানাহ চাওয়া বিশ্বাসঘাতক অংশীদার থেকে নিরাপত্তা, অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা এবং কুফরির পর ইসলামের ওপর অটল থাকার ইঙ্গিত দেয়।

(কুরআনের আয়াতসমূহ): যদি রহমতের আয়াত পাঠ করা হয় এবং পাঠক মৃত ব্যক্তি হয়, তবে সে আল্লাহর রহমতের মধ্যে আছে। আর যদি শাস্তির আয়াত হয়, তবে সে আল্লাহর আজাবের মধ্যে আছে। যদি সতর্কবাণীর আয়াত হয় এবং স্বপ্নদ্রষ্টা জীবিত থাকে, তবে তা তাকে কোনো অপছন্দনীয় কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ক করছে। যদি সুসংবাদবাহী আয়াত হয়, তবে তা তাকে কল্যাণের সুসংবাদ দেয়। যে ব্যক্তি আযাবের আয়াত পাঠ করছে এবং তা পাঠ করতে গিয়ে রহমতের আয়াতে পৌঁছানো তার জন্য কঠিন হচ্ছে, তবে সে আনন্দ লাভ করবে। যে আযাবের আয়াত পাঠ করছে কিন্তু রহমতের আয়াতে পৌঁছানোর পর তা আর পড়তে পারছে না, তবে সে কষ্টের মধ্যেই থেকে যাবে।

(ইনজিল): কোনো মুসলমান যদি স্বপ্নে দেখে যে তার কাছে ইনজিল আছে, তবে সে ইবাদতের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করবে, দুনিয়াবিমুখ হবে এবং ভ্রমণ, আধ্যাত্মিক সাধনা ও নির্জনতাকে প্রাধান্য দেবে। সে যদি রাজা হয়, তবে তা তার শত্রুর প্রতীক। এর দর্শন অনেক সময় মিথ্যা বলা, অপবাদ দেওয়া এবং সতী নারীকে কলঙ্কিত করার লক্ষণ হতে পারে। যদি সে কোনো বিবাদে লিপ্ত থাকে তবে জয়ী হবে; আর যদি সাক্ষী হয় তবে মিথ্যা সাক্ষ্য দেবে অথবা অনর্থক কথা বলবে। যদি অসুস্থ থাকে তবে রোগমুক্ত হবে। সম্ভবত এর দর্শন প্রকৌশল বিদ্যা বা আলেমদের থেকে জ্ঞান অর্জনের ইঙ্গিত দেয়। এটি অনেক সময় লেখক, চিত্রশিল্পী এবং গান-বাজনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও নির্দেশ করে।

(ইসরাফিল আলাইহিস সালাম): যে ব্যক্তি স্বপ্নে তাঁকে শিংগায় ফুঁ দিতে দেখে এবং মনে করে যে সে একাই তা শুনছে অন্য কেউ নয়, তবে সে মৃত্যুবরণ করবে। আর যদি সে মনে করে যে সেই স্থানের সবাই তা শুনেছে, তবে সেখানে ব্যাপক মৃত্যুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেবে। বলা হয়ে থাকে যে, এই স্বপ্ন জুলুম ছড়িয়ে পড়ার পর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সেই অঞ্চলে জালেমদের ধ্বংস হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। ইসরাফিল আলাইহিস সালামকে দেখা সৈন্যবাহিনী প্রস্তুতি, সফর, কষ্ট, ভয়, উদ্বেগ, হুমকি এবং হারানো জিনিস খুঁজে পাওয়ার লক্ষণ। এটি ঋণ পরিশোধ, কর্মফল লাভ, গর্ভবতীদের গর্ভপাত হওয়া এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থান আবাদেরও ইঙ্গিত দেয়। বলা হয় যে, তাঁর প্রথম ফুঁ মহামারীর লক্ষণ এবং দ্বিতীয় ফুঁ জীবনের স্পন্দন ও মহামারী দূর হওয়ার প্রতীক।

(আদম আলাইহিস সালাম): যে স্বপ্নে আদম আলাইহিস সালামকে দেখবে, সে নিশ্চয়ই কোনো গুনাহ করেছে, তাই তার তওবা করা উচিত। তাঁকে দেখা পিতা, সুলতান বা উচ্চ জ্ঞানের ইঙ্গিত হতে পারে। যে ব্যক্তি আদম আলাইহিস সালামকে যবেহ করতে দেখে, সে সুলতানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে অথবা তার পিতা-মাতা কিংবা শিক্ষকের অবাধ্য হবে। আদম আলাইহিস সালামকে সুন্দর অবস্থায় দেখলে সে যদি যোগ্য হয় তবে কর্তৃত্ব বা শাসনক্ষমতা লাভ করবে। যদি দেখে যে তিনি তার সাথে কথা বলছেন, তবে সে জ্ঞান লাভ করবে। বলা হয়, যে আদম আলাইহিস সালামকে দেখে সে কোনো শত্রুর কথায় প্রতারিত হবে, কিন্তু কিছুকাল পর সে তা থেকে মুক্তি পাবে। যদি তাঁকে ভিন্ন বর্ণ বা অবস্থায় দেখে, তবে তা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের এবং পরিশেষে আবার আগের স্থানে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়। যে ব্যক্তি নিজে আদম আলাইহিস সালাম হয়ে যায় বা তাঁর সঙ্গী হয় কিংবা তাঁর গুণাবলি লাভ করে, তবে সে খেলাফতের যোগ্য হলে তা লাভ করবে। আর যদি সে আলেম হয় তবে মানুষ তার জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হবে অথবা সে এমন জ্ঞান লাভ করবে যাতে কেউ তার সমকক্ষ হতে পারবে না। আদম আলাইহিস সালামের স্বপ্ন সম্ভবত স্বপ্ন বিশারদকেও নির্দেশ করে, কারণ তিনিই পৃথিবীর প্রথম ব্যক্তি যিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং তার ব্যাখ্যা জানতেন। তাঁকে দেখা হজ্জ পালন এবং প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হওয়ার লক্ষণ; অনেক সময় এটি অধিক বংশবৃদ্ধিরও ইঙ্গিত দেয়। তাঁকে দেখা ভুলভ্রান্তি ও বিস্মৃতিরও প্রমাণ এবং কখনো তা ষড়যন্ত্র, কৌশল কিংবা জীবনসংগ্রামী ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশার ইঙ্গিত দেয়।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ১১)
يصنع السموم أو يرتزق من استحضار الشياطين ويتكلم على ألسنتهم وربما دلت رؤيته على اللباس الخشن والبكاء وربما دلت على تنكيد الرائي من سبب مأكول وربما دلت رؤيته على السفر البعيد وربما كان إلى الجهة التي نزل بها آدم عليه السلام وربما رزق الرائي الذكور أكثر من الإناث وإن كان الرائي مريضاً بعينه أفاق من شكواه وربما دلت رؤيته على الخدم والسجود للملوك ومن رأى آدم عليه السلام ناقص الحال ربما نقص حال كبير الرائي الحاكم عليه أو تغيرت مكاسبه أو صنعته ومن رآه في حال حسن عاد خير كبير عليه.

- (إدريس عليه السلام من رآه في المنام أكرم بالورع وختم له بخير وصار مجتهداً في العبادة بصيراً حليماً عالماً ومن صار إدريس في منامه أو على صفته كثر علمه أو تقرب من الأكابر ونال المنازل العالية ومن صاحبها صاحب إنساناً كذلك وإن رآه ناقص الحال عاد نقصه على الرائي.

- (إبراهيم عليه السلام رؤيته في المنام تدل على الخير والبركة والعبادة والشيخوخة والرزق والإيثار والاهتمام بالأبنية الشريفة والذرية الصالحة والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والعلم والهدى وهجران الأهل والأقارب في طاعة الله تعالى وتدل رؤيته عليه السلام على الوالد المشفق لأنه أبو الإسلام والذي سمانا مسلمين وربما دلت رؤيته على الوقوع في الشدائد والسلامة منها وربما دلت رؤيته على النكد لإصلاح ذات البين أو لما يرجوه من الخير وإن كان الرائي عالماً بالنجوم أو علم الرؤيا داخله في ذلك غلط أو خلل وربما دلت رؤيته على التشريع والمحافظة على الخير وهجران إخوان السوء وربما دلت رؤيته لمن لمسه على المحبة لله تعالى وإن لمس عضواً من أعضاء الرائي وكان الرائي يشكو من ذلك العضو عافاه الله تعالى وأزال شكواه وتدل رؤيته أيضاً على الحج وإن رأت المرأة إبراهيم عليه السلام في منامها نكدت من زوجها بسبب ولد من أولادها أو يجري على بعض أولادها شدة ويسلم منها وربما دلت إن كان للرائي أولاد أن يطلق أحدهم زوجته بسببه ومن صار في منامه إبراهيم عليه السلام أو صاحبه دل على البلاء من الأعداء لكن ينصر وربما تولى ولاية أو إمامة ويكون عادلاً فيها أو يصاحب إنساناً كذلك أو يرزق بعد الإياس منهم وربما قدمت عليه رسل الأكابر بالبشارة.

- (ومن رأى) إبراهيم عليه السلام فإنه ينتصر على أعدائه وينال زوجة مؤمنة وتصيبه شدة وضيق من ملك وينجو منه ومن رآه يدعوه إليه فأجابه بالتلبية وأسرع إليه رفعت منزلته وإن رآه ناداه فلم يجيبه أو رآه يتهدده ويتوعده أو رآه عبوساً فإما أن يكون متخلفاً عن الحج مع وجود السبيل إليه أو تاركاً للصلاة أو طاعناً على الإمام أو منافقاً وإن رآه كافر أسلم أو مذنب تاب أو تارك للصلاة عاد إليها ومن تحول في صورة إبراهيم عليه السلام أو لبس ثوبه أصابته بلوى وربما دلت رؤيته على ذهاب الغم والهم وأصابه الخير وإدراك الدنيا الواسعة والهداية وقيل إن رؤية إبراهيم عليه السلام عقوق للأب.

- (إسحاق عليه السلام رؤيته في المنام دالة على الهم والنكد إلا أن يكون له ولد عقه فإنه يرجع إلى طاعته وربما دلت رؤيته على البشارة والأمن من الخوف وقيل

- (من رأى) إسحاق عليه السلام أصابه شدة من بعض الكبراء والأقرباء ثم يفرج الله عنه ويرزقه عزاً وشرفاً وبشارة وتكثر الملوك والرؤساء الصالحون من نسله هذا إذا رآه على جماله وكمال حاله فإن رآه متغير الحال ذهب بصره وربما دلت رؤيته على الخروج من هم إلى فرج ومن ضيق إلى سعة ومن معصية إلى طاعة ومن عقوق إلى صلة.

- (ومن رأى) أنه تحول في صورة إسحاق عليه السلام ولبس ثوبه فإنه يشرف على الموت ثم ينجو منه.

- (إسماعيل عليه السلام من رآه في المنام فإنه ينال فصاحة ورياسة ويبني لله مسجداً وربما دلت رؤيته على إن إنساناً وعده بوعد وهو في قوله صادق وقيل إن من رآه رزق السياسة أو يعين على اتخاذ مسجد وقيل إن رأى إسماعيل عليه السلام أصابه هم من جهة أبيه ثم يسهل الله تعالى ذلك عليه.

- (أيوب عليه السلام تدل رؤيته على البلوى وفقدان الأهل والمال والأزواج ويليهم الصبر في ذلك كله وربما دلت رؤيته على ما خرج من يده من مال أو ولد وربما وقع الرائي في يمين احتاج فيها إلى فقيه وإن كان مريضاً شفي من مرضه وزال عنه سقمه وربما بلغ ما يرجوه من إجابة دعاء أو سؤال حاجة ومن لبس ثوبه في منام أصابه البلاء والنكد وفراق الأحبة وكثرة المرض ثم يزول ذلك جميعه ويكون ممدوحاً عند الأكابر وقيل رؤياه تدل على
বিষ তৈরি করা অথবা শয়তানদের হাজির করার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা এবং তাদের ভাষায় কথা বলার ওপর তা দালালত করে। কখনও তাঁর স্বপ্নদর্শন মোটা কাপড় পরিধান এবং কান্নাকাটির ওপর প্রমাণ বহন করে। আবার কখনও কোনো খাদ্যদ্রব্যের কারণে স্বপ্নদ্রষ্টার মনোকষ্টের কারণ হতে পারে। কখনও তাঁর দর্শন দূরবর্তী সফরের ইঙ্গিত দেয়, আর সম্ভবত তা সেই দিকে হবে যেখানে আদম আলাইহিস সালাম অবতরণ করেছিলেন। কখনও স্বপ্নদ্রষ্টা কন্যার চেয়ে পুত্র সন্তান বেশি লাভ করেন। স্বপ্নদ্রষ্টা যদি চোখে অসুস্থ থাকেন, তবে তিনি তাঁর কষ্ট থেকে আরোগ্য লাভ করবেন। কখনও তাঁকে দেখা রাজাদের সেবা করা এবং তাদের সামনে সেজদা করার (নত হওয়ার) পরিচায়ক হতে পারে। যে ব্যক্তি আদম আলাইহিস সালাম-কে অপূর্ণ অবস্থায় দেখবে, সম্ভবত স্বপ্নদ্রষ্টার ওপর শাসনকর্তা বা উচ্চপদস্থ ব্যক্তির পদমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে অথবা তার উপার্জনে বা পেশায় পরিবর্তন আসবে। আর যে তাঁকে উত্তম অবস্থায় দেখবে, তার কাছে মহা কল্যাণ ফিরে আসবে।

- (ইদ্রিস আলাইহিস সালাম) স্বপ্নে তাঁকে দেখলে তাকওয়া বা খোদাভীতি দ্বারা সম্মানিত হবে এবং তার শেষ পরিণতি শুভ হবে। সে ইবাদতে কঠোর পরিশ্রমী, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন, ধৈর্যশীল ও বিজ্ঞ হবে। যে ব্যক্তি স্বপ্নে স্বয়ং ইদ্রিস হয়ে যায় অথবা তাঁর আকৃতি ধারণ করে, তার জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে অথবা সে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিকটবর্তী হবে এবং উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে। যে ব্যক্তি তাঁর সঙ্গী হবে, সে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির সাহচর্য লাভ করবে। আর যদি তাঁকে অপূর্ণ অবস্থায় দেখে, তবে সেই অপূর্ণতা স্বপ্নদ্রষ্টার ওপরই বর্তাবে।

- (ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম) স্বপ্নে তাঁকে দেখা কল্যাণ, বরকত, ইবাদত, বার্ধক্য, রিজিক, পরোপকারিতা, সম্মানিত স্থাপনা নির্মাণের প্রতি গুরুত্ব প্রদান এবং নেককার সন্তান-সন্ততির প্রমাণ বহন করে। এটি সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ, জ্ঞান, হেদায়েত এবং আল্লাহর আনুগত্যে পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজন ত্যাগ করারও দলিল। তাঁর দর্শন দয়ালু পিতার ওপর দালালত করে, কারণ তিনি ইসলামের পিতা এবং তিনিই আমাদের মুসলিম নামকরণ করেছেন। কখনও তাঁর দর্শন বিপদে পড়া এবং তা থেকে নিরাপত্তা লাভের ওপর প্রমাণ পেশ করে। আবার কখনও বিবাদমান পক্ষগুলোর মাঝে মীমাংসার জন্য অথবা কাঙ্ক্ষিত কল্যাণের আশায় কষ্টের সম্মুখীন হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে। স্বপ্নদ্রষ্টা যদি জ্যোতির্বিদ বা স্বপ্ন বিশারদ হন, তবে তার কাজে কোনো ভুল বা ত্রুটি প্রবেশ করবে। কখনও তাঁকে দেখা শরীয়ত অনুসরণ, কল্যাণের ওপর অবিচল থাকা এবং অসৎ বন্ধুদের ত্যাগ করার ওপর দালালত করে। যে ব্যক্তি তাঁকে স্পর্শ করবে, সম্ভবত এটি আল্লাহর প্রতি মহব্বতের লক্ষণ। যদি তিনি স্বপ্নদ্রষ্টার শরীরের কোনো অঙ্গ স্পর্শ করেন এবং স্বপ্নদ্রষ্টা সেই অঙ্গে কোনো ব্যথায় ভুগছিলেন, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে আরোগ্য দান করবেন এবং তার কষ্ট দূর করে দেবেন। তাঁর দর্শন হজেরও প্রমাণ বহন করে। কোনো নারী যদি স্বপ্নে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-কে দেখে, তবে সে তার কোনো সন্তানের কারণে স্বামীর পক্ষ থেকে মনোকষ্ট পাবে অথবা তার কোনো সন্তানের ওপর কঠিন বিপদ নেমে আসবে এবং সে তা থেকে মুক্তি পাবে। স্বপ্নদ্রষ্টার যদি সন্তান থাকে, তবে সম্ভবত তাঁর কারণে তাদের কেউ তার স্ত্রীকে তালাক দেবে। যে ব্যক্তি স্বপ্নে স্বয়ং ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম হয়ে যায় অথবা তাঁর সঙ্গী হয়, তা শত্রুদের পক্ষ থেকে পরীক্ষার ওপর প্রমাণ দেয়, তবে শেষ পর্যন্ত সে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। সম্ভবত সে কোনো নেতৃত্ব বা ইমামতি লাভ করবে এবং তাতে সে ন্যায়পরায়ণ হবে, অথবা অনুরূপ কোনো ব্যক্তির সাহচর্য লাভ করবে, কিংবা নিরাশ হওয়ার পর সন্তান লাভ করবে। আবার কখনও তাঁর কাছে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সুসংবাদ নিয়ে দূত আসতে পারে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-কে, সে তার শত্রুদের ওপর জয়ী হবে এবং একজন মুমিন স্ত্রী লাভ করবে। কোনো বাদশাহর পক্ষ থেকে তার ওপর কঠোরতা ও সংকীর্ণতা আসবে, কিন্তু সে তা থেকে মুক্তি পাবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে তিনি তাকে ডাকছেন এবং সে লাব্বাইক বলে দ্রুত তাঁর ডাকে সাড়া দিচ্ছে, তবে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। আর যদি দেখে যে তিনি তাকে ডাকছেন কিন্তু সে সাড়া দিচ্ছে না, অথবা দেখবে যে তিনি তাকে হুমকি দিচ্ছেন ও ভয় দেখাচ্ছেন, কিংবা দেখবে যে তিনি বিষণ্ণ হয়ে আছেন, তবে এর অর্থ হলো সে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ ত্যাগ করেছে, অথবা নামাজ ত্যাগকারী, কিংবা ইমামের নিন্দাকারী অথবা একজন মুনাফিক। যদি কোনো কাফের তাঁকে দেখে তবে সে ইসলাম গ্রহণ করবে, গুনাহগার হলে তওবা করবে এবং নামাজ ত্যাগকারী হলে পুনরায় নামাজ শুরু করবে। যে ব্যক্তি ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর আকৃতিতে রূপান্তরিত হয় অথবা তাঁর পোশাক পরিধান করে, তার ওপর বিপদ আসবে। কখনও তাঁর দর্শন দুঃখ-দুশ্চিন্তা দূর হওয়া, কল্যাণ লাভ করা, প্রশস্ত দুনিয়া অর্জন এবং হেদায়েত প্রাপ্তির প্রমাণ দেয়। বলা হয়ে থাকে যে, ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-কে দেখা পিতার অবাধ্যতারও লক্ষণ হতে পারে।

- (ইসহাক আলাইহিস সালাম) স্বপ্নে তাঁকে দেখা দুশ্চিন্তা ও মনোকষ্টের দলিল, তবে যদি তার কোনো অবাধ্য সন্তান থাকে তবে সে অনুগত হয়ে ফিরে আসবে। কখনও তাঁর দর্শন সুসংবাদ এবং ভয় থেকে নিরাপত্তার প্রমাণ দেয়। বলা হয়েছে যে—

- (যে ব্যক্তি দেখে) ইসহাক আলাইহিস সালাম-কে, তবে কোনো উচ্চপদস্থ ব্যক্তি বা আত্মীয়র পক্ষ থেকে তার ওপর কঠোরতা আসবে, অতঃপর আল্লাহ তাকে মুক্তি দেবেন এবং তাকে ইজ্জত, সম্মান ও সুসংবাদ দান করবেন। তার বংশধরে অনেক নেককার রাজা ও নেতা জন্ম নেবে। এটি তখন হবে যখন তাঁকে সুন্দর ও পূর্ণাবস্থায় দেখবে। আর যদি তাঁকে পরিবর্তিত অবস্থায় দেখে, তবে তার দৃষ্টিশক্তি চলে যাবে। কখনও তাঁর দর্শন দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি, সংকীর্ণতা থেকে প্রশস্ততা, পাপাচার থেকে আনুগত্য এবং অবাধ্যতা থেকে সুসম্পর্কের দিকে প্রত্যাবর্তনের প্রমাণ দেয়।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে ইসহাক আলাইহিস সালাম-এর আকৃতিতে রূপান্তরিত হয়েছে এবং তাঁর পোশাক পরিধান করেছে, তবে সে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে এবং অতঃপর তা থেকে রক্ষা পাবে।

- (ইসমাইল আলাইহিস সালাম) যে ব্যক্তি তাঁকে স্বপ্নে দেখবে, সে বাকপটুতা ও নেতৃত্ব লাভ করবে এবং আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে। কখনও তাঁকে দেখা এই মর্মে ইঙ্গিত দেয় যে, কোনো ব্যক্তি তাকে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং সে তার কথায় সত্যবাদী। আরও বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি তাঁকে দেখবে সে প্রশাসনিক ক্ষমতা লাভ করবে অথবা মসজিদ নির্মাণে সাহায্য করবে। এটিও বলা হয় যে, ইসমাইল আলাইহিস সালাম-কে দেখলে পিতার পক্ষ থেকে কোনো দুশ্চিন্তা পৌঁছাবে, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তা সহজ করে দেবেন।

- (আইয়ুব আলাইহিস সালাম) তাঁকে দেখা বিপদ-আপদ এবং পরিবার, সম্পদ ও স্ত্রী হারানোর প্রমাণ দেয়; যার পর এই সবকিছুতেই ধৈর্য ধারণ করতে হয়। কখনও তাঁর দর্শন হাত থেকে সম্পদ বা সন্তান চলে যাওয়ার ওপর দালালত করে। সম্ভবত স্বপ্নদ্রষ্টা এমন কোনো কসম বা শপথের মধ্যে পড়বে যেখানে তার কোনো ফকিহ বা বিজ্ঞ আলেমের প্রয়োজন হবে। যদি সে অসুস্থ থাকে তবে তার রোগ থেকে মুক্তি পাবে এবং তার অসুস্থতা দূর হবে। সম্ভবত দোয়া কবুল হওয়া বা কোনো প্রয়োজন পূরণের মাধ্যমে সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। যে ব্যক্তি স্বপ্নে তাঁর পোশাক পরিধান করবে, সে বিপদ, মনোকষ্ট, প্রিয়জনদের বিচ্ছেদ এবং অধিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হবে, অতঃপর এই সবকিছু দূর হয়ে যাবে এবং সে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের কাছে প্রশংসিত হবে। বলা হয়েছে যে, তাঁর দর্শন- (অসমাপ্ত)
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ১২)
البلاء والوحدة والبشارة بالعز والثواب والمرأة إذا رأت في منامها امرأة أيوب عليه السلام دل على سلب مالها وكشف حالها وعلى أن عاقبتها تكون إلى خير وسلامة وإن رآها مريض مات وكان عند الله مرحوماً أو رحمه الله تعالى وكشف ضره لأن اسمها رحمة.

- (أرمياء عليه السلام من رآه في المنام دلت رؤياه على الحريق في تلك البلدة أو في داره أو كورته.

- (أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم من رآهم في منامه في الصفات الحسية كان دليلاً على حسن معتقده فيهم وإتباعه لسنتهم وربما دلت رؤيتهم على حركات الجند وبعث البعوث وربما دلت على انتشار العلم والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وتدل على المنكر وتدل رؤيتهم على الألفة والمحبة والأخوة والمعاضدة والمساعدة والسلامة من العداوة والحسد وزوال الغل من الصدور وعلى التودد لأنهم رضي الله عنهم كانوا على ذلك فإن كان الرائي فقيراً استغنى لأنهم رضي الله عنهم فتحوا الفتوحات وغنموا الغنائم وإن كان الرائي غنياً آثر الآخرة على الدنيا وبذل نفسه وماله في مرضاة الله تعالى وتدل رؤيتهم رضي الله عنهم لمن أقبلوا عليه في المنام على الأبنية الشريفة كالجوامع والمساجد وطهارة النسب والقبائل والعشائر ويدل إعراضهم على الرائي أو شتمهم له في المنام على الوقوع فيما شجر بينهم وتفضيل بعضهم على بعض وبغضهم له وتدل رؤيتهم على التوبة والإقلاع عما سوى الله تعالى ورؤية الصحابة رضي الله عنهم تدل على الخير والبركة على حسب منازلهم ومقاديرهم المعروفة في سيرهم وطريقتهم وربما دلت رؤية كل واحد منهم على ما نزل به وما كان في أيامه من فتنة أو عدل فمن رأى أنه حشر مع أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فإنه ممن يطلب الاستقامة في الدين.

- (ومن رأى) أحداً من الصحابة فليتأول له بالاشتقاق مثل سعد وسعيد فإنه يكون سعيداً سديداً وربما كان له من سيرته وأفعاله نصيب.

- (ومن رأى) أحداً منهم حياً أو جميعهم أحياء دلت رؤياه على قوة الدين وأهله ودلت على أن صاحب الرؤيا ينال عزاً وشرفاً ويعلو أمره فإن رأى كأنه صار أحداً منهم تناله شدائد ثم يرزق الظفر وإن رآهم في منامه مراراً ضاقت معيشته والأنصار وأبناء الأنصار وأبناء أبناء الأنصار رؤيتهم في المنام تدل على التوبة والمغفرة والمهاجرون تدل رؤيتهم على حسن اليقين والثقة بالله تعالى والخروج عن الدنيا والزهد فيها والصدق في القول والعمل.

- (ومن رأى أبو بكر الصديق) رضي الله عنه تدل رؤيته على الخلافة والإمامة والتقدم على الأقران والحظ الوفير عند ذوي الأقدار وربما دلت رؤيته على الإنفاق في سبيل الله تعالى بالمال والولد وعلى الحفظ في الصداقة وتدل رؤيته على عتق المملوك وحصول الشهادة وعلى الصدق في المقالة والشيخوخة والرأي السديد والحظ في الرقيق وعبارة الرؤيا وتدل على النكد من جهة بعض أولاده البنين أو البنات وعلى الخوف والاحتفاء والنجاة من الشدائد والغزو في سبيل الله والحج والنصر على الأعداء والعلم.

- (ومن رأى) أبا بكر الصديق رضي الله عنه حياً أكرم بالرأفة والشفقة على عباد الله تعالى.

- (ومن رأى) أنه جالس مع أبي بكر رضي الله عنه فإنه يتبع الحق ويكون مقتدياً بالسنة ناصحاً لأمة محمد صلى الله عليه وسلم.

- (أزواج النبي صلى الله عليه وسلم رؤيتهن في المنام تدل على الأمهات وتدل على الخير والبركة والأولاد وأكثرهم البنات وربما دلت رؤيتهن على الأنكاد والتغير وعلى اليمين بسبب إظهار سر أو كتمانه وعلى القذف والمرأة إذا رأت عائشة رضي الله عنها في المنام نالت منزلة عالية وشهرة صالحة وحظوة عند الآباء والأزواج وإن رأت حفصة رضي الله عنها دلت رؤيتها على المكر وإن رأت خديجة رضي الله عنها دلت على السعادة والذرية الصالحة وتدل رؤية فاطمة رضي الله عنها بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم على فقدان الأزواج والآباء والأمهات وأما رؤية الحسن والحسين رضي الله عنهما فإنها دالة على الفتنة وحصول الشهادة وربما دلت على كثرة الأزواج والأولاد والأسفار والتغرب وعلى أن الرائي يموت شهيداً من سقى أو طعمة أو قتل أو غربة عن وطنه.

- (ومن رأى) من الرجال من أزواج النبي صلى الله عليه وسلم وكان أعزب تزوج امرأة صالحة وكذلك إن رأت المرأة أحداً منهن دلت رؤيتها على بعل صالح يكفيها.

- (إنسان) (من رأى) في المنام شخصاً واحداً عن بني آدم مجهولاً لا يعرفه في اليقظة ولا بشبه فربما كانت رؤيته تلك النسمة نفسه التي بها أراه الله تعالى فإن رأى تلك النسمة تفعل خيراً ربما كان هو فاعله وإن رآها في المنام تفعل شراً كان الواحد حده الذي ينتهي إليه رزقه أو أجله وإن رأى اثنين فإن كان خائفاً أمن وإن
পরীক্ষা, একাকীত্ব এবং সম্মান ও সওয়াবের সুসংবাদ। কোনো নারী যদি স্বপ্নে আইয়ুব আলাইহিস সালামের স্ত্রীকে দেখে, তবে তা তার সম্পদ কেড়ে নেওয়া এবং তার অবস্থা প্রকাশিত হওয়ার দলিল। তবে তার শেষ পরিণাম কল্যাণ ও নিরাপত্তার দিকে হবে। যদি কোনো অসুস্থ ব্যক্তি তাঁকে দেখে, তবে সে মারা যাবে এবং আল্লাহর নিকট রহমতপ্রাপ্ত হবে অথবা মহান আল্লাহ তাকে দয়া করবেন এবং তার কষ্ট দূর করবেন, কারণ তাঁর নাম ‘রাহমাহ’ (দয়া)।

- (আরমিয়া আলাইহিস সালাম) স্বপ্নে তাঁকে দেখলে তা ওই শহরে বা তার ঘরে অথবা তার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়।

- (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ) স্বপ্নে তাঁদের শারীরিক অবয়বে দেখা তাঁদের প্রতি ব্যক্তির উত্তম আকিদা পোষণ এবং তাঁদের সুন্নাহ অনুসরণের প্রমাণ। সম্ভবত তাঁদের দেখা সৈন্যদলের নড়াচড়া এবং বাহিনী প্রেরণের ইঙ্গিত দেয়। আবার এটি ইলম বা জ্ঞান প্রচার এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের ওপরও দালালত করে। তাঁদের দেখা অন্তরঙ্গতা, মহব্বত, ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, শত্রুতা ও হিংসা থেকে মুক্তি এবং অন্তর থেকে বিদ্বেষ দূর হওয়ার প্রমাণ। সেইসাথে এটি ভালোবাসারও দলিল, কারণ তাঁরা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর ওপরই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। যদি স্বপ্নদ্রষ্টা দরিদ্র হয় তবে সে সম্পদশালী হবে, কারণ তাঁরা দেশ জয় করেছেন এবং গনিমত বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ লাভ করেছেন। আর স্বপ্নদ্রষ্টা যদি ধনী হয় তবে সে দুনিয়ার ওপর আখিরাতকে প্রাধান্য দেবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জান-মাল উৎসর্গ করবে। তাঁদের দেখা—যাঁদের দিকে তাঁরা স্বপ্নে অগ্রসর হন—তা জামে মসজিদ ও সাধারণ মসজিদের মতো সম্মানিত ইমারত এবং বংশ, গোত্র ও কুলের পবিত্রতার ওপর দালালত করে। কিন্তু তাঁদের বিমুখ হওয়া বা স্বপ্নদ্রষ্টাকে গালি দেওয়া তাঁদের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিবাদে লিপ্ত হওয়া, একজনকে অন্যের ওপর প্রাধান্য দেওয়া এবং তাঁদের প্রতি ঘৃণা পোষণের দলিল। তাঁদের দেখা তাওবাহ এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রমাণ। সাহাবীদের (রা.) দেখা তাঁদের পরিচিত মর্যাদা ও জীবনীর স্তর অনুযায়ী কল্যাণ ও বরকতের প্রতীক। সম্ভবত তাঁদের প্রত্যেককে দেখা তাঁর ওপর নেমে আসা বিপদ অথবা তাঁর আমলের ফিতনা বা ইনসাফের নির্দেশক। যে ব্যক্তি দেখবে যে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সাথে হাশরে উপস্থিত হয়েছে, সে দ্বীনের ওপর দৃঢ়তা তালাশকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সাহাবীদের কাউকে, তবে সে যেন নামের ব্যুৎপত্তি অনুযায়ী ব্যাখ্যা গ্রহণ করে, যেমন ‘সা’দ’ ও ‘সাঈদ’। সেক্ষেত্রে সে সৌভাগ্যবান ও সঠিক পথের অনুসারী হবে। সম্ভবত সে ওই সাহাবীর জীবন ও কর্মের অংশীদার হবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) তাঁদের কাউকে জীবিত অথবা তাঁদের সকলকে জীবিত, তবে তার স্বপ্ন দ্বীন ও দ্বীনদারদের শক্তির দলিল। এটি ইঙ্গিত দেয় যে স্বপ্নদ্রষ্টা মর্যাদা ও সম্মান লাভ করবে এবং তার প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। যদি সে দেখে যে সে নিজেই তাঁদের একজন হয়ে গেছে, তবে সে কষ্টের সম্মুখীন হবে কিন্তু পরবর্তীতে বিজয় লাভ করবে। যদি স্বপ্নে তাঁদের বারবার দেখে তবে তার জীবনযাত্রা সংকীর্ণ হবে। আনসার, আনসারদের সন্তান এবং তাঁদের নাতি-পুতিদের স্বপ্নে দেখা তাওবাহ ও ক্ষমার দলিল। আর মুহাজিরদের দেখা মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস ও ভরসা, দুনিয়া ত্যাগ ও বিরাগ এবং কথা ও কাজে সত্যবাদিতার দলিল।

- (যে ব্যক্তি আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখে) তাঁর দর্শন খিলাফত, ইমামত, সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব এবং মর্যাদাশীল ব্যক্তিদের নিকট প্রচুর সৌভাগ্যের দলিল। সম্ভবত তাঁর দর্শন আল্লাহর পথে সম্পদ ও সন্তান ব্যয় করা এবং বন্ধুত্বের হেফাজত করার ইঙ্গিত দেয়। তাঁর দর্শন দাসের মুক্তি লাভ, শাহাদাত বরণ, কথায় সত্যবাদিতা, বার্ধক্য, সঠিক মত এবং গোলামদের ক্ষেত্রে সৌভাগ্য ও স্বপ্নের ব্যাখ্যার ওপর দালালত করে। আবার এটি তাঁর কোনো ছেলে বা মেয়ের পক্ষ থেকে কষ্টের এবং ভয়, আত্মগোপন, বিপদ থেকে মুক্তি, আল্লাহর পথে জিহাদ, হজ, শত্রুদের ওপর বিজয় এবং ইলমের ওপর দালালত করে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু জীবিত আছেন, তবে সে আল্লাহর বান্দাদের প্রতি কোমলতা ও দয়া প্রদর্শন করার সম্মান লাভ করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে বসে আছে, তবে সে সত্যের অনুসরণ করবে, সুন্নাহর অনুসারী হবে এবং উম্মতে মুহাম্মাদীর কল্যাণকামী হবে।

- (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ) স্বপ্নে তাঁদের দেখা মায়েদের ওপর দালালত করে এবং এটি কল্যাণ, বরকত ও সন্তানদের—বিশেষ করে অধিক কন্যাসন্তানের—দলিল। সম্ভবত তাঁদের দেখা কষ্ট ও পরিবর্তনের এবং কোনো রহস্য প্রকাশ বা গোপন করার কারণে শপথ করার দলিল। এটি অপবাদেরও দলিল। কোনো নারী যদি স্বপ্নে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে দেখে, তবে সে উচ্চ মর্যাদা, উত্তম খ্যাতি এবং পিতা ও স্বামীর নিকট সৌভাগ্য লাভ করবে। যদি হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে দেখে, তবে তা চক্রান্তের দলিল। খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে দেখলে তা সুখ ও নেক সন্তানাদির দলিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে দেখা স্বামী, পিতা ও মাতাদের হারানোর ইঙ্গিত দেয়। আর হাসান ও হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমার দর্শন ফিতনা ও শাহাদাত লাভের ওপর দালালত করে। সম্ভবত এটি অধিক স্ত্রী, সন্তান, সফর ও প্রবাস জীবনের দলিল এবং স্বপ্নদ্রষ্টা ডুবে গিয়ে অথবা বিষক্রিয়ায় বা নিহত হয়ে কিংবা স্বদেশ থেকে দূরে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে।

- (যে কোনো পুরুষ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো স্ত্রীকে দেখে এবং সে যদি অবিবাহিত হয়, তবে সে একজন নেককার নারীকে বিবাহ করবে। তেমনিভাবে কোনো নারী যদি তাঁদের কাউকে দেখে তবে তা একজন নেককার স্বামীর দলিল যে তার জন্য যথেষ্ট হবে।

- (মানুষ) (যে ব্যক্তি দেখে) স্বপ্নে আদম সন্তানের মধ্য থেকে এমন কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে যাকে সে বাস্তবে চেনে না এবং যার সাথে কারো মিল নেই, তবে সম্ভবত সেই ব্যক্তি স্বপ্নদ্রষ্টার নিজের সত্তা যার মাধ্যমে আল্লাহ তাকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। যদি সে সেই ব্যক্তিকে ভালো কাজ করতে দেখে তবে সম্ভবত স্বপ্নদ্রষ্টা নিজেই তা করবে। আর যদি স্বপ্নে তাকে মন্দ কাজ করতে দেখে, তবে সেই এক ব্যক্তি হবে তার রিযিক বা হায়াতের শেষ সীমা। যদি সে দুইজনকে দেখে এবং সে যদি ভীত থাকে, তবে সে নিরাপদ হবে।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
رأى ثلاثة فإن ذلك دليل على الورع عن ارتكاب المحارم.

- (ومن رأى) رجلاً يعرفه دلت رؤياه على أنه يأخذه منه أو من شبهه شيئاً.

- (ومن رأى) كأنه أخذ منه شيئاً يحبه نال منه ما يؤمله وإن كان من أهل الولاية ورأى كأنه أخذ منه قميصاً جديداً فإنه يوليه فإن أخذ منه حبلاً فإنه عهد فإن رأى كأنه أخذ منه مالاً فإنه ييأس منه ويقع بينهما عداوة وبغضاء والمعروف من كل آدمي فإنه دال على نفسه أو جنسه أو شبهه أو بلديه أو صناعته فمن رأى إنساناً معروفاً انتقل ذلك الإنسان إلى رتبة عالية أو كان ذا رتبة عالية انحط قدره أو نزلت به آفة فإن ذلك يدل على نزول الخير أو الشر به كما رأى ويكون ذلك مثلاً بمثل أو يكون النقص فيه زيادة في عدوه أو الزيادة في الرائي نقصاً في عدوه فإن لم يكن ذلك وإلا كان عائداً على من هو من جنسه أو شبهه أو من هو في بلده.

- (أمة) رؤية الأمة في المنام دليل على الدابة لخدمتها وعلى قناة الدار لمباشرتها الأقذار والأوساخ وعلى ما يطؤه الإنسان من حصير وحذاء وربما دلت رؤيتها على المال ولقيمها وربما دلت على العز والجاه والنصرة على الأعداء فإن قيل جارية ربما دلت على المركب ومن رأى أنه اشترى جارية بيضاء فإنه يصيب في تجارته ربحاً ويلقى خيراً وإن اشترى جارية صغيرة فإنه يطلب حاجة وتتعذر عليه وإن اشترى جارية سوداء فإنه ينجو من هم.

- (ومن رأى) جارية صبيحة تأتيه فإنه خبر صالح وإن كان له رزق عند السلطان موقوف فإنه يأخذه وإن كان له غائب فإنه يأتيه وإن كانت الجارية قبيحة أتاه بعض ما يكرهه ومن رأى جارية تطارح الناس في الأسواق أو تدعوهم إلى السفاح فإنه فتنة فيهم.

- (أنف) هو حاسة الشم وهو محل الراحة لما يصل منه إلى البدن من الهواء والرائحة الطيبة فحسنه وسرعة إدراكه الرائحة في المنام دليل على الراحة والأنف في المنام دال على ما يتحمل به الإنسان من مال أو والد أو ولد أو أخ أو زوج أو شريك أو عامل فمن حسن أنفه في المنام كان دليلاً على حسن حال من دل عليه ممن ذكرنا وسواده أو أكبره دال على الإرغام والقهر كما أن مناسبة المقدار الطبيعي أو استنشاقه الرائحة الطيبة دليل على علو الشأن وطيب الخاطر وكثرة الأنوف في المنام في الوجه أو في شيء من البدن دليل على تجديد الراحات والأولاد والأتباع فإن رأى أن أنفه صار من حديد أو من ذهب دل على نزول آفة تلحقه بسبب جريمة يفعلها لأن أرباب الجرائم تقطع آنافهم فإذا استتبوا عملوا لهم أنوفاً من ذهب أو من حديد خوف الشهرة فإن كان الرائي تاجراً أو رأى أنفه صار من ذهب أو من فضة دل على حظوته ومعرفته وكثرة أرباحه وربما دل الأنف على ما يصل الإنسان من الأخبار على لسان رسول وربما دل الأنف على الجاسوس الآتي بالأخبار التي لا يطلع عليها أحد وربما دل على الفرج أو الدبر لما ينزل منه من المخاط أو العذرة فإذا فسد الدماغ عاد المخاط ماء كالذي يخرج من الذكر من ماء أو مني ربما دل على باب شر الإنسان وربما دل على الكير أو المنفخ الذي يقوم منه عيشه فمن رأى منفخه خرب ربما نزل بأنفه نازلة وكذلك إن حدث بأنفه حادث شر تعطلت عليه صنعته ومن كان قارئاً أو مطرباً أو مؤذناً ورأى أنفه قد عدم أو أنه مسدود لا يشم رائحة دل على تعذر راحته من صنعته لأن الأنف معين على إخراج النفس وربما مرض الرائي بضيق النفس وربما دل الأنف والأذن على التلال والجروف ذات العشب والطين وربما دل الأنف على الفرج للمريض وربما دل الأنف على الحمق والكبر والثناء الرديء فمن تقلص أنفه في المنام تكبراً أو اعوج دل على الحمق والذل.

- (ومن رأى) أنه مجذوم الأنف والأرنبة فهو موته أو ينزل به نازلة يكون فيها فضيحة وإن كانت امرأة حبلى فهو موتها أو موت ولدها.

- (ومن رأى) أنه رعف من أنفه فأصاب الدم ثوبه فإن ذاك مال حرام يصيبه وإن كان الدم غليظاً فإن ذلك ولد يصيبه وقيل خزم الأنف موت صاحبه وقيل

- (من رأى) أن له أنفين فإنه يرزق بولدين أو تنفي شهادته شهادة رجلين أو يقع بينه وبين أهله خلف.

- (ومن رأى) أن أنفه قطع فإن كان مريضاً مات وإن كان صحيحاً دل على تغير حاله وذهاب ماله وقيل الأنف قرابة الرجل فمن رأى كأنه لا أنف له فلا رحم له فإن شم رائحة طيبة دلت رؤيته على فرح يصيبه وإن كانت امرأته حبلى فإنها تلد ولد أو يقال الأنف الأبوان وتأويل ما يدخل في الأنف يجري مجرى الرؤيا وما يدخل من فيه مكروه فهو غيظ يكظم.

- (أذن) هي محل الوعي والريبة فتدل في المنام على الولد والمال والمنصب وربما دلت الأذن على العلم والعقل والدين وعلى الملك والأهل والعشيرة الذين يتجمل بهم الإنسان والأذن السمع فمن رأى إن سمعه كبر أو حسن أو
যদি কেউ তিনজনকে দেখে, তবে তা হারাম কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য খোদাভীতির প্রমাণ।

- (এবং যে ব্যক্তি দেখে) এমন এক ব্যক্তিকে যাকে সে চেনে, তবে তার স্বপ্ন নির্দেশ করে যে সে তার কাছ থেকে অথবা তার মতো কারো কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করবে।

- (এবং যে ব্যক্তি দেখে) যেন সে তার কাছ থেকে এমন কিছু নিয়েছে যা সে পছন্দ করে, তবে সে তার কাছ থেকে তার প্রত্যাশিত জিনিস লাভ করবে। আর যদি সে শাসন ক্ষমতার অধিকারী হয় এবং দেখে যেন সে তার কাছ থেকে একটি নতুন জামা নিয়েছে, তবে সে তাকে দায়িত্ব প্রদান করবে। যদি সে তার কাছ থেকে দড়ি গ্রহণ করে, তবে তা একটি অঙ্গীকার। যদি সে দেখে যে সে তার কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে, তবে সে তার থেকে নিরাশ হবে এবং তাদের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা তৈরি হবে। পরিচিত প্রতিটি মানুষ তার নিজের সত্তা, স্বজাতি, সদৃশ ব্যক্তি, দেশী লোক অথবা তার পেশার ওপর প্রমাণ বহন করে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো পরিচিত মানুষকে দেখে যে সেই মানুষটি উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে, অথবা উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিল কিন্তু তার সম্মান কমে গেছে কিংবা সে কোনো বিপদে পড়েছে, তবে তা স্বপ্নের অনুরূপ কল্যাণ বা অকল্যাণ নাযিল হওয়ার ওপর দালালত করে। এটি হবে সমানুপাতিক, অথবা তার মধ্যে যে ঘাটতি দেখা গেছে তা তার শত্রুর জন্য বৃদ্ধি হিসেবে গণ্য হবে, কিংবা স্বপ্নদ্রষ্টার বৃদ্ধি তার শত্রুর জন্য ঘাটতি হবে। যদি তা না হয়, তবে এটি তার স্বজাতি, সদৃশ ব্যক্তি বা তার এলাকার কোনো লোকের ওপর বর্তাবে।

- (দাসী) স্বপ্নে দাসী দেখার অর্থ হলো চতুষ্পদ জন্তু তার সেবার কারণে, অথবা বাড়ির নর্দমা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কারণে, অথবা মানুষ যা মাড়ায় যেমন মাদুর ও জুতা। কখনও তার দর্শন সম্পদ এবং তার জীবিকা নির্বাহকারীর ওপর দালালত করে। আবার কখনও তা সম্মান, মর্যাদা এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয়ের প্রমাণ দেয়। যদি তাকে 'বালিকা' বলা হয় তবে তা বাহনের ওপর দালালত করতে পারে। যে ব্যক্তি দেখে যে সে একজন ফর্সা দাসী ক্রয় করেছে, তবে সে তার ব্যবসায় লাভবান হবে এবং কল্যাণ লাভ করবে। যদি সে ছোট কোনো দাসী ক্রয় করে, তবে সে কোনো প্রয়োজনের তলব করবে যা তার জন্য কঠিন হবে। আর যদি সে কৃষ্ণবর্ণের কোনো দাসী ক্রয় করে, তবে সে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাবে।

- (এবং যে ব্যক্তি দেখে) কোনো সুন্দরী বালিকা তার কাছে আসছে, তবে তা একটি ভালো সংবাদ। যদি সুলতানের কাছে তার কোনো পাওনা বা রিযিক আটকে থাকে, তবে সে তা পাবে। যদি তার কেউ নিখোঁজ থাকে, তবে সে ফিরে আসবে। আর যদি বালিকাটি কুৎসিত হয়, তবে তার কাছে অপছন্দনীয় কিছু আসবে। যে ব্যক্তি দেখে যে কোনো বালিকা বাজারে মানুষের সাথে মেলামেশা করছে অথবা তাদের ব্যভিচারের দিকে ডাকছে, তবে এটি তাদের মধ্যে একটি ফিতনা।

- (নাক) এটি হলো ঘ্রাণেন্দ্রিয় এবং এর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশকারী বাতাস ও সুগন্ধির কারণে প্রশান্তির জায়গা। স্বপ্নে নাকের সৌন্দর্য এবং দ্রুত ঘ্রাণ পাওয়ার ক্ষমতা প্রশান্তির প্রমাণ। স্বপ্নে নাক মানুষের সম্পদ, পিতা, সন্তান, ভাই, স্ত্রী, অংশীদার বা কর্মচারীর ওপর দালালত করে যার মাধ্যমে সে জীবন পরিচালনা করে। সুতরাং স্বপ্নে যার নাক সুন্দর হবে, তা উল্লিখিত ব্যক্তিদের অবস্থা ভালো হওয়ার প্রমাণ। নাকের কালো হওয়া বা অত্যধিক বড় হওয়া অপমান ও জবরদস্তির প্রমাণ। যেমন নাকের স্বাভাবিক আকৃতি হওয়া বা সুগন্ধি নেওয়া উচ্চ মর্যাদা ও মনের প্রশান্তির প্রমাণ। স্বপ্নে মুখে বা শরীরের অন্য কোথাও অনেকগুলো নাক দেখা সুখ-শান্তি, সন্তান ও অনুসারীদের নতুন করে আগমনের প্রমাণ। যদি কেউ দেখে তার নাক লোহার বা সোনার হয়ে গেছে, তবে তা কোনো অপরাধের কারণে তার ওপর বিপদ আসার লক্ষণ। কারণ অপরাধীদের নাক কেটে ফেলা হতো, পরে লোকলজ্জার ভয়ে তারা সোনা বা লোহার নাক লাগিয়ে নিত। যদি স্বপ্নদ্রষ্টা ব্যবসায়ী হয় এবং দেখে তার নাক সোনা বা রুপার হয়ে গেছে, তবে তা তার প্রভাব-প্রতিপত্তি, পরিচিতি এবং প্রচুর মুনাফার লক্ষণ। কখনও নাক কোনো দূতের মাধ্যমে আসা খবরের ওপর দালালত করে। কখনও নাক এমন গোয়েন্দার ওপর দালালত করে যে এমন সংবাদ নিয়ে আসে যা কেউ জানে না। কখনও নাক যৌনাঙ্গ বা পায়ুপথের ওপর দালালত করে তার থেকে নির্গত শ্লেষ্মা বা ময়লার কারণে। মস্তিষ্ক নষ্ট হয়ে গেলে শ্লেষ্মা পানির মতো হয়ে যায় যেমনটি পুরুষাঙ্গ থেকে পানি বা বীর্য নির্গত হয়। কখনও এটি মানুষের অকল্যাণের দরজা নির্দেশ করে। কখনও এটি হাপর বা ফুয়ানি (কামারের যন্ত্র) নির্দেশ করে যা দিয়ে তার জীবিকা চলে। যে ব্যক্তি দেখে তার হাপর নষ্ট হয়ে গেছে, সম্ভবত তার নাকে কোনো বিপদ আসবে। একইভাবে যদি নাকে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে তার পেশা বা শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে। যদি কেউ ক্বারী, গায়ক বা মুয়াজ্জিন হয় এবং দেখে তার নাক নেই বা বন্ধ হয়ে আছে এবং সে ঘ্রাণ নিতে পারছে না, তবে তা তার পেশাগত প্রশান্তি বাধাগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ। কারণ নাক শ্বাস ত্যাগে সাহায্য করে। সম্ভবত স্বপ্নদ্রষ্টা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হবে। কখনও নাক ও কান ঘাস ও কাদা বিশিষ্ট পাহাড় ও খাড়া পাড়ের ওপর দালালত করে। রোগীর জন্য নাক কখনও আরোগ্যের লক্ষণ। কখনও নাক মূর্খতা, অহংকার ও মন্দ প্রশংসার ওপর দালালত করে। যে ব্যক্তির নাক স্বপ্নে অহংকারে কুঁচকে যায় বা বাঁকা হয়ে যায়, তা মূর্খতা ও লাঞ্ছনার লক্ষণ।

- (এবং যে ব্যক্তি দেখে) তার নাক ও নাকের ডগা কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত, তবে তা তার মৃত্যু অথবা এমন কোনো বিপদের লক্ষণ যাতে তার মানহানি হবে। যদি স্ত্রীলোকটি গর্ভবতী হয়, তবে তা তার মৃত্যু অথবা তার সন্তানের মৃত্যুর লক্ষণ।

- (এবং যে ব্যক্তি দেখে) তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে এবং সেই রক্ত তার কাপড়ে লেগেছে, তবে তা হারাম সম্পদ লাভের লক্ষণ। রক্ত যদি ঘন হয় তবে তার সন্তান লাভ হবে। কেউ কেউ বলেছেন, নাক ছিদ্র হওয়া তার মালিকের মৃত্যুর লক্ষণ। আবার বলা হয়েছে যে

- (যে ব্যক্তি দেখে) তার দুটি নাক রয়েছে, তবে সে দুটি সন্তান লাভ করবে, অথবা তার সাক্ষ্য দুজন ব্যক্তির সাক্ষ্যকে নাকচ করে দেবে, অথবা তার ও তার পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হবে।

- (এবং যে ব্যক্তি দেখে) তার নাক কেটে ফেলা হয়েছে, সে যদি অসুস্থ থাকে তবে মারা যাবে। আর যদি সুস্থ থাকে তবে তা তার অবস্থার পরিবর্তন এবং সম্পদ নাশের লক্ষণ। বলা হয়ে থাকে, নাক হলো মানুষের আত্মীয়-স্বজন। সুতরাং যে দেখে যেন তার নাক নেই, তবে তার কোনো আত্মীয় নেই। যদি সে সুগন্ধি পায়, তবে তার স্বপ্নটি আনন্দ লাভের প্রমাণ। যদি তার স্ত্রী গর্ভবতী হয় তবে সে সন্তান প্রসব করবে। অথবা বলা হয় নাক হলো পিতামাতা। নাকের ভেতরে যা প্রবেশ করে তার ব্যাখ্যা স্বপ্নের স্বাভাবিক গতির ওপর নির্ভর করে, আর তার কাছে যা অপছন্দনীয় তা নাকে প্রবেশ করলে তা হবে অবদমিত ক্ষোভ।

- (কান) এটি হলো সচেতনতা ও সন্দেহের স্থান। স্বপ্নে এটি সন্তান, সম্পদ ও পদমর্যাদার ওপর দালালত করে। কখনও কান জ্ঞান, বুদ্ধি ও দ্বীনদারীর ওপর দালালত করে এবং কখনও শাসক, পরিবার ও গোত্রের ওপর দালালত করে যাদের মাধ্যমে মানুষ সৌন্দর্যমন্ডিত হয়। কান হলো শ্রবণশক্তি; সুতরাং যে ব্যক্তি দেখে যে তার শ্রবণশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে বা সুন্দর হয়েছে অথবা...
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
أن النور خارج منه أو أدخل إليه دل على هدايته وطاعته لله تعالى وقبول أمره وإن رآه في المنام صغيراً أو يخرج منه أو يدخل فيه رائحة رديئة دل عن الحق والوقوف عند ما يوجب المقت من الله تعالى وقطع الأذن أو فقده دليل على الفساد وربما دلت الأذن الزائدة على الإذن للإنسان فيما يرومه فإن كانت أذناً حسنة كان ما يرومه خيراً وكثرة الآذان له في المنام تدل على فنون العلوم أو أنه لا يثبت على حالة واحدة وربما دلت الأذن على ما يعلق فيها من المصوغ فإن صارت أذنه أذن شيء من الحيوانات زال عنه منصبه ونقصت حرمته أو تبلد ذهنه فإن رأى أنه يجعل إصبعيه في أذنيه دل على موته مبتدعاً وإن كان الرائي على بدعة وضلالة ورأى أنه يجعل أصابعه في أذنيه دل على موته وتصميمه على الترك لما هو مرتكبه أو يصير مؤذناً وأذن الملك جاسوسه والأذن دالة على ما يوعى فيه من كيس أو صندوق أو خزانة فما حدث للأذن من زيادة أو نقص كان عائداً على ما ذكرناه من ذلك وقيل الأذن امرأة الرجل أو ابنته أو غيرها ويفارقها وإن رأى أنه نقص منها شيء فإنه حدث يحدث في واحدة منها وإن رأى أنه زاد فيها زيادة في حالهن.

- (ومن رأى) أنه صحيح السمع فهو دليل على فهمه وعلمه وصحته وديانته ويقينه فمن رأى أنه أصم فإنه فساد في دينه.

- (ومن رأى) أن له نصف أذن فإن امرأته تموت ومن رأى أن أذنه مقطوعة ولم يعلم أحد فإن إنساناً يخدع امرأته أو ابنته فإن عادت صحيحة كما كانت فإنهما يتوبان ويرجعان إلى الصلاح.

- (ومن رأى) أنه يأكل من وسخ أذنيه فإنه يأتي الغلمان.

- (ومن رأى) أن له أذناً واحدة فإنه يموت قريباً فإن رأى كأن في أذنه خاتماً معلقاً فإنه يزوج ابنته وتلد ابناً وقيل الأذن الدين فمن رأى كأنه حشا أذنيه شيء دلت رؤياه على الكفر ومن رأى أن له آذاناً كثيرة فإنه يعرض عن الحق ولا يقبله وقيل إنه إذا رأى له آذاناً حساناً متشاكلة سمع أخباراً سارة وإذا لم تكن متشاكلة حساناً سمع أخباراً كريهة ومن رأى كأن في أذنيه عينين فإنه يعمى والأشياء التي يعانيها بعينه يسمعها بأذنيه وقيل من رأى أن له آذاناً كثيرة فذلك محمود لمن أراد أن يكون له إنسان يطيعه مثل المرأة والأولاد والمماليك وأما الأغنياء فإنها تدل على أخبار تأتيهم محمودة إذا كانت الآذان حساناً أشكالاً وإلا فإنها أخباراً مذمومة وأما المماليك وأصحاب الخصومات المدعى عليهم فإنها تدل على إن عبوديته تدوم ويسمع ويطيع وتدل للمدعى إن الحكم يلزمه.

- (إصبع) هي المعينة للإنسان على دنياه من صناعته وعلى أخراه من الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والإصبع في التأويل أولاد وأزواج وآباء وأمهات والمال والدواب والملك والصناعة فمن رأى أن أصابعه زادت زيادة حسنة دل على الزيادة فيما ذكرناه ونقصها من دلت عليه وربما دل قطعها ويبسها وتعطل نفعها في المنام على تعذر نفع الآباء والأمهات أو الأولاد أو يذهب ماله أو تموت دوابه أو يتعطل ملكه أو تكسد صناعته وربما دلت الأصابع على نواب الملك المختلفين في مراتبهم ونفعهم.

- (ومن رأى) أن يعض أنامله في المنام فإن كان مريضاً مات.

- (ومن رأى) أن أصابعه تقطعت أو نزل بها آفة فضعف في عساكره أو أولاده أو أقاربه أو معارفه وربما دلت الأصابع على الصلوات الخمس فالإبهام الصبح والسبابة الظهر والوسطى العصر والبنصر المغرب والخنصر العشاء وقيل الوسطى الصبح لما يستحب فيها من التطويل والبنصر الظهر والخنصر العصر لأنها آخر النهار فإن جعلت الأصابع صلاة كانت الأظافر سنتها أو نوافل وإن كانت الأصابع مالاً كانت الأظافر زكاة وإن دلت الأصابع على الجند والأعوان كانت الأظفار سلاحهم وعددهم وعقد الأصابع عقد الأموال والأصابع أيام أو شهور أو أعوام وربما دلت الأصابع على أولاد الأخ لأن المنكب أخ والأصابع بمنزلة الأولاد وهي المال.

- (ومن رأى) إنساناً قطع له إصبعاً فإنه يؤذيه في ماله الذي يعتمد عليه وما حدث في الأصابع من صلاح أو فساد فانسبه إلى المفروض من الصلوات أو إلى الأخ من الأخوة وطول الأصابع يدل على زيادة الطمع فإن رأى إصبعاً زادت مع أصابعه فهو زيادة في قرابته أو في صلاته أو علنه وإن رأى أحد الأصابع انتقل إلى موضوع آخر فإنه يؤخر الصلاة إلى وقت الأخرى

- (ومن رأى) أنه شبك أصابعه فإنه يجمع في وقت واحد صلواته وربما اجتمعت قرابته في أمر يتشاورون عليه ويتعاونون وقيل تشبيك الأصابع من غير عمل بها ضيق اليد وله أشغال يشغل أهل بيته وبني الأخوة بأمر قد ضربهم يخافون منه على أنفسهم وقد تظاهروا في دفعه وكفايته وقيل إن أصابع اليد اليمنى هي الصلوات الخمس وقصرها يدل على التقصير والكسل فيها وطولها يدل على المحافظة على الصلوات وسقوط واحد منها يدل على ترك الصلاة.

- (ومن رأى) كأنه عض بنان إنسان دل على سوء أدب المعضوض ومبالغة العاض في تأديبه.

- (ومن رأى) كأنه يخرج من إبهامه اللبن ومن سبابته الدم وهو يشرب منهما فإنه يباشر أم امرأته أو أختها وفرقعة الأصابع تدل على وقوع كلام قبيح من أقربائه وإن رأى الإمام زيادة في أصابعه
যদি দেখা যায় তার ভেতর থেকে নূর বের হচ্ছে বা তার ভেতরে প্রবেশ করছে, তবে তা তার হেদায়েত, মহান আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর নির্দেশ কবুল করার প্রমাণ বহন করে। আর যদি স্বপ্নে তাকে ছোট দেখে অথবা তা থেকে দুর্গন্ধ বের হয় বা তাতে দুর্গন্ধ প্রবেশ করে, তবে তা সত্য থেকে বিচ্যুতি এবং মহান আল্লাহর ক্রোধ বা ঘৃণার উদ্রেক করে এমন কাজে লিপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। কান কেটে ফেলা বা তা হারিয়ে যাওয়া ফাসাদ বা বিপর্যয়ের দলিল। আর অতিরিক্ত কান সম্ভবত মানুষের কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে অনুমতির ইঙ্গিত দেয়; যদি কানটি সুন্দর হয় তবে তার লক্ষ্যটি কল্যাণকর হবে। স্বপ্নে অনেকগুলো কান থাকা বিভিন্ন শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন অথবা এক অবস্থায় স্থির না থাকার প্রমাণ দেয়। কখনও কখনও কান তাতে ঝোলানো অলঙ্কারের নির্দেশক হয়। যদি তার কান কোনো পশুর কানে পরিণত হয়, তবে তার পদমর্যাদা বিলুপ্ত হবে, সম্মান হ্রাস পাবে অথবা তার বুদ্ধি স্থবির হয়ে যাবে। যদি কেউ স্বপ্নে দেখে সে তার দুই কানে আঙুল দিচ্ছে, তবে তা বিদআতি হিসেবে তার মৃত্যুর লক্ষণ। আর স্বপ্নদ্রষ্টা যদি ইতিমধ্যে বিদআত ও গোমরাহিতে লিপ্ত থাকে এবং দেখে যে সে কানে আঙুল দিচ্ছে, তবে তা তার বর্তমান পথ বর্জন করার দৃঢ় সংকল্প অথবা মুয়াজ্জিন হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বাদশাহর কান তার গুপ্তচরকে বোঝায়। কান এমন বস্তুকেও বোঝায় যাতে কিছু সঞ্চিত রাখা হয়, যেমন থলে, সিন্দুক বা ভাণ্ডার। সুতরাং কানের বৃদ্ধি বা হ্রাস উক্ত বিষয়গুলোর ওপরই বর্তাবে। বলা হয়ে থাকে, কান হলো ব্যক্তির স্ত্রী, কন্যা বা অন্য কোনো নারী আত্মীয়। যদি দেখে যে কান থেকে কোনো অংশ কমে গেছে, তবে সেই নারীদের কারো ক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে। আর যদি দেখে তাতে বৃদ্ধি ঘটেছে, তবে তা তাদের অবস্থার উন্নতির লক্ষণ।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে তার শ্রবণশক্তি সুস্থ, তবে তা তার প্রজ্ঞা, জ্ঞান, সুস্থতা, ধার্মিকতা ও দৃঢ় বিশ্বাসের প্রমাণ। আর যে দেখে সে বধির হয়ে গেছে, তবে তা তার দ্বীনের বিপর্যয়ের লক্ষণ।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে তার অর্ধেক কান আছে, তবে তার স্ত্রী মারা যাবে। যে দেখে তার কান কাটা কিন্তু কেউ তা জানে না, তবে কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রী বা কন্যাকে ধোঁকা দিচ্ছে। যদি কানটি আগের মতো সুস্থ হয়ে যায়, তবে তারা তওবা করবে এবং সংশোধন হবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে তার কানের ময়লা খাচ্ছে, তবে সে বালকদের সাথে কুকর্মে লিপ্ত হবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে তার মাত্র একটি কান আছে, তবে সে শীঘ্রই মারা যাবে। যদি সে দেখে তার কানে একটি আংটি ঝোলানো আছে, তবে সে তার কন্যাকে বিয়ে দেবে এবং সে একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেবে। বলা হয়ে থাকে, কান হলো দ্বীন; সুতরাং যে ব্যক্তি দেখে যেন সে তার কানে কিছু ঠুসে দিয়েছে, তবে তা কুফরীর লক্ষণ। যে ব্যক্তি দেখে তার অনেকগুলো কান আছে, তবে সে সত্য থেকে বিমুখ হবে এবং তা গ্রহণ করবে না। আরও বলা হয়, যদি সে অনেকগুলো সুন্দর ও সুশৃঙ্খল কান দেখে, তবে সে সুসংবাদ শুনবে; আর যদি সেগুলো অগোছালো ও কুৎসিত হয়, তবে সে দুঃসংবাদ শুনবে। যে দেখে তার কানের মধ্যে দুটি চোখ রয়েছে, তবে সে অন্ধ হয়ে যাবে এবং যা তার চোখের দেখার কথা ছিল তা সে কানে শুনবে। বলা হয়েছে, যার অনেকগুলো কান রয়েছে তা তার জন্য প্রশংসনীয় যে চায় তার অনুগত কেউ থাকুক যেমন স্ত্রী, সন্তান বা দাস। ধনীদের ক্ষেত্রে এটি সুসংবাদ আসার লক্ষণ যদি কানগুলো সুন্দর আকৃতির হয়, অন্যথায় তা মন্দ সংবাদ। আর দাস এবং বিবাদমান পক্ষগুলোর ক্ষেত্রে এটি দাসত্ব স্থায়ী হওয়া এবং শোনা ও মান্য করার ইঙ্গিত দেয়; আর বিবাদীর ক্ষেত্রে তা তার বিরুদ্ধে রায় হওয়ার দলিল।

- (আঙুল) এটি মানুষকে তার দুনিয়াবি কাজে যেমন পেশা এবং আখিরাতের কাজে যেমন সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের ক্ষেত্রে সাহায্যকারী। স্বপ্নের ব্যাখ্যায় আঙুল হলো সন্তান, স্ত্রী, পিতা-মাতা, সম্পদ, চতুষ্পদ জন্তু, রাজত্ব এবং পেশা। সুতরাং যে ব্যক্তি দেখবে তার আঙুল সুন্দরভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা উল্লিখিত বিষয়গুলোর বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়; আর হ্রাস পাওয়া উল্লিখিত বিষয়গুলোর ক্ষতির লক্ষণ। সম্ভবত আঙুল কেটে যাওয়া, শুকিয়ে যাওয়া বা অকেজো হওয়া স্বপ্নে পিতা-মাতা বা সন্তানদের উপকার থেকে বঞ্চিত হওয়া, সম্পদ চলে যাওয়া, পশুপাখি মারা যাওয়া, রাজত্ব অকেজো হওয়া বা ব্যবসায় মন্দা আসার লক্ষণ। আঙুল কখনও বাদশাহর বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি ও তাদের উপকারেরও ইঙ্গিত দেয়।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) স্বপ্নে সে তার আঙুলের ডগা কামড়াচ্ছে, সে যদি অসুস্থ থাকে তবে মারা যাবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে তার আঙুলগুলো কেটে গেছে বা তাতে কোনো আপদ নেমে এসেছে, তবে তা তার বাহিনী, সন্তান, আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিতদের দুর্বলতার লক্ষণ। আঙুলগুলো কখনও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজেরও ইঙ্গিত দেয়। যেমন— বৃদ্ধাঙ্গুলি হলো ফজর, তর্জনী হলো জোহর, মধ্যমা হলো আসর, অনামিকা হলো মাগরিব এবং কনিষ্ঠা হলো এশা। আবার বলা হয়ে থাকে, মধ্যমা হলো ফজর—যেহেতু এতে দীর্ঘ তিলাওয়াত মুস্তাহাব, অনামিকা জোহর এবং কনিষ্ঠা আসর—কেননা তা দিনের শেষে হয়। যদি আঙুলগুলোকে নামাজ ধরা হয়, তবে নখগুলো হবে তার সুন্নত বা নফল নামাজ। আর যদি আঙুলগুলো সম্পদ হয়, তবে নখ হবে জাকাত। যদি আঙুলগুলো সৈন্য ও সাহায্যকারী হয়, তবে নখ হবে তাদের অস্ত্র ও সংখ্যা। আঙুলের গিরা হলো সম্পদের চুক্তি। আঙুল দিন, মাস বা বছরও হতে পারে। কখনও কখনও আঙুল ভাইয়ের সন্তানদের নির্দেশ করে, কেননা কাঁধ হলো ভাই আর আঙুলগুলো সন্তানের স্থলাভিষিক্ত এবং তা হলো সম্পদ।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে কোনো মানুষ তার একটি আঙুল কেটে ফেলেছে, তবে সে ব্যক্তি তার নির্ভরযোগ্য সম্পদের ক্ষতি করবে। আঙুলের মধ্যে যা কিছু ভালো বা মন্দ দেখা যাবে, তাকে ফরজ নামাজ অথবা ভাইদের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। আঙুলের দৈর্ঘ্য লোভ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। যদি সে দেখে তার আঙুলের সাথে অতিরিক্ত একটি আঙুল বের হয়েছে, তবে তা তার আত্মীয়স্বজন, নামাজ বা জ্ঞানের বৃদ্ধি। আর যদি দেখে কোনো একটি আঙুল অন্য স্থানে সরে গেছে, তবে সে এক ওয়াক্তের নামাজ অন্য ওয়াক্তে পিছিয়ে দেবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে তার আঙুলগুলো একে অপরের ভেতর প্রবেশ করিয়েছে, তবে সে তার নামাজগুলো এক সময়ে জমা করবে। সম্ভবত তার আত্মীয়স্বজন কোনো বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য একত্রিত হবে। বলা হয়েছে, কাজ ছাড়া আঙুলে আঙুল জড়ানো সংকীর্ণ হস্ত হওয়া বা অভাবের লক্ষণ এবং এর মাধ্যমে সে তার পরিবারের সদস্যদের ও ভ্রাতুষ্পুত্রদের এমন কোনো বিষয়ে ব্যস্ত রাখবে যা তাদের গ্রাস করেছে এবং যে ব্যাপারে তারা নিজেদের জীবনের ওপর আশঙ্কা করছে, আর তারা তা প্রতিহত করতে একতাবদ্ধ হয়েছে। বলা হয়, ডান হাতের আঙুলগুলো হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। সেগুলো ছোট হওয়া নামাজে অবহেলা ও অলসতার লক্ষণ এবং লম্বা হওয়া নামাজ সংরক্ষণের দলিল। আর একটি আঙুল পড়ে যাওয়া নামাজ ত্যাগের ইঙ্গিত দেয়।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যেন সে কোনো মানুষের আঙুলের ডগা কামড়াচ্ছে, তবে তা যাকে কামড়ানো হয়েছে তার অভদ্রতা এবং যে কামড়াচ্ছে তার তাকে শাসন করার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির প্রমাণ।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যেন তার বৃদ্ধাঙ্গুলি থেকে দুধ এবং তর্জনী থেকে রক্ত বের হচ্ছে আর সে তা পান করছে, তবে সে তার শাশুড়ি বা শ্যালিকার সাথে অবৈধ মিলনে লিপ্ত হবে। আঙুল ফুটানো আত্মীয়দের পক্ষ থেকে কটু কথা শোনার ইঙ্গিত দেয়। আর যদি রাষ্ট্রপ্রধান তার আঙুল বৃদ্ধি পেতে দেখেন...
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
دل ذلك على زيادة في طمعه وجوره وقلة إنصافه وأصابه اليد اليسرى أولاد الأخ والأخت وخضاب أصابع الرجال بالحناء دليل على كثرة التسبيح وخضاب أصابع المرأة بالحناء يدل على إحسان زوجها إليها فإن رأت كأنها خضبتها فلم يقبل الخضاب فإن زوجها لا يظهر حبها.

- (أنثيان) هما محل اللذة ونبات الشعر وربما دلت الأنثيان على الزوجين والولدين أو الصنعتين أو الحاجبين على الباب وربما دلا على كيس المال أو عدل المتاع وربما دلا على الأولياء الذين لا يصح النكاح إلا بهم وربما دلت الخصية على رمانة القبان.

- (ومن رأى) أن خصيته قطعتا أو ناله فيها مكروه فإن أعدائه يظفرون به بقدر ما نيل من خصيتيه وقيل ينقطع عنه الإناث من الولد إلا الذكور وقيل يرث مالاً من دية.

- (ومن رأى) أن خصيتيه عظمتا أو كان لهما قوة فوق حالهما فإنه يكون محفوظاً لا يصل إليه أعداؤه بسوء وقيل يكثر نسله في البنات.

- (ومن رأى) أن خصيتيه صارتا في يد أعدائه فإن أعدائه يصلون إليه بقدر ذلك وقد تدل الخصيتان على الإناث من القرابة كالأختين والبنتين والزوجتين أو الأم والخالة فما حدث فيهما فهو حادث في إحداهن فإن رأى خصيتيه قطعتا فإن كان عنده مريضتان ماتتا وإن كان له زوجتان ماتتا أو فارقهما وقد يدل أيضاً على المال فإن رآهما مقطوعتين فهو مطلوب بمال أخذ منه ألفان أو مائتان أو ديناران فإن لم يكن له شيء من ذلك انقطع نسله وتعذر رزقه وسلبت نعمة الله.

- (ومن رأى) بيضته اليسرى انتزعت منه مات ولده ولم يولد له ولد فإن البيضة اليسرى منها يكون الوالد وإن رأى أنه وهبها بطيب نفس منه وخرجت عنه فإنه يولد له ولد لغير رشدة وينسب الولد لغيره.

- (ومن رأى) أنه صار له أدرة فإنه يصيب مالاً ويهابه أعاديه وربما يكون شيء يذهب منه وربما دلت الخصيتان على السعي والحركات وتدل الخصية على ما ينام الإنسان عليه من مضربة أو يجعله تحت رأسه من وسادة فإن رأت المرأة أن لها أنثيين ربما حملت بتوأمين وإن رأى الرجل أن خصيتيه قد عدمتا أو قطعتا مرض بداء الأسد أو الثعلب وربما طلق زوجته أو باع أمته أو فقد أولاده أو انشق خرجه أو عدله أو كيسه وعدم ماله أو جرابه وإن كان وزاناً تعطل وزنه وإن كان مزوجاً فقد أولياء زوجته أو أهله أو أقاربه ورما انتقل عن حشمته إلى ما دونها.

- (أمير) فإنه دل على ما يمير الإنسان ويسعفه ويتأمر به ويدل على زواج الأعزب حتى يصير في بيته كالأمير وربما دلت على الحظوة فيما هو بصدده ومن تأمر في منامه خشي عليه السجن والغل لأن الأمير يأتي يوم القيامة يداه مغلولتان إلى عنقه فلا يفكهما إلا عدل أقامه.

- (ومن رأى) أن السلطان ولاه من أقاصي ثغور المسلمين نائباً عنه فإنه عز وشرف وسمود ذكر بقدر بعد تلك الطرق عن موضع السلطان وإن رأى وال أن عهده أتاه فهو عزله في الوقت وكذلك إن نظر في أمره فهو عزله ولا يلبث أن يرى مثله إلا أن يرى مثله إلا أن يكون منتظراً ولداً فإنه يصيب حينئذ غلاماً وكذا لو رأى أنه طلق امرأته فإنه يعزل ومن حمل إلى أمير أو رئيس طعاماً أصابه حزن ثم أتاه الفرح وأصاب مالاً من حيث لا يرجو ووضع الأمير السلطان قلنسوته أو حلته أو قباءه أو منطقته توانياً في سلطانه ولبسه إياه قيامه بأسباب سياسته ولبسه خفاً جديداً فوز بمال أهل الشريك والذمة وعزل الوالي في النوم ولايته ومن تأمر في المنام من العبيد صار حراً أو عابداً لا يتقيد بالدنيا ويرجع أمير نفسه.

- (إمام الصلاة) هو المتكفل الضامن وربما دلت رؤيته على الخوف وربما دلت على علو القدر والرياسة والتقدم والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وربما دل على الحاجب والولد والوالدة أو الأستاذ فإذا صار في المنام إماماً وصلى بالناس في جمع متوجهاً إلى القبلة بطهارة كاملة لا يزيد فيها ولا ينقص فإن كان أهلاً للولاية تولى أو الحكم أو التصدي لما فيه نفع الناس حصل له وربما أدخل نفسه في ضمان أو تكفل بجماعة أو شارك قوماً يرجو منهم خيراً وإن كان قد صلى بالناس إلى غير القبلة خان أصحابه وابتدع بدعة وربما ارتكب أمراً محظوراً والناس يطلبونه به عنده.

- (ومن رأى) أنه يؤم قوماً في الصلاة فإنه يلي ولاية يعدل فيها بعد أن تستقيم قبلته وتتم صلاته أو يأمر قوماً أو ينهاهم.

- (ومن رأى) أنه يؤم مجهولين في موضع مجهول ولا يدري ما يقرأ فهو في شرف الموت وإن رأى امرأة أنها تؤم الرجال فإنها تموت لأنها لا تصلح للإمامة فلا يكون ذلك إلا عند الموت تتقدم أمامهم وهم يصلون عليها وكذلك لو رأى رجلاً أعجمياً لا يحسن الصلاة ولا القراءة أنه يؤم قوماً.

- (ومن رأى) أنه صلى بقوم قائماً وهم جلوس فإنه لا يقصر في حقوقهم ويقصرون في حقه أو تدل رؤياه على أنه يتعهد قوماً مرضى فإن صلى بهم قاعداً وهم
এটি তাঁর লোভ, অন্যায় এবং ইনসাফের অভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। বাম হাতের কোনো ক্ষতি হলে তা ভাই ও বোনের সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। পুরুষদের আঙুলে মেহেদি লাগানো অধিক পরিমাণে তাসবিহ পাঠের দলিল। আর নারীর আঙুলে মেহেদি লাগানো তার প্রতি তার স্বামীর সদয় আচরণের বহিঃপ্রকাশ। যদি কোনো নারী দেখে যে সে মেহেদি লাগিয়েছে কিন্তু রঙ ধরেনি, তবে এটি নির্দেশ করে যে তার স্বামী তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে না।

- (অণ্ডকোষ) এটি হলো উপভোগের স্থান এবং লোম গজানোর জায়গা। কখনো অণ্ডকোষ দ্বারা স্বামী-স্ত্রী, দুই সন্তান বা দুটি পেশা অথবা দরজার দুই দ্বাররক্ষীকে বোঝায়। আবার কখনো তা টাকার থলি বা মালের বোঝার দলিল। কখনো এটি এমন অভিভাবকদের নির্দেশ করে যাদের অনুপস্থিতিতে বিবাহ শুদ্ধ হয় না। আবার কখনো অণ্ডকোষ দ্বারা তুলাদণ্ডের ওজনপাথরকেও বোঝানো হয়।

- (কেউ যদি দেখে) যে তার অণ্ডকোষ দুটি কেটে ফেলা হয়েছে অথবা তাতে কোনো অপ্রীতিকর কিছু ঘটেছে, তবে তার অণ্ডকোষের যতটুকু ক্ষতি হয়েছে সেই পরিমাণ তার শত্রুরা তার ওপর বিজয়ী হবে। বলা হয়ে থাকে, এর দ্বারা তার কন্যা সন্তান হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, কেবল পুত্র সন্তান হবে। আবার কেউ কেউ বলেন, সে রক্তপণ (দিয়ত) বাবদ সম্পদ লাভ করবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে তার অণ্ডকোষ দুটি বড় হয়ে গেছে অথবা তাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শক্তি অর্জিত হয়েছে, তবে সে সুরক্ষিত থাকবে এবং শত্রুরা তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। বলা হয়ে থাকে, তার কন্যা সন্তানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে তার অণ্ডকোষ দুটি শত্রুর হাতে চলে গেছে, তবে শত্রুরা সেই পরিমাণ তার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করবে। অণ্ডকোষ দ্বারা নারী আত্মীয়দেরও বোঝানো হতে পারে, যেমন দুই বোন, দুই কন্যা, দুই স্ত্রী অথবা মা ও খালা। তাই অণ্ডকোষে যা ঘটবে, তা এদের একজনের ক্ষেত্রে ঘটবে। যদি দেখে তার অণ্ডকোষ দুটি কেটে ফেলা হয়েছে এবং তার যদি দুজন অসুস্থ আত্মীয় থাকে, তবে তারা মারা যাবে। যদি তার দুজন স্ত্রী থাকে তবে তারা মারা যাবে অথবা সে তাদের তালাক দেবে। এটি সম্পদেরও দলিল হতে পারে; যদি দেখে সেগুলো কাটা, তবে তার থেকে দুই হাজার, দুইশ বা দুই দিনার সম্পদ তলব করা হবে। যদি তার কাছে এমন কিছু না থাকে, তবে তার বংশধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আল্লাহর নেয়ামত তার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে।

- (কেউ যদি দেখে) তার বাম অণ্ডকোষটি উপড়ে ফেলা হয়েছে, তবে তার সন্তান মারা যাবে এবং তার আর কোনো সন্তান হবে না। কারণ বাম অণ্ডকোষ থেকেই সন্তান জন্ম নেয়। আর যদি দেখে যে সে স্বেচ্ছায় তা দান করে দিয়েছে এবং সেটি তার থেকে আলাদা হয়ে গেছে, তবে তার একটি অবৈধ সন্তান জন্ম নেবে এবং সেই সন্তান অন্য কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত হবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে তার অণ্ডকোষ ফুলে গেছে (অণ্ডস্ফীতি), তবে সে সম্পদ লাভ করবে এবং শত্রুরা তাকে ভয় পাবে। কখনো এটি তার কোনো কিছু হারিয়ে যাওয়ারও লক্ষণ হতে পারে। কখনো অণ্ডকোষ দ্বারা প্রচেষ্টা ও কর্মতৎপরতা বোঝায়। আবার কখনো এটি মানুষের শোয়ার বিছানা বা মাথার নিচে রাখা বালিশের দলিল। যদি কোনো নারী দেখে যে তার অণ্ডকোষ আছে, তবে সে যমজ সন্তান প্রসব করতে পারে। আর যদি কোনো পুরুষ দেখে যে তার অণ্ডকোষ দুটি নেই বা কাটা পড়েছে, তবে সে কুষ্ঠ বা এই জাতীয় কোনো কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। অথবা সে তার স্ত্রীকে তালাক দেবে, দাসী বিক্রি করবে, সন্তান হারাবে, কিংবা তার থলি বা মালের বস্তা ছিঁড়ে যাবে এবং সম্পদ নষ্ট হবে। সে যদি ওজনকারী হয় তবে তার ওজন করার কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। বিবাহিত হলে তার স্ত্রীর অভিভাবক বা তার পরিবার-পরিজন বা আত্মীয়-স্বজনকে হারাবে। আবার কখনো সে তার মর্যাদা থেকে নিম্নস্তরে পতিত হবে।

- (আমির বা নেতা) এটি সেই ব্যক্তির দলিল যে মানুষকে রসদ (খাদ্যদ্রব্য) সরবরাহ করে, সাহায্য করে এবং আদেশ প্রদান করে। এটি অবিবাহিত ব্যক্তির বিবাহের দলিল, যার ফলে সে তার ঘরে একজন আমিরের মতো হয়ে যায়। কখনো এটি কোনো বিষয়ে বিশেষ মর্যাদা লাভের ইঙ্গিত দেয়। স্বপ্নে যে ব্যক্তি নিজেকে আমিরের পদে অধিষ্ঠিত দেখে, তার ব্যাপারে কারাবরণ ও শৃঙ্খলিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ আমির বা শাসক কিয়ামতের দিন এই অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার দুই হাত ঘাড়ের সাথে শিকল দিয়ে বাঁধা থাকবে এবং তার ন্যায়বিচার ছাড়া অন্য কিছু তাকে মুক্ত করতে পারবে না।

- (কেউ যদি দেখে) যে সুলতান তাকে মুসলিম সীমান্তের দূরবর্তী কোনো অঞ্চলের প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন, তবে এটি সেই পথের দূরত্বের পরিমাণ অনুযায়ী সম্মান, মর্যাদা ও সুখ্যাতি লাভের লক্ষণ। যদি কোনো শাসক দেখে যে তার বরখাস্তের ফরমান এসেছে, তবে বাস্তবে সেই সময়েই সে বরখাস্ত হবে। একইভাবে যদি সে তার কার্যভারের দিকে গভীরভাবে তাকায় তবে সেটিও তার বরখাস্ত হওয়ার লক্ষণ এবং সে দ্রুতই এর অনুরূপ কিছু দেখতে পাবে। তবে সে যদি সন্তানের অপেক্ষায় থাকে তবে সে পুত্র সন্তান লাভ করবে। তেমনিভাবে যদি দেখে সে তার স্ত্রীকে তালাক দিচ্ছে, তবে সে পদচ্যুত হবে। যদি কেউ কোনো আমির বা প্রধানের কাছে খাবার নিয়ে যায়, তবে প্রথমে সে দুঃখিত হবে কিন্তু পরে তার আনন্দ আসবে এবং এমন উৎস থেকে সম্পদ লাভ করবে যা সে কল্পনাও করেনি। আমির বা সুলতানের টুপি, পোশাক, জুব্বা বা কোমরবন্ধ খুলে রাখা তার শাসনে অবহেলার প্রতীক, আর তা পরিধান করা তার রাজনৈতিক দক্ষতার পরিচায়ক। নতুন মোজা পরিধান করা অমুসলিম প্রজাদের সম্পদ অর্জনের লক্ষণ। স্বপ্নে শাসকের বরখাস্ত হওয়া বাস্তবে তার স্থায়িত্বের প্রমাণ। ক্রীতদাসের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বপ্নে আমির হবে সে মুক্ত হবে অথবা এমন ইবাদতকারী হবে যে দুনিয়ার মোহে আবদ্ধ থাকবে না এবং নিজের নফসের আমির (নিয়ন্ত্রণকারী) হবে।

- (নামাজের ইমাম) ইমাম হলেন জিম্মাদার বা জামিনদার। কখনো তাকে দেখা ভয়ের দলিল, আবার কখনো তা উচ্চ মর্যাদা, নেতৃত্ব, অগ্রবর্তিতা এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের দলিল। কখনো ইমাম দ্বারা দ্বাররক্ষী, সন্তান, মাতা অথবা শিক্ষককেও বোঝানো হয়। যদি কেউ স্বপ্নে ইমাম হয় এবং জনগণের সাথে জামাতে কিবলামুখী হয়ে পূর্ণ পবিত্রতার সাথে নামাজ আদায় করে—যাতে কোনো কমবেশি নেই—তবে সে যদি নেতৃত্বের যোগ্য হয় তবে নেতৃত্ব বা বিচারকার্য অথবা জনহিতকর কোনো কাজের দায়িত্ব লাভ করবে। কখনো সে কোনো জামাতের জিম্মাদার বা জামিন হবে অথবা এমন কোনো কওমের সাথে অংশীদার হবে যাদের থেকে সে কল্যাণ আশা করে। আর যদি সে কিবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে ইমামতি করে, তবে সে তার সঙ্গীদের সাথে খেয়ানত করবে এবং বিদআতের জন্ম দেবে অথবা কোনো নিষিদ্ধ কাজ করবে যা মানুষ তার কাছে দাবি করবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে সে নামাজের ইমামতি করছে, তবে কিবলা সঠিক থাকলে এবং নামাজ পূর্ণ হলে সে এমন এক নেতৃত্বের দায়িত্ব পাবে যেখানে সে ন্যায়বিচার করবে। অথবা সে মানুষকে আদেশ ও নিষেধ করবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে সে কোনো অজ্ঞাত স্থানে অজ্ঞাত লোকেদের ইমামতি করছে এবং সে কী পাঠ করছে তা জানে না, তবে সে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। যদি কোনো নারী দেখে যে সে পুরুষদের ইমামতি করছে, তবে সে মারা যাবে; কারণ নারীরা ইমামতির যোগ্য নয়, তাই এটি কেবল জানাজার ক্ষেত্রেই হতে পারে যখন সে তাদের সামনে থাকে এবং তারা তার জানাজা পড়ে। একইভাবে যদি কোনো অনারব ব্যক্তি, যে নামাজ ও কেরাতে পারদর্শী নয়, সে যদি কোনো সম্প্রদায়ের ইমামতি করে তবে তার ব্যাখ্যাও অনুরূপ।

- (কেউ যদি দেখে) যে সে দাঁড়িয়ে ইমামতি করছে আর মুক্তাদিরা বসে আছে, তবে সে তাদের হকের ব্যাপারে ত্রুটি করবে না কিন্তু তারা তার হকের ব্যাপারে ত্রুটি করবে। অথবা এটি নির্দেশ করে যে সে একদল অসুস্থ লোকের দেখাশোনা করবে। আর যদি সে বসে ইমামতি করে এবং তারা...
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
قيام وقعود فإنه لا يقصر في أمر يتولاه فإن صلى بقوم قيام وقعود فإنه يلي أمر الأغنياء والفقراء فإن صلى بهم قاعداً وهم قعود فإنهم يبتلون بغرق أو سرقة ثياب أو فقر فإن رأى أنه يصلي بالنساء فإنه يلي أمر قوم ضعاف فإن أم الناس على جنبه أو مضطجعاً وعليه ثياب بيض وينكر موضعه ولا يقرأ في صلاته ولا يكبر فإنه يموت ويصلي الناس عليه فإن رأى الوالي كأنه يؤم الناس عزل وذهب ماله ومن صلى بالرجال والنساء نال القضاء بين الناس إن كان أهلاً لذلك وإلا نال التوسط والإصلاح بين الناس.

- (ومن رأى) أنه أتم الصلاة بالناس تمت ولايته فإن انقطعت ولايته ولم تتنفذ أحكامه ولا كلامه وإن صلى وحده والقوم يصلون فرادى فإنهم خوارج وإن صلى صلاة نافلة دخل في ضمان لا يضره فإن كان القوم جعلوه إماماً فإنه يرث فإن رأى كأنه يؤم بالناس ولا يحسن أن يقرأ فإنه يطلب شيئاً ولا يجده ومن صلى بقوم فوق سطح فإنه يحسن إلى أقوام ويكون له صيت من جهة قرض أو صدقة.

- (أذان) الأذان في المنام يدل على الحج في أشهر الحج وربما دل على النميمة والإعلام بما يثير الحركة والانتقال والتجهيز للحرب وربما دل الأذان على السرقة وقد يدل الأذان على علو الدرجة والمنصب والرفعة والكلمة المسموعة والزوجة للأعزب وربما دل الأذان على الأخبار الصحيحة فإن أذن إلى غير القبلة أو أذن بغير العربية أو كان مع ذلك أسود الوجه ربما أخبر بالكذب والنميمة وربما دل ذلك على البدع والخوارج في ذلك البلد والمؤذن هو الداعي إلى الخير والسمسار أو العاقد للأنكحة أو رسول الملك أو حاجبه أو المنادي في الجيش فإن أذن أذاناً تاماً وكان ذلك في أشهر الحج ربما دل ذلك على الحج فإن أذنت المرأة في المنام في مأذنة الجامع ظهر في البلد بدعة عظيمة وإن أذن الصبيان الصغار استولى الجهال أو الخوارج على الملك خصوصاً إن كان الأذان في غير الوقت.

- (ومن رأى) أنه يؤذن على منارة وكان أهلاً للولاية نال ولاية بقدر ما بلغ صوته وانتهى إليه وإن لم يكن أهلاً للولاية كثرت أعداؤه ونال رياسة عليهم وإن كان تاجراً ربح في تجارته وقد يدل الأذان على الدعاء والبر والطاعات وفعل الخير ويدل الأذان على الأمن والنجاة من كيد الشيطان.

- (ومن رأى) أنه يؤذن في بئر فإن كان في بلاد الكفر دعا الناس إلى منهاج الدين وإن كان في بلاد المسلمين فإنه جاسوس وربما كان صاحب بدعة يدعو الناس إليها.

- (ومن رأى) أنه يؤذن فإن كان من أهل الديانة فإنه يأمر بالمعروف وإن كان فاسقاً ضرب.

- (ومن رأى) أنه يؤذن ولا يجيبه أحد فإنه من قوم ظلمة.

- (ومن رأى) أنه يؤذن على سطح جاره فإنه يخونه في امرأته.

- (ومن رأى) أنه يؤذن فوق سطح الكعبة فإنه مبتدع أو يسب أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم.

- (ومن رأى) أنه يؤذن مضطجعاً فإن امرأته تستغيب الناس وتؤذيهم بلسانها وإن كان عازباً تزوج.

- (ومن رأى) أنه يؤذن في سوقه فهو جاسوس اللصوص.

- (ومن رأى) أنه يؤذن على باب السلطان فإنه يشهد شهادة حق والأذان في الأزقة والأسواق يدل على حياة طيبة وقيل من رأى أنه يؤذن في قافلة فإنه يتهم في سرقة والأذان أيضاً يدل على مفارقة الشريك.

- (ومن رأى) أنه يؤذن في مكان خراب عمر وكثر الناس فيه.

- (ومن رأى) أنه يؤذن في الحمام فإنه يحم بحمى والأذان أو رفع الصوت بذكر الله تعالى دال على التقرب من الأكابر خصوصاً إن كان بصوت مليح وأنصت الناس له وأما إن بدل الأذان أو كان يلعب فيه أو في ذكر الله تعالى أو هو مكشوف العورة دل على استهتار رديء ونكد.

- (ومن رأى) أنه يؤذن على قوم مجتمعين فإنه يدعو أقواماً إلى حق وهم ظالمون وربما دل الأذان على التفقه في الدين وقد يكون الأذان دعاء إلى أمر من قبل السلطان.

- (ومن رأى) أنه يؤذن ولا يحفظ التكبير والتهليل فإنه يشمت بعدوه.

- (ومن رأى) أنه يؤذن في السماء وقد أجابه الناس فإنه رجل يدعو الناس إلى خير فيجيبونه وربما حج كل من استجاب.

- (ومن رأى) أنه أذن مرة أو مرتين وأقام وصلى صلاة فريضة رزق حجاً وعمرة.

- (ومن رأى) كأنه يؤذن على تل أصاب ولاية من رجل أعجمي وإن لم يكن للولاية أهلاً فإنه يصيب تجارة رابحة أو حرفة عزيزة فإن رأى أنه نقص من الأذان أو زاد فيه أو غير ألفاظه فإنه يظلم الناس بقدر الزيادة والنقصان.

- (ومن رأى) كأنه يؤذن على حائط فإنه يدعو رجالاً إلى الصلح وإن أذن فوق بيت فإنه يموت أهله.

- (ومن رأى) صبياً يؤذن فإنه براءة لوالديه من كذب وبهتان.

- (ومن رأى) كأنه يؤذن في سبيل اللهو واللعب سلب عقله ومن سمع أذاناً في السوق فإنه موت رجل من أهل السوق ومن أذن في مزبلة فإنه يدعو أحمق إلى الصلح ولا يقبل منه.
দাঁড়ানো এবং বসা—এই অবস্থায় সে যে দায়িত্বই গ্রহণ করুক না কেন তাতে কোনো ত্রুটি করবে না। যদি সে একদল লোকের ইমামতি করে যারা কেউ দাঁড়িয়ে আর কেউ বসে সালাত আদায় করছে, তবে সে ধনী ও দরিদ্র উভয় শ্রেণির মানুষের বিষয়াবলী পরিচালনা করবে। যদি সে বসে ইমামতি করে আর মুক্তাদিরাও বসে সালাত আদায় করে, তবে তারা ডুবে যাওয়া, কাপড় চুরি হওয়া বা দারিদ্র্যের পরীক্ষায় নিপতিত হবে। যদি সে স্বপ্নে দেখে যে সে নারীদের ইমামতি করছে, তবে সে এক দুর্বল জাতির দায়িত্ব পালন করবে। আর যদি সে একপাশে কাত হয়ে বা শুয়ে থাকা অবস্থায় মানুষের ইমামতি করে, তার পরনে সাদা কাপড় থাকে এবং সে স্থানটি চিনতে পারে না, আর সালাতে কোনো কিরাত পড়ে না বা তাকবির দেয় না, তবে সে মারা যাবে এবং মানুষ তার জানাজা পড়বে। যদি কোনো শাসক দেখে যে সে মানুষের ইমামতি করছে, তবে সে পদচ্যুত হবে এবং তার সম্পদ বিলীন হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি পুরুষ ও নারীদের ইমামতি করবে, সে যদি তার যোগ্য হয় তবে মানুষের মাঝে বিচারকের পদ লাভ করবে, অন্যথায় সে মানুষের মাঝে মধ্যস্থতা ও বিবাদ মীমাংসার দায়িত্ব পাবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে মানুষের সাথে সালাত পূর্ণ করেছে, তবে তার শাসন ক্ষমতা পূর্ণ হবে। যদি তার শাসন ক্ষমতা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে তার হুকুম বা কথা কার্যকর হবে না। সে যদি একা সালাত আদায় করে আর লোকেরা আলাদা আলাদা সালাত পড়ে, তবে তারা খারিজি বা বিদ্রোহী। সে যদি নফল সালাত আদায় করে, তবে সে এমন এক জামানতের অন্তর্ভুক্ত হবে যা তার কোনো ক্ষতি করবে না। লোকেরা যদি তাকে ইমাম হিসেবে গ্রহণ করে, তবে সে উত্তরাধিকার লাভ করবে। যদি সে স্বপ্নে দেখে যে সে মানুষের ইমামতি করছে কিন্তু ভালোমতো কিরাত পড়তে পারছে না, তবে সে এমন কিছু খুঁজবে যা সে পাবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো ছাদের উপরে একদল লোকের ইমামতি করে, সে মানুষের প্রতি ইহসান বা ভালো আচরণ করবে এবং ঋণ দেওয়া বা সদকার মাধ্যমে তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে।

- (আযান) স্বপ্নে আযান দেওয়া হজের মাসগুলোতে হজের ইঙ্গিত বহন করে। কখনো এটি পরনিন্দা এবং এমন কোনো ঘোষণা যা নড়াচড়া, স্থান পরিবর্তন বা যুদ্ধের প্রস্তুতির উদ্রেক করে তার প্রতি ইঙ্গিত দেয়। কখনো আযান চুরির প্রমাণ দেয়। আবার আযান উচ্চ মর্যাদা, পদমর্যাদা, সম্মান, প্রভাবশালী কথা এবং অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য বিয়ের ইঙ্গিত হতে পারে। কখনো আযান সত্য সংবাদেরও আলামত হয়। যদি সে কিবলা ছাড়া অন্য দিকে আযান দেয়, অথবা আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় আযান দেয়, অথবা সেই অবস্থায় তার মুখ কালো হয়, তবে সম্ভবত সে মিথ্যা বা পরনিন্দার খবর দেবে। আবার এটি সেই জনপদে বিদআত ও খারিজিদের উপস্থিতির ইঙ্গিত হতে পারে। মুয়াজ্জিন হলো কল্যাণের দিকে আহ্বানকারী, মধ্যস্থতাকারী, বিবাহের আকদকারী, বাদশাহর দূত, দ্বাররক্ষী বা সেনাবাহিনীর ঘোষক। যদি সে পূর্ণাঙ্গ আযান দেয় এবং তা হজের মাসে হয়, তবে তা হজের ইঙ্গিত দেয়। স্বপ্নে কোনো নারী যদি মসজিদের মিনার থেকে আযান দেয়, তবে সেই জনপদে বড় কোনো বিদআত প্রকাশ পাবে। ছোট শিশুরা আযান দিলে মূর্খরা অথবা খারিজিরা শাসন ক্ষমতা দখল করবে, বিশেষ করে যদি আযান অসময়ে হয়।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে মিনারের ওপর আযান দিচ্ছে এবং সে যদি শাসনের যোগ্য হয়, তবে তার আযানের শব্দ যতদূর পৌঁছাবে ততটুকু স্থানের কর্তৃত্ব সে লাভ করবে। আর যদি সে শাসনের যোগ্য না হয়, তবে তার শত্রুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং সে তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করবে। সে যদি ব্যবসায়ী হয়, তবে ব্যবসায় লাভবান হবে। আযান কখনো দোয়া, নেক আমল, আনুগত্য এবং কল্যাণকর কাজের ইঙ্গিত দেয়। আযান নিরাপত্তা এবং শয়তানের চক্রান্ত থেকে মুক্তিরও প্রমাণ দেয়।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে কোনো কূপে আযান দিচ্ছে, যদি সে অমুসলিম দেশে থাকে তবে সে মানুষকে দ্বীনের পথের দিকে ডাকবে। আর যদি সে মুসলিম দেশে হয়, তবে সে একজন গোয়েন্দা, অথবা সে একজন বিদআতি যে মানুষকে তার বিদআতের দিকে আহ্বান করে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে আযান দিচ্ছে, সে যদি ধার্মিক হয় তবে সে সৎকাজের আদেশ করবে। আর যদি সে পাপাচারী হয় তবে তাকে প্রহার করা হবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে আযান দিচ্ছে কিন্তু কেউ তার ডাকে সাড়া দিচ্ছে না, তবে সে এক জালিম কওমের অন্তর্ভুক্ত।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে তার প্রতিবেশীর ছাদের ওপর আযান দিচ্ছে, তবে সে তার স্ত্রীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে কাবার ছাদের ওপর আযান দিচ্ছে, তবে সে একজন বিদআতি অথবা সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের গালি দেয়।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে শুয়ে থাকা অবস্থায় আযান দিচ্ছে, তবে তার স্ত্রী মানুষের গিবত করে এবং নিজের জিহ্বা দিয়ে মানুষকে কষ্ট দেয়। আর সে যদি অবিবাহিত হয়, তবে সে বিয়ে করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে তার বাজারে আযান দিচ্ছে, তবে সে চোরদের গোয়েন্দা।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে সুলতানের দরজায় আযান দিচ্ছে, তবে সে সত্য সাক্ষ্য দেবে। অলিগলি এবং বাজারে আযান দেওয়া উত্তম জীবন যাপনের ইঙ্গিত বহন করে। বলা হয়ে থাকে, যে ব্যক্তি দেখবে সে কোনো কাফেলার মধ্যে আযান দিচ্ছে, তবে সে চুরির দায়ে অভিযুক্ত হবে। আযান অংশীদারের সাথে বিচ্ছেদেরও ইঙ্গিত দেয়।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে কোনো জনশূন্য স্থানে আযান দিচ্ছে, তবে তা আবাদ হবে এবং সেখানে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে গোসলখানায় আযান দিচ্ছে, তবে সে জ্বরে আক্রান্ত হবে। আযান অথবা আল্লাহর জিকিরে উচ্চস্বর হওয়া বড়দের সান্নিধ্য লাভের ইঙ্গিত দেয়, বিশেষ করে যদি সুর সুন্দর হয় এবং মানুষ তা মনোযোগ দিয়ে শোনে। আর যদি আযান পরিবর্তন করে ফেলে অথবা আযান বা জিকির নিয়ে খেলাধুলা করে, অথবা তার সতর উন্মুক্ত থাকে, তবে তা অত্যন্ত মন্দ আচরণ ও কষ্টের ইঙ্গিত দেয়।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে একদল সমবেত লোকের সামনে আযান দিচ্ছে, তবে সে একদল লোককে সত্যের দিকে আহ্বান করবে কিন্তু তারা হবে জালিম। কখনো আযান দ্বীনের গভীর জ্ঞান বা ফিকহ অর্জনের ইঙ্গিত দেয়। আযান সুলতানের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশের প্রতি আহ্বানও হতে পারে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে আযান দিচ্ছে কিন্তু তাকবির ও তাহলিল সঠিকভাবে বলতে পারছে না, তবে সে তার শত্রুর বিপদে আনন্দিত হবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে আকাশে আযান দিচ্ছে এবং মানুষ তার ডাকে সাড়া দিচ্ছে, তবে সে এমন এক ব্যক্তি যে মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে এবং মানুষ তাতে সাড়া দেয়। যারা সাড়া দিয়েছে তারা সবাই সম্ভবত হজ করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে একবার বা দুইবার আযান দিয়েছে, অতঃপর ইকামত দিয়ে ফরজ সালাত আদায় করেছে, তবে সে হজ ও ওমরাহ করার তওফিক লাভ করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে যেন কোনো পাহাড়ের টিলার ওপর আযান দিচ্ছে, তবে সে কোনো অনারব ব্যক্তির পক্ষ থেকে শাসন ক্ষমতা লাভ করবে। যদি সে শাসনের যোগ্য না হয়, তবে সে লাভজনক ব্যবসা বা সম্মানিত পেশা লাভ করবে। সে যদি দেখে যে সে আযান কমিয়ে বলছে বা বাড়িয়ে বলছে অথবা আযানের শব্দ পরিবর্তন করছে, তবে সে যতটুকু বৃদ্ধি বা হ্রাস করেছে সেই পরিমাণ মানুষের ওপর জুলুম করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে যেন কোনো দেয়ালের ওপর আযান দিচ্ছে, তবে সে একদল লোককে সন্ধির দিকে আহ্বান করবে। আর যদি কোনো ঘরের ওপর আযান দেয়, তবে সেই ঘরের বাসিন্দা মারা যাবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) কোনো শিশু আযান দিচ্ছে, তবে তা তার পিতামাতার জন্য মিথ্যা ও অপবাদ থেকে মুক্তির প্রমাণ।

- (আর যে ব্যক্তি দেখবে) সে যেন কৌতুক ও খেলার ছলে আযান দিচ্ছে, তবে তার বুদ্ধি লোপ পাবে। যে ব্যক্তি বাজারে আযান শুনতে পাবে, তবে বাজারবাসীদের মধ্যে কোনো একজনের মৃত্যু হবে। যে ব্যক্তি আবর্জনার স্তূপে আযান দেবে, সে কোনো মূর্খ ব্যক্তিকে সন্ধির দিকে আহ্বান করবে কিন্তু সে তা গ্রহণ করবে না।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
- (إقامة الصلاة) في المنام دالة على إنجاز الوعد وبلوغ المرام وعلى الفرج لمن هو في شدة.

- (ومن رأى) كأنه أقام الصلاة على باب أو سرير فإنه يموت.

- (ومن رأى) محبوساً كأنه يقيم الصلاة أو يصلي قائماً فإنه يطلق منه وإن رأى غير محبوس أنه يقيم له أمور بيع يحسن الثناء فيه عليه.

- (ومن رأى) أنه أذن وأقام فإنه يقيم سنة ويميت بدعة.

- (اعتكاف) الإنسان في المنام انعكاف من دل المكان عليه أي الذي اعتكف فيه فإن اعتكف في المنام في كنيسة انعكف على امرأة زانية وإن اعتكف في مسجد انعكف على الخير أو على امرأة صالحة وإن اعتكف في حانوت انعكف على معيشة.

- (إحرام الإنسان) بالحج أو بالعمرة في المنام يدل على زواج الأعزب وطلاق المتزوج وإن كان مريضاً مات وتجرد من المخيط وإن كان من أهل الشر تجرد لطلب الحرام خصوصاً إن كانت الرؤيا في غير زمن الحج أو كان مع إحرامه أسود الوجه أو بادي العورة فإن قتل في المنام وهو محرم صيداً له من النعم غرم مثله في اليقظة فإن قتل في المنام نعامة غرم في اليقظة بدنة وفي حمار الوحش بقرة وهكذا ومن رأى أنه أحرم هو وزوجته فإنه يطلقها وتصير حراماً عليه.

- (استلام الحجر الأسود) في المنام دليل على مبايعة الخلفاء والملوك أو التوبة على يد إمام عالم وربما دل ذلك على تقبيل الولد أو الزوجة أو الحليل وربما دل ذلك على الخدمة لأرباب المناصب كالأحكام أو طلب الشهادة وأسجالها عليهم.

- (ومن رأى) كأنه مس الحجر الأسود فقيل إنه يقتدي بإمام من أهل الحجاز.

- (الأضحية) في المنام دليل على الوفاء بالنذر والإخلاص من الشدائد وسلامة المريض وربما دل ذلك على الأرزاق والفوائد من قبل المواشي وإن كان عابراً أخطأ في عبارته واعتبر ما يتقرب به الإنسان إلى الله تعالى من الأضحية فإن قرب في المنام بدنة ربما أتى إلى الجمعة في أول ساعة وإن قرب بقرة ربما أتى إلى الجمعة في ثاني ساعة وإن قرب كبشاً ربما أتى إلى الجمعة في ثالث ساعة وإن قرب في المنام دجاجة ربما أتى إلى الجمعة في رابع ساعة وإن قرب في المنام بيضة ربما أتى إلى الجمعة في خامس ساعة وربما دلت الأضحية على التحكم في قسمة المال وأما الأضحية فبشارة بالفرج من جميع الهموم وظهور البركة فإن كان صاحب الرؤيا امرأة حاملاً فإنها تلد ابناً صالحاً.

- (ومن رأى) أنه ضحى ببدنه أو بقرة أو كبش فإنه يعتق رقاباً.

- (ومن رأى) أنه ضحى وهو عبد عتق فإن كان صاحب الرؤيا أسيراً تخلص وإن رآه مديون قضى دينه أو فقير أسير أو خائف أمن أو لم يحج حج أو محارب نصر أو مغموم فرج عنه.

- (ومن رأى) كأنه يقسم في الناس لحم قربانه خرج من همومه ونال عزاً وشرفاً.

- (ومن رأى) كأنه سرق شيئاً من القربان فإنه يكذب على الله وقال بعض المعبرين إن المريض إذا رأى أنه ضحى دلت رؤيته على موته وقال بعضهم إنه ينال الشفاء.

- (استغفار) الإنسان في المنام يدل على سعة الرزق ومن استغفر من غير صلاة يدل على الزيادة في العمر وربما دل الاستغفار على النصر ودفع البلايا.

- (ومن رأى) أنه يستغفر الله فإن الله يغفر له ويرزقه مالاً وولداً وخادماً وجناناً وأنهاراً فإن رأى أنه سكت عن الاستغفار فإنه منافق فإن رأت امرأة يقال لها استغفري فإنها تزني.

- (ومن رأى) كأنه يستغفر الله تعالى رزق مالاً حلالاً وولداً فإن رأى كأنه فرغ من الصلاة ثم استغفر الله تعالى ووجهه إلى القبلة فإنه يستجاب دعاؤه وإن كان إلى غير القبلة يذنب ذنباً ويتوب عنه.

- (إسلام) الإنسان في المنام استقامة في الدين فإن رأى مشرك أنه قد أسلم ورأى أنه يصلي نحو القبلة أو رأى أنه شكر الله تعالى هدي للإسلام وإن كان في دار الشرك فرأى في منامه أنه تحول إلى دار الإسلام فإنه يموت عاجلاً فإن رأى مسلم كأنه أسلم ثانياً من الآفات وكل مشرك رأى في منامه أو رآه غيره كأنه في الجنة أو حلى أساور من فضة فإنه يسلم.

- (ومن رأى) من المشركين كأنه كان ميتاً فحي فإنه يسلم وكذلك إذا رأى سعة صدر أو رأى نفسه في سفينة في بحر فإنه يسلم ومن تلفظ بالشهادتين من أهل الذمة في المنام خلص من شدته أو اهتدى بعد غيه إن كان مختاراً وإن كان مكرهاً وقع في محذور وإن كان مرتداً في اليقظة ورأى في المنام أنه تلفظ بالشهادتين راجع أبويه بعد هجره لهما أو عاد إلى محل خرج عنه أو إلى سبب كان يعمله وإن كان مسلماً شهد بالحق أو اشتهر بالصدق.
স্বপ্নে (ইকামাত প্রদান করা) ওয়াদা পূরণ, উদ্দেশ্য হাসিল এবং সংকটাপন্ন ব্যক্তির জন্য মুক্তি পাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখল) যেন সে দরজার ওপর বা বিছানার ওপর ইকামাত দিচ্ছে, তবে সে মৃত্যুবরণ করবে।

- (আর যে ব্যক্তি) কোনো বন্দিকে দেখল যে সে ইকামাত দিচ্ছে অথবা দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছে, তবে সে মুক্তি পাবে। আর যদি কোনো অ-বন্দি ব্যক্তি দেখে যে সে ইকামাত দিচ্ছে, তবে তার জন্য ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়াদি সহজ হবে এবং সে ক্ষেত্রে তার উত্তম প্রশংসা করা হবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখল) যে সে আজান ও ইকামাত দিয়েছে, তবে সে একটি সুন্নতকে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং একটি বিদআতকে নির্মূল করবে।

- স্বপ্নে মানুষের (ইতিকাফ) করা সেই স্থানের দিকে নিবদ্ধ হওয়াকে নির্দেশ করে যেখানে সে ইতিকাফ করেছে। যদি সে স্বপ্নে গির্জায় ইতিকাফ করে, তবে সে কোনো ব্যভিচারী মহিলার প্রতি আসক্ত হবে। আর যদি মসজিদে ইতিকাফ করে, তবে সে কল্যাণের পথে থাকবে অথবা কোনো পুণ্যবতী মহিলার প্রতি নিবদ্ধ হবে। আর যদি দোকানে ইতিকাফ করে, তবে সে তার জীবিকার পেছনে পড়ে থাকবে।

- স্বপ্নে হজ বা ওমরাহর জন্য (মানুষের ইহরাম বাঁধা) অবিবাহিত ব্যক্তির বিবাহের এবং বিবাহিত ব্যক্তির তালাকের ইঙ্গিত দেয়। যদি সে অসুস্থ হয় তবে সে মারা যাবে এবং সেলাইকৃত কাপড় থেকে মুক্ত হবে। যদি সে পাপাচারী হয় তবে সে হারাম অন্বেষণে লিপ্ত হবে, বিশেষ করে যদি স্বপ্নটি হজের সময় ছাড়া অন্য সময়ে হয় অথবা তার ইহরামের সময় চেহারা কালো থাকে বা লজ্জাস্থান প্রকাশিত থাকে। আর যদি ইহরাম অবস্থায় স্বপ্নে সে কোনো গবাদি পশু শিকার করে হত্যা করে, তবে জাগ্রত অবস্থায় তাকে অনুরূপ জরিমানা দিতে হবে। যদি স্বপ্নে উটপাখি হত্যা করে তবে জাগ্রত অবস্থায় একটি উট জরিমানা দিতে হবে এবং বুনো গাধার ক্ষেত্রে গরু, এভাবে অন্যান্য পশুর ক্ষেত্রেও। আর যে ব্যক্তি দেখে যে সে এবং তার স্ত্রী ইহরাম বেঁধেছে, তবে সে তাকে তালাক দিবে এবং সে তার জন্য হারাম হয়ে যাবে।

- স্বপ্নে (হাজরে আসওয়াদ চুম্বন বা স্পর্শ করা) খলিফা ও বাদশাহদের বায়াত গ্রহণ অথবা কোনো আলেম ইমামের হাতে তওবা করার দলিল। কখনো এটি সন্তান, স্ত্রী বা জীবনসঙ্গীকে চুম্বনের ইঙ্গিত দেয়। আবার কখনো এটি বিচারক বা পদস্থ ব্যক্তিদের সেবা করা অথবা তাদের কাছে সাক্ষ্য প্রদান ও তা নথিবদ্ধ করার ইঙ্গিত দেয়।

- (আর যে ব্যক্তি দেখল) যেন সে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করেছে, তবে বলা হয় যে সে হিজাজের কোনো ইমামের অনুসরণ করবে।

- স্বপ্নে (কোরবানি) করা মানত পূরণ, বিপদ থেকে মুক্তি এবং রোগীর সুস্থতার দলিল। কখনো এটি গবাদি পশুর পক্ষ থেকে রিজিক ও উপকারের ইঙ্গিত দেয়। যদি স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারী ভুল ব্যাখ্যা দেয় তবে সে তার ব্যাখ্যায় ভুল করবে। মানুষ কোরবানির মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের যা কিছু করে তা বিবেচনা করতে হবে। যদি স্বপ্নে উট কোরবানি করে তবে সম্ভবত সে জুমার প্রথম প্রহরে উপস্থিত হবে। যদি গরু কোরবানি করে তবে সম্ভবত সে জুমার দ্বিতীয় প্রহরে উপস্থিত হবে। যদি ভেড়া কোরবানি করে তবে সম্ভবত সে জুমার তৃতীয় প্রহরে উপস্থিত হবে। যদি স্বপ্নে মুরগি কোরবানি করে তবে সম্ভবত সে জুমার চতুর্থ প্রহরে উপস্থিত হবে। আর যদি স্বপ্নে ডিম কোরবানি করে তবে সম্ভবত সে জুমার পঞ্চম প্রহরে উপস্থিত হবে। কখনো কোরবানি সম্পদ বণ্টনের ওপর কর্তৃত্ব করার নির্দেশ দেয়। আর কোরবানি হলো সকল দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির সুসংবাদ এবং বরকত প্রকাশ পাওয়া। যদি স্বপ্নদ্রষ্টা গর্ভবতী নারী হয়, তবে সে একটি নেককার পুত্র সন্তান প্রসব করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখল) যে সে উট, গরু বা ভেড়া কোরবানি করেছে, তবে সে দাস মুক্ত করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখল) যে সে কোরবানি করেছে এমতাবস্থায় যে সে একজন দাস, তবে সে মুক্ত হবে। যদি স্বপ্নদ্রষ্টা বন্দি হয় তবে মুক্তি পাবে। যদি ঋণগ্রস্ত হয় তবে তার ঋণ পরিশোধ হবে, দরিদ্র হলে সচ্ছল হবে, ভীত হলে নিরাপদ হবে, হজ না করে থাকলে হজ করবে, যোদ্ধা হলে বিজয় লাভ করবে এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে মুক্তি পাবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখল) যেন সে মানুষের মধ্যে তার কোরবানির গোশত বিতরণ করছে, তবে সে তার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাবে এবং সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখল) যেন সে কোরবানির কোনো কিছু চুরি করেছে, তবে সে আল্লাহর নামে মিথ্যাচার করবে। কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারী বলেছেন, অসুস্থ ব্যক্তি যদি দেখে যে সে কোরবানি করছে, তবে তার এই স্বপ্ন মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে সে আরোগ্য লাভ করবে।

- স্বপ্নে মানুষের (ইস্তিগফার) বা ক্ষমা প্রার্থনা করা প্রশস্ত রিজিকের ইঙ্গিত দেয়। আর যে নামাজ ছাড়া ইস্তিগফার করল তা দীর্ঘ আয়ুর ইঙ্গিত দেয়। কখনো ইস্তিগফার বিজয় লাভ এবং বিপদ দূর হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখল) যে সে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছে, তবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন এবং তাকে ধন-সম্পদ, সন্তান, সেবক, বাগান ও নহর দান করবেন। যদি সে ইস্তিগফার করা থেকে বিরত থাকে তবে সে একজন মুনাফিক। যদি কোনো মহিলা দেখে যে তাকে বলা হচ্ছে "ইস্তিগফার করো", তবে সে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখল) যেন সে মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করছে, তবে সে হালাল সম্পদ এবং সন্তান লাভ করবে। যদি সে দেখে যে নামাজ শেষ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছে এবং তার মুখ কিবলার দিকে রয়েছে, তবে তার দোয়া কবুল হবে। আর যদি কিবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে হয়, তবে সে কোনো গুনাহ করবে এবং তা থেকে তওবা করবে।

- স্বপ্নে মানুষের (ইসলাম গ্রহণ) করা দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার প্রমাণ। যদি কোনো মুশরিক দেখে যে সে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং কিবলার দিকে মুখ করে নামাজ পড়ছে অথবা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছে, তবে তাকে ইসলামের দিকে হেদায়েত দেওয়া হবে। যদি সে দারুল শিরকে থাকে এবং স্বপ্নে দেখে যে সে দারুল ইসলামে স্থানান্তরিত হয়েছে, তবে সে অতিসত্বর মৃত্যুবরণ করবে। কোনো মুসলিম যদি দেখে যে সে পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করেছে, তবে সে বিপদাপদ থেকে মুক্ত থাকবে। আর কোনো মুশরিক যদি স্বপ্নে দেখে বা অন্য কেউ তাকে দেখে যে সে জান্নাতে আছে অথবা রুপার চুড়ি পরিহিত আছে, তবে সে ইসলাম গ্রহণ করবে।

- (আর যে ব্যক্তি) মুশরিকদের মধ্যে দেখল যেন সে মৃত ছিল অতঃপর জীবিত হয়েছে, তবে সে ইসলাম গ্রহণ করবে। অনুরূপভাবে যদি সে বক্ষ প্রশস্ত হতে দেখে অথবা নিজেকে সমুদ্রের কোনো জাহাজে দেখে, তবে সে ইসলাম গ্রহণ করবে। আর আহলে জিম্মিদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বপ্নে কালেমা শাহাদাত পাঠ করল, সে তার বিপদ থেকে মুক্তি পাবে অথবা পথভ্রষ্টতার পর হেদায়েত প্রাপ্ত হবে যদি সে তা স্বেচ্ছায় করে থাকে। আর যদি বাধ্য হয়ে করে তবে সে কোনো বিপদে পড়বে। যদি সে জাগ্রত অবস্থায় মুরতাদ হয় এবং স্বপ্নে দেখে যে সে কালেমা শাহাদাত পাঠ করছে, তবে সে তার পিতামাতাকে ত্যাগ করার পর পুনরায় তাদের কাছে ফিরে যাবে অথবা যে স্থান থেকে সে বের হয়ে গিয়েছিল সেখানে ফিরে যাবে কিংবা পূর্বের কোনো পেশায় ফিরে যাবে। আর যদি সে মুসলিম হয়, তবে সে হকের সাক্ষ্য দিবে অথবা সত্যবাদী হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করবে।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
- (الأمان من حرب) في المنام دليل على الأمن من الخوف وربما دل على الهداية بعد الضلالة خصوصاً إن كان الإنسان في اليقظة خائفاً والأمن خوف كما أن الخوف أمن.

- (أسر الإنسان) في المنام دليل على الخير والرزق والإسرار في المنام احتباس البول وهو في اللغة كذلك والإسرار في المنام إطلاع على الإسرار وإن كان قد فقد شيئاً رزق خيراً منه.

- (ومن رأى) في منامه أنه أسير فلا خير فيه على كل حال ويصيبه هم شديد.

- (أداء الشهادة) في المنام يدل على الخروج عن العهدة والوفاء بالنذر وإبلاغ الرسالة وقضاء الدين والطمع في الوديعة والحقد والجراءة على المعاصي وربما دل على المرض.

- (إماطة الأذى عن الطريق) في المنام تدل على الغيرة في الدين واليقظة أو على الأزواج والأولاد والتحفظ في الكلام وتدل على غفران الذنوب والآثام بسبب لين الكلام أو كثرة الصدقة وربما دل ذلك على علو المنصب والأمر والنهي والتولية والعزل فإن وضع في الطريق شوكاً أو حجارة أو ما يتأذى الناس به دل على الفحش في الكلام والأذى باللسان واليد وربما صار قاطع على أبناء السبيل فإن كان فاعل ذلك حاكماً دل على جوره وظلمه وتكليفه الناس ما لا يطيقون من حادث يحدثه أو نائب ينصبه لتولية مظالم الناس.

- (الأمر بالمعروف) في المنام كمن يأمر الناس بالصلاة أو الشهادتين أو يعظهم فإن ذلك دليل على الإيمان بالله تعالى والقيام بحقه وإن كان أهلاً للولاية تولى أو للحكم تحكم وكذلك إن رأى في المنام أنه أراق خمراً أو كسر بربطاً أو رمى نراداً أو ما أشبه ذلك فإن ذلك يدل على الإيمان وإنشائه على يد فاعل ذلك وربما دل حدوث على أمر يوجب الصبر وأما الأمر بالمنكر والنهي عن المعروف في المنام فإنه دليل على النفاق.

- (إجارة الإنسان) في المنام لشيء من ملكه دالة على الأمن من الخوف والإجارة من الشدائد وربما دلت الإجارة على النكاح والمستأجر في المنام رجل يخدع صاحب الإجارة ويغره ويحثه على أمر مطرب وإن انخدع تبرأ منه وتركه في الهلكة.

- (الإعارة) (من رأى) في المنام أنه استعار شيئاً أو أعاره فإن كان ذلك الشيء محبوباً فإنه ينال خيراً موفقاً لا يدوم وإن كان مكروهاً نال كراهة لا تدوم لأن العارية شيء لا يبقى وقيل من استعار دابة فإن المعير يتحمل مؤنة المستعير.

- (إيلاء الإنسان) من امرأته في المنام دال على الهم والنكد وعلى ما يوجب اليمين بالآباء والأمهات وترجيح ذلك على اليمين بالله تعالى لأن الإيلاء في اللغة اليمين على كل شيء.

- (الأسد) في المنام سلطان شديد ظالم غاشم مجاهر مسلط لجراءته وربما دل على الموت لأنه يقتنص الأرواح وربما دلت رؤيته على عافية المريض واللبوة امرأة شريرة عسوفة عزيزة الولد والهزبر تدل رؤيته على الجهل والخيلاء والعجب والعنت والتيه والدلال وقيل الأسد في المنام عدو مسلط ومن رأى الأسد من حيث لا يراه وهرب منه الرائي فإنه ينجو مما يخاف وينال الحكمة والعلم.

- (ومن رأى) الأسد قرب منه واستقبله ناله هم من سلطان ثم ينجو منه.

- (ومن رأى) الأسد صرعه ولم يقتله فإنه يحم حمى دائمة فإن السبع لا تفارقه الحمى أو يسجن لأن الحمى سجن لله تعالى.

- (ومن رأى) أنه يصارع الأسد مرض لأن المرض يتلف اللحم ومن صارع الأسد تلف لحمه.

- (ومن رأى) أنه أخذ شيئاً من لحم الأسد أو عظمه أو شعره نال مالاً من سلطان أو عدو مسلط ومن ركب السبع وهو يخافه ركب مصيبة أو أمراً لا يمكنه التقدم عنه ولا التأخر وإن كان لا يخافه فهو عدو يقهره.

- (ومن رأى) أنه ضاجع الأسد وهو لا يخافه أمن من مرض.

- (ومن رأى) السبع دخل إلى دار وفيها مريض فإنه يموت وإن لم يكن فيها مريض دل على الخوف من السلطان.

- (ومن رأى) أنه يتخوف من أسد ولم يعاينه فإنه أمن له من عدوه.

- (ومن رأى) أنه عاين الأسد ورآه عنده دون أن يخالطه فإنه يصيبه فزع من سلطان ولا يضره ذلك وربما دلت رؤية ذلك على الموت وقرب الأجل.

- (ومن رأى) الأسد في بيته فإنه يصيب سلطاناً وطول حياة.

- (ومن رأى) الأسد نابه منه شيء فإنه يناله من عدو مسلط بقدر ذلك.
- (যুদ্ধ থেকে নিরাপত্তা) স্বপ্নে ভীতি থেকে নিরাপত্তার দলিল। সম্ভবত এটি পথভ্রষ্টতার পর হিদায়াত প্রাপ্তির নির্দেশক, বিশেষত যদি ব্যক্তিটি জাগ্রত অবস্থায় ভীত থাকে। আর স্বপ্নে নিরাপত্তা হলো ভয়, যেমনটি ভয় হলো নিরাপত্তা।

- (মানুষের বন্দী হওয়া) স্বপ্নে কল্যাণ ও রিযিকের দলিল। স্বপ্নে গোপন করা (ইসরার) হলো প্রস্রাব আটকে রাখা, ভাষাগতভাবেও এর অর্থ তাই। স্বপ্নে গোপন করা হলো গোপন রহস্য সম্পর্কে অবগত হওয়া। আর যদি সে কোনো কিছু হারিয়ে থাকে, তবে তার চেয়ে উত্তম কিছু সে লাভ করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে স্বপ্নে বন্দী হয়েছে, তবে এর মধ্যে কোনো অবস্থাতেই কল্যাণ নেই এবং সে তীব্র দুশ্চিন্তায় পতিত হবে।

- (সাক্ষ্য প্রদান) স্বপ্নে দায়িত্ব থেকে মুক্তি, মানত পূর্ণ করা, সংবাদ পৌঁছানো, ঋণ পরিশোধ, আমানতের প্রতি লোভ, হিংসা এবং পাপাচারের ধৃষ্টতা নির্দেশ করে। সম্ভবত এটি রোগেরও দলিল।

- (রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা) স্বপ্নে দ্বীনের প্রতি মর্যাদা ও সতর্কতা, অথবা স্ত্রী ও সন্তান এবং কথাবার্তায় সংযম নির্দেশ করে। এটি নরম কথা বা অধিক সদকার কারণে গুনাহ ও পাপসমূহ ক্ষমা হওয়ার প্রমাণ দেয়। সম্ভবত এটি উচ্চ মর্যাদা লাভ, আদেশ-নিষেধ প্রদান, নিয়োগ ও বরখাস্ত হওয়াকেও নির্দেশ করে। কিন্তু যদি সে রাস্তায় কাঁটা, পাথর বা এমন কিছু রাখে যা মানুষের কষ্টের কারণ হয়, তবে তা অশ্লীল কথা এবং জিহ্বা ও হাতের মাধ্যমে কষ্ট দেওয়ার দলিল। সম্ভবত সে পথিকদের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী হবে। আর যদি তা কোনো শাসক করে থাকেন, তবে তা তার জুলুম, অন্যায় এবং কোনো নতুন ঘটনার মাধ্যমে অথবা মানুষের ওপর জুলুম করার জন্য কোনো প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে জনগণের ওপর সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার প্রমাণ।

- (সৎকাজের আদেশ করা) স্বপ্নে যেমন কাউকে নামাজের বা কালিমা শাহাদাতের আদেশ দেওয়া অথবা তাদের নসীহত করা, মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর হক আদায়ের দলিল। আর যদি সে শাসনের যোগ্য হয় তবে সে শাসক হবে বা বিচারকার্য পরিচালনা করবে। একইভাবে যদি কেউ স্বপ্নে দেখে যে সে মদ ঢেলে দিচ্ছে বা বাদ্যযন্ত্র ভাঙছে অথবা পাশা খেলা বা অনুরূপ কিছু বর্জন করছে, তবে তা ঈমান এবং তা সম্পাদনকারীর হাতে ঈমান সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার দলিল। সম্ভবত এটি ধৈর্য ধারণের প্রয়োজন হয় এমন কোনো ঘটনারও ইঙ্গিত দেয়। আর স্বপ্নে মন্দ কাজের আদেশ ও ভালো কাজে নিষেধ করা নিফাক বা মুনাফেকির দলিল।

- (ভাড়া প্রদান) স্বপ্নে মানুষের নিজের মালিকানাধীন কোনো কিছু ভাড়া দেওয়া ভীতি থেকে নিরাপত্তা এবং বিপদ-আপদ থেকে আশ্রয় লাভের দলিল। সম্ভবত ভাড়া দেওয়া বিবাহের নির্দেশক। স্বপ্নে ভাড়াটে হলো এমন এক ব্যক্তি যে ভাড়া প্রদানকারীকে প্রতারিত করে, বিভ্রান্ত করে এবং তাকে উত্তেজনাকর কোনো কাজে প্ররোচিত করে। যদি সে প্রতারিত হয়, তবে সে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাকে ধ্বংসের মুখে ফেলে যাবে।

- (ধার দেওয়া বা নেওয়া) (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে স্বপ্নে কোনো কিছু ধার নিয়েছে বা দিয়েছে, তবে সেই বস্তুটি যদি প্রিয় হয় তবে সে ক্ষণস্থায়ী কল্যাণ লাভ করবে। আর যদি তা অপছন্দীয় হয় তবে সে ক্ষণস্থায়ী কষ্টের সম্মুখীন হবে, কারণ ধার করা বস্তু স্থায়ী হয় না। বলা হয়ে থাকে, কেউ যদি কোনো পশু ধার নেয় তবে দাতা গ্রহীতার ভরণপোষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

- (স্ত্রীকে শপথের মাধ্যমে বর্জন করা বা ঈলা) স্বপ্নে স্ত্রীর সাথে ঈলা করা দুশ্চিন্তা ও কষ্টের দলিল এবং এটি পিতা-মাতার নামে কসম করাকে আল্লাহ তাআলার নামে কসম করার চেয়ে প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশক। কারণ আভিধানিক অর্থে ঈলা হলো যেকোনো বিষয়ে কসম করা।

- (সিংহ) স্বপ্নে এক শক্তিশালী, জালিম, অত্যাচারী এবং প্রকাশ্য ক্ষমতাধর শাসক যে তার সাহসের কারণে আধিপত্য বিস্তার করে। সম্ভবত এটি মৃত্যুর দলিল কারণ সিংহ প্রাণ সংহার করে। সম্ভবত এটি রোগীর আরোগ্য লাভের দলিল। সিংহী হলো এক দুষ্ট ও স্বৈরাচারী নারী যে তার সন্তানের জন্য অতিশয় প্রিয়। শক্তিশালী সিংহ দেখা মূর্খতা, অহংকার, আত্মমুগ্ধতা, কষ্ট, বিভ্রান্তি ও দম্ভের দলিল। বলা হয়ে থাকে, স্বপ্নে সিংহ হলো আধিপত্য বিস্তারকারী শত্রু। আর যে ব্যক্তি সিংহকে এমন স্থান থেকে দেখেছে যে সিংহ তাকে দেখতে পায়নি এবং সে পলায়ন করেছে, তবে সে যা ভয় করে তা থেকে মুক্তি পাবে এবং হিকমত ও জ্ঞান লাভ করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সিংহ তার নিকটবর্তী হয়েছে এবং তার মুখোমুখি হয়েছে, তবে সে শাসকের পক্ষ থেকে দুশ্চিন্তায় পড়বে, অতঃপর তা থেকে মুক্তি পাবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সিংহ তাকে ধরাশায়ী করেছে কিন্তু হত্যা করেনি, তবে সে দীর্ঘস্থায়ী জ্বরে আক্রান্ত হবে। কেননা হিংস্র পশুর জ্বর কখনো ছাড়ে না। অথবা সে কারারুদ্ধ হবে, কারণ জ্বর হলো আল্লাহর জেলখানা।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে সিংহের সাথে লড়াই করছে, তবে সে অসুস্থ হবে। কারণ রোগ মাংস ক্ষয় করে, আর যে সিংহের সাথে লড়াই করে তার মাংসও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে সিংহের মাংস, হাড় বা পশমের কিছু অংশ নিয়েছে, তবে সে শাসক বা প্রভাবশালী শত্রুর পক্ষ থেকে ধন-সম্পদ লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি হিংস্র পশুর পিঠে আরোহণ করেছে অথচ সে ভীত, তবে সে এমন কোনো বিপদে বা বিষয়ে পতিত হবে যা থেকে সামনে বা পেছনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর যদি সে ভীত না হয়, তবে সে শত্রুকে পরাস্ত করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে সিংহের সাথে শয়ন করেছে এবং সে তাকে ভয় পাচ্ছে না, তবে সে রোগ থেকে নিরাপদ থাকবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) হিংস্র পশু এমন ঘরে প্রবেশ করেছে যেখানে কোনো রোগী আছে, তবে সে মৃত্যুবরণ করবে। আর যদি সেখানে কোনো রোগী না থাকে, তবে তা শাসকের পক্ষ থেকে ভায়ের দলিল।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে সিংহকে ভয় পাচ্ছে কিন্তু তাকে চোখে দেখেনি, তবে তা তার শত্রুর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা লাভের দলিল।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে সিংহকে প্রত্যক্ষ করেছে এবং তাকে নিজের কাছে দেখেছে অথচ কোনো সংস্পর্শ হয়নি, তবে সে শাসকের পক্ষ থেকে ভীতিগ্রস্ত হবে কিন্তু তা তার কোনো ক্ষতি করবে না। সম্ভবত এটি মৃত্যু এবং হায়াত শেষ হওয়ারও ইঙ্গিত দেয়।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সিংহ তার ঘরে আছে, তবে সে ক্ষমতা ও দীর্ঘ জীবন লাভ করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সিংহের কারণে তার কোনো ক্ষতি হয়েছে, তবে সে ক্ষমতাধর শত্রুর পক্ষ থেকে সেই পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
- (ومن رأى) أنه قاتل أسداً فإنه يقاتل عدواً مسلطاً.

- (ومن رأى) أنه ينكح لبوة فإنه ينجو من شدائد كثيرة ويظفر بعدوه ويعلو أمره ويكون ذا صيت في الناس.

- (ومن رأى) أنه يأكل لحم أسد فإنه يصيب مالاً وغنى من سلطان أو يظفر بعدوه.

- (ومن رأى) أن أكل رأس الأسد فإنه يصيب سلطاناً عظيماً ومالاً كثيراً.

- (ومن رأى) أنه يأكل شيئاً من أعضاء الأسد فإنه يصيب مال عدو مسلط بقدر ذلك العضو من الأعضاء.

- (ومن رأى) أنه أصاب من جلد أسد أو من شعره أو شيء منه فأنه يصيب مال عدو مسلط وربما كان ميراثاً والأسد يدل على المحارب وعلى اللص المختلس والعامل الجائر وصاحب الشرط والطالب وأما دخول الأسد المدينة فإنه طاعون أو شدة أو سلطان جبار أو عدو يدخل عليهم إلا أن يدخل في الجامع ويعلو على المنبر فإنه سلطان يجور على الناس وينالهم من بلاء ومخافة وجرو الأسد ولد.

- (وقيل من رأى) كأنه قتل أسداً نجا من الأحزان كلها ومن تحول أسداً صار ظالماً على قدر حاله وقيل اللبوة ابنة ملك.

- (الأيل) هو التيس الحبلى تدل رؤيته في المنام على التاج والوقار والهيبة وقمع الأعداء والسفل وربما دلت على رجل غريب في بعض المفاوز والجبال والثغور له رياسة ومطعمه حلال.

- (ومن رأى) كأن رأسه تحول رأس أيل نال رياسة وولاية.

- (الأرنب) في المنام امرأة ومن أخذها تزوجها فإن ذبحها فهي زوجة غير باقية وقيل الأرنب يدل على رجل جبان وقيل الأرنب امرأة سوء فمن رأى أنه أصاب أرنباً فإنه يصيب امرأة كذلك.

- (ومن رأى) أنه أصاب من لحمها أو جلدها فإنه خير قليل يصيبه من امرأة.

- (ومن رأى) أنه أصاب من ولدها فإنه يصيبه هم أو مصيبة أو نصب.

- (ابن آوى) في المنام رجل يمنع الحقوق أربابها وهو من المسوخ وتدل رؤيته على المكتسب في الشر والخصام وتدل رؤيته على الألفة واجتماع على اللهو واللعب.

- (ابن عرس) في المنام رجل سفيه ظالم قاس قليل الرحمة فمن رأى أنه دخل داره دخلها مكار وهو من المسوخ أيضاً وهو دابة حمراء دون السنور تألف البيوت معادية للفار.

- (أرضة) رؤيتها في المنام تدل على المنازعة في العلم وطلب الجدال.

- (ومن رأى) في كيسع أو عصاه أرضة فإنه قد دل على موته.

- (إبليس اللعين) في المنام يدل على السهو قال رجل للحسن: يا أبا سعيد أينام إبليس؟ قال فتبسم وقال: لو نام لوجدنا راحة ورؤيته في المنام دالة على العالم المبتدع ويدل على ترك الصلاة والكذب والاختلاس واكتساب الذنوب والآثار وطول العمر وتدل رؤيته على المكر والخديعة والسحر والفرقة بين الزوجين قياساً على قصته مع آدم عليه السلام وربما دلت رؤيته على الارتداد عن الدين لأنه كان عابداً لله تعالى فعاد بمخالفته مطروداً مبعداً ثم هو في التأويل دال على الملك الكافر المقيم بالبحر المجهز للجنود والخيل والرجل قال الله تعالى: {وأجلب عليهم بخيلك ورجلك} فإن رأى أنه صار إبليس أصيب في بصره أو ارتد عن دينه أو عاش مبعوداً ومات مكموداً ورزق نسلاً ومالاً وانتصر على أعدائه بمكر وإن كان أهلاً للملك ملك وكان في زمانه يأمر بالمنكر وينهى عن المعروف.

- (ومن رأى) كأنه قتل إبليس فإنه يمكر بماكر وخداعة وإن كان صالحاً عفيفاً فإنه يقنط من أمر الله.

- (إوز) رؤيته في المنام دالة على نساء ذوات أجسام وذكر ومال فإذا صوتن في مكانه فهي صوائح ونوائح.

- (ومن رأى) أنه يرعى الإوز فإنه يلي قوماً ذوي رفعة وينال من جهتهم أموالاً وقيل إن الإوز رجل ذو هم وحزن وسلطان في البر والبحر والإوز بري وبلدي فالبري تدل على أرباب الأسفار كالتجار في البر والبحر والبلدي أهل أو أحزان أو أزواج أو أملاك أو جوار أو عبيد أو حراس وربما دلت الإوزة على المرأة الجميلة أو السمينة وصراخهن في المكان هم ونكد بسبب موت أو حرق أو غرق وبيض الإوز لمن رأى أنه يملكه مال كثير لمن يأخذه.

- (إبرة) هي في المنام دالة للأعزب على الزوجية وللفقير على ستر الحال.

- (ومن رأى) أنه أصاب إبرة فإن الإبرة لصاحبها سبب ما يطلب من صلاح أمره وجمعه أو التئامه ونحو ذلك فإن كان فيها خيط وكان يخيط بها فإنه يلتئم
- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে সিংহের সাথে লড়াই করছে, তবে সে এক শক্তিশালী শত্রুর সাথে লড়াই করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে সিংহীর সাথে সঙ্গম করছে, তবে সে অনেক কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি পাবে, তার শত্রুর ওপর বিজয় লাভ করবে, তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষের মধ্যে সে খ্যাতিমান হবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে সিংহের গোশত খাচ্ছে, তবে সে কোনো শাসকের পক্ষ থেকে সম্পদ ও প্রাচুর্য লাভ করবে অথবা তার শত্রুর ওপর জয়ী হবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে সিংহের মাথা খাচ্ছে, তবে সে মহান রাজত্ব ও প্রচুর সম্পদ লাভ করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে সিংহের শরীরের কোনো অঙ্গ খাচ্ছে, তবে সে ওই অঙ্গের পরিমাণ অনুযায়ী কোনো শক্তিশালী শত্রুর সম্পদ লাভ করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে সিংহের চামড়া, চুল বা এর কোনো অংশ পেয়েছে, তবে সে এক শক্তিশালী শত্রুর সম্পদ লাভ করবে এবং অনেক সময় তা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ হয়। সিংহ যোদ্ধা, চোর, আত্মসাৎকারী, জালেম কর্মকর্তা, কোতোয়াল (পুলিশ প্রধান) এবং অন্বেষণকারীর ওপর দলিল পেশ করে। আর শহরে সিংহের প্রবেশ করা হলো মহামারি, কঠিন বিপদ, জালেম শাসক বা শত্রুর প্রবেশের আলামত। তবে সিংহ যদি জামে মসজিদে প্রবেশ করে মিম্বরে আরোহণ করে, তবে তা এমন শাসকের ইঙ্গিত দেয় যে মানুষের ওপর জুলুম করবে এবং তাদের ওপর বিপদ ও ভীতি নেমে আসবে। আর সিংহের বাচ্চা হলো সন্তান।

- (বলা হয়েছে যে ব্যক্তি দেখে) যেন সে একটি সিংহকে হত্যা করেছে, তবে সে যাবতীয় দুঃখ-বেদনা থেকে মুক্তি পাবে। আর যে ব্যক্তি সিংহ হয়ে যায়, সে তার অবস্থা অনুযায়ী জালেম হয়ে উঠবে। বলা হয়েছে, সিংহী হলো রাজার কন্যা।

- (কৃষ্ণসার মৃগ) এটি হলো গর্ভবতী হরিণ; স্বপ্নে এটি দেখা মুকুট, গাম্ভীর্য, মর্যাদা, শত্রুদের দমন এবং নিচুতর অবস্থার ওপর দলিল। কখনো এটি মরুভূমি, পাহাড় বা সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী এমন কোনো ভিনদেশী ব্যক্তির ওপর দলিল পেশ করে, যার নেতৃত্ব রয়েছে এবং যার খাদ্য হালাল।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যেন তার মাথা কৃষ্ণসার মৃগের মাথায় রূপান্তরিত হয়েছে, তবে সে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব লাভ করবে।

- (খরগোশ) স্বপ্নে খরগোশ হলো নারী। যে ব্যক্তি এটি ধরবে, সে বিয়ে করবে। যদি সেটিকে জবাই করে, তবে সে এমন স্ত্রী যে স্থায়ী হবে না। বলা হয়েছে যে, খরগোশ ভীরু পুরুষের ওপর দলিল পেশ করে। আরও বলা হয়েছে যে, খরগোশ হলো অসৎ নারী; সুতরাং যে ব্যক্তি দেখে যে সে একটি খরগোশ পেয়েছে, সে অনুরূপ কোনো নারী লাভ করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে তার (খরগোশের) গোশত বা চামড়া লাভ করেছে, তবে তা সামান্য কল্যাণ যা সে কোনো নারীর পক্ষ থেকে লাভ করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে তার বাচ্চা পেয়েছে, তবে সে দুশ্চিন্তা, বিপদ বা ক্লান্তিতে পতিত হবে।

- (শিয়াল/ইবনে আওয়া) স্বপ্নে এটি এমন ব্যক্তি যে পাওনাদারদের অধিকার আদায়ে বাধা দেয়। এটি বিকৃত প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত। এটি দেখা মন্দ কাজে লিপ্ত হওয়া এবং বিবাদের মাধ্যমে উপার্জনের আলামত। এটি দেখা ঘনিষ্ঠতা এবং আমোদ-প্রমোদ ও খেলাধুলার জন্য একত্রিত হওয়ার ওপরও দলিল পেশ করে।

- (বেজি) স্বপ্নে বেজি হলো এমন একজন নির্বোধ, জালেম ও কঠোর হৃদয়ের ব্যক্তি যার দয়া-মায়া কম। যে ব্যক্তি দেখে যে এটি তার ঘরে প্রবেশ করেছে, তবে কোনো প্রতারক সেখানে প্রবেশ করবে। এটিও বিকৃত প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত। এটি বিড়ালের চেয়ে ছোট লাল রঙের একটি প্রাণী যা ঘরে পোষ মানে এবং ইঁদুরের শত্রু।

- (উইপোকা) স্বপ্নে উইপোকা দেখা জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়ে বিবাদ এবং বিতর্ক অন্বেষণের ওপর দলিল পেশ করে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) তার থলেতে বা লাঠিতে উইপোকা রয়েছে, তবে তা তার মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়।

- (অভিশপ্ত ইবলিস) স্বপ্নে ইবলিস দেখা গাফিলতি বা অমনোযোগিতার ওপর দলিল পেশ করে। এক ব্যক্তি হাসান বসরীকে জিজ্ঞেস করলেন: হে আবু সাঈদ, ইবলিস কি ঘুমায়? তিনি মুচকি হেসে বললেন: সে যদি ঘুমাত তবে আমরা শান্তি পেতাম। স্বপ্নে তাকে দেখা বিদআতী আলিমের ওপর দলিল। এটি নামাজ ত্যাগ করা, মিথ্যা বলা, আত্মসাৎ করা এবং গুনাহ ও পাপ অর্জনের আলামত। এটি দীর্ঘ হায়াতেরও আলামত। তাকে দেখা মকর-প্রতারণা, জাদু এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের দলিল, যা আদম আলাইহিস সালামের সাথে তার ঘটনার ওপর কিয়াস করা হয়েছে। কখনো তাকে দেখা দ্বীন থেকে বিচ্যুত বা মুরতাদ হওয়ার আলামত, কারণ সে আল্লাহ তাআলার ইবাদতকারী ছিল, অতঃপর অবাধ্যতার কারণে বিতাড়িত ও দূরবর্তী হয়ে গেছে। আবার ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সে এমন কাফের রাজার ওপর দলিল পেশ করে যে সমুদ্রে অবস্থান করে এবং পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনী প্রস্তুত রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ো}। যদি কেউ দেখে যে সে নিজেই ইবলিস হয়ে গেছে, তবে তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে অথবা সে দ্বীন থেকে ফিরে যাবে (মুরতাদ হবে), অথবা সে সমাজচ্যুত অবস্থায় বেঁচে থাকবে এবং অত্যন্ত পরিতপ্ত হয়ে মারা যাবে। আর সে সন্তান-সন্ততি ও সম্পদ লাভ করবে এবং মকর-প্রতারণার মাধ্যমে শত্রুদের ওপর জয়ী হবে। আর যদি সে রাজত্বের যোগ্য হয় তবে সে রাজা হবে এবং তার সময়ে মন্দ কাজের আদেশ দিবে ও ভালো কাজে বাধা প্রদান করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যেন সে ইবলিসকে হত্যা করেছে, তবে সে কোনো মকরকারী ও প্রতারককে প্রতারিত করবে। আর যদি সে নেককার ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী হয় তবে সে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবে।

- (রাজহাঁস) স্বপ্নে এটি দেখা স্থূলকায়া নারী, সুখ্যাতি এবং সম্পদের ওপর দলিল। যদি তারা কোনো স্থানে শব্দ করে, তবে তারা চিৎকারকারিণী ও বিলাপকারিণী নারী।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে রাজহাঁস চরাচ্ছে, তবে সে উচ্চমর্যাদাবান এক কওমের নেতৃত্ব দেবে এবং তাদের পক্ষ থেকে ধন-সম্পদ লাভ করবে। বলা হয়েছে যে, রাজহাঁস হলো এমন ব্যক্তি যে দুশ্চিন্তা ও দুঃখের অধিকারী এবং স্থলে ও জলে যার কর্তৃত্ব রয়েছে। রাজহাঁস বন্য এবং গৃহপালিত দুই প্রকার হতে পারে। বন্য রাজহাঁস ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মতো ভ্রমণকারীদের ওপর দলিল। আর গৃহপালিত রাজহাঁস পরিবার, দুঃখ-বেদনা, স্ত্রী, সম্পদ, দাসী, গোলাম বা রক্ষীবাহিনীর ওপর দলিল। কখনো রাজহাঁস সুন্দরী বা স্থূলকায়া নারীর ওপর দলিল পেশ করে। কোনো স্থানে তাদের চিৎকার করা মৃত্যু, অগ্নিকাণ্ড বা ডুবে মরার কারণে দুশ্চিন্তা ও কষ্টের আলামত। আর যে ব্যক্তি রাজহাঁসের ডিমের মালিক হয়, তবে যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে তার জন্য এটি প্রচুর সম্পদের আলামত।

- (সুঁই) এটি স্বপ্নে অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য বিয়ের আলামত এবং দরিদ্র ব্যক্তির জন্য সচ্ছলতা ও অভাব ঢাকা পড়ার দলিল।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যে সে একটি সুঁই পেয়েছে, তবে সেই সুঁই তার মালিকের জন্য স্বীয় কাজ সংশোধন, গুছিয়ে আনা বা একত্রিত করার মাধ্যম হবে। যদি তাতে সুতা থাকে এবং সে তা দিয়ে সেলাই করে, তবে তার বিচ্ছিন্ন কাজগুলো একত্রিত হবে।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ২০)
شأنه ويجتمع له ما كان من أمره متفرقاً.

- (ومن رأى) أن إبرته التي يخيط بها انكسرت أو انخرمت أو انتزعت منه فإنه يتفرق شأنه ويفسد أمره.

- (ومن رأى) أنها ضاعت منه أو سرقت فإنه يسرق على ذلك ثم لا يتم ولا يتفرق شأنه والإبرة أيضاً دالة على امرأة لإدخال الخيط فيها وكذلك المسلة فمن رأى أن بيده مسلة فإن كانت له امرأة حبلى ولدت له ابنة وإن لم يكن هناك حمل فإن ذلك سفر له والإبرة في الرؤيا رجل مؤلف وامرأة مؤلفة فإن رأى أنه يأكل إبرة فإنه يفضي سره إلى من يضره.

- (ومن رأى) أنه غرز إبرة في إنسان فإنه يطعن ويقع فيه من هو أقوى منه والإبرة سبب صلاح الأمر وكذلك لو كان اثنتين أو ثلاثة أو أربعة فما كان منها بخيط فإن تصديق التئام أمر صاحبها أقرب ومبلغ ذلك بقدر ما خاطبه وما كان من الإبر قليلاً يعمل به ويخيط خير من كثير لا يعمل منها وأسرع تصديقاً وإن خاطها ثياباً للناس فإنه ينصحهم ويسعى بالصلاح بينهم لأن النصاح هو الخياط في لغة العرب والإبرة المنصحة والخيط الناصح وإن خيط ثيابه استغنى إن كان فقيراً واجتمع شمله إن كان مبدداً وانصلح حاله إن كان فاسداً وأما إن كان رفي بها قطعاً فإنه يتوب من غيبة أو يستغفر من إثم إذا رفاه صحيحاً متقناً والاعتذار بالباطل وتاب من تبعته ولم يتحلل من صاحب الظلامة ومنه يقال في المثل من اغتاب فقد خرق ومن تاب فقد رفأ.

- (إبريق) تدل رؤيته في المنام على التوبة للعاصي والولد الذكر للحامل وربما دل على الغلام المطلع على الأسرار وجمع أباريق أعمال صالحة موجبة لدخول الجنة وربما دل الإبريق على السيف لأنه من أسمائه فإن غلت قيمته في المنام دل على رفع قدر من دل عليه ويدل الإبريق على اللعب والضحك والقهقهة وكذلك الحكم فيما يشبه من الأواني.

- (إسكاف) وهو أنواع أحدها صانع أخفاف النساء فتدل رؤيته على عاقد الأنكحة أو القواد وصانع أخفاف الرجال فهو دال على الخدم والأسفار وكذلك الزرابيل وصانع السراميذ تدل على الرزق والسعي في الكسب والأولاد والأزواج وعلى وضع الشيء في محله إذا فعل ذلك في المنام وربما دلت رؤيته على من يجري الخير على يديه من الدين والدنيا والإسكاف المجهول رجل قاسم المواريث عادل فيها وكذلك الصرم فإن جلود الحيوان مواريث والحذاء نخاس الجواري لتزين أمور النساء لأن النعل امرأة.

- (انشراح) الإنسان في المنام يدل على التوبة للعاصي وللكافر على إسلامه وإن كان الرائي في ضيق فرج عنه.

- (انقباض) الإنسان في المنام يدل على القبض في الرزق الذي هو ضد البسط وربما دل على الانقباض على نتائج الذنوب في اليقظة ونتيجتها في الدنيا.

- (إسراع) الإنسان في المنام يدل على إبطاء الحركات إلا أن يكون المسرع مريضاً فإنه يدل على موته وربما دل الإسراع في المنام على الإسراع على الأعمال الصالحة والمبادرة إليها هذا إن انتهى إسراعه إلى ما يدل على الخير وإن انتهى إسراعه إلى ما يدل على الشر دل على الردة عن الإسلام أو الإقدام على ما يندم عليه.

- (أرض) هي في المنام لها تأويل وكل أرض على حسبها وجوهرها فأرض المحشر رؤيتها في المنام دالة على حفظ الأسرار والغنى بعد الافتقار والأمن من الخوف وصدق الوعد وربما دلت على الزوجة الجليلة البكر الجميلة أو المنصب العظيم القليل الحظ وعلى الهدى والتوبة وكذلك إن رأى ظهر الحوت أو الثور الحامل للأرض ولم تتغير ولم تزل دل على أن الملك يخلع نفسه أو يخلع نائبه ولم تتغير أحوال العالم وأرض الدار عمارة عما يبسط فيها من حصير وبساط وغير ذلك أو على من يقوم بكنسها ومصلحتها أو من يجمع عليها من أهل وعشيرة فيما رئي فيها من صلاح أو فساد على من دلت عليه أما أرض الفلاحة فإنها دالة على زرعها وإنشائها وخصبها وجدتها وآلة حرثها ودرسها وفلاحها فما حصل فيها من نبت معتاد أو رائحة طيبة أو زهر أو نور أو ري أو سهل أو علو أو خشن عاد إلى من ذكرناه وأما أرض الحارة فإنها تدل على الأسفار للتجار وأرباب المعايش عليها كالمكارية والجمالين وأشباههم فزوال عقباتها وقلع حجارتها وبيان طرقها واستقامتها في المنام دليل على الربح للمسافر عليها وتسهيل أمورهم وزوال همهم وسرعة مراحلهم وأما الأرض المعروفة فإنها دالة على الحاكم عليها بإيجار أو إرث أو حفر فما حصل فيها من طول وقصر عن الحد المحدود عاد ذلك على الحاكم عليها ممن ذكرناه وأما الأرض المجهولة فإنها دالة على الأم والوالد والزوج والزوجة والشريك والأمين والوارثة على ما يملك من دار أو دابة
তাঁর অবস্থা সুসংহত হবে এবং তাঁর বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলো একত্রিত হবে।

- (যে ব্যক্তি দেখবে) যে সুঁই দিয়ে সে সেলাই করছে তা ভেঙে গেছে অথবা ছিদ্র হয়ে গেছে অথবা তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে তার অবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং তার কাজ পণ্ড হয়ে যাবে।

- (যে ব্যক্তি দেখবে) যে তা হারিয়ে গেছে বা চুরি হয়ে গেছে, তবে তার কিছু চুরি হবে কিন্তু তা পূর্ণ হবে না এবং তার অবস্থা বিচ্ছিন্ন হবে না। সুঁই দ্বারা নারীকেও বুঝানো হয় কারণ এতে সুতা প্রবেশ করানো হয়। একইভাবে বড় সুঁইও (মাসাল্লাহ)। যে ব্যক্তি দেখবে তার হাতে একটি বড় সুঁই রয়েছে, তবে তার স্ত্রী গর্ভবতী হলে তার একটি কন্যা সন্তান হবে, আর যদি গর্ভবতী না থাকে তবে তা তার সফরের ইঙ্গিত। স্বপ্নে সুঁই হলো এমন পুরুষ বা নারী যে লোকদের একত্রিত করে। যদি সে দেখে যে সে সুঁই খাচ্ছে, তবে সে এমন ব্যক্তির কাছে নিজের গোপন কথা ফাঁস করে দেবে যে তার ক্ষতি করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখবে) সে কাউকে সুঁই ফুটিয়েছে, তবে সে তাকে বিদ্ধ করবে (সমালোচনা করবে) এবং তার ওপর এমন কেউ চড়াও হবে যে তার চেয়ে শক্তিশালী। সুঁই হলো বিষয়াদি সংশোধনের উপকরণ। তেমনি দুই, তিন বা চারটি সুঁইয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা। যে সুঁইয়ে সুতা আছে, তা স্বপ্নে দেখা ব্যক্তির বিষয়াদি সুসংহত হওয়ার সম্ভাবনাকে অধিকতর নিকটবর্তী করে। সুঁইয়ের সংখ্যা যত বেশি হবে, তার সুসংহত হওয়ার মাত্রাও তত বেশি হবে। অল্প সংখ্যক সুঁই যা দিয়ে কাজ করা যায় এবং সেলাই করা যায়, তা কাজ না করা যায় এমন অনেক সুঁইয়ের চেয়ে উত্তম এবং এর ফলাফল দ্রুত প্রকাশ পায়। যদি সে মানুষের কাপড় সেলাই করে দেয়, তবে সে তাদের উপদেশ দেয় এবং তাদের মাঝে সন্ধি স্থাপনের চেষ্টা করে। কারণ আরবি ভাষায় 'নিসাহ' অর্থ হলো দর্জি, আর সুঁই হলো 'মুনসিহাহ' এবং সুতা হলো 'নাসিহ'। আর যদি সে নিজের কাপড় সেলাই করে, তবে সে দরিদ্র থাকলে সম্পদশালী হবে, বিচ্ছিন্ন থাকলে ঐক্যবদ্ধ হবে এবং পথভ্রষ্ট থাকলে সংশোধিত হবে। আর যদি সে তালি দেয়, তবে সে গীবত (পরনিন্দা) থেকে তওবা করবে অথবা পাপ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদি সে তালিটি সঠিকভাবে ও মজবুতভাবে লাগায়। আর যদি ভুলভাবে বা বাতিল পদ্ধতিতে ওজর পেশ করে তওবা করে, তবে সে মযলুমের (যার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে) কাছে ক্ষমা না চেয়েই তওবা করল। এ থেকেই প্রবাদে বলা হয়: "যে গীবত করল সে যেন ছিঁড়ে ফেলল, আর যে তওবা করল সে যেন তালি দিয়ে জোড়া দিল।"

- (পানির পাত্র/জগ) স্বপ্নে এটি দেখা পাপাচারীর জন্য তওবা এবং গর্ভবতী নারীর জন্য পুত্রসন্তানের লক্ষণ। কখনো এটি এমন বালকের ইঙ্গিত দেয় যে গোপন সংবাদ জানে। অনেকগুলো পানির পাত্র জান্নাতে প্রবেশের উপযোগী নেক আমল বুঝায়। কখনো পানির পাত্র তরবারিকেও বুঝায় কারণ এটি তরবারির একটি নাম। যদি স্বপ্নে এর মূল্য বৃদ্ধি পায়, তবে তা যার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তার মর্যাদা বৃদ্ধির পরিচয় দেয়। পানির পাত্র খেলাধুলা, হাসি এবং অট্টহাসিরও ইঙ্গিত দেয় এবং এর সদৃশ পাত্রগুলোর ক্ষেত্রেও একই হুকুম প্রযোজ্য।

- (মুচি/পাদুকা নির্মাতা) সে কয়েক প্রকারের হয়। প্রথমত, নারীদের জুতা প্রস্তুতকারক; তাকে দেখা বিবাহ বন্ধনকারী বা ঘটকের লক্ষণ। আর পুরুষদের জুতা প্রস্তুতকারক ভৃত্য ও সফরের ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে মোজা এবং অন্যান্য জুতা নির্মাতাদের দেখা রিযিক, উপার্জনের চেষ্টা, সন্তান ও স্ত্রীর লক্ষণ এবং স্বপ্নে তা করা হলে কোনো জিনিসকে তার সঠিক স্থানে রাখার ইঙ্গিত দেয়। কখনো তাকে দেখা এমন ব্যক্তির লক্ষণ যার হাতে দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ সাধিত হয়। অজ্ঞাত মুচি হলো এমন ব্যক্তি যে উত্তরাধিকার বণ্টন করে এবং তাতে ইনসাফ করে। চামড়া কাটাও অনুরূপ, কারণ পশুর চামড়া হলো উত্তরাধিকার সম্পদ। জুতা বিক্রেতা হলো দাসী ব্যবসায়ী যে নারীদের বিষয়াদি সজ্জিত করে, কারণ জুতা হলো নারীর প্রতীক।

- (বক্ষ প্রশান্তি) স্বপ্নে মানুষের বক্ষ প্রশান্তি লাভ করা পাপাচারীর জন্য তওবা এবং কাফেরের জন্য ইসলাম গ্রহণের লক্ষণ। আর স্বপ্নদ্রষ্টা যদি সংকটে থাকে তবে সে তা থেকে মুক্তি পাবে।

- (সংকোচন/মনমরা ভাব) স্বপ্নে মানুষের সংকুচিত হওয়া রিযিকের সংকীর্ণতার লক্ষণ যা প্রশস্ততার বিপরীত। কখনো এটি জাগ্রত অবস্থায় পাপের পরিণতির কারণে সংকীর্ণতা এবং দুনিয়াতে এর কুফলের ইঙ্গিত দেয়।

- (দ্রুততা) স্বপ্নে মানুষের দ্রুত চলা নড়াচড়া ধীর গতির হওয়ার লক্ষণ, তবে দ্রুতগামী ব্যক্তি যদি অসুস্থ হয় তবে তা তার মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়। কখনো স্বপ্নে দ্রুত চলা নেক আমলের দিকে দ্রুত ধাবিত হওয়া এবং তাতে অগ্রগামী হওয়ার লক্ষণ, যদি তার সেই দ্রুততা শেষ পর্যন্ত কল্যাণের দিকে নিয়ে যায়। আর যদি তার দ্রুততা অকল্যাণের দিকে ধাবিত করে তবে তা ইসলাম থেকে বিচ্যুত হওয়া বা এমন কাজ করার ইঙ্গিত দেয় যার জন্য লজ্জিত হতে হবে।

- (পৃথিবী/ভূমি) স্বপ্নে এর নানাবিধ ব্যাখ্যা রয়েছে এবং প্রতিটি ভূমির ব্যাখ্যা তার ধরন ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী হয়। হাশরের ময়দান বা ভূমি স্বপ্নে দেখা গোপন কথা সংরক্ষণ করা, দারিদ্র্যের পর সচ্ছলতা, ভয় থেকে নিরাপত্তা এবং প্রতিশ্রুতি সত্য হওয়ার লক্ষণ। কখনো এটি মহানুভব, সুন্দরী ও কুমারী স্ত্রী অথবা এমন উচ্চপদ যার ভাগ্য অল্প, কিংবা হিদায়াত ও তওবার ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে যদি কেউ মাছের পিঠ বা ষাঁড়কে দেখে যে পৃথিবীকে ধারণ করে আছে এবং তা পরিবর্তিত বা বিচ্যুত হয়নি, তবে তা নির্দেশ করে যে রাজা নিজেকে পদচ্যুত করবেন অথবা তার প্রতিনিধিকে পদচ্যুত করবেন কিন্তু জগতের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। ঘরের ভূমি হলো ঘর সাজানোর আসবাবপত্র যেমন পাটি, গালিচা ইত্যাদি যা সেখানে বিছানো থাকে, অথবা যিনি তা ঝাড়ু দেন ও দেখাশোনা করেন তার প্রতীক, অথবা সেখানে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের একত্রিত হওয়ার লক্ষণ; সেখানে ভালো বা মন্দ যা দেখা যাবে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর বর্তাবে। আর কৃষিভূমি তার ফসল, উৎপাদন, উর্বরতা, সতেজতা, লাঙল ও চাষাবাদের সরঞ্জামের ইঙ্গিত দেয়। সেখানে স্বাভাবিক উদ্ভিদ, সুগন্ধি, ফুল, আলো, সেচ, সমতলতা, উচ্চতা বা রুক্ষতা যা-ই দেখা যাক, তা উল্লিখিত বিষয়গুলোর দিকেই ফিরে যাবে। মরুভূমি বা উত্তপ্ত ভূমি ব্যবসায়ী ও জীবিকা অন্বেষণকারীদের যেমন কুলি ও উটচালকদের সফরের ইঙ্গিত দেয়। সেখানে বাধার অপসারণ, পাথর দূর করা এবং রাস্তা স্পষ্ট ও সোজা হওয়া স্বপ্নে দেখার অর্থ হলো ভ্রমণকারীর মুনাফা অর্জন, কাজ সহজ হওয়া, দুশ্চিন্তা দূর হওয়া এবং দ্রুত মঞ্জিল অতিক্রম করা। আর পরিচিত ভূমি তার ওপর কর্তৃত্বকারী শাসকের ইঙ্গিত দেয়, তা ভাড়া, উত্তরাধিকার বা খনন যে মাধ্যমেই হোক। সেখানে সীমার চেয়ে দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত যা কিছু ঘটবে তা সেই শাসকের ওপরই বর্তাবে। আর অপরিচিত ভূমি হলো মা, বাবা, স্বামী, স্ত্রী, অংশীদার, বিশ্বস্ত ব্যক্তি এবং ঘর বা পশু যা সে অধিকার করে আছে তার উত্তরাধিকারের ইঙ্গিত বহন করে।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ২১)
أو أمة وعلى ما يجلس عليه من فراش أو غيره وتدل الأرض على دور الزناة والفسقة واللهو واللعب والأرض امرأة نمامة لا تكتم سراً وتدل الأرض على الجدل أو العلم أو الفصاحة وتدل على الدنيا والسماء على الآخرة وربما دلت الأرض والسماء على الضرتين اللتين لا يستطيع أحد أن يجمع بينهما غير الله تعالى فإن رأى أن الأرض تشققت دل على البدل وإظهار المحرمات والمنكرات وربما دل تشققها على جودتها بالنمو والبركة وطول الأرض ومدها عن عادتها دليل على خلاص المسجون وولادة الحامل وامتدادها عن عاداتها رزق فإن رأى أنه ملك أرضاً مرداء تزوج امرأة فقيرة أو عقيماً لأن المرداء الخالية من النبات وربما دلت الأرض على ملك لدى السلطان أو الموت والحياة والرزق وعلى من يعمل عليها أي أنه ملك أرضاً تزوج إن كان أعزب ورزق ولداً أو شارك شريكاً أو ائتمن إنساناً على ماله وسره أو ورث وراثة أو استأجر دارا أو ابتاعها أو اشترى دابة أو أمة أو اشترى عصيراً كل إنسان على قدره وما يليق به وإن لاق به الملك وإن كان الرائي مريضاً أفاق من مرضه وقام لأرضه ورزقه وإن كانت الأرض فسيحة حسنة المنظر كان عمله عليها صالحاً وإن كان عليها جيف أو رمم بالية أو أقذار كان ما عمله عليها شيئاً فإن حدثته الأرض أو سمع منها كلاماً ما لا يفهمه دل على الشدة والأراجيف وهتك الأستار فإن رأى أن الأرض زلزلت به ربما دلت تلك على وضع الحامل جنينها فإن رأى الأرض خسفت بمن عليها دل على التيه والعجب والغفلة عن طاعة الله تعالى فإن طويت الأرض من تحته دل على فراغ عمله أو طلاق زوجته أو ذهاب منصبه فإن استحالت الأرض إلى حفر أو حديد أو حجر ربما تعذر حمل زوجته أو انتقل إلى صنعة غير صنعته وربما رزق مالاً من كسبه أو وجد معدناً فإن رأى أرضاً في المنام ارتفع قدره عند الناس أو تبتل للرياضة وكسر النفس فإن حمل الأرض ولا يجد لها ثقلاً دل على ظلم غيره في أرضه وعلى أنه يطوقها في عنقه أو على أن يصير جباراً يثير الأرض وينقلها على كتفه ويعان على ذلك وربما صار حضرياً أو نطاعاً فإن أكل الأرض دل على أنه ينال من سعيه عليها فائدته أو عاد عليه من زرعه عليها فائدة وربما باع ما يجلس عليه أو يركبه أو يطؤه ويأكل ثمنه فإن رأى أن الأرض انشقت وابتلعته دل على الخجل وتعذر الأسباب وربما سافر ويسجن أو صار ممنوناً ومن رأى أنه في أرض واسعة مستوية لا يعرفها وهي تشبه الصحراء فإنه يسافر سفراً عاجلاً.

- (ومن رأى) أنه يجلس على الأرض فإنه يتمكن منها ويعلو عليها.

- (ومن رأى) أنه يضرب الأرض بيده أو بشيء فإنه يسافر للتجارة.

- (ومن رأى) أنه يأكل من الأرض فإنه يصيب مالاً بقدر ما أكل منها.

- (ومن رأى) أنه خرج من أرض جدبة إلى أرض خصبة فإنه ينتقل من بدعة إلى سنة وإن خرج من أرض خصبة إلى جدبة فإنه بضد ذلك وإن رأى مؤمل سفر أنه يخرج من أرض إلى أرض فإنه يسافر ويكون حاله في سفره على قدر حال تلك الأرض من سعة أو ضيق أو خصب أو جدب وإن رأى ذلك عامل بلد عزل عنه وإن كانت عنده جارية باعها أو امرأة طلقها أو تزوج أخرى عليها.

- (ومن رأى) أنه باع أرضاً وخرج عنها إلى غيرها فإن كان مريضاً مات وإن كان غنياً افتقر.

- (ومن رأى) أنه زلق على الأرض أو ينفض يده من التراب يفتقر وإن كان مريضاً مات وصار إلى التراب.

- (ومن رأى أنه يغيب في الأرض ولم ير هناك حفرة فإن ذلك سفر في طلب الدنيا ويموت فيه.

- (ومن رأى) أن الأرض طويت له فإنه يموت سريعاً.

- (ومن رأى) أنها تشمرت له فإنها طول حياته.

- (ومن رأى) أنه يمشي من أرض متوالياً جائياً وذاهباً طاف على امرأته أو جاريته أو دوام السفر من أرض إلى أرض.

- (ومن رأى) أن الأرض ابتلعته وخسفت به فإن كان من أهل الشر فإنه عقوبة تنزل به أو سفر بعيد أو يخاف أن لا يرجى.

- (ومن رأى) أن الأرض ابتلعته من غير خسف فإنه مسافر سفراً بعيداً.

- (ومن رأى) أن الأرض تزلزلت وأصابها خسف فإن ذلك بلاء ينزل بتلك الأرض من سلطانها أو حر أو برد أو قحط أو خوف شديد.

- (ومن رأى) أن الأرض انشقت وخرج منها دابة تكلم الناس فإنه يرى شيئاً يتعجب منه وربما دل على قرب أجله وربما كان آية عظيمة عامة تظهر للناس ليعتبروا والأرض تدل على الدنيا من ملكها على قدر اتساعها وكبرها وضيقها وصغرها وتدل الأرض المعروفة على المدينة التي هو فيها وعلى أهلها وسكانها وإن رأى كأن الأرض انشقت فخرج منها شاب ظهر بين أهلها عداوة فإن خرج شيخ سعد جدهم ونالوا خصباً وإن انشقت ولم يخرج منها شيء ولم يدخل فيها شيء حدث في الأرض حادث شر فإن خرج منها سبع دل على ظهور سلطان ظالم فإن خرج منها حية فهي عذاب باق في تلك الناحية فإن انشقت الأرض بالنبات نال أهلها خصباً فإن رأى أنه يحفر الأرض ويأكل منها نال مالاً بمكر لأن الحفر مكر ومن تولى طي الأرض بيده
অথবা দাসী এবং সে যা কিছুর ওপর বসে, যেমন বিছানা বা অন্য কিছু। জমিন ব্যভিচারী, পাপাচারী এবং আমোদ-প্রমোদে লিপ্তদের আবাসস্থলের দিকে ইঙ্গিত করে। জমিন এমন এক পরনিন্দাকারী নারী যে কোনো গোপন কথা গোপন রাখে না। জমিন বিতর্ক, জ্ঞান বা বাগ্মিতারও দলিল। এটি দুনিয়াকে এবং আকাশ আখেরাতকে নির্দেশ করে। কখনও কখনও জমিন ও আকাশ দুই সতীনের ইঙ্গিত দেয়, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কেউ একত্রিত করতে সক্ষম নয়। যদি কেউ দেখে যে জমিন বিদীর্ণ হয়েছে, তবে তা (ফসল বা নিআমত) পরিবর্তন হওয়া এবং হারাম ও মন্দ কাজ প্রকাশ পাওয়ার প্রমাণ। কখনও কখনও জমিন বিদীর্ণ হওয়া এর উর্বরতা, বরকত ও বৃদ্ধির দলিল। জমিনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পাওয়া এবং স্বাভাবিকের চেয়ে প্রসারিত হওয়া কয়েদীর মুক্তি, গর্ভবতীর সন্তান প্রসব এবং প্রশস্ত হওয়া রিযিকের লক্ষণ। যদি কেউ দেখে যে সে কোনো অনুর্বর ভূমির মালিক হয়েছে, তবে সে কোনো দরিদ্র বা বন্ধ্যা নারীকে বিবাহ করবে; কারণ অনুর্বর জমি উদ্ভিদশূন্য থাকে। কখনও কখনও জমিন সুলতানের রাজত্ব, মৃত্যু, জীবন ও রিযিকের দলিল। যে ব্যক্তি জমিনে কাজ করে, যদি সে অবিবাহিত হয় তবে সে জমিনের মালিক হওয়ার অর্থ সে বিবাহ করবে এবং সন্তান লাভ করবে, অথবা কোনো অংশীদারের সাথে শরিক হবে, অথবা কোনো মানুষকে তার সম্পদ ও গোপন বিষয়ের আমানতদার বানাবে, অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু লাভ করবে, অথবা কোনো ঘর ভাড়া নেবে বা ক্রয় করবে, কিংবা কোনো চতুষ্পদ জন্তু বা দাসী ক্রয় করবে, অথবা ফলের রস ক্রয় করবে—প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা ও যোগ্যতা অনুযায়ী। আর যদি স্বপ্নদ্রষ্টা বাদশাহ হওয়ার উপযুক্ত হয় তবে সে তা লাভ করবে। স্বপ্নদ্রষ্টা যদি অসুস্থ হয়, তবে সে রোগমুক্ত হবে এবং নিজের জমিন ও রিযিকের দিকে মনোনিবেশ করবে। যদি জমিন প্রশস্ত ও সুন্দর দেখায়, তবে তাতে তার কর্ম সৎ হবে। আর যদি তাতে মৃতদেহ, পচা হাড় বা ময়লা-আবর্জনা থাকে, তবে সেখানে তার কর্ম মন্দ কিছু হবে। যদি জমিন তার সাথে কথা বলে অথবা সে জমিন থেকে এমন কথা শোনে যা সে বুঝতে পারছে না, তবে তা কঠোরতা, গুজব এবং গোপন বিষয় প্রকাশের ইঙ্গিত দেয়। যদি কেউ দেখে যে জমিন তাকে নিয়ে প্রকম্পিত হয়েছে, তবে তা গর্ভবতীর গর্ভপাতের ইঙ্গিত হতে পারে। যদি দেখে যে জমিন তার অধিবাসীসহ ধসে গেছে, তবে তা পথভ্রষ্টতা, অহংকার এবং আল্লাহ তাআলার আনুগত্যে গাফেলতির প্রমাণ। যদি তার নিচ থেকে জমিন গুটিয়ে নেওয়া হয়, তবে তা তার কর্ম সমাপ্ত হওয়া, স্ত্রীকে তালাক দেওয়া বা পদমর্যাদা চলে যাওয়ার দলিল। যদি জমিন গর্ত, লোহা বা পাথরে রূপান্তরিত হয়, তবে তার স্ত্রীর গর্ভধারণ অসম্ভব হতে পারে অথবা সে তার পেশা পরিবর্তন করবে, অথবা তার উপার্জনকে সম্পদে পরিণত করবে কিংবা কোনো খনিজ সম্পদ খুঁজে পাবে। যদি স্বপ্নে জমিন দেখে, তবে মানুষের কাছে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে অথবা সে কৃচ্ছ্রসাধন ও নফস দমনের দিকে ধাবিত হবে। যদি সে জমিন বহন করে এবং তার ভার অনুভব না করে, তবে তা অন্যের জমিনের ওপর জুলুম করা এবং সেই জমিন তার গলায় লটকে দেওয়ার অথবা তার প্রতাপশালী হওয়ার দলিল, যে জমিনকে কর্ষণ করে ও তা নিজের কাঁধে স্থানান্তর করে এবং এতে তাকে সাহায্য করা হয়; কখনও সে স্থায়ী বাসিন্দা বা চর্মকার হবে। যদি সে জমিন ভক্ষণ করে, তবে সে জমিনে তার প্রচেষ্টা থেকে উপকৃত হবে অথবা তার ফসল থেকে ফায়দা লাভ করবে। কখনও কখনও সে তার বসার জায়গা, বাহন বা পদাঘাতের স্থান বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করবে। যদি দেখে যে জমিন ফেটে তাকে গিলে ফেলেছে, তবে তা লজ্জা ও উপায়-উপকরণ রুদ্ধ হওয়ার দলিল; কখনও সে সফর করবে এবং কারারুদ্ধ হবে অথবা ঋণী হবে। যে ব্যক্তি নিজেকে কোনো অজানা প্রশস্ত সমতল ভূমিতে দেখবে যা মরুভূমির মতো, তবে সে দ্রুতই সফরে বের হবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে সে জমিনের ওপর বসে আছে, তবে সে তাতে সামর্থ্যবান হবে এবং তার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে সে হাত দিয়ে বা অন্য কিছু দিয়ে জমিনে আঘাত করছে, তবে সে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সফর করবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে সে জমিন থেকে কিছু খাচ্ছে, তবে সে যতটুকু খেয়েছে সেই পরিমাণ সম্পদ লাভ করবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে সে অনুর্বর ভূমি থেকে উর্বর ভূমির দিকে যাচ্ছে, তবে সে বিদআত থেকে সুন্নাহর দিকে ফিরে আসবে। আর যদি উর্বর ভূমি থেকে অনুর্বর ভূমির দিকে যায়, তবে বিষয়টি এর বিপরীত হবে। যদি সফরের প্রত্যাশী কোনো ব্যক্তি দেখে যে সে এক জমিন থেকে অন্য জমিনে যাচ্ছে, তবে সে সফর করবে এবং তার সফরের অবস্থা সেই জমিনের প্রশস্ততা, সংকীর্ণতা, উর্বরতা বা অনুর্বরতার ওপর নির্ভর করবে। যদি কোনো অঞ্চলের প্রশাসক এমনটি দেখে, তবে তাকে পদচ্যুত করা হবে। আর যদি তার কোনো দাসী থাকে তবে সে তাকে বিক্রি করে দেবে, অথবা স্ত্রীকে তালাক দেবে কিংবা তার ওপর অন্য একজনকে বিবাহ করবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে সে জমিন বিক্রি করে অন্য জমিনের দিকে চলে গেছে, তবে সে অসুস্থ থাকলে মারা যাবে এবং ধনী থাকলে দরিদ্র হয়ে পড়বে।

- (কেউ যদি দেখে) যে সে জমিনে পিছলে পড়েছে অথবা হাত থেকে মাটি ঝেড়ে ফেলছে, তবে সে দরিদ্র হবে। আর যদি সে অসুস্থ হয় তবে মারা যাবে এবং মাটিতে মিশে যাবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে সে জমিনে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সেখানে কোনো গর্ত নেই, তবে তা দুনিয়া অন্বেষণে সফর করার দলিল এবং সে তাতেই মৃত্যুবরণ করবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে জমিন তার জন্য গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে সে দ্রুত মৃত্যুবরণ করবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে জমিন তার জন্য সংকুচিত হয়েছে, তবে তা তার দীর্ঘ জীবনের ইঙ্গিত।

- (কেউ যদি দেখে) যে সে বারবার এক জমিন থেকে অন্য জমিনে আসা-যাওয়া করছে, তবে সে তার স্ত্রী বা দাসীর সাথে সঙ্গম করবে অথবা দেশ থেকে দেশান্তরে নিরবচ্ছিন্নভাবে সফর করবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে জমিন তাকে গিলে ফেলেছে এবং ধসে গেছে, আর সে যদি মন্দ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা তার ওপর অবতীর্ণ কোনো শাস্তি, অথবা দীর্ঘ সফর কিংবা এমন ভয়ের বিষয় যার আশা করা যায় না।

- (কেউ যদি দেখে) যে ধসে যাওয়া ছাড়াই জমিন তাকে গিলে ফেলেছে, তবে সে দীর্ঘ সফরে বের হবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে জমিন প্রকম্পিত হয়েছে এবং ভূমিধস হয়েছে, তবে সুলতানের পক্ষ থেকে সেই জমিনে কোনো বালা-মুসিবত, অথবা প্রচণ্ড গরম, শীত, দুর্ভিক্ষ কিংবা চরম ভয় নেমে আসবে।

- (কেউ যদি দেখে) যে জমিন বিদীর্ণ হয়েছে এবং সেখান থেকে কোনো জীব বের হয়ে মানুষের সাথে কথা বলছে, তবে সে এমন কিছু দেখবে যা তাকে আশ্চর্যান্বিত করবে; কখনও এটি তার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার দলিল হতে পারে। অথবা এটি কোনো বড় নিদর্শন হতে পারে যা মানুষের জন্য উপদেশস্বরূপ প্রকাশ পাবে। জমিন দুনিয়ার পরিচয় বহন করে; যে এর মালিক হয়েছে সে জমিনের প্রশস্ততা, বিশালতা, সংকীর্ণতা বা ক্ষুদ্রতা অনুযায়ী দুনিয়া লাভ করবে। পরিচিত জমিন সেই শহর এবং তার অধিবাসীদের নির্দেশ করে যেখানে সে অবস্থান করছে। যদি দেখে যে জমিন বিদীর্ণ হয়ে সেখান থেকে একজন যুবক বের হয়েছে, তবে তার অধিবাসীদের মধ্যে শত্রুতা প্রকাশ পাবে। যদি কোনো বৃদ্ধ বের হয়, তবে তাদের সৌভাগ্য বৃদ্ধি পাবে এবং তারা সচ্ছলতা লাভ করবে। যদি বিদীর্ণ হয় কিন্তু সেখান থেকে কিছু বের না হয় এবং তাতে কিছু প্রবেশও না করে, তবে সেই জমিনে কোনো মন্দ ঘটনা ঘটবে। যদি সেখান থেকে কোনো হিংস্র প্রাণী বের হয়, তবে তা কোনো জালেম সুলতানের আবির্ভাবের দলিল। যদি সেখান থেকে সাপ বের হয়, তবে তা সেই অঞ্চলে স্থায়ী আজাবের ইঙ্গিত। যদি জমিন উদ্ভিদসহ বিদীর্ণ হয়, তবে অধিবাসীরা সচ্ছলতা লাভ করবে। যদি দেখে যে সে জমিন খনন করছে এবং তা থেকে ভক্ষণ করছে, তবে সে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ লাভ করবে; কারণ খনন করা হলো প্রতারণা। যে ব্যক্তি নিজের হাতে জমিন গুটিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নিল...
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ২২)
نال ملكاً وقيل إن طي الأرض لمن أصابه ميراث وضيق الأرض ضيق المعيشة ومن كلمته الأرض بالخير نال في الدنيا والدين ومن كلمته بكلام توبيخ فليتق الله فإنه مال حرام فإن رأى محلة أو أرضاً طويت على الناس فإنه يقع هناك موت أو قتال يموت فيه أقوام بقدر الذي طويت عليه أو ينالهم ضيق أو قحط أو شدة.

- (أهرام مصر وغيرها) رؤيتها في المنام دالة على الأخبار الغريبة من الأمم السالفة والمواعظ والفكر وربما دلت رؤيتها على التزوج للأعزب بأهل الشرك أو الأعجاز أو معاشرة أولئك أو التمذهب بمذاهب أهل البدعة أو الاهتمام بطلب الفنون أو العلوم الدراسية وربما دلت رؤية ذلك على العمر الطويل وعلى مواضع اللهو واللعب والمعازف والرقص والخمور وأماكن التصوير كالكنائس أو مواضع الرقم والنسج والحياكة.

- (أتون الكاس) في المنام يدل على نائب الملك الذي يجبي إليه الأموال وهو يتصرف فيها لملكه والأتون من الإيتان والأتون أمر جليل على كل حال سرور فمن رأى أنه يبني أتوناً فإنه ينال ولاية وسلطاناً فإذا لم يكن متجملاً فإنه كان يشغل الناس بشيء عظيم.

- (إيوان) في المنام إذا كان كسروياً فهو ظهور عدل أو تجديد ملك ويدل على المال والولد والجاه والإيوان إذا كان مبنياً من اللبن فهو امرأة قروية صاحبة دين وبالجص دنيا محدودة وبالآجر مال حرام يصير إليه وقيل امرأة منافقة.

- (آجر) هو في المنام رجل جليل فيه وربما كان من نسل المجوس.

- (اسطوانة) من خشب أو طين أو جص فهي في المنام قيم دار أو خادم أهل الدار أو حامل ثقلهم ومؤنتهم ويقوى على ما يكلفوه فيما يحدث فيها ففي ذلك الذي نسب إليه.

- (أترج) الأترجة في المنام دالة على المرأة المباركة ذات الأولاد أو العصبات الأشراف وربما دلت على الرجل المؤمن أو القارئ القرآن وتدل على العلم والعمل والثناء الجميل وربما دلت الأترجة على الألفة والمحبة وقيل الواحدة ولد والكثير شيء طيب ومنهم من كرهها وعبرها بالمعنى وقال أنها تدل على النفاق لأن ظاهرها مخالف لباطنها والأترجة الخضراء تدل على خصب السنة وصحة جسم صاحب الرؤيا إذا اقتطفها والأترجة الصفراء خصب السنة مع مريض وقيل الأترج امرأة عجمية شريفة غنية فإن رأى كأنها قطعها نصفين رزق منها بنتاً وابناً يكثر مرضهما فإن رأت امرأة في منامها كأن على رأسها إكليلاً من شجرة الأترج تزوجها رجل حسن الذكر والدين فإن رأت في حجرها أترجة ولدت ابناً مباركاً فإن رأى رجل كأن امرأة أعطته أترجة ولدت له ابناً ورمي الرجل لآخر أترجة يدل على طلب مصاهرة وربما كانت الأترجة الواحدة دولة فإن أكله وكان حلواً كان مالاً مجموعاً وإن كان حامضاً فهو يسير.

- (أجاص) في وقته رزق أو غائب جاء أو يجيء وفي غير وقته مرض أو هم فإن رأى مريض أنه يأكل أجاصاً فإنه يبرأ.

- (آس) تدل رؤيته في المنام للمريض على الصحة واعتدال القوام وستر الوجه بالشعر أو القد بالكسوة وربما دل على قطع الإياس مما يرجو تحصيله وهو المرسين وقيل هو رجل واف بالعهود فمن رأى على رأسه إكليلاً من آس رجلاً كان أو امرأة فهو زوج يدوم بقاؤه أو امرأة باقية وكذلك شمه ومن رآه فهو خير باق فإن رأى أنه يغرس آساً فإنه يعمل الأمور بالتدبير والآس ودباق عمارة باقية ولاية وفرج باق وقد يدل الآس على المال.

- (أقحوان) في المنام صديق لمن أخذ منه شيئاً وقيل امرأة جميلة فمن رأى أنه التقط أقحواناً من سفح جبل فإن الملك يعطيه جارية وقيل الأقحوان يد على قرابة امرأة صاحب الرؤيا.

- (أرجوان) هو في المنام امرأة عفيفة فمن التقطه قبل امرأة غنية حسنة لها خطاب كثيرون وأقرباء جمة.

- (أقاح) في المنام يدل على ذات الحسن والجمال.

- (ازادرخت) رؤيته في المنام تدل على رجل حسن الثناء لحسن زهره.
তিনি রাজত্ব লাভ করবেন। বলা হয়ে থাকে যে, জমিন গুটিয়ে যাওয়া সেই ব্যক্তির জন্য যে উত্তরাধিকার লাভ করেছে। জমিনের সংকীর্ণতা হলো জীবিকার সংকীর্ণতা। আর যার সাথে জমিন কল্যাণের কথা বলে, সে দুনিয়া ও দ্বীনে কল্যাণ লাভ করবে। আর যার সাথে জমিন তিরস্কারের সুরে কথা বলে, সে যেন আল্লাহকে ভয় করে; কেননা তা হারাম সম্পদ। যদি কেউ দেখে যে কোনো এলাকা বা ভূখণ্ড মানুষের ওপর গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে সেখানে মৃত্যু বা যুদ্ধ সংঘটিত হবে যেখানে গুটিয়ে যাওয়ার পরিমাণ অনুযায়ী মানুষ মারা যাবে, অথবা তাদের ওপর সংকীর্ণতা, দুর্ভিক্ষ বা কঠোর বিপদ আপতিত হবে।

- (মিসরের পিরামিড ও অন্যান্য) স্বপ্নে এগুলো দেখা অতীত জাতিসমূহের অদ্ভুত সংবাদ, উপদেশ এবং চিন্তার পরিচায়ক। কখনও এগুলো দেখা অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য মুশরিকদের সাথে বা বয়স্ক নারীদের সাথে বিবাহ, অথবা তাদের সাথে মেলামেশা, অথবা বিদআতিদের মতবাদ গ্রহণ, অথবা বিভিন্ন শিল্পকলা ও পাঠ্যবিদ্যা অর্জনে মনোযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। কখনও এটি দীর্ঘ আয়ু এবং আমোদ-প্রমোদ, খেলাধুলা, বাদ্যযন্ত্র, নাচ, মদ এবং গির্জার মতো প্রতিকৃতি নির্মাণের স্থান অথবা সূচিশিল্প ও বুনন কাজের স্থানের ওপরও দলিল করে।

- (চুনাপাথর পোড়ানোর চুল্লি) স্বপ্নে এটি বাদশাহর এমন প্রতিনিধির ওপর দলিল করে যিনি সম্পদ সংগ্রহ করেন এবং তা বাদশাহর কাজে ব্যয় করেন। 'আতূন' শব্দটি 'ইত্যান' (আসা) থেকে নির্গত। চুল্লি সর্বাবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আনন্দের বার্তাবাহক। যে ব্যক্তি দেখে যে সে চুল্লি নির্মাণ করছে, সে নেতৃত্ব ও ক্ষমতা লাভ করবে। আর যদি সে তাতে সুশোভিত না হয়, তবে সে মানুষকে কোনো বড় কাজে ব্যস্ত রাখবে।

- (রাজকীয় বারান্দা বা আইওয়ান) স্বপ্নে যদি এটি পারস্য সম্রাট কসরুর মতো হয়, তবে তা ন্যায়বিচার প্রকাশ পাওয়া বা রাজত্বের নবায়নের লক্ষণ। এটি সম্পদ, সন্তান ও মর্যাদার ওপরও দলিল করে। আর আইওয়ান যদি কাঁচা ইট দিয়ে নির্মিত হয়, তবে তা দ্বীনদার গ্রাম্য নারীর প্রতীক। পলেস্তারা বা জিপসাম দিয়ে তৈরি হলে তা সীমিত পার্থিব জীবন এবং পোড়া ইট (পাকা ইট) দিয়ে তৈরি হলে তা হারাম সম্পদের ইঙ্গিত দেয় যা তার হাতে আসবে। কেউ কেউ বলেন, এটি মুনাফিক নারীর প্রতীক।

- (পোড়া ইট) স্বপ্নে এটি এমন এক মহান ব্যক্তি যার মধ্যে মহত্ত্ব রয়েছে, তবে সম্ভবত সে অগ্নিপূজকদের বংশোদ্ভূত।

- (খাম্বা বা স্তম্ভ) কাঠ, কাদা বা প্লাস্টার দিয়ে তৈরি স্তম্ভ স্বপ্নে ঘরের তত্ত্বাবধায়ক, গৃহবাসীর সেবক অথবা তাদের ভারী বোঝা ও খরচ বহনকারীর প্রতীক। তাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয় তা পালনে সে শক্তিশালী হয়।

- (বাতাবি লেবু বা সাইট্রন) স্বপ্নে এটি বরকতময় নারী, যার অনেক সন্তান বা সম্ভ্রান্ত আত্মীয় রয়েছে তার ওপর দলিল করে। কখনও এটি মুমিন ব্যক্তি বা কুরআন পাঠকারীর ওপর দলিল করে। এটি ইলম, আমল এবং সুন্দর প্রশংসারও পরিচায়ক। কখনও এটি হৃদ্যতা ও ভালোবাসার অর্থ দেয়। বলা হয়ে থাকে, একটি ফল মানে সন্তান আর অনেকগুলো ফল উত্তম কোনো কিছু। কেউ কেউ একে অপছন্দ করেছেন এবং শাব্দিক অর্থে ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে এটি নিফাক বা মুনাফেকির লক্ষণ, কারণ এর বাইরের অংশ ভেতরের অংশের বিপরীত। সবুজ বাতাবি লেবু বছরের সচ্ছলতা এবং ফলটি ছিঁড়লে স্বপ্নদ্রষ্টার সুস্থ শরীরের ইঙ্গিত দেয়। হলুদ বাতাবি লেবু অসুস্থতা সত্ত্বেও বছরের সচ্ছলতার প্রতীক। কেউ কেউ বলেন, এটি একজন অনারব সম্ভ্রান্ত ও ধনী নারী। যদি দেখা যায় যে সে ফলটিকে দুই ভাগে কাটছে, তবে সে ওই নারী থেকে একটি কন্যা ও একটি পুত্র সন্তান লাভ করবে যারা প্রায়ই অসুস্থ থাকবে। যদি কোনো নারী স্বপ্নে দেখে যে তার মাথায় বাতাবি লেবুর গাছের মুকুট রয়েছে, তবে তাকে এমন এক ব্যক্তি বিবাহ করবে যার সুনাম ও দ্বীনদারি রয়েছে। সে যদি তার কোলে একটি ফল দেখে, তবে সে এক বরকতময় পুত্র সন্তান প্রসব করবে। যদি কোনো পুরুষ দেখে যে কোনো নারী তাকে ফলটি দিচ্ছে, তবে তার একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেবে। একজনের দিকে অন্যজনের ফল ছুড়ে মারা বৈবাহিক সম্পর্কের প্রস্তাবের ইঙ্গিত দেয়। কখনও একটি ফল কোনো রাষ্ট্রের প্রতীক হতে পারে। যদি সে ফলটি খায় এবং তা মিষ্টি হয়, তবে তা জমাকৃত সম্পদ; আর যদি টক হয়, তবে তা সামান্য সম্পদ।

- (নাশপাতি) মৌসুমের সময় এটি রিজিক অথবা কোনো অনুপস্থিত ব্যক্তির আগমন বা আসার সংবাদের ইঙ্গিত দেয়। আর অসময়ে এটি রোগ বা উদ্বেগের লক্ষণ। কোনো অসুস্থ ব্যক্তি যদি দেখে যে সে নাশপাতি খাচ্ছে, তবে সে আরোগ্য লাভ করবে।

- (সুগন্ধি গুল্ম বা আস) অসুস্থ ব্যক্তির স্বপ্নে এটি দেখা সুস্বাস্থ্য, শারীরিক গঠন ঠিক হওয়া এবং চুল দিয়ে মুখ ঢাকা বা পোশাক দিয়ে শরীর ঢাকার দলিল। কখনও এটি কাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভের ব্যাপারে নিরাশা দূর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। কেউ কেউ বলেন, এটি অঙ্গীকার পূরণকারী এক ব্যক্তি। পুরুষ বা নারী যে কেউ যদি নিজের মাথায় এই গুল্মের মুকুট দেখে, তবে তা এমন স্বামী বা স্ত্রীর প্রতীক যার সাথে দীর্ঘকাল সংসার হবে। এর ঘ্রাণ নেওয়াও একই অর্থ বহন করে। যে এটি দেখে, তা দীর্ঘস্থায়ী কল্যাণের প্রতীক। যদি সে দেখে যে সে এটি রোপণ করছে, তবে সে বিচক্ষণতার সাথে কাজ করবে। এটি দীর্ঘস্থায়ী আবাদ, স্থায়ী ক্ষমতা ও স্থায়ী স্বস্তির পরিচায়ক। কখনও এটি সম্পদের ওপরও দলিল করে।

- (চন্দ্রমল্লিকা বা ক্যামোমিল) স্বপ্নে এটি এমন বন্ধুর প্রতীক যার কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করা হয়। কেউ কেউ বলেন, এটি সুন্দরী নারী। যে ব্যক্তি পাহাড়ের পাদদেশ থেকে এটি কুড়াতে দেখে, বাদশাহ তাকে এক দাসী প্রদান করবেন। আরও বলা হয় যে, এটি স্বপ্নদ্রষ্টার স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনের পরিচায়ক।

- (আর্জুয়ান বা বেগুনি রঙের ফুল) স্বপ্নে এটি সচ্চরিত্রা নারী। যে ব্যক্তি এটি কুড়ায়, সে এমন এক ধনী ও সুন্দরী নারীকে চুম্বন করবে যার অনেক পাণিপ্রার্থী ও আত্মীয়-স্বজন রয়েছে।

- (ডেইজি ফুল) স্বপ্নে এটি রূপ-লাবণ্য ও সৌন্দর্যের অধিকারিণীর ওপর দলিল করে।

- (আজাদারখত বা নিম জাতীয় গাছ) স্বপ্নে এটি দেখা এমন ব্যক্তির ওপর দলিল করে যার সুন্দর ফুল বা গুণের কারণে মানুষ প্রশংসা করে।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
- (أرز) في المنام مال فيه نصب وشغب وهم يدل على الربح إن كان مطبوخاً.

- (آبنوس) في المنام امرأة هندية موسرة أو رجل صلب موسر.

- (آجام) في المنام رجال لا ينتفع بصحبتهم وفيهم وغل لأن أصل الوغل الشجر الملتف والصياد يختفي فيها فيرمي الصيد من حيث لا يعلم فإن كانت الأجمة ملكاً لغيره فإنه يقاتل أقواماً هذه صفتهم فيظهر بهم.

- (أكارع) من رأى أنه يأكل الأكارع ويمتص عظمها فإنه يأكل مال يتيم وقيل من أكل أكارع يأكل مال أشراف الناس لأن الأكارع والغنم أشراف أموال الناس.

- (أنفحة) في المنام مال مع نسك وورع.

- (أقط) مال عزيز لذيذ وشهوات شتى.

- (إلية الشاة) في المنام دالة على الألية أي الحلف وعلى التمني وربما دلت على النعمة الوافرة والعلم النافع والذخيرة الصالحة من علم وولد والألية مال المرأة.

- (أكل الإنسان) في المنام في الإناء قنع وصلب إلا أن يكون الإناء محرماً كإناء الفضة أو الذهب فإنه مال حرام وإفراط في الديون والأكل بين الناس شهوة ومضغ ما يبلغ تهاون في الكسب والعمل وبلع ما يمضغ دين وتعجيل للأجل فإن استحال الطعم بما هو خير منه دل على صلاح الباطن وإن استحال إلى مرارة أو حموضة دل على تغير الأزواج والأعمال فإن أكل بيمينه اقتدى بالسنة وإن أكل بشماله أطاع عدوه وجافى صديقه وإن التقم من يد غيره رزق عفة وتوكلاً وربما مرض وعجز عن التناول بيده وإن كان من لون حقير انحط قدره وأكل كمأة أمر ونهي وأناة وزيادة عمر وشفاء للمريض ونكاح للأعزب وعلم وهداية ورزق وصناعته ومرض وأكل القرع دليل على الهدى وإتباع السنة والفطنة.

- (ومن رأى) أن غيره دعاه إلى الغداء دلت رؤياه على سفر بعيد فإن دعاه إلى الأكل نصف النهار فإنه يستريح من تعب فإن دعاه إلى العشاء فإنه يخدع رجلاً ويمكر به قبل أن يخدعه هو.

- (ومن رأى) أنه أكل طعاماً وانهضم فإنه يحرص على السعي في حرفته.

- (ومن رأى) أنه أكل لحم نفسه فإنه يأكل من ماله ومكنوزه فإن أكل لحم غيره فإن كان نيئاً فإنه يغتابه أو أحداً من أقربائه وإن كان مطبوخاً أو مشوياً فإنه يأكل مال غيره.

- (إكليل الملك) مال زائد وعلم وولد والإكليل للمرأة رجل أعجمي وللرجال ذهاب ما ينسب إليه إلا أن الذهب مكروه وإن رأى تاجر أنه وضع الإكليل على رأسه أو سلبه فإنه يذهب ماله فإن وضعه ذو سلطان أصابه خطأ في دينه وإذا رأى الملك أن إكليله أو تاجه وضع عن رأسه أو سلب زال ملكه.

- (اصطرلاب) في المنام خادم الرؤساء وإنسان متصل بالسلطان فمن رأى أنه أصاب اصطرلاباً فإنه يصحب إنساناً كذلك وينتفع به على قدر ما رآه في المنام وربما كان متغيراً لأمر ليست له عزيمة صحيحة ولا وفاء ولا مروءة.

- (اكاف) تدل رؤيته في المنام على امرأة أعجمية غير شريفة ولا حسيبة تحل من زوجها محل الخادمة وركوب الرجل الاكاف يدل على توبته على المظلمة بعد طول تنعمه فيها.

- (أرجوحة) وهي المتخذة من الحبل ومن رأى في منامه أنه يتمرجح فيها فإنه فاسد الاعتقاد في دينه.

- (اسم) إذا تحول اسم الإنسان في المنام إلى غيره فيعبر عنه بالضأل فسعد بالسعادة وسالم بالسلامة وإن تحول إلى ذي عاهة كالعمى والعرج فإنه يبلى بذلك.

- (ومن رأى) أنه يدعى بغير اسمه فإن دعي باسم قبيح فإنه يظهر به عيب فاحش أو مرض فادح وإن دعي باسم حسن نال عزاً وشرفاً وكرامة على حسب ما يقتضي معنى ذلك الاسم.

- (إسهال الطبيعة) في المنام تفريط وتبذير في المال والقبض والانعصار شح وبخل.

- (استسقاء) في المنام وهو المرض المعروف يدل على المهانة والذل.

- (احتقان الإنسان) في المنام إذا كان بما ينبغي استعماله على جرى العادة دل على رواج ما في طبقة مخزنة من
(চাল) স্বপ্নে চাল হলো কষ্ট, বিবাদ এবং উদ্বেগের সাথে অর্জিত সম্পদ। যদি তা রান্না করা থাকে তবে তা লভ্যাংশের পরিচায়ক।

- (আবলুস) স্বপ্নে এটি একজন বিত্তশালী ভারতীয় নারী অথবা একজন দৃঢ় ও সম্পদশালী পুরুষকে বুঝায়।

- (বন-জঙ্গল) স্বপ্নে এমন সব ব্যক্তিদের বুঝায় যাদের সংসর্গে কোনো কল্যাণ নেই এবং তাদের মধ্যে ধূর্ততা রয়েছে। কারণ বনের মূল হলো ঘন ঝোপঝাড় যেখানে শিকারি লুকিয়ে থাকে এবং এমনভাবে শিকার করে যা শিকার টের পায় না। যদি জঙ্গলটি অন্যের মালিকানাধীন হয়, তবে সে এই গুণসম্পন্ন একদল লোকের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে এবং তাদের ওপর বিজয়ী হবে।

- (পশুর পায়া) যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে যে সে পশুর পায়া খাচ্ছে এবং হাড় চুষছে, তবে সে এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করছে। বলা হয়ে থাকে, যে ব্যক্তি পায়া খায় সে উচ্চবংশীয় বা সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্পদ ভোগ করে, কারণ পশুর পায়া ও ভেড়া মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে গণ্য।

- (পনির তৈরির সাজ) স্বপ্নে এটি ইবাদত ও পরহেজগারির সাথে অর্জিত সম্পদের পরিচায়ক।

- (শুকনো পনির) এটি দুর্লভ ও সুস্বাদু সম্পদ এবং নানাবিধ আকাঙ্ক্ষা পূরণের প্রতীক।

- (ভেড়ার চর্বিযুক্ত লেজ) স্বপ্নে এটি শপথ এবং আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। কখনো এটি প্রচুর নেয়ামত, উপকারী জ্ঞান, সৎ সন্তান এবং পুণ্যময় সঞ্চয়ের দলিল। আর 'আলিয়া' (লেজ) নারীর সম্পদের পরিচায়ক।

- (মানুষের আহার) স্বপ্নে কোনো পাত্রে আহার করা তুষ্টি ও দৃঢ়তার লক্ষণ, তবে পাত্রটি যদি সোনা বা রুপার মতো শরীয়তে নিষিদ্ধ কোনো পাত্র হয়, তবে তা হারাম সম্পদ এবং ঋণের আধিক্য বুঝায়। লোকজনের মাঝে আহার করা লোকদেখানো লালসা। যা চিবানো হয় তা না গেলা উপার্জনে অবহেলার প্রতীক। আর চিবানো জিনিস গিলে ফেলা হলো ঋণ এবং আয়ু শেষ হওয়ার দ্রুততার লক্ষণ। খাবারের স্বাদ যদি উত্তম কোনো স্বাদে রূপান্তরিত হয়, তবে তা অন্তরের পরিশুদ্ধির প্রমাণ। আর যদি স্বাদ তিক্ত বা টক হয়ে যায়, তবে তা স্ত্রী ও কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তনের লক্ষণ। যদি কেউ ডান হাতে আহার করে তবে সে সুন্নাহর অনুসরণ করবে, আর যদি বাম হাতে আহার করে তবে সে শত্রুর আনুগত্য করবে এবং বন্ধুর বিরুদ্ধাচরণ করবে। যদি অন্যের হাত থেকে লোকমা গ্রহণ করে তবে সে পবিত্রতা ও তাওয়াক্কুল নসিব করবে, আবার কখনো তা অসুস্থতা ও নিজ হাতে খাওয়ার অক্ষমতা বুঝায়। যদি খাবারের রং নিকৃষ্ট হয় তবে সম্মানহানি ঘটবে। ব্যাঙের ছাতা (মাশরুম) খাওয়া আদেশ-নিষেধ, ধীরস্থিরতা, দীর্ঘায়ু লাভ, রোগীর আরোগ্য লাভ, অবিবাহিতের বিবাহ এবং জ্ঞান, হেদায়েত ও রিজিকের প্রতীক। আর লাউ খাওয়া হেদায়েত লাভ, সুন্নাহর অনুসরণ এবং বিচক্ষণতার প্রমাণ।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে অন্য কেউ তাকে দুপুরের খাবারের জন্য দাওয়াত দিয়েছে, তবে এটি দূরবর্তী সফরের লক্ষণ। যদি মধ্যাহ্নভোজের জন্য তাকে ডাকা হয় তবে সে ক্লান্তি থেকে মুক্তি পাবে। আর যদি রাতের খাবারের জন্য তাকে ডাকা হয় তবে সে একজন ব্যক্তিকে প্রতারিত করবে এবং তার ওপর কূটচাল চালবে তার আগেই।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে খাবার খেয়েছে এবং তা হজম হয়েছে, তবে সে স্বীয় পেশায় অধিক সচেষ্ট হবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে নিজের মাংস খাচ্ছে, সে তার গচ্ছিত সম্পদ থেকে ভোগ করবে। আর যদি অন্যের মাংস খায় এবং তা কাঁচা হয় তবে সে তার গিবত বা পরনিন্দা করছে অথবা তার কোনো আত্মীয়ের ক্ষতি করছে। আর যদি মাংসটি রান্না করা বা ঝলসানো হয় তবে সে অন্যের সম্পদ গ্রাস করছে।

- (রাজমুকুট) এটি অতিরিক্ত সম্পদ, জ্ঞান এবং সন্তানের প্রতীক। নারীর জন্য মুকুট হলো একজন অনারব পুরুষ। পুরুষদের জন্য মুকুট হলো মান-সম্মান চলে যাওয়া, কারণ পুরুষদের জন্য স্বর্ণের অলংকার অপছন্দনীয়। যদি কোনো ব্যবসায়ী দেখে যে সে মাথায় মুকুট পরেছে বা তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে তার সম্পদ বিনষ্ট হবে। যদি কোনো শাসক তা পরিধান করে তবে তার দ্বীনদারিতে ত্রুটি দেখা দেবে। আর রাজা যদি দেখে তার মুকুট বা তাজ মাথা থেকে পড়ে গেছে বা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে তার রাজত্ব বিলীন হবে।

- (অ্যাস্ট্রোল্যাব) স্বপ্নে এটি প্রধানদের সেবক বা সুলতানের সাথে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে বুঝায়। যে ব্যক্তি দেখে যে সে একটি অ্যাস্ট্রোল্যাব (নক্ষত্রমাপক যন্ত্র) পেয়েছে, সে এমন একজন ব্যক্তির সাহচর্য পাবে এবং তার দ্বারা উপকৃত হবে। কখনো এটি অস্থিরচিত্ত, সংকল্পহীন, বিশ্বাসহীন এবং পৌরুষহীন ব্যক্তিকে বুঝায়।

- (পালান) স্বপ্নে এটি একজন অনারব নারীকে বুঝায় যে সম্মানিত বা উচ্চবংশীয় নয় এবং স্বামীর কাছে দাসীর মতো থাকে। পুরুষের পালানে আরোহণ করা দীর্ঘকাল জুলুম করার পর তা থেকে তওবা করার লক্ষণ।

- (দোলনা) এটি সাধারণত রশি দিয়ে তৈরি হয়। যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে যে সে এটিতে দুলছে, তবে তার ধর্মীয় বিশ্বাসে বিচ্যুতি রয়েছে।

- (নাম) স্বপ্নে যদি মানুষের নাম অন্য নামে পরিবর্তিত হয়, তবে তার অর্থ দ্বারা ব্যাখ্যা করতে হবে; যেমন 'সা’দ' হলে সৌভাগ্য এবং 'সালিম' হলে নিরাপত্তা। আর যদি কোনো দোষযুক্ত নামে পরিবর্তিত হয় যেমন অন্ধ বা খোঁড়া, তবে সে সেই বিপদে আক্রান্ত হবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে তাকে অন্য নামে ডাকা হচ্ছে, যদি সেই নামটি কুৎসিত হয় তবে তার কোনো প্রকাশ্য দোষ বা কঠিন রোগ প্রকাশ পাবে। আর যদি ভালো নামে ডাকা হয় তবে সে সেই নামের অর্থ অনুযায়ী মর্যাদা ও সম্মান লাভ করবে।

- (উদরাময়) স্বপ্নে এটি অপব্যয় এবং সম্পদ নষ্ট করার প্রতীক। আর কোষ্ঠকাঠিন্য হলো কৃপণতা ও সংকীর্ণতা।

- (উদরী রোগ) স্বপ্নে এটি অপমান ও লাঞ্ছনার প্রতীক।

- (ডুশ বা পিচকারি গ্রহণ) স্বপ্নে যদি তা স্বাভাবিক রীতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা গুদামে সঞ্চিত মালের প্রসারের পরিচায়ক...
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
بضاعة كاسدة أو علة معنوية أو كسح مرحاضه واستراح بذلك وإن احتقن بما ينبغي استعماله أو حقنه من ليس له بذلك عادة على الإطلاع على المساوي أو نهبت داره أو نقبها أو نبش ميته من قبره ونقله إلى غيره أو أكره على إخراج الزكاة أو ما عنده من الودائع.

- (ومن رأى) أنه يحتقن من داء يجده من نفسه فإنه يرجع إلى أمر له فيه صلاح في دينه وإن احتقن من غير داء يجده فإنه يرجع في عدة يعدها إنساناً أو نذره على نفسه أو في كلام تكلم به أو في عظة خرجت منه ونحو ذلك وربما كان من غضب شديد يبتلى به.

- (استلقاء الإنسان) في المنام على قفاه قوى أمر فمن رأى كأنه مستلق على قفاه قوي أمره وأقبلت دنياه أو صارت الدنيا تحت يده لأن الأرض مفسد قوي.

- (ومن رأى) أنه استلقى على قفاه وكان فمه مفتوحاً فخرج منه أرغفة فإن تدبيره ينقص ودولته تزول ويفوز بأمره غيره.

- (انتباه الإنسان) من منامه في المنام يدل على حركة الجد وإقباله والتوبة والربح والفائدة والقدوم من السفر.

- (إقرار الإنسان) في المنام بعبودية إنسان إقرار بعداوته وإن أقر بالذنب والمعصية ينال عزاً وشرفاً وتوبة والإقرار بقتل الإنسان يدل على نيل ولاية ورياسة أو أمن.

- (إمهال الإنسان) في المنام يدل على العذاب وإن رأى كأنه أمهل رجلاً في غضب فإنه يعذبه عذاباً شديداً.

- (استراق السمع) في المنام كذب ونميمة وربما يصير مسترق السمع مكروهاً من جهة السلطان وأما الاستماع فمن رأى كأنه يستمع فإن كان تاجراً استقال من عقدة بيع وإن كان والياً عزل وإن رأى كأنه يستمع على الإنسان فإنه يريد هتك ستره وفضيحته.

- (ومن رأى) كأنه يسمع أقاويل ويتبع أحسنها فإنه ينال بشارة فإن رأى كأنه يسمع ويجعل نفسه أنه لا يسمع فإنه يكذب ويتعود ذلك.

- (أم الإنسان) في المنام أولى به في أحكام التأويل من أبيه فإن رأى أمه قد ولدته فإن كان مريضاً دل على موته لأن الميت يلف في الخرق كما يلف الصغير وإن كان صحيحاً فإن كان فقيراً وسع عليه لأن الصغير كلفته على غيره وإن كان غنياً ضيق عليه في تصرفه وكسبه لأن الصغير مضيق عليه في أحواله.

- (أخ الإنسان) إذا رآه في منامه وكذلك الجد والعم والخال ومن له نصيب في الميراث دل ذلك على الشرك في المال والمساعدين وربما دل بعضهم على بعض كذلك.

- (التفات الإنسان) في منامه طمع يرمي بصاحبه خصوصاً الالتفات في الصلاة فإن كان الالتفات لمحذور يخافه كمثل حية أو أسد فإن ذلك دليل على الحذر من الزوجة والأولاد لأنهم أعداؤه والالتفات في الصلاة يدل على التطلع إلى الدنيا وزينتها والإعراض عن الآخرة والميل مع الأهواء.

- (أزار) هو في المنام امرأة حرة فإن رأت امرأة أن لها إزاراً أحمر مصقولاً فإنها تتهم بريبة فإن خرجت من دارها فيه فإن تلك الريبة تشيع منها فإن رأت برجلها مع ذلك خفاً فإنها تتهم بريبة تبقى فيها وأزار المرأة يدل على زواجها.

- (أف) كلمة تضجر ومن رأى في منامه أنه يقولها فإنه عاق لوالديه قال الله تعالى: {لا تقل لهما أف ولا تنهرهما} .

- (أب) الإنسان في المنام المراد وخير ما يرى الرجل في منامه أبواه أو أجداده أو جداته أو أحد أقاربه ومن رأى في منامه أباه فإن كان محتاجاً جاءه رزقه من حيث لا يحتسب أو جاد أحد عليه وإن كان له غائب قدم عليه وإن كان به ألم أفاق منه.

- (ومن رأى) أن أباه أسكن بنياناً ورفع هو سمكه فإنه يتم صنائع أبيه التي كانت له في دين أو دنيا ويحكمها.

- (أشنان) من رأى في منامه أنه غسل يديه بأشنان فإنه إياس له مما يطلب وقيل لا بأس بذلك وهو حسن وقيل إلا أن يكون من زفر أو نتن فهو دليل على زوال الهم والنكد وقضاء الحاجة وقيل غسل اليدين بالأشنان يدل على انقطاع الصداقة ويدل على انقطاع الخصومة وقيل إنه نجاة من الخوف وقيل إنه توبة من الذنوب.

- (إطلاع) الإنسان في المنام على مستور عليه ربما دل على العلم الغامض أو الصنعة الجليلة إن كان المستور من أهل
অচল পণ্য বা আধ্যাত্মিক ত্রুটি কিংবা তার শৌচাগার পরিষ্কার করা এবং এর মাধ্যমে আরাম লাভ করা। যদি এমন কিছু ব্যবহার করা হয় যা ব্যবহার করা উচিত নয়, অথবা এমন কেউ তাকে এনিমা দেয় যার তা করার অভ্যাস নেই, তবে এটি দোষ-ত্রুটি প্রকাশের ইঙ্গিত দেয়। অথবা তার ঘর লুট হওয়া, বা তাতে সিঁধ কাটা, কিংবা তার কবর থেকে মৃতদেহ খনন করে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা, অথবা যাকাত বা তার কাছে গচ্ছিত আমানত আদায়ে বাধ্য করার অর্থ বহন করে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) সে নিজের কোনো রোগের কারণে এনিমা গ্রহণ করছে, তবে সে এমন একটি বিষয়ে ফিরে যাবে যাতে তার দ্বীনের কল্যাণ রয়েছে। আর যদি সে কোনো রোগ ছাড়াই এনিমা গ্রহণ করে, তবে সে কোনো মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি, বা নিজের ওপর মানত করা কোনো বিষয়, অথবা তার বলা কোনো কথা বা তার দেওয়া কোনো উপদেশ ইত্যাদি বিষয়ে ফিরে আসবে। কখনো কখনো এটি তার ওপর আপতিত হওয়া তীব্র ক্রোধের অর্থও বহন করে।

- (মানুষের চিৎ হয়ে শোয়া) স্বপ্নে পিঠের ওপর ভর দিয়ে চিৎ হয়ে শোয়া বিষয়ের শক্তির পরিচায়ক। অতএব, যে ব্যক্তি নিজেকে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতে দেখে, তার শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং তার পার্থিব জীবন সমৃদ্ধ হবে অথবা দুনিয়া তার হাতের মুঠোয় আসবে, কারণ জমিন একটি শক্তিশালী আধার।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) সে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে এবং তার মুখ খোলা, আর সেখান থেকে রুটির টুকরো বের হচ্ছে, তবে তার ব্যবস্থাপনা বা পরিকল্পনা দুর্বল হয়ে পড়বে, তার ক্ষমতা চলে যাবে এবং তার বিষয়ে অন্য কেউ জয়ী হবে।

- (মানুষের জাগ্রত হওয়া) স্বপ্নের মধ্যে ঘুম থেকে জেগে ওঠা প্রচেষ্টার গতিশীলতা, সৌভাগ্যের আগমন, তওবা, লাভ, উপকার এবং সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের প্রমাণ দেয়।

- (মানুষের স্বীকারোক্তি) স্বপ্নে কোনো মানুষের দাসত্ব স্বীকার করা তার সাথে শত্রুতার স্বীকারোক্তি। আর যদি সে পাপ ও অবাধ্যতার স্বীকারোক্তি দেয়, তবে সে মর্যাদা, সম্মান এবং তওবা লাভ করবে। আর মানুষ হত্যার স্বীকারোক্তি দেওয়া শাসনক্ষমতা, নেতৃত্ব বা নিরাপত্তা লাভের ইঙ্গিত দেয়।

- (মানুষকে অবকাশ দেওয়া) স্বপ্নে কাউকে অবকাশ দেওয়া আজাব বা শাস্তির ইঙ্গিত দেয়। যদি সে দেখে যে রাগান্বিত অবস্থায় কাউকে অবকাশ দিচ্ছে, তবে সে তাকে কঠোর শাস্তি দেবে।

- (আড়ি পেতে শোনা) স্বপ্নে আড়ি পেতে কথা শোনা মিথ্যা ও চোগলখুরির লক্ষণ। কখনো কখনো আড়ি পেতে শ্রবণকারী ব্যক্তি শাসকের পক্ষ থেকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে। আর সাধারণ শ্রবণ বা মন দিয়ে শোনার ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি দেখে যে সে শুনছে, সে যদি ব্যবসায়ী হয় তবে সে বিক্রয় চুক্তি বাতিল করবে, আর যদি প্রশাসক হয় তবে তাকে পদচ্যুত করা হবে। আর যদি সে কোনো মানুষের কথা আড়ি পেতে শোনে, তবে সে তার গোপনীয়তা ফাঁস এবং তাকে অপমানিত করতে চায়।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) সে বিভিন্ন কথা শুনছে এবং তার মধ্য থেকে উত্তমটি অনুসরণ করছে, তবে সে সুসংবাদ লাভ করবে। আর যদি সে দেখে যে সে শুনছে কিন্তু না শোনার ভান করছে, তবে সে মিথ্যা বলে এবং এতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।

- (মানুষের মা) স্বপ্নের ব্যাখ্যার বিধানে পিতার চেয়ে মায়ের গুরুত্ব বেশি। যদি কেউ দেখে যে তার মা তাকে জন্ম দিচ্ছেন, সে যদি অসুস্থ থাকে তবে তা তার মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়, কারণ মৃত ব্যক্তিকে কাপড়ে জড়ানো হয় যেমন শিশুকে জড়ানো হয়। আর সে যদি সুস্থ থাকে এবং দরিদ্র হয়, তবে তার সচ্ছলতা আসবে, কারণ শিশুর ভরণপোষণ অন্যের ওপর থাকে। আর যদি সে ধনী হয়, তবে তার কর্মকাণ্ড ও উপার্জনে সংকীর্ণতা আসবে, কারণ শিশুর অবস্থা সীমাবদ্ধ থাকে।

- (মানুষের ভাই) স্বপ্নে তাকে দেখা এবং একইভাবে দাদা, চাচা, মামা এবং মিরাসে যার অংশ রয়েছে তাদের দেখা ধন-সম্পদ ও সহযোগীদের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের প্রমাণ দেয়। কখনো কখনো তাদের একজন অন্যজনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ারও ইঙ্গিত দেয়।

- (মানুষের ফিরে তাকানো) স্বপ্নে এদিক-ওদিক তাকানো এমন লোভের লক্ষণ যা তার অধিকারীকে বিপদে ফেলে, বিশেষ করে নামাজের মধ্যে ফিরে তাকানো। যদি এই ফিরে তাকানো কোনো ভীতিপ্রদ বস্তুর কারণে হয়—যেমন সাপ বা সিংহ—তবে এটি স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে সতর্ক থাকার প্রমাণ, কারণ তারা তার শত্রু। আর নামাজের মধ্যে ফিরে তাকানো দুনিয়া ও তার চাকচিক্যের প্রতি আকাঙ্ক্ষা, পরকাল থেকে বিমুখতা এবং প্রবৃত্তির অনুসরণের ইঙ্গিত দেয়।

- (লুঙ্গি বা চাদর) স্বপ্নে এটি স্বাধীন নারীর প্রতীক। যদি কোনো নারী দেখে যে তার একটি লাল রঙের পালিশ করা চাদর রয়েছে, তবে সে অপবাদের সম্মুখীন হবে। যদি সে তা পরে ঘর থেকে বের হয়, তবে সেই অপবাদ ছড়িয়ে পড়বে। যদি এর সাথে সে পায়ে মোজা দেখে, তবে সে এমন অপবাদের শিকার হবে যা স্থায়ী হবে। আর নারীর চাদর তার বিবাহের ইঙ্গিত দেয়।

- (উফ) এটি বিরক্তি প্রকাশসূচক শব্দ। স্বপ্নে যে ব্যক্তি এটি বলতে দেখে, সে তার পিতামাতার অবাধ্য। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তাদের উদ্দেশ্যে ‘উফ’ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না।"

- (পিতা) স্বপ্নে মানুষের পিতা হলো উদ্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য। মানুষ স্বপ্নে তার পিতামাতা, দাদা-দাদী বা নিকটাত্মীয়দের যা দেখে তার মধ্যে কল্যাণ নিহিত থাকে। যে ব্যক্তি স্বপ্নে তার পিতাকে দেখে, সে যদি অভাবী হয় তবে তার কাছে এমনভাবে রিজিক আসবে যা সে কল্পনাও করেনি অথবা কেউ তাকে দান করবে। আর যদি তার কেউ নিরুদ্দেশ থাকে তবে সে ফিরে আসবে। আর যদি সে ব্যথায় কাতর থাকে তবে তা থেকে মুক্তি পাবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) তার পিতা একটি দালানে বসবাস করছেন এবং সে তার উচ্চতা বৃদ্ধি করেছে, তবে সে তার পিতার দ্বীনি বা দুনিয়াবি কাজগুলো সম্পন্ন করবে এবং সেগুলো সুদৃঢ় করবে।

- (ক্ষারজাতীয় উদ্ভিদ/উশনান) যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে যে সে উশনান দিয়ে হাত ধৌত করছে, তবে সে যা প্রত্যাশা করছে তা থেকে নিরাশ হবে। বলা হয়ে থাকে যে এটি দোষের কিছু নয় বরং উত্তম। আবার বলা হয়েছে যে, যদি এর মাধ্যমে চর্বি বা দুর্গন্ধ দূর করা হয়, তবে তা দুশ্চিন্তা ও কষ্ট দূর হওয়া এবং প্রয়োজন পূরণ হওয়ার প্রমাণ। আরও বলা হয়েছে যে, উশনান দিয়ে হাত ধোয়া বন্ধুত্বের বিচ্ছেদ বা শত্রুতার অবসানের ইঙ্গিত দেয়। কেউ কেউ বলেছেন এটি ভয় থেকে মুক্তি এবং অন্যেরা বলেছেন এটি গুনাহ থেকে তওবা করার লক্ষণ।

- (উঁকি মারা বা অবগত হওয়া) স্বপ্নে মানুষের কোনো গোপন বিষয়ে অবগত হওয়া সম্ভবত গূঢ় জ্ঞান বা মহান কোনো শিল্পের ইঙ্গিত দেয়, যদি সেই গোপন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হয়—
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
العلم والمكيدة يعلمها إن كان غير ذلك وربما دل على الإطلاع على سر من أسرار الله تعالى من كنز أو معدن يطلع عليه.

- (انقلاب الإنسان) على وجهه في المنام يدل على الشرك بالله تعالى وخسران الدنيا والآخرة وإن انقلب من وجهه على قفاه تاب إلى الله تعالى ودل على مواجهته للناس والانكباب على الوجه يدل على أمراض الجوف وإن كان الرائي امرأة أعرضت عن زوجها.

- (إرعاد الإنسان) في منامه يدل على الإرعاد من مرض أو هم أو كبر وربما دل ذلك على شفاء المريض وحدة مزاجه وظهور قوته يقال أرعد فلان إذا اجتهد وقام في الأمر.

 

‌‌باب الباء

- (بسملة) من رآها في المنام بكتابة حسنة فإنه يدل على العلم والهداية والرزق ببركتها وخاصيته أن يراها على القاعدة المشهورة وربما دلت البسملة على الولد وولد الولد لتعلق بعضها ببعض وربما دلت رؤيتها على إدراك ما فات لتكرر حروفها وتدل على السعي في الزواج والبشارة عقباه دلت البسملة على الهدى بعد الضلالة فإن كتبت في المنام بخط مليح نال رزقاً وحظاً في صناعته أو علمه وإن كتبها ميت فهو في رحمة الله تعالى وربما دلت كتابتها على الربح في الزرع ويعتبر ما كتب معها في المنام قرآن أو غيره فإن محاها بعد كتابتها أو اختطفها منه طائر دل على نفاذ عمره وفراغ رزقه وعلى هذا يقاس من كتب على يديه شيء من القرآن أو غيره وربما ابتلى في بدنه أو زاد عليه ما يشكوه لما قيل إن الحسن بن علي رضي الله عنه رأى في المنام مكتوباً على جبينه: {والضحى … والليل إذا سجى} فرفع ذلك إلى سعيد بن المسيب فقال يا ابن رسول الله أوص واستغفر ففارق الدنيا بعد ليلة فإن قرأ البسملة في صلاة فإن كان مذهبه ترك البسملة في الصلاة فبسملته في ذلك دليل على ارتكاب دين لم يحتج إليه وربما دل على الميل إلى الأب دون الأم والأم دون الأب أو يفضل سنة على فرض أو نفلاً على سنة أو بدعة على مستحب وكذلك الحكم في قراءة الأئمة الأربعة واعتبر ما كتبت به في المنام فإن كانت مكتوبة بالذهب دلت على الرزق والاحتفال بالطاعات أو إصلاح السرائر وربما كانت ذكراً جميلاً وعقبى حسنة وعكس ذلك لو كتبها في المنام بما لا يجوز الكتابة به واعتبر ما كتبت به من الأقلام فالطومار مال طائر وبالثلث مال من سهام وبالمحقق تحقيق لما يرجوه وبالمنسوب أحوال متناسبة وبالنسخ عزل وبالوحشي يحوي شيئاً طائلاً وإن كانت بقلم الأشعار دل ذلك على الغفلة والهيام وبالريحاني أو قرب لما يرجوه وبالغباري مرض في العين ومن كان يشكو شيئاً من ذلك كان دليلاً على عاقبته واعتبر ما كتبت عليه من غير ذلك فكتبها بقلم التوقيع عز ونصرة وبقلم الوراقة محاكمات فإن لم يتضح من كتابتها شيء فهو دليل على التلون في المذهب أو المعتقد وأما ما كتبت به من الأقلام الغريبة كالعبراني والسرياني والهندي وما أشبه ذلك فإنه دليل على الدنانير الغريبة والأزواج والجواري أو العبيد أو الألفة مع الغرباء فإن كتبها بقلم حديد دل على القوة والرزق والثبات في الأمور وإن كتبها بقلم من فضة فإن كان كالقلم المعتاد دل على توسط الأحوال خصوصاً إن كتبها بقلم ملتو أو ذي عقد وإن كان القلم مستقيماً حسناً دل على المنصب الجليل أو العلم والعمل لمن فعله في المنام فإن كتبها في كاغد ربما فعل فعلاً حسناً أو اتبع واجباً وإن كتبها في رق سعى في طلب ميراث وإن كان في منسوج أحمر أو أصفر أو أبيض نال فرحاً وسروراً أو إن كانت مكتوبة في منسوج أخضر نال شهادة عند الله تعالى وكتابتها في ذلك أو غيره بالنور أو الذهب بشارة ويحكى: أن الحسين بن علي رضي الله عنه رأى في المنام كأنه كتب بين عينيه سورة الإخلاص فأرسل إلى سعيد بن المسيب رحمه الله تعالى فقصها عليه فقال إن صدقت رؤياه فإنه سيموت سريعاً فمات كذلك غريباً ورؤية النقط والشكل في البسملة في المنام إن دلت البسملة على الزوجة فنقطها وشكلها مالها وجهازها وأولادها وعصمتها وإن دلت على المال كان ذلك زكاته المفيدة وإن دلت على الصلاة كان ذلك سننها وإن دلت على البلد كان أهلها
জ্ঞান এবং চাতুর্য তিনি জানেন যদি বিষয়টি অন্যরূপ হয়, আর সম্ভবত এটি আল্লাহ তাআলার কোনো গোপন রহস্য, যেমন কোনো ধনভাণ্ডার বা খনিজ সম্পদ সম্পর্কে অবহিত হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে যা তিনি জানতে পারেন।

- (মানুষের উল্টে যাওয়া): স্বপ্নে কারও উপুড় হয়ে পড়ে যাওয়া আল্লাহ তাআলার সাথে শিরক করা এবং ইহকাল ও পরকালের ক্ষতির নিদর্শন। আর যদি কেউ উপুড় অবস্থা থেকে পিঠের দিকে উল্টে যায়, তবে সে আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা করেছে এবং এটি মানুষের মুখোমুখি হওয়ার প্রমাণ। উপুড় হয়ে পড়ে থাকা পেটের রোগের ইঙ্গিত দেয়, আর যদি স্বপ্নদ্রষ্টা মহিলা হন, তবে তিনি তার স্বামী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

- (মানুষের কম্পন): স্বপ্নে কম্পিত হওয়া রোগ, দুশ্চিন্তা বা বার্ধক্যজনিত কারণে কাঁপার নিদর্শন। সম্ভবত এটি রোগীর আরোগ্য লাভ, মেজাজের তীক্ষ্ণতা এবং শক্তির বহিঃপ্রকাশের ইঙ্গিত দেয়। বলা হয়, অমুক ব্যক্তি কম্পিত হয়েছে যখন সে কোনো কাজে কঠোর পরিশ্রম করে এবং তাতে লিপ্ত হয়।

 

‌‌‘বা’ পরিচ্ছেদ

- (বিসমিল্লাহ): স্বপ্নে যদি কেউ সুন্দর হস্তাক্ষরে এটি লেখা দেখে, তবে তা এর বরকতে জ্ঞান, হিদায়াত এবং রিযিকের নিদর্শন। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এটি দেখা। সম্ভবত বিসমিল্লাহর একটি অক্ষরের সাথে অন্যটি যুক্ত থাকার কারণে এটি সন্তান ও নাতি-পুতির প্রতি ইঙ্গিত করে। এর বর্ণগুলোর পুনরাবৃত্তির কারণে এটি যা হারিয়ে গেছে তা ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। এটি বিবাহের চেষ্টা এবং পরবর্তীতে সুসংবাদেরও প্রমাণ। বিসমিল্লাহ পথভ্রষ্টতার পর হিদায়াতের নিদর্শন। যদি স্বপ্নে এটি সুন্দর হস্তাক্ষরে লেখা হয়, তবে সে তার পেশায় বা জ্ঞানে রিযিক ও সৌভাগ্য লাভ করবে। যদি কোনো মৃত ব্যক্তি এটি লিখে থাকে, তবে সে আল্লাহ তাআলার রহমতে রয়েছে। এটি লেখা ফসলে মুনাফার ইঙ্গিত হতে পারে। স্বপ্নে এর সাথে যা লেখা হয়েছে তা কুরআন নাকি অন্য কিছু, তা বিবেচনায় নিতে হবে। যদি সে এটি লেখার পর মুছে ফেলে বা কোনো পাখি তা ছিনিয়ে নিয়ে যায়, তবে তা তার আয়ু শেষ হওয়া এবং রিযিক ফুরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এর ওপর ভিত্তি করে কিয়াস করা হবে যদি কারও হাতে কুরআনের কিছু বা অন্য কিছু লেখা হয়। সম্ভবত সে তার শরীরে কোনো পরীক্ষায় পড়বে অথবা তার অভিযোগের মাত্রা বেড়ে যাবে। যেমনটি বলা হয়েছে যে, হাসান ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) স্বপ্নে তার কপালে লেখা দেখেছিলেন: {শপথ পূর্বাহ্নের... এবং শপথ রাত্রির যখন তা গভীর হয়}। বিষয়টি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের কাছে পেশ করা হলে তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূলের বংশধর! আপনি ওসিয়ত করুন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন।’ এরপর মাত্র এক রাত পরেই তিনি দুনিয়া ত্যাগ করেন। যদি কেউ সালাতে বিসমিল্লাহ পাঠ করে, তবে তার মাযহাব অনুযায়ী যদি সালাতে বিসমিল্লাহ ছেড়ে দেওয়া নিয়ম হয়, তবে এক্ষেত্রে তার বিসমিল্লাহ পাঠ অপ্রয়োজনীয় ঋণে লিপ্ত হওয়ার প্রমাণ। সম্ভবত এটি মা বাদে বাবার প্রতি অথবা বাবা বাদে মার প্রতি ঝোঁক প্রকাশ করে, অথবা ফরযের চেয়ে সুন্নতকে, সুন্নতের চেয়ে নফলকে অথবা মুস্তাহাবের চেয়ে বিদআতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। চার ইমামের কিরাআতের ক্ষেত্রেও একই হুকুম প্রযোজ্য। স্বপ্নে কী দিয়ে লেখা হয়েছে তাও বিবেচনা করতে হবে; যদি স্বর্ণ দিয়ে লেখা হয়, তবে তা রিযিক, ইবাদতে নিষ্ঠা বা অন্তরের সংশোধনের ইঙ্গিত দেয়। সম্ভবত এটি সুখ্যাতি এবং শুভ পরিণতির নিদর্শন। আর যদি স্বপ্নে এমন কিছু দিয়ে লেখা হয় যা দিয়ে লেখা বৈধ নয়, তবে তা বিপরীত অর্থ দেবে। কোন ধরনের কলম দিয়ে লেখা হয়েছে তাও বিবেচনায় নিতে হবে; ‘তুমার’ কলম হলো অস্থায়ী সম্পদ, ‘থুলুথ’ কলম হলো অংশীদারিত্বের সম্পদ, ‘মুহাক্কাক’ কলম হলো প্রত্যাশিত বিষয় বাস্তবায়িত হওয়া, ‘মানসুব’ কলম হলো সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থা, ‘নাসখ’ কলম হলো পদচ্যুতি এবং ‘ওয়াহশি’ কলম হলো বিশাল কিছু অর্জনের ইঙ্গিত। যদি কবিতার কলম দিয়ে হয়, তবে তা গাফেলতি ও লক্ষ্যহীনতার প্রমাণ। ‘রায়হানি’ কলম প্রত্যাশিত বস্তুর নিকটবর্তী হওয়া এবং ‘গুবারি’ কলম চোখের রোগের ইঙ্গিত দেয়; আর যে ব্যক্তি আগে থেকেই এতে আক্রান্ত, এটি তার পরিণতির দলিল। এছাড়া কিসের ওপর লেখা হয়েছে তাও বিবেচনা করুন; ‘তাওকি’ কলমে লেখা সম্মান ও সাহায্যের প্রতীক এবং নকলনবিশের (ওয়াররাকা) কলমে লেখা বিচার-আচারের ইঙ্গিত। যদি লেখা থেকে কিছুই স্পষ্ট না হয়, তবে তা মাযহাব বা আকিদায় অস্থিরতার প্রমাণ। আর যদি বিদেশি ভাষার কলম যেমন হিব্রু, সুরয়ানি, হিন্দি বা এর সদৃশ কিছু দিয়ে লেখা হয়, তবে তা বিদেশি স্বর্ণমুদ্রা, স্ত্রী, দাসী বা ক্রীতদাস অথবা বিদেশিদের সাথে সখ্যতার ইঙ্গিত দেয়। যদি লোহার কলমে লেখা হয়, তবে তা শক্তি, রিযিক এবং কাজে অটল থাকার প্রমাণ। যদি রুপার কলমে লেখা হয় এবং তা সাধারণ কলমের মতো হয়, তবে তা মধ্যম অবস্থার ইঙ্গিত দেয়—বিশেষ করে যদি কলমটি বাঁকা বা গিঁটযুক্ত হয়। আর যদি কলমটি সোজা ও সুন্দর হয়, তবে তা উচ্চপদ অথবা স্বপ্নে এটি সম্পাদনকারীর জন্য জ্ঞান ও আমলের প্রমাণ। যদি কাগজে লেখে, তবে সম্ভবত সে কোনো ভালো কাজ করবে অথবা কোনো ওয়াজিব অনুসরণ করবে। যদি পাতলা চামড়ায় (রাক্ক) লেখে, তবে সে উত্তরাধিকার লাভের চেষ্টা করবে। যদি লাল, হলুদ বা সাদা কাপড়ে লেখা হয়, তবে সে আনন্দ ও খুশি লাভ করবে। আর যদি সবুজ কাপড়ে লেখা হয়, তবে সে আল্লাহ তাআলার কাছে শাহাদাত লাভ করবে। এসবের ওপর বা অন্য কিছুর ওপর নূর বা স্বর্ণ দিয়ে লেখা সুসংবাদ বহন করে। বর্ণিত আছে যে: হুসাইন ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) স্বপ্নে দেখলেন যেন তার দুই চোখের মাঝে সূরা আল-ইখলাস লেখা হয়েছে। তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহমাতুল্লাহি তাআলা)-এর কাছে লোক পাঠিয়ে তা বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন, ‘যদি তার স্বপ্ন সত্য হয়, তবে তিনি শীঘ্রই মৃত্যু বরণ করবেন।’ আর তিনি সেভাবেই পরবাসে মৃত্যু বরণ করেন। স্বপ্নে বিসমিল্লাহতে নুকতা ও হরকত দেখা—যদি বিসমিল্লাহ দ্বারা স্ত্রীকে বোঝানো হয়, তবে এর নুকতা ও হরকত হলো তার সম্পদ, সরঞ্জাম, সন্তানাদি ও সতীত্ব। যদি এটি সম্পদ বোঝায়, তবে তা হবে এর উপকারী যাকাত। যদি সালাত বোঝায়, তবে তা হবে এর সুন্নতসমূহ। আর যদি শহর বোঝায়, তবে তা হবে এর অধিবাসী।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
وأعيانها من العلماء والفضلاء وأرباب الصنائع من الرعية والمتاجر الرابحة واعتبر علامات الإعراب ورؤيتها في المنام فعلامة النصب منصب وعلامة الخفض عزل وعلامة الرفع علو أو موت أو فراغ عمل وعلامة الوصل صلة وعلامة الجزم جزم في الأمور وعلامة التشديد ضيق في الأمور وعسر فما دخل على البسملة أو غيرها من هذه العلامات نسبته إلى دين الرائي أو دنياه وكذلك إن نقص فإن رأى البسملة معكوسة الترتيب كمن يجعل الرحيم تعالى مكان البسملة أو يقدم الجلالة على البسملة ففعل ذلك وما أشبهه في المنام دليل على الارتداد عن الدين أو المذهب أو يفضل الإماء على الحرائر أو يضع المعروف في غير أهله فإن كتبها غيره ومحاها بنفسه دل على نقض العهد أو الارتداد عن الإسلام أو يبخل بما عنده من علم أو مال وإن كان الرائي فعل ذلك في المنام وهو مريض بري أو عاص تاب وأناب وربما تزوج ورزق ذرية صالحين أو يربح فيما يدخره من التجارة.

- (ومن رأى) أنه قرأ في منامه بسم الله الرحمن الرحيم فإن الله تعالى يوجد البركة في ماله والزيادة فيه.

- (بيت المقدس) من رأى في المنام أنه صلى فيه ورث ميراثاً أو تمسك ببر.

- (ومن رأى) أنه يصلي في بيت المقدس إلى غير القبلة فإنه يحج فإن رأى أنه توضأ في بيت المقدس فإنه يصير في شيء من مال والخروج يدل على سفر وذهاب ميراثه منه إن كان في يده وإن رأى أنه أسرج سراجاً في بيت المقدس أصيب في بعض ولده أو كان عليه نذر في ولده يلزمه الوفاء به.

- (براق النبي صلى الله عليه وسلم من رآه في المنام بلغ رتبة عالية وسافر في عز وعاد فيه أو مات شهيداً.

- (برق) رؤيته في المنام بمفرده تدل على الهدى بعد الضلالة وربما دل ذلك على انبهار المنظر وتبديده وإن كان الرائي مريضاً خيف عليه الموت وربما دلت رؤية البرق في المنام على كشف الأسرار وتنسم الأخبار وربما دلت رؤيته على البشارة بقدوم غائب أو تجديد الروق أو إغاثة الملهوف وربما دلت رؤية البرق على تقلب الأحوال من شدة إلى خلاص ومن خلاص إلى شدة وربما دلت رؤيته على بريق السيوف وأسنة الرماح.

- (ومن رأى) البرق وكانت رؤياه في تشرين الأول دل على الأراجيف ونتاج الحبوب وإن كانت في تشرين الثاني دل على الخصب والندى والخير الكثير أو في كانون الأول ربما يخشى على الغلة من النقص وإن كان في كانون الثاني يخشى على الزرع عند نهايته فإن كان في شباط ربما دل على الصلاح في الزرع وإن كان ذلك في أزار دل على نقص الغلة كلها وإن كان في نيسان فإنه صالح سعيد ويجود فيه الغلال وينقص فيه الشعير وإذا كان في أيار فإنه رديء لبعض الفاكهة وإن كان في حزيران فهو أن علامة الندى النافع وإذا كان في تموز فلا خير ولا شر وإذا كان في أيلول فهو علامة خصب وخير وكذلك في آب والبرق في المنام تدل رؤيته على خوف من السلطان أو على ضرب السياط وربما دل على المواعيد الحسنة من السلطان والضحك والسرور والإقبال والطمع من الرعية والرجاء لما يكون عندهم من الصواعق والعذاب والرحمة والمطر.

- (ومن رأى) برقاً وجده دون الناس ورأى أنواره تضربه أو تخطف بصره فإن كان مسافراً أصابته غلظة بمطر أو أمر من السلطان وإن كان زارعاً قد عطش زرعه أصابه الغيث والرحمة وإن كان والده أو مولاه أو سلطانه مسلطاً عليه ولا يلتفت إليه أقبل عليه وضحك في وجهه وإن كان معه مطر دل على قبيح ما يبدو إليه.

- (ومن رأى) أنه تناول شيئاً من البرق أو أصابه فإن إنساناً يجيبه على بر وخير.

- (ومن رأى) البرق ولا مطر معه وكان له وعد فإنه لا يناله والبرق يدل على خوف من السلطان وعلى تهدده ووعيده وعلى سل النصال وضرب السياط وكل ما دل عليه البرق فسريع عاجل لسرعة ذهابه وقلة لبثه وقيل البرق يدل على منفعة من مكان بعيد.

- (ومن رأى البرق أحرق ثيابه ماتت زوجته إن كانت مريضة.

- (بنات نعش) في المنام تدل على رجل عالم شريف ومن رآها سقطت كلها ماتت في ذلك البلد علماؤها ومن كان معه بنات نعش في منامه أو ملك ذلك أو مازجه أو عرف اسمه صادق إنساناً أو رزق ولداً أو تزوج امرأة باعتبار ما دل عليه اللفظ.

- (بكر) من رأى في منامه بكراً عذراء كان ذلك عسراً لأرباب المناصب كما أن المرأة فرج لذوي الأعسار وربما دلت البكر على البكر من الإبل وتدل الأرض القابلة للنفع والمسكن الجديد الذي تم بناؤه والثوب كذلك والكتاب الذي لم يفك ختمه أو الثمرة التي لم يقطف أو الدابة الشموس وربما دلت على الكرب من اشتقاق اسمها
এবং জনগণের মধ্য থেকে আলেম, গুণীজন, কারিগর এবং লাভজনক ব্যবসায়ীদের অবস্থা। স্বপ্নে ইরাব (ব্যাকরণিক চিহ্ন) দেখা এবং এর তাৎপর্য বিবেচনা করা জরুরি। নসবের চিহ্ন হলো উচ্চ পদমর্যাদা, খাফদ বা যেরের চিহ্ন হলো পদচ্যুতি, রাফ বা পেশের চিহ্ন হলো উচ্চতা, মৃত্যু অথবা কাজ থেকে অবসর লাভ। ওয়াসলের চিহ্ন হলো আত্মীয়তার সুসম্পর্ক, জযমের চিহ্ন হলো বিষয়ে দৃঢ়তা, তাশদীদের চিহ্ন হলো বিষয়ে সংকীর্ণতা ও কাঠিন্য। সুতরাং বিসমিল্লাহ বা অন্য কিছুর ওপর এই চিহ্নগুলোর যে প্রভাব পড়বে, তা স্বপ্নদ্রষ্টার দ্বীন বা দুনিয়ার অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত হবে। একইভাবে যদি কিছু কম হয় তবে তাও তদ্রূপ। যদি কেউ বিসমিল্লাহর বিন্যাস উল্টো দেখে, যেমন—বিসমিল্লাহর স্থানে 'রহীম' শব্দকে নিয়ে আসা অথবা 'বিসমিল্লাহ' শব্দের আগে 'আল্লাহ' শব্দকে নিয়ে আসা, তবে স্বপ্নে এই ধরনের কাজ করা দ্বীন বা মাযহাব থেকে বিচ্যুত হওয়ার প্রমাণ অথবা স্বাধীন নারীদের ওপর দাসীদের প্রাধান্য দেওয়া অথবা অনুপযুক্ত স্থানে অনুগ্রহ করার দলিল। যদি অন্য কেউ বিসমিল্লাহ লেখে আর স্বপ্নদ্রষ্টা তা নিজে মুছে দেয়, তবে তা অঙ্গীকার ভঙ্গ করা বা ইসলাম থেকে বিচ্যুত হওয়া অথবা নিজের জ্ঞান বা সম্পদ নিয়ে কৃপণতা করার দলিল। আর যদি স্বপ্নদ্রষ্টা অসুস্থ অবস্থায় স্বপ্নে এমনটি করে তবে সে আরোগ্য লাভ করবে, আর পাপী হলে তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে। সম্ভবত সে বিয়ে করবে এবং নেক সন্তান লাভ করবে অথবা তার জমানো ব্যবসায় লাভবান হবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে স্বপ্নে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম' পাঠ করেছে, তবে আল্লাহ তাআলা তার সম্পদে বরকত দান করবেন এবং তাতে প্রবৃদ্ধি দান করবেন।

- (বাইতুল মুকাদ্দাস) যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে যে সে সেখানে নামাজ পড়ছে, সে কোনো উত্তরাধিকার লাভ করবে অথবা কোনো পুণ্যকর্মে লিপ্ত হবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে বাইতুল মুকাদ্দাসে কেবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে নামাজ পড়ছে, তবে সে হজ করবে। যদি দেখে যে সে বাইতুল মুকাদ্দাসে অজু করেছে, তবে সে কিছু সম্পদ লাভ করবে। সেখান থেকে বের হওয়া সফর এবং নিজের অধিকারে থাকা মিরাস বা উত্তরাধিকার হাতছাড়া হওয়ার দলিল। যদি দেখে যে সে বাইতুল মুকাদ্দাসে চেরাগ জ্বালাচ্ছে, তবে তার কোনো সন্তান বিপদে পড়বে অথবা তার সন্তানের ব্যাপারে কোনো মানত থাকলে তা পূরণ করা আবশ্যক হবে।

- (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বুরাক) যে ব্যক্তি স্বপ্নে এটি দেখবে, সে উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে এবং সম্মানের সাথে সফর করবে ও ফিরে আসবে, অথবা সে শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করবে।

- (বিদ্যুৎ/বিজলি) স্বপ্নে কেবল বিদ্যুৎ দেখা পথভ্রষ্টতার পর হেদায়েত লাভের দলিল। কখনো কখনো এটি দর্শনের বিস্ময় ও দিশেহারা অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। স্বপ্নদ্রষ্টা অসুস্থ হলে তার মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। স্বপ্নে বিদ্যুৎ দেখা কখনো গোপন রহস্য ফাঁস হওয়া এবং খবরাখবর পাওয়ার দলিল। কখনো এটি কোনো অনুপস্থিত ব্যক্তির আগমনের সুসংবাদ, রিজিকের নবায়ন অথবা আর্তমানবতার সাহায্যের দলিল। আবার কখনো বিদ্যুৎ দেখা অবস্থার পরিবর্তন—কষ্ট থেকে মুক্তি অথবা মুক্তি থেকে কষ্টের দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। কখনো এটি তলোয়ারের ঝিলিক এবং বর্শার ফলারও ইঙ্গিত হতে পারে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে এবং তার এই স্বপ্ন যদি অক্টোবর মাসে হয়, তবে তা গুজব ও শস্য উৎপাদনের দলিল। যদি নভেম্বর মাসে হয়, তবে তা উর্বরতা, সজীবতা ও প্রচুর কল্যাণের দলিল। ডিসেম্বর মাসে হলে শস্যের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। জানুয়ারি মাসে হলে ফসল কাটার সময় ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। ফেব্রুয়ারি মাসে হলে ফসলের কল্যাণের দলিল। মার্চ মাসে হলে সমস্ত ফসল নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এপ্রিল মাসে হলে এটি কল্যাণ ও সৌভাগ্যের প্রতীক এবং এতে শস্য ভালো হয় কিন্তু যবের ক্ষতি হয়। মে মাসে হলে তা কিছু ফলের জন্য ক্ষতিকর। জুন মাসে হলে তা উপকারী শিশিরের লক্ষণ। জুলাই মাসে হলে এতে কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণ নেই। সেপ্টেম্বর এবং আগস্ট মাসে হলে তা উর্বরতা ও কল্যাণের লক্ষণ। স্বপ্নে বিদ্যুৎ দেখার অর্থ সুলতানের ভয় অথবা চাবুকের আঘাতও হতে পারে। কখনো এটি সুলতানের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিশ্রুতি, হাসি, আনন্দ, সৌভাগ্য এবং প্রজাদের আকাঙ্ক্ষা ও আশার দলিল; যা তাদের নিকট বজ্রপাত, আজাব, রহমত বা বৃষ্টির রূপ ধরে আসে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে বিদ্যুৎ দেখেছে যা অন্যদের চেয়ে কেবল তার জন্যই বিশেষ এবং তার আলো তাকে আঘাত করছে বা তার দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে; তবে সে মুসাফির হলে বৃষ্টি বা সুলতানের পক্ষ থেকে কোনো কঠোরতার সম্মুখীন হবে। আর সে যদি কৃষক হয় এবং তার ফসল তৃষ্ণার্ত থাকে, তবে সে বৃষ্টি ও রহমত লাভ করবে। যদি তার পিতা, অভিভাবক বা সুলতান তার প্রতি কঠোর থাকেন এবং তার দিকে ভ্রুক্ষেপ না করেন, তবে তিনি তার প্রতি সদয় হবেন এবং তার দিকে তাকিয়ে হাসবেন। আর যদি বিদ্যুতের সাথে বৃষ্টি থাকে, তবে তা তার সামনে প্রকাশ পাওয়া কোনো মন্দ বিষয়ের দলিল।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে বিদ্যুতের কিছু অংশ গ্রহণ করেছে বা তা তাকে স্পর্শ করেছে, তবে কোনো মানুষ তাকে পুণ্য ও কল্যাণের পথে সাড়া দেবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) বিদ্যুৎ আছে কিন্তু কোনো বৃষ্টি নেই এবং তার কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়ার কথা থাকে, তবে সে তা পাবে না। বিদ্যুৎ সুলতানের ভয়, তার হুমকি ও ধমকি, তলোয়ারের ঝিলিক এবং চাবুকের আঘাতের দলিল। বিদ্যুৎ যা কিছুরই দলিল হোক না কেন, তা অত্যন্ত দ্রুত ঘটবে, কারণ বিদ্যুৎ দ্রুত চলে যায় এবং বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। বলা হয়ে থাকে, বিদ্যুৎ দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে উপকারেরও দলিল।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে বিদ্যুৎ তার কাপড় পুড়িয়ে দিয়েছে, তবে তার স্ত্রী অসুস্থ থাকলে সে মারা যাবে।

- (বানাত না’শ বা সপ্তর্ষি মন্ডল) স্বপ্নে এটি একজন উচ্চমর্যাদার আলেম ব্যক্তিকে বোঝায়। যে দেখবে যে এর সবগুলো নক্ষত্র ঝরে পড়েছে, তবে সেই শহরের আলেমগণ মৃত্যুবরণ করবেন। যার সাথে স্বপ্নে বানাত না’শ থাকে, বা সে এর মালিক হয়, অথবা এর সাথে মিশে যায় কিংবা এর নাম জানতে পারে; তবে সে কোনো মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করবে অথবা সন্তান লাভ করবে কিংবা বিয়ে করবে—স্বপ্নের শব্দের অর্থের প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী।

- (কুমারী নারী) যে ব্যক্তি স্বপ্নে কোনো কুমারী নারীকে দেখবে, পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য তা কঠিন অবস্থার দলিল, যেমনভাবে একজন নারী অভাবগ্রস্তদের জন্য মুক্তির পথ। কখনো কুমারী নারী বলতে কুমারী উটনীকেও বোঝানো হয়। এটি উর্বর ভূমি, নতুন নির্মিত ঘর, নতুন পোশাক, যে বইয়ের সিলমোহর এখনো খোলা হয়নি, যে ফল এখনো পাড়া হয়নি অথবা অবাধ্য পশুরও দলিল হতে পারে। এর নামের ব্যুৎপত্তিগত অর্থের কারণে কখনো এটি কষ্টের (কারব) দলিলও হয়।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
وتعذر الإمكان وإن قبل بنتاً فهي دالة على النبت الذي أدرك وتدل للملك على الحسن.

- (ومن رأى) أنه أصاب بكراً ملك ضيعة أو أتجر تجارة رابحة.

- (بطن) في المنام دال على ما يحوي أهله وماله وسره وعلى من يضاجعه أو يخرج منه ويدل على السجن والقبر والسر والصحة والسقم والصديق والمودع وعلى دينه وعبادته فمن انخرق بطنه في المنام وكان له ملك تعطل نفعه منه وإلا حصلت له جائحة في ماله الذي يستر به أهله وربما افتضح سره أو فقد زوجته وإن كانت امرأة حاملاً خرج منها حملها فإن ظهر شيء من أمعائه أو أعضائه خرج مسجونه وإلا كشف عن أمواته أو نزح بئر والأمراض في جوفه وإن كان يشكو ذلك زال ما يشكوه وإن فقد بطنه مات صديقه أو وليه أو الحاكم على ماله وربما تزهد وتعبد وترك الطعام والشراب وإن خرج من بطنه نار دل على توبته من أكل مال الأيتام وإن كان ممن يأكل من الأواني المحرمة دل على زهده فيها فإن مشى على بطنه في المنام دل على فاقته واحتياجه وسعيه للناس على شبع بطنه والبطن بطن الوادي وربما كان البطن في التأويل دليلاً على ما دل عليه الفخذ من العشيرة والقبيلة وربما دل على البطنة والدخول في البطن سفراً أو سجن أو يعود إلى ما كان خرج عنه وإن رأى في بطنه قيوحاً أو دماميل دل على تعرضه لما يحل له من مأكول أو مضاجعة وإن حسن بطنه أو كبر كبراً غير منافر لبدنه دل على العلم والرياسة وربما دل البطن على المباطنة في الدين والمباطنة والحقد والنفاق والبطن من ظاهر وباطن مال وولد فمن رأى في بطنه صغراً فوق ما هو فإنه يقل ماله أو ولده وأهل بيته بقدر ذلك.

- (ومن رأى) أن فيه عظماً وزيادة فإنه يكثر ماله أو ولده أو أهل بيته بقدر ذلك.

- (ومن رأى) أن بطنه خال ولم ينقص من خلقه فإنه نقص من ماله أو ولده وقيل يكون خالي البطن من الحرام وقد يكون البطن سفينة الرجل فما رأى من حادث فيه فهو حادث في سفينته.

- (ومن رأى) أنه في بطن أمه فإن كان في غير بلد عاد في مكانه ومسقط رأسه وإن كان مريضاً دفن في الأرض وإن كان صحيحاً وقع في السجن والبطن يدل على بيت الإنسان ودوابه فكبده ولده وقلبه ولده ورئته خادمه أو بنته وكرشه كيسه وحلقومه حياته وعظمته.

- (ومن رأى) أن بيته أو داره هدم وكان مريضاً في البطن مات فإن رأى أنه أخذ في بنائها أو إصلاحها أفاق من علته إن أكمل البنيان وإلا بقي من أيام عمره بقدر ما بقي من البنيان وإذا كان بطن الإنسان سفينته يكون رأسه قلبها وحلقومه صار بها وأضلاعه حيطانها فمن رأى بطنه متجرفاً ممزقاً وسالت أمعاؤه وتبددت أضلاعه عطبت سفينته ويدل لمن لا سفينة له على حانوته الذي تخرج منه نفقته إن عظم البطن أكل الربا والمشي على البطن اعتماد على المال.

- (بول) في المنام بذل ماله فيما لا يحل له أو وطء ماله يناسبه وإدرار البول في المنام دليل على إدرار الرزق وزوال ما في البطن وإمساك البول أو تعسره ربما دل على استعجاله في الأمور وعدم الصواب لأن الحاقن أو الحاقب لا يستقر له قرار حتى يدفع عنه ما يجده من ذلك وربما انسدت مصارف مياهه والبول في المنام حرام.

- (ومن رأى) كأنه بال في موضع مجهول تزوج امرأة في ذلك الموضع ويلقي فيها نطفته بمصاهرة أهل ذلك الموضع أو جارية.

- (ومن رأى) كأنه يبول فإنه ينفق نفقة تعود إليه.

- (ومن رأى) كأنه بال في بئر فإنه ينفق من مال كسب حلال.

- (وقيل من رأى) أنه بال على سلعة يخسر في تلك السلعة فإن بال في محراب يولد له ولد عالم.

- (ومن رأى) كأنه بال على المصحف يحفظ ولد له القرآن.

- (ومن رأى) كأنه بال بعضاً وحبس بعضاً فإن كان غنياً ذهب بعض ماله وإن كان مكروباً ذهب كربه فإن رأى أنه يبول معه آخر فاختلط بولهما وقعت بينهما مواصلة ومصاهرة فإن رأى أنه حاقن يغضب على امرأته فإن قوي عليه البول ولم يجد لذلك موضعاً أراد دفن مال ولا يجد مدفناً فإن رأى أنه بال في موضع البول فأكثر من بوله انفرج إن كان فقيراً وإن كان غنياً خسر في ماله فإن رأى الناس يتمسحون ببوله ولد له غلام يتبعه الناس فإن رأى إنساناً معروفاً بال عليه فإنه يذله بإنفاق ماله عليه فإن رأى امرأة تبول بولاً كثيراً فإنها تشتهي الرجال فإن رأى الرجل أنه يبول لبناً فإنه يضيع الفطرة فإن شربه إنسان معروف فهو ينفق عليه في دنياه مالاً حلالاً.

- (ومن رأى) أنه يبول دماً فإنه يأتي امرأة مطلقة أو امرأة ذات محرم ولا يعلم بذلك فإن رأى أنه يبول زعفراناً ولد له ابن ممرض فإن رأى كأنه بال عصيراً فإنه يسرف في ماله فإن رأى كأنه بال تراباً أو طيناً فإنه رجل لا يحسن الوضوء ولا يحافظ فإن بال ناراً ولد له ولد ذو سلطان فإن بال غائطاً ارتكب فاحشة من أهله فإن أخرج بدل البول قيء ذلك دل على ولد حرام فإن بال سنوراً
যদি কুমারীকে পাওয়া অসম্ভব হয় কিন্তু স্বপ্নে কেউ কুমারী কন্যাকে গ্রহণ করে, তবে তা পরিপক্ক উদ্ভিদের ইঙ্গিত দেয় এবং কোনো শাসকের জন্য তা সৌন্দর্যের পরিচায়ক।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে কোনো কুমারীকে লাভ করেছে, তবে সে কোনো ভূসম্পত্তির মালিক হবে অথবা লাভজনক ব্যবসা করবে।

- (পেট) স্বপ্নে পেট তার পরিবার, সম্পদ, গোপন বিষয় এবং যার সাথে সে শয়ন করে বা যা তার থেকে নির্গত হয় তার পরিচায়ক। এটি কারাগার, কবর, গোপনীয়তা, সুস্থতা, অসুস্থতা, বন্ধু এবং গচ্ছিত আমানতকারীর ওপর দালালত করে। এটি তার দীন এবং ইবাদতেরও পরিচায়ক। স্বপ্নে যার পেট ফেটে যায় এবং তার যদি কোনো সম্পদ থাকে, তবে তার উপকারিতা বন্ধ হয়ে যাবে। অন্যথায় তার সম্পদে বিপর্যয় ঘটবে যা দিয়ে সে তার পরিবারকে রক্ষা করত। সম্ভবত তার গোপন বিষয় ফাঁস হয়ে যাবে অথবা সে তার স্ত্রীকে হারাবে। আর সে যদি গর্ভবতী নারী হয় তবে তার গর্ভপাত হবে। যদি তার নাড়িভুঁড়ি বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে কিছু প্রকাশ পায়, তবে তার বন্দি মুক্তি পাবে। অন্যথায় তার মৃত ব্যক্তিদের কবরের রহস্য উন্মোচিত হবে অথবা কূপ খনন করা হবে। তার উদরের রোগসমূহ—যদি সে সেগুলোর অভিযোগ করে থাকে—তবে যা নিয়ে সে অভিযোগ করছিল তা দূর হবে। যদি সে তার পেট হারিয়ে ফেলে তবে তার বন্ধু অথবা অভিভাবক অথবা তার সম্পদের পরিচালক মারা যাবে। সম্ভবত সে দুনিয়া বিমুখ হবে, ইবাদতকারী হবে এবং পানাহার ত্যাগ করবে। যদি তার পেট থেকে আগুন বের হয় তবে তা এতিমের মাল ভক্ষণ থেকে তার তওবার ইঙ্গিত দেয়। আর সে যদি নিষিদ্ধ পাত্রে আহারকারী হয় তবে তা সেগুলোর প্রতি তার অনাগ্রহের পরিচায়ক। যদি সে স্বপ্নে পেটের ওপর ভর দিয়ে হাঁটে তবে তা তার দারিদ্র্য ও অভাবের প্রমাণ এবং তার উদরপূর্তির জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে চেষ্টার প্রতীক। বাতন বা পেট দ্বারা উপত্যকার মধ্যভাগও বুঝায়। ব্যাখ্যায় পেট অনেক সময় উরুর মতো বংশ ও গোত্রের পরিচায়ক হয়। আবার কখনও এটি অতিভোজন বুঝায়। পেটের ভেতরে প্রবেশ করা মানে সফর, কারাবরণ অথবা সে যেখান থেকে বের হয়েছিল সেখানেই ফিরে যাওয়া। যদি সে পেটের মধ্যে পুঁজ বা ফোড়া দেখে তবে তা এমন আহার বা শয্যা গ্রহণের ইঙ্গিত যা তার জন্য বৈধ হবে। যদি তার পেট সুন্দর হয় বা বিরূপ না হয়ে বড় হয় তবে তা জ্ঞান ও নেতৃত্বের পরিচায়ক। সম্ভবত পেট দীনের বিষয়ে আন্তরিকতা, শত্রুতা ও মুনাফেকিরও ইঙ্গিত দেয়। পেটের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অংশ হলো সম্পদ ও সন্তান। যদি কেউ তার পেটকে স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট দেখে তবে সে অনুপাতে তার সম্পদ, সন্তান বা পরিবারের সদস্য সংখ্যা কমে যাবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে তার পেটে হাড় ও মাংস বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সেই পরিমাণে তার সম্পদ, সন্তান বা পরিবারের সদস্য বৃদ্ধি পাবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে তার পেট শূন্য কিন্তু শারীরিক গঠনে কোনো ত্রুটি হয়নি, তবে এটি তার সম্পদ বা সন্তানের ঘাটতি। কেউ কেউ বলেন, শূন্য উদর ব্যক্তি হারাম থেকে মুক্ত থাকে। পেট অনেক সময় মানুষের নৌযান হিসেবেও গণ্য হয়; সুতরাং পেটে যা ঘটবে তা তার নৌযানের ক্ষেত্রেই ঘটবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে সে তার মায়ের পেটে রয়েছে, তবে সে যদি প্রবাসী হয় তবে তার জন্মস্থানে ফিরে যাবে। সে যদি অসুস্থ হয় তবে তাকে দাফন করা হবে। আর যদি সুস্থ হয় তবে সে কারারুদ্ধ হবে। পেট মানুষের ঘর ও চতুষ্পদ প্রাণীর পরিচায়ক; তার কলিজা হলো তার সন্তান, হার্ট বা হৃদয় হলো তার সন্তান, ফুসফুস হলো তার সেবক বা কন্যা, পাকস্থলী হলো তার থলি বা মানিব্যাগ এবং কণ্ঠনালী হলো তার জীবন ও গৌরব।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যে তার গৃহ বা ঘর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সে পেটের রোগে আক্রান্ত ছিল, তবে সে মারা যাবে। যদি সে ঘর নির্মাণ বা সংস্কার শুরু করে তবে সে অসুস্থতা থেকে আরোগ্য লাভ করবে যদি নির্মাণ শেষ হয়, অন্যথায় নির্মাণের যতটুকু বাকি থাকবে তার আয়ুও ততটুকুই অবশিষ্ট থাকবে। যখন মানুষের পেট তার নৌযান হয়, তখন তার মাথা হয় তার পাল এবং কণ্ঠনালী হয় মাস্তুল আর পাজরের হাড় হয় তার দেয়াল। সুতরাং যে ব্যক্তি তার পেটকে বিদীর্ণ ও ছিন্নভিন্ন দেখে এবং নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে পাজরের হাড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে যেতে দেখে, তবে তার নৌযান ধ্বংস হবে। যার নৌযান নেই তার জন্য এটি তার সেই দোকানের ইঙ্গিত যেখান থেকে তার জীবিকা নির্বাহ হয়। যদি পেট অনেক বড় হয় তবে সে সুদ ভক্ষণকারী আর পেটের ওপর ভর দিয়ে চলা সম্পদে ওপর নির্ভর করার প্রতীক।

- (প্রস্রাব) স্বপ্নে প্রস্রাব করা অবৈধ কাজে অর্থ ব্যয় করা অথবা অনুপযুক্ত স্থানে বীর্যপাত করার প্রতীক। স্বপ্নে প্রস্রাব অধিক পরিমাণে হওয়া রিজিকের প্রাচুর্য এবং পেটের ক্লেশ দূর হওয়ার প্রমাণ। প্রস্রাব আটকে রাখা বা প্রস্রাবে কষ্ট হওয়া কাজে তাড়াহুড়ো করা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরিচায়ক। কারণ প্রস্রাব আটকে রাখা ব্যক্তি ততক্ষণ স্থির হতে পারে না যতক্ষণ না তা নির্গত হয়। সম্ভবত তার পানির নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে যাবে। স্বপ্নে প্রস্রাব হারামেরও ইঙ্গিত হতে পারে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে যেন কোনো অপরিচিত স্থানে প্রস্রাব করেছে, তবে সে সেই স্থানে কোনো নারীকে বিবাহ করবে এবং আত্মীয়তার মাধ্যমে সেখানে বীর্যপাত করবে অথবা কোনো দাসী লাভ করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে প্রস্রাব করছে তবে সে এমন অর্থ ব্যয় করবে যা পুনরায় তার কাছে ফিরে আসবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যেন সে কূপে প্রস্রাব করছে তবে সে হালাল উপার্জিত অর্থ ব্যয় করবে।

- (বলা হয় যে) কেউ যদি কোনো পণ্যের ওপর প্রস্রাব করে তবে সে সেই পণ্যে লোকসান করবে। যদি মেহরাবে প্রস্রাব করে তবে তার একজন আলেম সন্তান জন্ম নেবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যেন সে কুরআনের (মুসহাফ) ওপর প্রস্রাব করছে তবে তার কোনো সন্তান কুরআন হিফজ করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) যেন সে কিছু প্রস্রাব করল আর কিছু আটকে রাখল, তবে সে ধনী হলে তার কিছু সম্পদ চলে যাবে, আর যদি সে বিপদগ্রস্ত হয় তবে তার কিছু বিপদ দূর হবে। যদি দেখে যে সে অন্য একজনের সাথে প্রস্রাব করছে এবং উভয়ের প্রস্রাব মিশে গেছে, তবে তাদের মধ্যে আত্মীয়তা ও বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে। যদি দেখে যে সে প্রস্রাব আটকে রাখছে তবে সে তার স্ত্রীর ওপর রাগান্বিত হবে। যদি প্রস্রাব প্রবল হয় কিন্তু ত্যাগের স্থান না পায় তবে সে সম্পদ দাফন করতে চাইবে কিন্তু জায়গা পাবে না। যদি দেখে যে সে প্রস্রাবের স্থানে অত্যধিক প্রস্রাব করেছে তবে সে দরিদ্র হলে তার কষ্ট দূর হবে, আর যদি ধনী হয় তবে সম্পদ হারাবে। যদি মানুষ তার প্রস্রাব দিয়ে শরীর মুছতে থাকে তবে তার এমন এক পুত্র সন্তান হবে যাকে মানুষ অনুসরণ করবে। যদি পরিচিত কেউ তার ওপর প্রস্রাব করে তবে সে তার পেছনে অর্থ ব্যয় করে তাকে লাঞ্ছিত করবে। যদি কোনো নারী প্রচুর প্রস্রাব করতে দেখে তবে সে পুরুষদের প্রবল আকাঙ্ক্ষা করে। যদি কোনো পুরুষ দেখে যে সে দুধ প্রস্রাব করছে তবে সে ফিতরাত (স্বভাবজাত ধর্ম) বিনষ্ট করছে। যদি কোনো পরিচিত ব্যক্তি তা পান করে তবে সে দুনিয়াতে তাকে হালাল সম্পদ প্রদান করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে রক্ত প্রস্রাব করছে তবে সে কোনো তালাকপ্রাপ্তা নারী অথবা কোনো মাহরাম নারীর সাথে সঙ্গম করবে অথচ সে তা জানবে না। যদি জাফরান প্রস্রাব করে তবে তার এক রুগ্ন পুত্র জন্মাবে। যদি ফলের রস প্রস্রাব করে তবে সে অর্থ অপচয় করবে। যদি মাটি বা কাদা প্রস্রাব করে তবে সে ভালো করে ওজু করে না বা ওজু রক্ষা করে না। যদি আগুন প্রস্রাব করে তবে তার প্রতাপশালী এক পুত্র জন্মাবে। যদি মল প্রস্রাব করে তবে সে তার পরিবারের কারো সাথে অশ্লীলতায় লিপ্ত হবে। যদি প্রস্রাবের বদলে বমি বের হয় তবে তা অবৈধ সন্তানের ইঙ্গিত। যদি বিড়াল প্রস্রাব করে...
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
ولد جارية من امرأة أصلها من ساحل البحر نحو المشرق وإن خرج طائر ولد له ولد مناسب جوهر ذلك الطائر في الصلاح والفساد ومن بال قائماً فإنه ينفق مالاً جهلاً ومن بال في قميصه فإنه يولد له ولد فإن لم يكن له زوجة تزوج فإن رأى أنه يبول في أنفه فإنه يأتي محرماً.

- (ومن رأى) أنه يبول في محفل من محافل السوق صار محتسباً على السوق.

ورأى: والد أردشير بن ساسان وكان راعي أغنام كأنه بال وعلاً منه بخار عم السماء كلها فسأل بابك المعبر فقال لا أعبرها لك حتى تنسب إلى ولداً يولد فوعده بذلك فقال يولد لك غلام يملك الآفاق فكان كذلك. يقال أردشير ابن بابك وإنما كان أبوه ساسان.

- (ومن رأى) أنه بال في دار قوم أو محلة قوم أو بلد أو قرية فإنه يطرح هناك نطفته بمصاهرة منه لهم أو من قومهم أو من عشيرتهم فإن كان ذلك البول في المسجد فإنه يرزق ولداً باراً تقياً.

- (ومن رأى) أنه يبول في قارورة أو طشت أو جرة أو بئر مجهولة أو خربة غير معروفة فإنه ينكح امرأة.

- (ومن رأى) أنه بال في بحر فإنه يخرج منه مال إلى السلطان في عشر أو زكاة وغير ذلك.

- (ومن رأى) أنه بال دوداً فإنه ينتشر أولاده.

- (ومن رأى) أنه يخرج من ذكره قبل فإنه يولد له ولد يكون مشاركاً في كل علم لأن القلم يحفظ كل علم.

- (ومن رأى) أنه يخرج من إحليله حية فإنه يولد له غلام يكون له عدو.

- (ومن رأى) أنه بال بولاً كثيراً خلاف العادة أو تلوث به أو رائحته رديئة أو بال والناس ينظرون إليه وهو لا يليق به ذلك فنكد أو إظهار شر يفتضح به وشرب البول يدل على الشبهة في المكاسب أو الأموال الحرام وعلى الشدائد لأنه لا يستعمل إلا في أوقات الشدة.

- (بكاء) إذا كان في المنام بصراخ أو لطم أو بكاء أو شق جيب ربما دل على ذلك وإن كان البكاء من خشية الله تعالى أو لسماع قرآن أو من ندم على ذنب فإنه في المنام دليل على الفرج والسرور وزوال الهموم والأنكاد وهو دال على الخشية ويدل على نزول القطر لمن احتبس عنه وهو محتاج إليه.

- (بصاق) يدل في المنام على قوة الرجل فمن رأى ريقه جاف عجز عما يريد مما يفعله نظراؤه وقل لفظه ومكانه.

- (ومن رأى) أنه خرج من فمه رغوة وزبد فإنه يدل على كلام باطل يقوله أو كذب يفتعله والبصاق مال الرجل وقدرته فمن رأى أنه يبصق على حائط فإنه ينفق ماله في جهاد أو يشغل ماله في تجارة فإن بصق على الأرض اشترى ضيعة أو أرضاً فإن بصق على شجرة نقض عهداً أو حنث في يمين فإن بصق على إنسان فإنه يقذفه والبصاق الحار دليل على طول العمر وأما البارد فدليل الموت وجفاف الريق في الفم فقر والبصاق هو الفضل من الكلام أو العلم أو المال وربما دل البصاق على استجلاب الراحة وطلبها من النكاح وربما دل على الصحة السقم فإن رأى الإنسان بصاقه متغيراً دل على سوء مزجه وانقطاع الريق وهو البصاق في المنام دليل انقطاع الراحة واللذة وفقدان الأولاد وكثرته في المنام دليل على الهم والنكد.

- (ومن رأى) كأنه يبصق فإنه يخرج كلام سوء فإن كان فيه دم أو بلغم غليظ فإنه كلامه فيما لا يحل له.

- (ومن رأى) أنه تفل في وجه إنسان أو دابة فإنه يخرج منه كلام لا يحل له.

- (بلغم) في المنام مال مجموع لا ينمو فإن رأى أنه ألقى بلغماً نال الفرج والشفاء إن كان مريضاً فإن رأى كأنه يتنخع فإنه ينفق نفقته في شدة وإن كان صاحب علم فهو شحيح عليه وإن خرج من فيه شعر أو خيط أو مرة غير كريهة طالت حياته وقيل إن خرج الماء من فم إنسان عالم فهو وعظ ينتفع به الناس أو فتياً وإن كان تاجراً كان صادق الكلام.

- (بدن الإنسان) سمنه في المنام وقوته قوة الدين والإيمان فإن رأى كأن جسده جسد حية فإنه يظهر ما يكتم من العداوة وإن رأى كأن له ألية كألية الكبش فإن له ولد مرزوقاً يتعيش منه.

- (ومن رأى) جسده من حديد أو من فخار فإنه يموت فإن رأى زيادة في جسده من غير مضرة فهو زيادة في النعمة عليه.

- (ومن رأى) أنه يحك جسده فإنه يتفقد الأحوال بقرابته وينال منهم تعباً وإن رأى أنه احتك ولم تسكن الحكة ناله تعب من أهله وإن سكنت الحكة فإنه ينال خيراً عظيماً وسمن الجسم وعظمه يدل على زيادة المال والعز وتحول الجسم وهزاله يدل على الفقر ونقص المال والعلم وقد يدل على اجتماعه بمن يكرهه والجسد في المنام دليل على ما يواري الإنسان ويتجسد به كاللباس والزوجة والمسكن والمحبوب والولد وعلى من يحتمي به من الأذى كالسلطان والسيد وولي الأمر عليه فقوته وحسنه وسمنه دليل على حسن حال من دل عليه ممن ذكر وأما ضعفه وتغير لونه ونتنه فدليل على سوء حال من دل عليه والجسم إذا كان في المنام سميناً بهياً دل على علو القدر والنصرة على الأعداء.
পূর্বদিকের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের এক নারী থেকে এক দাসীর সন্তান জন্মগ্রহণ করল। আর যদি কোনো পাখি বের হয়, তবে তার এমন সন্তান জন্মাবে যার প্রকৃতি সেই পাখির স্বভাবের (ভালো বা মন্দ হওয়া) অনুরূপ হবে। যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে, সে অজ্ঞতাবশত অর্থ ব্যয় করবে। আর যে নিজের জামায় প্রস্রাব করে, তার সন্তান লাভ হবে; যদি তার স্ত্রী না থাকে তবে সে বিয়ে করবে। যদি সে দেখে যে সে তার নাকে প্রস্রাব করছে, তবে সে কোনো নিষিদ্ধ (মাহরাম) কাজ করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) সে বাজারের কোনো এক সমাবেশে প্রস্রাব করছে, তবে সে সেই বাজারের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হবে।

আরদাশির ইবনে সাসানের পিতা—যিনি মেষপালক ছিলেন—স্বপ্ন দেখলেন যে তিনি প্রস্রাব করেছেন এবং তা থেকে ধোঁয়া বা বাষ্প উঠে সমস্ত আকাশ ছেয়ে ফেলেছে। তিনি স্বপ্ন বিশারদ বাবককে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, "আমি এর ব্যাখ্যা করব না যতক্ষণ না তুমি অনাগত সন্তানকে আমার সন্তান হিসেবে সম্বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দাও।" তিনি তাকে সেই প্রতিশ্রুতি দিলেন। তখন বাবক বললেন, "তোমার এমন এক পুত্র জন্মাবে যে সারা বিশ্বের মালিক হবে।" বাস্তবেও তাই হয়েছিল। যদিও তাকে আরদাশির ইবনে বাবক বলা হয়, কিন্তু মূলত তার পিতা ছিলেন সাসান।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) সে কোনো গোত্রের বাড়িতে বা মহল্লায় বা কোনো শহর বা গ্রামে প্রস্রাব করছে, তবে সে বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে সেই গোত্রে বা এলাকায় তার বীর্য স্থাপন করবে। আর যদি সেই প্রস্রাব মসজিদে হয়, তবে তাকে এক নেককার ও মুত্তাকী সন্তান দান করা হবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) সে কোনো শিশি, গামলা, কলস, অপরিচিত কুয়া বা অজ্ঞাত ধ্বংসস্তূপে প্রস্রাব করছে, তবে সে কোনো নারীকে বিবাহ করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) সে সমুদ্রে প্রস্রাব করছে, তবে তার সম্পদ থেকে উশর বা যাকাত বা অন্য কোনো কর বাবদ শাসকের কাছে অর্থ চলে যাবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) সে প্রস্রাবের সাথে পোকা বের করছে, তবে তার সন্তানদের বিস্তার ঘটবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) তার পুরুষাঙ্গ থেকে কলম বের হচ্ছে, তবে তার এমন এক পুত্র সন্তান জন্মাবে যে সমস্ত জ্ঞানে অংশীদার হবে; কারণ কলম সমস্ত জ্ঞানকে সংরক্ষণ করে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) তার মূত্রনালী থেকে সাপ বের হচ্ছে, তবে তার এমন এক পুত্র সন্তান জন্মাবে যে তার শত্রু হবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) সে অভ্যাসের বিপরীতে অতিরিক্ত প্রস্রাব করেছে, অথবা তাতে লিপ্ত হয়েছে, অথবা তার গন্ধ দুর্গন্ধযুক্ত, অথবা মানুষ তার দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থায় সে প্রস্রাব করছে—যা তার জন্য শোভনীয় নয়—তবে তা দুশ্চিন্তা বা এমন কোনো মন্দের প্রকাশ যা তাকে লজ্জিত করবে। আর প্রস্রাব পান করা উপার্জনে সন্দেহ বা হারাম মালের প্রমাণ এবং বিপদের লক্ষণ; কারণ এটি চরম বিপদ ছাড়া পান করা হয় না।

- (কান্না) স্বপ্নে যদি চিৎকার, বিলাপ বা জামা ছিঁড়ে কান্না হয়, তবে তা হয়তো সেই বিপদেরই ইঙ্গিত। আর যদি কান্না মহান আল্লাহর ভয়ে, কুরআন শ্রবণে বা পাপের অনুশোচনায় হয়, তবে স্বপ্নে এটি মুক্তি, আনন্দ এবং দুশ্চিন্তা ও কষ্ট দূর হওয়ার দলিল। এটি আল্লাহভীতির পরিচায়ক এবং যার বৃষ্টির প্রয়োজন বা বৃষ্টি বন্ধ হয়ে আছে, তার জন্য বৃষ্টি বর্ষণেরও ইঙ্গিত।

- (থুতু) স্বপ্নে পুরুষের শক্তির প্রতীক। যে ব্যক্তি দেখে যে তার থুতু শুকিয়ে গেছে, তবে সে তার সমসাময়িকদের মতো কাজ করতে অক্ষম হবে এবং তার কথা ও প্রভাব কমে যাবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) তার মুখ থেকে ফেনা ও গাঁজলা বের হচ্ছে, তবে এটি তার বলা ভিত্তিহীন কথা বা মিথ্যা রচনার প্রমাণ। থুতু হলো মানুষের সম্পদ ও সক্ষমতা। যে দেয়ালে থুতু ফেলে, সে জিহাদের পথে সম্পদ ব্যয় করে বা ব্যবসায় সম্পদ বিনিয়োগ করে। যদি জমিনে থুতু ফেলে, তবে সে কোনো কৃষিভূমি বা জমি ক্রয় করবে। যদি গাছে থুতু ফেলে, তবে সে অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে বা মিথ্যা শপথ করবে। আর যদি কোনো মানুষের ওপর থুতু ফেলে, তবে সে তাকে অপবাদ দেবে। গরম থুতু দীর্ঘায়ুর প্রতীক এবং ঠান্ডা থুতু মৃত্যুর লক্ষণ। মুখের থুতু শুকিয়ে যাওয়া দারিদ্র্যের লক্ষণ। থুতু হলো কথা, জ্ঞান বা সম্পদের অতিরিক্ত অংশ। কখনো থুতু আরামের আকাঙ্ক্ষা বা বিবাহের মাধ্যমে সুখ অন্বেষণের প্রতীক। কখনো এটি সুস্থতা বা অসুস্থতার ইঙ্গিত দেয়। যদি কেউ তার থুতু পরিবর্তিত হতে দেখে, তবে তা মেজাজের পরিবর্তন এবং লালা বন্ধ হওয়ার লক্ষণ। স্বপ্নে লালা বন্ধ হওয়া আরাম ও আনন্দ বিদায় নেওয়া এবং সন্তান হারানোর দলিল। আর স্বপ্নে থুতুর আধিক্য দুশ্চিন্তা ও কষ্টের লক্ষণ।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) যেন সে থুতু ফেলছে, তবে তার মুখ থেকে মন্দ কথা বের হবে। যদি তাতে রক্ত বা ঘন কফ থাকে, তবে তার সেই কথা এমন বিষয়ে হবে যা তার জন্য বৈধ নয়।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) সে কোনো মানুষ বা পশুর মুখে থুতু ফেলছে, তবে তার মুখ থেকে এমন কথা বের হবে যা তার জন্য বৈধ নয়।

- (কফ) স্বপ্নে সঞ্চিত সম্পদ যা বৃদ্ধি পায় না। যদি কেউ দেখে যে সে কফ ফেলেছে, তবে সে মুক্তি ও আরোগ্য লাভ করবে যদি সে অসুস্থ থাকে। যদি সে কাশির সাথে কফ বের করে, তবে সে কষ্টের সাথে ব্যয় করবে। আর সে যদি জ্ঞানী হয় তবে সেই জ্ঞানের বিষয়ে সে কৃপণ। যদি মুখ থেকে চুল, সুতো বা তিক্ত নয় এমন তরল বের হয়, তবে তার জীবন দীর্ঘ হবে। বলা হয়েছে, যদি কোনো আলিমের মুখ থেকে পানি বের হয়, তবে তা হবে নসিহত যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হবে অথবা ফতোয়া। আর যদি সে ব্যবসায়ী হয় তবে সে হবে সত্যবাদী।

- (মানুষের দেহ) স্বপ্নে দেহের স্থূলতা ও শক্তি হলো দীন ও ঈমানের শক্তি। যদি কেউ তার দেহকে সাপের দেহের মতো দেখে, তবে সে তার গোপন শত্রুতা প্রকাশ করবে। আর যদি সে দেখে যে তার ভেড়ার লেজের মতো পাছা হয়েছে, তবে তার এক রিযিকপ্রাপ্ত সন্তান হবে যার মাধ্যমে সে জীবন নির্বাহ করবে।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) তার দেহ লোহা বা মাটির তৈরি, তবে সে মৃত্যুবরণ করবে। আর যদি কোনো ক্ষতি ছাড়াই দেহে বৃদ্ধি দেখে, তবে তা তার ওপর নিয়ামত বৃদ্ধি পাওয়ার লক্ষণ।

- (আর যে ব্যক্তি দেখে) সে তার শরীর চুলকাচ্ছে, তবে সে তার আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নেবে এবং তাদের পক্ষ থেকে কষ্টের সম্মুখীন হবে। যদি সে চুলকায় এবং চুলকানি বন্ধ না হয়, তবে সে পরিবারের পক্ষ থেকে কষ্টের শিকার হবে। আর যদি চুলকানি থেমে যায়, তবে সে মহা কল্যাণ লাভ করবে। দেহের স্থূলতা ও বিশালত্ব সম্পদ ও সম্মানের বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। দেহের পরিবর্তন ও কৃশতা দারিদ্র্য এবং সম্পদ ও জ্ঞানের ঘাটতির দলিল। কখনো কখনো এটি অপছন্দনীয় লোকের সাথে একত্রিত হওয়ারও ইঙ্গিত দেয়। স্বপ্নে দেহ হলো এমন কিছুর প্রতীক যা মানুষকে আবৃত করে রাখে বা তার পরিচয় বহন করে, যেমন পোশাক, স্ত্রী, বাসস্থান, প্রিয়জন এবং সন্তান। এটি এমন সত্তারও প্রতীক যার মাধ্যমে সে অনিষ্ট থেকে রক্ষা পায়, যেমন সুলতান, নেতা বা অভিভাবক। সুতরাং দেহের শক্তি, সৌন্দর্য ও স্থূলতা উল্লিখিত ব্যক্তিদের ভালো অবস্থার প্রমাণ। আর দুর্বলতা, রঙের পরিবর্তন ও দুর্গন্ধ তাদের খারাপ অবস্থার লক্ষণ। স্বপ্নে দেহ যদি স্থূল ও সুশ্রী হয়, তবে তা উচ্চমর্যাদা এবং শত্রুদের ওপর বিজয়ের দলিল।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
- (بَرْدْ) إذا رآه الإنسان في المنام فإنه فقر فمن وجد البرد في الظل فقعد في الشمس ذهب فقره كما أنه إذا وجد حر الشمس فآوى إلى الظل فإنه ينجو من حزن والبرد في المنام إذا كانت الرؤيا في زمن الصيف يدل على الفوائد والأرزاق والكساوى النفسية فمن رأى أنه يجد برداً فأصابته ريح فإنه يزداد فقراً على فقر فإن اصطلى بنار أو جمر أو دخان فإنه يفتقر لسعى في عمل السلطان يكون فيه مخاطرة وهول فإن كان ما يتسخن به ناراً تشتعل فإنه يعمل عمل السلطان وإن كان جمراً فإنه يلتمس مال يتيم وإن تسخن بدخان فإنه يلقي نفسه في هول عظيم وقال بعضهم البرد الشديد في الرؤيا في وقته لا يدل على شيء وفي غير وقته دليل للمسافر على أن سفره لا يتم ويدل على ظهور الأشياء الخفية.

- (بَرَدْ) هو حب الغمام إذا نزل من السماء فهو دليل تعذيب الملك للناس وإذهاب أموالهم وإيجاع بعضهم بالضرب الشديد فإن رأى كأن السماء تمطر برداً أو ثلجاً في غير حينه فإن الرائي يمرض مرضاً يسيراً ثم يبرأ منه فإن رأى كأن مع البرد وقع من السماء على جسده فإنه يذهب بعض ماله والبرد في وقته يدل على زوال الهموم والغموم وإرغام الأعادي والحساد لأن فيه تبريد الأرض التي تظهر منه الحيات والعقارب فإن كان البرد كثيراً أفسد الأمكنة والطرق ومنع السبيل دل ذلك على إبطال المعاش وتوقف الحال وتعذر الأسفار وربما دل البرد على المتاجر الغريبة الواصلة من الجهة التي وقع منها فهو دليل شر وإن لم يحصل منه ضرر فهو خير ورزق خصوصاً إن جمع الناس منه أوعيتهم أو أكلوه ولم يتضرروا منه.

- (ومن رأى) البرد قد وقع بأرض فإنه رحمة من الله تعالى ولم يفسد فإن أفسد أو أفحش فإنه عذاب ينزل بذلك المكان والبرد في أماكن الزرع والنبات إذا لم يفسد شيئاً ولا أضر أحداً فإنه يصيب خصباً وخيراً وقد يدل على الجراد الذي لا يضر فإن ضر البرد بالزرع وبالناس أو كان على الدور والمحلات فإنه جوائح وغرامات ترمى على الناس أو جدري أو جنون وقروح تجتمع وتذوب أما من حمل البرد في منخل أو ثوب أو فيما لا يحمل الماء فيه فإن كان غنياً ذاب كسبه أو انمحق ماله وإن كان له بضاعة في البحر خيف عليها وإن كان فقيراً كان جميع ما يحتاجه ويلبسه ويفيده لا بقاء له عنده ولا يدخر لدهره شيئاً منه.

- (بْردْ) وهو الذي يلبس فإنه يدل في المنام على خير الدنيا والآخرة أفضل الثياب البرد الحبرة وهو أقوى في التأويل من الصوف والبرود المخططة في الدين خير منه في الدنيا والبرود من الأبريسم مال حرام وإن كانت من قطن فهي مال ديني ودنيوي.

- (بيض) في موضع أو في إناء نساء أو جوار فمن رأى أن دجاجته باضت فإنه يولد له ولد وبيضها السليق رزق هني فإن رأى أنه أكله نيئاً فإنه يأكل مالاً حراماً أو يزني أو يصيبه هم فإن أكل قشرة فإنه رجل نباش فإن رأى بيده بيضاً فإن امرأته تصير كالميتة فإن رأى أن امرأته باضت فإنها تلد ابناً كافراً فإن رأى أنه أحضن دجاجة بيضاً فتفقأت منه الفراريج فإنه يحيا له أمر ميت قد تعسر عليه ويولد له ولد مؤمن وربما يرزق بعدد كل فروجة ابناً فإن رأى أنه أحضن ديكاً بيضاً وفرخ فرريج فإنه يحضر هناك معلم يخرج صبياناً فإن ضرب البيض ضربة وكانت امرأته حاملاً فإنه يريد أن يفتض جارية ولا يمكنه وإن فقأها غيره وردها عليه افتض ابنته رجل فإن وطئ كمه فخرجت منه بيضة فإنه يطأ أمته ويولدها جارية فإن رأى أن عنده بيضاً كثيراً فإن عنده مالاً ومتاعاً كثيراً يخشى فساده وبيض الببغاء جارية ورعة.

- (ومن رأى) بيده بيضاً سليقاً فإنه يصلح له أمر قد تمادى عليه وتعسر وينال بإصلاحه مالاً ويحيا له أمر ميت فإن أكله بقشرة الرقيق فإنه نباش فإنه نحاه أكل مال امرأة أو أسرف فيه فإن أكله فإنه يتزوج امرأة عندها مال وبيض الكراكي أولاد مساكين.

- (ومن رأى) أنه أعطي بيضة ولد له ولد شريف فإن انكسرت مات ولده.

- (ومن رأى) أنه يأكل قشور البيض فإنه رجل نباش يسلب الموتى والبيض الكثير للأعزب تزوج وللمتزوج أولاد والصغار من البيض بنات والكبار بنون.

- (ومن رأى) أنه يقشر بيضاً مطبوخاً فإنه ينال مالاً من بعض الموالي والبيض يدل على ذهب وفضة فبياضه فضة وصفاره ذهب والبيض يدل على الأولاد والأزواج والإماء وربما دل على القبور وربما دل البيض على بيض الأسنة والخود وربما دل البيض على الاجتماع بالأهل والأقارب والأحباب وربما دل البيض على جمع الدراهم والدنانير وادخارها.

- (ومن رأى) البيض يحرق في مكان كما يحرق الزبل فإنه يدل على سبي نساء ذلك المكان.

- (শীত বা ঠান্ডা) যদি মানুষ স্বপ্নে এটি দেখে তবে তা দারিদ্র্যের পরিচায়ক। যে ব্যক্তি ছায়ায় ঠান্ডা অনুভব করল এবং এরপর রোদে গিয়ে বসল, তার দারিদ্র্য দূর হবে; যেমন রোদের তাপ অনুভব করে ছায়ায় আশ্রয় নিলে সে দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি পায়। গ্রীষ্মকালে স্বপ্নে ঠান্ডা দেখা উপকার, জীবিকা এবং মানসিক প্রশান্তিদায়ক পোশাকের পরিচায়ক। যে ব্যক্তি দেখল সে ঠান্ডা অনুভব করছে এবং এরপর বাতাস তাকে স্পর্শ করল, তবে তার দারিদ্র্যের ওপর দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাবে। যদি সে আগুন, কয়লা বা ধোঁয়ার মাধ্যমে তাপ গ্রহণ করে, তবে সে সুলতানের কোনো কাজে প্রচেষ্টার কারণে অভাবী হয়ে পড়বে যাতে ঝুঁকি ও আতঙ্ক রয়েছে। যদি তাপ নেওয়ার উপকরণ প্রজ্বলিত আগুন হয় তবে সে সুলতানের কাজ করবে। আর যদি তা কয়লা হয় তবে সে এতিমের সম্পদ অন্বেষণ করবে। আর যদি ধোঁয়া দিয়ে তাপ নেয় তবে সে নিজেকে মহা আতঙ্কে নিক্ষেপ করবে। কেউ কেউ বলেছেন, সঠিক সময়ে স্বপ্নে প্রচণ্ড শীত দেখা কোনো কিছুর ইঙ্গিত দেয় না, তবে অসময়ে দেখলে মুসাফিরের জন্য তা তার সফর সম্পন্ন না হওয়ার দলিল এবং গোপন বিষয় প্রকাশের চিহ্ন।

- (শিলাবৃষ্টি) মেঘের দানা যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয়। এটি শাসক কর্তৃক মানুষকে শাস্তি প্রদান, তাদের ধন-সম্পদ হরণ এবং কঠোর প্রহারের মাধ্যমে কাউকে কষ্ট দেওয়ার দলিল। যদি কেউ দেখে যেন আকাশ থেকে অসময়ে শিলাবৃষ্টি বা বরফ পড়ছে, তবে স্বপ্নদ্রষ্টা সামান্য অসুস্থ হবে এবং পরে সুস্থ হয়ে যাবে। যদি দেখে যেন শিলাবৃষ্টির সাথে আকাশ থেকে তার শরীরের ওপর কিছু পড়ছে, তবে তার কিছু সম্পদ হাতছাড়া হবে। সঠিক সময়ে শিলাবৃষ্টি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ দূর করার এবং শত্রু ও হিংসুকদের অপদস্থ করার প্রমাণ, কারণ এতে ভূমি শীতল হয় যেখান থেকে সাপ ও বিচ্ছু বের হয়। যদি শিলাবৃষ্টির আধিক্য স্থান ও রাস্তাঘাট নষ্ট করে দেয় এবং চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তবে তা জীবিকা অচল হওয়া, কর্মহীনতা এবং ভ্রমণে প্রতিবন্ধকতার ইঙ্গিত দেয়। কখনো শিলাবৃষ্টি সেই দিক থেকে আসা বিদেশি বা অদ্ভুত ব্যবসার ইঙ্গিত দেয় যেখান থেকে তা বর্ষিত হয়েছে। যদি এর দ্বারা কোনো ক্ষতি না হয় তবে তা মন্দ এবং যদি কোনো ক্ষতি না হয় তবে তা কল্যাণ ও রিজিক, বিশেষ করে যদি মানুষ তা পাত্রে সংগ্রহ করে বা তা ভক্ষণ করে এবং তাতে কোনো ক্ষতি না হয়।

- (যে ব্যক্তি দেখল) শিলাবৃষ্টি কোনো জমিতে পড়েছে এবং তাতে কোনো ক্ষতি হয়নি, তবে তা আল্লাহ তাআলার রহমত। আর যদি তা ধ্বংসাত্মক বা অতিরিক্ত হয়, তবে ওই স্থানে আজাব নাযিল হবে। চাষাবাদ বা উদ্ভিদের স্থানে শিলাবৃষ্টি যদি কোনো কিছু নষ্ট না করে বা কারো ক্ষতি না করে, তবে সেখানে উর্বরতা ও কল্যাণ লাভ হবে। কখনো এটি এমন পঙ্গপালের ইঙ্গিত দেয় যা ক্ষতি করে না। আর যদি শিলাবৃষ্টি ফসল ও মানুষের ক্ষতি করে অথবা ঘরবাড়ি ও জনপদে পড়ে, তবে তা মানুষের ওপর আপতিত বিপদ-আপদ, জরিমানা, বসন্ত রোগ, উন্মাদনা বা এমন ঘা যা একত্রিত হয়ে গলে যায়। আর যে ব্যক্তি চালনি, কাপড় বা এমন কিছুতে শিলাবৃষ্টি বহন করল যাতে পানি থাকে না; সে যদি ধনী হয় তবে তার উপার্জন গলে যাবে বা সম্পদ ধ্বংস হবে। যদি সমুদ্রে তার পণ্য থাকে তবে তার ব্যাপারে আশঙ্কা রয়েছে। আর যদি সে দরিদ্র হয়, তবে তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, পোশাক এবং উপকারে আসে এমন কোনো কিছু তার কাছে অবশিষ্ট থাকবে না এবং সে ভবিষ্যতের জন্য কিছুই সঞ্চয় করতে পারবে না।

- (বুর্দ বা চাদর) যা পরিধান করা হয়। স্বপ্নে এটি দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের ইঙ্গিত দেয়। চাদরের মধ্যে 'হিবরা' বা কারুকার্যখচিত চাদর সবচেয়ে উত্তম। তাবিরের ক্ষেত্রে এটি পশমি চাদরের চেয়েও শক্তিশালী। দ্বীনের ক্ষেত্রে ডোরাকাটা চাদর দুনিয়ার তুলনায় অধিক কল্যাণকর। রেশমি চাদর হারাম সম্পদ, আর যদি সুতি হয় তবে তা দ্বীনি ও দুনিয়াবী সম্পদ।

- (ডিম) কোনো স্থানে বা পাত্রে থাকলে তা নারী বা দাসীদের ইঙ্গিত দেয়। যে ব্যক্তি দেখল যে তার মুরগি ডিম পেড়েছে, তবে তার সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে। সেদ্ধ ডিম উত্তম রিজিক। যদি দেখে যে সে কাঁচা ডিম খাচ্ছে, তবে সে হারাম মাল খাচ্ছে অথবা ব্যভিচার করছে কিংবা সে চিন্তাগ্ৰস্ত হবে। যদি ডিমের খোসা খায় তবে সে ব্যক্তি হবে কবর চোর। যদি তার হাতে ডিম দেখে তবে তার স্ত্রী মৃতপ্রায় হবে। যদি দেখে যে তার স্ত্রী ডিম পেড়েছে তবে সে এক কাফের পুত্র সন্তান জন্ম দেবে। যদি দেখে যে সে একটি মুরগিকে ডিমের ওপর বসিয়েছে এবং তা থেকে বাচ্চা ফুটেছে, তবে তার কোনো মৃতপ্রায় কাজ পুনর্জীবিত হবে যা তার জন্য কঠিন ছিল এবং তার একজন মুমিন সন্তান জন্ম নেবে। সম্ভবত প্রতিটি বাচ্চার বিনিময়ে সে একটি করে পুত্র সন্তান লাভ করবে। যদি দেখে যে সে একটি মোরগকে ডিমের ওপর বসিয়েছে এবং তা থেকে বাচ্চা ফুটেছে, তবে সেখানে একজন শিক্ষক উপস্থিত হবেন যিনি বালকদের শিক্ষা দেন। যদি সে ডিমে আঘাত করে এবং তার স্ত্রী গর্ভবতী হয়, তবে সে কোনো কুমারী মেয়ের সাথে সহবাস করতে চাইবে কিন্তু সক্ষম হবে না। যদি অন্য কেউ তা ভেঙে দেয় এবং তাকে ফিরিয়ে দেয়, তবে কোনো ব্যক্তি তার মেয়েকে বিবাহ করবে। যদি সে তার আস্তিনে বীর্যপাত করে এবং তা থেকে ডিম বের হয়, তবে সে তার দাসীর সাথে সহবাস করবে এবং তার গর্ভে কন্যা সন্তান জন্ম নেবে। যদি দেখে যে তার কাছে অনেক ডিম রয়েছে, তবে তার কাছে প্রচুর ধন-সম্পদ ও আসবাবপত্র রয়েছে যার নষ্ট হওয়ার ভয় আছে। আর তোতাপাখির ডিম পরহেজগার দাসীর ইঙ্গিত দেয়।

- (যে ব্যক্তি দেখল) তার হাতে সেদ্ধ ডিম রয়েছে, তবে তার এমন কোনো কাজ সহজ হবে যা দীর্ঘকাল ধরে তার জন্য কঠিন ছিল এবং তা সংশোধনের মাধ্যমে সে সম্পদ লাভ করবে এবং তার কোনো মৃতপ্রায় বিষয় জীবন ফিরে পাবে। যদি সে এটি পাতলা খোসাসহ খায় তবে সে কবর চোর। যদি সে তা সরিয়ে ফেলে তবে সে কোনো নারীর সম্পদ ভক্ষণ করবে অথবা তাতে অপব্যয় করবে। আর যদি সেটি খায় তবে সে কোনো সম্পদশালী নারীকে বিবাহ করবে। আর সারস পাখির ডিম দরিদ্র সন্তানদের ইঙ্গিত দেয়।

- (যে ব্যক্তি দেখল) তাকে একটি ডিম দেওয়া হয়েছে, তবে তার এক সম্ভ্রান্ত সন্তান জন্ম নেবে। যদি ডিমটি ভেঙে যায় তবে তার সন্তান মারা যাবে।

- (যে ব্যক্তি দেখল) সে ডিমের খোসা খাচ্ছে, তবে সে একজন কবর চোর যে মৃতদের মালামাল লুণ্ঠন করে। অবিবাহিতদের জন্য প্রচুর ডিম বিবাহের এবং বিবাহিতদের জন্য সন্তানের ইঙ্গিত। ছোট ডিমগুলো কন্যা সন্তান এবং বড় ডিমগুলো পুত্র সন্তান।

- (যে ব্যক্তি দেখল) সে সেদ্ধ ডিমের খোসা ছাড়াচ্ছে, তবে সে কোনো দাতার কাছ থেকে সম্পদ লাভ করবে। ডিম সোনা ও রুপার দলিল; এর সাদা অংশ রুপা এবং কুসুম সোনার ইঙ্গিত দেয়। ডিম সন্তান, স্ত্রী এবং দাসীদেরও ইঙ্গিত দেয়। কখনো এটি কবরের ইঙ্গিত দেয়। আবার কখনো ডিম বর্শার ফলক ও শিরস্ত্রাণের ইঙ্গিত দেয়। কখনো ডিম পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জনদের সাথে একত্রিত হওয়ার এবং দিরহাম ও দিনার সংগ্রহ ও সঞ্চয় করার ইঙ্গিত দেয়।

- (যে ব্যক্তি দেখল) কোনো স্থানে ডিম পোড়ানো হচ্ছে যেভাবে গোবর পোড়ানো হয়, তবে তা ওই স্থানের নারীদের যুদ্ধবন্দী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
- (بياض اللون) ومن رأى وجهه في المنام أشد بياضاً مما كان فإنه مرض.

- (ومن رأى) أن لون خده فإنه ينال عزاً وكرماً.

- (بحر) في المنام يدل على ملك قوي هائل مهاب عادل شفيق يحتاج إليه الخلائق والبحر للتاجر متاعه وللأجير أستاذه.

- (ومن رأى) البحر أصاب شيئاً كان يرجوه.

- (ومن رأى) أنه خاضه فإنه يدخل على الملك الذي هذه صفته.

- (ومن رأى) أنه قاعد على متن البحر أو مضطجع فإنه يدخل في عمل الملك ويكون منه على حذر لأن الماء لا يؤمن على الغرق وكذلك لا يؤمن من غضب السلطان فإن شرب ماءه كله ولا يراه إلا ملك عظيم فإنه يملك الدنيا ويطول عمره أو يصيبه ثلث مال الملك أو مثل سلطانه أو يكون نظيره في ملكه فإن شربه حتى روي منه فإنه ينال من الملك مالاً يتمول به مع طول حياة وقوة فإن استقى منه فإنه يلتمس عملاً من الملك ويناله بقدر ما استقى منه فإن صبه في إناء فإنه يحوز مالاً كثيراً أو يعطيه الله تعالى دولة يجمع فيها مالاً والدولة أقوى وأوسع وأدوم من البحر لأنها عطية الله تعالى وقيل من شرب من ماء البحر تعلم من الأدب بقدر ما شرب منه فإن عبر البحر فإنه يغنم مال عدو كبني إسرائيل لما عبروا البحر غنموا مال فرعون فإن رأى أن ماء البحر دخل محلة ولم يتأذ أهلها منه فإنه يدخل ذلك المكان سلطان وينال أهلها منه مال ومعيشة فإن اغتسل منه فإنه يكفر عنه الذنوب ويذهب همه بالملك فإن رآه في مكان بعيد ولم يخالطه فإنه يقرب منه شيء له قد كان يرجوه فإن شرب منه وكان له شريك فارقه ومن بال في البحر فإنه يقم على الخطايا.

- (ومن رأى) البحر من بعيد فإنه يرى هولاً وفتنة وبلاءً وقال بعضهم يقع في بلية ومحن تنزل به.

- (ومن رأى) أن ماء البحر غاض حتى ظهر حافتاه فهو بلاء ينزل إلى الأرض من قبل الخليفة أو بيت مال أو قحط في البلدان.

- (ومن رأى) البحر ووقف عليه فإنه يصيب من السلطان شيئاً ولم يرجه.

- (ومن رأى) البحر قد نقص وصار خليجاً فإن السلطان يضعف ويذهب عن تلك البلاد التي ذهب عنها البحر ولا يصيب الناس إلا خير.

- (ومن رأى) أنه يدخل سلطاناً أو ذا سلطان فإن كان مريضاً اشتد مرضه.

- (ومن رأى) أنه دخل بحراً ثم خرج منه فإنه يصيب من السلطان جزاء ويذهب عنه الهم من قبله.

- (ومن رأى) أنه خارج من بحر كان سابحاً فيه فإنه إن كان مريضاً شفاه الله تعالى وإن كان في غم من قبل السلطان أو غيره فرج الله عنه.

- (ومن رأى) أنه قطع بحراً إلى الجانب الآخر فإنه يقطع هما أو خوفاً أو هولاً ويسلم من ذلك.

- (ومن رأى) البحر غمره فإنه يصيبه غم غالب ولا سيما إن كان ماؤه كدراً أو ناله من قعره وحل.

- (ومن رأى) أنه يسبح في بحر فإنه يعالج الخروج من أمر هو فيه ويكون مسبحه في ذلك والطول إليه بقدر ما عالج في صعوبة السباحة وسهولتها بقدر قربه من الساحل أو بعده فإن كان خروجه من ذلك بسباحته تلك فإنه لا يلبث أن يخرج من ذلك الأمر الذي هو فيه.

- (ومن رأى) أنه دخل في بحر بالسباحة حتى لا يرى فإن ذلك هلاكه وانقطاعه.

- (ومن رأى) أنه غمره الماء حتى مات فيه أو رأى أنه مات فإنه يموت شهيداً لأن الغريق شهيد وقيل يموت كثير الخطايا.

- (ومن رأى) أنه غرق في البحر وكان يصعد على الماء ويسفل ولم يمت فيه فإنه يغرق في أمر الدنيا وربما نال منها نعمة وربما كان كثير المعاصي والذنوب.

- (ومن رأى) أنه يغوص في البحر على اللؤلؤ وغيره فإنه طالب مال أو نحو ذلك ويصيب منه على قدر ما أصاب من اللؤلؤ أو غيره.

- (ومن رأى) أنه يغرف ماء من بحر ويصبه في سفينة مرسية حتى يملأها فإنه يولد له غلام يعيش طويلاً.

- (ومن رأى) أنه أخذ ماء من البحر فشربه نال من سلطانه مالاً أو جمع علماً في قدر ما يشرب من الماء وإن كان كدراً أصابه خوف.

- (ومن رأى) أنه اغتسل أو توضأ من البحر فإن كان مريضاً شفاه الله تعالى وإن كان مديوناً قضى الله دينه وإن كان ذا هم فرج الله همه وإن كان ذا خوف أمن مما يخاف وإن كان في سجن خرج منه إلى خير.

- (ومن رأى) أنه يمشي فوق الماء في بحر فإنه يدل على حسن نيته وصحة يقينه وقد يدل البحر على الفتنة المضطربة المهلكة ويدل على جهنم.

- (ومن رأى) أحداً فيه وإن كان ميتاً فهو في النار وإن كان مريضاً اشتدت علته فإن غرق مات في علته وقيل المشي على الماء يدل على استبانة أمر خفي وقيل يدل على خطر وتوكل وربما دل على كثرة تحمل الرائي وتدليسه ورؤية البحر المحيط في المنام دليل على نهاية العمر والاتصال بعالم الغيب والشهادة مع طول العمر ويدل البحر على السفر والحرب وعلى ما يصل منه من حيوان ومال والبحر العذب مؤمن والمالح كافر وربما دل البحر على غيث السماء وربما دل البحر على التسبيح والتهليل لأن الإنسان إذا رآه سبح الله تعالى وهلل وكبره وربما دل البحر على الخوف والجزع وبطء المقاصد وربما دل على زوال الهم والنكد وربما دل على الموت لما يذهب فيه من المال والأرواح وربما دل على الطهارة من الأنجاس والإيمان للكافر والتوبة
- (সাদা বর্ণ) যে ব্যক্তি স্বপ্নে নিজের মুখমণ্ডল স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক সাদা দেখে, তবে তা রোগের লক্ষণ।

- (যে ব্যক্তি দেখে) তার গালের বর্ণ সুন্দর, তবে সে সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবে।

- (সমুদ্র) স্বপ্নে এক শক্তিশালী, বিশাল, প্রভাবশালী, ন্যায়পরায়ণ ও দয়ালু বাদশাহকে নির্দেশ করে, যাঁর মুখাপেক্ষী সৃষ্টির সকল জীব। আর ব্যবসায়ীর জন্য সমুদ্র হলো তার পণ্য এবং শ্রমিকের জন্য তার ওস্তাদ বা নিয়োগকর্তা।

- (যে ব্যক্তি) সমুদ্র দেখে, সে এমন কিছু প্রাপ্ত হবে যার আশা সে করত।

- (যে ব্যক্তি) সমুদ্রে প্রবেশ করে, সে এমন গুণসম্পন্ন বাদশাহর দরবারে প্রবেশ করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে সমুদ্রের পিঠে বসে আছে বা শুয়ে আছে, তবে সে বাদশাহর কোনো কাজে নিয়োজিত হবে এবং বাদশাহর ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। কারণ পানিতে ডুবে যাওয়ার যেমন নিশ্চয়তা নেই, তেমনি সুলতানের ক্রোধ থেকেও নিরাপদ থাকা যায় না। যদি সে সমুদ্রের সমস্ত পানি পান করে এবং তাকে কেবল এক মহান বাদশাহ ছাড়া আর কেউ না দেখে, তবে সে দুনিয়ার রাজত্ব লাভ করবে এবং তার আয়ু দীর্ঘ হবে, অথবা সে বাদশাহর সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্ত হবে, অথবা তার সমতুল্য ক্ষমতা লাভ করবে কিংবা তার রাজত্বে তার সমকক্ষ হবে। আর যদি সে তৃপ্ত হওয়া পর্যন্ত পান করে, তবে সে বাদশাহর কাছ থেকে এমন সম্পদ লাভ করবে যা দিয়ে সে সচ্ছল হবে এবং দীর্ঘ জীবন ও শক্তি লাভ করবে। যদি সে সমুদ্র থেকে পানি সংগ্রহ করে, তবে সে বাদশাহর কাছে কাজ প্রার্থনা করবে এবং যতটুকু পানি সে সংগ্রহ করেছে সেই পরিমাণ কাজ বা প্রতিদান পাবে। আর যদি সে তা কোনো পাত্রে ঢালে, তবে সে প্রচুর ধনসম্পদ অর্জন করবে অথবা আল্লাহ তাআলা তাকে এমন রাষ্ট্র দান করবেন যেখানে সে সম্পদ পুঞ্জীভূত করবে। রাষ্ট্র সমুদ্রের চেয়েও অধিক শক্তিশালী, প্রশস্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী, কারণ এটি আল্লাহ তাআলার দান। বলা হয়ে থাকে, যে ব্যক্তি সমুদ্রের পানি পান করে, সে সেই পরিমাণ আদব বা শিষ্টাচার শিক্ষা করবে যতটুকু সে পান করেছে। আর যদি সে সমুদ্র পাড়ি দেয়, তবে সে শত্রুর সম্পদ লাভ করবে, যেমন বনী ইসরাঈল সমুদ্র পার হওয়ার পর ফেরাউনের সম্পদ লাভ করেছিল। যদি সে দেখে যে সমুদ্রের পানি কোনো জনপদে প্রবেশ করেছে এবং এর অধিবাসীরা কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি, তবে সেই স্থানে একজন সুলতান প্রবেশ করবেন এবং অধিবাসীরা তাঁর কাছ থেকে ধনসম্পদ ও জীবিকা লাভ করবে। যদি সে সমুদ্রে গোসল করে, তবে তার গুনাহসমূহ মোচন হবে এবং বাদশাহর পক্ষ থেকে আসা তার দুশ্চিন্তা দূর হবে। আর যদি সে সমুদ্রকে দূর থেকে দেখে কিন্তু তার সংস্পর্শে না যায়, তবে সে যা আশা করছিল এমন কোনো বিষয় তার নিকটবর্তী হবে। যদি সে তা থেকে পান করে এবং তার কোনো অংশীদার থাকে, তবে সে তার থেকে পৃথক হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি সমুদ্রে প্রস্রাব করে, সে পাপে লিপ্ত হবে।

- (যে ব্যক্তি) দূর থেকে সমুদ্র দেখে, সে আতঙ্ক, ফিতনা ও বিপদ দেখতে পাবে। কেউ কেউ বলেন, সে এমন কোনো বিপদ ও পরীক্ষায় পড়বে যা তার ওপর আপতিত হবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সমুদ্রের পানি শুকিয়ে গেছে এবং এর দুই কিনারা ভেসে উঠেছে, তবে তা খলিফার পক্ষ থেকে বা বাইতুল মাল থেকে যমীনে নেমে আসা কোনো বিপদ, অথবা দেশসমূহে দেখা দেওয়া দুর্ভিক্ষ।

- (যে ব্যক্তি) সমুদ্র দেখে এবং তার তীরে দাঁড়িয়ে থাকে, তবে সে সুলতানের কাছ থেকে এমন কিছু লাভ করবে যা সে আশা করেনি।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সমুদ্র কমে গিয়ে খাঁড়িতে পরিণত হয়েছে, তবে সুলতান দুর্বল হয়ে পড়বেন এবং সেই সব দেশ থেকে চলে যাবেন যেখান থেকে সমুদ্র সরে গেছে, আর মানুষের ওপর কেবল কল্যাণই আসবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে কোনো সুলতান বা প্রভাবশালী ব্যক্তির নিকট প্রবেশ করছে, এমতাবস্থায় সে যদি অসুস্থ থাকে তবে তার রোগ আরও বেড়ে যাবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে সমুদ্রে প্রবেশ করেছে এবং অতঃপর তা থেকে বের হয়ে এসেছে, তবে সে সুলতানের পক্ষ থেকে প্রতিদান পাবে এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা দুশ্চিন্তা দূর হবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে সমুদ্র থেকে বের হয়ে আসছে যাতে সে সাঁতার কাটছিল, তবে সে যদি অসুস্থ থাকে তবে আল্লাহ তাআলা তাকে আরোগ্য দান করবেন। আর যদি সে সুলতান বা অন্য কারো পক্ষ থেকে দুশ্চিন্তায় থাকে, তবে আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করবেন।

- (যে ব্যক্তি) সমুদ্র পাড়ি দিয়ে অপর তীরে পৌঁছায়, তবে সে দুশ্চিন্তা, ভয় বা আতঙ্ক অতিক্রম করবে এবং তা থেকে নিরাপদ থাকবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সমুদ্র তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে, তবে সে প্রচণ্ড দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে; বিশেষ করে যদি সমুদ্রের পানি ঘোলা হয় অথবা তার তলদেশের কাদা তাকে স্পর্শ করে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে সমুদ্রে সাঁতার কাটছে, তবে সে বর্তমানে যে অবস্থায় আছে তা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। তার সাঁতার কাটার দীর্ঘতা এবং সাঁতারের কঠিন বা সহজ হওয়া নির্ভর করবে সে তীরের কতটা নিকটবর্তী বা দূরবর্তী তার ওপর। সাঁতার কাটার মাধ্যমে যদি সে বের হয়ে আসতে পারে, তবে সে যে সংকটে আছে তা থেকে অতি শীঘ্রই মুক্তি পাবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে সাঁতার কাটতে কাটতে সমুদ্রের গভীরে চলে যায় এবং আর তাকে দেখা যায় না, তবে তা তার ধ্বংস ও নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার লক্ষণ।

- (যে ব্যক্তি দেখে) পানি তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে এবং সে তাতে মৃত্যুবরণ করেছে, অথবা দেখে যে সে মারা গেছে, তবে সে শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করবে; কারণ নিমজ্জিত ব্যক্তি শহীদ। আবার কেউ কেউ বলেন, সে অনেক পাপে লিপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে সমুদ্রে ডুবে যাচ্ছে এবং পানির ওপরে উঠছে ও নিচে নামছে কিন্তু মৃত্যুবরণ করছে না, তবে সে দুনিয়ার কাজে নিমজ্জিত হবে। হতে পারে সে দুনিয়ার নেয়ামত লাভ করবে, আবার হতে পারে সে অনেক পাপ ও গুনাহে লিপ্ত হবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে মুক্তা বা অন্য কিছুর জন্য সমুদ্রে ডুব দিচ্ছে, তবে সে সম্পদ বা অনুরূপ কিছুর অন্বেষণকারী। সে যতটুকু মুক্তা বা অন্য কিছু লাভ করবে, সেই পরিমাণ সম্পদ প্রাপ্ত হবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে সমুদ্র থেকে পানি সেঁচে একটি নোঙর করা নৌকায় ঢালে এবং তা পূর্ণ করে ফেলে, তবে তার এক পুত্র সন্তান জন্মাবে যে দীর্ঘজীবী হবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে সমুদ্র থেকে পানি নিয়ে তা পান করেছে, তবে সে সুলতানের কাছ থেকে সম্পদ লাভ করবে অথবা যতটুকু পানি পান করেছে সেই পরিমাণ ইলম বা জ্ঞান অর্জন করবে। আর যদি পানি ঘোলা হয়, তবে সে ভীতিগ্রস্ত হবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে সমুদ্রের পানিতে গোসল বা অযু করেছে, সে যদি অসুস্থ থাকে তবে আল্লাহ তাআলা তাকে আরোগ্য দান করবেন। যদি সে ঋণগ্রস্ত থাকে তবে আল্লাহ তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন। যদি সে চিন্তিত থাকে তবে আল্লাহ তার চিন্তা দূর করবেন। যদি সে ভীত থাকে তবে সে যা থেকে ভয় পায় তা থেকে নিরাপদ হবে। আর যদি সে কারাগারে থাকে তবে সে সেখান থেকে মুক্তি পেয়ে কল্যাণের পথে যাবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে সমুদ্রের পানির ওপর দিয়ে হাঁটছে, তবে তা তার নিয়তের বিশুদ্ধতা ও ইয়াকীনের দৃঢ়তার প্রমাণ। সমুদ্র উত্তাল ফিতনা, ধ্বংস এবং জাহান্নামকেও নির্দেশ করে।

- (যে ব্যক্তি) কাউকে সমুদ্রে দেখে, সে যদি মৃত হয় তবে সে জাহান্নামে আছে। আর সে যদি অসুস্থ হয় তবে তার অসুস্থতা বৃদ্ধি পাবে। যদি সে ডুবে যায় তবে সে তার এই অসুস্থতাতেই মারা যাবে। বলা হয়ে থাকে, পানির ওপর দিয়ে হাঁটা কোনো গোপন বিষয় প্রকাশিত হওয়ার প্রমাণ। আবার বলা হয়, এটি বিপদ ও তাওয়াক্কুলের পরিচায়ক। সম্ভবত এটি স্বপ্নদ্রষ্টার অনেক ধকল সহ্য করা এবং প্রবঞ্চনারও ইঙ্গিত হতে পারে। স্বপ্নে মহাসাগর দেখা আয়ুর সমাপ্তি এবং দীর্ঘ জীবনের সাথে অদৃশ্য ও দৃশ্য জগতের সাথে সম্পর্কের দলিল। সমুদ্র সফর, যুদ্ধ এবং সমুদ্র থেকে প্রাপ্ত প্রাণী ও সম্পদের ইঙ্গিত দেয়। মিষ্ট পানির সমুদ্র মুমিন এবং লোনা পানির সমুদ্র কাফেরের প্রতীক। সমুদ্র কখনো আসমানি বৃষ্টির ইঙ্গিত দেয়। আবার এটি তাসবীহ ও তাহলীলেরও ইঙ্গিত বহন করে, কারণ মানুষ যখন সমুদ্র দেখে তখন সে আল্লাহ তাআলার তাসবীহ, তাহলীল ও তাকবীর পাঠ করে। সমুদ্র কখনো ভয়, অস্থিরতা ও লক্ষ্য অর্জনে বিলম্বকে নির্দেশ করে। কখনো দুশ্চিন্তা ও কষ্ট দূর হওয়ারও ইঙ্গিত দেয়। আবার কখনো এটি মৃত্যুর প্রতীক হয় কারণ এতে অনেক প্রাণ ও সম্পদ হারিয়ে যায়। এটি অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা, কাফেরের জন্য ঈমান এবং তাওবারও নির্দেশক।
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
للعاصي ويدل على القسم لأن الله تعالى أقسم به فقال: {والبحر المسجور} وربما دل على الوالد والوالدة ويدل على الرجل والمرأة أصحاب الأخلاق السيئة ومن لهم مكايد ومغايظ وربما دل على السجن لسجن الحيوان فيه وربما دل على الصناعة التي لا حد لها والمدنية التي لا سور لها وتدل رؤيته على ترك الجماعات وشهود الأعياد وعلى المرض الذي يمنعه عن أكل الشهوات فإن زاد البحر في المنام زيادة حسنة وكان الناس يحتاجون إلى المطر أمطروا وحصل لهم منه نفع وإن رآه زاخراً تتلاطم أمواجه حصل له في سفره خوف وشدة ومن بال في البحر فإنه يقيم على الخطايا وربما دل البحر على الدنيا وأهوالها وعجائبها.

- (بحيرة) تدل في المنام على القضاء والولاة الذين يفعلون الأشياء بلا مؤامرة والبحيرة للمسافر تدل على تعذر السفر والبحيرة الصغيرة تدل على امرأة غنية والبحيرة تدل على امرأة ذات يسار تحب المباشرة لأن البحيرة واقفة لا تجري وهي تقتل من وقع فيها ولا تدفعه والبحيرة امرأة حربية.

- (بخار) في المنام دال على بخار العين وظلمتها والبخار الذي يخرج من الفم في الشتاء إذا رآه في المنام وكانت الرؤيا في الصيف دلت على الأمراض الباطنة وظهور الأسرار المكتومة فإن كان الرائي مهتدياً ضل عن هديه وإن كان عالماً ابتدع بدعة ظاهرة وربما دل ذلك على الكذب والكلام فيما ليس فيه فائدة.

- (بئر) الماء في المنام امرأة ضاحكة مستبشرة وإذا رأته امرأة فهو رجل حسن الخلق والبئر مال أو علم أو تزوج أو رجل ضخم أو سجن أو قيد أو مكر.

- (ومن رأى) أنه احتفر بئراً وفيها ماء تزوج امرأة موسرة ومكر بها لأن الحفر مكر فإن لم يكن فيها ماء فإن المرأة لا مال لها وإن رأى أنه شرب من مائها فإنه يصيب مالاً من مكر إذا كان هو المحتفر وإلا فعلى يد من احتفرها أو سميه أو عقبه بعده فإن رأى بئراً عتيقة في محلة أو دار أو قرية يستقي منها الصادرون والواردون بالحبل والدلو فإن هناك امرأة أو بعل امرأة وقيمها ينتفع به الناس في معايشهم ويكون له في ذلك ذكر حسن لمكان الحبل الذي يدلون به إلى الماء فإن رأى أن الماء فاض من تلك البئر فخرج منها فإنه هم وحزن وبكاء في ذلك الموضع فإن امتلأ ماء ولم يفض فلا بأس أن يكفي خير ذلك وشره فإن رأى أن يحفر بئراً ليسقي منها بستانه فإنه يتناول دواء يجامع به أهله فإن رأى بئره فاضت أكثر مما سال فيها من الماء حتى دخل الماء البيوت فإنه يصيب مالاً يكون وبالاً عليه فإن طرق لذلك حتى خرج من الدار فإنه ينجو من هم ويذهب من ماله بقدر ما خرج من الدار فإن رأى أنه وقع في بئر ماء كدر فإنه يتصرف مع رجل سلطاني جائر ويبتلى بكيده وظلمه ويتعسر عليه أمره فإن كان الماء صافياً فإنه يعمل لرجل صالح يرضى منه كفافاً فإن قعد فوق بئر فإنه يعامل رجلاً مكاراً وينجو من كيده فإن رأى أنه يهوي أو يرسل في بئر فإنه يسافر والبئر إذا رآه الرجل في موضع مجهول وكان فيه ماء عذب فإنه دنيا الرجل ويكون فيها مرزوقاً طيب العيش طويل العمر بقدر الماء وإن يكن فيها ماء فقد نفد عمره وانهدام البئر موت المرأة فإن رأى أن رجليه مدلاتان في البئر فإن يمكر بماله كله أو بعضه فإن نزل في بئر وبلغ نصفها فأذن فيه فإنه يسافر وإذا نضب طريقه نال رياسة وولاية أو ربحاً من تجارة وبشارة فإن سمع الأذان في نصف البئر عزل إن كان والياً وخسر إن كان تاجراً.

- (وقيل من رأى) بئراً في داره أو أرضه فإنه ينال سعة في معيشته ويسراً بعد عسر ومنفعة من حيث لا يحتسب فإن رأى أنه سقط في بئر فإنه تسقط مرتبته وجاهه وربما دل البئر على الوالد والولد والمؤدب والقبر والمكر والسب وقضاء الحوائج والسفر والمطلب والشح والكرم ولكل بئر تأويل فبئر الدار دال على صاحب الدار أو حانوته أو زوجته أو خادمه أو ماله أو موته أو حياته والبئر المعطلة تعطيل من السفر والحركات والبئر المبذول في الطرقات دال على المسجد أو الحمام وربما دل على المرأة الزانية التي يأتي إليها كل واحد وبئر الحارة دال على حارسها أو القيم بمصالح جيرانها وبئر السبيل دال على الفرج بعد الشدة وبئر الساقية دال على الدنيا التي يسعد فيها قوم ويفتقر آخرون وربما دلت على دار العلم والمدارس للطلبة فمنهم المتضلع ومنهم المترشح والبئر التي لم يكن فيها دال على المكر والخديعة والمغرم في السفر فإن رأى بئر زمزم في حارة من الحارات أو بلد معروفة قدم إلى ذلك الموضع رجل ينتفع الناس بدعائه أو معروفة وربما دل ذلك على نصرة أهل ذلك البلد على أعدائهم وكثرة بركتهم وربما نزل بهم الغيث النافع عند احيتاجهم إليه فإن رأى أنه وقف على بئر واستقى منه ماء طيباً صافياً فإن كان من أهل العلم حصل له منه بقدر ما استقى وإن كان فقيراً استغنى وإن كان أعزب
এটি পাপীর জন্য এবং এটি শপথের ওপর দলিল পেশ করে, কারণ মহান আল্লাহ এটি দিয়ে শপথ করেছেন এবং বলেছেন: "উত্তাল সমুদ্রের কসম"। কখনও কখনও এটি পিতা ও মাতার ওপর দলিল হয় এবং এটি মন্দ স্বভাবের সেই সব পুরুষ ও নারীর ওপর দলিল হয় যারা ষড়যন্ত্রকারী ও ক্রোধপরায়ণ। সম্ভবত এটি কারাগারের ওপরও দলিল হয়, কারণ এতে প্রাণিকুল বন্দি থাকে। এটি এমন এক শিল্পের ওপরও দলিল হতে পারে যার কোনো সীমা নেই এবং এমন এক নগরীর ওপর যার কোনো প্রাচীর নেই। স্বপ্নে সমুদ্র দেখা জামাত বর্জন করা, ঈদের জামাতে উপস্থিত না হওয়া এবং এমন রোগের ওপর দলিল হয় যা তাকে প্রিয় খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে। যদি স্বপ্নে সমুদ্রের পানি সুন্দরভাবে বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের বৃষ্টির প্রয়োজন থাকে, তবে বৃষ্টি বর্ষিত হবে এবং তারা তার দ্বারা উপকৃত হবে। যদি কেউ সমুদ্রকে উত্তাল দেখে এবং তার ঢেউগুলো আছড়ে পড়ে, তবে তার ভ্রমণে ভয় ও কষ্ট দেখা দেবে। যে ব্যক্তি সমুদ্রে প্রস্রাব করে, সে পাপের ওপর অটল থাকে। সমুদ্র সম্ভবত দুনিয়া এবং এর বিভীষিকা ও আশ্চর্যজনক বিষয়গুলোর ওপরও দলিল হয়।

- (হ্রদ) স্বপ্নে বিচারকার্য এবং এমন শাসকদের ওপর দলিল হয় যারা কোনো পরামর্শ ছাড়াই কাজ সম্পাদন করেন। মুসাফিরের জন্য হ্রদ দেখা সফর অসম্ভব হওয়ার ওপর দলিল। ছোট হ্রদ একজন ধনী মহিলার ওপর দলিল হয়। হ্রদ এমন এক বিত্তশালী মহিলার ওপর দলিল হয় যে সহবাস পছন্দ করে, কারণ হ্রদের পানি স্থির থাকে, প্রবাহিত হয় না; আর এটি যে এতে পড়ে তাকে মেরে ফেলে এবং তাকে উদ্ধার করে না। হ্রদ একজন যুদ্ধবাজ মহিলার ওপরও দলিল হয়।

- (বাষ্প) স্বপ্নে চোখের ঝাপসা হওয়া ও অন্ধকারের ওপর দলিল। শীতকালে মুখ থেকে যে বাষ্প বের হয়, তা যদি কেউ স্বপ্নে গ্রীষ্মকালে দেখে, তবে তা অভ্যন্তরীণ রোগ এবং গোপন রহস্য প্রকাশের ওপর দলিল হয়। যদি স্বপ্নদ্রষ্টা সঠিক পথে থাকে, তবে সে তার পথ থেকে বিচ্যুত হবে; আর যদি সে আলেম হয়, তবে সে প্রকাশ্য বিদআতে লিপ্ত হবে। সম্ভবত এটি মিথ্যা এবং অনর্থক কথার ওপরও দলিল হয়।

- (কূপ) পানির কূপ স্বপ্নে হাস্যোজ্জ্বল ও সুসংবাদপ্রাপ্ত মহিলার ওপর দলিল। যদি কোনো মহিলা এটি দেখে, তবে তা উত্তম চরিত্রের পুরুষের ওপর দলিল। কূপ হলো সম্পদ, জ্ঞান, বিবাহ, বিশালদেহী পুরুষ, কারাগার, বন্দিদশা বা ষড়যন্ত্র।

- (যে ব্যক্তি দেখবে) যে সে একটি কূপ খনন করেছে এবং তাতে পানি আছে, সে একজন সচ্ছল মহিলাকে বিবাহ করবে এবং তার সাথে প্রতারণা করবে, কারণ খনন করা মানেই ষড়যন্ত্র। যদি তাতে পানি না থাকে, তবে সেই মহিলার কোনো সম্পদ থাকবে না। যদি সে দেখে যে সে সেই কূপের পানি পান করছে, তবে সে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ লাভ করবে যদি সে নিজে খননকারী হয়; অন্যথায় যে খনন করেছে তার মাধ্যমে অথবা তার সমনামধারী ব্যক্তির মাধ্যমে অথবা তার বংশধরের মাধ্যমে তা লাভ করবে। যদি কেউ কোনো পাড়ায়, বাড়িতে বা গ্রামে একটি পুরাতন কূপ দেখে যেখান থেকে আগত ও বিাগত মানুষ রশি ও বালতির মাধ্যমে পানি সংগ্রহ করছে, তবে সেখানে এমন একজন মহিলা বা মহিলার স্বামী ও অভিভাবক রয়েছেন যার দ্বারা মানুষ তাদের জীবনযাত্রায় উপকৃত হয় এবং পানির কাছে পৌঁছানোর রশির কারণে সেখানে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। যদি সে দেখে যে সেই কূপ থেকে পানি উপচে পড়ে বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে, তবে সেই স্থানে দুশ্চিন্তা, দুঃখ ও কান্না দেখা দেবে। যদি কূপ পানিতে পরিপূর্ণ হয় কিন্তু উপচে না পড়ে, তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই এবং তার ভালো-মন্দের জন্য তা যথেষ্ট হবে। যদি সে দেখে যে সে তার বাগানে সেচ দেওয়ার জন্য কূপ খনন করছে, তবে সে এমন কোনো ওষুধ সেবন করবে যা দ্বারা সে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে সক্ষম হবে। যদি সে দেখে যে তার কূপটি তাতে প্রবাহিত পানির চেয়েও বেশি উপচে পড়ছে এমনকি পানি ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ছে, তবে সে এমন সম্পদ লাভ করবে যা তার জন্য আপদ হয়ে দাঁড়াবে। যদি সে পানি বের করে দেওয়ার রাস্তা করে দেয় এবং তা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়, তবে সে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাবে এবং বাড়ি থেকে যতটুকু পানি বের হয়ে যাবে সেই পরিমাণ সম্পদ তার হাতছাড়া হবে। যদি সে দেখে যে সে ঘোলা পানির কূপে পড়ে গেছে, তবে সে একজন অত্যাচারী শাসকের সাথে কাজ করবে এবং তার ষড়যন্ত্র ও জুলুমের শিকার হবে এবং তার কাজ কঠিন হয়ে পড়বে। যদি পানি স্বচ্ছ হয়, তবে সে একজন নেককার লোকের অধীনে কাজ করবে যে তার অল্পতেই সন্তুষ্ট হবে। যদি সে কূপের ওপর বসে থাকে, তবে সে একজন প্রতারক ব্যক্তির সাথে লেনদেন করবে এবং তার ষড়যন্ত্র থেকে বেঁচে যাবে। যদি সে দেখে যে সে কূপে পড়ে যাচ্ছে বা তাকে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, তবে সে সফর করবে। যদি কোনো লোক অজানা স্থানে কূপ দেখে এবং তাতে মিষ্টি পানি থাকে, তবে তা সেই লোকের দুনিয়া; পানির পরিমাণ অনুযায়ী সে সেখানে রিযিকপ্রাপ্ত, সুখী ও দীর্ঘায়ু হবে। আর যদি তাতে পানি না থাকে, তবে তার আয়ু শেষ হয়ে গেছে। কূপ ধ্বংস হওয়া মহিলার মৃত্যুর লক্ষণ। যদি সে দেখে যে তার দুই পা কূপের ভেতরে ঝুলানো রয়েছে, তবে সে তার সমস্ত বা আংশিক সম্পদ নিয়ে ষড়যন্ত্র করবে। যদি সে কূপে নামে এবং তার অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছানোর পর সেখানে আযান দেয়, তবে সে সফর করবে। যদি তার সফরের পথ প্রশস্ত হয়, তবে সে নেতৃত্ব, শাসনক্ষমতা অথবা ব্যবসা থেকে মুনাফা ও সুসংবাদ লাভ করবে। যদি কূপের অর্ধেক গভীরতায় সে আযান শুনতে পায়, তবে সে শাসক হলে পদচ্যুত হবে এবং ব্যবসায়ী হলে লোকসান করবে।

- (বলা হয়ে থাকে, যে ব্যক্তি দেখবে) তার বাড়িতে বা জমিতে একটি কূপ রয়েছে, তবে সে তার জীবনযাত্রায় প্রশস্ততা, কষ্টের পর স্বস্তি এবং অভাবনীয় উৎস থেকে উপকার লাভ করবে। যদি সে দেখে যে সে কূপে পড়ে গেছে, তবে তার মর্যাদা ও সম্মান ধুলোয় মিশে যাবে। সম্ভবত কূপ পিতা, সন্তান, শিক্ষক, কবর, ষড়যন্ত্র, গালিগালাজ, প্রয়োজন পূরণ, সফর, লক্ষ্য, কৃপণতা ও মহানুভবতার ওপর দলিল হয়। প্রত্যেক কূপের আলাদা ব্যাখ্যা রয়েছে। বাড়ির কূপ বাড়ির মালিক, তার দোকান, তার স্ত্রী, তার সেবক, তার সম্পদ, তার মৃত্যু বা তার জীবনের ওপর দলিল হয়। পরিত্যক্ত কূপ সফর ও চলাচল বন্ধ হওয়ার ওপর দলিল। রাস্তার ধারের উন্মুক্ত কূপ মসজিদ বা গোসলখানার ওপর দলিল হয়, আবার কখনও এটি এমন ব্যভিচারী মহিলার ওপরও দলিল হতে পারে যার কাছে সবাই আসে। মহল্লার কূপ তার পাহারাদার বা প্রতিবেশীদের স্বার্থ রক্ষাকারীর ওপর দলিল। জনপথের কূপ কষ্টের পর মুক্তির ওপর দলিল। সেচ দেওয়ার কূপ দুনিয়ার ওপর দলিল যেখানে একদল সুখী হয় এবং অন্যদল দরিদ্র হয়; সম্ভবত এটি জ্ঞানের ঘর এবং ছাত্রদের জন্য মাদরাসার ওপরও দলিল হয়, যাদের মধ্যে কেউ পারদর্শী আবার কেউ প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী। যে কূপে কিছুই নেই তা ষড়যন্ত্র, প্রতারণা এবং সফরে জরিমানার ওপর দলিল। যদি কেউ কোনো মহল্লায় বা পরিচিত কোনো শহরে যমযম কূপ দেখে, তবে সেই স্থানে এমন একজন লোক আসবে যার দোয়া বা নেক আমলের মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হবে। সম্ভবত এটি সেই এলাকার অধিবাসীদের তাদের শত্রুদের ওপর বিজয় এবং বরকত বৃদ্ধির ওপর দলিল। সম্ভবত তাদের প্রয়োজনে সেখানে উপকারী বৃষ্টি বর্ষিত হবে। যদি কেউ দেখে যে সে কূপের পাশে দাঁড়িয়ে আছে এবং সেখান থেকে উত্তম ও স্বচ্ছ পানি তুলেছে, তবে সে যদি আলেম হয় তবে উত্তোলিত পানির পরিমাণ অনুযায়ী সে জ্ঞান অর্জন করবে; যদি সে দরিদ্র হয় তবে সে সচ্ছল হবে; আর যদি সে অবিবাহিত হয়...
(খণ্ড: ১) তাতীরুল আনাম ফী তাবীরিল মানাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
تزوج وإن كانت زوجته حاملاً أتت بولد خصوصاً إن استقى بدلو وإلا حصل له سبب يستغني عن الناس والتذلل لهم وإن كان طالب حاجة قضيت حوائجه وإن كان يرجو سفراً وحصل له سفرة فائدة طائلة وإن كان يطلب خبيثة أو مطلباً حصل له وإن كان يؤمل أملاً أدركه فإن كان البئر قريب الرشا كان كريماً وإن كان رشاه بعيداً كان رجلاً بخيلاً فإن غار ماء البئر دل على الشرك والكفر بالله تعالى وربما دل البئر على الشك في الدين لأن عكسها ريب.

- (ومن رأى) أنه ينظر في بئر فإنه يتفكر وينظر في أمر امرأة وفي تزويج من قبلها وسيرى في ذلك خيراً كثيراً.

- (ومن رأى) أن بئره تطوى وامرأته مريضة أو عليها النفاس فإنها تخلص وتبرأ من سقمها.

- (ومن رأى) أنه يشرب من ماء بئر فإنه عرض.

- (بكرة) في المنام رجل نفاع مؤمن يسعى في أمور الناس ويعينهم في أمور الدين والدنيا فمن رأى أنه يستقي بها ليتوضأ به فإنه يستعين برجل مؤمن معتصم بدين الله تعالى لأن الحبل دين وإن توضأ وتمم وضوءه فإنه يكفي كل مهم من مرض وغم ودين وربما دلت البكرة على الجارية النشيطة في حركتها أو الزوجة أو الغلام الكثير الكلام.

- (بكرة النهار) ربما دلت في المنام على البنات يرزقن أو يتزوجن وربما دلت البكرة على الذكر والقرأة.

- (بناء) رؤية البناء في المنام المستحدث على الأرض إفادة دنيا خاصة أو عامة بقدر ما رأى من ذلك وربما كان تأويل البناء بناء الرجل بأهله فإذا بنى شيئاً دل على أمر النساء فإن رأى أن داره أو بيته اتسعا قدراً حسناً فهو في سعة دنياه فإن جاوز قدره فهو أن يدخل تلك الدار قوم بغير أذن في مصيبة أو عرس أو جزع.

- (ومن رأى) أنه يبني بنياناً فإنه يجمع قراباته وأصدقائه وجنوده وإن كان سلطاناً فهو رجوع دولته وشمل سروره زيادة في قوته وارتفاع أموره على قدر سمك البناء وإحكامه فإن قلعه وأزاله فإنه تفريق جمع قرابته وأصحابه وأصدقائه وجنوده وذهاب دولته وكل فاعل من الفعلة فإن فعل الله تعالى فإن رأى أنه يجدد بنياناً عتيقاً لعالم فهو تجديد سيرة ذلك العالم فإن كان البناء لفرعون أو ظالم فهو تجديد سيرته فإن رأى إنه ابتداء في بناء فخره من أساسه وبناء من قراره حتى شيده فإنه في طلب علم أو ولاية أو حرفة وسينال ما يروم.

- (ومن رأى) أنه يبني في بلدة أو قرية بنياناً فإنه يتزوج هناك امرأة فإن بنى من خزف فإنه تزيين ورياء فإن بنى من طين فإنه كسب من حلال وإن كان منقوشاً فإنه علم أو ولاية مع طهر وطرب فإن رأى أنه بنى بناء من جص وآجر عليه صورة فإنه يخوض في باطل لأن البناء بالجص والآجر نفاق والنفاق هو البناء بالجص والآجر وقيل من عمل الجص عمل ما لا يحل.

- (ومن رأى) أنه يبني في الغربة فإنه يتزوج امرأة لم يتقدم إليه ذكرها أو أنه يقيم في الغربة ويموت والبناء بالطين هو الدين واليقين والطين اليابس فظاعة مال فمن رأى أنه طين قبر النبي صلى الله عليه وسلم فإنه يحج بمال.

- (ومن رأى) انه طين بيته وكان الطين رطباً فهو صالح.

- (ومن رأى) أنه أكله فإنه مال يأكله بقدر ما أكل منه والبناء المليح يدل على الألفة والمحبة والنسل والرزق والكساوى الجليلة والأبكار من النساء والأولاد منهن وربما دل البناء المحكم على القوة والشدة وربما دل على المعاضدة والمساعدة وربما دلت رؤية البناء على العمر الطويل وربما دل على بانيه فإن كان في المنام كنيسة كان من دل عليه نصرانياً وإن كان مسجداً كان من دل عليه مسلماً وإن كان مدرة كان من دل عليه فقيهاً أو رباطاً كان من دل عليه عابداً أو زاهداً ومشاهدة البناء في المنام تدل على همة الرائي واحتفاله بما يناسبه من ذلك ومن بنى في المنام مسجداً أو مكاناً قربة لله تعالى فإن كان ملكاً أقام الحق وأمر بالمعروف ونهى عن المنكر وإن كان عالماً صنف كتاباً انتفع الناس بعلمه أو بفتاويه وإن كان ذا مال أدى زكاة ماله وإن كان أعزب تزوج وإن كان مزوجاً رزق ولداً وانتشر له ذكر صالح وإن كان فقيراً استغنى وإلا خدم ذلك المكان وعمره بذكر الله تعالى والقيام بمصالحه وإلا جمع بين الناس بالخير وأعانهم على طاعة الله تعالى وإلا صار سمساراً أو تاب إلى الله تعالى مما هو مرتكبه أو اهتدى إلى الإسلام أو مات شهيداً أو كان ذلك قصره في الجنة هذا لمن بنى في ذلك المنام بما ينبغي أنه يبني به وإن بنى ذلك بما لا يجوز به البناء أو انحراف عن المحراب أو حرفه إلى غير جهته دل على عكس الخير بالشر فإن رأى قباباً أو بناها في المنام فإنه يدل على رفع شأنه أو انضمامه إلى ذوي الأقدار.

- (ومن رأى) أنه يعقد أرجاء صهريج فإنه يؤدب ولده.

- (ومن رأى) أنه بنى قبة على السحاب فإنه يصيب سلطاناً وقوة لحكمه.

- (ومن رأى) أن له بنياناً فوق السماء والأرض من القباب الخضر حسنت أفعاله ومات على الشهادة.

- (ومن رأى) أنه يبني حماماً فإنه يبني امرأة وإن رأى
বিবাহ করবে এবং যদি তার স্ত্রী গর্ভবতী হয় তবে সে সন্তান প্রসব করবে, বিশেষত যদি সে বালতি দিয়ে পানি তোলে। অন্যথায় তার এমন কোনো উপায় অর্জিত হবে যার মাধ্যমে সে মানুষের থেকে অমুখাপেক্ষী হবে এবং তাদের কাছে লাঞ্ছিত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। যদি সে কোনো প্রয়োজনের প্রার্থী হয় তবে তার প্রয়োজন পূর্ণ হবে। যদি সে সফরের আশা করে তবে সে প্রভূত লাভজনক এক সফর লাভ করবে। যদি সে কোনো মন্দ বস্তু বা কোনো উদ্দেশ্য খোঁজে তবে সে তা লাভ করবে। যদি সে কোনো আশা পোষণ করে তবে তা অর্জন করবে। যদি কুয়ার রশি ছোট হয় তবে সে হবে দাতা, আর যদি রশি লম্বা হয় তবে সে হবে কৃপণ ব্যক্তি। যদি কুয়ার পানি শুকিয়ে যায় তবে তা আল্লাহর সাথে শিরক ও কুফরির দলিল। আর কখনো কুয়া দ্বীনের ব্যাপারে সন্দেহের নির্দেশক হতে পারে, কারণ কুয়া (বির) শব্দের বিপরীত হলো সন্দেহ (রিব)।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে একটি কুয়ার দিকে তাকাচ্ছে, তবে সে কোনো মহিলার বিষয়ে এবং তার পক্ষ থেকে বিবাহের ব্যাপারে চিন্তা ও দৃষ্টিপাত করবে এবং এতে প্রভূত কল্যাণ দেখতে পাবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) তার কুয়া গুটিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং তার স্ত্রী অসুস্থ অথবা নেফাস (সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব) অবস্থায় আছে, তবে সে মুক্ত হবে এবং তার ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে কুয়ার পানি পান করছে, তবে তা মান-সম্মান।

- (কূপের চরকা/পুলি) স্বপ্নে এমন একজন উপকারী মুমিন ব্যক্তি যে মানুষের কাজে সচেষ্ট থাকে এবং দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে তাদের সাহায্য করে। যে ব্যক্তি দেখে সে ওযু করার জন্য তা দিয়ে পানি তুলছে, তবে সে আল্লাহর দ্বীনকে মজবুতভাবে ধারণকারী এক মুমিন ব্যক্তির সাহায্য প্রার্থনা করবে, কেননা রশি হলো দ্বীন। আর যদি সে ওযু করে এবং ওযু পূর্ণ করে তবে সে রোগ-ব্যাধি, দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে মুক্তি পাবে। কখনো চরকা দ্বারা চটপটে দাসী বা চটপটে স্ত্রী অথবা অধিক কথা বলা গোলামকে বোঝানো হয়।

- (দিনের শুরু ভাগ/চরকা) স্বপ্নে কখনো কন্যাসন্তান রিজিক প্রাপ্ত হওয়া বা তাদের বিবাহের ইঙ্গিত দেয় এবং কখনো চরকা যিকির ও কিরাআতের (তথা কুরআন পাঠের) দলিল হয়।

- (নির্মাণ) জমিনের ওপর নতুন কোনো স্থাপনা বা নির্মাণ দেখা ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে দুনিয়াবী ফায়দা অর্জনের দলিল, যা সে যতটুকু দেখেছে সেই পরিমাণ হবে। কখনো নির্মাণের ব্যাখ্যা হয় পুরুষ কর্তৃক তার স্ত্রীর সাথে বাসর রাত যাপন। সুতরাং যখন সে কিছু নির্মাণ করে, তা নারীদের বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত দেয়। যদি সে দেখে যে তার ঘর বা বাড়ি সুন্দর পরিমাণে প্রশস্ত হয়েছে, তবে তা তার পার্থিব প্রশস্ততা। আর যদি তা সীমার বাইরে চলে যায়, তবে অনুমতি ছাড়াই কোনো বিপদ, বিবাহ বা শোকের জন্য সেই বাড়িতে মানুষ প্রবেশ করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে কোনো ইমারত নির্মাণ করছে, তবে সে তার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সৈন্যদের একত্রিত করবে। আর যদি সে সুলতান হয় তবে তা তার রাজত্ব ফিরে আসা, আনন্দের সম্মিলন, শক্তির বৃদ্ধি এবং তার ইমারতের উচ্চতা ও দৃঢ়তা অনুযায়ী তার কার্যাবলীর উন্নতির পরিচায়ক। যদি সে তা উপড়ে ফেলে বা সরিয়ে দেয়, তবে তা তার আত্মীয়-স্বজন, সাথী, বন্ধু ও সৈন্যদের ছত্রভঙ্গ হওয়া এবং তার রাজত্ব বিলীন হওয়ার দলিল। প্রতিটি কারিগর আল্লাহর কাজ স্বরূপ। যদি সে দেখে যে সে কোনো আলেমের পুরোনো স্থাপনা সংস্কার করছে, তবে তা সেই আলেমের জীবনাদর্শ পুনরুজ্জীবিত করার নামান্তর। আর যদি সেই স্থাপনা ফিরআউন বা কোনো জালেমের হয়, তবে তা তাদের জীবনাদর্শ পুনরুজ্জীবিত করার দলিল। যদি সে দেখে যে সে ভিত্তি থেকে কোনো গর্বিত অট্টালিকা নির্মাণ শুরু করেছে এবং এর স্থায়িত্ব থেকে তা সুদৃঢ় করেছে, তবে সে ইলম, কর্তৃত্ব বা পেশার সন্ধানে আছে এবং সে যা চায় তা অর্জন করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে কোনো শহর বা গ্রামে অট্টালিকা নির্মাণ করছে, তবে সে সেখানে কোনো নারীকে বিবাহ করবে। যদি সে মাটির পাত্র বা সিরামিক দিয়ে নির্মাণ করে তবে তা সৌন্দর্য প্রদর্শন ও রিয়া (লৌকিকতা)। যদি সে কাদা-মাটি দিয়ে নির্মাণ করে তবে তা হালাল উপার্জন। যদি তা নকশাকৃত হয় তবে তা পবিত্রতা ও আনন্দের সাথে জ্ঞান বা কর্তৃত্ব। যদি সে দেখে সে জিপসাম ও ইট দিয়ে নির্মাণ করেছে যার ওপর ছবি আছে, তবে সে বাতিলের মধ্যে নিমজ্জিত হবে। কারণ জিপসাম ও ইট দিয়ে নির্মাণ করা নিফাক (ভণ্ডামি) এবং নিফাক হলো জিপসাম ও ইট দিয়ে নির্মাণ করা। বলা হয়ে থাকে যে, যে ব্যক্তি জিপসামের কাজ করল সে এমন কাজ করল যা বৈধ নয়।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে প্রবাসে নির্মাণ কাজ করছে, তবে সে এমন এক নারীকে বিবাহ করবে যার আলোচনা আগে তার কাছে আসেনি অথবা সে প্রবাসে অবস্থান করবে এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করবে। কাদা-মাটি দিয়ে নির্মাণ করা হলো দ্বীন ও ইয়াকীন। আর শুকনো মাটি হলো মালের কঠোরতা। যে ব্যক্তি দেখে যে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরে মাটি দিচ্ছে, তবে সে সম্পদ ব্যয় করে হজ করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে তার ঘরে মাটি দিচ্ছে এবং সেই মাটি ভেজা, তবে তা নেক আমল।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে তা খাচ্ছে, তবে তা সম্পদ যা সে ভক্ষণ করবে যে পরিমাণ সে তা খেয়েছে। সুন্দর নির্মাণ সৌহার্দ্য, ভালোবাসা, বংশবৃদ্ধি, রিজিক, মর্যাদাপূর্ণ পোশাক এবং কুমারী নারী ও তাদের থেকে সন্তানের দলিল। কখনো মজবুত নির্মাণ শক্তি ও কঠোরতার দলিল হয়। কখনো তা পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার দলিল। কখনো নির্মাণ দেখা দীর্ঘ আয়ুর দলিল এবং কখনো তা নির্মাতার পরিচায়ক। সুতরাং স্বপ্নে যদি তা গির্জা হয় তবে যার ওপর তা নির্দেশ করে সে হবে খ্রিষ্টান। যদি মসজিদ হয় তবে সে হবে মুসলিম। যদি কোনো মাটির ইমারত হয় তবে সে হবে ফকিহ। যদি কোনো খানকাহ হয় তবে সে হবে ইবাদতকারী বা যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ)। স্বপ্নে নির্মাণ প্রত্যক্ষ করা স্বপ্নদ্রষ্টার হিম্মত (উচ্চাকাঙ্ক্ষা) এবং তার উপযুক্ত বিষয়ের প্রতি তার আগ্রহের দলিল। যে ব্যক্তি স্বপ্নে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে মসজিদ বা কোনো স্থান নির্মাণ করে, সে যদি রাজা হয় তবে সে সত্য প্রতিষ্ঠা করবে এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করবে। সে যদি আলেম হয় তবে সে এমন কিতাব রচনা করবে যার দ্বারা মানুষ তার জ্ঞান বা ফতোয়া থেকে উপকৃত হবে। যদি সে সম্পদশালী হয় তবে তার মালের যাকাত আদায় করবে। যদি সে অবিবাহিত হয় তবে বিবাহ করবে। বিবাহিত হলে তাকে সন্তান দান করা হবে এবং তার উত্তম সুনাম ছড়িয়ে পড়বে। যদি সে দরিদ্র হয় তবে সে অভাবমুক্ত হবে। অন্যথায় সে সেই স্থানের খেদমত করবে এবং আল্লাহর যিকির ও তার তদারকির মাধ্যমে তা আবাদ করবে। অথবা সে মানুষের মাঝে কল্যাণের জন্য একত্র করবে এবং আল্লাহর আনুগত্যের কাজে তাদের সাহায্য করবে। অন্যথায় সে মধ্যস্থতাকারী হবে অথবা তার কৃতকর্ম থেকে আল্লাহর কাছে তওবা করবে অথবা ইসলামের দিকে হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে অথবা শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করবে অথবা জান্নাতে এটিই হবে তার প্রাসাদ। এটি তার জন্য যে স্বপ্নে এমন কিছু দ্বারা নির্মাণ করেছে যা দিয়ে নির্মাণ করা উচিত। আর যদি সে এমন কিছু দিয়ে নির্মাণ করে যা দিয়ে নির্মাণ করা বৈধ নয়, অথবা মেহরাব থেকে বিচ্যুত হয় বা মেহরাবকে ভুল দিকে ঘুরিয়ে দেয়, তবে তা কল্যাণের বিপরীত অকল্যাণের দলিল। যদি সে অনেক গম্বুজ দেখে বা স্বপ্নে তা নির্মাণ করে, তবে তা তার মর্যাদা বৃদ্ধি অথবা মর্যাদাবান ব্যক্তিদের সাথে তার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দলিল।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে পানির হাউজের পাড় মজবুত করছে, তবে সে তার সন্তানকে আদব শিক্ষা দিচ্ছে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে মেঘের ওপর গম্বুজ নির্মাণ করেছে, তবে সে রাজত্ব ও তার শাসনের জন্য শক্তি লাভ করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) আসমান ও জমিনের উপরে সবুজ গম্বুজের ইমারত রয়েছে, তবে তার আমলগুলো উত্তম হবে এবং সে শাহাদাতের মৃত্যু বরণ করবে।

- (যে ব্যক্তি দেখে) সে একটি গোসলখানা নির্মাণ করছে, তবে সে কোনো নারীর সাথে ঘর বাঁধবে। এবং যদি সে দেখে...