القسم: علوم أخرى
الكتاب: تعطير الأنام في تعبير المنام
المؤلف: عبد الغني بن إسماعيل بن عبد الغني النابلسي (ت 1143هـ)
الناشر: دار الفكر - بيروت
عدد الصفحات: 381
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: অন্যান্য শাস্ত্র
গ্রন্থ: স্বপ্নের ব্যাখ্যার মাধ্যমে সৃষ্টির সুগন্ধিতকরণ
লেখক: আবদুল গনী বিন ইসমাইল বিন আবদুল গনী আন-নাবলুসী (মৃত্যু ১১৪৩ হিজরি)
প্রকাশক: দার আল-ফিকর - বৈরুত
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
--------------------------------------------
--------------------------------------------
(জেনে রাখুন) স্বপ্নের মূল ভিত্তি হলো শ্রেণী ও প্রকার। শ্রেণী হলো যেমন বৃক্ষরাজি, হিংস্র পশু ও পক্ষীকুল—আর এগুলো দ্বারা মানুষ (পুরুষ) উদ্দেশ্য। আর প্রকার হলো আপনি জানবেন যে, উক্ত বৃক্ষ, হিংস্র পশু বা পাখিটি কোন প্রকারের। যদি বৃক্ষটি খেজুর গাছ হয়, তবে সেই ব্যক্তি আরবীয় হবে; কেননা অধিকাংশ খেজুর গাছের উৎপত্তিস্থল হলো আরব ভূখণ্ড। যদি পাখিটি ময়ূর হয়, তবে সেই ব্যক্তি হবে একজন অনারব। আর যদি সেটি উটপাখি হয়, তবে সে হবে আরবের একজন বেদুইন। আর স্বভাবের বিষয়টি হলো, আপনি সেই বৃক্ষের স্বভাবের প্রতি লক্ষ্য করবেন এবং সেই স্বভাব অনুযায়ী মানুষের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন। সুতরাং সেটি যদি আখরোট হয়, তবে আপনি সেই ব্যক্তির ব্যাপারে লেনদেনে সংকীর্ণতা এবং বিতর্কের সময় শত্রুতার ফয়সালা দেবেন। আর যদি সেটি খেজুর গাছ হয়, তবে আপনি সিদ্ধান্ত দেবেন যে সে কল্যাণের মাধ্যমে উপকার সাধনকারী একজন ব্যক্তি। আর যদি সেটি পাখি হয়, তবে জানবেন যে সে একজন অধিক ভ্রমণকারী ব্যক্তি। অতঃপর আপনি তার স্বভাবের দিকে দৃষ্টি দেবেন; যদি সেটি ময়ূর হয়, তবে সে হবে সৌন্দর্য ও সম্পদের অধিকারী একজন অনারব সম্রাট। অনুরূপভাবে সেটি যদি ঈগল হয়, তবে সে হবে একজন রাজা। আর যদি সেটি দাঁড়কাক হয়, তবে সে হবে একজন পাপাচারী, বিশ্বাসঘাতক ও চরম মিথ্যাবাদী ব্যক্তি। স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীদের জন্য স্বপ্নের ব্যাখ্যা উদঘাটনের বহু পদ্ধতি রয়েছে এবং তা সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যাখ্যাকারীর জ্ঞান, পূর্ণ প্রজ্ঞা, ধর্মনিষ্ঠা এবং এই বিদ্যায় তাঁর জন্য (আল্লাহ প্রদত্ত) দ্বার উন্মোচনের ওপর ভিত্তি করে এটি আরও বৃদ্ধির অবকাশ রাখে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিশা দান করেন।
- (শীত বা ঠান্ডা) যদি মানুষ স্বপ্নে এটি দেখে তবে তা দারিদ্র্যের পরিচায়ক। যে ব্যক্তি ছায়ায় ঠান্ডা অনুভব করল এবং এরপর রোদে গিয়ে বসল, তার দারিদ্র্য দূর হবে; যেমন রোদের তাপ অনুভব করে ছায়ায় আশ্রয় নিলে সে দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি পায়। গ্রীষ্মকালে স্বপ্নে ঠান্ডা দেখা উপকার, জীবিকা এবং মানসিক প্রশান্তিদায়ক পোশাকের পরিচায়ক। যে ব্যক্তি দেখল সে ঠান্ডা অনুভব করছে এবং এরপর বাতাস তাকে স্পর্শ করল, তবে তার দারিদ্র্যের ওপর দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাবে। যদি সে আগুন, কয়লা বা ধোঁয়ার মাধ্যমে তাপ গ্রহণ করে, তবে সে সুলতানের কোনো কাজে প্রচেষ্টার কারণে অভাবী হয়ে পড়বে যাতে ঝুঁকি ও আতঙ্ক রয়েছে। যদি তাপ নেওয়ার উপকরণ প্রজ্বলিত আগুন হয় তবে সে সুলতানের কাজ করবে। আর যদি তা কয়লা হয় তবে সে এতিমের সম্পদ অন্বেষণ করবে। আর যদি ধোঁয়া দিয়ে তাপ নেয় তবে সে নিজেকে মহা আতঙ্কে নিক্ষেপ করবে। কেউ কেউ বলেছেন, সঠিক সময়ে স্বপ্নে প্রচণ্ড শীত দেখা কোনো কিছুর ইঙ্গিত দেয় না, তবে অসময়ে দেখলে মুসাফিরের জন্য তা তার সফর সম্পন্ন না হওয়ার দলিল এবং গোপন বিষয় প্রকাশের চিহ্ন।
- (শিলাবৃষ্টি) মেঘের দানা যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয়। এটি শাসক কর্তৃক মানুষকে শাস্তি প্রদান, তাদের ধন-সম্পদ হরণ এবং কঠোর প্রহারের মাধ্যমে কাউকে কষ্ট দেওয়ার দলিল। যদি কেউ দেখে যেন আকাশ থেকে অসময়ে শিলাবৃষ্টি বা বরফ পড়ছে, তবে স্বপ্নদ্রষ্টা সামান্য অসুস্থ হবে এবং পরে সুস্থ হয়ে যাবে। যদি দেখে যেন শিলাবৃষ্টির সাথে আকাশ থেকে তার শরীরের ওপর কিছু পড়ছে, তবে তার কিছু সম্পদ হাতছাড়া হবে। সঠিক সময়ে শিলাবৃষ্টি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ দূর করার এবং শত্রু ও হিংসুকদের অপদস্থ করার প্রমাণ, কারণ এতে ভূমি শীতল হয় যেখান থেকে সাপ ও বিচ্ছু বের হয়। যদি শিলাবৃষ্টির আধিক্য স্থান ও রাস্তাঘাট নষ্ট করে দেয় এবং চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তবে তা জীবিকা অচল হওয়া, কর্মহীনতা এবং ভ্রমণে প্রতিবন্ধকতার ইঙ্গিত দেয়। কখনো শিলাবৃষ্টি সেই দিক থেকে আসা বিদেশি বা অদ্ভুত ব্যবসার ইঙ্গিত দেয় যেখান থেকে তা বর্ষিত হয়েছে। যদি এর দ্বারা কোনো ক্ষতি না হয় তবে তা মন্দ এবং যদি কোনো ক্ষতি না হয় তবে তা কল্যাণ ও রিজিক, বিশেষ করে যদি মানুষ তা পাত্রে সংগ্রহ করে বা তা ভক্ষণ করে এবং তাতে কোনো ক্ষতি না হয়।
- (যে ব্যক্তি দেখল) শিলাবৃষ্টি কোনো জমিতে পড়েছে এবং তাতে কোনো ক্ষতি হয়নি, তবে তা আল্লাহ তাআলার রহমত। আর যদি তা ধ্বংসাত্মক বা অতিরিক্ত হয়, তবে ওই স্থানে আজাব নাযিল হবে। চাষাবাদ বা উদ্ভিদের স্থানে শিলাবৃষ্টি যদি কোনো কিছু নষ্ট না করে বা কারো ক্ষতি না করে, তবে সেখানে উর্বরতা ও কল্যাণ লাভ হবে। কখনো এটি এমন পঙ্গপালের ইঙ্গিত দেয় যা ক্ষতি করে না। আর যদি শিলাবৃষ্টি ফসল ও মানুষের ক্ষতি করে অথবা ঘরবাড়ি ও জনপদে পড়ে, তবে তা মানুষের ওপর আপতিত বিপদ-আপদ, জরিমানা, বসন্ত রোগ, উন্মাদনা বা এমন ঘা যা একত্রিত হয়ে গলে যায়। আর যে ব্যক্তি চালনি, কাপড় বা এমন কিছুতে শিলাবৃষ্টি বহন করল যাতে পানি থাকে না; সে যদি ধনী হয় তবে তার উপার্জন গলে যাবে বা সম্পদ ধ্বংস হবে। যদি সমুদ্রে তার পণ্য থাকে তবে তার ব্যাপারে আশঙ্কা রয়েছে। আর যদি সে দরিদ্র হয়, তবে তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, পোশাক এবং উপকারে আসে এমন কোনো কিছু তার কাছে অবশিষ্ট থাকবে না এবং সে ভবিষ্যতের জন্য কিছুই সঞ্চয় করতে পারবে না।
- (বুর্দ বা চাদর) যা পরিধান করা হয়। স্বপ্নে এটি দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের ইঙ্গিত দেয়। চাদরের মধ্যে 'হিবরা' বা কারুকার্যখচিত চাদর সবচেয়ে উত্তম। তাবিরের ক্ষেত্রে এটি পশমি চাদরের চেয়েও শক্তিশালী। দ্বীনের ক্ষেত্রে ডোরাকাটা চাদর দুনিয়ার তুলনায় অধিক কল্যাণকর। রেশমি চাদর হারাম সম্পদ, আর যদি সুতি হয় তবে তা দ্বীনি ও দুনিয়াবী সম্পদ।
- (ডিম) কোনো স্থানে বা পাত্রে থাকলে তা নারী বা দাসীদের ইঙ্গিত দেয়। যে ব্যক্তি দেখল যে তার মুরগি ডিম পেড়েছে, তবে তার সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে। সেদ্ধ ডিম উত্তম রিজিক। যদি দেখে যে সে কাঁচা ডিম খাচ্ছে, তবে সে হারাম মাল খাচ্ছে অথবা ব্যভিচার করছে কিংবা সে চিন্তাগ্ৰস্ত হবে। যদি ডিমের খোসা খায় তবে সে ব্যক্তি হবে কবর চোর। যদি তার হাতে ডিম দেখে তবে তার স্ত্রী মৃতপ্রায় হবে। যদি দেখে যে তার স্ত্রী ডিম পেড়েছে তবে সে এক কাফের পুত্র সন্তান জন্ম দেবে। যদি দেখে যে সে একটি মুরগিকে ডিমের ওপর বসিয়েছে এবং তা থেকে বাচ্চা ফুটেছে, তবে তার কোনো মৃতপ্রায় কাজ পুনর্জীবিত হবে যা তার জন্য কঠিন ছিল এবং তার একজন মুমিন সন্তান জন্ম নেবে। সম্ভবত প্রতিটি বাচ্চার বিনিময়ে সে একটি করে পুত্র সন্তান লাভ করবে। যদি দেখে যে সে একটি মোরগকে ডিমের ওপর বসিয়েছে এবং তা থেকে বাচ্চা ফুটেছে, তবে সেখানে একজন শিক্ষক উপস্থিত হবেন যিনি বালকদের শিক্ষা দেন। যদি সে ডিমে আঘাত করে এবং তার স্ত্রী গর্ভবতী হয়, তবে সে কোনো কুমারী মেয়ের সাথে সহবাস করতে চাইবে কিন্তু সক্ষম হবে না। যদি অন্য কেউ তা ভেঙে দেয় এবং তাকে ফিরিয়ে দেয়, তবে কোনো ব্যক্তি তার মেয়েকে বিবাহ করবে। যদি সে তার আস্তিনে বীর্যপাত করে এবং তা থেকে ডিম বের হয়, তবে সে তার দাসীর সাথে সহবাস করবে এবং তার গর্ভে কন্যা সন্তান জন্ম নেবে। যদি দেখে যে তার কাছে অনেক ডিম রয়েছে, তবে তার কাছে প্রচুর ধন-সম্পদ ও আসবাবপত্র রয়েছে যার নষ্ট হওয়ার ভয় আছে। আর তোতাপাখির ডিম পরহেজগার দাসীর ইঙ্গিত দেয়।
- (যে ব্যক্তি দেখল) তার হাতে সেদ্ধ ডিম রয়েছে, তবে তার এমন কোনো কাজ সহজ হবে যা দীর্ঘকাল ধরে তার জন্য কঠিন ছিল এবং তা সংশোধনের মাধ্যমে সে সম্পদ লাভ করবে এবং তার কোনো মৃতপ্রায় বিষয় জীবন ফিরে পাবে। যদি সে এটি পাতলা খোসাসহ খায় তবে সে কবর চোর। যদি সে তা সরিয়ে ফেলে তবে সে কোনো নারীর সম্পদ ভক্ষণ করবে অথবা তাতে অপব্যয় করবে। আর যদি সেটি খায় তবে সে কোনো সম্পদশালী নারীকে বিবাহ করবে। আর সারস পাখির ডিম দরিদ্র সন্তানদের ইঙ্গিত দেয়।
- (যে ব্যক্তি দেখল) তাকে একটি ডিম দেওয়া হয়েছে, তবে তার এক সম্ভ্রান্ত সন্তান জন্ম নেবে। যদি ডিমটি ভেঙে যায় তবে তার সন্তান মারা যাবে।
- (যে ব্যক্তি দেখল) সে ডিমের খোসা খাচ্ছে, তবে সে একজন কবর চোর যে মৃতদের মালামাল লুণ্ঠন করে। অবিবাহিতদের জন্য প্রচুর ডিম বিবাহের এবং বিবাহিতদের জন্য সন্তানের ইঙ্গিত। ছোট ডিমগুলো কন্যা সন্তান এবং বড় ডিমগুলো পুত্র সন্তান।
- (যে ব্যক্তি দেখল) সে সেদ্ধ ডিমের খোসা ছাড়াচ্ছে, তবে সে কোনো দাতার কাছ থেকে সম্পদ লাভ করবে। ডিম সোনা ও রুপার দলিল; এর সাদা অংশ রুপা এবং কুসুম সোনার ইঙ্গিত দেয়। ডিম সন্তান, স্ত্রী এবং দাসীদেরও ইঙ্গিত দেয়। কখনো এটি কবরের ইঙ্গিত দেয়। আবার কখনো ডিম বর্শার ফলক ও শিরস্ত্রাণের ইঙ্গিত দেয়। কখনো ডিম পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জনদের সাথে একত্রিত হওয়ার এবং দিরহাম ও দিনার সংগ্রহ ও সঞ্চয় করার ইঙ্গিত দেয়।
- (যে ব্যক্তি দেখল) কোনো স্থানে ডিম পোড়ানো হচ্ছে যেভাবে গোবর পোড়ানো হয়, তবে তা ওই স্থানের নারীদের যুদ্ধবন্দী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।