(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أثر العقيدة الإسلامية في تضامن ووحدة الأمة الإسلامية القسم: كتب عامة
الكتاب: أثر العقيدة الإسلامية في تضامن ووحدة الأمة الإسلامية
المؤلف: أحمد بن سعد حمدان الغامدي
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة السادسة عشرة، العدد الواحد والستون - محرم- صفر- ربيع الأول 1404هـ/1984م
عدد الصفحات: 111
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামী উম্মাহর সংহতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আকিদার প্রভাব বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
বই: ইসলামী উম্মাহর সংহতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আকিদার প্রভাব
লেখক: আহমদ বিন সাদ হামদান আল-গামদী
প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারাহর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: ষোড়শ বর্ষ، ৬১তম সংখ্যা - মুহররম- সফর- রবিউল আউয়াল ১৪০৪ হিজরী/১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
مدخل…أثر العقيدَة الإسلاميَّةِ في تضامُنِ وَوَحْدَة الأمَّةِ الإسلاميَّةِ
الدكتور أحمد سعد الغامدي أستاذ مساعد بكيلة الدعوة وأصول الدين
الحمد لله رب العالمين والصلاة على رسوله الأمين وبعد:
فإن إحساس الأمة المسلمة بحاجتها إلى اللقاء
… وإلى التعاون
… إحساس منطقي وواقعي
… ذلك لأنها قد أضرت بها الخلافات
… وأنهكتها النزاعات
… والتي كانت سبباً لضعفها وضياع حقوقها في عصر لم يعد يسمع فيه لصوت الضعفاء ولا لأنين الجرحى.
قال تعالى: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ} .
فارتفاع الأصوات المسلمة من هنا وهناك تنادي بضرورة وحدة الأمة واجتماع كلمتها. أصوات صادقة ينبغي أن تتجاوب لها الأقطار الإسلامية لتنقذ نفسها وتحمي حقها.
قال تعالى: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعاً وَلا تَفَرَّقُوا} .
ولكنه لابد للأمة المسلمة- وهى تلم شعثها وتوحد صفوفها- لابد لها من إدراك صحيح للأسباب التي كانت وراء هذا الواقع وللأسس التي ينبغي عليها والوسائل التي يمكن أن تتحقق بها تلك الأسس. وذلك لئلا تنتقل من واقع منحرف إلى واقع آخر منحرف.
وإن المؤتمر العالمي الثاني لتوجيه الدعوة والدعاة. الذي ستعقده الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة في شهر ربيع الأول لهذا العام 1404 هـ والذي سيكون موضوعه "سبيل الدعوة الإسلامية إلى تحقيق التضامن الإسلامي ووحدة المسلمين". لهو استجابة موفقة لمدارسة السبل التي تؤدي إلى وحدة الأمة.
وهذا بحث موجز بعنوان "أثر العقيدة الإسلامية في تضامن المسلمين ووحدة الأمة الإسلامية". أحببت أن أشارك به في هذا المؤتمر راجياً من الله أن ينفع به.
ويتضمن هذا البحث أربعة أقسام تحت كل قسم منها عدة قضايا شارحة له ثم ألحقت بها خاتمة موجزة بينت فيها أهم ما اشتمل عليه هذا البحث.
ভূমিকা...ইসলামি উম্মাহর সংহতি ও ঐক্যের ক্ষেত্রে ইসলামি আকিদার প্রভাব
ডক্টর আহমদ সাদ আল-গামিদী, দাওয়াহ ও উসুলুদ দীন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক
সকল প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর বিশ্বস্ত রাসুলের ওপর দরুদ ও সালাম। অতঃপর:
মুসলিম উম্মাহর একত্রিত হওয়ার
... এবং পারস্পরিক সহযোগিতার
... প্রয়োজনীয়তার অনুভূতি একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত উপলব্ধি
... কারণ, বিভিন্ন মতভেদ একে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে
... এবং বিবাদ-বিসংবাদ একে ক্লান্ত করে ফেলেছে
... যা এমন এক যুগে উম্মাহর দুর্বলতা এবং অধিকার হরণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে দুর্বলদের কণ্ঠস্বর কিংবা আহতদের আর্তনাদ শোনার মতো কেউ নেই।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে; আর তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।}।
তাই উম্মাহর ঐক্য এবং সংহতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলিমদের কণ্ঠস্বর উচ্চকিত হচ্ছে। এগুলি এমন কিছু আন্তরিক কণ্ঠস্বর যার প্রতি ইসলামি দেশগুলোর সাড়া দেওয়া উচিত যাতে তারা নিজেদের রক্ষা করতে এবং নিজেদের অধিকার সুরক্ষা করতে পারে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।}।
তবে মুসলিম উম্মাহ যখন তাদের অগোছালো অবস্থা গুছিয়ে নিতে এবং কাতারবদ্ধ হতে সচেষ্ট হয়, তখন তাদের এই বাস্তবতার পেছনের কারণসমূহ এবং যে সকল ভিত্তির ওপর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত ও যে সব পন্থায় তা বাস্তবায়িত হতে পারে, সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা অপরিহার্য। যেন তারা এক বিচ্যুতি থেকে অন্য কোনো বিচ্যুতির দিকে ধাবিত না হয়।
মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় এই বছর ১৪০৪ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে দাওয়াহ ও দাঈদের দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে যে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে, যার মূল প্রতিপাদ্য হলো "ইসলামি সংহতি ও মুসলিমদের ঐক্য অর্জনে ইসলামি দাওয়াহর পথ", তা উম্মাহর ঐক্যের পথগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত সফল ও সময়োপযোগী সাড়া।
এটি একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা প্রবন্ধ যার শিরোনাম: "মুসলিমদের সংহতি ও ইসলামি উম্মাহর ঐক্যের ক্ষেত্রে ইসলামি আকিদার প্রভাব"। আমি এই গবেষণাপত্রের মাধ্যমে উক্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করেছি এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর দ্বারা উপকার সাধন করেন।
এই গবেষণাটি চারটি অংশে বিভক্ত এবং প্রতিটি অংশের অধীনে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করার জন্য বেশ কিছু প্রসঙ্গের অবতারণা করা হয়েছে। পরিশেষে একটি সংক্ষিপ্ত উপসংহার যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বর্ণনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
أقسام البحث:
القسم الأول: واقع الأمة الإسلامية:
أولاً: في العقيدة.
ثانياً: في العبادة.
ثالثاً: في الشريعة.
القسم الثاني: أسباب هذا الواقع:
أولاً: الجهل بدين الله.
ثانياً: تمزيق الاستعمار لبلدان المسلمين.
ثالثاً: الغزو الفكري.
القسم الثالث: أسس وحدة الأمة الإسلامية:
أولاً: وحدة العقيدة.
ثانياً: وحدة الغاية.
ثالثاً: وحدة القيادة.
رابعاً: وحدة المنهج.
القسم الرابع: وسائل تحقيق أسس الوحدة:
أولاً: التعليم الموجه.
ثانياً: الإعلام الملتزم.
ثالثاً: الاقتصاد المستقل.
رابعاً: إيجاد مراكز علمية.
الخاتمة.
وأخيرا أسأل الله عز وجل أن يهيء أسباب الوحدة الصحيحة وأن يجمع كلمة الأمة على الحق إنه سميع مجيب.
গবেষণার পরিচ্ছেদসমূহ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসলিম উম্মাহর বর্তমান বাস্তবতা:
প্রথমত: আকিদাহর ক্ষেত্রে।
দ্বিতীয়ত: ইবাদতের ক্ষেত্রে।
তৃতীয়ত: শরিয়াহর ক্ষেত্রে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই বাস্তবতার কারণসমূহ:
প্রথমত: আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা।
দ্বিতীয়ত: মুসলিম দেশগুলোর ওপর উপনিবেশবাদের বিভাজন।
তৃতীয়ত: বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ভিত্তি:
প্রথমত: আকিদাহর ঐক্য।
দ্বিতীয়ত: লক্ষ্যের ঐক্য।
তৃতীয়ত: নেতৃত্বের ঐক্য।
চতুর্থত: পদ্ধতির (منهج) ঐক্য।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ঐক্যের ভিত্তি অর্জনের মাধ্যমসমূহ:
প্রথমত: সুনির্দেশিত শিক্ষা।
দ্বিতীয়ত: দায়বদ্ধ গণমাধ্যম।
তৃতীয়ত: স্বাবলম্বী অর্থনীতি।
চতুর্থত: গবেষণা কেন্দ্রসমূহ প্রতিষ্ঠা।
উপসংহার।
পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন সঠিক (صحيحة) ঐক্যের কারণসমূহ তৈরি করে দেন এবং উম্মাহর কথাকে সত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও প্রার্থনা কবুলকারী।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
القسم الأول: واقع الأمة الإسلامية
أولا: في العقيدة…القسم الأول: واقع الأمة الإسلامية:
واقع الأمة الإسلامية واقع مكشوف لا يكاد يجهله أحد. فقد تعرض لأمراض متعددة
প্রথম অংশ: মুসলিম উম্মাহর বর্তমান অবস্থাপ্রথমত: আকিদাহ প্রসঙ্গে…প্রথম অংশ: মুসলিম উম্মাহর বর্তমান অবস্থা:
মুসলিম উম্মাহর বর্তমান বাস্তবতা এক উন্মোচিত বিষয়, যা প্রায় কারোরই অজানা নয়। এটি বহুমুখী ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০০)
وانحرافات متنوعة بحيث لا يكاد يسلم منه شيء
… لا في العقيدة
… ولا في العبادة
… ولا في الشريعة
… وسنحاول هنا الإشارة إلى ذلك الواقع بشيء من الإيجاز:
أولاً: في العقيدة:
إن أخطر الانحرافات التي تعرضت لها الأمة المسلمة هي الانحرافات في العقيدة ولا نستطيع هنا استيعابها وتفصيلها ولكننا سنكتفي بالتنبيه على بعضها.
(1) انحرافات إلحادية: هدف أصحابها استبدال المبادئ الكافرة بعقيدة الإسلام
… وهم طوائف متعددة: منهم من يعلن عقيدته الإلحادية ويظهر كفره بالله ورسله واليوم الآخر ومنهم من يخفي ذلك وراء شعارات ظاهرها الدعوة إلى الإصلاح وباطنها الكفر والإلحاد.
(2) انحرافات طائفية: تتمثل في طوائف مستقلة- كالقاديانية والبهائية ونحوها من الطوائف التي خرجت على عقيدة الإسلام بدعوى النبوة لزعمائها ونزول الوحي عليهم وهي تتستر في كثير من البلدان باسم الإسلام وهي خارجة عليه لمخالفتها لعقيدة ختم النبوة التي هي جزء من عقيدة المسلمين.
(3) انحرافات طائفية قديمة: لازالت قوية ونشطة في دعواتها رغم انحرافها وفساد معتقداتها ومن تلك الطوائف.
طائفتا الشيعة والصوفية:
فالأولى تقوم على عقيدة تخالف عقيدة الإسلام التي جاء بها رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن ذلك إسباغ صفات الألوهية على أئمتهم وادعاؤهم أنهم يعلمون الغيب ثم تدعي كذلك أنهم يتلقون الوحي من السماء وفي كلا الأمرين إساءة إلى الله عز وجل وإلى رسوله صلى الله عليه وسلم. وأخيراً فإنها تقع في أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وتتهمهم بالخيانة والردة.
وهذا جميعه ينتهي إلى إلغاء الإسلام الذي جاء به رسول الله صلى الله عليه وسلم.
فالأئمة يعلمون الغيب وإذا أراد الله عز وجل أن يحدث أمراً استشارهم - كما في أصول الكافي لهم- وهذا إساءة إلى الله.
والأئمة يوحى إليهم مع العلم أن رسوله الله صلى الله عليه وسلم قد أخبر بانقطاع الوحي
… وهذا يصادم خبره
…
এবং নানাবিধ বিচ্যুতি এমনভাবে দেখা দিয়েছে যে কোনো কিছুই তা থেকে মুক্ত নয়
… আকিদাহর ক্ষেত্রেও নয়
… ইবাদতের ক্ষেত্রেও নয়
… আর শরিয়তের ক্ষেত্রেও নয়
… আমরা এখানে সেই বাস্তবতাকে কিছুটা সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করব:
প্রথমত: আকিদাহর ক্ষেত্রে:
মুসলিম উম্মাহ যেসব বিপজ্জনক বিচ্যুতির সম্মুখীন হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো আকিদাহর বিচ্যুতি। আমরা এখানে সেগুলোর আদ্যোপান্ত ও বিস্তারিত আলোচনা করতে সক্ষম নই, তবে আমরা সেগুলোর কয়েকটির ব্যাপারে সতর্ক করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।
(১) নাস্তিক্যবাদী বিচ্যুতি: এর প্রবক্তাদের লক্ষ্য হলো ইসলামের আকিদাহর পরিবর্তে কুফরি আদর্শ প্রতিস্থাপন করা
… তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত: তাদের মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি তাদের নাস্তিক্যবাদী আকিদাহ প্রকাশ করে এবং আল্লাহ, তাঁর রাসুলগণ ও পরকালের প্রতি তাদের কুফর প্রকাশ করে। আবার তাদের মধ্যে এমনও আছে যারা একে এমন সব স্লোগানের আড়ালে লুকিয়ে রাখে যার বাহ্যিক রূপ হলো সংস্কারের দাওয়াত, কিন্তু অভ্যন্তরীণ রূপ হলো কুফর ও নাস্তিকতা।
(২) সাম্প্রদায়িক বিচ্যুতি: এটি কিছু স্বতন্ত্র ফেরকা বা দলের মাধ্যমে প্রকাশ পায়—যেমন কাদিয়ানি, বাহায়ি এবং এ জাতীয় অন্যান্য ফেরকা, যারা তাদের নেতাদের নবুওয়াত দাবি এবং তাদের ওপর ওহি (وحي) অবতীর্ণ হওয়ার দাবির মাধ্যমে ইসলামের আকিদাহ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তারা অনেক দেশে ইসলামের নাম দিয়ে নিজেদের লুকিয়ে রাখে, অথচ তারা ইসলাম থেকে বহির্ভূত; কারণ তারা নবুওয়াতের পরিসমাপ্তির (ختم النبوة) আকিদাহর পরিপন্থী কাজ করে, যা মুসলিমদের আকিদাহর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
(৩) প্রাচীন সাম্প্রদায়িক বিচ্যুতি: এগুলো এদের বিচ্যুতি এবং আকিদাহর ভ্রষ্টতা সত্ত্বেও তাদের দাওয়াতের কাজে এখনও শক্তিশালী ও সক্রিয়। এ জাতীয় ফেরকাগুলোর মধ্যে রয়েছে।
শিয়া ও সুফি—এই দুই ফেরকা:
প্রথমোক্ত দলটি এমন এক আকিদাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনীত ইসলামের আকিদাহর বিরোধী। এর মধ্যে রয়েছে তাদের ইমামদের ওপর উলুহিয়্যাতের (ألوهية) বৈশিষ্ট্য আরোপ করা এবং তাদের এই দাবি যে, ইমামগণ অদৃশ্যের জ্ঞান (علم الغيب) রাখেন। এরপর তারা আরও দাবি করে যে, তাদের ইমামগণ আসমান থেকে ওহি (وحي) প্রাপ্ত হন। এই উভয় দাবিই মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি চরম ধৃষ্টতা। পরিশেষে, তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সমালোচনা করে এবং তাঁদেরকে খিয়ানত ও ধর্মত্যাগের (ردة) অপবাদ দেয়।
আর এই সবকিছুর শেষ পরিণতি হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনীত ইসলামকে বাতিল করে দেওয়া।
কারণ (তাদের মতে) ইমামগণ অদৃশ্যের জ্ঞান (علم الغيب) রাখেন এবং আল্লাহ তাআলা যখন কোনো কাজ করার ইচ্ছা করেন, তখন তাঁদের সাথে পরামর্শ করেন—যেমনটি তাদের কিতাব উসুলুল কাফি-তে বর্ণিত হয়েছে। এটি আল্লাহর প্রতি চরম ধৃষ্টতা।
ইমামগণ ওহি (وحي) প্রাপ্ত হন—অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহি (وحي) বন্ধ হয়ে যাওয়ার সংবাদ দিয়েছেন
… আর এটি তাঁর সংবাদকে সরাসরি অস্বীকার করার শামিল
…
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০১)
والصحابة قد خانوا في دين الله
… فالإسلام الذي نقلوه غير موثوق فيه
… وبهذا فالإسلام غير موثوق به
…إذن فليعد الناس إلى المجوسية الفارسية
… وهذا هو المطلوب للحركة الشيعية.
وأما الصوفية فقد ابتدعت تقديس الأفراد ودعوى رفع التكاليف عن بعض الناس كما أعادت إلى الأذهان تلك الطقوس الكنسية التي أفسدت الدين النصراني حيث اتخذت من البشر وسائط عند الله بها تقضى الحاجات وتغفر الزلات إلى عشرات أخرى من الانحرافات.
كما أنها تدعي الاستقلال في معرفة الشريعة إذ أن الأولياء يأخذون حاجتهم من اللوح المحفوظ مباشرة وهذا كلام يخرج صاحبه من الإسلام.
وقد كان التصوف من الأسباب المباشرة بظهور الشرك في الأمة بتقديس الأموات وطلب حاجاتهم منهم واتخاذ قبورهم مزارات وأماكن للعبادة وزاحم تعظيم الأموات توحيد الله عز وجل في القلوب. فكثرت الأضرحة وتعددت الفرق والأحزاب لكل حزب ضريح به يستغيثون وعنده ينيخون وإليه عند نزول الحوادث يلجأون.
انحرافات في الجانب النظري: "العلمي" من العقيدة وهو ما يتعلق بأسماء الله وصفاته وأفعاله فقد وجدت الإتجاهات المنحرفة التي تتنكر لهذا الجانب أو لبعضه فأولت الآيات القرآنية والأحاديث المتواترة وردّت الأحاديث الأخرى والتي تعرف الناس بربهم عز وجل وأنه عليم حكيم سميع بصير يقول ما يريد ويفعل ما يشاء يأمر وينهى وأنه استوى على عرشه استوأً يليق بجلاله وعظمته.
فكان من ثمرات ذلك الرد والتأويل أنها حالت بين الناس ومعرفة ربهم فانتهى بهم هذا إلى الإلحاد والتعطيل.
وقد أتى القوم من ضلال عقولهم القاصرة وظنهم أن إثبات تلك الصفات الواردة في كتاب الله عز وجل وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم يقتضي التشبيه بالمخلوق.
وهذا إساءة إلى الله ورسوله حيث أن في هذا الكلام اتهام لله ورسوله بالعجز عن البيان
… لأنهم لم يفهموا من تلك الآيات والأحاديث إلا التشبيه
… والله عز وجل يقول: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} . وقد فروا من تشبيه إلى تشبيه.
فإنكار كلام الله عز وجل لئلا يشبه الإنسان المتكلم- كما زعموا- تشبيه لله عز وجل
সাহাবায়ে কিরাম আল্লাহর দীনের ব্যাপারে খেয়ানত করেছেন
… ফলে তাঁরা যে ইসলাম বর্ণনা করেছেন তা নির্ভরযোগ্য নয়
… এবং এ কারণে ইসলামও নির্ভরযোগ্য নয়
…সুতরাং মানুষ যেন পারস্যের মজুসিয়াতের (অগ্নিপূজা) দিকে ফিরে যায়
… আর শিয়া আন্দোলনের উদ্দেশ্যও এটাই।
আর সুফিবাদ ব্যক্তিপূজা এবং কিছু মানুষের ওপর থেকে শরীয়তের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার দাবি উদ্ভাবন করেছে। এটি সেই গির্জাভিত্তিক রীতিনীতিকে পুনরায় ফিরিয়ে এনেছে যা খ্রিষ্টধর্মকে কলুষিত করেছিল; যেখানে মানুষকে আল্লাহর দরবারে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যাদের মাধ্যমে প্রয়োজন মেটানো হয় এবং পাপ ক্ষমা করা হয়—এভাবে আরও বহু বিচ্যুতি সেখানে রয়েছে।
তদুপরি তারা শরিয়ত সম্পর্কে জ্ঞানের ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্যের দাবি করে; যেহেতু তাদের দাবি অনুযায়ী ওলিগণ সরাসরি লাওহে মাহফুজ থেকে জ্ঞান লাভ করেন—আর এটি এমন কথা যা বক্তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়।
সুফিবাদ উম্মাহর মধ্যে শিরক প্রকাশের একটি সরাসরি কারণ ছিল—মৃত ব্যক্তিদের পবিত্রতা বর্ণনা, তাদের কাছে নিজেদের প্রয়োজন প্রার্থনা এবং তাদের কবরসমূহকে মাজার ও ইবাদতগাহ হিসেবে গ্রহণের মাধ্যমে। মৃতদের প্রতি এই অতিভক্তি হৃদয়ের মধ্য থেকে মহামহিম আল্লাহর তাওহিদের (توحيد) স্থান সংকীর্ণ করে দিয়েছে। ফলে সমাধিসৌধের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন দল-উপদলের সৃষ্টি হয়েছে; প্রতিটি দলের নিজস্ব মাজার রয়েছে যেখান থেকে তারা সাহায্য প্রার্থনা করে, যার সমীপে তারা মস্তক অবনত করে এবং বিপদাপদে সেখানে আশ্রয় নেয়।
আকিদার তাত্ত্বিক অর্থাৎ ইলমি দিকের বিচ্যুতিসমূহ: আর তা হলো আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কিত। এমন কিছু বিভ্রান্ত ধারার সৃষ্টি হয়েছে যারা এই দিকটিকে অথবা এর অংশবিশেষকে অস্বীকার করে। তারা কুরআনের আয়াতসমূহ ও মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিসসমূহের অপব্যাখ্যা করেছে এবং অন্যান্য হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছে; অথচ এ সবের মাধ্যমেই মানুষ তাদের মহিমান্বিত রবকে চিনতে পারে যে, তিনি মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা; তিনি যা ইচ্ছা তা বলেন এবং যা চান তা-ই করেন; তিনি আদেশ দেন ও নিষেধ করেন। আর তিনি তাঁর আরশের ওপর এমনভাবে সমাসীন (استوى) হয়েছেন যা তাঁর মহিমা ও গাম্ভীর্যের জন্য শোভনীয়।
সেই প্রত্যাখ্যান ও অপব্যাখ্যার কুফল এই দাঁড়িয়েছে যে, তা মানুষের রবকে চেনার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করেছে এবং পরিণামে তা তাদেরকে নাস্তিকতা ও নিছক গুণহীনতা (تعطيل) পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।
তারা তাদের ত্রুটিপূর্ণ আকলের বিভ্রান্তি এবং এই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে এমনটা করেছে যে, আল্লাহর কিতাব ও রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহতে বর্ণিত গুণাবলি সাব্যস্ত করলে তা সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য (تشبيه) দেওয়া বোঝায়।
আর এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ধৃষ্টতা; কারণ এ ধরনের বক্তব্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর অস্পষ্টতার অভিযোগ তোলা হয়
… কেননা তারা ঐ সকল আয়াত ও হাদিস থেকে সাদৃশ্য (تشبيه) ব্যতীত আর কিছুই বোঝেনি
… অথচ মহামহিম আল্লাহ বলছেন: {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা}। আসলে তারা এক প্রকার সাদৃশ্য (تشبيه) থেকে বাঁচতে গিয়ে অন্য প্রকার সাদৃশ্য (تشبيه) দানের দিকেই ধাবিত হয়েছে।
আল্লাহর কালামকে (কথা বলা) অস্বীকার করা—যাতে তা কথা বলা মানুষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হয়, যেমনটি তারা দাবি করে—মূলত এটিই হলো আল্লাহর জন্য সাদৃশ্য (تشبيه) স্থির করা।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০২)
بالجماد فلم يسلموا من التشبيه على مذهبهم.
ولكن الاعتقاد الصحيح إثبات ما أثبته الله عز وجل وأثبته رسوله صلى الله عليه وسلم على ما يليق بجلاله.
জড়পদার্থের সাথে তুলনা করার ফলে তারা তাদের মতবাদ অনুযায়ী সাদৃশ্যদান (تشبيه) থেকে নিষ্কৃতি পায়নি।
কিন্তু সঠিক (صحيح) বিশ্বাস হলো আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, তাঁর মহিমার উপযুক্ত পন্থায় তা সাব্যস্ত করা।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০২)
ثانيا: في العبادة:لم تسلم العبادات- كذلك- من الشوائب حيث تعرضت لأنواع متعددة من الإنحرافات والبدع نورد طرفاً منها.
(1) الغلو المفرط في أدائها والذي كان يمثله فيما سبق طائفتا الخوارج والصوفية حيث كان لكل منهما غلو مفرط في جانب أو جوانب من الإسلام.
فالخوارج كانوا يصومون النهار ويقومون الليل حتى أصبحت أجسادهم شاحبة نحيلة من طول القيام وشدة الجوع والعطش.
والصوفية بالغوا في الذكر والزهد حتى كان أحدهم يعيش على الصدقات والهبات ويخلو بنفسه في الزوايا المظلمة ليصل بزعمه إلى درجة اليقين فتسقط عنه التكاليف.
(2) الإهمال المطلق للعبادات والإكتفاء بلفظ الشهادتين وهذا الإنحراف كان من ثمرات الإرجاء الذي لا يعطي للعمل اهتماماً إذ أن الإيمان يثبت عند المرجئة بالقول فقط أو به وبالاعتقاد فقط.
وقد أصبح في الآونة الأخيرة ترك العبادات ظاهرة بارزة في أغلب المجتمعات الإسلامية ولاشك أن هذا لا يتفق مع أصول الدين.
(3) عدم التزام كثير من المسلمين بالأداء الصحيح للعبادات فهو يؤديها بصورة ناقصة أو محرفة وهو لا يشعر بذلك وقد يظن أنه يؤديها بالصورة الصحيحة فكان من نتائج ذلك حرمانهم من لذة العبادة وثمراتها.
দ্বিতীয়ত: ইবাদতের ক্ষেত্রে:ইবাদতসমূহও—তদ্রূপ—কলুষতা মুক্ত থাকেনি; বরং এগুলো বিভিন্ন প্রকার বিচ্যুতি ও বিদআতের (البدع) সম্মুখীন হয়েছে, যার কিছুটা আমরা এখানে তুলে ধরছি।
(১) ইবাদত পালনে চরম বাড়াবাড়ি (الغلو), যা অতীতে খারেজি (الخوارج) ও সুফি (الصوفية)—এই দুই দল কর্তৃক প্রতিনিধিত্ব হতো; ইসলামের এক বা একাধিক দিকে তাদের উভয়েরই চরম বাড়াবাড়ি বিদ্যমান ছিল।
খারেজিরা দিনে রোজা রাখত এবং রাতে দীর্ঘ সময় ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাকত, যার ফলে দীর্ঘ কিয়াম এবং তীব্র ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় তাদের শরীর পাণ্ডুবর্ণ ও জীর্ণশীর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
আর সুফিরা জিকির (الذكر) ও দুনিয়াবিমুখতায় (الزهد) এতই বাড়াবাড়ি করেছিল যে, তাদের কেউ কেউ সাদাকা ও অনুদানের ওপর জীবন নির্বাহ করত এবং অন্ধকার নির্জন কোণে অবস্থান করত—যাতে তাদের দাবি অনুযায়ী তারা ইয়াকিন বা নিশ্চিত বিশ্বাসের (اليقين) স্তরে পৌঁছাতে পারে এবং তাদের ওপর থেকে শরিয়তের আবশ্যিক দায়দায়িত্বসমূহ (التكاليف) রহিত হয়ে যায়।
(২) ইবাদতের প্রতি চরম অবহেলা প্রদর্শন করা এবং কেবল শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী) উচ্চারণের ওপরই তুষ্ট থাকা। এই বিচ্যুতি ছিল মূলত ইরজা (الإرجاء) মতবাদের ফসল, যা আমল বা কর্মকে কোনো গুরুত্ব দেয় না। কেননা মুরজিয়াদের (المرجئة) নিকট ঈমান কেবল মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমে, অথবা মৌখিক স্বীকৃতি ও অন্তরের বিশ্বাসের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়ে যায়।
বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মুসলিম সমাজে ইবাদত বর্জন করা একটি প্রকট বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি দ্বীনের মূলনীতির (أصول الدين) সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
(৩) অনেক মুসলিম কর্তৃক ইবাদতসমূহ সঠিকভাবে আদায়ের বাধ্যবাধকতা রক্ষা না করা। ফলে তারা তা অসম্পূর্ণ বা বিকৃত (محرفة) পদ্ধতিতে পালন করে অথচ তারা তা অনুভবও করতে পারে না; বরং তারা মনে করতে পারে যে তারা তা সঠিকভাবেই পালন করছে। এর ফলশ্রুতিতে তারা ইবাদতের স্বাদ ও এর কল্যাণসমূহ থেকে বঞ্চিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০২)
ثالثاً: في الشريعةلم تقتصر الانحرافات على الجانبين السابقين بل شملت- كذلك- الشريعة حيث تعرضت في الآونة الأخيرة التي تمزقت فيها الأمة وتحطمت فيها الخلافة الإسلامية- تعرضت إلى انحراف وفساد بل إلى حرب وعداء في كثير من البلدان الإسلامية نذكر طرفاً من ذلك:
তৃতীয়ত: শরিয়তের ক্ষেত্রেবিচ্যুতিগুলো কেবল পূর্বোক্ত দুই দিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা শরিয়তকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে—যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে উম্মাহ যখন খণ্ডবিখণ্ড হয়ে পড়েছে এবং ইসলামি খিলাফত ধসে পড়েছে, তখন অনেক মুসলিম দেশে শরিয়ত বিচ্যুতি ও বিপর্যয়ের, এমনকি যুদ্ধ ও শত্রুতার সম্মুখীন হয়েছে; আমরা তার কিয়দংশ উল্লেখ করছি:
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
(1) محاربة الشريعة واستبدال القوانين الوضعية بها وذلك من آثار الاستعمار العسكري والفكري الذي مزق الأمة وأفسد عقليتها بحضارته وصناعته وكفره وجحوده
… فوجد في المسلمين من يتحمس لتلك القوانين ويتبنى ذلك الكفر والضلال. هذا إلى جانب ما خلفه الاستعمار في بلدان المسلمين من أنظمة كافرة لازالت تسيطر على كثير منها إلى اليوم بعد أن كانت تحكمها الشريعة الإسلامية.
(2) محاولة التوفيق بين الشريعة الإسلامية والأنظمة الوضعية فيؤخذ من الشريعة الإسلامية ما يتعلق بالأمور الشخصية وبعض الجوانب الأخرى ثم تكمل من القوانين الوضعية.
وهذا وإن كان أصحابه أخف من المتقدمين ولكنه كذلك طعن في الشريعة الإسلامية واعتقاد نقصها وحاجتها إلى أنظمة أخرى مشاركة.
هذا عرض مجمل لواقع المسلمين الذي قد أصيب في كل من جوانبه مما كان له أسوأ الأثر على وحدة الأمة واجتماع كلمتها
… فقد أصيبت في عقائدها
… وعباداتها
… وشريعتها
… وما لم يصحح هذا الواقع على ضوء الكتاب والسنة فلن تقوم للأمة قائمة ولن تجتمع لها كلمة
…
(১) শরীয়তের বিরোধিতা করা এবং এর পরিবর্তে মানব রচিত আইন স্থলাভিষিক্ত করা; এটি সেই সামরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাম্রাজ্যবাদেরই প্রভাব যা উম্মাহকে ছিন্নভিন্ন করেছে এবং তার সভ্যতা, শিল্পায়ন, কুফর ও অস্বীকৃতির মাধ্যমে তাদের মনস্তত্ত্বকে কলুষিত করেছে
… ফলে মুসলিমদের মাঝে এমন লোক পাওয়া গেছে যারা সেই সব আইনের প্রতি উৎসাহী এবং সেই কুফর ও গোমরাহিকে গ্রহণ করে নিয়েছে। এর পাশাপাশি সাম্রাজ্যবাদ মুসলিম দেশগুলোতে এমন সব কুফরি ব্যবস্থা রেখে গেছে যা আজও সেগুলোর অনেকগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আছে, অথচ পূর্বে সেগুলো ইসলামী শরীয়ত দ্বারা শাসিত হতো।
(২) ইসলামী শরীয়ত এবং মানব রচিত ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করা; যার ফলে ইসলামী শরীয়ত থেকে কেবল ব্যক্তিগত বিষয়াবলী এবং অন্যান্য কিছু দিক গ্রহণ করা হয়, অতঃপর তা মানব রচিত আইনের মাধ্যমে পূর্ণ করা হয়।
এটি যদিও এর প্রবক্তাদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের তুলনায় কম গুরুতর, তথাপি এটিও ইসলামী শরীয়তের ওপর আঘাত এবং একে অসম্পূর্ণ মনে করার ও এর সাথে অন্য কোনো সহযোগী ব্যবস্থার মুখাপেক্ষী হওয়ার বিশ্বাসের নামান্তর।
এটি মুসলিম উম্মাহর বর্তমান পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র যা প্রতিটি দিক থেকেই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, যা উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে
… উম্মাহ তার আকিদা
… ইবাদত
… এবং শরীয়তের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হয়েছে
… আর যতক্ষণ পর্যন্ত কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই বাস্তবতাকে সংশোধন করা না হবে, ততক্ষণ এই উম্মাহ পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না এবং তাদের ঐক্যও সুসংহত হবে না
…
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
القسم الثاني: أسباب هذا الواقع
جهل الأمة بدينها…القسم الثاني: أسباب هذا الواقع:
لقد كانت هناك أسباب متعددة وراء ذلك الواقع نذكر طرفاً منها- أو أهمها- وهي:
أولاً: جهل الأمة بدينها:
إذ لولا الجهل بكتاب الله عز وجل وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم لما وجدت تلك الضلالات طريقاً إلى المسلمين لا في عقيدتهم ولا في عبادتهم ولا في شريعتهم فقد قال النبي عليه الصلاة والسلام: "تركت فيكم أمرين لن تضلوا ما تمسكتم بهما كتاب الله وسنة رسوله "1. فلو لم تصاب الأمة بداء الجهل بهما لما وصلت إلى حيث ما وصلت إليه.
ونحن نلمس أصابع الغزو الاستعماري في مناهج التعليم في كثير من بلدان المسلمين والتي قد خلت أو قلصت منها المواد الدينية حتى أن المتخرج من تلك المدارس لا يكاد يحسن
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই বাস্তবতার কারণসমূহ
জাতির নিজ ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতা…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই বাস্তবতার কারণসমূহ:
উক্ত বাস্তবতার পেছনে একাধিক কারণ বিদ্যমান ছিল, আমরা তার কিঞ্চিৎ অংশ—বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো—উল্লেখ করছি, আর সেগুলো হলো:
প্রথমত: জাতির নিজ ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতা:
কেননা মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে অজ্ঞতা না থাকলে, এই ভ্রান্তিগুলো মুসলমানদের আকীদাহ (عقيدة), ইবাদত (عبادة) কিংবা শরিয়াহ (شريعة)-এর মধ্যে কোনো পথ খুঁজে পেত না। নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: "আমি তোমাদের মধ্যে দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা এ দুটি আঁকড়ে ধরে থাকবে ততক্ষণ তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের সুন্নাহ (سنة)" ১। যদি এই উম্মত এই দুটি বিষয়ে অজ্ঞতার রোগে আক্রান্ত না হতো, তবে তারা আজ যে অবস্থায় এসে উপনীত হয়েছে সেখানে পৌঁছাত না।
আমরা মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশের শিক্ষা পাঠ্যক্রমে ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের ছাপ লক্ষ্য করি, যেখান থেকে ধর্মীয় বিষয়গুলোকে বিলুপ্ত বা সংকুচিত করা হয়েছে; এমনকি সেসব বিদ্যালয়ের একজন স্নাতকও প্রায়শই সঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারে না—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
فهم دينه
… بل لا يفهم من دينه إلا أنه مجموعة من العبادات المحددة فقط.
وهذا الجهل هو الذي يمهد الطريق لكل وارد غريب يتسلل إلى البلدان الإسلامية.
নিজ দ্বীন অনুধাবন করা
… বরং তিনি তাঁর দ্বীন সম্পর্কে কেবল এইটুকুই বোঝেন যে তা কেবল নির্দিষ্ট কিছু ইবাদতের সমষ্টি মাত্র।
আর এই অজ্ঞতাই এমন পথ প্রশস্ত করে দেয় যা মুসলিম দেশগুলোতে অনুপ্রবেশকারী প্রতিটি বহিরাগত বা অপরিচিত (غريب) বিষয়ের অনুপ্রবেশ সহজ করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
ثانياً: تمزيق الاستعمار لبلدان المسلمين:كانت الأمة الإسلامية أمة واحدة تستظل براية واحدة وتخضع لقيادة واحدة فكانت ذات شوكة ومنعة ثم لم تلبث أن سرت فيها أمراض فتاكة خلخلت بناءها وأفسدت أبناءها فضعفت قوتها وذلت عزتها فسهل على أعدائها القضاء عليها وتمزيقها إلى دويلات وإمارات واستولت على كثير منها فترات طويلة ثم خرجت منها مخلفة وراءها آثارها الاستعمارية التي لا تزال إلى اليوم.
وقد ركز الاستعمار أثناء وجوده على إحياء القوميات الجاهلية التي كانت عليها قبل الإسلام فاستجاب لها بعض المسلمين فحملوا لواءها ودعوا إليها فكان من ثمار ذلك تعميق الاختلاف وإضعاف الروابط بين أفراد الأمة.
দ্বিতীয়ত: মুসলিম দেশসমূহে উপনিবেশবাদের বিভাজন প্রক্রিয়া:মুসলিম উম্মাহ ছিল একটি অবিভাজ্য জাতি, যারা একটি পতাকার ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং একক নেতৃত্বের অনুগত ছিল। ফলে তারা ছিল প্রতাপশালী ও অপরাজেয়। কিন্তু অচিরেই তাদের মাঝে এমন কিছু মারাত্মক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ল যা তাদের ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দিল এবং তাদের সন্তানদের আদর্শচ্যুত করল। এতে তাদের শক্তি হ্রাস পেল এবং মর্যাদা বিলুপ্ত হলো। ফলে শত্রুদের জন্য তাদের নিশ্চিহ্ন করা এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ও আমিরাতে বিভক্ত করা সহজ হয়ে পড়ল। শত্রুরা দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলোর অধিকাংশের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল, অতঃপর সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় তারা তাদের সেই উপনিবেশবাদী প্রভাব ও চিহ্নসমূহ রেখে গেছে যা আজও বিদ্যমান।
উপনিবেশবাদ তার উপস্থিতিকালে ইসলামের পূর্ববর্তী সেই জাহেলি জাতীয়তাবাদকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিল। ফলে কিছু সংখ্যক মুসলিম তাতে সাড়া দিয়ে তার ঝাণ্ডা ধারণ করল এবং তার প্রতি আহ্বান জানাল। এর ফলশ্রুতিতে বিভেদ আরও গভীর হলো এবং উম্মাহর সদস্যদের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ল।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
ثالثاً: الغزو الفكري المنظم:هناك عدة جبهات اشتركت في غزو البلدان الإسلامية أهمها ثلاث جبهات:
أولاها: الصليبية الحاقدة والتي قد دخلت البلاد الإسلامية مستعمرة مخربة وبقيت فيها فترة طويلة تحارب الإسلام بشتى الوسائل وتبشر بالنصرانية ثم رحلت مخلفة وراءها بقايا الفساد بعد أن ربّت جيلاً يرعى ذلك الفساد وينشره ولا زالت جيوش الغزو الصليببي تعيث في الأرض فساداً.
والجبهة الثانية: هي " اليهودية" الآثمة التي يتمثل دورها في تصنيع المذاهب المنحرفة والأفكار المضلة وتصديرها إلى بلدان المسلمين.
والجبهة الثالثة: هي " الشيوعية الملحدة" والتي هي من ثمرات اليهودية وقد أصبح لها كيان ودولة وهي تنشر أفكارها وإلحادها بشتى الوسائل ابتداءً بالدعوة السلمية وانتهاءً بقوة الحديد والنار.
وقد أصبح لها في بلاد المسلمين أتباع وأنصار يفرقون الأمة ويمزقون وحدتها.
فهذه الجبهات الثلاث قد اشتركت في غزو المسلمين ومحاربة دينهم وتمزيق صفوفهم
তৃতীয়: সুসংগঠিত বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন:ইসলামী দেশসমূহ আক্রমণের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি পক্ষ অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে প্রধান তিনটি হলো:
প্রথমটি: বিদ্বেষপরায়ণ ক্রুসেডার শক্তি, যারা মুসলিম দেশগুলোতে ধ্বংসাত্মক ঔপনিবেশিক হিসেবে প্রবেশ করেছিল এবং দীর্ঘকাল সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন উপায়ে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল ও খ্রিষ্টধর্ম প্রচার করেছিল। অতঃপর তারা দুর্নীতির অবশিষ্টাংশ রেখে চলে যায়, তবে তার আগে তারা এমন এক প্রজন্ম গড়ে তোলে যারা সেই দুর্নীতির লালন ও প্রচার করে। আজও ক্রুসেডার আগ্রাসী বাহিনী পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে চলেছে।
দ্বিতীয় পক্ষটি হলো: পাপিষ্ঠ "ইয়াহুদিবাদ", যাদের কাজ হলো বিচ্যুত মতাদর্শ ও বিভ্রান্তিকর চিন্তাধারা তৈরি করা এবং মুসলিম দেশগুলোতে তা রপ্তানি করা।
তৃতীয় পক্ষটি হলো: "নাস্তিক কমিউনিজম", যা ইয়াহুদিবাদেরই একটি ফসল। বর্তমানে তাদের একটি স্বতন্ত্র সত্তা ও রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে এবং তারা শান্তিপূর্ণ আহ্বান থেকে শুরু করে শক্তি প্রয়োগ পর্যন্ত বিভিন্ন উপায়ে তাদের চিন্তাধারা ও নাস্তিকতা প্রচার করছে।
মুসলিম দেশগুলোতে তাদের এমন কিছু অনুসারী ও সাহায্যকারী তৈরি হয়েছে যারা উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে এবং তাদের ঐক্যকে বিনষ্ট করছে।
মূলত এই তিনটি পক্ষই মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করতে, তাদের দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এবং তাদের কাতারগুলোকে ছিন্নভিন্ন করতে একে অপরের সহযোগী হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
فانقسمت الأمة الإسلامية وتعدد ولاؤها بحسب الجبهة التي تقودها وتسير على خطاها ولا يكاد يسلم من الأمة أحداً إلا من رحم ربك وقليل ما هم.
ফলে ইসলামী উম্মাহ বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং যে পক্ষ তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল ও যাদের পদাঙ্ক তারা অনুসরণ করছিল, সেই অনুযায়ী তাদের আনুগত্যও বহুমুখী হয়ে যায়। উম্মাহর মধ্য থেকে প্রায় কেউই এ অবস্থা থেকে নিরাপদ থাকতে পারেনি, তারা ব্যতীত যাদের ওপর আপনার প্রতিপালক দয়া করেছেন; আর তারা সংখ্যায় অতি সামান্য।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
القسم الثالث: أسس الوحدة الإسلامية
أولا: وحدة الغاية…القسم الثالث: أسس الوحدة الإسلامية:
إن الأمة الإسلامية تملك أسساً مشتركة تستطيع بها أن تجمع شتاتها وتوحد كلمتها
… فهي أمة واحدة
… ذات دين واحد
… وكتاب واحد
… ورسول واحد
… هذه هي الأصول الثابتة التي تشترك فيها الأمة. فإذا ما أدركتها جيداً والتزمت بمقتضياتها فإن ذلك يجعل منهم أمة واحدة تلتقي على:
وحدة الغاية.
وحدة العقيدة.
وحدة القيادة.
وحدة المنهج.
فهذه الأسس التي تجتمع عليها الأمة وتكون عليها الوحدة الإسلامية الشاملة
… وأي خلل أو نقص فيها فإن ذلك يؤدي إلى استمرار الواقع المؤلم
… واقع التفرق والتمزق. وفيما يلي نبين بإيجاز تلك الأسس.
أولاً: وحدة الغاية:
إن لهذا الإنسان الذي يعيش على ظهر هذه الأرض "غاية" يؤديها في وجوده فإذا عرفها وتمثلها في حياته فإنه يسعد في الدنيا والآخرة وإذا جهلها وأعرض عنها فإنه يشقى في الدنيا والآخرة.
هذه الغاية هي "العبادة" لله عز وجل والقيام بدور الخلافة الصحيح في الأرض كما قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالأِنْسَ إِلا لِيَعْبُدُونِ} . فهذه هي الغاية.
والمسلمون ولله الحمد قد أدركوا هذه الغاية التي حرمها كثير من الشعوب فضلوا وشقوا وذلك ظاهر لكل متأمل في أحوالهم وشئونهم وإن ملكوا وسائل الإنتاج واكتشفوا كثيراً من قوانين المادة فإن ذلك لم يخفف من وطأة الشقاء النفسي لتلك المجتمعات.
ولكن المسلمين رغم إدراكهم لهذه الحقيقة فإنهم قد فرطوا فيها وأعرضوا عن تحقيقها فكان ذلك سبباً في شقائهم وضعفهم وتسلط عدوهم عليهم.
فلابد من العودة الصادقة إلى تحقيق هذه الغاية والالتزام بمقتضياتها لنحقق لأنفسنا السعادة في الدنيا والآخرة.
তৃতীয় বিভাগ: ইসলামী ঐক্যের ভিত্তিপ্রথমত: লক্ষ্যের ঐক্য…তৃতীয় বিভাগ: ইসলামী ঐক্যের ভিত্তি:
নিশ্চয়ই মুসলিম উম্মাহর এমন কিছু অভিন্ন ভিত্তি রয়েছে যার মাধ্যমে তারা নিজেদের বিচ্ছিন্নতাকে দূর করতে এবং নিজেদের ঐক্য সুসংহত করতে সক্ষম
… কেননা তারা এক উম্মাহ
… এক দ্বীনের (الدين) অধিকারী
… এক কিতাবের অনুসারী
… এবং এক রাসূলের অনুগামী
… এগুলোই হলো সেই অটল মূলনীতিসমূহ (الأصول), যাতে উম্মাহর সকলেই অংশীদার। যদি তারা এগুলো সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে এবং এর দাবি অনুযায়ী চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তবে তা তাদের এমন এক উম্মাহয় পরিণত করবে যা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়:
লক্ষ্যের ঐক্য।
আকিদার (العقيدة) ঐক্য।
নেতৃত্বের ঐক্য।
মানহাজের (المنهج) ঐক্য।
এই হলো সেই ভিত্তিগুলো যার ওপর উম্মাহ একত্রিত হয় এবং যার ওপর সর্বজনীন ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়
… আর এতে যেকোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি বর্তমানের এই বেদনাদায়ক বাস্তবতা অর্থাৎ বিভক্তি ও ছিন্নভিন্ন অবস্থার ধারাবাহিকতাকে প্রলম্বিত করবে। নিম্নে আমরা সংক্ষেপে সেই ভিত্তিগুলো বর্ণনা করছি।
প্রথমত: লক্ষ্যের ঐক্য:
এই পৃথিবীতে বসবাসকারী মানুষের অস্তিত্বের একটি "লক্ষ্য" (غاية) রয়েছে যা সে পূর্ণ করে; যদি সে তা জানতে পারে এবং স্বীয় জীবনে ধারণ করতে পারে, তবে সে ইহকাল ও পরকালে সৌভাগ্যবান হবে। আর যদি সে তা থেকে অজ্ঞ থাকে এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে সে ইহকাল ও পরকালে দুর্ভাগা হবে।
এই লক্ষ্যটি হলো মহান আল্লাহর "ইবাদত" (العبادة) করা এবং পৃথিবীতে খিলাফতের (الخلافة) যথাযথ দায়িত্ব পালন করা, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি}। এটাই হলো মূল লক্ষ্য।
আর সকল প্রশংসা আল্লাহর, মুসলিমরা সেই লক্ষ্যটি উপলব্ধি করতে পেরেছে যা থেকে বহু জাতি বঞ্চিত হয়েছে, ফলে তারা পথভ্রষ্ট ও দুর্দশাগ্রস্ত হয়েছে; তাদের অবস্থা ও বিষয়াদি পর্যবেক্ষণকারী যে কারো কাছে এটি স্পষ্ট। যদিও তারা উৎপাদনের উপকরণ লাভ করেছে এবং জড়বাদের অনেক নিয়ম আবিষ্কার করেছে, তবুও তা সেই সমাজগুলোর মানসিক যাতনার বোঝা কমাতে পারেনি।
কিন্তু মুসলিমরা এই সত্য উপলব্ধি করা সত্ত্বেও তা পালনে অবহেলা করেছে এবং তা বাস্তবায়নে বিমুখ হয়েছে, যা তাদের দুর্দশা, দুর্বলতা এবং তাদের ওপর শত্রুদের আধিপত্য বিস্তারের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অতএব, ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য অর্জনের জন্য আমাদের এই লক্ষ্য অর্জনে একনিষ্ঠভাবে ফিরে আসতে হবে এবং এর দাবিগুলো পালনে সচেষ্ট হতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
وتحقيق هذه الغاية "العبودية لله عز وجل" سيكون سبباً من أسباب الوحدة للأمة فإنه إذا توحدت غايات الشعوب المسلمة وغايات القيادات المسلمة فإنه ولاشك ستتحد الآمال والأهداف التي تجمع الأمة.
ولكنه إذا تعددت الغايات وكان لكل بلد من البلدان الإسلامية غاية أو غايات أخرى كلها من صنع البشر
… فارتبطت بشهواتها وأطماعها العاجلة فإن ذلك لا يقطعها عن العالم الإسلامي فحسب بل يقطع صلتها بالله عز وجل وانتسابها إلى الإسلام
… لأن الإسلام يحدد للإنسان غايته في هذه الحياة فإن التزمها الإنسان في حياته صحت نسبته إلى الإسلام وإن أعرض عنها فقد قطع صلته بهذا الدين.
ولو لم تضعف هذه الحقيقة في نفوس المسلمين لما حدثت الانقسامات بينهم ولما استطاع أعداء الإسلام أن يجدوا رواجاً لأفكارهم الضالة في بلدان المسلمين لأن الإسلام نور وغيره ظلام ومن كان في النور فإنه لا يرضى بالظلام بديلا قال تعالى: {أَوَمَنْ كَانَ مَيْتاً فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُوراً يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَنْ مَثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِنْهَا كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْكَافِرِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُون} .
আর এই পরম লক্ষ্য অর্থাৎ “আল্লাহর দাসত্ব (عبودية)” অর্জন করা উম্মাহর ঐক্যের অন্যতম একটি কারণ হবে। কেননা যদি মুসলিম জাতিসমূহ এবং মুসলিম নেতৃত্বের লক্ষ্যসমূহ অভিন্ন হয়, তবে নিঃসন্দেহে সেই আশা ও উদ্দেশ্যগুলোও ঐক্যবদ্ধ হবে যা উম্মাহকে একত্রিত করে।
কিন্তু যদি লক্ষ্যসমূহ বহুবিধ হয় এবং প্রতিটি মুসলিম দেশের জন্য পৃথক লক্ষ্য বা মানুষের তৈরি অন্য কোনো লক্ষ্য থাকে
… যা তাদের তাৎক্ষণিক প্রবৃত্তি ও লালসার সাথে জড়িয়ে পড়ে, তবে তা কেবল তাদের মুসলিম বিশ্ব থেকেই বিচ্ছিন্ন করবে না, বরং মহান আল্লাহর সাথে তাদের সম্পর্ক এবং ইসলামের সাথে তাদের সম্পৃক্ততাকেও ছিন্ন করবে
… কারণ ইসলাম ইহকালে মানুষের লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয়; সুতরাং মানুষ যদি তার জীবনে তা মেনে চলে, তবে ইসলামের সাথে তার সম্পৃক্ততা সঠিক (صحيح) হবে; আর যদি সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে সে এই দ্বীনের সাথে তার সম্পর্ক ছিন্ন করল।
আর এই ধ্রুব সত্যটি যদি মুসলমানদের অন্তরে দুর্বল হয়ে না পড়ত, তবে তাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হতো না এবং ইসলামের শত্রুরাও মুসলিম দেশগুলোতে তাদের বিভ্রান্ত (ضال) মতাদর্শের প্রসার ঘটাতে সক্ষম হতো না। কারণ ইসলাম হলো আলো এবং অন্য সবকিছুই অন্ধকার; আর যে ব্যক্তি আলোর মধ্যে থাকে, সে অন্ধকারের বিকল্পে সন্তুষ্ট হয় না। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে ব্যক্তি মৃত ছিল, অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে এমন এক আলো দিয়েছি যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো হতে পারে যে অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে এবং সেখান থেকে বের হতে পারছে না? এভাবেই কাফেরদের জন্য তাদের কৃতকর্মসমূহ শোভনীয় করে দেওয়া হয়েছে}।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
ثانياً: وحدة العقيدة:لقد تعرضت العقيدة الإسلامية في كثير من البلدان الإسلامية وعلى مدار التاريخ إلى انحرافات خطيرة وتصورات خاطئة شوهت جمال العقيدة وأوجدت في الأمة الواحدة مذاهب متعددة وطوائف متفرقة لكل منها أتباع وأنصار
… وما ذلك إلا لانتشار الجهل في صفوفهم.
لهذا فإنه لابد من إعادة النظر في ذلك الانحراف وتصحيحه بما يوافق الكتاب والسنة وتجريد العقيدة من الآراء البشرية التي لحقت بها ليتيسر للأمة الاجتماع واللقاء.
فإن العقيدة هي الأساس الذي يرتفع عليه بناء الدين فإذا قوى الأساس وخلص من الانحراف سهل على الأمر تصحيح بقية الانحرافات الأخرى وأمكن لها الاجتماع واللقاء
… وإلا فلا اجتماع ولا لقاء.
فالله عز وجل هو رب العالمين ومدبر الكون ومالكه وما عداه مخلوق مربوب محتاج فقير.
দ্বিতীয়ত: আকিদাহর (العقيدة) ঐক্য:নিশ্চয়ই ইসলামি আকিদাহ (العقيدة) অনেক মুসলিম দেশে এবং ইতিহাসের পরিক্রমায় মারাত্মক বিচ্যুতি ও ভুল ধারণার সম্মুখীন হয়েছে, যা আকিদাহর (العقيدة) সৌন্দর্যকে বিকৃত করেছে এবং একই উম্মাহর মধ্যে একাধিক মাযহাব (مذاهب) ও বিচ্ছিন্ন উপদল (طوائف) তৈরি করেছে, যাদের প্রত্যেকের অনুসারী ও সাহায্যকারী রয়েছে
… আর এটি কেবল তাদের মাঝে মূর্খতা ছড়িয়ে পড়ার কারণেই হয়েছে।
এই কারণে সেই বিচ্যুতির পুনর্বিবেচনা করা এবং কুরআন ও সুন্নাহ (السنة) অনুযায়ী তা সংশোধন করা এবং আকিদাহকে (العقيدة) সেই সকল মানবীয় মতামত থেকে মুক্ত করা অপরিহার্য যা এর সাথে যুক্ত হয়েছে, যাতে উম্মাহর ঐক্য ও মিলন সহজতর হয়।
কেননা আকিদাহ (العقيدة) হলো সেই ভিত্তি যার ওপর দ্বীনের ইমারত দণ্ডায়মান। সুতরাং যদি ভিত্তি মজবুত হয় এবং বিচ্যুতি থেকে মুক্ত হয়, তবে উম্মাহর জন্য অন্যান্য বিচ্যুতিসমূহ সংশোধন করা সহজ হবে এবং তাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও মিলিত হওয়া সম্ভব হবে
… অন্যথায় কোনো ঐক্য বা মিলন সম্ভব নয়।
কেননা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা হলেন বিশ্বজগতের প্রতিপালক (رب), মহাবিশ্বের পরিচালক ও মালিক; তিনি ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে সবই সৃষ্টি (مخلوق), তাঁরই প্রতিপালিত, মুখাপেক্ষী ও অভাবগ্রস্ত।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
والله هو وحده المستحق للعبادة لا رب غيره ولا إله، وغيره عبد ذليل.
ولله عز وجل الأسماء الحسنى والصفات العليا لا نحرف ولا نعطل ولا نشبه ولا نمثل {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} . ولا ننسى بقية أركان الإيمان من الإيمان بملائكة الله وكتبه ورسله واليوم الآخر والقدر خيره وشره.
هذا مجمل عقائد الإسلام فإذا ما رسخت هذه الحقيقة في نفوس الأمة وأصبحت واضحة في القلوب بلا غش ولا خفاء أمكن للأمة أن تلتقي وتتحد
… إذ صفاء الاعتقاد وسلامته من الآراء الدخيلة عليه يعني إزالة الحواجز التي قامت بين الأمة وفرقتها إلى شيع وأحزاب.
একমাত্র আল্লাহই ইবাদতের যোগ্য; তিনি ব্যতীত কোনো রব নেই এবং কোনো ইলাহ নেই। তিনি ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা বিনীত দাস।
মহান আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলি। আমরা সেগুলোতে কোনো বিকৃতি (تحريف) করি না, সেগুলোকে অর্থহীন (تعطيل) করি না এবং সেগুলোকে কারো সাথে সাদৃশ্য (تشبيه) কিংবা তুলনা (تمثيل) করি না; [যেমন আল্লাহ বলেছেন:] "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।" এছাড়া আমরা ঈমানের অবশিষ্ট রোকনসমূহও বিস্মৃত হই না, যা হলো আল্লাহর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা।
এটিই ইসলামের সামগ্রিক আকিদাহ। যখন এই হাকিকত উম্মাহর হৃদয়ে প্রোথিত হবে এবং কোনো প্রকার সংশয় বা অস্পষ্টতা ব্যতিরেকে অন্তরে সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে, তখন উম্মাহর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও মিলিত হওয়া সম্ভব হবে
… কেননা আকিদাহর বিশুদ্ধতা এবং এতে অনুপ্রবেশকারী (دخيلة) মতামত থেকে এর নিরাপত্তা উম্মাহর মাঝে গড়ে ওঠা সেই সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার নামান্তর, যা তাদেরকে বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত করে ফেলেছে।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
ثالثاً: وحدة القيادة:لقد شاء الله عز وجل أن يكون الإسلام آخر الرسالات السماوية إلى الأرض
… وأن يكون محمد صلى الله عليه وسلم آخر الرسل فيه أكمل الله الدين وبه ختم المرسلين فلا دين بعد دينه ولا نبي بعده.
فالإسلام هو الدين الذي رضيه الله لنا ديناً نتعبده به ونلتزم بشريعته.
والرسول محمد صلى الله عليه وسلم هو القائد الذي يجب أن نسير خلفه ونقتفي أثره.
وكل قيادة أخرى تحاول أن تلغي هذه القيادة أو تقلل منها فإنها قيادة خارجة عن الإسلام محاربة له
… بل كل قيادة تتمرد هي في ذات نفسها عن هذه القيادة أو تنحرف عن متابعتها فهي قيادة منحرفة.
هذه حقيقة ينبغي أن تتضح في أذهان المسلمين إذ بقدر وضوحها والتزامهم بها بقدر ما يتيسر للأمة الاجتماع والاتحاد
… وبقدر جهلها أو تجاهلها بقدر ما تبتعد الشقة ويتعذر اللقاء.
فإن إدراك الأمة لهذه الحقيقة يعني "توحيد القيادة" فالجميع يلتقون على قيادة واحدة بها يتأسون وعلى خطاها يسيرون فمنها يتلقون التوجيهات ومنها يعرفون الأحكام والعبادات
… فالحلال ما أخبر بحله والحرام ما نهى عنه
… والخير ما دل عليه
… والشر ما حذر منه {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} .
فليس هناك قيادة أخرى لها هذا الحق ولا بعضه وإنما تأتي لها الحقوق بمقدار متابعتها لهذه القيادة.
তৃতীয়ত: নেতৃত্বের একত্ব:আল্লাহ তাআলা চেয়েছেন যে ইসলাম পৃথিবীতে আসমানি রিসালাতসমূহের সর্বশেষ বার্তা হোক
… এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হোন সর্বশেষ রাসূল। এর মাধ্যমে আল্লাহ দীনকে পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই রাসূলগণের ধারার সমাপ্তি ঘটিয়েছেন; সুতরাং তাঁর দীনের পরে আর কোনো দীন নেই এবং তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই।
ইসলামই সেই দীন যাকে আল্লাহ আমাদের জন্য মনোনীত করেছেন, যার মাধ্যমে আমরা তাঁর ইবাদত করি এবং যার শরিয়ত আমরা মেনে চলতে বাধ্য।
আর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন সেই নেতা যার পেছনে আমাদের চলতে হবে এবং যাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে।
অন্য যেকোনো নেতৃত্ব যা এই নেতৃত্বকে বিলুপ্ত করতে চায় কিংবা একে তুচ্ছ করতে চায়, তা ইসলাম বহির্ভূত এবং ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত এক নেতৃত্ব
… বরং প্রতিটি নেতৃত্ব যা নিজেই এই নেতৃত্বের অবাধ্য হয় অথবা এর অনুসরণ থেকে বিচ্যুত হয়, তা একটি বিভ্রান্ত নেতৃত্ব।
এটি এমন এক ধ্রুব সত্য যা মুসলিমদের হৃদয়ে স্পষ্ট হওয়া উচিত; কেননা এটি যতটুকু স্পষ্ট হবে এবং তারা এর প্রতি যতটুকু অঙ্গীকারবদ্ধ হবে, উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি ততটাই সহজ হবে
… আর এ বিষয়ে অজ্ঞতা কিংবা একে উপেক্ষা করার মাত্রা অনুযায়ী দূরত্ব ততটাই বাড়বে এবং ঐক্য অসম্ভব হয়ে পড়বে।
উম্মাহর এই সত্যটি উপলব্ধি করার অর্থ হলো "নেতৃত্বের একত্ব"। ফলে সকলে এক নেতৃত্বের ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে, তাকেই আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করবে এবং তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলবে। সেই নেতৃত্ব থেকেই তারা দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবে এবং সেখান থেকেই বিধানসমূহ ও ইবাদত সম্পর্কে অবগত হবে
… সুতরাং বৈধ হলো তা-ই যার বৈধতার সংবাদ তিনি দিয়েছেন এবং নিষিদ্ধ হলো তা-ই যা থেকে তিনি নিষেধ করেছেন
… কল্যাণ হলো তা-ই যার দিকে তিনি পথ দেখিয়েছেন
… আর অকল্যাণ হলো তা-ই যা থেকে তিনি সতর্ক করেছেন; {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো}।
অন্য কোনো নেতৃত্বের এই অধিকার নেই, এমনকি এর কিয়দাংশও নেই; বরং অন্যান্য নেতৃত্বের অধিকার কেবল এই নেতৃত্বের অনুসরণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করেই অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
رابعاً: وحدة المنهج:من الأسباب الرئيسة لتمزيق الأمة الإسلامية تعدد المناهج التي تتبعها في مجتمعاتها
… تلك المناهج التي لا صلة لها بها ولا علاقة لها بدينها
… بل هي مضادة لدينها محاربة لعقيدتها
… فكان من نتائج ذلك أن اختلفت الأمة وتعددت مناهجها
… فوقعت الفجوة بين المناهج والواقع
… وبين القيادات والشعوب
… بل بين القيادات نفسها
… فانعكست تلك الخلافات على الأمة الإسلامية.
وما لم يتحد المنهج للأمة الإسلامية فيكون منهجها واحداً كما يقتضيه دينها فإن كل محاولة لوحدة الأمة أو لجمع شتاتها فإنها محاولة خاسرة.
وهذا المنهج الذي يجب اتباعه ليس له إلا مصدر واحد وهو الله سبحانه وتعالى فهو الذي يضعه لخلقه ويحدده والبشر عبيده وخلقه لا يجوز لهم أن يختاروا أو يرفضوا وإلا فإن ذلك يعرضهم لمقته وسخطه: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِم} .
هذا هو حال المسلم مع شريعة ربه ومنهاجه، فإذا اتضحت هذه الحقيقة في أذهان المسلمين تمثلوها في واقعهم فإنه يتيسر لهم اللقاء والاتحاد.
চতুর্থত: মানহাজের (منهج) ঐক্য:মুসলিম উম্মাহকে খণ্ডবিখণ্ড করার অন্যতম প্রধান কারণ হলো তাদের সমাজগুলোতে অনুসৃত মানহাজসমূহের (مناهج) বহুত্ব
… সেই সকল মানহাজ (مناهج) যেগুলোর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তাদের দ্বীনের সাথেও কোনো যোগসূত্র নেই
… বরং সেগুলো তাদের দ্বীনের পরিপন্থী এবং আকিদার (عقيدة) সাথে যুদ্ধরত
… এর ফলশ্রুতিতে উম্মাহর মধ্যে অনৈক্য দেখা দিয়েছে এবং তাদের মানহাজসমূহ (مناهج) বহুমুখী হয়ে পড়েছে
… ফলে মানহাজ (مناهج) ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে
… এবং নেতৃত্ব ও জনগণের মধ্যে
… এমনকি খোদ নেতৃত্বের নিজেদের মধ্যেও দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে
… ফলস্বরূপ সেই মতবিরোধের প্রভাব মুসলিম উম্মাহর ওপর প্রতিফলিত হয়েছে।
যতক্ষণ না মুসলিম উম্মাহর মানহাজ (منهج) ঐক্যবদ্ধ হবে এবং তাদের দ্বীনের দাবি অনুযায়ী তাদের মানহাজ (منهج) অভিন্ন হবে, ততক্ষণ উম্মাহর ঐক্য বা এর বিচ্ছিন্ন অংশগুলোকে একত্রিত করার প্রতিটি প্রচেষ্টা হবে একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা মাত্র।
আর এই মানহাজ (منهج) যা অনুসরণ করা আবশ্যক, তার উৎস মাত্র একটি—আর তা হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা। তিনিই তাঁর সৃষ্টির জন্য এটি প্রণয়ন ও নির্ধারণ করে দেন। মানুষ তাঁর বান্দা ও সৃষ্টি মাত্র; তাদের জন্য পছন্দ বা বর্জনের কোনো অধিকার নেই, অন্যথায় তা তাদেরকে আল্লাহর ঘৃণা ও ক্রোধের সম্মুখীন করবে: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর সে বিষয়ে নিজস্ব কোনো এখতিয়ার বা পছন্দের অবকাশ থাকে না}।
নিজ রবের শরিয়াহ (شريعة) ও মানহাজের (منهج) সাথে একজন মুসলিমের সম্পর্ক এমনই হওয়া উচিত। যখন এই সত্যটি মুসলিমদের মানসপটে স্পষ্ট হবে এবং তারা তাদের বাস্তব জীবনে তা প্রতিফলিত করবে, তখন তাদের জন্য পারস্পরিক মিলন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়া সহজ হবে।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
القسم الرابع: وسائل تحقيق الوحدة
أولا: التعليم الموجه…القسم الرابع: وسائل تحقيق الوحدة:
عرضنا في المبحث السابق الأسس التي لابد منها لتوحيد الأمة الإسلامية وهي وإن كانت شرطاً في تحقيق إيمان المسلم فلا يكون مسلماً بدونها
… فإنها شرط في تحقيق وحدة الأمة واجتماع كلمتها.
ولكن هذه الأسس- كما رأينا من قبل- قد تعرضت للفساد والانحراف واختفت أو تشوهت في كثير من المجتمعات الإسلامية فكان لابد من إظهار ما اختفى منها وتصحيح ما تشوه.
وهذا أمر يحتاج إلى وسائل متعددة للقيام بذلك الدور ورعايته في المجتمعات الإسلامية. ومن تلك الوسائل ما يأتي:
التعليم الموجه:
فإن المؤسسات التعليمية من أهم الوسائل الموجهة في المجتمع
… وكثيراً ما ينعكس أثرها على المجتمع
… سواء كان ذلك الأثر خيراً أم شراً.
চতুর্থ বিভাগ: ঐক্য অর্জনের মাধ্যমসমূহপ্রথমত: উদ্দেশ্যমূলক শিক্ষা…চতুর্থ বিভাগ: ঐক্য অর্জনের মাধ্যমসমূহ:
আমরা পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে সেই মৌলিক ভিত্তিগুলো উপস্থাপন করেছি যা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য অপরিহার্য। যদিও এগুলো একজন মুসলিমের ঈমান বাস্তবায়নের শর্ত এবং এগুলো ব্যতীত কেউ প্রকৃত মুসলিম হতে পারে না
… তবুও এগুলো উম্মাহর ঐক্য অর্জন এবং তাদের সংহতির জন্য অপরিহার্য শর্ত।
কিন্তু এই ভিত্তিগুলো—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি—বিপর্যয় ও বিচ্যুতির সম্মুখীন হয়েছে এবং অনেক মুসলিম সমাজে বিলুপ্ত হয়ে গেছে অথবা বিকৃত রূপ ধারণ করেছে। তাই যা বিলুপ্ত হয়েছে তা প্রকাশ করা এবং যা বিকৃত হয়েছে তা সংশোধন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
এটি এমন একটি বিষয় যার জন্য এই ভূমিকা পালন এবং মুসলিম সমাজগুলোতে এর তদারকির নিমিত্তে বহুমুখী মাধ্যমের প্রয়োজন। সেই মাধ্যমগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
উদ্দেশ্যমূলক শিক্ষা:
নিশ্চয়ই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক মাধ্যম
… এবং প্রায়শই সমাজে এর প্রভাব প্রতিফলিত হয়
… চাই সেই প্রভাব কল্যাণকর হোক বা অকল্যাণকর।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
والمدرسة هي منهج ومعلم
… فإذا صلحا صلحت الأجيال وإذا فسدا فسدت الأجيال- إذا شاء الله ذلك.
لذا فإنه لابد من إعادة صياغة المناهج في مدارس المسلمين وجامعاتهم بحيث يراعى في وضعها تلك الأسس التي تمثل قاعدة الوحدة الإسلامية فتشتمل المناهج على بيان العقيدة والغاية والقيادة والمنهج وتعمق هذه المعاني في نفوس أبناء الأمة ويبين لهم أن هذه أسس الإيمان التي يكون بها الإنسان مسلماً
… ويكون بها المجتمع جزءً من الأمة الإسلامية.
وبهذا تتهيأ للمسلمين أسباب الاجتماع والاتحاد.
وإلى جانب هذا البناء الإيماني للفرد المسلم يبين كذلك فساد المذاهب البشرية التي تسود كثيراً من المجتمعات البشرية اليوم وأنها مذاهب ضالة باطلة لا حق لها في الوجود ولا في البقاء.
كما يبين كذلك انتهاء دور الديانات السماوية الأخرى التي كانت قبل الإسلام وأنها قد نسخت بالإسلام كما أنها قد تعرضت للفساد والتحريف
… فهي لا تمثل الدين الذي أنزله الله عز وجل.
وهذا: البيان هو بمثابة الصيانة والحماية لتلك الأسس الإسلامية.
বিদ্যালয় হলো একটি পাঠ্যক্রম ও একজন শিক্ষক
… সুতরাং যদি এই উভয়টি সঠিক হয়, তবে প্রজন্মসমূহও সঠিক হবে, আর যদি এই উভয়টি কলুষিত হয়ে যায়, তবে প্রজন্মসমূহও কলুষিত হয়ে যাবে—যদি আল্লাহ তা চান।
তাই মুসলিমদের বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রম পুনরায় প্রণয়ন করা আবশ্যক, যাতে সেগুলি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ওইসব মূলনীতি লক্ষ রাখা হয় যা ইসলামি ঐক্যের ভিত্তি স্বরূপ। ফলে পাঠ্যক্রমগুলোতে আকিদাহ, উদ্দেশ্য, নেতৃত্ব ও কর্মপদ্ধতির বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং উম্মাহর সন্তানদের অন্তরে এই অর্থসমূহ গভীরতর হবে। তাদের কাছে স্পষ্ট করা হবে যে, এগুলিই ঈমানের ভিত্তি যার মাধ্যমে একজন মানুষ মুসলিম হতে পারে
… এবং যার মাধ্যমে একটি সমাজ ইসলামি উম্মাহর অংশে পরিণত হতে পারে।
এর মাধ্যমেই মুসলিমদের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও সম্মিলিত হওয়ার উপায়সমূহ প্রস্তুত হবে।
একজন মুসলিম ব্যক্তির এই ঈমানি গঠনের পাশাপাশি মানবরচিত মতবাদসমূহের অসারতাও স্পষ্ট করতে হবে, যা বর্তমানে অনেক মানবসমাজে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। এগুলো হলো ভ্রান্ত (ضالة) ও বাতিল (باطلة) মতবাদ, যার অস্তিত্ব রক্ষা বা টিকে থাকার কোনো অধিকার নেই।
একইভাবে ইসলামের পূর্ববর্তী অন্যান্য আসমানি ধর্মগুলোর কার্যকারিতা শেষ হওয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট করতে হবে এবং এই যে সেগুলি ইসলামের মাধ্যমে রহিত (نسخت) হয়ে গেছে। তাছাড়া সেগুলি বিকৃতি ও পরিবর্তনের (تحريف) শিকার হয়েছে
… সুতরাং সেগুলি আর মহান আল্লাহর নাজিলকৃত সেই দীনের প্রতিনিধিত্ব করে না।
আর এই বর্ণনা হলো সেই ইসলামি মূলনীতিসমূহের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষাস্বরূপ।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
ثانياً: الإعلام الملتزم:لقد أصبح للإعلام في العصر الحاضر- بكل وسائله المسموعة والمرئية والمقروءة- دور خطير في الحياة الإنسانية
… فهو يقتحم كل بيت ويصل إلى كل إنسان.
ووسائل الإعلام اليوم في كثير من البلدان الإسلامية غير ملتزمة بالمنهج الإسلامي الذي يبث الخير وينشر الفضيلة ويحذر من الشر والأَخلاق الرذيلة
… بل إن بعض تلك الوسائل تحارب الإسلام وتسيء إلى أهله بما تنشره من البرامج السيئة والحلقات المنحرفة
… وهذا كله مضاد لدين الأمة ومفرقة لجمعها وهادم لأسس الوحدة التي تقوم عليها.
ولن يكون هناك لقاء أو اتحاد وإعلام المسلمين أو بعضه بهذه الصورة.
فلابد إذن من إعادة البناء الإعلامي بناءً صحيحاً بحيث يكون قادراً على توجيه الأمة وتعميق العقيدة في نفوسها وتذكيرها بخاصيتها في هذه الحياة والمنهج الذي اختاره الله عز
দ্বিতীয়ত: আদর্শিক গণমাধ্যম:বর্তমান যুগে গণমাধ্যম—তার শ্রবণযোগ্য, দৃশ্যমান এবং পঠনযোগ্য সকল মাধ্যমসহ—মানবজীবনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছে
… এটি প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করছে এবং প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
বর্তমানে অনেক মুসলিম দেশে গণমাধ্যমগুলো সেই ইসলামি পদ্ধতি (المنهج) অনুসরণে দায়বদ্ধ নয় যা কল্যাণ প্রচার করে, সচ্চরিত্রের প্রসার ঘটায় এবং অকল্যাণ ও মন্দ স্বভাব থেকে সতর্ক করে
… বরং এই মাধ্যমগুলোর কিছু তো ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং তাদের প্রচারিত কুরুচিপূর্ণ অনুষ্ঠান ও বিভ্রান্তিকর ধারাবাহিকগুলোর মাধ্যমে ইসলামের অনুসারীদের অবমাননা করে
… আর এই সবকিছুই উম্মাহর দ্বীনের পরিপন্থী, তাদের ঐক্যকে বিচ্ছিন্নকারী এবং যে ঐক্যের ভিত্তির ওপর তারা প্রতিষ্ঠিত, তার ধ্বংসকারী।
মুসলিমদের গণমাধ্যম বা তার কোনো অংশ যদি এই অবস্থায় থাকে, তবে সেখানে কোনো ঐক্য বা সংহতি প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়।
তাই গণমাধ্যমকে একটি সঠিক ভিত্তির ওপর নতুন করে গড়ে তোলা অপরিহার্য, যেন তা উম্মাহকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে, তাদের অন্তরে আকিদাহ (العقيدة) সুদৃঢ় করতে এবং এই জীবনে তাদের বৈশিষ্ট্য ও মহান আল্লাহ নির্ধারিত পদ্ধতি (المنهج) সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিতে সক্ষম হয়।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১০)
وجل لها كما تبين إلى جانب ذلك وحدة القيادة للأمة الإسلامية وأنه لم يعد هناك مجال لظهور قيادات أخرى تنازع القيادة المحمدية أو تزاحمها.
فإذا استطاع الإعلام في البلدان الإسلامية أن يثبت هذه القضايا الأساسية في نفوس الأمة فإنه عندئذ يكون قد أدى دوره الصحيح في المجتمع وساهم في وحدة الأمة
… وإلا فلا وحدة ولا اجتماع.
ويتحقق ذلك بالاختيار الأمين للعاملين بالإعلام فتختار الكفاءات المؤمنة التي تدرك أهداف الأمة وغايتها.
যেমনটি পরিস্ফুট হয়েছে, তার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্বের ঐক্যও স্পষ্ট হয়েছে এবং এটিও প্রতীয়মান হয়েছে যে, মুহাম্মাদী নেতৃত্বের সাথে বিবাদ করবে বা তার প্রতিদ্বন্দ্বী হবে এমন অন্য কোনো নেতৃত্বের আবির্ভাবের আর কোনো অবকাশ নেই।
যদি মুসলিম দেশগুলোর গণমাধ্যম উম্মাহর মানসপটে এই মৌলিক বিষয়গুলো সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়, তবেই তারা সমাজে তাদের সঠিক ভূমিকা পালন করতে পারবে এবং উম্মাহর ঐক্যে অবদান রাখতে পারবে
… অন্যথায় কোনো ঐক্য বা সংহতি অর্জিত হবে না।
আর এটি অর্জিত হবে গণমাধ্যমকর্মীদের বিশ্বস্ত (أمين) নির্বাচনের মাধ্যমে; যেখানে এমন ঈমানদার ও দক্ষ ব্যক্তিদের বেছে নেওয়া হবে যারা উম্মাহর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১০)
ثالثاً: الاقتصاد المستقل:إن التشابك المعقد في العلاقات الدولية - اليوم- واختلاف الأنظمة الاقتصادية في العالم والذي انعكس أثره على أكثر المجتمعات الإسلامية فتعددت فيها الأنظمة الاقتصادية تبعاً للاتجاه الذي يغلب على كل بلد كان له آثَاره السلبية على وحدة الأمة الإسلامية.
ومحاولة عودة الأمة إلى دينها يلزم منه التحرر من تلك الأنظمة الدخيلة على المجتمعات الإسلامية بالعودة إلى النظام الاقتصادي الإسلامي الذي هو جزء من ذلك المنهج الشامل الكامل الذي هو جزء من دين الأمة لا يتم بل لا يوجد بدونه والذي هو أحد الأسس التي تلتقي عليها الأمة.
ولابد من إيجاد اقتصاد إسلامي مستقل ليس مرتبطاً بأي نظام آخر لئلا يبقى بين الأمة فجوات تحول دون وحدتهم.
ويتم ذلك بإيجاد أسواق مشتركة وعملة موحدة وهيئة اقتصادية مشتركة تشرف على ذلك الاقتصاد الإسلامي المستقل.
وبهذا تستقل عن التبعية الاقتصادية الضارة وتقيم لها وحدة اقتصادية قوية على أسس إسلامية
…والاقتصاد في الحقيقة هو ضمن المنهج الإسلامي الذي يعتبر أحد الأسس للوحدة الإسلامية
… والذي أريده هنا هو التعاون العَام وتوحيد الأسواق والعملات الذي يعطي للأمة شخصيتها المستقلة ويمهد السبيل للوحدة واللقاء.
তৃতীয়ত: স্বতন্ত্র অর্থনীতি:বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিল আবর্ত এবং বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাগুলোর ভিন্নতা, যার প্রভাব অধিকাংশ মুসলিম সমাজের ওপর প্রতিফলিত হয়েছে—ফলে প্রতিটি দেশের ওপর প্রভাবশালী ধারার অনুসরণে সেখানে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বহুমুখিতা দেখা দিয়েছে—তা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
উম্মাহর নিজ দ্বীনের পথে প্রত্যাবর্তনের প্রচেষ্টার জন্য মুসলিম সমাজে অনুপ্রবেশকারী ঐসব বিজাতীয় ব্যবস্থা থেকে মুক্ত হওয়া অপরিহার্য। এটি সম্ভব ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরে আসার মাধ্যমে, যা সেই পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক জীবনবিধানের অংশ এবং উম্মাহর দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, যা ব্যতিরেকে দ্বীন অসম্পূর্ণ বরং অস্তিত্বহীন। আর এটিই অন্যতম সেই মূলভিত্তি যার ওপর উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হয়।
এবং একটি স্বতন্ত্র ইসলামী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক যা অন্য কোনো ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত হবে না, যাতে উম্মাহর মধ্যে এমন কোনো ব্যবধান অবশিষ্ট না থাকে যা তাদের ঐক্যের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে।
আর এটি সম্ভব হবে অভিন্ন বাজার ব্যবস্থা, একক মুদ্রা এবং একটি যৌথ অর্থনৈতিক সংস্থা গঠনের মাধ্যমে, যা সেই স্বতন্ত্র ইসলামী অর্থনীতিকে তত্ত্বাবধান করবে।
এর মাধ্যমে উম্মাহ ক্ষতিকর অর্থনৈতিক পরাধীনতা থেকে মুক্তি পাবে এবং ইসলামী মূলনীতির ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলবে
…প্রকৃতপক্ষে অর্থনীতি হলো ইসলামী জীবনবিধানের অন্তর্ভুক্ত, যা ইসলামী ঐক্যের অন্যতম মূলভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়
… এখানে আমার উদ্দেশ্য হলো সার্বিক সহযোগিতা এবং বাজার ও মুদ্রার একীকরণ, যা উম্মাহকে তার স্বতন্ত্র সত্তা প্রদান করবে এবং ঐক্য ও সম্মিলনের পথ সুগম করবে।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১১)
رابعاً: إيجاد مراكز علمية:لما كانت هذه الوسائل المتقدم ذكرها لابد لها من إعداد وتخطيط بحيث تظهر بالصورة الصحيحة كان لابد من مراكز علمية مختلفة تكون مهمتها التخطيط الدقيق لتلك الجوانب إلى جوانب أخرى تتعلق بحياة الأمة.
فتلك المراكز متعددة الأغراض تمثل الهيئة الاستشارية والمخططة لتوحيد الأمة وتكاملها ونموها في جميع الجوانب بحيث تتحد الأمة في كل المظاهر إلى جانب اتحادها في القواعد.
চতুর্থ: জ্ঞানতাত্ত্বিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা:যেহেতু পূর্বে বর্ণিত এই মাধ্যমগুলোর জন্য এমনভাবে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক যাতে সেগুলো সঠিক (صحيحة) রূপে প্রকাশ পায়, সেহেতু এমন বিভিন্ন জ্ঞানতাত্ত্বিক কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে যাদের কাজ হবে উম্মাহর জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট এই দিকগুলোসহ অন্যান্য বিষয়ে সুনিপুণ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।
সেই বহুমুখী কেন্দ্রসমূহ উম্মাহর ঐক্য, সংহতি এবং সকল ক্ষেত্রে বিকাশের জন্য পরামর্শক ও পরিকল্পনাকারী পর্ষদ হিসেবে কাজ করবে, যেন উম্মাহ মৌলিক মূলনীতিসমূহের (القواعد) পাশাপাশি সকল বাহ্যিক দিক থেকেও ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আসারুল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ ফী তাদমুনি ওয়া ওয়াহদাতিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১১)
الخاتمة:في نهاية هذا البحث الموجز نذكر أهم القضايا التي اشتمل عليها هذا البحث وهي:
إن واقع الأمة واقع مؤلم قد تخلله الفساد وسرى فيه الانحراف.
وأن هذا الواقع المنحرف لا يمكن معه اللقاء والاتحاد.
وأن وحدة الأمة لا تتم إلا بتصحيح هذا الواقع على ضوء الكتاب والسنة.
والله وحده عز وجل هو المسؤول أن يصلح الأمة الإسلامية وأن يجمع كلمتها على الحق إنه سميع مجيب
…
উপসংহার:এই সংক্ষিপ্ত গবেষণার শেষে আমরা এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উল্লেখ করছি, আর সেগুলো হলো:
নিশ্চয়ই উম্মাহর বর্তমান বাস্তবতা এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা, যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিপর্যয় প্রবেশ করেছে এবং তাতে বিচ্যুতি ছড়িয়ে পড়েছে।
আর এই বিচ্যুত বাস্তবতাকে সাথে নিয়ে সম্মিলন ও ঐক্য সম্ভব নয়।
এবং উম্মাহর ঐক্য কেবল কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই বাস্তবতার সংস্কারের মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়া সম্ভব।
আর একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলার নিকটই প্রার্থনা যে, তিনি যেন মুসলিম উম্মাহর সংশোধন করেন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।
…