Warning: SQLite3::query(): Unable to prepare statement: 1, no such column: part in /home/u575225426/domains/shamelabangla.com/public_html/sqlite_db.php on line 274
উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা - শামেলা বাংলা
(খণ্ড: ১) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: -)
أصول الدعوة وطرقها 3 - جامعة المدينة   (جامعة المدينة العالمية)

القسم: كتب عامة


الكتاب: أصول الدعوة وطرقها 3

كود المادة: IDWH3033

المرحلة: بكالوريوس

المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية

الناشر: جامعة المدينة العالمية

عدد الصفحات: 380

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الآخرة 1433

উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়   (আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩

বিষয় কোড: IDWH3033

স্তর: স্নাতক

লেখক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রমসমূহ

প্রকাশক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮০

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৩

(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: -)
-[أصول الدعوة وطرقها 3]-

كود المادة: IDWH3033

المرحلة: بكالوريوس

المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية

الناشر: جامعة المدينة العالمية

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
-[দাওয়াহর মূলনীতি (أصول) ও পদ্ধতিসমূহ ৩]-

বিষয় কোড: IDWH3033

স্তর: স্নাতক

লেখক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রম

প্রকাশক: আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الدرس: 1 الإيمان بالقضاء والقدر.

بسم الله الرحمن الرحيم

الدرس الأول

(الإيمان بالقضاء والقدر)

 

‌‌حقيقة مذهب السلف في الإيمان بالقدر، والنصوص الدالة عليه

الحمد لله رب العالمين، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونصلي ونسلم على خير خلقه محمد بن عبد الله، وعلى آله وصحبه ومن استن بسنته وسار على نهجه إلى يوم الدين، وبعد:

فالإيمان بالقدر من أصول الإيمان التي لا يتم إيمان العبد إلا بها؛ ففي (صحيح مسلم) من حديث عمر بن الخطاب في سؤال جبريل عليه السلام الرسول صلى الله عليه وسلم عن الإيمان قال: ((أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله، وتؤمن بالقدر خيره وشره. قال: -أي جبريل، عليه السلام صدقت)).

والنصوص المخبرة عن قدرة الله أو الآمرة بالإيمان بالقدر كثيرة: فمن ذلك: قوله تعالى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} (القمر: 49)، وقوله: {وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَرًا مَقْدُورًا} (الأحزاب: 38) وقوله: {وَلَكِنْ لِيَقْضِيَ اللَّهُ أَمْرًا كَانَ مَفْعُولًا} (الأنفال: 42) وقال: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا} (الفرقان: 2) وقال: {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى * الَّذِي خَلَقَ فَسَوَّى * وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَى} (الأعلى: 1 - 3).

وروى مسلم في صحيحه عن طاوس قال: أدركت ناسًا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يقولون: كل شيء بقدر حتى العجز والكيس، أو الكيس والعجز.

وروى مسلم أيضًا عن أبي هريرة قال: جاء مشركو قريش يخاصمون رسول الله صلى الله عليه وسلم في القدر؛ فنزلت: {يَوْمَ يُسْحَبُونَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ ذُوقُوا مَسَّ سَقَرَ * إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} (القمر: 48، 49).

والنصوص في ذلك كثيرة جدًّا؛ فإن النصوص الدالة على علم الله وقدرته ومشيئته وخلقه تدل على قدره تبارك وتعالى فالقدر يتضمن الإيمان بعلم الله ومشيئته
‌‌পাঠ: ১ ক্বাযা ও ক্বদরের প্রতি ঈমান.

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

প্রথম পাঠ

(ক্বাযা ও ক্বদরের প্রতি ঈমান)

 

‌‌ক্বদরের প্রতি ঈমানের ক্ষেত্রে সালাফদের মাযহাবের প্রকৃত স্বরূপ এবং এর স্বপক্ষে দলীলসমূহ

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা সালাত ও সালাম পেশ করি তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করবেন ও তাঁর পথে চলবেন তাদের ওপর। অতঃপর:

ক্বদরের প্রতি ঈমান হলো ঈমানের এমন এক মূলনীতি যা ব্যতীত কোনো বান্দার ঈমান পূর্ণ হয় না। সহীহ মুসলিম-এ ওমর ইবনুল খাত্তাব বর্ণিত সেই হাদিসে এসেছে, যেখানে জিবরীল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তখন তিনি বলেন: "তা এই যে, তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং বিশ্বাস স্থাপন করবে ক্বদরের ভালো ও মন্দের প্রতি। তিনি (অর্থাৎ জিবরীল আলাইহিস সালাম) বললেন: আপনি সত্য বলেছেন।"

আল্লাহর কুদরত (ক্ষমতা) সম্পর্কে সংবাদ প্রদানকারী অথবা ক্বদরের প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ প্রদানকারী দলীলসমূহ অনেক। তার মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে (ক্বদর অনুযায়ী)" (আল-ক্বামার: ৪৯), এবং তাঁর বাণী: "আর আল্লাহর আদেশ সুনির্ধারিত ও সুনির্দিষ্ট" (আল-আহযাব: ৩৮), এবং তাঁর বাণী: "কিন্তু আল্লাহ তা সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন যা অবশ্যই করণীয় ছিল" (আল-আনফাল: ৪২), এবং তিনি বলেন: "যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তা যথাযথভাবে পরিমিত করেছেন" (আল-ফুরক্বান: ২), এবং তিনি বলেন: "আপনার সুউচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করুন; যিনি সৃষ্টি করেছেন এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ করেছেন এবং যিনি পরিমিত করেছেন ও পথ প্রদর্শন করেছেন" (আল-আ'লা: ১-৩)।

ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবীকে বলতে শুনেছি: "সবকিছুই ক্বদর অনুযায়ী, এমনকি অক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তাও, অথবা বুদ্ধিমত্তা ও অক্ষমতাও।"

ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুরাইশ মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে ক্বদর সম্পর্কে বিতর্ক শুরু করল। তখন এই আয়াত নাযিল হলো: "যেদিন তাদেরকে উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে, (বলা হবে:) আস্বাদন করো আগুনের স্পর্শ। নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে (ক্বদর অনুযায়ী)" (আল-ক্বামার: ৪৮, ৪৯)।

এ বিষয়ে দলীলসমূহ প্রচুর। বস্তুত আল্লাহর ইলম (জ্ঞান), কুদরত (ক্ষমতা), মাশিয়্যাত (ইচ্ছা) এবং খালক্ব (সৃষ্টি) সংক্রান্ত দলীলসমূহ মহান আল্লাহর ক্বদরের ওপরই প্রমাণ বহন করে। কেননা ক্বদরের প্রতি ঈমান আল্লাহর ইলম ও মাশিয়্যাতের প্রতি ঈমান আনয়নকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১০)
وخلقه، والقدر يدل بوضعه -كما يقول الراغب الأصفهاني فيما نقله عنه ابن حجر العسقلاني- على القدرة وعلى المقدور الكائن بالعلم؛ فلله تعالى القدرة المطلقة، وقدرته لا يعجزها شيء، ومن أسمائه تبارك وتعالى القادر والقدير والمقتدر، والقدرة صفة من صفاته؛ فالقادر: اسم فاعل من قدر يقدر، والقدير: فعيل منه، وهو للمبالغة، ومعنى "القدير": الفاعل لما يشاء على قدر ما تقتضيه الحكمة، لا زائدًا عليه ولا ناقصًا عنه؛ ولذلك لا يصح أن يوصف به إلا الله عز وجل، قال تعالى: {إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} (فصلت: 39)، والمقتدر: مفتعل من اقتدر، وهو أبلغ من قدير، ومنه قوله: {فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ مَلِيكٍ مُقْتَدِرٍ} (القمر: 55).

وقد سئل الإمام أحمد -رحمه الله تعالى- عن القدر؟ فقال: القدر قدرة الله، قال ابن القيم: وقال الإمام أحمد: القدر قدرة الله، واستحسن ابن عقيل هذا الكلام جدًّا، وقال: هذا يدل على دقة أحمد وتبحره في معرفة أصول الدين.

وهو كما قال أبو الوفا؛ فإن إنكاره إنكار لقدرة الرب على خلق أفعال العباد وكتابتها وتقديرها، وقد صاغ ابن القيم هذا المعنى شعرًا فقال:

فحقيقة القدر الذي حار الورى … في شأنه هو قدرة الرحمن

واستحسن ابن عقيل ذا من أحمد … لما حكاه عن الرضا الرباني

والحق أن تعريف أحمد -رحمه الله تعالى- قد كفى وشفى؛ فالقدر يعني ما قرره الله سبحانه في قوله تعالى: {قُلْ إِنَّ الْأَمْرَ كُلَّهُ لِلَّهِ} (آل عمران: 154) وفي قوله: {وَإِلَيْهِ يُرْجَعُ الْأَمْرُ كُلُّهُ} (هود: 123) وغير ذلك من الآيات التي تدل على أنه لا يحدث شيء في الكون إلا بإرادة الله ومشيئته.

قال الطحاوي: وكل شيء يجري بتقديره ومشيئته، ومشيئتُه تنفذ؛ لا مشيئة للعباد إلا ما شاء الله؛ فما شاء لهم كان وما لم يشأ لم يكن، لا راد لقضائه؛ ولذا فإن الذين يكذبون بالقدر لا يُثبتون قدرة الله تعالى.
...এবং তাঁর সৃষ্টি; আর 'কদর' (তাকদীর) তার আভিধানিক বিন্যাস অনুযায়ী—যেমনটি রাগেব আল-ইসফাহানী বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হাজার আল-আসকালানী তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন—ক্ষমতা এবং জ্ঞানের ভিত্তিতে বিদ্যমান নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে। সুতরাং মহান আল্লাহর জন্য রয়েছে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা, আর তাঁর ক্ষমতাকে কোনো কিছুই অপরাগ করতে পারে না। তাঁর পবিত্র নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো আল-কাদির, আল-কাদীর এবং আল-মুক্তাদির। আর ক্ষমতা (কুদরত) হলো তাঁর গুণাবলির একটি গুণ। 'আল-কাদির' শব্দটি 'কদারা-ইয়াকদিরু' থেকে আগত কর্তৃবাচক বিশেষ্য; আর 'আল-কাদীর' শব্দটি এর অতিশয়ার্থবোধক রূপ, যা আধিক্য বোঝায়। 'আল-কাদীর'-এর অর্থ হলো: তিনি যা ইচ্ছা করেন তা প্রজ্ঞার দাবি অনুযায়ী করেন, যা তার চেয়ে বেশিও হয় না এবং কমও হয় না। এই কারণে মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে এই গুণে গুণান্বিত করা সঠিক নয়। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান" (ফুসসিলাত: ৩৯)। আর 'আল-মুক্তাদির' শব্দটি 'ইকতাদারা' থেকে গঠিত একটি রূপ, যা 'কাদীর' শব্দটির চেয়েও অধিক অর্থবহ। এরই প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহর বাণী: "সত্যের আসনে, সর্বশক্তিমান সম্রাটের সান্নিধ্যে" (আল-কামার: ৫৫)।

ইমাম আহমদ (রহিমাহুল্লাহ)-কে তাকদীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি উত্তরে বলেছিলেন: "তাকদীর হলো আল্লাহর ক্ষমতা (কুদরত)"। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: ইমাম আহমদ বলেছেন যে, তাকদীর হলো আল্লাহর কুদরত। ইবনে আকীল এই উক্তিটিকে অত্যন্ত চমৎকার বলেছেন এবং মন্তব্য করেছেন যে, এটি দ্বীনের মৌলিক নীতিমালা সম্পর্কে আহমদের সূক্ষ্মতা ও গভীর পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়।

এটি আবু আল-ওয়াফা যেমনটি বলেছেন তেমনই; কারণ তাকদীর অস্বীকার করা মূলত বান্দার কর্ম সৃষ্টি, তা লিপিবদ্ধ করা এবং তা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে রবের ক্ষমতারই অস্বীকৃতি। ইবনুল কাইয়্যিম এই অর্থটি কবিতার ছন্দে ব্যক্ত করে বলেছেন:

তাকদীরের হাকীকত, যা নিয়ে সৃষ্টিজগত বিভ্রান্তিতে রয়েছে … তা মূলত পরম করুণাময়ের ক্ষমতা।

ইবনে আকীল আহমদের এই বক্তব্যকে অতি উত্তম বলেছেন … যখন তিনি তা রব্বানী সন্তুষ্টির উদ্ধৃতিতে বর্ণনা করেছেন।

প্রকৃতপক্ষে ইমাম আহমদের (রহিমাহুল্লাহ) সংজ্ঞাটিই যথেষ্ট ও যথাযথ; কেননা তাকদীর বলতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর এই বাণীতে যা ফয়সালা করেছেন তাকেই বোঝায়: "বলুন, সমস্ত বিষয় আল্লাহরই এখতিয়ারে" (আল ইমরান: ১৫৪) এবং তাঁর এই বাণীতে: "সবকিছু তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে" (হুদ: ১২৩)। এছাড়া আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহর ইচ্ছা ও অভিপ্রায় ব্যতীত মহাবিশ্বে কিছুই ঘটে না।

ইমাম তহাবী বলেন: "সবকিছুই তাঁর নির্ধারণ এবং ইচ্ছানুযায়ী সম্পন্ন হয়। তাঁর ইচ্ছাই কার্যকর হয়; বান্দার কোনো ইচ্ছা নেই আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। সুতরাং তিনি তাদের জন্য যা ইচ্ছা করেন তা-ই হয়, আর যা তিনি ইচ্ছা করেন না তা হয় না। তাঁর ফয়সালা রদ করার কেউ নেই।" আর এই কারণেই যারা তাকদীরকে অস্বীকার করে, তারা মূলত মহান আল্লাহর ক্ষমতাকে সাব্যস্ত করে না।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১১)
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمه الله تعالى-: من لم يقل بقول السلف فإنه لا يثبت لله قدرة، ولا يثبته قادرًا، كالجهمية ومن اتبعهم والمعتزلة المجبرة النافية، حقيقة قولهم: أنه ليس قادرًا وليس له الملك؛ فإن الملك إما أن يكون هو القدرة، أو المقدور، أو كلاهما، وعلى كل تقدير فلابد من القدرة؛ فمن لم يثبت له قدرة حقيقة لم يثبت له ملكًا، والذين كذبوا بالقدر لم يوحدوا الله عز وجل فإن نفاة القدر يقولون: خالق الخير غير خالق الشر.

ويقول من كان منهم في ملتنا: إن الذنوب الواقعة ليست واقعة بمشيئة الله تعالى، وربما قالوا: ولا يعلمها أيضًا، ويقولون: إن جميع أفعال الحيوان واقعة بغير قدرته ولا صنعه؛ فيجحدون مشيئته النافذة وقدرته الشاملة؛ ولهذا قال ابن عباس: القدر نظام التوحيد؛ فمن وحَّد الله وآمن بالقدر تم توحيده، ومن وحد الله وكذَّب بالقدر نقض تكذيبه توحيده.

وقد تقاطر أهل العلم على تقرير القدر والنص على وجوب الإيمان به، وما من عالم من علماء أهل السنة الذين هم أعلام الهدى وأنوار الدجى إلا وقد نص على وجوب الإيمان به، وبدّع وسفّه من أنكره وردَّه.

يقول النووي -رحمه الله تعالى- في شرحه لأحاديث القدر من (صحيح مسلم): وفي هذه الأحاديث كلها دلالات ظاهرة لمذهب أهل السنة في إثبات القدر، وأن جميع الواقعات بقضاء الله وقدره خيرها وشرها نفعها وضرها.

قال في موضع آخر: تظاهرت الأدلة القطعيات من الكتاب والسنة وإجماع الصحابة وأهل الحل والعقد من السلف والخلف على إثبات قدر الله سبحانه وتعالى.

ويقول ابن حجر -رحمه الله تعالى-: مذهب السلف قاطبة أن الأمور كلها بتقدير الله تعالى، كما قال تعالى: {وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا عِنْدَنَا خَزَائِنُهُ وَمَا نُنَزِّلُهُ إِلَّا بِقَدَرٍ مَعْلُومٍ} (الحجر: 21).
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: যে ব্যক্তি সালাফদের মতানুসারে কথা বলে না, সে আল্লাহর জন্য কোনো সক্ষমতা (قدرة) সাব্যস্ত করে না এবং তাঁকে সক্ষম (قادر) হিসেবেও সাব্যস্ত করে না। যেমন জাহমিয়্যাহ ও তাদের অনুসারীগণ এবং জাবরিয়্যাহ ও নাফি (অস্বীকারকারী) মুতাজিলাগণ; তাদের বক্তব্যের সারমর্ম হলো: তিনি সক্ষম নন এবং তাঁর কোনো রাজত্ব নেই। কেননা রাজত্ব হয় সক্ষমতা (قدرة) হবে, অথবা যার ওপর সক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় (مقدور) তা হবে, অথবা উভয়টিই হবে। আর যে কোনো বিচারেই সক্ষমতা (قدرة) থাকা অপরিহার্য। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য প্রকৃত সক্ষমতা (قدرة) সাব্যস্ত করে না, সে তাঁর রাজত্বকেও সাব্যস্ত করে না। আর যারা তাকদিরকে (القدر) অস্বীকার করে, তারা মহান আল্লাহকে একক হিসেবে মেনে নেয়নি। কারণ তাকদির অস্বীকারকারীরা বলে: কল্যাণের স্রষ্টা ও অকল্যাণের স্রষ্টা এক নয়।

আমাদের মিল্লাতের (উম্মাহর) মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যারা এমন কথা বলে, তারা মনে করে: সংঘটিত পাপসমূহ আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় (مشيئة) সংঘটিত হয় না। সম্ভবত তারা এও বলে যে: তিনি এ সম্পর্কে অবগতও নন। তারা আরও বলে: প্রাণিকুলের সমস্ত কর্ম তাঁর সক্ষমতা (قدرة) ও সৃষ্টি ব্যতিরেকেই সংঘটিত হয়। এভাবে তারা তাঁর কার্যকর ইচ্ছা (مشيئة) এবং সর্বব্যাপী সক্ষমতাকে (قدرة) অস্বীকার করে। এই কারণেই ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: তাকদির (القدر) হলো তাওহিদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্ববাদ সাব্যস্ত করল এবং তাকদিরের (القدر) ওপর ঈমান আনল, তার তাওহিদ পূর্ণ হলো। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্ববাদ সাব্যস্ত করল কিন্তু তাকদিরকে (القدر) অস্বীকার করল, তার সেই অস্বীকার করাটা তার তাওহিদকে বিনষ্ট করে দিল।

আহলুল ইলমগণ (বিদ্বানগণ) তাকদির (القدر) সাব্যস্ত করার বিষয়ে এবং এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। আহলুস সুন্নাহর আলেমগণ, যাঁরা হিদায়াতের আলোকবর্তিকা এবং অন্ধকারের জ্যোতিস্বরূপ, তাঁদের মধ্যে এমন কোনো আলেম নেই যিনি এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মত ব্যক্ত করেননি এবং যারা একে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদেরকে বিদআতি (مبتدع) ও নির্বোধ হিসেবে আখ্যায়িত করেননি।

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) সহিহ মুসলিম-এর তাকদির (القدر) সংক্রান্ত হাদিসসমূহের ব্যাখ্যায় বলেন: এই সকল হাদিসের মধ্যে তাকদির (القدر) সাব্যস্ত করার বিষয়ে আহলুস সুন্নাহর মাযহাবের সপক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি রয়েছে। আর এটিও প্রমাণিত হয় যে, যা কিছু ঘটে তার সবটুকুই আল্লাহর ফয়সালা (قضاء) ও তাকদিরের (القدر) মাধ্যমে হয়; চাই তা ভালো হোক বা মন্দ, উপকারী হোক বা ক্ষতিকর।

তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: কিতাব, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফ-খালাফদের মধ্যে যারা আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ (সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ), তাঁদের ইজমার (إجماع) মাধ্যমে মহান আল্লাহর তাকদির (القدر) সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে সুনিশ্চিত প্রমাণাদি বিদ্যমান।

ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: সালাফদের সকলের মাযহাব হলো, সকল বিষয় আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত তাকদিরের (تقدير) মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর এমন কোনো বস্তু নেই যার ভাণ্ডারসমূহ আমাদের কাছে নেই এবং আমরা তা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ (قدر) ব্যতীত অবতীর্ণ করি না।" (সূরা হিজর: ২১)।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌تعريفات القضاء والقدر، والفرق بينهما

التعريف بالقضاء والقدر:

التعريف بالقدر:

القدر مصدر، تقول: قدَرت الشيء -بتخفيف الدال وفتحها-: أقدره -بالكسر والفتح- قدْرًا وقدَرا إذا أحطت بمقداره، والقدر في اللغة: القضاء والحكم، ومبلغ الشيء، والتقدير: التروية والتفكر في تسوية الأمر.

والقدر -في الاصطلاح-: ما سبق به العلم وجرى به القلم مما هو كائن إلى الأبد، وأنه عز وجل قدّر مقادير الخلائق وما يكون من الأشياء قبل أن تكون في الأزل، وعلم سبحانه أنها ستقع في أوقات معلومة عنده تعالى وعلى صفات مخصوصة؛ فهي تقع على حسب ما قدرها.

وقال ابن حجر في تعريفه: المراد أن الله تعالى علم مقادير الأشياء وأزمانها قبل إيجادها، ثم أوجد ما سبق في علمه أنه يوجد؛ فكل محدث صادر عن علمه وقدرته وإرادته.

ونقل السفاريني عن الأشعرية: أن القدر إيجاد الله تعالى الأشياء على قدر مخصوص وتقدير معين في ذواتها وأحوالها طبق ما سبق به العلم وجرى به القلم.

وهذه التعريفات متقاربة فيما بينها، وهي تفيد أن القدر يشمل أمرين:

الأول: علم الله الأزلي الذي حكم فيه بوجود ما شاء أن يوجده، وحدد صفات المخلوقات التي يريد إيجادها، وقد كتب كل ذلك في اللوح المحفوظ بكلماته؛ فالأرض والسماء أحجامهما وأبعادهما وطريقة تكوينهما وما بينهما وما فيهما؛ كل ذلك مدوّن علمه في اللوح المحفوظ تدوينًا دقيقًا وافيًا.
কাজ ও ফয়সালা (القضاء) এবং ভাগ্যের (القدر) সংজ্ঞা এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য

কাজ ও ফয়সালা (القضاء) এবং ভাগ্যের (القدر) পরিচয়:

ভাগ্যের (القدر) পরিচয়:

ভাগ্য (القدر) একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), আপনি বলেন: আমি কোনো কিছুর পরিমাপ করেছি (قدَرت الشيء) -'দাল' বর্ণের হরকত হালকা এবং ফাতহা দিয়ে-: আমি এর পরিমাপ করি (أقدره) -কাসরা এবং ফাতহা দিয়ে- 'কাদরান' (قدْرًا) বা 'কাদারান' (قدَرا) যখন আপনি এর পরিমাণ নির্ধারণ করেন। আভিধানিক অর্থে ভাগ্য (القدر) হলো: ফয়সালা (القضاء) ও আদেশ (الحكم), এবং কোনো বস্তুর পরিমাণ। আর নির্ধারণ (التقدير) হলো: কোনো বিষয় সুবিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে চিন্তা ও গবেষণা করা।

পারিভাষিক অর্থে (في الاصطلاح) ভাগ্য (القدر) হলো: সেই বিষয় যা সম্পর্কে পূর্বেই জ্ঞান নির্ধারিত হয়েছে এবং কলম (القلم) দ্বারা তা লিপিবদ্ধ হয়েছে, যা অনন্তকাল পর্যন্ত ঘটবে। আর নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সৃষ্টির পরিমাপ এবং যা কিছু ঘটবে তা সৃষ্টির পূর্বেই অনাদিকাল থেকে নির্ধারণ করে রেখেছেন। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা জানেন যে, সেগুলো তাঁর নিকট জ্ঞাত সময়ে এবং নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যে সংঘটিত হবে; সুতরাং সেগুলো তাঁর নির্ধারিত পরিমাপ অনুযায়ীই ঘটে থাকে।

ইবনে হাজার এর সংজ্ঞায় বলেন: এর উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাআলা বস্তুসমূহ সৃষ্টির পূর্বেই সেগুলোর পরিমাণ ও সময় সম্পর্কে জানতেন, অতঃপর তিনি তাঁর জ্ঞানে যা ছিল তা সৃষ্টি করেছেন; সুতরাং প্রতিটি নতুন সৃষ্টিই তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও ইচ্ছার ফল।

আস-সাফফারিনী আশআরী মতবাদ থেকে বর্ণনা করেন যে: ভাগ্য (القدر) হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বস্তুসমূহকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ এবং সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী অস্তিত্ব দান করা, যা তাঁর পূর্বজ্ঞান (العلم) এবং কলমের (القلم) লিখন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়।

এই সংজ্ঞাগুলো একে অপরের নিকটবর্তী, এবং এগুলো থেকে বোঝা যায় যে ভাগ্য (القدر) দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম: আল্লাহর অনাদি জ্ঞান (العلم الأزلي) যার মাধ্যমে তিনি যা সৃষ্টি করতে চেয়েছেন তার অস্তিত্বের ফয়সালা দিয়েছেন এবং যে সৃষ্টিগুলোকে তিনি অস্তিত্ব দিতে চান তাদের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করেছেন। তিনি এই সবকিছুই সংরক্ষিত ফলকে (اللوح المحفوظ) তাঁর বাণীর মাধ্যমে লিখে রেখেছেন; সুতরাং পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলীর আকার, আয়তন, তাদের গঠন পদ্ধতি এবং তাদের মাঝে ও ভেতরে যা কিছু আছে; এই সবকিছুর জ্ঞানই সংরক্ষিত ফলকে (اللوح المحفوظ) অত্যন্ত নিখুঁত ও বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৩)
والثاني: إيجاد ما قدّر الله إيجاده على النحو الذي سبق علمه وجرى به قلمه؛ فيأتي الواقع المشهود مطابقًا للعلم السابق المكتوب، والقدر يطلق ويراد به التقدير السابق لما في علم الله، ويطلق ويراد ما خلقه وأوجده على النحو الذي علمه.

وسئل الإمام الشافعي -رحمه الله تعالى- عن القدر؟ فأجاب شعرًا قائلًا:

فما شئتَ كان وإن لم أشأْ … وما شئتُ إن لم تشأْ لم يكن

خلقتَ العباد على ما علمت … ففي العلم يجري الفتى والمسن

على ذا مننت وهذا خذلت … وهذا أعنت وهذا لم تُعِن

فمنهم شقي ومنهم سعيد … ومنهم قبيح ومنهم حسن

التعريف بالقضاء:

القضاء: الفصل والحكم، وقد تقرر في أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم ذكر القضاء، وأصله القطع والفصل؛ يقال: قضى يقضي قضاء فهو قاضٍ إذا حكم وفصل، وقضاء الشيء: إحكامه وإمضاؤه والفراغ منه؛ فيكون بمعنى الخلق، وقال الزهري: القضاء في اللغة على وجوه مرجعها إلى انقضاء الشيء وتمامه، وكل ما أُحكم عمله أو أُتم أو أُدي أو أُوجب أو عُلم أو نُفّذ أو أُمضي فقد قضي، وقد جاءت هذه الوجوه كلها في الأحاديث.

وللعلماء في التفرقة بين القضاء والقدر قولان:

الأول: القضاء هو العلم السابق الذي حكم الله به في الأزل، والقدر: وقوع الخلق على وزن الأمر المقضى السابق.
দ্বিতীয়টি হলো: আল্লাহ তাআলা যা নির্ধারণ করেছেন তা সেইভাবে অস্তিত্ব দান করা যেভাবে তাঁর জ্ঞানে পূর্ব-নির্ধারিত ছিল এবং তাঁর কলম যা লিপিবদ্ধ করেছিল; ফলে দৃশ্যমান বাস্তবতা সেই পূর্ব-নির্ধারিত লিখিত জ্ঞানের অনুরূপ হয়ে থাকে। তাকদির (القدر) শব্দটি আল্লাহর জ্ঞানে থাকা পূর্ব-নির্ধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়, আবার তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী তিনি যা সৃষ্টি ও অস্তিত্ব দান করেছেন তাকেও বোঝায়।

ইমাম শাফেয়ি (রাহিমাহুল্লাহ)-কে তাকদির (القدر) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? উত্তরে তিনি কবিতার মাধ্যমে বলেন:

আপনি যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে যদিও আমি তা না চাই … আর আমি যা চেয়েছি তা হয় না যদি আপনি না চান

আপনি আপনার জ্ঞান অনুযায়ী বান্দাদের সৃষ্টি করেছেন … ফলে যুবক ও বৃদ্ধ সবাই আপনার সেই জ্ঞান অনুযায়ীই পরিচালিত হয়

কাউকে আপনি অনুগ্রহ করেছেন আর কাউকে লাঞ্ছিত করেছেন … কাউকে আপনি সাহায্য করেছেন আর কাউকে সাহায্য করেননি

তাদের মধ্যে কেউ দুর্ভাগা (شقي) এবং কেউ সৌভাগ্যবান (سعيد) … তাদের মধ্যে কেউ কুৎসিত এবং কেউ সুন্দর

কাজা (القضاء)-এর পরিচয়:

কাজা (القضاء): ফয়সালা ও বিচার। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল럼-এর হাদিসসমূহে কাজা (القضاء) শব্দটির উল্লেখ সাব্যস্ত হয়েছে। এর মূল অর্থ হলো কর্তন ও ফয়সালা করা; বলা হয়: তিনি ফয়সালা করেছেন (قضى يقضي قضاء), সুতরাং তিনি হলেন ফয়সালাকারী (قاضٍ) যখন তিনি হুকুম দেন এবং ফয়সালা করেন। কোনো বিষয়ের কাজা (القضاء) হলো: সেটিকে সুদৃঢ় করা, কার্যকর করা এবং তা সম্পন্ন করা; এমতাবস্থায় এটি সৃষ্টি করা অর্থে ব্যবহৃত হয়। ইমাম জুহরি বলেন: ভাষাগতভাবে কাজা (القضاء) শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয় যেগুলোর মূল উৎস হলো কোনো জিনিসের সমাপ্তি ও পূর্ণতা। যে কাজই সুনিপুণভাবে সম্পাদিত হয়েছে, পূর্ণ করা হয়েছে, আদায় করা হয়েছে, অবধারিত করা হয়েছে, জানা হয়েছে, কার্যকর করা হয়েছে বা সম্পন্ন করা হয়েছে তাকেই ‘কাজা করা হয়েছে’ (قضي) বলা হয়। হাদিসসমূহে এই সকল অর্থই বর্ণিত হয়েছে।

কাজা (القضاء) ও তাকদির (القدر)-এর মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে উলামায়ে কেরামের দুটি মত রয়েছে:

প্রথমটি: কাজা (القضاء) হলো সেই পূর্ব-নির্ধারিত জ্ঞান যার মাধ্যমে আল্লাহ অনাদিকাল থেকে ফয়সালা করে রেখেছেন। আর তাকদির (القدر) হলো সেই পূর্ব-নির্ধারিত ফয়সালা অনুযায়ী সৃষ্টির বাস্তবতা সংঘটিত হওয়া।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৪)
يقول ابن حجر العسقلاني -رحمه الله تعالى-: قال العلماء: القضاء هو الحكم الكلي الإجمالي في الأزل، والقدر جزئيات ذلك الحكم وتفاصيله.

وقال في موضع آخر: القضاء: الحكم بالكليات على سبيل الإجمال في الأزل، والقدر: الحكم بوقوع الجزئيات التي لتلك الكليات على سبيل التفصيل.

الثاني: عكس القول السابق؛ فالقدر: هو الحكم السابق، والقضاء: هو الخلق؛ قال ابن بطال: القضاء هو المقضي، ومراده بالمقضي: المخلوق، وهذا هو قول الخطابي؛ فقد قال في (معالم السنن): القدر اسم لما صار مقدرًا عن فعل القادر؛ كالهدم والنشر والقبض، أسماء لما صدر من فعل الهادم والناشر والقابض، والقضاء -في هذا-: معناه الخلق؛ كقوله تعالى: {فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ} (فصلت: 12) أي خلقهن.

وبناء على هذا القول يكون القضاء من الله تعالى أخص من القدر؛ لأنه الفصل بين التقديرين؛ فالقدر هو التقدير، والقضاء هو الفصل والقطع.

ويدل لصحة هذا القول نصوص كثيرة من كتاب الله، قال تعالى: {وَكَانَ أَمْرًا مَقْضِيًّا} (مريم: 21) وقال: {كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَقْضِيًّا} (مريم: 71)، وقال: {وَإِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} (البقرة: 117) فالقضاء والقدر -بناء على هذا القول- أمران متلازمان، لا ينفك أحدهما عن الآخر؛ لأن أحدهما بمنزلة الأساس -وهو القدر-، والآخر بمنزلة البناء -وهو القضاء- فمن رام الفصل بينهما فقد رام هدم البناء.

معنى الإيمان بالقدر:

ويجب على كل مسلم أن يؤمن بالقدر خيره وشره حلوه ومره، ويقصد بالإيمان بالقدر: الإيمان بعلم الله القديم، والإيمان بمشيئة الله النافذة وقدرته الشاملة، وفي
ইবনে হাজার আসকালানি -রহিমাহুল্লাহ তায়ালা- বলেন: উলামায়ে কেরাম বলেছেন: ক্বাদা হলো অনাদিকালে আল্লাহর সামগ্রিক ও মৌলিক ফয়সালা, আর ক্বাদর হলো সেই ফয়সালার খুটিনাটি ও বিস্তারিত রূপ।

তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: ক্বাদা হলো অনাদিকালে সামগ্রিক বিষয়াবলির ওপর মৌলিকভাবে ফয়সালা প্রদান করা, আর ক্বাদর হলো সেই মৌলিক বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত অংশবিশেষ বা খুটিনাটি বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে সংঘটিত হওয়ার ফয়সালা।

দ্বিতীয় মত: পূর্বোক্ত মতের বিপরীত; এখানে ক্বাদর হলো পূর্ববর্তী ফয়সালা, আর ক্বাদা হলো সৃষ্টি; ইবনে বাত্তাল বলেন: ক্বাদা হলো ফয়সালাকৃত বস্তু, আর ফয়সালাকৃত বস্তু দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টি। এটিই খাত্তাবির অভিমত; তিনি 'মাআলিমুস সুনান' গ্রন্থে বলেছেন: ক্বাদর হলো তা, যা সক্ষম সত্তার কাজ থেকে নির্ধারিত হয়; যেমন ধ্বংস করা, ছড়িয়ে দেওয়া বা সংকুচিত করা—এগুলো হলো ধ্বংসকারী, বিস্তারকারী ও সংকুচিতকারীর কাজ থেকে উৎসারিত নাম। আর এই ক্ষেত্রে ক্বাদা অর্থ হলো সৃষ্টি করা; যেমন আল্লাহ তায়ালার বাণী: {অতঃপর তিনি সেগুলোকে দুই দিনে সাত আসমান বানালেন} (ফুসসিলাত: ১২) অর্থাৎ তিনি সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন।

এই মতের ভিত্তিতে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ক্বাদা বিষয়টি ক্বাদর অপেক্ষা অধিক বিশিষ্ট; কারণ এটি দুই প্রকারের নির্ধারণের মধ্যে পার্থক্যকারী; সুতরাং ক্বাদর হলো নির্ধারণ করা, আর ক্বাদা হলো চূড়ান্ত মীমাংসা ও সম্পাদন।

এই মতের সঠিকতার সপক্ষে আল্লাহর কিতাবের অনেক দলিল বিদ্যমান। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {এটি একটি চূড়ান্ত ফয়সালাকৃত বিষয়} (মারইয়াম: ২১), তিনি আরও বলেন: {এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক অবধারিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত} (মারইয়াম: ৭১), এবং তিনি আরও বলেন: {যখন তিনি কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি কেবল তাকে বলেন 'হও', আর তা হয়ে যায়} (আল-বাকারাহ: ১১৭)। এই মতানুসারে ক্বাদা ও ক্বাদর পরস্পর অবিচ্ছেদ্য দুটি বিষয়, একটি অপরটি থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না; কারণ একটি হলো ভিত্তিস্বরূপ—আর তা হলো ক্বাদর—এবং অপরটি হলো সেই ভিত্তির ওপর নির্মিত ইমারতস্বরূপ—যা হলো ক্বাদা। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুইয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে চাইবে, সে মূলত ইমারতটিই ধ্বংস করতে চাইল।

তাকদিরের প্রতি ঈমানের অর্থ:

প্রত্যেক মুসলিমের ওপর তাকদিরের ভালো-মন্দ এবং মিষ্টি-তিক্ত সবকিছুর ওপর ঈমান আনা আবশ্যক। তাকদিরের প্রতি ঈমান বলতে বুঝায়: আল্লাহর অনাদি জ্ঞানের ওপর ঈমান আনা এবং আল্লাহর কার্যকর ইচ্ছা ও তাঁর সর্বব্যাপী ক্ষমতার ওপর ঈমান আনা, এবং
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৫)
بيان ذلك يقول شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمه الله تعالى-: الإيمان بالقدر على درجتين، كل درجة تتضمن شيئين:

فالدرجة الأولى: الإيمان بأن الله تعالى علم ما الخلق عاملون، بعلمه القديم الذي هو موصوف به أزلًا، وعلم جميع أحوالهم من الطاعات والمعاصي والأرزاق والآجال، ثم كتب الله في اللوح المحفوظ مقادير الخلق؛ فـ ((أول ما خلق الله القلم قال له: اكتب، قال: ما أكتب؟ قال: اكتب ما هو كائن إلى يوم القيامة))؛ فما أصاب الإنسان لم يكن يخطئه، وما أخطأه لم يكن ليصيبه، جفت الأقلام وطويت الصحف؛ كما قال تعالى: {أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِنَّ ذَلِكَ فِي كِتَابٍ إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ} (الحج: 70) وقال: {مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ} (الحد: 22).

وأما الدرجة الثانية: فهي الإيمان بمشيئة الله النافذة وقدرته الشاملة: وهو الإيمان بأن ما شاء الله كان وما لم يشأ لم يكن، وأنه ما في السموات وما في الأرض من حركة ولا سكون إلا بمشيئة الله سبحانه، لا يكون في ملكه ما لا يريد، وأنه سبحانه على كل شيء قدير من الموجودات والمعدومات، فما من مخلوق في الأرض ولا في السماء إلا الله خالقه -سبحانه لا خالق غيره ولا رب سواه-، ومع ذلك فقد أمر العباد بطاعته وطاعة رسله ونهاهم عن معصيته.

وهو سبحانه يحب المتقين والمحسنين والمقسطين، ويرضى عن الذين آمنوا وعملوا الصالحات، ولا يحب الكافرين، ولا يرضى عن القوم الفاسقين، ولا يأمر بالفحشاء ولا يرضى لعباده الكفر ولا يحب الفساد.
এর ব্যাখ্যায় শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ—রাহিমাহুল্লাহু তাআলা—বলেন: তাকদিরের ওপর ঈমান আনার দুটি স্তর রয়েছে, প্রতিটি স্তর আবার দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম স্তরটি হলো: এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির আমলসমূহ সম্পর্কে পরিজ্ঞাত। তিনি তাঁর সেই অনাদি জ্ঞান দ্বারা এ সম্পর্কে অবগত যার মাধ্যমে তিনি অনাদিকাল থেকে বিশেষিত। তিনি তাদের আনুগত্য, অবাধ্যতা, রিযিক ও আয়ুসহ যাবতীয় অবস্থা সম্পর্কে জানেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা লাওহে মাহফুজে মাখলুকাতের তাকদিরসমূহ লিখে দিয়েছেন। সুতরাং, "আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম, অতঃপর তাকে বললেন: লিখ। সে বলল: আমি কী লিখব? তিনি বললেন: কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তা লিখে ফেলো।" সুতরাং মানুষের কাছে যা পৌঁছেছে তা তাকে ভুল করে অতিক্রম করার ছিল না, আর যা তাকে অতিক্রম করে গেছে তা তার কাছে পৌঁছানোর ছিল না। কলমসমূহ শুকিয়ে গেছে এবং দফতরসমূহ গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "তুমি কি জান না যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? নিশ্চয়ই তা একটি কিতাবে সংরক্ষিত আছে। নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ।" (আল-হাজ্জ: ৭০) এবং তিনি বলেছেন: "পৃথিবীতে এবং তোমাদের ব্যক্তিগতভাবে যে বিপদই আসুক না কেন, তা সৃষ্টি করার পূর্বেই একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ।" (আল-হাদিদ: ২২)।

আর দ্বিতীয় স্তরটি হলো: আল্লাহর কার্যকর ইচ্ছা এবং তাঁর ব্যাপক কুদরতের ওপর ঈমান আনা। তা হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ যা চান তা হয়, আর যা তিনি চান না তা হয় না। আসমান ও জমিনের যেকোনো নড়াচড়া বা স্থিতি কেবল মহান আল্লাহর ইচ্ছাতেই সম্পন্ন হয়। তাঁর রাজত্বে এমন কিছু ঘটে না যা তিনি চান না। বিদ্যমান বা অবিদ্যমান সবকিছুর ওপরই তিনি সর্বশক্তিমান। আসমান ও জমিনের এমন কোনো সৃষ্টি নেই যার স্রষ্টা মহান আল্লাহ নন—তিনি ব্যতীত কোনো স্রষ্টা নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো প্রতিপালক নেই। তৎসত্ত্বেও তিনি বান্দাদের তাঁর ও তাঁর রাসূলদের আনুগত্য করার আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর অবাধ্য হতে নিষেধ করেছেন।

তিনি মুত্তাকি, মুহসিন এবং ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন। যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হন। তিনি কাফিরদের পছন্দ করেন না এবং ফাসেক সম্প্রদায়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন না। তিনি অশ্লীলতার আদেশ দেন না, তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরি পছন্দ করেন না এবং তিনি বিপর্যয় পছন্দ করেন না।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৬)
والعباد فاعلون حقيقة، والله خالق أفعالهم، والعبد هو المؤمن، والكافر والبر والفاجر والمصلي والصائم وللعباد قدرة على أعمالهم ولهم إرادة، والله خالقهم وخالق قدرتهم.

هذا؛ وإن تقسيم القدر الذي يجب الإيمان به إلى خير وشر إنما هو بإضافته إلى الناس والمخلوقات؛ أما بالنسبة لله عز وجل فالقدر خير كله والشر لا ينسب إلى الله؛ فعلم الله ومشيئته وكتابته وخلقه للأشياء والحوادث، هذا كله حكمة وعدل ورحمة وخير؛ فإن الشر لا يدخل في شيء من صفات الله تعالى ولا أفعاله، ولا يلحق ذاتَه تبارك وتعالى نقصٌ ولا شرٌّ؛ فله الكمال المطلق والجلال التام؛ ولذلك لا يجوز إضافة الشر إلى الله مفردًا؛ وإنما يجوز أن يدخل الشر في العموم كقوله تعالى: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ} (الرعد: 16) ويجوز أن يضاف إلى السبب كقوله تعالى: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ * مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ} (الفلق: 1، 2) ويجوز أن يذكر بحذف فاعله، كقوله تعالى -فيما حكاه عن الجن-: {وَأَنَّا لَا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَنْ فِي الْأَرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا} (الجن: 10).

والحق أن الله تعالى لم يخلق شرًّا محضًا من جميع الوجوه؛ فإن حكمته سبحانه تأبى ذلك؛ فلا يمكن في جانبه تعالى أن يريد شيئًا يكون فسادًا من كل وجه ولا مصلحة في خلقه بوجه ما؛ فإنه تعالى بيده الخير كله والشر ليس إليه، بل كل ما إليه فخير، والشر إنما حصل لعدم النسبة إليه؛ فلو نسب إليه لم يكن شرًّا، وهو من حيث نسبته إلى الله تعالى خلقًا ومشيئة، وليس بشر.

المرض مثلًا شر ومصيبة بالنسبة للإنسان عاجلًا؛ ولكنه خير في الآجل، وخير بالنسبة لله عز وجل لما يعلم ما يعقبه من مغفرة الذنوب وتطهير النفوس، وكذلك سجن أعداء الله للمؤمنين شرٌّ في ظاهره لما فيه من الآلام والمحن؛ ولكنه تمحيص
বান্দাগণ প্রকৃতপক্ষে তাদের কর্মের সম্পাদনকারী এবং আল্লাহ তাদের কর্মসমূহের স্রষ্টা। বান্দাই হলো মুমিন, কাফির, পুণ্যবান, পাপাচারী, নামাজি এবং রোজা পালনকারী। বান্দাদের তাদের নিজস্ব কর্মের ওপর সক্ষমতা রয়েছে এবং তাদের ইচ্ছা রয়েছে, আর আল্লাহ তাদের এবং তাদের সক্ষমতার স্রষ্টা।

বিষয়টি হলো, তকদিরের যে অংশের প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব তাকে ভালো ও মন্দে বিভক্ত করা কেবল মানুষ ও সৃষ্টির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করার নিরিখে; তবে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র ক্ষেত্রে তকদিরের পুরোটাই কল্যাণ এবং মন্দের সম্বন্ধ আল্লাহর দিকে করা হয় না। আল্লাহর জ্ঞান, ইচ্ছা, লিখন এবং বস্তু ও ঘটনাবলির সৃষ্টি—এই সবকিছুই হিকমত, ন্যায়বিচার, রহমত ও কল্যাণ। নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো গুণাবলি বা কার্যাবলির মধ্যে মন্দ প্রবেশ করে না এবং তাঁর পবিত্র সত্তার সাথে কোনো ত্রুটি বা অকল্যাণ সংশ্লিষ্ট হয় না। তাঁর জন্য রয়েছে নিরঙ্কুশ পূর্ণতা এবং পূর্ণ মহিমা। এই কারণেই এককভাবে আল্লাহর দিকে মন্দের সম্বন্ধ করা জায়েজ নয়; বরং তা ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে আসা জায়েজ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা" (আর-রাদ: ১৬)। আবার এটি কারণের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া জায়েজ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের কাছে, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে" (আল-ফালাক: ১, ২)। অথবা কর্তার উল্লেখ পরিহার করে তা বর্ণনা করা জায়েজ, যেমন জিনদের প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী—যা তিনি বর্ণনা করেছেন—: "আর আমরা জানি না যে, জমিনে যারা আছে তাদের কোনো মন্দের ইচ্ছা করা হয়েছে কি না, নাকি তাদের রব তাদের ব্যাপারে কল্যাণের ইচ্ছা করেছেন" (আল-জিন: ১০)।

প্রকৃত সত্য এই যে, আল্লাহ তাআলা কোনোভাবেই সর্বতোভাবে নিরবচ্ছিন্ন মন্দ সৃষ্টি করেননি; কারণ তাঁর প্রজ্ঞা তা অস্বীকার করে। তাঁর পক্ষে এমন কিছুর ইচ্ছা করা সম্ভব নয় যা সর্বতোভাবে বিপর্যয়কর এবং যার সৃষ্টির পেছনে কোনো প্রকার কল্যাণ নেই। নিশ্চয়ই সমস্ত কল্যাণ আল্লাহর হাতে এবং মন্দের কোনো সম্বন্ধ তাঁর দিকে নেই, বরং যা কিছু তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট তা-ই কল্যাণ। মন্দের উপস্থিতি তো কেবল তখনই ঘটে যখন তা তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় না। যদি তা তাঁর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হতো তবে তা মন্দ হতো না। সৃষ্টি ও ইচ্ছার নিরিখে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে তা মন্দ নয়।

উদাহরণস্বরূপ, অসুস্থতা সাময়িকভাবে মানুষের জন্য মন্দ ও মুসিবত; কিন্তু পরকালে তা কল্যাণকর। আবার আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র ক্ষেত্রে তা কল্যাণকর, কারণ তিনি জানেন যে এর পরিণামে পাপ মোচন ও আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটে। তেমনিভাবে, আল্লাহর শত্রুদের দ্বারা মুমিনদের কারারুদ্ধ করা বাহ্যিকভাবে মন্দ, যেহেতু এতে বেদনা ও পরীক্ষা রয়েছে; কিন্তু এটি মূলত একটি পরিশোধন।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৭)
للنفوس وتطهير للصفوف وتربية للأرواح فضلًا عن الثواب الجزيل والخير العميم، وخلق إبليس فيه حكم كثيرة ظاهرة؛ كتوبة البشر بعد الزلل، واستخراج عبودية المؤمنين لله تعالى بجهاد إبليس وحزبه والصبر على إغرائه وإغوائه، والالتجاء إلى حمى الله واللياذ بركنه الركين.

 

‌‌أدلة وجوب الإيمان بالقضاء والقدر

الأدلة على وجوب الإيمان بالقضاء والقدر:

قال تعالى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} (القمر: 49) قال الشوكاني: إن كل شيء من الأشياء خلقه الله سبحانه متلبسًا بقدر قدره، وقضاء قضاه سبق في علمه مكتوب في اللوح المحفوظ قبل وقوعه، وقال تعالى: {سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَرًا مَقْدُورًا} (الأحزاب: 38) قال الحافظ ابن كثير: أي وكان أمره الذي يقدره كائنًا لا محالة، وواقعًا لا محيد عنه ولا معدل، فما شاء كان وما لم يشأ لم يكن.

وقال صديق حسن خان: أي قضاء مقضيًّا وحكمًا مبتوتًا، وهو كظل ظليل وليل أليل وروض أريض في قصد التأكيد، ومن السنة حديث جبريل المشهور، وفيه أنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن الإيمان فقال: ((أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، وتؤمن بالقدر خيره وشره))، وعن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا يؤمن عبد حتى يؤمن بالقدر خيره وشره من الله، وحتى يعلم أن ما أصابه لم يكن ليخطئه وما أخطأه لم يكن ليصيبه)).

قال الحافظ ابن حجر: الإيمان بالقدر من أركان الإيمان، ومذهب السلف قاطبة أن الأمور كلها بتقدير الله تعالى؛ كما قال تعالى: {وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا عِنْدَنَا خَزَائِنُهُ وَمَا نُنَزِّلُهُ إِلَّا بِقَدَرٍ مَعْلُومٍ} (الحجر: 21).
আত্মার পরিশুদ্ধি, কাতারসমূহের পবিত্রতা এবং রূহের তারবিয়াতের জন্য, সেইসাথে রয়েছে প্রচুর সওয়াব ও ব্যাপক কল্যাণ। ইবলিসকে সৃষ্টির মাঝে অনেক সুস্পষ্ট হিকমত রয়েছে; যেমন পদস্খলনের পর মানুষের তওবা করা, ইবলিস ও তার দলের বিরুদ্ধে জিহাদ এবং তার প্ররোচনা ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে ধৈর্যের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি মুমিনদের দাসত্ব প্রকাশ করা এবং আল্লাহর আশ্রয়ে আশ্রয় গ্রহণ ও তাঁর মজবুত স্তম্ভের কাছে শরণাপন্ন হওয়া।

 

‌‌তাকদীর ও ফয়সালার (القضاء والقدر) ওপর ঈমান আনার আবশ্যকতা সম্পর্কিত দলীলসমূহ

তাকদীর ও ফয়সালার (القضاء والقدر) ওপর ঈমান আনার আবশ্যকতা সম্পর্কিত দলীলসমূহ:

মহান আল্লাহ বলেন: “নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত তাকদীর (قدر) অনুযায়ী।” (আল-কামার: ৪৯) শাওকানী বলেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা প্রত্যেকটি জিনিসকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যা তাঁর নির্ধারিত তাকদীর (قدر) এবং তাঁর জারিকৃত ফয়সালার (قضاء) সাথে সংশ্লিষ্ট, যা পূর্বেই তাঁর জ্ঞানে ছিল এবং তা সংঘটিত হওয়ার আগে লাওহে মাহফুজে লিখিত ছিল। মহান আল্লাহ আরও বলেন: “আগে যারা গত হয়েছে তাদের ব্যাপারে এটাই ছিল আল্লাহর বিধান। আল্লাহর আদেশ হলো সুনির্ধারিত তাকদীর (قدر)।” (আল-আহযাব: ৩৮) আল-হাফিজ ইবনে কাসীর বলেন: অর্থাৎ তাঁর যে আদেশ তিনি নির্ধারণ করেন তা অবশ্যই সংঘটিত হবে, তা থেকে পালানোর বা পরিবর্তনের কোনো উপায় নেই। তিনি যা চান তা হয়, আর যা চান না তা হয় না।

সিদ্দিক হাসান খান বলেন: অর্থাৎ সুনিশ্চিত ফয়সালা (قضاء) এবং চূড়ান্ত ফয়সালা; এটি তাকিদ বা গুরুত্ব বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। সুন্নাহ থেকে জিবরীলের বিখ্যাত হাদিস উল্লেখযোগ্য, যেখানে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: “ঈমান হলো এই যে, তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং তাকদীরের (القدر) ভালো-মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে।” জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো বান্দা ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তাকদীরের (القدر) ভালো ও মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে যা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, আর যতক্ষণ না সে এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, যা তার ভাগ্যে জুটেছে তা তাকে ছেড়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তাকে ছেড়ে গেছে তা তার ভাগ্যে জুটবার ছিল না।”

আল-হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: তাকদীরের (القدر) ওপর ঈমান আনা ঈমানের রোকনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সমগ্র সালাফে সালেহীনের মাযহাব হলো এই যে, সমস্ত বিষয় আল্লাহ তায়ালার নির্ধারণ অনুযায়ী হয়ে থাকে; যেমনটি আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: “আমাদের কাছে প্রতিটি বস্তুর ভাণ্ডার রয়েছে এবং আমরা তা কেবল একটি জানা বা নির্ধারিত পরিমাপ (قدر) অনুযায়ী অবতীর্ণ করি।” (আল-হিজর: ২১)।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৮)
النصوص الدالة على تقدير الله أفعال العباد:

1 - أعمال العباد جفت بها الأقلام وجرت بها المقادير: عن سراقة بن مالك رضي الله عنه قال: ((يا رسول الله، بيِّن لنا ديننا كأنا خلقنا الآن؛ فيم العمل اليوم؟ أفيم جفت به الأقلام وجرت به المقادير؛ أم فيم يستقبل؟ قال: لا؛ بل فيما جفت به الأقلام وجرت به المقادير، قال: ففيم العمل؟ قال: اعملوا فكل ميسر)) وفي رواية: ((فكل ميسر لما خُلق له)).

2 - علم الله بأهل الجنة وأهل النار: عن علي رضي الله عنه قال: ((كنا في جنازة في بقيع الغرقد، فأتانا النبي صلى الله عليه وسلم فقعد وقعدنا حوله، ومعه مخصرة، فنكس؛ فجعل ينكت بمخصرته، ثم قال: ما منكم من أحد ما من نفس منفوسة إلا كتب مكانها من الجنة والنار، وإلا كتب شقية أو سعيدة، فقال رجل: يا رسول؛ أفلا نتكل على كتابنا وندع العمل؛ فمن كان منا من أهل السعادة فسيصير إلى عمل أهل السعادة؛ وأما من كان منا من أهل الشقاوة فسيصير إلى عمل أهل الشقاوة؟! قال: أما أهل السعادة فييسرون لعمل السعادة، وأما أهل الشقاوة فييسرون لعمل أهل الشقاوة. ثم قرأ: {فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى … } (الليل: 5، 6))).

3 - استخراج ذرية آدم من ظهره بعد خلقه وقسمهم إلى فريقين: أهل الجنة، وأهل النار: عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((أخذ الله الميثاق من ظهر آدم عليه السلام فأخرج من صلبه كل ذرية ذرأها فنثرهم بين يديه كالذر، ثم كلمهم قبلًا، قال: {أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ * أَوْ تَقُولُوا إِنَّمَا أَشْرَكَ آبَاؤُنَا مِنْ قَبْلُ وَكُنَّا ذُرِّيَّةً مِنْ بَعْدِهِمْ أَفَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ الْمُبْطِلُونَ} (الأعراف: 172، 173))).
বান্দার কর্মসমূহের ওপর আল্লাহর তাকদির (নির্ধারণ) নির্দেশকারী দলীলসমূহ:

১ - বান্দার কর্মসমূহ যার ব্যাপারে কলম শুকিয়ে গেছে এবং তাকদির (مقادير) নির্ধারিত হয়েছে: সুরাকাহ বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের জন্য আমাদের দ্বীনকে এমনভাবে স্পষ্ট করে দিন যেন আমরা এখনই সৃষ্টি হয়েছি। আজকের আমল কিসের ভিত্তিতে? তা কি এমন বিষয়ে যা কলম শুকিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং তাকদির (مقادير) সে অনুযায়ী চলছে; নাকি তা ভবিষ্যতে যা ঘটবে তার ওপর ভিত্তি করে? তিনি বললেন: না; বরং তা এমন বিষয়ে যা কলম শুকিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং তাকদির (مقادير) সে অনুযায়ী চলছে। তিনি বললেন: তবে আমলের সার্থকতা কী? তিনি বললেন: তোমরা আমল করে যাও, কারণ প্রত্যেকের জন্য তা সহজসাধ্য (ميسر) করা হয়েছে।" অন্য এক বর্ণনা (رواية)-য় এসেছে: "প্রত্যেককে সেই আমলের জন্যই সহজসাধ্য (ميسر) করা হয়েছে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।"

২ - জান্নাতি ও জাহান্নামি অধিবাসী সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞান: আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে একটি জানাজায় ছিলাম। এমতাবস্থায় নবী করীম (সা.) আমাদের কাছে আসলেন এবং বসলেন, আমরাও তাঁর চারপাশে বসলাম। তাঁর সাথে একটি ছোট লাঠি ছিল। তিনি মাথা নিচু করলেন এবং তাঁর লাঠি দিয়ে মাটিতে দাগ কাটতে লাগলেন। অতঃপর তিনি বললেন: তোমাদের এমন কেউ নেই এবং এমন কোনো প্রাণ নেই যার স্থান জান্নাত অথবা জাহান্নামে লিখে দেওয়া হয়নি; এবং সে কি হতভাগা নাকি সৌভাগ্যবান তাও লিখে দেওয়া হয়নি। জনৈক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! তবে কি আমরা আমাদের সেই লেখনীর ওপর ভরসা করে আমল ছেড়ে দেব না? আমাদের মধ্যে যারা সৌভাগ্যবান তারা তো সৌভাগ্যবানদের আমলের দিকেই পরিচালিত হবে; আর যারা হতভাগা তারা তো হতভাগাদের আমলের দিকেই পরিচালিত হবে। তিনি বললেন: যারা সৌভাগ্যবান, তাদের জন্য সৌভাগ্যবানদের আমল সহজসাধ্য (ميسر) করে দেওয়া হবে; আর যারা হতভাগা, তাদের জন্য হতভাগাদের আমল সহজসাধ্য (ميسر) করে দেওয়া হবে। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {অতঃপর যে দান করে ও তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যা উত্তম তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে … } (সূরা আল-লাইল: ৫, ৬)"।

৩ - আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর তাঁর পৃষ্ঠদেশ থেকে তাঁর বংশধরদের বের করা এবং তাদের জান্নাতি ও জাহান্নামি এই দুই দলে বিভক্ত করা: ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেন: "আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-এর পিঠ থেকে অঙ্গীকার (ميثاق) গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর পৃষ্ঠদেশ থেকে তাঁর সেই সকল বংশধরদের বের করলেন যাদের তিনি সৃষ্টি করবেন এবং তাদের তাঁর সামনে পিপীলিকার ন্যায় ছড়িয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি সরাসরি তাদের সাথে কথা বললেন এবং বললেন: {আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলল: অবশ্যই, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি। পাছে তোমরা কিয়ামতের দিন বলো যে, আমরা তো এ বিষয়ে গাফেল ছিলাম। অথবা বলো যে, আমাদের পিতৃপুরুষরাই তো ইতিপূর্বে শিরক করেছিল এবং আমরা তো তাদের পরবর্তী বংশধর মাত্র; তবে কি আপনি পথভ্রষ্টদের কর্মের কারণে আমাদের ধ্বংস করবেন?} (সূরা আল-আরাফ: ১৭২, ১৭৩)"।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ১৯)
وعن أبي الدرداء عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((خلق الله آدم حين خلقه؛ فضرب كتفه اليمنى فأخرج ذريته بيضاء كأنهم الذر، وضرب كتفه اليسرى فأخرج ذرية سوداء كأنهم الحمم، فقال للذي في يمينه: إلى الجنة ولا أبالي، وقال للذي في كتفه اليسرى: إلى النار ولا أبالي)).

4 - كتابة أجل الإنسان وعمله ورزقه، وشقي أو سعيد، وهو جنين في رحم أمه: عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو الصادق المصدوق قال: ((إن أحدكم يُجمع خلقه في بطن أمه أربعين يومًا، ثم يكون علقة مثل ذلك، ثم يكون مضغة مثل ذلك، ثم يبعث الله ملكًا فيؤمر بأربع كلمات، ويقال له: اكتب عمله، ورزقه، وأجله، وشقي أو سعيد، ثم ينفخ فيه الروح؛ فإن الرجل منكم ليعمل بعمل أهل النار حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع، فيسبق عليه الكتاب؛ فيعمل بعمل أهل الجنة فيدخل الجنة، وإن الرجل ليعمل بعمل أهل الجنة حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع، فيسبق عليه الكتاب؛ فيعمل عمل أهل النار فيدخل النار)).

وجوب الإيمان بالقضاء والقدر:

يجب على كل مسلم أن يؤمن بعقيدة القضاء والقدر إيمانًا راسخًا لا يقبل الشك؛ بل إنه لا يصح إسلام امرئ ولا يقبل إيمانه إلا بيقينه الجازم بالقضاء والقدر؛ لأن عقيدة القضاء والقدر ركيزة من ركائز الإيمان الست؛ وذلك لأن عقيدة القضاء والقدر قد دل عليها القرآن الكريم -كما ذكرنا-.

وفي السنة يقول صلى الله عليه وسلم: ((المؤمن القوي خير وأحب إلى الله من المؤمن الضعيف، وفي كلٍّ خير، احرص على ما ينفعك، واستعن بالله ولا تعجز، وإن أصابك
আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "আল্লাহ যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁর ডান কাঁধে আঘাত করলেন এবং তাঁর শ্বেতবর্ণের বংশধরদের বের করলেন যেন তারা ক্ষুদ্র পিপীলিকা। আর তাঁর বাম কাঁধে আঘাত করলেন এবং কৃষ্ণবর্ণের বংশধরদের বের করলেন যেন তারা জ্বলন্ত অঙ্গার। এরপর তিনি তাঁর ডান দিকের অধিকারীদের সম্পর্কে বললেন: 'এরা জান্নাতের জন্য এবং আমি পরোয়া করি না।' আর তাঁর বাম কাঁধের অধিকারীদের সম্পর্কে বললেন: 'এরা জাহান্নামের জন্য এবং আমি পরোয়া করি না।'"

৪ - মাতৃগর্ভে ভ্রূণ থাকা অবস্থায় মানুষের আয়ু, আমল, রিজিক এবং সে কি দুর্ভাগা নাকি সৌভাগ্যবান তা লিখে রাখা: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)—যিনি সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ বলে স্বীকৃত—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান নিজ নিজ মাতৃগর্ভে চল্লিশ দিন বীর্য হিসেবে জমা থাকে, এরপর তা অনুরূপ সময়ের জন্য রক্তপিণ্ডে (علقة) পরিণত হয়, এরপর তা অনুরূপ সময়ের জন্য মাংসপিণ্ডে (مضغة) পরিণত হয়। এরপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান এবং তাকে চারটি বিষয় লিখে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাকে বলা হয়: তার আমল, রিজিক, আয়ু এবং সে কি দুর্ভাগা (شقي) নাকি সৌভাগ্যবান (سعيد) তা লিখে দাও। এরপর তার মধ্যে রুহ ফুঁকে দেওয়া হয়। তোমাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি জাহান্নামীদের মতো আমল করতে থাকে, এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, তখন তার ওপর তাকদির (قدر) প্রবল হয়; ফলে সে জান্নাতবাসীদের আমল শুরু করে এবং জান্নাতে প্রবেশ করে। আবার কোনো ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের আমল করতে থাকে, এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, তখন তার ওপর তাকদির (قدر) প্রবল হয়; ফলে সে জাহান্নামীদের আমল শুরু করে এবং জাহান্নামে প্রবেশ করে।"

ঐশ্বরিক ফয়সালা (قضاء) ও তকদিরের (قدر) প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব:

প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফয়সালা ও তকদির (القضاء والقدر) সংক্রান্ত আকিদাহর ওপর এমন দৃঢ়ভাবে ঈমান রাখা ওয়াজিব যাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। বরং কোনো ব্যক্তির ইসলাম সঠিক হয় না এবং তার ঈমান কবুল হয় না যতক্ষণ না সে ফয়সালা ও তকদিরের (القضاء والقدر) ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে। কারণ ফয়সালা ও তকদির (القضاء والقدر) সংক্রান্ত আকিদাহ হলো ঈমানের ছয়টি স্তম্ভের একটি। আর এর কারণ হলো, ফয়সালা ও তকদির (القضاء والقدر) সংক্রান্ত আকিদাহর ব্যাপারে পবিত্র কুরআন প্রমাণ পেশ করেছে—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।

আর সুন্নাহতে নবী (সা.) বলেন: "শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর নিকট দুর্বল মুমিনের চেয়ে অধিক উত্তম ও প্রিয়, তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। তোমার যাতে উপকার হবে তা লাভে সচেষ্ট হও, আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো এবং অক্ষম হয়ে বসে থেকো না। আর যদি তোমার কোনো বিপদ ঘটে..."
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২০)
شيء فلا تقل: لو أني فعلت كذا لكان كذا وكذا؛ ولكن قل: قدر الله وما شاء فعل؛ فإن "لو" تفتح عمل الشيطان)).

- وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((واعلم أن ما أصابك لم يكن ليخطئك، وما أخطأك لم يكن ليصيبك)).

- وقال صلى الله عليه وسلم: ((إن أول ما خلق الله تعالى القلم، ثم قال: اكتب. فجرى في تلك الساعة بما هو كائن إلى يوم القيامة)).

- وقال صلى الله عليه وسلم: ((لا تسأل المرأة طلاق أختها لتستفرغ صفحتها ولتنكح؛ فإن لها ما قدر لها)).

- وقال صلى الله عليه وسلم: ((الإيمان: أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، والقدر خيره وشره)).

فالإيمان بالقدر جزء من عقيدة المؤمن وركن من أركان الإيمان، وإنكاره أو التشكيك فيه كفر بالله ورسوله -عياذًا بك اللهم.

وقال صاحب "العقيدة الطحاوية": خلق الخلق بعلمه، وقدر لهم أقدارًا وضرب لهم آجالًا، ولم يخفَ عليه شيء قبل أن يخلقهم، وعلم ما هم عاملون قبل أن يخلقهم، وأمرهم بطاعته ونهاهم عن معصيته، وكل شيء يجري بتقديره ومشيئتِه، ومشيئتُه تنفذ؛ لا مشيئة للعباد إلا ما شاء لهم؛ فما شاء لهم كان وما لم يشأ لم يكن، يهدي من يشاء ويعصم ويعافي فضلًا، ويضل من يشاء ويخذل ويبتلي عدلًا، وكلهم يتقلبون في مشيئته بين فضله وعدله، وهو متعالٍ عن الأضداد والأنداد، لا راد لقضائه، ولا معقب لحكمه، ولا غالب لأمره؛ آمنا بذلك كله وأيقنَّا أن كلًّا من عنده، وقد علم الله تعالى فيما لم يزل عدد من
...কিছু ঘটে তবে এমন বলো না: ‘যদি আমি এমন করতাম তবে তেমন হতো’; বরং বলো: ‘এটি আল্লাহর নির্ধারণ (قدر) এবং তিনি যা ইচ্ছা করেছেন তা-ই করেছেন’; কারণ ‘যদি’ (لو) শয়তানের কর্মপন্থা উন্মুক্ত করে দেয়।))

- ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জেনে রেখো, যা তোমার ওপর আপতিত হয়েছে তা তোমাকে এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তোমাকে এড়িয়ে গেছে তা তোমার ওপর আপতিত হওয়ার ছিল না।”

- তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম। তারপর তিনি বললেন: ‘লেখ’। তখন কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে, সে সময় তা-ই লিপিবদ্ধ হয়ে গেল।”

- তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: “কোনো নারী যেন তার অন্য কোনো বোনের তালাক প্রার্থনা না করে নিজের পাত্র পূর্ণ করার জন্য এবং নিজে বিবাহিত হওয়ার জন্য; কেননা তার জন্য যা নির্ধারিত (قدر) করা হয়েছে তা সে পাবেই।”

- তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: “ঈমান হলো: তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং ভাগ্যের (القدر) ভালো ও মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে।”

তাকদীরের (القدر) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা মুমিনের আকিদাহর অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ঈমানের অন্যতম রুকন। এটি অস্বীকার করা বা এ বিষয়ে সংশয় পোষণ করা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরি করার শামিল—হে আল্লাহ! আপনার নিকট এ থেকে পানাহ চাই।

“আকিদাহ আত-তহাবি” এর লেখক বলেছেন: তিনি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, তাদের জন্য তাকদীরসমূহ (أقدار) নির্ধারণ করেছেন এবং তাদের আয়ুষ্কাল নির্দিষ্ট করেছেন। তাদের সৃষ্টি করার পূর্বে তাঁর কাছে কোনো কিছুই গোপন ছিল না। তারা কী আমল করবে তা তিনি তাদের সৃষ্টির পূর্বেই জানতেন। তিনি তাদের তাঁর আনুগত্যের আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর অবাধ্যতা হতে নিষেধ করেছেন। প্রতিটি বিষয় তাঁর নির্ধারণ (تقدير) ও ইচ্ছা (مشيئة) অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তাঁর ইচ্ছাই কার্যকর হয়; বান্দাদের কোনো ইচ্ছা নেই তবে তিনি তাদের জন্য যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতিরেকে। সুতরাং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই ঘটে এবং যা তিনি ইচ্ছা করেন না তা ঘটে না। তিনি যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে রক্ষা করেন ও নিরাপদ রাখেন। আর যাকে ইচ্ছা ইনসাফ অনুযায়ী পথভ্রষ্ট করেন, লাঞ্ছিত করেন এবং পরীক্ষায় ফেলেন। তারা সকলেই তাঁর ইচ্ছা (مشيئة) অনুযায়ী তাঁর অনুগ্রহ ও ইনসাফের মধ্যে আবর্তিত হয়। তিনি প্রতিপক্ষ ও সমকক্ষ থেকে বহু ঊর্ধ্বে। তাঁর ফয়সালাকে (قضاء) রদ করার কেউ নেই, তাঁর হুকুমের ওপর কোনো মন্তব্যকারী নেই এবং তাঁর নির্দেশের ওপর কোনো বিজয়ী নেই। আমরা এ সবকিছুর ওপর ঈমান এনেছি এবং দৃঢ় বিশ্বাস (أيقنَّا) করেছি যে, সবকিছুই তাঁর পক্ষ থেকে। আল্লাহ তাআলা অনাদিকাল থেকেই অবগত আছেন যে...
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২১)
يدخل الجنة، وعدد من يدخل النار جملة واحدة؛ فلا يزداد في ذلك العدد ولا يُنقص منه.

وكذلك أفعالهم فيما علم منهم أن يفعلوه، وكل ميسر لما خلق له والأعمال بالخواتيم، والسعيد من سعد بقضاء الله والشقي من شقي بقضاء الله، وأصل القدر سر الله تعالى في خلقه ولم يطلع على ذلك ملك مقرب ولا نبي مرسل، والتعمق والنظر في ذلك ذريعة الخذلان وسُلَّم الحرمان ودرجة الطغيان؛ فالحذر كل الحذر من ذلك نظرًا وفكرًا ووسوسة؛ فإن الله تعالى طوى علم القدر عن آنامه، ونهاهم عن مرامه؛ كما قال تعالى في كتابه: {لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ} (الأنبياء: 23) فمن سأل: لم فعل؟ فقد رد حكم الكتاب؛ فمن رد حكم الكتاب كان من الكافرين؛ فهذا جملة ما يحتاج إليه من هو منور قلبه من أولياء الله تعالى، وهي درجة الراسخين في العلم؛ لأن العلم علمان: علم في الخلق موجود، وعلم في الخلق مفقود؛ فإنكار العلم الموجود كفر، وإنكار العلم المفقود كفر، ولا يثبت الإيمان إلا بقبول العلم الموجود وترك طلب العلم المفقود.

وعلى العبد أن يعلم أن الله قد سبق علمه في كل كائن من خلقه، فقدر ذلك تقديرًا محكمًا مبرمًا ليس فيه ناقض ولا معقب، ولا مزيل ولا مغير، ولا ناقص ولا زائد من خلقه في سماواته وأرضه، وذلك من عقد الإيمان وأصول المعرفة والاعتراف بتوحيد الله تعالى وربوبيته، كما قال تعالى في كتابه: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا} (الفرقان: 2) وقال تعالى: {وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَرًا مَقْدُورًا} (الأحزاب: 38) فويلٌ لمن صار لله تعالى في القدر خصيمًا وأحضر للنظر فيه قلبًا سقيمًا، لقد التمس بوهمه في فحص الغيب سرًّا كتيمًا، وعاد بما قال فيه أفَّاكًا أثيمًا.
জান্নাতে প্রবেশকারীদের সংখ্যা এবং জাহান্নামে প্রবেশকারীদের সংখ্যা এককভাবে (নির্ধারিত); সেই সংখ্যা বৃদ্ধিও পাবে না এবং তা থেকে হ্রাসও করা হবে না।

আর তেমনিভাবে তাদের ঐ সকল কাজ যা তারা করবে বলে তিনি (আল্লাহ) অবগত আছেন। প্রত্যেকে যার জন্য সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য তা সহজসাধ্য করা হয়েছে। আমল বা কাজ শেষ অবস্থার উপর নির্ভরশীল। আর ভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর ফয়সালার মাধ্যমে ভাগ্যবান হয়েছে, আর হতভাগ্য সেই যে আল্লাহর ফয়সালার মাধ্যমে হতভাগ্য হয়েছে। আর তাকদীরের মূল রহস্য তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মহান আল্লাহর একটি গোপন ভেদ। কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা কিংবা প্রেরিত (مرسل) নবী এ সম্পর্কে অবগত নন। এ বিষয়ে অতি গভীরে প্রবেশ করা এবং চিন্তা-গবেষণা করা হলো লাঞ্ছনার সোপান, বঞ্চনার মাধ্যম এবং অবাধ্যতার স্তর। সুতরাং এ বিষয়ে দৃষ্টিপাত, চিন্তা ও সংশয় থেকে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য। কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির নিকট তাকদীরের জ্ঞান গোপন রেখেছেন এবং তা অনুসন্ধানে নিষেধ করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন: "তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে।" (আল-আম্বিয়া: ২৩)। সুতরাং যে ব্যক্তি প্রশ্ন করল: কেন তিনি এমন করলেন? সে যেন কিতাবের বিধানকে প্রত্যাখ্যান করল। আর যে ব্যক্তি কিতাবের বিধানকে প্রত্যাখ্যান করল, সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো। সুতরাং এটিই হলো সেই সামগ্রিক বিষয়, আল্লাহর ওলীদের মধ্যে যাদের অন্তর আলোকিত তাদের যার প্রয়োজন হয়। আর এটিই জ্ঞানে সুগভীর পণ্ডিতদের স্তর। কেননা জ্ঞান দুই প্রকার: সৃষ্টির মাঝে বিদ্যমান জ্ঞান এবং সৃষ্টির মাঝে অনুপস্থিত জ্ঞান। সুতরাং বিদ্যমান জ্ঞানকে অস্বীকার করা কুফরি এবং অনুপস্থিত জ্ঞান দাবি করাও কুফরি। বিদ্যমান জ্ঞান গ্রহণ এবং অনুপস্থিত জ্ঞানের অনুসন্ধান বর্জন ব্যতীত ঈমান সুদৃঢ় হয় না।

আর বান্দার ওপর আবশ্যক হলো এই জ্ঞান রাখা যে, আল্লাহর সৃষ্টিজগতে যা কিছু ঘটবে সে সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান পূর্ব থেকেই কার্যকর। অতঃপর তিনি তা সুনিপুণ ও অকাট্যভাবে নির্ধারণ করেছেন, যার কোনো লঙ্ঘনকারী নেই, কোনো খণ্ডনকারী নেই, কোনো অপসারক নেই, কোনো পরিবর্তনকারী নেই এবং তাঁর আসমান ও যমীনের সৃষ্টির মধ্যে এর কোনো কম-বেশি নেই। আর এটিই ঈমানের বন্ধন, মারেফাতের মূলনীতি এবং মহান আল্লাহর তাওহীদ ও রুবুবিয়াতের স্বীকৃতির অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেছেন: "তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করেছেন।" (আল-ফুরকান: ২)। তিনি আরও বলেছেন: "আল্লাহর আদেশ সুনির্ধারিত তাকদীর।" (আল-আহযাব: ৩৮)। সুতরাং ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য যে তাকদীরের বিষয়ে মহান আল্লাহর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং এ বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য রুগ্ন অন্তর নিয়ে উপস্থিত হয়। সে তার কল্পনার মাধ্যমে অদৃশ্যের অনুসন্ধানে এমন এক রহস্য তালাশ করেছে যা অত্যন্ত গোপন, আর সে তার এই আলোচনার মাধ্যমে এক পাপিষ্ঠ মিথ্যাবাদীতে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২২)
وأن الله تعالى خلق الجنة والنار قبل الخلق وخلق لهما أهلًا؛ فمن شاء منهم إلى الجنة فضلًا منه، ومن شاء منهم إلى النار عدلًا منه، وكل يعمل لما قد فرغ له وصائر إلى ما خلق له، والخير والشر مقدران على العباد والاستطاعة التي يجب بها الفعل من نحو التوفيق الذي لا يجوز أن يوصفَ المخلوق به؛ فهي مع الفعل؛ وأما الاستطاعة من جهة الصحة والوسع والتمكين وسلامة الآلات فهي قبل الفعل إليها يتعلق الخطاب، وهو كما قال تعالى: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} (البقرة: 286).

وأفعال العباد خلق الله وكسب العباد، ولم يكلفهم الله تعالى إلا ما يطيقون، ولا يطيقون إلا ما كلفهم، وهو تفسير: "لا حول ولا قوة إلا بالله"، نقول: لا حيلة لأحد ولا حركة ولا تحوّل لأحد عن معصية الله إلا بمعونة الله، ولا قوة لأحد على إقامة طاعة الله والثبات عليها إلا بتوفيق الله، وكل شيء يجري بمشيئة الله تعالى وعلمه وقضائه وقدره، غلبت مشيئته المشيئات كلها، وغلب قضاؤه الحيل كلها، يفعل ما يشاء وهو غير ظالم أبدًا، تقدس عن كل سوء وحَيْن، وتنزه عن كل عيب وشيْن، لا يُسأل عما يفعل وهم يُسألون.

غضب النبي صلى الله عليه وسلم من الذين يجادلون في كتاب الله ويتنازعون في القدر:

عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال: ((خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم على أصحابه وهم يختصمون في القدر؛ فكأنما يفقأ في وجهه حب الرمان من الغضب؛ فقال: بهذا أمرتم؟! أو: لهذا خلقتم؟! تضربون القرآن بعضه ببعض؟! بهذا هلكت الأمم قبلكم، قال: فقال عبد الله بن عمرو: ما غبطت نفسي بمجلس تخلفت فيه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما غبطت نفسي بذلك المسجد وتخلفي عنه)).
আর নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পূর্বেই জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন এবং এ দুটির জন্য অধিবাসীও সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাদের মধ্যে যাকে চেয়েছেন তাঁর অনুগ্রহে জান্নাতের জন্য এবং যাকে চেয়েছেন তাঁর ইনসাফের ভিত্তিতে জাহান্নামের জন্য নির্ধারণ করেছেন। প্রত্যেকেই সেই কাজ করে যার ফয়সালা ইতিপূর্বেই করা হয়েছে এবং সেদিকেই ধাবিত হয় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। কল্যাণ ও অকল্যাণ বান্দাদের তকদিরে নির্ধারিত। আর যে সামর্থ্য দ্বারা কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক হয়—যেমন তাওফিক, যা কোনো সৃষ্টির গুণ হিসেবে বর্ণনা করা বৈধ নয়—তা কাজের সাথেই থাকে। পক্ষান্তরে সুস্থতা, সচ্ছলতা, সক্ষমতা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুস্থতা সংশ্লিষ্ট যে সামর্থ্য, তা কাজের পূর্বেই থাকে এবং এর মাধ্যমেই শরয়ি সম্বোধন বা বিধান অর্পিত হয়। এটি যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না।" (আল-বাকারা: ২৮৬)।

বান্দাদের কার্যাবলি আল্লাহর সৃষ্টি এবং বান্দাদের উপার্জন। মহান আল্লাহ তাদেরকে কেবল তাদের সাধ্যাধীন বিষয়েরই দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তিনি যা তাদের ওপর অর্পণ করেছেন তা পালনেরই সামর্থ্য তারা রাখে। আর এটিই হলো "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"-এর ব্যাখ্যা। আমরা বলি: আল্লাহর অবাধ্যতা পরিহার করার এবং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়ার কোনো কৌশল বা ক্ষমতা কারো নেই আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত; আর আল্লাহর আনুগত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং তাতে অটল থাকার কোনো শক্তি কারো নেই আল্লাহর তাওফিক ব্যতীত। সবকিছুই মহান আল্লাহর ইচ্ছা, জ্ঞান, ফয়সালা ও তকদির অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তাঁর ইচ্ছা সকল ইচ্ছার ওপর প্রবল এবং তাঁর ফয়সালা সকল কৌশলকে পরাভূত করে। তিনি যা চান তা-ই করেন এবং তিনি কখনোই যালিম নন। তিনি সকল মন্দ ও বিনাশ থেকে পবিত্র এবং সকল দোষ ও কলঙ্ক থেকে মুক্ত। তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে।

আল্লাহর কিতাব নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হওয়া এবং তকদির নিয়ে ঝগড়া করা ব্যক্তিদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্রোধ:

আমর ইবন শুআইব থেকে তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিকট বের হয়ে আসলেন যখন তারা তকদির নিয়ে বাদানুবাদে লিপ্ত ছিল। এতে রাগে তাঁর চেহারা এমন আরক্তিম হয়ে উঠল যেন তাঁর মুখমণ্ডলে ডালিমের দানা ফেটে পড়েছে। তখন তিনি বললেন: "তোমাদেরকে কি এই কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? নাকি এই কাজের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে? তোমরা কুরআনের একাংশকে অন্য অংশের বিরুদ্ধে পেশ করছ? তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতরা এ কারণেই ধ্বংস হয়েছিল।" বর্ণনাকারী বলেন: আবদুল্লাহ ইবন আমর বলতেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো মজলিসে অনুপস্থিত থাকার কারণে আমি নিজেকে কখনোই এমন সৌভাগ্যবান মনে করিনি, যেমনটি সেই মসজিদে সেই মজলিসে অনুপস্থিত থাকতে পেরে মনে করেছি।"
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৩)
وفي رواية للإمام أحمد رحمه الله بالإسناد السابق نفسه: ((أن نفرًا كانوا جلوسًا بباب النبي صلى الله عليه وسلم فقال بعضهم: ألم يقل الله كذا وكذا؟! وقال بعضهم: ألم يقل الله كذا وكذا؟! فسمع ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فخرج كأنما فقئ في وجهه حب الرمان، فقال: بهذا أمرتم؟! أو بهذا بعثتم؟! أن تضربوا كتاب الله بعضه ببعض؟! إنما ضلت الأمم قبلكم في مثل هذا إنكم لستم ممن هاهنا في شيء؛ انظروا الذي أمرتم به فاعملوا به، والذي نهيتم عنه فانتهوا)).

وأخرجه الترمذي عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: ((خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نتنازع في القدر؛ فغضب حتى احمر وجهه؛ حتى كأنما فقئ في وجنتيه الرمان؛ فقال: أبهذا أمرتم؟! أم بهذا أرسلت إليكم؟! إنما هلك من كان قبلكم حين تنازعوا في هذا الأمر، عزمت عليكم ألا تتنازعوا فيه)).

قال المباركفوري -رحمه الله تعالى-: في (التحفة) في شرحه للحديث السابق: ((فغضب حتى احمر وجهه)) أي: نهاية الاحمرار؛ حتى صار من شدة حمرته، ((كأنما فُقِئ)) بصيغة المجهول أي: شق أو عصر ((في وجنتيه)) أي: خديه ((الرمان)) أي حبه، فهو كناية عن مزيد حمرة وجهه المنبئة عن مزيد غضبه؛ وإنما غضب لأن القدر سر من أسرار الله تعالى، وطلب سره منهي، ولأن من يبحث فيه لا يأمن من أن يصير قدريًّا أو جبريًّا، والعباد مأمورون بقبول ما أمرهم الشرع من غير أن يطلبوا سر ما لا يجوز طلب سره.

هذا؛ وبالله التوفيق.
ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এক বর্ণনায় (رواية) সেই একই পূর্বোক্ত সনদে (إسناد) বর্ণিত হয়েছে: "একদল লোক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরজার সামনে বসা ছিলেন। তখন তাদের কেউ কেউ বললেন: আল্লাহ কি এমন এমন বলেননি?! আবার অন্য কেউ বললেন: আল্লাহ কি এমন এমন বলেননি?! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা শুনতে পেলেন এবং তিনি এমন অবস্থায় বেরিয়ে আসলেন যেন তাঁর চেহারা মোবারকে ডালিমের দানা নিংড়ে দেওয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি বললেন: তোমরা কি এ কাজের জন্য আদিষ্ট হয়েছ?! নাকি এ জন্যই তোমাদের নিকট পাঠানো হয়েছে?! আল্লাহর কিতাবের এক অংশকে অপর অংশের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর জন্য?! তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহ তো এই ধরনের কাজের মাধ্যমেই পথভ্রষ্ট হয়েছিল। তোমরা এখানকার এসব বিষয়ের কোনো কিছুতেই সম্পৃক্ত নও। তোমাদের যা আদেশ করা হয়েছে তা দেখো এবং সে অনুযায়ী আমল করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকো।"

আর ইমাম তিরমিজি এটি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন যখন আমরা তাকদির (القدر) নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত ছিলাম। এতে তিনি রাগান্বিত হলেন, এমনকি তাঁর চেহারা মোবারক লাল হয়ে গেল; যেন তাঁর দুই গালে ডালিম নিংড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি বললেন: তোমরা কি এই কাজের জন্য আদিষ্ট হয়েছ?! নাকি আমাকে এই কাজের জন্যই তোমাদের নিকট পাঠানো হয়েছে?! তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহ তো ধ্বংস হয়ে গেছে যখন তারা এই বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল। আমি তোমাদের দৃঢ়ভাবে নির্দেশ দিচ্ছি যে, তোমরা এ নিয়ে বিতর্ক করো না।"

মুবারকপুরী (রাহিমাহুল্লাহ) 'তুহফাতুল আহওয়াযী' নামক তাঁর হাদিসের ব্যাখ্যা (شرح) গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি রাগান্বিত হলেন এমনকি তাঁর চেহারা লাল হয়ে গেল" অর্থাৎ লাল হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়; এমনকি লাল আভার তীব্রতায় তা এমন হয়ে গেল যে, "যেন নিংড়ে দেওয়া হয়েছে (فقئ)" - এখানে শব্দটি কর্মবাচ্য (صيغة المجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ বিদীর্ণ হওয়া বা নিংড়ে দেওয়া - "তাঁর দুই গালে (وجنتيه)" অর্থাৎ গণ্ডদ্বয়ে "ডালিম (الرمان)" অর্থাৎ এর দানা। এটি মূলত তাঁর চেহারার অত্যধিক লাল হওয়ার একটি রূপক (كناية), যা তাঁর প্রচণ্ড রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। তিনি মূলত এই কারণে রাগান্বিত হয়েছিলেন যে, তাকদির (القدر) হলো মহান আল্লাহর রহস্যসমূহের মধ্যে একটি গোপন রহস্য, আর সেই রহস্য অনুসন্ধান করা নিষিদ্ধ (منهي)। এছাড়া যে ব্যক্তি এ নিয়ে তর্কে লিপ্ত হয়, সে কদরিয়া (قدريا) বা জাবরিয়া (جبريا) মতবাদে লিপ্ত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না। আর বান্দাদের প্রতি নির্দেশ হলো শরিয়ত তাদের যা আদেশ করেছে তা কোনো প্রকার রহস্য অনুসন্ধান ছাড়াই গ্রহণ করা, কেননা যেসব বিষয়ের রহস্য অনুসন্ধানের অনুমতি নেই তা অন্বেষণ করা বৈধ নয়।

এটিই মূল বক্তব্য; আর আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফিক বা সফলতা অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الدرس: 2 تابع الإيمان بالقضاء والقدر.
পাঠ: ২ ভাগ্য ও নির্ধারণের ওপর ঈমানের ধারাবাহিকতা.
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الدرس الثاني

(تابع الإيمان بالقضاء والقدر)

 

‌‌أقسام القدر، وحكم التكذيب به

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، سيدنا محمد، اللهم صل وسلم وبارك عليه وعلى آله وصحبه، ومن استن بسنته وصار على نهجه إلى يوم الدين وبعد:

حكم من أنكر القدر:

من أنكر القدر فقد جحد أصلًا من أصول الشريعة وقد كفر بذلك؛ قال بعض السلف رحمه الله: انظروا إلى القدرية بالعلم؛ فإن جحدوه كفروا؛ وإن أقروا به خصموا، فإنكار القدر كفر بالله -جل وعلا- ينافي أصل التوحيد، كما قال ابن عباس رضي الله عنهما: القدر نظام التوحيد؛ فمن كذّب بالقدر نقض تكذيبه توحيده، يعني الإيمان بالقدر هو النظام، يعني: السلك الذي تجتمع فيه مسائل التوحيد حتى يقوم عقدها في القلب؛ فإذا كذّب بالقدر، معنى ذلك: انقطع السلك؛ فنقض ذلك التكذيب أمور التوحيد.

وهذا ظاهر؛ فإن أصل الإيمان أن يؤمن بالأركان الستة التي منها الإيمان بالقدر، قال ابن عمر: "والذي نفس ابن عمر بيده لو كان لأحدهم مثل أحد ذهبًا ثم أنفقه في سبيل الله ما قبله الله منه حتى يؤمن بالقدر". لأن الله -جل وعلا- لا يقبل إلا من مسلم.

الإسلام شرط في صحة قبول الأعمال، ومن أنكر القدر ولم يؤمن بالقدر فإنه لا يقبل منه، ولو أنفق مثل أحد ذهبًا.

ثم استدل بقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((الإيمان أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خيره وشره))، هنا في قوله: ((تؤمن بالقدر خيره وشره)) القدر منه ما هو خير ومنه ما هو شر: خير بالنسبة لابن آدم وشر بالنسبة لابن آدم؛ فالمكلف قد يكون عليه قدر هو بالإضافة إليه خير، وقد يكون عليه القدر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

দ্বিতীয় পাঠ

(তাকদির বা ভাগ্য ও নির্ধারণের ওপর ঈমান সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ধারাবাহিকতা)

 

‌‌তাকদিরের প্রকারভেদ এবং তা অস্বীকার করার বিধান

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম আমাদের নেতা মুহাম্মাদ-এর ওপর। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করবে ও তাঁর পথে চলবে, তাদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাযিল করুন। অতঃপর:

তাকদির অস্বীকারকারীর বিধান:

যে ব্যক্তি তাকদির অস্বীকার করল, সে শরীয়তের অন্যতম একটি মূলনীতি অস্বীকার করল এবং এর মাধ্যমে সে কুফরি করল। সালাফদের (পূর্বসূরি) কেউ কেউ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তোমরা ইলম (জ্ঞানের) দ্বারা কাদারিয়াদের স্বরূপ সন্ধান করো; যদি তারা আল্লাহর ইলমকে অস্বীকার করে তবে তারা কাফের হয়ে যাবে, আর যদি তারা তা স্বীকার করে তবে তারা বিতর্কে পরাজিত হবে।" কেননা তাকদির অস্বীকার করা মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করার শামিল, যা তাওহীদের মূলভিত্তির পরিপন্থী। যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "তাকদির হলো তাওহীদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা; সুতরাং যে ব্যক্তি তাকদিরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, তার এই মিথ্যা প্রতিপন্ন করা তার তাওহীদকেই বিনষ্ট করে দিল।" অর্থাৎ তাকদিরের ওপর ঈমান হলো সেই শৃঙ্খলা বা সুতা যা তাওহীদের মাসআলাগুলোকে একত্রে গেঁথে রাখে যাতে অন্তরে এর দৃঢ় বন্ধন প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং যদি কেউ তাকদিরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তার অর্থ হলো সুতাটি ছিঁড়ে গেল; ফলে সেই মিথ্যা প্রতিপন্ন করা তাওহীদের বিষয়াবলিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল।

আর এটি সুস্পষ্ট; কারণ ঈমানের মূল ভিত্তি হলো সেই ছয়টি রুকনের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা যার অন্যতম হলো তাকদিরের ওপর ঈমান আনা। ইবনে উমর (রা.) বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে ইবনে উমরের প্রাণ! যদি তাদের কারও নিকট উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং সে তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে, তবুও আল্লাহ তার থেকে তা গ্রহণ করবেন না যতক্ষণ না সে তাকদিরের ওপর ঈমান আনবে।" কারণ মহান আল্লাহ মুসলিম ব্যতীত অন্য কারও আমল কবুল করেন না।

আমল কবুল হওয়ার জন্য ইসলাম একটি শর্ত। যে ব্যক্তি তাকদির অস্বীকার করল এবং তাকদিরে বিশ্বাস করল না, তার আমল কবুল করা হবে না, যদিও সে উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দান করে।

অতঃপর তিনি নবী (সা.)-এর বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "ঈমান হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং তুমি বিশ্বাস করবে তাকদিরের ভালো ও মন্দের প্রতি।" এখানে তাঁর এই বাণী "তুমি বিশ্বাস করবে তাকদিরের ভালো ও মন্দের প্রতি"-এর ক্ষেত্রে তাকদিরের কিছু বিষয় ভালো এবং কিছু বিষয় মন্দ: যা আদম সন্তানের সাপেক্ষে ভালো এবং আদম সন্তানের সাপেক্ষে মন্দ। কেননা একজন দায়বদ্ধ (مكلف) ব্যক্তির ওপর নির্ধারিত তাকদির কখনও তার সাপেক্ষে ভালো হতে পারে, আবার কখনও সেই তাকদির তার সাপেক্ষে মন্দ হতে পারে।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৮)
بالإضافة إليه شر، وأما بالنسبة لفعل الله -جل وعلا- فالله سبحانه وتعالى أفعاله كلها خير؛ لأنها موافقة لحكمته العظيمة؛ ولهذا جاء في الحديث أن النبي صلى الله عليه وسلم قال في ثنائه على ربه: ((والشر ليس إليك)).

فالله -جل وعلا- ليس في فعله شر؛ فالشر بما يضاف للعبد أصيب العبد بمصيبة فهو شر بالنسبة إليه؛ أما بالنسبة لفعل الله فهو خير؛ لأنها موافقة لحكمة الله -جل وعلا- البالغة، والله سبحانه وتعالى له الأمر كله.

وعن عبادة بن الصامت أنه قال لابنه: "يا بني، إنك لن تجد طعم الإيمان حتى تعلم أن ما أصابك لم يكن ليخطئك، وما أخطأك لم يكن ليصيبك". وهذا لأن القضاء والقدر قد فرغ منه، يعني: تقدير الأمور قد فرغ منه، والله -جل وعلا- قد قدر الأشياء وقدر أسبابها؛ فالسبب الذي سيفعله المختار من عباد الله مقدر؛ كما أن نتيجته مقدرة.

ومن الإيمان بالقدر الإيمان بأن الله -جل وعلا- جعلك مختارًا، وأنك لست مجبورًا؛ فالقول بالجبر منافٍ للقول بالقدر، يعني القول بالجبر لا يستقيم مع الإيمان بالقدر؛ لأن الإيمان بالقدر إيمان معه الإيمان؛ لأن العبد مختار وليس بمجبر؛ لأن التكليف وقع بذلك.

والجبرية طائفتان: طائفة غلاة وهم: الجهمية وغلاة الصوفية الذين يقولون: إن العبد كالريشة في مهب الريح وحركاته حركات اضطرارية، ومنهم طائفة ليست بالغلاة وهم الأشاعرة ونحوهم الذين يقولون بالجبر في الباطن وبالاختيار في الظاهر، ويقولون: إن العبد له كسب: وهذا الكسب هو أن يكون العبد في الفعل الذي فعله محلًّا لفعل الله؛ فيفعل به فيكون هو محلًّا للفعل، ويضاف الفعل إليه على وجه الكسب -على ما هو معروف في موضعه من التفاصيل في كتب العقيدة المطولة.
এর সাথে সংশ্লিষ্টতা সাপেক্ষে তা মন্দ, কিন্তু মহান আল্লাহর কার্যাবলির নিরিখে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সকল কাজই কল্যাণকর; কারণ তা তাঁর সুমহান প্রজ্ঞার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এজন্যই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রবের প্রশংসায় বলেছেন: "এবং মন্দ আপনার দিকে প্রত্যাবর্তিত নয়।"

সুতরাং মহান আল্লাহর কার্যাবলির মধ্যে কোনো মন্দ নেই। মন্দ কেবল সেই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট যা বান্দার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়; ফলে বান্দা কোনো বিপদে আক্রান্ত হলে তা তার সাপেক্ষে মন্দ। কিন্তু আল্লাহর কার্যাবলির নিরিখে তা কল্যাণকর; কারণ তা মহান আল্লাহর সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। আর সমস্ত বিষয়ের কর্তৃত্ব মহান আল্লাহরই।

উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন: "হে বৎস, তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে না, যতক্ষণ না তুমি এটা জানবে যে, তোমার ভাগ্যে যা ঘটেছে তা তোমাকে ভুল করে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তোমাকে পাশ কাটিয়ে গেছে তা তোমার ভাগ্যে ঘটার ছিল না।" এটি এজন্য যে, ফয়সালা (قضاء) ও তাকদির (قدر) চূড়ান্ত হয়ে গেছে। অর্থাৎ, বিষয়াদির নির্ধারণ সম্পন্ন হয়ে গেছে। মহান আল্লাহ সবকিছুর পরিমাণ এবং সেগুলোর কারণসমূহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি যে কারণটি সম্পাদন করবে তা পূর্বনির্ধারিত (مقدر); যেমন তার ফলাফলও পূর্বনির্ধারিত (مقدر)।

তাকদিরের (قدر) প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো এই বিশ্বাস করা যে, মহান আল্লাহ আপনাকে স্বাধীন ইচ্ছাসম্পন্ন করেছেন এবং আপনি বাধ্য নন। সুতরাং জবর বা বাধ্যবাধকতার (جبر) মতবাদ পোষণ করা তাকদিরের (قدر) বিশ্বাসের পরিপন্থী। অর্থাৎ জবরের (جبر) প্রবক্তাদের দাবি তাকদিরে বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; কারণ তাকদিরে বিশ্বাস এমন এক বিশ্বাস যার সাথে স্বাধীন ইচ্ছার ঈমান জড়িত; কেননা বান্দা স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির অধিকারী এবং সে বাধ্য নয়; কারণ এর ওপরই শরিয়তের বিধানের দায়বদ্ধতা (تكليف) আবর্তিত হয়।

জাবরিয়া সম্প্রদায় দুই ভাগে বিভক্ত: একদল হলো চরমপন্থী (غلاة), তারা হলো জাহমিয়া ও চরমপন্থী (غلاة) সুফি সম্প্রদায়, যারা বলে: বান্দা হলো প্রবল বাতাসের মুখে একটি পালকের মতো এবং তার নড়াচড়াগুলো হলো বাধ্যগত নড়াচড়া (اضطرارية)। তাদের মধ্যে অন্য দলটি চরমপন্থী (غلاة) নয়, তারা হলো আশআরিয়া ও তাদের সমমনা গোষ্ঠী, যারা অভ্যন্তরীণভাবে জবর বা বাধ্যবাধকতার (جبر) কথা বলে এবং বাহ্যিকভাবে স্বাধীন ইচ্ছার কথা বলে। তারা বলে যে, বান্দার জন্য রয়েছে অর্জন (كسب); আর এই অর্জন (كسب) হলো এই যে, বান্দা যে কাজটি করে সে ক্ষেত্রে সে আল্লাহর কাজের একটি আধার হিসেবে গণ্য হয়। ফলে তার মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন হয় এবং সে কাজের আধার হয়। আর কাজটি তার দিকে অর্জনের (كسب) দিক থেকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়—যেমনটি আকিদার বিস্তারিত কিতাবসমূহে সংশ্লিষ্ট স্থানে বিস্তারিতভাবে সুপরিচিত।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ২৯)
ذكر مرتبة الكتابة:

سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((إن أول ما خلق الله القلم قال له: اكتب، قال: رب، وماذا أكتب؟ قال: اكتب مقادير كل شيء حتى تقوم الساعة))، هذا فيه دليل على مرتبة الكتابة، وقوله: ((إن أول ما خلق الله القلم)) معناه -على الصحيح عند المحققين-: أنه حين خلق الله القلم؛ فأول هنا ظرف بمعنى: حين، وإن اسمها ضمير الشأن محذوف، إنه أول ما خلق الله القلم قال له: اكتب، يعني: حين خلق الله القلم قال له: اكتب، فيكون قول: ((اكتب)) هذا من جهة الظرفية.

وأما أول المخلوقات؛ فالعرش سابق في الخلق على القلم؛ كما قال عليه الصلاة والسلام في الحديث الذي في الصحيح: ((قدر الله مقادير الخلق قبل أن يخلق السموات والأرض بخمسين ألف سنة، وكان عرشه على الماء)) فقوله: ((إن أول ما خلق الله القلم قال له: اكتب))، أنه حين خلق قال له: اكتب، والعرش كان قبل ذلك؛ فإذن الكتابة كانت بعد الخلق مباشرة، بعد خلق القلم؛ وأما العرش فكان سابقًا، والماء كان سابقًا أيضًا؛ ولهذا نقول: الصحيح أن العرش مخلوق قبل القلم، كما قال ابن القيم رحمه الله في النونية:

والناس مختلفون في القلم الذي … كُتِب القضاء به من الديان

هل كان قبل العرش أم هو بعده … قولان عند أبي العلا الهمذاني

والحق أن العرش قبل لأنه … عند الكتابة كان ذا أركان

كيفية الإيمان بالقدر:

أقسام التقدير:

أ- التقدير العام لجميع الكائنات: وهو الذي كتب في اللوح المحفوظ قبل خلق السَّمَوَات والأرض بخمسين ألف سنة.
লিখন বা কিতাবতের স্তর বর্ণনা:

আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম। তারপর তাকে বললেন: লেখ। কলম বলল: হে আমার রব, আমি কী লিখব? তিনি বললেন: কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি জিনিসের তাকদির (التقدير) লেখ।" এটি লিখন বা কিতাবতের স্তরের ওপর একটি প্রমাণ। আর তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন"—এর অর্থ হলো গবেষক আলেমদের (المحققين) নিকট বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুসারে: যখন আল্লাহ কলম সৃষ্টি করেন (তখনই নির্দেশ দেন); এখানে 'প্রথম' শব্দটি সময় বা মুহূর্ত (ظرف) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। আর 'ইন্না'-এর বিশেষ্য বা ইসিম এখানে উহ্য (محذوف) রয়েছে। অর্থাৎ: যখন আল্লাহ কলম সৃষ্টি করেছেন, তখন তাকে বললেন: লেখ। সুতরাং 'লেখ' বলার বিষয়টি সময়ের প্রেক্ষিতে হয়েছে।

আর প্রথম সৃষ্টির বিষয়ে বলা যায়, আরশ সৃষ্টির দিক থেকে কলমের অগ্রবর্তী। যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হাদিসে বলেছেন: "আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে আল্লাহ মাখলুকাতের তাকদির (التقدير) নির্ধারণ করেছেন, আর তখন তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর।" সুতরাং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করে তাকে বললেন: লেখ"—এর অর্থ হলো যখন এটি সৃষ্টি করা হলো তখনই তাকে লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আর আরশ তার পূর্বেই বিদ্যমান ছিল। অতএব লিখন বা কিতাবত হয়েছিল কলম সৃষ্টির ঠিক পরেই; তবে আরশ কলমের পূর্বেই ছিল এবং পানিও তার পূর্বে ছিল। এই কারণেই আমরা বলি: সঠিক (الصحيহ) মত হলো আরশ কলমের পূর্বে সৃষ্টি করা হয়েছে। যেমনটি ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর নুনিয়া কাব্যে বলেছেন:

মানুষ সেই কলম সম্পর্কে মতভেদ করেছে যার মাধ্যমে … বিচারকের পক্ষ থেকে ফয়সালা লেখা হয়েছে

এটি কি আরশের পূর্বে ছিল নাকি পরে? … আবু আল-আলা আল-হামাজানির নিকট এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে

তবে সত্য হলো আরশ আগে ছিল, কারণ … (ভাগ্যের) লিখনকালে আরশ স্তম্ভবিশিষ্ট অবস্থায় বিদ্যমান ছিল

তাকদিরের (التقدير) ওপর ঈমান আনার পদ্ধতি:

তাকদিরের (التقدير) প্রকারভেদ:

ক- সকল সৃষ্টির জন্য সাধারণ তাকদির (التقدير): এটি সেই লিখন যা আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩০)
ب- التقدير العمري: وهو تقدير كل ما يجري على العبد من نفخ الروح فيه إلى نهاية أجله.

جـ- التقدير السنوي: وهو تقدير ما يجري كل سنة، وذلك ليلة القدر من كل سنة قال تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِين * فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ} (الدخان: 3، 4).

د- التقدير اليومي: وهو تقدير ما يجري كل يوم من عِزٍّ وذُلٍّ، وعطاء ومنع، وإحياء وإماتة، وغير ذلك؛ قال تعالى: {يَسْأَلُهُ مَنْ فِي السَّمَوَات وَالْأَرْضِ كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ} (الرحمن: 29).

هل الإيمان بالقدر ينافي مشيئة الإنسان في أفعاله الاختيارية؟

والإيمان بالقدر على ما وصفنا لا ينافي أن يكون للعبد مشيئة في أفعاله الاختيارية وقدرة عليها؛ لأن الشرع والواقع دالان على إثبات ذلك له، أما الشرع؛ فقد قال الله تعالى في المشيئة: {فَمَنْ شَاءَ اتَّخَذَ إِلَى رَبِّهِ مَآبًا} (النبأ: 39) وقال: {فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} (البقرة: 223) وقال في القدرة: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا} (التغابن: 16) وقال: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ} (البقرة: 286).

وأما الواقع فإن كل إنسان يعلم أن له مشيئة وقدرة بهما يفعل وبهما يترك، ويفرق بين ما يقع بإرادته كالمشي وما يقع بغير إرادته كالارتعاش؛ لكن مشيئة العبد وقدرته واقعتان بمشيئة الله تعالى وقدرته؛ لقول الله تعالى: {لِمَنْ شَاءَ مِنْكُمْ أَنْ يَسْتَقِيمَ * وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} (التكوير: 28، 29) ولأن الكون كله ملك لله تعالى، فلا يكون في ملكه شيء بدون علمه ومشيئته.
খ- জীবনব্যাপী নির্ধারণ (التقدير العمري): এটি হলো বান্দার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়া থেকে শুরু করে তার আয়ুষ্কাল শেষ হওয়া পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তার নির্ধারণ।

গ- বার্ষিক নির্ধারণ (التقدير السنوي): এটি হলো প্রতি বছর যা ঘটবে তার নির্ধারণ, যা প্রতি বছরের লাইলাতুল কদরে সম্পন্ন হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় আমি এটি এক বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়} (আদ-দুখান: ৩, ৪)।

ঘ- প্রাত্যহিক নির্ধারণ (التقدير اليومي): এটি হলো প্রতিদিনের সম্মান ও লাঞ্ছনা, দান ও বারণ, জীবন ও মৃত্যু এবং এ জাতীয় অন্যান্য ঘটনার নির্ধারণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা সবাই তাঁর কাছে প্রার্থনা করে। প্রতিদিন তিনি কোনো না কোনো কাজে রত আছেন} (আর-রাহমান: ২৯)।

তাকদিরের প্রতি ঈমান কি মানুষের ঐচ্ছিক কার্যাবলির ক্ষেত্রে তার ইচ্ছাশক্তির পরিপন্থী?

আমরা যেভাবে বর্ণনা করেছি, তাকদিরের প্রতি সেই ঈমান বান্দার ঐচ্ছিক কাজের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব ইচ্ছা ও সামর্থ্য থাকার পরিপন্থী নয়; কারণ শরিয়ত ও বাস্তবতা উভয়ই মানুষের জন্য এগুলো সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ বহন করে। শরিয়তের প্রমাণ হিসেবে আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা প্রসঙ্গে বলেন: {অতএব যার ইচ্ছা সে তার রবের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করুক} (আন-নাবা: ৩৯) এবং বলেন: {অতএব তোমরা তোমাদের ফসলের জমিতে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো} (আল-বাকারা: ২২৩)। আর সামর্থ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন: {অতএব তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো এবং শোনো ও আনুগত্য করো} (আত-তাগাবুন: ১৬) এবং বলেন: {আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যাতীত কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না। সে যা বর্জন করেছে তা তারই জন্য এবং সে যা কামাই করেছে তা তারই ওপর বর্তাবে} (আল-বাকারা: ২৮৬)।

আর বাস্তবতার ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষই অবগত যে, তার নিজস্ব ইচ্ছা ও সামর্থ্য রয়েছে যা দ্বারা সে কোনো কাজ সম্পাদন করে বা বর্জন করে। সে তার নিজ ইচ্ছায় সংঘটিত বিষয় (যেমন হাঁটা) এবং অনিচ্ছায় সংঘটিত বিষয় (যেমন কম্পন)-এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। তবে বান্দার ইচ্ছা ও সামর্থ্য আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ও সামর্থ্যের অধীনেই কার্যকর হয়; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের মধ্যে যে সরল পথে চলতে চায় তার জন্য। আর তোমরা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে অন্য কিছুই ইচ্ছা করতে পারো না} (আত-তাকউইর: ২৮, ২৯)। অধিকন্তু, সমগ্র মহাবিশ্ব আল্লাহ তাআলার মালিকানাধীন, তাই তাঁর রাজত্বে তাঁর জ্ঞান ও ইচ্ছা ব্যতিরেকে কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الاحتجاجُ بالقدر لترك الواجبات وفعل المعاصي احتجاجٌ باطلٌ

والإيمان بالقدر -على ما وصفنا- لا يمنح العبد حجة على ما ترك من الواجبات أو فعل من المعاصي؛ وعلى هذا فاحتجاجه به باطل من وجوه:

الأول: قوله تعالى: {سَيَقُولُ الَّذِينَ أَشْرَكُوا لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا أَشْرَكْنَا وَلَا آبَاؤُنَا وَلَا حَرَّمْنَا مِنْ شَيْءٍ كَذَلِكَ كَذَّبَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ حَتَّى ذَاقُوا بَأْسَنَا قُلْ هَلْ عِنْدَكُمْ مِنْ عِلْمٍ فَتُخْرِجُوهُ لَنَا إِنْ تَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ أَنْتُمْ إِلَّا تَخْرُصُونَ} (الأنعام: 148) ولو كان لهم حجة بالقدر ما أذاقهم الله بأسه.

الثاني: قوله تعالى: {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا} (النساء: 165) ولو كان القدر حجة للمخالفين لم ينتفِ بإرسال الرسل؛ لأن المخالفة بعد إرسالهم واقعة بقدر الله تعالى.

الثالث: ما رواه البخاري ومسلم -واللفظ للبخاري-: عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ما منكم من أحد إلا قد كُتب مقعده من النار أو من الجنة. فقال رجل من القوم: ألا نتكل يا رسول الله؟ قال: لا؛ اعملوا فكلٌّ ميسر. ثم قرأ: {فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى} (الليل: 5، 6)» وفي لفظ لمسلم: «فكل ميسر لما خلق له»، فأمر النبي صلى الله عليه وسلم بالعمل ونهى عن الاتكال على القدر.

الرابع: أن الله تعالى أمر العبد ونهاه، ولم يكلفه إلا ما يستطيع؛ قال الله تعالى: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} (التغابن: 16) ولو كان العبد مجبرًا على الفعل لكان مكلفًا بما لا يستطيع الخلاص منه، وهذا باطل؛ ولذلك إذا وقعت منه المعصية بجهل أو نسيان أو إكراه؛ فلا إثم عليه؛ لأنه معذور.
ওয়াজিবসমূহ বর্জন এবং পাপাচার করার ক্ষেত্রে তকদিরকে অজুহাত হিসেবে পেশ করা একটি বাতিল (باطل) যুক্তি

তকদিরের প্রতি ঈমান — আমরা যেভাবে বর্ণনা করেছি — বান্দাকে তার বর্জন করা ওয়াজিবসমূহ কিংবা তার কৃত পাপাচারের ক্ষেত্রে কোনো প্রমাণ বা অজুহাত প্রদান করে না; আর এই ভিত্তিতে এর মাধ্যমে অজুহাত পেশ করা বিভিন্ন দিক থেকে বাতিল (باطل):

প্রথমত: মহান আল্লাহর বাণী: {মুশরিকরা শীঘ্রই বলবে, ‘যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমরা শিরক করতাম না এবং আমাদের পিতৃপুরুষেরাও করত না এবং আমরা কোনো কিছু হারাম করতাম না।’ এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, অবশেষে তারা আমার শাস্তি আস্বাদন করেছিল। বলুন, ‘তোমাদের কাছে কি কোনো জ্ঞান আছে যা তোমরা আমাদের কাছে প্রকাশ করবে? তোমরা তো কেবল ধারণারই অনুসরণ করো এবং তোমরা শুধু মিথ্যাই বলো’} (আল-আন’আম: ১৪৮)। আর যদি তকদিরের মাধ্যমে তাদের কোনো অজুহাত থাকত, তবে আল্লাহ তাদের তাঁর শাস্তি আস্বাদন করাতেন না।

দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহর বাণী: {সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূলগণের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (আন-নিসা: ১৬৫)। আর যদি বিরুদ্ধাচরণকারীদের জন্য তকদির একটি অজুহাত হতো, তবে রাসূল প্রেরণের মাধ্যমে তা রহিত হতো না; কারণ রাসূল প্রেরণের পরেও বিরুদ্ধাচরণ আল্লাহর তকদির অনুসারেই সংঘটিত হয়।

তৃতীয়ত: যা বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন — এবং শব্দসমূহ বুখারি-র — আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সা.) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার ঠিকানা জাহান্নামে অথবা জান্নাতে লিখে রাখা হয়নি। তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি তবে (এর ওপর) নির্ভর করব না? তিনি বললেন: না; বরং তোমরা আমল করে যাও, কেননা প্রত্যেকের জন্যই তা সহজসাধ্য করা হয়েছে। এরপর তিনি পাঠ করলেন: {সুতরাং যে দান করল এবং তাকওয়া অবলম্বন করল এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করল...} (আল-লাইল: ৫, ৬)»। মুসলিম-এর এক বর্ণনায় রয়েছে: «প্রত্যেকের জন্যই তা সহজসাধ্য করা হয়েছে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে», সুতরাং নবী (সা.) আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তকদিরের ওপর নির্ভর করে বসে থাকতে নিষেধ করেছেন।

চতুর্থত: মহান আল্লাহ বান্দাকে আদেশ করেছেন এবং নিষেধ করেছেন, আর তাকে তার সাধ্যের অতীত কোনো দায়িত্ব অর্পণ করেননি; মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব তোমরা যথাসম্ভব আল্লাহকে ভয় করো} (আত-তাগাবুন: ১৬)। আর বান্দা যদি তার কর্মের ওপর বাধ্য হতো, তবে তাকে এমন বিষয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতো যা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়, আর এটি বাতিল (باطل) বা অসার; আর একারণেই যদি তার পক্ষ থেকে অজ্ঞতা, বিস্মৃতি কিংবা জবরদস্তির কারণে কোনো পাপ সংঘটিত হয়, তবে তার কোনো গুনাহ নেই; কারণ সে ওজরসম্পন্ন বা ক্ষমার যোগ্য।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩২)
الخامس: أن قدر الله تعالى سرّ مكتوم لا يعلم به إلا بعد وقوع المقدور، وإرادة العبد لما يفعله سابقة على فعله فتكون إرادته الفعل غير مبنية على علم منه بقدر الله، وحينئذ تُنفى حجته بالقدر؛ إذ لا حجة للمرء فيما لا يعلمه.

السادس: أننا نرى الإنسان يحرص على ما يلائمه من أمور دنياه حتى يدركه، ولا يعدل عنه إلى ما لا يلائمه ثم يحتج على عدوله بالقدر، فلماذا يعدل عما ينفعه في أمور دينه إلى ما يضره ثم يحتج بالقدر، أفليس شأن الأمرين واحد؟!

وإليك مثالًا يوضح ذلك:

لو كان بين يدي الإنسان طريقان: أحدهما: ينتهي به إلى بلد كلها فوضى وقتل ونهب وانتهاك للأعراض وخوف وجوع، والثاني: ينتهي به إلى بلد كلها نظام وأمن مستتب وعيش رغيد واحترام للنفوس والأعراض والأموال؛ فأي الطريقين يسلك؟ إنه سيسلك الطريق الثاني الذي ينتهي به إلى بلد النظام والأمن، ولا يمكن لأي عاقل أبدًا أن يسلك طريق بلد الفوضى والخوف ويحتج بالقدر؛ فلماذا يسلك في أمر الآخرة طريق النار دون الجنة ويحتج بالقدر؟!

السابع: أن المحتج بالقدر على ما تركه من الواجبات أو فعله من المعاصي لو اعتدى عليه شخص فأخذ ماله أو انتهك حرمته، ثم احتج بالقدر وقال: لا تلمني؛ فإن اعتدائي كان بقدر الله؛ لم يقبل حجته؛ فكيف لا يقبل الاحتجاج بالقدر في اعتداء غيره عليه، ويحتج به لنفسه في اعتدائه على حق الله؟!

ويذكر أن أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه رفع إليه سارق استحق القطع، فأمر بقطع يده؛ فقال: مهلًا يا أمير المؤمنين، فإنما سرقت بقدر الله، فقال: ونحن إنما نقطع بقدر الله.
পঞ্চম: মহান আল্লাহর তাকদির (قدر) হলো একটি গোপন রহস্য, যা কেবল তা ঘটার পরেই জানা যায়। কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে বান্দার ইচ্ছা তার কর্মের পূর্ববর্তী হয়ে থাকে। সুতরাং কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে তার ইচ্ছা আল্লাহর তাকদিরের (قدر) জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে হয় না। এমতাবস্থায় তাকদিরের (قدر) মাধ্যমে তার অজুহাত পেশ করা নাকচ হয়ে যায়; কেননা মানুষ যা জানে না, তা দিয়ে কোনো দলিল (حجة) পেশ করতে পারে না।

ষষ্ঠ: আমরা দেখি যে, মানুষ তার পার্থিব জগতের জন্য যা কল্যাণকর তা অর্জনে সচেষ্ট থাকে এবং তা না পাওয়া পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যায়। সে তা ছেড়ে দিয়ে অকল্যাণকর বিষয়ের দিকে ধাবিত হয় না এবং পরবর্তীতে সেই বিচ্যুতির জন্য তাকদিরের (قدر) দোহাই দেয় না। তবে কেন সে তার দ্বীনি বিষয়ের ক্ষেত্রে যা তার জন্য উপকারী তা ছেড়ে দিয়ে ক্ষতিকর বিষয়ের দিকে যায় এবং এরপর তাকদিরের (قدر) দোহাই দেয়? উভয় বিষয়ের হুকুম কি একই হওয়া উচিত নয়?!

তোমার সামনে বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য একটি উদাহরণ দেওয়া হলো:

যদি কোনো মানুষের সামনে দুটি পথ থাকে: একটি পথ এমন এক দেশে গিয়ে শেষ হয় যেখানে চরম বিশৃঙ্খলা, হত্যা, লুণ্ঠন, সম্ভ্রমহানি, ভয় ও ক্ষুধা বিরাজমান। আর দ্বিতীয় পথটি এমন এক দেশে গিয়ে শেষ হয় যেখানে সুশৃঙ্খল শাসনব্যবস্থা, অটল নিরাপত্তা, সচ্ছল জীবন এবং জান-মাল ও সম্ভ্রমের প্রতি যথাযথ সম্মান বিদ্যমান। এখন সে কোন পথটি অবলম্বন করবে? সে অবশ্যই দ্বিতীয় পথটি গ্রহণ করবে যা সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ জনপদে গিয়ে পৌঁছে। কোনো বিবেকবান মানুষ কখনোই বিশৃঙ্খলা ও ভয়ের জনপদের পথ অবলম্বন করে তাকদিরের (قدر) দোহাই দিতে পারে না। তবে কেন সে আখেরাতের বিষয়ে জান্নাত ছেড়ে জাহান্নামের পথ বেছে নেয় এবং তাকদিরের (قدر) দোহাই দেয়?!

সপ্তম: যে ব্যক্তি ওয়াজিব (واجب) কাজসমূহ বর্জন করার জন্য অথবা পাপকাজে লিপ্ত হওয়ার স্বপক্ষে তাকদিরের (قدر) দোহাই দেয়, তার ওপর যদি অন্য কেউ চড়াও হয়ে তার সম্পদ ছিনিয়ে নেয় অথবা তার সম্ভ্রমহানি করে এবং এরপর তাকদিরের (قدر) দোহাই দিয়ে বলে: 'আমাকে দোষ দিও না; কেননা তোমার ওপর আমার এই আক্রমণ আল্লাহর তাকদিরেই (قدر) ছিল'; তবে ওই ব্যক্তি তার এই দলিল (حجة) কখনোই গ্রহণ করবে না। তাহলে সে কীভাবে অন্যের চড়াও হওয়ার ক্ষেত্রে তাকদিরের (قدر) দোহাই গ্রহণ করে না, অথচ আল্লাহর হকের ব্যাপারে নিজের সীমালঙ্ঘনের স্বপক্ষে তাকদিরের (قدر) দোহাই দেয়?!

বর্ণিত আছে যে, আমিরুল মুমিনীন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট এক চোরকে আনা হলো যার হাত কাটা আবধারিত ছিল। তিনি তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। তখন চোরটি বলল: 'হে আমিরুল মুমিনীন, একটু সবুর করুন! আমি তো আল্লাহর তাকদিরেই (قدر) চুরি করেছি।' ওমর (রা.) উত্তরে বললেন: 'আর আমরাও আল্লাহর তাকদিরেই (قدر) তোমার হাত কাটছি।'
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌أثر الإيمان بالقدر على المسلم

لقد بني هذا الدين على التسليم لحكمة الله وإرادته، وعدم الأسئلة عن تفاصيل الحكمة الربانية في الأوامر والنواهي، وكذلك كان أصحاب الأنبياء؛ فإن قدم الإسلام لا تثبت إلا على درجة التسليم، فأول مراتب تعظيم الأمر التصديق به، ثم العزم الجازم على امتثاله، ثم المسارعة إليه والمبادرة به، وهكذا كان الصحب الكرام فقد كانوا شديدي الأدب مع ربهم ومع رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقد قال فيهم ابن عباس رضي الله عنهما: "ما رأيت قومًا خيرًا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ ما سألوه إلا عن ثلاث عشرة مسألة حتى قبض"، وفي مسألة القدر أجمع الصحابة والتابعون وجميع أهل السنة والحديث أن كل كائن إلى يوم القيامة فهو مكتوب في أم الكتاب.

عن ابن الديلمي قال: أتيت أبي بن كعب، فقلت له: قد وقع في نفسي شيء في القدر؛ فحدثني لعل الله يذهب من قلبي؛ فقال: "لو أن الله تعالى عذب أهل سماواته وأهل أرضه عذبهم وهو غير ظالم لهم ولو رحمهم كانت رحمته خيرًا لهم من أعمالهم، ولو أنفقت مثل أُحُد ذهبًا في سبيل الله ما قبله الله منك حتى تؤمن بالقدر، وتعلم أن ما أصابك لم يكن ليخطئك، ولو مت على غير هذا لدخلت النار، قال: ثم أتيت ابن مسعود فقال مثل ذلك، ثم أتيت حذيفة فقال مثل ذلك، ثم أتيت زيد بن ثابت فحدثني عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل ذلك".

وعن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال لابنه عند الموت: "يا بني؛ إنك لن تجد حقيقة الإيمان حتى تعلم أن ما أصابك لم يكن ليخطئك وما أخطأك لم يكن ليصيبك؛ فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((إن أول ما خلق الله القلم، قال له: اكتب، فقال: يا رب، وما أكتب؟ قال: اكتب مقادير كل شيء حتى تقوم الساعة)). يا بني، إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((من مات على غير هذا فليس مني)).
মুমিনের জীবনে তাকদিরের (القدر) ওপর বিশ্বাসের প্রভাব

এই দ্বীনের ভিত্তি আল্লাহ তাআলার হিকমত ও তাঁর ইচ্ছার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণের (التسليم) ওপর প্রতিষ্ঠিত। আদেশ ও নিষেধের মধ্যে নিহিত খোদায়ী হিকমতের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন না করাই এর দাবি। আর নবীগণের সহচরগণ এমনই ছিলেন; কেননা আত্মসমর্পণের (التسليم) স্তর ছাড়া ইসলামের ভিত্তি সুদৃঢ় হয় না। কোনো নির্দেশকে মহিমান্বিত করার প্রথম ধাপ হলো তা সত্য বলে সত্যায়ন (التصديق) করা, এরপর তা পালনের দৃঢ় সংকল্প করা এবং এরপর তা বাস্তবায়নে দ্রুত অগ্রসর হওয়া ও উদ্যোগ গ্রহণ করা। সম্মানিত সাহাবীগণও (الصحابة) এমনটিই ছিলেন। তাঁরা তাঁদের প্রতিপালক এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি অত্যন্ত শিষ্টাচার সম্পন্ন ছিলেন। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁদের সম্পর্কে বলেছেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের (الصحابة) চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো সম্প্রদায় দেখিনি; তাঁরা তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত মাত্র তেরটি বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন।" আর তাকদিরের (القدر) বিষয়ে সাহাবী (الصحابة), তাবেয়ি (التابعون) এবং সকল আহলে সুন্নাহ ও হাদিস বিশারদগণ সর্বসম্মত (أجمع) হয়েছেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে, তা উম্মুল কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

ইবনে দাইলামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উবাই ইবনে কাবের নিকট এসে বললাম: তাকদির (القدر) সম্পর্কে আমার মনে কিছু সংশয় তৈরি হয়েছে; সুতরাং আপনি আমার কাছে কিছু বর্ণনা করুন (حدثني), সম্ভবত আল্লাহ আমার অন্তর থেকে তা দূর করে দেবেন। তখন তিনি বললেন: "যদি আল্লাহ তাআলা তাঁর আসমান ও জমিনের অধিবাসীদের শাস্তি দেন, তবে তিনি তাঁদের ওপর কোনো জুলুম না করেই শাস্তি দেবেন। আর যদি তিনি তাঁদের প্রতি দয়া করেন, তবে তাঁর সেই দয়া তাঁদের আমলের চেয়েও উত্তম হবে। যদি তুমি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও আল্লাহর পথে ব্যয় করো, তবে যতক্ষণ না তুমি তাকদিরের (القدر) ওপর ঈমান আনবে, ততক্ষণ আল্লাহ তা তোমার নিকট থেকে কবুল করবেন না। আর তোমাকে জানতে হবে যে, তোমার ওপর যা আপতিত হয়েছে তা তোমাকে এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তোমার থেকে বিচ্যুত হয়েছে তা তোমার ওপর আপতিত হওয়ার ছিল না। যদি তুমি এই বিশ্বাসের বাইরে অন্য কোনো অবস্থার ওপর মৃত্যুবরণ করো, তবে তুমি অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।" তিনি বলেন: এরপর আমি ইবনে মাসউদের কাছে গেলাম, তিনিও অনুরূপ বললেন। এরপর আমি হুযাইফার কাছে গেলাম, তিনিও অনুরূপ বললেন। এরপর আমি যায়েদ ইবনে সাবিতের কাছে গেলাম, তিনি আমার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করলেন (حدثني)।

উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর মৃত্যুর সময় স্বীয় পুত্রকে বললেন: "হে বৎস! তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানের প্রকৃত স্বাদ পাবে না, যতক্ষণ না তুমি জানবে যে, তোমার ওপর যা আপতিত হয়েছে তা তোমাকে এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তোমার থেকে বিচ্যুত হয়েছে তা তোমার ওপর আপতিত হওয়ার ছিল না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: লেখো। সে বলল: হে প্রতিপালক! আমি কী লিখব? তিনি বললেন: কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি জিনিসের তাকদির (مقادير) লেখো))। হে বৎস! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ((যে ব্যক্তি এই বিশ্বাস ছাড়া অন্য কোনো অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল, সে আমার উম্মতভুক্ত নয়))।"
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
هذا؛ وقد كان لهذه العقيدة في نفوس أصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم أجل الأمل؛ فقد انطلقوا في الأرض وهم يحملون عقيدة القدر كما علّمهم إياها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد قال لابن عباس رضي الله عنهما: ((يا غلام، احفظ الله يحفظك؛ احفظ الله تجده تجاهك؛ إذا سألت فاسأل الله؛ وإذا استعنت فاستعن بالله، واعلم أن الأمة لو اجتمعت على أن ينفعوك بشيء لم ينفعوك إلا بشيء قد كتبه الله لك؛ وإن اجتمعوا على أن يضروك بشيء لم يضروك إلا بشيء قد كتبه الله عليك، رفعت الأقلام وجفت الصحف)).

هذه العقيدة سكبت في قلوبهم السكينة، وأفاضت على نفوسهم الطمأنينة، وربَّتهم على العزة؛ فارتاحت أعصابهم وهم منطلقون لتبليغ هذا الدين إلى البشرية، وقد استصغروا قوى الأرض جميعًا أمام إيمانهم بقدر الله.

سئل سلمان الفارسي: ما قول الناس حتى تؤمن بالقدر خيره وشره؟ فقال: حتى تؤمن بالقدر: تعلم أن ما أخطأك لم يكن ليصيبك وما أصابك لم يكن ليخطئك، ولم يكن هذا قول سلمان فحسب؛ وإنما كان قول أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم جميعًا؛ فأية سعادة تضفيها على النفس هذه العقيدة! وأية شجاعة انطوت عليها قلوب آمنت أن الأمر بيد الله وأن البشر لا أمر لهم.

إن قوى الأرض جميعًا لا تقف أمام إنسان يحمل هذا المبدأ، ويكن بين جنباته هذا الإيمان، ومن هنا نجد التفسير الصحيح للأعمال التي حققها هذا الإيمان على يد العصبة المؤمنة التي انطلقت بهذا الدين، إنها الأعمال تشبه الخوارق ولكنها حقائق، إن تلك الإنجازات العظيمة التي حققها رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحبه الكرام، إن هي إلا ثمرة إيمانهم بالله واليوم الآخر، وقدر الله عز وجل.

إن الإنسان الذي ينعم بعقيدة القدر ويعلم أن ما أصابه لم يكن ليخطئه، وأن الأمة لو اجتمعت لم تضره إلا بشيء قد كتبه الله عليه، وأنه لم تمت نفسٌ حتى
প্রকৃতপক্ষে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের হৃদয়ে এই আকিদাহ ছিল সুমহান আশার সঞ্চারকারী; তারা পৃথিবীতে বিচরণ করেছিলেন তাকদিরের আকিদাহ বুকে ধারণ করে, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের শিখিয়েছিলেন। তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলেছিলেন: ((হে বৎস, আল্লাহর (বিধানের) হেফাজত করো, তিনি তোমাকে রক্ষা করবেন; আল্লাহর (হকের) প্রতি লক্ষ্য রাখো, তাঁকে তোমার সামনেই পাবে; যখন কিছু চাইবে তখন আল্লাহর কাছেই চাও; আর যখন সাহায্যের প্রার্থনা করবে তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করো। জেনে রেখো, পুরো উম্মত যদি তোমার কোনো উপকার করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে আল্লাহ তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত তারা তোমার কোনো উপকার করতে পারবে না; আর তারা যদি তোমার কোনো ক্ষতি করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত তারা তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কলমগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে এবং সহীফাগুলো শুকিয়ে গেছে।))

এই আকিদাহ তাদের অন্তরে প্রশান্তি ঢেলে দিয়েছিল, তাদের আত্মাকে স্থৈর্য দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের মর্যাদার সাথে গড়ে তুলেছিল; ফলে মানবজাতির কাছে এই দ্বীন পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাদের যাত্রা ছিল অত্যন্ত সাবলীল। আল্লাহর তাকদিরের প্রতি তাদের ঈমানের সামনে তারা পৃথিবীর সকল শক্তিকে তুচ্ছ জ্ঞান করতেন।

সালমান ফারসিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: মানুষের সে কথাটি কী যা দ্বারা তাকদিরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা যায়? তিনি বলেছিলেন: তাকদিরের প্রতি ঈমান আনা হলো— তুমি এটা জানবে যে, যা তোমাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছে তা তোমাকে স্পর্শ করার ছিল না, আর যা তোমাকে স্পর্শ করেছে তা তোমাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করার ছিল না। এটি কেবল সালমানের কথা ছিল না; বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল সাহাবীর কথা ছিল। এই আকিদাহ আত্মাকে কতই না সুখ প্রদান করে! আর সেই সব হৃদয়ে কতই না সাহস সঞ্চিত ছিল যারা বিশ্বাস করত যে সমস্ত বিষয় আল্লাহর হাতে এবং মানুষের কোনো ক্ষমতা নেই।

পৃথিবীর সকল শক্তি এমন একজন মানুষের সামনে দাঁড়াতে পারে না যে এই আদর্শ ধারণ করে এবং তার অন্তরের অন্তঃস্থলে এই ঈমান লালন করে। এখান থেকেই আমরা সেই আমলগুলোর সঠিক (صحيح) ব্যাখ্যা খুঁজে পাই যা সেই মুমিন জামাত অর্জন করেছিল যারা এই দ্বীন নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল। এগুলো এমন সব কাজ যা অলৌকিক ঘটনার সদৃশ কিন্তু এগুলো বাস্তব সত্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ যে মহান সাফল্য অর্জন করেছিলেন, তা আল্লাহ, পরকাল এবং আল্লাহর তাকদিরের প্রতি তাদের ঈমানেরই ফসল।

যে মানুষ তাকদিরের আকিদাহ দ্বারা ধন্য হয় এবং জানে যে তার কাছে যা পৌঁছেছে তা তাকে এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না, আর পুরো উম্মত যদি একত্রিত হয় তবুও আল্লাহর লিখে রাখা সিদ্ধান্ত ব্যতীত তারা তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, এবং কোনো প্রাণই মৃত্যুবরণ করবে না যতক্ষণ না সে
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
تستكمل رزقها وأجلها، إنه هذا الإنسان هو وحده الذي يتحرر من العبودية للعباد بدخوله في العبودية لرب العباد؛ إذ كيف تنحني جبهته لأية قوة على ظهر الأرض وهو يعلم أن الأمر بيد خالق السموات والأرض ومن فيهن؟! وكيف تذل نفسه لعبد من تراب؟!

يقول ابن رجب -رحمه الله تعالى-: فمن تحقق أن كل مخلوق فوق التراب فهو تراب، فكيف يقدم طاعة من هو تراب على طاعة رب الأرباب؟! أم كيف يرضي التراب بسخط المالك الوهاب؟! إن هذا لشيء عجاب!.

إن هذه العقيدة لتنتزع كل مظهر للجبن من القلب الذي تعمره، فتدفع صاحبها إلى جهاد الكفار والطغاة دون أن يحسب لوسائلهم وأساليبهم أي حساب، ولماذا ينشغل بالحساب لهم وقد ضمن له خالقه وخالقهم أن يستوفي رزقه وأجله، ولماذا يجبن وهو يعلم أن المقدور نازل به لا محالة، وغير المقدور لن يحيق به أبدًا؛ فما أحسن قول من قال:

أي يومي من الموت أفر … يوم لا قدر أو يوم قدِر

يوم لا قدر لا أرهبه … ومن المقدور لا ينجو الحذِر

إن النفس المؤمنة بقدر الله سبحانه وتعالى لتنعم بنعمة أخرى لا تعدلها نعم الدنيا كلها؛ إنها نعمة الرضا في كل حال؛ ذلك أن هذه النفس ترى أن المقادير تجري بأمر الله عز وجل ومشيئته وتدبيره وأن الأحداث تنبثق بحكمة الله وإرادته، وهو يعلم والناس لا يعلمون كما قال تعالى: {وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} (البقرة: 216)؛ فتعلم هذه النفس المؤمنة أن الله الذي قدر لها الخير أو الشر حكيم رحيم؛ فلا تبطر نعمة ولا تجزع من مصيبة؛ فهي شاكرة في السراء صابرة في الضراء، أمرها كله خير كما، قال
(প্রত্যেক প্রাণীই) তার নির্ধারিত রিযিক এবং আয়ু পূর্ণ করবে। নিশ্চয়ই সেই মানুষই কেবল সৃষ্টির দাসত্ব থেকে মুক্তি পায় যে সৃষ্টির রবের দাসত্বে প্রবেশ করে; কারণ তার ললাট কেন পৃথিবীর কোনো শক্তির সামনে নত হবে যখন সে জানে যে প্রতিটি বিষয় আসমান ও জমিন এবং এর মধ্যস্থিত সবকিছুর স্রষ্টার হাতে?! আর তার আত্মা কেন মাটির তৈরি কোনো দাসের সামনে লাঞ্ছিত হবে?!

ইবনে রজব (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) বলেন: যার নিকট এটি সুনিশ্চিত হয়েছে যে মাটির উপরে থাকা প্রতিটি সৃষ্টিই মাটি, তবে সে কীভাবে রবের আনুগত্যের ওপর মাটির তৈরি কোনো সত্তার আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেয়?! অথবা কীভাবে সে দাতা ও মালিক সত্তার অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মাটিকে সন্তুষ্ট করে?! নিশ্চয়ই এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর বিষয়!.

নিশ্চয়ই এই আকিদা (عقيدة) যে অন্তরে গেঁথে যায় সেখান থেকে ভীরুতার প্রতিটি চিহ্ন উপড়ে ফেলে, ফলে তা এর অধিকারীকে কাফের ও জালিমদের বিরুদ্ধে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করে তাদের কোনো উপায়-উপকরণ ও কৌশলের তোয়াক্কা না করেই। আর সে কেনই বা তাদের হিসাব নিয়ে ব্যস্ত হবে যখন তার এবং তাদের স্রষ্টা তাকে তার রিযিক এবং আয়ু পূর্ণ করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন? আর কেনই বা সে ভীরু হবে অথচ সে জানে যে যা নির্ধারিত (مقدور) তা তার ওপর আপতিত হবেই, আর যা নির্ধারিত (مقدور) নয় তা তাকে কখনোই স্পর্শ করবে না। সেই কবির কথা কতই না চমৎকার যিনি বলেছেন:

মৃত্যুর কোন দিনটি থেকে আমি পালাব? … যেদিন মৃত্যু নির্ধারিত (قدر) নয় নাকি যেদিন মৃত্যু নির্ধারিত (قدر)?

যেদিন নির্ধারিত (قدر) নয় সেদিন আমি তাকে ভয় করি না; … আর যা নির্ধারিত (مقدور) তা থেকে সতর্ক ব্যক্তিও নিষ্কৃতি পায় না।

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর তাকদীরের (قدر) ওপর বিশ্বাসী মুমিন আত্মা এমন এক নিয়ামত উপভোগ করে যার সমতুল্য দুনিয়ার সকল নিয়ামত হতে পারে না; আর তা হলো প্রতিটি অবস্থায় সন্তুষ্টির (رضا) নিয়ামত; কারণ এই আত্মা দেখে যে সকল ভাগ্যলিপি (مقادير) মহান আল্লাহর নির্দেশ, ইচ্ছা এবং ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয় এবং প্রতিটি ঘটনা আল্লাহর হিকমত ও ইচ্ছায় উদ্ভূত হয়। আর তিনি জানেন কিন্তু মানুষ জানে না, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর হতে পারে যে কোনো বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং হতে পারে যে কোনো বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ জানেন কিন্তু তোমরা জানো না} (বাকারা: ২১৬); ফলে এই বিশ্বাসী আত্মা জানতে পারে যে আল্লাহ—যিনি তার জন্য ভালো বা মন্দের ফয়সালা করেছেন—তিনি প্রজ্ঞাময় ও দয়ালু; তাই সে নিয়ামত পেয়ে দম্ভ করে না এবং বিপদে বিচলিত হয় না; সে সুখে কৃতজ্ঞ এবং দুঃখে ধৈর্যশীল থাকে। তার প্রতিটি বিষয়ই কল্যাণকর, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
المصطفى صلى الله عليه وسلم: ((عجبًا للمؤمن؛ إن أمره كله له خير، وليس ذلك لأحد إلا للمؤمن: إن أصابته سراء شكر فكان خيرًا له؛ وإن أصابته ضراء صبر فكان خيرًا له)).

فالمؤمن من ينظر إلى المصيبة فيعلم أنها قدر الله فيطمئن ويرضى؛ فيكون أكثر أدبًا من أن يعترض على مولاه وخالقه، وينظر إلى عاقبة المصيبة ومآلها من الثواب فيرضى ويصبر، وفي الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((أشد الناس بلاء الأنبياء، ثم الأمثل فالأمثل؛ يبتلى الرجل على حسب دينه؛ فإن كان في دينه صلابة ابتلي على قدر ذلك؛ وإن كان فيه رقة هوِّن عليه؛ فما يزال البلاء بالرجل حتى يدعه يمشي على الأرض وليس عليه خطيئة)).

وهذا علقمة رحمه الله يفسر قوله تعالى: {مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ} فيقول: هو الرجل تصيبه المصيبة؛ فيعلم أنها من عند الله فيرضى ويسلِّم، وقال ابن عباس رضي الله عنهما: يهدي قلبه اليقين؛ فيعلم أن ما أصابه لم يكن ليخطئه وما أخطأه لم يكن ليصيبه.

ولقد ارتفعت نفوس الصحابة -رضوان الله عليهم- في ظلال هذا التصور الإيماني وسمت أرواحهم وأرهفت ضمائرهم حتى استوت في نظرهم السراء والضراء، وتماثل لديهم الشكر والصبر كما يقول عمر رضي الله عنه: "لو كان الصبر والشكر بعيرين ما باليت أيهما أركب".

ويقول أبو محمد الحريري: الصبر: ألا يفرق بين النعمة والمحنة مع سكون الخاطر فيهما؛ فقد سئل الإمام أحمد عن الرجل يكون معه مائة ألف دينار؛ هل يكون زاهدًا؟ قال: نعم، بشرط ألا يفرح إذا زادت، ولا يحزن إذا نقصت، وقال بعض السلف: الزاهد: من لا يغلب الحلال شكره ولا الحرامَ صبره.
মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুমিনের বিষয়টি কতই না চমৎকার! তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর। আর মুমিন ছাড়া অন্য কারো জন্য এমনটি হয় না: যদি সে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভ করে তবে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, যা তার জন্য কল্যাণকর হয়; আর যদি সে দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হয় তবে সে ধৈর্য ধারণ করে, যা তার জন্য কল্যাণকর হয়।"

মুমিন সেই ব্যক্তি যে বিপদের দিকে তাকিয়ে উপলব্ধি করে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফয়সালা, ফলে সে প্রশান্ত হয় এবং সন্তুষ্ট থাকে। সে তার প্রতিপালক ও স্রষ্টার প্রতি কোনো প্রকার অভিযোগ করার চেয়ে অধিক শিষ্টাচার প্রদর্শন করে। সে বিপদের পরিণাম ও এর বিনিময়ে প্রাপ্য সওয়াবের দিকে দৃষ্টি দেয়, ফলে সে সন্তুষ্ট থাকে ও ধৈর্য ধারণ করে। সহিহাইন-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "মানুষের মাঝে নবীদের পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন হয়, এরপর যারা মর্যাদায় তাদের নিকটবর্তী, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী। মানুষকে তার দ্বীনদারির স্তর অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়; যদি তার দ্বীনে দৃঢ়তা থাকে তবে সেই অনুপাতে তার পরীক্ষাও কঠিন হয়, আর যদি তার দ্বীনে শিথিলতা থাকে তবে তার পরীক্ষা সহজ করা হয়। এভাবে মানুষের ওপর বিপদ আপতিত হতে থাকে যতক্ষণ না সে জমিনে এমনভাবে বিচরণ করে যে তার ওপর আর কোনো পাপ অবশিষ্ট থাকে না।"

এখানে আলকামা (রাহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী—"আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোনো বিপদই আপতিত হয় না; আর যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, তিনি তার অন্তরকে হেদায়াত দান করেন"—এর ব্যাখ্যায় বলেন: "তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যাকে কোনো বিপদ স্পর্শ করলে সে জানে যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে, ফলে সে তাতে সন্তুষ্ট থাকে এবং তা মেনে নেয়।" ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "তিনি তার অন্তরকে সুনিশ্চিত বিশ্বাসের দিকে পরিচালিত করেন; ফলে সে উপলব্ধি করে যে, যা তাকে আক্রান্ত করেছে তা তাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তাকে পাশ কাটিয়ে গেছে তা তাকে আক্রান্ত করার ছিল না।"

এই ঈমানি ভাবধারার ছায়াতলে সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নফসসমূহ অত্যন্ত উচ্চতা লাভ করেছিল, তাদের রুহ হয়েছিল উন্নত এবং তাদের বিবেক হয়েছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল; এমনকি তাদের দৃষ্টিতে সুখ ও দুঃখ সমান হয়ে গিয়েছিল। কৃতজ্ঞতা ও ধৈর্য তাদের নিকট অভিন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যেমনটি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: "যদি ধৈর্য এবং কৃতজ্ঞতা দুটি উট হতো, তবে আমি পরোয়া করতাম না যে আমি কোনটির ওপর সওয়ার হচ্ছি।"

আবু মুহাম্মদ আল-হারিরি বলেন: "ধৈর্য হলো—মনের স্থিরতা বজায় রেখে নেয়ামত ও বিপদের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করা।" ইমাম আহমাদকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার কাছে এক লক্ষ দিনার রয়েছে; সে কি জাহিদ হতে পারবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, শর্ত হলো সম্পদ বৃদ্ধি পেলে সে যেন আনন্দিত না হয় এবং হ্রাস পেলে দুঃখিত না হয়।" জনৈক সালাফ (পূর্বসূরি) বলেছেন: "জাহিদ তো সেই ব্যক্তি, যার কৃতজ্ঞতাকে হালাল বস্তু পরাজিত করতে পারে না এবং যার ধৈর্যকে হারাম বস্তু পরাভূত করতে পারে না।"
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وكتب عمر بن الخطاب إلى أبي موسى الأشعري رضي الله عنهما: "أما بعد؛ فإن الخير كله في الرضا؛ فإن استطعت أن ترضى وإلا فاصبر"، وقال ابن عطاء: الرضا سكون القلب إلى قديم اختار الله للعبد أنه اختار له الأفضل.

هذا؛ والصبر واجب باتفاق العلماء، وأعلى من ذلك الرضا بحكم الله، وقيل عن الرضا: أنه واجب، وقيل: هو مستحب، وقد أجمع العلماء على أن حكمه لا يقل عن الاستحباب.

وأساس الرضا: الإيمان بقدر الله عز وجل كما تقدم، واستشعار للطف الله بعباده؛ قال عبد الواحد بن زيد: الرضا باب الله الأعظم وجنة الدنيا ومستراح العابدين، وأهل الرضا يلاحظون ثواب المبتلى وخيريته لعبده في البلاء، وأنه غير متهم في قضائه، وتارة يلاحظون ثواب الرضا بالقضاء فينسيهم ألم المقضي به، وتارة يلاحظون عظمة المبتلي وجلاله وكماله فيستغرقون في مشاهدة ذلك، حتى إنهم لا يشعرون بالألم؛ بل ربما يتلذذون بما أصابهم لملاحظة صدوره من حبيبهم.

والرضا والصبر اللذين يثمرهما الإيمان بالقدر إنما هما الرضا بالمقدور من المصائب والنوائب، والصبر على طاعة الله، والصبر عن معصيته، وعلى أنواع المكاره، وليس المقصود الرضا بالكفر والعصيان والفسوق عن أمر الله، ولا الصبر على الذل والضيم؛ فإن الله لا يرضى لعباده الكفر والمعصية والهوان؛ فليكن رضاك تبعًا لرضا ربك وصبرك في طاعة الله وفي سبيله.

إن الرضا بالقدر والصبر على البلاء: الطمأنينة إلى حكم الله عز وجل، فهو أهم القواعد التي يقام عليها السكن النفسي، وهي من أبرز الدوافع لانطلاق جميع الطاقة البشرية للعمل في هذه الأرض ضمن منهج الله عز وجل، فلا التفات للوراء ولا محطات للتحسر والندم، ولا "لو كان كذا وكذا لكان كذا وكذا"؛ ولكن قدر الله وما شاء فعل.
ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু মুসা আল-আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি লিখেছিলেন: "অতঃপর; নিশ্চয়ই সকল কল্যাণ সন্তুষ্টির (الرضا) মধ্যে নিহিত; সুতরাং তুমি যদি সক্ষম হও তবে সন্তুষ্ট থাকো, অন্যথায় ধৈর্য ধারণ করো।" ইবনে আতা বলেন: সন্তুষ্টি (الرضا) হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য অনাদিকাল থেকে যা মনোনীত করা হয়েছে তার প্রতি হৃদয়ের স্থিরতা, কেননা তিনি তার জন্য সর্বোত্তমটিই মনোনীত করেছেন।

বস্তুত; আলেমদের ঐকমত্যে ধৈর্য ধারণ করা আবশ্যিক (واجب), আর এর চেয়েও উচ্চতর স্তর হলো আল্লাহর ফয়সালার (حكم) প্রতি সন্তুষ্টি (الرضا)। সন্তুষ্টির (الرضا) বিষয়ে বলা হয়েছে যে এটি আবশ্যিক (واجب), আবার বলা হয়েছে এটি পছন্দনীয় (مستحب)। তবে উলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন যে, এর বিধান পছন্দনীয় হওয়ার (الاستحباب) চেয়ে কম নয়।

সন্তুষ্টির (الرضا) মূল ভিত্তি হলো পূর্বোল্লিখিত নিয়মে আল্লাহর তকদিরের (قدر) প্রতি ঈমান আনা এবং বান্দাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ অনুভব করা। আব্দুল ওয়াহিদ বিন যায়েদ বলেন: সন্তুষ্টি (الرضا) হলো আল্লাহর মহত্তম দ্বার, পার্থিব জান্নাত এবং ইবাদতকারীদের প্রশান্তিস্থল। সন্তুষ্টির (الرضا) অধিকারীগণ বিপদে পতিত ব্যক্তির সওয়াব এবং বিপদের মাঝে বান্দার প্রতি আল্লাহর কল্যাণ পর্যবেক্ষণ করেন, আর তারা বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ তাঁর ফয়সালার (قضاء) ক্ষেত্রে অভিযোগমুক্ত। কখনও কখনও তারা ফয়সালার (قضاء) প্রতি সন্তুষ্ট (الرضا) থাকার সওয়াবের দিকে দৃষ্টিপাত করেন, যা তাদের নির্ধারিত তকদিরের (المقضي به) যাতনা ভুলিয়ে দেয়। আবার কখনও তারা বিপদদাতার মহানুভবতা, মহিমা ও পূর্ণতা অবলোকন করেন এবং সেই পর্যবেক্ষণে এমনভাবে নিমগ্ন হয়ে যান যে তারা আর কোনো ব্যথা অনুভব করেন না; বরং অনেক সময় তারা নিজেদের বিপদের মাঝেও আনন্দ খুঁজে পান, যেহেতু তারা লক্ষ্য করেন যে এটি তাদের প্রিয় সত্তার পক্ষ থেকেই আগত।

তকদিরের (قدر) প্রতি ঈমানের মাধ্যমে যে সন্তুষ্টি (الرضا) ও ধৈর্য অর্জিত হয়, তা হলো মূলত বিপদ-আপদ ও বিপর্যয়ে নির্ধারিত বিষয়ের (المقدور) প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, আল্লাহর আনুগত্যের ওপর ধৈর্য ধারণ করা, নাফরমানি থেকে বিরত থাকতে ধৈর্য ধরা এবং সকল প্রকার কষ্টদায়ক পরিস্থিতির ওপর ধৈর্য ধারণ করা। এর উদ্দেশ্য আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে কুফর (كفر), পাপাচার ও ফাসেকির প্রতি সন্তুষ্ট থাকা নয়, আর না অবমাননা ও জুলুমের ওপর ধৈর্য ধারণ করা; কেননা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য কুফর (كفر), পাপাচার ও লাঞ্ছনা পছন্দ করেন না। সুতরাং আপনার সন্তুষ্টি (الرضا) যেন আপনার রবের সন্তুষ্টির অনুগামী হয় এবং আপনার ধৈর্য যেন আল্লাহর আনুগত্যে ও তাঁর পথে হয়।

নিশ্চয়ই তকদিরের (قدر) প্রতি সন্তুষ্টি (الرضا) এবং বিপদে ধৈর্য ধারণ করা হলো আল্লাহর ফয়সালার (حكم) প্রতি প্রশান্তি লাভ করা। এটি এমন এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি যার ওপর মনস্তাত্ত্বিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহর দেওয়া জীবনবিধানের অধীনে এই পৃথিবীতে যাবতীয় মানবিক শক্তিকে কর্মতৎপর করার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ফলে পেছনে ফিরে তাকানো, হাহাকার ও অনুশোচনায় লিপ্ত হওয়ার কোনো স্থান নেই, আর না আছে "যদি এমন হতো তবে তেমন হতো" বলার অবকাশ; বরং বিষয়টি হলো—"আল্লাহ তকদিরে (قدر) যা রেখেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন তা-ই করেছেন।"
(খণ্ড: ৩) উসুলুদ দাওয়াহ ওয়া তুরুকুহা ৩ - জামিয়াতুল মদীনা (পৃষ্ঠা: ৩৮)
ففي هذه العقيدة هدوء القلب وراحة البدن والنفس والأعصاب ومفارقة الهم والحزن؛ فلا تمزق نفسي ولا توتر عصبي ولا شذوذ ولا انفصام؛ وإنما رضا وسكينة وسعادة وراحة وطمأنينة وبرد اليقين وقرة العين وهناءة الضمير وانشراح الصدر والاطمئنان إلى رحمة الله وعدله وعلمه وحكمته؛ فهو الملاذ والمعاذ من الوسواس والهواجس.

إن الاعتقاد بعقيدة القدر يحدث في واقع الناس وفوق هذه الأرض نتائج إيجابية هائلة؛ وأما المجتمعات التي تركت هذه العقيدة وفرغت من الإيمان بالله وتدبيره لشئون الحياة والأحياء؛ فيصيبها في الآخرة خلود في العذاب المهين، وفي هذه الدنيا ضياع السعادة وتمزق الأعصاب وضنك العيش وتوتر الحياة مصداقًا لقوله تعالى: {فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى * وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا * وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى} (طه: 123، 125).

الإيمان بالقدر لا ينافي الأخذ بالأسباب:

ويجب ألا يغيب عن بالنا أننا مأمورون بالأخذ بالأسباب مع التوكل على الله عز وجل والإيمان أن بيده ملكوت كل شيء، والإيمان أن الأسباب لا تعطي النتائج إلا بإذن الله سبحانه وتعالى فالذي خلق الأسباب هو الذي خلق النتائج والثمار؛ فمن أراد النسل الصالح فلا بد أن يتخذ لذلك سببًا وهو الزواج الشرعي، ولكن هذا الزواج قد يعطي الثمار وهي النسل وقد لا يعطي؛ حسب إرادة العزيز الحكيم ومشيئة اللطيف الخبير: {يَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ الذُّكُورَ * أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا وَيَجْعَلُ مَنْ يَشَاءُ عَقِيمًا إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ} (الشورى: 49، 50).
এই আকিদাহ বা বিশ্বাসের (عقيدة) মধ্যে রয়েছে অন্তরের প্রশান্তি, শরীর, আত্মা ও স্নায়ুর আরাম এবং দুশ্চিন্তা ও শোক থেকে মুক্তি; এতে কোনো মানসিক অস্থিরতা, স্নায়বিক উত্তেজনা, বিচ্যুতি কিংবা ব্যক্তিত্বের বিভাজন নেই। বরং এতে রয়েছে সন্তুষ্টি, স্থৈর্য, সুখ, শান্তি, প্রশান্তি, দৃঢ় বিশ্বাসের (اليقين) শীতলতা, নয়নজুড়ানো আনন্দ, বিবেকের তৃপ্তি, বক্ষের প্রশস্ততা এবং আল্লাহর রহমত, ন্যায়বিচার, জ্ঞান ও হিকমতের ওপর পরম নির্ভরতা। তিনিই শয়তানের কুমন্ত্রণা ও নানাবিধ দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচার একমাত্র আশ্রয় ও শরণস্থল।

তকদির বা ভাগ্যের (القدر) প্রতি বিশ্বাস মানুষের বাস্তব জীবনে এবং এই পৃথিবীতে বিশাল ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে। আর যেসব সমাজ এই আকিদাহ (عقيدة) বর্জন করেছে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান ও জীবন ও জগতের বিষয়ে তাঁর ব্যবস্থাপনার প্রতি বিমুখ হয়েছে, পরকালে তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী লাঞ্ছনাকর শাস্তি। আর এই দুনিয়ায় তাদের প্রাপ্তি হলো সুখহীনতা, স্নায়বিক অস্থিরতা, সংকীর্ণ জীবন ও অশান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রা—যা মহান আল্লাহর বাণীরই প্রতিফলন: "অতঃপর যে আমার প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না। আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জীবন হবে সংকীর্ণ এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব।" (ত্বহা: ১২৩, ১২৫)।

তকদিরের প্রতি ঈমান (إيمان) রাখা উপায়-উপকরণ (الأسباب) অবলম্বনের পরিপন্থী নয়:

আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুল করার পাশাপাশি আমাদের উপায়-উপকরণ (الأسباب) গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে, সকল কিছুর রাজত্ব ও কর্তৃত্ব আল্লাহর হাতে এবং উপকরণসমূহ কেবল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনুমতিতেই ফলাফল প্রদান করে। কারণ যিনি উপকরণ সৃষ্টি করেছেন, তিনিই এর ফলাফল ও সুফল সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং, যে ব্যক্তি নেক সন্তান প্রত্যাশা করে, তাকে অবশ্যই এর বৈধ মাধ্যম গ্রহণ করতে হবে, আর তা হলো শরয়ি বিবাহ। তবে এই বিবাহের ফলে সন্তান লাভ হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে; এটি মহাপ্রতাপশালী প্রজ্ঞাময় ও সূক্ষ্মদর্শী মহাজ্ঞানীর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল: "তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র দান করেন। অথবা তাদের দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা তিনি বন্ধ্যা করে দেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।" (আশ-শূরা: ৪৯, ৫০)।