(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: -)
أبو بكر الباقلاني ومفهومه للإعجاز القرآني   (أحمد جمال العمري)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: أبو بكر الباقلاني ومفهومه للإعجاز القرآني

المؤلف: أحمد جمال العمري

الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة

الطبعة: السنة التاسعة - العدد الثالث- ذو الحجة 1396هـ / ديسمبر 1976م

عدد الصفحات: 22

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু বকর আল-বাকিল্লানি এবং কুরআনের অলৌকিকত্ব সম্পর্কে তাঁর ধারণা   (আহমদ জামাল আল-উমারি)

বিভাগ: কুরআনের জ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি


গ্রন্থ: আবু বকর আল-বাকিল্লানি এবং কুরআনের অলৌকিকত্ব সম্পর্কে তাঁর ধারণা

লেখক: আহমদ জামাল আল-উমারি

প্রকাশক: ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা

সংস্করণ: নবম বর্ষ - তৃতীয় সংখ্যা- যিলহজ ১৩৯৬ হিজরি / ডিসেম্বর ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مدخل

…

أبو بكر الباقلاني ومفهومه للإعجاز القرآني

بقلم الدكتور أحمد جمال العمري الأستاذ المساعد بكلية الدعوة وأصول الدين

يمثّل الباقلاني1- بمفهومه للإعجاز القرآني، وبمؤلّفه (إعجاز القرآن) - وجهة نظر جماعة المسلمين. ويعدّ كتابه هذا أول كتاب يصنفه عالم من علماء السلف في الرد على مزاعم الملحدين والمخالفين من الرافضة والمعتزلة والجهمية والخوارج وغيرهم، لذلك بلغ بهذا الكتاب مكانة مرموقة، وشهرة ذائعة، لم يصل إليها أحد غيره.

وقبل أن نتحدث عن مفهوم الباقلاني للإعجاز القرآني.. نوَدُّ أولا أن نتعرف عليه.

--------------------------------------------

1 في رأيي أن الباقلاني مادة خصبة للبحث والدارسة لذا سنخصه ببحث مستقل يبرز الجوانب الدينية في شخصية الرجل، ويركز على المسائل العلمية التي تناولها إن شاء الله.

انظر ترجمته في: تاريخ بغداد 5/379، وفيات الأعيان 3/400، شذرات الذهب 3/161، وضات الجنات 4/616، النجوم الزاهرة 4/234، الأنساب 61، الديباج المذهّب لابن فرحون 267.

وانظر في مذهبه: طبقات السبكي 2/255 - 256.

وقد طبع كتاب إعجاز القرآن عدة طبعات … آخرها بشرح وتعليق محمد عبد المنعم خفاجي - وطبعة أخرى أصدرتها دار المعارف بمصر.
ভূমিকা

…

আবু বকর আল-বাকিল্লানি এবং কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) সম্পর্কে তাঁর ধারণা

লিখেছেন ড. আহমদ জামাল আল-ওমারি, সহযোগী অধ্যাপক, দাওয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদ

আল-বাকিল্লানি ১- কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) সংক্রান্ত তাঁর ধারণা এবং তাঁর রচিত গ্রন্থ (ইজাজুল কুরআন)-এর মাধ্যমে মুসলিম জামাতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। সালাফ (سلف) আলেমদের মধ্যে তাঁর এই গ্রন্থটিই প্রথম হিসেবে গণ্য করা হয় যা নাস্তিক এবং রাফেজি, মুতাজিলা, জাহমিয়া ও খারিজিদের মতো বিরোধীদের বিভ্রান্তিকর দাবির খণ্ডনে রচিত। এই কারণে গ্রন্থটি এমন এক সুউচ্চ মর্যাদা ও ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেছে, যা তাঁর আগে অন্য কেউ অর্জন করতে পারেননি।

আল-বাকিল্লানির কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) সংক্রান্ত ধারণা সম্পর্কে আলোচনার পূর্বে আমরা প্রথমে তাঁর সম্পর্কে জেনে নিতে চাই।

--------------------------------------------

১ আমার মতে, আল-বাকিল্লানি গবেষণা ও পর্যালোচনার জন্য একটি সমৃদ্ধ উপাদান, তাই আমরা ইনশাআল্লাহ তাঁর জন্য একটি স্বতন্ত্র গবেষণা পরিচালনা করব যা এই ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের ধর্মীয় দিকগুলো ফুটিয়ে তুলবে এবং তাঁর আলোচিত জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়াবলির ওপর আলোকপাত করবে।

তাঁর জীবনী (ترجمة) দেখুন: তারিখ বাগদাদ ৫/৩৭৯, ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/৪০০, শাযারাতুয যাহাব ৩/১৬১, রওজাতুল জান্নাত ৪/৬১৬, আন-নুজুম আয-যাহিরা ৪/২৩৪, আল-আনসাব ৬১, ইবনুল ফারহুনের আদ-দিবাজুল মুযাহহাব ২৬৭।

তাঁর মাযহাব (مذهب) সম্পর্কে দেখুন: তাবাকাতুস সুবকি ২/২৫৫ - ২৫৬।

ইজাজুল কুরআন গ্রন্থটি বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে … যার সর্বশেষ সংস্করণটি মুহাম্মদ আব্দুল মুনইম খাফাজির ব্যাখ্যা ও টীকা সম্বলিত - এবং মিসরের দারুল মাআরিফ থেকে প্রকাশিত অপর একটি সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌اسمه: محمد بن الطيب بن محمد بن جعفر بن القاسم. أبو بكر القاضي الباقلاني البصري المتكلم الفقيه.

الباقلاني نسبة إلى الباقلي وبيعه والبصري لأنه نشأ في البصرة وقضى فيها فترة شبابه قبل أن يهاجر منها إلى بغداد ليقيم فيها بقية حياته والمتكلم لأنه اتجه إلى علم الكلام نظرا لكثرة الملحدين في العراق في القرن الرابع الهجري وظهور مذهب أبي حسن الأشعري ودفاعه عن آرائه وجداله الشديد للمعتزلة وأنصاره يقولون إنه أعرف الناس بعلم الكلام، وأحسنهم خاطراً، وأجودهم لسانا، وأوضحهم بيانا، وأصحهم عبارة.. وله في كتب الكلام آراء كثيرة يعتد بها.

والفقيه.. لأنه كان من كبار فقهاء المذهب المالكي..

ويعد الباقلاني فيلسوف المذهب الأشعري، الذي بلور آراءه، ونفّذ تعاليمه، يقول ابن تيمية: "إنه أفضل المتكلمين المنتسبين إلى أبي الحسن الأشعري وليس فيهم مثله لا قبله ولا بعده1"، "عمل على نصرة المذهب، وصار إماما له بعد أن تناوله بالتهذيب، وضع لمسائل العلم المقدمات العقلية التي تتوقف عليها الأدلة، وذلك مثل إثبات الجوهر الفرد والخلاء، وأن العرض لا يبقى زمانين، وجعل هذه القواعد تبعا للعقائد الدينية في وجوب اعتقادها.. لتوقف تلك الأدلة - في رأيه – عليها؛ ولأن بطلان الدليل يؤذن - يما يقول- ببطلان المدلول2". وكان –كما يقول الشهرستاني: "يثبت الصفات معاني قائمة به تعالى أحوالا3".

--------------------------------------------

2 الباقلاني – بفتح الباء الموحدة، وبعد الألف قاف مكسورة ثم لام ألف وبعدها نون، فيه لغتان من شدد اللام قصرالألف، ومن خففها مد الألف فقال: باقلاء وهذه النسبة شاذة لأجل زيادة النون فيها.

3 أسس أبو الحسن الأشعري "270 – 330هـ" مدرسة كبيرة من مدارس علم الكلام، وخالف أستاذه الجبائي المعتزلي.

وكان الباقلاني من أشهر تلاميذ هذه المدرسة. ومعروف أن للأشعري ثلاثة مذاهب:

1- كان معتزليا ينكر جميع الصفات.

2- ثم صار كلابيا من أتباع محمد بن سعيد بن كلاب يؤمن بسبع صفات فقط.

3- ثم رجع إلى العقيدة السلفية على يد شيخه الحافظ زكريا الساجي تلميذ الإمام أحمد بن حنبل، يؤمن بجميع صفات الله الذاتية والفعلية والخبرية على الأسس الثلاثة التالية:

أ- تنزيه الله عن مشابهة المخلوقات في ذاته وفي صفاته وفي أسمائه كما في قوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} .

ب- إثبات كل ما وصف الله به نفسه أو وصفه به رسول الله صلى الله عليه وسلم على الوجه اللائق بكلامه وجلاله كما في قوله عز من قائل: {وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} .

ج- اليأس وعدم الطمع من إدراك كيفية صفات الله وأسمائه كما في قوله سبحانه: {وَلا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْماً} هكذا في كتابيه اللذين أجمع العلماء والمؤرخون على أنهما آخر ما كتب: (الإبانة عن أصول الديانة) و (المقالات الإسلامية) .. لذلك لزم التنويه.. "انظر كتاب: أبو الحسن الأشعري" من مطبوعات الجامعة الإسلامية.

1 شذرات الذهب 3/169 طبع القدسي سنة 1350هـ

2 مقدمة ابن خلدون ص369 طبع مطبعة التقدم سنة 1322 هـ.

3 الملل والنحل 2/129 نشر أحمد فهمي.
নাম: মুহাম্মদ বিন আল-তায়্যিব বিন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আল-কাসিম। আবু বকর আল-কাজি আল-বাকিল্লানি আল-বাসরি, ধর্মতত্ত্ববিদ (متكلم), ফকিহ (فقيه)।

বাকিল্লানি শব্দটি বাকিল্লা (باقلي) এবং তা বিক্রির সাথে সম্পর্কিত একটি সম্বন্ধ (نسبة)। তাঁকে বাসরি বলা হয় কারণ তিনি বসরায় বেড়ে উঠেছেন এবং জীবনের পরবর্তী সময়ে বাগদাদে হিজরত করে স্থায়ীভাবে বসবাস করার আগে তাঁর যৌবনের একটি দীর্ঘ সময় সেখানেই অতিবাহিত করেছেন। তাঁকে ধর্মতত্ত্ববিদ (متكلم) বলা হয় কারণ তিনি ইলমুল কালামের (علم الكلام) দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন। এর কারণ ছিল হিজরি চতুর্থ শতাব্দীতে ইরাকে নাস্তিকদের আধিক্য এবং আবু হাসান আল-আশারির মাজহাবের (مذهب) আবির্ভাব এবং তাঁর (আশারির) মতামতের প্রতিরক্ষা ও মুতাজিলাদের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর বিতর্ক। তাঁর সমর্থকরা বলতেন যে, তিনি ইলমুল কালাম (علم الكلام) শাস্ত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ, সবচেয়ে উপস্থিত বুদ্ধিসম্পন্ন, সবচেয়ে বাগ্মী, সবচেয়ে স্পষ্টভাষী এবং বর্ণনায় সবচেয়ে নির্ভুল ছিলেন। ইলমুল কালামের (علم الكلام) কিতাবগুলোতে তাঁর অনেক গ্রহণযোগ্য মতামত রয়েছে।

আর তিনি ফকিহ (فقيه), কারণ তিনি মালিকি মাজহাবের (المذهب المالكي) প্রথিতযশা ফকিহদের (فقهاء) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

আল-বাকিল্লানিকে আশারি মাজহাবের দার্শনিক হিসেবে গণ্য করা হয়, যিনি এর মতাদর্শকে সুসংগঠিত করেছেন এবং এর শিক্ষাগুলো বাস্তবায়ন করেছেন। ইবনে তাইমিয়া বলেন: "তিনি আবু হাসান আল-আশারির অনুসারী ধর্মতত্ত্ববিদদের (متكلمين) মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তাঁদের মধ্যে তাঁর মতো দ্বিতীয় কেউ আগে বা পরে আসেনি।" তিনি এই মাজহাবের সহায়তায় কাজ করেছেন এবং একে পরিমার্জন করার পর এর ইমাম (إمام) হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি ইলম (علم) সংক্রান্ত মাসআলাগুলোর জন্য এমন কিছু যৌক্তিক ভূমিকা স্থাপন করেছেন যার ওপর দলীলসমূহ (أدلة) নির্ভরশীল। যেমন: অবিভাজ্য কণা (الجوهر الفرد) ও শূন্যতা (الخلاء) প্রমাণ করা এবং এই যে, আকস্মিক গুণ (عرض) একই অবস্থায় দুই সময় অতিবাহিত করে না। তিনি এই নীতিগুলোকে ধর্মীয় আকিদার (العقائد) অনুগামী করেছেন এই বিশ্বাসে যে—তাঁর মতে—দলীলসমূহ (أدلة) এগুলোর ওপর নির্ভরশীল; আর দলীলের অসারতা নির্দেশিত বিষয়েরও (مدلول) অসারতার প্রমাণ দেয়। শাহরাস্তানি যেমনটি বলেন: "তিনি সিফাতসমূহকে (صفات) আল্লাহর সত্তার সাথে বিদ্যমান এমন অর্থ হিসেবে সাব্যস্ত করতেন যা অবস্থা (أحوال) হিসেবে বিবেচিত।"

--------------------------------------------

২. বাকিল্লানি — 'বা' বর্ণে ফাতহা, আলিফের পরে কাসরাযুক্ত 'কাফ', তারপর 'লাম' ও আলিফ এবং সবশেষে 'নুন'। এতে দুটি ভাষাগত রূপ আছে; যারা 'লাম' বর্ণে তাশদিদ দেন তারা আলিফকে সংক্ষিপ্ত করেন, আর যারা তাশদিদ দেন না তারা আলিফকে দীর্ঘ করেন এবং বলেন: বাকিল্লা (باقلاء)। এই নিসবাহ (نسبة) বা সম্বন্ধটি বিরল (شاذة) কারণ এতে অতিরিক্ত 'নুন' যুক্ত হয়েছে।

৩. আবু হাসান আল-আশারি (২৭০ – ৩৩০ হিজরি) ইলমুল কালামের (علم الكلام) একটি বড় পাঠশালা বা মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি তাঁর শিক্ষক জুব্বাঈ মুতাজিলির বিরোধিতা করেন।

আল-বাকিল্লানি ছিলেন এই পাঠশালার অন্যতম বিখ্যাত ছাত্র। এটি সুপরিচিত যে আল-আশারির তিনটি মাজহাব (مذاهب) বা পর্যায় ছিল:

১- তিনি মুতাজিলি (معتزلي) ছিলেন এবং তখন আল্লাহর সমস্ত সিফাত (صفات) অস্বীকার করতেন।

২- এরপর তিনি মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন কুল্লাবের অনুসারী হিসেবে কুল্লাবি (كلابي) হন এবং তখন মাত্র সাতটি সিফাতের (صفات) ওপর ঈমান রাখতেন।

৩- এরপর তিনি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের ছাত্র হাফেজ (حافظ) জাকারিয়া আল-সাজির মাধ্যমে সালাফি আকিদায় (العقيدة السلفية) ফিরে আসেন। তিনি আল্লাহর সমস্ত সত্তাগত (ذاتية), কর্মগত (فعلية) এবং বর্ণনামূলক (خبرية) সিফাতসমূহের (صفات) ওপর নিম্নলিখিত তিনটি মূলনীতির ভিত্তিতে ঈমান আনতেন:

ক- আল্লাহর সত্তা, সিফাত (صفات) ও নামসমূহে (أسماء) মাখলুক বা সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে তাঁকে পবিত্র (تنزيه) ঘোষণা করা, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই}।

খ- আল্লাহ নিজের জন্য যে সকল সিফাত (وصف) বর্ণনা করেছেন বা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য যা বর্ণনা করেছেন, তাঁর কালাম ও মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ পন্থায় সেগুলোকে সাব্যস্ত (إثبات) করা, যেমন মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: {এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা}।

গ- আল্লাহর সিফাত (صفات) ও নামসমূহের (أسماء) প্রকৃতি (كيفية) অনুধাবন করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করা, যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না}। তাঁর লেখা দুটি কিতাব যা আলেম ও ঐতিহাসিকগণ তাঁর জীবনের শেষ রচনা হিসেবে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, সেগুলো হলো: ইবানাহ আন উসুল আদ-দিয়ানা এবং আল-মাকালাত আল-ইসলামিয়া। তাই এই বিষয়টি উল্লেখ করা প্রয়োজন। দেখুন: 'আবু হাসান আল-আশারি' কিতাব, যা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত।

১. শাজারাতুয যাহাব ৩/১৬৯, কুদসি প্রকাশনী, ১৩৫০ হিজরি।

২. মুকাদ্দিমা ইবনে খালদুন, পৃ. ৩৬৯, তাকদ্দুম প্রকাশনী, ১৩২২ হিজরি।

৩. আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ২/১২৯, আহমাদ ফাহমি সম্পাদিত।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌ذكاؤه وقوة لَسْنُه:

تتحدث المصادر كثيرا عن ذكاء الباقلاّني، وقوة لسنة وحجته، وسرعة بديهته، وإقحامه للخصوم.. أرسله
তাঁর মেধা ও বাগ্মিতা:

আল-বাকিল্লানির মেধা, তাঁর বাকপটুতা ও প্রমাণের (حجة) শক্তি, তাঁর তাৎক্ষণিক প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব এবং প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করার বিষয়ে উৎসসমূহ প্রচুর বর্ণনা প্রদান করে... তাঁকে প্রেরণ করা হয়েছিল
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ৯)
عضد الدولة في سفارة رسمية إلى ملك الروم عام 371هـ فأدخلوه وهو في عاصمة الروم على بعض القسس، فقال الباقلاني للبابا:

كيف أنت وكيف الأهل والأولاد؟ فتعجب البابا وقال له: ذكر من أرسلك في كتاب الرسالة، أنك لسان الأمة، ومتقدم على علماء الملة.. أما علمت أن المطارنة والرهبان منزهون عن الأهل والأولاد؟ فأجابه الباقلاني: رأيناكم لا تنزهون الله سبحانه عن الأهل والأولاد.. فهل المطارنة عندكم أقدس وأجلّ وأعلى من الله سبحانه؟

فأراد كبير الروم أن يخزي القاضي الباقلاني، فقال له: أخبرني عن قصة عائشة زوج نبيّكم وما قيل فيها؟ فأجابه: هما اثنتان قيل فيهما ما قيل، زوج نبينا، ومريم أم المسيح، فأما زوج نبينا فلم تلد.. وأما مريم فجاءت بولد تحمله على كتفها، وقد برأهما الله مما رميتا به.. فانقطع الرومي ولم يحر جوابا1!!.

ولقد ذكرت المصادر أن الباقلاني كان في علمه أوحد زمانه، وانتهت إليه الرياسة في مذهبه، وكان موصوفا بجودة الاستنباط وسرعة الجواب، كثير التطويل في المناظرة.. أكسبته عقليته الفذة منزلة رفيعة، ومكانة مرموقة على المستوى العلمي والرسميّ.

"جرى يوما بينه وبين أبي سعيد الهاروني مناظرة، وأكثر القاضي أبو بكر فيها الكلام، ووسع العبارة، وزاد في الإسهاب، ثم التفت إلى الحاضرين وقال: "اشهدوا علي أنه إن أعاد ما قلت لا غير.. لم أطالبه بالجواب.." فقال الهاروني: اشهدوا عليّ أنه إن أعاد كلام نفسه سلمت له ما قال"2.

--------------------------------------------

1 وفيات الأعيان 3/400 وانظر أيضا قصته مع ملك الروم تاريخ بغداد 5/279.

2 وفيات الأعيان 3/404 وانظر مناظرته للمعتزلة في مجلس عضد الدولة في نفس المصدر، وانظر آراءه في روضات الجنات ص616، وفي أول رسالة البصائر من علم الكلام للكردى.
৩৭১ হিজরিতে আযুদুদ্দৌলা রোম সম্রাটের কাছে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি দল পাঠান। রোমের রাজধানীতে থাকাকালীন তারা তাকে কয়েকজন পাদ্রীর কাছে নিয়ে যান। তখন বাকিল্লানি পোপকে উদ্দেশ্য করে বললেন:

"আপনার কী অবস্থা এবং আপনার পরিবার ও সন্তানাদি কেমন আছে?" পোপ বিস্মিত হয়ে তাকে বললেন: "যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তিনি পত্রের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন যে, আপনি এই উম্মতের (أمة) মুখপাত্র এবং এই মিল্লাতের (ملة) আলেমদের (علماء) মধ্যে অগ্রগণ্য... আপনি কি জানেন না যে বিশপ এবং সন্ন্যাসীরা পরিবার ও সন্তানাদি থেকে পবিত্র?" বাকিল্লানি তাকে উত্তর দিলেন: "আমরা তো দেখছি আপনারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে পরিবার ও সন্তানাদি থেকে পবিত্র মনে করেন না... তাহলে আপনাদের নিকট বিশপগণ কি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার চেয়েও অধিক পবিত্র, মহান এবং উচ্চতর?"

অতঃপর রোমের অধিপতি বিচারপতি (قاضي) বাকিল্লানিকে অপদস্থ করতে চাইলেন। তিনি তাকে বললেন: "আপনার নবীর স্ত্রী আয়েশার কাহিনী এবং তার সম্পর্কে যা বলা হয়েছিল সে সম্পর্কে আমাকে বলুন?" তিনি উত্তর দিলেন: "দুজন নারী ছিলেন যাদের সম্পর্কে অপবাদ দেওয়া হয়েছিল—আমাদের নবীর স্ত্রী এবং ঈসা মাসীহের মাতা মারইয়াম। আমাদের নবীর স্ত্রী কোনো সন্তান জন্ম দেননি... আর মারইয়াম একটি সন্তান নিয়ে এসেছিলেন যা তিনি তার কাঁধে বহন করছিলেন। আল্লাহ তাদের উভয়কেই সেই অপবাদ থেকে নির্দোষ প্রমাণ করেছেন যা তাদের প্রতি আরোপ করা হয়েছিল।" এতে রোমান সম্রাট বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন এবং কোনো উত্তর দিতে পারলেন না ১!!

ঐতিহাসিক সূত্রসমূহে উল্লেখ আছে যে, বাকিল্লানি তার যুগের ইলম বা জ্ঞানে অনন্য ছিলেন এবং তার মাযহাবের নেতৃত্ব তার ওপরই সমাপিত হয়েছিল (অর্থাৎ তিনি শীর্ষস্থানে ছিলেন)। তিনি সূক্ষ্ম মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) এবং দ্রুত উত্তর প্রদানের গুণে গুণান্বিত ছিলেন। তিনি বিতর্ক (مناظرة) করার সময় অনেক দীর্ঘ আলোচনা করতেন। তার প্রখর মেধা তাকে ইলমি ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এক উচ্চ ও সম্মানজনক অবস্থানে আসীন করেছিল।

"একদিন তার এবং আবু সাঈদ আল-হারুনির মধ্যে একটি বিতর্ক (مناظرة) চলছিল। বিচারপতি (قاضي) আবু বকর তাতে দীর্ঘ বক্তব্য রাখলেন, শব্দশৈলী বিস্তৃত করলেন এবং আলোচনায় অতিশয় দীর্ঘসূত্রিতা করলেন। এরপর তিনি উপস্থিতদের দিকে লক্ষ্য করে বললেন: 'আপনারা সাক্ষী থাকুন যে, তিনি যদি আমার বলা কথাগুলো অবিকল পুনরাবৃত্তি করতে পারেন... তবে আমি তার কাছে কোনো উত্তর দাবি করব না।' তখন আল-হারুনি বললেন: 'আপনারা সাক্ষী থাকুন যে, তিনি যদি নিজের বলা কথাগুলোই পুনরায় বলতে পারেন, তবে আমি তার কথা মেনে নেব'।" ২

--------------------------------------------

১ ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/৪০০ এবং রোম সম্রাটের সাথে তার কাহিনীর জন্য আরও দেখুন তারিখ বাগদাদ ৫/২৭৯।

২ ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/৪০৪ এবং একই উৎসে আযুদুদ্দৌলার মজলিসে মুতাজিলাদের সাথে তার বিতর্ক (مناظرة) দেখুন। এছাড়াও রওজাতুল জান্নাত পৃষ্ঠা ৬১৬ এবং আল-কুরদি রচিত রিসালাতুল বাসাইর এর শুরুতে ইলমুল কালাম (علم الكلام) সংক্রান্ত আলোচনায় তার মতামতের জন্য দেখুন।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌شيوخه ومعاصروه:

تلمذ الباقلاني على مجموعة من العلماء كان لهم أكبر الأثر في تغذية عقليته، وصقل موهبته، وتنوع اهتماماته العلمية، منهم:

ابن مجاهد الطائي، وعنه أخذ علم الكلام والفقه المالكي وأصوله.

والشيخ الصالح أبو الحسن الباهلي الذي أخذ عنه علم الأشعري.

ومحمد الأبهري المالكي، والحسين
তাঁর শিক্ষকবৃন্দ ও সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ:

আল-বাকিলানি একদল আলিমের নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন, যারা তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক গঠন, মেধার বিকাশ এবং তাঁর বৈচিত্র্যময় জ্ঞানতাত্ত্বিক আগ্রহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

ইবনে মুজাহিদ আল-তাঈ; যাঁর নিকট থেকে তিনি ইলমুল কালাম (علم الكلام) এবং মালিকি ফিকহ (الفقه) ও এর উসুল (أصول) শিক্ষা করেন।

এবং পুণ্যবান শায়খ (الشيخ) আবুল হাসান আল-বাহিলি, যাঁর নিকট থেকে তিনি আশআরি মতবাদ (الأشعري) গ্রহণ করেন।

এবং মুহাম্মদ আল-আভহারি আল-মালিকি ও আল-হুসাইন...
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ১০)
النيسابوري، وأبو بكر بن مالك، وأبو محمد بن ماسي، والقطيعي وغيرهم من أعلام القرن الرابع الهجري في الدين والشريعة1.

كما عاصر الباقلاني مجموعة غير قليلة من العلماء النابهين الذين كان لهم شأنهم في تيار الثقافة الإسلامية، من هؤلاء: إبراهيم بن محمد الإسفراييني (توفي سنة 418?) ، وأبو بكر محمد بن الحسن فورك "توفي سنة 406?" وغيرهما من الأعلام الذين شهد لهم بالمقدرة العلمية. وقد وصفهم الصاحب ابن عباد بقوله: "ابن الباقلاني بحر مغرق، وابن فورك صل مطرق2 والإسفراييني نار تحرق."

--------------------------------------------

1 انظر طبقات السبكي ج2/257.

2 الصل: الحية العظيمة.
নাইসাপুরী, আবু বকর বিন মালিক, আবু মুহাম্মদ বিন মাসি, আল-কাতিয়ি এবং দ্বীন ও শরীয়তের ক্ষেত্রে হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর অন্যান্য প্রথিতযশা (أعلام) ব্যক্তিত্বগণ।১

অনুরূপভাবে আল-বাকিল্লানি এমন একদল প্রতিভাবান আলেমের সমসাময়িক ছিলেন, ইসলামি সংস্কৃতির ধারায় যাঁদের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-ইসফারায়িনি (মৃত্যু ৪১৮ হিজরি?), আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হাসান ফুরাক (মৃত্যু ৪০৬ হিজরি?) এবং অন্যান্য প্রথিতযশা (أعلام) মনীষী, যাঁদের জ্ঞানতাত্ত্বিক যোগ্যতার সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। সাহিব ইবনে আব্বাদ তাঁদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: "ইবনে আল-বাকিল্লানি এক অতল সমুদ্র, ইবনে ফুরাক এক স্থির সর্প২ এবং আল-ইসফারায়িনি এক প্রজ্বলিত অগ্নি।"

--------------------------------------------

১ দেখুন: তাবাকাতুস সুবকি, ২/২৫৭।

২ আস-সিল (الصل): বিশাল আকৃতির সাপ।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌تلاميذه:

أما تلاميذه فهم كثيرون.. يكفي أن نعلم أن الرجل كان يبذل علمه في جامع المنصور ببغداد حيث كانت له حلقة كبيرة، يتحلق فيها مقدرو علمه وطالبو فضله. بيد أن أشهر تلاميذه ما ذكرتهم المصادر القديمة وهم أبو عبد الله الأزدي، وأبو طاهر البغدادي اللذان هاجرا إلى المغرب العربي – القيروان – ونشرا علمه هناك.
তাঁর ছাত্রগণ:

তাঁর ছাত্রের সংখ্যা অনেক। এতটুকুই জানা যথেষ্ট যে, এই মহান ব্যক্তি বাগদাদের জামে আল-মানসুরে স্বীয় জ্ঞান বিতরণ করতেন, যেখানে তাঁর একটি বিশাল পাঠচক্র বিদ্যমান ছিল; সেখানে তাঁর ইলমের কদরকারী এবং জ্ঞানান্বেষীরা সমবেত হতেন। তবে প্রাচীন উৎসসমূহে বর্ণিত তাঁর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-আজদি এবং আবু তাহির আল-বাগদাদি, যারা মাগরিবুল আরাবি তথা কাইরুয়ানে হিজরত করেছিলেন এবং সেখানে তাঁর ইলম প্রচার করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌آثاره:

أنتجت عقلية الباقلاني مجموعة كثيرة من الكتب الدينية ذات الصبغة الكلامية، والتي تتناول الرد على المخالفين والملحدين والمتفلسفين. يقولون أنه صنف سبعين ألف ورقة في الدفاع عن الدين.. كل ليلة خمسة وثلاثين ورقة، كل ذلك إظهاراً لعلم الرجل، وإبرازاً لمكانته الدينية والعلمية، بيد أن أشهر كتبه على الإطلاق هو كتابه (إعجاز القرآن) الذي حدّد فيه مفهومه للإعجاز القرآني وقد طبع هذا الكتاب مراراً في القاهرة.

ويروى أن له كتابا في (الملل والنحل) وكتابا آخر ذكره صاحب كشف الظنون واسمه (هداية المسترشدين في الكلام) كما ذكرت المصادر له (كتاب الانتصار) و (كتاب التمهيد في الرد على الملحدة والمعطلة والرافضة والخوارج) وقد نشر الكتاب الأخير الأستاذان محمود محمد الخضري ومحمد عبد الهادي أبو ريدة.
তাঁর রচনাবলি:

আল-বাকিল্লানির প্রজ্ঞা কালামশাস্ত্রীয় ঘরানার প্রচুর ধর্মীয় গ্রন্থ উপহার দিয়েছে, যেগুলোতে মূলত বিরুদ্ধবাদী, নাস্তিক ও দার্শনিকদের খণ্ডন করা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি দ্বীনের প্রতিরক্ষায় সত্তর হাজার পৃষ্ঠা রচনা করেছেন—প্রতি রাতে পঁয়ত্রিশ পৃষ্ঠা করে। এই সুবিশাল কর্মযজ্ঞ মূলত তাঁর পাণ্ডিত্য এবং তাঁর ধর্মীয় ও জ্ঞানতাত্ত্বিক সুউচ্চ মর্যাদাই ফুটিয়ে তোলে। তবে তাঁর সকল গ্রন্থের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো ‘ইজাজুল কুরআন’, যাতে তিনি কুরআনের অলৌকিকত্বের ধারণা সুনির্দিষ্ট করেছেন। এই গ্রন্থটি কায়রো থেকে বহুবার মুদ্রিত হয়েছে।

বর্ণিত আছে যে, ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’ বিষয়ে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে। এছাড়া ‘কাশফুয যুনুন’-এর লেখক তাঁর আরেকটি কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন যার নাম ‘হিদায়াতুল মুসতারশিদিন ফিল কালাম’। বিভিন্ন উৎস থেকে তাঁর আরও দুটি গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়: ‘কিতাবুল ইনতিসার’ এবং ‘কিতাবুত তামহীদ ফির রাদ্দি আলাল মুলহিদা ওয়াল মুয়াত্তিলা ওয়ার রাফিদা ওয়াল খওয়ারিজ’। শেষোক্ত কিতাবটি উস্তাদ মাহমুদ মুহাম্মদ আল-খুদারি এবং মুহাম্মদ আব্দুল হাদি আবু রিদাহ সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌وفاته:

مات القاضي أبو بكر محمد بن الطيب في يوم السبت لسبع بقين من ذي القعدة سنة ثلاث وأربعمائة (403هـ) رحمه الله.
তাঁর ইন্তেকাল:

কাজী আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-তাইয়িব চারশত তিন (৪০৩) হিজরি সনের যিলকদ মাসের সাত দিন বাকি থাকতে শনিবার দিনে মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مفهوم الباقلاني للإعجاز القرآني

وهب الباقلاني حياته وعلمه للدفاع عن عقيدة السلف، والرد على المخالفين والملحدين من الجهمية والمعتزلة والخوارج وغيرهم. وتعدّ آراء الباقلاني في كتابه (عجاز القرآن) الترجمة العلمية لما جال في خاطره، ولما اعتمل في ذهنه من أمور، حيث وجد أن أنسب ما يمكن أن يقال، هو التأليف حول إعجاز القرآن، وما يربط بهذا الإعجاز من مفاهيم ومضامين، فجاء كتابه من أفضل الكتب العلمية التي تناولت هذا الموضوع.. معبراً عن آراء السلف من علماء القرن الرابع.

لقد اعتبر الرجل تأليفه لهذا الكتاب واجباً دينيا في المرتبة الأولى.. إلى جانب كونه واجبا علميا، لذلك لم يدخر وسعاً، وهو بصدد تحليلاته..من أن يعمق البحث، ويكثر من المناقشة، ويتطرق إلى الكثير من المسائل التي تهمه وتهم الناس، وفي الوقت نفسه ترد على مظان الظانين، وتبطل أقوال الطاعنين.

حدد الباقلاني في فاتحة كتابه.. منهجه في البحث، وغايته منه، بأنه يرمي من وراء ذلك إلى عدة أمور..

- كشف ما كان لأصل الدين قواما.. ولقاعدة التوحيد عماداً ونظاماً.

- وإثبات أن ما جاء به النبي صدقا وبرهانا، ولمعجزته ثبتا وحجة، للرد على ما طعن فيه الطاعنون والملحدون حول أصول الدين.

- ثم نفي كل ما تقوّله المتقولون عن معادلة القرآن وموازنته بالشعر.. اعتمادا على ما توارثوه من أقوال ملحدة قريش وغيرهم.

فإذا ما انتهى من تحديد منهجه وعناصر بحثه، انتقل إلى تفصيل دقائقها حتى يمكنه إحكام القول في هذا الشأن. لذلك قسّم الباقلاني بحثه في إعجاز القرآن.. إلى أربع مراحل أساسية، كل مرحلة توصل إلى ما بعدها وترتبط بها، حتى يتسم عمله بطابع الوضوح، والتكامل الموضوعي والعلمي في آن واحد.

1- مرحلة التمهيد.

2- مرحلة التفنيد.

3- مرحلة التحديد.

4- مرحلة التأييد.

في المرحلة الأولى: جعل هدفه تنشيط الهمم وتحفيزها على تدارك كتاب الله ثم الدفاع عنه وردّ كل ما أذيع
কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) সম্পর্কে আল-বাকিল্লানির ধারণা

আল-বাকিল্লানি তার জীবন ও জ্ঞানকে পূর্বসূরিদের আকিদাহ (عقيدة) রক্ষায় এবং জাহমিয়া, মুতাজিলা, খারেজি ও অন্যদের মতো বিরোধী ও নাস্তিকদের জবাব দেওয়ার জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। বাকিল্লানির 'ইজাজুল কুরআন' গ্রন্থে বর্ণিত মতাদর্শগুলো তার চিন্তা ও মনে উদিত হওয়া বিষয়গুলোর একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি অনুভব করেছিলেন যে, সবচেয়ে উপযুক্ত কাজ হবে কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) এবং এই অলৌকিকত্বের সাথে সম্পর্কিত ধারণা ও বিষয়বস্তু সম্পর্কে রচনা করা। ফলে তার বইটি চতুর্থ শতাব্দীর আলেমদের মধ্য থেকে পূর্বসূরিদের মতামত প্রকাশকারী অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

তিনি এই গ্রন্থ রচনাকে প্রধানত একটি ধর্মীয় কর্তব্য এবং সেইসাথে একটি বৈজ্ঞানিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। তাই তিনি তার বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে গবেষণাকে গভীর করতে, আলোচনা বৃদ্ধি করতে এবং এমন অনেক বিষয় স্পর্শ করতে কোনো কার্পণ্য করেননি যা তার এবং সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একইসাথে এটি সংশয়বাদীদের সংশয় নিরসন করে এবং নিন্দুকদের বক্তব্যকে বাতিল করে দেয়।

বাকিল্লানি তার গ্রন্থের শুরুতে তার গবেষণার পদ্ধতি ও লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বেশ কয়েকটি লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট ছিলেন:

- ধর্মের মূল ভিত্তি এবং তাওহীদের (توحيد) স্তম্ভ ও শৃঙ্খলা উন্মোচন করা।

- নবী যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য ও প্রমাণ (برهان) এবং তার মুজিজার (معجزة) জন্য দলিল (حجة) ও প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত করা, যাতে ধর্মের মূলনীতি সম্পর্কে নিন্দুক ও নাস্তিকদের অভিযোগের জবাব দেওয়া যায়।

- কুরাইশ বংশের নাস্তিক ও অন্যদের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কুরআনকে কবিতার সমতুল্য বা তুলনা করার বিষয়ে মিথ্যেবাদীদের সমস্ত অপবাদ খণ্ডন করা।

যখন তিনি তার গবেষণার পদ্ধতি ও উপাদানসমূহ নির্ধারণ শেষ করলেন, তখন তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত ও নিখুঁত বক্তব্য প্রদানের লক্ষ্যে এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর বিস্তারিত আলোচনায় অবতীর্ণ হলেন। এ কারণে বাকিল্লানি কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ক তার গবেষণাকে চারটি মৌলিক পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন, যেখানে প্রতিটি পর্যায় পরবর্তী পর্যায়ের সাথে সংযুক্ত এবং ধাবিত করে, যাতে তার কাজটি একই সাথে স্পষ্টতা এবং বিষয়ভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক পূর্ণতার বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়।

১- উপক্রমণিকা পর্যায়।

২- খণ্ডন পর্যায়।

৩- নির্ধারণ পর্যায়।

৪- সমর্থন পর্যায়।

প্রথম পর্যায়ে: তার লক্ষ্য ছিল আল্লাহর কিতাব উপলব্ধি করার জন্য উদ্যম ও আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং তারপর এটিকে রক্ষা করা এবং এর বিরুদ্ধে প্রচারিত সমস্ত কিছু প্রতিহত করা।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ১২)
حوله من أباطيل وأكاذيب، ثم التعريض بما ألف حول إعجاز القرآن، وخالف ما عليه أهل السلف عامة.

لقد رأيناه يصدِّر كتابه بمقدمة تمهيدية، يحث فيها المسلمين على تدارك كتاب ربهم، وفهم مضمونه ومشموله للوقوف في وجه الملحدين والمضللين (الذين خاضوا في أصول الدين) وشكّكوا ضعاف الإيمان واليقين. واتخذ سبيلا لذلك إبراز أهمية القرآن الكريم من حيث هو كتاب الله، ومن حيث هو حجة النبوة، ودليل على صدق الدعوة، وصدق النبوة.

وبدأ هذا الأمر بتحفيز أهل الدين على النهوض بواجبهم المقدس نحو الله والناس.. قال: "ومن أهم ما يجب على أهل دين الله كشفه، وأولى ما يلزم بحثه، ما كان لأصل دينهم قواماً، ولقاعدة توحيدهم عماداً ونظاماً، وعلى صدق نبيهم –صلى الله عليه وسلم برهانا، ولمعجزته ثبتا وحجة، ولا سيما أن الجهل ممدود الرواق، شديد النفاق، مستول على الآفاق، والعلم إلى عفاء ودروس، وعلى خفاء وطموس، وأهله في جفوة الزمن البهيم، يقاسون من عبوسه لقاء الأسد الشتيم، حتى صار ما يكابدونه قاطعا عن الواجب من سلوك مناهجه، والأخذ في سبله، فإن الناس بين رجلين: ذاهب عن الحق ذاهل عن الرشد، وآخر مصدود عن نصرته، مكدود في صنعته، فقد أدى ذلك إلى خوض الملحدين في أصول الدين، وتشكيكهم أهل الضعف في كل يقين"1.

ويتناول الباقلاني بعد ذلك ما أذاعه الملحدون والمغرضون حول القرآن من أباطيل وافتراءات سبق أن وردت على ألسنة مشركي قريش، منذ أن أنزل الله القرآن على قلب نبيّه.. فنراه يسفّه آراء هؤلاء الملحدين، ويصفهم بالجهل.. والبعد عن الرشد ذلك أن مشركي مكة من قريش قد تابوا وأنابوا، فأسلموا ورجعوا عن غيهم، أما هؤلاء الملحدون فهم على جهلهم ونزقهم وتعصبهم الأعمى الذي لا يستند إلى دليل.

والباقلاني - وهو بصدد مواجهة هؤلاء الملحدين والمغرضين- يلقى اللوم على علماء العصر، خاصة مَنْ اشتغل منهم باللغة وعلم الكلام، ولم يلتفت إلى توضيح وجوه الإعجاز القرآني، والكشف عن أسرارها، ويحملهم تبعة من خلط في هذه المسائل،

--------------------------------------------

1 إعجاز القرآن ص29 طبعة محمد علي صبيح سنة 1370?.
...এর চারপাশে বিদ্যমান বাতিল (باطل) ও মিথ্যাচার সম্পর্কে, অতঃপর কুরআনের অলৌকিকত্ব (ইজায) বিষয়ে যা কিছু রচিত হয়েছে তার সমালোচনা এবং সাধারণভাবে সালাফদের (أهل السلف) পন্থার বিরোধিতা করা।

আমরা তাঁকে তাঁর গ্রন্থটি একটি প্রারম্ভিক ভূমিকা দিয়ে শুরু করতে দেখি, যেখানে তিনি মুসলমানদের তাঁদের রবের কিতাবকে অনুধাবন করার এবং এর বিষয়বস্তু ও পরিধি বোঝার জন্য উৎসাহিত করেছেন, যাতে নাস্তিক ও পথভ্রষ্টদের (যারা ধর্মের মূলনীতি (أصول الدين) নিয়ে তর্কে লিপ্ত হয়েছে) মোকাবিলা করা যায় এবং যারা দুর্বল ঈমান ও বিশ্বাসের অধিকারীদের মনে সংশয় সৃষ্টি করেছে। তিনি এর জন্য পবিত্র কুরআনের গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলার পথ বেছে নিয়েছেন, যেহেতু এটি আল্লাহর কিতাব এবং নবুয়তের দলিল, আর দাওয়াহ ও নবুয়তের সত্যতার প্রমাণ।

তিনি আল্লাহর ও মানুষের প্রতি তাঁদের পবিত্র দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে এই বিষয়টি শুরু করেছেন। তিনি বলেন: "আল্লাহর দীনের অনুসারীদের জন্য যা উন্মোচন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং যা নিয়ে গবেষণা করা সবচেয়ে অগ্রগণ্য, তা হলো যা তাঁদের দীনের মূলের ভিত্তি এবং তাঁদের তাওহীদের বুনিয়াদের স্তম্ভ ও শৃঙ্খলাস্বরূপ, আর যা তাঁদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্যতার প্রমাণ এবং তাঁর মুজিজার দলিল ও সাক্ষ্য। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন মূর্খতা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে, নিফাক (نفاق) প্রবল হয়েছে, দিগন্তজুড়ে তার আধিপত্য কায়েম হয়েছে; অন্যদিকে জ্ঞান বিলুপ্ত ও নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে এবং তা গোপন ও ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। আর জ্ঞানী সমাজ এক ঘোর অমানিশার বিমুখতার মধ্যে রয়েছে, তারা হিংস্র সিংহের মুখোমুখি হওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। এমনকি তারা যে কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছে তা সত্যের পথে চলা এবং তা অনুসরণের আবশ্যকীয় কর্তব্য থেকে তাদের বিচ্যুত করছে। কারণ মানুষ দুই প্রকার: একদল সত্যবিমুখ ও সঠিক পথ থেকে গাফেল, আর অন্যদল সত্যের সাহায্যে বাধাগ্রস্ত এবং আপন কর্মতৎপরতায় ক্লান্ত। এর ফলে নাস্তিকরা ধর্মের মূলনীতি (أصول الدين) নিয়ে তর্কে লিপ্ত হয়েছে এবং দুর্বল ঈমানের অধিকারীদের মনে প্রতিটি সুনিশ্চিত বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সংশয় তৈরি করেছে।"1

এরপর বাকিল্লানী কুরআনের বিষয়ে নাস্তিক ও কুচক্রীদের দ্বারা প্রচারিত সেই সব বাতিল (باطل) ও অপবাদ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা ইতিপূর্বে কুরাইশ মুশরিকদের মুখে উচ্চারিত হয়েছিল, যখন থেকে আল্লাহ তাঁর নবীর অন্তরে কুরআন নাজিল করেছেন। আমরা দেখি যে তিনি এই নাস্তিকদের মতামতকে মূর্খতা বলে অভিহিত করেছেন এবং তাঁদের অজ্ঞতা ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি বলে বর্ণনা করেছেন। কারণ মক্কার কুরাইশ মুশরিকরা তওবা করে ফিরে এসেছিল, তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং তাঁদের বিভ্রান্তি থেকে সরে এসেছিল। কিন্তু এই নাস্তিকরা তাঁদের মূর্খতা, হঠকারিতা এবং অন্ধ গোঁড়ামিতে অটল রয়েছে, যার কোনো ভিত্তি বা দলিল নেই।

আর বাকিল্লানী—যিনি এই নাস্তিক ও কুচক্রীদের মোকাবিলা করছিলেন—সেই যুগের আলেমদের ওপর দোষারোপ করেছেন, বিশেষ করে যাঁরা ভাষা ও ইলমুল কালাম (علم الكلام) নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং কুরআনের অলৌকিকত্বের দিকগুলো স্পষ্ট করার ও এর রহস্য উন্মোচনের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি। যাঁরা এই সব বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, তাঁদের দায়ভার তিনি এই আলেমদের ওপরই চাপিয়েছেন।

--------------------------------------------

1. ইজাযুল কুরআন, পৃষ্ঠা ২৯, মুহাম্মদ আলী সাবিহ সংস্করণ, ১৩৭০ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ১৩)
متأثرين ببعض مذاهب البراهمة، يقول: "وقد قصّر بعضهم في هذه المسألة - أي مسألة إعجاز القرآن -، حتى أدى ذلك إلى تحوّل قوم منهم إلى مذاهب البراهمة فيها، ورأوا أن عجز أصحابهم عن نصرة هذه المعجزة، يوجب ألا يستنصر فيها ولا وجه لها، حين رأوهم قد برعوا في لطيف ما أبدعوا وانتهوا إلى الغاية فيما أحدثوا ووضعوا، ثم رأوا ما صنفوه في هذا المعنى غير كامل في بابه، ولا مستوفي في وجهه قد أخل بتهذيب طرقه، وأهمل ترتيب بيانه"1.

بيد أنه يلتمس لبعضهم الأعذار، لأن البحث فيها - أي في مسائل الإعجاز ووجوهه- لم يكن يتيسّر إلا لمن كدّ فكره وأعمل عقله.. وأعدّ لهذه الدراسة نفسه..

"وقد يعذر بعضهم في تَفْريط يقع منه، وذهاب عنه، لأن هذا الباب مما لا يمكن إحكامه إلاّ بعد التقدم في أمور شريفة المحل، عظيمة المقدار، دقيقة المسلك، لطيفة المأخذ.."2

وفي هذه المرحلة التمهيدية، وقبل أن يبدأ في تنفيذ مخططه، وتوضيح المسائل التي ذكرها في مقدمته، يجد الباقلاني بدافع من غيرته على آراء السلف، وإيمانه الراسخ بها، أن يعرض بكتب الفرق الكلامية الأخرى، خاصة المعتزلة، وقد وجد بغيته في كتاب الجاحظ المعتزلي (نظم القرآن) فوصفه بالقصور والسطحية، وعدم الموضوعية، وأنه لم يأت فيه بجديد، بل هو صنف الجاحظ في نظم القرآن كتابا3، لم يزد فيه على ما قاله المتكلمون قبله4 ولم يكشف عما يلتبس في أكثر هذا المعنى" يقصد الكشف عن وجوه الإعجاز القرآني وسرها.

وواضح.. أن الباقلاني – السلفي - متأثر في هذا القول بعقيدته، وبما قاله أصحابه الأشاعرة. وهنا يقف الباقلاني، ليذكر "جملة من القول جامعة تسقط الشبهات، وتزيل الشكوك التي تعرض للجهال، وتنتهي إلى ما يخطر لهم، ويعرض لأفهامهم من الطعن في وجه المعجزة"5

فتناول مجموعة من القضايا العلمية الهامة التي تتصل بموضوع الإعجاز منها:

--------------------------------------------

1 إعجاز القرآن ص30.

2 الصفحة نفسها.

3 وهو من الكتب المفقودة.

4 يقصد أستاذه النظام الذي قال مقالته الخبيثة في مسألة الإعجاز وأرجعها إلي الصرفة، أي أن الله صرف العرب عن معارضة القران.

5 إعجاز القرآن ص30 وما بعدها.

ব্রাহ্মণ্যবাদের কিছু মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তিনি বলেন: "এই বিষয়ে—অর্থাৎ কুরআনের অলৌকিকত্বের বিষয়ে—কেউ কেউ অবহেলা করেছেন, এমনকি এর ফলে তাদের একটি দল এই বিষয়ে ব্রাহ্মণ্যবাদের মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তারা মনে করেছে যে, তাদের সঙ্গীরা এই মুজিজাকে (অলৌকিকত্বকে) প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে এটি সমর্থনের যোগ্য নয় এবং এর কোনো ভিত্তি নেই। যখন তারা দেখল যে তারা তাদের উদ্ভাবিত সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে অত্যন্ত দক্ষতা অর্জন করেছে এবং তাদের আবিষ্কৃত ও রচিত বিষয়গুলোকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে, তখন তারা এই মর্মে তাদের রচিত গ্রন্থগুলো সম্পর্কে অনুধাবন করল যে, তা সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে পূর্ণাঙ্গ নয় এবং এর দিকগুলো পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরা হয়নি; বরং তা বর্ণনার সূত্রসমূহ (طرق) পরিমার্জিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বর্ণনার বিন্যাসকে অবহেলা করেছে।"১।

তবে তিনি তাদের কয়েকজনের ওজর পেশ করেছেন; কারণ এই বিষয়ে—অর্থাৎ অলৌকিকত্বের মাসআলাসমূহ ও এর দিকগুলো নিয়ে—গবেষণা করা কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব ছিল যারা নিজেদের চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিকে খাটিয়েছেন এবং এই গবেষণার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছেন।

"কারো কারো ক্ষেত্রে তাদের ত্রুটিবিচ্যুতি ও বিচ্যুতি মার্জনীয় হতে পারে; কারণ এই অধ্যায়টি কেবল তখনই আয়ত্ত করা সম্ভব যখন কেউ সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, বিশাল গুরুত্ববহ, সূক্ষ্ম পদ্ধতি এবং নিগূঢ় উৎসসমূহের জ্ঞানে অগ্রসর হতে পারে..."২

এই প্রাথমিক পর্যায়ে, এবং তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পূর্বে এবং তার ভূমিকায় উল্লিখিত মাসআলাগুলো স্পষ্ট করার আগে, বাকিল্লানি সালাফদের মতামতের প্রতি তার ঐকান্তিক অনুরাগ এবং সেগুলোর প্রতি অবিচল বিশ্বাসের কারণে অন্যান্য কালামি দলগুলোর গ্রন্থের সমালোচনা করা প্রয়োজন মনে করেন, বিশেষ করে মুতাজিলাদের। তিনি মুতাজিলা পণ্ডিত আল-জাহিজের (নাজমুল কুরআন) গ্রন্থে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পান এবং সেটিকে ত্রুটিপূর্ণ, অগভীর ও বস্তুনিষ্ঠতার অভাব হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আল-জাহিজ এতে নতুন কিছু নিয়ে আসেননি; বরং আল-জাহিজ নাজমুল কুরআন বিষয়ে একটি কিতাব৩ রচনা করেছেন যেখানে তিনি তার পূর্ববর্তী কালাম শাস্ত্রবিদদের৪ বক্তব্যের চেয়ে বেশি কিছু যুক্ত করেননি এবং এই বিষয়ের অধিকাংশ অস্পষ্টতা উন্মোচন করতে পারেননি।" এখানে আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের দিকগুলো এবং এর রহস্য উন্মোচন করাকে বোঝানো হয়েছে।

এটা স্পষ্ট যে, বাকিল্লানি—যিনি সালাফদের অনুসারী—এই বক্তব্যের ক্ষেত্রে তার আকিদা এবং তার আশআরি সঙ্গীদের বক্তব্যের দ্বারা প্রভাবিত। এখানে বাকিল্লানি থেমেছেন একটি "সমন্বিত বক্তব্য প্রদান করার জন্য, যা সংশয়সমূহকে দূর করবে এবং মূর্খদের মনে উদিত হওয়া সন্দেহগুলো দূরীভূত করবে, যা তাদের চিন্তায় আসে এবং মুজিজার দিকগুলোর ওপর তাদের করা সমালোচনা (طعن) খণ্ডন করবে।"৫

অতঃপর তিনি অলৌকিকত্বের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, যার মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

১. ইজাজুল কুরআন, পৃষ্ঠা ৩০।

২. একই পৃষ্ঠা।

৩. এটি হারিয়ে যাওয়া গ্রন্থগুলোর একটি।

৪. তিনি তার শিক্ষক আন্নামকে বুঝিয়েছেন, যিনি অলৌকিকত্ব (ইজাজ) প্রসঙ্গে তার কলুষিত মতামত দিয়েছিলেন এবং বিষয়টিকে সারফা তথা নিবৃত্ত করার দিকে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন; অর্থাৎ আল্লাহ আরবদের কুরআনের মোকাবিলা করা থেকে বিরত রেখেছেন।

৫. ইজাজুল কুরআন, পৃষ্ঠা ৩০ ও পরবর্তী।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ১৪)
"ما يجب وصفه من القول في تنزيل متصرفات الخطاب، وترتيب وجوه الكلام، وما تختلف فيه طرق البلاغة، وتتفاوت من جهته سبل البراعة، وما يشتبه له ظاهر الفصاحة، ويختلف فيه المختلفون من أهل صناعة العربية، والمعرفة بلسان العرب في أصل الوضع، ثم ما اختلفت به مذاهب مستعمليه في فنون ما ينقسم إليه الكلام من شعر ورسائل وخطب، وغير ذلك من مجاري الخطاب، وإن كانت هذه الوجوه الثلاثة أصول ما يبين فيه التفاصح وتقصد فيه البلاغة لأن هذه أمور يتعمل لها في الأغلب ولا يتجوز فيها. ثم من بعد هذا الكلام الدائر في محاوراتهم، والتفاوت فيه أكثر لأن التعمل فيه أقل، إلا من غزارة طبع، أو فطانة تصنع وتكلف.. ونشير إلى ما يجب في كل واحد من هذه الطرق، ليعرف عظم محل القرآن، وليعلم ارتفاعه عن مواقع هذه الوجوه، وتجاوزه الحد الذي يصح أو يجوز أن يوازن بينه وبينها، أو يشتبه ذلك على متأمل"1.

ثم يستطرد الباقلاني كلامه ذاكراً، أنه يعرف تماما أن هذه المسائل لا يستوعبها إلا مَنْ كدَّ فكره، وأعمل عقله، وكان هو أصلا من أهل صناعة العربية، قد وقف على جمل من محاسن الكلام ومتصرفاته ومذاهبه، وعرف جملة من طرق المتكلمين، ونظر في شيء من أصول الدين، وإنما ضمّن الله عز وجل فيه البيان لمثل ما وصفناه، فقال: {كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآناً عَرَبِيّاً لِقَوْمٍ يَعْلَمُون} 2 وقال: {إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآناً عَرَبِيّاً لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} 3.

إذن، فقد خصّ الباقلاني كتابه بالصفوة المختارة من الباحثين والمتأدبين والعلماء والمثقفين وليس للعامة أو الجهال، وهذا هو محور بحث الرجل، إنه يخاطب فئة معينة من الواعين.

فإذا ما انتهى الباقلاني من هذه المرحلة التمهيدية، وبين هدفه ومبتغاه، انتقل إلى المرحلة التالية.. مرحلة التفنيد.. فقسّم بحثه إلى فصول متوالية، كل فصل يرتبط بما بعده، ويوصل إليه أيضا.. وفي الوقت نفسه يتصل بما قبله. تناول في كل فصل منها ناحية من النواحي التي وعد ببحثها، تمهيداً لإبراز وجوه الإعجاز القرآني.

فافتتح هذه الفصول بفصل تحدث فيه عن نبوة النبي صلى الله عليه وسلم، وأنّ معجزتها القرآن، فالرسول

--------------------------------------------

1 إعجاز القرآن ص31.

2 سورة فصلت الآية 3.

3 سورة الزخرف الآية 3.
"বক্তৃতার বিচিত্র রূপ এবং বাকপদ্ধতির বিন্যাস বর্ণনায় যা আবশ্যক, আর অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) বিভিন্ন পন্থায় যা ভিন্ন হয় এবং পারদর্শিতার (براعة) পথে যার কারণে তারতম্য ঘটে; আর আরবী ভাষার কারিগর ও আরবী ভাষার ব্যুৎপত্তিগত মূল বিষয়ে পারদর্শীদের কাছে বাগ্মিতার (فصاحة) ক্ষেত্রে বাহ্যিকভাবে যা অস্পষ্ট মনে হয় এবং যা নিয়ে মতভেদকারীরা মতভেদ করেন; এরপর কবিতা, পত্রাবলী, বক্তৃতা এবং বক্তৃতার অন্যান্য ধারার ক্ষেত্রে এর ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির বৈচিত্র্য ও শিল্পরীতি অনুসারে বাক্যের প্রকারভেদ—যদিও এই তিন রূপ (কবিতা, পত্রাবলী, বক্তৃতা) হলো বাগ্মিতা প্রকাশ এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার মূল ভিত্তি, কারণ এগুলো এমন বিষয় যা সাধারণত সযত্নে করা হয় এবং তাতে শিথিলতা দেখানো হয় না। এরপর মানুষের পারস্পরিক কথোপকথনে ব্যবহৃত ভাষার আলোচনা, যেখানে তারতম্য আরও বেশি, কারণ এতে কৃত্রিমতা কম থাকে, কেবল প্রতিভার প্রাচুর্য কিংবা বিশেষ নিপুণতা ও কষ্টসাধ্য প্রচেষ্টা ব্যতীত... আমরা এই প্রতিটি পথ সম্পর্কে যা আবশ্যক তা ইঙ্গিত করব, যাতে কুরআনের মহান মর্যাদা অনুধাবন করা যায় এবং এসব বিষয়ের ঊর্ধ্বে এর উচ্চাবস্থান সম্পর্কে জানা যায়, আর এটি যে সেই সীমা অতিক্রম করেছে যেখানে এর সাথে অন্য কিছুর তুলনা করা সঠিক বা বৈধ হতে পারে, কিংবা কোনো চিন্তাশীলের নিকট এটি অস্পষ্ট থেকে যেতে পারে"১।

অতঃপর বাকিল্লানী তার আলোচনা দীর্ঘায়িত করে উল্লেখ করেন যে, তিনি সুনিশ্চিতভাবে জানেন যে, এই বিষয়গুলো কেবল তারাই অনুধাবন করতে সক্ষম হবে যারা গভীর চিন্তা-গবেষণা করেছে এবং বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগিয়েছে। আর যিনি মূলত আরবী ভাষার কারুকার্য সম্পর্কে অভিজ্ঞ, যিনি শ্রেষ্ঠ বাক্যশৈলী, তার বিচিত্র রূপ ও পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়েছেন, তাত্ত্বিকদের (متكلمين) বিভিন্ন পন্থা সম্পর্কে জেনেছেন এবং দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) তথা ইলমুল কালামের কিছু বিষয়ে দৃষ্টি দিয়েছেন। মহান আল্লাহ এতে বর্ণনা (بيان) নিহিত রেখেছেন যা আমরা বর্ণনা করেছি তার অনুরূপ। তিনি বলেছেন: {এক কিতাব, যার আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে আরবী কুরআনরূপে সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা জানে} ২ এবং তিনি বলেছেন: {নিশ্চয় আমি একে আরবী কুরআন করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো} ৩।

অতএব, বাকিল্লানী তার কিতাবটিকে গবেষক, সাহিত্যিক, আলিম এবং সুধী সমাজের মধ্য থেকে এক বিশেষ শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, সাধারণ মানুষ বা অজ্ঞদের জন্য নয়। আর এটিই এই ব্যক্তির গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু; তিনি সচেতন এক বিশেষ শ্রেণিকে সম্বোধন করছেন।

বাকিল্লানী যখন এই প্রারম্ভিক পর্যায় শেষ করলেন এবং নিজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট করলেন, তখন তিনি পরবর্তী পর্যায়ে উপনীত হলেন... আর তা হলো খণ্ডন করার পর্যায়... তিনি তার গবেষণাকে ধারাবাহিক কয়েকটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন, যেখানে প্রতিটি অধ্যায় তার পরবর্তী অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সেদিকে ধাবিত করে... একই সাথে তা পূর্ববর্তী অধ্যায়ের সাথেও যুক্ত। তিনি প্রতিটি অধ্যায়ে সেসব বিষয়ের এক একটি দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন যা তিনি আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যাতে কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলা যায়।

তিনি এই অধ্যায়গুলো এমন একটি অধ্যায় দিয়ে শুরু করেছেন যেখানে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়ত সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এটিও যে, তার মুজিজা (معجزة) হলো কুরআন। সুতরাং রাসূল...

--------------------------------------------

১ ইজাজুল কুরআন, পৃষ্ঠা ৩১।

২ সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৩।

৩ সূরা যুখরুফ, আয়াত ৩।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ১৫)
وإن كان قد أيّد بعد ذلك بمعجزات جمّة، لا يمكن إنكارها.. إلاّ أنّ معجزة القرآن "كانت معجزة عامة، عمّت الثقلين1، وبقيت بقاء العصرين2، ولزوم الحجة بها في أول وقت ورودها إلى يوم القيامة على حد واحد، وإن كان قد يعلم بعجز أهل العصر الأول عن الإتيان بمثله وجه دلالته".

ويذكر الباقلاني.. أنه ما خصّص هذا الفصل ولا ألّفه إلاّ للرد على المتكلمين، وتفنيد مزاعمهم.. "لما حكى عن بعضهم أنه زعم أنه وإن كان قد عجز عنه أهل العصر الأول، فليس أهل هذا العصر الأول في الدلالة لأنهم خصّوا بالتحدي دون غيرهم".

ويبيِّنُ الباقلاني خطأ هذا الزعم، ويستدل على ذلك بأدلة من القرآن نفسه وبآيات بينات تثبت أن الله سبحانه وتعالى حين ابتعث نبيه، جعل معجزته القرآن، وبنى أمر نبوته عليه.

من ذلك قوله تعالى: {الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ} 3 فأخبر أنه أنزله ليقع الاهتداء به، ولا يكون كذلك إلا وهو حجة، ولا تكون حجة إن لم تكن معجزة..

ويرى الباقلاني أنه ما من سورة افتتحت بذكر الحروف المقطعة4، إلا وتدلّ على هذه المعجزة، بل إنّ كثيرا من السور إذا تؤمل - فهو من أوله إلى آخره- مبني على لزوم حجة القرآن والتنبيه على وجه معجزته. ويستشهد على ذلك بسورة المؤمن5، ويحلّلها تحليلا دقيقا يبرز فيها أسرار الإعجاز.

ولا يترك الباقلاني إثبات أنّ نبوة محمد صلى الله عليه وسلم مبنية على دلالة معجزة القرآن دون أن يبيِّن ويحدِّد وجه هذه الدلالة.. لذلك أعقب هذا الفصل بفصل في الدلالة على أن القرآن معجزة6 في ذاته. وقد اعتمد الباقلاني في تبيين وجه الدلالة على أصلين اثنين:

--------------------------------------------

1 الإنس والجن.

2 الليل والنهار.

3 سورة إبراهيم الآية الأولى، ومن ذلك أيضا قوله تعالى في الآية 6 من سورة براءة، والآية 195 من سورة الشعراء.

4 مثل: طسم، كهيعص، حم.

5 هي سورة غافر، أما سورة "المؤمنون" فهي {قد أفلح المؤمنون..} وسميت سورة غافر سورة "المؤمن" لقوله تعالى في هذه السورة {وقَالَ رَجُلٌ مؤمن مِنْ آلِ فِرعَون..} الخ.

6 إعجاز القرآن ص41.
যদ্যপি পরবর্তীতে তাকে অসংখ্য অলৌকিক নিদর্শন (معجزات) দ্বারা সমর্থন করা হয়েছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই.. তবে কোরআনের অলৌকিকত্ব ছিল একটি সর্বজনীন অলৌকিক ঘটনা (معجزة), যা মানব ও জিন (الثقلين) উভয় জাতিকেই অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং তা যুগল সময় বা দিবা-রাত্রি (العصرين) ব্যাপী অবশিষ্ট থাকবে। এর অবতীর্ণ হওয়ার প্রথম সময় থেকে কিয়ামত পর্যন্ত এর মাধ্যমে প্রমাণ (حجة) সাব্যস্ত হওয়া অভিন্ন পর্যায়ে বজায় থাকবে; যদিও প্রথম যুগের মানুষের এর সদৃশ কিছু আনতে অক্ষম হওয়ার বিষয়টিই এর প্রমাণের দিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

বাকিলানি উল্লেখ করেন যে.. তিনি এই পরিচ্ছেদটি কেবল কালাম শাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) জবাব দেওয়ার জন্য এবং তাদের দাবিগুলো খণ্ডন করার জন্যই রচনা করেছেন.. "যেহেতু তাদের কারো কারো পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের ধারণা অনুযায়ী—যদিও প্রথম যুগের মানুষ এটি করতে অক্ষম ছিল, কিন্তু পরবর্তী যুগের মানুষের জন্য এটি প্রমাণের মর্যাদা রাখে না, কারণ চ্যালেঞ্জ (التحدي) কেবল তাদের জন্যই নির্দিষ্ট ছিল, অন্যদের জন্য নয়।"

বাকিলানি এই দাবির ভুল স্পষ্ট করেন এবং এর বিপরীতে স্বয়ং কোরআন থেকে বিভিন্ন দলিল এবং সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ (آيات) দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন তাঁর নবীকে প্রেরণ করেছেন, তখন কোরআনকেই তাঁর অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর নবুওয়াতের ভিত্তি এর ওপরই স্থাপন করেছেন।

এর মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি উল্লেখযোগ্য: {আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি যাতে আপনি মানুষকে তাদের রবের নির্দেশক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহর পথের দিকে বের করে আনেন।} এখানে তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, এটি নাযিল করা হয়েছে যাতে এর মাধ্যমে হিদায়াত লাভ করা যায়। আর এটি ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয় যতক্ষণ না এটি অকাট্য প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হয়; আর এটি অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) না হওয়া পর্যন্ত প্রমাণ (حجة) হতে পারে না..

বাকিলানি মনে করেন যে, যে সকল সূরা বিচ্ছিন্ন বর্ণসমূহ (الحروف المقطعة) দ্বারা শুরু হয়েছে, সেগুলো এই অলৌকিকত্বের (معجزة) প্রতি ইঙ্গিত করে। বরং অনেক সূরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়—শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত—কোরআনের প্রমাণ (حجة) সাব্যস্ত হওয়া এবং এর অলৌকিকত্বের (معجزة) দিকগুলোর প্রতি মনোযোগ আকর্ষণের ওপর ভিত্তি করেই নির্মিত। তিনি এর স্বপক্ষে সূরা আল-মুমিন-এর উদাহরণ দেন এবং এর একটি সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ পেশ করেন যেখানে অলৌকিকত্বের (إعجاز) রহস্যগুলো ফুটে উঠেছে।

বাকিলানি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত যে কোরআনের অলৌকিকত্বের (معجزة) ওপর প্রতিষ্ঠিত—তা বর্ণনা করা এবং এই প্রমাণের দিকটি নির্দিষ্ট করা ব্যতীত ছেড়ে দেননি.. তাই তিনি এই পরিচ্ছেদের পরপরই কোরআন যে স্বয়ং একটি অলৌকিক নিদর্শন (معجزة), তার প্রমাণের ওপর একটি পরিচ্ছেদ যুক্ত করেছেন। প্রমাণের এই দিকটি স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে বাকিলানি দুটি মূলনীতির (أصلين) ওপর নির্ভর করেছেন:

--------------------------------------------

১. মানব ও জিন।

২. রাত ও দিন।

৩. সূরা ইবরাহিম, আয়াত ১; এছাড়াও সূরা বারাআহ-এর ৬ নম্বর আয়াত এবং সূরা আশ-শুয়ারা-এর ১৯৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী এর অন্তর্ভুক্ত।

৪. যেমন: ত-স-ম, কা-হা-ইয়া-আইন-সদ, হা-মীম।

৫. এটি হলো সূরা গাফির; আর সূরা "মুমিনুন" হলো {মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে..}। সূরা গাফির-কে সূরা "মুমিন" বলা হয়েছে কারণ মহান আল্লাহ এই সূরায় বলেছেন {ফেরাউন বংশের এক মুমিন ব্যক্তি বলল..} ইত্যাদি।

৬. ইজাজুল কোরআন, পৃষ্ঠা ৪১।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ১৬)
أولهما: إثبات أن القرآن - الذي هو متلو محفوظ مرسوم في المصاحف - هو الذي جاء به النبي صلى الله عليه وسلم، وأنه هو الذي تلاه على مَنْ في عصره ثلاثا وعشرين سنة.

ودليل الباقلاني على ذلك.. هو النقل المتواتر، الذي أنه قام به في المواقف، وكتب به إلى البلاد، وتحمّله عنه إليها من تابعه، وأورده على غيره من لم يتابعه، حتى ظهر فيهم الظهور الذي لا يشتبه على أحد، ولا يحتمل أنه قد خرج من أتي بقرآن يتلوه، ويأخذه على غيره، ويأخذ غيره على الناس، حتى انتشر ذلك في أرض العرب كلها، وتعدّى إلى الملوك المصاقبة لهم، كملك الروم والعجم والقبط والحبش وغيرهم من ملوك الأرض.

والأصل الثاني.. هو التحدي.. الذي واجه العرب به؛ ذلك أنه تحداهم إلى أن يأتوا بمثله، وقرعهم على ترك الإتيان به طول السنين التي وصفناها فلم يأتوا بذلك.

ويستدل الباقلاني على صحة هذا الأصل بما تضمنه القرآن من آيات التحدي، من مثل قوله تعالى: {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ} 1، جعل عجزهم عن الإتيان بمثله دليلا على أنه منه، ودليلا على وحدانيته.

ولقد كانت قضية التحدي مثار اهتمام الباقلاني.. خاصة وهو بصدد الدفاع عن القرآن، فنراه يشبعها تحليلا وتدليلا، إثباتا لصدق النبوة، وتدعيما لوجه الدلالة، وردّا على الملحدين والمتكلمين عامة، والمعتزلة خاصة، الذين أثاروا قضية (الصرفة) .

فإذا ما أثبت الباقلاني معجزة النبوة، وإذا ما أصّل الأصول التي اعتمدها في بيان وجه الدلالة على أن القرآن معجز في ذاته.. انتقل الباقلاني إلى صلب موضوعه وهو تحديد وجوه إعجاز القرآن.. وهنا تبدأ المرحلة الثالثة.. مرحلة التحديد، بعد أن اجتاز مرحلتي التمهيد، والتفنيد.

--------------------------------------------

1 سورة البقرة الآيتان 23، 24،ومن آيات التحدي الآية 28 من سورة يونس والآيتان 33، 34 من سورة الطور.
প্রথমটি হলো: এটি প্রমাণ করা যে কুরআন—যা পঠিত, সংরক্ষিত এবং মুসহাফসমূহে লিখিত—তাই যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিয়ে এসেছিলেন এবং তিনিই এটি তাঁর সমসাময়িকদের কাছে তেইশ বছর ধরে পাঠ করেছিলেন।

এ ব্যাপারে বাকিল্লানির প্রমাণ হলো.. মুতাওয়াতির বর্ণনা (النقل المتواتر), যা তিনি বিভিন্ন সমাবেশে উপস্থাপন করেছিলেন, বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে পত্র লিখেছিলেন এবং তাঁর অনুসারীরা তাঁর থেকে তা গ্রহণ করেছিলেন, আর যারা তাঁর অনুসারী ছিল না তাদের কাছেও তিনি তা পেশ করেছিলেন; এমনকি তা তাদের মাঝে এমনভাবে প্রকাশ পেয়েছিল যা কারো কাছেই অস্পষ্ট ছিল না। আর এ সম্ভাবনাও ছিল না যে, এমন কেউ বের হবে যে কুরআন নিয়ে আসবে এবং তা পাঠ করবে, অন্যদের থেকে তা গ্রহণ করবে এবং অন্যরাও তা মানুষের থেকে গ্রহণ করবে; এমনকি তা পুরো আরব ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে এবং পার্শ্ববর্তী রাজন্যবর্গ যেমন রোম, পারস্য, কিবতি, হাবশা এবং বিশ্বের অন্যান্য সম্রাটদের কাছেও পৌঁছে যায়।

দ্বিতীয় মূলনীতি হলো.. চ্যালেঞ্জ বা চ্যালেঞ্জ প্রদান.. যা দিয়ে তিনি আরবদের মুখোমুখি হয়েছিলেন; তা হলো তিনি তাদেরকে এর মতো কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন এবং বর্ণিত দীর্ঘ বছরগুলোতে তা নিয়ে আসতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তাদের তিরস্কার করেছিলেন, তবুও তারা তা নিয়ে আসতে পারেনি।

বাকিল্লানি এই মূলনীতির সঠিকতার সপক্ষে কুরআনে বর্ণিত চ্যালেঞ্জের আয়াতসমূহ থেকে দলিল পেশ করেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি আমার দাসের প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি তা নিয়ে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে, তবে তোমরা তার মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। অতঃপর যদি তোমরা তা না করো—আর কখনোই তোমরা তা করতে পারবে না—তবে সেই আগুনকে ভয় করো যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে} ১, তিনি এর মতো কিছু আনতে তাদের অক্ষমতাকে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার প্রমাণ এবং তাঁর একত্বের দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

চ্যালেঞ্জের বিষয়টি ছিল বাকিল্লানির বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু.. বিশেষ করে যখন তিনি কুরআনের প্রতিরক্ষায় রত ছিলেন। তাই আমরা দেখতে পাই যে তিনি একে বিশ্লেষণ ও প্রমাণের মাধ্যমে পরিপূর্ণ করেছেন, নবুওয়াতের সত্যতা প্রমাণ এবং প্রমাণের দিকটিকে শক্তিশালী করার জন্য, আর সাধারণভাবে নাস্তিক ও কালামশাস্ত্রবিদদের এবং বিশেষভাবে মুতাজিলাদের জবাব দেওয়ার জন্য, যারা ‘সামর্থ্য হরণ’ (الصرفة) বা ফেরানোর বিষয়টি উত্থাপন করেছিল।

যখন বাকিল্লানি নবুওয়াতের মুজিযা প্রমাণ করলেন এবং কুরআন যে স্বয়ং একটি মুজিযা—তার প্রমাণের দিকগুলো বর্ণনায় তাঁর গৃহীত মূলনীতিগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন, তখন বাকিল্লানি তাঁর মূল বিষয়ে প্রবেশ করলেন, আর তা হলো কুরআনের অলৌকিকত্বের (ইজায) দিকগুলো নির্ধারণ করা। আর এখানেই তৃতীয় পর্যায় শুরু হয়.. অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট করার পর্যায়, যার আগে তিনি ভূমিকা এবং খণ্ডন করার পর্যায় দুটি অতিক্রম করেছেন।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৩, ২৪; এবং চ্যালেঞ্জের আয়াতগুলোর মধ্যে রয়েছে সূরা ইউনুসের ২৮ নম্বর আয়াত এবং সূরা আত-তূরের ৩৩ ও ৩৪ নম্বর আয়াত।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ১৭)
يقرّر الباقلاني في الفصل الثالث من كتابه (إعجاز القرآن) أن هذا الإعجاز إنما يردّ إلى ثلاثة أوجه:

1- تضمنه الإخبار عن الغيوب.

2- وما فيه من القصص الديني وسير الأنبياء مما روتْهُ الكتب السماوية مع أن الرسول صلى الله عليه وسلم كان أميّا لا يقرأ ولا يكتب.

3- ثم بلاغته.

فأما الوجه الأول: فقد استدل عليه بما وعد الله تعالى نبيه عليه السلام أنه سيظهر دينه على الأديان بقوله تعالى: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ} 1 ففعل ذلك.. وكان أبو بكر الصديق رضي الله عنه إذا أغزى جيوشه عرفهم ما وعدهم الله من إظهار دينه ليثقوا بالنصر، ويستيقنوا بالنجح، وكان عمر بن الخطاب رضي الله عنه يفعل كذلك في أيامه حتى وقف أصحاب جيوشه عليه …

وأما الوجه الثاني: فإنه معلوم من حال النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان أميّاً لا يكتب ولا يحسن أن يقرأ، وكذلك كان معروفا من حاله أنه لم يكن يعرف شيئا من كتب المتقدمين وأقاصيصهم وأنبائهم وسيرهم، ثم أتي بجملة ما وقع وحدث من عظيمات الأمور، ومهمات السير، من حين خلق الله آدم عليه السلام إلى حين مبعثه.

وأما الوجه الثالث.. فإنه بديع النظم، عجيب التأليف، متناه في البلاغة إلى الحد الذي يعلم عجز الخلق عنه..

ولما كان الباقلاني من علماء اللغة والأدب والبلاغة، فقد ركّز شرحه على هذا الوجه الأخير، فتحدث عن جمال نظم القرآن حديثا مسهبا.. يتضح منه مفهومه ونظريته في إعجاز القرآن.

إنه لم يرض أن يترك هذا الوجه دون أن يحدّد قسماته ويبيّن معالمه، ويوضّح سماته، وما عناه بالنظم، من هنا وجدناه يحلّل هذا الوجه البلاغي تحليلا دقيقا، ينمّ عن سعة إطلاع ورسوخ في العلم، ودقة في الفهم معاً..

لقد أرجع الباقلاني جمال النظم القرآني إلى مجموعة وجوه تتسم بالدقة والعمق، وتدل على ترابط جزئيات الموضوع في ذهنه.. منها ما يرجع إلى الجملة، ومنها ما يرجع إلى الفصاحة، ومنها ما يرجع إلى النظم، واستوائه

--------------------------------------------

1 سورة التوبة 33.. ومن ذلك الآية 12 من آل عمران.. والآية 7 من سورة الأنفال.
আল-বাকিলানি তাঁর ‘ইজাজুল কুরআন’ গ্রন্থের তৃতীয় অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, এই অলৌকিকত্ব মূলত তিনটি দিকের দিকে নির্দেশ করে:

১- এতে অদৃশ্যের সংবাদের অন্তর্ভুক্তি।

২- এতে বিদ্যমান ধর্মীয় কাহিনী এবং নবিগণের জীবনচরিত, যা আসমানি কিতাবসমূহ বর্ণনা করেছে; অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন নিরক্ষর, তিনি পড়তে বা লিখতে পারতেন না।

৩- অতঃপর এর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় উচ্চমান।

প্রথম দিকের ক্ষেত্রে: তিনি মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর নবি আলাইহিস সালামকে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যেখানে বলা হয়েছে যে, তিনি তাঁর দ্বীনকে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করবেন। মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসুলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি তাকে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে} ১। অতঃপর তিনি তা বাস্তবায়ন করেছেন... আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু যখনই তাঁর বাহিনী অভিযানে পাঠাতেন, তখন তাদেরকে আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন যাতে তারা বিজয়ের ব্যাপারে আশ্বস্ত হতে পারে এবং সাফল্যের ব্যাপারে সুনিশ্চিত হতে পারে। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুও তাঁর শাসনামলে অনুরূপ করতেন যতক্ষণ না তাঁর বাহিনীর যোদ্ধারা এর বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করতেন...

втоরীয় দিকের ক্ষেত্রে: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা থেকে এটি সুবিদিত যে, তিনি ছিলেন নিরক্ষর, তিনি লিখতে পারতেন না এবং ভালো করে পড়তেও জানতেন না। অনুরূপভাবে তাঁর সম্পর্কে এটিও পরিচিত ছিল যে, পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহ, তাদের উপাখ্যান, সংবাদ এবং জীবনচরিত সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। অতঃপর তিনি আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টি থেকে শুরু করে তাঁর নবুয়ত প্রাপ্তি পর্যন্ত ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এবং মহান বিষয়সমূহের বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে এসেছেন।

তৃতীয় দিকের ক্ষেত্রে... এর বিন্যাস অপূর্ব, সংকলন বিস্ময়কর এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে এটি এমন এক চরম শিখরে পৌঁছেছে যেখান থেকে সৃষ্টিজীবের অক্ষমতা স্পষ্ট হয়ে যায়...

যেহেতু বাকিলানি ভাষা, সাহিত্য ও অলঙ্কারশাস্ত্রের পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাই তিনি তাঁর ব্যাখ্যায় এই শেষোক্ত দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ফলে তিনি কুরআনের বিন্যাসশৈলীর সৌন্দর্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন... যা থেকে কুরআনের অলৌকিকত্ব সম্পর্কে তাঁর ধারণা ও তত্ত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তিনি এই দিকটিকে এর রূপরেখা নির্ধারণ, বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা এবং এর চিহ্নসমূহ ও বিন্যাস বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট না করে ছেড়ে দিতে রাজি হননি। এখান থেকেই আমরা দেখতে পাই যে, তিনি এই অলঙ্কারশাস্ত্রীয় দিকটিকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, যা একই সাথে তাঁর ব্যাপক পাণ্ডিত্য, গভীর জ্ঞান এবং উপলব্ধির প্রখরতার পরিচয় দেয়...

বাকিলানি কুরআনিক বিন্যাসের সৌন্দর্যকে কতগুলো দিকের দিকে ফিরিয়ে নিয়েছেন যা সূক্ষ্মতা ও গভীরতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং যা তাঁর মস্তিষ্কে বিষয়ের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশগুলোর মধ্যকার যোগসূত্র নির্দেশ করে... এর মধ্যে কোনটি বাক্যের সাথে সংশ্লিষ্ট, কোনটি প্রাঞ্জলতার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং কোনটি বিন্যাস ও এর সামঞ্জস্যের সাথে সংশ্লিষ্ট।

--------------------------------------------

১. সূরা আত-তাওবাহ ৩৩... এ ছাড়া সূরা আল-ইমরান আয়াত ১২ এবং সূরা আল-আনফাল আয়াত ৭ দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ১৮)
وحسن رصفه، ومنها ما يرجع إلى غزارة المعاني، ومنها ما يرجع إلى تأثير الكلمة في الأسماع..

وواضح من تقسيماته وتفريعاته أنه متأثر في الشطر الأول من نظريته بفكرة الجاحظ، التي ذهب فيها إلى أن مرجع الإعجاز في القرآن إلى نظمه وأسلوبه العجيب المباين لأساليب العرب في الشعر والنثر وما يُطْوى فيه من سجع1.

وأما في الشطر الثاني فقد تأثر الباقلاني بفكرة الرُّمَّاني، التي ذهب فيها إلى أن القرآن يرتفع إلى أعلى طبقة من طبقات البلاغة2.

وعلى الرغم من أن الباقلاني قد اشبع هذه الوجوه العشر البلاغية شرحا وتحليلا وتفسيرا وتمثيلا، وألحق بكل منها ما يؤيد وجهة نظره، واستشهد بالكثير من الشواهد الشعرية والنثرية.. والآيات القرآنية.. إلاّ أنه وجد أنّ هذا الشرح غير كاف، وهذا التعليل غير شاف، فنراه يلحق بهذا الفصل الثالث فصلا رابعا، لا يتناول فيه موضوعا جديداً، بل إنه يعاود شرح ما سبق أن ذكره وبيّنه من وجوه، وواضح أنه قد فاته بعض المسائل لم يستطع أن يدرجها أثناء الشرح فألحقها به. إنه يتناول وجهاً وجهاً من الوجوه الثلاثة التي حددها للإعجاز القرآني ليعاود الكلام عليها ولكن بتركيز شديد وبشواهد جديدة.. ثم يختم هذا الفصل التفسيري المركّز بالكلام عن الإعجاز الواقع في النظم والتأليف والرصف.. ويجعل من حديثه هذا منطلقا لبدء المرحلة الأخيرة وهي مرحلة التأييد والإثبات، وتقديم المبرهنات والمؤيدات.

لقد ذكر الباقلاني مجموعة من العناصر التي جعلت من نظم القرآن وجها من وجوه الإعجاز.. منها: "أنه نظم خارج عن جميع وجوه النظم المعتاد في كلامهم، ومباين لأساليب خطابهم، ومن ادّعى ذلك لم يكن له بد من أن يصحّح أنه ليس من قبيل الشعر ولا السجع ولا الكلام الموزن غير المقفى".

وهنا نجده يشير إلى نقطة الانطلاق التي سيبدأ منها الدفاع.. فيقول:

"لأن قوماً من كفار قريش ادّعو أنه شعر، ومن الملحدة من يزعم أن فيه شعرا، ومن أهل الملة من يقول: إنه كلام مسجع إلا أنه أفصح ممّا قد اعتادوه من أسجاعهم.. ومنهم من يدّعي أنه

--------------------------------------------

1 البيان والتبين 1/373.

2 انظر رسالته (النكت في إعجاز القرآن) .. وانظر مقالنا في العدد السابق من مجلة الجامعة الإسلامية.
এবং এর চমৎকার বিন্যাস; যার কোনোটি অর্থের প্রাচুর্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, আর কোনোটি শ্রবণে শব্দের প্রভাবের দিকে প্রত্যাবর্তন করে।

তার বিভাজন ও শাখাবিন্যাস থেকে এটি স্পষ্ট যে, তিনি তার তত্ত্বের প্রথম অংশে আল-জাহিজের ধারণার দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। জাহিজের মতানুসারে, কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) মূল উৎস হলো এর অনন্য বিন্যাস (نظم) ও এর বিস্ময়কর শৈলী, যা কাব্য ও গদ্যের ক্ষেত্রে আরবদের প্রচলিত শৈলী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এর অন্তর্ভুক্ত অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্য (سجع)।

আর দ্বিতীয় অংশে আল-বাকিল্লানি আল-رুম্মানির ধারণার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, যিনি মনে করতেন যে, কুরআন অলংকারশাস্ত্রের (بلاغة) সর্বোচ্চ স্তরে অধিষ্ঠিত।

যদিও আল-বাকিল্লানি এই দশটি আলঙ্কারিক দিককে ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, বিশদ বর্ণনা ও উদাহরণের মাধ্যমে পরিপূর্ণ করেছেন এবং প্রত্যেকটির সাথে নিজের দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থনে যুক্তি যুক্ত করেছেন এবং প্রচুর কাব্যিক ও গদ্য উদাহরণসহ কুরআনের আয়াত উপস্থাপন করেছেন; তবুও তিনি অনুভব করেছেন যে এই ব্যাখ্যা পর্যাপ্ত নয় এবং এই কারণ দর্শানো সন্তোষজনক নয়। তাই আমরা দেখি তিনি এই তৃতীয় অধ্যায়ের সাথে চতুর্থ একটি অধ্যায় যুক্ত করেছেন, যেখানে তিনি কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেননি। বরং তিনি পূর্বে যা উল্লেখ ও বর্ণনা করেছেন, সেই দিকগুলোই পুনরায় ব্যাখ্যা করেছেন। এটা স্পষ্ট যে, ব্যাখ্যার সময় কিছু বিষয় তার নজর এড়িয়ে গিয়েছিল যা তিনি পরে এতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) জন্য নির্ধারিত তিনটি দিকের প্রতিটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা করেছেন, তবে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে এবং নতুন সব প্রমাণের মাধ্যমে। এরপর তিনি এই নিবিড় ব্যাখ্যামূলক অধ্যায়টি সমাপ্ত করেছেন কুরআনের বিন্যাস (نظم), রচনা ও সংকলনের অলৌকিকত্ব নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে। তিনি তার এই আলোচনাকে শেষ পর্যায়ের সূচনা হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যা হলো সমর্থন ও প্রমাণের পর্যায় এবং দলিল ও প্রমাণাদি উপস্থাপনের পর্যায়।

আল-বাকিল্লানি এমন কিছু উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন যা কুরআনের বিন্যাসকে (نظم) অলৌকিকত্বের (إعجاز) একটি দিক হিসেবে সাব্যস্ত করে। তার মধ্যে একটি হলো: "এটি এমন এক বিন্যাস যা তাদের কথাবার্তায় প্রচলিত সমস্ত বিন্যাসের বাইরে এবং তাদের সম্বোধন শৈলী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে ব্যক্তিই এটি দাবি করবে, তার জন্য এটি প্রমাণ করা অপরিহার্য যে এটি প্রচলিত কাব্য, অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্য (سجع) কিংবা অন্ত্যমিলহীন ছন্দোবদ্ধ কথার পর্যায়ভুক্ত নয়।"

এখানে আমরা দেখি তিনি তার প্রতিরক্ষার সূচনাবিন্দুর দিকে ইঙ্গিত করছেন। তিনি বলেন:

"কারণ কুরাইশ কাফেরদের একটি দল দাবি করেছিল যে এটি কাব্য, আবার ধর্মদ্রোহীদের কেউ কেউ দাবি করে যে এতে কাব্য রয়েছে। আর মুসলিম মিল্লাতের অনুসারীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: এটি অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্য (سجع), তবে তারা সচরাচর যে অন্ত্যমিলের সাথে অভ্যস্ত এটি তার চেয়েও অনেক বেশি প্রাঞ্জল। আবার তাদের কেউ কেউ দাবি করেন যে এটি"

--------------------------------------------

১. আল-বায়ান ওয়াত তাবিঈন ১/৩৭৩।

২. তার রিসালাহ (আন-নুকাত ফি ইজাজিল কুরআন) দেখুন... এবং আল-জামিআ আল-ইসলামিয়্যাহ ম্যাগাজিনের পূর্ববর্তী সংখ্যায় আমাদের নিবন্ধটি দেখুন।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ১৯)
كلام موزون فلا يخرج بذلك عن أصناف ما يتعارفونه من الخطاب"1

إذن فخطة الباقلاني في المرحلة الثالثة أن ينفي الشعر عن القرآن، ثم ينفي السجع عن القرآن، ثم يذكر الصور البيانية، والعناصر الجمالية التي يمكن أن يقع بها إعجاز القرآن. وهذا ما فعله الباقلاني تدعيما لوجوه الإعجاز وتأييداً لما ذهب إليه من آراء أثناء ردِّه على المزاعم التي قيلت حول القرآن.

وفي الحقيقة لم يكن نفي السجع عن القرآن من بنات أفكاره.. ولكنه ردَّد ما ذكره الرمّاني من أن فواصله تباين السجع مباينة تامة، إذ الفواصل تتبع المعنى، أمّا السجع فيتبعه المعنى، ومن أجل ذلك يتضح فيه التكلّف والثقل2.

بعد أن انتهى الباقلاني من دفاعه عن القرآن، انتقل إلى موضوع آخر وهو: الطريق إلى معرفة الإعجاز.. أو كيفية الوقوف على إعجاز القرآن. وهو كعادته حين يتصدى لموضوع ما يتساءل: هل يمكن أن يعرف إعجاز القرآن من جهة ما يتضمنه من البديع؟

وهنا نلاحظ أنه لا يقصد بالبديع المعنى الاصطلاحي المعروف، إنما يقصد ما جاء في القرآن من ألوان الجمال المعنوي التي تشملها علوم البلاغة.

وهو في هذا الفصل يحدّد الأبواب والفصول التي ذكرها أهل الصنعة، ومن صنّف في هذا المعنى - يقصد الإعجاز القرآني - ثم يبيّن ما عجزوا عن فهمه أو الوصول إلى كنهه، ليكون الكلام – على حد تعبيره - "وارداً على أمرٍ مبين، وباب مصور".

ثم يستعرض العناصر البلاغية التي تناولها القوم، وذكروها بوصفها النوافذ التي يمكن من خلالها أن يطلُّوا على آيات الإعجاز القرآني.. فنراه يتحدث كما تحدث البلاغيون السابقون من أمثال ابن المعتز وأبي هلال العسكري عن الاستعارة، والتشبيه، والإرداف، والمماثلة ويذكر المطابقة والجناس، ويذكر ضرباً يسميه (الموازنة) ، وهي مما زاده قدامة بن جعفر3 في كتابه (جواهر الألفاظ) من حسن البلاغة، وقد سمّاها (اعتدال الوزن) .

ويذكر الباقلاني أيضا (المساواة) على أنها ضرب من البديع، مقتديا

--------------------------------------------

1 إعجاز القرآن ص80.

2 انظر رسالة الرمّاني "النكت في إعجاز القرآن" الفواصل، وانظر أيضا مقالنا في العدد السابق من مجلة الجامعة الإسلامية ص34.

3 جواهر الألفاظ ص3 طبعة القاهرة.
"সুশৃঙ্খল কথা, যা তাদের পরিচিত ভাষণের প্রকারভেদের বাইরে নয়।"১

সুতরাং তৃতীয় পর্যায়ে আল-বাকিল্লানির পরিকল্পনা হলো কুরআন থেকে কবিতাকে অস্বীকার করা, তারপর কুরআন থেকে ছন্দোবদ্ধ গদ্য (سجع) অস্বীকার করা, এরপর আলঙ্কারিক চিত্র এবং সৌন্দর্যমণ্ডিত উপাদানসমূহ উল্লেখ করা যার মাধ্যমে কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারে। আল-বাকিল্লানি কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলোকে শক্তিশালী করতে এবং কুরআনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির জবাব দেওয়ার সময় নিজের মতামতের সমর্থনে এটি করেছিলেন।

প্রকৃতপক্ষে কুরআন থেকে ছন্দোবদ্ধ গদ্য (سجع) অস্বীকার করা তাঁর নিজস্ব উদ্ভাবন ছিল না... বরং তিনি আল-রুমমানির বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন যে, কুরআনের আয়াতান্তের মিলসমূহ (فواصل) ছন্দোবদ্ধ গদ্য (سجع) থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ আয়াতান্তের মিলসমূহ (فواصل) অর্থকে অনুসরণ করে, পক্ষান্তরে ছন্দোবদ্ধ গদ্যের (سجع) ক্ষেত্রে অর্থ ছন্দকে অনুসরণ করে। আর এই কারণেই এতে কৃত্রিমতা ও গুরুভার স্পষ্ট হয়ে ওঠে২।

আল-বাকিল্লানি কুরআনের সপক্ষে তাঁর প্রতিরক্ষা সমাপ্ত করার পর অন্য একটি বিষয়ে মনোনিবেশ করেন, আর তা হলো: অলৌকিকত্ব (إعجاز) জানার পথ... অথবা কীভাবে কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) উপলব্ধি করা যায়। তিনি যখনই কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, তখন স্বভাবসুলভভাবে প্রশ্ন উত্থাপন করেন: কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) কি এতে বিদ্যমান আলঙ্কারিক বৈচিত্র্যের (بديع) দিক থেকে জানা সম্ভব?

এখানে আমরা লক্ষ্য করি যে, তিনি আলঙ্কারিক বৈচিত্র্য (بديع) বলতে সুপরিচিত পারিভাষিক অর্থ বুঝাচ্ছেন না, বরং তিনি কুরআনে বর্ণিত সেইসব অর্থগত সৌন্দর্যের রূপসমূহ বুঝিয়েছেন যা অলঙ্কার শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

তিনি এই পরিচ্ছেদে সেই সব অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ নির্ধারণ করেছেন যা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেছেন, এবং যারা এই বিষয়ে — অর্থাৎ কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) সম্পর্কে — গ্রন্থ রচনা করেছেন। এরপর তিনি তাদের অক্ষমতা বা প্রকৃত রহস্য অনুধাবনে ব্যর্থতা বর্ণনা করেছেন, যাতে করে আলোচনাটি — তাঁর ভাষায় — "একটি সুস্পষ্ট বিষয় এবং চিত্রিত দ্বারের ওপর উপস্থাপিত হয়।"

এরপর তিনি সেই সব অলঙ্কারশাস্ত্রীয় উপাদানসমূহ পর্যালোচনা করেন যা পূর্ববর্তীগণ আলোচনা করেছেন এবং সেগুলোকে এমন বাতায়ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন যেগুলোর মাধ্যমে কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) আয়াতসমূহ অবলোকন করা সম্ভব। আমরা দেখি যে তিনি পূর্ববর্তী অলঙ্কারবিদ যেমন ইবনে আল-মু'তায এবং আবু হিলাল আল-আসকারি যেভাবে রূপক (استعارة), উপমা (تشبيه), অনুবৃত্তি (إرداف) এবং সমজাতীয়তা (مماثلة) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, তিনিও তেমনি করেছেন। তিনি বৈপরীত্য (مطابقة) এবং শব্দালঙ্কার (جناس) উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও তিনি একটি প্রকার উল্লেখ করেছেন যাকে তিনি সামঞ্জস্য (موازنة) বলে অভিহিত করেছেন। এটি কুদামা ইবনে জাফর তাঁর জাওয়াহির আল-আলফাজ গ্রন্থে উত্তম অলঙ্কারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তিনি এর নাম দিয়েছিলেন ছন্দের সমতা (اعتدال الوزن)।

আল-বাকিল্লানি সমতা (مساواة)-কেও অলঙ্কার শাস্ত্রের (بديع) একটি প্রকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন...

--------------------------------------------

১ ই'জাযুল কুরআন, পৃষ্ঠা ৮০।

২ আল-রুমমানির রিসালাহ "আন-নুকাত ফি ই'জাযিল কুরআন", অনুচ্ছেদ: আল-ফাওয়াসিল দেখুন। আরও দেখুন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িকীর গত সংখ্যায় আমাদের নিবন্ধ, পৃষ্ঠা ৩৪।

৩ জাওয়াহির আল-আলফাজ, পৃষ্ঠা ৩, কায়রো সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ২০)
بقدامة في هذا الصنيع، وتأثره في حديثه عقب ذلك عن (الإشارة) و (المبالغة) و (الغلو) و (الإيغال) و (التوشيح) و (صحة التقسيم) و (صحة التفسير) و (التقسيم) و (الترصيع) .

ويظل ينقلنا الباقلاني من موضع بلاغي إلى آخر، ومن صورة شعرية فنية إلى أخرى، ملقيا الضوء على ما فيها من أبعاد وظلال فنية، حتى يأتي على كل العناصر البلاغية التي تناولها العلماء، وظنوا أنها السبيل إلى معرفة أسرار الإعجاز القرآني.

بيد أنه في آخر المطاف.. يضع أمام الأذهان سؤالا هاما..

هل لأبواب البديع فائدة في معرفة الإعجاز؟ ويجيب على هذا السؤال إجابة صريحة فيقول: "ليس كذلك عندنا..، لأن هذه الوجوه إذا وقع التنبيه عليها أمكن التوصل إليها بالتدريب والتصنع لها". ويمضي فيقول:

"إنه لا سبيل إلى معرفة إعجاز القرآن من البديع الذي ادّعوه في الشعر ووضعوه فيه، وذلك أن هذا الفن ليس فيه ما يخرق العادة، ويخرج عن العرف، بل يمكن استدراكه بالتعليم والتدرب به والتصنع له.. أما شَأْوَ نظم القرآن فليس له مثال يُحْتَذى عليه ولا إمام يُقْتَدَى به، ولا يصح وقوع مثله اتفاقاً."

فما السبيل إذن إلى معرفة إعجاز القرآن؟

هذا هو محور الفصل الثامن الذي خصصه الباقلاني لتحديد (كيفية الوقوف على إعجاز القرآن) يقول فيه: إنه لا يقف عليه إلاّ مَنْ عرف معرفة بيِّنة وجوه البلاغة العربية، وتكوَّنت له فيها ملكة يقيس بها الجودة والرداءة في الكلام بحيث يميِّز بين نمط شاعر وشاعر، ونمط كاتب وكاتب، وبحيث يعرف مراتب الكلام في الفصاحة، وهذا كما يميز أهل كل صناعة صنعتهم "ومتى تقدم الإنسان في هذه الصنعة لم تخف عليه هذه الوجوه، ولم ثشبيه عنده هذه الطرق، فهو يميز قدر كل متكلم بكلامه، وقدر كل كلام في نفسه، ويحكم فيه بما يستحق من الحكم، وإن كان المتكلم يجود في شيء دون شيء عرف ذلك منه، وإن كان يعم إحسانه عرف."1

وبهذا المفهوم نستطيع أن نعرف أن الباقلاني يرد المسألة إلى الذوق وحُسْن تدرّبه على تمييز أصناف الكلام..

--------------------------------------------

1 إعجاز القرآن ص151.
কুদামার এই কার্যপদ্ধতির অনুসরণ এবং পরবর্তীতে (ইশারা), (মুবালাগা), (গুলু), (ইইগাল), (তাওশীহ), (সহিহ আত-তাকসিম), (সহিহ আত-তাফসির), (তাকসিম) ও (তারসি‘) সংক্রান্ত আলোচনায় তাঁর উপর কুদামার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

আল-বাকিলানি আমাদের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে এবং এক কাব্যিক চিত্রকল্প থেকে অন্য চিত্রকল্পে স্থানান্তরিত করতে থাকেন, আর সেগুলোর শৈল্পিক মাত্রা ও বৈশিষ্ট্যের ওপর আলোকপাত করেন। এভাবে তিনি সেই সকল অলঙ্কারশাস্ত্রীয় উপাদানে উপনীত হন যা নিয়ে আলিমগণ আলোচনা করেছেন এবং ধারণা করেছেন যে, এগুলোই হলো কুরআনের অলৌকিকত্বের (ইজায) রহস্য জানার উপায়।

তবে পরিশেষে তিনি চিন্তাশীলদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উপস্থাপন করেন...

অলঙ্কারশাস্ত্রের (বাদি‘) শাখাগুলো কি অলৌকিকত্ব অনুধাবনে কোনো উপকারে আসে? তিনি এই প্রশ্নের একটি স্পষ্ট উত্তর দিয়ে বলেন: "আমাদের নিকট বিষয়টি এমন নয়... কারণ এই দিকগুলো যদি চিহ্নিত করে দেওয়া হয়, তবে অনুশীলনী ও কৃত্রিম অনুকরণের মাধ্যমে সেগুলো অর্জন করা সম্ভব।" তিনি আরও বলেন:

"কবিতার ক্ষেত্রে তারা যে ‘বাদি’ বা অলঙ্কারের দাবি করেছেন এবং তার যে ভিত্তি স্থাপন করেছেন, তা দিয়ে কুরআনের অলৌকিকত্ব অনুধাবনের কোনো পথ নেই। কারণ এই শিল্পে এমন কিছু নেই যা মানবীয় ক্ষমতার অতীত বা প্রথা বহির্ভূত, বরং শিক্ষা, অনুশীলন ও কৃত্রিম প্রচেষ্টার মাধ্যমে এটি আয়ত্ত করা সম্ভব। পক্ষান্তরে, কুরআনের বাচনভঙ্গির যে উচ্চতা, তার কোনো অনুকরণযোগ্য দৃষ্টান্ত নেই এবং কোনো অনুসরণযোগ্য আদর্শ নেই। আর দৈবক্রমেও এমন কিছুর অবতারণা সম্ভব নয়।"

তাহলে কুরআনের অলৌকিকত্ব অনুধাবনের উপায় কী?

এটিই হলো অষ্টম অধ্যায়ের মূল প্রতিপ্রতিপাদ্য, যা আল-বাকিলানি ‘কীভাবে কুরআনের অলৌকিকত্ব অনুধাবন করা যায়’ তা নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: কেবল তারাই এটি অনুধাবন করতে পারে যারা আরবী অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) রূপসমূহ স্পষ্টভাবে জানে এবং যাদের মধ্যে এমন এক রুচিবোধ তৈরি হয়েছে যার মাধ্যমে তারা বাক্যের গুণাগুণ ও মান পরিমাপ করতে পারে; ফলে তারা একজন কবির সাথে অন্য কবির এবং একজন লেখকের সাথে অন্য লেখকের শৈলীর পার্থক্য করতে সক্ষম হয়। সেই সাথে তারা বাগ্মিতার ক্ষেত্রে বাক্যের স্তরসমূহ অনুধাবন করতে পারে। এটি ঠিক তেমনি, যেমন প্রত্যেক শিল্পের কারিগররা তাদের নিজস্ব শিল্পকে চিনতে পারে। "যখন কোনো ব্যক্তি এই শিল্পে পারদর্শী হয়, তখন এই দিকগুলো তার কাছে অস্পষ্ট থাকে না এবং এই পথগুলো তার কাছে সংশয়পূর্ণ হয় না। ফলে সে তার আলোচনার মাধ্যমে প্রত্যেক বক্তার মান এবং প্রতিটি বক্তব্যের স্বকীয় মর্যাদা নিরূপণ করতে পারে এবং সে বিষয়ে তার প্রাপ্য বিচার করতে পারে। যদি বক্তা কোনো একটি বিষয়ে মুন্সিয়ানা দেখায় আর অন্য বিষয়ে ব্যর্থ হয়, তবে সে তা ধরে ফেলে; আর যদি তার উৎকর্ষতা সর্বব্যাপী হয়, তবে তাও সে অনুধাবন করতে পারে।"১

এই ধারণার আলোকে আমরা বুঝতে পারি যে, আল-বাকিলানি বিষয়টি রুচিবোধ এবং বাক্যের বিভিন্ন প্রকারভেদের মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণের ক্ষেত্রে অর্জিত দক্ষতার ওপর ন্যস্ত করেছেন।

--------------------------------------------

১. ইজাযুল কুরআন, পৃষ্ঠা ১৫১।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ২১)
ولقد دفعه هذا الفهم إلى أن يسوق طائفة من خطب الرسول صلى الله عليه وسلم ورسائله، ومن خطب الصحابة وغيرهم.. ليلمس القارئ فرق ما بين ذلك كله وبين القرآن.

ولا يقف عند حدود النثر.. بل ينطلق إلى آفاق الشعر، فيدرس معلقة امرئ القيس –إمام الشعراء -، ويبين ما فيها من تكلف وحشو، وخلل وتطويل، ولفظ غريب، وكيف تتفاوت أبياتها بين الجودة والرداء، والسلامة والغرابة، والسلامة والانحلال والاسترسال والتوحش والاستكراه.. "مع أنه قد أبدع في طرق الشعر أموراً اتبع فيها"1

بعد ذلك.. يعود بنا ليتحدث عن جمال نظم القرآن وحسن تأليفه ورصفه وكيف أنه وُزّع على كل آياته بقسطاس سواء منها القصص وغير القصص، بينما يتفاوت كلام البلغاء من الشعراء حتى في القصيدة الواحدة. ويتناول قصيدة بديعة للبحتري الذي اشتهر بجمال ديباجته وحلاوة أنغامه وعذوبة ألفاظه، وهي لاميته المشهورة:

أهْلاً بذلكمُ الخيالِ المقبل … فَعَلَ الذي نَهْواه أوْ لم يفعلِ

ويشرِّح أبياتها تشريحا، مبيِّنا ما يجري فيها من ثِقل وتطويل وحشو وتكلف وألفاظ وحشية جافية، ومن تناقض وكزازة وتعسف ورداءة صوغ وسبك. ويهاجم الباقلاني كذلك ما يقال من بلاغة الجاحظ مبيِّناً أنه دائما يستعين بغيره، ويفزع إلى ما يوشِّح به كلامه من مثل نادر، وبيت سائر، وحكمة منقولة، وقصة مأثورة.. كل ذلك ليدل الباقلاني على أن بلاغة القرآن لا تسمو إليها أي بلاغة لشاعر أو كاتب وكأنه في كل ذلك يشرح ما ذكره الرمّاني في رسالته - التي تحدثنا عنها في المقال السابق - من أن للكلام ثلاث طبقات: عليا وهي طبقة القرآن، ووسطى ودُنيا، وهما طبقتا البلغاء على اختلاف بلاغتهم، وما ينظمونه أو يخطبون به أو يكتبونه. ونسمعه دائما يردِّدُ أنّ كلام البلغاء يتفاوت، بينما القرآن لا تتفاوت آياته، وإن العبارة لتُجْلَبُ منه إلى كلام البليغ.. فإذا هي تتلألأُ كأنها الدرّة الواسطة في العقد.. ويمضي الباقلاني قائلا: ".. إنّ القرآن ليس معجزاً لأهل العصر الأول الذي نزل فيهم فحسب، بل هو أيضا معجز لأهل كل العصور..

--------------------------------------------

1 إعجاز القرآن ص184.
এই উপলব্ধি তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একগুচ্ছ খুতবা ও পত্রাবলি এবং সাহাবায়ে কেরাম ও অন্যদের খুতবাসমূহ তুলে ধরতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যাতে পাঠক এই সবকিছুর সাথে কুরআনের মধ্যকার পার্থক্য অনুধাবন করতে পারেন।

তিনি কেবল গদ্যের সীমানায় থেমে থাকেননি, বরং কবিতার দিগন্তেও বিচরণ করেছেন। তিনি কবিদের ইমাম ইমরুল কায়েসের মুয়াল্লাকা নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং তাতে বিদ্যমান কৃত্রিমতা, অনর্থক শব্দের প্রয়োগ, ত্রুটি, দীর্ঘসূত্রতা এবং বিরল (غريب) শব্দের ব্যবহার ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে এর পংক্তিগুলো উৎকর্ষ ও নিকৃষ্টতা, প্রাঞ্জলতা ও দুর্বোধ্যতা, সুস্থতা ও শিথিলতা, সাবলীলতা ও কর্কশতা এবং অসারতার মধ্যে ওঠানামা করে। "যদিও তিনি কবিতার পদ্ধতিতে এমন কিছু নতুনত্ব সৃষ্টি করেছেন যা পরবর্তীতে অনুসরণ করা হয়েছে।"১

এরপর তিনি আমাদের নিয়ে পুনরায় কুরআনের শব্দবিন্যাসের সৌন্দর্য, এর চমৎকার গঠনশৈলী ও বিন্যাস নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি দেখান কীভাবে এর প্রতিটি আয়াতে—তা কাহিনী হোক বা অন্য কিছু—একই মাপে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে; অথচ প্রথিতযশা কবিদের বক্তব্য এমনকি একটি কবিতার মধ্যেও মানগতভাবে ওঠানামা করে। তিনি আল-বুহতুরীর একটি চমৎকার কবিতা নিয়ে আলোচনা করেন, যিনি তার ভাষার সৌন্দর্য, সুরের মাধুর্য এবং শব্দের কমনীয়তার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। এটি তার বিখ্যাত 'লামিয়া' কবিতা:

স্বাগতম সেই আগন্তুক কল্পনাকে … সে তা-ই করেছে যা আমরা চেয়েছি অথবা করেনি

তিনি এর প্রতিটি পংক্তি ব্যবচ্ছেদ করে দেখিয়েছেন যেখানে শব্দের ভারিক্কি ভাব, দীর্ঘসূত্রতা, বাহুল্য, কৃত্রিমতা এবং কর্কশ ও রুক্ষ শব্দের ব্যবহার রয়েছে। আরও দেখিয়েছেন এর মধ্যকার স্ববিরোধিতা, জড়তা, জবরদস্তি এবং দুর্বল গঠন ও বিন্যাস। বাকিল্লানি জাহিযের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় খ্যাতিরও সমালোচনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, জাহিয সর্বদা অন্যের সাহায্য গ্রহণ করেন এবং তার বক্তব্যকে সজ্জিত করার জন্য বিরল প্রবাদ, প্রচলিত কাব্যপদ, বর্ণিত প্রজ্ঞা এবং বর্ণিত (مأثور) কাহিনীর আশ্রয় নেন। এ সবকিছুর মাধ্যমে বাকিল্লানি প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, কুরআনের অলঙ্কারশৈলীর উচ্চতায় কোনো কবি বা লেখকের অলঙ্কার পৌঁছাতে পারে না। মনে হয় যেন তিনি এসবের মাধ্যমে আর-রুম্মানি তার রিসালায় যা উল্লেখ করেছেন তারই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন—যা নিয়ে আমরা পূর্ববর্তী নিবন্ধে আলোচনা করেছি—যে, বাক্যের তিনটি স্তর রয়েছে: উচ্চতর স্তর যা কুরআনের স্তর, আর মধ্যম ও নিম্ন স্তর যা অলঙ্কারবিদদের স্তর; তাদের অলঙ্কারশৈলীর ভিন্নতা অনুযায়ী তারা যা রচনা করেন, খুতবা দেন বা লেখেন। আমরা তাকে সর্বদা বলতে শুনি যে, আলঙ্কারিকদের কথা মানগতভাবে কমবেশি হয়, কিন্তু কুরআনের আয়াতসমূহের মধ্যে কোনো তারতম্য নেই। যখন কুরআন থেকে কোনো বাক্য কোনো আলঙ্কারিকের বক্তব্যের মধ্যে আনা হয়, তখন সেটি হারের মাঝখানের মুক্তোর মতো জ্বলজ্বল করতে থাকে। বাকিল্লানি আরও বলেন: "...কুরআন কেবল সেই প্রথম যুগের মানুষের জন্যই মুজিযা নয় যাদের মধ্যে এটি অবতীর্ণ হয়েছিল, বরং এটি সর্বকালের মানুষের জন্যই মুজিযা।"

--------------------------------------------

১. ইজাযুল কুরআন, পৃ. ১৮৪।
(খণ্ড: ১) আবু বকর আল-বাকিলানি ওয়া মাফহুমুহু লিল-ইজাযিল কুরআনি (পৃষ্ঠা: ২২)
" هذا هو مفهوم الباقلاني للإعجاز القرآني.. وواضح أنه لم يزد في كتابه عن شرحه - أو قل بعبارة أدق - عن محاولة شرحه لما قاله الجاحظ من جمال النظم القرآني، وما قاله الرَّماني من أنه في المرتبة الرفيعة من البلاغة والبيان، ومضى يردُّ تفسير هذه المرتبة بوجوه البديع التي عدَّها ابن المعتز وقدامة وأبو أحمد العسكري وغيرهم، كما ردّ تفسيرها بوجوه البلاغة التي ذكرها الرماني..

وبالطبع، فهذا لا يقلّل من شأن الباقلاني.. أو يبهرج علمه.. فيكفي أن نعلم أنّ الرجل أوّل من هاجم في قوة نظرية إعجاز القرآن عن طريق تصوير ما فيه من وجوه البديع، وأيضا وجوه البلاغة التي أحصاها الرماني.

ومن هنا تأتي أهمية الباقلاني، إذ أعدّ للبحث عن أسرار في نَظْم القرآن من شأنها حين تَوضح توضيحا دقيقاً أن تقف الناسَ على إعجازه.
এটিই হলো কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) সম্পর্কে আল-বাকিলানির ধারণা। এটি স্পষ্ট যে, তিনি তাঁর গ্রন্থে আল-জাহিজ বর্ণিত কুরআনের বাক্যশৈলীর (نظم) সৌন্দর্য এবং আর-রুম্মানি বর্ণিত উচ্চস্তরের অলংকারশাস্ত্র (بلاغة) ও প্রাঞ্জলতা (بيان) বিষয়ক বক্তব্যগুলো ব্যাখ্যা করার—অথবা আরও নির্ভুলভাবে বললে, তা ব্যাখ্যা করার প্রচেষ্টার—বাইরে তেমন কিছু যোগ করেননি। তিনি এই উচ্চস্তরকে ইবনুল মুতাযয, কুদামা, আবু আহমদ আল-আসকারি এবং অন্যান্যদের গণনাকৃত চমৎকারিত্বের (بديع) দিকগুলো দিয়ে ব্যাখ্যা করাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন; যেমনটি তিনি আর-রুম্মানি কর্তৃক উল্লিখিত অলংকারশাস্ত্রের (بلاغة) দিকগুলো দিয়ে করা ব্যাখ্যাকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অবশ্যই এটি আল-বাকিলানির মর্যাদা হ্রাস করে না, কিংবা তাঁর জ্ঞানকে ম্লান করে না। কারণ আমাদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) তত্ত্বটিকে চমৎকারিত্বের (بديع) দিকগুলো, এবং আর-রুম্মানি কর্তৃক সংকলিত অলংকারশাস্ত্রের (بلاغة) দিকগুলো দিয়ে রূপায়িত করার প্রচেষ্টাকে প্রথম জোরালোভাবে আক্রমণ করেছিলেন।

আর এখানেই আল-বাকিলানির গুরুত্ব নিহিত; কারণ তিনি কুরআনের বাক্যশৈলীর (نظم) এমন গূঢ় রহস্যসমূহ নিয়ে গবেষণার পথ প্রশস্ত করেছেন, যা সুনিপুণভাবে ব্যাখ্যা করা হলে মানুষকে এর অলৌকিকত্বের (إعجاز) স্বরূপ উপলব্ধি করতে সক্ষম করবে।