(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: -)
إبراهيم بن محمد بن سفيان رواياته وزياداته وتعليقاته على صحيح مسلم   (عبد الله دمفو)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: إبراهيم بن محمد بن سفيان رواياته وزياداته وتعليقاته على صحيح مسلم

المؤلف: عبد الله بن محمد حسن دمفو

الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

السنة: الثالثة والثلاثون، العدد 111 - 1421هـ/2001م

عدد الصفحات: 244

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান: সহীহ মুসলিমের ওপর তাঁর বর্ণনা, সংযোজন ও টীকাসমূহ   (আবদুল্লাহ দামফু)

বিভাগ: তাখরীজ ও আতরাফ (সূত্র বিশ্লেষণ ও নির্ঘণ্ট)


গ্রন্থ: ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান: সহীহ মুসলিমের ওপর তাঁর বর্ণনা, সংযোজন ও টীকাসমূহ

লেখক: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ হাসান দামফু

প্রকাশক: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী

বর্ষ: তেত্রিশতম، সংখ্যা ১১১ - ১৪২১ হিজরী/২০০১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৬১)
إبراهيم بن محمد بن سفيان روايته، وزياداته، وتعليقاته على صحيح مسلم

تأليف: د/ عبد الله بن محمد حسن دمفو

قسم اللغة العربية والدراسات الإسلامية كلية التربية بالمدينة المنورة - جامعة الملك عبد العزيز

بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبيَّ بعده، وعلى آله وصحبه وسلَّم تسليماً كثيراً، وبعد:

فإنَّ أصحَّ الكتب بعد كتاب الله عز وجل، صحيحا الإمامين البخاري ومسلم، فهما أول من ألَّف في الصحيح المجرَّد، وشرطهما في إخراج الحديث أشدُّ من شرط غيرهما، ولذلك تلقتهما الأمة بالقبول ابتداءً من علماء عصرهما وحتى يرث الله الأرض ومَن عليها، فكثر الآخذون عنهما، والرواة لكتابيهما، لكن لم تصلنا من روايات الكتابين إلَاّ أشهرها كرواية الفربري عن الإمام البخاري، ورواية ابن سفيان عن الإمام مسلم.

وإن كانت رواية الفربري قد وَجدت اهتماماً من العلماء الذين كتبوا حول سند الجامع الصحيح للبخاري، كابن رُشيد السبتي في كتابه ((إفادة النَّصيح)) ، إلَاّ أنَّني لم أجد من كَتب حول ابن سفيان وروايته لصحيح مسلم استقلالاً، مع أنَّ روايته هي الرواية المعتمدة والكاملة للصحيح، ولذلك استقرَّ في نفسي سدُّ هذه الثغرة في المكتبة الإسلامية والكتابة حول هذا الموضوع، فوجدتُ أنَّ جهود ابن سفيان في خدمة هذا الكتاب لم تقتصر على الرواية فقط، بل وُجدت له زيادات وتعليقات عليه، ولذلك جاء البحث في مقدِّمة، وأربعة مباحث، وخاتمة.

أمَّا المقدِّمة فبيَّنتُ فيها سبب اختياري هذا الموضوع ومنهجي فيه.

وأمَّا المبحث الأول: فكان حول ترجمة ابن سفيان، جمعتُ فيه ما تفرَّق من
ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান: সহিহ মুসলিমের ওপর তাঁর বর্ণনা, অতিরিক্ত বর্ণনা ও টীকা

রচনা: ড. আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ হাসান দামফু

আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা অনুষদ, মদিনা মুনাওয়ারা - কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর প্রচুর সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ হলো ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের দুই সহিহ গ্রন্থ। তাঁরাই সর্বপ্রথম কেবল বিশুদ্ধ হাদিস সংকলনের কাজ করেছেন এবং হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের শর্তাবলি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর। এই কারণেই উম্মাহ তাঁদের সময়কার আলেমদের থেকে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত এই গ্রন্থদ্বয়কে কবুল করে নিয়েছে। ফলে তাঁদের থেকে জ্ঞান আহরণকারী এবং তাঁদের গ্রন্থদ্বয়ের বর্ণনাকারীর সংখ্যা অনেক। তবে এই দুই গ্রন্থের বর্ণনাগুলোর মধ্যে কেবল সবচেয়ে প্রসিদ্ধগুলোই আমাদের কাছে পৌঁছেছে, যেমন ইমাম বুখারি থেকে ফিরারির বর্ণনা এবং ইমাম মুসলিম থেকে ইবনে সুফিয়ানের বর্ণনা।

যদিও ফিরারির বর্ণনাটি সেইসব আলেমদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে যারা বুখারির জামে সহিহ-এর সনদের ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন—যেমন ইবনু রুশাইদ আল-সাবতি তাঁর 'ইফাদাতুন নাসিহ' গ্রন্থে করেছেন—তবে আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি স্বতন্ত্রভাবে ইবনে সুফিয়ান এবং সহিহ মুসলিমের ওপর তাঁর বর্ণনার বিষয়ে লিখেছেন। অথচ তাঁর বর্ণনাটিই সহিহ গ্রন্থের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা। এই কারণে ইসলামি গ্রন্থাগারের এই শূন্যতা পূরণ করার এবং এই বিষয়ে লেখার ইচ্ছা আমার মনে দৃঢ় হয়। আমি লক্ষ্য করেছি যে, এই গ্রন্থের সেবায় ইবনে সুফিয়ানের প্রচেষ্টা কেবল বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এতে তাঁর কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা ও টীকাও রয়েছে। ফলে এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, চারটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত হয়েছে।

ভূমিকায় আমি এই বিষয়টি নির্বাচনের কারণ এবং এতে আমার অনুসৃত পদ্ধতি বর্ণনা করেছি।

আর প্রথম পরিচ্ছেদটি ছিল ইবনে সুফিয়ানের জীবনী প্রসঙ্গে, যেখানে আমি তাঁর বিক্ষিপ্ত তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছি...
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৬২)
مادة علمية في بطون المراجع، إضافة إلى استنطاق بعض النصوص لاستنباط معلومات جديدة تُفيد في الكشف عن جوانب من شخصيته.

وأما المبحث الثاني: فكان حول روايته لصحيح مسلم، وأهميَّتها، والردِّ على ما وُجِّه إليها من نقد من جهة الفوائت التي فاته سماعها من شيخه مسلم.

وأمَّا المبحث الثالث: فكان حول زياداته على صحيح مسلم، وقدَّمتُ له بتعريف الزيادات، والفرق بينها وبين الزوائد، ثم ذكرتُ ما وقفتُ عليه من الزيادات على كتب السنة، وبيَّنتُ بعد ذلك أهميَّة الزيادات وفوائدها من خلال زيادات ابن سفيان، ثم أوردتُ نصوصها التي بلغت ثلاثة عشرة زيادة مع تخريجها ودراستها.

وأما المبحث الرابع: فكان حول تعليقاته على الصحيح، وعدد نصوصها ستُّ تعليقات، صدَّرتُها بالفوائد التي أفادتها، مع تخريجها ودراستها أيضاً.

وأما الخاتمة، فضمَّنتها أهمَّ نتائج البحث.

وقد اتَّبعتُ في البحث المنهجَ الآتي:

1 - لم أدرس من رجال الإسناد إلَاّ ما ورد في زيادات ابن سفيان، وتركتُ ما جاء في إسناد مسلم؛ لشهرتهم إلَاّ إذا دعت الضرورة لذلك.

2 - اعتمدتُ على كتابي الكاشف للذهبي والتقريب لابن حجر في بيان أحوال الرواة، خاصة عند اتفاقهما في الحكم؛ لأنَّهما ذكرا خلاصة من سبقهما من علماء الجرح والتعديل، وقد اعتمدتُ مراجع أخرى غيرهما عند الحاجة.

3 - لم أحكم على أحاديث الزيادات؛ وذلك لأنَّ أصلَها في صحيح مسلم، وقد التقى ابن سفيان معه في شيخه أو شيخ أعلى.

4 - استوعبتُ الزيادات التي أوردها ابن سفيان على أحاديث الصحيح المسندة المرفوعة، ولم أتعرَّض لزيادة ابن سفيان على مقدِّمة الصحيح (1/22) ،
তথ্যসূত্রসমূহের গভীর থেকে সংগৃহীত জ্ঞানভিত্তিক বিষয়বস্তু, এর পাশাপাশি কিছু পাঠ বিশ্লেষণ করে তাঁর ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক উন্মোচনে সহায়ক হয় এমন নতুন তথ্য উদঘাটন করা হয়েছে।

আর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি ছিল সহীহ মুসলিমের ক্ষেত্রে তাঁর বর্ণনা, এর গুরুত্ব এবং তাঁর উস্তাদ ইমাম মুসলিমের নিকট থেকে যা কিছু শ্রবণ করা তাঁর থেকে ছুটে গিয়েছিল সেই দিকটি নিয়ে যেসব সমালোচনা করা হয়েছে তার জবাব সম্পর্কে।

আর তৃতীয় পরিচ্ছেদটি ছিল সহীহ মুসলিমের উপর তাঁর যিয়াদাত (অতিরিক্ত বর্ণনা) সম্পর্কে। এর শুরুতে আমি যিয়াদাতের সংজ্ঞা এবং যিয়াদাত ও জাওয়াইদের মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধরেছি। এরপর সুন্নাহর কিতাবসমূহে আমি যেসব যিয়াদাত সম্পর্কে অবগত হয়েছি সেগুলো উল্লেখ করেছি। এরপর ইবনে সুফিয়ানের যিয়াদাতসমূহের মাধ্যমে এর গুরুত্ব ও উপকারিতা বর্ণনা করেছি। সবশেষে তাঁর বর্ণিত তেরোটি যিয়াদাতের মূল পাঠ, সেগুলোর তাখরীজ ও পর্যালোচনাসহ উল্লেখ করেছি।

আর চতুর্থ পরিচ্ছেদটি ছিল সহীহ মুসলিমের উপর তাঁর টীকাসমূহ সম্পর্কে, যার সংখ্যা ছিল ছয়টি। আমি এর শুরুতেই সেগুলোর উপকারিতা এবং সাথে সেগুলোর তাখরীজ ও পর্যালোচনাও উপস্থাপন করেছি।

আর উপসংহারে আমি গবেষণার প্রধান ফলাফলসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছি।

আমি এই গবেষণায় নিমোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

১ - ইবনে সুফিয়ানের যিয়াদাত বা অতিরিক্ত বর্ণনায় আগত বর্ণনাকারীদের ব্যতীত আমি অন্য বর্ণনাকারীদের নিয়ে আলোচনা করিনি। ইমাম মুসলিমের সনদে থাকা বর্ণনাকারীদের প্রসিদ্ধির কারণে তাদের আলোচনা বর্জন করেছি, তবে বিশেষ প্রয়োজনে ব্যতিক্রম করা হয়েছে।

২ - বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি ইমাম যাহাবীর ‘আল-কাশিফ’ এবং ইবনে হাজারের ‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থদ্বয়ের ওপর নির্ভর করেছি, বিশেষ করে যখন তাঁরা উভয়ে কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। কারণ তাঁরা তাঁদের পূর্ববর্তী জারাহ-ওয়াত-তা'দীল বিশেষজ্ঞদের মতামতের সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছেন। তবে প্রয়োজনবোধে আমি এগুলো ছাড়াও অন্যান্য তথ্যসূত্রের সহায়তা নিয়েছি।

৩ - আমি অতিরিক্ত বর্ণনা বা যিয়াদাতসমূহের হাদীসের উপর কোনো হুকুম বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করিনি; কারণ এগুলোর মূল উৎস সহীহ মুসলিমেই বিদ্যমান এবং ইবনে সুফিয়ান তাঁর উস্তাদ অথবা উর্ধ্বতন উস্তাদের ক্ষেত্রে ইমাম মুসলিমের সাথে মিলিত হয়েছেন।

৪ - সহীহ মুসলিমের মুসনাদ মারফু হাদীসসমূহের ওপর ইবনে সুফিয়ান যেসব যিয়াদাত (অতিরিক্ত বর্ণনা) এনেছেন আমি তা পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করেছি। তবে সহীহ মুসলিমের মুকাদ্দিমা বা ভূমিকার (১/২২) ওপর ইবনে সুফিয়ানের যিয়াদাত নিয়ে আমি আলোচনা করিনি।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
وهي في موضع واحد فقط؛ لأنَّها أثرٌ عن يونس بن عبيد، ولم يُخرِّج مسلم أصل هذا الأثر.

5 - التزمتُ الرجوع إلى المصادر الأصيلة قدر الامكان، ولم ألجأ إلى المراجع البديلة إلَاّ إذا لم أقف على المرجع الأصيل.

هذا، وأسأل الله العفو عن الخطأ والزلل، وحسبي أنِّي اجتهدتُ، فإن أصبتُ فمن الله، وإن كانت الأخرى فمن نفسي، وأستغفر الله من ذلك، وصلَّى الله على سيِّدنا ونبيِّنا محمد وعلى آله وصحبه وسلَّم.
এটি কেবল একটি স্থানেই বর্ণিত হয়েছে; কারণ এটি ইউনুস বিন উবাইদ থেকে বর্ণিত একটি আসার (বিবরণ), আর ইমাম মুসলিম এই আসারের মূলটি উদ্ধৃত করেননি।

৫ - আমি যথাসম্ভব মূল উৎসসমূহের দিকে ফিরে যেতে সচেষ্ট থেকেছি এবং মূল উৎসের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত আমি কোনো বিকল্প সূত্রের শরণাপন্ন হইনি।

পরিশেষে, আমি আল্লাহর কাছে ভুল ও বিচ্যুতির ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে আমি প্রচেষ্টা চালিয়েছি; সুতরাং যদি সঠিক হয়ে থাকে তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি অন্য কিছু হয় তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং আমি সেজন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আল্লাহ আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
‌‌المبحث الأول: ترجمة ابن سفيان

نسبه وولادته:

هو أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن سفيان النيسابوري1، ولم تذكر المصادر سنةَ ولادته، ويظهر أنَّها كانت في النصف الأول من القرن الثالث؛ لأنَّ الإمام مسلماً رحمه الله فرغ من كتابة الصحيح سنة خمسين ومائتين، كما ذكر العراقي2، ثم أخذ يمليه على الناس حتى فرغ من ذلك لعشر خلون من رمضان سنة سبع وخمسين ومائتين، كما نصَّ على ذلك ابن سفيان3، وعاش ابن سفيان بعد ذلك حتى أول القرن الرابع كما سيأتي.

صفاته:

وصفه النووي بالسيد الجليل، وبأنَّه أحد الفقهاء في عصره4، لكن غلب

--------------------------------------------

1 ترجم له ابن نقطة في التقييد 1/218 وما بعدها، وابن الصلاح في صيانة صحيح مسلم ص:106، والنووي في المنهاج 1/113،114، وابن الأثير في الكامل (5/68، وابن كثير في البداية والنهاية 11/140، واليافعي في مرآة الجنان 2/249، والذهبي في تاريخ الإسلام وفيات: 301 ـ 320 /ص:228، وما بعدها، وفي العبر 1/453، وابن العماد في شذرات الذهب 2/252.

2 التقييد والإيضاح المطبوع بهامش مقدمة ابن الصلاح ص:14.

3 فهرسة ما رواه ابن خير الإشبيلي ص:100، وانظر: صيانة صحيح مسلم ص:107، والمنهاج 1/114.

4 المنهاج 1/113، 114.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে সুফিয়ানের জীবনী

তাঁর বংশপরিচয় ও জন্ম:

তিনি হলেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান আন-নিসাবুরি ১, এবং উৎসগ্রন্থসমূহ তাঁর জন্মের বছর উল্লেখ করেনি। প্রতীয়মান হয় যে তা ছিল তৃতীয় শতাব্দীর প্রথম অর্ধাংশে; কারণ ইমাম মুসলিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ২৫০ হিজরি সনে 'সহীহ' রচনা সমাপ্ত করেছেন, যেমনটি ইরাকি ২ উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি তা মানুষের নিকট শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করতে থাকেন যতক্ষণ না ২৫৭ হিজরি সনের রমজান মাসের দশ তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর তা শেষ হয়, যেমনটি ইবনে সুফিয়ান ৩ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এবং ইবনে সুফিয়ান এর পর চতুর্থ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত জীবিত ছিলেন যেমনটি সামনে আসবে।

তাঁর গুণাবলি:

নববী তাঁকে মহান ব্যক্তিত্ব হিসেবে এবং তাঁর যুগের অন্যতম ফকিহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ৪, তবে প্রাধান্য পেয়েছে...

--------------------------------------------

১ ইবনে নুকতাহ 'আত-তাকয়িদ' ১/২১৮ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে, ইবনুস সালাহ 'সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম' পৃষ্ঠা: ১০৬-এ, নববী 'আল-মিনহাজ' ১/১১৩, ১১৪-এ, ইবনুল আসির 'আল-কামিল' ৫/৬৮-এ, ইবনে কাসির 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' ১১/১৪০-এ, আল-ইয়াফিয়ি 'মিরআতুল জানান' ২/২৪৯-এ, আজ-জাহাবি 'তারিখুল ইসলাম' মৃত্যু: ৩০১-৩২০/পৃষ্ঠা: ২২৮ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে এবং 'আল-ইবার' ১/৪৫৩-এ এবং ইবনুল ইমাদ 'শাযারাতুয যাহাব' ২/২৫২-এ তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন।

২ 'আত-তাকয়িদ ওয়াল ঈজাহ' যা ইবনুস সালাহ-এর মুকাদ্দিমার টীকায় মুদ্রিত, পৃষ্ঠা: ১৪।

৩ ইবনে খায়ের আল-ইশবিলির বর্ণিত 'ফিহরিসাত', পৃষ্ঠা: ১০০ এবং দেখুন: 'সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম', পৃষ্ঠা: ১০৭ এবং 'আল-মিনহাজ' ১/১১৪।

৪ আল-মিনহাজ ১/১১৩, ১১৪।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
عليه الوصف بالصلاح والزهد وكثرة العبادة، فقال الحاكم النيسابوري1: سمعتُ أبا عمرو إسماعيل بن نجيد بن أحمد بن يوسف السلمي2 يقول: "كان إبراهيم بن محمد بن سفيان من الصالحين"3، وقال فيه محمد بن أحمد بن شعيب4: "ما كان في مشايخنا أزهد ولا أكثر عبادة من إبراهيم بن محمد بن سفيان"5، ويظهر أنَّ صحبته لأيوب بن الحسن الزاهد6 أثَّرت فيه، وأثْرَت هذا الجانب في شخصيته.

--------------------------------------------

1 يعني في كتابه تاريخ نيسابور، وهو أوفى وأوسع مَن ترجم له، وقد اعتمد عليه مَن ترجم له بعده ممَّن تقدّم ذكرهم، لكن هذا الكتاب لا يزال - حتى الآن - في عداد المفقود، وليس بين أيدينا إلَاّ تلخيصه لأحمد بن محمد بن الحسن المعروف بالخليفة النيسابوري لم أقف على ترجمته، ولا في المنتخب من السياق لتاريخ نيسابور المطبوع في طهران سنة 1339هـ بتحقيق: دكتر بهمن كريمي، وليس فيه إلا الإشارة بأنَّ قبر ابن سفيان بنيسابور انظر: ص:145، ولم يُترجم عبد الغافر الفارسي ت529هـ لابن سفيان في كتابه السياق لتاريخ نيسابور - مخطوط -؛ لأنَّه ذيَّل على كتاب الحاكم، ومن باب أولى أنَّنا لا نجد ترجمته كذلك في المنتخب من السياق - وهو مطبوع - لإبراهيم بن محمد الصريفيني.

2 ترجم له ابن الجوزي في المنتظم (14/248 فيمن مات سنة 366هـ، ووثَّقه، كما ترجم له الذهبي في تاريخ الإسلام ترجمة وافية وفيات 351 ـ 380 /ص:335، وذكر أنَّه من شيوخ الحاكم.

3 التقييد 1/219.

4 هو أبو أحمد الشعيبي النيسابوري الفقيه، ترجم له الذهبي في تاريخ الإسلام (وفيات 351 ـ 380 /ص:168، وذكر أنَّه مات في ربيع الآخر سنة (357هـ، وله اثنتان وثمانون سنة، كما ترجم له ابن قطلو بغا في تاج التراجم ص:232، وذكر أنَّ الحاكم روى عنه.

5 تاريخ الإسلام وفيات 301 ـ 320 /ص:229.

6 ترجم له الذهبي في تاريخ الإسلام وفيات 251 ـ 260 /ص:89، وذكر أنَّ ابن سفيان روى عنه، توفي في ذي القعدة سنة إحدى وخمسين ومائتين، وكان كبيرَ الشأن ببلده، ولم أقف على مَن ترجم له غير الذهبي، وقد تصحَّف في التقييد في ترجمة ابن سفيان إلى أيوب بن الحسين.
তার সম্পর্কে নেক আমল, দুনিয়াবিমুখতা এবং প্রচুর ইবাদতগুজার হওয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়। আল-হাকিম আন-নিশাপুরী১ বলেন: আমি আবু আমর ইসমাইল ইবনে নুজাইদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইউসুফ আস-সুলামী২-কে বলতে শুনেছি: "ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান নেককারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন"৩। মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে শুয়াইব৪ তার সম্পর্কে বলেছেন: "আমাদের শায়খদের মধ্যে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ানের চেয়ে বেশি দুনিয়াবিমুখ ও ইবাদতগুজার আর কেউ ছিলেন না"৫। প্রতীয়মান হয় যে, আইয়ুব ইবনুল হাসান আজ-জাহিদের৬ সান্নিধ্য তার ওপর প্রভাব ফেলেছিল এবং তার ব্যক্তিত্বের এই দিকটিকে সমৃদ্ধ করেছিল।

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ তার 'তারিখ নিশাপুর' গ্রন্থে; এটি তার সম্পর্কে বর্ণিত জীবনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও বিস্তারিত। তার পরবর্তী জীবনীকারগণ, যাদের নাম পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা এর ওপর নির্ভর করেছেন। তবে এই গ্রন্থটি এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ পাণ্ডুলিপির তালিকায় রয়েছে। আমাদের হাতে শুধু আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান, যিনি খলিফা আন-নিশাপুরী নামে পরিচিত, তার করা একটি সারসংক্ষেপ রয়েছে; আমি তার (খলিফার) জীবনী খুঁজে পাইনি। এমনকি ১৩৩৯ হিজরিতে তেহরানে ডক্টর বাহমান কারিমির সম্পাদনায় প্রকাশিত 'আল-মুনতাখাব মিনাস সিয়াক লি তারিখ নিশাপুর' গ্রন্থেও আমি তার জীবনী পাইনি; সেখানে কেবল ইবনে সুফিয়ানের কবর নিশাপুরে অবস্থিত হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে, দেখুন: পৃষ্ঠা ১৪৫। আবদুল গাফির আল-ফারিসি (মৃত্যু ৫২৯ হি.) তার 'আস-সিয়াক লি তারিখ নিশাপুর' (পাণ্ডুলিপি) গ্রন্থে ইবনে সুফিয়ানের জীবনী উল্লেখ করেননি; কারণ তিনি হাকিমের কিতাবের ওপর পরিশিষ্ট (জায়ল) লিখেছেন। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আস-সারিফিনি সংকলিত 'আল-মুনতাখাব মিনাস সিয়াক' (যা মুদ্রিত) গ্রন্থেও আমরা তার জীবনী পাই না।

২ ইবনুল জাওজি 'আল-মুনতাজাম' গ্রন্থে (১৪/২৪৮) ৩৬৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে তার জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং তাকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেছেন। ইমাম যাহাবিও 'তারিখুল ইসলাম'-এ (মৃত্যু ৩৫১-৩৮০ হিজরি / পৃষ্ঠা ৩৩৫) তার বিস্তারিত জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, তিনি আল-হাকিমের শায়খদের একজন ছিলেন।

৩ আত-তাকিদ ১/২১৯।

৪ তিনি হলেন আবু আহমাদ আশ-শুয়াইবি আন-নিশাপুরী আল-ফকিহ। ইমাম যাহাবি 'তারিখুল ইসলাম'-এ (মৃত্যু ৩৫১-৩৮০ হিজরি / পৃষ্ঠা ১৬৮) তার জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, তিনি ৩৫৭ হিজরির রবিউল আখের মাসে বিরাশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে কুতলুবুগাও 'তাজুত তারাজিম' (পৃষ্ঠা ২৩২) গ্রন্থে তার জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, আল-হাকিম তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

৫ তারিখুল ইসলাম (মৃত্যু ৩০১-৩২০ হিজরি / পৃষ্ঠা ২২৯)।

৬ ইমাম যাহাবি 'তারিখুল ইসলাম'-এ (মৃত্যু ২৫১-২৬০ হিজরি / পৃষ্ঠা ৮৯) তার জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, ইবনে সুফিয়ান তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৫১ হিজরির জিলকদ মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং নিজ শহরে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। যাহাবি ব্যতীত অন্য কারও কাছে আমি তার জীবনী পাইনি। 'আত-তাকিদ' গ্রন্থে ইবনে সুফিয়ানের জীবনীতে নামটি ভুলবশত 'আইয়ুব ইবনুল হুসাইন' হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৬৬)
كما وصفه محمد بن يزيد العدل1 بأنَّه مُجاب الدعوة2. يعني: لكثرة عبادته.

ولم تقتصر معارفه على الزهد والفقه فقط، فهو معدود في محدِّثي نيسابور، وكان من أعلم أهل بلده بهذا العلم، كيف لا وهو أكثر تلامذة الإمام مسلم ملازمة له، وأخصَّهم به، وراوية صحيحه، بل إنَّ روايته أشهر الروايات وأكملها كما سيأتي.

طلبه للعلم ورحلاته:

يظهر أنَّ الإمام ابن سفيان بدأ في طلب العلم على مشايخ بلده نيسابور، فمُعظم شيوخه الذين وقفتُ عليهم نيسابوريون، ثم ارتحل بعد ذلك إلى بعض المراكز العلمية في وقته لتلقي العلم والسماع من مشايخها، فذكر الذهبي أنَّه رحل وسمع ببغداد، والكوفة، والحجاز3، وذكر ابن نقطة أنَّه ارتحل كذلك إلى الري4، وربَّما كان ذلك في طريقه إلى مكة لأداء فريضة الحج، أو عند رجوعه منها، ولم أقف له على رحلة إلى الشام ومصر وغيرهما، ولعله اكتفى بلقاء مَن حضر من علماء هذه الأمصار إلى الديار الحجازية بهدف الحج.

شيوخه:

لم تذكر المصادر التي ترجمت له سوى تسعةً من شيوخه، وقد وقفتُ على

--------------------------------------------

1 هو محمد بن يزيد بن عبد الله السلمي النيسابوري، لقبه "محمش"، ذكره ابن حبان في الثقات (9/145، وقال: روى عنه أهل بلده، وكانت فيه دُعابة، وترجم له الذهبي في تاريخ الإسلام (وفيات 251 ـ 260 /ص:345، وقال: "كان شيخ الحنفية في عصره بنيسابور بإزاء محمد بن يحيى الذهلي لأهل الحديث، وذكر أنَّ ابن سفيان روى عنه".

2 التقييد 1/219.

3 العبر 1/453، وانظر: شذرات الذهب (2/252.

4 التقييد (1/218.
যেমটি মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ আল-আদল১ তাকে 'দুআ কবুল হওয়া ব্যক্তি'২ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ: তাঁর অতিরিক্ত ইবাদতের কারণে।

তাঁর জ্ঞান কেবল যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) ও ফিকহেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি নিশাপুরের মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি এই বিদ্যায় তাঁর শহরের অধিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। আর কেনই বা তা হবে না, যখন তিনি ইমাম মুসলিমের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘকাল সাহচর্য দানকারী ছাত্র ছিলেন? তিনি ইমাম মুসলিমের বিশেষ ছাত্র এবং তাঁর সহীহ্ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। বস্তুত, তাঁর বর্ণনাটিই সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং পূর্ণাঙ্গ, যা সামনে আলোচিত হবে।

তাঁর ইলম অন্বেষণ ও সফরসমূহ:

প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম ইবনে সুফিয়ান তাঁর নিজের শহর নিশাপুরের মাশায়েখদের নিকট ইলম অর্জন শুরু করেছিলেন। কারণ আমি তাঁর যেসব উস্তাদদের ব্যাপারে জানতে পেরেছি, তাঁদের অধিকাংশই নিশাপুরী। এরপর তিনি ইলম অর্জন এবং উস্তাদদের নিকট থেকে শ্রবণের উদ্দেশ্যে তৎকালীন সময়ের বিভিন্ন জ্ঞানকেন্দ্রে সফর করেন। যাহাবী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সফর করেছেন এবং বাগদাদ, কুফা ও হিজাজে৩ হাদীস শ্রবণ করেছেন। ইবনে নুকতাহ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি রাই৪ শহরেও সফর করেছিলেন। সম্ভবত এটি ছিল হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় যাওয়ার পথে অথবা সেখান থেকে ফেরার সময়। আমি তাঁর সিরিয়া, মিসর বা অন্যান্য দেশে সফরের কোনো তথ্য পাইনি। সম্ভবত তিনি হজের উদ্দেশ্যে হিজাজ ভূমিতে উপস্থিত হওয়া এসব অঞ্চলের আলেমদের সাথে সাক্ষাতকেই যথেষ্ট মনে করেছিলেন।

তাঁর উস্তাদগণ:

যেসব উৎস তাঁর জীবনী আলোচনা করেছে, তারা তাঁর মাত্র নয়জন উস্তাদের কথা উল্লেখ করেছে। আর আমি জানতে পেরেছি...

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সুলামী আন-নিশাপুরী। তাঁর উপাধি 'মাহমাশ'। ইবনে হিব্বান 'আত-সিকাত' (৯/১৪৫) গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তাঁর শহরের লোকেরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর মধ্যে কৌতুকপ্রিয়তা ছিল। যাহাবী 'তারিখুল ইসলাম' (মৃত্যু ২৫১-২৬০ হিজরী / পৃষ্ঠা: ৩৪৫) গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি তাঁর যুগে নিশাপুরে আহলে হাদীসের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলীয়ের বিপরীতে হানাফীদের শায়খ ছিলেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইবনে সুফিয়ান তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।

২ আত-তাকয়ীদ ১/২১৯।

৩ আল-ইবার ১/৪৫৩, এবং দেখুন: শাযারাতুয যাহাব (২/২৫২)।

৪ আত-তাকয়ীদ (১/২১৮)।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৬৭)
سبعة عشر شيخاً غيرهم روى عنهم ابن سفيان، من بينهم شيوخه الثمانية الذين روى عنهم زياداته على صحيح مسلم، ومن هؤلاء الثمانية ستة شيوخ لم أقف على رواية ابن سفيان عنهم إلَاّ من خلال هذه الزيادات، ممَّا يدلُّ على أهميَّتها وفائدتها:

أولاً: شيوخه الذين ورد ذكرهم في مصادر ترجمته:

1 ـ سفيان بن وكيع1.

2 ـ عبد الله بن سعيد الكندي، أبو سعيد الأشج2.

3 ـ عمرو بن عبد الله الأودي3.

4 ـ محمد بن أسلم الطوسي4.

5 ـ محمد بن رافع القشيري5.

--------------------------------------------

1 ذكره ابن نقطة، والذهبي في تاريخ الإسلام، وهو سفيان بن وكيع بن الجراح، ترجم له ابن حجر في التهذيب 4/109، ولخَّص حالَه في التقريب (ص:245، فقال: "كان صدوقاً، إلَاّ أنَّه ابتلي بورَّاقه فأدخل عليه ما ليس من حديثه، فنُصح فلم يقبل، فسقط حديثُه، توفي سنة (247هـ) ، روى له الترمذي وابن ماجه، وضعَّفه الذهبي في الكاشف (1/449) ".

2 لم ينص ابن نقطة والذهبي على أنَّه من شيوخه، لكن روى ابن نقطة حديثاً من طريق ابن سفيان، عنه (التقييد 1/219) ، وهو من شيوخ الجماعة، رووا عنه في الكتب الستة، ترجم له ابن حجر في التهذيب (9/252) ، وصرَّح في التقريب بتوثيقه (ص:305) ، توفي سنة (257هـ) ، وله جزء حديثي حقَّقه الباحث / خالد الجاسم بحثاً مكملاً لمتطلَّبات الماجستير بجامعة الملك سعود عام (1415هـ) .

3 ذكره ابن نقطة والذهبي، ترجم له ابن حجر التهذيب (5/298) ، ووثَّقه في التقريب (ص:423) ، كما وثَّقه الذهبي أيضاً في الكاشف (2/82) ، روى له ابن ماجه، توفي سنة (250هـ) .

4 ذكره ابن نقطة والذهبي، وثَّقه أبو حاتم وأبو زرعة الرازيان (الجرح والتعديل 7/201) ، وترجم له أبو نعيم ترجمة وافية في الحلية (9/238 ـ 254) ، مات سنة (242هـ) .

5 ذكره ابن نقطة والذهبي، ترجم له ابن حجر في التهذيب (9/141) ، ووثَّقه في التقريب (ص:478) ، روى عنه الجماعة سوى ابن ماجه، مات سنة (245هـ) .
সতেরোজন শিক্ষক ছাড়া অন্য যাদের নিকট থেকে ইবনে সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে তার সেই আটজন শিক্ষকও রয়েছেন যাদের থেকে তিনি সহীহ মুসলিমের ওপর তার অতিরিক্ত বর্ণনাগুলো (জিয়াদাত) বর্ণনা করেছেন। এই আটজনের মধ্যে ছয়জন এমন শিক্ষক যাদের থেকে ইবনে সুফিয়ানের বর্ণনার কথা এই অতিরিক্ত বর্ণনাগুলো ছাড়া অন্য কোথাও আমার নজরে আসেনি, যা এই বর্ণনাগুলোর গুরুত্ব ও উপযোগিতা প্রমাণ করে:

প্রথমত: সেই সকল শিক্ষক যাদের নাম তার জীবনী গ্রন্থসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে:

১ — সুফিয়ান বিন ওয়াকি১।

২ — আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ আল-কিন্দী, আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ২।

৩ — আমর বিন আব্দুল্লাহ আল-আওদী৩।

৪ — মুহাম্মদ বিন আসলাম আত-তুসী৪।

৫ — মুহাম্মদ বিন রাফে আল-কুশায়রী৫।

--------------------------------------------

১ ইবনে নুকতাহ এবং আয-যাহাবী ‘তারিখুল ইসলাম’-এ তার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি হলেন সুফিয়ান বিন ওয়াকি বিন আল-জাররাহ। ইবনে হাজার ‘আত-তাহযীব’ (৪/১০৯) গ্রন্থে তার জীবনী আলোচনা করেছেন এবং ‘আত-তাকরীব’ (পৃষ্ঠা: ২৪৫) গ্রন্থে তার অবস্থার সারসংক্ষেপ করে বলেছেন: “তিনি সত্যবাদী ছিলেন, তবে তিনি তার লেখকের (ওয়াররাক) দ্বারা বিপর্যস্ত হয়েছিলেন; ফলে সে তার হাদীসে এমন কিছু ঢুকিয়ে দিয়েছিল যা তার হাদীস ছিল না। তাকে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি, ফলে তার হাদীস পরিত্যক্ত হয়। তিনি ২৪৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইমাম তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আয-যাহাবী ‘আল-কাশিফ’ (১/৪৪৯) গ্রন্থে তাকে দুর্বল বলেছেন।”

২ ইবনে নুকতাহ এবং আয-যাহাবী স্পষ্টভাবে তাকে তার শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করেননি, তবে ইবনে নুকতাহ ইবনে সুফিয়ানের সূত্রে তার থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন (আত-তাকয়ীদ ১/২১৯)। তিনি জামাআতের (তথা প্রধান হাদীস বিশারদদের) শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত, তারা ‘কুতুবুস সিত্তা’য় তার থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার ‘আত-তাহযীব’ (৯/২৫২) গ্রন্থে তার জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং ‘আত-তাকরীব’ (পৃষ্ঠা: ৩০৫) গ্রন্থে তাকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি ২৫৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তার একটি হাদীস বিষয়ক সংকলন (জুয) রয়েছে যা গবেষক খালিদ আল-জাসিম ১৪১৫ হিজরিতে কিং সাউদ ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্সের প্রয়োজনীয়তা পূরণের সম্পূরক গবেষণা হিসেবে সম্পাদনা করেছেন।

৩ ইবনে নুকতাহ এবং আয-যাহাবী তার কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনে হাজার ‘আত-তাহযীব’ (৫/২৯৮) গ্রন্থে তার জীবনী আলোচনা করেছেন এবং ‘আত-তাকরীব’ (পৃষ্ঠা: ৪২৩) গ্রন্থে তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। একইভাবে আয-যাহাবীও ‘আল-কাশিফ’ (২/৮২) গ্রন্থে তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইবনে মাজাহ তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৪ ইবনে নুকতাহ এবং আয-যাহাবী তার কথা উল্লেখ করেছেন। আবু হাতিম এবং আবু যুরআ আর-রাযী তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (আল-জারহু ওয়াত-তাদীল ৭/২০১)। আবু নুআইম ‘আল-হিলইয়াহ’ (৯/২৩৮-২৫৪) গ্রন্থে তার বিস্তারিত জীবনী আলোচনা করেছেন। তিনি ২৪২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৫ ইবনে নুকতাহ এবং আয-যাহাবী তার কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনে হাজার ‘আত-তাহযীব’ (৯/১৪১) গ্রন্থে তার জীবনী আলোচনা করেছেন এবং ‘আত-তাকরীব’ (পৃষ্ঠা: ৪৭৮) গ্রন্থে তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইবনে মাজাহ ছাড়া জামাআতের সকল ইমাম তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৪৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৬৮)
-6 ـ محمد بن عبد الله بن يزيد المقرئ1.

7 ـ محمد بن مقاتل الرازي2.

8 ـ مسلم بن الحجاج، وهو من أجلِّ شيوخه، وأشهر من أن يُعرَّف به.

9 ـ موسى بن نصر الرازي3.

ثانيا: شيوخه الذين روى عنهم ابن سفيان في الزيادات على صحيح مسلم، وقد عرَّفتُ بمن وقفتُ عليه منهم في أول موضع ذُكروا فيه:

10 ـ إبراهيم بن بنت حفص: روى عنه النص (13) .

11 ـ الحسن بن بشر بن القاسم: روى عنه النصوص (1) ، (3) ، (7) ، (8) ، (10) ، (12) .

12 ـ الحسين بن بشر بن القاسم ـ أخو الحسن ـ: روى عنه النص (10) .

13 ـ الحسين بن عيسى البسطامي: روى عنه النص (13) .

14 ـ سهل بن عمَّار: روى عنه النص (13) .

15 ـ عبد الرحمن بن بشر: روى عنه النصين (2) ، (6) .

16 ـ محمد بن عبد الوهاب الفراء: روى عنه النص (4) .

17 ـ محمد بن يحيى الذهلي: روى عنه النصوص (5) ، (9) ، (10) ، (11) .

--------------------------------------------

1 ذكره ابن نقطة وقال الذهبي: "محمد بن أبي عبد الرحمن المقرئ"، ترجم له ابن حجر في التهذيب (9/252) ، ووثَّقه في التقريب (ص:490) ، روى له النسائي وابن ماجه، مات سنة (256هـ) .

2 ذكره ابن نقطة والذهبي، ترجم له ابن حجر في لسان الميزان (5/388) ، وقال: "تُكلِّم فيه ولم يُترك، ثم ذكر أنَّ هذا الجرح ربما كان لأنَّه من أصحاب الرأي، وكان إمامهم بالريِّ"، مات سنة (248هـ) .

3 ترجم له ابن حبان في الثقات (9/163، وقال: "من أهل الري، وكان من عقلائهم، صدوق في الحديث، مات سنة (263هـ) ". وانظر: لسان الميزان لابن حجر (6/124) .
-৬ — মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ আল-মুকরি১।

৭ — মুহাম্মাদ ইবনে মুকাতিল আর-রাযী২।

৮ — মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ, তিনি তাঁর মহান শাইখদের অন্যতম এবং তিনি এতটাই প্রসিদ্ধ যে তাঁর পরিচিতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

৯ — মূসা ইবনে নাসর আর-রাযী৩।

দ্বিতীয়ত: সেইসব শাইখগণ যাঁদের থেকে ইবনে সুফইয়ান 'সহীহ মুসলিম'-এর যিয়াদাত (অতিরিক্ত অংশসমূহ)-এ বর্ণনা করেছেন, আর আমি তাঁদের মধ্য থেকে যাঁদের সম্পর্কে অবগত হতে পেরেছি তাঁদের প্রথম যে স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে সেখানেই তাঁদের পরিচয় প্রদান করেছি:

১০ — ইব্রাহীম ইবনে বিন্ত হাফস: তাঁর থেকে (১৩) নম্বর পাঠটি বর্ণনা করেছেন।

১১ — আল-হাসান ইবনে বিশর ইবনুল কাসিম: তাঁর থেকে (১), (৩), (৭), (৮), (১০), (১২) নম্বর পাঠসমূহ বর্ণনা করেছেন।

১২ — আল-হুসাইন ইবনে বিশর ইবনুল কাসিম —আল-হাসানের ভাই—: তাঁর থেকে (১০) নম্বর পাঠটি বর্ণনা করেছেন।

১৩ — আল-হুসাইন ইবনে ঈসা আল-বিসতামি: তাঁর থেকে (১৩) নম্বর পাঠটি বর্ণনা করেছেন।

১৪ — সাহল ইবনে আম্মার: তাঁর থেকে (১৩) নম্বর পাঠটি বর্ণনা করেছেন।

১৫ — আব্দুর রহমান ইবনে বিশর: তাঁর থেকে (২) ও (৬) নম্বর পাঠ দুটি বর্ণনা করেছেন।

১৬ — মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-ফাররা: তাঁর থেকে (৪) নম্বর পাঠটি বর্ণনা করেছেন।

১৭ — মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি: তাঁর থেকে (৫), (৯), (১০), (১১) নম্বর পাঠসমূহ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. ইবনে নুকতাহ তাঁর উল্লেখ করেছেন এবং আয-যাহাবী বলেছেন: "মুহাম্মাদ ইবনে আবি আব্দুল্লাহ আল-মুকরি", ইবনে হাজার 'আত-তাহযীব' (৯/২৫২) গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং 'আত-তাকরীব' (পৃষ্ঠা: ৪৯০) গ্রন্থে তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আন-নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (২৫৬ হি.) সালে মৃত্যুবরণ করেন।

২. ইবনে নুকতাহ ও আয-যাহাবী তাঁর উল্লেখ করেছেন, ইবনে হাজার 'লিসানুল মীযান' (৫/৩৮৮) গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে তবে তাঁকে বর্জন করা হয়নি। এরপর তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সমালোচনা সম্ভবত এজন্য ছিল যে তিনি আসহাবুর রা'য়-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং রাই অঞ্চলে তাঁদের ইমাম ছিলেন।" তিনি (২৪৮ হি.) সালে মৃত্যুবরণ করেন।

৩. ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' (৯/১৬৩) গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি রাই অঞ্চলের অধিবাসী এবং তাঁদের মধ্যকার বিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। হাদীস বর্ণনায় তিনি সত্যবাদী ছিলেন এবং (২৬৩ হি.) সালে মৃত্যুবরণ করেন।" দেখুন: ইবনে হাজারের 'লিসানুল মীযান' (৬/১২৪)।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৬৯)
ثالثاً: شيوخ آخرين غير الذين تقدَّموا:

18 ـ أحمد بن أيوب، أبو ذر العطار النيسابوري1.

19 ـ أحمد بن حرب بن فيروز الزاهد النيسابوري2.

20 ـ أحمد بن محمد بن نصر اللَّبَّاد النيسابوري3.

21 ـ أيوب بن الحسن النيسابوري4.

22 ـ رجاء بن عبد الرحيم الهروي5.

23 ـ العباس بن حمزة بن عبد الله بن أشرس النيسابوري6.

24 ـ علي بن الحسن الذهلي الأفطس النيسابوري7.

--------------------------------------------

1 ترجم له الذهبي في تاريخ الإسلام (وفيات 251 - 260 /ص:36) ، وذكر أنَّ ابن سفيان روى عنه، مات سنة (258هـ) ، ولم أقف له على ترجمة عند غيره.

2 ترجم له الخطيب البغدادي في تاريخ بغداد (4/118) ، والذهبي في الميزان (1/89) ، وذكر أنَّ ابن سفيان روى عنه، وأنَّ له مناكير، لكنَّه لم يُترك.

3 ترجم له الذهبي في تاريخ الإسلام (وفيات 261 - 280 /ص:275) ، وذكر أنَّ ابن سفيان روى عنه، وأنَّه شيخ أهل الرأي ببلده ورئيسهم، مات سنة (280هـ) ، ولم أقف له على ترجمة عند غيره.

4 ترجم له الذهبي في تاريخ الإسلام (وفيات 251 - 260 /ص:89) ، وذكر أنَّ ابن سفيان روى عنه، وأنَّه كان كبيرَ الشأن في بلده، مات سنة (251هـ) ، ولم أقف له على ترجمة عند غيره.

5 ترجم له الذهبي في المرجع السابق (ص:125) ، وابن العديم الحلبي في بغية الطلب (8/3626) ، وذكرا أنَّ ابن سفيان روى عنه، وقال الذهبي: "كان من علماء الحديث".

6 ترجم له ابن عساكر في تاريخ دمشق (8/888) ، وذكر أنَّ ابن سفيان روى عنه، كما ترجم له الذهبي في تاريخ الإسلام (وفيات 281 - 290 /ص:196) ، وقال: "كان من علماء الحديث، توفي سنة 288هـ".

7 ترجم له الذهبي في تذكرة الحفاظ (2/529) ، وذكر أنَّ ابن سفيان روى عنه، وأنَّ الحاكم قال فيه::"هو شيخ عصره بنيسابور"، وأنَّ أبا حامد الشرقي وصفه بأنَّه متروك الحديث، لكنَّه فسَّر هذا الجرح في تاريخ الإسلام (وفيات 251 ـ 260 /ص:211، فقال: "هو متروك يروي عن شيوخ لم يسمع منهم اهـ، فيُحمل الترك هنا على التدليس، مات سنة (251هـ) .
তৃতীয়ত: ইতিপূর্বে উল্লেখিত ব্যক্তিগণ ব্যতীত অন্যান্য শাইখগণ:

১৮ — আহমদ বিন আইয়ুব, আবু যার আল-আত্তার আন-নিসাবুরি১।

১৯ — আহমদ বিন হারব বিন ফিরোজ আজ-জাহিদ আন-নিসাবুরি২।

২০ — আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন নাসর আল-লাব্বাদ আন-নিসাবুরি৩।

২১ — আইয়ুব বিন আল-হাসান আন-নিসাবুরি৪।

২২ — রাজা বিন আব্দুর রহিম আল-হারাউয়ি৫।

২৩ — আল-আব্বাস বিন হামজা বিন আব্দুল্লাহ বিন আশরাস আন-নিসাবুরি৬।

২৪ — আলী বিন আল-হাসান আদ-দুহলি আল-আফতাস আন-নিসাবুরি৭।

--------------------------------------------

১ আয-যাহাবি তার জীবনী 'তারিখুল ইসলাম' (মৃত্যু ২৫১ - ২৬০ / পৃষ্ঠা: ৩৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে ইবনে সুফিয়ান তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৫৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। অন্য কারো কাছে আমি তার জীবনী পাইনি।

২ খতিব আল-বাগদাদি তার জীবনী 'তারিখু বাগদাদ' (৪/১১৮) এবং আয-যাহাবি 'আল-মিজান' (১/৮৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে ইবনে সুফিয়ান তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার কিছু প্রত্যাখ্যাত (মুনকার) বর্ণনা রয়েছে, তবে তাকে বর্জন করা হয়নি।

৩ আয-যাহাবি তার জীবনী 'তারিখুল ইসলাম' (মৃত্যু ২৬১ - ২৮০ / পৃষ্ঠা: ২৭৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে ইবনে সুফিয়ান তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিজ শহরে আহলুর রায় বা রায়-পন্থীদের শাইখ ও প্রধান ছিলেন। তিনি ২৮০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। অন্য কারো কাছে আমি তার জীবনী পাইনি।

৪ আয-যাহাবি তার জীবনী 'তারিখুল ইসলাম' (মৃত্যু ২৫১ - ২৬০ / পৃষ্ঠা: ৮৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে ইবনে সুফিয়ান তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিজ শহরে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদাবান ছিলেন। তিনি ২৫১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। অন্য কারো কাছে আমি তার জীবনী পাইনি।

৫ আয-যাহাবি পূর্বোক্ত সূত্রে (পৃষ্ঠা: ১২৫) এবং ইবনুল আদিম আল-হালাবি 'বুগইয়াতুত তালাব' (৮/৩৬২৬) গ্রন্থে তার জীবনী বর্ণনা করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে ইবনে সুফিয়ান তার থেকে বর্ণনা করেছেন। আয-যাহাবি বলেছেন: "তিনি হাদিস বিশারদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।"

৬ ইবনে আসাকির তার জীবনী 'তারিখু দিমাশক' (৮/৮৮৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে ইবনে সুফিয়ান তার থেকে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে আয-যাহাবি 'তারিখুল ইসলাম' (মৃত্যু ২৮১ - ২৯০ / পৃষ্ঠা: ১৯৬) গ্রন্থে তার জীবনী বর্ণনা করে বলেছেন: "তিনি হাদিস বিশারদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, ২৮৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।"

৭ আয-যাহাবি তার জীবনী 'তাযকিরাতুল হুফফাজ' (২/৫২৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে ইবনে সুফিয়ান তার থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিম তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি নিসাবুরে স্বীয় যুগের প্রধান শাইখ ছিলেন।" তবে আবু হামিদ আশ-শারকি তাকে 'মাতরুকুল হাদিস' (পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আয-যাহাবি 'তারিখুল ইসলাম' (মৃত্যু ২৫১ - ২৬০ / পৃষ্ঠা: ২১১) গ্রন্থে এই আপত্তির ব্যাখ্যা করে বলেছেন: "তিনি পরিত্যক্ত এই কারণে যে তিনি এমন শাইখদের থেকে বর্ণনা করতেন যাদের থেকে তিনি সরাসরি শোনেননি (ইহা সমাপ্ত)। সুতরাং এখানে পরিত্যক্ত বলতে 'তাদলিস' (সূত্র গোপন করা) বোঝানো হয়েছে। তিনি ২৫১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।"
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৭০)
25 ـ محمد بن أيوب بن الحسن النيسابوري1.

26 ـ مهرجان النيسابوري الزاهد2.

تلاميذه:

أما عن تلاميذه فالظاهر أنَّ كثيرين قد أخذوا العلم عن ابن سفيان، على اعتبار أنَّه أشهر راوية للصحيح، لكن المصادر لم تذكر لنا منهم سوى القليل، فذكر الذهبي في ترجمته في كتابه تاريخ الإسلام أربعة منهم، ثم قال: وآخرون، وهم:

1 ـ أحمد بن هارون البرديجي3.

2 ـ عبد الحميد بن عبد العزيز القاضي، أبو حازم السكوني4.

3 ـ أبو الفضل محمد بن إبراهيم بن الفضل الهاشمي5.

--------------------------------------------

1 ترجم له الذهبي في تاريخ الإسلام (وفيات 261 - 280 /ص:159) ، وذكر أنَّ ابن سفيان روى عنه، ووصفه بالفقيه، وبأنَّه كان صالحاً زاهداً، مالت سنة (261هـ) ، ولم أقف له على ترجمة عند غيره.

2 ترجم له الذهبي في المرجع السابق (وفيات231 - 240 /ص:268) ، وذكر أنَّ ابن سفيان روى عنه، وأنَّه بلغ من زهده أنَّه لا يشرب الماء في الصيف أربعين يوماً، مات سنة (238هـ) ، ولم أقف له على ترجمة عند غيره.

3 هو صاحب كتاب: ((طبقات الأسماء المفردة من الصحابة والتابعين وأصحاب الحديث)) مطبوع، نزيل بغداد، ترجم له الخطيب في تاريخه (5/194) ووثَّقه، ووثَّقه الدارقطني قبله (سؤالات السهمي ص:73) ، قدم على محمد بن يحيى الذهلي بنيسابور فأفاد واستفاد (تاريخ الإسلام وفيات 301 - 330 /ص:55) ، مات سنة (301هـ) .

4 ترجم له ابن الجوزي في المنتظم (13/38) ، وقال: "كان عالماً، ورِعاً، ثقةً، قدوةً في العلوم، غزيرَ العقل والدِّين، مات سنة (292هـ) ".

5 ترجم له الذهبي في تاريخ الإسلام (وفيات 331 - 350 /ص:386) ، ووصفه بأنَّه من أكابر شيوخ نيسابور، ومن المكثرين من كتابة الحديث، ووثَّقه، مات سنة (347هـ) .
২৫ - মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন আল-হাসান আন-নিশাপুরী১।

২৬ - মিহরাজান আন-নিশাপুরী আজ-জাহিদ২।

তাঁর ছাত্রগণ:

তাঁর ছাত্রদের সম্পর্কে প্রতীয়মান হয় যে, অনেকেই ইবনে সুফিয়ান থেকে ইলম অর্জন করেছেন, যেহেতু তিনি সহীহ (মুসলিম)-এর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারী। তবে উৎসগ্রন্থগুলো আমাদের কাছে তাদের অল্প সংখ্যকের কথাই উল্লেখ করেছে। আয-যাহাবী তাঁর 'তারিখুল ইসলাম' গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে চারজনের কথা উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন: "এবং আরও অন্যান্যরা"; তাঁরা হলেন:

১ - আহমাদ বিন হারুন আল-বারদীজী৩।

২ - আব্দুল হামিদ বিন আব্দুল আজিজ আল-কাজী, আবু হাযিম আস-সাকুনী৪।

৩ - আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আল-ফজল আল-হাশিমী৫।

--------------------------------------------

১ আয-যাহাবী 'তারিখুল ইসলাম'-এ (মৃত্যু ২৬১ - ২৮০ হিজরি / পৃষ্ঠা: ১৫৯) তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ইবনে সুফিয়ান তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁকে ফকীহ হিসেবে অভিহিত করেছেন, আর তিনি একজন সৎ ও দুনিয়াবিমুখ (যাহিদ) ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ২৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আমি অন্য কোনো গ্রন্থে তাঁর জীবনী খুঁজে পাইনি।

২ আয-যাহাবী পূর্বোক্ত সূত্রে (মৃত্যু ২৩১ - ২৪০ হিজরি / পৃষ্ঠা: ২৬৮) তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ইবনে সুফিয়ান তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাঁর দুনিয়াবিমুখতায় (যুহদ) এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন যে গ্রীষ্মকালে টানা চল্লিশ দিন পানি পান করতেন না। তিনি ২৩৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আমি অন্য কোনো গ্রন্থে তাঁর জীবনী খুঁজে পাইনি।

৩ তিনি 'তাবাকাতুল আসমা আল-মুফরাদাহ মিনাস সাহাবাহ ওয়াত তাবিঈন ওয়া আসহাবিল হাদিস' গ্রন্থের রচয়িতা, যা বর্তমানে মুদ্রিত। তিনি বাগদাদের অধিবাসী ছিলেন। আল-খাতীব তাঁর ইতিহাসে (৫/১৯৪) তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং তাঁকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেছেন। তাঁর পূর্বে আদ-দারা কুতনীও তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (সুয়ালাতুস সাহমী, পৃষ্ঠা: ৭৩)। তিনি নিশাপুরে মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলীর নিকট আগমন করেন এবং তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জন করেন ও তাঁকে প্রদান করেন (তারিখুল ইসলাম, মৃত্যু ৩০১ - ৩৩০ হিজরি / পৃষ্ঠা: ৫৫)। তিনি ৩০১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৪ ইবনুল জাওযী 'আল-মুনতাজাম'-এ (১৩/৩৮) তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি একজন আলেম, মুত্তাকী, নির্ভরযোগ্য এবং ইলমের ক্ষেত্রে আদর্শ ছিলেন। তিনি ছিলেন অগাধ বুদ্ধি ও দ্বীনদারির অধিকারী। তিনি ২৯২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।"

৫ আয-যাহাবী 'তারিখুল ইসলাম'-এ (মৃত্যু ৩৩১ - ৩৫০ হিজরি / পৃষ্ঠা: ৩৮৬) তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং তাঁকে নিশাপুরের প্রবীণ শায়খদের অন্তর্ভুক্ত ও হাদীস অনুলিখনে অত্যন্ত আগ্রহী ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তিনি ৩৪৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৭১)
4 ـ محمد بن عيسى بن عمرويه الجُلودي1.

وقد وقفتُ على خمسة آخرين أخذوا عنه، وهم:

1 ـ إسماعيل بن نجيد السلمي2.

2 ـ أبو سعيد أحمد بن محمد بن إبراهيم الفقيه3.

--------------------------------------------

1 هو راوية صحيح مسلم عن ابن سفيان، ترجم له ابن الصلاح في صيانة صحيح مسلم (ص:107، وعنه نقل النووي في المنهاج (1/113) ، وذكر أنَّ كنيتَه أبو أحمد، واسمه: محمد بن عيسى بن محمد بن عبد الرحمن بن عمرويه بن منصور الزاهد النيسابوري الجُلودي - بضم الجيم، ومن فتح الجيم منه فقد أخطأ - ورجَّح أنَّه منسوب إلى سكة الجُلوديين بنيسابور الدارسة، ثم نقل عن الحاكم أنَّه كان شيخاً صالحاً زاهداً من كبار عباد الصوفية، صحب أكابر المشايخ، ومن أهل الحقائق، وكان يورِّق - يعني ينسخ - ويأكل من كسب يده، سمع أبا بكر بن خزيمة ومَن كان قبله، وكان ينتحل مذهب سفيان الثوري ويعرفه، مات في يوم الثلاثاء الرابع والعشرين من ذي الحجة سنة ثمان وستين وثلاثمائة، وهو ابن ثمانين سنة، وختم بوفاته سماع صحيح مسلم ابن الحجاج، وكلُّ مَن حدَّث به بعده عن إبراهيم بن محمد بن سفيان وغيره فإنَّه غير ثقة.

قلت: ومن فوائده على صحيح مسلم غير ما تقدّم، أنَّ له زيادات على الصحيح يرويها عن شيوخ غير ابن سفيان، وقد تتبَّعتها فوجدتها أربع زيادات هي كالآتي:

أ - بعد الحديث (1652) الذي رواه عن ابن سفيان، عن مسلم، عن شيبان بن فرُّوخ.

ثم رواه الجُلودي عن أبي العباس الماسرجَسي، عن شيبان.

ب - بعد الحديث (2425) الذي رواه عن ابن سفيان، عن مسلم، عن قتيبة بن سعيد.

ثم رواه الجُلودي عن أبي العباس السراج، ومحمد بن عبد الله بن يوسف الدُّوَيري، عن قتيبة.

جـ - بعد الحديث (2567) الذي رواه عن ابن سفيان، عن مسلم، عن عبد الأعلى بن حماد.

ثم رواه الجُلودي، عن أبي بكر بن زنجويه القشيري، عن عبد الأعلى.

د - بعد الحديث (2758) الذي رواه عن ابن سفيان، عن مسلم، عن عبد الأعلى بن حماد أيضاً. ثم رواه الجُلودي، عن ابن زنجويه، عن عبد الأعلى.

وكما ترى فإنَّ المقصدَ من هذه الزيادات، العلوُّ في الإسناد.

2 تقدّمت ترجمته (ص:165) .

3 ترجم له الذهبي في السير (16/430) ، ونسبه: ((النيسابوري الحنفي، ويُقال له: الجوري، وذكر أنَّه سمع من إبراهيم بن محمد بن سفيان، وابن خزيمة، وهو من شيوخ الحاكم، مات في رمضان سنة (383هـ) عن نيِّفٍ وتسعين سنة)) .

وقد روى ابن نقطة في التقييد (1/219) حديثاً من طريقه، عن ابن سفيان.
৪ ـ মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন আমরওয়াইহ আল-জুলুদি১।

আমি আরও পাঁচজন ব্যক্তিকে পেয়েছি যারা তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, তাঁরা হলেন:

১ ـ ইসমাঈল বিন নুজাইদ আস-সুলামি২।

২ ـ আবু সাঈদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-ফকিহ৩।

--------------------------------------------

১ তিনি ইবনে সুফিয়ানের সূত্রে সহিহ মুসলিমের বর্ণনাকারী। ইবনুস সালাহ 'সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম' (পৃষ্ঠা: ১০৭) গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর থেকে ইমাম নববি 'আল-মিনহাজ' (১/১১৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে তাঁর উপনাম আবু আহমদ এবং নাম: মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন আমরওয়াইহ বিন মনসুর আজ-জাহিদ আন-নাইসাবুরি আল-জুলুদি। 'জুলুদি' শব্দটি জিম বর্ণে পেশ দিয়ে পড়তে হয়, আর যিনি জিম বর্ণে জবর দিয়ে পড়েছেন তিনি ভুল করেছেন। তিনি আরও প্রাধান্য দিয়েছেন যে, এটি নাইসাবুরের 'সিক্কাতুল জুলুদিয়্যিন' নামক বিলুপ্ত গলির দিকে সম্বন্ধিত। এরপর তিনি আল-হাকিম থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি একজন নেককার, নিস্পৃহ এবং বড় মাপের সুফি সাধক ছিলেন। তিনি বড় বড় মাশায়েখদের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন এবং আধ্যাত্মিক রহস্যবিদদের (আহলুল হাকাইক) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি লিপিকারের কাজ (নকল করা) করতেন এবং স্বহস্তে উপার্জিত আয় থেকে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি আবু বকর বিন খুজাইমাহ এবং তাঁর পূর্ববর্তীদের থেকে হাদিস শুনেছেন। তিনি সুফিয়ান সাওরির মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং সে সম্পর্কে পারদর্শী ছিলেন। তিনি ৩৬৮ হিজরি সনের ২৪শে জিলহজ মঙ্গলবার আশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে মুসলিম বিন হাজ্জাজের 'সহিহ মুসলিম' এর (সরাসরি) শ্রবণ সমাপ্ত হয়। তাঁর পরে যাঁরা ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান বা অন্য কারও সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন তাঁরা নির্ভরযোগ্য নন।

আমি বলছি: সহিহ মুসলিমের ওপর তাঁর টীকা বা সংযোজনগুলো (যিয়াদাত) যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে তা ছাড়াও, তাঁর কিছু অতিরিক্ত সংযোজন রয়েছে যা তিনি ইবনে সুফিয়ান ব্যতীত অন্য শায়খদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি সেগুলো অনুসন্ধান করেছি এবং নিম্নোক্ত চারটি সংযোজন পেয়েছি:

ক - হাদিস নং ১৬৫২ এর পরে, যা তিনি ইবনে সুফিয়ানের সূত্রে, ইমাম মুসলিম থেকে, তিনি শাইবান বিন ফাররুখ থেকে বর্ণনা করেছেন।

এরপর আল-জুলুদি এটি আবুল আব্বাস আল-মাসা-রাজাসি থেকে, তিনি শাইবান থেকে বর্ণনা করেছেন।

খ - হাদিস নং ২৪২৫ এর পরে, যা তিনি ইবনে সুফিয়ানের সূত্রে, ইমাম মুসলিম থেকে, তিনি কুতাইবা বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

এরপর আল-জুলুদি এটি আবুল আব্বাস আস-সাররাজ এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আদ-দুওয়াইরি থেকে, তাঁরা কুতাইবা থেকে বর্ণনা করেছেন।

গ - হাদিস নং ২৫৬৭ এর পরে, যা তিনি ইবনে সুফিয়ানের সূত্রে, ইমাম মুসলিম থেকে, তিনি আব্দুল আ’লা বিন হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

এরপর আল-জুলুদি এটি আবু বকর বিন যানজুওয়াইহ আল-কুশাইরি থেকে, তিনি আব্দুল আ’লা থেকে বর্ণনা করেছেন।

ঘ - হাদিস নং ২৭৫৮ এর পরে, যা তিনি ইবনে সুফিয়ানের সূত্রে, ইমাম মুসলিম থেকে, একইভাবে আব্দুল আ’লা বিন হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর আল-জুলুদি এটি ইবনে যানজুওয়াইহ থেকে, তিনি আব্দুল আ’লা থেকে বর্ণনা করেছেন।

যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন, এই সংযোজনগুলোর উদ্দেশ্য হলো সনদে উচ্চতা (উলুউ ফিল ইসনাদ) অর্জন করা।

২ তাঁর জীবনী ইতিপূর্বে (পৃষ্ঠা: ১৬৫) অতিবাহিত হয়েছে।

৩ আয-যাহাবি 'আস-সিয়ার' (১৬/৪৩০) গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর পরিচয় দিয়েছেন এভাবে: ((নাইসাবুরি হানাফি, তাঁকে 'জুরি'ও বলা হয়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান এবং ইবনে খুজাইমাহ থেকে শুনেছেন। তিনি ইমাম হাকিমের অন্যতম শায়খ ছিলেন। তিনি ৩৮৩ হিজরির রমজান মাসে নব্বই বছরেরও বেশি বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।))

ইবনে নুকতাহ 'আত-তাকয়িদ' (১/২১৯) গ্রন্থে তাঁর সূত্রে ইবনে সুফিয়ান থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৭২)
3، 4 ـ أبو بكر محمد بن إبراهيم بن يحيى الكسائي وأبوه1.

5 ـ محمد بن أحمد بن شعيب2.

أما فيما يتعلَّق بعلومه ومعارفه، فسيأتي الكلام عليها في مبحثي: زياداته وتعليقاته على صحيح مسلم.

وفاته:

عاش الإمام ابن سفيان بعد شيخه مسلم أكثر من نصف قرن، حتى وافته المنيَّةُ ببلدته نيسابور في شهر رجب سنة ثمان وثلاثين وثلاثمائة كما حكاه الحاكم، وعنه نقل كلُّ مَن ترجم له، ودُفن بها كما تقدَّم، رحمه الله رحمة واسعة.

--------------------------------------------

1 ترجم لأبي بكر، الذهبيُّ في المرجع السابق (16/465) ، وقال: "روى صحيح مسلم عن ابن سفيان، رواه عنه أبو مسعود أحمد بن محمد البجلي"، وذلك إسناد ضعيف، ثم فسَّر ضعف هذا الإسناد بقول الحاكم: "حدَّث بالصحيح من كتاب جديد بخطِّه، فأنكرتُ، فعاتبني، فقلت: لو أخرجتَ أصلَك وأخبرتني بالحديث على وجهه، فقال - يعني الكسائي -: أحضرني أبي مجلس ابن سفيان الفقيه لسماع هذا الكتاب، ولم أجد سماعي، فقال لي أبو أحمد الجُلودي: قد كنتُ أرى أباك يُقيمك في المجلس تسمع، وأنت تنام لصغرك، فاكتب الصحيح من كتابي تنتفع به". اهـ.

يعني أنَّه لم يسمع الصحيح من ابن سفيان؛ لكونه كان ينام، ثم سمعه بنزول من الجُلودي، وسماعه الأخير هو المعتمد، مات سنة (385هـ) .

2 تقدّمت ترجمته (ص:165) .
৩, ৪ - আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ইয়াহইয়া আল-কিসায়ি এবং তাঁর পিতা১।

৫ - মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে শুআইব২।

তাঁর ইলম ও জ্ঞান সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা সামনে আসবে এই দুটি পরিচ্ছেদে: সহিহ মুসলিমের উপর তাঁর যিয়াদাত (অতিরিক্ত বর্ণনা) এবং তাঁর তালীকাত (টীকা-টিপ্পনী)।

তাঁর মৃত্যু:

ইমাম ইবনে সুফিয়ান তাঁর শায়খ মুসলিমের পর আধা শতাব্দীরও বেশি সময় বেঁচে ছিলেন, শেষ পর্যন্ত ৩৩৮ হিজরির রজব মাসে তাঁর নিজ শহর নিশাপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি হাকীম বর্ণনা করেছেন। যারা তাঁর জীবনী লিখেছেন, তাঁরা সবাই তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয় যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর ওপর ব্যাপক রহমত বর্ষণ করুন।

--------------------------------------------

১. যাহাবি পূর্বোক্ত সূত্রে (১৬/৪৬৫) আবু বকরের জীবনী আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি ইবনে সুফিয়ান থেকে সহিহ মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তাঁর থেকে আবু মাসুদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাজালি এটি বর্ণনা করেছেন", তবে এটি একটি দুর্বল সনদ। এরপর তিনি এই সনদের দুর্বলতার কারণ বর্ণনা করেছেন হাকীমের বক্তব্যের মাধ্যমে: "তিনি তাঁর নিজের হাতের লেখায় একটি নতুন কিতাব থেকে সহিহ বর্ণনা করতেন, ফলে আমি তা অস্বীকার করলাম। এতে তিনি আমাকে তিরস্কার করলেন। তখন আমি বললাম: আপনি যদি আপনার মূল পাণ্ডুলিপি বের করতেন এবং হাদিসটি যেভাবে আছে সেভাবে আমাকে জানাতেন। তখন তিনি—অর্থাৎ কিসায়ি—বললেন: আমার পিতা এই কিতাবটি শোনার জন্য আমাকে ফকিহ ইবনে সুফিয়ানের মজলিসে উপস্থিত করেছিলেন, কিন্তু আমি সেখানে আমার শোনার প্রমাণ পাইনি। তখন আবু আহমদ আল-جুলুদি আমাকে বললেন: আমি দেখতাম তোমার পিতা তোমাকে মজলিসে শোনার জন্য দাঁড় করিয়ে রাখতেন, কিন্তু তুমি ছোট হওয়ার কারণে ঘুমিয়ে পড়তে। তাই তুমি আমার কিতাব থেকে সহিহ লিখে নাও, যা তোমার উপকারে আসবে।" সমাপ্ত।

অর্থাৎ, তিনি ঘুমিয়ে থাকার কারণে ইবনে সুফিয়ানের কাছ থেকে সহিহ শোনেননি; পরবর্তীতে তিনি আল-জুলুদির মাধ্যমে নিম্ন সনদে এটি শুনেছেন এবং তাঁর এই শেষোক্ত শ্রবণই নির্ভরযোগ্য। তিনি ৩৮৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

২. তাঁর জীবনী পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে (পৃষ্ঠা: ১৬৫)।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
‌‌المبحث الثاني: روايته لصحيح مسلم

تبوَّأ الإمام مسلم مكانة علمية مرموقةً في علم الحديث، وترسَّخت هذه المكانة بعد تأليفه كتابه الصحيح، فحرص أهلُ العلم على التتلمذ عليه والسماع منه، ولذلك كثر الآخذون عنه، وقد ذكر المزي1، والذهبي2، في ترجمته خمساً وثلاثين من تلاميذه، وزاد عليهما الباحث مشهور حسن سلمان خمسة عشر آخرين3، وهو أوفى مَن ذكر تلاميذه - فيما رأيتُ -، وإن كان هذا العدد لا يُمثِّل حقيقة مَن سمع من الإمام مسلم، فهم أكثر من هذا بكثير.

أمَّا فيما يتعلَّق برواة صحيحه الذين سمعوه منه، ونقلوه للناس، فهم أقلُّ من

ذلك، بدليل أنَّ الضياء المقدسي المتوفى سنة (643هـ) حينما ألَّف جزءاً في الرواة عن مسلم4 الذي وقعوا له، لم يزد على عشرة، وربَّما لأنَّه التزم أن يورد في ترجمة كلِّ راوٍ حديثاً بالإسناد المتصل منه إلى هذا الراوي عن مسلم، وهؤلاء هم على ترتيبهم في كتابه:

1 ـ أحمد بن محمد بن الحسن النيسابوري المعروف بابن الشرقي (ت325هـ) .

2 ـ أحمد بن علي بن الحسن النيسابوري، ابن حسنويه المقرئ المعمِّر (ت350هـ) .

--------------------------------------------

1 تهذيب الكمال (27/504، 505) .

2 سير أعلام النبلاء (12/562 ـ 563) .

3 الإمام مسلم بن الحجاج ومنهجه في الصحيح (1/179 ـ 229) .

4 الكتاب مطبوع بدار ابن حزم، ومعه ترجمة الإمام مسلم ورواة صحيحه للذهبي، بتحقيق: عبد الله الكندري، وهادي المري.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় তাঁর ভূমিকা

ইমাম মুসলিম হাদিসশাস্ত্রে এক অনন্য ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক অবস্থানে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থটি রচনার পর এই অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়। ফলে আলেম সমাজ তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ এবং হাদিস শ্রবণের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এই কারণেই তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণকারীর সংখ্যা অনেক। আল-মিযযি ১ এবং আয-যাহাবি ২ তাঁর জীবনীতে পঁয়ত্রিশ জন ছাত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। গবেষক মাশহুর হাসান সালমান এই তালিকায় আরও পনেরো জন যুক্ত করেছেন ৩, যা আমার দৃষ্টিতে তাঁর ছাত্রদের সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা—যদিও এই সংখ্যাটি প্রকৃতপক্ষে ইমাম মুসলিমের নিকট থেকে যারা হাদিস শুনেছেন তাদের প্রকৃত সংখ্যার প্রতিফলন নয়, কারণ তাঁরা এর চেয়েও বহুগুণ বেশি।

তবে যারা সরাসরি তাঁর নিকট থেকে তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থটি শুনেছেন এবং তা মানুষের কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের সংখ্যা এর চেয়ে কম। এর প্রমাণ হলো, আদ-দিয়া আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি) যখন ইমাম মুসলিম থেকে বর্ণনাকারীদের বিষয়ে একটি পৃথক খণ্ড রচনা করেন ৪ যাদের কথা তাঁর নিকট পৌঁছেছে, তখন সেখানে তিনি দশ জনের বেশি উল্লেখ করেননি। সম্ভবত এর কারণ ছিল, তিনি প্রত্যেক বর্ণনাকারীর জীবনীতে ইমাম মুসলিম থেকে সেই বর্ণনাকারী পর্যন্ত একটি অবিচ্ছিন্ন সনদসহ হাদিস উল্লেখ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর কিতাবে তাঁদের ক্রমধারা নিম্নরূপ:

১. আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আন-নিশাপুরি, যিনি ইবনে আশ-শারকি (মৃ. ৩২৫ হি.) নামে পরিচিত।

২. আহমদ বিন আলী বিন আল-হাসান আন-নিশাপুরি, ইবনে হাসনুওয়াইহ আল-মুকরি আল-মুয়াম্মার (মৃ. ৩৫০ হি.)।

--------------------------------------------

১. তাহযিবুল কামাল (২৭/৫০৪, ৫০৫)।

২. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৫৬২-৫৬৩)।

৩. আল-ইমাম মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ ওয়া মানহাজুহু ফিস সহীহ (১/১৭৯-২২৯)।

৪. কিতাবটি দার ইবনে হাজম থেকে মুদ্রিত হয়েছে, এর সাথে আয-যাহাবি রচিত ইমাম মুসলিমের জীবনী এবং তাঁর সহীহ-এর বর্ণনাকারীদের জীবনী রয়েছে। এর তাহকীক করেছেন: আবদুল্লাহ আল-কানদারি এবং হাদি আল-মাররি।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৭৪)
3 ـ أحمد بن حمدون الأعمشي النيسابوري (ت321هـ) .

4 ـ إبراهيم بن محمد بن سفيان - موضوع البحث -.

5 ـ عبد الله بن محمد بن ياسين الدوري (ت302هـ) .

6 ـ محمد بن عبد الرحمن السرخسي الدغولي (ت325هـ) ، وهو شيخ ابن حبان، وقد روى في صحيحه حديثاً واحداً لمسلم من طريقه1.

7 ـ محمد بن عيسى الترمذي، صاحب الجامع (ت279هـ) .

8 ـ محمد بن مخلد بن حفص الدوري (ت331هـ) .

9 ـ مكي بن عبدان بن محمد النيسابوري (ت325هـ) .

10 ـ يعقوب بن أبي إسحاق، أبو عوانة الاسفراييني (ت316هـ) .

يُضاف إليهم القلانسي راوي رواية المغاربة عن مسلم، وسيأتي الكلام عليها قريباً.

لكن هذا الكتاب مع شهرته التامة صارت روايته بالإسناد المتصل بمسلم مقصورة على أبي إسحاق إبراهيم بن محمد بن سفيان، غير أنَّه يروى في بلاد المغرب مع ذلك عن أبي محمد أحمد بن علي القلانسي عن مسلم، كما قال ابن الصلاح2.

وفي هذا يقول النووي: "صحيح مسلم رحمه الله في نهاية من الشهرة، وهو متواتر عنه من حيث الجملة، فالعلم القطعي حاصلٌ بأنَّه من تصنيف أبي الحسين مسلم بن الحجَّاج، وأما من حيث الروايةُ المتصلةُ بالإسناد المتصل بمسلم؛ فقد انحصرت طريقه عنه في هذه البلدان والأزمان في رواية أبي إسحاق إبراهيم بن محمد بن سفيان، عن مسلم، ويروى في بلاد المغرب مع ذلك عن أبي

--------------------------------------------

1 الإحسان (2/135 حديث رقم: (407.

2 صيانة صحيح مسلم (ص:106.
৩ — আহমদ বিন হামদুন আল-আমাশি আন-নাইসাবুরি (ওফাত ৩২১ হি.)।

৪ — ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান — গবেষণার বিষয় —।

৫ — আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াসিন আদ-দুরি (ওফাত ৩০২ হি.)।

৬ — মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আস-সারখাসি আদ-দাগুলি (ওফাত ৩২৫ হি.), তিনি ইবনে হিব্বানের উস্তাদ, এবং তিনি তাঁর সহিহ গ্রন্থে মুসলিমের একটি হাদিস তাঁর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন ১।

৭ — মুহাম্মাদ বিন ঈসা আত-তিরমিজি, জামি গ্রন্থের রচয়িতা (ওফাত ২৭৯ হি.)।

৮ — মুহাম্মাদ বিন মাখলাদ বিন হাফস আদ-দুরি (ওফাত ৩৩১ হি.)।

৯ — মাক্কি বিন আবদান বিন মুহাম্মাদ আন-নাইসাবুরি (ওফাত ৩২৫ হি.)।

১০ — ইয়াকুব বিন আবি ইসহাক, আবু আওয়ানা আল-ইসফারায়িনি (ওফাত ৩১৬ হি.)।

তাদের সাথে কালানিসিকে যুক্ত করা হয়, যিনি মাগরেববাসীদের সূত্রে মুসলিম থেকে বর্ণনাকারী, এবং তাঁর সম্পর্কে শীঘ্রই আলোচনা আসবে।

তবে এই কিতাবটি তার পূর্ণ খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও মুসলিমের সাথে অবিচ্ছিন্ন সনদে এর বর্ণনা আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তবে যেমনটি ইবনে আস-সালাহ ২ বলেছেন, মাগরেব ভূখণ্ডে এটি আবু মুহাম্মাদ আহমদ বিন আলি আল-কালানিসির মাধ্যমেও মুসলিম থেকে বর্ণিত হয়।

আর এ সম্পর্কে আন-নববী বলেন: "সহিহ মুসলিম—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—অত্যন্ত সুপরিচিত, এবং এটি সাধারণভাবে তাঁর থেকে মুতাওয়াতির। সুতরাং নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয়েছে যে এটি আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজেরই রচনা। আর মুসলিমের সাথে সংযুক্ত সনদে বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্তমান ভূখণ্ড ও সময়ে তাঁর থেকে এর পথ আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ানের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, যা তিনি মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি মাগরেব ভূখণ্ডে এটি আবু..."

--------------------------------------------

১ আল-ইহসান (২/১৩৫ হাদিস নম্বর: ৪০৭)।

২ সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১০৬)।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
محمد أحمد بن علي القلانسي، عن مسلم"1.

ويُفهم من كلامهما انحصار رواية الصحيح بالإسناد المتصل منذ القرن السابع الهجري في روايتين:

الأولى: رواية المشارقة:

وهي رواية ابن سفيان، سُميت بذلك؛ لأنَّ رواتَها مشرقيُّون، وهذه شجرة إسنادها كما جاءت عند النووي الذي ترجم لكلِّ رواتها2:

مسلم بن الحجاج النيسابوري

إبراهيم بن محمد بن سفيان النيسابوري

محمد بن عيسى الجُلودي النيسابوري

عبد الغافر الفارسي النيسابوري

محمد بن الفضل الفراوي النيسابوري

منصور بن عبد المنعم الفراوي النيسابوري

إبراهيم بن أبي حفص الواسطي (سكن نيسابور مدة طويلة

الإمام النووي

--------------------------------------------

1 المنهاج (1/116) .

2 المرجع السابق (1/109) ، وما بعدها.
মুহাম্মাদ আহমদ বিন আলী আল-কালানসী, মুসলিম থেকে১।

তাদের উভয়ের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, সপ্তম হিজরি শতাব্দী থেকে নিরবচ্ছিন্ন সনদের মাধ্যমে সহীহ-এর বর্ণনা দুটি বর্ণনায় সীমাবদ্ধ:

প্রথমটি: মাশারিকাহ (পূর্বাঞ্চলীয়দের) বর্ণনা:

এটি ইবনে সুফিয়ানের বর্ণনা, একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে; কারণ এর বর্ণনাকারীরা ছিলেন পূর্বাঞ্চলীয়। আর এটি হলো সেই বর্ণনাসূত্রের বৃক্ষ যেমনটি ইমাম নববীর নিকট বর্ণিত হয়েছে, যিনি এর সকল বর্ণনাকারীর জীবনী আলোচনা করেছেন২:

মুসলিম বিন হাজ্জাজ আন-নাইসাপুরী

ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান আন-নাইসাপুরী

মুহাম্মাদ বিন ঈসা আল-জুলুদী আন-নাইসাপুরী

আব্দুল গাফির আল-ফারিসী আন-নাইসাপুরী

মুহাম্মাদ বিন ফজল আল-ফারাবী আন-নাইসাপুরী

মানসুর বিন আব্দুল মুনইম আল-ফারাবী আন-নাইসাপুরী

ইব্রাহিম বিন আবি হাফস আল-ওয়াসিতী (যিনি দীর্ঘকাল নাইসাপুরে বসবাস করেছেন)

ইমাম নববী

--------------------------------------------

১ আল-মিনহাজ (১/১১৬)।

২ পূর্বোক্ত উৎস (১/১০৯) এবং এর পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
الثانية: رواية المغاربة:

وهي رواية القلانسي، سُميت بذلك؛ لأنَّها وقعت لأهل المغرب، ولا رواية له عند غيرهم، دخلت روايته إليه من جهة أبي عبد الله محمد بن يحيى بن الحذَّاء القرطبي، وغيره، سمعوها بمصر من أبي العلاء بن ماهان، عن أبي بكر أحمد بن يحيى الأشقر، عن القلانسي1، وهذه شجرة إسناد إحدى طرقها التي رواها القاضي عياض شارح صحيح مسلم2:

مسلم بن الحجاج النيسابوري

أحمد بن علي القلانسي

أحمد بن محمد الأشقر

عبد الوهاب بن عيسى بن ماهان

محمد بن يحيى بن الحذَّاء القرطبي

ابنه: أحمد بن محمد القرطبي

الحسين بن محمد الجيَّاني (صاحب تقييد المهمل وتمييز المشكل

القاضي عياض بن موسى اليحصبي (صاحب إكمال المعلم)

--------------------------------------------

1 المنهاج (1/116) .

2 انظر: منهجية فقه الحديث عند القاضي عياض في إكمال المعلم، للدكتور حسين شواط (ص:76) .
দ্বিতীয়: মাগরিববাসীদের বর্ণনা:

এটি হলো কালানিসির বর্ণনা; একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এটি মাগরিববাসীদের (উত্তর আফ্রিকার মুসলিম ভূখণ্ড) নিকট প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং তারা ব্যতীত অন্য কারো নিকট তাঁর কোনো বর্ণনা নেই। তাঁর বর্ণনা তাঁদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনুল হাজ্জা আল-কুরতুবি ও অন্যদের মাধ্যমে পৌঁছেছে; তাঁরা এটি মিশরে আবুল আলা ইবনে মাহানের নিকট থেকে শুনেছেন, তিনি আবু বকর আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-আশকার থেকে, আর তিনি কালানিসি থেকে১। এটি সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাকার কাজী ইয়াজের বর্ণিত একটি সূত্রের সনদ-বৃক্ষ২:

মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আন-নিশাপুরি

আহমদ ইবনে আলি আল-কালানিসি

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আশকার

আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে ঈসা ইবনে মাহান

মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনুল হাজ্জা আল-কুরতুবি

তাঁর পুত্র: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-কুরতুবি

হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-জাইয়ানি (তাকয়িদুল মুহামাল ওয়া তামিযুল মুশকিল গ্রন্থের প্রণেতা)

কাজী ইয়াজ ইবনে মুসা আল-ইয়াহসুবি (ইকমালুল মুয়াল্লিম গ্রন্থের প্রণেতা)

--------------------------------------------

১ আল-মিনহাজ (১/১১৬)।

২ দ্রষ্টব্য: ডক্টর হুসাইন শাওয়াওয়াত রচিত 'মানহাজিয়্যাতু ফিকহিল হাদিসি ইনদাল কদি ইয়াজ ফি ইকমালিল মুয়াল্লিম' (পৃষ্ঠা: ৭৬)।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
وقد بخلت كتبُ التراجم بترجمة وافية للقلانسي، فلم أقف على مَن ترجم له سوى ابن الصلاح في كتابه صيانة صحيح مسلم، الذي بيَّن نسبَه وأنَّه: أبو محمد أحمد بن علي بن الحسن بن المغيرة بن عبد الرحمن القلانسي، وأشار إلى روايته للصحيح كما تقدّم في كلام النووي الذي اعتمد كلامه1.

وهناك أمرٌ آخر يُفهم من كلامي ابن الصلاح والنووي المتقدِّمين، وهو أنَّ الرواية المعتمدة لصحيح مسلم هي رواية المشارقة؛ ولذلك شاعت وانتشرت بين أهل العلم، وغالب من يروي حديثاً لمسلم في صحيحه، إنَّما يدخل من طريق الجُلودي، عن ابن سفيان راوي هذه الرواية2، حتى علماء المغرب أنفسهم، كالقاضي عياض3، وابن بشكوال4، وابنُ رُشيد5، وغيرهم.

وإنَّما كان الاعتماد على هذه الرواية؛ لأنَّها أكمل الروايتين، فرواية

--------------------------------------------

1 صيانة صحيح مسلم (ص:11) .

2 روى البغوي في كتابه شرح السنة اثنين وعشرين ومائة حديث من صحيح مسلم (انظر أرقامها في كتاب المدخل إلى شرح السنة لعلي بادحدح 2/797 ـ 800) ، وقد تتبَّعتها حديثاً حديثاً فوجدتها من الطريق المذكور، ووجدتُ الباحث وهم في حديثين لم يخرجهما البغوي من طريق مسلم، وهما برقم: (3657، و (4012) ، ولذلك جاء العدد عنده أربعة وعشرين ومائة حديث.

3 روى في كتابه الشفا أحدَ عشر حديثاً من صحيح مسلم، جميعها من الطريق المذكور.

انظر الصفحات: 86، 160، 180، 232، 306، 410، 512، 538، 567، 870، 891.

وحديثين في كتابه الإلماع (ص:16 و 234) .

4 روى في كتابه الغوامض والمبهمات واحداً وأربعين حديثاً من صحيح مسلم، جميعها من الطريق المذكور، انظر الصفحات:

30، 63، 72، 87، 93، 96، 132، 146، 167، 175، 177، 186، 201، 204، 235، 276، 285، 325، 346، 377، 400، 428، 431، 456، 475، 489، 511، 563، 575، 593، 628، 694، 697، 740، 744، 814، 817، 824، 828، 856.

5 روى حديثين فيما طُبع من كتابه ملء العيبة، في: (3/201) ، و (5/348) .
জীবনী গ্রন্থসমূহ কালানসির পূর্ণাঙ্গ জীবনী বর্ণনায় কার্পণ্য করেছে। তাই ইবনুন সালাহ ব্যতীত আর কাউকে আমি পাইনি যিনি তার জীবনী লিখেছেন। তিনি তার ‘সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি তার বংশপরিচয় বর্ণনা করেছেন যে তিনি হলেন: আবু মুহাম্মদ আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাসান ইবনে মুগিরা ইবনে আবদুর রহমান কালানসি। তিনি সহিহ মুসলিমের তার বর্ণনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেমনটি ইমাম নববীর কথায় ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, যিনি তার বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন।

ইবনুন সালাহ এবং নববীর পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আরও একটি বিষয় বোঝা যায়, আর তা হলো সহিহ মুসলিমের নির্ভরযোগ্য বর্ণনা হলো প্রাচ্যবাসীদের বর্ণনা; এ কারণেই এটি আলেমদের মধ্যে বহুল প্রচলিত ও প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। যারা সহিহ মুসলিমে ইমাম মুসলিম থেকে হাদিস বর্ণনা করেন, তাদের অধিকাংশই এই বর্ণনার রাবী ইবনে সুফিয়ানের সূত্রে জুলুদীর পথ হয়েই প্রবেশ করেন। এমনকি মাগরেবের (পাশ্চাত্য) আলেমগণও, যেমন কাজী আইয়াজ, ইবনে বাশকুয়াল, ইবনে রুশাইদ এবং অন্যান্যরা।

মূলত এই বর্ণনার ওপরই নির্ভর করা হয়েছে; কারণ এটি দুই বর্ণনার মধ্যে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ।

--------------------------------------------

১. সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১১)।

২. বাগাভী তার ‘শারহুস সুন্নাহ’ গ্রন্থে সহিহ মুসলিম থেকে একশত বাইশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন (আলী বাদাহদাহ রচিত ‘আল-মাদখাল ইলা শারহিস সুন্নাহ’ ২/৭৯৭-৮০০ গ্রন্থে এগুলোর নম্বর দেখুন)। আমি প্রতিটি হাদিস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করে সেগুলোকে উল্লিখিত পথেই পেয়েছি। আমি দেখেছি যে গবেষক দুটি হাদিসের ব্যাপারে বিভ্রান্ত হয়েছেন যা বাগাভী ইমাম মুসলিমের সূত্রে বর্ণনা করেননি, সেগুলোর নম্বর হলো: (৩৬৫৭ এবং ৪০১২), ফলে তার নিকট হাদিস সংখ্যা দাঁড়িয়েছে একশত চব্বিশটি।

৩. তিনি তার ‘আশ-শিফা’ গ্রন্থে সহিহ মুসলিম থেকে এগারোটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার সবগুলোই উল্লিখিত সূত্রে।

পৃষ্ঠাগুলো দেখুন: ৮৬, ১৬০, ১৮০, ২৩২, ৩০৬, ৪১০, ৫১২, ৫৩৮, ৫৬৭, ৮৭০, ৮৯১।

এবং তার ‘আল-ইলমা’ গ্রন্থে দুটি হাদিস (পৃষ্ঠা: ১৬ এবং ২৩৪)।

৪. তিনি তার ‘আল-গাওয়াযি ওয়াল মুবহামাত’ গ্রন্থে সহিহ মুসলিম থেকে একচল্লিশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার সবগুলোই উল্লিখিত সূত্রে। পৃষ্ঠাগুলো দেখুন:

৩০, ৬৩, ৭২, ৮৭, ৯৩, ৯৬, ১৩২, ১৪৬, ১৬৭, ১৭৫, ১৭৭, ১৮৬, ২০১, ২০৪, ২৩৫, ২৭৬, ২৮৫, ৩২৫, ৩৪৬, ৩৭৭, ৪০০, ৪২৮, ৪৩১, ৪৫৬, ৪৭৫, ৪৮৯, ৫১১, ৫৬৩, ৫৭৫, ৫৯৩, ৬২৮, ৬৯৪, ৬৯৭, ৭৪০, ৭৪৪, ৮১৪, ৮১৭, ৮২৪, ৮২৮, ৮৫৬।

৫. তিনি তার ‘মিলউল আইবাহ’ গ্রন্থের মুদ্রিত অংশে দুটি হাদিস বর্ণনা করেছেন: (৩/২০১) এবং (৫/৩৪৮) এ।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৭৮)
القلانسي "المغاربة ناقصة من آخر الكتاب، وقدَّر العلماء هذا النقص بثلاثة أجزاء"1، تبدأ من حديث الإفك الطويل، ورقمه: (2770) الذي أخرجه مسلم في كتاب التوبة، باب في حديث الإفك، وقبول توبة القاذف، أي بمقدار ثلاثة وستين ومائتي حديث على اعتبار عدد أحاديث صحيح مسلم بدون المتابعات (3033) حديث حسب ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي، فإنَّ أبا العلاء ابن ماهان - أحد رواة رواية المغاربة - يروي هذه الأحاديث عن أبي أحمد الجُلودي، عن ابن سفيان، عن مسلم2، أي أنَّه يعود إلى رواية المشارقة.

لكن لا يعني هذا طرح هذه الرواية وعدم الاعتداد بها؛ إذ لا تخلو من فائدة، وسنحتاج إليها في الدفاع عن صحيح مسلم، والردِّ على ما انتُقدت به رواية ابن سفيان (المشارقة، وربَّما كان الإمام الدارقطني يحثُّ أهل العلم على تحمُّل وسماع هذه الرواية لهذا السبب، فقد قال محمد بن يحيى بن الحذاء - أحد رواتها -: أخبرني ثقات أهل مصر أنَّ أبا الحسن علي بن عمر الدراقطني كتب إلى أهل مصر من بغداد: أن اكتبوا عن أبي العلاء ابن ماهان كتاب مسلم بن الحجاج الصحيح، ووصف أبا العلاء بالثقة والتميُّز) 3.

النَّقد الذي وُجِّه إلى رواية المشارقة والردِّ عليه:

مع أنَّ رواية ابن سفيان هي الرواية المعتمدة كما تقدم إلاّ أنّها لم تسلَم كذلك من النّقد، من جهة وجود أحاديث لم يسمعها ابن سفيان من مسلم مما قد يعكِّر على اتّصال إسنادها، وأوّل من تنبّه إلى ذلك - فيما يبدو - الإمام ابن الصلاح حيث قال: اعلم أنّ لإبراهيم بن سفيان في الكتاب فائتاً لم يسمعه من مسلم، يُقال فيه: أخبرنا إبراهيم، عن مسلم، ولا يُقال فيه: قال أخبرنا أو حدَّثنا

--------------------------------------------

1 صيانة صحيح مسلم (ص:111) ، والمنهاج (1/116) .

2 صيانة صحيح مسلم (ص:111) ، والمنهاج (1/116) .

3 صيانة صحيح مسلم (ص:112) .
কালানিসি বলেছেন: "মাগারিবা সংস্করণটি গ্রন্থের শেষ অংশ থেকে অসম্পূর্ণ, এবং উলামায়ে কেরাম এই অপূর্ণতাকে তিন খণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।"১ এটি দীর্ঘ ইফকের হাদিস থেকে শুরু হয়েছে, যার নম্বর: (২৭৭০), যা ইমাম মুসলিম 'কিতাবুত তাওবা'র 'ইফকের হাদিস এবং অপবাদদাতার তাওবা কবুল হওয়া' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ, মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির নাম্বারিং অনুযায়ী মুতাবা'আত (সমর্থক বর্ণনা) ব্যতীত সহিহ মুসলিমের হাদিস সংখ্যা (৩০৩৩) বিবেচনা করলে এর পরিমাণ প্রায় ২৬৩টি হাদিস। আবুল আলা ইবনে মাহান—যিনি মাগারিবা সংস্করণের অন্যতম বর্ণনাকারী—এই হাদিসগুলো আবু আহমাদ আল-জুলুদি থেকে, তিনি ইবনে সুফিয়ান থেকে এবং তিনি মুসলিম থেকে বর্ণনা করেন।২ অর্থাৎ, এটি পুনরায় মাশারিফা সংস্করণের দিকেই ফিরে যায়।

কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, এই বর্ণনাটি বর্জন করা হবে এবং একে গুরুত্বহীন মনে করা হবে; কারণ এটি উপকারশূন্য নয়। সহিহ মুসলিমের প্রতিরক্ষা এবং ইবনে সুফিয়ানের (মাশারিফা) সংস্করণের ওপর যেসব সমালোচনা করা হয়েছে সেগুলোর জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের এটির প্রয়োজন হবে। সম্ভবত এ কারণেই ইমাম দারাকুতনি ইলম অন্বেষণকারীদের এই বর্ণনাটি গ্রহণ ও শ্রবণ করার জন্য উৎসাহিত করতেন। এই বর্ণনার অন্যতম বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহিয়া ইবনুল হাজ্জা বলেছেন: "মিশরের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গ আমাকে জানিয়েছেন যে, আবুল হাসান আলী ইবনে ওমর দারাকুতনি বাগদাদ থেকে মিশরের অধিবাসীদের কাছে লিখেছিলেন: তোমরা আবুল আলা ইবনে মাহান থেকে মুসলিম ইবনে হাজ্জাজের 'সহিহ' কিতাবটি লিখে নাও; এবং তিনি আবুল আলাকে বিশ্বস্ত ও অনন্য হিসেবে অভিহিত করেছেন।"৩

মাশারিফা বর্ণনার ওপর আরোপিত সমালোচনা এবং তার খণ্ডন:

যদিও ইবনে সুফিয়ানের বর্ণনাটি পূর্বে উল্লিখিত নির্ভরযোগ্য সংস্করণ, তবুও এটিও সমালোচনা থেকে মুক্ত থাকেনি। এর কারণ হলো এমন কিছু হাদিসের উপস্থিতি যা ইবনে সুফিয়ান ইমাম মুসলিমের কাছ থেকে সরাসরি শোনেননি, যা এর সনদের নিরবচ্ছিন্নতার ওপর সংশয় তৈরি করতে পারে। যতদূর প্রতীয়মান হয়, ইমাম ইবনুস সালাহ সর্বপ্রথম এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেছেন: "জেনে রাখুন, ইব্রাহিম ইবনে সুফিয়ানের এই কিতাবে এমন কিছু অংশ বিলুপ্ত (ফায়িত) রয়েছে যা তিনি ইমাম মুসলিমের কাছ থেকে সরাসরি শ্রবণ করেননি। সেসব ক্ষেত্রে বলা হয়: 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম, তিনি মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন', সেখানে 'তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন'—এভাবে বলা হয় না।"

--------------------------------------------

১. সিয়ানাতু সহিহি মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১১১), এবং আল-মিনহাজ (১/১১৬)।

২. সিয়ানাতু সহিহি মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১১১), এবং আল-মিনহাজ (১/১১৬)।

৩. সিয়ানাতু সহিহি মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১১২)।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৭৯)
مسلم، وروايته لذلك عن مسلم إما بطريق الإجازة وإما بطريق الوجادة1، وقد غفل أكثر الرواة عن تبيين ذلك، وتحقيقه في فهارسهم، وبرنامجاتهم وفي تسميعاتهم وإجازاتهم، وغيرها، بل يقولون في جميع الكتاب: أخبرنا إبراهيم، قال: أخبرنا مسلم2.

ثمَّ بيَّن أنَّ هذا الفوت في ثلاثة مواضع محقَّقة في أصول معتمدة، وهي:

الفائت الأول:

في كتاب الحج، ويبدأ من باب الحلق والتقصير، حديث ابن عمر رضي الله عنهما: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "رحم الله المحلِّقين"، وينتهي عند أول باب: ما يقول إذا ركب إلى سفر الحج، حديث ابن عمر رضي الله عنهما: "أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا استوى على بعيره خارجاً إلى سفر"3.

الفائت الثاني:

ويبدأ من أول كتاب الوصايا، حديث ابن عمر رضي الله عنهما: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ما حق امرئ مسلم … "، وينتهي في كتاب القسامة، باب: القسامة، قبل آخر رواية أوردها مسلم في حديث سهل بن أبي حثمة في قصة

--------------------------------------------

1 الإجازة: هي النوع الثالث من أنواع التحمُّل بعد السماع والقراءة على الشيخ، وهي على تسعة أنواع كما قال السيوطي، كأن يُجيز كتاباً معيَّناً لشخص معيَّن … وهكذا، وجمهور العلماء على جواز الرواية والعمل بها.

أما الوجادة: فهي النوع الثامن بعد الأنواع المتقدِّمة إضافة إلى المناولة والكتابة والوصية، وتعريفها: أن يقف الراوي على أحاديث بخط راويها، ولم يسمعها أو يجيزه بها، وهو باب من المنقطع وفيه شوب اتِّصال. انظر: تدريب الراوي للسيوطي (2/48، 48، 100، 1010) بتصرف.

2 صيانة صحيح مسلم (ص:114) .

3 صحيح مسلم من (2/946) عند أول حديث رقم: (318 ـ 1301) ، وحتى (2/978) قبل أول حديث رقم: (425 ـ 1342) .
মুসলিম, এবং মুসলিম থেকে তাঁর সেই বর্ণনাটি হয় ইজাযাহ (অনুমতি) পদ্ধতির মাধ্যমে অথবা বিজাদাহ (পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তি) পদ্ধতির মাধ্যমে। অধিকাংশ বর্ণনাকারী তাঁদের ইনডেক্স, তালিকা, শ্রবণলিপি, অনুমতিপত্র এবং অন্যান্য নথিতে বিষয়টি স্পষ্ট করতে ও যাচাই করতে অসতর্কতা দেখিয়েছেন। বরং তাঁরা পুরো কিতাবে বলেন: ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।

এরপর তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই ঘাটতিটি তিনটি নির্দিষ্ট স্থানে নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোতে প্রমাণিত, আর সেগুলো হলো:

প্রথম ঘাটতি:

হজ অধ্যায়ে; এটি শুরু হয়েছে মাথা মুণ্ডানো ও চুল ছোট করার পরিচ্ছেদ থেকে, ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস দিয়ে: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ মাথা মুণ্ডনকারীদের ওপর দয়া করুন," এবং এটি শেষ হয়েছে হজ সফরে বের হওয়ার সময় সওয়ারিতে আরোহণের পর যা বলতে হয় সেই পরিচ্ছেদের শুরুতে, ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস পর্যন্ত: "আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সফরের উদ্দেশ্যে তাঁর উটের ওপর উঠতেন।"

দ্বিতীয় ঘাটতি:

এটি শুরু হয়েছে অসিয়ত অধ্যায়ের শুরু থেকে, ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "একজন মুসলিম ব্যক্তির এমন কোনো অধিকার নেই..." এবং এটি শেষ হয়েছে কাসামাহ অধ্যায়ের কাসামাহ পরিচ্ছেদে, সাহল ইবনে আবি হাসমাহ-র হাদিসে মুসলিমের বর্ণিত শেষ বর্ণনার আগে, সেই ঘটনায়...

--------------------------------------------

১. ইজাযাহ (অনুমতি): এটি শাইখের কাছে শোনা এবং শাইখের কাছে পাঠ করার পর হাদিস গ্রহণের প্রকারভেদের মধ্যে তৃতীয় প্রকার। সুয়ূতী যেমনটি বলেছেন, এটি নয়টি প্রকারের হয়ে থাকে, যেমন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কোনো কিতাবের অনুমতি দেওয়া... এবং এভাবেই। জমহুর উলামাগণ এর মাধ্যমে বর্ণনা করা এবং এর ওপর আমল করা বৈধ হওয়ার পক্ষে।

আর বিজাদাহ (পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তি): এটি পূর্বোক্ত প্রকারগুলোর পাশাপাশি মুনাওয়ালাহ (হস্তান্তর), কিতাবাত (লিখন) এবং ওসিয়্যাহ-র পর অষ্টম প্রকার। এর সংজ্ঞা হলো: বর্ণনাকারী তাঁর শাইখের হস্তাক্ষরে এমন কিছু হাদিস পাবেন যা তিনি তাঁর থেকে শোনেননি অথবা শাইখ তাঁকে সেটির অনুমতি দেননি। এটি 'মুনকাতি' (বিচ্ছিন্ন) বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হলেও এতে 'ইত্তিসাল' (সংযুক্ত হওয়ার) একটি আবহ রয়েছে। দেখুন: সুয়ূতী রচিত তাদরীবুর রাবী (২/৪৮, ৪৮, ১০০, ১০১০), পরিমার্জিত।

২. সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১১৪)।

৩. সহীহ মুসলিম (২/৯৪৬) হাদিস নং (৩১৮ - ১৩০১) এর শুরু থেকে, এবং (২/৯৭৮) হাদিস নং (৪২৫ - ১৩৪২) এর আগ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৮০)
حُوَيِّصة ومُحَيِّصة1.

الفائت الثالث:

ويبدأ من كتاب الإمارة، أول باب: الإمام جنة، حديث أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إنَّما الإمام جنة … "، وينتهي في كتاب الصيد والذبائح، قبل باب: إذا غاب عنه الصيد ثم وجده2.

ولم أقف على من تعرَّض لهذه الفوائت بالدراسة، وبيان أنَّها لا تؤثِّر في صحة واتِّصال هذه الأحاديث سوى ما ذكره الدكتور الحسين شواط حيث قال:

"يبعد أن يكون هذا الفائت قد بقي على ابن سفيان إلى حين وفاة مسلم، وذلك لأمور، منها:

أ - توفر دواعي تلافي ذلك الفوت وسماعه من مسلم، وذلك لأنَّ الفراغ من سماع الكتاب قد تمَّ سنة (257هـ) أي قبل وفاة مسلم (ت261هـ) بحوالي خمس سنوات، فكيف يغفل عن ذلك كلَّ هذه المدَّة مع وجودهما في بلد واحد.

ب - ما نصَّت عليه المصادر ونوَّهت به من كثرة ملازمة ابن سفيان لشيخه مسلم، ممَّا يجعل الفرصة سانحة بصفة أكيدة لسماع ما يفوته منه.

جـ - النص في بعض النسخ على عدم حضور ابن سفيان مجلس السماع لا يمنع سماعه في مجلس آخر بعده.

وعلى فرض تسليم بقاء هذا الفوت فعلاً؛ فإنَّ احتمال روايته بطريق

--------------------------------------------

1 المرجع السابق، من (3/1249) عند أول حديث رقم: (1 ـ 1627) ، وحتى (3/1294) قبل أول حديث رقم: (6 ـ 1669) .

2 المرجع السابق، من (3/1471) عند أول حديث رقم: (43 ـ 1841) ، وحتى (3/1533) قبل أول حديث رقم: (9/1931) .
হুওয়াইসা এবং মুহায়্যিসা১।

তৃতীয় ছুটে যাওয়া অংশ:

এটি ইমারত অধ্যায় থেকে শুরু হয়েছে, প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম হলেন ঢাল, আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইমাম হলেন ঢাল ...", এবং এটি শিকার ও জবাই অধ্যায়ে শেষ হয়েছে, এই পরিচ্ছেদের আগে: যখন শিকার তার থেকে আড়ালে চলে যায় এবং পরে তা খুঁজে পাওয়া যায়২।

ডক্টর আল-হুসাইন শাওয়াত যা উল্লেখ করেছেন তা ছাড়া আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এই ছুটে যাওয়া অংশগুলো নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং এই হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতা ও নিরবচ্ছিন্নতার ওপর এগুলো কোনো প্রভাব ফেলে না তা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন:

"এটি অসম্ভব মনে হয় যে এই ছুটে যাওয়া অংশটি ইবনে সুফিয়ানের কাছে ইমাম মুসলিমের মৃত্যু পর্যন্ত থেকে গিয়েছিল; এর কিছু কারণ হলো:

ক - এই ঘাটতি পূরণ করার এবং ইমাম মুসলিমের কাছ থেকে তা শোনার যথেষ্ট প্রেরণা ও সুযোগ বিদ্যমান ছিল। কারণ গ্রন্থটি শোনার সমাপ্তি ২৫৭ হিজরিতে হয়েছিল, অর্থাৎ ইমাম মুসলিমের মৃত্যুর (মৃ. ২৬১ হিজরি) প্রায় পাঁচ বছর আগে। সুতরাং একই শহরে অবস্থান করা সত্ত্বেও এত দীর্ঘ সময় তিনি কীভাবে এ বিষয়ে গাফেল থাকতে পারেন।

খ - উৎসগ্রন্থগুলো ইবনে সুফিয়ান কর্তৃক তার উস্তাদ ইমাম মুসলিমের দীর্ঘ সাহচর্যে থাকার যে বর্ণনা ও গুরুত্বারোপ করেছে, যা তার ছুটে যাওয়া অংশগুলো শোনার জন্য নিশ্চিতভাবে সুযোগ করে দেয়।

গ - কিছু পাণ্ডুলিপিতে ইবনে সুফিয়ানের শ্রবণের মজলিসে অনুপস্থিত থাকার যে বর্ণনা রয়েছে, তা পরবর্তীতে অন্য কোনো মজলিসে তা শোনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক নয়।

আর যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নেওয়া হয় যে এই ছুটে যাওয়া অংশটি প্রকৃতপক্ষে রয়ে গিয়েছিল, তবে অন্য সূত্রে সেটি বর্ণনার সম্ভাবনা...

--------------------------------------------

১ পূর্বোক্ত উৎস, (৩/১২৪৯) থেকে হাদিস নম্বর: (১-১৬২৭) এর শুরু থেকে (৩/১২৯৪) পর্যন্ত হাদিস নম্বর: (৬-১৬৬৯) এর আগে।

২ পূর্বোক্ত উৎস, (৩/১৪৭১) থেকে হাদিস নম্বর: (৪৩-১৮৪১) এর শুরু থেকে (৩/১৫৩৩) পর্যন্ত হাদিস নম্বর: (৯/১৯৩১) এর আগে।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৮১)
الوجادة ضعيف جدًّا؛ لأنَّ بعض النسخ قد نصَّت على أنَّه كان إجازة كما ذكر ابن الصلاح"1.

وما ذكره - حفظه الله - فيه وجاهة، لكن لا تعدو كونها أموراً نظريةً قائمة على الاجتهاد الذي قد يصيب وقد يخطئ، ولا يمكن أن تتأكّد إلَاّ من خلال الجانب التطبيقي العملي، وهذا ما توصلتُ إليه حيث تتبَّعتُ روايات العلماء المغاربة لصحيح مسلم للوقوف على مَن روى أحاديث مسلم من طريق القلانسي لمعرفة كيفية روايته لأحاديث الفوائت حتى طُبع مؤخّراً كتاب حجَّة الوداع للإمام ابن حزم الأندلسي، فوجدته روى جميع أحاديث مسلم التي ضمَّنها فيه من طريق القلانسي عن مسلم.

وعددُها سبعون ومائة حديث، قال فيها القلانسي: "حدَّثنا مسلم، وكان من بينها ثلاثة عشر حديثاً من أحاديث الفوائت في رواية ابن سفيان، وهذه قائمة بها:

الرقم المتسلسل-رقم الحديث في كتاب حجَّة الوداع-رقم الحديث في صحيح مسلم بترقيم محمد فؤاد عبد الباقي

1 … 131 … 1335

2 … 134 … 1334

3 … 159 … 1305

4 … 174 … 1308

5 … 176 … 1316

6 … 185 … 1306

7 … 186 … 1307

8 … 195 … 1315

9 … 199 … 1309

10 … 201 … 1313

11 … 203 … 1314

12 … 324 … 1319

13 … 335 … 1211

--------------------------------------------

1 منهجية فقه الحديث عند القاضي عياض (ص:64) بتصرف.
উইজাদাহ অত্যন্ত দুর্বল; কারণ কিছু পাণ্ডুলিপিতে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে যে এটি ইজাযাহ (অনুমতি) ছিল, যেমনটি ইবনুস সালাহ উল্লেখ করেছেন।১

আর তিনি —আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন— যা উল্লেখ করেছেন তাতে যৌক্তিকতা রয়েছে, তবে এগুলো ইজতিহাদ বা গবেষণানির্ভর তাত্ত্বিক বিষয়ের ঊর্ধ্বে নয়, যা সঠিকও হতে পারে আবার ভুলও হতে পারে। আর এটি কেবল প্রায়োগিক বা ব্যবহারিক দিক ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যখন আমি সহীহ মুসলিমের মাগরিবী আলেমদের বর্ণনাগুলো অনুসন্ধান করেছি; যাতে কালানসীর সূত্রে ইমাম মুসলিমের হাদীসগুলো কারা বর্ণনা করেছেন তা শনাক্ত করা যায় এবং ‘ফাওয়াইত’ (ছুটে যাওয়া) হাদীসসমূহ তিনি কীভাবে বর্ণনা করেছেন তা জানা যায়। অবশেষে সম্প্রতি ইমাম ইবনে হাজম আল-আন্দালুসীর ‘হজ্জাতুল বিদা’ কিতাবটি মুদ্রিত হয়েছে, তখন আমি দেখতে পেলাম যে তিনি এতে অন্তর্ভুক্ত ইমাম মুসলিমের সমস্ত হাদীস কালানসীর সূত্রে মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর সেগুলোর সংখ্যা একশত সত্তরটি হাদীস, যাতে কালানসী বলেছেন: "মুসলিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন।" এগুলোর মধ্যে তেরটি হাদীস ছিল ইবনু সুফিয়ানের বর্ণনায় ‘ফাওয়াইত’ হাদীসসমূহের অন্তর্ভুক্ত। নিচে সেগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:

ক্রমিক নং—হজ্জাতুল বিদা কিতাবে হাদীস নং—মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকীর নম্বর অনুযায়ী সহীহ মুসলিমে হাদীস নং

১ … ১৩১ … ১৩৩৫

২ … ১৩৪ … ১৩৩৪

৩ … ১৫৯ … ১৩০৫

৪ … ১৭৪ … ১৩০৮

৫ … ১৭৬ … ১৩১৬

৬ … ১৮৫ … ১৩০৬

৭ … ১৮৬ … ১৩০৭

৮ … ১৯৫ … ১৩১৫

৯ … ১৯৯ … ১৩০৯

১০ … ২০১ … ১৩১৩

১১ … ২০৩ … ১৩১৪

১২ … ৩২৪ … ১৩১৯

১৩ … ৩৩৫ … ১২১১

--------------------------------------------

১ মানহাজিয়াতু ফিকহিল হাদীস ইনদাল কাজী ইয়াজ (পৃষ্ঠা: ৬৪) কিঞ্চিৎ পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৮২)
فثبت من هذا أنَّ أحاديث الفوائت في رواية ابن سفيان ـ لو سُلِّم بقاؤها ـ قد اتَّصلت في رواية القلانسي، فاندفع بذلك النقد الذي يمكن أن يُوجَّه إليها، والله أعلم.
এ থেকে এটিই সাব্যস্ত হলো যে, ইবনে সুফিয়ানের বর্ণনায় বর্ণিত ছুটে যাওয়া নামাজ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ—যদি সেগুলোর অস্তিত্ব মেনে নেওয়া হয়—তা কালানসির বর্ণনায় সংযুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে সেই সমালোচনা অপসারিত হলো যা এগুলোর প্রতি করা সম্ভব ছিল। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৮৩)
‌‌المبحث الثالث: زياداته على صحيح مسلم

تعريف الزيادات والفرق بينها وبين الزوائد:

قبل أن أذكرَ تعريف الزيادات والمراد بها، يُستحسن أن أعرض لمصطلح آخر اشتهر عند أهل العلم، وكثر التصنيف فيه، ويَشتبه كثيراً بمصطلح الزيادات، ذلكم هو مصطلح الزوائد.

وقد عرَّف الكتاني كتب الزوائد بأنَّها:

"الأحاديث التي يزيد بها بعض كتب الحديث على بعض آخر معيَّن"1.

كما عرَّف الدكتور خلدون الأحدب علم الزوائد بأنَّه:

"علمٌ يتناول إفراد الأحاديث الزائدة في مصنَّف رويت فيه الأحاديث بأسانيد مؤلفه، على أحاديث كتب الأصول الستة أو بعضها من حديث بتمامه لا يوجد في الكتب المزيد عليها، أو هو فيها عن صحابي آخر، أو من حديث شارك فيه أصحاب الكتب المزيد عليها أو بعضهم، وفيه زيادة مؤثرة عنده"2.

ويستخلص من التعريفين السابقين عدّة نقاط:

أولاً: أنَّ المراد بالزوائد أحاديث زائدة في كتاب على كتاب آخر، وهذه الزيادة مطلقة، وقد تكون الزيادة في سند أو متن حديث اشتركا في إخراجه وهذه الزيادة نسبية.

ثانياً: أنَّ مؤلف الكتاب الذي احتوى على الزوائد لا علاقة له بمؤلف

--------------------------------------------

1 الرسالة المستطرفة (ص:17) .

2 علم زوائد الحديث (ص:12) .
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সহীহ মুসলিমের ওপর তাঁর যিয়াদাতসমূহ

যিয়াদাত-এর সংজ্ঞা এবং যিয়াদাত ও যাওয়াইদ-এর মধ্যে পার্থক্য:

যিয়াদাত-এর সংজ্ঞা এবং এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা উল্লেখ করার আগে, আহলে ইলম বা বিদ্বানদের নিকট প্রসিদ্ধ অন্য একটি পরিভাষা তুলে ধরা সমীচীন মনে করছি, যে বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচিত হয়েছে এবং যা যিয়াদাত পরিভাষার সাথে প্রায়ই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে; আর তা হলো যাওয়াইদ পরিভাষা।

আল-কাত্তানী যাওয়াইদ বিষয়ক গ্রন্থসমূহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন:

"ঐ সকল হাদিস, যার মাধ্যমে হাদিসের কোনো গ্রন্থ অন্য কোনো নির্দিষ্ট গ্রন্থের ওপর অতিরিক্ত বর্ণনা প্রদান করে"১।

অনুরূপভাবে ড. খালদুন আল-আহদাব যাওয়াইদ শাস্ত্রের সংজ্ঞায় বলেছেন:

"এটি এমন একটি শাস্ত্র যা এমন কোনো সংকলন গ্রন্থের অতিরিক্ত হাদিসগুলোকে পৃথক করার আলোচনা করে—যেখানে হাদিসগুলো লেখকের নিজস্ব সনদে বর্ণিত হয়েছে—উসূলুস সিত্তা (ছয়টি মূল কিতাব) বা তার কোনোটির হাদিসসমূহের ওপর; তা এমন পূর্ণাঙ্গ হাদিসের মাধ্যমে হতে পারে যা তুলনা করা কিতাবসমূহে বিদ্যমান নেই, অথবা তা অন্য কোনো সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, অথবা এমন কোনো হাদিস যা তুলনা করা কিতাবসমূহের লেখকগণ বা তাদের কেউ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাতে লেখকের নিকট কোনো প্রভাবশালী অতিরিক্ত অংশ বিদ্যমান রয়েছে"২।

পূর্বোক্ত দুটি সংজ্ঞা থেকে কয়েকটি বিষয় নির্যাস হিসেবে পাওয়া যায়:

প্রথমত: যাওয়াইদ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এক কিতাবে অন্য কিতাবের তুলনায় অতিরিক্ত হাদিস থাকা; আর এই অতিরিক্ত হওয়াটা নিরঙ্কুশ। আবার এই অতিরিক্ত হওয়াটা কোনো হাদিসের সনদ বা মতনের ক্ষেত্রেও হতে পারে যে হাদিসটি উভয় গ্রন্থকারই বর্ণনা করেছেন; এমতাবস্থায় এই অতিরিক্ত হওয়াটা আপেক্ষিক।

দ্বিতীয়ত: যাওয়াইদ সম্বলিত কিতাবের লেখকের সাথে সেই কিতাবের লেখকের কোনো সম্পর্ক নেই যার ওপর যাওয়াইদ করা হয়েছে

--------------------------------------------

১. আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)।

২. ইলমু যাওয়াইদিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ১২)।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৮৪)
الكتاب المزيد عليه، فتأليف كل واحد منهما لكتابه استقلالاً.

ثالثاً: أنَّ إبراز زوائد الكتاب المزيد عليه جاء في فترة متأخِّرة ومن إمام متأخر عنهما.

وتتجلَّى هذه النقاط واضحة في استعراض المؤلفات في الزوائد، وهي كثيرة1 أقتصر على ذكر بعضها، وهي:

1 - مصباح الزجاجة في زوائد ابن ماجه (ت273?) :

يعني على الكتب الخمسة المشهورة (صحيحي البخاري ومسلم، وسنن أبي داود والترمذي والنسائي) .

ومؤلفه هو الحافظ شهاب الدِّين أحمد بن أبي بكر البوصيري (ت840?) 2.

2 - مجمع الزوائد ومنبع الفوائد:

وهو زوائد مسندي الإمام أحمد (ت241?) ، وأبي يعلى الموصلي (ت307?) ، ومعاجم الطبراني الثلاثة، الكبير والأوسط والصغير (ت360?) ، على الكتب الخمسة السابقة إضافة إلى سنن ابن ماجه وهي ما تُعرف بالكتب الستة.

ومؤلفه هو الحافظ نور الدين علي بن أبي بكر الهيثمي (ت807?) 3.

3 - المطالب العالية بزوائد المسانيد الثمانية:

وهو زوائد مسند الطيالسي (ت204?) ، والحميدي (ت219?) ،

--------------------------------------------

1 انظر: المرجع السابق (ص:49 62) ، حيث ذكر تسعة عشر مؤلَّفاً.

2 طبع الكتاب عدة طبعات، أجودها بتحقيق: موسى محمد علي وعزت علي عطية، عن دار الكتب الحديثة بمصر في ثلاث مجلدات.

3 طبع الكتاب طبعة غير محققة في عشرة أجزاء كل جزأين في مجلد، ويحققه حالياً حسين سليم أسد، وقد أخرج جزأين مطبوعين بدار المأمون، ولَمَّا يكمل بعد.
অতিরিক্তকৃত কিতাব; কেননা তাঁদের প্রত্যেকেরই নিজ নিজ কিতাব স্বতন্ত্রভাবে রচনা করা।

তৃতীয়ত: অতিরিক্তকৃত কিতাবের যওয়াইদসমূহ (অতিরিক্ত হাদিসসমূহ) ফুটিয়ে তোলার বিষয়টি অনেক পরে এবং তাঁদের পরবর্তী সময়ের একজন ইমামের মাধ্যমে ঘটেছে।

যওয়াইদ বিষয়ক গ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করলে এই পয়েন্টগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এই জাতীয় গ্রন্থ অনেক রয়েছে, ১ আমি তার মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছি, সেগুলো হলো:

১ - মিসবাহুজ জুজাজাহ ফি যওয়াইদি ইবনে মাজাহ (মৃত্যু: ২৭৩ হিজরি):

অর্থাৎ প্রসিদ্ধ পাঁচটি কিতাবের (সহিহ বুখারি ও মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসাঈ) অতিরিক্ত হাদিসসমূহ।

এর লেখক হলেন হাফেজ শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে আবু বকর আল-বুসিরি (মৃত্যু: ৮৪০ হিজরি)। ২

২ - মাজমাউজ যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ:

এটি হলো ইমাম আহমাদ (মৃত্যু: ২৪১ হিজরি), আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি (মৃত্যু: ৩০৭ হিজরি) এবং তাবারানির তিন মুজাম অর্থাৎ আল-মুজামুল কাবির, আল-আওসাত ও আস-সগিরের (মৃত্যু: ৩৬০ হিজরি) সেই অতিরিক্ত হাদিসগুলোর সংকলন, যা পূর্বোক্ত পাঁচটি কিতাব ও সুনানে ইবনে মাজাহ-তে নেই; আর এই সবগুলোকে একত্রে 'কুতুবে সিত্তা' বা ছয়টি কিতাব বলা হয়।

এর লেখক হলেন হাফেজ নূরুদ্দিন আলী ইবনে আবু বকর আল-হাইসামি (মৃত্যু: ৮০৭ হিজরি)। ৩

৩ - আল-মাতালিবুল আলিয়াহ বি-যওয়াইদিল মাসানিদিল সামানিয়াহ:

এটি হলো মুসনাদে তায়ালিসি (মৃত্যু: ২০৪ হিজরি) এবং হুমাইদির (মৃত্যু: ২১৯ হিজরি) যওয়াইদ...

--------------------------------------------

১ দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা: ৪৯-৬২), যেখানে তিনি উনিশটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।

২ কিতাবটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত হলো মুসা মুহাম্মদ আলী ও ইজ্জত আলী আতিয়্যাহর তাহকিককৃত সংস্করণটি, যা মিশরের দারুল কুতুব আল-হাদিসাহ থেকে তিন খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।

৩ কিতাবটি তাহকিক ছাড়াই দশ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে (প্রতি দুই খণ্ড এক ভলিউমে), বর্তমানে হুসাইন সেলিম আসাদ এটি তাহকিক করছেন। তিনি দারুল মামুন থেকে দুই খণ্ড প্রকাশ করেছেন, তবে কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৮৫)
ومسدد (ت228?) ، وابن أبي عمر (ت243?) ، وأحمد بن منيع (ت244?) ، وابن أبي شيبة (ت235?) ، والحارث بن أبي أسامة (ت282?) ، وعبد بن حميد (ت249?) 1 على الكتب الستة.

ومؤلِّفه الحافظ شهاب الدِّين أحمد بن علي بن حجر العسقلاني (ت852?) 2.

هذا فيما يتعلَّق بالزوائد.

أما الزيادات، فلم أقف على مَّن تعرَّض لها بتعريف يُحدِّدها، لكن من خلال النظر في عمل أصحاب الزيادات يُمكن أن أقول إنَّها:

"الأحاديث التي يرويها راوية كتاب ما على مؤلف ذلك الكتاب، إمَّا استخراجاً عليه، فيلتقي معه في شيخه أو شيخ أعلى، أو استقلالاً بإيراده حديثاً مختلفاً في سنده ومتنه".

والفرق بينها وبين المستخرجات أنَّ شرط الزيادات أن تكون من راوية ذلك الكتاب عن مصنِّفه، في حين أنَّ مؤلفي المستخرجات ليسوا من رواة الكتاب المستخرج عليه.

ثم إنَّه لا يُشترط في ذلك الراوية أن يكون تلميذ المؤلف بل قد تكون الزيادات من تلميذ أنزل منه.

وحتى يتَّضح التعريف السابق أوردُ ما وقفتُ عليه من كتب السنة والزيادات عليها:

--------------------------------------------

1 لم يقتصر الحافظ عل هذه المسانيد الثمانية، بل ضمَّ إليها ما فات شيخه الهيثمي من مسند أبي يعلى بروايته المطولة في كتابه مجمع الزوائد، حيث إنَّه اعتمد على الرواية الصغرى للكتاب، وكذلك ما وقف عليه من مسند إسحاق بن راهويه ويقدر بنصف الكتاب، إضافة إلى كتب أخرى إما على سبيل التخريج والمتابعة أو التعليق أو الاستشهاد أو غيرها من الأغراض. انظر: مقدمة التحقيق في طبعة دار العاصمة (1/85 86) .

2 طبع الكتاب ثلاث طبعات، أجودها تحقيق: مجموعة من طلبة الدراسات العليا بجامعة الإمام (رسائل ماجستير) بدرا العاصمة، عشرون جزءاً في عشر مجلدات، إلَاّ أنَّه لم يكمل وما طُبع من هذه الطبعة يُقدَّر بنصف الكتاب.
এবং মুসাদ্দাদ (মৃত্যু ২২৮?), ইবনে আবি উমর (মৃত্যু ২৪৩?), আহমদ বিন মানি' (মৃত্যু ২৪৪?), ইবনে আবি শাইবাহ (মৃত্যু ২৩৫?), আল-হারিস বিন আবি উসামাহ (মৃত্যু ২৮২?) এবং আব্দ বিন হুমাইদ (মৃত্যু ২৪৯?) ১ কুতুবুস সিত্তাহ (ছয়টি কিতাব)-এর ওপর।

এবং এর লেখক হলেন আল-হাফিজ শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২?) ২।

এটি 'জাওয়াইদ' (অতিরিক্ত হাদিস) সংক্রান্ত বিষয়।

আর 'জিয়াদাত' (সংযোজন) প্রসঙ্গে বলতে গেলে, আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এটিকে সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তবে 'জিয়াদাত' রচয়িতাদের কাজের প্রতি লক্ষ্য করে আমি বলতে পারি যে এটি হলো:

"এমন সব হাদিস যা কোনো নির্দিষ্ট কিতাবের বর্ণনাকারী সেই কিতাবের মূল লেখকের সূত্রে বর্ণনা করেন; যা হতে পারে 'ইস্তিখরাজ' পদ্ধতিতে—যেখানে তিনি লেখকের উস্তাদ বা তাঁরও উপরের কোনো উস্তাদের সাথে মিলিত হন, অথবা স্বতন্ত্রভাবে এমন কোনো হাদিস বর্ণনার মাধ্যমে যার সনদ (সূত্র) ও মতন (মূল পাঠ) ভিন্ন।"

এবং এর (জিয়াদাত) ও 'মুস্তাখরাজাত'-এর মধ্যে পার্থক্য হলো, জিয়াদাতের শর্ত হলো এটি সেই কিতাবের বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে হতে হবে যিনি মূল লেখকের নিকট থেকে বর্ণনা করেন, যেখানে মুস্তাখরাজাতের লেখকরা সেই মূল কিতাবের বর্ণনাকারী নন যার ওপর ভিত্তি করে মুস্তাখরাজটি রচিত হয়েছে।

তদুপরি, সেই বর্ণনাকারী যে লেখকের সরাসরি ছাত্র হতে হবে এমনটি শর্ত নয়; বরং জিয়াদাতসমূহ তাঁর নিচের স্তরের কোনো ছাত্রের পক্ষ থেকেও হতে পারে।

পূর্বোক্ত সংজ্ঞাটি স্পষ্ট করার লক্ষ্যে আমি সুন্নাহর কিতাবসমূহ এবং সেগুলোর ওপর কৃত জিয়াদাত বা সংযোজনগুলো নিয়ে যা কিছু জানতে পেরেছি তা নিচে উল্লেখ করছি:

--------------------------------------------

১. হাফিজ (ইবনে হাজার) কেবল এই আটটি মুসনাদ কিতাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তাঁর উস্তাদ হাইসামি তাঁর 'মাজমাউজ জাওয়াইদ' কিতাবে মুসনাদে আবু ইয়ালা-র দীর্ঘ বর্ণনা থেকে যা কিছু বাদ দিয়েছিলেন, তাও তিনি এতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন; কারণ তিনি (হাইসামি) কিতাবটির সংক্ষিপ্ত বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছিলেন। একইভাবে তিনি ইসহাক বিন রাহওয়াইহ-এর মুসনাদ থেকে যা কিছু পেয়েছেন তাও যুক্ত করেছেন, যার পরিমাণ প্রায় অর্ধেক কিতাব। এর পাশাপাশি অন্যান্য কিতাব থেকেও তিনি হাদিস নিয়েছেন, যা কখনো তাখরিজ, মুতাবাআত (সমর্থনমূলক বর্ণনা), টিকা প্রদান, দলিল হিসেবে পেশ করা অথবা অন্যান্য উদ্দেশ্যে। দেখুন: দারুল আসিমাহ সংস্করণের তাহকিক বা গবেষণা ভূমিকা (১/৮৫-৮৬)।

২. কিতাবটি তিনবার মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে ইমাম ইউনিভার্সিটির একদল উচ্চতর গবেষণারত শিক্ষার্থীদের (মাস্টার্স থিসিস) তাহকিক বা সম্পাদনায় দারুল আসিমাহ থেকে প্রকাশিত সংস্করণটি সবচেয়ে উন্নত। এটি দশ খণ্ডে মোট বিশটি খণ্ডাংশ (জুজ), তবে এটি এখনও পূর্ণাঙ্গ হয়নি এবং এই সংস্করণে যা মুদ্রিত হয়েছে তা মূল কিতাবের প্রায় অর্ধেক বলে ধারণা করা হয়।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৮৬)
أولاً: مسند الإمام أحمد بن حنبل (ت241?) :

وعليه زيادتان:

أ - زيادات عبد الله بن أحمد بن حنبل (ت290?) راوية الكتاب عن أبيه، على مسند أبيه1.

ب - زيادات أبي بكر أحمد بن جعفر القطيعي (368?) راوية الكتاب عن عبد الله ابن أحمد، عليه2.

ثانياً: فضائل الصحابة للإمام أحمد بن حنبل:

وعليه زيادتان:

أ - زيادات عبد الله بن أحمد، راوية الكتاب على أبيه.

ب - زيادات أبي بكر القطيعي، راوية الكتاب عن عبد الله، عليه3.

ثالثاً: كتاب الزهد للإمام أحمد بن حنبل:

وعليه زيادات ابنه عبد الله بن أحمد - راوية الكتاب - على أبيه4.

--------------------------------------------

1 ذكرها الحافظ العراقي في المغني عن حمل الأسفار في الأسفار في مواضع منها (1/145) ، والذهبي في السير (11/75) ، وابن حجر في فتح الباري في مواضع منها (1/240) ، وفي أطراف المسند (1/170) ، وفي إتحاف المهرة في مواضع منها (1/262) ، وقد أفرد هذه الزيادات بالترتيب والتخريج والتعليق د. عامر حسن صبري في كتابه: (زوائد - هكذا - عبد الله بن أحمد بن حنبل في المسند) ، وهو مطبوع.

2 انظر الكلام على زياداته في كتاب الدكتور عامر صبري المتقدّم (ص:118،119) وتعقُّبَه على مَن أنكر وجودها، غير أنَّه قال: لا يوجد للقطيعي أحاديث عن غير عبد الله سوى حديث واحد، وخالفه الدكتور زهير الناصر في مقدمة تحقيقه أطراف المسند (1/61،62) ، فذكر أنَّها أربعة أحاديث، ثم ساقها.

3 ذكر هاتين الزيادتين شيخ الإسلام ابن تيمية في منهاج السنة النبوية (7/399) ، وقال: "ثم إنَّ هذا الكتاب (فضائل الصحابة) زاد فيه ابنه عبد الله زيادات، ثم القطيعي الذي رواه عن ابنه عبد الله زاد عن شيوخه زيادات، وفيها أحاديث موضوعة باتِّفاق أهل المعرفة"، وانظر: مقدِّمة محقق الفضائل (1/41) .

4 ذكرها الحافظ ابن حجر في الفتح (9/497) فقال: "وصله عبد بن حميد وعبد الله بن أحمد في زيادات الزهد".
প্রথমত: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের (মৃত্যু ২৪১ হি.) মুসনাদ:

আর এর ওপর দুটি অতিরিক্ত অংশ (যিয়াদাত) রয়েছে:

ক - আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বলের (মৃত্যু ২৯০ হি.) যিয়াদাত; তিনি তার পিতার থেকে কিতাবটির বর্ণনাকারী, তার পিতার মুসনাদের ওপর।১

খ - আবু বকর আহমাদ বিন জাফর আল-কাতিয়ীর (মৃত্যু ৩৬৮ হি.) যিয়াদাত; তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ থেকে কিতাবটির বর্ণনাকারী, এর ওপর।২

দ্বিতীয়ত: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের ফাদাইলুস সাহাবা:

আর এর ওপর দুটি যিয়াদাত রয়েছে:

ক - আব্দুল্লাহ বিন আহমাদের যিয়াদাত, তিনি তার পিতার ওপর কিতাবটির বর্ণনাকারী।

খ - আবু বকর আল-কাতিয়ীর যিয়াদাত, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে কিতাবটির বর্ণনাকারী, এর ওপর।৩

তৃতীয়ত: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের কিতাবুয যুহদ:

আর এর ওপর তার পুত্র আব্দুল্লাহ বিন আহমাদের যিয়াদাত রয়েছে - যিনি কিতাবটির বর্ণনাকারী - তার পিতার ওপর।৪

--------------------------------------------

১ হাফেজ ইরাকি এটি 'আল-মুগনি আন হামলিল আসফার ফিল আসফার'-এর বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে (১/১৪৫), এবং আয-যাহাবি 'আস-সিয়ার' (১১/৭৫), এবং ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারি'-র বিভিন্ন স্থানে, যার মধ্যে রয়েছে (১/২৪০), এবং 'আতরাফুল মুসনাদ' (১/১৭০), এবং 'ইত্তিহাফুল মাহারা'-র বিভিন্ন স্থানে, যার মধ্যে রয়েছে (১/২৬২)। ডক্টর আমির হাসান সাবরি তার কিতাব: (যাওয়াইদ - এভাবেই - আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল ফিল মুসনাদ)-এ এই যিয়াদাতগুলোকে বিন্যাস, তাহকিক ও টীকা সহ পৃথকভাবে সংকলন করেছেন এবং এটি মুদ্রিত।

২ তার যিয়াদাত সম্পর্কে আলোচনার জন্য ডক্টর আমির সাবরির পূর্বোক্ত কিতাবটি দেখুন (পৃষ্ঠা: ১১৮, ১১৯) এবং যারা এর অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন তাদের প্রতি তার পর্যালোচনা দেখুন। তবে তিনি বলেছেন: আব্দুল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো থেকে আল-কাতিয়ীর একটি হাদিস ছাড়া আর কোনো হাদিস নেই। ডক্টর যুহাইর আন-নাসির 'আতরাফুল মুসনাদ'-এর তাহকিকের ভূমিকায় (১/৬১, ৬২) তার সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে এগুলো চারটি হাদিস, অতঃপর তিনি সেগুলো বর্ণনা করেছেন।

৩ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া 'মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ'-তে (৭/৩৯৯) এই দুটি যিয়াদাতের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "অতঃপর এই কিতাবটিতে (ফাদাইলুস সাহাবা) তার পুত্র আব্দুল্লাহ কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা যুক্ত করেছেন, এরপর আল-কাতিয়ী, যিনি এটি তার পুত্র আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনিও তার শিক্ষকদের থেকে কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা যুক্ত করেছেন, যার মধ্যে জ্ঞানবানদের ঐকমত্যে কিছু জাল হাদিসও রয়েছে।" আরও দেখুন: 'ফাদাইল'-এর মুহাক্কিকের ভূমিকা (১/৪১)।

৪ হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-ফাতহ'-এ (৯/৪৯৭) এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আবদ বিন হুমাইদ এবং আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ এটি 'যিয়াদাতুয যুহদ'-এ সংযুক্ত করেছেন।"
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৮৭)
رابعاً: كتاب الزهد للإمام عبد الله بن المبارك (ت181?) :

وعليه ثلاث زيادات:

أ - زيادات الحسين بن الحسن المروزي (ت246?) - راوية الكتاب برواية المشارقة على ابن المبارك1.

ب - زيادات يحيى بن محمد بن صاعد (ت318?) - راوية الكتاب عن الحسين المروزي - عليه2.

ج - زيادات نعيم بن حمَّاد (ت228?) - راوية الكتاب برواية المغاربة - على ابن المبارك3.

خامساً: كتاب البر والصلة للإمام عبد الله بن المبارك:

وعليه زيادات الحسين بن الحسن المروزي - راوية الكتاب - على ابن المبارك4.

سادساً: صحيح الإمام البخاري (ت256?) :

وعليه زيادات محمد بن يوسف الفربري (ت320?) راوية الكتاب عن

--------------------------------------------

1 ذكرها الحافظ العراقي في المغني عن حمل الأسفار (2/1067) ، والحافظ ابن حجر في الفتح (11/458) ، وفي المجمع المؤسس (2/36) ، وانظر الكلام عليها وعلى باقي زيادات الزهد لابن المبارك في مقدمة محقق الكتاب (ص:25) .

2 ذكرها الحافظ العراقي في المغني عن حمل الأسفار (2/961) ، والحافظ ابن حجر في المجمع المؤسس (2/36) .

3 ألحقها محقق الكتاب في آخر الكتاب بعد صفحة (564) ، وأخذت ترقيماً جديداً من (ص:1 - 131) .

4 ذكرها الحافظ ابن حجر في الفتح (13/546) ، ويرى الدكتور محمد سعيد بخاري أنَّه كتاب مستقل للحسين المروزي، وليس زيادات على كتاب ابن المبارك (انظر: مقدمة تحقيقه لكتاب البر والصلة ص:7، وما بعدها) ، ولكن نصُّ الحافظ ابن حجر في الموضع السابق يفيد أنَّه زياداته عليه حيث قال: "ورواياتهم في زيادات البر والصلة للحسين ابن الحسن المروزي".
চতুর্থত: ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের (মৃত্যু ১৮১ হিজরি?) কিতাবুয যুহদ:

এর ওপর তিনটি সংযোজন (যিয়াদাত) রয়েছে:

ক - হুসাইন ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযীর (মৃত্যু ২৪৬ হিজরি?) সংযোজনসমূহ - তিনি ইবনুল মুবারক থেকে কিতাবটির পূর্বাঞ্চলীয় বর্ণনার বর্ণনাকারী।১

খ - ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদের (মৃত্যু ৩১৮ হিজরি?) সংযোজনসমূহ - তিনি হুসাইন আল-মারওয়াযী থেকে কিতাবটির বর্ণনাকারী - তার ওপর।২

গ - নুয়াইম ইবনে হাম্মাদের (মৃত্যু ২২৮ হিজরি?) সংযোজনসমূহ - তিনি ইবনুল মুবারক থেকে কিতাবটির পশ্চিমাঞ্চলীয় বর্ণনার বর্ণনাকারী।৩

পঞ্চমত: ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ:

এর ওপর কিতাবটির বর্ণনাকারী হুসাইন ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযীর সংযোজনসমূহ রয়েছে - যা ইবনুল মুবারকের ওপর অতিরিক্ত।৪

ষষ্ঠত: ইমাম বুখারীর (মৃত্যু ২৫৬ হিজরি?) সহীহ:

এর ওপর মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরবরীর (মৃত্যু ৩২০ হিজরি?) সংযোজনসমূহ রয়েছে, যিনি কিতাবটির বর্ণনাকারী...

--------------------------------------------

১ হাফেজ ইরাকী 'আল-মুগনি আন হামলিল আসফার' (২/১০৬৭) গ্রন্থে, হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-ফাতহ' (১১/৪৫৮) এবং 'আল-মু'জামুল মুয়াসসাস' (২/৩৬) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে এবং ইবনুল মুবারকের কিতাবুয যুহদ-এর অবশিষ্ট সংযোজনসমূহ সম্পর্কে আলোচনার জন্য কিতাবটির সম্পাদকের ভূমিকা (পৃষ্ঠা: ২৫) দেখুন।

২ হাফেজ ইরাকী 'আল-মুগনি আন হামলিল আসফার' (২/৯৬১) গ্রন্থে এবং হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-মু'জামুল মুয়াসসাস' (২/৩৬) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

৩ কিতাবের সম্পাদক এটিকে কিতাবের শেষে ৫৬৪ পৃষ্ঠার পর সংযুক্ত করেছেন এবং এটি ১ থেকে ১৩১ পৃষ্ঠা পর্যন্ত নতুন পৃষ্ঠা নম্বর গ্রহণ করেছে।

৪ হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-ফাতহ' (১৩/৫৪৬) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। ড. মুহাম্মদ সাঈদ বুখারী মনে করেন যে এটি হুসাইন আল-মারওয়াযীর একটি স্বতন্ত্র কিতাব, ইবনুল মুবারকের কিতাবের ওপর কোনো সংযোজন নয় (দেখুন: কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ-এর সম্পাদনার ভূমিকার ৭ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ)। তবে পূর্বে উল্লেখিত স্থানে হাফেজ ইবনে হাজারের বক্তব্য নির্দেশ করে যে এটি কিতাবটির ওপর তার সংযোজন, যেখানে তিনি বলেছেন: "এবং হুসাইন ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযীর বিররি ওয়াস সিলাহ-এর সংযোজনসমূহের মধ্যে তাদের বর্ণনা রয়েছে।"
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৮৮)
البخاري، عليه1.

سابعاً: صحيح الإمام مسلم (ت261?) .

وعليه زيادتان:

أ - زيادات أبي إسحاق إبراهيم بن سفيان - راوية الكتاب عن مسلم - عليه، وهو موضوع البحث.

ب - زيادات أبي أحمد محمد بن عيسى الجُلودي (ت368?) - راوية الكتاب عن ابن سفيان - عليه2.

ثامناً: سنن أبي داود سليمان بن الأشعث (ت275?) .

وعليه زيادات أبي سعيد أحمد بن محمد ابن الأعرابي (ت341?) - أحد رواة الكتاب عن أبي داود - عليه3.

تاسعاً: سنن محمد بن يزيد بن ماجه (ت275?) :

وعليه زيادات أبي الحسن علي بن إبراهيم ابن القطان (ت345?) - راوية الكتاب عن ابن ماجه - عليه4.

--------------------------------------------

1 لم أقف إلَاّ على موضع واحد في الصحيح زاد فيها الفربري إسناداً على أسانيد البخاري، وذلك في الحديث (رقم:100) ، وقال فيها الحافظ ابن حجر: "هذا من زيادات الراوي عن البخاري في بعض الأسانيد، وهي قليلة". فتح الباري (1/195) .

2 تقدّم في ترجمة الجلودي أنَّها أربع زيادات، وقد ذكرتها وأوردتُ مواضعها.

3 ذكرها ابن خير الإشبيلي في فهرسته (ص:106) فقال: "وحدَّثني بالزيادات التي زادها فيه أبو سعيد بن الأعرابي من روايته عن شيوخه … "، وقال ابن حجر في التهذيب (1/287) في ترجمة إسماعيل بن محمد ابن أبي كثير: "وروى عنه أبو داود في رواية ابن الأعرابي، ولعله من زيادات ابن الأعرابي؛ فإنَّه ذكر إسماعيل هذا في معجم شيوخه".

قلت: يؤيِّده أنَّ المزيَّ والذهبي وابن حجر في التقريب لم يُترجموا له.

4 ذكرها الذهبي في ترجمة أبي الحسن في تاريخ الإسلام (وفيات331 350 /ص:331) فقال: "قد علا في سنن ابن ماجه أماكن" يقصد في زياداته.

وقد أفردها شيخنا الأستاذ الدكتور مسفر بن غرم الله الدميني - حفظه الله - ببحث مستقل بعنوان: (زيادات أبي الحسن القطان على سنن ابن ماجه) ، وقدَّم لها بدراسة موجزة عنها، فانظره.
বুখারি, তাঁর ওপর ১।

সপ্তম: ইমাম মুসলিম (মৃত্যু ২৬১ হি.?) এর সহিহ।

এবং এর ওপর দুটি সংযোজন রয়েছে:

ক - আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন সুফিয়ান - যিনি মুসলিম থেকে কিতাবটির বর্ণনাকারী - এর সংযোজনসমূহ, যা এই গবেষণার বিষয়বস্তু।

খ - আবু আহমাদ মুহাম্মাদ বিন ঈসা আল-জুলুদি (মৃত্যু ৩৬৮ হি.?) - যিনি ইবনে সুফিয়ান থেকে কিতাবটির বর্ণনাকারী - এর সংযোজনসমূহ ২।

অষ্টম: আবু দাউদ সুলাইমান বিন আল-আশআস (মৃত্যু ২৭৫ হি.?) এর সুনান।

এবং এর ওপর আবু সাঈদ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ ইবনুল আরাবি (মৃত্যু ৩৪১ হি.?) - যিনি আবু দাউদ থেকে কিতাবটির অন্যতম বর্ণনাকারী - এর সংযোজনসমূহ ৩।

নবম: মুহাম্মাদ বিন ইয়াজিদ বিন মাজাহ (মৃত্যু ২৭৫ হি.?) এর সুনান:

এবং এর ওপর আবুল হাসান আলী বিন ইবরাহিম ইবনুল কাত্তান (মৃত্যু ৩৪৫ হি.?) - যিনি ইবনে মাজাহ থেকে কিতাবটির বর্ণনাকারী - এর সংযোজনসমূহ ৪।

--------------------------------------------

১ আমি সহিহ বুখারিতে কেবল একটি স্থান ছাড়া আর কোথাও পাইনি যেখানে আল-ফারাবরি বুখারির সনদগুলোর ওপর একটি সনদ বৃদ্ধি করেছেন, আর তা হলো হাদিস নম্বর ১০০-তে। হাফেজ ইবনে হাজার এ প্রসঙ্গে বলেন: "এটি বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে বুখারির কিছু সনদে করা সংযোজনসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা সংখ্যায় খুবই কম।" ফাতহুল বারি (১/১৯৫)।

২ আল-জুলুদির জীবনী আলোচনায় পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে তা চারটি সংযোজন, এবং আমি সেগুলো উল্লেখ করেছি ও তাদের স্থানগুলো বর্ণনা করেছি।

৩ ইবনে খায়ের আল-ইশবিলি তাঁর ফিহরিস্টে (পৃষ্ঠা: ১০৬) এটি উল্লেখ করে বলেছেন: "তিনি আমাকে সেই সংযোজনসমূহ বর্ণনা করেছেন যা আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি তাঁর শায়খদের থেকে বর্ণনাসূত্রে এতে বৃদ্ধি করেছেন..." এবং ইবনে হাজার তাহজিব গ্রন্থে (১/২৮৭) ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ ইবনে আবি কাসিরের জীবনীতে বলেছেন: "আবু দাউদ ইবনুল আরাবির বর্ণনায় তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, সম্ভবত এটি ইবনুল আরাবির সংযোজনসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কেননা তিনি তাঁর শায়খদের পরিচিতিমূলক গ্রন্থ মু'জামে এই ইসমাইলকে উল্লেখ করেছেন।"

আমি বলছি: আল-মিযযি, আয-যাহাবি এবং তাকরিব গ্রন্থে ইবনে হাজার তাঁর জীবনী উল্লেখ না করা এই মতটিকে সমর্থন করে।

৪ আয-যাহাবি তারিখুল ইসলাম গ্রন্থে (৩৩১-৩৫০ হিজরির মৃত্যুসংবাদ অংশে, পৃষ্ঠা: ৩৩১) আবুল হাসানের জীবনীতে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: "তিনি সুনানে ইবনে মাজাহর কিছু স্থানে উচ্চতর সনদ লাভ করেছেন" অর্থাৎ তিনি এর দ্বারা তাঁর সংযোজনগুলো বুঝিয়েছেন।

আমাদের শায়খ প্রফেসর ড. মিসফির বিন গুরমুল্লাহ আদ-দুমাইনি - হাফিজাহুল্লাহ - 'সুনানে ইবনে মাজাহ-তে আবুল হাসান আল-কাত্তানের সংযোজনসমূহ' শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র গবেষণায় একে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন এবং এর শুরুতে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনামূলক ভূমিকা প্রদান করেছেন, অতএব তা দেখুন।
(খণ্ড: ১) ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান রিওয়ায়াতুহু ওয়া জিয়াদাতুহু ওয়া তালীকাতুহু আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৮৯)
عاشراً: القدر لعبد الله بن وهب (ت197?) :

وعليه زيادات أبي بكر محمد بن إسماعيل الورَّاق (ت378) - راوية الكتاب عن أبي بكر عبد الله بن أبي داود السجستاني، عن أبي جعفر أحمد بن سعيد المصري، عن ابن وهب1.

الحادي عشر: كتاب الطهور للإمام أبي عُبيد القاسم بن سلام (ت224?) .

وعليه زيادات أبي بكر محمد بن يحيى المروزي (ت298?) - راوية الكتاب عن أبي عبيد - عليه2.

الثاني عشر: كتاب عوالي مالك لأبي أحمد محمد بن أحمد الحاكم الكبير (ت378?) :

وعليه زيادات زاهر بن طاهر الشحامي (ت522?) - راوية الكتاب عن أبي سعد محمد بن عبد الرحمن الكنجروذي، عن الحسن بن أحمد السمرقندي، عن الحاكم - على كتاب الحاكم3.

--------------------------------------------

1 ذكرها الحافظ ابن حجر في المجمع المؤسس (1/303) ، وقد جاء على غلاف كتاب القدر سنده، وفيه: كتاب القدر للإمام عبد الله بن وهب … رواية أبي بكر محمد بن إسماعيل الوراق، عنه (أي عن أبي بكر السجستاني) ، وفيه زيادة عن شيوخه.

ولذلك ميَّزها محقق الكتاب الدكتور عبد العزيز العثيم رحمه الله بوضع حرف (ز) قبل الحديث.

انظر: مقدّمة المحقق (ص:38، 48) .

2 ذكرها الحافظ ابن حجر في المجمع المؤسس (1/384) ، وقد ميَّزها كذلك محقق كتاب الطهور مشهور حسن سلمان في مقدّمة التحقيق، ذاكراً إحصاء بها وبأرقامها. انظر: المقدمة (ص:61) .

3 ذكرها الحافظ ابن حجر في المجمع المؤسس (2/240) ، وفي المعجم المفهرس (ص:349) ، وقد ألحقها محقق مجموعة عوالي مالك، محمد الناصر بعد أن أورد عوالي الحاكم الكبير.

انظر: العوالي (1/327 270) .
দশম: আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব (মৃ. ১৯৭?) রচিত কিতাবুল কদর:

এতে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-ওয়াররাক (মৃ. ৩৭৮)-এর পরিবর্ধনসমূহ (যিয়াদাত) রয়েছে—যিনি আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে আবি দাউদ আস-সিজিস্তানি থেকে, তিনি আবু জাফর আহমদ ইবনে সাঈদ আল-মিসরি থেকে, আর তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে গ্রন্থটি বর্ণনা করেছেন।১

একাদশ: ইমাম আবু উবায়েদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম (মৃ. ২২৪?) রচিত কিতাবুত তুহুর।

এতে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মারওয়াযি (মৃ. ২৯৮?)—যিনি আবু উবায়েদ থেকে গ্রন্থটি বর্ণনা করেছেন—তাঁর পরিবর্ধনসমূহ রয়েছে।২

দ্বাদশ: আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-হাকিম আল-কবীর (মৃ. ৩৭৮?) রচিত কিতাবু আওয়ালি মালিক:

এতে আল-হাকিমের গ্রন্থের উপর যাহির ইবনে তাহির আশ-শহ্যামি (মৃ. ৫২২?)—যিনি আবু সাদ মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-কাঞ্জরূযি থেকে, তিনি হাসান ইবনে আহমদ আস-সামারকান্দি থেকে, আর তিনি আল-হাকিম থেকে গ্রন্থটি বর্ণনা করেছেন—তাঁর পরিবর্ধনসমূহ রয়েছে।৩

--------------------------------------------

১ হাফেজ ইবনে হাজার এটি ‘আল-মাজমাউল মুয়াসসিস’ (১/৩০৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। কিতাবুল কদরের প্রচ্ছদে এর সনদটি বর্ণিত হয়েছে, যাতে রয়েছে: ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব রচিত কিতাবুল কদর … আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-ওয়াররাকের বর্ণনা, তাঁর (অর্থাৎ আবু বকর আস-সিজিস্তানি) সূত্রে; এবং এতে তাঁর শায়খদের থেকে বর্ণিত পরিবর্ধন রয়েছে।

এ কারণেই গ্রন্থটির মুহাক্কিক ডক্টর আবদুল আজিজ আল-উসাইম (রাহিমাহুল্লাহ) হাদিসের পূর্বে ‘য’ অক্ষরটি বসিয়ে এগুলোকে পৃথক করেছেন।

দেখুন: মুহাক্কিকের ভূমিকা (পৃষ্ঠা: ৩৮, ৪৮)।

২ হাফেজ ইবনে হাজার এটি ‘আল-মাজমাউল মুয়াসসিস’ (১/৩৮৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে কিতাবুত তুহুর-এর মুহাক্কিক মশহুর হাসান সালমান তাহকিকের ভূমিকায় এগুলোর সংখ্যা ও নম্বরসহ পরিসংখ্যান প্রদান করে এগুলোকে পৃথক করেছেন। দেখুন: ভূমিকা (পৃষ্ঠা: ৬১)।

৩ হাফেজ ইবনে হাজার এটি ‘আল-মাজমাউল মুয়াসসিস’ (২/২৪০) এবং ‘আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস’ (পৃষ্ঠা: ৩৪৯) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ‘আওয়ালি মালিক’ সংকলনের মুহাক্কিক মুহাম্মদ আন-নাসির, হাকিম আল-কবীরের আওয়ালিগুলো উপস্থাপনের পর এগুলোকে সংযুক্ত করেছেন।

দেখুন: আল-আওয়ালি (১/৩২৭ ২৭০)।