(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مقدمات النكاح القسم: مسائل فقهية
الكتاب: مقدمات النكاح (دراسة مقارنة)
المؤلف: محمد بن عبد العزيز السديس
الناشر: الجامعة الاسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: العدد 128- السنة 37- 1425هـ
عدد الصفحات: 319
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিবাহের প্রারম্ভিক বিষয়াবলি (মুক্বাদ্দিমাতুন নিকাহ) বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: বিবাহের প্রারম্ভিক বিষয়াবলি (তুলনামূলক অধ্যয়ন)
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আস-সুদাইস
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: সংখ্যা ১২৮- বর্ষ ৩৭- ১৪২৫ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯৭)
ال
مقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيهَا الذِيْنَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِه وَلا تَمُوتنَّ إِلا وَأنْتمْ مُسْلِمُونَ} (1) .
{يَا أيُّهَا النَّاسُ اتقُوا رَبَّكمْ الَّذِي خَلَقَكمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحدَة وَخَلَقَ مِنهَا زوجَهَا وبَث مِنهمَا رِجَالاً كثِيراً وَنسَاءً واتقُوا اللهَ الَّذي تَساءَلُون بِه وَالأرحَام إِنَّ اللهَ كان علِيْكم رقِيباً} (2) .
{يَا أَيهَا الذِيْنَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلا سَدِيدا يُصْلِحْ لكمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لكمْ ذُنُوبَكُم وَمَنْ يُطِع الله وَرَسُولَهُ فقَدْ فَازَ فُوْزا عَظِيْماً} (3) . (4)
أما بعد:
فقد حث النبي صلى الله عليه وسلم على النكاح ورغب فيه، وفعله صلى الله عليه وسلم وفعله أصحابه رضوان الله عليهم اقتداء به صلى الله عليه وسلم من بعده. فكان ذلك من سنته وسنة الأنبياء من قبله عليهم الصلاة والسلام، يقول الله تعالى في محكم الترتيل:
--------------------------------------------
উ
পক্রমণিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} (১) ।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক নফস থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া এবং তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} (২) ।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} (৩) । (৪)
অতঃপর:
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিবাহের প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং এর প্রতি অনুপ্রাণিত করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে এটি সম্পাদন করেছেন এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁর অনুসরণে এটি পালন করেছেন। সুতরাং এটি ছিল তাঁর সুন্নাত এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণেরও (আলাইহিমুস সালাম) সুন্নাত। মহান আল্লাহ সুনিপুণ গ্রন্থ তিলাওয়াতে (কুরআনে) এরশাদ করেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯৮)
{وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً} (1) ، ومعنى الآية الترغيب في النكاح والحث عليه، فهو سنة المرسلين كما نصت عليه الآية، وقد جاء في السنة ما يدل على ذلك، عن أبي أيوب قَال: قَال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أربع من سنن المرسلين: الحياء والتعطر والسواك والنكاح" (2) .
والنكاح عند الفقهاء هو عقد التزويج على اختلاف فيما بينهم هل يطلق عليه حقيقة أو مجازاً. (3)
ولقد أحببت الكتابة في مقدمات النكاح أوضحت فيها أحكام الناكح مطلقاً سواء كان رجلاً أو امرأة، حيث يقال امرأة ناكح أي ذات نكاح، كما يقال حائض وطاهر وطالق أي ذات حيض وطهارة وطلاق، ولا يقال ناكح إلا إذا أرادوا بناء الاسم من الفعل فيقال: نكَحَت فهي ناكح. (4)
كما في حديث سبيعة بنت الحارث الأسلمية (5) الَّذِي جاء فيه:
فدخل عليها أبو السنابل بن بعكك (رجل من بني عبد الدار) (6) فقال لها: مالي أراك متجملة ترجين النكاح، إنك والله ما أنت بناكح
… الحديث. (7)
--------------------------------------------
{“নিশ্চয়ই আমি আপনার পূর্বেও রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের জন্য স্ত্রী ও সন্তানাদি নির্ধারণ করেছি”} (১); এই আয়াতের মর্মার্থ হলো বিবাহের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। কারণ এটি রাসূলগণের সুন্নাহ (পদ্ধতি), যেমনটি এই আয়াতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সুন্নাহতেও এমন বর্ণনা এসেছে যা এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করে; আবু আইয়ুব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “চারটি বিষয় রাসূলগণের সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত: লজ্জা, সুগন্ধি ব্যবহার, মেসওয়াক করা এবং বিবাহ।” (২)।
ফকীহগণের নিকট ‘নিকাহ’ হলো বিবাহের চুক্তি, তবে এটি প্রকৃত অর্থে নাকি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়—সে বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। (৩)
আমি বিবাহের প্রারম্ভিক বিষয়াবলি সম্পর্কে লিখতে চেয়েছি যেখানে আমি সাধারণভাবে বিবাহকারীর বিধানাবলি স্পষ্ট করেছি, চাই সে পুরুষ হোক বা নারী। এক্ষেত্রে নারীকে ‘নাকিহ’ বলা হয় অর্থাৎ বিবাহিতা; যেমনটি ঋতুবতী, পবিত্রা এবং তালাকপ্রাপ্তা অর্থে ‘হায়িয’, ‘তাহির’ এবং ‘তালিক’ শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়। আর ‘নাকিহ’ শব্দটি সাধারণত এভাবে ব্যবহার করা হয় না যতক্ষণ না তারা ক্রিয়া থেকে বিশেষ্য গঠন করতে চায়, তখন বলা হয়: ‘সে বিবাহ করেছে’ (নাকাহাত), সুতরাং সে ‘নাকিহ’ (বিবাহকারিণী)। (৪)
যেমনটি সুবাইআহ বিনতে হারিস আল-আসলামিয়ার (৫) হাদিসে এসেছে:
অতঃপর তাঁর নিকট আবু আস-সানাবিল ইবনে বাকাক (বনু আবদুদ দারের এক ব্যক্তি) (৬) প্রবেশ করলেন এবং তাঁকে বললেন: “কী ব্যাপার! আমি তোমাকে সুসজ্জিত দেখছি, সম্ভবত তুমি বিবাহের আশা করছো? আল্লাহর শপথ, তুমি এখনো বিবাহের যোগ্য নও...” হাদিস। (৭)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯৯)
ومن ذلك أيضاً قول قيلة بنت مخرمة التميمية (1) : انطلقت إلى أخت لي ناكح في بني شيبان (أي ذات نكاح) يعني متزوجة فهي ذات زوج. (2)
وفي حديث فاطمة رضي الله عنها قالت: «وهذا علي ناكح بنت أبي جهل» (3) .
قَال الحافظ: هكذا أطلقت عليه اسم الفاعل مجازاً لكونه أراد ذلك وصمم عليه، فنَزلته منْزلة من فعله. (4)
وفي الحديث عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قَال: "ثلاثة حق على الله عونهم المكاتب يريد الأداء والناكح يريد العفاف والمجاهد في سبيل الله" (5) .
* خطة البحث:
وقد قسمت الكلام في هذا الموضوع إلى المباحث التالية:
المبحث الأول: تعريف النكاح في اللغة والاصطلاح، وأدلة مشروعيته.
المبحث الثاني: الصفة الشرعية للنكاح.
المبحث الثالث: الأسس التي وضعها الشارع الحكيم لاختيار الزوج والزوجة.
المبحث الرابع: خطبة المرأة وحكم النظر إلى المخطوبة.
--------------------------------------------
এর মধ্যে কায়লা বিনতে মাখরামা আত-তামিমিয়্যাহ (১)-এর এই উক্তিটিও অন্তর্ভুক্ত: "আমি বনু শায়বান গোত্রে অবস্থানরত আমার এক বিবাহিতা বোনের কাছে গেলাম," অর্থাৎ যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ বা যার স্বামী রয়েছে। (২)
ফাতিমা (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: "আর এই আলি আবু জাহলের কন্যাকে বিবাহকারী।" (৩)
হাফিজ (الحافظ) বলেন: তিনি রূপক অর্থে তাঁর ক্ষেত্রে 'ইসমে ফায়েল' (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) ব্যবহার করেছেন। কারণ তিনি এটি করার ইচ্ছা ও সংকল্প করেছিলেন, ফলে তিনি তাকে এমন স্তরে স্থান দিয়েছেন যে কি না কাজটি সম্পাদন করেছে। (৪)
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: "তিন ব্যক্তির সাহায্য করা আল্লাহর জন্য অপরিহার্য: চুক্তিবদ্ধ দাস যে (মুক্তির জন্য নির্ধারিত অর্থ) পরিশোধ করতে চায়, বিবাহকারী যে পবিত্র থাকতে চায় এবং আল্লাহর পথে জিহাদকারী।" (৫)
* গবেষণার পরিকল্পনা:
আমি এই বিষয়ের আলোচনাকে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহে বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে বিবাহের সংজ্ঞা এবং এর শরয়ি বৈধতার প্রমাণাদি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিবাহের শরয়ি বৈশিষ্ট্য।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: স্বামী ও স্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাময় শারি' (বিধানদাতা) কর্তৃক নির্ধারিত মূলনীতিসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিবাহের প্রস্তাব এবং বাগদত্তা নারীর দিকে তাকানোর বিধান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২০০)
المبحث الخامس: الإذن في النكاح.
المبحث السادس: أركان عقد النكاح.
المبحث السابع: الولاية في النكاح.
المبحث الثامن: الكفاءة.
المبحث التاسع: الشهادة.
المبحث العاشر: وليمة العرس.
المبحث الحادي عشر: الصداق. (ونظرا لطول هذا المبحث أفرده بكتاب مستقل يطبع قريبا - إن شاء الله تعالى) .
ولقد سلكت في كتابة هذا الموضوع المنهج الآتي:
1- اقتصرت فيه على المسائل التي ذكرها الفقهاء في أبواب النكاح دون غيره من الأبواب المتعلقة به كالطلاق والخلع والعدة وما أشبه ذلك.
2- أذكر المسألة وأقوال الفقهاء فيها مع التوثيق من كتب المذاهب الأربعة المشهورة.
3- أذكر الأدلة مع بيان وجه الاستدلال منها ما أمكن.
4- بيان القول الراجح في كل مسألة بقدر المستطاع.
5- عزو الآيات وتخريج الأحاديث والآثار، وأكتفي في الغالب من الصحيحين.
6- شرح الغريب من الكلمات من كتب غريب الحديث وأمهات كتب اللغة.
7- ترجمت الأعلام الوارد ذكرهم ما عدا المشهور منهم.
8- جعلت فهارس متنوعة للآيات والأحاديث والغريب والمصادر
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বিবাহে অনুমতি।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: বিবাহ চুক্তির রোকনসমূহ (أركان)।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: বিবাহে অভিভাবকত্ব (الولاية)।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: সমতা (الكفاءة)।
নবম পরিচ্ছেদ: সাক্ষ্যদান।
দশম পরিচ্ছেদ: বিবাহোত্তর ভোজ (ওয়ালিমা)।
একাদশ পরিচ্ছেদ: মোহরানা। (এই পরিচ্ছেদটি দীর্ঘ হওয়ার কারণে আমি একে একটি স্বতন্ত্র বই হিসেবে বিন্যস্ত করেছি, যা শীঘ্রই প্রকাশিত হবে - ইনশাআল্লাহ তায়ালা)।
এই বিষয়টি রচনার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
1- এতে আমি কেবল সেই মাসয়ালাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি যা ফকিহগণ বিবাহের অধ্যায়সমূহে উল্লেখ করেছেন; বিবাহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অধ্যায় যেমন তালাক, খোলা, ইদ্দত এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো এখানে অন্তর্ভুক্ত করিনি।
2- আমি মাসয়ালাটি উল্লেখ করি এবং চার প্রসিদ্ধ মাজহাবের কিতাবসমূহ থেকে নির্ভরযোগ্য উদ্ধৃতিসহ সে বিষয়ে ফকিহগণের মতামত বর্ণনা করি।
3- আমি দলিলসমূহ উল্লেখ করি এবং সম্ভবপর ক্ষেত্রে দলিলের প্রয়োগ পদ্ধতি (وجه الاستدلال) বর্ণনা করি।
4- সাধ্যানুযায়ী প্রতিটি মাসয়ালায় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (الراجح) মতটি স্পষ্ট করি।
5- আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান এবং হাদিস ও বর্ণনাসমূহের (الآثار) উৎস নির্দেশ (تخريج) করি; এক্ষেত্রে আমি অধিকাংশ সময় কেবল সহীহাইন থেকেই উদ্ধৃতি দেওয়ার ওপর নির্ভর করেছি।
6- হাদিসের অপ্রচলিত শব্দাবলি বিষয়ক গ্রন্থ এবং মূল অভিধানসমূহ থেকে দুর্বোধ্য শব্দাবলির (الغريب) ব্যাখ্যা প্রদান।
7- গ্রন্থে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের জীবনী আলোচনা করেছি, তবে যারা প্রসিদ্ধ তাদের বিষয়টি ভিন্ন।
8- আয়াত, হাদিস, অপ্রচলিত শব্দ (الغريب) এবং উৎসগ্রন্থসমূহের জন্য বিভিন্ন নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২০১)
والموضوعات.
ولقد ارتضيت في كتابة هذا الموضوع المنهج الوسط فلم أشأ الإطالة فيه ولا الإخلال بل نهجت القصد في ذلك وحسبي أنني بذلت جهدي قدر المستطاع في إخراج هذا البحث على الصورة التي أرجو أن تكون مقبولة. فإن كانت كذلك فهذا فضل الله ومنته، وإن كانت غير ذلك فأرجو النصيحة من كل من قرأ هذا البحث واطلع عليه، فرحم الله من أهدى إليّ عيوبي، فالمسلم مرآة أخيه المسلم.
ولا يفوتني في هذا المقام أن أتوجه بالشكر والفضل لله عز وجل، فله الحمد والثناء على ما منّ به علينا من النعم التي لا تعد ولاتحصى وأجلها نعمة الإسلام والأمن والأمان والتي قل ما توجد في بلد من البلدان، وأسأله سبحانه وتعالى أن يديم على بلادنا بلاد الحرمين الشريفين أمنها واستقرارها، وأن يحفظ لنا ولاة أمورنا وعلماءنا وأن يجعلنا هداة مهتدين، وأن يرزقنا الإخلاص في القول والعمل إنه سميع قريب مجيب، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
এবং জাল (الموضوعات) হাদিসসমূহ।
এই বিষয়টি রচনার ক্ষেত্রে আমি মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছি। আমি এতে অনর্থক দীর্ঘায়ন করতে চাইনি, আবার কোনো প্রকার ত্রুটিও রাখতে চাইনি; বরং আমি এতে পরিমিতিবোধ বজায় রেখেছি। আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, এই গবেষণাটি এমন এক অবয়বে উপস্থাপনের জন্য আমি আমার সাধ্যানুযায়ী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি, যা আশা করি গ্রহণযোগ্য হবে। যদি তা যথাযথ হয়, তবে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও দান। আর যদি তা অন্য কিছু হয়, তবে যারা এই গবেষণাটি পাঠ করবেন ও এর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবেন, তাদের প্রত্যেকের নিকট আমি সদুপদেশ কামনা করছি। আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন, যিনি আমার ভুল-ত্রুটিগুলো আমাকে উপহার দিয়েছেন; কেননা একজন মুসলিম অপর মুসলিমের জন্য দর্পণ স্বরূপ।
এই পর্যায়ে আমি মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা ও অনুগ্রহ জ্ঞাপন করছি। সকল প্রশংসা ও গুণগান কেবল তাঁরই প্রাপ্য, যিনি আমাদের প্রতি অগণিত ও অগণন নেয়ামতরাজি দান করেছেন; যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো ইসলামের নেয়ামত এবং শান্তি ও নিরাপত্তা, যা বিশ্বের খুব কম দেশেই খুঁজে পাওয়া যায়। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের দেশ—হারামাইন শরিফাইনের দেশ—এর শান্তি ও স্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী করেন, আমাদের শাসকবর্গ ও উলামায়ে কেরামকে হিফাজত করেন, আমাদের সঠিক পথপ্রদর্শক ও সুপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আমাদের কথা ও কাজে ইখলাস দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী এবং প্রার্থনা কবুলকারী। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২০২)
المبحث الأول: تعريف النكاح وأدلة مشروعيتهتعريف النكاح والزواج لغة واصطلاحاً، لأن كلاً منهما يطلق ويراد به الآخر:
فالنكاح في اللغة: يطلق ويراد به الضم والجمع، مأخوذ من قولهم تناكحت الأشجار إذا انضم بعضها إلى بعض، ومن قولهم نكح المطر الأرض إذا اختلط بثراها أو اعتمد عليها. وأصل النكاح في كلام العرب هو الوطء، ولهذا سمي الزواج نكاحاً لأنه سبب للوطء المباح.
ويطلق الزواج في اللغة على الاقتران والارتباط. (1) ومنه قوله تعالى: {احْشُرُوا الَّذِينَ ظَلَمُوا وَأَزْوَاجَهُمْ وَمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ} (2) أي قرناءهم.
وقوله تعالى: {وَإِذَا النُّفُوسُ زُوِّجَتْ} (3) ، بمعنى قرنت، وقوله تعالى: {وَزَوَّجْنَاهُمْ بِحُورٍ عِينٍ} (4) بمعنى قرنّاهم.
ثم شاع استعمال هذه الكلمة على الارتباط بين الرجل والمرأة على سبيل الدوام والاستمرار بغية التناسل والاستئناس.
أما التناسل فدل عليه قوله تعالى: {وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَجَعَلَ
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: নিকাহ-এর সংজ্ঞা ও এর শরয়ি বৈধতার প্রমাণাদিনিকাহ ও বিবাহের অভিধানগত ও পারিভাষিক সংজ্ঞা; যেহেতু এ দুটির প্রত্যেকটি দ্বারা অন্যটিকে উদ্দেশ্য করা হয়:
অভিধানগত অর্থে নিকাহ: এটি মূলত একত্রীকরণ ও সংমিশ্রণ অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি আরবদের এই উক্তি থেকে গৃহীত—‘গাছগুলো একে অপরের সাথে নিকাহ করেছে’ যখন তারা একটি অন্যটির সাথে মিশে যায়, এবং তাদের এই উক্তি থেকে—‘বৃষ্টি জমিনের সাথে নিকাহ করেছে’ যখন বৃষ্টির পানি মাটির সাথে মিশে যায় বা তার ওপর স্থিতি লাভ করে। আরবদের ভাষায় নিকাহ-এর মূল অর্থ হলো সহবাস; আর এই কারণেই বিবাহকে ‘নিকাহ’ বলা হয়, কারণ এটি বৈধ সহবাসের মাধ্যম।
অভিধানগত অর্থে বিবাহ (যাওয়াজ) শব্দটির প্রয়োগ হয় মিলন ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে। (১) এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা জালেমদের, তাদের সহচরদের এবং তারা যাদের ইবাদত করত তাদের একত্র করো} (২) অর্থাৎ তাদের সাথীদের।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন আত্মাসমূহকে জোড়া লাগানো হবে} (৩), অর্থাৎ মিলিত করা হবে; এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমি তাদের ডাগরচক্ষু হুরদের সাথে জোড়া লাগিয়ে দিয়েছি} (৪) অর্থাৎ আমি তাদের মিলন ঘটিয়ে দিয়েছি।
অতঃপর এই শব্দটি বংশবৃদ্ধি ও সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে স্থায়ী ও নিরন্তর সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারিভাষিকভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করে।
আর বংশবৃদ্ধির বিষয়টি মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা প্রমাণিত: {আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টি করেছেন...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৩)
لَكُمْ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ بَنِينَ وَحَفَدَةً وَرَزَقَكُمْ مِنْ الطَّيِّبَاتِ أَفَبِالْبَاطِلِ يُؤْمِنُونَ وَبِنِعْمَةِ اللَّهِ هُمْ يَكْفُرُونَ} (1)
وأما الاستئناس فقوله تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً} (2) .
أما تعريفه اصطلاحا فإن أحسن ما قيل في تعريفه أنه: (عقد وضعه الشارع الحكيم يفيد ملك استمتاع الرجل بالمرأة، وحل استمتاع المرأة بالرجل أصالة) (3) .
وقد اشتمل التعريف على ثلاثة أمور:
الأول: ملك استمتاع الرجل بالمرأة.
ومعناه: أن الاستمتاع بهذه المرأة ملك خاص للرجل وليس لأحد غيره بعقد ولا بغيره الاستمتاع بهذه المرأة، كما لا يجوز لهذه المرأة الاستمتاع برجل غيره.
الثاني: حل استمتاع المرأة بالرجل: ومعناه أنه يجوز لهذا الرجل الاستمتاع بمرأة أخرى وليس ممنوعاً عليه ذلك ويجوز لامرأة أخرى الاستمتاع بهذا الرجل، ومعنى ذلك جواز التعدد بالنسبة للرجل، ولا يعتبر عن جانب المرأة بالملك لأن ذلك يوهم بعدم جواز التعدد وهذا مخالف للنصوص الشرعية الدالة على هذا الأمر المباح.
الثالث: أصالة: خرج به وطء الأمة المملوكة، فوطؤها لا يسمى نكاحاً،
--------------------------------------------
{তোমাদের স্ত্রীদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও পৌত্রাদি দান করেছেন এবং তোমাদেরকে পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে রিযিক দান করেছেন। তবুও কি তারা মিথ্যায় বিশ্বাস করে এবং আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করে?} (১)
আর সান্নিধ্য বা হৃদ্যতা অর্জনের প্রমাণস্বরূপ মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন} (২)।
পরিভাষাগত (اصطلاحا) সংজ্ঞার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম যা বলা হয়েছে তা হলো: (এটি প্রজ্ঞাবান শরীয়ত প্রণেতার প্রবর্তিত এমন একটি চুক্তি (عقد), যা পুরুষের জন্য নারীর মাধ্যমে এবং নারীর জন্য পুরুষের মাধ্যমে মূলত (أصالة) উপভোগের অধিকার ও বৈধতা প্রদান করে) (৩)।
এই সংজ্ঞাটি তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে:
প্রথমত: নারীর মাধ্যমে পুরুষের উপভোগের অধিকার (ملك) লাভ।
এর অর্থ হলো: এই নারীর মাধ্যমে উপভোগ করা কেবল ওই পুরুষেরই ব্যক্তিগত অধিকার; অন্য কারো জন্য চুক্তির (عقد) মাধ্যমে বা অন্য কোনো উপায়ে এই নারীর মাধ্যমে উপভোগ করা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে এই নারীর জন্যও ওই পুরুষ ব্যতীত অন্য কোনো পুরুষের মাধ্যমে সুখানুভব করা বৈধ নয়।
দ্বিতীয়ত: পুরুষের মাধ্যমে নারীর উপভোগের বৈধতা (حل): এর অর্থ হলো, এই পুরুষের জন্য অন্য নারীর মাধ্যমে উপভোগ করা বৈধ এবং এটি তার জন্য নিষিদ্ধ নয়; এবং অন্য নারীর জন্যও এই পুরুষের মাধ্যমে সুখানুভব করা বৈধ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পুরুষের ক্ষেত্রে বহুবিবাহের (تعدد) বৈধতা। নারীর পক্ষ থেকে একে 'অধিকার' (ملك) হিসেবে অভিহিত করা হয়নি, কারণ তা বহুবিবাহ অবৈধ হওয়ার ভ্রম সৃষ্টি করতে পারে, যা এই বৈধ (مباح) বিষয়টি প্রমাণকারী শরয়ী বর্ণনাগুলোর (النصوص الشرعية) পরিপন্থী।
তৃতীয়ত: মূলত (أصالة): এর মাধ্যমে ক্রীতদাসীর সাথে সহবাস (وطء) সংজ্ঞার বাইরে চলে গিয়েছে; কারণ ক্রীতদাসীর সাথে মিলনকে বিবাহ (نكاح) বলা হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৪)
وإنما يسمى ملك يمين، لأن باب النكاح بالحرائر محدود، وملك اليمين باب مفتوح غير محدد بعدد معين.
* أدلة مشروعية النكاح
ثلاثة أنواع من الأدلة دلت على مشروعية النكاح وهي:
أولاً الأدلة من الكتاب: حيث جاءت الآيات الكثيرة الدالة على مشروعيته ومنها:
قوله تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً} (1) .
وقوله تعالى: {وَأَنكِحُوا الأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمْ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ} (2) .
وقوله تعالى: {فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلاثَ وَرُبَاعَ} (3) .
ثانياً - من السنة: جاءت الأحاديث الصحيحة الصريحة على مشروعية النكاح ومنها:
1- حديث عبد الله بن مسعود قَال: قَال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يا معشر الشباب من استطاع منكم الباءة فليتزوج فإنه أغض للبصر وأحفظ للفرج فمن لم يستطع فعليه بالصوم فإنه له وجاء" (4) .
--------------------------------------------
একে ‘মালিক ইয়ামিন’ বলা হয়, কারণ স্বাধীন নারীদের বিবাহের দ্বার সীমিত, আর ‘মালিক ইয়ামিন’-এর দ্বার উন্মুক্ত যা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়।
* বিবাহের বৈধতার দলীলসমূহ
তিন ধরনের দলীল বিবাহের বৈধতা প্রমাণ করে, আর তা হলো:
প্রথমত, কুরআন থেকে দলীল: এর বৈধতার ব্যাপারে অনেক আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, তন্মধ্যে রয়েছে:
মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন} (১)।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষদের এবং তোমাদের সৎকর্মশীল দাস-দাসীদের বিবাহ দাও। তারা যদি অভাবী হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন} (২)।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব তোমরা নারীদের মধ্য থেকে তোমাদের পছন্দমত দুই, তিন বা চারজনকে বিবাহ করো} (৩)।
দ্বিতীয়ত - সুন্নাহ থেকে: বিবাহের বৈধতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে, তন্মধ্যে রয়েছে:
১- আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যার বিবাহের সামর্থ্য আছে সে যেন বিবাহ করে। কারণ তা দৃষ্টিকে অধিক অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানের অধিক সুরক্ষা প্রদান করে। আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোজা রাখে, কেননা তা তার কামস্পৃহা দমনের মাধ্যম" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৫)
والباءة فيها أربع لغات. المشهورة بالمد والهاء، والثانية الباة بلا مد، والثالثة الباء بالمد بلا هاء، والرابعة الباهة بهاءين بلا مد، وأصلها في اللغة قيل: الجماع مشتقة من المباءة وهي المنزل وقيل: أن المراد بالباءة مؤن النكاح. وأما الوجاء فبكسر الواو وبالمد، وهو رضي الخصيتين والمراد أن الصوم يقطع الشهوة كما يفعله الوجاء. (1)
2- حديث الرهط أو النفر الَّذِين جاءوا إلى بيوت أزواج النبي صلى الله عليه وسلم يسألون عن عبادته، فلما أخبروا بذلك كأنهم تقالوها، فقالوا: أين نحن من رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد غفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر؟ فقال أحدهم: أما أنا فأصلي الليل أبداً، وقال آخر: أما أنا فأصوم الدهر ولا أفطر، وقال آخر: أما أنا فأعتزل النساء فلا أتزوج أبداً، فجاء النبي صلى الله عليه وسلم فقال: "أنتم الَّذِين قلتم كذا وكذا أما والله إني لأخشاكم لله وأتقاكم له، ولكني أصلي وأرقد، وأصوم وأفطر، وأتزوج النساء فمن رغب عن سنتي فليس مني" (2) .
فهذه النصوص تفيد الأمر، والأمر يفيد طلب الفعل، والطلب يدل على مشروعية النكاح.
ثالثاً - الإجماع: أجمع العلماء على مشروعية النكاح، قَال ابن قدامة: أجمع المسلمون على أن النكاح مشروع (3) .
--------------------------------------------
'বাআহ' (الباءة) শব্দটির ব্যবহারের ক্ষেত্রে চারটি আভিধানিক রূপ রয়েছে। প্রসিদ্ধ (مشهورة) রূপটি হলো ‘মদ্দ’ (مد) এবং ‘হা’ (هاء) সহযোগে। দ্বিতীয় রূপটি হলো 'মদ্দ' (مد) ছাড়া ‘বাত’। তৃতীয়টি হলো 'মদ্দ' (مد) সহ কিন্তু ‘হা’ (هاء) ছাড়া ‘বা’। আর চতুর্থ রূপটি হলো 'মদ্দ' (مد) ছাড়া এবং দুই ‘হা’ (هاء) যোগে ‘বাহাহ’। আভিধানিক মূলগত দিক থেকে বলা হয়েছে: এটি সহবাস (جماع) অর্থবোধক, যা 'মাবায়া' (المباءة) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ আবাসস্থল। আবার কারো মতে, 'বাআহ' দ্বারা বিবাহের ব্যয়ভার বহন করাকে বোঝানো হয়েছে। আর ‘উইজা’ (الوجاء) শব্দটি ‘ওয়াও’ অক্ষরে কাসরা (জের) এবং 'মদ্দ' (مد) যোগে গঠিত; যার অর্থ অণ্ডকোষ পিষ্ট করা। এখানে উদ্দেশ্য হলো— রোজা রাখা যৌন আকাঙ্ক্ষাকে প্রশমিত করে, যেমনটি ‘উইজা’ (الوجاء) বা খাসিকরণ করে থাকে। (১)
২- সেই ক্ষুদ্র দল বা ব্যক্তিবর্গের হাদিস, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের ঘরে তাঁর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছিলেন। যখন তাঁদেরকে এ বিষয়ে অবহিত করা হলো, তখন তাঁরা যেন সেটিকে সামান্য মনে করলেন। তাঁরা বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তুলনায় আমাদের অবস্থান কোথায়? অথচ তাঁর পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। তখন তাঁদের একজন বললেন: আমি সারা রাত সর্বদা নামাজ পড়ব। অপরজন বললেন: আমি সারা বছর রোজা রাখব এবং কখনো রোজা ভাঙব না। অন্যজন বললেন: আমি নারীসঙ্গ বর্জন করব এবং কখনো বিয়ে করব না। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং বললেন: "তোমরা কি সেই সব লোক যারা এমন এমন কথা বলেছ? আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের চেয়ে আল্লাহকে বেশি ভয় করি এবং তোমাদের চেয়ে বেশি তাকওয়া অবলম্বন করি; তবুও আমি নামাজ পড়ি এবং নিদ্রা যাই, রোজা রাখি এবং রোজা ভঙ্গ করি, আর নারীদের বিয়ে করি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ (سنة) থেকে বিমুখ হবে, সে আমার আদর্শভুক্ত নয়।" (২) .
এই পাঠ্যসমূহ নির্দেশ প্রদান করে, আর নির্দেশ কোনো কাজ সম্পাদন করার দাবি রাখে। আর এই দাবি বা তলব বিবাহের বৈধতা (مشروعية) প্রমাণ করে।
তৃতীয়ত - ঐক্যমত (إجماع): বিয়ের বৈধতার (مشروعية) ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন। ইবনে কুদামা বলেছেন: মুসলিমগণ একমত হয়েছেন যে, বিবাহ একটি বিধিসম্মত (مشروع) কাজ। (৩) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৬)
* الحكمة من مشروعية النكاح
لقد اعتنى الإسلام بالنكاح وحث عليه ورغّب فيه، وذلك من أجل الآثار النافعة المترتبة عليه، وهذه الآثار النافعة منها ما يعود على الفرد ومنها ما يعود على الأسرة، ومنها ما يعود على المجتمع، ومنها ما يعود على الناس جميعاً.
من الآثار التي تعود على الفرد:
حسبك في النكاح إشباع الغريزة الفطرية التي أودعها الله في الإنسان، والتي تلح على صاحبها في إيجاد مخرج لها، وليس هناك طريق لإشباع هذه الغريزة سوى النكاح، وهذه الغريزة لو أنها كُبتت ولم يوجد لها مخرج لأدت بالإنسان إلى القلق والاضطراب، والصراع النفسي، ولهذا شرع النكاح لإشباع هذه الغريزة، وصيانة للإنسان عن ارتكاب ما حرم الله تعالى، فيجد الإنسان في النكاح الإستقرار والطمأنينة والهدوء، وهذا ما دل عليه قوله تعالى: {وَجَعَل بينَكم مودة وَرَحْمة} (1) فتسكن النفس وتطمئن العاطفة (2) .
ما يعود على الأسرة:
الأسرة تتكون من الزوجين، والعلاقة بينهما والرابطة هي الزواج والنكاح، فكلما حسنت هذه العلاقة قويت الأسرة وقامت بواجبها خير قيام وعلى أحسن حال وقد بين الله ما يحسن هذه العلاقة، وذلك بجعل القوامة في الأسرة للرجل، قَال تعالى: {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ} (3) ، فإذا كانت
كذلك استمرت الأسرة على أحسن وجه وقامت بواجبها خير قيام.
--------------------------------------------
নিকাহর বৈধতার (مشروعية) হিকমত বা প্রজ্ঞা
ইসলাম নিকাহর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে এবং এর প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছে। আর এটি এর ওপর ভিত্তি করে অর্জিত কল্যাণকর প্রভাবসমূহের কারণে। এই কল্যাণকর প্রভাবগুলোর কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে, কিছু পরিবারের ক্ষেত্রে, কিছু সমাজের ক্ষেত্রে এবং কিছু সকল মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়।
ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রতিফলিত প্রভাবসমূহ:
নিকাহর ক্ষেত্রে আপনার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, এটি সেই সহজাত প্রবৃত্তি পূরণ করে যা আল্লাহ মানুষের মধ্যে নিহিত রেখেছেন, যা তার অধিকারীকে একটি নির্গমন পথ খুঁজে পেতে তাড়না দেয়। আর নিকাহ ব্যতীত এই সহজাত প্রবৃত্তি পূরণের অন্য কোনো পথ নেই। এই প্রবৃত্তি যদি দমন করা হয় এবং এর কোনো নির্গমন পথ না থাকে, তবে তা মানুষকে উদ্বেগ, অস্থিরতা এবং মানসিক দ্বন্দ্বে নিপতিত করবে। এই কারণেই এই প্রবৃত্তি পূরণ এবং আল্লাহ তাআলা যা হারাম করেছেন তা থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য নিকাহকে বিধিবদ্ধ (مشروع) করা হয়েছে। ফলে মানুষ নিকাহর মাধ্যমে স্থিতিশীলতা, প্রশান্তি ও স্থিরতা লাভ করে। আর আল্লাহ তাআলার এই বাণী সেদিকেই ইঙ্গিত দেয়: {এবং তিনি তোমাদের মাঝে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন} (১)। এর ফলে আত্মা প্রশান্ত হয় এবং আবেগ স্থির হয় (২)।
পরিবারের ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য:
পরিবার স্বামী ও স্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত হয় এবং তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ও বন্ধন হলো বিবাহ ও নিকাহ। এই সম্পর্ক যত সুন্দর হবে, পরিবার তত শক্তিশালী হবে এবং সর্বোত্তমভাবে ও সুন্দরভাবে তার দায়িত্ব পালন করবে। আল্লাহ তাআলা এই সম্পর্ককে যা সুন্দর করে তা বর্ণনা করেছেন, আর তা হলো পরিবারের কর্তৃত্ব (قوامة) পুরুষের ওপর ন্যস্ত করার মাধ্যমে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {পুরুষেরা নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল (قوامون)} (৩)। সুতরাং যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে পরিবার সর্বোত্তমভাবে চলতে থাকে এবং সুন্দরভাবে তার দায়িত্ব পালন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৭)
ما يعود على المجتمع:
المجتمع يتكون من مجموعة من الأسر، والرابطة بين هذه الأسر هي الزواج، فالزواج يكوّن من هذه الأسر وحدة متكاملة متماسكة متعاونة، وقد بين الله ذلك بقوله: {وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا} (1) .
ما يعود على الناس جميعاً:
إن في النكاح حفظاً للنوع الإنساني أو البشري، وبه بقاء هذا النوع، فيعد النكاح هو الطريق الصحيح لتكثير النسل والإنجاب وكثرة الأولاد على الوجه المشروع، ومن ذلك أيضاً أن في النكاح حفظاً للنساء والإنفاق عليهن، فالمرأة عاجزة عن تحمل أعباء الحياة، وتحتاج إلى رعاية، فيعد الزواج بيت الأمان بالنسبة للمرأة، وبيت الاطمئنان والقرار، فلا راحة ولا استقرار لها إلا في بيت زوجها، فهي أحوج إلى الزواج من الرجل، وفيه أيضاً تحديد للمسؤولية بتبعية النكاح ورعاية الأولاد وبذل الجهد في استقرار عش الزوجية بين الزوج والزوجة ففي النكاح تحديد لمسؤولية كل من الرجل والمرأة، (2) فالرجل يسعى للإنفاق على هذا البيت وعلى تحقيق السعادة فيه، والزوجة تقوم برعاية أولادها ورعاية شئون بيتها، ففي الزواج يشعر كل من الزوجين بما يجب عليه تجاه الآخر، وقد نقل عن الإمام أحمد قوله: من دعاك إلى غير التزويج فقد دعاك إلى غير التزويج فقد دعاك إلى غير الإسلام. (3)
--------------------------------------------
সমাজের ওপর এর প্রভাব:
সমাজ কতগুলো পরিবারের সমন্বয়ে গঠিত হয়, আর এই পরিবারগুলোর মধ্যকার মূল যোগসূত্র হলো বিয়ে। বিয়ে এই পরিবারগুলোকে একটি সুসংহত, সুদৃঢ় ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক একক হিসেবে গড়ে তোলে। আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তা স্পষ্ট করেছেন: {আর আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো} (১)।
সকল মানুষের জন্য যা কল্যাণকর:
নিশ্চয়ই বিয়ের মধ্যে মানবজাতির সংরক্ষণ নিহিত এবং এর মাধ্যমেই এই প্রজাতির অস্তিত্ব বজায় থাকে। তাই বৈধ পন্থায় বংশবৃদ্ধি এবং অধিক সন্তান লাভের জন্য বিয়েই হলো সঠিক পথ। এছাড়া বিয়ের মাধ্যমে নারীদের সুরক্ষা ও তাদের ভরণপোষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। কারণ নারী একাকী জীবনের কঠিন বোঝা বহনে অক্ষম এবং তার তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। ফলে বিয়ে নারীর জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতার আবাসে পরিণত হয়। স্বামীর ঘর ব্যতীত তার জন্য কোনো স্বস্তি বা স্থিতি নেই। প্রকৃতপক্ষে পুরুষের তুলনায় নারীর বিয়ের প্রয়োজনীয়তা বেশি। এতে দাম্পত্য সম্পর্কের দায়বদ্ধতা, সন্তানদের প্রতিপালন এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার নীড়কে স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টাও সুনির্দিষ্ট হয়। ফলে বিয়ের মাধ্যমে নারী ও পুরুষ উভয়ের দায়িত্ব নির্ধারিত হয়, (২) পুরুষ এই পরিবারের ভরণপোষণ এবং তাতে সুখ নিশ্চিত করার জন্য সচেষ্ট থাকে, আর স্ত্রী তার সন্তানদের যত্ন এবং গৃহস্থালি কাজ পরিচালনা করে। বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী প্রত্যেকেই অপরের প্রতি নিজের কর্তব্য অনুভব করে। ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "যে তোমাকে বিয়ে না করার দিকে আহ্বান জানায়, সে মূলত তোমাকে ইসলাম বহির্ভূত বিষয়ের দিকে আহ্বান জানায়।" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৮)
المبحث الثاني: حكم النكاحبمعنى الصفة الشرعية: أي ما يثبت للنكاح شرعاً هل مطلوب فعله أو مطلوب تركه؟
والصفة الشرعية للنكاح تختلف باختلاف الإنسان نفسه، فهي لا بد لها من مقومات ثلاث:
الأول: القدرة على مطالب النكاح.
الثاني: الثقة في إقامة العدل بالنسبة لمعاملة المرأة.
الثالث: اعتدال الغريزة الطبيعية في الإنسان من عدمها.
فبالنظر إلى هذه المقومات نجد أن الصفة الشرعية تنقسم إلى حالات ثلاث:
الحالة الأولى:
إذا كان الرجل قادراً على مطالب النكاح، واثقاً في إقامة العدل في معاملة المرأة، ويخشى من الوقوع في الزنا.
فالنكاح واجب في هذه الحالة (1) ، لأنه لا بد للمسلم من إعفاف نفسه من الوقوع في المحرم وهناك قاعدة شرعية أصولية وهي: (ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب) (2) .
الحالة الثانية:
أن يكون الفرد قادراً على مطالب النكاح، واثقاً في إقامة العدل في
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিবাহের বিধান (حكم النكاح)শরয়ি মানদণ্ড (الصفة الشرعية) বলতে বোঝায়: অর্থাৎ শরীয়ত অনুযায়ী বিবাহের ক্ষেত্রে যা সাব্যস্ত হয়; তা কি সম্পাদন করার দাবি রাখে নাকি বর্জন করার?
বিবাহের শরয়ি মানদণ্ড (الصفة الشرعية) খোদ ব্যক্তির অবস্থার প্রেক্ষিতে ভিন্নতর হয়; এর জন্য তিনটি মৌলিক ভিত্তি থাকা আবশ্যক:
প্রথম: বিবাহের চাহিদাগুলো পূরণের সামর্থ্য।
দ্বিতীয়: স্ত্রীর সাথে আচরণের ক্ষেত্রে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় আস্থা।
তৃতীয়: মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তির ভারসাম্য থাকা অথবা না থাকা।
এই ভিত্তিগুলোর আলোকে আমরা দেখতে পাই যে, শরয়ি মানদণ্ড (الصفة الشرعية) তিনটি অবস্থায় বিভক্ত:
প্রথম অবস্থা:
যদি ব্যক্তি বিবাহের চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়, স্ত্রীর সাথে আচরণের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আস্থাশীল হয় এবং ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এমতাবস্থায় বিবাহ করা ওয়াজিব (واجب) (১), কারণ একজন মুসলিমের জন্য নিজেকে হারাম থেকে রক্ষা করা আবশ্যক। আর একটি শরয়ি উসূলি (أصولية) মূলনীতি (قاعدة) রয়েছে যে: "যা ব্যতীত কোনো ওয়াজিব (واجب) সম্পন্ন হয় না, তাও ওয়াজিব (واجب)" (২)।
দ্বিতীয় অবস্থা:
ব্যক্তি যদি বিবাহের চাহিদা পূরণে সক্ষম হয় এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আস্থাশীল হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২০৯)
معاملة المرأة، معتدل الطبيعة البشرية، لا يخشى على نفسه من الوقوع في الزنا.
فهذه الحالة محل خلاف بين الفقهاء على ثلاثة أقوال:
القول الأول: قَال الظاهرية بالوجوب، وهو رواية عند الحنابلة، وقول عند الشافعية. (1)
القول الثاني: النكاح مباح في هذه الحالة، والتخلي للعبادة أفضل، وهو مذهب الشافعية. (2)
القول الثالث: النكاح سنة مؤكدة، وهذا مذهب جمهور أهل العلم. (3)
الأدلة:
استدل أصحاب القول الأول بظواهر النصوص الدالة على الزواج، وقالوا إنَّ هذه النصوص الأمر فيها للوجوب، ومن هذه النصوص:
أ - قوله تعالى: {فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلاثَ وَرُبَاعَ} (4) .
ب - وقوله تعالى: {وَأَنكِحُوا الأيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ} (5) .
ج _ واستدلوا أيضاً بحديث عكّاف بن وداعة الهلالي الَّذِي رواه أحمد، أن النبي صلى الله عليه وسلم قَال له: "ياعكاف هل لك من زوجة؟ " قَال: لا، قَال "ولا جارية؟ " قَال ولا جارية، قَال: "وأنت موسر بخير"، قَال: وأنا موسر بخير، قَال النبي صلى الله عليه وسلم: "إنك من
--------------------------------------------
নারীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে যার মানবিক স্বভাব পরিমিত এবং নিজের ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই।
এই অবস্থাটি ফকিহগণের মাঝে তিনটি মতের ভিত্তিতে মতভেদের ক্ষেত্র:
প্রথম মত: জাহেরি মাযহাব অনুযায়ী এটি ওয়াজিব (وجوب), এটি হাম্বলিদের একটি বর্ণনা (رواية) এবং শাফেয়িদের একটি অভিমত (قول)। (১)
দ্বিতীয় মত: এই অবস্থায় বিবাহ করা মুবাহ (مباح) এবং ইবাদতের জন্য নিবিষ্ট হওয়া উত্তম; এটি শাফেয়ি মাযহাব (مذهب)। (২)
তৃতীয় মত: বিবাহ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة); এটি জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলেমের মাযহাব (مذهب)। (৩)
দলিলসমূহ:
প্রথম মতাবলম্বীগণ বিবাহের প্রতি নির্দেশকারী দলিলসমূহের (نصوص) বাহ্যিক অর্থ দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন। তারা বলেছেন যে, এই দলিলগুলোতে (نصوص) যে নির্দেশ এসেছে তা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার দাবি রাখে। এই দলিলগুলোর (نصوص) মধ্য হতে কিছু হলো:
ক - আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর নারীদের মধ্য হতে তোমাদের যাকে ভালো লাগে তাকে বিবাহ কর—দুই, তিন কিংবা চার} (৪)।
খ - এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল তাদের বিবাহের ব্যবস্থা কর} (৫)।
গ - তারা আক্কাফ ইবনে ওয়াদাআ আল-হিলালি বর্ণিত সেই হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন যা ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "হে আক্কাফ! তোমার কি কোনো স্ত্রী আছে?" তিনি বললেন: না। নবীজি বললেন: "কোনো দাসীও কি নেই?" তিনি বললেন: কোনো দাসীও নেই। নবীজি বললেন: "অথচ তুমি সচ্ছল ও সামর্থ্যবান?" তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি সচ্ছল ও সামর্থ্যবান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২১০)
أخوان الشياطين" (1) . فهذا تنفير من النبي صلى الله عليه وسلم على من ترك النكاح وهو قادر عليه.
واستدل الشافعية أولاً: بقول الله عز وجل مادحاً يحيى عليه السلام: {وَسَيِّدًا وَحَصُورًا} (2) ، وقالوا إن معنى الحصور هو: من يتجنب النساء مع القدرة على ذلك قاله الشافعي (3) ، ولو كان النكاح أفضل لما مدح الله عز وجل يحيى بتركه.
ثانياً: بقوله تعالى: {زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنْ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنْ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ} (4) الآية.
وهذه الآية جاءت في سياق الذم وهذا يدل على أن التخلي للعبادة أفضل.
قَال البغوي: فيه إشارة إلى التزهيد في الدنيا والترغيب في الآخرة. (5)
واستدل الجمهور:
بأن النبي صلى الله عليه وسلم حثّ على النكاح ورغّب فيه، وفعله عليه الصلاة والسلام، وهذا الفعل منه صلى الله عليه وسلم يدل على أنه سنة، وترغيبه وحثه يدل على أنه سنة مؤكدة.
--------------------------------------------
"শয়তানের ভাই" (১)। এটি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে সেই ব্যক্তির প্রতি অনীহা প্রকাশের নিদর্শন, যে বিবাহের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা বর্জন করে।
শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারীরা প্রথমত মহান আল্লাহর সেই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন যেখানে তিনি ইয়াহিয়া (আলাইহিস সালাম)-এর প্রশংসা করে বলেছেন: {নেতা এবং নারীবিমুখ} (২)। তাঁরা বলেন, 'হাসুর' শব্দের অর্থ হলো: যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নারীদের এড়িয়ে চলে; ইমাম শাফেয়ি একথাই বলেছেন (৩)। যদি বিবাহ করাই সর্বোত্তম হতো, তবে আল্লাহ তাআলা ইয়াহিয়া (আলাইহিস সালাম)-কে তা বর্জন করার কারণে প্রশংসা করতেন না।
দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {মানুষের জন্য নারী, সন্তান, রাশি রাশি সোনা-রুপা এবং চিহ্নিত ঘোড়ার প্রতি আসক্তিকে সুশোভিত করা হয়েছে} (৪)— আয়াতাংশ।
এই আয়াতটি নিন্দার প্রেক্ষাপটে এসেছে এবং এটি নির্দেশ করে যে, ইবাদতের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা অধিক উত্তম।
আল-বাগাউয়ি বলেন: এতে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি এবং আখিরাতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির ইঙ্গিত রয়েছে। (৫)
জমহুর (অধিকাংশ আলিম) দলিল পেশ করেছেন:
নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিবাহের প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং এর প্রতি অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, আর তিনি নিজেও এটি সম্পাদন করেছেন। তাঁর এই আমলটি সুন্নাত হওয়ার প্রমাণ বহন করে এবং তাঁর অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ প্রদান এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ হওয়ার প্রমাণ দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২১১)
وفَعَلَه الصحابة رضي الله عنهم من بعده، ولم ينقل إلينا بأنه واجب كما نقلت إلينا الواجبات الأخرى كالصلاة والصيام وما أشبه ذلك.
وقد لام النبي صلى الله عليه وسلم كما في حديث الرهط في الصحيحين من ترك النكاح فقال: "من رغب عن سنتي فليس مني" وفي الحديث عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يأمر بالباءة وينهى عن التبتل (1) . والمراد بالتبتل الانقطاع عن النكاح أو عن النساء إلى العبادة. (2)
الترجيح: الراجح والله أعلم هو مذهب جمهور أهل العلم.
وقد أجابوا عن أدلة الظاهرية: بأن الأمر فيها ليس للوجوب والدليل على ذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يلزم الصحابة الإلزام المعهود في مثل الواجبات ولو ألزمهم لبلغ إلينا ذلك.
وأما حديث عكّاف فأجابوا عنه من وجهين:
أولاً: إن هذا الحديث ضعيف، لأنه من رواية معاوية بن يحيى الصدفي وهو متكلم فيه، ضعيف الحديث ليس بقوي. (3)
ثانياً: على فرض صحة الحديث، قالوا: لعل عكّافاً توفرت فيه شروط الوجوب، فترغيبه له لا يدل على أن هذا الأمر سائغ لجميع الناس.
وأجابوا عن أدلة الشافعية:
الدليل الأول: من وجهين:
--------------------------------------------
এবং তাঁর পরে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এটি আমল করেছেন, কিন্তু আমাদের কাছে এটি আবশ্যক (واجب) হিসেবে বর্ণিত হয়নি, যেভাবে অন্যান্য আবশ্যক (واجب) বিষয়সমূহ যেমন সালাত, সিয়াম ও তদ্রূপ অন্যান্য ইবাদতসমূহ বর্ণিত হয়েছে।
সহীহাইন-এ বর্ণিত একদল লোকের হাদিসে যেমনটি এসেছে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিবাহ বর্জনকারীকে ভর্ৎসনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত থেকে বিমুখ হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।" আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিবাহের সামর্থ্য অর্জনের (الباءة) নির্দেশ দিতেন এবং সংসারবিরাগ (التبتل) বা ইবাদতের জন্য বিবাহ ত্যাগ করতে নিষেধ করতেন (১)। আর 'তাবাত্তুল' (التبتل) বলতে উদ্দেশ্য হলো ইবাদতের জন্য বিবাহ অথবা নারীসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া (২)।
প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত (الترجيح): অধিক গ্রহণযোগ্য (الراجح) মত হলো—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—অধিকাংশ আলিম বা জমহুর (جمهور) আলিমগণের মাযহাব।
তাঁরা যাহিরি মাযহাবের দলীলসমূহের জবাবে বলেছেন: এই সংক্রান্ত নির্দেশগুলো আবশ্যকতা (الوجوب) বুঝানোর জন্য নয়। এর প্রমাণ হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদের ওপর সেই চিরচেনা বাধ্যবাধকতা আরোপ করেননি যা সাধারণত আবশ্যক (واجب) বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে করা হয়। যদি তিনি তা বাধ্যতামূলক করতেন, তবে অবশ্যই তা আমাদের নিকট বর্ণিত হতো।
আর উক্কাফ-এর হাদিসটির ব্যাপারে তাঁরা দুটি দিক থেকে উত্তর দিয়েছেন:
প্রথমত: এই হাদিসটি দুর্বল (ضعيف); কারণ এটি মুয়াবিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আস-সাদাফি-র বর্ণনা, আর তিনি সমালোচিত (متكلم فيه) এবং হাদিস বর্ণনায় দুর্বল (ضعيف الحديث), শক্তিশালী (قوي) নন। (৩)
দ্বিতীয়ত: হাদিসটির বিশুদ্ধতা (صحة) ধরে নিলেও তাঁরা বলেন: সম্ভবত উক্কাফ-এর মধ্যে আবশ্যকতা (الوجوب) বা ওয়াজিব হওয়ার শর্তসমূহ বিদ্যমান ছিল। তাই তাঁকে উৎসাহিত করা একথার প্রমাণ দেয় না যে এই বিষয়টি সকল মানুষের জন্য গ্রহণযোগ্য বা সাধারণ বিধান।
তাঁরা শাফেয়ি মাযহাবের দলীলসমূহেরও উত্তর দিয়েছেন:
প্রথম দলীল: দুটি দিক থেকে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২১২)
1- إن هذا شرع من قبلنا وشرع من قبلنا شرع لنا ما لم يكن في شرعنا ما يخالف ذلك، وفي شرعنا، أمر وفعل وحث وترغيب على النكاح، قَال ابن قدامة: وأما ما ذكر عن يحيى فهو شرعه وشرعنا وارد بخلافه فهو أولى. (1)
2- يحتمل أن يكون معنى الحصور هو من يمنع نفسه عن الشهوات والمحرمات أو أنه كان لا يشتهي النساء وعلى هذا لا يصح أن تكون هذه الآية دليلاً لهم.
وأجابوا على الدليل الثاني:
تكون هذه الأشياء المذكورة في الآية في معرض الذم متى ما تهافت الناس عليها وعلى غيرها من متع الدنيا وتركوا ما يتعلق بالآخرة، وأما التوسط في حب هذه الأشياء وعدم المبالغة فيه فهو أمر محمود وهو ما فعله النبي صلى الله عليه وسلم فيتوجه الذم إلى سوء القصد فيها وبها. (2)
الحالة الثالثة:
أن يكون الإنسان معتدل الغريزية وقادراً على مطالب النكاح، ولكن لا يحسن التعامل مع المرأة بل يتيقن من الوقوع في ظلم المرأة، فهذا النكاح محرم، لأنه وسيلة إلى الظلم، والظلم حرام، ففي الحديث: "لا ضرر ولا ضرار" (3) ، وفي الحديث القدسي: "يا عبادي إني حرمت الظلم على نفسي وجعلته بينكم محرماً فلا تظالموا" (4) .
--------------------------------------------
1- এটি আমাদের পূর্ববর্তীদের শরীয়ত এবং পূর্ববর্তীদের শরীয়ত আমাদের জন্য শরীয়ত হিসেবে গণ্য হয় যতক্ষণ না আমাদের শরীয়ত তার বিরোধিতা করে। আর আমাদের শরীয়তের মধ্যে বিবাহের আদেশ দেওয়া হয়েছে, বিবাহ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এর প্রতি উৎসাহ ও প্রেরণা প্রদান করা হয়েছে। ইবনে কুদামা বলেন: ইয়াহইয়া (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ছিল তাঁর শরীয়ত, আর আমাদের শরীয়ত এর বিপরীতে অবতীর্ণ হয়েছে, তাই এটিই (আমাদের শরীয়ত) অনুসরণ করা অধিকতর উত্তম। (১)
2- সম্ভাবনা রয়েছে যে, 'হাসূর' শব্দের অর্থ হলো এমন ব্যক্তি যিনি নিজেকে কামনা-বাসনা ও হারাম বিষয়াবলি থেকে বিরত রাখেন, অথবা তাঁর নারীদের প্রতি কোনো আসক্তি ছিল না। এমতাবস্থায়, এই আয়াতটি তাঁদের জন্য দলিল হিসেবে গণ্য হওয়া সঠিক নয়।
তাঁরা দ্বিতীয় দলিলের উত্তরে বলেছেন:
আয়াতে উল্লিখিত এই বিষয়গুলো তখন নিন্দার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, যখন মানুষ এগুলোর প্রতি এবং দুনিয়ার অন্যান্য ভোগবিলাসের প্রতি হুমড়ি খেয়ে পড়ে এবং আখেরাত সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিত্যাগ করে। আর এসব জিনিসের ভালোবাসার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা এবং বাড়াবাড়ি না করা একটি প্রশংসনীয় বিষয়; আর এটিই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করেছেন। সুতরাং নিন্দা মূলত এগুলোর ক্ষেত্রে অসৎ উদ্দেশ্যের প্রতি ধাবিত হয়। (২)
তৃতীয় অবস্থা:
কোনো ব্যক্তি যদি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি সম্পন্ন এবং বিবাহের চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়, কিন্তু সে স্ত্রীর সাথে সঠিক আচরণ করতে সক্ষম না হয় বরং স্ত্রীর প্রতি জুলুম বা অবিচার করার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে, তবে এই বিবাহ হারাম। কারণ এটি জুলুমের একটি মাধ্যম, আর জুলুম হারাম। হাদিসে এসেছে: "নিজের ক্ষতি করা যাবে না এবং অন্যের ক্ষতিও করা যাবে না" (৩) , আর হাদিসে কুদসি (الحديث القدسي)-তে এসেছে: "হে আমার বান্দারা, আমি নিজের ওপর জুলুমকে হারাম করেছি এবং তোমাদের মধ্যেও একে হারাম করেছি, অতএব তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না" (৪) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৩)
وفي حديث عبد الله بن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قَال: "الظلم ظلمات يوم القيامة" (1) .
وفي رواية عن جابر: «اتقوا الظلم فإن الظلم ظلمات يوم القيامة» (2) .
--------------------------------------------
এবং আবদুল্লাহ বিন উমর (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "জুলুম কিয়ামতের দিন বহু অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে" (১) ।
এবং জাবির (রা.) হতে বর্ণিত একটি বর্ণনায় (رواية): «তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো, কেননা জুলুম কিয়ামতের দিন বহু অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে» (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৪)
المبحث الثالث: الأسس التي وضعها لاختيار الزوجين…المبحث الثالث: الأسس التي وضعها الشارع لاختيار الزوجين
لا شك أن المرأة هي أساس البيت وعماده فإذا كانت المرأة صالحة صلح البيت، وإذا كانت فاسدة فسد البيت، ولهذا يجب على الرجل أن يفكر طويلاً في اختيار الزوجة، وأن يحكم العقل لا مجرد العاطفة بل لا بد من التأني والروّية في اختيار الزوجة، ومعلوم أن أكثر المشاكل والخلافات الزوجية تعود إلى سوء اختيار الزوجة وإلى سوء اختيار الزوج فما هي الأسس التي وضعها الشارع الحكيم في هذا الأمر.
نبدأ أولاً بالأسس التي تراعى عند اختيار الزوجة هي:
أولاً: أن تكون الزوجة ذات دين، متدينة، متمسكة بدينها، وقد رسم لنا النبي صلى الله عليه وسلم وبين لنا هذا الطريق بقوله في الحديث المتفق عليه: "تنكح المرأة لأربع، لمالها ولجماها ولحسبها ولدينها فاظفر بذات الدين تربت يداك" (1) .
فهذا أمر من النبي صلى الله عليه وسلم باختيار ذات الدين وأن من ظفر بذات الدين فليتمسك بها ولا يعدل عنها، لأن المرأة الصالحة تقوم بواجبها خير قيام من تربية أولادها، والقيام بحقوق زوجها، فالمرأة راعية في بيت زوجها ومسؤولة عن رعيتها، وكما في الحديث: "الدنيا متاع وخير متاع الدنيا المرأة الصالحة" (2)
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূলনীতিসমূহ...তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জীবনসঙ্গী নির্বাচনের জন্য শরীয়ত প্রণেতা কর্তৃক নির্ধারিত মূলনীতিসমূহ
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নারীই হচ্ছে একটি ঘরের ভিত্তি ও স্তম্ভ। নারী যদি নেককার বা সৎকর্মশীলা হয় তবে ঘরটি সুগঠিত হয়, আর সে যদি অসৎ হয় তবে ঘরটি নষ্ট হয়ে যায়। এই কারণেই একজন পুরুষের উচিত স্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় চিন্তা-ভাবনা করা এবং কেবল আবেগ নয়, বরং বিবেককে প্রাধান্য দেওয়া; বরং স্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা ও দূরদর্শিতা অবলম্বন করা অপরিহার্য। এটি সর্বজনবিদিত যে, অধিকাংশ দাম্পত্য সমস্যা ও কলহের মূলে থাকে স্ত্রী কিংবা স্বামী নির্বাচনে ভুল করা। সুতরাং এ বিষয়ে প্রজ্ঞাময় শরীয়ত প্রণেতা কী কী মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন?
আমরা প্রথমে স্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পালনীয় মূলনীতিসমূহ দিয়ে শুরু করছি:
প্রথমত: স্ত্রীকে দ্বীনদার বা ধার্মিক হতে হবে, যিনি নিজের দ্বীনের ওপর অটল থাকবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য এই পথটি নির্দেশ করেছেন এবং সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিসে তাঁর বাণীর মাধ্যমে তা স্পষ্ট করেছেন: "চারটি গুণের কারণে কোনো নারীকে বিবাহ করা হয়: তার সম্পদ, তার সৌন্দর্য, তার বংশমর্যাদা এবং তার দ্বীনদারী। সুতরাং তুমি দ্বীনদার নারীকেই লাভ করার চেষ্টা করো, নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।" (১)
এটি দ্বীনদার নারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি নির্দেশ। যে ব্যক্তি দ্বীনদার নারীকে লাভ করবে, সে যেন তাকেই আঁকড়ে ধরে এবং তার থেকে বিমুখ না হয়। কারণ একজন নেককার নারী তার সন্তানদের লালন-পালন থেকে শুরু করে স্বামীর অধিকার আদায় পর্যন্ত সকল দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেন। নারী তার স্বামীর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং সে তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। যেমনটি হাদিসে এসেছে: "দুনিয়া হলো উপভোগের বস্তু, আর দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ হলো নেককার নারী।" (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৫)
ومعنى تربت يداك بمعنى التصقتا بالتراب وهي كناية عن الفقر وهو خبر بمعنى الدعاء لكن لا يراد به حقيقته (1) ، فهي من أسماء الأضداد حيث تطلق أيضاً على الغنى. وقد تأول العلماء معنى «تربت يداك» بعدة تأويلات:
1- أن هذا كناية عن شدة الفقر التي تعتري الإنسان الَّذِي لم يظفر بذات الدين والخلق.
2- استغنت يداك إذا ظفرت بذات الدين.
3- أن مثل هذا الكلام جرى مجرى المخاطبة، لا يقصد به ذماً ولا مدحاً. (2)
ومعنى الحديث على وجه العموم:
أن الناس اعتادوا اختيار الزوجة على مزية من المزايا المذكورة في الحديث، فمن الناس من يختار الزوجة لمالها وثروتها وغناها، ومنهم من يختار المرأة لعلو مكانتها وشرفها، ومنهم من يختارها لجمالها وحسنها، ومنهم من يختارها لدينها.
من اختارها لدينها فهو الحق والصواب، لأن المرأة الصالحة تعين الرجل في أموره كلها، ودينها يمنعها من الوقوع في معصية الزوج، ومن يهمل الدين فإنه يندم أشد الندم، نعم إذا اجتمع مع الدين الجمال والحسب والمال فنعم الاختيار.
ثانياً: أن تكون المرأة كريمة الأصل، ومعناه: أن تكون المرأة من أسرة معروفة بالصلاح والمروءة والشهامة والكرم ذات خلق وعقل حتى تقف المرأة بجانب زوجها وتشد من أزره فإن الإنسان في هذه الحالة تعتريه الصعوبات فإذا
--------------------------------------------
'তারিবাত ইয়াদাকা' (تربت يداك) শব্দটির অর্থ হলো তোমার দুই হাত ধুলোয় মিশে যাক। এটি দারিদ্র্যের একটি রূপক। এটি মূলত একটি বিবৃতি (خبر) যা প্রার্থনা (دعاء) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তবে এর আক্ষরিক অর্থ এখানে উদ্দেশ্য নয় (১)। এটি এমন একটি শব্দ যা বিপরীতার্থক অর্থও প্রদান করে, কারণ এটি প্রাচুর্য বা সচ্ছলতা বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। আলেমগণ 'তারিবাত ইয়াদাকা' বাক্যাংশটির বেশ কিছু ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন:
১- এটি সেই চরম দারিদ্র্যের রূপক যা এমন ব্যক্তিকে গ্রাস করে, যে দ্বীনদার ও সচ্চরিত্রবান স্ত্রী লাভে ব্যর্থ হয়েছে।
২- তোমার হাত অভাবমুক্ত হোক যদি তুমি দ্বীনদার স্ত্রী লাভে সফল হও।
৩- এ জাতীয় কথা আরবী অলঙ্কারশাস্ত্রে সাধারণ সম্বোধনের রীতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার দ্বারা নিন্দা বা প্রশংসা কোনোটিই উদ্দেশ্য থাকে না। (২)
সাধারণভাবে হাদিসের মর্মার্থ হলো:
মানুষ সাধারণত হাদিসে উল্লিখিত গুণাবলির কোনো একটির ভিত্তিতে স্ত্রী নির্বাচন করে থাকে। কেউ কেউ স্ত্রীর সম্পদ ও ধনাঢ্যতার কারণে তাকে পছন্দ করে, কেউ উচ্চ বংশমর্যাদা ও আভিজাত্যের কারণে, কেউ রূপ-সৌন্দর্যের জন্য, আবার কেউবা কেবল তার দ্বীনদারির কারণে তাকে নির্বাচন করে।
যে ব্যক্তি দ্বীনদারির ভিত্তিতে স্ত্রী নির্বাচন করল, সে-ই সঠিক ও যথার্থ কাজ করল। কারণ একজন পুণ্যবতী নারী তার স্বামীকে সব ধরনের কাজে সহায়তা করে এবং তার দ্বীনদারি তাকে স্বামীর অবাধ্যতা থেকে বিরত রাখে। আর যে ব্যক্তি দ্বীনকে উপেক্ষা করে, সে চরমভাবে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়। হ্যাঁ, যদি দ্বীনদারির পাশাপাশি রূপ, আভিজাত্য ও সম্পদ থাকে, তবে সেটিই সর্বোত্তম নির্বাচন।
দ্বিতীয়ত: নারী যেন সম্ভ্রান্ত বংশীয় হয়। এর অর্থ হলো: নারী যেন এমন এক পরিবারের হয় যারা সততা, নৈতিকতা, সাহসিকতা ও উদারতার জন্য সুপরিচিত এবং সে যেন সচ্চরিত্র ও প্রজ্ঞার অধিকারী হয়। যাতে করে সে তার স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে তাকে শক্তিশালী করতে পারে। কেননা জীবন চলাকালীন মানুষ নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়, এমতাবস্থায় যদি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৬)
كان كذلك يجد من وقفت بجانبه، وحسبك مثالاً خديجة بنت خويلد لما وقفت مع النبي صلى الله عليه وسلم لما جاءها خائفاً زملوني زملوني، فقالت:
خديجة «كلا أبشر فوالله لا يخزيك الله أبداً» (1) فوقفت بجانب النبي صلى الله عليه وسلم وآزرته، ويتجنب الحمقاء لأن النكاح يراد للعشرة ولا تصلح العشرة مع الحمقاء ولا يطيب العيش معها، وربما تعدى ذلك إلى ولدها وقد قيل اجتنبوا الحمقاء فإن ولدها ضياع وصحبتها بلاء. (2)
ثالثاً: أن تكون المرأة ولوداً وهذا يعرف بأقاربها، من أخواتها وعماتها وخالتها وبنات جنسها، وذلك لأن هذه المرأة تنجب الأولاد وتربيهم تربية صحيحة، فيكثر النسل، وبه يتحقق مباهاة النبي صلى الله عليه وسلم بأُمته يوم القيامة وذلك بقوله: "تزوجوا الودود الولود فإني مكاثر بكم الأمم يوم القيامة" (3) ، فيستحب أن تكون من نساء يعرفن بكثرة الولادة.
رابعاً: أن تكون المرأة بكراً والبكر هي التي لا تعرف الرجال ولا يعرفونها بخلاف الثيب، فالزواج بالأبكار أدعى إلى الاستقرار ودوام الحياة الزوجية، وقد جاء في حديث جابر أن النبي صلى الله عليه وسلم قَال له: "أتزوجت يا جابر"؟ قَال: نعم، قَال: "أثيباً أم بكرا"ً، قَال: بل ثيباً، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "فهلا جارية تلاعبها وتلاعبك" متفق عليه. (4)
--------------------------------------------
তেমনিভাবে কেউ এমন কাউকে খুঁজে পায় যে তার পাশে দাঁড়ায়। তোমার জন্য উদাহরণ হিসেবে খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ-ই যথেষ্ট, যখন তিনি নবী (সা.)-এর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন যখন তিনি ভীত হয়ে তাঁর কাছে এসেছিলেন এবং বলছিলেন "আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো, আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো"। তখন তিনি বললেন:
খাদিজা: "কখনোই নয়, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন; আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না।" (১) সুতরাং তিনি নবী (সা.)-এর পাশে দাঁড়ালেন এবং তাঁকে সাহায্য করলেন। এবং নির্বোধ মহিলা পরিহার করা উচিত, কারণ বিবাহ হলো সাহচর্যের জন্য, আর নির্বোধের সাথে সাহচর্য সঠিক হয় না এবং তার সাথে জীবন সুখকর হয় না। সম্ভবত এটি তার সন্তানের মধ্যেও সংক্রমিত হয়, আর বলা হয়ে থাকে: নির্বোধ স্ত্রী থেকে দূরে থাকো, কারণ তার সন্তান নষ্ট হয় এবং তার সাহচর্য এক বালা-মুসিবত। (২)
তৃতীয়ত: নারী যেন অধিক সন্তানপ্রসবকারিণী হয়। এটি তার নিকটাত্মীয় যেমন তার বোন, ফুফু, খালা এবং সমজাতীয় নারীদের দেখে জানা যায়। কারণ, এই নারী সন্তান জন্ম দেয় এবং তাদের সঠিক শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলে, ফলে বংশবৃদ্ধি ঘটে। এর মাধ্যমেই কিয়ামতের দিন নবী (সা.)-এর স্বীয় উম্মত নিয়ে গর্ব করার বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়, তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "তোমরা এমন নারীকে বিবাহ করো যে অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তানপ্রসবকারিণী, কেননা কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করব।" (৩) সুতরাং এমন নারী হওয়া পছন্দনীয় (مستحب) যারা অধিক সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য পরিচিত।
চতুর্থত: নারী যেন কুমারী (بكر) হয়। কুমারী (بكر) হলো সে, যে পুরুষদের সান্নিধ্যে আসেনি এবং পুরুষরাও তার সান্নিধ্যে আসেনি; পূর্ব-বিবাহিতা (ثيب)-এর বিষয়টি এর বিপরীত। কুমারী (بكر) মেয়েদের বিবাহ করা দাম্পত্য জীবনের স্থিতিশীলতা ও স্থায়িত্বের জন্য অধিক সহায়ক। জাবির (রা.)-এর হাদিসে এসেছে যে, নবী (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "হে জাবির, তুমি কি বিবাহ করেছ?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "পূর্ব-বিবাহিতা (ثيب) না কুমারী (بكر)?" তিনি বললেন: "বরং পূর্ব-বিবাহিতা (ثيب)।" তখন নবী (সা.) বললেন: "তুমি কেন কোনো কুমারী মেয়েকে বিবাহ করলে না, যার সাথে তুমি আমোদ-প্রমোদ করতে আর সেও তোমার সাথে আমোদ-প্রমোদ করত?" ঐকমত্যপুষ্ট (متفق عليه)। (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৭)
ويروى موقفاً ومرفوعاً عن عطاء قوله: "عليكم بالأبكار فإنهن أعذب أفواهاً، وأنتق أرحاماً، وأرضى باليسير" (1) . ومعنى الحديث قوله:
أعذب أفواهاً: هي كناية عن حسن النطق وقلة كلامها.
أنتق أرحاماً: كناية عن كثرة الولد، يقال امرأة ناتق ومنتاق: كثيرة الأولاد فهي ترمي بالأولاد رمياً والنتق الرمي. (2)
أرضى باليسير: ترضى وتقتنع بكل ما يتكلم به الرجل ويأتي به زوجها.
وقال معاذ بن جبل عليكم بالأبكار فإنهن أكثر حباً وأقل خباً. (3)
خامساً: أن تكون الزوجة بعيدة عن الرجل، أي أنها ليست من أسرة الرجل وبيئته وأقاربه، وذلك لأن لكل أسرة من الأسر خصائص ومميزات تتميز بها عن الأخرى فإذا كانت المرأة بعيدة اكتسب الأولاد خصائص الأسرتين ولا شك أن خصائص الأسرتين أقوى من خصائص أسرة واحدة، ويكون الولد أنجب ولهذا يقال اغتربوا لا تضووا، يعني انكحوا الغرائب كي لا يضعف أولادكم وقيل المعنى أنكحوا في الغرائب دون القرائب فإن ولد الغريبة أنجب
--------------------------------------------
আতা (রহ.) থেকে এটি মাওকুফ (موقوف) এবং মারফু (مرفوع) উভয়ভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: "তোমরা কুমারী নারীদের বিয়ে করো, কেননা তাদের মুখ অধিক মিষ্ট, তাদের জরায়ু অধিক সন্তানপ্রসূ এবং তারা অল্পে অধিক তুষ্ট।" (১)। হাদিসের অর্থ নিম্নরূপ:
মুখ অধিক মিষ্ট: এটি সুন্দর বাচনভঙ্গি এবং অল্প কথা বলার একটি রূপক।
অধিক সন্তানপ্রসূ জরায়ু: এটি অধিক সন্তান জন্ম দেওয়ার রূপক। বলা হয়, অধিক সন্তানবতী নারীকে 'নাতেক' ও 'মিনতাক' বলা হয়; সে যেন সন্তানদের গর্ভ থেকে নিক্ষেপ করে, আর 'নাতক' শব্দের অর্থ হলো নিক্ষেপ করা। (২)
অল্পে অধিক তুষ্ট: স্বামী যা বলে তাতে সে সন্তুষ্ট থাকে এবং স্বামী যা নিয়ে আসে তাতে সে তৃপ্ত হয়।
মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, "তোমরা কুমারী নারীদের বিয়ে করো, কারণ তারা অধিক প্রেমময়ী এবং তাদের মধ্যে ধূর্ততা কম।" (৩)
পঞ্চম: স্ত্রী যেন পুরুষের অনাত্মীয় বা দূরবর্তী কেউ হয়, অর্থাৎ সে যেন পুরুষের পরিবার, পরিবেশ বা নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে না হয়। কারণ প্রতিটি পরিবারেরই কিছু বিশেষ গুণ ও বৈশিষ্ট্য থাকে যা অন্যদের থেকে আলাদা। যদি নারী অনাত্মীয় হয়, তবে সন্তানরা উভয় পরিবারের বৈশিষ্ট্য অর্জন করে; আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দুই পরিবারের বৈশিষ্ট্য একক পরিবারের বৈশিষ্ট্যের চেয়ে শক্তিশালী হয়। এতে সন্তান অধিক মেধাবী ও সুঠাম হয়। এই কারণেই বলা হয়, "দূরবর্তী বিয়ে করো, দুর্বল বংশধর সৃষ্টি করো না।" অর্থাৎ তোমরা অনাত্মীয়দের বিয়ে করো যাতে তোমাদের সন্তানরা দুর্বল না হয়। আরও বলা হয়েছে যে, আত্মীয়ের চেয়ে অনাত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে করো, কেননা অনাত্মীয় স্ত্রীর সন্তান অধিক মেধাবী ও প্রতিভাবান হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৮)
فبنت العم أصبر والبعيدة أنجب. (1)
سادساً: أن يكون هناك ثمة تقارب بين الزوجين من حيث المستوى والمعيشة والعمر، ومن الناحية الاجتماعية والاقتصادية والثقافية، لأن التقارب أدعى إلى الاستمرار، وابتعاد المستوى يؤدي إلى التنافر والقطيعة.
* الأسس التي ينبغي مراعاتها عند اختيار الزوج:
يجب على ولي المرأة أن يختار لكريمته ووليته الرجل الكفء، أي الرجل الصالح، صاحب الدين والكرم والشهامة، إلى آخر الصفات، لأن الرجل الصالح لا يظلم المرأة في الغالب، وإنما يعاملها بالحسنى، فهو إن عاشرها عاشرها بالمعروف، وإن سرّحها سرّحها بالمعروف، على حد قول الله تعالى: {فَإمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ} (2) .
وقد جاء رجل إلى الحسن بن علي وقال له: ((إن عندي بنتاً ممن ترى أزوجها؟ قَال: زوجها من يخاف الله عز وجل، فإنه إن أحبها أكرمها، وإن أبغضها لم يظلمها)) (3) .
ويروى عن أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنها أنها قالت: ((النكاح رق، فلينظر أحدكم أين يرق عتيقته)) (4) .
وثبت في الحديث عند الترمذي وغيره قوله صلى الله عليه وسلم: "إذا جاءكم من ترضون دينه وخلقه فانكحوه إلا تفعلوا تكن فتنة في الأرض وفساد" وفي رواية: "إذا
--------------------------------------------
চাচাতো বোন (আত্মীয়) বেশি ধৈর্যশীল এবং দূরবর্তী নারী অধিক সন্তানবতী (বা শ্রেষ্ঠ সন্তান প্রসবা)। (১)
ষষ্ঠত: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মান-মর্যাদা, জীবনযাত্রা, বয়স এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে সামঞ্জস্য থাকতে হবে; কারণ সামঞ্জস্য স্থায়িত্বের অধিক সহায়ক এবং এই স্তরের ব্যবধান পারস্পরিক দূরত্ব ও বিচ্ছেদের দিকে ধাবিত করে।
* স্বামী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেসব মূলনীতির প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন:
নারীর অভিভাবকের উচিত তার সম্মানিতা ও আশ্রিতা নারীর জন্য একজন যোগ্য (كفء) পাত্র নির্বাচন করা, অর্থাৎ এমন একজন নেককার ব্যক্তি যিনি দ্বীনদার, উদার ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী এবং অন্যান্য মহৎ গুণাবলি সম্পন্ন। কারণ, নেককার পুরুষ সাধারণত নারীর ওপর জুলুম করে না, বরং তার সাথে উত্তম আচরণ করে। সে যদি তাকে স্ত্রী হিসেবে রাখে তবে উত্তমভাবে রাখবে, আর যদি বিদায় দেয় তবে মহানুভবতার সাথে বিদায় দেবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর হয় বিধি মোতাবেক রেখে দেবে, না হয় দয়া ও অনুগ্রহের সাথে মুক্ত করে দেবে।} (২)
জনৈক ব্যক্তি হাসান ইবনে আলী (রা.)-এর নিকট এসে বললেন: “আমার একটি কন্যা আছে, আপনি কার সাথে তার বিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন?” তিনি বললেন: “এমন ব্যক্তির সাথে তার বিয়ে দাও যে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে। কারণ, সে যদি তাকে ভালোবাসে তবে তাকে সম্মানিত করবে, আর যদি অপছন্দ করে তবে তার ওপর জুলুম করবে না।” (৩)
আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত (يروى) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “বিবাহ হলো এক প্রকার দাসত্ব, সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকের দেখা উচিত সে তার আদরের কন্যাকে কোথায় সমর্পণ করছে।” (৪)
তিরমিজি ও অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হাদিসে নবি কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে: “যখন তোমাদের কাছে এমন কোনো ব্যক্তি (বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে) আসে যার দ্বীনদারি ও চরিত্র তোমাদের পছন্দ হয়, তবে তোমরা তার সাথে বিয়ে দাও। যদি তোমরা তা না করো, তবে জমিনে ফিতনা ও ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।” অন্য এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: “যদি...”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২১৯)
خطب إليكم من ترضون دينه وخلقه فزوجوه" (1) .
قَال النووي: ويستحب عرض الولي موليته على أهل الفضل والصلاح (2) .
وجاء في صحيح البخاري باب عرض الإنسان ابنته أو أخته على أهل الخير وذكر حديث عمر بن الخطاب حين حين تأيمت حفصة أنه عرضها على عثمان وأبي بكر فامتنع عثمان وسكت أبو بكر ثم خطبها رسول الله صلى الله عليه وسلم فتزوجها فقال أبو بكر لعمر لأفشي سر رسول الله صلى الله عليه وسلم ولو تركها رسول الله صلى الله عليه وسلم قبلتها (3) .
--------------------------------------------
"তোমাদের নিকট যদি এমন কেউ বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে যার দ্বীনদারি ও চরিত্রের প্রতি তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তার সাথে বিয়ে সম্পন্ন করো।" (১) .
ইমাম নববী বলেন: অভিভাবকের জন্য তার অধীনস্থ নারীকে গুণী ও নেককার ব্যক্তিদের নিকট (বিয়ের জন্য) পেশ করা পছন্দনীয়। (২) .
সহিহ বুখারিতে একটি অনুচ্ছেদ রয়েছে: 'কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার কন্যা বা বোনকে নেককার লোকদের নিকট পেশ করা' এবং সেখানে উমর ইবনুল খাত্তাব-এর হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে যখন হাফসা বিধবা হয়েছিলেন; তখন তিনি তাকে উসমান ও আবু বকরের নিকট পেশ করেছিলেন, উসমান অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এবং আবু বকর নীরব ছিলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং বিয়ে করেন। এরপর আবু বকর উমরকে বলেছিলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গোপন কথা প্রকাশ করতে চাইনি; আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যদি তাকে ছেড়ে দিতেন তবে আমি অবশ্যই তাকে গ্রহণ করতাম। (৩) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২২০)
المبحث الرابع: في الخِطبة والخُطبةتعريف الخطبة لغة: خطبت على المنبر خُطبة بالضم وخطبت المرأة خِطبة بالكسر وهي مأخوذة من الخطاب وهو الكلام أو الحديث أو التلفظ، وإما أن تكون مأخوذة من الخَطُب وهو الأمر المهم أو الشأن المهم. (1)
أما اصطلاحاً: فيمكن تعريف الخِطبة بالكسر بأحد التعريفات التالية:
1- طلب يد المرأة للتزوج بها.
2- التماس النكاح ممن يعتبر منه.
3- إظهار الرغبة في النكاح وإعلام المرأة وولي أمرها بذلك. (2)
* هل ذكرت الخِطبة - بالكسر - في القرآن؟
ذكرت الخطبة في القرآن أثناء الحديث عن المرأة المعتدة من الوفاة تعريضاً لا تصريحاً ففي سورة البقرة قوله تعالى: {وَلا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ} (3) فهذه الآية خطاب لمن أراد الزواج بالمرأة المعتدة والتعريض هو الإيماء وهو خلاف التصريح وهو جائز في عدة الوفاة. (4)
* ما الحكمة من الخطبة أو لماذا شرعت الخطبة؟
الخِطبة من مقدمات النكاح وقد شرعها الله قبل عقد النكاح حتى لا يُقدم
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: খিতবাহ (বিয়ের প্রস্তাব) এবং খুতবাহ (ভাষণ) প্রসঙ্গেখুতবাহ-এর শাব্দিক সংজ্ঞা: মিম্বারের ওপর ভাষণ প্রদানকে পেশ যোগে 'খুতবাহ' বলা হয় এবং কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়াকে জের যোগে 'খিতবাহ' বলা হয়। এটি 'খিতাব' শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ কথা, আলাপ (হাদিস) বা উচ্চারণ; অথবা এটি 'খাতব' শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। (১)
আর পারিভাষিক সংজ্ঞায়: 'খিতবাহ' (জের যোগে)-কে নিম্নোক্ত সংজ্ঞাগুলোর মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা যায়:
১- বিবাহের উদ্দেশ্যে কোনো নারীর পাণিপ্রার্থনা করা।
২- যার সম্মতি ধর্তব্য, তার নিকট বিবাহের আবেদন করা।
৩- বিবাহের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা এবং সংশ্লিষ্ট নারী ও তার অভিভাবককে এ বিষয়ে অবহিত করা। (২)
* কুরআনে কি 'খিতবাহ' (জের যোগে) শব্দের উল্লেখ আছে?
মৃত স্বামীর ইদ্দত পালনকারী নারীর বিষয়ে আলোচনার সময় কুরআনে 'খিতবাহ' শব্দটি ইশারা-ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে, সরাসরি নয়। সূরা বাকারায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নারীদের কাছে তোমাদের বিবাহের প্রস্তাব ইশারা-ইঙ্গিতে পেশ করাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই} (৩) এই আয়াতটি মূলত তাদের প্রতি সম্বোধন যারা ইদ্দত পালনকারী নারীকে বিবাহ করার ইচ্ছা পোষণ করে। আর ইশারা-ইঙ্গিত হলো সংকেত প্রদান করা, যা সরাসরি বক্তব্যের বিপরীত; আর এটি মৃত স্বামীর ইদ্দত পালনের সময় বৈধ। (৪)
* খিতবাহ-এর রহস্য কী অথবা কেন খিতবাহ বিধিবদ্ধ করা হয়েছে?
খিতবাহ হলো বিবাহের অন্যতম প্রাথমিক ধাপ। আল্লাহ তাআলা বিবাহের চুক্তির পূর্বে এটি বিধিবদ্ধ করেছেন যাতে কেউ (পর্যাপ্ত চিন্তাভাবনা ছাড়া) অগ্রসর না হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২২১)
أحد الزوجين على صاحبه إلا بعد المعرفة التامة بصاحبه، فيكون الإقدام حينئذ على هدى ومعرفة وبصيرة. (1)
وقد قَال أهل العلم أن النكاح جائز بغير خطبة. (2)
* ما الَّذِي يترتب على الخطبة؟
الخطبة هي مجرد طلب أو تقدم للزواج يمكن قبوله أو رده وليست بزواج، وإنما الزواج لا يتم إلا بشروطه وأركانه، فالخِطبة إذاً لا يترتب عليها شيء، والمرأة المخطوبة امرأة أجنبية كغيرها من الأجنبيات لا يجوز الخلوة ولا السفر بها، ولا استدامة النظر إليها كما هو واقع في حال كثير من الأسر في هذا الزمان، ومعلوم خطورة الخلوة، وفي الحديث: "ألا لا يخلون رجل بامرأة إلا كان ثالثهما الشيطان" (3) وفي رواية عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قَال: "لا يخلو رجل بامرأة إلا مع ذي محرم" (4) .
* أنواع الخطبة أو أساليبها:
تنقسم الأساليب أو الأنواع إلى قسمين:
1- ما كان بلفظ صريح وهو أن يعبر الرجل عن رغبته في النكاح بلفظ صريح لا يحتمل أمراً غيره، كأن يقول إذا خاطب المرأة: أريد أن أتزوجك، وإذا كان يخاطب وليها يقول: أريد أن أتزوج من فلانة ويسميها.
--------------------------------------------
স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি অগ্রসর হওয়া উচিত নয় যতক্ষণ না তারা একে অপরের সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করে, যাতে এই পদক্ষেপ হিদায়াত, জ্ঞান এবং অন্তর্দৃষ্টির ভিত্তিতে হয়। (১)
আলেমগণ বলেছেন যে, বিয়ের প্রস্তাব (খুতবাহ) ছাড়াও বিবাহ বৈধ। (২)
* বিয়ের প্রস্তাবের ফলে কী সাব্যস্ত হয়?
বিয়ের প্রস্তাব হলো বিবাহের জন্য কেবল একটি অনুরোধ বা আবেদন যা গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে, এটি কোনো বিবাহ নয়। বিবাহ কেবল তার শর্তাবলী এবং রুকনসমূহের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। সুতরাং, বিয়ের প্রস্তাবের ফলে কোনো কিছুই সাব্যস্ত হয় না। যে নারীর বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তিনি অন্য সকল বেগানা নারীর মতোই একজন বেগানা নারী। তার সাথে নির্জনে অবস্থান করা বা সফর করা বৈধ নয়, এমনকি তার দিকে একনাগাড়ে তাকিয়ে থাকাও জায়েজ নয়, যেমনটি বর্তমানে অনেক পরিবারের ক্ষেত্রে ঘটছে। নির্জনে অবস্থানের ভয়াবহতা সর্বজনবিদিত। হাদিসে এসেছে: "সাবধান! কোনো পুরুষ যখন কোনো নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করে, তখন তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।" (৩) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান না করে, যদি না তার সাথে কোনো মাহরাম থাকে।" (৪) .
* বিয়ের প্রস্তাবের ধরন বা পদ্ধতিসমূহ:
পদ্ধতি বা ধরনগুলো দুই ভাগে বিভক্ত:
১- যা স্পষ্ট শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়; তা হলো কোনো ব্যক্তি বিবাহের প্রতি তার আগ্রহ এমন স্পষ্ট শব্দে ব্যক্ত করবে যা অন্য কোনো অর্থ বহন করে না। যেমন কোনো নারীকে সম্বোধন করে বলা: "আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।" আর যদি তার অভিভাবককে সম্বোধন করে বলে, তবে বলবে: "আমি অমুককে বিয়ে করতে চাই" এবং তার নাম উল্লেখ করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২২২)
2- ما كان بلفظ غير صريح وهو ما يعرف بالتعريض أو الإيماء أو التلميح وهو يحتمل الأمرين: الخطبة وغيرها، وقد جاء هذا في كتاب الله، في خطبة المرأة المعتدة من الوفاة: {وَلا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ} (1) ، وهذا النوع له أساليب: الأول: أن يتحدث الرجل أمام المرأة، أو أمام ولي أمرها عن صفاته هو التي ترغب النساء فيه، ويشعر من الحديث رغبته في هذه المرأة، كأن يتحدث عن خلق من الأخلاق كالكرم والسخاء يفهم منه أنه يريد هذه المرأة.
الثاني: أن يتحدث الرجل أمام المرأة أو أمام وليها أو أمام من يوصل إليها الحديث عن صفات هذه المرأة كأن يقول: أنت امرأة عاقلة، ذكية، مدبرة، راعية لأولادها. يشعر برغبته في هذه المرأة.
الثالث: أن يتحدث الرجل أمام المرأة عن الصفات من حيث العموم، يحتمل هذه المرأة ويحتمل غيرها، ولكن يشعر بأنه يريد المرأة. كأن يقول مثلاً: أنا أحب المرأة العاقلة، ما أحسن المرأة العاقلة، ما أحسن المرأة التي تقوم بواجبها خير القيام وهكذا. (2)
* شروط صحة الخطبة:
لها عدة شروط:
1- ألا تكون المرأة متزوجة، أي ذات زوج.
2- ألا تكون المرأة معتدة مطلقاً من طلاق أو وفاة.
3- ألا تكون المرأة مخطوبة الغير. أي لخاطب آخر.
--------------------------------------------
২- যা অস্পষ্ট শব্দে প্রকাশ করা হয়, যা পরোক্ষ ইঙ্গিত (التعريض) বা ইশারা (الإيماء) অথবা ইঙ্গিত (التلميح) হিসেবে পরিচিত এবং যা বিয়ের প্রস্তাব (الخطبة) ও অন্য কোনো বিষয়—উভয় সম্ভাবনা রাখে। আর এটি আল্লাহর কিতাবে শোকপালনকারিণী (المعتدة) বিধবার বিয়ের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে: {তোমরা ইশারা-ইঙ্গিতে নারীদের বিয়ের প্রস্তাব (الخطبة) দিলে তোমাদের কোনো পাপ নেই} (১)। এই প্রকারের কিছু পদ্ধতি রয়েছে: প্রথম: পুরুষ ব্যক্তি নারীটির সামনে অথবা তার অভিভাবকের সামনে নিজের এমন গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা করবে যা নারীরা পছন্দ করে এবং তার কথা থেকে ওই নারীর প্রতি তার আগ্রহ অনুভূত হয়। যেমন সে কোনো চারিত্রিক গুণাবলি যেমন দানশীলতা ও উদারতা সম্পর্কে এমনভাবে কথা বলবে, যা থেকে বোঝা যায় যে সে এই নারীকে (বিয়ের জন্য) চাচ্ছে।
দ্বিতীয়: পুরুষ ব্যক্তি ওই নারীর সামনে অথবা তার অভিভাবকের সামনে অথবা এমন কারো সামনে ওই নারীর গুণাবলি নিয়ে কথা বলবে যে তার কাছে খবর পৌঁছে দেবে। যেমন সে বলবে: আপনি একজন বুদ্ধিমতী, মেধাবী, বিচক্ষণ এবং সন্তানদের উত্তম যত্নদানকারী নারী। এর মাধ্যমে ওই নারীর প্রতি তার আগ্রহ অনুভূত হয়।
তৃতীয়: পুরুষ ব্যক্তি নারীটির সামনে সাধারণভাবে কিছু গুণের কথা বলবে, যা এই নারী বা অন্য কারো ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, কিন্তু অনুভূত হয় যে সে এই নারীকেই চাচ্ছে। যেমন সে উদাহরণস্বরূপ বলবে: আমি বুদ্ধিমতী নারী পছন্দ করি, বুদ্ধিমতী নারী কতই না উত্তম, যে নারী নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে সে কতই না শ্রেষ্ঠ ইত্যাদি। (২)
* বিয়ের প্রস্তাব (الخطبة) শুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলি:
এর বেশ কিছু শর্ত রয়েছে:
১- নারীটি বিবাহিতা হবে না অর্থাৎ স্বামী থাকা চলবে না।
২- নারীটি তালাক বা মৃত্যুর কারণে কোনোভাবেই ইদ্দত পালনকারিণী (معتدة) হবে না।
৩- নারীটি অন্য কারো বাগদত্তা (مخطوبة) হবে না। অর্থাৎ অন্য কোনো প্রস্তাবকারীর (خاطب) বাগদত্তা হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৩)
أما الشرط الأول: فيحرم خطبة ذات الزوج من غير خلاف.
وأما الشرط الثاني: فالمعتدة: هي التي فارقها زوجها بطلاق أو وفاة، وهي لا تخلو إما أن تكون:
1- معتدة من طلاق رجعي وهي ما تسمى الرجعية.
2- معتدة من الوفاة أو طلاق الثلاث وتسمى البائن التي لا تحل للزوج.
أما الأولى: فهي محل اتفاق بين العلماء أنه لا يصح خطبتها تعريضاً أو تصريحاً لأنها في حكم الزوجات. (1)
وأما الثانية: فالتصريح بخطبتها لا يصح، وأما التعريض فيجوز. (2)
ويجوز التعريض بهذه المرأة لورود النص في ذلك ومنه قوله تعالى: {وَلا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ} (3) فالآية جاءت في المعتدة من الوفاة، ولكن لا يجوز العقد عليها لقوله تعالى في الآية: {وَلا تَعْزِمُوا عُقْدَةَ النِّكَاحِ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ} (4) .
ولحديث فاطمة بنت قيس لما طلقها زوجها ثلاثاً قَال لها النبي صلى الله عليه وسلم: "فإذا حللت فآذنيني" (5) .
--------------------------------------------
প্রথম শর্ত সম্পর্কে: বিবাহিত নারীর সাথে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া সর্বসম্মতভাবে হারাম।
দ্বিতীয় শর্ত সম্পর্কে: ইদ্দতপালনকারী (المعتدة) নারী হলেন তিনি, যাঁর স্বামী তাঁকে তালাক বা মৃত্যুর মাধ্যমে পৃথক করেছেন। তিনি সাধারণত দুই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন:
১- রজয়ি তালাকের (طلاق رجعي) ইদ্দতপালনকারী নারী, যাঁকে রজয়ি (الرجعية) বলা হয়।
২- মৃত্যুজনিত ইদ্দতপালনকারী অথবা তিন তালাকের (طلاق الثلاث) ইদ্দতপালনকারী নারী, যাঁকে বাঈন (البائن) বলা হয় এবং যিনি স্বামীর জন্য আর হালাল নন।
প্রথম প্রকার সম্পর্কে: এটি ওলামায়ে কেরামের মধ্যে ঐক্যমত্যপূর্ণ যে, তাঁকে ইশারা-ইঙ্গিতে (تعريضاً) বা স্পষ্টভাবে (تصريحاً) বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া বৈধ নয়। কারণ তিনি স্ত্রীর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। (১)
দ্বিতীয় প্রকার সম্পর্কে: তাঁকে স্পষ্টভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া বৈধ নয়, তবে ইশারা-ইঙ্গিতে (التعريض) প্রস্তাব দেওয়া জায়েজ। (২)
এই নারীদের ক্ষেত্রে ইশারা-ইঙ্গিতে প্রস্তাব দেওয়া জায়েজ হওয়ার স্বপক্ষে দলিল (النص) বিদ্যমান রয়েছে। তন্মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা নারীদেরকে ইশারা-ইঙ্গিতে বিয়ের প্রস্তাব দাও তবে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই} (৩) এই আয়াতটি মৃত্যুজনিত ইদ্দতপালনকারী নারীর ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে। তবে তাঁর সাথে বিবাহের আকদ বা চুক্তি করা বৈধ নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াতেই বলেছেন: {আর নির্ধারিত সময় (ইদ্দত) পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তোমরা বিয়ের বন্ধনের সংকল্প করো না} (৪)।
এবং ফাতিমা বিনতে কায়সের হাদিসের কারণে; যখন তাঁর স্বামী তাঁকে তিন তালাক দেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন: "যখন তোমার ইদ্দত শেষ হবে তখন আমাকে জানাবে" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৪)
* لماذا صح التعريض دون التصريح؟
أما من ناحية التعريض لأنها انقطعت من الزوجية وانقطع النكاح والأسباب المؤدية إليه فهذه المرأة لا زوج لها، وانقضاء العدة بالنسبة لها أمر جلي لا شك فيه، وذلك إما بوضع الحمل أو بانقضاء أربعة أشهر وعشراً.
وإنما يحرم التصريح:
1- مراعاة لحال زوجها فهي لا تزال معتدة.
2- محافظة على شعور أسرة الزوج، فهم يتأذون بخطبة هذه المرأة ولا يرغبون من شخص آخر يتقدم لخطبتها.
3- ضعف المرأة وجهل كثير من النساء فربما ادعت المرأة انقضاء العدة (1) .
* النظر إلى المرأة المخطوبة:
لا يصح للرجل أن ينظر إلى المرأة الأجنبية منه والنظر إليها لا يخلو إما أن يكون لغير سبب فهذا ممنوع ومحرم، لقوله تعالى: {قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ} (2) فهذا نهي عن إطلاق النظر، ثم أمر الله النساء بما أمر به الرجال {وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ} (3) فدل على منع النظر بغير سبب.
وفي حديث جرير بن عبد الله سألت النبي صلى الله عليه وسلم عن نظر الفجاءة فأمرني أن أصرف بصري. (4) وفي حديث علي: "ياعلي لا تتبع النظرة النظرةَ فإن لك
--------------------------------------------
* কেন ইঙ্গিতে প্রস্তাব (تعريض) দেওয়া বৈধ (صح) এবং স্পষ্টভাবে প্রস্তাব (تصريح) দেওয়া বৈধ নয়?
ইঙ্গিতে প্রস্তাব (تعريض) দেওয়ার বিষয়টি বৈধ হওয়ার কারণ হলো, তার বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং বিবাহ ও এর আনুষঙ্গিক কারণগুলো সমাপ্ত হয়েছে। ফলে এই মহিলার কোনো স্বামী নেই। আর তার ইদ্দত অতিক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তার ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট বিষয়, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; যা হয় সন্তান প্রসবের মাধ্যমে অথবা চার মাস দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার মাধ্যমে।
আর স্পষ্টভাবে প্রস্তাব (تصريح) দেওয়া হারাম হওয়ার কারণসমূহ:
1- তার স্বামীর অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে, কারণ সে এখনও ইদ্দত পালনরতা।
2- স্বামীর পরিবারের অনুভূতির প্রতি লক্ষ্য রেখে; কারণ তারা এই মহিলার বিয়ের প্রস্তাবে ব্যথিত হয় এবং তারা চায় না যে অন্য কোনো ব্যক্তি তাকে বিয়ের প্রস্তাব প্রদান করুক।
3- নারীর দুর্বলতা এবং অনেক নারীর অজ্ঞতা; ফলে অনেক সময় নারী ইদ্দত শেষ হওয়ার (মিথ্যা) দাবি করতে পারে (১)।
* হবু কনের দিকে তাকানো:
কোনো পুরুষের জন্য এমন মহিলার দিকে তাকানো বৈধ (يصح) নয় যে তার জন্য গায়রে মাহরাম (অপরিচিত)। তার দিকে তাকানো দুই অবস্থার বাইরে নয়; হয় তা কোনো কারণ ছাড়াই হবে—যা নিষিদ্ধ ও হারাম, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে} (২)। এটি অবাধ দৃষ্টিপাতের প্রতি একটি নিষেধাজ্ঞা। অতঃপর আল্লাহ তাআলা নারীদের সেই নির্দেশ দিয়েছেন যা পুরুষদের দিয়েছেন: {আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে} (৩)। এটি কারণ ছাড়া তাকানো নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ বহন করে।
জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি নবী (সা.)-কে হঠাৎ দৃষ্টি পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি আমাকে আমার দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন। (৪) আর আলীর (রা.) হাদিসে এসেছে: "হে আলী! এক দৃষ্টির পর পুনরায় দৃষ্টি দিও না, কারণ তোমার জন্য প্রথমটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাতুন নিকাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৫)
الأولى وليست لك الآخرة" (1) .
فهذه النصوص وما شابهها دليل على تحريم النظر بدون سبب.
وأما أن يكون النظر بسبب؛ فهذا ينقسم إلى أقسام ثلاثة:
1- إذا كان للضرورة، وذلك مثل الطبيب المعالج، ينظر إلى موضع الحاجة ولا يتعداه إلى غيره لأن الضرورة تقدر بقدرها.
2- إذا كان النظر لمصلحة: وذلك مثل تحمل الشهادة، وكذلك في حال المبايعة.
3- النظر إلى المرأة المخطوبة، فإنه يجوز للرجل أن ينظر إلى المرأة المخطوبة، (2) كما في حديث جابر بن عبد الله قوله صلى الله عليه وسلم: "إذا خطب أحدكم امرأة فإن استطاع أن ينظر منها ما يدعوه إلى نكاحها فليفعل" قَال جابر: فخطبت امرأة فكنت أتخبأ لها حتى نظرت منها ما دعاني إلى نكاحها فتزوجتها. رواه أبو داود. (3)
وحديث المغيرة بن شعبة: أنه خطب امرأة، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: "انظر إليها فإنه أحرى أن يؤدم بينكما" (4) أي أدعى إلى الجمع بين قلبيكما. تكون بينكما
--------------------------------------------
"প্রথমটি (তোমার জন্য ক্ষমাযোগ্য), কিন্তু পরবর্তীটি তোমার জন্য নয়" (১)।
এই দলিলসমূহ এবং অনুরূপ বর্ণনাগুলো বিনা কারণে দৃষ্টিপাত করা নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ।
আর যদি দৃষ্টিপাত কোনো সংগত কারণে হয়, তবে তা তিন ভাগে বিভক্ত:
১- যদি জরুরি প্রয়োজনে হয়, যেমন চিকিৎসা প্রদানকারী চিকিৎসক; তিনি কেবল প্রয়োজনের স্থানেই দৃষ্টি দেবেন এবং তার বাইরে যাবেন না, কারণ জরুরি প্রয়োজনকে তার নির্দিষ্ট সীমা অনুযায়ীই বিবেচনা করা হয়।
২- যদি দৃষ্টিপাত কোনো কল্যাণের জন্য হয়: যেমন সাক্ষ্য প্রদান এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে।
৩- বাগদত্তা নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করা; কেননা কোনো পুরুষের জন্য তার বাগদত্তা নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করা বৈধ (২), যেমনটি জাবির ইবনে আবদুল্লাহর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন সে যদি তার এমন কিছু দেখতে সক্ষম হয় যা তাকে বিবাহের প্রতি আগ্রহী করে তোলে, তবে সে যেন তা করে।" জাবির (রা.) বলেন: "অতঃপর আমি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম এবং আমি তার জন্য আত্মগোপন করে থাকতাম, শেষ পর্যন্ত আমি তার এমন কিছু প্রত্যক্ষ করলাম যা আমাকে বিবাহের প্রতি আগ্রহী করে তুলল, অতঃপর আমি তাকে বিবাহ করলাম।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। (৩)
এবং মুগীরা ইবনে শু'বার হাদিস: তিনি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "তুমি তাকে দেখে নাও, কেননা এটি তোমাদের উভয়ের হৃদয়ের মধ্যে ভালোবাসা ও মিল তৈরির জন্য অধিক সহায়ক।" (৪) অর্থাৎ তোমাদের উভয়ের মধ্যে হৃদয়ের মেলবন্ধন তৈরির জন্য অধিক কার্যকর হবে।
--------------------------------------------