(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: -)
حكم تكرار الجماعة في المسجد القسم: مسائل فقهية
الكتاب: حكم تكرار الجماعة في المسجد
المؤلف: محمد طاهر حكيم
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: العدد 120 - السنة 35 - 1423هـ/2003م
عدد الصفحات: 335
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মসজিদে জামাত পুনরাবৃত্তির বিধান বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: মসজিদে জামাত পুনরাবৃত্তির বিধান
লেখক: মুহাম্মদ তাহের হাকিম
প্রকাশক: মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: সংখ্যা ১২০ - বর্ষ ৩৫ - ১৪২৩ হিজরী/২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩৫
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-য় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩০৮)
حكم تكرار الجماعة في المسجدحالات التكرار وحكمها:
أجمعوا على أن المسجد إذا لم يكن له أهل معروفون، بأن كان على شوارع الطرق، ويصلي الناس فيه فوجاً فوجاً فهذا لا يكره فيه تكرار الجماعة، بل الأفضل أن يصلي كل فريق بأذان وإقامة على حده1 لأن هذا المسجد ليس له أهل معروفون، وأداء الجماعة فيه مرة بعد أخرى لا يؤدي إلى تقليل الجماعات.
أجمعوا - كذلك - على عدم كراهة تكرار الجماعة في مسجد ليس له إمام ولا مؤذن2.
ولا يكره أيضا عند عامة الفقهاء تكرار الجماعة في مسجد صلى فيه أولا غيرُ أهله جماعة، ثم جاء الإمام الراتب بعدهم في جماعة أن له فيصلي بهم جماعة.
وذكر الحنفية أنه: "إذا كان مسجد محلة، وقد صلى فيه أولا غير أهله، بأذان وإقامة فلا يكره لأهله أن يعيدوا الأذان والإقامة، وإن صلى فيه أهله بأذان وإقامة أو بعض أهله، فإنه يكره لغير أهله وللباقين من أهله أن يعيدوا"3.
وقال المالكية - كما ذكر ابن عبد البر - 4 لو أن جماعة تقدّمتْ فصلّتْ
--------------------------------------------
মসজিদে জামাতের পুনরাবৃত্তির বিধানপুনরাবৃত্তির বিভিন্ন অবস্থা ও সেগুলোর বিধান:
ওলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যদি কোনো মসজিদের নিয়মিত কোনো মুসল্লি বা মহল্লাবাসী না থাকে—যেমন রাস্তার ধারের মসজিদগুলো, যেখানে মানুষ দলে দলে এসে সালাত আদায় করে—তবে সেখানে জামাতের পুনরাবৃত্তি করা অপছন্দনীয় নয়। বরং উত্তম হলো প্রতিটি দল নিজস্ব আজান ও ইকামতের মাধ্যমে পৃথকভাবে সালাত আদায় করা; কারণ এই মসজিদের কোনো নির্দিষ্ট মুসল্লি নেই এবং সেখানে একের পর এক জামাত অনুষ্ঠিত হওয়া মূল জামাতের মুসল্লি সংখ্যা হ্রাসের কারণ হয় না।
তারা একইভাবে একমত হয়েছেন যে, এমন মসজিদে জামাতের পুনরাবৃত্তি করা অপছন্দনীয় নয় যার কোনো স্থায়ী ইমাম বা মুয়াজ্জিন নেই।
অধিকাংশ ফকিহগণের নিকট এটিও অপছন্দনীয় নয় যখন কোনো মসজিদে প্রথমে বহিরাগতরা (যারা ওই মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি নয়) জামাতে সালাত আদায় করে নেয়, এরপর যদি নির্ধারিত স্থায়ী ইমাম তাদের পর নিজস্ব জামাত নিয়ে আসেন, তবে তিনি তাদের নিয়ে জামাতে সালাত আদায় করতে পারবেন।
হানাফি মাযহাবের ইমামগণ উল্লেখ করেছেন যে: "যদি এটি কোনো মহল্লার মসজিদ হয় এবং তাতে প্রথমে বহিরাগতরা আজান ও ইকামতের মাধ্যমে সালাত আদায় করে ফেলে, তবে ওই মহল্লার অধিবাসীদের জন্য পুনরায় আজান ও ইকামত দিয়ে জামাত করা অপছন্দনীয় নয়। কিন্তু যদি ওই মসজিদের স্থায়ী মুসল্লিরা বা তাদের একাংশ আজান ও ইকামতের সাথে সালাত আদায় করে নেয়, তবে বহিরাগতদের জন্য বা অবশিষ্ট মহল্লাবাসীদের জন্য পুনরায় জামাত করা অপছন্দনীয় হবে।"
মালিকি মাযহাবের ওলামাগণ বলেছেন—যেমনটি ইবনে আব্দুল বার উল্লেখ করেছেন—যদি কোনো জামাত আগে এসে সালাত আদায় করে ফেলে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩০৯)
جماعة، ثم جاء الإمام الراتب بعدهم في جماعة فإن له أن يصلي بهم جماعة.
وبنحو هذا قال الحنابلة1.
لأن المسجد إذا صلّى فيه غير أهله فإنه لا يؤدي إلى تقليل الجماعة، لأن أهل المسجد ينتظرون أذان المؤذن المعروف فيحضرون حينئذ، ولأن حق المسجد لم يُقض بعد، لأن قضاء حقه على أهله2.
4- إذا كان للمسجد إمام راتب ففاتت رجلاً أو رجالاً فيه الصلاة، فهل يصلون جماعة بإمامةِ غير الراتب بعد الراتب؟ فيه خلاف، وهذا تفصيله:
أقوال الفقهاء في المسألة:
القول الأول: يُصلون فرادى ولا يُصلون جماعة، قال به الحسن3 وأبو قلابة4 والقاسم بن محمد5 وإبراهيم النخعي6.
ففي مصنف عبد الرزاق7 عن الحسن قال: "يُصلون فرادى"، وعنه: "يُصلون
--------------------------------------------
এক জামাত (جماعة), এরপর যদি নির্ধারিত ইমাম (الإمام الراتب) তাদের পরে অন্য এক জামাতে (جماعة) আসেন, তবে তিনি তাদের নিয়ে জামাত (جماعة) করতে পারেন।
এবং হাম্বলিগণ১ (الحنابلة) অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
কারণ মসজিদে যদি তার স্থায়ী মুসল্লিরা ছাড়া অন্য কেউ সালাত আদায় করে, তবে তা জামাত (جماعة) কমার দিকে নিয়ে যায় না। কেননা মসজিদের স্থায়ী মুসল্লিরা পরিচিত মুয়াজ্জিনের আজানের অপেক্ষা করেন এবং তখনই উপস্থিত হন। তাছাড়া মসজিদের হক তখনও পূর্ণ হয়নি, কারণ মসজিদের হক আদায় করার দায়িত্ব তার স্থায়ী বাসিন্দাদের বা নিয়মিত মুসল্লিদের ওপরই থাকে২।
৪- যদি কোনো মসজিদে নির্ধারিত ইমাম (الإمام الراتب) থাকেন এবং কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের সালাত ছুটে যায়, তবে তারা কি নির্ধারিত ইমামের সালাত শেষ হওয়ার পর অন্য ইমামের ইমামতিতে জামাতে (جماعة) সালাত আদায় করবেন? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, যার বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
এই মাসআলায় ফকিহগণের (الفقهاء) অভিমতসমূহ:
প্রথম অভিমত: তারা একাকী (فرادى) সালাত আদায় করবেন এবং জামাতে (جماعة) সালাত আদায় করবেন না। হাসান৩, আবু কিলাবা৪, কাসেম ইবনে মুহাম্মদ৫ এবং ইবরাহিম নাখয়ি৬ এই কথা বলেছেন।
মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক-এ৭ হাসান থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "তারা একাকী (فرادى) সালাত আদায় করবে", এবং তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: "তারা সালাত আদায় করবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩১০)
وُحدانا"، وبه يأخذ الثوري1، قال عبد الرزاق2: وبه نأخذ أيضاً.
وروى ابن أبي شيبة 3 عن أبي قلابة قال: "يُصلون فرادى" وروي عن وكيع عن أفلح قال: "دخلنا مع القاسم المسجد وقد صُلي فيه، قال: فصلى القاسم وحده"4.
وفي مصنف عبد الرزاق 5 عن الحسن بن عمرو: "أن إبراهيم كره أن يؤمهم في مسجد قد صُلي فيه".
وهو قول ابن المبارك6 وسالم7 والليث بن سعد8 والأوزاعي9 وجماعة10
--------------------------------------------
"একাকী", এবং এটিই সাওরী ১ গ্রহণ করেছেন। আব্দুর রাজ্জাক ২ বলেছেন: আমরাও এটিই গ্রহণ করি।
ইবনে আবি শায়বাহ ৩ আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "তারা পৃথকভাবে (فرادى) সালাত আদায় করবেন।" এবং ওয়াকি থেকে বর্ণিত হয়েছে আফলাহ সূত্রে, তিনি বলেছেন: "আমরা আল-কাসিমের সাথে মসজিদে প্রবেশ করলাম যখন সেখানে সালাত আদায় হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেন: তখন আল-কাসিম একাকী সালাত আদায় করলেন" ৪।
এবং মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক ৫-এ আল-হাসান ইবনে আমর থেকে বর্ণিত হয়েছে: "ইবরাহিম অপছন্দ করতেন সেই মসজিদে ইমামতি করা যেটিতে ইতিমধ্যে সালাত আদায় হয়ে গিয়েছে।"
এটিই ইবনুল মুবারক ৬, সালিম ৭, লায়স ইবনে সাদ ৮, আওযাঈ ৯ এবং একদল ১০ আলিমের অভিমত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩১১)
وبه قال من الأئمة أبو حنيفة ومالك والشافعي.
ففي كتاب الأصل 1 "أرأيت قوماً فاتتهم الصلاة في جماعة فدخلوا المسجد وقد أقيم في ذلك المسجد وصُلي فيه، فأراد القوم أن يُصلوا فيه جماعة.. قال: ولكن عليهم أن يُصلوا وُحدانا" وهو ظاهر الرواية في المذهب2.
وفي الموطأ 3 "سئل مالك عن مؤذن 4 أذّن لقوم ثم انتظر هل يأتيه أحد فلم يأته أحد، فأقام الصلاة وصلّى وحده، ثم جاء الناس بعد أن فرغ، أيعيد الصلاة معهم؟ قال: لا يعيد الصلاة، ومن جاء بعد انصرافه فليصل لنفسه وحده.
ويكره عند المالكية تكرار الجماعة في مسجد له إمام راتب، وكذلك يكره إقامة الجماعة قبل الإمام الراتب، ويحرم إقامة جماعة مع جماعة الإمام الراتب، والقاعدة عندهم: أنه متى أُقيمت الصلاة مع الإمام الراتب، فلا يجوز إقامة صلاة أخرى فرضاً أو نفلاً، لا جماعة ولا فرادى، ومن صلّى جماعة مع الإمام الراتب وجب عليه الخروج من المسجد لئلا يؤدي إلى الطعن في الإمام، وإذا دخل جماعة مسجداً فوجدوا الإمام الراتب قد صلّى ندب لهم الخروج ليُصلّوا جماعة خارج المسجد، إلا المساجد الثلاثة: المسجد الحرام والمسجد النبوي والمسجد الأقصى، فيُصلّون فيها فرادى - إن دخلوها - لأن صلاة المنفرد فيها
--------------------------------------------
ইমামগণের মধ্য থেকে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক এবং ইমাম শাফিঈ এই মত পোষণ করেছেন।
কিতাবুল আসলে [১] বর্ণিত হয়েছে: "আপনার অভিমত কী সেই একদল লোক সম্পর্কে যাদের জামাত (جماعة) ছুটে গেছে, অতঃপর তারা মসজিদে প্রবেশ করল এমতাবস্থায় যে সেই মসজিদে নামাজ কায়েম করা হয়েছে এবং নামাজ আদায় হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় দলটি সেখানে জামাতবদ্ধ (جماعة) হয়ে নামাজ পড়তে চাইল। তিনি বললেন: বরং তাদের জন্য আবশ্যক হলো একাকী (وحدانا) নামাজ পড়া।" আর এটিই মাযহাবের স্পষ্ট বর্ণনা (ظاهر الرواية) [২]।
মুয়াত্তা-য় [৩] বর্ণিত হয়েছে: "ইমাম মালিককে এমন এক মুয়াজ্জিন [৪] সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যে একদল লোকের জন্য আজান দিয়েছিল, অতঃপর সে কারও আগমনের অপেক্ষায় ছিল কিন্তু কেউ আসেনি। ফলে সে ইকামত প্রদান করল এবং একাকী (وحده) নামাজ আদায় করল। সে নামাজ শেষ করার পর লোকজনের আগমন ঘটল। সে কি তাদের সাথে পুনরায় নামাজ পড়বে? তিনি বললেন: সে পুনরায় নামাজ পড়বে না। আর যে ব্যক্তি তার নামাজ শেষ করার পর আসবে, সে যেন নিজের জন্য একাকী (وحده) নামাজ পড়ে নেয়।"
মালিকী মাযহাব মতে, যে মসজিদে নির্ধারিত ইমাম (إمام راتب) রয়েছেন সেখানে জামাতের (جماعة) পুনরাবৃত্তি করা অপছন্দনীয় (يكره)। তদ্রূপ নির্ধারিত ইমামের (إمام راتب) আগে জামাত (جماعة) কায়েম করাও অপছন্দনীয় (يكره), এবং নির্ধারিত ইমামের (إمام راتب) জামাতের সাথে অন্য জামাত (جماعة) কায়েম করা নিষিদ্ধ (يحرم)। তাদের নিকট মূলনীতি হলো: যখন নির্ধারিত ইমামের (إمام راتب) সাথে নামাজ কায়েম হয়, তখন অন্য কোনো ফরজ বা নফল নামাজ আদায় করা জায়েজ নয়—চাই তা জামাতে (جماعة) হোক কিংবা একাকী (فرادى)। আর যে ব্যক্তি নির্ধারিত ইমামের (إمام راتب) সাথে জামাতে (جماعة) নামাজ আদায় করেছে, তার ওপর মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়া ওয়াজিব (واجب), যাতে ইমামের প্রতি কোনো প্রকার সমালোচনা (طعن) করার অবকাশ না থাকে। আর যখন কোনো জামাত (جماعة) মসজিদে প্রবেশ করে দেখবে যে নির্ধারিত ইমাম (إمام راتب) নামাজ শেষ করে ফেলেছেন, তখন তাদের জন্য মসজিদ থেকে বের হয়ে বাইরে জামাত (جماعة) করা মুস্তাহাব (ندب)। তবে তিনটি মসজিদ এর ব্যতিক্রম: মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী এবং মসজিদুল আকসা। এগুলোতে তারা—যদি প্রবেশ করে থাকে—একাকী (فرادى) নামাজ পড়বে, কারণ এগুলোতে একাকী নামাজ আদায়কারীর নামাজ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩১২)
أفضل من جماعة غيرها.
ولا يكره تكرار الجماعة في المساجد التي ليس لها إمام راتب - كما تقدم1 - وفي الأم 2 للإمام الشافعي: "وإن كان للمسجد إمام راتب، ففاتت رجلاً أو رجالاً فيه الصلاة، صلّوا فرادى، ولا أحب أن يصلّوا فيه جماعة
…".
ويكره عندهم إقامة الجماعة في مسجد بغير إذن من الإمام الراتب مطلقاً قبله أو بعده أو معه، ولا يكره فيما ليس له إمام راتب أو له وضاق المسجد عن الجميع، أو خيف خروج الوقت، لأنه لا يحمل التكرار على المكيدة3.
أدلة هذا القول:
ومما احتج به هؤلاء المانعون لتكرار الجماعة:
1- حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "والذي نفسي بيده، لقد هممت أن آمر بحطب فيحتطب، ثم آمر بالصلاة فيؤذن لها، ثم آمر رجلاً فيؤم الناس، ثم أُخالف إلى رجال فأحرق عليهم بيوتهم، والذي نفسي بيده لو يعلم أحدهم أنه يجد عرقاً سميناً أو مرماتين4 حسنتين لشهد العشاء" 5.
--------------------------------------------
অন্য জামাতের তুলনায় অধিক উত্তম।
যেসব মসজিদে কোনো নির্ধারিত (راتب) ইমাম নেই, সেসব মসজিদে জামাত পুনর্গঠন করা অপছন্দনীয় (مكروه) নয়—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে১—এবং ইমাম শাফিঈ রহ.-এর আল-উম্ম ২ কিতাবে রয়েছে: "যদি মসজিদের কোনো নির্ধারিত (راتب) ইমাম থাকে এবং কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের জামাত ছুটে যায়, তবে তারা একাকী সালাত আদায় করবে। তারা সেখানে জামাত করে সালাত আদায় করুক—এটি আমি পছন্দ করি না
…"।
তাদের মতে, নির্ধারিত (راتب) ইমামের অনুমতি ব্যতীত মসজিদে জামাত কায়েম করা সাধারণভাবে অপছন্দনীয় (مكروه), তা তাঁর (ইমামের) আগে হোক, পরে হোক বা সাথে হোক। তবে যেখানে কোনো নির্ধারিত (راتب) ইমাম নেই অথবা ইমাম থাকা সত্ত্বেও মসজিদ সবার জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ে কিংবা ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেখানে জামাত পুনরায় করা অপছন্দনীয় (مكروه) নয়; কারণ সে ক্ষেত্রে পুনর্গঠনকে কোনো ষড়যন্ত্র ৩ হিসেবে গণ্য করা হয় না।
এই মতের দলিলসমূহ:
জামাত পুনর্গঠন করতে নিষেধকারীগণ যেসব দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন, তন্মধ্যে রয়েছে:
১- আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, আমি সংকল্প করেছিলাম যে, আমি কাঠ সংগ্রহের নির্দেশ দেব এবং তা সংগ্রহ করা হবে, এরপর সালাতের নির্দেশ দেব এবং তার জন্য আজান দেওয়া হবে। তারপর এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দেব যেন সে লোকেদের ইমামতি করে, আর আমি সেই সব লোকদের কাছে যাব (যারা জামাতে আসেনি) এবং তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেব। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, যদি তাদের কেউ জানত যে সে এক টুকরো চর্বিযুক্ত মাংস অথবা দুটি উত্তম খুর ৪ পাবে, তবে সে অবশ্যই ইশার সালাতে উপস্থিত হতো।" ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩১৩)
قال العثماني في إعلاء السنن1: "دلّ الحديث بعبارته أن الجماعة الأولى هي التي ندب الشارع إلى إتيانها كما يفيده قوله صلى الله عليه وسلم: "هممت أن آمر رجلاً يصلّي بالناس ثم أخالف إلى رجال يتخلفون عنها" فلو كانت الجماعة الثانية مشروعة لم يهم بإحراق من تخلف عن الأولى لاحتمال إدراك الثانية، إذا ثبت هذا فنقول: إن وجوب الإتيان إلى الجماعة الأولى يستلزم كراهة الثانية في المسجد الواحد حتماً، فإنهم لا يجتمعون إذا علموا أنهم لا تفوتهم الجماعة الثانية.
2 - وحديث أبي بكرة رضي الله عنه قال: أقبل النبي صلى الله عليه وسلم من نواحي المدينة يريد الصلاة فوجد الناس قد صلّوا فمال إلى منزله فجمع أهله فصلى بهم 2.
قالوا: فلو كانت جائزة بغير كراهة لما ترك فضيلة الصلاة في مسجده.
3 - وعن الحسن قال: إن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم كانوا إذا فاتتهم الجماعة صلّوا في المسجد فرادى3.
4 - ولأن التكرار يؤدي إلى تقليل الجماعة، لأن الناس إذا علموا أنهم تفوتهم الجماعة فيستعجلون فتكثر الجماعة، وإذا علموا أنها لا تفوتهم، يتأخرون فتقل الجماعة، وتقليل الجماعة مكروه4.
القول الثاني: وذهب آخرون إلى أنه لا يُكره تكرار الجماعة بإمامة غير الراتب بعد انتهاء الإمام الراتب، روي ذلك عن أنس وابن مسعود (وعطاء5
--------------------------------------------
ওসমানী ইলাউস সুনানে ১ বলেন: "হাদিসের ভাষ্য নির্দেশ করে যে, প্রথম জামাতই সেই জামাত যা পালনের জন্য শরিয়ত প্রণেতা উৎসাহিত করেছেন, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী থেকে বোঝা যায়: 'আমি সংকল্প করেছি যে, কাউকে মানুষের ইমামতি করার আদেশ দেব, তারপর আমি এমন কিছু লোকের কাছে যাব যারা জামাত থেকে অনুপস্থিত থাকে (যাতে তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেই)।' সুতরাং যদি দ্বিতীয় জামাত বিধিবদ্ধ (مشروعة) হতো, তবে প্রথম জামাতে অনুপস্থিত ব্যক্তিদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা তিনি করতেন না, কারণ দ্বিতীয় জামাত পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যেত। যদি এটি প্রমাণিত হয়, তবে আমরা বলব: একই মসজিদে প্রথম জামাতে উপস্থিত হওয়ার আবশ্যকতা নিশ্চিতভাবেই দ্বিতীয় জামাতকে অপছন্দনীয় (كراهة) করে তোলে। কারণ তারা সমবেত হবে না যদি তারা জানতে পারে যে দ্বিতীয় জামাত তাদের হাতছাড়া হবে না।
২ - আবু বাকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার পার্শ্ববর্তী কোনো এক অঞ্চল থেকে নামাজের উদ্দেশ্যে আসলেন এবং দেখলেন যে মানুষ নামাজ পড়ে নিয়েছে। তখন তিনি নিজের ঘরের দিকে ফিরে গেলেন এবং পরিবারের সদস্যদের একত্রিত করে তাদের নিয়ে নামাজ পড়লেন ২।
তারা বলেন: যদি এটি অপছন্দনীয় (كراهة) না হয়ে বৈধ হতো, তবে তিনি তাঁর মসজিদে নামাজের ফজিলত বর্জন করতেন না।
৩ - হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের যখন জামাত ছুটে যেত, তখন তাঁরা মসজিদে একাকী (فرادى) নামাজ পড়তেন ৩।
৪ - এবং কারণ হলো, জামাত পুনর্বার আদায় করা জামাতের লোকসংখ্যা হ্রাসের দিকে নিয়ে যায়। কেননা মানুষ যখন জানতে পারে যে জামাত ছুটে যাবে, তখন তারা দ্রুত চলে আসে এবং এতে জামাতের লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আর যখন তারা জানে যে জামাত ছুটে যাবে না, তখন তারা বিলম্ব করে এবং জামাতের লোকসংখ্যা কমে যায়। আর জামাতের লোকসংখ্যা কমিয়ে ফেলা অপছন্দনীয় (مكروه) ৪।
দ্বিতীয় মত: অন্যান্য পণ্ডিতগণ এই মত পোষণ করেছেন যে, নির্ধারিত ইমামের ইমামতি শেষ হওয়ার পর অন্য কারো ইমামতিতে জামাত পুনর্বার আদায় করা অপছন্দনীয় (يكره) নয়। এটি আনাস, ইবনে মাসউদ এবং আতা ৫ থেকে বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩১৪)
وقتادة1) وهو رواية عن الحسن والنخعي فقد روى البخاري 2 معلقاً "أن أنساً جاء إلى مسجد قد صُلي فيه فأذّن وأقام وصلّى جماعة".
قال الحافظ3: وصله أبو يعلى في مسنده من طريق الجعد أبي عثمان قال: مرّ بنا أنس بن مالك في مسجد بني ثعلبة، فذكر نحوه، قال: وذلك في صلاة الصبح، وفيه: "فأمر رجلاً فأذن وأقام ثم صلّى بأصحابه" وأخرجه ابن أبي شيبة4 من طرق عن الجعد وكذلك عبد الرزاق في المصنف5.
وروى ابن أبي شيبة 6 عن سلمة بن كهيل أن ابن مسعود دخل المسجد وقد صلّوا فجمع بعلقمة ومسروق والأسود.
وروى عن أشعث عن الحسن أنه كان لا يرى بأساً أن تصلّي الجماعة بعد الجماعة في مسجد الكلاّءِ بالبصرة7.
وروى عن عطاء أنه صلّى هو وسالم بن عطية في المسجد الحرام في جماعة بعد ما صلّى أهله8.
--------------------------------------------
এবং কাতাদাহ১); আর এটি হাসান ও নাখয়ী থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা। ইমাম বুখারি ২ এটি মুআল্লাক (معلقاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, "আনাস (রা.) এমন এক মসজিদে আসলেন যেখানে সালাত আদায় হয়ে গিয়েছিল, অতঃপর তিনি আজান ও ইকামত দিলেন এবং জামাতের (جماعة) সাথে সালাত আদায় করলেন।"
হাফেজ (ইবনে হাজার) ৩ বলেন: আবু ইয়া'লা তাঁর মুসনাদে আল-জা'দ আবু উসমান থেকে এটি সংযুক্ত করেছেন (وصله)। তিনি বলেন: আনাস বিন মালিক (রা.) বনু ছা'লাবা মসজিদে আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন: আর সেটি ছিল ফজরের সালাতের সময়। সেখানে বর্ণিত হয়েছে: "তিনি এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন, ফলে সে আজান ও ইকামত দিল, অতঃপর তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন।" ইবনে আবি শায়বাহ ৪ আল-জা'দ থেকে একাধিক সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং অনুরূপভাবে আব্দুর রাজ্জাক তাঁর আল-মুসান্নাফ ৫ গ্রন্থেও এটি বর্ণনা করেছেন।
আর ইবনে আবি শায়বাহ ৬ সালামাহ বিন কুহাইল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে মাসউদ (রা.) মসজিদে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে তারা (অন্যরা) সালাত আদায় করে ফেলেছিল, ফলে তিনি আলকামা, মাসরুক এবং আসওয়াদকে সাথে নিয়ে জামাত (جماعة) করে সালাত আদায় করলেন।
আর আশ'আথ থেকে হাসান (বসরী) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বসরার আল-কাল্লা মসজিদে এক জামাতের পর অন্য জামাত (جماعة) অনুষ্ঠিত হওয়াতে কোনো সমস্যা মনে করতেন না ৭।
আর আতা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এবং সালিম বিন আতিয়্যাহ মসজিদে হারামে সেখানকার অধিবাসীদের সালাত আদায়ের পর জামাতের (جماعة) সাথে সালাত আদায় করেছিলেন ৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩১৫)
وروى عبد الرزاق1 عن قتادة قال: إذا دخل الرجلان المسجد خلاف الصلاة 2 صلّيا جميعاً أمَّ أحدهما صاحبه.
وروي عن عبد الله بن يزيد قال: "أمَّني إبراهيم في مسجد قد صُلي فيه فأقامني عن يمينه بغير أذان ولا إقامة"3 وروي ذلك عن عدي بن ثابت4 وإسحاق5 وأشهب6 وابن حزم7 وبه قال الإمام أحمد 8 وزاد: إلا في مسجد مكة والمدينة فقط فإنه تكره إعادة الجماعة فيهما، رغبة في توفير الجماعة، أي لئلا يتوانى الناس في حضور الجماعة مع الراتب في المسجدين إذا أمكنهم الصلاة في جماعة أخرى وذلك في غير عذر كنوم ونحوه.
ويحرم عنده إقامة جماعة في مسجد قبل إمامه الراتب إلا بإذنه - وهو مكروه عند غيره - لأنه بمنزلة صاحب البيت، وهو أحقّ بها لقوله صلى الله عليه وسلم: "لا يؤَمَّنَّ
--------------------------------------------
আব্দুর রাজ্জাক ১ থেকে বর্ণিত, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেন: "যদি দুই ব্যক্তি মসজিদে এমন সময়ে প্রবেশ করে যখন জামাত শেষ হয়ে গেছে ২, তবে তারা একত্রে নামাজ পড়বে এবং তাদের একজন অপরজনের ইমামতি করবে।"
আব্দুল্লাহ বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: "ইব্রাহিম এমন এক মসজিদে আমার ইমামতি করেছেন যেখানে ইতিপূর্বে নামাজ হয়ে গিয়েছিল। তিনি আমাকে আযান ও ইকামত ছাড়াই তাঁর ডান পাশে দাঁড় করিয়েছিলেন।"৩ এটি আদি বিন সাবিত ৪, ইসহাক ৫, আশহাব ৬ এবং ইবনে হাজম ৭ থেকেও বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আহমাদ ৮ এই মত পোষণ করেছেন এবং তিনি আরও যোগ করেছেন: মক্কা ও মদিনার মসজিদ দুটি ব্যতীত; কারণ সেখানে পুনরায় জামাত করা অপছন্দনীয় (مكروه)। এটি মূলত জামাতের সংখ্যাধিক্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, অর্থাৎ যাতে মানুষ এই দুই মসজিদে নির্ধারিত ইমামের সাথে জামাতে উপস্থিত হতে অলসতা না করে এই ভেবে যে, পরে অন্য কোনো জামাতে নামাজ পড়া সম্ভব হবে; তবে ঘুম বা অনুরূপ কোনো ওজর ব্যতীত।
তাঁর মতে মসজিদে নির্ধারিত ইমামের উপস্থিতির পূর্বে তাঁর অনুমতি ছাড়া জামাত কায়েম করা নিষিদ্ধ (حرام)—যদিও অন্যদের মতে এটি অপছন্দনীয় (مكروه)—কেননা তিনি (ইমাম) গৃহকর্তার সমতুল্য এবং তিনি ইমামতির জন্য অধিক হকদার। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কেউ যেন কারো কর্তৃত্বের স্থানে ইমামতি না করে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩১৭)
الرجل في بيته ولا في سلطانه إلا بإذنه" رواه أبو داود. 1 وفي رواية لمسلم 2: "ولا يؤمّن الرجلُ الرجلَ في سلطانه ولا يقعد في بيته على تكرمته إلا بإذنه" قال النووي 3: "إن صاحب البيت والمجلس وإمام المسجد أحقّ من غيره".
ولأنه يؤدي إلى التنفير عنه، وتبطل فائدة اختصاصه بالتقدم.
وكذلك يحرم إقامة جماعة أخرى أثناء صلاة الإمام الراتب، ولا تصح الصلاة في كلتا الحالتين - أي قبل الإمام الراتب وأثناء صلاته - وعلى هذا فلا يحرم ولا تكره الجماعة بإذن الإمام الراتب لأنه مع الإذن يكون المأذون نائبا عن الراتب.
ولا يحرم ولا تكره أيضا إذا تأخر الإمام الراتب لعذر وضاق الوقت أو ظن عدم حضوره، ولم يكن يكره أن يُصلي غيره في حال غيبته لصلاة أبي بكر رضي الله عنه بالناس حين غاب النبي صلى الله عليه وسلم في بني عمرو بن عوف ليصلح بينهم4.
--------------------------------------------
"কোন ব্যক্তি তার ঘরে এবং তার কর্তৃত্বাধীন স্থানে (কর্তার) অনুমতি ব্যতীত ইমামতি করবে না" আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের একটি বর্ণনা (رواية)-তে রয়েছে: "কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কর্তৃত্বাধীন স্থানে তার ইমামতি করবে না এবং তার ঘরে তার জন্য নির্ধারিত আসনে তার অনুমতি ব্যতীত বসবে না।" ইমাম নববী বলেছেন: "নিশ্চয়ই ঘরের মালিক, মজলিসের মালিক এবং মসজিদের ইমাম অন্যদের তুলনায় অধিক হকদার।"
কারণ এটি তার প্রতি বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করে এবং তাকে ইমামতির জন্য নির্দিষ্ট করার উপকারিতাকে বাতিল করে দেয়।
অনুরূপভাবে, নির্ধারিত (الراتب) ইমামের সালাত চলাকালীন অন্য জামাত কায়েম করা হারাম। উভয় অবস্থায় সালাত শুদ্ধ (تصح) হবে না—অর্থাৎ নির্ধারিত (الراتب) ইমামের আগে এবং তার সালাত চলাকালীন। এই ভিত্তিতে, নির্ধারিত (الراتب) ইমামের অনুমতি থাকলে জামাত করা হারাম বা অপছন্দনীয় (تكره) হবে না; কারণ অনুমতির মাধ্যমে অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্ধারিত (الراتب) ইমামের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে গণ্য হন।
যদি নির্ধারিত (الراتب) ইমাম কোনো ওজরের কারণে দেরি করেন এবং সময় সংকীর্ণ হয়ে আসে অথবা তার উপস্থিত না হওয়ার প্রবল ধারণা তৈরি হয়, তবে অন্য কারো সালাত আদায় করা হারাম বা অপছন্দনীয় (تكره) হবে না। তার অনুপস্থিতিতে অন্য কারো সালাত আদায় করা অপছন্দনীয় ছিল না, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বনু আমর ইবন আউফের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য গিয়েছিলেন, তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩১৮)
الشمول والاستغراق فتدخل فيه كل جماعة، سواء كانت الأولى أو التي بعدها.
2- وحديث أبي سعيد قال: جاء رجل وقد صلّى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: "أيكم يتجر 1 على هذا؟ " فقام رجل وصلّى معه2.
3- وحديث أبي أمامة أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى رجلاً يصلي وحده، فقال: "ألا رجل يتصدق على هذا فيصلي معه؟ " فقام رجل فصلى معه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هذان جماعة" 3.
4- وعن أنس رضي الله عنه أنه جاء إلى مسجد قد صُلي فيه فأذن وأقام وصلّى جماعة4.
--------------------------------------------
সামগ্রিকতা এবং ব্যাপকতা, যার ফলে এতে প্রতিটি জামাতই অন্তর্ভুক্ত হবে—তা প্রথম জামাত হোক কিংবা তার পরবর্তীগুলো।
২- আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আসল এমতাবস্থায় যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামাজ শেষ করেছিলেন। তখন তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে কে আছে যে এর সাথে ব্যবসা (সওয়াব অর্জন) করবে?" তখন এক ব্যক্তি দাঁড়াল এবং তার সাথে নামাজ পড়ল।
৩- আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে একা নামাজ পড়তে দেখলেন। তখন তিনি বললেন: "এমন কোনো লোক কি নেই যে একে সদকা করবে এবং তার সাথে নামাজ পড়বে?" তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তার সাথে নামাজ পড়ল। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "এই দুইজন একটি জামাত।"
৪- আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এমন এক মসজিদে আসলেন যেখানে নামাজ হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তিনি আজান ও ইকামত দিলেন এবং জামাতে নামাজ পড়লেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩১৯)
مناقشة الأدلة:
هذا وقد أورد المانعون لتكرار الجماعة على هذه الأدلة ما يأتي:
1- إن حديث تفضيل صلاة الجماعة على الفذ يحتمل أن يكون في الجماعة الأولى لأنها هي التي ندب الشارع إليها.
2- وحديث أبي سعيد رضي الله عنه لا يتم الاستدلال به، لأن فيه اقتداء المتنفل بالمفترض ولا نزاع فيه، وإنما النزاع في اقتداء المفترض بالمتنفل 1. وقال الزرقاني 2 إنها واقعة حال محتملة فلا ينهض حجة في عدم الكراهية.
3- وحديث أبي أمامة طرقه كلها ضعيفة كما قال الهيثمي3.
4- وأما ما روي عن أنس رضي الله عنه فإنه يحتمل أن يكون المسجد مسجد الطريق الذي لا يكره تكرار الجماعة فيه، ويرجح هذا الاحتمال تكراره رضي الله عنه الأذان والإقامة الذي لا يجوّزه من جوّز تكرار الجماعة في مسجد المحلة. 4.
وقد أجيب عن هذه الإيرادات بما يلي:
أن حمل حديث التفضيل على الجماعة الأولى لا دليل عليه. والظاهر أن هذه الفضيلة تحصل لكل جماعة بقطع النظر عما ذكر، لأن الحديث دلّ على فضيلة الجماعة على المنفرد فيدخل فيه كل جماعة، ويقويه ما رواه ابن أبي شيبة5 بإسناد صحيح عن إبراهيم النخعي قال: "إذا صلّى الرجل مع
--------------------------------------------
দলিলের পর্যালোচনা:
জামাত পুনরাবৃত্তি করার ব্যাপারে যারা নিষেধ করেছেন, তারা এই দলিলগুলোর প্রেক্ষিতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছেন:
১- একাকী নামাজের চেয়ে জামাতে নামাজের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক হাদিসটির ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা রয়েছে যে, এটি কেবল প্রথম জামাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কারণ শরিয়ত প্রণেতা সেটির প্রতিই উৎসাহ প্রদান করেছেন।
২- আবু সাঈদ (রা.) বর্ণিত হাদিসটি দ্বারা দলিল গ্রহণ পূর্ণাঙ্গ হয় না; কারণ সেখানে একজন নফল নামাজ আদায়কারী ফরজ নামাজ আদায়কারীর পেছনে ইক্তেদা করেছিলেন এবং এ ব্যাপারে কোনো বিতর্ক নেই। মূলত বিতর্ক হলো নফল আদায়কারীর পেছনে ফরজ আদায়কারীর ইক্তেদা করার ক্ষেত্রে। আল-যারকানি বলেছেন যে, এটি একটি সম্ভাব্য বিশেষ ঘটনা (واقعة حال), তাই জামাত পুনরাবৃত্তি অপছন্দনীয় না হওয়ার ক্ষেত্রে এটি দলিল (حجة) হিসেবে শক্তিশালী নয়।
৩- আবু উমামা (রা.) বর্ণিত হাদিসের সকল সূত্র বা পথই দুর্বল (ضعيفة), যেমনটি আল-হাইসামি বলেছেন।
৪- আর আনাস (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তার সম্ভাবনা রয়েছে যে সেই মসজিদটি ছিল রাস্তার পাশের মসজিদ, যেখানে জামাতের পুনরাবৃত্তি করা অপছন্দনীয় নয়। এই সম্ভাবনাটি তাঁর আযান ও ইকামাত পুনরায় দেওয়ার মাধ্যমে জোরালো হয়, যা মহল্লার মসজিদে জামাত পুনরাবৃত্তি করার প্রবক্তারাও অনুমোদন করেন না। ৪.
এই আপত্তিগুলোর উত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে:
শ্রেষ্ঠত্বের হাদিসটিকে কেবল প্রথম জামাতের জন্য নির্দিষ্ট করার কোনো দলিল নেই। আর বাহ্যত এই ফজিলত প্রতিটি জামাতের ক্ষেত্রেই অর্জিত হয়, যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে তা বিবেচনা ছাড়াই। কারণ হাদিসটি একাকী ব্যক্তির বিপরীতে জামাতের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে, ফলে এতে প্রতিটি জামাতই অন্তর্ভুক্ত হবে। একে শক্তিশালী করে ইবনে আবি শায়বাহ কর্তৃক একটি সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد) সহ ইব্রাহিম আন-নাখায়ি থেকে বর্ণিত এই উক্তিটি: "যখন কোনো ব্যক্তি অপর একজনের সাথে নামাজ পড়ে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩২০)
1- الرجل فهما جماعة لهما التضعيف خمس وعشرين درجة"1.
2- وأما حديث أبي سعيد رضي الله عنه ففيه دليل على إعادة الجماعة - وهو المطلوب - وأما اقتداء المفترض بالمتنفل أو بالمفترض فهو بحث آخر لا علاقة له بموضوع البحث. وأما دعوى الزرقاني بأنها واقعة حال وقضية عين فلم أقف على دليل يدل عليه، والأصل أنه تشريع عام، والله أعلم.
3- وأما حديث أبي أمامة رضي الله عنه فلا يضره ضعفه، إذ في الباب حديث أبي سعيد - المتقدم آنفاً - وقد حسّنه الترمذي وصححه الحاكم وابن حبان وابن خزيمة، وقال الهيثمي: رجاله رجال الصحيح2.
وفي الباب عن أبي موسى والحكم بن عمير 3 وأنس وسلمان وعصمة بن مالك الخطمي.4.
4- وأمّا ما روى عن أنس رضي الله عنه فلا يُردّ بالاحتمال الذي أوردتموه.
هذا وقد ناقش القائلون بتكرار الجماعة أدلة المانعين بما يأتي:
حديث أبي هريرة رضي الله عنه ليس نصاً في هذه المسألة، بل هو في التشديد على من تخلف عن الجماعة، أو أن المراد بالتهديد قوم تركوا الصلاة رأساً لا مجرد الجماعة، أو أن الحديث ورد في الحث على مخالفة فعل أهل النفاق والتحذير من التشبه بهم، لا لخصوص ترك الجماعة. أو أن الحديث ورد في حق المنافقين فليس التهديد لترك الجماعة بخصوصه، ذكره الحافظ، وقال: "والذي
--------------------------------------------
1- সেই ব্যক্তি, তবে তারা একটি জামাত; তাদের জন্য (পুরস্কারের) দ্বিগুণ হওয়া (التضعيف) পঁচিশ স্তর পর্যন্ত হবে।"১।
2- আর আবু সাইদ (রা.) বর্ণিত হাদিসটির ব্যাপারে বলা যায় যে, এতে জামাত পুনরায় আদায় করার প্রমাণ রয়েছে—যা এখানে কাঙ্ক্ষিত বিষয়। তবে নফল আদায়কারীর পেছনে ফরজ আদায়কারীর অথবা ফরজ আদায়কারীর পেছনে ফরজ আদায়কারীর ইকতিদা করা একটি ভিন্ন আলোচনা, যার সাথে বর্তমান গবেষণার বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। আর যুরকানি-র এই দাবি যে, এটি একটি বিশেষ ঘটনা বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিষয় (واقعة حال وقضية عين), আমি এমন কোনো প্রমাণ পাইনি যা এর ওপর দালালত করে। আর মূলনীতি হলো এটি একটি সাধারণ বিধান (تشريع عام); আল্লাহু আলাম (আল্লাহই ভালো জানেন)।
3- আর আবু উমামা (রা.) বর্ণিত হাদিসটির ব্যাপারে বলা যায় যে, এর দুর্বলতা (ضعف) কোনো ক্ষতি করবে না। কেননা এই পরিচ্ছেদে আবু সাইদ-এর হাদিসটি রয়েছে—যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর ইমাম তিরমিজি এটিকে হাসান (حسن) বলেছেন এবং ইমাম হাকিম, ইবনে হিব্বান ও ইবনে খুযাইমা এটিকে সহিহ (صحح) বলেছেন। হাইসামি বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ (الصحيح)-এর বর্ণনাকারী।"২।
এই পরিচ্ছেদে আবু মুসা, হাকাম ইবনে উমাইর ৩, আনাস, সালমান এবং ইসমাহ ইবনে মালিক আল-খাতমি থেকেও বর্ণনা রয়েছে।৪।
4- আর আনাস (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তা আপনাদের উত্থাপিত সম্ভাবনার (احتمال) কারণে প্রত্যাখ্যান করা যাবে না।
এই অবস্থায়, যারা জামাত পুনরায় করার পক্ষে মত দিয়েছেন, তারা এর বিরোধিতাকারীদের দলিলসমূহ নিয়ে নিম্নোক্তভাবে আলোচনা করেছেন:
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসটি এই বিষয়ে কোনো অকাট্য দলিল (نص) নয়; বরং এটি তাদের ওপর কঠোরতা আরোপের জন্য যারা জামাত থেকে পেছনে থেকে যায়। অথবা এই ধমকির উদ্দেশ্য হলো সেই সম্প্রদায় যারা নামাজই সরাসরি ত্যাগ করেছিল, শুধু জামাত নয়। অথবা এই হাদিসটি এসেছে মুনাফিকদের কাজের বিরোধিতা করার উৎসাহ দিতে এবং তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করার বিরুদ্ধে সতর্ক করতে, কেবল জামাত ত্যাগ করার কারণে নয়। অথবা হাদিসটি মুনাফিকদের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে, তাই এই ধমকি বিশেষভাবে জামাত ত্যাগের কারণে নয়। হাফেজ (ইবনে হাজার) এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আর যা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩২১)
1- يظهر لي أن الحديث ورد في المنافقين لقوله صلى الله عليه وسلم: "ليس صلاة أثقل على المنافقين من العشاء والفجر" الحديث 1 ولقوله عليه الصلاة والسلام: "لو يعلم أحدهم أنه يجد
…الخ" لأن هذا الوصف لائق بالمنافقين لا بالمؤمن الكامل. 2 وقال الشاطبي 3: الحديث مختص بأهل النفاق بدليل قول ابن مسعود: "ولقد رأيتنا وما يتخلف عنها إلا منافق معلوم النفاق".4
2- وأما حديث أبي بكرة فلا دليل لكم فيه فإنه يدل بعمومه على استحباب إعادة الجماعة - لا على منعها - بغض النظر عن أن تكون الإعادة في المسجد أو في البيت، فالإعادة حصلتْ، وهذا هو الشاهد، ثم إن هذا الحديث لا يُعلم حاله، كيف هو قابل للاحتجاج أم لا؟ وقول الهيثمي: رجاله ثقات، لا يدل على صحته إذ لا يلزم من كون رجال الحديث ثقات أن يكون صحيحاً، قال الزيلعي: 5 في الكلام على بعض روايات الجهر بالبسملة: "لا يلزم من ثقة الرجال صحة الحديث حتى ينتفي منه الشذوذ والعلة".
وقال الحافظ في (التلخيص) 6 عند الكلام على بعض روايات حديث بيع العينة: "لا يلزم من كون رجال الحديث ثقات، أن يكون صحيحاً".
هذا إذا سُلم أن رجال هذا الحديث ثقات على ما قاله الهيثمي. لكن قال صاحب (العرف الشذى) - كما في (تحفة الأحوذي) 7 و (إعلاء السنن) –: "إن
--------------------------------------------
১- আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, হাদিসটি মুনাফিকদের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুনাফিকদের জন্য এশা ও ফজরের নামাজের চেয়ে অধিক ভারী আর কোনো নামাজ নেই" হাদিস ১ এবং তাঁর এই বাণীর কারণে: "যদি তাদের কেউ জানত যে সে পাবে
…ইত্যাদি।" কারণ এই বর্ণনাটি মুনাফিকদের জন্য প্রযোজ্য, পূর্ণ মুমিনের জন্য নয়। ২ এবং শাতবি ৩ বলেছেন: হাদিসটি নিফাকপন্থীদের সাথে নির্দিষ্ট, যার প্রমাণ ইবনে মাসউদের উক্তি: "আমি আমাদের দেখেছি যে, প্রকাশ্য মুনাফিক (معلوم النفاق) ছাড়া আর কেউ তা থেকে (জামাতে নামাজ পড়া) পিছিয়ে থাকত না।" ৪
২- আর আবু বকরার হাদিসটির ব্যাপারে বলা যায়, এতে আপনাদের জন্য কোনো দলিল নেই। কারণ এটি তার ব্যাপকতার মাধ্যমে জামাত পুনরায় আদায় করা মুস্তাহাব হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে—নিষেধ করার প্রতি নয়—পুনরায় আদায় মসজিদে হোক বা বাড়িতে, তা বিবেচনা না করেই। সুতরাং পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এবং এটাই হলো সাক্ষী (প্রমাণ)। অধিকন্তু, এই হাদিসটির অবস্থা জানা নেই; এটি কি দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য (قابل للاحتجاج) নাকি নয়? আর হাইসামীর উক্তি: "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)", এটি তার বিশুদ্ধতার (صحة) প্রমাণ নয়; কারণ হাদিসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات) হলেই হাদিসটি সহিহ (صحيح) হওয়া আবশ্যক নয়। যাইলায়ী ৫ ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চস্বরে পাঠ সংক্রান্ত কিছু বর্ণনার আলোচনায় বলেছেন: "বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة الرجال) থেকে হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة الحديث) আবশ্যক হয় না, যতক্ষণ না তা শায/বিচ্যুতি (شذوذ) এবং ইল্লাত/ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত হয়।"
এবং হাফেজ (ইবনে হাজার) ‘আত-তালখিস’ ৬ গ্রন্থে ‘বাই আল-ঈনা’ সংক্রান্ত হাদিসের কিছু বর্ণনার আলোচনায় বলেছেন: "হাদিসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات) হলেই তা সহিহ (صحيح) হওয়া আবশ্যক নয়।"
এটি তখনই প্রযোজ্য যখন মেনে নেওয়া হয় যে, হাইসামীর বক্তব্য অনুযায়ী এই হাদিসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। কিন্তু ‘আল-আরফুশ শাযী’র লেখক—যেমনটি ‘তুহফাতুল আহওয়াযী’ ৭ এবং ‘ইলাউস সুনান’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে—বলেছেন: "নিশ্চয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩২২)
في سنده معاوية بن يحي وهو متكلم فيه".
وقد ذكر الذهبي 1 أحاديثه المناكير وذكر فيها حديث أبي بكرة هذا وكذلك فعل ابن عدي. 2
ثم لو سُلّم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلّى بأهله في منزله لا يثبت منه كراهة تكرار الجماعة في المسجد، بل غاية ما يثبت منه أنه لو جاء رجل في مسجد قد صُلي فيه فيجوز له أن لا يُصلى فيه جماعة، بل يخرج منه فيميل إلى منزله فيصلي بأهله فيه، وأما أنه لا يجوز له أن يُصلي في ذلك المسجد بالجماعة أو يكره له ذلك فلا دلالة للحديث عليه ألبتة، كما لا يدل الحديث على كراهة أن يصلي فيه منفرداً.
ثم لو ثبت من هذا الحديث كراهة تكرار الجماعة لأجل أنه صلى الله عليه وسلم لم يُصل في المسجد لثبت منه كراهة الصلاة فرادى أيضاً في مسجد قد صُلي فيه لأنه صلى الله عليه وسلم لم يُصل في المسجد لا منفرداً ولا جماعة، والحاصل: أن الاستدلال بحديث أبي بكرة المذكور على كراهة تكرار الجماعة في المسجد، واستحباب الصلاة فرادى ليس بصحيح. ذكره المباركفوري وقال: "ولم أجد حديثاً مرفوعاً صحيحاً يدل على هذا المطلوب". 3
وأما أثر الحسن "كان أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم إذا دخلوا المسجد - وقد صُلي فيه - صلوا فرادى" فقد أجاب عنه صاحب (تحفة الأحوذي) 4 بأن
--------------------------------------------
এর সনদে মুয়াবিয়া ইবনে ইয়াহইয়া রয়েছেন, এবং তিনি বিতর্কিত (متكلم فيه)।
ইমাম যাহাবি ১ তার প্রত্যাখ্যাত (منكر) হাদিসসমূহের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাতে আবু বকরার এই হাদিসটি অন্তর্ভুক্ত করেছেন; অনুরূপভাবে ইবনে আদিও ২ করেছেন।
অতঃপর যদি মেনেও নেওয়া হয় যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে নিজ পরিবার নিয়ে সালাত আদায় করেছেন, তবুও তা থেকে মসজিদে জামাতের পুনরাবৃত্তি অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয় না। বরং এর দ্বারা সর্বোচ্চ যা প্রমাণিত হয় তা হলো, যদি কোনো ব্যক্তি এমন মসজিদে প্রবেশ করে যেখানে জামাত সম্পন্ন হয়ে গেছে, তবে তার জন্য সেখানে জামাতে সালাত আদায় না করা বৈধ; বরং সে সেখান থেকে বের হয়ে ঘরে গিয়ে সপরিবারে সালাত আদায় করতে পারে। কিন্তু ওই মসজিদে জামাতে সালাত আদায় করা বৈধ নয় কিংবা তা অপছন্দনীয় (كراهة), এ ব্যাপারে হাদিসটিতে কোনো প্রমাণই নেই। ঠিক যেমন হাদিসটি সেখানে একাকী সালাত আদায়ের অপছন্দনীয়তার (كراهة) ওপরও কোনো প্রমাণ পেশ করে না।
অতঃপর এই হাদিস থেকে যদি জামাতের পুনরাবৃত্তি অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়া প্রমাণিত হতো—যেহেতু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে সালাত আদায় করেননি—তবে যে মসজিদে জামাত হয়ে গেছে সেখানে একাকী সালাত আদায় করাও অপছন্দনীয় (كراهة) বলে সাব্যস্ত হতো। কারণ তিনি মসজিদে একাকী কিংবা জামাতে কোনোভাবেই সালাত আদায় করেননি। সারকথা হলো: মসজিদে জামাতের পুনরাবৃত্তি অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়া এবং একাকী সালাত আদায় মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার সপক্ষে উল্লিখিত আবু বকরার হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা সঠিক নয়। মুবারকপুরী এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আমি এমন কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) মারফু (مرفوع) হাদিস পাইনি যা এই দাবির সপক্ষে প্রমাণ পেশ করে।" ৩
আর হাসান বসরির আছার (أثر)—"মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন এবং দেখেন যে জামাত হয়ে গেছে, তখন তারা একাকী সালাত আদায় করতেন"—এর উত্তর তুহফাতুল আহওয়াযী ৪-এর লেখক এভাবে দিয়েছেন যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩২৩)
1- صلاتهم فرادى إنما كانت لخوف السلطان محتجاً بما رواه ابن أبي شيبة 1 حدثنا هشيم، أخبرنا منصور عن الحسن قال: "إنما كانوا يكرهون أن يجمعوا مخافة السلطان".
الترجيح:
وبهذا يظهر أن أدلة الفريق الثاني القائلين باستحباب تكرار الجماعة أصح وأصرح في الدلالة - كما لا يخفى.
ولكن المانعين للجماعة الثانية - وهم الجمهور - يقولون، إنما قلنا بمنع تكرار الجماعة إذا كان تكرارها يؤدي إلى اختلاف الكلمة ومفارقة الجماعة، ومنابذة الأئمة ووقوع العداوة، فالمقصد الأكبر والغرض الأظهر من وضع الجماعة هو تأليف القلوب واتحاد الكلمة حتى يقع الأنس والمحبة بالمخالطة، وتصفو القلوب من وضر الحقد والحسد، فإذا كانت الجماعة الثانية تؤدي إلى ضياع هذه المعاني وغياب هذه المقاصد وإبطال هذه الحِكم فلا تشرع.
وأيضاً فإن إطلاق القول باستحباب تكرار الجماعة، يُعطي ذريعة لأهل الزيغ والضلال والبدع لإظهار نحلتهم وإعلان بدعتهم. وفي ذلك حصول المكروه، لأجل هذا كله رأى هؤلاء القوم من أهل العلم منع تكرار الجماعة حفاظاً على وحدة الصف واتحاد الكلمة، ومنعاً لأهل الضلال والباطل من إظهار نحلتهم وبدعتهم.
قال الشافعي2: "
… وإنما كرهتُ ذلك لأنه ليس مما فعل السلف قبلنا، بل قد عابه بعضهم قال: وأحسب كراهية من كره ذلك منهم، إنما كان لتفرق
--------------------------------------------
১- তাদের একাকী সালাত আদায় করা ছিল কেবল শাসকের ভয়ে। এক্ষেত্রে ইবনে আবি শাইবা ১ কর্তৃক বর্ণিত আসারকে দলিল হিসেবে পেশ করা হয়েছে। হুশাইম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মানসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান (বসরি) থেকে যে, তিনি বলেছেন: "তারা কেবল শাসকের ভয়ে জামাতবদ্ধ হওয়া অপছন্দ করতেন।"
অগ্রাধিকার প্রদান (الترجيح):
এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, দ্বিতীয় পক্ষের দলিলসমূহ—যারা জামাত পুনরাবৃত্তি করা মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার প্রবক্তা—তা অধিক বিশুদ্ধ (أصح) এবং নির্দেশনার ক্ষেত্রে অধিকতর স্পষ্ট, যেমনটি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তবে যারা দ্বিতীয় জামাত নিষিদ্ধকারী—এবং তারা হলেন জমহুর (الجمهور)—তারা বলেন, আমরা জামাত পুনরাবৃত্তি নিষিদ্ধ বলেছি তখন, যখন তা মতানৈক্য সৃষ্টি, জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, ইমামদের বিরোধিতা এবং শত্রুতা তৈরির দিকে ধাবিত করে। কারণ জামাত বিধানের মূল লক্ষ্য ও স্পষ্ট উদ্দেশ্য হলো অন্তরের সমন্বয় এবং ঐক্যের সৃষ্টি করা, যাতে মেলামেশার মাধ্যমে হৃদ্যতা ও ভালোবাসা জন্মায় এবং হিংসা ও বিদ্বেষের পঙ্কিলতা থেকে অন্তরসমূহ পরিচ্ছন্ন হয়। সুতরাং দ্বিতীয় জামাত যদি এই অর্থগুলো নষ্ট করা, লক্ষ্যসমূহ বিলীন করা এবং এই হিকমতসমূহকে নস্যাৎ করার দিকে পরিচালিত করে, তবে তা শরিয়তসম্মত হবে না।
তদুপরি, জামাত পুনরাবৃত্তি মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার ঢালাও উক্তি বিভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট ও বিদআতিদের জন্য তাদের উপদলীয় মতাদর্শ প্রকাশ এবং বিদআত প্রচারের পথ প্রশস্ত করে দেয়। আর এর মধ্যে অপছন্দনীয় (المكروه) বিষয়ের উপস্থিতি রয়েছে। এসব কারণেই আহলুল ইলম বা আলেমগণের এই দলটি কাতারবদ্ধ ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখতে এবং পথভ্রষ্ট ও বাতিলপন্থীদের তাদের উপদলীয় চেতনা ও বিদআত প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখতে জামাত পুনরাবৃত্তি নিষিদ্ধ করার মত পোষণ করেছেন।
ইমাম শাফেঈ ২ বলেন: "
… আমি এটি অপছন্দ (كرهت) করেছি কারণ এটি আমাদের পূর্ববর্তী সালাফ (السلف) বা পূর্বসূরিদের কর্ম নয়, বরং তাদের কেউ কেউ একে ত্রুটিযুক্ত মনে করেছেন। তিনি আরও বলেন: তাদের মধ্যে যারা এটি অপছন্দ করেছেন, আমার ধারণা তাদের সেই অপছন্দ (كراهية) কেবল বিচ্ছিন্নতা তৈরির আশঙ্কায় ছিল..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩২৪)
الكلمة، وأن يرغب رجل عن الصلاة خلف إمام الجماعة فيتخلف هو ومن أراد عن المسجد في وقت الصلاة، فإذا قضيت دخلوا فجمعوا، فيكون في هذا اختلاف، وتفرق كلمة وفيهما المكروه، وإنما أكره هذا في كل مسجد له إمام ومؤذن، فأما مسجد بُني على ظهر الطريق، أو ناحية لا يؤذن فيه مؤذن راتب، ولا يكون له إمام معلوم ويصلى فيه المارة ويستظلون، فلا أكره ذلك فيه، لأنه ليس فيه المعنى الذي وصفت من تفرق الكلمة
…".
وقال الإمام ابن عبد البر - بعد أن ذكر قول الإمام مالك وغيره ممن منع تكرار الجماعة - قال: "هذه المسألة لا أصل لها إلا إنكار جمع أهل الزيغ والبدع، وألا يتركوا وإظهار نحلتهم، وأن تكون كلمة السنة والجماعة هي الظاهرة لأن أهل البدع كانوا يرتقبون صلاة الإمام ثم يأتون بعده، فيجمعون لأنفسهم بإمامهم، فرأى أهل العلم أن يمنعوا من ذلك وجعلو الباب بابا واحداً، فمنعوا منه الكل، والأصل ما وصفت لك".1
وقال الإمام ابن العربي في قوله تعالى: {وَتَفْرِيقاً بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ} 2: "يعني أنهم كانوا جماعة واحدة في مسجد واحد، فأرادوا أن يفرّقوا شملهم في الطاعة وينفردوا عنهم للكفر والمعصية، وهذا يدلّك على أن المقصد الأكثر والغرض الأظهر من وضع الجماعة تأليف القلوب
… ولهذا المعنى تفطّن مالك رضي الله عنه حين قال: إنه لا تُصلى جماعتان في مسجد واحد لا بإمامين ولا بإمام واحد
…حيث كان ذلك تشتيتاً للكلمة وإبطالاً لهذه الحِكمة
…"3.
--------------------------------------------
সংহতি বিনষ্ট হওয়া এবং কোনো ব্যক্তির জামাতের ইমামের পেছনে সালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকা; ফলে সে এবং তার অনুসারীরা সালাতের সময় মসজিদ থেকে দূরে অবস্থান করে, অতঃপর যখন সালাত শেষ হয় তখন তারা প্রবেশ করে দ্বিতীয় জামাত কায়েম করে। এতে মতভেদ তৈরি হয় এবং সংহতি বিনষ্ট হয়, যার উভয়টিই অপছন্দনীয় (مكروه)। আর আমি এটি কেবল সেই মসজিদের ক্ষেত্রে অপছন্দ করি যার নির্দিষ্ট ইমাম (إمام) এবং মুয়াজ্জিন আছে। তবে যে মসজিদ রাস্তার পাশে বা এমন কোনো স্থানে নির্মিত যেখানে কোনো স্থায়ী মুয়াজ্জিন আযান দেয় না এবং কোনো নির্দিষ্ট ইমামও নেই, বরং পথচারীরা সেখানে সালাত আদায় করে ও বিশ্রাম নেয়, সেক্ষেত্রে আমি তা অপছন্দ করি না। কারণ সেখানে সংহতি বিনষ্ট হওয়ার সেই কারণটি বিদ্যমান নেই যা আমি বর্ণনা করেছি
…"।
ইমাম ইবনে আব্দুল বার—ইমাম মালিক এবং যারা দ্বিতীয়বার জামাত করাকে নিষেধ করেছেন তাদের মত উল্লেখ করার পর—বলেন: "এই মাসআলাটির কোনো ভিত্তি (أصل) নেই কেবল পথভ্রষ্ট ও বিদআতীদের (أهل البدع) জামাতকে প্রত্যাখ্যান করা এবং তাদের ভ্রান্ত মতাদর্শ প্রকাশ করতে না দেওয়া ছাড়া; যেন সুন্নাহ ও জামাতের (السنة والجماعة) কথাটিই বিজয়ী থাকে। কেননা বিদআতীরা (أهل البدع) ইমামের সালাত শেষ হওয়ার অপেক্ষা করত, এরপর তারা এসে নিজেদের ইমামের সাথে আলাদা জামাত (جماعة) করত। তাই আলেমগণ (أهل العلم) এটি প্রতিরোধ করা সমীচীন মনে করেছেন এবং একে একটি সাধারণ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, ফলে তারা সকলকে এটি থেকে নিষেধ করেছেন। আর এর মূলনীতি (الأصل) সেটিই যা আমি আপনার নিকট বর্ণনা করেছি।"১
ইমাম ইবনে আল-আরাবি মহান আল্লাহর বাণী: {এবং মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য} ২ প্রসঙ্গে বলেন: "অর্থাৎ তারা এক মসজিদে একই জামাতভুক্ত ছিল, অতঃপর তারা আনুগত্যের ক্ষেত্রে ঐক্য বিনষ্ট করতে এবং কুফরি ও অবাধ্যতার উদ্দেশ্যে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চেয়েছিল। এটি আপনাকে শিক্ষা দেয় যে, জামাত (جماعة) ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য এবং স্পষ্ট লক্ষ্য হলো অন্তরসমূহের মধ্যে প্রীতি সৃষ্টি করা
… এই সূক্ষ্ম বিষয়টিই ইমাম মালিক (রা.) অনুধাবন করেছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন: এক মসজিদে দুই জামাত (جماعتان) হবে না—দুই ইমামের মাধ্যমেও নয়, আবার এক ইমামের মাধ্যমেও নয়
… যেহেতু এতে সংহতি বিনষ্ট হয় এবং এই হিকমত বা প্রজ্ঞা বাতিল হয়ে যায়
…"৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩২৫)
وقال الباجي: "
… ولو جاز الجمع في مسجد مرتين لكان ذلك داعية إلى الافتراق والاختلاف ولكان أهل البدع يفارقون الجماعة بإمامهم ويتأخرون من جماعتهم ثم يُقدّمون منهم، ولو جاز مثل هذا لفعلوا مثل ذلك بالإمام الذي تؤدى إليه الطاعة فيؤدي ذلك إلى إظهار منابذة الأئمة ومخالفتهم ومفارقة الجماعة فوجب [أن يغلق] عليهم هذا الباب.
ووجه آخر: أنه لو وسع في مثل هذا الأمر لأدى إلى أن لا تُراعى أوقات الصلاة، ولأخّر من شاء وصلى بعد ذلك في جماعة. وقصْر الناس على إمام واحد داع إلى مراعاة صلاته والمبادرة إلى إدراك الصلاة معه". 1
يظهر من هذا أن المنع من تكرار الجماعة حيث كان ذلك تشتيتاً للكلمة وتفريقاً للجماعة وتمزيقاً للوحدة، أي ما كان على سبيل التداعي والاجتماع. أما إذا لم يكن على هذا الوجه بأن حصل ذلك لنفرٍ قليل تأخروا عن الجماعة لعذر - دون قصد الاختلاف والافتراق عن جماعة المسلمين أو مخالفة الأئمة ومنابذتهم - فإن تكرار الجماعة في مثل هذه الحالة لا يُكره. وقد نصّ على ذلك القائلون بالمنع، وهذا الشافعي يقول: ".. فإن فعلوا أجزأتهم الجماعة.. واحسب كراهية من كره ذلك منهم أنما كان لتفرق الكلمة"2.
وقال أبو يوسف: "إنما يُكره إذا كانت الجماعة الثانية كثيرة3، فأما إذا كانوا ثلاثة أو أربعة فقاموا في زاوية من زوايا المسجد وصلوا بجماعة لا يُكره"
--------------------------------------------
আল-বাজী বলেছেন: "
... আর যদি মসজিদে দুইবার জামাত (جماعة) করা বৈধ হতো, তবে তা বিচ্ছিন্নতা ও মতভেদের দিকে নিয়ে যেত এবং বিদআতিরা (أهل البدع) তাদের ইমামের (إمام) কারণে মূল জামাত (جماعة) বর্জন করত, তারা মূল জামাতে উপস্থিত হতে দেরি করত এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্য থেকে একজনকে ইমাম হিসেবে সামনে এগিয়ে দিত। আর যদি এমনটা বৈধ হতো, তবে তারা যে ইমামের (إمام) আনুগত্য করা ওয়াজিব তার সাথেও অনুরুপ আচরণ করত, যা মূলত ইমামদের (الأئمة) বিরোধিতা, অবজ্ঞা এবং মূল জামাত (جماعة) ত্যাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাত। তাই তাদের জন্য এই পথ [বন্ধ করে দেওয়া] আবশ্যক।
অন্য একটি দিক হলো: যদি এই ধরনের বিষয়ে অবকাশ দেওয়া হয়, তবে তা নামাজের সময়ের প্রতি গুরুত্ব না দেওয়ার দিকে ধাবিত করবে এবং যে কেউ চাইলে নামাজ পিছিয়ে দিয়ে পরবর্তীতে জামাতে (جماعة) নামাজ আদায় করত। মানুষকে একজন ইমামের (إمام) ওপর সীমাবদ্ধ রাখা নামাজের সময়ের প্রতি যত্নশীল হতে এবং তাঁর সাথে নামাজ পাওয়ার জন্য ত্বরান্বিত হতে উৎসাহিত করে।" 1
এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, জামাতের (جماعة) পুনরাবৃত্তি করা তখনই নিষিদ্ধ যখন তা সংহতি বিনষ্ট করে, বিভেদ সৃষ্টি করে এবং ঐক্য ধ্বংস করে; অর্থাৎ যা পরিকল্পিত সমাবেশ ও জমায়েতের উদ্দেশ্যে করা হয়। তবে যদি বিষয়টি এমন না হয়ে বরং অল্প কয়েকজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটে যারা কোনো ওজরের (عذر) কারণে জামাত (جماعة) হারিয়েছেন—মুসলমানদের জামাত (جماعة) থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া কিংবা ইমামদের (الأئمة) বিরোধিতা ও অবজ্ঞার কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই—তবে এমতাবস্থায় পুনরায় জামাত (جماعة) করা অপছন্দনীয় (مكروه) নয়। যারা এটি নিষেধ করেছেন তারাও এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। যেমন ইমাম শাফেঈ বলেছেন: "..যদি তারা তা করে তবে তাদের জামাত (جماعة) যথেষ্ট হবে.. আর যারা এটি অপছন্দ করেছেন তাদের সেই অপছন্দনীয়তার (كراهية) কারণ ছিল কেবল সংহতি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা" 2।
আবু ইউসুফ বলেছেন: "এটি তখনই অপছন্দনীয় (يُكره) যখন দ্বিতীয় জামাতটি (جماعة) বড় আকারের হয়। কিন্তু যদি তারা মাত্র তিন বা চারজন হয় এবং মসজিদের এক কোণে দাঁড়িয়ে জামাতে (جماعة) নামাজ পড়ে, তবে তা অপছন্দনীয় (يُكره) নয়"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩২৬)
وروي عن محمد بن الحسن الشيباني: "أنه إنما يُكره إذا كانت الثانية على سبيل التداعي والاجتماع فأما إذا لم يكن فلا يُكره" 1.
وروي نحو هذا عن أشهب المالكي 2 فعن أصبغ، قال: دخلت المسجد مع أشهب، وقد صلّى الناس، فقال لي: "يا أصبغ ائتم بي وتنحّى إلى زاوية فأْتممتُ به" وتقدم قول المالكية أنهم يصلون جماعة خارج المسجد.
وقال الإمام النووي: - بعد أن ذكر الصحيح المشهور في المذهب وهو كراهة تكرار الجماعة بعد جماعة الإمام الراتب بغير إذنه - قال: "أما إذا حضر واحد بعد صلاة الجماعة فيستحب لبعض الحاضرين الذين صلوا، أن يُصلي معه لتحصل له الجماعة"3 وفي مغني المحتاج4: "ويستحب لمن صلّى إذا رأى من يُصلي تلك الفريضة وحده أن يُصلًيها معه ليحصل له فضيلة الجماعة".
والذين قالوا باستحباب تكرار الجماعة لم يغب عنهم هذا المعنى - أي أنها إذا كانت تفضي إلى اختلاف القلوب والتهاون بها مع الإمام فإنها تكره وإلا فلا - ففي الروض المربع شرح زاد المستقنع5 بعد أن ذكر المذهب، وهو: استحباب تكرار الجماعة، قال: "وعنه: تكره
…لئلا يُفضي إلى اختلاف القلوب، والتهاون بها مع الإمام" وقال ابن مفلح الحنبلي:6 "ولا تكره إعادة الجماعة" أي: إذا صلّى إمام الحي، ثم حضر جماعة أخرى استحب لهم أن يصلّوا جماعة
…--------------------------------------------
মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানি থেকে বর্ণিত হয়েছে: "এটি কেবল তখনই অপছন্দনীয় (يُكره) হবে যদি দ্বিতীয় জামাতটি আহ্বান জানানো ও সমাবেশের মাধ্যমে হয়; অন্যথায় তা অপছন্দনীয় (يُكره) নয়" 1.
আশহাব আল-মালিকি 2 থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে; আসবাগ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আশহাবের সাথে মসজিদে প্রবেশ করলাম যখন মানুষ নামাজ শেষ করে ফেলেছে, তখন তিনি আমাকে বললেন: "হে আসবাগ, আমার অনুসরণ করো (আমার ইমামতি গ্রহণ করো) এবং এক কোণে সরে যাও; অতঃপর আমি তার অনুসরণ করে নামাজ পড়লাম।" মালেকিদের পূর্বোক্ত অভিমত হলো যে, তারা মসজিদের বাইরে জামাতবদ্ধ হয়ে নামাজ পড়বেন।
ইমাম নববী বলেছেন—মাযহাবের সঠিক (الصحيح) ও প্রসিদ্ধ (المشهور) অভিমত উল্লেখ করার পর, যা হলো নির্ধারিত ইমামের অনুমতি ব্যতীত তার পরে জামাতের পুনরাবৃত্তি করা অপছন্দনীয় (كراهة)—তিনি বলেন: "তবে জামাত শেষ হওয়ার পর যদি কোনো ব্যক্তি উপস্থিত হয়, তবে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যারা নামাজ পড়েছেন তাদের জন্য তার সাথে নামাজ পড়া মুস্তাহাব (يستحب), যেন সে জামাতের সওয়াব লাভ করতে পারে" 3 এবং মুগনি আল-মুহতাজ 4 গ্রন্থে বলা হয়েছে: "যে ব্যক্তি নামাজ আদায় করে ফেলেছে, সে যদি কাউকে উক্ত ফরজ নামাজ একাকী আদায় করতে দেখে, তবে তার জন্য মুস্তাহাব (يستحب) হলো ওই ব্যক্তির সাথে নামাজ পড়া যাতে সে জামাতের ফজিলত লাভ করতে পারে।"
যারা জামাতের পুনরাবৃত্তিকে মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার কথা বলেছেন, তাদের নিকট এই তাৎপর্যটি অস্পষ্ট ছিল না—অর্থাৎ যদি এটি অন্তরের বিবাদ এবং ইমামের প্রতি অবজ্ঞার কারণ হয় তবে তা অপছন্দনীয় (تكره), অন্যথায় নয়—রাওযুল মুরবি' শারহু জাদিল মুস্তাকনি' 5 গ্রন্থে মাযহাবের অভিমত (জামাতের পুনরাবৃত্তি মুস্তাহাব (استحباب)) উল্লেখ করার পর বলা হয়েছে: "তার থেকে বর্ণিত হয়েছে: এটি অপছন্দনীয় (تكره)
… যাতে এটি অন্তরের বিবাদ এবং ইমামের প্রতি অবজ্ঞার কারণ না হয়।" ইবনে মুফলিহ আল-হাম্বলি 6 বলেছেন: "জামাতের পুনরাবৃত্তি অপছন্দনীয় (تكره) নয়" অর্থাৎ: যখন মহল্লার ইমাম নামাজ আদায় করেন এবং এরপর অন্য একটি দল উপস্থিত হয়, তখন তাদের জন্য জামাতবদ্ধ হয়ে নামাজ পড়া মুস্তাহাব (استحب)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩২৭)
وقال القاضي: "يُكره لئلا يفضي إلى اختلاف القلوب
…"، وقال ابن حزم: "
… وأما نحن فإن من تأخر عن صلاة الجماعة لغير عذر لكن قلة اهتبال أو لهوى أو لعداوة مع الإمام فإننا ننهاه
…".1
نخلص من هذا إلى أن الفريقين يكادان يتفقان على مشروعية تكرار الجماعة إذا لم يكن التكرار على سبيل التداعي والاختلاف والافتراق ومنابذة الأئمة وشقاً لعصا المسلمين.
وأما إذا اتُّخذ التكرار ذريعة ووسيلة لتفريق الجماعة وتشتيت الكلمة وتمزيق الوحدة من قبل أهل الأهواء الزائغة والفرق المبتدعة أو كان يُفضي إليه - ولو غالباً - لم يكن مشروعاً، بل كان ممنوعاً، لأن ما يؤدي إلى الممنوع فهو ممنوع، والنظر في المآلات معتبر عند أهل العلم. قال الإمام الشاطبي: 2
"النظر في مآلات الأفعال معتبر مقصود شرعاً كانت الأفعال موافقة أو مخالفة وذلك أن المجتهد لا يحكم على فعل من الأفعال الصادرة عن المكلفين بالإقدام أو بالإحجام إلا بعد نظره إلى ما يؤول إليه ذلك الفعل، [فقد يكون] مشروعاً لمصلحة فيه تستجلب، أو لمفسدة تدرأ، ولكن له مآل على خلاف ما قصد فيه، وقد يكون غير مشروع لمفسدة تنشأ عنه أو مصلحة تندفع به، ولكن له مآل على خلاف ذلك. فإذا أطلق القول في الأول بالمشروعية، فربما أدى استجلاب المصلحة فيه إلى مفسدة تساوي المصلحة أو تزيد عليها، فيكون هذا مانعاً من إطلاق القول بالمشروعية وكذلك إذا أطلق القول في الثاني بعدم المشروعية ربما أدى استدفاع المفسدة إلى مفسدة تساوي أو تزيد، فلا يصح إطلاق القول بعدم المشروعية، وهو مجال للمجتهد صعب المورد، إلا أنه عذب
--------------------------------------------
وقال কাজি বলেন: "এটি অপছন্দনীয় (مكروه), পাছে তা অন্তরের বিভেদের দিকে নিয়ে যায়
…"। ইবনে হাজম বলেন: "
… আর আমাদের কথা হলো, যে ব্যক্তি কোনো ওজর (عذر) ব্যতীত কেবল অবহেলা, প্রবৃত্তি অথবা ইমামের সাথে শত্রুতার কারণে জামাতে নামাজ পড়তে দেরি করে, আমরা তাকে তা থেকে নিষেধ করি
…"।১
এ থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, উভয় পক্ষই জামাতের পুনরাবৃত্তি বৈধ (مشروعية) হওয়ার বিষয়ে প্রায় একমত, যদি সেই পুনরাবৃত্তি দলাদলি, মতভেদ, বিচ্ছিন্নতা, ইমামদের (أئمة) বিরুদ্ধাচরণ এবং মুসলিমদের ঐক্যে ফাটল ধরানোর উদ্দেশ্যে না হয়।
কিন্তু যদি এই পুনরাবৃত্তিকে পথভ্রষ্ট প্রবৃত্তি পূজারী এবং বিদআতি (مبتدعة) দলগুলোর পক্ষ থেকে জামাতকে বিভক্ত করা, সংহতি বিনষ্ট করা এবং ঐক্য ধ্বংস করার বাহানা ও মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়, অথবা যদি এটি সেদিকেই ধাবিত করে—এমনকি অধিকাংশ ক্ষেত্রেও—তবে তা বৈধ (مشروع) হবে না, বরং নিষিদ্ধ (ممنوع) হবে। কেননা, যা নিষিদ্ধের (ممنوع) দিকে নিয়ে যায় তা নিজেও নিষিদ্ধ; আর কাজের পরিণতির (مآلات) দিকে লক্ষ্য রাখা আলেমদের নিকট গ্রহণযোগ্য (معتبر)। ইমাম শাতবি বলেন: ২
"কাজের পরিণতির (مآلات) প্রতি দৃষ্টি দেওয়া শরীয়তের একটি গ্রহণযোগ্য (معتبر) উদ্দেশ্য, চাই কাজগুলো (প্রকাশ্য বিধির) অনুকূল হোক বা প্রতিকূল। আর এর কারণ হলো, একজন মুজতাহিদ (مجتهد) কোনো মুকাল্লাফের (مكلف) কোনো কাজ সম্পাদন বা বর্জনের বিষয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো হুকুম প্রদান করেন না, যতক্ষণ না তিনি সেই কাজের পরিণতির (مآل) প্রতি লক্ষ্য করেন। [কেননা কোনো কাজ হয়তো] কোনো কল্যাণ (مصلحة) লাভের জন্য বা কোনো অকল্যাণ (مفسدة) দূর করার জন্য বৈধ (مشروع) হতে পারে, কিন্তু পরিণতির দিক থেকে তা মূল উদ্দেশ্যের বিপরীত হতে পারে। আবার কোনো কাজ হয়তো তার থেকে সৃষ্টি হওয়া অকল্যাণের (مفسدة) কারণে বা তার ফলে কোনো কল্যাণ (مصلحة) হাতছাড়া হওয়ার কারণে অবৈধ হতে পারে, কিন্তু পরিণতির দিক থেকে তা ভিন্ন হতে পারে। সুতরাং প্রথম ক্ষেত্রে যদি সাধারণভাবে বৈধতার (مشروعية) কথা বলা হয়, তবে সেই কল্যাণ (مصلحة) অর্জন করতে গিয়ে হয়তো এমন কোনো অকল্যাণ (مفسدة) দেখা দিতে পারে যা সেই কল্যাণের সমান বা তার চেয়ে বেশি, যা সেই কাজের বৈধতার (مشروعية) বিষয়ে ঢালাও ফতোয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। একইভাবে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে যদি সাধারণভাবে অবৈধতার (عدم مشروعية) কথা বলা হয়, তবে সেই অকল্যাণ (مفسدة) দূর করতে গিয়ে হয়তো সমান বা তার চেয়ে বড় কোনো অকল্যাণ (مفسدة) সৃষ্টি হতে পারে, তাই ঢালাওভাবে অবৈধতার (عدم مشروعية) হুকুম দেওয়া সঠিক হবে না। আর এটি একজন মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য অত্যন্ত কঠিন একটি বিচরণক্ষেত্র, তবে তা অত্যন্ত চমৎকার।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩২৮)
المذاق، محمود الغب 1 جار على مقاصد الشريعة".
ثم أخذ رحمه الله يستدل على صحة ذلك بأمور، منها: أن استقراء الشريعة وأدلتها يدل على اعتبار المآلات، وذكر أمثلة تفصيلية كامتناعه صلى الله عليه وسلم عن قتل المنافقين، فقد قال - حين أشير عليه بقتل من ظهر نفاقه -: "لا يتحدث الناس أنه كان يقتل أصحابه" 2 فينفروا من الدخول في الإسلام. ثم قال الشاطبي: "
… يكون العمل في الأصل مشروعاً، لكن يُنهى عنه لما يؤول إليه من المفسدة
…".
قلت: وهذا ينطبق على مسألتنا هذه، فإن الجماعة في الأصل مشروعة لحِكم، منها: مضاعفة الثواب وعموم البركة، والتواصل والتوادد، ولأجل معرفة أحوال بعضهم ببعض فيقوموا بعيادة المرضى وتشييع الموتى وإغاثة الملهوفين، وليحصل بينهم التعاون والائتلاف ولهذا قال صلى الله عليه وسلم: "لا تختلفوا فتختلف قلوبكم ". 3
إذاً: فالجماعة موضوعة لهذه المعاني العظيمة والحِكم الجليلة، وهي وسيلة إلى الخير والوحدة والاتفاق، ولكن لو اتخذ من تكرار الجماعة وسيلة وذريعة إلى مفسدة الاختلاف والافتراق أو كان يفضي إليها لم تكن مشروعة.
قال الإمام ابن القيم رحمه الله 4: "الفعل أو القول المفضي إلى المفسدة قسمان
…والثاني: أن تكون (الأفعال أو الأقوال) موضوعة للإفضاء إلى أمر جائز أو مستحب، فيتخذ وسيلة إلى المحرم إما بقصده أو بغير قصد منه
…كمن
--------------------------------------------
স্বাদ, মাহমুদ আল-গাব ১ শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد الشريعة) অনুসারী।
অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বিভিন্ন বিষয়ের মাধ্যমে এর সঠিকতা (صحة) প্রমাণের প্রয়াস পেয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে: শরীয়তের বিধিবিধান এবং এর দলীলসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ বা আরোহী পদ্ধতি (استقراء) নির্দেশ করে যে, কার্যাবলির পরিণামসমূহ (المآلات) বিবেচনাযোগ্য। তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত উদাহরণ উল্লেখ করেছেন, যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মুনাফিকদের হত্যা করা থেকে বিরত থাকা। যখন তাঁকে এমন ব্যক্তিদের হত্যার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যাদের নিফাক বা কপটতা প্রকাশ পেয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "মানুষ যেন এ কথা না বলে যে, তিনি তাঁর সঙ্গীদের হত্যা করেন" ২ যার ফলে তারা ইসলামে প্রবেশ করতে নিরুৎসাহিত হতো। অতঃপর ইমাম শাতibi বলেছেন: "
... কোনো কাজ মূলগতভাবে বিধিসম্মত (مشروع) হতে পারে, কিন্তু এর ফলে যে অনিষ্ট (مفسدة) সৃষ্টি হয় তার কারণে তা নিষিদ্ধ করা হয়
..."।
আমি বলি: এটি আমাদের এই আলোচ্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কেননা জামাত বা জামাতে নামাজ মূলত বিভিন্ন হিকমত বা প্রজ্ঞার কারণে বিধিসম্মত (مشروع), যার মধ্যে রয়েছে: সওয়াব বৃদ্ধি করা, বরকতের ব্যাপকতা, পারস্পরিক যোগাযোগ ও হৃদ্যতা বৃদ্ধি করা এবং একে অপরের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া যেন তারা অসুস্থদের দেখতে যেতে পারে, জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারে এবং বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করতে পারে। আর যেন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি অর্জিত হয়; এই উদ্দেশ্যেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা মতভেদ করো না, অন্যথায় তোমাদের অন্তরে বিভেদ সৃষ্টি হবে"। ৩
সুতরাং: জামাত এই মহান তাৎপর্য এবং সুউচ্চ হিকমত বা প্রজ্ঞার জন্যই প্রবর্তিত হয়েছে এবং এটি কল্যাণ, ঐক্য ও সংহতির একটি মাধ্যম। কিন্তু যদি জামাতের পুনরাবৃত্তিকে মতভেদ ও বিচ্ছিন্নতার মতো অনিষ্টের (مفسدة) মাধ্যম বা উসিলা (ذريعة) হিসেবে গ্রহণ করা হয় অথবা এটি যদি সেই দিকে ধাবিত করে, তবে তা বিধিসম্মত (مشروع) হবে না।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) ৪ বলেছেন: "অনিষ্টের (مفسدة) দিকে ধাবিতকারী (المفضي) কাজ বা কথা দুই প্রকার
... আর দ্বিতীয়টি হলো: সেই কাজ বা কথা যা কোনো বৈধ বা মুস্তাহাব বিষয়ের দিকে ধাবিত করার জন্য নির্ধারিত, কিন্তু সেটিকে কোনো হারামের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়, চাই তা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত
... যেমন কেউ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩২৯)
يُصلي تطوعاً بغير سبب في أوقات النهي، أو يسبّ أرباب المشركين بين أظهرهم
…" ثم دلّل على المنع بوجوه، فقال:1 "الوجه الثامن والثلاثون: أن الشارع أمر بالاجتماع على إمام واحد في الإمامة الكبرى، وفي الجمعة والعيدين والاستسقاء وصلاة الخوف، مع كون صلاة الخوف بإمامين أقرب إلى حصول صلاة الأمن، وذلك سداً لذريعة التفريق والاختلاف والتنازع، وطلباً لاجتماع القلوب وتآلف الكلمة، وهذا من أعظم مقاصد الشرع، وقد سد الذريعة إلى ما يناقضه بكل طريق، حتى في تسوية الصف في الصلاة، لئلا تختلف القلوب، وشواهد ذلك أكثر من أن تذكر".
قلت: ومن أجل هذا منع جماعة من أهل العلم من تعدد الجمعة في بلد واحد - إذا لم تدع الحاجة إلى التعدد - بأن كان المسجد الكبير كافياً لهم، فلا يجوز في مسجدين إذا حصل الغنى بالمسجد الواحد، قال ابن قدامة: 2 "لا نعلم في هذا مخالفاً إلا أن عطاء قيل له: "إن أهل البصرة لا يسعهم المسجد الأكبر" فقال: "لكل قوم مسجد يجمعون فيه ثم يجزي ذلك عنهم" قال ابن جرير: "فأنكر الناس ذلك أن يجمعوا إلا في المسجد الأكبر" 3 كل ذلك حرصاً على توحيد كلمة المسلمين وردعاً لأهل الأهواء الزائغة الذين يعتزلون المسجد الكبير ويبنون لأنفسهم مساجد أخرى ضراراً وتفريقاً للكلمة وشقاً لعصا المسلمين ليبطلوا المعنى الروحي من هذا الاجتماع العظيم 4، وسداً لذريعة التوصل بما
--------------------------------------------
"নিষিদ্ধ সময়ে কোনো কারণ ছাড়াই নফল সালাত আদায় করা, অথবা মুশরিকদের মাঝে অবস্থানকালে তাদের উপাস্যদের গালি দেওয়া
…" অতঃপর তিনি এর নিষিদ্ধতার সপক্ষে বিভিন্ন কারণ দর্শিয়ে বলেন: ১ "আটত্রিশতম দিক: শরীয়ত প্রণেতা মহা ইমামত (খিলাফত), জুমুআ, দুই ঈদ, ইস্তিসকা এবং ভয়ের নামাজের ক্ষেত্রে একজন ইমামের অধীনে একত্রিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও ভয়ের নামাজ দুজন ইমামের মাধ্যমে আদায় করাটা নিরাপদ অবস্থার নামাজের অধিক কাছাকাছি ছিল, কিন্তু এটি করা হয়েছে অনৈক্য, মতভেদ ও বিবাদের পথ রুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে এবং মানুষের হৃদয়ের ঐক্য ও সংহতি কামনায়। আর এটি শরীয়তের অন্যতম মহান উদ্দেশ্য। যা কিছু এর পরিপন্থী, তার পথ তিনি সম্ভাব্য সকল উপায়ে রুদ্ধ করে দিয়েছেন, এমনকি নামাজের কাতার সোজা করার ক্ষেত্রেও (নির্দেশ দিয়েছেন), যাতে হৃদয়ে বিভেদ সৃষ্টি না হয়। এর সাক্ষ্যপ্রমাণ (شواهد) এত বেশি যে তা উল্লেখ করে শেষ করা যাবে না।"
আমি বলছি: এই কারণেই একদল বিশেষজ্ঞ আলেম এক শহরে একাধিক জুমুআ অনুষ্ঠিত হওয়া নিষিদ্ধ করেছেন—যদি তার কোনো প্রয়োজন না থাকে—অর্থাৎ যদি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সকলের জন্য পর্যাপ্ত হয়। সুতরাং একটি মসজিদেই যদি সংকুলান হয়ে যায়, তবে দুটি মসজিদে জুমুআ জায়েজ নয়। ইবনে কুদামা বলেন: ২ "আমরা এ বিষয়ে কোনো ভিন্নমত জানি না, কেবল আতা (রাহ.)-এর বর্ণনা ব্যতীত। তাঁকে বলা হয়েছিল: 'বসরাবাসীদের জন্য কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে স্থান সংকুলান হচ্ছে না'। তখন তিনি বললেন: 'প্রত্যেক গোত্রের নিজস্ব মসজিদ থাকবে যেখানে তারা জুমুআ আদায় করবে, আর তা-ই তাদের জন্য যথেষ্ট হবে'। ইবনে জারির বলেন: 'মানুষ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও জুমুআ অনুষ্ঠিত হওয়াকে অস্বীকার করেছেন'।" ৩ এই সবকিছুর মূল লক্ষ্য হলো মুসলিমদের ঐক্য রক্ষা করা এবং সেই সব বিভ্রান্ত কুপ্রবৃত্তি পূজারিদের প্রতিহত করা, যারা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ত্যাগ করে এবং ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে ও অনৈক্য সৃষ্টির মানসে নিজেদের জন্য আলাদা মসজিদ তৈরি করে মুসলিমদের ঐক্যে ফাটল ধরায়; যাতে তারা এই মহান সমাবেশের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নস্যাৎ করতে পারে ৪, এবং এটি করা হয়েছে সেই সব উপায় রুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে যার মাধ্যমে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩০)
هو مصلحة إلى مفسدة.
قال الشاطبي: "وقد يقع الترك لوجوه
… ومنها: الترك للمطلوب خوفاً من حدوث مفسدة أعظم من مصلحة ذلك المطلوب كما جاء في حديث عائشة رضي الله عنها: "لولا أن قومك حديثٌ عهدهم بالجاهلية، فأخاف أن تُنكر قلوبهم أن أدخل الجدْر في البيت، وأن ألصِق بابه بالأرض". 1 فما منعه صلى الله عليه وسلم من إعادة بناء البيت الحرام على قواعد إبراهيم عليه السلام إلا خوف حدوث بلبلة بين العرب ومن أن يقولوا: إن محمداً صلى الله عليه وسلم يهدم المقدّسات ويغيّر معالمها. ولهذا قال الشاطبي: "فقد حذر السلف من التلبس بما يجر إلى المفاسد وإن كان أصله مطلوباً" 2 وقال: "إن قاعدة سد الذرائع إنما عمل السلف بها بناء على هذا المعنى
…كإتمام عثمان رضي الله عنه الصلاة في حجه بالناس3 وتسليم الصحابة له في عذره الذي اعتذر به من سد الذريعة" 4 وقد قال لهم: "إني إمام الناس فينظر إليّ الأعراب وأهل البادية أصلي ركعتين، فيقولون: هكذا فرضت". 5
--------------------------------------------
এটি হলো অনিষ্টের চেয়ে কল্যাণের দিকে ধাবিত হওয়া।
ইমাম শাতবি বলেন: "বর্জন (الترك) বিভিন্ন কারণে হতে পারে
… তার মধ্যে একটি হলো: কোনো কাঙ্ক্ষিত বিষয় বর্জন করা এই ভয়ে যে, সেই কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের কল্যাণের চেয়ে বড় কোনো অনিষ্টের সৃষ্টি হতে পারে। যেমনটি আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে এসেছে: 'যদি তোমার সম্প্রদায় জাহেলিয়াতের নিকটবর্তী সময়ের না হতো, তবে তাদের অন্তর এটি প্রত্যাখ্যান করতে পারে—এই আশঙ্কায় আমি কাবাঘরের অংশকে (হাতীম) এর অন্তর্ভুক্ত করা এবং এর দরজা জমিন সংলগ্ন করা থেকে বিরত থাকতাম।' ১ সুতরাং রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ইবরাহিম (আ.)-এর ভিত্তির ওপর পবিত্র কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করা থেকে আর কোনো কিছুই বিরত রাখেনি, কেবল আরবদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা এবং তাদের এই কথা বলার ভয় যে, মুহাম্মদ (সা.) পবিত্র স্থানগুলো ধ্বংস করছেন এবং এর চিহ্নসমূহ পরিবর্তন করছেন। এ কারণেই শাতবি বলেছেন: 'সালাফগণ এমন কাজে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন যা অনিষ্টের দিকে নিয়ে যায়, যদিও মূল বিষয়টি কাঙ্ক্ষিত হয়ে থাকে।' ২ তিনি আরও বলেন: 'অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করার মূলনীতি অনুযায়ী সালাফগণ এই অর্থের ওপর ভিত্তি করেই আমল করেছেন
… যেমন হজ পালনের সময় মানুষের ইমামতি করার ক্ষেত্রে উসমান (রা.)-এর পূর্ণ নামাজ আদায় করা ৩ এবং সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক তার সেই ওজরের কাছে নতিস্বীকার করা যা তিনি অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করার কারণ হিসেবে পেশ করেছিলেন।' ৪ তিনি তাদের উদ্দেশে বলেছিলেন: 'আমি মানুষের ইমাম, গ্রামবাসী ও মরুবাসীরা আমার দিকে লক্ষ্য রাখে; আমি যদি দুই রাকাত নামাজ পড়ি তবে তারা বলবে: এভাবেই নামাজ ফরজ করা হয়েছে।' ৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩১)
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: 1 "المسلم قد يترك المستحب إذا كان في فعله فساد راجح على مصلحته كما ترك النبي صلى الله عليه وسلم بناء البيت على قواعد إبراهيم عليه السلام".
وقال - بعد كلامه في مسألة البسملة في الصلاة -: "أما التعصب لهذه المسائل ونحوها فمن شعائر الفرقة والاختلاف الذي نهينا عنه - إلى أن قال - ويستحب للرجل أن يقصد إلى تأليف القلوب بترك مثل هذه المستحبات، لأن مصلحة التأليف في الدين أعظم من مصلحة فعل مثل هذا".2
قلت: هذا - والله - هو الفقه، فإن تكرار الجماعة مستحب، فإن كان يؤدي إلى مفسدة تفريق كلمة المسلمين وتمزيق وحدتهم وإيقاع الخلاف والفرقة بينهم فإنه يُترك وينهى عنه لأجل مصلحة اتحاد الكلمة ووحدة الصف، وتأليف القلوب الواجب شرعاً، وبه تتحد نصوص الشرع وحِكمها، ومن تدبّر مقاصد الشرع وفَقَه موارده وأدلته وما اشْتملتْ عليه من المصالح لم يَخْفَ عليه رجحان هذا القول وقربه من قواعد الشريعة. وبالله تعالى التوفيق.
وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন: ১ "একজন মুসলিম কখনো কখনো একটি মুস্তাহাব (مستحب) কাজ বর্জন করতে পারেন, যদি তা সম্পাদনের ফলে এমন অনিষ্টের (مفسدة) আশঙ্কা থাকে যা তার কল্যাণের (مصلحة) চেয়ে প্রবল হয়; যেমনটি নবী (সা.) ইব্রাহিম (আ.)-এর ভিত্তির ওপর কাবা ঘর পুনর্নির্মাণ করা বর্জন করেছিলেন।"
সালাতে বিসমিল্লাহ পাঠের মাসআলা নিয়ে আলোচনার পর তিনি আরও বলেছেন: "এসব বা এই জাতীয় মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে গোঁড়ামি করা বিভক্তি ও মতভেদের বহিঃপ্রকাশ, যা থেকে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে। —তিনি আরও বলেন— জনৈক ব্যক্তির জন্য এরূপ মুস্তাহাব (مستحب) বিষয়গুলো বর্জনের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করার সংকল্প করা মুস্তাহাব (مستحب); কেননা দ্বীনের ক্ষেত্রে অন্তর জয় করার কল্যাণ (مصلحة) এই জাতীয় আমল করার কল্যাণের চেয়ে অনেক বড়।"২
আমি বলি: আল্লাহর কসম, এটাই হলো প্রকৃত ফিকহ বা প্রজ্ঞা। কেননা জামাআতের পুনরাবৃত্তি করা মুস্তাহাব (مستحب); কিন্তু যদি তা মুসলিমদের সংহতি নষ্ট করা, তাদের ঐক্য ছিন্নভিন্ন করা এবং তাদের মধ্যে বিরোধ ও বিভেদ সৃষ্টির মতো অনিষ্টের (مفسدة) দিকে ধাবিত করে, তবে ঐক্যের স্বার্থে এবং কাতারবদ্ধ হওয়ার লক্ষ্যে তা বর্জন করা হবে এবং তা থেকে নিষেধ করা হবে। আর মানুষের অন্তর জয় করা শরিয়তগতভাবে ওয়াজিব (واجب)। এর মাধ্যমেই শরিয়তের নস (نصوص) ও তার হিকমতসমূহের মধ্যে সমন্বয় ঘটে। আর যে ব্যক্তি শরিয়তের উদ্দেশ্যসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে এবং এর উৎস ও দলিলসমূহ এবং এতে নিহিত কল্যাণসমূহ (المصالح) অনুধাবন করবে, তার কাছে এই মতের শ্রেষ্ঠত্ব এবং শরিয়তের মূলনীতিসমূহের সাথে এর ঘনিষ্ঠতা গোপন থাকবে না। আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে।
আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩২)
الخاتمة
تطرق هذا البحث بعد بيان فرضية الصلاة وأهمية أدائها جماعة إلى حكم إعادة الجماعة في المسجد بعد جماعة الإمام الراتب.
وقد ظهر اتفاق الفقهاء على أن المسجد إذا لم يكن له أهل معروفون بأن كان على شوارع الطرق أو كان لا إمام له ولا مؤذن فإنه لا يكره فيه تكرار الجماعة.
كما اتضح مذهب جمهور الفقهاء أنه إذا كان مسجد محلة وقد تقدم قوم فصلوا جماعة، ثم جاء الإمام الراتب بعدهم فإن له أن يصلي بأهله جماعة.
أما إذا كان للمسجد إمام راتب ففاتت قوماً فيه الجماعة فهل يصلون جماعة بإمام غير الراتب بعد الراتب؟ ذهب جماعة من الفقهاء إلى المنع من إعادة الجماعة وقالوا يصلون فرادى، وذهب آخرون إلى استحباب إعادة الجماعة بالنسبة لهم إلا في المسجد الحرام والمسجد النبوي فإنه يكره فيهما إعادة الجماعة لئلا يتوانى الناس عن حضور الجماعة مع الراتب في المسجدين إذا أمكنهم الصلاة في جماعة أخرى وذلك في غير عذر كنوم ونحوه.
وقد بينت أدلة الفريقين وذكرت ما أورد عليهما ثم الجواب عن ذلك بالتفصيل، وفي الأخير ترجح لي - بعد النظر إلى أدلة الشرع ومقاصده ومصالحه المعتبرة - أن إعادة الجماعة إذا كان بقصد الاختلاف على الأئمة ومفارقة الجماعة أو لجأ إليها أهل الزيغ والضلال لإظهار نحلتهم وإعلان بدعتهم. فإن الإعادة تمنع حفاظاً على وحدة الصف واتحاد الكلمة ومنعا لأهل الباطل من إظهار بدعتهم.
وأما إذا لم تكن الإعادة على هذا الوجه بأن حصل لقوم تأخروا عن الجماعة لعذر - دون قصد الاختلاف والافتراق ومنابذة الأئمة وإظهار البدعة - فإن الإعادة والتكرار في هذه الحالة لا يُكره، بل يُشرع للأدلة المذكورة، وبه تتحد نصوص الشرع وحِكمها.
وبالله تعالى التوفيق وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.
উপসংহার
সালাতের আবশ্যকতা (فرضية) এবং জামাতে তা আদায় করার গুরুত্ব বর্ণনার পর, এই গবেষণায় নির্ধারিত ইমামের (الإمام الراتب) জামাতের পর মসজিদে পুনরায় জামাত করার বিধান (حكم) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ফকিহগণের (الفقهاء) ঐকমত্য (اتفاق) থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, যদি কোনো মসজিদের নির্দিষ্ট কোনো মুসল্লি না থাকে—যেমন সেটি রাস্তার পাশে অবস্থিত হয় অথবা সেখানে কোনো নির্ধারিত ইমাম বা মুয়াজ্জিন না থাকে—তবে সেখানে জামাতের পুনরাবৃত্তি (تكرار) করা মাকরূহ (يكره) নয়।
একইভাবে জমহুর (جمهور) ফকিহগণের মাজহাব (مذهب) অনুযায়ী এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, যদি কোনো মহল্লার মসজিদে একদল লোক আগে এসে জামাতে সালাত আদায় করে ফেলে এবং এরপর নির্ধারিত ইমাম (الإمام الراتب) আসেন, তবে তিনি তাঁর মুসল্লিদের নিয়ে জামাতে সালাত আদায় করতে পারবেন।
কিন্তু যদি কোনো মসজিদে নির্ধারিত ইমাম (الإمام الراتب) থাকেন এবং একদল লোকের জামাত ছুটে যায়, তবে তাঁরা কি নির্ধারিত ইমামের পর অন্য ইমামের পেছনে জামাতে সালাত আদায় করবেন? একদল ফকিহ (الفقهاء) পুনরায় জামাত করাকে নিষিদ্ধ (المنع) মনে করেছেন এবং বলেছেন তাঁরা একাকী (فرادى) সালাত আদায় করবেন। অন্য একদল পুনরায় জামাত করাকে মুস্তাহাব (استحباب) মনে করেছেন, তবে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী এর ব্যতিক্রম। এই দুই মসজিদে পুনরায় জামাত করা মাকরূহ (يكره), যাতে মানুষ কোনো ওজর (যেমন ঘুম বা অনুরূপ কিছু) ছাড়া অন্য জামাতে শরিক হওয়ার সুযোগ আছে ভেবে এই দুই মসজিদে নির্ধারিত ইমামের সাথে জামাতে উপস্থিত হতে অবহেলা না করে।
আমি উভয় পক্ষের দলিলসমূহ (أدلة) বর্ণনা করেছি এবং সেগুলোর ওপর উত্থাপিত আপত্তি ও বিস্তারিত উত্তর উল্লেখ করেছি। পরিশেষে—শরিয়তের দলিলসমূহ (أدلة), এর উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) এবং গ্রহণযোগ্য কল্যাণসমূহ (المصالح المعتبرة) পর্যালোচনার পর—আমার কাছে এটিই অগ্রগণ্য (ترجح) মনে হয়েছে যে, যদি ইমামদের বিরোধিতা করা এবং মূল জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার উদ্দেশ্যে অথবা পথভ্রষ্ট ও বিচ্যুত উপদল কর্তৃক তাদের মতবাদ প্রচার ও বিদআত (بدعة) প্রকাশের উদ্দেশ্যে পুনরায় জামাত করা হয়, তবে পুনরায় জামাত করা নিষিদ্ধ করা হবে। এটি করা হবে মুসলিমদের ঐক্য ও সংহতি রক্ষার স্বার্থে এবং বাতিলপন্থিদের বিদআত (بدعة) প্রকাশে বাধা দেওয়ার জন্য।
কিন্তু যদি পুনরায় জামাত করার উদ্দেশ্য এমন না হয়, বরং কোনো ওজরের কারণে একদল লোক জামাতে উপস্থিত হতে দেরি করে ফেলে—ইমামদের সাথে বিরোধিতা, বিচ্ছিন্নতা বা বিদআত (بدعة) প্রকাশের উদ্দেশ্য ছাড়া—তবে সেই ক্ষেত্রে পুনরায় জামাত করা (تكرار) মাকরূহ (يكره) নয়, বরং উল্লিখিত দলিলসমূহের (أدلة) ভিত্তিতে তা শরিয়তসম্মত (يُشرع)। এর মাধ্যমেই শরিয়তের নস (نصوص) ও হিকমতসমূহ (حكم) সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
আল্লাহ তাআলার কাছেই তাওফিক (التوفيق) প্রার্থনা করছি এবং আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবিদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩০৫)
حكم تكرار الجماعة في المسجد
إعداد: د. محمد طاهر حكيم
الأستاذ المساعد في الجامعة الإسلامية العالمية في إسلام آباد
ال
مقدمةالحمد لله والصلاة والسلام على سيد المرسلين صلوات الله وسلامه عليه وعلى آله وصحبه ومن سار على نهجه إلى يوم الدين، وبعد:
فإن الصلاة إحدى أركان الإسلام الخمسة، وأهم دعائم الدين التي لا يقوم بناؤه إلا بها، ولا يرتكز إلا عليها وبها مع أركان الإسلام الأخرى يدخل المرء في جماعة المسلمين، وقد فرضها الله سبحانه في كتابه فقال سبحانه: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} 1 وبين النبي صلى الله عليه وسلم فرضيتها ووضح مكانتها في الدين فقال صلى الله عليه وسلم في حديث معاذ المشهور لما بعثه إلى اليمن: "إنك تأتي قوما من أهل الكتاب فادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله وأني رسول الله فإن أطاعوا لذلك فأعلمهم أن الله تعالى افترض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة" الحديث2.
وقد ندب الشارع الناس إلى أداء الصلاة جماعة3 تعبدا لله وتحقيقاً للتعارف والتآلف والتعاون بين المسلمين، ولغرس معاني الود والمحبة والرحمة في قلوبهم حتى يشعر كل واحد منهم نحو الآخر أنه أخوه يشاركه في آماله وآلامه، هذا بالإضافة إلى مضاعفة الثواب وعموم البركة.
--------------------------------------------
মসজিদে জামাতের পুনরাবৃত্তির বিধান
প্রস্তুতিতে: ড. মুহাম্মদ তাহের হাকিম
ইসলামবাদ আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সর্দার (মুহাম্মদ)-এর ওপর, আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথ অনুসরণ করবেন তাদের ওপর বর্ষিত হোক। অতঃপর:
নিশ্চয়ই সালাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং দ্বীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, যা ছাড়া এর ইমারত দণ্ডায়মান হয় না এবং যা ছাড়া এটি প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে না। সালাত ও ইসলামের অন্যান্য স্তম্ভের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি মুসলিম জামাতের অন্তর্ভুক্ত হয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে এটি ফরজ করেছেন, তিনি ইরশাদ করেছেন: {তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো} ১ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আবশ্যকতা বর্ণনা করেছেন এবং দ্বীনে এর গুরুত্ব স্পষ্ট করেছেন। মুয়াজ (রা.)-কে যখন তিনি ইয়েমেনে প্রেরণ করেন, তখন তাঁর প্রসিদ্ধ হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ, তাই তুমি তাদের এই সাক্ষ্য প্রদানের প্রতি আহ্বান জানাবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তা মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর প্রতি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন" - হাদিস ২।
শরিয়ত প্রণেতা আল্লাহর ইবাদতস্বরূপ এবং মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি, সম্প্রীতি ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সালাত জামাতে আদায় করার ৩ প্রতি উৎসাহিত করেছেন, যাতে তাদের হৃদয়ে সখ্যতা, ভালোবাসা ও দয়ার বীজ বপন হয় এবং তাদের প্রত্যেকে অন্যের প্রতি ভ্রাতৃত্ব অনুভব করে এবং একে অপরের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও দুঃখ-কষ্টে শরিক হয়। এর পাশাপাশি সওয়াব বৃদ্ধি এবং বরকতের ব্যাপকতা তো রয়েছেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩০৬)
وقد اتفق العلماء على أن الجماعة من أوكد العبادات وأجل الطاعات وأعظم شعائر الإسلام، وقد بين النبي صلى الله عليه وسلم فضلها وحث على حضورها فقال عليه الصلاة والسلام: "صلاة الجماعة أفضل من صلاة الفذ بسبع وعشرين درجة" وفي رواية: "بخمس وعشرين درجة" 1 وقال عليه الصلاة والسلام: "بشّر المشّاءين في الظلم إلى المساجد بالنور التام يوم القيامة" 2.
وقال ابن مسعود رضي الله عنه: "من سره أن يلقى الله تعالى غداً مسلماً فليحافظ على هؤلاء الصلوات، حيث ينادى بهن فإن الله تعالى شرع لنبيكم صلى الله عليه وسلم سنن الهدى، وأنهن من سنن الهدى، ولو أنكم صليتم في بيوتكم كما يصلي هذا المتخلف في بيته لتركتم سنة نبيكم، ولو تركتم سنة نبيكم لضللتم
… ولقد رأيتنا وما يتخلف عنها إلا منافق معلوم النفاق
… "3.
إذا كان هذا فضل صلاة الجماعة ومكانتها، فماذا عن حكم إعادة الجماعة وتكرارها، أعني: إذا صلى الإمام الراتب بجماعة، ثم بعد انصرافه حضر أناس فاتتهم الجماعة، فهل لهم أن يصلوا تلك الصلاة جماعة بعد جماعة الإمام الراتب في المسجد أم ليس لهم ذلك؟ هذا هو موضوع البحث.
وتكمن أهمية الموضوع - فيما يُرى - في تكرار الجماعة في بعض المساجد بعد جماعة الإمام الراتب، وما يثير ذلك من إشكالات ويترك من آثار على الأمة المسلمة ووحدتها وتماسكها، إذ يحتمل أن يكون تأخر بعض هؤلاء إهمالاً وعدم
--------------------------------------------
আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, জামাত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, মহান আনুগত্য এবং ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। নবী (সা.) এর ফযিলত বর্ণনা করেছেন এবং এতে উপস্থিত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি (সা.) বলেছেন: "জামাতে নামাজ একাকী পড়ার চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি ফযিলতপূর্ণ।" অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: "পঁচিশ গুণ।" 1 আর তিনি (সা.) বলেছেন: "অন্ধকারে মসজিদের দিকে হেঁটে গমনকারীদের কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও।" 2.
ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আগামীকাল মুসলিম হিসেবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করে, সে যেন এই নামাজগুলোর প্রতি যত্নবান হয় যেখানে সেগুলোর জন্য আজান দেওয়া হয়। কারণ আল্লাহ তাআলা তোমাদের নবীর (সা.) জন্য হিদায়াতের সুন্নাতসমূহ প্রবর্তন করেছেন, আর এগুলো হিদায়াতের সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তোমরা যদি তোমাদের ঘরে নামাজ পড়ো, যেমন এই পিছিয়ে পড়া ব্যক্তিটি তার ঘরে নামাজ পড়ে, তবে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত বর্জন করলে। আর যদি তোমরা নবীর সুন্নাত বর্জন করো, তবে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে
… আমি আমাদের এমন অবস্থায় দেখেছি যে, সুপরিচিত মুনাফিক (منافق) ছাড়া আর কেউই জামাত থেকে পিছিয়ে থাকত না
… "3.
জামাতে নামাজের ফযিলত ও মর্যাদা যদি এই হয়, তবে পুনরায় জামাত অনুষ্ঠান ও এর পুনরাবৃত্তির বিধান (حكم) কী? অর্থাৎ: যদি নির্ধারিত ইমাম জামাতের সাথে নামাজ পড়ান, অতঃপর তার চলে যাওয়ার পর এমন কিছু লোক উপস্থিত হয় যাদের জামাত ছুটে গেছে, তবে তাদের কি মসজিদে নির্ধারিত ইমামের জামাতের পর পুনরায় জামাতে নামাজ পড়ার অধিকার আছে, নাকি নেই? এটিই এই গবেষণার বিষয়বস্তু।
এই বিষয়ের গুরুত্ব—যতটুকু দেখা যায়—নির্ধারিত ইমামের জামাতের পর কিছু মসজিদে পুনরায় জামাত অনুষ্ঠানের মধ্যে নিহিত, যা নানা জটিলতা সৃষ্টি করে এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির ওপর প্রভাব ফেলে। কারণ হতে পারে এদের মধ্যে কারও বিলম্ব করাটা ছিল অবহেলা ও অনিচ্ছার কারণে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩০৭)
مراعاة لأوقات الصلاة ظنّاً منهم أن بإمكانهم إقامة الجماعة الثانية والثالثة.. ويحتمل أن يكون تخلف طائفة منهم لإظهار بدعتهم وضلالهم وظنهم أنهم يقيمونها أفضل مما يقيمها الإمام الراتب، وقد يتخذ بعض الناس من إعادة الجماعة وتكرارها ذريعة لمنابذة الأئمة ومفارقة الجماعة وتفريق كلمة المسلمين وتمزيق وحدتهم شذر مذر.
كما أن بعضهم قد يكون تأخر عن الجماعة لعذر فيريد أن يصليها جماعة لينال ثوابها كما ينال ثواب الجماعة الأولى.
أمام هذه الاحتمالات والحالات كان لابد من دراسة هذه المسألة في ضوء نصوص الوحي والمصالح الشرعية لبيان حكم الشرع فيها.
لأجل هذا قمت بإعداد هذا البحث مبيناً فيه تحرير محل الن-زاع وأقوال الفقهاء وأدلتهم؛ ومناقشتها، محاولاً الوصول إلى القول الراجح بعد النظر إلى مقاصد الشرع ومصالحه المعتبرة، في لغة مُيسّرة وعبارة واضحة وأسلوب سهل وفق المنهج العلمي المتبع - قدر المستطاع - وجعلته بعنوان: (حكم تكرار الجماعة في المسجد)
ونظراً لطبيعة الموضوع فقد جاء تقسيمه إلى موضوعات متتابعة في إطار المعالجة الموضوعية التي تتطلبها طبيعة البحث والمادة العلمية المتاحة له.
وأسأل الله تعالى أن ينفعني به وإخوتي المسلمين وأن يوفقنا جميعاً إلى ما يحبه ويرضاه، إنه سميع مجيب، وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب.
وصلى الله وسلم على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين والحمد لله رب العالمين.
সালাতের ওয়াক্তসমূহের প্রতি লক্ষ্য রেখে তারা ধারণা করে যে, তারা দ্বিতীয় বা তৃতীয় জামাত কায়েম করতে সক্ষম... আবার এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে, তাদের একটি দল তাদের বিদআত (بدعة) ও গোমরাহি (ضلال) প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে এবং নির্ধারিত ইমামের (الإمام الراتب) চেয়ে তারা উত্তমভাবে সালাত আদায় করতে পারবে—এমন ধারণা থেকে জামাত ত্যাগ করে। কিছু মানুষ জামাত পুনরাবৃত্তি করাকে ইমামদের বিরোধিতা করা, মূল জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট করা এবং তাদের সংহতিকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করার অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।
আবার তাদের কেউ কেউ কোনো ওজরের কারণে জামাতে আসতে দেরি করে থাকতে পারেন, ফলে তিনি জামাতের সাথে সালাত আদায় করতে চান যাতে প্রথম জামাতের সওয়াবের ন্যায় সওয়াব লাভ করতে পারেন।
এই সকল সম্ভাবনা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ওহি (الوحي) এর নসসমূহ (نصوص) এবং শরয়ী স্বার্থের (المصالح الشرعية) আলোকে এ বিষয়টি অধ্যয়ন করা আবশ্যক ছিল, যাতে এর শরয়ী বিধান (حكم الشرع) স্পষ্ট করা যায়।
এই কারণেই আমি এই গবেষণাটি প্রস্তুত করেছি, যেখানে বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দু (تحرير محل النزاع), ফকিহগণের মতামত ও তাদের দলিলসমূহ এবং সেগুলোর পর্যালোচনার বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। শরিয়তের মাকাসিদ (مقاصد الشرع) ও এর গ্রহণযোগ্য স্বার্থসমূহ বিবেচনার পর আমি একটি অগ্রগণ্য অভিমতে (القول الراجح) পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। এটি সহজ ভাষা, স্পষ্ট বর্ণনা এবং সাবলীল ভঙ্গিতে অনুসরণীয় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুযায়ী—সাধ্যানুসারে—সম্পন্ন করেছি এবং এর শিরোনাম দিয়েছি: (মসজিদে জামাতের পুনরাবৃত্তির বিধান)।
বিষয়ের প্রকৃতির বিবেচনায় এটিকে পর্যায়ক্রমিক কতগুলো উপ-বিষয়ে বিভক্ত করা হয়েছে, যা গবেষণার প্রকৃতি এবং সহজলভ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তের আলোকে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনার দাবি রাখে।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে আমাকে এবং আমার মুসলিম ভাইদের উপকৃত করেন এবং আমাদের সকলকে সেই তাওফিক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর সাহায্যেই, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।
আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩৩)
مصادر ومراجع…المراجع
1. أحكام القرآن لابن العربي المالكي، تعليق محمد عبد القادر، دار الفكر.
2. الاستذكار لابن عبد البر تحقيق عبد المعطي قلعجي، القاهرة 1393هـ.
3. الأصل للإمام محمد بن الحسن الشيباني. ط.الهند 1393هـ
4. إعلاء السنن للعلامة ظفر أحمد العثماني. كراتشي. ط: الأولى.
5. أعلام الموقعين عن رب العالمين للإمام محمد بن أبي بكر ابن القيم الجوزية، دار الجيل، بيروت.
6. الأم للإمام محمد إدريس الشافعي تحقيق محمود مطر جي، دار الكتب العلمية، بيروت 1413هـ.
7. بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع للإمام علاء الدين الكاساني، مطبعة العاصمة، القاهرة.
8. تحفة الأحوذي بشرح الترمذي للعلامة محمد بن عبد الرحمن المباركفوري، المكتبة السلفية، المدينة المنورة 1385هـ.
9. التفريع لابن الجلاب البصري المالكي ط: دار الغرب الإسلامي.
10. التلخيص الحبير في تخريج الرافعي الكبير للحافظ ابن حجر تحقيق عبد الله هاشم اليماني، المدينة المنورة.
11. حاشية الروض المربع شرح زاد المستقنع لعبد الرحمن محمد النجدي 1397هـ.
12. الدر المختار للعلامة محمد أمين بن عابدين طبع مصطفى البابي الحلبي 1386هـ.
13. سنن الترمذي للإمام أبي عيسى محمد الترمذي، المكتبة السلفية، المدينة المنورة 1385هـ.
14. سنن أبي داود للحافظ أبي داود سليمان بن أشعث السجستاني، دار الحديث.
15. سنن ابن ماجه للإمام محمد بن يزيد القزويني، دار إحياء التراث العربي
উৎস ও তথ্যসূত্র…তথ্যসূত্রসমূহ
১. ইবনুল আরাবি আল-মালিকি রচিত আহকামুল কুরআন, টীকা: মুহাম্মদ আব্দুল কাদির, দারুল ফিকর।
২. ইবনে আব্দুল বার রচিত আল-ইস্তিদকার, সম্পাদনা: আব্দুল মুতি কালাজি, কায়রো ১৩৯৩ হিজরি।
৩. ইমাম মুহাম্মদ বিন হাসান আশ-শায়বানি রচিত আল-আসল। ভারত সংস্করণ ১৩৯৩ হিজরি।
৪. আল্লামা জাফর আহমদ উসমানি রচিত ইলাউস সুনান। করাচি। প্রথম সংস্করণ।
৫. ইমাম মুহাম্মদ বিন আবি বকর ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ রচিত ইলামুল মুয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামিন, দারুল জিল, বৈরুত।
৬. ইমাম মুহাম্মদ ইদ্রিস আশ-শাফিয়ি রচিত আল-উম্ম, সম্পাদনা: মাহমুদ মাতারজি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত ১৪১৩ হিজরি।
৭. ইমাম আলাউদ্দিন আল-কাসানি রচিত বাদাউস সানায়ি ফি তারতিবিশ শারায়ে, মাতবাআতুল আসিমাহ, কায়রো।
৮. আল্লামা মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-মুবারকপুরি রচিত তুহফাতুল আহওয়াজি বিশারহি তিরমিজি, আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ, মদিনা মুনাওয়ারাহ ১৩৮৫ হিজরি।
৯. ইবনুল জাল্লাব আল-বাসরি আল-মালিকি রচিত আত-তাফরি। প্রকাশনী: দারুল গারবিল ইসলামি।
১০. হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার রচিত আত-তালখিসুল হাবির ফি তাখরিজি রাফিয়িল কাবির, সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ হাশেম আল-ইয়ামানি, মদিনা মুনাওয়ারাহ।
১১. আব্দুর রহমান মুহাম্মদ আল-নাজদি রচিত হাশিয়াতুর রওদিল মুরবি শারহু জাদিল মুস্তাকনি ১৩৯৭ হিজরি।
১২. আল্লামা মুহাম্মদ আমিন বিন আবেদিন রচিত আদ-দুররুল মুখতার, প্রকাশনা: মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি ১৩৮৬ হিজরি।
১৩. ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মদ তিরমিজি রচিত সুনানে তিরমিজি, আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ, মদিনা মুনাওয়ারাহ ১৩৮৫ হিজরি।
১৪. হাফিজ (الحافظ) আবু দাউদ সুলাইমান বিন আশআস আস-সিজিস্তানি রচিত সুনানে আবু দাউদ, দারুল হাদিস।
15. ইমাম মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আল-কাজভিনি রচিত সুনানে ইবনে মাজাহ, দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি।
(খণ্ড: ১)
হুকমু তিকরারিল জামায়াতি ফিল মাসজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩৪)
1395هـ.
16. السنن الكبرى للإمام أحمد بن الحسين البيهقي، الهند 1355هـ.
17. شرح الزرقاني على الموطأ لسيدي محمد الزرقاني، دار الفكر.
18. شرح السنة للإمام الحسين بن مسعود البغوي، المكتب الإسلامي 1390هـ.
19. صحيح البخاري للإمام محمد بن إسماعيل البخاري، الطبعة السلفية، القاهرة.
20. صحيح ابن حبان بترتيب ابن بلبان تحقيق شعيب الأرنؤوط، مؤسسة الرسالة 1418هـ.
21. صحيح مسلم مع شرح النووي، دار إحياء التراث العربي، بيروت.
22. عمدة القارئ شرح صحيح البخاري للعلامة بدر الدين العيني، دار الفكر، بيروت.
23. فتح الباري شرح صحيح البخاري، للحافظ ابن حجر، الطبعة السلفية.
24. الفروع لابن مفلح الحنبلي، عالم الكتب، الطبعة الرابعة 1405هـ.
25. الكافي في فقه أهل المدينة المالكي لابن عبد البر، مكتبة الرياض الحديثة، الرياض 1398هـ.
26. الكامل في ضعفاء الرجال لابن عدي، دار الفكر 1409هـ.
27. كشاف القناع عن متن الإقناع للعلامة منصور البهوتي، ط: مكة المكرمة 1394هـ.
28. المبدع في شرح المقنع لإبراهيم بن مفلح الحنبلي، المكتب الإسلامي.
29. مجمع الزوائد ومنبع الفوائد للحافظ نور الدين الهيثمي، القاهرة.
30. مجموع الفتوى لشيخ الإسلام ابن تيمية، جمع عبد الرحمن بن محمد وابنه، طبع المغرب.
31. المجموع شرح المهذب للإمام أبي زكريا النووي (مع التلخيص الحبير) دار الفكر.
32. المحرر في الفقه لمجد الدين أبي البركات عبد السلام الحراني، مكتبة المعارف، الرياض 1404هـ.
১৩৯৫ হিজরি।
16. ইমাম আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-বাইহাকি রচিত আস-সুনান আল-কুবরা, ভারত ১৩৫৫ হিজরি।
17. সিদি মুহাম্মদ আল-জারকানি রচিত মুয়াত্তার ওপর শারহ আল-জারকানি, দার আল-ফিকর।
18. ইমাম আল-হুসাইন বিন মাসউদ আল-বাগাওয়ি রচিত শারহুস সুন্নাহ, আল-মাকতাব আল-ইসলামি ১৩৯০ হিজরি।
19. ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি রচিত সহিহ বুখারি, আল-মাতবাআহ আস-সালাফিয়া, কায়রো।
20. শুয়াইব আল-আরনাউত কর্তৃক সম্পাদিত এবং ইবনে বালবান কর্তৃক বিন্যাসকৃত সহিহ ইবনে হিব্বান, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ ১৪১৮ হিজরি।
21. ইমাম নববি-র ব্যাখ্যাগ্রন্থসহ সহিহ মুসলিম, দার ইহয়া আত-তুরাস আল-আরাবি, বৈরুত।
22. আল্লামা বদরুদ্দিন আল-আইনি রচিত সহিহ বুখারি-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ উমদাতুল কারি, দার আল-ফিকর, বৈরুত।
23. হাফিজ ইবনে হাজার রচিত সহিহ বুখারি-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারি, আল-মাতবাআহ আস-সালাফিয়া।
24. ইবনে মুফলিহ আল-হাম্বলি রচিত আল-ফুরু, আলম আল-কুতুব, চতুর্থ সংস্করণ ১৪০৫ হিজরি।
25. ইবনে আব্দুল বার রচিত আহলে মদিনার মালিকি ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থ আল-কাফি, মাকতাবাতুর রিয়াদ আল-হাদিসা, রিয়াদ ১৩৯৮ হিজরি।
26. ইবনে আদি রচিত দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীদের ওপর আল-কামিল, দার আল-ফিকর ১৪০৯ হিজরি।
27. আল্লামা মানসুর আল-বাহুতি রচিত মাতনুল ইকনা-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ কাশশাফ আল-কিনা, মক্কা আল-মুকাররামা ১৩৯৪ হিজরি।
28. ইব্রাহিম বিন মুফলিহ আল-হাম্বলি রচিত আল-মুকনি-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-মুবদি, আল-মাকতাব আল-ইসলামি।
29. হাফিজ নুরউদ্দিন আল-হাইসামি রচিত মাজমাউজ জাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ, কায়রো।
30. শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রচিত মাজমুউল ফাতাওয়া, আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ ও তাঁর পুত্রের সংকলন, মরক্কো মুদ্রিত।
31. ইমাম আবু জাকারিয়া আল-নববি রচিত আল-মাজমু শারহ আল-মুহাজ্জাব (আল-তালখিস আল-হাবির সহ), দার আল-ফিকর।
32. মাজদ উদ্দীন আবি আল-বারাকাত আব্দুস সালাম আল-হাররানি রচিত ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থ আল-মুহাররার, মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ ১৪০৪ হিজরি।