(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
حقيقة الإقالة دراسة نظرية تطبيقية القسم: مسائل فقهية
الكتاب: حقيقة الإقالة دراسة نظرية تطبيقية
المؤلف: عبد الله بن عبد الواحد الخميس
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة الخامسة والثلاثون. العدد 121 - (1424هـ)
عدد الصفحات: 324
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইকালার (চুক্তি রদ) প্রকৃত স্বরূপ: একটি তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক অধ্যয়ন বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: ইকালার প্রকৃত স্বরূপ: একটি তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক অধ্যয়ন
লেখক: আবদুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-খামিস
প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: পঁয়ত্রিশতম বর্ষ. সংখ্যা ১২১ - (১৪২৪ হিজরি)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২৯)
ال
مقدمةالحمد لله حث على العلم وشرف حملته، ورفع درجة أهله ومنْزلته وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليماً كثيراً إلى يوم الدين.
أما بعد:
فإن التفقه في الدين من أفضل القربات التي تستحق بها نفائس الأوقات لأنه السبيل الذي تعرف به العباد الأحكام التي تعبد الله بها على بصيرة، وتميز بين الحلال والحرام، وكما يلزم المسلم معرفة عبادته لربه كذلك يلزمه أن يعرف حكم تعامله مع غيره، وما يترتب على هذا التعامل من الأحكام الفقهية.
وبما أن الإقالة من المسائل التي ناقشها الفقهاء، واختلفت فيها وجهات النظر وتباينت في تنظيرها رأيت أنه من المناسب الكتابة في هذا الموضوع المهم وقد جعلت البحث في (حقيقة الإقالة دراسة نظرية وتطبيقية) وقد دفعني إلى اختيار هذا الموضوع عدة أسباب من أهمها ما يلي:
1 أن موضوع حقيقة الإقالة لم يفرده أحد بالبحث حسب علمي وإن كان هناك بحوث يدخل في ضمنها، فيكون واحدا من مسائل كثيرة تبحث في تلك البحوث، ومن أبرز من تناول هذا الموضوع:
أد. عبد اللطيف عامر في بحثه الموسوم ب: الإقالة في العقود في الفقه والقانون (مطبوع بدار مرجان للطباعة بالقاهرة) وهو بحث يغلب عليه الإيجاز والعناية بالمذهب الحنفي إضافة إلى مقارنته بالقانون.
ب د. إبراهيم بن عبد الرحمن العروان في أطروحته للدكتوراه» الإقالة والفسخ في عقود المعاوضات المالية في الفقه الإسلامي «وهي رسالة جيدة في
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জ্ঞানের প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং এর বাহকদের সম্মানিত করেছেন, আর জ্ঞানীদের মর্যাদা ও অবস্থান সমুন্নত করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক ও অদ্বিতীয় এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল; তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করা বা ফিকহ (فقه) চর্চা করা সর্বোত্তম ইবাদতগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যার জন্য মূল্যবান সময় ব্যয় করা সার্থক। কারণ এটিই সেই পথ যার মাধ্যমে বান্দাগণ সেই সকল বিধানাবলি জানতে পারে যার ভিত্তিতে তারা দূরদৃষ্টির (بصيرة) সাথে আল্লাহর ইবাদত করে এবং হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে। আর একজন মুসলিমের জন্য যেমন তার প্রতিপালকের ইবাদত সম্পর্কে জানা আবশ্যক, তেমনিভাবে তার জন্য অন্যের সাথে পারস্পরিক লেনদেনের বিধানাবলি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ফিকহী বিধিবিধানগুলো জানাও অপরিহার্য।
যেহেতু ইকালা (إقالة) এমন একটি বিষয় যা ফকিহগণ (فقهاء) আলোচনা করেছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের বৈচিত্র্য বিদ্যমান, তাই আমি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লেখাটি সমীচীন মনে করেছি। আমি আমার এই গবেষণার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করেছি: "ইকালার (إقالة) স্বরূপ: একটি তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পর্যালোচনা"। এই বিষয়টি নির্বাচনের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে প্রধানগুলো হলো নিম্নরূপ:
১. আমার জানামতে ইকালার (إقالة) স্বরূপ বিষয়টি নিয়ে এর আগে স্বতন্ত্রভাবে কেউ কোনো গবেষণা করেননি, যদিও এমন কিছু গবেষণা রয়েছে যার অধীনে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে সেসব গবেষণায় আলোচিত বহু প্রসঙ্গের মধ্যে এটি একটি বিষয় হিসেবে গণ্য হয়েছে। যারা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
ক. অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ আমের, তাঁর "ইসলামি ফিকহ ও আইনে চুক্তির ক্ষেত্রে ইকালা (إقالة)" (কায়রোর দারুল মারজান প্রিন্টিং থেকে প্রকাশিত) শীর্ষক গবেষণায়। এটি মূলত একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা যেখানে হানাফি মাযহাবের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপের পাশাপাশি প্রচলিত আইনের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
খ. ড. ইব্রাহিম বিন আব্দুর রহমান আল-আরওয়ান, তাঁর পিএইচডি অভিসন্দর্ভ "ইসলামি ফিকহে আর্থিক বিনিময় চুক্তির ক্ষেত্রে ইকালা (إقالة) ও চুক্তি বিলোপ (فسخ)"-এ। এটি একটি চমৎকার অভিসন্দর্ভ...
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩০)
موضوعها، وقد اعتنى الباحث بأحكام الإقالة والفسخ في العقود، ولكنه لم يعن بحقيقتها ومن ذلك انعقادها بلفظها وبغير لفظها ولا بالمسائل التطبيقية على الخلاف فيها.
والبحث الذي أقدمه خاص بحقيقة الإقالة، ولن أتعرض فيه لأحكامها.
2 أن الإقالة من المسائل الفقهية التي اختلف الفقهاء في التكييف الفقهي لها مما يؤدي إلى الاختلاف في تطبيقها.
3 أن بعض الفقهاء ذكر بعض المسائل التطبيقية في الإقالة لكن دراسته لها كانت دراسة مذهبية موجزة وقاصرة على بعض عناصرها كما فعل السيوطي في الأشباه والنظائر 1 لذا كان لابد من تجلية هذا الجانب والعناية به وأرجو أن أوفق في عرض هذا البحث بأسلوب فقهي يسهل على القارئ فهمه وإدراك المراد فيه.
وقد قسمت البحث إلى قسمين:
القسم الأول: الدراسة النظرية وتشمل ستة مباحث:
المبحث الأول: تحديد المراد بالإقالة وتحته مطلبان:
المطلب الأول: تعريف الإقالة.
المطلب الثاني: الألفاظ ذات الصلة بها.
المبحث الثاني: حكم الإقالة وتحته ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: الحكم التكليفي للإقالة.
المطلب الثاني: الأدلة على مشروعيتها.
المطلب الثالث: الحكمة من مشروعيتها.
--------------------------------------------
এর বিষয়বস্তু; গবেষক চুক্তিসমূহের ক্ষেত্রে ইক্বালাহ (চুক্তি রদ) এবং ফাসখ (চুক্তি বাতিলকরণ)-এর বিধানাবলির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, কিন্তু তিনি এর প্রকৃত রূপ (হাক্বীক্বাত) নিয়ে আলোচনা করেননি। এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো—সুনির্দিষ্ট শব্দের মাধ্যমে বা শব্দ ব্যতিরেকে এটি সম্পন্ন হওয়া এবং এ সংক্রান্ত মতপার্থক্যপূর্ণ প্রায়োগিক মাসআলাসমূহ।
আমি যে গবেষণাটি পেশ করছি তা মূলত ইক্বালাহ-এর প্রকৃত রূপ সংক্রান্ত এবং এতে আমি এর বিধানাবলি (আহকাম) নিয়ে আলোচনা করব না।
২. নিশ্চয়ই ইক্বালাহ এমন একটি ফিকহি বিষয় যার ফিকহি স্বরূপ নির্ধারণে (তাকয়িফ ফিকহি) ফকিহগণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন, যার ফলে এর প্রয়োগের ক্ষেত্রেও মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে।
৩. নিশ্চয়ই কিছু ফকিহ ইক্বালাহ-এর কিছু প্রায়োগিক মাসআলা উল্লেখ করেছেন, তবে তাদের এই অধ্যয়ন ছিল মাযহাব-ভিত্তিক, সংক্ষিপ্ত এবং এর কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ; যেমনটি সুয়ূতী আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির গ্রন্থে করেছেন। তাই এই দিকটি স্পষ্ট করা এবং এর প্রতি যত্নবান হওয়া আবশ্যক ছিল। আমি আশা করি এই গবেষণাটি এমন একটি ফিকহি শৈলীতে উপস্থাপন করতে সফল হব যা পাঠকের জন্য অনুধাবন করা এবং এর উদ্দেশ্য উপলব্ধি করা সহজ করবে।
আমি গবেষণাপত্রটিকে দুই ভাগে ভাগ করেছি:
প্রথম অংশ: তাত্ত্বিক অধ্যয়ন এবং এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইক্বালাহ-এর স্বরূপ নির্ধারণ এবং এর অধীনে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইক্বালাহ-এর সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর সাথে সংশ্লিষ্ট শব্দাবলি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইক্বালাহ-এর বিধান এবং এর অধীনে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইক্বালাহ-এর শরয়ি বিধান (হুকুম তাকলিফি)।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর বৈধতার সপক্ষে দলীলসমূহ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এর বৈধতার হিকমত বা তাৎপর্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩১)
المبحث الثالث: صيغة الإقالة وتحته مطلبان:
المطلب الأول: الإقالة بلفظها.
المطلب الثاني: الإقالة بغير لفظها وفيه ست مسائل:
المسألة الأولى: الإقالة بلفظ الفسخ أو الترك أو التراد.
المسألة الثانية: الإقالة بلفظ البيع.
المسألة الثالثة: الإقالة بلفظ الصلح.
المسألة الرابعة: الإقالة بلفظ المعاطاة.
المسألة الخامسة: الإقالة بالكتابة.
المسألة السادسة: الإقالة بالإشارة.
المبحث الرابع: التكييف الفقهي للإقالة.
المبحث الخامس: أركان وشروط صحة الإقالة وتحته مطلبان:
المطلب الأول: في أركان الإقالة.
المطلب الثاني: في شروط صحة الإقالة.
المبحث السادس: محل الإقالة.
القسم الثاني: الدراسة التطبيقية وقمت فيه بدراسة ثلاثين مسألة، والمسائل المذكورة يقصد من ذكرها التمثيل لا الحصر، لأنها أكثر من أن تحصر، وقد توخيت الاختصار في دراسة المسائل، وحاولت عدم التعمق في الخلاف وذكر المخالفين لأن ذلك سيطيل البحث، وقد جمعت أقوال العلماء في موضوع البحث من مصادرها الأصلية، فإن لم يكن فإلى أقرب مصدر يمكن أن يؤخذ منه القول، وحققت في نسبة الأقوال إلى أصحابها، وقمت أحياناً بالتوثيق بالنص من كتب الفقهاء إذا رأيت أن الحاجة داعية إلى ذلك واضعا ذلك بين قوسين،
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইকালা (إقالة) -এর শব্দ এবং এর অধীনে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: নিজ শব্দের মাধ্যমে ইকালা (إقالة)।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: নিজ শব্দ ব্যতীত অন্য শব্দের মাধ্যমে ইকালা (إقالة) এবং এতে ছয়টি মাসয়ালা রয়েছে:
প্রথম মাসয়ালা: চুক্তি রহিতকরণ (فسخ), বর্জন (ترك) অথবা প্রত্যর্পণ (تراد) শব্দের মাধ্যমে ইকালা (إقالة)।
দ্বিতীয় মাসয়ালা: ক্রয়-বিক্রয় (بيع) শব্দের মাধ্যমে ইকালা (إقالة)।
তৃতীয় মাসয়ালা: আপস-নিষ্পত্তি (صلح) শব্দের মাধ্যমে ইকালা (إقالة)।
চতুর্থ মাসয়ালা: মু’আতাত (معاطاة) বা আদান-প্রদান শব্দের মাধ্যমে ইকালা (إقالة)।
পঞ্চম মাসয়ালা: লিখিতভাবে (كتابة) ইকালা (إقالة)।
ষষ্ঠ মাসয়ালা: ইশারার (إشارة) মাধ্যমে ইকালা (إقالة)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইকালা (إقالة)-এর ফিকহী স্বরূপ নির্ধারণ (تكييف فقهي)।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইকালা (إقالة) শুদ্ধ হওয়ার রোকন (أركان) ও শর্তাবলি (شروط) এবং এর অধীনে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: ইকালা (إقالة)-এর রোকনসমূহ (أركان) প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: ইকালা (إقالة) শুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলি (شروط صحة) প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ইকালা (إقالة)-এর ক্ষেত্র (محل)।
দ্বিতীয় অংশ: প্রায়োগিক বিশ্লেষণ (دراسة تطبيقية); এতে আমি ত্রিশটি মাসয়ালা পর্যালোচনা করেছি। উল্লিখিত মাসয়ালাগুলো উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো উদাহরণ পেশ করা, সীমাবদ্ধ করা নয়; কারণ এগুলো সীমাবদ্ধ করার চেয়েও অধিক। আমি মাসয়ালাগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করেছি এবং মতভেদের গভীরে প্রবেশ না করতে ও ভিন্নমতাবলম্বীদের উল্লেখ না করার চেষ্টা করেছি, কারণ তাতে গবেষণাটি দীর্ঘায়িত হবে। আমি গবেষণার বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট আলেমদের বক্তব্যসমূহ তাদের মূল উৎস (مصادر أصلية) থেকে সংগ্রহ করেছি। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে নিকটতম উৎস থেকে নিয়েছি যেখান থেকে বক্তব্যটি গ্রহণ করা সম্ভব। আমি বক্তব্যগুলো তাদের প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে তাহকীক (تحقيق) করেছি। কখনও কখনও প্রয়োজন মনে করলে আমি ফকিহগণের কিতাব থেকে সরাসরি উদ্ধৃতির মাধ্যমে প্রামাণিকতা (توثيق) নিশ্চিত করেছি এবং তা বন্ধনীতে রেখেছি।
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩২)
وأوردت الأدلة لكل قول، وما يرد عليها من مناقشات إن وجدت، وعزوت الآيات بذكر اسم السورة ورقم الآية، وخرجت الأحاديث من مصادرها، وأما الأعلام الوارد ذكرهم في البحث فقد ترجمت لمن رأيت الحاجة داعية للتعريف به، لأن الترجمة للأعلام المشهورين في نظري من قبيل توضيح الواضحات، لذا رأيت أن لا أثقل البحث بما لا فائدة فيه للقارئ، وقد وضعت بعد الخاتمة بياناً بالمراجع.
وبعد:
فإن رجائي أن ينظر القارئ في هذا البحث بعين الإنصاف، فما وجد فيه من صواب فهو بتوفيق الله، وما وجد فيه من خطأ فهو من ضعف البشر، وأسأل الله عز وجل أن ينفع به كاتبه وقارئه إنه ولي ذلك والقادر عليه وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
আমি প্রতিটি মতের স্বপক্ষে প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছি এবং সেগুলোর ওপর বিদ্যমান আলোচনা-পর্যালোচনাগুলোও উল্লেখ করেছি। আমি সূরার নাম ও আয়াতের নম্বর উল্লেখপূর্বক আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি এবং হাদিসসমূহকে তাদের মূল উৎস হতে তথ্যসূত্রসহ উল্লেখ (تخريج) করেছি। আর গবেষণায় উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রে আমি কেবল তাদেরই জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছি যাদের পরিচয় প্রদান করা আমি আবশ্যক মনে করেছি; কেননা আমার দৃষ্টিতে সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গের জীবনী আলোচনা করা অনেকটা সুস্পষ্ট বিষয়কে নতুন করে স্পষ্ট করারই নামান্তর। তাই যে বিষয়ে পাঠকের বিশেষ কোনো ফায়দা নেই, তা দিয়ে গবেষণাকর্মটিকে ভারাক্রান্ত না করাই আমি শ্রেয় মনে করেছি। পরিশেষে, উপসংহারের পর আমি তথ্যসূত্রের একটি তালিকা যুক্ত করেছি।
অতঃপর:
পাঠকের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান এই যে, তিনি যেন এই গবেষণাকর্মটিকে ন্যায়নিষ্ঠার দৃষ্টিতে দেখেন। এতে সঠিক যা কিছু রয়েছে তা মহান আল্লাহর তাওফিকেই সম্ভব হয়েছে, আর যা কিছু ভুল পরিলক্ষিত হবে তা মানুষের সহজাত দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর লেখক ও পাঠক উভয়কেই এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। আর আমাদের নবি মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সহচরদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৪)
القسم الأول: الدراسة النظرية
المبحث الأول: تحديد المراد بالإقالة
المطلب الأول: تعريف الإقالةالفرع الأول: معنى الإقالة في اللغة:
الإقالة في اللغة العربية مصدر أقال يقيل إقالة بمعنى الفسخ جاء في الصحاح "أقلته البيع إقالة وهو فسخه، وربما قالوا قلته البيع وهي لغة قليلة، واستقلته البيع فأقالني إياه" 1
وقيل إن الإقالة مشتقة من القول، والهمزة للسلب أي إزالة القول السابق، وهو ما جرى بينهما من البيع كأشكى إذا أزال شكواه، وهذا غير صحيح لأمور:
1 أنهم قالوا قِلْتُ البيع بالكسر وأقلته فدل على أن العين ياء.
2 ذكرت الإقالة في المعاجم العربية في القاف مع الياء لا في القاف مع الواو 2.
3 أنهم قالوا أقاله البيع قيلا لا قولا 3.
فظهر أن الإقالة مشتقة من القيل لا من القول، ومعناه الفسخ والإزالة والإسقاط والرفع يقال تقايلا البيع تفاسخا صفقتهما، وتركتهما يتقايلان البيع أي يستقيل كل واحد منهما صاحبه، وقد تقايلا بعد ما تبايعا أي تتاركا، وتقايلا
--------------------------------------------
প্রথম অংশ: তাত্ত্বিক আলোচনাপ্রথম পরিচ্ছেদ: ইকালাহ (চুক্তি রদ) এর উদ্দেশ্য নির্ধারণপ্রথম অনুচ্ছেদ: ইকালাহ-এর সংজ্ঞাপ্রথম শাখা: আভিধানিক অর্থে ইকালাহ-এর পরিচয়:
আরবি ভাষায় ইকালাহ শব্দটি ‘আকালা-ইউকিলু-ইকালাতান’ ক্রিয়ামূল থেকে আগত একটি মাসদার বা বিশেষ্য, যার অর্থ হলো চুক্তি রদ বা বাতিল করা। ‘আস-সিহাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, “আমি তাকে ক্রয়-বিক্রয় থেকে ইকালাহ দিয়েছি, যার অর্থ হলো আমি তা বাতিল করেছি। কখনো কখনো তারা ‘কুলতুহু আল-বাইয়া’ও বলে থাকেন, তবে এটি একটি বিরল ভাষা। আর আমি তার কাছে বিক্রয় বাতিল করার অনুরোধ করলে তিনি তা মঞ্জুর করেছেন।” ১
কেউ কেউ বলেছেন যে, ইকালাহ শব্দটি ‘আল-কাওল’ (কথা) থেকে উদ্ভূত, আর এখানে ‘হামজাহ’ বর্ণটি বিলোপ বা অপসারণ বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ পূর্ববর্তী কথাকে অপসারিত করা। আর সেটি হলো তাদের উভয়ের মাঝে সম্পাদিত ক্রয়-বিক্রয়; যেমনটি ‘আশকা’ শব্দের ক্ষেত্রে হয় যখন কেউ তার অভিযোগ দূর করে। তবে এটি কয়েকটি কারণে সঠিক নয়:
১. তারা চুক্তি বাতিলের ক্ষেত্রে ক্রিয়া হিসেবে ‘কিলতু’ (জের যোগে) ব্যবহার করেন, যা প্রমাণ করে যে শব্দটির মূল বর্ণ ‘ইয়া’।
২. আরবি অভিধানগুলোতে ইকালাহ শব্দটিকে ‘ক্বাফ’ এর সাথে ‘ইয়া’ বর্ণের অধীনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ক্বাফ’ এর সাথে ‘ওয়াও’ বর্ণের অধীনে নয়। ২
৩. তারা একে ‘ক্বাইলান’ বলেন, ‘কাওলান’ বলেন না। ৩
সুতারং প্রতীয়মান হলো যে, ইকালাহ শব্দটি ‘ক্বাইল’ থেকে উদ্ভূত, ‘কাওল’ থেকে নয়। এর অর্থ হলো বাতিল করা, অপসারিত করা, রহিত করা এবং উঠিয়ে নেওয়া। বলা হয় ‘তাকায়ালা আল-বাইয়া’ অর্থাৎ তারা নিজেদের ক্রয়-বিক্রয় বা লেনদেন বাতিল করেছে। ‘আমি তাদেরকে ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করতে ছেড়ে দিয়েছি’—এর অর্থ হলো তাদের প্রত্যেকেই তার সঙ্গীর কাছে চুক্তি বাতিল করার আবেদন করেছে। তারা ক্রয়-বিক্রয়ের পর তা বাতিল করেছে অর্থাৎ একে অপরকে ত্যাগ করেছে এবং তারা একে অপরকে অব্যাহতি দিয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৫)
إذا فسخا البيع وعاد المبيع إلى مالكه، والثمن إلى المشتري، إذا كان قد ندم أحدهما أو كلاهما.
والاستقالة: طلب الإقالة يقال استقاله البيع فأقاله 1.
الفرع الثاني: الإقالة في الاصطلاح:
عرفت الإقالة بتعريفات كثيرة، ولكن مؤداها واحد، وإن كان فيها بعض الاختلاف، وسوف أذكر بعضها على النحو الآتي:
التعريف الأول:
عرفت الإقالة بأنها: ترك المبيع لبائعه بثمنه 2.
ويلاحظ على هذا التعريف أنه خص الإقالة في البيع مع دخولها في غيره كالإجارة والسلم وغيرها من عقود المبادلة المالية 3.
وقوله "ترك المبيع" يفهم منه أن الإقالة لا تصح إلا في جميع المبيع ولا تصح في بعضه، وهذا خلاف ما ذهب إليه عامة أهل العلم 4.
ويدخل في التعريف: ترك المبيع بحكم القضاء، وترك المبيع من دون رضا الطرفين، والإقالة لا تتم بذلك.
--------------------------------------------
যখন তারা ক্রয়-বিক্রয় (البيع) বাতিল (فسخ) করে এবং বিক্রিত পণ্য তার মালিকের নিকট ও মূল্য ক্রেতার নিকট ফিরে আসে, যখন তাদের একজন বা উভয়ই অনুতপ্ত হয়।
আর আল-ইসতিকালা: চুক্তি রদ (الإقالة)-এর আবেদন করা; বলা হয় সে বিক্রয় রদ করার আবেদন করেছে, ফলে সে তা রদ করে দিয়েছে ১।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পরিভাষাগত (الاصطلاح) ক্ষেত্রে চুক্তি রদ (الإقالة):
চুক্তি রদ (الإقالة)-কে অনেক সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, তবে সেগুলোর মর্মার্থ এক, যদিও তাতে কিছু মতভেদ রয়েছে। আমি নিম্নে তার কয়েকটি উল্লেখ করছি:
প্রথম সংজ্ঞা:
চুক্তি রদ (الإقالة)-কে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে: বিক্রিত পণ্য তার মূল্যের বিনিময়ে বিক্রেতার জন্য ছেড়ে দেওয়া ২।
এই সংজ্ঞার ব্যাপারে লক্ষণীয় যে, এটি চুক্তি রদ (الإقالة)-কে কেবল ক্রয়-বিক্রয়ের (البيع) সাথে সুনির্দিষ্ট করেছে, অথচ এটি অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়, যেমন: ইজারা (الإجارة), অগ্রিম ক্রয় (السلم) এবং অন্যান্য আর্থিক বিনিময় চুক্তি (عقود المبادلة المالية) ৩।
আর তার কথা "বিক্রিত পণ্য ছেড়ে দেওয়া" থেকে বোঝা যায় যে, চুক্তি রদ (الإقالة) কেবল পূর্ণ বিক্রিত পণ্যের ক্ষেত্রেই শুদ্ধ (صحيح) হবে এবং এর আংশিক ক্ষেত্রে শুদ্ধ (صحيح) হবে না। এটি অধিকাংশ আলেম সমাজের মতামতের পরিপন্থী ৪।
এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়: বিচারিক রায়ের মাধ্যমে বিক্রিত পণ্য ত্যাগ করা এবং উভয় পক্ষের সম্মতি ছাড়া পণ্য ত্যাগ করা, অথচ এসবের মাধ্যমে চুক্তি রদ (الإقالة) সম্পন্ন হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৬)
التعريف الثاني:
الإقالة: رفع البيع 1.
ويلاحظ على هذا التعريف حصره الإقالة في البيع مع أنها تدخل في غيره من عقود المبادلات المالية كما سبق في التعريف الأول، ولذا ذكر ابن عابدين 2 أن تخصيصها بالبيع لكون الكلام فيه، وإلا فهذا تعريف للإقالة مطلقاً، لأن حقيقتها في الإجارة لا تخالف حقيقتها في البيع، ولهذا لم يُذكر لها باب في غير هذا الموضع ونظيره النية مثلاً تذكر في باب الصلاة ونحوها وتعرف بالقصد الشامل للصلاة وغيرها 3.
التعريف الثالث:
الإقالة: رجوع كل من العوضين لصاحبه 4.
ويلاحظ على هذا التعريف أنه غير جامع، لأنه يدخل فيه رجوع كل من العوضين بحكم القضاء، وهو غير داخل في الإقالة، كما أن التعبير بالرجوع غير سليم، لأنه ربما يرجع البيع بسبب آخر غير الإقالة مثل العيب، أو ثبوت الغبن أو استحقاق المبيع لغير البائع وغير ذلك، وهذا التعريف في نظري منصب
--------------------------------------------
দ্বিতীয় সংজ্ঞা:
ইকালাহ (الإقالة): ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি রদ করা (رفع البيع) ১।
এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় যে, এখানে ইকালাহ (الإقالة)-কে কেবল ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, যদিও এটি অন্যান্য আর্থিক বিনিময় চুক্তির ক্ষেত্রেও অন্তর্ভুক্ত হয়, যা প্রথম সংজ্ঞায় বর্ণিত হয়েছে। এ কারণে ইবনে আবিদীন ২ উল্লেখ করেছেন যে, একে ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে সুনির্দিষ্ট করার কারণ হলো আলোচ্য বিষয়টি ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত ছিল; অন্যথায় এটি ইকালাহ (الإقالة)-এর একটি সাধারণ সংজ্ঞা। কারণ ইজারা বা ভাড়ায় এর হাকিকত বা প্রকৃত রূপ (حقيقة) ক্রয়-বিক্রয়ের হাকিকত থেকে ভিন্ন নয়। এই কারণেই এই স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে এর জন্য আলাদা কোনো অধ্যায় উল্লেখ করা হয়নি। এর উদাহরণ হলো নিয়ত (النية), যা সালাত ও তদ্রূপ ইবাদতের অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয় এবং একে এমন সাধারণ সংকল্প (القصد) দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয় যা সালাত ও অন্যান্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে ৩।
তৃতীয় সংজ্ঞা:
ইকালাহ (الإقالة): বিনিময়ের প্রতিটি বস্তু তার মূল মালিকের কাছে ফিরে আসা ৪।
এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় যে, এটি সর্বব্যাপী (جامع) নয়; কারণ এর মধ্যে বিচারিক রায়ের (حكم القضاء) মাধ্যমে বিনিময়ের বস্তুদ্বয় ফিরে আসাও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, অথচ তা ইকালাহ (الإقالة)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়। তেমনিভাবে 'ফিরে আসা' (الرجوع) শব্দটির প্রয়োগও সঠিক নয়; কারণ ইকালাহ (الإقالة) ব্যতীত অন্য কোনো কারণেও ক্রয়-বিক্রয়ের বস্তু ফিরে আসতে পারে, যেমন খুঁত বা ত্রুটি (العيب), কিংবা ঠকে যাওয়া বা প্রতারণা (الغبن) সাব্যস্ত হওয়া অথবা বিক্রিত বস্তু বিক্রেতা ব্যতীত অন্য কারো প্রাপ্য হওয়া ইত্যাদি। এই সংজ্ঞাটি আমার দৃষ্টিতে নিবদ্ধ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৭)
على أثر الإقالة، وليس تعريفاً لذاتها، والشيء لا يعرف بأثره، وإنما بما يظهر حقيقته وماهيته.
التعريف الرابع:
ذكره زكريا الأنصاري 1 فقال: هي ما يقتضي رفع العقد المالي بوجه مخصوص 2.
ويلاحظ على هذا التعريف أنه لم يبين نوع العقد الذي ترد عليه الإقالة هل ترد على كل العقود؟ أو ترد على العقد اللازم فقط؟ كما أنه لم يبين الوجه المخصوص الذي أشار إليه.
التعريف الخامس:
الإقالة: رفع العقد السابق بلفظ 3.
ويلاحظ على هذا التعريف أنه غير مانع، لأنه لا يمنع أن تدخل فيه عقود جائزة مع أن الإقالة لا تدخل في العقود الجائزة، لأن رفع هذه العقود لا يتوقف على الرضا من الجانبين، بل يجوز لكل واحد منهما أن يفسخ متى شاء بخلاف الإقالة، ولا يمنع أن يدخل فيه رفع الإقالة بحكم القضاء، وهي كما
--------------------------------------------
এটি ইকালার (চুক্তি বাতিলের) প্রভাবের ভিত্তিতে বর্ণিত, তার নিজস্ব সত্তার সংজ্ঞা নয়; কারণ কোনো বিষয়কে তার প্রভাব দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা হয় না, বরং যা তার হাকিকত ও স্বরূপকে প্রকাশ করে তা দিয়েই সংজ্ঞায়িত করা হয়।
চতুর্থ সংজ্ঞা:
যাকারিয়া আল-আনসারী ১ এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি হলো বিশেষ পন্থায় আর্থিক চুক্তি তুলে নেওয়া বা বাতিল করা ২।
এই সংজ্ঞার ব্যাপারে লক্ষ্যণীয় যে, এখানে ইকালা প্রযোজ্য হয় এমন চুক্তির ধরণ স্পষ্ট করা হয়নি; এটি কি সব ধরণের চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? নাকি কেবল বাধ্যতামূলক চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? এছাড়া এতে উল্লিখিত 'বিশেষ পন্থার' কোনো ব্যাখ্যাও প্রদান করা হয়নি।
পঞ্চম সংজ্ঞা:
ইকালা: সুনির্দিষ্ট শব্দের মাধ্যমে পূর্ববর্তী চুক্তি বাতিল করা ৩।
এই সংজ্ঞার ব্যাপারে লক্ষ্যণীয় যে, এটি মানি' (جامع مانع হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক) নয়। কারণ এটি সংজ্ঞার ভেতরে ঐচ্ছিক বা জায়েজ চুক্তিগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে ফেলে, যদিও ইকালা ঐচ্ছিক চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। কারণ এই ধরণের চুক্তি বাতিল করা উভয় পক্ষের সম্মতির ওপর নির্ভর করে না, বরং ইকালার বিপরীত এখানে প্রত্যেকের জন্য যখন ইচ্ছা চুক্তি ফাসখ (فسخ) বা বাতিল করার অধিকার থাকে। এছাড়া এটি বিচারিক রায়ের মাধ্যমে ইকালা বাতিল করাকেও সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হতে বাধা দেয় না, আর এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৮)
ذكرت لا تدخل فيه 1.
التعريف المختار:
يظهر لي أن الإقالة يراد بها عند الفقهاء: رفع عقد المعاوضة المالي اللازم للمستقيل باتفاق العاقدين.
فقولنا: المعاوضة: يخرج النكاح فرفعه يكون بالطلاق.
وتقييده باللزوم يخرج غير اللازم فإن فسخه لا يسمى إقالة لأنه لا يشترط فيه رضا المتعاقدين.
وقولنا: للمستقيل لأن العقد قد يكون لازماً من جهته غير لازم للمقيل.
وقولنا باتفاق العاقدين: يخرج ما لو أُكرها على رفع العقد.
--------------------------------------------
১. উল্লিখিত বিষয়সমূহ যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
নির্বাচিত সংজ্ঞা:
আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, ফকিহগণের (فقهاء) নিকট ইকালা (إقالة) বলতে উদ্দেশ্য হলো: উভয় চুক্তি সম্পাদনকারীর (العاقدين) সম্মতিতে, ইকালা (إقالة) প্রার্থনাকারীর (المستقيل) পক্ষ থেকে আবশ্যিক (اللازم) কোনো আর্থিক বিনিময় চুক্তি (المعاوضة) বাতিল করা।
আমাদের উক্তি: 'বিনিময়' (المعاوضة): এর দ্বারা নিকাহ (النكاح) বহির্ভূত হয়ে যায়, কারণ তা বাতিল করা হয় তালাকের (الطلاق) মাধ্যমে।
আর একে 'আবশ্যিকতা' (اللزوم) দ্বারা সীমাবদ্ধ করার মাধ্যমে অ-আবশ্যিক বিষয়গুলো বহির্ভূত হয়ে যায়; কারণ সেগুলোর চুক্তি বাতিল (فسخ) করাকে ইকালা (إقالة) বলা হয় না, যেহেতু তাতে চুক্তি সম্পাদনকারীদ্বয়ের (المتعاقدين) সম্মতির শর্ত নেই।
আমাদের উক্তি: 'ইকালা প্রার্থনাকারীর জন্য', কারণ চুক্তিটি হয়তো তার পক্ষ থেকে আবশ্যিক (لازم) হতে পারে, কিন্তু ইকালা কবুলকারীর (المقيل) পক্ষ থেকে আবশ্যিক না-ও হতে পারে।
আমাদের উক্তি 'উভয় চুক্তি সম্পাদনকারীর (العاقدين) সম্মতিতে': এর দ্বারা ওই অবস্থাটি বহির্ভূত হয়ে যায়, যদি তাদের উভয়কে চুক্তি বাতিলের জন্য বাধ্য করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৮)
المطلب الثاني: الألفاظ ذات الصلة بها…المطلب الثاني: الألفاظ ذات الصلة بالإقالة
هناك ألفاظ لها صلة بالإقالة أذكرها على النحو الآتي:
1 الفسخ: وهو في اللغة الرفع والنقض والإزالة، يقال فسخت العود فسخاً من باب نفع أزلته عن موضعه بيدك، وفسخت الثوب ألقيته وفسخت العقد رفعته، وتفاسخ القوم توافقوا على فسخه، قال السرقسطي 2 فسخت البيع والأمر نقضتهما 3.
وبما أن الإقالة بمعنى الفسخ فإنها أخص من الفسخ لأنها تتوقف على اتفاق
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সংশ্লিষ্ট শব্দাবলি…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইকালা (الإقالة) -এর সাথে সংশ্লিষ্ট শব্দাবলি
ইকালা-এর সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কিছু শব্দ রয়েছে যা আমি নিম্নোক্তভাবে উল্লেখ করছি:
১. ফাসখ (الفسخ): এটি আভিধানিক অর্থে রহিত করা, ভঙ্গ করা এবং অপসারণ করা। বলা হয়ে থাকে, ‘আমি কাঠটি ফাসখ করেছি’—এটি ‘নাফা’আ’ ক্রিয়ামূলের অন্তর্ভুক্ত—অর্থাৎ আমি নিজের হাতে তা স্বস্থান থেকে সরিয়ে দিয়েছি। পোশাকের ক্ষেত্রে এর অর্থ তা খুলে ফেলা এবং চুক্তির ক্ষেত্রে এর অর্থ তা রহিত করা। আর কোনো সম্প্রদায় যখন কোনো বিষয় বিলোপ করতে একমত হয়, তখন তাকে ‘তাফাসুখ’ বলা হয়। সারাকুস্তি বলেন: আমি ক্রয়-বিক্রয় ও নির্দেশ বাতিল করেছি।
যেহেতু ইকালা-এর অর্থ ফাসখ বা বিলোপ করা, তাই এটি ফাসখ-এর তুলনায় অধিকতর সুনির্দিষ্ট; কেননা এটি উভপক্ষের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৯)
العاقدين بخلاف الفسخ فإنه قد يكون متوقفاً على اتفاقهما، وقد يكون غير متوقف عليه كفسخ العقد الجائز، والإقالة لا ترد إلا على العقد المالي الصحيح اللازم الذي تقصد منه معاوضة محضة، أما الفسخ فإنه يرد على العقد سواء أكان فيه مبادلة مالية كالبيع أو لم يكن فيه ذلك كالوكالة، وسواءً كان لازماً كالبيع الخالي من الخيار أم جائزاً كالإيداع، وسواء أكان العقد يقصد منه معاوضة محضة كالبيع أم غير مقصود منه ذلك كالنكاح.
فظهر مما سبق أن الإقالة نوع من أنواع الفسخ.
2 الإسقاط: في اللغة يأتي بمعنى الإلقاء والإزالة يقال أسقطت الحامل الجنين ألقته، وأسقط الشيء أوقعه وأنزله، وتساقط على الشيء أي ألقى نفسه عليه وأسقطه هو، وتساقط الشيء تتابع سقوطه 1.
ومع أن الإقالة فيها إسقاط للحق وإزالة له إلا أنها أخص من الإسقاط لأن الإسقاط يشمل جميع الحقوق سواءاً كانت عقودا أو ديوناً أو غيرها بخلاف الإقالة.
3 الإبراء: في اللغة يأتي بمعنى الإسقاط والسلامة والتخلص، يقال برئ من دينه يبرأ براءة سقط عنه طلبه فهو بريْ وبارئ وبراء، وأبرأته منه وبرّأته من العيب بالتشديد جعلته بريئاً منه، وبرئ منه مثل سلم وزنا ومعنى 2.
وبرئ إذا تخلص وبرئ إذا تنَزه وتباعد 3.
وإذا كان الإبراء بمعنى الإسقاط، فإنه يعتبر نوعاً من أنواع الإسقاط، لأن
--------------------------------------------
চুক্তিকারীদের সম্মতির বিষয়টি; পক্ষান্তরে চুক্তি বাতিল (الفسخ) এর বিষয় ভিন্ন, কেননা এটি কখনো তাদের উভয়ের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল হতে পারে, আবার কখনো তার ওপর নির্ভরশীল নাও হতে পারে যেমনটি বাতিলযোগ্য চুক্তির (العقد الجائز) বিলুপ্তির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর ইকালা (الإقالة) কেবল সেই সঠিক (الصحيح) ও বাধ্যতামূলক (اللازم) আর্থিক চুক্তির (العقد المالي) ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয় যার মাধ্যমে খাঁটি বিনিময় (معاوضة محضة) উদ্দেশ্য থাকে। পক্ষান্তরে চুক্তি বাতিল (الفسخ) যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, চাই তাতে কেনাবেচার (البيع) মতো আর্থিক বিনিময় (مبادلة مالية) বিদ্যমান থাকুক বা প্রতিনিধিত্বের (الوكالة) মতো বিনিময়হীন হোক। একইভাবে তা বাধ্যতামূলক (اللازم) চুক্তির ক্ষেত্রে হতে পারে যেমন ইখতিয়ার (الخيار) বিহীন কেনাবেচা (البيع), অথবা গচ্ছিত রাখার (الإيداع) মতো বাতিলযোগ্য (الجائز) চুক্তির ক্ষেত্রে হতে পারে। আবার চুক্তিটির উদ্দেশ্য খাঁটি বিনিময় (معاوضة محضة) হতে পারে যেমন কেনাবেচা (البيع), অথবা বিবাহের (النكاح) মতো এমন উদ্দেশ্যহীন হতে পারে।
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হলো যে, ইকালা (الإقالة) হলো চুক্তি বাতিলের (الفسخ) অন্যতম একটি প্রকার।
২. অধিকার ত্যাগ (الإسقاط): শাব্দিক অর্থে এটি নিক্ষেপ করা বা অপসারণ করা অর্থে ব্যবহৃত হয়। বলা হয়ে থাকে যে, গর্ভবতী নারী তার গর্ভস্থ সন্তানকে 'আসকাতাত' (ফেলে দিয়েছে)। কোনো কিছুকে 'আসকতা' করার অর্থ হলো তা ফেলে দেওয়া বা নিচে নামানো। আর কোনো কিছুর ওপর 'তাসাকাতা' হওয়ার অর্থ হলো তার ওপর নিজেকে নিক্ষেপ করা এবং তাকে ফেলে দেওয়া। আর কোনো কিছুর ক্রমাগতভাবে পড়তে থাকাকে 'তাসাকাতুশ শাই' বলা হয় ১।
যদিও ইকালা (الإقالة)-র মধ্যে অধিকার ত্যাগ (الإسقاط) ও তা অপসারণের বিষয়টি বিদ্যমান, তথাপি এটি অধিকার ত্যাগের (الإسقاط) তুলনায় অধিকতর সুনির্দিষ্ট। কারণ অধিকার ত্যাগ (الإسقاط) সকল প্রকার অধিকারকে (الحقوق) অন্তর্ভুক্ত করে, চাই তা চুক্তি (عقودا) হোক বা ঋণ (ديوناً) কিংবা অন্য কিছু; যা ইকালা (الإقالة)-র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৩. দায়মুক্তি (الإبراء): শাব্দিক অর্থে এটি অধিকার ত্যাগ (الإسقاط), নিরাপত্তা (السلامة) ও নিষ্কৃতি (التخلص) পাওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়। বলা হয়ে থাকে যে, অমুক ব্যক্তি তার ঋণ থেকে 'বারিয়া' (মুক্ত হয়েছে), যার অর্থ হলো তার নিকট থেকে পাওনা রহিত হয়ে গেছে। সুতরাং সে দায়মুক্ত (بريْ বা بارئ বা براء)। আমি তাকে দায়মুক্ত করেছি এবং তাকে খুঁত থেকে মুক্ত (برّأته) করেছি—এখানে তাশদীদসহ ব্যবহারের অর্থ হলো তাকে দোষমুক্ত করা। আর কোনো কিছু থেকে 'বারিয়া' হওয়া হলো নিরাপত্তা (سلم) পাওয়ার সমার্থক ২।
এবং 'বারিয়া' যখন সে নিষ্কৃতি (تخلص) পায় এবং 'বারিয়া' যখন সে পবিত্র (تنَزه) ও দূরবর্তী (تباعد) হয় ৩।
আর দায়মুক্তি (الإبراء) যখন অধিকার ত্যাগের (الإسقاط) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি অধিকার ত্যাগের (الإسقاط) অন্যতম একটি প্রকার হিসেবে গণ্য হয়, কারণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪০)
الإبراء بغير عوض بخلاف الإسقاط فإنه يكون بعوض وبغير عوض 1.
والإبراء وإن كان أخص من الإسقاط فإنه يكون في العقود سواء كانت لازمة أو غير لازمة، فهو أعم من الإقالة من هذا الوجه لأنها لا تكون إلا في العقود اللازمة، كما أن الإبراء قد يكون في غير العقود كالقصاص والتعزير وحد القذف وغير ذلك.
--------------------------------------------
বিনিময় ব্যতীত দায়মুক্তি (إبراء) হলো অধিকার ত্যাগের (إسقاط) বিপরীত; কেননা অধিকার ত্যাগ (إسقاط) বিনিময়সহ কিংবা বিনিময় ব্যতীত উভয়ভাবেই হতে পারে ১।
দায়মুক্তি (إبراء) যদিও অধিকার ত্যাগ (إسقاط) অপেক্ষা অধিক সুনির্দিষ্ট (أخص), তবুও তা চুক্তির (عقود) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, চাই তা বাধ্যতামূলক (لازمة) হোক বা অ-বাধ্যতামূলক (غير لازمة)। এই দিক থেকে তা চুক্তি বাতিলকরণ (إقالة) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক (أعم); কারণ চুক্তি বাতিলকরণ (إقالة) কেবল বাধ্যতামূলক (لازمة) চুক্তির ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। ঠিক তেমনিভাবে দায়মুক্তি (إبراء) চুক্তি ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রেও হতে পারে, যেমন: সমদণ্ড (قصاص), বিবেচনামূলক শাস্তি (تعزير), অপবাদের শাস্তি (حد القذف) এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪১)
المبحث الثاني: حكم الإقالة
المطلب الأول: الحكم التكليفي للإقالةالإقالة في الأصل مباحة وجائزة في الجملة بعد انعقاد العقد ولزومه1 وإذا ندم أحدهما على الصفقة وطلب الإقالة استحب للآخر أن يقيله 2 لما رواه أبو هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال "من أقال نادما بيعه أقال الله عثرته" 3، وقد ذكر بعض علماء الحنفية أن الإقالة قد تكون واجبة ومثلوا لذلك بكون العقد مكروهاً أو فاسداً4 وحينئذ يجب على كل من المتعاقدين الرجوع إلى ما كان له
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইকালা (চুক্তি বাতিলকরণ)-এর বিধান
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইকালার শারয়ি বিধান (তাকলিফি বিধান)ইকালা (চুক্তি বাতিলকরণ) মূলত বৈধ (مباح) এবং চুক্তি সম্পন্ন ও তা বাধ্যতামূলক হওয়ার পর সাধারণভাবে তা জায়েজ (جائز)। যদি চুক্তিবদ্ধ পক্ষদ্বয়ের কেউ চুক্তির বিষয়ে অনুতপ্ত হয় এবং ইকালা প্রার্থনা করে, তবে অপর পক্ষের জন্য তা গ্রহণ করা মুস্তাহাব (مستحب)। এর কারণ আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো অনুতপ্ত ব্যক্তির কেনাবেচা বাতিল (ইকালা) করে দেবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার পদস্খলন ক্ষমা করে দেবেন।" কোনো কোনো হানাফি আলেম উল্লেখ করেছেন যে, ইকালা কখনও ওয়াজিব (واجب) হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ তারা বলেছেন, যখন চুক্তিটি মাকরূহ (مكروه) অথবা ফাসেদ (فاسد) হয়, তখন চুক্তিবদ্ধ উভয় পক্ষের জন্য পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া আবশ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪২)
من رأس المال صونا لهما عن المحظور، ولا يكون ذلك إلا بالإقالة، ولأن رفع المعصية واجب بقدر الإمكان 1.
وقد اعترض على ذلك بأن الفاسد يجب فسخه على كل منهما بدون رضا الآخر، وكذا للقاضي فسخه بلا رضاهما والإقالة يشترط لها الرضا 2.
وقد صحح بعض علماء الحنفية ما ورد من وجوب الإقالة بأن المراد بالإقالة فيه مطلق الفسخ والرفع 3.
وبهذا يتضح أن ما ذكر من وجوب الإقالة يراد به المعنى اللغوي لا الإقالة بمعناها الخاص المعروف عند الفقهاء.
--------------------------------------------
মূলধন থেকে, যাতে তাঁদের উভয়কে নিষিদ্ধ (المحظور) বিষয় থেকে রক্ষা করা যায়। আর এটি ইকালাহ (الإقالة) ব্যতীত সম্ভব নয়, কেননা পাপাচার মিটিয়ে ফেলা সাধ্যানুযায়ী ওয়াজিব (واجب) 1.
এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে, ফাসিদ (الفاسد) চুক্তি একে অপরের সম্মতি ছাড়াই বাতিল (فسخ) করা উভয়ের ওপর ওয়াজিব (واجب); একইভাবে বিচারকও তাঁদের সম্মতি ব্যতিরেকে তা বাতিল (فسخ) করতে পারেন। অথচ ইকালাহ (الإقالة)-র ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মতি শর্ত 2.
কতিপয় হানাফি আলেম ইকালাহ (الإقالة) ওয়াজিব (واجب) হওয়া সংক্রান্ত বর্ণনাটিকে সহিহ (صحح) বলে গণ্য করেছেন এই মর্মে যে, এখানে ইকালাহ (الإقالة) দ্বারা সাধারণ অর্থে চুক্তি বাতিল (فسخ) ও প্রত্যাহার উদ্দেশ্য 3.
এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইকালাহ (الإقالة) ওয়াজিব (واجب) হওয়ার যে উল্লেখ রয়েছে, তা দ্বারা এর শাব্দিক অর্থই উদ্দেশ্য, ফকিহদের নিকট পরিচিত ইকালাহ-র বিশেষ পারিভাষিক অর্থ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪২)
المطلب الثاني: الأدلة على مشروعيتها…المطلب الثاني: الأدلة على مشروعية الإقالة
ثبتت مشروعية الإقالة بالكتاب والسنة والإجماع، والمعقول، أما الدليل من الكتاب فقوله تعالى: {وَافْعَلُوا الْخَيْرَ} 4، فالآية المذكورة تدل بعمومها على مشروعية الإقالة لأن الأمر فيها ورد بفعل الخير، ولاشك أن إقالة النادم من فعل الخير.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর বৈধতা (مشروعية) সংক্রান্ত প্রমাণসমূহ…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: চুক্তি বাতিল (إقالة)-এর বৈধতা (مشروعية) সংক্রান্ত প্রমাণসমূহ
কুরআন, সুন্নাহ (سنة), সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) এবং যুক্তির মাধ্যমে চুক্তি বাতিল (إقالة)-এর বৈধতা (مشروعية) প্রমাণিত হয়েছে। কুরআন থেকে প্রাপ্ত প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা কল্যাণকর কাজ করো} ৪। উল্লিখিত আয়াতটি তার ব্যাপকতার (عموم) ভিত্তিতে চুক্তি বাতিল (إقالة)-এর বৈধতা (مشروعية)-কে নির্দেশ করে, কারণ এতে কল্যাণকর কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; আর অনুতপ্ত ব্যক্তির চুক্তি বাতিল (إقالة) করে দেওয়া যে একটি কল্যাণকর কাজ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৩)
الأدلة من السنة:
الدليل الأول: ما رواه أبو هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "من أقال نادما بيعه أقال الله عثرته" 1.
الدليل الثاني: ما رواه أبو هريرة أيضاً أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من أقال مسلماً أقال الله عثرته" 2.
الدليل الثالث: عن أبي شريح رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من أقال أخاه بيعاً أقال الله عثرته يوم القيامة" 3.
والدلالة من هذه الأحاديث ظاهرة لأن فيها حثاً من الرسول صلى الله عليه وسلم على قبول الإقالة من طالبها، وأن فاعل ذلك يلقى الثواب والأجر العظيم، وذلك بأن يقيل الله عثرته يوم القيامة.
الدليل الرابع: عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
--------------------------------------------
সুন্নাহ থেকে প্রমাণসমূহ:
প্রথম প্রমাণ: আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো অনুতপ্ত ব্যক্তির কেনাবেচা বাতিল করে দিবে, আল্লাহ তার পদস্খলন ক্ষমা করে দেবেন" ১।
দ্বিতীয় প্রমাণ: আবু হুরায়রা (রা.) হতে এটিও বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের কেনাবেচা বাতিল করে দিবে, আল্লাহ তার পদস্খলন ক্ষমা করে দেবেন" ২।
তৃতীয় প্রমাণ: আবু শুরাইহ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের কোনো কেনাবেচা বাতিল করে দিবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার পদস্খলন ক্ষমা করে দেবেন" ৩।
এই হাদিসগুলোর নির্দেশক অর্থ সুস্পষ্ট, কারণ এতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে আবেদনকারীর পক্ষ হতে চুক্তি বাতিলের (ইকালা) আবেদন গ্রহণ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। আর যে ব্যক্তি এটি করবে সে মহান সওয়াব ও প্রতিদান লাভ করবে, আর তা হলো—কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার পদস্খলন ক্ষমা করে দেবেন।
চতুর্থ প্রমাণ: আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৪)
"أقيلوا ذوي الهيئات 1 عثراتهم إلا في الحدود" 2.
وجه الدلالة من الحديث:
ويمكن توجيه الاستدلال بهذا الحديث بأن يقال: إن الحديث ورد بلفظ "أقيلوا" والإقالة في المبايعة هي فسخ البيع فالحديث بعمومه يشملها، والمراد موافقة ذي الهيئة على ترك المؤاخذة له أو تخفيفها.
الدليل الخامس:
أخرجه مالك عن أبي الرجال محمد بن عبد الرحمن 3 عن أمه عمرة بنت عبد الرحمن 4 أنه سمعها تقول: ابتاع رجل ثمر حائط في زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
"তোমরা সম্মানী ব্যক্তিদের (ذوي الهيئات) ১ বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করো, তবে দণ্ডবিধির (الحدود) ২ ক্ষেত্রে নয়।"
হাদিসটি থেকে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি:
এই হাদিসটির মাধ্যমে দলীলের যৌক্তিকতা এভাবে বর্ণনা করা যেতে পারে যে: হাদিসটিতে "অব্যাহতি দাও" (أقيلوا) শব্দে নির্দেশ এসেছে। আর ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে "ইকালা" (الإقالة) বলতে বিক্রয় চুক্তি বাতিল করাকে বোঝায়। হাদিসটি তার ব্যাপকতার কারণে একেও শামিল করে। এখানে উদ্দেশ্য হলো সম্মানী ব্যক্তির কোনো ভুলের জন্য তাঁকে পাকড়াও না করার ব্যাপারে একমত হওয়া অথবা তা লাঘব করা।
পঞ্চম দলীল:
ইমাম মালিক এটি আবু আল-রিজাল মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ৩ থেকে, তিনি তাঁর মা আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান ৪ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে এক ব্যক্তি একটি বাগানের ফল ক্রয় করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৫)
فعالجه وقام فيه حتى تبين له النقصان فسأل رب الحائط أن يضع له أو أن يقيله، فحلف أن لا يفعل، فذهبت أم المشتري إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرت ذلك له، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم تألّى1 أن لا يفعل خيراً، فسمع بذلك رب الحائط فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يارسول الله هو له 2.
وجه الدلالة:
يمكن توجيه الدلالة بأن يقال إن النبي صلى الله عليه وسلم وصف الإقالة بأنها من أفعال الخير، وفعل الخير يستحب للإنسان أن يبادر إليه وذلك دليل على مشروعية الإقالة.
وأما الإجماع:
فقد أجمع العلماء على مشروعية الإقالة 3.
--------------------------------------------
তিনি সেটি পরিচর্যা করলেন এবং তাতে কাজ করলেন যতক্ষণ না তার নিকট লোকসান স্পষ্ট হলো। তখন তিনি বাগানের মালিকের কাছে অনুরোধ জানালেন যেন তিনি দাম কিছুটা কমিয়ে দেন অথবা চুক্তি বাতিল (إقالة) করেন। কিন্তু মালিক তা না করার শপথ নিলেন। তখন ক্রেতার মা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “সে কি ভালো কাজ না করার শপথ (تألّى) ১ করেছে?” বাগানের মালিক এ কথা শুনতে পেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন এবং বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! সে যেমনটি চেয়েছে বিষয়টি তেমনই হবে (অর্থাৎ আমি তার প্রস্তাব মেনে নিলাম)।” ২
প্রমাণের ধরণ:
প্রমাণের ধরণটি এভাবে বর্ণনা করা যেতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুক্তি বাতিল (إقالة) করাকে সৎকাজের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর সৎকাজে অগ্রণী হওয়া মানুষের জন্য পছন্দনীয় (مستحب), যা চুক্তি বাতিলের (إقالة) বৈধতার (مشروعية) একটি দলিল।
আর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع):
ওলামায়ে কেরাম চুক্তি বাতিলের (إقالة) বৈধতার (مشروعية) ব্যাপারে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে (إجماع) ৩ উপনীত হয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৬)
وأما المعقول:
1 فإن الناس يحتاجون للإقالة كحاجتهم إلى البيع فتشرع، وذلك أن العاقد قد يندم على ما أقدم عليه، ولا يجد أمامه طريقاً للتخلص من العقد إلا بالإقالة.
2 أنها ترفع العقد فصارت كالطلاق مع النكاح 1.
--------------------------------------------
আর যৌক্তিক দলিলের (المعقول) ক্ষেত্রে:
১. নিশ্চয়ই মানুষের ক্রয়-বিক্রয়ের ন্যায় ইকালা বা চুক্তি বাতিলের (الإقالة) প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তাই এটি বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। আর তা এই জন্য যে, কোনো চুক্তি সম্পাদনকারী ব্যক্তি তার কৃত কাজের জন্য অনুতপ্ত হতে পারেন এবং সেই চুক্তি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য ইকালা (الإقالة) ব্যতীত অন্য কোনো পথ খুঁজে পান না।
২. এটি চুক্তিকে রহিত করে দেয়, ফলে এটি বিবাহের (النكاح) ক্ষেত্রে তালাকের (الطلاق) ন্যায় গণ্য হয় ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৬)
المطلب الثالث: الحكمة من مشروعيتها…المطلب الثالث: حكمة تشريع الإقالة
التعاون من المبادئ الأساسية التي يقوم عليها النظام الاجتماعي في الشريعة الإسلامية، فالأفراد يجب عليهم أن يتعاونوا في جلب المصالح، قال تعالى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلا تَعَاوَنُوا عَلَى الْأِثْمِ وَالْعُدْوَانِ} 2.
وقد حث الرسول صلى الله عليه وسلم على السماحة في التعامل؛ فقد ثبت من حديث جابرأنه قال: "رحم الله رجلاً سمحاً إذا باع، وإذا اشترى وإذا اقتضى" 3، ومن مقتضيات السماحة أن يتوافر عنصر الرضا عند انعقاد العقد، وإذا ثبت العقد ثم ندم المتعاقدان أو أحدهما إما لظهور غبن أو لانعدام الثمن أو زوال الرجاحة أو غير ذلك، فإن ذلك الندم وعدم الرضا لا يبيحان فسخ العقد لأنه وقع صحيحاً لازماً، ولا سبيل لإزالة ذلك الندم وعدم الرضا إلا بالإقالة فشرعت تنفيساَ لمن وقع في أمر لا يستطيع الخلاص منه، ألا وهو العقد الصحيح اللازم.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এটি প্রবর্তনের হিকমত...তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইকালা (চুক্তি বাতিল) প্রবর্তনের হিকমত
ইসলামী শরিয়তের সামাজিক ব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হলো পারস্পরিক সহযোগিতা। কল্যাণ সাধনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিদের একে অপরকে সহযোগিতা করা আবশ্যক। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো, আর পাপাচার ও সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো না} ২।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লেনদেনের ক্ষেত্রে উদারতা প্রদর্শনের জন্য উৎসাহিত করেছেন। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ এমন ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যে বিক্রয়ের সময়, ক্রয়ের সময় এবং পাওনা আদায়ের সময় উদারতা প্রদর্শন করে" ৩। আর এই উদারতার দাবি হলো চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সময় সন্তুষ্টির উপস্থিতি থাকা। যখন চুক্তিটি সাব্যস্ত হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে উভয় পক্ষ অথবা কোনো এক পক্ষ অনুতপ্ত হয়—তা প্রতারিত হওয়ার কারণে হোক, মূল্য পরিশোধে অক্ষমতার কারণে হোক কিংবা উপযোগিতা হ্রাসের কারণে বা অন্য কোনো কারণে—তখন সেই অনুতাপ ও অসন্তুষ্টি চুক্তি বাতিল করাকে বৈধ করে না; কারণ তা সহিহ (صحيح) ও আবশ্যক (لازم) হিসেবে সম্পাদিত হয়েছে। আর এই অনুতাপ ও অসন্তুষ্টি দূর করার একমাত্র উপায় হলো ইকালা (চুক্তি বাতিল করা)। সুতরাং, যে ব্যক্তি এমন কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে যা থেকে সে নিষ্কৃতি পাচ্ছে না (আর তা হলো সহিহ (صحيح) ও আবশ্যক (لازم) চুক্তি), তার সেই কষ্ট লাঘব করার জন্যই ইকালার বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৭)
ولا ريب أن من السماحة التي حثت عليها الشريعة الإسلامية إقالة النادم، لما فيها من الثواب العظيم، ففي الحديث الذي رواه أبو هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من أقال نادماً أقال الله عثرته" 1وَرَوى أيضا أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من نفس عن مسلم كربة من كرب الدنيا نفس الله عنه كربة من كرب يوم القيامة، ومن يسَّر على معسر في الدنيا يسَّر الله عليه في الدنيا والآخرة، والله في عون العبد ما كان العبد في عون أخيه" 2.
ويقضي مبدأ التعاون والتواد ّ بين أفراد المجتمع أن يحس المسلم بأخيه المسلم ويتألم لألمه، لما رواه النعمان بن بشير رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مثل المؤمنين في توادهم وتراحمهم وتعاطفهم مثل الجسد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالسهر والحمى" 3.
ومن قبيل ذلك الإحساس أن يقيل المسلم أخاه إذا ندم على العقد وطلب أن يفسخه، ليحصل على الثواب العظيم والأجر منه سبحانه وتعالى.
--------------------------------------------
নিঃসন্দেহে ইসলামি শরিয়ত যে মহানুভবতার প্রতি উৎসাহিত করেছে, তার মধ্যে একটি হলো (চুক্তি বা লেনদেনে) অনুতপ্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি প্রদান করা; কারণ এতে মহান সওয়াব রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো অনুতপ্ত ব্যক্তিকে (চুক্তি থেকে) নিষ্কৃতি দেয়, আল্লাহ তাআলা তার পদস্খলন ক্ষমা করে দেন।" ১ তিনি আরও বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের পার্থিব বিপদসমূহের মধ্য থেকে একটি বিপদ দূর করে দিবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিনের বিপদসমূহ হতে তার একটি বিপদ দূর করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য সহজ করে দিবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার জন্য সহজ করে দেবেন। আর আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে লিপ্ত থাকে।" ২
সমাজের ব্যক্তিবর্গের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের মূলনীতি দাবি করে যে, একজন মুসলিম তার মুসলিম ভাইয়ের অবস্থা অনুভব করবে এবং তার ব্যথায় ব্যথিত হবে। যেমনটি নুমান বিন বাশির (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার উদাহরণ একটি দেহের ন্যায়; যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ অসুস্থ হয়, তখন শরীরের অবশিষ্ট অংশ অনিদ্রা ও জ্বরের মাধ্যমে তাতে সাড়া দেয়।" ৩
সেই অনুভূতিরই অংশ হলো একজন মুসলিম তার ভাইকে ক্ষমা করা বা অব্যাহতি দেওয়া যখন সে চুক্তির বিষয়ে অনুতপ্ত হয় এবং তা বাতিলের আবেদন করে, যাতে সে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট থেকে মহান সওয়াব ও প্রতিদান লাভ করতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৮)
المبحث الثالث: صيغة الإقالة
المطلب الأول: الإقالة بلفظهاإذا قال البائع: أقلتك، أو أنت مُقَالٌ، أو لك القيلة، أو قايلتك، أو أقالك الله 1، ونحو ذلك من الألفاظ، فإن عامة العلماء يرون صحتها2 وإن اختلفوا في تكييفها لصراحة لفظ الإقالة في التحلل من العقد وتركه.
وذكر ابن رجب3 أن القاضي4 في خلافه ذكر أنها لا تنعقد بلفظ الإقالة إن قلنا هي بيع لأن ما يصلح للحل لا يصلح للعقد5.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইকালার (চুক্তি বাতিলের) শব্দাবলীপ্রথম অনুচ্ছেদ: ইকালার সুনির্দিষ্ট শব্দের মাধ্যমে ইকালাযদি বিক্রেতা বলে: "আমি তোমার ইকালা কবুল করলাম", অথবা "তোমার ইকালা গ্রহণ করা হলো", অথবা "তোমার জন্য ইকালা সাব্যস্ত", অথবা "আমি তোমার সাথে ইকালা করলাম", অথবা "আল্লাহ তোমাকে ইকালা দান করুন" ১, এবং এই জাতীয় শব্দাবলী ব্যবহার করে, তবে সাধারণ ওলামায়ে কেরাম এগুলোকে সঠিক মনে করেন ২। যদিও তারা এর প্রকৃতি নির্ধারণে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, কারণ ইকালার শব্দগুলো চুক্তি থেকে অব্যাহতি লাভ এবং তা পরিত্যাগ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পষ্ট।
ইবনে রজব ৩ উল্লেখ করেছেন যে, আল-কাদি ৪ তার 'আল-খিলাফ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, যদি আমরা ইকালাকে 'ক্রয়-বিক্রয়' হিসেবে গণ্য করি, তবে তা ইকালার সুনির্দিষ্ট শব্দ দ্বারা সম্পন্ন হবে না; কারণ যা চুক্তি বাতিলের জন্য উপযুক্ত, তা চুক্তি সম্পাদনের জন্য উপযুক্ত নয় ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৯)
وما ذكره القاضي مبني على الخلاف في تكييف الإقالة (هل هي فسخ أو بيع) وهو ما سوف نتكلم عليه في المبحث الرابع من هذا البحث.
কাজী যা উল্লেখ করেছেন তা ইকালাহ বা পারস্পরিক সম্মতিতে চুক্তি বাতিলের (إقالة) আইনি রূপ নির্ধারণ (تكييف) নিয়ে বিদ্যমান মতভেদের (خلاف) ওপর ভিত্তি করে (তা কি চুক্তি রদ (فسخ) নাকি বিক্রয় (بيع)); আর এটিই সেই বিষয় যা নিয়ে আমরা এই গবেষণার চতুর্থ পরিচ্ছেদে আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৯)
المطلب الثاني: الإقالة بغير لفظها
المسألة الأولي: الإقالة بلفظ الفسخ أو الترك أو للتراد…المطلب الثاني: الإقالة بغير لفظها
المسألة الأولى: الإقالة بلفظ الفسخ أو الترك أو التراد:
إذا كانت الإقالة بلفظ: فاسختك وتاركت، أو رددت عليك ونحو ذلك من الألفاظ الصريحة المفيدة للفسخ فإنه لا خلاف بين الفقهاء في صحتها1، وقد ألحق الفقهاء بذلك كل ما يدل على هذا المعنى وذلك كما لو طلب البائع الإقالة وقال المشتري قبلت أو هات الثمن، لأن ذلك يدل على الرضا والقبول فتصح به 2.
والقائلون بأن الإقالة بيع وإن وافقوا على صحتها إلا أنهم لا يعتبرونها بيعاً إذا جاءت بلفظ الفسخ أو الترك أو التراد، لعدم دلالته على البيع، قال ابن عابدين "لو كانت بلفظ مفاسخة أو متاركة أو تراد لم يجعل بيعاً اتفاقاً"3.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নিজস্ব শব্দ ব্যতিরেকে চুক্তি রদ (إقالة)প্রথম মাসআলা: বাতিলকরণ (فسخ), বর্জন (ترك) অথবা পারস্পরিক প্রত্যাবর্তন (تراد) শব্দের মাধ্যমে চুক্তি রদ (إقالة)...দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নিজস্ব শব্দ ব্যতিরেকে চুক্তি রদ (إقالة)
প্রথম মাসআলা: বাতিলকরণ (فسخ), বর্জন (ترك) অথবা পারস্পরিক প্রত্যাবর্তন (تراد) শব্দের মাধ্যমে চুক্তি রদ (إقالة):
যদি চুক্তি রদ (إقالة) এমন শব্দের মাধ্যমে হয় যেমন: "আমি তোমার সাথে চুক্তি বাতিল করলাম", "আমি বর্জন করলাম", অথবা "আমি তোমার কাছে ফিরিয়ে দিলাম" এবং এই জাতীয় বাতিলকরণ (فسخ) অর্থবোধক অন্য কোনো সুস্পষ্ট শব্দের মাধ্যমে হয়, তবে এর শুদ্ধতা (صحة) বিষয়ে ফকিহগণের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। ফকিহগণ এমন সব শব্দকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা এই অর্থ প্রকাশ করে; যেমন যদি বিক্রেতা চুক্তি রদ (إقالة) করার অনুরোধ করে আর ক্রেতা বলে "আমি কবুল করলাম" অথবা "মূল্য নিয়ে এসো", কারণ এটি সন্তুষ্টি ও কবুল করার প্রমাণ দেয়, ফলে এর মাধ্যমে তা শুদ্ধ (صحيح) হবে।
আর যারা চুক্তি রদকে (إقالة) ক্রয়-বিক্রয় (بيع) হিসেবে গণ্য করেন, তারা এর শুদ্ধতা (صحة) মেনে নিলেও বাতিলকরণ (فسخ), বর্জন (ترك) বা পারস্পরিক প্রত্যাবর্তন (تراد) শব্দের মাধ্যমে সম্পাদিত হলে তাকে ক্রয়-বিক্রয় (بيع) বলে গণ্য করেন না; কারণ এসব শব্দ ক্রয়-বিক্রয়ের (بيع) অর্থ প্রকাশ করে না। ইবনে আবিদিন বলেন, "যদি এটি মুফাসাখা (পারস্পরিক বাতিলকরণ), মুতারাকা (পারস্পরিক বর্জন) বা তারাদ (পারস্পরিক প্রত্যাবর্তন) শব্দের মাধ্যমে হয়, তবে সর্বসম্মতিক্রমে তা ক্রয়-বিক্রয় (بيع) হিসেবে গণ্য হবে না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪৯)
المسألة الثانية: الإقالة بلفظ البيع:ذهب بعض علماء الحنابلة إلى القول بأن الإقالة تصح بلفظ البيع 4، وذهب
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মাসআলা: ‘বিক্রয়’ (بيع) শব্দের মাধ্যমে ইকালা (إقالة):হাম্বলি মাজহাবের কতিপয় আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, ‘বিক্রয়’ (بيع) শব্দের মাধ্যমে ইকালা (إقالة) শুদ্ধ (صحيح) হবে ৪, এবং [অন্যান্যরা] মনে করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫০)
الحنفية وبعض الحنابلة إلى أنها إذا جاءت بلفظ البيع تكون بيعاً لا فسخاً1.
حجة من قال إنها تصح بلفظ البيع: أن المقصود هو المعنى فكل ما يتوصل به إليه أجزأ2.
وحجة من قال إنها تكون بيعاً: أن ما يصلح للعقد لا يصلح للحل3.
والذي يظهر لي أن ما ذهب إليه بعض علماء الحنابلة من صحتها بلفظ البيع محل نظر إلا عند من يرى أنها بيع والصحيح والمشهور عندهم أنها فسخ4 ولفظ البيع لا يدل على الفسخ بل هو مغاير له ذلك أن البيع يدل على الربط والعقد بخلاف الفسخ فإنه يدل على الحل، وما يصلح للعقد لا يصلح للحل، ولذا فإني أرى أن قول من يرى عدم صحتها بلفظ البيع أولى لعدم دلالة لفظ البيع على الحل، وقولهم إن المقصود هو المعنى مسلّم ولكن معنى البيع لا يفيد الفسخ والحل، بل هو عقد مستقل بذاته كما لا يخفى.
--------------------------------------------
হানাফী মাযহাব এবং কিছু হাম্বলী আলিম এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি যদি বিক্রয় (البيع) শব্দে সম্পন্ন হয়, তবে তা বিক্রয় (بيع) হিসেবে গণ্য হবে, চুক্তি বাতিল (فسخ) হিসেবে নয়।১
যারা বলেন যে এটি বিক্রয় (البيع) শব্দে সঠিক (تصح) হয়, তাদের দলিল হলো: মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থ (মর্ম), সুতরাং যা কিছু সেই উদ্দেশ্য হাসিল করে তা-ই যথেষ্ট।২
আর যারা বলেন যে এটি বিক্রয় (بيع) হবে, তাদের দলিল হলো: যা চুক্তির (العقد) জন্য উপযোগী, তা চুক্তি বিমোচনের (الحل) জন্য উপযোগী নয়।৩
আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, কিছু হাম্বলী আলেম বিক্রয় (البيع) শব্দে এটি শুদ্ধ (صحته) হওয়া সম্পর্কে যে মত ব্যক্ত করেছেন তা পর্যালোচনার দাবি রাখে; তবে যারা একে বিক্রয় (بيع) মনে করেন তাদের বিষয়টি ভিন্ন। তাদের মাযহাবে সঠিক (الصحيح) ও প্রসিদ্ধ (المشهور) মত হলো এটি একটি চুক্তি বাতিল (فسخ)।৪ আর বিক্রয় (البيع) শব্দটি চুক্তি বাতিলের (الفسخ) ওপর দালালত (নির্দেশ) করে না, বরং এটি তার বিপরীত। কারণ বিক্রয় (البيع) বলতে সম্পর্কযুক্ত করা ও চুক্তিবদ্ধ হওয়া (العقد) বোঝায়, যা চুক্তি বাতিলের (الفسخ) বিপরীত; কেননা তা চুক্তি বিমোচন (الحل) করাকে নির্দেশ করে। আর যা চুক্তির (العقد) জন্য প্রযোজ্য, তা চুক্তি বিমোচনের (الحل) জন্য প্রযোজ্য নয়। এই কারণে আমি মনে করি যে, যারা বিক্রয় (البيع) শব্দে এটি সঠিক (صحتها) না হওয়ার মত দিয়েছেন তাদের বক্তব্যই অধিকতর উত্তম; যেহেতু বিক্রয় (البيع) শব্দটি চুক্তি বিমোচনের (الحل) অর্থ প্রকাশ করে না। আর তাদের এই দাবি যে ‘উদ্দেশ্যই মূল বিষয়’—তা স্বীকৃত, তবে বিক্রয় (البيع) শব্দের অর্থ চুক্তি বাতিল (الفسخ) বা চুক্তি বিমোচনের (الحل) ফায়দা প্রদান করে না, বরং এটি স্বয়ং একটি স্বতন্ত্র চুক্তি (عقد), যা কারো নিকট অস্পষ্ট নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫০)
المسألة الثالثة: الإقالة بلفظ الصلح:الصلح عقد رضائي بمعنى أنه يتكون بمجرد أن يتبادل طرفاه التعبير عن إرادتين متقابلتين.
ولفظ الصلح في اللغة يراد به إنهاء الخصومة وإزالتها يقال أصلح الشيء
তৃতীয় মাসয়ালা: সুলাহ (মীমাংসা) শব্দের মাধ্যমে ইকালা (চুক্তি বাতিল):সুলাহ হলো একটি সম্মতিমূলক চুক্তি, যার অর্থ হলো এটি তখনই সংঘটিত হয় যখন উভয় পক্ষ তাদের পারস্পরিক ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
আর আভিধানিক অর্থে 'সুলাহ' শব্দটির দ্বারা বিবাদের অবসান এবং তা নিরসন করা উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। বলা হয়ে থাকে, তিনি বিষয়টি সংশোধন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫১)
أزال فساده، وبينهما أو ذات بينهما أزال ما بينهما من عداوة وشقاق، وصلح المريض إذا زال عنه المرض، وصلح فلان في سيرته إذا أقلع عن الفساد 1.
وإذا حصلت المبايعة بين شخصين ثم قال المشتري مثلاً صالحتك على أن تعيد لي الثمن وأعيد لك العين فهل تحصل الإقالة بلفظ الصلح؟ على القول بأن الإقالة بيع فإن الإقالة لا تصح بلفظ الصلح ولا تنعقد به، وهذا ما صرح به القاضي من الحنابلة، وقال إن ما يصلح للحل لا يصلح للعقد، وما يصلح للعقد لا يصلح للحل 2، والصلح من الألفاظ التي تفيد معنى الحل والإزالة، ولذلك لا ينعقد به البيع.
وإذا قلنا بأن الإقالة فسخ، فإن لفظ الصلح تصح به الإقالة، وهذا ما ذهب إليه بعض الحنابلة 3، وذلك لأن المقصود هو المعنى فكل ما يتوصل به إليه أجزأ 4.
وهذه المسألة مبنية على أن الإقالة فسخ أو بيع، وثمرة من ثمرات الاختلاف فيها.
--------------------------------------------
তিনি এর অনিষ্ট দূর করেছেন; আর তাদের মধ্যবর্তী বা তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টিকে সংস্কার করেছেন অর্থাৎ তাদের মধ্যকার শত্রুতা ও বিবাদ দূর করেছেন। আর রোগী যখন রোগমুক্ত হয় তখন তাকে সুস্থ (صلح) বলা হয়, তেমনি কোনো ব্যক্তি যখন তার জীবনধারা থেকে অনাচার ত্যাগ করে তখন বলা হয় সে তার আচরণে সংশোধন (صلح) হয়েছে।১
যখন দুই ব্যক্তির মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয় এবং এরপর ক্রেতা উদাহরণস্বরূপ বলে: "আমি আপনার সাথে এই মর্মে আপস (صلح) করলাম যে, আপনি আমাকে মূল্য ফেরত দেবেন এবং আমি আপনাকে পণ্যটি ফেরত দেব," তবে কি এই আপস বা সুলহ (صلح) শব্দের মাধ্যমে চুক্তি রদ বা ইকালা (إقالة) সম্পন্ন হবে? যারা মনে করেন যে ইকালা (إقالة) হলো একটি বিক্রয় চুক্তি, তাদের মতে সুলহ (صلح) শব্দের মাধ্যমে ইকালা (إقالة) সহিহ (صحيح) হবে না এবং এর দ্বারা তা সম্পাদিত হবে না। হাম্বলি মাজহাবের আল-কাজি এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন যে, যা চুক্তি বিচ্ছেদের জন্য উপযুক্ত তা নতুন চুক্তির জন্য উপযুক্ত নয়, আর যা নতুন চুক্তির জন্য উপযুক্ত তা চুক্তি বিচ্ছেদের জন্য উপযুক্ত নয়।২ আর সুলহ (صلح) এমন শব্দাবলির অন্তর্ভুক্ত যা বিচ্ছেদ ও বিলুপ্তির অর্থ প্রদান করে, তাই এর মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয় না।
আর যদি আমরা বলি যে ইকালা (إقالة) হলো চুক্তি বাতিলকরণ (فسخ), তবে সুলহ (صلح) শব্দের মাধ্যমে ইকালা (إقالة) সহিহ (صحيح) হবে। এটিই কিছু হাম্বলি ফকিহদের অভিমত।৩ কেননা এখানে মূল লক্ষ্য হলো অর্থ বা মর্মার্থ, তাই যার মাধ্যমেই সেই উদ্দেশ্য অর্জিত হয় তা-ই যথেষ্ট বলে গণ্য হবে।৪
এই মাসআলাটি (مسألة) ইকালা (إقالة) চুক্তি বাতিলকরণ (فسخ) নাকি বিক্রয়—তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে এবং এটি ওই মতপার্থক্যেরই অন্যতম একটি ফলাফল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকিকাতুল ইকালাহ দিরাসাতুন নাজারিয়্যাতুন তাতবিকিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫১)
المسألة الرابعة: الإقالة بلفظ المعطاة…المسألة الرابعة: الإقالة عن طريق المعاطاة:
المعاطاة: هي المبادلة الفعلية الدالة على التراضي دون التلفظ بإيجاب أو
চতুর্থ মাসআলা: আদান-প্রদানের (معاطاة) মাধ্যমে চুক্তি বাতিল (إقالة)…চতুর্থ মাসআলা: আদান-প্রদানের (معاطاة) মাধ্যমে চুক্তি বাতিল (إقالة) প্রসঙ্গে:
আদান-প্রদান (معاطاة): এটি হলো পারস্পরিক সম্মতির পরিচায়ক এমন এক কার্যকর বিনিময়, যা প্রস্তাব (إيجاب) বা... সংক্রান্ত কোনো শব্দ উচ্চারণ করা ছাড়াই সম্পাদিত হয়।