(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: -)
تحقيق المقام فيما يتعلق بأوقات النهي عن الصلاة من أحكام   (عيد بن سفر الحجيلي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: تحقيق المقام فيما يتعلق بأوقات النهي عن الصلاة من أحكام

المؤلف: عيد بن سفر الحجيلي

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: الأعداد 85 - 100 السنوات 22 - 25 المحرم 1410 - ذو الحجة 1413هـ/ 1990-1993م

عدد الصفحات: 298

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নামাজের নিষিদ্ধ সময় সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহের যথার্থ বিশ্লেষণ   (ঈদ বিন সফর আল-হুজাইলি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: নামাজের নিষিদ্ধ সময় সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহের যথার্থ বিশ্লেষণ

লেখক: ঈদ বিন সফর আল-হুজাইলি

প্রকাশক: মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: সংখ্যা ৮৫ - ১০০, বর্ষ ২২ - ২৫, মহররম ১৪১০ - জিলহজ ১৪১৩ হিজরি/ ১৯৯০-১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২১৯)
‌‌مقدمة

…

تحقيق المقام فيما يتعلق بأوقات النهي عن الصلاة من أحكام

بقلم: د/ عيد بن سفر الحجيلي

الأستاذ المساعد بكلية الشريعة

بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداًَ عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد: فإن للصلاة أهمية عظمى ويكفي في بيان عظم شأنها وعلو قدرها أنها عمود الإسلام وثاني أركانه وبيان ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم: "رأس الأمر الإسلام، وعموده الصلاة، وذروة سنامه الجهاد" 1 وقوله صلى الله عليه وسلم: "بني الإسلام على خمس شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسوله الله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة والحج وصوم رمضان" 2. والأحاديث الدالة على أهمية الصلاة وبيان فضلها كثيرة جداً، ولم يكن فضل الصلاة خاصاً بالفرائض بل إن في التطوع من عظيم الأجر وجزيل الثواب مالا يحصيه إلا الله سبحانه وتعالى ومما جاء في ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "ما من عبد مسلم يصلي لله كل يوم

--------------------------------------------

1 أخرجه الترمذي في كتاب الإيمان (باب ما جاء في حرمة الصلاة) 5/ 11-12 حديث 2616 وقال: "هذا حديث حسن صحيح".

2 أخرجه البخاري واللفظ له في كتاب الإيمان (باب دعاؤكم إيمانكم) 1/8 ومسلم في كتاب الإيمان (باب بيان أركان الإسلام ودعائمه العظام) 1/ 45 حديث 16.
‌ভূমিকা

…

নামাজের নিষিদ্ধ সময় সংক্রান্ত বিধিবিধানের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

কলমে: ড. ঈদ বিন সাফার আল-হুজাইলি

সহকারী অধ্যাপক, শরিয়াহ অনুষদ

মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক ও অংশীদারহীন এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর: নামাজের গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক। এর মাহাত্ম্য ও উচ্চ মর্যাদার বর্ণনায় এটাই যথেষ্ট যে, এটি ইসলামের স্তম্ভ এবং এর দ্বিতীয় রুকন। এর প্রমাণ হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "মূল বিষয় হলো ইসলাম, এর স্তম্ভ হলো নামাজ এবং এর সর্বোচ্চ চূড়া হলো জিহাদ" ১ এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত; এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ পালন করা এবং রমজানের রোজা রাখা" ২। নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণনায় অসংখ্য হাদিস রয়েছে। নামাজের এই ফজিলত কেবল ফরজ নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নফল ইবাদতের মধ্যেও এমন মহান প্রতিদান ও অঢেল সওয়াব রয়েছে যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত কেউ গণনা করতে পারে না। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীর মধ্যে রয়েছে: "এমন কোনো মুসলিম বান্দা নেই যে প্রতিদিন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ পড়বে..."

--------------------------------------------

১ তিরমিজি এটি কিতাবুল ইমান (নামাজের মর্যাদা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ) ৫/১১-১২, হাদিস ২৬১৬-তে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এই হাদিসটি চমৎকার (حسن) ও বিশুদ্ধ (صحيح)"।

২ বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস তাঁরই, কিতাবুল ইমান (তোমাদের দোয়া হলো তোমাদের ইমান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ) ১/৮; এবং মুসলিম, কিতাবুল ইমান (ইসলামের রুকন ও মহান স্তম্ভসমূহের বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ) ১/৪৫, হাদিস ১৬।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২২০)
ثنتى عشرة ركعة تطوعاً غير فريضة إلا بنى الله له بيتاً في الجنة. أو بنى له بيت في الجنة" 1.

وقوله صلى الله عليه وسلم: "ركعتا الفجر خير من الدنيا وما فيها" 2.

وحيث ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم النهي عن الصلاة في بعض الأوقات، واختلف العلماء في عدد هذه الأوقات وفيما يباح من الصلاة فيها مما لا يباح لاسيما تحية المسجد التي كثر الخلاف في الوقت الحاضر في فعلها في وقت النهي وقد رأيت من دخل المسجد بعد أذان المغرب فجلس ولم يصلها بحجة أن ذلك هو مذهب بعض الأئمة الأربعة علما بأن الصلاة بعد الغروب وقبل صلاة المغرب فعلها الصحابة رضي الله عنهم بحضور النبي صلى الله عليه وسلم فلم ينكرها3.

لذلك كله ولأنني لم أعلم من أفرد أوقات النهي ببحث مستقل أحببت أن أسهم في خدمة هذا الموضوع وذلك بدراسته دراسة موازنة من خلال هذا البحث المتواضع الذي سميته: "تحقيق المقام فيما يتعلق في أوقات النهي عن الصلاة من أحكام" وجعلته في بابين وخاتمة اشتمل كل باب على عدة فصول واشتملت بعض الفصول على مباحث كما أن بعض المباحث تضمنت مطالب.

وقد جعلت الباب الأول: في بيان أوقات النهي وفيه فصلان:

الفصل الأول: حكم أوقات النهي من حيث الثبوت وعدمه.

الفصل الثاني: عدد أوقات النهي وفيه تمهيد وثلاثة مباحث:

المبحث الأول: الأوقات الخمسة التي اشتهرت بالنهي.

المبحث الثاني: النهي عن الصلاة بعد العصر وبعد الفجر هل هو متعلق بفعل الصلاة أو بدخول الوقت.

المبحث الثالث: أوقات أخرى وفيه تمهيد وستة مطالب:

--------------------------------------------

1 أخرجه مسلم في كتاب صلاة المسافرين وقصرها) باب فضل السنن الراتبة قبل الفرائض وبعدهن) 1/503 حديث 728.

2 أخرجه مسلم في الكتاب السابق (باب استحباب ركعتي سنة الفجر والحث عليهما) 1/ 501 حديث 725.

3 كما سيأتي ذلك ص25.
"বারো রাকাত নফল (تطوع) নামাজ—যা ফরজ (فريضة) নয়—আদায় করলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। অথবা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।" 1.

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "ফজরের দুই রাকাত নামাজ দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়েও উত্তম।" 2.

যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নির্দিষ্ট কিছু সময়ে নামাজ পড়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা সাব্যস্ত হয়েছে, আর ওলামায়ে কেরাম এই সময়ের সংখ্যা এবং তাতে কোন নামাজ বৈধ আর কোনটি অবৈধ সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন; বিশেষ করে মসজিদের সম্ভাষণমূলক (تحية المسجد) নামাজ প্রসঙ্গে, বর্তমান সময়ে নিষিদ্ধ সময়ে তা আদায়ের ব্যাপারে প্রচুর মতভেদ দেখা দিয়েছে। আমি দেখেছি কেউ কেউ মাগরিবের আজানের পর মসজিদে প্রবেশ করে বসে পড়ছেন আর নামাজ আদায় করছেন না এই যুক্তিতে যে, এটি চার ইমামের কোনো একজনের মাজহাব। অথচ সূর্যাস্তের পর এবং মাগরিবের নামাজের আগে সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতেই তা আদায় করতেন এবং তিনি তা অস্বীকার করেননি। 3.

এই সব কারণেই এবং যেহেতু নিষিদ্ধ সময়গুলো সম্পর্কে কোনো স্বতন্ত্র গবেষণা আমার জানা নেই, তাই আমি এই বিষয়টির সেবায় অবদান রাখতে চেয়েছি। আমি এই বিনম্র গবেষণার মাধ্যমে একটি তুলনামূলক অধ্যয়ন করেছি যার নাম দিয়েছি: "তাহকিকুল মাকাম ফিমা ইয়াতাআল্লাকু ফি আওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম" (নামাজ নিষিদ্ধ হওয়ার সময়ের বিধানাবলীর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ)। আমি এটিকে দুইটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি। প্রতিটি অধ্যায় কয়েকটি অনুচ্ছেদে এবং অনুচ্ছেদগুলো কয়েকটি পরিচ্ছেদে এবং পরিচ্ছেদগুলো কয়েকটি উপ-পরিচ্ছেদে বিভক্ত।

আমি প্রথম অধ্যায়টি রেখেছি: নিষিদ্ধ সময়গুলোর বর্ণনায়, যাতে রয়েছে দুইটি অনুচ্ছেদ:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সাব্যস্ত হওয়া বা না-হওয়ার নিরিখে নিষিদ্ধ সময়গুলোর বিধান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নিষিদ্ধ সময়গুলোর সংখ্যা, এতে রয়েছে একটি ভূমিকা ও তিনটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: পাঁচটি সময় যা নিষিদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আসর ও ফজরের নামাজের পর নামাজ কি নামাজ আদায়ের কারণে নিষিদ্ধ নাকি ওয়াক্ত বা সময় প্রবেশের কারণে?

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অন্যান্য সময়সমূহ, এতে রয়েছে একটি ভূমিকা ও ছয়টি উপ-পরিচ্ছেদ।

--------------------------------------------

1 এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন সহিহ মুসলিম-এর মুসাফিরদের নামাজ ও কসর কিতাবে (ফরজ নামাজের পূর্বের ও পরের সুন্নতে রাতেবা (السنن الراتبة) এর ফজিলত অনুচ্ছেদ) ১/৫০৩, হাদিস ৭২৮।

2 এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন পূর্বোক্ত কিতাবে (ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের মুস্তাহাব (مستحب) হওয়া এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান অনুচ্ছেদ) ১/৫০১, হাদিস ৭২৫।

3 যেমনটি সামনে ২৫ পৃষ্ঠায় আসবে।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২২১)
المطلب الأول: وقت ما بعد الغروب وقبل صلاة المغرب.

المطلب الثاني: وقت إقامة الصلاة.

المطلب الثالث: وقت الخطبة يوم الجمعة.

المطلب الرابع: وقت خطبة العيد والكسوف والاستسقاء.

المطلب الخامس: وقت ما بعد صلاة العيد وقبلها.

المطلب السادس: وقت ما بعد صلاة الجمعة في المسجد.

أما الباب الثاني فهو: في بيان ما يباح ومالا يباح من الصلوات في أوقات النهي واشتمل على تسعة فصول:

الفصل الأول: قضاء الفوائت وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: قضاء الفرائض.

المبحث الثاني: قضاء ركعتي الفجر بعد الصلاة.

المبحث الثالث: قضاء الوتر.

المبحث الرابع: قضاء السنن الراتبة.

الفصل الثاني: الصلاة على الجنازة.

الفصل الثالث: تحية المسجد.

الفصل الرابع: ركعتا الإحرام والطواف والوضوء وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: ركعتا الإحرام.

المبحث الثاني: ركعتا الطواف.

المبحث الثالث: ركعتا الوضوء.

الفصل الخامس: صلاة الكسوف وصلاة الاستسقاء وفيه مبحثان:

المبحث الأول: صلاة الكسوف.

المبحث الثاني: صلاة الاستسقاء.

الفصل السادس: سجود التلاوة وسجود الشكر وفيه مبحثان:

المبحث الأول: سجود التلاوة.

المبحث الثاني: سجود الشكر.

الفصل السابع: إعادة الصلاة مع الجماعة.
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: সূর্যাস্তের পরবর্তী এবং মাগরিবের নামাজের পূর্ববর্তী সময়।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: ইকামত প্রদানের সময়।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: জুমার দিনের খুতবার সময়।

চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: ঈদ, সূর্যগ্রহণ ও বৃষ্টির প্রার্থনার (ইসতিসকা) খুতবার সময়।

পঞ্চম উপ-অনুচ্ছেদ: ঈদের নামাজের পরবর্তী এবং পূর্ববর্তী সময়।

ষষ্ঠ উপ-অনুচ্ছেদ: মসজিদে জুমার নামাজের পরবর্তী সময়।

আর দ্বিতীয় অধ্যায় হলো: নিষিদ্ধ (نهي) সময়ে যেসব নামাজ বৈধ ও অবৈধ তার বর্ণনায়, এবং এটি নয়টি পরিচ্ছেদের (فصول) সমন্বয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কাজা (فوائت) নামাজ আদায় সংক্রান্ত এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ফরজ নামাজের কাজা আদায়।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নামাজের পর ফজরের দুই রাকাতের কাজা আদায়।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বিতর নামাজের কাজা আদায়।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: সুন্নতে রাতেবা (السنن الراتبة) কাজা আদায়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জানাজার নামাজ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাহিয়্যাতুল মসজিদ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইহরাম, তাওয়াফ ও ওজুর দুই রাকাত নামাজ এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইহরামের দুই রাকাত নামাজ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাওয়াফের দুই রাকাত নামাজ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ওজুর দুই রাকাত নামাজ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সূর্যগ্রহণের নামাজ ও বৃষ্টির প্রার্থনার নামাজ (ইসতিসকা) এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সূর্যগ্রহণের নামাজ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বৃষ্টির প্রার্থনার নামাজ (ইসতিসকা)।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তিলাওয়াতের সিজদা ও শোকরানা সিজদা এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তিলাওয়াতের সিজদা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শোকরানা সিজদা।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: জামাতের সাথে পুনরায় নামাজ আদায়।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২২২)
الفصل الثامن: الصلاة المنذورة وصلاة الاستخارة وفيه مبحثان:

المبحث الأول: الصلاة المنذورة.

المبحث الثاني: صلاة الاستخارة.

الفصل التاسع: التطوع في مكة في أوقات النهي.

وأما الخاتمة فجعلتها في أهم ما توصلت إليه من نتائج.

وقد سلكت في إعداد هذا البحث المنهج التالي:

1- حاولت حصر جميع المسائل المتعلقة بالبحث ودرست كل مسألة دراسة موازنة بينت فيها المذاهب الأربعة وقد أشير أحيانا إلى أقوال بعض الصحابة والتابعين

وغيرهم من الفقهاء رضي الله عنهم أجمعين.

2- حرصت أن تخرج المسائل بأسلوب سهل فجمعت ما اتفق من المذاهب في الحكم في قوله واحد ثم ذكرت الأقوال الأخرى وبعد ذلك أذكر الأدلة لكل قول ثم أختم المسألة بما يترجح لديّ فيها وبيان سبب الترجيح والرد على أدلة القول المخالف إن وجد.

3- خرجت الأحاديث الواردة يا البحث فإن كان الحديث في الصحيحين أو في أحدهما اكتفيت بتخريجه منهما أو من أحدهما وإن لم يكن كذلك ذكرت درجته صحة أو ضعفا من واقع الكتب التي تعنى بذلك.

4- صرفت النظر عن الترجمة للأعلام خشية الإطالة.

5- وضعت في نهاية البحث ثلاثة فهارس:

الأول للأحاديث والآثار مرتبة حسب الحروف الهجائية.

والثاني للمصادر والمراجع ورتبتها على الحروف الهجائية أيضا وذكرت اسم

الكتاب والمؤلف وتاريخ وفاته والطبعة والناشر متى ما وجدت شيئا من ذلك.

أما الفهرس الثالث فهو لموضوعات البحث.

وفي الختام أسأل الله سبحانه وتعالى أن يجعل عملي خالصا لوجهه الكريم وأن يوفقني للعمل الذي يرضيه عني إنه ولي ذلك والقادر عليه وصلى الله وسلم على سيد خلقه عبده ورسوله محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
অষ্টম অধ্যায়: মানতকৃত নামাজ ও ইস্তিখারার নামাজ এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মানতকৃত নামাজ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইস্তিখারার নামাজ।

নবম অধ্যায়: মক্কায় নিষিদ্ধ সময়গুলোতে নফল নামাজ।

আর উপসংহারে আমি গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো উল্লেখ করেছি।

এই গবেষণাপত্রটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

1- আমি গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল মাসআলাহ একত্রিত করার চেষ্টা করেছি এবং প্রতিটি মাসআলাহ তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে অধ্যয়ন করেছি, যেখানে চারটি মাযহাবের মতামত স্পষ্ট করেছি। কখনো কখনো সাহাবী ও তাবেয়িদের কিছু বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছি

এবং অন্যান্য ফকিহগণের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বক্তব্যের প্রতিও।

2- আমি মাসআলাহগুলো সহজ পদ্ধতিতে উপস্থাপন করতে সচেষ্ট হয়েছি। ফলে যে সকল বিধানের ক্ষেত্রে মাযহাবগুলো একমত হয়েছে, তা একটি বক্তব্যের অধীনে একত্রিত করেছি, অতঃপর অন্যান্য মতামত বর্ণনা করেছি। এরপর প্রতিটি মতের পক্ষে দলিল উল্লেখ করেছি এবং পরিশেষে আমার নিকট যেটি অগ্রগণ্য বলে মনে হয়েছে তা বর্ণনার মাধ্যমে মাসআলাহটি সমাপ্ত করেছি। সেই সাথে অগ্রগণ্য হওয়ার কারণ এবং বিরোধী মতের দলিল থাকলে তার খণ্ডন উল্লেখ করেছি।

3- আমি গবেষণায় উল্লিখিত হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج) করেছি। যদি হাদিসটি সহিহাইন বা এ দুটির কোনো একটিতে থাকে, তবে সেখান থেকেই তাখরিজ (تخريج) করার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর যদি তা না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহের আলোকে এর গ্রহণযোগ্যতা অর্থাৎ সহিহ (صحيح) বা জঈফ (ضعيف) হওয়ার পর্যায় উল্লেখ করেছি।

4- দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমি বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী আলোচনা করা থেকে বিরত থেকেছি।

5- গবেষণার শেষে আমি তিনটি নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি:

প্রথমটি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো হাদিস ও আসার (آثار) এর নির্ঘণ্ট।

দ্বিতীয়টি উৎস ও তথ্যসূত্র সম্বলিত নির্ঘণ্ট এবং এটিও বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি। এতে বইয়ের নাম,

লেখক, তাঁর মৃত্যু সাল, সংস্করণ ও প্রকাশনীর নাম উল্লেখ করেছি যেখানেই তা পাওয়া গেছে।

আর তৃতীয় নির্ঘণ্টটি হলো গবেষণার বিষয়বস্তু সম্বলিত।

পরিশেষে মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এই কাজটিকে কেবলমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমাকে এমন আমল করার তাওফিক দান করেন যাতে তিনি আমার ওপর সন্তুষ্ট হন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সর্বশক্তিমান। আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ তাঁর বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২২৩)
‌‌بيان أوقات النهي

‌‌حكم أوقات النهي من حيث الثبوت وعدمه

…

الباب الأول

بيان أوقات النهي
নিষিদ্ধ সময়সমূহের (أوقات النهي) বর্ণনা

সাব্যস্ত হওয়া (الثبوت) এবং না হওয়ার দিক থেকে নিষিদ্ধ সময়সমূহের (أوقات النهي) বিধান (حكم)

…

প্রথম অধ্যায়

নিষিদ্ধ সময়সমূহের (أوقات النهي) বর্ণনা
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২২৪)
الفصل الأول

حكم أوقات النهي من حيث الثبوت وعدمه

أكثر أهل العلم ومنهم الأئمة الأربعة على ثبوت النهي عن الصلاة في بعض الأوقات1، وقد حكى النووي الإجماع على ذلك2.

ومن الأدلة لهم ما يأتي:

1- عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صلاتين، بعد الفجر حتى تطلع الشمس وبعد العصر حتى تغرب 3.

2- عن ابن عباس رضي الله عنهما قال:" شهد عندي رجال مرضيون وأرضاهم عندي عمر، أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن الصلاة بعد الصبح حتى تشرق الشمس وبعد العصر حتى تغرب" 4.

3- عن عطاء بن يزيد الجندعي أنه سمعت أبا سعيد الخدري يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "لا صلاة بعد الصبح حتى ترتفع الشمس ولا صلاة بعد العصر حتى تغيب الشمس " 5.

4- عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تحروا بصلاتكم طلوع الشمس ولا غروبها" 6.

--------------------------------------------

1 انظر مختصر الطحاوي: 24، الهداية 1/ 40، القوانين الفقهية: 53، مختصر خليل: 24، المهذب 1/ 92، روضة الطالبين 1/192، الهداية لأبي الخطاب 1/ 41، الفروع 1/572.

2 شرح النووي على صحيح مسلم 6/ 0 1 1، وانظر أيضا فتح الباري 2/ 59، بلوغ الأماني 2/296.

3 أخرجه البخاري واللفظ له في كتاب مواقيت الصلاة "باب الصلاة بعد الفجر حتى ترتفع الشمس " و"باب لا يتحرى الصلاة قبل غروب الشمس 2/ 45ا-146، ومسلم في كتاب صلاة المسافرين وقصرها "باب الأوقات التي نهر عن الصلاة فيها ا/566 حديث 825.

4 أخرجه البخاري واللفظ له في كتاب مواقيت الصلاة "باب الصلاة بعد الفجر حتى ترتفع الشمس"1/145، ومسلم في الكتاب والباب السابقين 1/566 -567 حديث 826.

5 أخرجه البخاري واللفظ له في كتاب مواقيت الصلاة "باب لا يتحرى الصلاة قبل غروب الشمس "1/145-146، ومسلم في الكتاب والباب السابقين 1/567 حديث 827.

6 أخرجه البخاري بهذا اللفظ في كتاب مواقيت الصلاة "باب الصلاة بعد الفجر حتى ترتفع الشمس،- وبلفظ آخر في لا يتحرى الصلاة قبل غروب الشمس 1/145، وأخرجه مسلم في الكتاب والباب السابقين 1/567 -568 حديث 828.
প্রথম অধ্যায়

সাব্যস্ত হওয়া (ثبوت) এবং না হওয়ার দিক থেকে নিষিদ্ধ সময়ের বিধান

অধিকাংশ আলেম, যাদের মধ্যে চার ইমামও রয়েছেন, তাঁরা নির্দিষ্ট কিছু সময়ে নামাজ পড়ার নিষেধাজ্ঞা সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) পক্ষে মত দিয়েছেন১, আর ইমাম নববী এ বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) বর্ণনা করেছেন২।

তাঁদের সপক্ষের দলীলসমূহ নিম্নরূপ:

১- আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) দুই সময়ের নামাজ নিষেধ করেছেন; ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ৩।

২- ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমার নিকট এমন কিছু ব্যক্তি সাক্ষ্য দিয়েছেন যারা সন্তোষজনক (مرضيون) এবং তাঁদের মধ্যে আমার নিকট সবচেয়ে সন্তোষজনক হলেন উমর; যে নবী (সা.) সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন" ৪।

৩- আতা বিন ইয়াজিদ আল-জুন্দায়ি থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরিকে বলতে শুনেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্য উপরে ওঠা পর্যন্ত কোনো নামাজ নেই এবং আসরের পর থেকে সূর্য ডুবে যাওয়া পর্যন্ত কোনো নামাজ নেই" ৫।

৪- ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "তোমরা সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় নামাজের জন্য অন্বেষণ করো না" ৬।

--------------------------------------------

১ দেখুন মুখতাসার আত-তাহাবি: ২৪, আল-হিদায়া ১/৪০, আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ: ৫৩, মুখতাসার খলিল: ২৪, আল-মুহায্যাব ১/৯২, রওজাতুত তালিবিন ১/১৯২, আল-হিদায়া লি-আবীল খাত্তাব ১/৪১, আল-ফুরু ১/৫৭২।

২ শারহু নববী আলা সহীহ মুসলিম ৬/১১০, আরও দেখুন ফাতহুল বারী ২/৫৯, বুলুগুল আমানি ২/২৯৬।

৩ এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তাঁরই, নামাজের ওয়াক্ত অধ্যায়, "ফজরের পর সূর্য উপরে ওঠা পর্যন্ত নামাজের অনুচ্ছেদ" এবং "সূর্যাস্তের পূর্বে নামাজের অন্বেষণ না করার অনুচ্ছেদ" ২/১৪৫-১৪৬; এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন মুসাফিরের নামাজ ও কসর অধ্যায়, "যেসব সময়ে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে সেই ওয়াক্তসমূহের অনুচ্ছেদ" ১/৫৬৬, হাদিস ৮২৫।

৪ এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তাঁরই, নামাজের ওয়াক্ত অধ্যায়, "ফজরের পর সূর্য উপরে ওঠা পর্যন্ত নামাজের অনুচ্ছেদ" ১/১৪৫; এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন পূর্বোক্ত কিতাব ও অনুচ্ছেদে ১/৫৬৬-৫৬৭, হাদিস ৮২৬।

৫ এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তাঁরই, নামাজের ওয়াক্ত অধ্যায়, "সূর্যাস্তের পূর্বে নামাজের অন্বেষণ না করার অনুচ্ছেদ" ১/১৪৫-১৪৬; এবং muslim বর্ণনা করেছেন পূর্বোক্ত কিতাব ও অনুচ্ছেদে ১/৫৬৭, হাদিস ৮২৭।

৬ এটি বুখারী এই শব্দে বর্ণনা করেছেন নামাজের ওয়াক্ত অধ্যায়, "ফজরের পর সূর্য উপরে ওঠা পর্যন্ত নামাজের অনুচ্ছেদ", এবং অন্য শব্দে "সূর্যাস্তের পূর্বে নামাজের অন্বেষণ না করার অনুচ্ছেদ" ১/১৪৫; এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন পূর্বোক্ত কিতাব ও অনুচ্ছেদে ১/৫৬৭-৫৬৮, হাদিস ৮২৮।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২২৫)
5- وعنه أيضا قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا طلع حاجب الشمس فأخروا الصلاة حتى ترتفع وإذا غاب حاجب الشمس فأخروا الصلاة حتى تغيب " 1.

6- عن عقبة بن عامر الجهني رضي الله عنه قال: ثلاث ساعات كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهانا أن نصلي فيهن أو أن نقبر فيهن موتانا، حين تطلع الشمس بازغة حتى ترتفع وحين يقوم قائم الظهيرة2 حتى تميل الشمس وحين تضئ! الشمس للغروب حتى تغرب " 3.

وحكى الحافظ ابن حجر عن طائفة من السلف إباحة التطوع في كل وقت حيث قال: "قال النووي أجمعت الأمة على كراهة صلاة لا سبب لها في الأوقات المنهي عنها واتفقوا على جواز الفرائض المؤداة فيها".. إلى أن قال: "قلت: وما نقله من الإجماع والاتفاق متعقب، فقد حكى غيره الإباحة مطلقا وأن أحاديث النهي منسوخة، وبه قال داود وغيره من أهل الظاهر وبذلك جزم ابن حزم، وعن طائفة أخرى المنع مطلقا في جميع الصلوات "4.

قلت: دعوى النسخ لا دليل عليها فتبقى أحاديث النهى محكمة. قال ابن حزم: "وأما من رأى من أصحابنا النهى عن الصلاة بعد صلاة العصر منسوخا بصلاته عليه السلام الركعتين فكان يصح هذا لولا حديث وهب بن الأجدع الذي ذكرنا من إباحته عليه السلام الصلاة بعد العصر مادامت الشمس مرتفعة فبطل النسخ في ذلك "5 أهـ. فثبت بهذا أن أوقات النهي ثابتة.

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري واللفظ له في كتاب مواقيت الصلاة "باب الصلاة بعد الفجر حتى ترتفع الشمس " 1/ 145 ومسلم في الكتاب والباب السابقين 1/568 حديث 529.

2 معنى حين يقوم قائم الظهيرة: أي حين لا يبقى للقائم في الظهيرة ظل في المشرق ولا في المغرب، والمعنى حال استواء الشمس. انظر: صحيح مسلم بشرح النووي 4/6 1 1، سبل السلام 1/326.

3 أخرجه مسلم في الكتاب والباب السابقين 1/568 -569 حديث 1 83.

4 فتح الباري 2/ 259 وأنظر أيضا شرح الزرقاني على موطأ الامام مالك 2/ 46، بلوغ الأماني 2/ 296.

51لمحلى 3/46.
৫- তাঁর (ইবনে ওমর) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন সূর্যের অগ্রভাগ উদিত হয়, তখন সালাত বিলম্বিত করো যতক্ষণ না তা পরিপূর্ণভাবে উচ্চকিত হয়; আর যখন সূর্যের অগ্রভাগ অদৃশ্য হতে শুরু করে, তখন সালাত বিলম্বিত করো যতক্ষণ না তা পূর্ণরূপে অস্ত যায়।" ১.

৬- উকবাহ বিন আমির আল-জুহানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তিনটি সময়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সালাত আদায় করতে অথবা আমাদের মৃতদের দাফন করতে নিষেধ করতেন: যখন সূর্য স্পষ্টভাবে উদিত হতে শুরু করে যতক্ষণ না তা উঁচুতে ওঠে, যখন দ্বিপ্রহরের সূর্য মধ্যগগন বরাবর স্থির হয়২ যতক্ষণ না তা পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ে, এবং যখন সূর্য অস্ত যাওয়ার জন্য ঝুঁকে পড়ে যতক্ষণ না তা পূর্ণরূপে অস্তমিত হয়।" ৩.

হাফিজ ইবনে হাজার পূর্বসূরিগণের (সালাফ) একটি দলের পক্ষ থেকে সকল সময়ে নফল সালাতের বৈধতা (إباحة) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "ইমাম নববী বলেছেন, উম্মত ওই সকল সালাতের ব্যাপারে অপছন্দনীয় বা মাকরূহ (كراهة) হওয়ার ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছে যেগুলোর নিষিদ্ধ সময়ে আদায়ের কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই। আর তাঁরা এই সময়ে ওই সকল ফরজ সালাত (فرائض) আদায়ের বৈধতার ব্যাপারে ঐকমত্য (اتفاق) পোষণ করেছেন যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদায় করা হচ্ছে।"... তিনি আরও বলেন: "আমি বলছি: তিনি যে ঐক্যমত (إجماع) এবং ঐকমত্যের (اتفاق) কথা উল্লেখ করেছেন তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। কারণ অন্যেরা এই সময়ে সালাত আদায়ের নিরঙ্কুশ বৈধতা (إباحة) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, নিষেধাজ্ঞার হাদিসসমূহ রহিত (منسوخة) হয়ে গেছে। দাউদ এবং জাহেরি মাযহাবের অনুসারী (أهل الظاهر) অন্যান্যগণ এই মত ব্যক্ত করেছেন এবং ইবনে হাজম এটি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন। আবার অন্য একটি দল সকল প্রকার সালাতের ব্যাপারে সাধারণভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন।" ৪.

আমি বলছি: রহিতকরণের (النسخ) দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, তাই নিষেধাজ্ঞার হাদিসসমূহ সুদৃঢ় বা মুহকাম (محكمة) হিসেবেই বহাল থাকবে। ইবনে হাজম বলেছেন: "আমাদের সাথীদের মধ্যে যারা আসর সালাতের পর সালাত আদায় করাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুই রাকাত সালাত আদায়ের প্রেক্ষিতে রহিত (منسوخ) মনে করেন, তাদের এই দাবি সঠিক হতে পারত যদি না ওহাব বিন আল-আজদা বর্ণিত হাদিসটি থাকত। যেখানে আমরা উল্লেখ করেছি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসরের পর সূর্য উঁচুতে থাকা পর্যন্ত সালাত আদায়ের বৈধতা (إباحة) দিয়েছেন; ফলে এক্ষেত্রে রহিতকরণ (النسخ) বাতিল হয়ে গেল।" ৫—সমাপ্ত। সুতরাং এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, নিষিদ্ধ সময়গুলো সুপ্রতিষ্ঠিত।

--------------------------------------------

১. এটি সহিহ বুখারি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি তাঁরই, সালাতের ওয়াক্তসমূহ অধ্যায়, "ফজরের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত সালাত" পরিচ্ছেদ, ১/১৪৫; এবং সহিহ মুসলিম পূর্বোক্ত অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে, ১/৫৬৮, হাদিস ৫২৯।

২. দ্বিপ্রহরের সূর্য মধ্যগগন বরাবর স্থির হওয়ার অর্থ হলো: যখন দ্বিপ্রহরে দণ্ডায়মান কোনো বস্তুর ছায়া পূর্ব দিকে বা পশ্চিম দিকে অবশিষ্ট থাকে না; এর অর্থ সূর্য মধ্যগগনে অবস্থানের অবস্থা। দেখুন: শারহ নববী আলা সহিহ মুসলিম ৪/১৬১, সুবুলুস সালাম ১/৩২৬।

৩. এটি সহিহ মুসলিম পূর্বোক্ত অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, ১/৫৬৮-৫৬৯, হাদিস ১৮৩।

৪. ফাতহুল বারি ২/২৫৯; আরও দেখুন মুওয়াত্তা ইমাম মালিকের শারহ আয-যারকানি ২/৪৬, বুলুগুল আমানি ২/২৯৬।

৫. আল-মুহাল্লা ৩/৪৬।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২২৬)
‌‌عدد أوقات النهي

‌‌تمهيد

…

الفصل الثاني عدد أوقات النهي

بالنظر في الأحاديث السابقة في حكم أوقات النهي يتبين أن هناك خمسة أوقات منهي عن الصلاة فيها، دل حديث عقبة بن عامر الجهني رضي الله عنه على ثلاثة منها هي: حين تطلع الشمس بازغة حتى ترتفع وحين يقوم قائم الظهيرة حتى تميل الشمس وحين تضيف الشمس للغروب حتى تغرب، وزادت بقية الأحاديث وقتين هما بعد الفجر حتى تطلع الشمس وبعد العصر حتى تغرب الشمس.

وحيث اختلف العلماء في عدد أوقات النهي فذكر بعضهم أنها خمسة واشتهر النص على ذلك في كثير من كتب الفقه1، وزاد بعضهم عليها ونقص البعض الآخر2، كما اختلفوا في تعلق النهي عن الصلاة بعد الفجر هل هو بطلوع الفجر أو بصلاة الفجر رأيت أن أجعل الكلام في هذا الفصل في ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: في الأوقات الخمسة ومعرفة من عدها جميعا أوقات نهي ومن عد بعضها وبيان الراجح من ذلك. أما المبحث الثاني: فجعلته في تعلق النهي عن الصلاة بعد العصر وبعد الفجر. بينما جعلت المبحث الثالث في أوقات أخرى زادها بعض العلماء فأقول وبالله التوفيق.

--------------------------------------------

1 ومنها المبسوط 1/ 150، المهذب 1 /92، حلية العلماء العلماء2/ 185، روضة الطالبين 1 /192، كفاية الأخيار 1/ 130، الهداية لأبي الخطاب 1/ 1 4، المحرر 1/ 86، الفروع 1/ 572، الإنصاف 2/ 1 0 2، الإقناع 1/157، شرح منتهى الإرادات 1/ 242.

2 كما يتضح ذلك إن شاء الله في بيان مباحث هذا الفصل.
নিষেধাজ্ঞার (النهي) সময়সমূহের সংখ্যা

উপক্রমণিকা

...

দ্বিতীয় অধ্যায়: নিষেধাজ্ঞার (النهي) সময়সমূহের সংখ্যা

নিষেধাজ্ঞার (النهي) সময়সমূহের বিধান সংক্রান্ত পূর্ববর্তী হাদিসগুলো পর্যালোচনা করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, এমন পাঁচটি সময় রয়েছে যাতে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ (المنهي عنه)। উকবা ইবনে আমের আল-জুহানি (রা.) বর্ণিত হাদিসটি এর মধ্যে তিনটি সময়ের ওপর দলিল (دليل) প্রদান করে, সেগুলো হলো: যখন সূর্য উদিত হয়ে প্রস্ফুটিত হয় যতক্ষণ না তা ওপরে ওঠে, যখন ঠিক দুপুরে সূর্য স্থির থাকে যতক্ষণ না তা হেলে পড়ে এবং যখন সূর্য সূর্যাস্তের দিকে ঝুঁকতে থাকে যতক্ষণ না তা অস্ত যায়। আর অবশিষ্ট হাদিসগুলো আরও দুটি সময় বৃদ্ধি করেছে, তা হলো—ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

যেহেতু ওলামায়ে কেরাম নিষেধাজ্ঞার (النهি) সময়ের সংখ্যার ব্যাপারে মতভেদ (اختلاف) করেছেন, তাই তাঁদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে এগুলো পাঁচটি এবং ফিকহ শাস্ত্রের অনেক কিতাবে এ সম্পর্কিত বর্ণনা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে ১, আবার কেউ কেউ এর চেয়েও সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন এবং অন্য কেউ কেউ কমও বলেছেন ২। একইভাবে ফজরের পর নামাজ পড়ার নিষেধাজ্ঞা (النهي) কি ফজর উদিত হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত নাকি ফজর নামাজ আদায়ের সাথে সম্পৃক্ত—এ বিষয়েও তাঁরা মতভেদ (اختلاف) করেছেন। তাই আমি এই অধ্যায়ের আলোচনাকে তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করা সমীচীন মনে করছি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: পাঁচটি সময় প্রসঙ্গে এবং যাঁরা এই সবগুলোকে নিষেধাজ্ঞার (النهي) সময় হিসেবে গণ্য করেছেন ও যাঁরা এর মধ্য থেকে কিছুকে গণ্য করেছেন তাঁদের পরিচয় এবং এ বিষয়ে অগ্রগণ্য (الراجح) মতের বর্ণনা। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আসর ও ফজরের পর নামাজের নিষেধাজ্ঞা (النهي) কিসের সাথে সম্পৃক্ত তা নিয়ে সাজিয়েছি। অন্যদিকে তৃতীয় পরিচ্ছেদে সেই সব সময়ের কথা উল্লেখ করেছি যা কিছু আলেম অতিরিক্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করে শুরু করছি।

--------------------------------------------

১. যার মধ্যে রয়েছে: আল-মাবসুত ১/১৫০, আল-মুহাজ্জাব ১/৯২, হিলয়াতুল উলামা ২/১৮৫, রওজাতুত তালিবিন ১/১৯২, কিফায়াতুল আখইয়ার ১/১৩০, আবি আল-খাত্তাবের আল-হিদায়াহ ১/১৪, আল-মুহাররার ১/৮৬, আল-ফুরু ১/৫৭২, আল-ইনসাফ ২/১০২, আল-ইকনা ১/১৫৭, শারহু মুনতাহাল ইরাদাত ১/২৪২।

২. যেমনটি ইনশাআল্লাহ এই অধ্যায়ের পরিচ্ছেদগুলোর বর্ণনায় স্পষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২২৭)
المبحث الأول

‌‌الأوقات الخمسة

اختلف العلماء في عد هذه الأوقات أوقات نهي على أربعة أقوال:

الأول: أن الأوقات الخمسة كلها أوقات نهي وهي من بعد الفجر1 حتى تطلع الشمس، وعند طلوعها حتى ترتفع، وإذا استوت حتى تزول، وبعد العصر حتى تغرب الشمس، ومن حين تتضيف للغروب حتى تغرب.

وبه قال الحنفية2، والحنابلة3، وكذا الشافعية إلا أنهم استثنوا وقت الزوال يوم الجمعة4، وروى الترخيص يوم الجمعة عن طاوس والحسن ومكحول والأوزاعي وسعيد بن عبد العزيز وإسحاق وأبي يوسف5، واختار ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية6، وقال ابن مفلح في الفروع:7 "وظاهر الجواز ولو لم يحضر الجامع ".

ومن هؤلاء من جعل الأوقات الخمسة ثلاثة حيث جعل من بعد الفجر إلى ارتفاع الشمس قيد رمح وقت ومن بعد العصر حتى تغرب الشمس وقت، وهذا هو الذي حكاه ابن قدامة في المغني عن الإمام أحمد حيث قال: "اختلف أهل العلم في الأوقات المنهي عن الصلاة فيها فذهب أحمد رحمه الله تعالى إلى أنها من بعد الفجر حتى ترتفع

--------------------------------------------

1 ويأتي في المبحث الثاني اختلاف العلماء في تعلق النهي هل هو بطلوع الفجر أو بصلاة الفجر.

2 مختصر الطحاوي ص 24، الهداية 1/ 40- ا 4، الاختيار لتعليل المختار 1/ 40- ا 4، اللباب في شرح الكتاب 1/88-89

3 انظر الهداية 1/ 1 4، المقنع ص 35، الفروع 1/572، الإنصاف 2/ 1 20-203، الإقناع 1 /157، شرح منتهى الإرادات 1/242

4 انظر المهذب 1/92-93، روضة الطالبين 1/194، كفاية الأخيار 1/130- ا 13، مغنى المحتاج 1/128.

5 انظر الأوسط 4/ 1 9، السنن الكبرى 2/ 465، معرفة السنن والآثار 3/ 439، المغني 2/ 536، بدائع الصنائع 1/ 296.

6 انظر الاختيارات الفقهية: ص 66، الإنصاف 2/ 2 20.

7 1 / 572.
প্রথম পরিচ্ছেদ

‌‌পাঁচটি সময়

এই সময়গুলোকে নিষিদ্ধ সময় (أوقات نهي) হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে আলেমগণ চারটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথমত: এই পাঁচটি সময়ের সবই নিষিদ্ধ সময় (أوقات نهي)। আর তা হলো ফজরের পর থেকে সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত, সূর্য উদয়ের সময় থেকে তা উপরে উঠা পর্যন্ত, যখন সূর্য ঠিক মাথার উপরে থাকে তা ঢলে পড়া পর্যন্ত, আসরের পর থেকে সূর্য ডুবা পর্যন্ত এবং যখন সূর্য ডুবার উপক্রম হয় তখন থেকে তা ডুবা পর্যন্ত।

হানাফি, হাম্বলি এবং একইভাবে শাফেয়ি মাযহাব এই মত পোষণ করেছে, তবে শাফেয়িগণ জুমার দিনের দ্বিপ্রহরের সময়টিকে (وقت الزوال) ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন। আর জুমার দিনে (নামাজের) অনুমতি সম্পর্কে তাউস, হাসান, মাকহুল, আওজায়ি, সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ, ইসহাক এবং আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত হয়েছে। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ এই মতটিকে গ্রহণ করেছেন এবং ইবনে মুফলিহ আল-ফুরু গ্রন্থে বলেছেন: "প্রকাশ্যত এটি বৈধ, যদিও সে জামে মসজিদে উপস্থিত না থাকে।"

তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই পাঁচটি সময়কে তিনটিতে সীমাবদ্ধ করেছেন; যেখানে ফজরের পর থেকে সূর্য এক বল্লম পরিমাণ উপরে উঠা পর্যন্ত একটি সময় এবং আসরের পর থেকে সূর্য ডুবা পর্যন্ত আরেকটি সময় হিসেবে গণ্য করেছেন। আর এটিই ইবনে কুদামা আল-মুগনি গ্রন্থে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "নামাজ পড়া নিষিদ্ধ সময়গুলোর (الأوقات المنهي عن الصلاة فيها) ব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমগণ মতভেদ করেছেন; ইমাম আহমাদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই মত পোষণ করেছেন যে, তা হলো ফজরের পর থেকে সূর্য উপরে উঠা পর্যন্ত..."

--------------------------------------------

১. দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আলেমদের এই মতভেদ সম্পর্কে আলোচনা আসবে যে, নিষেধাজ্ঞা (النهي) কি সুবহে সাদেক উদিত হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট নাকি ফজর নামাজের সাথে সংশ্লিষ্ট।

২. মুখতাসারুত তহাবি পৃষ্ঠা ২৪, আল-হিদায়া ১/৪০-৪১, আল-ইখতিয়ার লি-তাইলিল মুখতার ১/৪০-৪১, আল-লুবাব ফি শারহিল কিতাব ১/৮৮-৮৯।

৩. দেখুন: আল-হিদায়া ১/৪১, আল-মুকনি পৃষ্ঠা ৩৫, আল-ফুরু ১/৫৭২, আল-ইনসাফ ২/১২০-২০৩, আল-ইকনা ১/১৫৭, শারহু মুনতাহাল ইরাদাত ১/২৪২।

৪. দেখুন: আল-মুহাজ্জাব ১/৯২-৯৩, রওজাতুত তালিবিন ১/১৯৪, কিফায়াতুল আখইয়ার ১/১৩০-১৩১, মুগনিল মুহতাজ ১/১২৮।

৫. দেখুন: আল-আওসাত ৪/১৯, আস-সুনানুল কুবরা ২/৪৬৫, মা'রিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার ৩/৪৩৯, আল-মুগনি ২/৫৩৬, বাদায়িউস সানায়ি ১/২৯৬।

৬. দেখুন: আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৬৬, আল-ইনসাফ ২/২২০।

৭. ১/৫৭২।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২২৮)
الشمس قدر رمح وبعد العصر حتى تغرب الشمس وحال قيام الشمس حتى تزول، وعدها أصحابه خمسة أوقات من الفجر إلى طلوع الشمس وقت ومن طلوعها إلى ارتفاعها وقت وحال قيامها وقت ومن العصر إلى شروع الشمس في الغروب وقت وإلى تكامل الغروب وقت "1 أهـ.

وممن جزم بأن الأوقات ثلاثة من الحنابلة مرعي بن يوسف في دليل الطالب حيث قال: "فصل في أوقات النهي وهي من طلوع الفجر إلى ارتفاع الشمس قيد رمح ومن العصر إلى غروب الشمس وعند قيامها حتى تزول "2.

ومن الشافعية النووي حيث قال: "وتكره الصلاة عند الاستواء إلا يوم الجمعة وبعد الصبح حتى ترتفع الشمس كرمح والعصر حتى تغرب "3.

القول الثاني: أن الأوقات المنهي عن الصلاة فيها أربعة، وهي الأوقات التي ذكرها أصحاب القول الأول عدا وقت الزوال مطلقا أي بدون فرق بين يوم الجمعة وغيره، وبه قال المالكية4.

الثالث: أنها أربعة أيضا وهي المذكورة في القول الأول كذلك، عدا بعد العصر

وبه قال بعض العلماء5. وممن رخص في الصلاة بعد صلاة العصر علي وعائشة والزبير وابنه وتميم الداري والنعمان بن بشير وأبو أيوب الأنصاري رضي الله عنهم أجمعين6. الرابع: أنها ثلاثة فقط وهي المذكورة في حديث عقبة بن عامر رضي الله عنه وهي حين تطلع الشمس حتى ترتفع وعند استوائها حتى تزول وحين تتضيف للغروب حتى تغرب وبه قال ابن المنذر7.

--------------------------------------------

1 المغنى 1/523.

2 دليل الطالب ص 41، وانظر أيضا منار السبيل 1/116.

3 انظر المنهاج مع مغني المحتاج 1/128.

4 انظر الكافي 1/165، بداية المجتهد 1/127، القوانين الفقهية ص 53، مختمر خليل ص 24.

5 حكى ذلك ولم ينسبه لأحد ابن عبد البر في الاستذكار 149/1، وابن رشد في بداية المجتهد 127/1.

6 انظر المغنى 2/527.

7 انظر الإقناع لابن المنذر 1/83، المغنى 2/ 524.
সূর্য এক বল্লম পরিমাণ উঁচু হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এবং সূর্য মধ্যগগনে থিতু হওয়া থেকে ঢলে পড়া পর্যন্ত। তাঁর (ইমাম শাফিঈর) অনুসারীরা এই নিষিদ্ধ সময় (أوقات النهي) গুলোকে পাঁচটি সময় হিসেবে গণ্য করেছেন: ফজর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত একটি সময়, সূর্যোদয় থেকে তা উচ্চতা লাভ করা পর্যন্ত একটি সময়, সূর্য মধ্যগগনে থাকা কালীন একটি সময়, আসর থেকে সূর্যাস্ত শুরু হওয়া পর্যন্ত একটি সময় এবং সূর্যাস্ত পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত একটি সময়।"১ সমাপ্ত।

হাম্বলি ফকীহদের মধ্যে যারা এই সময়গুলো তিনটি বলে নিশ্চিত করেছেন তাদের মধ্যে 'দালিলুত তালিব' গ্রন্থে মারঈ ইবনে ইউসুফ অন্যতম, যেখানে তিনি বলেন: "নিষিদ্ধ সময় (أوقات النهي) সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ: এগুলো হলো সুবহে সাদেক থেকে সূর্য এক বল্লম পরিমাণ উঁচুতে ওঠা পর্যন্ত, আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এবং সূর্য মধ্যগগনে স্থির হওয়ার সময় থেকে ঢলে পড়া পর্যন্ত।"২

শাফিঈদের মধ্যে ইমাম নববী বলেন: "সূর্য মধ্যগগনে থাকা অবস্থায় সালাত আদায় করা অপছন্দনীয় (مكروه), তবে জুমার দিন ব্যতীত। এছাড়া সুবহে সাদেকের পর থেকে সূর্য এক বল্লম পরিমাণ উঁচু হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত (সালাত আদায় নিষিদ্ধ)।"৩

দ্বিতীয় মত: সালাত আদায় নিষিদ্ধ (المنهي عنه) সময়গুলো হলো চারটি। এগুলো হলো প্রথম মতের প্রবক্তাদের উল্লিখিত সময়সমূহ, কেবল সূর্য মধ্যগগনে থাকার সময়টি বাদে (অর্থাৎ জুমার দিন ও অন্যান্য দিনের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছাড়াই এই সময়ে সালাত জায়েজ)। মালিকি মাযহাবের ফকীহগণ এই মত পোষণ করেছেন।৪

তৃতীয় মত: নিষিদ্ধ সময়গুলো চারটি। এগুলোও প্রথম মতে উল্লিখিত সময়ের অনুরূপ, কেবল আসরের পরের সময়টি ব্যতীত।

কোনো কোনো আলিম এই মত পোষণ করেছেন।৫ আসরের সালাতের পর সালাত আদায়ের অনুমতি দিয়েছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে আলী, আয়েশা, যুবাইর ও তাঁর পুত্র, তামীম আদ-দারি, নুমান ইবনে বশীর এবং আবু আইয়ুব আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন) অন্যতম।৬ চতুর্থ মত: নিষিদ্ধ সময় মাত্র তিনটি। এগুলো উকবা ইবনে আমের (রা.) বর্ণিত হাদিসে উল্লিখিত হয়েছে। সেগুলো হলো: যখন সূর্য উদিত হয় যতক্ষণ না তা উঁচুতে ওঠে, যখন সূর্য মধ্যগগনে স্থির হয় যতক্ষণ না তা ঢলে পড়ে এবং যখন সূর্য অস্ত যাওয়ার জন্য হেলে পড়ে যতক্ষণ না তা পূর্ণরূপে অস্ত যায়। ইবনুল মুনযির এই মত পোষণ করেছেন।৭

--------------------------------------------

১ আল-মুগনি ১/৫২৩।

২ দালিলুত তালিব পৃষ্ঠা ৪১, আরও দেখুন মানারুস সাবিল ১/১১৬।

৩ দেখুন আল-মিনহাজ মাআ মুগনি আল-মুহতাজ ১/১২৮।

৪ দেখুন আল-কাফি ১/১৬৫, বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/১২৭, আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৫৩, মুখতাসার খলীল পৃষ্ঠা ২৪।

৫ ইবনে আবদিল বার 'আল-ইস্তিজকার' ১/১৪৯ গ্রন্থে এবং ইবনে রুশদ 'বিদায়াতুল মুজতাহিদ' ১/১২৭ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে নির্দিষ্ট কারো দিকে এটি সম্পৃক্ত করেননি।

৬ দেখুন আল-মুগনি ২/৫২৭।

৭ দেখুন ইবনুল মুনযির রচিত আল-ইকনা ১/৮৩, আল-মুগনি ২/৫২৪।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২২৯)
الأدلة:

استدل أصحاب القول الأول على أن أوقات النهى خمسة:

بالأحاديث السابقة في حكم أوقات النهى حيث دلت على خمسة أوقات نهى عن الصلاة فيها.

واستدل الشافعية ومن معهم على استثناء يوم الجمعة بما يأتي:

1- عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الصلاة نصف النهار حتى تزول الشمس إلا يوم الجمعة 1.

2- عن أبي قتادة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كره الصلاة نصف النهار إلا يوم الجمعة وقال: "إن جهنم تسجر إلا يوم الجمعة 2.

3- أن النعاس يغلب في هذا الوقت فيطرد بالتنفل خوفا من انتقاض الوضوء، لأن الخروج من المسجد فيه مشقة3.

4- أن الناس ينتظرون الجمعة في هذا الوقت وليس عليهم قطع النوافل، لأن النبي صلى الله عليه وسلم استحب التبكير إلى الجنة ثم رغب في الصلاة إلى خروج الإمام من غير تخصيص ولا استثناء4.

واستدل أصحاب القول الثاني على استثناء وقت الزوال: بعمل أهل

--------------------------------------------

1 أخرجه الشافعي في مسنده ص 63، والبيهقي في السنن الكبرى 2/464، والبغوي في شرح السنة 3/ 329، وقال الحافظ ابن حجر في التلخيص الحبير 1/188 "وإسحاق وإبراهيم ضعيفان.. ورواه الأثرم بسند فيه الواقدي وهو متروك ".

2 رواه أبو داود في كتاب الصلاة باب الصلاة يوم الجمعة قبل الزوال1/653حديث 1583 وقال هو مرسل مجاهد أكبرمن أبي الخليل وأبو الخليل لم يسمع من أبي قتادة، وقال الحافظ ابن حجر في التلخيص الحبير 1/ 189: "وفيه ليث بن أسلم وهو ضعيف "، ورواه أيضا البيهقي في السنن الكبرى 2/ 464 وقال: وله شواهد وإن كانت أسانيدها ضعيفة!.

وقال البيهقي في معرفة السنن والآثار 3/438: "ورواية أبي هريرة وأبي سعيد في إسنادها من لا يحتج به ولكنها إذا انضمت إلى رواية أبي قتادة أخذت بعض القوة".

وضعف النووي في المجموع 175/4 حديث الرخصة في الصلاة يوم الجمعة عند الزوال.

3 انظر المهذب 1/93، كفاية الأخيار 1/ 131.

4 انظر السنن الكبرى 2/ 465، المغني 2/ 536، المجموع 4/ 175- 176.
প্রমাণাদি:

প্রথম মতের প্রবক্তাগণ নিষিদ্ধ সময় পাঁচটি হওয়ার বিষয়ে নিম্নোক্ত দলিল পেশ করেছেন:

নিষিদ্ধ সময়ের বিধান সম্পর্কিত পূর্ববর্তী হাদিসগুলোর মাধ্যমে, যেখানে পাঁচটি সময়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে।

শাফিয়ী মাজহাবের অনুসারী এবং তাদের সমমনাগণ জুমার দিনটিকে ব্যতিক্রম সাব্যস্ত করার সপক্ষে নিম্নোক্ত দলিলসমূহ পেশ করেছেন:

১- আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিন ব্যতীত দিনের মধ্যভাগে সূর্য ঢলে পড়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন ১।

২- আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) জুমার দিন ব্যতীত দিনের মধ্যভাগে সালাত আদায় করা অপছন্দ (كره) করেছেন এবং বলেছেন: "জুমার দিন ব্যতীত (অন্যান্য দিন) জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয় ২।

৩- এই সময়ে তন্দ্রাচ্ছন্নতা প্রবল হয়, তাই অজু ভেঙে যাওয়ার ভয়ে নফল সালাতের মাধ্যমে তা দূর করা হয়; কেননা সেই মুহূর্তে মসজিদ থেকে বের হওয়া কষ্টসাধ্য ৩।

৪- মানুষ এই সময়ে জুমার সালাতের অপেক্ষা করে, তাই তাদের নফল সালাত বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। কারণ নবী (সা.) জুমার সালাতে দ্রুত আসাকে পছন্দ করেছেন এবং ইমাম বের হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার নির্দিষ্টকরণ বা ব্যতিক্রম ছাড়াই সালাত আদায়ের উৎসাহ প্রদান করেছেন ৪।

দ্বিতীয় মতের অনুসারীরা সূর্য ঢলে পড়ার সময়টিকে ব্যতিক্রম ধরার সপক্ষে দলিল দিয়েছেন: اہل... এর আমল দ্বারা

--------------------------------------------

১ আশ-শাফিয়ী তার মুসনাদ (পৃ. ৬৩), আল-বাইহাকী আস-সুনানুল কুবরা (২/৪৬৪) এবং আল-বাগাওয়ী শারহুস সুন্নাহ (৩/৩২৯)-এ এটি বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার আত-তালখিসুল হাবীর (১/১৮৮)-এ বলেছেন, "ইসহাক এবং ইব্রাহিম উভয়েই দুর্বল (ضعيف)... এবং আল-আছরাম এটি এমন সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে আল-ওয়াকিদি রয়েছেন, যিনি পরিত্যক্ত (متروك)"।

২ আবু দাউদ এটি কিতাবুস সালাত, 'জুমার দিন সূর্য ঢলে যাওয়ার আগে সালাত' পরিচ্ছেদে (১/৬৫৩, হাদিস ১৫৮৩) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل); মুজাহিদ আবুল খলীল অপেক্ষা বয়সে বড় এবং আবুল খলীল আবু কাতাদাহ থেকে কোনো হাদিস শোনেননি। হাফেজ ইবনে হাজার আত-তালখিসুল হাবীর (১/১৮৯)-এ বলেছেন: "এতে লাইস ইবনে আসলাম রয়েছেন এবং তিনি দুর্বল (ضعيف)"। আল-বাইহাকীও আস-সুনানুল কুবরা (২/৪৬৪)-তে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এর সমর্থনকারী বর্ণনা (شواهد) রয়েছে, যদিও এর সনদগুলো দুর্বল (ضعيف)!

আল-বাইহাকী মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার (৩/৪৩৮)-এ বলেছেন: "আবু হুরায়রা এবং আবু সাঈদের বর্ণনার সনদে এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যাদের দ্বারা দলিল গ্রহণ করা যায় না (لا يحتج به), কিন্তু যখন এটি আবু কাতাদাহর বর্ণনার সাথে মিলিত হয়, তখন কিছুটা শক্তি অর্জন করে।"

ইমাম নববী আল-মাজমু (৪/১৭৫)-তে জুমার দিন সূর্য ঢলে পড়ার সময় সালাতের অনুমতির হাদিসটিকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন।

৩ দ্রষ্টব্য: আল-মুহাজ্জাব ১/৯৩, কিফায়াতুল আখইয়ার ১/১৩১।

৪ দ্রষ্টব্য: আস-সুনানুল কুবরা ২/৪৬৫, আল-মুগনি ২/৫৩৬, আল-মাজমু ৪/১৭৫-১৭৬।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩০)
المدينة، حيث لم يجد الإمام مالك العمل عندهم باعتبار وقت الزوال وقت نهى فاعتقد أن النهى منسوخ بعلمهم1.

واستدل أصحاب القول الثالث على استثناء ما بعد العصر بما يأتي:

ا- ما ثبت من فعل النبي صلى الله عليه وسلم لذلك كما في حديث عائشة رضي الله عنها أنها قالت: "ما ترك رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين بعد العصر عندي قط " 2.

2- عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت وهم عمر إنما نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يتحرى طلوع الشمس وغروبها 3.

3- عن علي رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم: " نهى عن الصلاة بعد العصر إلا والشمس مرتفعة" 4.

واستدل أصحاب القول الرابع بما يأتي:

أ- حديث عقبة بن عامر الذي فيه: "ثلاث ساعات كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهانا أن نصلي فيهن أو نقبر فيهن موتانا.. الحديث5.

2- عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تحروا بصلاتكم طلوع الشمس ولا غروبها" 6.

3- حديث عائشة وعلي رضي الله عنهما السابقين قريبا في أدلة أصحاب القول الثالث.

--------------------------------------------

1 انظر بداية المجتهد 1/128.

2 أخرجه مسلم في كتاب صلاة المسافرين وقصرها باب معرفة الركعتين اللتين كان يصليهما النبي صلى الله عليه وسلم بعد العصر 1/572 حديث 835.

3 أخرجه مسلم في الكتاب السابق باب لا تتحروا بصلاتكم طلوع الشمس ولا غروبها 1/571 حديث 833.

4 أخرجه أبو داود واللفظ له في كتاب الصلاة باب من رخص فيهما إذا كانت الشمس مرتفعة 55/1 حديث 1274، والنسائي في كتاب المواقيت باب الرخصة في الصلاة بعد العصر 1/ 280. وقال النووي في المجموع4/174: "إسناده حسن " وصححه الألباني، انظر صحيح سنن أبي داود 1/237.

5 سبق تخريجه ص 225

6 سبق تخريجه ص 224.
মদিনা, যেখানে ইমাম মালিক তাদের (মদিনাবাসীদের) আমলকে যওয়াল (সূর্য মধ্যাকাশ থেকে ঢলে পড়া) এর সময়কে নিষিদ্ধ সময় হিসেবে পাননি, ফলে তিনি বিশ্বাস করতেন যে তাদের আমলের ভিত্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে।১

তৃতীয় মতের প্রবক্তারা আসরের পরের সময়কে ব্যতিক্রম গণ্য করার স্বপক্ষে নিম্নলিখিত দলিলগুলো পেশ করেছেন:

১- নবী (সা.)-এর কর্ম থেকে যা প্রমাণিত হয়েছে, যেমন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার নিকট থাকাকালীন আসরের পর দুই রাকাত (নামাজ) কখনো ত্যাগ করেননি।" ২

২- আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে উমর (রা.) বিভ্রান্তিতে পড়েছেন; মূলত রাসূলুল্লাহ (সা.) কেবল সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বেছে নিতে নিষেধ করেছেন। ৩

৩- আলী (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.): "আসরের পর নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন, তবে সূর্য উঁচুতে থাকা অবস্থা ব্যতীত।" ৪

চতুর্থ মতের প্রবক্তারা নিম্নলিখিত দলিলগুলো পেশ করেছেন:

ক- উকবা ইবনে আমির (রা.)-এর হাদিস, যাতে রয়েছে: "তিনটি সময়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নামাজ পড়তে অথবা আমাদের মৃতদের দাফন করতে নিষেধ করতেন..." (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)। ৫

২- ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের নামাজের জন্য সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্তের সময়কে অন্বেষণ করো না।" ৬

৩- আয়েশা ও আলী (রা.)-এর হাদিসদ্বয়, যা ইতিপূর্বে তৃতীয় মতের প্রবক্তাদের দলিলের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

১ দেখুন: বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/১২৮।

২ মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবুস সালাতিল মুসাফিরিন ওয়া কাসরিহা-এর 'আসরের পর নবী (সা.) যে দুই রাকাত নামাজ পড়তেন তা জানা' পরিচ্ছেদে, ১/৫৭২, হাদিস নং ৮৩৫।

৩ মুসলিম এটি পূর্বোক্ত গ্রন্থে 'তোমাদের নামাজের জন্য সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত অন্বেষণ করো না' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, ১/৫৭১, হাদিস নং ৮৩৩।

৪ আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তাঁরই, কিতাবুস সালাত-এর 'সূর্য উঁচুতে থাকা অবস্থায় সেই দুই রাকাতের অনুমতির বর্ণনা' পরিচ্ছেদে, ১/৫৫, হাদিস নং ১২৭৪; এবং নাসাঈ কিতাবুল মাওয়াকিত-এর 'আসরের পর নামাজ পড়ার অনুমতি' পরিচ্ছেদে, ১/২৮০। নববী আল-মাজমু ৪/১৭৪-এ বলেছেন: "এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)" এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, দেখুন: সহিহ সুনানে আবু দাউদ ১/২৩৭।

৫ এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে ২২৫ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

৬ এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে ২২৪ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩১)
الترجيح:

من دراسة الأقوال في المسألة وأدلتها يتبين أن الراجح والله أعلم القول الأول وهو أن الأوقات الخمسة كلها أوقات نهى لدلالة الأحاديث الصحيحة على ذلك، ويمكن جعلها ثلاثة لأن حال الطلوع إلى الارتفاع متصل بما بعد الفجر وحين تتضيف الشمس للغروب داخل في النهى بعد العصر إلى الغروب، فلعل الذين جعلوها خمسة نظروا إلى الأحاديث حيث ذكرتها كذلك.

وأما أدلة الشافعية ومن معهم على استثناء يوم الجمعة فيجاب عنها بما يأتي:

1- حديثا أبى هريرة وأبي قتادة ضعيفان كما سبق ذلك في تخريجهما، وعلى فرض صحتهما فإنهما لا يقويان على معارضة حديث عقبة بن عامر الذي دل بعمومه على النهي عن الصلاة وقت الزوال بدون تفريق بين الجمعة وغيره.

2- قولهم إن النعاس يغلب في هذا الوقت فيطرد بالتنفل، اجتهاد مع النص لاسيما أن هذا يصلح لمن حضر الجمعة، والأصح عندهم جواز التنفل في هذا الوقت مطلقا سواء حضر الجمعة أولا1.

3- قولهم إن الناس ينتظرون الجمعة وليس عليهم قطع النوافل، لأن النبي صلى الله عليه وسلم رغب فيها إلى خروج الإمام من غير تخصيص ولا استثناء يمكن الجواب عنه بأنه اجتهاد مع النص، ويجب قطع النوافل، إذا حضر وقت النهي لأن ترغيب النبي صلى الله عليه وسلم المقصود به الحث على فعل النوافل وعموم ذلك مخصوص بأحاديث النهى.

وأما استدلال أصحاب القول الثاني على استثناء وقت الزوال مطلقا بعمل أهل المدينة واحتمال أن النهى منسوخ بعلمهم فغير مسلم. لاسيما أنه روى عن بعض الصحابة رضي الله عنهم أنهم استثنوا من أوقات النهى ما بعد العصر حيث رخصوا

--------------------------------------------

1 انظر روضة الطالبين 1/194، مغني المحتاج 1/128.
অগ্রাধিকার প্রদান (الترجيح):

মাসআলাটি নিয়ে বিভিন্ন মত এবং সেগুলোর দলিল পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহই ভালো জানেন, অগ্রগণ্য (الراجح) মত হলো প্রথমটি। আর তা হলো—পাঁচটি সময়ের প্রতিটিই নিষিদ্ধ সময়, কারণ সহিহ (صحيحة) হাদিসগুলো একথাই প্রমাণ করে। এগুলোকে তিনটি সময় হিসেবেও গণ্য করা যেতে পারে; কারণ সূর্যোদয় থেকে তা উপরে ওঠা পর্যন্ত সময়টুকু ফজরের পরবর্তী সময়ের সাথে যুক্ত, আর সূর্যাস্তের সময় সূর্যের হেলে পড়া আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিষিদ্ধ সময়ের অন্তর্ভুক্ত। সম্ভবত যারা সময়গুলোকে পাঁচটি বলেছেন, তারা হাদিসগুলোতে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তা করেছেন।

শুক্রবারকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করার ব্যাপারে শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী এবং তাদের সমমনাদের দলিলের উত্তর নিম্নরূপ:

1- আবু হুরায়রা ও আবু কাতাদা বর্ণিত হাদিস দুটি দুর্বল (ضعيف), যা পূর্বে এগুলোর তাখরিজ বা সূত্র নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। যদি এ দুটিকে সহিহ (صحيح) ধরেও নেওয়া হয়, তবুও তা উকবা বিন আমের (রা.) বর্ণিত হাদিসের বিরোধিতায় সক্ষম নয়, যা তার ব্যাপকতার ভিত্তিতে জাওয়াল বা দ্বিপ্রহরের সময় কোনো পার্থক্য ছাড়াই শুক্রবার বা অন্য দিনে নামাজ পড়তে নিষেধ করে।

2- তাদের এই দাবি যে, এই সময়ে তন্দ্রাচ্ছন্নতা প্রবল হয় বিধায় নফল ইবাদতের মাধ্যমে তা দূর করতে হয়—এটি নসের (نص) বিপরীতে একটি ইজতিহাদ। বিশেষ করে এটি শুধু তাদের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে যারা জুমায় উপস্থিত হয়েছেন; অথচ তাদের নিকট সঠিক মত হলো জুমায় উপস্থিত হওয়া বা না হওয়া নির্বিশেষে এই সময়ে নফল পড়া নিঃশর্তভাবে বৈধ।

3- তাদের বক্তব্য যে, মানুষ জুমার অপেক্ষা করে এবং তাদের জন্য নফল নামাজ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমাম বের হওয়া পর্যন্ত নফল পড়ার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন কোনো বিশেষীকরণ বা ব্যতিক্রম ছাড়াই। এর উত্তর হলো—এটি নসের (نص) বিপরীতে ইজতিহাদ। নিষিদ্ধ সময় শুরু হলে অবশ্যই নফল নামাজ বন্ধ করতে হবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নফল আদায়ের যে উৎসাহ প্রদান করেছেন, তার ব্যাপকতা নিষিদ্ধ সময়ের হাদিসগুলোর মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট বা খাস (مخصوص) করা হয়েছে।

আর জাওয়াল বা দ্বিপ্রহরের সময়টিকে নিঃশর্তভাবে বাদ দেওয়ার ব্যাপারে দ্বিতীয় মত পোষণকারীদের মদিনাবাসীদের আমল দ্বারা দলিল পেশ করা এবং তাদের ইলমের ভিত্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা রহিত (منسوخ) হওয়ার যে সম্ভাবনা দেওয়া হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে যেহেতু কোনো কোনো সাহাবি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা আছরের পরের সময়টিকে নিষিদ্ধ সময় থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে অবকাশ দিয়েছেন।

--------------------------------------------

1 দেখুন: রওজাতুত তালিবিন ১/১৯৪, মুগনিল মুহতাজ ১/১২৮।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩২)
في الصلاة بعدها1، ولم ينقل عنهم الرخصة في غيرها فدل ذلك على أن النهى عند الزوال باق عندهم.

وأما أدلة أصحاب القول الثالث فأجيب عنها بما يأتي:

1- فعل النبي صلى الله عليه وسلم للركعتين بعد العصر من خصائصه صلى الله عليه وسلم2، لأن ذكوان مولى عائشة روى أنها حدثته أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي بعد العصر وينهى عنها، ويواصل وينهى عن الوصال 3.

ولما روى أبو سلمة أنه سأل عائشة عن السجدتين اللتين كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصليهما بعد العصر فقالت كان يصليهما قبل العصر ثم انه شغل عنهما أونسيهما فصلاهما بعد العصر ثم أثبتهما وكان إذا صلى صلاة أثبتها 4.

2- رد عائشة خبر عمر رضي الله عنهما الدال على النهى عن الصلاة بعد العصر فيه نظر، لأن عمررضي الله عنه مثبت لروايته عن النبي صلى الله عليه وسلم ورواه غيره من الصحابة أبو سعيد وعمرو بن عبسه وأبو هريرة وابن عمر والصنابحي وأم سلمة، وعائشة رضي الله عنها لعلها قالت برأيها5. وعلى القول بروايتها أن النبي صلى الله عليه وسلم إنما نهى أن يتحرى طلوع الشمس وغروبها فإن أكثر ما فيه إثبات النهي في هذين الوقتين والنهي بعد العصر ثبت بالأحاديث الأخرى.

3- حديث علي رضي الله عنه دل على جواز الصلاة بعد العصر إذا كانت الشمس مرتفعة بالمفهوم والأحاديث الأخرى دلت على المنع بمنطوقها والمنطوق مقدم على المفهوم.

--------------------------------------------

1 كما سبق ذلك في القول الثالث.

2 انظر كشاف القناع 1/453.

3 أخرجه أبو داود في كتاب الصلاة باب من رخص فيهما إذا كانت الشمس مرتفعة 1/59، حديث 1280 وضعفه الألباني. في ضعيف سنن أبي داود ص 125 وقال في إرواء الغليل 2/ 189:" ورجال إسناده ثقات ولكن ابن إسحاق مدلس وقد عنعنه " اهـ. وأحاديث النهي عن الوصال في الصوم صحيحة. انظر صحيح مسلم بشرح النووي 7/ 211- 215.

4 أخرجه مسلم في كتاب صلاة المسافرين وقصرها باب معرفة الركعتين كان يصليهما النبي ىسيم بعد العصر 1/572 حديث 835.

5 انظر المغني 2/ 525.
সেই নামাজের পরবর্তী নামাজের ক্ষেত্রে১, এবং তাদের থেকে অন্য কোনো বিষয়ে শিথিলতার (رخصة) অনুমতি বর্ণিত হয়নি, যা প্রমাণ করে যে সূর্য মাথার উপর থাকাকালীন সময়ের (যাওয়াল) নিষেধাজ্ঞা তাদের নিকট বহাল রয়েছে।

আর তৃতীয় মতাবলম্বীদের দলিলের বিষয়ে নিম্নোক্ত জবাব দেওয়া হয়েছে:

১- আসরের নামাজের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুই রাকাত নামাজ আদায় করা তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের২ অন্তর্ভুক্ত। কারণ আয়েশা (রা.)-এর মুক্তদাস যাকওয়ান বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আয়েশা) তাকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের পর নামাজ আদায় করতেন কিন্তু তা থেকে নিষেধ করতেন, এবং তিনি বিরামহীন রোজা (وصال) রাখতেন তবে তা থেকে নিষেধ করতেন৩।

এবং আবু সালামাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়েশা (রা.)-কে সেই দুই রাকাত নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের পর আদায় করতেন। তিনি বললেন, তিনি তা আসরের আগে আদায় করতেন, এরপর কোনো ব্যস্ততার কারণে অথবা ভুলে যাওয়ার ফলে তা আদায় করতে পারেননি, বিধায় তিনি তা আসরের পর আদায় করেন এবং পরে তা নিয়মিত করেন। আর তিনি যখন কোনো নামাজ আদায় করতেন, তখন তা নিয়মিত করতেন৪।

২- আসরের পর নামাজ নিষেধ সংক্রান্ত উমর (রা.)-এর বর্ণনাকে আয়েশা (রা.)-এর প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। কেননা উমর (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত তাঁর বর্ণনাকে সাব্যস্ত করেছেন এবং অন্যান্য সাহাবী যেমন আবু সাঈদ, আমর ইবনে আবাসা, আবু হুরায়রা, ইবনে উমর, আস-সুনাবিহি এবং উম্মে সালামাহ (রা.)-ও তা বর্ণনা করেছেন। সম্ভবত আয়েশা (রা.) তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদের ভিত্তিতে এ কথা বলেছেন৫। আর তাঁর বর্ণনার বক্তব্য অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের অন্বেষণ করতে নিষেধ করেছেন। এতে বড়জোর এই দুই সময়ের নিষেধাজ্ঞা সাব্যস্ত হয়, অথচ আসরের পরের নিষেধাজ্ঞা অন্যান্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

৩- আলী (রা.)-এর হাদিসটি তার পরোক্ষ অর্থ (المفهوم) অনুযায়ী সূর্য উঁচুতে থাকা অবস্থায় আসরের পর নামাজ জায়েজ হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে, কিন্তু অন্যান্য হাদিসগুলো তাদের প্রত্যক্ষ অর্থ (المنطوق) অনুযায়ী তা নিষিদ্ধ হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে। আর প্রত্যক্ষ অর্থ (المنطوق) পরোক্ষ অর্থের (المفهوم) ওপর প্রাধান্যযোগ্য।

--------------------------------------------

১ যেমনটি তৃতীয় মতের আলোচনায় ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

২ দ্রষ্টব্য: কাশশাফুল কিনা ১/৪৫৩।

৩ এটি আবু দাউদ তাঁর নামাজ অধ্যায়ের 'সূর্য উঁচুতে থাকা অবস্থায় তাতে শিথিলতা প্রসঙ্গে' পরিচ্ছেদে (১/৫৯, হাদিস ১২৮০) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে দুর্বল (ضعيف) বলে অভিহিত করেছেন। যাইফ সুনানে আবু দাউদ (পৃষ্ঠা ১২৫)-এ এবং ইরওয়াউল গালীল (২/১৮৯)-এ তিনি বলেছেন: "এর সনদের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে ইবনে ইসহাক একজন তাদলীসকারী (مدلس) এবং তিনি এখানে 'আন-আনা' পন্থায় বর্ণনা (عنعنه) করেছেন।" সমাপ্ত। আর সওমের ক্ষেত্রে বিরামহীন রোজা (وصال) রাখা নিষেধ সংক্রান্ত হাদিসগুলো সহিহ (صحيح)। দ্রষ্টব্য: সহিহ মুসলিম শরহে নববী ৭/২১১-২১৫।

৪ এটি মুসলিম তাঁর মুসাফিরের নামাজ ও তা কসর করা অধ্যায়ের 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের পর যে দুই রাকাত নামাজ পড়তেন তার পরিচয়' পরিচ্ছেদে (১/৫৭২, হাদিস ৮৩৫) বর্ণনা করেছেন।

৫ দ্রষ্টব্য: আল-মুগনী ২/৫২৫।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩৩)
وأما أدلة أصحاب القول الرابع: فأكثر ما فيها إثبات النهي في تلك الأوقات الثلاثة وليس فيها ما يدل على الإباحة فيما عداها، فبقية الأحاديث أثبت بقية أوقات النهي الخمسة والله أعلم بالصواب.

আর চতুর্থ মতাবলম্বীদের দলিলের ব্যাপারে বক্তব্য হলো: সেগুলোর অধিকাংশে ওই তিনটি সময়ে নিষেধাজ্ঞার (النهي) প্রমাণ রয়েছে এবং সে সময়গুলো ব্যতিরেকে অন্য সময়ে বৈধতা (الإباحة) নির্দেশ করে এমন কিছু সেখানে নেই। সুতরাং অবশিষ্ট হাদিসসমূহ বাকি পাঁচটি নিষিদ্ধ সময়কে সাব্যস্ত করে। আর আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।

(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩৩)
المبحث الثاني

‌‌النهي عن الصلاة بعد العصر وبعد الفجر هل هو متعلق بفعل الصلاة أو بدخول الوقت

اتفق القائلون بالنهي عن الصلاة في هذين الوقتين على أن النهي بعد العصر متعلق بفعل الصلاة أي أن من لم يصل العصر له التنفل بما شاء ولا عبرة بدخول وقت العصر. قال ابن قدامة: "والنهي عن الصلاة بعد العصر متعلق بفعل الصلاة فمن لم يصل أبيح له التنفل وإن صلى غيره ومن صلى العصر فليس التنفل وإن لم يصل أحد سواه لا نعلم في هذا خلافا عند من يمنع الصلاة بعد العصر"1.

وقال النووي: " لا خلاف أن وقت الكراهة بعد العصر لا يدخل بمجرد دخول العصر بل لا يدخل حتى يصليها"2.

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: "والنهي في العصر معلق بصلاة العصر فإذا صلاها لم يصل بعدها وإن كان غيره لم يصل، وما لم يصلها فله أن يصلى، وهذا ثابت بالنص والاتفاق "3.

واختلفوا في تعلق النهي عن الصلاة بعد الفجر على قولين:

--------------------------------------------

1 المغني 2/525.

2 المجموع 4/167.

3 مجموع الفتاوى 23/ 200.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

‌‌আসর ও ফজরের পর সালাত আদায়ের নিষেধাজ্ঞা কি সালাত আদায়ের ক্রিয়া (فعل)-র সাথে সম্পৃক্ত নাকি ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত

এই দুই সময়ে সালাত আদায়ের নিষেধাজ্ঞার সপক্ষে মত প্রদানকারীগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আসরের পর নিষেধাজ্ঞাটি সালাত আদায়ের ক্রিয়া (فعل)-র সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আসরের সালাত আদায় করেনি, তার জন্য যা ইচ্ছা নফল (نفل) সালাত আদায় করা বৈধ এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হওয়া এক্ষেত্রে বিবেচ্য নয়। ইবনু কুদামা বলেন: "আসরের পর সালাত আদায়ের নিষেধাজ্ঞাটি সালাত আদায়ের সাথে সম্পৃক্ত। অতএব, যে ব্যক্তি সালাত আদায় করেনি, তার জন্য নফল (نفل) সালাত আদায় করা বৈধ, যদিও অন্য কেউ সালাত আদায় করে থাকে। আর যে ব্যক্তি আসরের সালাত আদায় করেছে, সে আর নফল (نفل) সালাত পড়বে না, যদিও সে ছাড়া অন্য কেউ সালাত আদায় না করে থাকে। যারা আসরের পর সালাত আদায় নিষেধ করেন, তাদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ (خلاف) আছে বলে আমাদের জানা নেই।"১।

ইমাম নববী বলেন: "এ বিষয়ে কোনো মতভেদ (خلاف) নেই যে, আসরের পরের অপছন্দনীয় (مكروه) সময়টি কেবল আসরের ওয়াক্ত প্রবেশ করার মাধ্যমে শুরু হয় না, বরং তা সালাত আদায় না করা পর্যন্ত শুরু হয় না।"২।

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেন: "আসরের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাটি আসরের সালাতের সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং যখন কেউ তা আদায় করে নেবে, তখন সে এরপর আর সালাত পড়বে না, যদিও অন্য কেউ সালাত আদায় না করে থাকে। আর যতক্ষণ সে সালাত আদায় না করবে, ততক্ষণ সে সালাত পড়তে পারবে। এটি দলিল (نص) এবং ঐকমত্য (اتفاق) দ্বারা সাব্যস্ত।"৩।

তবে ফজরের পর সালাত আদায়ের নিষেধাজ্ঞার সম্পৃক্ততা নিয়ে তারা দুটি মতভেদে (قولين) বিভক্ত হয়েছেন:

--------------------------------------------

১ আল-মুগনি ২/৫২৫।

২ আল-মাজমু ৪/১৬৭।

৩ মাজমুউল ফাতাওয়া ২৩/২০০।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩৪)
الأول: أن النهي متعلق بفعل الصلاة كالعصر وبه قال الحسن البصري1، والشافعي2، وأحمد في رواية3، ومال إلى ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية حيث قال: " … فأما قبل الفجر فلا وجه للنهي، لكن لا يسن ذلك الوقت إلا الفجر سنتها وفرضها"، وقال أيضا: "فإذا قيل لا سنة بعد طلوع الفجر إلا ركعتان فهذا صحيح وأما النهي العام فلا4.

الثاني: أن النهي متعلق بطلوع الفجر أي أنه بعد طلوع الفجر الثاني يكره التنفل بما عدا ركعتي الفجر سواء صل الفجر أو لم يصل5، روى ذلك عن عبد الله بن عمر وعبد الله بن عمرو بن العاص وسعيد بن المسيب والعلاء بن زياد وحميد بن عبد الرحمن والنخعي6.

وإليه ذهب أبو حنيفة7، ومالك8، وأحمد في المشهور9 وهو وجه للشافعية وحكاه النووي عن أكثر العلماء10، وقال الترمذي: "وهو ما اجتمع عليه أهل العلم كرهوا أن يصلى الرجل بعد طلوع الفجر إلا ركعتي الفجر"11.

--------------------------------------------

1 انظر المغني 2/ 525، مجموع الفتاوى 23/ 0 20، سبل السلام 1/ 245.

2 انظر المهذب 1/92، روضة الطالبين1 /192، كفاية الأخيار 1/ 130.

3 انظر المغني 2/ 525، الفروع 1/ 572، الإنصاف 2/ 2 20.

4 مجموع الفتاوى 23/ 2 0 2، 5 0 2.

5 عدم كراهة ركعتي الفجر قبل الصلاة لا خلاف فيه لأنه وقتهما وورد استثناؤهما من النهي بالأحاديث الآتية قريبا للاستدلال لهذا القول.

أما فعلهما بعد الصلاة فهي مسألة خلافية يأتي الكلام عنها ص 251.

6 انظر المغني 2/ 525، مجموع الفتاوى 23/200.

7 انظر المبسوط 1/ 150، االهداية 1/ 40، الاختيار لتعليل المختار 1/ 41.

8 انظر الكافي 1/ 165، القوانين الفقهية ص 53، مختصر خليل ص 24.

9 انظر الهداية لأبي الخطاب 1/ 41، المغني 2/ 525، الفروع1/572، الإنصاف 2/2 20، دليل الطالب ص41، شرح منتهى الإرادات1 /242.

10 انظر المجموع4 /167.

11 سنن الترمذي 2/ 280.
প্রথমত: নিষেধাজ্ঞা (النهي) মূলত আসরের ন্যায় সালাত আদায়ের সাথে সম্পৃক্ত। হাসান বসরী১, শাফেয়ী২ এবং আহমাদ এক বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী এই মত ব্যক্ত করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এই মতের প্রতি ঝুঁকেছেন, যেখানে তিনি বলেন: " … ফজরের আগে নিষেধাজ্ঞার (النهي) কোনো অবকাশ নেই, তবে সেই সময়ে ফজরের সুন্নাত এবং ফরজ ব্যতীত অন্য কোনো সালাত সুন্নাত হিসেবে সাব্যস্ত (يسن) নয়।" তিনি আরও বলেন: "যদি বলা হয় যে ফজর উদয়ের পর দুই রাকাত ব্যতীত কোনো সুন্নাত নেই, তবে তা সঠিক; কিন্তু সাধারণ নিষেধাজ্ঞা (النهي العام) প্রযোজ্য নয়৪।"

দ্বিতীয়ত: এই নিষেধাজ্ঞা (النهই) ফজর উদয়ের সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়ার পর ফজরের দুই রাকাত ব্যতীত নফল সালাত (التنفل) আদায় করা অপছন্দনীয় (يكره), চাই সে ফজরের সালাত আদায় করুক বা না করুক৫। এটি আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, আলা ইবনে যিয়াদ, হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান এবং নাখঈ৬ থেকে বর্ণিত হয়েছে।

আবু হানিফা৭, মালিক৮ এবং আহমাদ তাঁর প্রসিদ্ধ (المشهور) মত অনুযায়ী এই দিকেই গিয়েছেন৯। এটি শাফেয়ী মাজহাবের একটি অভিমত (وجه) এবং ইমাম নববী অধিকাংশ আলিমের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন১০। তিরমিযী বলেন: "এটিই সেই বিষয় যার ওপর বিজ্ঞ আলেম সমাজ ঐক্যমত পোষণ করেছেন; তাঁরা ফজর উদয়ের পর ফজরের দুই রাকাত ব্যতীত অন্য কোনো সালাত আদায় করা অপছন্দ (كرهوا) করেছেন১১।"

--------------------------------------------

১ দেখুন: আল-মুগনি ২/ ৫২৫, মাজমুউল ফাতাওয়া ২৩/ ২০০, সুবুলুস সালাম ১/ ২৪৫।

২ দেখুন: আল-মুহাজ্জাব ১/৯২, রওদাতুত তালিবিন ১/১৯২, কিফায়াতুল আখইয়ার ১/ ১৩০।

৩ দেখুন: আল-মুগনি ২/ ৫২৫, আল-ফুরু ১/ ৫৭২, আল-ইনসাফ ২/ ২২০।

৪ মাজমুউল ফাতাওয়া ২৩/ ২০২, ২০৫।

৫ সালাতের পূর্বে ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত আদায় অপছন্দনীয় (كراهة) না হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই, কারণ এটিই সেই সালাতের সময় এবং এই মতের স্বপক্ষে নিম্নোক্ত হাদিসসমূহের মাধ্যমে এই দুই রাকাতকে নিষেধাজ্ঞা থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

আর সালাতের পর এই দুই রাকাত আদায়ের বিষয়টি একটি মতভেদপূর্ণ মাসআলা, যা ২৫১ পৃষ্ঠায় আলোচিত হবে।

৬ দেখুন: আল-মুগনি ২/ ৫২৫, মাজমুউল ফাতাওয়া ২৩/ ২০০।

৭ দেখুন: আল-মাবসুত ১/ ১৫০, আল-হিদায়া ১/ ৪০, আল-ইখতিয়ার লি-তা’লিলিল মুখতার ১/ ৪১।

৮ দেখুন: আল-কাফি ১/ ১৬৫, আল-কাওয়ানিনুল ফিকহিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৫৩, মুখতাসার খলিল পৃষ্ঠা ২৪।

৯ দেখুন: আল-হিদায়া লি-আবিল খাত্তাব ১/ ৪১, আল-মুগনি ২/ ৫২৫, আল-ফুরু ১/ ৫৭২, আল-ইনসাফ ২/ ২২০, দলিলুত তালিব পৃষ্ঠা ৪১, শারহু মুনতাহাল ইরাদাত ১/ ২৪২।

১০ দেখুন: আল-মাজমু ৪/ ১৬৭।

১১ সুনান তিরমিযী ২/ ২৮০।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩৫)
الأدلة:

استدل أصحاب القول الأول بما يأتي:

1- عن عطاء بن يزيد الليثي أنه سمع أبا سعيد الخدري يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا صلاة بعد صلاة العصر حتى تغرب الشمس ولا صلاة بعد صلاة الفجر حتى تطلع الشمس " 1.

2- ما جاء في حديث عمرو بن عبسه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "صل صلاة الصبح ثم اقصر عن الصلاة حتى تطلع الشمس حتى ترتفع " 2.

3- عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم: " نهى عن الصلاة بعد العصر حتى تغرب الشمس وعن الصلاة بعد الصبح حتى تطلع الشمس " 3.

ووجه الدلالة من هذا الحديث أنه نهى عن الصلاة بعد الصبح كما نهى عن الصلاة بعد العصر فدل ذلك على أن النهي متعلق بفعل الصلاة، لأن النهي بعد العصر متعلق بفعل الصلاة بلا خلاف، ولو أنه أراد الوقت لاستثنى ركعتي الفجر والفرض "4.

واستدل أصحاب القول الثاني بما يأتي:

1- عن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا صلاة بعد الفجر إلا سجدتين " 5.

--------------------------------------------

1 سبق تخريجه ص 224.

2 أخرجه مسلم في كتاب صلاة المسافرين وقصرها باب إسلام عمرو بن عبسة 1/ 569-570 حديث 832.

3 سبق تخريجه ص 224.

4 انظر المغني 2/ 26 5، مجموع الفتاوى 23/ 2 0 2-03 2.

5 أخرجه الترمذي واللفظ له في أبواب الصلاة باب ما جاء لا صلاة بعد طلوع الفجر إلا ركعتين2/278 حديث 419 وقال: "حديث ابن عمر حديث غريب لا نعرفه إلا من حديث قدامة بن موسى وروى عنه غير واحد" وذكر الزيلعي في نصب الراية 1/256 طرق- أخرى له من غير طريق قدامة بن موسى وقال: "وكل ذلك يعكر على الترمذي في قوله لا نعرفه إلا من حديث ابن قدامة". وأخرجه أيضا أبوداود في كتاب الصلاة باب من رخص فيهما إذا كانت الشمس مرتفعة1 /58حديث 1278، والبيهقي في السنن الكبرى 1/465، والمروزي في مختصر قيام الليل ص 191 وصححه الألباني. انظر إرواء الغليل 2/232.
দলিলসমূহ:

প্রথম মতের প্রবক্তাগণ নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:

1- আতা ইবনে ইয়াজিদ আল-লাইসি থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরিকে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আসর সালাতের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত কোনো সালাত নেই এবং ফজর সালাতের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত কোনো সালাত নেই।" ১

2- আমর ইবনে আবাসা (রা.) এর হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তুমি সুবহে সাদিকের সালাত আদায় করো, অতঃপর সালাত থেকে বিরত থাকো যতক্ষণ না সূর্য উদিত ও উপরে উঠে।" ২

3- আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম): "আসরের পর সূর্য ডোবা পর্যন্ত এবং সুবহে সাদিকের পর সূর্য ওঠা পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।" ৩

এই হাদিস থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি হলো, তিনি সুবহে সাদিকের পর সালাত থেকে নিষেধ করেছেন ঠিক যেমন আসরের পর নিষেধ করেছেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, এই নিষেধাজ্ঞা সালাত আদায় করার সাথে সংশ্লিষ্ট। কারণ কোনো মতভেদ ছাড়াই আসরের পরের নিষেধাজ্ঞা সালাত আদায় করার সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি যদি কেবল সময়কে বোঝাতে চাইতেন, তবে ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) এবং ফরজকে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করতেন। ৪

দ্বিতীয় মতের প্রবক্তাগণ নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:

1- ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ফজরের পর দুই রাকাত (সুন্নত) ব্যতীত আর কোনো সালাত নেই।" ৫

--------------------------------------------

১ এর উৎস বিশ্লেষণ (تخريج) পূর্বে পৃষ্ঠা ২২৪-এ করা হয়েছে।

২ এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন 'মুসাফিরদের সালাত ও তা কসর করা' অধ্যায়ে, 'আমর ইবনে আবাসা এর ইসলাম গ্রহণ' অনুচ্ছেদে ১/৫৬৯-৫৭০, হাদিস ৮৩২।

৩ এর উৎস বিশ্লেষণ (تخريج) পূর্বে পৃষ্ঠা ২২৪-এ করা হয়েছে।

৪ আল-মুগনি ২/২৬৫, মাজমু আল-ফাতাওয়া ২৩/২০২-২০৩ দেখুন।

৫ এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তাঁরই, 'সালাত' অধ্যায়সমূহের 'ফজরের উদয়ের পর দুই রাকাত ব্যতীত কোনো সালাত নেই' অনুচ্ছেদে ২/২৭৮, হাদিস ৪১৯। তিনি বলেছেন: "ইবনে উমর (রা.) এর এই হাদিসটি অপরিচিত (غريب), কুদামা ইবনে মুসা এর সূত্র ব্যতীত এটি আমাদের জানা নেই এবং তাঁর থেকে একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন।" আর জাইলাই 'নাসবুর রায়াহ' গ্রন্থে (১/২৫৬) কুদামা ইবনে মুসা এর সূত্র ছাড়াও এর অন্যান্য পথ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "এই সবকিছু তিরমিজির সেই উক্তিকে খণ্ডন করে যেখানে তিনি বলেছেন—কুদামা ইবনে মুসা এর হাদিস ছাড়া এটি আমাদের জানা নেই।" এটি আবু দাউদ 'সালাত' অধ্যায়ে, 'সূর্য উপরে উঠলে সালাতের অনুমতি' অনুচ্ছেদে (১/৫৮, হাদিস ১২৭৮), বায়হাকি 'আস-সুনান আল-কুবরা' (১/৪৬৫) এবং মারওয়াজি 'মুখতাসার কিয়ামুল লাইল' (পৃষ্ঠা ১৯১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। ইরওয়াউল গালীল ২/২৩২ দেখুন।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩৬)
2- عن عبد الله بن عمرو بن العاص أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: "لا صلاة بعد طلوع الفجر إلا ركعتي الفجر" 1.

3- عن حفصة قالت: " كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا طلع الفجر لا يصلي إلا ركعتين خفيفتين " 2 وكون النبي صلى الله عليه وسلم لا يزيد عليهما مع حرصه على الصلاة د ليل على كراهة غيرهما في هذا الوقت3.

الترجيح:

بالنظر إلى أدلة القولين في المسألة يظهر والله أعلم أن الراجح هو ما ذهب إليه أصحاب القول الثاني وهو أن النهي عن الصلاة بعد الفجر متعلق بطلوع الفجر لا بفعل الصلاة وأنه إذا طلع الفجر الثاني كره التنفل بما عدا ركعتي الفجر، لصراحة الأدلة على ذلك، ولا تعارضها أدلة أصحاب القول الأول لأن أكثر ما فيها أنها دلت على النهي عن الصلاة بعد صلاة الفجر وليس فيها ما يدل على عدم النهي عند طلوع الفجر إلا بدليل الخطاب، وأدلة أصحاب القول الثاني دلت على النهي عند طلوع الفجر بالمنطوق، والمنطوق يقدم على المفهوم، كما أن حديث عمرو بن عبسه أحد أدلة أصحاب القول الأول اختلفت ألفاظه فجاء عند ابن ماجه بلفظ "فقلت هل من ساعة أحب إلى الله من أخرى؟ قال: "نعم جوف الليل الأوسط فصل ما بدا لك حتى يطلع الصبح ثم انته حتى تطلع الشمس "4.

--------------------------------------------

1 رواه البيهقي في السنن الكبرى واللفظ له 1/ 465، 466، والدارقطني 1/246، والمروزي في محتصر قيام الليل ص 191 وصحح أحمد محمد شاكر أسانيده في هامش الترمذي 2/ 280.

2 أخرجه مسلم في كتاب صلاة المسافرين وقصرها في باب استحباب ركعتي الفجر 1/ 500 حديث 723.

3 انظر الهداية للمرغيناني 1/ 40.

4 سنن ابن ماجة كتاب إقامة الصلاة باب ما جاء في الساعات التي تكره فيها الصلاة 396/1 حديث1251. وانظر المغني 2/ 526.
২- আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলতেন: "ফজর উদিত হওয়ার পর ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) ব্যতীত আর কোনো নামাজ নেই।" ১।

৩- হাফসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন ফজর উদিত হতো, তখন সংক্ষিপ্ত দুই রাকাত ব্যতীত আর কোনো নামাজ পড়তেন না।" ২ এবং নামাজের প্রতি প্রবল অনুরাগী হওয়া সত্ত্বেও নবী (সা.)-এর এই দুই রাকাতের অতিরিক্ত কিছু না পড়া এই সময়ে অন্য কোনো নামাজের অপছন্দনীয়তা (كراهة) এর প্রমাণ (دليل)।৩।

প্রাধান্যদান (الترجيح):

এই মাসআলায় উভয় পক্ষের প্রমাণসমূহ (أدلة) পর্যালোচনা করলে এটিই প্রতীয়মান হয় যে—আর আল্লাহই ভালো জানেন—অধিক গ্রহণযোগ্য (الراجح) মত হচ্ছে দ্বিতীয় পক্ষের প্রবক্তাদের অভিমত। আর তা হলো, ফজরের পরের নামাজের নিষেধাজ্ঞা (النهي) মূলত ফজর উদিত হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত, নামাজ আদায়ের সাথে নয়। আর যখন দ্বিতীয় ফজর উদিত হয়, তখন ফজরের দুই রাকাত ব্যতীত নফল (التنفل) নামাজ পড়া অপছন্দনীয় (كره), কারণ এ ব্যাপারে প্রমাণাদি অত্যন্ত স্পষ্ট। আর এটি প্রথম পক্ষের প্রবক্তাদের প্রমাণের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, কেননা তাদের প্রমাণসমূহের (أدلة) সারকথা হলো ফজরের নামাজের পরে নামাজ পড়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা (النهي) এসেছে, সেখানে ফজর উদিত হওয়ার সময় থেকে নিষেধাজ্ঞা না থাকার ব্যাপারে বক্তব্যের ইঙ্গিত বা বিপরীত অর্থ (دليل الخطاب) ছাড়া অন্য কোনো প্রমাণ নেই। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় পক্ষের প্রবক্তাদের প্রমাণাদি সুস্পষ্ট শব্দের (بالمنطوق) মাধ্যমে ফজর উদিত হওয়ার সময় থেকেই নিষেধাজ্ঞার প্রতি ইঙ্গিত করে। আর সুস্পষ্ট শব্দ বা অর্থ (المنطوق) সবসময় ইঙ্গিত বা মর্মার্থের (المفهوم) ওপর প্রাধান্য পায়। যেমনটি আমর ইবনে আবাসা (রা.)-এর হাদিসটি, যা প্রথম পক্ষের অন্যতম প্রমাণ (أدلة), তার শব্দবিন্যাসে ভিন্নতা রয়েছে; ইবনে মাজাহ-তে এটি এভাবে এসেছে: "আমি বললাম, কোনো সময় কি অন্য সময়ের চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়? তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, রাতের শেষ তৃতীয়াংশের মধ্যভাগ। সুতরাং তোমার যা ইচ্ছা নামাজ পড়ো যতক্ষণ না সকাল উদিত হয়, এরপর (নামাজ থেকে) বিরত থাকো যতক্ষণ না সূর্য উদিত হয়'।" ৪।

--------------------------------------------

১ বাইহাকী আস-সুনানুল কুবরা গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস তার ১/৪৬৫, ৪৬৬; এবং দারাকুতনী ১/২৪৬; এবং মারওয়াযী মুখতাসার কিয়ামুল লাইল পৃষ্ঠা ১৯১-এ। আহমদ মুহাম্মদ শাকির তিরমিযীর টীকায় এর সনদসমূহকে সহিহ (صحح) বলে অভিহিত করেছেন ২/২৮০।

২ মুসলিম এটি কিতাব সালাতুল মুসাফিরিন ওয়া কাসরিহা-এর ফজরের দুই রাকাতের মুস্তাহাব হওয়ার অধ্যায়ে ১/৫০০, হাদিস ৭২৩-এ বর্ণনা করেছেন।

৩ আল-মারগিনানি রচিত আল-হিদায়া ১/৪০ দেখুন।

৪ সুনান ইবনে মাজাহ, কিতাব ইকামাতুস সালাত, অধ্যায়: যেসব সময়ে নামাজ পড়া মাকরুহ ১/৩৯৬, হাদিস ১২৫১। আল-মুগনী ২/৫২৬ দেখুন।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩৭)
‌‌أوقات أخرى

‌‌تمهيد

…

المبحث الثالث أوقات أخرى

التمهيد:

إن الأوقات التي سبق ذكرها هي ما اشتهر من أوقات النهي وقد نص بعض العلماء على أن حصرها بذلك إنها هو بالنسبة إلى الأوقات الأصلية وإلاّ فهناك أوقات أخرى كوقت صعود الإمام لخطبة الجمعة وعند إقامة الصلاة1.

قلت: وقد ذكر الكاساني أن أوقات الكراهة اثنا عشر، ما بعد طلوع الشمس إلى أن ترتفع، وعند استوائها إلى أن تزول، وعند تغيرها وهو احمرارها واصفرارها إلى أن تغرب، وما بعد طلوع الفجر إلى صلاة الفجر، وما بعد صلاة الفجر إلى طلوع الشمس وما بعد صلاة العصر إلى مغيب الشمس، وما بعد الغروب وقبل صلاة المغرب، وما بعد شروع الإمام في الصلاة وقبل شروعه بعد ما أخذ المؤذن في الصلاة، ووقت الخطبة يوم الجمعة، وما بعد خروج الإمام للخطبة يوم الجمعة قبل أن يشتغل بها، وما بعد فراغه منها قبل أن يشرع في الصلاة، وما قبل صلاة العيد2.

وذكر الخوارزمي أنها اثنا عشر أيضا هي: وقت الطلوع، والغروب والاستواء، وبعد طلوع الفجر، وبعد الفريضة قبل طلوع الشمس، وبعد صلاة العصر قبل التغير، وبعد غروب الشمس قبل صلاة المغرب، وعند الخطبة يوم الجمعة، وعند الإقامة يوم الجمعة، وعند خطبة العيد، وعند خطبة الكسوف، وعند خطبة الاستسقاء3.

وذكر ابن جزي أن أوقات النهي عشرة عند طلوع الشمس، وغروبها، وبعد الصبح إلى الطلوع، وبعد العصر إلى الغروب، وبعد طلوع الفجر قبل صلاة الصبح، وعند الزوال وليس بوقت نهي على المشهور، وبعد الغروب قبل المغرب، وإذا كان الإمام على

--------------------------------------------

1 انظر كفاية الأخيار 1/ 131، مغني المحتاج 1/129.

2 بدائع الصنائع 1/ 295-297.

3 الكفاية شرح الهداية 1/208 -209.
‌‌অন্যান্য সময়

‌‌ভূমিকা

…

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অন্যান্য সময়

উপক্রমণিকা:

পূর্বে যে সময়গুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো নিষেধাজ্ঞার (النهي) সুপরিচিত সময়সমূহ। কিছু আলেম স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, এগুলোর সীমাবদ্ধতা কেবল মৌলিক সময়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; নতুবা আরও কিছু সময় রয়েছে যেমন জুমার খুতবা প্রদানের জন্য ইমামের মিম্বরে আরোহণের সময় এবং সালাতের ইকামত (إقامة الصلاة) প্রদানের সময়।১

আমি বলি: আল-কাসানি উল্লেখ করেছেন যে, অপছন্দনীয় সময় (أوقات الكراهة) বারোটি। সেগুলো হলো: সূর্য উদয় হওয়ার পর থেকে তা উপরে ওঠা পর্যন্ত, সূর্য ঠিক মাথার উপরে অবস্থানের (استواء) সময় থেকে ঢলে পড়া (زوال) পর্যন্ত, সূর্যের পরিবর্তনের সময় অর্থাৎ এর লাল বা হলুদ বর্ণ ধারণ করা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার পর থেকে ফজরের সালাত পর্যন্ত, ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত, আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, সূর্যাস্তের পর মাগরিবের সালাতের পূর্ব পর্যন্ত, ইমাম সালাত শুরু করার পর এবং মুয়াজ্জিন ইকামত শুরু করার পর ইমামের সালাত শুরুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত, জুমার দিনের খুতবার সময়, জুমার দিন ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর খুতবা শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত, খুতবা শেষ করার পর সালাত শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত এবং ঈদের সালাতের পূর্ব পর্যন্ত।২

আল-খাওয়ারিজমি উল্লেখ করেছেন যে, এই সময়গুলোও বারোটি। সেগুলো হলো: সূর্যোদয়ের সময়, সূর্যাস্তের সময়, সূর্য মধ্যগগনে অবস্থানের (استواء) সময়, সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার পর, ফরজ সালাতের পর সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত, আসরের সালাতের পর সূর্যের বর্ণ পরিবর্তনের পূর্ব পর্যন্ত, সূর্যাস্তের পর মাগরিবের সালাতের পূর্ব পর্যন্ত, জুমার দিন খুতবা চলাকালীন সময়, জুমার দিন ইকামতের সময়, ঈদের খুতবার সময়, সূর্যগ্রহণের (كسوف) খুতবার সময় এবং ইস্তিসকা বা বৃষ্টির প্রার্থনার (استسقاء) খুতবার সময়।৩

ইবনে জুযাই উল্লেখ করেছেন যে, নিষেধাজ্ঞার (النهي) সময় দশটি: সূর্যোদয়ের সময়, সূর্যাস্তের সময়, সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত, আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার পর ফজরের সালাতের পূর্বে, সূর্য মধ্যগগনে অবস্থানের (الزوال) সময়—তবে প্রসিদ্ধ মতানুসারে এটি নিষেধাজ্ঞার সময় নয়, সূর্যাস্তের পর মাগরিবের পূর্বে এবং যখন ইমাম...

--------------------------------------------

১ দেখুন: কিফায়াতুল আখইয়ার ১/১৩১, মুগনী আল-মুহতাজ ১/১২৯।

২ বাদায়েউস সানায়ে ১/২৯৫-২৯৭।

৩ আল-কিফায়াহ শারহুল হিদায়াহ ১/২০৮-২০৯।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩৮)
المنبر يوم الجمعة في الخطبة وقبلها، وبعد الجمعة في المسجد، وبعد صلاة العيد وقبلها في المصلى دون المسجد1.

وبالنظر إلى مجموع الأوقات التي ذكرها هؤلاء يتبين زيادة ستة أوقات عن الأوقات التي سبقت دراستها. وبيانها في المطالب الآتية:
জুমুআর দিনে খুতবার সময় এবং তার পূর্বে মিম্বর, জুমুআর নামাজের পর মসজিদে, এবং ঈদের নামাজের পর ও পূর্বে ঈদগাহে (মসজিদ ব্যতিরেকে)১।

তাঁরা যে সময়গুলোর কথা উল্লেখ করেছেন, তার সামগ্রিক পর্যালোচনায় ইতিপূর্বে আলোচিত সময়গুলো অপেক্ষা অতিরিক্ত আরও ছয়টি সময়ের আধিক্য পরিলক্ষিত হয়। নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহে সেগুলোর বর্ণনা প্রদান করা হলো:
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩৮)
المطلب الأول

‌‌ما بعد الغروب وقبل صلاة المغرب

عدّ هذا الوقت من أوقات الكراهة الحنفية2، والمالكية3. واستدلوا بما يأتي:

1- ما روى عن شعبة عن أبي شعيب عن طاووس قال: سئل ابن عمر عن الركعتين قبل المغرب فقال: " ما رأيت أحدا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يصليهما" 4.

2- أن التنفل في هذا الوقت فيه تأخير لصلاة المغرب وهو مكروه5.

والصحيح والله أعلم عدم كراهة الصلاة في هذا الوقت لما يأتي:

1- عن عبد الله المزني عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "صلوا قبل صلاة المغرب قال في الثالثة لمن شاء كراهة أن يتخذها الناس سنة" 6.

2- عن مختار بن فلفل قال: سألت أنس بن مالك عن التطوع بعد العصر؟ فقال: " كان عمر يضرب الأيدي على صلاة بعد العصر، وكنا نصلي على عهد النبي صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

1 القوانين الفقهية ص 53، وانظر أيضا مواهب الجليل 1/415 -417.

2 انظر بدائع الصنائع 1/297، الهداية 1/ 1 4، الاختيار 1/ 1 4، الكفاية شرح الهداية 1/ 209.

3 انظر الكافي 1/165، القوانين الفقهية ص 53، وفي مواهب الجليل1 /417 أن المشهور أنه وقت نهي وقيل لا.

4 أخرجه أبو داود في كتاب الصلاة باب الصلاة قبل المغرب 2/ 0 6 حديث 284 1 وقال: "سمعت يحي بن معين يقول: هو شعيب- يعني وهم شعبة في اسمه- وضعفه الألباني في ضعيف سنن أبي داود ص 126.

5 انظر بدائع الصنائع 1/297، الهداية 1/ 41.

6 أخرجه البخاري في كتاب التهجد باب الصلاة قبل المغرب 2/ 54.
اول مطلب

‌সূর্যাস্তের পর এবং মাগরিবের নামাজের পূর্ববর্তী সময়

হানাফি২ এবং মালিকি৩ মাজহাবের ফকিহগণ এই সময়টিকে অপছন্দনীয় সময়ের (أوقات الكراهة) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন। তাঁরা নিম্নোক্ত দলীলসমূহ পেশ করেছেন:

১- শু’বাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু শুআইব থেকে এবং তিনি তাউস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে উমর (রা.)-কে মাগরিবের পূর্বের দুই রাকাত নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে কাউকে এ দুই রাকাত নামাজ পড়তে দেখিনি।" ৪।

২- এই সময়ে নফল নামাজ পড়ার অর্থ হলো মাগরিবের নামাজ বিলম্বিত করা, আর তা অপছন্দনীয় (مكروه)৫।

তবে সঠিক (الصحيح) মত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—এই সময়ে নামাজ পড়া অপছন্দনীয় (مكروه) নয়, কারণ:

১- আবদুল্লাহ আল-মুযানী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "তোমরা মাগরিবের নামাজের আগে নামাজ পড়ো।" তৃতীয়বার বলার সময় তিনি যোগ করলেন: "যার ইচ্ছা", যাতে মানুষ একে সুন্নাহ (سنة) হিসেবে গ্রহণ না করে। ৬।

২- মুখতার ইবনে ফুলফুল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিক (রা.)-কে আসরের পরের নফল নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "উমর (রা.) আসরের পরে নামাজ পড়ার কারণে হাতে আঘাত করতেন, অথচ আমরা নবী (সা.)-এর যুগে নামাজ পড়তাম।

--------------------------------------------

১ আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৫৩; আরও দেখুন মাওয়াহিব আল-জালিল ১/৪১৫-৪১৭।

২ দেখুন বাদায়েউস সানায়ে ১/২৯৭, আল-হিদায়াহ ১/৪১, আল-ইখতিয়ার ১/৪১, আল-কিফায়াহ শারহুল হিদায়াহ ১/২০৯।

৩ দেখুন আল-কাফি ১/১৬৫, আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৫৩; এবং মাওয়াহিব আল-জালিল ১/৪১৭-এ উল্লেখ আছে যে প্রসিদ্ধ মতানুসারে এটি নিষিদ্ধ সময়, তবে কেউ কেউ বলেছেন তা নয়।

৪ আবু দাউদ এটি কিতাবুস সালাত, মাগরিবের পূর্বের নামাজ অধ্যায়, ২/৬০, হাদিস ১২৮৪-এ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: "আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি: তিনি হলেন শুআইব—অর্থাৎ শু'বাহ তাঁর নামের ক্ষেত্রে ভুল করেছেন।" এবং আলবানী একে দাঈফ সুনান আবু দাউদ, পৃষ্ঠা ১২৬-এ দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন।

৫ দেখুন বাদায়েউস সানায়ে ১/২৯৭, আল-হিদায়াহ ১/৪১।

৬ বুখারি এটি কিতাবুত তাহাজ্জুদ, মাগরিবের পূর্বের নামাজ অধ্যায়, ২/৫৪-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩৯)
ركعتين بعد غروب الشمس قبل صلاة المغرب فقلت له: أكان رسول الله لمجيء صلاهما؟ قال: كان يرانا نصليهما فلم يأمرنا ولم ينهنا " 1.

3- عن أنس بن مالك قال: " كنا بالمدينة فإذا أذن المؤذن لصلاة المغرب ابتدروا السواري فيركعون ركعتين ركعتين حتى أن الرجل الغريب ليدخل المسجد فيحسب أن الصلاة قد صليت من كثرة من يصليهما" 2.

وحديث القائلين بالكراهة ضعيف كما سبق في تخريجه. وهذه الأحاديث الصحيحة تخالفه.

أما دليلهم الثاني فيجاب عنه بتقييد الكراهة بتحقق تأخير صلاة المغرب، أما جعل هذا الوقت وقت كراهة مطلقا كما يفعله بعض الناس في الوقت الحاضر من الجلوس قبل الإقامة فلا أرى له وجها بعد هذه الأدلة ولاسيما أنه سيأتي أن الصحيح أن تحية المسجد تصلى في كل وقت.

--------------------------------------------

1 أخرجه مسلم في كتاب صلاة المسافرين وقصرها باب استحباب ركعتين قبل صلاة المغرب ا/573 حديث 836.

2 أخرجه مسلم في الموضع السابق حديت 837.
সূর্যাস্তের পর মাগরিবের সালাতের পূর্বে দুই রাকাত সম্পর্কে আমি তাঁকে (আনাস রা.-কে) জিজ্ঞেস করলাম: "আল্লাহর রাসূল কি এ দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন?" তিনি বললেন: "তিনি আমাদের এ দুই রাকাত পড়তে দেখতেন, তবে তিনি আমাদের এ বিষয়ে আদেশও দেননি এবং নিষেধও করেননি।" ১.

৩- আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা মদিনায় থাকাকালীন যখন মুয়াজ্জিন মাগরিবের সালাতের আজান দিতেন, তখন তারা (সাহাবীগণ) পিলারের দিকে দ্রুত অগ্রসর হতেন এবং দুই রাকাত করে সালাত পড়তেন। এমনকি কোনো অপরিচিত ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলে অধিক সংখ্যক লোক সালাত পড়ছে দেখে মনে করতেন যে, সালাত বুঝি শেষ হয়ে গেছে।" ২.

আর যারা অপছন্দনীয় বা মাকরুহ (كراهة) হওয়ার কথা বলেন, তাদের বর্ণিত হাদিসটি দুর্বল (ضعيف), যেমনটি পূর্বে এর তাখরিজ (تخريج) আলোচনায় গত হয়েছে। আর এই সহিহ (صحيح) হাদিসগুলো সেই মতের পরিপন্থী।

তাদের দ্বিতীয় দলিলের উত্তর এভাবে দেওয়া যায় যে, অপছন্দনীয় হওয়ার বিষয়টি মাগরিবের সালাত বিলম্বিত হওয়া নিশ্চিত হওয়ার সাথে শর্তযুক্ত। কিন্তু বর্তমান সময়ে কিছু লোক যেমনটি করে থাকেন—ইকামতের পূর্বে বসে থাকা এবং এই সময়টিকে ঢালাওভাবে মাকরুহ (كراهة) সময় হিসেবে গণ্য করা—এই দলিলগুলোর পর আমি এর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি দেখি না। বিশেষ করে সামনে আসবে যে, বিশুদ্ধ (صحيح) মত অনুযায়ী তাহিয়্যাতুল মাসজিদ সব সময়ই আদায় করা যায়।

--------------------------------------------

১ মুসলিম এটি 'কিতাবুস সালাতিল মুসাফিরিন ওয়া কাসরিহা', 'মাগরিবের সালাতের পূর্বে দুই রাকাত মুস্তাহাব (استحباب) হওয়া' পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা ১/৫৭৩, হাদিস ৮৩৬-এ বর্ণনা করেছেন।

২ মুসলিম এটি পূর্বোক্ত স্থানেই বর্ণনা করেছেন, হাদিস ৮৩৭।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৩৯)
المطلب الثاني

‌‌عند إقامة الصلاة

ذكر الحنفية هذا الوقت ضمن أوقات النهي3، والذي يظهر أنه لا خلاف في كراهة النفل المطلق في هذا الوقت، وإنما الخلاف في صلاة ركعتي الفجر فذهب أكثر أهل العلم إلى عدم فعلهما إذا أقيمت الصلاة4، وذهب الإمام أبو حنيفة إلى أنه إن خشي أن تفوته ركعة ويدرك الأخرى يصليهما عند باب المسجد ثم يدخل وإن خشي فواتهما دخل مع الإمام5، وذهب الإمام مالك إلى أنه إن لم يخش أن تفوته الركعة الأولى

--------------------------------------------

3 انظر بدائع الصنائع 1/297، الكفاية شرح الهداية 1/ 209.

4 انظر شرح السنة3/362، المغني 2/ 19 1، المجموع 4/56 -57، مغني المحتاج1/252.

5 انظر الهداية 1/ 71، شرح فتح القدير 1/414.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

‌‌সালাতের ইকামত চলাকালীন

হানাফীগণ এই সময়টিকে নিষিদ্ধ সময়সমূহের (أوقات النهي) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটিই প্রতীয়মান হয় যে, এই সময়ে সাধারণ নফল (النفل المطلق) আদায় করার মাকরুহ (كراهة) হওয়ার বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। তবে ফজরের দুই রাকাত সালাত নিয়ে মতভেদ রয়েছে; অধিকাংশ আলেম (أهل العلم) এই মত পোষণ করেছেন যে, যখন সালাতের ইকামত শুরু হয় তখন তা আদায় করা যাবে না। ইমাম আবু হানিফা এই মত পোষণ করেছেন যে, যদি ব্যক্তি আশঙ্কা করে যে তার এক রাকাত ছুটে যাবে কিন্তু অন্য রাকাতটি সে পাবে, তবে সে মসজিদের দরজার কাছে তা পড়ে নেবে এবং এরপর (জামাআতে) প্রবেশ করবে। আর যদি সে উভয় রাকাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করে তবে সে ইমামের সাথে সালাতে শরিক হবে। ইমাম মালেক এই মত পোষণ করেছেন যে, যদি সে প্রথম রাকাতটি ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা না করে...

--------------------------------------------

৩. দেখুন বাদায়েউস সানায়ে ১/২৯৭, আল-কিফায়াহ শারহুল হিদায়াহ ১/২০৯।

৪. দেখুন শারহুস সুন্নাহ ৩/৩৬২, আল-মুগনি ২/১১৯, আল-মাজমু ৪/৫৬-৫৭, মুগনি আল-মুহতাজ ১/২৫২।

৫. দেখুন আল-হিদায়াহ ১/৭১, শারহু ফাতহিল কাদির ১/৪১৪।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৪০)
يركعهما خارج المسجد إن خشي ذلك دخل مع الإمام1.

ومن الأدلة على كراهة التنفل عند الإقامة ما روى أبو هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إذا أقيمت الصلاة فلا صلاة إلا المكتوبة" 2.

قال النووي في شرحه لهذا الحديث وما يماثله: "فيها النهي الصريح عن افتتاح نافلة بعد إقامة الصلاة سواء كانا راتبة كسنة الصبح والظهر والعصر أو غيرهما، وهذا مذهب الشافعي والجمهور"3.

--------------------------------------------

1 انظر المدونة 1/ 124، الشرح الصغير 1/147، اسهل المدارك 1/ 304.

2 أخرجه مسلم في كتاب صلاة المسافرين وقصرها باب كراهة الشروع في نافلة بعد شروع المؤذن في الإقامة 1/ 493 حديث 710.

3 شرح النووي على صحيح مسلم5/222.
তিনি সেই দুই রাকাত মসজিদের বাইরে আদায় করবেন; আর যদি সেই আশঙ্কা (জামাত ছুটে যাওয়ার) থাকে, তবে তিনি ইমামের সাথে দাখিল হবেন১।

ইকামত (إقامة) চলাকালীন নফল (تنفل) নামাজ আদায়ের মাকরূহ (كراهة) হওয়ার অন্যতম দলিল হলো আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন নামাজের ইকামত (إقامة) দেওয়া হয়, তখন ফরজ (مكتوبة) নামাজ ছাড়া আর কোনো নামাজ নেই" ২।

ইমাম নববী এই হাদিস এবং এর সমজাতীয় বর্ণনাগুলোর ব্যাখ্যায় বলেন: "এতে নামাজের ইকামত (إقامة) হওয়ার পর নফল (نافلة) নামাজ শুরু করার ব্যাপারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা (النهي الصريح) রয়েছে; চাই তা সুন্নতে রাতেবা (راتبة) যেমন—ফজর, জোহর ও আসরের সুন্নাত হোক অথবা অন্য কিছু। এটিই ইমাম শাফেঈ এবং জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের মাযহাব"৩।

--------------------------------------------

১ দেখুন: আল-মুদাওয়ানা ১/১২৪, আশ-শারহুস সাগির ১/১৪৭, আশহালুল মাদারিক ১/৩০৪।

২ এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন: কিতাব সালাতিল মুসাফিরিন ওয়া কাসরিহা, পরিচ্ছেদ: মুয়াজ্জিন ইকামত (إقامة) শুরু করার পর নফল (نافلة) শুরু করার মাকরূহ (كراهة) হওয়া প্রসঙ্গে, ১/৪৯৩, হাদিস ৭১০।

৩ শরহে নববী আলা সহিহ মুসলিম ৫/২২২।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৪০)
المطلب الثالث

‌‌وقت الخطبة يوم الجمعة

الذي يظهر أنه لا خلاف بين العلماء في المنع من التنفل وقت خطبة الجمعة- لغير الداخل في ذلك الوقت4 حيث ذكر الكاساني أن من أوقات النهي وقت الخطبة يوم الجمعة وما بعد خروج الإمام للخطبة يوم الجمعة قبل أن يشتغل بها وما بعد فراغه قبل أن يشرع في الصلاة5، وذكر ابن جزى6: أن من النفل المنهي عنه التنفل يوم الجمعة والإمام على المنبر في الخطبة وقبلها، وقال النووي: "وقال صاحب الحاوى إذا جلس الإمام على المنبر حرم على من في المسجد أن يبتديء صلاة النافلة وإن كان في صلاة جلس وهذا إجماع " إلى أن قال: "واتفق الأصحاب على أن النهي عن الصلاة ابتداء يدخل فيه بجلوس الإمام على المنبر ويبقى حتى يفرغ من صلاة الجمعة"7.

--------------------------------------------

4 أما الداخل فسيأتي الكلام عنه في حكم تحية المسجد.

5 بدائع الصنائع 297/1، وانظر أيضا الهداية 1/ 1 4، الاختيار 1/ 1 4.

6 في القوانين الفقهية ص 53، وانظر أيضا التفريع 232/1.

7 المجموع 4/551، وانظر أيضا كفاية الاخيار 1/153.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

‌‌জুমার খুতবার সময়

স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, জুমার খুতবার সময় নফল নামাজ (التنفل) আদায় নিষিদ্ধকরণের (المنع) বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ (خلاف) নেই—সেই সময়ে প্রবেশকারী ব্যতীত।৪ আল-কাসানি উল্লেখ করেছেন যে, নিষিদ্ধ সময়ের (أوقات النهي) অন্তর্ভুক্ত হলো জুমার দিন খুতবার সময়, জুমার দিন ইমাম খুতবার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর থেকে খুতবায় মশগুল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এবং খুতবা শেষ করার পর থেকে নামাজ শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত।৫ ইবনে জুযাই ৬ উল্লেখ করেছেন: নিষিদ্ধ নফল নামাজের অন্তর্ভুক্ত হলো জুমার দিন ইমাম মিম্বারে খুতবারত থাকা অবস্থায় এবং খুতবার পূর্বে নফল নামাজ (التنفل) আদায় করা। ইমাম নববী বলেছেন: "আল-হাউয়ী গ্রন্থের লেখক বলেছেন, যখন ইমাম মিম্বারে বসেন, তখন মসজিদে উপস্থিত ব্যক্তিদের জন্য নতুন করে নফল নামাজ (صلاة النافلة) শুরু করা হারাম (حرم)। আর যদি কেউ ইতিমধ্যে নামাজে থাকে তবে সে বসে পড়বে, এটিই ঐকমত্য (إجماع)।" তিনি আরও বলেন: "সহচরগণ (الأصحاب) একমত হয়েছেন যে, নামাজ শুরু করার যে নিষেধাজ্ঞা (النهي) রয়েছে, তা ইমামের মিম্বারে বসার মাধ্যমেই অন্তর্ভুক্ত হয় এবং জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকে।"৭.

--------------------------------------------

৪ আর যে ব্যক্তি নতুন প্রবেশ করেছে, তার সম্পর্কে তাহিয়্যাতুল মসজিদ (تحية المسجد)-এর বিধান (حكم) সংক্রান্ত আলোচনায় বিস্তারিত আসবে।

৫ বাদায়েউস সানায়ে ১/২৯৭; আরও দেখুন: আল-হিদায়া ১/৪১, আল-ইখতিয়ার ১/৪১।

৬ আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৫৩; আরও দেখুন: আত-তাফরি ১/২৩২।

৭ আল-মাজমু ৪/৫৫১; আরও দেখুন: কিফায়াতুল আখইয়ার ১/১৫৩।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৪১)
وقال ابن قدامة: "وينقطع التطوع بجلوس الإمام على المنبر فلا يصلي أحد غير الداخل يصلي تحية المسجد ويتجوز فيها"1.

ولعل من الأدلة لهم على ذلك ما جاء من وجوب الإنصات للخطبة ومن ذلك ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إذا قلت لصاحبك انصت يوم الجمعة والإمام يخطب فقد لغوت " 2.

--------------------------------------------

1 المغني 3/193، وانظر أيضا الإنصاف 2/ 19 4.

2 أخرجه مسلم من حديث أبي هريرة في كتاب الجمعة باب الإنصات يوم الجمعة والإمام يخطب 1/583 حديث 851.
ইবনে কুদামা বলেছেন: "ইমাম মিম্বরে উপবেশন করলে নফল (التطوع) সালাত বিচ্ছিন্ন (ينقطع) হয়ে যায়; সুতরাং (মসজিদে) প্রবেশকারী ব্যতীত আর কেউ সালাত আদায় করবে না। তবে প্রবেশকারী তাহিয়্যাতুল মাসজিদ (تحية المسجد) আদায় করবে এবং তা সংক্ষিপ্ত (يتجوز) করবে।"১

সম্ভবত তাদের সপক্ষে দলিলসমূহের একটি হলো খুতবাহ (الخطبة) শ্রবণকালে নীরব থাকা (الإنصات) ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত বর্ণনা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "জুমার দিন ইমাম যখন খুতবাহ (الخطبة) প্রদান করেন, তখন যদি তুমি তোমার সাথীকে বলো ‘চুপ থাকো’, তবে তুমি অনর্থক কাজ (لغوت) করলে।" ২।

--------------------------------------------

১ আল-মুগনি ৩/১৯৩, এবং আরও দেখুন আল-ইনসাফ ২/১৯৪।

২ এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস থেকে কিতাবুল জুমুআহ-এর 'জুমার দিন ইমামের খুতবাহ প্রদানের সময় নীরব থাকা' পরিচ্ছেদে, ১/৫৮৩, হাদিস ৮৫১।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৪১)
المطلب الرابع

‌‌عند خطبة العيد والكسوف والاستسقاء

ذكر ذلك ضمن أوقات النهي الخوارزمي من الحنفية3، وذكر الحطاب4 أن ظاهر كلام الإمام مالك أنه لا يمنع من الركوع في غير خطبة الجمعة من الخطب، ولم أقف على غير ذلك، ولعل حجة من منع التنفل أثناء هذه الخطبة القياس على خطبة الجمعة.

--------------------------------------------

3 في الكفاية شرح الهداية1/259.

4 في مواهب الجليل 1/415.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ

‌‌ঈদ, কুসূফ ও ইস্তিসকার খুতবার সময়

হানাফি মাজহাবের আল-খাওয়ারিজমি একে নিষিদ্ধ সময়সমূহের (أوقات النهي) অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন৩, এবং আল-হাত্তাব৪ উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মালিকের বক্তব্যের বাহ্যিক মর্ম হলো জুমার খুতবা ব্যতীত অন্যান্য খুতবায় রুকু (সালাত) আদায়ে কোনো বাধা নেই। এছাড়া আমি ভিন্ন কোনো মত খুঁজে পাইনি। সম্ভবত যারা এই খুতবা চলাকালীন নফল সালাত (التنفل) আদায় নিষিদ্ধ করেছেন, তাদের দলিল হলো জুমার খুতবার ওপর করা কিয়াস (القياس)।

--------------------------------------------

৩ আল-কিফায়া শারহুল হিদায়া ১/২৫৯-এ।

৪ মাওয়াহিবুল জালীল ১/৪১৫-এ।
(খণ্ড: ১) তাহকীকুল মাকাম ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিআওকাতিন নাহয়ি আনিস সালাতি মিন আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৪১)
المطلب الخامس

‌‌بعد صلاة العيد وقبلها

بالنظر إلى أقوال الفقهاء في حكم التنفل قبل صلاة العيد وبعدها يظهر أن أكثرهم قال بالكراهة مع اختلاف بينهم في التقييد، حيث ذهب المالكية والحنابلة إلى كراهة التنفل قبل صلاة العيد وبعدها، إلا أن المالكية قيدوا ذلك في المصلى حيث قالوا تكره النافلة قبل صلاة العيد وبعدها في المصلى دون المسجد5، وقيده الحنابلة بموضع

--------------------------------------------

5 انظر التفريع 1/ 234، الكافي 1/226، القوانين الفقهية ص 53.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ

‌‌ঈদের নামাজের পরে ও আগে

ঈদের নামাজের আগে ও পরে নফল নামাজ আদায়ের (التنفل) বিধান সম্পর্কে ফকিহগণের মতামত পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে, তাঁদের অধিকাংশ একে অপছন্দনীয় বা মাকরুহ (الكراهة) বলে অভিহিত করেছেন, যদিও এর শর্তারোপের (التقييد) ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। মালিকি এবং হাম্বলিগণ ঈদের নামাজের আগে ও পরে নফল নামাজ আদায় (التنفل) মাকরুহ (الكراهة) হওয়ার মত পোষণ করেছেন। তবে মালিকিগণ এই বিধানকে মুসাল্লা বা ঈদগাহের (المصلى) সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন; তাঁরা বলেন যে, ঈদের নামাজের আগে ও পরে মুসাল্লায় (المصلى) নফল নামাজ পড়া মাকরুহ (الكراهة), তবে মসজিদে নয়। আর হাম্বলিগণ একে নির্দিষ্ট করেছেন সেই স্থানের সাথে...

--------------------------------------------

৫ দেখুন: আত-তাফরী ১/২৩৪, আল-কাফী ১/২২৬, আল-কাওয়ানীন আল-ফিকহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৫৩।