(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: -)
القول الأحمد في أحكام في حرمة المسجد   (عبد الله السهلي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: القول الأحمد في أحكام في حرمة المسجد

المؤلف: عبد الله بن معتق السهلي

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة السادسة والثلاثون, العدد 125 - 1424هـ/2004م

عدد الصفحات: 426

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-কাওলুল আহমাদ ফি আহকামি ফি হুরমাতিল মাসজিদ   (আবদুল্লাহ আল-সাহলি)

বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল


গ্রন্থ: আল-কাওলুল আহমাদ ফি আহকামি ফি হুরমাতিল মাসজিদ

লেখক: আবদুল্লাহ বিন মুতিক আল-সাহলি

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: ৩৬তম বর্ষ, সংখ্যা ১২৫ - ১৪২৪ হিজরি/২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৬৩)
ال‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.

أما بعد فإن المساجد لها مكانة عظيمة وأهمية بالغة عند المسلمين أمر الله برفعها وذكر اسمه فيها يقول عز وجل {فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ رِجَالٌ لا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ..} 4.

وقوله تبارك وتعالى {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ فَعَسَى أُولَئِكَ أَنْ يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ} 5.

--------------------------------------------

1 آية 102 من سورة آل عمران.

2 آية 1 من سورة النساء.

3 آية 70، 71 من سورة الأحزاب.

4 آية 26، 27 من سورة النور.

5 آية 18 من سورة التوبة.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাথী-সঙ্গীদের ওপর অজস্র ধারায় দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} ১, {হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} ২।

{হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে} ৩।

অতঃপর, মুসলিমদের নিকট মসজিদের মর্যাদা অত্যন্ত সুমহান এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তায়ালা এগুলোকে সমুন্নত করার এবং তাতে তাঁর নাম স্মরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {সেই সব গৃহে যা সমুন্নত করতে এবং যাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এমন সব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে, সালাত কায়েম করা হতে এবং জাকাত প্রদান হতে বিচ্যুত করতে পারে না...} ৪।

এবং বরকতময় ও মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে যারা আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান এনেছে, সালাত কায়েম করেছে, জাকাত প্রদান করেছে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করেনি। আশা করা যায় যে, তারা সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} ৫।

--------------------------------------------

১. সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০২।

২. সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১।

৩. সূরা আল-আহজাব, আয়াত: ৭০, ৭১।

৪. সূরা আন-নূর, আয়াত: ২৬, ২৭।

৫. সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১৮।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৬৪)
ولهذه الأهمية العظيمة أُمِرْنا بالمحافظة على المساجد من كل مالا يتناسب مع ما بُنيت له ولذلك نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن البيع والشراء في المسجد أو إنشاد الضالة أو أن يأكل الإنسان ثوماً أو بصلاً ويدخل المسجد أو أن يستهان بالمسجد أو يُعبث فيه ولما كان الناس قد خف عندهم شأن المحافظة على المساجد وخاصة فيما يتعلق بتعظيمها والمحافظة على حرمتها وكانت الأحكام المتعلقه بالمساجد كثيرة ومتفرقة أحببت أن أسهم في بيان بعض الأحكام المتعلقة بحرمة المسجد في بحث مستقل وضعته بأسلوب علمي واضح يسهل الاطلاع عليه والاستفادة منه وعنونت له بعنوان (القول الأحمد في أحكام في حرمة المسجد) .

خطة البحث

قسمت هذا البحث إلى مقدمة وتمهيد وأربعة مباحث وخاتمة.

المقدمة: وتشتمل على الافتتاحية وخطة البحث ومنهجه.

التمهيد: في تعريف المسجد وبيان أهميته ومكانته وفضل عمارته

المبحث الأول: في مكث المحدث والحائض ومن في حكمهما في المسجد.

وفيه ثلاثة مطالب

المطلب الأول: في مكث المحدث والحائض في المسجد.

المطلب الثاني: في عبور الجنب والحائض المسجد.

المطلب الثالث: في دخول المستحاضة ومن به سلس بول أو نجاسة دائمة أو رائحة كريهة.

المبحث الثاني: في دخول الصبيان والمجانين المسجد.

المبحث الثالث: في من يقصد المسجد للبيع والشراء وإنشاد الضالة.

المبحث الرابع: في دخول المشرك المسجد.
এই মহান গুরুত্বের কারণে আমাদেরকে মসজিদকে এমন প্রতিটি বিষয় থেকে রক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা এটি যে উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এজন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে কেনা-বেচা করা, হারানো বস্তু ঘোষণা করা, অথবা রসুন বা পেঁয়াজ খেয়ে মসজিদে প্রবেশ করা, কিংবা মসজিদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা বা সেখানে অনর্থক কোনো কাজ করা থেকে নিষেধ করেছেন। যেহেতু বর্তমানে মানুষের কাছে মসজিদের সুরক্ষার গুরুত্ব কমে গেছে, বিশেষ করে এর মর্যাদা রক্ষা ও পবিত্রতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে, এবং মসজিদ সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ অনেক ও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, তাই আমি একটি স্বতন্ত্র গবেষণার মাধ্যমে মসজিদের পবিত্রতা বিষয়ক কিছু বিধান স্পষ্ট ও তাত্ত্বিক পদ্ধতিতে তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছি, যাতে এটি পাঠ করা ও তা থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়। আমি এর শিরোনাম দিয়েছি 'আল-কাউলুল আহমাদ ফি আহকামি হুরমাতিল মাসজিদ'।

গবেষণা পরিকল্পনা

আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, চারটি মূল পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি।

ভূমিকা: এটি প্রারম্ভিকা, গবেষণা পরিকল্পনা এবং গবেষণা পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত।

উপক্রমণিকা: মসজিদের সংজ্ঞা, এর গুরুত্ব ও মর্যাদা এবং মসজিদ নির্মাণের ফজিলত প্রসঙ্গে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: অপবিত্র (محدث) ব্যক্তি, ঋতুবতী নারী এবং যাদের বিধান এদের অনুরূপ, তাদের মসজিদে অবস্থান করা প্রসঙ্গে।

এর অধীনে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: অপবিত্র (محدث) ব্যক্তি ও ঋতুবতী নারীর মসজিদে অবস্থান করা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জানাবাতগ্রস্ত (جنب) ব্যক্তি ও ঋতুবতী নারীর মসজিদ অতিক্রম করা প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইস্তিহাজাগ্রস্ত (مستحاضة) নারী এবং যার প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে অক্ষমতা (سلس بول) বা স্থায়ী নাপাকি অথবা দুর্গন্ধ রয়েছে, তাদের মসজিদে প্রবেশ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিশু এবং অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিদের মসজিদে প্রবেশ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যারা মসজিদে কেনা-বেচা এবং হারানো বস্তু খোঁজার উদ্দেশ্যে আসে, তাদের প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুশরিকের মসজিদে প্রবেশ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৬৫)
أو يقصده للصلاة فيبيع ويشتري أو ينشد ضالة.

الخاتمة في أهم نتائج البحث.

منهج البحث:

سلكت في إعداد هذا البحث المنهج الآتي:

1- جمعت المادة العلمية المتعلقة ببحث القول الأحمد في أحكام في حرمة المسجد.

2- درست المسائل الواردة في هذا البحث دراسة موازنة، وحرصت على بيان المذاهب الأربعة في كل مسألة، وقد أذكر في المسألة أقوال بعض الصحابة والتابعين وغيرهم من الفقهاء كما أنني ذكرت قول الظاهرية في بعض المسائل مراعياً في ذلك غالباً الترتيب الزمني بين الفقهاء.

3- حرصاً مني على إخراج المسائل بأسلوب مبسط، يسهل معه معرفة الحكم في المسألة صدّرتها بالإجماع أو الاتفاق إن كانت من المسائل المتفق أو المجمع عليها، كما أنني إن رأيت الخلاف ليس قوياً في المسألة صدّرت المسألة بقول أكثر أهل العلم وبعد ذلك أشير إلى القول المخالف ثم أذكر أدلة كل قول وما قد يرد عليه من اعتراض إن وجد، ثم أختم المسألة بالقول الراجح وقد أؤخر الاعتراضات مع الترجيح.

4- حرصت على نقل أقوال الفقهاء من مصادرها الأصلية.

5- ذكرت أرقام الآيات الواردة في البحث مع بيان أسماء سورها.

6- خرجت الأحاديث الواردة في البحث مبيناً الكتاب والباب والجزء والصفحة فإن كان الحديث في الصحيحين أو في أحدهما اكتفيت بتخريجه منهما أو من أحدهما، وإن لم يكن فيهما أو في أحدهما اجتهدت في
অথবা সে সালাতের উদ্দেশ্যে মসজিদে প্রবেশ করে, অতঃপর কেনাবেচা করে কিংবা হারানো জিনিসের ঘোষণা দেয়।

উপসংহার: গবেষণার প্রধান ফলাফলসমূহ।

গবেষণা পদ্ধতি:

এই গবেষণা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

1- 'আল-কাওলুল আহমাদ ফি আহকামি হুরমাতিল মাসজিদ' শীর্ষক গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট তাত্ত্বিক বিষয়াদি সংগ্রহ করেছি।

2- এই গবেষণায় উপস্থাপিত মাসআলাসমূহ আমি তুলনামূলক পদ্ধতিতে অধ্যয়ন করেছি এবং প্রতিটি মাসআলায় চারটি মাযহাবের বিবরণ প্রদানের ব্যাপারে সচেষ্ট থেকেছি। কখনো কখনো আমি সাহাবী, তাবিঈ ও অন্যান্য ফকিহগণের বক্তব্যও উল্লেখ করেছি। তেমনিভাবে কিছু মাসআলায় জাহিরিগণের অভিমতও উল্লেখ করেছি এবং এক্ষেত্রে সাধারণত ফকিহগণের কালানুক্রমিক বিন্যাস বজায় রেখেছি।

3- মাসআলাসমূহ সহজভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে, যাতে মাসআলার বিধান নির্ণয় সহজ হয়, আমি সেগুলো ঐকমত্য (إجماع) বা সমঝোতা (اتفاق) দ্বারা শুরু করেছি—যদি মাসআলাটি সমঝোতাপূর্ণ (متفق) বা ঐকমত্যপূর্ণ (مجمع عليه) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। একইভাবে যদি আমি দেখি যে মাসআলাটিতে মতভেদ জোরালো নয়, তবে অধিকাংশ আলেম বা জমহুর আলেমদের বক্তব্য দিয়ে শুরু করেছি এবং এরপর বিরোধী মতের দিকে ইঙ্গিত করেছি। অতঃপর প্রতিটি মতের স্বপক্ষে দলিল এবং কোনো আপত্তি থাকলে তা উল্লেখ করেছি। পরিশেষে অগ্রগণ্য মত (القول الراجح) বর্ণনার মাধ্যমে মাসআলাটি শেষ করেছি; তবে কখনো কখনো প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) সাথে আপত্তিগুলোও শেষে উল্লেখ করেছি।

4- ফকিহগণের বক্তব্যসমূহ তাদের মূল উৎস থেকে উদ্ধৃত করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি।

5- গবেষণায় উল্লিখিত আয়াতের নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট সূরার নাম উল্লেখ করেছি।

6- গবেষণায় বর্ণিত হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج) করেছি এবং কিতাব, অধ্যায়, খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি। হাদিসটি যদি সহীহাইন বা এ দুটির কোনো একটিতে থাকে, তবে কেবল তা থেকেই উৎস নির্দেশ (تخريج) করার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর যদি সেগুলোর কোনোটিতে না থাকে, তবে আমি সচেষ্ট হয়েছি...
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৬৬)
تخريجه من كتب السنة الأخرى مع ذكر درجة الحديث صحة أو ضعفاً معتمداً على الكتب التي تعنى بذلك.

7- بينت معاني الكلمات التي تحتاج إلى بيان معتمداً على الكتب التي تعني بذلك.

8- لم أترجم للأعلام الواردة في البحث خشية الإطالة.

9- بينت في نهاية البحث في الخاتمة أهم النتائج التي توصلت إليها.

10- وضعت فهرساً للمصادر التي اعتمدت عليها مرتباً حسب الحروف الهجائية، وآخر للموضوعات.
অন্যান্য সুন্নাহ গ্রন্থ থেকে এর তাকরিজ (تخريج) করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রীয় গ্রন্থসমূহের ওপর ভিত্তি করে হাদিসের মান (درجة)—সহিহ (صحيح) না কি জয়িফ (ضعيف)—তা উল্লেখ করা হয়েছে।

৭- যেসব শব্দের ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল, সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহের আলোকে আমি সেগুলোর অর্থ স্পষ্ট করেছি।

৮- কলেবর দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় আমি গবেষণায় উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের জীবনী (ترجمة) আলোচনা করিনি।

৯- গবেষণার শেষে উপসংহারে আমি প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ বর্ণনা করেছি।

১০- আমি ব্যবহৃত উৎসগ্রন্থসমূহের একটি বর্ণানুক্রমিক নির্ঘণ্ট এবং বিষয়সমূহের একটি সূচিপত্র প্রস্তুত করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৬৭)
‌‌التمهيد:

في تعريف المسجد وبيان أهميته ومكانته وفضل عمارته

تعريف المسجد:

المسجد لغة: هو مفعل بالكسر اسم لمكان السجود.

والفتح اسم للمصدر.

والمَسْجَدُ بالفتح: جبهة الرجل حيث يصيبه ندب السجود1.

والمسجد شرعاً:

هو كل موضع من الأرض لقوله صلى الله عليه وسلم: “جعلت لي الأرض مسجداً وطهوراً” 2.

وهذا من خصائص هذه الأمة قال القاضي عياض:

“لأن من كان قبلنا، كانوا لا يصلون إلا في موضع يتيقنون طهارته، ونحن خصصنا بجواز الصلاة في جميع الأرض إلا ما تيقنا نجاسته”3.

وقال القرطبي: “هذا ما خص الله به نبيه، وكانت الأنبياء قبله إنما أبيحت لهم الصلوات في مواضع مخصوصة كالبّيع والكنائس” 4.

قال الزركشي: ولما كان السجود أشرف أفعال الصلاة لقرب العبد من ربه اشتق اسم المكان منه فقيل مسجد، ولم يقولوا مركع.

--------------------------------------------

1 انظر لسان العرب 3/204، المصباح المنير 1/316، تاج العروس 2/371، الصحاح 2/483.

2 أخرجه البخاري 1/86 في كتاب التيمم في أول كتاب التيمم. ومسلم 1/371 في كتاب المساجد ومواضيع الصلاة في أوله.

3 انظر شرح صحيح مسلم 5/4، إعلام الساجد بأحكام المساجد 27.

4 انظر الجامع لأحكام القرآن 2/78، إعلام الساجد بأحكام المساجد 27.
‌উপক্রমণিকা:

মসজিদের সংজ্ঞা এবং এর গুরুত্ব, মর্যাদা ও তা আবাদ করার ফযিলত বর্ণনায়

মসজিদের সংজ্ঞা:

শাব্দিক অর্থে মসজিদ: এটি সিজদাহ করার স্থানের নাম যা 'কাসরাহ' (জের) যোগে 'মিফআল' ওযনে গঠিত।

আর 'ফাতহাহ' (যবর) যোগে এটি মাসদারের (মূল ধাতু) নাম।

এবং ফাতহাহ যোগে 'মাসজাদ' হলো ব্যক্তির কপাল, যেখানে সিজদাহর চিহ্ন পড়ে।১

শরয়ি পরিভাষায় মসজিদ:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী অনুযায়ী জমিনের প্রতিটি স্থানই মসজিদ: "পুরো জমিনকে আমার জন্য মসজিদ ও পবিত্র করার মাধ্যম করা হয়েছে।" ২

এটি এই উম্মতের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কাযী আইয়ায বলেন:

“কেননা আমাদের পূর্ববর্তী যারা ছিলেন, তাঁরা কেবল এমন স্থানেই সালাত আদায় করতেন যেটির পবিত্রতা সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিত হতেন। আর আমাদের জন্য এই বিশেষত্ব দেওয়া হয়েছে যে, অপবিত্রতা নিশ্চিত হওয়া স্থানগুলো ব্যতীত সমগ্র জমিনেই সালাত আদায় করা বৈধ।” ৩

ইমাম কুরতুবী বলেন: “এটি সেই বিষয় যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। অথচ তাঁর পূর্ববর্তী নবীদের জন্য কেবল নির্দিষ্ট কিছু স্থানেই সালাত আদায় করা বৈধ ছিল, যেমন সিনাগগ ও গির্জা।” ৪

ইমাম যারকাশী বলেন: যেহেতু সিজদাহ হলো সালাতের শ্রেষ্ঠতম আমল—বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হওয়ার কারণে—তাই সেই আমল থেকেই স্থানের নাম গ্রহণ করে একে 'মসজিদ' বলা হয়েছে; একে 'মারকা' (রুকু করার স্থান) বলা হয়নি।

--------------------------------------------

১ লিসানুল আরব ৩/২০৪, আল-মিসবাহুল মুনির ১/৩১৬, তাজুল আরুস ২/৩৭১, আস-সিহাহ ২/৪৮৩ দেখুন।

২ বুখারি ১/৮৬, তায়াম্মুম অধ্যায়, তায়াম্মুম অধ্যায়ের শুরুতে; এবং মুসলিম ১/৩৭১, মসজিদ ও সালাতের স্থান অধ্যায়ের শুরুতে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

৩ সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ৫/৪, ইলামুস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ ২৭ দেখুন।

৪ আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন ২/৭৮, ইলামুস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ ২৭ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৬৮)
ثم إن العرف خصص المسجد بالمكان المهيأ للصلوات الخمس حتى يخرج المصلى المجتمع فيه للأعياد ونحوها فلا يعطى حكمه1.

أهمية المسجد ومكانته وفضل عمارته:

المسجد بيت الله وأحب البقاع إليه ولقد وضع الله للناس أول بيت من بيوته في الأرض وأشرفها، وهو المسجد الحرام ليقام فيه دينه، كما قال تعالى {إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكاً وَهُدىً لِلْعَالَمِينَ} 2.

قال ابن كثير، رحمه الله: يخبر تعالى أن أول بيت وضع للناس، أي لعموم الناس لعبادتهم ونسكهم، يطوفون به ويصلون إليه، ويعتكفون عنده {لَلَّذِي بِبَكَّةَ} يعني الكعبة التي بناها إبراهيم الخليل عليه السلام3.

ومما يدل على مكانة المسجد وعظم منزلته عند الله أنه سبحانه هو الذي فضل المساجد، ورغب في بنائها وعمارتها، حساً ومعنى، وجعل أصل وظائفها ذكره، وإقام الصلاة له، وهي أهم أركان عبادته بعد الشهادتين، اللتين هما عبادته وذكره، كما قال تعالى {فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ رِجَالٌ لا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْماً تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالأَبْصَارُ} 4.

والله سبحانه وتعالى، هو مالك كل شيء نسب المساجد إليه، فليست هي لأحد سواه، كما أن العبادة التي كلف الله عباده إياها لا يجوز أن تصرف

--------------------------------------------

1 انظر إعلام الساجد بأحكام المساجد 28، تحفة الراكع والساجد 12، معجم لغة الفقهاء 428.

2 آية 96 من سورة آل عمران.

3 انظر تفسير القرآن العظيم 2/63.

4 آية 26، 27 من سورة النور.
অতঃপর প্রচলন অনুযায়ী মসজিদ শব্দটিকে সেই স্থানের জন্য সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে যা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (صلاة)-এর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে; যাতে ঈদ বা এই জাতীয় সালাতের জন্য সমবেত হওয়ার স্থানসমূহ (ঈদগাহ) এর অন্তর্ভুক্ত না হয় এবং সেগুলোকে মসজিদের বিধান (حكم) প্রদান করা না হয় ১।

মসজিদের গুরুত্ব, মর্যাদা এবং তা আবাদের শ্রেষ্ঠত্ব:

মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং তাঁর নিকট সর্বাধিক প্রিয় ভূখণ্ড। আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য জমিনে তাঁর ঘরসমূহের মধ্য হতে প্রথম এবং সবচেয়ে সম্মানিত ঘর স্থাপন করেছেন, আর তা হলো মাসজিদুল হারাম; যাতে সেখানে তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয় মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছে, তা তো মক্কায় অবস্থিত; যা বরকতময় এবং বিশ্বজগতের জন্য পথপ্রদর্শক} ২।

ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: মহান আল্লাহ সংবাদ দিচ্ছেন যে, মানুষের জন্য অর্থাৎ সাধারণ মানুষের ইবাদত ও উপাসনার (نسك) জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে তারা তাওয়াফ (طواف) করবে, সালাত (صلاة) আদায় করবে এবং ইতিকাফ (اعتكاف) করবে, তা হলো {যা মক্কায় অবস্থিত}, অর্থাৎ কাবা যা ইব্রাহিম খলীল (আলাইহিস সালাম) নির্মাণ করেছিলেন ৩।

আল্লাহর নিকট মসজিদের উচ্চ মর্যাদা ও সুমহান অবস্থানের একটি প্রমাণ হলো এই যে, তিনি স্বয়ং মসজিদসমূহকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং বাহ্যিক ও আত্মিক উভয় দিক থেকে তা নির্মাণ ও আবাদ করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। তিনি তাঁর জিকির (ذكر) এবং সালাত (صلاة) কায়েম করাকে এর মূল কাজ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; যা কালিমা বা সাক্ষ্যদ্বয় (شهادتين)-এর পর তাঁর ইবাদতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন (ركن)। যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {সেই সকল ঘরে, যেগুলোকে সুউচ্চ করার এবং যেগুলোতে তাঁর নাম স্মরণ করার আদেশ আল্লাহ দিয়েছেন; সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এমন সব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ (ذكر), সালাত (صلاة) কায়েম এবং জাকাত (زكاة) প্রদান হতে বিরত রাখে না; তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অনেক অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে} ৪।

মহান আল্লাহ সবকিছুর মালিক হওয়া সত্ত্বেও মসজিদসমূহকে নিজের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন, সুতরাং তা তিনি ছাড়া অন্য কারো জন্য নয়। ঠিক তেমনিভাবে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর যে ইবাদত অর্পণ করেছেন, তা অন্যের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা বৈধ নয়

--------------------------------------------

১ দেখুন: ইলামুস সাজিদ বি আহকামিল মাসাজিদ ২৮, তুহফাতুর রাখি ওয়াস সাজিদ ১২, মুজামু লুগাতিল ফুকাহা ৪২৮।

২ সুরা আলে ইমরানের ৯৬ নম্বর আয়াত।

৩ দেখুন: তাফসীরুল কুরআনিল আজীম ২/৬৩।

৪ সুরা নূরের ২৬ ও ২৭ নম্বর আয়াত।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৬৯)
لسواه، كما قال تعالى {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلا تَدْعُو مَعَ اللَّهِ أَحَداً} 1.

على القول بأن المراد بالمساجد في الآية أماكن الصلاة2.

ويُؤخذ من كون المساجد لله، انه تعالى هو الذي يشرع فيها ما يريد، سواء كان ذلك يتعلق ببنائها وكيفيته أم يتعلق بما يجب فيها، وما يندب، وما يباح، وما يكره وما يحرم، فليس لأحد من الخلق أن يتدخل في شؤون المساجد إلا بما أذن الله، ومن تدخل فيها بما لم يأذن به الله، فقد تعدى حدوده.

ومما يدل على مكانة المسجد عند الله أن عمّاره مادياً ومعنوياً هم صفوة خلقه من الأنبياء والمرسلين، وأتباعهم من عباده المؤمنين، فقد كان باني الكعبة أبو الأنبياء إبراهيم وابنه إسماعيل. كما قال تعالى {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} 3.

وقال تعالى في عمار سائر المساجد {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلاّ اللَّهَ فَعَسَى أُولَئِكَ أَنْ يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ} 4.

ووعد الله سبحانه وتعالى من بنى له بيتاً في الأرض ـ أي بنى مسجداً لله تعالى ـ أن يبني له بيتاً في الجنة، كما في حديث عثمان بن عفان رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: “من بنى لله مسجداً بنى الله له كهيئته في الجنة” 5.

--------------------------------------------

1 آية 18 من سورة الجن.

2 انظر الجامع لأحكام القرآن 19/20.

3 آية 127، 128 من سورة البقرة.

4 آية 18 من سورة التوبة.

5 أخرجه البخاري 1/116 في كتاب الصلاة باب من بنى مسجداً، ومسلم 1/378 في كتاب المساجد ومواضع الصلاة باب فضل بناء المساجد والحث عليها.
...অন্য কারো জন্য নয়, যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} ১।

এই মতানুসারে যে, আয়াতে মসজিদ দ্বারা সালাতের স্থানসমূহ বোঝানো হয়েছে। ২।

মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য হওয়ার বিষয়টি থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, মহান আল্লাহই সেখানে যা ইচ্ছা বিধান প্রদান করেন; চাই তা এর নির্মাণ ও নির্মাণশৈলীর সাথে সংশ্লিষ্ট হোক কিংবা সেখানে যা আবশ্যক, মুস্তাহাব, বৈধ, মাকরুহ এবং হারাম তার সাথে সংশ্লিষ্ট হোক। সুতরাং সৃষ্টিজীবের কারোরই আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত মসজিদের বিষয়াবলীতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে এতে হস্তক্ষেপ করবে, সে মূলত তার সীমা লঙ্ঘন করবে।

আল্লাহর নিকট মসজিদের সুউচ্চ মর্যাদার অন্যতম প্রমাণ হলো যে, এর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আবাদকারীগণ হলেন তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূলগণ এবং মুমিন বান্দাদের মধ্য থেকে তাঁদের অনুসারীগণ। কাবা ঘরের নির্মাতা ছিলেন নবীদের পিতা ইব্রাহিম এবং তাঁর পুত্র ইসমাইল। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {আর স্মরণ করো, যখন ইব্রাহিম ও ইসমাইল কাবার ভিত্তি স্থাপন করছিল (এবং দোয়া করছিল), 'হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর হতে আপনার এক অনুগত উম্মত করুন। আর আমাদের ইবাদতের নিয়মাবলি দেখিয়ে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু'} ৩।

অন্যান্য সকল মসজিদ আবাদকারীদের প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {নিশ্চয়ই আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই আবাদ করবে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান এনেছে, সালাত কায়েম করেছে, জাকাত প্রদান করেছে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করেনি। অতএব আশা করা যায় তারা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} ৪।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দুনিয়াতে তাঁর জন্য ঘর নির্মাণকারীকে—অর্থাৎ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণকারীকে—জান্নাতে একটি ঘর দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেমন উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন” ৫।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-জিনের ১৮ নম্বর আয়াত।

২. দেখুন: আল-জামি লি আহকামিল কুরআন, ১৯/২০।

৩. সূরা আল-বাকারাহ-এর ১২৭ ও ১২৮ নম্বর আয়াত।

৪. সূরা আত-তাওবাহ-এর ১৮ নম্বর আয়াত।

৫. এটি বুখারি ১/১১৬ পৃষ্ঠায় 'সালাত' অধ্যায়ের 'যে ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণ করল' অনুচ্ছেদে এবং মুসলিম ১/৩৭৮ পৃষ্ঠায় 'মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ' অধ্যায়ের 'মসজিদ নির্মাণের ফজিলত ও এর প্রতি উৎসাহ প্রদান' অনুচ্ছেদে উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه)।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৭০)
ومما يدل على مكانتها شهود الملائكة للصلاة فيها واستماعهم للذكر، جاء في فضل الجمعة من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: “.... فإذا حضر الإمام حضرت الملائكة يستمعون الذكر” 1.

إن مكانة المسجد في المجتمع المسلم تظهر بجلاء من كون الرسول صلى الله عليه وسلم لم يستقر به المقام عندما وصل إلى حي بني عمرو بن عوف في قباء حتى بدأ ببناء مسجد قباء، وهو أول مسجد بني في المدينة وأول مسجد بني لعموم الناس 2.

وكذلك عندما واصل سيره صلى الله عليه وسلم إلى قلب المدينة كان أول ما قام به تخصيص أرض لبناء مسجده، ثم الشروع في بنائه.

وكان صلى الله عليه وسلم إذا نزل منزلاً في سفر أو حرب، وبقى فيه مدة اتخذ فيه مسجداً يصلي فيه أصحابه، رضي الله عنهم، كما فعل في خيبر وفي غزوة الخندق3.

وكان صلى الله عليه وسلم يصلي لذوي الأعذار في بيوتهم في مكان منها ليتخذوه مسجداً، كما في قصة عتبان بن مالك الأنصاري4 رضي الله عنه كل ذلك يدل على مكانة المسجد وعدم استغناء المسلم عنه في أي مكان حل، وأنه لا تخلو منه الأحياء والدور والمنازل في سفر ولا حضر.

من المسجد ينطلق صوت المؤذن في اليوم والليلة خمس مرات في كل أرجاء المعمورة، فيستجيب له ملايين الناس، تاركين كل شيء وراءهم، ليقووا

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري 2/223 في كتاب الجمعه باب الاستماع إلى الخطبة يوم الجمعة.

2 انظر تفسير القرآن العظيم 4/150.

3 انظر وفاء الوفاء بأخبار دار المصطفى 3/1028، 1204.

4 أخرجه مسلم 1/455 في كتاب المساجد ومواضع الصلاة باب الرخصة عن التخلف عن الجماعة بعذر.
মসজিদের মর্যাদাকে যা প্রমাণ করে তার মধ্যে একটি হলো সেখানে সালাতে ফেরেশতাদের উপস্থিতি এবং তাদের জিকির শ্রবণ করা। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত জুমার ফজিলত সংক্রান্ত একটি হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “...যখন ইমাম উপস্থিত হন, তখন ফেরেশতারা জিকির শোনার জন্য উপস্থিত হন” ১।

মুসলিম সমাজে মসজিদের গুরুত্ব অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এই বাস্তবতা থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কুবার বনী আমর ইবনে আউফ গোত্রে পৌঁছান, তখন সেখানে স্থায়ীভাবে থিতু হওয়ার আগেই তিনি মসজিদে কুবা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এটিই মদিনায় নির্মিত প্রথম মসজিদ এবং সর্বসাধারণের জন্য নির্মিত প্রথম মসজিদ ২।

একইভাবে, যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনার কেন্দ্রস্থলের দিকে তাঁর সফর অব্যাহত রাখলেন, তখন তাঁর সর্বপ্রথম পদক্ষেপ ছিল তাঁর নিজ মসজিদ নির্মাণের জন্য একটি ভূমি নির্দিষ্ট করা এবং এরপর সেটির নির্মাণকাজ শুরু করা।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সফর বা যুদ্ধের সময় কোনো স্থানে যাত্রাবিরতি করতেন এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করতেন, তখন সেখানে একটি মসজিদ নির্ধারণ করতেন যেখানে তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সালাত আদায় করতেন; যেমনটি তিনি খায়বর এবং খন্দকের যুদ্ধের সময় করেছিলেন ৩।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওজরগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য তাদের ঘরের নির্দিষ্ট কোনো স্থানে সালাত আদায় করতেন যাতে তারা সেটাকে নামাজের স্থান (মসজিদ) হিসেবে গ্রহণ করতে পারে; যেমনটি ইতবান ইবনে মালিক আনসারী ৪ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে। এই সবকিছুই মসজিদের সুমহান মর্যাদাকে নির্দেশ করে এবং এটিই প্রমাণ করে যে, একজন মুসলিম যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, সে মসজিদ থেকে বিমুখ থাকতে পারে না। আর সফর কিংবা আবাসস্থল—কোনো অবস্থাতেই জনবসতি, এলাকা ও ঘরবাড়ি মসজিদশূন্য থাকে না।

মসজিদ থেকেই পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে দিন ও রাতে পাঁচবার মুয়াজ্জিনের আযান ধ্বনিত হয়, যার ডাকে সাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের পেছনের সমস্ত কিছু ফেলে দিয়ে ধাবিত হয়, যেন তারা শক্তি সঞ্চয় করতে পারে...

--------------------------------------------

১ ইমাম বুখারি ২/২২৩-এ কিতাবুল জুমা-র ‘জুমার দিনে খুতবা মনোযোগ সহকারে শোনা’ পরিচ্ছেদে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

২ তাফসিরে কুরআনিল আজিম ৪/১৫০ দেখুন।

৩ ওফাউল ওফা বি আখবারি দারিল মোস্তফা ৩/১০২৮, ১২০৪ দেখুন।

৪ ইমাম মুসলিম ১/৪৫৫-এ কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাহ-এর ‘ওজরের কারণে জামাতে অনুপস্থিত থাকার অবকাশ’ পরিচ্ছেদে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৭১)
صلتهم بربِهم ويؤدوا له ما فرض عليهم في بيوته التي أذن أن ترفع ويذكر فيها اسمه.

فالمسجد هو مقر إقامة الصلاة المفروضة، والذي يتخلف عنه يسم نفسه بسمة النفاق وهذا ما فهمه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه لا يتخلف عن صلاة الجماعة بدون عذر إلا منافق معلوم النفاق.

وللمسلمين عيد أسبوعي يجتمع فيه أهل كل حي في أكبر مساجدهم في غاية النظافة، وبأجمل اللباس، وبأطيب الروائح، أفضلهم أجراً من جاء مبكراً إلى المسجد، وذلك لحضور صلاة الجمعة، والإنصات لخطبتها قبل الصلاة، وليس هناك خطبة يجب الإنصات لها دون لغو ولا عبث كخطبتي الجمعة.

وهناك صلوات النوافل التي تسن إقامتها في المسجد، منها تحية المسجد عند دخوله. وكذلك صلاة ركعتين بين الأذان والإقامة من كل صلاة ولا مانع من أداء النوافل الراتبة قبل الصلاة وبعدها في المسجد وإن كان الأفضل أداؤها في المنازل.

وكذلك صلاة العيدين، يجوز أداؤها في المسجد، وإن كان الأفضل أن تقام في الصحراء، وكذلك صلاة الاستغاثة، وفي المسجد تقام صلاة الكسوف لكسوف الشمس وصلاة الخسوف لخسوف القمر ومع كل تلك الصلوات يسن أن يخطب الإمام الناس خطبة فيها تناسب المقام وكذلك الصلاة على الجنائز التي اعتادها المسلمون لكثرة المصلين، ويرجى من الخير للميت مع وجود الكثرة ما لا يرجى مع القلة في الغالب.

ومن الأعمال الصالحة التي تؤدى في المسجد قراءة القرآن بتدبر وخشوع وحفظه والاجتماع لتدارسه، كما ورد في حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم وفيه … "وما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله، يتلون كتاب الله ويتدارسونه بينهم إلا نزلت عليهم السكينة، وغشيتهم الرحمة، وحفتهم الملائكة
তাদের প্রতিপালকের সাথে তাদের সুদৃঢ় বন্ধন এবং তারা যেন তাঁর সেই ঘরগুলোতে তাঁর নির্ধারিত ফরজসমূহ আদায় করতে পারে, যা সমুন্নত রাখার এবং যেখানে তাঁর নাম স্মরণ করার অনুমতি তিনি দিয়েছেন।

মসজিদ হলো ফরজ নামাজ আদায়ের মূল কেন্দ্র; আর যে ব্যক্তি তা থেকে বিরত থাকে, সে নিজেকে নিফাকের (نفاق) চিহ্নে চিহ্নিত করে। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ এটাই বুঝতেন যে, কোনো ওজর ব্যতীত জামাতে নামাজ আদায় থেকে কেবল সেই ব্যক্তিই বিরত থাকে যে সুস্পষ্ট নিফাকধারী মুনাফিক (منافق معلوم النفاق)।

মুসলমানদের জন্য একটি সাপ্তাহিক ঈদ রয়েছে, যাতে প্রতিটি মহল্লার বাসিন্দারা অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন অবস্থায়, সুন্দরতম পোশাকে এবং সুগন্ধি মেখে তাদের সর্ববৃহৎ মসজিদে সমবেত হন। সওয়াবের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ, যে জুমার নামাজে শরিক হওয়ার জন্য এবং নামাজের পূর্বে খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনার উদ্দেশ্যে আগেভাগে মসজিদে আসে। জুমার দুই খুতবার মতো এমন কোনো খুতবা নেই, যেখানে অনর্থক কথা ও কাজ পরিহার করে নিশ্চুপ থেকে শ্রবণ করা ওয়াজিব।

মসজিদে এমন কিছু নফল (نوافل) নামাজ রয়েছে যা আদায় করা সুন্নাত, যার মধ্যে মসজিদে প্রবেশের সময় 'তাহিয়াতুল মসজিদ' (تحية المسجد) নামাজ অন্যতম। তদ্রূপ প্রতিটি নামাজের আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দুই রাকাত নামাজ। নামাজের পূর্বে ও পরে নিয়মিত নফল (الراتبة) নামাজগুলো মসজিদে আদায় করতে কোনো বাধা নেই, যদিও তা ঘরে আদায় করা উত্তম।

একইভাবে দুই ঈদের নামাজও মসজিদে আদায় করা জায়েজ, যদিও তা খোলা ময়দানে আদায় করা উত্তম। তদ্রূপ আর্তনাদ ও সাহায্যের নামাজ (صلاة الاستغاثة), সূর্যগ্রহণের জন্য কুসুফ (صلاة الكسوف) নামাজ এবং চন্দ্রগ্রহণের জন্য খুসুফ (صلاة الخسوف) নামাজ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। এই সকল নামাজের ক্ষেত্রে ইমামের জন্য পরিস্থিতির উপযোগী খুতবা প্রদান করা সুন্নাত। এছাড়াও জানাজার নামাজও মসজিদে আদায় করা মুসলমানদের রীতিতে পরিণত হয়েছে মুসল্লিদের আধিক্যের কারণে; কারণ সাধারণত অধিক মুসল্লির উপস্থিতিতে মৃত ব্যক্তির জন্য যে কল্যাণের আশা করা যায়, তা অল্প সংখ্যার ক্ষেত্রে করা হয় না।

মসজিদে সম্পাদিত নেক আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো গভীর চিন্তা ও বিনম্রতার সাথে কুরআন তিলাওয়াত করা, তা মুখস্থ করা এবং তা আলোচনার জন্য সমবেত হওয়া, যেমনটি আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি হাদিসে এসেছে: … “যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটি ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং তা নিজেদের মধ্যে পঠন-পাঠন (تدارس) করে, তবে তাদের ওপর প্রশান্তি (السكينة) নাজিল হয়, রহমত তাদের আচ্ছাদিত করে এবং ফেরেশতারা তাদের বেষ্টন করে রাখে।”
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৭২)
وذكرهم الله فيمن عنده" 1.

ومن ذلك ذكر الله سبحانه: ما كان مقيداً منه بعدد ووقت، كالذكر أدبار الصلوات من تسبيح وتحميد وتهليل، وما كان غير مقيد كالذكر المطلق الذي شرع الله الإكثار منه وكالصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم وغيرها.

ومنها الاعتكاف المشروع ـ وهو المكث في المسجد مدة معينة من الزمن تطول أو تقصر ليصلي ويدعو ويقرأ القرآن، ويذكر الله تعالى ويتأمل حاله وحال المسلمين ويحاسب نفسه ويخلو مع خالقه ويبكي على خطيئته ويجدد توبته ويتعرض لنفحات الله بعد أن تعلق قلبه بربه في أحب البقاع إليه يرجو أن يظله الله في ظله يوم لا ظل إلا ظله جاء في حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم “سبعة يظلهم الله في ظله يوم لا ظل إلا ظله....” وذكر منهم: “رجل معلق قلبه في المساجد، ورجل ذكر الله خالياً ففاضت عيناه” 2.

والمسجد مدرسة للعلم والتعليم، ومنبت التربية والتثقيف منه يتخرج العلماء والأبطال والقادة والمفكرون وفيه يلتقي المسلمون على مائدة القرآن والسنة.

وهو مركز دعوة ومنبر توجيه، فكم نور قلوباً وعمر أفئدة وأزال عنها أوحال الجاهلية وغبش الضلال، وجعلها مؤمنة تقية نقية، مجاهدة قانتة مطيعة عمرت الأرض بالطاعة والإصلاح ونشرت في أنحاء واسعة من المعمورة، فكانت قرآنا يمشي على الأرض ينير للناس مناهج الحق ويهديهم سبيل الرشاد.

--------------------------------------------

1 أخرجه مسلم 3/2074 في كتاب الذكر باب فضل الاجتماع على تلاوة القرآن وعلى الذكر.

2 أخرجه البخاري 1/161 في كتاب الأذان باب من جلس في المسجد ينتظر الصلاة وفضل المساجد، ومسلم 1/715 في كتاب الزكاة باب فضل إخفاء الصدقة.
১. "এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের নিকট তাদের কথা উল্লেখ করেন।"

এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর জিকির: যার কিছু অংশ সংখ্যা ও সময়ের সাথে সুনির্ধারিত, যেমন সালাতের অব্যবহিত পরে তাসবিহ, তাহমিদ ও তাহলিল; আর কিছু অংশ অনির্ধারিত যেমন সাধারণ জিকির, যা আল্লাহ অধিক পরিমাণে করার বিধান দিয়েছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ ও অন্যান্য বিষয়।

এর অন্তর্ভুক্ত আরও রয়েছে শরিয়তসম্মত ইতিকাফ—আর তা হলো সালাত আদায়, দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত, মহান আল্লাহর জিকির, নিজের ও মুসলিমদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা, আত্মপর্যালোচনা, স্রষ্টার সাথে একান্তে সময় কাটানো, নিজের পাপাচারের জন্য ক্রন্দন এবং তওবা নবায়নের উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করা; যাতে আল্লাহর সর্বাধিক প্রিয় স্থানে তাঁর সাথে অন্তরকে সম্পৃক্ত করার পর বান্দা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশা করতে পারে যে, আল্লাহ তাকে তাঁর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না...।” সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন: “এমন ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে এবং এমন ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর জিকির করে আর তার দুই চোখ বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়।” ২.

মসজিদ হলো জ্ঞান ও শিক্ষার বিদ্যাপীঠ এবং লালন-পালন ও সংস্কৃতির সূতিকাগার। এখান থেকেই আলেম, বীর, নেতা ও চিন্তাবিদগণ তৈরি হন এবং এখানেই মুসলিমরা কুরআন ও সুন্নাহর দস্তরখানে একত্রিত হয়।

এটি দাওয়াতের কেন্দ্র এবং দিকনির্দেশনার মিম্বর। এটি কত হৃদয়কে আলোকিত করেছে, প্রাণকে উজ্জীবিত করেছে এবং তা থেকে জাহিলিয়াতের পঙ্কিলতা ও গোমরাহির আঁধার দূর করেছে। এটি মানুষকে মুমিন, মুত্তাকি, পবিত্র, মুজাহিদ ও অনুগত হিসেবে গড়ে তুলেছে যারা আনুগত্য ও সংস্কারের মাধ্যমে পৃথিবীকে আবাদ করেছে এবং বিশ্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তা ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলে তারা জমিনে বিচরণকারী কুরআনের ন্যায় ছিল, যারা মানুষের জন্য সত্যের পথ আলোকিত করত এবং তাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করত।

--------------------------------------------

১. মুসলিম এটি ৩/২০৭৪ পৃষ্ঠায় ‘কিতাবুয জিকির’-এর ‘কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের জন্য একত্রিত হওয়ার ফজিলত’ অনুচ্ছেদে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

২. বুখারি এটি ১/১৬১ পৃষ্ঠায় ‘কিতাবুল আযান’-এর ‘যে ব্যক্তি সালাতের অপেক্ষায় মসজিদে বসে থাকে এবং মসজিদের ফজিলত’ অনুচ্ছেদে এবং মুসলিম এটি ১/৭১৫ পৃষ্ঠায় ‘কিতাবুল জাকাত’-এর ‘গোপনে সদকা করার ফজিলত’ অনুচ্ছেদে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৭৩)
ونهى النبي صلى الله عليه وسلم عن أن يفعل في المساجد ما لم تبن له فنهى عن البيع والشراء في المسجد وعن إنشاد الضالة وعن إيذاء المصلين والملائكة برائحة كريهة كأكل ثوم أو بصل أو كراث أو نحوها1، وحث ورغب في صيانة المساجد وتنزيهها عن القذى والأذى والحدث وعن اللغو والفحش واللغط والعبث وعن كل ما فيه انتهاك لحرمتها ورتب الجزاء الأوفى على تعاهد نظافة المساجد وصيانتها.

والخلاصة: أن للمساجد مكانة عظيمة في الإسلام فهي متعددة الأغراض متشعبة المهام ينبغي على المسلمين أن يهتموا بها ويحرصوا على عمارتها حسياً ومعنوياً، ويصونوها عن كل ما يدنسها أو ينتهك حرمتها أو يلغي من وظائفها أو اعتباراتها أو يتلف شيئاً من أدواتها.

--------------------------------------------

1 سيأتي بيان ذلك والاستدلال له.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে এমন সব কাজ করতে নিষেধ করেছেন যার জন্য মসজিদ নির্মিত হয়নি। তিনি মসজিদে কেনাবেচা করা, হারানো বস্তু ঘোষণা করা এবং রসুন, পেঁয়াজ, কুরাছ (এক প্রকার লতা জাতীয় গাছ) কিংবা এ জাতীয় বস্তুর দুর্গন্ধের মাধ্যমে মুসল্লি ও ফেরেশতাদের কষ্ট দেওয়া থেকে নিষেধ করেছেন১। তদুপরি তিনি মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং একে ময়লা-আবর্জনা, কষ্টদায়ক বস্তু, অপবিত্রতা, অনর্থক কথা, অশ্লীলতা, শোরগোল, অসার কার্যকলাপ এবং মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণকারী সকল বিষয় থেকে মুক্ত রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন। আর মসজিদের পরিচ্ছন্নতা ও সুরক্ষায় সচেষ্ট থাকার বিনিময়ে তিনি সর্বোত্তম প্রতিদানের সুসংবাদ দিয়েছেন।

সারকথা: ইসলামে মসজিদের এক সুমহান মর্যাদা রয়েছে; এটি বহুমুখী উদ্দেশ্য ও কার্যাবলীর আধার। তাই মুসলমানদের উচিত মসজিদের প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করা এবং এর বাহ্যিক ও আত্মিক উভয় প্রকার আবাদে সচেষ্ট হওয়া। এছাড়া একে এমন সব বিষয় থেকে রক্ষা করা উচিত যা এর পবিত্রতা কলুষিত করে, মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে, এর কার্যাবলীর গুরুত্ব বা উপযোগিতা বিলোপ করে কিংবা মসজিদের কোনো আসবাবপত্রের ক্ষতি সাধন করে।

--------------------------------------------

১ সামনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও এর স্বপক্ষে দলীল উপস্থাপিত হবে।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৭৪)
‌‌المبحث الأول: فيِ مكث المحدث والحائض ومن في حكمهما في المسجد.

‌‌المطلب الأول: في مكث المحدث والحائض في المسجد.

…

المبحث الأول: فيِ مكث المحدث والحائض ومن في حكمهما في المسجد

وفيه ثلاث مطالب.

المطلب الأول: في مكث المحدث والحائض في المسجد.

أجمع العلماء على أن المحدث حدثاً أصغر يجوز له الجلوس في المسجد سواء مكث بغرض شرعي، كانتظار صلاة أو اعتكاف أو سماع قرآن أو علم آخر أو غرض أم لغير غرض1.

واختلف الفقهاء في جلوس المحدث حدثاً أكبر والحائض في المسجد على قولين:

القول الأول: يحرم مكث الحائض والجنب في المسجد وبه قال الجمهور ومنهم الحنفية والمالكية والشافعية والحنابلة2.

القول الثاني: يجوز مكث الحائض والجنب مطلقاً لحاجة ولغير حاجة. وهو مروي عن ابن عباس رضي الله عنهما ومجاهد وسعيد بن جبير وقتادة وبه قال المزني وابن المنذر والظاهرية3 وبه قال بعض الشافعية إذا دعت الضرورة

--------------------------------------------

1 انظر المجموع 2/173.

2 انظر بدائع الصنائع 1/38، الاختيار1/14، حاشية ابن عابدين 1/171 التفريع 1/206، المعونه 1/161، منح الجليل 1/131، الأم 1/46، 54، الحاوي 2/267، المجموع 2/160، مغنى المحتاج 1/71، المغني 1/200، الإنصاف 1/246، 346، كشاف القناع 1/148.

3 انظر الأوسط 2/108، المجموع 2/160، المغني 1/200، المحلي 2/184.
প্রথম পরিচ্ছেদ: অপবিত্রতাগ্রস্ত ব্যক্তি, ঋতুবতী এবং যাদের বিধান তাদের অনুরূপ, তাদের মসজিদে অবস্থানের বিবরণ.

প্রথম অনুচ্ছেদ: অপবিত্রতাগ্রস্ত ব্যক্তি ও ঋতুবতীর মসজিদে অবস্থানের বিধান.

…

প্রথম পরিচ্ছেদ: অপবিত্রতাগ্রস্ত ব্যক্তি, ঋতুবতী এবং যাদের বিধান তাদের অনুরূপ, তাদের মসজিদে অবস্থানের বিবরণ

এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: অপবিত্রতাগ্রস্ত ব্যক্তি ও ঋতুবতীর মসজিদে অবস্থানের বিধান।

বিদ্বানগণ ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন যে, ক্ষুদ্র অপবিত্রতাগ্রস্ত (محدث حدثاً أصغر) ব্যক্তির জন্য মসজিদে বসা বৈধ (يجوز), চাই তা কোনো শরয়ি উদ্দেশ্যে হোক—যেমন নামাজের অপেক্ষা করা, ইতিকাফ (اعتكاف) করা, কুরআন তিলাওয়াত বা অন্য কোনো ইলম শ্রবণ করা—অথবা কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া বা অন্য কোনো কারণে হোক।

তবে বৃহৎ অপবিত্রতাগ্রস্ত (محدث حدثاً أكبر) ব্যক্তি এবং ঋতুবতী (حائض) নারীর মসজিদে বসার ব্যাপারে ফকিহগণ (فقهاء) দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: ঋতুবতী (حائض) এবং জুনুবি (جنب) ব্যক্তির জন্য মসজিদে অবস্থান করা নিষিদ্ধ (يحرم)। জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিম এই মত পোষণ করেছেন, যাদের মধ্যে হানাফি, মালিকি, শাফিঈ ও হাম্বলিগণ অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয় মত: ঋতুবতী (حائض) এবং জুনুবি (جنب) ব্যক্তির জন্য প্রয়োজন থাকুক বা না থাকুক, সব অবস্থাতেই মসজিদে অবস্থান করা বৈধ (يجوز)। এটি ইবনে আব্বাস (রা.), মুজাহিদ, সাঈদ ইবনে জুবায়ের ও কাতাদাহ থেকে বর্ণিত। আল-মুজানি, ইবনুল মুনযির এবং জাহেরি (الظاهرية) মাযহাবের অনুসারীগণও এই মত পোষণ করেছেন। এমনকি কতিপয় শাফিঈ আলিমও বিশেষ প্রয়োজনে একে বৈধ (يجوز) বলেছেন।

--------------------------------------------

১ দেখুন: আল-মাজমু ২/১৭৩।

২ দেখুন: বাদায়িউস সানায়ি ১/৩৮, আল-ইখতিয়ার ১/১৪, হাশিয়া ইবনে আবিদিন ১/১৭১, আত-তাফরি ১/২০৬, আল-মাউনা ১/১৬১, মিনাহুল জলিল ১/১৩১, আল-উম্ম ১/৪৬, ৫৪, আল-হাউয়ি ২/২৬৭, আল-মাজমু ২/১৬০, মুগনিল মুহتاج ১/৭১, আল-মুগনি ১/২০০, আল-ইনসাফ ১/২৪৬, ৩৪৬, কাশশাফুল কিনা ১/১৪৮।

৩ দেখুন: আল-আওসাত ২/১০৮, আল-মাজমু ২/১৬০, আল-মুগনি ১/২০০, আল-মুহাল্লা ২/১৮৪।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৭৫)
والحاجة لذلك بشرط التيمم إن وجد تراباً غير تراب المسجد والحنابلة في الجنب إذا توضأ1.

الأدلة:

استدل الجمهور بالكتاب والسنة والمعقول2.

من الكتاب:

قول الله عز وجل {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَقْرَبُوا الصَّلاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلا جُنُباً إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّى تَغْتَسِلُوا......} 3.

وجه الدلالة من الآية:

أن الله نهى عن قربان مواضع الصلاة في حال الجنابة إلاِّ لعابر من باب إلى باب من غير جلوس4.

وأعترض على هذا الاستدلال:

بأن المراد بالنهي في الآية: {لا تَقْرَبُوا} أي لاتصلوا في حالة الجنابة حتى تغتسلوا إلاِّ في حالة عبور السبيل وهو السفر فلكم أن تؤدوها بغير اغتسال بالتيمم5.

--------------------------------------------

1 قال الرافعي: قد يعذر في المكث عند الضرورة كما لو نام في المسجد فاحتلم ولم يمكن الخروج لإغلاق الباب أو الخوف من العسس أو غيره على النفس أو المال وليتيمم في هذه الحالة تطهيراً أو تخفيفاً للحدث بقدر الإمكان وهذا إذا وجد تراباً غير تراب المسجد ولا يتيمم بترابه لكن لو تيمم به صح. انظر فتح العزيز 2/146- 147.

2 أنظر الإنصاف 1/246، 346، المستوعب 1/237.

3 آية 43 سورة النساء.

4 انظر جامع البيان عن تأويل القرآن 8/382، معالم التنزيل 1/431، معالم السنن 1/158.

5 انظر أحكام القرآن للجصاص 2/168، تفسير القرآن العظيم 2/274.
এবং এর প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে শর্ত হলো তায়াম্মুম (تيمم) করা, যদি মসজিদের মাটি ব্যতীত অন্য কোনো মাটি পাওয়া যায়। আর হাম্বলি মাযহাবের মতে, জানাবাত অবস্থায় থাকা ব্যক্তির (جنب) জন্য যখন সে অজু করবে (توضأ)।১

প্রমাণসমূহ:

জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমগণ (الجمهور) কুরআন, সুন্নাহ এবং যুক্তির (المعقول) মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন।২

কুরআন থেকে:

মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের কাছে যেও না, যতক্ষণ না তোমরা যা বলছ তা বুঝতে পার। এবং জানাবাত অবস্থায়ও (جنباً) না, যতক্ষণ না তোমরা গোসল (تغتسلوا) কর; তবে মুসাফির অবস্থায় পথ অতিক্রমকারী হলে ভিন্ন কথা...} ৩।

আয়াত থেকে দালিলিক ব্যাখ্যা (وجه الدلالة):

আল্লাহ তাআলা জানাবাত (جنابة) অবস্থায় নামাজের স্থানসমূহের নিকটবর্তী হতে নিষেধ করেছেন, তবে বসা ব্যতিরেকে এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে অন্য দরজা দিয়ে পথ অতিক্রমকারীর জন্য অনুমতি রয়েছে।৪

এই দলিলের ওপর আপত্তি করা হয়েছে যে:

আয়াতে নিষেধের উদ্দেশ্য হলো: {তোমরা কাছে যেও না} অর্থাৎ জানাবাত (جنابة) অবস্থায় নামাজ পড়ো না যতক্ষণ না গোসল (اغتسال) করো, তবে পথ অতিক্রমের অর্থাৎ সফরের অবস্থায় তোমরা গোসল (اغتسال) ব্যতীত তায়াম্মুমের (تيمم) মাধ্যমে নামাজ আদায় করতে পারবে।৫

--------------------------------------------

১ ইমাম রাফেয়ি বলেন: প্রয়োজনে মসজিদে অবস্থানের ক্ষেত্রে ওজর গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যেমন কেউ মসজিদে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নদোষ (احتلم) হলে এবং দরজা বন্ধ থাকা বা পাহারাদার বা অন্য কোনো কারণে নিজের জীবন বা সম্পদের ক্ষতির ভয়ে বের হওয়া সম্ভব না হলে। এই অবস্থায় পবিত্রতা অর্জন বা যতটা সম্ভব অপবিত্রতা (حدث) হালকা করার জন্য সে তায়াম্মুম (تيمم) করবে। আর এটি তখন হবে যখন মসজিদের মাটি ছাড়া অন্য মাটি পাওয়া যাবে; মসজিদের মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে না, তবে কেউ যদি তা দিয়ে তায়াম্মুম করে তবে তা শুদ্ধ (صح) হবে। দেখুন ফাতহুল আজিজ ২/১৪৬-১৪৭।

২ দেখুন আল-ইনসাফ ১/২৪৬, ৩৪৬, আল-মুস্তাওয়িব ১/২৩৭।

৩ সুরা আন-নিসা, আয়াত ৪৩।

৪ দেখুন জামিউল বায়ান আন তাবীলিল কুরআন ৮/৩৮২, মাআলিমুত তানজিল ১/৪৩১, মাআলিমুস সুনান ১/১৫৮।

৫ দেখুন জাসসাস প্রণীত আহকামুল কুরআন ২/১৬৮, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম ২/২৭৪।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৭৬)
وأجيب عن هذا الاعتراض:

بأن المراد بالعبور في قوله تعالى {وَلا جُنُباً إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ} عبور الجنب في المسجد وليس المسافر وذلك أن الله عز وجل قد بين حكم المسافر إذا عدم الماء وهو جنب في قوله تعالى {وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيداً طَيِّبا 1} ، فيعلم بذلك أن قوله {وَلا جُنُباً إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّى تَغْتَسِلُوا} لو كان المراد به المسافر لم يكن لإعادة ذكره في قوله تعالى {مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ} معنى مفهوم وقد تقدم ذكر حكمه قبل ذلك2.

ومن السنة:

1- حديث أم عطية رضي الله عنها قالت: أمرنا (تعني النبي صلى الله عليه وسلم "أن نُخْرِج، في العيدين، العَوَاتق3 وذوات الخدور 4. وأمر الْحُيَّض أن يعتزِلْن مصلى المسلمين"5.

والمراد بالأمر باعتزالهن المصلى منعهن من دخول المصلى.

--------------------------------------------

1 آية 43 من سورة النساء.

2 انظر جامع البيان عن تأويل القرآن 8/285، معالم التنزيل 1/431.

3 العواتق: جمع عاتق، وهي الجارية البالغة، وقيل هي التي قاربت البلوغ. وقيل هي ما بين أن تبلغ إلى أن تعنس. والتعنيس طول المقام في بيت أبيها بلا زوج حتى تطعن في السن. انظر شرح صحيح مسلم 6/178، فتح الباري 1/424.

4 الخدور. البيوت. وقيل الخدر ستر يكون في ناحية البيت. انظر شرح صحيح مسلم 6/178.

5 أخرجه البخاري 2/8 في كتاب العيدين باب خروج النساء والحيض إلى المصلى، ومسلم 1/605-606 واللفظ له في كتاب صلاة العيدين باب خروج النساء إلى المصلى وشهود الخطبة مفارقات للرجال.
এই আপত্তির উত্তর দেওয়া হয়েছে এভাবে:

মহান আল্লাহর বাণী {এবং অপবিত্র অবস্থায় নয়, পথ অতিক্রমকারী ব্যতীত} এখানে ‘অতিক্রম করা’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অপবিত্র ব্যক্তির মসজিদে প্রবেশ করে পার হয়ে যাওয়া, মুসাফির (ভ্রমণকারী) নয়। কারণ, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা মুসাফিরের বিধান বর্ণনা করেছেন যখন সে অপবিত্র অবস্থায় পানি পায় না। তিনি তাঁর এই বাণীতে বলেছেন: {আর যদি তোমরা অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসে কিংবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সঙ্গত হও, অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো ১}। এর মাধ্যমে জানা যায় যে, তাঁর বাণী {গোসল না করা পর্যন্ত অপবিত্র অবস্থায় তোমরা (নামাযের কাছে) যেও না, তবে পথ অতিক্রমকারী হলে ভিন্ন কথা}—এখানে যদি মুসাফির উদ্দেশ্য হতো, তবে {অসুস্থ কিংবা সফরে} বাক্যাংশে পুনরায় তা উল্লেখ করার কোনো বোধগম্য অর্থ থাকত না, যেহেতু ইতিপূর্বেই তার বিধান বর্ণিত হয়েছে ২।

সুন্নাহ থেকে প্রমাণ:

১- উম্মু আতিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমাদের আদেশ করা হয়েছে (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন) যে, আমরা যেন দুই ঈদের দিনে যুবতী নারী ৩ এবং পর্দানশীনদের ৪ বের করে নিয়ে আসি। আর তিনি ঋতুবতী নারীদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা মুসলিমদের ঈদগাহ থেকে দূরে থাকে ৫।

ঈদগাহ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ প্রদানের উদ্দেশ্য হলো তাদের ঈদগাহে প্রবেশ করা থেকে বারণ করা।

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৩।

২. দেখুন: জামিউল বায়ান আন তাউয়িলিল কুরআন ৮/২৮৫, মাআলিমুত তানযিল ১/৪৩১।

৩. আল-আওয়াতিক: এটি ‘আতিক’ এর বহুবচন, যা বালিগ (প্রাপ্তবয়স্ক) তরুণীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; আবার কেউ বলেছেন যারা বয়ঃসন্ধির কাছাকাছি পৌঁছেছে। কেউ বলেছেন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া থেকে শুরু করে বিবাহ ছাড়াই পিতার ঘরে দীর্ঘকাল অবস্থানের কারণে বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত সময়ের নারীকে ‘আতিক’ বলা হয়। ‘তানইস’ হলো বিবাহ ছাড়াই দীর্ঘ সময় পিতার ঘরে অবস্থান করা, এমনকি সে বার্ধক্যে পৌঁছে যায়। দেখুন: শারহু সহিহ মুসলিম ৬/১৭৮, ফাতহুল বারী ১/৪২৪।

৪. আল-খুদুর: ঘরসমূহ। কেউ বলেছেন ‘খিদর’ হলো ঘরের এক পাশে লটকানো পর্দা। দেখুন: শারহু সহিহ মুসলিম ৬/১৭৮।

৫. এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ২/৮, কিতাবুল ঈদাইন, ‘নারী ও ঋতুবতীদের ঈদগাহে গমন’ অনুচ্ছেদ; এবং মুসলিম ১/৬০৫-৬০৬ (শব্দবিন্যাস তাঁর), কিতাবুস সালাতিল ঈদাইন, ‘নারীদের ঈদগাহে গমন এবং পুরুষদের থেকে পৃথক অবস্থানে থেকে খুতবায় উপস্থিত হওয়া’ অনুচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৭৭)
وقد يعترض عليه بأن المراد منعهن من الصلاة نفسها1.

وقد يجاب عن هذا بأن الحائض غير مأمورة بالصلاة ولا تجوز منها2.

2- حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد فقال: "يا عائشة ناوليني الثوب" فقالت: إني حائض. فقال: "إن حيضتك ليست في يدك، فناولته" 3.

ففي هذا الحديث دلالة على أن الحائض ممنوعة من دخول المسجد وعبوره ولهذا أمرها النبي صلى الله عليه وسلم أن تناوله الثوب بيدها وهذا ما كان معلوماً عند عائشة حيث قالت إني حائض ولهذا قال لها النبي صلى الله عليه وسلم إن حيضتك ليست في يدك، أي أنه أقرها أنها ليس لها دخول المسجد، وإنما تناوله بيدها وليست الحيضة في يدها فلا مانع من أن تدخل يدها في المسجد لتناوله الثوب4.

3- حديث عائشة رضي الله عنها أنها كانت ترجل5 رسول الله صلى الله عليه وسلم وهي حائض ورسول الله صلى الله عليه وسلم حينئذ مجاور6 في المسجد يدني لها رأسه وهي في حجرتها فترجله وهي حائض7.

--------------------------------------------

1 انظر شرح صحيح مسلم 6/179.

2 انظر شرح السنة 2/134.

3 أخرجه مسلم 1/244 في كتاب الحيض باب جواز غسل الحائض رأس زوجها وترجيله وطهارة سؤرها والاتكاء في حجرها وقراءة القرآن فيه.

4 انظر شرح صحيح مسلم 3/210، فتح الباري 1/401.

5 ترجل: ترجيل الشعر هو تسريحه. انظر شرح صحيح مسلم 3/210.

6 مجاور: أي معتكف. أنظر فتح الباري 1/401.

7 أخرجه البخاري 1/77 باب غسل الحائض رأس زوجها وترحيله ن واللفظ له، ومسلم 1/244 في كتاب الحيض باب جواز غسل الحائض رأس زوجها وترجيله....
এর প্রেক্ষিতে এমন আপত্তি উত্থাপন করা যেতে পারে যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো তাদেরকে খোদ সালাত থেকে বিরত রাখা।১

এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে, ঋতুবতী নারী সালাত আদায়ের জন্য আদিষ্ট নন এবং তাঁর পক্ষ থেকে তা বৈধ (جائز) নয়।২

২- আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে অবস্থানকালে বললেন: "হে আয়েশা, আমাকে কাপড়টি দাও।" তিনি বললেন: আমি ঋতুবতী। তখন তিনি বললেন: "তোমার ঋতুস্রাব তো তোমার হাতে নেই।" অতঃপর আয়েশা (রা.) তাঁকে সেটি বাড়িয়ে দিলেন।৩

এই হাদিসটিতে এই মর্মে দলিল (دليل) রয়েছে যে, ঋতুবতী নারীর জন্য মসজিদে প্রবেশ করা এবং তা অতিক্রম করা নিষিদ্ধ। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে নিজ হাতে কাপড়টি দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর বিষয়টি আয়েশা (রা.)-এর নিকট সুপরিচিত ছিল বলেই তিনি বলেছিলেন 'আমি ঋতুবতী'। এজন্যই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বলেছিলেন যে, তোমার ঋতুস্রাব তোমার হাতে নেই; অর্থাৎ তিনি তাঁর এই ধারণাকেই সমর্থন করেছেন যে মসজিদে প্রবেশ করা তাঁর জন্য বৈধ নয়, বরং তিনি কেবল হাত দিয়ে কাপড়টি বাড়িয়ে দেবেন। যেহেতু তাঁর হাতে ঋতুস্রাব নেই, তাই কাপড়টি দেওয়ার জন্য মসজিদে হাত প্রবেশ করাতে কোনো বাধা নেই।৪

৩- আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, তিনি ঋতুবতী থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চুল বিন্যস্ত (ترجل) করে দিতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন মসজিদে ইতিকাফকারী (مجاور) হিসেবে অবস্থান করছিলেন। তিনি তাঁর মাথা আয়েশা (রা.)-এর দিকে বাড়িয়ে দিতেন এবং আয়েশা (রা.) তাঁর নিজ কক্ষে থাকা অবস্থায় ঋতুবতী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর চুল আঁচড়ে দিতেন।৭

--------------------------------------------

১ দেখুন: শারহু সহিহ মুসলিম, ৬/১৭৯।

২ দেখুন: শারহুস সুন্নাহ, ২/১৩৪।

৩ এটি মুসলিম উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه), ১/২৪৪, ঋতুস্রাব অধ্যায় (كتاب الحيض), ঋতুবতী নারীর জন্য তাঁর স্বামীর মাথা ধুয়ে দেওয়া ও চুল বিন্যস্ত করার বৈধতা (جواز), তাঁর উচ্ছিষ্টের পবিত্রতা এবং তাঁর কোলে হেলান দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করার অনুচ্ছেদ (باب)।

৪ দেখুন: শারহু সহিহ মুসলিম, ৩/২১০, ফাতহুল বারী, ১/৪০১।

৫ তারাজ্জুল (ترجل): চুল বিন্যস্ত করা বা আঁচড়ানো। দেখুন: শারহু সহিহ মুসলিম, ৩/২১০।

৬ মুজাবির (مجاور): অর্থাৎ ইতিকাফকারী (معتكف)। দেখুন: ফাতহুল বারী, ১/৪০১।

৭ এটি বুখারি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه), ১/৭৭, 'ঋতুবতী নারীর তাঁর স্বামীর মাথা ধুয়ে দেওয়া ও চুল বিন্যস্ত করা' অনুচ্ছেদ (باب), শব্দবিন্যাস তাঁরই; এবং মুসলিম উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه), ১/২৪৪, ঋতুস্রাব অধ্যায় (كتاب الحيض), 'ঋতুবতী নারীর তাঁর স্বামীর মাথা ধুয়ে দেওয়া ও চুল বিন্যস্ত করার বৈধতা...' অনুচ্ছেদ (باب)।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৭৮)
ففي هذا الحديث دلالة على أن الحائض لا تدخل المسجد فمن باب أولى مكثها فيه1.

4- حديث عائشة رضي الله عنها وفيه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال … ” فإني لا أحل المسجد لحائض ولا جنب “ 2.

وقد دل هذا الحديث على تحريم اللبث في المسجد وكذلك العبور فيه سواء كان لحاجة أو لغيرها3.

واعترض على الاستدلال بهذا الحديث.

بأنه حديث ضعيف فقد ضعفه ابن المنذر والخطابي والنووي وابن حزم والألباني4.

وأجيب عن هذا بأن الحديث قد حسنه الزيلعي وابن القطان وقال الحافظ صححه ابن خزيمة5.

وقال أصحاب هذا القول على فرض ضعفه فإنه يتقوى بالأحاديث السابقة الدالة على المنع.

5- حديث أم سلمه رضي الله عنها وفيه أن النبي صلى الله عليه وسلم “ نادى

--------------------------------------------

1 انظر فتح الباري 1/401.

2 أخرجه أبو داود 1/158-159 في كتاب الطهارة باب في الجنب يدخل المسجد، والبيهقي في سننه 2/442 في الصلاة باب الجنب يمر في المسجد ماراً ولا يقيم فيه، وابن حزم في المحلى 2/185.

3 انظر معالم السنن 1/158، عون المعبود 1/391.

4 انظر الأوسط 2/110، معالم السنن 1/158، المجموع 2/161، المحلى 2/186، ارواء الغليل 1/210.

5 انظر نصب الراية 1/194، المجموع 2/161، 1/140. التلخيص الحبير 1/140.
এই হাদিসে প্রমাণ রয়েছে যে ঋতুবতী নারী মসজিদে প্রবেশ করবে না, সুতরাং সেখানে অবস্থান না করার বিষয়টি আরও জোরালোভাবে প্রমাণিত হয়১।

৪- আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, যাতে নবী (সা.) বলেছেন ... “নিশ্চয়ই আমি ঋতুবতী নারী এবং নাপাক ব্যক্তির জন্য মসজিদ বৈধ করি না” ২।

এই হাদিসটি মসজিদে অবস্থান করা এবং একইভাবে তা অতিক্রম করা হারাম হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে, চাই তা প্রয়োজনে হোক বা প্রয়োজন ছাড়া৩।

এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করার ব্যাপারে আপত্তি করা হয়েছে।

এই মর্মে যে, এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস; ইবনুল মুনজির, খাত্তাবি, নববী, ইবনে হাজম এবং আলবানি একে দুর্বল (ضعفه) সাব্যস্ত করেছেন৪।

এর জবাবে বলা হয়েছে যে, জাইলায়ি এবং ইবনুল কাত্তান হাদিসটিকে হাসান (حسنه) বলেছেন এবং হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন যে, ইবনে খুজাইমা একে সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন৫।

এই মতের প্রবক্তারা বলেন যে, এর দুর্বলতা (ضعفه) ধরে নিলেও তা পূর্ববর্তী হাদিসগুলোর মাধ্যমে শক্তিশালী হয় যা (মসজিদে প্রবেশে) নিষেধাজ্ঞার ওপর প্রমাণ দেয়।

৫- উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, যাতে রয়েছে যে নবী (সা.) উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে বললেন...

--------------------------------------------

১ দেখুন ফাতহুল বারি ১/৪০১।

২ এটি সংকলন করেছেন আবু দাউদ ১/১৫৮-১৫৯, পবিত্রতা অধ্যায়, নাপাক ব্যক্তির মসজিদে প্রবেশ অনুচ্ছেদে; বাইহাকি তাঁর সুনান গ্রন্থে ২/৪৪২, সালাত অধ্যায়, নাপাক ব্যক্তির মসজিদে অতিক্রম করা ও অবস্থান না করা অনুচ্ছেদে; এবং ইবনে হাজম আল-মুহাল্লা ২/১৮৫ গ্রন্থে।

৩ দেখুন মাআলিমুস সুনান ১/১৫৮, আওনুল মাবুদ ১/৩৯১।

৪ দেখুন আল-আওসাত ২/১১০, মাআলিমুস সুনান ১/১৫৮, আল-মাজমু ২/১৬১, আল-মুহাল্লা ২/১৮৬, ইরওয়াউল গালিল ১/২১০।

৫ দেখুন নাসবুর রায়া ১/১৯৪, আল-মাজমু ২/১৬১, ১/১৪০; আত-তালখিসুল হাবির ১/১৪০।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৭৯)
بأعلى صوته أن المسجد لا يحل لحائض ولا جنب”1.

فالحديث صريح الدلالة في عدم جواز حل المسجد للحائض والجنب.

واعترض على الاستدلال به.

بأنه حديث ضعيف فقد ضعفه جمع من أهل العلم منهم ابن القيم وابن حزم والألباني2 وغيرهم.

وقد يجاب عن هذا:

بأنه يتقوى بالأحاديث الأخرى الصحيحة الواردة في المنع.

ومن المعقول:

أن المساجد بيوت الله ـ عزوجل ـ ومحل ذكره، وعبادته، ومأوى ملائكته وإذا كان آكل البصل والأشياء المكروهه ممنوعاً من البقاء في المسجد، فالجنب الذي تحرم عليه الصلاة من باب أولى3.

أدلة أصحاب القول الثاني:

استدل أصحاب القول الثاني على جواز مكث الحائض والجنب في المسجد لحاجة ولغير حاجة بالسنة والمعقول:

فمن السنة:

1) حديث عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: “ … فافعلي ما يفعل الحاج غير أن لا تطوفي بالبيت حتى تطهري “ 4.

--------------------------------------------

1 أخرجه ابن ماجه 1/212 في الطهارة باب ما جاء في اجتناب الحائض المسجد، وابن حزم في المحلى 2/1852 انظر تهذيب سنن أبي داود 1/388، المحلى 2/185 ضعيف سنن ابن ماجه ص 49.

3 انظر الشرح الممتع 1/293.

4 أخرجه البخاري 1/79 في كتاب الحيض باب نقض الحائض المناسك كلها إلَاّ الطواف بالبيت واللفظ له، ومسلم 1/873 في كتاب الحج باب بيان وجوه الإحرام، وأنه يجوز إفراد الحج والتمتع والقران، وجواز إدخال الحج على العمرة، ومتى يحل القارن من نسكه.
উচ্চস্বরে যে, ঋতুবতী (حائض) এবং অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য মসজিদে অবস্থান বৈধ নয়।”১

সুতরাং এই হাদিসটি ঋতুবতী (حائض) ও অপবিত্র (جنব) ব্যক্তির জন্য মসজিদে প্রবেশের অবৈধতার বিষয়ে সুস্পষ্ট দলিল হিসেবে গণ্য হয়।

তবে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে।

বলা হয়েছে যে, এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস; ইবনুল কাইয়্যিম, ইবনে হাজম, আলবানী২ এবং অন্যান্য একদল ইলমে হাদিসের বিশেষজ্ঞগণ এটিকে দুর্বল (ضعيف) বলে চিহ্নিত করেছেন।

এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে:

এই হাদিসটি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বর্ণিত অন্যান্য সহিহ (صحيح) হাদিসগুলোর মাধ্যমে শক্তিশালী হয়।

আর যুক্তির নিরিখে বলা যায়:

মসজিদসমূহ হলো মহান আল্লাহর ঘর—তাঁর জিকির ও ইবাদতের স্থান এবং ফেরেশতাদের আবাসস্থল। যদি পেঁয়াজ বা এজাতীয় অপছন্দনীয় বস্তু ভক্ষণকারীর জন্য মসজিদে অবস্থান নিষিদ্ধ হয়, তবে যার ওপর সালাত হারাম হয়ে আছে সেই অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য তা নিষিদ্ধ হওয়া অধিক যুক্তিসঙ্গত।৩

দ্বিতীয় মত পোষণকারীদের দলীলসমূহ:

দ্বিতীয় মতের অনুসারীরা সুন্নাহ ও যুক্তির মাধ্যমে ঋতুবতী (حائض) এবং অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির প্রয়োজনে বা বিনা প্রয়োজনে মসজিদে অবস্থানের বৈধতার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন:

সুন্নাহ থেকে দলিল হলো:

১) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “ … হজযাত্রীরা যা যা করে তুমিও তা করো, তবে পবিত্র হওয়ার আগ পর্যন্ত বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করো না।” ৪

--------------------------------------------

১. এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ ১/২১২, পবিত্রতা অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: ঋতুবতী ব্যক্তির মসজিদ পরিহার করা; এবং ইবনে হাজম তাঁর আল-মুহাল্লা ২/১৮৫ গ্রন্থে।২. দেখুন: তাহযীবু সুনানি আবি দাউদ ১/৩৮৮, আল-মুহাল্লা ২/১৮৫, জয়ীফ সুনানি ইবনে মাজাহ, পৃ. ৪৯।

৩. দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি ১/২৯৩।

৪. এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ১/৭৯, ঋতুস্রাব অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: ঋতুবতী ব্যক্তি তাওয়াফ ব্যতীত হজের সব কাজ সম্পন্ন করা এবং শব্দ তার (বুখারীর), এবং মুসলিম ১/৮৭৩, হজ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: ইহরামের ধরণসমূহ এবং হজ্জে ইফরাদ, তামাচ্ছু ও কিরান বৈধ হওয়া এবং উমরার ওপর হজ যুক্ত করা এবং কিরানকারী কখন ইহরাম থেকে মুক্ত হবে তার বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৮০)
وجه الدلالة من الحديث:

أن النبي صلى الله عليه وسلم منعها من الطواف ولم يمنعها من دخول المسجد.

واعترض على هذا:

أن في نهيها عن الطواف بالبيت نهياً عن دخول المسجد لأن الطواف في المسجد ولذلك لم ينهها عن شعائر الحج الأخرى التي تؤدى في غير المسجد كالسعي والرمي والوقوف بعرفه وغيرها. وقد تقدم في حديث أبي هريره في أدلة أصحاب القول الأول ما يدل على علم عائشة بمنع الحائض من دخول المسجد1.

2) حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: لقيني رسول الله صلى الله عليه وسلم في طريق من طرق المدينة وأنا جنب، فانخنست2 منه فذهب فاغتسل، ثم جاء فقال: أين كنت يا أبا هريرة؟ قال: كنت جنباً فكرهت أن أجالسك وأنا على غير طهارة. فقال: “سبحان الله، إن المسلم لا ينجس” 3.

وجه الدلالة من الحديث:

أن المسلم ما دام لا ينجس فيجب أن لا يمنع من دخول المسجد4.

واعترض على هذا الاستدلال:

--------------------------------------------

1 تقدم ص 377.

2 فانخنست: أي مضيت مستخفيا. انظر فتح الباري 1/390.

3 أخرجه البخاري 1/74 واللفظ له في كتاب الغسل باب عرق الجنب وأن المسلم لا ينجس ومسلم 1/282 في كتاب الحيض باب الدليل على المسلم لا ينجس.

4 انظر الأوسط 2/110.
হাদিস থেকে দলিলের দিক (وجه الدلالة):

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে তাওয়াফ করা থেকে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু মসজিদে প্রবেশ করা থেকে নিষেধ করেননি।

এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে:

নিশ্চয়ই বাইতুল্লাহর তাওয়াফ থেকে নিষেধ করার মধ্যে মসজিদে প্রবেশ করারও নিষেধ রয়েছে, কেননা তাওয়াফ মসজিদের অভ্যন্তরেই সম্পন্ন হয়। এই কারণেই তিনি তাকে হজের অন্যান্য রুকন থেকে নিষেধ করেননি যা মসজিদের বাইরে সম্পাদিত হয়, যেমন সাঈ (السعي), রমি (الرمي), আরাফায় অবস্থান (الوقوف بعرفة) ইত্যাদি। প্রথম মতের প্রবক্তাদের দলিলের ক্ষেত্রে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে ইতিপূর্বে এমন বর্ণনা গত হয়েছে যা ঋতুবতী নারীর মসজিদে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আয়েশা (রা.)-এর অবগত থাকার প্রমাণ দেয়।১

২) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মদিনার কোনো এক পথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো যখন আমি জুনুব (جنب) অবস্থায় ছিলাম। তখন আমি তার থেকে আড়ালে চলে গেলাম২ এবং গিয়ে গোসল করলাম। অতঃপর তিনি ফিরে এসে বললেন: "হে আবু হুরায়রা! তুমি কোথায় ছিলে?" তিনি বললেন: "আমি জুনুব (جنب) অবস্থায় ছিলাম, তাই পবিত্রতা (طهارة) অর্জন ছাড়া আপনার সাথে বসা আমি অপছন্দ করলাম।" তিনি বললেন: "সুবহানাল্লাহ! নিশ্চয়ই মুসলিম অপবিত্র (ينجس) হয় না।" ৩

হাদিস থেকে দলিলের দিক (وجه الدلالة):

যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলিম অপবিত্র (ينجس) হয় না, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে মসজিদে প্রবেশ থেকে বিরত রাখা উচিত নয়।৪

এই দলিলের ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে:

--------------------------------------------

১ ৩৭৭ পৃষ্ঠায় গত হয়েছে।

২ فانخنست: অর্থাৎ আমি সংগোপনে চলে গেলাম। দেখুন: ফাতহুল বারী ১/৩৯০।

৩ এটি বুখারি ১/৭৪-এ বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি তার; গোসল অধ্যায়, জুনুব ব্যক্তির ঘাম এবং মুসলিম অপবিত্র হয় না সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ; এবং মুসলিম ১/২৮২, ঋতুস্রাব অধ্যায়, মুসলিম অপবিত্র না হওয়ার প্রমাণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

৪ দেখুন: আল-আওসাত ২/১১০।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৮১)
أن المراد من عدم نجاسة المؤمن أن المؤمن طاهر الأعضاء لاعتياده مجانبة النجاسة1.

3) حديث عائشة رضي الله عنها أن وليدة2 كانت سوداء لحي من العرب فأعتقوها فكانت معهم. قالت: فخرجت صبية لهم عليها وشاح3 أحمر من سيور.

قالت: فوضعته ـ أو وقع منها ـ فمرت به حدياه وهو ملقي، فحسبته لحماً فخطفته.

قالت: فالتمسوه فلم يجدوه. قالت: فاتهموني به.

قالت: فطفقوا يفتشون حتى فتشوا قبلها. قالت: والله إني لقائمة معهم إذ مرت الحُدَيَّاة4.

فألقته، قالت: فوقع بينهم، قالت فقلت: هذا الذي اتهمتموني به زعمتم، وأنا منه بريئة وهو ذا هو.

قالت: فجاءت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأسلمت.

قالت عائشة: وكانت لها خُباء5 في المسجد، أو خفش، قالت فكانت تأتيني فتحدث عندي. قالت فلا تجلس عندي مجلساً إلَاّ قالت:

--------------------------------------------

1 انظر فتح الباري 1/390.

2 وليدة: أي أمة، وهي في الأصل المولودة ساعة تولد، ثم أطلق على الأمة وإن كانت كبيرة. انظر فتح الباري 1/534.

3 الوشاح: يكسر الواو، ويجوز ضمها ويجوز إبدالها ألفا. خيطان من لؤلؤ يخالف بينهما وتتوشح به المرأة، وقيل نسيج من أديم ويرصع باللؤلؤ وتشده المرأة بين عاتقها ووسطها. انظر فتح الباري 1/534.

4 الحدياه: الطائر المأذون في قتله في الحل والحرم. انظر فتح الباري 1/534.

5 الخباء: الخيمة من وبر. والخفش: البيت الصغير القريب السمك. انظر فتح الباري 1/534.
মুমিন অপবিত্র না হওয়ার অর্থ হলো, মুমিন শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দিক থেকে পবিত্র; কারণ সে সাধারণত অপবিত্রতা পরিহার করে চলে১।

৩) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, জনৈক আরব গোত্রের একটি কৃষ্ণবর্ণের দাসী২ ছিল, তারা তাকে মুক্ত করে দিয়েছিল এবং সে তাদের সাথেই বসবাস করত। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, একদা সেই গোত্রের একটি মেয়ে বের হলো, যার গলায় চামড়ার ফিতার তৈরি লাল রঙের একটি হার৩ ছিল।

তিনি বলেন, মেয়েটি সেটি খুলে রাখল—অথবা তা তার থেকে পড়ে গেল—সে সময় একটি চিল সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় সেটি পড়ে থাকতে দেখে গোশত মনে করে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল।

তিনি বলেন, তারা সেটি খুঁজল কিন্তু পেল না। তিনি বলেন, তারা এ বিষয়ে আমাকে অভিযুক্ত করল।

তিনি বলেন, তারা তল্লাশি শুরু করল, এমনকি তারা তার লজ্জাস্থান পর্যন্ত তল্লাশি করল। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি যখন তাদের সাথে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখনই সেই চিলটি৪ আবার সেখান দিয়ে উড়ে গেল।

সেটি সে ফেলে দিল, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, সেটি তাদের মাঝখানে পড়ল। তিনি (দাসীটি) বললেন, এই সেই বস্তু যার জন্য তোমরা আমাকে অভিযুক্ত করেছিলে এবং সন্দেহ করেছিলে, অথচ আমি এ থেকে নির্দোষ ছিলাম; আর এই তো সেই বস্তু।

তিনি বলেন, এরপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করল।

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, মসজিদে তার জন্য একটি তাঁবু৫ বা একটি ছোট কুঁড়েঘর ছিল। তিনি বলেন, সে আমার কাছে আসত এবং গল্প করত। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, সে আমার কাছে যখনই বসত, তখনই বলত:

--------------------------------------------

১. দেখুন: ফাতহুল বারি ১/৩৯০।

২. ওলিদাহ: অর্থাৎ দাসী; মূলত এটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার মুহূর্তের নবজাতককে বোঝায়, পরবর্তীতে তা দাসী অর্থে ব্যবহৃত হতে শুরু করে যদিও সে বয়স্কা হয়। দেখুন: ফাতহুল বারি ১/৫৩৪।

৩. উইশাহ: ওয়াও বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে, তবে যম্মাহ (পেশ) বা আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করাও বৈধ। এটি মুক্তার তৈরি দুই গাছি সুতো যা নারী আড়াআড়িভাবে পরিধান করে। আবার বলা হয়েছে, এটি চামড়ার তৈরি বুনন যা মুক্তা দিয়ে খচিত থাকে এবং নারী তা তার কাঁধ ও কোমরের মাঝামাঝি স্থানে পরিধান করে। দেখুন: ফাতহুল বারি ১/৫৩৪।

৪. হুদাইয়াহ: এমন পাখি যা হারামের সীমানার ভেতরে ও বাইরে সবখানেই হত্যা করা অনুমোদিত। দেখুন: ফাতহুল বারি ১/৫৩৪।

৫. খিবা: পশমের তৈরি তাঁবু। আর খাফাশ: নিচু ছাদবিশিষ্ট ছোট ঘর। দেখুন: ফাতহুল বারি ১/৫৩৪।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৮২)
ويومَ الوشاح مِن تعاجيبِ ربّنا … ألآَّ إنه مِن بلدةِ الكفرِ أنجاني

قالت عائشة: فقلت لها ما شأنك لاتقعدين معي مقعداً إلا قلت هذا؟ قالت فحدثتني بهذا الحديث1.

وجه الدلالة من الحديث:

أن هذه المرأة ساكنة في مسجد النبي صلى الله عليه وسلم والمعهود من النساء الحيض فلم يمنعها النبي صلى الله عليه وسلم من ذلك وما نهاها عنه2.

واعترض على هذا من وجهين:

أـ أن ذلك لمن لاسكن له من المسلمين رجلاً كان أو امرأة عنه أمن الفتنة3.

ب ـ أنه لم يرد في الحديث أنها وقت الحيض لا تخرج من المسجد، وربما كانت لا تأتي إلى المسجد إلَاّ وقت الطهارة. وعلى فرض صحة الدلالة فهو معارض بالأحاديث التي استدل بها أصحاب القول الأول كحديث أبي هريرة وفيه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لعائشة ناوليني الثوب، فقالت إني حائض. فلو كان دخول المسجد للحائض جائزاً لدخلت ولما قالت ذلك 4.

4) حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم “ أعطيت خمساً لم يُعطهن أحد من الأنبياء قبلي: نصرت بالرعب مسيرة شهر، وجعلت لي الأرض مسجداً وطهوراً، وأيما رجل من أمتي أدركته الصلاة فليصل، وأحلت لي الغنائم، وكان النبي يبعث إلى قومه خاصة وبعثت إلى الناس

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري 1/113 في كتاب الصلاة باب نوم المرأة في المسجد.

2 انظر المحلى 2/186.

3 انظر فتح الباري 1/534.

4 انظر ص 377.
হারানো কণ্ঠহারের দিনটি ছিল আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক বিস্ময়কর ঘটনা … নিশ্চয়ই তিনি আমাকে কুফরের দেশ থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: আমি তাকে বললাম, আপনার কী হয়েছে যে, আপনি যখনই আমার সাথে বসছেন তখনই এটি বলছেন? তিনি বললেন, এরপর তিনি আমাকে এই হাদিসটি শোনালেন।১

হাদিস থেকে প্রমাণের দিক (وجه الدلالة):

এই নারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে বসবাস করতেন এবং নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব একটি স্বাভাবিক বিষয়, তবুও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেখানে থাকতে বাধা দেননি এবং তাকে এ বিষয়ে নিষেধও করেননি।২

এর বিরুদ্ধে দুটি দিক থেকে আপত্তি (اعتراض) করা হয়েছে:

ক— এটি সেই সকল মুসলমানদের জন্য যাদের কোনো বাসস্থান নেই, তারা পুরুষ হোক বা নারী, যদি সেখানে ফিতনা থেকে নিরাপদ (أمن الفتنة) থাকা যায়।৩

খ— হাদিসটিতে এটি বর্ণিত হয়নি যে ঋতুস্রাবের সময় তিনি মসজিদ থেকে বের হতেন না; সম্ভবত তিনি শুধুমাত্র পবিত্রতার (طهارة) সময়েই মসজিদে আসতেন। আর যদি প্রমাণের বিশুদ্ধতা (صحة الدلالة) মেনেও নেওয়া হয়, তবে এটি সেই সকল হাদিসের বিরোধী (معارض) যা প্রথম মতের প্রবক্তাগণ দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। যেমন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলেছিলেন, "আমাকে কাপড়টি দাও," তখন তিনি বলেছিলেন, "আমি ঋতুবতী।" যদি ঋতুবতী নারীর মসজিদে প্রবেশ বৈধ (جائز) হতো, তবে তিনি প্রবেশ করতেন এবং এ কথা বলতেন না। ৪

৪) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি: এক মাসের দূরত্ব পর্যন্ত ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে, সমগ্র জমিনকে আমার জন্য সিজদাহগাহ ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম (طهور) করা হয়েছে, অতএব আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তি যেখানেই সালাতের ওয়াক্ত পায় যেন সে সালাত আদায় করে নেয়, আমার জন্য গনিমতের মাল হালাল করা হয়েছে, এবং পূর্ববর্তী নবীগণ কেবল তাদের নিজ সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরিত হতেন আর আমি সমগ্র মানবজাতির নিকট প্রেরিত হয়েছি।”

--------------------------------------------

১. ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) ১/১১৩ পৃষ্ঠায়, সালাত অধ্যায়, মসজিদে নারীর ঘুমানোর অনুচ্ছেদ।

২. দেখুন আল-মুহাল্লা ২/১৮৬।

৩. দেখুন ফাতহুল বারি ১/৫৩৪।

৪. দেখুন পৃষ্ঠা ৩৭৭।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৮৩)
كافة، وأعطيت الشفاعة “ 1.

قال ابن حزم: ولا خلاف في أن الحائض والجنب مباح لهما جميع الأرض وهي مسجد فلا يجوز لأن يخص بالمنع بعض المساجد دون بعض2.

واعترض على هذا الاستدلال:

بأن معنى الحديث أن الله جوّز للنبي صلى الله عليه وسلم الصلاة في أي مكان من الأرض بخلاف من قبله فإنما أبيحت لهم الصلاة في أماكن مخصوصة كالبيع والصوامع. وليس معنى هذا أنه يصلى في كل مكان منها، بل هناك أماكن نهي عن الصلاة فيها وهي من الأرض كالمقبره ومعاطن الإبل وأماكن النجاسات3.

ومن المعقول:

أن المشرك يمكث في المسجد فالمسلم الجنب أولى4.

واعترض على هذا:

بأن المشرك لا يعتقد حرمة المسجد بخلاف المسلم5.

واستدل من استثنى جواز مكث الجنب إذا توضأ بما يأتي:

1- ما رواه عطاء بن يسار قال رأيت رجالاً من أصحاب ـ النبي صلى الله عليه وسلم يجلسون في المسجد وهم مجنبون إذا توضئوا وضوء الصلاة6.

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري 1/86 كتاب التيمم في أول كتاب التيمم، ومسلم 1/371 في كتاب المساجد ومواضع الصلاة في أول الكتاب.

2 انظر المحلى 2/187.

3 انظر معالم السنن 1/329، فتح الباري 1/437.

4 انظر المجموع 2/160.

5 انظر المجموع 2/161.

6 انظر مصنف ابن أبي شيبه 1/146 في الطهارات باب الجنب يمر في المسجد قبل أن يغتسل، وقال ابن كثير في تفسيره 2/275 وهذا إسناد صحيح على شرط مسلم وصححه ابن مفلح في المبدع 1/189.
...সমগ্র মানবজাতির জন্য, আর আমাকে সুপারিশের অধিকার দান করা হয়েছে।” ১.

ইবনে হাজম বলেন: “এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, ঋতুবতী (حائض) নারী এবং অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য সমগ্র পৃথিবী বৈধ এবং তা সিজদার স্থান (مسجد); অতএব কোনো নির্দিষ্ট মসজিদকে নিষেধাজ্ঞার জন্য নির্দিষ্ট করা এবং অন্যগুলোকে বাদ দেওয়া বৈধ নয়।” ২.

এই দলীল গ্রহণের ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে:

হাদিসের মর্মার্থ হলো, আল্লাহ তাআলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য পৃথিবীর যেকোনো স্থানে সালাত আদায় করা বৈধ করে দিয়েছেন, যা তাঁর পূর্ববর্তী নবীদের জন্য ছিল না; কেননা তাদের জন্য শুধুমাত্র নির্দিষ্ট স্থান যেমন গির্জা ও মঠের মতো জায়গায় সালাত আদায় করা বৈধ ছিল। এর অর্থ এই নয় যে, পৃথিবীর প্রতিটি স্থানেই সালাত আদায় করা যাবে, বরং এমন কিছু স্থান রয়েছে যেখানে সালাত আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং সেগুলোও পৃথিবীরই অংশ, যেমন: কবরস্থান, উটের আস্তাবল এবং অপবিত্র স্থানসমূহ। ৩.

যৌক্তিক দলীলের আলোকে:

মুশরিক (مشرك) যদি মসজিদে অবস্থান করতে পারে, তবে একজন অপবিত্র (جنب) মুসলিম তার চেয়ে অধিক অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। ৪.

এর বিপরীতে আপত্তি করা হয়েছে যে:

মুশরিক (مشرك) মসজিদের পবিত্রতায় বিশ্বাস করে না, যা একজন মুসলিমের বিপরীত। ৫.

যারা অজু (وضوء) করার শর্তে অপবিত্র (جنব) ব্যক্তির অবস্থানের বৈধতার ব্যতিক্রম পেশ করেছেন, তারা নিম্নোক্ত বর্ণনা দ্বারা দলীল পেশ করেন:

১- আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের মধ্য থেকে কিছু ব্যক্তিকে মসজিদে বসে থাকতে দেখেছি যখন তারা অপবিত্র (جنب) অবস্থায় ছিলেন, যদি তারা সালাতের ন্যায় অজু (وضوء) করে নিতেন।” ৬.

--------------------------------------------

১. এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ১/৮৬, তায়াম্মুম অধ্যায়, তায়াম্মুম অধ্যায়ের শুরুতে; এবং মুসলিম ১/৩৭১, মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ অধ্যায়ের শুরুতে।

২. দ্রষ্টব্য: আল-মুহাল্লা ২/১৮৭।

৩. দ্রষ্টব্য: মাআলিমুস সুনান ১/৩২৯, ফাতহুল বারী ১/৪৩৭।

৪. দ্রষ্টব্য: আল-মাজমু ২/১৬০।

৫. দ্রষ্টব্য: আল-মাজমু ২/১৬১।

৬. দ্রষ্টব্য: মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা ১/১৪৬, পবিত্রতা অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: গোসল করার পূর্বে অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির মসজিদে প্রবেশ; এবং ইবনে কাসীর তার তাফসিরে ২/২৭৫-এ বলেছেন: “এর সনদ (إسناد) মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (صحيح)” এবং ইবনে মুফলিহ আল-মুবদি ১/১৮৯-এ এটিকে সহিহ (صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৮৪)
2- ما روى زيد بن أسلم قال: كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يتحدثون في المسجد وهم على غير وضوء وكان الرجل يكون جنباً فيتوضأ ثم يدخل المسجد فيتحدث1.

واعترض على هذا الاستدلال:

بأنه لا دلالة فيه على جواز مكث الجنب في المسجد لأنه ليس فيه أن النبي صلى الله عليه وسلم أقرهم عليه بعد علمه به منهم، ولأنه جائز أن يكون ذلك في زمان النبي صلى الله عليه وسلم قبل أن يحظر عليهم ذلك ولو ثبت جميع ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم ثم روي ما وصفنا لكان خبر الحظر أولى لأنه طارىء على الإباحة لامحالة فهو متأخر عنها2.

3- ولأن الوضوء يخفف الحدث فيزول بعض ما يمنعه كالمتيمم الذي فقد الماء بدليل أن الرسول صلى الله عليه وسلم سئل عن الرجل يكون عليه الغسل أينام وهو جنب3؟ قال: نعم، “إذا توضأ فليرقد “ 4.

4- ولأن الوضوء أحد الطهورين5.

وقد يعترض على هذين الدليلين بأنهما لاتقوم بهما حجة مقابل الأدلة

--------------------------------------------

1 انظر نيل الأوطار 1/228، المغني 1/201.

2 انظر أحكام القرآن للجصاص 2/204.

3 انظر المستوعب 1/237، الشرح الممتع 1/294.

4 أخرجه البخاري 1/75 في كتاب الغسل باب كينونة الجنب في البيت، ومسلم 1/248 في كتاب الحيض باب جواز نوم الجنب، واستحباب الوضوء له....

5 انظر الشرح الممتع 1/294.
২- যা জায়েদ ইবনে আসলাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীগণ অজুহীন অবস্থায় মসজিদে কথাবার্তা বলতেন এবং কোনো ব্যক্তি অপবিত্র (جنب) থাকলে তিনি অজু করতেন, তারপর মসজিদে প্রবেশ করে কথাবার্তা বলতেন১।

আর এই দলীল উপস্থাপনের (استدلال) বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে:

এতে মসজিদে অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির অবস্থানের বৈধতার (جواز) কোনো প্রমাণ নেই। কারণ, এতে এমন কিছু নেই যে নবী (সা.) তাদের এই কাজের কথা জানার পর তাদের মৌন সম্মতি (إقرار) প্রদান করেছেন। তদুপরি, এটি সম্ভব যে নবী (সা.)-এর যুগে এটি নিষিদ্ধ হওয়ার (حظر) পূর্বের ঘটনা ছিল। আর যদি এই সব কিছু নবী (সা.) থেকে প্রমাণিতও হয়, তবুও আমাদের বর্ণিত নিষেধাজ্ঞার (حظر) বর্ণনাটিই (خبر) অগ্রগণ্য হবে। কারণ নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিতভাবেই মূল বৈধতার (إباحة) পরে আপতিত হয়েছে, ফলে তা পরবর্তী সময়ের বিধান২।

৩- আর যেহেতু অজু অপবিত্রতা (حدث) লাঘব করে, ফলে এর যা কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল তার কিছুটা দূরীভূত হয়; যেমন পানি না পাওয়া ব্যক্তির তায়াম্মুম। এর প্রমাণ হলো, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার ওপর গোসল ফরজ ছিল—সে কি অপবিত্র (جنب) অবস্থায় ঘুমাতে পারবে৩? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যখন সে অজু করবে তখন যেন ঘুমিয়ে পড়ে" ৪।

৪- এবং যেহেতু অজু পবিত্রতার (طهور) দুটির একটি মাধ্যম৫।

আর এই দুটি দলীলের (دليل) বিরুদ্ধে আপত্তি করা যেতে পারে যে, অন্য দলীলসমূহের মোকাবিলায় এগুলো অকাট্য প্রমাণ (حجة) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় না।

--------------------------------------------

১ দেখুন: নাইলুল আওতার ১/২২৮, আল-মুগনি ১/২০১।

২ দেখুন: আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস ২/২০৪।

৩ দেখুন: আল-মুস্তাওইব ১/২৩৭, আশ-শারহুল মুমতি ১/২৯৪।

৪ এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ১/৭৫, কিতাবুল গোসল, অধ্যায়: ঘরে অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির অবস্থান; এবং মুসলিম ১/২৪৮, কিতাবুল হায়েজ, অধ্যায়: অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির ঘুমের বৈধতা (جواز) এবং তার জন্য অজুর মুস্তাহাব (استحباب) হওয়া...

৫ দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি ১/২৯৪।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৮৫)
النقلية الصحيحة التي تمنع المكث أو تحمل هذه الأدلة على الضرورة والحاجة.

القول الراجح في المسألة:

بعد عرض الأدلة ومناقشتها يتضح أن قول الجمهور وهو تحريم المكث في المسجد للحائض والجنب هو الراجح لما يلي:

1- قوة الأدلة التي استدلوا بها على المنع قمتها ما هو نص في موضع النزاع.

2- أن أدلة المجيزين للمكث ليست نصاً في الجواز والمنصوص منها ضعيف، ولا تقوم به حجة

في مقابل الأحاديث الصحيحة الدالة على منع المكث.

3- أما استثناء جواز لبث الجنب والحائض والنفساء في المسجد في حالة الوضوء وهو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية فهو محمول على الحاجة الضرورة1.

--------------------------------------------

1 انظر مجموع فتاوى شيخ الإسلام 26/178 وما بعدها.
নির্ভরযোগ্য (صحيح) বর্ণনা যা অবস্থান করাকে নিষেধ করে অথবা এই দলীলগুলোকে আবশ্যকতা ও প্রয়োজনের ওপর প্রয়োগ করা হয়।

মাসআলাটির ক্ষেত্রে প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح) মত:

দলীলসমূহ উপস্থাপন ও পর্যালোচনার পর এটি স্পষ্ট হয় যে, জুমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগুরু ফকীহদের অভিমত—অর্থাৎ ঋতুবতী ও অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য মসজিদে অবস্থান নিষিদ্ধ হওয়া—নিম্নলিখিত কারণে প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح):

১- তারা নিষেধের স্বপক্ষে যে দলীলসমূহ পেশ করেছেন সেগুলোর বলিষ্ঠতা, যার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বিরোধপূর্ণ বিষয়ে সুস্পষ্ট পাঠ (نص)।

২- যারা মসজিদে অবস্থান করা বৈধ মনে করেন, তাদের দলীলসমূহ বৈধতার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট পাঠ (نص) নয়; আর এর মধ্যে যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত (منصوص) হয়েছে তা দুর্বল (ضعيف), যা অবস্থান নিষিদ্ধকারী সহীহ (صحيح) হাদিসসমূহের বিপরীতে প্রমাণ (حجة) হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

৩- আর ওযু করা অবস্থায় অপবিত্র (جنب), ঋতুবতী ও নিফাসগ্রস্ত নারীর মসজিদে অবস্থানের বৈধতার যে ব্যতিক্রমী সুযোগ শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ গ্রহণ (اختيار) করেছেন, তা বিশেষ প্রয়োজন ও আবশ্যকতার ওপর নির্ভরশীল১।

--------------------------------------------

১ দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া শায়খুল ইসলাম ২৬/১৭৮ এবং এর পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৮৬)
‌‌المطلب الثاني: في عبور الجنب والحائض المسجد.

…

المطلب الثاني: في حكم عبور الجنب والحائض المسجد

اختلف الفقهاء في عبور الحائض والجنب المسجد على ثلاثة أقوال:

القول الأول: يحرم عبور الجنب والحائض المسجد وهو قول الحنفية والمالكية والحنابلة في رواية1.

القول الثاني: يجوز عبور الجنب والحائض المسجد، وبه قال الشافعية في الصحيح والحنابلة في المذهب والظاهرية2.

القول الثالث: يجوز عبور الحائض والجنب المسجد إذا دعت لذلك الحاجة والضرورة، وبه قال الشافعية في وجه وبعض الحنابلة3.

الأدلة:

استدل أصحاب القول الأول على تحريم عبور الجنب والحائض المسجد بالأدلة الآتية:

1- حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد فقال: “يا عائشة ناوليني الثوب” فقالت: إني حائض. فقال ” إن حيضتك ليست

--------------------------------------------

1 انظر المبسوط 1/118، بدائع الصنائع 1/38، الاختيار 1/14، المعونه 1/161، التفريع 1/206، منح الجليل 1/131، الحاوي 2/267، المجموع 2/172، مغني المحتاج 1/71، المغني 1/200، الإنصاف 1/244، 347، المبدع 1/186.

2 انظر الأم 1/244، الحاوي/267، المجموع 1/172، المغني 1/200، الإنصاف 1/244، 347، المبدع 1/189، المحلى 2/184- 187.

3 انظر فتح العزيز 2/147ـ148، 418، والمجموع 2/172، الإنصاف 1/244، 327، المبدع 1/189.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জুনুবী এবং ঋতুমতী মহিলার মসজিদে যাতায়াত প্রসঙ্গে.

...

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জুনুবী এবং ঋতুমতী মহিলার মসজিদে যাতায়াতের বিধান প্রসঙ্গে

ঋতুমতী মহিলা এবং জুনুবী ব্যক্তির মসজিদে যাতায়াতের বিষয়ে ফকিহগণ তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: জুনুবী এবং ঋতুমতী মহিলার মসজিদে যাতায়াত করা হারাম। এটি হানাফি, মালেকি এবং হাম্বলি মাজহাবের একটি বর্ণনা (رواية) ১।

দ্বিতীয় মত: জুনুবী এবং ঋতুমতী মহিলার মসজিদে যাতায়াত করা জায়েজ। শাফেয়ী মাজহাবের বিশুদ্ধ (صحيح) মত অনুযায়ী এটি বৈধ, আর এটিই হাম্বলি মাজহাবের মূল সিদ্ধান্ত এবং জাহিরী মাজহাবের অভিমত ২।

তৃতীয় মত: যদি প্রয়োজন বা জরুরি অবস্থা দেখা দেয়, তবে ঋতুমতী মহিলা এবং জুনুবী ব্যক্তির জন্য মসজিদে যাতায়াত করা জায়েজ। শাফেয়ী মাজহাবের একটি ভিন্ন অভিমত এবং কিছু হাম্বলি আলেম এই মত পোষণ করেছেন ৩।

দলীলসমূহ:

প্রথম মতের প্রবক্তাগণ জুনুবী এবং ঋতুমতী মহিলার মসজিদে যাতায়াত হারাম হওয়ার সপক্ষে নিম্নোক্ত দলীলসমূহ উপস্থাপন করেছেন:

১- আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে থাকাবস্থায় বললেন: “হে আয়েশা, আমাকে কাপড়টি দাও।” তিনি বললেন: আমি তো ঋতুমতী। তখন তিনি বললেন: “তোমার ঋতুস্রাব তো তোমার হাতে লেগে নেই।”

--------------------------------------------

১. দেখুন: আল-মাবসুত ১/১১৮, বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৮, আল-ইখতিয়ার ১/১৪, আল-মাউনা ১/১৬১, আত-তাফরী’ ১/২০৬, মিনাহুল জলীল ১/۱۳১, আল-হাভী ২/২৬৭, আল-মাজমু’ ২/১৭২, মুগনী আল-মুহতাজ ১/৭১, আল-মুগনী ১/২০০, আল-ইনসাফ ১/২৪৪, ৩৪৭, আল-মুবদি’ ১/১৮৬।

২. দেখুন: আল-উম্ম ১/২৪৪, আল-হাভী ২/২৬৭, আল-মাজমু’ ১/১৭২, আল-মুগনী ১/২০০, আল-ইনসাফ ১/২৪৪, ৩৪৭, আল-মুবদি’ ১/১৮৯, আল-মুহাল্লা ২/১৮৪-১৮৭।

৩. দেখুন: ফাতহুল আযীয ২/১৪৭-১৪৮, ৪১৮, এবং আল-মাজমু’ ২/১৭২, আল-ইনসাফ ১/২৪৪, ৩২৭, আল-মুবদি’ ১/১৮৯।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৮৭)
في يدك” فناولته1.

ففي الحديث دلالة على أن الحائض ممنوعة من دخول المسجد وعبوره ولهذا أمرها النبي صلى الله عليه وسلم أن تناوله الثوب بيدها2.

2- حديث أم عطية رضي الله عنها قالت: "أمرنا (تعني النبي صلى الله عليه وسلم أن نخرج، في العيدين، العواتق وذوات الخدور وأمر الحُيَّض أن يعتزلن مصلى المسلمين"3.

فقد دل الحديث على منع ذوات الحيض من دخول مصلى العيد فمن باب أولى المساجد التي تقام فيها الصلوات الخمس فإذا منعن من الدخول منعن من العبور.

وقد يعترض على هذا بأنهن منعن من الصلاة لا من الدخول ويجاب عليه بأن ذوات الحيض لا تصح الصلاة منهن وغير مخاطبات بها في حال الحيض.

3- حديث عائشة رضي الله عنها أنها كانت ترجل رسول الله صلى الله عليه وسلم وهي حائض ورسول الله صلى الله عليه وسلم حينئذ مجاور في المسجد يدني لها رأسه وهي في حجرتها فترجله وهي حائض4.

فقد دل الحديث على أن الحائض لا تدخل المسجد ولا تمر فيه.

4- حديث عائشة رضي الله عنها وفيه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لها “افعلي ما يفعل الحاج غير أن لا تطوفي بالبيت “ 5.

--------------------------------------------

1 تقدم تخريجه.

2 انظر شرح صحيح مسلم 3/210، فتح الباري 1/401.

3 تقدم تخريجه.

4 تقدم تخريجه.

5 تقدم تخريجه.
তোমার হাতে রয়েছে,” তখন আমি তাকে সেটি প্রদান করলাম।১

সুতরাং এই হাদিসে এই মর্মে নির্দেশনা (دلالة) রয়েছে যে, ঋতুমতী নারী মসজিদে প্রবেশ করা এবং তা অতিক্রম করা থেকে নিষিদ্ধ; এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তিনি নিজের হাত দিয়ে কাপড়টি তাকে বাড়িয়ে দেন।২

২- উম্মে আতিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "আমাদেরকে (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা দুই ঈদের দিন পর্দানশীন যুবতী ও কুমারী মেয়েদের বের করে নিয়ে আসি এবং ঋতুমতী নারীদের মুসলিমদের সালাতের স্থান বা ঈদগাহ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।"৩

এই হাদিসটি ঋতুমতী নারীদের ঈদগাহে প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে; সুতরাং যেসব মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করা হয়, সেখানে নিষেধাজ্ঞা আরও জোরালোভাবে প্রযোজ্য হবে। অতএব, যদি তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়, তবে তা অতিক্রম করাও নিষিদ্ধ হবে।

এর ওপর এই বলে আপত্তি উত্থাপন করা হতে পারে যে, তাদেরকে সালাত থেকে নিষেধ করা হয়েছে, প্রবেশ থেকে নয়। এর জবাবে বলা হবে যে, ঋতুমতী নারীদের পক্ষ থেকে সালাত শুদ্ধ হয় না এবং ঋতুকালীন অবস্থায় তারা সালাত আদায়ের ব্যাপারে আদিষ্ট নন।

৩- আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, তিনি ঋতুবতী থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চুল আঁচড়ে দিতেন; তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে ইতিকাফে (مجاور) ছিলেন এবং তিনি তার কক্ষ থেকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন আর আয়েশা ঋতুবতী থাকা অবস্থাতেই চুল আঁচড়ে দিতেন।৪

এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, ঋতুমতী নারী মসজিদে প্রবেশ করবে না এবং এর ভেতর দিয়ে যাতায়াতও করবে না।

৪- আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস, তাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বলেছিলেন: “একজন হাজি যা যা করে তুমিও তা করো, তবে কাবা ঘরে তওয়াফ করো না।” ৫

--------------------------------------------

১ এর উৎসায়ন (تخريج) পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

২ দ্রষ্টব্য: শারহু সহিহ মুসলিম ৩/২১০, ফাতহুল বারী ১/৪০১।

৩ এর উৎসায়ন (تخريج) পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

৪ এর উৎসায়ন (تخريج) পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

৫ এর উৎসায়ন (تخريج) পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৮৮)
ففي الحديث دلالة على منع الحائض من دخول المسجد الحرام فيلزم منه منعها من المرور فيه لأجل الحيض فقياس عليه كل مسجد، فالحائض ممنوعة من دخوله والمرور فيه.

5- حديث عائشة رضي الله عنها وفيه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال … ” فإني لا أحل المسجد لحائض ولا جنب “ 1.

قال الخطابي: في الحديث بيان أن الجنب لا يدخل المسجد وظاهر قوله صلى الله عليه وسلم “ فإني لا أحل المسجد لحائض ولا جنب” يأتي مقامه في المسجد ومروره فيه2.

واعترض على الاستدلال بهذا الحديث:

بأنه حديث ضعيف فقد ضعفه ابن المنذر والخطابي والنووي وابن حزم والألباني3.

وأجيب عن هذا بأن الحديث قد حسنه الزيلعي وابن القطان وقال الحافظ ابن حجر صححه ابن خزيمة4.

وقال أصحاب هذا القول وعلى فرض ضعفه فإنه يتقوى بالأحاديث الدالة على المنع.

واستدل أصحاب القول الثاني على جواز عبور الجنب والحائض المسجد بالأدلة الآتية:

--------------------------------------------

1 تقدم تخريجه.

2 انظر معالم السنن 1/158.

3 انظر الأوسط 2/110، معالم السنن 1/158، المجموع 2/161، المحلى 2/186، ارواء الغليل 1/210.

4 انظر نصب الراية 1/194، المجموع 2/161، التلخيص الحبير 1/140.
এই হাদিসে ঋতুবতী (حائض) নারীর মসজিদে হারামে প্রবেশ নিষেধ হওয়ার দলিল রয়েছে, যার ফলে ঋতুবস্থার কারণে সেখানে তার যাতায়াত বা অতিক্রম করাও নিষিদ্ধ হওয়া আবশ্যক হয়ে যায়। সুতরাং এর ওপর ভিত্তি করে সকল মসজিদই কিয়াসযোগ্য; তাই ঋতুবতী (حائض) নারীর মসজিদে প্রবেশ এবং তা অতিক্রম করা নিষিদ্ধ।

5- আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস, যাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন … ”নিশ্চয়ই আমি ঋতুবতী (حائض) বা নাপাক (جنب) ব্যক্তির জন্য মসজিদ হালাল করি না“ ১।

খাত্তাবি বলেন: হাদিসটিতে এ বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে যে, নাপাক (جنب) ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করবে না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী ”নিশ্চয়ই আমি ঋতুবতী (حائض) বা নাপাক (جنب) ব্যক্তির জন্য মসজিদ হালাল করি না“ এর বাহ্যিক অর্থ মসজিদে অবস্থান এবং তা অতিক্রম—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে২।

এই হাদিস দিয়ে দলিল প্রদানের ক্ষেত্রে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে:

তা হলো এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস; ইবনুল মুনজির, খাত্তাবি, নববী, ইবনে হাজম এবং আলবানি একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন৩।

এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, হাদিসটিকে যাইলায়ি এবং ইবনুল কাত্তান হাসান (حسن) বলেছেন এবং হাফিজ ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে খুজাইমা একে সহিহ (صحيح) বলেছেন৪।

এই মতের প্রবক্তারা বলেন, যদি এটি দুর্বল (ضعيف) ধরেও নেওয়া হয়, তবুও নিষেধাজ্ঞার সপক্ষে বর্ণিত অন্যান্য হাদিসের মাধ্যমে এটি শক্তিশালী হয়।

দ্বিতীয় মতের অনুসারীরা নাপাক (جنب) ও ঋতুবতী (حائض) ব্যক্তির জন্য মসজিদ অতিক্রম করা বৈধ হওয়ার সপক্ষে নিম্নলিখিত দলিলসমূহ পেশ করেছেন:

--------------------------------------------

১ এর তাখরিজ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

২ দেখুন মাআলিমুস সুনান ১/১৫৮।

৩ দেখুন আল-আওসাত ২/১১০, মাআলিমুস সুনান ১/১৫৮, আল-মাজমু ২/১৬১, আল-মুহাল্লা ২/১৮৬, ইরওয়াউল গালিল ১/২১০।

৪ দেখুন নাসবুর রায়া ১/১৯৪, আল-মাজমু ২/১৬১, আত-তালখিসুল হাবির ১/১৪০।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৮৯)
1- قول الله عزوجل {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَقْرَبُوا الصَّلاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلا جُنُباً إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّى تَغْتَسِلُوا....} 1.

وجه الدلالة من الآية:

أن الآية قد دلت على جواز عبور الجنب المسجد وظاهرها العموم لحاجة ولغير حاجة2.

واعترض على هذا الاستدلال:

بأن المراد أي لا تقربوا الصلاة جنباً حتى تغتسلوا إلَاّ حال عبور السبيل وهو السفر، فلكم أن تؤدوها بغير اغتسال بالتيمم3.

وأجيب عن هذا الاعتراض:

بأن المراد بالعبور في قوله تعالى: {وَلا جُنُباً إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ} ، عبور الجنب في المسجد وليس المسافر وذلك أن الله عزوجل قد بين حكم المسافر إذا عدم الماء وهو جنب في قوله تعالي: {وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيداً طَيِّباً} 4، فيعلم بذلك أن قوله: {وَلا جُنُباً إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّى تَغْتَسِلُوا} لو كان المراد به المسافر لم يكن لإعادة ذكره في قوله تعالى: {مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ} معنى مفهوم وقد تقدم ذكر حكمه قبل ذلك5.

2- حديث عائشة رضي الله عنها قالت: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

1 آية 43 من سورة النساء.

2 انظر الشرح الممتع 1/294.

3 انظر أحكام القرآن للجصاص 2/168، تفسير القرآن العظيم 2/274.

4 آية 43 من سورة النساء.

5 انظر جامع البيان عن تأويل القرآن 8/285، معالم التنزيل 1/431 معالم السنن 1/158.
১- মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাকো তখন নামাজের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা যা বলছ তা বুঝতে পারো এবং অপবিত্র (جُنُباً) অবস্থায়ও নয়, যদি তোমরা পথ অতিক্রমকারী না হও, যতক্ষণ না তোমরা গোসল করো...} ১।

আয়াতটি থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি:

আয়াতটি অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির জন্য মসজিদ অতিক্রম করা বৈধ হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং এর প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر) প্রয়োজন সাপেক্ষে হোক কিংবা প্রয়োজন ছাড়া—উভয় ক্ষেত্রেই এটি ব্যাপক (عام)। ২।

এই দলিলের ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে:

এখানে উদ্দেশ্য হলো—তোমরা অপবিত্র (جنباً) অবস্থায় নামাজের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না গোসল করো, তবে পথ অতিক্রম করার অর্থাৎ সফরের অবস্থা ব্যতীত; এমতাবস্থায় তোমরা গোসল ছাড়াই তায়াম্মুমের মাধ্যমে নামাজ আদায় করতে পারবে। ৩।

এই আপত্তির জবাবে বলা হয়েছে:

মহান আল্লাহর বাণী: {وَلا جُنُباً إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ} এ 'অতিক্রম করা' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির মসজিদের ভেতর দিয়ে পথ অতিক্রম করা, মুসাফির নয়। কারণ, মহান আল্লাহ মুসাফিরের বিধান স্পষ্ট করেছেন যখন সে অপবিত্র (جنب) অবস্থায় পানি না পায়, তাঁর এই বাণীতে: {আর যদি তোমরা অসুস্থ হও অথবা সফরে থাকো অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসে অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করো এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো} ৪। সুতরাং এর দ্বারা বোঝা যায় যে, তাঁর বাণী: {وَلا جُنُباً إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّى تَغْتَسِلُوا} তে যদি মুসাফির উদ্দেশ্য হতো, তবে তাঁর বাণী: {مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ} এ পুনরায় তা উল্লেখ করার কোনো বোধগম্য অর্থ থাকতো না, অথচ তার বিধান পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। ৫।

২- আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন:

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৩।

২. দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি ১/২৯৪।

৩. দেখুন: আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস ২/১৬৮, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম ২/২৭৪।

৪. সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৩।

৫. দেখুন: জামিউল বায়ান আন তাবীলিল কুরআন ৮/২৮৫, মাআলিমুত তানজীল ১/৪৩১, মাআলিমুস সুনান ১/১৫৮।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৯০)
“ناوليني الخمرة1 من المسجد” قالت: فقلت: إني حائض، فقال: “إن حيضتك ليست في يدك” 2.

ففي هذا الحديث دلالة على جواز دخول الحائض للمسجد وعبوره حيث إن عائشة رضي الله عنها أخذت الخمرة من المسجد وناولتها رسول الله صلى الله عليه وسلم.3

واعترض على هذا:

بأن معناه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لها ذلك من المسجد أي وهو في المسجد لتناوله إياها من خارج المسجد لا أن ـ النبي صلى الله عليه وسلم أمرها أن تخرجها له من المسجد لأنه صلى الله عليه وسلم كان في المسجد معتكفاً وكانت عائشة في حجرتها وهي حائض لقوله صلى الله عليه وسلم “إن حيضتك ليست في يدك” فإنما خافت من إدخال يدها المسجد ولو كان أمرها بدخول المسجد لم يكن لتخصيص اليد معنى4.

3- حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: أقيمت الصلاة وعدلت الصفوف قياماً، فخرج إلينا

رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما قام في مصلاه ذكر أنه جنب فقال لنا "مكانكم" ثم رجع فاغتسل، ثم خرج إلينا ورأسه يقطر، فكبر فصلينا معه5.

--------------------------------------------

1 الخمرة: السجارة التي يسجد عليها المصلي ويقال سميت خمرة لأنها تخمر وجه المصلى عن الأرض أي تستره. انظر معالم السنن 1/179، شرح السنة 2/133.

2 أخرجه مسلم 1/245 في كتاب الحيض باب جواز غسل الحائض رأس زوجها وترجيله وطهارة سؤرها والاتكاء في حجرها وقراءة القرآن فيه.

3 انظر شرح صحيح مسلم 3/209، المغني 1/201.

4 انظر شرح صحيح مسلم 3/210.

5 أخرجه البخاري 1/72، 73 في كتاب الغسل باب إذا ذكر في المسجد أنه جنب يخرج كما هو ولا يتمم.
“আমাকে মসজিদ থেকে খুমরাহ১ প্রদান করো।” তিনি (আয়েশা রা.) বলেন: আমি বললাম: আমি তো ঋতুবতী। তখন তিনি বললেন: “তোমার ঋতু তোমার হাতে নেই।” ২।

এই হাদিসে ঋতুবতী মহিলার মসজিদে প্রবেশ এবং তা অতিক্রম করার বৈধতার দলীল পাওয়া যায়; যেহেতু আয়েশা (রা.) মসজিদ থেকে খুমরাহ গ্রহণ করেছিলেন এবং তা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে প্রদান করেছিলেন। ৩।

এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে এভাবে:

এর অর্থ হলো—নবী (সা.) তাঁকে মসজিদ থেকে এ কথা বলেছিলেন, অর্থাৎ তিনি মসজিদে অবস্থানকালে তাঁকে মসজিদের বাইরে থেকে সেটি প্রদানের জন্য বলেছিলেন। এমনটি নয় যে, নবী (সা.) তাঁকে সেটি মসজিদ থেকে বের করে নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ তিনি (সা.) মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় ছিলেন এবং আয়েশা (রা.) তাঁর কক্ষে ঋতুবতী অবস্থায় ছিলেন। নবী (সা.)-এর এই বাণীর কারণে: “তোমার ঋতু তোমার হাতে নেই”, তিনি কেবল হাত মসজিদে প্রবেশ করানোর ব্যাপারে শঙ্কিত ছিলেন। যদি তিনি তাঁকে মসজিদে প্রবেশের নির্দেশ দিতেন, তবে কেবল হাতের কথা উল্লেখ করার কোনো বিশেষ অর্থ থাকত না। ৪।

৩- আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: সালাতের ইকামত দেওয়া হলো এবং দাঁড়িয়ে কাতারগুলো সোজা করা হলো। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন। যখন তিনি তাঁর সালাতের স্থানে দাঁড়ালেন, তখন তাঁর স্মরণে এলো যে তিনি অপবিত্র (جنب) অবস্থায় আছেন। তখন তিনি আমাদের বললেন: "তোমরা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো।" এরপর তিনি ফিরে গেলেন এবং গোসল করলেন। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট ফিরে আসলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর মাথা থেকে পানির ফোঁটা ঝরছিল। তখন তিনি তাকবির দিলেন এবং আমরা তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম। ৫।

--------------------------------------------

১ খুমরাহ: সেই ছোট মাদুর যার ওপর মুসল্লি সিজদা করেন। বলা হয়ে থাকে একে খুমরাহ বলা হয় কারণ এটি মুসল্লির চেহারাকে মাটি থেকে ঢেকে রাখে (আড়াল করে)। দেখুন: মাআলিমুস সুনান ১/১৭৯, শারহুস সুন্নাহ ২/১৩৩।

২ মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন ১/২৪৫, ঋতু অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: ঋতুবতী স্ত্রীর জন্য স্বামীর মাথা ধুইয়ে দেওয়া ও চুল আঁচড়ে দেওয়া বৈধ হওয়া, তাঁর এঁটো পবিত্র হওয়া, তাঁর কোলে হেলান দেওয়া এবং তাতে কুরআন তিলাওয়াত করা।

৩ দেখুন: শারহু সহিহ মুসলিম ৩/২০৯, আল-মুগনি ১/২০১।

৪ দেখুন: শারহু সহিহ মুসলিম ৩/২১০।

৫ বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন ১/৭২, ৭৩, গোসল অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: যখন মসজিদে থাকাকালীন স্মরণ হয় যে সে অপবিত্র (جنب), তবে সে ঐ অবস্থাতেই বেরিয়ে যাবে এবং তায়াম্মুম করবে না।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল আহমাদ ফী আহকামিন ফী হুরমাতিল মাসজিদ (পৃষ্ঠা: ৩৯১)
فقد دل هذا الحديث على دخول النبي صلى الله عليه وسلم المسجد وخروجه منه وهو جنب ولم يبين صلى الله عليه وسلم تحريم مرور الجنب في المسجد فدل ذلك على جوازه.

واعترض على هذا:

أن دخول النبي صلى الله عليه وسلم المسجد وهو جنب كان ناسياً وخروجه من المسجد كان لحاجة وهي غسل الجنابة.

4- عن عطاء بن يسار قال “ رأيت رجالاً من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يجلسون في المسجد وهم مجنبون إذا توضئوا وضوء الصلاة “1.

فقد دل هذا الأثر على جواز جلوس الجنب في المسجد فمن باب أولى مروره.

واعترض على هذا:

بأنه ليس فيه دلاله على ما استدلوا به عليه لأنه ليس فيه أن النبي صلى الله عليه وسلم أقرهم عليه بعد علمه به منهم، ولأنه جائز أن يكون ذلك في زمان النبي صلى الله عليه وسلم قبل أن يحظر عليهم ذلك2.

أدلة أصحاب القول الثالث على جواز عبور الجنب والحائض المسجد إذا دعت الحاجة والضرورة لذلك.

استدلوا بأدلة الفريقين السابقين المانعين والمجيزين، فحملوا أدلة المانعين عند عدم الحاجة للدخول وحملوا أدلة المجيزين على الحاجة والضرورة فكأنهم جمعوا بين أدلة الفريقين وأخذوا بها جميعاً.

--------------------------------------------

1 أخرجه ابن كثير في تفسير 2/275 وقال صحيح على شرط مسلم، وصححه ابن مفلح في المبدع 1/189.

2 انظر أحكام القرآن للجصاص 2/204.
এই হাদিসটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জানাবাত বা অপবিত্র অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ এবং সেখান থেকে বের হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে অপবিত্র ব্যক্তির যাতায়াত নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করেননি, যা এর বৈধতার (جواز) প্রমাণ দেয়।

এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অপবিত্র অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ ছিল বিস্মৃতিবশত এবং মসজিদ থেকে তাঁর বের হওয়া ছিল প্রয়োজনের তাগিদে, আর তা হলো জানাবাতের গোসল।

4- আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কতিপয় সাহাবীকে মসজিদে বসতে দেখেছি যখন তাঁরা অপবিত্র অবস্থায় ছিলেন, যদি তাঁরা নামাজের ওজুর ন্যায় ওজু করতেন।” ১।

এই আসার (أثر) বা বর্ণনাটি মসজিদে অপবিত্র ব্যক্তির বসার বৈধতার (جواز) ওপর প্রমাণ দেয়, সুতরাং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাঁর যাতায়াতও বৈধ হবে।

এর ওপর আপত্তি জানানো হয়েছে যে:

এতে তারা যা দিয়ে দলিল পেশ করেছেন তার কোনো সুষ্পষ্ট প্রমাণ (دلالة) নেই; কারণ এতে এমন কিছু নেই যা সাব্যস্ত করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিষয়টি জানার পর তাদের এই কাজের ওপর মৌনসম্মতি (إقرار) প্রদান করেছিলেন। অধিকন্তু, এটি সম্ভব যে বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে তাদের জন্য তা নিষিদ্ধ হওয়ার পূর্বের ঘটনা ছিল। ২।

প্রয়োজন ও আবশ্যকতা দেখা দিলে অপবিত্র ব্যক্তি এবং ঋতুবতী মহিলার জন্য মসজিদ অতিক্রমের বৈধতার (جواز) বিষয়ে তৃতীয় মত পোষণকারীদের দলিলসমূহ।

তারা পূর্ববর্তী উভয় পক্ষ—নিষেধকারী এবং অনুমতি প্রদানকারী—সবার দলিল দিয়েই প্রমাণ পেশ করেছেন। তারা নিষেধকারীদের দলিলগুলোকে প্রয়োজনের অনুপস্থিতিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন এবং অনুমতি প্রদানকারীদের দলিলগুলোকে প্রয়োজন ও আবশ্যকতার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা যেন উভয় পক্ষের দলিলগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন এবং সবগুলোকেই গ্রহণ করেছেন।

--------------------------------------------

১. ইবনে কাসির এটি তাফসির ইবনে কাসিরে (২/২৭৫) বর্ণনা (أخرجه) করেছেন এবং বলেছেন এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح); আর ইবনে মুফলিহ আল-মুবদি'তে (১/১৮৯) একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন।

২. দেখুন: আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস ২/২০৪।