(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: -)
الإفادة من مال اليتيم في عقود المعاوضات والتبرعات   (خالد المشيقح)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الإفادة من مال اليتيم في عقود المعاوضات والتبرعات

المؤلف: خالد بن علي بن محمد بن حمود بن علي المشيقح

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة السادسة والثلاثون, العدد 125 - 1424هـ/2004م

عدد الصفحات: 357

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বিনিময় ও দান চুক্তিতে এতিমের সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়া   (খালিদ আল-মুশাইকিহ)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


কিতাব: বিনিময় ও দান চুক্তিতে এতিমের সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়া

লেখক: খালিদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন হামুদ বিন আলি আল-মুশাইকিহ

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: ৩৬তম বর্ষ, ১২৫তম সংখ্যা - ১৪২৪ হিজরি/২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫৭

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ২৮৫)
‌‌مقدمة

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، وبعد:

فإن من محاسن هذه الشريعة الأمر بالإحسان إلى اليتامى والسعي في رعايتهم، والقيام على أموالهم، وبيان ما يترتب على ذلك من أجر عظيم، قال تعالى: {وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً وَذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى} 1 وقال تعالى: {وَلا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إلاّ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ} 2 وقال تعالى: {وَأَنْ تَقُومُوا لِلْيَتَامَى بِالْقِسْطِ} 3.

وروى أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم الله قال: “كافل اليتيم له أو لغيره أنا وهو كهاتين في الجنة” وأشار أنس بالسبابة والوسطى 4.

ولما كان ولي اليتيم قد يطمع في ماله أو شيء منه؛ إذ هو المستولي عليه المتصرف به، ولا رقيب عليه سوى الله عز وجل، جاءت الشريعة بالتحذير من الاعتداء على أموالهم، وظلمهم فيها.

قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْماً إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَاراً وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيراً} 5 وروى أبو هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: “اجتنبوا السبع الموبقات … وذكر منها أكل مال اليتيم” 6.

--------------------------------------------

1 سورة النساء آية (36) .

2 سورة الأنعام آية (152) .

3 سورة النساء آية (128) .

4 أخرجه مسلم في الزهد، باب الإحسان إلى الأرملة والمسكين … (2286) .

5 سورة النساء آية (10)

6 أخرجه البخاري في الوصايا، باب قوله تعالى: {إن الذين يأكلون أموال اليتامى ظلما..} (2766) ، ومسلم في الإيمان، باب بيان الكبائر (144)
ভূমিকা

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পর আর কোনো নবী নেই। অতঃপর:

নিশ্চয়ই এই শরিয়তের অন্যতম সৌন্দর্য হলো এতিমদের প্রতি সদাচরণ করার নির্দেশ প্রদান, তাদের লালন-পালনে সচেষ্ট হওয়া, তাদের ধন-সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং এর ফলে যে মহান প্রতিদান অর্জিত হয় তার বর্ণনা। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন ও এতিমদের প্রতি সদাচরণ করো} ১। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর তোমরা এতিমের সম্পদের নিকটবর্তী হয়ো না, তবে সর্বোত্তম পন্থায়—যতক্ষণ না সে তার পূর্ণ শক্তিতে (যৌবনে) পৌঁছে} ২। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এবং যেন তোমরা এতিমদের প্রতি ইনসাফের সাথে কায়েম থাকো} ৩।

আনাস (রা.) বর্ণনা (روى) করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এতিমের লালন-পালনকারী—সে তার নিজের (নিকটাত্মীয়) হোক বা অন্যের—আমি এবং সে জান্নাতে এই দুটির ন্যায় থাকব।” আর আনাস (রা.) তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন ৪।

যেহেতু এতিমের অভিভাবক তার সম্পদের প্রতি বা তার কিয়দাংশের প্রতি লোভাতুর হতে পারে; কারণ সে-ই এর ওপর কর্তৃত্বশীল ও এর পরিচালনাকারী এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ছাড়া তার ওপর কোনো পর্যবেক্ষক নেই, তাই শরিয়ত তাদের সম্পদের ওপর সীমালঙ্ঘন ও সে বিষয়ে তাদের ওপর জুলুম করার ব্যাপারে সতর্কবাণী প্রদান করেছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই যারা এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা কেবল তাদের পেটে আগুনই ভক্ষণ করে এবং তারা অচিরেই প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে} ৫। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা (روى) করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ পরিহার করো... এবং তিনি তার মধ্যে এতিমের সম্পদ গ্রাস করার কথা উল্লেখ করেছেন” ৬।

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নিসা, আয়াত (৩৬)।

২. সূরা আল-আনআম, আয়াত (১৫২)।

৩. সূরা আন-নিসা, আয়াত (১২৮)।

৪. এটি মুসলিম আয-যুহদ অধ্যায়ে, বিধবা ও মিসকিনদের প্রতি ইহসান পরিচ্ছেদে বের (أخرجه) করেছেন... (২২৮৬)।

৫. সূরা আন-নিসা, আয়াত (১০)।

৬. এটি বুখারি আল-ওয়াসায়া অধ্যায়ে, আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই যারা এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে...} সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে বের (أخرجه) করেছেন (২৭৬), এবং মুসলিম আল-ঈমান অধ্যায়ে, কবিরা গুনাহসমূহের বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে বের (أخرجه) করেছেন (১৪৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ২৮৬)
وقد أباحت الشريعة للولي وغيره شيئاً من مال اليتيم، فأردت أن أجلي في هذه الكتابة ما يباح من ماله.

وقد اشتمل البحث على:

مقدمة وتمهيد وثلاثة مباحث:

المبحث الأول: الإفادة من مال اليتيم في عقود المعاوضات.

وفيه مطالب:

المطلب الأول: بيع الولي وشراؤه من نفسه.

المطلب الثاني: أخذ جزء من الربح مقابل المضاربة به.

المطلب الثالث: بيعه بأقل من ثمن المثل، والشراء بأكثر من ثمن المثل.

المطلب الرابع: بيعه نسيئة.

المطلب الخامس: بيعه بالعرض.

المطلب السادس: رهن ماله.

المبحث الثاني: الإفادة من مال اليتيم في عقود التبرعات، وفيه مطالب:

المطلب الأول: إقراض ماله.

المطلب الثاني: إعارة ماله.

المطلب الثالث: هبته، والصدقة به، ووقفه ونحو ذلك.

المطلب الرابع: أكل الولي من ماله.

المطلب الخامس: خلط الولي ماله بمال اليتيم.

المبحث الثالث: الإفادة بإخراج ما وجب في ماله.

منهج البحث:

سلكت في كتابة هذا البحث المنهج العلمي في كتابة البحوث، كما يلي:

أولا: اقتصرت في بحثي هذا على المذاهب الأربعة، والمذهب الظاهري، كما أذكر رأي مشاهير فقهاء السلف أحيانا.
শরিয়ত অভিভাবক (الولي) ও অন্যদের জন্য এতিমের সম্পদ থেকে কিছু অংশ গ্রহণ করা বৈধ (أباحت) করেছে, তাই আমি এই লেখনীর মাধ্যমে তার সম্পদ থেকে যা যা বৈধ (يباح) তা স্পষ্ট করতে চেয়েছি।

গবেষণাটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে:

ভূমিকা, প্রারম্ভিকা এবং তিনটি পরিচ্ছেদ (المباحث):

প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): বিনিময় চুক্তির (عقود المعاوضات) ক্ষেত্রে এতিমের সম্পদ থেকে উপকারিতা অর্জন।

এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ (مطالب) রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): অভিভাবকের নিজের সাথে ক্রয়-বিক্রয় করা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): মুদারাবা (المضاربة) চুক্তির বিনিময়ে লভ্যাংশের একটি অংশ গ্রহণ করা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثالث): সমমূল্যের চেয়ে কম মূল্যে (ثمن المثل) বিক্রি করা এবং সমমূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে ক্রয় করা।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ (المطلب الرابع): বাকিতে (نسيئة) বিক্রি করা।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ (المطلب الخامس): পণ্যের (العرض) বিনিময়ে বিক্রি করা।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ (المطلب السادس): তার সম্পদ বন্ধক (رهن) রাখা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): দানমূলক চুক্তির (عقود التبرعات) ক্ষেত্রে এতিমের সম্পদ থেকে উপকারিতা অর্জন, এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ (مطالب) রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): তার সম্পদ ঋণ (إقراض) হিসেবে প্রদান করা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): তার সম্পদ ধার (إعارة) দেওয়া।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثالث): তা হেবা (هبة), সদকা (الصدقة) ও ওয়াকফ (وقف) করা এবং এই জাতীয় বিষয়াদি।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ (المطلب الرابع): অভিভাবক কর্তৃক এতিমের সম্পদ থেকে ভোগ করা।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ (المطلب الخامس): অভিভাবক কর্তৃক নিজের সম্পদের সাথে এতিমের সম্পদ মিশ্রিত করা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثالث): তার সম্পদের ওপর যা ওয়াজিব (وجب) তা আদায় করার মাধ্যমে উপকারিতা অর্জন।

গবেষণা পদ্ধতি (منهج البحث):

এই গবেষণাটি রচনার ক্ষেত্রে আমি গবেষণাপত্র রচনার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (المنهج العلمي) অনুসরণ করেছি, যা নিম্নরূপ:

প্রথমত: আমি আমার এই গবেষণায় চার মাজহাব এবং জাহেরি মাজহাবের (المذهب الظاهري) মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি, পাশাপাশি মাঝে মাঝে সালাফদের প্রসিদ্ধ ফকিহগণের (فقهاء السلف) মতামতও উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ২৮৭)
ثانيا: أقوم بعرض المسألة الخلافية بذكر القول أولاً، فالقائل به، ثم أتبعه بالاستدلال، وما ورد عليه من مناقشة، وما أجيب به عنها، وهذا في جملة البحث، وقد يختلف المنهج تبعاً لاختلاف المسألة.

وحيث كانت المناقشة من عندي صدرتها بعبارة: “لعله يناقش بـ “.

ثالثا: اعتمدت في نسبة كل قول لكل مذهب على أمهات كتب المذهب.

رابعا: اجتهدت في التوفيق بين الأقوال، فإن تعذر ذلك رجحت ما ظهر لي رجحانه، بناء على قوة الأدلة، وبما يتمشى مع قواعد الشريعة ومقاصدها العامة.

خامسا: عزوت الآيات القرآنية إلى مواضعها في كتاب الله، بذكر السورة ورقم الآية.

سادسا: خرجت جميع الأحاديث الواردة في البحث، وما كان منها في صحيح البخاري، أو مسلم: اكتفيت به، وما لم يخرجه أحدهما، أو كلاهما خرجته من الصحاح، والسنن، والمسانيد المتبقية، مع بيان درجة الحديث.

سابعا: خرجت الآثار الواردة في البحث من مصدرها، مع بيان درجة الأثر، بالنظر في إسناده والحكم عليه.

ثامنا: وضحت معنى ما يرد في هذا البحث من كلمات وألفاظ غريبة 1.

تاسعاً: عملت فهرسا لهذا البحث اشتمل على ما يلي:

1- فهرسٍ لمصادر البحث ومراجعه.

2- فهرسٍ لموضوعات البحث.

--------------------------------------------

1 لم أترجم لشيء من الأعلام خشية الإطالة.
দ্বিতীয়ত: আমি মতভেদপূর্ণ বিষয়টি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রথমে মতটি উল্লেখ করেছি, এরপর মত পোষণকারীর নাম, তারপর তার সপক্ষে দলিল এবং উক্ত মতের ওপর করা আলোচনা ও তার উত্তরসমূহ ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছি। এটি গবেষণার সাধারণ পদ্ধতি, তবে বিষয়ের ভিন্নতা অনুযায়ী ক্ষেত্রবিশেষে পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

যেসব ক্ষেত্রে আলোচনাটি আমার নিজস্ব, সেখানে আমি “সম্ভবত এভাবে আলোচনা করা যায় যে...” বাক্যটি দিয়ে শুরু করেছি।

তৃতীয়ত: প্রতিটি মতকে সংশ্লিষ্ট মাযহাবের সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে আমি উক্ত মাযহাবের মূল উৎস গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি।

চতুর্থত: আমি বিভিন্ন মতের মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছি; যদি তা সম্ভব না হয়, তবে দলিলের শক্তি এবং শরয়ি মূলনীতি ও এর সাধারণ উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার ভিত্তিতে যে মতটি আমার কাছে অগ্রাধিকারযোগ্য মনে হয়েছে, আমি সেটিকে অগ্রাধিকার (ترجيح) দিয়েছি।

পঞ্চমত: আমি কুরআনের আয়াতসমূহকে আল্লাহর কিতাবে তাদের স্ব স্ব স্থানে সূরা ও আয়াতের নম্বর উল্লেখের মাধ্যমে সম্পৃক্ত করেছি।

ষষ্ঠত: আমি গবেষণায় উল্লিখিত সকল হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج) করেছি। যে হাদিসগুলো সহিহ বুখারি বা মুসলিমে রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে উক্ত গ্রন্থদ্বয়ের উদ্ধৃতিই যথেষ্ট মনে করেছি। আর যে হাদিসগুলো এই দুই গ্রন্থের কোনোটিতে বা উভয়টিতে বর্ণিত হয়নি, সেগুলো অন্যান্য সাহিহ, সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহ থেকে উৎস নির্দেশ (تخريج) করেছি এবং সাথে সাথে হাদিসের মান (درجة) বর্ণনা করেছি।

সপ্তমত: গবেষণায় উল্লিখিত আছারসমূহকে (الآثار) তাদের মূল উৎস থেকে উল্লেখ করেছি এবং সনদ (إسناد) পর্যবেক্ষণ ও তার ওপর বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে উক্ত আছারের (الأثر) মান (درجة) বর্ণনা করেছি।

অষ্টমত: গবেষণায় ব্যবহৃত জটিল বা অপরিচিত (غريب) শব্দ ও পরিভাষাগুলোর অর্থ স্পষ্ট করেছি 1。

নবমত: আমি এই গবেষণার জন্য একটি সূচিপত্র তৈরি করেছি, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

1- গবেষণার উৎস ও সহায়ক গ্রন্থাবলির তালিকা।

2- গবেষণার বিষয়বস্তুর সূচিপত্র।

--------------------------------------------

1 দৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়ার ভয়ে আমি কোনো ব্যক্তির জীবনী আলোচনা করিনি।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ২৮৮)
‌‌التمهيد

‌‌المطلب الأول: تعريف العنوان.

…

التمهيد

وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف العنوان

الفائدة: الزيادة تحصل للإنسان، وهي اسم فاعل من قولك: فادت له فائدة فيدا، وأفدته مالاً أعطيته، وأفدت منه مالاً: أخذت … 1.

وأما اليتيم: فاليتم: الإنفراد، واليتم في الناس: فقدان الأب، وفي البهائم من قبل الأم.

فاليتيم: الذي مات أبوه، فهو يتيم حتى يبلغ، والجمع أيتام، ويتامى، ويتمة 2.

وروى في حديث علي مرفوعا: “لا يتم بعد احتلام” 3.

وورد موقوفاً على ابن عباس رضي الله عنهما4.

--------------------------------------------

1 ينظر: الصحاح 2/521، ومعجم مقاييس اللغة 4/464، والمصباح المنير 2/485.

2 ينظر: الصحاح 5/2064، ومعجم مقاييس اللغة 6/154، ولسان العرب 12/645.

3 أخرجه أبو داود في الوصايا، باب ما جاء متى ينقطع اليتم (2873) ، والعقيلي في الضعفاء 4/428، والطحاوي في المشكل 2/131، والبيهقي 6/57.

والحديث أعله العقيلي بتفرد يحي بن محمد الجاري، وقال: “لا يتابع عليه يحي” وأعله ابن القطان بجهالة عبد الله بن أبي أحمد، وعبد الله بن خالد بن سعيد، وأبيه خالد بن سعيد (ينظر: تهذيب السنن 8/75، فالصواب أنه موقوف على علي، ومع ذلك لا يثبت. أخرجه عبد الرزاق 6/416 عن الثوري عن جويبر عن الضحاك عن النزال بن سبرة عن علي، وجويبر متروك الحديث. (تهذيب الكمال 3/463) .

4 أخرجه الإمام أحمد 1/224، وفي إسناده الحجاج بن أرطأة مدلس وقد عنعنه وله طريق أخرى، فقد أخرجه الإمام أحمد من طريق قيس بن سعد عن يزيد بن هرمز أن نجدة كتب إلى ابن عباس يسأله … وإسناده صحيح.
ভূমিকা

প্রথম পরিচ্ছেদ: শিরোনামের সংজ্ঞা.

…

ভূমিকা

এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: শিরোনামের সংজ্ঞা

ফায়দা (উপকারিতা): এটি এমন এক প্রকার বৃদ্ধি যা মানুষের অর্জিত হয়। এটি একটি কর্তৃবাচক বিশেষ্য (ইসমে ফায়েল), যা ‘ফাদাত লাহু ফায়িদাতান ফাইদান’ ক্রিয়া থেকে গৃহীত। ‘আফাদতুহু মালান’ অর্থ আমি তাকে সম্পদ দান করেছি এবং ‘আফাদতু মিনহু মালান’ অর্থ আমি তার থেকে সম্পদ গ্রহণ করেছি … ১।

আর এতিম প্রসঙ্গে: ‘ইউতম’ শব্দের অর্থ হলো একাকীত্ব। মানুষের ক্ষেত্রে এতিম হওয়া বলতে পিতাকে হারানো বোঝায়, আর চতুষ্পদ প্রাণীদের ক্ষেত্রে মায়ের দিক থেকে পিতৃহীন হওয়াকে বোঝায়।

সুতরাং এতিম হলো সেই শিশু যার পিতা মারা গেছে; সাবালক হওয়া পর্যন্ত সে এতিম হিসেবে গণ্য হয়। এর বহুবচন হলো আইতাম, ইয়াতামা এবং ইয়াতামাহ ২।

আলী (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: “সাবালকত্ব লাভের পর আর কোনো এতিমত্ব নেই” ৩।

এবং এটি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ওপর মাওকুফ (موقوف) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে ৪।

--------------------------------------------

১. দ্রষ্টব্য: আস-সিহাহ ২/৫২১, মু'জাম মাকায়িসুল লুগাহ ৪/৪৬৪ এবং আল-মিসবাহুল মুনির ২/৪৮৫।

২. দ্রষ্টব্য: আস-সিহাহ ৫/২০৬৪, মু'জাম মাকায়িসুল লুগাহ ৬/১৫৪ এবং লিসানুল আরব ১২/৬৪৫।

৩. এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ‘অসিয়ত’ অধ্যায়ে, ‘এতিমত্ব কখন শেষ হয়’ অনুচ্ছেদে (২৮৭৩); আল-উকাইলি আদ-দুয়াফা গ্রন্থে ৪/৪২৮; আত-তহাবী আল-মুশকিলে ২/১৩১ এবং আল-বাইহাকী ৬/৫৭।

হাদিসটিকে আল-উকাইলি ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ আল-জারির একক বর্ণনার (تفرد) কারণে ত্রুটিযুক্ত (أعل) সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন: “ইয়াহইয়ার এই বর্ণনার কোনো অনুসারী নেই (لا يتابع)”। ইবনে আল-কাত্তান একে আব্দুল্লাহ বিন আবি আহমাদ, আব্দুল্লাহ বিন খালিদ বিন সাঈদ এবং তার পিতা খালিদ বিন সাঈদের অজ্ঞাত পরিচয়ের (جهالة) কারণে ত্রুটিযুক্ত (أعل) বলেছেন (দ্রষ্টব্য: তাহজিবুস সুনান ৮/৭৫)। সুতরাং সঠিক বিষয় হলো এটি আলীর ওপর মাওকুফ (موقوف), তবে তা সত্ত্বেও এটি প্রমাণিত নয়। এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক ৬/৪১৬, সাওরি থেকে, তিনি জুয়াইবির থেকে, তিনি দহহাক থেকে, তিনি নাজ্জাল বিন সাবরাহ থেকে এবং তিনি আলী (রা.) থেকে। আর জুয়াইবির হলো হাদিস পরিত্যাজ্য (متروك الحديث)। (তাহজিবুল কামাল ৩/৪৬৩)।

৪. এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ১/২২৪; এর সনদে হাজ্জাজ বিন আরতাহ রয়েছেন যিনি একজন মুদাল্লিস (مدلس) এবং তিনি এখানে ‘আন’ শব্দ ব্যবহার করে বর্ণনা (عنعنة) করেছেন। এর আরেকটি সূত্র রয়েছে; ইমাম আহমাদ এটি কাইস বিন সা’দ সূত্রে ইয়াজিদ বিন হুরমুজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নাজদাহ ইবনে আব্বাসের নিকট লিখেছিলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন … আর এর সনদ সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ২৮৯)
والمعاوضات: جمع معاوضة.

والعوض: هو البدل، والجمع أعواض، مثل: عنب وأعناب، واعتاض وتعوض: أخذ العوض، واستعاض: سأل العوض1.

والمراد بها: العقود التي يقصد بها الكسب والربح، كعقد البيع، ونحوه.

والتبرعات: جمع تبرع.

وبرع الرجل يَبْرَع، وبَرُعَ براعة: إذا فضل في علم، أو شجاعة، أو غير ذلك.

وتبرع الأمر: فعله غير طالب عوضاً.

والمراد بها: العقود التي يقصد بها الإرفاق والإحسان، كالقرض، والهبة ونحو ذلك 2.

والمراد بالبحث: ما يباح للولي وغيره استفادته من مال اليتيم، سواء من خلال عقود المعاوضات، أو عقود التبرعات.

--------------------------------------------

1 المصباح المنير 2/438.

2 المصباح المنير 1/44.
বিনিময় চুক্তিসমূহ (المعاوضات): এটি মুয়াওয়াদা (معاوضة)-এর বহুবচন।

বিনিময় (العوض): এটি হলো প্রতিস্থাপন (البدل), এর বহুবচন হলো আওয়াদ (أعواض); যেমন: আঙুর এবং এর বহুবচন শব্দসমূহ। আর ‘ই’তাদা’ (اعتاض) ও ‘তাওয়াদা’ (تعوض) অর্থ হলো বিনিময় গ্রহণ করা, এবং ‘ইস্তাদা’ (استعاض) অর্থ হলো বিনিময় প্রার্থনা করা১।

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ঐ সকল চুক্তি (العقود) যার মাধ্যমে উপার্জন ও মুনাফা অর্জন করা উদ্দেশ্য থাকে, যেমন: ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি এবং এই জাতীয় বিষয়।

অনুদানসমূহ (التبرعات): এটি তাবা’ররু (تبرع)-এর বহুবচন।

যখন কোনো ব্যক্তি জ্ঞান, বীরত্ব বা অন্য কোনো বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে, তখন তাকে ‘বারুআ’ (برع) বা ‘বারাআত’ (براعة) বলা হয়।

বিনিময় ব্যতিরেকে কোনো কাজ সম্পাদন করাকে তাবা’ররু (تبرع) বলা হয়।

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ঐ সকল চুক্তি (العقود) যার মাধ্যমে সহজীকরণ ও অনুগ্রহ করা উদ্দেশ্য থাকে, যেমন: ঋণ (القرض), দান (الهبة) এবং এই জাতীয় বিষয় ২।

আর আলোচনার বিষয়বস্তু হলো: অনাথের সম্পদ থেকে অভিভাবক ও অন্যদের জন্য যা কিছু গ্রহণ করা বৈধ (يباح), চাই তা বিনিময় চুক্তির (عقود المعاوضات) মাধ্যমে হোক অথবা অনুদান চুক্তির (عقود التبرعات) মাধ্যমে হোক।

--------------------------------------------

১ আল-মিসবাহুল মুনীর ২/৪৩৮।

২ আল-মিসবাহুল মুনীর ১/৪৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ২৯০)
‌‌المطلب الثاني:

الأصل في تصرفات الولي في مال اليتيم

الأصل أن من تصرف لغيره سواء كان وكيلاً، أو ولياً، أو ناظر وقف أو غير ذلك أن تصرفه تصرف نظر ومصلحة، لا تشهٍ واختيار، لا سيما فيما يتعلق بمال اليتيم 1.

قال الله تعالى: {وَيَسْأَلونَكَ عَنِ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلاحٌ لَهُمْ خَيْرٌ} 2.

وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْماً إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَاراً وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيراً} 3، وقال تعالى: {وَلا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إلاّ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ} 4، وقال تعالى: {وَأَنْ تَقُومُوا لِلْيَتَامَى بِالْقِسْطِ} 5.

فهذه الآيات وغيرها تدل على أن تصرفات الولي في مال اليتيم مبنية على المصلحة، وأنه لا يجوز قربانها إلا بالتي هي أحسن لهم، وأصلح لمالهم.

--------------------------------------------

1 ينظر: الأصول والقواعد الجامعة للشيخ عبد الرحمن السعدي ص (85) .

2 سورة البقرة آية (220) .

3 سورة النساء آية (10) .

4 سورة الأنعام آية (152) .

5 سورة النساء آية (127) .
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

এতিমের মালের ক্ষেত্রে অভিভাবকের (ولي) কর্মকাণ্ডের মূলনীতি

মূলনীতি হলো, যে ব্যক্তি অন্যের হয়ে কোনো কাজ সম্পাদন করে—সে প্রতিনিধি (وكيل) হোক, বা অভিভাবক (ولي) অথবা ওয়াকফ সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক (ناظر وقف) কিংবা অন্য কিছু—তার কর্মকাণ্ড অবশ্যই পর্যবেক্ষণ ও কল্যাণের (مصلحة) ওপর ভিত্তি করে হতে হবে, নিছক প্রবৃত্তি বা মর্জির ওপর নয়; বিশেষ করে যখন তা এতিমের মালের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় ১।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা আপনাকে এতিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তাদের সংশোধন ও হিতসাধনই উত্তম} ২।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {নিশ্চয়ই যারা এতিমদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে, তারা মূলত তাদের পেটে আগুনই ভক্ষণ করে এবং অচিরেই তারা প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে} ৩। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তোমরা এতিমের মালের নিকটবর্তী হয়ো না—উত্তম পদ্ধতি ব্যতীত, যতক্ষণ না সে তার পূর্ণ বয়সে উপনীত হয়} ৪। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর তোমরা এতিমদের ব্যাপারে যেন ন্যায়বিচারের (قسط) সাথে দায়িত্ব পালন করো} ৫।

এই আয়াতসমূহ এবং অন্যান্য প্রমাণাদি একথাই নির্দেশ করে যে, এতিমের মালের ক্ষেত্রে অভিভাবকের (ولي) সকল কর্মকাণ্ড কল্যাণের (مصلحة) ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে এবং তাদের জন্য যা সর্বোত্তম ও তাদের মালের জন্য যা সবচেয়ে হিতকর, তা ব্যতীত অন্য কোনোভাবে সেই মালের নিকটবর্তী হওয়া বৈধ নয়।

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: শায়খ আব্দুর রহমান আস-সাদীর আল-উসুল ওয়াল কাওয়াইদুল জামিয়া, পৃষ্ঠা (৮৫)।

২ সূরা আল-বাকারা, আয়াত (২২০)।

৩ সূরা আন-নিসা, আয়াত (১০)।

৪ সূরা আল-আনআম, আয়াত (১৫২)।

৫ সূরা আন-নিসা, আয়াত (১২৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ২৯১)
‌‌المبحث الأول: الإفادة من مال اليتيم في عقود المعاوضات.

‌‌المطلب الأول: بيع الولي وشراؤه من نفسه.

…

المبحث الأول: الإفادة من مال اليتيم في عقود المعاوضات

وفيه مطالب:

المطلب الأول: بيع الولي وشراؤه من نفسه

اختلف العلماء رحمهم الله في بيع وشراء الولي من مال اليتيم لنفسه على قولين:

القول الأول: أنه يجوز للولي أن يبيع وأن يشتري مال اليتيم لنفسه. إذا زالت التهمة، بأن يزيد على ثمن المثل في الشراء، وينقص عنه في البيع.

وهو مذهب الحنفية 1، والمالكية 2، وهو رواية عن الإمام أحمد3، فقد ورد عن الإمام الجواز بشرطين:

أ - أن يزيد على مبلغ ثمنه في النداء.

ب - أن يتولى النداء غيره 4.

وبه قال ابن حزم إلا أنه لم يشترط الزيادة، بل يشترط عنده عدم المحاباة5.

لكن استثنى أبو حنيفة: القاضي ووصيه فلا يملك ذلك.

وحجة هذا القول:

1- قوله تعالى: {وَلا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلاّ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} 6.

--------------------------------------------

1 المبسوط 28/33، وبدائع الصنائع 5/154، وتبيين الحقائق 6/211.

2 المدونة 4/288، والإشراف 2/28، وبداية المجتهد 2/303.

3 المحلى لابن حزم 8/324.

4 كتاب الروايتين 1/398، والإنصاف مع الشرح الكبير 13/371.

5 المحلى 8/324.

6 سورة الأنعام آية (152) ، سورة الإسراء آية (34)
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: বিনিময় চুক্তিসমূহে এতিমের সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়া.

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: অভিভাবক কর্তৃক নিজের অনুকূলে ক্রয় ও বিক্রয়.

…

প্রথম পরিচ্ছেদ: বিনিময় চুক্তিসমূহে এতিমের সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়া

এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: অভিভাবক কর্তৃক নিজের অনুকূলে ক্রয় ও বিক্রয়

অভিভাবক কর্তৃক নিজের জন্য এতিমের সম্পদ থেকে ক্রয় ও বিক্রয় করার বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম (রহিমাহুমুল্লাহ) দুইটি মত পোষণ করেছেন:

প্রথম মত: অভিভাবকের জন্য নিজের প্রয়োজনে এতিমের সম্পদ ক্রয় করা বা তার কাছে বিক্রয় করা বৈধ, যদি কোনো প্রকার সংশয়ের অবকাশ না থাকে। যেমন—ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের চেয়ে অধিক মূল্য প্রদান করা এবং বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের চেয়ে কম গ্রহণ করা।

এটি হানাফি ১, মালেকি ২ মাজহাবের অভিমত এবং ইমাম আহমদের ৩ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)। ইমামের পক্ষ থেকে দুইটি শর্তসাপেক্ষে এর বৈধতা বর্ণিত হয়েছে:

ক - নিলামে ডাককৃত মূল্যের চেয়ে অধিক দাম হাঁকা।

খ - নিলাম ডাকার দায়িত্ব অন্য কেউ পালন করা ৪।

ইবনে হাজমও এই মত পোষণ করেছেন, তবে তিনি মূল্য বৃদ্ধির শর্ত দেননি; বরং তার নিকট শর্ত হলো কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্বের অনুপস্থিতি ৫।

তবে আবু হানিফা ‘কাজি’ (বিচারক) এবং তার ‘অসি’ (মনোনীত প্রতিনিধি)-কে এর ব্যতিক্রম গণ্য করেছেন; তারা এই অধিকার রাখবেন না।

এই মতের দলিল:

১- মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা এতিমের সম্পদের নিকটবর্তী হয়ো না, তবে সর্বোত্তম পন্থায় ব্যতীত} ৬।

--------------------------------------------

১ আল-মাবসুত ২৮/৩৩, বাদায়িউস সানায়ি ৫/১৫৪, তাবয়ীনুল হাকায়িক ৬/২১১।

২ আল-মুদাওওয়ানা ৪/২৮৮, আল-ইশরাফ ২/২৮, বিদায়াতুল মুজতাহিদ ২/৩০৩।

৩ ইবনে হাজমের আল-মুহাল্লা ৮/৩২৪।

৪ কিতাবুর রিওয়াতাইন ১/৩৯৮, আল-ইনসাফ মাআশ শারহিল কাবীর ১৩/৩৭১।

৫ আল-মুহাল্লা ৮/৩২৪।

৬ সূরা আল-আনআম, আয়াত (১৫২); সূরা আল-ইসরা, আয়াত (৩৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ২৯২)
وجه الدلالة: أن الآية أفادت جواز قربان مال اليتيم بالبيع والشراء إذا كان ذلك بالتي هي أحسن، وهذا عام يشمل الولي، وغيره.

2- ما ورد أن ابن عمر رضي الله عنهما “أنه اقترض مال اليتيم” 1.

وجه الدلالة: أن في القرض نوعا من التبرع، فإذا جاز ذلك في القرض، فجوازه في عقود المعاوضات من باب أولى.

ونوقش بقول الإمام أحمد: “إنما استقرض نظرا لليتيم، واحتياطا إن أصابه شيء غرمه” 2.

3- أن تصرف الولي بولاية مستقلة فأشبه الأب والجد 3.

4- أنه متى باع من نفسه بزيادة على ما يباع به علم أنه أراد نفع اليتيم، فنفذ تصرفه فيه كما لو باع من أجنبي.

5- أنه يجوز له بيعه من الأجنبي بما لا زيادة فيه متيقنة، فبيعه منه بالزيادة المتيقنة أولى.

6- أن الغرض من البيع حصول الثمن لا أعيان المشترين بدليل أن الوكيل إذا ابتاع لموكله ولم يسمه جاز، فإذا ثبت ذلك فمتى حصل الثمن مستوفى فيجب أن يصح الشراء كما لو حصل من أجنبي 4.

واحتج ابن حزم: أن الولي مأمور بالقيام بالقسط، والتعاون على البر، فإذا فعل ما أمر به فهو محسن، وما على المحسنين من سبيل، ولم يأت قط نص

--------------------------------------------

1 أخرجه عبد الرزاق في مصنفه 4/70 ومن طريقه البيهقي 2/285 نا معمر عن سالم عن ابن عمر وهذا إسناد صحيح.

2 الشرح الكبير مع الإنصاف 13/378.

3 تقويم النظر لابن الدهان 3/923 مضروب على الآلة الكاتبة.

4 ذكر هذه الأدلة القاضي عبد الوهاب في الإشراف 2/27-28.
দলীলের দিক (وجه الدلالة): আয়াতটি এ নির্দেশ দিচ্ছে যে, এতিমের সম্পদের নিকটবর্তী হওয়া (ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে) জায়েজ যখন তা সর্বোত্তম পন্থায় হয়। আর এটি একটি সাধারণ (عام) বিধান যা অভিভাবক এবং অন্যদের অন্তর্ভুক্ত করে।

2- যা বর্ণিত হয়েছে যে, ইবনে উমর (রা.) "এতিমের সম্পদ ঋণ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন" ১।

দলীলের দিক (وجه الدلالة): ঋণের মধ্যে এক ধরণের দানশীলতা বা অনুদান (تبرع) বিদ্যমান। সুতরাং যদি ঋণের ক্ষেত্রে এটি জায়েজ হয়, তবে বিনিময়মূলক চুক্তিতে (عقود المعاوضات) এর বৈধতা আরও অধিক যুক্তিযুক্ত।

আর ইমাম আহমাদ (র.)-এর বক্তব্যের মাধ্যমে এর পর্যালোচনা করা হয়েছে: "তিনি কেবল এতিমের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে এবং সতর্কতাস্বরূপ ঋণ নিয়েছিলেন, যাতে করে সম্পদের কোনো ক্ষতি হলে তিনি তা ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করেন" ২।

3- অভিভাবক স্বাধীন কর্তৃত্বের ভিত্তিতে কাজ করেন, তাই তিনি পিতা ও পিতামহের সদৃশ ৩।

4- তিনি যখন নিজের কাছে এমন মূল্যে বিক্রয় করেন যা স্বাভাবিক বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি, তখন এটি স্পষ্ট হয় যে তিনি এতিমের উপকার চেয়েছেন। ফলে তার এই কাজ কার্যকর হবে ঠিক যেমনটি কোনো অপরিচিত ব্যক্তির কাছে বিক্রয় করলে কার্যকর হতো।

5- যখন কোনো অপরিচিত ব্যক্তির কাছে নিশ্চিত অতিরিক্ত মূল্য ছাড়া বিক্রয় করা জায়েজ, তখন নিজের কাছে নিশ্চিত অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রয় করা আরও বেশি উত্তম।

6- বিক্রয়ের উদ্দেশ্য হলো মূল্য লাভ করা, ক্রেতা নির্দিষ্ট হওয়া নয়। এর প্রমাণ হলো, উকিল যখন তার মুওয়াক্কিলের জন্য ক্রয় করেন এবং তার নাম উল্লেখ না করেন, তখন তা জায়েজ হয়। সুতরাং যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন যখনই পূর্ণ মূল্য অর্জিত হবে, তখনই ক্রয় সঠিক হওয়া আবশ্যক, যেমনটি কোনো অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে অর্জিত হলে হতো ৪।

ইবনে হাযম (র.) দলিল পেশ করেছেন যে: অভিভাবক ন্যায়নিষ্ঠা কায়েম এবং নেক কাজে সহযোগিতার জন্য আদিষ্ট। সুতরাং তিনি যখন আদিষ্ট বিষয় পালন করেন, তখন তিনি একজন সৎকর্মশীল (محسن)। আর সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের পথ নেই। আর এ ব্যাপারে কখনও কোনো অকাট্য দলিল (نص) আসেনি...

--------------------------------------------

১. এটি আব্দুর রাজ্জাক তার মুসান্নাফ গ্রন্থে ৪/৭০ বর্ণনা করেছেন এবং তার সূত্রে বায়হাকি ২/২৮৫। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (نا) মামার, সালেম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে; আর এটি একটি সঠিক (صحيح) সনদ (إسناد)।

২. আশ-শারহুল কাবীর মাআল ইনসাফ ১৩/৩৭৮।

৩. তাক্বউমুন নাযার লি ইবনিল দাহহান ৩/৯২৩, টাইপরাইটারে টাইপকৃত।

৪. ক্বাযী আব্দুল ওয়াহহাব এই দলিলগুলো আল-ইশরাফ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন ২/২৭-২৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ২৯৩)
قرآن ولا سنة بالمنع 1.

القول الثاني: أنه ليس للولي أن يبيع أو يشتري من نفسه.

وهو مذهب الشافعية2، والحنابلة3. لكن استثنى الشافعية الجد، فقالوا له: أن يشتري ويبيع من نفسه.

وحجته:

1- ما يروى عن النبي صلى الله عليه وسلم: “لا يشتري الوصي من مال اليتيم” 4.

ولعله يناقش: بأنه لا يثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم.

2- ما ورد أن رجلا من همدان جاء إلى ابن مسعود على فرس أبلق، فقال: “إن رجلا أوصى إلي وترك يتيما فاشترى هذا الفرس، أو فرساً آخر من ماله، فقال عبد الله: لا تشتر شيئا من ماله، وفي هذا الكتاب: لا تشتر شيئاً من ماله، ولا تستقرض شيئاً من ماله” 5.

ولعله يناقش: بأنه محمول على الاحتياط لليتيم.

--------------------------------------------

1 المحلى 8/324.

2 مختصر المزني مع الأم 8/210، والوجيز 1/284، وتقويم النظر لابن الدهان 3/923 مضروب على الآلة الكاتبة.

3 مسائل أحمد لابنه صالح 1/246، وكتاب الروايتين والوجهين 1/398 والتنقيح المشبع ص (206) .

4 قال ابن حجر في التلخيص (1257) : لم أجده.

5 إسناده صحيح، أخرجه سعيد بن منصور (327) ، وعبد الرزاق 9/94 والبيهقي 6/285، واللفظ له، وابن حزم 8/324 من طريق الثوري عن أبي إسحاق عن صلة بن زقر قال: جاء رجل … وهذا إسناد صحيح.
কুরআন বা সুন্নাহতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই ১।

দ্বিতীয় মত: অভিভাবকের জন্য নিজের পক্ষ থেকে ক্রয় বা বিক্রয় করার অধিকার নেই।

এটি শাফিঈ ২ এবং হাম্বলি ৩ মাযহাবের অভিমত। তবে শাফিঈগণ দাদাকে এর ব্যতিক্রম গণ্য করেছেন; তারা বলেছেন: দাদা নিজের পক্ষ থেকে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন।

এর দলিলসমূহ:

১- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে: “ওসি যেন এতিমের মাল থেকে কোনো কিছু ক্রয় না করে।” ৪।

এর উত্তরে সম্ভবত বলা যেতে পারে যে: এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত (ثابت) হয়নি।

২- বর্ণিত হয়েছে যে, হামদান গোত্রের এক ব্যক্তি একটি চিত্রল ঘোড়ায় চড়ে ইবনে মাসউদের নিকট আসলেন এবং বললেন: “এক ব্যক্তি আমাকে ওসি (অভিভাবক) নিযুক্ত করেছেন এবং একজন এতিম রেখে গেছেন। আমি তার সম্পদ থেকে এই ঘোড়াটি অথবা অন্য একটি ঘোড়া ক্রয় করেছি।” তখন আব্দুল্লাহ বললেন: “তুমি তার সম্পদ থেকে কোনো কিছু ক্রয় করো না। আর এই কিতাবে আছে: তুমি তার সম্পদ থেকে কোনো কিছু ক্রয় করো না এবং তার সম্পদ থেকে কোনো কিছু ঋণও গ্রহণ করো না।” ৫।

এর উত্তরে সম্ভবত বলা যেতে পারে: এটি এতিমের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের ওপর ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

--------------------------------------------

১. আল-মুহাল্লা ৮/৩২৪।

২. আল-উম্ম এর সাথে মুখতাসারুল মুজানি ৮/২১০, আল-ওয়াজিজ ১/২৮৪ এবং ইবনুদ দাহহানের তাকভিমুন নাজার ৩/৯২৩ (টাইপরাইটারে মুদ্রিত)।

৩. আহমাদ বিন হাম্বলের পুত্র সালেহ কর্তৃক সংকলিত মাসায়িল ১/২৪৬, কিতাবুর রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন ১/৩৯৮ এবং আত-তানকিহুল মুশবি' পৃ. ২০৬।

৪. ইবনে হাজার আত-তালখিস (১২৫৭)-এ বলেছেন: আমি এটি খুঁজে পাইনি।

৫. এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيহ), সাঈদ ইবনে মানসুর (৩২৭), আবদুর রাজ্জাক ৯/৯৪ এবং বায়হাকি ৬/২৮৫ এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দগুলো তার (বায়হাকির)। ইবনে হাজম ৮/৩২৪ গ্রন্থে সাওরির সূত্রে আবু ইসহাক থেকে, তিনি সিলাহ ইবনে জুফার থেকে বর্ণনা করেছেন: এক ব্যক্তি আসলেন … এবং এটি একটি সহিহ (صحيহ) সনদ (إسناد)।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ২৯৪)
3- أنه متهم في طلب الحفظ له في بيع ماله من نفسه فلم يجعل ذلك إليه1.

ولعله يناقش: بأن الجواز مشروط بعدم التهمة.

4- أن من لا يجوز له أن يشتري بثمن المثل لا يجوز له أن يشتري بأكثر كالوكيل2.

ولعله يناقش: بأن الأصل المقيس عليه موضع خلاف بين أهل العلم.

5- أن إطلاق البيع ينصرف إلى العرف، والعرف أن لا يبيع ولا يشتري الإنسان من نفسه 3.

واستدل الشافعية على استثناء الجد: أن الجد لا يتهم في ذلك، لكمال شفقته 4.

الترجيح: الراجح ـ والله أعلم ـ هو القول الأول، إذ لا فرق بين الولي وغيره مع زوال التهمة.

--------------------------------------------

1 انظر: كتاب الروايتين والوجهين 1/399، والشرح الكبير مع الإنصاف 13/372.

2 تقويم النظر 3/924

3 ينظر: المبدع 4/367، ومطلب أولي النهي 3/463

4 المهذب مع تكملة المجموع الثانية 13/356
3- তিনি নিজের সম্পদ নিজের কাছে বিক্রয় করার মাধ্যমে নিজের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত (متهم), তাই বিষয়টি তাঁর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি।১

সম্ভবত এর বিপরীতে আলোচনা করা যেতে পারে যে: (ব্যবসায়িক) বৈধতা এখানে অভিযোগ (التهمة) না থাকার শর্তের ওপর নির্ভরশীল।

4- যার জন্য সমমূল্যে ক্রয় করা বৈধ নয়, তার জন্য অধিক মূল্যে ক্রয় করাও বৈধ নয়, যেমনটি প্রতিনিধির (الوكيل) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।২

সম্ভবত এর বিপরীতে আলোচনা করা যেতে পারে যে: মূল ভিত্তিটি (الأصل), যার ওপর ভিত্তি করে অনুমান (القياس) করা হচ্ছে, তা আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়।

5- বিক্রয়ের সাধারণ প্রয়োগ প্রথা বা প্রচলনের (العرف) দিকে ধাবিত হয়; আর প্রচলন হলো এই যে, কোনো ব্যক্তি নিজের কাছে নিজে বিক্রয় বা ক্রয় করে না।৩

শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারীগণ দাদাকে এই নিয়মের ব্যতিক্রম করার পক্ষে দলিল পেশ করেছেন যে: দাদা এই বিষয়ে অভিযুক্ত (متهم) নন, কারণ তাঁর স্নেহ-মমতা অত্যন্ত প্রবল।৪

প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত (الترجيح): আল্লাহই ভালো জানেন—প্রথম মতটিই প্রাধান্যপ্রাপ্ত (الراجح); কারণ অভিযোগ (التهمة) দূর হয়ে গেলে অভিভাবক (الولي) এবং অন্যদের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকে না।

--------------------------------------------

১. দেখুন: কিতাবুর রেওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন ১/৩৯৯, এবং আশ-শারহুল কাবীর মাআল ইনসাফ ১৩/৩৭২।

২. তাকভীমুন নাযার ৩/৯২৪।

৩. দেখুন: আল-মুবদি ৪/৩৬৭, এবং মাতলাবু উলিউন নুহা ৩/৪৬৩।

৪. আল-মুহাযযাব মাআ তাকমিলাতিল মাজমু আস-সানিয়াহ ১৩/৩৫৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ২৯৫)
‌‌المطلب الثاني: أخذ جزء من الربح مقابل المضاربة به.

…

المطلب الثاني: أخذ جزء من ربح ماله مقابل المضاربة به

وفيه مسألتان:

المسألة الأولى: مشروعية المضاربة بمال اليتيم.

للولي أن يبيع ويشتري في مال اليتيم، وأن يدفعه لغيره مضاربة. بل صرح جمع من أهل العلم على استحباب ذلك 1.

وهذا قول جمهور أهل العلم 2.

وحجة هذا القول:

1- ما تقدم من الأدلة على قربان مال اليتيم بالتي هي أحسن، والإصلاح في ماله 3 ومما يدخل في ذلك المضاربة به.

2- ما روي عن عبد الله بن عمرو بن العاص أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: “ألا من ولي يتيما له مال، فليتجر له، ولا يتركه حتى تأكله الصَّدَقة”4. لكنه ضعيف لا يحتج به.

وورد أن عثمان بن أبي العاص “قدم على عمر، فقال له عمر: كيف متجر

--------------------------------------------

1 الاختيارات ص (138) .

2 أحكام القرآن للجصاص 2/66، والمبسوط 28/28، والبحر الرائق 8/468، والمدونة 5/314، والكافي لابن عبد البر 2/1033، وروضة الطالبين 5/124، والفروع4/321، والمبدع 4/338.

3 ينظر: ص (290) .

4 أخرجه التّرمذي في الزّكاة؛ باب ما جاء في زكاة مال اليتيم (636) ،وأبو عبيد في الأموال (1299) ، والدّارقطني 2/109. وفي إسناده المثنّى بن الصّباح؛ ضعيف كما في التّقريب 2/228. وتابعه محمّد بن عبيد العزرمي عند الدّارقطني، لكن الرّاوي عنه مندل؛ وهو ضعيف. وأيضاً عبد الله بن عليّ الإفريقي كما في الكامل لابن عدي7/146؛وهو ضعيف، وخالفهم جميعاً حسين المعلّم فقال: عن عمرو بن شعيب عن سعيد أنّ عمر قال.
দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয়: মুদারাবাহর বিনিময়ে মুনাফার একাংশ গ্রহণ.

…

দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয়: মুদারাবাহর বিনিময়ে নিজের সম্পদের মুনাফার একাংশ গ্রহণ

এতে দুটি মাসয়ালা রয়েছে:

প্রথম মাসয়ালা: এতিমের সম্পদ দ্বারা মুদারাবাহ করার বৈধতা।

অভিভাবকের জন্য এতিমের সম্পদ দ্বারা ক্রয়-বিক্রয় করা এবং মুদারাবাহর ভিত্তিতে তা অন্যকে প্রদান করা বৈধ। বরং একদল আলেম এটি মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মত ব্যক্ত করেছেন ১।

এটিই অধিকাংশ (جمهور) আলেমের অভিমত ২।

এই অভিমতের সপক্ষে দলিলসমূহ:

১- এতিমের সম্পদের নিকটবর্তী হওয়া এবং তার সম্পদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম পন্থা অবলম্বনের যে দলিলসমূহ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে ৩, মুদারাবাহ করাও তার অন্তর্ভুক্ত।

২- আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সাবধান! যে ব্যক্তি এমন কোনো এতিমের অভিভাবক হবে যার সম্পদ রয়েছে, সে যেন তার সম্পদ দিয়ে ব্যবসা করে এবং সেটিকে ফেলে না রাখে যাতে সদকা তা খেয়ে ফেলে” ৪। তবে এটি দুর্বল (ضعيف), যা প্রমাণ হিসেবে পেশ করার যোগ্য নয়।

আরও বর্ণিত হয়েছে যে, উসমান ইবনে আবিল আস “ওমরের নিকট আসলেন, তখন ওমর তাকে বললেন: ব্যবসার অবস্থা কেমন...

--------------------------------------------

১ আল-ইখতিয়ারাত, পৃষ্ঠা (১৩৮)।

২ জাসসাস রচিত আহকামুল কুরআন ২/৬৬, আল-মাবসুত ২৮/২৮, আল-বাহরুর রায়েক ৮/৪৬৮, আল-মুদাওয়ানা ৫/৩১৪, ইবনে আব্দুল বার রচিত আল-কাফি ২/১০৩৩, রওদাতুত তালিবিন ৫/১২৪, আল-ফুরু ৪/৩২১, আল-মুবদি ৪/৩৩৮।

৩ দ্রষ্টব্য: পৃষ্ঠা (২৯০)।

৪ এটি তিরমিযী যাকাত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন; অনুচ্ছেদ: এতিমের সম্পদের যাকাত প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে (৬৩৬), আবু উবাইদ আল-আমওয়াল গ্রন্থে (১২৯৯), এবং দারা কুতনী ২/১০৯। এর সনদ (إسناد)-এ মুসান্না ইবনুল সাব্বাহ রয়েছে; তিনি দুর্বল (ضعيف) যেমনটি তাকরিব ২/২২৮-এ উল্লেখ আছে। দারা কুতনীতে মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ আল-আযরামী তার অনুসরণ (متابعة) করেছেন, তবে তার থেকে বর্ণনাকারী হলেন মানদাল; তিনি দুর্বল (ضعيف)। অনুরূপভাবে কামিল লি ইবনে আদি ৭/১৪৬-এ আব্দুল্লাহ ইবনে আলী আল-ইফ্রিকী রয়েছেন; তিনিও দুর্বল (ضعيف), এবং হুসাইন আল-মুয়াল্লিম তাদের সকলের বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি সাঈদ থেকে যে, ওমর বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ২৯৬)
أرضك فإن عندي مال يتيم قد كادت الزكاة أن تفنيه؟ قال: فدفعه إليه”1.

3- ما ورد عن عمر رضي الله عنه أنه قال: “ابتغوا في أموال اليتامى لا تستغرقها الصدقة” 2.

4- ما رواه القاسم بن محمد3. قال: “كنا يتامى في حجر عائشة، فكانت تزكي أموالنا، ثم تدفعه مقارضة فبورك لنا فيه” 4.

5- ولأن ذلك أحظ للمولى عليه؛ لتكون نفقته من فاضله وربحه كما يفعله البالغون في أموالهم 5.

القول الثاني: أنه يكره أن يدفع ماله مضاربة.

وبه قال الحسن البصري6، وعن الإمام أحمد عدم الجواز 7.

وحجته: اجتناب المخاطرة به، وأن خزنه أحفظ له8.

--------------------------------------------

1 إسناده صحيح، أخرجه عبد الرزاق4/67، وأبو عبيد في الأموال ص 405 والبيهقي 4/107 من طرق عن عبد الكريم بن أبي أمية وخالد الحذاء عن حميد بن هلال أن عمر.

2 أخرجه مالك في الموطأ 1/251، وابن أبي شيبة 3/150، وعبد الرزاق 4/68، وأبوعبيد في الأموال ص (455) ، والدارقطني 2/110، والبيهقي 4/107، وقال: “هذا إسناد صحيح، وله شواهد عن عمر رضي الله عنه”.

3 القاسم بن محمد بن أبي بكر الصديق، أبو محمد، أعلم الناس بحديث عائشة رضي الله عنها، توفي سنة (105هـ) وقيل (106هـ) . (طبقات ابن سعد 5/187، وتهذيب التهذيب 8/333)

4 أخرجه مالك في الموطأ 1/251 عن عبد الرحمن بن القاسم عن أبيه به، وأيضا أخرجه عبد الرزاق 4/66، والشافعي في مسنده ص 204، وأبو عبيد في الأموال ص 456، وابن أبي شيبة 3/149، والبيهقي 4/108.

5 المغني 6/339.

6 المغني 6/339

7 الفروع 4/321.

8 الإنصاف مع الشرح الكبير 13/376
...আপনার ভূমি, কেননা আমার কাছে এতিমের সম্পদ রয়েছে যা জাকাত প্রায় নিঃশেষ করে দিচ্ছে? তিনি বললেন: অতঃপর তিনি তা তাকে প্রদান করলেন।”১

৩- উমর (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: “তোমরা এতিমদের সম্পদ দিয়ে ব্যবসা করো, যেন সদকা (জাকাত) তা নিঃশেষ করে না দেয়।” ২

৪- কাসিম ইবনে মুহাম্মদ৩ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: “আমরা আয়েশা (রা.)-এর তত্ত্বাবধানে এতিম হিসেবে ছিলাম, তিনি আমাদের সম্পদের জাকাত প্রদান করতেন, অতঃপর তা মুকারাযা (مقارضة) হিসেবে বিনিয়োগের জন্য দিতেন, ফলে আমাদের জন্য তাতে বরকত হতো।” ৪

৫- আর কারণ এটিই অভিভাবকত্বের অধীনে থাকা ব্যক্তির জন্য অধিক কল্যাণকর; যেন তার ভরণপোষণ অতিরিক্ত অংশ এবং লভ্যাংশ থেকে মেটানো যায়, যেমনটি প্রাপ্তবয়স্করা তাদের সম্পদের ক্ষেত্রে করে থাকেন ৫।

দ্বিতীয় মত: এতিমের সম্পদ মুদারাবাহ (مضاربة) হিসেবে প্রদান করা অপছন্দনীয় (يكره)।

হাসান বসরী৬ এটিই বলেছেন, এবং ইমাম আহমদ থেকে এর অবৈধতার (عدم الجواز) বর্ণনা রয়েছে ৭।

তার সপক্ষে যুক্তি হলো: এতে ঝুঁকির সম্ভাবনা এড়িয়ে চলা এবং তা গচ্ছিত রাখাই অধিক সুরক্ষাপূর্ণ ৮।

--------------------------------------------

১ এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح), এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক ৪/৬৭, এবং আবু উবাইদ আল-আমওয়াল কিতাবের ৪০৫ পৃষ্ঠায় এবং বায়হাকি ৪/১০৭ পৃষ্ঠায় আব্দুল কারিম ইবনে আবু উমাইয়্যা ও খালিদ আল-হাদ্দা থেকে, তারা হুমাইদ ইবনে হিলাল থেকে বর্ণনা করেছেন যে উমর...

২ মালিক মুয়াত্তা ১/২৫১-এ এটি বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবু শায়বা ৩/১৫০, আব্দুর রাজ্জাক ৪/৬৮, আবু উবাইদ আল-আমওয়াল কিতাবের (৪৫৫) পৃষ্ঠায়, দারাকুতনি ২/১১০, বায়হাকি ৪/১০৭ এবং তিনি বলেছেন: “এটি সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد), এবং উমর (রা.) থেকে এর অনেক শাহেদ (شواهد) রয়েছে।”

৩ কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সিদ্দিক, আবু মুহাম্মদ; আয়েশা (রা.)-এর হাদিস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন, তিনি ১০৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং কারো মতে ১০৬ হিজরিতে। (তাবাকাত ইবনে সাদ ৫/১৮৭, এবং তাহজিবুত তাহজিব ৮/৩৩৩)

৪ মালিক মুয়াত্তা ১/২৫১-এ আব্দুর রহমান ইবনে কাসিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, এছাড়া আব্দুর রাজ্জাক ৪/৬৬, শাফেয়ি তার মুসনাদ-এর ২০৪ পৃষ্ঠায়, আবু উবাইদ আল-আমওয়াল কিতাবের ৪৫৬ পৃষ্ঠায়, ইবনে আবু শায়বা ৩/১৪৯ এবং বায়হাকি ৪/১০৮ পৃষ্ঠায় এটি বর্ণনা করেছেন।

৫ আল-মুগনি ৬/৩৩৯।

৬ আল-মুগনি ৬/৩৩৯

৭ আল-ফুরু ৪/৩২১।

৮ আল-ইনসাফ মাআশ শারহিল কাবির ১৩/৩৭৬
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ২৯৭)
ونوقش هذا الاستدلال: بأن المضاربة بمال اليتيم مشروطة بانتفاء الخطر، ولا يسلم بأن خزنه أحفظ له، بل المضاربة به أحفظ له لماله لينفق من فاضل ربحه، وخزنه سبب لاستهلاك الصدقة له.

الترجيح:

الراجح ـ والله أعلم ـ هو القول الأول، إذ هو الوارد عن الصحابة رضي الله عنهم.

فرع: ولا يتجر به إلا في المواضع الآمنة، ولا يدفعه إلا إلى الأمناء 1.

المسألة الثانية: أخذ جزء من ربح ماله.

اختلف العلماء رحمهم الله في استحقاق الولي، أو غيره ممن عمل في مال اليتيم جزءاً من ربحه على قولين:

القول الأول: أنه يجوز للولي أن يأخذ لنفسه، وأن يعطي غيره وهو مذهب الحنفية 2، وتخريج للحنابلة 3.

وحجة هذا القول:

1- الأدلة الدالة على جواز أكل الولي الفقير من مال اليتيم 4.

فإذا جاز له الأكل مع عدم العمل، فجوازه مع العمل فيه وتنميته من باب أولى.

2- ما تقدم من الآثار الواردة عن الصحابة في أمر الولي بالمضاربة في مال اليتيم5، والمضاربة دفع مال لمن يعمل فيه مقابل جزء مشاع من ربحه.

--------------------------------------------

1 المصدر السابق.

2 أحكام القرآن للجصاص 2/66، والفتاوى البزازية 6/445.

3 الشرح مع الإنصاف 13/376.

4 ينظر ص (291) .

5 ينظر ص (294) .
এই দলীলটি নিয়ে এভাবে আলোচনা করা হয়েছে: এতিমের সম্পদ দিয়ে মুদারাবা (مضاربة) করার শর্ত হলো ঝুঁকির অনুপস্থিতি। আর এটি মেনে নেওয়া যায় না যে, সম্পদ কেবল জমা করে রাখাই তার জন্য অধিকতর হেফাযতকারী; বরং মুদারাবা (مضاربة) করাই তার সম্পদের জন্য উত্তম হেফাযতকারী, যাতে সে অতিরিক্ত মুনাফা থেকে ব্যয় করতে পারে। কারণ সম্পদ কেবল জমা রাখা হলো সদকার মাধ্যমে তা নিঃশেষ হওয়ার কারণ।

অগ্রাধিকার (الترجيح):

অগ্রগণ্য মত (الراجح) — এবং আল্লাহই ভালো জানেন — হলো প্রথম মতটি; যেহেতু এটি সাহাবীগণের থেকে বর্ণিত (الوارد) হয়েছে।

শাখা মাসআলা (فرع): এবং নিরাপদ স্থান ছাড়া এই সম্পদ দিয়ে ব্যবসা করা যাবে না, আর বিশ্বস্ত (الأمناء) ব্যক্তি ছাড়া কারো কাছে তা ন্যস্ত করা যাবে না ১।

দ্বিতীয় মাসআলা (المسألة الثانية): তার সম্পদের মুনাফার একটি অংশ গ্রহণ করা।

এতিমের সম্পদে নিয়োজিত অভিভাবক বা অন্য কোনো ব্যক্তির মুনাফার অংশ পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে আলেমগণ দুটি মতে মতভেদ (اختلف) করেছেন:

প্রথম মত (القول الأول): অভিভাবকের জন্য নিজের জন্য তা গ্রহণ করা এবং অন্যকে দেওয়া জায়েয (يجوز)। এটি হানাফী মাযহাব (مذهب) এবং হাম্বলী মাযহাবের একটি আহরিত অভিমত (تخريج) ৩।

এই মতের দলিল (حجة):

1- দরিদ্র অভিভাবকের জন্য এতিমের সম্পদ থেকে ভোগ করার বৈধতা জ্ঞাপক দলীলসমূহ ৪।

সুতরাং যদি কাজ না করা সত্ত্বেও তার জন্য ভোগ করা জায়েয (جاز) হয়, তবে কাজ করা এবং সম্পদ বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে তা বৈধ (جواز) হওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত।

2- সাহাবীগণের থেকে বর্ণিত ইতিপূর্বে উল্লিখিত আছার (الآثار) যেখানে অভিভাবককে এতিমের সম্পদে মুদারাবা (المضاربة) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৫। আর মুদারাবা (المضاربة) হলো লভ্যাংশের একটি নির্দিষ্ট অংশের বিনিময়ে কাউকে কাজ করার জন্য সম্পদ প্রদান করা।

--------------------------------------------

১ পূর্বোক্ত উৎস।

২ আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস ২/৬৬, এবং আল-ফাতাওয়া আল-বাযযাযিয়া ৬/৪৪৫।

৩ আশ-শারহু মাআল ইনসাফ ১৩/৩৭৬।

৪ দ্রষ্টব্য পৃষ্ঠা (২৯১)।

৫ দ্রষ্টব্য পৃষ্ঠা (২৯৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ২৯৮)
3- أنه إذا جاز للولي أن يدفع جزءاً من ربح مال اليتيم إلى غيره، فكذا يجوز له أخذ ذلك 1.

4- ما تقدم من الأدلة على أن لولي اليتيم أن يشتري ويبيع من نفسه إذا زالت التهمة2.

القول الثاني: أن الولي ليس له أن يأخذ شيئا من الربح، وله أن يعطي غيره ممن دفع له المال مضاربة.

وبه قال جمهور أهل العلم 3.

وحجة هذا القول:

أن الربح نماء مال اليتيم، فلا يستحقه غيره إلا بعقد، ولا يجوز أن يعقد الولي المضاربة لنفسه 4.

ولعله يناقش: بأن محصله أنه استدل بمحل النزاع، فلا يسلم.

الترجيح:

الراجح ـ والله أعلم ـ هو القول الأول، إذ لا فرق بين الولي وغيره مع زوال التهمة. ولأن الولي نائب عن اليتيم فيما فيه مصلحته، وهذا فيه مصلحته، فأشبه تصرف المالك في ماله.

--------------------------------------------

1 الشرح الكبير مع الإنصاف 13/376.

2 ينظر ص (291) .

3 المدونة 5/314، والكافي لابن عبد البر 2/1033، وروضة الطالبين 5/124، والفروع 4/321، والمبدع 4/338.

4 الشرح الكبير مع الإنصاف 13/377.
৩- যদি অভিভাবকের (ولي) জন্য এতিমের সম্পদের লভ্যাংশের একটি অংশ অন্য কাউকে প্রদান করা বৈধ হয়, তবে একইভাবে তার নিজের জন্য তা গ্রহণ করাও বৈধ। ১।

৪- এতিমের অভিভাবকের (ولي) জন্য নিজের সাথে কেনা-বেচা করা বৈধ হওয়ার বিষয়ে ইতিপূর্বে যে দলিলসমূহ (أدلة) বর্ণিত হয়েছে—যখন কোনো অভিযোগের (تُهمة) অবকাশ না থাকে। ২।

দ্বিতীয় মত: অভিভাবকের (ولي) জন্য লভ্যাংশ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করা বৈধ নয়, তবে তিনি অন্য কাউকে তা দিতে পারেন যাকে তিনি মুদারাবা (مضاربة) ভিত্তিতে সম্পদ প্রদান করেছেন।

আর এটিই জমহুর (جمهور) আলেমগণের অভিমত। ৩।

এই মতের সপক্ষে যুক্তি হলো:

লভ্যাংশ হলো এতিমের সম্পদেরই প্রবৃদ্ধি, তাই চুক্তি (عقد) ব্যতীত অন্য কেউ এর হকদার হতে পারে না; আর অভিভাবকের (ولي) জন্য নিজের সাথে মুদারাবা (مضاربة) চুক্তি (عقد) করা বৈধ নয়। ৪।

সম্ভবত এর পর্যালোচনা এভাবে করা যেতে পারে: এর সারকথা হলো বিতর্কিত বিষয়টিকেই দলিল হিসেবে পেশ করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত (ترجيح):

প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح) মত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—প্রথম মতটি। কেননা সংশয় বা অভিযোগের (تُهمة) অবকাশ না থাকলে অভিভাবক (ولي) এবং অন্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। এছাড়া অভিভাবক (ولي) এতিমের কল্যাণের (مصلحة) ক্ষেত্রে তার প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য হন, আর এতে কল্যাণ (مصلحة) নিহিত রয়েছে; ফলে এটি মালিক কর্তৃক তার নিজ সম্পদে পরিচালনার সদৃশ।

--------------------------------------------

১ আশ-শারহুল কাবীর মাআল ইনসাফ ১৩/৩৭৬।

২ দেখুন পৃষ্ঠা (২৯১)।

৩ আল-মুদাওয়ানা ৫/৩১৪, ইবনে আব্দুল বার এর আল-কাফি ২/১০৩৩, রওজাতুত তালিবিন ৫/১২৪, আল-ফুরু ৪/৩২১, আল-মুবদি ৪/৩৩৮।

৪ আশ-শারহুল কাবীর মাআল ইনসাফ ১৩/৩৭৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ২৯৯)
‌‌المطلب الثالث: بيعه بأقل من ثمن المثل، والشراء بأكثر من ثمن المثل.

…

المطلب الثالث: تضمين الولي إذا باع أو اشترى بأنقص أو أكثر من القيمة

وفيه مسألتان:

المسألة الأولى: أن يكون ذلك بغبن فاحش.

إذا باع الولي مال اليتيم بدون قيمته، أو اشترى بأكثر من قيمته، وكان ذلك بغبن فاحش.

فيضمن باتفاتق الأمة 1.

قال شيخ الإسلام: “وإن اشترى بزيادة لا يتغابن الناس لمثلها كان عليه ضمان ما أداه من الزيادة الفاحشة” 2.

وحجته: ما تقدم من الأدلة على حرمة مال اليتيم، ووجوب النظر بالأصلح لماله.

والبيع بغبن فاحش ليس من الأصلح له.

ولأن الظاهر أنه مفرط.

مع إمكانه الفسخ بخيار الغبن.

المسألة الثانية: أن لا يكون بغبن فاحش.

كأن يبيع بأقل من ثمن المثل، أو يشتري بأكثر من ثمن المثل يسيرا.

فاختلف العلماء في تضمين الولي على قولين:

القول الأول: أنه إذا اجتهد وتحرى فلا ضمان عليه، وإن فرط ضمن.

--------------------------------------------

1 بدائع الصنائع 5/153، والكافي لابن عبد البر 2/1034، وتكملة المجموع الثانية 13/346، ومعونة أولي النهى 4/569.

2 مجموع الفتاوى 30/43
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বাজারমূল্যের (ثمن المثل) চেয়ে কম দামে বিক্রয় এবং বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে ক্রয়.

…

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অভিভাবক যদি বাজারমূল্যের চেয়ে কম বা বেশি দামে ক্রয়-বিক্রয় করেন তবে তাকে দায়বদ্ধ করার (تضمين) বিধান

এতে দুটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: যদি তা চরম প্রতারণার (غبن فاحش) মাধ্যমে হয়।

যদি অভিভাবক এতিমের সম্পদ তার প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করেন অথবা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ক্রয় করেন এবং তা যদি চরম প্রতারণার (غبن فاحش) অন্তর্ভুক্ত হয়;

তবে উম্মতের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তিনি দায়বদ্ধ (ضمان) হবেন ১।

শাইখুল ইসলাম বলেন: “আর যদি তিনি এমন অতিরিক্ত মূল্যে ক্রয় করেন যা সাধারণ মানুষ এ জাতীয় লেনদেনে মেনে নেয় না, তবে তিনি যে চরম অতিরিক্ত মূল্য প্রদান করেছেন তার জন্য তাকে দায়বদ্ধ (ضمان) হতে হবে” ২।

এর সপক্ষে যুক্তি: এতিমের সম্পদের পবিত্রতা এবং তার সম্পদের ক্ষেত্রে যা অধিকতর কল্যাণকর তা নিশ্চিত করার আবশ্যকতা সম্পর্কে ইতিপূর্বে বর্ণিত দলিলসমূহ।

আর চরম প্রতারণার (غبن فاحش) মাধ্যমে বিক্রয় করা তার জন্য অধিকতর কল্যাণকর নয়।

কেননা বাহ্যত তিনি এক্ষেত্রে অবহেলাকারী (مفرط)।

তাছাড়া প্রতারণার ইখতিয়ার (خيار الغبن) প্রয়োগ করে চুক্তি বাতিল করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তা করেননি।

দ্বিতীয় মাসআলা: যদি তা চরম প্রতারণা (غبن فاحش) না হয়।

যেমন বাজারমূল্যের (ثمن المثل) চেয়ে সামান্য কম দামে বিক্রি করা অথবা বাজারমূল্যের চেয়ে সামান্য বেশি দামে কেনা।

এক্ষেত্রে অভিভাবককে দায়বদ্ধ করার (تضمين) ব্যাপারে আলেমগণ দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: যদি তিনি ইজতিহাদ (اجتهاد) ও সতর্কতা অবলম্বন করেন তবে তার কোনো দায়বদ্ধতা (ضمان) নেই, কিন্তু যদি তিনি অবহেলা (تفريط) করেন তবে দায়বদ্ধ হবেন।

--------------------------------------------

১ বাদায়েউস সানায়ে ৫/১৫৩, ইবনে আব্দুল বার রচিত আল-কাফি ২/১০৩৪, তাকমিলাতুল মাজমু আস-সানি ১৩/৩৪৬, মাউনাতি উলিন নুহা ৪/৫৬৯।

২ মাজমুউল ফাতাওয়া ৩০/৪৩
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ৩০০)
وبه قال شيخ الإسلام1، وهو ظاهر اختيار الشيخ عبد الرحمن السعدي2 رحمه الله تعالى.

وحجته في ذلك:

1- ما رواه أسامة بن زيد رضي الله عنه قال: “بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم في سرية فصبحنا الحرقات من جهينة، فأدركت رجلا، فقال: لا إله إلا الله فطعنته فوقع في نفسي من ذلك، فذكرته للنبي صلى الله عليه وسلم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أقال لا إله إلا الله وقتلته؟ “ 3.

وجه الدلالة: أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يضمن أسامة بن زيد رضي الله عنه بدية ولا كفارة؛ لأنه مجتهد غير مفرط4.

2- قال شيخ الإسلام: “وهو شبيه بما إذا قتل في دار الحرب من يظنه حربيا، فبان مسلماً، فإن جماع هذا: أنه مجتهد مأمور بعمل اجتهد فيه وكيف يجتمع عليه الأمر والضمان؟ هذا الضرب هو خطأ في الاعتقاد والقصد لا في العمل … ” 5.

3- أنه مأذون له في البيع والشراء، وما ترتب على المأذون غير مضمون 6.

--------------------------------------------

1 الاختيارات ص (140)

2 المختارات الجلية ص (118) حيث جاء فيه: (كما أن الصحيح أن الوكيل إذا باع أو اشترى بأكثر من ثمن المثل، أو بأقل من ثمن المثل مع احتياطه واجتهاده لموكله أنه غير ضامن … ) .

3 أخرجه مسلم في الإيمان باب تحريم قتل الكافر … (158)

4 ينظر: مجموع فتاوى شيخ الإسلام

5 الاختيارات ص (140، 141)

6 المختارات الجلية ص (118)
শায়খুল ইসলাম ১ একই মত পোষণ করেছেন এবং এটিই শায়খ আব্দুর রহমান আস-সাদী ২ (আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর স্পষ্ট পছন্দ।

এ বিষয়ে তাঁর দলিল হলো:

১- উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত (رواه), তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের একটি ক্ষুদ্র অভিযানে (সারিয়্যাহ) পাঠালেন। আমরা সকালে জুহায়না গোত্রের আল-হুরাকাত নামক স্থানে পৌঁছলাম। আমি এক ব্যক্তিকে পাকড়াও করলাম, তখন সে বলল: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)। কিন্তু আমি তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করলাম। এরপর আমার মনে এ নিয়ে খটকা তৈরি হলো। আমি নবী (সা.)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: 'সে কি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছিল আর তুমি তাকে হত্যা করলে?'" ৩।

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি (وجه الدلالة): নবী (সা.) উসামা ইবনে যায়েদ (রা.)-এর ওপর কোনো রক্তপণ (দিয়াত) বা কাফফারা ধার্য করেননি; কারণ তিনি ছিলেন একজন ইজতিহাদকারী (مجتهد) যিনি কোনো অবহেলা করেননি ৪।

২- শায়খুল ইসলাম বলেন: "এটি সেই পরিস্থিতির সদৃশ যখন কেউ যুদ্ধের ভূখণ্ডে (দারুল হারব) এমন ব্যক্তিকে হত্যা করে যাকে সে যোদ্ধা মনে করেছিল, কিন্তু পরে স্পষ্ট হলো যে সে একজন মুসলিম। এর সারকথা হলো: সে এমন একজন ইজতিহাদকারী (مجتهد) যাকে তার ইজতিহাদ (اجتهاد) অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর কীভাবে নির্দেশ পালন এবং ক্ষতিপূরণের দায়বদ্ধতা একত্রে মিলিত হতে পারে? এই প্রকারটি হলো বিশ্বাস ও সংকল্পের ভুল, কাজের ভুল নয়... " ৫।

৩- কেনা-বেচার ক্ষেত্রে সে অনুমতিপ্রাপ্ত, আর অনুমতিপ্রাপ্ত কাজের ফলে যা কিছু উদ্ভূত হয় তার জন্য কোনো দায়বদ্ধতা নেই ৬।

--------------------------------------------

১ আল-ইখতিয়ারাত, পৃষ্ঠা: ১৪০

২ আল-মুখতারাত আল-জালিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ১১৮; যেখানে এসেছে: (যেমন সঠিক (الصحيح) মত হলো, প্রতিনিধি যখন বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করে বা বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে কেনে, অথচ সে তার মক্কেলের জন্য সতর্কতা ও ইজতিহাদ (اجتهاد) অবলম্বন করেছে, তবে সে দায়বদ্ধ হবে না... )।

৩ মুসলিম এটি ইমান অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন (أخرجه), অনুচ্ছেদ (باب): কাফির হত্যার নিষেধাজ্ঞা... (১৫৮)

৪ দ্রষ্টব্য: মাজমু' ফাতাওয়া শায়খুল ইসলাম

৫ আল-ইখতিয়ারাত, পৃষ্ঠা: ১৪০, ১৪১

৬ আল-মুখতারাত আল-জালিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ১১৮
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ৩০১)
القول الثاني: أنه إذا باع بأقل من ثمن المثل، فإن كان مما يتغابن به الناس عرفاً فلا يضمن، وإن كان مما لا يتغابن به عرفا ضمن.

وهو مذهب الحنفية، والشافعية، والحنابلة1.

وحجته: أن إطلاق البيع ينصرف إلى ثمن المثل، فيضمن إذا نقص أو زاد على ثمن المثل.

ولأن تصرفه مقيد بالنظر في حق الصغير، ولا نظر فيما لا يتغابن به الناس2.

وما يتغابن فيه الناس جرى العرف بالتسامح فيه.

ولأن اليسير لا يمكن التحرر عنه، ويكثر وقوعه، ففي اعتباره تعطيل لمصالحه3.

القول الثالث: أنه لا يجوز البيع إلا بأزيد من الثمن، إلا إذا كان هناك حاجة فيجوز بالثمن.

وهو مذهب المالكية 4.

ولعل مأخذه الاحتياط لليتيم.

الترجيح:

الراجح ـ والله أعلم ـ القول الأول، وأن الولي مع الاجتهاد وعدم التفريط لا يضمن لقوة دليله؛ لأنه مأذون له في البيع والشراء، وما ترتب على المأذون غير مضمون، ولأنه أمين والأمين لا ضمان عليه مع عدم التعدي والتفريط5.

--------------------------------------------

1 ينظر: بدائع الصنائع 5/153، وروضة الطالبين 4/188، و303، والمبدع 4/369- 370، وغاية المنتهى 2/154، ومطالب أولي النهى 3/412.

2 ينظر: تبيين الحقائق 6/211، ومجمع الأنهر 2/724.

3 المصادر السابقة

4 مواهب الجليل 5/73، وحاشية الدسوقي 3/300

5 القواعد والأصول الجامعة للسعدي ص 75
দ্বিতীয় অভিমত: যদি তিনি বাজারদরের (ثمن المثل) চেয়ে কম মূল্যে বিক্রয় করেন, তবে তা যদি এমন হয় যা মানুষ সাধারণত লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ছাড় দিয়ে থাকে (يتغابن به الناس عرفاً), তবে তিনি দায়বদ্ধ (ضامن) হবেন না। আর যদি তা এমন হয় যা প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ছাড় দেওয়া হয় না, তবে তিনি দায়বদ্ধ (ضامن) হবেন।

এটি হানাফি, শাফিয়ি এবং হাম্বলি মাযহাবের অভিমত১।

এর দলিল হলো: বিক্রয়ের সাধারণ অনুমতি বাজারদরের (ثمن المثل) দিকেই ধাবিত হয়; সুতরাং বাজারদরের চেয়ে কম বা বেশি হলে তিনি দায়বদ্ধ (ضامن) হবেন।

কেননা তার কর্মকাণ্ড নাবালকের অধিকারের প্রতি লক্ষ্য রাখার দ্বারা সীমাবদ্ধ; আর যে বিষয়ে মানুষ সাধারণত ছাড় দেয় না, সেখানে কোনো কল্যাণ নিহিত নেই২।

আর যে বিষয়ে মানুষ সাধারণত সামান্য ছাড় দেয়, সেখানে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী উদারতা প্রদর্শনের রীতি চালু রয়েছে।

তা ছাড়া, সামান্য কমবেশি হওয়া থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয় এবং এটি অহরহ ঘটে থাকে; তাই একে কঠোরভাবে বিবেচনায় নিলে তার (নাবালকের) স্বার্থ ও কল্যাণ বিঘ্নিত হবে৩।

তৃতীয় অভিমত: বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্য ব্যতীত বিক্রয় করা জায়েজ (جائز) নয়, তবে যদি প্রয়োজন দেখা দেয় তবে বাজারদরে বিক্রয় করা জায়েজ (جائز)।

এটি মালিকি মাযহাবের অভিমত৪।

সম্ভবত এর ভিত্তি হলো এতিমের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা।

প্রাধান্যপ্রাপ্ত (الراجح) মত:

প্রাধান্যপ্রাপ্ত (الراجح) মত — আল্লাহই সর্বজ্ঞ — হলো প্রথম অভিমত। অভিভাবক যদি যথাসাধ্য চেষ্টা (اجتهاد) করেন এবং কোনো অবহেলা (تفريط) না করেন, তবে দলিলের প্রবলতার কারণে তিনি দায়বদ্ধ (ضامن) হবেন না। কেননা তাকে ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, আর অনুমতিপ্রাপ্ত কাজের পরিণামের জন্য কোনো দায়বদ্ধতা (ضمان) থাকে না। তা ছাড়া তিনি একজন আমানতদার (أمين), আর আমানতদার কোনো সীমালঙ্ঘন (تعدي) বা অবহেলা (تفريط) না করলে তার ওপর কোনো দায় (ضمان) বর্তায় না৫।

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: বাদায়িউস সানায়ি ৫/১৫৩, রওদাতুত তালিবিন ৪/১৮৮ ও ৩০৩, আল-মুবদি ৪/৩৬৯-৩৭০, গায়াতুল মুনতাহা ২/১৫৪, মাতালিবু উলিন নুহা ৩/৪১২।

২ দ্রষ্টব্য: তাবয়িনুল হাকায়িক ৬/২১১, মাজমাউল আনহুর ২/৭২৪।

৩ পূর্বোক্ত উৎসসমূহ।

৪ মাওয়াহিবুল জলিল ৫/৭৩, হাশিয়াতুদ দিসুকি ৩/৩০০।

৫ আল-কাওয়ায়িদ ওয়াল উসুলুল জামিআহ লিস সাদী, পৃষ্ঠা: ৭৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ৩০২)
‌‌المطلب الرابع: بيعه نسيئة1

وفيه مسألتان:

المسألة الأولى: ملك الولي لذلك.

اختلف العلماء رحمهم الله في الولي هل له بيع مال اليتيم نسيئة؟ على قولين:

القول الأول: أنه يجوز للولي بيعه نساء إذا كان هناك مصلحة، بأن يكون أكثر ثمناً وأنفع، أو الخوف عليه من نحو نهب، ونحو ذلك.

وهذا ظاهر مذهب المالكية: حيث أناطوا تصرفات الولي بالمصلحة وهو مذهب الشافعية، والحنابلة2.

وحجته: قوله تعالى: {وَيَسْأَلونَكَ عَنِ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلاحٌ لَهُمْ خَيْرٌ} 3.

وقوله تعالى: {وَلا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إلاّ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} 4.

وقوله تعالى: {وَأَنْ تَقُومُوا لِلْيَتَامَى بِالْقِسْطِ} 5

وإذا كان في بيع مال اليتيم نسيئة مصلحة، فهو من الإصلاح لماله، وقربانه بالتي هي أحسن، ومن القيام له بالقسط.

2- أن الولي يملك الاتجار بمال اليتيم، والبيع نسيئة لمصلحته من عادة

--------------------------------------------

1 النّسيئة: التّأخير، المصباح 2/604.

2 الفروق 4/39، والشرح الصغير 1/142، ونهاية المحتاج 3/375، وفتح الوهاب 1/208والشرح الكبير مع الإنصاف 13/377، والمبدع 4/339

3 سورة البقرة آية (220) .

4 سورة الأنعام آية (152) ، والإسراء آية 34

5 سورة النساء آية (127) .
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বাকিতে (نسيئة) বিক্রি করা1

এতে দুটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: এ ক্ষেত্রে অভিভাবকের অধিকার।

উলামায়ে কেরাম (রহিমাহুমুল্লাহ) এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, অভিভাবকের কি এতিমের সম্পদ বাকিতে (نسيئة) বিক্রি করার অধিকার আছে? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে:

প্রথম মত: যদি কোনো কল্যাণ (مصلحة) নিহিত থাকে, তবে অভিভাবকের জন্য বাকিতে (نسيئة) বিক্রি করা বৈধ। যেমন: অধিক মূল্য পাওয়া ও অধিক লাভজনক হওয়া, অথবা সম্পদটি লুণ্ঠিত হওয়ার ভয় থাকা বা অনুরূপ কোনো কারণ।

এটিই মালিকি মাজহাবের প্রকাশ্য অভিমত; কারণ তারা অভিভাবকের কর্মকাণ্ডকে কল্যাণের (مصلحة) সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। এটি শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবেরও অভিমত।2

এর দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তোমাকে এতিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো, তাদের সংশোধন (إصلاح) করে দেওয়া অতি উত্তম।} 3

মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা এতিমের সম্পদের নিকটবর্তী হয়ো না, তবে সর্বোত্তম পন্থায় (بالتي هي أحسن)।} 4

মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা এতিমদের প্রতি ইনসাফের (بالقسط) সাথে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকো।} 5

যদি এতিমের সম্পদ বাকিতে (نسيئة) বিক্রি করার মধ্যে কোনো কল্যাণ (مصلحة) থাকে, তবে তা তার সম্পদের সংশোধনের (إصلاح) অন্তর্ভুক্ত এবং সর্বোত্তম পন্থায় তার সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও তার প্রতি ইনসাফ (قسط) কায়েম করার শামিল।

২- অভিভাবক এতিমের সম্পদ নিয়ে ব্যবসা করার অধিকার রাখেন, আর এতিমের কল্যাণের (مصلحة) উদ্দেশ্যে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী বাকিতে (نسيئة) বিক্রি করা ব্যবসারই অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

1 আন-নাসিয়াহ (النّسيئة): বিলম্ব করা, আল-মিসবাহ ২/৬০৪।

2 আল-ফুরুক ৪/৩৯, আশ-শারহুস সাগির ১/১৪২, নিহায়াতুল মুহতাজ ৩/৩৭৫, ফাতহুল ওয়াহাব ১/২০৮, আল-ইনসাফের সাথে আশ-শারহুল কাবির ১৩/৩৭৭, আল-মুবদি ৪/৩৩৯।

3 সূরা আল-বাকারা, আয়াত (২২০)।

4 সূরা আল-আনআম, আয়াত (১৫২), এবং আল-ইসরা, আয়াত ৩৪।

5 সূরা আন-নিসা, আয়াত (১২৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ৩০৩)
التجار وعملهم 1.

القول الثاني: يجوز بيع مال اليتيم نسيئة إذا لم يكن الأجل فاحشاً لا يباع هذا المال به. وهذا قول الحنفية 2.

وظاهره: أن الأجل إذا كان يسيرا يعفى عنه، وإذا كان بعيداً اشترط زيادة الثمن لزيادة الأجل، وهذا يقول به جمهور أهل العلم.

ولعل حجته: أن الأجل اليسير مما جرى التسامح فيه بين الناس، كالغبن اليسير3.

وأما الأجل البعيد مع زيادة الثمن، فدليله ما تقدم من دليل جمهور أهل العلم4.

القول الثالث: أن الولي لا يملك البيع نسيئة مطلقاً.

وهو رواية عن الإمام أحمد5.

ولم أقف له على دليل، ولعل حجته الاحتياط لمال اليتيم، وأن بيعه نسيئة لا يساوي بيعه حاضراً.

ويمكن أن يناقش: بأنه يسلم مع عدم المصلحة في بيعه نسيئة، لكن مع المصلحة، فبيعه نسيئة كبيعه حاضرا، أو أنفع.

الترجيح:

الراجح ـ والله أعلم ـ هو القول الأول وأن للولي بيع مال اليتيم بثمن

--------------------------------------------

1 بدائع الصنائع 5/153.

2 الفتاوى البزازية 5/221، والفتاوى الهندية 3/176، وحاشية رد المختار 6/708.

3 المصادر ص (302)

4 ينظر ص (298) .

5 الإنصاف مع الشرح الكبير 13/377.
ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মকাণ্ড ১।

দ্বিতীয় অভিমত: এতিমের সম্পদ বাকিতে (نسيئة) বিক্রয় করা বৈধ যদি সময়সীমা এমন অত্যধিক (فاحشاً) না হয় যার বিনিময়ে সাধারণত এই সম্পদ বিক্রয় করা হয় না। এটি হানাফিদের অভিমত ২।

এর বাহ্যিক অর্থ হলো: সময়সীমা যদি স্বল্প হয় তবে তা ক্ষমাযোগ্য, আর যদি দীর্ঘ হয় তবে সময় বৃদ্ধির কারণে মূল্য বৃদ্ধির শর্তারোপ করা হবে; এটিই সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলিমগণের অভিমত।

সম্ভবত এর দলিল হলো: স্বল্প সময়সীমা এমন বিষয় যা মানুষের লেনদেনে সহনীয় হিসেবে গণ্য, যেমন সামান্য লোকসান (الغبن اليسير) ৩।

আর মূল্য বৃদ্ধিসহ দীর্ঘ সময়সীমার ক্ষেত্রে এর দলিল হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলিমগণের সেই দলিল যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে ৪।

তৃতীয় অভিমত: অভিভাবক (ولي) কোনো অবস্থাতেই বাকিতে (نسيئة) বিক্রয় করার অধিকার রাখেন না।

এটি ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) ৫।

আমি এর সপক্ষে কোনো দলিলে উপনীত হতে পারিনি; সম্ভবত এর যুক্তি হলো এতিমের সম্পদের বিষয়ে সতর্কতা (الاحتياط) অবলম্বন করা, এবং এটি যে বাকিতে (نسيئة) বিক্রয় করা নগদ মূল্যে বিক্রির সমতুল্য নয়।

এর প্রেক্ষিতে আলোচনা করা যেতে পারে যে: বাকিতে (نسيئة) বিক্রয়ে কোনো কল্যাণ (المصلحة) না থাকলে বিষয়টি মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু যদি এতে কল্যাণ (المصلحة) থাকে, তবে বাকিতে বিক্রয় করা নগদ বিক্রির মতোই কিংবা তার চেয়েও বেশি উপকারী।

প্রাধান্য দান (الترجيح):

অগ্রগণ্য (الراجح) মত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—প্রথম অভিমতটি, আর তা হলো অভিভাবকের (ولي) জন্য এতিমের সম্পদ নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রয় করা...

--------------------------------------------

১ বাদায়েউস সানায়ে ৫/১৫৩।

২ আল-ফাতাওয়া আল-বাযযাযিয়া ৫/২২১, আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া ৩/১৭৬, হাশিয়া রাদ্দুল মুহতার ৬/৭০৮।

৩ আল-মাসাদির পৃষ্ঠা (৩০২)

৪ দ্রষ্টব্য পৃষ্ঠা (২৯৮)।

৫ আল-ইনসাফ মাআশ শারহিল কাবীর ১৩/৩৭৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ৩০৪)
مؤجلاً إذا كان أصلح، لقوة ما استدلوا به، ولأن المصلحة تقتضي ذلك فالمصلحة لا تنحصر في زيادة الثمن فحسب، بل من المصلحة ألا تنفق السلعة إلا ببيعها نسيئة، وإلا فسدت على اليتيم، ولا شك أن البيع هنا أصلح ولو نسيئة، ومن المصلحة أيضا، تكثير المشترين ونحو ذلك.

المسألة الثانية: شرط ذلك عند من أجازه.

تقدم أن جمهور أهل العلم يرون جواز بيع مال اليتيم نسيئة، وقد ذكر بعض العلماء شروطاً مأخذها: حرمة مال اليتيم، والاحتياط له.

الشرط الأول: أن يأخذ على الثمن المؤجل رهناً وفياً به، ولا يجزئ الكفيل عن الرهن.

وهذا الشرط ذهب إليه الشافعية 1، واستثنوا الجد، فلا يشترط الرهن في حقه؛ لأنه أمين في حقه.

والقول الثاني: أنه يحتاط على الثمن برهن، أو كفيل موثوق به.

وبه قال جمع من الحنابلة2.

الشرط الثاني: أن يشهد على البيع وجوباً.

الشرط الثالث: أن يكون المشتري موسراً ثقة.

الشرط الرابع: أن يكون الأجل قصيراً عرفاً.

وهذه الشروط اشترطها الشافعية3.

واشترط الحنفية: أن يأمن الجحود، وهلاك الثمن، وهو مقتضى كلام

--------------------------------------------

1 مغني المحتاج 2/175، ونهاية المحتاج 3/378.

2 الإنصاف مع الشرح الكبير 13/377.

3 المصادر السابقة للشافعية.
বাকিতে (বিক্রয় করা) যদি তা অধিক কল্যাণকর হয়, তবে তা বৈধ; তাদের উপস্থাপিত দলিলের শক্তি এবং জনকল্যাণ এরই দাবি রাখে বলে। কেননা কল্যাণ শুধুমাত্র মূল্য বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং কল্যাণ এতেও নিহিত যে, পণ্যটি বাকিতে বিক্রয় করা ব্যতীত সচল হবে না, অন্যথায় তা এতিমের জন্য বিনষ্ট হতে পারে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এখানে বিক্রয় করাই অধিক কল্যাণকর, যদিও তা বাকিতে হয়। এছাড়া ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং অনুরূপ বিষয়গুলোও কল্যাণের অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয় মাসআলা: যারা এটি বৈধ বলেছেন তাদের নিকট এর শর্তাবলি।

পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, জুমহুর উলামায়ে কেরাম এতিমের সম্পদ বাকিতে বিক্রয় করা বৈধ মনে করেন। তবে কোনো কোনো আলেম কিছু শর্ত উল্লেখ করেছেন যার ভিত্তি হলো: এতিমের সম্পদের পবিত্রতা এবং তার সংরক্ষণে সতর্কতা অবলম্বন করা।

প্রথম শর্ত: বাকিতে বিক্রিত মূল্যের বিপরীতে একটি পর্যাপ্ত বন্ধক গ্রহণ করা; এক্ষেত্রে জামিনদার থাকা বন্ধকের জন্য যথেষ্ট হবে না।

শাফেয়িগণ ১ এই শর্তের দিকে গিয়েছেন এবং তারা দাদাকে এর ব্যতিক্রম গণ্য করেছেন; সুতরাং তার ক্ষেত্রে বন্ধক রাখা শর্ত নয়, কারণ তিনি এতিমের ক্ষেত্রে একজন আমানতদার।

দ্বিতীয় মত: মূল্যের ব্যাপারে সতর্কতা হিসেবে বন্ধক অথবা একজন নির্ভরযোগ্য জামিনদার গ্রহণ করা হবে।

হাম্বলিদের ২ একটি দল এই মত ব্যক্ত করেছেন।

দ্বিতীয় শর্ত: বিক্রয়ের ওপর আবশ্যিকভাবে সাক্ষী রাখা।

তৃতীয় শর্ত: ক্রেতাকে সচ্ছল ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) হতে হবে।

চতুর্থ শর্ত: কিস্তির মেয়াদ লোকপ্রথা অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত হতে হবে।

এই শর্তগুলো শাফেয়িগণ ৩ আরোপ করেছেন।

আর হানাফিগণ শর্ত দিয়েছেন: অস্বীকার করা এবং মূল্য বিনষ্ট হওয়া থেকে নিরাপদ থাকা; আর এটিই তাদের বক্তব্যের দাবি—

--------------------------------------------

১ মুগনি আল-মুহতাজ ২/১৭৫ এবং নিহায়াত আল-মুহতাজ ৩/৩৭৮।

২ আল-ইনসাফ মাআশ শারহিল কাবীর ১৩/৩৭৭।

৩ শাফেয়িগণের পূর্বোক্ত উৎসসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ৩০৫)
غيرهم 1.

ومأخذ هذه الشروط ـ كما تقدم ـ الاحتياط لليتيم.

ولعله يقال: بأن اشتراط مثل هذه الشروط كلها أو بعضها يختلف باختلاف الحال، فقد تدعو الحاجة إلى اشتراط هذه الشروط، أو بعضها، وقد تدعو الحاجة إلى عدم اشتراط البعض منها، ما دام أن البيع نسيئة مقيد بالمصلحة، فعلى الولي أن يجتهد بالنظر إلى ما يحفظ مال اليتيم، ويحقق مصلحته، والله أعلم.

--------------------------------------------

1 المصادر السابقة للحنفية.
অন্যান্য ১।

এই শর্তাবলির উৎস হলো—যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে—এতীমের বিষয়ে সতর্কতা (احتياط) অবলম্বন করা।

সম্ভবত এটি বলা যেতে পারে যে: এ ধরণের সকল শর্ত বা এর কিছু অংশ আরোপ করা পরিস্থিতির ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কেননা কখনো এই শর্তসমূহ বা এর কোনো অংশ আরোপ করার প্রয়োজন হতে পারে, আবার কখনো এর কোনো কোনোটি শর্ত হিসেবে না রাখারও প্রয়োজন হতে পারে; যতক্ষণ পর্যন্ত বাকিতে বিক্রয় (نسيئة) জনকল্যাণ (مصلحة) দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে। সুতরাং অভিভাবকের (ولي) কর্তব্য হলো এতীমের সম্পদ হেফাযত হয় এবং তার স্বার্থ (مصلحة) হাসিল হয়—এমন বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি রেখে ইজতিহাদ (اجتهاد) করা। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

১. হানাফি মাজহাবের পূর্বোক্ত উৎসসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ৩০৬)
‌‌المطلب الخامس: بيعه بالعرض

كأن يبيع سيارة لليتيم بسيارة أخرى، أو بأقمشة، أو كتب ونحو ذلك.

فاختلف أهل العلم في جواز ذلك للولي على قولين:

القول الأول: أنه يجوز ذلك عند المصلحة. كزيادة في الثمن، ونحو ذلك.

وهو الظاهر من مذهب المالكية حيث أناطوا تصرفات الولي بالمصلحة1، وهو قول الشافعية 2، وبه قال بعض الحنابلة 3.

وحجة هذا القول: ما تقدم من الدليل على جواز بيع مال اليتيم نسيئة للمصلحة 4.

القول الثاني: الجواز بشرط عدم ضرر اليتيم.

وهو ظاهر قول الحنفية 5.

القول الثالث: عدم جواز بيعه بالعرض.

وهذا هو المشهور من مذهب الحنابلة 6.

وحجته: أن البيع عند الإطلاق يتقيد بالعرف، والعرف هو البيع بالنقد لا بالعَرَضِ7.

وأيضا: فإن البيع بالعرض لا يساوي البيع نقداً.

--------------------------------------------

1 الفروق 4/39، وشرح الخرشي 5/297.

2 روضة الطالبين 4/187، ومغني المحتاج 2/175.

3 غاية المنتهى 2/138، ومطالب أولي النهى 3/410.

4 ينظر ص (303) .

5 بدائع الصنائع 5/135.

6 شرح المنتهى للبهوتي 2/292، وغاية المنتهى 2/138، ومطالب أولي النهى 3/410.

7 ينظر: المبدع 4/367، ومطالب أولي النهى 3/463.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পণ্যদ্রব্যের (عرض) বিনিময়ে বিক্রয়

যেমন ইয়াতিমের একটি গাড়ি অন্য একটি গাড়ির বিনিময়ে, অথবা কাপড়, বই বা অনুরূপ কোনো কিছুর বিনিময়ে বিক্রয় করা।

অভিভাবকের জন্য এরূপ করা বৈধ (جواز) হওয়ার বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমগণ দুটি মতে (قولين) বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত (قول): কল্যাণের (مصلحة) উপস্থিতিতে এটি বৈধ (جواز)। যেমন মূল্যে বৃদ্ধি পাওয়া বা অনুরূপ কিছু।

এটি মালিকি মাজহাবের প্রকাশ্য অভিমত, যেখানে তারা অভিভাবকের কর্মকাণ্ডকে কল্যাণের (مصلحة) সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন; এটি শাফেয়ি মাজহাবের বক্তব্য এবং কোনো কোনো হাম্বলি আলেমও এই মত পোষণ করেছেন।

এই মতের স্বপক্ষে দলিল: কল্যাণের (مصلحة) স্বার্থে ইয়াতিমের সম্পদ বাকিতে (نسيئة) বিক্রয় করার বৈধতা (جواز) সম্পর্কে ইতিপূর্বে যে দলিল বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় মত (قول): ইয়াতিমের কোনো ক্ষতি না হওয়ার শর্তে এটি বৈধ (جواز)।

এটি হানাফিদের প্রকাশ্য অভিমত।

তৃতীয় মত (قول): পণ্যদ্রব্যের (عرض) বিনিময়ে তা বিক্রয় করা বৈধ (جواز) নয়।

এটি হাম্বলি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত।

এর সপক্ষে যুক্তি হলো: শর্তহীনভাবে বিক্রয় শব্দটি প্রচলিত প্রথার (عرف) মাধ্যমে সীমাবদ্ধ হয়; আর প্রচলিত প্রথা (عرف) হলো নগদের (نقد) বিনিময়ে কেনাবেচা করা, পণ্যদ্রব্যের (عرض) বিনিময়ে নয়।

আরও যুক্তি হলো: পণ্যদ্রব্যের (عرض) বিনিময়ে বিক্রয় নগদে (نقد) বিক্রয়ের সমতুল্য নয়।

--------------------------------------------

১. আল-ফুরুক ৪/৩৯, এবং শারহুল খারশি ৫/২৯৭।

২. রওজাতুত তালিবিন ৪/১৮৭, এবং মুগনিল মুহতাজ ২/১৭৫।

৩. গায়াতুল মুনতাহা ২/১৩৮, এবং মাতালিবু উলিন নুহা ৩/৪১০।

৪. দেখুন পৃষ্ঠা (৩০৩)।

৫. বাদায়েউস সানায়ে ৫/১৩৫।

৬. বুহুতির শারহুল মুনতাহা ২/২৯২, গায়াতুল মুনতাহা ২/১৩৮, এবং মাতালিবু উলিন নুহা ৩/৪১০।

৭. দেখুন: আল-মুবদি ৪/৩৬৭, এবং মাতালিবু উলিন নুহা ৩/৪৬৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ৩০৭)
وأيضا: فإنه مخالف للاحتياط لمال اليتيم.

ولعله يناقش هذا الاستدلال: بأنه مسلم بما إذا لم تكن هناك مصلحة ترجح بيعه بالعرض، أما إذا وجدت مصلحة ترجح بيعه بالعرض على بيعه بالنقد كان الأحوط والأصلح لليتيم بيعه بالعرض، والله أعلم.

الترجيح:

يترجح ـ والله أعلم ـ جواز بيع مال اليتيم بالعرض عند المصلحة، إذ هو ظاهر القرآن.
তদুপরি, এটি এতিমের সম্পদের ক্ষেত্রে সতর্কতা (الاحتياط) অবলম্বনের পরিপন্থী।

সম্ভবত এই যুক্তিপ্রদর্শনের (الاستدلال) বিষয়ে এই বলে আপত্তি উত্থাপন করা যেতে পারে যে: এটি তখনই স্বীকৃত হবে যখন পণ্যের বিনিময়ে বিক্রয় করার মধ্যে কোনো অগ্রাধিকারযোগ্য কল্যাণ (المصلحة) না থাকে। পক্ষান্তরে, যদি নগদ অর্থের বিনিময়ে বিক্রয়ের চেয়ে পণ্যের বিনিময়ে বিক্রয় করার মাঝে কোনো অগ্রাধিকারযোগ্য কল্যাণ (المصلحة) বিদ্যমান থাকে, তবে এতিমের জন্য সেটিই অধিকতর সতর্কতামূলক ও সংশোধনমূলক হবে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত (الترجيح):

আল্লাহই ভালো জানেন—কল্যাণের (المصلحة) উপস্থিতিতে এতিমের সম্পদ পণ্যের বিনিময়ে বিক্রয় করা বৈধ হওয়াই অধিকতর সঠিক (يترجح); কেননা এটি কুরআনের প্রকাশ্য অর্থের (الظاهر) সাথে সংগতিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ৩০৮)
‌‌المطلب السادس: رهن ماله

وفيه مسألتان:

المسالة الأولى: أن يرهنه لأمر لا يتعلق باليتيم.

إذا ارتهن الولي مال اليتيم بدين لغير اليتيم، سواء كان للولي أو غيره، فللعلماء في ذلك قولان:

القول الأول: عدم الجواز.

وهو قول جمهور أهل العلم 1.

وحجته: ما تقدم من الدليل على عدم جواز قربان مال اليتيم إلا بالتي هي أحسن، وفي رهن مال اليتيم لأمر لا يتعلق به قربان له لا بالتي هي أحسن؛ لما يترتب على ذلك من حبس ماله بغير مصلحة تعود إليه.

القول الثاني: أن الولي إذا رهن مال اليتيم بدين لنفسه جاز استحسانا.

وبه قال الحنفية 2.

وحجته: قياس رهن مال اليتيم على إيداعه 3.

ولعله يناقش من وجهين:

الوجه الأول: أن إيداع مال اليتيم إنما هو لمصلحته وحظه كخوفٍ على مال من ضياع أو سرقة ونحو ذلك، بخلاف رهنه لأمر لا يتعلق باليتيم، فلمصلحة غيره.

--------------------------------------------

1 فتاوى قاضي خان 5/607، والدر المختار وحاشيته 6/495، والشرح الكبير للدردير 3/132، وروضة الطالبين 4/187، وكشاف القناع 3/450.

2 المصدر السابقة للحنفية، والفتاوى الهندية 6/149.

3 الهداية شرح بداية المبتدي 4/135.
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তার সম্পদ বন্ধক (رهن) রাখা

এতে দুটি মাসআলা (مسألة) রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: এতিমের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন প্রয়োজনে তা বন্ধক রাখা।

যদি অভিভাবক (ولي) এতিমের সম্পদ এতিম ব্যতীত অন্য কারো ঋণের (دين) বিপরীতে বন্ধক রাখেন, চাই তা অভিভাবকের নিজের জন্য হোক বা অন্য কারো জন্য, তবে এ বিষয়ে আলেমদের দুটি মত রয়েছে:

প্রথম মত: এটি বৈধ না হওয়া।

এটি জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলেমের মত ১।

এর দলিল (حجة): এতিমের সম্পদের কাছে না যাওয়ার ব্যাপারে পূর্বে যে দলিল বর্ণিত হয়েছে, তবে তা উত্তম পন্থায় হলে ভিন্ন কথা। আর এতিমের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন প্রয়োজনে তার সম্পদ বন্ধক (رهن) রাখা উত্তম পন্থায় তার সম্পদের নিকটবর্তী হওয়া নয়; কারণ এর ফলে কোনো কল্যাণ (مصلحة) ছাড়াই তার সম্পদকে আটকে রাখা হয়।

দ্বিতীয় মত: অভিভাবক যখন নিজের ঋণের (دين) জন্য এতিমের সম্পদ বন্ধক রাখেন, তখন ইসতিহসান (استحسان) অনুযায়ী তা বৈধ।

হানাফীগণ ২ এ কথা বলেছেন।

এর দলিল (حجة): এতিমের সম্পদ বন্ধক রাখাকে তা আমানত রাখার (إيداع) ওপর কিয়াস (قياس) করা ৩।

সম্ভবত একে দুটি দিক থেকে পর্যালোচনা করা যেতে পারে:

প্রথম দিক: এতিমের সম্পদ আমানত রাখা (إيداع) কেবল তার স্বার্থ ও কল্যাণের জন্যই হয়ে থাকে, যেমন সম্পদ হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়ার ভয় এবং এই জাতীয় বিষয়াদি। পক্ষান্তরে, এতিমের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন প্রয়োজনে সম্পদ বন্ধক রাখা অন্যের উপকারের জন্য।

--------------------------------------------

১ ফাতাওয়া কাজি খান ৫/৬০৭, আদ-দুররুল মুখতার ও এর হাশিয়া ৬/৪৯৫, আদ-দারদিরের আশ-শারহুল কাবীর ৩/১৩২, রওজাতুত তালিবীন ৪/১৮৭ এবং কাশশাফুল কিনা ৩/৪৫০।

২ হানাফী মাযহাবের পূর্বোক্ত উৎসসমূহ এবং আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ ৬/১৪৯।

৩ আল-হিদায়াহ শারহু বিদায়াতিল মুবতাদি ৪/১৩৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ৩০৯)
الوجه الثاني: أن هناك فرقاً بين الوديعة والرهن، فالوديعة عقد جائز يمكن فسخه في أي وقت، أما الراهن فلازم من قبل المرتهن لا يمكن فسخه إلا برضاه.

الراجح:

يترجح ـ والله أعلم ـ قول جمهور أهل العلم، وأنه ليس للولي ولا غيره رهن مال اليتيم بأمر لا يتعلق به، إذ هو من قربانه لا بالتي هي أحسن، والقاعدة: أن من تصرف لغيره فتصرفه تصرف مصلحة لا اختيار وسفه.

المسألة الثانية: أن يرهنه لأمر يتعلق باليتيم.

يجوز رهن مال اليتيم لأمر يتعلق بحاجته، أو مصلحته.

فمثال الحاجة: أن يقترض له لحاجته إلى النفقة، أو الكسوة، أو لتوفية ما لزمه، أو لإصلاح ضياعه ونحو ذلك.

ومثال المصلحة: أن يشتري له ما فيه غبطة ظاهرة نسيئة.

كان يشتري ما يساوي مائتين بمائة نسيئة، ويرهن به ما يساوي مائة من ماله.

وإلى هذا ذهب الشافعية 1.

وعند الحنفية، والمالكية، والحنابلة 2: أن رهن مال اليتيم متعلق بحاجته.

ولم يتعرضوا للمصلحة، ولعل ما ذهب إليه الشافعية هو مقتضى قول جمهور أهل العلم، إذ إنهم يتفقون على أن تصرفات الولي منوطة بالمصلحة.

والدليل على هذا:

--------------------------------------------

1 روضة الطالبين 4/62.

2 الفتاوى الهندية 6/444، والشرح الكبير للدردير 3/232، والإنصاف 5/330، ومطالب أولي النهى 3/411.
দ্বিতীয় দিক: ওয়াদিয়া (আমানত) এবং বন্ধকের (رهن) মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ওয়াদিয়া হলো একটি বৈধ (جائز) চুক্তি যা যেকোনো সময় বাতিল করা সম্ভব, কিন্তু বন্ধক গ্রহীতার পক্ষ থেকে বন্ধক (الرهن) একটি আবশ্যকীয় (لازم) বিষয়, যা তার সম্মতি ব্যতীত বাতিল করা সম্ভব নয়।

অগ্রগণ্য (الراجح) মত:

আল্লাহই ভালো জানেন—বিদ্বানগণের অধিকাংশের (جمهور أهل العلم) মতটিই অগ্রগণ্য। আর তা হলো, অভিভাবক (ولي) বা অন্য কারো জন্য এতিমের মাল এমন কোনো কাজে বন্ধক রাখা বৈধ নয় যার সাথে এতিমের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নয়। কেননা এটি এতিমের মালের নিকটবর্তী হওয়ার সেই পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয় যা সর্বোত্তম। আর মূলনীতি হলো: যে ব্যক্তি অন্যের পক্ষ থেকে কোনো কার্য পরিচালনা করে, তার পরিচালনা হতে হবে কল্যাণ (مصلحة) ভিত্তিক, ইচ্ছাধীন বা নির্বুদ্ধিতাসম্পন্ন নয়।

দ্বিতীয় মাসআলা (المسألة الثانية): এতিমের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রয়োজনে তা বন্ধক রাখা।

এতিমের প্রয়োজন বা কল্যাণের (مصلحة) সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ের জন্য তার মাল বন্ধক রাখা বৈধ (يجوز)।

প্রয়োজনের উদাহরণ হলো: তার ভরণ-পোষণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, তার ওপর অর্পিত ঋণ পরিশোধ অথবা তার ভূ-সম্পত্তি সংস্কার ইত্যাদির প্রয়োজনে তার জন্য ঋণ গ্রহণ করা।

কল্যাণের (مصلحة) উদাহরণ হলো: বাকিতে (نسيئة) তার জন্য এমন কিছু ক্রয় করা যাতে সুস্পষ্ট লাভ রয়েছে।

যেমন—দুইশত মূল্যের কোনো বস্তু বাকিতে (نسيئة) একশত দিয়ে ক্রয় করা এবং এর বিপরীতে তার সম্পদ থেকে একশত মূল্যের কোনো কিছু বন্ধক রাখা।

শাফিঈ মাযহাবের (الشافعية) অনুসারীগণ এই মত পোষণ করেছেন ১।

অন্যদিকে হানাফী, মালিকী এবং হাম্বলী মাযহাবের (الحنابلة) মতে ২: এতিমের মাল বন্ধক রাখা তার প্রয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট।

তারা কল্যাণের (المصلحة) বিষয়টি উল্লেখ করেননি। সম্ভবত শাফিঈগণের মতটিই অধিকাংশ বিদ্বানের মতের দাবি, কারণ তারা এ বিষয়ে একমত যে, অভিভাবকের কর্মকাণ্ড কল্যাণের (المصلحة) সাথে শর্তযুক্ত।

এর দলিল হলো:

--------------------------------------------

১ রওজাতুত তালিবিন ৪/৬২।

২ আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া ৬/৪৪৪, আশ-শারহুল কাবীর লিদ-দারদীর ৩/২৩২, আল-ইনসাফ ৫/৩৩০, মাতালিবু উলিন নুহা ৩/৪১১।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ৩১০)
1- ما تقدم من الأدلة على عدم قربان مال اليتيم إلا بالتي هي أحسن1.

2- أن الرهن من توابع التجارة، لأن التاجر يحتاج إليه، والوصي يملك الاتجار بماله، فملك توابعها2.

وفي وجه للشافعية: لا يجوز رهن مال اليتيم بحال.

لكن حكم عليه النووي بالشذوذ 3.

--------------------------------------------

1 ينظر ص (290) .

2 بدائع الصنائع 5/154.

3 روضة الطالبين 4/62.
1- এতিমের সম্পদের নিকটবর্তী না হওয়ার ব্যাপারে পূর্বে অতিবাহিত দলীলসমূহ, তবে তা যদি হয় সর্বোত্তম পন্থায়।

2- নিশ্চয়ই বন্ধক রাখা ব্যবসার অনুষঙ্গসমূহের অন্তর্ভুক্ত, কেননা ব্যবসায়ীর এর প্রয়োজন হয়; আর অভিভাবক যেহেতু এতিমের সম্পদ দ্বারা ব্যবসা করার অধিকার রাখেন, তাই তিনি এর অনুষঙ্গসমূহেরও অধিকার লাভ করেন।

শাফেয়ীগণের একটি মত অনুযায়ী: কোনো অবস্থাতেই এতিমের সম্পদ বন্ধক রাখা বৈধ নয়।

কিন্তু ইমাম নববী একে বিচ্ছিন্ন (شاذ) বলে অভিহিত করেছেন।

--------------------------------------------

১ দেখুন পৃষ্ঠা (২৯০)।

২ বাদায়িউস সানায়ে ৫/১৫৪।

৩ রওদাতুত তালিবিন ৪/৬২।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ৩১১)
‌‌المبحث الثاني: الإفادة من مال اليتيم في عقود التبرعات.

‌‌المطلب الأول: إقراض ماله.

…

المبحث الثاني: الإفادة من ماله في عقود التبرعات

وفيه مطالب:

المطلب الأول: قرض ماله

وفيه مسألتان:

المسألة الأولى: ملك ذلك.

اختلف العلماء رحمهم الله في ملك الولي لقرض مال اليتيم على قولين:

القول الأول: أنه يجوز قرضه للمصلحة مطلقاً.

مثل: أن يخاف عليه الهلاك من نهب، أو غرق، أو غيرهما، أو يكون مما يتلف بتطاول مدته، أو حديثه خير من قديمه كالحنطة ونحوها، فيقرضه خوفاً من السوس، أو نقص قيمته، وأشباه هذا.

وهو قول جمهور أهل العلم1. واستثنى الحنفية، وبعض الشافعية القاضي: فله قرضه مطلقا.

وحجة هذا القول:

1- ما تقدم من الأدلة على عدم قربان مال اليتيم إلا بالتي هي أحسن2، وإقراضه عند المصلحة قربان له بالتي هي أحسن.

2- ما ورد أن ابن عمر رضي الله عنهما “كان يستقرض مال اليتيم” 3.

--------------------------------------------

1 بدائع الصنائع 5/153، وحاشية الطحطاوي 4/342، والفروق 4/39، والقوانين ص 327، والمهذب مع تكملة المجموع الثانية 13/353، والمحرر 1/347، والفروع 4/319.

2 ينظر: ص (290) .

3 سبق تخريجه (ص: 293) .
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (مبحث): দানমূলক চুক্তিতে এতিমের সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়া.

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ (مطلب): তার সম্পদ ঋণ দেওয়া.

…

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (مبحث): দানমূলক চুক্তিতে তার সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়া

এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ (مطلب) রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ (مطلب): তার সম্পদ ঋণ দেওয়া

এতে দুটি মাসআলা (مسألة) রয়েছে:

প্রথম মাসআলা (مسألة): এর এখতিয়ার বা মালিকানা।

এতিমের সম্পদ ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকের এখতিয়ার নিয়ে আলেমগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) দুটি মতে (قول) মতভেদ করেছেন:

প্রথম মত (قول): কল্যাণের (مصلحة) স্বার্থে এটি সাধারণভাবে ঋণ দেওয়া জায়েজ (جائز)।

যেমন: সম্পদ লুটতরাজ, ডুবে যাওয়া বা অন্য কোনো কারণে ধ্বংস হওয়ার ভয় থাকলে, অথবা এমন বিষয় যা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে নষ্ট হয়ে যায়, অথবা যার নতুনটি পুরাতনটির চেয়ে উত্তম—যেমন গম বা অনুরূপ কিছু; ফলে পোকা ধরা বা মূল্য কমে যাওয়ার ভয়ে এবং এই জাতীয় ক্ষেত্রে তা ঋণ দেওয়া হয়।

এটি অধিকাংশ (جمهور) আলেমদের মত। তবে হানাফি এবং শাফেয়ি মাযহাবের কেউ কেউ বিচারককে (قاضي) এর ব্যতিক্রম বলেছেন: তাঁর জন্য সাধারণভাবে ঋণ দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে।

এই মতের দলিলসমূহ:

1- এতিমের সম্পদের নিকটবর্তী না হওয়া সংক্রান্ত ইতিপূর্বে উল্লিখিত দলিলসমূহ, তবে যা সর্বোত্তম পন্থায় হয় (তা জায়েজ), আর কল্যাণের (مصلحة) প্রয়োজনে ঋণ দেওয়া মূলত সর্বোত্তম পন্থায় সম্পদের নিকটবর্তী হওয়ারই অন্তর্ভুক্ত।

2- যা বর্ণিত হয়েছে যে, ইবনে উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) “এতিমের সম্পদ ঋণ নিতেন”।

--------------------------------------------

১ বাদায়িউস সানায়ি ৫/১৫৩, হাশিয়াতুত তাহতাওয়ি ৪/৩৪২, আল-ফুরুক ৪/৩৯, আল-কাওয়ানিন পৃষ্ঠা ৩২৭, আল-মুহাজ্জাব ও তাকমিলাতুল মাজমু আস-সানিয়াহ ১৩/৩৫৩, আল-মুহাররার ১/৩৪৭, আল-ফুরু ৪/৩১৯।

২ দেখুন: পৃষ্ঠা (২৯০)।

৩ ইতিপূর্বে এর সূত্রায়ন (تخريج) করা হয়েছে (পৃষ্ঠা: ২৯৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ৩১২)
قال الإمام أحمد: “إنما استقرض نظراً لليتيم، واحتياطا له إن أصابه شيء غرمه”. 1

3- أن لليتيم في إقراض ماله للمصلحة حظاً، فجاز كالتجارة به.

4- أنه إذا لم يكن في إقراض ماله حظ لم يجز؛ لأنه تبرع بمال اليتيم فلم يجز كهبته2.

واحتج من استثنى القاضي فله قرض ماله مطلقا:

1- أن إقراض القاضي من باب حفظ الدين، إذ الظاهر أن القاضي يختار أملى النّاس وأوثقهم، وله ولاية التّفحّص عن أحوالهم؛ فيختار مَن لا يتحقّق إفلاسه ظاهراً وغالباً3.

2- أن القاضي ينشغل عن مال اليتيم؛ لكثرة أشغاله، فيملك إقراضه 4.

القول الثاني: عدم جواز قرض مال اليتيم مطلقاً.

وهو وجه عند الشافعية 5، ورواية عن الإمام أحمد 6.

وحجة هذا القول:

1- ما ورد عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: “لا تشتر شيئاً من ماله ـ أي اليتيم ـ ولا تستقرض شيئاً من ماله 7.

ونوقش هذا الاستدلال: بأنه محمول على عدم المصلحة، كما أنه مخالف

--------------------------------------------

1 المغني 6/344، والشرح الكبير مع الإنصاف 13/378.

2 المصدر السابق، وكشاف القناع 4/449.

3 بدائع الصّنائع 5/153.

4 مغني المحتاج 2/175.

5 روضة الطالبين 4/191.

6 الإنصاف مع الشرح الكبير 13/378.

7 سبق تخريجه (293) .
ইমাম আহমাদ বলেছেন: “তিনি ইয়াতীমের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে এবং তার সুরক্ষার সতর্কতাস্বরূপ ঋণ গ্রহণ করেছেন, যাতে যদি তার কোনো ক্ষতি হয় তবে তিনি তা পূরণ (জরিমানা) করতে পারেন।” ১

৩- কল্যাণের উদ্দেশ্যে ইয়াতীমের অর্থ ঋণ দেওয়ার মধ্যে তার স্বার্থ রয়েছে, তাই এটি তার অর্থ দিয়ে ব্যবসা করার মতোই বৈধ।

৪- যদি তার অর্থ ঋণ দেওয়ার মধ্যে কোনো স্বার্থ না থাকে, তবে তা বৈধ হবে না; কারণ এটি ইয়াতীমের সম্পদ থেকে দান করার অন্তর্ভুক্ত, যা তার সম্পদ দান করার মতোই অবৈধ।২

যারা বিচারককে (কাজী) এর ব্যতিক্রম গণ্য করেন, তাদের যুক্তি হলো তিনি (কাজী) নিঃশর্তভাবে ইয়াতীমের অর্থ ঋণ দিতে পারেন:

১- বিচারকের ঋণ প্রদান ঋণ সংরক্ষণের অন্তর্ভুক্ত, কারণ সাধারণত বিচারক সবচেয়ে সামর্থ্যবান ও অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) ব্যক্তিদের নির্বাচন করেন এবং তাদের অবস্থা যাচাই করার ক্ষমতা তার আছে; তাই তিনি এমন কাউকে বেছে নেন যার দেউলিয়া হওয়া বাহ্যত ও সাধারণত নিশ্চিত নয়।৩

২- বিচারক তার কাজের আধিক্যের কারণে ইয়াতীমের সম্পদের তদারকিতে ব্যস্ত থাকতে পারেন না, তাই তিনি তা ঋণ দেওয়ার অধিকার রাখেন। ৪

দ্বিতীয় মত: ইয়াতীমের সম্পদ ঋণ দেওয়া একেবারেই বৈধ নয়।

এটি শাফেঈ মাযহাবের একটি অভিমত ৫, এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) ৬।

এই মতের দলিল:

১- ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “তার (অর্থাৎ ইয়াতীমের) সম্পদ থেকে কিছুই ক্রয় করো না এবং তার সম্পদ থেকে কিছুই ঋণ গ্রহণ করো না।” ৭

এই দলিলের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে যে: এটি যেখানে কোনো কল্যাণ নেই সেই বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য, আর এটি বিরোধী

--------------------------------------------

১ আল-মুগনি ৬/৩৪৪, এবং আশ-শারহুল কাবীর মাআল ইনসাফ ১৩/৩৭৮।

২ পূর্বোক্ত উৎস, এবং কাশশাফুল কিনা ৪/৪৪৯।

৩ বাদায়েউস সানায়ে ৫/১৫৩।

৪ মুগনিল মুহতাজ ২/১৭৫।

৫ রওদাতুত তালিবীন ৪/১৯১।

৬ আল-ইনসাফ মাআশ শারহিল কাবীর ১৩/৩৭৮।

৭ পূর্বে এর তাখরীজ (تخريج) করা হয়েছে (২৯৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ইফাদাতু মিন মালিল ইয়াতীম ফী উকূদিল মুআওয়াজাত ওয়াত তাবাররুআত (পৃষ্ঠা: ৩১৩)
لما ورد عن ابن عمر رضي الله عنهما1.

2- أن القرض إزالة الملك من غير عوض للحال، وهو معنى قولهم: القرض تبرع، وهو لا يملك سائر التبرعات 2.

ولعله يناقش: بعدم التسليم، فالقرض ليس تبرعاً من كل وجهٍ، بل يثبت بدله، وما فيه من شائبة التبرع مقرون بالمصلحة.

الترجيح:

يترجح ـ والله أعلم ـ جواز قرض مال اليتيم للمصلحة، لقوة دليله، والإجابة عن دليل المخالف.

المسألة الثانية: شرط القرض عند من أجازه.

الأول: شرط الرهن.

اختلف الفقهاء رحمهم الله في اشتراط الرهن لإقراض مال اليتيم على قولين:

القول الأول: أنه إن رأى الولي المصلحة في أخذ الرهن أخذه، وإن رأى المصلحة في تركه تركه.

وهذا مذهب الشافعية3، وعند الحنابلة4، عدم اشتراط الرهن، ولعل هذا فيما إذا كانت المصلحة في تركه، فإن كانت المصلحة في أخذه اشترط، إذ تصرفات الولي عند الحنابلة منوطة بالمصلحة.

وحجته:

1- ما تقدم من الأدلة على عدم قربان مال اليتيم إلا بالتي هي أحسن5.

--------------------------------------------

1 سبق تخريجه (292) .

2 بدائع الصنائع 5/153.

3 المهذب مع تكملة المجموع الثانية 13/354، وأسنى المطالب 2/214.

4 الإنصاف مع الشرح الكبير 13/ 379 والمبدع 4/339.

5 ينظر: ص (290) .
যেহেতু ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে ১।

২- ঋণ (قرض) হলো তাৎক্ষণিক কোনো বিনিময় ছাড়াই মালিকানা বিলুপ্ত করা; এটিই তাদের এই কথার অর্থ যে: ঋণ (قرض) হলো একটি দান (تبرع), আর তিনি অন্যান্য সব দান (تبرعات) করার অধিকার রাখেন না ২।

সম্ভবত এর উত্তরে বলা যেতে পারে: এটি অনস্বীকার্য নয়, কারণ ঋণ (قرض) সব দিক থেকে দান (تبرع) নয়; বরং এর বিনিময় সাব্যস্ত হয়। আর এতে দানের (تبرع) যে সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে তা জনস্বার্থের (مصلحة) সাথে সংশ্লিষ্ট।

প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত (الترجيح):

আল্লাহ অধিক জ্ঞাত—দলিলের বলিষ্ঠতা এবং বিরোধীদের দলিলের উত্তর প্রদানের কারণে জনস্বার্থের (مصلحة) উদ্দেশ্যে এতিমের মাল ঋণ (قرض) প্রদান বৈধ (جواز) হওয়াই প্রাধান্যযোগ্য।

দ্বিতীয় মাসআলা: যারা একে বৈধ (أجازه) বলেছেন তাদের নিকট ঋণের (قرض) শর্ত (شرط)।

প্রথম: বন্ধকের (رهن) শর্ত (شرط)।

ফকিহগণ (فقهاء) (রাহিমাহুমুল্লাহ) এতিমের মাল ঋণ (إقراض) দেওয়ার ক্ষেত্রে বন্ধক (رهن) রাখার শর্তযুক্ত করার ব্যাপারে দুটি মতে মতভেদ (اختلف) করেছেন:

প্রথম মত (القول الأول): যদি অভিভাবক (ولي) বন্ধক (رهن) গ্রহণের মধ্যে জনস্বার্থ (المصلحة) দেখেন তবে তা গ্রহণ করবেন, আর যদি তা বর্জন করার মধ্যে জনস্বার্থ (المصلحة) দেখেন তবে তা বর্জন করবেন।

এটি শাফেয়ী ৩ মাযহাব (مذهب), এবং হাম্বলী ৪ মাযহাব মতে বন্ধক (رهن) রাখা শর্ত (اشتراط) নয়; সম্ভবত এটি তখনই যখন তা বর্জন করার মধ্যে জনস্বার্থ (المصلحة) থাকে। তবে যদি তা গ্রহণের মধ্যে জনস্বার্থ (المصلحة) থাকে তবে তা শর্ত (اشترط) হিসেবে গণ্য হবে, কেননা হাম্বলীদের মতে অভিভাবকের (ولي) কর্মকাণ্ড জনস্বার্থের (مصلحة) ওপর নির্ভরশীল।

এর দলিল (وحجته):

১- এতিমের মালের নিকটবর্তী না হওয়ার ব্যাপারে ইতিপূর্বে অতিবাহিত দলিলসমূহ, তবে তা সর্বোত্তম পন্থায় হতে হবে ৫।

--------------------------------------------

১ ইতিপূর্বে এর তাখরিজ (تخريج) (২৯২) বর্ণিত হয়েছে।

২ বাদায়েউস সানায়ে ৫/১৫৩।

৩ আল-মুহাযযাব মাআ তাকমিলাতিল মাজমু আস-সানিয়াহ ১৩/৩৫৪, এবং আসনা আল-মাতালিব ২/২১৪।

৪ আল-ইনসাফ মাআ আশ-শারহ আল-কাবীর ১৩/৩৭৯ এবং আল-মুবদি ৪/৩৩৯।

৫ দেখুন: পৃষ্ঠা (২৯০)।