(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: -)
الاشتراك المتعمد في الجناية على النفس بالقتل أو الجرح القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الاشتراك المتعمد في الجناية على النفس بالقتل أو الجرح
المؤلف: عبد الله بن معتق السهلي
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: العدد 119 - السنة 35 - 1423 هـ/2004م
عدد الصفحات: 404
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হত্যা বা জখমের মাধ্যমে প্রাণের বিরুদ্ধে অপরাধে ইচ্ছাকৃত অংশীদারিত্ব বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: হত্যা বা জখমের মাধ্যমে প্রাণের বিরুদ্ধে অপরাধে ইচ্ছাকৃত অংশীদারিত্ব
লেখক: আবদুল্লাহ বিন মুতিক আল-সাহলি
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: সংখ্যা ১১৯ - বর্ষ ৩৫ - ১৪২৩ হিজরি / ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৪
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৪১)
ال
مقدَّمةالحمد لله الذي خلق الإنسان في أحسن تقويم، وفضله على كثير من المخلوقات بالعقل والتفكير، والصلاة والسلام على الهادي البشير، وآله وأصحابه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد؛ فإن الله تبارك وتعالى خلق الإنسان، ونفخ فيه الروح وسجد له الملائكة، وجعله خليفته في الأرض، وفضله على كثير مما خلق تفضيلا، قال تعالى: {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلاً} 1 وتجلت في خلقه عظمته حيث قال: عز وجل: {فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ} 2، وتولاه بحفظه فشرع احترامه وحرم قتله بغير حق، قال تعالى: {وَلا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيماً} 3، وقال تعالى: {وَلا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَاّ بِالْحَقِّ وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُوماً فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَاناً فَلا يُسْرِفْ فِي الْقَتْلِ إِنَّهُ كَانَ مَنْصُوراً} ، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " أول ما يقضى بين الناس، يوم القيامة، في الدماء " 4.
--------------------------------------------
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষকে সর্বোত্তম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তির মাধ্যমে বহু সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সুসংবাদদাতা পথপ্রদর্শকের প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণের (التابعين) প্রতি।
অতঃপর; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন, ফেরেশতাদের দিয়ে তাকে সিজদা করিয়েছেন এবং তাকে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন। আর তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তার অনেকের ওপর তাকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আর আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, তাদের স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দিয়েছি, তাদের উত্তম রিযিক দান করেছি এবং আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি} ১। তাঁর সৃষ্টিতে তাঁর মহিমা প্রস্ফুটিত হয়েছে, যেখানে তিনি মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত অবস্থায় বলেছেন: {অতএব মহিমান্বিত আল্লাহ, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা} ২। আর তিনি তার সুরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন, ফলে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাকে বিধিবদ্ধ করেছেন এবং অন্যায়ভাবে তাকে হত্যা করা নিষিদ্ধ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আর তোমরা একে অপরকে হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু} ৩। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: {আল্লাহ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করো না; কেউ অন্যায়ভাবে নিহত হলে তার উত্তরাধিকারীকে তো আমি প্রতিশোধ গ্রহণের অধিকার দিয়েছি; সুতরাং হত্যার ব্যাপারে সে যেন বাড়াবাড়ি না করে; সে তো সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছেই}। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম যে বিষয়ের ফয়সালা করা হবে, তা হলো রক্তপাত সংক্রান্ত" ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৪২)
وقد عظمت العقوبة في الاعتداء على النفس المؤمنة في الدنيا بالقود في النفس والقصاص في الطرف، وفي الآخرة بما توعد الله به القاتل من غضبه ولعنته، وأن مصيره إلى جهنم وبئس المصير، قال تعالى: {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِناً مُتَعَمِّداً فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِداً فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَاباً عَظِيماً} 1، وقوله تعالى: {وَلا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَاّ بِالْحَقِّ وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُوماً فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَاناً فَلا يُسْرِفْ فِي الْقَتْلِ} 2، وقوله تعالى: {وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنَ بِالْعَيْنِ وَالأَنْفَ بِالأَنْفِ وَالأَذُنَ بِالأُذُنِ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ} 3. وفي إقامة القصاص على الجاني حياة للناس، قال تعالى: {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} 4، كيف لا والقاصد للاعتداء على الإنسان إذا علم أنه مقتول أو معاقب على فعلته فكر كثيراً، ونظر في العاقبة، وثاب إلى رشده، وكف عن فعلته، فكان في ذلك حقنٌ لدمه ودم غيره وحياة له ولغيره من الناس، أجل بتطبيق القصاص في النفس وما دونها تحقن الدماء، وينتشر الأمن، ويطمئن الإنسان على نفسه وماله وعرضه. ومن أمعن النظر في بلادنا المباركة التي حرص ولاة الأمر فيها على تطبيق شرع الله يجد أنها تنعم بالأمن والطمأنينة والعدل والاستقرار بفضل التزامها بتطبيق شرع الله مما جعلها مضرب المثل.
ولما كانت مسائل القصاص في النفس والطرف كثيرة ومتشعبة أحببت أن
--------------------------------------------
মুমিন প্রাণের ওপর চড়াও হওয়ার ক্ষেত্রে ইহকালে প্রাণের বিনিময়ে দণ্ড এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কিসাসের মাধ্যমে শাস্তিকে অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে। আর পরকালে হত্যাকারীর জন্য আল্লাহ তাআলা তাঁর ক্রোধ ও লানতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা নির্ধারণ করেছেন জাহান্নাম, যা কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়স্থল। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন, তাকে লানত করেছেন এবং তার জন্য মহা আজাব প্রস্তুত করে রেখেছেন} ১। মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে যথার্থ কারণ ছাড়া হত্যা করো না। আর যাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়, আমি তার অভিভাবককে ক্ষমতা দান করেছি; সুতরাং সে যেন হত্যার ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন না করে} ২। মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি তাদের জন্য তাতে বিধান দিয়েছিলাম যে, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত এবং জখমের বদলে সমপরিমাণ জখমের কিসাস} ৩। অপরাধীর ওপর কিসাস কার্যকর করার মধ্যেই মানুষের জন্য জীবন নিহিত রয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {হে বুদ্ধিমানগণ, কিসাসের মধ্যেই তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে, যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} ৪। কেনই বা হবে না, যেখানে কোনো ব্যক্তি যখন মানুষের ওপর আক্রমণ করার সংকল্প করে এবং সে যখন জানতে পারে যে তাকেও হত্যা করা হবে কিংবা তার কৃতকর্মের জন্য দণ্ড দেওয়া হবে, তখন সে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং পরিণতির কথা ভেবে সুবুদ্ধিতে ফিরে আসে এবং তার কাজ থেকে বিরত হয়। ফলে এর মাধ্যমে তার নিজ রক্ত এবং অপরের রক্ত সংরক্ষিত হয় এবং তার নিজের ও অন্য মানুষের জন্য প্রাণের নিরাপত্তা অর্জিত হয়। হ্যাঁ, প্রাণ এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রে কিসাসের বিধান প্রয়োগের মাধ্যমেই রক্তপাত বন্ধ হয়, নিরাপত্তা বিস্তৃত হয় এবং মানুষ তার জান, মাল ও ইজ্জত-আব্রুর ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকে। যারা আমাদের এই বরকতময় ভূখণ্ডকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন—যেখানে নেতৃবৃন্দ আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে অত্যন্ত সচেষ্ট—তারা দেখতে পাবেন যে, এটি আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের ফলে শান্তি, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও স্থিতিশীলতা ভোগ করছে, যা একে একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
যেহেতু প্রাণ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কিসাস সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ অত্যন্ত ব্যাপক ও শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত, তাই আমি পছন্দ করলাম যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৪৩)
أسهم ببيان شيء من أحكامه، فنظرت في مسألة الاشتراك في الجناية بقتل النفس المحترمة أو جرحها ظلما وعدوانا، فوجدت الاختلاف في القود بها والقصاص في الأطراف فيها حاصلا فأحببت أن أجلي الحق فيها وأكشف غموضها بأسلوب علمي قريب إلى الإفهام في مؤلف سميته "الاشتراك المتعمد في الجناية على النفس بالقتل أو الجرح ".
وقسمت هذا البحث إلى مقدمة وخمسة مباحث وخاتمة.
المقدمة: وتشتمل على الافتتاحية وخطة البحث ومنهجه.
المبحث الأول:
في تعريف الجناية لغة واصطلاحا وبيان أقسامها.
المبحث الثاني:
في حكم القتل بغير حق.
المبحث الثالث:
مشروعية القصاص في النفس وما دون النفس.
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: في مشروعية القصاص في الجناية على النفس.
المطلب الثاني: في مشروعية القصاص في الجناية على ما دون النفس.
المبحث الرابع: وفيه ثلاثة مطالب.
المطلب الأول:
في الاشتراك في الجناية على الواحد بالقتل.
المطلب الثاني:
في اشتراك الأب والأجنبي في قتل الولد.
আমি এর বিধানাবলি বর্ণনার প্রয়াস পেয়েছি। আমি অন্যায় ও শত্রুতা বশত সংরক্ষিত প্রাণ (نفس محترمة) হত্যা বা জখম করার ক্ষেত্রে অপরাধে অংশীদারিত্বের বিষয়টি পর্যালোচনা করেছি। আমি দেখেছি যে, এ সংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ড (قود) এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কিসাস (قصاص) গ্রহণের ক্ষেত্রে মতভেদ বিদ্যমান। তাই আমি একটি সহজবোধ্য ও তাত্ত্বিক পদ্ধতিতে সত্যকে উন্মোচিত করতে এবং এর অস্পষ্টতা দূর করতে চেয়েছি। আমি এই রচনার নাম দিয়েছি "প্রাণহানি বা জখমের মাধ্যমে অপরাধে ইচ্ছাকৃত অংশীদারিত্ব"।
আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা, পাঁচটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি।
ভূমিকা: এতে প্রারম্ভিকা, গবেষণার পরিকল্পনা ও পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ:
আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে অপরাধের (جناية) সংজ্ঞা এবং এর প্রকারভেদের বর্ণনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:
অন্যায়ভাবে হত্যার বিধান প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ:
জীবন ও জীবনের নিম্নে (অঙ্গপ্রত্যঙ্গ) কিসাসের (قصاص) বৈধতা।
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: জীবনের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধে কিসাসের (قصاص) বৈধতা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জীবনের নিম্নে (অঙ্গপ্রত্যঙ্গ) সংঘটিত অপরাধে কিসাসের (قصاص) বৈধতা প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম অনুচ্ছেদ:
একজনকে হত্যার মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধে অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ:
সন্তান হত্যায় পিতা এবং বহিরাগত ব্যক্তির অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৪৪)
المطلب الثالث:
في اشتراك الصبي والمجنون والبالغ في القتل.
المبحث الخامس:
في الاشتراك المتعمد في الجناية على الواحد بالجرح أو القطع.
الخاتمة: ذكرت فيها أهم نتائج البحث.
وسلكت في إعداد هذا البحث المنهج الآتي:
1- جمعت المادة العلمية المتعلقة بالاشتراك المعتمد في الجناية على النفس بالقتل أو الجرح.
2- درست المسألة الواردة في البحث دراسة موازنة وحرصت على بيان المذاهب الأربعة في المسألة، وقد أذكر أقوال بعض الصحابة والتابعين وغيرهم من الفقهاء.
3- حرصا مني على إخراج المسألة بأسلوب مبسط، يسهل معه معرفة الحكم في المسألة صدرتها بالإجماع أو الاتفاق إن كانت من المسائل المتفق أو المجمع عليها، كما أنني إن رأيت الخلاف ليس قويا في المسألة صدرت المسألة بقول أكثر أهل العلم، وبعد ذلك أشير إلى القول المخالف ثم أذكر أدلة كل قول، وما قد يرد عليه من اعتراض إن وجد، ثم أختم المسألة بالقول الراجح، وقد أؤخر الاعتراضات مع الترجيح.
4- حرصت على نقل أقوال الفقهاء من مصادرها الأصلية.
5- ذكرت أرقام الآيات الواردة في البحث مع بيان أسماء سورها.
6- خرجت الأحاديث الواردة في البحث مبينا الكتاب والباب والجزء والصفحة. فإن كان الحديث في الصحيحين أو في أحدهما اكتفيت
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ:
হত্যার ক্ষেত্রে শিশু, উন্মাদ ও প্রাপ্তবয়স্কের অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ:
জখম বা অঙ্গচ্ছেদের মাধ্যমে একজনের বিরুদ্ধে অপরাধে ইচ্ছাকৃত অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে।
উপসংহার: এতে আমি গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো উল্লেখ করেছি।
এই গবেষণাটি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
১- হত্যার মাধ্যমে প্রাণের বিরুদ্ধে অপরাধ বা জখম করার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত অংশীদারিত্ব সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক উপাত্তসমূহ সংগ্রহ করেছি।
২- গবেষণায় বর্ণিত মাসয়ালাগুলো তুলনামূলক পদ্ধতিতে অধ্যয়ন করেছি এবং এক্ষেত্রে চার মাজহাবের অভিমত বর্ণনার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি। অনেক ক্ষেত্রে আমি সাহাবী, তাবেয়ী এবং অন্যান্য ফকিহগণের বক্তব্যও উল্লেখ করেছি।
৩- মাসয়ালাগুলো সহজ পদ্ধতিতে উপস্থাপন করার ব্যাপারে আমি যত্নশীল ছিলাম, যাতে মাসয়ালার বিধান জানা সহজ হয়। মাসয়ালাটি যদি ঐক্যমত্য (إجماع) বা সমঝোতা (اتفاق) ভিত্তিক হয়, তবে তা দিয়ে আলোচনা শুরু করেছি। একইভাবে, যদি মাসয়ালার মতভেদটি জোরালো মনে না হয়, তবে অধিকাংশ আলেমের মত দিয়ে শুরু করেছি। এরপর আমি ভিন্নমতটির দিকে ইঙ্গিত করেছি এবং প্রতিটি মতের দলিল উল্লেখ করেছি, সেই সাথে কোনো আপত্তি থাকলে তাও বর্ণনা করেছি। পরিশেষে গ্রহণযোগ্য (راجح) মতের মাধ্যমে মাসয়ালাটি শেষ করেছি; তবে কখনো কখনো আপত্তির জবাবগুলো প্রাধান্য প্রদানের আলোচনার সাথে শেষে উল্লেখ করেছি।
৪- ফকিহগণের বক্তব্যসমূহ তাদের মূল উৎস থেকে উদ্ধৃত করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম।
৫- গবেষণায় বর্ণিত আয়াতসমূহের নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট সূরার নাম উল্লেখ করেছি।
৬- গবেষণায় উল্লিখিত হাদিসগুলোর তখরিজ (تخريج) করেছি এবং সংশ্লিষ্ট কিতাব, অধ্যায়, খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর বর্ণনা করেছি। হাদিসটি যদি সহীহায়েন বা তাদের কোনো একটিতে বর্ণিত থাকে, তবে আমি কেবল তাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৪৫)
بتخريجه منهما أو من أحدهما، وإن لم يكن فيهما أو في أحدهما اجتهدت في تخريجه من كتب السنة الأخرى مع ذكر درجة الحديث صحة أو ضعفا معتمدا على الكتب التي تعنى بذلك.
7- بينت معاني الكلمات التي تحتاج إلى بيانها معتمدا على الكتب التي تعنى بذلك.
8-لم أترجم للأعلام الواردة في البحث خشية الإطالة.
9- بينت في نهاية البحث في الخاتمة أهم النتائج التي توصلت إليها.
10- وضعت فهرسا للمصادر التي اعتمدت عليها مرتبا حسب الحروف الهجائية، وآخر للموضوعات.
উভয় কিতাব কিংবা তাদের কোনো একটি থেকে হাদিসটি তাখরিজ (تخريج) করার মাধ্যমে। আর যদি তা উক্ত কিতাবদ্বয়ে বা তাদের কোনো একটিতেও না থাকে, তবে আমি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের ওপর ভিত্তি করে হাদিসের মান—বিশুদ্ধতা (صحة) কিংবা দুর্বলতা (ضعف)—উল্লেখপূর্বক অন্যান্য সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে তা তাখরিজ (تخরিজ) করার প্রয়াস চালিয়েছি।
৭- সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে আমি ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয় শব্দাবলির অর্থ স্পষ্ট করেছি।
৮- কলেবর দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় গবেষণায় উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের জীবনী (ترجمة) উল্লেখ করিনি।
৯- গবেষণার শেষে উপসংহারে আমি প্রাপ্ত প্রধান ফলাফলসমূহ বর্ণনা করেছি।
১০- আমি আমার নির্ভরকৃত উৎসগ্রন্থসমূহের একটি বর্ণানুক্রমিক এবং একটি বিষয়ভিত্তিক নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৪৬)
المبحث الأول:
تعريف الجناية وبيان أقسامها
تعريف الجناية:
الجناية لغة: مصدر جنى جناية، وجمعه جنايات، وجمعت – وإن كانت مصدرا – لتنوعها إلى عمد وشبه عمد وخطأ. والجناية؛ الذنب والجرم وما يفعله الإنسان مما يوجب عليه القصاص والعقاب في الدنيا والآخرة. يقال: جنى جناية إذا جر جريرة على نفسه أو على قومه.1
واصطلاحا: هي التعدي على البدن بما يوجب عليه قصاصا أو مالا2.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ:
অপরাধের (الجناية) সংজ্ঞা এবং এর প্রকারভেদের বর্ণনা
অপরাধের (الجناية) সংজ্ঞা:
আভিধানিক অর্থে অপরাধ (الجناية): এটি ‘জনা জিনায়াতান’ (جنى جناية) থেকে আগত ক্রিয়ামূল (مصدر), এর বহুবচন হলো ‘জিনায়াত’। এটি ক্রিয়ামূল (مصدر) হওয়া সত্ত্বেও বহুবচনে ব্যবহৃত হয়েছে কারণ এর প্রকারভেদগুলো বৈচিত্র্যময়, যেমন: ইচ্ছাকৃত (عمد), ইচ্ছাকৃতের সদৃশ (شبه عمد) এবং ভুলবশত (خطأ)। আর অপরাধ (الجناية) হলো পাপ ও অপরাধ এবং মানুষ যা করে যার ফলে দুনিয়া ও আখেরাতে তার ওপর কিসাস (قصاص) ও শাস্তি অবধারিত হয়। বলা হয়ে থাকে: ‘সে অপরাধ করেছে’ (جنى جناية) যখন সে নিজের ওপর বা তার সম্প্রদায়ের ওপর কোনো দায় বা অপরাধ (جريرة) টেনে আনে।১
পারিভাষিক সংজ্ঞায়: এটি হলো শরীরের ওপর এমনভাবে সীমালঙ্ঘন করা যা কিসাস (قصاص) অথবা অর্থদণ্ড (مال) আবশ্যক করে।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৪৬)
أقسام الجناية: تقدم في تعريف الجناية اصطلاحا أنها التعدي على البدن.
وهذا التعدي لا يخلو الحال فيه من أمرين:
1- أن يكون بإزهاق الروح، وهو القتل.
2- أن يكون واقعا على عضو من الأعضاء، ولا يؤدي لإزهاق الروح كقطع يد أو قلع عين أو قطع أذن أو أنف
… الخ.
وبهذا يتبين أن الجناية إما أن تكون:
1- على النفس.
2- أو ما دون النفس.
--------------------------------------------
জিনায়াতের (অপরাধ) প্রকারভেদ: জিনায়াতের পারিভাষিক সংজ্ঞায় ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, এটি হচ্ছে শরীরের ওপর সীমালঙ্ঘন।
আর এই সীমালঙ্ঘনের বিষয়টি দুটি অবস্থার বাইরে নয়:
১- প্রাণ সংহারের মাধ্যমে হওয়া, যা হলো হত্যা।
২- শরীরের কোনো অঙ্গের ওপর আপতিত হওয়া এবং যা প্রাণ সংহার পর্যন্ত পৌঁছায় না; যেমন হাত কাটা, চোখ উপড়ে ফেলা অথবা কান কিংবা নাক কাটা
… ইত্যাদি।
এর দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, জিনায়াত মূলত দুই প্রকার হতে পারে:
১- প্রাণের ওপর।
২- অথবা যা প্রাণের চেয়ে কম (মা দুনুন নাফস)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৪৭)
وهذا التقسيم مجمع عليه بين العلماء1.
ثم اخلتف العلماء – رحمهم الله تعالى – في أنواع الجناية على النفس وعلى ما دون النفس على النحو التالي:
أولا: أنواع الجناية على النفس:
إذا نُظِرَ إلى أقوال الفقهاء – رحمهم الله تعالى - في تقسيماتهم لأنواع الجناية على النفس يتضح أن آراءهم تنحصر في تقسيمها بين ثنائي وخماسي، وبذلك انحصرت أقوالهم في أربعة:
التقسيم الخماسي:
قسم جماعة من الحنفية كالجصاص2 والقدوري3 والنسفي4 الحناية على النفس إلىخمسةأقسام:
1- العمد: وهو تعمد الضرب بسلاح أو ما يجرى مجراه في تفريق الأجزاء كالمحدد من الخشب والحجر والنار5.
2- شبه العمد: وهو تعمد الضرب بما ليس بسلاح ولا ما يجري مجراه6.
--------------------------------------------
এবং এই বিভাজনটি ওলামায়ে কেরামের মধ্যে সর্বসম্মত (مجمع عليه)।১
অতঃপর ওলামায়ে কেরাম — আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি রহম করুন — প্রাণের বিরুদ্ধে অপরাধ (الجناية على النفس) এবং প্রাণহানি ব্যতীত আঘাতের (ما دون النفس) প্রকারভেদ সম্পর্কে নিম্নোক্তভাবে মতভেদ করেছেন:
প্রথমত: প্রাণের বিরুদ্ধে অপরাধের (الجناية على النفس) প্রকারভেদ:
যদি ফকিহগণের — আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি রহম করুন — প্রাণের বিরুদ্ধে অপরাধের বিভাজন সংক্রান্ত মতামতের দিকে দৃষ্টিপাত করা হয়, তবে এটি স্পষ্ট হয় যে, তাদের অভিমতগুলো দ্বিমুখী ও পঞ্চমুখী বিভাজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে তাদের বক্তব্যগুলো চারটি ভাগে পর্যবসিত হয়েছে:
পঞ্চমুখী বিভাজন:
হানাফি মাজহাবের একদল ফকিহ যেমন জাসসাস২, কুদুরি৩ এবং নাসাফি৪ প্রাণের বিরুদ্ধে অপরাধকে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করেছেন:
1- ইচ্ছাকৃত অপরাধ (العمد): আর তা হলো কোনো অস্ত্র বা যা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রে অস্ত্রের স্থলাভিষিক্ত, যেমন ধারালো কাঠ, পাথর এবং আগুন দ্বারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আঘাত করা।৫
2- সদৃশ ইচ্ছাকৃত অপরাধ (شبه العمد): আর তা হলো এমন কিছু দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আঘাত করা যা অস্ত্র নয় এবং অস্ত্রের স্থলাভিষিক্তও নয়।৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৪৮)
3- الخطأ: وهو ضرب الشخص بدون تعمد. وهو على نوعين:
أ- خطأ في القصد: وهو أن يرمي شخصا يظنه صيدا، فإذا هو آدمي أو يظنه حربيا فإذا هو مسلم. ب- خطأ في الفعل: وهو أن يرمي عرضا فيصيب آدميا1.
4- الجاري مجرى الخطأ: وهو حصول الموت بما لا يصدر عن إرادة وقصد كأن ينقلب نائم على آخر فيقتله.2
5- القتل بالسبب: وهو التسبب في موت آخر دون قصد ومباشرة كمن يحفر بئرا في الطريق فيقع فيها عابر السبيل فيموت3.
التقسيم الرباعي:
قسم جماعة من الحنابلة كأبي الخطاب، وصاحب المذهب، ومسبوك الذهب، والمستوعب، والخلاصة، والرعايتين، والحاوي والرعايتين، وغيرهم4 القتل إلى أربعة:
1- العمد.
2- شبه العمد.
3- الخطأ.
4- ما جرى مجرى الخطأ.
ولم يقولوا بقتل السبب؛ لأنهم يدخلونه في ما جرى مجرى الخطأ.
--------------------------------------------
3- ভুলবশত হত্যা (الخطأ): আর এটি হলো সংকল্প ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে আঘাত করা। এটি দুই প্রকার:
ক- সংকল্পে ভুল (خطأ في القصد): আর তা হলো এমন কাউকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা যাকে সে শিকার মনে করেছিল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে একজন মানুষ; অথবা যাকে সে হারবি বা যুদ্ধরত শত্রু (حربي) মনে করেছিল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে একজন মুসলিম। খ- কর্মে ভুল (خطأ في الفعل): আর তা হলো লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করতে গিয়ে কোনো মানুষের গায়ে লাগা।১
4- ভুলবশত হত্যার পর্যায়ভুক্ত (الجاري مجرى الخطأ): এটি হলো ইচ্ছা ও সংকল্প ব্যতিরেকে মৃত্যু সংঘটিত হওয়া, যেমন কোনো ঘুমন্ত ব্যক্তি অন্য একজনের ওপর উল্টে পড়ল এবং তাকে মেরে ফেলল।২
5- কারণগত হত্যা (القتل بالسبب): আর এটি হলো সংকল্প এবং সরাসরি (مباشرة) সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই অন্য কারও মৃত্যুর কারণ হওয়া, যেমন কেউ রাস্তায় কূপ খনন করল আর তাতে কোনো পথচারী পড়ে মারা গেল।৩
চতুর্মুখী বিভাজন:
হাম্বলি ফকিহদের একটি দল যেমন আবুল খাত্তাব, সাহিবুল মাজহাব, মাসবুকুজ জাহাব, আল-মুস্তাউইব, আল-خুলাসাত, আর-রিয়ায়াতাইন, আল-হাউয়ি ও আর-রিয়ায়াতাইন এবং অন্যান্যরা৪ হত্যাকে চার ভাগে বিভক্ত করেছেন:
1- ইচ্ছাকৃত (العمد)।
2- ইচ্ছাকৃত সদৃশ (شبه العمد)।
3- ভুলবশত (الخطأ)।
4- যা ভুলবশত হত্যার পর্যায়ভুক্ত (ما جرى مجرى الخطأ)।
তারা কারণগত হত্যার (قتل السبب) কথা স্বতন্ত্রভাবে বলেননি; কারণ তারা এটিকে ভুলবশত হত্যার পর্যায়ভুক্ত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করে থাকেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৪৯)
التقسيم الثلاثي:
قسم الحنفية في ظاهر الرواية عندهم1، وهو قول لمالك حكاه العراقيون وغيرهم عنه2، وبه قال الشافعية3 والحنابلة في المعتمد عندهم4 القتل إلى ثلاثة أقسام:
1- العمد: وهو أن يضربه بما يغلب على الظن موته به من سلاح أو ما جرى مجراه5 من حديد أو خشب أو حجر أو نحوه مما يقتل غالبا6.
2- شبه العمد: هو أن يضربه بما لا يقتل غالبا كأن يضربه في غير مقتل بسوط أو عصىً صغيرة أو يفعل فعلا الأغلب من ذلك الفعل أنه لا يقتل مثله7.
3- الخطأ: وهو ضرب الشخص بدون قصد. وهو ضربان:
أ- خطأ في الفعل: بأن يرمي صيدا أو هدفا، أو شخصا فيصيب إنسانا لم يقصده، أو يكون نائما ونحوه فينقلب على إنسان فيقتله.
ب- خطأ في القصد كأن يرمي من يظنه حربيا فإذا هو مسلم8.
--------------------------------------------
ত্রিবিধ বিভাজন:
হানাফীগণ তাদের বর্ণনার প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্যতা (ظاهر الرواية) অনুযায়ী১—যা ইরাকী ও অন্যান্য উলামায়ে কিরামের বর্ণনা মতে ইমাম মালিকের একটি অভিমত২ এবং শাফিঈ৩ ও হাম্বলীগণ তাঁদের মাযহাবের নির্ভরযোগ্য (المعتمد) মতানুযায়ী৪—হত্যাকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন:
১- ইচ্ছাকৃত (العمد): আর তা হলো কোনো ব্যক্তিকে এমন অস্ত্র বা অস্ত্রের সমপর্যায়ভুক্ত লোহা, কাঠ, পাথর বা এজাতীয় এমন বস্তু দ্বারা আঘাত করা যা দ্বারা সাধারণত মৃত্যু ঘটার প্রবল ধারণা তৈরি হয়৬।
২- ভুল সদৃশ ইচ্ছাকৃত (شبه العمد): তা হলো কোনো ব্যক্তিকে এমন বস্তু দ্বারা আঘাত করা যা সাধারণত প্রাণহানি ঘটায় না; যেমন- মরণঘাতী নয় এমন স্থানে চাবুক বা ছোট লাঠি দ্বারা আঘাত করা অথবা এমন কোনো কাজ করা যার প্রকৃতি সচরাচর মৃত্যুর কারণ হয় না৭।
৩- অনিচ্ছাকৃত (الخطأ): আর তা হলো কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যহীনভাবে আঘাত করা। এটি দুই প্রকার:
ক- কর্মে ভুল (خطأ في الفعل): যেমন কোনো শিকার বা লক্ষ্যবস্তু মনে করে কিছু নিক্ষেপ করা, যা এমন কোনো মানুষের গায়ে লেগে যাওয়া যাকে সে উদ্দেশ্য করেনি। অথবা ঘুমন্ত অবস্থায় কারো ওপর গড়িয়ে পড়া এবং এর ফলে সে মারা যাওয়া।
খ- উদ্দেশ্যে ভুল (خطأ في القصد): যেমন কাউকে যুদ্ধরত শত্রু (حربي) মনে করে নিক্ষেপ করা কিন্তু বাস্তবে সে মুসলিম হিসেবে প্রকাশ পাওয়া৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৫০)
ولم يقولوا بقتل السبب وما جرى مجرى الخطأ انفرادا؛ لأنهم أدخلوهما في قتل الخطأ.
التقسيم الثنائي:
قسم المالكية في المعتمد عندهم القتل إلى قسمين:
1- العمد.
2- الخطأ1.
وهذا التقسيم سواء الخماسي أو الرباعي أو الثلاثي هو في الواقع من باب اختلاف تنوع صور القتل لاتفاقهم على تقسيمها باعتبار الحكم الشرعي على ثلاثة أنواع:
1- العمد.
2- شبه العمد.
3- الخطأ.
خلافا للمالكية في المعتمد عندهم حيث إنهم يسقطون شبه العمد. وهم محجوجون بحديث عبد الله بن عمرو – رضي الله عنهما – عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " ألا إن دية الخطأ شبه العمد ما كان بالسوط والعصا مائة من الإبل، منها أربعون في بطونها أولادها " 2.
--------------------------------------------
তারা 'সবব' (কারণ) দ্বারা হত্যা এবং যা ভুলের সমপর্যায়ে পড়ে সেগুলোকে পৃথক প্রকার হিসেবে উল্লেখ করেননি; কারণ তারা এগুলোকে ভুলবশত হত্যার (قتل الخطأ) অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
দ্বি-মুখী বিভাজন:
মালিকীগণ তাদের নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী হত্যাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন:
১- ইচ্ছাকৃত (عمد)।
২- ভুলবশত (خطأ)১।
আর এই বিভাজন—চাই তা পাঁচ প্রকার, চার প্রকার বা তিন প্রকার হোক না কেন—বাস্তবে হত্যার বিভিন্ন রূপের পার্থক্যের কারণে হয়েছে; কারণ শারয়ী বিধানের বিবেচনায় তারা হত্যাকে তিন প্রকারে বিভক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন:
১- ইচ্ছাকৃত (عمد)।
২- ইচ্ছাকৃত সদৃশ (شبه عمد)।
৩- ভুলবশত (خطأ)।
তবে মালিকীগণের নির্ভরযোগ্য মত এর বিপরীত, কারণ তারা ইচ্ছাকৃত সদৃশ (شبه عمد) প্রকারটিকে বাদ দিয়ে থাকেন। অথচ আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস দ্বারা তাদের বিপক্ষে দলিল উপস্থাপিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "জেনে রেখো, ভুলবশত ইচ্ছাকৃত সদৃশ (شبه عمد) হত্যার রক্তপণ—যা চাবুক বা লাঠি দ্বারা সংঘটিত হয়—তা হলো একশটি উট, যার মধ্যে চল্লিশটি হবে গর্ভবতী।" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৫১)
ثانيا: الجناية على ما دون النفس.
يراد بالجناية على ما دون النفس: كل أذى يقع على الإنسان من الغير مما لا يوجب موته، سواء كانت الجناية عمدا أو غير عمد.
وهذه الجناية تنقسم إلى قسمين:
1- الجناية الواقعة على الوجه والرأس.
2- الجناية الواقعة على سائر البدن1.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: প্রাণের হানিকর নয় এমন অপরাধ।
প্রাণের হানিকর নয় এমন অপরাধ বলতে বোঝায়: অন্যের পক্ষ থেকে মানুষের ওপর সংঘটিত এমন প্রতিটি আঘাত যা তার মৃত্যুর কারণ হয় না, চাই সেই অপরাধটি ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত।
এই অপরাধ দুই ভাগে বিভক্ত:
1- মুখমণ্ডল ও মাথার ওপর সংঘটিত অপরাধ।
2- শরীরের বাকি অংশের ওপর সংঘটিত অপরাধ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৫২)
المبحث الثّاني: القتل بغير حقّ
القتل بغير حق حرام وكبيرة من كبائر الذنوب1.
دل على ذلك الكتاب والسنة والإجماع.
أما الكتاب فآيات كثيرة، منها:
1- قوله تعالى: {وَلا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَاّ بِالْحَقِّ وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُوماً فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَاناً} 2.
2- وقوله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ أَنْ يَقْتُلَ مُؤْمِناً إِلَاّ خَطَأً} 3.
3- وقوله تعالى: {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِناً مُتَعَمِّداً فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِداً فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَاباً عَظِيماً} 4.
4- وقوله تعالى: {وَلا تَقْتُلُوا أَوْلادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئاً كَبِيراً} 5.
5- وقوله تعالى: {مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ كَتَبْنَا عَلَى بَنِي إِسْرائيلَ أَنَّهُ مَنْ قَتَلَ نَفْساً بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعاً} 6.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অন্যায়ভাবে হত্যাঅন্যায়ভাবে হত্যা করা হারাম এবং বড় গুনাহসমূহের (كبائر الذنوب) অন্তর্ভুক্ত ১।
আল-কুরআন, সুন্নাহ এবং ঐক্যমত (الإجماع) দ্বারা এটি প্রমাণিত।
আল-কুরআনের প্রমাণ হিসেবে অনেক আয়াত রয়েছে, তন্মধ্যে কয়েকটি হলো:
১- আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন তাকে যথার্থ কারণ ছাড়া হত্যা করো না। আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়, আমি তার উত্তরাধিকারীকে কর্তৃত্ব দান করেছি} ২।
২- আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর কোনো মুমিনের জন্য শোভনীয় নয় যে সে অন্য মুমিনকে হত্যা করবে, ভুলবশত (خطأً) ছাড়া} ৩।
৩- আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে (متعمداً) কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন, তাকে অভিশপ্ত করেছেন এবং তার জন্য প্রস্তুত রেখেছেন মহাশাস্তি} ৪।
৪- আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না, আমিই তাদের রিযিক দেই এবং তোমাদেরও। নিশ্চয় তাদের হত্যা করা এক মহাপাপ (خطئاً كبيراً)} ৫।
৫- আল্লাহ তাআলার বাণী: {এ কারণেই আমি বনী ইসরাঈলের ওপর এই বিধান দিয়েছি যে, যে ব্যক্তি প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা জমিনে ফাসাদ (فساد) সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করল, সে যেন সকল মানুষকেই হত্যা করল} ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৫৩)
وأما السنة فأحاديث كثيرة، منها:
1- حديث عبد الله بن عمرو بن العاص – رضي الله عنهما – عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " الكبائر1الإشراك بالله، وعقوق الوالدين، وقتل النفس، واليمين الغموس2 " 3.
2- حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا يحل دم امرئ مسلم، يشهد أن لا إله إلا الله، وأني رسول الله، إلا بإحدى ثلاث4الثيب الزاني، والنفس بالنفس، والتارك لدينه المفارق للجماعة " 5.
3- حديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: "إني من النقباء6 الذين بايعوا
--------------------------------------------
আর সুন্নাহর ক্ষেত্রে অনেক হাদিস রয়েছে, তার মধ্যে কিছু হলো:
১- আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "কবিরা গুনাহ (الكبائر) ১ হলো আল্লাহর সাথে শরিক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, মানুষ হত্যা করা এবং আল-ইয়ামিন আল-গামুস (اليمين الغموس) ২" ৩।
২- আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "একজন মুসলিম ব্যক্তির রক্ত হালাল নয়, যে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, তবে তিনটি কারণের একটি ছাড়া ৪: বিবাহিত ব্যভিচারী, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ এবং যে নিজের দ্বীন পরিত্যাগকারী ও জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন ৫।"
৩- উবাদাহ ইবনে সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "আমি সেই নুকাবা (النقباء) ৬ বা প্রতিনিধিদের একজন যারা বায়আত গ্রহণ করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৫৪)
رسول الله صلى الله عليه وسلم بايعناه على أن لا نشرك بالله شيئا، ولا نزني، ولا نسرق، ولا نقتل النّفس التي حرم الله "1.
4- حديث عبد الله بن عمر – رضي الله عنهما – قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لن يزال المؤمن في فسحة من دينه ما لم يصب دما حراما " 2.
5- حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: " أول ما يقضى بين الناس يوم القيامة في الدماء3 " 4.
وأما الإجماع:
فقد نقل ابن قدامة – رحمه الله تعالى – أنه لا خلاف بين الأئمة في تحريم القتل بغير حق5.
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আমরা তাঁর কাছে এই মর্মে বাইআত গ্রহণ করেছি যে, আমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করব না, ব্যভিচার করব না, চুরি করব না এবং আল্লাহ যে প্রাণকে হত্যা করা হারাম করেছেন তা হত্যা করব না" ১।
৪- আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একজন মুমিন তার দ্বীনের ব্যাপারে প্রশস্ততার মধ্যে থাকে যতক্ষণ না সে কোনো হারাম রক্তপাত ঘটায়" ২।
৫- আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম যে বিষয়ের ফয়সালা করা হবে, তা হলো রক্তপাত (হত্যা) সংক্রান্ত৩" ৪।
আর ইজমা (الإجماع) প্রসঙ্গে:
ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন যে, অন্যায়ভাবে হত্যা হারাম হওয়ার ব্যাপারে ইমামগণের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৫৫)
المبحث الثالث: مشروعية القصاص في النفس ومادون النفس
المطلب الأول: في مشروعية القصاص في النفس ومادون النفس…المطلب الأوّل: في مشروعية القصاص في النفس
أجمع العلماء على أن القود واجب بالقتل العمد إذا اجتمعت شروطه1.
وقد دلت الآيات والأحاديث بعمومها على ذلك:
من القرآن الكريم:
1- قوله تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى} 2.
2- وقوله تعالى: {وَلا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَاّ بِالْحَقِّ وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُوماً فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَاناً فَلا يُسْرِفْ فِي الْقَتْلِ} 3.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জীবন এবং জীবনের কম (অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ) হানির ক্ষেত্রে কিসাসের বৈধতাপ্রথম অনুচ্ছেদ: জীবন এবং জীবনের কম (অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ) হানির ক্ষেত্রে কিসাসের বৈধতা সম্পর্কে...প্রথম অনুচ্ছেদ: জীবনের ক্ষেত্রে কিসাসের বৈধতা সম্পর্কে
আলেমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যদি শর্তসমূহ পূরণ হয় তবে ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে কিসাস (প্রতিশোধ) গ্রহণ করা আবশ্যক।১
কুরআনের আয়াত এবং হাদিসসমূহ তাদের ব্যাপকতার মাধ্যমে এর ওপর প্রমাণ পেশ করে:
পবিত্র কুরআন থেকে:
১- মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের ওপর নিহতদের ব্যাপারে কিসাস (প্রতিশোধ গ্রহণ) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।" ২
২- এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করো না; এবং যে অন্যায়ভাবে নিহত হয়, আমি তার অভিভাবককে প্রতিশোধ গ্রহণের ক্ষমতা দিয়েছি; সুতরাং হত্যার ব্যাপারে সে যেন সীমালঙ্ঘন না করে।" ৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৫৬)
3- وقوله تعالى: {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} 1.
قال ابن كثير – رحمه الله تعالى -: "يقول تعالى: وفي شرع القصاص لكم - وهو قتل القاتل - حكمة عظيمة، وهي بقاء المهج وصونها؛ لأنه إذا علم القاتل أنه يقتل انكف عن صنعه، فكان في ذلك حياة للنفوس. وفي الكتب المتقدمة: القتل أنفى للقتل، فجاءت هذه العبارة في القرآن أفصح وأبلغ وأوجز2". انتهى
ونحوه ذكر القرطبي والبغوي3.
وقوله تعالى: {وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ} 4.
فدلت الآيات بعمومها على مشروعية القصاص في الجناية على النفس.
من السنة.
1- حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من قتل له قتيل فهو بخير النظرين، إما أن يفدى وإما أن يقتل " 5.
2- حديث أبي شريح الكعبي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " إن الله حرم مكة ولم يحرمها الناس، من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يسفكن فيها دما ولا يعضدن6
--------------------------------------------
৩- এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর হে বুদ্ধিমানগণ, কেসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} ১।
ইবনে কাসীর —রহিমাহুল্লাহ— বলেন: "মহান আল্লাহ বলছেন: তোমাদের জন্য কেসাস—অর্থাৎ হত্যাকারীকে হত্যা করা—বিধান করার মধ্যে এক মহান প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে, আর তা হলো প্রাণের স্থায়িত্ব ও তার সুরক্ষা; কারণ হত্যাকারী যখন জানবে যে তাকেও হত্যা করা হবে, তখন সে তার কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবে, ফলে এর মাধ্যমে প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে বর্ণিত ছিল: 'হত্যাই হত্যারোধের সর্বোত্তম পন্থা', কিন্তু কুরআনের এই বর্ণনাভঙ্গি অধিকতর প্রাঞ্জল, অর্থবহ এবং সংক্ষিপ্ত২।" সমাপ্ত
অনুরূপ বিষয় কুরতুবী এবং বাগভী৩ উল্লেখ করেছেন।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি তাদের জন্য তাতে বিধান করে দিয়েছি যে, প্রাণের বদলে প্রাণ} ৪।
এই আয়াতসমূহ তাদের ব্যাপকতার ভিত্তিতে প্রাণের ওপর সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে কেসাসের বৈধতা প্রমাণ করে।
সুন্নাহ হতে প্রমাণ:
১- আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যার কোনো নিকটাত্মীয় নিহত হয়, তার জন্য দু’টি বিকল্পের মধ্যে উত্তমটি গ্রহণের অধিকার রয়েছে; হয় তাকে রক্তপণ (দিয়াত) প্রদান করা হবে, নতুবা তাকে হত্যা (কেসাস) করা হবে" ৫।
২- আবু শুরাইহ আল-কাবি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মক্কাকে পবিত্র করেছেন, মানুষ তাকে পবিত্র করেনি। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন সেখানে রক্তপাত না করে এবং কোনো গাছ না কাটে" ৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৫৭)
فيها شجرا، فإن ترخص مترخص فقال: أحلت لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فإن الله أحلها لي ولم يحلها للناس، وإنما أحلت لي ساعة من نهار، ثم هي حرام إلى يوم القيامة. ثم إنكم معشر خزاعة قتلتم هذا الرجل من هذيل، وإني عاقله، فمن قتل له قتيل بعد اليوم، فأهله بين خيرتين: إما أن يقتلوا أو يأخذوا العقل1 "2.ففي هذين الحديثين دلالة على مشروعية القصاص في الجناية على النفس3.
3- حديث وائل بن حجر رضي الله عنه قال: كنت عند النبي صلى الله عليه وسلم إذ جيء برجل في عنقه النسعة4، قال: فدعا ولي المقتول فقال: " أتعفو؟ "، قال: لا، قال: "أفتأخذ الدية؟ "، قال: قال: لا، قال: " أفتقتل؟ "، قال: نعم، قال: " اذهب به! " فلما ولى قال: " أتعفو؟ "، قال: لا، قال: " أفتأخذ الدية؟ "، قال: لا، قال: " أفتقتل؟ " قال: نعم، قال: " اذهب به! "، فلما كان في الرابعة، قال: " أما إنك إن عفوت عنه يبوء بإثمه وإثم صاحبه "، قال: فعفا عنه، قال: فأنا رأيته
--------------------------------------------
সেখানে গাছ আছে। যদি কোনো ব্যক্তি শিথিলতা প্রদর্শন করে বলে যে: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য এটি বৈধ করা হয়েছিল, (তবে জেনে রাখুন) নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এটি কেবল আমার জন্যই বৈধ করেছিলেন এবং সাধারণ মানুষের জন্য এটি বৈধ করেননি। আমার জন্য এটি দিনের কেবল বিশেষ সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছিল, অতঃপর কিয়ামত পর্যন্ত তা হারাম। অতঃপর হে খুজাআ সম্প্রদায়! তোমরা হুযাইল গোত্রের এই লোকটিকে হত্যা করেছ, আর আমিই তার রক্তপণ (عقل) প্রদানকারী। আজকের পর থেকে যার কোনো ব্যক্তি নিহত হবে, তার পরিবার দুটি বিষয়ের যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার পাবে: হয় তারা কিসাস (قصاص) স্বরূপ হত্যা করবে অথবা রক্তপণ (عقل) গ্রহণ করবে।১" ২। এই দুটি হাদিস প্রাণের বিরুদ্ধে সঙ্ঘটিত অপরাধের (الجناية على النفس) ক্ষেত্রে কিসাস (قصاص) বৈধ হওয়ার প্রমাণ বহন করে।৩।
3- ওয়াইল ইবনে হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তিকে আনা হলো যার গলায় একটি চামড়ার রশি (النسعة)৪ বাঁধা ছিল। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: অতঃপর তিনি (রাসুল) নিহতের অভিভাবককে ডাকলেন এবং বললেন: "তুমি কি ক্ষমা করবে?" সে বলল: না। তিনি বললেন: "তবে কি তুমি রক্তপণ (دية) গ্রহণ করবে?" সে বলল: না। তিনি বললেন: "তবে কি তুমি হত্যা (قتل) করবে?" সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "একে নিয়ে যাও!" যখন সে ফিরে যাচ্ছিল, তখন তিনি (রাসুল) বললেন: "তুমি কি ক্ষমা করবে?" সে বলল: না। তিনি বললেন: "তবে কি তুমি রক্তপণ (دية) গ্রহণ করবে?" সে বলল: না। তিনি বললেন: "তবে কি তুমি হত্যা (قتل) করবে?" সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "একে নিয়ে যাও!" যখন চতুর্থবার হলো, তখন তিনি বললেন: "জেনে রেখো, তুমি যদি তাকে ক্ষমা করো, তবে সে নিজের এবং তার (নিহত) সাথীর পাপের বোঝা নিয়ে ফিরে যাবে।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তখন সে তাকে ক্ষমা করে দিল। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি তাকে দেখেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৫৮)
يجر النسعة1.
قال البغوي – رحمه الله تعالى -: فيه دليل على أن ولي الدم مخير بين القصاص، وبين أن يعفو عن القصاص على الدية، وبين أن يعفو مجانا2.
4- حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا يحل دم امرئ مسلم يشهد أن لا إله إلا الله، وأني رسول الله إلا بإحدى ثلاث: الثيب الزاني، والنفس بالنفس، والتارك لدينه المفارق للجماعة " 3.
ومن جهة المعنى: أنه لو لم يجب القصاص في هذه الحالة لأدى ذلك إلى سفك الدماء وهلاك الناس4.
তিনি চামড়ার ফিতা টেনে নিচ্ছিলেন ১।
আল-বাগাওয়ী —তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক— বলেছেন: এতে দলিল রয়েছে যে, নিহতের উত্তরাধিকারী (ولي الدم) কিসাস (قصاص), রক্তপণের (دية) বিনিময়ে কিসাস থেকে ক্ষমা অথবা কোনো বিনিময় ছাড়াই ক্ষমা করে দেওয়ার মধ্যে যেকোনোটি বেছে নেওয়ার এখতিয়ার রাখেন ২।
৪- আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্য প্রদানকারী কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত হালাল নয়, কেবল তিনটি ক্ষেত্র ছাড়া: বিবাহিত ব্যভিচারী, প্রাণের বদলে প্রাণ এবং নিজের দ্বীন ত্যাগকারী ও জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন (مفارق للجماعة) ব্যক্তি" ৩।
আর অর্থগত তাৎপর্যের দিক থেকে: যদি এই অবস্থায় কিসাস (قصاص) আবশ্যক না হতো, তবে তা রক্তপাত এবং মানুষের ধ্বংসের কারণ হতো ৪।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৫৮)
المطلب الثّاني:
مشروعية القصاص في الجناية على ما دون النّفس
أجمع العلماء على تحريم الاعتداء على ما دون النفس وأن القصاص جار فيها إذا أمكن5.
وقد دل على ذلك:
قوله تعالى: {وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنَ بِالْعَيْنِ وَالْأَنْفَ بِالْأَنْفِ
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ:
প্রাণের চেয়ে কম (অঙ্গহানি) অপরাধের ক্ষেত্রে কিসাসের বৈধতা
আলেমগণ প্রাণের চেয়ে কম (অঙ্গহানি) কোনো আক্রমণ হারাম হওয়ার বিষয়ে এবং সম্ভব হলে তাতে কিসাস প্রযোজ্য হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
আর এটি নির্দেশ করে:
মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি তাদের জন্য তাতে লিখে দিয়েছি যে, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৫৯)
وَالْأُذُنَ بِالْأُذُنِ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوحَ قِصَاص} 1.
وحديث أنس بن مالك رضي الله عنه: أن الربيع بنت النضر كسرت ثنية جارية فطلبوا الأرش وطلبوا العفو، فأبوا. فأتوا النبي صلى الله عليه وسلم فأمرهم بالقصاص، فقال أنس بن النضر: أتكسر ثنية الربيع يا رسول الله؟، لا والذي بعثك بالحق لا تكسر ثنيتها2. فقال: " يا أنس، كتاب الله القصاص! "، فرضي القوم وعفوا، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: " إن من عباد الله من لو أقسم على الله لأبره " 3.
--------------------------------------------
...এবং কানের পরিবর্তে কান, দাঁতের পরিবর্তে দাঁত এবং জখমের পরিবর্তে প্রতিশোধ (قصاص)।} ১.
আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস: রুবাই বিনতে নাযর জনৈক দাসীর সামনের দাঁত ভেঙে ফেলেছিলেন। অতঃপর তারা (রুবাইয়ের আত্মীয়রা) ক্ষতিপূরণ (أرش) ও ক্ষমা (عفو) প্রার্থনা করল, কিন্তু তারা (দাদীর পরিবার) তা অস্বীকার করল। এরপর তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলে তিনি তাদের প্রতিশোধ (قصاص)-এর নির্দেশ দিলেন। তখন আনাস ইবনে নাযর বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! রুবাইয়ের সামনের দাঁত কি ভেঙে ফেলা হবে? না, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, তার সামনের দাঁত ভাঙা হবে না২। তখন তিনি বললেন: "হে আনাস, আল্লাহর কিতাবের বিধান হলো প্রতিশোধ (قصاص)!" অতঃপর সেই সম্প্রদায় সন্তুষ্ট হলো এবং ক্ষমা (عفو) করে দিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যারা আল্লাহর নামে শপথ করলে আল্লাহ তা অবশ্যই পূর্ণ করেন।" ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬০)
المبحث الرابع: في الإشتراك المتعمد في الجناية على الواحد بالقتل
مدخل…المبحث الرّابع:
في الاشتراك المتعمّد في الجناية على الواحد بالقتل
وفيه ثلاثة مطالب
إذا اشترك جماعة أو اثنان في قتل نفس لم يخل حالهم من ثلاثة أقسام:
أحدها: أن يكون كل واحد منهم لو انفرد بقتله قتل به كأحرار قتلوا حرا، أو العببد قتلوا عبدا، أو كفار قتلوا كافرا.
والثاني: أن يكون كل واحد منهم لو انفرد بقتله لم يجب عليه القود، كأحرار قتلوا عبدا، مسلمين قتلوا كافرا.
والثالث: أن يجب القود على أحدهم لو انفرد ولا يجب على الباقين إذا انفرد، فهذا على ضربين:
أحدهما: أن يكون سقوط القود عنه لو انفرد لمعنى في نفسه، كالأب إذا شارك أجنبيا في قتل ولده وكالحر إذا شارك عبدا في قتل عبده وكالمسلم إذا شارك كافرا في قتل كافر.
والثاني: أن يكون سقوط القود عنه لو انفرد لمعنى في فعله، كالخاطئ إذا شارك عامدا في القتل أو تعمد الخطأ إذا شارك عمدا محضا.1
وسيأتي أحكام هذه الأقسام في المطالب الآتية إن شاء الله.
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: একজনকে হত্যার অপরাধে ইচ্ছাকৃত অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে
ভূমিকা…চতুর্থ পরিচ্ছেদ:
একজনকে হত্যার অপরাধে ইচ্ছাকৃত অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে
এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে
যখন একদল ব্যক্তি বা দুইজন কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করার ক্ষেত্রে অংশীদার হয়, তখন তাদের অবস্থা তিনটি প্রকারের বাইরে হয় না:
প্রথমত: তাদের প্রত্যেকে এমন স্তরের হওয়া যে, সে যদি এককভাবে তাকে হত্যা করত তবে তার বিনিময়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো। যেমন কয়েকজন স্বাধীন ব্যক্তি মিলে একজন স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করল, অথবা দাসেরা মিলে একজন দাসকে হত্যা করল, কিংবা কাফিররা মিলে একজন কাফিরকে হত্যা করল।
দ্বিতীয়ত: তাদের প্রত্যেকে এমন স্তরের হওয়া যে, সে যদি এককভাবে তাকে হত্যা করত তবে তার ওপর কিসাস বা মৃত্যুদণ্ড (القود) আবশ্যিক হতো না। যেমন স্বাধীন ব্যক্তিরা মিলে একজন দাসকে হত্যা করল, অথবা মুসলিমরা মিলে একজন কাফিরকে হত্যা করল।
তৃতীয়ত: তাদের মধ্যে একজনের ওপর কিসাস বা মৃত্যুদণ্ড (القود) আবশ্যিক হওয়া যদি সে এককভাবে হত্যা করত, কিন্তু অবশিষ্টদের ক্ষেত্রে তা এককভাবে হত্যার কারণে আবশ্যিক না হওয়া। এটি আবার দুই প্রকার:
এক: এককভাবে হত্যা করার ক্ষেত্রে তার ওপর থেকে কিসাস বা মৃত্যুদণ্ড (القود) রহিত হওয়া তার নিজের কোনো বৈশিষ্ট্যের কারণে। যেমন একজন পিতা যদি তার সন্তানকে হত্যার ক্ষেত্রে কোনো বহিরাগত ব্যক্তির সাথে অংশগ্রহণ করেন; কিংবা কোনো স্বাধীন ব্যক্তি যদি একজন দাসের সাথে মিলে সেই দাসের মালিকানাধীন অন্য কোনো দাসকে হত্যার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করেন; অথবা একজন মুসলিম যদি কোনো কাফিরের সাথে মিলে একজন কাফিরকে হত্যার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করেন।
দুই: এককভাবে হত্যা করার ক্ষেত্রে তার ওপর থেকে কিসাস বা মৃত্যুদণ্ড (القود) রহিত হওয়া তার কাজের ধরনের কারণে। যেমন ভুলবশত হত্যাকারী যদি ইচ্ছাকৃত হত্যাকারীর সাথে হত্যায় অংশগ্রহণ করে; অথবা আধা-ইচ্ছাকৃত (تعمد الخطأ) হত্যাকারী যদি বিশুদ্ধ ইচ্ছাকৃত হত্যায় অংশগ্রহণ করে।১
ইনশাআল্লাহ, সামনের উপ-পরিচ্ছেদগুলোতে এই প্রকারগুলোর বিধানাবলী আলোচনা করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬১)
المطلب الأوّل:اشتراك الجماعة في الجناية على الواحد بالقتل إذا كان كل واحد منهم لو انفرد بقتله قتل به
اختلف العلماء في حكم قتل الجماعة للواحد عمدا وعدوانا إذا توفرت فيهم شروط القصاص أيقتلون به أم لا؟ على ثلاثة أقوال:
القول الأول: أنهم يقتلون به.
وهو مروي عن عمر بن الخطاب وعلي بن أبي طالب والمغيرة بن شعبة وابن عباس – رضي الله عنهم.وهو قول سعيد بن المسيب والحسن البصري وأبي سلمة بن عبد الرحمن وعطاء وقتادة والأوزاعي وإسحاق1.وبه قال أبو حنيفة2 ومالك3 والشافعي4 وأحمد في المذهب5 واتفق أصحاب هذا القول على أن قتل الجماعة بالواحد بشرط أن يكون كل واحد منهم قد جنى جناية لو انفرد بها لمات المجني عليه وأضيف القتل إليه، ووجب القصاص عليه6.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ:একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অপরাধে একাধিক ব্যক্তির অংশগ্রহণ যদি তাদের প্রত্যেকে এমন হয় যে, সে একা ওই ব্যক্তিকে হত্যা করলে তার বিনিময়ে তাকে হত্যা করা হতো।
যখন তাদের মধ্যে কিসাস (القصاص)-এর শর্তাবলি বিদ্যমান থাকে, তখন ইচ্ছাকৃত ও অন্যায়ভাবে একদল ব্যক্তি কর্তৃক একজনকে হত্যার বিধানের ব্যাপারে বিদ্বানগণ তিনটি মতের ওপর মতভেদ করেছেন: তাদের কি এর বিনিময়ে হত্যা করা হবে নাকি হবে না?
প্রথম মত: তাদের সবাইকে এর বিনিময়ে হত্যা করা হবে।
এটি ওমর ইবনুল খাত্তাব, আলী ইবনে আবি তালিব, মুগীরা ইবনে শু'বা এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত (مروي)। এটি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, হাসান বসরী, আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান, আতা, কাতাদাহ, আওযাঈ এবং ইসহাকের অভিমত।১ ইমাম আবু হানিফা২, মালেক৩, শাফেয়ী৪ এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মাযহাব (المذهب)-এর প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী৫ এই মত পোষণ করেছেন। এই মতের অনুসারীগণ একমত হয়েছেন যে, একজনের বিনিময়ে একদলকে হত্যার শর্ত হলো—তাদের প্রত্যেকে এমন অপরাধ করবে যা সে একা করলে ভুক্তভোগী মারা যেত এবং তার ওপর হত্যার দায় বর্তাত এবং তার ওপর কিসাস (القصاص) ওয়াজিব হতো।৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬২)
القول الثاني: أنهم لا يقتلون به بحال، وإنما تؤخذ منهم الدية بالسوية.
وهو قول الزهري وابن سيرين وحبيب بن أبي ثابت وعبد الملك وربيعة وابن المنذر1.وبه قال الإمام أحمد في رواية2 والظاهرية3.
القول الثالث: أنه يقتل واحد منهم، يرجع فيه لاختيار ولي الدم ويؤخذ من الباقين قسطهم من الدية. وهذا مروي عن معاذ بن جبل وعبد الله بن الزبير وجابر–رضي الله عنهم–ومروي عن ابن سيرين والزهري4.
الأدلة:
أدلة أصحاب القول الأول:
استدل أصحاب هذا القول بالكتاب والسنة والإجماع والمعقول.
أما الكتاب:
فقول الله تعالى: {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ} 5.
وجه الدلالة من الآية: أن سبب الحياة في ذلك يكمن في أنه متى علم القاتل أنه إذا قتل وجب القصاص عليه كف عن القتل، فحيي القاتل والمقتول فلو لم يقتص من الجماعة بالواحد لما كان في القصاص حياة، ولكان القاتل إذا
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মত: কোনো অবস্থাতেই তাদের (হত্যাকারীদের) সেই একজনের বিনিময়ে হত্যা করা হবে না, বরং তাদের কাছ থেকে সমহারে রক্তপণ (دية) গ্রহণ করা হবে।
এটি ইমাম যুহরি, ইবনে সিরিন, হাবিব ইবনে আবি সাবিত, আব্দুল মালিক, রাবিআ এবং ইবনুল মুনযিরের অভিমত ১। ইমাম আহমাদ একটি বর্ণনা (رواية) ২ অনুযায়ী এবং জাহিরি মাযহাবের (الظاهرية) ৩ অনুসারীরাও এই মত ব্যক্ত করেছেন।
তৃতীয় মত: তাদের মধ্য থেকে একজনকে হত্যা করা হবে, যা রক্তের উত্তরাধিকারীর (ولي الدم) পছন্দের ওপর নির্ভর করবে এবং বাকিদের থেকে তাদের হিসসা অনুযায়ী রক্তপণ (دية) নেওয়া হবে। এটি মুআয ইবনে জাবাল, আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের এবং জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত (مروي) এবং ইবনে সিরিন ও যুহরি থেকেও বর্ণিত (مروي) ৪।
প্রমাণাদি:
প্রথম মতের প্রবক্তাদের দলিলসমূহ:
এই মতের প্রবক্তারা কুরআন (الكتاب), সুন্নাহ (السنة), ঐক্যমত্য (إجماع) এবং যুক্তিনির্ভর (المعقول) প্রমাণের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন।
কুরআনের দলিলের ক্ষেত্রে:
মহান আল্লাহর বাণী: {আর কিসাসে (القصاص) তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে} ৫।
আয়াতটি থেকে প্রমাণের দিক (وجه الدلالة): এতে জীবনের রহস্য এই যে, যখন একজন হত্যাকারী জানবে যে সে কাউকে হত্যা করলে তার ওপর কিসাস (القصاص) অনিবার্য হবে, তখন সে হত্যা করা থেকে বিরত থাকবে; ফলে হত্যাকারী এবং যাকে হত্যা করা হতো—উভয়েই বেঁচে থাকবে। সুতরাং যদি একজনের বিনিময়ে একদল লোকের ওপর কিসাস (القصاص) কার্যকর না করা হতো, তবে কিসাসে (القصاص) জীবন থাকত না। আর তখন হত্যাকারী যখন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬৩)
أراد القتل شارك غيره فيه ليسقط القصاص عنه وعن غيره، ولكان ذلك رافعاً لحكم الآية1.
اعترض على هذا الاستدلال:
أن هذا إنما يلزم فيما إذا لم يقتل أحد من الجماعة الذي قتلوا الواحد بخلاف ما إذا قتل منهم واحد، فلا يلزم إذًا أن يبطل الحد حتى يكون سببا للتسليط على إذهاب النفوس2.
وأما السنة:
فحديث أبي شريح الكعبي رضي الله عنه وفيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " ثم إنكم معشر خزاعة قتلتم هذا الرجل من هذيل، وإني عاقله، فمن قتل له قتيل بعد اليوم فأهله بين خيرتين، إما أن يقتلوا أو يأخذوا العقل " 3.
وجه الدلالة:
دل قوله صلى الله عليه وسلم: " ثم إنكم معشر خزاعة قتلتم هذا الرجل من هذيل " على أن هذا الخبر ورد في قتل الجماعة لواحد، فالحكم إذا ورد على سبب، لا يجوز أن يكون ذلك السبب خارجا من ذلك الحكم4.
والإجماع: وقد دل عليه:
ما روى سعيد بن المسيب أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قتل نفرًا خمسة أو
--------------------------------------------
হত্যার ইচ্ছা পোষণকারী অন্যকে এতে শরিক করে নেয় যাতে তার নিজের এবং অন্যের ওপর থেকে কিসাস (قصاص) রহিত হয়ে যায়; আর এতে আয়াতের বিধান রহিত হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতো।
এই দলিল গ্রহণের পদ্ধতির (استدلال) ওপর আপত্তি করা হয়েছে:
নিশ্চয়ই এটি কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে যখন কোনো একজন ব্যক্তিকে হত্যাকারী দলের কারো পক্ষ থেকেই শাস্তি কার্যকর করা না হয়। এর বিপরীতে যদি তাদের মধ্য থেকে একজনকে হত্যা করা হয়, তবে সেক্ষেত্রে হদ্দ (حد) রহিত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না যা জীবন হরণকে উৎসাহিত করার কারণ হতে পারে।
আর সুন্নাহর (سنة) ক্ষেত্রে:
আবু শুরাইহ আল-কাবি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "অতঃপর হে খুযাআ সম্প্রদায়! তোমরা হুযাইল গোত্রের এই লোকটিকে হত্যা করেছ, আর আমি তার রক্তপণ বা দিয়ত (عقل) প্রদানকারী। আজকের পর যার কোনো স্বজনকে হত্যা করা হবে, তার পরিবার দুটি বিষয়ের যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার এখতিয়ার রাখবে: হয় তারা কিসাস হিসেবে হত্যা করবে অথবা তারা রক্তপণ বা দিয়ত (عقل) গ্রহণ করবে।"
দলিল গ্রহণের ধরণ (وجه الدلالة):
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "অতঃপর হে খুযাআ সম্প্রদায়! তোমরা হুযাইল গোত্রের এই লোকটিকে হত্যা করেছ"—এটি প্রমাণ করে যে, এই খবরটি (خبر) একদল লোক কর্তৃক একজন ব্যক্তিকে হত্যার প্রেক্ষিতে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং কোনো বিধান (حكم) যখন একটি বিশেষ কারণের (سبب) ওপর অবতীর্ণ হয়, তখন সেই কারণটি উক্ত বিধানের বাইরে থাকা বৈধ নয়।
এবং ইজমা (إجماع): যা নিম্নোক্ত বিষয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত:
সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব যা বর্ণনা (روى) করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পাঁচ বা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬৪)
سبعة برجل واحد قتلوه قتل غيلة1. وقال عمر: "لو تمالأ عليه أهل صنعاء لقتلتهم جميعا"2.
وما رواه المغيرة بن حكيم عن أبيه أن أربعة قتلوا صبيا، فقال عمر مثله3.
وما جاء عن سعد بن وهب قال: "خرج رجال سفر فصحبهم رجل، فقدموا وليس معهم، قال: فاتهمهم أهله، فقال شريح: "شهودكم أنهم قتلوا صاحبكم وإلاّ حلفوا ما قتلوه"، فأتوا بهم عليا رضي الله عنه وأنا عنده، ففرق بينهم فاعترفوا، فسمعت عليًّا يقول: "أنا أبو الحسن القوم، فأمر بهم فقتلوا"4.
وما جاء عن الشعبي في رجلين شهدا على رجل أنه سرق فقطعه علي، ثم جاءا بآخر وقالا: أخطأنا فأبطل شهادتهما وأخذ بدية الأول، وقال: "لو علمت أنكم تعمدتما لقطعتكما"5.ومعلوم أنه لا فرق بين القصاص في الأطراف وبين القصاص في النفس6.
--------------------------------------------
সাতজন ব্যক্তি মিলে একজনকে প্রতারণামূলকভাবে হত্যা করেছিল১। ওমর (রা.) বলেন: "যদি সানআবাসীরা সকলে তার বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হতো, তবে আমি তাদের সবাইকেই হত্যা করতাম"২।
মুগিরা ইবনে হাকিম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, চারজন ব্যক্তি মিলে এক কিশোরকে হত্যা করেছিল, তখন ওমর (রা.) অনুরূপ কথা বলেছিলেন৩।
সাদ ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "কিছু লোক সফরে বের হলো এবং তাদের সাথে এক ব্যক্তি সঙ্গী হলো। তারা ফিরে এল কিন্তু সে তাদের সাথে ছিল না। তিনি বলেন: তখন তার পরিবার তাদের অভিযুক্ত করল। শুরাইহ বললেন: 'তোমাদের সাক্ষী উপস্থাপন করো যে তারা তোমাদের সঙ্গীকে হত্যা করেছে, অন্যথায় তারা কসম করবে যে তারা তাকে হত্যা করেনি'। এরপর তারা তাদের আলী (রা.)-এর নিকট নিয়ে এল এবং আমি তখন তাঁর কাছে ছিলাম। তিনি তাদের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন এবং তারা স্বীকারোক্তি দিল। তখন আমি আলীকে বলতে শুনলাম: 'আমি জাতির জন্য আবুল হাসান'। অতঃপর তিনি তাদের হত্যার নির্দেশ দিলেন এবং তাদের হত্যা করা হলো"৪।
শাবি থেকে বর্ণিত, দুই ব্যক্তি এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরির সাক্ষ্য দিল, ফলে আলী (রা.) তার হাত কেটে দিলেন। এরপর তারা অন্য একজনকে নিয়ে এল এবং বলল: "আমরা ভুল করেছি"। তখন তিনি তাদের সাক্ষ্য বাতিল করে দিলেন এবং প্রথম ব্যক্তির রক্তপণ গ্রহণ করলেন। তিনি বললেন: "যদি আমি জানতাম যে তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করেছ, তবে আমি তোমাদের (হাত) কেটে দিতাম"৫। আর এটি সুবিদিত যে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কিসাস এবং প্রাণের কিসাসের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬৫)
وما جاء عن المغيرة بن شعبة رضي الله عنه أنه قتل سبعة برجل1.
وعن ابن عباس–رضي الله عنهما– أنه قال:"لو أن مائة قتلوا واحدا
قتلوا به"2.فهذا ما ثبت عن هؤلاء الصحابة ولم يعرف لهم مخالف في عصرهم فكان
إجماعا3.
واعترض على هذا:
بأن حكم عمر وغيره من الصحابة – رضي الله عنهم – لا يعدو كونه فعل صحابي فلا تقوم به حجة ودعوى الإجماع غير مقبولة4.
ولما ثبت أن معاذا قال لعمر – رضي الله عنهما –:" ليس لك أن تقتل نفسين بنفس"5.
وما جاء عن عمرو بن دينار حيث قال: "كان عبد الملك وابن الزبير لا يقتلون منهم إلا واحدا"6.
فيتضح مما سبق أن الصحابة لم يجمعوا على حكم المسألة. والمقرر في الأصول أن الصحابة إذا اختلفوا لم يجز العمل بقول من أقوالهم إلا بترجيح7.
--------------------------------------------
মুগীরা বিন শু'বা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এক ব্যক্তির বিনিময়ে সাতজনকে হত্যা করেছিলেন১।
এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "যদি একশ জন মিলে একজনকে হত্যা করে, তবে তার বিনিময়ে তাদের সবাইকে হত্যা করা হবে"২। এটিই সেই বিষয় যা এই সাহাবীগণ থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে এবং তাদের যুগে এর কোনো ভিন্নমত পোষণকারী সম্পর্কে জানা যায়নি, তাই এটি ঐক্যমত্য (إجماعا) ছিল৩।
এর ওপর আপত্তি করা হয়েছে যে:
উমর এবং অন্যান্য সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এই ফয়সালা কেবল একজন সাহাবীর কর্ম হওয়ার ঊর্ধ্বে কিছু নয়, তাই এর মাধ্যমে কোনো চূড়ান্ত দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না এবং ঐক্যমত্যের (إجماع) দাবিটিও গ্রহণযোগ্য নয়৪।
যেহেতু এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, মুআয (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন: "একজনের বিনিময়ে দুজনের প্রাণ নেওয়ার অধিকার আপনার নেই"৫।
এবং আমর বিন দীনার থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "আব্দুল মালিক এবং ইবনুল যুবায়ের তাদের মধ্য থেকে কেবল একজনকে হত্যা করতেন"৬।
সুতরাং পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, সাহাবীগণ এই মাসআলার বিধানে ঐক্যমতে পৌঁছাননি। আর উসুল (الأصول) শাস্ত্রের নির্ধারিত নিয়ম হলো যে, সাহাবীগণ যখন মতবিরোধ করেন, তখন কোনো একটি মতকে প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়া ব্যতীত তাদের কোনো বক্তব্য অনুযায়ী আমল করা বৈধ নয়৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬৬)
وأما المعقول:
1- أننا لو لم نوجب القصاص عليهم لجعل الاشتراك ذريعة لسفك الدماء ولأدى ذلك إلى إسقاط حكمة الردع والزجر1.
2- أنها عقوبة تجب للواحد على الواحد، فوجبت للواحد على الجماعة كحد القذف2.
3- أن قتل النفس أغلظ من هتك العرض والقذف، فإذا حد الجماعة بقذف الواحد كان قتلهم بقتل الواحد أولى3.
4- أنه منطلق على كل واحد من الجماعة اسم القاتل للنفس، فوجب أن يجري عليه حكمه كالواحد4.
5- أن ما وجب في قتل الواحد لا يسقط في قتل الجماعة كالدية5.
6- أن القتل بغير حق لا يكون في العادة إلا بالتغالب والاجتماع، والقصاص شرع حكمة للزجر، فيجعل كل واحد منهم كالمنفرد بالقتل، فيجري القصاص عليهم تحقيقا لمعنى الإحياء وإلا سد باب القصاص وفتح باب التغالب6.
أدلة أصحاب القول الثاني على عدم القتل.
استدل أصحاب هذا القول بالكتاب والمعقول.
--------------------------------------------
আর যুক্তিনির্ভর দলিলাদি হলো:
১- আমরা যদি তাদের ওপর প্রতিশোধমূলক শাস্তি (قصاص) আবশ্যক না করতাম, তবে এই অংশীদারিত্ব রক্তপাতের একটি অজুহাতে পরিণত হতো এবং তা অপরাধ দমন ও প্রতিরোধের হিকমতকে নস্যাৎ করার দিকে নিয়ে যেত।
২- এটি এমন একটি শাস্তি যা একজনের বিপরীতে একজনের ওপর আবশ্যক হয়, সুতরাং একজনের (হত্যার) বদলে একটি জামাতের ওপরও তা আবশ্যক হবে, যেমনটি অপবাদের দণ্ড (حد القذف)-এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
৩- নিশ্চয়ই জীবননাশ করা মানহানি বা অপবাদের চেয়ে গুরুতর বিষয়। সুতরাং যখন একজনের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়ার কারণে একটি জামাতের ওপর দণ্ড (حد) প্রয়োগ করা হয়, তখন একজনকে হত্যার দায়ে তাদের সবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা অধিকতর অগ্রগণ্য।
৪- জামাতের অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর 'জীবন হত্যাকারী' নাম বা অভিধাটি প্রযোজ্য হয়, তাই একজনের ন্যায় প্রত্যেকের ওপরই এর বিধান কার্যকর হওয়া আবশ্যক।
৫- একজনকে হত্যার ক্ষেত্রে যা আবশ্যক হয়, জামাতবদ্ধ হয়ে হত্যার কারণে তা রহিত হয় না, যেমন রক্তপণ (دية)।
৬- অন্যায়ভাবে হত্যা সাধারণত পারস্পরিক শক্তিমত্তা প্রদর্শন ও দলবদ্ধতার মাধ্যমেই ঘটে থাকে। আর প্রতিশোধমূলক শাস্তি (قصاص) মূলত দমনের হিকমত হিসেবে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। তাই তাদের প্রত্যেককে একক হত্যাকারী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাদের সবার ওপর প্রতিশোধমূলক শাস্তি (قصاص) কার্যকর করা হবে। অন্যথায় কিসাসের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে এবং দলবদ্ধ শক্তির জোরে রক্তপাতের দ্বার উন্মোচিত হবে।
দ্বিতীয় মতাবলম্বীদের দলিল, যারা (দলবদ্ধ হত্যার ক্ষেত্রে) মৃত্যুদণ্ডের বিপক্ষে।
এই মতের প্রবক্তাগণ কুরআন এবং যুক্তিনির্ভর দলিলাদি দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইশতিরাকুল মুতাআম্মিদ ফীল জিনায়াহ আলান নাফসি বিল কতলি আওিল জারহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬৭)
أما الكتاب:
1- فقوله تعالى: {وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ} 1.
2- وقوله تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ} 2.
وجه الدلالة:
وظاهر الآيتين يقتضي أن لا يقتل أكثر من نفس واحدة ولا يقتل بالحر أكثر من حر3.
واعترض عليه:
أن المراد بالنفس والحر في الآيتين الجنس، فالنفس تنطلق على النفوس كما أن الحر ينطلق على الأحرار4.
3- وقوله تعالى: {وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُوماً فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَاناً فَلا يُسْرِفْ فِي الْقَتْلِ} 5.
وجه الدلالة:
أن من السرف قتل الجماعة بالواحد وهو منهي عنه إذًا6.
واعترض عليه:
أن المراد بالسرف في الآية هو أن يقتل غير قاتله، بل إن قوله تعالى: {فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَاناً} 7، يدل بالاقتضاء على أن سلطان الولي في الجماعة
--------------------------------------------
কিতাব (কুরআন) থেকে প্রমাণ:
১- আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আমি সেখানে তাদের ওপর লিখে দিয়েছিলাম যে, প্রাণের বদলে প্রাণ} ১।
২- এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে মুমিনগণ, নিহতদের ক্ষেত্রে তোমাদের ওপর কিসাস (قصاص) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে; স্বাধীনের বদলে স্বাধীন এবং দাসের বদলে দাস} ২।
দলীলের ধরন (وجه الدلالة):
আয়াত দুটির প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থ দাবি করে যে, একজনের বেশি প্রাণকে হত্যা করা যাবে না এবং একজন স্বাধীনের বিনিময়ে একজনের বেশি স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা যাবে না ৩।
এর ওপর আপত্তি করা হয়েছে:
আয়াত দুটিতে 'প্রাণ' এবং 'স্বাধীন' শব্দ দ্বারা সাধারণ শ্রেণী বা জাতি (جنس) বোঝানো হয়েছে। সুতরাং 'প্রাণ' শব্দটি যেমন একক ব্যক্তির ওপর প্রযোজ্য হয়, তেমনি এটি অনেক প্রাণের ওপরও প্রযোজ্য হতে পারে; ঠিক যেমন 'স্বাধীন' শব্দটি অনেক স্বাধীন ব্যক্তির ওপর প্রযোজ্য হয় ৪।
৩- এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমি তার অভিভাবককে (ولي) ক্ষমতা দান করেছি। সুতরাং সে যেন হত্যায় সীমালঙ্ঘন (سرف) না করে} ৫।
দলীলের ধরন (وجه الدلالة):
নিশ্চয়ই একজনের বদলে এক দলকে হত্যা করা সীমালঙ্ঘনের (سرف) অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং তখন তা নিষিদ্ধ ৬।
এর ওপর আপত্তি করা হয়েছে:
আয়াতে সীমালঙ্ঘন (سرف) বলতে উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত হত্যাকারী ব্যতীত অন্য কাউকে হত্যা করা। বরং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমি তার অভিভাবককে ক্ষমতা দান করেছি} ৭, এটি পরোক্ষ দাবি (دلالة الاقتضاء) অনুযায়ী প্রমাণ করে যে, হত্যাকারী যদি একটি দলও হয় তবে তাদের সবার ওপরই অভিভাবকের (ولي) অধিকার বা ক্ষমতা সাব্যস্ত হবে।
--------------------------------------------