(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: -)
إدراك الركعة والجماعة والجمعة   (محمد بن إبراهيم الغامدي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: إدراك الركعة والجماعة والجمعة

المؤلف: محمد بن إبراهيم الغامدي

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: العدد 192 - السنة 37 - 1425 هـ

عدد الصفحات: 432

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রাকআত, জামাআত ও জুমুআহ লাভ   (মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল-গামিদি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: রাকআত, জামাআত ও জুমুআহ লাভ

লেখক: মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল-গামিদি

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: সংখ্যা ১৯২ - বর্ষ ৩৭ - ১৪২৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৮৯)
ال‌‌مقدمة

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه ونصلي ونسلم على عبده ورسوله محمد بن عبد الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهديه واستنّ بسنته إلى يوم الدين، أمَّا بعد:

فإن الصلاة ركن من أركان الدين وهي أعظم أركانه بعد الشهادتين وهي عمود الدين، ولا حظَّ في الإسلام لمن ترك الصلاة، وهي أساس صلاح الأعمال وقبولها، وهي أول ما يسأل عنه العبد يوم القيامة، فإن صلحت صلح سائر عمله، وإن رُدّت رُدَّ سائر عمله، وفعلها في الجماعة من سنن الهدى، وما زال النبي صلى الله عليه وسلم يصليها في الجماعة حتى توفاه الله، وما زال أصحابه من بعده والتابعون لهم بإحسان يحافظون على فعلها في الجماعة حتى كان يؤتى بالرجل يهادى بين الرجلين من شدة المرض حتى يوقف في الصف كما صح بذلك الأثر عن ابن مسعود رضي الله عنه (1) -، إنّ أمراً كهذا جدير بالعناية والاهتمام، وإنفاق الأوقات في تعلم أحكامه وتعليمها.

إن تعلم أحكام الصلاة فرض عين على كل مسلم ذكر أو أنثى، ولا يسع أحد من المسلمين الجهل بأحكام هذا الركن، كما أنّ الجماعة تتعلق بها أحكام، ولها فضل عظيم، وقد وقع الخلاف بين الفقهاء رحمهم الله فيما تدرك به صلاة الجماعة هل تدرك بركعة أو بما دونها؟ وإذا كانت لا تدرك إلَاّ بركعة فبم تدرك الركعة؟ كما وقع الخلاف بينهم فيما تدرك به الجمعة.

هذا كله هو ما دعاني إلى البحث في هذا الموضوع، فقد رأيت أن هذا مِمَّا لا يستغني عنه مسلم، فعقدت العزم على الكتابة في موضوع (إدراك

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم في صحيحه، كتاب المساجد ومواضع الصلاة، حديث [654] 1/453.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে তওবা করি। আর আমরা সালাত ও সালাম পেশ করি তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়েত ও সুন্নাহর অনুসরণ করবে তাদের সকলের প্রতি। অতঃপর:

নিশ্চয়ই সালাত দ্বীনের অন্যতম একটি রুকন এবং শাহাদাতাইনের পর এটি দ্বীনের মহানতম রুকন ও দ্বীনের খুঁটি। যে ব্যক্তি সালাত বর্জন করে ইসলামে তার কোনো অংশ নেই। এটি আমল সংশোধন ও কবুল হওয়ার ভিত্তি। কিয়ামতের দিন বান্দাকে সর্বপ্রথম সালাত সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করা হবে; যদি তা সঠিক হয় তবে তার অন্যান্য সকল আমলও সঠিক বলে গণ্য হবে, আর যদি তা প্রত্যাখ্যাত হয় তবে তার অন্যান্য সকল আমলও প্রত্যাখ্যাত হবে। আর জামাতের সাথে সালাত আদায় করা হেদায়েতের সুন্নাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত জামাতের সাথেই সালাত আদায় করেছেন। এবং তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণ ও উত্তমভাবে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীগণ জামাতের সাথে সালাত আদায় করার ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন। এমনকি তীব্র অসুস্থতার কারণে একজনকে দুই ব্যক্তির কাঁধে ভর দিয়ে নিয়ে আসা হতো যতক্ষণ না তাকে কাতারে দাঁড় করানো হতো, যেমনটি ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত সহিহ (صحيح) আছার (الأثر) দ্বারা প্রমাণিত রয়েছে (১)। নিশ্চয়ই এটি এমন এক বিষয় যা যত্ন ও গুরুত্ব পাওয়ার এবং এর বিধিবিধান শেখা ও শেখানোর পেছনে সময় ব্যয় করার দাবি রাখে।

সালাতের বিধিবিধান শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর ফরজে আইন। এই রুকনের বিধিবিধান সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা কোনো মুসলিমের জন্য অবকাশ নেই। তেমনিভাবে জামাতের সাথেও বহু বিধিবিধান জড়িত রয়েছে এবং এর রয়েছে মহান মর্যাদা। জামাত কিসের মাধ্যমে অর্জিত হয়—সে ব্যাপারে ফকীহগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) মতভেদ করেছেন; জামাত কি এক রাকাতের মাধ্যমে অর্জিত হয় নাকি তার কম সময়ের মাধ্যমে? আর যদি এক রাকাত ছাড়া অর্জিত না হয়, তবে সেই রাকাতটি কিসের মাধ্যমে অর্জিত হবে? তদ্রূপ জুমার সালাত কিসের মাধ্যমে অর্জিত হবে সে বিষয়েও তাঁদের মাঝে মতভেদ রয়েছে।

এই সব বিষয়ই আমাকে এই বিষয়ে গবেষণার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে। আমি দেখেছি যে এটি এমন একটি বিষয় যা থেকে কোনো মুসলিমই অমুখাপেক্ষী হতে পারে না। তাই আমি এই বিষয়ে লেখার সংকল্প করেছি (অর্জিত হওয়া...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত, হাদিস [৬৫৪] ১/৪৫৩।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৯০)
الركعة والجماعة والجمعة) لما رأيت من تهاون كثير من الناس في حضور الجمع والجماعات، وتأخر الكثيرين عن المبادرة إلى حضور المساجد عند سماع النداء أو قبل أن تقام الصلاة حتى أن الصلاة لتقام وما في المسجد إلَاّ بضعة نفر، ورُبَّما أقيمت وما في المسجد إلَاّ المؤذن والإمام وعدد يسير من كبار السن، فإذا ما قضيت الصلاة وسلم الإمام رأيت أكثر من المسجد يقومون لإتمام صلاتهم، ورُبَّما أقيمت في المسجد الواحد جماعات متعددة، وقد جمعتُ فيه أقوال الفقهاء رحمهم الله من كتبهم المعتمدة، وأوردت أدلتهم وناقشتها مناقشة علمية من أجل الوصول إلى الرأي الذي تطمئن إليه النفس.

وكان منهجي في البحث يتلخص في الآتي:

أولاً: الاقتصار في البحث على المذاهب الأربعة، مع ذكر أقوال الصحابة والتابعين وفقهاء السلف.

ثانياً: ترتيب الأقوال ترتيباً زمنياً مبتدئاً برأي الحنفية ومن وافقهم، ثم المالكية ومن وافقهم وهكذا، ولم أترك هذا الترتيب إلَاّ فيما ندر لسبب، كأن أجد المسألة منصوصاً عليها عند بعض الفقهاء ولم ينص عليها غيرهم، فأبدأ بالمذهب الذي نصّ على حكم المسألة، ثم أخرج من أقوال الفقهاء الآخرين ما يناسب حكم المسألة.

ثالثاً: أذكر عقب كل قول أدلته من الكتاب والسنة والإجماع والقياس إلى آخره ثم أذكر عقب كل دليل ما ورد عليه من المناقشات والجواب عنها حتى أصل إلى الرأي الراجح في المسألة.

رابعاً: أعزو الآيات إلى سورها.

خامساً: أخرج الأحاديث من مصادرها، فإن كان الحديث في الصحيحين أو في أحدهما اقتصرت عليه إلَاّ أن يكون اللفظ المستدل بها لغيرهما؛ إذ الغرض معرفة صحة الحديث، وإن لم يكن فيهما فإني أذكر من أخرجه، وأورد ما ذكره
(রাকাত, জামাত ও জুমা) যেহেতু আমি লক্ষ্য করেছি যে অনেক মানুষ জুমা ও জামাতে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রে অবহেলা করছে এবং আজান শোনার পর অথবা সালাত কায়েম হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত মসজিদে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যেই বিলম্ব পরিলক্ষিত হচ্ছে; এমনকি সালাত শুরু হয়ে গেলেও মসজিদে কেবল গুটিকয়েক লোক অবস্থান করে। কখনও কখনও সালাত শুরু হয় অথচ মসজিদে মুয়াজ্জিন, ইমাম এবং স্বল্প সংখ্যক বয়স্ক লোক ছাড়া আর কেউ থাকে না। অতঃপর যখন সালাত শেষ হয় এবং ইমাম সালাম ফেরান, তখন দেখা যায় মসজিদের অধিকাংশ মানুষ তাদের সালাত পূর্ণ করার জন্য দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। এমনকি কখনও কখনও একই মসজিদে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তাই আমি এতে নির্ভরযোগ্য (معتمدة) গ্রন্থসমূহ থেকে ফকিহগণের (রহিমাহুমুল্লাহ) মতামতগুলো সংকলন করেছি এবং তাদের দলীলসমূহ উল্লেখপূর্বক সেগুলোর ওপর তাত্ত্বিক আলোচনা করেছি, যাতে এমন একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যা অন্তরে প্রশান্তি দেয়।

গবেষণার ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতিটি নিম্নরূপ:

প্রথমত: সাহাবী, তাবিঈ এবং সালাফ ফকিহগণের মতামত উল্লেখ করার পাশাপাশি এই গবেষণা কেবল চার মাজহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।

দ্বিতীয়ত: মতামতগুলোকে কালানুক্রমিকভাবে সাজানো। এক্ষেত্রে হানাফী মাজহাব ও তাদের সাথে একমত পোষণকারীদের মত দিয়ে শুরু করেছি, এরপর মালিকী মাজহাব ও তাদের সাথে একমত পোষণকারীদের মত এবং এভাবে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করেছি। বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া আমি এই ধারাবাহিকতা লঙ্ঘন করিনি; যেমন- কোনো মাসআলা নির্দিষ্ট কোনো ফকিহর বর্ণনায় স্পষ্টভাবে উল্লিখিত থাকলে এবং অন্যদের নিকট তা না থাকলে, আমি সেই মাজহাব দিয়ে আলোচনা শুরু করেছি যেখানে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, অতঃপর অন্য ফকিহগণের বক্তব্য থেকে উক্ত বিষয়ের বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অংশটি চয়ন করেছি।

তৃতীয়ত: প্রতিটি মতের পর কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা (إجماع) এবং কিয়াস (قياس) ইত্যাদি থেকে তার দলীলসমূহ উল্লেখ করেছি। অতঃপর প্রতিটি দলীলের পর তার ওপর কৃত আলোচনা ও সেগুলোর উত্তর প্রদান করেছি, যাতে মাসআলাটির অগ্রগণ্য (راجح) মতটিতে পৌঁছানো যায়।

চতুর্থত: আয়াতগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরার দিকে নিসবত করেছি।

পঞ্চমত: হাদিসসমূহকে তাদের মূল উৎস হতে তাখরিজ (تخريج) করেছি। হাদিসটি যদি সহীহাইন বা এ দুটির কোনো একটিতে বর্ণিত থাকে, তবে কেবল তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি, যদি না দলীল হিসেবে ব্যবহৃত পাঠটি অন্য কোনো কিতাবের হয়; কেননা মূল উদ্দেশ্য হলো হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত করা। আর যদি হাদিসটি সহীহাইন-এ না থাকে, তবে কে তা বর্ণনা করেছেন (أخرجه) আমি তা উল্লেখ করেছি এবং তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা উদ্ধৃত করেছি।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৯১)
أهل العلم في الحكم عليه.

سادساً: أورد ترجمة موجزة للأعلام غير المشهورين الوارد ذكرهم في صلب البحث، أمَّا المشهورين من الصحابة والتابعين فلم أترجم لهم؛ استغناءً بشهرتهم؛ وحتى لا أثقل هوامش البحث بالتراجم مع كثرة الأعلام الوارد ذكرهم في البحث.

سابعاً: اعتمدت على المراجع الأصيلة لكل مذهب فلا أنقل قولاً لمذهب إلَاّ من كتب فقهاء المذهب.

ثامناً: أذكر ما أفتى به أهل الفتوى المعتبرين في عصرنا ما استطعت إلى ذلك سبيلاً.

تاسعاً: ذيلت البحث بفهارس للمراجع وآخر للموضوعات حتى يستطيع القارئ أن يجد بغيته في أقصر وقت ممكن.

وقد اقتضت طبيعة البحث أن يكون في مقدمة وتمهيد وثلاثة فصول وخاتمة:

أولاً: المقدمة: تحدثتُ عن أهمية الموضوع، والأسباب الداعية إلى البحث فيه، ومنهج البحث وخطته.

ثانياً: التمهيد: تحدثتُ فيه عن حكم صلاة الجماعة.

ثالثاً: فصول البحث:

الفصل الأول: إدراك الركعة، وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: ما تدرك به الركعة.

المبحث الثاني: مقدار الركوع الذي يدرك به المأموم الركعة مع الإمام.

المبحث الثالث: شروط إدراك الركعة بإدراك الركوع.

المبحث الرابع: الركوع دون الصف.

الفصل الثاني: إدراك الجماعة، وفيه تمهيد وثلاثة مباحث:
তাঁর সম্পর্কে বিধান (حكم) প্রদানের ক্ষেত্রে আলেমগণের অভিমত।

ষষ্ঠত: মূল গবেষণায় উল্লিখিত অপরিচিত ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) তুলে ধরেছি। তবে প্রসিদ্ধ সাহাবী ও তাবেয়ীদের জীবনী আমি উল্লেখ করিনি; কারণ তাঁদের প্রসিদ্ধিই যথেষ্ট। অধিকন্তু, গবেষণায় অসংখ্য ব্যক্তির নাম আসায় তাঁদের জীবনী উল্লেখ করে গবেষণার পাদটীকাগুলোকে ভারাক্রান্ত করতে চাইনি।

সপ্তমত: আমি প্রতিটি মাযহাবের ক্ষেত্রে তাদের মৌলিক উৎসের ওপর নির্ভর করেছি। ফলে সংশ্লিষ্ট মাযহাবের ফকীহদের কিতাব ছাড়া তাদের কোনো মতামত আমি উদ্ধৃত করিনি।

অষ্টমত: আমি সাধ্যমতো বর্তমান সময়ের নির্ভরযোগ্য মুফতিগণের (أهل الفتوى) ফতোয়া উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি।

নবমত: আমি গবেষণার শেষে একটি রেফারেন্স গ্রন্থপঞ্জি ও একটি সূচিপত্র যুক্ত করেছি, যাতে পাঠক অতি অল্প সময়ে তাঁর কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পেতে পারেন।

গবেষণার প্রকৃতি অনুযায়ী একে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, তিনটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করা হয়েছে:

প্রথমত: ভূমিকা: এতে বিষয়ের গুরুত্ব, গবেষণার কারণ এবং গবেষণার পদ্ধতি (منهج) ও পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয়ত: উপক্রমণিকা: এতে জামাতে নামাজের বিধান (حكم) সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

তৃতীয়ত: গবেষণার অধ্যায়সমূহ:

প্রথম অধ্যায়: রাকাত পাওয়া; এতে চারটি পরিচ্ছেদ (مبحث) রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কীসের মাধ্যমে রাকাত অর্জিত হয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রুকুর (الركوع) সেই পরিমাণ, যা পাওয়ার মাধ্যমে ইমামের সাথে মুক্তাদীর রাকাত অর্জিত হয়।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রুকু (الركوع) পাওয়ার মাধ্যমে রাকাত প্রাপ্তির শর্তাবলি (شروط)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কাতারে শামিল হওয়ার আগেই রুকু (الركوع) করা।

দ্বিতীয় অধ্যায়: জামাত পাওয়া; এতে একটি উপক্রমণিকা ও তিনটি পরিচ্ছেদ (مبحث) রয়েছে:
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৯২)
التمهيد: حكم صلاة الجماعة

اختلف أهل العلم في حكم صلاة الجماعة للصلوات الخمس على أربعة أقوال:

القول الأول: أن الجماعة واجبة وليست شرطاً لصحة الصلاة، وهو قول الحنفية وجزم به صاحب التحفة (1) وغيره.

وهو وجه عند الشافعية، وقيل: إنه قول للشافعي (2) .

واختاره ابن خزيمة (3) وابن المنذر (4) من الشافعية (5) .

وهو رواية عن الإمام أحمد، وهو المذهب (6) ، وبه قال عطاء (7)

(1) تحفة الفقهاء 1/227، وبدائع الصنائع 1/155، والبحر الرائق 1/365، وحاشية الشلبي مع تبيين الحقائق 1/132.

(2) روضة الطالبين 1/339.

(3) هو: محمد بن إسحاق بن خزيمة بن المغيرة بن صالح بن بكر، الحافظ الحجة، الفقيه، شيخ الإسلام، أبو بكر، النيسابوري الشافعي، حدث عنه البخاري ومسلم في غير الصحيحين، ولد سنة 223 ? ومات سنة 311 ?. ينظر: سير أعلام النبلاء 14/365 - 382.

(4) هو: الإمام الحافظ العلامة، شيخ الإٍسلام، أبو بكر، محمد بن المنذر النيسابوري الفقيه، معدود في فقهاء الشافعية، له تصانيف منها: الإشراف في اختلاف الفقهاء، وكتاب الإجماع، والأوسط، وله اختيار لا يتقيد فيه بمذهب بل يدور مع الدليل، توفي سنة 309 أو 310 ?. ينظر: سير أعلام النبلاء 14/490، ووفيات الأعيان 4/207.

(5) روضة الطالبين 1/339.

(6) المغني 3/5، والإنصاف 2/210 ?.

(7) عطاء: أبو محمد عطاء بن أبي رباح، أسلم - وقيل: سالم - بن صفوان، مولى بني فهر أو جُمَحْ المكي، وقيل: إنه مولى أبي ميسرة الفهري، من مولدي الجند، وكان من أجلاء الفقهاء، وتابعي مكة، توفي سنة 115?، وقيل: 114?. انظر: وفيات الأعيان 3/261، وتهذيب التهذيب 7/199.
ভূমিকা: জামাতে সালাত আদায়ের বিধান

পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতে আদায়ের বিধান সম্পর্কে আলেমগণ চারটি মত ব্যক্ত করেছেন:

প্রথম মত: জামাত ওয়াজিব, তবে সালাত সহীহ হওয়ার জন্য এটি শর্ত নয়; এটি হানাফীগণের অভিমত এবং তুহফাতুল ফুকাহা-র লেখক (১) ও অন্যান্যরা এ বিষয়ে দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন।

এটি শাফেয়ীগণের একটি অভিমত, এবং বলা হয়েছে যে এটি ইমাম শাফেয়ীর একটি বক্তব্য (২)।

শাফেয়ীগণের মধ্য থেকে ইবনে খুজাইমা (৩) এবং ইবনে মুনজির (৪) একেই পছন্দ করেছেন (৫)।

এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা, এবং এটিই মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মত (৬); আতা (৭) ও এই মত ব্যক্ত করেছেন।

(১) তুহফাতুল ফুকাহা ১/২২৭, বাদায়েউস সানায়ে ১/১৫৫, আল-বাহরুর রায়েক ১/৩৬৫, এবং তাবয়িনুল হাকায়িকের সাথে হাশিয়াতুশ শালবী ১/১৩২।

(২) রওদাতুত তালিবিন ১/৩৩৯।

(৩) তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমা বিন মুগিরা বিন সালিহ বিন বকর; হাফিজ (الحافظ), হুজ্জাত (الحجة), ফকিহ, শায়খুল ইসলাম, আবু বকর, নিশাপুরী শাফেয়ী। বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয় ছাড়া অন্যত্র তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ২২৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩১১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দ্রষ্টব্য: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/৩৬৫ - ৩৮২।

(৪) তিনি হলেন: ইমাম, হাফিজ (الحافظ), আল্লামা, শায়খুল ইসলাম, আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুনজির নিশাপুরী ফকিহ; তিনি শাফেয়ী ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হন। তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: আল-ইশরাফ ফি ইখতিলাফিল ফুকাহা, কিতাবুল ইজমা এবং আল-আওসাত। তাঁর নিজস্ব কিছু গবেষণা রয়েছে যেখানে তিনি কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের অনুবর্তী নন, বরং দলিলের আলোকে সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ৩০৯ অথবা ৩১০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দ্রষ্টব্য: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/৪৯০ এবং ওফায়াতুল আ’য়ান ৪/২০৭।

(৫) রওদাতুত তালিবিন ১/৩৩৯।

(৬) আল-মুগনি ৩/৫ এবং আল-ইনসাফ ২/২১০।

(৭) আতা: আবু মুহাম্মদ আতা বিন আবি রাবাহ; আসলাম—মতান্তরে সালিম—বিন সাফওয়ান; বনু ফিহর অথবা মক্কার জুমাহ গোত্রের আযাদকৃত দাস, বলা হয় তিনি আবু মাইসারা আল-ফিহরীর আযাদকৃত দাস ছিলেন। তিনি মক্কার প্রবীণ ফকিহ এবং তাবেঈ (تابعي) ছিলেন। তিনি ১১৫ হিজরিতে (মতান্তরে ১১৪ হিজরি) মৃত্যুবরণ করেন। দ্রষ্টব্য: ওফায়াতুল আ’য়ান ৩/২৬১ এবং তাহযিবুত তাহযিব ৭/১৯৯।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩০৯)
‌‌الفصل الأول: إدراك الركعة

‌‌المبحث الأول: ماتدرك به الركعة

…

الفصل الأول: إدراك الركعة

وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: ما تدرك به الركعة

اختلف أهل العلم فيما يدرك به المسبوق الركعة مع الإمام على ثلاثة أقوال:

القول الأول: أن الركعة تدرك بإدراك الركوع مع الإمام، وهذا قول جمهور أهل العلم وممن قال به: علي وابن مسعود وزيد بن ثابت وابن عمر رضي الله عنهم.

وبه قال أيضاً عطاء وإبراهيم النخعي وميمون بن مهران (1) وعروة بن الزبير (2) ، وبه قال الثوري والأوزاعي وأبو ثور وإسحاق (3) ، وقال به الحنفية (4) والمالكية (5)

--------------------------------------------

(1) ميمون بن مهران، جزري تابعي ثقة، وكان فقيهاً فاضلاً ديناً، توفي سنة 116 ?، وقيل: 117 ?، وقيل: 118 ?، وكانت ولادته سنة 40 ?. انظر: معرفة الثقات 2/307، ومشاهير علماء الأمصار 117، وطبقات الحفاظ للسيوطي 46.

(2) انظر: المصنف لابن أبي شيبة 1/243 وما بعدها، والتمهيد 7/73.

وعروة بن الزبير بن العوام، تابعي ثقة، وأحد الفقهاء السبعة بالمدينة، حدث عن أبيه، وعن أمه أسماء بنت أبي بكر الصديق رضي الله عنها وعن خالته عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها، وتفقه بها. انظر: سير أعلام النبلاء 4/421.

(3) المصنف لابن أبي شيبة 1/243 وما بعدها، والتمهيد 7/73، والمغني لابن قدامة 2/182.

(4) تبيين الحقائق 1/184، والبحر الرائق 2/82.

(5) انظر: التمهيد لابن عبد البر 7/73، والذخيرة 2/274، والشرح الكبير بهامش حاشية الدسوقي 1/348.
প্রথম পরিচ্ছেদ: রাকাত প্রাপ্তি

প্রথম অনুচ্ছেদ: যার মাধ্যমে রাকাত সম্পন্ন হয়

…

প্রথম পরিচ্ছেদ: রাকাত প্রাপ্তি

এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: যার মাধ্যমে রাকাত সম্পন্ন হয়

ইমামের সাথে মাসবুক (নামাজে দেরিতে শরিক হওয়া ব্যক্তি) কতটুকু পেলে রাকাত পেয়েছে বলে গণ্য হবে, সে বিষয়ে আলেমগণ তিনটি মতের ওপর ইখতিলাফ (পার্থক্য) করেছেন:

প্রথম মত: ইমামের সাথে রুকু পাওয়ার মাধ্যমেই রাকাত সম্পন্ন হয়। এটি জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলেমের অভিমত। যারা এই মত পোষণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: আলী, ইবনে মাসউদ, যায়েদ বিন সাবিত এবং ইবনে উমর (রাদিআল্লাহু আনহুম)।

আতা, ইব্রাহিম নাখয়ি, মাইমুন বিন মেহরান (১) এবং উরওয়াহ বিন যুবায়ের (২)-ও একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সুফিয়ান সাওরি, আওযায়ি, আবু সাওর এবং ইসহাক (৩)-ও এই কথা বলেছেন। হানাফি (৪) ও মালিকি (৫) মাযহাবের আলেমগণও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মাইমুন বিন মেহরান; জাযারি বংশোদ্ভূত একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) তাবেয়ি (تابعي)। তিনি একজন ফকিহ (فقيه), গুণী ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ১১৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; মতান্তরে ১১৭ হিজরি বা ১১৮ হিজরি। তাঁর জন্ম হয়েছিল ৪০ হিজরিতে। দেখুন: মা’রিফাতুত সিকাত ২/৩০৭, মাশাহিরু উলামাইল আমসার ১১৭ এবং সুয়ূতি রচিত তাবাকাতুল হুফফায ৪৬।

(২) দেখুন: ইবনে আবি শায়বা রচিত আল-মুসান্নাফ ১/২৪৩ এবং পরবর্তী অংশ, এবং আত-তামহিদ ৭/৭৩।

উরওয়াহ বিন যুবায়ের বিন আল-আওয়াম; তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) তাবেয়ি (تابعي) এবং মদিনার সাত ফকিহদের (الفقهاء السبعة) অন্যতম। তিনি তাঁর পিতা এবং তাঁর মাতা আসমা বিনতে আবু বকর সিদ্দিক (রাদিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর খালা উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহা) থেকেও বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন। দেখুন: সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৪/৪২১।

(৩) ইবনে আবি শায়বা রচিত আল-মুসান্নাফ ১/২৪৩ এবং পরবর্তী অংশ, আত-তামহিদ ৭/৭৩ এবং ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি ২/১৮২।

(৪) তাবয়িনুল হাকায়েক ১/১৮৪ এবং আল-বাহরুর রায়েক ২/৮২।

(৫) দেখুন: ইবনে আবদিল বার রচিত আত-তামহিদ ৭/৭৩, আয-যাখিরা ২/২৭৪ এবং হাশিয়াতুদ দিসুকির পার্শ্বটীকায় আশ-শারহুল কাবীর ১/৩৪৮।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩১০)
والشافعية (1) والحنابلة (2) .

واستدلوا بما يأتي:

الدليل الأول: حديث أبي بكرة رضي الله عنه أنه دخل المسجد، والنبي صلى الله عليه وسلم راكع فركع دون الصف، ثم مشى إلى الصف، فلما قضى النبي صلى الله عليه وسلم صلاته قال: " أيكم الذي ركع دون الصف، ثم مشى إلى الصف؟ فقال أبو بكرة: أنا يا رسول الله، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: زادك الله حرصاً ولا تعد" (3) .

ووجه الاستدلال: أن الصحابة رضي الله عنهم كان مستقراً عندهم أن الركوع تدرك به الركعة، وأيضاً: فالنبي صلى الله عليه وسلم لم يأمر أبا بكرة بإعادة الصلاة فيدل على أنه أدرك الركعة، وإنَّما نهاه أن يعود إلى السعي الشديد والركوع دون الصف، كما ورد مصرحاً بذلك في بعض طرق الحديث (4) .

ونوقش: بأنه ليس في الحديث ما يدل على أنه لم يقضها فسقط الاستدلال بالحديث (5) .

ويُمكن الجواب عنه: بأنه ليس فيه ما يدل على أنه قضاها بل فيه ما يدل على أنه لم يقضها، فإن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لما قضى صلاته أيكم الذي ركع دون الصف فأجابه أبو بكرة، وهذا يدل على أنه سلم معه، والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) انظر: المجموع 4/215 وما بعدها.

(2) انظر: المغني 2/182.

(3) أخرجه البخاري في كتاب الأذان، باب إذا ركع دون الصف 1/190، وأبو داود في كتاب الصلاة، باب: الرجل يركع دون الصف، حديث 683، 684 جـ1/440 وما بعدها، وهذا لفظه.

(4) انظر: فتح الباري 2/156.

(5) المحلى لابن حزم 3/244 وما بعدها.
এবং শাফিঈ (১) ও হাম্বলীগণ (২)।

তারা নিম্নোক্ত বিষয়াদির মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন:

প্রথম দলিল: আবু বাকরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকুতে ছিলেন, ফলে তিনি কাতার পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই রুকু করলেন এবং এরপর হেঁটে কাতারে শামিল হলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাঁর নামাজ শেষ করলেন তখন বললেন: "তোমাদের মধ্যে কে কাতারের পেছনে রুকু করেছ এবং তারপর হেঁটে কাতারে এসেছ?" আবু বাকরাহ বললেন: "আমি, হে আল্লাহর রাসুল।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আল্লাহ তোমার আগ্রহ বাড়িয়ে দিন, তবে পুনরায় এমন করো না" (৩)।

দলিল পেশ করার পদ্ধতি: সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) নিকট এটি সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল যে, রুকুর মাধ্যমে রাকাত পাওয়া যায়। এছাড়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বাকরাহকে নামাজ পুনরায় পড়ার নির্দেশ দেননি, যা প্রমাণ করে যে তিনি রাকাতটি পেয়েছিলেন। মূলত তিনি তাকে কেবল দ্রুত দৌড়ে আসতে এবং কাতারের পেছনে রুকু করতে নিষেধ করেছিলেন, যেমনটি হাদিসের কিছু সূত্রে (طرق) স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে (৪)।

এর ওপর আলোচনা করা হয়েছে যে: হাদিসে এমন কিছু নেই যা প্রমাণ করে যে তিনি রাকাতটি পুনরায় আদায় করেননি, ফলে এই হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করার ভিত্তিটি নাকচ হয়ে যায় (৫)।

এর উত্তর এভাবে দেওয়া সম্ভব: হাদিসে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে তিনি তা পুনরায় আদায় করেছিলেন, বরং এতে এমন প্রমাণ রয়েছে যে তিনি তা পুনরায় আদায় করেননি। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাঁর নামাজ শেষ করলেন, তখন জিজ্ঞেস করলেন "কে কাতারের পেছনে রুকু করেছে?", আর আবু বাকরাহ তার উত্তর দিলেন। এটি নির্দেশ করে যে তিনি নবীজির সাথেই সালাম ফিরিয়েছিলেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মাজমু ৪/২১৫ এবং পরবর্তী অংশ।

(২) দেখুন: আল-মুগনি ২/১৮২।

(৩) ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবুল আজান, অনুচ্ছেদ: যখন কাতারের পেছনে রুকু করা হয়, ১/১৯০; এবং আবু দাউদ কিতাবুস সালাত, অনুচ্ছেদ: কোনো ব্যক্তি কাতারের পেছনে রুকু করলে, হাদিস ৬৮৩, ৬৮৪, খণ্ড ১/৪৪০ এবং পরবর্তী অংশে, আর এটি তারই শব্দবিন্যাস।

(৪) দেখুন: ফাতহুল বারি ২/১৫৬।

(৫) ইবনে হাজমের আল-মুহাল্লা ৩/২৪৪ এবং পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩১১)
ونوقش حديث أبي بكرة أيضاً: بأن النبي صلى الله عليه وسلم قد نهاه عن العود إلى مثل ذلك والاحتجاج بشيء قد نهي عن لا يصح (1) .

وأُجيب: بأن معنى قوله: " لا تعد " يعني لا تركع دون الصف، وقيل: لا تعد أن تسعى إلى الصلاة سعياً يحفزك في النفس، وقيل: لاتعد إلَاّ الإبطاء.

ثم قد روي «لا تُعِد» بضم التاء وكسر العين، قال العيني: فإن صحت هذه الرواية فمعناه: ولا تعد صلاتك (2) .

ولو كان النهي للتحريم لأمره النبي صلى الله عليه وسلم بالإعادة (3) .

ونوقش أيضاً: بأنه واقعة عين فلا عموم لها (4) .

أقول: ويُمكن أن يُجاب عن هذا بأن الأصل العموم، ويتأيد هذا بفعل الصحابة - رِضْوَانُ الله عَلَيْهِمْ - فقد صح عن عدد منهم أنهم أدركوا الإمام في الركوع وركعوا دون الصف ودخلوا إلى الصف واعتدوا بتلك الركعة كما سيأتي في الدليل الرابع.

الدليل الثاني: عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " إذا جئتم ونحن سجود فاسجدوا ولا تعدوها شيئاً، ومن أدرك الركعة فقد أدرك الصلاة " (5) .

--------------------------------------------

(1) عون المعبود 3/146.

(2) عمدة القاري 5/114.

(3) المرجع السابق 5/115.

(4) تحفة الأحوذي 3/164.

(5) أخرجه أبو داود في كتاب الصلاة باب في الرجل يدرك الإمام ساجداً كيف يصنع رقم (893) 1/553.

وأخرجه أيضاً ابن خزيمة في صحيحه، كتاب الصلاة، باب إدراك المأموم ساجداً، والأمر بالإقتداء به في السجود 3/57 - 58، وقال: ((في القلب من هذا الإسناد فإني كنت لا أعرف يحيى بن أبي سليمان بعدالة ولا جرح)) ، والدارقطني في السنن 1/346 - 347، وأخرجه ابن خزيمة في صحيحه 3/45 بلفظ: ((من أدرك ركعة من الصلاة فقد أدركها قبل أن يقيم الإمام صلبه)) ، والحاكم في المستدرك وقال: صحيح الإسناد، ولم يخرجاه 1/216 ووافقه الذهبي، وأخرجه البيهقي في السنن الكبرى 2/89 وقال: ((تفرد به يحيى بن أبي سليمان المديني)) .

وصححه الشيخ العلامة الألباني؛ لأن له شاهداً قوياً أخرجه البيهقي، وجريان عمل جماعة من الصحابة عليه كما في إرواء الغليل 1/260 - 262.
আবু বাকরাহ-র হাদিস সম্পর্কে আরও আলোচনা করা হয়েছে যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে এই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি করতে নিষেধ করেছেন এবং যে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে তা দিয়ে দলিল পেশ করা সঠিক নয় (১)।

এর উত্তরে বলা হয়েছে যে: তাঁর বাণী "পুনরায় করো না"-এর অর্থ হলো কাতারের বাইরে রুকু করো না। আবার কেউ কেউ বলেছেন: নামাজের দিকে এমনভাবে দ্রুত হেঁটে এসো না যা তোমার শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি বাড়িয়ে দেয়। অন্য মতে: ধীরগতি ছাড়া অন্য কিছু করো না।

অতঃপর, এটি "লা তু'ইদ" (তা-তে পেশ এবং আইন-এ যের সহকারে) শব্দেও বর্ণিত হয়েছে। আল-আইনী বলেন: যদি এই বর্ণনাটি বিশুদ্ধ (صحيح) হয়, তবে এর অর্থ হবে: তোমার নামাজ পুনরায় আদায় করো না (২)।

যদি এই নিষেধাজ্ঞাটি হারামের জন্য হতো, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে পুনরায় নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিতেন (৩)।

আরও আলোচনা করা হয়েছে যে: এটি একটি বিশেষ ঘটনা (واقعة عين), তাই এর কোনো ব্যাপকতা (عموم) নেই (৪)।

আমি বলি: এর জবাবে বলা যেতে পারে যে, মূলনীতি হলো ব্যাপকতা (عموم)। সাহাবীদের—রাদিয়াল্লাহু আনহুম—কর্ম দ্বারাও এটি সমর্থিত হয়। অনেক সাহাবী থেকে বিশুদ্ধভাবে (صح) বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা ইমামকে রুকু অবস্থায় পেয়েছেন এবং কাতারের বাইরেই রুকু করেছেন, অতঃপর কাতারে প্রবেশ করেছেন এবং সেই রাকাতটি গণনা করেছেন, যা চতুর্থ দলিলে সামনে আসবে।

দ্বিতীয় দলিল: আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা যখন (নামাজে) আসবে এবং আমরা সিজদায় থাকব, তখন তোমরাও সিজদাহ করো কিন্তু তা (রাকাত হিসেবে) গণনা করো না। আর যে ব্যক্তি রাকাত পেল, সে নামাজ পেল" (৫)।

--------------------------------------------

(১) আওনুল মাবুদ ৩/১৪৬।

(২) উমদাতুল কারী ৫/১১৪।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস ৫/১১৫।

(৪) তুহফাতুল আহওয়াযী ৩/১৬৪।

(৫) আবু দাউদ এটি কিতাবুস সালাত, ইমামকে সিজদাহরত অবস্থায় পেলে ব্যক্তি কী করবে—সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, নম্বর (৮৯৩) ১/৫৫৩।

ইবনে খুজাইমাও এটি তাঁর সহিহ-তে, কিতাবুস সালাত, মুক্তাদির সিজদাহরত অবস্থায় ইমামকে পাওয়া এবং সিজদাহয় তাঁর অনুসরণ করার নির্দেশ—সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে (৩/৫৭-৫৮) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এই সনদের (إسناد) ব্যাপারে আমার মনে সংশয় আছে, কারণ আমি ইয়াহইয়া ইবনে আবি সুলায়মানকে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) বা ত্রুটিারোপ (جرح) কোনোটির মাধ্যমেই চিনি না"। দারাকুতনী তাঁর সুনান গ্রন্থে (১/৩৪৬-৩৪৭) এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে খুজাইমা তাঁর সহিহ-তে (৩/৪৫) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি নামাজের একটি রাকাত পেল, সে তা ইমামের পিঠ সোজা করার আগেই পেয়ে গেল"। হাকিম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করে বলেছেন: এটি সনদের দিক থেকে বিশুদ্ধ (صحيح الإسناد), যদিও তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি (১/২১৬) এবং ইমাম যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। বায়হাকী সুনানুল কুবরা-তে (২/৮৯) এটি বর্ণনা করে বলেছেন: "ইয়াহইয়া ইবনে আবি সুলায়মান আল-মাদিনী এটি এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন"।

শাইখ আল্লামা আলবানী একে বিশুদ্ধ (صحيহ) বলেছেন; কারণ এর একটি শক্তিশালী সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে যা বায়হাকী বর্ণনা করেছেন এবং একদল সাহাবীর আমল এর অনুকূলে রয়েছে, যেমনটি ইরওয়াউল গালিল (১/২৬০-২৬২) গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩১২)
ووجه الاستدلال: أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر من جاء إلى الصلاة والإمام ساجدٌ أن يسجد معه لكنه لا يحتسب تلك الركعة، وإن أدركه في الركوع دخل معه واحتسب تلك الركعة فلفظ الركعة يراد به الركوع (1) .

ونوقش: بأن فيه حمل الركعة الواردة في الحديث على الركوع، وهذا لايصح لأن مسمى الركعة جميع أركانها وأذكارها حقيقة شرعية وعرفية، وهما مقدمتان على اللغوية، فإطلاق الركعة على الركوع وما بعده مجاز لايصار إليه إلَاّ لقرينة كما وقع عند مسلم من حديث البراء: «فوجدت قيامه فركعته فاعتداله فسجدته» (2) .

فإن وقوع الركعة في مقابل القيام والاعتدال والسجود قرينة تدل على أن المراد بها الركوع.

وما نحن فيه ليس فيه قرينة تصرفه إلى الركوع (3) .

--------------------------------------------

(1) ينظر: نيل الأوطار 1/790، 2/382.

(2) صحيح مسلم 1/343 حديث [471] باب اعتدال أركان الصلاة وتخفيفها في تمام.

(3) نيل الأوطار 1/790.
দলিলের ধরন হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন যে, কেউ যদি নামাজে এমন অবস্থায় আসে যখন ইমাম সিজদাবনত অবস্থায় আছেন, সে যেন তাঁর সাথে সিজদায় যোগ দেয়, তবে সে ওই রাকাত (ركعة) গণনা করবে না। আর যদি সে তাকে রুকু (ركوع) অবস্থায় পায়, তবে তাঁর সাথে যোগ দেবে এবং ওই রাকাত (ركعة) গণনা করবে। সুতরাং রাকাত (ركعة) শব্দটি দ্বারা এখানে রুকু (ركوع) উদ্দেশ্য। (১) .

এর উত্তরে আলোচনা করা হয়েছে যে: এতে হাদিসে বর্ণিত রাকাত (ركعة) শব্দটিকে রুকু (ركوع)-এর অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে, যা সঠিক নয়। কারণ রাকাত (ركعة) বলতে এর সকল রুকন (أركان) ও জিকিরসমূহকে বোঝায়, যা একটি শরয়ি ও প্রথাগত প্রকৃত অর্থ (حقيقة شرعية وعرفية)। আর এই উভয় অর্থ আভিধানিক অর্থের ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য। সুতরাং রুকু (ركوع) এবং তার পরবর্তী অংশের ক্ষেত্রে রাকাত (ركعة) শব্দের প্রয়োগ একটি রূপক (مجاز) ব্যবহার, যা কোনো প্রমাণ বা সূত্র (قرينة) ছাড়া গ্রহণ করা যায় না। যেমন সহিহ মুসলিমে আল-বারা-এর হাদিসে এসেছে: "আমি তাঁর দণ্ডায়মান অবস্থা, তাঁর রুকু (ركوع), তাঁর সোজা হয়ে দাঁড়ানো (اعتدال) এবং তাঁর সিজদা (سجود) লক্ষ্য করলাম।" (২) .

এখানে দণ্ডায়মান হওয়া, সোজা হয়ে দাঁড়ানো এবং সিজদার বিপরীতে রাকাত (ركعة) শব্দের উল্লেখ থাকা এমন একটি প্রমাণ বা সূত্র (قرينة) যা নির্দেশ করে যে এর দ্বারা রুকু (ركوع) উদ্দেশ্য।

কিন্তু আমাদের আলোচ্য বিষয়ে এমন কোনো প্রমাণ বা সূত্র (قرينة) নেই যা শব্দটিকে রুকু (ركوع)-এর অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেবে (৩) .

--------------------------------------------

(১) দেখুন: নাইলুল আওতার ১/৭৯০, ২/৩৮২।

(২) সহিহ মুসলিম ১/৩৪৩ হাদিস [৪৭১] অধ্যায়: নামাজের রুকনসমূহ সমান করা এবং পূর্ণতার সাথে সংক্ষিপ্ত করা।

(৩) নাইলুল আওতার ১/৭৯০।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩১৩)
ويُمكن الجواب عنه: بأن في الحديث ما يدل على أن المراد الركوع وهو قوله قبل أن يقيم الإمام صلبه، وقد وقعت أيضاً في مقابلة السجود كما في رواية ابن خزيمة والحاكم، وهو موضح في تخريج الحديث بالهامش.

الدليل الثالث: ما روى أبو هريرة رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من أدرك الركوع من الركعة يوم الجمعة فليضف إليها أخرى ومن لم يدرك الركوع فليتم الظهر أربعاً " (1) .

ووجه الاستدلال: أن الحديث نص في أن الركعة تدرك بإدراك الركوع، ولذلك فإن من أدرك الإمام يوم الجمعة وهو في الركعة الثانية فأدرك معه الركوع فيكون مدركاً للجمعة؛ لأنه أدرك ركعة كاملة مع الإمام فتنعقد صلاته جمعة، ومن لم يدرك معه الركوع فليصل الظهر أربعاً لفوات الجمعة.

ويُمكن مناقشته: بأنه حديث ضعيف كما هو مبين في تخريجه.

الدليل الرابع: الآثار عن الصحابة - رِضْوَانُ الله عَلَيْهِمْ - منها:

ما روي أن ابن مسعود رضي الله عنه قال: من لم يدرك الإمام راكعاً لم يدرك تلك الركعة (2) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه الدارقطني 2/12 وفي سنده سليمان بن أبي داود منكر الحديث فالحديث ضعيف وروي من طرق كلها ضعيفة. وانظر: خلاصة الأحكام للنووي مع تحقيقه لحسين إسماعيل الجمل 2/672.

(2) أخرجه البيهقي في السنن الكبرى 2/90 من طريقين عن أبي الأحوص عنه، قال الشيخ الألباني في إرواء الغليل 2/262: وهذا إسناد صحيح.

وروى ابن أبي شيبة في المصنف 1/255، والطحاوي 2/397.

والطبراني في المعجم الكبير 9/271 [9353] ، والبيهقي 2/90 عن زيد بن وهب: خرجتُ مع عبد الله من داره إلى المسجد، فلما توسطنا المسجد ركع الإمام فكبر عبد الله ثم ركع، وركعتُ معه، ثم مشينا راكعين حتى انتهينا إلى الصف حتى رفع القوم رؤوسهم، قال: فلما قضى الإمام الصلاة قمت وأنا أرى أني لم أدرك، فأخذ بيدي عبد الله، فأجلسني وقال: إنك قد أدركت.

قال الشيخ الألباني في الإرواء 2/263: وسنده صحيح وله في الطبراني طرق أخرى.
এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে: হাদিসটিতে এমন কিছু রয়েছে যা নির্দেশ করে যে এখানে রুকু উদ্দেশ্য; আর তা হলো ইমামের পিঠ সোজা করার পূর্বের কথাটি। এটি সিজদার বিপরীতেও এসেছে যেমনটি ইবনে খুজাইমা ও হাকিমের বর্ণনায় পাওয়া যায়, এবং এটি টীকায় হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج)-এর মধ্যে স্পষ্ট করা হয়েছে।

তৃতীয় দলীল: আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি জুমার দিন কোনো রাকাতের রুকু পেল, সে যেন তার সাথে আরেকটি রাকাত যুক্ত করে নেয়। আর যে ব্যক্তি রুকু পেল না, সে যেন জোহরের চার রাকাত পূর্ণ করে।" (১)

দলীল পেশের পদ্ধতি: হাদিসটি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, রুকু পাওয়ার মাধ্যমে রাকাত পাওয়া সাব্যস্ত হয়। এই কারণেই জুমার দিন যে ব্যক্তি ইমামকে দ্বিতীয় রাকাতে পেল এবং তাঁর সাথে রুকু পেল, সে জুমা পেয়েছে বলে গণ্য হবে; কারণ সে ইমামের সাথে একটি পূর্ণ রাকাত পেয়েছে, ফলে তার সালাত জুমা হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি তাঁর সাথে রুকু পেল না, জুমা ছুটে যাওয়ার কারণে সে যেন জোহরের চার রাকাত সালাত আদায় করে।

এটি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে যে: এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস, যেমনটি এর উৎস নির্দেশ (تخريج)-এ স্পষ্ট করা হয়েছে।

চতুর্থ দলীল: সাহাবীগণের পক্ষ থেকে বর্ণিত আসার (آثار); সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

বর্ণিত আছে যে, ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল না, সে ঐ রাকাতটি পেল না।" (২)

--------------------------------------------

(১) দারা কুতনি ২/১২ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে (سند) সুলায়মান বিন আবু দাউদ রয়েছেন যিনি প্রত্যাখ্যাত বর্ণনাকারী (منكر الحديث), তাই হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)। এটি আরও বেশ কিছু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যার সবগুলোই দুর্বল (ضعيفة)। দেখুন: হুসাইন ইসমাইল আল-জামালের তাহকিকসহ নববীর খুলাসাতুল আহকাম ২/৬৭২।

(২) বাইহাকি সুনানুল কুবরা ২/৯০-এ আবু আহওয়াস থেকে দুটি সূত্রে তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। শায়খ আলবানি ইরওয়াউল গালিল ২/২৬২-তে বলেছেন: এই সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)।

ইবনে আবি শাইবা আল-মুসান্নাফ ১/২৫৫-এ এবং তাহাবি ২/৩৯৭-এ বর্ণনা করেছেন।

তাবারানি আল-মুজামুল কাবির ৯/২৭১ [৯৩৫৩]-এ এবং বাইহাকি ২/৯০-এ জায়েদ বিন ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহর সাথে তাঁর ঘর থেকে মসজিদের দিকে বের হলাম। যখন আমরা মসজিদের মাঝখানে পৌঁছালাম, তখন ইমাম রুকু করলেন। আবদুল্লাহ তাকবির দিয়ে রুকু করলেন এবং আমিও তাঁর সাথে রুকু করলাম। এরপর আমরা রুকু অবস্থাতেই হাঁটলাম যতক্ষণ না কাতারে পৌঁছালাম এবং মুসল্লিরা তাদের মাথা তুললেন। তিনি বলেন: ইমাম যখন সালাত শেষ করলেন, তখন আমি (অতিরিক্ত রাকাতের জন্য) দাঁড়ালাম এই ভেবে যে আমি রাকাতটি পাইনি। তখন আবদুল্লাহ আমার হাত ধরে আমাকে বসিয়ে দিলেন এবং বললেন: তুমি রাকাতটি পেয়েছ।

শায়খ আলবানি ইরওয়া ২/২৬৩-তে বলেছেন: এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح) এবং তাবারানিতে এর আরও অন্যান্য সূত্র (طرق) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩১৪)
وروى ابن أبي شيبة في المصنف عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: «إذا جئت والإمام راكع فوضعت يديك على ركبتيك قبل أن يرفع رأسه فقد أدركت» (1) .

وروى عبد الرزاق في المصنف: عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: «إذا أدركت الإمام راكعاً فركعت قبل أن يرفع رأسه فقد أدركت، وإن رفع قبل أن تركع فقد فاتتك» (2) .

وروى معمر عن الزهري عن سالم: أن زيد بن ثابت وابن عمر قالا: في الذي يدرك القوم ركوعاً مثل ذلك أيضاً، قالا: وإن وجدهم سجوداً سجد معهم ولم يعتد بذلك (3) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن أبي شيبة في المصنف 1/243، والبيهقي في السنن الكبرى 2/90، قال الألباني رحمه الله في الإرواء 2/263: إسناده صحيح.

(2) أخرجه عبد الرزاق في المصنف حديث (3361) 1/279، والبيهقي من طريق مالك وابن جريج 2/90، وقال الشيخ الألباني في الإرواء 2/263: إسناده صحيح.

(3) أخرجه عبد الرزاق في المصنف حديث (3355) 2/278.

وأخرج البهيقي من طريق مالك أنه بلغه أن عبد الله بن عمرو وزيد بن ثابت كانا يقولان ذلك. السنن الكبرى 2/90. وأخرج الطحاوي في شرح معاني الآثار 1/398 عن خارجة بن زيد بن ثابت ((أنّ زيد ابن ثابت كان يركع على عتبة المسجد ووجهه إلى القبلة، ثم يمشي معترضاً على شقه الأيمن ثم يعتد بها إن وصل إلى الصف أو لم يصل)) قال الشيخ الألباني في الإرواء 2/264: وإسناده جيد.

وأخرجه البيهقي في السنن الكبرى 2/90 من طرق أخرى عن زيد نحوه. منها: عن أبي بكر بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام أن أبا بكر الصديق وزيد بن ثابت دخلا المسجد والإمام راكع فركعا، ثم دبا وهما راكعان حتى لحقا بالصف.

قال الشيخ الألباني: وإسناده حسن، لكن أبا بكر بن عبد الرحمن لم يدرك أبا بكر الصديق فهو عنه منقطع، إلَاّ أنه يحتمل أن يكون تلقاه عن زيد بن ثابت، وهو عن زيد صحيح ثابت، فإنه ورد من طرق أخرى … إرواء الغليل 2/264.
ইবনে আবি শাইবা ‘মুসান্নাফ’-এ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যদি তুমি আসো এবং ইমাম রুকু অবস্থায় থাকেন, আর তিনি মাথা উঠানোর আগেই তুমি তোমার দুই হাত হাঁটুর ওপর রাখো, তবে তুমি (রাকাত) পেয়েছো।" (১)

আব্দুর রাজ্জাক ‘মুসান্নাফ’-এ বর্ণনা করেছেন: ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যদি তুমি ইমামকে রুকু অবস্থায় পাও এবং তিনি মাথা উঠানোর আগেই তুমি রুকু করো, তবে তুমি (রাকাত) পেয়েছো; আর যদি তুমি রুকু করার আগেই তিনি মাথা উঠিয়ে ফেলেন, তবে তা তোমার থেকে ছুটে গেল।" (২)

মা'মার যুহরি থেকে এবং তিনি সালেম থেকে বর্ণনা করেছেন যে: যায়েদ বিন সাবিত এবং ইবনে উমর (রা.) যারা জামাতের রুকু পায় তাদের সম্পর্কে অনুরূপ বলেছেন। তাঁরা বলেন: যদি তাদের সেজদারত অবস্থায় পায়, তবে সে তাদের সাথে সেজদা করবে কিন্তু তা গণনা করবে না (৩) ।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবি শাইবা এটি বর্ণনা করেছেন ‘মুসান্নাফ’ ১/২৪৩-এ এবং বায়হাকি ‘সুনানুল কুবরা’ ২/৯০-এ। আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) ‘ইরওয়া’ ২/২৬৩-এ বলেছেন: এর সনদটি (إسناد) সহিহ (صحيح)।

(২) আব্দুর রাজ্জাক এটি বর্ণনা করেছেন ‘মুসান্নাফ’ হাদিস (৩৩৬১) ১/২৭৯-এ এবং বায়হাকি মালেক ও ইবনে জুরাইজের সূত্রে ২/৯০-এ। শায়খ আলবানী ‘ইরওয়া’ ২/২৬৩-এ বলেছেন: এর সনদটি (إسناد) সহিহ (صحيح)।

(৩) আব্দুর রাজ্জাক এটি বর্ণনা করেছেন ‘মুসান্নাফ’ হাদিস (৩৩৫৫) ২/২৭৮-এ।

বায়হাকি মালেকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আব্দুল্লাহ বিন আমর এবং যায়েদ বিন সাবিত এটি বলতেন। সুনানুল কুবরা ২/৯০। তহাবি ‘শারহু মাআনিল আসার’ ১/৩৯৮-এ খারিজা বিন যায়েদ বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন যে: ((যায়েদ বিন সাবিত মসজিদের চৌকাঠে রুকু করতেন যখন তাঁর মুখ ছিল কিবলার দিকে, এরপর তিনি তাঁর ডান দিক করে কাত হয়ে হেঁটে যেতেন এবং এরপর তিনি তা গণনা করতেন চাই তিনি কাতারে পৌঁছাতে পারুন বা না পারুন)) শায়খ আলবানী ‘ইরওয়া’ ২/২৬৪-এ বলেছেন: এর সনদটি (إسناد) উত্তম (جيد)।

বায়হাকি ‘সুনানুল কুবরা’ ২/৯০-এ যায়েদ থেকে অন্যান্য সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো: আবু বকর বিন আব্দুর রহমান বিন হারিস বিন হিশাম থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর সিদ্দিক এবং যায়েদ বিন সাবিত মসজিদে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে ইমাম রুকুতে ছিলেন, তখন তাঁরা রুকু করলেন। এরপর রুকু অবস্থায় হেঁটে গিয়ে কাতারের সাথে মিলিত হলেন।

শায়খ আলবানী বলেন: এর সনদটি (إسناد) হাসান (حسن), তবে আবু বকর বিন আব্দুর রহমান আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর সাক্ষাৎ পাননি, তাই এটি তাঁর সূত্রে বিচ্ছিন্ন (منقطع)। তবে সম্ভাবনা আছে যে তিনি এটি যায়েদ বিন সাবিত থেকে গ্রহণ করেছেন এবং যায়েদ থেকে এটি সহিহ (صحيح) ও সাব্যস্ত (ثابت), কেননা এটি অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে … ইরওয়াউল গালীল ২/২৬৪।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩১৫)
وذكر مالك في الموطأ عن نافع عن ابن عمر أنه كان يقول: إذا فاتتك الركعة فقد فاتتك السجدة.

قال: وبلغني أن أبا هريرة كان يقول: «من أدرك الركعة فقد أدرك السجدة ومن فاته قراءة أم القرآن فقد فاته خير كثير» (1) .

وروي عن علي رضي الله عنه أنه قال: «لايعتد بالسجود إذا لم يدرك الركوع» (2) .

الدليل الخامس: أن من أدرك الإمام في الركوع لم يفته من الأركان إلَاّ القيام وهو يأتي به مع تكبيرة الإحرام (3) .

الدليل السادس: أن الشرط هو المشاركة للإمام في أفعال الصلاة ومن فاته الركوع لم يوجد منه المشاركة لا في القيام ولا في الركوع (4) .

القول الثاني: أن من أدرك إمامه راكعاً فكبر ووقف حتى رفع الإمام رأسه

--------------------------------------------

(1) أخرجه مالك في الموطأ باب من أدرك ركعة من الصلاة. انظر: شرح الزرقاني على الموطأ 1/27 وما بعدها، والبيهقي في السنن الكبرى 2/90، وقال الزرقاني في شرح الموطأ 1/28، وبلاغة ليس من الضعيف؛ لأنه تتبع كله فوجد مسنداً من غير طريقة.

(2) انظر: التمهيد 7/73 وما بعدها، والمغني 2/182، وتبيين الحقائق 1/184 - 185، والبحر الرائق 2/82.

(3) المغني 2/182.

(4) تبيين الحقائق 1/185.
ইমাম মালিক মুয়াত্তা গ্রন্থে নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেন: যখন তোমার রাকাত ছুটে গেল, তখন তোমার সিজদাও ছুটে গেল।

তিনি বলেন: আমার কাছে এই মর্মে খবর পৌঁছেছে যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলতেন: «যে ব্যক্তি রাকাত পেল, সে সিজদা পেল; আর যার উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ ছুটে গেল, তার অনেক কল্যাণই ছুটে গেল» (১) ।

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «রুকু পাওয়া না গেলে সিজদা গণ্য হবে না» (২) ।

পঞ্চম দলিল: যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল, তার রুকনগুলোর মধ্যে কেবল কিয়াম ছাড়া আর কিছুই বাদ পড়েনি; আর সে তা তাকবিরে তাহরিমার সাথেই আদায় করে নিয়েছে (৩) ।

ষষ্ঠ দলিল: শর্ত হলো নামাজের কার্যাবলিতে ইমামের সাথে অংশগ্রহণ করা; আর যার রুকু ছুটে গেল, তার পক্ষ থেকে কিয়াম বা রুকু—কোনোটিতেই অংশগ্রহণ পাওয়া গেল না (৪) ।

দ্বিতীয় অভিমত: যে ব্যক্তি তার ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল এবং তাকবির প্রদান করে দাঁড়িয়ে থাকল যতক্ষণ না ইমাম মাথা তুললেন

--------------------------------------------

(১) মালিক এটি মুয়াত্তা গ্রন্থের 'নামাজের এক রাকাত পাওয়া' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: মুয়াত্তার ওপর যারকানির ব্যাখ্যা ১/২৭ এবং পরবর্তী অংশ; বায়হাকির আস-সুনান আল-কুবরা ২/৯০। যারকানি মুয়াত্তার ব্যাখ্যা ১/২৮-এ বলেছেন, এই বালাগ (بلاغ) কোনো দুর্বল (ضعيف) বিষয় নয়; কারণ এটি পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসন্ধান করা হয়েছে এবং অন্য সূত্রে এটি মুসনাদ হিসেবে (مسنداً) পাওয়া গিয়েছে।

(২) দেখুন: আত-তামহিদ ৭/৭৩ এবং পরবর্তী অংশ, আল-মুগনি ২/১৮২, তাবয়িনুল হাকায়িক ১/১৮৪ - ১৮৫, এবং আল-বাহরুর রায়েক ২/৮২।

(৩) আল-মুগনি ২/১৮২।

(৪) তাবয়িনুল হাকায়িক ১/১৮৫।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩১৬)
من الركوع فقد أدرك الركعة وعليه أن يركع بعد ذلك، وهذا قول محمد بن عبد الرحمن بن أبي ليلى (1) وزفر ابن الهذيل (2) ، والليث بن سعد (3) .

واستدلوا: بأنه أدرك الإمام فيما له حكم القيام بدليل جواز تكبيرات العيدين فيه فصار كما لو كبر الإمام قائماً فركع ولم يركع المؤتم معه حتى رفع رأسه (4) .

ونوقش: بأن الشرط هو مشاركة الإمام في أفعال الصلاة ولم توجد لا في القيام ولا في الركوع بخلاف ما استشهد به فإنه شاركه في القيام (5) .

وأيضاً: لا نسلم صحة مثل هذا إلَاّ من عذر.

وقد ذكر فقهاء الحنفية أن ثمرة الخلاف بينهم وبين زفر تظهر في أن من أدرك الإمام راكعاً وكبر ولم يركع حتى رفع الإمام فهو عند زفر لاحق فيأتي بهذه

--------------------------------------------

(1) هو: الإمام الفقيه محمد بن عبد الرحمن بن أبي ليلى، ولد سنة 74 ? ومات سنة 148 ?، وتولى القضاء بالكوفة ثلاثاً وثلاثين سنة تفقه بالشعبي، ومن تلاميذه سفيان الثوري. انظر: وفيات الأعيان 4/179 - 181.

(2) ينظر: تبيين الحقائق 1/184، والبحر الرائق 2/82.

وزفر هو: زفر بن الهذيل العنبري الفقيه المجتهد، أبو الهذيل بن الهذيل بن قيس بن مسلم ولد سنة 110 ? حدث عن الأعمش وإسماعيل بن أبي خالد وأبي حنيفة وغيرهم، وكان ثقة مأموناً، وكان من بحور الفقه تفقه بأبي حنيفة وهو من أكبر تلامذته توفي سنة 158?. ينظر: سير أعلام النبلاء 8/38، 41.

(3) مصنف عبد الرزاق 2/279 رقم (3362) ، والتمهيد 7/73.

والليث هو: الليث بن سعد بن عبد الرحمن، الإمام الحافظ شيخ الإسلام ولد سنة 94 ?، سمع عطاء ابن أبي رباح، وابن أبي مليكة، والزهري، وغيرهم، وروى عنه خلق كثير توفي سنة 175 ?. ينظر: حلية الأولياء 7/318، وسير أعلام النبلاء 8/136.

(4) تبيين الحقائق 1/184 وما بعدها، والبحر الرائق 2/82.

(5) انظر: المصدرين السابقين.
রুকু থেকে, তবে সে রাকাতটি পেয়েছে এবং তাকে এরপর রুকু করতে হবে। এটি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা (১), যুফার ইবনুল হুযাইল (২) এবং লাইস বিন সা'দ (৩)-এর অভিমত।

তারা দলিল পেশ করেছেন যে: সে ইমামকে এমন অবস্থায় পেয়েছে যার বিধান দাঁড়ানোর (কিয়াম) পর্যায়ের, এর প্রমাণ হলো এতে দুই ঈদের তাকবিরসমূহ বৈধ হওয়া। ফলে বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়ালো যেন ইমাম দাঁড়িয়ে তাকবির দিলেন এবং রুকু করলেন, কিন্তু মুক্তাদি তাঁর সাথে রুকু করেনি যতক্ষণ না তিনি তাঁর মাথা উঠালেন (৪)।

এর উত্তরে বলা হয়েছে: শর্ত হলো নামাজের কর্মসমূহে ইমামের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, যা এখানে কিয়াম বা রুকু কোনোটিতেই পাওয়া যায়নি। এটি ওই উদাহরণের বিপরীত যা দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে, কারণ সেখানে সে কিয়ামের মধ্যে ইমামের সাথে অংশগ্রহণ করেছিল (৫)।

আরও বলা হয়েছে: ওজর ব্যতীত আমরা এ ধরনের বিষয়ের শুদ্ধতা স্বীকার করি না।

হানাফি ফকিহগণ উল্লেখ করেছেন যে, তাদের এবং ইমাম যুফারের মধ্যকার মতভেদের ফলাফল এখানে প্রকাশ পায় যে, যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল এবং তাকবির দিল কিন্তু ইমাম মাথা উঠানো পর্যন্ত রুকু করল না, সে ইমাম যুফারের নিকট পরবর্তী অনুগামী (لاحق) হিসেবে গণ্য হবে, ফলে সে এগুলো আদায় করবে...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: ইমাম (إمام) ফকিহ (فقيه) মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা। তিনি ৭৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৪৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তেত্রিশ বছর কুফার বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তাবিঈ আশ-শা'বির নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং তাঁর ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম হলেন সুফিয়ান আস-সাওরি। দেখুন: ওফায়াতুল আইয়ান ৪/১৭৯ - ১৮১।

(২) দেখুন: তাবয়িনুল হাকাইক ১/১৮৪, এবং আল-বাহরুর রাইক ২/৮২।

আর যুফার হলেন: যুফার বিন আল-হুযাইল আল-আনবারি, ফকিহ (فقيه) মুজতাহিদ (مجتهد), আবু আল-হুযাইল বিন আল-হুযাইল বিন কায়স বিন মুসলিম। তিনি ১১০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল-আ'মাশ, ইসমাইল বিন আবি খালিদ, আবু হানিফা এবং অন্যদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও বিশ্বস্ত (مأمون) ছিলেন। তিনি ছিলেন ফিকহ শাস্ত্রের সমুদ্র স্বরূপ এবং আবু হানিফার নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন। তিনি তাঁর অন্যতম বড় ছাত্র ছিলেন। তিনি ১৫৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ৮/৩৮, ৪১।

(৩) মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক ২/২৭৯ নম্বর (৩৩৬২), এবং আল-তামহিদ ৭/৭৩।

আর লাইস হলেন: লাইস বিন সা'দ বিন আব্দুর রহমান, ইমাম (إمام) হাফিজ (حافظ) শাইখুল ইসলাম (شيخ الإسلام)। তিনি ৯৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আতা বিন আবি রাবাহ, ইবনে আবি মুলাইকা, ইমাম জুহরি এবং অন্যদের থেকে শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে অসংখ্য বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৭৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: হিলয়াতুল আউলিয়া ৭/৩১৮ এবং সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ৮/১৩৬।

(৪) তাবয়িনুল হাকাইক ১/১৮৪ এবং পরবর্তী অংশ, আল-বাহরুর রাইক ২/৮২।

(৫) দেখুন: পূর্বোক্ত দুটি উৎস।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩১৭)
الركعة قبل فراغ الإمام وعندهم هو مسبوق يأتي بها بعد فراغ الإمام.

لكن فقهاء الحنفية متفقون على أنه لو انتهى إلى الإمام وهو قائم فكبر ولم يركع مع الإمام حتى رفع الإمام ثم ركع أنه يصير مدركاً لهذه الركعة، واتفقوا على أنه لو اقتدى به في قومة الركوع لم يصر مدركاً لتلك الركعة

(1) .

القول الثالث: أن من أدرك القوم ركوعاً لم يعتد بتلك الركعة، روي ذلك عن أبي هريرة (2) رضي الله عنه.

--------------------------------------------

(1) تبيين الحقائق 1/184 وما بعدها، والبحر الرائق 2/82.

(2) روى البخاري في جزء القراءة خلف الإمام ص 94 حدثنا معقل بن مالك قال: حدثنا أبو عوانة عن محمد بن إسحاق عن عبد الرحمن الأعرج عن أبي هريرة قال: إذا أدركت القوم ركوعاً لم تعتد بتلك الركعة. قال ابن عبد البر في التمهيد 7/72 وما بعدها: روي من طريق فيه نظر. وقال الشيخ الألباني في الإرواء 2/265: فهذا سند ضعيف من أجل عنعنة ابن إسحاق ومعقل فإنه لم يوثقه أحد غير ابن حبان، وقال الأزدي متروك.

لكن رواه البخاري في مكان آخر منه ص 57 قال: حدثنا مسدد وموسى بن إسماعيل ومعقل ابن مالك قالوا: حدثنا أبو عوانة عن محمد بن إسحاق عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: ((لا يجزيك إلَاّ أن تدرك الإمام قائماً)) .

ثم قال البخاري: حدثنا عبيد بن يعيش قال: حدثنا يونس قال: حدثنا إسحاق قال: أخبرني الأعرج قال: سمعت أبا هريرة رضي الله عنه يقول: ((لا يجزئك إلَاّ أن تدرك الإمام قائماً قبل أن يركع)) .

قال الشيخ الألباني رحمه الله في الإرواء 2/265 فقد ثبت هذا عن أبي هريرة لتصريح ابن إسحاق بالتحديث، فزالت شبهة تدليسه، وأمَّا اللفظ الأول فلايصح عنه لتفرد معقل بن مالك به ومخالفته للجماعة في لفظه. قال رحمه الله: وثمة فرق واضح بين اللفظين فإن اللفظ الثابت يعطي معنى آخر لا يعطيه اللفظ الضعيف؛ ذلك لأنه يدل على أنه إذا أدرك الإمام قائماً ولو لحظة ثم ركع أنه يدرك الركعة هذا ما يفيده اللفظ المذكور، والبخاري ساقه في صدد إثباته وجود قراءة الفاتحة وأنه لا يدرك الركعة إذا لم يقرأها، وهذا مِمَّا لا يتحمله هذا اللفظ كما هو ظاهر. انتهى كلامه يرحمه الله.
ইমামের নামাজ শেষ করার পূর্বের রাকাত। তাদের মতে সে একজন মাসবুক (مسبوق), যে এটি ইমামের শেষ করার পর আদায় করবে।

কিন্তু হানাফি ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত যে, যদি কেউ ইমামের কাছে এমন অবস্থায় পৌঁছায় যখন তিনি দণ্ডায়মান (কিয়ামে) আছেন, অতঃপর সে তাকবির বলল কিন্তু ইমামের সাথে রুকু করল না যতক্ষণ না ইমাম রুকু থেকে উঠলেন, তারপর সে রুকু করল, তবে সে এই রাকাতটি লাভকারী (مدرك) হিসেবে গণ্য হবে। এবং তারা এ বিষয়েও একমত হয়েছেন যে, যদি কেউ রুকু থেকে ওঠার পর তার (ইমামের) অনুসরণ শুরু করে, তবে সে ওই রাকাতটি লাভকারী (مدرك) হবে না

(১) ।

তৃতীয় মত: যে ব্যক্তি জামাতকে রুকু অবস্থায় পেল, সে ওই রাকাতটি গণ্য করবে না। এটি আবু হুরায়রা (২) রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) তাবয়ীনুল হাকায়িক ১/১৮৪ এবং পরবর্তী অংশ, আল-বাহরুর রাইক ২/৮২।

(২) বুখারি জুযউল কিরাআত খলফাল ইমাম-এর ৯৪ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন, মা'কাল বিন মালিক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি আব্দুর রহমান আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যদি তুমি জামাতকে রুকু অবস্থায় পাও, তবে ওই রাকাতটি গণ্য করো না।" ইবন আব্দুল বার আত-তামহীদ-এর ৭/৭২ ও পরবর্তী অংশে বলেছেন: এটি এমন এক সূত্রে বর্ণিত যাতে সংশয় (فيه نظر) রয়েছে। এবং শায়খ আলবানী আল-ইরওয়া-এর ২/২৬৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: এটি একটি দুর্বল (ضعيف) সনদ (سند); যা ইবনে ইসহাকের আন'আনা (عنعنة) এবং মা'কালের কারণে, যাকে ইবনে হিব্বান ছাড়া কেউ নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেননি, আর আল-আযদি তাকে পরিত্যক্ত (متروك) বলেছেন।

কিন্তু বুখারি এটি বইটির অন্য স্থানে অর্থাৎ ৫৭ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসাদ্দাদ, মুসা বিন ইসমাইল এবং মা'কাল বিন মালিক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তারা বলেন: আবু আওয়ানা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "ইমামকে দণ্ডায়মান অবস্থায় না পাওয়া পর্যন্ত তোমার রাকাত যথেষ্ট হবে না।"

অতঃপর বুখারি বলেন: উবাইদ বিন ইয়াইশ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউনুস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসহাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-আরাজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি: "ইমাম রুকু করার আগে তাকে দণ্ডায়মান অবস্থায় না পাওয়া পর্যন্ত তোমার রাকাত যথেষ্ট হবে না।"

শায়খ আলবানী (রহ.) আল-ইরওয়া ২/২৬৫-এ বলেছেন: ইবনে ইসহাক সরাসরি শোনার কথা (التحديث) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করায় এটি আবু হুরায়রা থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে, ফলে তার তাদলিসের (تدليس) সন্দেহ দূর হয়েছে। তবে প্রথম পাঠটি তার থেকে সহিহ (يصح) নয়, কারণ মা'কাল বিন মালিক এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন এবং শব্দ বিন্যাসে বর্ণনাকারী সমষ্টির (الجماعة) বিরোধিতা করেছেন। তিনি (রহ.) বলেছেন: এই দুই পাঠের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে; কেননা প্রমাণিত (ثابت) পাঠটি এমন এক অর্থ প্রদান করে যা দুর্বল (ضعيف) পাঠটি দেয় না। কারণ এটি নির্দেশ করে যে, যদি কেউ ইমামকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও দণ্ডায়মান অবস্থায় পায় এবং এরপর রুকু করে, তবে সে রাকাতটি লাভ করবে। এটিই উল্লিখিত পাঠের সারকথা। আর বুখারি এটি সূরা ফাতিহা পাঠের আবশ্যকতা প্রমাণের ক্ষেত্রে এবং কিরাআত না পড়লে রাকাত হবে না তা বোঝাতে এনেছেন, যদিও বাহ্যিকভাবে এই পাঠটি সেই অর্থ বহন করে না। তাঁর আলোচনা সমাপ্ত, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩১৮)
وهو ظاهر كلام الإمام البخاري، وحكاه عن كل من ذهب إلى وجوب القراءة خلف الإمام (1) .

ونقل صاحب المجموع عن صاحب التتمة (2) نسبة هذا القول إلى الإمام محمد بن إسحاق ابن خزيمة وحكاه الرافعي عنه وعن أبي بكر الصبغي (3) ، وغيرهما من محدثي الشافعية وقواه تقي الدين السبكي (4) من المتأخرين (5) والعراقي (6) وابن

--------------------------------------------

(1) القراءة خلف الإمام ص 58.

(2) هو: عبد الرحمن بن مأمون بن علي بن إبراهيم النيسابوري، الشيخ أبو سعد المتولي، فقيه شافعي، تفقه بمرو على الفوراني وبمرو الروذ على القاضي الحسين، وببخارى على أبي سهل الأبيوري، برع في الفقه والأصول والخلاف من مصنفاته التتمة لم يتمه وصل فيه إلى القضاء وأكمله جماعة، مات في شوال سنة 478 ?، وكانت ولادته 6 وقيل 427 ?. ينظر: طبقات الفقهاء للشيرازي 1/238، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 2/247 وما بعدها.

(3) هو: أحمد بن إسحاق بن أيوب بن يزيد أبو بكر النيسابوري المعروف بالصبغي، أحد أئمة الشافعية قال الحاكم: وكان يخلف ابن خزيمة في الفتوى بضع عشرة سنة في الجامع وغيره، ولد سنة 258 ?، ومات في شعبان سنة 342 ?، نقل عنه الرافعي في مواضع منها هذا، وله فيه مصنف. ينظر: طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 2/122 وما بعدها.

(4) هو: تقي الدين، أبو الحسن، علي بن عبد الكافي السبكي الشافعي، ولد سنة 683 ?، يقال: ما جاء بعد الغزالي مثله، توفي سنة 756 ?. انظر: طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 3/37 - 42.

(5) انظر: فتح الباري 2/156، ونيل الأوطار 1/791.

(6) انظر: عون المعبود 3/153.

والعراقي هو: الحافظ الإمام الكبير الشهير أبو الفضل زين الدين عبد الرحيم بن الحسين ابن عبد الرحمن بن أبي بكر بن إبراهيم العراقي، ولد في جمادى الأولى سنة 725 ?، اشتغل بالعلوم وأحب الحديث فأكثر من السماع وتقدم في فن الحديث وصفه جمال الدين الأسنوي بحافظ العصر، شرع في إكمال شرح الترمذي الذي بدأه ابن سيد الناس، توفي في ثامن شعبان سنة 806 ?. انظر: طبقات الحفاظ للسيوطي ص 544.
এটি ইমাম বুখারীর বক্তব্যের বাহ্যিক রূপ, এবং তিনি এটি তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যারা ইমামের পিছনে কিরাত পাঠ ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার প্রবক্তা (১) ।

'আল-মাজমু' এর লেখক 'আত-তাতিম্মাহ' (২) এর লেখকের বরাতে এই অভিমতটি ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসহাক ইবনে খুযাইমার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। আর রাফেয়ী তাঁর থেকে এবং আবু বকর আস-সিবগী (৩) ও শাফেয়ী মাযহাবের অন্যান্য মুহাদ্দিসগণের (محدثين) পক্ষ থেকে তা বর্ণনা করেছেন। পরবর্তী (متأخرين) আলিমদের মধ্যে তাকিউদ্দীন আস-সুবকী (৪) ও আল-ইরাকী (৬) একে শক্তিশালী (قوي) করেছেন এবং ইবনে...

--------------------------------------------

(১) আল-কিরাআতু খালফাল ইমাম, পৃষ্ঠা ৫৮।

(২) তিনি হলেন: আব্দুর রহমান বিন মামুন বিন আলী বিন ইব্রাহিম আন-নিশাপুরী, শাইখ আবু সাদ আল-মুতাওয়াল্লী। তিনি একজন শাফেয়ী ফকিহ (فقيه)। তিনি মার্ভে আল-ফাওরানীর নিকট, মার্ভ আল-রূদে কাজী হুসাইনের নিকট এবং বুখারায় আবু সাহল আল-আবইউয়ুরীর নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ফিকহ, উসুল (أصول) ও মতভেদপূর্ণ মাসআলার শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে 'আত-তাতিম্মাহ', যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি; এটি বিচারকার্য (القضاء) অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং একদল আলিম তা সম্পন্ন করেন। তিনি ৪৭৮ হিজরির শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর জন্ম ছিল ৪২৬ হিজরিতে, মতান্তরে ৪২৭ হিজরিতে। দেখুন: আশ-শিরাজী রচিত তাবাকাতুল ফুকারহা ১/২৩৮ এবং ইবনে কাদি শুহবাহ রচিত তাবাকাতুশ শাফেয়ীয়া ২/২৪৭ ও পরবর্তী পৃষ্ঠা।

(৩) তিনি হলেন: আহমদ বিন ইসহাক বিন আইয়ুব বিন ইয়াযিদ আবু বকর আন-নিশাপুরী, যিনি আস-সিবগী নামে পরিচিত। তিনি শাফেয়ী ইমামদের (أئمة) অন্যতম। আল-হাকিম বলেন: তিনি জামে মসজিদ ও অন্যান্য স্থানে দশ বছরেরও বেশি সময় ইবনে খুযাইমার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ফতোয়া প্রদান করতেন। তিনি ২৫৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৪২ হিজরির শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন। রাফেয়ী বেশ কিছু স্থানে তাঁর উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যার মধ্যে এটি একটি; এ বিষয়ে তাঁর একটি গ্রন্থও রয়েছে। দেখুন: ইবনে কাদি শুহবাহ রচিত তাবাকাতুশ শাফেয়ীয়া ২/১২২ ও পরবর্তী পৃষ্ঠা।

(৪) তিনি হলেন: তাকিউদ্দীন, আবুল হাসান, আলী বিন আব্দুল কাফি আস-সুবকী আশ-শাফেয়ী। তিনি ৬৮৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয়ে থাকে: গাজালীর পরে তাঁর মতো আর কেউ আসেনি। তিনি ৭৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ইবনে কাদি শুহবাহ রচিত তাবাকাতুশ শাফেয়ীয়া ৩/৩৭-৪২।

(৫) দেখুন: ফাতহুল বারী ২/১৫৬ এবং নাইলুল আওতার ১/৭৯১।

(৬) দেখুন: আউনুল মাবুদ ৩/১৫৩।

আর আল-ইরাকী হলেন: প্রখ্যাত ও মহান ইমাম হাফিজ (حافظ) আবু ফজল যাইনুদ্দীন আব্দুর রহীম বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুর রহমান বিন আবু বকর বিন ইব্রাহিম আল-ইরাকী। তিনি ৭২৫ হিজরির জুমাদাল উলা মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে জ্ঞানচর্চা করেন এবং হাদিস ভালোবাসতেন, ফলে তিনি প্রচুর শ্রবণ (سماع) করেন এবং হাদিসশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। জামালুদ্দীন আল-আসনভী তাঁকে এই যুগের হাফিজ (حافظ العصر) হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ইবনে সাইয়িদুন নাস কর্তৃক শুরু করা তিরমিযীর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সম্পন্ন করার কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি ৮০৬ হিজরির ৮ই শাবান মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আস-সুয়ূতী রচিত তাবাকাতুল হুফফাজ, পৃষ্ঠা ৫৪৪।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩১৯)
حزم (1) . وأفتى به الشيخ عبد الرزاق عفيفي (2) رحمه الله.

واستدلوا بما يلي:

الدليل الأول: قوله تعالى: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} (3) . وجه الاستدلال: أن القيام ركن من أركان الصلاة ومن أدرك الإمام في الركوع فقد فاته القيام (4) .

ونوقش: بأنه يأتي بتكبيرة الإحرام وهو قائم ثم يركع فيكون قد أتى بركن القيام (5) .

وأُجيب: بأن الله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم لم يأمرا الداخل في الصلاة أن يدخل في غير الحال التي يجد الإمام عليها، وأيضاً لا يجزئ قضاء شيء سبق به من الصلاة إلَاّ بعد سلام الإمام، لا قبل ذلك (6) .

ورُدَّ: بأن الآية عامة مخصوصة بحديث أبي بكرة رضي الله عنه فإنه أدرك النبي صلى الله عليه وسلم في الركوع ولم يأمره بالإعادة ولو كانت ركعته لا تصح لأمره

--------------------------------------------

(1) المحلى 3/243.

(2) فتاوى ورسائل سماحة الشيخ عبد الرزاق عفيفي 1/415.

(3) الآية 238 من سورة البقرة.

(4) انظر: المحلى 3/244، وعون المعبود 3/151.

(5) المحلى 3/246.

(6) المحلى 3/246.
হাজম (১)। এবং শাইখ আব্দুর রাজ্জাক আফীফি (২) (রাহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করেছেন।

এবং তারা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:

প্রথম দলিল: আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা সালাতসমূহের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে অনুগত হয়ে দণ্ডায়মান হও} (৩)। দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি: কিয়াম সালাতের অন্যতম একটি রুকন (ركن) বা অবিচ্ছেদ্য অংশ, আর যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল, তার কিয়াম ছুটে গেল (৪)।

এর পর্যালোচনা: তিনি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাকবিরে তাহরিমা প্রদান করবেন এবং এরপর রুকু করবেন, ফলে তিনি কিয়ামের রুকন (ركن) পালন করেছেন বলে গণ্য হবে (৫)।

এর উত্তর দেওয়া হয়েছে এভাবে: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতে প্রবেশকারীকে ইমাম যে অবস্থায় আছেন সে অবস্থা ব্যতীত অন্য কোনো অবস্থায় সালাতে প্রবেশ করার নির্দেশ দেননি। তদুপরি, সালাতের যে অংশটুকু আগে অতিবাহিত হয়ে গেছে তার কাজা ইমামের সালাম ফেরানোর আগে আদায় করা বৈধ নয়, বরং তার পরেই করতে হয় (৬)।

এর প্রত্যুত্তরে বলা হয়েছে: এই আয়াতটি একটি সাধারণ (عام) বিধান, যা আবু বাকরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট (مخصوص) করা হয়েছে। কেননা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রুকু অবস্থায় পেয়েছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে পুনরায় সালাত আদায়ের নির্দেশ দেননি; যদি তার সেই রাকাতটি সঠিক বা সহিহ (صحيح) না হতো, তবে তিনি অবশ্যই তাকে পুনরায় আদায়ের নির্দেশ দিতেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মুহাল্লা ৩/২৪৩।

(২) ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল সামাহাতুশ শাইখ আব্দুর রাজ্জাক আফীফি ১/৪১৫।

(৩) সূরা আল-বাকারার ২৩৮ নম্বর আয়াত।

(৪) দেখুন: আল-মুহাল্লা ৩/২৪৪ এবং আউনুল মাবুদ ৩/১৫১।

(৫) আল-মুহাল্লা ৩/২৪৬।

(৬) আল-মুহাল্লা ৩/২৪৬।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩২০)
أن يعيد؛ لأنّ تأخير البيان عن وقت الحاجة لا يجوز (1) .

الدليل الثاني: روى أبو هريرة رضي الله عنه أنه صلى الله عليه وسلم قال: "من أدرك الإمام في الركوع فليركع معه، وليعد الركعة" (2) .

ونُوقش: بأن الصحيح أنه من قول أبي هريرة رضي الله عنه، وقد روى عن غيره من الصحابة خلافه.

الدليل الثالث: عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "ائتوا الصلاة وعليكم السكينة فصلوا ما أدركتم، واقضوا ما سبقكم " (3) .

ووجه الاستدلال: أن من أدرك الإمام في أول الركعة الثانية فقد فاتته الأولى كلها، وإن من أدرك سجدة من الأولى فقد فاتته وقفة وركوع ورفع وسجدة وجلوس، وأنّ من أدرك الجلسة بين السجدتين فقد فاته الوقفة والركوع والرفع وسجدة، وأن من أدرك الرفع فقد فاتته الوقفة والركوع، وأن من أدرك السجدتين فقد فاتته الوقفة والركوع وأن من أدرك الركوع فقد فاتته الوقفة وقراءة أم القرآن، وكلاهما فرض لا تتم الصلاة إلَاّ به (4) .

--------------------------------------------

(1) انظر: عون المعبود 3/159 - 160.

(2) رواه البيهقي في السنن 2/90، وقد رواه البخاري في القراءة خلف الإمام من حديث أبي هريرة أنه قال: إن أدركت القوم ركوعاً لم تعتد بتلك الركعة 94، لكن قال الحافظ: وهذا هو المعروف عن أبي هريرة موقوفاً وأمَّا المرفوع فلا أصل له. انظر: التلخيص الحبير 2/41، ونيل الأوطار 1/791.

(3) أخرجه مسلم في كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب: استحباب إتيان الصلاة بوقار وسكينة والنهي عن إتيانها سعياً حديث (602) 1/421 بلفظ: «إذا ثوب بالصلاة فلا يسعَ إليها أحدُكم ولكن ليمش وعليه السكينة والوقار، صلِّ ما أدركت واقض ما سبقك» وأخرج البيهقي في السنن الكبرى 2/297 (وما فاتكم فأقضوا) وفي تخريج أحاديث خلاصة الأحكام قوله: ((وإسناده صحيح على شرطهما)) .

(4) المحلى 3/244، ونيل الأوطار 1/792.
তাকে পুনরায় আদায় করতে হবে; কারণ প্রয়োজনের সময় হতে স্পষ্ট বর্ণনা বা ব্যাখ্যা বিলম্বিত করা জায়েজ নয় (১)।

দ্বিতীয় দলিল: আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল, সে যেন তাঁর সাথে রুকু করে এবং ওই রাকাতটি পুনরায় আদায় করে" (২)।

এর আলোচনায় বলা হয়েছে: সঠিক (الصحيح) হলো এটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর নিজস্ব উক্তি, এবং অন্য সাহাবীদের হতে এর বিপরীত বর্ণনাও বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয় দলিল: আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "তোমরা ধীরস্থিরতার সাথে নামাজের জন্য আসো; এরপর নামাজের যতটুকু অংশ পাও তা আদায় করো এবং যা তোমাদের থেকে ছুটে গেছে তা পূর্ণ করো" (৩)।

দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি: যে ব্যক্তি দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতে ইমামকে পেল, তার প্রথম রাকাতটি সম্পূর্ণরূপে ছুটে গেল। আর যে ব্যক্তি প্রথম রাকাতের একটি সিজদা পেল, তার কিয়াম, রুকু, রুকু হতে ওঠা, সিজদা এবং বসা ছুটে গেল। যে ব্যক্তি দুই সিজদার মাঝখানের বসা পেল, তার কিয়াম, রুকু, রুকু হতে ওঠা এবং একটি সিজদা ছুটে গেল। যে ব্যক্তি রুকু হতে ওঠা পেল, তার কিয়াম এবং রুকু ছুটে গেল। যে ব্যক্তি উভয় সিজদা পেল, তার কিয়াম ও রুকু ছুটে গেল। আর যে ব্যক্তি রুকু পেল, তার কিয়াম এবং উম্মুল কুরআন (সুরা ফাতিহা) পাঠ করা ছুটে গেল; অথচ এই উভয়টিই ফরজ (فرض), যা ব্যতীত নামাজ পূর্ণ হয় না (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আউনুল মাবুদ ৩/১৫৯ - ১৬০।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বায়হাকি সুনান ২/৯০-এ, এবং বুখারি এটি আবু হুরায়রা হতে 'আল-কিরাআতু খালফাল ইমাম'-এ বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: 'যদি তুমি লোকদের রুকু অবস্থায় পাও, তবে সেই রাকাতটি গণ্য করবে না' ৯৪। কিন্তু হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: এটি আবু হুরায়রা হতে মাওকুফ (موقوفاً) হিসেবেই পরিচিত, আর মারফু (المرفوع) হিসেবে এর কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له)। দেখুন: আত-তালখিস আল-হাবির ২/৪১ এবং নাইলুল আওতার ১/৭৯১।

(৩) এটি বের করেছেন মুসলিম তাঁর কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিইস সালাত, অধ্যায়: গাম্ভীর্য ও ধীরস্থিরতার সাথে নামাজে আসার মুস্তাহাব হওয়া এবং দৌড়ে আসতে নিষেধ করা, হাদিস (৬০২) ১/৪২১; শব্দগুলো হলো: "যখন নামাজের ইকামত দেওয়া হয়, তখন তোমাদের কেউ যেন দৌড়ে না আসে, বরং হেঁটে আসবে এবং তার ওপর যেন ধীরস্থিরতা ও গাম্ভীর্য বজায় থাকে। যতটুকু পাও আদায় করো এবং যা ছুটে গেছে তা পূর্ণ করো।" বায়হাকি সুনান আল-কুবরা ২/২৯৭-এ বর্ণনা করেছেন: "আর যা তোমাদের থেকে ছুটে গেছে তা পূর্ণ করো"। তাখরিজু আহাদিসি খুলাসাতুল আহকাম-এ রয়েছে: "এর সনদ বিশুদ্ধ (إسناده صحيح) তাদের শর্ত অনুযায়ী (على شرطهما)"।

(৪) আল-মুহাল্লা ৩/২৪৪ এবং নাইলুল আওতার ১/৭৯২।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩২১)
ونوقش: بأنه لا يخلو من أن تكون (ما) في الحديث عامة على أصل وضعها، شاملة لجميع ما في الصلاة، أو مخصوصة، والأول باطل إذ يلزم منه قضاء فائت الثناء والتوجه ونحو ذلك من الأدعية الواردة، وفائت السورة وإن أدرك الفاتحة وغيرها من الأركان، والثاني مضرٌّ له، فإنه كما خصص اللفظ العام بالأركان والشرائط بدلائل أخر، فليخصص بما سوى الفاتحة بدلائل أُخَر، وهي النصوص التي تدل على إدراك الركعة بالركوع وسقوط الفاتحة عنه (1) .

الدليل الرابع: عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إذا سمعتم الإقامة فامشوا إلى الصلاة وعليكم بالسكينة والوقار ولا تسرعوا، فما أدركتم فصلوا وما فاتكم فأتِمُّوا " (2) .

وجه الاستدلال: أن المأموم المسبوق إذا وجد الإمام في الركوع فقد فاته القيام والقراءة فيجب إتمامها وإنَّما يكون ذلك بعد سلام الإمام فيقضي ركعة (3) .

ونوقش: بما نوقش به الدليل السابق.

الدليل الخامس: عن عمران بن حصين رضي الله عنه قال: كانت بي بواسير فسألتُ النبي صلى الله عليه وسلم فقال: "صلِّ قائماً فإن لم تستطع فقاعداً فإن لم تستطع فعلى جنب" (4) .

--------------------------------------------

(1) إمام الكلام فيما يتعلق بالقراءة خلف الإمام ص 114.

(2) أخرجه البخاري في كتاب الأذان، باب: لا يسعى إلى الصلاة وليأت بالسكينة والوقار … 1/156، ومسلم في كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب: استحباب إتيان الصلاة بوقار وسكينة، والنهي عن إتيانها سعياً، حديث (602) 1/420.

(3) انظر: المحلى 3/244، وعمدة القاري 4/321.

(4) أخرجه البخاري في كتاب تقصير الصلاة، باب: إذا لم يُطق قاعداً صلى على جنب 2/21.
এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে যে: হাদিসে বর্ণিত 'মা' (ما) শব্দটি কি তার মূল ব্যবহার অনুযায়ী সাধারণ (عامة) হিসেবে গণ্য হবে, যা নামাজের মধ্যে বিদ্যমান সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে; নাকি তা নির্দিষ্ট (مخصوصة) কোনো অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? প্রথমটি বাতিল (বাস্তবসম্মত নয়), কারণ সেক্ষেত্রে ছুটে যাওয়া সানা (প্রশংসামূলক দোয়া), তাওয়াজ্জুহ এবং নামাজে পঠিত অনুরূপ অন্যান্য দোয়া কাজা করা আবশ্যক হয়ে পড়বে, এমনকি যদি সে সুরা ফাতিহা এবং অন্যান্য রুকনসমূহ (الأركان) পেয়েও থাকে। আর দ্বিতীয়টি তার জন্য ক্ষতিকর, কারণ সে যেভাবে অন্যান্য দলিলের ভিত্তিতে সাধারণ (عامة) শব্দকে রুকনসমূহ (الأركান) ও শর্তসমূহ (الشرائط) দ্বারা নির্দিষ্ট (مخصوصة) করেছে, তেমনিভাবে ফাতিহা ব্যতীত অন্যান্য বিষয়গুলোকেও অন্যান্য দলিলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট (مخصوصة) করা উচিত। আর সেগুলো হলো ওই সকল নসসমূহ (النصوص) যা রুকুর (الركوع) মাধ্যমে রাকাত (الركعة) পাওয়া এবং মুক্তাদির ওপর থেকে ফাতিহার বাধ্যবাধকতা রহিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে।

চতুর্থ দলিল (الدليل): আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যখন তোমরা ইকামত (الإقامة) শুনতে পাও, তখন নামাজের দিকে হেঁটে আসো এবং তোমাদের ওপর প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য বজায় রাখা আবশ্যক, তাড়াহুড়ো করবে না। নামাজের যে অংশ তোমরা পাবে তা আদায় করো এবং যা তোমাদের থেকে ছুটে যাবে তা পূর্ণ (فأتِمُّوا) করো।" (২)

দলিল (الدليل) পেশ করার পদ্ধতি: মাসবূক (المسبوق) মুক্তাদি যদি ইমামকে (الإمام) রুকুতে (الركوع) পায়, তবে তার কিয়াম (القيাম) এবং কিরাআত (القراءة) ছুটে গেছে। সুতরাং তা পূর্ণ করা আবশ্যক। আর এটি কেবল ইমামের (الإمام) সালাম ফেরানোর পরেই সম্ভব, ফলে সে এক রাকাত কাজা করবে। (৩)

এ বিষয়ে আলোচনা: এ প্রসঙ্গে তেমনই আলোচনা করা হয়েছে যেমনটি পূর্ববর্তী দলিলের (الدليل) ক্ষেত্রে করা হয়েছিল।

পঞ্চম দলিল (الدليل): ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার অর্শ রোগ ছিল, তাই আমি নবী (সা.)-কে (নামাজ সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো, যদি না পারো তবে বসে, আর তাও যদি না পারো তবে কাত হয়ে (নামাজ পড়ো)।" (৪)

--------------------------------------------

(১) ইমামুল কালাম ফিমা ইয়াতাআল্লাকু বিল-কিরাআতি খালফাল ইমাম, পৃ. ১১৪।

(২) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবুল আজান, পরিচ্ছেদ: নামাজের দিকে দৌড়ে আসবে না বরং প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের সাথে আসবে... ১/১৫৬; এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত, পরিচ্ছেদ: গাম্ভীর্য ও প্রশান্তির সাথে নামাজে আসার মুস্তাহাব হওয়া এবং দৌড়ে আসায় নিষেধাজ্ঞা, হাদিস (৬০২) ১/৪২০।

(৩) দেখুন: আল-মুহাল্লা ৩/২৪৪, এবং উমদাতুল কারি ৪/৩২১।

(৪) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবুত তাকসিরিস সালাত, পরিচ্ছেদ: যখন বসে নামাজ পড়তে সক্ষম হবে না তখন কাত হয়ে পড়বে ২/২১।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩২২)
ووجه الاستدلال: أن الحديث دلّ على ركنية القيام ومن أدرك الإمام في الركوع قد فاته القيام فلابد من قضائه

(1) .

ونوقش: بأنه عام مخصوص بحديث أبي بكرة رضي الله عنه (2) .

الدليل السادس: عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب " (3) . وما في معنى الحديث من الأحاديث الدالة على وجوب قراءة الفاتحة في حق المأموم (4) .

وجه الاستدلال: دلّ الحديث على وجوب قراءة المأموم للفاتحة ومن أدرك الإمام في الركوع لم يقرأ الفاتحة فلابد من قضائها (5) .

ونوقش: بأنه عام مخصوص بحديث أبي بكرة رضي الله عنه فقد ركع ولم يقرأ الفاتحة ولم يأمره النبي صلى الله عليه وسلم بالإعادة (6) .

ذلك أن الأحاديث المصرّحة بأنه لا صلاة إلَاّ بفاتحة الكتاب قد دلت على وجوب قراءة الفاتحة في كل ركعة دلالة ظاهرة بينة، وقد ثبت أن من أدرك الإمام على حالة فليصنع كما يصنع الإمام (7) ، فمن وصل والإمام في آخر القيام

--------------------------------------------

(1) انظر: أحكام الإمامة والائتمام في الصلاة 367.

(2) المرجع السابق 368.

(3) أخرجه البخاري في كتاب الأذان، باب: وجوب القراءة للإمام والمأموم في الصلوات كلها في الحضر والسفر 1/184، ومسلم في كتاب الصلاة، باب: وجوب قراءة الفاتحة في كل ركعة حديث (394) 1/295.

(4) تحفة الأحوذي 3/164.

(5) تحفة الأحوذي 3/164.

(6) انظر: عون المعبود 3/159.

(7) في حديث أبي هريرة مرفوعاً: «إذا جئتم إلى الصلاة ونحن سجود فاسجدوا ولا تعدوها شيئاً، ومن أدرك ركعة فقد أدرك الصلاة» ، وفي لفظ: «من أدرك الركوع أدرك الصلاة» ، وقد تقدم تخريجه ص 311.
দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি: হাদিসটি কিয়াম (দাঁড়ানো)-এর রুকনিয়্যাত বা অপরিহার্যতা (ركنية) প্রমাণ করে। আর যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল, তার কিয়াম ছুটে গেল, তাই অবশ্যই তা পুনরায় আদায় করতে হবে।

(১) .

এর উত্তরে বলা হয়েছে: এটি একটি সাধারণ (عام) বিধান যা আবু বাকরা (রা.)-এর হাদিস দ্বারা নির্দিষ্ট (مخصوص) করা হয়েছে (২) ।

ষষ্ঠ দলীল: উবাদাহ ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার সালাত হবে না" (৩) । এবং এই হাদিসের মর্মার্থ বহনকারী অন্যান্য হাদিসসমূহ যা মুক্তাদির ক্ষেত্রে সূরা ফাতিহা পাঠ ওয়াজিব (واجب) হওয়ার ওপর দلالত (دلالة) করে (৪) ।

দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি: হাদিসটি মুক্তাদির জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ ওয়াজিব (واجب) হওয়ার প্রমাণ দেয়। আর যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল, সে সূরা ফাতিহা পাঠ করতে পারল না, তাই অবশ্যই তা পুনরায় আদায় করতে হবে (৫) ।

এর উত্তরে বলা হয়েছে: এটি একটি সাধারণ (عام) বিধান যা আবু বাকরা (রা.)-এর হাদিস দ্বারা নির্দিষ্ট (مخصوص) করা হয়েছে; কেননা তিনি রুকু করেছিলেন কিন্তু সূরা ফাতিহা পাঠ করেননি, অথচ নবী (সা.) তাকে পুনরায় সালাত আদায়ের নির্দেশ দেননি (৬) ।

এর কারণ হলো, সূরা ফাতিহা ব্যতিরেকে সালাত হয় না মর্মে সুস্পষ্ট হাদিসসমূহ প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ ওয়াজিব (واجب) হওয়ার ওপর সুস্পষ্ট ও প্রকট দلالত (دلالة) প্রদান করে। আর এটি প্রমাণিত যে, যে ব্যক্তি ইমামকে যে অবস্থায় পাবে সে যেন ইমামের ন্যায় কাজ করে (৭) , সুতরাং যে ব্যক্তি পৌঁছাল এমতাবস্থায় যে ইমাম কিয়ামের শেষ পর্যায়ে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আহকামুল ইমামাহ ওয়াল ইতিমাম ফিস সালাহ ৩৬৭।

(২) পূর্বোক্ত উৎস ৩৬৮।

(৩) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবুল আজান-এ, অধ্যায়: মুকিম ও মুসাফির অবস্থায় সকল সালাতে ইমাম ও মুক্তাদির জন্য কিরাত ওয়াজিব হওয়া ১/১৮৪; এবং মুসলিম কিতাবুস সালাত-এ, অধ্যায়: প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ ওয়াজিব হওয়া, হাদিস (৩৯৪) ১/২৯৫।

(৪) তুহফাতুল আহওয়াযী ৩/১৬৪।

(৫) তুহফাতুল আহওয়াযী ৩/১৬৪।

(৬) দেখুন: আওনুল মাবুদ ৩/১৫৯।

(৭) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে আছে: "তোমরা যখন সালাতে আসবে আর আমরা সিজদাহ অবস্থায় থাকি, তখন তোমরাও সিজদাহ করো এবং একে কোনো রাকাত হিসেবে গণনা করো না। আর যে ব্যক্তি একটি রাকাআত পেল, সে সালাত পেল।" অন্য শব্দে রয়েছে: "যে ব্যক্তি রুকু পেল, সে সালাত পেল।" এর তাখরিজ ৩১১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩২৩)
فليدخل معه فإذا ركع بعد تكبير المؤتم فقد ورد الأمر بمتابعته له بقوله: وإذا ركع فاركعوا، كما في حديث " إنَّما جعل الإمام ليؤتم به " (1) وهو حديث صحيح فلو توقف المؤتم عن الركوع بعد ركوع الإمام وأخذ يقرأ فاتحة الكتاب لكان مخالفاً لهذا الأمر، فقد تقرر أنه يدخل مع الإمام، وتقرر أنه يتابعه ويركع بركوعه، ثم ثبت بحديث: "من أدرك مع الإمام ركعة قبل أن يقيم صلبه فقد أدركها" أن هذا الداخل مع الإمام الذي لم يتمكن من قراءة الفاتحة قد أدرك الركعة بمجرد إدراكه له راكعاً، فيكون هذا مخصصاً لعموم إيجاب قراءة الفاتحة في كل ركعة، ولا وجه لما قيل أنه يقرأ بفاتحة الكتاب ويلحق الإمام راكعاً، وأن المراد الإدراك الكامل وهو لا يكون إلَاّ مع إدراك الفاتحة، فإن هذا يؤدي إلى إهمال حديث إدراك الإمام قبل أن يقيم صلبه، فإن ظاهره بل صريحه أن المؤتم إذا صل والإمام راكع وكبر وركع قبل أن يقيم الإمام صلبه فقد صار مدركاً لتلك الركعة وإن لم يقرأ حرفاً من حروف الفاتحة، فهذا الأمر الأول مِمَّا يقع فيه من عرضت له الشكوك؛ لأنه إذا وصل والإمام راكع أو في آخر القيام ثم أخذ يقرأ ويريد أن يلحق الإمام الذي قد صار راكعاً فقد حاول ما لا يُمكن الوفاء به في غالب الحالات ومن هنا يكون مهملاً لحديث إدراك الإمام قبل أن يقيم صلبه.

والأمر الثاني: أنه صار مخالفاً لأحاديث الإقتداء بالإمام وإيجاب الركوع بركوعه والاعتدال باعتداله وبيان ذلك أنه وصل حال ركوع الإمام أو بعد ركوعه ثم أخذ يقرأ الفاتحة من أولها إلى آخرها ومن كان هكذا فهو مخالف لإمامه لم يركع بركوعه وقد يفوته أن يعتدل باعتداله، وامتثال الأمر بمتابعة

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في كتاب الأذان، باب: إنَّما جعل الإمام ليؤتم به 1/169، ومسلم في كتاب الصلاة، باب: ائتمام المأموم بالإمام، حديث (411) 1/308.
তাই সে যেন তার (ইমামের) সাথে দাখিল হয়। অতঃপর মুক্তাদি তাকবির প্রদানের পর ইমাম যখন রুকুতে যান, তখন তাকে অনুসরণ করার নির্দেশ এসেছে এই বাণীর মাধ্যমে: "এবং যখন তিনি রুকু করবেন, তখন তোমরাও রুকু করো"; যেমনটি "ইমামকে কেবল অনুকরণের জন্যই নির্ধারণ করা হয়েছে" (১) শীর্ষক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আর এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস। সুতরাং ইমাম রুকুতে যাওয়ার পর মুক্তাদি যদি রুকু না করে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সুরা ফাতিহা পাঠ করতে শুরু করে, তবে সে এই নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণকারী হিসেবে গণ্য হবে। এটি সুসাব্যস্ত যে সে ইমামের সাথে দাখিল হবে এবং এটিও সুসাব্যস্ত যে সে তাকে অনুসরণ করবে এবং তার রুকুর সাথে রুকু করবে। অতঃপর "যে ব্যক্তি ইমামের পিঠ সোজা করার পূর্বে তার সাথে এক রাকাত পেল, সে ওই রাকাতটি পেল" হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ইমামের সাথে দাখিল হওয়া এই ব্যক্তি—যে সুরা ফাতিহা পাঠ করার সুযোগ পায়নি—সে কেবল ইমামকে রুকু অবস্থায় পাওয়ার মাধ্যমেই রাকাতটি লাভ করল। সুতরাং এটি প্রতিটি রাকাতে সুরা ফাতিহা পাঠের সাধারণ বাধ্যবাধকতার বিধানের জন্য একটি নির্দিষ্টকারী (مخصص) দলিল হিসেবে গণ্য হবে। আর এই কথার কোনো ভিত্তি নেই যে, সে সুরা ফাতিহা পাঠ করবে এবং এরপর রুকু অবস্থায় ইমামের সাথে মিলিত হবে, এবং (কথিত মতে) 'পাওয়া' বলতে পূর্ণাঙ্গ পাওয়া বোঝায় যা সুরা ফাতিহা পাঠ ব্যতীত সম্ভব নয়। কেননা এরূপ ধারণা ইমামের পিঠ সোজা করার পূর্বে তাকে পাওয়ার হাদিসটিকে অবজ্ঞা করার দিকে নিয়ে যায়। কারণ এর বাহ্যিক (ظاهر) বরং সুস্পষ্ট (صريح) অর্থ হলো, মুক্তাদি যখন এসে ইমামকে রুকু অবস্থায় পায় এবং ইমাম পিঠ সোজা করার পূর্বেই তাকবির দিয়ে রুকুতে যায়, তখন সে ওই রাকাতটি লাভ করেছে বলে গণ্য হবে, যদিও সে সুরা ফাতিহার একটি অক্ষরও পাঠ না করে। সংশয়ে নিপতিত ব্যক্তিরা যে সকল বিষয়ে ভুল করে, এটি তার মধ্যে প্রথম বিষয়; কারণ সে যখন ইমামকে রুকু অবস্থায় বা কিয়ামের শেষ পর্যায়ে পায়, তখন সে পড়তে শুরু করে এবং রুকুতে চলে যাওয়া ইমামের সাথে মিলিত হতে চায়, ফলে সে এমন কিছুর চেষ্টা করে যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পাদন করা সম্ভব হয় না। আর এখান থেকেই সে ইমামের পিঠ সোজা করার পূর্বে তাকে পাওয়ার হাদিসটির প্রতি অবজ্ঞাকারী হয়।

দ্বিতীয় বিষয়: সে ইমামের ইক্তিদা (অনুসরণ) সংক্রান্ত হাদিসসমূহের এবং ইমামের রুকুর সাথে রুকু করা ও ইমামের সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সাথে সোজা হওয়ার ওয়াজিব বিধানের পরিপন্থী কাজ করল। এর ব্যাখ্যা হলো, সে ইমামের রুকু অবস্থায় বা রুকুতে যাওয়ার পর পৌঁছাল, অতঃপর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুরা ফাতিহা পাঠ করতে শুরু করল। যে ব্যক্তি এরূপ করে, সে তার ইমামের বিরুদ্ধাচরণ করল, কারণ সে ইমামের সাথে রুকু করল না এবং ইমামের সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সাথে দাঁড়ানোর বিষয়টিও তার ছুটে যেতে পারে। আর আনুগত্যের নির্দেশ পালন...

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি কিতাবুল আজান, অধ্যায়: 'ইমামকে কেবল অনুকরণের জন্যই নির্ধারণ করা হয়েছে' ১/১৬৯-এ বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিম কিতাবুস সালাত, অধ্যায়: 'মুক্তাদির ইমামের অনুসরণ', হাদিস (৪১১) ১/৩০৮-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩২৪)
الإمام واجب ومخالفته حرام.

الأمر الثالث: أن قوله عليه الصلاة والسلام: "من أدرك الإمام على حالة فليصنع كما يصنع الإمام " يدل على لزوم الكون مع الإمام على الحالة التي أدركه عليها، وأنه يصنع مثل صنعه ومعلوم أنه لا يحصل الوفاء بذلك إلَاّ إذا ركع بركوعه واعتدل باعتداله فإذا أخذ يقرأ الفاتحة فقد

أدرك الإمام على حالة ولم يصنع كما صنع الإمام فخالف الأمر الذي يجب امتثاله وتحرم مخالفته فتبين بذلك ما في إيجاب قراءة الفاتحة على المؤتم المدرك لإمامه حال الركوع أو بعده من المفاسد التي حدثت بسبب وقوعه في مخالفة ثلاث سنن صحاح (1) .

والراجح في نظري - والله أعلم - هو القول الأول: أنّ الركعة تدرك بإدراك الركوع وذلك لأن أدلة هذا القول وإن كان بعضها لم يسلم من المناقشة إلَاّ أن عمل الصحابة عليه وحديث أبي بكرة رضي الله عنه يؤيده، وهو حديث صحيح، وفيه دليل على أنه كان مستقراً عند الصحابة أن الركعة تدرك بإدراك الركوع بدليل سعيه لإدراك الركوع؛ ولذلك لم ينقل عن أحد منهم خلاف ذلك إلَاّ عن أبي هريرة رضي الله عنه من طريق قال ابن عبد البر فيه نظر (2) ، وقد روى عنه ما يفيد الإدراك (3) فقد أخرج مالك في الموطأ بلاغاً أن أبا هريرة رضي الله عنه كان يقول: «من أدرك الركعة فقد أدرك السجدة ومن فاته قراءة أم القرآن فقد فاته خير كثير» (4) .

--------------------------------------------

(1) بتصرف يسير من جواب للشوكاني رحمه الله رجع فيه إلى قول الجمهور أن الركعة تدرك بإدراك الركوع، وكان قبل ذلك يرى عدم الإدراك. انظر: عون المعبود 3/157 - 160.

(2) التمهيد 7/72 وما بعدها.

(3) عون المعبود 3/154.

(4) أخرجه مالك في الموطأ 1/11، والبيهقي في السنن الكبرى 2/90 قال الزرقاني في شرح الموطأ 1/28 وبلاغه ليس من الضعيف؛ لأنه تتبع له فوجد مسنداً من غير طريقه.
ইমামের অনুসরণ আবশ্যক এবং তাঁর বিরোধিতা করা হারাম।

তৃতীয় বিষয়: নবী করীম (সা.)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি ইমামকে যে অবস্থায় পাবে, সে যেন ইমাম যা করছেন তেমনই করে"—এটি ইমামকে যে অবস্থায় পাওয়া গেছে সেই অবস্থায় তাঁর সাথে থাকা এবং ইমাম যা করছেন তেমনটিই করার আবশ্যকতা নির্দেশ করে। এটি সুপরিজ্ঞাত যে, ইমামের রুকুর সাথে রুকু করা এবং তাঁর সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সাথে সোজা হয়ে দাঁড়ানো ছাড়া এটি পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং যদি কেউ (এই অবস্থায়) সূরা ফাতিহা পাঠ করতে শুরু করে, তবে সে ইমামকে একটি অবস্থায় পেল ঠিকই কিন্তু ইমামের ন্যায় আমল করল না। ফলে সে এমন একটি নির্দেশের বিরোধিতা করল যা পালন করা আবশ্যক এবং যার বিরোধিতা করা হারাম। এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, রুকু অবস্থায় বা তার পরে ইমামের সাথে মিলিত হওয়া মুক্তাদির ওপর সূরা ফাতিহা পাঠ ওয়াজিব সাব্যস্ত করার মধ্যে কী কী ক্ষতি নিহিত রয়েছে, যা তিনটি সহীহ (صحاح) সুন্নাহর বিরোধিতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে (১)।

আমার দৃষ্টিতে অগ্রগণ্য মত—এবং আল্লাহই ভালো জানেন—হলো প্রথম মতটি: অর্থাৎ রুকু পাওয়ার মাধ্যমেই রাকাত অর্জিত হয়। কারণ, এই মতের পক্ষে উপস্থাপিত দলীলসমূহের কোনো কোনোটি নিয়ে আলোচনার অবকাশ থাকলেও সাহাবায়ে কেরামের আমল এই মতের পক্ষেই ছিল এবং আবু বাকরা (রা.) বর্ণিত হাদিস একে সমর্থন করে; আর এটি একটি সহীহ (صحيح) হাদিস। এতে এ কথার প্রমাণ রয়েছে যে, সাহাবীদের নিকট এটি প্রতিষ্ঠিত ছিল যে রুকু পাওয়ার মাধ্যমেই রাকাত অর্জিত হয়; যার প্রমাণ হলো রুকু পাওয়ার জন্য তাঁর দ্রুত চলা। এ কারণেই তাঁদের কারো পক্ষ থেকে এর বিপরীত কিছু বর্ণিত হয়নি, কেবল আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যার ব্যাপারে ইবনে আব্দুল বার বলেছেন যে, এটি পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে (فيه نظر) (২)। আবার তাঁর থেকে রাকাত পাওয়ার সপক্ষেই বর্ণিত হয়েছে (৩)। ইমাম মালিক মুওয়াত্তা গ্রন্থে একটি বালাগ (بلاغاً) বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলতেন: «যে ব্যক্তি রুকু পেল, সে সিজদাহ (রাকাত) পেল। আর যার উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ ছুটে গেল, তার অনেক কল্যাণ ছুটে গেল» (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম শাওকানী (রহ.)-এর একটি উত্তরের সামান্য পরিমার্জনসহ, যেখানে তিনি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন যে রুকু পাওয়ার মাধ্যমে রাকাত অর্জিত হয়, অথচ এর আগে তিনি রাকাত না হওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন। দেখুন: আউনুল মাবুদ ৩/১৫৭ - ১৬০।

(২) আত-তামহীদ ৭/৭২ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহ।

(৩) আউনুল মাবুদ ৩/১৫৪।

(৪) ইমাম মালিক মুওয়াত্তা ১/১১ এবং বায়হাকী সুনানুল কুবরা ২/৯০-এ এটি বর্ণনা করেছেন। যারকানী মুওয়াত্তার শরহ ১/২৮-এ বলেছেন যে, তাঁর বালাগ (بلاغ) বর্ণনাটি দুর্বল (ضعيف) নয়; কারণ তিনি এটি অনুসন্ধান করে তাঁর সূত্র ছাড়া অন্য সূত্রে মুসনাদ (مسنداً) হিসেবে পেয়েছেন।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩২৫)
وما في صحيح ابن خزيمة رحمه الله خلاف ما نقلوه عنه (1) ، فقد أخرج عن أبي هريرة: «من أدرك ركعة من الصلاة فقد أدركها قبل أن يقيم الإمام صلبه» (2) ، وترجم له ذكر الوقت الذي يكون فيه المأموم مدركاً للركعة إذا ركع إمامه قبل، وترجم بعد ذلك باب إدراك الإمام ساجداً والأمر بالإقتداء به في السجود وأن لا يعتد به إذ المدرك للسجدة إنَّما يكون بإدراك الركوع قبلها (3) .

ووصف النووي هذا القول - أعني القول الثالث - أنها لا تدرك بإدراك الركوع بأنه وجه ضعيف مزيف، ونقل عن صاحب التتمة أن هذا ليس بصحيح؛ لأنّ أهل الأعصار قد اتفقوا على الإدراك به فخلاف من بعدهم لا يعتد به

(4) .

وإن كان دعوى الإجماع لا تصح لكن فيما ذكرته من أدلة من يرى الإدراك ما يكفي، والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) عون المعبود 3/155.

(2) أخرجه ابن خزيمة في صحيحه 3/45، وأخرجه الدارقطني 1/346، والبيهقي 2/89، وفيه يحيى بن حميد عن قرة، قال البخاري رحمه الله في القراءة خلف الإمام 76: ((وأمَّا

مجهول لا يعتمد على حديثه غير معروف بصحة خبره مرفوع وليس هذا مِمَّا يحتج به أهل العلم)) قال الشيخ الألباني 2/262: ((ويحيى هذا ضعفه الدارقطني … )) قال: ((وقد وجدت له طريقاً أخرى إلى الزهيري أخرجه الضياء المقدسي … بلفظ: «من أدرك الإمام وهو راكع فليركع معه، وليعتد بها من صلاته» وهذا إسناد واهٍ جداً … )) قال: ((ومِمَّا يقوي الحديث جريان عمل الصحابة عليه)) .

(3) صحيح ابن خزيمة 3/57.

(4) المجموع 4/115.
সহিহ ইবনে খুজাইমা (রহিমাহুল্লাহ)-তে যা রয়েছে তা তাঁর থেকে যা বর্ণনা করা হয়েছে তার বিপরীত (১)। তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকাত পেল, সে তা পেল ইমামের পিঠ সোজা করার আগেই" (২)। তিনি এর জন্য শিরোনাম দিয়েছেন: ‘মুক্তাদি কখন রাকাত পেয়েছে বলে গণ্য হবে যখন তার ইমাম আগে রুকু করেন’, এরপর তিনি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন: ‘ইমামকে সিজদাবনত অবস্থায় পাওয়া এবং সিজদায় তাঁর অনুসরণ করার নির্দেশ এবং তা (রাকাত হিসেবে) গণ্য না হওয়া; কারণ সিজদাহ লাভ করা (إدراك السجدة) কেবল তার পূর্ববর্তী রুকু লাভ করার (إدراك الركوع) মাধ্যমেই হয়ে থাকে’ (৩)।

ইমাম নববী এই অভিমতটিকে—অর্থাৎ তৃতীয় অভিমতটি যে, রুকু পাওয়ার মাধ্যমে রাকাত অর্জিত হয় না—একটি দুর্বল (ضعيف) ও অসার (مزيف) মত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ‘আত-তাতিম্মাহ’ গ্রন্থের লেখকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে, এটি সঠিক নয়; কারণ সর্বকালের উলামাগণ এর মাধ্যমে রাকাত পাওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত (اتفقوا) পোষণ করেছেন, তাই পরবর্তী কারও মতভেদ ধর্তব্য নয়

(4) .

যদিও ঐক্যমত (إجماع)-এর দাবিটি সঠিক নয়, তবে যারা রাকাত পাওয়ার প্রবক্তা তাদের পক্ষে আমি যে দলিলগুলো উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট। আল্লাহু আলাম।

--------------------------------------------

(1) আওনুল মাবুদ ৩/১৫৫।

(2) এটি ইবনে খুজাইমা তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৩/৪৫) বর্ণনা করেছেন, এছাড়াও বর্ণনা করেছেন আদ-দারাকুতনি (১/৩৪৬) ও আল-বায়হাকি (২/৮৯)। এতে কিউরাহ থেকে বর্ণিত ইয়াহইয়া ইবনে হুমাইদ রয়েছেন। ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) ‘আল-কিরাআতু খালফাল ইমাম’ গ্রন্থে (৭৬) বলেছেন: "আর তিনি

অজ্ঞাত (مجهুল), তাঁর হাদিসের ওপর নির্ভর করা যায় না, মারফু (مرفوع) হিসেবে তাঁর বার্তার বিশুদ্ধতা পরিচিত নয় এবং এটি এমন কিছু নয় যা জ্ঞানীরা দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন।" শায়খ আলবানি (২/২৬২) বলেছেন: "এই ইয়াহইয়াকে আদ-দারাকুতনি দুর্বল (ضعفه) বলেছেন..." তিনি আরও বলেন: "আমি এর জন্য জুহরি পর্যন্ত অন্য একটি সূত্র পেয়েছি যা দিয়া আল-মাকদিসি বর্ণনা করেছেন... শব্দ হচ্ছে: 'যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পায়, সে যেন তাঁর সাথে রুকু করে এবং তা তার সালাতের অংশ হিসেবে গণ্য করে'। এই সনদটি অত্যন্ত দুর্বল (واهٍ جداً)..." তিনি বলেন: "আর যা এই হাদিসটিকে শক্তিশালী করে তা হলো সাহাবায়ে কেরামের আমল এর ওপর অব্যাহত থাকা।"

(3) সহিহ ইবনে খুজাইমা ৩/৫৭।

(4) আল-মাজমু ৪/১১৫।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩২৬)
‌‌المبحث الثاني:

مقدار الركوع الذي يدرك به المأموم الركعة مع الإمام

اختلف الفقهاء القائلون بأن الركعة تدرك بإدراك الركوع في الحد المجزيء منه الذي تدرك به الركعة على أربعة أقوال:

القول الأول: أن القدر المفروض من الركوع هو الانحناء والميل، أمَّا وضع اليدين على الركبتين فسنة، وهذا قول الحنفية، وعليه فمن أدرك الإمام في الركوع فكبر قائماً ثم شرع في الانحطاط وشرع الإمام في الرفع فيعتد بها إذا وجدت المشاركة قبل أن يستقيم قائماً وإن قلّ وهو الأصح عندهم (1) .

ووجهه: أن المعنى اللغوي للركوع هو الانحناء يقال: ركعت النخلة إذا مالت فتتعلق الركنية بالأدنى منه (2) .

ويُمكن مناقشته: بأن النبي صلى الله عليه وسلم بين الركوع الذي يعتبر ركناً في الصلاة بقوله في حديث المسيء صلاته وقول النبي صلى الله عليه وسلم له: " ثم اركع حتى تطمئن راكعاً" (3) ، وهذا الحديث لبيان أقل الواجبات (4) ، ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: " ارجع فصلّ فإنك لم تصلّ ".

القول الثاني: أن حد إدراك الركعة أن يُمكن يديه من ركبتيه قبل رفع

--------------------------------------------

(1) انظر: بدائع الصنائع 1/105 و 208، والفتاوى الهندية 1/120.

(2) انظر: فتح القدير 1/307 والهداية معه.

(3) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الأذان، باب أمر النبي صلى الله عليه وسلم الذي لا يتم ركوعه بالإعادة 1/192، ومسلم في صحيحه كتاب الصلاة، باب وجوب قراءة الفاتحة في كل ركعة حديث [397] 1/298.

(4) ينظر: المجموع 3/410.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

রুকুর সেই পরিমাণ যার মাধ্যমে মুক্তাদি ইমামের সাথে রাকাত লাভ করতে পারে

যে সকল ফকিহ মনে করেন যে রুকু পাওয়ার মাধ্যমে রাকাত অর্জিত হয়, তারা রাকাত পাওয়ার জন্য রুকুর নূন্যতম সীমার ব্যাপারে চারটি মতভেদে লিপ্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: রুকুর ফরজ (فرض) পরিমাণ হলো নিচু হওয়া এবং ঝুঁকে পড়া, আর হাঁটুতে হাত রাখা হলো সুন্নত (سنة)। এটি হানাফিদের অভিমত। এর ভিত্তিতে, যে ব্যক্তি ইমামকে রুকুতে পেল এবং দাঁড়িয়ে তাকবির দিয়ে নিচে নামতে শুরু করল, আর এমতাবস্থায় ইমাম মাথা উঠাতে শুরু করলেন, তবে ইমাম সোজা হয়ে দাঁড়ানোর আগে যদি অতি সামান্য সময়ের জন্যও উভয়ের অংশগ্রহণ পাওয়া যায় তবে তা ধর্তব্য হবে। আর এটিই তাদের নিকট অধিক বিশুদ্ধ (الأصح) মত (১)।

এর কারণ হলো: রুকুর আভিধানিক অর্থ হলো ঝুঁকে পড়া। বলা হয়ে থাকে: খেজুর গাছটি রুকু করল যখন সেটি ঝুঁকে পড়ে। সুতরাং রুকু রুকন (ركن) হওয়া এর সর্বনিম্ন পর্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট (২)।

এর সমালোচনা করা সম্ভব এভাবে যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই রুকু যা সালাতে রুকন (ركن) হিসেবে গণ্য হয়, তা ভুলভাবে সালাত আদায়কারীর হাদিসে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "অতঃপর রুকু করো যতক্ষণ না তুমি স্থিরভাবে রুকুকারী হও (طمأنينة)" (৩)। আর এই হাদিসটি নূন্যতম ওয়াজিব (واجب) কার্যাবলি বর্ণনার জন্য (৪), একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "ফিরে যাও এবং সালাত আদায় করো, কেননা তুমি সালাত আদায় করোনি" (৩)।

দ্বিতীয় মত: রাকাত পাওয়ার সীমা হলো ইমাম মাথা উঠানোর পূর্বে তার দুই হাতকে হাঁটুতে পৌঁছানো সম্ভব হওয়া...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: বাদায়েউস সানায়ে ১/১০৫ ও ২০৮ এবং আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া ১/১২০।

(২) দেখুন: ফাতহুল কাদির ১/৩০৭ এবং এর সাথে আল-হিদায়া।

(৩) বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, আযান অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক যার রুকু পূর্ণ হয়নি তাকে সালাত পুনরায় আদায়ের নির্দেশ ১/১৯২; এবং মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, সালাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: প্রত্যেক রাকাতে সুরা ফাতিহা পাঠের আবশ্যকতা, হাদিস [৩৯৭] ১/২৯৮।

(৪) দ্রষ্টব্য: আল-মাজমু ৩/৪১০।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩২৭)
الإمام، وهو ظاهر قول مالك في المدونة، وبه أخذ بعض المالكية (1) .

ووجهه: أن هذا المقدار هو الفرض فمن أدركه مع الإمام فقد ائتم به في الركوع فكان مدركاً له معه (2) .

ويُمكن أن يناقش: بعدم التسليم أن وضع اليدين فرض بدليل أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يذكره للمسيء في صلاته كما في رواية الصحيحين.

القول الثالث: أنه يدرك الركعة إذا انتهى إلى قدر الإجزاء من الركوع قبل أن يزول الإمام عن قدر الإجزاء، فهذا يعتد له بالركعة ويكون مدركاً لها فأمَّا إن كان المأموم يركع والإمام يرفع لم يجزئه، وقدر الإجزاء هو أن ينحني بحيث يُمكنه مس ركبتيه بيديه، وهذا قول أكثر المالكية (3) وقول الشافعية (4) ومذهب الحنابلة (5) .

ووجهه: أنه لا يخرج عن حد القيام إلى الركوع إلَاّ بذلك، ولا يلزمه وضعهما وإنَّما ذلك مستحب (6) .

القول الرابع: أن من انتهى إلى الصف المؤخر ولم يرفعوا رؤوسهم وقد رفع الإمام رأسه فركع فقد أدرك الركعة؛ لأن بعضهم أئمة بعض، وهذا مروي عن الشعبي (7) .

--------------------------------------------

(1) الذخيرة للقرافي 2/274، ومواهب الجليل 2/397، 214.

(2) المنتقى 1/294.

(3) مواهب الجليل 2/214.

(4) المجموع 3/408، 415 و 4/215.

(5) المغني 2/182، والإنصاف 2/223.

(6) المغني 2/182.

(7) التمهيد 7/73.
ইমামের [রুকু পাওয়া প্রসঙ্গে], এটি আল-মুদাওওয়ানায় ইমাম মালিকের মতের বাহ্যিক দিক এবং কিছু মালিকি এটি গ্রহণ করেছেন (১)।

এর কারণ হলো: এই পরিমাণটিই হলো ফরজ (فرض), সুতরাং যে ব্যক্তি ইমামের সাথে এটি পেল সে রুকু (ركوع) অবস্থায় তাঁর অনুসরণ করল, ফলে সে তাঁর সাথে তা প্রাপ্ত (مدرك) হিসেবে গণ্য হলো (২)।

এর ওপর বিতর্ক করা যেতে পারে এই বলে যে: হাত হাঁটুতে রাখা ফরজ (فرض) হওয়ার বিষয়টি স্বীকৃত নয়, কারণ এর সপক্ষে দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভুলভাবে নামাজ আদায়কারী ব্যক্তিকে এটি শিখিয়ে দেওয়ার সময় উল্লেখ করেননি, যেমনটি দুই সহিহ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) গ্রন্থের বর্ণনায় এসেছে।

তৃতীয় মত: কোনো ব্যক্তি রাকাত (ركعة) প্রাপ্ত হবে যদি সে রুকুর পর্যাপ্ততার (إجزاء) সীমার মধ্যে পৌঁছায় ইমাম সেই পর্যাপ্ততার সীমা থেকে সরে যাওয়ার আগে। এমতাবস্থায় তার রাকাতটি গণ্য করা হবে এবং সে তা প্রাপ্ত (مدرك) হয়েছে বলে ধরা হবে। আর যদি মুক্তাদি রুকু (ركوع) করে অথচ ইমাম মাথা উঠিয়ে ফেলেন, তবে তা যথেষ্ট (مجزئ) হবে না। পর্যাপ্ততার সীমা হলো এতটুকু পরিমাণ ঝুঁকা যাতে তার হাত দিয়ে হাঁটু স্পর্শ করা সম্ভব হয়। এটি অধিকাংশ মালিকি (৩), শাফেয়ি (৪) এবং হাম্বলি (৫) মাযহাবের অভিমত।

এর কারণ হলো: এই পরিমাণ ছাড়া কিয়াম (قيام) বা দণ্ডায়মান অবস্থা থেকে রুকুর সীমার দিকে বের হওয়া হয় না। আর হাত রাখা তার জন্য আবশ্যক নয়, বরং তা মুস্তাহাব (مستحب) (৬)।

চতুর্থ মত: যে ব্যক্তি পেছনের কাতারে পৌঁছাল যখন তারা মাথা উত্তোলন করেনি, যদিও ইমাম মাথা উত্তোলন করেছেন, এরপর সে রুকু (ركوع) করল—তবে সে রাকাত (ركعة) প্রাপ্ত হয়েছে বলে গণ্য হবে; কারণ তাদের একাংশ অপরাংশের ইমাম হিসেবে গণ্য। এটি আশ-শা'বি (৭) থেকে বর্ণিত (مروي) হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আয-যাখিরা, আল-কারাফি ২/২৭৪; মাওয়াহিবুল জলিল ২/৩৯৭, ২১৪।

(২) আল-মুনতাকা ১/২৯৪।

(৩) মাওয়াহিবুল জলিল ২/২১৪।

(৪) আল-মাজমু ৩/৪০৮, ৪১৫ এবং ৪/২১৫।

(৫) আল-মুগনি ২/১৮২; আল-ইনসাফ ২/২২৩।

(৬) আল-মুগনি ২/১৮২।

(৭) আত-তামহিদ ৭/৭৩।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩২৯)
‌‌المبحث الثالث:

شروط إدراك الركعة بإدراك الركوع

اشترط الفقهاء القائلون بأن الركعة تدرك بإدراك الركوع عدة شروط في الركوع المعتد به لإدراك الركعة، وفيما يلي بيان هذه الشروط:

الشرط الأول: أن يطمئن المسبوق في ركوعه قبل أن يرفع الإمام:

صرح بهذا الشرط المالكية (1) ، والشافعية (2) ، والحنابلة (3) .

ولعل مستندهم في ذلك أن الطمأنينة ركن من أركان الصلاة، فمن لم يدرك الإمام في الركوع ويطمئن معه لم يدرك معه الركن وبالتالي فلا يكون مدركاً للركعة.

أمَّا الحنفية فلا يشترطون الطمأنينة، ولذلك فإن من أدرك الإمام في الركوع فكبر قائماً ثم شرع في الانحطاط وشرع الإمام في الرفع فيعتد بتلك الركعة في الأصح إذا وجدت المشاركة قبل أن يستقيم قائماً وإن قل (4) - يعني زمن المشاركة.

ولعل مستند الحنفية أن الطمأنينة في الركوع والسجود ليست بركن عند أبي حنيفة ومحمد (5) .

--------------------------------------------

(1) انظر: الفواكه الدواني 1/242، وحاشية العدوي على الخرشي 2/47.

(2) انظر: المجموع 4/215، ونهاية المحتاج 2/242، وحاشية إعانة الطالبين 2/16.

(3) انظر: الإنصاف 2/223.

(4) انظر: الفتاوى الهندية 1/120.

(5) انظر: بدائع الصنائع 1/162.
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ:

রুকূ' (ركوع) পাওয়ার মাধ্যমে রাকাত (ركعة) অর্জনের শর্তাবলি

যে সকল ফকিহগণ (فقهاء) মনে করেন যে, রুকূ' (ركوع) পাওয়ার মাধ্যমে রাকাত (ركعة) অর্জিত হয়, তারা রাকাত (ركعة) হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য রুকূ'র (ركوع) ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছেন। নিম্নে সেই শর্তাবলির বর্ণনা দেওয়া হলো:

প্রথম শর্ত: ইমাম রুকূ' থেকে উঠার পূর্বেই মাসবূক (مسبوق) ব্যক্তির তার রুকূ'র (ركوع) মধ্যে স্থিরতা (طمأنينة) অর্জন করা:

মালিকি (১), শাফিয়ি (২) এবং হাম্বলি (৩) মাযহাবের ইমামগণ এই শর্তের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

সম্ভবত তাদের দলীল হলো এই যে, স্থিরতা (طمأنينة) সালাতের রোকনগুলোর (أركان) মধ্যে একটি রোকন (ركن)। সুতরাং, যে ব্যক্তি রুকূ'র (ركوع) মধ্যে ইমামকে পেল না এবং তার সাথে স্থিরতা (طمأنينة) অর্জন করল না, সে যেন তার সাথে রোকনটি (ركن) পেল না, ফলস্বরূপ সে রাকাতটি (ركعة) লাভ করতে পারল না।

পক্ষান্তরে হানাফিগণ স্থিরতা (طمأنينة) থাকাকে শর্ত হিসেবে গণ্য করেন না। এই কারণে, যদি কেউ রুকূ'র (ركوع) অবস্থায় ইমামকে পায় এবং দাঁড়িয়ে তাকবির (تكبير) বলে রুকূ'তে যাওয়ার জন্য অবনত হতে শুরু করে, আর ওই মুহূর্তে ইমাম রুকূ' থেকে উঠতে শুরু করেন, তবে বিশুদ্ধতর (الأصح) মতানুযায়ী সেই রাকাতটি (ركعة) গণ্য হবে; যদি ইমাম সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার আগে সামান্য সময়ের জন্য হলেও তার সাথে রুকূ'তে (ركوع) অংশগ্রহণ (مشاركة) পাওয়া যায় (৪) - অর্থাৎ অংশগ্রহণের সময়টুকু।

সম্ভবত হানাফিদের দলীল হলো এই যে, ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর মতে রুকূ' (ركوع) এবং সিজদাহর (سجود) মধ্যে স্থিরতা (طمأنينة) কোনো রোকন (ركن) নয় (৫)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ফাওয়াকিহ আদ-দাওয়ানি ১/২৪২ এবং আল-খারশির ওপর হাশিয়াতুল আদাবি ২/৪৭।

(২) দেখুন: আল-মাজমু' ৪/২১৫, নিহায়াতুল মুহتاج ২/২৪২ এবং হাশিয়াতু ইয়ানাতুত তালিবিন ২/১৬।

(৩) দেখুন: আল-ইনসাফ ২/২২৩।

(৪) দেখুন: আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া ১/১২০।

(৫) দেখুন: বাদায়িউস সানায়ি ১/১৬২।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩৩০)
واستدلا على عدم ركنية الطمأنينة بقوله تعالى: {ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا} (1) .

ووجه الاستدلال من الآية: أن الركوع هو الانحناء يقال: ركعت النخلة إذا مالت وذلك يحصل بدون الطمأنينة فتعلق الركن بالأدنى فيهما (2) .

ويُمكن مناقشته: بأن السنة دلت على أن الطمأنينة ركن كما في حديث المسيء صلاته وقول النبي صلى الله عليه وسلم له: "ثم اركع حتى تطمئن راكعاً" (3) .

وقوله: "أسوأ الناس سرقة الذي يسرق من صلاته" قيل: وكيف يسرق من صلاته قال: "لا يتم ركوعها ولا سجودها" (4) .

وقال: "لا تجزئ صلاة لا يقيم الرجل صلبه فيها في الركوع والسجود" (5) .

وأجيب: بأن الصحة يجب أن لا تتوقف على الطمأنينة لأنها ثابتة بخبر الواحد وإلَاّ كان نسخاً ولا ينسخ القرآن بخبر الواحد (6) .

وأيضاً قالوا: الخبر يفيد عدم توقف الصحة على الطمأنينة إذ قد جاء في

--------------------------------------------

(1) من الآية 77 من سورة الحج.

(2) انظر: فتح القدير والعناية معه 1/307.

(3) تقدم ص 326.

(4) أخرجه الإمام أحمد 5/310، والدارمي في سننه كتاب الصلاة، باب في الذي لا يتم الركوع والسجود حديث [1334] 1/247، والحاكم في المستدرك 1/229 من حديث عبد الله بن أبي قتادة وقال: صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه، وأخرجه من حديث أبي هريرة، وقال: كلا الإسنادين صحيحان، ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي.

(5) أخرجه أبو داود في سننه، كتاب الصلاة، باب صلاة من لا يقيم صلبه في الركوع والسجود حديث [855] 1 /533، والترمذي في سننه كتاب الصلاة، باب: ما جاء فيمن لا يقيم صلبه في الركوع والسجود، حديث [265] 2/51، وقال: حديث حسن صحيح.

(6) فتح القدير 1/307 والعناية معه.
তারা স্থিরতা (الطمأنينة)-এর রোকন (ركنية) না হওয়ার ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা রুকু করো ও সিজদা করো} (১) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।

আয়াতটি থেকে দলিল পেশের ধরণ হলো: রুকু মানে হলো অবনত হওয়া। বলা হয়: খেজুর গাছটি রুকু করেছে, যখন সেটি হেলে পড়ে। আর তা স্থিরতা (الطمأنينة) ছাড়াই অর্জিত হয়। ফলে এই দুটির ক্ষেত্রে রোকন (الركن) হওয়াটি ন্যূনতম অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট (২)।

এর পর্যালোচনা এভাবে করা সম্ভব: সুন্নাহ প্রমাণ করে যে স্থিরতা (الطمأنينة) একটি রোকন (ركن), যেমনটি নামাজে ভুলকারীর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "অতঃপর রুকু করো যতক্ষণ না তুমি রুকু অবস্থায় স্থির (تطمئن) হও" (৩)।

এবং তাঁর বাণী: "মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম চোর সেই, যে নিজের নামাজ থেকে চুরি করে।" জিজ্ঞাসা করা হলো: সে কীভাবে নিজের নামাজ থেকে চুরি করে? তিনি বললেন: "সে তার রুকু ও সিজদা পূর্ণ করে না" (৪)।

এবং তিনি বলেছেন: "সেই ব্যক্তির নামাজ যথেষ্ট হবে না, যে রুকু ও সিজদায় নিজের পিঠ সোজা করে না" (৫)।

এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে: নামাজের বিশুদ্ধতা (الصحة) স্থিরতা (الطمأنينة)-এর ওপর নির্ভর হওয়া আবশ্যক নয়। কারণ এটি এককের বর্ণনা (خبر الواحد) দ্বারা প্রমাণিত। অন্যথায় এটি রহিতকরণ (نسخاً) হিসেবে গণ্য হতো, অথচ কুরআন এককের বর্ণনা (خبر الواحد) দ্বারা রহিত (ينسخ) হয় না (৬)।

এছাড়াও তারা বলেছেন: বর্ণিত খবর বা হাদিসটি নামাজের বিশুদ্ধতা (الصحة) স্থিরতা (الطمأنينة)-এর ওপর নির্ভর না হওয়ার ফায়দা দেয়, কারণ এতে এসেছে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হজ্জ-এর ৭৭ নম্বর আয়াতের অংশ।

(২) দেখুন: ফাতহুল কাদির এবং এর সাথে আল-ইনায়াহ ১/৩০৭।

(৩) পূর্বে ৩২৬ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৪) ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন ৫/৩১০; এবং দারেমি তার সুনান-এ, কিতাবুস সালাত, রুকু ও সিজদা পূর্ণ না করা সংক্রান্ত অধ্যায়, হাদিস নং [১৩৩৪] ১/২৪৭; এবং হাকেম মুস্তাদরাক ১/২২৯-এ আব্দুল্লাহ বিন আবি কাতাদাহ-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح), যদিও তারা তা বর্ণনা করেননি। তিনি এটি আবু হুরায়রা-এর হাদিস থেকেও বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: উভয় সনদ (الإسنادين) সহিহ (صحيح), যদিও তারা তা বর্ণনা করেননি। আয-যাহাবি তার সাথে একমত হয়েছেন।

(৫) আবু দাউদ তার সুনান-এ, কিতাবুস সালাত, রুকু ও সিজদায় পিঠ সোজা না করা ব্যক্তির নামাজ সংক্রান্ত অধ্যায়, হাদিস নং [৮৫৫] ১/৫৩৩; এবং তিরমিজি তার সুনান-এ, কিতাবুস সালাত, রুকু ও সিজদায় পিঠ সোজা না করা সংক্রান্ত অধ্যায়, হাদিস নং [২৬৫] ২/৫১-তে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)।

(৬) ফাতহুল কাদির ১/৩০৭ এবং এর সাথে আল-ইনায়াহ।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩৩১)
بعض ألفاظه قوله: "وما انتقصت من هذا شيئاً فقد انتقصت من صلاتك " (1) ، فقد سماها صلاة والباطل لا يسمى صلاة، أو وصفها بالنقص والباطلة إنَّما توصف بالانعدام (2) .

أقول: ليس هذا نسخاً للقرآن وإنَّما هو بيان له فالنبي صلى الله عليه وسلم بين المجمل في الآية بقوله وفعله.

والراجح في نظري - والله أعلم - أنه لابد من الطمأنينة؛ لأنه إذا لم يطمئن مع الإمام فهو شاك وحينئذ لابد أن يأتي بركعة ليبني على اليقين.

ولأن الطمأنينة في جميع الأركان ركن من أركان الصلاة.

ثم هل يشترط أن يدرك مع الإمام الطمأنينة أو يكفي أن يطمئن هو قبل ارتفاع الإمام عن الحد المجزيء في الركوع؟ .

صرح بحكم هذه المسألة فقهاء الحنفية والمالكية والحنابلة، وقد اختلفوا فيها على قولين:

أحدهما: أنه لا يشترط، وهو الأصح عند الحنفية (3) وقول المالكية (4) وأحد الوجهين عند الحنابلة قال في الإنصاف: ((هذا المذهب مطلقاً، وعليه جماهير

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود في السنن، كتاب الصلاة، باب صلاة من لا يقيم صلبه في الركوع والسجود، حديث (856) 1/536، والترمذي في السنن، كتاب الصلاة، باب: ما جاء في وصف الصلاة، حديث (302) وقال: حديث حسن، وابن خزيمة في صحيحه 1/274 حديث (545) ، والبيهقي في السنن الكبرى 2/380 قال الشيخ الألباني في صحيح سنن أبي داود: صحيح. 1/161، 163.

(2) انظر: فتح القدير والعناية معه 1/307.

(3) انظر: الفتاوى الهندية 1/120.

(4) انظر: الفواكه الدواني 1/240.
এর কিছু শব্দ হলো তাঁর বাণী: "তুমি এর থেকে যা কিছু হ্রাস করলে, তা তোমার সালাত থেকেই হ্রাস করলে" (১)। তিনি একে সালাত হিসেবে অভিহিত করেছেন, আর বাতিল (অকার্যকর) বিষয়কে সালাত বলা হয় না। অথবা তিনি একে অপূর্ণতা দ্বারা বিশেষিত করেছেন, আর বাতিল বিষয়কে সাধারণত অস্তিত্বহীনতা দ্বারা বিশেষিত করা হয় (২)।

আমি বলছি: এটি কুরআনের রহিতকরণ (نسخ) নয়, বরং এটি তার একটি ব্যাখ্যা; কেননা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে আয়াতের সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট (مجمل) বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।

আমার দৃষ্টিতে অধিকতর সঠিক (الراجح) মত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—স্থিরতা (طمأنينة) অবলম্বন করা অপরিহার্য; কারণ সে যদি ইমামের সাথে স্থিরতা অবলম্বন না করে, তবে সে সন্দেহ পোষণকারী এবং এমতাবস্থায় নিশ্চিত বিশ্বাসের (يقين) ওপর ভিত্তি করার জন্য তাকে একটি রাকাত আদায় করতে হবে।

কারণ সমস্ত রুকনের মধ্যে স্থিরতা বজায় রাখা সালাতের অন্যতম একটি রুকন।

অতঃপর প্রশ্ন হলো, ইমামের সাথে স্থিরতা পাওয়া কি শর্ত, নাকি ইমাম রুকুর পর্যাপ্ত সীমা থেকে উঠার আগেই নিজের স্থির হওয়া যথেষ্ট?

হানাফি, মালেকি এবং হাম্বলি ফকিহগণ এই মাসআলার বিধান স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা এ বিষয়ে দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

একটি হলো: এটি শর্ত নয়। হানাফিদের নিকট এটিই অধিকতর সঠিক (الأصح) মত (৩), মালেকিদের বক্তব্য (৪) এবং হাম্বলিদের দুটি মতের একটি। আল-ইনসাফ গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এটিই সামগ্রিকভাবে মাযহাবের সিদ্ধান্ত এবং এর ওপর জমহুর (جمهور)

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ এটি সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, সালাত অধ্যায়, রুকু ও সিজদায় যারা পিঠ সোজা করে না তাদের সালাত পরিচ্ছেদ, হাদিস (৮৫৬) ১/৫৩৬; তিরমিজি সুনান গ্রন্থে, সালাত অধ্যায়, সালাতের বর্ণনার বিবরণ পরিচ্ছেদ, হাদিস (৩০২) এবং তিনি বলেছেন: হাদিসটি হাসান (حسن); ইবনে খুজায়মাহ তাঁর সহিহ গ্রন্থে ১/২৭৪ হাদিস (৫৪৫); এবং বায়হাকি তাঁর সুনান আল-কুবরা গ্রন্থে ২/৩৮০। শেখ আলবানি সহিহ সুনান আবু দাউদ গ্রন্থে বলেছেন: সহিহ (صحيح)। ১/১৬১, ১৬৩।

(২) দ্রষ্টব্য: ফাতহুল কাদির এবং সাথে আল-ইনায়াহ ১/৩০৭।

(৩) দ্রষ্টব্য: আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ ১/১২০।

(৪) দ্রষ্টব্য: আল-ফাওয়াকিহ আদ-দাওয়ানি ১/২৪০।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩৩২)
الأصحاب وجزم به في الوجيز وقدمه في الفروع والفائق)) (1) ، لكن لابد أن يدرك الإمام قبل أن يزول عن حد الإجزاء من الركوع.

والثاني: أنه يدركها إن أدرك معه الطمأنينة، وهو الوجه الثاني عند الحنابلة (2) .

الشرط الثاني: أن يكون ذلك الركوع محسوباً للإمام:

صرح بهذا الشرط فقهاء الشافعية فقالوا: بأن ما ذكروه من إدراك الركعة بإدراك الركوع مع الإمام هو فيما إذا كان الركوع محسوباً للإمام فإن لم يكن محسوباً له بأن كان محدثاً أو قد سها وقام إلى الخامسة فأدركه المسبوق في ركوعها، أو نسي تسبيح الركوع واعتدل قائماً ثم عاد إليه ظاناً جوازه فأدركه فيه لم يكن مدركاً للركعة على المذهب الصحيح الذي قطع به الجمهور من الشافعية (3) .

واشتراط هذا الشرط هو المفهوم من كلام الحنفية والمالكية والحنابلة:

فعند الحنفية جاء في البحر الرائق قوله: وفي حيرة الفقهاء إمام افتتح الصلاة فلما ركع ورفع رأسه من الركوع ظن أنه لم يقرأ السورة فرجع وقرأ ثم علم أنه كان قرأ السورة فجاء رجل ودخل معه في الصلاة ثم ركع ثانياً فإن هذا المسبوق يصير داخلاً في الصلاة لكن عليه أن يقضي ركعة لأن الركوع الأول كان فرضاً تاماً والآخر نفلاً فصار كأن المسبوق لم يدرك الركوع من هذه الركعة (4) .

وعند المالكية: لا تجزي الركعة الزائدة التي قام إليها الإمام المسبوق العالم

--------------------------------------------

(1) انظر: 2/223.

(2) انظر: المغني 2/182، والإنصاف 2/223.

(3) الأم 1/310، والمجموع 4/216.

(4) البحر الرائق 2/82.
সাথীগণ (الأصحاب) এবং 'আল-ওয়াজিজ' গ্রন্থে এটিকে দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করা হয়েছে এবং 'আল-ফুরু' ও 'আল-ফাইক' গ্রন্থে এটিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে (১)। তবে ইমাম রুকুর (الركوع) পর্যাপ্ত সীমা অতিক্রম করার আগেই তাকে ইমামের সাথে শরিক হতে হবে।

দ্বিতীয় মত: যদি তিনি ইমামের সাথে স্থিরতা (الطمأنينة) লাভ করেন, তবে তিনি তা (রাকাত) লাভ করবেন। এটি হাম্বলি মাযহাবের দ্বিতীয় অভিমত (الوجه الثاني) (২)।

দ্বিতীয় শর্ত: সেই রুকুটি (الركوع) ইমামের জন্য গণ্য (محسوباً) হতে হবে:

শাফেয়ি ফকিহগণ এই শর্তটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেছেন: ইমামের সাথে রুকু (الركوع) পাওয়ার মাধ্যমে রাকাত (الركعة) পাওয়ার যে কথা তারা উল্লেখ করেছেন, তা তখনই প্রযোজ্য যখন রুকুটি ইমামের জন্য গণ্য (محসوباً) হবে। যদি তা তার জন্য গণ্য না হয়—যেমন তিনি অপবিত্র (محدثاً) অবস্থায় থাকেন অথবা ভুলবশত পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান এবং মাসবুক (المسبوق) ব্যক্তি সেই রাকাতের রুকুতে তাকে পায়, অথবা তিনি রুকুর তাসবিহ ভুলে গিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যান এবং পরে তা বৈধ মনে করে পুনরায় রুকুতে ফিরে যান আর মাসবুক ব্যক্তি তাকে সেই রুকুতে পায়—তবে সঠিক মাযহাব (المذهب الصحيح) অনুযায়ী সেই রাকাতটি আদায় হয়েছে বলে গণ্য হবে না, যে ব্যাপারে জুমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ শাফেয়ি আলিম নিশ্চিত মত দিয়েছেন (৩)।

হানাফি, মালেকি এবং হাম্বলিদের বক্তব্য থেকেও এই শর্তটিই প্রতীয়মান হয়:

হানাফিদের ক্ষেত্রে 'আল-বাহরুর রায়েক' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: 'হাইরাতুল ফুকাহা' গ্রন্থে রয়েছে—একজন ইমাম সালাত শুরু করলেন, এরপর যখন রুকু (الركوع) করলেন এবং রুকু থেকে মাথা তুললেন, তখন তিনি ধারণা করলেন যে তিনি সূরা পাঠ করেননি। ফলে তিনি ফিরে গিয়ে কিরাত পাঠ করলেন, এরপর জানতে পারলেন যে তিনি সূরা পাঠ করেছিলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে তার সাথে সালাতে শরিক হলো এবং ইমাম দ্বিতীয়বার রুকু করলেন। এই মাসবুক (المسبوق) ব্যক্তি সালাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে গণ্য হবে, কিন্তু তাকে এক রাকাত কাজা করতে হবে। কারণ প্রথম রুকুটি ছিল পূর্ণাঙ্গ ফরজ (فرضاً), আর শেষটি ছিল নফল (نفلاً)। ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়ালো যেন মাসবুক ব্যক্তি এই রাকাতের রুকু (الركوع) পায়নি (৪)।

মালেকিদের মতে: ইমাম যে অতিরিক্ত রাকাতের জন্য দাঁড়িয়েছেন, তা সেই মাসবুক (المسبوق) ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট (تجزي) হবে না যে বিষয়টি জানে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ২/২২৩।

(২) দেখুন: আল-মুগনি ২/১৮২, এবং আল-ইনসাফ ২/২২৩।

(৩) আল-উম্ম ১/৩১০, এবং আল-মাজমু ৪/২১৬।

(৪) আল-বাহরুর রায়েক ২/৮২।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩৩৩)
بكونها خامسة وإن لم يعلم بكونها خامسة لم تجزه تلك الركعة عما سبق به سواء أجمع المأمومون على نفي الموجب أم لا، وقيل: إنها تجزيه إلَاّ أن يجمع المأمومون على نفي الموجب، وأمَّا إذا أجمعوا على نفي الموجب فلا تجزيه اتفاقاً، ومحل الخلاف إن قال الإمام قمت لموجب، أمَّا إذا لم يقل قمتُ لموجب فلا تجزيه تلك الركعة اتفاقاً (1) .

فالمالكية إذاً لا يجيزون للمسبوق الاعتداد بالركعة الزائدة إذا كانت زائدة في حقيقة الأمر.

ومثل الركعة الزائدة الركوع الزائد (2) .

وعند الحنابلة: جاء في الفروع قوله: ((وكذا تسبيح ركوع وسجود وكل واجب، فيرجع إلى تسبيح ركوع قبل اعتداله وفيه بعده ولم يقرأ وجهان وقيل: لا يرجع وتبطل بعمده، وإن جاز أدرك مسبوق الركعة به وقيل: لا؛ لأنه نفل وكرجوعه إلى ركوع سهو)) (3) .

فقوله: وكرجوعه إلى ركوع سهو - أي أن المسبوق لايعتد بالركوع غير المعتد به لكونه سهواً.

وذكر في الإنصاف: أنه على القول بجواز الرجوع إلى تسبيح الركوع لو رجع فأدركه مسبوق، وهو راكع فقد أدرك الركعة بذلك على الصحيح من المذهب جزم به المجد في شرحه والحاوي الكبير وقدمه في الفروع، وقيل لا يدركها بذلك؛ لأنه نفل كرجوعه إلى الركوع سهواً (4) .

--------------------------------------------

(1) حاشية الدسوقي 1/305 وما بعدها.

(2) ينظر: الذخيرة للقرافي 2/307.

(3) الفروع 1/513.

(4) الإنصاف 2/146.
এটি পঞ্চম রাকাত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে; আর যদি সে এটি পঞ্চম রাকাত হওয়া সম্পর্কে অবগত না থাকে, তবে তার পূর্বে যা ছুটে গেছে তার পরিবর্তে এই রাকাতটি যথেষ্ট হবে না; চাই মুক্তাদিগণ কারণ না থাকার বিষয়ে একমত হোন বা না হোন। এবং বলা হয়েছে: এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে, তবে যদি মুক্তাদিগণ কারণ না থাকার বিষয়ে একমত পোষণ করেন (তবে হবে না)। পক্ষান্তরে যদি তারা কারণ না থাকার বিষয়ে একমত হন, তবে সর্বসম্মতিক্রমে (اتفاقاً) এটি যথেষ্ট হবে না। আর মতভেদের ক্ষেত্র হলো যদি ইমাম বলেন যে "আমি একটি কারণবশত দাঁড়িয়েছি", কিন্তু তিনি যদি "আমি একটি কারণবশত দাঁড়িয়েছি" না বলেন তবে সর্বসম্মতিক্রমে (اتفاقاً) সেই রাকাতটি যথেষ্ট হবে না (১)।

সুতরাং মালিকি মাযহাব মতে, মাসবুক ব্যক্তির জন্য অতিরিক্ত রাকাতকে গণ্য করা বৈধ নয় যদি তা প্রকৃতপক্ষে অতিরিক্ত (زائدة) হয়ে থাকে।

আর অতিরিক্ত রাকাতের ন্যায় অতিরিক্ত রুকুও একই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত (২)।

আর হাম্বলি মাযহাবের নিকট: আল-ফুরু গ্রন্থে তার উক্তি এসেছে: ((অনুরূপভাবে রুকু ও সিজদার তাসবিহ এবং প্রতিটি আবশ্যক (واجب) বিষয়; সুতরাং সে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পূর্বে রুকুর তাসবিহর দিকে ফিরে যাবে। আর সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর ফিরে যাওয়া এবং কিরাত না পড়ার বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। বলা হয়েছে: সে ফিরে যাবে না এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তা করলে নামাজ বাতিল (باطل) হয়ে যাবে। আর যদি ফিরে আসা বৈধ হয় এবং মাসবুক এর মাধ্যমে রাকাতটি পেয়ে যায় তবে তা গণ্য হবে, এবং অন্যমতে: গণ্য হবে না; কারণ এটি নফল (نفل) ইবাদত সদৃশ এবং ভুলবশত রুকুতে ফিরে যাওয়ার মতো)) (৩)।

সুতরাং তার উক্তি: "ভুলবশত রুকুতে ফিরে যাওয়ার মতো" - অর্থাৎ মাসবুক ঐ রুকুটি গণ্য করবে না যা ভুলবশত হওয়ার কারণে শরয়িভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

আর আল-ইনসাফ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে: রুকুর তাসবিহর জন্য ফিরে আসা বৈধ হওয়ার মতানুসারে, যদি ইমাম ফিরে আসেন এবং মাসবুক তাকে রুকু অবস্থায় পায়, তবে মাযহাবের বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে সে এর মাধ্যমে রাকাতটি পেয়েছে বলে গণ্য হবে। আল-মাজদ তার শারহ গ্রন্থে এবং আল-হাবি আল-কাবিরে এ বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন এবং আল-ফুরু গ্রন্থেও এটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আর বলা হয়েছে যে, সে এর মাধ্যমে রাকাতটি পাবে না; কারণ এটি নফল (نفل) ইবাদত এবং ভুলবশত রুকুতে ফিরে যাওয়ার সদৃশ (৪)।

--------------------------------------------

(১) হাশিয়াতুদ দিসুকি ১/৩০৫ এবং পরবর্তী অংশ।

(২) দ্রষ্টব্য: আয-যাখিরা লিল কারাফি ২/৩০৭।

(৩) আল-ফুরু ১/৫১৩।

(৪) আল-ইনসাফ ২/১৪৬।
(খণ্ড: ১) ইদরাকুর রাকআহ ওয়াল জামাআহ ওয়াল জুমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩৩৪)
فاعتداده بالركوع على القول بأنه محسوب للإمام؛ إذ هو مفرع على القول بجواز الرجوع ويفهم منه أنه إذا لم يجز له الرجوع فرجع لم يعتد به المسبوق لكونه غير محسوب للإمام، ويؤيد هذا قياسهم على ما لو رجع إلى ركوع سهواً فإن المسبوق لا يعتد به لكونه غير محسوب للإمام.

ومِمَّا يؤيد هذا أيضاً: إذا قام إلى ركعة زائدة سهواً فأدركه المسبوق فيها انعقدت صلاته معه على الصحيح من المذهب إن كان المسبوق يظنها رابعة.

وعلى هذا فلا يعتد بهذه الركعة على الصحيح من المذهب نص عليه الإمام أحمد رحمه الله وقال القاضي وابن قدامة يعتد بها، وتوقف الإمام أحمد في رواية أبي الحارث (1) عنه، ونقل في الإنصاف عن الحاوي الكبير وغيره: أنه يحتمل أن يعتد بها المسبوق إن صح إقتداء المفترض بالمتنفل واختاره القاضي (2) أيضاً، وقدمه ابن تميم (3) ، فالقول المعتمد في المذهب هو عدم الاعتداد بهذه الركعة.

وعند الحنابلة قول آخر: أن صلاة المسبوق لا تنعقد إذا دخل في ركعة زائدة قام إليها المسبوق سهواً (4) .

وفي الفروع قال: ((وإن قلنا يرجع - يعني من قام إلى زائدة سهواً ونبه - فأبى بطلت صلاته وصلاة من تبعه عالماً، لا جاهلاً وساهياً على الأصح في

--------------------------------------------

(1) هو: أحمد بن محمد الصائغ أبو الحارث كان الإمام أحمد رحمه الله يكرمه ويجله ويقدمه وروى عن الإمام أحمد مسائل كثيرة جداً، الإنصاف 12/280.

(2) هو: محمد بن الحسين بن محمد بن خلف بن أحمد بن الفراء أبو يعلى المعروف بالقاضي الكبير، فقيه حنبلي وأصولي ومحدث، ولد سنة 380 ?، وتوفي سنة 458 ?. انظر: طبقات الحنابلة 2/193، والبداية والنهاية 12/94 وما بعدها.

(3) الإنصاف 2/146.

(4) المرجع السابق 2/127 وما بعدها.
আর ইমামের জন্য তা গণনাযোগ্য হওয়ার মতানুসারে এই রুকুর ধর্তব্য হওয়া; কেননা এটি ফিরে আসা বৈধ হওয়ার মতের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় যে, যদি তার জন্য ফিরে আসা বৈধ না হয় এবং সে ফিরে আসে, তবে মাসবুক ব্যক্তির নিকট তা ধর্তব্য হবে না, কারণ এটি ইমামের জন্য গণনাযোগ্য নয়। তাদের এই কিয়াস (অনুরূপ অনুমান) বিষয়টিকে সমর্থন করে যে, যদি কেউ ভুলবশত রুকুতে ফিরে আসে তবে মাসবুক ব্যক্তির নিকট তা ধর্তব্য হবে না, কারণ তা ইমামের জন্য গণনাযোগ্য নয়।

একে আরও যা সমর্থন করে তা হলো: যদি ইমাম ভুলবশত অতিরিক্ত রাকাআতের জন্য দাঁড়ান এবং মাসবুক ব্যক্তি তাতে তাকে পায়, তবে মাযহাবের বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুসারে তার সাথে ঐ ব্যক্তির সালাত শুরু হয়ে যাবে, যদি মাসবুক ব্যক্তি ধারণা করে যে তা চতুর্থ রাকাআত।

এর ভিত্তিতে মাযহাবের বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুসারে এই রাকাআতটি ধর্তব্য হবে না, যা ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তবে আল-কাজি এবং ইবনে কুদামা বলেছেন যে এটি ধর্তব্য হবে। ইমাম আহমাদ থেকে আবু আল-হারিসের বর্ণনায় (رواية) তিনি এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে 'আল-হাউই আল-কাবির' ও অন্যান্য কিতাব থেকে উদ্ধৃত হয়েছে যে: যদি নফল আদায়কারীর পেছনে ফরজ আদায়কারীর ইকতিদা (ইমাম হিসেবে অনুসরণ) বিশুদ্ধ (صح) হয়, তবে মাসবুক ব্যক্তির জন্য এটি ধর্তব্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আল-কাজিও এটি পছন্দ করেছেন এবং ইবনে তামীম একে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সুতরাং মাযহাবের নির্ভরযোগ্য (المعتمد) মত হলো এই রাকাআতটি ধর্তব্য না হওয়া।

আর হানাবলিদের নিকট অপর একটি মত হলো: মাসবুক ব্যক্তির সালাত শুরু হবে না যদি সে এমন অতিরিক্ত রাকাআতে প্রবেশ করে যাতে মাসবুক (ইমাম) ভুলবশত দাঁড়িয়েছে (৪)।

আল-ফুরু' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আর যদি আমরা বলি যে সে ফিরে আসবে—অর্থাৎ যে ব্যক্তি ভুলবশত অতিরিক্তের দিকে দাঁড়িয়েছে এবং তাকে সতর্ক করা হয়েছে—অতঃপর সে অস্বীকার করে, তবে তার সালাত এবং যারা জেনেবুঝে তাকে অনুসরণ করেছে তাদের সালাত বাতিল হয়ে যাবে; কিন্তু অজ্ঞ ও ভুলকারীর ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতম (الأصح) মতানুসারে বাতিল হবে না..."

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আস-সাইগ আবু আল-হারিস। ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) তাকে সম্মান করতেন, শ্রদ্ধা করতেন এবং গুরুত্ব দিতেন। তিনি ইমাম আহমাদ থেকে অনেক মাসআলা বর্ণনা (روى) করেছেন। আল-ইনসাফ ১২/২৮০।

(২) তিনি হলেন: মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন খালাফ বিন আহমাদ বিন আল-ফাররা আবু ইয়ালা, যিনি আল-কাজি আল-কাবির নামে পরিচিত। তিনি একজন হাম্বলি ফকিহ, উসুলি এবং মুহাদ্দিস (محدث)। তিনি ৩৮০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৫৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: তাবাকাতুল হানাবিলা ২/১৯৩, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১২/৯৪ এবং পরবর্তী অংশ।

(৩) আল-ইনসাফ ২/১৪৬।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস ২/১২৭ এবং পরবর্তী অংশ।