(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: -)
مختصر صحيح الإمام البخاري   (ناصر الدين الألباني)

القسم: كتب السنة

الكتاب: مُخْتَصَر صَحِيحُ الإِمَامِ البُخَارِي

المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)

الناشر: مكتَبة المَعارف للنَّشْر والتوزيع، الرياض

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2002 م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الآخر 1435

মুখতাসার সহীহুল ইমাম আল-বুখারী   (নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: মুখতাসার সহীহুল ইমাম আল-বুখারী

লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, ইবনুল হাজ নূহ ইবনে নাজাতী ইবনে আদম, আল-আশকুদারী আল-আলবানী (মৃত ১৪২০ হিজরী)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরী - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউস সানি ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১)
مُخْتَصَر

صَحِيحُ الإِمَامِ البُخَارِي

حَوي جَميع أحاديثه المرفوعة، والآثار الموقوفَة؛ الموصولة منهَا والمعلّقة، مَعَ حَذف الأسانيد والمكرّرات مِن المتون، وجَمع إليها الزوائد من الروايات المحذوفة، ووُضعَت كل زيادة منها في مكانها المناسِب لها من الأحاديث، بطريقة علمية لا مثيلَ لها فيما أعلم؛ جمعت كل فؤائِد "الصحيح" بإذن الله تعالى

للعَلَّامَة المحَدِّث

محَمَّد نَاصِر الدِّين الأَلبَاني

رَحمَهُ الله تَعَالى

الطّبعَة الشَّرعيَّة الوَحيدَة

المجَلّد الأوّل

مكتَبة المَعارف للنَّشْر والتوزيع

لِصَاحبهَا سَعد بن عَبْد الرحمن الراشِد

الريَاض
সংক্ষিপ্ত

ইমাম বুখারীর সহীহ

এতে তাঁর সকল মারফূ হাদীস এবং মাওকূফ আছারসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; চাই তা মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হোক কিংবা মুআল্লাক (ঝুলন্ত)। এতে সনদসমূহ এবং পাঠ্যের পুনরাবৃত্তিসমূহ বর্জন করা হয়েছে এবং বাদ পড়া বর্ণনাগুলো থেকে অতিরিক্ত অংশসমূহ সংযোজন করা হয়েছে। সেই প্রতিটি অতিরিক্ত অংশকে হাদীসসমূহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করা হয়েছে এমন এক অতুলনীয় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যা আমার জানামতে আর নেই; যা আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় 'সহীহ'-এর সকল উপকারিতাকে একত্রিত করেছে।

আল্লামা মুহাদ্দিস

মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী

আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন

একমাত্র অনুমোদিত সংস্করণ

প্রথম খণ্ড

মাকতাবাতুল মা'আরিফ প্রকাশনা ও পরিবেশনা

স্বত্বাধিকারী: সা'দ বিন আব্দুর রহমান আর-রাশিদ

রিয়াদ
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة للناشر، فلا يجوز نشر أي جزء

من هذا الكتاب، أو تخزينه أو تسجيله بأية وسيلة، أو

تصويره أو ترجمته دون موافقة خطية مُسبقة من الناشر.

الطبعَة الأولى لِلطبعَة الشرعيَّة الجَديدَة

1422 هـ - 2002م

(ح) مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، 1422 هـ

فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر

الألباني، محمد ناصر الدين

مختصر صحيح الإمام البخاري. - الرياض.

775 ص،17،5 × 24 سم

ردمك 3 - 24 - 858 - 9960 (مجموعة)

‌‌1 - 25 - 858 - 9960 (ج1)

‌‌1 - الحديث الصحيح … أ- العنوان

ديوى 235.1 … 2109/ 21

رقم الإيداع: 2109/ 21

ردمك 3 - 24 - 858 - 9960 (مجموعة)

‌‌1 - 25 - 858 - 9960 (ج1)

مَكتَبة المعَارف لِلنشرِ وَالتوزيع

هَاتف: 4114535 - 4113350

فاكس: 4112932 - ص. ب: 3218

الريَاض الرمز البريدى 11471
সকল স্বত্ব প্রকাশকের সংরক্ষিত, তাই প্রকাশকের পূর্বলিখিত অনুমতি ব্যতীত এই বইয়ের কোনো অংশ প্রকাশ করা,

বা কোনো মাধ্যমে সংরক্ষণ বা রেকর্ড করা, অথবা

ফটোকপি বা অনুবাদ করা যাবে না।

নতুন বৈধ সংস্করণের প্রথম মুদ্রণ

১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

(স্বত্ব) মাকতাবাতুল মাআরিফ প্রকাশনী ও বিতরণ কেন্দ্র, ১৪২২ হিজরি

প্রকাশনাকালীন কিং ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগারের ক্যাটালগিং

আলবানি, মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন

মুখতাসার সহীহ আল-ইমাম আল-বুখারী। - রিয়াদ।

৭৭৫ পৃষ্ঠা, ১৭.৫ × ২৪ সেমি

আইএসবিএন ৩ - ২৪ - ৮৫৮ - ৯৯৬০ (সমগ্র)

‌‌১ - ২৫ - ৮৫৮ - ৯৯৬০ (১ম খণ্ড)

‌‌১ - সহীহ হাদীস … ক- শিরোনাম

ডিউই ২৩৫.১ … ২১০৯/ ২১

জমাদানের নম্বর: ২১০৯/ ২১

আইএসবিএন ৩ - ২৪ - ৮৫৮ - ৯৯৬০ (সমগ্র)

‌‌১ - ২৫ - ৮৫৮ - ৯৯৬০ (১ম খণ্ড)

মাকতাবাতুল মাআরিফ প্রকাশনী ও বিতরণ কেন্দ্র

ফোন: ৪১১৪৫৩৫ - ৪১১৩৩৫০

ফ্যাক্স: ৪১১২৯৩২ - পি.ও. বক্স: ৩২১৮

রিয়াদ, পোস্টাল কোড ১১৪৭১
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة الطبعة الجديدة

الحمدُ لله رب العالمين، والصلاةُ والسلام على نبيه الكريم، وعلى آله وصحبه الغرِّ الميامين، ومن اتّبعهم بإحسان إلى يومِ الدين، (يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ. إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ).

أما بعد، فهذه هي الطبعة الجديدة للمجلد الأول من كتابي "مختصر صحيح البخاري"، تصدر أخيراً بعد تَمنًّ وصبر طويلين، ومرور قرابة ربع قرن على صدور الطبعة الأولى منه! ولقد كانت لي خلال هذه السنين الطويلة - بطبيعة الحال- ملاحظات، وزيادات هامة، وتصويبات، منها ما لم يتيسر لي إضافته أثناء طباعة الطبعة الأولى، لا سيما وقد رافقت طباعته صعوبات وعقبات جمة، كنت أشرت إلى بعضها في مقدمة الطبعة المذكورة (1)، ولا أدَلً على ذلك من تلكم الاستدراكات والتصويبات التي في آخرها، والتي كانت أُلحقت بآخر المجلد بعد أن تم طبعُه، وكان قد وقع فيها أكثر من عشر صفحات

--------------------------------------------

(1) وقد أعدنا نشرها في هذه الطبعة الجديدة، فانظر (ص 10).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌নতুন সংস্করণের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত নবীর ওপর, এবং তাঁর পুণ্যবান ও বরকতময় পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর, আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর; (যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে)।

অতঃপর, এটি আমার "মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী" গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের নতুন সংস্করণ, যা দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও ধৈর্যের পর এবং এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশের প্রায় এক চতুর্থাংশ শতাব্দী অতিবাহিত হওয়ার পর অবশেষে প্রকাশিত হচ্ছে! এই দীর্ঘ বছরগুলোতে—স্বাভাবিকভাবেই—আমার নিকট বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ, গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ও সংশোধন জমা হয়েছিল, যার কিছু অংশ প্রথম সংস্করণ মুদ্রণের সময় যোগ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি, বিশেষ করে যখন এর মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় প্রচুর অসুবিধা ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। আমি উক্ত সংস্করণের ভূমিকায় এর কিছু বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছিলাম (১); আর এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো সেই পরিশিষ্ট ও সংশোধনীগুলো যা গ্রন্থের শেষে যুক্ত করা হয়েছিল, যা খণ্ডটি মুদ্রণ সম্পন্ন হওয়ার পর সংযুক্ত করা হয় এবং তা দশ পৃষ্ঠারও বেশি ছিল।

--------------------------------------------

(১) আমরা এই নতুন সংস্করণে তা পুনরায় প্রকাশ করেছি, দেখুন (পৃষ্ঠা ১০)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৪)
بيضاء! وذلك في ظروف صعبة، وعقبات كأْداء، وللأسف فقد تتالت الطبعات بعد ذلك ثانية وثالثة ورابعة وخامسة … دون علمي، بل ولا إذن مني.

والناشر وإن حاول أن يضيف الاستدراكات ويصحح التصويبات في الطبعات التالية، فلم يكن موفقاً في ذلك كما ينبغي، والله المستعان.

أعود للقول … إنه كانت لي خلال هذه السنوات الطويلة ملاحظات وزيادات هامة؛ كتعديل بعضها، أو إضافة زيادات أخرى، وفوائد كثيرة نافعة؛ حديثية وفقهية ولغوية ونحوها، فكنت أضيفها في حينه على نسختي الخاصة، وقد تجمع لي منه الكثيرُ الطيبُ والحمد لله، إلى أن تهيأت الأسبابُ وتيسرت السبلُ- بفضل الله- لإعادة طباعته، وخدمته بما يليق بأهميته، وكما نريد، فكان أن صدر المجلد بهذه الصورة التي نحسبها إن شاء الله جيدة قلباً وقالباً.

ولعله يحْسُن بنا أن نشير هنا إلى أن الدارس للمجلد في طبعته الأولى؛ سيجد في هذه الطبعة الجديدة آثاراً واضحة، وفروقاً متميزة تظهر جلية لمن تيسرت له المقابلة بينهما، ولو في شيء يسير منها، ولا بأس من الإشارة إلى

أهمها:

‌‌1 - نقل الاستدراكات والتصويبات كلها المطبوعة في نهاية الكتاب إلى أماكنها من صلب الكتاب، مع عمل ما يلزم من تعديل.

‌‌2 - نقل جميع التعديلات والزيادات من نسختي الخاصة بما فيها حذف المكرر، ونقل الزيادات من الحديث الحذوف إلى الآخر المثبت، إذا لزم الأمر.
উজ্জ্বল! আর তা ছিল কঠিন পরিস্থিতির মাঝে এবং দুর্গম প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এরপর দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম সংস্করণগুলো … আমার অজান্তে, এমনকি আমার অনুমতি ছাড়াই পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হয়েছে।

যদিও প্রকাশক পরবর্তী সংস্করণগুলোতে সংশোধনী ও পরিমার্জনগুলো যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন, তবে তিনি তাতে যথাযথভাবে সফল হতে পারেননি। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

পুনরায় বলছি … এই দীর্ঘ বছরগুলোতে আমার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও সংযোজন ছিল; যেমন কোনোকিছু সংশোধন করা, অথবা নতুন কিছু বাড়ানো এবং অনেক উপকারী বিষয়—যা হাদিস, ফিকহ, ভাষা ও এই জাতীয় বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। আমি যথাসময়ে সেগুলো আমার নিজস্ব কপিতে যোগ করতাম। আলহামদুলিল্লাহ, আমার নিকট এমন অনেক উত্তম বিষয় জমা হয়েছিল। অবশেষে আল্লাহর অনুগ্রহে এটি পুনরায় মুদ্রণের এবং এর গুরুত্ব অনুযায়ী সেবা করার উপকরণ ও উপায়গুলো সহজ হলো—যেমনটি আমরা চেয়েছিলাম। ফলে এই খণ্ডটি এমন অবয়বে প্রকাশিত হলো যা আমরা ইনশাআল্লাহ বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিক থেকেই উত্তম বলে মনে করি।

সম্ভবত এখানে এটি উল্লেখ করা সমীচীন হবে যে, এই খণ্ডের প্রথম সংস্করণের পাঠক বর্তমান নতুন সংস্করণে সুস্পষ্ট ছাপ এবং স্বতন্ত্র পার্থক্য দেখতে পাবেন, যা উভয়ের মধ্যে সামান্য তুলনা করার সুযোগ পাওয়া ব্যক্তির নিকটও প্রকাশ পাবে। আর এর

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নির্দেশ করাতে কোনো বাধা নেই:

‌‌১ - বইয়ের শেষে মুদ্রিত সমস্ত সংশোধনী ও পরিমার্জন মূল পাঠের যথাস্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং সাথে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনও সম্পন্ন করা হয়েছে।

‌‌২ - আমার নিজস্ব কপি থেকে সমস্ত পরিমার্জন ও সংযোজন এতে স্থানান্তরিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পুনরাবৃত্তি বাদ দেওয়া এবং প্রয়োজনবোধে বিলুপ্ত হাদিসের অতিরিক্ত অংশগুলো প্রতিষ্ঠিত অন্য হাদিসে স্থানান্তর করা।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌3 - تبع هذا تعديل أرقام الأحاديث المسندة ابتداء من أول حديث حُذف، وتبع هذا أيضاً تعديل أرقام الأحاديث في كثير مما ورد ضمن جملة (قلت: أسند فيه الحديث …)، وكذلك ما لزم منه في الحاشية.

‌‌4 - طرأ تعديل طفيف على أرقام الأحاديث المعلقة خصوصاً بعد تحويل حديث واحد معلق كان برقم (168) إلى مسند أصبح رقمه (527)، وكذلك طرأ تعديل طفيف على أرقام الآثار.

‌‌5 - تمييز الأحاديث المسندة والمعلقة والآثار بأرقامها وحروف متونها من حيث نوع الحرف وقياسه مع الهوامش التابعة لها على غرار ما في المجلد الثاني والثالث، وما سيجري عليه العمل في المجلد الرابع، إن شاء الله تعالى.

‌‌6 - مقابلة الفهرس الجديد بالفهرس القديم، ومطابقته حتى ينسجم مع صورة الكتاب النهائية الجديدة، وتعديل ما يلزم من حذف وإضافة مع تدقيق الأرقام المتسلسلة بكل أنواعها، وقد يكون نَدَّ عنا شيء من ذلك؛ فمعذرة، فإنها من طبيعة البشر.

ولقد قام بالجهد الأكبر في تصحيح تجارب هذا المجلد، وتجميع مواد هذه المقدمة ابنتي الكبرى أثابها الله، وجزاها خيراً في الدنيا والأخرى.

ولا يفوتني بهذه المناسبة أن أشكر بعض إخواننا الذين كانوا شاركوا في بعض الأعمال التصحيحية وغيرها.

وأشكر بصورة خاصة الأخ الفاضل عمر بن عابد المطرقي الذي كان قدم إلي
৩ - এর অনুসরণ করে প্রথম অপসারিত হাদিস থেকে শুরু করে মুসনাদ হাদিসসমূহের সংখ্যা সংশোধন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি (আমি বলি: এতে হাদিসটি মুসনাদ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে ...) বাক্যটির অধীনে উল্লিখিত অনেক হাদিসের সংখ্যাও পরিবর্তন করা হয়েছে এবং ফুটনোটে যে সমস্ত পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল তাও করা হয়েছে।

৪ - মুআল্লাক হাদিসসমূহের নম্বরে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে, বিশেষ করে ১৬৮ নম্বর বিশিষ্ট একটি মুআল্লাক হাদিসকে মুসনাদে রূপান্তরিত করার পর যার নতুন নম্বর হয়েছে ৫২৭। অনুরূপভাবে আসার (সাহাবীদের বাণী) সমূহের নম্বরেও সামান্য পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

৫ - মুসনাদ ও মুআল্লাক হাদিস এবং আসারসমূহকে তাদের নম্বর এবং মূল পাঠের অক্ষরের ধরণ ও আকৃতি দ্বারা পৃথক করা হয়েছে, সেই সাথে সংশ্লিষ্ট টীকাগুলোকেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ডের অনুরূপ বিন্যস্ত করা হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা চতুর্থ খণ্ডেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

৬ - নতুন সূচিপত্রকে পুরাতন সূচিপত্রের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং বইটির চূড়ান্ত নতুন বিন্যাসের সাথে সংগতিপূর্ণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংযোজন ও বিয়োজন পরিমার্জন করার পাশাপাশি সব ধরণের ক্রমিক নম্বর নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। যদি কোনো কিছু আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়ে থাকে, তবে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী; কেননা এটি মানুষের স্বভাবজাত বিষয়।

এই খণ্ডের প্রুফ সংশোধন এবং এই ভূমিকার উপকরণগুলো সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে সবথেকে বড় প্রচেষ্টা ব্যয় করেছে আমার বড় মেয়ে, আল্লাহ তাকে সওয়াব দান করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

এই সুযোগে আমি আমাদের সেই সব ভাইদের ধন্যবাদ জানাতে ভুলছি না যারা সংশোধনমূলক এবং অন্যান্য কিছু কাজে অংশগ্রহণ করেছেন।

আমি বিশেষভাবে সম্মানিত ভাই উমর বিন আবিদ আল-মাতরাকি-কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, যিনি আমাকে প্রদান করেছিলেন
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৬)
وأنا في السعودية في عمرة جمادى الآخرة سنة (1410) بياناً فيه أرقام الأحاديث المكررة، وقد أصاب في أكثرها، فاستفدتها منه، فحذفتها، وقد كنت انتبهت لبعضها أثناء المراجعة، فأشكره على تتبعه إياها، وصبره على ذلك، أثابه الله، وأحسن إليه، فإن المرء قوي بأخيه.

هذا، ولعله مما يحسن التنبيه إليه أنه سيمر بالقارىء الكريم عزوي كثيراً لكتابي "صحيح أبي داود"، وربما أحياناً لقسيمه "ضعيف أبي داود" - بالأرقام طبعاً- لأحاديثهما فليُعلم أنني إنما أعني بكل منهما (الأم) والأصل الذي أُخرج فيهما الأحاديث، وأتكلم على الأسانيد ورجالها تعديلاً وتجريحاً، وتصحيحاً وتضعيفاً، وأتتبع فيهما الطرق في مختلف المصادر حتى المخطوطات أحياناً، على النحو الذي أنهج عليه في (السلسلتين)، وهما المقصودان أيضاً في كل كتبي حين العزو إليهما. فاقتضى التنبيه.

وختاماً أسال الله تعالى أن ينفع بهذا "المختصر" لأصح كتاب- بعد كتاب الله- على وجه الأرض بعد أن يسر اللهُ- وله الفضل والمنة- تقريبَه بين يدي الأمة، خاصتها وعامتها، وبما عليه من تخريج للتعليقات المرفوعة، وتمييز صحيحها من ضعيفها، وغير ذلك من الفوائد، وأن يدَّخر أجرها لي إلى {يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ. إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ}، إنه هو البرّ الرحيم.

عمان- 12 شعبان سنة 1416

محمد ناصر الدين الألباني
আমি যখন ১৪১০ হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে ছিলাম, তখন একটি তালিকা পাই যাতে পুনরাবৃত্ত হাদিসগুলোর নম্বর ছিল। তিনি এগুলোর অধিকাংশের ক্ষেত্রেই সঠিক ছিলেন, তাই আমি তা থেকে উপকৃত হয়েছি এবং হাদিসগুলো বাদ দিয়েছি। পর্যালোচনার সময় আমি নিজেও কয়েকটির ব্যাপারে সজাগ হয়েছিলাম। তাই আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই এগুলো অনুসন্ধান করার জন্য এবং এই কাজের ওপর ধৈর্য ধারণ করার জন্য। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন, কারণ মানুষ তার ভাইয়ের মাধ্যমেই শক্তিশালী হয়।

আর সম্ভবত যে বিষয়টি সতর্ক করা সমীচীন হবে তা হলো, সম্মানিত পাঠক লক্ষ্য করবেন যে আমি প্রায়ই আমার গ্রন্থ ‘সহীহ আবু দাউদ’ এবং কখনো কখনো এর অপর অংশ ‘যয়ীফ আবু দাউদ’ থেকে উদ্ধৃতি দেব—অবশ্যই নম্বরসহ। এটি জেনে রাখা উচিত যে, এ দুটি দ্বারা আমি সেই মূল পাণ্ডুলিপিকেই উদ্দেশ্য করি যাতে হাদিসগুলো বের করা হয়েছে এবং তাতে আমি সনদ ও বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা ও ত্রুটি (তাদীল ও জারহ), এবং বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা (তাসহিহ ও তাদঈফ) নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি বিভিন্ন উৎসে হাদিসটির সূত্রসমূহ (তুরুক) অনুসন্ধান করেছি, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপি পর্যন্ত পৌঁছেছি; যে পদ্ধতি আমি ‘সিলসিলাতাইন’ (দুই সিলসিলা)-এ অনুসরণ করি। আমার সকল গ্রন্থে যখনই এই দুটি কিতাবের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়, তখন মূলত এগুলোই উদ্দেশ্য থাকে। সুতরাং বিষয়টি সতর্ক করা প্রয়োজন ছিল।

পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি পৃথিবীর বুকে আল্লাহর কিতাবের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাবের এই ‘সংক্ষিপ্তসার’ (মুখতাসার)-কে উপকারী করে তোলেন; মহান আল্লাহই—যাঁর সকল অনুগ্রহ ও করুণা—উম্মতের বিশিষ্ট ও সাধারণ সকল স্তরের মানুষের নিকট এটিকে সহজলভ্য করে দিয়েছেন। এতে মারফূ তালীকসমূহের উৎস অনুসন্ধান (তাখরীজ), সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার পার্থক্য নিরূপণ এবং অন্যান্য নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে। আল্লাহ যেন এর প্রতিদান আমার জন্য সেই দিনের জন্য সঞ্চিত রাখেন যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না; কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে। নিশ্চয়ই তিনি পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু।

আম্মান— ১২ শাবান, ১৪১৬ হিজরি

মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة الطبعة الأولى

إن الحمدَ لله، نحمدُه ونستعينُه ونستغفرُه، ونعوذُ بالله من شرورِ أنفسنا،

وسيئات أعمالنا، من يهدِه الله فلا مضلَّ له، ومن يضلِلْ فلا هادي له، وأشهدُ

أنْ لا إله إلا الله وحده لا شريكَ له، وأشهدُ أن محمداً عبدُه ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا. يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}

أما بعد: فإِن من مشاريعي القديمة في خدمة السنة المطهرة، ما كنت سميته بـ "تقريب السنة بين يدي الأمة"، وتحدثت عنه في بعض كتبي؛ منها مقدمتي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা

এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি

যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একজন ব্যক্তি থেকে এবং তাঁর থেকে তাঁর স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষক।}

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সফলতা অর্জন করল।}

অতঃপর: পবিত্র সুন্নাহর খিদমতে আমার দীর্ঘদিনের প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি ছিল এমন, যাকে আমি "উম্মাহর নিকট সুন্নাহর সহজলভ্যকরণ" নামে অভিহিত করেছিলাম এবং এ সম্পর্কে আমি আমার কিছু কিতাবে আলোচনা করেছি; যার মধ্যে রয়েছে আমার একটি ভূমিকা
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৮)
على "مختصر صحيح مسلم" للحافظ المنذري، وهو يشمل حذف الأسانيد من جهة، وتمييز الصحيح من الضعيف من جهة أخرى.

ولما كان "صحيح البخاري" و"صحيح مسلم"، قد تلقاهما العلماء بالقبول؛ لم يكن ثمة حاجة إلى الكلام على أسانيدهما كما كنت بينت ذلك في المقدمة المشار إليها، فالعمل فيهما إذن منحصر في حذف أسانيدهما والمكرر من متونهما.

وكان أول ما صنعته في ذلك أن حققت "مختصر مسلم " المذكور، ورقَّمْتُ أحاديثه، وشرحتُ غريبه، وعلّقتُ عليه تعليقاتٍ مفيدةً، ثم طبعتهُ في بيروت.

وكان قد تبين لي بعد الفراغ منه أن الحافظ المنذري رحمه الله لم يقتصر في اختصاره إياه على حذف أسانيده والمكرر من متونه فقط، بل حذف منه بعض المتون أيضاً، فلما بدا لي ذلك تمنيت أَنْ لو تتاح لي فرصة، لأتولى أنا بنفسي اختصاره بطريقتي الخاصة، وشاء الله تبارك وتعالى ذلك، حيث قدّر علي أن أسجن في عام 1389هـ الموافق لسنة 1969م مع عدد من العلماء من غير جريرة اقترفناها سوى الدعوة إلى الإسلام وتعليمه للناس، فأُساقُ إلى سجن القلعة وغيره في دمشق، ثم يُفرج عني بعد مدة لأساق مرة ثانية وأنفى إلى الجزيرة، لأقضي في سجنها بضعة أشهر، أحتسبها في سبيل الله عز وجل.

وقد قدر الله ألا يكون معي فيه إلا كتابي المحبب: "صحيح الإِمام مسلم"، وقلم رصاص وممحاة، وهناك عكفت على تحقيق أمنيتي، في اختصاره وتهذيبه،
হাফেয মুনযিরীর "মুখতাসার সহীহ মুসলিম"-এর ওপর, যা একদিকে সনদসমূহ বিলোপ করা এবং অন্যদিকে সহীহ ও যঈফ হাদীসের মধ্যে পার্থক্য করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে।

যেহেতু "সহীহ বুখারী" এবং "সহীহ মুসলিম"-কে উলামায়ে কেরাম গ্রহণ করে নিয়েছেন, তাই তাদের সনদ নিয়ে আলোচনা করার কোনো প্রয়োজন ছিল না, যেমনটি আমি উল্লিখিত ভূমিকায় বর্ণনা করেছি। সুতরাং এই দুই কিতাবের কাজ কেবল তাদের সনদসমূহ এবং মতনের পুনরাবৃত্তিগুলো বিলোপ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

এক্ষেত্রে আমি সর্বপ্রথম যা করেছি তা হলো, উল্লিখিত "মুখতাসার মুসলিম"-এর তাহকীক করা, এর হাদীসগুলো নম্বরভুক্ত করা, এর কঠিন শব্দগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা এবং এতে প্রয়োজনীয় টীকা যুক্ত করা। অতঃপর আমি তা বৈরুতে মুদ্রণ করি।

সেটি সম্পন্ন করার পর আমার নিকট স্পষ্ট হলো যে, হাফেয মুনযিরী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সংক্ষেপায়নের ক্ষেত্রে কেবল সনদ এবং মতনের পুনরাবৃত্তি বিলোপ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি সেখান থেকে কিছু মূল পাঠও বিলোপ করেছেন। যখন বিষয়টি আমার নিকট প্রতিভাত হলো, তখন আমি কামনা করলাম যে যদি আমাকে কোনো সুযোগ দেওয়া হতো যাতে আমি নিজেই নিজস্ব পদ্ধতিতে এর সংক্ষেপায়নের কাজ করতে পারতাম। আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তা-ই মঞ্জুর করলেন; তিনি আমার জন্য ১৩৮৯ হিজরী মোতাবেক ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে একদল উলামার সাথে কারাবরণ নির্ধারিত করলেন। মানুষের নিকট ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো এবং তা শিক্ষা দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো অপরাধ ছিল না। ফলে আমাকে দামেস্কের ক্বাল'আ ও অন্যান্য কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুদিন পর মুক্তি পেলেও পুনরায় আমাকে আটক করে আল-জাযীরায় নির্বাসিত করা হয়, সেখানে আমি কয়েক মাস বন্দি অবস্থায় অতিবাহিত করি; আমি মহান আল্লাহর নিকট এর সওয়াবের আশা রাখি।

আর আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা ছিল যে, সেখানে আমার সাথে আমার প্রিয় কিতাব "সহীহ ইমাম মুসলিম", একটি পেন্সিল এবং একটি রাবার ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সেখানেই আমি এটি সংক্ষেপায়ন ও পরিমার্জনের মাধ্যমে আমার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে নিবিষ্ট হই।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৯)
وفرغت من ذلك في نحو ثلاثة أشهر، كنت أعمل فيه ليل نهار، ودون كلل ولا ملل، وبذلك انقلب ما أراده أعداء الأمة انتقاماً منا إلى نعمة لنا، يتفيأ ظلالها طلاب العلم من المسلمين في كل مكان، فالحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.

كما يسر الله تعالى لي التفرغ لعدد كبير من الأعمال العلمية ما كان يتاح لي أن أعطيها الوقت اللازم لو بقيت حياتي تسير على النهج المعتاد، فقد قامت بعض الحكومات المتعاقبة بمنعي من الخروج إلى المدن السورية في الزيارات الشهرية التي كنت أقوم بها في الدعوة إلى الكتاب والسنة. وهو نوع مما يسمى في العرف الشائع بـ "الإِقامة الجبرية"، كما أنني قد مُنعت خلال فترات متلاحقة من إلقاء دروسي العلمية الكثيرة التي كان التحضير لها يأخذ جزءاً كبيراً من وقتي، وهذا كله قد صرف عني الكثير من الأعمال، وحال بيني وبين لقاء عدد كبير من الناس الذين كانوا يأخذون من وقتي الشيء الكبير.

هذا، ولما اطَّلع على المختصر بعض الإخوة رغب في نشره، ولكنه اقترح علي أن أبدأ قبله باختصار "صحيح الإمام البخاري"، ليبدأ بطبعه أولاً، ثم يعقبه بطبع مختصر "صحيح مسلم" ثانياً.

ومضت الأيام، ثم أخذتُ في تحقيق هذه الرغبة، فاختصرت "صحيح البخاري" على نوبات متقطعات، في شهور عديدة، حتى كتب الله تعالى لي الفراغ منه بفضله ومنِّه وكرمه.
আমি প্রায় তিন মাস সময়ের মধ্যে এ কাজ সমাপ্ত করেছি; আমি এতে রাত-দিন কোনো ক্লান্তি ও অবসাদ ছাড়াই কাজ করেছি। এর মাধ্যমে উম্মাহর শত্রুরা আমাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য যা চেয়েছিল, তা আমাদের জন্য এমন এক নিআমতে পরিণত হয়েছে যার ছায়াতলে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তের ইলম অন্বেষী মুসলিমগণ আশ্রয় লাভ করছেন। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।

তেমনিভাবে আল্লাহ তাআলা আমার জন্য বিপুল সংখ্যক ইলমি কাজের অবসর করে দিয়েছেন, যেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হতো না যদি আমার জীবন তার স্বাভাবিক গতিতে চলত। কারণ পরবর্তী বেশ কিছু সরকার আমাকে সিরিয়ার শহরগুলোতে সেই মাসিক সফরের জন্য বের হতে বাধা দিয়েছিল, যা আমি কিতাব ও সুন্নাহর দাওয়াতের জন্য করে থাকতাম। এটি প্রচলিত পরিভাষায় এক ধরণের "গৃহবন্দিত্ব"। পাশাপাশি আমাকে বিভিন্ন সময়ে আমার অসংখ্য ইলমি দরস প্রদান থেকে বিরত রাখা হয়েছিল, যেগুলোর প্রস্তুতি নিতে আমার সময়ের বড় একটি অংশ ব্যয় হতো। এই সবকিছুই আমাকে অন্য অনেক কাজ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল এবং আমার ও এমন অসংখ্য মানুষের সাক্ষাতের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যারা আমার সময়ের একটি বড় অংশ নিয়ে নিতেন।

অতঃপর যখন কিছু দ্বীনি ভাই এই সংক্ষিপ্তসার সম্পর্কে অবহিত হলেন, তখন তাঁরা এটি প্রকাশের আগ্রহ দেখালেন। তবে তাঁরা আমাকে পরামর্শ দিলেন যেন আমি এর আগে "সহীহ ইমাম বুখারী"-র সংক্ষেপন শুরু করি, যাতে করে প্রথমে সেটি মুদ্রিত হয় এবং এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে "সহীহ মুসলিম"-এর সংক্ষেপন মুদ্রিত হয়।

দিন অতিবাহিত হতে থাকল, এরপর আমি এই ইচ্ছা পূরণে অগ্রসর হলাম। আমি বেশ কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে বিরতি দিয়ে "সহীহ বুখারী" সংক্ষেপনের কাজ করলাম, অবশেষে আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ, করুণা ও বদান্যতায় আমাকে তা সমাপ্ত করার তাওফিক দান করলেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১০)
ثم شاء الله تعالى أن يتولى طباعته صاحبنا الأخ الفاضل الأستاذ زهير الشاويش، واتخذت الاستعدادات اللازمة لذلك، من إحضار أنواع من الحروف والخطوط، ليطبع الكتاب على نمط يسهل على القارئ معرفة أنواع الأحاديث التي فيه، من مسندة موصولة، ومعلقة مرفوعة، وآثار موقوفة، كما يميز تخريجاتي وتعليقاتي عليه.

وبوشر بطبعه عام 1394 هـ ببطء شديد، ثم طبع في بيروت سنة 1399 هـ، وجرت أمور مؤلمة أفقدتنا الكثير من ملازم الكتاب، مما اضطر معه الأخ زهير إلى تصوير ما فقد من الملازم والكراريس، فاستطاع- والحمد لله- أن يعيد الكتاب في جزئه الأول كاملاً، راجين من الله تعالى أن ييسر له إخراجه إلى الناس عاجلاً.

 

‌‌منهجي في اختصار الكتاب:

لقد سلكت في اختصار "صحيح الإِمام البخاري" رحمه الله منهجاً علمياً دقيقاً، أظنُّ أني أتيت به على جميع متون أحاديث البخاري وآثاره وكتبه وأبوابه، ولم يفتني شيء من ذلك إن شاء الله تعالى، إلا ما لا بد منه مما هو من طبع البشر.

وتفصيل ذلك فيما يلي:

‌‌1 - حذفت أسانيد أحاديثه كلها، ولم أُبْقِ منها إلا اسم الصحابي راوي الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم مباشرة، اللهم إلا ما لا بد منه من الرواة الذين قد تدور
তারপর মহান আল্লাহ চাইলেন যে আমাদের বন্ধু, মহীয়ান ভাই উস্তাদ যুহাইর আল-শাভিশ এর মুদ্রণের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আর এর জন্য বিভিন্ন ধরণের ফন্ট ও লিপি সংগ্রহের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল, যাতে বইটি এমন একটি পদ্ধতিতে মুদ্রিত হয় যা পাঠকদের জন্য এতে বিদ্যমান হাদিসের প্রকারভেদগুলো—যেমন মুসনাদ মুত্তাসিল, মুয়াল্লাক মারফু এবং মাওকুফ আছারসমূহ—চেনা সহজ করে তোলে। সেই সাথে এটি আমার করা তাখরিজ ও টীকাগুলোকেও স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করে।

অতঃপর ১৩৯৪ হিজরিতে অত্যন্ত ধীরগতিতে এর মুদ্রণ কাজ শুরু হয় এবং পরে ১৩৯৯ হিজরিতে বৈরুতে এটি মুদ্রিত হয়। তবে কিছু বেদনাদায়ক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল যার ফলে আমরা বইটির অনেকগুলো ফর্মা হারিয়ে ফেলি। এর ফলে ভাই যুহাইর হারিয়ে যাওয়া ফর্মা ও পুস্তিকাগুলোর ফটোকপি করতে বাধ্য হন। ফলে তিনি—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—বইটির প্রথম খণ্ডটি পূর্ণাঙ্গভাবে পুনর্বহাল করতে সক্ষম হন। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এটি দ্রুত মানুষের সামনে প্রকাশ করা সহজ করে দেন।

 

‌‌গ্রন্থটি সংক্ষিপ্তকরণে আমার পদ্ধতি:

ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "সহীহ বুখারী" সংক্ষিপ্ত করার ক্ষেত্রে আমি একটি সুক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছি। আমার বিশ্বাস যে, আমি এতে ইমাম বুখারীর সমস্ত হাদিসের মতন (মূল পাঠ), আছার, কিতাব এবং অধ্যায়সমূহ সন্নিবেশিত করেছি। ইনশাআল্লাহ এর কোনো কিছুই আমার বাদ পড়েনি, তবে মানবীয় স্বভাবসুলভ ত্রুটির কারণে যা অনিবার্য তা স্বতন্ত্র।

এর বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:

‌‌১ - আমি এর হাদিসগুলোর সমস্ত সনদ (বর্ণনাকারী পরম্পরা) বিলুপ্ত করেছি এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সরাসরি হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীর নাম ব্যতীত সনদের আর কিছুই অবশিষ্ট রাখিনি। তবে সেই সব বর্ণনাকারীদের কথা ভিন্ন যাদের উল্লেখ করা অপরিহার্য এবং যাদের মাধ্যমে হাদিসটি আবর্তিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১১)
القصة عليهم، ولا تتم الرواية إلا بذكرهم ممن دون الصحابي.

‌‌2 - من المعلوم عند العارفين بـ "صحيح البخاري" أنه يكرر الحديث في كتابه ويذكره في مواطن عديدة وكتب وأبواب مختلفة، وبروايات متعددة، ومن أكثر من طريق واحدة أحياناً، مطولاً تارة، ومختصراً أخرى، وبناء عليه فإِنني أختار من الروايات المكررة أتمها وأكملها، وأجعلها هي الأصل في "المختصر"، ولكنني لا أُعرض عن الروايات الأخرى، بل أجري عليها دراسة خاصة، باحثاً فيها عما إذا كان في شيء منها فائدة أو زيادة ما لم تَرِد في الرواية المختارة، فآخذها وأضمها إلى الأصل. ثم إن الضم المذكور يكون على صورة من صورتين:

الأولى: إذا كانت الزيادة تقبل الانضمام إلى مكانها اللائق بها من الأصل، وتنسجم مع السباق والسياق منه بحيث لا يشعر القارئ الأديب بأنّها زيادة، وضعتها في مكانها بين قوسين معقوفين هكذا [] على نحو ما جريت عليه في بعض مؤلفاتي، مثل "صفة الصلاة"، و"حجة النبي صلى الله عليه وسلم "، و"أحكام الجنائز" وغيرها.

والصورة الأخرى: إذا كانت الزيادة لا تنسجم مع السباق والسياق، فحينئذ أجعلها بين هلالين، قائلاً: (وفي روايةٍ: كذا وكذا)، وإذا كانت هذه الرواية من طريق أخرى عن صحابي الحديث قلت: (وفي طريقٍ) أو: (وفي طريقٍ ثانٍ)، وإذا كان هناك زيادة أخرى من هذا النوع من طريق ثالث قلت (وفي طريقٍ ثالثة) وهكذا، والغرض من ذلك واضح، وهو إفادة القارئ بأخصر
তাদের কাছে ঘটনাটি, আর সাহাবীর পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করা ব্যতীত বর্ণনাটি পূর্ণ হয় না।

‌‌২ - "সহীহ আল-বুখারী" সম্পর্কে যারা অবগত তাদের নিকট এটি সুপরিচিত যে, তিনি তাঁর কিতাবে হাদিস পুনরাবৃত্তি করেন এবং তা বহু স্থানে, বিভিন্ন কিতাব ও অধ্যায়ে, একাধিক বর্ণনায় এবং কখনো কখনো একাধিক সূত্রে উল্লেখ করেন; কখনো দীর্ঘভাবে, আবার কখনো সংক্ষিপ্তভাবে। এর ওপর ভিত্তি করে আমি পুনরাবৃত্ত বর্ণনাগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত বর্ণনাটি নির্বাচন করি এবং সেটিকে "মুখতাসার" (সংক্ষিপ্তসার)-এর মূল পাঠ হিসেবে নির্ধারণ করি। তবে আমি অন্যান্য বর্ণনাগুলো থেকে বিমুখ হই না, বরং সেগুলোর ওপর বিশেষ পর্যালোচনা পরিচালনা করি এবং খুঁজি যে তাতে এমন কোনো ফায়দা বা অতিরিক্ত অংশ আছে কি না যা নির্বাচিত বর্ণনায় আসেনি। অতঃপর আমি তা গ্রহণ করি এবং মূল পাঠের সাথে যুক্ত করে দেই। এরপর উল্লিখিত সংযোজনটি দুই পদ্ধতির কোনো এক পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়:

প্রথমত: যদি অতিরিক্ত অংশটি মূল পাঠের উপযুক্ত স্থানে যুক্ত হওয়ার উপযোগী হয় এবং এর পূর্বাপর বক্তব্যের সাথে এমনভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যে সাহিত্যমনা পাঠক এটিকে অতিরিক্ত কিছু বলে অনুভব না করেন, তবে আমি সেটিকে তার নির্দিষ্ট স্থানে এরকম তৃতীয় বন্ধনীর [] মধ্যে রেখেছি; যেভাবে আমি আমার কিছু গ্রন্থে করেছি, যেমন: "সিফাতুস সালাত", "হাজ্জাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" এবং "আহকামুল জানায়েয" ইত্যাদি।

দ্বিতীয় পদ্ধতি: যদি অতিরিক্ত অংশটি পূর্বাপর প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে সেক্ষেত্রে আমি সেটিকে প্রথম বন্ধনীর মধ্যে রাখি এবং বলি: (অন্য বর্ণনায়: এই এই শব্দ), আর যদি এই বর্ণনাটি হাদিসের সাহাবী থেকে অন্য কোনো সূত্রে বর্ণিত হয়, তবে আমি বলি: (অন্য সূত্রে) অথবা: (দ্বিতীয় সূত্রে)। আর যদি তৃতীয় কোনো সূত্র থেকে এই জাতীয় আরও কোনো অতিরিক্ত অংশ থাকে, তবে আমি বলি (তৃতীয় সূত্রে)—এভাবেই চলতে থাকে। এর উদ্দেশ্য অত্যন্ত স্পষ্ট, আর তা হলো পাঠককে অতি সংক্ষেপে উপকৃত করা।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১২)
عبارة بأنّ الحديث ليس غريباً فرداً عن الصحابيّ المذكور. وفي كل من الصورتين أضع رقم الجزء والصفحة من طبعة استانبول سنة (1315 هـ) - وهي الطبعة التي اعتمدناها في هذا المختصر- في آخر الزيادة قبل الهلال أو القوس المعقوف.

‌‌3 - ثم إن أحاديث "الصحيح" من حيث أسانيدها قسمان معروفان عند العلماء:

الأول: الأحاديث الموصولة، وهي التي يسوقها المؤلف بأسانيدها المتصلة منه إلى رواتها من الصحابة، ويدخل في هذا القسم بعض الآثار الموقوفة على الصحابة أو غيرهم.

والآخر: الأحاديث المعلقة، وهي التي لا يسوق المؤلف أسانيدها أصلاً، أو يسوق بعضها من أعلاها بأن يعلقه على الصحابي أو مَنْ دونَه، إلى أن يكون أحياناً آخرُ رجل في السند هو شيخَ البخاري، أو شيخَ شيخه.

فهذا القسم نوعان: مرفوع، وموقوف، وكلاهما ليس صحيحاً كله عند المؤلف ومن بعده من العلماء. بل فيه الصحيح والحسن والضعيف- كما بينه الحافظ ابن حجر العسقلاني في مقدمة "فتح الباري" (ص 11 - 13 - الطبعة المنيرية) - فهذا أيضاً قد احتفظتُ بمتونه في "المختصر"، ولكني عنيت بتخريجه بإيجاز في الحاشية، مع بيان مرتبته التي يستحقها لذات إسناده أو لغيره إذا كان مرفوعاً من الأحاديث المرفوعة، وأما إذا كان من الآثار الموقوفة، فأقتصر على تخريجه، وقلما أنبه على درجته.
একটি উক্তি যে হাদিসটি উল্লিখিত সাহাবী থেকে একক বা গরিব (অপরিচিত) নয়। এবং উভয় অবস্থায় আমি ইস্তাম্বুল সংস্করণ (১৩১৫ হিজরি) - যা এই সংক্ষিপ্তসারে আমরা অবলম্বন করেছি - এর খণ্ড এবং পৃষ্ঠা নম্বর অতিরিক্ত অংশের শেষে প্রথম বন্ধনী বা তৃতীয় বন্ধনীর আগে উল্লেখ করেছি।

‌‌৩ - অতঃপর ‘সহীহ’ গ্রন্থের হাদিসসমূহ এর সনদের দিক থেকে আলেমদের নিকট দুটি পরিচিত ভাগে বিভক্ত:

প্রথম: মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হাদিসসমূহ; এগুলো হলো সেই সব হাদিস যা লেখক সাহাবী রাবী পর্যন্ত নিজের থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেছেন। এই ভাগে সাহাবী বা অন্যদের থেকে বর্ণিত কিছু মাওকুফ আছারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এবং অন্যটি: মুয়াল্লাক হাদিসসমূহ; এগুলো হলো সেই সব হাদিস যার সনদ লেখক একেবারেই উল্লেখ করেননি, অথবা সনদের উপরের দিক থেকে কিছুটা উল্লেখ করেছেন এভাবে যে, হাদিসটিকে সাহাবী বা তার পরবর্তী কারো সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, এমনকি কখনো সনদের শেষ ব্যক্তিটি হয়তো বুখারীর উস্তাদ বা তার উস্তাদের উস্তাদ।

এই বিভাগটি দুই প্রকার: মারফু এবং মাওকুফ। লেখক এবং পরবর্তী আলেমদের নিকট এর সবকটি সহীহ নয়। বরং এতে সহীহ, হাসান এবং যঈফও রয়েছে—যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী ‘ফাতহুল বারী’র মুকাদ্দিমায় (পৃষ্ঠা ১১ - ১৩ - মুনিরিয়া সংস্করণ) বর্ণনা করেছেন। তাই এটিও আমি ‘মুখতাসার’ (সংক্ষিপ্তসার) গ্রন্থে এর মূল পাঠসমূহ সংরক্ষণ করেছি, তবে আমি পাদটিকায় সংক্ষেপে এর তাখরিজ করার ব্যাপারে যত্নবান হয়েছি। সেই সাথে মারফু হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে এর নিজস্ব সনদের কারণে বা অন্য সনদের কারণে তা যে স্তরের যোগ্য তার বর্ণনাও দিয়েছি। আর যদি তা মাওকুফ আছার হয়, তবে শুধু তাখরিজ করাই যথেষ্ট মনে করেছি এবং খুব কমই এর স্তর সম্পর্কে সতর্ক করেছি।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌4 - ثم إنني رقَّمت هذه الأنواع الثلاثة بأرقام خاصة، وقياسات مختلفة لكل منها: فالأحاديث المسندة لها أرقامها الخاصة المتسلسلة. والأحاديث المرفوعة المعلقة لها أرقامها الخاصة أيضاً والمتسلسلة. وكذلك الآثار الوقوفة لها أرقامها الخاصة.

ومن فوائد ذلك أنه إذا تم الكتاب تيسر معرفة عدد أحاديت كلٍّ من هذه الأنواع الثلاثة (1).

 

‌‌5 - وكذلك رقمت كتب "الصحيح" كلها بأرقام كبيرة متسلسلة، وكذلك رقمت أبواب كل كتاب على حدة بأرقام متسلسلة، محتفظاً بكل باب من أبوابه، وذلك لما اشتهر عند العلماء: أنّ فقه البخاري في تراجم أبوابه، وإنما حذفت نوعاً واحداً منها، وذلك حين يكون الباب ليس فيه ترجمة، فيقول البخاري: "باب"، ولا يزيد. فإذا كان تحت هذا النوع حديث واحد فقط في "الصحيح"، ثم اقتضى حذفه من تحته في "المختصر"، وبقي الباب لا حديث تحته، ففي هذه الحالة فقط أحذف الباب لأنه لا فائدة من إبقائه، إلا أنني أحذفه برقمه إشارة إلى حذفه.

--------------------------------------------

(1) وهي في هذا الجزء كما يلي:

أ- عدد الكتب 33 كتاباً.

ب- عدد الأحاديث المرفوعة 962 حديثاً.

ج- عدد الأحاديث المعلقة المرفوعة 318 حديثاً.

د- عدد الآثار الموقوفة 408 آثار.
‌‌৪ - এরপর আমি এই তিন প্রকারকে বিশেষ নম্বর এবং প্রত্যেকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পরিমাপ দিয়েছি: মুসনাদ হাদিসগুলোর নিজস্ব ধারাবাহিক নম্বর রয়েছে। মারফু মুয়াল্লাক হাদিসগুলোরও নিজস্ব ও ধারাবাহিক নম্বর রয়েছে। তদ্রূপ মাওকুফ আসারগুলোরও নিজস্ব নম্বর রয়েছে।

এর অন্যতম একটি উপকারিতা হলো, যখন কিতাবটি সমাপ্ত হবে, তখন এই তিন প্রকারের প্রত্যেকটির হাদিস সংখ্যা জানা সহজ হবে (১)।

 

‌‌৫ - তদ্রূপ আমি "সহীহ"-এর সকল কিতাবকে বড় ধারাবাহিক নম্বরে চিহ্নিত করেছি এবং প্রতিটি কিতাবের পরিচ্ছেদসমূহকেও পৃথকভাবে ধারাবাহিক নম্বর দিয়েছি। আমি এর প্রতিটি পরিচ্ছেদই অক্ষুণ্ণ রেখেছি, কারণ আলেমদের নিকট এটি সুবিদিত যে: বুখারীর ফিকহ (গভীর জ্ঞান) তাঁর পরিচ্ছেদের শিরোনামগুলোর মধ্যেই নিহিত। তবে আমি এগুলোর মধ্যে কেবল এক প্রকার পরিচ্ছেদ বাদ দিয়েছি; আর তা হলো যখন কোনো পরিচ্ছেদে কোনো শিরোনাম থাকে না, বরং বুখারী কেবল বলেন: "পরিচ্ছেদ" (বাব), এর বেশি কিছু বলেন না। সুতরাং এই প্রকারের অধীনে যদি "সহীহ"-তে মাত্র একটি হাদিস থাকে, এবং সেটি "মুখতাসার" থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়, ফলে পরিচ্ছেদটি হাদিসবিহীন হয়ে পড়ে, তবে কেবল এই অবস্থাতেই আমি পরিচ্ছেদটি বাদ দিয়েছি। কারণ এটি রাখার কোনো ফায়দা নেই। তবে আমি এটি এর নম্বরসহই বাদ দিয়েছি, যাতে এটি বাদ পড়ার বিষয়টি নির্দেশিত থাকে।

--------------------------------------------

(১) এই খণ্ডে সেগুলো নিম্নরূপ:

ক- কিতাবের সংখ্যা ৩৩টি।

খ- মারফু হাদিসের সংখ্যা ৯৬২টি।

গ- মুয়াল্লাক মারফু হাদিসের সংখ্যা ৩১৮টি।

ঘ- মাওকুফ আসারের সংখ্যা ৪০৮টি।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৪)
والغرض من الترقيم المذكور في هذه الفقرة، أن تظل الفهارس الموضوعة للكتب الستة تعمل على هذا المختصر، كما تعمل على أصله؛ تيسيراً لاستخراج الحديث منه عند الحاجة.

 

وقد شرحت في حاشيته ألفاظه الغريبة، وأوضحت بعض جمله الغامضة، كما أودعته كثيراً من النكات العلمية المفيدة. وسأجعل في آخر كل مجلد فهرساً تفصيلياً لكتبه وأبوابه وأحاديثه بأقسامه الثلاثة.

 

وفي النيّة بعد ذلك أن أضع له فهارس تفصيلية، وقد يكون منها فهرس خاص بألفاظه في مجلد مفرد -بإذنه تعالى- يسهل على القارئ استخراج الحديث من الكتاب في أقل وقت ممكن.

واللهَ سبحانه وتعالى أسأل، أن يجعله خالصاً لوجهه، وأن ينفع به إخواني المسلمين في مشارق الأرض ومغاربها، وأن يدخر لي أجره إلى {يوم لا ينفع مال ولا بنون. إلا من أتى الله بقلب سليم}، والحمد لله رب العالمين.

 

وكتب

محمدناصرالدين الألباني

بيروت- غرة رجب سنة 1399 هـ
এই অনুচ্ছেদে উল্লিখিত নম্বরকরণের উদ্দেশ্য হলো, যাতে কুতুবে সিত্তার জন্য প্রণীত সূচিপত্রগুলো এই সংক্ষেপিত ভাষ্যের ওপরও কার্যকর থাকে, ঠিক যেভাবে তা মূল গ্রন্থের ওপর কার্যকর; যাতে প্রয়োজনে তা থেকে হাদিস বের করা সহজ হয়।

 

আমি এর টীকায় এর অপরিচিত শব্দগুলোর ব্যাখ্যা করেছি এবং এর কিছু অস্পষ্ট বাক্য স্পষ্ট করেছি, সেই সাথে এতে অনেক উপকারী ইলমি সূক্ষ্ম বিষয়ও সন্নিবেশিত করেছি। আর আমি প্রত্যেক খণ্ডের শেষে এর কিতাবসমূহ, অধ্যায়সমূহ এবং এর তিনটি বিভাগের হাদিসসমূহের একটি বিস্তারিত সূচিপত্র যুক্ত করব।

 

পরবর্তীতে আমার নিয়ত আছে যে, আমি এর জন্য বিস্তারিত সূচিপত্র তৈরি করব, যার মধ্যে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় একটি পৃথক খণ্ডে শব্দাবলির জন্য একটি বিশেষ নির্ঘণ্ট থাকতে পারে—যা পাঠকের জন্য কিতাব থেকে স্বল্পতম সময়ে হাদিস বের করা সহজ করে দেবে।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের আমার মুসলিম ভাইদের উপকৃত করেন, আর এর সওয়াব যেন আমার জন্য সেই দিন পর্যন্ত জমা রাখেন {যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না; কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে আল্লাহর কাছে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে}। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

লিখেছেন

মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি

বৈরুত— ১লা রজব, ১৩৯৯ হিজরি।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌1 - كتَابُ بَدْءِ الوَحْي

‌‌1 - باب كيفَ كان بَدءُ الوحيِ إِلى رسولِ الله صلى الله عليه وسلم، وقول الله جلَّ ذِكرُه {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ} [النساء: 163]

‌‌1 - قال علقمة بن وقاص الليثي: سمعتُ عمرَ بنَ الخطابِ رضي الله عنه [يخطب 8/ 59] على المِنبرِ قال: سمعت رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يقولُ:

" [يَا أَيُّهَا النَّاسُ] إِنَّما الأَعمال بالنيَّاتِ (وفي روايةٍ: العملُ بالنيَّةِ 6/ 118)، وإِنما لكلِّ امرئ ما نوَى، فمنْ كانتْ هجرتُه [إِلى اللهِ ورسولهِ، فهجْرتُه إلى الله ورسولهِ، ومن كانتْ هِجرتُهُ 1/ 20] إِلى دُنيا يصيبُها، أَوْ إلى امرأَةٍ يَنكِحُها (وفي رواية: يَتَزَوَّجُهَا 3/ 119)، فهِجرته إلى ما هاجرَ إليهِ".

‌‌2 - عن عائشة أُم المؤمنينَ رضي الله عنها أن الحارثَ بنَ هشامٍ رضي الله عنه سأَلَ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم فقالَ: يا رسولَ الله! كيفَ يأتيكَ الوحيُ؟ فقالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: " أحياناً يَأْتيني مِثلَ صَلصلةِ الجَرسِ (1)، وهوَ أَشَدُّ عليَّ، فيَفصِمُ (2) عنِّي وقد وَعَيتُ عنهُ ما قالَ، وأحياناً يتمثلُ ليَ الملَكُ رجُلاً، فيكلِّمُني، فأَعي ما يقولُ".

--------------------------------------------

(1) الصلصلة: صوت وقوع الحديد بعضه على بعض، ثم أطلق على كل صوت له طنين. و (الجرس): الجلجل الذي يعلق في رؤوس الدواب.

‌‌(2) أي: يقلع.
১ - ওহীর সূচনা অধ্যায়

‌১ - পরিচ্ছেদ: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওহীর সূচনা কীভাবে হয়েছিল এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি, যেমন ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহ ও তাঁর পরবর্তী নবীদের প্রতি} [নিসা: ১৬৩]

‌১ - আলক্বামা ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়সী বলেন: আমি উমর ইবনে আল-খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুকে মিম্বরের ওপর [খুতবা প্রদানকালে ৮/ ৫৯] বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:

" [হে লোকসকল!] আমলসমূহ নিয়তের ওপরই নির্ভরশীল (অন্য বর্ণনায়: আমল নিয়তের সাথে ৬/ ১১৮), আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। অতএব, যার হিজরত [আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হবে, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত ১/ ২০] দুনিয়া হাসিল করার জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য হবে (অন্য বর্ণনায়: তাকে বিয়ে করার জন্য ৩/ ১১৯), তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।"

‌২ - উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, হারিস ইবনে হিশাম রাযিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে ওহী কীভাবে আসে? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "কখনও কখনও তা আমার কাছে ঘণ্টার শব্দের মতো আসে (১), আর এটিই আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন হয়; এরপর যখন তা আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয় (২), তখন তিনি যা বলেছেন আমি তা সংরক্ষণ করে ফেলি। আবার কখনও ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার সামনে আসেন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা আয়ত্ত করে নেই।"

--------------------------------------------

(১) সালসালাহ: লোহার এক খণ্ড অন্য খণ্ডের ওপর পড়ার শব্দ, পরবর্তীতে প্রতিধ্বনিযুক্ত যেকোনো শব্দের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়। আর (জারাস) বা ঘণ্টা: এমন ঘণ্টি যা পশুর মাথায় ঝুলানো হয়।

‌‌(২) অর্থাৎ: সমাপ্ত হওয়া বা ছেড়ে যাওয়া।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৬)
قالت عائشةُ رضي الله عنها: ولقد رأيتُه يَنزلُ عليه الوحيُ في اليومِ الشديدِ البرْدِ، فيَفصِمُ عنهُ وإن جبينَه ليتَفصَّدُ (3) عرَقاً.

‌‌3 - عن عائشةَ أُمِّ المؤمنينَ أنَّها قالت: [كانَ 6/ 87] أولَ ما بُدِىءَ بهِ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم منَ الوحيِ الرُّؤيا الصالحةُ في النوم، فكانَ لا يَرى رؤيا إِلا جاءَت مِثل فلَقِ الصُّبحِ، ثم حُبِّبَ إليه الخَلَاءُ (4)، وكانَ يَخلُو بغارِ حِرَاءٍ، فَيَتَحَنَّثُ فيه- وهوَ التعبُّدُ اللياليَ ذوَات الْعَددِ- قبْلَ أنْ يَنزِعَ إلى أهلهِ، ويتزوَّدُ لذلكَ، ثم يرجعُ إِلى خديجةَ، فيتَزوَّدُ لِمِثلِها (5)، حتى جاءهُ (وفي روايةٍ: فَجِئَهُ) (6) الحقُّ وهوَ في غارِ حِرَاءٍ، فجاءه الملَكُ [فيه 8/ 67]، فقالَ: اقرَأْ، قالَ: ما أَنا بقارىءٍ، قالَ: فأخذَني، فغَطَّني حتى بلَغَ منِّي الجَهْد (7)، ثم أَرسلَني، فقالَ: اقرأْ، قلت: ما أَنا بقارىءٍ، فأَخذَني فغطني الثانيةَ، حتى بلَغَ منَّي الجَهدَ، ثم أَرسلَني، فقالَ: اقرأْ، فقلتُ: ما أَنا بقارىءٍ، فأخَذَني فغطَّني الثالثةَ، ثم أَرسلَني، فقالَ: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ. خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ. اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ. [الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ. عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} الآيات]، فرجَعَ بها رسول الله صلى الله عليه وسلم يرجُفُ فؤادُه (وفي روايةٍ: ترجف بوادره) (8)،

فدخلَ على خديجةَ بنتِ خويلِدٍ، فقالَ: زَمِّلُوني زَمِّلُوني، فزمَّلُوهُ حتى ذهبَ عنهُ الرَّوعُ، فقالَ لخديجةَ: [مالي؟]، وأَخبرَها الخبرَ [وقال:] لقدْ خشِيتُ على نفْسي،

--------------------------------------------

(3) من القصد، وهو قطع العِرْق لإسالة الدم، شبه جبينه بالعِرْق المفصود مبالغة في كثرة العَرَق.

‌‌(4) أي: الخلوة.

‌‌(5) أي: الليالي.

‌‌(6) أي: بغته. (الحق) أي: الأمر الحق.

‌‌(7) أي: بلغ الغط مني غاية وسعي. (أرسلني) أي: أطلقني.

‌‌(8) أي: أطرافه، وهو جمع (بادرة): لحمة بين المنكب والعنق.
আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) বলেন: আমি তীব্র শীতের দিনে তাঁর ওপর ওহি অবতীর্ণ হতে দেখেছি; ওহি শেষ হওয়ার সময় তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরছিল।

‌‌৩ - মুমিনদের জননী আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওহি শুরুর প্রথম পর্যায় [৬/ ৮৭] ছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্ন। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা ভোরের আলোর মতো প্রকাশিত হতো। এরপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে উঠল (৪), এবং তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন। সেখানে তিনি—পরিবারের কাছে ফিরে আসার আগে—টানা কয়েক রাত ইবাদতে মগ্ন থাকতেন এবং এর জন্য পাথেয় সাথে নিতেন। এরপর তিনি খাদিজার কাছে ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য পুনরায় পাথেয় নিয়ে যেতেন (৫), যতক্ষণ না তাঁর কাছে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় 'সত্য' (অন্য বর্ণনায়: হঠাৎ সত্য) (৬) আসলো। সেখানে ফেরেশতা তাঁর কাছে আসলেন [৮/ ৬৭] এবং বললেন: পড়ুন। তিনি বললেন: আমি পাঠ করতে জানি না। তিনি (রাসূল) বলেন: অতঃপর তিনি আমাকে জাপটে ধরলেন এবং এমনভাবে চাপ দিলেন যে আমার কষ্ট সহ্যসীমার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল (৭)। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়ুন। আমি বললাম: আমি পাঠ করতে জানি না। এরপর তিনি আমাকে দ্বিতীয়বার জাপটে ধরে চাপ দিলেন যে আমার কষ্ট সহ্যসীমার চরম পর্যায়ে পৌঁছালো। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়ুন। আমি বললাম: আমি পাঠ করতে জানি না। এরপর তিনি আমাকে তৃতীয়বার জাপটে ধরে চাপ দিলেন, তারপর ছেড়ে দিয়ে বললেন: {পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্তপিণ্ড থেকে। পড়ুন, আর আপনার রব মহিমান্বিত। [যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না} - আয়াতসমূহ]। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা নিয়ে এমন অবস্থায় ফিরলেন যে তাঁর অন্তর কাঁপছিল (অন্য বর্ণনায়: তাঁর কাঁধ ও ঘাড়ের মধ্যবর্তী মাংসপেশি কাঁপছিল) (৮),

তিনি খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদের নিকট প্রবেশ করে বললেন: তোমরা আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো, তোমরা আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো। অতঃপর তাঁরা তাঁকে চাদর দিয়ে আবৃত করলেন যতক্ষণ না তাঁর ভয় দূর হলো। তিনি খাদিজাকে বললেন: [আমার কী হয়েছে?], এবং তাঁকে সব ঘটনা জানালেন [এবং বললেন:] আমি তো নিজের জীবনের আশঙ্কা করছি।

--------------------------------------------

(৩) 'কাসদ' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ রক্ত ঝরানোর জন্য শিরা কাটা; ঘামের আধিক্য বুঝাতে অতিশয়োক্তি হিসেবে তাঁর কপালকে কর্তিত শিরার সাথে তুলনা করা হয়েছে।

‌‌(৪) অর্থাৎ: নির্জনবাস।

‌‌(৫) অর্থাৎ: রাতসমূহ।

‌‌(৬) অর্থাৎ: অতর্কিতে। (আল-হাক্ক) অর্থাৎ: সত্য বিষয়।

‌‌(৭) অর্থাৎ: জাপটে ধরাটি আমার সহ্য ও সামর্থ্যের শেষ সীমায় পৌঁছেছিল। (আর্সালানি) অর্থাৎ: আমাকে ছেড়ে দিলেন।

‌‌(৮) অর্থাৎ: তাঁর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ; এটি 'বাদিরাহ' শব্দের বহুবচন, যা কাঁধ ও ঘাড়ের মধ্যবর্তী মাংসপেশি।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৭)
فقالتْ [له] خديجةُ: كلَاّ [أبشر، فـ] والله ما يُخزيكَ الله أَبداً، [فوالله] إنكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، [وتَصْدُق الحديث] وتَحمل الْكَلَّ (9)، وتَكِسبُ المعدومَ، وتَقري الضيْفَ، وتُعِينُ على نوائبِ الحقِّ، فانطلقتْ بهِ خديجةُ حتى أَتتْ بهِ وَرَقَةَ بنَ نَوفلِ ابنِ أَسدِ بْنِ عبدِ الْعُزَّى [بن قصَي، وهو] ابنُ عمِّ خديجة [أَخي أَبيها] وكانَ امرأً قد تنصَّر في الجاهلية، وكانَ يكتُبُ الْكتابَ الْعِبرانيَّ، فيكتُبُ من الإنجيلِ بالعِبرانيةِ (وفي روايةٍ: الكتاب العربي، ويكتب من الإنجيل بالعربية) ما شاءَ الله أنْ يكتُبَ، وكانَ شيخاً كبيراً قد عَمِيَ، فقالتْ لهُ خديجةُ: يا ابنَ عمِّ! اسمعْ منِ ابنِ أخيك، فقالَ له ورَقةُ: يا ابنَ أخي! ماذا ترى؟ فأخبره رسول الله صلى الله عليه وسلم خبَرَ ما رأى، فقال له وَرَقَةُ: هذا الناموسُ (10) الذي نزَّلَ الله على مُوسى، يا ليْتني فيها جذَعاً، ليْتني أَكونُ حيّاً إذْ يُخرجُكَ قومُك، فقالَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: وَمُخْرِجيَّ هُمْ؟ قالَ: نعمْ، لم يَأتِ رَجلٌ قط بمثلِ ما جئتَ بهِ إلا عُودِيَ (وفي روايةٍ: أُوذيَ)، وإنْ يُدركْني يومُكَ أَنصُرْك نصراً مؤزَّراً، ثم لم يَنشَبْ وَرَقةُ أنْ توُفِّيَ، وفَتَرَ الوحيُ، [حتى حزِن النبي صلى الله عليه وسلم فيما بلغنا- (11) حُزناً غدَا منه مراراً كيْ يتَردَّى من رؤوس شواهِق

--------------------------------------------

(9) هو من لا يستقل بأمره، (وتكسب المعدوم) أي: تعطي الناس ما لا يجدونه عند غيرك بحذف أحد المفعولين، ويقالُ: كسبت الرجل وأكسبته بمعنى.

‌‌(10) هو صاحب السر كما يأتي من المصنف في آخر الحديث، والمراد هنا: جبريل عليه السلام. (جذعاً) يعني شاباً، وأصل (الجذع) الصغير من البهائم.

‌‌(11) قلت: القائل: "فيما بلغنا" هو ابن شهاب الزهري، وهو راوي أصل الحديث عن عروة بن الزبير عن عائشة، فقوله هذا يشعر بأن هذه الزيادة ليست على شرط "الصحيح "، لأنها من بلاغات الزهري، فليست موصولة، كما قال الحافظ في" الفتح "، فتنبه. وانظر كتابي "دفاع عن الحديث النبوي والسيرة" ص 40 - 42، ففيه بيان شاف كاف.
খাদিজাহ [তাকে] বললেন: কখনোই নয়, [সুসংবাদ গ্রহণ করুন, কেননা] আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনাকে কখনোই অপদস্থ করবেন না। [আল্লাহর শপথ] আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, [সত্য কথা বলেন], অক্ষমের বোঝা বহন করেন (৯), নিঃস্বকে অন্ন-বস্ত্র দেন, মেহমানের মেহমানদারি করেন এবং সত্য পথে আসা বিপদ-আপদে সাহায্য করেন। অতঃপর খাদিজাহ তাকে নিয়ে রওনা হলেন এবং তাকে ওরাকাহ বিন নাওফাল বিন আসাদ বিন আব্দুল উজ্জা [বিন কুসাই]-এর কাছে নিয়ে এলেন। তিনি ছিলেন খাদিজাহর [পিতার ভাইয়ের ছেলে] চাচাতো ভাই। তিনি জাহেলিয়াতের যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি হিব্রু কিতাব লিখতেন; তিনি হিব্রু ভাষায় ইনজিল থেকে লিখতেন (অন্য বর্ণনায়: আরবি কিতাব এবং তিনি আরবিতে ইনজিল থেকে লিখতেন) যতটুকু আল্লাহ চাইতেন যে তিনি লিখুন। তিনি ছিলেন অতি বৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদিজাহ তাকে বললেন: হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন। ওরাকাহ তাকে বললেন: হে ভাতিজা! তুমি কী দেখছো? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা দেখেছিলেন তার সংবাদ তাকে দিলেন। ওরাকাহ তাকে বললেন: ইনি হলেন সেই 'নামূস' (১০) যাকে আল্লাহ মূসার ওপর অবতীর্ণ করেছিলেন। হায়, আমি যদি সেই সময়ে যুবক থাকতাম! হায়, আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম যেদিন তোমার জাতি তোমাকে বের করে দেবে। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তারা কি আমাকে বের করে দেবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যে ব্যক্তিই তোমার মতো কিছু নিয়ে এসেছে তার সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে (অন্য বর্ণনায়: তাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে)। যদি তোমার সেই দিনটি আমি পাই, তবে আমি তোমাকে জোরালোভাবে সাহায্য করব। এরপর বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার আগেই ওরাকাহ মৃত্যুবরণ করেন এবং ওহি আসা বন্ধ হয়ে যায় [এমনকি আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে সে অনুযায়ী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এতটাই মর্মাহত হলেন- (১১) যে সেই শোকে তিনি বারবার সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার জন্য রওনা হতেন।

--------------------------------------------

(৯) তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি নিজের কাজ নিজে করতে পারেন না। (নিঃস্বকে অন্ন-বস্ত্র দেওয়া) অর্থাৎ: আপনি মানুষকে এমন জিনিস দেন যা তারা অন্য কারো কাছে পায় না—এখানে একটি কর্মপদ উহ্য রয়েছে। বলা হয়ে থাকে: 'আমি লোকটিকে উপার্জন করিয়ে দিয়েছি' এবং 'আমি লোকটিকে দিয়ে উপার্জন করেছি' একই অর্থে ব্যবহৃত হয়।

‌‌(১০) তিনি হলেন গোপন রহস্যের অধিকারী, যেমনটি হাদীসের শেষে গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে আসবে। এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)। (জাযাআন) মানে যুবক, আর 'জাযা' শব্দের মূল অর্থ হলো গবাদি পশুর বাচ্চা।

‌‌(11) আমি বলছি: "আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে" কথাটির বক্তা হলেন ইবনে শিহাব আল-জুহরি। তিনি উরওয়াহ বিন যুবাইর থেকে এবং তিনি আয়েশা থেকে মূল হাদীসের বর্ণনাকারী। তার এই উক্তিটি ইঙ্গিত দেয় যে, এই অতিরিক্ত অংশটুকু "সহীহ"-এর শর্তের ওপর নয়; কারণ এটি জুহরির "বালাগাত" (সরাসরি সনদহীন বর্ণনা)-এর অন্তর্ভুক্ত, এটি মুত্তাসিল বা নিরবচ্ছিন্ন সনদযুক্ত নয়, যেমনটি হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে বলেছেন, সুতরাং বিষয়টি খেয়াল রাখুন। আর আমার কিতাব "দিফাউ আনিল হাদিসিন নববী ওয়াস সীরাহ" (পৃষ্ঠা ৪০-৪২) দেখুন, সেখানে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৮)
الجبال، فكلما أوفى بذِرْوةِ جبَلٍ لكي يُلقي منه نفْسَه؛ تبدَّى له جبريل فقالَ: يا محمدُ! إنكَ رسولُ الله حقاً، فيسكنُ لذلك جأشُه، وتَقَرَّ نفسُه، فيرجعُ، فإذا طالت عليه فترةُ الوحي غَدا لمثل ذلك، فإذا أوفى بِذِرْوة جبل؛ تبدَّى له جبريل فقال له مثل ذلك 8/ 68].

[(الناموسُ): صاحبُ السرِّ الذي يُطلعه بما يستره عن غيره 4/ 124].

‌‌4 - عن ابن عباس قال: كانَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم أَجودَ الناسِ [بالخير 2/ 228] وكانَ أَجودَ ما يكونُ في رمضانَ حينَ يلقاهُ جبريلُ، وكانَ يلقاهُ في كلِّ ليلةٍ من [شهر 6/ 102] رمضانَ [حتى يَنْسَلِخَ] فيدارسُهُ الْقرآنَ، فلَرسولُ الله [حين يلقاه جبريل 4/ 81] أَجوَدُ بالخيرِ منَ الريحِ المرسَلةِ.
পাহাড়সমূহ; যখনই তিনি কোনো পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করতেন নিজেকে সেখান থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার জন্য, তখন জিবরীল তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করতেন এবং বলতেন: হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর সত্য রাসূল। এতে তাঁর অস্থিরতা শান্ত হতো এবং তাঁর মন স্থির হতো, ফলে তিনি ফিরে আসতেন। অতঃপর যখন ওহী স্থগিত থাকার সময় দীর্ঘ হতো, তিনি আবারও অনুরূপ করতেন। সুতরাং যখনই তিনি কোনো পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করতেন, জিবরীল তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করতেন এবং তাঁকে অনুরূপ কথা বলতেন ৮/ ৬৮]।

[(নামুস): রহস্যের অধিকারী, যাকে তিনি এমন বিষয়ে অবহিত করেন যা অন্যদের থেকে গোপন রাখা হয় ৪/ ১২৪]।

‌‌৪ - ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল [কল্যাণের কাজে ২/ ২২৮]। আর রমজান মাসে যখন জিবরীল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি সবচেয়ে বেশি দানশীল হতেন। জিবরীল রমজানের [মাস ৬/ ১০২] প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন [মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত] এবং তাঁরা পরস্পর কুরআন পর্যালোচনা করতেন। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ [যখন জিবরীল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন ৪/ ৮১] কল্যাণের কাজে প্রবাহিত বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌2 - كتابُ الإيمان

‌‌1 - باب 1 - قوْلِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم:"بني الإسلامُ على خمْسٍ"

وهوَ قولٌ وفعلٌ، ويزيدُ وينقُصُ، قالَ الله تعالى: {لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ}، {وَزِدْنَاهُمْ هُدًى}، {وَيَزِيدُ اللَّهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى}، وقالَ: {وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَآتَاهُمْ تَقْوَاهُمْ}، {وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا}، وقولُه. {أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمَانًا}، {فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا}، وقولُه جلَّ ذِكرُه: {فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا}، وقولُه تعالى: {وَمَا زَادَهُمْ إِلَّا إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا} والحبُّ في الله والْبغضُ في الله منَ الإيمانِ.

 

‌‌1 - وكتبَ عمرُ بنُ عبدِ الْعزيزِ إلى عديِّ بْنِ عَدِيٍّ:

"إنَّ للإِيمانِ فرائضَ وشرَائعَ وحدوداً وسُنناً، فمنِ استكملها استكمَل الإيمانَ، ومَن لم

يستكملْها لم يستكملِ الإيمانَ، فإِن أَعشْ فسأُبيِّنُها لكْم حتى تعمَلوا بها، وإنْ أَمُتْ فما أنا

على صحْبتِكمْ بحريصٍ".

وقالَ إبراهيمُ: {وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي}.

‌‌2 - وقالَ مُعاذ:" اجلِسْ بنا نؤمنْ ساعة".

--------------------------------------------

1 - هذا طرف من حديث لابن عمر، وصله المصنف في الباب.

‌‌1 - وصله ابن أبي شيبة في "كتاب الإيمان" رقم (135 بتحقيقي)، وسنده صحيح، وكذلك رواه أحمد في "الإيمان" كما قال الحافظ.

‌‌2 - وصله ابن أبي شيبة أيضاً رقم (105 و107)، وأبو عبيد القاسم بن سلام في "الإيمان" أيضاً رقم (20 بتحقيقي) بسند صحيح عنه. ورواه أحمد أيضاً.
২ - ঈমান অধ্যায়

১ - পরিচ্ছেদ ১ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।"

আর ঈমান হলো কথা ও কাজ, এটি বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যাতে তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি করে নেয়}, {এবং আমি তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করেছিলাম}, {এবং যারা সৎপথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দেন}, এবং তিনি বলেছেন: {আর যারা সৎপথ অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাদের তাকওয়া দান করেছেন}, {এবং যেন মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায়}, এবং তাঁর বাণী: {তোমাদের মধ্যে কার ঈমান এটি বৃদ্ধি করল?}, {অতঃপর যারা ঈমান এনেছে, এটি তাদের ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছে}, এবং তাঁর সুউচ্চ জিকর (বাণী): {অতএব তোমরা তাদেরকে ভয় করো। এতে তাদের ঈমান আরও বেড়ে গেল}, এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর এটি কেবল তাদের ঈমান ও আত্মসমর্পণই বৃদ্ধি করল}। আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঘৃণা পোষণ করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।

 

১ - এবং উমর ইবনে আব্দুল আযীয আদী ইবনে আদীর নিকট লিখেছিলেন:

"নিশ্চয়ই ঈমানের কতগুলো ফরয, বিধান, সীমা ও সুন্নাহ রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি সেগুলো পূর্ণ করল, সে তার ঈমান পূর্ণ করল। আর যে ব্যক্তি

সেগুলো পূর্ণ করল না, সে তার ঈমান পূর্ণ করল না। যদি আমি বেঁচে থাকি, তবে আমি অবশ্যই সেগুলো তোমাদের নিকট বর্ণনা করব যেন তোমরা তদানুযায়ী আমল করতে পারো। আর যদি আমার মৃত্যু হয়, তবে তোমাদের সাহচর্যের জন্য আমি

আগ্রহী নই।"

এবং ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: {বরং আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য}।

২ - এবং মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন: "আমাদের সাথে বসো, আমরা কিছুক্ষণ ঈমান নিয়ে আলোচনা করি।"

--------------------------------------------

১ - এটি ইবনে উমরের একটি হাদীসের অংশবিশেষ, যা গ্রন্থকার এই পরিচ্ছেদে সংযুক্ত করেছেন।

১ - ইবনে আবী শাইবা এটি তাঁর 'কিতাবুল ঈমান'-এ (আমার তাহকীক অনুযায়ী ১৩৫ নং) বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহীহ। একইভাবে হাফিয যেমনটি বলেছেন, ইমাম আহমাদও 'আল-ঈমান' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

২ - ইবনে আবী শাইবাও এটি বর্ণনা করেছেন (১০৫ ও ১০৭ নং), এবং আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লামও তাঁর 'আল-ঈমান' গ্রন্থে (আমার তাহকীক অনুযায়ী ২০ নং) তাঁর থেকে সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদও এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌3 - وقالَ ابن مسعودٍ: "الْيقينُ: الإيمانُ كلُّه".

‌‌4 - وقالَ ابنُ عمر: "لا يبلغ الْعبدُ حقيقةَ التقوى حتى يدعَ ما حاكَ في الصَّدرِ".

‌‌5 - وقالَ مجاهدٌ: " {شَرَعَ لَكُمْ}: أَوصيناكَ يا محمدُ وإيَّاه (1) دِيناً واحداً".

‌‌6 - وقالَ ابنُ عباس: " {شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا}: سبيلاً وسُنةً".

‌‌7 - " {دُعَاؤُكُمْ} ": إيمانُكم، لقولهِ تعالى: {قُلْ مَا يَعْبَأُ بِكُمْ رَبِّي لَوْلَا دُعَاؤُكُمْ}. ومعنى

الدعاء في اللغةِ: الإيمانُ.

 

‌‌5 - عن ابنِ عمر قال: قالَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم:

" بُنيَ الإسلامُ على خَمسٍ: شهادةِ أَنْ لا إلهَ إلَاّ الله، وأَنَّ محمداً رسول الله، وإقامِ الصَّلاة، وإيتاءِ الزكاةِ، والحجِّ، وصوْمِ رمضانَ".

 

‌‌2 - باب أمورِ الإيمانِ، وقولِ الله تعالى: {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ

--------------------------------------------

3 - وصله الطبراني بسند صحيح عنه موقوفاً، وروي مرفوعاً، ولا يثبت؛ كما قال الحافظ.

‌‌4 - لم يره الحافظ موصولاً، وقد ورد معناه عند المصنف في "الأدب المفرد" (302)، ومسلم وغيرهما من حديث النواس مرفوعاً، فانظره إن شئت في كتابي "صحيح الجامع الصغير" (2877).

‌‌5 - وصله عبد بن حميد عنه.

‌‌(1) يعني: نوحاً عليه السلام المذكور في سياق آية {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ يُنِيبُ} [الشورى: 13]

‌‌6 - وصله عبد الرزاق في "تفسيره " بسند صحيح عنه.

‌‌7 - وصله ابن جرير عنه أيضاً.
৩ - এবং ইবনে মাসঊদ (রা.) বলেছেন: "ইয়াকীন বা দৃঢ় বিশ্বাসই হলো পূর্ণ ঈমান।"

৪ - এবং ইবনে উমর (রা.) বলেছেন: "বান্দা তাকওয়ার প্রকৃত স্তরে পৌঁছাতে পারে না যতক্ষণ না সে অন্তরে খটকা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো বর্জন করে।"

৫ - এবং মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন: "{তিনি তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন}: হে মুহাম্মাদ, আমরা আপনাকে এবং তাঁকে (১) একই দ্বীনের নির্দেশ দিয়েছি।"

৬ - এবং ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: "{শরীয়ত ও পথ}: পথ ও সুন্নাহ বা পদ্ধতি।"

৭ - "{তোমাদের দুআ}": অর্থাৎ তোমাদের ঈমান; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {বলুন, আমার রব তোমাদের কোনো পরোয়া করবেন না যদি না তোমাদের দুআ থাকে}। আর অভিধানিক অর্থে

দুআ মানে হলো: ঈমান।

 

৫ - ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা।"

 

২ - পরিচ্ছেদ: ঈমানের বিষয়সমূহ, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফিরানোর মধ্যে কোনো পুণ্য নেই; বরং পুণ্যবান তো সেই যে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ এবং কিতাবের ওপর ঈমান আনল

--------------------------------------------

৩ - তাবারানি একে সহিহ সনদে তাঁর থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে এটি মারফু হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তা সাব্যস্ত নয়; যেমনটি হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন।

৪ - হাফেজ এটি মুত্তাসিল সনদে পাননি, তবে এর অর্থ মুসান্নিফের (বুখারি) "আল-আদাবুল মুফরাদ" (৩০২), মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে নাওয়াস (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, আপনি চাইলে আমার "সহিহ আল-জামি আস-সাগির" (২৮৭৭) কিতাবে তা দেখতে পারেন।

৫ - আবদ ইবনে হুমাইদ এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

(১) অর্থাৎ: নূহ (আলাইহিস সালাম), যিনি এই আয়াতের প্রেক্ষাপটে উল্লিখিত হয়েছেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধান দিয়েছেন যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমরা আপনার প্রতি ওহি করেছি এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহিম, মুসা ও ঈসাকে এই বলে যে, তোমরা দ্বীন কায়েম করো এবং এতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না। আপনি মুশরিকদের যে বিষয়ের প্রতি দাওয়াত দিচ্ছেন তা তাদের কাছে দুরূহ মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আপন করে নেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি তাঁর দিকে পথপ্রদর্শন করেন} [আশ-শুরা: ১৩]

৬ - আব্দুর রাজ্জাক তাঁর "তাফসির"-এ সহিহ সনদে এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

৭ - ইবনে জারিরও এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২১)
وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ}، {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ} الآية

 

‌‌6 - عن أبي هريرة عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم قال:

" الإيمانُ بضعٌ وستُّون (2) شعبةً، والحياء شعبةٌ منَ الإيمانِ".

 

‌‌3 - باب المسلمُ مَنْ سلمَ المسلمونَ من لسانهِ ويدهِ

‌‌7 - عن عبدِ الله بن عمرو عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم قال:

" المسلمُ مَن سلمَ المسلمونَ من لسانهِ ويدِهِ، والمهاجرُ مَنْ هجرَ ما نهى الله عنه".

 

‌‌4 - باب أَيُّ الإسلامِ أفضلُ

‌‌8 - عن أبي موسى رضي الله عنه قال: قالوا: يا رسولَ الله أَيُّ الإسلامِ

أَفضلُ؟ قالَ:

" مَن سلِمَ المسلمونَ من لسانه ويدِه".

 

‌‌5 - باب إطعامُ الطعام من الإسلام

--------------------------------------------

(2) قلت: ورواه مسلم وغيره بلفظ "وسبعون"، وهو الراجح عندي تبعاً للقاضي عياض وغيره كما بينته في "الصحيحة" (17).
...এবং নবীগণকে; আর সম্পদের প্রতি ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও তা নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী এবং দাসমুক্তির জন্য ব্যয় করে; আর সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে; এবং যারা অঙ্গীকার করলে তা পূর্ণ করে; আর যারা অভাবে, কষ্টে ও যুদ্ধের সময়ে ধৈর্য ধারণ করে। এরাই তারা যারা সত্য বলেছে এবং এরাই মুত্তাকি।}, {নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে} আয়াতটি পর্যন্ত।

 

‌‌৬ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"ঈমানের ষাটেরও বেশি (২) শাখা রয়েছে এবং লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।"

 

‌‌৩ - অধ্যায়: সেই ব্যক্তিই প্রকৃত মুসলিম যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে

‌‌৭ - আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে এবং প্রকৃত মুহাজির সেই ব্যক্তি যে তা বর্জন করে যা আল্লাহ নিষেধ করেছেন।"

 

‌‌৪ - অধ্যায়: ইসলামের কোন আমলটি সর্বোত্তম

‌‌৮ - আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ইসলামের কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন:

"যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে।"

 

‌‌৫ - অধ্যায়: অন্নদান করা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত

--------------------------------------------

(২) আমি বলি: ইমাম মুসলিম ও অন্যান্যরা একে "সত্তরেরও বেশি" শব্দে বর্ণনা করেছেন, যা কাজী আইয়ায ও অন্যান্যদের অনুসরণে আমার নিকট অধিক সঠিক বলে গণ্য, যেমনটি আমি 'আস-সহীহা' (১৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌9 - عن عبدِ الله بن عمرو رضي الله عنهما أَنّ رجلاً سأَلَ النبيَّ صلى الله عليه وسلم: أيُّ الإسلامِ خيْرٌ؟ قالَ:

" تطعمُ الطعامَ، وتقرأُ السلامَ على مَن عرفتَ وَمَن لم تعرفْ".

 

‌‌6 - باب من الإيمانِ أَن يحبَّ لأَخيهِ ما يحبُّ لنفسهِ

‌‌10 - عن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم قالَ:

" لا يؤمنُ أَحدُكم حتَّى يحبَّ لأَخيهِ ما يحبُّ لنفسهِ".

 

‌‌7 - باب حبُّ الرسولِ صلى الله عليه وسلم منَ الإيمانِ

‌‌11 - عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قال:

" فوَالَّذي نفْسي بيدهِ لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحبّ إليه من والدهِ، وولدِه".

 

‌‌12 - عن أنس قال: قال النبيُّ صلى الله عليه وسلم:

" لا يؤمنُ أحدُكم حتى أَكونَ أَحبَّ إليه من والدِه، وولدِه، والناسِ أجمعينَ".

 

‌‌8 - باب حلاوةِ الإيمانِ

‌‌13 - عن أنس رضي الله عنه عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم قال:

" ثلاثٌ مَن كنَّ فيه وجدَ حلاوةَ الإيمانِ، أن يكونَ الله ورسولُه أَحبَّ إليهِ مما
‌৯ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: ইসলামের কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন:

"তুমি অন্ন দান করবে এবং পরিচিত ও অপরিচিত সকলকেই সালাম প্রদান করবে।"

 

‌‌৬ - পরিচ্ছেদ: নিজের জন্য যা পছন্দ করা হয়, নিজের ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করা ঈমানের অংশ

‌‌১০ - আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।"

 

‌‌৭ - পরিচ্ছেদ: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অংশ

‌‌১১ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা ও সন্তানের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।"

 

‌‌১২ - আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।"

 

‌‌৮ - পরিচ্ছেদ: ঈমানের মিষ্টতা

‌‌১৩ - আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:

"তিনটি গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে, সে ঈমানের মিষ্টতা আস্বাদন করবে: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যেন তার নিকট অন্য যা কিছু আছে তা থেকে অধিক..."
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৩)
سِواهما، وأن يحبَّ المرءَ لا يحبُّه إلا لله، وأن يكرهَ أن يَعودَ في الْكفرِ [بعدَ إذ أَنقذه

الله 1/ 11]، كما يَكرهُ أن يُقذَفَ (وفي رواية: يُلقى) في النارِ".

 

‌‌9 - باب علامة الإيمانِ حبُّ الأنصارِ

‌‌14 - عن أَنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:

" آيةُ الإيمانِ حبُّ الأنصارِ، وآيةُ النِّفاقِ بُغضُ الأَنصارِ".

 

‌‌10 - باب

‌‌15 - عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه وكانَ شهدَ بدراً [مع رسولِ الله صلى الله عليه وسلم -4/ 251] وهو أحدُ النُّقَباءِ ليلةَ الْعَقَبَةِ- (ومن طريقٍ أُخرى: إني من النقباء الذين بايعوا رسول الله صلى الله عليه وسلم) أنَّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قال- وحَوْلَهُ عِصابةٌ من أصحابه- (وفي روايةٍ: كنا عند النبي صلى الله عليه وسلم في مجلس 8/ 15) (في رهط، فقال 8/ 18):

[" تعالوا] بايعوني (وفي روايةٍ أبايعُكم) على أن لا تشركوا بالله شيئاً، ولا

تَسرِقوا، ولا تزْنوا، ولا تقتلوا أولادَكم، (وفي رواية: ولا نَنْتَهِبُ 4/ 251)، ولا

تأتوا بِبهتانٍ تَفْتَرونَهُ بين أَيدِيكم وأرجُلِكم، ولا تَعصو [ني] في معروفٍ، فمن وَفَى

منكم فأجرُهُ على الله، ومن أصابَ من ذلكَ شيئاً فعوقبَ [بهِ] في الدنيا فهو كفارةٌ

له [وطهور]، ومن أصابَ من ذلكَ شيئاً، ثم سَتَرَهُ الله، فهوَ إلى الله؛ إن شاءَ عفا

عنه، وإن شاءَ عاقَبَه". [قال:] فبايَعناه على ذلك.
অন্য সবকিছুর তুলনায়, এবং কোনো ব্যক্তিকে ভালোবাসলে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা, আর কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে অপছন্দ করা [আল্লাহ তাকে তা থেকে রক্ষা করার পর], যেমন সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে (অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ফেলে দেওয়াকে) অপছন্দ করে।

 

‌‌৯ - অধ্যায়: আনসারদের ভালোবাসা ঈমানের নিদর্শন

‌‌১৪ - আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"ঈমানের নিদর্শন হলো আনসারদের প্রতি ভালোবাসা, আর মুনাফেকির নিদর্শন হলো আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ।"

 

‌‌১০ - অধ্যায়

‌‌১৫ - উবাদাহ ইবনুস সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে] বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি আকাবার রাতে অন্যতম প্রতিনিধি (নকীব) ছিলেন— (অন্য বর্ণনায়: আমি সেই প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বায়আত হয়েছিলেন) যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—তখন তাঁর চারপাশে একদল সাহাবী উপস্থিত ছিলেন— (অন্য বর্ণনায়: আমরা একটি মজলিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিলাম) (এক ছোট দলে, এরপর তিনি বললেন):

["এসো] আমার কাছে বায়আত (অঙ্গীকার) করো (অন্য বর্ণনায়: আমি তোমাদের বায়আত নেব) এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, (অন্য বর্ণনায়: এবং আমরা লুটতরাজ করব না), আর তোমরা তোমাদের হাত ও পায়ের মাঝখানে (অর্থাৎ তোমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে) কোনো মিথ্যা অপবাদ রটনা করবে না এবং কোনো সৎ কাজে [আমার] অবাধ্য হবে না। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই অঙ্গীকার পূর্ণ করবে, তার পুরস্কার আল্লাহর জিম্মায়। আর যে এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং দুনিয়াতে তাকে তার জন্য শাস্তি দেওয়া হবে, তবে তা তার জন্য কাফফারা (পাপের মোচন) [ও পবিত্রতা] স্বরূপ। আর যে এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে অতঃপর আল্লাহ তা গোপন রাখবেন, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন আর চাইলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন।" [তিনি বলেন:] অতঃপর আমরা তাঁর কাছে এই মর্মে বায়আত হলাম।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌11 - باب من الدِّين الفِرارُ من الفِتَن

(قلت: أسند فيه حديث أبي سعيد الخدري الآتي بإذن الله تعالى في "ج 3/ 61 - المناقب/25 - باب").

 

‌‌12 - باب 2 - قول النبيِّ صلى الله عليه وسلم: "أَنا أَعْلَمُكم بالله"، وأَنَّ المعرفةَ فعلُ القلبِ؛ لقولِ الله تعالى: {وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ}.

‌‌16 - عن عائشة قالت: كانَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم إذا أَمَرهم، أَمَرهم من الأَعمالِ بما يطيقونَ، قالوا: إِنا لسنا كهيئتِك يا رسولَ الله، إن الله قد غفر لكَ ما تقدَّم من ذَنبكَ وما تأَخرَ، فيغضَبُ حتى يُعرفَ الْغضبُ في وجههِ، ثم يقولُ:

"إِنَّ أَتقاكم وأَعلمَكم بالله أَنا".

 

‌‌13 - باب من كرِهَ أن يعودَ في الْكفرِ كما يَكرهُ أن يُلقى في النارِ من الإيمانِ

(قلت: أسند فيه حديث أنس المتقدم برقم 13).

 

‌‌14 - باب تَفاضلِ أَهلِ الإيمانِ في الأَعمال

‌‌17 - عن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "بيْنا أنا نائمٌ رأيتُ الناسَ يُعرَضُونَ عليَّ وعليهم قُمُصٌ، منها ما يبْلغُ الثُّدِيَّ، ومنها ما [يبلُغ 4/ 201] دون ذلك، وعُرض عليَّ عمرُ بن الخَطَّاب وعليه قَميصٌ يجُرُّهُ"، قالوا: فما أوَّلتَ ذلك يا رسولَ الله؟ قال:

" الدِّينَ".

--------------------------------------------

2 - هذا طرف من حديث عائشة الآتي في الباب موصولاً.
‌‌১১ - অনুচ্ছেদ: ফিতনা থেকে পলায়ন করা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত

(আমি বলছি: এতে তিনি আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যা ইনশাআল্লাহ সামনে "৩য় খণ্ড/৬১ - আল-মানাকিব/২৫ - অনুচ্ছেদ"-এ আসবে)।

 

‌‌১২ - অনুচ্ছেদ ২ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানি", এবং নিশ্চয়ই মারেফত (পরিচয়/জ্ঞান) হলো অন্তরের কাজ; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {কিন্তু তোমাদের অন্তর যা অর্জন করেছে, তার জন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন}।

‌‌১৬ - আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁদেরকে কোনো নির্দেশ দিতেন, তখন তাঁদের সাধ্যের অনুকূল আমল করার নির্দেশ দিতেন। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো আপনার মতো নই, আল্লাহ আপনার পূর্বের এবং পরের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। এতে তিনি রাগান্বিত হতেন, এমনকি তাঁর চেহারায় ক্রোধের চিহ্ন ফুটে উঠত। এরপর তিনি বলতেন:

"নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর প্রতি সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান এবং আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী হলাম আমি।"

 

‌‌১৩ - অনুচ্ছেদ: ঈমানের কারণে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে যেমন অপছন্দ করে তেমনি কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে অপছন্দ করা

(আমি বলছি: এতে তিনি আনাসের সেই হাদিসটি এনেছেন যা পূর্বে ১৩ নম্বর ক্রমিকে অতিবাহিত হয়েছে)।

 

‌‌১৪ - অনুচ্ছেদ: আমলের ভিত্তিতে ঈমানদারদের মর্যাদার তারতম্য

‌‌১৭ - আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি ঘুমন্ত অবস্থায় দেখলাম যে, মানুষজন আমার সামনে পেশ করা হচ্ছে এবং তাদের পরনে কামিজ রয়েছে। তাদের কারো কামিজ বুক পর্যন্ত পৌঁছানো, আর কারো কামিজ তার চেয়েও ছোট। এমতাবস্থায় ওমর ইবনুল খাত্তাবকে আমার সামনে পেশ করা হলো, তার পরনে এমন একটি কামিজ ছিল যা সে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল।" সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী ব্যাখ্যা করেছেন? তিনি বললেন:

"দ্বীন।"

--------------------------------------------

২ - এটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার অত্র অধ্যায়ে সামনে আসা পূর্ণ সূত্রের হাদিসটির একটি অংশ।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌15 - باب الحياءُ من الإيمان

‌‌18 - عن سالم بن عبد الله عن أبيه أنّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم مرَّ على رجلٍ من الأَنصار وهو يَعِظُ (وفي روايةٍ: يعاتب 7/ 100) أخاه في الحياءِ [يقول: إنك لتستحي حتى كأنه يقولُ قد أَضَرَّ بك]، فقال رسولُ الله- صلى الله عليه وسلم: " دعهُ؛ فإِن الحياءَ من الإيمانِ".

 

‌‌16 - باب {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ}

‌‌19 - عن ابن عمر أن رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قال:

" أُمرتُ أن أقاتلَ الناسَ حتى يشهَدوا أنْ لا إِله إِلا الله، وأنَّ محمداً رسولُ

الله، ويقيموا الصَّلاةَ، ويُؤتوا الزَّكاةَ، فإِذا فعلوا ذلك عصَموا منِّي دماءَهم وأموالَهم؛

إِلا بحقِّ الإسلامِ، وحسابُهم على الله" (3).

 

‌‌17 - باب مَن قال: إِن الإِيمانَ هو العَمَلُ؛ لقولِ الله تعالى:

{وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ}

‌‌8 - وقال عِدةٌ مِن أهلِ الْعلمِ في قولهِ تعالى: {فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ. عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ}: عن لا إِله إلا الله (4)، وقالَ: {لِمِثْلِ هَذَا فَلْيَعْمَلِ الْعَامِلُونَ}

--------------------------------------------

(3) وفي الباب عن أنس وسيأتي في "8 - الصلاة/28 - باب"، وعن عمر، وسيأتي في "24 - الزكاة/ 1 - باب"، وحديث الباب متواتر كما بينته في الصحيحة (407).

‌‌8 - قال الحافظ: منهم أنس، رواه الترمذي وغيره مرفوعاً، وفي إسناده ضعف، ومنهم ابن عمر في "تفسير الطبري" و"الدعاء" للطبراني، ومنهم مجاهد في "تفسير عبد الرزاق" وغيره.

‌‌(4) قلت: وهو عند الترمذي (3126) مرفوع كما قال، وضعفه لأن فيه ليث بن أبي سليم، وكان قد اختلط.
‌১৫ - পরিচ্ছেদ: লজ্জা ঈমানের অংশ

‌‌১৮ - সালিম ইবনে আবদুল্লাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন আনসারী ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি তাঁর ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে নসিহত করছিলেন (অন্য বর্ণনায়: তিরস্কার করছিলেন ৭/১০০) [বলছিলেন: তুমি তো অনেক বেশি লজ্জা করছ, এমনকি মনে হচ্ছিল তিনি যেন বলছিলেন এটি তোমার ক্ষতি করছে], তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তাকে ছেড়ে দাও; কেননা লজ্জা হলো ঈমানের অংশ।"

 

‌‌১৬ - পরিচ্ছেদ {অতঃপর যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও}

‌‌১৯ - ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। তারা যখন এটি করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে; তবে ইসলামের হকের বিষয়টি ভিন্ন, আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর ন্যাস্ত।" (৩)।

 

‌‌১৭ - পরিচ্ছেদ: যারা বলেন যে ঈমান হলো আমল; কারণ মহান আল্লাহর বাণী:

{আর এই সেই জান্নাত, তোমাদেরকে যার উত্তরাধিকারী করা হয়েছে তোমাদের কৃতকর্মের বিনিময়ে}

‌‌৮ - এবং বেশ কয়েকজন আলেম মহান আল্লাহর এই বাণী: {অতএব তোমার রবের শপথ, আমি অবশ্যই তাদের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। তারা যা করত সে সম্পর্কে} এর ব্যাখ্যায় বলেন: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সম্পর্কে (৪), এবং তিনি বলেছেন: {এমন সাফল্যের জন্যই আমলকারীদের আমল করা উচিত}

--------------------------------------------

(৩) এবং এ বিষয়ে আনাস থেকেও হাদিস রয়েছে যা সামনে "৮ - সালাত / ২৮ - পরিচ্ছেদ" এ আসবে, এবং ওমর থেকে বর্ণিত হাদিস যা সামনে "২৪ - জাকাত / ১ - পরিচ্ছেদ" এ আসবে। আর এই পরিচ্ছেদের হাদিসটি মুতাওয়াতির যেমনটি আমি 'আস-সহিহাহ' (৪০৭) এ বর্ণনা করেছি।

‌‌৮ - হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন: তাদের মধ্যে আনাস রয়েছেন, যা তিরমিজি ও অন্যরা মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে। তাদের মধ্যে ইবনে ওমর রয়েছেন 'তাফসিরে তাবারি' ও তাবারানির 'আদ-দুআ' গ্রন্থে, এবং মুজাহিদ রয়েছেন 'তাফসিরে আবদুর রাজ্জাক' ও অন্যান্য গ্রন্থে।

‌‌(৪) আমি (আলবানী) বলছি: এটি তিরমিজিতে (৩১২৬) মারফু হিসেবে আছে যেমনটি তিনি বলেছেন, আর তিনি একে দুর্বল বলেছেন কারণ এতে লাইস ইবনে আবি সুলাইম রয়েছেন, এবং তিনি স্মৃতিবিভ্রমের (মুখতালিত) শিকার হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌20 - عن أبي هريرة أن رسولَ الله صلى الله عليه وسلم سُئل (5) أيُّ الْعملِ أَفضلُ؟ قال: " إِيمانٌ باللهِ ورسولهِ"، قيل: ثم ماذا؟ قال: " الجهادُ في سبيل الله"، قيل: ثم ماذا؟ قال: " حجٌّ مبرورٌ".

 

‌‌18 - باب إِذا لم يكن الإِسلامُ على الحقيقةِ، وكان على الاستسلامِ أو الخوفِ من القتلِ، لقولهِ تعالى: {قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا}، فإِذاْ كان على الحقيقةِ، فهو على قولهِ جل ذِكْرُهُ: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ}، {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ}

‌‌21 - عن سعد رضي الله عنه أن رسولَ الله صلى الله عليه وسلم أعطى رَهْطاً (6) - وسعدٌ جالسٌ - فتركَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم رجلاً [لم يُعطِه، و 2/ 131] هو أَعجَبُهُم إِليَّ [فقمتُ إِلى رسولِ الله- صلى الله عليه وسلم فسارَرْتُهُ] فقلتُ: يا رسولَ الله مالَكَ عن فلان؟ فوالله إِني لأَراهُ مؤمناً، فقال: "أَوْ مسْلماً"، فسكتُّ قليلاً، ثم غَلَبَني ما أَعلمُ منه، فعدتُ لمقالَتي، فقلت: ما لَكَ عن فلان؟ فوالله إني لأَراه مؤمناً، فقال: "أَوْ مسلماً"، فسكتُّ قليلاً، ثم غلبني ما أَعلمُ منه، وعادَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم (وفي روايةٍ: فضربَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم بيدِه، فجمَع بين عنُقي وكتفي)، ثم قال:

" [أَقبِلْ] يا سعد! إِني لأُعطي الرجلَ وغيرُه أَحبُّ إِليَّ منه، خشيةَ أن يَكُبَّهُ الله في النارِ [على وجههِ".

--------------------------------------------

(5) السائل هو أبو ذر الغفاري؛ كما قال الحافظ (1/ 78).

‌‌(6) عدد من الرجال من ثلاثة إلى عشرة.
২০ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল (৫) কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান।" জিজ্ঞাসা করা হলো: "তারপর কোনটি?" তিনি বললেন: "আল্লাহর পথে জিহাদ।" জিজ্ঞাসা করা হলো: "তারপর কোনটি?" তিনি বললেন: "মকবুল হজ।"

 

‌‌১৮ - অধ্যায়: যখন ইসলাম প্রকৃত বিশ্বাসের (হাকিকত) ওপর ভিত্তি করে হয় না, বরং বাহ্যিক আত্মসমর্পণ বা হত্যার ভয়ে হয়, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {মরুবাসীরা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আপনি বলুন, ‘তোমরা ঈমান আনোনি; বরং তোমরা বলো, আমরা আত্মসমর্পণ করেছি’}। আর যখন ইসলাম প্রকৃত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে হয়, তখন তা মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দীন হলো ইসলাম}, {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন তালাশ করবে, তার কাছ থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না}

‌‌২১ - সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল লোককে (কিছু মাল) দান করলেন - তখন সা'দ সেখানে উপবিষ্ট ছিলেন - কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দান না করে বাদ দিলেন [তাকে দিলেন না, ২/১৩১] অথচ সে ব্যক্তি তাদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় ছিল। [অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দাঁড়ালাম এবং তাঁর সাথে কানে কানে কথা বললাম] আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তির ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? আল্লাহর কসম, আমি তাকে মুমিন হিসেবেই জানি। তিনি বললেন: "নাকি মুসলিম?" আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম, অতঃপর তার সম্পর্কে আমার জানা তথ্য আমাকে পুনরায় বলতে উদ্বুদ্ধ করল, তাই আমি আমার কথার পুনরাবৃত্তি করলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, অমুক ব্যক্তির ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? আল্লাহর কসম, আমি তাকে মুমিন হিসেবেই জানি। তিনি বললেন: "নাকি মুসলিম?" আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম, এরপর আমার জানা তথ্য আবারও আমাকে প্ররোচিত করল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও (তাঁর উত্তরের) পুনরাবৃত্তি করলেন। (অন্য বর্ণনায় আছে: তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে আঘাত করলেন এবং আমার ঘাড় ও কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান একত্রে চেপে ধরলেন), অতঃপর তিনি বললেন:

"[সামনে এসো] হে সা'দ! আমি কোনো ব্যক্তিকে দান করি অথচ অন্য কেউ আমার কাছে তার চেয়ে বেশি প্রিয় হয়। আমি এটি এই ভয়ে করি যে, পাছে আল্লাহ তাকে (জাহান্নামের) আগুনে তার মুখমন্ডলের ওপর উপুড় করে নিক্ষেপ করেন।"

--------------------------------------------

(৫) প্রশ্নকারী হলেন আবু যার আল-গিফারি; যেমনটি হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন (১/ ৭৮)।

‌‌(৬) তিন থেকে দশজন পুরুষের একটি দল।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৭)
قال أبو عبد الله: {فكُبكِبوا}: قُلبوا. {مُكِبّاً}: أَكب الرجل إِذا كان فِعْلُه غير واقع على أَحدٍ، فإِذا وقعَ بفعل قلت: كبَّه الله بوجهه، وكببته أنا]: [قالَ أبو عبد الله: صالح بن كيسان (7) أكبر من الزهري، وهو قد أدرك ابن عمر 2/ 132].

 

‌‌19 - باب السَّلامُ من الإسلامِ

‌‌9 - وقال عمار: ثلاثٌ من جَمَعَهُنَّ فقد جمَع الإيمانَ: الإِنصافُ من نَفْسِك، وبَذْلُ السَّلامِ للعالَمِ، والإنفاقُ من الإقتارِ.

(قلت: أسند فيه الحديث المتقدم برقم 9).

 

‌‌20 - باب كُفرانِ العشيرِ، وكفرٍ دونَ كفرٍ

‌‌3 - فيه أبوسعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم.

(قلت: أسند فيه طرفاً من حديث ابن عباس الآتي في "16 - الكسوف/9 - باب").

 

‌‌21 - باب المعاصي من أمرِ الجاهليَّة، ولا يُكَفَّرُ صاحبُها بارتكابِها إِلا بالشِّرك 4 - لقول النبيِّ صلى الله عليه وسلم: إِنك امرؤٌ فيك جاهليةٌ (8) "، وقولِ الله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ}

--------------------------------------------

(7) قلت: يعني المذكور في بعض طرق الحديث.

‌‌9 - وصله ابن أبي شيبة في "الإيمان" وغيره بسند صحيح عنه موقوفاً، وقد روي مرفوعاً، انظر تخريجه في تعليقي على "الكلم الطيب" رقم التعليق (142 - بتحقيقي/ طبع المكتب الإسلامي).

‌‌3 - وصله المصنف في "24 - الزكاة/46 - باب".

‌‌4 - هو طرف من حديث لأبي ذر وصله المصنف فيما يأتي "78 - الأدب/ 44 - باب".

‌‌(8) أي: خصلة جاهلية.
আবু আবদুল্লাহ বলেন: {তাদেরকে উপুড় করে ফেলে দেওয়া হবে}: অর্থাৎ উল্টে দেওয়া হবে। {উপুড় হয়ে}: 'আকাব্বা' শব্দটি তখন ব্যবহৃত হয় যখন লোকটির কাজ অন্যের ওপর পড়ে না, আর যখন তা অন্যের ওপর পড়ে তখন বলা হয়: 'আল্লাহ তাকে তার মুখের ওপর উপুড় করে ফেলেছেন' এবং 'আমি তাকে উপুড় করেছি'। [আবু আবদুল্লাহ বলেন: সালিহ ইবনে কায়সান (৭) যুহরী অপেক্ষা বয়সে বড় ছিলেন এবং তিনি ইবনে উমরকে পেয়েছেন ২/১৩২]।

 

‌‌১৯ - পরিচ্ছেদ: সালাম প্রদান করা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত

‌‌৯ - আম্মার (রা.) বলেন: তিনটি গুণ যার মাঝে একত্রিত হবে, সে পূর্ণ ঈমান লাভ করবে: নিজের সাথে ইনসাফ করা, জগৎবাসীকে সালাম প্রদান করা এবং অভাবের সময়ও ব্যয় করা।

(আমি বলছি: এতে পূর্বোল্লিখিত ৯ নম্বর হাদিসটিকে সনদসহ বর্ণনা করা হয়েছে)।

 

‌‌২০ - পরিচ্ছেদ: স্বামীর অকৃতজ্ঞতা এবং কুফরের চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের কুফর

‌‌৩ - এতে আবু সাঈদ (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।

(আমি বলছি: এতে ইবনে আব্বাসের হাদিসের একাংশ সনদসহ উল্লেখ করা হয়েছে যা সামনে "১৬ - সূর্যগ্রহণ/৯ - পরিচ্ছেদে" আসবে)।

 

‌‌২১ - পরিচ্ছেদ: গুনাহসমূহ জাহেলিয়াতের কাজ, এবং শিরক ছাড়া অন্য গুনাহের কারণে ব্যক্তিকে কাফের বলা যাবে না ৪ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: "তুমি এমন এক ব্যক্তি যার মধ্যে জাহেলিয়াতের স্বভাব রয়েছে (৮)", এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করবেন না, এ ছাড়া যা আছে তা যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন}

--------------------------------------------

(৭) আমি বলছি: অর্থাৎ হাদিসের কোনো কোনো সূত্রে যার উল্লেখ আছে।

‌‌৯ - একে ইবনে আবি শায়বা তাঁর "আল-ঈমান" ও অন্য গ্রন্থে সহীহ সনদে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে এটি মারফু হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। এর তাখরিজ দেখার জন্য "আল-কালিমুত তাইয়্যিব" গ্রন্থের আমার টিকাতে দেখুন, টিকা নম্বর (১৪২ - আমার তাহকীককৃত/ আল-মাকতাবুল ইসলামী কর্তৃক মুদ্রিত)।

‌‌৩ - একে লেখক (ইমাম বুখারী) "২৪ - জাকাত/৪৬ - পরিচ্ছেদ"-এ সনদসহ উল্লেখ করেছেন।

‌‌৪ - এটি আবু যার (রা.)-এর হাদিসের একটি অংশ, যা লেখক সামনে "৭৮ - আদব/ ৪৪ - পরিচ্ছেদ"-এ সনদসহ বর্ণনা করেছেন।

‌‌(৮) অর্থাৎ: জাহেলিয়াতের একটি স্বভাব।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৮)
(قلت: أسند فيه طرفاً من حديث أبي ذر الآتي "78 - الرقاق/ 44 - باب").

 

‌‌22 - باب {وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا}

فسمَّاهُم المؤمنينَ

‌‌22 - عن الأَحنف بن قيس قال: ذهبتُ [بسلاحي لياليَ الفتنة 8/ 92] لأَنصُرَ هذا الرجلَ (وفي روايةٍ: ابنَ عمِّ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم)، فلقيَني أبو بكرَةَ، فقالَ: أينَ تريدُ؟ قلتُ: أَنصرُ هذا الرجلَ، قالَ: ارجِعْ، فإني سمعتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يقولُ:

" إِذا الْتقى المسْلمان بسيفيهما، فالقاتلُ والمقتولُ في النارِ"، فقلتُ: يا رسولَ الله! هذا الْقاتلُ، فما بالُ المقتولِ؟ قالَ:

" إنه كان حريصاً على قتلِ صاحبهِ".

 

‌‌23 - باب ظُلمٌ دونَ ظلْمً

‌‌23 - عن عَبْدِ الله (بن مسعود) لمَّا نَزلتْ [هذه الآية 8/ 48] {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ} [شقَّ ذلك على 6/ 20] أصحاب رسولِ اللهَ صلى الله عليه وسلم[ف] قالـ[ـوا]،: أَيُّنا لم يَظلِم نفسَهُ؟ فأَنزل الله: {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ} (وفي روايةٍ: قال: ليس كما تقولون، {لَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ}: بشرك، أَوَ لم تسمعوا إِلى قول لقمان لابنه: {يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ}؟ 4/ 112 - 113).
(আমি বলছি: এতে আবু যর-এর পরবর্তী হাদিসের একটি অংশ বর্ণিত হয়েছে "৭৮ - আর-রিকাক/ ৪৪ - অধ্যায়")।

 

‌‌২২ - অধ্যায়: {আর যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও}

সুতরাং তিনি তাদের মুমিন বলে অভিহিত করেছেন

‌‌২২ - আহনাফ ইবনে কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি [ফিতনার রাতগুলোতে আমার অস্ত্র নিয়ে] এই ব্যক্তিকে (এক বর্ণনায়: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাতো ভাইকে) সাহায্য করার জন্য যাচ্ছিলাম, তখন আবু বাকরাহ-র সাথে আমার দেখা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কোথায় যেতে চাচ্ছ? আমি বললাম: আমি এই ব্যক্তিকে সাহায্য করতে চাই। তিনি বললেন: ফিরে যাও, কারণ আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি:

"যখন দুই মুসলিম তাদের তলোয়ার নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়, তখন হত্যাকারী এবং যাকে হত্যা করা হয়েছে—উভয়েই জাহান্নামে যাবে।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! এটি তো হত্যাকারীর ক্ষেত্রে ঠিক আছে, কিন্তু যাকে হত্যা করা হয়েছে তার কী দোষ? তিনি বললেন:

"নিশ্চয়ই সে তার সাথীকে হত্যা করার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিল।"

 

‌‌২৩ - অধ্যায়: এক জুলুম অন্য জুলুমের চেয়ে ছোট (জুলুমের স্তরায়ন)

‌‌২৩ - আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) থেকে বর্ণিত, যখন [এই আয়াতটি ৮/ ৪৮] অবতীর্ণ হলো: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে সংমিশ্রিত করেনি, তাদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত}, [তখন তা] আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের জন্য [খুবই কঠিন মনে হলো], তখন [তারা] বললেন: আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের প্রতি জুলুম করেনি? তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {নিশ্চয়ই শিরক হলো বড় জুলুম} (অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: তিনি বললেন: বিষয়টি তোমরা যেমনটি মনে করছ তেমন নয়, {তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে সংমিশ্রিত করেনি}: অর্থাৎ শিরকের সাথে; তোমরা কি লোকমান কর্তৃক তার ছেলেকে দেওয়া উপদেশ শোনোনি: {হে প্রিয় বৎস! আল্লাহর সাথে শরিক করো না}? ৪/ ১১২ - ১১৩)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসার সহীহুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌24 - باب علاماتِ المنافق

‌‌24 - عن أبي هريرة عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم قال:

" آية المنافقِ ثلاثٌ: إِذا حدَّث كذَب، وِإذا وعدَ أَخلفَ، وِإذا اْؤتمِنَ خانَ".

 

‌‌25 - عن عبدِ الله بن عمروٍ أن النبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: " أَربعُ [خلال 4/ 69] مَنْ كنَّ فيه كان منافقاً خالصاً، ومَن كانت فيه خَصلةٌ منهنَّ كانت فيه خَصلةٌ من النفاق، حتى يدعَها: إِذا اؤتُمِنَ خان (وفي روايةٍ: إِذا وَعَدَ أَخْلَفَ)، وإذا حدَّث كذَبَ، وإذا عاهدَ غدَرَ، وإذا خاصَمَ فجَرَ".

 

‌‌25 - باب قيامُ ليلةِ القَدرِ من الإِيمانِ

‌‌26 - عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم.

"من يقُم (وفي طريقٍ: قام 2/ 288) ليلةَ الْقدرِ إيماناً واحتساباً؛ غُفِرَ له ما تَقَدَّمَ من ذنبهِ".

 

‌‌26 - باب الجهاد من الإِيمانِ

‌‌27 - عن أبي هريرة عن (وفي طريقٍ: قال: سمعت 3/ 203) النبي صلى الله عليه وسلم

قال:

"انتَدَبَ الله لمن خرجَ في سبيلهِ لا يُخْرجُه إِلا إيمانٌ بِي، وتصديقٌ برسُلي؛ أنْ أُرجِعَه بِما نالَ من أجرٍ أَو غنيمةٍ، أو أُدخلَه الجنةَ، ولولا أنْ أَشُقَّ على أُمتي ما قعدتُ خَلْفَ (ومن طريقٍ أُخرى: والذي نفسي بيده لولا أن رجالاً من المؤمنين لا
‌২৪ - মুনাফিকের নিদর্শনসমূহ পরিচ্ছেদ

‌‌২৪ - আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় সে তাতে খেয়ানত করে।"

 

‌‌২৫ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "চারটি গুণ [বৈশিষ্ট্য ৪/ ৬৯] যার মধ্যে থাকবে সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে এগুলোর কোনো একটি বৈশিষ্ট্য থাকবে, তার মধ্যে নিফাকের একটি বৈশিষ্ট্য থাকবে যতক্ষণ না সে তা ত্যাগ করে: যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে (অন্য বর্ণনায়: যখন সে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে), যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন সে অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন সে বিবাদে লিপ্ত হয় তখন অশালীন আচরণ করে।"

 

‌‌২৫ - ঈমানের অংশ হিসেবে লাইলাতুল কদরের ইবাদত করা পরিচ্ছেদ

‌‌২৬ - আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন।

"যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে দাঁড়িয়ে ইবাদত করবে (অন্য সূত্রে: দাঁড়িয়ে ইবাদত করল ২/ ২৮৮); তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"

 

‌‌২৬ - ঈমানের অংশ হিসেবে জিহাদ পরিচ্ছেদ

‌‌২৭ - আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে (অন্য সূত্রে: তিনি বলেন: আমি শুনেছি ৩/ ২০৩):

তিনি বলেছেন:

"আল্লাহ সেই ব্যক্তির জিম্মাদার হয়েছেন যে তাঁর পথে বের হয়, যাকে কেবল আমার প্রতি ঈমান এবং আমার রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাসই (ঘর থেকে) বের করে আনে; (আল্লাহর জিম্মাদারি হলো) তাকে তিনি প্রাপ্ত সওয়াব বা গনীমতসহ ফিরিয়ে আনবেন অথবা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আমি কোনো বাহিনীর পেছনে বসে থাকতাম না (অন্য সূত্রে: সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যদি মুমিনদের কিছু লোক এমন না হতো যে..."