(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: -)
حصوننا مهددة من داخلها القسم: كتب عامة
الكتاب: حُصُوُننا مهدَّدة من دَاخِلِهَا
المؤلف: محمد محمد حسين (ت 1402هـ)
الناشر: مؤسسة الرسالة، بيروت
الطبعة: الثامنة، 1404 هـ -1983 م
عدد الصفحات: 236
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الآخر 1435
আমাদের দুর্গগুলো ভেতর থেকে হুমকির সম্মুখীন বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: আমাদের দুর্গগুলো ভেতর থেকে হুমকির সম্মুখীন
গ্রন্থকার: মুহাম্মদ মুহাম্মদ হুসাইন (ওফাত ১৪০২ হি.)
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত
সংস্করণ: অষ্টম, ১৪০৪ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউল আখের ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ১)
حُصُوُننا مهدَّدة من دَاخِلِهَا
بقلم الدكتور محمّد محمّد حسين
مؤسسة الرسالة
আমাদের দুর্গগুলো ভেতর থেকেই হুমকির সম্মুখীন
ডক্টর মুহাম্মদ মুহাম্মদ হুসাইন-এর কলমে
মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
আমাদের দুর্গগুলো হুমকির সম্মুখীন
তার ভেতর থেকেই।
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الأولى: 1387 هـ -1967 م.
الطبعة الثانية: 1388 هـ -1968 م.
الطبعة الثالثة: 1391 هـ -1971 م.
الطبعة الرابعة: 1397 هـ -1977 م.
الطبعه الخامسة: 1398 هـ -1978 م
الطبعة السادسة: 1401 هـ -1981 م.
الطبعة السابعة: 1402 هـ -1982 م.
الطبعة الثامنة: 1404 هـ -1983 م.
مؤسسة الرسالة بيروت - شارع سوريا - بناية صمدي وصالحة
هاتف: 319039 - 241692 ص. ب:7460 برقياً: بيوشران
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ: ১৩৮৭ হিজরি - ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ।
দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৩৮৮ হিজরি - ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ।
তৃতীয় সংস্করণ: ১৩৯১ হিজরি - ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ।
চতুর্থ সংস্করণ: ১৩৯৭ হিজরি - ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ।
পঞ্চম সংস্করণ: ১৩৯৮ হিজরি - ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ
ষষ্ঠ সংস্করণ: ১৪০১ হিজরি - ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ।
সপ্তম সংস্করণ: ১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ।
অষ্টম সংস্করণ: ১৪০৪ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ।
মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ বৈরুত - সিরিয়া স্ট্রিট - সামাদি ও সালহা বিল্ডিং
টেলিফোন: ৩১৯০৩৯ - ২৪১৬৯২ পি.ও. বক্স: ৭৪৬০ টেলিগ্রাম: বিউশরান
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الطبعة الرابعةالحمد لله رب السموات ورب الأرض رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم النبيين والمرسلين.
وبعد
هذه هي الطبعة الرابعة من كتاب "حصوننا مهددة من داخلها"، حبسها عن الظهور سنتين ظروف طارئة قاهرة، وقد رأيت أن أحدث فيها بعض التعديل، فأسقطت منها الفصول الثلاثة الأخيرة التي يضمها باب (في الدراسات الِإسلامية) ، لأني فضلت أن أضيفها إلى أبواب كتابي "الإِسلام والحضارة الغربية" ورأيتها أليق به، وألصق بموضوعه، وأضفت إلى هذه الطبعة صورة مذكرة كتبتها في تطوير الدراسات العربية والاسلامية، فيها فضل بيان لبعض زوايا لم أمسها فيما كتبته في هذا الموضوع من قبل.
أسأل الله التوفيق والسداد في الفكر والعمل، والعفو والمغفرة فيما يزل فيه الفكر والقلم.
চতুর্থ সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা আসমানসমূহ ও জমিনের রব, বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসুলগণের ওপর।
অতঃপর
এটি "আমাদের দুর্গগুলো ভেতর থেকেই হুমকির সম্মুখীন" নামক গ্রন্থের চতুর্থ সংস্করণ। কিছু জরুরি ও অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে বিগত দুই বছর এর প্রকাশনা স্থগিত ছিল। আমি এই সংস্করণে কিছু পরিমার্জন করা সমীচীন মনে করেছি; তাই আমি 'ইসলামি শিক্ষা' অধ্যায়ভুক্ত শেষ তিনটি পরিচ্ছেদ বাদ দিয়েছি। কারণ আমি সেগুলোকে আমার "ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতা" গ্রন্থে যুক্ত করাকে অধিকতর উপযুক্ত এবং বিষয়বস্তুর সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেছি। এছাড়া এই সংস্করণে আমি আরবি ও ইসলামি শিক্ষার উন্নয়নে আমার লেখা একটি স্মারকলিপির অনুলিপি যুক্ত করেছি, যেখানে এই বিষয়ের এমন কিছু দিক বিস্তারিতভাবে ফুটে উঠেছে যা আমি ইতিপূর্বে এই সংক্রান্ত আমার লেখনিতে স্পর্শ করিনি।
আমি আল্লাহর নিকট চিন্তা ও কর্মে সঠিক পথনির্দেশ ও তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং চিন্তা ও লেখনীর স্খলনের জন্য তাঁর নিকট ক্ষমা ও মার্জনা ভিক্ষা করছি।
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
مقدمة الطبعة الثالثةالحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله. والصلاة والسلام على نعمة الله المهداة إلى البشر، الذي ختم به رسالاته وأتم كلماته، سيدنا مُحَمَّدْ. اللهم صل وسلم وبارك عليه، عَدَد الداخلين بسببه في رحمتك إلى يوم الدين.
وبعد
هذه كلمات كنت قد نشرتها منذ أكثر من عشر سنوات في مجلة الأزهر بمصر، تدور حول نقد مطبوعات واتجاهات ظهرت بعد الحرب العالمية الثانية وتقييمها. وهي من هذه الناحية تعتبر امتداداً لكتابي (الاتجاهات الوطنية في الأدب العربي المعاصر)، الذي وقف الجزء الثاني منه عند قيام جامعة الدول العربية. وبعضُ الذين تناولتهم هذه المقالات ممن ربطتني بهم صداقة أو صلة قديمة، وبعضهم ممن لم أكن قد عرفته ثم التقيت به من بعد وعرفت فيه نواحي من العلم والفضل. ومع ذلك فالله يشهد أن ما كان في هذه المقالات من حب أو بغض كان خالصاً لوجه الله، لم تشُبْهُ شائبة من شهوة أو هوى. وقد رأيت أن أترك كل شيء في هذه الطبعة كما كتبته أول مرة دون تغيير أو تبديل، لأنه صورة من صراع الآراء الذي جرى ولا يزال يجري في بلاد المسلمين، فهو من هذه الناحية قطعة من التاريخ الفكري لهذه الحقبة، لم يعد من حقي أن أبدل فيه أو أغير.
তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন; আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতাম না। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবজাতির প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহারস্বরূপ প্রেরিত নিআমত, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ-এর ওপর, যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর রিসালাতসমূহ সমাপ্ত করেছেন এবং তাঁর বাণীসমূহ পূর্ণ করেছেন। হে আল্লাহ! কিয়ামত পর্যন্ত যাঁর অসিলায় আপনার রহমতে প্রবেশকারীদের সংখ্যা অনুযায়ী তাঁর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।
অতঃপর
এগুলো এমন কিছু কথা যা আমি দশ বছরেরও বেশি সময় আগে মিশরের 'মাজাল্লাতুল আজহার'-এ প্রকাশ করেছিলাম। লেখাগুলো মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আবির্ভূত বিভিন্ন প্রকাশনা ও মতাদর্শের সমালোচনা ও মূল্যায়নের ওপর আবর্তিত। এই বিচারে এটি আমার 'আল-ইত্তিজাহাতুল ওয়াতানিয়্যাহ ফিল আদাবিল আরাবি আল-মুআসির' (সমকালীন আরবি সাহিত্যে জাতীয়তাবাদী ধারা) গ্রন্থটিরই একটি সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য, যার দ্বিতীয় খণ্ডটি আরব লীগ প্রতিষ্ঠার সময়কালে এসে সমাপ্ত হয়েছিল। এই প্রবন্ধগুলোতে আমি যাদের কথা উল্লেখ করেছি, তাঁদের কারো কারো সাথে আমার পুরনো বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক ছিল; আবার কাউকে আমি আগে চিনতাম না, পরবর্তীতে তাঁদের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং তাঁদের জ্ঞান ও মহত্ত্বের বহু দিক জানতে পেরেছি। তা সত্ত্বেও আল্লাহ সাক্ষী যে, এই প্রবন্ধগুলোতে যে অনুরাগ বা বিরাগ প্রকাশ পেয়েছে তা ছিল একান্তই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য; কোনো প্রকার ব্যক্তিস্বার্থ বা প্রবৃত্তির কালিমা তাকে কলুষিত করেনি। আমি এই সংস্করণে সবকিছুই অবিকল প্রথমবার লেখার মতোই রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কোনো প্রকার পরিবর্তন বা পরিমার্জন ছাড়াই। কেননা এটি মুসলিম দেশগুলোতে ঘটে যাওয়া এবং বর্তমানেও চলমান মতাদর্শিক লড়াইয়ের একটি চিত্র। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি এই সময়কালের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের একটি অংশ; তাই এতে কোনো কিছু রদবদল বা পরিবর্তন করার অধিকার এখন আর আমার নেই।
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
وقد نشر بعض هذه المقالات لأول مرة مجموعاً في كتاب تحت عنوان "في أوكار الهدامين" حين استأذنني الشيخ عبد المهيمن أبو السمح إمام الحرم المكي في نشرها فأذنت له. ولكن الكتاب صدر لسوء الحظ مليئاً بالأخطاء، ثم استؤذنت مرة أخرى في طبع هذه المقالات جميعاً حين زرت الكويت سنة 1385 هـ -1966 م بدعوة من وزارة الأوقاف والشؤون الإِسلامية في موسمها الثقافي الأول، فأذنت في ذلك، وطبع منها خمسة الآف نسخة سنة 1387 هـ - 1967 م. وأُعِرتُ بعد ذلك من جامعة الاسكندرية إلى جامعة بيروت العربية سنة 1388 هـ (1968 م) فتبين لي أن الكتاب قد طبع في بيروت، وراجعته فوجدت فيه أخطاء كثيرة نبهت إليها صاحب الدار التي أصدرته ورجوته أن يتلافاها في الطبعة التالية. ولكن الكتاب نشر كما هو في طبعته الثانية (1388 هـ - 1968 م) مصوراً عن الطبعة الأولى بكل أخطائها، لذلك رأيت أن لا يطبع الكتاب بعد ذلك إلّا بإِذن كتابي مني. وقد أذنت للأستاذ مُحَمَّدْ عادل العاقل صاحب دار الإرشاد ببيروت في أن يطبع الطبعة الثالثة منه في خمسة الآف نسخة، بعد أنَ أصلحت ما فيه من أخطاء وبعد شيء يسير من التعديل. فقد رأيت أن أبدأ الكتاب بالمقالات التي نُشِرت في مجلة الأزهر لأول مرة تحت عنوان (حصوننا مهددة من داخلها)، وهو العنوان الذي اتخذته من بعدُ للكتاب. ثم رأيت أن أضم إلى مقال (الثقافة الإِسلامية والحياة المعاصرة) مقالين آخرين في الموضوع نفسه، لتكون جميعاً تحت عنوان (في الدراسات الإِسلامية). وأحد هذين المقالين في دراسة مؤتمر آخر من نوع مؤتمر (الثقافة الإِسلامية والحياة المعاصرة)، نُشرت البحوث التي ألقيت فيه ثم ترجمت إلى العربية تحت عنوان (الشرق الأدنى: مجتمعه وثقافته). والمقال الآخر في كتاب للمستشرق سْمِثْ (w. c . smith) عن: الإِسلام في العصر الحديث islam in) (modern History صدر عن جامعة برنستون - وهي الجامعة التي دعت للمؤتمرين السابقين- سنة 1957. ثم إني أضفت إلى القسم المنشور تحت عنوان (في مناهج اللغة والدين) كلمة عن بحث ملحد منحرف في قراءات القرآن، قُدّم لجامعة الإِسكندرية سنة 1385 هـ -1965 م للحصول على درجة الماجستير، ذهبت فيه صاحبته إلى أن القرآن غيرُ متواتر بلفظه، وأنه قد حدث فيه تغيير وتبديل، وزعمت أن الرسول قد غَيرَّ فيه، وسمح لأصحابه
এই প্রবন্ধগুলোর কিছু অংশ প্রথমবারের মতো সংকলিত আকারে "ফি আওকারিল হাদ্দামিন" শিরোনামের একটি বইয়ে প্রকাশিত হয়েছিল, যখন মক্কার হারামের ইমাম শেখ আব্দুল মুহাইমিন আবু সামহ এগুলো প্রকাশের অনুমতি চেয়েছিলেন এবং আমি তাঁকে অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বইটি ভুলভ্রান্তিতে পূর্ণ হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীতে, ১৩৮৫ হিজরি (১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দ) সালে যখন কুয়েতের ধর্ম বিষয়ক ও ইসলামি কার্যক্রম মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে তাদের প্রথম সাংস্কৃতিক মৌসুমে কুয়েত সফর করি, তখন এই প্রবন্ধগুলো সম্পূর্ণ মুদ্রণের জন্য পুনরায় অনুমতি চাওয়া হয়। আমি তাতে সম্মতি দেই এবং ১৩৮৭ হিজরি (১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দ) সালে এর পাঁচ হাজার কপি মুদ্রিত হয়। এরপর ১৩৮৮ হিজরি (১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দ) সালে আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৈরুত আরব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেষণে স্থানান্তরের পর আমি জানতে পারি যে, বইটি বৈরুতেও মুদ্রিত হয়েছে। আমি এটি পর্যালোচনা করে অনেক ভুল দেখতে পাই এবং প্রকাশককে সে বিষয়ে সতর্ক করে পরবর্তী সংস্করণে সেগুলো সংশোধনের অনুরোধ জানাই। কিন্তু দ্বিতীয় সংস্করণে (১৩৮৮ হিজরি - ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দ) বইটি প্রথম সংস্করণের সকল ভুলসহ হুবহু পুনর্মুদ্রিত হয়। ফলে আমি সিদ্ধান্ত নেই যে, এরপর থেকে আমার লিখিত অনুমতি ব্যতীত বইটি আর মুদ্রিত হবে না। বৈরুতের দারুল ইরশাদ-এর সত্ত্বাধিকারী জনাব মুহাম্মদ আদিল আল-আকিলকে আমি এর তৃতীয় সংস্করণ পাঁচ হাজার কপি মুদ্রণের অনুমতি দিয়েছি, ভুলসমূহ সংশোধন এবং সামান্য কিছু পরিমার্জনের পর। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বইটি সেই প্রবন্ধগুলো দিয়ে শুরু করব যা সর্বপ্রথম আল-আজহার ম্যাগাজিনে "হোসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা" শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল—যে শিরোনামটি পরবর্তীতে আমি বইটির জন্যও নির্বাচন করেছি। এরপর আমি "ইসলামি সংস্কৃতি ও সমসাময়িক জীবন" শীর্ষক প্রবন্ধটির সাথে একই বিষয়ের আরও দুটি প্রবন্ধ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে সবগুলো একত্রে "ইসলামি অধ্যয়ন প্রসঙ্গে" শিরোনামের অধীনে থাকে। এই দুই প্রবন্ধের একটি হলো "ইসলামি সংস্কৃতি ও সমসাময়িক জীবন" সম্মেলনের মতো অন্য একটি সম্মেলনের পর্যালোচনা। সেখানে উপস্থাপিত গবেষণাপত্রগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর "নিকট প্রাচ্য: তার সমাজ ও সংস্কৃতি" শিরোনামে আরবিতে অনূদিত হয়েছিল। অন্য প্রবন্ধটি হলো প্রাচ্যবিদ ডব্লিউ. সি. স্মিথ (W. C. Smith)-এর "আধুনিক যুগে ইসলাম" (Islam in Modern History) বইটির ওপর, যা ১৯৫৭ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছিল—উল্লেখ্য, এই বিশ্ববিদ্যালয়টিই পূর্বোক্ত দুটি সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। এরপর আমি "ভাষা ও ধর্মের পাঠ্যক্রম প্রসঙ্গে" শিরোনামে প্রকাশিত অংশে একজন বিপথগামী নাস্তিকের কুরআনের কিরাত (পাঠরীতি) বিষয়ক একটি গবেষণাপত্রের ওপর কিছু আলোচনা যুক্ত করেছি। এই গবেষণাপত্রটি ১৩৮৫ হিজরি (১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দ) সালে আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। এতে গবেষক এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, কুরআনের শব্দসমূহ নিরবচ্ছিন্ন (متواتر) নয় এবং এতে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন ঘটেছে। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, রাসূল এতে পরিবর্তন করেছেন এবং তাঁর সাহাবীদের অনুমতি দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
بالتغيير وأقرهم عليه. ومع هذه الافتراءات الظالمة التي لا تستند إلى أي دليل، ولا تقوم إلّا على الرغبة في الهدم، فقد قررت اللجنة التي ناقشته وقتذاك منحه درجة الماجستير. ثم امتنعت الجامعة عن توثيق هذا القرار بعد معركة طويلة خاضها من جانب واحد أنصارُ الباطل، أفراداً وجماعات وصُحُفاً. ورأيت يومذاك أن أحصر القضية من جانبي بين جدران الجامعة، فلم أرُدّ على من جندته الصحف لتزيين ذلك الإِلحاد وتزوير صورته. ثم رأيت الآن أن أثبت ما كان، بعد أن هدأت الزوبعة، للتاريخ وللحق، وليعرف من اطلع على القضية وقتذاك من جانبٍ واحدٍ حقيقةَ الأمر. ثم إني حذفت القسم الأخير من الكتاب المنشور تحتَ عنوان (في شؤون الروح). وهو جزء عن بحث كنت أُعده لجلة الأزهر، ثم انقطعت عن نشر بقيته بعد أن نُحّيَ الأُستاذ محب الدين الخطيب رحمه الله عن رياسة تحرير المجلة، وحل محله أحمد حسن الزيات. وقد نشرتُ البحث بعد ذلك كاملاً في الاسكندرية سنة 1380 هـ -1960 م ثم أعيد نشره في دار الإِرشاد ببيروت سنة 1388 هـ -1969 م تحت عنوان (الروحية الحديثة دعوة هدامة).
أسأل الله أن يتقبل مني هذا الجهد الذي لا يفي بنعمه علي، وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، وأن يغفر لي ضعفي وعجزي وتقصيري.
بيروت في صباح الإِثنين 10 من جمادي الآخرة 1391 هـ
(2/ 8/ 1971 م).
محمّد محمّد حسين
পরিবর্তনের মাধ্যমে এবং তিনি তাদের তাতে সমর্থন জানিয়েছিলেন। এই অন্যায় অপবাদসমূহ যা কোনো প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে নয় এবং যা কেবল ধ্বংস করার ইচ্ছার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, তা সত্ত্বেও সেই সময়ে যে কমিটি এটি নিয়ে আলোচনা করেছিল তারা তাকে মাস্টার্স ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অতঃপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়, যখন বাতিলের অনুসারীরা—ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে—একতরফাভাবে দীর্ঘ এক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। সে সময়ে আমি আমার পক্ষ থেকে বিষয়টি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সমীচীন মনে করেছিলাম। তাই সংবাদপত্রগুলো সেই নাস্তিকতাকে সুশোভিত করতে এবং তার চিত্র বিকৃত করার জন্য যাদের নিয়োজিত করেছিল, আমি তাদের কোনো প্রত্যুত্তর দেইনি। এখন ঝোড়ো পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর, ইতিহাস ও সত্যের স্বার্থে এবং যারা সে সময় একতরফাভাবে বিষয়টি জেনেছিলেন তারা যেন প্রকৃত সত্য জানতে পারেন, সেজন্য আমি যা ঘটেছিল তা লিপিবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরপর আমি '(ফি শুউনিল রুহ)' শিরোনামে প্রকাশিত বইটির শেষ অংশটি বাদ দিয়েছি। এটি এমন একটি গবেষণার অংশ ছিল যা আমি আল-আজহার ম্যাগাজিনের জন্য প্রস্তুত করছিলাম। কিন্তু উস্তাদ মুহিব্বুদ্দীন আল-খাতিব (রহিমাহুল্লাহ) ম্যাগাজিনের সম্পাদনা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর এবং তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আহমদ হাসান আল-জাইয়াত আসার পর আমি এর অবশিষ্টাংশ প্রকাশ করা থেকে বিরত হই। পরবর্তীতে আমি ১৩৮০ হিজরি (১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ) সালে আলেকজান্দ্রিয়া থেকে পূর্ণাঙ্গ গবেষণাটি প্রকাশ করি। অতঃপর ১৩৮৮ হিজরি (১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ) সালে বৈরুতের দারুল ইরশাদ থেকে '(আল-রুহিয়াহ আল-হাদিসাহ দাওয়াতুন হাদ্দামাহ)' শিরোনামে এটি পুনরায় প্রকাশিত হয়।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই প্রচেষ্টা কবুল করেন, যা আমার প্রতি তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তিনি যেন এটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমার দুর্বলতা, অক্ষমতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেন।
বৈরুত, সোমবার সকাল, ১০ জুমাদিউল আখিরা, ১৩৯১ হিজরি
(২/ ৮/ ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ)।
মুহাম্মদ মুহাম্মদ হুসাইন
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة الطبعة الأولىالحمد لله
وسلام على عباده الذين اصطفى
الحمد لله وحده، هو الحميد المجيد، منه العون وبه التوفيق. اللهم اهدنا سبلنا، وألهمنا رشدنا، وأرنا الحق حقاً وارزقنا اتّباعه، وأرنا الباطل باطلاً وارزقنا اجتنابه.
وبعد
فهذه كلمات كنت قد نشرتها في مجلة "الأزهر" خلال الأعوام الثلاثة الأخيرة (1376، 77، 78). وكان أكثرها تحت عنوان "حصوننا مهددة من داخلها"، جمعتها في هذه الصفحات مرتبة بحسب تاريخ نشرها. ولم أتناولها بتغيير أو تبديل، إلّا ما يكون مما لا بد أن يعنَّ لكل كاتب إذا أعاد النظر فيما كتب، وهو من أمارات نقص الإِنسان وعجزه وقصور فكره.
وقد كان الذي دعاني إلى كتابة هذه السلسلة من المقالات أني رأيت الِإلحاد والانحلال في هذه الأيام يشتعل ويسري سريان النار في يابس الحطب، ورأيت دعاته يستفحل أمرهم في كل مكان، ورأيت الناس مشغولين بالجدل والنقاش حول ما يثيرونه من موضوعات يسترون مآربهم الهدَّامة من ورائها تحت أسماء خلَاّبة برَّاقة، كالنهضة، والتحرر، والتطور، ومتابعة ركب الحياة، وهي موضوعات منوعة تشمل الحياة في شتى نواحيها، يخترعونها ثم يهولون من شأنها ويكثرون من الأخذ والرد حولها حتى يلفتوا إليها أنظار الناس، وحتى ينشأ جيل جديد مرنت أذنه منذ وعى على سماع المناقشات حول هذه الموضوعات، فيتوهم أنها مشكلات حقيقية لا بد لها من حل،
প্রথম সংস্করণের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য
এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, তিনি চির প্রশংসিত ও মহিমান্বিত; তাঁরই নিকট সাহায্য এবং তাঁরই মাধ্যমে তাওফিক লাভ হয়। হে আল্লাহ! আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমাদের সুবুদ্ধি দান করুন, আমাদের সত্যকে সত্য হিসেবে প্রদর্শন করুন এবং তা অনুসরণের তাওফিক দান করুন, আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে প্রদর্শন করুন এবং তা থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন।
অতঃপর
এগুলো এমন কিছু কথা যা আমি গত তিন বছরে (১৩৭৬, ৭৭, ৭৮ হিজরি) "আল-আজহার" ম্যাগাজিনে প্রকাশ করেছিলাম। এর অধিকাংশ ছিল "আমাদের দুর্গগুলো ভেতর থেকে হুমকির সম্মুখীন" শিরোনামের অধীনে। আমি এগুলো এই পৃষ্ঠাগুলোতে প্রকাশের তারিখ অনুযায়ী সাজিয়ে সংকলন করেছি। আমি এতে কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন করিনি, তবে একজন লেখকের ক্ষেত্রে যা অপরিহার্য যখন তিনি তাঁর লেখার ওপর পুনরায় দৃষ্টিপাত করেন, আর তা হলো মানুষের অপূর্ণতা, অক্ষমতা এবং চিন্তার সীমাবদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ।
এই প্রবন্ধের সিরিজটি লিখতে আমাকে যা উদ্বুদ্ধ করেছিল তা হলো, আমি দেখেছি বর্তমান সময়ে নাস্তিকতা ও নৈতিক অবক্ষয় এমনভাবে প্রজ্বলিত হচ্ছে এবং ছড়িয়ে পড়ছে যেন শুকনো কাঠে আগুন লেগেছে। আমি দেখেছি তাদের প্রবক্তারা সব জায়গায় শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আমি দেখেছি মানুষ তাদের উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনায় মগ্ন, যে বিষয়গুলোর অন্তরালে তারা তাদের ধ্বংসাত্মক উদ্দেশ্যগুলো ঢেকে রাখছে। তারা 'জাগরণ', 'মুক্তি', 'বিবর্তন' এবং 'আধুনিক জীবনের ধারা'র মতো চটকদার ও আকর্ষণীয় সব নাম ব্যবহার করছে। এগুলো নানা ধরণের বিষয় যা জীবনের বিভিন্ন দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। তারা এই বিষয়গুলো উদ্ভাবন করে এবং এরপর এর গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি করে, যাতে মানুষের দৃষ্টি সেদিকে নিবদ্ধ হয়। এর ফলে এমন এক নতুন প্রজন্ম গড়ে ওঠে যাদের কান সচেতন হওয়ার পর থেকেই এসব বিষয়ে বিতর্ক শুনতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। ফলে তারা ধারণা করে যে, এগুলো প্রকৃত সমস্যা যা সমাধান করা অপরিহার্য।
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
ويتجه في أغلب الأحيان - كما جرت عادة الناس - إلى أنصاف الحلول التي ترضي الطرفين المتخاصمين حسب وهمه. والخاسر في حقيقة الأمر هو صاحب الحق. والربح كله للباطل وأصحابه.
ولا يزال أصحاب الباطل ماضين في اتخاذ هذا الأسلوب نفسه جيلًا من بعد جيل، يزحفون ويزحفون، حتى يسدّوا على الناس كل سبيل للحق، أو يفتح الله باباً من أبواب رحمته فيبعث عليهم من ينكّل بهم ويقطع دابر ما يثيرونه من فتن. ولكن الجديد في أمر هؤلاء الدعاة أن شرهم لم يعد مقصوراً في هذه الأيام على الكلام، فقد انتقلوا من مرحلة الكلام إلى مرحلة العمل بعد أن نجحوا في التسرب إلى الحصون التي تحمي قيمنا، وأصبح كثير منهم في مناصب تمكّنهم من أن يدسّوا برامجهم وخططهم على المسؤولين من رؤسائهم وينفذوها في صمت، ودون أن يثيروا ضجة تلفت إليهم المعارضين.
ولهؤلاء المفسدين عصابة تشد أزرهم وتُشِيد بهم وتنوَّه بذكرهم وتحميهم من خصومهم وتقطع ما يهاجمون به مما ينبه الناس إلى شرهم عن كل وسائل النشر، فلا يصل إلى آذان الناس أو عيونهم شيء منه. وأنا حين أزعم أن هؤلاء الدعاة ينتمون إلى عصابة ذات خطر إنما أعني بالعصابة كل مدلولها وكل حرف من حروفها وكل مفهوم من مفاهيمها.
هذه العصابة قليلة العدد. ولا ترجع قوتها إلى كثرة عددها. ولكنها ترجع إلى تماسك أفرادها وتضامنهم، يساعد بعضهم بعضاً، ويحمىِ كبيرهم الصغير، ويمهد السابق منهم للاحق، ويهيىء له فرص الظهور والترقي، بينما يتخلصون بمختلف الوسائل من الخصوم الذين يعارضونهم والذين يقفون في وجه خططهم. يحدث ذلك كله في الظلام وفي صمت. وقد لا يكون هناك تنظيم واحد معروف بعينه يضم الهدامين ودعاة الشر كلهم جميعاً، ولكن المهم في الأمر أنهم جميعاً، على اختلاف نزعاتهم وعلى تباين ساداتهم وشياطينهم، متعارفون متضامنون. والمتدبر لخططهم وتحركاتهم في إحكامها، وفي تناسقها، وفي وحدة أهدافها، وتشابه أساليبها في كثير من الأحيان، وفيما تستند إليه من
অধিকাংশ ক্ষেত্রে—মানুষের সাধারণ স্বভাব অনুযায়ী—বিষয়টি আপসকামিতার (أنصاف الحلول) দিকে ধাবিত হয়, যা কোনো ব্যক্তির কাল্পনিক ধারণা অনুযায়ী বিবাদমান উভয় পক্ষকেই সন্তুষ্ট করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এতে সত্যের অধিকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সকল মুনাফা অর্জিত হয় বাতিলের পক্ষে।
বাতিলের অনুসারীরা প্রজন্ম থেকে জন্মান্তরে এই একই পদ্ধতি অনুসরণ করে চলছে; তারা ক্রমান্বয়ে সত্যের সকল পথ রুদ্ধ করার জন্য অগ্রসর হতে থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমতের কোনো দ্বার উন্মোচন করেন এবং এমন কাউকে প্রেরণ করেন যিনি তাদের কঠোর শাস্তি দেবেন এবং তাদের উস্কানি দেওয়া ফিতনা (فتن) নির্মূল করবেন। তবে এই অপপ্রচারকারীদের বিষয়ে নতুন উদ্বেগের বিষয় হলো, তাদের অনিষ্ট এখন আর কেবল কথার মাঝে সীমাবদ্ধ নেই; তারা কথার পর্যায় অতিক্রম করে এখন বাস্তব কর্মের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তারা আমাদের মূল্যবোধ রক্ষাকারী দুর্গগুলোতে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের অনেকেই এমন উচ্চপদে আসীন হয়েছে, যেখান থেকে তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নিজেদের কর্মসূচি ও পরিকল্পনাগুলো গোপনে পেশ করতে পারে এবং কোনো ধরনের শোরগোল ছাড়াই তা বাস্তবায়ন করতে পারে, যেন বিরোধীরা তাদের প্রতি সজাগ হতে না পারে।
এই ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের (المفسدين) একটি প্রভাবশালী চক্র রয়েছে যারা তাদের শক্তি জোগায়, তাদের প্রশংসা করে, তাদের নাম প্রচার করে এবং প্রতিপক্ষের হাত থেকে তাদের রক্ষা করে। এমনকি প্রচারমাধ্যমের ওপর প্রভাব খাটিয়ে তারা মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে পারে এমন সব সমালোচনাও আটকে দেয়; ফলে সত্য কোনো কিছুই সাধারণ মানুষের কান বা চোখ পর্যন্ত পৌঁছায় না। আমি যখন দাবি করি যে এই অপপ্রচারকারীরা একটি বিপজ্জনক চক্রের অন্তর্ভুক্ত, তখন আমি এই চক্র বা গোষ্ঠী শব্দের প্রতিটি অর্থ, প্রতিটি বর্ণ এবং প্রতিটি ধারণাগত দিককেই বোঝাতে চাই।
এই চক্রটি সংখ্যায় নগণ্য। তাদের শক্তি সংখ্যার আধিক্যের কারণে নয়, বরং তাদের সদস্যদের সুদৃঢ় ঐক্য ও সংহতির কারণে। তারা একে অপরকে সাহায্য করে, তাদের বড়রা ছোটদের আগলে রাখে এবং পূর্বসূরিরা উত্তরসূরিদের জন্য পথ প্রশস্ত করে দেয় এবং তাদের আত্মপ্রকাশ ও পদোন্নতির সুযোগ করে দেয়। অন্যদিকে, যারা তাদের বিরোধিতা করে বা তাদের পরিকল্পনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তারা বিভিন্ন কৌশলে সেই প্রতিপক্ষদের সরিয়ে দেয়। এসবই ঘটে নিভৃতে ও অন্ধকারে। সম্ভবত এমন কোনো সুনির্দিষ্ট একক সংগঠন নেই যা এই ধ্বংসাত্মক ও অনিষ্টকারী সকলকে একত্রিত করে রেখেছে; তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা তাদের ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ এবং পৃথক পৃথক নেতা ও শয়তান (شياطين) থাকা সত্ত্বেও একে অপরের সাথে সুসম্পর্কযুক্ত ও সংহতিবদ্ধ। তাদের সুচারু পরিকল্পনা ও গতিবিধি, তাদের কাজের সামঞ্জস্যতা, লক্ষ্যের অভিন্নতা এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের কর্মপদ্ধতির সাদৃশ্য এবং যে ভিত্তির ওপর তারা দাঁড়িয়ে আছে—তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
نفوذ واسع، لا بد أن ينتهىِ إلى أن هناك هيئات منظمة تنظيمًا دقيقاً من وراء هذه الحركات، وأن بين هذه الهيئات قدراً كبيراً من التفاهم واتفاق المصالح. وعصابة الهدَّامين تستمد قوتها وخطورتها من هذا التنظيم من ناحية، ومن أنها مجهولة الرأس والحدود والأطراف والأساليب والأعوان من ناحية أُخرى. وهذا التنظيم وهذه السريَّة هما مصدر قوة هذه العصابة التي لا تفترق عن عصابات السطو والِإرهاب في شيء. فهي لا تعتمد في تنفيذ خططها على الإِقناع شأنَ أصحاب الرأي، ولا على الكثرة شأن أصحاب (الديموقراطية) المزعومة، ولكنها تعتمد على العمل في الظلام وعلى البطش بالخصوم والتخلص من المعارضين ومؤازرة الأولياء والأصدقاء وتمكينهم من مقاليد السلطة. وهم يسلكون لذلك كل سبيل، ويستغلون فيه كل وسيلة، وعلى رأس هذه الوسائل الصحافة والإِذاعة والمنابر ودور النشر وشراء الذمم والتهديد بالفضائح.
ومن هذه الأساليب التي لا تحصى أسلوب مشهور معروف لم يعد يخفى على بَصير، يُلقي أعضاء هذه العصابة شباكهم حول أصحاب النفوذ والسلطان ويدخلون إليهم من أقرب الأبواب إلى قلوبهم وأضعف الثغرات في نفوسهم، ثم يتظاهرون بالتفاني في حبهم والِإخلاص في خدمتهم، فيلازمونهم ملازمة الظل، لا يغادرونهم طرفة عين، ويراقبون منهم الِإشارة والبادرة، مراقبة الكلب الأمين لصاحبه، حتى يصبح التابع منهم لازمة من لوازم سيده ووهماً مسلطاً عليه لا يتخيل إمكان الاستغناء عنه، وبمرور الأيام تتحول هذه البطانة إلى سور ضخم شاهق يحجب عن بصر صاحب النفوذ كل شيء عداه، فحيثما وجّه البصر لا يرى إلّا هذا السور، وتصبح هذه الدائرة الضيقة هي دنياه، لا يعرف شيئاً مما يجري وراءها في دنيا الناس. وعند ذلك يصبح صاحب النفوذ في حقيقة أمره سجيناً من حيث لا يدري، لأنه لا يرى إلّا ما يسمحون له برؤيته، ولايسمع إلا مايسمحون له بسماعه وحسبك بهذا سجناً، ثم ينتهي به الأمر إلى أن يصبح صنمًا. معبوداً كعجل الكفار من الفراعنة، يحبس في الظلام، ولا يَنْتفِع بعبادته وتقديسه إلّا سدنتُه.
وأخطر ما في أمر هذه العصابة أن أفرادها يتمتعون بكل ما في حرب
ব্যপক প্রভাব; এটি অবশ্যই এই সিদ্ধান্তে উপনীত করে যে, এই আন্দোলনগুলোর পেছনে সুচারুরূপে সংগঠিত কিছু সংস্থা রয়েছে এবং এই সংস্থাগুলোর মধ্যে ব্যাপক পারস্পরিক সমঝোতা ও স্বার্থের ঐক্য বিদ্যমান। এই ধ্বংসাত্মক চক্র একদিকে এই সুসংগঠিত কাঠামো থেকে তাদের শক্তি ও ভয়াবহতা অর্জন করে, আর অন্যদিকে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব, সীমানা, প্রান্তসমূহ, কর্মপদ্ধতি ও সহযোগীদের পরিচয় অজ্ঞাত হওয়ার কারণে তারা শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই সুসংগঠিত কাঠামো ও গোপনীয়তাই হলো এই চক্রের শক্তির উৎস, যা লুণ্ঠনকারী ও সন্ত্রাসী চক্র থেকে কোনো অংশেই ভিন্ন নয়। তারা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চিন্তাবিদদের ন্যায় যুক্তির মাধ্যমে প্ররোচিত করার ওপর নির্ভর করে না, কিংবা তথাকথিত (গণতন্ত্র) পন্থীদের ন্যায় সংখ্যাধিক্যের ওপরও নির্ভর করে না; বরং তারা অন্ধকারের অন্তরালে কাজ করা, প্রতিপক্ষকে দমন করা, বিরোধীদের নির্মূল করা এবং তাদের অনুসারী ও বন্ধুদের সমর্থন জোগানো এবং তাদের ক্ষমতার মসনদে বসানোর ওপর নির্ভর করে। তারা এর জন্য সকল পথ অবলম্বন করে এবং প্রতিটি মাধ্যমকে কাজে লাগায়; যার শীর্ষে রয়েছে সংবাদমাধ্যম, বেতার, মিম্বর, প্রকাশনা সংস্থা, বিবেক ক্রয় করা এবং কেলেঙ্কারির ভয় দেখানো।
এই অগণিত পদ্ধতির মধ্যে একটি প্রসিদ্ধ ও পরিচিত পদ্ধতি রয়েছে যা কোনো বিচক্ষণ ব্যক্তির কাছে গোপন নয়। এই চক্রের সদস্যরা প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমতাশালীদের চারপাশে জাল বিস্তার করে এবং তাদের হৃদয়ের নিকটতম প্রবেশদ্বার ও মনের দুর্বলতম ছিদ্রপথ দিয়ে প্রবেশ করে। এরপর তারা তাদের ভালোবাসায় আত্মোৎসর্গ এবং সেবায় একনিষ্ঠতার ভান করে। ফলে তারা ছায়ার মতো তাদের সাথে লেগে থাকে, চোখের পলকের জন্যও তাদের ছেড়ে যায় না এবং তাদের প্রতিটি ইশারা ও পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করে—ঠিক যেমন একজন বিশ্বস্ত কুকুর তার মালিককে পর্যবেক্ষণ করে। শেষ পর্যন্ত তাদের সেই অনুসারী ব্যক্তিটি তার মুনিবের জন্য এক অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয় এবং এমন এক আচ্ছন্নকারী মোহে পরিণত হয় যে, তাকে ছাড়া চলা অসম্ভব বলে মনে হয়। দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে এই অন্তরঙ্গ পারিষদবর্গ এক বিশাল ও সুউচ্চ প্রাচীরে পরিণত হয়, যা সেই ক্ষমতাশালীর দৃষ্টি থেকে সেই প্রাচীর ছাড়া বাকি সব কিছু আড়াল করে দেয়। ফলে তিনি যেখানেই দৃষ্টিপাত করেন, কেবল এই প্রাচীরই দেখতে পান এবং এই সংকীর্ণ বৃত্তই তার দুনিয়া হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের পৃথিবীতে এর বাইরে কী ঘটছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতে পারেন না। এমতাবস্থায়, সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিটি প্রকৃতপক্ষে নিজের অজান্তেই একজন বন্দিতে পরিণত হন। কারণ, তারা তাকে যা দেখার অনুমতি দেয় তিনি কেবল তা-ই দেখেন এবং তারা যা শোনার অনুমতি দেয় তিনি কেবল তা-ই শুনতে পান—আর বন্দিদশা হিসেবে এটিই যথেষ্ট। পরিশেষে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তিনি এক মূর্তিতে পরিণত হন; ফেরাউনদের আমলের কাফেরদের পূজিত বাছুরের মতো এক উপাস্য, যাকে অন্ধকারে বন্দি রাখা হয় এবং যার উপাসনা ও পবিত্রতা ঘোষণা থেকে কেবল তার খাদেমরাই লাভবান হয়।
এই চক্রের বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো যে, এর সদস্যরা যুদ্ধের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে...
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
العصابات من مزايا. ومن أخطر هذه الزايا أن الجهاز الحكومي - وهو يشبه الجيش النظامي - لا يستطيع توجيه الضربة القاضية إليهم. لذلك كان من أنجح الأساليب في مكافحتهم أن تدرس خططهم وأساليبهم في الكيد والدس وينبه الناس إليها. عند ذلك ينكشف الستر عن الذين يستمدون قوتهم من العمل في الظلام، ويجدون أنفسهم وقد غمرتهم الأضواء وكشفت أوكارهم وسراديبهم، ولا يجدون بداً من اللجوء إلى سلاحهم القديم الذي بدءوا به وهو سلاح الدعاية. وقد فشلوا فيه من قبل، وسيكون فشلهم في هذه المرة ساحقاً ماحقاً بعد افتضاح أمرهم، لأنهم يسبحون اليوم ضد تيار قوي غلَّاب، ترعاه عناية الله سبحانه، ويحفه توفيقه، ويمده مدده الذي لا ينفد وجنوده التي لا يعلمها إلّا هو. ذلك هو تيار النهضة العربية واليقظة الإِسلامية.
من أجل ذلك كتبت هذه الكلمات لجلة الأزهر، ثَم أعدت نشرها مجموعة وهذه الصفحات. كتبتها لألقي الأضواء على الذين يعملون في الظلام، وأكشف الستر عما يدبرون في الخفاء، ولأفضح دسائسهم التي يلقون عليها حجباً كثيفة من الرياء والنفاق، حين يندسون بين صفوف العاملين على بعث معالم شخصيتنا وإحياء شعائرنا وأشعرتنا، يتظاهرون بالغيرة على إسلامنا وعلى عروبتنا، حين تنطوي ضمائرهم على فساد العقيدة وحين يعملون لحساب العدو الذي يستعبدنا ولحساب الصهيونية الهدامة التي لا تريد أن تبقى على بناء قديم. هؤلاء هم أخطر الأعداء، وهم أول ما ينبغي البدء به في تطهير الحصون وتنظيف الدار، لأن الأعداء والمارقين ظاهر أمرهم لا يخفون، وهم خليقون أن ينفِّروا الناس، فهم كالمريض الظاهر يتحاشاه الناس ولا يقتربون منه. أما هؤلاء فهم كالريض الذي لا يظهر المرض على بدنه، فالمخالطون لا يحتاطون لأنفسهم في مخالطته. وأكثر ما تتعرض الشعوب للخطر من هذا الفريق في أطوار ثورتها ونهضتها، لأنها في هذا الطور تمر في دور انسلاخ تحاول أن تطهير نفسها فيه من الأوضار ومن النقائص، فيُلبِّس هذا الفريق من المنافقين والضالين والمضللين عليها أمرها، ويزينون لها الباطل زاعمين لها أنه هو سبيل النهضة، ويوهمونها أن كثيراً من عاداتها الصحيحة الأصيلة هي من
গেরিলা দলগুলোর কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো যে, সরকারি প্রশাসনিক কাঠামো—যা অনেকটা নিয়মিত সেনাবাহিনীর মতো—তাদের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানতে সক্ষম হয় না। তাই তাদের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সফল পদ্ধতিগুলোর একটি হলো তাদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা ও কৌশলগুলো নিয়ে অধ্যয়ন করা এবং মানুষকে সে বিষয়ে সচেতন করা। তখনই সেই সব লোকদের ওপর থেকে পর্দার অন্তরাল উন্মোচিত হবে যারা অন্ধকারের আড়ালে কাজ করে শক্তি সঞ্চয় করে; তারা নিজেদের এমন অবস্থায় দেখতে পাবে যে তাদের ওপর আলো এসে পড়েছে এবং তাদের গোপন আস্তানা ও সুড়ঙ্গপথগুলো প্রকাশ হয়ে গেছে। তখন তারা তাদের সেই পুরোনো অস্ত্রের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খুঁজে পাবে না যা দিয়ে তারা শুরু করেছিল, আর তা হলো প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণার অস্ত্র। তারা আগেও এতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এবার তাদের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তাদের ব্যর্থতা হবে অত্যন্ত শোচনীয় ও বিধ্বংসী। কারণ তারা আজ এক শক্তিশালী ও অপ্রতিরোধ্য স্রোতের বিপরীতে সাতার কাটছে, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহে লালিত এবং তাঁর তওফিক দ্বারা বেষ্টিত; আর তিনি একে এমন অফুরন্ত সাহায্য ও তাঁর এমন বাহিনী দিয়ে সহায়তা করছেন যাদের কথা তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। আর সেই স্রোতটি হলো আরব নবজাগরণ এবং ইসলামি জাগরণের স্রোত।
এ কারণেই আমি এই কথাগুলো আল-আজহার পত্রিকার জন্য লিখেছিলাম, অতঃপর পুনরায় এই পৃষ্ঠাগুলোতে একটি সংকলন হিসেবে প্রকাশ করেছি। আমি এগুলো লিখেছি সেই সব মানুষের ওপর আলোকপাত করার জন্য যারা অন্ধকারে কাজ করে, আর তারা গোপনে যা কিছু ষড়যন্ত্র করছে তার ওপর থেকে পর্দা সরিয়ে দেওয়ার জন্য। এছাড়া তাদের সেই কূটচালগুলোকে উন্মোচন করার জন্য যা তারা রিয়া ও নিফাকের ঘন আবরণে ঢেকে রাখে; বিশেষ করে যখন তারা আমাদের আত্মপরিচয়ের বৈশিষ্ট্যগুলোর পুনর্গঠন এবং আমাদের ধর্মীয় নিদর্শন ও প্রতীকগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কাতারে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা আমাদের ইসলাম এবং আমাদের আরবীয় চেতনার প্রতি প্রবল অনুরাগ প্রদর্শন করে, অথচ তাদের অন্তরে আকিদার কলুষতা বিদ্যমান এবং তারা আমাদের ওপর দাসত্ব চাপিয়ে দেওয়া শত্রু ও সেই ধ্বংসাত্মক জায়নবাদের স্বার্থে কাজ করে, যারা কোনো প্রাচীন ঐতিহ্যের অস্তিত্ব অবশিষ্ট রাখতে চায় না। এরাই হলো সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু এবং দুর্গ পবিত্রকরণ ও ঘর পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে এদের দিয়েই কাজ শুরু করা উচিত। কারণ প্রকাশ্য শত্রু ও সত্যত্যাগী যারা, তাদের বিষয়টি স্পষ্ট এবং তারা গোপন নয়; তারা সহজাতভাবেই মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়। তারা মূলত এমন প্রকাশ্য রুগীর মতো যাকে মানুষ এড়িয়ে চলে এবং যার কাছে কেউ ঘেঁষে না। কিন্তু এই শ্রেণির লোকেরা হলো সেই রুগীর মতো যার দেহে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না, ফলে মেলামেশার সময় লোকজন তাদের থেকে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। বিপ্লব ও নবজাগরণের সন্ধিক্ষণে জাতিগুলো এই গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেই সবচেয়ে বেশি বিপদের সম্মুখীন হয়। কারণ এই পর্যায়ে জাতি নিজেকে পঙ্কিলতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত করার একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। আর এই সুযোগে মুনাফিক, পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্তকারী দলটি জাতির সামনে সত্য-মিথ্যাকে গুলিয়ে ফেলে এবং তাদের সামনে বাতিলকে সুশোভিত করে উপস্থাপন করে এই দাবি করে যে, এটিই হলো নবজাগরণের পথ। তারা তাদের মনে এই বিভ্রম সৃষ্টি করে যে, তাদের অনেক সঠিক (صحيح) ও মৌলিক রীতিনীতি আসলে...
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أسباب تخلفها وضعفها، ويزجون بها فيما رسمته عصابتهم من قبل وما قدَّرته من طرق ومسالك.
كتبت هذه الصفحات حين كتبتها لكي أفضح هذا النفر من المفسدين وأنبه إلى ما انكشف لي من أهدافهم وأساليبهم التي خُدعت بها أنا نفسي حيناً من الزمان مع المخدوعين، أسأل الله أن يغفر لي فيه ما سبق به اللسان والقلم. وإن مد الله في عمري رجوت أن أصلح بعض ما أفسدت مما أصبح الآن في أيدي القراء. وأكثره في بحث حصلت به على درجة (دكتور في الآداب) من جامعة القاهرة (فؤاد الأول وقتذاك)، ثم نشرته تحت اسم "الهجاء والهجاءون" (*).
وقد كان مصابي هذا في نفسي وفي تفكيري مما جعلني أقوى الناس إحساساً بالكارثة التي يتردى فيها ضحايا هؤلاء المفسدين، وأشدهم رغبة في إنقاذهم منها، بالكشف عما خفي من أساليب الهدَّامين وشراكهم.
ومن الواضح أن هذه الصفحات لا تستقصي نشاط الهدامين ولا تستوعب كل ميادينهم ولا تحصيها عدداً، ولكنها تقدم نماذج منها تكشف عن أساليبهم في الدس والتزييف والهدم والتخريب، وهي أساليب لا يقتصر شرها على بلد دون بلد، فهي تعم بلاد العرب، بل بلاد المسلمين، بل الشرق كله، يسقونه السم على حين نهضته حتى لا تصح له نهضة، وليقودوه إلى الهاوية التي يوشك الغرب كله - شرقيه وغربيه - أن يتردى فيها. وسيعلم القارئ من بعد أن اصبع الصهيونية العالمية الهدامة التي تطمع في أن ترث الأرض وتستعبد كل من عليها لليهود من وراء هذه الدعايات والدعوات.
لذلك لم يكن من قصدي في هذه الصفحات أن أقنع الذين أنبه إلى خطورتهم، فأكثر هؤلاء دعاة وليسوا طلاب حق، لا يخرجهم من ضلالهم إلَّا أن يرزقهم الله الهداية، ويشرح صدورهم للِإيمان، ولا حرج عن فضل الله ولا يأس من رحمته. ولكن أكثر قصدي في هذه الكلمات كان إلى الشباب
--------------------------------------------
এর পশ্চাদপদতা ও দুর্বলতার (ضعف) কারণসমূহ, আর তাদের সেই দলটি আগে থেকে যা এঁকে রেখেছে এবং যে পথ ও পন্থার পরিকল্পনা করেছে, তারা একে সেখানে ঠেলে দিচ্ছে।
আমি যখন এই পৃষ্ঠাগুলো লিখেছিলাম, তখন তা লিখেছিলাম এই একদল ফিতনাকারীকে উন্মোচন করতে এবং তাদের সেই লক্ষ্য ও পদ্ধতি সম্পর্কে সতর্ক করতে যা আমার কাছে প্রকাশ পেয়েছে, যার মাধ্যমে আমি নিজেও একসময় অন্য প্রতারিতদের সাথে প্রতারিত হয়েছিলাম। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার জবান ও কলমের পূর্ববর্তী বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দেন। যদি আল্লাহ আমার হায়াত দীর্ঘ করেন, তবে আমি যা কিছু নষ্ট করেছি তার কিছু সংস্কার করার আশা রাখি, যা এখন পাঠকদের হাতে রয়েছে। এর অধিকাংশই ছিল একটি গবেষণাপত্র, যার মাধ্যমে আমি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন ফুয়াদ আল-আউয়াল) থেকে ‘ডক্টর অব লিটারেচার’ ডিগ্রি অর্জন করেছিলাম এবং পরবর্তীতে তা ‘আল-হিযা ওয়াল হিজ্জাউউন’ শিরোনামে প্রকাশ করি।
আমার নিজের সত্তা ও চিন্তাধারায় এই যে বিপর্যয় ঘটেছিল, তা আমাকে সেই মহাবিপদ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সচেতন করে তুলেছে যার মধ্যে এই ফিতনাকারীদের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা নিপতিত হচ্ছে। আর ধ্বংসকারীদের গোপন পদ্ধতি ও জালসমূহ উন্মোচনের মাধ্যমে তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমার মধ্যে তৈরি করেছে।
এটি স্পষ্ট যে, এই পৃষ্ঠাগুলো ধ্বংসকারীদের সকল তৎপরতা অনুসন্ধান করে না, তাদের সকল বিচরণক্ষেত্রকেও পরিবেষ্টন করে না এবং সংখ্যা দিয়ে তা গণনাও করে না। তবে এটি এমন কিছু নমুনা উপস্থাপন করে যা অনুপ্রবেশ (دس), জালিয়াতি (تزييف), ধ্বংস ও নাশকতার ক্ষেত্রে তাদের পদ্ধতিগুলোকে উন্মোচন করে। এই পদ্ধতিগুলোর অনিষ্ট কোনো নির্দিষ্ট দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমগ্র আরব বিশ্বে, এমনকি মুসলিম দেশসমূহে, তথা গোটা প্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা প্রাচ্যের জাগরণের সময় তাকে বিষপান করাচ্ছে যেন তার পুনর্জাগরণ সঠিক না হয়, এবং তাকে এমন এক গহ্বরের দিকে নিয়ে যেতে চায় যার মধ্যে সমগ্র পাশ্চাত্য—তার পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অংশই—নিপতিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পাঠক অচিরেই জানতে পারবেন যে, এই সকল প্রচার-প্রচারণার পেছনে রয়েছে ধ্বংসাত্মক বিশ্ব জায়নবাদের হাত, যারা এই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হওয়ার এবং পৃথিবীর সকল মানুষকে ইহুদিদের দাসে পরিণত করার লালসা রাখে।
তাই এই পৃষ্ঠাগুলোতে আমার উদ্দেশ্য এমন লোকদের আশ্বস্ত করা নয় যাদের ভয়াবহতা সম্পর্কে আমি সতর্ক করছি; কারণ তাদের অধিকাংশই হলো প্রচারক, তারা সত্যের অন্বেষী নয়। আল্লাহ তাদের হিদায়াত দান না করলে এবং ঈমানের জন্য তাদের বক্ষ উন্মোচিত না করলে কোনো কিছুই তাদের এই ভ্রষ্টতা থেকে বের করে আনতে পারবে না; আর আল্লাহর অনুগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই এবং তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হওয়ারও কিছু নেই। বরং এই কথাগুলোর মাধ্যমে আমার মূল লক্ষ্য ছিল যুবসমাজ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
خاصة، أنبههم إلى ما قد يخفى عليهم من حيل الهدامين وأساليبهم. وشيء آخر كان بين عيني أيضاً حين كتبت هذه الكلمات، وهو أن أقوم بواجب في عنقي نحو ولاة أمورنا، وأن أعينهم بالنصح فيما أعلم ابتغاء لثواب الله، وإبراءً للذمة من عهدة لا تبرئنى منها إلَّا هذه الكلمات.
ولست أبالي أن يكون المنتفعون بهذه الكلمات والذين يعونها حق الوعي قلة من الناس، بل إني لا أطمع في أكثر من ذلك. ولكني أعلم أن الله سبحانه قد يْجُري خيراً كثيراً على يد نفر قليل إن أعان ووفق وبارك، وأنا أسأل الله العون والتوفيق، وأن يبارك جهود المخلصين ممن يبتغون بعملهم وجهه الكريم.
وصلى الله على سيدنا محمّد وعلى آله وسلم تسليمًا كثيراً.
في 9 رجب 1378 هـ
(18/ 1/ 1959 م)
محمّد محمّد حسين
বিশেষত, আমি তাঁদের সেই সকল ধ্বংসাত্মক চক্রান্ত ও কৌশলের প্রতি সতর্ক করছি যা হয়তো তাঁদের অগোচরে থেকে যেতে পারে। এই কথাগুলো লেখার সময় আমার সামনে আরও একটি বিষয় ছিল, আর তা হলো আমাদের উলুল আমরের প্রতি আমার ওপর অর্পিত কর্তব্য পালন করা এবং আল্লাহর নিকট সওয়াব লাভের আশায় ও নিজের দায়মুক্তির লক্ষ্যে আমার জানা মতে সদুপদেশের মাধ্যমে তাঁদের সহযোগিতা করা; কেননা এই কথাগুলো ব্যতীত অন্য কোনো কিছু আমাকে এই জিম্মাদারি থেকে মুক্ত করতে পারত না।
আমি এই পরোয়া করি না যে, এই কথাগুলো থেকে উপকৃত হওয়া এবং এগুলো যথাযথভাবে অনুধাবনকারী মানুষের সংখ্যা হবে অতি সামান্য; বরং আমি এর চেয়ে বেশি কিছু প্রত্যাশাও করি না। তবে আমি জানি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যদি সাহায্য, তাওফিক ও বরকত দান করেন, তবে তিনি অল্প কিছু মানুষের মাধ্যমেও প্রভূত কল্যাণ জারি করতে পারেন। আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং সেই সব মুখলিস ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় বরকত কামনা করছি যারা তাঁদের কর্মের মাধ্যমে কেবল তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করেন।
আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
৯ রজব ১৩৭৮ হিজরি
(১৮/ ১/ ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ)
মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ হুসাইন
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
في الدراسات النفسية والاجتماعية
মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক গবেষণায়
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
حُصُوننَا مُهَدَّدة مِن دَاخِلهَا*يظن بعض الناس أن الدول القوية هي التي تملك عدداً ضخمًا من عدد القتال وآلاته، وتنتج مقادير هائلة من الصناعات التي تغمر أسواق العالم. وحقيقة الأمر أن هذه الدول لا تتاح لها القوة حتى يكون من وراء كل هذه العدة الهائلة وذلك الإِنتاج الضخم خلق متين يجمع أهلها ويشد بعضهم إلى بعض، ويعطف كل واحد منهم على أخيه، ويمنع عناصر الفساد وأسباب الفرقة والخلاف أن تتسرب إلى صفوفهم وتنخر عظامهم. إن الدول لا تسود ولا تعلو بالحديد والنار ولا بالمال، ولكنها تسود وتعلو بالخلق المتماسك. وأعلى مصادر الخلق المتماسك وأعمقها جذوراً وأدومها أثراً هو الدين، فهو الذي يجمع الناس على التواد والتراحم ويقيهم ما طبعت عليه النفس البشرية من الشح، ويكف بعضهم عن بعض. وهذه هي دول الغرب، يستطيع كل ذي بصر أن يرى - كما رأى المؤرخ الإِنجليزي توينبي من قبل، منذ الحرب العالمية الأولى - مظاهر تدهورها وإنحلالها وهي في كامل مجدها الصناعي والآلي، لم يعوزها المال ولم تنقصها الآلات ولا المعارف الفنية ولا العلوم العقلية، ولكن أعوزها الخلق والدين، فسرى الفساد في جسدها ودب الخلاف في صفوفها. إن مظهر هذه الدول الضخم قد يخدع كثيراً من الناس فيظنون أن نهايتها بعيدة، والحقيقة أن الدول الكبيرة لا تضمر ولا تذوي ولا تنكمش، ولكنها تنهار كما ينهار عمود الخشب الضخم الذي نخر السوس لبه.
--------------------------------------------
আমাদের দুর্গসমূহ ভেতর থেকেই হুমকির সম্মুখীন*কিছু মানুষ মনে করে যে, শক্তিশালী রাষ্ট্র তারাই যারা বিশাল সমরসম্ভার ও যুদ্ধ সরঞ্জামের অধিকারী এবং যারা বিপুল পরিমাণ শিল্পপণ্য উৎপাদন করে যা বিশ্বের বাজারগুলোকে সয়লাব করে দেয়। কিন্তু প্রকৃত সত্য এই যে, এই রাষ্ট্রগুলো ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত শক্তি লাভ করতে পারে না, যতক্ষণ না এই বিশাল সরঞ্জাম ও বিপুল উৎপাদনের নেপথ্যে এমন এক সুদৃঢ় চরিত্র বিদ্যমান থাকে যা তার অধিবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করে, তাদের পারস্পরিক বন্ধনকে সুসংহত করে, একে অপরের প্রতি দয়াশীল করে তোলে এবং তাদের কাতারে দুর্নীতির উপাদান ও অনৈক্য ও বিবাদের কারণসমূহের অনুপ্রবেশ রোধ করে তাদের ভিত্তিকে ভেতর থেকে কুরে খাওয়া থেকে রক্ষা করে। রাষ্ট্রসমূহ কেবল লোহা, অগ্নি কিংবা সম্পদের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব বা উচ্চতা লাভ করে না; বরং তারা সুসংহত চরিত্রের মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্ব ও উৎকর্ষ লাভ করে। আর সুসংহত চরিত্রের সর্বোচ্চ উৎস, গভীরতম শিকড় এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব হলো ধর্ম; কারণ এটিই মানুষকে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়ার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করে এবং মানবাত্মার স্বভাবজাত কৃপণতা থেকে তাদের রক্ষা করে ও একে অপরের ওপর সীমালঙ্ঘন করা থেকে বিরত রাখে। আর এই হলো পশ্চিমা রাষ্ট্রসমূহ; যারই সামান্য অন্তর্দৃষ্টি আছে সে-ই দেখতে পায়—যেমনটি ব্রিটিশ ঐতিহাসিক টয়েনবি ইতিপূর্বে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই লক্ষ্য করেছিলেন—তাদের চরম শিল্প ও যান্ত্রিক উৎকর্ষের যুগেও তাদের অবক্ষয় ও পতনের লক্ষণসমূহ সুস্পষ্ট। তাদের সম্পদের অভাব ছিল না, যন্ত্রপাতির ঘাটতি ছিল না, এমনকি কারিগরি জ্ঞান বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিজ্ঞানেরও কোনো কমতি ছিল না; কিন্তু তাদের যে অভাবটি ছিল তা হলো চরিত্র ও ধর্ম। ফলে তাদের জাতীয় কাঠামোতে দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে এবং তাদের অভ্যন্তরে অনৈক্য দানা বেঁধেছে। এই রাষ্ট্রগুলোর বিশাল বাহ্যিক রূপ অনেক মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে, ফলে তারা মনে করতে পারে যে এদের পতন সুদূরপরাহত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বড় রাষ্ট্রগুলো হঠাৎ করে শুকিয়ে যায় না বা সংকুচিত হয় না, বরং তারা সেভাবেই ধসে পড়ে যেভাবে উইপোকায় খাওয়া একটি বিশাল কাঠের খুঁটি ভেতর থেকে ঝাঁঝরা হয়ে ধসে পড়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
كذلك انتهت كل الدول الكبرى من قبل، في أثينا وفي روما وفي بغداد وفي الأندلس وفي الأستانة. انتهت حين كانت ضخامتها ومظاهر الترف فيها تخدع الناظر عن السوس الذين ينخر عظامها.
وما ينبغي لنا أن نغفل عن هذا الدرس الماثل أمام أعيننا إن غفلنا عما حفظه التاريخ من دروس ومن عظات. يجب أن نعرف معرفة اليقين أن المتقدم الصناعي لا يغني عنا شيئاً إذا دبّ فينا دبيبُ الخلاف، فتفرقت بنا السبل وتوزعتنا الأهواء والآراء، ومزقتنا الدعوات المتنافرة التي ينقض بعضها بعضاً. والدين واللغة هما أهم دواعي الألفة والتماسك في كل مجتمع إنساني. فالدين هو الذي يوحّد العادات والأمزجة، فيجتمع الناس فيما يحبون وفيما يكرهون، وفيما يألفون وفيما يعافون، وفيما يستحسنونه وفيما ينفرون منه، على ألوان معينة من غذاء الأبدان والنفوس. واللغة هي الوعاء الذي يشتمل على ذلك كله، وهي أداة التفاهم التي لا يتم بدونها تواصل. ثم إنها بعد ذلك تجمع أمزجة الناس وأذواقهم على ألوان معينة من الأساليب البيانية في الجمال الفني. لذلك كانت المعاهد والمؤسسات التي تقوم على صيانة الدين واللغة هي بمثابة الحصون والمعاقل التي تسهر على حمايتنا وسلامتنا، وكانت العناية بأمرها خليقة أن تنال من اهتمامنا مثل ما تناله العناية بإِعداد العدة الحربية والصناعية بل أشد. وشر ما يطرأ على هذه المعاقل من الوهن أن تؤتىَ من بعض الذين وُكِلَ إليهم حمايتُها والدفاع عنها حين يخونون الأمانة، فيتسللون متلصصين إلى الأبواب يفتحونها للأعداء المهاجمين بِلَيْلٍ، والحماة الساهرون في غفلة لا يشعرون. من أجل ذلك سوف أتناول في هذه السلسلة بعض معاقل الدين واللغة، منبهاً إلى ما طرأ عليها من انحراف بعض حراسها.
ولا شك أن وزارات التربية والتعليم هي أهم هذه المعاقل والحصون الساهرة على أمن الشعوب وكيانها، لأنها هي المؤتمنة على أثمن ما تملكه الأمة من كنوز، وهى الثروة البشرية بما تنطوي عليه من قوى مادية ومن ملكات عقلية وخلقية، ممثلة في رجال الغد الذين تشرف على تربيتهم، وهي ثروة تتضاءل إلى جانبها كل كنوز الأرض، لأن كنوز الأرض لا تساوي شيئاً بدونها.
একইভাবে অতীতে এথেন্স, রোম, বাগদাদ, আন্দালুস এবং আস্তানার মতো সমস্ত বৃহৎ রাষ্ট্রের পতন ঘটেছে। তাদের পতন তখনই ঘটেছিল যখন তাদের বিশালত্ব ও বিলাসিতার আড়ম্বর দর্শকদের দৃষ্টিকে সেই ঘুণপোকা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল যা তাদের অস্থিমজ্জাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল।
ইতিহাস যেসব শিক্ষা ও উপদেশ সংরক্ষণ করেছে তা যদি আমরা ভুলেও যাই, তবুও আমাদের চোখের সামনে দেদীপ্যমান এই শিক্ষাটি উপেক্ষা করা আমাদের উচিত নয়। আমাদের নিশ্চিতভাবে জানা উচিত যে, যদি আমাদের মধ্যে বিভেদের পদধ্বনি প্রবেশ করে, তবে শিল্পোন্নত অগ্রগতি আমাদের কোনো উপকারে আসবে না; ফলে আমাদের পথগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, প্রবৃত্তি ও মতামত আমাদের বিভক্ত করে দেবে এবং পরস্পরবিরোধী দাওয়াতগুলো আমাদের ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে যা একে অপরকে নাকচ করে দেয়। যেকোনো মানবসমাজে ঐক্য ও সংহতির প্রধান মাধ্যম হলো দ্বীন ও ভাষা। ধর্মই মানুষের অভ্যাস ও মেজাজকে একসূত্রে গ্রথিত করে; ফলে মানুষ তাদের পছন্দ-অপছন্দ, সখ্যতা ও অনীহা এবং যা তারা ভালো মনে করে বা যা থেকে তারা দূরে থাকে—দেহ ও মনের নির্দিষ্ট প্রকারের খোরাকের ভিত্তিতে সেসব বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়। আর ভাষা হলো সেই আধার যা এই সবকিছুর ধারক এবং এটি পারস্পরিক উপলব্ধির এমন এক মাধ্যম যা ছাড়া কোনো যোগাযোগই সম্পন্ন হয় না। তদুপরি ভাষা মানুষের মেজাজ ও রুচিকে শৈল্পিক সৌন্দর্যের বিশেষ অলঙ্কারশৈলীর ওপর একত্রিত করে। এ কারণেই দ্বীন ও ভাষা সংরক্ষণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় নিয়োজিত অতন্দ্র দুর্গ ও কেল্লাস্বরূপ। এগুলোর তদারকি করা যুদ্ধ সরঞ্জাম ও শিল্প প্রস্তুতির মতোই গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে, বরং তার চেয়েও বেশি। এই কেল্লাগুলোর ওপর আপতিত নিকৃষ্টতম দুর্বলতা হলো, এর সুরক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত তারা যখন আমানতের খিয়ানত করে এবং রাতের অন্ধকারে চোরের মতো দরজায় সিঁধ কেটে আক্রমণকারী শত্রুদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়, আর অতন্দ্র প্রহরীরা অসতর্কতার কারণে তা টেরও পায় না। এই কারণেই আমি এই ধারাবাহিকে দ্বীন ও ভাষার কিছু দুর্গ নিয়ে আলোচনা করব এবং এর কিছু প্রহরীর বিচ্যুতির বিষয়ে সতর্ক করব।
নিঃসন্দেহে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হলো জনগণের নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব রক্ষাকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ। কেননা এটি উম্মাহর মালিকানাধীন সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের আমানতদার; আর তা হলো মানবসম্পদ—যার মধ্যে বস্তুগত শক্তি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক প্রতিভা নিহিত রয়েছে। এর সার্থক রূপ হলো ভবিষ্যতের সেই মানুষগুলো যাদের লালন-পালনের দায়িত্ব এই মন্ত্রণালয় পালন করে; এটি এমন এক সম্পদ যার পাশে পৃথিবীর সমস্ত ধনভাণ্ডার ম্লান হয়ে যায়, কারণ মানবসম্পদ ছাড়া পার্থিব কোনো সম্পদেরই মূল্য নেই।
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فالعقل هو الذي يستخرجها من مكامنها ويحيلها من مادة صماء جامدة إلى قوة حية منتجة، والخلق المديني هو الذي يدفع الناس إلى إعمال هذا العقل في الطريق الصحيح، وإلى بذل الجهد فيما وكل إليهم من أمور، أداءًا للأمانة، وابتغاءاً للعزة والسيادة وإعلاء الحق.
وقد أصبحت مطامع أمريكا في هذه المنطقة وعداوتُها لحماتها الذين يتصدون لحراستها ويتزعمون نهضتها مشهورة لا تخفى ولا تحتاج إلى تنبيه. فاتصال القائمين على شؤون التربية والتعليم في هذه الأمة العربية بالؤسسات الأمريكية، والتعاوُن معها في ترويج مبادئ وأساليب يقال إن المقصود بها هو رفع مستوى التعليم وإصلاح شؤون الجيل الجديد، أمر لا يصدّقه العقل ولا يتفق مع ما يبذلون من محاولات ظاهرة وخفية لابتلاع هذه الأمة والكيد لها. فالذين يشتركون في المؤتمرات الأمريكية، والذين يتعاونون مع دور النشر الأمريكية، وكلها يموَّل من مصادر مريبة، يَسْخرون من عقولنا، ويخدعون أنفسهم إن زعموا أنهم يخدمون أمتهم بالاشتراك في هذه المؤسسات، لأن الأموال الأمريكية التي تنفق بسخاء يبلغ حد السّفه على هذه المؤتمرات وعلى هذه الدور لا يمكن أن تستهدف خير هذه الأمة ونفع أهلها.
وقد وقع بين يدي في هذه الأيام كتاب أصدرته الجامعة الأمريكية ببيروت في العام الماضي (يوليو 1956)، يحتوي على محاضرات في نظم التربية، هي سجل لما دار في مؤتمر دعت إليه هذه الجامعة، واشترك فيه جماعة من كبار المسؤولين عن التربية في مصر وفي سوريا والعراق والاردن ولبنان. وقد مُثِّلت ثلاثة من هذه البلاد في ذلك المؤتمر الأمريكي بثلاثة وزراء سابقين للتربية والتعليم. فمثلت مصر باسماعيل القباني، ومثلت العراق بعبد الحميد كاظم، ومثلت الأردن بأحمد طوقان، والأخيران من تلاميذ الجامعة الأمريكية الداعية لعقد هذا المؤتمر، وقد كان العضو الأردني يشغل عند عقد هذا المؤتمر منصب مستشار لشؤون اللاجئين الفلسطينيين في منظمة الإِغاثة الدولية. أما البلدان الباقيان - سوريا ولبنان - فقد مثلهما رجلان من كبار المسؤولين عن التعليم وهما جميل صليبا عميد كلية التربية في الجامعة السورية، ونجيب صدقة المدير العام لوزارة التربية الوطنية والفنون في لبنان. وقد اشترك مع إسماعيل القباني
বস্তুত বুদ্ধিই তাকে তার নিগূঢ় স্থান থেকে বের করে আনে এবং তাকে একটি নির্জীব ও জড় পদার্থ থেকে এক জীবন্ত ও উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপান্তরিত করে। আর নাগরিক উন্নত চরিত্রই মানুষকে এই বুদ্ধিবৃত্তিকে সঠিক পথে প্রয়োগ করতে এবং তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হতে উদ্বুদ্ধ করে; যা মূলত আমানত রক্ষা, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন এবং সত্যকে সমুন্নত রাখারই নামান্তর।
এই অঞ্চলে আমেরিকার অশুভ লালসা এবং এর রক্ষক—যারা একে রক্ষা করতে সচেষ্ট এবং এর জাগরণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন—তাদের প্রতি আমেরিকার শত্রুতা আজ সুবিদিত, যা কোনোভাবেই গোপন নয় এবং যার প্রতি বিশেষ সতর্কবাণীর প্রয়োজন নেই। এমতাবস্থায় এই আরব উম্মাহর শিক্ষা ও দীক্ষা বিষয়ক নীতিনির্ধারকদের আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং শিক্ষা মানোন্নয়ন ও নতুন প্রজন্মের সংস্কারের দোহাই দিয়ে এমন সব নীতি ও পদ্ধতির প্রচার-প্রসারে তাদের সাথে সহযোগিতা করা যা বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়। এটি এই উম্মাহকে গ্রাস করার এবং তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার লক্ষ্যে পরিচালিত তাদের প্রকাশ্য ও গোপন প্রচেষ্টার সাথে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়। সুতরাং যারা আমেরিকান সম্মেলনগুলোতে অংশগ্রহণ করেন এবং যারা আমেরিকান প্রকাশনা সংস্থাগুলোর সাথে সহযোগিতা করেন—যেগুলোর সবই সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থায়ন করা হয়—তারা মূলত আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে উপহাস করছেন। আর তারা যদি দাবি করেন যে, এই সকল প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা নিজ উম্মাহর সেবা করছেন, তবে তারা নিজেদেরই প্রতারিত করছেন। কারণ, আমেরিকান অর্থ যা এই সম্মেলন ও প্রকাশনা সংস্থাগুলোর পেছনে চরম মূর্খতা ও অবিবেচনার সাথে ব্যয় করা হয়, তার লক্ষ্য কখনোই এই উম্মাহর কল্যাণ বা এর জনগণের উপকার হতে পারে না।
সম্প্রতি আমার হাতে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি কর্তৃক বিগত বছরে (জুলাই ১৯৫৬) প্রকাশিত একটি বই এসেছে। এতে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর কিছু বক্তৃতার সংকলন রয়েছে, যা মূলত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আহূত একটি সম্মেলনে সম্পাদিত কার্যক্রমের বিবরণী। মিশরের পাশাপাশি সিরিয়া, ইরাক, জর্ডান এবং লেবাননের একদল ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই আমেরিকান সম্মেলনে উক্ত দেশগুলোর মধ্যে তিনটির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনজন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। মিশরের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন ইসমাইল আল-কাব্বানি, ইরাকের পক্ষে ছিলেন আব্দুল হামিদ কাজিম এবং জর্ডানের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন আহমদ তুকান। শেষোক্ত দুজন ছিলেন এই সম্মেলনের আহ্বানকারী আমেরিকান ইউনিভার্সিটিরই প্রাক্তন ছাত্র। সম্মেলন চলাকালীন জর্ডানি সদস্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থায় ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক উপদেষ্টার পদে আসীন ছিলেন। আর বাকি দুটি দেশ—সিরিয়া ও লেবানন—এর প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন শিক্ষা খাতের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা; তারা হলেন সিরিয়ান ইউনিভার্সিটির শিক্ষা অনুষদের ডিন জামিল সালিবা এবং লেবাননের জাতীয় শিক্ষা ও কলা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক নাজিব সাদাকা। ইসমাইল আল-কাব্বানির সাথে আরও অংশগ্রহণ করেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
في هذا المؤتمر عضو مصري آخر هو حامد عمار الأستاذ في معهد التربية العالي بجامعة عين شمس ورئيس قسم التدريب في المركز الدولي للتربية الأساسية في العالم العربي بسرس الليان.
وهذا المركز الدولي للتربية الأساسية في العالم العربي لا عمل له إلا (سلخ) الريف العربي من دينه وخلقه وعروبته، و (طبعه) بالطابع الأمريكي، وهو يتولى هذه المهمة إتماماً لما بذله الغرب من جهود في فرنجة هذه المنطقة، بعد أن تبين المستشرقون الذين يبحثون في شؤون هذا الشرق الإِسلامي والعربي أن تأثير الفرنجة أو ما يسمون (westernization) لم يتجاوز المدن، لأن كل الوسائل والأساليب التي يستخدمها الغربيون في هذا الصدد من صحافة ودعاية ومؤسسات علمية أو اجتماعية وسينما وشراء للأقلام وللذمم وللرجال إلى آخر ما هنالك، كل ذلك لا يصل إلى الريف، ولا يتجاوز حدود المدن. فما الذي صنعته امريكا لتلافي هذا النقص، والاحتيال لدخول الريف الذي عجز التبشير وعجزت الأساليب الاستعمارية العتيقة عن اقتحامه إلى ما قبل الحرب العالمية الأخيرة؟ اخترعت أمريكا تحت ستار (الدولية) وعن طريق (الأمم المتحدة) شيئاً اسمه "التربية الأساسية". وما هي التربية الأساسية؟ يقول الدكتور حامد عمار في بحثه الذي ألقاه في هذا المؤتمر الأمريكي: "التربية الأساسية منهج من مناهج الإِصلاح الاجتماعي لرفع مستوى المعيشة يؤكد قيمة العملية التربوية وتغيير الأفكار والنزعات إلى جانب تغيير الأوضاع المادية - ص 92 محاضرات في نظم التربية". ويقول في موضع آخر: "تسعى التربية الأساسية إلى محاولة تغيير الأفكار والنزعات والاتجاهات، كما تسعى إلى تغيير في الأوضاع المادية في الدائرة التي تلتزمها. ويؤمن دعاة التربية الأساسية أن كل عمل أو مشروع مادي لا بد أن يسبقه ويصاحبه ويتبعه تغيير في تفكير الناسِ، وفي الاتجاهات الفكرية والنفسية، حتى يمكن أن يكون العمل منتجاً إنتاجاً كاملًا - ص 85".
وواضح أن تغيير الأفكار والنزعات والاتجاهات الذي أشار إليه الباحث يقوم على أسس غريبة خالصة، تروَّج باسم العلم - علم مزعوم لا يستقر له قرار ولا يقطع في ظاهرة برأيٍ يتفق عليه أصحابُ الرأي، يسمونه "علم
এই সম্মেলনে মিশরের আরেকজন সদস্য হলেন হামিদ আম্মার, যিনি আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এবং সিরস আল-লাইয়ানে অবস্থিত আরব বিশ্বের মৌলিক শিক্ষার আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান।
আরব বিশ্বের এই মৌলিক শিক্ষার আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের কাজ কেবল আরব গ্রামাঞ্চলকে তার দ্বীন, চরিত্র এবং আরবীয় সত্তা থেকে (বিচ্ছিন্ন করা) এবং তাকে মার্কিন (আদলে গড়ে তোলা) ব্যতীত আর কিছুই নয়। এই কেন্দ্রটি সেই মিশন বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছে যা পশ্চিমারা এই অঞ্চলকে পাশ্চাত্যকরণের প্রচেষ্টার পরিপূরক হিসেবে গ্রহণ করেছে। প্রাচ্যবিদরা, যারা এই ইসলামি ও আরব প্রাচ্যের বিষয়াবলি নিয়ে গবেষণা করেন, তারা যখন দেখলেন যে পাশ্চাত্যকরণ বা যাকে (পাশ্চাত্যায়ন) বলা হয়, তার প্রভাব কেবল শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল; কারণ পশ্চিমারা এক্ষেত্রে যে সমস্ত মাধ্যম ও পদ্ধতি ব্যবহার করে—যেমন সংবাদমাধ্যম, প্রচার-প্রচারণা, বৈজ্ঞানিক বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান, চলচ্চিত্র এবং কলম, বিবেক ও ব্যক্তি ক্রয় থেকে শুরু করে যা কিছু আছে—তার কোনোটিই গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছায় না এবং শহরের সীমানা অতিক্রম করে না। সুতরাং এই ঘাটতি মেটানোর জন্য এবং গত বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত মিশনারি তৎপরতা ও প্রাচীন ঔপনিবেশিক পদ্ধতি যে গ্রামাঞ্চলে অনুপ্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়েছিল, সেখানে প্রবেশের কূটকৌশল হিসেবে আমেরিকা কী উদ্ভাবন করল? আমেরিকা 'আন্তর্জাতিকতা'র আড়ালে এবং 'জাতিসংঘ'র মাধ্যমে 'মৌলিক শিক্ষা' নামক একটি ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছে। এই মৌলিক শিক্ষা কী? ডক্টর হামিদ আম্মার এই মার্কিন সম্মেলনে উপস্থাপিত তাঁর গবেষণায় বলেন: "মৌলিক শিক্ষা হলো জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য সামাজিক সংস্কারের এমন একটি পদ্ধতি, যা শিক্ষাপ্রক্রিয়ার গুরুত্ব এবং বৈষয়িক অবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি চিন্তাধারা ও প্রবণতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে - শিক্ষা ব্যবস্থা বিষয়ক বক্তৃতামালা, পৃ. ৯২।" তিনি অন্য এক স্থানে বলেন: "মৌলিক শিক্ষা তার কর্মপরিধিতে বৈষয়িক অবস্থার পরিবর্তনের চেষ্টার পাশাপাশি মানুষের চিন্তাধারা, প্রবৃত্তি ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের চেষ্টা করে। মৌলিক শিক্ষার প্রবক্তারা বিশ্বাস করেন যে, প্রতিটি কাজ বা বৈষয়িক প্রকল্পের আগে, সাথে এবং পরে মানুষের চিন্তাভাবনা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন অবশ্যই হতে হবে, যাতে সেই কাজটি পূর্ণাঙ্গ ফলপ্রসূ হতে পারে - পৃ. ৮৫" ।
এটা স্পষ্ট যে, চিন্তাধারা, প্রবৃত্তি ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের যে ইঙ্গিত গবেষক দিয়েছেন, তা বিশুদ্ধ বিজাতীয় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। যা বিজ্ঞানের নামে প্রচার করা হয়—এমন এক তথাকথিত বিজ্ঞান যার কোনো স্থির ভিত্তি নেই এবং কোনো বিষয়ে বিজ্ঞজনদের মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট ও সর্বসম্মত অভিমত নেই, যাকে তারা বলেন "বিজ্ঞান
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
النفس" - وواضح أيضاً أن هذا (التغيير) - تغيير الأفكار والنزعات والاتجاهات - لا يبالي أن يخالف الإِسلام وتعاليمه في الريف المسلم، لأن القائم على هذا (التغيير) ليس هو مشيخة الأزهر، ولكن القائم عليه هم مجموعة من الخواجات) يختفون خلف الشخوص العربية التي تبدو للناظر وكأنها تتحرك بإرادتها، وواقع الأمر أنها لا إرادة لها، وأنها تسير في خطوط مرسومة، وحسب خطط مدبرة قدرها أناس أقل ما يوصفون به أنهم لا يبالون بإِلاسلام وتعاليمه، دائماً يكونوا معادين لها يعملون على محوها واستئصالها من نفوس الناس. ولهم في ذلك أساليب خبيثة يتسللون عن طريقها إلى قلوب أهل الريف السذج الغافلين. وسوف لا أصف لك أنا هذه الأساليب ولكني سأدع العضو العربي المحترم في هذا المؤتمر الأمريكي يقدم لك صوراً منها بألفاظه كما جاءت في الكتاب الذي بين يدي.
فأول مراحل العمل في الريف هي "مرحلة التعرف"، (وهدفها أن يتحسس العامل الاجتماعي طريقه في القرية بصورة عامة وأن يألفه الناس ويألفهم
… ومن المستحسن أن تكون هذه المرحلة من العمل مرحلة فيها شىِء من الاسترخاء وأخذ الأمور بمأخذ غير محدد، إذ أن هذا الهدوء والاسترخاء ضروريان لتأسيس العلاقات الاجتماعية وتنميتها، وبخاصة إذا تذكرنا أن الفلاح سريعاً ما تأخذه الريبة ويتولاه الشك إذا تعيين إلحاحاً من غريب عليه في أمر من الأمور
… ثم إنه لا بد من التعرف على قادة القرية الطبيعيين الذين يعتبرون عناصر فعالة في تكوين الرأي العام والتأثير فيه
… وليس من المهم أن يكون هؤلاء القادة من النوع الذي يرغب فيه المصلح، لكنه لا بد من الاعتراف بهم واستغلالهم).
(وإذا كان التعرف يتطلب الاتصال والزيارة ومبادلة الحديث فإِن هذا شرط لازم، وليس بكاف في كثير من الأحيان. وربما كان القيام بعمل إنشائي سريع من أنجح الوسائل لكسب الثقة وتأسيس علاقة طيبة مع الأهلين
… وقد تبين بالتجربة أن دق طلمبة مياه بالقرية، أو إصلاح خزان المياه بالجامع، أو مقاومة الآفات الحشرية في الزراعة، كان من أقوى العوامل التي وثَّقت الصلة بين أهل القرية ويبن المشرفين على مختلف جوانب الخدمة الاجتماعية
"নফস" - এবং এটিও স্পষ্ট যে এই (পরিবর্তন) - অর্থাৎ চিন্তা-চেতনা, প্রবৃত্তি এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন - মুসলিম গ্রামাঞ্চলে ইসলাম এবং এর শিক্ষার বিরোধিতা করতে পরোয়া করে না। কারণ, এই (পরিবর্তন) প্রক্রিয়ার পরিচালক আল-আজহারের শায়খগণ নন, বরং এর পরিচালকগণ হলেন একদল (বিদেশি), যারা এমন সব আরব ব্যক্তিদের আড়ালে লুকিয়ে থাকে যাদেরকে দেখে দর্শকদের মনে হয় তারা যেন নিজ ইচ্ছায় পরিচালিত হচ্ছে। অথচ বাস্তব বিষয় হলো এই যে, তাদের নিজস্ব কোনো ইচ্ছা নেই; তারা সুনির্দিষ্ট রেখা ধরে এবং সুপরিকল্পিত নকশা অনুযায়ী চলে। যারা এই পরিকল্পনা তৈরি করেছে তাদের সম্পর্কে ন্যূনতম যে বিশেষণটি দেওয়া যায় তা হলো, তারা ইসলাম ও এর শিক্ষার পরোয়া করে না; বরং তারা সর্বদা এর শত্রু এবং মানুষের অন্তর থেকে একে মুছে ফেলার ও নির্মূল করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। এই উদ্দেশ্যে তাদের কিছু ঘৃণ্য পদ্ধতি রয়েছে যার মাধ্যমে তারা সরলমনা এবং অসতর্ক গ্রামবাসীদের হৃদয়ে অনুপ্রবেশ করে। আমি আপনাকে এই পদ্ধতিগুলোর বর্ণনা দেব না, বরং এই আমেরিকান সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সেই সম্মানিত আরব সদস্যের কথাগুলোই তার নিজের ভাষায় আপনার সামনে তুলে ধরব, যা আমার হাতে থাকা কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
গ্রামীণ কাজের প্রথম পর্যায় হলো "পরিচিতি পর্ব", (যার লক্ষ্য হলো সামাজিক কর্মী যেন সাধারণভাবে গ্রামে তার পথ খুঁজে নিতে পারেন এবং গ্রামবাসীরা তার সাথে ও তিনি গ্রামবাসীদের সাথে পরিচিত হতে পারেন
… এটি বাঞ্ছনীয় যে কাজের এই পর্যায়ে কিছুটা শিথিলতা থাকবে এবং বিষয়গুলোকে কোনো সুনির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতায় না ফেলে সহজভাবে গ্রহণ করা হবে। কারণ, সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন ও বিকাশের জন্য এই প্রশান্তি ও শিথিলতা জরুরি। বিশেষ করে যখন আমরা মনে রাখি যে, কোনো অপরিচিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত পীড়াপীড়ি দেখলে কৃষক দ্রুত সন্দিহান হয়ে পড়ে এবং তার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়
… এরপর অবশ্যই গ্রামের স্বাভাবিক নেতৃত্বকে চিনে নিতে হবে, যারা জনমত গঠন ও তাতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে কার্যকর উপাদান হিসেবে বিবেচিত হন
… এটা জরুরি নয় যে এই নেতারা সংস্কারকের পছন্দমতো চরিত্রের হবেন, তবে তাদের অস্তিত্ব স্বীকার করা এবং তাদের কাজে লাগানো অপরিহার্য)।
(যদি পরিচিতি পর্বের জন্য যোগাযোগ, সাক্ষাৎ এবং আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন হয়, তবে এটি একটি আবশ্যক শর্ত, যদিও অনেক ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট নয়। গ্রামবাসীদের আস্থা (الثقة) অর্জন এবং তাদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের জন্য সম্ভবত কোনো দ্রুত নির্মাণমূলক কাজ সম্পন্ন করা সবচেয়ে সফল মাধ্যমগুলোর একটি হতে পারে
… অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, গ্রামে একটি পানির পাম্প বসানো, অথবা মসজিদের পানির ট্যাংক মেরামত করা, কিংবা কৃষিতে পোকামাকড় দমন করা ছিল এমন এক শক্তিশালী মাধ্যম যা গ্রামবাসীদের সাথে সামাজিক সেবার বিভিন্ন দিক তদারককারী কর্মকর্তাদের সম্পর্ককে সুদৃঢ় করেছে।
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
فيها. وأذكر أن زجاجات قطرة العيون كانت من أهم الوسائل التي اكتسبت بها آنسات المركز الدولي للتربية الأساسية ثقة نساء القرية - ص 98 إلى 100).
ويتكلم الدكتور حامد عمار بعد ذلك عن المرحلة الثانية وهي "مرحلة الدراسة والبحث" التي "يقوم فيها المشتغل بميدان التربية الأساسية أو الخدمة الاجتماعية بجمع المعلومات والبيانات اللازمة جمعاً منظمًا، بحيث تكون معرفته لظروف القرية معرفة لا تقوم على مجرد الإِحساس، بل على الاستقصاء للحقائق وتنظيمها، حتى يستعين بها في رسم خطته وتنفيذ برنامجه
… ومن البحوث المفيدة أيضاً تشكيل مختلف العادات والطقوس التقليدية التي تشكل حياة الريفيين وتعالج كثيراً من نواحي نشاطهم
… ومن الأمور العملية المفيدة في هذه البحوث الكيفية الاحتفاظ بمذكرات أو يوميات يسجل فيها الباحث ملاحظاته ومجريات الحوادث وظروف العمل أثناء إقامته في الريف. ولا شك أن مثل هذه المذكرات هي المادة الخام التي تستطيع أن تعتمد عليها في فهم ظروف الحياة الريفية فهمًا ديناميكياً يتميز بغنى الواقع وتفاصيل الحياة اليومية - ص 100 إلى 101".
من الذي يشرف على إدارة هذا الجهاز، وعلى جمع كل هذه المعلومات والدقائق؟ هيئة أجنبية، وليكن إسمها ما يكون. لتكن هي "التربية الأساسية" أو "النقطة الرابعة" أو ما شئت من هذه العناوين المختلفة.
هل هناك وسيلة للجاسوسية أضمن وأرخص وآمن من هذه؟ تجمع الهيئة وسماسرتها، الخبيث منهم والغفل، ما شاءت من المعلومات في هدوء واطمئنان، دون أن يثير عملها ريبة أحد. بل إنها تلقى المساعدة الكاملة من الجهاز الحكومي، وتيسر لها سبل توثيق الصلات بالناس، وتترك لها الفرص لتعمل في بطء وفي مهل وفي غير عجلة. فهم جواسيس في ثياب أطباء، يؤتمنون على كل أسرار المريض الذي لا يخفي منها شيئاً طلباً للشفاء؛ فإِذا هذه الأسرار تُستغل في الغدر به. وإذا هي تدرس لاختيار أفعل الوسائل لقتله وأمثل السبل لامتصاص ما بقي في عروقه من دم.
أتريد بعد ذلك أن أحدثك عن هدف آخر مهم من أهداف هذه
সেখানে। আমার মনে পড়ছে যে, চোখের ড্রপের শিশিগুলো ছিল সেই সব গুরুত্বপূর্ণ উপায়ের অন্যতম, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মৌলিক শিক্ষা কেন্দ্রের তরুণীরা গ্রামের নারীদের আস্থা (ثقة) অর্জন করেছিল - পৃ. ৯৮ থেকে ১০০।
এরপর ডক্টর হামিদ আম্মার দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ "অধ্যয়ন ও গবেষণা পর্যায়" সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেখানে "মৌলিক শিক্ষা বা সমাজসেবা ক্ষেত্রে নিয়োজিত ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত সুসংগঠিতভাবে সংগ্রহ করেন; যাতে গ্রামীন পরিস্থিতি সম্পর্কে তার জ্ঞান কেবল অনুভূতির ওপর নির্ভরশীল না হয়, বরং তা হয় তথ্যানুসন্ধান ও বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে, যেন তিনি তার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তা থেকে সহায়তা নিতে পারেন
… উপকারী গবেষণাসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে গ্রামীণ মানুষের জীবন গঠনকারী বিভিন্ন অভ্যাস ও ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতির রূপরেখা তৈরি করা, যা তাদের কর্মকাণ্ডের অনেক দিক পরিচালনা করে
… এই গুণগত গবেষণাসমূহের ক্ষেত্রে একটি ফলপ্রসূ ব্যবহারিক বিষয় হলো ডায়েরি বা রোজনামচা সংরক্ষণ করা, যেখানে গবেষক গ্রামে অবস্থানকালে তার পর্যবেক্ষণ, ঘটনার প্রবাহ এবং কাজের পরিবেশ লিপিবদ্ধ করবেন। নিঃসন্দেহে এ ধরনের রোজনামচাগুলো হলো সেই কাঁচামাল, যার ওপর ভিত্তি করে গ্রামীণ জীবনের পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি গতিশীল ধারণা লাভ করা সম্ভব, যা বাস্তবতার প্রাচুর্য ও দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত - পৃ. ১০০ থেকে ১০১।"
এই ব্যবস্থার ব্যবস্থাপনা এবং এই সমস্ত তথ্য ও সূক্ষ্ম বিবরণ সংগ্রহের তত্ত্বাবধান কে করছে? কোনো এক বিদেশী সংস্থা, তার নাম যাই হোক না কেন। তা "মৌলিক শিক্ষা" হোক বা "চতুর্থ বিন্দু" (Point Four) হোক কিংবা আপনার পছন্দমতো অন্য কোনো শিরোনাম হোক।
গোয়েন্দাগিরির এর চেয়ে নির্ভরযোগ্য, সস্তা ও নিরাপদ আর কোনো মাধ্যম আছে কি? সংস্থাটি এবং তাদের দালালরা—চাই তারা ধূর্ত হোক বা অসচেতন—নিভৃতে ও নিশ্চিন্তে তাদের ইচ্ছামতো তথ্য সংগ্রহ করে, যেখানে তাদের কাজ কারো মনে কোনো সন্দেহের উদ্রেক করে না। বরং তারা সরকারি যন্ত্রের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহায়তা পায়, মানুষের সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার পথ তাদের জন্য সহজ করে দেওয়া হয় এবং ধীরেসুস্থে ও তাড়াহুড়ো ছাড়াই কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়। তারা মূলত চিকিৎসকের বেশে গোয়েন্দা, যাদের ওপর রোগীর যাবতীয় গোপন তথ্যের আমানত রাখা হয়, আর রোগী সুস্থতার আশায় কোনো কিছুই গোপন করে না; অথচ এই গোপন তথ্যগুলোই পরবর্তীতে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতার কাজে ব্যবহার করা হয়। আর এই তথ্যগুলোই তাকে হত্যার কার্যকর মাধ্যম এবং তার ধমনীতে অবশিষ্ট রক্ত শুষে নেওয়ার সর্বোত্তম উপায় নির্ধারণের জন্য অধ্যয়ন করা হয়।
এরপর কি আপনি চান যে আমি এই সংস্থাটির লক্ষ্যসমূহের মধ্য থেকে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সম্পর্কে আপনাকে বলি...
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المؤسسات الأجنبية المريبة؟ إن هذه المؤسسات تريد إفساد المرأة الريفية وفرنجتها. إنها تقوم باستئصال (حياء) المرأة الريفية المسلمة في النهار المبصر، وعلى مسمع من كل ذي أذنين. هل تريد دليلاً على ذلك؟ إذن فاقرأ بحث الدكتور هارولد ألن مدير التربية بمؤسسة الشرق الأوسط الذي ألقاه في مؤتمر أمريكي آخر تحدثت عنه من قبل وهو مؤتمر (الثقافة الإِسلامية والحياة المعاصرة (1)، وقد تولت نشره مؤسسة فرانكلين الأمريكية. راجع في هذا الكتاب مقال الدكتور ألن عن (العامل الريفي في الحضارة الإِسلامية - ص 261 إلى 288). وسوف تتبين بعد قراءته أن الأساليب التي وصفها هذا الامريكي مما اتُّبع في سوريا هي الأساليب نفسها التي وصفها الدكتور حامد عمار مما أتُّبع في مصر. وهذا الأسلوب الواحد الذي يذكرنا بأساليب الجواسيس والمبشرين يؤكد ما أسلفته من أن هذه الشخوص التي تبدو للناظر وكأنها تتحرك بإِرادتها لا تتحرك إلا حسب خطة واحدة قدرها الذين فضلوا أن يجذبوا الخيوط من خلف ستار. ولنقف قليلاً عند صفحتي 267، 268 من هذا المقال، حيث يقدم الكاتب صورة من بعوث أمريكا - أو البعوث الدولية إن شئت - التي تتغلغل إلى صميم البيئات الإِسلامية في الريف باسم الخدمات الاقتصادية والخدمات الفنية، أو الخدمات الاجتماعية، وسوف تدرك بسهولة أن الهدف الكبير لهذه المؤسسات - إلى جانب ما تنتفع به من معلومات تفيد الجاسوسية السياسية والحربية هو (أمركة الريف)، والاهتمام فيه بالمرأة خاصة وبتوجيه الحركة النسوية. سترى في هذا المقال أن هذه المؤسسة تختار موظفيها الذين يتعاملون مباشرة مع القرويين من الوطنيين ليكونوا أقرب إلى قلوب الناس. وسيروي لك الكاتب ما حدث في (قبر الست) وهي إحدى قرى سوريا. ذهب مبعوث المؤسسة الدولية - أو الأمريكية إن شئت - وهو شاب عربي أسمه "فؤاد فرج" إلى القرية ليعيش فيها، واستطاع أن يقيم في حجرة من الحجرات المخصصة لِإقامة زوار ضريح الست (والمقصود بها هي السيدة زينب رضي الله عنها حفيدة النبي صلى الله عليه وسلم، وأخذ يتلمس طريقه لممارسة نشاطه بعد أن وثق به أهل المنطقة واطمأنوا إليه،
--------------------------------------------
সন্দেহজনক বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো? এই প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রামীণ নারীদের চারিত্রিক অবক্ষয় ঘটাতে এবং তাদের পাশ্চাত্যকরণ করতে চায়। তারা দিবালোকে এবং সবার কর্ণগোচর করে মুসলিম গ্রামীণ নারীর লজ্জাশীলতা সমূলে উৎপাটন করছে। আপনি কি এর কোনো প্রমাণ চান? তাহলে মিডল ইস্ট ফাউন্ডেশনের শিক্ষা পরিচালক ডক্টর হ্যারল্ড অ্যালেনের গবেষণাটি পড়ুন, যা তিনি অন্য একটি মার্কিন সম্মেলনে পেশ করেছিলেন যে সম্পর্কে আমি আগে আলোচনা করেছি—আর সেটি হলো 'ইসলামী সংস্কৃতি ও সমকালীন জীবন' (১) সম্মেলন, যা আমেরিকান ফ্র্যাঙ্কলিন ফাউন্ডেশন প্রকাশ করেছে। এই বইটিতে 'ইসলামী সভ্যতায় গ্রামীণ উপাদান' (পৃষ্ঠা ২৬১ থেকে ২৮৮) শীর্ষক ডক্টর অ্যালেনের নিবন্ধটি দেখুন। এটি পড়ার পর আপনি স্পষ্ট দেখতে পাবেন যে, এই আমেরিকান সিরিয়ায় অনুসৃত যে পদ্ধতিগুলো বর্ণনা করেছেন, সেগুলো ঠিক সেই পদ্ধতি যা ডক্টর হামিদ আম্মার মিশরে অনুসৃত পদ্ধতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই অভিন্ন পদ্ধতি—যা আমাদের গোয়েন্দা ও মিশনারিদের পদ্ধতির কথা মনে করিয়ে দেয়—আমার সেই পূর্বোক্ত কথাকেই নিশ্চিত করে যে, বাহ্যত এই ব্যক্তিদের নিজেদের ইচ্ছায় পরিচালিত মনে হলেও তারা মূলত পর্দার আড়াল থেকে সুতা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিদের নির্ধারিত একটি অভিন্ন পরিকল্পনা অনুযায়ীই পরিচালিত হচ্ছে। আসুন এই নিবন্ধের ২৬৭ ও ২৬৮ পৃষ্ঠায় একটু থামি, যেখানে লেখক আমেরিকান মিশন—বা আপনি চাইলে আন্তর্জাতিক মিশন বলতে পারেন—এর একটি চিত্র তুলে ধরেছেন, যা অর্থনৈতিক সেবা, কারিগরি সেবা বা সামাজিক সেবার নামে গ্রামীণ এলাকার ইসলামী পরিবেশের গভীরে প্রবেশ করে। আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন যে, রাজনৈতিক ও সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান লক্ষ্য হলো 'গ্রামাঞ্চলের আমেরিকানকরণ' এবং সেখানে বিশেষভাবে নারী ও নারী আন্দোলনের দিকনির্দেশনার ওপর গুরুত্বারোপ করা। আপনি এই নিবন্ধে দেখতে পাবেন যে, এই প্রতিষ্ঠানটি গ্রামবাসীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগকারী কর্মচারীদের দেশীয়দের মধ্য থেকে নির্বাচন করে, যাতে তারা মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি হতে পারে। লেখক আপনাকে সিরিয়ার একটি গ্রাম 'কবর আল-সিত্ত'-এ যা ঘটেছিল তা বর্ণনা করবেন। আন্তর্জাতিক—বা চাইলে আমেরিকান বলতে পারেন—প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে "ফুয়াদ ফারাজ" নামক এক আরব যুবক গ্রামে বসবাসের জন্য যান। তিনি 'সিত্ত'-এর মাজারের (আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সায়্যিদা জয়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাতনি) দর্শনার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত একটি কামরায় থাকতে সক্ষম হন। এলাকার মানুষ তাকে বিশ্বাস করার ও তার প্রতি আশ্বস্ত হওয়ার পর তিনি তার কার্যক্রম পরিচালনার পথ খুঁজতে শুরু করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فنجح في إدخال بعض التحسينات الزراعية، وقدَّم ألواناً مختلفة من الخدمات الصحية بمعاونة السكان وتنظيمهم. رش المدينة كلها بمسحوق د. د. ت. للقضاء على الذباب والبعوض، وجفف الشوارع، وأنشأ نادياً للشبان: كما أنشأ دراسات مسائية في القراءة والكتابة للبالغين من الأميين، وكوَّن جمعية تعاونية. وبعد أن سرد الدكتور هارولد ألن ضروب النشاط التي قامت بها هذه المؤسسة الأجنبية ختم وصفه لهذه التجربة بالسطور التالية، التي تدل على الهدف الحقيقي لهذه البعثات. قال: "وفي السنة الماضية بدأ الرجال الذين يعيشون في محيط هذا الرائد - بعد أن تحسن اقتصادهم وصحتهم تحسناً كبيراً نتيجة لجهوده العلمية - يفكرون في حاجات نسائهم، وهذا هو ما ظل فؤاد فرج ينتظره زماناً. وقد أحيل الاقتراحِ إلى قسم رعاية المنزل بالمؤسسة المسؤولة عن هذا العمل. فأعدَّ برنامجاً للنساء والأطفال يدار من مكاتب قدمتها القرية بلا إيجار (1) ". ثم يعقب على ذلك بقوله: "إن المشروع الذي وصفناه هو جزء من تجربة تشمل اثنين وستين قرية، يبلغ مجموع سكانها ستة وعشرين ألفاً. وهو مثال لعشرات غيره من الجهود الفعالة المماثلة التي يمكن القيام بها -
ص 268".
وهدف ثالث من أهداف مؤسسات "التربية الأساسية" ربما كان أخطر من الهدفين السابقين وأعمق أثراً، هو تخريج جيل من الخبراء الاجتماعيين.
--------------------------------------------
তিনি কৃষিক্ষেত্রে কিছু উন্নয়ন সাধনে সফল হন এবং অধিবাসীদের সহায়তা ও সংগঠিত করার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন। মাছি ও মশা নির্মূলের জন্য তিনি পুরো শহরে ডি.ডি.টি. পাউডার ছিটানোর ব্যবস্থা করেন, রাস্তাঘাট শুষ্ক করেন এবং যুবকদের জন্য একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি তিনি নিরক্ষর বয়স্কদের জন্য পঠন ও লিখনের সান্ধ্যকালীন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন এবং একটি সমবায় সমিতি গঠন করেন। ডক্টর হ্যারল্ড অ্যালেন এই বিদেশী সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ দেওয়ার পর এই অভিজ্ঞতার বর্ণনা নিচের পঙ্ক্তিগুলোর মাধ্যমে শেষ করেন, যা এই মিশনগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য নির্দেশ করে। তিনি বলেন: "গত বছর এই অগ্রদূতের সংস্পর্শে বসবাসকারী পুরুষরা—যাদের অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা তার বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে—তাদের নারীদের প্রয়োজনের কথা ভাবতে শুরু করে। আর ফুয়াদ ফারাজ দীর্ঘকাল ধরে ঠিক এই বিষয়টিরই অপেক্ষায় ছিলেন। এরপর প্রস্তাবটি এই কাজের জন্য দায়বদ্ধ সংস্থার গৃহ-পরিচর্যা বিভাগে পাঠানো হয়। তারা নারী ও শিশুদের জন্য একটি কর্মসূচি প্রণয়ন করে, যা গ্রাম থেকে বিনা ভাড়ায় (১) প্রদান করা অফিসগুলো থেকে পরিচালিত হতো।" এরপর তিনি এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন: "আমরা যে প্রকল্পটি বর্ণনা করেছি তা একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগের অংশ যা বাষট্টিটি গ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মোট জনসংখ্যা ছাব্বিশ হাজার। এটি এ জাতীয় আরও কয়েক ডজন কার্যকর প্রচেষ্টার উদাহরণ যা বাস্তবায়ন করা সম্ভব—
পৃষ্ঠা ২৬৮।
'মৌলিক শিক্ষা' প্রতিষ্ঠানগুলোর তৃতীয় একটি উদ্দেশ্য রয়েছে, যা সম্ভবত পূর্ববর্তী দুটি উদ্দেশ্যের চেয়েও বিপজ্জনক এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পন্ন; আর তা হলো একদল সামাজিক বিশেষজ্ঞ তৈরি করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المصبوبين في قوالب أمريكية، أو قوالب صهيونية على الأصح، يلبس ثياب الغرب والمسلمين، ويتسمى بأسماء العرب والمسلمين، ويعمل في حكومات العرب والمسلمين لغير أهداف العرب والمسلمين. ولا يمضي وقت طويل حتى يصبح المشتغلون بشؤون الخدمة الاجتماعية وتنظيم الحياة العربية والاسلامية في شتى مناحيها من هؤلاء المتأمركين الذين يفسدون حين يزعمون أنهم يصلحون، ويهدمون حين يظنون ويظن المخدوعون بهم أنهم يبنون ويشيدون.
والآن بعد أن طال الحديث عن المركز الدولي للتربية الأساسية أنتقل إلى مقالات الأعضاء الذين تحدثوا عن شؤون التربية والتعليم في البلاد العربية، وهي الأساس في عقد هذا المؤتمر. والهدف من هذه البحوث التي دعي أصحابها لِإلقائها لا يخرج عن الهدفين السابقين اللذين أشرت إليهما من قبل: الجاسوسية، والسيطرة على توجيه المجتمع. ففي مثل هذه المؤتمرات يتيسر استقاء معلومات دقيقة من مصادر موثوق بها، كما يمكن معرفة الاتجاهات الفكرية لقادة الرأي والمسؤولين في هذه البلاد. وهذه المؤتمرات - مثل المؤسسات الأمريكية والدولية التي أشرت إليها من قبل - هي أضمن الوسائل وأرخصها وأوثقها لجمع المعلوماث الصحيحة الدقيقة التي تخدم الذين يرسمون الخطط السياسية والحربية لهذه المنطقة.
ثم إن هذه المؤتمرات هي - من ناحية أخرى - وسيلة، للاتصال القريب المباشر بالمسؤولين، يَعْجِمون عودهم، ويدرسونهم عن قرب، ويختبرون مدى مناعتهم ومدى استعدادهم للتجاوب مع الأهداف الخفية للسياسة الاستعمارية، كما يختبرون مواطن القوة ومواطن الضعف في كل واحد منهم لمعرفة أنجح الوسائل للاتصال بهم والتأثير عليهم. هذا إلى أن الكلام الذي يلقى في هذه المؤتمرات - وهو مجامل لا شك لوجهة نظر الداعي إلى المؤتمر - لا بد أن يلقى صدى في نفوس كثير من هؤلاء المسؤولين من المدعوين.
أما خدمة هذا المؤتمر لأغراض الجاسوسية الأمريكية التي ترسم الخطط السياسية والاجتماعية والاقتصادية لهذه المنطقة، فهي واضحة في كلمة الدكتور عبد الحميد كاظم وزير معارف العراق السابق، التي ألقاها في هذا المؤتمر، حيث أشار إلى ما طُلب منه إعداده حين وجهت إليه الدعوة، فقال: "إن
যারা মার্কিন ছাঁচে, বা আরও সঠিক অর্থে জায়নিস্ট ছাঁচে ঢালাই করা; যারা পশ্চিমা ও মুসলিমদের পোশাক পরিধান করে, আরব ও মুসলিমদের নাম ধারণ করে এবং আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সরকারে থেকে আরব ও মুসলিমদের লক্ষ্য বহির্ভূত কাজ করে। বেশি সময় অতিবাহিত হবে না যখন এই আমেরিকানপন্থীরাই আরব ও ইসলামি জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাজসেবা ও জীবন পুনর্গঠনের দায়িত্বে নিয়োজিত হবে, যারা সংশোধনের দাবি করে মূলত বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং তারা যখন মনে করে তারা নির্মাণ ও উন্নয়ন করছে—এবং প্রতারিতরা তাদের সম্পর্কে তেমনটাই ভাবে—আসলে তারা ধ্বংসই সাধন করে।
আন্তর্জাতিক মৌলিক শিক্ষা কেন্দ্র সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনার পর এখন আমি সেই সদস্যদের প্রবন্ধের দিকে ফিরে যাচ্ছি যারা আরব দেশগুলোর শিক্ষা ও দিক্ষা বিষয়ক আলোচনা করেছেন, যা মূলত এই সম্মেলন আয়োজনের ভিত্তি ছিল। এই গবেষণাপত্রগুলোর উদ্দেশ্য—যার রচয়িতাদের এগুলো পাঠ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল—তা পূর্বে উল্লিখিত দুটি উদ্দেশ্যের বাইরে নয়: গোয়েন্দাবৃত্তি এবং সমাজের দিকনির্দেশনার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। এ জাতীয় সম্মেলনগুলোর মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য (موثوق بها) উৎস থেকে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা সহজ হয়, পাশাপাশি এই দেশগুলোর জনমত গঠনকারী নেতা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের চিন্তাধারা সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞান লাভ করা যায়। এই সম্মেলনগুলো—আগে উল্লিখিত মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতো—সঠিক (صحيحة) ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের সবচেয়ে নিশ্চিত, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম, যা এই অঞ্চলের জন্য রাজনৈতিক ও যুদ্ধপরিকল্পনা প্রণয়নকারীদের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
তাছাড়া, এই সম্মেলনগুলো অন্য দিক থেকে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাথে সরাসরি ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের একটি মাধ্যম; তারা তাদের প্রকৃতি পরখ করে, তাদের কাছ থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং ঔপনিবেশিক রাজনীতির প্রচ্ছন্ন লক্ষ্যগুলোর সাথে একাত্ম হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রস্তুতির মাত্রা পরীক্ষা করে। একইভাবে তাদের প্রত্যেকের শক্তির জায়গা ও দুর্বলতার জায়গাগুলো পরীক্ষা করে যাতে তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও তাদের প্রভাবিত করার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিগুলো নির্ণয় করা যায়। এর পাশাপাশি, এই সম্মেলনগুলোতে যে বক্তব্য প্রদান করা হয়—যা নিঃসন্দেহে আয়োজকদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সৌজন্যমূলক—তা আমন্ত্রিত এই দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অনেকের মনেই রেখাপাত করে।
এই অঞ্চলের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নকারী মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্দেশ্য সাধনে এই সম্মেলন যে ভূমিকা রেখেছে, তা ইরাকের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর আব্দুল হামিদ কাজিমের বক্তব্যে স্পষ্ট, যা তিনি এই সম্মেলনে প্রদান করেছিলেন। সেখানে তিনি তাকে যা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছিল সে সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন: "নিশ্চয়...
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
خطاب الزميل الدكتور حبيب كوراني يشير إلى الرغبة في أن أتكلم عن تطور التربية في المملكة العراقية خلال السنوات العشر الأخيرة (1) مشيراً إلى أهم الاتجاهات الحديثة من حيث: التنظيم، والمنهج، وإعداد المدرسين، والتفتيش، والامتحان، وكذلك المشكلات الاجتماعية، والاقتصادية، والسياسية، التي تجابه التعليم في العراق، مع بعض الحلول التي اتخذت أو يجب أن تُتخذ لمعالجتها، على أن تأتي هذه في محاضرتين. هذا هو المطلوب مني حسبما جاء في الدعوة الموجهة إلى- ص 125 إلى 126".
والذي يراجع ما ألقي في هذا المؤتمر من بحوث يتبين دقة المدعوين في التزام الوفاء بما طلب إليهم التحدث فيه على أكمل ما يطلبه الأمريكيون ويريدونه. فبحوثهم مدعمة بجداول إحصائية لا حصر لها في كل جانب من جوانب التعليم، مما يقدم صورة دقيقة للحياة الاجتماعية والاقتصادية في بلادهم، إلى جانب النظم التعليمية. والواقع أن أعضاء المؤتمر لم يقدموا هذه الجداول الإِحصائية تبرعاً من عند أنفسهم، ولكنهم قدموها استجابة لطلب الذين دَعَوا إلى هذا المؤتمر ونظموه. فالدكتور حبيب أمين كوراني رئيس دائرة التربية في الجامعة الأميركية ببيروت - وهو الذي وجّه الدعوة لهذا المؤتمر - يقول في تقديم الكتاب الذي ضم ما أُلقي فيه من بحوث: "
… فدعونا لذلك نخبة من قادة الفكر وكبار رجال التربية في مختلف الأقطار العربية للمساهمة في هذه الدراسة، وذلك بتقديم محاضرات تتناول أهم الأبحاث الحديثة في التربية في أقطارهم من حيث الأسس الفلسفية والاجتماعية والنفسية التي ترتكز عليها التربية، ومن حيث التنظيم والمنهج وإعداد المعلمين والتفتيش والامتحان بالاستناد إلى بعض الإِحصائيات التربوية الهامة، ويتناول أيضاً عرض المشكلات الاجتماعية والاقتصادية والسياسية التي تجابه التعليم، مع بعض الحلول التي اتخذت والتي يجب أن تتخذ".
--------------------------------------------
সহকর্মী ডক্টর হাবিব কুরানির পত্রটি গত দশ বছরে (১) ইরাকি রাজতন্ত্রে শিক্ষার বিবর্তনের বিষয়ে আমার কথা বলার আকাঙ্ক্ষাকে নির্দেশ করে। এতে আধুনিক প্রবণতাসমূহকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমন: সংগঠন, পাঠ্যক্রম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পরিদর্শন, পরীক্ষা এবং ইরাকের শিক্ষা ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়া সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যাসমূহ; পাশাপাশি সমস্যা সমাধানে গৃহীত অথবা গ্রহণ করা উচিত এমন কিছু সমাধান। এই আলোচনাগুলো দুটি বক্তৃতায় উপস্থাপিত হতে হবে। আমার কাছে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে যা বর্ণিত হয়েছে সে অনুযায়ী এটিই আমার নিকট কাম্য — পৃষ্ঠা ১২৫ থেকে ১২৬।
এই সম্মেলনে যে সকল গবেষণা উপস্থাপিত হয়েছে তা পর্যালোচনা করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, আমন্ত্রিত ব্যক্তিগণ আমেরিকানদের আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদা অনুসারে তাদের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালনে কতটা নিষ্ঠাবান ও নিখুঁত ছিলেন। তাদের গবেষণাগুলো শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে অগণিত পরিসংখ্যানগত সারণী দ্বারা সুসংহত, যা শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের একটি সঠিক চিত্র ফুটিয়ে তোলে। প্রকৃতপক্ষে, সম্মেলনের সদস্যরা এই পরিসংখ্যানগুলো স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে উপস্থাপন করেননি, বরং তারা সম্মেলন আহ্বানকারী ও আয়োজকদের অনুরোধের প্রেক্ষিতেই এগুলো প্রদান করেছেন। বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির শিক্ষা বিভাগের প্রধান ডক্টর হাবিব আমিন কুরানি — যিনি এই সম্মেলনের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন — পঠিত গবেষণাসমূহ সংবলিত বইটির ভূমিকায় বলেন: "
… আমরা এই অধ্যয়নে অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্ন আরব দেশ থেকে একদল বরেণ্য চিন্তাবিদ ও শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তারা তাদের দেশের শিক্ষার আধুনিক গবেষণাসমূহের ওপর বক্তৃতা প্রদান করবেন—যেখানে শিক্ষা যে দার্শনিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, তার ওপর আলোকপাত করা হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষামূলক পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে সংগঠন, পাঠ্যক্রম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পরিদর্শন ও পরীক্ষা নিয়েও আলোচনা থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষার প্রতিকূল সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যাবলি এবং সেগুলোর গৃহীত ও সম্ভাব্য সমাধানগুলোও এতে স্থান পাবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أما الهدف التوجيهي من هذا المؤتمر فهو واضح في هذه المقدمة أيضاً وفي سائر البحوث. يقول رئيس دائرة التربية في الجامعة الأميركية ببيروت في مقدمته: "لقد بدأ قادة التربية في البلدان العربية يتحسسون بالحاجة إلى تربية فعالة كوسيلة لمعالجة الوضع الخطير الذي أحدثته عوامل التطور في هذه البلدان". ثم يقول بعد أن يعرض هذه العوامل باختصار: "فنتج عن هذه تبديلات عديدة هي تبديلات جوهرية لا يمكن أن تحدث في مجتمع ما دون أن تحدث فيه تضارباً بالأفكار والمثل والقيم، ودون أن تتطلب تعديلًا في مفاهيم ذلك المجتمع وآرائه ومعتقداته وطرق تنظيم معيشته. لذلك نجد أنفسنا في هذا الوضع مرغمين على إعادة النظر في مؤسساتنا التي تكونت ضمن الوضع القديم، وفي المبادىء والافتراضات والأهداف التي بنيت عليها تلك المؤسسات وتعديلها على ضوء الوضع العلمي والحضاري الحديث، والوضع السياسي والاقتصادي والاجتماعي القائم في مختلف مجتمعاتنا، كي نتمكن من إعادة بناء حياتنا على أساس مبادئ وآراء ومثُلُ بنّاءة منسجمة تتماشى مع الحضارة الإِنسانية الراقية (1)، وتمكننا من المساهمة الفعلية في تقدم ركب المدَنية البشرية ورقيه".
ولست أريد بعد ذلك أن أقدم صوراً مما ألقي في هذا المؤتمر من بحوث، فقد يطول بي الحديث إن أخذت فيه. هذا إلى أنه حديث بغيض يملأ النفس مرارة وضيقاً بالواقع الراهن للتعليم في هذه البلاد، بما فيه من كلام كثير عن فضل أمريكا في إنشاء مؤسسات التعليم المختلفة ومعاهده المتباينة في شرق الأردن وفي لبنان خاصة، وبما فيه من استخفاف بآدابنا ومواريثنا يَلَبس في أوهام المتكلمين ثوب العلم حين يؤكدون أهمية الدراسة الفنية في معاهد التربية لمن يباشرون وظيفة التدريس، ليُخفوا الهدف الحقيقي من ذلك، وهو إفساد التعليم بإِقامته على أساس من الآراء الفاسدة والنظم الهدامة، التي تروجها الصهيونية العالمية في غلاف أمريكي، عن طريق المتأمركين الذين يسيطرون الآن على هذه المعاهد في كل البلاد العربية،
--------------------------------------------
এই সম্মেলনের নির্দেশনামূলক উদ্দেশ্য এই ভূমিকা এবং অন্যান্য গবেষণাপত্রগুলোতেও স্পষ্ট। বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির শিক্ষা বিভাগের প্রধান তাঁর ভূমিকায় বলেন: "আরব দেশগুলোর শিক্ষা নেতৃবৃন্দ এই দেশগুলোতে বিবর্তনের উপাদানগুলোর কারণে সৃষ্ট বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবেলার মাধ্যম হিসেবে একটি কার্যকর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে শুরু করেছেন।" তারপর এই উপাদানগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরার পর তিনি বলেন: "এর ফলে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে যা মৌলিক রূপান্তর; কোনো সমাজে চিন্তা, আদর্শ ও মূল্যবোধের সংঘাত সৃষ্টি না করে এই পরিবর্তনগুলো ঘটতে পারে না, এবং যা সেই সমাজের ধারণা, মতামত, বিশ্বাস এবং জীবনযাপনের পদ্ধতিগুলোতে সংশোধনের দাবি রাখে। তাই আমরা এই পরিস্থিতিতে নিজেদের আমাদের সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য মনে করছি যা প্রাচীন পরিস্থিতির অধীনে গঠিত হয়েছিল, এবং সেই নীতি, অনুমান ও লক্ষ্যগুলোকেও যা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তি ছিল। আধুনিক বৈজ্ঞানিক ও সভ্যতার প্রেক্ষাপট এবং আমাদের বিভিন্ন সমাজে বিদ্যমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির আলোকে এগুলোকে সংশোধন করা আবশ্যক, যাতে আমরা উন্নত মানব সভ্যতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ গঠনমূলক নীতি, মতামত ও আদর্শের ভিত্তিতে আমাদের জীবন পুনর্গঠন করতে পারি (১), এবং যা আমাদের মানব সভ্যতার কাফেলার অগ্রগতি ও উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম করে তোলে।"
এরপর আমি এই সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্রগুলোর কোনো চিত্র তুলে ধরতে চাই না, কারণ আমি যদি সেগুলোতে প্রবেশ করি তবে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে। তদুপরি, এটি একটি অপ্রীতিকর আলোচনা যা এই দেশগুলোর শিক্ষার বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে আত্মাকে তিক্ততা ও সংকীর্ণতায় ভরিয়ে দেয়, যাতে বিশেষ করে ট্রান্সজর্ডান এবং লেবাননে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিচিত্র ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় আমেরিকার অবদান সম্পর্কে অনেক কথা রয়েছে, এবং যা আমাদের শিষ্টাচার ও ঐতিহ্যের প্রতি অবজ্ঞায় পূর্ণ; বক্তাদের বিভ্রমে যা বিজ্ঞানের আবরণে ঢাকা পড়ে যখন তারা শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিতদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যাতে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করা যায়, আর তা হলো—ভ্রান্ত মতবাদ ও ধ্বংসাত্মক ব্যবস্থার ভিত্তিতে শিক্ষাকে কলুষিত করা, যা বিশ্ব জায়নবাদ মার্কিন মোড়কে সেই সব আমেরিকাপন্থীদের মাধ্যমে প্রচার করছে যারা এখন সমস্ত আরব দেশের এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يروجون هذه السموم ويزعمون أنها علوم. وكأن أحلام ما يسمونه علم النفس ودعاواه المتغيرة المتناقضة التي لا تكاد تستقر قد أصبحت شيئاً مقطوعاً بصحته. فباسمه يدعو المخدوعون إلى (تحطيم) ما توارثناه في آدابنا من توقير الصغير للكبير، غير مكتفين بما حاق بنظم التعليم وخلق المتعلمين من خسران بعد أن فسدت صلات التلاميذ بمدرسيهم نتيجة للتقليد الأعمى وللنقل الَجهُول. وباسمه يتخطون أوامر ديننا ويتجاهلون آدابه الصالحة الرشيدة حين يدعون إلى خلط الذكور بإِلاناث، وإلى إخراج المرأة للأسواق وامتهانها بين الرجال، مما يعرضها ويعرض المجتمع الإِنساني كله للفساد والانحلال ثم الانهيار، ومما يحقق أحلام الداعين لهذا المؤتمر في هجر تعاليم ديننا والتمرد على الصالح من تقاليدنا، إقتداءاً بالخلق الأمريكي المنحل، وسيراً في أعقاب تجاريب أثبت الواقع فشلها في حل مشاكل الناس في مَواطنها الأصلية التي ننقل عنها، بل لقد عَقّدت مشاكلهم وزادتها كما تدل عليه جداولهم الإِحصائية التي أثبتت اطراد الزيادة في النسب المئوية للانحراف والشذوذ وللجرائم على اختلاف ألوانها، وكما يصوره الواقع الملموس في انحلال أخلاق شبابهم، واستهلاكهم قواهم وملكاتهم في العكوف على الشهوات، وضعفهم عن حمل الأمانات والنهوض بالواجبات.
لا أريد أن أخوض في تفاصيل ما ألقاه المؤتمرون في هذا المؤتمر لأقدم صوراً دقيقة مؤلمة مما ألقي فيه من بحوث، ولكني لا أستطيع أن أختم الكلام عنه دون الإِشارة إلى أن هؤلاء المدعوين الكبار من الوزراء ومن في مستواهم قد ظلوا في ضيافة المؤتمر أربعة شهور كاملة، بدأت بمحاضرة العضو اللبناني الأولى في نادي وست هول بالجامعة الأمريكية في 26 كانون الثاني (يناير) 1955 وانتهت بمحاضرة العضو العراقي في 26 أيار (مايو) 1955. وسيعجب القارئ للسخاء الذي أُنفقت به الأموال على هذا المؤتمر وأمثاله. ولست أدري أيزول عجبه أم يزداد حين يعلم أن مؤسسة روكفلر هي التي قامت بكل النفقات. ولكي يطمئن القارئ إلى صدق ما أقوله أنقل له السطرين الأخيرين من مقدمة حبيب كوراني رئيس دائرة التربية في الجامعة الأمريكية ببيروت حيث يقول: "إننا مدينون بالشكر أيضاً إلى مؤسسة روكفلر
তারা এই বিষসমূহ প্রচার করছে এবং দাবি করছে যে এগুলো বিজ্ঞান। যেন তাদের তথাকথিত মনোবিজ্ঞানের স্বপ্ন এবং এর পরিবর্তনশীল ও পরস্পরবিরোধী দাবিগুলো, যা স্থির হওয়ার অবকাশ পায় না, তা সুনিশ্চিতভাবে বিশুদ্ধ (صحيح) কোনো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর নামেই বিভ্রান্তরা আমাদের শিষ্টাচারের সেই উত্তরাধিকার—যা ছোটদের বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ শেখায়—তা চূর্ণবিচূর্ণ করার আহ্বান জানাচ্ছে। তারা অন্ধ অনুকরণ এবং অজ্ঞতাপ্রসূত অনুসরণের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতায় যে চরম ক্ষতি নেমে এসেছে, তাতেই ক্ষান্ত হয়নি। এর নামেই তারা আমাদের দ্বীনের নির্দেশসমূহ লঙ্ঘন করছে এবং এর কল্যাণকর ও সঠিক শিষ্টাচারসমূহ উপেক্ষা করছে, যখন তারা নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং নারীদের বাজারে বের করা ও পুরুষদের মাঝে তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার আহ্বান জানাচ্ছে। এর ফলে তারা নারী এবং সমগ্র মানব সমাজকে চারিত্রিক অবক্ষয় ও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমেরিকান নীতিভ্রষ্ট চরিত্রের অনুকরণ এবং এমন সব পরীক্ষানিরীক্ষার পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে তারা আমাদের দ্বীনি শিক্ষা বর্জন ও আমাদের কল্যাণকর ঐতিহ্যসমূহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার হীন স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে, যা খোদ উৎসভূমিতেই মানুষের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। বরং তা তাদের সমস্যাগুলোকে আরও জটিল ও ঘনীভূত করেছে, যেমনটি তাদের পরিসংখ্যানগত তালিকায় দেখা যায়, যেখানে বিপথগামিতা, বিকৃতি এবং নানাবিধ অপরাধের হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া তাদের যুবকদের নৈতিক অবক্ষয়, লালসার বশবর্তী হয়ে নিজেদের শক্তি ও মেধার অপচয় এবং আমানত রক্ষা ও দায়িত্ব পালনে তাদের অক্ষমতার বাস্তব চিত্রও এর প্রমাণ দেয়।
আমি এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্যের বিস্তারিত আলোচনায় গিয়ে সেই পৈশাচিক চিত্র তুলে ধরতে চাই না, তবে এটুকু না বলে শেষ করতে পারছি না যে, মন্ত্রী এবং সমপর্যায়ের এই উচ্চপদস্থ আমন্ত্রিত অতিথিরা পুরো চার মাস এই সম্মেলনের আতিথেয়তায় ছিলেন। এটি ১৯৫৫ সালের ২৬শে জানুয়ারি আমেরিকান ইউনিভার্সিটির ওয়েস্ট হল ক্লাবে লেবানিজ সদস্যের প্রথম বক্তৃতার মাধ্যমে শুরু হয় এবং ১৯৫৫ সালের ২৬শে মে ইরাকি সদস্যের বক্তৃতার মাধ্যমে শেষ হয়। পাঠক এই সম্মেলন এবং এই জাতীয় কাজে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে তা দেখে বিস্মিত হবেন। আমি জানি না পাঠকের বিস্ময় কি কেটে যাবে নাকি আরও বাড়বে যখন তিনি জানবেন যে, রকফেলার ফাউন্ডেশন এই সমস্ত ব্যয়ভার বহন করেছে। পাঠকের আশ্বস্ত হওয়ার জন্য বৈরুতস্থ আমেরিকান ইউনিভার্সিটির শিক্ষা বিভাগের প্রধান হাবিব কুরানির ভূমিকার শেষ দুই লাইন উদ্ধৃত করছি, যেখানে তিনি বলেছেন: "আমরা রকফেলার ফাউন্ডেশনের কাছেও কৃতজ্ঞ।"
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
(Rockfeller Brother's Fund) التي قدّمت جميع نفقات هذا المشروع". ولقد كان يكفي أن أقول منذ البداية: إن الجامعة الأمريكية في بيروت هي التي دعت إلى هذا المؤتمر، وأن جلساته عقدت في مقرها، وأن مؤسسة روكفلر هي التي تكفلت بكل نفقاته، لكي يغنيني ذلك عن كل تفصيل (1).
وننتقل الآن من مؤسسة روكفلر إلى مؤسسة أمريكية أخرى سبق أن قدَّمتُ كتاباً من الكتب التي أخرجتها دولاراتها (2) وهي مؤسسة فرانكلين. أصدرت هذه المؤسسة فيما أصدرته من مطبوعات (3) سلسلة عنوانها (كيف نفهم الأطفال - سلسلة دراسات سيكولوجية). وأشرف على هذه السلسلة وقدم لكل كتاب من كتبها الدكتور عبد العزيز القوصي المستشار الفني لوزارة التربية والتعليم في مصر. والحديث في هذه السلسلة موجه إلى الآباء والمدرسين حسب ما هو مبين على غلاف كل عدد من أعداد هذه السلسلة، إذ رُسِم في أعلى الجانب الأيسر كتاب مفتوح، في إحدى صفحتيه "الطريق إلى حياة أفضل" وفي الصفحة الأخرى "علم النفس للآباء والمدرّسين". ويؤكد الدكتور القوصي هذا الهدف، إذ يقول في تقديم العدد الأول من أعداد هذه السلسلة الذي صدر في مارس 1954، وأعيد طبعه في أكتوبر 1955، مما يدل على الرواج الذي تلقاه هذه السموم الأمريكية، يقول في هذه المقدمة: "هذا هو الكتاب الأول في مجموعة من الكتب تهدف إلى توجيه الآباء والمدرسين إلى
--------------------------------------------
(রকফেলার ব্রাদার্স ফান্ড) যেটি এই প্রকল্পের সকল ব্যয়ভার বহন করেছে।" শুরু থেকেই এটি বলা যথেষ্ট ছিল যে, বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি এই সম্মেলনের আহ্বান করেছিল, এর অধিবেশনগুলো তাদের নিজস্ব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং রকফেলার ফাউন্ডেশন এর যাবতীয় খরচ বহন করেছিল, যাতে এই বিষয়টি আমাকে প্রতিটি বিস্তারিত আলোচনা করা থেকে রেহাই দেয় (১)।
এখন আমরা রকফেলার ফাউন্ডেশন থেকে অন্য এক আমেরিকান প্রতিষ্ঠানের দিকে যাব, যার ডলারের মাধ্যমে প্রকাশিত বইগুলোর একটি আমি ইতিপূর্বে পেশ করেছি (২), আর সেটি হলো ফ্রাঙ্কলিন ফাউন্ডেশন। এই প্রতিষ্ঠানটি তার প্রকাশিত প্রকাশনাগুলোর (৩) মধ্যে একটি ধারাবাহিক প্রকাশ করেছে যার শিরোনাম হলো (কিভাবে আমরা শিশুদের বুঝবো - মনস্তাত্ত্বিক অধ্যয়ন সিরিজ)। এই সিরিজটি তত্ত্বাবধান করেছেন এবং এর প্রতিটি বইয়ের ভূমিকা লিখেছেন মিশরের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি উপদেষ্টা ড. আব্দুল আজিজ আল-কুসি। এই সিরিজের আলোচনাগুলো পিতা-মাতা এবং শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে সাজানো হয়েছে, যেমনটি এই সিরিজের প্রতিটি খণ্ডের প্রচ্ছদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাম পাশের উপরের অংশে একটি খোলা বইয়ের ছবি আঁকা হয়েছে, যার এক পৃষ্ঠায় লেখা "উন্নত জীবনের পথ" এবং অন্য পৃষ্ঠায় লেখা "পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের জন্য মনোবিজ্ঞান"। ড. আল-কুসি এই উদ্দেশ্যটি নিশ্চিত করেন, কারণ তিনি এই সিরিজের প্রথম সংখ্যার ভূমিকায় বলেছেন—যা ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত হয়েছিল এবং ১৯৫৫ সালের অক্টোবরে পুনঃমুদ্রিত হয়েছিল, যা এই আমেরিকান বিষগুলোর ব্যাপক প্রসারের ইঙ্গিত দেয়—তিনি এই ভূমিকায় বলেন: "এটি এমন একগুচ্ছ বইয়ের প্রথম খণ্ড, যার লক্ষ্য হলো পিতা-মাতা এবং শিক্ষকদের পথনির্দেশনা প্রদান করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুনুনা মুহাদদাদাতুন মিন দাখিলীহা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
حياة أحسن من تلك التي يعيشونها. ولا نقصد بالحياة الأحسن أن تكون كذلك من الناحية المادية، وإنما هي حياة أحسن من حيث الأداء لرسالة الأبوة ورسالة التربية". فالمشرف على هذه السلسلة - وهو من كبار رجال التربية في مصر - يعرف أن هذه المؤسسة الأمريكية تهدف إلى توجيه الآباء والمدرسين. وهو يقر هذا الهدف وترضى نفسه أن يعين الأموال الأمريكية عليه، وهو يعرف - كما يعرف كل عاقل - أن الناس لا يصدرون فيما يأتون من أعمال إلا عن دوافع تدفعهم إلى العمل، وأن هذه الدوافع مهما تختلف وتتنوع فهي تشترك في أنها تحقق نفع الفرد أو الجماعة التي تنتمي إليها. فمن الواضح أن الفرد أو الجماعة لا تبذل الجهد والمال إلا فيما يعود عليها بالمنفعة. فليت شعري ألم يَرِدْ على خاطر الأذكياء الذين يشاركون في هذه الأعمال - كتباً كانت أو مقالات أو مؤتمرات - هذا السؤال الذي لا ينبغي أن يغيب عن البال: ما هو النفع الذي يعود على هذه المؤسسة، والذي يدفعها إلى بذل ما تبذله من جهد ومن مال؟ إذا لم يكن هذا السؤال قد ورد على أذهان هؤلاء الأذكياء فقد ورد على ذهني، وأظنه قد ورد على أذهان الكثير من الأذكياء وغير الأذكياء. وقد تكون الإِجابة على هذا السؤال طويلة، وقد لا تكون واضحة في أذهان الذين يتساءلون. ولكن من الأهداف الواضحة التي لا تخفي أن مثل هذه المشروعات تحقق أول ما تحققه توثيق الصلات بنفر من ذوي النفوذ وكسب ودهم وولائهم بالبذل السخي الذي يقدم في صورة مهذبة مؤدبة جداً. فهو لا يعدو أن يكون أجراً على مجهود قد بذل، وقد لا يكون هناك مجهود، وقد يكون المجهود تافهاً وصورياً. وقد يكون الأجر مضاعفاً أضعافاً كثيرة. ولكن المأجور لا يقول عادة إن الأجر كبير. وصاحب العمل مهذب رقيق يقدم عطاءه السخي في أدب جم وفي حياء (كأنك تعطيه الذي أنت سائله) - كما يقول شاعرنا العربي القديم زهير.
وهدف آخر من هذه الأهداف الواضحة هو السيطرة على توجيه المجتمع، عن طريق هؤلاء الأصدقاء من أصحاب النفوذ وعن طريق المخدوعين بأسمائهم ممن يقرءون ما ينشرون، والذي ينشرونه ليس باطلاً كله، بل إن فيه حقا كثيراً، بل إن الباطل فيه يلبس ثوب الحق فيصعب على
তারা যে জীবন অতিবাহিত করছে তার চেয়েও এক উন্নত জীবন। আর উন্নত জীবন বলতে আমরা কেবল বৈষয়িক উন্নতির কথা বোঝাচ্ছি না, বরং এটি হলো পিতৃত্বের দায়িত্ব ও শিক্ষার মহান বার্তা পালনের ক্ষেত্রে এক উন্নত জীবন। এই সিরিজের তত্ত্বাবধায়ক - যিনি মিশরের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ - তিনি জানেন যে, এই আমেরিকান প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঠিক পথপ্রদর্শন করা। তিনি এই লক্ষ্যকে সমর্থন করেন এবং এই কাজে আমেরিকান অর্থ সহায়তা গ্রহণে সন্তুষ্ট। তিনি জানেন - যেমনটি প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিই জানেন - যে মানুষ তাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে বিশেষ কিছু প্রেরণা দ্বারা পরিচালিত হয় যা তাদের কর্মতৎপর করে তোলে। আর এই উদ্দেশ্যসমূহ যতই ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় হোক না কেন, এগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো যে এগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ সিদ্ধি করে। সুতরাং এটি সুস্পষ্ট যে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কেবলমাত্র সেই ক্ষেত্রেই শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে যা থেকে তারা উপকৃত হতে পারে। হায়, আমি যদি জানতাম! যারা এই সকল কাজে অংশগ্রহণ করছেন - তা বই, নিবন্ধ বা সম্মেলন যাই হোক না কেন - সেই সব বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের মনে কি কখনো এই প্রশ্নটি জাগেনি যা এড়িয়ে যাওয়া মোটেও উচিত নয়: এই প্রতিষ্ঠানের আসলে কী স্বার্থ রয়েছে, যা তাদের এত শ্রম ও অর্থ ব্যয়ে উদ্বুদ্ধ করছে? যদি এই প্রশ্নটি সেই সব বুদ্ধিমানদের মনে উদয় না হয়ে থাকে, তবে তা আমার মনে উদয় হয়েছে এবং আমি মনে করি এটি অনেক বুদ্ধিমান ও সাধারণ মানুষের মনেও এসেছে। এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো দীর্ঘ হতে পারে, আবার যারা প্রশ্ন করছেন তাদের কাছে বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার না-ও হতে পারে। কিন্তু এর অন্যতম সুস্পষ্ট লক্ষ্য যা গোপন নয় তা হলো, এই ধরণের প্রকল্পসমূহ সর্বপ্রথম যা অর্জন করে তা হলো প্রভাবশালী একদল ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা (توثيق) এবং অত্যন্ত মার্জিত ও সৌজন্যমূলক পন্থায় অকাতরে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রীতি ও আনুগত্য অর্জন করা। এটি মূলত সম্পাদিত পরিশ্রমের পারিশ্রমিক ছাড়া আর কিছুই নয়; যদিও হয়তো সেখানে প্রকৃত কোনো পরিশ্রম নেই, অথবা পরিশ্রম থাকলেও তা অতি সামান্য ও লৌকিক মাত্র। আবার পারিশ্রমিকটি হয়তো পরিশ্রমের তুলনায় বহুগুণ বেশি। কিন্তু অর্থগ্রহীতা সাধারণত বলেন না যে পারিশ্রমিকটি অনেক বড়। আর নিয়োগকর্তা বা দাতা অত্যন্ত ভদ্র ও নম্র, যিনি পূর্ণ শিষ্টাচার ও বিনয়ের সাথে তার উদার দান প্রদান করেন (যেন আপনিই তাকে কিছু দিচ্ছেন যা আপনিই তার কাছে চেয়েছেন) - যেমনটি আমাদের প্রাচীন আরব্য কবি জুহাইর বলেছেন।
এই সকল সুস্পষ্ট লক্ষ্যের মধ্যে আরেকটি হলো সমাজের গতিপথ নিয়ন্ত্রণের কর্তৃত্ব গ্রহণ করা; আর এটি করা হয় সেই সকল প্রভাবশালী বন্ধুদের মাধ্যমে এবং সেই সকল মানুষদের মাধ্যমে যারা তাদের নামে প্রলুব্ধ হয়ে তাদের প্রকাশিত বিষয়াদি পাঠ করে। তারা যা প্রকাশ করে তার পুরোটাই অসার (باطل) নয়, বরং তাতে অনেক সত্য বিদ্যমান। প্রকৃতপক্ষে সেখানে অসারতা (باطل) সত্যের পোশাক পরিধান করে আবির্ভূত হয়, ফলে তা চেনা কঠিন হয়ে পড়ে...