(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: -)
إجابة السؤال في زكاة الأموال   (محمد بن عبد العزيز السديس)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: إجابة السؤال في زكاة الأموال

المؤلف: محمد بن عبد العزيز السديس

الناشر: الجامعة الاسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة السادسة والثلاثون - العدد (123) 1424هـ/2004م

عدد الصفحات: 341

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইজাবাতুস সওয়াল ফি জাকাতিল আমওয়াল (সম্পদের জাকাত বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর)   (মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আস-সুদাইস)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ (مسائل فقهية)


বই: ইজাবাতুস সওয়াল ফি জাকাতিল আমওয়াল (সম্পদের জাকাত বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর)

লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আস-সুদাইস

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: ৩৬তম বর্ষ - সংখ্যা (123) ১৪২৪ হিজরি/২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: 341

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৫৩)
ال‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيهَا الذِيْنَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِه وَلا تَمُوتنَّ إِلا وَأنْتمْ مُسْلِمُونَ} 1

{يَا أيُّهَا النَّاسُ اتقُوا رَبَّكمْ الَّذِي خَلَقَكمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحدَة وَخَلَقَ مِنهَا زوجَهَا وبَث مِنهمَا رِجَالاً كثِيراً وَنسَاءً واتقُوا اللهَ الَّذي تَساءَلُون بِه وَالأرحَام إِنَّ اللهَ كان علِيْكم رقِيباً} 2

{يَا أَيهَا الذِيْنَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلا سَدِيدايُصْلِحْ لكمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لكمْ ذُنُوبَكُم وَمَنْ يُطِع الله وَرَسُولَهُ فقَدْ فَازَ فُوْزا عَظِيْماً} 34

أما بعد:

فقد بذل علماء الأمة منذ القرون الأولى جهوداً متواصلة في تدوين أحكام الفقه، وذلك لحاجة الناس إليها ومعرفة الأحكام في كل زمان ومكان، وقد أوصى النبي صلى الله عليه وسلم بتبليغ العلم بقوله صلى الله عليه وسلم: “فرب مبلغ أوعى من سامع”5.

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران آية 102.

2 سورة النساء آية 1.

3 سورة الأحزاب آية 70، 71.

4 هذه خطبة الحاجة التي كان النبي صلى الله عليه وسلم يعلمها أصحابه من حديث ابن مسعود رواها أصحاب السنن قَال الترمذي حديث عبد الله حديث حسن انظر: سنن الترمذي في أبواب النكاح 2/285، 286 برقم 1105.

5 رواه البخاري في كتاب العلم من حديث أبي بكرة انظر: البخاري مع الفتح 1/157.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন; আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চেয়ে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} ২

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} ৩৪

অতঃপর:

উম্মাহর আলেমগণ প্রথম শতাব্দী থেকেই ফিকহ শাস্ত্রের বিধিবিধান সংকলনে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, আর তা মানুষের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রতিটি সময় ও স্থানে এই বিধানগুলো জানার আবশ্যকতা থেকেই। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইলম পৌঁছে দেওয়ার অসিয়ত করে বলেছেন: “হয়তো যাকে পৌঁছে দেওয়া হবে সে শ্রবণকারীর চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী হবে।” ৫।

--------------------------------------------

১ সুরা আল-ইমরান আয়াত ১০২।

২ সুরা আন-নিসা আয়াত ১।

৩ সুরা আল-আহজাব আয়াত ৭০, ৭১।

৪ এটি খুত্বাতুল হাজাহ যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদিস থেকে তাঁর সাহাবীদের শিক্ষা দিতেন। সুনান গ্রন্থকারগণ এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেছেন আবদুল্লাহর বর্ণিত হাদিসটি হাসান (حسن)। দেখুন: সুনান তিরমিজি, বিবাহ অধ্যায় ২/২৮৫, ২৮৬, হাদিস নং ১১০৫।

৫ আবু বাকরাহ থেকে বর্ণিত হাদিসে বুখারি ‘কিতাবুল ইলম’-এ এটি বর্ণনা করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারীসহ বুখারি ১/১৫৭।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৫৪)
ومعنى ذلك رب مبلغ عني أوعى أي أفهم لما أقول من سامع مني، وأن الفهم ليس شرطا في الأداء، وقد يأتي في الآخر من يكون أفهم ممن تقدمه لكن بقلة1.

وقال صلى الله عليه وسلم أيضاً: “فرب حامل فقه إلى من هو أفقه منه” 2

وفي هذا دليل على كراهية اختصار الحديث لمن ليس بالمتناهي في الفقه لأنه إذا فعل ذلك فقد قطع طريق الاستنباط على من بعده ممن هو أفقه منه، ويتضمن هذا الحديث وجوب التفقه والحث على استنباط معنى الحديث واستخرج المكنون من سره 3.

وقد فرض الله عز وجل الزكاة وقرنها بالصلاة في مواضع كثيرة فهي فرض من فرائض الإسلام وركن من أركانه وهي مما علم من الدين بالضرورة.

وكم خفيت في هذا الزمان مسائل الزكاة على كثير من الناس فأحببت الكتابة في هذه المسائل وعلى الرغم مما جمعته من شتاتها إلا أنني أعترف بالتقصير فالكمال لله وحده، وإنما هو جهد المقل، وحسبي في ذلك إجتهادي قدر المستطاع في بيان ما نقله علماء الأمة في هذا الموضوع وقد أسميته (إجابة السؤال في زكاة الأموال) حيث إن الزكاة تنقسم قسمين زكاة أبدان وزكاة أموال، وقد صدرت أكثر المسائل بصيغة السؤال موثقاً ذلك من أمهات كتب مذاهب الأئمة الأربعة المشهورة لعل القارىء الكريم يجد جواباً على كثير من مسائل الزكاة وجعلته في مقدمة وثلاث فصول.

--------------------------------------------

1 انظر: فتح الباري شرح صحيح البخاري 1/158، 159.

2 رواه الترمذي في أبواب العلم من حديث زيد بن ثابت باب في الحث على تبليغ السماع وقال حديث زيد حديث حسن 4/141 رقم 2794.

3 انظر: شرح السنة للإمام البغوي 1/237.
এর অর্থ হলো, অনেক সময় আমার পক্ষ থেকে যার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় সে সরাসরি শ্রবণকারীর চেয়ে আমি যা বলছি সে সম্পর্কে অধিক প্রজ্ঞাবান (أوعى) বা অধিক সমঝদার হয়। আর বর্ণনার (الأداء) ক্ষেত্রে গভীর সমঝদার হওয়া শর্ত নয়। হতে পারে পরবর্তীকালে এমন কেউ আসবে যে তার পূর্বসূরির চেয়ে অধিক সমঝদার, তবে এমনটি কমই ঘটে ১।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: "অনেক সময় ফিকহ বা গভীর জ্ঞানের বাহক এমন ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়েও অধিক ফকিহ (أفقه) বা সমঝদার।" ২

এর মধ্যে ঐ ব্যক্তির জন্য হাদিস সংক্ষেপ করার (اختصار الحديث) অপছন্দনীয়তার প্রমাণ রয়েছে যে ফিকহশাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী নয়। কারণ সে যদি এমনটি করে, তবে সে তার পরবর্তী অধিক ফকিহ ব্যক্তিদের জন্য মাসয়ালা উদ্ভাবনের (الاستنباط) পথ রুদ্ধ করে দেয়। এই হাদিসটি দ্বীনি গভীর জ্ঞান অর্জন (التفقه) ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ বহন করে এবং হাদিসের মর্ম উপলব্ধি ও এর রহস্য থেকে নিগুঢ় তত্ত্ব উদ্ভাবনের (استنباط) ব্যাপারে উৎসাহিত করে ৩।

আল্লাহ তাআলা জাকাতকে ফরজ করেছেন এবং পবিত্র কুরআনের অনেক স্থানে একে সালাতের সাথে উল্লেখ করেছেন। এটি ইসলামের অন্যতম ফরজ এবং এর অন্যতম রুকন। এটি দ্বীনের এমন একটি বিষয় যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত (علم من الدين بالضرورة)।

বর্তমান সময়ে অনেক মানুষের নিকট জাকাতের মাসয়ালাগুলো অস্পষ্ট হয়ে গেছে, তাই আমি এই বিষয়গুলো নিয়ে লেখার ইচ্ছা পোষণ করেছি। আমি বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করার চেষ্টা করা সত্ত্বেও নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করছি; কারণ পূর্ণতা কেবল আল্লাহরই। এটি এক সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র। উম্মতের আলেমগণ এই বিষয়ে যা বর্ণনা করেছেন, তা সাধ্যমতো স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্য আমার গবেষণাই (اجتهادي) যথেষ্ট। আমি এই বইটির নামকরণ করেছি 'ইজাবাতুস সুওয়াল ফি জাকাতিল আমওয়াল'। যেহেতু জাকাত দুই প্রকার: শারীরিক জাকাত এবং সম্পদের জাকাত। আমি অধিকাংশ মাসয়ালা প্রশ্নের আকারে সাজিয়েছি এবং চার ইমামের প্রসিদ্ধ মাযহাবগুলোর মূল কিতাবসমূহ থেকে এর প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। আশা করি সম্মানিত পাঠক জাকাতের অনেক সমস্যার সমাধান এখানে পাবেন। আমি একে একটি ভূমিকা ও তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি।

--------------------------------------------

১ দেখুন: ফাতহুল বারী শারহু সহিহিল বুখারি ১/১৫৮, ১৫৯।

২ তিরমিজি এটি ইলম অধ্যায়ে জায়েদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণিত হাদিসের অন্তর্ভুক্ত 'শুনে তা প্রচার করার উৎসাহ' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: জায়েদ বর্ণিত এই হাদিসটি হাসান (حسن)। ৪/১৪১, নম্বর ২৭৯৪।

৩ দেখুন: ইমাম বাগাভির শারহুস সুন্নাহ ১/২৩৭।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৫৫)
الفصل الأول: وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: تعريفها في اللغة والشرع.

المطلب الثاني: والحكمة من مشروعيتها.

المطلب الثالث: بيان أدلتها.

المطلب الرابع: أحوال مانع الزكاة.

الفصل الثاني: شروط أداء الزكاة وفيه سبعة مطالب:

المطلب الأول: الإسلام.

المطلب الثاني: التكليف.

المطلب الثالث: النية.

المطلب الرابع: الحرية.

المطلب الخامس: الحول.

المطلب السادس: النصاب.

المطلب السابع: تمام الملك.

الفصل الثالث: الأموال التي تجب فيها الزكاة وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: النقدين الذهب والفضة.

المطلب الثاني: بهيمة الأنعام الإبل والبقر والغنم.

المطلب الثالث: الخارج من الأرض.

المطلب الرابع: عروض التجارة.

وقد اتبعت في ذلك المنهج العلمي المتعارف عليه موثقا للأقوال، ومخرجا للأحاديث والآثار، ومناقشا للأدلة، ومفسرا للغريب، ومرجحا في المسائل حسب ما يظهر لي أسأل الله عز وجل الإخلاص في القول والعمل، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: শাব্দিক ও শরয়ী পরিভাষায় এর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এটি বিধানভুক্ত হওয়ার হিকমত বা প্রজ্ঞা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এর দলিলসমূহের বর্ণনা।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: জাকাত প্রদান অস্বীকারকারীর অবস্থা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জাকাত আদায়ের শর্তাবলি এবং এতে সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসলাম।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শরয়ি দায়বদ্ধতা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নিয়ত।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: স্বাধীনতা।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: বর্ষপূর্তি।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: নিসাব।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: মালিকানার পূর্ণতা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যেসব সম্পদে জাকাত ওয়াজিব হয় এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: স্বর্ণ ও রৌপ্য রূপী দুই প্রকার মুদ্রা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: গবাদি পশু তথা উট, গরু এবং ছাগল ও ভেড়া।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ভূমি থেকে উৎপাদিত ফসল।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: বাণিজ্যিক পণ্য।

এ ক্ষেত্রে আমি প্রচলিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, যেখানে উক্তিগুলোর নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) নিশ্চিত করেছি, হাদিস ও আসার (آثار) সমূহের তাখরিজ (تخريج) করেছি, দলিলসমূহ পর্যালোচনা করেছি, অপরিচিত (غريب) শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করেছি এবং মাসআলাসমূহে আমার নিকট যা অগ্রগণ্য মনে হয়েছে তা প্রাধান্য দিয়েছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট কথা ও কাজে একনিষ্ঠতা প্রার্থনা করছি। আর আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৫৬)
‌‌باب: الفصل الأول

‌‌المطلب الأول: الزكاة في اللغة والشرع

…

الفصل الأول:

المطلب الأول: الزكاة في اللغة والشرع

الزكاة في اللغة:

مأخوذة من الزكاء والنماء والزيادة، يقال زكا الزرع إذا زاد ونما وكثر ريعه، وزكت النفقة إذا زادت وكثرت وبورك فيها، وزكت الأرض إذا زادت ونمت. سميت بذلك لأنها تنمي المال وتطهره.

ومن معانيها في اللغة الطهارة أوالطهر والتطهير والصلاح وهو الزيادة في الخير ولهذا سمي المقدار المخرج من المال زكاة، لأنه سبب يرجى به الزكاء والطهارة والصلاح، ومنه أخذ المعنى الشرعي فالزكاة طهرة للأموال، وزكاة الفطر طهرة للأبدان1.

الزكاة في الشرع:

اختلفت عبارات الفقهاء وتنوعت أساليبهم في تعريفها ومن أحسن ما قيل في تعريفها:

(أنها حق واجب في مال مخصوص لطائفة مخصوصة في وقت مخصوص) 2.

- بيان محترزات هذا التعريف.

1- قوله حق واجب: معناه المقدار الواجب إخراجه من المال أو الزكاة كقولنا على سبيل المثال: “في كل خمس من الإبل شاة” فالحق الواجب أو المقدار الواجب هو الشاة.

--------------------------------------------

1 انظر: غريب الحديث لابن قتيبة 1/184 وتهذيب اللغة 10/319 والصحاح 6/2368 والنهاية 2/307.

2 هذا تعريف الحجاوي انظر: كشاف القناع على متن الإقناع 2/192 وانظر أيضاً: الحاوي الكبير 3/71.
‌‌পরিচ্ছেদ: প্রথম অধ্যায়

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে জাকাত

…

প্রথম অধ্যায়:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে জাকাত

আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে জাকাত:

এটি প্রবৃদ্ধি (الزكاء), বৃদ্ধি (النماء) এবং আধিক্য (الزيادة) শব্দ থেকে গৃহীত। বলা হয়ে থাকে, শস্য বৃদ্ধি পেয়েছে যখন তা বাড়ে এবং তার উৎপাদন প্রচুর হয়। ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে যখন তা বাড়ে এবং তাতে বরকত হয়। আর ভূমি উর্বর হয়েছে যখন তার উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। জাকাতকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি সম্পদকে বৃদ্ধি করে এবং একে পবিত্র করে।

আভিধানিক অর্থগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে পবিত্রতা (الطهارة), শুদ্ধি (الطهر), বিশুদ্ধকরণ (التطهير) এবং উৎকর্ষ (الصلاح); আর তা হলো কল্যাণের বৃদ্ধি। এই কারণেই সম্পদ থেকে বের করে দেওয়া নির্দিষ্ট পরিমাণকে জাকাত বলা হয়, কারণ এটি এমন এক মাধ্যম যার দ্বারা প্রবৃদ্ধি (الزكاء), পবিত্রতা (الطهارة) এবং উৎকর্ষ (الصلاح) অর্জনের আশা করা যায়। এখান থেকেই এর শরয়ি অর্থটি গ্রহণ করা হয়েছে; সুতরাং জাকাত হলো সম্পদের পবিত্রতা, আর সদকাতুল ফিতর হলো দেহের পবিত্রতা।১

শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে জাকাত:

জাকাতের সংজ্ঞায় ফকিহগণের বর্ণনা ও পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় হয়েছে। এর সংজ্ঞায় যা বলা হয়েছে তার মধ্যে সুন্দরতম হলো:

(এটি নির্দিষ্ট একদল লোকের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট সম্পদে একটি আবশ্যকীয় অধিকার (حق واجب))। ২

- এই সংজ্ঞার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর বিশ্লেষণ:

১- তাঁর কথা 'আবশ্যকীয় অধিকার' (حق واجب): এর অর্থ হলো সম্পদ থেকে যে পরিমাণ বের করা আবশ্যক (واجب) বা জাকাত। উদাহরণস্বরূপ আমাদের কথা: "প্রতি পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরি"; এখানে 'আবশ্যকীয় অধিকার' বা 'আবশ্যকীয় পরিমাণ' হলো সেই বকরি।

--------------------------------------------

১ দেখুন: ইবন কুতায়বা রচিত গারিবুল হাদিস ১/১৮৪, তাহজিবুল লুগাহ ১০/৩১৯, আস-সিহাহ ৬/২৩৬৮ এবং আন-নিহায়াহ ২/৩০৭।

২ এটি আল-হিজাভীর সংজ্ঞা। দেখুন: কাশশাফুল কিনা আলা মাতনিল ইকনাহ ২/১৯২ এবং আরও দেখুন: আল-হাবি আল-কাবির ৩/৭১।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৫৭)
مثال آخر:

إذا بلغ الذهب أو الفضة نصاباً نقول فيه ربع العشر فربع العشر هذا هو المقدار الواجب أو الحق الواجب.

2- قوله: في مال مخصوص:

معناه الأموال التي تجب فيها الزكاة وهي على سبيل المثال النقدين، عروض التجارة، بهيمة الأنعام، الزروع والثمار وغيرها.

3- قوله: لطائفة مخصوصة:

المراد أهل الزكاة الثمانية الَّذِين ذكرهم الله عز وجل في سورة التوبة 1. وهم الفقراء، والمساكين، والعاملين عليها، والمؤلفة قلوبهم، وفي الرقاب، والغارمين، وفي سبيل الله، وابن السبيل. فلا يجوز صرف الزكاة لأحد غير هؤلاء الثمانية.

4- قوله: في وقت مخصوص:

والمعنى اشتراط حولان الحول وهو مرور سنة كاملة على هذا المال وذلك فيما يشترط فيه الحول، والأموال في ذلك تنقسم قسمين:

أموال يشترط فيها الحول كعروض التجارة، والنقدين، وبهيمة الأنعام.

وأموال لا يشترط فيها الحول كالزروع والثمار.

--------------------------------------------

1 سورة التوبة آية 60.
অন্য একটি উদাহরণ:

যদি স্বর্ণ বা রৌপ্য নিসাব (نصاب) পরিমাণে পৌঁছায় তবে আমরা তাতে এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ প্রদানের কথা বলি। এই এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশই হলো নির্ধারিত পরিমাণ বা ওয়াজিব (واجب) হক।

২- তাঁর বক্তব্য: নির্দিষ্ট সম্পদের ক্ষেত্রে:

এর অর্থ হলো সেই সব সম্পদ যাতে জাকাত (زكاة) প্রদান করা ওয়াজিব (واجب) হয়; উদাহরণস্বরূপ: স্বর্ণ ও রৌপ্য, ব্যবসার পণ্য, গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু, শস্য, ফলমূল এবং অন্যান্য।

৩- তাঁর বক্তব্য: নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য:

এর উদ্দেশ্য হলো জাকাত (زكاة) গ্রহণের উপযুক্ত আটটি শ্রেণি যাদের কথা আল্লাহ তায়ালা সূরা আত-তাওবাহ-এ উল্লেখ করেছেন ১। তারা হলো—ফকির, মিসকিন, জাকাত সংশ্লিষ্ট কর্মচারী, যাদের অন্তর জয় করা উদ্দেশ্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে এবং মুসাফির। সুতরাং এই আটটি শ্রেণি ব্যতীত অন্য কারো জন্য জাকাত (زكاة) ব্যয় করা বৈধ নয়।

৪- তাঁর বক্তব্য: নির্দিষ্ট সময়ে:

এর অর্থ হলো বর্ষপূর্তি বা হাওলানুল হাওল (حولان الحول) শর্ত হওয়া, যা মূলত সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়াকে বোঝায়; আর এটি সেই সব সম্পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাতে বর্ষপূর্তি শর্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সম্পদ দুই ভাগে বিভক্ত:

এমন সম্পদ যাতে বর্ষপূর্তি (حول) শর্ত; যেমন: ব্যবসার পণ্য, স্বর্ণ ও রৌপ্য এবং গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু।

আর এমন সম্পদ যাতে বর্ষপূর্তি (حول) শর্ত নয়; যেমন: শস্য ও ফলমূল।

--------------------------------------------

১. সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ৬০।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৫৮)
‌‌المطلب الثاني: الحكمة من مشروعية الزكاة

قد تظهر لنا الحكمة من الأمر أو النهي وقد تخفى، والَّذِي لا شك فيه أن الله عز وجل إذا أمر بأمر أو نهى عنه إن ذلك لحكم عظيمة ومن ذلك مشروعية الزكاة وقد ذكر أهل العلم طرفاً من ذلك1:

1- أن الزكاة قربة لله وطاعة له وخضوعاً لأمره جل وعلا فهي عبادة من العبادات، في هذه العبادة تعويداً للنفس على العطاء والبذل والسخاء والإنفاق في وجوه الخير وفيها أيضاً إبعاداً للنفس عن البخل والشح الَّذِي نهى الله عنه.

2- أن الزكاة قد تكون سبباً مانعاً ورادعاً وزاجراً من إرتكاب الجريمة كالسرقات وقطع الطريق والغش في المعاملات والرشوة والنهب والاغتصاب والخداع وغيرها فهذه الجرائم وما شابهها قد يكون سببها الفقر والحاجة فإذا أعطى الأغنياء جزءاً من أموالهم إلى الفقراء فإنه يقلل من وقوع مثل هذه الجرائم في المجتمع.

3- أن الزكاة تخفف من الطبقية في المجتمع فالمجتمعات تتكون في الغالب من الأغنياء والفقراء ومستوري الحال ففيها يظهر التكافل الاجتماعي والتعاون على البر والتقوى فإذا أعطى الأغنياء الفقراء من أموالهم قد يكون هذا تقليلاً من هذه الفروق الموجودة في المجتمعات فالله عز وجل لا ينظر إلى الأموال وإلى الأجسام وإنما ينظر إلى الأعمال والميزان عنده جل وعلا هو التقوى قَال تعالى: {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} 2.

--------------------------------------------

1 انْظر: زاد المعاد لابن القيم 1/ 181، ومعالم السنن للخطابي 2/ 8، وبدائع الصنائع

2/ 3، وفتح الباري 4/ 262.

2 سورة الحجرات آية 13.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যাকাত বিধানের হিকমত (حكمة) বা তাৎপর্য

আমাদের কাছে কোনো আদেশ বা নিষেধের হিকমত (حكمة) কখনো প্রকাশ পায়, আবার কখনো তা অপ্রকাশিত থাকে। তবে যে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই তা হলো, মহান আল্লাহ যখন কোনো বিষয়ের আদেশ দেন বা কোনো কিছু থেকে নিষেধ করেন, তখন তা কোনো মহান হিকমতের (حكمة) উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে। যাকাতের বিধান প্রণয়নও এর অন্তর্ভুক্ত এবং আলেমগণ (أهل العلم) এর কতিপয় তাৎপর্য উল্লেখ করেছেন১:

১- যাকাত মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম, তাঁর প্রতি আনুগত্য এবং তাঁর নির্দেশের সামনে মস্তক অবনত করার বহিঃপ্রকাশ; সুতরাং এটি অন্যতম একটি ইবাদত (عبادة)। এই ইবাদতের (عبادة) মাধ্যমে নফসকে দান, ত্যাগ, উদারতা এবং কল্যাণের পথে ব্যয় করার অভ্যস্ততা গড়ে তোলা হয়। এছাড়া এটি নফসকে কৃপণতা ও বখিলতা থেকে দূরে রাখে যা থেকে আল্লাহ তাআলা নিষেধ করেছেন।

২- যাকাত অপরাধ দমনে একটি প্রতিরোধমূলক ও অন্তরায় হিসেবে কাজ করতে পারে; যেমন—চুরি, রাহাজানি, লেনদেনে প্রতারণা, ঘুষ, লুণ্ঠন, জবরদখল ও ধোঁকাবাজি ইত্যাদি। এই সব অপরাধ বা এর সদৃশ বিষয়গুলোর মূল কারণ হতে পারে দারিদ্র্য ও অভাব। ফলে যখন বিত্তবানরা তাদের সম্পদের একটি অংশ দরিদ্রদের প্রদান করবে, তখন সমাজে এই জাতীয় অপরাধের হার হ্রাস পাবে।

৩- যাকাত সমাজের শ্রেণিবিভেদ লাঘব করে। সমাজ সাধারণত ধনী, দরিদ্র ও সচ্ছল অথচ প্রয়োজন গোপনকারী মানুষের সমন্বয়ে গঠিত। যাকাতের মাধ্যমে সামাজিক সংহতি এবং পুণ্য (بر) ও খোদাভীতির (تقوى) কাজে পারস্পরিক সহযোগিতা পরিলক্ষিত হয়। যখন ধনীরা তাদের সম্পদ থেকে দরিদ্রদের দান করে, তখন তা সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। মহান আল্লাহ মানুষের সম্পদ কিংবা অবয়বের দিকে তাকান না, বরং তিনি তাদের আমলের দিকে লক্ষ্য করেন। তাঁর নিকট শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হলো তাকওয়া (تقوى)। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী} ২।

--------------------------------------------

১ দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিমের যাদুল মাআদ ১/১৮১, খাত্তাবীর মাআলিমুস সুনান ২/৮, বাদায়িউস সানায়ি ২/৩ এবং ফাতহুল বারী ৪/২৬২।

২ সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১৩।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৫৯)
‌‌المطلب الثالث: حكم الزكاة

الزكاة أصل من أصول الإسلام وقاعدة من قواعده دل على هذا الأصل الكتاب والسنة والإجماع والمعقول:

- النوع الأول: الأدلة من كتاب الله عز وجل كثيرة في فرض الزكاة: وقد جاءت قرينة الصلاة في أكثر من ثمانين موضعاً منها قوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ} 1

وقوله تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ} 2.

ومن الأدلّة في فرض الزكاة قوله تعالى في صفات أهل الإيمان: {وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ} 3.

قَال ابن كثير: “الأكثرون على أن المراد بالزكاة هنا زكاة الأموال مع أن هذه الآية مكية وإنما فرضت الزكاة بالمدينة في سنة اثنتين من الهجرة والظاهر أن التي فرضت بالمدينة إنما هي ذات النصب والمقادير الخاصة وإلا فالظاهر أن أصل الزكاة كان واجباً بمكة قَال تعالى في سورة الأنعام وهي مكية: {وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ} 4 وقد يحتمل أن يكون المراد بالزكاة هاهنا زكاة النفس من الشرك والدنس كقوله تعالى: {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا} 5 على أحد

--------------------------------------------

1 سورة البقرة آية 43.

2 سورة البينة آية 5.

3 سورة المؤمنون آية 4.

4 سورة الأنعام آية 141.

5 سورة الشمس آية 9، 10.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জাকাতের বিধান

জাকাত হলো ইসলামের অন্যতম মূল ভিত্তি (أصل) এবং এর অন্যতম বুনিয়াদি স্তম্ভ। এই মূল ভিত্তির সপক্ষে কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ (سنة), ঐকমত্য (إجماع) এবং যৌক্তিক দলিল (معقول) প্রমাণ পেশ করে:

- প্রথম প্রকার: জাকাত ফরজ (فرض) হওয়ার বিষয়ে মহান আল্লাহর কিতাব থেকে অসংখ্য দলিল রয়েছে। নামাজের অনুষঙ্গ হিসেবে আশিটিরও বেশি স্থানে এর উল্লেখ এসেছে, যার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: {আর তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো।} ১

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তাদেরকে এছাড়া আর কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে তাঁরই আনুগত্যে নিষ্ঠাবান হয়ে একনিষ্ঠভাবে এবং নামাজ কায়েম করবে ও জাকাত প্রদান করবে; আর এটাই সঠিক দ্বীন।} ২

জাকাত ফরজ (فرض) হওয়ার দলিলসমূহের মধ্যে মুমিনদের গুণাবলি বর্ণনায় মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা জাকাতের ক্ষেত্রে সক্রিয়।} ৩

ইবনে কাসীর বলেন: “অধিকাংশ আলিমের মতে, এখানে জাকাত বলতে সম্পদের জাকাত বোঝানো হয়েছে; যদিও এই আয়াতটি মক্কি (مكية), অথচ জাকাত হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে মদিনায় ফরজ (فرض) হয়েছিল। তবে সম্ভবত মদিনায় যা ফরজ (فرض) হয়েছিল তা ছিল নিসাব (نصب) ও সুনির্দিষ্ট পরিমাণের (مقادير) সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি। অন্যথায়, বাহ্যত জাকাতের মূল বিধানটি মক্কায় থাকাকালীনই ওয়াজিব (واجب) ছিল। মহান আল্লাহ মক্কি (مكية) সুরা আল-আনআমে এরশাদ করেছেন: {আর ফসল কাটার দিন তার হক আদায় করে দাও।} ৪ আবার এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে, এখানে জাকাত বলতে শিরক ও পঙ্কিলতা থেকে আত্মার পবিত্রতা (زكاة النفس) অর্জনকে বোঝানো হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন: {সফল হয়েছে সেই ব্যক্তি, যে নিজেকে পবিত্র করেছে; আর ব্যর্থ হয়েছে সেই ব্যক্তি, যে নিজেকে কলুষিত করেছে।} ৫ এর কোনো একটি ব্যাখ্যা অনুযায়ী...”

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৪৩।

২ সূরা আল-বাইয়্যিনাহ, আয়াত ৫।

৩ সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ৪।

৪ সূরা আল-আনআম, আয়াত ১৪১।

৫ সূরা আশ-শামস, আয়াত ৯, ১০।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৬০)
القولين، وقد يحتمل أن يكون كلا الأمرين مراداً وهو زكاة النفوس وزكاة الأموال، فإنه من جملة زكاة النفوس والمؤمن الكامل هو الَّذِي يفصل هذا وهذا والله أعلم”1.

- النوع الثاني من الأدلة: السنة:

جاءت أحاديث كثيرة في الصحيحين وغير هما على فرضية الزكاة ومنها:

1- حديث ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قَال: “بني الإسلام على خمس شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، والحج، وصوم رمضان” 2.

2- حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه المشهور أن جبريل عليه السلام جاء وقال: يا محمد أخبرني عن الإسلام فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم “تشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة وتصوم رمضان” 3 الحديث.

3- ومن الأحاديث المشهورة في الزكاة حديث معاذ حينما بعثه صلى الله عليه وسلم إلى اليمن وجاء فيه “فإن هم أطاعوك لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة في أموالهم تؤخذ من أغنيائهم وترد على فقرائهم، فإن هم أطاعوك لذلك، فإياك وكرائم أموالهم” 4 الحديث.

--------------------------------------------

1 تفسير ابن كثير 3/239.

2 رواه البخاري في كتاب الإيمان باب قوله صلى الله عليه وسلم بني الإسلام انظر: البخاري مع الفتح 1/47 ومسلم في كتاب الإيمان باب بيان أركان الإسلام 1/45 رقم 16.

3 رواه مسلم في كتاب الإيمان باب بيان الإسلام والإيمان والإحسان 1/36 رقم 8.

4 رواه البخاري في كتاب الزكاة باب وجوب الزكاة وباب لا تؤخذ كرائم أموال الناس، انظر: البخاري مع فتح الباري 3/261، 322 ومسلم في كتاب الإيمان باب الدعاء إلى الشهادتين 1/50 رقم 29.
দুই মতের মধ্যে সম্ভবত উভয় বিষয়ই উদ্দেশ্য হতে পারে, আর তা হলো আত্মার পবিত্রতা এবং সম্পদের যাকাত। কেননা এটি আত্মার পবিত্রতার অন্তর্ভুক্ত, এবং পূর্ণাঙ্গ মুমিন তিনিই যিনি এই উভয় বিষয়কে যথাযথভাবে পালন করেন। আর আল্লাহ ভালো জানেন।”১।

- দ্বিতীয় প্রকার দলিল: সুন্নাহ:

সহীহাইন এবং অন্যান্য গ্রন্থে যাকাত ফরজ হওয়ার বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১- ইবনে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর; এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, হজ সম্পন্ন করা এবং রমজানের রোজা পালন করা।” ২।

২- ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত সেই প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিস যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এসে বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “তুমি এই সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং রমজানের রোজা রাখবে” ৩—হাদিস।

৩- যাকাত সংক্রান্ত প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিসসমূহের মধ্যে মুয়াজ (রা.)-এর হাদিসটি অন্যতম, যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন এবং তাতে বর্ণিত হয়েছে: “যদি তারা তোমার এই আনুগত্য করে, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের সম্পদের ওপর সদকা (যাকাত) ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হবে। যদি তারা তোমার এই আনুগত্য করে, তবে তাদের বেছে বেছে উত্তম সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকো” ৪—হাদিস।

--------------------------------------------

১ তাফসিরে ইবনে কাসির ৩/২৩৯।

২ বুখারি এটি ঈমান অধ্যায়ে, ‘নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: ইসলামের ভিত্তি...’ পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারীসহ বুখারি ১/৪৭ এবং মুসলিম ঈমান অধ্যায়ে, ‘ইসলামের রুকনসমূহের বর্ণনা’ পরিচ্ছেদে ১/৪৫, হাদিস নং ১৬।

৩ মুসলিম এটি ঈমান অধ্যায়ে, ‘ইসলাম, ঈমান ও ইহসানের বর্ণনা’ পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন ১/৩৬, হাদিস নং ৮।

৪ বুখারি এটি যাকাত অধ্যায়ে, ‘যাকাত ফরজ হওয়া’ পরিচ্ছেদ এবং ‘মানুষের বেছে বেছে উত্তম সম্পদ গ্রহণ না করা’ পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারীসহ বুখারি ৩/২৬১, ৩২২ এবং মুসলিম ঈমান অধ্যায়ে, ‘শাহাদাতদ্বয়ের দিকে আহ্বানের বর্ণনা’ পরিচ্ছেদে ১/৫০, হাদিস নং ২৯।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৬১)
- النوع الثالث من الأدلة: وهو الإجماع:

فقد أجمعت الأمة على وجوب الزكاة وفرضيتها وأن من جحدها كفر.

قَال ابن قدامة: “وأجمع المسلمون في جميع الأعصار على وجوبها واتفق الصحابة رضي الله عنهم على قتال مانعيها” 1.

- النوع الرابع من الأدلة: وهو المعقول وذلك من وجوه:

1- أن أداء الزكاة من باب إعانة الضعيف وإغاثة اللهيف وإقدار العاجز وتقويته على أداء ما افترض الله عز وجل عليه من التوحيد والعبادات والوسيلة إلى أداء المفروض مفروض.

2- أن الزكاة تطهر نفس المؤدي عن أنجاس الذنوب وتزكي أخلاقه بتخلق الجود والكرم وترك الشح والضَّن2 إذ الأنفس مجبولة على الضَّن بالمال، فتعود السماحة وترتاض لأداء الأمانات وإيصال الحقوق إلى مستحقيها.

3- إن الله تعالى قد أنعم على الأغنياء وفضلهم بصنوف النعمة والأموال الفاضلة عن الحوائج الأصلية وخصهم بها فيتنعمون ويستمتعون بلذيذ العيش، وشكر النعمة فرض عقلاً وشرعاً وأداء الزكاة إلى الفقير من باب شكر النعمة فكان فرضاً.3

--------------------------------------------

1 انظر: المغني لابن قدامة 4/5 وانظر: الإجماع لابن المنذر ص13 والإفصاح لابن هبيرة 1/195 والمجموع للنووي 5/326 وبدائع الصنائع 2/3.

2 الضنّة والضن والمضنّة كل ذلك من الإمساك والبخل. انظر: لسان العرب مادة: ضن 13/261

3 بدائع الصنائع 2/3.
- প্রমাণের তৃতীয় প্রকার: আর তা হলো ঐকমত্য (إجماع):

নিশ্চয়ই উম্মত জাকাত ওয়াজিব (واجب) হওয়া এবং এটি ফরজ (فرض) হওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছে এবং যে ব্যক্তি একে অস্বীকার করবে সে কুফরি (كفر) করল।

ইবনে কুদামা বলেন: “সকল যুগের মুসলিমগণ জাকাত ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.) জাকাত দিতে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন” ১।

- প্রমাণের চতুর্থ প্রকার: আর তা হলো বুদ্ধিভিত্তিক যুক্তি, যা কয়েকটি দিক থেকে বিবেচ্য:

১- জাকাত প্রদান করা দুর্বলকে সাহায্য করা, বিপদগ্রস্তকে উদ্ধার করা এবং অক্ষম ব্যক্তিকে শক্তিশালী ও সামর্থ্যবান করে তোলার অন্তর্ভুক্ত; যেন সে মহান আল্লাহ তার ওপর তাওহিদ ও ইবাদতের যে বিধান ফরজ (فرض) করেছেন তা পালন করতে পারে। আর যা কোনো ফরজ (فرض) বিধান পালনের মাধ্যম, তাও ফরজ (فرض)।

২- জাকাত প্রদানকারীর নফসকে পাপের পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করে এবং দানশীলতা ও মহানুভবতার গুণাবলি অর্জন এবং কৃপণতা ও সংকীর্ণতা পরিহারের মাধ্যমে তার চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করে ২। যেহেতু মানুষের প্রবৃত্তি স্বভাবগতভাবেই সম্পদের প্রতি কৃপণতায় আসক্ত, তাই এটি তাকে উদারতায় অভ্যস্ত করে তোলে এবং আমানত আদায় ও হকদারদের কাছে তাদের প্রাপ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে।

৩- আল্লাহ তাআলা ধনীদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন এবং মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নানা ধরণের নিয়ামত ও সম্পদ দান করে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তিনি তাদের এগুলো দ্বারা বিশেষায়িত করেছেন, ফলে তারা বিলাসিতা ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন উপভোগ করতে পারছে। এমতাবস্থায় নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা বুদ্ধিগত ও শরিয়ত উভয় দিক থেকেই ফরজ (فرض)। আর দরিদ্রকে জাকাত প্রদান করা নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়েরই একটি অংশ, তাই এটি ফরজ (فرض) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। ৩

--------------------------------------------

১ দেখুন: আল-মুগনি লি ইবনে কুদামা ৪/৫ এবং দেখুন: আল-ইজমা লি ইবনুল মুনজির পৃষ্ঠা ১৩ এবং আল-ইফসাহ লি ইবনে হুবাইরা ১/১৯৫ এবং আল-মাজমু লিন নববী ৫/৩২৬ এবং বাদায়েউস সানায়ে ২/৩।

২ আদ-দিন্নাহ (الضنة), আদ-দিন (الضن) এবং আল-মাদ্বিন্নাহ (المضنة) — এই সবগুলোর অর্থ হলো আটকে রাখা এবং কৃপণতা (بخل)। দেখুন: লিসানুল আরব, মূলশব্দ: দিন (ضن) ১৩/২৬১।

৩ বাদায়েউস সানায়ে ২/৩।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৬২)
‌‌المطلب الرابع: أحوال مانع الزكاة

لا يخلو مانع الزكاة من حالين:

الحالة الأولى:

إما أن يكون منكراً لها أصلاً غير معترف بها أنها ركن من أركان الإسلام فهذا إن كان جاهلاً وممن يقبل منه الجهل كحديث عهد بالإسلام أو ممن نشأ بعيداً عن الأمصار فهذا معذور يعرّف بحكمها، أما إذا كان غير ذلك فهو مرتد عن الإسلام وتجري عليه أحكام المرتدين ويستتاب، فإن تاب وإلا قتل لأن الزكاة معلومة من الدين بالضرورة ولا يخفى حكمها، وأدلة وجوبها ظاهرة من الكتاب والسنة والإجماع والمعقول.1

الحالة الثانية:

المقرّ بوجوبها ومعترف بأنها ركن من أركان الإسلام ولكنه ممتنع عن أدائها لايدفعها إلى مستحقيها فهذا يأخذها منه الإمام أو نائبه بالقوة، فإن امتنع عن دفعها قاتله على ذلك2 كما فعل الصديق رضي الله عنه حيث قال: “والله لأقاتلن من فرق بين الصلاة والزكاة، فإن الزكاة حق المال، والله لو منعوني عناقاً3 كانوا يؤدونها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم على منعها”. قَال عمر رضي الله عنه: “فوالله ما هو إلا أن قد شرح الله صدر أبي بكر رضي الله عنه فعرفت أنه الحق” 4

قَال ابن قدامة: واتفق الصحابة رضي الله عنهم على قتال مانعيها.5

--------------------------------------------

1 انْظر: المجموع 5/ 334 والمغني 4/ 6، وفتح الباري 3/ 262.

2 انظر: الحاوي 3/73 والمغني لابن قدامة 4/8.

3 هي الأنثى من أولاد المعز ما لم يتم له سنة. انظر: النهاية 3/ 311.

4 رواه البخاري في كتاب الزكاة باب وجوب الزكاة، انظر: البخاري مع فتح الباري 3/262.

5 المغني 4/5، والكافي 1/ 277.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জাকাত প্রদান অস্বীকারকারীর অবস্থা

জাকাত প্রদান অস্বীকারকারী দুই অবস্থার বাইরে নয়:

প্রথম অবস্থা:

হয় সে মূলত এটি অস্বীকার করে এবং এটি যে ইসলামের অন্যতম রুকন (রুকন), তা স্বীকার করে না। এমতাবস্থায় সে যদি অজ্ঞ হয় এবং যার পক্ষ থেকে অজ্ঞতা গ্রহণযোগ্য (যেমন: নওমুসলিম অথবা জনপদ থেকে দূরে লালিত-পালিত ব্যক্তি), তবে সে ওজরগ্রস্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং তাকে এর বিধান সম্পর্কে জানানো হবে। কিন্তু যদি বিষয়টি এর বাইরে হয় (অর্থাৎ জেনেশুনে অস্বীকার করে), তবে সে ইসলাম থেকে ধর্মত্যাগী (مرتد) হিসেবে গণ্য হবে এবং তার ওপর ধর্মত্যাগীদের বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে এবং তাকে তওবা করতে বলা হবে। যদি সে তওবা করে (তবে ভালো), অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। কারণ জাকাত দ্বীনের এমন একটি বিধান যা অকাট্যভাবে জ্ঞাত (معلوم من الدين بالضرورة) এবং এর বিধান কারো কাছে গোপন নয়। আর এর ওয়াজিব হওয়ার দলিলসমূহ কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা (إجماع) এবং যুক্তির নিরিখে সুস্পষ্ট।১

দ্বিতীয় অবস্থা:

যে ব্যক্তি এর ওয়াজিব হওয়া স্বীকার করে এবং একে ইসলামের অন্যতম রুকন বলে মান্য করে, কিন্তু তা আদায়ে বিরত থাকে এবং এর হকদারদের নিকট তা প্রদান করে না; এমতাবস্থায় ইমাম (শাসক) বা তার প্রতিনিধি তার নিকট থেকে তা বলপূর্বক গ্রহণ করবেন। যদি সে তা প্রদানে বাধা দেয়, তবে এর জন্য তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে ২; যেমনটি সিদ্দীক (রা.) করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: “আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব, যে সালাত ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা জাকাত হলো সম্পদের হক। আল্লাহর কসম! তারা যদি আমাকে একটি ছাগলছানা (عناق) ৩ দিতেও অস্বীকার করে যা তারা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রদান করত, তবে তা অস্বীকার করার কারণে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।” উমর (রা.) বলেন: “আল্লাহর কসম! আল্লাহ তাআলা আবু বকর (রা.)-এর বক্ষ উন্মোচন করে দিয়েছিলেন বলেই আমি বুঝতে পারলাম যে, এটিই সত্য।” ৪

ইবনে কুদামা বলেন: সাহাবীগণ (রা.) জাকাত প্রদান অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ব্যাপারে ঐকমত্য (اتفاق) পোষণ করেছেন।৫

--------------------------------------------

১ দেখুন: আল-মাজমু ৫/৩৩৪ এবং আল-মুগনি ৪/৬, এবং ফাতহুল বারী ৩/২৬২।

২ দেখুন: আল-হাভি ৩/৭৩ এবং ইবনে কুদামার আল-মুগনি ৪/৮।

৩ এটি ছাগলের এমন মাদী বাচ্চা যার বয়স এক বছর পূর্ণ হয়নি। দেখুন: আন-নিহায়া ৩/৩১১।

৪ এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন জাকাত অধ্যায়ে, জাকাত ওয়াজিব হওয়া অনুচ্ছেদে। দেখুন: ফাতহুল বারীসহ বুখারি ৩/২৬২।

৫ আল-মুগনি ৪/৫, এবং আল-কাফি ১/২৭৭।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৬৩)
وقال ابن عبد البر: مقاتلهم على ذلك في جهود الصحابة واراق دمائهم لمنع الزكاة.1

وقال الماوردي: فأجمعت الصحابة معه على وجوبها بعد مخالفتهم له وأطاعوه على قتال مانعيها بعد إنكارهم عليه.2

--------------------------------------------

1 التمهيد 4/ 231.

2 الحاوي 3/ 73.
ইবনে আবদিল বার বলেন: সাহাবীগণের (الصحابة) প্রচেষ্টায় এবং জাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাদের রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে তিনি তাদের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে যুদ্ধ করেছিলেন।১

আল-মাওয়ার্দি বলেন: সাহাবীগণ (الصحابة) প্রথমে তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করার পর এর আবশ্যকতা (وجوب) বিষয়ে তাঁর সাথে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছিলেন এবং তারা প্রথমে আপত্তি জানালেও পরবর্তীতে জাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাঁর আনুগত্য করেছিলেন।২

--------------------------------------------

১ আত-তামহিদ ৪/ ২৩১।

২ আল-হাউয়ি ৩/ ৭৩।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৬৪)
‌‌باب: الفصل الثاني

‌‌المطلب الأول: وهو الشرط الأول: الإسلام

…

الفصل الثاني: شروط أداء الزكاة

لأداء الزكاة شروط هي في الجملة:

الإسلام، التكليف، الحرية، تمام الملك، النصاب، الحول، النية.

المطلب الأول وهو الشرط الأول: الإسلام

لا زكاة على الكافر الأصلي سواء كان حربياً أو ذمياً مستأمناً لأن الزكاة عبادة والكافر ليس من أهل العبادة لعدم شرط الأهلية وهو الإسلام فلا يكون من أهل وجوبها حتى لا يطالب بالأداء بعد الإسلام كالصوم والصلاة والحج وغيرها من فروع الإسلام 1.

وهذا ليس مخالفة لقول جماهير أهل العلم أن الكفار يخاطبون بفروع الشريعة فهذه مسألة أصولية 2.

قَال الإمام النووي: لأن المراد هنا غير المراد هناك فهم لا يطالبون بها في الدنيا مع كفرهم وإذا أسلم أحدهم لم يلزمه قضاء الماضي 3.

أما المرتد فقد وقع فيه خلاف هل تجب الزكاة في ماله أم لا؟ جمهور أهل العلم لا زكاة في مال المرتد خلافاً للشافعية إن وجبت عليه زكاة قبل ردته لم تسقط عنه بالردة كما وجبت عليه في حال الإسلام فهذا مال اكتسبه حال كونه مسلماً فوجبت فيه الزكاة أما المال الَّذِي اكتسبه حال كونه مرتداً فهذا على وجهين:

--------------------------------------------

1 انظر: حاشية رد المحتار 2/259، وبداية المجتهد 1/245، والمجموع 5/326 والمغني 4/69.

2 انظر: روضة الناظر لابن قدامة ص50، 51 والمستصفى للغزالي 1/91 وفواتح الرحموت 1/128.

3 المجموع 3/ 4، وانظر: بدائع الصنائع 2/ 4.
‌‌পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় অধ্যায়

‌‌প্রথম অন্বেষা: যা হলো প্রথম শর্ত: ইসলাম

…

দ্বিতীয় অধ্যায়: জাকাত আদায়ের শর্তাবলি

জাকাত আদায়ের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে যা সংক্ষেপে হলো:

ইসলাম, শরয়ি দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা (تكليف), স্বাধীনতা (حرية), পূর্ণ মালিকানা (تمام الملك), নিসাব (نصاب), বছর অতিক্রান্ত হওয়া (حول), নিয়ত (نية)।

প্রথম অন্বেষা, যা হলো প্রথম শর্ত: ইসলাম

জন্মগত কাফিরের (كافر أصلي) ওপর জাকাত নেই, সে যুদ্ধরত (حربي) হোক কিংবা চুক্তিবদ্ধ (ذمي) বা নিরাপত্তা প্রাপ্ত (مستأمن) হোক; কারণ জাকাত হলো একটি ইবাদত (عبادة), আর কাফির ইবাদত করার যোগ্য নয়। কেননা তার মধ্যে যোগ্যতার শর্ত তথা ইসলাম অনুপস্থিত। অতএব সে জাকাত ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার যোগ্য হবে না, এমনকি ইসলাম গ্রহণের পর তার কাছে বিগত সময়ের জাকাত আদায়ের দাবিও করা হবে না; যেমনটি নামাজ, রোজা, হজ এবং ইসলামের অন্যান্য শাখা-প্রশাখার (فروع الإسلام) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে ১।

আর এটি অধিকাংশ (جمهور) আলেমের এই মতের পরিপন্থী নয় যে, কাফিররা শরয়ি বিধানের শাখা-প্রশাখার (فروع الشريعة) মাধ্যমে সম্বোধিত; কেননা এটি একটি উসূলি মাসআলা (مسألة أصولية) ২।

ইমাম নববী বলেন: "কারণ এখানে যা উদ্দেশ্য, সেখানে তা উদ্দেশ্য নয়। তারা কুফর অবস্থায় দুনিয়াতে জাকাত আদায়ের জন্য আদিষ্ট হবে না, আর তাদের কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে অতীতের কাজা (قضاء) করা তার জন্য আবশ্যক হবে না" ৩।

তবে মুরতাদের (مرتد) ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে যে, তার সম্পদে জাকাত ওয়াজিব (تجب) হবে কি না? অধিকাংশ (جمهور) আলেমের মতে মুরতাদের সম্পদে কোনো জাকাত নেই; তবে শাফেয়ি মাযহাবের মত এর বিপরীত। যদি মুরতাদ হওয়ার আগেই তার ওপর জাকাত ওয়াজিব হয়ে থাকে, তবে মুরতাদ হওয়ার কারণে তা তার থেকে রহিত হবে না, যেমনটি ইসলাম অবস্থায় তার ওপর ওয়াজিব হয়েছিল। কারণ এটি এমন সম্পদ যা সে মুসলিম থাকা অবস্থায় উপার্জন করেছে, ফলে তাতে জাকাত ওয়াজিব হয়েছে। আর যে সম্পদ সে মুরতাদ অবস্থায় উপার্জন করেছে, তার দুটি দিক রয়েছে:

--------------------------------------------

১. দেখুন: হাশিয়া রাদ্দুল মুহতার ২/২৫৯, বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/২৪৫, আল-মাজমু ৫/৩২৬ এবং আল-মুগনি ৪/৬৯।

২. দেখুন: ইবনে কুদামার রওদাতুন নাজির পৃ. ৫০, ৫১; গাজালির আল-মুসতাসফা ১/৯১ এবং ফাওয়াতিহুর রাহমুত ১/১২৮।

৩. আল-মাজমু ৩/৪, এবং দেখুন: বাদায়েউস সানায়ে ২/৪।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৬৫)
الأول: القطع بوجوب الزكاة وبه قَال ابن سريج1.

الثاني: وهو قول جمهور الشافعية أن الأمر في ذلك مبني على بقاء ملكه لهذا المال وزواله.

والصحيح عندهم أنه موقوف فإن رجع إلى الإسلام تبينا بقاءه فتجب وإلا فلا 2.

--------------------------------------------

1 هو أحمد بن عمر أبو العباس يقال له الباز الأشهب شيخ الشافعية في زمانه مات سنة 306 هـ انظر: في ترجمته تاريخ بغداد 4/287 وطبقات الشافعية للسبكي 3/21.

2 انظر: بدائع الصنائع 2/ 4، وحاشية رد المحتار 2/259، والمهذب 1/147 والمجموع 5/328، والكافي لابن قدامة 1/278.
প্রথম: জাকাত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সুনিশ্চিত (القطع) হওয়া এবং ইবনে সুরাইজ ১ একথাই বলেছেন।

দ্বিতীয়: এটি শাফেঈ মাজহাবের জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মত যে, এই বিষয়টি উক্ত মালের ওপর তার মালিকানা থাকা বা বিলুপ্ত হওয়ার ওপর নির্ভরশীল।

তাদের নিকট সহিহ (الصحيح) বা সঠিক মত হলো যে, এটি স্থগিত (موقوف) থাকবে; যদি সে ইসলামে ফিরে আসে তবে মালিকানা বহাল থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং জাকাত ওয়াজিব হবে, অন্যথায় নয় ২।

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন আহমদ বিন উমর আবু আল-আব্বাস, তাঁকে 'আল-বাজ আল-আশহাব' বলা হতো; তিনি তাঁর সময়ের শাফেঈদের শাইখ ছিলেন। তিনি ৩০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: তাঁর জীবনী (ترجمة) সংক্রান্ত আলোচনা তারিখে বাগদাদ ৪/২৮৭ এবং সুবকী-র তাবাকাতুশ শাফেঈয়্যাহ ৩/২১।

২ দেখুন: বাদায়েউস সানায়ে ২/৪, হাশিয়া রাদ্দুল মুহতার ২/২৫৯, আল-মুহাজ্জাব ১/১৪৭, আল-মাজমু ৫/৩২৮ এবং ইবনে কুদামার আল-কাফি ১/২৭৮।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৬৬)
‌‌المطلب الثاني وهو الشرط الثاني: التكليف

هل يشترط البلوغ والعقل لأداء الزكاة، وهل تجب الزكاة في مال الصغير والمجنون وما شابههما؟

اختلف الفقهاء في ذلك:

القول الأول: أكثر أهل العلم يجب الزكاة في مالهما ويخرج عنهما وليهما روي ذلك عن جمع من الصحابة كعمر وعائشة وجابر وابن عمر رضي الله عنهم ومن الأئمة: الثلاثة مالك والشافعي وأحمد.

القول الثاني: تجب الزكاة ويخرجها الصبي إذا بلغ والمجنون إذا أفاق قَال به من الصحابة ابن مسعود وهو قول الأوزاعي والثوري.

القول الثالث: لا تجب الزكاة في أموالهما أصلاً قَال به الحسن وسعيد بن جبير والنخعي وغيرهم.

القول الرابع: ذهب أبو حنيفة وأصحابه إلى أنه لا زكاة عليهما إلا في الخارج من الأرض من الزروع والثمار وما عدا ذلك فلا زكاة عليهما في النقدين وعروض التجارة وبهيمة الأنعام 1.

هذه أربعة أقوال في حكم زكاة مال الصبي والمجنون ويمكن اختصارها إلى قولين قول بالوجوب وقول بعدم الوجوب.

أدلة الوجوب: استدلوا بمجموعة من الأدلة:

أولاً: بعموم الأدلة الدالة على وجوب الزكاة من الآيات والأحاديث حيث لم تفرق بين الصغير والكبير وبين العاقل وغير العاقل كقوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ

--------------------------------------------

1 انظر: بدائع الصنائع 2/4، المنتقى للباجي 2/110 والحاوي 3/152 والمغني لابن قدامة 4/69.
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ এবং দ্বিতীয় শর্ত: শরয়ি দায়িত্বভার (তাকলিফ)

যাকাত আদায়ের জন্য কি বালেগ হওয়া এবং সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া শর্ত? নাবালেগ ও উন্মাদের সম্পদ এবং তাদের সদৃশ ব্যক্তিদের সম্পদে কি যাকাত ওয়াজিব হবে?

ফকিহগণ এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন:

প্রথম মত: অধিকাংশ আলেম মনে করেন যে, তাদের সম্পদে যাকাত ওয়াজিব এবং তাদের অভিভাবক তাদের পক্ষ থেকে তা প্রদান করবেন। এটি ওমর, আয়েশা, জাবের এবং ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এর মতো একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর ইমামদের মধ্যে তিন ইমাম: মালিক, শাফেয়ী ও আহমদ (রহ.) এই মত পোষণ করেছেন।

দ্বিতীয় মত: যাকাত ওয়াজিব হবে এবং নাবালেগ বালেগ হওয়ার পর এবং উন্মাদ ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার পর তা আদায় করবে। সাহাবীদের মধ্যে ইবনে মাসউদ (রা.) এটি বলেছেন এবং এটি আওযায়ী ও সাওরী (রহ.)-এর অভিমত।

তৃতীয় মত: তাদের সম্পদে আদতে কোনো যাকাত ওয়াজিব নয়। হাসান, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, নাখায়ী এবং অন্যান্যরা এই মত পোষণ করেছেন।

চতুর্থ মত: ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর অনুসারীরা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, ভূমি থেকে উৎপাদিত ফসল ও ফলমূল ব্যতীত তাদের অন্য কোনো সম্পদে যাকাত নেই। এছাড়া স্বর্ণ-রৌপ্য, বাণিজ্যিক পণ্য এবং গবাদি পশুর ওপর তাদের কোনো যাকাত দিতে হবে না। ১

নাবালেগ ও উন্মাদের সম্পদের যাকাতের বিধান নিয়ে এই চারটি অভিমত রয়েছে এবং এগুলোকে সংক্ষেপে দুটি মতে সীমাবদ্ধ করা যায়: ওয়াজিব হওয়ার মত এবং ওয়াজিব না হওয়ার মত।

ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে দলিলসমূহ: তারা একগুচ্ছ দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন:

প্রথমত: যাকাত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কুরআন ও হাদিসের সাধারণ দলিলসমূহের ব্যাপকতার ভিত্তিতে। যেখানে ছোট-বড় এবং সুস্থ মস্তিষ্ক ও বিকৃত মস্তিষ্কের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তোমরা নামাজ কায়েম করো...

--------------------------------------------

১ দেখুন: বাদায়েউস সানায়ে ২/৪, আল-মুনতাকা লিল বাজি ২/১১০, আল-হাভি ৩/১৫২ এবং আল-মুগনি লি ইবনি কুদামা ৪/৬৯।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৬৭)
وَآتُوا الزَّكَاةَ} 1 وغيرها وحديث معاذ السابق2 قَال البغوي عنه:

دليل على أن الطفل الغني تلزمه الزكاة لقوله: (من أغنيائهم) 3.

ثانياً: حديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أن النبي صلى الله عليه وسلم خطب الناس فقال: “ألا من ولي يتيماً له مال فليتجر فيه ولا يتركه حتى تأكله الصدقة”.

رواه الترمذي وغيره 4.

ثالثاً: بقول الصحابة رضي الله عنهم ومن ذلك:

قَال عمر بن الخطاب: اتجروا بأموال اليتامى وأعطوا صدقتها.

وفي رواية قَال: ابتغوا في أموال اليتامى قبل أن تأكلها الزكاة.

وفي رواية: أن عمر كان يزكي مال اليتيم. وفي رواية قَال: ابتغوا لليتامى في أموالهم.

ما جاء عن القاسم بن محمد قَال: كنا يتامى في حجر عائشة فكانت تزكي أموالنا. وفي رواية قال: كان مالنا عند عائشة فكانت تزكيه ونحن يتامى.

وقال جابر بن عبد الله في الرجل يلي مال اليتيم “يعطي زكاته” 5.

فهؤلاء جمع من الصحابة كانوا يزكون أموال اليتامى وقول الصحابي حجة عند الجمهور.

رابعاً: قياس الزكاة باعتبارها حقاً مالياً على سائر الحقوق المالية الأخرى كالنفقات وقيم المتلفات وأرش الجنايات فهذه الحقوق واجبة على الصبي

--------------------------------------------

1 سورة البقرة آية 43.

2 سبق تخريج حديث معاذ (ص 260) من هذا البحث.

3 شرح السنة 5/473.

4 انظر: سنن الترمذي في أبواب الزكاة باب الزكاة ما جاء في زكاة اليتيم 2/76 رقم 636.

5 انظر في هذه الآثار: مصنف عبد الرزاق كتاب الزكاة باب صدقة مال اليتيم 4/66 رقم 6981، 6984، 6985، 6989، 6993 والسنن الكبرى 4/108.
"...এবং যাকাত প্রদান করো।" ১ এবং অন্যান্য দলিল এবং মুয়ায-এর পূর্বোক্ত হাদিস ২ সম্পর্কে বাগাবী (রহ.) বলেন:

এটি সম্পদশালী শিশুর ওপর যাকাত আবশ্যক হওয়ার প্রমাণ (دليل), যেহেতু নবীজি ﷺ বলেছেন: "(তাদের ধনীদের থেকে)" ৩।

দ্বিতীয়ত: আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী ﷺ মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদানকালে বলেন: "সাবধান! যে ব্যক্তি এমন কোনো এতিমের অভিভাবক হয় যার সম্পদ রয়েছে, সে যেন তা দিয়ে ব্যবসা করে এবং তা এভাবে ফেলে না রাখে যেন সদকা (যাকাত) তা খেয়ে ফেলে।"

তিরমিজি ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন ৪।

তৃতীয়ত: সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর বক্তব্যসমূহ, যার অন্তর্ভুক্ত হলো:

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন: তোমরা এতিমদের সম্পদ নিয়ে ব্যবসা করো এবং তার যাকাত প্রদান করো।

অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে, তিনি বলেন: তোমরা এতিমদের সম্পদের মাধ্যমে মুনাফা অন্বেষণ করো, যাকাত তা খেয়ে ফেলার আগেই।

আরেকটি বর্ণনায় (رواية) আছে যে: উমর (রা.) এতিমের সম্পদের যাকাত প্রদান করতেন। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে যে, তিনি বলেন: তোমরা এতিমদের জন্য তাদের সম্পদের মাধ্যমে মুনাফা অনুসন্ধান করো।

কাসিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমরা আয়েশা (রা.)-এর তত্ত্বাবধানে এতিম হিসেবে ছিলাম, আর তিনি আমাদের সম্পদের যাকাত প্রদান করতেন। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) তিনি বলেন: আমাদের সম্পদ আয়েশা (রা.)-এর নিকট ছিল এবং আমরা এতিম থাকা অবস্থায় তিনি তার যাকাত দিতেন।

এবং জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন যে এতিমের সম্পদের দায়িত্বশীল হয়, "সে যেন তার যাকাত প্রদান করে" ৫।

এঁরা সাহাবীদের একটি জামাত যারা এতিমদের সম্পদের যাকাত প্রদান করতেন, আর জমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ আলিমের নিকট সাহাবীর বক্তব্য একটি দলিল (حجة)।

চতুর্থত: যাকাতকে একটি আর্থিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করে অন্যান্য সকল আর্থিক অধিকারের ওপর কিয়াস (قياس) করা, যেমন—ভরণপোষণ, ধ্বংসকৃত বস্তুর মূল্য এবং অপরাধের জরিমানা (আরশ); কারণ এই অধিকারগুলো শিশুর ওপরও ওয়াজিব।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৪৩।

২ এই গবেষণার (২৬০ পৃষ্ঠায়) মুয়ায (রা.)-এর হাদিসের তাখরিজ (تخريج) পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

৩ শারহুস সুন্নাহ ৫/৪৭৩।

৪ দেখুন: সুনান তিরমিজি, যাকাত অধ্যায়, এতিমের যাকাত অনুচ্ছেদ ২/৭৬, হাদিস নং ৬৩৬।

৫ এই আসার (آثار) বা বর্ণনাগুলোর জন্য দেখুন: মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, যাকাত অধ্যায়, এতিমের সম্পদের যাকাত অনুচ্ছেদ ৪/৬৬, হাদিস নং ৬৯৮১, ৬৯৮৪, ৬৯৮৫, ৬৯৮৯, ৬৯৯৩ এবং সুনানুল কুবরা ৪/১০৮।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৬৮)
والمجنون فكذلك الزكاة.

أدلة أصحاب القول الثاني:

أولاً: بقوله تعالى: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا} 1 الآية.

ووجه الدلالة من الآية: أن المراد من الزكاة تطهير النفس من الذنوب والصبي والمجنون لا ذنوب عليهما لأنهما ليسا من أهل التطهير فهما غير مكلفين والزكاة لا تجب إلا على المكلف.

ثانياً: حديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه قوله صلى الله عليه وسلم: “رفع القلم عن ثلاثة عن النائم حتى يستيقظ، وعن الصبي حتى يشب، وعن المعتوه حتى يعقل”، قَال الترمذي: وفي الباب عن عائشة.

حديث علي حديث حسن غريب من هذا الوجه، وقد روي من غير وجه عن علي وذكر بعضهم (وعن الغلام حتى يحتلم) ، ولا نعرف للحسن سماعاً من علي بن أبي طالب رضي الله عنه.2.

ووجه الدلالة:

دل الحديث على رفع القلم عن المذكورين كناية عن عدم التكليف والصبي والمجنون ليسا من أهل التكليف والزكاة لا تجب إلا على المكلفين كغيرها من العبادات كالصلاة والصيام والحج وهذه العبادات تحتاج إلى نية وهما لا نية لهما.3.

والقول الأول هو الراجح إن شاء الله لأنه يتفق مع مقصود الشارع

--------------------------------------------

1 سورة التوبة آية (103) .

2 انظر: سنن الترمذي أبواب الحدود الباب الأول رقم الحديث 1446 ورواه أحمد في المسند 6/100 وأبو داود في كتاب الحدود 4/139 - 141 رقم 4398 -4403.

3 انظر: بدائع الصنائع 2/815.
এবং পাগলের ক্ষেত্রেও জাকাতের বিধান একইরূপ।

দ্বিতীয় মত পোষণকারীদের দলিলসমূহ:

প্রথমত: মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং পরিশুদ্ধ করবেন} ১ (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।

আয়ত থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি: জাকাতের উদ্দেশ্য হলো গুনাহ থেকে আত্মাকে পবিত্র করা। শিশু এবং পাগলের কোনো গুনাহ নেই, কারণ তারা পবিত্রকরণের উপযুক্ত নয়; তারা শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ (مكلف) নয়, আর জাকাত কেবল শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ (مكلف) ব্যক্তির ওপরই ওয়াজিব হয়।

দ্বিতীয়ত: আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বর্ণিত হাদিস, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “তিন ব্যক্তির ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ মস্তিস্ক সম্পন্ন হয়।” তিরমিজি বলেন: এই অধ্যায়ে আয়েশা (রা.) থেকেও বর্ণনা রয়েছে।

আলীর হাদিসটি এই সূত্রে হাসান (حسن) গরিব (غريب)। এটি আলী (রা.) থেকে অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে এবং তাদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন (বালক স্বপ্নদোষ হওয়া পর্যন্ত)। আলীর ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে হাসানের শ্রবণ (سماع) সম্পর্কে আমাদের জানা নেই।২।

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি:

হাদিসটি উল্লিখিত ব্যক্তিদের ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়ার কথা বলে যা তাদের শরয়ি দায়িত্বহীনতার প্রতি ইঙ্গিতস্বরূপ। শিশু ও পাগল শরয়ি দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত নয়। আর সালাত, সিয়াম ও হজের মতো অন্যান্য ইবাদতের ন্যায় জাকাতও কেবল শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ (المكلفين) ব্যক্তিদের ওপরই ওয়াজিব হয়। আর এই ইবাদতগুলোর জন্য নিয়ত প্রয়োজন, কিন্তু তাদের উভয়ের কোনো নিয়ত নেই।৩।

প্রথম মতটিই ইনশাআল্লাহ অগ্রগণ্য (الراجح), কারণ এটি শরয়ি বিধানদাতার (الشارع) উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

--------------------------------------------

১ সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত (১০৩)।

২ দেখুন: সুনানে তিরমিজি, আবওয়াবুল হুদুদ, প্রথম অধ্যায়, হাদিস নং ১৪৪৬; এটি আহমাদ মুসনাদ গ্রন্থে ৬/১০০ এবং আবু দাউদ কিতাবুল হুদুদ গ্রন্থে ৪/১৩৯-১৪১, নং ৪৩৯৮-৪৪০৩ বর্ণনা করেছেন।

৩ দেখুন: বাদায়েউস সানায়ে ২/৮১৫।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৬৯)
الحكيم وهو سد حاجة الفقراء والمحتاجين وهذه العلة يشترك فيها البالغ وغير البالغ والعاقل وغير العاقل فلا فرق بين الأموال من حيث وجوب الزكاة.

وقد أجاب الجمهور عن أدلة أصحاب القول الثاني بما يلي:

أولاً: أجابوا عن وجه الدلالة من الآية بجوابين:

1- ليست العلة من الزكاة التطهير فقط، وإنما هناك علل وحكم أخرى من أجلها: سد حاجة الفقراء وهذه لا فرق فيها بين مال الصغير والكبير فهما على حد سواء.

2- ليس التطهير خاص بإزالة الذنوب وإنما يشتمل على أمور أخرى كتربية النفس على الفضائل والخلق الحسن وتعويدها على البذل والسخاء والإنفاق وغير ذلك.

ثانيا: وأما قوله صلى الله عليه وسلم في الحديث “رفع القلم عن ثلاثة “ المراد رفع الإثم والوجوب ونحن نقول لا إثم عليهما ولا تجب الزكاة عليهما بل تجب في مالهما ويطالب بإخراجها وليهما كما يجب في مالهما قيمة ما أتلفاه ويجب على الولي دفعها1.

ثالثا: وقياس الزكاة على العبادات الأخرى قياس مع الفارق فتلك عبادات بدنية تحتاج إلى جهد ومشقة والزكاة من العبادات المالية التي لا تحتاج إلى جهد ومشقة فلا فرق فيها بين الصغير والكبير.

رابعا: أن نية الصبي والمجنون لا تتحقق في الزكاة فنيتهما ضعيفة والزكاة من الحقوق المالية فأشبه نفقة الأقارب والزوجات وأرش الجنايات وقيم المتلفات والولي يقوم مقامهما في ذلك2.

--------------------------------------------

1 انظر: المجموع للنووي 5/330.

2 انظر: المغني لابن قدامة 4/70، 71 والحاوي 3/153.
প্রজ্ঞাময় (আল্লাহর বিধান), আর তা হলো দরিদ্র ও অভাবীদের প্রয়োজন পূরণ করা। আর এই কারণের (علة) ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং জ্ঞানসম্পন্ন ও জ্ঞানহীন ব্যক্তির মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। সুতরাং জাকাত ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে সম্পদের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।

জমহুর (جمهور) উলামায়ে কেরাম দ্বিতীয় মত পোষণকারীদের দলীলসমূহের নিম্নোক্ত জবাব দিয়েছেন:

প্রথমত: তাঁরা আয়াতের নির্দেশনার ধরনের (وجه الدلالة) ব্যাপারে দুটি উত্তর দিয়েছেন:

1- জাকাতের একমাত্র কারণ (علة) শুধু পবিত্রতা অর্জন নয়; বরং এর পেছনে আরও অনেক কারণ ও হিকমত রয়েছে, যার একটি হলো: দরিদ্রদের প্রয়োজন পূরণ করা। আর এ ক্ষেত্রে শিশু ও বড়দের সম্পদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, বরং উভয়ই সমান।

2- পবিত্রতা অর্জন করা কেবল গুনাহ মোচনের সাথেই সুনির্দিষ্ট নয়; বরং এটি অন্যান্য বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন নফসকে উচ্চমর্যাদা ও উত্তম চরিত্রের ওপর গড়ে তোলা এবং দান-সদকা ও ব্যয়ের অভ্যাসে অভ্যস্ত করা ইত্যাদি।

দ্বিতীয়ত: হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "তিন ব্যক্তির ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে"—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো গুনাহ এবং আবশ্যকতা (وجوب) তুলে নেওয়া। আমরা বলি যে, তাদের কোনো গুনাহ হবে না এবং তাদের ওপর জাকাত আদায় করাও আবশ্যক নয়; বরং জাকাত তাদের সম্পদের ওপর ওয়াজিব হয় এবং তা আদায়ের দাবিদার হবে তাদের অভিভাবক (ولي)। যেমন তাদের সম্পদের মাধ্যমে তাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত জিনিসের বিনিময় প্রদান করা ওয়াজিব হয় এবং তা পরিশোধ করা অভিভাবকের (ولي) ওপর আবশ্যক।১

তৃতীয়ত: অন্যান্য ইবাদতের ওপর জাকাতকে কিয়াস (قياس) করা হলো অসম কিয়াস (قياس مع الفارق)। কারণ সেগুলো হলো শারীরিক ইবাদত যাতে শ্রম ও কষ্টের প্রয়োজন হয়, পক্ষান্তরে জাকাত হলো আর্থিক ইবাদত যাতে শারীরিক শ্রম ও কষ্টের প্রয়োজন নেই। তাই এতে ছোট ও বড়র মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।

চতুর্থত: শিশু ও পাগলের ক্ষেত্রে জাকাতের নিয়ত (نية) সম্পন্ন হয় না, কারণ তাদের নিয়ত দুর্বল (ضعيف)। আর জাকাত হলো আর্থিক হকের অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি আত্মীয়-স্বজন ও স্ত্রীদের ভরণপোষণ, অপরাধের জরিমানা (أرش) এবং বিনষ্ট জিনিসের মূল্যের সদৃশ। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক (ولي) তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে থাকেন।২

--------------------------------------------

১ দেখুন: আল-নাওয়াবি কৃত আল-মাজমু ৫/৩৩০।

২ দেখুন: ইবনে কুদামা কৃত আল-মুগনি ৪/৭০, ৭১ এবং আল-হাউয়ি ৩/১৫৩।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৭০)
‌‌المطلب الثالث: وهو الشرط الثالث: الحرية

اختلف العلماء في وجوب الزكاة على الرقيق على أقوال ثلاثة:

القول الأول: لا زكاة في ماله أصلاً قَال به من الصحابة ابن عمر وجابر رضي الله عنهما وغير هما وهو قول مالك وأحمد من الفقهاء.

القول الثاني: تجب الزكاة في مال الرقيق على سيده وهو قول للشافعية والحنفية.

القول الثالث: تجب الزكاة في ماله وبه قَال عطاء وأبو ثور وأهل الظاهر.

وسبب اختلافهم في زكاة مال الرقيق هو اختلافهم في هل يملك المال أم لا؟ فمن رأى أنه لا يملك المال وأن السيد هو المالك قَال الزكاة على السيد ومن رأى أنه يملك المال لأنه آدمي يملك النكاح فيملك المال كالحر قَال الزكاة في ماله.

ومن رأى أن ملكه ناقص قَال لا زكاة عليه أصلاً لأن الزكاة إنما تجب في تمام الملك.

أما المكاتب فهل تجب الزكاة في ماله؟

جمهور العلماء من السلف والخلف لا زكاة في مال المكاتب حتى يعتق وقال أبو ثور: تجب في ماله كالحر وحكي ذلك عن داود وقال أبو حنيفة يجب العشر في زرعه ولا تجب الزكاة في باقي أمواله.

واستدل الجمهور بحديث “لا زكاة في مال المكاتب” أخرجه البيهقي.1.

ولأن ملكه ضعيف بخلاف الحر، ولأن الزكاة تجب على طريق المواساة وليس هو من أهلها.

--------------------------------------------

1 انظر: السنن الكبرى كتاب الزكاة 4/109 وسنن الدارقطني كتاب الزكاة باب ليس في مال المكاتب زكاة 2/108.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তৃতীয় শর্ত: স্বাধীন হওয়া (حرية)

দাসের সম্পদের ওপর জাকাত ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে ওলামায়ে কেরাম তিনটি মতের ওপর ভিত্তি করে মতভেদ করেছেন:

প্রথম মত: তার সম্পদে আদতেই কোনো জাকাত নেই। সাহাবীগণের (صحابة) মধ্যে ইবনে উমর ও জাবির (রা.) এবং আরও অনেকে এই মত পোষণ করেছেন। ফকিহগণের (فقهاء) মধ্যে এটি ইমাম মালিক ও ইমাম আহমাদের অভিমত।

দ্বিতীয় মত: দাসের সম্পদের জাকাত তার মনিবের ওপর ওয়াজিব হবে। এটি শাফেয়ী ও হানাফীগণের একটি অভিমত।

তৃতীয় মত: তার সম্পদেই জাকাত ওয়াজিব হবে। আতা, আবু সাওর এবং আহলে জাহিরগণ এই মত ব্যক্ত করেছেন।

দাসের সম্পদের জাকাত নিয়ে তাদের এই মতভেদের কারণ হলো—সে কি সম্পদের মালিকানা লাভ করে নাকি করে না—সে বিষয়ে তাদের মাঝে বিদ্যমান মতপার্থক্য। যারা মনে করেন যে, দাস কোনো সম্পদের মালিকানা লাভ করে না বরং তার মনিবই এর মালিক, তারা বলেন জাকাত মনিবের ওপর ওয়াজিব। আর যারা মনে করেন যে, সে সম্পদের মালিকানা লাভ করে—কেননা সে একজন মানুষ হিসেবে যেমন বিবাহের মালিকানা (অধিকার) লাভ করে তেমনি স্বাধীন ব্যক্তির মতো সম্পদের মালিকানাও লাভ করতে পারে—তারা বলেন জাকাত তার সম্পদেই ওয়াজিব।

আর যারা মনে করেন যে তার মালিকানা অসম্পূর্ণ (ناقص), তারা বলেন তার ওপর আদতেই কোনো জাকাত নেই; কারণ জাকাত কেবল পূর্ণ মালিকানার (تمام الملك) ক্ষেত্রেই ওয়াজিব হয়।

তবে মুকাতাব (مكاتب - চুক্তিভুক্ত দাস) ব্যক্তির সম্পদের ওপর কি জাকাত ওয়াজিব হবে?

সালাফ ও খালাফ পর্যায়ের জুমহুর (جمهور - সংখ্যাগরিষ্ঠ) ওলামায়ে কেরামের মতে, মুকাতাব (مكاتব) দাসের সম্পদে স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো জাকাত নেই। আবু সাওর বলেছেন: স্বাধীন ব্যক্তির মতো তার সম্পদেও জাকাত ওয়াজিব হবে; দাউদ থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে। আবু হানিফা বলেছেন: তার ফসলের ক্ষেত্রে ওশর (عشر) ওয়াজিব হবে, কিন্তু তার অবশিষ্ট অন্যান্য সম্পদে জাকাত ওয়াজিব নয়।

জুমহুর (جمهور) ওলামায়ে কেরাম এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, “মুকাতাব (مكاتب) দাসের সম্পদে কোনো জাকাত নেই।” এটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন। ১.

তাছাড়া স্বাধীন ব্যক্তির বিপরীতে তার মালিকানা দুর্বল (ضعيف); এবং যেহেতু জাকাত সহমর্মিতা বা সহযোগিতার ভিত্তিতে ওয়াজিব হয়, আর সে (দাস) এর উপযুক্তদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

--------------------------------------------

১. দেখুন: সুনানুল কুবরা, জাকাত অধ্যায় ৪/১০৯ এবং সুনানুদ দারা কুতনী, জাকাত অধ্যায়, মুকাতাব দাসের সম্পদে জাকাত নেই সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ২/১০৮।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৭১)
واحتج أبو ثور بقوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} 1

والمكاتب والرقيق يدخلان في الخطاب على الصحيح عند الأصوليين كما احتج أيضاً بأن الحجر من السيد لا يمنع وجوب الزكاة كالحجر على الصبي والمجنون.

واحتج أبو حنيفة بحديث ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قَال: “فيما سقت السماء والعيون أو كان عثرياً العشر” الحديث.2.

والصحيح والله أعلم هو قول جمهور العلماء لأن الآية والحديث محمولان على الأحرار أما القياس على الصبي والمجنون فهو قياس مع الفارق فالمنع فيهما لنقص تصرفهما لا لنقص ملكهما3.

--------------------------------------------

1 سورة البقرة آية (43) .

2 رواه البخاري في كتاب الزكاة باب العشر فيما يسقى من ماء السماء، انظر: البخاري مع فتح الباري 3/347

3 انظر: بداية المجتهد 1/245 والحاوي 3/154 وحلية العلماء 3/7، 8 والمغني لابن قدامة 4/72 والمجموع 5/330 وبدائع الصنائع 2/6 والافصاح 1/211.
আবু সাওর মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: {তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো} ১

আর উসুলবিদদের (الأصوليين) নিকট সঠিক (الصحيح) মত অনুযায়ী মুকাতাব (চুক্তিভুক্ত দাস) ও সাধারণ দাস উভয়ই এই সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও দলিল পেশ করেছেন যে, মনিব কর্তৃক আরোপিত বিধিনিষেধ জাকাত ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক নয়, যেমন শিশু ও উন্মাদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ (জাকাত ওয়াজিব হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে না)।

আবু হানিফা ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: “আকাশের বৃষ্টি ও ঝরনা দ্বারা যা সেচিত হয় অথবা যা নালা বা আর্দ্র ভূমির সাহায্যে সিক্ত হয়, তাতে উশর (দশমাংশ) প্রযোজ্য।” হাদিস। ২

আর আল্লাহই ভালো জানেন, সঠিক (الصحيح) হলো জমহুর উলামায়ে কেরামের (جمهور العلماء) বক্তব্য; কারণ আয়াত ও হাদিস উভয়ই স্বাধীন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর শিশু ও উন্মাদের ওপর কিয়াস (القياس) করা হলো অসম কিয়াস (قياس مع الفارق); কেননা তাদের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ মূলত তাদের পরিচালনার সক্ষমতার ঘাটতির কারণে, মালিকানার ঘাটতির কারণে নয়। ৩

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত (৪৩)।

২ বুখারি এটি জাকাত অধ্যায়ে 'আকাশের পানি দ্বারা সেচিত ফসলে উশর' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, দেখুন: ফাতহুল বারীসহ বুখারি ৩/৩৪৭

৩ দেখুন: বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/২৪৫, আল-হাভি ৩/১৫৪, হিলইয়াতুল উলামা ৩/৭, ৮, ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি ৪/৭২, আল-মাজমু ৫/৩৩০, বাদায়েউস সানায়ে ২/৬ এবং আল-ইফসাহ ১/২১১।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৭২)
‌‌المطلب الرابع وهو الشرط الرابع: اشتراط الحول

أموال الزكاة تنقسم إلى قسمين:

قسم يشترط له الحول وهو ما أعد للنماء وهذا كالماشية فهي مرصدة للدر والنسل، وعروض التجارة والأثمان فهي مظنة النماء فهذه الثلاثة:

1- السائمة من بهيمة الإنعام.

2- الأثمان وهي الذهب والفضة.

3- قيم عروض التجارة.

يعتبر حولان الحول وهو مرور سنة كاملة على هذا المال لأن الزكاة تتكرر في هذه الأموال الثلاثة فلا بد لها من ضابط كيلا يفضي إلى تعاقب الوجوب في الزمن الواحد وهذا محل اتفاق بين الفقهاء، قَال ابن رشد: وهذا مجمع عليه عند فقهاء الأمصار.1.

القسم الآخر:

لا يشترط له الحول وهذا هو الزروع والثمار فهي نماء في نفسها تتكامل عند إخراج الزكاة منها، فلا تجب فيها الزكاة مرة ثانية لعدم إرصادها للنماء ويتكامل نماؤها قبل الحول فسقط اعتبار الحول فيها.2.

وكذا الركاز وهو دفين الجاهلية في جميع الأشياء اتفقوا على أنه لا يعتبر فيه الحول.3.

--------------------------------------------

1 انظر: بداية المجتهد 1/ 270.

2 انظر: المجموع 5/361 والمغني لابن قدامة 4/73.

3 انظر: الإفصاح 1/217 باب ما جاء في الركاز، وزاد المعاد 1/ 181.
‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ এবং এটি চতুর্থ শর্ত: বছর পূর্ণ হওয়ার (الحول) শর্ত

যাকাতযোগ্য সম্পদ দুই ভাগে বিভক্ত:

একটি ভাগের জন্য বছর পূর্ণ হওয়া (الحول) শর্ত, আর তা হলো সেই সম্পদ যা বৃদ্ধির (النماء) জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেমন গবাদিপশু; এগুলো দুধ এবং বংশবৃদ্ধির জন্য নির্ধারিত থাকে। একইভাবে ব্যবসায়িক পণ্য (عروض التجارة) এবং মুদ্রা বা নগদ অর্থ (الأثمان), যা বৃদ্ধির (النماء) সম্ভাব্য ক্ষেত্র। এই তিনটি হলো:

১- চারণভূমিতে বিচরণকারী (السائمة) গবাদিপশু।

২- মুদ্রা বা নগদ অর্থ (الأثمان), যা হলো সোনা ও রূপা।

৩- ব্যবসায়িক পণ্যের (عروض التجارة) মূল্য।

এক্ষেত্রে বছর অতিক্রান্ত হওয়া (حولان الحول) তথা এই সম্পদের ওপর একটি পূর্ণ বছর অতিবাহিত হওয়া আবশ্যক ধরা হয়। কারণ এই তিন প্রকার সম্পদে যাকাত বারবার আসে। তাই এর জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন, যাতে একই সময়ের মধ্যে বারবার যাকাত ফরয হওয়ার আবশ্যকতা তৈরি না হয়। এটি ফকীহগণের মধ্যে একটি ঐকমত্যের বিষয় (محل اتفاق)। ইবনে রুশদ বলেন: এটি বিভিন্ন অঞ্চলের ফকীহগণের নিকট সর্বসম্মত (مجمع عليه)। ১.

অন্য ভাগটি:

এর জন্য বছর পূর্ণ হওয়া (الحول) শর্ত নয়। এটি হলো শস্য ও ফলমূল (الزروع والثمار), কারণ এগুলো নিজেই একটি প্রবৃদ্ধি এবং যাকাত প্রদানের সময় এগুলো পূর্ণতা লাভ করে। এতে দ্বিতীয়বার যাকাত ফরয হয় না, কারণ এগুলো নতুনভাবে বৃদ্ধির (النماء) জন্য ফেলে রাখা হয় না এবং বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই এগুলোর বৃদ্ধি পূর্ণতা পায়। ফলে এতে বছর পূর্ণ হওয়ার (الحول) বিষয়টি বিবেচনা থেকে বাদ পড়ে যায়। ২.

তদ্রূপ প্রোথিত ধন (الركاز), যা সকল বস্তুর মধ্যে জাহেলী যুগের প্রোথিত বস্তু (دفين الجاهلية) হিসেবে গণ্য। এটিতেও বছর পূর্ণ হওয়া (الحول) বিবেচনা না করার ব্যাপারে সকলে একমত হয়েছেন। ৩.

--------------------------------------------

১ দেখুন: বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/২৭০।

২ দেখুন: আল-মাজমু ৫/৩৬১ এবং ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি ৪/৭৩।

৩ দেখুন: আল-ইফসাহ ১/২১৭, প্রোথিত ধন (الركاز) সংক্রান্ত অধ্যায়; এবং যাদুল মাআদ ১/১৮১।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৭৩)
‌‌المطلب الخامس: وهو الشرط الخامس: النصاب

وهو عبارة عن المقدار الَّذِي تتعلق به الفريضة.

والنصاب معتبر فيما تجب فيه الزكاة من الزروع والثمار خمسة أوسق خلافاً لأبي حنيفة يجب العشر في قليله وكثيره 1.

وأجمع المسلمون على أن ما دون خمس من الإبل لا زكاة فيه ولا زكاة فيما دون الثلاثين من البقر، وكذا لا زكاة فيما دون الأربعين من الغنم.

وأجمعوا على أن أول النصاب في النقدين الذهب والفضة عشرون ديناراً ذهباً ومائتا درهم فضة 2.

ونصاب عروض التجارة هو نصاب الذهب والفضة وسيأتي مزيد بحث عن هذين الشرطين وهما النصاب والحول أثناء الكلام في الفصل الثالث عن الأموال التي تجب فيها الزكاة إن شاء الله تعالى.

--------------------------------------------

1 انظر: الهداية مع فتح القدير 2/296 وحلية العلماء 3/73 والتمهيد 13/113، 24/161 والمغني لابن قدامة 4/161 والإفصاح 1/205.

2 انظر: الإجماع لابن المنذر ص12 والإفصاح 1/196، 199، 201، 206.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আর তা হলো পঞ্চম শর্ত: নিসাব (نصاب)

এটি এমন পরিমাণকে বোঝায় যার সাথে নির্ধারিত অংশ (فريضة) সংশ্লিষ্ট হয়।

শস্য ও ফলের ক্ষেত্রে যার ওপর জাকাত ফরজ (واجب) হয়, তাতে নিসাব (نصاب) হিসেবে পাঁচ আওসাক (أوسق) ধর্তব্য; ইমাম আবু হানিফার মতের বিপরীতে, যিনি এর অল্প ও বেশি উভয় পরিমাণের ওপর উশর (عشر) ফরজ হওয়ার মত পোষণ করেছেন ১।

আর মুসলমানগণ এই মর্মে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, পাঁচটি উটের কম হলে তাতে কোনো জাকাত নেই এবং ত্রিশটি গরুর কম হলে তাতে কোনো জাকাত নেই। একইভাবে চল্লিশটি ছাগলের কম হলে তাতে কোনো জাকাত নেই।

তাঁরা আরও ঐকমত্য (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, স্বর্ণ ও রৌপ্য—এই দুই মুদ্রার ক্ষেত্রে নিসাব (نصاب)-এর প্রারম্ভিক মাত্রা হলো বিশ স্বর্ণের দিনার এবং দুইশত রৌপ্য দিরহাম ২।

ব্যবসায়ী পণ্যের নিসাব (نصاب) হলো স্বর্ণ ও রৌপ্যের নিসাবের অনুরূপ। এই দুটি শর্ত তথা নিসাব (نصاب) ও বর্ষপূর্তি (حول) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা ইনশাআল্লাহ তাআলা তৃতীয় পরিচ্ছেদে জাকাতযোগ্য সম্পদের বর্ণনাকালে সামনে আসবে।

--------------------------------------------

১ দেখুন: ফাতহুল কদিরসহ আল-হিদায়া ২/২৯৬; হিলয়াতুল উলামা ৩/৭৩; আত-তামহিদ ১৩/১১৩, ২৪/১৬১; ইবনু কুদামার আল-মুগনি ৪/১৬১ এবং আল-ইফসাহ ১/২০৫।

২ দেখুন: ইবনুল মুনযিরের আল-ইজমা পৃ. ১২ এবং আল-ইফসাহ ১/১৯৬, ১৯৯, ২০১, ২০৬।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৭৪)
‌‌المطلب السادس وهو الشرط السادس: تمام الملك

ومعنى هذا الشرط من كان عنده مال تتعلق به حقوق للآخرين فهل تجب عليه الزكاة في هذا المال بمعنى أنه لا يملك المال ملكاً تاماً وقد أدرج العلماء مسائل كثيرة تحت هذا الشرط ومنها:

*المسألة الأولى: هل على المدين زكاة:

من كان عليه دين لا يخلو من أحوال ثلاثة:

1- عنده مال يستغرق جميع الدين.

2- عنده مال لا يفي بدينه.

3- عنده مال يفي بالدين.

فإن كان عنده مال يفي بالدين ثم يبقى بعد ذلك مال ففي المال المتبقي زكاة ولا خلاف في ذلك بين العلماء متى ما توفرت في هذا المال المتبقي شروط الزكاة.

وإنما محل الخلاف إذا كان عنده مال لا يفي بدينه أو عنده مال استغرق جميع الدين وقد اختلف الفقهاء في ذلك على أربعة أقوال:

القول الأول: تجب الزكاة على المدين مطلقاً فالدين لا يمنع من أداء وجوب الزكاة في الأموال على الإطلاق وهذا مذهب الظاهرية وهو قول عند الشافعية.

القول الثاني: لا زكاة على المدين مطلقاً حتى يفي بدينه فالدين مانع من أداء الزكاة وهذا قول الحنابلة وقول عند الشافعية أيضاً.

القول الثالث: تجب الزكاة على المدين في الخارج من الأرض فقط وهو مذهب الحنفية.

القول الرابع: التفريق بين الأموال الظاهرة والأموال الباطنة تجب الزكاة
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ যা ষষ্ঠ শর্ত: পূর্ণ মালিকানা (تمام الملك)

এই শর্তের অর্থ হলো—কারো নিকট এমন সম্পদ থাকা যার সাথে অন্যদের অধিকার সম্পৃক্ত; এমতাবস্থায় সেই সম্পদের ওপর কি জাকাত ওয়াজিব হবে? অর্থাৎ সে কি উক্ত সম্পদের ওপর পূর্ণ মালিকানা (ملك تام) রাখে না? আলেমগণ এই শর্তের অধীনে বহু মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

*প্রথম মাসআলা: ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির (مدين) ওপর কি জাকাত আবশ্যক:

যার ওপর ঋণ রয়েছে, তার অবস্থা তিনটির বাইরে নয়:

1- তার নিকট এমন সম্পদ আছে যা তার সমস্ত ঋণকে পরিবেষ্টন করে ফেলে।

2- তার নিকট এমন সম্পদ আছে যা ঋণ পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

3- তার নিকট এমন সম্পদ আছে যা ঋণ পরিশোধের জন্য যথেষ্ট।

যদি তার নিকট ঋণ পরিশোধের উপযোগী সম্পদ থাকে এবং তা পরিশোধের পর অতিরিক্ত সম্পদ অবশিষ্ট থাকে, তবে সেই অবশিষ্ট সম্পদে জাকাত প্রদান করতে হবে। যখনই এই অবশিষ্ট সম্পদে জাকাতের শর্তাবলি পূর্ণ হবে, তখন আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই।

মতভেদের মূল জায়গা হলো তখন, যখন তার নিকট এমন সম্পদ থাকে যা ঋণের জন্য পর্যাপ্ত নয় অথবা তার সমস্ত সম্পদ ঋণে নিমজ্জিত। এ বিষয়ে ফকিহগণ চারটি অভিমতে (أقوال) বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম অভিমত: ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ওপর শর্তহীনভাবে (مطلقاً) জাকাত ওয়াজিব হবে। অতএব, ঋণ কোনোভাবেই সম্পদের জাকাত আদায়ের আবশ্যকতাকে বাধা প্রদান করে না। এটি জাহিরি মাযহাবের অভিমত এবং শাফেয়ি মাযহাবের একটি মত (قول)।

দ্বিতীয় অভিমত: ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ওপর কোনো জাকাত নেই। অর্থাৎ ঋণ জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধক। এটি হাম্বলি মাযহাবের অভিমত এবং শাফেয়ি মাযহাবের একটি মত (قول) হিসেবেও গণ্য।

তৃতীয় অভিমত: ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ওপর কেবল ভূমি থেকে উৎপাদিত ফসলের ক্ষেত্রে জাকাত ওয়াজিব হবে এবং এটি হানাফি মাযহাবের অভিমত।

চতুর্থ অভিমত: প্রকাশ্য সম্পদ (الأموال الظاهرة) এবং অপ্রকাশ্য সম্পদের (الأموال الباطنة) মধ্যে পার্থক্য করা; জাকাত ওয়াজিব হবে...
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৭৫)
على المدين في الأموال الظاهرة كالزروع والثمار والمواشي وغيرها ولا تجب عليه في الأموال الباطنة كالذهب والفضة وهذا قول المالكية 1.

أدلة أصحاب القول الأول:

استدلوا بعموم الأدلة من الكتاب والسنة الدالة على وجوب الزكاة مطلقاً من غير تفريق بين مال وآخر وإن هذه الأدلة لم تفرق بين المدين وغير المدين كقوله تعالى: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا} الآية2.

وما بيده ماله يجوز فيه تصرفه فوجب أن يستحق الأخذ منه3.

أدلة أصحاب القول الثاني:

1- بحديث معاذ رضي الله عنه السابق4 قوله صلى الله عليه وسلم: ”تؤخذ من أغنيائهم وترد على فقرائهم”.

ووجه الدلالة: أن هذا الحديث نص على أن الزكاة تؤخذ من الأغنياء والمدين ليس منهم.

2- بما رواه أبي عبيد القاسم بن سلام قَال حدثنا إبراهيم بن سعد عن ابن شهاب عن السائب بن يزيد قَال سمعت عثمان بن عفان يقول: “هذا شهر زكاتكم فمن كان عليه دين فليؤده حتى تخرجوا زكاة أموالكم” 5.

--------------------------------------------

1 انظر: بداية المجتهد 1/246 وحلية العلماء 3/15، 16 وبدائع الصنائع 2/7 والمغني لابن قدامة 4/263 والمجموع 5/344 والإفصاح1/213 وفتح العزيز أو الشرح الكبير للرافعي 5/505، 506.

2 سورة التوبة آية (103) .

3 انظر: الحاوي 3/310.

4 سبق تخريج الحديث (ص 260) من هذا البحث.

5 انظر: كتاب الأموال لأبي عبيد القاسم بن سلام ص442 رقم 1247.المغني لابن قدامة 4/264 والحاوي 3/310 وبدائع الصنائع 2/6.
প্রকাশ্য সম্পদের (যেমন শস্য, ফলমূল, গবাদি পশু ইত্যাদি) ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে; কিন্তু অপ্রকাশ্য সম্পদের (যেমন সোনা ও রুপা) ক্ষেত্রে তার ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে না। এটি মালিকি মাজহাবের অভিমত ১।

প্রথম মত পোষণকারীদের দলিলসমূহ:

তারা কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহর দলিলসমূহের ব্যাপকতা (عموم) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যা এক সম্পদ ও অন্য সম্পদের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করে সাধারণভাবে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ দেয়। এই দলিলগুলোতে ঋণগ্রহীতা এবং ঋণমুক্ত ব্যক্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "তাদের ধন-সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবেন" (আয়াত ২)।

আর তার অধিকারে থাকা সম্পদ সে ব্যবহার করার বৈধতা রাখে; সুতরাং তা থেকে জাকাত গ্রহণ করা আবশ্যক ৩।

দ্বিতীয় মত পোষণকারীদের দলিলসমূহ:

১- মুয়াজ (রা.)-এর পূর্বে বর্ণিত হাদিস ৪, যাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তা তাদের ধনীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা হবে।"

দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি: এই হাদিসটি সুস্পষ্ট প্রমাণ (نص) যে, জাকাত কেবল ধনীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে, আর ঋণগ্রহীতা ধনীদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

২- আবু উবাইদ কাসিম ইবনুল সালাম যা বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন, ইব্রাহিম ইবনে সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সায়িব ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনে আফফান (রা.)-কে বলতে শুনেছি: "এটি তোমাদের জাকাতের মাস; সুতরাং যার ওপর ঋণ আছে সে যেন তা পরিশোধ করে দেয়, যাতে তোমরা তোমাদের সম্পদের জাকাত আদায় করতে পারো" ৫।

--------------------------------------------

১ দেখুন: বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/২৪৬; হিলয়াতুল উলামা ৩/১৫, ১৬; বাদায়িউস সানায়ি ২/৭; আল-মুগনি লি-ইবনে কুদামা ৪/২৬৩; আল-মাজমু ৫/৩৪৪; আল-ইফসাহ ১/২১৩ এবং ফাতহুল আজিজ অথবা আশ-শারহুল কবির লির-রাফেয়ি ৫/৫০৫, ৫০৬।

২ সূরা আত-তাওবা, আয়াত (১০৩)।

৩ দেখুন: আল-হাউয়ি ৩/৩১০।

৪ এই গবেষণার (২৬০ পৃষ্ঠায়) হাদিসটির তাখরিজ (تخريج) পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

৫ দেখুন: আবু উবাইদ কাসিম ইবনুল সালাম রচিত কিতাবুল আমওয়াল, পৃষ্ঠা ৪৪২, নম্বর ১২৪৭; আল-মুগনি লি-ইবনে কুদামা ৪/২৬৪; আল-হাউয়ি ৩/৩১০ এবং বাদায়িউস সানায়ি ২/৬।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৭৬)
ووجه الدلالة: أن عثمان رضي الله عنه قدم قضاء الدين على إخراج الزكاة وقد قَال ذلك بمحضر من الصحابة فلم ينكروه فدل على اتفاقهم عليه1.

أدلة أصحاب القول الثالث:

بأن الخارج من الأرض مؤنة مالية سببها الأرض كالنفقة سببها القرابة وهذه قاعدة عندهم وأصل من أصولهم في كثير من مسائل الزكاة2.

أدلة أصحاب القول الرابع:

1- إن الأموال الظاهرة تنمو بنفسها أما الأموال الباطنة فإنها تنمو بالتصرف.

2- إن الأموال الظاهرة لا تخفى على الفقراء والمساكين فتتعلق بها بخلاف الأموال الباطنة.

3- أن السعاة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم وعهد الخلفاء من بعده كانوا يأخذون زكاة ما ظهر من الأموال ولا يسألون عما خفي منها3.

والقول الثاني هو الراجح إن شاء الله تعالى وقد رجح هذا القول ابن رشد حيث قَال: والأشبه بغرض الشرع إسقاط الزكاة عن المدين لقوله صلى الله عليه وسلم: ”تؤخذ من أغنيائهم وترد على فقرائهم” والمدين ليس بغني4.

*المسألة الثانية: هل على الدائن زكاة أم لا؟

والمراد صاحب المال وقد اختلف الفقهاء في هذه المسألة على أقوال ثلاثة:

الأول: لا زكاة عليه مطلقاً لأنه لا يملك المال ملكاً حقيقياً فالمال ليس بيده وهو وإن ملك المال فملكه ناقص غير تام.

وهو مذهب الظاهرية.

--------------------------------------------

1 انظر: المغني لابن قدامة 4/264 والحاوي 3/310 وبدائع الصنائع 2/6.

2 انظر: بدائع الصنائع 2/6.

3 انظر: المغني لابن قدامة 4/265، 266.

4 انظر: بداية المجتهد 1/246.
দলিলের ভিত্তি হলো: উসমান (রা.) যাকাত আদায়ের ওপর ঋণ পরিশোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি সাহাবীগণের উপস্থিতিতে এটি বলেছিলেন এবং তাঁরা এর প্রতিবাদ করেননি, যা তাঁদের ঐকমত্য (اتفاق) নির্দেশ করে।১

তৃতীয় মতাবলম্বীদের দলিলসমূহ:

ভূমি থেকে উৎপাদিত ফসল হলো ভূমি সংশ্লিষ্ট একটি আর্থিক দায়ভার, যেমন আত্মীয়তার কারণে ভরণপোষণ আবশ্যক হয়। এটি তাঁদের নিকট একটি স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম এবং যাকাত সংক্রান্ত অনেক মাসআলায় এটি তাঁদের অন্যতম মূলনীতি (أصل)।২

চতুর্থ মতাবলম্বীদের দলিলসমূহ:

১- দৃশ্যমান সম্পদ নিজে নিজেই বৃদ্ধি পায়, কিন্তু অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়।

২- দৃশ্যমান সম্পদ দরিদ্র ও অভাবী মানুষের নিকট গোপন থাকে না, তাই সেগুলোর সাথে তাদের অধিকার সম্পৃক্ত হয়, যা অভ্যন্তরীণ সম্পদের ক্ষেত্রে হয় না।

৩- নবী (সা.)-এর যুগে এবং তাঁর পরবর্তী খলিফাগণের যুগে যাকাত সংগ্রাহকগণ দৃশ্যমান সম্পদের যাকাত গ্রহণ করতেন এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না।৩

ইনশাআল্লাহ তাআলা, দ্বিতীয় মতটিই অগ্রগণ্য (الراجح)। ইবনে রুশদ এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়ে বলেছেন: শারিয়াহর উদ্দেশ্যের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ হলো ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ওপর থেকে যাকাত রহিত করা। কারণ নবী (সা.) বলেছেন: "তা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হবে।" আর ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ধনী নয়।৪

*দ্বিতীয় মাসআলা: ঋণদাতার ওপর কি যাকাত আছে কি নেই?

এখানে উদ্দেশ্য হলো সম্পদের মালিক। এই মাসআলায় ফকিহগণ তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: তার ওপর কোনোভাবেই যাকাত আবশ্যক নয়। কারণ সে সম্পদের প্রকৃত মালিক নয়; সম্পদ তার হাতে নেই। আর সে যদি সম্পদের মালিকও হয়, তবে তার সেই মালিকানা অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ।

এটি জাহিরি মাযহাবের অভিমত।

--------------------------------------------

১ দেখুন: ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি ৪/২৬৪, আল-হাভি ৩/৩১০ এবং বাদায়িউস সানায়ি ২/৬।

২ দেখুন: বাদায়িউস সানায়ি ২/৬।

৩ দেখুন: ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি ৪/২৬৫, ২৬৬।

৪ দেখুন: বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/২৪৬।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৭৭)
الثاني: قول أكثر أهل العلم تجب الزكاة عليه إذا قبض الدين لأن الزكاة من باب المواساة والعدل وليس من العدل إلزامه بزكاة ما لم يقبضه فلربما هلك المال بيد المدين.

الثالث: التفريق إذا كان المال بيد مماطل تجب الزكاة بعد القبض وهذا قول للشافعية والحنابلة1.

والراجح والله أعلم هو قول الجمهور تجب الزكاة عليه إذا قبضه لما عللوا به فلربما هلك المال.

*المسألة الثالثة: الثمار والزروع الموقوفة هل تجب فيها الزكاة؟

معنى الوقف: هو حبس العين وصرف منفعتها إلى الموقوف عليه فهو يفيد ملك المنفعة لا ملك العين يقال أوقفه، وحبسه وسبله كله بمعنى واحد وهو مما اختص به المسلمون 2.

وقد اختلف الفقهاء في الزروع والثمار الموقوفة على ثلاثة أقوال:

القول الأول: وجوب الزكاة فيها مطلقاً سواء كانت موقوفة لمعين كزيد أو موقوفة لغير معين كالفقراء والمساكين وهو قول المالكية وقول للشافعية.

القول الثاني: لا زكاة مطلقاً في الزروع والثمار قَال به بعض التابعين كطاووس ومكحول وغيرهما.

القول الثالث: التفريق إن كانت موقوفة لمعين تجب الزكاة وإن كانت لغير معين فلا زكاة فيها وهو قول أكثر أهل العلم3.

--------------------------------------------

1 انظر: كتاب الأموال ص 434 - 439 رقم 1235 وحلية العلماء 3/80 والمغني لابن قدامة 4/270 والإفصاح 1/213، 214.

2 انظر: تهذيب اللغة 9/333 والصحاح 4/1440 والمطلع ص 285.

3 انظر: بداية المجتهد 1/247 والمجموع 5/340، 575.
দ্বিতীয়: অধিকাংশ আলেমগণের (أهل العلم) অভিমত হলো, যখন ঋণ উসুল করা হবে তখন তার ওপর যাকাত ওয়াজিব (تجب) হবে। কারণ যাকাত হলো সহমর্মিতা ও ন্যায়ের অন্তর্ভুক্ত; আর কোনো সম্পদ হস্তগত করার আগেই তার ওপর যাকাত প্রদান করতে বাধ্য করা ন্যায়সঙ্গত নয়, কারণ সম্ভবত সেই সম্পদটি ঋণগ্রহীতার (المدين) হাতে বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে।

তৃতীয়: পার্থক্য করা; যদি সম্পদ কোনো টালবাহানাকারীর (مماطل) হাতে থাকে, তবে তা হস্তগত করার পর যাকাত ওয়াজিব (تجب) হবে। এটি শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের একটি অভিমত।১

এবং আল্লাহই ভালো জানেন, জুমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ ওলামার মতটিই হলো প্রাধান্যপ্রাপ্ত (الراجح), অর্থাৎ যখন সম্পদটি হস্তগত হবে তখন তার ওপর যাকাত ওয়াজিব (تجب) হবে; কারণ তারা এই যুক্তি দিয়েছেন যে, সম্পদটি হয়তো বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে।

*তৃতীয় মাসআলা (المسألة): ওয়াকফকৃত (الموقوفة) ফলমূল (الثمار) ও ফসলের (الزروع) ক্ষেত্রে কি যাকাত ওয়াজিব (تجب) হবে?

ওয়াকফের (الوقف) অর্থ: মূল সম্পদকে (العين) আটকে রাখা (حبস) এবং এর উপযোগ বা মুনাফা ওয়াকফকৃত ব্যক্তির (الموقوف عليه) কল্যাণে ব্যয় করা। এটি কেবল উপযোগের মালিকানাকে বুঝায়, মূল সম্পদের মালিকানাকে নয়। আরবী ভাষায় 'আওকাফাহু', 'হাবাসাহু' এবং 'সাব্বালাহু'—এই শব্দগুলো একই অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং এটি মুসলমানদের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। ২

ওয়াকফকৃত ফসল ও ফলমূলের ব্যাপারে ফকিহগণ (الفقهاء) তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: এতে যাকাত প্রদান করা সাধারণভাবে আবশ্যকতা (وجوب), চাই তা নির্দিষ্ট (معين) কোনো ব্যক্তির নামে ওয়াকফ করা হোক (যেমন যায়দ) অথবা অনির্দিষ্ট (غير معين) কোনো খাতের জন্য যেমন—ফকির ও মিসকিনদের জন্য। এটি মালেকী মাযহাবের অভিমত এবং শাফেয়ী মাযহাবের একটি মত।

দ্বিতীয় মত: ফসল ও ফলমূলের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে কোনো যাকাত নেই। কয়েকজন তাবেয়ী (التابعين) যেমন তাউস, মাকহুল ও অন্যান্যরা এ কথা বলেছেন।

তৃতীয় মত: পার্থক্য করা; যদি তা নির্দিষ্ট (معين) কোনো ব্যক্তির উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করা হয় তবে যাকাত ওয়াজিব (تجب) হবে, আর যদি তা অনির্দিষ্ট (غير معين) কোনো খাতের জন্য হয় তবে তাতে কোনো যাকাত নেই। অধিকাংশ আলেমগণের (أهل العلم) অভিমত এটিই।৩

--------------------------------------------

১ দেখুন: কিতাবুল আমওয়াল, পৃষ্ঠা ৪৩৪-৪৩৯, নম্বর ১২৩৫; হিলয়াতুল উলামা, ৩/৮০; ইবনে কুদামার আল-মুগনি, ৪/২৭০ এবং আল-ইফসাহ, ১/২১৩, ২১৪।

২ দেখুন: তাহজীবুল লুগাহ, ৯/৩৩৩; আস-সিহাহ, ৪/১৪৪০ এবং আল-মুত্তালি', পৃষ্ঠা ২৮৫।

৩ দেখুন: বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ১/২৪৭ এবং আল-মাজমু', ৫/৩৪০, ৫৭৫।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৭৮)
أدلة أصحاب القول الأول:

بعموم الأدلة من الكتاب والسنة الموجبة للزكاة في الخارج من الأرض كقوله تعالى: {وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ} 1 وكقوله صلى الله عليه وسلم في الحديث السابق2: “فيما سقت السماء والعيون أو كان عثرياً العشر” الحديث.

ووجه الدلالة: أن هذه النصوص دلت على وجوب الزكاة في الخارج من الأرض مطلقاً من غير تفريق بين موقوف وغيره.

أما أصحاب القول الثاني: عللوا بأن ملك الزروع والثمار الموقوفة ملكاً ناقصاً غير تام ومن شروط الزكاة تمام الملك فلا زكاة في هذه الزروع والثمار.

أما أصحاب القول الثالث:

إن كانت لمعين فهي داخلة في ملكه وتحت تصرفه فهي كبقية أمواله تجب فيها الزكاة.

وغير المعين فلا زكاة فيها لأنه لا يعرف لها مالك معين وهم الفقراء والمساكين الذين تجب لهم الزكاة ولا تجب عليهم.

*المسألة الرابعة: الأرض المستأجرة:

على من تجب زكاة ما تخرجه هذه الأرض هل تجب على المؤجر صاحب الأرض أو على المستأجر صاحب الزروع والثمار محل خلاف على قولين للفقهاء في ذلك:

القول الأول: تجب الزكاة على المستأجر وبه قَال أكثر أهل العلم مالك والشافعي وأحمد.

القول الثاني: تجب الزكاة على المؤجر وبه قَال الحنفية.

--------------------------------------------

1 سورة الأنعام آية (141) .

2 سبق تخريج الحديث (ص 271) من هذا البحث.
প্রথম মতের প্রবক্তাগণের দলিলসমূহ:

কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের ব্যাপকতা (عموم الأدلة) দ্বারা, যা ভূমি থেকে উৎপাদিত ফসলের ওপর জাকাত প্রদানকে আবশ্যক করে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা ফসল কাটার দিনে তার হক আদায় করো} ১ এবং যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ববর্তী হাদিস ২-এ বলেছেন: “আকাশ ও ঝরনার পানিতে যা সিঞ্চিত হয় অথবা যা ভূগর্ভস্থ পানির (عثرياً) মাধ্যমে সিক্ত হয়, তাতে ওশর (দশমাংশ) রয়েছে” - হাদিস।

দালিলিক উপস্থাপনা (وجه الدلالة): এই নসসমূহ (نصوص) ওয়াকফকৃত (موقوف) এবং সাধারণ ফসলের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা ছাড়াই ভূমি থেকে উৎপাদিত ফসলের ওপর সাধারণভাবে জাকাত ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার প্রমাণ পেশ করে।

দ্বিতীয় মতের প্রবক্তাগণের ক্ষেত্রে: তাঁরা যুক্তি দিয়েছেন যে, ওয়াকফকৃত (موقوفة) ফসল ও ফলের মালিকানা হলো অপূর্ণ মালিকানা (ملكاً ناقصاً) এবং জাকাতের অন্যতম শর্ত হলো পূর্ণ মালিকানা (تمام الملك); সুতরাং এই সকল ফসল ও ফলের ওপর কোনো জাকাত নেই।

তৃতীয় মতের প্রবক্তাগণের ক্ষেত্রে:

যদি এটি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য হয়, তবে তা তার মালিকানা এবং কর্তৃত্বের অন্তর্ভুক্ত হবে, ফলে এটি তার অন্যান্য সম্পদের মতোই গণ্য হবে যাতে জাকাত ওয়াজিব (تجب) হয়।

আর যদি তা সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য না হয়, তবে তাতে জাকাত নেই। কারণ এর জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো মালিক জানা নেই; তারা হলেন দরিদ্র ও অভাবী মানুষ, যাদের জন্য জাকাত প্রাপ্য হয় কিন্তু তাদের ওপর জাকাত আবশ্যক হয় না।

*চতুর্থ মাসআলা: ইজারাকৃত জমি:

এই জমি থেকে যা উৎপাদিত হয় তার জাকাত কার ওপর ওয়াজিব হবে? তা কি জমির মালিক তথা ইজারা দাতার (المؤجر) ওপর ওয়াজিব হবে, নাকি ফসল ও ফলের মালিক তথা ইজারা গ্রহণকারীর (المستأجر) ওপর ওয়াজিব হবে? এ বিষয়ে ফকিহগণের (فقهاء) দুটি ভিন্ন মত রয়েছে:

প্রথম মত: ইজারা গ্রহণকারীর (المستأجر) ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে এবং অধিকাংশ আলেম (أهل العلم) তথা মালিক, শাফেয়ি ও আহমদ এই অভিমত প্রদান করেছেন।

দ্বিতীয় মত: ইজারা দাতার (المؤجر) ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে এবং হানাফিগণ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আনআম, আয়াত (১৪১)।

২ এই গবেষণার (পৃষ্ঠা ২৭১)-এ ইতিপূর্বে হাদিসটির উৎস নির্দেশ (تخريج) করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৭৯)
أدلة جمهور العلماء:

استدلوا بعموم الأدلة على وجوب الزكاة في الخارج من الأرض من الكتاب والسنة كقوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنْ الأَرْضِ} 1.

والزرع مخرج للمستأجر فوجب أن يتوجه حق الإنفاق عليه.

وقوله تعالى: {وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ} الآية 2.

أمر بإيتاء الحق من أباح له الأكل، والأكل مباح للمستأجر فوجب أن يكون الحق واجباً عليه دون المؤجر3.

وكقوله صلى الله عليه وسلم في الحديث السابق4: “فيما سقت السماء”.

دل على وجوب الزكاة في الخارج من الأرض والخارج منها ملك للمستأجر دون المؤجر.

وجهة نظر أصحاب القول الثاني:

أن الخارج من الأرض مؤنة مالية سببها الأرض فوجبت الزكاة على صاحب الأرض كالخراج يجب على صاحب الأرض ومعنى ذلك قياس الأرض المستأجرة على الأرض الخراجية.

والراجح والله أعلم هو القول الأول لأن قياس الأرض المستأجرة على الأرض الخراجية قياس مع الفارق لعدة أسباب:

1- لو كان القياس صحيحاً لأوجبنا الزكاة في الأرض المستأجرة على

--------------------------------------------

1 سورة البقرة آية (267) .

2 سورة الأنعام آية (141) .

3 انظر: الحاوي 5/254 والإفصاح 1/218.

4 سبق تخريج الحديث (ص 271) من هذا البحث.
জুমহুর উলামাদের (বিদ্বানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ) দলীলসমূহ:

তারা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে ভূমি হতে উৎপাদিত ফসলের ওপর যাকাত ওয়াজিব হওয়ার সাধারণ দলীলসমূহ দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা উপার্জন করো এবং আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে যা উৎপন্ন করি, তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করো} ১।

আর ফসল ভাড়াটিয়ার জন্যই উৎপাদিত হয়, তাই ব্যয়ের (যাকাতের) হক তার ওপরই বর্তানো আবশ্যক।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {ফসল কাটার দিন তার হক আদায় করো} আয়াত ২।

এখানে তাকেই হক আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যার জন্য আহার করা বৈধ করা হয়েছে, আর আহার করা ভাড়াটিয়ার জন্য বৈধ, তাই এই হক মালিকের পরিবর্তে ভাড়াটিয়ার ওপর ওয়াজিব হওয়া আবশ্যক ৩।

এবং যেমন পূর্ববর্তী হাদিসে ৪ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: “আকাশের পানিতে যা সিক্ত হয়”।

এটি ভূমিতে উৎপাদিত ফসলের ওপর যাকাত ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ দেয়, আর উৎপাদিত ফসল ভাড়াটিয়ার মালিকানাভুক্ত, জমির মালিকের নয়।

দ্বিতীয় মত পোষণকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি:

ভূমিতে উৎপাদিত ফসল হলো জমির কারণে সৃষ্ট একটি আর্থিক ব্যয়, তাই জমির মালিকের ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে—যেমন খরাজ জমির মালিকের ওপর ওয়াজিব হয়। এর অর্থ হলো ভাড়া দেওয়া জমিকে খরাজি জমির ওপর কিয়াস করা।

এবং অগ্রগণ্য (الراجح) মতটি—আল্লাহই ভালো জানেন—হলো প্রথম মতটি; কারণ ভাড়া দেওয়া জমিকে খরাজি জমির ওপর কিয়াস করা হলো একটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ অনুমান (قياس مع الفارق), যার বেশ কিছু কারণ রয়েছে:

১- যদি এই কিয়াসটি সঠিক (صحيح) হতো, তবে আমরা ভাড়া দেওয়া জমিতে যাকাত ওয়াজিব করতাম...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারাহ আয়াত (২৬৭)।

২ সূরা আল-আনআম আয়াত (১৪১)।

৩ দেখুন: আল-হাবি ৫/২৫৪ এবং আল-ইফসাহ ১/২১৮।

৪ এই গবেষণার (২৭১ পৃষ্ঠায়) ইতিপূর্বে হাদিসের উৎস বিশ্লেষণ (تخريج) করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৮০)
أهل الذمة وأهل الذمة ليس عليهم زكاة.

2- لو كان صحيحاً لصرفت الأرض المستأجرة مصارف الفيء ولم يقل أحد من العلماء إن الأرض المستأجرة تصرف مصارف الفيء وإنما تصرف مصارف الزكاة.

3- لو كان صحيحاً لوجبت في هذه الأرض المستأجرة الزكاة ولو لم تزرع كالخراج لأن الخراج أجرة يفرضها الحاكم على الأرض زرعت أو لم تزرع1.

*المسالة الخامسة: هل يجتمع العشر والخراج؟

لا خلاف بين أهل العلم بأن المسلم إذا ملك أرضاً عشرية تجب فيها الزكاة وكذا إذا ملك الذمي أرضاً خراجية يجب فيها الخراج.

وإنما الخلاف، المسلم إذا ملك أرضاً خراجية والذمي إذا ملك أرضاً عشرية.

وتكون الأرض خراجية في صورتين:

أحدهما: أن يفتح الإمام بلدة قهراً ويقسمها بين الغانمين ثم يعوضهم عنها ثم يوقفها على المسلمين ويضرب عليها خراجاً كما فعل عمر رضي الله عنه بسواد العراق.

الثانية: أن يفتح بلدة صلحاً على أن الأرض للمسلمين ويسكنها الكفار بخراج معلوم2.

فهل يجتمع العشر والخراج إذا انتقلت الأرض الخراجية إلى ملك المسلم؟

اختلف الفقهاء في ذلك على قولين:

القول الأول: مذهب الأئمة الثلاثة مالك والشافعي وأحمد يجب في هذه الأرض العشر والخراج.

--------------------------------------------

1 انظر: المغني لابن قدامة 4/201.

2 انظر: المجموع للنووي 5/436، 537.
জিম্মি নাগরিক (أهل الذمة), আর জিম্মি নাগরিকদের (أهل الذمة) ওপর কোনো জাকাত (زكاة) নেই।

২- এটি যদি বিশুদ্ধ (صحيح) হতো, তবে ইজারাকৃত বা ভাড়ায় নেওয়া ভূমির আয় ‘আল-ফাই’ (الفيء)-এর খাতে ব্যয় করা হতো। অথচ আলেমগণের কেউই বলেননি যে, ইজারাকৃত ভূমি ‘আল-ফাই’ (الفيء)-এর খাতে ব্যয় করা হবে; বরং তা কেবল জাকাত (زكاة)-এর খাতেই ব্যয় করা হয়।

৩- এটি যদি বিশুদ্ধ (صحيح) হতো, তবে এই ইজারাকৃত ভূমিতে চাষাবাদ না করা হলেও খারাজ (الخراج)-এর মতো জাকাত (زكاة) প্রদান করা আবশ্যক হতো। কারণ খারাজ (الخراج) হলো এমন এক প্রকার ফি যা শাসক ভূমির ওপর ধার্য করেন, তাতে চাষাবাদ করা হোক বা না হোক।১

*পঞ্চম মাসআলা: উশর (العشر) ও খারাজ (الخراج) কি একত্রে জমা হতে পারে?

আলেমগণের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, কোনো মুসলিম যদি উশরভিত্তিক (عشرية) ভূমির মালিক হয়, তবে তাতে জাকাত (زكاة) ওয়াজিব হয়। অনুরূপভাবে কোনো জিম্মি (ذمي) যদি খারাজভিত্তিক (خراجية) ভূমির মালিক হয়, তবে তাতে খারাজ (الخراج) ওয়াজিব হয়।

তবে মতভেদ কেবল তখনই দেখা দেয়, যখন কোনো মুসলিম খারাজভিত্তিক (خراجية) ভূমির মালিক হয় অথবা কোনো জিম্মি (ذمي) উশরভিত্তিক (عشرية) ভূমির মালিক হয়।

ভূমি মূলত দুই পদ্ধতিতে খারাজভিত্তিক (خراجية) হয়ে থাকে:

প্রথমটি: ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধান কোনো জনপদ যুদ্ধের মাধ্যমে জয় করেন এবং তা বিজয়ীদের মধ্যে বণ্টন করে দেন, অতঃপর তাদের পক্ষ থেকে এর বিনিময় প্রদান করে তা মুসলিমদের জন্য ওয়াকফ করে দেন এবং তার ওপর খারাজ (الخراج) ধার্য করেন; যেমনটি ওমর (রা.) ইরাকের সাওয়াদ অঞ্চলের ক্ষেত্রে করেছিলেন।

দ্বিতীয়টি: কোনো জনপদ সন্ধির মাধ্যমে এমন শর্তে জয় করা যে, ভূমি মুসলিমদের মালিকানায় থাকবে এবং অমুসলিমরা সেখানে নির্দিষ্ট খারাজ (الخراج)-এর বিনিময়ে বসবাস করবে।২

এখন প্রশ্ন হলো, যদি কোনো খারাজভিত্তিক (خراجية) ভূমি কোনো মুসলিমের মালিকানায় চলে আসে, তবে সেখানে কি উশর (العشر) ও খারাজ (الخراج) একত্রে প্রযোজ্য হবে?

এ বিষয়ে ফকিহগণ (الفقهاء) দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: তিন ইমাম—মালিক, শাফিঈ ও আহমাদ-এর মাযহাব হলো, এই ভূমিতে উশর (العشر) ও খারাজ (الخراج) উভয়ই ওয়াজিব হবে।

--------------------------------------------

১ দেখুন: ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি ৪/২০১।

২ দেখুন: ইমাম নববী রচিত আল-মাজমু ৫/৪৩৬, ৫৩৭।
(খণ্ড: ১) ইজাবাতুস সুআল ফী যাকাতিল আমওয়াল (পৃষ্ঠা: ২৮১)
القول الثاني: يجب في هذه الأرض الخراج فقط، قَال به الحنفية.

أدلة الجمهور:

1- بعموم النصوص من كتاب الله ومن سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

كقوله تعالى: {وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ} 1، وكقوله تعالى: {وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنْ الأَرْضِ} 2 وكقوله صلى الله عليه وسلم في الحديث السابق3: “فيما سقت السماء” فهذه النصوص أوجبت الزكاة في الخارج من الأرض من غير تفريق بين الأرض الخراجية والأرض العشرية فيجب فيها الزكاة كما يجب فيها الخراج.

2- أن الزكاة والخراج حقان واجبان بسببين مختلفين فوجوب أحدهما لا يمنع من وجوب الآخر فوجوب الزكاة لا يمنع من وجوب الخراج، ووجوب الخراج لا يمنع من وجوب الزكاة. سبق تخريج الحديث (ص 271) من هذا البحث.

فالزكاة والخراج حقان اختلفا من عدة وجوه:

أ- من حيث الدليل فالزكاة وجبت بالنص، والخراج بالاجتهاد.

ب- من حيث المصرف فالزكاة في مصارفها الثمانية والخراج للمقاتلة.

جـ - من حيث الصفة فالزكاة عبادة، والخراج مؤنة.

د- من حيث المحل فالزكاة عشر العين، والخراج دراهم في الذمة.

?- من حيث السبب فالزكاة الخارج من الأرض، والخراج الأرض نفسها4.

أدلة أصحاب القول الثاني:

1- ما يروى عن ابن مسعود موقوفاً ومرفوعاً “لا يجتمع عشر وخراج

--------------------------------------------

1 سورة الأنعام آية (141) .

2 سورة البقرة آية (267) .

3 سبق تخريج الحديث (ص 271) من هذا البحث.

4 انظر: المجموع للنووي 5/550 والحاوي 3 /253 وكتاب الأموال ص96.
দ্বিতীয় মত: এই জমিতে শুধুমাত্র খারাজ (خراج) আবশ্যক (واجب), এটি হানাফিগণের অভিমত।

জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমের দালিলসমূহ:

১- আল্লাহর কিতাব ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর নস (نص) বা ভাষ্যসমূহের ব্যাপকতার ভিত্তিতে।

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ} "এবং ফসল কাটার দিনে তার হক আদায় করো।" (১), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنْ الأَرْضِ} "এবং আমি তোমাদের জন্য জমি থেকে যা উৎপন্ন করেছি তা থেকে (দান করো)।" (২) এবং ইতিপূর্বে বর্ণিত হাদিসে (৩) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: “যা আকাশ সেচন করে তাতে (দশমাংশ)।” এই নস (نص) বা ভাষ্যসমূহ জমির উৎপন্ন ফসলের ওপর জাকাত (زكاة) ফরজ (فرض) করেছে; এতে খারাজি (خراجية) জমি এবং উশরি (عشرية) জমির মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। সুতরাং এতে জাকাত (زكاة) আবশ্যক (واجب) হবে যেভাবে এতে খারাজ (خراج) আবশ্যক (واجب) হয়।

২- জাকাত (زكاة) ও খারাজ (خراج) হলো দুটি ভিন্ন কারণে সাব্যস্ত দুটি আবশ্যক হক। ফলে একটির আবশ্যকতা অপরটির আবশ্যকতাকে বাধা দেয় না। সুতরাং জাকাত (زكاة) ওয়াজিব (واجب) হওয়া খারাজ (خراج) ওয়াজিব (واجب) হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক নয়, এবং খারাজ (خراج) ওয়াজিব (واجب) হওয়া জাকাত (زكاة) ওয়াজিব (واجب) হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক নয়। এই গবেষণার (২৭১ পৃষ্ঠায়) হাদিসটির তাখরিজ (تخريج) অতিক্রান্ত হয়েছে।

জাকাত (زكاة) ও খারাজ (خراج) এমন দুটি হক যা বিভিন্ন দিক থেকে আলাদা:

ক- দলিলের দিক থেকে: জাকাত নস (نص) বা সরাসরি ভাষ্যের মাধ্যমে ওয়াজিব হয়েছে, আর খারাজ সাব্যস্ত হয়েছে ইজতিহাদ (اجتهاد) দ্বারা।

খ- ব্যয়ের খাতের দিক থেকে: জাকাত তার নির্ধারিত আটটি খাতে ব্যয় হয়, আর খারাজ যোদ্ধাদের জন্য।

গ- বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে: জাকাত হলো ইবাদত (عبادة), আর খারাজ হলো এক প্রকার ব্যয়ভার (مؤنة)।

ঘ- বিষয়ের দিক থেকে: জাকাত হলো উৎপন্ন ফসলের দশমাংশ, আর খারাজ হলো জিম্মায় (ذمة) থাকা দিরহামসমূহ।

ঙ- কারণের দিক থেকে: জাকাতের কারণ হলো জমি থেকে উৎপন্ন ফসল, আর খারাজের কারণ হলো স্বয়ং জমি (৪)।

দ্বিতীয় মতাবলম্বীদের দালিলসমূহ:

১- ইবনে মাসউদ থেকে মাওকুফ (موقوف) ও মারফু (مرفوع) সূত্রে যা বর্ণিত হয়েছে: “উশর (عشر) এবং খারাজ (خراج) একত্রিত হয় না।”

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আন’আম আয়াত (১৪১)।

২. সূরা আল-বাকারা আয়াত (২৬৭)।

৩. এই গবেষণার (২৭১ পৃষ্ঠায়) হাদিসটির তাখরিজ (تخريج) গত হয়েছে।

৪. দেখুন: নববীর আল-মাজমু ৫/৫৫০, আল-হাভি ৩/২৫৩ এবং কিতাবুল আমওয়াল পৃষ্ঠা ৯৬।