(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: -)
وقفة مع بعض الترجمات الإنجليزية لمعاني القرآن الكريم   (وجيه حمد عبد الرحمن)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: وقفة مع بعض الترجمات الإنجليزية لمعاني القرآن الكريم

المؤلف: وجيه حمد عبد الرحمن

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 39

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের কিছু ইংরেজি অনুবাদের ওপর একটি পর্যালোচনা   (ওয়াজিহ হামাদ আব্দুল রহমান)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন (علوم القرآن) ও উসূলে তাফসির (أصول التفسير)


গ্রন্থ: পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের কিছু ইংরেজি অনুবাদের ওপর একটি পর্যালোচনা

লেখক: ওয়াজিহ হামাদ আব্দুল রহমান

প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারাহস্থ কিং ফাহাদ পবিত্র কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা সংস্করণে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরী

(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১)
وقفة مع بعض الترجمات الإنجليزية لمعاني القرآن الكريم

إعداد: الدكتور وجيه حمد عبد الرحمن

بسم الله الرحمن الرحيم

ال‌‌مقدمة:

الحمد لله رب العالمين القائل في كتابه العزيز {ومن آياته خَلْقُ السموات والأرض السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلافُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآياتٍ لِلْعَالِمِينَ} (الروم:22) ، وأفضل الصلاة وأتم التسليم على المبعوث رحمةً للعالمين عربهم وعجمهم أبيضهم وأسودهم شرقيهم وغربيهم إنسهم وجنّهم، خاتم الأنبياء والمرسلين وإمامهم محمد بن عبد الله وعلى آله وصحبه وبعد.

فإنه لم يعد يخفى على كل ذي بصيرة الدور الحيوي الذي تؤديه الترجمة في نقل حضارات الشعوب وثقافاتها وفي التفاهم بين الشعوب التي تعددت ألسنتها لغير سبب حتى بلغت نحو خمسة آلاف لغة، إضافةً إلى آلاف اللهجات. ويعود للترجمة الفضل الكبير في ارتقاء غير أمة سُلّم الحضارة التي لا يمكن أمةً دون سواها احتكارُها. وكيف تحتكر الحضارة وهي مزيج من نتاج بشري في مختلف الأماكن والعصور؟

وقد نهل المسلمون من ينابيع حضارات الأمم الأخرى في الجانب الماديّ منها عن طريق دار الحكمة وغيرها ممن قاموا بترجمة علوم الهند وفارس واليونان. ولم يكن لأوربا أن تصحو من سباتها في عصر النهضة لولا اتصال مترجميها في إسبانيا وغيرها بالمسلمين والنقل من فكرهم وعلومهم. ولعل هذا ما حدا بعالم اللغة الشهير إدوارد سابير
পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের কিছু ইংরেজি অনুবাদের ওপর একটি পর্যালোচনামূলক আলোকপাত

প্রস্তুতিতে: ডক্টর ওয়াজিহ হামাদ আবদুর রহমান

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আল-ভূমিকা:

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে বলেছেন, {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে} (আর-রুম: ২২)। এবং বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত—আরব ও অনারব, শ্বেত ও কৃষ্ণ, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য এবং মানব ও দানব সবার জন্য প্রেরিত ব্যক্তি, নবী ও রাসূলগণের সর্বশেষ এবং তাঁদের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর সর্বোত্তম রহমত ও পূর্ণাঙ্গ শান্তি বর্ষিত হোক। অতপর:

যেকোনো দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে অনুবাদের সেই অত্যাবশ্যকীয় ভূমিকা আর অজানা নেই, যা বিভিন্ন জাতির সভ্যতা ও সংস্কৃতি স্থানান্তরে এবং বহুবিধ কারণে বিভিন্ন ভাষায় বিভক্ত জাতিগুলোর পারস্পরিক বোঝাপড়ায় সহায়ক হয়। এই ভাষাগুলোর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে এবং সেই সঙ্গে রয়েছে আরও কয়েক হাজার উপভাষা। একটি জাতির সভ্যতার সোপানে আরোহণে অনুবাদের বিশাল অবদান রয়েছে, যা কোনো নির্দিষ্ট জাতি এককভাবে কুক্ষিগত করতে পারে না। আর সভ্যতা কীভাবে একক কর্তৃত্বাধীন হতে পারে, যেখানে এটি বিভিন্ন স্থান ও কালের মানবীয় প্রচেষ্টার এক সংমিশ্রণ?

মুসলিমগণ 'দারুল হিকমাহ' এবং ভারত, পারস্য ও গ্রিসের বিজ্ঞানসমূহ অনুবাদকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্যান্য জাতির জাগতিক সভ্যতার উৎস থেকে জ্ঞান আহরণ করেছেন। ইউরোপের পক্ষে রেনেসাঁ যুগে তাদের দীর্ঘ নিদ্রা থেকে জেগে ওঠা সম্ভব হতো না, যদি স্পেন ও অন্যান্য অঞ্চলের অনুবাদকরা মুসলিমদের সংস্পর্শে না আসতেন এবং তাঁদের চিন্তা ও বিজ্ঞান থেকে জ্ঞান গ্রহণ না করতেন। সম্ভবত এটিই প্রখ্যাত ভাষাবিদ এডওয়ার্ড সাপিরকে প্ররোচিত করেছিল...
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২)
(Edward Sapir) إلى اعتبار اللغة العربية التي كانت وعاءً لحمل الحضارة من بين لغات خمس أدت ذلك الدور وهي اللاتينية واليونانية والسنسكريتية والصينية الكلاسيكية.

وتحظى الترجمة في العصر الحديث باهتمام منقطع النظير، إذ يترجم سنوياً مئات الآلاف من الأبحاث والمقالات العلمية، بل إنه لا يكاد يطبع كتاب ذو أهمية حتى تصدر ترجمته في غير لغة خلال فترة وجيزة. كما أن السوق الأوربية المشتركة تنفق حوالي 40% من ميزانيتها على الترجمة من لغات أعضاء السوق وإليها.

وغني عن القول أن الترجمة قد تكون أداة بناءٍ وإصلاح إذا ما التزم المترجم الأمانة العلمية واختار ما يصلح للترجمة، وقد تكون معول هدم إذا لم تستغل في نقل الفضيلة وما ينفع الناس. كما أن خطأً في الترجمة قد يشعل فتيل الحرب بين الأمم، وقد يجعل القنابل النووية تتساقط على المدن لتفني النسل والحرث. وقد أدى خطأ في ترجمة الكلمة اليابانية mokasutu الواردة في البرقية التي أرسلتها اليابان إلى واشنطن قبيل إلقاء القنبلة إلى ذلك الحادث المأساوي نظراً لأن الكلمة ترجمت إلى الإنجليزية بـ ignored بدلاً من considered أي "يتجاهل (الإنذار) " بدلاً من"يُقبل". وكذا الأمر بالنسبة للغموض الذي يلف القرار ذا الرقم 242 الصادر عن الأمم المتحدة فقد ترجمت عبارة:

le retrait des territoires occupés

إلى the withdrawal from occupied territories.
(এডওয়ার্ড সাপির) আরবি ভাষাকে সেই পাঁচটি ভাষার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যা সভ্যতা বিকাশের বাহন হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে; আর সেগুলো হলো লাতিন, গ্রীক, সংস্কৃত এবং ধ্রুপদী চীনা ভাষা।

আধুনিক যুগে অনুবাদ অভূতপূর্ব গুরুত্ব লাভ করেছে, কারণ প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রবন্ধ অনূদিত হয়। এমনকি বর্তমানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বই মুদ্রিত হওয়ার সাথে সাথেই অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ভাষায় তার অনুবাদ প্রকাশিত হয়ে যায়। তেমনিভাবে ইউরোপীয় সাধারণ বাজার (European Common Market) তাদের বাজেটের প্রায় ৪০% ব্যয় করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভাষার পারস্পরিক অনুবাদের কাজে।

বলাই বাহুল্য যে, অনুবাদ গঠন ও সংস্কারের একটি হাতিয়ার হতে পারে যদি অনুবাদক জ্ঞানতাত্ত্বিক আমানতদারি রক্ষা করেন এবং অনুবাদের জন্য উপযুক্ত বিষয় নির্বাচন করেন। পক্ষান্তরে, এটি ধ্বংসের উপকরণ হতে পারে যদি একে সচ্চরিত্রতা এবং যা মানুষের জন্য উপকারী তা প্রসারের কাজে ব্যবহার না করা হয়। তদ্রূপ, অনুবাদের একটি ভুল জাতিগুলোর মধ্যে যুদ্ধের দাবানল প্রজ্বলিত করতে পারে এবং পারমাণবিক বোমা শহরগুলোর ওপর বর্ষিত হওয়ার কারণ হতে পারে, যা মানবকুল ও প্রকৃতিকে বিনাশ করে দেয়। পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের ঠিক আগে জাপান থেকে ওয়াশিংটনে প্রেরিত তারবার্তায় ব্যবহৃত জাপানি শব্দ 'mokasutu'-এর অনুবাদের একটি ভুল সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার দিকে ধাবিত করেছিল; কারণ শব্দটি ইংরেজিতে 'considered' (বিবেচনাধীন)-এর পরিবর্তে 'ignored' (উপেক্ষা করা) হিসেবে অনূদিত হয়েছিল; অর্থাৎ "(সতর্কবার্তা) উপেক্ষা করা (يتجاهل)"-এর পরিবর্তে "গ্রহণ করা (يُقبل)"। একইভাবে জাতিসংঘ কর্তৃক জারিকৃত ২৪২ নম্বর প্রস্তাবকে ঘিরে যে অস্পষ্টতা রয়েছে তার কারণ হলো, সেখানে 'le retrait des territoires occupés' বাক্যটিকে 'the withdrawal from occupied territories' হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩)
ويكمن الغموض هنا في النص الإنجليزي في استخدام أداة التعريف أو عدمه، فتشير الترجمة الفرنسية إلى الانسحاب الإسرائيلي من جميع الأراضي المحتلة في حين يشير النص الإنجليزي إلى الانسحاب من أراضٍ محتلّة!

هذه بعض المخاطر التي قد تنجم عن أخطار الترجمة في الأمور الدنيوية، فما بالنا عندما تقع مثل تلك الأخطاء في ترجمة كتاب الله الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه والذي تكفّل سبحانه وتعالى بحفظه {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (الحجر:9) ؟ ما بالنا عندما تعد ترجمات بأيدي مستشرقين ترمي إلى إيجاد حاجز بين القرآن وبين من يريد فهم الإسلام والدين الذي بشرت به الرسل والكتب السماوية، الدين الذي لن يقبل دين بعده، فإما إلى جنة عرضها كعرض السماوات والأرض، أو إلى نار وقودها الناس والحجارة؟ ماذا يحدث عندما ينكر بعض مترجمي معاني كتاب الله الكريم العذاب الحسي والنعيم الحسي وبعث الأجساد أو يزعمون بمجيء "نبيّ" بعد ختم الرسالة؟ ماذا يحدث عندما يصور القرآن الكريم على أنه من صنع بشر وأنه يخاطب العرب دون سواهم؟ إن الترجمة في ثوبها ذاك تحجب نور الحقيقة ولو إلى حين. أما إذا كانت الترجمة سليمة لغةً وعقيدةً فإنها قد تهدي إلى الحق بإذن الله. فهذا الجراح الفرنسي الشهير الدكتور موريس بوكاي (Dr. Maurice Bacaille) يطلع على ترجمة فرنسية لمعاني كتاب الله أثناء زيارة له للمملكة العربية السعودية فيندهش من آيات سورة "المؤمنون" المتعلقة
ইংরেজি পাঠ্যের অস্পষ্টতা এখানে নির্দিষ্টকারক পদাশ্রয়ী নির্দেশক (Article) ব্যবহারের বা না ব্যবহারের মধ্যে নিহিত। ফরাসি অনুবাদে সকল অধিকৃত অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যেখানে ইংরেজি পাঠ্যে কেবল 'অধিকৃত অঞ্চলসমূহ' থেকে প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে!

এগুলো হলো পার্থিব বিষয়ে অনুবাদের ত্রুটি থেকে উদ্ভূত কিছু ঝুঁকি। তাহলে সেই পরিস্থিতির কথা ভাবুন, যখন আল্লাহর কিতাবের অনুবাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ভুল ঘটে—যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না এবং যা সংরক্ষণের দায়িত্ব মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজে গ্রহণ করেছেন: "নিশ্চয়ই আমিই যিকির (الذكر) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমিই এর সংরক্ষণকারী" (আল-হিজর: ৯)? সেই অনুবাদের বিষয়বস্তু কী হতে পারে যা প্রাচ্যবিদদের হাতে তৈরি হয়, যার লক্ষ্য হলো কুরআন এবং সেই ব্যক্তির মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যে ইসলাম এবং সেই দ্বীনকে বুঝতে চায় যার সুসংবাদ রাসূলগণ এবং আসমানি কিতাবসমূহ দিয়েছিল? সেই দ্বীন, যার পরে অন্য কোনো দ্বীন কবুল করা হবে না; যার পরিণাম হয় এমন এক জান্নাত যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের ন্যায়, অথবা এমন এক জাহান্নাম (نار) যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর। কী ঘটে যখন পবিত্র আল্লাহর কিতাবের অর্থের কিছু অনুবাদক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য আজাব (عذاب) ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নিয়ামত এবং শারীরিক পুনরুত্থানকে (بعث) অস্বীকার করে অথবা রিসালাত (رسالة) সমাপ্তির পর নতুন কোনো "নবী (نبي)" আসার দাবি করে? কী ঘটে যখন পবিত্র কুরআনকে মানুষের সৃষ্টি হিসেবে চিত্রিত করা হয় এবং দাবি করা হয় যে এটি কেবল আরবদের উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ, অন্য কারো জন্য নয়? অনুবাদের এই রূপটি সত্যের আলোকে আড়াল করে দেয়, যদিও তা সাময়িক সময়ের জন্য। তবে অনুবাদ যদি ভাষা এবং আকিদা (عقيدة) বা বিশ্বাসের দিক থেকে সঠিক হয়, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছায় সত্যের দিকে হেদায়েত করতে পারে। এই প্রখ্যাত ফরাসি সার্জন ডক্টর মরিস বুকাইলি (Dr. Maurice Bucaille) সৌদি আরব সফরের সময় আল্লাহর কিতাবের অর্থের একটি ফরাসি অনুবাদ পাঠ করেন এবং সূরা "আল-মুমিনুন"-এর সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলো দেখে বিস্মিত হন।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৪)
بأصل الإنسان وتطور الجنين ويشهر إسلامه، ويبدأ في تعلم اللغة العربية في سن الثانية والخمسين، وليصدر فيما بعد كتاباً بالفرنسية بعنوان: La Bible، le Coran et la Science أي "الإنجيل والقرآن والعلم"، حرص على تضمينه النص القرآني للآيات متبوعاً بالترجمة الفرنسية لمعانيها. أما يوسف إسلام الذي كان يدعى بـ كات ستيفن (Cat Stephen) فيبحث – بعد قراءته لترجمة معاني القرآن باللغة الإنجليزية – عن "مؤلف" الكتاب ظناً منه أنه من وضع بشر نظراً لإطلاق مسمى "المحمدية" (Muhammadanism) على الإسلام في بعض الأوساط الغربية ولا سيما الكنسيّة منها. وعندما سأله أخوه الذي سبقه في اعتناق الإسلام عن السرّ في سؤاله عن المؤلف أجاب: "لأنني لأول مرة أقرأ وصفاً صحيحاً لله سبحانه وتعالى". ولا يتسع المجال هنا لذكر عشرات القساوسة والقادة والمفكرين الذين هدى الله سبحانه وتعالى بعد أن نهلوا من ينابيع الإسلام الصافية فعادوا إلى دين الفطرة.

لقد انتشر الإسلام في بقاع الأرض في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم والخلفاء الراشدين ومن تبعهم فأصبحت اللغة العربية آنذاك لغة الدين والدولة، وبما أن اللغة العربية هي أداة العقيدة السمحة، فقد أقبلت شعوب البلدان المفتوحة على تعلمها، بل قّدّمت أحياناً أو حَلَّتْ محل اللغات القومية حتى بلغ الأمر ببعضهم إلى القول: "لأن أذمّ بالعربية أحب إليَّ من أن أمدح بالفارسية." وهكذا خالطت لغة القرآن الكريم أفئدة الناس حتى قدّمت على اللغات القومية. كيف لا وهي لغة
মানুষের আদি উৎস এবং ভ্রূণের বিকাশ নিয়ে তিনি আলোচনা করেন এবং ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। বায়ান্ন বছর বয়সে তিনি আরবি ভাষা শিখতে শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ফরাসি ভাষায় একটি বই প্রকাশ করেন যার শিরোনাম ছিল: 'La Bible, le Coran et la Science' অর্থাৎ "বাইবেল, কুরআন ও বিজ্ঞান"। তিনি বইটিতে কুরআনের আয়াতসমূহের মূল পাঠ এবং তার পাশাপাশি ফরাসি অনুবাদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে সবিশেষ যত্নবান ছিলেন। ইউসুফ ইসলাম, যিনি পূর্বে ক্যাট স্টিভেন্স (Cat Stevens) নামে পরিচিত ছিলেন—ইংরেজি ভাষায় কুরআনের মর্মার্থের অনুবাদ পাঠ করার পর—বইটির "লেখক" কে তা খুঁজতে শুরু করেন। তিনি ধারণা করেছিলেন যে এটি কোনো মানুষের রচনা, কারণ পশ্চিমা কিছু মহলে, বিশেষ করে গির্জা সংশ্লিষ্ট মহলে ইসলামকে "মুহাম্মাদানজম" (Muhammadanism) নামে অভিহিত করা হতো। যখন তাঁর ভাই, যিনি তাঁর পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, লেখকের ব্যাপারে তাঁর এই জিজ্ঞাসার কারণ জানতে চাইলেন, তখন তিনি উত্তর দিলেন: "কারণ আমি প্রথমবারের মতো মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার একটি সঠিক (صحيح) বর্ণনা পড়ছি।" এখানে সেই সকল শত শত পাদ্রি, নেতা ও চিন্তাবিদদের কথা উল্লেখ করার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই, যাদেরকে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইসলামের স্বচ্ছ প্রস্রবণ থেকে সিক্ত হওয়ার পর হিদায়াত দান করেছেন এবং তাঁরা স্বভাবজাত ধর্মে ফিরে এসেছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খুলাফায়ে রাশিদিন এবং তাঁদের অনুসারীদের যুগে ইসলামের দাওয়াত পৃথিবীর দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সে সময় আরবি ভাষা দ্বীন ও রাষ্ট্রের ভাষায় পরিণত হয়। যেহেতু আরবি ভাষা এই উদার আকিদার বাহন, তাই বিজিত অঞ্চলের মানুষগুলো এটি শেখার প্রতি ধাবিত হয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তারা আরবিকে তাদের জাতীয় ভাষার ওপর প্রাধান্য দিয়েছে কিংবা জাতীয় ভাষার স্থলাভিষিক্ত করেছে। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তাদের কেউ কেউ বলতেন: "ফারসিতে প্রশংসিত হওয়ার চেয়ে আরবিতে নিন্দিত হওয়াও আমার কাছে অধিক প্রিয়।" এভাবেই পবিত্র কুরআনের ভাষা মানুষের হৃদয়ের সাথে মিশে গিয়েছিল, এমনকি তা জাতীয় ভাষাগুলোর ওপর প্রাধান্য লাভ করেছিল। কেনই বা হবে না, অথচ এটি তো সেই ভাষা...
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৫)
القرآن الكريم ولغة النبي العربي صلى الله عليه وسلم ولغة أهل الجنة؟ أما وإن اللغة العربية قد تراجعت قليلاً خلال قرن من الزمان فقد كان لزاماً أن تكتسب ترجمة معاني القرآن الكريم أهمية خاصة كي لا يتوقف تبليغ الرسالة السماوية الخالدة في عصر تضاءلت فيه المسافات بفضل ما منَّ الله سبحانه وتعالى على الإنسان من تقدم تقني وعلميّ قلّما سبق له مثيل. وإزاء هذا الاتصال المتزايد بين الأمم وفي ظل تهافت العقائد الملحدة والمشركة والوضعية الكافرة، ونظراً للخواء الروحي الذي يلف عالمنا المعاصر وفي ظل دعوات العولمة وغيرها فإن الحاجة تمسّ إلى أن ينهض المسلمون بدورهم المنوط بهم وأن يتبوّأوا مكانتهم التي ارتضى الله عز وجل لهم في تبليغ الدعوة للناس كافة بلغاتهم أولاً من خلال الترجمة السليمة لكتاب الله ريثما تعود اللغة العربية إلى سابق عهدها وعاءً للعقيدة والحضارة والثقافة، وعاء إيمان ووحدة لا أوعية كفر وتمزيق شمل. وما الجهود الجبارة التي تبذلها المملكة العربية السعودية في خدمة كتاب الله تفسيراً وترجمةً ونشراً، وما مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف في المدينة المنورة إلا خير شاهد على الاضطلاع بتأدية الأمانة التي حُمّلنا والتي سنسأل عنها يوم العرض: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطاً لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيداً} (البقرة:143) أي أمةً إسلامية كما أرادها الله لا كما ترجمها جورج سيل (George Sale) أمة عربية (Thus have

পবিত্র কুরআন, আরবি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভাষা এবং জান্নাতবাসীদের ভাষা? গত এক শতাব্দীতে আরবি ভাষার চর্চা কিছুটা হ্রাস পাওয়ার দরুণ, পবিত্র কুরআনের মর্মার্থ অনুবাদের গুরুত্ব অনুধাবন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এটি এজন্য যাতে এই শাশ্বত আসমানি পয়গাম প্রচারের ধারা থমকে না যায়; বিশেষ করে এমন এক যুগে যেখানে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহে প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক অভাবনীয় উন্নতির ফলে জাতিগত দূরত্বের ব্যবধান ঘুচে গিয়েছে। জাতিগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই যোগাযোগ এবং নাস্তিক্যবাদী, শিরকপূর্ণ ও মানবচিত কুফরি মতবাদের অসারতার মুখে, বর্তমান বিশ্বজুড়ে বিরাজমান আধ্যাত্মিক শূন্যতা ও বিশ্বায়নের ডামাডোলে মুসলমানদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হওয়া একান্ত প্রয়োজন। তাদের উচিত সেই সুমহান মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা যা মহান আল্লাহ তাদের জন্য মনোনীত করেছেন। আর তা হলো, মানুষের নিজস্ব ভাষায় পবিত্র আল্লাহর কিতাবের সঠিক অনুবাদের মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া, যতক্ষণ না আরবি ভাষা পুনরায় আকিদা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির আধার হিসেবে তার হারানো গৌরব ফিরে পায়; যা হবে ঈমান ও ঐক্যের আধার, কুফর ও বিভেদের আধার নয়। পবিত্র কুরআনের তাফসির, অনুবাদ ও প্রচারের ক্ষেত্রে সৌদি আরব যে বিশাল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত কিং ফাহদ কমপ্লেক্স ফর দ্য প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন এর যে অনন্য ভূমিকা, তা আমাদের ওপর অর্পিত আমানত আদায়েরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যে আমানত সম্পর্কে হাশরের ময়দানে আমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে: {এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষীস্বরূপ হও এবং রাসুল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন} (আল-বাকারা: ১৪৩)। অর্থাৎ একটি ইসলামি উম্মাহ, যেমনটি আল্লাহ চেয়েছেন; জর্জ সেল (George Sale) যেভাবে অনুবাদ করেছেন "একটি আরব জাতি" (Thus have...) হিসেবে তেমনটি নয়।

(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৬)
we placed you O Arabian intermediate nation) . فالقرآن الكريم يخاطب المسلمين جميعاً والمترجم يضيّق المعنى ويقصره على العرب للتدليل على زعمه بأن الإسلام كان للعرب دون سواهم.

وسنتناول في هذا البحث بعض المسائل المتعلقة بترجمة معاني كتاب الله والأخطاء العقدية واللغوية ولاسيما النحوية والدلالية التي يقع فيها بعض المترجمين سواءً أكان ذلك بسوء نية أم بحسن نية، ثم نتبعها بتوصيات قد تعين على النهوض بهذه المهمة غير اليسيرة بإذنه تعالى.
আমরা তোমাদের বানিয়েছি হে আরব মধ্যপন্থী জাতি)। মূলত পবিত্র কুরআন সকল মুসলিমকে সম্বোধন করে, অথচ অনুবাদক এর অর্থকে সংকুচিত করে কেবল আরবদের মাঝে সীমাবদ্ধ করে ফেলেন যাতে তাঁর এই দাবি প্রতিষ্ঠিত করা যায় যে, ইসলাম কেবল আরবদের জন্য ছিল, অন্য কারো জন্য নয়।

আমরা এই গবেষণায় আল্লাহর কিতাবের মর্মার্থ অনুবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় এবং সেই সাথে আকিদাগত ও ভাষাগত ত্রুটিসমূহ—বিশেষ করে ব্যাকরণগত ও শব্দার্থিক বিচ্যুতিগুলো নিয়ে আলোচনা করব, যেগুলোতে কিছু অনুবাদক ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে পতিত হন। অতঃপর আমরা কিছু সুপারিশ প্রদান করব যা আল্লাহর ইচ্ছায় এই দুরূহ দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে সহায়ক হতে পারে।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الترجمات الإنجليزية في الميزان:

‌‌الترجمات الإنجليزية الاستشراقية

…

الترجمات الإنجليزية في الميزان:

الترجمات الإنجليزية لمعاني القرآن الكريم هي أكثر الترجمات شيوعاً في هذا العصر نظراً للمكانة المرموقة التي تحتلها اللغة الإنجليزية على الصعيد الدولي، إذ إنها اللغة الأم لمئات الملايين من شعوب الدول المتقدمة واللغة الثانية في كثير من بلدان العالم واللغة الأجنبية في معظم أنحاء المعمورة.

ويمكننا أن نقسم تلك الترجمات إلى أنواع ثلاثة:

1- الترجمات الإنجليزية الاستشراقية.

2- الترجمات الإنجليزية الإسلامية.

3- الترجمات الإنجليزية القاديانية.

وسنلقي الضوء على كل نمط من هذه الترجمات لنتعرف على ماهيته ودوافعه وموقف الإسلام منه ثم نبدي بعض الملاحظات العقدية واللغوية على الأنماط الثلاثة.

(1) – ومن أهم الترجمات التي يشتمل عليها النوع الأول ما يلي:

أ– ترجمة أليكزندر روس "Alexander Ross" التي سميت بـ "قرآن محمد" The Koran of Mahmet، وهي أول ترجمة إنجليزية لمعاني القرآن الكريم باللغة الإنجليزية.
মূল্যায়নের মানদণ্ডে ইংরেজি অনুবাদসমূহ:

প্রাচ্যবিদদের কৃত ইংরেজি অনুবাদসমূহ

…

মূল্যায়নের মানদণ্ডে ইংরেজি অনুবাদসমূহ:

পবিত্র কুরআনের অর্থসমূহের ইংরেজি অনুবাদগুলো বর্তমান যুগে সর্বাধিক প্রচলিত অনুবাদ হিসেবে গণ্য, কারণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইংরেজি ভাষা এক মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান দখল করে আছে। এটি উন্নত বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মাতৃভাষা, অনেক দেশে দ্বিতীয় ভাষা এবং পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে বিদেশী ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আমরা এই অনুবাদগুলোকে তিনটি প্রকারে বিভক্ত করতে পারি:

১- প্রাচ্যবিদদের কৃত ইংরেজি অনুবাদসমূহ।

২- ইসলামি ইংরেজি অনুবাদসমূহ।

৩- কাদিয়ানী ইংরেজি অনুবাদসমূহ।

আমরা এই অনুবাদগুলোর প্রতিটি পদ্ধতির ওপর আলোকপাত করব যাতে সেগুলোর প্রকৃতি, উদ্দেশ্য এবং এ বিষয়ে ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়। এরপর এই তিন ধরনের অনুবাদের ওপর আমরা কিছু আকিদাগত ও ভাষাগত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরব।

(১) – প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

ক– আলেকজান্ডার রস "Alexander Ross" এর অনুবাদ, যার নাম রাখা হয়েছিল "মুহাম্মাদের কুরআন" (The Koran of Mahmet); এটি ইংরেজি ভাষায় পবিত্র কুরআনের অর্থসমূহের সর্বপ্রথম ইংরেজি অনুবাদ।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৮)
ب- ترجمة جورج سيل "George Sale"، وقد ظهرت هذه الترجمة الشهيرة لأول مرة في لندن عام 1734م، ولا يزال يعاد طبعها رغم ظهور عدد من الترجمات الإنجليزية ولاسيما في الفترة التي تلت الحرب العالمية الثانية. وقد بلغ عدد الترجمات الإنجليزية حتى نهاية عام 1962م (57) ترجمة، ومن عام 1963م إلى يومنا هذا ظهرت خمس ترجمات أخرى مما نعرف (1) .

ج- ترجمة رودول "Rodwell"، وصدرت الطبعة الأولى لها في عام 1886م، وقدم لها المستشرق الشهير جورج مرجليوث (G.Margoliouth) ، ولدى إعداد رودول لهذه الترجمة كان أستاذاً للدراسات الشرقية في جامعة كيمبرج، وكان اعتماده على ترجمات الإنجليزية والألمانية واللاتينية لكل من سيل وهلمان وماراتشي. ولعل السر في إقبال المستشرقين على ترجمة رودويل وتنويههم بها يرجع إلى بدعة أحدثها في المنهج القرآني المألوف، حيث رتب السور ترتيباً زمنياً حسب نزولها، فبدأ بسورة العلق واختتم بسورة المائدة، وزعم أن هذا الترتيب

--------------------------------------------

(1) انظر د. عبد الله عباس الندوي: ترجمات معاني القرآن الكريم وتطور فهمه عند الغرب، سلسلة دعوة الحق، رابطة العالم الإسلامي 1417هـ، العدد 174، ص44.
খ- জর্জ সেলের (George Sale) অনুবাদ; এই বিখ্যাত অনুবাদটি ১৭৩৪ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও এটি আজও পুনর্মুদ্রিত হচ্ছে। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের শেষ নাগাদ ইংরেজি অনুবাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৫৭টিতে। আর ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আমাদের জানামতে আরও পাঁচটি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে (১)।

গ- রডওয়েলের (Rodwell) অনুবাদ; ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় এবং এর ভূমিকা লিখেন বিখ্যাত প্রাচ্যবিদ জর্জ মারগোলিউথ (G. Margoliouth)। এই অনুবাদটি প্রস্তুতির সময় রডওয়েল কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচ্যবিদ্যার অধ্যাপক ছিলেন। তিনি সেল, হলম্যান এবং মারাচ্চির ইংরেজি, জার্মান ও লাতিন অনুবাদের ওপর নির্ভর করেছিলেন। প্রাচ্যবিদদের নিকট রডওয়েলের অনুবাদের গ্রহণযোগ্যতা এবং এর প্রশংসা করার রহস্য সম্ভবত কুরআনের প্রচলিত পদ্ধতির বিপরীতে তাঁর প্রবর্তিত একটি নতুনত্বের (بدعة) মধ্যে নিহিত। তিনি সূরাগুলোকে নাজিলের সময়ানুসারে সাজিয়েছেন; ফলে তিনি সূরা আলাক দিয়ে শুরু করেছেন এবং সূরা মায়িদাহ দিয়ে শেষ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, এই বিন্যাস...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ড. আব্দুল্লাহ আব্বাস নদভী, ‘কুরআন মাজীদের অর্থানুবাদ এবং পাশ্চাত্যে এর উপলব্ধির ক্রমবিকাশ’ (ترجمات معاني القرآن الكريم وتطور فهمه عند الغرب), দাওয়াতুল হক সিরিজ, রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামী ১৪১৭ হিজরি, সংখ্যা ১৭৪, পৃষ্ঠা ৪৪।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৯)
التاريخي يرسم صورة صحيحة واضحة لسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم العقلية، والتطورات في النظريات القرآنية (1) .

د - ترجمة بالمر "Palmer"، صدرت في عام 1880م من مطبعة أكسفورد في بريطانيا، حيث أعدها بالمر أستاذ اللغة العربية بجامعة كيمبرج، وذلك بطلب من المستشرق الألماني ميكسو الذي كان رئيس قسم الدراسات الشرقية في جامعة أكسفورد، وقد كان عهد إلى زملائه المستشرقين نقل الكتب المقدسة إلى اللغة الإنجليزية بما فيها معاني القرآن الكريم. ويلمس المطلع على هذه الترجمة أن بالمر لم يستطع التحرر من تقليد جورج سيل الذي أراد تضييق الآفاق الواسعة التي يقصدها القرآن الكريم والدعوة العامة للإنسانية جمعاء وحصرها في عرب الجزيرة.

هـ- ترجمة القسيس وهيري "Whery"، وقد ألف وهيري كتاباً عن الإسلام وسمّاه ترجمة القرآن اعتمد فيها على ترجمة رودويل وتفسير الملا واعظ الكشفي من علماء الشيعة وعلى تفسير ألّفه الشاه ولي الله الدهلوي، وزعم أنه جمع في ترجمته وجهات

--------------------------------------------

(1) انظر الربداوي الذي اعتبر هذه الترجمة أفضل ترجمة لمعاني القرآن في الإنجليزية واعتبر أن محاولة المترجم ترتيب السور ترتيباً زمنياً تاريخياً حسب نزولها ميزة قلما نجدها في غيره من الترجمات، ص93.
ঐতিহাসিক [দৃষ্টিভঙ্গি] রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বুদ্ধিবৃত্তিক সীরাত এবং কুরআনিক তত্ত্বসমূহের বিবর্তনের একটি সঠিক (صحيحة) ও স্বচ্ছ চিত্র অঙ্কন করে (১)।

ঘ - পালমার (Palmer)-এর অনুবাদ; এটি ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষার অধ্যাপক পালমার এটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যতত্ত্ব বিভাগের প্রধান জার্মান প্রাচ্যবিদ মিক্সোর অনুরোধে প্রস্তুত করেন। তিনি তার সহকর্মী প্রাচ্যবিদদের কাছে পবিত্র গ্রন্থগুলো ইংরেজি ভাষায় স্থানান্তরের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন, যার মধ্যে পবিত্র কুরআনের মর্মার্থও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই অনুবাদের পাঠকের কাছে এটি প্রতীয়মান হয় যে, পালমার জর্জ সেলের অনুকরণ থেকে মুক্ত হতে পারেননি, যিনি পবিত্র কুরআনের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ও সমগ্র মানবতার জন্য এর সার্বজনীন দাওয়াতকে সংকীর্ণ করে কেবল আরব উপদ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন।

ঙ- পাদ্রি ওয়েরি (Whery)-এর অনুবাদ; ওয়েরি ইসলাম সম্পর্কে একটি বই রচনা করেন এবং তার নাম দেন ‘কুরআনের অনুবাদ’। এতে তিনি রডওয়েলের অনুবাদ, শিয়া আলেমদের অন্তর্ভুক্ত মোল্লা ওয়ায়েজ কাশিফীর তাফসির এবং শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি কর্তৃক রচিত তাফসিরের ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি তার অনুবাদে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সংগ্রহ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: রাবদাউয়ি; যিনি এই অনুবাদটিকে ইংরেজিতে কুরআনের মর্মার্থের শ্রেষ্ঠ অনুবাদ হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি মনে করেন যে, সূরাগুলোকে অবতীর্ণ হওয়ার সময়ানুসারে ঐতিহাসিক ক্রমানুসারে সাজানোর ক্ষেত্রে অনুবাদকের প্রচেষ্টা এমন এক বৈশিষ্ট্য যা অন্য অনুবাদগুলোতে সচরাচর দেখা যায় না, পৃষ্ঠা ৯৩।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১০)
النظر بين الشيعة وأهل السنة. كما ينقل في ترجمته أقوال الشيعة الباطنية بأن للقرآن ظاهراً وباطناً. ويرى الدكتور عبد الله الندوي أن المتصفح لهذه الترجمة لا يجد شيئاً يؤيد دعواه أو يدل على أنه استفاد من تفسير الشاه ولي الله الدهلوي إلا ما نقله من كتاب موضح القرآن للشاه عبد القادر الدهلوي ابن الشاه ولي الله الدهلوي. ويبدو جلياً أنه أراد بعمله هذا تشويه عقيدة العلماء الباحثين حول القرآن الكريم والقائلين بأنه منزه من التحريف.

و– ترجمة رتشارد بل "Richard Bell" التي وضعها عندما كان مدرساً للغة العربية في جامعة أدنبرة بأسكتلندا، وطبعت هذه الترجمة لأول مرة عام 1937م في نيويورك وأعيد طبعها عام 1960م، وهي في جزأين كبيرين. والمترجم من أتباع رودول، ومن ثمّ قلب ترتيب السور والآيات على أعقابها وصدّر كل سورة بنقدٍ مطول عن تاريخ النزول وأسبابه وأدخل ملاحظاته وانتقاداته في ثنايا ترجمة النص، وأحاط أقواله بالعلامات الفارقة للآيات التي يرى – وفق فهمه السقيم وزعمه الباطل – أنها من سورة أخرى. ومثال ذلك أنه زعم من دون أي دليل علمي أن الآية {قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} (آل عمران:26) .
শিয়া ও আহলে সুন্নাহর মধ্যবর্তী দৃষ্টিভঙ্গি। তেমনিভাবে তিনি তার অনুবাদে শিয়া বাতেনিয়াদের এই বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যে, কুরআনের একটি প্রকাশ্য (ظاهر) ও একটি গোপন (باطن) অর্থ রয়েছে। ড. আবদুল্লাহ নদভী মনে করেন যে, এই অনুবাদের পাঠক এমন কিছুই পাবেন না যা তার দাবিকে সমর্থন করে অথবা এটি প্রমাণ করে যে তিনি শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভির তাফসির থেকে উপকৃত হয়েছেন; তবে তিনি শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভির পুত্র শাহ আবদুল কাদির দেহলভির মুদহিউল কুরআন গ্রন্থ থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তা ব্যতীত। এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি তার এই কর্মের মাধ্যমে কুরআনুল কারিম সম্পর্কে গবেষণাকারী এবং কুরআন বিকৃতি (تحريف) থেকে মুক্ত বলে বিশ্বাসী আলেমদের আকিদাকে কলুষিত করতে চেয়েছেন।

ও– রিচার্ড বেল "Richard Bell"-এর অনুবাদ, যা তিনি স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষার শিক্ষক থাকাকালীন প্রণয়ন করেছিলেন। এই অনুবাদটি ১৯৩৭ সালে নিউ ইয়র্কে প্রথম মুদ্রিত হয় এবং ১৯৬০ সালে পুনর্মুদ্রিত হয়; এটি দুটি বড় খণ্ডে বিভক্ত। অনুবাদক রডওয়েলের অনুসারী ছিলেন, তাই তিনি সূরা ও আয়াতের ক্রমকে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়েছেন। তিনি প্রতিটি সূরার শুরুতে নাযিলের ইতিহাস ও নাযিলের প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) সম্পর্কে দীর্ঘ সমালোচনা তুলে ধরেছেন এবং মূল পাঠের অনুবাদের মধ্যে নিজের পর্যবেক্ষণ ও সমালোচনা ঢুকিয়ে দিয়েছেন। তিনি তার রুগ্ন বোধ ও ভ্রান্ত দাবির ভিত্তিতে যে আয়াতগুলোকে অন্য সূরার অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেছেন—সেগুলোকে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করেছেন। এর উদাহরণ হলো, তিনি কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন যে এই আয়াতটি: "বলুন: হে আল্লাহ! আপনি রাজত্বের মালিক, যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন এবং যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন আর যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন। আপনার হাতেই কল্যাণ। নিশ্চয়ই আপনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।" (আলে ইমরান: ২৬)।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১১)
كانت سورة مكية مستقلة. وقد أتى بل (Bell) من جهة الترجمة والتفسير بشيء جديد يستدعى الانتباه فأدخل باسم الترجمة كلمات لا صلة لها بالقرآن الكريم، وقال: إن المراد بهذه الآية كذا وفي موضع آخر يقول إن محمداً صلى الله عليه وسلم أراد أن يقول كذا فعجز ولم يسعفه التعبير فترك الجملة ناقصةً!.

ي- ترجمة آرثر آربري "Arberry" – أستاذ الدراسات الإسلامية في جامعة كيمبرج سابقاً – وسمّاها "القرآن مترجماً" (The Koran Interpreted) . وهي ترجمة جيّدة إذا ما قورنت بالترجمات التي وضعها المستشرقون الآخرون وذلك بأسلوبها المعاصر الواضح وعذوبة بيانها وسهولة لفظها وحرصه الشديد على الالتزام بترجمة كل لفظ ورد في القرآن الكريم من دون نقص أو زيادة فضلاً عن أي نوع من أنواع التهجم أو محاولة للتشويه بجمال القرآن الكريم، أو طعنه في الدين أو تقليل من شأن النبي الكريم صلى الله عليه وسلم، كما هو المعتاد والمألوف في كتابة أكثر المستشرقين. أما وقوع الأخطاء فلا يكاد يخلو منه أحد حتى ولو كان المترجم مسلماً متحمساً للعقيدة الإسلامية.

ومن أخطائه أنه ترجم معنى "استوى" في الآية الكريمة {هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعاً ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ
এটি একটি স্বতন্ত্র মক্কি (مكية) সূরা ছিল। বেল (Bell) অনুবাদ ও তাফসিরের ক্ষেত্রে এমন নতুন কিছু উপস্থাপন করেছেন যা বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে; তিনি অনুবাদের নামে এমন সব শব্দ অন্তর্ভুক্ত করেছেন যেগুলোর পবিত্র কুরআনের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেছেন: এই আয়াতের উদ্দেশ্য হলো এই, আবার অন্য স্থানে তিনি বলেন যে, মুহাম্মদ (সা.) এমন কিছু বলতে চেয়েছিলেন কিন্তু তিনি তা বলতে অক্ষম ছিলেন এবং সঠিক প্রকাশভঙ্গি তাঁর সহায়ক হয়নি, ফলে তিনি বাক্যটি অসম্পূর্ণ রেখে দিয়েছেন!

১০- আর্থার আর্বারি (Arberry)-এর অনুবাদ – তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি শিক্ষা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ছিলেন – এবং তিনি এর নামকরণ করেছিলেন "দ্য কোরআন ইন্টারপ্রেটেড" (The Koran Interpreted)। অন্যান্য প্রাচ্যবিদদের করা অনুবাদের তুলনায় এটি একটি চমৎকার অনুবাদ, কারণ এর সমসাময়িক স্বচ্ছ শৈলী, প্রাঞ্জল বর্ণনাভঙ্গি ও শব্দের সাবলীলতা এবং পবিত্র কুরআনে বর্ণিত প্রতিটি শব্দের অনুবাদের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়াই তাঁর চরম সতর্কতা। তদুপরি, এতে পবিত্র কুরআনের সৌন্দর্যের বিকৃতি ঘটানোর কোনো প্রচেষ্টা বা আক্রমণ নেই, কিংবা ধর্মের ওপর আঘাত বা নবী করিম (সা.)-এর মর্যাদাহানির কোনো প্রয়াস নেই, যা অধিকাংশ প্রাচ্যবিদদের রচনার ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায়। আর ভুলভ্রান্তির ব্যাপারটি এমন যে, কেউই তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়, এমনকি অনুবাদক যদি ইসলামি আকিদার প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী কোনো মুসলিমও হন।

তাঁর ভুলগুলোর মধ্যে একটি হলো তিনি পবিত্র আয়াতের "ইস্তাওয়া" (استوى) শব্দের অর্থ অনুবাদ করেছেন {তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য জমিনে যা আছে তার সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আকাশের দিকে অভিনিবেশ (استوى) করলেন এবং সেগুলোকে সুবিন্যস্ত করলেন...
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১২)
سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} (البقرة:29) بما صار معناه "ثم رفع نفسه إلى السماء": hen He lifted Himself to Heaven، وليس معنى "استوى" "رفع"، بل معناها في هذه الآية: "قصد وعمد"، بدليل صلة الفعل وهي "إلى".

ويلاحظ أن معظم الترجمات الاستشراقية ترمي إلى ترسيخ مفاهيم خاطئة حول القرآن الكريم بالزعم بأنه من صنع البشر وتجريده من صفته السماوية والإدعاء بأن القرآن يخاطب العرب دون سواهم من البشر بهدف التقليل من عالمية الرسالة الإسلامية. كما أن بعض المستشرقين عمد إلى التلاعب بترتيب السور القرآنية كما فعل رودول وبل. أما ما قام به اليهودي ن. ج. داود في كتابه الذي سمّاه "القرآن" The Koran، وأصدره عام 1956م، فإنه لم يتبع ترتيب سور القرآن الكريم المأثور في الترجمة، بل اخترع من عنده ترتيباً حسب زعمه الباطل بأن للقرآن نغمة شعرية، ولكن هذه النغمة الشعرية توجد في بعض السور والآيات أكثر من بعض السور الأخرى، فقدّم السور التي زعمها جهلاً منه وعناداً أنها أكثر شعرية وصنف لها درجات من الغناء، فوضع بعضها في الدرجة الأولى وبعضها في الدرجة الثانية وهكذا صنف للسور درجات من الغناء والشعر، فيبدأ بسورة الزلزلة تليها سورة الانفطار وتعقبها سورة التكوير ثم سورة الإنسان. وعمد إلى إسقاط أرقام الآيات فضلاً عن النص العربي للقرآن الكريم ليكون قارئه بعيداً عن الأصل وليكون عمله هذا
{সাত আসমান এবং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ} (আল-বাকারাহ: ২৯) এর অর্থ দাঁড়ায় "অতঃপর তিনি নিজেকে আসমানের দিকে উন্নীত করলেন": "He lifted Himself to Heaven", অথচ "ইস্তাওয়া" (استوى) শব্দের অর্থ "উন্নীত হওয়া" (رفع) নয়, বরং এই আয়াতে এর অর্থ হলো: "সংকল্প ও উদ্দেশ্য করা" (قصد وعمد); যার প্রমাণ হলো ক্রিয়াপদটির সাথে "ইলা" (إلى) অব্যয়ের সংশ্লিষ্টতা।

উল্লেখ্য যে, অধিকাংশ প্রাচ্যবিদদের অনুবাদ পবিত্র কুরআন সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য রাখে। তারা দাবি করে যে এটি মানুষের তৈরি এবং এর ঐশ্বরিক বৈশিষ্ট্য হরণ করার চেষ্টা করে। তারা আরও দাবি করে যে, কুরআন কেবল আরবদের উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো ইসলামের বৈশ্বিক বার্তার মহিমা ক্ষুণ্ণ করা। যেমন কিছু প্রাচ্যবিদ কুরআনের সূরাগুলোর ক্রমবিন্যাস নিয়ে কারসাজি করেছেন, যেমনটি করেছেন রডওয়েল এবং বেল। আর ইহুদি এন. জে. দাউদ ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত তার "দ্য কোরান" (The Koran) নামক গ্রন্থে অনুবাদের ক্ষেত্রে কুরআনের নির্ভরযোগ্যভাবে বর্ণিত (مأثور) সূরাগুলোর ক্রম অনুসরণ করেননি। বরং তিনি তার এই মিথ্যা দাবির ভিত্তিতে নিজ থেকে একটি ক্রম উদ্ভাবন করেছেন যে, কুরআনের একটি কাব্যিক ছন্দ রয়েছে। কিন্তু এই কাব্যিক ছন্দ কিছু সূরা ও আয়াতে অন্যান্য সূরা ও আয়াতের তুলনায় অধিক বিদ্যমান। ফলে তিনি তার অজ্ঞতা ও হঠকারিতার কারণে সেই সূরাগুলোকে অগ্রবর্তী করেছেন যেগুলোকে তিনি অধিক কাব্যিক বলে দাবি করেছেন এবং সেগুলোর গীতধর্মীতার বিভিন্ন স্তর বিন্যাস করেছেন। তিনি কিছু সূরাকে প্রথম স্তরে এবং কিছু সূরাকে দ্বিতীয় স্তরে রেখেছেন; এভাবে তিনি সূরাগুলোর জন্য গান ও কবিতার বিভিন্ন স্তর নির্ধারণ করেছেন। তিনি সূরা আল-যিলযাল দিয়ে শুরু করেন, এরপর সূরা আল-ইনফিতার, এরপর সূরা আত-তাকভীর এবং তারপর সূরা আল-ইনসান। তিনি আয়াতের নম্বর এবং পবিত্র কুরআনের মূল আরবি পাঠ বর্জন করার পথ বেছে নিয়েছেন যাতে পাঠক মূল উৎস থেকে দূরে থাকে এবং তার এই কাজ...
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৩)
المرجع الوحيد لمن يريد معرفة القرآن ومعنى الآيات. وهذه الترهات ليست بمستغربة من قوم لم يشرح الله صدورهم للإسلام.
কুরআন এবং আয়াতসমূহের মর্মার্থ যারা জানতে ইচ্ছুক, এটিই তাদের জন্য একমাত্র নির্ভরস্থল। আর এমন সম্প্রদায়ের নিকট হতে এই ধরনের অসার কথাবার্তা মোটেই আশ্চর্যজনক নয়, যাদের অন্তর আল্লাহ ইসলামের জন্য প্রশস্ত করেননি।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৩)
(2) – ومن أهم‌‌ الترجمات الإنجليزية الإسلامية ما يلي:

أ) ترجمة الدكتور عبد الحليم خان، وهي أول ترجمة أعدّها مسلم، طبعت في مدينة بتيالا في الهند عام 1905م، وكان المترجم من أنصار القاديانية وأتباعها ثم عاد إلى الإسلام من جديد. وكانت له مجلة شهرية باسم "الذكر الحكيم" ينشر فيها ترجماته لمعاني القرآن الكريم منجمة ثم وضعها في مجلدين. يقول المفسّر عبد الماجد الدريابادي إنه اطلع على هذه الترجمة عند ورثة المترجم ولكنه لم يجد فيها شيئاً يغبط عليه إلا أن له فضل السبق إلى هذا العمل الديني المبارك.

ب) ترجمة الميرزا أبو الفضل الله آبادي، وطبعت في مدينة "إله آباد" في الهند عام 1911م، وأعاد ورثته طبعها في مدية بومباي عام 1955م، وكانت هي أولى الترجمات التي طبعت بالإنجليزية وبجانبها النص القرآني، مذيلة بشروح وجيزة لمعاني الكلمات والتراكيب، وتوجد نسخة منها في مكتبة رامفور.
(২) – এবং গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক ইংরেজি অনুবাদগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

ক) ডক্টর আব্দুল হালিম খানের অনুবাদ; এটি কোনো মুসলিম গবেষক কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রথম অনুবাদ যা ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতের পাতিয়ালা শহরে মুদ্রিত হয়। অনুবাদক কাদিয়ানি মতবাদের সমর্থক ও অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, পরবর্তীতে তিনি পুনরায় ইসলামে ফিরে আসেন। তাঁর "আল-জিকরুল হাকিম" নামক একটি মাসিক পত্রিকা ছিল যাতে তিনি পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের অনুবাদ কিস্তিতে প্রকাশ করতেন, অতঃপর তা দুই খণ্ডে সংকলন করেন। ব্যাখ্যাকার (المفسّر) আব্দুল মজিদ দরিয়াবাদি বলেন যে, তিনি অনুবাদকের উত্তরাধিকারীদের নিকট এই অনুবাদটি দেখেছিলেন, তবে এতে তিনি বিশেষ কোনো উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য পাননি; তবে এই বরকতময় ধর্মীয় কাজে অগ্রগামী হওয়ার কৃতিত্ব তাঁর প্রাপ্য।

খ) মির্জা আবুল ফজল আল্লাহাবাদির অনুবাদ; এটি ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে ভারতের "এলাহাবাদ" শহরে মুদ্রিত হয় এবং ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর উত্তরাধিকারীরা মুম্বাই শহর থেকে এটি পুনরায় মুদ্রণ করেন। এটিই ছিল প্রথম ইংরেজি অনুবাদ যার পাশাপাশি মূল কুরআনি পাঠ মুদ্রিত হয়েছিল এবং শব্দ ও বাক্যের অর্থসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা এতে সংযোজিত ছিল। রামপুর লাইব্রেরিতে এর একটি কপি সংরক্ষিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৪)
ج) ترجمة محمد مارماديوك بيكثال M. Marmaduke Pickthall: وهي أول ترجمة قام بها مسلم إنجليزي الأصل من أهل السنة. وقد اعتنق الإسلام في القدس بعد اقتناع منه بصدق هذا الدين وتعاليمه، وعاش بين المسلمين في كل من فلسطين ومصر وحيدرآباد بالهند، وتعلم العربية والقرآن في القدس، كما أن لغته الإنجليزية راقية ويعد في كتاباته من الأدباء وأصحاب المواهب. كما كانت مقالاته الأدبية والتاريخية تنشر في المجلات العلمية الصادرة في لندن ونيويورك.

وحين أدرك المترجم أهمية القرآن الكريم وعرف أنه من المستحيل أن يترجم القرآن بما يماثل النّسيق القرآني العظيم سمّى ترجمته "معاني القرآن المجيد The) Meanings of the Glorious" (Koran". وقد أجمع العلماء المعنيون بترجمات القرآن الكريم وتفاسيره على أنه لم يترجم معاني القرآن الكريم إلى الإنجليزية أحسن من ترجمة بيكثال من ناحية جمال الأسلوب وفصاحة اللغة، ومن ناحية الاحتفاظ بالعقائد التي يلتزم بها الجمهور من أهل السنة، وليس فيه إنكار أو تأويل لوجود الملائكة والجن والمعجزات، وحاشى أن يكون فيه أي غمز أو لمز أو تحريف مما يأتي به المستشرقون.
(গ) মুহাম্মদ মারমাডিউক পিকথাল M. Marmaduke Pickthall-এর অনুবাদ: এটি মূল ইংরেজ বংশোদ্ভূত আহলে সুন্নাত (أهل السنة) অনুসারী কোনো মুসলিম কর্তৃক সম্পাদিত প্রথম অনুবাদ। তিনি এই দ্বীন ও এর শিক্ষার সত্যতা সম্পর্কে পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে কুদস (জেরুজালেম)-এ ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ফিলিস্তিন, মিশর এবং ভারতের হায়দ্রাবাদে মুসলিমদের মাঝে বসবাস করেছেন এবং কুদসে আরবি ভাষা ও কুরআন শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর ইংরেজি ভাষা অত্যন্ত মার্জিত ও উচ্চমানের এবং তিনি তাঁর লেখনীর জন্য সাহিত্যিক ও সৃজনশীল প্রতিভাধরদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচিত হন। লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন তাত্ত্বিক সাময়িকীতে তাঁর সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক প্রবন্ধসমূহ প্রকাশিত হতো।

অনুবাদক যখন পবিত্র কুরআনের গুরুত্ব অনুধাবন করলেন এবং বুঝতে পারলেন যে, কুরআনের সুমহান ভাষাশৈলীর সমরূপ অনুবাদ করা অসম্ভব, তখন তিনি তাঁর অনুবাদের নামকরণ করেন "দ্য মিনিংস অব দ্য গ্লোরিয়াস কুরআন" (The Meanings of the Glorious Koran)। পবিত্র কুরআনের অনুবাদ ও তাফসির বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলেমগণ এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, শৈল্পিক সাবলীলতা ও ভাষাগত প্রাঞ্জলতার দিক থেকে এবং আহলে সুন্নাতের (أهل السنة) সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলেমদের অনুসৃত আকিদাহ (عقيدة) অক্ষুণ্ণ রাখার ক্ষেত্রে পিকথালের অনুবাদের চেয়ে উত্তম কোনো ইংরেজি অনুবাদ নেই। এতে ফেরেশতা, জিন এবং মুজিজা (معجزات)-এর অস্তিত্বের কোনো প্রকার অস্বীকার বা অপব্যাখ্যা নেই; আর প্রাচ্যবিদদের অনুসৃত কোনো ধরনের অবজ্ঞা কিংবা বিকৃতি (تحريف) থেকে এই কাজ সম্পূর্ণ মুক্ত।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৫)
د) ترجمة محمد أسد: رحبت الأوساط العلمية بترجمة محمد أسد لمعاني القرآن الكريم، وهو مسلم نمساوي معروف بمؤلفاته القيمة. وبما أنه أوربي الأصل والثقافة وعاش مع الإنجليز زمناً طويلاً، فقد صارت مقدرته على اللغة الإنجليزية أمراً فوق مستوى الشبهات، وكذا معرفته باللغة العربية، إذ تلقى اللغة العربية من أساتذة عرب، وعاش معهم طويلاً وبخاصة مع عرب الجزيرة العربية، وتشبع بروح الأدب العربي، كما تدل عليه كتاباته وبخاصة كتابه الشهير "الطريق إلى مكة".

ومن الأخطاء التي وقع فيها محمد أسد في ترجمته ما يلي:

1- يميل إلى إنكار المعجزات جملة وتفصيلاً، فيرى مثلاً أن نزول الملائكة لنصرة المسلمين في يوم بدر تعبير مجازي، والمراد منه تقوية المسلمين وتشجيعهم ورفع معنوياتهم.

2- يرى أن"التابوت" معناه القلب الذي فيه سكينة.

3- يقوده إنكار المعجزات إلى تصنيف معانٍ شاذة للكلمات القرآنية مما لا يسوغه الذوق ولا يؤيّده كلام العرب، ويعكس المثال التالي صورة واضحة لطريقة تفسيره ومعالجته موضوع المعجزات، وفيما يلي ترجمة محمد أسد وتفسيره للآية مترجماً:

{وَرَسُولاً إِلَى بَنِي إِسْرائيلَ أَنِّي قَدْ جِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ أَنِّي أَخْلُقُ لَكُمْ مِنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَأَنْفُخُ فِيهِ فَيَكُونُ طَيْراً بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَأُحْيِي
ঘ) মুহাম্মদ আসাদের অনুবাদ: জ্ঞানতাত্ত্বিক মহলে মুহাম্মদ আসাদের পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের অনুবাদের প্রতি উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে; তিনি একজন অস্ট্রিয়ান মুসলিম, যিনি তাঁর মূল্যবান রচনাবলির জন্য সুপরিচিত। যেহেতু তিনি বংশগত ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে ইউরোপীয় ছিলেন এবং দীর্ঘকাল ইংরেজদের সাথে বসবাস করেছেন, তাই ইংরেজি ভাষায় তাঁর দক্ষতা ছিল সন্দেহের ঊর্ধ্বে। একইভাবে আরবি ভাষায় তাঁর জ্ঞানও ছিল গভীর, কারণ তিনি আরব শিক্ষকদের কাছ থেকে আরবি ভাষা শিক্ষা লাভ করেছিলেন এবং দীর্ঘকাল তাঁদের সাথে, বিশেষ করে আরব উপদ্বীপের আরবদের সাথে বসবাস করেছিলেন। তিনি আরবি সাহিত্যের রসে সিক্ত ছিলেন, যা তাঁর লেখায়, বিশেষ করে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "দ্য রোড টু মক্কা"-তে ফুটে উঠেছে।

মুহাম্মদ আসাদ তাঁর অনুবাদে যে সকল ভুল করেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১- তিনি সামগ্রিকভাবে এবং বিস্তারিতভাবে অলৌকিক ঘটনাবলি বা মোজেজা অস্বীকার করার দিকে ঝুঁকেছেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি মনে করেন যে বদরের যুদ্ধে মুসলিমদের সাহায্যের জন্য ফেরেশতাদের অবতরণ ছিল একটি রূপক (مجازي) প্রকাশভঙ্গি, যার উদ্দেশ্য ছিল মুসলিমদের শক্তিশালী করা, উৎসাহিত করা এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধি করা।

২- তিনি মনে করেন যে "তাবুত" এর অর্থ হলো সেই অন্তর যাতে প্রশান্তি রয়েছে।

৩- মোজেজা অস্বীকার করার প্রবণতা তাঁকে কুরআনের শব্দাবলির জন্য এমন কিছু বিচ্ছিন্ন (شاذة) অর্থ নির্ধারণ করতে পরিচালিত করেছে, যা রুচিসম্মত নয় এবং যা আরবদের ভাষারীতি দ্বারাও সমর্থিত নয়। নিম্নে বর্ণিত উদাহরণটি তাঁর তাফসির পদ্ধতি এবং মোজেজার বিষয়টিকে তিনি যেভাবে বিশ্লেষণ করেছেন তার একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটিয়ে তোলে। নিচে মুহাম্মদ আসাদের অনুবাদ এবং সংশ্লিষ্ট আয়াতের তাঁরকৃত তাফসিরের অনুবাদ দেওয়া হলো:

{এবং বনী ইসরাঈলের নিকট একজন রাসূল হিসেবে (প্রেরণ করবেন, যিনি বলবেন): নিশ্চয়ই আমি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন (آية) নিয়ে এসেছি। আমি তোমাদের জন্য কাদা মাটি দিয়ে পাখির আকৃতির মতো কিছু তৈরি করব, তারপর তাতে ফুঁ দেব, ফলে আল্লাহর নির্দেশে তা পাখি হয়ে যাবে। আর আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করব এবং জীবিত করব...}
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৬)
الْمَوْتَى بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُنَبِّئُكُمْ بِمَا تَأْكُلُونَ وَمَا تَدَّخِرُونَ فِي بُيُوتِكُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} (آل عمران: 49) .

And (will make him) an apostle unto the children of Israel:

I have come unto you with a message from your Sustainer. I shall fashion out of clay as it were، the shape of (your) destiny، and then breathe into it so that it might become (your) destiny by God’s leave، and I shall heal the blind and the leper، and bring the dead back to life by god’s leave and I shall let you know what you may eat and what you should store up in your houses. Behold، in all، there is indeed a message for you، if you are (truly) believers.

"وإني (سأجعله) رسولاً إلى بني إسرائيل: إني قد جئتكم برسالةٍ من ربكم وإني سوف أصنع لكم من الطين شيئاً على هيئة مصيركم ثم أنفخ فيه فيصبح المقدر لكم (مصيركم) بإذن الله، وسأبرئ الأعمى والأبرص وأعيد الميت إلى الحياة بإذن الله، وسأخبركم بما يمكن أن تأكلوه وما يجب أن تدخروه في بيوتكم. ولا شك فإن في هذه الأمور كافة رسالة لكم إن كنتم مؤمنين (حقاً) ."
{...আল্লাহর অনুমতিক্রমে মৃতদের জীবিত করি এবং তোমরা তোমাদের ঘরে যা ভক্ষণ করো ও যা সঞ্চয় করে রাখো, তা আমি তোমাদের জানিয়ে দিই। নিশ্চয়ই এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা মুমিন হও।} (আল ইমরান: ৪৯)।

এবং (তাঁকে) বনী ইসরাঈলের প্রতি একজন রাসুল হিসেবে প্রেরণ করবেন:

আমি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট একটি বার্তা নিয়ে এসেছি। আমি তোমাদের জন্য কাদা মাটি দিয়ে তোমাদের নিয়তির অনুরূপ একটি অবয়ব তৈরি করব, অতঃপর তাতে ফুঁ দেব, ফলে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তা তোমাদের নিয়তি হয়ে যাবে; এবং আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করব এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে মৃতকে জীবিত করব। আর তোমরা যা ভক্ষণ করো এবং তোমাদের ঘরে যা সঞ্চয় করে রাখো, তা আমি তোমাদের জানিয়ে দেব। দেখ, এই সবকিছুর মধ্যে অবশ্যই তোমাদের জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা (প্রকৃতপক্ষে) মুমিন হও।

“এবং আমি (তাঁকে) বনী ইসরাঈলের নিকট একজন রাসুল হিসেবে প্রেরণ করব: আমি তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি বার্তা নিয়ে এসেছি এবং আমি তোমাদের জন্য কাদা মাটি দিয়ে তোমাদের নিয়তির আকৃতিতে কিছু তৈরি করব, অতঃপর তাতে ফুঁ দেব, ফলে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তা তোমাদের জন্য নির্ধারিত (নিয়তি) হয়ে যাবে। আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য দান করব এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে মৃতকে পুনরায় জীবন দান করব। আর আমি তোমাদেরকে অবহিত করব যা তোমরা ভক্ষণ করতে পারো এবং যা তোমাদের ঘরে সঞ্চয় করে রাখা উচিত। আর নিঃসন্দেহে এই সকল বিষয়ের মধ্যে তোমাদের জন্য বার্তা রয়েছে যদি তোমরা (প্রকৃত) মুমিন হও।”
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৭)
وهكذا فقد ترجم كلمة "آية" بـ "رسالة" على غير القياس، كما ترجم فعل "أخلق" بمعنى "سوف أصنع" أو "أصور"، وترجم كلمة "الطير" بمعنى المقدّر أو المصير.

هـ) ترجمة الدكتور محمد تقي الدين الهلالي والدكتور محمد محسن خان: وقد صدرت هذه الترجمة في عدة طبعات. ونستطيع الحكم عليها بأنها من أفضل الترجمات إن لم يكن أفضلها، ولاسيما من الناحية العقدية. وقد استخدم المترجمان التفاسير المعتمدة كتفسير الطبري والقرطبي وابن كثير، إضافةً إلى اعتمادهما على صحيح البخاري. وقد لاحظنا أنها سدّت فراغاً كبيراً في المكتبة الإسلامية الإنجليزية في غير عاصمة غربية، وأنها حلت دون منازع محل ترجمة عبد الله يوسف علي التي كان يشار لها بالبنان – وهي ليست كذلك كما سنفصل لاحقاً.

وتتميز الترجمة – كما ذكرت – بالسلامة العقدية واستخدام اللغة الإنجليزية المعاصرة مع أن المترجم أغفل ترجمة بعض الألفاظ مثل "العالمين" حيث اكتفى بنقلها بالحرف اللاتيني، وكان الأولى أن يضع مقابلها اللفظ الإنجليزي المقابل في صيغة الجمع worlds. وهناك مراجعة دائمة لهذه الترجمة من الساهرين على خدمة كتاب الله الكريم في مهبط الوحي.
এইভাবে তিনি 'আয়াত' শব্দটিকে নিয়মের বহির্ভূতভাবে 'বার্তা' হিসেবে অনুবাদ করেছেন, যেমনিভাবে তিনি 'আখলুকু' ক্রিয়াটিকে 'আমি তৈরি করব' বা 'আমি রূপদান করব' অর্থে অনুবাদ করেছেন এবং 'তয়রা' শব্দটিকে 'তকদির' বা 'নিয়তি' অর্থে অনুবাদ করেছেন।

ঙ) ড. মুহাম্মদ তাকি-উদ-দীন আল-হিলালী এবং ড. মুহাম্মদ মুহসিন খানের অনুবাদ: এই অনুবাদটি বেশ কয়েকটি সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা একে অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুবাদ হিসেবে বিচার করতে পারি, যদি এটিই শ্রেষ্ঠ না হয়ে থাকে, বিশেষ করে আকিদাগত দিক থেকে। অনুবাদকদ্বয় নির্ভরযোগ্য তাফসিরসমূহ যেমন—তাফসির আল-তাবারী, আল-কুরতুবী এবং ইবনে কাসীর ব্যবহার করেছেন, পাশাপাশি তারা সহীহ বুখারী-র ওপরও নির্ভর করেছেন। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, এটি বিভিন্ন পশ্চিমা রাজধানীতে ইংরেজি ইসলামি গ্রন্থাগারের একটি বড় শূন্যতা পূরণ করেছে এবং এটি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই আবদুল্লাহ ইউসুফ আলীর অনুবাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যা একসময় অত্যন্ত সমাদৃত ছিল—যদিও তা বাস্তবে তেমনটি নয়, যেমনটি আমরা পরবর্তীতে বিস্তারিত বর্ণনা করব।

যেমনটি আমি উল্লেখ করেছি, এই অনুবাদের বৈশিষ্ট্য হলো আকিদাগত বিশুদ্ধতা এবং সমসাময়িক ইংরেজি ভাষার ব্যবহার; যদিও অনুবাদক 'আলামিন' এর মতো কিছু শব্দের অনুবাদ এড়িয়ে গিয়েছেন, যেখানে তিনি কেবল ল্যাটিন বর্ণমালায় তা প্রতিবর্ণীকরণ করেছেন। অথচ বহুবচন হিসেবে এর পরিবর্তে ইংরেজি শব্দ 'worlds' ব্যবহার করাই শ্রেয় ছিল। ওহীর অবতরণস্থলে আল্লাহর মহিমান্বিত কিতাবের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের দ্বারা এই অনুবাদের একটি নিয়মিত পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৮)
و) تأملات في ترجمة عبد الله يوسف علي: لقد ذاع صيت هذه الترجمة في الأوساط الإسلامية وغير الإسلامية حتى غدت تنشر من قبل معظم المؤسسات والهيئات الإسلامية لأسباب هامشية – في نظرنا – منها جمال أسلوبها اللغوي وكثرة الهوامش والتعليقات. وقد أطرى هذه الترجمة العديد من الكتاب. فقد كتب الدكتور حسن المعايرجي – صاحب كتاب "الهيئة العالمية للقرآن الكريم ضرورة للدعوة والتبليغ"،وهو من الغُيُرِ على الإسلام، ما يلي:

"والترجمة الإسلامية المصدر والأوسع انتشاراً هي ترجمة عبد الله يوسف علي ومحمد مرمدوك بكثال وترجمة أبي الأعلى المودودي وآخرين من علماء الهند. وقد أصبحت ترجمة عبد الله ابن يوسف علي، هي التي يعتمد عليها في الدعوة والنشر حتى الآن لحين ظهور تفسير أو ترجمة للمعاني أوفى وأشمل" (1) .

أما الدكتور عبد الله عباس الندوي الذي كُلّف من قبل رابطة العالم الإسلامي بالإشراف على الترجمة اليابانية لمعاني القرآن الكريم التي أعدها الحاج عمر ميتا – رحمه الله فقد كتب ما نصّه: " وكانت ترجمة معاني القرآن للشيخ عبد الله يوسف علي، رائدة لي في هذا العمل، فكنت أقرأ هذه الترجمة آية آية، ثم استمع إلى شرح الحاج عمر ميتا، ولكن سرعان ما اكتشفت أن ترجمة

(1) انظر: د. حسن المعايرجي: الهيئة العالمية للقرآن الكريم ضرورة للدعوة والتبليغ، مطابع الدوحة، الدوحة، قطر، 1991م، ص82.
চ) আবদুল্লাহ ইউসুফ আলীর অনুবাদের ওপর কিছু পর্যালোচনা: এই অনুবাদটি মুসলিম ও অমুসলিম পরিমণ্ডলে এমনভাবে খ্যাতি লাভ করেছে যে, আমাদের দৃষ্টিতে কিছু গৌণ কারণে—যেমন এর চমৎকার ভাষাশৈলী এবং প্রচুর টীকা ও ব্যাখ্যা—এটি অধিকাংশ ইসলামী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা থেকে প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। অনেক লেখক এই অনুবাদের প্রশংসা করেছেন। ডক্টর হাসান আল-মায়ার্জি—যিনি "আল-হাইয়াতুল আলামিয়্যাহ লিল কুরআনিল কারীম দারুরাতুন লিদ দাওয়াতি ওয়াত তাবলিগ" বইটির লেখক এবং ইসলামের প্রতি অত্যন্ত আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন একজন ব্যক্তি—নিম্নোক্ত কথাগুলো লিখেছেন:

"ইসলামী উৎস থেকে আগত এবং সর্বাধিক বিস্তৃত অনুবাদগুলো হলো— আবদুল্লাহ ইউসুফ আলী, মুহাম্মদ মারমাডিউক পিকথল, আবুল আ'লা মওদূদী এবং ভারতের অন্যান্য আলেমদের অনুবাদসমূহ। যতক্ষণ না অর্থের আরও পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক কোনো তাফসির বা অনুবাদ প্রকাশ পাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দাওয়াত ও প্রচার কার্যে আবদুল্লাহ ইউসুফ আলীর অনুবাদের ওপরই নির্ভর করা হচ্ছে।" (১) ।

অন্যদিকে ডক্টর আবদুল্লাহ আব্বাস নাদভী—যাঁকে রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী কর্তৃক হাজি উমর মিতা (রহিমাহুল্লাহ) প্রস্তুতকৃত পবিত্র কুরআনের মর্মার্থের জাপানি অনুবাদের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল—তিনি যা লিখেছেন তার সারকথা হলো: "শাইখ আবদুল্লাহ ইউসুফ আলীর কুরআনের মর্মার্থের অনুবাদটি এই কাজে আমার জন্য পথপ্রদর্শক ছিল। আমি এই অনুবাদের প্রতিটি আয়াত পড়তাম এবং তারপর হাজি উমর মিতার ব্যাখ্যা শুনতাম; কিন্তু শীঘ্রই আমি আবিষ্কার করলাম যে অনুবাদটি...

(১) দেখুন: ডক্টর হাসান আল-মায়ার্জি: আল-হাইয়াতুল আলামিয়্যাহ লিল কুরআনিল কারীম দারুরাতুন লিদ দাওয়াতি ওয়াত তাবলিগ, দোহা প্রেস, দোহা, কাতার, ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দ, পৃষ্ঠা ৮২।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৯)
عبد الله يوسف علي لا تخلو من أخطاء وأنها ترجمة بيانية منظومة نظماً حراً. وقد أباح المترجم الفاضل لنفسه في ترجمة معاني بعض الآيات تقديم بعض الكلمات وتأخيرها عن محلها في القرآن الكريم وذلك رعاية للنغم الموسيقي" (1) .

ويلاحظ أن الدكتور عبد الله الندوي يشيد بالترجمة وريادتها باستثناء بعض الأخطاء الثانوية في الأسلوب من تقديم وتأخير وغيره، أما من الناحية العقدية فإنه يرى ما يلي:

1- أنه لا يفسر آية إلا وكان له سند ومرجع من أقوال المفسرين المعترف بهم عند جمهور المسلمين.

2- أنه قد جعل لكل سورة مقدمة ذكر فيها تاريخها وسبب نزولها نقلاً عن التفاسير المعتمدة، وتحرى في نقل القصص القرآنية وجمع الأقوال الناقصة للمفسرين وذكر ما يرجحه منها بالتفصيل وأسباب هذا الترجيح.

3- صدّر كل سورة بتلخيص معانيها وبيان النقاط الهامة التي تساعد القارئ على فهم السورة ومحتوياتها (2) .

وبدراسة مستفيضة لهذه الترجمة تبين لنا عكس ما ذهب إليه العديد من الكتاب المرموقين في هذا المجال. وقد اتضح لنا جملة من الملاحظات العقدية حول هذه الترجمة، نذكر منها على سبيل المثال لا الحصر:

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق، ص7.

(2) المرجع السابق، ص113.
عبدআল্লাহ ইউসুফ আলীর অনুবাদটি ভুলত্রুটিমুক্ত নয় এবং এটি একটি অলঙ্কারিক অনুবাদ যা মুক্ত ছন্দে রচিত। এই সম্মানিত অনুবাদক পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াতের অর্থ অনুবাদের ক্ষেত্রে শব্দের নির্দিষ্ট স্থান থেকে তা আগে বা পরে ব্যবহারের সুযোগ নিয়েছেন, মূলত সুরের ছন্দ বজায় রাখার স্বার্থে। (১)

লক্ষ্য করা যায় যে, ড. আবদুল্লাহ নদভী এই অনুবাদের প্রশংসা করেছেন এবং এর অগ্রগামী ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন, শুধুমাত্র শৈলীগত কিছু গৌণ ভুল—যেমন শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ বিন্যাস ইত্যাদি—ব্যতীত। তবে আকিদাগত দিক থেকে তিনি নিম্নোক্ত মত পোষণ করেন:

১- তিনি কোনো আয়াতের ব্যাখ্যা করেন না যার সপক্ষে মুসলিম জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠদের নিকট স্বীকৃত মুফাসসিরগণের বক্তব্য থেকে কোনো সনদ (سند) ও নির্ভরযোগ্য সূত্র না থাকে।

২- তিনি প্রতিটি সূরার শুরুতে একটি ভূমিকা প্রদান করেছেন যেখানে নির্ভরযোগ্য তাফসিরসমূহ থেকে উদ্ধৃত করে সংশ্লিষ্ট সূরার ইতিহাস ও শানে নুযুল (سبب نزول) উল্লেখ করেছেন। তিনি কুরআনের কাহিনী বর্ণনায় সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং মুফাসসিরগণের অসম্পূর্ণ বক্তব্যগুলো একত্রিত করে সেগুলোর মধ্য থেকে যা তিনি অগ্রগণ্য মনে করেছেন তা বিস্তারিতভাবে এবং সেই অগ্রাধিকারের কারণসহ উল্লেখ করেছেন।

৩- তিনি প্রতিটি সূরার শুরুতে এর অর্থসমূহের সারসংক্ষেপ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি বর্ণনা করেছেন, যা পাঠককে উক্ত সূরা ও এর বিষয়বস্তু বুঝতে সাহায্য করে। (২)

এই অনুবাদটি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর আমাদের কাছে এমন কিছু বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যা এই বিষয়ের অনেক প্রথিতযশা লেখকের মতামতের বিপরীত। এই অনুবাদ সম্পর্কে আমাদের নিকট বেশ কিছু আকিদাগত পর্যবেক্ষণ পরিলক্ষিত হয়েছে, যার মধ্য থেকে উদাহরণস্বরূপ কিছু নিচে উল্লেখ করা হলো:

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত সূত্র, পৃষ্ঠা ৭।

(২) পূর্বোক্ত সূত্র, পৃষ্ঠা ১১৩।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২০)
1– وصف القرآن الكريم بأنه شعر. ويظهر هذا في مقدمة سورة "الملك" ص178، حيث يصف المترجم السور القرآنية التي تبدأ من سورة "الملك" إلى نهاية القرآن بأنها تتكون من قصائد شعرية غنائية قصيرة معظمها من الفترة المكية يمكن مقارنتها بالترانيم أو التراتيل أو المزامير في الكتب الدينية الأخرى. ويعتبر المترجم هذه الصفة الشعرية بمنزلة تحول منطقي في مسيرة القرآن الكريم من بدايته:

There is a logical break here. The remaining fifteenth consists of short lyrics، mostly of the Makkan period، dealing mainly with the inner life of man، and in its individual aspects. They may be compared to Hymns or Psalms in other religious literature.

(ينظر أيضاً في هذا السياق ص1686، ص1807،ص1659، ص1647،ص1651،الخ) .

2– يتبع المترجم المنهج الرمزي التأويلي. وقد اعتمد المترجم على المنهج الرمزي التأويلي اعتماداً كلياً لأنه يخدم عنده عدة اتجاهات تفسيرية في التعليقات، فهو يخدم عنده الاتجاه الصوفي المعتمد على وجود معنيين في القرآن الكريم؛ المعنى الحرفي الظاهر والمعنى الباطن. وقد كان الرمز والتأويل ضروريين لإعطاء المعنى الباطن للنصوص وفق الفهم الصوفي. كما أن هذا المنهج يخدم الاتجاه العقلي الفلسفي عند المترجم فهو كثيراً ما يشرح الآيات القرآنية شرحاً عقلياً فلسفياً.
১– আল-কুরআনুল কারীমকে কবিতা হিসেবে বর্ণনা করা। এটি সূরা "আল-মুলক"-এর ভূমিকা (পৃষ্ঠা ১৭৮)-তে পরিলক্ষিত হয়, যেখানে অনুবাদক সূরা "আল-মুলক" থেকে কুরআনের শেষ পর্যন্ত সূরাগুলোকে সংক্ষিপ্ত গীতিধর্মী কবিতার সমন্বয়ে গঠিত বলে বর্ণনা করেছেন, যার অধিকাংশই মক্কি যুগের। এগুলোকে অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থের স্তবগান বা গীতসংহিতার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। অনুবাদক এই কাব্যিক বৈশিষ্ট্যকে আল-কুরআনুল কারীমের শুরু থেকে এর যাত্রাপথের একটি যৌক্তিক বিবর্তন হিসেবে গণ্য করেছেন:

এখানে একটি যৌক্তিক বিরতি রয়েছে। অবশিষ্ট পনেরো ভাগের এক ভাগ সংক্ষিপ্ত গীতিধর্মী কবিতার সমন্বয়ে গঠিত, যার অধিকাংশই মক্কি যুগের এবং মূলত মানুষের অভ্যন্তরীণ জীবন ও এর ব্যক্তিগত দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করে। এগুলোকে অন্যান্য ধর্মীয় সাহিত্যের স্তবগান বা গীতসংহিতার সাথে তুলনা করা যেতে পারে।

(এই প্রসঙ্গে আরও দেখুন পৃষ্ঠা ১৬৮৬, পৃষ্ঠা ১৮০৭, পৃষ্ঠা ১৬৫৯, পৃষ্ঠা ১৬৪৭, পৃষ্ঠা ১৬৫১ ইত্যাদি)।

২– অনুবাদক রূপক-ব্যাখ্যামূলক (الرمزي التأويلي) পদ্ধতি অনুসরণ করেন। অনুবাদক রূপক-ব্যাখ্যামূলক পদ্ধতির ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করেছেন, কারণ এটি তাঁর টীকাগুলোতে একাধিক তাফসিরী ধারাকে সহায়তা করে। এটি তাঁর নিকট সূফিবাদী ধারাকে সমৃদ্ধ করে, যা আল-কুরআনুল কারীমে দুটি অর্থের অস্তিত্বের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত; শাব্দিক বা বাহ্যিক (الظاهر) অর্থ এবং অন্তর্নিহিত বা বাতেনি (الباطن) অর্থ। সূফিবাদী উপলব্ধি অনুযায়ী পাঠ্যগুলোর অন্তর্নিহিত অর্থ প্রদানের জন্য রূপক ও ব্যাখ্যা (التأويل) অপরিহার্য ছিল। এছাড়াও, এই পদ্ধতি অনুবাদকের নিকট বুদ্ধিবৃত্তিক-দার্শনিক ধারাকেও সহায়তা করে, ফলে তিনি প্রায়শই কুরআনের আয়াতসমূহকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেন।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২১)
ولمعظم الآيات تفسيران عند المترجم: التفسير الحرفي والتفسير المجازي، ولهذا تتكرر في ثنايا الترجمة بشكل كبير عبارات "حرفياً" و"مجازياً" و"الاستعارات" و"الكنايات" و"الرموز" و"الحسي" و"الروحي" و"التأويل المجازي" و"المفهوم الروحاني" و"المعنى السري" و"الرموز الباطنية الروحانية" وغيرها من العبارات المشيرة إلى المنهج التأويلي.

3– اعتبار الحشر للأرواح دون الأجساد: يقول المترجم في التعليق 5969 ص1904:» إن الأزمة الكبرى لكل روح هو البعث حيث يذوب عالم الحس وينشر أمام الروح سجلّها الروحي «.

“To an individual soul، its resurrection is its supreme crisis:

The whole world of sense melts a way، and its whole spiritual scroll is laid before it”.

وفي التعليق 916 ص367-368، يقول إن كل روح مفردة تأتي – بعد التحرر من الجسد – كما خلقت بلا شيء سوى سجلها (تاريخها) أي الأفعال التي اكتسبتها، والتي هي جزء منها، أما الأشياء الخارجية التي منحت لها لمساعدتها في تطورها فإنها ستتركها بالضرورة خلفها.

But each individual soul، after release from the body، comes back as it was created، with nothing more than its history، “the deeds which it has earned”. Any exterior things
অনুবাদকের নিকট অধিকাংশ আয়াতেরই দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে: আক্ষরিক ব্যাখ্যা (التفسير الحرفي) এবং রূপক ব্যাখ্যা (التفسير المجازي)। এ কারণে অনুবাদের পরতে পরতে প্রচুর পরিমাণে 'আক্ষরিকভাবে' (حرفياً), 'রূপকভাবে' (مجازياً), 'রূপকসমূহ' (الاستعارات), 'ইঙ্গিতসমূহ' (الكنايات), 'প্রতীকসমূহ' (الرموز), 'ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য' (الحسي), 'আধ্যাত্মিক' (الروحي), 'রূপক ব্যাখ্যা' (التأويل المجازي), 'আধ্যাত্মিক ধারণা' (المفهوم الروحاني), 'নিগূঢ় অর্থ' (المعنى السري) এবং 'আধ্যাত্মিক গোপন রহস্য' (الرموز الباطنية الروحانية) সহ ব্যাখ্যামূলক পদ্ধতির নির্দেশক অন্যান্য পরিভাষা বারবার ব্যবহৃত হয়েছে।

৩– হাশর কেবল আত্মার জন্য হবে, দেহের জন্য নয় বলে বিবেচনা করা: অনুবাদক ১৯০৪ পৃষ্ঠার ৫৯৬৯ নম্বর টিকায় বলেন: "প্রতিটি আত্মার জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হলো পুনরুত্থান (البعث), যেখানে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগত বিলীন হয়ে যায় এবং আত্মার সামনে তার আধ্যাত্মিক আমলনামা উন্মুক্ত করা হয়।"

“একটি স্বতন্ত্র আত্মার কাছে তার পুনরুত্থান হলো চূড়ান্ত সংকটকাল:

সমস্ত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগত বিলীন হয়ে যায় এবং তার সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক আমলনামা তার সামনে উন্মোচন করা হয়।”

৩৬৭-৩৬৮ পৃষ্ঠার ৯১৬ নম্বর টিকায় তিনি বলেন যে, প্রতিটি স্বতন্ত্র আত্মা—দেহ থেকে মুক্ত হওয়ার পর—তেমনিভাবে ফিরে আসে যেমন তাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল; তার আমলনামা (ইতিহাস) ব্যতীত তার সাথে কিছুই থাকে না, অর্থাৎ তার অর্জিত কর্মসমূহ যা তার সত্তার অংশ। আর তার উন্নতির জন্য তাকে যেসব বাহ্যিক বস্তু দেওয়া হয়েছিল, তা সে অবশ্যই পেছনে ফেলে আসবে।

তবে প্রতিটি স্বতন্ত্র আত্মা, দেহ থেকে মুক্তির পর একইভাবে ফিরে আসে যেমন তাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল; তার ইতিহাস ছাড়া আর কিছুই সাথে থাকে না, অর্থাৎ “তার অর্জিত কর্মসমূহ”। কোনো বাহ্যিক বিষয়...
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২২)
given to help in its development.. it must necessarily leave behind.

وفي التعليق نفسه يقول: الجسد يترك هنا وتخاطب الروح.

Here the body is left behind، and the soul is being addressed

4– ينفي المترجم الحقائق الحسية الواردة عن الجنة والنار. ففي التعليقات 5051، ص1626، 1004 ص401، 4672ص514، وغيرها ينفي الطعام والشراب الماديين في الجنة ويتحدث عن الطعام والشراب الروحي، ففي التعليق 5051 يقول إن الرضا الشخصي في الجنة يعبر عنه بثلاثة مجازات منها الطعام والشراب، وفي التعليق 5056ص1627 أن النعيم الشخصي معبر عنه مجازياً بالطعام والشراب.

Individual satisfaction is expressed in three types or figures of speech: 1) eating and drinking. The individual bliss is figured by meat and drink (1) .

أما الحقائق الحسية الواردة عن النار فقد تم تأويلها فقد فسّر في التعليق 2303 ص808 الحشر على الوجوه بأنه التعرض للخزي والعار.

You will come to shame and ignoming، like men thrown down، prone on their faces.

--------------------------------------------

(1) كانت كلمة "meat" تعبر عن الطعام عموماً قبل أن يقيّد معناها.
এর বিকাশে সহায়তা করার জন্য এটি প্রদান করা হয়েছে... যা অবশ্যই পেছনে ফেলে যেতে হবে।

এবং একই মন্তব্যে তিনি বলেছেন: দেহকে এখানে ফেলে রাখা হয় এবং রুহ (الروح) বা আত্মাকে সম্বোধন করা হয়।

এখানে দেহ পেছনে পড়ে থাকে এবং রুহকে সম্বোধন করা হচ্ছে।

৪– অনুবাদক জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে বর্ণিত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সত্যসমূহকে (الحقائق الحسية) অস্বীকার করেছেন। ৫০৫১ (পৃষ্ঠা ১৬২৬), ১০০৪ (পৃষ্ঠা ৪০১), ৪৬৭২ (পৃষ্ঠা ৫১৪) এবং অন্যান্য মন্তব্যে তিনি জান্নাতে বস্তুগত পানাহারকে অস্বীকার করেছেন এবং আধ্যাত্মিক পানাহার নিয়ে আলোচনা করেছেন। ৫০৫১ নম্বর মন্তব্যে তিনি বলেছেন যে, জান্নাতে ব্যক্তিগত সন্তুষ্টি তিনটি রূপকের (مجازات) মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো পানাহার। ৫০৫৬ নম্বর মন্তব্যে (পৃষ্ঠা ১৬২৭) বলা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত সুখ ও নিআমতকে রূপকভাবে (مجازياً) পানাহার দ্বারা চিত্রায়িত করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত সন্তুষ্টি তিন প্রকারের অলঙ্কার বা রূপক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়: ১) পানাহার। ব্যক্তিগত সুখকে খাদ্য ও পানীয় দ্বারা রূপায়িত করা হয়েছে (১)।

আর জাহান্নাম সম্পর্কে বর্ণিত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সত্যসমূহকে (الحقائق الحسية) ব্যাখ্যা (تأويل) করা হয়েছে। যেমন ২৩০৩ নম্বর মন্তব্যে (পৃষ্ঠা ৮০৮) তিনি 'মুখমণ্ডলের ওপর ভর করে হাশর' (الحشر على الوجوه) হওয়াকে লাঞ্ছনা ও অপমানের সম্মুখীন হওয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

তোমরা এমনভাবে লজ্জা ও অপমানের সম্মুখীন হবে, যেমন মানুষদের অধঃপতিত অবস্থায় তাদের চেহারার ওপর ভর করে নিক্ষেপ করা হয়।

--------------------------------------------

(১) 'meat' শব্দটি এর অর্থ সীমাবদ্ধ হওয়ার আগে সাধারণভাবে খাদ্য বোঝাতে ব্যবহৃত হতো।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৩)
وفي التعليق 2756 ص943 يفسر المترجم حسيس النار بأنه أنين الشر the groans of evil

5– تتضمن الترجمة تأويلاً للجن والشياطين. ففي التعليق 2252 ص796 يفسر "الشيطان" بأنه اسم لقوة الشر the power of evil (Satan) . وفي التعليق 3877 ص1298 يتحدث عن خداع الشر لا خداع الشيطان The deception of Evil. وفي التعليق نفسه يقول إن الشر هو عدونا بينما الآية القرآنية التي يفسرها تقول: {إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوّاً} .
এবং ২৭৫৬ নং টিকায়, ৯৪৩ পৃষ্ঠায় অনুবাদক ‘আগুনের আওয়াজ’-কে ‘মন্দের আর্তনাদ’ (the groans of evil) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

৫– অনুবাদটিতে জিন ও শয়তানদের রূপক ব্যাখ্যা (تأويل) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেমন, ২২৫২ নং টিকায়, ৭৯৬ পৃষ্ঠায় তিনি "শয়তান"-কে মন্দের শক্তির (the power of evil (Satan)) একটি নাম হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। ৩৮৭৭ নং টিকায়, ১২৯৮ পৃষ্ঠায় তিনি শয়তানের প্রতারণার পরিবর্তে মন্দের প্রতারণা (The deception of Evil) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। একই টিকায় তিনি বলেন যে, মন্দই হলো আমাদের শত্রু; অথচ তিনি যে কুরআনের আয়াতটি ব্যাখ্যা করছেন সেখানে বলা হয়েছে: "নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু, অতএব তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো।"
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الترجمات الإنجليزية القاديانية

…

(3) الترجمات القاديانية:

أما النوع الثالث من الترجمات فهو الترجمات القاديانية ولا نرى داعياً للإسهاب في مناقشتها لأن المجال لا يتسع هنا. ومعلوم أن القاديانية نسبة إلى بلدة "قاديان" في ولاية البنجاب (الهند) ، حيث انبرى رجل من بين أنصاف المتعلمين ادعى النبوّة بحماية من الحكام الإنجليز، وبمساندتهم استطاع أن يجمع حوله شرذمة من الناس تحمسوا في تأييده لجهلهم بأصول الدين ولطمعهم في المكاسب من قبل المستعمر الإنجليزي الذي كان يستعمر الهند. وقد نهض علماء الهند لمجابهة المتنبي غلام أحمد القادياني الذي ادعى بأنه ليس صاحب شريعة ورسالة جديدة، وإنما هو نبي
কাদিয়ানি ইংরেজি অনুবাদসমূহ

…

(৩) কাদিয়ানি অনুবাদসমূহ:

অনুবাদসমূহের মধ্যে তৃতীয় প্রকার হলো কাদিয়ানি অনুবাদসমূহ। আমরা এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখছি না, কারণ এখানে পরিসর অত্যন্ত সীমিত। এটি সর্বজনবিদিত যে, কাদিয়ানি মতবাদটি ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের "কাদিয়ান" নামক জনপদের সাথে সম্পৃক্ত। সেখানে স্বল্পশিক্ষিতদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি ইংরেজ শাসকদের ছত্রছায়ায় নবুওয়াতের দাবি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। ইংরেজদের পৃষ্ঠপোষকতায় সে নিজের চারপাশে এমন একদল মানুষকে সমবেত করতে সক্ষম হয়, যারা দীনের মূলনীতি (أصول الدين) সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা এবং তৎকালীন ভারত শাসনকারী ইংরেজ উপনিবেশবাদীদের পক্ষ থেকে বৈষয়িক ফায়দা লাভের লালসায় তাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উৎসাহী হয়ে উঠেছিল। ভারতের আলেম সমাজ নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদার (المتنبي) গোলাম আহমদ কাদিয়ানিকে মোকাবিলা করতে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, যে দাবি করেছিল যে সে নতুন কোনো শরিয়ত (شريعة) বা রিসালাতের (رسالة) অধিকারী নয়, বরং সে কেবল একজন নবী (نبي) ...
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৪)
بعث على فترة من الرسل. وتُجمعِ ترجماتهم ومنها ترجمة محمد علي اللاهوري وترجمة ملك غلام فريد وترجمة السير ظفر الله خان على أن باب النبوة لم يُغْلق، وأن المتنبي الهندي المدعو غلام أحمد كان المسيح الموعود والنبي المبعوث وكان يأتيه الوحي من الله. كما يزعمون بأن عيسى بن مريم عليه السلام لم يرفع إلى السماء حياً بل مات ميتة طبيعية، وأن المعجزات الواردة في القرآن الكريم ما هي إلا من قبيل المجازات القرآنية والتعبيرات الرمزية.

كذلك يزعمون بأن الملائكة اسم لقوة إرادية لله سبحانه وتعالى وتمثيل لقوى الخير والجن اسم لقوى الشر وتمثيل مجازي للدعاة إلى الشر وأن الجنة تجسيد معنوي لرضا الله، أما النار فدليل على سخطه (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر الندوي، المرجع السابق، ص84.
তাকে রাসুলগণের আগমনের এক বিরতিকালে পাঠানো হয়েছিল। তাদের অনূদিত গ্রন্থসমূহ, যার মধ্যে মুহাম্মদ আলী লাহোরী, মালিক গুলাম ফরিদ এবং স্যার জাফরুল্লাহ খানের অনুবাদ অন্তর্ভুক্ত, এই বিষয়ে একমত পোষণ করে যে নবুওয়াত (نبوة)-এর দ্বার রুদ্ধ হয়নি। তারা আরও দাবি করে যে, গুলাম আহমদ নামক ভারতীয় ভণ্ড নবী (متنبي) ছিলেন প্রতিশ্রুত মসীহ (المسيح الموعود) ও প্রেরিত নবী (النبي المبعوث) এবং তার নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি (وحي) অবতরণ করত। তদুপরি তারা দাবি করে যে, ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিস সালাম) জীবিত অবস্থায় আসমানে উন্নীত হননি, বরং তিনি স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন। আর পবিত্র কুরআনে বর্ণিত অলৌকিক নিদর্শন (معجزات) সমূহ কুরআনিক রূপক (مجازات) ও প্রতীকী অভিব্যক্তি (تعبيرات رمزية) বৈ কিছু নয়।

অনুরূপভাবে তারা দাবি করে যে, ফেরেশতা (ملائكة) হলো মহান আল্লাহর ইচ্ছাশক্তির একটি নাম এবং কল্যাণশক্তির প্রতীক; আর জিন (جن) হলো অশুভ শক্তির নাম এবং মন্দের দিকে আহ্বানকারীদের একটি রূপক প্রতিনিধিত্ব। এছাড়া জান্নাত (جنة) হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির একটি আধ্যাত্মিক রূপ, আর জাহান্নাম (نار) হলো তাঁর ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: নদভী, পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৮৪।
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌من مشكلات الترجمة:

‌‌أولاً: الأخطاء الدلالية

…

من مشكلات الترجمة:

يواجه المترجمون جملة من المشكلات في نقل المعنى من لغة الأصل إلى لغة الترجمة ولاسيما إذا كانت اللغتان منتميتين إلى مجموعتين مختلفتين من اللغات – كما في حالة العربية والإنجليزية. ويصادف المترجم مشكلات في ترجمة النصوص غير الدينية المعاصرة، فما بالنا ونحن أمام نص قرآني معجز ثابت لم يتغير، نزل بلغة ارتبط ثباتها نحواً وصرفاً وصوتاً بثبات هذا النص مع ما اعترى اللغات الحيّة الأخرى من عوامل تعرية حتى أصبح الغُيُرِ من علماء اللغة ينادون بوقف هذا الإفساد اللغوي المسمى بالتغير. ولم تسلم الإنجليزية – بطبيعة الحال – من هذا التغير حتى أصبحنا نتحدث عن اللغة الإنجليزية القديمة والإنجليزية الوسطى والإنجليزية المعاصرة. ولسنا هنا في مقام الحديث عن البون الشاسع بين هذه اللغات الثلاث حتى غدا لزاماً على من أراد دراسة نص في الإنجليزية القديمة أن يدرسها في تلك المرحلة وهكذا في بقية المراحل. ومعلوم أن اللغة الثابتة تحتفظ بكامل سماتها المميزة لها وبدقتها في التعبير أكثر من سواها. فالجنس والعدد وعلامات الإعراب والصيغ الصرفية الثلاثية والرباعية المجردة والمزيدة والحرية في نظم مكونات الجملة من تقديم وتأخير والمشتقات بأنواعها المختلفة تساعد على أداء المعنى على نحو دقيق. ويفتقر الكثير من اللغات الحية إلى العديد من هذه الصفات فيضطر المترجم إلى استخدام أكثر من كلمة أحياناً لشرح المعنى. فالمترجم الذي نقل معنى كلمة {فَأَجَاءَهَا
‌অনুবাদ সমস্যার মধ্য থেকে:

‌প্রথমত: অর্থগত ভুলসমূহ

…

অনুবাদ সমস্যার মধ্য থেকে:

অনুবাদকগণ মূল ভাষা থেকে অনূদিত ভাষায় অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হন, বিশেষ করে যদি ভাষা দুটি ভিন্ন ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হয়—যেমনটি আরবি এবং ইংরেজির ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। অনুবাদক যখন সমসাময়িক অ-ধর্মীয় পাঠ্য অনুবাদের ক্ষেত্রেই সমস্যার সম্মুখীন হন, তখন আমরা যখন একটি অলৌকিক, অপরিবর্তনীয় ও চিরস্থায়ী কুরআনিক পাঠ্যের সামনে দাঁড়াই, তখন অবস্থা কী হতে পারে? এটি এমন এক ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে যার ব্যাকরণ (نحو), রূপতত্ত্ব (صرف) এবং ধ্বনিতত্ত্বের (صوت) স্থায়িত্ব এই পাঠ্যের স্থায়িত্বের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অন্যদিকে অন্যান্য জীবন্ত ভাষাগুলো ক্ষয়িষ্ণু উপাদানের শিকার হয়েছে, যার ফলে ভাষাবিদদের মধ্যে যারা ভাষা নিয়ে সচেতন, তারা 'পরিবর্তন' নামক এই ভাষাগত বিকৃতি বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। স্বভাবতই ইংরেজি ভাষাও এই পরিবর্তন থেকে রেহাই পায়নি, যার ফলে আমরা এখন প্রাচীন ইংরেজি, মধ্যযুগীয় ইংরেজি এবং সমসাময়িক ইংরেজি সম্পর্কে কথা বলি। এই তিন ধরনের ভাষার মধ্যকার বিশাল ব্যবধান নিয়ে আলোচনা করার সময় এখন নয়; তবে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কেউ যদি প্রাচীন ইংরেজির কোনো পাঠ্য নিয়ে গবেষণা করতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই ওই নির্দিষ্ট পর্যায়ের ভাষাটি শিখতে হয়, এবং অন্যান্য পর্যায়ের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। এটি সুবিদিত যে, একটি স্থায়িত্বশীল ভাষা তার নিজস্ব সকল স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে এবং অন্যান্য ভাষার তুলনায় ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিকতর নির্ভুলতা বজায় রাখে। সুতরাং লিঙ্গ, বচন, কারক চিহ্ন (إعراب), ত্রি-অক্ষর বিশিষ্ট (ثلاثي) ও চতুর্-অক্ষর বিশিষ্ট (رباعي) মূল ও অতিরিক্ত রূপতাত্ত্বিক গঠন (صيغ صرفية), বাক্যের উপাদানগুলোর বিন্যাসে অগ্র-পশ্চাৎ (تقديم وتأخير) করার স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন প্রকারের ব্যুৎপন্ন শব্দসমূহ (مشتقات) অর্থকে নির্ভুলভাবে প্রকাশ করতে সাহায্য করে। অনেক জীবন্ত ভাষায় এই গুণাবলির অভাব রয়েছে, যার ফলে অনুবাদক অনেক সময় অর্থ ব্যাখ্যা করার জন্য একাধিক শব্দ ব্যবহার করতে বাধ্য হন। সুতরাং যে অনুবাদক {অতঃপর তা তাকে বাধ্য করল (فأجاءها)} শব্দটির অর্থ স্থানান্তর করেছেন—
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৬)
الْمَخَاضُ} بـ" surprised" عجز عن فهم معنى الهمزة في التعدية والسببية ظانّاً إيَّاه الفعل "فاجأ"، والفعل هنا يعني drove her. وينطبق الحال على الكلمات التالية التي نرى أن ليس لها نظائر مفردة اللفظ في الإنجليزية:

الكلمة

…

معناها

…

الكلمة

…

معناها

بخل

…

To be niggardly

…

أبطل

…

To render void

أسرف

…

To be extravagant

…

صدق

…

To be truthful

منّ

…

To confer a benefit

…

طغى

…

To be exorbitant

أمات

…

To cause death

…

...

وأحياناً تترجم الكلمة العربية الواحدة بجملة كاملة مكونة من فعل وفاعل ومفعولين كما هو الحال في كلمة "فسيكفيكهم" And (God) will suffice thee them.

وسنتوقف هنا عند نوعين من الأخطاء الشائعة في الترجمة وهما: الأخطاء الدلالية والأخطاء النحوية.

أولاً: الأخطاء الدلالية

1– الوحي:

استخدام معظم المترجمين كلمة inspiration بدلاً من revelation. وفيما يلي تعريف كل منهما وفق المعاجم الإنجليزية:
{প্রসববেদনা (الْمَخَاضُ)} শব্দটিকে "surprised" (বিস্মিত হওয়া) দ্বারা অনুবাদ করার মাধ্যমে অনুবাদক সকর্মকতা (تعدية) এবং কারণবাচকতা (سببية)-এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত 'হামজা'-এর অর্থ বুঝতে অক্ষম হয়েছেন; তিনি একে 'ফাজা' (فاجأ) ক্রিয়া (فعل) মনে করেছেন, অথচ এখানে ক্রিয়া (فعل) শব্দটির অর্থ হলো "drove her" (তাকে নিয়ে গেল)। নিচের শব্দগুলোর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা প্রযোজ্য যেগুলোর ইংরেজিতে কোনো একক প্রতিশব্দ নেই:

শব্দ

…

অর্থ

…

শব্দ

…

অর্থ

কৃপণতা করা (بخل)

…

To be niggardly

…

বাতিল করা (أبطل)

…

To render void

অপচয় করা (أسرف)

…

To be extravagant

…

সত্য বলা (صدق)

…

To be truthful

অনুগ্রহ করা (منّ)

…

To confer a benefit

…

সীমালঙ্ঘন করা (طغى)

…

To be exorbitant

মৃত্যুদান করা (أمات)

…

To cause death

…

...

আবার কখনও কখনও একটি মাত্র আরবি শব্দকে একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্যের মাধ্যমে অনুবাদ করা হয়, যা ক্রিয়া (فعل), কর্তা (فاعل) এবং দুটি কর্ম (مفعولين) নিয়ে গঠিত; যেমনটি লক্ষ্য করা যায় "ফাসায়াকফীকাহুম" (فسيكفيكهم) শব্দটির ক্ষেত্রে: "And (God) will suffice thee them" (অর্থাৎ: এবং আল্লাহ তোমার জন্য তাদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবেন)।

আমরা এখানে অনুবাদের ক্ষেত্রে দুই ধরণের সাধারণ ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করব, সেগুলো হলো: অর্থগত ত্রুটি (الأخطاء الدلالية) এবং ব্যাকরণগত ত্রুটি (الأخطاء النحوية)।

প্রথমত: অর্থগত ত্রুটি (الأخطاء الدلالية)

১– ওহি (وحي):

অধিকাংশ অনুবাদক 'revelation'-এর পরিবর্তে 'inspiration' শব্দটি ব্যবহার করেন। নিচে ইংরেজি অভিধান অনুযায়ী শব্দ দুটির সংজ্ঞা প্রদান করা হলো:
(খণ্ড: ১) ওয়াকফাতুন মাআ বা’দিত তারজুমাতিল ইনজিলীজিয়্যাহ লি মাআনিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৭)
inspiration: stimulation or a rousal of the mind، feelings etc، to special or unusual activity or creativity. An idea or action resulting from such a state.

Revelation: God’s disclosure of his own nature and his purpose for mankind، esp. through the words of human intermediaries.

وواضح أن الأول لا يفي بالمدلول السماوي للكلمة. ولعل هذا يتماشى ومقولات بعض المستشرقين إن لم يكن جلّهم بأن القرآن الكريم ما هو إلا من صنع البشر.

2– الرسول:

الشائع في الترجمات الإنجليزية لمعاني القرآن الكريم، وكذا الحديث النبوي الشريف، وهو ما نقرأ ونسمع بصفة دائمة حتى في أجهزة الإعلام الإسلامية استخدام كلمة apostle للدلالة على النبيّ صلى الله عليه وسلم. وفيما يلي نورد تعريف الكلمة ثم نعقبه بالملاحظات:

apostle: 1. One of the 12 disciples chosen by Christ to preach his gospel. 2. any prominent Christian missionary، esp. one who first converts a nation or people. 3. a church reformer، 4. an ardent early supporter of a cause، reform movement.

إذاً يشير هذا المقابل الإنجليزي إلى أن محمداً صلى الله عليه وسلم هو إما أحد حواريي عيسى عليه السلام الاثني عشر أو أنه مبشّر نصراني مرموق أو أنه مصلح كنسي أو أنه أحد الأنصار
অনুপ্রেরণা (Inspiration): বিশেষ বা অসাধারণ কোনো কর্মতৎপরতা বা সৃজনশীলতার উদ্দেশ্যে মন, অনুভূতি ইত্যাদির উদ্দীপনা বা জাগরণ। এমন অবস্থা থেকে উদ্ভূত কোনো ধারণা বা কাজ।

ওহি (Revelation): সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর নিজস্ব সত্তা এবং মানবজাতির জন্য তাঁর উদ্দেশ্য প্রকাশ করা, বিশেষত মানব মধ্যস্থতাকারীদের বাণীর মাধ্যমে।

এটি স্পষ্ট যে, প্রথমটি শব্দটির আসমানী তাৎপর্য প্রকাশের জন্য যথেষ্ট নয়। সম্ভবত এটি অধিকাংশ না হলেও অন্তত কিছু প্রাচ্যবিদের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যারা মনে করেন যে পবিত্র কুরআন মানুষেরই সৃষ্টি।

২– রাসূল:

পবিত্র কুরআনের অর্থের ইংরেজি অনুবাদ এবং সেই সাথে হাদীসে নববীর ক্ষেত্রেও যা প্রচলিত, এবং যা আমরা এমনকি ইসলামি গণমাধ্যমগুলোতেও নিয়মিতভাবে শুনি ও পড়ি, তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নির্দেশ করতে ‘apostle’ শব্দের ব্যবহার। নিচে আমরা শব্দটির সংজ্ঞা উল্লেখ করছি এবং এরপর এ বিষয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরছি:

Apostle: ১. খ্রিস্ট কর্তৃক তাঁর সুসমাচার প্রচারের জন্য মনোনীত ১২ জন শিষ্যের একজন। ২. যে কোনো বিশিষ্ট খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক, বিশেষ করে যিনি কোনো জাতি বা গোষ্ঠীকে প্রথম ধর্মান্তরিত করেন। ৩. গির্জার একজন সংস্কারক। ৪. কোনো আদর্শ বা সংস্কার আন্দোলনের শুরুর দিকের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক।

সুতরাং এই ইংরেজি প্রতিশব্দটি ইঙ্গিত করে যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হয় ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর বারোজন শিষ্যের একজন, অথবা তিনি একজন প্রথিতযশা খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক, অথবা তিনি একজন গির্জা সংস্কারক কিংবা কোনো মতবাদের একনিষ্ঠ সমর্থকদের একজন।