(খণ্ড: ১)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: -)
هداية الرواة - مع تخريج المشكاة الثاني للألباني القسم: كتب السنة
الكتاب: هداية الرواة إلى تخريج أحاديث المصابيح والمشكاة
تصنيف: أحمد بن علي بن حجر العسقلاني (ت 852)
وبحاشيته: "النقد الصريح لما انتُقد من أحاديث المصابيح" للعلائي و "الأجوبة على أحاديث المصابيح" لابن حجر
تخريج: محمد ناصر الدين الألباني [التخريج الثاني لمشكاة المصابيح]
تحقيق: علي بن حسن بن عبد الحميد الحلبي [ت 1442 هـ]
الناشر: دار ابن القيِّم للنشر والتوزيع، دار ابن عفان للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
تنبيهات:
1 - متون الأحاديث قد أَثبَتها المحقق (علي الحلبي) مِن كتابَي "مصابيح السنة" للبغوي و"مشكاة المصابيح" للتبريزي، وأَتبَع كل حديث برقمه في مطبوعهما بين [معقوفين].
2 - أَعقَب كل حديث بتخريج الحافظ ابن حجر من "هداية الراواة" في سطر جديد مُصَدَّرا بعلامة مُربّع (استُبدِلتْ بـ"•" في هذه النسخة الإلكترونية)، وقام بعزو الأحاديث إلى مصادرها بالأرقام بين [معقوفين] في متن الكتاب.
3 - أخذ تعليقات شيخه الألباني على "المشكاة" وأَلحقها في الحواشي بالمواضع المناسبة من "هداية الرواة" وهي أكثر حواشي الكتاب، وأما تعليقاته هو -وهي قليلة- فذيّلَها بحرف (ع).
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 جُمادَى الأولى 1443
হিদায়াতুর রুওয়াত - আলবানীর মিশকাতের দ্বিতীয় তাখরীজসহ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: হিদায়াতুর রুওয়াত ইলা তাখরীজি আহাদীসিল মাসাবীহ ওয়াল মিশকাত
লেখক: আহমাদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু ৮৫২ হিজরী)
এবং এর হাশিয়ায়: "আন-নাকদুস সরীহ লিমাউনতুকিদা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ" (আল-আলাঈ রচিত) এবং "আল-আজরিবাতু আলা আহাদীসিল মাসাবীহ" (ইবনু হাজার রচিত)
তাখরীজ: মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী [মিশকাতুল মাসাবীহ-এর দ্বিতীয় তাখরীজ]
তাহকীক: আলী বিন হাসান বিন আব্দুল হামীদ আল-হালাবী [মৃত্যু ১৪৪২ হিজরী]
প্রকাশক: দার ইবনে কায়্যিম আন-নাশর ওয়াত তাওযী’, দার ইবনে আফফান আন-নাশর ওয়াত তাওযী’
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরী - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
১ - হাদীসসমূহের মূল পাঠ (মতন) মুহাক্কিক (আলী আল-হালাবী) আল-বাগাওয়ী রচিত "মাসাবীহুস সুন্নাহ" এবং আত-তিবরিযী রচিত "মিশকাতুল মাসাবীহ" কিতাবদ্বয় থেকে গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিটি হাদীসের পর ব্র্যাকেটের [ ] মধ্যে তাদের মুদ্রিত কপির নম্বর উল্লেখ করেছেন।
২ - তিনি প্রতিটি হাদীসের পর নতুন লাইনে হাফিয ইবনু হাজার-এর "হিদায়াতুর রুওয়াত" থেকে তাখরীজ যুক্ত করেছেন, যার শুরুতে একটি বর্গাকার চিহ্ন ছিল (এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে তা "•" চিহ্ন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে), এবং কিতাবের মূল পাঠে ব্র্যাকেটের [ ] মধ্যে নম্বরসহ হাদীসগুলোকে তাদের মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধ করেছেন।
৩ - তিনি "মিশকাত"-এর উপর তাঁর উস্তাদ আলবানী-র মন্তব্যগুলো গ্রহণ করেছেন এবং "হিদায়াতুর রুওয়াত"-এর উপযুক্ত স্থানে পাদটীকা হিসেবে যুক্ত করেছেন, যা এই কিতাবের অধিকাংশ পাদটীকা গঠন করেছে; আর তাঁর নিজস্ব মন্তব্যগুলো —যা পরিমাণে অল্প— সেগুলোর শেষে (আইন বা ع) অক্ষরটি যুক্ত করেছেন।
[কিতাবের নম্বরসমূহ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১২ জুমাদাল উলা ১৪৪৩ হিজরী
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ١)
هداية الرُّواة
إلى
تخريج أحاديث
المصابيح والمشكاة
تصنيف
الحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني
المتوفى سنة (852) رحمه الله
وبحاشيته
النقد الصريح لما انتُقد من أحاديث المصابيح للإمام العلائي
والأجوبة على أحاديث المصابيح للحافظ ابن حجر
تخريج العلّامة المحدث
محمد ناصر الدين الألباني
رحمه الله
تحقيق
علي بن حسن بن عبد الحميد الحلبي
المجلد الأول
دار ابن القيِّم
دار ابن عفَّان
হিদায়েতুর রুওয়াত
অভিমুখে
হাদিসসমূহের তাখরিজ
আল-মাসাবিহ ও আল-মিশকাত
গ্রন্থনায়
হাফেজ আহমাদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানী
মৃত্যু: ৮৫২ হিজরী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)
এবং এর পাদটীকায় রয়েছে
ইমাম আলায়ী বিরচিত 'আল-নাকদুস সরাহ' (মাসাবিহ-এর হাদিসসমূহের ওপর কৃত সমালোচনার সুস্পষ্ট পর্যালোচনা)
এবং হাফেজ ইবনে হাজার বিরচিত 'আল-আজউয়িবাহ' (মাসাবিহ-এর হাদিসসমূহের ওপর প্রদত্ত উত্তরসমূহ)
আল্লামা মুহাদ্দিস কর্তৃক তাখরিজকৃত
মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন
তাহকীক ও সম্পাদনা
আলী বিন হাসান বিন আব্দুল হামিদ আল-হালাবী
প্রথম খণ্ড
দার ইবনুল কাইয়্যিম
দার ইবনে আফফান
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٢)
جميع الحُقوق محفوُظة
الطبعة الأولى
1422 هـ - 2001 م
دار ابن القيم للنشر والتوزيع
هَاتف: 8274545 - فاكس: 8056554
الدمَّام - مدينة العمال - ص. ب: 20745
الرمز البريدي: 31951 بريد الخبر
دار ابن عفان
للنشر والتوزيع
القاهرة - 11 ش درب الأتراك - الأزهر - خلف الجامع الأزهر
الجيزة- ت: 3255820 - ص. ب: 8 بين السرايات
هاتف محمُول: 0101583626
جمهورية مصر العربية
E.mail: ebnaffan@hotmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
দার ইবনুল কাইয়্যিম প্রকাশনা ও বিতরণ
ফোন: ৮২৭৪৫৪৫ - ফ্যাক্স: ৮০৫৬৫৫৪
দাম্মাম - মাদিনাতুল উম্মাল - পি.ও. বক্স: ২০৭৪৫
পোস্টাল কোড: ৩১৯৫১ আল-খবর মেইল
দার ইবনু আফফান
প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য
কায়রো - ১১ দরবে আতরাক স্ট্রিট - আল-আজহার - আল-আজহার মসজিদের পেছনে
গিজা- ফোন: ৩২৫৫৮২০ - পি.ও. বক্স: ৮ বাইনাস সারায়াত
মোবাইল ফোন: ০১০১৫৮৩৬২৬
আরব প্রজাতন্ত্র মিশর
ইমেইল: ebnaffan@hotmail.com
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيقإِنَّ الْحَمْدَ لله؛ نَحْمَدُهُ، وَنسْتَعِينهُ، وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعوذُ بالله مِنْ شُرورِ أَنْفِسِنا، وَمِنْ سَيِّئاتِ أَعْمالِنا؛ مَنْ يَهْدِهُ الله فلا مُضِل لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلا هادِيَ لَهُ.
وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلاّ الله -وَحْدَه لا شَرِيكَ لَهُ-.
وَأَشْهَدُ أَن؛ مُحمدًا عَبْدُة وَرَسولهُ.
أَمّا بَعْدُ:
فإن كِتَابَنا هَذا -بِحَمْدِ الله- مِنْ أَجَلِّ كُتُبِ السُّنةِ الْجَوامِع؛ الّتي حَوَتْ بَيْنَ دَفتَيْها بضْعَةَ آلافٍ مِنْ نُصُوصِ حَدِيثِ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم قَولِيَّةً وَفِعْلِيةً-؛ بالإضافَةِ إلى مِئاتِ الْمَرْوِيّاتِ السلَفِيةِ، وَالنقولِ الأَثَرِيَّةِ عَنِ الصَّحابَةِ وَالتّابِعِين.
وَلَقَدْ خَرجَ مُؤَلِّفنا الْكَبيرُ -الْحافِط ابْنُ حَجَرٍ الْعَسقَلانِيُّ -رَحمَةُ الله عَلَيْهِ- في هَذِا الْكِتابِ أَحادِيثَ كِتَابَيْنِ جَلِيلَيْنِ؛ أَحَدُهُما مُتَمِّمٌ للآخَرِ:
الأَوَّلُ: "مَصابِيحُ السُّنَّةِ"، للإمامِ الْحُسَينِ بْنِ مَسْعُودٍ الْبَغَوِيِّ، الْمتَوَفّى سَنَةَ (516 هـ) رحمه الله.
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদনার ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করছি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করছি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আমাদের এই কিতাবটি—আল্লাহর প্রশংসায়—সুন্নাহর সংকলনমূলক গ্রন্থসমূহের মধ্যে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি কিতাব; যা এর দুই মলাটের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাচনিক ও ব্যবহারিক হাদীসের কয়েক হাজার পাঠকে ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি এতে সাহাবী ও তাবিঈগণের নিকট থেকে বর্ণিত শত শত সালাফী বর্ণনা ও আছর বা ঐতিহ্যগত উদ্ধৃতি বিদ্যমান রয়েছে।
আমাদের মহান লেখক হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই গ্রন্থে দুটি মহান কিতাবের হাদীসসমূহের উৎস বর্ণনা করেছেন, যার একটি অন্যটির পরিপূরক:
প্রথমটি: ইমাম হুসাইন ইবনে মাসউদ আল-বাগাভী (মৃত্যু ৫১৬ হি.) রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর "মাসা-বীহুস সুন্নাহ"।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٤)
وَهوَ مَطْبُوعٌ عِدَّةَ طَبَعاتٍ، أَجْوَدها الطَّبْعَةُ الّتي قامَ عَلَى تَحْقِيقِها الأَخُ الدّكتور يُوسف عبد الرّحمن الْمَرعشلي
(1) -وَرَفِيقاه- وَفقَهمُ الله-، وَنشِرَتْ في دَارِ المَعْرِفَةِ- بَيْروت، سَنَةَ (1407 هـ)، وَوَقَعت في أَربعَةِ مُجَلّدات.
الثّانِي: "مِشْكاةُ الْمَصابِيح"
(2)، للإمامِ مُحَمّد بْنِ عَبْدِ الله الْخَطِيبِ التَّبْرِيزِيّ، الْمتَوَفَّى سَنَةَ (741 هـ) رحمه الله.
وهُوَ مطبوعٌ -أيضًا- عدةَ طبعاتٍ، أَجودُها الطبعةُ الّتي كانَ قد حقَّقها وخرَّجَ أَحاديثَها شيخنا العلامةُ الإمام أبو عبدِ الرحمنِ محمَّد ناصر الدين الألبانيُّ -المتوفّى سنةَ (1420 هـ) -تغمّده الله برحمتهِ-، وطُبِعَتْ طبْعتُها الأُولى في المكتبِ الإِسلامي في دمشق (سنة 1381 هـ) في ثلاثةِ مجلدات.
ولَقَدْ كانَ عَمَلُ الحافظِ ابنِ حجَرٍ رحمه الله موَجَّهًا إلى الجمع بيْنَ الكتَابَيْنِ، ودَمْجِ المادَّتَيْنِ، لِلْخروج بِكِتَابٍ جامعٍ لِفوائِدِهِما، مُغنٍ عَنْ كِلَيْهِما؛ فَكانَ لَهُ - رَحْمَةُ الله عَلَيْهِ- ما أَرادَهُ، مُضِيفًا إلَيْهِ تَخرِيجاتِهِ الْمُخْتَصَرَةَ، النّافِعَةَ، الْمُفِيدَةَ.
এটি বিভিন্ন সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম সংস্করণটি হলো—আল্লাহ তাদের তাওফিক দান করুন—ভাই ডক্টর ইউসুফ আবদুর রহমান আল-মারআশলী
(1) ও তাঁর দুই সহকর্মীর সম্পাদিত সংস্করণ; যা ১৪০৭ হিজরি সনে বৈরুতের দারুল মাআরিফা থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি চার খণ্ডে সমাপ্ত।
দ্বিতীয়: ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খাতিব আত-তাবরিজী (ওফাত: ৭৪১ হিজরি) —আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন— রচিত "মিশকাতুল মাসাবিহ"
(2)।
এটিও বিভিন্ন সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলো আমাদের শায়খ আল্লামা ইমাম আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (ওফাত: ১৪২০ হিজরি) —আল্লাহ তাঁকে স্বীয় রহমতে আবৃত করুন— এর তাহকীক ও তাখরীজকৃত সংস্করণটি। এর প্রথম মুদ্রণ ১৩৮১ হিজরি সনে দামেস্কের আল-মাকতাবুল ইসলামী থেকে তিন খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল।
হাফেজ ইবনে হাজার —আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন— এর কর্মপ্রচেষ্টা ছিল এই দুই কিতাবকে একত্রিত করা এবং উভয়টির বিষয়বস্তুকে এমনভাবে সমন্বিত করা যাতে তা উভয়টিরই সারনির্যাস সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাবে রূপ লাভ করে এবং উভয়টি থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, তিনি যা চেয়েছিলেন তা-ই পূর্ণ হয়েছে এবং এর সাথে তিনি স্বীয় সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত উপকারী ও ফলপ্রসূ তাখরীজসমূহ সংযোজন করেছেন।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٥)
وَأَصْلُ كِتَابِنا هذا
(1) - "هِدايةُ الرّواة"- هو للصَّدْر المُنَاويّ
(2) -شيخِ ابنِ حَجَر-، وقد تُوُفِّي الصَّدْرُ سنةَ (748 هـ) -رحمَة الله-، واسم كتابهِ "كشف المناهج والتناقيح في تخريج أَحاديثِ المصابيح"، وهو مخطوطٌ، منه عدَّةُ نُسَخٍ في مكتباتِ العالم- كما في "تاريخ الأدب العَربي" (6/ 247) لكارل بروكِلْمان-.
وانظر -له- "كشْفَ الظنون" (1701) لحاجيّ خليفة، و"الرسالةَ المسْتَطْرَفة" (187) للكتّاني.
وقد أوردتُ -في (طلائع الكتاب) - الآتِيَةِ بَعْدُ- مقدِّمَتَه تامَّةً، مُحَقِّقًا إِيّاها عن نسخةٍ مصورَةٍ وصَلَتْني مِنْ بَعضِ إخواني طلبَةِ العلمٍ في بلاد الحَرَمَين الشريفَيْنِ -صانَها الله-؛ فجَزاهُ الله خيرًا.
وأَمّا نُسْخةُ "هداية الرواة" -المخطوطةُ-؛ فأصْلها في تركيّا، في المكتبة الحميديَّةِ برقم 410، وهي مكوَّنةٌ مِنْ (215) ورقة.
وقد تكرّم بتصويرِها لي فضيلةُ الأَخ الشّيخ عبدِ الله بنِ صالح العُبَيْلان -نَفَعَ الله به، وزادَه مِنْ فضْلِه-.
وَبَعْدُ:
فَلَقَدْ كانتْ بدايةُ العَمل العلْمِيِّ في هذا الكتَابِ قَبْلَ ما يَقْربُ مِن ثلاثِ سَنَواتٍ؛ حيثُ كنتُ قد عَرَضْتُ على شيخنا أبي عبدِ الرحمنِ محمدٍ ناصر الدين الأَلبانيِّ فِكْرَةَ تَحْقيقهِ وَنشْرِهِ؛ فوافقَ ذلكَ قَبولًا عِنْدَهُ، ورحَّبَ بِه، وَدَفَعَ إِليَّ ما عِنْدَه من تخريجاتٍ وتعليقاتٍ؛ لإلحاقها في مواضِعها من حواشي "الهداية"، فجزاهُ الله كلَّ خيرٍ وأكملَه.
আমাদের এই কিতাব
(১)—"হিদায়াতুর রুওয়াত"—এর মূল উৎস হলো আস-সদর আল-মুনাবি—যিনি ইবনে হাজারের উস্তাদ—এর রচনা। সদর (রহ.) ৭৪৮ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তাঁর কিতাবের নাম "কাশফুল মানাহিজ ওয়াত তানাকিহ ফি তাখরিজি আহাদিসিল মাসাবিহ"। এটি একটি পাণ্ডুলিপি, যার একাধিক অনুলিপি বিশ্বের বিভিন্ন গ্রন্থাগারে বিদ্যমান রয়েছে—যেমনটি কার্ল ব্রোকলম্যান তাঁর "তারিখুল আদাবিল আরাবি" (৬/২৪৭) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
তাঁর সম্পর্কে আরও দেখুন: হাজ্জি খলিফার "কাশফুজ জুনুন" (১৭০১) এবং আল-কাত্তানির "আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফাহ" (১৮৭)।
আমি—পরবর্তীতে আগত (তালাইউল কিতাব) অংশে—তাঁর পূর্ণাঙ্গ ভূমিকাটি উপস্থাপন করেছি। হারামাইন শারিফাইন—আল্লাহ একে হিফাযত করুন—এর কতিপয় ইলম অন্বেষী ভাইয়ের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত একটি ছায়া-অনুলিপি থেকে আমি এটি সম্পাদন করেছি; আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
আর "হিদায়াতুর রুওয়াত"-এর পাণ্ডুলিপিটির মূল কপি তুরস্কে, মাকতাবা হামিদিয়ার ৪১০ নম্বর ক্যাটালগে সংরক্ষিত রয়েছে, যা ২১৫টি পৃষ্ঠার সমন্বয়ে গঠিত।
শ্রদ্ধেয় ভাই শায়খ আবদুল্লাহ বিন সালিহ আল-উবাইরান—আল্লাহ তাঁর দ্বারা দ্বীনের উপকার করুন এবং তাঁর প্রতি অনুগ্রহ বৃদ্ধি করুন—সদয় হয়ে এর একটি অনুলিপি আমাকে সরবরাহ করেছেন।
অতঃপর:
এই কিতাবের ওপর ইলমি কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় তিন বছর আগে; তখন আমি আমাদের শায়খ আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানির নিকট এটি সম্পাদন ও প্রকাশের প্রস্তাব পেশ করি। তিনি বিষয়টি পছন্দ করেন এবং একে স্বাগত জানান। এছাড়া তিনি তাঁর নিকট থাকা তাখরিজ ও টীকাগুলো আমাকে প্রদান করেন, যাতে সেগুলো "হিদায়া"-র সংশ্লিষ্ট টীকায় যুক্ত করা যায়। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٦)
ولقد حالتْ ظروفُ مَرَضِ شيخِنا في السَّنَتَينِ الأخيرتَيْنِ -ثمّ وفاتِه- بعدُ رحمه الله دونَ أنْ يكونَ مِنْه متابعةٌ حثيثةٌ -كما هو دأْبهُ وعادَتُه- لهذا العمَل؛ فاضطرّنا ذلك إلى (شيءٍ) مِنَ التأخير والتأخُّرِ
… وَالْعُذْرُ عِنْدَ كِرامِ النّاسِ مَقْبُولُ.
ثم يشاءُ الله -تعالى- وَلَهُ الحمد على كلِّ حالٍ- أن لا يخْرُجَ هذا الكتابُ إلّا بعد وفَاتِه -تغمّدهُ الله برحمتهِ-.
وَقدِ اقتَصرَ عملُنا في هذا الكتَابِ على أمور:أوّلًا: عَزْوُ الأحاديثِ إلى مواضِعها منْ كُتبِ السُّنةِ المطبوعَةِ، وذلك بوضْعِها بَيْنَ معكُوفيْن في مَتْنِ الكتاب
(1)؛ خَشيةَ إثقالِ الحواشي بمجرّدِ العَزْوِ والأَرقام.
ثانيًا: إيرادُ نُصوصِ الأحاديث بتمامِها من مَصْدَرَيِ الكتَابِ الأَساسييْنِ:
"المصابيحِ"، و"المشْكاة"،
(2) فإنّ مؤلّفنا الحافظَ رحمه الله قدِ اقتَصَرَ في إيرادِ نصوصِها على ما يدلُّ عليها -بشيء مِنَ الاختِصار -كمَا سيأتِي-.
ثالثًا: ضَبْطُ ما يُشكِلُ منَ الأَلفاظِ، والأَسمَاءِ، ونحوِها.
رابعًا: إيرادُ نُصُوصِ كَلامِ الحافظِ المؤلِّفِ رحمه الله في كتابهِ "الأجْوِبةِ على أحاديثِ المصابيح"، وكلَامِ الحافِظِ العلائيِّ رحمه الله في كتابِه "النقْدِ الصريح" كامِلَيْنِ، وَإثْباتُهُما في مواضعِهما مِنَ الكِتاب.
গত দুই বছরে আমাদের শাইখের অসুস্থতা—অতঃপর তাঁর মৃত্যু (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)—এই কর্মের প্রতি তাঁর নিরন্তর তদারকিতে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যা ছিল তাঁর চিরন্তন অভ্যাস ও রীতি। এর ফলে আমরা কিছুটা বিলম্ব ও কালক্ষেপণ করতে বাধ্য হয়েছি
… আর মহানুভব ব্যক্তিদের নিকট ওজর বা অপারগতা গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে।
অতঃপর আল্লাহ তাআলা চাইলেন—সর্বাবস্থায় প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য—যেন এই কিতাবটি তাঁর ইন্তেকালের পরেই প্রকাশিত হয়; আল্লাহ তাঁকে স্বীয় রহমতে আবৃত করুন।
এই কিতাবে আমাদের কাজ নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল:প্রথমত: মুদ্রিত সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে হাদিসগুলোর মূল উৎস উল্লেখ করা। এটি কিতাবের মূল পাঠে থার্ড ব্র্যাকেটের (তৃতীয় বন্ধনী) মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে
(১); যাতে কেবলমাত্র উৎস ও নম্বর প্রদানের মাধ্যমে টীকাগুলো ভারাক্রান্ত হয়ে না পড়ে।
দ্বিতীয়ত: কিতাবের মূল দুই উৎস ‘আল-মাসাবীহ’ এবং ‘আল-মিশকাত’ থেকে হাদিসসমূহের পূর্ণ পাঠ উদ্ধৃত করা।
(২) কেননা আমাদের গ্রন্থকার হাফেজ (রাহিমাহুল্লাহ) হাদিসের পাঠ বর্ণনায় কেবল নির্দেশক অংশটুকুর ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতেন—যা কিছুটা সংক্ষিপ্ত আকারে হতো—যেমনটি সামনে আসবে।
তৃতীয়ত: অস্পষ্ট শব্দ, নাম এবং এ জাতীয় বিষয়গুলোর সঠিক উচ্চারণ ও রূপ নির্ধারণ করা।
চতুর্থত: গ্রন্থকার হাফেজ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর স্বীয় কিতাব ‘আল-আজরিবাহ আলা আহাদিসিল মাসাবীহ’ এবং হাফেজ আলাইয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব ‘আন-নাকদুস সারীহ’-এর পূর্ণ ইবারতসমূহ সংকলন করা এবং কিতাবের সংশ্লিষ্ট স্থানে সেগুলোকে স্থাপন করা।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٧)
خامِسًا: أَوْرَدْتُ مُقَدِّماتٍ عِلْمِيةً مفِيدَةً مُتَنَوِّعَةً، وَوَضَعْتُها -بتمَامِها -أيضًا- في (طلائع الكتاب).
سادسًا: صنعنا فهرسًا لأطراف الأحاديث النبوية -قولية وفعلية-، والآثار السلفية على نسق حروف الهجاء
(1).
سابعًا: جعلت تعليقاتي على الكتاب مختصرةً؛ وقد ذيلتها برمز حرف (ع).
وأمّا تعليقاتُ شيخِنا أبي عبدِ الرحمنِ رحمه الله؛ فَهِي المزَيِّنةُ للكتابِ، المعْظِمَةُ لفوائدهِ، والمُكثِّرة لبركاتهِ.
وخِتامًا: فَشُكْرُنا -كله- للهِ-تعالى- أولًا-؛ على ما وفَّقَنا إليه من إتمامِ العَمَل العلمِيِّ بهذا الكِتَابِ الجليلِ.
ثم؛ لِشَيخِنا الوالِد الإمامِ أبي عبدِ الرحمنِ -تغمّدهُ ربُّنا برحمتهِ- على ما أوْلانا إيّاه من ثِقَةٍ كريمةٍ للقيامِ بهذا العَمَلِ العلمِيِّ؛ فجزاهُ الله خيرًا- حيًّا، ومَيْتًا-.
ثم؛ لِكُلِّ مَنْ ساعَدَنا، وكان مَعَنا -فيه-؛ إعدادًا، وتهيئةً، ومُشاركةً، وتنضيدًا،
(2) وتصحيحًا، ومُراجعهً.
ثم؛ لِنَاشرِهِ الفاضلِ الأَخ المكرَّمِ كمالِ الدينِ حُسين عويس -بارك الله فيهِ، ولَهُ، وسدّدَهُ بالحقِّ إلى الحقِّ- صاحِبِ (دار ابنِ عفّانَ للنشْرِ والتوزيع) - جزاءَ صَبْرهِ، وَبَذْلهِ، واهْتِمامهِ.
পঞ্চম: আমি বিবিধ ও উপকারী বেশ কিছু ইলমী ভূমিকা সন্নিবেশিত করেছি এবং সেগুলো পূর্ণাঙ্গরূপে (তালাইয়ুল কিতাব)-এও উল্লেখ করেছি।
ষষ্ঠ: আমরা নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহের (কথ্য ও কর্মগত) সূচিপত্র এবং সালাফদের আছারসমূহের নির্ঘণ্ট বর্ণনানুক্রমিক পদ্ধতিতে প্রস্তুত করেছি
(১)।
সপ্তম: আমি এই কিতাবে আমার টীকাগুলোকে সংক্ষিপ্ত রেখেছি এবং সেগুলোর শেষে (ع) সংকেত ব্যবহার করেছি।
আর আমাদের শাইখ আবু আব্দুর রহমান (রাহিমাহুল্লাহ)-এর টীকাসমূহ কিতাবটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে, এর উপকারিতাসমূহকে মহিমান্বিত করেছে এবং এর বরকতকে বৃদ্ধি করেছে।
পরিশেষে: সকল শুকরিয়া প্রথমত মহান আল্লাহর প্রতি; যিনি আমাদেরকে এই মহান কিতাবটির এই ইলমী কাজ সমাপ্ত করার তাওফিক দান করেছেন।
অতঃপর; আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ আল-ইমাম আবু আব্দুর রহমান—আল্লাহ তাঁকে রহমতের চাদরে আবৃত করুন—এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, কারণ তিনি আমাদের ওপর এই ইলমী কাজ আঞ্জাম দেওয়ার গৌরবময় আস্থা রেখেছেন; আল্লাহ তাঁকে ইহকাল ও পরকালে উত্তম বিনিময় দান করুন।
অতঃপর; যারা এই কাজে আমাদের সাহায্য করেছেন এবং আমাদের সাথে যুক্ত ছিলেন—প্রস্তুতি, ব্যবস্থাপনা, অংশগ্রহণ, বিন্যাস,
(২) সংশোধন এবং নিরীক্ষার প্রতিটি ধাপে।
অতঃপর; এর গুণী প্রকাশক শ্রদ্ধেয় ভাই কামাল উদ্দিন হুসাইন উওয়াইস—আল্লাহ তাঁকে বরকত দান করুন এবং সত্যের পথে অবিচল রাখুন—যিনি ‘দারু ইবনে আফফান পাবলিকেশন’-এর স্বত্বাধিকারী; তাঁর ধৈর্য, ত্যাগ ও আন্তরিকতার জন্য।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٨)
وأخيرًا:
هذا عملُنا بين أيديكُمْ -إخوانَنا، ومشايِخَنا-؛ لكُم غُنْمُهُ، وعَلَينا غُرْمُهُ، والله يغفِرُ لنا ما قدْ نكونُ قَصَّرْنا فيه، أو فرّطنا بهِ.
وكلُّنا أَملٌ بِدَعْوةٍ صالحةٍ، أو مُلاحظةٍ نافعةٍ، تُبْنَى علَى الرَّحْمَةِ، وتُؤَسَّسُ عَلَى الشفقة.
وصلى الله وسلّمَ وباركَ على نبينا محّمدٍ، وعلى آلهِ وصحْبِهِ وسلّمَ.
وآخرُ دَعْوانا أنِ الحمدُ للّهِ ربِّ العالَمين.
وكتب
عليُّ بْنُ حسنٍ الحلبيُّ الأثريُّ
-عفا الله عنه، بمنِّه-
الزرقاءُ الأُرْدُنيَّةُ
لأَرْبَعٍ بَقِينَ مِنْ شَوّال، سَنَةَ (1421 هـ).
পরিশেষে:
হে আমাদের ভ্রাতৃবৃন্দ এবং শাইখগণ! আমাদের এই কর্ম আপনাদের সমীপে পেশ করছি; এর সুফল আপনাদের জন্য এবং এর ত্রুটির দায়ভার আমাদের ওপর। আল্লাহ আমাদের সেই সব ভুল ক্ষমা করুন যাতে আমরা সম্ভবত ত্রুটি করেছি অথবা অবহেলা করেছি।
আমরা আপনাদের নিকট হতে নেক দু’আ অথবা কোনো কল্যাণকর মন্তব্যের প্রত্যাশী, যা দয়া ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে প্রদান করা হবে।
আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর বর্ষিত হোক।
এবং আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ইতি
আলী বিন হাসান আল-হালাবী আল-আসারী
—আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাঁকে ক্ষমা করুন—
জারকা, জর্ডান
শাওয়াল মাসের চার দিন অবশিষ্ট থাকতে, ১৪২১ হিজরী।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٩)
طَلائِعُ الْكِتابِ:1 - مُقَدِّمَةُ الْخَطِيبِ التَّبْرِيزِيِّ عَلَى "مِشْكاةِ الْمَصابِيحِ".
2 - مُقَدِّمَة صَدْرِ الدِّينِ الْمُنَاوِيِّ عَلَى "كَشْفِ الْمَنَاهِجِ وَالتّناقِيح".
3 - مُقدِّمَةُ مُحْيي السُّنةِ الْبَغَوِيِّ عَلَى "مَصابِيحِ السُّنَّةِ".
4 - مُقَدِّمَةُ الْعَلائِيِّ عَلَى "النقْدِ الصَّرِيح".
5 - مُقَدِّمَةُ ابْنِ حَجَرٍ عَلَى "أَجْوِبَةِ الْمَصابِيح".
6 - دِراسَةٌ عامَّةٌ لِمَنهَجِ ابْنِ حَجَرٍ في كِتَابهِ "هِدايَة الرّواة".
7 - مُوجَزُ تَرْجَمَةِ ابْنِ حَجَرٍ.
8 - نماذج من صور مخطوطة "هداية الرواة".
9 - نماذج من تخريجات وتعليقات العلامة الألباني -بخطه-.
গ্রন্থের প্রারম্ভিকা:১ - "মিশকাতুল মাসাবীহ"-এর ওপর আল-খতীব আত-তাবরিযীর ভূমিকা।
২ - "কাশফুল মানাহিজ ওয়াত তনাক্বীহ"-এর ওপর সদরুদ্দীন আল-মুনাভীর ভূমিকা।
৩ - "মাসাবীহুস সুন্নাহ"-এর ওপর মুহইউস সুন্নাহ আল-বাগাভীর ভূমিকা।
৪ - "আন-নাক্বদুস সারীহ"-এর ওপর আল-আলাঈর ভূমিকা।
৫ - "আজরিবাতুল মাসাবীহ"-এর ওপর ইবনে হাজারের ভূমিকা।
৬ - ইবনে হাজারের "হিদায়াতুর রুওয়াহ" গ্রন্থে অনুসৃত পদ্ধতির ওপর একটি সাধারণ পর্যালোচনা।
৭ - ইবনে হাজারের সংক্ষিপ্ত জীবনী।
৮ - "হিদায়াতুর রুওয়াহ" গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির স্থিরচিত্রের কিছু নমুনা।
৯ - আল্লামা আলবানীর স্বহস্তে লিখিত তাখরীজ ও টীকা-টিপ্পনীর কিছু নমুনা।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ١١)
مُقَدِّمَةُ
الإِمَامِ أَبِي عَبْدِ الله مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الله الخَطِيبِ التِّبْرِيزِيِّ
لِكِتَابِهِ "مِشْكَاةُ المَصَابِيحِ"
بسم الله الرحمن الرحيم
وَبِهِ نَسْتَعِينُ
الحَمْدُ لِلَّهِ، نَحْمَدُة وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرهُ وَنَعُوذُ بِالله مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمَنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ الله فَلَا مُضِّلَ لَه، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ.
وَأَشْهدُ أَنَّ لَا إِلَهَ إلَّا الله، شَهَادَةً تَكُونُ لِلنَّجَاةِ وَسِيلَة، وَلرَفْع الدَّرَجَاتِ كَفِيلَة.
وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، الذِي بَعَثَهُ وَطُرُقُ الإِيمَانِ قَدْ عَفَتْ آثَارُهَا، وَخَبَتْ أَنْوَارُهَا، وَوَهَنَتْ أَرْكَانُهَا، وَجُهِلَ مَكَانُهَا، فَشَيَّدَ صَلَوَاتُ الله وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ مِنْ مَعَالِمِهَا مَا عَفَا، وَشَفَى مِنَ العَلِيلِ في تَأْيِيدِ كَلِمَةِ التَّوْحِيدِ مَنْ كَانَ عَلَى شَفَا، وَأَوْضَحَ سَبِيلَ الهِدَايَةِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يَسْلُكَهَا، وَأَظْهَرَ كُنُوزَ السَّعَادَةِ لِمَنْ قَصَدَ أَنْ يَمْلِكَهَا.
أمَّا بَعْدُ:
فَإِنَّ التَّمَسُّكَ بِهَدْيِهِ لَا يَسْتَتِبُّ إلَّا بِالاقْتِفَاءِ لمَا صَدَرَ مِنْ مِشْكَاتِهِ، وَالاعْتِصَامَ بِحَبْلِ الله لَا يَتِمُّ إلَّا بِبَيَانِ كَشْفِهِ.
ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-খতিব আত-তিবরিজি-এর
তাঁর রচিত "মিশকাতুল মাসাবিহ" গ্রন্থের
ভূমিকা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই—এমন এক সাক্ষ্য যা মুক্তির মাধ্যম হবে এবং মর্যাদা বৃদ্ধির জামিন হবে।
আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে তিনি এমন এক সময়ে প্রেরণ করেছেন যখন ঈমানের পথসমূহের চিহ্নসমূহ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, তার আলোগুলো নিভে গিয়েছিল, তার স্তম্ভসমূহ দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং তার পরিচয় অজ্ঞাত হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—তিনি ধর্মের সেই বিলুপ্ত নিদর্শনসমূহকে সুদৃঢ় করেছেন; তাওহীদের বাণীকে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে সেই রুগ্ন সত্তাকে আরোগ্য দান করেছেন যে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল; যারা হেদায়েতের পথে চলতে চায় তাদের জন্য তিনি সেই পথ স্পষ্ট করেছেন এবং যারা সৌভাগ্যের ধনভাণ্ডার করায়ত্ত করতে চায় তাদের নিকট তা উন্মোচিত করেছেন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই তাঁর প্রদর্শিত হেদায়েতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা সম্ভব নয় তাঁর নবুওয়াতের কুলুঙ্গি (মিশকাত) থেকে বিচ্ছুরিত আলোর অনুসরণ ব্যতীত, আর আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে ধারণ করা পূর্ণতা পায় না তাঁর সুষ্পষ্ট বর্ণনা ও উন্মোচন ছাড়া।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وَكَانَ كِتَابُ "المَصَابِيحِ" الَّذِي صَنَّفَهُ الإِمَامُ مُحِيِي السُّنَّةِ، قَامِعُ البِدْعَةِ، أبو مُحَمَّدٍ الحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ الفَرَّاءُ البَغَوِيُّ رَفَعَ الله دَرَجَتَهُ أَجْمَعَ كِتَابٍ صُنِّفَ في بَابهِ، وَأَضْبَطَ لِشَوَارِدِ الأَحَادِيثِ وَأَوَابِدِهَا.
وَلَمَّا سَلَك رضي الله عنه طَرِيقَ الاختِصَارِ، وَحذَفَ الأَسَانِيدَ؛ تَكَلَّمَ فِيهِ بَعْضُ النُّقَّادِ، وَإنْ كَانَ نَقْلَهُ وَأنَّهُ مِنَ الثِّقَاتِ كَالإِسْنَادِ، لَكِنْ لَيْسَ مَا فِيهِ أَعْلَامٌ كَالأَغْفَالِ؛ فَاسْتَخَرْتُ الله تَعَالَى، وَاسْتَوْفَقْتُ مِنْهُ، فَأَعْلَمْتُ مَا أَغْفَلَهُ؛ فَأَوْدَعْتُ كُلَّ حَدِيثٍ مِنْهُ في مَقَرِّهِ كَمَا رَوَاهُ الأَئِمَّةُ المُتْقِنُون، وَالثِّقَاتُ الرَّاسِخُون، مِثْلُ أَبِي عَبْدِ الله مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ البُخَارِيِّ، وَأَبِي الحُسَيْن مُسْلِمِ بْنِ الحَجَّاجِ القُشَيْرِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ الله مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ الأَصْبَحِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ الله مُحَمَّدِ بْنِ إدْرِيس الشَّافِعِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ الله أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ الشَّيْبَانِيِّ، وَأَبِي عِيسَى مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى التِّرْمِذِيِّ، وَأَبِي دَاوُدَ سُلَيْمَانَ بْنِ الأَشْعَثِ السّجِسْتَانِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ الرَّحْمنِ أَحْمَدَ بْنِ شُعَيْبٍ النَّسَائِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ الله مُحَمَّدِ بْنِ يَزِيدَ ابْنِ مَاجَه القَزْوِينيِّ، وَأَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الله بْنِ عَبْدِ الرَّحْمنِ الدَّارَمِيِّ، وَأَبِي الحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ عُمَرَ الدَّارَقُطْنِيِّ، وَأَبِي بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنِ الحُسَيْنِ البَيْهَقِيِّ، وَأَبِي الحَسَنِ رَزِينِ بْنِ مُعَاوِيةَ العَبْدَرِيِّ
(1)، وَغَيْرِهِمْ، وَقَلِيلٌ مَا هوَ-.
وَإنِّي إِذَا نَسَبْتُ الحَدِيثَ إلَيْهِمْ كَأَنِي أَسْنَدْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم؛ لأنَّهُمْ قَدْ فَرَغُوا مِنهُ، وَأَغَنُوْنَا عَنَهُ
(2).
وَسَرَدْتُ الكُتُبَ وَالأَبْوَابَ كَمَا سَرَدَهَا، وَاقْتَفَيْتُ أَثَرَهُ فِيهَا، وَقَسَّمْتُ كُلَّ بَابٍ -غَالِبًا- عَلَى فُصُولٍ ثَلَاثَةٍ:
এবং ইমাম মুহিউস সুন্নাহ, বিদআত নির্মূলকারী, আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ আল-ফাররা আল-বাগাউয়ি—আল্লাহ তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন—কর্তৃক সংকলিত "আল-মাসাবিহ" গ্রন্থটি ছিল স্বীয় বিষয়ে সংকলিত সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ এবং হাদীসের দুর্লভ ও অপরিচিত বর্ণনা সংকলনে অত্যন্ত সুসংহত।
এবং তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যখন সংক্ষেপণের পথ অবলম্বন করলেন এবং সনদসমূহ বিলোপ করলেন, তখন কতিপয় সমালোচক এ বিষয়ে কথা বললেন। যদিও তাঁর উদ্ধৃতি এবং তাঁর বিশ্বস্ততা স্বয়ং সনদের মতোই নির্ভরযোগ্য, তবুও চিহ্নযুক্ত বিষয় আর চিহ্নহীন বিষয় সমান নয়। অতঃপর আমি মহান আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করলাম এবং তাঁর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করলাম। এরপর তিনি যা বাদ দিয়েছিলেন তা আমি উল্লেখ করে দিলাম এবং প্রত্যেক হাদীসকে তার যথাস্থানে স্থাপন করলাম, যেভাবে তা সুনিপুণ ইমামগণ এবং সুদৃঢ় বিশ্বস্ত আলেমগণ বর্ণনা করেছেন; যেমন—আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী, আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরী, আবু আব্দুল্লাহ মালিক ইবনে আনাস আল-আসবাহি, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিঈ, আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল আশ-শাইবানি, আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিযী, আবু দাউদ সুলায়মান ইবনে আল-আশআস আস-সিজিস্তানি, আবু আব্দুর রহমান আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ী, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মাজাহ আল-কাযওয়িনি, আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দারিমি, আবু আল-হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারা কুতনি, আবু বকর আহমদ ইবনে আল-হুসাইন আল-বাইহাকী, আবু আল-হাসান রাযীন ইবনে মুয়াবিয়া আল-আবদারি
(১) এবং অন্যান্যগণ—আর তা সামান্যই।
আমি যখন হাদীসকে তাঁদের দিকে সম্বন্ধ করি, তখন মনে হয় যেন আমি তা সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকেই সনদসহ পৌঁছে দিলাম; কারণ তাঁরা এ কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং আমাদের অভাব মোচন করেছেন
(২)।
আর আমি কিতাব ও পরিচ্ছেদসমূহ সেভাবেই বিন্যস্ত করেছি যেভাবে তিনি করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে আমি তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি। আমি প্রতিটি পরিচ্ছেদকে—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—তিনটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
أَوَّلُهَا: مَا أَخْرَجَهُ الشَّيْخَانِ أَوْ أَحَدُهُمَا، وَاكْتَفَيْتُ بِهِمَا وَإنِ اشْتَرَكَ فِيِهِ الغَيْرُ؛ لِعُلُوِّ دَرَجَتِهِمَا فِي الرِّوَايَةِ-.
وَثَانِيهِمَا: مَا أَوْرَدَهُ غَيْرُهُمَا مِنَ الأَئِمَّةِ المَذِكُورِينَ.
وَثَالِثُهُمَا: مَا اشْتَمَلَ عَلَى مَعْنَى البَابِ مِنْ مُلْحَقَاتٍ مُنَاسِبَةٍ مَعَ مُحَافَظَةٍ عَلَى الشرِيطَةِ، وَإِنْ كَانَ مَاَثُورًا عَنِ السَّلَفِ وَالخَلَفِ.
ثُمَّ إِنَّكَ إِنْ فَقَدْتَ حَدِيثًا في بَابٍ؛ فَذلِكَ عَنْ تَكرِيرٍ أُسْقِطُة، وَإنْ وَجَدْتَ آخَرَ بَعْضَهُ مَتْرُوكًا عَلَى اخْتِصَارِهِ، أَوْ مَضْمُومًا إِلَيهِ تَمَامُهُ؛ فَعَنْ دَاعِي اهْتِمَامٍ أَتْرُكُهُ وَأُلْحِقُةُ، وَإنْ عَثَرْتَ عَلَى اختِلَافٍ في الفَصلَيْنِ مِنْ ذِكْرِ غَيْرِ الشَّيْخَيْنِ في الأَوَّلِ، وَذِكْرِهِمَا في الثَّانِي؛ فَاعْلَمْ أَنّي بَعْدَ تَتَبُّعِي كَتَابَي "الجَمْع بَيْنَ الصَّحِيحَيْنِ" لِلْحُمَيْدِيِّ، وَ"جَامِع الأُصُولِ"؛ اعْتَمَدْتُ عَلَى "صَحِيحَيِ" الشَّيْخَيْنِ وَمَتْنَيهِمَا.
وَإنْ رَأَيتَ اخْتِلَافًا في نَفْسِ الحَدِيثِ؛ فَذلِكَ مِنْ تَشَعُّبِ طُرُقِ الأَحَادِيثِ، وَلَعَلِّي مَا اطَّلَعْتُ عَلَى تِلْكَ الرّوَايَةِ التِي سَلَكَهَا الشَّيْخ رضي الله عنه.
وَقَلِيلًا مَا تَجدُ أَقُولُ: مَا وَجَدْتُ هذِهِ الرِّوَايَةَ في كُتُبِ الأُصولِ! أَوْ: وَجَدْتُ خِلَافَهَا فِيهَا! فَإِذَا وَقَفْتَ عَليْهِ فَانْسُبِ القُصُورَ إِلي؛ لِقِلّةِ الدِّرَايَةِ، لَا إِلَى جَنَابِ الشَّيْخ رَفَعَ الله قَدْرَهُ في الدَّارَيْنِ حَاشَا للهِ مِنْ ذلِكَ-.
رَحِمَ الله مَنْ إِذَا وَقَفَ عَلَى ذلِكَ نبَّهَنَا عَلَيْهِ، وَأَرْشَدَنَا طَرِيقَ الصَّوَابِ.
وَلَمْ آلُ جُهْدًا في التَّنْقِيرِ وَالتفْتِيشِ بَقَدْرِ الوُسعِ وَالطاقَةِ-، وَنَقَلْتُ ذلِكَ الاخْتِلَافَ كَمَا وَجَدْتُ.
وَمَا أَشَارَ إِلَيهِ رضي الله عنه مِنْ غَرِيبٍ أَوْ ضَعِيفٍ أَوْ غَيْرِهِمَا؛ بَيَّنْتُ وَجْهَهُ غَالِبًا، وَمَا لَمْ يُشِرْ إِلَيْهِ مِمَّا في الأُصُول؛ فَقَدْ قَفَّيْتُهُ في تَرْكِهِ، إِلَّا في مَوَاضِعَ لِغَرَضٍ.
وَرُبَّمَا تَجدُ مَوَاضِعَ مُهْمَلَةً، وَذلِكَ حَيْثُ لَمْ أَطَّلِعْ عَلَى رَاوِيهِ؛ فَتَرَكْتُ البَيَاضَ، فَإِنْ عَثَرتَ عَلَيْهِ فأَلْحِقْهُ بِهِ أَحْسَنَ الله جَزَاءَكَ-.
প্রথমত: যা শায়খাইন (ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম) অথবা তাঁদের কোনো একজন বর্ণনা করেছেন; বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদার কারণে আমি কেবল তাঁদের বর্ণনার ওপরই নির্ভর করেছি, যদিও অন্য কেউ সেই বর্ণনায় শরিক থাকুক না কেন।
দ্বিতীয়ত: উল্লেখিত ইমামগণের মধ্যে শায়খাইন ব্যতীত অন্য যাঁরা হাদীস বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয়ত: নির্ধারিত শর্তাবলি রক্ষা করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অতিরিক্ত তথ্যাদি যা অধ্যায়ের মূল অর্থের অন্তর্ভুক্ত, চাই তা সালাফ বা খালাফ (পূর্বসূরি বা উত্তরসূরি) থেকে বর্ণিত হোক না কেন।
অতঃপর, যদি আপনি কোনো অধ্যায়ে কোনো হাদীস খুঁজে না পান, তবে তা হবে পুনরাবৃত্তির কারণে যা আমি বর্জন করেছি। আর যদি কোনো হাদীসকে সংক্ষিপ্ত করার কারণে আংশিক বর্জিত দেখেন, অথবা তাতে পূর্ণাঙ্গ পাঠ সংযোজিত দেখেন, তবে তা গুরুত্বের দাবির প্রেক্ষিতেই আমি বর্জন করেছি বা সংযুক্ত করেছি। আর যদি আপনি প্রথম পরিচ্ছেদে শায়খাইন ব্যতীত অন্যের উল্লেখ এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তাঁদের (শায়খাইন) উল্লেখের ক্ষেত্রে কোনো বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করেন, তবে জেনে রাখুন যে, আমি হুমাইদীর 'আল-জাম'ু বাইনাস সাহিহাইন' এবং 'জামি'উল উসুল' গ্রন্থদ্বয় পর্যালোচনার পর শায়খাইনের 'সাহিহ' গ্রন্থদ্বয় এবং তাঁদের মূল পাঠের (মতন) ওপরই নির্ভর করেছি।
যদি আপনি মূল হাদীসের পাঠে কোনো পার্থক্য দেখেন, তবে তা হাদীসের সূত্রের বিভিন্নতার কারণে হতে পারে; সম্ভবত শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যে বর্ণনাটি গ্রহণ করেছেন তা আমি অবগত হতে পারিনি।
খুব সামান্য ক্ষেত্রেই আপনি আমাকে বলতে দেখবেন যে: "আমি এই বর্ণনাটি মূল গ্রন্থসমূহে খুঁজে পাইনি!" অথবা "আমি এর বিপরীতে অন্য কিছু পেয়েছি!" আপনি যদি এমন কিছুর সম্মুখীন হন, তবে সেই অপূর্ণতাকে আমারই স্বল্পজ্ঞানের দিকে সম্পৃক্ত করবেন, শায়খের সুউচ্চ মর্যাদার প্রতি নয়—আল্লাহ ইহকাল ও পরকালে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন—আল্লাহর নিকট এমন ধারণা থেকে পানাহ চাই।
আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন, যিনি এ জাতীয় ত্রুটি লক্ষ্য করলে আমাদের তা অবগত করবেন এবং সঠিক পথের দিশা দেবেন।
আমি সাধ্যানুযায়ী অনুসন্ধান ও গবেষণায় কোনো ত্রুটি করিনি এবং আমি সেই বৈসাদৃশ্যসমূহ ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করেছি যেভাবে তা পেয়েছি।
শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যে সকল 'গারিব' (দুর্লভ), 'যয়িফ' (দুর্বল) বা এ জাতীয় বর্ণনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটির কারণ স্পষ্ট করেছি। আর মূল গ্রন্থসমূহে থাকা যে সকল বিষয়ে তিনি ইঙ্গিত করেননি, আমিও সেগুলো বর্জনের ক্ষেত্রে তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি, তবে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে করা কিছু ব্যতিক্রম স্থান ব্যতীত।
সম্ভবত আপনি কিছু স্থান শূন্য বা অপূর্ণ পাবেন, আর তা হলো যেখানে আমি বর্ণনাকারী সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি; ফলে আমি সেখানে ফাঁকা জায়গা রেখেছি। আপনি যদি তা খুঁজে পান তবে তা সেখানে যুক্ত করে দেবেন, আল্লাহ আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
وَسَمَّيْتُ الكِتَابَ بِـ: "مِشْكَاةِ المَصَابِيحِ".
وَأَسْأَلُ الله التَّوْفِيقَ وَالإعَانَةَ، وَالهِدَايَةَ وَالصِّيَانَةَ، وَتَيْسِيرَ مَا أَقْصِدُهُ، وَأَنْ يَنْفَعَنِي في الحَيَاةِ وَبَعْدَ المَمَاتِ، وَجَمِيعَ المُسْلِمينَ وَالمُسْلِمَاتِ.
حَسْبِيَ الله وَنَعْمَ الوَكِيلِ.
وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوّةَ إلَّا بِالله العَزِيزِ الحَكِيمِ.
আমি গ্রন্থটির নামকরণ করেছি "মিশকাতুল মাসাবীহ"।
আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সহায়তা, হিদায়াত ও সুরক্ষা এবং আমার অভীষ্ট লক্ষ্যের সহজসাধ্যতা প্রার্থনা করছি; আর (প্রার্থনা করছি যেন) তিনি আমাকে এবং সকল মুসলিম নর-নারীকে ইহকালে ও পরকালে উপকৃত করেন।
আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
মহা পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
مُقَدِّمَةُ الحَافِظِ صَدْرِ الدِّينِ المُنَاوِيِّ لِكِتَابِهِ "كَشْفِ المَنَاهِجِ وَالتَّنَاقِيحِ في تَخْرِيجِ أَحَادِيثِ المَصَابِيح"
بسم الله الرحمن الرحيم
الحَمْدُ لِلَّهِ كَاشِفِ مَصَابِيح الهُدَى، وَجَاعِلِهَا نَجَاةً لِمَنِ اسْتَضَاءَ بِهَا وَاهْتَدَى؛ الَّذِي هَدَى قُلُوبَ أَوْليَائِهِ بَاقْتِفَاءِ آثَارِ نَبِيِّهِ المُصْطَفَى، وَرَسُولِهِ المُجْتَبَى، صلَّى الله عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ- أَهْلِ البِرِّ وَالوَفَا؛ صَلَاةً دَائِمَةً إِلَى يَوْمِ العَرْضِ وَالجَزَا.
أَمَّا بَعْدُ:
فَإِنَّ أَجْمَعَ المُصَنَّفَاتِ المُخْتَصَرَاتِ في الأَخْبَارِ النَّبَوِيَّة، وَأَحْسَنَ المُؤَلَّفَاتِ الجَامِعَاتِ لِلآثَارِ المُحَمَّدِيَّة؛ كِتَابُ "المَصَابِيحِ"، جَمع العَلَّامَةِ الإِمَامِ أَبِي مُحَمَّدٍ الحُسَيْنِ بْنِ مَسْعُودٍ البَغَوِيِّ شَكَرَ الله مَسْعَاه، وَجَعَلَ الجنةَ مَثْوَاه-.
وَهُوَ الكِتَابُ الذِي عَكَفَ عَلَيْهِ المُتَعَبِّدُون، وَاشْتَغَلَ بِتَدْرِيسِهِ الأَئِمَّةُ المُعْتَبَرُون، وَأَقَرَّ بِفَضْلِهِ وَتَقْدِيمِهِ الفُقَهَاءُ وَالمُحَدِّثُون، وَقَالَ بِتَمَيُّزِهِ المُوَافِقُونَ وَالمُخَالِفُون.
হাফেজ সদরুদ্দীন আল-মুনাওয়ী-র তাঁর গ্রন্থ "কাশফুল মানাহিজি ওয়াত তানাকিহি ফি তাখরিজি আহাদিসিল মাসাবিহ"-এর ভূমিকা
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি হিদায়াতের প্রদীপসমূহকে উন্মোচিতকারী এবং যারা সেই আলোতে আলোকিত ও পরিচালিত হয় তাদের জন্য একে মুক্তির মাধ্যম বানিয়েছেন; যিনি তাঁর মনোনীত নবী ও নির্বাচিত রাসূলের পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে তাঁর প্রিয় বান্দাদের অন্তরসমূহকে হিদায়াত দান করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পুণ্যবান ও অনুগত পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক; এমন রহমত যা হাশর ও প্রতিদান দিবস পর্যন্ত চিরস্থায়ী হবে।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই নববী সংবাদসমূহের সংক্ষিপ্ত সংকলনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং মুহাম্মদী নিদর্শনাবলির সর্বজনীন রচনার মধ্যে সর্বোত্তম হলো "আল-মাসাবিহ" গ্রন্থটি; যা সংকলন করেছেন আল্লামা ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন বিন মাসউদ আল-বাগাওয়ী—আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং জান্নাতকে তাঁর আবাসস্থল করুন—।
এটি এমন এক গ্রন্থ যার প্রতি ইবাদতগুজার ব্যক্তিগণ নিবিষ্ট হয়েছেন, বরণীয় ইমামগণ যার পাঠদানে ব্যাপৃত থেকেছেন, ফকীহ ও মুহাদ্দিসগণ যার শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগণ্যতা স্বীকার করেছেন এবং এর অনন্য বৈশিষ্ট্যের কথা এর সমর্থক ও বিরোধী নির্বিশেষে সকলেই ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
لَكِنَّهُ لِطَلَبِ الاخْتِصَار لَم يَذْكُرْ كَثِيرًا مِنَ الصَّحَابَةِ رُوَاةِ الآثَار، وَلَا تَعَرَّضَ لِتَخْرِيجِ تِلْكَ الأَخْبَار، بَل اصْطَلَحَ عَلَى أَنْ جَعَلَ الصِّحَاحَ هُوَ مَا في "الصَّحِيحَيْنِ" أَوْ أَحَدِهِمَا-، وَالحِسَانَ مَا لَيْسَ في واحدٍ مِنْهُمَا.
وَالْتَزَمَ أَنَّ مَا كَانَ مِنْ ضَعِيفٍ نَبَّهَ عَلَيْهِ، وَأَنَّ مَا كَانَ مُنْكَرًا أَوْ مَوْضُوعًا لَمْ يَذْكُرْهُ، وَلَا يشِيرُ إِلَيْهِ، فَوَقَعَ لَهُ بَعْدَ ذلِكَ أَنْ ذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنَ الصِّحَاحِ وَلَيْسَتْ في وَاحِدٍ مِنَ "الصِّحِيحَيْنِ"! وَأَحَادِيثَ مِنَ الحِسَان وَهِيَ في أَحَدِ "الصُّحِيحَيْنِ"!! وَأَدْخَلَ في الحِسَانِ أَحَادِيثَ وَلَمْ يُنَبِّهْ عَلَيْهَا وَهِيَ ضَعِيفةٌ وَاهِيَة؛ وَرُبَّمَا ذَكَرَ أَحَادِيثَ مَوْضُوعَةً في غَايَةِ السُّقُوطِ مُتَنَاهِيَهَ.
فَجَعَلْتُ مَوْضُوعَ كِتَابِي هذَا لِتَخْرِيجِ أَحَادِيثِهِ، وَنِسْبَةِ كُلِّ حَدِيثٍ إِلَى مُخَرِّجهِ مِنْ أَصْحَابِ الكُتُبِ السِّتَّةِ: "صَحِيحَيِ" البُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ، وَأَبِي دَاوُدَ، وَالتِّرْمِذِيِّ، وَالنًّسَائِيِّ، وَابْنِ مَاجَه إِنْ كَانَ فِيهَا، أَوْ في شَيْءٍ مِنْهَا-، وَرُبَمَّا أُضِيفُ إِلَيْهَا غَيْرَهَا.
فِإنْ لَمْ يَكُن الحَدِيثُ في شَيْءٍ مِنَ الكُتبِ السِّتةِ: خَرَّجْتُهُ مِنْ غَيْرِهَا؛ كـ "مُسْنَدِ الشَّافِعِيِّ"، وَ"مُوَطَّإِ مَالِكٍ"، وَ"مُسْنَدِ الإِمَامِ أَحمَدَ"، وَ"مُسْنَدِ الدَّارِمِيِّ"، وَلا أَبِي يَعْلَى الموصِليِّ"، وَ"سُنَنِ الدَّارَقُطنِيِّ"، وَ"سُنَنِ البَيهَقِيِّ"، وَ"شُعَبِ الإِيمَان" لَهُ-، وَ"دَلَائِلِ النُّبُوَّةِ" لَهُ-، وَ"صَحِيحِ ابْنِ حِبَّانَ البُسْتِيِّ"، وَ"مُسْتَدْرَكِ الإِمَامِ أَبِي عَبْدِ اللَّه الحَاكِمِ"، وَغَيْرِ ذلِكَ مِنْ مَسَانِيدِ الأَئِمَةِ المُعْتَبَرِين، وَالعُلَمَاءِ المُتَقَدِّمِين.
وَأُبيِّنُ الصَّحِيحَ، وَالحَسَنَ، وَالضَّعِيفَ، وَالمُسْنَدَ، وَالمُتَّصِلَ، وَالمَرْفُوعَ، وَالمَوْقُوفَ، وَالمَقْطُوعَ، وَالمُنْقَطِعَ، وَالمُعْضَلَ، وَالمُرْسَلَ، وَالشَّاذَّ، وَالمُنْكَرَ، وَالغَرِيبَ، وَالعَزِيزَ، وَالمَشْهُورَ، وَالُمعَلَّلَ، وَالمُضطَرِبَ، وَالمَوْضُوعَ، وَالناسِخ، وَالمُنْسُوخ.
وَأُبَيِّنُ جَرْحَ رُوَاتِهِ وَتَعْدِيلَهُمْ مِنْ كَلَامِ أَئِمَّةِ الجَرْحِ وَالتعْدِيلِ-، وَأَذْكُرُ اسْمَ الصُّحَابِيِّ الرَّاوِي، وَرُبَّمَا أَذْكُرُ غَيْرَهُ مِنْ رُوَاتِهِ- لأَمْرٍ اقْتَضَى ذلِكَ-، وَأُضِيفُ تَوْثِيقَ كُلِّ رَاوٍ أَوْ
কিন্তু তিনি সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আছারের বর্ণনাকারী অনেক সাহাবীর কথা উল্লেখ করেননি, আর সেই সংবাদগুলোর তাখরিজ (সূত্র নির্দেশ) করার প্রতিও মনোনিবেশ করেননি; বরং তিনি এই পরিভাষা গ্রহণ করেছেন যে, ‘সহিহ’ হলো যা ‘সহিহাইন’ (বুখারি ও মুসলিম) বা এই দুটির কোনো একটিতে রয়েছে, আর ‘হাসান’ হলো যা এই দুটির কোনোটিতেই নেই।
তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন যে, যা কিছু দুর্বল হবে তিনি সে বিষয়ে সতর্ক করবেন, আর যা মুনকার বা মাউজু (জাল), তা তিনি উল্লেখ করবেন না এবং সেদিকে ইঙ্গিতও করবেন না। কিন্তু এরপরও তার ক্ষেত্রে এমন ঘটেছে যে, তিনি সহিহ পর্যায়ের কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন অথচ তা ‘সহিহাইন’-এর কোনোটিতেই নেই! আবার হাসান পর্যায়ের এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন যা ‘সহিহাইন’-এর কোনো একটিতে রয়েছে!! এছাড়া তিনি হাসান হাদিসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এমন সব হাদিস যেগুলোর দুর্বলতা সম্পর্কে সতর্ক করেননি, অথচ সেগুলো অত্যন্ত দুর্বল ও অসার; এমনকি কখনও কখনও তিনি অত্যন্ত নিম্নমানের চূড়ান্ত পর্যায়ের জাল হাদিসও উল্লেখ করেছেন।
তাই আমি আমার এই কিতাবের বিষয়বস্তু নির্ধারণ করেছি তার হাদিসসমূহের তাখরিজ করা এবং প্রতিটি হাদিসকে ‘সুনানে সিত্তা’ বা ছয়টি কিতাবের সংকলকদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা—যদি তা এগুলোতে বা এগুলোর কোনো একটিতে বিদ্যমান থাকে। কিতাবগুলো হলো: বুখারি ও মুসলিমের ‘সহিহাইন’, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ। কখনও কখনও আমি এগুলোর বাইরে অন্যান্য কিতাবও যুক্ত করব।
যদি হাদিসটি ছয়টি কিতাবের কোনোটিতে না থাকে, তবে আমি তা অন্যান্য কিতাব থেকে তাখরিজ করেছি; যেমন: ‘মুসনাদে শাফিঈ’, ‘মুয়াত্তা মালেক’, ‘মুসনাদে ইমাম আহমাদ’, ‘মুসনাদে দারেমি’, ‘মুসনাদে আবু ইয়ালা আল-মাওসেলি’, ‘সুনানে দারা কুতনি’, ‘সুনানে বায়হাকি’ এবং তাঁর প্রণীত ‘শুআবুল ইমান’ ও ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’, ‘সহিহ ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি’, ‘ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের মুসতাদরাক’ এবং এ ছাড়া নির্ভরযোগ্য ইমাম ও প্রাচীন আলেমগণের অন্যান্য মুসনাদ গ্রন্থসমূহ।
এবং আমি বর্ণনা করব সহিহ, হাসান, জঈফ, মুসনাদ, মুত্তাসিল, মারফু, মাওকুফ, মাকতু, মুনকাতি, মুদাল, মুরসাল, শায, মুনকার, গরিব, আজিজ, মাশহুর, মুআল্লাল, মুজতারিব, মাউজু, নাসিখ এবং মানসুখ হাদিস।
আর আমি জারহ ও তাদিলের ইমামগণের বক্তব্যের আলোকে বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি ও নির্ভরযোগ্যতা বর্ণনা করব। আমি বর্ণনাকারী সাহাবীর নাম উল্লেখ করব, এবং কোনো বিশেষ প্রয়োজনে হয়তো অন্যান্য বর্ণনাকারীর নামও উল্লেখ করব। আর আমি প্রতিটি বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা অথবা...
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
تَجْرِيحَهُ إلَى مَنْ وَثقَهُ أَوْ جَرَّحَهُ، وَكُلَّ حَدِيث إِلَى مَن رَوَاهُ، وَفِي أَيِّ بَابٍ أَخْرَجَهُ؛ لِيَسْهُلَ مُرَاجَعَةُ أَصُولِهِ مَعَ شَرِيطَةِ الاخْتِصَارِ؛ فَإِنَّ الإِطَالَةَ تُورِثُ السَّآمَةَ.
وَإذَا كَانَ الحَدِيثُ في "الصَّحِيحَيْنِ" -أَوْ في أَحَدِهِمَا-: عَزَوْتُهُ إِلَيْهِ، وَجَعَلَتُ تَخْرِيجَ غَيْرِهِ كَالنَّافِلَةِ عَلَيْهِ، وَمَا لَيْسَ في وَاحِدٍ مِنَ "الصَّحِيحَيْنِ" إِنْ صَحَّحَهُ إِمَامٌ مَعْتَبَرٌ، أَوْ ضَعَّفَهُ اكتَفَيتُ بِنَقْلِ تَصْحِيحِهِ أَوْ تَضعِيفِهِ عَنْه.
وَإنْ لَمْ أَقِفْ عَلَى تَصْحِيح لِذلِكَ الحَدِيثِ وَلَا تَضْعِيفٍ؛ فَإنْ كَانَ في "أَبِي دَاوُدَ"- وَسَكَتَ عَلَيْهِ- فَهُوَ صَالِحٌ لِلاحْتِجَاجِ؛ فَأَنْسِبُهُ إِلَيْهِ، وَأَقُولُ: إِنَّهُ سَكَتَ عَلَيْهِ؛ لِيَعْلَمَ النَّاظِرُ أنَّهُ صَالِح لِلاحْتِجَاجِ؛ لأنَّهُ قَدْ جَاءَ عَنْهُ أنَّهُ يَذْكُرُ الصَّحِيحَ، وَمَا يُشْبِهُهُ وَيُقَارِبُهُ، وَمَا كَانَ فِيهِ وَهْنٌ شَدِيدٌ بَيَّنَهُ، وَمَا لَمْ يَذْكُرْ فِيهِ شَيْئًا فَهُوَ صَالِحٌ.
وِإنْ لَمْ يَكُنِ الحَدِيثُ في "أَبِي دَاوُدَ"، وَلَمْ يُصَحِّحْهُ إِمَامٌ، وَلَا ضَعَّفَهُ: اعْتَبَرْتُ سَنَدَهُ، وَتَكَلَّمْتُ عَلَى رِجَالِهِ، وَكَشَفْتُ حَالَ مَنْ يَحْتَاجُ الحَدِيثُ إِلَى كَشْفِهِ.
وَحَيْثُ أَقُولُ: رَوَاهُ الثَّلَاثَةُ؛ فَهُمْ: أبو دَاوُدَ، وَالتِّرْمِذِيُّ، وَالنِّسَائِيُّ.
وَحَيْث أَقُولُ: رَوَاهُ الأَرْبَعَةُ؛ فَهُمْ مَعَ ابْنِ مَاجَه-.
وَحَيْثُ أَقُولُ: رَوَاهُ الجَمَاعَةُ؛ فَهُمْ مَعَ البُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ-.
وَقَدْ أَتَعَرَّضُ إِلَى ضَبْطِ أَلْفَاظِ الحَدِيثِ إِذَا كَانَ يَحْتَاجُ إِلَى ذلِكَ-، وَكَذلِكَ اسْمُ الرَّاوِي.
وَأَتَعَرَّضُ أَيْضًا إِلَى ذِكْرِ فَوَائِدَ مُهِمَّات، وَإلَى تَنْبِيهَات؛ كَالتَّتِمَّات، وَإلَى بِيَانِ أَوْهَامٍ وَقَعَتْ لِبَعْضِ أَصْحَابِ الرِّوَايَات.
وَأَرْجُو إنْ تَمَّ هذَا الكِتَابُ أَنْ يَكُونَ كَافِيًا لِلْمُتَعَبِّدِينَ في طَلَبِ الصَّوَابِ، وَعُمْدَةً لِلْفُقَهَاءِ في الاسْتِدْلَال، وَمُوصِلًا لَهُمْ إِلَى أَقصَى الآمَال، وَقَدْ سَمَّيْتهُ: "كَشْفَ المَنَاهِجِ وَالتَنَاقِيحِ في تَخْرِيجِ أَحَادِيثِ المَصَابِيح".
আমি বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা বা অযোগ্যতা সম্পর্কিত মন্তব্য সেই ইমামদের দিকে সম্বন্ধিত করেছি যারা তাদের বিশ্বস্ত ঘোষণা করেছেন কিংবা তাদের সমালোচনা করেছেন। প্রতিটি হাদিসকে তার বর্ণনাকারীর দিকে এবং কোন অধ্যায়ে এটি সংকলিত হয়েছে তার দিকে নিসবত করেছি; যাতে সংক্ষিপ্ততার শর্ত রক্ষা করে মূল উৎসগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন সহজ হয়। কেননা, দীর্ঘসূত্রতা বিরক্তির উদ্রেক করে।
যদি কোনো হাদিস ‘সহিহাইন’ (বুখারি ও মুসলিম) অথবা এর যেকোনো একটিতে থাকে, তবে আমি তা তাদের দিকেই সম্বন্ধিত করেছি এবং অন্যদের উদ্ধৃতিকে এর অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করেছি। আর যা ‘সহিহাইন’-এর কোনোটিতে নেই, তবে কোনো নির্ভরযোগ্য ইমাম যদি তা সহিহ বা জইফ বলে থাকেন, তবে আমি তাঁর পক্ষ থেকে কেবল সেই সহিহ বা জইফ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করার ওপরই নির্ভর করেছি।
আর যদি আমি সংশ্লিষ্ট হাদিসটির সহিহ বা জইফ হওয়ার ব্যাপারে কোনো মন্তব্যের নাগাল না পাই, তবে তা যদি ‘আবু দাউদ’-এ থাকে এবং তিনি সে বিষয়ে নীরব থাকেন, তবে সেটি দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য। এমতাবস্থায় আমি হাদিসটি তাঁর দিকে সম্বন্ধিত করি এবং বলি যে, ‘তিনি এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন’; যাতে পাঠক জানতে পারে যে এটি দলিলের যোগ্য। কারণ ইমাম আবু দাউদ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর গ্রন্থে সহিহ, সহিহের সদৃশ ও কাছাকাছি হাদিসগুলো উল্লেখ করেন। আর যে হাদিসে চরম দুর্বলতা থাকে তা তিনি বর্ণনা করেন এবং যে ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করেন না, তা দলিল হিসেবে গ্রহণের উপযোগী।
কিন্তু হাদিসটি যদি ‘আবু দাউদ’-এ না থাকে এবং কোনো ইমামও সেটিকে সহিহ বা জইফ না বলে থাকেন, তবে আমি তার সনদের ওপর নির্ভর করি এবং বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আলোচনা করি। আর হাদিসটির মান নির্ধারণে যাঁর অবস্থা উন্মোচন করা প্রয়োজন, তাঁর অবস্থা আমি স্পষ্ট করে দেই।
যেখানে আমি বলব: ‘তিনজন এটি বর্ণনা করেছেন’, তখন উদ্দেশ্য হবেন: আবু দাউদ, তিরমিজি এবং নাসায়ি।
যেখানে আমি বলব: ‘চারজন এটি বর্ণনা করেছেন’, তখন উদ্দেশ্য হবে ইবনে মাজাহ-সহ পূর্বোক্ত তিনজন।
যেখানে আমি বলব: ‘জামাআত এটি বর্ণনা করেছেন’, তখন পূর্বোক্তদের সাথে বুখারি ও মুসলিমও অন্তর্ভুক্ত হবেন।
ক্ষেত্রবিশেষে হাদিসের শব্দের সঠিক উচ্চারণ ও বিন্যাসের বিষয়টিও আমি তুলে ধরেছি যদি তার প্রয়োজন হয়; একইভাবে বর্ণনাকারীর নামের ক্ষেত্রেও তা করা হয়েছে।
এছাড়াও আমি গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা ও পরিশিষ্টের মতো সতর্কবার্তা উল্লেখ করেছি এবং হাদিস বর্ণনাকারীদের মধ্যে কারো কারো ক্ষেত্রে যে সমস্ত ভ্রম বা বিভ্রান্তি ঘটেছে তা স্পষ্ট করেছি।
আমি আশা করি, এই গ্রন্থটি যদি সমাপ্ত হয় তবে তা সঠিক পথের অনুসারী ইবাদতগুজারদের জন্য যথেষ্ট হবে, ফকিহদের জন্য দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হবে এবং তাদের সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষায় পৌঁছাতে সহায়ক হবে। আমি এর নামকরণ করেছি: ‘কাশফুল মানাহিজ ওয়াত তানাকিহ ফি তাখরিজি আহাদিসিল মাসাবিহ’।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وَالله يَجْعَلُهُ أَحْسَنَ زَادٍ إِلَى المَسِيرِ إِلَيْه، وَأَعْظَمَ عُدَّةٍ لِيَوْمِ القُدُومِ عَلَيْه؛ فَإِنّهُ تَعَالَى بِكُلِّ خَيْرٍ كَفِيل، وَهُوَ حَسْبُنَا وَنِعْمَ الوَكِيل.
وَهَا أَنَا أَذْكُرُ مُقَدِّمَةً تُشْتَمِلُ عَلَى ثَلَاثَةِ فُصُولٍ:
الفَصْلُ الأَوَّلُ: في ذِكْرِ تَرْجَمَةَ البَغَوِيِّ؛ لِيُعْرَفَ قَدْرُ جَلَالِهِ.
الفَصْلُ الثَّانِي: في ذِكْرِ طَرَفٍ مِنْ بَيَانِ أَلْفَاظٍ قَدَّمْنَا ذِكْرَهَا اصْطَلَحَ عَلَيْهَا المُحَدِّثُونَ لَا بُدَّ مِنْ مَعْرِفَتِهَا؛ لِتَكُونَ عَوْنًا لِلناظِرِ في هذَا التَّألِيفِ.
الفَصْلُ الثالِثُ: في نَصِّ خُطْبَةِ "المَصَابِيحِ"، وَمَا الْتَزَمَهُ في غُرَّةِ دِيبَاجَتِهِ لِيُعْلَمَ مَضْمُونُ قَرَارِه، وَمَكْنُونُ مَصُونِ أَسْرَارِه؛ حَتى لَا يَخْلُوَ هذَا الكِتَابُ عَنْ مَجْمُوعِ مَا في "المَصَابِيحِ".
আর আল্লাহ তাআলা একে তাঁর পানে যাত্রার শ্রেষ্ঠ পাথেয় এবং তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার দিনের সর্বোত্তম প্রস্তুতি হিসেবে কবুল করুন; কেননা মহান আল্লাহ সকল কল্যাণের জিম্মাদার এবং তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।
আর এখন আমি একটি ভূমিকা উল্লেখ করছি যা তিনটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম বাগভীর জীবনী প্রসঙ্গে; যাতে তাঁর মর্যাদার বিশালতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যায়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় ব্যবহৃত কতিপয় শব্দের সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি; এগুলোর জ্ঞান থাকা অপরিহার্য যেন তা এই গ্রন্থের পাঠকের জন্য সহায়ক হয়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: 'মাছাবীহ' গ্রন্থের মূল ভূমিকা এবং এর গৌরচন্দ্রিকায় তিনি যা বর্ণনা করেছেন তার বর্ণনায়; যেন এর বিষয়বস্তুর হাকীকত এবং এতে নিহিত নিগুঢ় রহস্যসমূহ অবগত হওয়া যায়, যাতে এই কিতাবটি 'মাছাবীহ'-এর সামগ্রিক বিষয়বস্তু থেকে শূন্য না থাকে।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
الفَصْلُ الأوَّلُ
فَى ذِكرِ طَرَفٍ مِنْ أَحْوَاِلهِهُوَ الإِمَامُ أبو مُحَمَّدٍ الحُسَيْنُ بْن مَسْعُودٍ الفَرَّاءُ البَغَوِيُّ.
إِمَامُ الأَئِمَةِ بِلَا مُنَازَعَة، وَمُحْيي السُّنَّةِ بَلَا مُدَافَعَة، صَنَّفَ كِتَابَ "شَرْحِ السُّنَّةِ"، وَالتَّفْسِيرِ المُسَمَّى بـ "مَعَالِمِ التُّنْزِيلِ"، وَ"التَّهْذِيبِ"؛ الَّذِي فَاقَ بِهِ المصَنِّفِين، وَاغْتَرَفَ مِنْ بَحْرِهِ جَمِيعُ المُتَأخِّرِين.
وَلَهُ فَتاوٍ مَشْهُورَةٌ لِنَفْسِهِ غَيْرُ "فَتَاوِي القَاضِي الحسَين" الَّتِي عَلَّقَهَا هُوَ عَنْهُ-.
وَكَانَ إَمَامًا جَلِيلًا، وَرِعًا، زَاهدًا، فَقِيهًا، مُحَدِّثًا، مُفَسِّرًا، جَامِعًا بَيْنَ العِلْمِ وَالعَمَلِ، سَالِكًا سَبيلَ السَّلَفِ، لَهُ في الفَقْهِ اليَدُ البَاسِطَةُ.
تَفَقَّهَ عَلَى القَاضِي الحُسَيْنِ؛ وَهُوَ أَخَصُّ تَلَامِذَتِهِ، وَكَانَ رَجُلًا مخْشَوْشِنًا يَأكُلُ الخُبْزَ وَحْدَهُ، فَعُذِلَ في ذلِكَ؛ فَصَارَ يَأكُلَهُ بِالزَّيْتِ.
سَمِعَ الحَدِيثَ مِنْ جَمَاعَاتٍ، مِنْهُمْ: أبو عُمَرَ عَبْدُ الوَاحِدِ المَلِيحِيُّ، وَأبو الحَسَنِ عَبْدُ الرَّحَمنِ بْنُ مَحَمَّدٍ الدَّاوُودِيُّ، وَأبو بَكْرٍ يَعُقُوبُ بْنُ أَحَمْدَ الصَّيْرَفِيُّ، وَأبو الحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ يُوسُفَ الجُوينِيُّ، وَغَيْرُهُمْ.
وَرَوَى عَنْهُ جَمَاعَاتٌ؛ آخِرُهُمْ: أبو المَكَارِمِ فَضْلُ الله بْنُ مُحَمَّدٍ النَّوْقَانِيُّ، رَوَى عَنْهُ بِالإِجَازَةِ، وَبَقِيَ إِلَى سَنَةِ سِتِّ مِئَةٍ، وَأَجَازَ لِقَاضِي القُضَاةِ أَبِي الفَرَجِ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ أَبِي عُمَرَ بْنِ قُدَامَةَ، وَلأَبِي الحَسَنِ عَلَيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبدِ الوَاحِدِ بْنِ البُخَارِيِّ.
فَرُوِّينَا نَحْنُ تَصَانِيفَهُ عَنْ جَمَاعَاتٍ مِنْ أَصْحَابِ ابْنِ قُدَامَةَ، وَالفَخْرِ بنِ البُخَارِيِّ؛ مِنْهُمُ: الشَّيْحُ الإِمَامُ المُعَمَّرُ صَدْرُ الدِّينِ مُحَمُّدُ بْنُ مُحَمَّد بْنِ إِبْرَاهِيمَ المَيْدُومِيُّ؛ فَوَقَعَ لَنَا هذَا
প্রথম পরিচ্ছেদ:
তাঁর জীবনের কিছু দিক সম্পর্কে আলোচনাতিনি হলেন ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন বিন মাসউদ আল-ফাররা আল-বাগাউয়ি।
তিনি ছিলেন ইমামগণের সর্বজনস্বীকৃত ইমাম এবং সুন্নাহর অপ্রতিদ্বন্দ্বী পুনরুজ্জীবনকারী। তিনি "শারহুস সুন্নাহ", "মাআলিমুত তানজিল" নামক তাফসির এবং "আত-তাহজিব" গ্রন্থ রচনা করেছেন; যার মাধ্যমে তিনি অন্যান্য গ্রন্থকারদের ছাড়িয়ে গেছেন এবং পরবর্তীকালের সকল আলিম তাঁর ইলমের সমুদ্র হতে উপকৃত হয়েছেন।
"ফাতাওয়া আল-কাজি আল-হুসাইন" (যা তিনি নিজেই সংকলন করেছিলেন) ছাড়াও তাঁর নিজস্ব কিছু প্রসিদ্ধ ফতোয়া রয়েছে।
তিনি ছিলেন একজন সুমহান ইমাম, পরহেজগার, দুনিয়াবিমুখ, ফকিহ, মুহাদ্দিস ও মুফাসসির। তিনি ইলম ও আমলের সার্থক সমন্বয়কারী এবং সালাফদের পথের অনুসারী ছিলেন। ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও বিশেষ দক্ষতা ছিল।
তিনি কাজি আল-হুসাইনের নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন এবং তিনি ছিলেন তাঁর বিশেষ ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি অত্যন্ত কৃচ্ছ্রসাধক জীবনযাপন করতেন; শুধু শুকনো রুটি খেতেন। এ বিষয়ে তাঁকে অনুরোধ করা হলে পরবর্তীতে তিনি রুটির সাথে জয়তুনের তেল খেতে শুরু করেন।
তিনি বহু সংখ্যক আলিমের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহি, আবু আল-হাসান আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আদ-দাউদি, আবু বকর ইয়াকুব বিন আহমদ আস-সাইরাফি, আবু আল-হাসান আলী বিন ইউসুফ আল-জুওয়াইনি এবং আরও অনেকে।
তাঁর থেকে একদল রাবি বর্ণনা করেছেন, যাঁদের মধ্যে সর্বশেষ ছিলেন আবু আল-মাকারিম ফাদলুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আন-নাউকানি। তিনি ইজাজতের মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং হিজরি ছয়শো সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। এছাড়া তিনি প্রধান বিচারপতি আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আবি উমর বিন কুদামা এবং আবুল হাসান আলী বিন আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-বুখারীকে ইজাজত প্রদান করেছেন।
আমরা তাঁর গ্রন্থাবলি ইবনে কুদামা এবং ফখর ইবনুল বুখারীর একদল ছাত্রের নিকট থেকে বর্ণনা করেছি; তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন দীর্ঘজীবী শায়খ ইমাম সদরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-মাইদুমি। এভাবে এই সনদটি আমাদের নিকট পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
الكِتَابُ عَالِيًا عَنِ الشَّيْخ صَدْرِ الدِّينِ المَيْدُومِيِّ، عَنْ قَاضِي القُضَاةِ ابْنِ قُدَامَةَ، وَالفَخْرِ بْنِ البُخَارِيِّ كِتَابَةً لَهُ-، كَلَاهُمَا عَنْ أَبِي المَكَارِمِ النُّوْقَانِيِّ، عَنِ المصَنِّفِ.
تُوُفّيَ البَغَوِيُّ في شَوَّالٍ سَنَةَ سِتَّ عَشْرَةَ وَخَمْسِ مِئَةٍ بِمَرْوَالرُّوذِ، وَبِهَا كَانَتْ إِقَامَتُهُ.
وَدُفِنَ عِنْدَ شَيْخِهِ القَاضِي الحُسَيْنِ.
قَالَ الذهَبِيِّ: وَلَمْ يَحُجُّ، وَأَظنهُ جَاوَزَ الثَّمَانِينَ.
وَمِنْ غَرَائِبِ مَسَائِلِهِ أنَّهُ قَالَ في "مَسَائِلِهِ" الَّتِي خَرَّجَهَا: لَوْ لَمْ يَكُنْ مَنْ يُصَلِّي عَلَى الميِّتِ إلَّا النِّسَاءُ لَمْ يَجِبْ عَلَيْهِنَّ!
وَقَالَ في "فَتَاوِيهِ": مَنْ لَا جُمُعَةَ عَلَيْهِ إِذَا حَضَرَهَا وَأَرَادَ أَنْ يُصَلِّي الظُّهْرَ خَلْفَ الإِمَامِ: فَإِنْ كَانَ صَبِيًّا جَازَ، وِإنْ
(1) كَانَ بَالِغًا لَمْ يَجُزْ!
গ্রন্থটি উচ্চ সনদে শেখ সদরুদ্দীন আল-মাইদুমি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি কাজিউল কুদাত ইবনু কুদামা এবং ফখর বিন বুখারি—তাঁর প্রতি লিখিত ইজাজত বা অনুমতির মাধ্যমে—উভয় থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা দুজনেই আবুল মাকারিম আন-নুওকানি থেকে এবং তিনি গ্রন্থকারের থেকে বর্ণনা করেছেন।
আল-বাগাবি ৫১৬ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে মারওয়ুর-রূজ নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই তাঁর স্থায়ী নিবাস ছিল।
তাঁকে তাঁর উস্তাদ কাজি আল-হুসাইনের পাশে দাফন করা হয়।
আয-যাহাবি বলেন: তিনি হজ পালন করেননি এবং আমার ধারণা তিনি আশি বছর বয়স অতিক্রম করেছিলেন।
তাঁর সংকলিত দুর্লভ মাসআলাগুলোর মধ্যে একটি হলো, তিনি তাঁর "মাসাইল" গ্রন্থে বলেছেন: যদি মৃত ব্যক্তির জানাজা পড়ার জন্য নারী ছাড়া আর কেউ না থাকে, তবে তাদের ওপর তা ওয়াজিব হবে না!
তিনি তাঁর "ফাতাওয়া" গ্রন্থে বলেছেন: যার ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব নয়, সে যদি জুমার জামাতে উপস্থিত হয় এবং ইমামের পেছনে জোহরের নামাজ আদায় করতে চায়; তবে সে যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক হয় তাহলে তা জায়েজ হবে, আর যদি
(১) সে প্রাপ্তবয়স্ক হয় তবে তা জায়েজ হবে না!
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
الفصل الثاني
في ذكر طرفٍ من بيان ألفاظٍ قدَّمنا ذكرها اصطلح عليها المحدثون لا بدَّ من معرفتهااِعْلَمْ أَنَّ، الحَدِيثَ الصَّحِيحَ هُوَ: الحَدِيثُ المُسْنَدُ المُتَّصِلُ، بِنَقْلِ العَدْلِ الضَّابِطِ، عَنِ العَدْلِ الضَّابِطِ، إِلَى مُنْتَهَاهُ؛ مِنْ غَيْرِ شُذُوذٍ وَلا عِلَّةٍ.
وَفِي هذِهِ الأَوْصَافِ الاحْتِرَازُ مِنَ المُرْسَلِ وَالمُعْضَلِ وَالشَّاذِّ، وَمَا فِيهِ عِلَّة قَادِحَةٌ، وَمَا في رُوَاتِهِ نَوْعُ جَرْحٍ.
قَالَ ابْنُ الصَّلَاحِ: هذَا هُوَ الحَدِيثُ المُحْكُومُ لَهُ بِالصِّحَةِ بِلَا خِلَافٍ بَينَ أَهلِ العِلْمِ-.
تَنْبِيهٌ: مَا اخْتُلِفَ في صِحَّتِهِ مِنَ الأَحَادِيثِ: قَدْ يَكُونُ سَبَبُ اختلافهم انْتِفَاءَ شَرْطٍ مِنْ هذِهِ الشُّرُوطِ، وَبَيْنَهُمُ اخْتِلافٌ في اشِتِرَاطِهِ؛ كَمَا إِذَا كَانَ بَعْضُ الرُّوَاةِ مَسْتورًا، أَوْ كَانَ الحَدِيثُ مُرْسَلًا.
وَقَدْ يَكونُ سَبَبُ اخْتِلَافِهمْ أنَّهُ: هَلِ اجْتَمَعَتْ فِيهِ هذِهِ الشُّرُوطُ، أَوِ انْتَفَى بَعْضُهَا؟
وَهذَا هُوَ الأَغْلَبُ في ذلِكَ؛ كَمَا إِذَا كَانَ الحَدِيثُ في رُوَاتِهِ مَنِ اخْتُلِفَ في كَوْنِهِ مِنْ شَرْطِ الصَّحِيحِ؛ فَإِذَا كَانَ الحَدِيثُ رُوَاتُهُ كُلهمْ ثِقَاتٌ، غَيْرَ أَنَّ فِيهِمْ أَبَا الزبيْرِ المَكّيَّ مَثَلًا-، أَوْ سُهَيْلَ بْنَ أَبِي صَالِحٍ، أَوْ العَلَاءَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمنِ، أَوْ حَمَّادَ بْنَ سَلَمَةَ! قَالُوا فِيهِ: هذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ مُسلِمٍ، وَلَيْسَ بِصَحِيحٍ عَلَى شَرْطِ البُخَارِيِّ؛ لأنَّ هَؤُلاءِ عِنْدَ مُسْلِمٍ مِمَّنِ اجْتَمَعَتْ فِيهِ الشَّرُوط المُعْتَبَرَةُ، وَلَمْ يَثْبُتْ عِنْدَ البُخَارِيِّ ذلِكَ فيهِمْ.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
ইতিপূর্বে উল্লিখিত মুহাদ্দিসগণের পরিভাষাগুলোর কতিপয় ব্যাখ্যার বর্ণনা, যা জানা অত্যাবশ্যকজেনে রাখুন যে, সহিহ হাদিস হলো: সেই মুসনাদ মুত্তাসিল (অবিচ্ছিন্ন) হাদিস, যা একজন ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভুল স্মৃতিশক্তির অধিকারী বর্ণনাকারী অপর একজন ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভুল স্মৃতিশক্তির অধিকারী বর্ণনাকারী থেকে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন; যাতে কোনো 'শুজুজ' (অস্বাভাবিকতা) বা 'ইল্লত' (সূক্ষ্ম ত্রুটি) নেই।
এই গুণাবলির মাধ্যমে মুরসাল, মুদাল, শায এবং এমন হাদিস যাতে কার্যকর কোনো ত্রুটি রয়েছে অথবা যার বর্ণনাকারীদের মধ্যে কোনো প্রকার আপত্তি (জারাহ) রয়েছে, তা থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে।
ইবনে আস-সালাহ বলেছেন: এটিই হলো সেই হাদিস, বিদ্বানদের মধ্যে কোনো দ্বিমত ছাড়াই যার বিশুদ্ধতার (সহিহ হওয়ার) সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তা: যেসব হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তাদের মতভেদের কারণ হতে পারে এই শর্তগুলোর কোনো একটির অনুপস্থিতি, অথবা উক্ত শর্তটির প্রয়োজনীয়তা নিয়েই তাদের মাঝে মতভেদ রয়েছে; যেমন যদি কোনো বর্ণনাকারী অজ্ঞাত পরিচয় (মাস্টুর) হন অথবা হাদিসটি মুরসাল হয়।
আবার কখনও তাদের মতভেদের কারণ হতে পারে এই যে: এতে কি এই শর্তাবলি একত্র হয়েছে, নাকি কোনোটি অনুপস্থিত?
এ বিষয়টিই এক্ষেত্রে অধিকতর ঘটে থাকে; যেমন যদি কোনো হাদিসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কেউ থাকেন যার ব্যাপারে 'সহিহ'-এর শর্তাবলি বিদ্যমান থাকার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। সুতরাং কোনো হাদিসের বর্ণনাকারীগণ সকলে বিশ্বস্ত হওয়া সত্ত্বেও যদি তাদের মধ্যে উদাহরণস্বরূপ আবুয যুবায়ের আল-মাক্কি অথবা সুহাইল ইবনে আবি সালিহ অথবা আলা ইবনে আবদির রহমান কিংবা হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থাকেন, তবে তারা সেই হাদিস সম্পর্কে বলেন: এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ, কিন্তু ইমাম বুখারীর শর্তানুযায়ী সহিহ নয়; কারণ ইমাম মুসলিমের নিকট এরা সেই স্তরের যাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য শর্তাবলি বিদ্যমান রয়েছে, পক্ষান্তরে ইমাম বুখারীর নিকট তাদের ব্যাপারে তা প্রমাণিত নয়।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وَكَذَا حَالُ البُخَارِيِّ فِيمَا خَرَّجَهُ مِنْ حَدِيثِ عِكرِمَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ-، وَإِسْحَاقَ بْنِ مُحَمَّدٍ الفَرْوِيِّ، وَعَمْرِو بْنِ مَيْمُونَ، وَغَيْرِهِم مِمَّنِ احْتَجَّ بِهِمُ البُخَارِيُّ وَلَمْ يَحَتجْ بِهِمْ مُسْلِمٌ.
قَالَ الحَافِظُ أبو عَبْدِ الله الحَاكِمُ النَّيسَابورِيُّ في كِتَابِ "المَدْخَلِ إِلَى مَعْرِفَةِ المُسْتَدْرِكِ":
"عَدَدُ مَنْ أَخْرَجَ لَهُمُ البُخَارِيُّ في "الجَامِع الصَّحِيحِ" -وَلَمْ يُخْرِجْ لَهُمْ مُسْلِمٌ- أَرْبَعُ مِئَةٍ وَأَربعَة وَثَلاثُونَ شَيْخًا.
وَعَدَدُ مَنِ احْتَجّ بِهِمْ مُسْلِمٌ في "المُسْنَدِ الصحيحِ"- وَلَمْ يَحْتَجَّ بِهِمُ البُخَارِيُّ في "جَامِعِهِ"- سِتُّ مِئَةٍ وَعِشْرُونَ شَيْخًا، وَاَلله أَعْلَمَ.
وَالحَسَنُ قَالَ الإِمَامُ أَبُو سُلَيْمَانَ الخَطابِيُّ: مَا عُرِفَ مَخْرَجُهُ، وَاشْتَهَرَ رِجَالُهُ
(1).
قَالَ: وَعَلَيْهِ مَدَارُ أَ كْثَرِ الحَدِيثِ؛ وَهُوَ الذِي يَقْبَلُهُ أَكْثَرِ العُلَمَاء، وَيَسْتعْمِلُهُ عَامَّةُ الفُقَهَاء.
وَرُوَّينَا عَنْ أَبِي عِيسَى التِّرْمِذِيِّ في كِتَابِ "العِلَلِ" أنهُ يُرِيدُ بِالحَسَنِ: أَنْ لَا يَكُونَ في إِسْنَادِهِ مِنْ يُتَّهَمُ بِالكَذِبِ، وَلَا يَكُونَ حَدِيثًا شَاذًّا؛ ويُرْوَى مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ نَحْوَ ذلِكَ؛ فَهُوَ عِنْدَنَا حَسَن.
قَالَ بَعْضُ المُحَدِّثِينَ: وَهذَا يُشْكِلُ عَلَيْهِ بِمَا يقَالُ فيهِ: إِنَّهُ حَسَنٌ؛ مَعَ أنَّهُ لَيسَ لَهُ مَخْرَجٌ إلَّا مِنْ وَجْهٍ وَاحِدٍ.
وَالضَّعِيفُ؛ هُوَ مَا لَمْ تَجْتَمِعْ فِيهِ صِفَاتُ الحَدِيثِ الصَّحِيحِ، وَلَا صِفَاتُ الحَسَنِ، وَأَطْنَبَ ابْنُ حِبَّانَ في تَقْسِيمِهِ؛ فَبَلَغَ بِهِ خَمْسِينَ قِسْمًا إِلَّا وَاحِدًا.
তদ্রূপ বুখারীর অবস্থা সেই সকল হাদীসের ক্ষেত্রে যা তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমাহ, ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারভী, আমর ইবনে মাইমুন এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদেরকে বুখারী দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন কিন্তু মুসলিম দলীল হিসেবে গ্রহণ করেননি।
হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরী তার 'আল-মাদখাল ইলা মা'রিফাতিল মুস্তাদরাক' গ্রন্থে বলেছেন:
"যাদের হাদীস বুখারী তার 'আল-জামি' আস-সহীহ'-এ উদ্ধৃত করেছেন—কিন্তু মুসলিম করেননি—এমন শায়খ বা রাবীর সংখ্যা চারশত চৌত্রিশ জন।
এবং যাদেরকে মুসলিম তার 'আল-মুসনাদ আস-সহীহ'-এ দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন—কিন্তু বুখারী তার 'জামি'-এ করেননি—তাদের সংখ্যা ছয়শত বিশ জন, আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।"
আর 'হাসান' হাদীস সম্পর্কে ইমাম আবু সুলায়মান আল-খাত্তাবী বলেছেন: যার উৎস পরিচিত এবং এর বর্ণনাকারীগণ প্রসিদ্ধ।
(১)তিনি বলেন: অধিকাংশ হাদীসের আবর্তন এর ওপরই; এটি এমন হাদীস যা অধিকাংশ আলেম গ্রহণ করেন এবং সাধারণ ফকীহগণ প্রয়োগ করেন।
আমরা আবু ঈসা আত-তিরমিযী থেকে তার 'আল-ইলাল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছি যে, তিনি 'হাসান' দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছেন: যার সনদে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত কেউ নেই, হাদীসটি শায (বিচ্ছিন্ন) নয় এবং এর অনুরূপ অন্য কোনো দিক থেকেও বর্ণিত হয়েছে; তবে তা আমাদের নিকট হাসান।
কিছু মুহাদ্দিস বলেছেন: এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রে সেই হাদীসগুলো নিয়ে সমস্যা দেখা দেয় যেগুলোকে হাসান বলা হয়; অথচ সেগুলোর কেবল একটিই সূত্র রয়েছে।
আর 'যঈফ' বা দুর্বল হলো তা, যার মধ্যে সহীহ হাদীসের বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং হাসান হাদীসের বৈশিষ্ট্যসমূহ একত্রিত হয়নি। ইবনে হিব্বান এর প্রকারভেদের ক্ষেত্রে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন, ফলে তা উনপঞ্চাশটি প্রকারে গিয়ে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وَالمُسْنَدُ؛ مَا اتَّصَلَ إِسْنَادُهُ مِنْ رَاوِيهِ إِلَى مُنْتهَاهُ، وَأكَثَرُ مَا يُسْتَعْمَلُ فِيمَا جَاءَ عَن رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم دُونَ مَا جَاءَ عَنِ الصَّحَابَةِ وَغَيْرِهِمْ.
قَالَ ابْنُ عَبْدِ البَرِّ: المُسْنَدُ مَا رُفِعَ إِلَى النَّبِيِّ- صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً.
وَقَدْ يَكُونُ مُتَّصِلًا؛ مِثْلَ: مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ- صلى الله عليه وسلم.
وَقَدْ يَكُونُ مُنْقَطِعًا؛ مِثْلِ: مَالِكٍ، عَنِ الزُّهْرِي، عَنِ ابْنِ عِبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَهذَا مُسْنَدٌ؛ لأنهُ قَدْ أُسْنِدَ إِلَى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم! وَهُوَ مَنْقَطِعٌ، لأَنَّ الزُّهْرِيَّ لَمْ يَسْمَعْ مِنِ ابْنِ عَبَّاسٍ!!
وَالمتَصِلُ وهَوَ المُوْصُولُ؛ وَهُوَ: الَّذِي اتَّصَلَ إِسْنَادُهُ فَكَانَ؛ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْ رُوَاتِهِ قَدْ سَمِعَهُ مِمَّنْ فَوْقَهُ حَتَّى انْتَهَى إِلَى مُنتَهَاهُ.
وَيقَعُ عَلَى المَرفُوعِ والمَوقوفِ:
مِثَالُ المُتَّصِلِ المَرْفُوعِ: مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ بنِ عَبْدِ الله، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
وَمِثَالُ المُتَّصِلِ المُوْقُوفِ: مَالِكٌ، عِنْ نَافِعٍ، عِنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ؛ قَوْلَهُ.
وَالمَرْفُوعُ؛ مَا أُضِيفَ إِلَى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً؛ قَوْلًا، أَوْ فِعْلًا، أَوْ تَقْرِيرًا، وَيدْخُلُ فِيهِ المتَّصِل، وَالمُنْقَطِعُ، وَالمُرْسَلُ؛ وَنَحْوُهَا. المَوْقوفِ؛ مَا أُضِيفَ إِلَى صَحَابِي كَذلِكَ.
وَالمَقْطُوعُ؛ مَا أُضِيفَ إِلَى تَابِعِيّ أَوْ مَنْ دونَهُ كَذلِكَ.
وَالمُنْقَطِعُ؛ مَا لَمْ يَتَّصِلْ سَنَدُهُ عَلَى أَيِّ وَجْهٍ كَانَ انْقِطَاعُهُ.
فَإِنْ سَقَطَ مِنْهُ رَجُلان فَأكْثَرَ؛ سُمِّيَّ أَيْضًا مُعْضلًا بفَتْحِ الضَّادِ المُعْجَمَةِ.
وَالمُرْسَلُ؛ مَذْهَبُ الفُقَهَاءِ وَجَمَاعَةٍ مِنَ المحَدِّثِينَ أَنَّهُ: مَا انْقَطَعَ سَنَدُهُ كَالمُنْقَطِع.
মুসনাদ হলো সেই হাদীস যার সনদ বর্ণনাকারী থেকে শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে। এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, সাহাবী বা অন্যদের থেকে বর্ণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে নয়।
ইবনুল বার বলেছেন: মুসনাদ হলো তা-ই যা বিশেষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উন্নত বা মারফূ করা হয়েছে।
আর এটি কখনও মুত্তাসিল বা অবিচ্ছিন্ন হতে পারে; যেমন: মালিক, নাফে‘ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
আবার এটি কখনও মুনকাতি বা বিচ্ছিন্নও হতে পারে; যেমন: মালিক, যুহরী থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এটি মুসনাদ; কারণ একে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে! অথচ এটি বিচ্ছিন্ন, কারণ যুহরী ইবনে আব্বাস থেকে সরাসরি শ্রবণ করেননি!!
মুত্তাসিল তথা মাউসুল হলো সেই হাদীস যার সনদ অবিচ্ছিন্ন থাকে; যার ফলে এর প্রত্যেক বর্ণনাকারী তার উপরের স্তর থেকে সরাসরি শ্রবণ করেছেন হাদীসটি তার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছা পর্যন্ত।
এটি মারফূ এবং মাউকৃষ্ণ উভয় প্রকার হাদীসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়:
মুত্তাসিল মারফূ হাদীসের উদাহরণ: মালিক, ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালেম ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।
মুত্তাসিল মাউকৃষ্ণ হাদীসের উদাহরণ: মালিক, নাফে‘ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মারফূ হলো তা যা বিশেষভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে; চাই তা কথা, কাজ কিংবা মৌনসম্মতি হোক। এর অন্তর্ভুক্ত হয় মুত্তাসিল, মুনকাতি, মুরসাল এবং এই জাতীয় অন্যান্য হাদীস। আর মাউকৃষ্ণ হলো যা একইভাবে কোনো সাহাবীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।
মাকতূ হলো যা একইভাবে কোনো তাবিঈ বা তার পরবর্তী কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।
মুনকাতি হলো যার সনদ কোনোভাবেই অবিচ্ছিন্ন নয়, চাই বিচ্ছিন্নতা যেভাবেই ঘটুক না কেন।
যদি সনদ থেকে পরপর দুইজন বা তার বেশি বর্ণনাকারী বাদ পড়ে, তবে তাকে 'মু'দাল' বলা হয় (যাদ বর্ণে ফাতহা বা যবরসহ)।
আর মুরসাল সম্পর্কে ফকীহগণ এবং একদল মুহাদ্দিসের অভিমত হলো: এটি তাই যার সনদ বিচ্ছিন্ন, ঠিক মুনকাতি হাদীসের মতো।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَقَالَ جَمَاعَةَ مِنَ المُحَدِّثِينَ أَوْ أَكْثَرُهُمْ: لَا يُسَمَّى مُرْسَلًا إِلَّا مَا أَخْبَرَ التَّابعِيُّ فِيهِ عَنِ الَّنبيَّ صلى الله عليه وسلم.
وَذَهَبَ الشَّافِعِيُّ وَجَمَاهِيرُ المُحَدّثِينَ إِلَى أنَّ المُرْسَلَ لَا يُحْتَجُّ بِهِ.
وَقَالَ مَالِك، وَأَحَمْدُ، وَأَكْثَرُ الفُقَهَاءِ: يُحْتَجُّ بِهِ.
وَمَذهَبُ الشَّافِعِيِّ؛ أنهُ إِذَا انضَمَّ إِلَى المُرْسَلِ مَا يَعْضُدَهُ احْتُجَّ بِهِ، وَبَانَ بِذلِكَ صِحَّتُهُ، وَذلِكَ بأنْ يُرْوَى مُسْنَدًا، أَوْ مُرْسَلًا مِنْ جِهَةٍ أُخْرَى، أَوْ يَعْمَلَ بِهِ بَعْضُ الصَّحَابَةِ، أَوْ أَكْثَرُ العُلَمَاءِ، سَوَاءٌ في هذَا مُرْسَلُ سَعيدِ بْنِ المُسَيَّبِ، وَغَيْرِهِ.
هذَا هُوَ الصَّحِيحُ عِنْدَهُ، وَهذَا في مُرْسَلٍ غَيْرِ مُرْسَلِ الصَّحَابِيِّ.
أَمَّا مَرْسَلُهُ وَهُوَ رِوَايَتِهِ مَا لَمْ يُدْرِكْهُ أَوْ يَحْضُرْهُ-، كَقَوْلِ عَائِشَةَ رضي الله عنها: كَانَ أَوَّلَ مَا بُدِئَ بهِ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم مِنَ الوَحْيِ الرُّؤيا الصَّالِحَةُ؛ فَمَذْهَبُ الشَّافِعِيِّ وَالجمَاهِيرِ؛ أَنَّهُ حُجَّةٌ.
وَقَالَ الأُسْتَاذُ؛ أَبُو إِسْحَاقَ الإِسْفَرَايِينيُّ: لَيْسَ بِحُجَّةٍ إلِّا أَنْ يَقُولَ: لَا أَرْوِي إلا عَنْ صَحَابِيِّ؛ لأنهُ قَدْ يَرْوِي عَنْ تَابِعِيّ.
وَالصَّوَابُ الأَوَّلُ.
وَلَوْ رُوِيَ الحَدِيث مُتَّصلًا ومُرْسَلًا، أَوْ مَرْفُوعًا وَمَوْقُوفًا؛ فَالَّذي عَلَيْهِ الفُقَهَاءُ، وَأَهْلُ الأُصُولِ، وَجَمَاعَةٌ مِنَ المُحَدِّثِينَ؛ أَنَّ الحُكْمَ لِلْوَصْلِ وَالرَّفْع.
وَقِيلَ: لِلإِرْسَالِ وَالوَقْفِ.
وَنَقَلَهُ الخَطِيبُ عَنْ أكثَرِ المُحَدِّثِينَ.
وَالشَّاذُّ؛ في تَفْسِيرِهِ اخْتِلَافٌ، وَالصَّحِيحُ مَا لَخُّصَهُ ابْن الصَّلَاحِ وَتَبعَهُ النَّوَوِيُّ أَنَّهُ: مَا انْفَرَدَ بِهِ الرَّاوِي مُخَالِفًا لِمَا رَوَاهُ مَنْ هُوَ أَحْفَظُ مِنْهُ وأضْبَطُ.
أَوِ انْفَرَدَ بِهِ وَلَمْ يُخَالِفْهُ غَيْرُهُ، لَكِنْ لَيْسَ عِنْدَهُ مِنَ الثِّقَةِ وَالحِفْظِ مَا يَجْبُرُ تَفَرُّدَهُ.
একদল মুহাদ্দিস অথবা তাঁদের অধিকাংশ বলেছেন: তাবিঈ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণনা করেন, তা ব্যতীত অন্য কিছুকে 'মুরসাল' বলা হবে না।
ইমাম শাফিঈ এবং জমহুর মুহাদ্দিসের মত হলো, মুরসাল হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
ইমাম মালিক, ইমাম আহমাদ এবং অধিকাংশ ফকীহ বলেছেন: এটি দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
ইমাম শাফিঈর মাযহাব হলো; যদি মুরসাল হাদীসের সাথে এমন কিছু যুক্ত হয় যা একে শক্তিশালী করে, তবে তা দলীল হিসেবে গণ্য হবে এবং এর দ্বারা এর বিশুদ্ধতা স্পষ্ট হবে। আর তা হলো হাদীসটি অন্য কোনো সূত্রে মুসনাদ হিসেবে বর্ণিত হওয়া, অথবা অন্য কোনো সূত্রে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হওয়া, অথবা কোনো সাহাবীর তা অনুযায়ী আমল করা, অথবা অধিকাংশ আলিমের তা অনুযায়ী আমল করা। এ ক্ষেত্রে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং অন্যদের মুরসাল হাদীস সমান।
তাঁর নিকট এটিই সঠিক মত; আর এটি সাহাবীর মুরসাল ব্যতীত অন্য মুরসাল হাদীসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
পক্ষান্তরে সাহাবীর মুরসাল—আর তা হলো এমন বিষয় বর্ণনা করা যা তিনি প্রত্যক্ষ করেননি বা যাতে তিনি উপস্থিত ছিলেন না—যেমন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার উক্তি: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহীর সূচনা হয়েছিল সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে'; এমতাবস্থায় ইমাম শাফিঈ এবং জমহুরের মাযহাব হলো, তা দলীল হিসেবে গণ্য।
উস্তায আবু ইসহাক আল-ইসফরাইনি বলেছেন: এটি দলীলযোগ্য নয় যতক্ষণ না তিনি বলেন যে, 'আমি কেবল সাহাবীর সূত্রেই বর্ণনা করি'; কারণ তিনি কোনো তাবিঈ থেকেও বর্ণনা করে থাকতে পারেন।
এবং প্রথম মতটিই সঠিক।
যদি কোনো হাদীস মুত্তাসিল ও মুরসাল উভয়ভাবে বর্ণিত হয়, অথবা মারফূ ও মাওকূফ উভয়ভাবে বর্ণিত হয়; তবে ফকীহগণ, উসূলবিদগণ এবং একদল মুহাদ্দিসের মত হলো, মুত্তাসিল ও মারফূ হওয়ার হুকুমই প্রযোজ্য হবে।
এবং বলা হয়েছে: মুরসাল ও মাওকূফ হওয়াই ধর্তব্য হবে।
খতীব বাগদাদী এটি অধিকাংশ মুহাদ্দিসের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন।
'শায' হাদীসের সংজ্ঞায় মতভেদ রয়েছে; তবে সঠিক মত সেটিই যা ইবনুস সালাহ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম নববী তাঁর অনুসরণ করেছেন, আর তা হলো: কোনো রাবী কর্তৃক এমন কোনো হাদীস এককভাবে বর্ণনা করা যা তাঁর চেয়ে অধিক মুখস্থকারী ও সূক্ষ্ম সংরক্ষণকারীর বর্ণনার পরিপন্থী।
অথবা তিনি তা এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং অন্য কেউ তাঁর বিরোধিতা করেননি, কিন্তু তাঁর মধ্যে এমন নির্ভরযোগ্যতা ও হিফজ নেই যা তাঁর এই একক বর্ণনাকে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
فَخَرَجَ مِن ذلِكَ: أَنَّ الشَّاذّ المَرْدُودَ قِسْمَانِ:
أَحَدُهُمَا: أنَّه الفَرْدُ المُخَالِفُ.
وَالثانِي: الفَرْدُ الذِي لَيْسَ في رِوَايَتِهِ مِنَ الثِّقَةِ وَالضَّبْطِ مَا يَجْبُرُ تَفَرُّدَهُ.
وَالمُنْكَرُ، الصَّوَابُ فِيهِ؛ أنهُ بِمَعْنَى الشَّاذِّ.
وَالغَرِيبُ؛ مَا انْفَرَدَ بِهِ أَوْ بِبَعْضَهِ رَجلٌ عَنْ مَنْ يُجْمَعُ حَدِيثُهُ؛ كَالزُّهْرِيِّ.
وَينقَسِمُ إِلَى: غَرِيبٍ مَتنًا وَإسْنَادًا، وَإلَى غَرِيبٍ إِسْنَادًا، وَإلى غَرِيبٍ مَتْنًا.
وَالعَزِيزُ؛ مَا انْفَرَدَ بِهِ اثْنَانِ، -أَوْ ثَلَاثَةٌ- عَنْ مَنْ يُجْمَعُ حَدِيثُهُ.
وَالمَشْهُورُ قِسْمَانِ: صَحِيحٌ، وَغَيْرُهُ، وَمَشْهُورٌ بَينَ أَهْلِ الحَدِيثِ خَاصَّةً، وَبَيْنَهُمْ وَبَيْنَ غَيْرِهِمْ.
وَمِنْهُ المُتَوَاتِرُ وَلَا يَكَادُ يُوجَدُ في الحَدِيثِ؛ وَهُوَ مَا نَقَلَهُ جَمْعٌ يَحْصُلُ العِلْمُ بِصِدْقِهِمْ مَعَ اسْتِوَاءِ طَرَفَيْهِ وَالوَاسِطَةِ-.
وَقَدْ عَدّ بَعْضُهُمْ حَدِيثَ: "مَن كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا؛ فَلْيَتَبَوَّأ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ" مُتَوَاتِرًا وَهُوَ في "الصَّحِيحَيْنِ" عَنْ جَمَاعَةٍ، وَذَكَرَ البَزَّارُ: أنَّه رَوَاهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوٌ مِنْ أَرْبِعِينَ رجُلًا مِنَ الصَّحَابَهِ-.
قَالَ ابْنُ الصَّلَاحِ: وَقَالَ بَعْضَهُمُ: اثْنَانِ وَسِتُّونَ نَفْسًا مِنَ الصَّحَابَةِ؛ فِيهِمُ العَشَرَةُ المَشْهُودُ لَهُمْ بِالجنةِ.
قَالَ: وَلَيْسَ في الدُّنْيَا حَدِيثٌ أَجْمَعَ عَلَيْهِ العَشَرَةُ غَيْرُهُ، وَلَا يُعْرَفُ حَدِيث يُرْوَى عَنْ أَكْثَرَ مِنْ سِتِّينَ مِنَ الصَّحَابَةِ.
وَلَيْسَ حَدِيثُ: "إِنما الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ" مِنْ ذلِكَ.
وَالمُعَلَّلُ وَلَا يُقَال: المَعْلُولُ؛ فَإنَّهُ لَحْنٌ؛ وَهُوَ عِبَارَةٌ عَنْ: سَبَبٍ غَامِضٍ قَادِحٍ مَعَ أَنَّ الظَّاهِرَ السَّلَامَةُ مِنْهُ-، وَيتَطَرَّقُ إِلَى الإِسْنَادِ الجَامِع لِشُرُوطِ الصِّحَّةِ ظَاهِرًا.
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রত্যাখ্যাত 'শায' (ব্যতিক্রমী বর্ণনা) দুই প্রকার:
প্রথমটি হলো: এটি এমন একক বর্ণনা যা (অধিকতর নির্ভরযোগ্য বর্ণনার) পরিপন্থী।
দ্বিতীয়টি হলো: এমন একক বর্ণনা যার বর্ণনাকারীর মধ্যে এমন স্তরের নির্ভরযোগ্যতা ও স্মৃতিশক্তি নেই যা তার একক হওয়ার বিষয়টিকে সমর্থনযোগ্য করে তোলে।
আর 'মুনকার' সম্পর্কে সঠিক অভিমত হলো, এটি 'শায'-এর অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
আর 'গারীব' হলো: এমন হাদিস যাতে কোনো ব্যক্তি একা হয়ে গেছেন—চাই তা পূর্ণ হাদিস হোক বা হাদিসের কোনো অংশ—এমন কোনো উস্তাদ থেকে বর্ণনা করতে যার হাদিস ব্যাপকভাবে সংগৃহীত হয়; যেমন ইমাম যুহরী।
এটি আবার তিন ভাগে বিভক্ত: মূলপাঠ ও সনদ উভয় দিক থেকে গারীব, কেবল সনদগতভাবে গারীব এবং কেবল মূলপাঠগতভাবে গারীব।
আর 'আযীয' হলো: এমন হাদিস যা এমন কোনো উস্তাদ থেকে মাত্র দুইজন—কিংবা তিনজন—বর্ণনা করেছেন যার হাদিস ব্যাপকভাবে সংগৃহীত হয়।
আর 'মাশহুর' দুই প্রকার: সহীহ এবং অ-সহীহ; আবার কোনোটি বিশেষভাবে হাদিসবিশারদদের নিকট প্রসিদ্ধ, আবার কোনোটি তাদের নিকট এবং জনসাধারণের নিকটও প্রসিদ্ধ।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো 'মুতাওয়াতির', যা হাদিসের ক্ষেত্রে খুব একটা দেখা যায় না; এটি এমন হাদিস যা এমন এক বিশাল দল বর্ণনা করেছেন যাদের সত্যবাদিতার ব্যাপারে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয় এবং সনদের শুরু, শেষ ও মধ্যবর্তী সকল স্তরেই বর্ণনাকারীদের সংখ্যার সমতা বজায় থাকে।
কেউ কেউ এই হাদিসটিকে মুতাওয়াতির গণ্য করেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসন নির্ধারণ করে নেয়।" এটি 'সহীহাইন'-এ একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম বাযযার উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রায় চল্লিশজন সাহাবী এটি বর্ণনা করেছেন।
ইবনুস সালাহ রহ. বলেন: কেউ কেউ বলেছেন যে, বাষট্টি জন সাহাবী এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীও রয়েছেন।
তিনি বলেন: পৃথিবীতে এটি ছাড়া এমন কোনো হাদিস নেই যার বর্ণনায় এই দশজন সাহাবীই একমত হয়েছেন। আর ষাটের অধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে এমন কোনো হাদিসও জানা নেই।
আর "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটি এর (মুতাওয়াতির) অন্তর্ভুক্ত নয়।
আর 'মুআল্লাল' (একে 'মালুল' বলা হয় না, কারণ তা ভাষাগত ভুল); এটি এমন এক সূক্ষ্ম ও ক্ষতিকারক ত্রুটির পরিভাষা যা হাদিসের বাহ্যিক সুস্থতা সত্ত্বেও তাতে বিদ্যমান থাকে এবং এটি এমন সনদে প্রবেশ করে যা বাহ্যিকভাবে সহীহ হওয়ার সকল শর্ত পূরণ করে।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
وَيُدْرَكُ بِتَفَرُّدِ الرَّاوِي، وَمُخَالَفَةِ غَيْرِهِ لَهُ؛ مَعَ قَرَائِنَ تُنبهُ العَارِفَ عَلَى وَهَمٍ؛ بِإِرْسَالٍ، أَوْ وَقْفٍ، أَوْ غَيْرِ ذلِكَ.
وَالطَّرِيقُ إِلَى مَعْرَفَتِهِ مَذْكُورٌ في المَبْسُوطَاتِ.
والمُضْطَرِبُ؛ هُوَ: الذِي يُرْوَى عَلَى أَوْجُهٍ مُخْتَلِفَةٍ مَتَقَارِبَةٍ؛ فَإِنْ تَرَجَّحَتْ إِحْدَى الرَّوَايَتَيْنِ بكَثْرَةِ الحِفْظِ، وَقِدَمِ صُحبةِ الرَّوَاي؛ فَالحُكْمُ لِلرَّاجِحِ؛ وِإلَّا اضْطِرابٌ.
وَالمُدْرَجُ؛ هُوَ الكَلَامُ المُلْحَقُ بِآخِرِ كَلَامِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ كَلَامِ الرَّاوِي، أَوْ يُلْحَقُ مَتن بِمَتنٍ -بإِسْنَادِ أَحَدِهَمَا-.
وَهذَا قَدِ اسْتَعمَلَهُ المُصَنِّفُ في "المَصَابيحِ".
وَالمَوْضُوعُ؛ هُوَ المُختَلَقُ، وَهُوَ شَرُّ الضَّعِيفِ، وَتَحْرُمُ رِوَايَتُةُ مَعَ العِلْمِ بِهِ -في أيِّ مَعْنَىً كَانَ- إلَّا مُبَيَّنًا.
ويُعْرَفُ الوَضْعُ بِإِقْرَارِ الوَاضِعُ، أَوْ قَرِينَةٍ في الرَّاوِي، أَوِ المَرْوِيِّ.
وَالنَّاسِح وَالمَنْسوخُ؛ المُخْتَارُ: أَنَّ النسْخَ رَفْعُ الشَّارِعِ حُكْمًا مِنْهُ مُتَقَدِّمًا بِحُكْمٍ مِنْهُ مُتَأخّرٍ.
فَرْعٌ في مَعْرِفَةِ الاعْتِبَارِ، وَالمُتَابعَةِ، وَالشَّاهِدِ:
فَإِذَا رَوَى حَمُّادٌ مَثَلًا حَدِيثًا عَنْ أيُّوبَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَن أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النبِي صلى الله عليه وسلم، يُنْظَرُ:
هَل رَوَاهُ ثِقَةٌ غَيْرُ حَمَّادٍ، عَنْ أيُّوبَ؟
أَوْ: عَنِ ابْنِ سِيرِينَ غَيْرُ أيُّوبَ؟
أَوْ: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ غَيرُ ابْنِ سِيرِينَ؟
أَوْ: عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غَيْرُ أَبِي هُرَيْرَةَ؟
فَأَيُّ ذلِكَ وُجِدَ عُلِمَ أنَّ لَهُ أَصْلًا يُرْجَعُ إِلَيْهِ.
আর এটি (ইল্লাত বা ত্রুটি) চিহ্নিত করা হয় রাবীর একক বর্ণনা এবং তার বর্ণনার বিপরীতে অন্যদের বিরোধিতার মাধ্যমে; সেই সাথে এমন কিছু আলামত বা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের মাধ্যমে যা বিশেষজ্ঞকে বিভ্রম সম্পর্কে সচেতন করে; যেমন ইরসাল (তাবেয়ীর সরাসরি নবী থেকে বর্ণনা), ওয়াকফ (সাহাবীর উক্তি হিসেবে বর্ণনা) বা এ জাতীয় অন্য কোনো বিষয়ের মাধ্যমে।
আর এটি জানার পদ্ধতি বিস্তারিত গ্রন্থাবলিতে বর্ণিত হয়েছে।
আর মুদতারিব; এটি হলো: যা বিভিন্ন অথচ সমপর্যায়ের পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়; তবে যদি হিফজ বা স্মৃতির প্রাবল্য অথবা বর্ণনাকারীর দীর্ঘ সাহচর্যের কারণে কোনো একটি বর্ণনা অগ্রগণ্য হয়, তবে সেই অগ্রগণ্য বর্ণনার ওপরই সিদ্ধান্ত হবে; অন্যথায় সেটি ইদতিরাব (অসংগতি) হিসেবে গণ্য হবে।
আর মুদরাজ; এটি হলো সেই কথা যা বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর শেষে যুক্ত করা হয়, অথবা কোনো একটি সনদে এক মতনকে (মূল পাঠ) অন্য মতনের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয়।
আর এটি গ্রন্থকার 'আল-মাসাবিহ' গ্রন্থে ব্যবহার করেছেন।
আর মাওজু; এটি হলো বানোয়াট কথা, এবং এটি যঈফ বা দুর্বল হাদিসসমূহের মধ্যে নিকৃষ্টতম। এটি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তা বর্ণনা করা হারাম—যে উদ্দেশ্যেই হোক না কেন—যদি না তার বাস্তবতা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়।
আর জালকরণ বা বানোয়াট হওয়া শনাক্ত করা যায় জালকারীর স্বীকারোক্তির মাধ্যমে, অথবা বর্ণনাকারী বা বর্ণিত বিষয়ের কোনো আলামত বা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের দ্বারা।
আর নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত); পছন্দনীয় মতানুসারে: নাসখ বা রহিতকরণ হলো শরীয়ত প্রবর্তকের পক্ষ থেকে তাঁর কোনো পূর্ববর্তী বিধানকে পরবর্তী কোনো বিধানের মাধ্যমে তুলে নেওয়া।
ইতিবার (পর্যবেক্ষণ), মুতাবাআত (অনুসরণ) এবং শাহিদ (সাক্ষ্য) চেনার একটি শাখা (পরিচ্ছেদ):
যেমন হাম্মাদ যদি আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে সীরীন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেন, তবে দেখা হবে:
হাম্মাদ ছাড়া অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য রাবী কি আইয়ুব থেকে এটি বর্ণনা করেছেন?
অথবা: আইয়ুব ছাড়া অন্য কেউ কি ইবনে সীরীন থেকে এটি বর্ণনা করেছেন?
অথবা: ইবনে সীরীন ছাড়া অন্য কেউ কি আবু হুরায়রা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন?
অথবা: আবু হুরায়রা ছাড়া অন্য কেউ কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন?
এর মধ্যে যেটিই পাওয়া যাবে, তা দ্বারা বোঝা যাবে যে হাদিসটির একটি মূল ভিত্তি রয়েছে যার দিকে এটি প্রত্যাবর্তন করে।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
فَهذَا النَّظَرُ وَالتفْتِيشُ يُسَمَّى اعْتِبَارًا.
وَأَمَّا المُتَابَعَةُ؛ فأَنْ يَرْوَيهُ عَنْ أيُّوبَ غَيْرُ حَمَّادٍ.
أَوْ: عَنِ ابن سِيرِينَ غَيْرُ أيُّوبَ.
أَوْ: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عيْرُ ابْنِ سِيرِينَ.
أَوْ: عَنِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم غَيرُ أَبِي هُرَيْرَةَ.
وَكُلُّ وَاحِدٍ مِنْ هذِهِ الأَقْسَامِ يُسَمَّى مُتَابَعَةً؛ وَأَعْلَاهَا الأَوَّلُ؛ وَهِيَ مُتَابَعَةُ حَمَّادٍ في الرِّوَايَةِ عَنْ أيُّوبَ، ثُمَّ مَا بَعْدَهُا عَلَى التَّرْتِيبِ.
وَأَمَّا الشَّاهِدُ؛ فَأَنْ يُرْوَى حَدِيثٌ آخَرُ بِمَعْنَاهُ.
وتَسَمَّى المُتَابَعَةُ شَاهِدًا، وَلَا يُسَمَّى الشَّاهِدُ مُتَابَعَةً.
وَإذَا قَالُوا: تَفَرَّدَ بهِ أبو هُرَيْرَةَ، أَوِ ابْنُ سِيرِينَ، أَوْ أَيُّوبُ، أَوْ حَمَّادٌ: كَانَ مُشْعِرًا بَانْتِفُاءِ المُتَابَعَاتِ كُلِّهَا.
সুতরাং এই পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানকে 'ইতিবার' (পর্যবেক্ষণ) বলা হয়।
আর 'মুতাবায়াত' (অনুসরণ) হলো—আইয়ুব থেকে হাম্মাদ ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করা।
অথবা—ইবনে সিরিন থেকে আইয়ুব ব্যতীত অন্য কেউ (বর্ণনা করা)।
অথবা—আবু হুরায়রা থেকে ইবনে সিরিন ব্যতীত অন্য কেউ (বর্ণনা করা)।
অথবা—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আবু হুরায়রা ব্যতীত অন্য কেউ (বর্ণনা করা)।
এই প্রকারগুলোর প্রত্যেকটিকে 'মুতাবায়াত' বলা হয়; আর এগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের হলো প্রথমটি—অর্থাৎ আইয়ুব থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে হাম্মাদের মুতাবায়াত, অতঃপর পরবর্তীগুলো ক্রমানুসারে।
আর 'শাহিদ' (সাক্ষী বর্ণনা) হলো—একই অর্থে অন্য কোনো হাদিস বর্ণিত হওয়া।
মুতাবায়াতকে 'শাহিদ' বলা হয়, তবে শাহিদকে 'মুতাবায়াত' বলা হয় না।
আর যখন তারা (মুহাদ্দিসগণ) বলেন: "এটি বর্ণনায় আবু হুরায়রা, অথবা ইবনে সিরিন, অথবা আইয়ুব, অথবা হাম্মাদ একক হয়েছেন", তখন তা সকল প্রকার মুতাবায়াতের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الفَصْلُ الثَّالِثُ
قَالَ البَغَوِيُّ:
الحَمْدُ للهِ، وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الذينَ اصْطَفَى، وَالصَّلَاةُ التَّامَّةُ الدَّائِمَةُ عَلَى رَسُولِهِ المُجْتَبَى مُحَمَّدٍ سَيِّدِ الوَرَى، وَعَلَى آلِهِ نُجُومِ الهُدَى.
أما بَعْدُ:
فَهذِهِ أَلْفَاظٌ صَدَرَتْ عَنْ صَدْرِ النبوَّةِ، وَسُنَنٌ سَارَتْ عَنْ مَعْدِنِ الرِّسَالَةِ، وَأَحَادِيثُ جَاءَت عَنْ سَيِّدِ المُرْسَلِينَ وَخَاتَمِ النَّبِيّينَ؛ هُن مَصَابِيحُ الدُّجَى، خَرَجَتْ عَنْ مِشْكَاةِ التَّقْوَى، مِمَّا أَوْرَدَهَا الأَئِمَّة في كُتُبِهِمْ، جَمَعْتُهَا لِلْمُنْقَطِعِينَ إِلَى العِبَادَةِ، لِتَكُونَ لَهُمْ بَعْدَ كِتَابِ الله- تَعَالَى- حَظًّا مِنَ السُّنَنِ، وَعَوْنًا عَلَى مَا هُمْ فِيهِ مِنَ الطَّاعَةِ.
وَتَرَكْتُ ذِكْرَ أَسَانِيِدِهَا حَذَرًا مِنَ الإِطَالَةِ عَلَيْهِمْ، وَاعْتِمَادًا عَلَى نَقْلِ الأَئِمَّةِ، وَرُبَّمَا سَمَّيْتُ في بَعْضِهَا الصَّحَابِيَّ الذِي يَروِيهِ عَنْ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم لِمَعْنىً دَعَا إِلَيْهِ.
وَتَجِدُ أَحَادِيثَ كَلِّ بَابٍ مِنْهَا تَنْقَسِمُ إِلَى صِحَاحٍ وِحِسَانٍ:
أَعْنِي بـ (الصِّحَاحِ) مَا أَوْرَدَهُ الشَّيْخَانِ: أبو عَبْدِ الله مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الجُعْفِيُّ البُخَارِيُّ، وَأَبو الحُسَيْنِ مُسْلِمُ بْنُ الحَجَّاجِ القُشَيْرِيُّ [النَّيْسَابورِيُّ]
(1) رَحِمَهُمَا الله في "جَامِعَيْهِمَا"، أَوْ أَحَدِهَمَا.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
ইমাম বাগাবী রহ. বলেন:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আর সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ সত্তা তাঁর মনোনীত রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি বর্ষিত হোক পূর্ণাঙ্গ ও নিরবচ্ছিন্ন দরূদ, এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি, যারা হিদায়াতের নক্ষত্রতুল্য।
অতঃপর:
এগুলো হলো নবুওয়াতের বক্ষ হতে নিঃসৃত কতিপয় শব্দাবলি, রিসালাতের খনি হতে বিচ্ছুরিত সুন্নাহসমূহ এবং রাসূলগণের সর্দার ও শেষ নবী থেকে আগত হাদিসসমূহ; এগুলো হলো অন্ধকারের প্রদীপস্বরূপ, যা তাকওয়ার কুলুঙ্গি থেকে প্রস্ফুটিত হয়েছে। আইম্মায়ে কিরাম তাঁদের কিতাবসমূহে যা বর্ণনা করেছেন, তা থেকে আমি এগুলোকে ঐসব ব্যক্তিদের জন্য সংকলন করেছি যারা ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেছেন; যেন মহান আল্লাহর কিতাবের পর এগুলো তাদের জন্য সুন্নাহর একটি অংশ এবং তাদের আনুগত্য ও ইবাদতের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
তাদের জন্য দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করতে এবং ইমামগণের বর্ণনার ওপর নির্ভর করে আমি এগুলোর সনদ উল্লেখ করা বর্জন করেছি। কখনও কখনও কোনো বিশেষ প্রয়োজনে আমি এমন সাহাবীর নাম উল্লেখ করেছি যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তা বর্ণনা করেছেন।
আপনি এর প্রতিটি অধ্যায়ের হাদিসগুলোকে সহিহ ও হাসান—এই দুই ভাগে বিভক্ত পাবেন:
'সহিহ' বলতে আমি সেই হাদিসগুলোকে বুঝিয়েছি যা শায়খাইন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-জুফী আল-বুখারী এবং আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ আল-কুশায়রী [আন-নিশাপুরী]
(১) রহ. তাঁদের 'জামে' গ্রন্থে অথবা তাঁদের যে কোনো একজন বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وَأَعْنِي بِـ (الحِسَانِ) مَا أَوْرَدَهُ أبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الأَشْعَثِ السِّجِسْتَانِي، وَأَبُو عِيسَى مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى [بْنِ سَوْرَةَ]،
(1) التِّرْمِذِيُّ، وَغَيْرُهُمَا مِنَ الأَئِمَّةِ في تَصَانِيفِهِمْ رحمهم الله.
وَأَكْثَرُهَا صِحَاحٌ بنَقْلِ العَدْلِ، غيرَ أنهَا لَمْ تَبْلُغْ غَايَةَ شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ في عُلُوِّ الدَّرَجَةِ مِنْ صِحَّةِ الإِسْنَادِ؛ إِذْ أكْثَرُ الأَحْكَامِ ثُبُوتُها بَطَرِيقٍ حَسَنٍ.
وَمَا كَانَ فِيهَا مِنْ ضَعِيفٍ أَوْ غَرِيبٍ أَشَرْتُ إِلَيْهِ، وَأَعْرَضْتُ عَنْ ذِكْرِ مَا كَانَ مُنْكَرًا أَوْ مَوْضُوعًا.
وَالله المُسْتَعَان، وَعَلَيْهِ التُّكْلَان.
رَوَى عُمَرُ بْنُ الخَطَّابِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: "إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ، وَإنَّمَا لامْرِئٍ مَا نَوَى؛ فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى الله وإلَى رَسُولِهِ، فَهِجْرَتُهُ إِلَى الله وَإلَى رَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا؛ فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ".
قلْتُ
(2):
رَوَاهُ الجَمَاعَةُ؛ البُخَارِيُّ في سَبْعَةِ مَوَاضِعَ: (بَدْءِ الوَحْيِ)، وَفِي (الإِيمَانِ)، وَفِي (العِتْقِ)، وَفِي (الهِجْرَةِ)، وَفِي (النِّكَاحِ)، وَفِي (النذُور) وَبِلَفْظِهِ فِيهِ رَوَاهُ المُصَنِّفُ؛ إِلا أَنَّ البُخَاريَّ قَالَ: عَنْ عُمَرَ: سَمِعْتُ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم؛ وَهُوَ قَرِيبٌ مِنْ لَفْظِ المُصَنِّفِ-، وَفِي (تَرْكِ الحِيَلِ).
এবং ‘হিসান’ (উত্তম হাদীসসমূহ) দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হলো সেসব হাদীস, যা আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস আস-সিজিস্তানি, আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা [ইবনে সাওরাহ]
(১) আত-তিরমিজি এবং অন্যান্য ইমামগণ তাঁদের গ্রন্থসমূহে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন।
এবং এগুলোর অধিকাংশই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনার ভিত্তিতে সহীহ; তবে সনদের বিশুদ্ধতার উচ্চ পর্যায়ের ক্ষেত্রে তা শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তের চরম সীমায় পৌঁছেনি; কেননা অধিকাংশ শরয়ি বিধান ‘হাসান’ বা উত্তম সূত্রের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়।
আর এগুলোর মধ্যে যা কিছু ‘যয়ীফ’ (দুর্বল) বা ‘গারীব’ (বিরল) রয়েছে, আমি সেদিকে ইঙ্গিত করেছি; আর যা কিছু ‘মুনকার’ (অপ্রসিদ্ধ ও আপত্তিকর) অথবা ‘মাউযু’ (বানোয়াট), আমি তা উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি।
আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর ওপরই ভরসা রাখি।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য হবে অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।"
আমি (ব্যাখ্যাকার) বলছি
(২):
ইমামদের এক বড় জামাআত এটি বর্ণনা করেছেন; ইমাম বুখারি সাতটি স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন: (অহি-র সূচনা অধ্যায়ে), (ঈমান অধ্যায়ে), (দাসমুক্তি অধ্যায়ে), (হিজরত অধ্যায়ে), (বিবাহ অধ্যায়ে), (মানত অধ্যায়ে) এবং এই মানত অধ্যায়ের শব্দেই গ্রন্থকার এটি বর্ণনা করেছেন; তবে বুখারি বলেছেন: উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি; আর এটি গ্রন্থকারের শব্দের কাছাকাছি—এবং (কৌশল বর্জন অধ্যায়ে)।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুর রুওয়াহ - মাআ তাখরীজিল মিশকাতিত সানী লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وَمسْلِمٌ في (الجِهَادِ)، وأبو دَاوُدَ في (الطلَاقِ)، وَالتّرْمِذِيُّ في (الحدُودِ)، وَالنَّسَائِيُّ في مَوَاضِعَ؛ مِنْهَا في (الأَيْمَانِ، وَالنُّذُورِ)، وَابْنُ مَاجَه في (الزُّهْدِ):
كُلهمْ مِنْ حَدِيثِ يَحيى بْنِ سعيدٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ مُحَمّدِ بْنِ إِبرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ ابْنِ وَقَّاصٍ الليْثِيِّ المَدَنِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ القُرَشِيِّ العَدَوِيّ أَمِيرِ المُؤْمِنِينَ يَرْفَعُهُ إِلَى النبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
وَهذَا الحَدِيثِ أَحَدُ الأَحَادِيثِ الأَربعَةِ التي نُقلَ عَنْ أَبِي دَاوُدَ أنهُ قَالَ:
"إِنَّهَا تَكْفِي الإِنْسَانَ لِدِينه"، نَقَلَ ذلِكَ عَنْهُ صَاحِبُهُ أبو بَكْرٍ مُحمَّد بْنُ بَكْرِ ابْنِ دَاسَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ، أبا دَاوُدَ يَقُولُ: كَتَبْتُ عَن رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم خَمْسَ مِئَةِ أَلْفِ حَدِيثٍ، انْتَخَبْتُ مِنْهَا مَا تَضَمَّنَهُ هذَا الكِتَابُ يَعْنِي: كِتَابَ "السُّنَنِ"؛ جَمَعْتُ فِيهِ أَربعَةَ أَلَافٍ وَثَمَانَ مِئَةِ حَدِيثٍ، ذَكَرْتُ الصَّحِيحَ، وَمَا يُشْبِهُهُ وَيُقَارِبُهُ، وَيكْفِي الإِنْسَانَ لِدِينِهِ مِنْ ذلِكَ أَربعَةُ أَحَادِيثَ:
أَحَدُهَا: قَوْلُه صلى الله عليه وسلم: "إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ
… ".
(1)
ইমাম মুসলিম ‘জিহাদ’ অধ্যায়ে, আবু দাউদ ‘তালাক’ অধ্যায়ে, তিরমিযী ‘হুদুদ’ (দণ্ডবিধি) অধ্যায়ে, নাসাঈ বিভিন্ন স্থানে—যার মধ্যে রয়েছে ‘শপথ ও মানত’ অধ্যায় এবং ইবনে মাজাহ ‘যুহদ’ (সংসারবিরাগ) অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন:
তাঁরা সকলেই ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আত-তাইমী থেকে, তিনি আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস আল-লাইসী আল-মাদানী থেকে এবং তিনি আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব আল-কুরাশী আল-আদাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, যা তিনি সরাসরি নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধিত করেছেন।
আর এই হাদিসটি সেই চারটি হাদিসের অন্যতম, যার সম্পর্কে আবু দাউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন:
"মানুষের দ্বীনের জন্য এগুলোই যথেষ্ট।" তাঁর ছাত্র আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে বকর ইবনে দাসাহ তা বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি আবু দাউদকে বলতে শুনেছি: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে পাঁচ লক্ষ হাদিস লিখেছি, তা থেকে এই কিতাবের বিষয়বস্তু অর্থাৎ "আস-সুনান" গ্রন্থটি নির্বাচন করেছি। এতে আমি চার হাজার আটশ হাদিস সংকলন করেছি; যেখানে সহীহ এবং তার অনুরূপ ও কাছাকাছি হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছি। আর এর মধ্য থেকে চারটি হাদিসই মানুষের দ্বীন পালনের জন্য যথেষ্ট:
তার একটি হলো নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল … "।
(১)