(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: -)
مواقف الطوائف من توحيد الأسماء والصفات   (محمد بن خليفة التميمي)

القسم: العقيدة


الكتاب: مواقف الطوائف من توحيد الأسماء والصفات

المؤلف: محمد بن خليفة بن علي التميمي

الناشر: أضواء السلف، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1422هـ/2002م

عدد الصفحات: 147

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের অবস্থান   (মুহাম্মদ বিন খলীফা আত-তামিমী)

বিভাগ: আকীদা


বই: আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের অবস্থান

লেখক: মুহাম্মদ বিন খলীফা বিন আলী আত-তামিমী

প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ، রিয়াদ، সৌদি আরব রাজত্ব

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২২ হিজরী/২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৭

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৫)
مواقف الطوائف من توحيد الأسماء والصفات

تأليف: د/ محمد بن خليفة التميمي

بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمذا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102]

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [النساء: 1]

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} [الأحزاب: 70-71] .

أما بعد:

فإنه على أساس العلم الصحيح بالله وأسمائه وصفاته يقوم الإيمان الصحيح والتوحيد الخالص، وتنبني مطالب الرسالة جميعها، فهذا التوحيد هو أساس الهداية والإيمان، وهو أصل الدين الذي يقوم عليه، ولذلك فإنه لا يتصور إيمان صحيح ممن لا يعرف ربه، فهذه المعرفة لازمة لانعقاد أصل الإيمان وهي مهمة جدا للمؤمن لشدة حاجته إليها لسلامة قلبه، وصلاح معتقده
নাম ও গুণাবলির তাওহিদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের অবস্থান

রচনায়: ড. মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমি

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে (সতর্ক থাকো)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহজাব: ৭০-৭১] ।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই সঠিক ঈমান ও বিশুদ্ধ তাওহিদ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রিসালাতের সমস্ত দাবি এর ওপরই নির্মিত হয়। এই তাওহিদই হলো হিদায়াত ও ঈমানের ভিত্তি এবং এটিই দ্বীনের মূল যার ওপর তা দাঁড়িয়ে আছে। তাই যে তার রবকে চেনে না, তার পক্ষ থেকে সঠিক ঈমান কল্পনা করা যায় না। ঈমানের মূল ভিত্তি স্থাপনের জন্য এই পরিচিতি অপরিহার্য এবং মুমিনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ তার অন্তরের সুস্থতা ও আকিদার সঠিকতার জন্য এর প্রতি তার তীব্র মুখাপেক্ষীতা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৬)
واستقامة جوارحه، فالمعرفة لأسماء الله وصفاته وأفعاله توجب للعبد التمييز بين الإيمان والكفر، والتوحيد والشرك، والإقرار والتعطيل، وتنزيه الرب عما لا يليق به ووصفه بما هو أهله من الجلال والإكرام.

وبهذه المعرفة تحصل زيادة الإيمان ورسوخه، فكلما ازداد العبد علما بالله زاد إيمانه وخشيته ومحبته لربه وتعلقه به قال تعالى: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاء} [فاطر: 28] ، كما تجلب للعبد النور والبصيرة التي تحصنه من الشبهات المضللة والشهوات المحرمة.

ولذا كان هذا العلم هو بحق أفضل ما اكتسبته القلوب وحصلته النفوس وأدركته العقول، وليست القلوب الصحيحة والنفوس المطمئنة إلى شيء من الأشياء أشوق منها إلى معرفة هذا الأمر ولا فرحها بشيء أعظم من فرحها بالظفر بمعرفة الحق فيه.

وإن من واجب طالب العلم أن يتعمق في فهم الحق في هذا الباب المبني على الكتاب والسنة فإنه بالنظر إلى كون باب الأسماء والصفات من أكثر الأبواب التي حصل فيها النزاع بين علماء السلف وخصومهم الأمر الذي تسبب في حدوث نزاع في مسائل كثيرة ومتعددة ترتب عليها انقسام الناس إلى ثلاثة أقسام: أهل السنة، وأهل التعطيل، وأهل التمثيل، ومثل هذا الحال يوجب على طالب العلم أن يميز بين قول أهل الحق في تلك المسائل وأقوال أهل الباطل، وأن يبذل مقدوره ومستطاعه في معرفة مسائل هذا الباب، وأن تكون تلك المعرفة سالمة من داء التعطيل وداء التمثيل اللذين ابتلي بهما كثير من أهل البدع.

فالمعرفة الصحيحة هي المتلقاة من الكتاب والسنة، وما روي عن الصحابة والتابعين لهم بإحسان، فهذه هي المعرفة النافعة التي لا يزال صاحبها في زيادة
এবং তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঠিকতা। আল্লাহর নাম, গুণাবলি এবং কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন বান্দার জন্য ঈমান ও কুফর, তাওহিদ ও শিরক, স্বীকৃতি ও অস্বীকৃতি (তাতীল), এবং রবকে তাঁর শানের পরিপন্থী বিষয় থেকে পবিত্র রাখা এবং তিনি যে মহিমা ও সম্মানের যোগ্য সেই গুণে তাঁকে বিশেষিত করার মাঝে পার্থক্য করা অনিবার্য করে দেয়।

এই জ্ঞানের মাধ্যমেই ঈমানের বৃদ্ধি ও দৃঢ়তা অর্জিত হয়। বান্দা আল্লাহ সম্পর্কে যতই জ্ঞান অর্জন করবে, তার ঈমান, তাঁর প্রতি ভীতি, ভালোবাসা এবং তাঁর প্রতি অনুরাগ ততই বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করে" [ফাতির: ২৮]। তদুপরি, এটি বান্দার জন্য এমন নূর ও প্রজ্ঞা বয়ে আনে যা তাকে বিভ্রান্তিকর সংশয় এবং হারাম প্রবৃত্তির তাড়না থেকে সুরক্ষা দেয়।

একারণে এই জ্ঞানটি প্রকৃতপক্ষে অন্তরসমূহের অর্জিত, আত্মাগুলোর লাভ করা এবং বিবেকসমূহের অনুধাবন করা সর্বোত্তম বিষয়। সুস্থ অন্তর এবং প্রশান্ত আত্মাগুলো অন্য কোনো বিষয়ের প্রতি এতটা আগ্রহী নয় যতটা এই বিষয়টি জানার প্রতি আগ্রহী, আর এই বিষয়ে সত্য অর্জনের আনন্দের চেয়ে বড় কোনো আনন্দ তাদের কাছে নেই।

একজন ইলম অন্বেষণকারীর আবশ্যিক কর্তব্য হলো কিতাব ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে এই বিষয়ে সত্য অনুধাবনে গভীর জ্ঞান অর্জন করা। কারণ আসমা ওয়াস-সিফাত (নাম ও গুণাবলি) অধ্যায়টি সলফে সালেহীন ও তাঁদের বিরোধীদের মধ্যে সর্বাধিক মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্যতম। এর ফলে বহুবিধ মাসআলায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে মানুষ তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে: আহলুস সুন্নাহ, আহলুত তাতীল এবং আহলুত তামসীল। এরূপ পরিস্থিতি একজন ইলম অন্বেষণকারীর জন্য সেই বিষয়গুলোতে সত্যপন্থীদের বক্তব্য এবং বাতিলপন্থীদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য করা এবং এই অধ্যায়ের মাসআলাগুলো জানার ক্ষেত্রে তার সাধ্যমতো চেষ্টা করা অপরিহার্য করে তোলে। আর সেই জ্ঞান যেন তাতীল ও তামসীলের ব্যাধি থেকে মুক্ত হয়, যে দুটি ব্যাধিতে অনেক বিদআতি লোক আক্রান্ত হয়েছে।

সুতরাং সঠিক জ্ঞান হলো তা যা কিতাব ও সুন্নাহ এবং ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে গৃহীত হয়েছে। এটাই হলো সেই উপকারী জ্ঞান যার অধিকারী ব্যক্তি সর্বদা উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করে।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৭)
إيمانه، وقوة يقينه، وطمأنينة أحواله.

ولما كان باب الصفات هو قلب هذا الباب ومحور النزاع مع الخصوم فيه فإن من الواجب على المسلم أن يدرس مسائل هذا الباب ويتعمق في فهمها وفق ما ورد في الكتاب والسنة وفهم سلف الأمة، وأن يحذر من التيارات الفلسفية التي أضرت بأصحابها وأدخلتهم في دوامة الانحراف والضياع.

ومن منطلق توضيح مسائل الصفات وبيان الخلاف الحاصل بين الطوائف فيها، أحببت جمع شتات تلك المسائل وترتيبها، ليسهل على الراغب في دراستها الاطلاع عليها بأقصر طريق وأقل مؤنة.

وقد سميت البحث "مواقف الطوائف من توحيد الأسماء والصفات".

ورتبت عناصره في ثلاثة فصول وخاتمة تسبقها مقدمة وفق ما يأتي:

المقدمة: وفيها استهلال البحث وبيان بفصوله ومباحثه.

الفصل الأول: أهل السنة والجماعة وموقفهم من توحيد الأسماء والصفات.

وفيه مبحثان:

المبحث الأول: التعريف بأهل السنة والجماعة، وتحته مطلبان:

المطلب الأول: التعريف بهم.

المطلب الثاني: بيان وسطيتهم.

المبحث الثاني: موقفهم من توحيد الأسماء والصفات.

وانتظم ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: موقفهم من توحيد الأسماء والصفات عموما.

المطلب الثاني: موقفهم من باب الأسماء.

المطلب الثالث: موقفهم من باب الصفات.
তাঁর ঈমান, তাঁর ইয়াকীনের দৃঢ়তা এবং তাঁর অবস্থার প্রশান্তি।

যেহেতু গুণাবলি (সিফাত) সংক্রান্ত অধ্যায়টি এই প্রসঙ্গের মূল এবং প্রতিপক্ষদের সাথে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু, তাই একজন মুসলিমের জন্য অপরিহার্য হলো এই অধ্যায়ের মাসআলাগুলো অধ্যয়ন করা এবং কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মতের সালাফদের বুঝ অনুযায়ী এগুলোর অনুধাবনে গভীরতা অর্জন করা। আর সেই সব দার্শনিক মতবাদ থেকে সতর্ক থাকা যা তাদের অনুসারীদের ক্ষতি করেছে এবং তাদের বিচ্যুতি ও বিনাশের আবর্তে নিপতিত করেছে।

গুণাবলির মাসআলাসমূহ স্পষ্ট করার এবং এ নিয়ে বিভিন্ন দলের মাঝে বিদ্যমান মতভেদ বর্ণনার উদ্দেশ্যে, আমি এই মাসআলাগুলোর বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত ও বিন্যস্ত করতে চেয়েছি, যাতে জ্ঞানান্বেষী ব্যক্তি সংক্ষিপ্ততম পথে এবং ন্যূনতম কষ্টে তা অবগত হতে পারে।

আমি এই গবেষণার নাম দিয়েছি "তাওহিদুল আসমা ওয়াস সিফাতের বিষয়ে বিভিন্ন ফেরকার অবস্থান"।

আমি এর বিষয়বস্তুগুলোকে একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি, যা নিম্নরূপ:

ভূমিকা: এতে গবেষণার প্রারম্ভিকা এবং এর অধ্যায় ও পরিচ্ছেদগুলোর রূপরেখা বর্ণিত হয়েছে।

প্রথম অধ্যায়: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং তাওহিদুল আসমা ওয়াস সিফাতের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান।

এতে রয়েছে দুটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয়; এর অধীনে রয়েছে দুটি অনুচ্ছেদ:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁদের পরিচয়।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁদের মধ্যপন্থা বর্ণনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহিদুল আসমা ওয়াস সিফাতের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান।

এটি তিনটি অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করেছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সাধারণভাবে তাওহিদুল আসমা ওয়াস সিফাতের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নামসমূহের (আসমা) অধ্যায়ে তাঁদের অবস্থান।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: গুণাবলির (সিফাত) অধ্যায়ে তাঁদের অবস্থান।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الثاني: طوائف المعطلة وموقفهم من توحيد الأسماء والصفات.

واحتوى مبحثين:

المبحث الأول: الفلاسفة وموقفهم من توحيد الأسماء والصفات.

واشتمل مطلبين:

المطلب الأول: التعريف بهم.

المطلب الثاني: قولهم في توحيد الأسماء والصفات.

المبحث الثاني: أهل الكلام وموقفهم من توحيد الأسماء والصفات.

وضم مطلبين:

المطلب الأول: التعريف بهم.

المطلب الثاني: مواقفهم من توحيد الأسماء والصفات.

الفصل الثالث: المشبهة وموقفهم من توحيد الأسماء والصفات.

واندرج تحته مبحثان:

المبحث الأول: من عرف بالتشبيه وبيان أقوالهم.

المبحث الثاني: من نسب إلى التشبيه.

الخاتمة.

وإني لا أدعي أني وصلت بهذا البحث إلى درجة الكمال، ولكن حسبي أني اجتهدت فإن وفقت فذلك بفضل من الله وحده، وإن حصل تقصير أو خطأ فهذا من طبيعة جهد البشر، وأسأل الله أن يتقبل مني هذا الجهد وأن يجعله عملا صالحا، ولوجهه خالصا، وأن لا يجعل لأحد فيه شيئا. وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুআত্তিলা (গুণাবলি অস্বীকারকারী) সম্প্রদায় এবং আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান।

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: দার্শনিকগণ এবং আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান।

যা দুটি উপ-অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: তাদের পরিচয়।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদ সম্পর্কে তাদের বক্তব্য।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আহলুল কালাম এবং আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান।

যা দুটি উপ-অনুচ্ছেদকে শামিল করে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: তাদের পরিচয়।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থানসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুশাব্বিহা (সাদৃশ্যদানকারী) এবং আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান।

এর অধীনে দুটি অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: যারা তাসবীহ বা সাদৃশ্যপ্রদানের জন্য পরিচিত এবং তাদের বক্তব্যসমূহের বর্ণনা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: যাদেরকে তাসবীহের সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে।

উপসংহার।

আমি দাবি করি না যে এই গবেষণার মাধ্যমে আমি পূর্ণতার স্তরে পৌঁছেছি, তবে আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। সুতরাং আমি যদি সফল হয়ে থাকি তবে তা একমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহে, আর যদি কোনো ত্রুটি বা ভুল হয়ে থাকে তবে তা মানুষের প্রচেষ্টার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং একে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি নেক আমল হিসেবে গণ্য করেন এবং এতে অন্য কারও কোনো অংশ না রাখেন। আমাদের শেষ নিবেদন এই যে, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الأول: أهل السنة والجماعة وموقفهم من توحيد الأسماء والصفات

‌‌المبحث الأول: التعريف بأهل السنة والجماعة

‌‌المطلب الأول: التعريف بأهل السنة والجماعة

…

المطلب الأول: التعريف بهم.

"المقصود بأهل السنة والجماعة: هم الصحابة، والتابعون، وتابعوهم، ومن سلك سبيلهم، وسار على نهجهم، من أئمة الهدى، ومن اقتدى بهم من سائر الأمة أجمعين.

فيخرج بهذا المعنى كل طوائف المبتدعة وأهل الأهواء.

فالسنة هنا في مقابل البدعة، والجماعة هنا في مقابل الفرقة1.

فعن ابن عباس رضي الله عنهما في تفسير قوله تعالى: {يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ} [آل عمران:] 156، قال: "تبيض وجوه أهل السنة، وتسود وجوه أهل البدعة والفرقة"2.

والجدير بالذكر هنا أن نعرف أن العلماء يستعملون هذه العبارة لمعنيين، قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "فلفظ أهل السنة يراد به:

1- من أثبت خلافة الخلفاء الثلاثة، فيدخل في ذلك جميع الطوائف إلا الرافضة3.

2- وقد يراد به أهل الحديث والسنة المحضة، فلا يدخل فيه إلا من يثبت

--------------------------------------------

1 وسطية أهل السنة دون الفرق ص 92- 94، وكتاب لزوم الجماعة ص 276- 277

2 تفسير ابن كثير 1/ 390.

3 قال شيخ الإسلام: "ولا ريب أنهم (أي الرافضة) أبعد طوائف المبتدعة عن الكتاب والسنة، ولهذا كانوا هم المشهورين عند العامة بالمخالفة للسنة، فجمهور العامة لا تعرف ضد السني إلا الرافضي، فإذا قال أحدهم أنا سني فإنما معناه لست رافضي". مجموع الفتاوى 3/ 356.
প্রথম অধ্যায়: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং আসমা ওয়াস-সিফাতের (নাম ও গুণাবলীর) তাওহীদের ব্যাপারে তাদের অবস্থান

‌প্রথম পরিচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয়

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয়

...

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাদের পরিচয়।

"আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বলতে উদ্দেশ্য হলো: তারা হলেন সাহাবীগণ, তাবিঈগণ, তাঁদের অনুসারীগণ এবং হিদায়াতের ইমামগণের মধ্য থেকে যারা তাঁদের পথ অবলম্বন করেছেন ও তাঁদের আদর্শ অনুযায়ী চলেছেন, আর সমগ্র উম্মতের মধ্যে যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন।

এই সংজ্ঞার মাধ্যমে বিদআতী ও প্রবৃত্তিপূজারী সকল গোষ্ঠী বহির্ভূত হয়ে যায়।

এখানে 'সুন্নাহ' শব্দটি বিদআতের বিপরীতে এবং 'জামাআত' শব্দটি বিভক্তির বিপরীতে ব্যবহৃত হয়েছে১।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে: {সেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে এবং কিছু মুখ কালো হয়ে যাবে} [আলে ইমরান: ১০৬], বলেন: "আহলুস সুন্নাহর অনুসারীদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে এবং বিদআত ও বিভক্তি সৃষ্টিকারীদের মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে"২।

এখানে এটি জেনে রাখা প্রয়োজন যে, আলেমগণ এই পরিভাষাটি দুটি অর্থে ব্যবহার করেন। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "আহলুস সুন্নাহ শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে:

১- যারা প্রথম তিন খলীফার খিলাফতকে স্বীকার করেন; এমতাবস্থায় রাফেযী৩ ব্যতীত সকল দলই এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

২- আবার কখনও এর দ্বারা শুধু আহলুল হাদীস ও বিশুদ্ধ সুন্নাহর অনুসারীদের বোঝানো হয়, তখন এর অন্তর্ভুক্ত কেবল তারাই হবে যারা সাব্যস্ত করে...

--------------------------------------------

১ ওয়াসাতিয়্যাতু আহলিস সুন্নাহ দুনাল ফিরাক, পৃষ্ঠা ৯২-৯৪; এবং কিতাবুল লুযুমিল জামাআহ, পৃষ্ঠা ২৭৬-২৭৭।

২ তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৩৯০।

৩ শায়খুল ইসলাম বলেন: "নিঃসন্দেহে তারা (অর্থাৎ রাফেযীরা) বিদআতী দলগুলোর মধ্যে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী। এই কারণেই তারা সাধারণ মানুষের কাছে সুন্নাহর বিরোধিতা করার জন্য সুপরিচিত। সাধারণ মানুষের অধিকাংশ সুন্নীর বিপরীত বলতে কেবল রাফেযীকেই বোঝে। তাই তাদের কেউ যখন বলে যে 'আমি সুন্নী', তখন তার অর্থ কেবল এটাই হয় যে 'আমি রাফেযী নই'।" মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/৩৫৬।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১৪)
الصفات لله تعالى ويقول: "إن القرآن غير مخلوق، وإن الله يرى في الآخرة ويثبت القدر، وغير ذلك من الأصول المعروفة عند أهل الحديث والسنة"1.

ومقصودنا بعبارة (أهل السنة) هو المعنى الثاني الذي ذكره شيخ الإسلام ابن تيمية، ذلك لأن لأهل السنة أصولهم التي اتفقوا عليها ونصوا عليها في كتب الاعتقاد المعروفة.

ولأهل السنة عدة مسميات منها: أهل الحديث، الفرقة الناجية، الجماعة، الطائفة المنصورة وغير ذلك.

ويمكن حصر قواعد منهج أهل السنة في النقاط التالية:

أولا: ضبط نصوص الكتاب والسنة وفهم معانيها.

ثانيا: التقيد في ذلك بالمأثور عن الصحابة والتابعين وتابعيهم في معاني القرآن والحديث. وذلك يتم بـ:

أ- الاجتهاد في تمييز صحيحه من سقيمه.

ب- الاجتهاد في الوقوف على معانيه وتفهمه2.

ثالثا: العمل بذلك والاستقامة عليه اعتقادا، وتفكيرا، وسلوكا، وقولا والبعد عن كل ما يخالفه ويناقضه.

رابعا: الدعوة إلى ذلك باللسان والبنان.

فمن التزم هذه القواعد في الاعتقاد، والعمل، فهو على نهج أهل

--------------------------------------------

1 منهاج السنة 2/ 221 ط: جامعة الإمام محمد بن سعود.

2 بيان فضل علم السلف على الخلف لابن رجب (ص 150-152) ، وأصول اعتقاد أهل السنة للالكائي 1/9-10.
আল্লাহ তাআলার গুণাবলী এবং তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট) নয়, আর পরকালে আল্লাহকে দেখা যাবে এবং তিনি তাকদীর সাব্যস্ত করেন, এছাড়াও আহলুল হাদীস ও সুন্নাহর নিকট সুপরিচিত অন্যান্য মূলনীতিসমূহ।"১।

আর 'আহলুস সুন্নাহ' শব্দ দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বর্ণিত দ্বিতীয় অর্থটি, কারণ আহলুস সুন্নাহর এমন কিছু মূলনীতি রয়েছে যার ওপর তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন এবং তাদের সুপরিচিত আকিদার গ্রন্থসমূহে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

আর আহলুস সুন্নাহর বেশ কিছু নাম রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: আহলুল হাদীস, ফিরকাতুন নাজিয়াহ (মুক্তিপ্রাপ্ত দল), আল-জামাআত, আত-তায়েফাতুল মানসুরাহ (সাহায্যপ্রাপ্ত দল) এবং আরও অন্যান্য।

আহলুস সুন্নাহর মানহাজের নীতিমালাগুলো নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে:

প্রথমত: কিতাব ও সুন্নাহর পাঠসমূহ (নصوص) আয়ত্ত করা এবং সেগুলোর অর্থ অনুধাবন করা।

দ্বিতীয়ত: কুরআন ও হাদীসের অর্থের ক্ষেত্রে সাহাবী, তাবিঈ এবং তাবে-তাবিঈদের থেকে বর্ণিত আছারের অনুগামী হওয়া। আর তা সম্পন্ন হয় নিম্নোক্তভাবে:

ক- সহীহ ও যঈফ (দুর্বল)-এর মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালানো।

খ- এর অর্থগুলো উদ্ঘাটন ও অনুধাবনের ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালানো২।

তৃতীয়ত: বিশ্বাস, চিন্তা, আচরণ ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে সে অনুযায়ী আমল করা ও তার ওপর অটল থাকা এবং এর পরিপন্থী ও বিরোধী সবকিছু থেকে দূরে থাকা।

চতুর্থত: জবান ও কলমের মাধ্যমে এর দিকে দাওয়াত দেওয়া।

সুতরাং যে ব্যক্তি আকিদা ও আমলের ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলো মেনে চলবে, সে আহলুস সুন্নাহর পদ্ধতির ওপর রয়েছে...

--------------------------------------------

১ মিনহাজুস সুন্নাহ ২/২২১, মুদ্রণ: জামিয়াতুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ।

২ ইবনে রজব রচিত 'বায়ানু ফাদলি ইলমিস সালাফ আলাল খালাফ' (পৃষ্ঠা ১৫০-১৫২), এবং আল-লালাকাঈ রচিত 'উসুলু ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ' ১/৯-১০।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১৫)
لسنة بإذن الله1.

وأهل السنة قالوا: الأصل في الدين الاتباع والعقل تبع، فالعقل المجرد ليس له إثبات شيء من العقائد والأحكام، وإنما المرجع في ذلك إلى القرآن والسنة.

ولو كان أساس الدين على المعقول لاستغنى الخلق عن الوحي وعن الأنبياء ولبطل الأمر والنهي، ولقال من شاء ما شاء2.

والتقرير بأن النقل مقدم على العقل لا ينبغي أن يفهم منه أن أهل السنة ينكرون العقل والتوصل به إلى المعارف والتفكير به في خلق السموات والأرض وفي الآيات الكونية الكثيرة، فأهل السنة لا ينكرون استعمال العقل ولكنهم توسطوا في شأن العقل بين طائفتين ضلتا في هذا الباب هما: أهل الكلام: الذين يجعلون العقل وحده أصل علمهم ويفردونه ويجعلون الإيمان والقرآن تابعين له، والمعقولات عندهم هي الأصول الكلية الأولية المستغنية بنفسها عن الإيمان والقرآن، فجعلوا عقولهم هي التي تثبت وتنفي والسمع معروضا عليها، فإن وافقها قبل اعتضادا لا اعتمادا، وإن عارضها رد وطرح، وهذا من أعظم أسباب الضلال التي دخلت على الأمة.

وأهل التصوف: الذين يذمون العقل ويعيبونه، ويرون أن الأحوال العالية والمقامات الرفيعة، لا تحصل إلا مع عدمه ويقرون من الأمور بما يكذب صريح العقل.

ويمدحون الشكر والجنون والوله، وأمورا من المعارف والأحوال التي لا تكون إلا بزوال العقل والتمييز، كما يصدقون بأمور يعلم بالعقل الصريح بطلانها

--------------------------------------------

1 معتقد أهل السنة والجماعة في توحيد الأسماء والصفات ص 54.

2 انظر الحجة في بيان المحجة 1/ 321.
আল্লাহর ইচ্ছায় সুন্নাহ অনুযায়ী ১।

আহলুস সুন্নাহ বলেন: দ্বীনের মূল ভিত্তি হলো অনুসরণ এবং বিবেক তার অনুগামী। সুতরাং নিছক বিবেক কোনো আকিদাহ বা বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষমতা রাখে না; বরং এ ক্ষেত্রে মূল প্রত্যাবর্তনস্থল হলো কুরআন ও সুন্নাহ।

যদি দ্বীনের ভিত্তি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের ওপর হতো, তবে সৃষ্টিজগত ওহী ও নবীগণের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত হয়ে যেত এবং আদেশ ও নিষেধের বিধান বাতিল হয়ে যেত, আর যার যা ইচ্ছা সে তা-ই বলত।২।

বিবেকের ওপর নকল (ওহী)-কে প্রধান্য দেওয়ার ঘোষণার অর্থ এমনভাবে বোঝা উচিত নয় যে, আহলুস সুন্নাহ বিবেককে অস্বীকার করে কিংবা এর মাধ্যমে জ্ঞানার্জন এবং আসমান-জমিনের সৃষ্টি ও অসংখ্য মহাজাগতিক নিদর্শন নিয়ে চিন্তাভাবনা করাকে অস্বীকার করে। সুতরাং আহলুস সুন্নাহ বিবেকের ব্যবহারকে অস্বীকার করে না, বরং তারা বিবেকের বিষয়ে এমন দুটি দলের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছে যারা এই ক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট হয়েছে, তারা হলো: ইলমুল কালামপন্থীরা: যারা একমাত্র বিবেককেই তাদের জ্ঞানের মূল ভিত্তি মনে করে এবং একে একক মর্যাদা দেয়। তারা ঈমান ও কুরআনকে বিবেকের অনুগামী করে দেয়। তাদের নিকট বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়গুলোই হলো এমন প্রাথমিক সামগ্রিক মূলনীতি যা স্বতন্ত্রভাবেই ঈমান ও কুরআনের মুখাপেক্ষী নয়। তারা তাদের বিবেককেই কোনো বিষয় সাব্যস্ত করা বা নাকচ করার মানদণ্ড বানিয়েছে এবং ওহীকে এর সামনে উপস্থাপন করে। যদি তা বিবেকের অনুকূল হয় তবে তারা তা গ্রহণ করে সমর্থক হিসেবে, মূল ভিত্তি হিসেবে নয়। আর যদি তা বিবেকের পরিপন্থী হয় তবে তা প্রত্যাখ্যান ও বর্জন করে। উম্মতের মধ্যে বিভ্রান্তি প্রবেশের এটি অন্যতম প্রধান কারণ।

সুফিবাদীরা: যারা বিবেকের নিন্দা ও সমালোচনা করে এবং মনে করে যে, উচ্চতর আধ্যাত্মিক অবস্থা ও সুউচ্চ মাকামসমূহ বিবেকহীনতা ছাড়া অর্জিত হয় না। তারা এমন সব বিষয়কে স্বীকৃতি দেয় যা সুস্পষ্ট বিবেকের বিচারে মিথ্যা।

তারা মাতলামি, উন্মাদনা ও আত্মবিস্মৃতি এবং এমন সব মারেফত ও আধ্যাত্মিক অবস্থার প্রশংসা করে যা বিবেক ও বিচারবুদ্ধি লোপ পাওয়া ছাড়া সম্ভব নয়। তেমনিভাবে তারা এমন সব বিষয় বিশ্বাস করে যার অসারতা স্পষ্ট বিবেকের মাধ্যমে জানা যায়।

--------------------------------------------

১ আসমা ওয়াস সিফাতের তাওহিদের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ, পৃষ্ঠা ৫৪।

২ দেখুন: আল-হুজ্জাহ ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ, ১/৩২১।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১৬)
وكلا الطرفين مذموم.

وأما أهل السنة فيرون أن العقل شرط في معرفة العلوم، وكمال وصلاح الأعمال وبها يكمل العلم والعمل، ولكنه ليس مستقلا بذلك. فالعقل غريزة في النفس وقوة فيها، بمنزلة البصر التي في العين.

فإن اتصل به نور الإيمان والقرآن، كان كنور العين إذا اتصل به نور الشمس أو النار.

وإن انفرد بنفسه لم يبصر الأمور التي يعجز وحده عن إدراكها.

وإن عزل بالكلية كانت الأقوال والأفعال مع عدمه أمورا حيوانية. فالأحوال الحاصلة مع عدم العقل ناقصة، والأقوال المخالفة للعقل باطلة والرسل جاءت بما يعجز العقل عن إدراكه ولم تأت بما يعلم بالعقل امتناعه1.

--------------------------------------------

1 مجموع الفتاوى 3/ 338- 339 بتصرف.
উভয় প্রান্তই নিন্দনীয়।

আর আহলে সুন্নাত মনে করেন যে, জ্ঞান অর্জনে এবং কর্মের পূর্ণতা ও সংশোধনে আকল (বিবেচনাপ্রসূত বুদ্ধি) একটি শর্ত, আর এর মাধ্যমেই ইলম ও আমল পূর্ণতা লাভ করে, তবে এটি সে বিষয়ে স্বতন্ত্র নয়। কেননা আকল হলো আত্মার একটি সহজাত প্রবৃত্তি ও শক্তি, যা চোখের দৃষ্টিশক্তির সমতুল্য।

যদি এর সাথে ঈমান ও কুরআনের আলো যুক্ত হয়, তবে তা চোখের সেই জ্যোতির ন্যায় হয় যার সাথে সূর্য বা আগুনের আলো যুক্ত হয়েছে।

আর যদি এটি কেবল একাকী থাকে, তবে এটি এমন সব বিষয় দেখতে পায় না যা উপলব্ধি করতে সে নিজে অক্ষম।

আর যদি একে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা হয়, তবে এর অনুপস্থিতিতে কথা ও কাজগুলো পশুর আচরণের মতো হয়ে যায়। সুতরাং আকলের অনুপস্থিতিতে অর্জিত অবস্থাগুলো ত্রুটিপূর্ণ, আর আকল-বিরোধী বক্তব্যসমূহ বাতিল। রাসূলগণ এমন বিষয় নিয়ে এসেছেন যা উপলব্ধি করতে আকল অক্ষম, কিন্তু তাঁরা এমন কিছু নিয়ে আসেননি যা আকলের বিচারে অসম্ভব বলে সাব্যস্ত হয়।১

--------------------------------------------

১ মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/ ৩৩৮-৩৩৯ (পরিমার্জিত)।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المطلب الثاني: بيان وسطيتهم.

وقد توسط أهل السنة في كثير من مسائل الاعتقاد، منها ما يلي:

أ- في أسماء الله وصفاته: فإن مذهب السلف هو إثباتها وإجراؤها على ظواهرها ونفي الكيفية والتشبيه عنها، فتوسطوا بذلك يين المعطلة الذين نفوها فأبطلوا ما أثبته الله ورسوله، والمشبهة الذين خرجوا بها إلى ضرب من التشبيه والتكييف.

2- في أفعال الله "القدر": فإن مذهب السلف هو أنهم أثبتوا له فعلا ومشيئة وأثبتوا للعبد فعلا ومشيئة داخلة تحت مشيئة الله وقدرته، فتوسطوا بذلك بين الجبرية الذين أنكروا قدرة العبد ومشيئته، والقدرية الذين أنكروا قدرة الله في أفعال العباد.

3- في الإيمان: فإن مذهب السلف هو أن الإيمان اعتقاد وقول وعمل يزيد وينقص، فتوسطوا بذلك بين المرجئة الذين أخرجوا العمل عن مسمى الإيمان والخوارج والمعتزلة الذين أنكروا زيادة الإيمان ونقصانه.

4- في وعيد الله "أي مرتكب الكبيرة": فإن مذهب السلف هو أن مرتكب الكبيرة مؤمن بإيمانه فاسق بمعصيته، وهو مستحق للوعيد ولكنه تحت مشيئة الله، إن شاء عذبه على قدر ذنبه ثم يخرجه من النار، وإن شاء غفر له وأدخله الجنة.

فهم بذلك توسطوا بين المفرطين من المرجئة الذين قالوا: لا يضر مع الإيمان ذنب، كما لا ينفع مع الكفر طاعة، وبين الوعيدية (الخوارج والمعتزلة) .
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁদের মধ্যপন্থা বর্ণনা.

আহলুস সুন্নাহ আকিদার অনেক মাসআলায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন, যার মধ্যে নিম্নরূপ:

ক- আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলির ক্ষেত্রে: সালাফদের মাযহাব হলো এগুলোকে সাব্যস্ত করা এবং এগুলোর বাহ্যিক অর্থের ওপর বহাল রাখা এবং এগুলোর ধরন (কাইফিয়্যাত) ও সাদৃশ্য (তাশবীহ) অস্বীকার করা। এর মাধ্যমে তাঁরা মুআত্তিলাহ—যারা এগুলোকে অস্বীকার করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা সাব্যস্ত করেছেন তা বাতিল করে দিয়েছে—এবং মুশাব্বিহা—যারা এগুলোকে সাদৃশ্য ও ধরনের পর্যায়ে নিয়ে গেছে—এই দুই দলের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন।

২- আল্লাহর কার্যাবলি বা "তাকদির"-এর ক্ষেত্রে: সালাফদের মাযহাব হলো তাঁরা আল্লাহর জন্য কাজ ও ইচ্ছা সাব্যস্ত করেন এবং বান্দার জন্যও কাজ ও ইচ্ছা সাব্যস্ত করেন যা আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতার অধীনে। এর মাধ্যমে তাঁরা জাবরিয়্যাহ—যারা বান্দার ক্ষমতা ও ইচ্ছাকে অস্বীকার করেছে—এবং কাদরিয়্যাহ—যারা বান্দার কার্যাবলিতে আল্লাহর ক্ষমতাকে অস্বীকার করেছে—এই দুই দলের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন।

৩- ঈমানের ক্ষেত্রে: সালাফদের মাযহাব হলো ঈমান হলো বিশ্বাস, কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। এর মাধ্যমে তাঁরা মুরজিয়া—যারা আমল বা কাজকে ঈমানের সংজ্ঞার বাইরে রেখেছে—এবং খাওয়ারিজ ও মুতাজিলা—যারা ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি অস্বীকার করেছে—এই দুই দলের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন।

৪- আল্লাহর শাস্তির হুমকির (অর্থাৎ কীরা গুনাহগার) ক্ষেত্রে: সালাফদের মাযহাব হলো কবীরা গুনাহকারী ব্যক্তি তার ঈমানের কারণে মুমিন এবং তার পাপাচারের কারণে ফাসিক। সে শাস্তির উপযোগী হলেও আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে তার পাপ অনুযায়ী শাস্তি দেবেন এবং এরপর তাকে জাহান্নাম থেকে বের করবেন, আর তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

এভাবে তাঁরা শিথিলতাকারী মুরজিয়া—যারা বলে: ঈমান থাকলে কোনো গুনাহ ক্ষতি করে না, যেমন কুফরি থাকলে কোনো আনুগত্য উপকারে আসে না—এবং শাস্তির দাবিতে কঠোরতা অবলম্বনকারী ওয়াইদিয়্যাহ (খাওয়ারিজ ও মুতাজিলা)-দের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১৮)
فالخوارج يقولون: هو كافر في الدنيا، والمعتزلة يقولون: هو في منزلة بين المنزلتين، ويتفقون على أنه في الآخرة خالد مخلد في النار.

5- في أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم: فإن مذهب السلف هو الاعتراف بفضل الصحابة جميعا رضي الله عنهم وأرضاهم، وأنهم أكمل هذه الأمة إيمانا وإسلاما وعلما وحكمة، وأنهم عدول بتعديل الله لهم، ولكنهم لم يغلوا فيهم ولم يعتقدوا عصمتهم، بل قاموا بحقوقهم وأحبوهم لعظيم سابقتهم وحسن بلائهم في نصرة الإسلام وجهادهم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، فهم بذلك توسطوا بين الرافضة والخوارج.

فالرافضة - قبحهم الله - يسبون الصحابة ويلعنونهم وربما كفروهم أو كفروا بعضهم، والغالية منهم مع سبهم لكثير من الصحابة والخلفاء يغلون في علي رضي الله عنه أولاده ويعتقدون فيهم الإلهية1.

والخوارج قابلوا هؤلاء الروافض فكفروا عليا ومعاوية ومن معهما من الصحابة وقاتلوهم واستحلوا دماءهم وأموالهم.

والمقصود أن أهل السنة هم أعرف الناس بالحق، ولذلك فإن كل طائفة سوى أهل السنة والحديث المتبعين آثار رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا ينفردون عن طائفة أهل السنة إلا بقول فاسد، ولا ينفردون بقول صحيح، وكل من كان عن السنة أبعد، كان انفراده بالأقوال والأفعال الباطلة أكثر.

فالسعيد من لزم السنة، والله الموفق وهو الهادي إلى سبيل الرشاد.

--------------------------------------------

1 انظر تفصيل هذه المسألة في كتاب "وسطية أهل السنة والجماعة بين الفرق" للدكتور/ محمد با كريم.
খারেজিরা বলে: সে ইহকালে কাফির, আর মুতাজিলাগণ বলে: সে দুই অবস্থানের মাঝামাঝি এক অবস্থানে রয়েছে; তবে তারা উভয়েই পরকালে তার চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়ার ব্যাপারে একমত।

৫- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের বিষয়ে: সালাফদের মাযহাব হলো সমস্ত সাহাবী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁদের সন্তুষ্ট করুন)-এর মর্যাদার স্বীকৃতি প্রদান করা এবং এটি বিশ্বাস করা যে, তাঁরা ঈমান, ইসলাম, ইলম ও হিকমতের দিক থেকে এই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ। আল্লাহ কর্তৃক তাঁদের ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করার কারণে তাঁরা ন্যায়পরায়ণ। তবে সালাফগণ তাঁদের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করেননি এবং তাঁদের নিষ্পাপ হওয়ার বিশ্বাসও পোষণ করেননি; বরং তাঁরা তাঁদের যথাযথ অধিকার প্রদান করেছেন এবং ইসলামে তাঁদের মহান অগ্রগামিতা, ইসলামের সাহায্যে তাঁদের সুন্দর পরীক্ষা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁদের জিহাদের কারণে তাঁদেরকে ভালোবেসেছেন। এভাবে তাঁরা (সাহাবীগণের বিষয়ে) রাফেজি ও খারেজিদের মাঝামাঝি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

রাফেজিরা—আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করুন—সাহাবীগণকে গালি দেয় ও তাঁদের অভিশাপ দেয় এবং কখনো কখনো তাঁদের সবাইকে অথবা তাঁদের কাউকে কাউকে কাফির বলে আখ্যায়িত করে। তাদের মধ্যে যারা চরমপন্থী, তারা অনেক সাহাবী ও খলিফাদের গালি দেওয়ার পাশাপাশি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর সন্তানদের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করে এবং তাঁদের বিষয়ে ঈশ্বরত্বের বিশ্বাস পোষণ করে।১

আর খারেজিরা এই রাফেজিদের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে আলী, মুয়াবিয়া এবং তাঁদের সাথে থাকা সাহাবীগণকে কাফির সাব্যস্ত করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং তাঁদের রক্ত ও সম্পদকে বৈধ মনে করেছে।

মূল উদ্দেশ্য হলো, আহলে সুন্নাত হচ্ছে মানুষের মধ্যে সত্য সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত। এ কারণে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদাঙ্ক অনুসরণকারী আহলে সুন্নাত ও আহলে হাদীস ছাড়া অন্য প্রতিটি দল আহলে সুন্নাতের থেকে যখনই কোনো বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে, তারা কেবল ভ্রান্ত কথার মাধ্যমেই পৃথক হয়; তারা কোনো সঠিক কথার মাধ্যমে স্বতন্ত্র হতে পারে না। যে ব্যক্তি সুন্নাহ থেকে যত বেশি দূরে থাকবে, বাতিল কথা ও কাজের ক্ষেত্রে তার বিচ্যুতি বা ভিন্নতা তত বেশি হবে।

সুতরাং সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান যে সুন্নাহকে আঁকড়ে থাকে। আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং তিনিই সঠিক পথের দিশারী।

--------------------------------------------

১. এ বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণের জন্য ডক্টর মুহাম্মদ বা কারীম রচিত "ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বাইনাল ফিরাক" গ্রন্থটি দেখুন।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الثاني: موقفهم من توحيد الأسماء والصفات

‌‌المطلب الأول: موقفهم من توحيد الأسماء والصفات عموما

…

المطلب الأول: موقفهم من توحيد الأسماء والصفات عموما.

معتقد أهل السنة في أسماء الله وصفاته، يقوم على أساس الإيمان بكل ما وردت به نصوص القرآن والسنة الصحيحة إثباتا ونفيا، فهم بذلك:

أ- يسمون الله بما سمى به نفسه في كتابه، أو على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، لا يزيدون على ذلك ولا ينقصون منه.

2- ويثبتون لله عز وجل ويصفونه بما وصف به نفسه في كتابه، أوعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم من غير تحريف1، ولا تعطيل2، ومن غير تكييف3 ولا تمثيل4.

3- وينفون عن الله ما نفاه عن نفسه في كتابه، أو على لسان رسوله محمد صلى الله عليه وسلم، مع اعتقاد أن الله موصوف بكمال ضد ذلك الأمر المنفي.

--------------------------------------------

1 التحريف لغة: التغير والتبديل. والتحريف في باب الأسماء والصفات هو: تغيير ألفاظ نصوص الأسماء والصفات أو معانيها عن مراد الله بها.

2 التعطيل لغة: مأخوذ من العطل الذي هو الخلو والفراغ والترك، والتعطيل في باب الأسماء والصفات هو: نفي أسماء الله وصفاته أو بعضها.

3 التكييف لغة: جعل الشيء على هيئة معينة معلومة، والتكييف في صفات الله هو: الخوض في كنه وهيئة الصفات التي أثبتها الله لنفسه.

4 التمثيل لغة: من المثيل وهو الند والنظير، والتمثيل في باب الأسماء والصفات هو: الاعتقاد فى صفات الخالق أنها مثل صفات الخلوق.

راجع في معاني هذه الألفاظ كتاب "معتقد أهل السنة والجماعة في توحيد الأسماء والصفات" (ص 70-81) .
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আসমা ওয়া সিফাতের (নাম ও গুণাবলি) তাওহীদের বিষয়ে তাদের অবস্থান

প্রথম অনুচ্ছেদ: আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের বিষয়ে সাধারণভাবে তাদের অবস্থান

...

প্রথম অনুচ্ছেদ: আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের বিষয়ে সাধারণভাবে তাদের অবস্থান।

আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাতের আকিদা কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর নসসমূহ (দলিল) দ্বারা প্রমাণিত ও বর্জিত সকল বিষয়ের ওপর ঈমান আনার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ফলে তারা:

ক- আল্লাহকে সেই নামে নামকরণ করেন যে নামে তিনি নিজেকে তাঁর কিতাবে অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানীতে নামকরণ করেছেন; তারা এর ওপর কোনো বৃদ্ধি করেন না এবং এর থেকে কোনো কিছু হ্রাসও করেন না।

২- তারা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্য তা সাব্যস্ত করেন এবং তাঁকে সেই গুণে গুণান্বিত করেন যা দিয়ে তিনি নিজেকে তাঁর কিতাবে অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানীতে বিশেষিত করেছেন—কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরিফ), অস্বীকার (তাতিল), ধরন নির্ধারণ (তাকয়িফ) এবং সদৃশকরণ (তামসিল) ছাড়াই।

৩- আল্লাহ তাঁর কিতাবে অথবা তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানীতে নিজের থেকে যা অস্বীকার করেছেন, তারাও আল্লাহর থেকে তা অস্বীকার করেন; তবে এই বিশ্বাসের সাথে যে, ওই নেতিবাচক বা বর্জিত বিষয়ের বিপরীতে যে চরম পূর্ণতা রয়েছে, আল্লাহ সেই গুণে গুণান্বিত।

--------------------------------------------

১. শাব্দিক অর্থে তাহরিফ হলো: পরিবর্তন ও রূপান্তর করা। আসমা ও সিফাতের ক্ষেত্রে তাহরিফ হলো: আসমা ও সিফাতের নসসমূহের শব্দ বা তার অর্থকে আল্লাহর উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে পরিবর্তন করে দেওয়া।

২. শাব্দিক অর্থে তাতিল শব্দটি 'আল-আতল' থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো খালি হওয়া, শূন্য হওয়া ও পরিত্যাগ করা। আসমা ও সিফাতের ক্ষেত্রে তাতিল হলো: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি অথবা এর কিছু অংশকে অস্বীকার করা।

৩. শাব্দিক অর্থে তাকয়িফ হলো: কোনো কিছুকে একটি নির্দিষ্ট ও পরিচিত আকৃতি বা ধরনে বিন্যস্ত করা। আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে তাকয়িফ হলো: আল্লাহ নিজের জন্য যে সকল গুণ সাব্যস্ত করেছেন সেগুলোর স্বরূপ ও ধরন নিয়ে চর্চা করা।

৪. শাব্দিক অর্থে তামসিল এসেছে 'আল-মাসিল' থেকে, যার অর্থ হলো সমকক্ষ ও সদৃশ। আসমা ও সিফাতের ক্ষেত্রে তামসিল হলো: স্রষ্টার গুণাবলি সৃষ্টির গুণাবলির মতো বলে বিশ্বাস করা।

এই শব্দগুলোর অর্থের বিস্তারিত বর্ণনার জন্য দেখুন: "আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা" (পৃষ্ঠা ৭০-৮১)।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২২)
فأهل السنة سلكوا في هذا الباب منهج القرآن والسنة الصحيحة، فكل اسم أو صفة لله سبحانه وتعالى وردت في الكتاب والسنة الصحيحة فهي من قبيل الإثبات فيجب بذلك إثباتها.

وأما النفي فهو أن ينفى عن الله عز وجل كل ما يضاد كماله من أنواع العيوب والنقائص مع وجوب اعتقاد ثبوت كمال ضد ذلك المنفي.

قال الإمام أحمد: "لا يوصف الله إلا بما وصف به نفسه أو وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم لا نتجاوز القرآن والسنة"1.

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: "وطريقة سلف الأمة وأئمتها أنهم يصفون الله بما وصف به نفسه، وبما وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم، من غير تحريف، ولا تعطيل ولا تكييف، ولا تمثيل، إثبات بلا تمثيل، وتنزيه بلا تعطيل، إثبات الصفات ونفي ممثالة المخلوقات قال تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى: 11] ،، فهذا رد على الممثلة {وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] ، رد على المعطلة.

وقولهم في الصفات مبني على أصلين:

أحدهما: أن الله سبحانه وتعالى منزه عن صفات النقص مطلقا كالسنة والنوم، والعجز، والجهل، وغير ذلك.

والثاني: أنه متصف بصفات الكمال التي لا نقص فيها، على وجه الاختصاص بما له من الصفات، فلا يماثله شيء من المخلوقات في شيء من الصفات"2.

وقد ارتكز معتقد أهل السنة والجماعة في باب أسماء الله وصفاته على ثلاثة

--------------------------------------------

1 لمعة الاعتقاد ص 9.

2 منهاج السنة 2/ 523.
সুতরাং আহলে সুন্নাত এই অধ্যায়ে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। অতএব, কিতাব এবং সহীহ সুন্নাহয় মহান আল্লাহর জন্য যে সকল নাম বা গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে, তা সাব্যস্তকরণের (ইসবাত) অন্তর্ভুক্ত; তাই সেগুলো সাব্যস্ত করা অপরিহার্য।

আর নফি (অস্বীকার) হলো, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা থেকে তাঁর পূর্ণতার পরিপন্থী সকল প্রকার ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার করা, সেই সাথে উক্ত অস্বীকারকৃত বিষয়ের বিপরীত পূর্ণতা সাব্যস্ত থাকার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা ওয়াজিব।

ইমাম আহমাদ বলেন: "আল্লাহর গুণ বর্ণনা করা হবে না কেবল তা ছাড়া যার মাধ্যমে তিনি নিজে নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর গুণ বর্ণনা করেছেন। আমরা কুরআন ও সুন্নাহর গণ্ডি অতিক্রম করব না"১।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "উম্মাহর সালাফ ও ইমামগণের পদ্ধতি হলো যে, তাঁরা আল্লাহর গুণ বর্ণনা করেন তার মাধ্যমে যার মাধ্যমে তিনি নিজে নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর গুণ বর্ণনা করেছেন; কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরিফ), অস্বীকার (তাতীল), ধরণ নির্ধারণ (তাকিয়িফ) ও সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) ছাড়াই। এটি সাদৃশ্যহীন সাব্যস্তকরণ এবং অস্বীকারহীন পবিত্রতা ঘোষণা। গুণাবলী সাব্যস্ত করা এবং সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যের অপনোদন করা। মহান আল্লাহ বলেন: {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই} [আশ-শুরা: ১১]—এটি সাদৃশ্য প্রদানকারীদের (মুমাসসিলাহ) প্রতিবাদ; {এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [আশ-শুরা: ১১]—এটি গুণ অস্বীকারকারীদের (মুআত্তিলাই) প্রতিবাদ।

গুণাবলী সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য দুটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত:

এক: মহান আল্লাহ তন্দ্রা, নিদ্রা, অক্ষমতা, অজ্ঞতা এবং এ জাতীয় সকল প্রকার ত্রুটিপূর্ণ গুণাবলী থেকে নিরঙ্কুশভাবে পবিত্র।

দুই: তিনি এমন সব পূর্ণ গুণাবলীতে গুণান্বিত যাতে কোনো ত্রুটি নেই, যা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং সৃষ্টির কোনো কিছুই কোনো গুণের ক্ষেত্রে তাঁর সদৃশ নয়"২।

আল্লাহর নাম ও গুণাবলী অধ্যায়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে

--------------------------------------------

১ লুমআতুল ইতিকাদ, পৃষ্ঠা ৯।

২ মিনহাজুস সুন্নাহ ২/ ৫২৩।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২৩)
أسس رئيسة هي1:

الأساس الأول: الإيمان بما وردت به نصوص القرآن والسنة الصحيحة من أسماء الله وصفاته إثباتا ونفيا.

الأساس الثاني: تنزيه الله جل وعلا عن أن يشبه شيء من صفاته شيئا من صفات المخلوقين.

الأساس الثالث: قطع الطمع عن إدراك كيفية اتصاف الله بتلك الصفات.

وهذه الأسس الثلاثة هي التي تفصل وتميز عقيدة أهل السنة في هذا الباب عن عقيدة أهل التعطيل من الفلاسفة وأهل الكلام من جهة، وعن عقيدة أهل التمثيل من الكرامية والهشامية وغيرهم من جهة أخرى.

فالأساس الأول: فيه تمييز لعقيدة أهل السنة عن عقيدة المعطلة، فأهل السنة يجعلون الأصل في إثبات الأسماء والصفات أو نفيها عن الله تعالى هو كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، ولا يتجاوزونهما، فما ورد إثباته من الأسماء والصفات في القرآن والسنة الصحيحة فيجب إثباته، وما ورد نفيه فيهما فيجب نفيه.

"وأما ما لم يرد إثباته ونفيه فلا يصح استعماله في باب الأسماء وباب الصفات إطلاقا، وأما في باب الإخبار فمن السلف من يمنع ذلك، ومنهم من يجيزه بشرط أن يستفصل عن مراد المتكلم فيه، فإن أراد به حقا يليق بالله تعالى فهو مقبول، وإن أراد به معنى لا يليق بالله عز وجل وجب رده"2.

ومجمل القول أن في الأمر ثلاثة أبواب:

أ- باب الأسماء: وهذا يجب الاعتماد فيه على الكتاب والسنة فقط.

--------------------------------------------

1 منهج ودراسات لآيات الأسماء والصفات ص 25.

2 رسالة في العقل والروح لابن تيمية 2/ 46- 47 (ضمن مجموعة الرسائل المنيرية) .
প্রধান ভিত্তিগুলো হলো:১

প্রথম ভিত্তি: কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহর নসসমূহে আল্লাহর যে সকল নাম ও গুণাবলি সাব্যস্তকরণ (ইসবাত) বা অস্বীকারকরণ (নাফি) হিসেবে এসেছে, সেগুলোর ওপর ঈমান আনা।

দ্বিতীয় ভিত্তি: আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা-কে পবিত্র ঘোষণা করা যে, তাঁর গুণাবলির কোনো কিছু সৃষ্টিজগতের কোনো গুণাবলির সদৃশ হবে না।

তৃতীয় ভিত্তি: আল্লাহ কীভাবে সেই গুণাবলির অধিকারী, সেই পদ্ধতি বা প্রকৃতি (কাইফিয়াত) উপলব্ধি করার আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করা।

এই তিনটি ভিত্তিই এই অধ্যায়ে একদিকে দার্শনিক ও কালাম শাস্ত্রবিদদের মতো গুণাবলি অস্বীকারকারীদের (আহলুত তাতিল) আকিদা থেকে আহলে সুন্নাতের আকিদাকে আলাদা ও স্বতন্ত্র করে; আর অন্যদিকে কাররামিয়্যাহ, হিশামিয়্যাহ এবং অন্যদের মতো সাদৃশ্যদানকারীদের (আহলুত তামসিল) আকিদা থেকেও একে পৃথক করে।

সুতরাং প্রথম ভিত্তিটি গুণাবলি অস্বীকারকারীদের আকিদা থেকে আহলে সুন্নাতের আকিদাকে পৃথক করে। কেননা আহলে সুন্নাত আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করা বা তা অস্বীকার করার ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহকে মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করে এবং তারা এই দুটির সীমা অতিক্রম করে না। তাই কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহয় যে সকল নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করার কথা এসেছে, তা সাব্যস্ত করা ওয়াজিব। আর যাতে তা অস্বীকার করার কথা এসেছে, তা অস্বীকার করা ওয়াজিব।

"আর যে বিষয়ের সাব্যস্তকরণ বা অস্বীকারকরণ কোনোটিই আসেনি, নাম ও গুণাবলির অধ্যায়ে তার ব্যবহার একেবারেই সঠিক নয়। আর সংবাদের (ইখবার) অধ্যায়ে সালাফদের কেউ কেউ তা নিষেধ করেছেন, আবার কেউ কেউ বক্তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানার শর্তে তা জায়েজ বলেছেন। যদি তার দ্বারা আল্লাহ তাআলার শানের উপযুক্ত কোনো সত্য বিষয় উদ্দেশ্য হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য। আর যদি তার দ্বারা এমন কোনো অর্থ উদ্দেশ্য হয় যা মহান আল্লাহর শানের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা ওয়াজিব।"২

সারসংক্ষেপ এই যে, বিষয়টি তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত:

ক- নামসমূহের অধ্যায়: এতে কেবল কিতাব এবং সুন্নাহর ওপর নির্ভর করা ওয়াজিব।

--------------------------------------------

১ মানহাজ ওয়া দিরাসাত লি-আয়াতিল আসমা ওয়াস সিফাত, পৃষ্ঠা ২৫।

২ ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত রিসালা ফিল আকলি ওয়ার রুহ ২/ ৪৬- ৪৭ (মাজমুআতুর রাসায়েল আল-মুনিরিয়ার অন্তর্ভুক্ত)।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২৪)
2- باب الصفات: وهذا كذلك يجب الاعتماد فيه على الكتاب والسنة فقط.

3- باب الإخبار: وهذا لا يشترط فيه النص الشرعي، ولكن يشترط أن يكون معنى اللفظ المستعمل ليس بسيء.

أما أهل التعطيل: فقد جعلوا "العقل" وحده هو أصل علمهم، فالشبه العقلية هي الأصول الكلية الأولية عندهم، وهي التي تثبت وتنفي، ثم يعرضون الكتاب والسنة على تلك الشبه العقلية، فإن وافقتها قبلت اعتضادا لا اعتمادا، وإن عارضتها ردت تلك النصوص الشرعية وطرحت، وفي هذا يقول قائلهم: "كل ما ورد السمع به ينظر فإن كان العقل مجوزا له وجب التصديق به … وأما ما قضى العقل باستحالته فيجب فيه تأويل ما ورد السمع به، ولا يتصور أن يشمل السمع على قاطع مخالف للمعقول. وظواهر أحاديث التشبيه - يعني بها أحاديث الصفات- أكثرها غير صحيح والصحيم منها ليس بقاطع، بل هو قابل للتأويل"1.

فهذا النقل يبين لك مدى تقديم هؤلاء لشبههم العقلية وتعصبهم لها وكيف أنهم يجعلونها هي الأصول والسمع معروضا عليها، فما أجازته عقولهم قبلوه، وما لم تجزه عقولهم شككوا فيه وانتقصوه، ومن ثم سعوا في تأويله وتحريفه، ومن يلقي نظرة على كتب الأشاعرة مثلا يجد أن القوم يقسمون أبواب العقيدة إلى إلهيات- ونبوات- وسمعيات، وهم في باب

--------------------------------------------

1 الاقتصاد في الاعتقاد لأبي حامد الغزالي ص 32 1- 33 1، وقال في كتابه "المستصفى" 2/ 137- 138: "كل ما دل العقل فيه على أحد الجانبين فليس للتعارض فيه مجال، إذ الأدلة العقلية يستحيل نسخها وتكذيبها، فإن ورد دليل سمعي على خلاف العقل، فإما أن لا يكون متواترا فيعلم أنه غير صحيح، وإما أن يكون متواترا فيكون مؤولا ولا يكون متعارضا".
২- সিফাত বা গুণাবলির অধ্যায়: এক্ষেত্রেও শুধুমাত্র কিতাব ও সুন্নাহর ওপর নির্ভর করা আবশ্যক।

৩- সংবাদ প্রদানের অধ্যায়: এক্ষেত্রে শারয়ি দলিলের শর্ত নেই, তবে শর্ত হলো ব্যবহৃত শব্দের অর্থ যেন মন্দ না হয়।

পক্ষান্তরে সিফাত অস্বীকারকারীদের (আহলুত তা’তীল) অবস্থা হলো: তারা কেবল "বিবেক"-কেই তাদের ইলমের মূল ভিত্তি বানিয়েছে। তাদের নিকট যৌক্তিক সংশয়গুলোই হলো মৌলিক ও প্রাথমিক মূলনীতি এবং এগুলোর মাধ্যমেই তারা কোনো কিছু সাব্যস্ত করে বা প্রত্যাখ্যান করে। এরপর তারা কিতাব ও সুন্নাহকে সেই যৌক্তিক সংশয়গুলোর সামনে পেশ করে। যদি তা সেগুলোর সাথে মিলে যায়, তবে তারা তা সমর্থন হিসেবে গ্রহণ করে, নির্ভরতা হিসেবে নয়। আর যদি তা সেগুলোর বিরোধী হয়, তবে তারা সেই শারয়ি দলিলসমূহকে প্রত্যাখ্যান করে এবং ছুড়ে ফেলে দেয়। এ বিষয়ে তাদের একজন প্রবক্তা বলেন: "যা কিছু ওহির মাধ্যমে এসেছে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে; যদি বিবেক তা অনুমোদন দেয় তবে তা বিশ্বাস করা ওয়াজিব … আর যে বিষয়ে বিবেক অসম্ভব হওয়ার রায় দেয়, সে ক্ষেত্রে ওহির মাধ্যমে যা এসেছে তার ব্যাখ্যা (তাবিল) করা ওয়াজিব। এটা কল্পনা করা যায় না যে, ওহি বিবেকের পরিপন্থী কোনো অকাট্য বিষয় নিয়ে আসবে। সাদৃশ্যমূলক হাদিসগুলোর বাহ্যিক রূপ—অর্থাৎ সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত হাদিসগুলো—এর অধিকাংশ সহিহ নয়, আর যেগুলো সহিহ সেগুলো অকাট্য নয়, বরং তা ব্যাখ্যার উপযোগী।"১

এই উদ্ধৃতিটি আপনাকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে, তারা তাদের যৌক্তিক সংশয়গুলোকে কতটা প্রাধান্য দেয় এবং এগুলোর প্রতি তারা কতটা অন্ধবিশ্বাসী। আর কীভাবে তারা এগুলোকে মূলনীতি বানায় এবং ওহিকে সেগুলোর সামনে পেশ করে। যা তাদের বিবেক অনুমোদন করে তারা তা গ্রহণ করে, আর যা তাদের বিবেক অনুমোদন করে না তারা সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে এবং তার মর্যাদা কমিয়ে দেয়। এরপর তারা তার ব্যাখ্যা ও বিকৃতি (তাহরিফ) সাধনের চেষ্টা করে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি আশআরিদের কিতাবগুলোর দিকে লক্ষ্য করে তবে দেখতে পাবে যে, তারা আকীদার অধ্যায়গুলোকে ইলাহিয়াত (আল্লাহ সংক্রান্ত), নবুওয়াত এবং সামঈয়াত (ওহি নির্ভর) - এই তিন ভাগে ভাগ করেছে। আর তারা অধ্যায়ে...

--------------------------------------------

১ আবু হামিদ আল-গাজালির 'আল-ইকতিসাদ ফিল ইতিকাদ', পৃষ্ঠা ৩২-৩৩। তিনি তার 'আল-মুসতাসফা' কিতাবে (২/১৩৭-১৩৮) বলেছেন: "বিবেক যে বিষয়ে কোনো এক পক্ষের স্বপক্ষে প্রমাণ দেয় সেখানে বিরোধের কোনো সুযোগ নেই। কারণ যৌক্তিক দলিলসমূহ রহিত বা মিথ্যা সাব্যস্ত করা অসম্ভব। সুতরাং যদি বিবেকের পরিপন্থী কোনো শারয়ি দলিল আসে, তবে হয় সেটি মুতাওয়াতির নয় ফলে জানা যাবে যে সেটি সহিহ নয়, আর না হয় সেটি মুতাওয়াতির হবে ফলে সেটির ব্যাখ্যা করতে হবে এবং তখন তা আর বিরোধী থাকবে না।"
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২৫)
الإلهيات والنبوات لا يعتمدون نصوص الكتاب والسنة، ولذلك لن تجد في هذين البايين إلا الشبه العقلية المركبة وفق القواعد المنطقية، ويا عجبا أنأخذ ديننا من ملاحدة اليونان وتلامذتهم أم من كلام الله ورسوله صلى الله عليه وسلم؟!

وأما باب السمعيات- أي البعث والحشر والجنة والنار والوعد والوعيد- فهم يقبلون النصوص الشرعية، وبالتالي سموا هذا الباب بالسمعيات في مقابل باب الإلهيات والنبوات؟ إذ إنهم يعتمدون فيهما على العقليات، وهؤلاء شابهوا حال من قال الله تعالى فيهم: {أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَاّ خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ} [البقرة: 85] .

وأما الأساس الثاني: وهو تنزيه الله عن مشابهة المخلوقين، ففيه تمييز لعقيدة أهل السنة عن عقيدة المعطلة من جهة، وعن عقيدة المشبهة من جهة أخرى. فأهل السنة: يعتقدون أن ما اتصف الله به من الصفات لا يماثله فيها أحد من خلقه، فالله عز وجل قد أخبرنا بذلك بنص كتابه العزيز حيث قال: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] ، فإذا ورد النص بصفة من صفات الله تعالى في الكتاب أو السنة فيجب الإيمان به والاعتقاد الجازم بأن ذلك الوصف بالغ من غايات الكمال والشرف والعلو مما يقطع جميع علائق أوهام المشابهة بينه وبين صفات المخلوقين، فالشر كل الشر في عدم تعظيم الله وأن يسبق في ذهن الإنسان أن صفة الخالق تشبه صفة المخلوق، فعلى القلب المؤمن المصدق بصفات الله التي تمدح بها أو أثنى عليه بها نبيه صلى الله عليه وسلم، أن يكون معظما لله عز وجل غير متنجس بأقذار التشبيه، لتكون أرض قلبه طيبة طاهرة قابلة للإيمان بالصفات على أساس التنزيه أخذا بقوله تعالى: {لَيْسَ
ইলাহিয়্যাত (ঈশ্বরতত্ত্ব) এবং নুবুওয়্যাত (নবুয়তত্ত্ব) এর ক্ষেত্রে তারা কিতাব ও সুন্নাহর দলিলসমূহের ওপর নির্ভর করে না। একারণেই আপনি এই দুটি অধ্যায়ে যুক্তিবিদ্যার নিয়মানুযায়ী গঠিত জটিল সব বুদ্ধিভিত্তিক সংশয় ছাড়া আর কিছুই পাবেন না। এটা কতই না আশ্চর্যের বিষয় যে, আমরা কি আমাদের দ্বীন গ্রহণ করব গ্রিসের নাস্তিক ও তাদের শিষ্যদের থেকে, নাকি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী থেকে?!

আর সামইয়্যাত (শ্রুত বিষয়াবলি) অধ্যায়—অর্থাৎ পুনরুত্থান, হাশর, জান্নাত, জাহান্নাম, এবং পুরস্কার ও শাস্তির প্রতিশ্রুতি—এর ক্ষেত্রে তারা শরয়ি দলিলসমূহ গ্রহণ করে। ফলে তারা ইলাহিয়্যাত ও নুবুওয়্যাত অধ্যায়ের বিপরীতে এই অধ্যায়কে সামইয়্যাত নামে অভিহিত করেছে। যেহেতু তারা ওই দুই ক্ষেত্রে বুদ্ধিভিত্তিক যুক্তির ওপর নির্ভর করে। আর তারা ঐ লোকদের অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো আর কিছু অংশকে অস্বীকার করো? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের একমাত্র প্রতিফল পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা এবং কিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠোরতম শাস্তির দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে উদাসীন নন।} [আল-বাকারা: ৮৫]

আর দ্বিতীয় মূলনীতি হলো: আল্লাহকে সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে পবিত্র রাখা। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন মুআত্তিলাদের (গুণাবলি অস্বীকারকারী) আকিদা থেকে আহলে সুন্নাহর আকিদার পার্থক্য সূচিত হয়, অন্যদিকে মুসাব্বিহাদের (সাদৃশ্যদানকারী) আকিদা থেকেও পার্থক্য সূচিত হয়। আহলে সুন্নাহ বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ যেসব গুণে গুণান্বিত, তাতে তাঁর সৃষ্টির কেউই তাঁর সদৃশ নয়। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় কিতাবের অকাট্য বাণীর মাধ্যমে আমাদের তা জানিয়েছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} [আশ-শূরা: ১১]। সুতরাং যখন কিতাব বা সুন্নাহতে মহান আল্লাহর কোনো গুণের কথা বর্ণিত হয়, তখন তার ওপর ঈমান আনা এবং এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা ওয়াজিব যে, সেই গুণটি পূর্ণতা, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের এমন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে যা স্রষ্টা এবং সৃষ্টির গুণের মধ্যে সাদৃশ্যের সকল কাল্পনিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়। কারণ সকল অনিষ্ট নিহিত রয়েছে আল্লাহকে যথাযথ সম্মান না করার মধ্যে এবং মানুষের মনে এই ধারণা আসার মধ্যে যে, স্রষ্টার গুণ সৃষ্টির গুণের সদৃশ। অতএব, যে মুমিন হৃদয় আল্লাহর সেই সব গুণাবলিকে বিশ্বাস করে যার মাধ্যমে তিনি স্বীয় প্রশংসা করেছেন অথবা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রশংসা করেছেন, তার উচিত মহান আল্লাহকে যথাযথ সম্মান করা এবং সাদৃশ্য প্রদানের অপবিত্রতায় কলুষিত না হওয়া। যেন তার অন্তরের জমিন পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন হয় এবং পবিত্রতা রক্ষার ভিত্তিতে গুণাবলির ওপর ঈমান গ্রহণের যোগ্য হয়, মহান আল্লাহর এই বাণী অনুসরণের মাধ্যমে: {কোনো কিছুই তাঁর...
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২৬)
كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] 1.

أما أهل التعطيل: فإنهم لم يفهموا من أسماء الله وصفاته إلا ما هو اللائق بالمخلوق، ثم شرعوا في نفي تلك المفهومات التي لا وجود لها إلا في أفهامهم الفاسدة، فعقيدة هؤلاء المعطلة جمعت بين التمثيل والتعطيل، وهذا الشر إنما جاء من تنجس قلوبهم وتدنسها بأقذار التشبيه، فإذا سمعوا صفة من صفات الكمال التي أثنى الله بها على نفسه كاستوائه على عرشه ومجيئه يوم القيامة وغير ذلك من صفات الجلال والكمال، فإن أول ما يخطر في أذهانهم أن هذه الصفة تشبه صفات الخلق، فلتلطخ القلب بأقذار التشبيه لم يقدر الله حق قدره ولم يعظم الله حق عظمته حيث سبق إلى ذهنه أن صفة الخالق تشبه صفة المخلوق، فيكون أولا نجس القلب بأقذار التشبيه ثم دعاه ذلك إلى أن ينفي صفة الخالق جل وعلا عنه بادعاء أنها تشبه صفات المخلوق، فيكون فيها أولا مشبها، وثانيا معطلا ضالا ابتداء وانتهاء متهجما على رب العالمين ينفي صفاته عنه بادعاء أن تلك الصفة لا تليق2.

وأما عقيدة أهل التمثيل: فهي تقوم على دعواهم أن الله عز وجل لا يخاطبنا إلا بما نعقل، فإذا أخبرنا عن اليد فنحن لا نعقل إلا هذه اليد الجارحة، فشبهوا صفات الخالق بصفات المخلوقين، فقالوا: له يد كأيدينا ونحو ذلك، تعالى الله عن ذلك علوا كبيرا.

وأما العارفون به، المصدقون لرسله، المقرون بكماله فهم يثبتون لله جميع صفاته، وينفون عنه مشابهة المخلوقات، فيجمعون يين الإثبات ونفي التشبيه

--------------------------------------------

1 انظر "منهج ودراسات لآيات الأسماء والصفات" ص 21- 22.

2 انظر "منهج ودراسات لآيات الأسماء والصفات" ص 19- 20.
"তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" [আশ-শূরা: ১১] ১।

পক্ষান্তরে যারা গুণাবলী অস্বীকারকারী (মুআত্তিলা): তারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলী থেকে কেবল সৃষ্টির উপযুক্ত যা কিছু তাই বুঝেছে, অতঃপর তারা সেই ধারণাগুলো অস্বীকার করতে শুরু করল যেগুলোর অস্তিত্ব কেবল তাদের কলুষিত মস্তিস্কেই ছিল। সুতরাং এই অস্বীকারকারীদের আকিদা সাদৃশ্যারোপ (তামসীল) এবং অস্বীকারকরণ (তা'তীল)-কে একত্রিত করেছে। আর এই মন্দ দিকটি কেবল তাদের অন্তরসমূহ কলুষিত হওয়ার কারণে এবং সাদৃশ্যারোপের (তাশবীহ) অপবিত্রতায় তা নাপাক হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং তারা যখন এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ গুণ সম্পর্কে শোনে যার মাধ্যমে আল্লাহ নিজের প্রশংসা করেছেন—যেমন তাঁর আরশের উপর ওঠা, কিয়ামতের দিন তাঁর আগমন এবং এছাড়া আরও অন্যান্য মর্যাদা ও পূর্ণতার গুণাবলী—তখন সর্বপ্রথম তাদের মনে যে ধারণাটি আসে তা হলো, এই গুণটি সৃষ্টির গুণের সদৃশ। সাদৃশ্যারোপের অপবিত্রতায় অন্তর কলুষিত থাকার কারণে তারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি এবং আল্লাহর যথাযথ মহিমা প্রকাশ করেনি, যেহেতু তার মনে পূর্বেই এই ধারণা জন্ম নিয়েছে যে, স্রষ্টার গুণ সৃষ্টির গুণের সদৃশ। ফলে সে প্রথমত সাদৃশ্যারোপের অপবিত্রতার মাধ্যমে অন্তরকে নাপাক করেছে, অতঃপর এটিই তাকে মহান আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকার করার দিকে পরিচালিত করেছে এই দাবি করে যে, তা সৃষ্টির গুণের সদৃশ। এর ফলে সে প্রথমত সাদৃশ্যারোপকারী (মুশাব্বিহ) হয়েছে এবং দ্বিতীয়ত অস্বীকারকারী ও পথভ্রষ্ট হয়েছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, রাব্বুল আলামীনের প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে সে তাঁর গুণাবলীকে এই দাবি করে অস্বীকার করে যে, সেই গুণটি (আল্লাহর জন্য) উপযুক্ত নয়। ২।

পক্ষান্তরে যারা সাদৃশ্যারোপকারী (আহলুত তামসীল): তাদের আকিদা তাদের এই দাবির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা আমাদের সাথে কেবল তা দিয়েই সম্বোধন করেন যা আমরা উপলব্ধি করি। সুতরাং তিনি যখন আল্লাহর হাত সম্পর্কে সংবাদ দেন, তখন আমরা এই অঙ্গবিশিষ্ট হাত ছাড়া আর কিছুই বুঝি না। ফলে তারা স্রষ্টার গুণাবলীকে সৃষ্টির গুণাবলীর সাথে তুলনা করেছে এবং তারা বলেছে: আল্লাহর হাত আমাদের হাতের মতো এবং এই জাতীয় কথা; আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে ও সুমহান।

পক্ষান্তরে যারা তাঁর সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রাখেন, তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী এবং তাঁর পূর্ণতাকে স্বীকারকারী, তাঁরা আল্লাহর জন্য তাঁর সকল গুণাবলী সাব্যস্ত করেন এবং তাঁর থেকে সৃষ্টিজগতের সদৃশ হওয়াকে নাকচ করেন; ফলে তাঁরা (গুণের) সাব্যস্তকরণ এবং সাদৃশ্যারোপ অস্বীকার করার মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন।

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: "মানহাজ ওয়া দিরাসাত লি-আয়াতিল আসমা ওয়াস-সিফাত", পৃষ্ঠা ২১-২২।

২ দ্রষ্টব্য: "মানহাজ ওয়া দিরাসাত লি-আয়াতিল আসমা ওয়াস-সিফাত", পৃষ্ঠা ১৯-২০।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২৭)
وبين التنزيه وعدم التعطيل، فمذهبهم حسنة يين سيئتين، وهدى بين ضلالتين.

وأما الأساس الثالث: ففيه تمييز لعقيدة أهل السنة عن عقيدة المشبهة، فأهل السنة يفوضون علم كيفية اتصاف الباري عز وجل بتلك الصفات إلى الله عز وجل، فلا علم للبشر بكيفية ذات الله تبارك وتعالى ولا تفسير كنه شيء من صفات ربنا تعالى كأن يقال استوى على هيئة كذا، فكل من تجرأ على شيء من ذلك فقوله من الغلو في الدين والافتراء على الله عز وجل، واعتقاد مما لم يأذن به الله ولا يليق بجلاله وعظمته ولم ينطق به كتاب ولا سنة، ولو كان ذلك مطلوبا من العباد في الشريعة لبينه الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم فهو لم يدع ما بالمسلمين إليه حاجة إلا بينه ووضحه، والعباد لا يعلمون عن الله تعالى إلا ما علمهم كما قال تعالى: {وَلا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَاّ بِمَا شَاءَ} [البقرة: 255] ، فليؤمن العبد بما علمه الله تعالى وليقف معه، وليمسك عما جهله وليكل معناه إلى عالمه1.

وأما المشبهة فقد تعمقوا في شأن كيفيات صفات الله وتقولوا على الله بغير علم، حيث يقول أحدهم: له بصر كبصري، ويد كيدي، وقدم كقدمي تعالى الله عما يقولون علوا كبيرا.

--------------------------------------------

1 انظر "معارج القبول" 1/ 326- 327.
এবং পবিত্রতা ঘোষণা ও গুণাবলি অস্বীকার না করার মধ্যবর্তী অবস্থানে; ফলে তাদের মাযহাব হলো দুই মন্দের মাঝে এক উত্তম বিষয় এবং দুই ভ্রষ্টতার মাঝে এক হিদায়াত।

আর তৃতীয় মূলনীতিটি হলো: এতে আহলে সুন্নাতের আকিদাকে মুশাব্বিহাদের আকিদা থেকে পৃথক করা হয়েছে। আহলে সুন্নাত মহীয়ান ও গরীয়ান স্রষ্টা আল্লাহ এই গুণাবলি দ্বারা কীভাবে বিশেষিত, সেই পদ্ধতির জ্ঞান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলার সত্তার ধরন সম্পর্কে মানুষের কোনো জ্ঞান নেই এবং আমাদের রবের কোনো গুণের প্রকৃত স্বরূপের এমন কোনো ব্যাখ্যা নেই যেমনটি বলা হয় যে, তিনি অমুক পদ্ধতিতে উঠেছেন। অতএব যে ব্যক্তিই এর কোনো বিষয়ে দুঃসাহস দেখাবে, তার বক্তব্য দ্বীনের মধ্যে অতিরঞ্জন এবং মহান আল্লাহর ওপর অপবাদ আরোপের শামিল। এটি এমন এক বিশ্বাস যার অনুমতি আল্লাহ দেননি, যা তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের উপযোগী নয় এবং কুরআন বা সুন্নাহর কোথাও এটি বর্ণিত হয়নি। যদি শরিয়তে বান্দাদের নিকট এটি কাম্য হতো, তবে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা অবশ্যই বর্ণনা করতেন। মুসলিমদের যা কিছু প্রয়োজন হতে পারে এমন কোনো বিষয়ই তিনি বর্ণনা ও স্পষ্ট করা ছাড়া বাদ দেননি। আর বান্দারা আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে কেবল ততটুকুই জানে যতটুকু তিনি তাদের শিখিয়েছেন, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু চান তা ব্যতীত" [আল-বাকারা: ২৫৫]। সুতরাং বান্দার উচিত আল্লাহ তাকে যা শিখিয়েছেন তার ওপর ঈমান আনা এবং সেখানেই স্থির থাকা। আর যা সে জানে না তা থেকে বিরত থাকা এবং এর অর্থ এর পরিজ্ঞাত সত্তার নিকট সোপর্দ করা১।

আর মুশাব্বিহাগণ আল্লাহর গুণাবলির ধরনের বিষয়ে অতিরঞ্জন করেছে এবং তারা জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে অপবাদ দিয়েছে। যেমন তাদের কেউ বলে: তাঁর দৃষ্টি আমার দৃষ্টির মতো, আল্লাহর হাত আমার হাতের মতো এবং আল্লাহর পা আমার পায়ের মতো। তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি উচ্চ ও অতি মহান।

--------------------------------------------

১ দেখুন "মাআরিজুল কবুল" ১/ ৩২৬- ৩২৭।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المطلب الثاني: موقفهم من باب الأسماء

يمكن إجمال معتقد أهل السنة في أسماء الله في النقاط التالية:

أولا: الإيمان بثبوت الأسماء الحسنى الواردة في القرآن والسنة، من غير زيادة ولا نقصان.

فمن الأمور المتقررة في عقيدة أهل السنة في باب أسماء الله الحسنى أن من ضابط أسماء الله الحسنى ورود النص بذلك الاسم فلا يسمى الله إلا بما سمى به نفسه في كتابه أو على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم.

ولذلك يرى السلف أن من أحكام باب الأسماء ما يلي:

أ- إثبات ما أثبته الله لنفسه من الأسماء الحسنى الواردة في نصوص القرآن والسنة الصحيحة.

2- ألا ننفي عن الله ما سمى به نفسه في كتابه أو على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم.

3- ألا نسمي الله بما لم يسم به نفسه في كتابه أو على لسان رسوله محمد صلى الله عليه وسلم.

وذلك لأنه لا طريق إلى معرفة أسماء الله تبارك وتعالى إلا من طريق واحد هو طريق الخبر (أي الكتاب والسنة) .

ومن أقوال أهل العلم في تقرير هذه المسألة ما يلي:

قال ابن القيم رحمه الله: "أسماء الله تعالى هي أحسن الأسماء وأكملها فليس في الأسماء أحسن منها ولا يقوم غيرها مقامها ولا يؤدي معناها وتفسير الاسم منها بغيره ليس تفسيرا بمرادف محض، بل هو على سبيل
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আসমা (নামসমূহ) সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের অবস্থান

আল্লাহর নামসমূহের ব্যাপারে আহলে সুন্নাহর আকিদাকে নিচের পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা সম্ভব:

প্রথমত: কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত আসমাউল হুসনা বা সুন্দর নামসমূহের সাব্যস্ত হওয়ার প্রতি কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ব্যতিরেকে ঈমান রাখা।

আসমাউল হুসনা বা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের অধ্যায়ে আহলে সুন্নাহর আকিদায় এটি একটি সুনির্ধারিত বিষয় যে, আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মানদণ্ড হলো সেই নামের সপক্ষে দলিল বিদ্যমান থাকা। অতএব, আল্লাহ নিজের কিতাবে বা তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবানে নিজেকে যে নামে অভিহিত করেছেন, তা ব্যতীত অন্য কোনো নামে তাঁকে নামকরণ করা যাবে না।

এজন্য সালাফগণ মনে করেন যে, নামসমূহের অধ্যায়ের বিধানাবলি নিম্নরূপ:

ক- আল্লাহ নিজের জন্য কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর দলিলে যে সকল সুন্দর নাম সাব্যস্ত করেছেন, তা সাব্যস্ত করা।

২- আল্লাহ নিজের কিতাবে বা তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবানে নিজেকে যে নামে অভিহিত করেছেন, তা অস্বীকার না করা।

৩- আল্লাহ নিজের কিতাবে বা তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জবানে নিজেকে যে নামে অভিহিত করেননি, সে নামে তাঁকে নামকরণ না করা।

কেননা মহান আল্লাহ তায়ালার নামসমূহ জানার একমাত্র পথ হলো ‘খবর’ বা ওহীর সংবাদ (অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ)।

এই বিষয়টি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আলেমদের কিছু বক্তব্য নিম্নরূপ:

ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আল্লাহ তায়ালার নামসমূহ হলো সর্বোত্তম ও সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ নাম। তাই নামসমূহের মধ্যে এর চেয়ে উত্তম আর কোনো নাম নেই, অন্য কোনো নাম এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না এবং এর অর্থও পুরোপুরি প্রকাশ করতে পারে না। আল্লাহর কোনো একটি নামের ব্যাখ্যা অন্য শব্দের মাধ্যমে করা কেবল নিছক সমার্থক ব্যাখ্যা নয়; বরং তা হলো..."
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২৯)
التقريب والتفهيم.

فإذا عرفت هذا فله من كل صفة كمال أحسن اسم وأكمله وأتمه معنى، وأبعده عن شائبة عيب أو نقص.

فله من صفة الإدراكات:

العليم الخبير دون العاقل الفقيه.

والسميع البصير دون السامع والباصر والناظر.

ومن صفات الإحسان:

البر الرحيم الودود دون الشفوق.

وكذلك العلي العظيم دون الرفيع الشريف.

وكذلك الكريم دون السخي.

وكذلك الخالق البارئ المصور دون الفاعل الصانع المشكل.

وكذلك سائر أسمائه تعالى يجري على نفسه منها أكملها وأحسنها وما لا يقوم غيره مقامه فتأمل ذلك، فأسماؤه أحسن الأسماء كما أن صفاته أكمل الصفات، فلا تعدل عما سمى به نفسه إلى غيره، كما لا تتجاوز ما وصف به نفسه ووصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم إلى ما وصفه به المبطلون والمعطلون"1.

وقال أبو سليمان الخطابي: "ومن علم هذا الباب- أعني الأسماء والصفات- ومما يدخل في أحكامه ويتعلق به من شرائط، أنه لا يتجاوز فيها التوقيف، ولا يستعمل فيها القياس فيلحق بالشيء نظيره في ظاهر وضع اللغة ومتعارض الكلام:

"فالجواد" لا يجوز أن يقاس عليه السخي وإن كانا متقاريين في ظاهر

--------------------------------------------

1 بدائع الفوائد 1/ 168.
সহজবোধ্যকরণ এবং উপলব্ধি প্রদান।

সুতরাং আপনি যখন এটি জানলেন, তখন জেনে রাখুন যে, তাঁর প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ গুণের জন্য সর্বোত্তম, অতি পূর্ণ এবং অর্থগতভাবে অত্যন্ত সার্থক নাম রয়েছে, যা যাবতীয় ত্রুটি বা অপূর্ণতার কালিমা থেকে মুক্ত।

উপলব্ধিমূলক গুণাবলির ক্ষেত্রে তাঁর জন্য রয়েছে:

আল-আলীম (সর্বজ্ঞ) ও আল-খবীর (সম্যক অবহিত); আল-আকিল (বুদ্ধিমান) বা আল-ফকীহ (প্রজ্ঞাবান) নয়।

এবং আস-সামী (সর্বশ্রোতা) ও আল-বাসীর (সর্বদ্রষ্টা); আস-সামি (শ্রবণকারী), আল-বাসির (দর্শনকারী) বা আন-নাযির (পর্যবেক্ষণকারী) নয়।

অনুগ্রহমূলক গুণাবলির ক্ষেত্রে:

আল-বারর (পরম কল্যাণময়), আর-রাহীম (পরম দয়ালু) ও আল-ওয়াদুদ (অত্যন্ত প্রেমময়); আশ-শাফুক (কোমলহৃদয়) নয়।

অনুরূপভাবে, আল-আলী (সুউচ্চ) ও আল-আযীম (মহা মহিমান্বিত); আর-রাফী (উন্নত) বা আশ-শারীফ (ভদ্র/সম্মানিত) নয়।

এবং আল-কারীম (মহা দাতা), আস-সাখী (উদার) নয়।

একইভাবে, আল-খালিক (সৃষ্টিকর্তা), আল-বারী (উদ্ভাবক) ও আল-মুসাওয়ির (রূপদানকারী); আল-ফাইল (কর্তা), আস-সানি (কারিগর) বা আল-মুশাক্কিল (আকৃতিদানকারী) নয়।

মহান আল্লাহর অন্যান্য সমস্ত নামের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য যে, তিনি নিজের জন্য সেগুলোর মধ্য থেকে অতি পূর্ণ ও অতি সুন্দর নামগুলোই গ্রহণ করেছেন, যার স্থলাভিষিক্ত অন্য কেউ হতে পারে না। সুতরাং আপনি এটি নিয়ে চিন্তা করুন। তাঁর নামসমূহ হলো সর্বোত্তম নাম, যেমন তাঁর গুণাবলি হলো অতি পূর্ণ গুণ। অতএব, তিনি নিজেকে যে নামে নামকরণ করেছেন তা পরিহার করে অন্য দিকে যাবেন না, এবং তিনি নিজেকে যে গুণে গুণান্বিত করেছেন কিংবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে যে গুণে গুণান্বিত করেছেন, তা অতিক্রম করে বাতিলপন্থী ও আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারীদের বর্ণনার দিকে ধাবিত হবেন না।১

আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবী বলেন: "যে ব্যক্তি এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছে—অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে—এবং এর বিধানাবলির অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি সম্পর্কে জেনেছে, সে বুঝতে পেরেছে যে এই ক্ষেত্রে 'তাওকীফ' (শরীয়তের অকাট্য দলীল) অতিক্রম করা যাবে না। আর এতে কিয়াস বা অনুমান ব্যবহার করা যাবে না, যার ফলে ভাষার বাহ্যিক প্রয়োগ বা প্রচলিত বাক্যালাপের ভিত্তিতে কোনো বিষয়কে তার সদৃশ বিষয়ের সাথে যুক্ত করা হয়:

"সুতরাং 'আল-জাওয়াদ' (মহা দাতা) নামের ওপর 'আস-সাখী' (উদার) নামকে কিয়াস করা বৈধ নয়, যদিও বাহ্যিকভাবে এ দুটি অর্থগতভাবে নিকটবর্তী...

--------------------------------------------

১. বাদায়েউল ফাওয়াইদ ১/ ১৬৮।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৩০)
الكلام، وذلك أن السخي لم يرد به التوقيف كما ورد بالجواد.

و"القوي" لا يقاس عليه الجلد، وإن كانا يتقاربان في نعوت الآدميين لأن باب التجلد يدخله التكلفة والاجتهاد.

ولا يقاس على "القادر" المطيق ولا المستطيع.

وفي أسمائه "العليم" ومن صفته العلم، فلا يجوز قياسا عليه أن يسمى عارفا لما تقتضيه المعرفة من تقديم الأسباب التي بها يتوصل إلى علم الشيء وكذلك لا يوصف بالعاقل.

وهذا الباب يجب أن يراعى ولا يغفل، فإن عائدته عظيمة والجهل به ضار وبالله التوفيق"1.

وقال السفاريني في منظومته:

لكنها في الحق توقيفية … لنا بذا أدلة وفية

لنا بذا أدلة وفية

ثم قال في شرحه: "لكنها- أي أسماء الله - في القول الحق المعتمد عند أهل الحق توقيفية بنص الشرع وورود السمع بها، ومما يجب أن يعلم أن علماء السنة اتفقوا على جواز إطلاق الأسماء الحسنى والصفات على البارئ جل وعلا إذا ورد بها الإذن من الشارع، وعلى امتناعه على ما ورد المنع عنه"2.

من خلال ما تقدم من نقول يتضح لك مدى تمسك علماء أهل السنة بالتوقيف في باب الأسماء الحسنى، ومنعهم لاستخدام القياس اللغوي والعقلي في هذا الباب.

وهذا هو القول الحق الذي تدل عليه النصوص الشرعية ومنها ما يلي:

--------------------------------------------

1 شأن الدعاء 111 -113.

2 لوامع الأنوار البهية 1/ 124.
কথাটি এজন্য যে, 'আল-সাখি' (দাতা) নামটির ব্যাপারে কোনো শরয়ি বর্ণনা (তাওকিফ) আসেনি, যেমনটি 'আল-জাওয়াদ' (মহাদাতা) এর ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে।

এবং 'আল-কাবি' (শক্তিশালী) নামের ওপর ভিত্তি করে তাঁকে 'আল-জালাদ' (কঠোর বা সহনশীল) বলা যাবে না, যদিও মানুষের গুণাবলির বর্ণনায় শব্দ দুটি কাছাকাছি অর্থ প্রকাশ করে; কারণ সহনশীলতা বা কঠোরতার ক্ষেত্রে কষ্টসাধ্য প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের সংশ্লিষ্টতা থাকে।

তেমনিভাবে 'আল-কাদির' (ক্ষমতাবান) নামের ওপর অনুমান করে তাঁকে 'আল-মুতীক' বা 'আল-মুস্তাতী' (সামর্থ্যবান) বলা যাবে না।

তাঁর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো 'আল-আলিম' (সর্বজ্ঞ) এবং তাঁর একটি গুণ হলো 'ইলম' (জ্ঞান)। তবে এর ওপর ভিত্তি করে তাঁকে 'আরিফ' (পরিজ্ঞাতা) বলা জায়েজ নয়। কারণ 'মা’রিফাত' বা পরিচয় অর্জনের জন্য এমন কিছু মাধ্যম বা উপকরণের প্রয়োজন হয় যার দ্বারা কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। অনুরূপভাবে তাঁকে 'আকিল' (বুদ্ধিমান) হিসেবেও বিশেষিত করা যাবে না।

এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য রাখা উচিত এবং এ ব্যাপারে উদাসীন হওয়া চলবে না; কেননা এর কল্যাণ অনেক বড় এবং এ বিষয়ে অজ্ঞতা ক্ষতিকর। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য ও তাওফিক কাম্য।১

আস-সাফফারিনি তাঁর কাব্যগ্রন্থে বলেছেন:

কিন্তু সত্য কথা হলো এটি তাওকিফী (শরয়ি প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল)... এ ব্যাপারে আমাদের নিকট পর্যাপ্ত দলিল রয়েছে।

এ ব্যাপারে আমাদের নিকট পর্যাপ্ত দলিল রয়েছে।

এরপর তিনি তাঁর ব্যাখ্যায় বলেন: "তবে তা—অর্থাৎ আল্লাহর নামসমূহ—সত্যপন্থীদের নিকট নির্ভরযোগ্য ও সত্য মতানুসারে শরয়ি দলিল এবং শ্রুতির (কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণনা) ভিত্তিতে তাওকিফী। আর যা জানা আবশ্যক তা হলো, সুন্নাহর উলামাগণ এই মর্মে একমত হয়েছেন যে, মহান আল্লাহর ওপর সুন্দরতম নামসমূহ এবং গুণাবলি প্রয়োগ করা জায়েজ হবে যখন শরয়ি বিধাতার পক্ষ থেকে তার অনুমতি বর্ণিত হবে। আর যে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে তা প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।"২

উপরে বর্ণিত উদ্ধৃতিগুলোর মাধ্যমে আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আহলে সুন্নাতের উলামাগণ আসমাউল হুসনার ক্ষেত্রে তাওকিফী হওয়ার (দলিলের ওপর নির্ভরশীল থাকার) মূলনীতির ওপর কতটা দৃঢ় এবং তাঁরা এই ক্ষেত্রে ভাষাগত ও বুদ্ধিগত অনুমান ব্যবহারের বিষয়ে কতটা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।

আর এটিই হলো সত্য কথা যা শরয়ি দলিলসমূহ প্রমাণ করে, যার মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:

--------------------------------------------

১ শানুদ্দুআ ১১১-১১৩।

২ লাওয়ামিউল আনওয়ারিল বাহিয়্যাহ ১/১২৪।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৩১)
أولا: قوله تعالى: {وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [الأعراف: 185] .

فهذه الآية تدل على أن الأسماء توقيفية من وجهين:

أ- قوله: {الأَسْمَاءُ} فهي هنا جاءت (بأل) وهي هنا للعهد، فالأسماء بذلك لا تكون إلا معهودة، ولا معروف في ذلك إلا ما نص عليه في الكتاب أو السنة1.

2- قوله: {الْحُسْنَى} فهذا الوصف يدل على أنه ليس في الأسماء الأخرى أحسن منها، وأن غيرها لا يقوم مقامها ولا يؤدي معناها2 فلا يجوز بحال أن يدخل في أسماء الله ما ليس منها، فهذا الوصف يؤكد كونها توقيفية.

ثانيا: قوله تعالى: {وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأعراف: 1185] .

قال الإمام البغوي: "قال أهل المعاني: الإلحاد في أسماء الله تسميته بما لم يتسم به ولم ينطق به كتاب الله ولا سنة رسوله صلى الله عليه وسلم"3.

وقال ابن حجر: " قال أهل التفسير: من الإلحاد في أسمائه تسميته بما لم يرد في الكتاب أو السنة الصحيحة"4.

قال ابن حزم: "منع تعالى أن يسمى إلا بأسمائه الحسنى وأخبر أن من سماه بغيرها فقد ألحد"5.

--------------------------------------------

1 المحلى 29/1.

2 بدائع الفوائد 1/ 168.

3 معالم التنزيل 3/ 357.

4 فتح الباري 11/ 221.

5 المحلى 29/1.
প্রথমত: মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহর জন্য রয়েছে উত্তম নামসমূহ} [আল-আরাফ: ১৮৫]।

সুতরাং এই আয়াতটি দুটি দিক থেকে নির্দেশ করে যে, নামসমূহ তাওকিফিয়্যাহ (দলীলনির্ভর):

ক- তাঁর বাণী: {নামসমূহ}; এখানে এটি (আলিফ-লাম) যোগে এসেছে এবং এটি এখানে 'আহদ' (পরিচিতি) এর জন্য। এর মাধ্যমে নামসমূহ কেবল সুপরিচিত বিষয়গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, আর এক্ষেত্রে কিতাব বা সুন্নাহতে যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত অন্য কিছু পরিচিত নয়।১

২- তাঁর বাণী: {উত্তম}; এই বিশেষণটি প্রমাণ করে যে, অন্য কোনো নাম এর চেয়ে উত্তম নয় এবং অন্য কোনো শব্দ এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না বা এর অর্থ প্রকাশ করতে পারে না।২ সুতরাং আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কিছুকে কোনো অবস্থাতেই তাতে প্রবেশ করানো জায়েজ নয়। আর এই বিশেষণটি নামসমূহ তাওকিফিয়্যাহ হওয়ার বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করে।

দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাদেরকে বর্জন করো যারা তাঁর নামসমূহের বিকৃতি ঘটায়; তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিদান দেওয়া হবে} [আল-আরাফ: ১৮০]।

ইমাম বাগাউয়ী বলেন: "অর্থ বিশারদগণ বলেছেন: আল্লাহর নামসমূহে ইলহাদ (বিকৃতি) হলো তাঁকে এমন নামে অভিহিত করা যা দিয়ে তিনি নিজে নিজেকে অভিহিত করেননি এবং আল্লাহর কিতাব কিংবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহও তা উচ্চারণ করেনি।"৩

ইবনে হাজার বলেন: "তাফসীরকারগণ বলেছেন: তাঁর নামসমূহে ইলহাদের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁকে এমন নামে অভিহিত করা যা কিতাব কিংবা সহীহ সুন্নাহতে আসেনি।"৪

ইবনে হাজম বলেন: "আল্লাহ তাআলা তাঁর উত্তম নামসমূহ ব্যতীত অন্য কোনো নামে তাঁর নামকরণ করা নিষিদ্ধ করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি তাঁকে অন্য নামে ডাকবে সে ইলহাদ বা বিকৃতি করল।"৫

--------------------------------------------

১ আল-মুহাল্লা ২৯/১।

২ বাদায়িউল ফাওয়াইদ ১/ ১৬৮।

৩ মাআলিমুত তানজীল ৩/ ৩৫৭।

৪ ফাতহুল বারী ১১/ ২২১।

৫ আল-মুহাল্লা ২৯/১।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৩২)
وبهذا يتبين أن هذه الآية دليل على أن أسماء الله توقيفية، وأن مخالفة ذلك وتسميته تعالى بما لم يسم به نفسه ميل بها عما يجب فيها، فالإقدام على فعل شيء من ذلك هو نوع من الإلحاد في أسماء الله.

ثالثا: قوله تعالى: {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى} [الأعلى: 1] .

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "ومن جعله تسبيحا للاسم يقول المعنى: أنك لا تسم به غير الله، ولا تلحد في أسمائه فهذا ما استحقه اسم الله"1. فإذا فسرت الآية بهذا الوجه ففيها دليل على ما سبق في الآية التي قبلها من اعتبار تسميته بما لم يسم به نفسه من أنواع الإلحاد في أسمائه.

رابعا: قوله تعالى: {وَلا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَاّ بِمَا شَاءَ} [البقرة: 255]

وقوله تعالى: {وَلا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ} [الإسراء: 136] .

وقوله تعالى: {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الآياتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} [الأعراف: 33] .

فإذا كانت هذه الآيات تحرم وتحذر من الخوض في الأمور المغيبة عند فقد الدليل الشرعي، فإن ذلك التحريم والتحذير يدخل فيه باب أسماء الله باعتباره من الأمور المغيبة التي لا تعرف إلا من طريق النص الشرعي.

ولذلك من الواجب هنا الاقتصار على الأسماء الواردة في النصوص وترك ما سواها.

خامسا: حديث "ما أصاب عبدا قط هم ولا غم ولا حزن فقال: اللهم

--------------------------------------------

1 مجموع الفتاوى 6/ 199.
এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, এই আয়াতটি একটি দলিল যে আল্লাহর নামসমূহ তৌকিফি (ওহির ওপর নির্ভরশীল), এবং এর পরিপন্থী কাজ করা ও মহান আল্লাহকে এমন নামে অভিহিত করা যা তিনি নিজের জন্য নির্ধারণ করেননি—তা মূলত তাঁর নামের ক্ষেত্রে যা ওয়াজিব তা থেকে বিচ্যুতি। সুতরাং এমন কিছু করার পদক্ষেপ নেওয়া আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে এক প্রকার ইলহাদ (বিচ্যুতি বা বিকৃতি)।

তৃতীয়ত: মহান আল্লাহর বাণী: {আপনার সুউচ্চ রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন।} [আল-আলা: ১]।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "আর যারা একে 'নামের তাসবিহ' হিসেবে গণ্য করেছেন, তারা বলেন এর অর্থ হলো: আপনি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে এই নামে ডাকবেন না এবং তাঁর নামসমূহে বিকৃতি ঘটাবেন না; এটিই আল্লাহর নামের প্রাপ্য হক।"১। সুতরাং যদি আয়াতটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, তবে এতে ইতিপূর্বে উল্লেখিত আয়াতের মতোই দলিল রয়েছে যে, আল্লাহকে এমন নামে অভিহিত করা যা তিনি নিজের জন্য করেননি—তা আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে ইলহাদের অন্তর্ভুক্ত।

চতুর্থত: মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই পরিবেষ্টন করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু চান তা ছাড়া।} [আল-বাকারাহ: ২৫৫]

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না।} [আল-ইসরা: ১৩৬]।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আল্লাহর দেওয়া সেই সৌন্দর্যকে কে হারাম করেছে যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য বের করেছেন এবং পবিত্র রিজিকসমূহকে? বলুন, পার্থিব জীবনে এগুলো মুমিনদের জন্য এবং কিয়ামতের দিন তা কেবল তাদেরই জন্য। এভাবেই আমি জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি।} [আল-আরাফ: ৩৩]।

এই আয়াতগুলো যখন শরিয়তের দলিলের অনুপস্থিতিতে অদৃশ্যের বিষয়ে লিপ্ত হওয়াকে নিষিদ্ধ ও সতর্ক করছে, তখন সেই নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ এটি অদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত যা কেবল শরিয়তের নস (দলিল) এর মাধ্যম ছাড়া জানা সম্ভব নয়।

তাই এখানে নস বা দলিলে বর্ণিত নামসমূহের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এবং তা ছাড়া অন্য সব বর্জন করা আবশ্যক।

পঞ্চমত: হাদিস: "যখনই কোনো বান্দা কোনো দুশ্চিন্তা বা দুঃখ বা বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয় এবং বলে: হে আল্লাহ...

--------------------------------------------

১ মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/১৯৯।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৩৩)
إني عبدك، ابن عبدك، ابن أمتك، ناصيتي بيدك، ماض في حكمك عدل في قضاؤك، أسألك بكل اسم هو لك سميت به نفسك، أو أنزلته في كتابك، أو علمته أحدا من خلقك أو استأثرت به في علم الغيب عندك … " الحديث1.

والشاهد من الحديث قوله: "أسألك بكل اسم هو لك سميت به نفسك". قال ابن القيم: "فالحديث صريح في أن أسماءه ليست من فعل الآدميين وتسمياتهم"2.

و"أو" في قوله: "سميت به نفسك أو أنزلته فى كتابك" حرف عطف والمعطوف بها أخص مما قبله فيكون من باب عطف الخاص على العام فإن ما سمى به نفسه يتناول جميع الأنواع المذكورة بعده، فيكون عطف كل جملة منها من باب عطف الخاص على العام، فوجه الكلام أن يقال: "سميت به نفسك فأنزلته في كتابك أو علمته أحدا من خلقك أو استأثرت به في علم الغيب عندك"3.

ثانيا: الإيمان بأن الله هو الذي يسمي نفسه، ولا يسميه أحد من خلقه فالله عز وجل هو الذي تكلم بهذه الأسماء، وأسماؤه منه، وليست محدثة مخلوقة كما يزعم الجهمية، والمعتزلة، والكلابية، والأشاعرة، والماتريدية.

فمن معتقد أهل السنة والجماعة في هذه المسألة أنهم يؤمنون بأن الله الذي

--------------------------------------------

1 أخرجه الإمام أحمد في المسند 1/ 391، 452، وابن حبان، انظر: موارد الظمآن ح 2472، والحاكم في المستدرك 1/ 509، والطبراني في الكبير ح 10352.

2 شفاء العليل ص 277.

3 المصدر السابق ص 276 (بتصرف) .
নিশ্চয় আমি আপনার বান্দা, আপনার এক বান্দার সন্তান এবং আপনার এক দাসীর সন্তান। আমার কপালের অগ্রভাগ আপনার হাতে, আপনার বিধান আমার ওপর কার্যকর, আপনার ফয়সালা আমার ব্যাপারে ন্যায়পূর্ণ। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি আপনার প্রতিটি নামের মাধ্যমে—যা আপনি নিজের জন্য রেখেছেন, অথবা আপনার কিতাবে নাজিল করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন, অথবা যা আপনি আপনার কাছে অদৃশ্যের জ্ঞানে সংরক্ষিত রেখেছেন … " হাদিস ১।

হাদিসের প্রাসঙ্গিক অংশ হলো তাঁর বাণী: "আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি আপনার প্রতিটি নামের মাধ্যমে—যা আপনি নিজের জন্য রেখেছেন"। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "এই হাদিসটি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট যে, তাঁর নামসমূহ মানুষের তৈরি বা তাদের দেওয়া নাম নয়" ২।

তাঁর বাণী—"আপনি নিজের জন্য রেখেছেন অথবা আপনার কিতাবে নাজিল করেছেন"—এর মধ্যে "অথবা" শব্দটি একটি সংযোজক অব্যয় এবং এর মাধ্যমে যা যুক্ত করা হয়েছে তা পূর্ববর্তী বিষয়ের চেয়ে অধিকতর সুনির্দিষ্ট। সুতরাং এটি ব্যাপক বিষয়ের পর বিশেষ বিষয় উল্লেখ করার অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহ নিজের জন্য যে সকল নাম রেখেছেন তা পরবর্তী সকল প্রকারকে শামিল করে। তাই প্রতিটি বাক্যকে পরবর্তীটির সাথে যুক্ত করা মূলত ব্যাপক বিষয়ের পর বিশেষ বিষয় উল্লেখ করার নামান্তর। আলোচনার ধরনটি এমন যে বলা যায়: "আপনি নিজের জন্য নাম রেখেছেন, অতঃপর তা আপনার কিতাবে নাজিল করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে তা শিখিয়েছেন, অথবা আপনার কাছে অদৃশ্যের জ্ঞানে তা সংরক্ষিত রেখেছেন" ৩।

দ্বিতীয়ত: এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ নিজেই নিজের নামকরণ করেন এবং তাঁর সৃষ্টির কেউ তাঁর নাম দেয় না। মহান আল্লাহ স্বয়ং এই নামগুলো উচ্চারণ করেছেন এবং তাঁর নামসমূহ তাঁর সত্তা থেকেই আগত। এগুলো নতুন উদ্ভাবিত বা সৃষ্টি নয় যেমনটি জাহমিয়া, মুতাজিলা, কুল্লাবিয়া, আশাইরা এবং মাতুরিদিয়া সম্প্রদায় দাবি করে থাকে।

এই মাসআলায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা হলো যে, তারা বিশ্বাস করে আল্লাহ হলেন তিনি যিনি...

--------------------------------------------

১ ইমাম আহমাদ এটি মুসনাদ ১/ ৩৯১, ৪৫২-এ বর্ণনা করেছেন, ইবনে হিব্বান (দেখুন: মাওয়ারিদুজ জামআন হাদিস নং ২৪৭২), হাকেম তাঁর মুসতাদরাক ১/ ৫০৯-এ এবং তাবারানি তাঁর কাবির হাদিস নং ১০৩৫২-এ বর্ণনা করেছেন।

২ শিফাউল আলিল পৃষ্ঠা ২৭৭।

৩ পূর্বোক্ত উৎস পৃষ্ঠা ২৭৬ (পরিমার্জিত)।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৩৪)
سمى نفسه بأسمائه الحسنى وتكلم بها حقيقة، وهي غير مخلوقة وليست من وضع البشر، يستدلون لقولهم بما يلي:

أ- حديث: "ما أصاب عبدا قط هم ولا غم ولا حزن فقال: اللهم إني عبدك، ابن عبدك، ابن أمتك ناصيتي ييدك، ماض في حكمك، عدل في قضاؤك، أسألك بكل اسم هو لك سميت به نفسك، أو أنزلته في كتابك، أو علمته أحدا من خلقك أو استأثرت به في علم الغيب عندك … " الحديث1.

والشاهد من الحديث قوله: "أسألك بكل اسم هو لك سميت به نفسك". فقد دل الحديث على أن أسماء الله غير مخلوقة بل هو الذي تكلم بها وسمى بها نفسه، ولهذا لم يقل بكل اسم خلقته لنفسك ولا قال سماك به خلقك؟ فالحديث صريح في أن أسماءه ليست من فعل الآدميين وتسمياتهم وأن الله سبحانه تكلم بتلك الأسماء وسمى بها نفسه 2.

2- أن أسماء الله من كلامه، وكلامه تعالى غير مخلوق، فأسماؤه غير مخلوقة، فهو المسمي لنفسه بتلك الأسماء3.

3- أن الله عز وجل يسأل بهذه الأسماء، ولو كانت مخلوقة لم تجز أن يسأل بها. فإن الله لا يقسم عليه بشيء من خلقه4، فالسائل لله بغيرالله:

--------------------------------------------

1 أخرجه الامام أحمد في المسند 1/ 391، 452، وافي حبان، انظر: موارد الظمآن ح 2472، والحاكم في المستدرك 1/ 509، والطبراني في الكبير ح 10352.

2 شفاء العليل ص 277 (بتصرف) .

3 مجموع الفتاوى 6/ 186.

4 شفاء العليل ص 277.
তিনি নিজেকে তাঁর সুন্দরতম নামসমূহে নামাঙ্কিত করেছেন এবং তিনি প্রকৃতপক্ষেই তা উচ্চারণ করেছেন। এই নামসমূহ সৃষ্টি নয় এবং এগুলো মানুষের তৈরিও নয়। তারা তাদের এই বক্তব্যের সপক্ষে নিম্নোক্ত প্রমাণাদি পেশ করেন:

ক- হাদীস: "যখনই কোনো বান্দা কোনো দুশ্চিন্তা, শোক বা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয় এবং বলে: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার বান্দা, আপনার দাসের পুত্র, আপনার দাসীর পুত্র। আমার কপালের অগ্রভাগ আপনার হাতে, আমার ওপর আপনার নির্দেশ কার্যকর, আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালা ন্যায়সঙ্গত। আমি আপনার কাছে আপনার প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি, যে নামে আপনি নিজেকে নামাঙ্কিত করেছেন, অথবা যা আপনি আপনার কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন, অথবা যা আপনি আপনার সৃষ্টির কাউকে শিক্ষা দিয়েছেন, অথবা যা আপনি আপনার নিকট গায়েবি ইলমে সংরক্ষিত রেখেছেন ... " হাদীস ১।

হাদীস থেকে প্রমাণ্য অংশ হলো তাঁর এই উক্তি: "আমি আপনার কাছে আপনার প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি, যে নামে আপনি নিজেকে নামাঙ্কিত করেছেন।" এই হাদীসটি প্রমাণ করে যে আল্লাহর নামসমূহ সৃষ্টি নয়, বরং তিনিই সেগুলো উচ্চারণ করেছেন এবং তা দিয়ে নিজের নামকরণ করেছেন। এই কারণেই তিনি বলেননি যে 'আপনার এমন প্রতিটি নামের উসিলায় যা আপনি আপনার নিজের জন্য সৃষ্টি করেছেন', কিংবা এ কথাও বলেননি যে 'যা দ্বারা আপনার সৃষ্টিরা আপনার নামকরণ করেছে'। সুতরাং এই হাদীসটি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট যে, তাঁর নামসমূহ মানুষের কাজ বা তাদের দেওয়া কোনো নাম নয়, বরং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেই নামগুলো উচ্চারণ করেছেন এবং তিনি নিজেই নিজেকে সেই নামগুলো দিয়েছেন ২।

২- আল্লাহর নামসমূহ তাঁর বাণীর (কালাম) অন্তর্ভুক্ত, আর মহান আল্লাহর বাণী সৃষ্টি নয়; তাই তাঁর নামসমূহও সৃষ্টি নয়। মূলত তিনিই সেই সত্তা যিনি নিজেকে ঐ সকল নামে নামাঙ্কিত করেছেন ৩।

৩- আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট এই নামসমূহের উসিলায় প্রার্থনা করা হয়; যদি এগুলো সৃষ্টি হতো তবে এগুলোর উসিলায় প্রার্থনা করা বৈধ হতো না। কেননা আল্লাহর ওপর তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর দোহাই দিয়ে কসম দেওয়া যায় না ৪। সুতরাং আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনাকারী:

--------------------------------------------

১. ইমাম আহমাদ এটি আল-মুসনাদ ১/৩৯১, ৪৫২-এ এবং ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন। দেখুন: মাওয়ারিদুজ জামআন, হাদীস নং ২৪৭২; হাকেম আল-মুস্তাদরাক ১/৫০৯-এ এবং তাবারানি আল-মুজামুল কাবীর, হাদীস নং ১০৩৫২-এ।

২. শিফাউল আলীল, পৃষ্ঠা ২৭৭ (পরিমার্জিত)।

৩. মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/১৮৬।

৪. শিফাউল আলীল, পৃষ্ঠা ২৭৭।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৩৫)
أ- إما أن يكون مقسما عليه.

ب- وإما أن يكون طالبا بذلك السبب، كما توسل الثلاثة في الغار بأعمالهم.

فإن كان إقساما على الله بغيره فهذا لا يجوز، وإن كان سؤالا بسبب يقتضي المطلوب، كالسؤال بالأعمال التي فيها طاعة الله ورسوله مثل السؤال بالإيمان بالرسول ومحبته وموالاته ونحو ذلك فهذا جائز1.

4- أن اليمين بهذه الأسماء منعقدة، فمن حلف باسم من أسماء الله فهو حالف بالله، ولو كانت الأسماء مخلوقة لما جاز الحلف بها، لأن الحلف بغير الله شرك بالله، والله لا يقسم عليه بشيء من خلقه2.

قال الإمام الشافعي: "من حلف باسم من أسماء الله فحنث فعليه الكفارة؟ لأن اسم الله غير مخلوق، ومن حلف بالكعبة أو بالصفا أو بالمروة فليس عليه كفارة لأنه مخلوق وذلك غير مخلوق"3 يعني أسماء الله.

5- أن أسماء الله مشتقة من صفاته، وصفاته قديمة به، فأسماؤه غير مخلوقة4.

وروي عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه لما سئل عن قوله تعالى: {وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزاً حَكِيماً} [النساء: 158] ،، {غَفُوراً رَحِيماً} [النساء: 96] ، قال: "هو سمى نفسه بذاك، وهو لم يزل كذلك".

--------------------------------------------

1 قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة ص 274.

2 قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة ص 277.

3 شرح أصول اعتقاد أهل السنة 2/ 211.

4 شفاء العليل ص 277.
ক- হয় তা এর মাধ্যমে কসম করা হয়েছে।

খ- অথবা তা হতে পারে সেই উসীলায় প্রার্থনা করা, যেমন গুহায় আবদ্ধ তিন ব্যক্তি তাদের আমলের মাধ্যমে উসীলা গ্রহণ করেছিলেন।

সুতরাং যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে আল্লাহর ওপর কসম করা হয়, তবে তা জায়েয নয়। আর যদি এমন কোনো উসীলার মাধ্যমে প্রার্থনা করা হয় যা কাঙ্ক্ষিত বিষয় অর্জনের দাবি রাখে, যেমন এমন আমলের মাধ্যমে প্রার্থনা করা যাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য রয়েছে—উদাহরণস্বরূপ রাসূলের প্রতি ঈমান, তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো—তবে তা জায়েয।১।

৪- নিশ্চয়ই এই নামগুলোর মাধ্যমে কসম সংঘটিত হয়। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহর নামসমূহের কোনো একটির মাধ্যমে কসম করল, সে মূলত আল্লাহর মাধ্যমেই কসম করল। আর যদি নামগুলো সৃষ্টি হতো, তবে তার মাধ্যমে কসম করা জায়েয হতো না। কারণ আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর কসম করা আল্লাহর সাথে শিরক। আর আল্লাহর ওপর তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর মাধ্যমে কসম করা যায় না।২।

ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর নামসমূহের কোনো একটির মাধ্যমে কসম করল এবং এরপর তা ভঙ্গ করল, তার ওপর কাফফারা ওয়াজিব। কারণ আল্লাহর নাম সৃষ্টি নয়। আর যে ব্যক্তি কাবা, সাফা বা মারওয়ার কসম করল, তার ওপর কোনো কাফফারা নেই। কারণ এগুলো সৃষ্টি এবং সেগুলো (আল্লাহর নামসমূহ) সৃষ্টি নয়।"৩। অর্থাৎ আল্লাহর নামসমূহ।

৫- নিশ্চয়ই আল্লাহর নামসমূহ তাঁর গুণাবলী (সিফাত) থেকে উদ্ভূত, আর তাঁর গুণাবলী তাঁর সাথে অনাদি-অনন্ত। সুতরাং তাঁর নামসমূহ সৃষ্টি নয়।৪।

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, যখন তাঁকে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ হলেন মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [নিসা: ১৫৮], {ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} [নিসা: ৯৬] সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "তিনি নিজেই নিজেকে এই নামে অভিহিত করেছেন, আর তিনি সর্বদা তেমনই ছিলেন।"

--------------------------------------------

১ কায়েদাহ জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসীলাহ, পৃষ্ঠা ২৭৪।

২ কায়েদাহ জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসীলাহ, পৃষ্ঠা ২৭৭।

৩ শারহু উসুল ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ, ২/ ২১১।

৪ শিফাউল আলীল, পৃষ্ঠা ২৭৭।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فأثبت قدم معاني أسمائه الحسنى، وأنه هو الذي سمى نفسه بها1. والرب تعالى يشتق من أوصافه وأفعاله أسماء2، ولا يشتق من مخلوقاته وكل اسم من أسمائه فهو مشتق من صفة من صفاته، أو فعل قائم به، فلو كان يشتق له اسم باعتبار المخلوق المنفصل لسمي متكونا أو متحركا، وساكنا وطويلا، وأبيض وغير ذلك، لأنه خالق هذه الصفات، فلما لم يطلق عليه اسم من ذلك مع أنه خالقه علم أنما تشتق أسماؤه من أفعاله وأوصافه القائمة به وهو سبحانه لا يتصف بما هو مخلوق منفصل عنه، ولا يتسمى باسمه3.

ثالثا: الإيمان بأن هذه الأسماء دالة على معان في غاية الكمال، فهي أعلام وأوصاف، وليست كالأعلام الجامدة التي لم توضع باعتبار معانيها، كما يزعم المعتزلة.

فمن الأمور المتقررة في عقيدة أهل السنة والجماعة أن أسماء الله الحسنى متضمنة للصفات، فكل اسم يدل على معنى من صفاته ليس هو المعنى الذي يدل عليه الاسم الآخر، فالعزيز متضمن. لصفة العزة وهو مشتق منها، والخالق متضمن لصفة الخلق وهو مشتق منها، فأسماء الله مشتقة من صفاته وليست جامدة كما يزعم المعتزلة ومن وافقهم الذين ادعوا أنها أعلام لا معاني لها فقالوا سميع بلا سمع بصير بلا بصر وعزيز بلا عزة، فسلبوا بذلك عن أسماء الله معانيها.

--------------------------------------------

1 مجموع الفتاوى 205/6.

2 قال ابن القيم: "أسماء الله الحسنى هي أعلام وأوصاف، والوصف بها لا ينافي العلمية، بخلاف أوصاف العباد فإنها تنافي علميتهم، لأن أوصافهم مشتركة فنافتها العلمية المختصة، بخلاف أوصافه تعالى" بدائع الفوائد 1/ 162.

3 شفاء العليل ص 271.
তিনি তাঁর সুন্দর নামসমূহের অর্থের অনাদিত্ব সাব্যস্ত করেছেন এবং তিনিই নিজেকে এই নামসমূহে নামাঙ্কিত করেছেন।১ মহান রব তাঁর গুণাবলী ও কার্যাবলী থেকে নাম গ্রহণ করেন,২ তাঁর সৃষ্টিসমূহ থেকে নয়। তাঁর প্রতিটি নামই তাঁর কোনো না কোনো গুণ অথবা তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কাজ থেকে উদ্ভূত। যদি তাঁর জন্য কোনো নাম তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন সৃষ্টির বিবেচনায় গ্রহণ করা হতো, তবে তাঁকে ‘সৃষ্টি’, ‘গতিশীল’, ‘স্থির’, ‘দীর্ঘ’, ‘শুভ্র’ ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হতো; কারণ তিনি এসব গুণের স্রষ্টা। যেহেতু তাঁর ক্ষেত্রে এসব নাম প্রয়োগ করা হয় না—যদিও তিনি এগুলোর স্রষ্টা—তাই এটি সুনিশ্চিত যে, তাঁর নামসমূহ কেবল তাঁর কার্যাবলী এবং তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট গুণাবলী থেকেই উদ্ভূত হয়। মহান আল্লাহ এমন কোনো গুণে গুণান্বিত হন না যা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো সৃষ্টি, আর না তিনি সৃষ্টির নামে নামাঙ্কিত হন।৩

তৃতীয়ত: এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, এই নামসমূহ পরম পূর্ণতা প্রকাশকারী অর্থের ওপর প্রমাণবহ। এগুলো একইসাথে নাম এবং গুণ; এগুলো এমন অর্থহীন জড় নাম নয় যা অর্থের বিবেচনায় রাখা হয়নি, যেমনটি মুতাজিলারা দাবি করে।

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহর একটি সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয় হলো, আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ তাঁর গুণাবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রতিটি নাম তাঁর এমন একটি গুণের অর্থ প্রকাশ করে যা অন্য নাম দ্বারা প্রকাশিত অর্থ থেকে ভিন্ন। যেমন: ‘আল-আজিজ’ নামটি ‘ইজ্জত’ (পরাক্রম) গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তা থেকে উদ্ভূত। ‘আল-খালিক’ নামটি ‘খালক’ (সৃষ্টি করা) গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তা থেকে উদ্ভূত। সুতরাং আল্লাহর নামসমূহ তাঁর গুণাবলী থেকে উদ্ভূত, এগুলো অর্থহীন জড় নাম নয়—যেমনটি মুতাজিলা এবং তাদের অনুসারীরা দাবি করে। তারা দাবি করে যে, এগুলো কেবল নাম মাত্র, এগুলোর কোনো অর্থ নেই। তারা বলে: তিনি শ্রবণ ছাড়াই সর্বশ্রোতা, দৃষ্টি ছাড়াই সর্বদ্রষ্টা এবং পরাক্রম ছাড়াই পরাক্রমশালী। এভাবে তারা আল্লাহর নামসমূহ থেকে সেগুলোর মূল অর্থকে ছিনিয়ে নিয়েছে।

--------------------------------------------

১ মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/২০৫।

২ ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: “আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ একইসাথে নাম এবং গুণ। নামসমূহ গুণবাচক হওয়া তার নির্দিষ্ট সত্তার নাম হওয়ার পরিপন্থী নয়, যা বান্দাদের গুণের ক্ষেত্রে বিপরীত। কারণ বান্দাদের গুণাবলী অন্যদের সাথে সাধারণ বা অংশীদারিত্বমূলক হয়ে থাকে, যা নির্দিষ্ট নাম হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে; কিন্তু মহান আল্লাহর গুণাবলীর বিষয়টি তেমন নয়।” বাদায়েউল ফাওয়াইদ ১/১৬২।

৩ শিফাউল আলীল, পৃষ্ঠা ২৭১।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৩৭)
فالرب تعالى يشتق له من أوصافه وأفعاله أسماء ولا يشتق له من مخلوقاته وكل اسم من أسمائه فهو مشتق من صفة من صفاته أو فعل قائم به. ولمزيد من الإيضاح وإلقاء الضوء على هذه المسألة وبيان عقيدة أهل السنة أود طرح ذلك في النقاط التالية:

النقطة الأولى: أن أسماء الله الحسنى لها اعتباران:

أسماء الله الحسنى كلها متفقة في الدلالة على نفسه المقدسة، ثم كل اسم يدل على معنى من صفاته ليس هو المعنى الذي دل عليه الاسم الآخر1. وذلك لأن أسماءه الحسنى لها اعتباران:

اعتبار من حيث الذات.

واعتبار من حيث الصفات.

فهي أعلام باعتبار دلالتها على الذات.

وأوصاف باعتبار ما دلت عليه من المعاني.

وهي بالاعتبار الأول: مترادفة لدلالتها على مسمى واحد هو الله عز وجل "الحي، العليم، القدير، السميع، البصير، الرحمن، الرحيم، العزيز الحكيم" كلها أسماء لمسمى واحد وهو الله سبحانه وتعالى.

قال تعالى: {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيّاً مَا تَدْعُوا فَلَهُ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [الإسراء: 11] .

فأسماء الله تعالى تدل كلها على مسمى واحد، وليس دعاؤه باسم من أسمائه الحسنى يضاد دعاؤه باسم آخر، بل كل اسم يدل على ذاته.

وهي بالاعتبار الثاني: متباينة لدلالة كل واحد منها على معناه الخاص فمعنى

--------------------------------------------

1 الإيمان لابن تيمية ص 175.
সুতরাং সুমহান রব, তাঁর জন্য তাঁর গুণাবলী ও কার্যাবলী থেকে নামসমূহ উদ্ভূত হয়, তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে তাঁর জন্য কোনো নাম গ্রহণ করা হয় না। তাঁর প্রতিটি নামই তাঁর কোনো না কোনো গুণ অথবা তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কাজ থেকে উদ্ভূত। বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট করার জন্য, এর ওপর আলোকপাত করার জন্য এবং আহলে সুন্নাতের আকিদাহ বর্ণনার নিমিত্তে আমি নিচের পয়েন্টগুলোতে তা উপস্থাপন করতে চাই:

প্রথম পয়েন্ট: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের দুটি দিক রয়েছে:

আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের সবকটিই তাঁর পবিত্র সত্তাকে নির্দেশ করার ক্ষেত্রে একমত। অতঃপর প্রতিটি নাম তাঁর এমন একটি গুণের অর্থ বহন করে যা অন্য নাম দ্বারা নির্দেশিত অর্থ থেকে ভিন্ন। এটি এ কারণে যে, তাঁর সুন্দর নামসমূহের দুটি দিক রয়েছে:

সত্তার দিক থেকে বিবেচনা।

এবং গুণাবলীর দিক থেকে বিবেচনা।

সত্তাকে নির্দেশ করার দিক থেকে এগুলো হলো পরিচয়জ্ঞাপক নাম।

এবং যে অর্থগুলো এগুলো নির্দেশ করে সেই দিক থেকে এগুলো হলো গুণবাচক।

প্রথম দিক বিচারে: এগুলো সমার্থবোধক, কারণ এগুলো একই সত্তাকে নির্দেশ করে, আর তিনি হলেন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা। "আল-হাইয়্যু (চিরঞ্জীব), আল-আলীম (সর্বজ্ঞ), আল-কাদীর (সর্বশক্তিমান), আস-সামিউ (সর্বশ্রোতা), আল-বাসীর (সর্বদ্রষ্টা), আর-রাহমান (পরম করুণাময়), আর-রাহীম (অতি দয়ালু), আল-আযীযুল হাকীম (পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়)"—এই সবকটি নামই একই সত্তার নাম, আর তিনি হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা।

আল্লাহ তা'আলা বলেন: {বলুন, তোমরা 'আল্লাহ' নামে ডাকো অথবা 'রাহমান' নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, সুন্দর নামসমূহ তো তাঁরই।} [আল-ইসরা: ১১] ।

সুতরাং আল্লাহ তা'আলার নামসমূহের সবকটিই একই সত্তাকে নির্দেশ করে। তাঁর সুন্দর নামসমূহের কোনো একটির মাধ্যমে তাঁকে ডাকা অন্য আরেকটি নামের মাধ্যমে ডাকার সাথে সাংঘর্ষিক নয়, বরং প্রতিটি নামই তাঁর সত্তাকে নির্দেশ করে।

দ্বিতীয় দিক বিচারে: এগুলো ভিন্ন ভিন্ন অর্থবোধক, কারণ এগুলোর প্রত্যেকটি নিজ নিজ বিশেষ অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে। সুতরাং অর্থ...

--------------------------------------------

১ আল-ঈমান, ইবনে তাইমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৭৫।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৩৮)
الحي غير معنى العليم غير معنى القدير وهكذا1.

النقطة الثانية: الوصف بها لا ينافي العلمية:

قال ابن القيم: "أسماء الله الحسنى هي أعلام وأوصاف، والوصف بها لا ينافي العلمية؟ بخلاف أوصاف العباد فإنها تنافي علميتهم لأن أوصافهم مشتركة فنافتها العلمية المختصة، بخلاف أوصافه تعالى"2.

وقال رحمه الله: "أسماء الرب تعالى وأسماء كتبه، وأسماء نبيه صلى الله عليه وسلم هي أعلام دالة على معان هي بها أوصاف، فلا تضاد فيها العلمية الوصف بخلاف غيرها من أسماء المخلوقين فهو الله الخالق البارئ المصور القاهر فهذه أسماء له دالة على معان هي صفاته … "3.

قال الدارمي: "لا تقاس أسماء الله بأسماء الخلق؟ لأن أسماء الخلق مخلوقة مستعارة وليست أسماؤهم نفس صفاتهم، بل مخلوقة لصفاتهم، وأسماء الله وصفاته ليس شيء منها مخالفا لصفاته ولا شيء من صفاته مخالفا لأسمائه. فمن ادعى أن صفة من صفات الله مخلوقة أو مستعارة فقد كفر وفجر لأنك إذا قلت (الله) فهو (الله) وإذا قلت (الرحمن) فهو (الرحمن) وهو (الله) فإذا قلت (الرحيم) فهو كذلك، وإذا قلت (حكيم- عليم- حميد- مجيد- جبار- متكبر- قاهر- قادر) فهو كذلك هو (الله) سواء، لا يخالف اسم له صفته ولا صفته اسما.

وقد يسمى الرجل حكيما وهو جاهل، وحكما وهو ظالم، وعزيزا وهو

--------------------------------------------

1 بدائع الفوائد 1/ 62 1، جلاء الأفهام ص 138، القواعد المثلى ص 8.

2 بدائع الفوائد 16211.

3 جلاء الأفهام ص 133، 134.
‘চিরঞ্জীব’ (আল-হাই) এর অর্থ ‘সর্বজ্ঞ’ (আল-আলিম) এর অর্থ থেকে ভিন্ন, আর তা ‘সর্বশক্তিমান’ (আল-কাদির) এর অর্থ থেকেও ভিন্ন, আর এভাবেই সব১।

দ্বিতীয় বিষয়: গুণবাচক হওয়া নামবাচক হওয়ার পরিপন্থী নয়:

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: “আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ একদিকে যেমন নাম (আলম), অন্যদিকে তেমন গুণ (ওয়াসফ)। এগুলোর গুণবাচক হওয়া এদের নামবাচক হওয়ার পরিপন্থী নয়। বান্দাদের গুণের বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ তাদের গুণগুলো তাদের নামবাচক হওয়ার পরিপন্থী; কেননা তাদের গুণসমূহ সাধারণ ও অংশীদারিত্বমূলক, যা নির্দিষ্ট নামবাচক হওয়ার পরিপন্থী। কিন্তু মহান আল্লাহর গুণাবলির বিষয়টি এমন নয়।”২।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “মহান রবের নামসমূহ, তাঁর কিতাবসমূহের নামসমূহ এবং তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামসমূহ হলো এমন সত্তাবাচক নাম যা অর্থের ওপর দালালত করে এবং সেসব অর্থের কারণেই সেগুলো গুণবাচক। ফলে এগুলোর নামবাচক হওয়া এবং গুণবাচক হওয়ার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, যা সৃষ্টিজগতের অন্য নামের ক্ষেত্রে দেখা যায়। তিনি হলেন আল্লাহ, যিনি সৃষ্টিকর্তা (আল-খালিক), উদ্ভাবক (আল-বারি), রূপদানকারী (আল-মুসাব্বির), পরাক্রমশালী (আল-কাহহার)। এগুলো তাঁর এমন সব নাম যা এমন সব অর্থের ওপর দালালত করে যেগুলো তাঁর গুণাবলি … ”৩।

দারেমি বলেন: “আল্লাহর নামসমূহকে মাখলুকের বা সৃষ্টির নামের সাথে তুলনা করা যাবে না। কারণ মাখলুকের নামসমূহ সৃষ্টি এবং রূপকভাবে গৃহীত; তাদের নামসমূহ তাদের মূল গুণ নয়, বরং তাদের গুণের পরিচায়ক হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। পক্ষান্তরে আল্লাহর নাম ও গুণাবলির কোনোটিই তাঁর গুণের বিপরীত নয় এবং তাঁর গুণের কোনোটিই তাঁর নামের পরিপন্থী নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করবে যে আল্লাহর গুণাবলির কোনো একটি গুণ সৃষ্টি বা রূপক, সে কুফরি ও পাপাচার করল। কেননা আপনি যখন বলেন ‘আল্লাহ’, তখন তিনি ‘আল্লাহ’-ই। যখন আপনি বলেন ‘আর-রহমান’, তখন তিনি ‘আর-রহমান’ এবং তিনিই ‘আল্লাহ’। যখন আপনি বলেন ‘আর-রাহিম’, তখনও বিষয়টি অনুরূপ। আর যখন আপনি বলেন ‘প্রজ্ঞাময় (হাকিম), সর্বজ্ঞ (আলিম), প্রশংসিত (হামিদ), মহিমান্বিত (মাজিদ), প্রবল প্রতাপশালী (জাব্বার), অহংকারী (মুতাকাব্বির), পরাক্রমশালী (কাহহার), ক্ষমতাবান (কাদির)’—তখনও তিনি সেই ‘আল্লাহ’-ই। তাঁর কোনো নামই তাঁর গুণের পরিপন্থী নয় এবং তাঁর কোনো গুণই তাঁর নামের পরিপন্থী নয়।

অনেক সময় কোনো ব্যক্তিকে ‘হাকিম’ (প্রজ্ঞাময়) নামে ডাকা হয় অথচ সে একজন জাহিল (মূর্খ), কোনো ব্যক্তিকে ‘হাকাম’ (বিচারক) বলা হয় অথচ সে একজন জালিম (অত্যাচারী), আবার কাউকে ‘আজিজ’ (সম্মানিত) বলা হয় অথচ সে

--------------------------------------------

১ বাদায়েউল ফাওয়াইদ ১/ ৬২ ১, জালাউল আফহাম পৃষ্ঠা ১৩৮, আল-কাওয়ায়িদুল মুসলা পৃষ্ঠা ৮।

২ বাদায়েউল ফাওয়াইদ ১৬২১১।

৩ জালাউল আফহাম পৃষ্ঠা ১৩৩, ১৩৪।
(খণ্ড: ১) মাওয়াকিফুত তাওয়াইফ মিন তাওহীদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৩৯)
حقير، وكريما وهو لئيم، وصالحا وهو صالح، وسعيدا وهو شقي، ومحمودا وهو مذموم، وحبيبا وهو بغيض، وأسدا وحمارا، وكلبا وجديا، وكليبا وهرا وحنظلة، وعلقمة وليس كذلك.

والله تعالى تقدس اسمه كل أسمائه سواء، ولم يزل كذلك ولا يزال. لم تحدث له صفة ولا اسم لم يكن كذلك، كان خالقا قبل المخلوقين، ورازقا قبل المرزوقين، وعالما قبل المعلومين، وسميعا قبل أن يسمع أصوات المخلوقين وبصيرا قبل أن يرى أعيانهم مخلوقة"1.

رابعا: احترام معاني تلك الأسماء، وحفظ ما لها من حرمة في هذا الجانب وعدم التعرض لتلك المعاني بالتحريف والتعطيل كما هو شأن أهل الكلام.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "ومذهب السلف أنهم يصفون الله بما وصف به نفسه، وبما وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم من غير تحريف ولا تعطيل ومن غير تكييف ولا تمثيل. ونعلم أن ما وصف الله به من ذلك فهو حق ليس فيه لغز ولا أحاجي، بل معناه يعرف من حيث يعرف مقصود المتكلم بكلامه لاسيما إذا كان المتكلم أعلم الخلق بما يقول، وأفصح الخلق في بيان العلم، وأفصح الخلق في البيان والتعريف، والدلالة والإرشاد"2.

فمن المعلوم أن نصوص الصفات ألفاظ شرعية يجب أن تحفظ لها حرمتها وذلك بأن نفهمها وفق مراد الشارع، فلا نتلاعب بمعانيها لنصرفها عن مراد الشارع.

فمن الأصول الكلية أن يعلم أن الألفاظ نوعان:

--------------------------------------------

1 الرد على المريسي ص 365.

2 مجموع الفتاوى 5/ 26.
তুচ্ছ, এবং ‘কারিম’ (সম্মানিত) অথচ সে নীচ, এবং ‘সালিহ’ (সৎ) অথচ সে সৎ, এবং ‘সাঈদ’ (সৌভাগ্যবান) অথচ সে দুর্ভাগা, এবং ‘মাহমুদ’ (প্রশংসিত) অথচ সে নিন্দিত, এবং ‘হাবিব’ (প্রিয়) অথচ সে ঘৃণিত, এবং সিংহ ও গাধা, এবং কুকুর ও ছাগলছানা, এবং ছোট কুকুর ও বিড়াল এবং হানজালা ও আলক্বামা, অথচ বিষয়টি তেমন নয়।

আর মহান আল্লাহ—তাঁর নাম পবিত্র—তাঁর সকল নামই সমান (শাশ্বত), তিনি অনাদি কাল থেকে তেমনই আছেন এবং অনন্তকাল তেমনই থাকবেন। তাঁর এমন কোনো গুণ বা নাম নতুন করে সৃষ্টি হয়নি যা আগে ছিল না; তিনি সৃষ্টির পূর্বেই স্রষ্টা ছিলেন, রিযিকপ্রাপ্তদের সৃষ্টির পূর্বেই রিযিকদাতা ছিলেন, জ্ঞাত বিষয়সমূহ সৃষ্টির পূর্বেই পরিজ্ঞাতা ছিলেন এবং মাখলুকাতের আওয়াজ শোনার পূর্বেই শ্রবণকারী ছিলেন এবং তাদের অস্তিত্ব সৃষ্টির পূর্বেই দর্শনকারী ছিলেন।১

চতুর্থত: সেই নামসমূহের অর্থের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং এই ক্ষেত্রে সেগুলোর যে মর্যাদা রয়েছে তা রক্ষা করা এবং কালাম শাস্ত্রবিদদের অভ্যাসের ন্যায় সেই অর্থগুলোকে বিকৃতি ও অসার করার প্রয়াস না চালানো।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "সালাফদের মাযহাব হলো তারা আল্লাহর গুণাবলি বর্ণনা করেন সেভাবেই, যেভাবে তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং যেভাবে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন; কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরিফ), অসারকরণ (তা’তিল), ধরন নির্ধারণ (তাকিয়িফ) ও সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) ব্যতিরেকে। আমরা জানি যে, আল্লাহ নিজের সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন তা ধ্রুব সত্য, এতে কোনো ধাঁধা বা রহস্য নেই। বরং এর অর্থ সেভাবেই বোঝা যায় যেভাবে কোনো বক্তার কথার উদ্দেশ্য বোঝা যায়; বিশেষ করে যখন বক্তা তাঁর বলা বিষয়ে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী হন, ইলম বর্ণনায় সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাগ্মী হন এবং বর্ণনা, পরিচয় প্রদান, দিকনির্দেশনা ও পথপ্রদর্শনে সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে প্রাঞ্জলভাষী হন।"২

এটা সুবিদিত যে, গুণাবলি সংক্রান্ত দালিলিক পাঠসমূহ হলো শরয়ি শব্দাবলি, যেগুলোর মর্যাদা রক্ষা করা আবশ্যক। আর তা হলো আমরা যেন সেগুলোকে শরয়ি প্রবর্তকের উদ্দেশ্য অনুযায়ী বুঝি; সুতরাং আমরা যেন এগুলোর অর্থ নিয়ে খেলা না করি যাতে এগুলোকে শরয়ি প্রবর্তকের উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সুতরাং অন্যতম সামগ্রিক মূলনীতি হলো এটি জানা যে, শব্দাবলি দুই প্রকার:

--------------------------------------------

১ আর-রদ্দু আলাল মারিসি, পৃষ্ঠা ৩৬৫।

২ মাজমুউল ফাতাওয়া, ৫/২৬।