(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: -)
منهجية التأليف في السيرة عند ابن كثير   (عبد الرحمن السنيدي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: منهجية التأليف في السيرة عند ابن كثير

المؤلف: عبد الرحمن بن علي السنيدي

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 69

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবন কাসীরের সীরাহ রচনার পদ্ধতি   (আব্দুর রহমান আল-সুনাইদী)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী (সা.)


গ্রন্থ: ইবন কাসীরের সীরাহ রচনার পদ্ধতি

লেখক: আব্দুর রহমান বিন আলী আল-সুনাইদী

প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরী

(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة:

جاء ابن كثير في عصر نشط فيه التأليف في كل فن من فنون الدراسات الدينية والعربية، ومن الطَّبَعي أن يكون التأليف في ميدان السيرة النبوية مواكباً لهذا النشاط الذي استقى موارده ونصوصه من الثروة الضخمة من الكتب والآراء والروايات التي سجلها العلماء والمحدثون والحفاظ قبل ذلك العصر.

لقد شهد القرن الثامن الهجري في مصر والشام المملوكيتين، ظهور عدة مؤلفين في مجال السيرة النبوية، أخرجوا مؤلفاتهم في هذا الفن على نحوٍ مفرد أو ضمن مؤلف موسوعي كبير.

ومن هؤلاء المؤلفين "عبد المؤمن بن خلف الدمياطي" (ت:705هـ) وله كتاب: "المختصر في سيرة سيد البشر"، وكتاب "أسماء المهاجرين الذين أخرجوا من ديارهم" (1) ، وشيخ ابن كثير كمال الدين بن الزملكاني (ت:627هـ) .

--------------------------------------------

(1) صلاح الدين المنجد: معجم ما ألف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم. بيروت، دار الكتاب الجديد، ط1، 1402هـ، ص:125-143.
ভূমিকা:

ইবনে কাসির এমন এক যুগে আবির্ভূত হয়েছিলেন যখন ধর্মীয় ও আরবি জ্ঞানবিদ্যার প্রতিটি শাখায় রচনা ও সংকলন অত্যন্ত সচল ছিল। আর স্বাভাবিকভাবেই সিরাত বা নবীজির জীবনী রচনার ক্ষেত্রটি এই কর্মতৎপরতার সাথে তাল মিলিয়ে চলেছিল, যা সেই যুগের পূর্ববর্তী আলেম, মুহাদ্দিস ও হাফেজগণের দ্বারা লিপিবদ্ধ বইপত্র, মতামত ও বর্ণনার বিশাল ভাণ্ডার থেকে তার উৎস ও পাঠসমূহ সংগ্রহ করেছিল।

হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে মামলুক শাসিত মিসর ও শামে সিরাত বা নবীজির জীবনী রচনার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন লেখকের আবির্ভাব ঘটেছিল, যারা এই বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে অথবা বিশাল কোনো বিশ্বকোষীয় গ্রন্থের অংশ হিসেবে তাদের রচনাগুলো প্রকাশ করেছিলেন।

এই লেখকদের মধ্যে ছিলেন "আব্দুল মুমিন বিন খালাফ আদ-দুমইয়াতি" (মৃত্যু: ৭০৫ হিজরি), যার গ্রন্থ হলো: "আল-মুখতাসার ফি সিরাতি সাইয়্যিদিল বাশার" এবং "আসমাউল মুহাজিরিনাল্লাজিনা উখরিজু মিন দিয়ারিহিম" (১); এবং ইবনে কাসিরের শিক্ষক কামালুদ্দিন বিন আল-জামালকানি (মৃত্যু: ৬২৭ হিজরি)।

--------------------------------------------

(১) সালাহ উদ্দিন আল-মুনাজ্জিদ: মু'জামু মা উলিফা আন রাসুলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। বৈরুত, দারুল কিতাব আল-জাদিদ, ১ম সংস্করণ, ১৪০২ হিজরি, পৃষ্ঠা: ১২৫-১৪৩।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৬)
وله كتاب في مولد النبي صلى الله عليه وسلم، أشار إليه ابن كثير، وذكر أنه تضمن شيئاً في فضائل النبي صلى الله عليه وسلم وأنه عقد فصلاً في هذا الباب فأورد فيه أشياء حسنة، ونبَّه على فوائد مهمة، وترك أشياء أُخر حسنة (1) .

ومن المؤلفين كذلك، ابن سيد الناس: محمد بن محمد بن سيد الناس الأندلسي الإشبيلي، ولد بالقاهرة سنة (671هـ) ، وتفقه على مذهب الشافعي، من شيوخه، والده، وابن دقيق العيد (ت:702هـ) (2) والحافظ المزي، وشيخ الإسلام ابن تيمية (3) .

ألَّف في السيرة "عيون الأثر في فنون المغازي والسير". ومن ميزات هذا الكتاب تلك الدراسة النقدية التي جاءت في مقدمة الكتاب عن أبرز من ألَّف في السير والمغازي من الرواة الإخباريين، وهما: ابن إسحاق والواقدي (4) ، إضافة إلى شرحه للغريب من الألفاظ وذكره للفوائد والتعليق على بعض المتون (5) .

--------------------------------------------

(1) البداية والنهاية. تحقيق عبد الله التركي بالتعاون مع مؤسسة البحوث والدراسات العربية والإسلامية بدار هجر. القاهرة، ط1، 1420?، ج9، ص:308.

(2) ابن كثير: المصدر السابق، ج18، ص:372-373.

(3) انظر: الصفدي: صلاح الدين خليل بن إيبك (ت:764?) : أعيان العصر وأعوان النصر، تحقيق علي أبو زيد، دمشق. دار الفكر، ط1، 1418?، 5/653.

(4) ج10، ص: 8-28.

(5) انظر على سبيل المثال: 1/191، 199، 302، 2/205.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম (মাওলিদ) বিষয়ে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে, ইবনে কাসির যেটির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফযিলত সম্পর্কে কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তিনি এই অধ্যায়ে একটি অনুচ্ছেদ গঠন করেছেন যেখানে তিনি উত্তম বিষয়সমূহ বর্ণনা করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় দিকসমূহ সম্পর্কে সজাগ করেছেন এবং অন্যান্য কিছু উত্তম বিষয় ছেড়ে দিয়েছেন (১)।

একইভাবে লেখকদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস: মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস আল-আন্দালুসি আল-ইশবিলি। তিনি ৬৭১ হিজরি সনে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং শাফেয়ি মাজহাব অনুযায়ী ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন তাঁর পিতা, ইবনে দাকিক আল-ঈদ (মৃত্যু: ৭০২ হিজরি) (২), হাফেজ আল-মিযযি এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (৩)।

তিনি সিরাত বিষয়ে "উয়ুনুল আসার ফি ফুনুনিল মাগাজি ওয়াস সিয়ার" গ্রন্থটি রচনা করেন। এই গ্রন্থের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সীরাত ও মাগাজি বিষয়ে রচনাকারী বিশিষ্ট বর্ণনাকারী ঐতিহাসিকদের সম্পর্কে গ্রন্থের ভূমিকায় প্রদত্ত সেই সমালোচনামূলক গবেষণা, যাঁরা হলেন: ইবনে ইসহাক এবং ওয়াকিদি (৪)। এর পাশাপাশি এতে কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা, বিভিন্ন উপকারী তথ্যের উল্লেখ এবং কিছু মূল পাঠের (মতন) ওপর টীকা প্রদান করা হয়েছে (৫)।

--------------------------------------------

(১) আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া। আবদুল্লাহ আত-তুর্কির সম্পাদনা, দারু হাজার-এর আরবি ও ইসলামি গবেষণা ও পাঠ কেন্দ্রের সহযোগিতায়। কায়রো, ১ম সংস্করণ, ১৪২০ হিজরি, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা: ৩০৮।

(২) ইবনে কাসির: পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১৮, পৃষ্ঠা: ৩৭২-৩৭৩।

(৩) দেখুন: আস-সাফাদি: সালাহউদ্দিন খলিল ইবনে আইবাক (মৃত্যু: ৭৬৪ হিজরি): আ'য়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর, আলি আবু যায়িদের সম্পাদনা, দামেস্ক। দারুল ফিকর, ১ম সংস্করণ, ১৪১৮ হিজরি, ৫/৬৫৩।

(৪) খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা: ৮-২৮।

(৫) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: ১/১৯১, ১৯৯, ৩০২, ২/২০৫।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৭)
ومن المؤلفين الشاميين قطب الدين عبد الكريم بن عبد النور الحلبي (ت:735هـ) وله "المورد العذب الهني في الكلام على سيرة عبد الغني" (1) .

ومحمد بن أحمد بن عبد الهادي (ت:744هـ) وهو من تلاميذ شيخ الإسلام ابن تيمية، والمزي، والذهبي، وقد ألف في السيرة جزءاً في مولد النبي صلى الله عليه وسلم، وجزءاً في المعجزات والكرامات (2) .

ليس مهماً رصد ما ألف في السيرة في عصر ابن كثير بقدر ما يهمنا معرفة مدى التنوع والجدة في العرض ومقدرة أولئك المؤلفين على تنقية الروايات وتمحيصها وتجاوز صناعة الجمع والاقتباس إلى النقد والتقويم.

لقد شهدت بلاد الشام ظهور مدرسة اجتهادية تأسست على علوم الحديث والسنة وعلى صحيح المنقول وصريح المعقول، مثَّلها الإمام المجتهد ابن تيمية (ت:728هـ) وتلاميذه وأبرزهم الذهبي وابن القيم وابن كثير. إضافة إلى الإمام الحافظ المزي (ت:742هـ) وغيرهم من الأئمة المجتهدين، وقد جمع رموز هذه المدرسة بين التمسك بالنصوص والعقلية النقدية.

--------------------------------------------

(1) المنجد: معجم ما ألف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ص: 128، وعبد الغني هو عبد الغني بن عبد الواحد الجماعيلي، الإمام الحافظ (ت:600?) ، الذهبي: سير أعلام النبلاء، ج21، ص:443-448.

(2) ابن رجب: زين الدين بن رجب الحنبلي (795?) : الذيل على طبقات الحنابلة، بيروت، دار المعرفة، ج2، ص:138.
শাম অঞ্চলের লেখকদের মধ্যে কুতুবুদ্দিন আব্দুল কারিম ইবনে আব্দুল নুর আল-হালাবি (মৃত্যু: ৭৩৫ হি.) অন্যতম, তাঁর রচিত গ্রন্থ হলো "আল-মাওরিদ আল-আযব আল-হানি ফি আল-কালাম আলা সিরাত আবদিল গনি" (১)।

এবং মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল হাদি (মৃত্যু: ৭৪৪ হি.), যিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, আল-মিযযি এবং আয-যাহাবির অন্যতম ছাত্র ছিলেন। তিনি সীরাত শাস্ত্রের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মবৃত্তান্তের ওপর একটি খণ্ড এবং মুজিযা ও কারামতের ওপর একটি খণ্ড রচনা করেছেন (২)।

ইবনে কাসীরের যুগে সীরাত বিষয়ে কী কী রচিত হয়েছে তা নিছক তালিকাভুক্ত করার চেয়ে আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো উপস্থাপনার বৈচিত্র্য ও নতুনত্ব সম্পর্কে জানা, এবং বর্ণনাগুলো বিশুদ্ধকরণ ও যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে সেই লেখকদের সক্ষমতা এবং কেবল সংকলন ও উদ্ধৃতি প্রদানের গণ্ডি পেরিয়ে সমালোচনা ও মূল্যায়নের স্তরে পৌঁছানোর বিষয়টি অনুধাবন করা।

শাম অঞ্চল একটি ইজতিহাদি ঘরানার উত্থান প্রত্যক্ষ করেছিল যা হাদিস ও সুন্নাহর জ্ঞান এবং বিশুদ্ধ বর্ণনা ও সুস্পষ্ট যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। ইমাম মুজতাহিদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হি.) এবং তাঁর ছাত্রবৃন্দ—যাঁদের মধ্যে আয-যাহাবি, ইবনুল কাইয়্যিম এবং ইবনে কাসীর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—এই ধারার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ ছাড়া ইমাম হাফেজ আল-মিযযি (মৃত্যু: ৭৪২ হি.) এবং অন্যান্য মুজতাহিদ ইমামগণও এতে শামিল ছিলেন। এই ঘরানার প্রধান ব্যক্তিত্বগণ দলিলের প্রতি আনুগত্য এবং সমালোচনামূলক বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মুঞ্জিদ: মু'জাম মা উলিফা আন রাসুলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, পৃষ্ঠা: ১২৮; এবং আব্দুল গনি হলেন আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-জামায়িলি, ইমাম হাফেজ (মৃত্যু: ৬০০?), আয-যাহাবি: সিয়ারু আলামিন নুবালা, খণ্ড ২১, পৃষ্ঠা: ৪৪৩-৪৪৮।

(২) ইবনে রজব: যাইনুদ্দিন ইবনে রজব আল-হাম্বলি (৭৯৫?): আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ, বৈরুত, দারুল মা'রিফাহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা: ১৩৮।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৮)
ومن مصنفات الذهبي وابن القيم، وكذلك ابن كثير تتجلى تأثيرات هذه المدرسة حيث يلمس الدارس العناية بتنقية الأخبار وتمحيصها ونقد متونها، فالذهبي: أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان (ت:748هـ) ، يُعدُّ من أبرز علماء عصره الذين ألفوا في تاريخ الإسلام على نحوٍ عام، وقد جاء ما دونه في السيرة النبوية مضمناً في كتابه الشامل "تاريخ الإسلام ووفيات المشاهير والأعلام" موزعة على جزأين: الأول "المغازي"، والثاني "السيرة النبوية"، وهو الترجمة النبوية، وقد قدَّم المغازي؛ لأنَّ من منهجيته تقديم الحوادث التي أسهم فيها صاحب الترجمة على الترجمة ذاتها (1) ، وينبه الذهبي على ما ينتاب بعض الأسانيد من ضعف ونكارة، كقوله بعد إيراده رواية البراء في خبر سواد بن قارب، هذا حديث منكر بالمرة، ومحمد بن تراس وزياد مجهولان لا تقبل روايتهما وأخاف أن يكون موضوعاً على أبي بكر بن عياش، ولكن أصل الحديث مشهور (2) .

ومن نقده الموجه للمتن: نقده لرواية عبد الرحمن بن غزوان (3) بسنده إلى أبي موسى الأشعري في سفر النبي صلى الله عليه وسلم إلى الشام بصحبة أبي طالب،

--------------------------------------------

(1) محمد محمود حمدان، مقدمة تحقيق المغازي من تاريخ الإسلام للحافظ الذهبي، القاهرة، دار الكتاب العربي، ط1، 1405?، ص:35، عبد السلام تدمري، مقدمة تحقيق "السيرة النبوية" من تاريخ الإسلام، بيروت، 1407?، 2/581.

(2) تاريخ الإسلام "السيرة النبوية" تحقيق، عبد السلام تدمري، ص:206.

(3) عبد الرحمن بن غزوان، أبو نوح حدَّث عنه أحمد، له مناكير، توفي سنة (207?) ببغداد، الذهبي: ميزان الاعتدال في نقد الرجال، تحقيق علي البجاوي، بيروت، دار المعرفة، ج2 ص581.
আয-যাহাবী, ইবনুল কাইয়্যিম এবং সেই সাথে ইবনে কাসীরের গ্রন্থাবলিতে এই ঘরানার প্রভাব স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়, যেখানে একজন গবেষক সংবাদসমূহ পরিচ্ছন্নকরণ, সেগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা এবং মতন (মূল পাঠ) পর্যালোচনার প্রতি বিশেষ যত্ন লক্ষ্য করেন। ইমাম আয-যাহাবী: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান (মৃত্যু: ৭৪৮ হিজরী), তাঁর যুগের অন্যতম প্রখ্যাত আলেম হিসেবে গণ্য হন যারা সাধারণ আঙ্গিকে ইসলামের ইতিহাসের উপর গ্রন্থ রচনা করেছেন। সীরাতুন্নবী সম্পর্কে তিনি যা লিপিবদ্ধ করেছেন তা তাঁর ব্যাপক গ্রন্থ "তারিখুল ইসলাম ওয়া ওয়াফায়াতুল মাশাহীর ওয়াল আলাম"-এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা দুটি অংশে বিভক্ত: প্রথমটি "আল-মাগাযী" এবং দ্বিতীয়টি "আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ", যা মূলত নববী জীবনী। তিনি মাগাযী বা যুদ্ধসমূহকে আগে উপস্থাপন করেছেন; কারণ তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি হলো, যার জীবনী বর্ণনা করা হচ্ছে তার জীবনের ঘটনাবলিকে স্বয়ং জীবনীর ওপর প্রাধান্য দেওয়া (১)। আয-যাহাবী কিছু সনদে বিদ্যমান দুর্বলতা ও অসংগতি সম্পর্কে সতর্ক করেন। যেমন সওয়াদ বিন কারিবের ঘটনায় বারা-এর রেওয়ায়েত উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: "এই হাদীসটি পুরোপুরি মুনকার (অস্বীকৃত)। মুহাম্মদ বিন তারাস এবং যিয়াদ—উভয়ই মাজহুল (অপরিচিত), তাদের রেওয়ায়েত গ্রহণযোগ্য নয়। আমার আশঙ্কা হচ্ছে এটি আবু বকর বিন আইয়াশের নামে জাল করা হয়েছে, তবে হাদীসটির মূল ভিত্তি মশহুর (বিখ্যাত)" (২)।

মতনের প্রতি তাঁর পরিচালিত পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে: আবু তালিবের সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শাম দেশে সফরের বর্ণনায় আবু মুসা আল-আশআরীর সনদে আব্দুর রহমান বিন গাযওয়ানের (৩) রেওয়ায়েতের ওপর তাঁর সমালোচনা।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ মাহমুদ হামদান, হাফেজ আয-যাহাবীর 'তারিখুল ইসলাম'-এর 'আল-মাগাযী' অংশের সম্পাদনার ভূমিকা, কায়রো, দারুল কিতাব আল-আরাবি, ১ম সংস্করণ, ১৪০৫ হিজরী, পৃষ্ঠা: ৩৫; আব্দুস সালাম তাদমুরি, 'তারিখুল ইসলাম'-এর 'আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ' অংশের সম্পাদনার ভূমিকা, বৈরুত, ১৪০৭ হিজরী, ২/৫৮১।

(২) তারিখুল ইসলাম "আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ", সম্পাদনা: আব্দুস সালাম তাদমুরি, পৃষ্ঠা: ২০৬।

(৩) আব্দুর রহমান বিন গাযওয়ান, আবু নূহ; তাঁর থেকে ইমাম আহমাদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁর কিছু মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনা রয়েছে, তিনি ২০৭ হিজরীতে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন। আয-যাহাবী: মীযানুল ইতিদাল ফী নাক্বদির রিজাল, সম্পাদনা: আলী আল-বিজাভী, বৈরুত, দারুল মা'রিফাহ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৮১।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৯)
وأشياخ من قريش ولقائه بحيرى الراهب (1) ، وهو نقد مشهور، استند إلى معايير تاريخية وعقلية وحلل الخبر تحليلاً علمياً من جميع جوانبه في أحداثه وألفاظه ودلالاته، واستخدم عقله والأدلة التاريخية ليثبت بطلانه (2) ، وهي خطوات تنبئ عن تمكن الذهبي العلمي ورسوخ قدمه في ميدان نقد متون الروايات.

وفي كتبه الأخرى ناقش الذهبي العديد من الروايات في ميدان السيرة النبوية، ففي ميزان الاعتدال، ردَّ رواية عمر بن حَكَّام عن شعبة بسنده إلى أبي سعيد الخدري وفيها أن ملك الروم أهدى إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم هدايا فكان فيها جرة زنجبيل.

قال الذهبي: هذا منكر من وجوه:

أحدها: أنه لا يعرف أن ملك الروم أهدى شيئاً إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ثانيها: أن هدية الزنجبيل من الروم إلى الحجاز شيء ينكره العقل فهو نظير هدية التمر من الروم إلى المدينة النبوية (3) .

ورد قول من قال: إن سلمان الفارسي صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم عُمِّر ثلاثمائة سنة، يقول معقباً على هذا القول: "ومجموع أمره وأحواله وغزوه وهمته وتصرفه وغرسه للجريد وأشياء مما تقدم تبيِّن بأنه ليس بمعمر ولا

--------------------------------------------

(1) تاريخ الإسلام، السيرة النبوية، تحقيق عمر عبد السلام تدمري، بيروت، 1407هـ، ص:57.

(2) راجع: بشار عواد معروف: الذهبي ومنهجه في كتابه "تاريخ الإسلام"، القاهرة، مطبعة عيسى البابي الحلبي، ط1، القاهرة، ص:456-457.

(3) 3/254.
...এবং কুরাইশের কতিপয় শায়খ ও সন্ন্যাসী বাহীরার সাথে তাঁর সাক্ষাত (১), এটি একটি বিখ্যাত সমালোচনা, যা ঐতিহাসিক ও যৌক্তিক মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়েছে এবং বর্ণনাটিকে এর ঘটনাপ্রবাহ, শব্দচয়ন ও তাৎপর্যের সকল দিক থেকে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করেছে। তিনি এর অসারতা প্রমাণ করার জন্য তাঁর বিচারবুদ্ধি ও ঐতিহাসিক প্রমাণাদি ব্যবহার করেছেন (২)। এই পদক্ষেপগুলো আয-যাহাবীর বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা এবং বর্ণনার মূল পাঠ (মতন) সমালোচনার ময়দানে তাঁর সুদৃঢ় অবস্থানের পরিচয় দেয়।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থেও আয-যাহাবী সীরাতুন্নবীর ক্ষেত্রে বহু বর্ণনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। যেমন, 'মীযানুল ইতিদাল' গ্রন্থে তিনি শু'বা থেকে বর্ণিত উমর ইবনে হাক্কামের বর্ণনাটি প্রত্যাখ্যান করেছেন, যার সনদ আবু সাঈদ আল-খুদরী পর্যন্ত পৌঁছেছে। তাতে উল্লেখ ছিল যে, রোম সম্রাট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কিছু উপহার পাঠিয়েছিলেন, যার মধ্যে একটি আদার পাত্র ছিল।

আয-যাহাবী বলেন: এটি কয়েকটি কারণে মুনকার (অগ্রহণযোগ্য):

প্রথমত: এটি পরিচিত নয় যে, রোম সম্রাট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিছু উপহার পাঠিয়েছিলেন।

দ্বিতীয়ত: রোম থেকে হিজাজে আদা উপহার পাঠানো এমন একটি বিষয় যা বিচারবুদ্ধি অস্বীকার করে। এটি অনেকটা রোম থেকে মদীনাতুন নববীয়ায় খেজুর উপহার পাঠানোর মতো (৩)।

এবং তিনি সেই ব্যক্তির উক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন যে বলেছিল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী সালমান আল-ফারসী তিনশ বছর আয়ু পেয়েছিলেন। তিনি এই উক্তির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "তাঁর সামগ্রিক বিষয়াদি, অবস্থা, যুদ্ধাভিযান, উদ্যম, কর্মকাণ্ড, খেজুরের ডাল রোপণ এবং ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে—সব মিলিয়ে এটা স্পষ্ট করে যে তিনি দীর্ঘজীবী ছিলেন না এবং..."

--------------------------------------------

(১) তারীখুল ইসলাম, আস-সীরাহ আন-নববীয়াহ, সম্পাদনা: উমর আবদুস সালাম তাদমুয়ী, বৈরুত, ১৪০৭ হিজরি, পৃষ্ঠা: ৫৭।

(২) দ্রষ্টব্য: বাশার আওয়াদ মারুফ: আয-যাহাবী ওয়া মানহাজুহু ফী কিতাবিহি "তারীখুল ইসলাম", কায়রো, মাতবাআতু ঈসা আল-বাবী আল-হালাবী, ১ম সংস্করণ, কায়রো, পৃষ্ঠা: ৪৫৬-৪৫৭।

(৩) ৩/২৫৪।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১০)
هرم فقد فارق وطنه وهو حَدَث ولعله قدم الحجاز وله أربعون سنة أو أقل. فلعله عاش بضعاً وسبعين وما أراه بلغ المائة" (1) .

وقد نظر الذهبي إلى الموضوعات على أنها عبء كبير على السيرة، وأخذ على القاضي عياض (ت:544هـ) مؤلف كتاب "الشفا بتعريف حقوق المصطفى" ما في كتابه من أحاديث مفتعلة واهية، حيث قال عنه: "حشاه بالأحاديث المفتعلة، عمل لا نقد له في الحديث ولا ذوق، والله يثيبه على حسن قصده، وينفع بشفائه، وقد فعل، وكذا فيه من التأويلات البعيدة ألوان، ونبينا صلى الله عليه وسلم غني بمدحه التنزيل عن الأحاديث، وبما تواتر من الأخبار عن الآحاد، وبالآحاد النظيفة الأسانيد عن الواهيات، فلماذا يا قوم التشبع بالموضوعات فيتطرَّق إلينا مقال ذوي الغل والحسد ولكن من لا يعلم معذور" (2) . ويرى الذهبي أن الموضوعات والأخبار الواهية لا يلتفت إليها بل تروى للتحذير منها: "فمن دلَّسها أو غطى تبيانها فهو جانٍ على السُنَّة خائن لله ورسوله، فإن كان يجهل ذلك، فقد يعذر بالجهل ولكن سلوا أهل الذكر إن كنتم لا تعلمون" (3) .

وقد عاصر ابن كثير كذلك، ابن القيم: محمد بن أبي بكر بن أيوب الزرعي (691-751هـ) .

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء، ج1، تحقيق شعيب الأرنؤوط، بيروت، 1414هـ، ص:556.

(2) سير أعلام النبلاء، ج20، تحقيق شعيب الأرنؤوط ومحمد نعيم عرقوسي، ص:216، بيروت، 1417هـ.

(3) سير أعلام النبلاء، ج8، تحقيق شعيب الأرنؤوط ونذير حمدان، بيروت، 1417هـ، ص:520.
হারাম; তিনি তাঁর স্বদেশ ত্যাগ করেছিলেন যখন তিনি যুবক ছিলেন, আর সম্ভবত তিনি হিজাজে এসেছিলেন যখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বা তার কম। সম্ভবত তিনি সত্তর বছরের কিছু বেশি সময় বেঁচেছিলেন এবং আমি মনে করি না যে তিনি একশ বছরে পৌঁছেছিলেন" (১)।

আয-যাহাবি জাল বর্ণনাগুলোকে সীরাতের ওপর একটি বড় বোঝা হিসেবে গণ্য করেছেন এবং 'আশ-শিফা বি-তারীফি হুকুকিল মুস্তাফা' গ্রন্থের লেখক কাজি আয়ায (মৃ. ৫৪৪ হি.) তাঁর গ্রন্থে যেসকল বানোয়াট ও দুর্বল হাদিস উল্লেখ করেছেন সেগুলোর সমালোচনা করেছেন। তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি একে বানোয়াট হাদিসে পূর্ণ করেছেন; এটি এমন এক কাজ যাতে হাদিস শাস্ত্রের না আছে কোনো বিচারবোধ, না আছে কোনো রুচি। আল্লাহ তাঁকে তাঁর সদ্দেশ্যের জন্য প্রতিদান দিন এবং তাঁর 'শিফা' গ্রন্থের মাধ্যমে কল্যাণ দান করুন—এবং তিনি তা করেছেনও। একইভাবে এতে বিভিন্ন ধরনের দূরতম ব্যাখ্যার সমাবেশ ঘটেছে। অথচ আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসায় অবতীর্ণ ওহিই হাদিসসমূহ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়, আর মুতাওয়াতির বর্ণনাগুলো আহাদ বর্ণনা থেকে এবং বিশুদ্ধ সনদের আহাদ বর্ণনাগুলো দুর্বল বর্ণনাগুলো থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। অতএব হে কওম! কেন জাল বর্ণনার প্রতি এত আসক্তি যার ফলে বিদ্বেষী ও হিংসুকদের সমালোচনার পথ উন্মুক্ত হয়? তবে যে জানে না সে ক্ষমার যোগ্য" (২)। আয-যাহাবি মনে করেন যে, বানোয়াট ও দুর্বল সংবাদগুলোর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা উচিত নয় বরং সেগুলো সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য বর্ণনা করা উচিত: "যে ব্যক্তি সেগুলোকে জাল হিসেবে প্রকাশ না করে ধোঁকা দেয় বা সেগুলোর স্বরূপ গোপন রাখে, সে সুন্নাহর বিরুদ্ধে অপরাধী এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতক। যদি সে এ বিষয়ে অজ্ঞ হয়, তবে হয়তো অজ্ঞতার কারণে তাকে ক্ষমা করা যেতে পারে, কিন্তু 'যদি তোমরা না জান তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো'" (৩)।

ইবনে কাসীর একইভাবে ইবনুল কাইয়্যিমেরও সমসাময়িক ছিলেন: মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব আয-যারয়ি (৬৯১-৭৫১ হি.)।

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা, খণ্ড ১, শুআইব আরনাউত কর্তৃক সম্পাদিত, বৈরুত, ১৪১৪ হি., পৃষ্ঠা: ৫৫৬।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা, খণ্ড ২০, শুআইব আরনাউত ও মুহাম্মাদ নাঈম আরকুসি কর্তৃক সম্পাদিত, পৃষ্ঠা: ২১৬, বৈরুত, ১৪১৭ হি।

(৩) সিয়ারু আলামিন নুবালা, খণ্ড ৮, শুআইব আরনাউত ও নাযীর হামদান কর্তৃক সম্পাদিত, বৈরুত, ১৪১৭ হি., পৃষ্ঠা: ৫২০।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১১)
ويعد ابن كثير من أقرانه وأصحابه، يقول عنه: "كنت من أصحب الناس له وأحب الناس إليه" (1) ، وهذا القول يبين أن الشيخين إنما كانا صاحبين يلازمان أمثال ابن تيمية والمزي، لكن بعض المعاصرين يرى أن ابن كثير من تلاميذ ابن القيم (2) ، وعلى كلٍ فثمة عناصر جمعت بين الرجلين، ثقافة ومنهجاً، بالإضافة إلى التلمذة، على شيخ الإسلام ابن تيمية وقد كان الشيخان ضمن بعثة العلماء إلى الحج سنة 731هـ (3) .

ألف ابن القيم في السيرة كتابه المتميز "زاد المعاد في هدي خير العباد" ويعدُّ موسوعة جمعت بين علوم شتى من السيرة والفقه والتوحيد واللطائف في التفسير والحديث والفقه وغير ذلك.

ويرى بعض الباحثين أنه أول كتاب في فقه السيرة، تميز هذا الكتاب بالموضوعات التي طرقها والآفاق التي نقل قارئه إليها من خلال كتابه، والجوانب الجديدة التي تناولها (4) ، وقد تميز كذلك بنقده لمتون كثيرة يرويها كُتَّابُ السيرة ورواتها.

فمن ذلك رواية يونس بن بكير عن سلمة بن عبد يسوع، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كتب إلى أهل نجران قبل أن ينزل عليه طس {إِنَّهُ مِنْ سُلَيْمَانَ

--------------------------------------------

(1) البداية والنهاية، ج18، ص:523، ويلاحظ أنه (ابن كثير) وصفه في الترجمة له بـ (صاحبنا الإمام) .

(2) بكر عبد الله أبو زيد: ابن قيم الجوزية حياته وآثاره، ص:108، وانظر الندوي، الإمام ابن كثير سيرته ومؤلفاته ومنهجه في كتابة التاريخ، دمشق، دار ابن كثير، ط1، 1420هـ، ص:57.

(3) ابن كثير: البداية والنهاية، ص:354.

(4) فاروق حمادة: مصادر السيرة النبوية وتقويمها، الدار البيضاء، دار الثقافة، ط1، 1401هـ، ص:108.
ইবনে কাসীরকে তাঁর সমসাময়িক এবং সাথীদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়, তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "আমি ছিলাম তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সাথীদের একজন এবং তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত" (১), এবং এই উক্তিটি স্পষ্ট করে যে, এই দুই শাইখ মূলত ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং মিজ্জীর মতো ব্যক্তিদের সার্বক্ষণিক সাথী ছিলেন। তবে বর্তমান সময়ের কেউ কেউ মনে করেন যে ইবনে কাসীর ছিলেন ইবনুল কাইয়্যিমের ছাত্রদের একজন (২)। যাই হোক, উভয়ের মাঝে সংস্কৃতি ও মানহাজগত কিছু অভিন্ন উপাদান বিদ্যমান ছিল, এর পাশাপাশি তাঁরা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ছাত্রও ছিলেন এবং এই দুই শাইখ ৭৩১ হিজরী সনে আলেমদের হজ্জ কাফেলার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (৩)।

ইবনুল কাইয়্যিম সীরাত বিষয়ে তাঁর অনন্য গ্রন্থ "যাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খায়রিল ইবাদ" রচনা করেছেন এবং একে একটি বিশ্বকোষ হিসেবে গণ্য করা হয় যা সীরাত, ফিকহ, তাওহীদ এবং তাফসীর, হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিষয়াবলিসহ বিভিন্ন জ্ঞানকে একত্রিত করেছে।

কিছু গবেষক মনে করেন যে এটিই 'ফিকহুস সীরাহ' বা সীরাতের প্রজ্ঞার ওপর প্রথম গ্রন্থ। এই গ্রন্থটি তার আলোচিত বিষয়সমূহ, যে নতুন দিগন্তের দিকে তা পাঠককে নিয়ে যায় এবং তার আলোচিত নতুন দিকগুলোর কারণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত (৪)। এটি সীরাত রচয়িতা ও বর্ণনাকারীদের বর্ণিত অনেক মূল পাঠের (মতন) সমালোচনার ক্ষেত্রেও অনন্য বৈশিষ্ট্য লাভ করেছে।

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো সালামাহ বিন আবদ ইয়াসূ' থেকে ইউনুস বিন বুকাইরের বর্ণনা যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজরানবাসীদের কাছে চিঠি লিখেছিলেন তাঁর ওপর 'তা-সীন' {নিশ্চয়ই এটি সুলাইমানের পক্ষ থেকে...} অবতীর্ণ হওয়ার আগে।

--------------------------------------------

(১) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৮তম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫২৩; এটি লক্ষণীয় যে, তিনি (ইবনে কাসীর) তাঁর জীবনী আলোচনায় তাঁকে 'আমাদের সাথী ইমাম' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

(২) বকর আবদুল্লাহ আবু যায়েদ: ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ হায়াতুহু ওয়া আসারুহু, পৃষ্ঠা: ১০৮, এবং আরও দেখুন আন-নাদভী, আল-ইমাম ইবনে কাসীর সীরাতুহু ওয়া মুআল্লাফাতুহু ওয়া মানহাজুহু ফী কিতাবাতিত তারিখ, দামেস্ক, দারু ইবনে কাসীর, ১ম সংস্করণ, ১৪২০ হিজরী, পৃষ্ঠা: ৫৭।

(৩) ইবনে কাসীর: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, পৃষ্ঠা: ৩৫৪।

(৪) ফারুক হামাদাহ: মাসাদিরুস সিরাতিন নববিয়্যাহ ওয়া তাকভীমুহা, কাসাব্লাঙ্কা, দারুস সাকাফাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪০১ হিজরী, পৃষ্ঠা: ১০৮।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১২)
وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [النمل:30] يعني النمل، باسم إله إبراهيم وإسحاق ويعقوب.

قال ابن القيم: ذلك غلط على غلط فإن هذه السورة مكية باتفاق وكتابه إلى نجران بعد مرجعه من تبوك (1) .

ورَدَّ رواية الترمذي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل مكة يوم الفتح وعبد الله ابن رواحة بين يديه ينشد (خلوا بني الكفار عن سبيله.. الأبيات..) .

قال ابن القيم: هذا وهم، فإن ابن رواحة قتل في هذه الغزوة (مؤتة) وهي قبل الفتح بأربعة أشهر (2) .

ويرد ابن القيم على رواية عرض أبي سفيان على رسول الله صلى الله عليه وسلم الزواج من ابنته أم حبيبة رضي الله عنها قائلاً: "إن أهل التاريخ أجمعوا على أن رسول الله صلى الله عليه وسلم تزوج أم حبيبة قبل إسلام والدها بزمن طويل"، ويرد على من ذهب إلى أن النبي صلى الله عليه وسلم تزوج أم حبيبة بعد الفتح، فيقول: "هذا باطل عند من له أدنى علم بالسيرة وتواريخ ما قد كان" (3) .

وثمة روايات أخرى حاكمها ابن القيم محاكمة نقدية كاشفاً ما فيها من تناقضات وأوهام كرواية البيهقي التي أسندها إلى محمد بن إسحاق، وفيها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أبلغ حذيفة بالمنافقين الذين حاولوا المكر بالنبي

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد في هدي خير العباد، تحقيق شعيب الأرنؤوط وعبد القادر الأرنؤوط، 3/642.

(2) زاد المعاد، 3/385.

(3) زاد المعاد، 1/110.
"নিশ্চয়ই এটি পরম দয়ালু, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে" [আন-নামল: ৩০] অর্থাৎ সুরা আন-নামল; ইবরাহিম, ইসহাক এবং ইয়াকুবের ইলাহের নামে।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: এটি ভুলের ওপর ভুল, কারণ সর্বসম্মতিক্রমে এই সূরাটি মক্কি এবং নাজরানবাসীদের প্রতি তাঁর পত্রটি ছিল তাবুক থেকে প্রত্যাবর্তনের পরের ঘটনা (১)।

এবং তিনি তিরমিযীর সেই বর্ণনাটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন এবং আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা তাঁর সামনে কবিতা আবৃত্তি করছিলেন (হে কাফেরের সন্তানরা, তাঁর পথ ছেড়ে দাও... কবিতাংশসমূহ...)।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: এটি একটি ভ্রম, কারণ ইবনে রাওয়াহা এই যুদ্ধে (মুতা) শহীদ হয়েছিলেন, যা মক্কা বিজয়ের চার মাস আগে সংঘটিত হয়েছিল (২)।

এবং ইবনুল কাইয়্যিম আবু সুফিয়ানের পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাঁর কন্যা উম্মে হাবিবা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেওয়ার বর্ণনাটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন: "নিশ্চয়ই ইতিহাসবিদগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে হাবিবাকে তাঁর পিতার ইসলাম গ্রহণের অনেক আগে বিবাহ করেছিলেন।" আর যারা মনে করেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের পর উম্মে হাবিবাকে বিয়ে করেছেন, তাদের প্রতিবাদে তিনি বলেন: "সীরাত এবং অতীতের ঘটনাবলির ইতিহাস সম্পর্কে যার সামান্যতম জ্ঞান আছে, তার কাছেও এটি বাতিল" (৩)।

এছাড়া আরও কিছু বর্ণনা রয়েছে যেগুলোকে ইবনুল কাইয়্যিম সমালোচনামূলকভাবে বিচার করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যকার বৈপরীত্য ও ভ্রমগুলো উন্মোচন করেছেন; যেমন বায়হাকীর বর্ণনা যা তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, সেখানে উল্লেখ আছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুজাইফাকে সেই মুনাফিকদের সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন যারা নবীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করেছিল।

--------------------------------------------

(১) যাদুল মাআদ ফি হাদয়ি খাইরিল ইবাদ, তাহকিক: শুআইব আরনাউত ও আব্দুল কাদির আরনাউত, ৩/৬৪২।

(২) যাদুল মাআদ, ৩/৩৮৫।

(৩) যাদুল মাআদ, ১/১১০।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১৩)
صلى الله عليه وسلم وهو عائد من تبوك، وفي الخبر قال: ادع عبد الله بن أبي وسعد أبي السرح، والروايات التي ذهبت إلى القول بأنَّ سَرِيَّة الخبط وأميرها أبو عبيدة بن الجراح إنما وقعت في رجب سنة ثمان للهجرة (1) .

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه، 3/390.
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাবুক থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন, এবং বর্ণনায় এসেছে যে তিনি বলেছিলেন: "আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং সা'দ আবি আল-সারহকে আহ্বান করো।" আর সেই সকল বর্ণনা যা এই অভিমত পোষণ করে যে, সারিইয়াতুল খাবত এবং এর সেনাপতি আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ মূলত অষ্টম হিজরি সনের রজব মাসে সংঘটিত হয়েছিল (১)।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস, ৩/৩৯০।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌تمهيد:

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، أما بعد:

فقد مر جمع السيرة النبوية وتدوينها بمراحل، في كل مرحلة برز مجموعة من الرواة والكتاب والمصنفين الذين تصدوا للتأليف في هذا الفن ذي الصلة بذات المصطفى صلى الله عليه وسلم وتاريخ حياته.

لقد كانت السيرة النبوية محط أنظار المسلمين في القرن الأول، وجاء تدوين أخبارها بصورة أولية على يد مجموعة من علماء التابعين، كعروة ابن الزبير (ت:94هـ) والزهري (ت:124هـ) ثم جاء ابن إسحاق (ت:151هـ) ليُخْرِج عملاً تاريخياً يشمل السِّيَرْ والمغازي، ويعني ذلك فترة الرسالة بأكملها. وجاء من بعد ابن إسحاق من عني بالمغازي كالواقدي (ت:207هـ) .

وشهدت المراحل التي تلت التدوين الأَوَّلي وعَمَلَي ابن إسحاق والواقدي تنوعاً في مجالات التأليف في السيرة واتجاهاً نحو الكتابة في موضوعات جديدة في محيط السيرة أبرزها دلائل النبوة وأعلامها. ولعل من أبرز المصنفين في تلك الموضوعات الحافظ المشرقي أبا بكر البيهقي (458هـ) صاحب كتاب "دلائل النبوة ومعرفة أحوال الشريعة" وهو
ভূমিকা:

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠের প্রতি। অতঃপর:

সীরাতুন নবী (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী) সংগ্রহ ও সংকলন বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে একদল বর্ণনাকারী, লেখক এবং গ্রন্থকার আবির্ভূত হয়েছেন যারা মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্তা এবং তাঁর জীবন ইতিহাসের সাথে সংশ্লিষ্ট এই শাস্ত্র রচনায় নিয়োজিত ছিলেন।

প্রথম শতাব্দীতে সীরাতুন নবী ছিল মুসলমানদের বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। এর সংবাদসমূহ প্রাথমিক আকারে সংকলিত হয়েছিল একদল তাবিঈ আলেমের হাতে, যেমন উরওয়াহ ইবনুয যুবায়ের (মৃত্যু: ৯৪ হি.) এবং যুহরী (মৃত্যু: ১২৪ হি.)। এরপর আসলেন ইবনে ইসহাক (মৃত্যু: ১৫১ হি.), যিনি এমন এক ঐতিহাসিক কর্ম প্রকাশ করলেন যা সীরাত ও মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, যার অর্থ হলো সম্পূর্ণ নবুওয়াতী সময়কাল। ইবনে ইসহাকের পরে এমন ব্যক্তিরা এসেছেন যারা মাগাযী নিয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, যেমন ওয়াকিদী (মৃত্যু: ২০৭ হি.)।

প্রাথমিক সংকলন এবং ইবনে ইসহাক ও ওয়াকিদীর কর্মতৎপরতার পরবর্তী পর্যায়গুলোতে সীরাত রচনার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য এবং সীরাত সংশ্লিষ্ট নতুন নতুন বিষয়ে লেখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, যার মধ্যে নবুওয়াতের প্রমাণাদি ও এর নিদর্শনসমূহ অন্যতম। সম্ভবত সেই বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে অন্যতম বিশিষ্ট গ্রন্থকার হলেন প্রাচ্যের হাফেয আবু বকর আল-বাইহাকী (৪৫৮ হি.), যিনি 'দালাইলুন নুবুওয়াহ ওয়া মা'রিফাতু আহওয়ালিশ শারীয়াহ' গ্রন্থের রচয়িতা, এবং তিনি হলেন
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ২)
كتاب جامع لا يقتصر على الدلائل كما قد يوحي بذلك العنوان حيث شمل المبعث والمغازي واستوعب مراحل السيرة كافة.

وإلى جانب البيهقي برز مجموعة من العلماء في القرنين الخامس والسادس تناولوا جوانب من السيرة بإفراد كأبي نعيم الأصبهاني والبغوي والتيمي الأصبهاني ثم ابن الجوزي، وفي الأندلس ظهرت مؤلفات لعدد من العلماء في السيرة النبوية بمراحلها التاريخية أو في جوانب منها كجوامع السيرة لابن حزم، والدرر لابن عبد البر، والشفا "وهو في الشمائل" للقاضي عياض (ت:544هـ) .

وإن قراءة سريعة لما أُلِّف عن السيرة النبوية في القرنين الخامس والسادس الهجريين عصر البيهقي والبغوي وابن الجوزي في المشرق والقاضي عياض وابن المقري الغرناطي في المغرب والأندلس، لتقودنا إلى مجموعة من الملحوظات منها: أن معظم مَنْ ألَّف فيها هم من كبار علماء عصرهم وممن عرفوا بجمع الآثار والسنن، كما نلحظ ذلك التنوع في مجالات التأليف في السيرة حيث نجد المؤلف الشامل إلى جانب المؤلف المتخصص في أحد الموضوعات، كما نجد المؤلف المختصر الموجز، إلى جانب المؤلف المتبسط، كما اتسم معظم تلك المؤلفات بالجمع بين مرويات أهل المغازي والسير وبين الروايات والأخبار المنتشرة في دواوين السنة وغيرها من المجامع والأجزاء الحديثية.

وقد تلا أولئك العلماء الحُفَّاظ مجموعة من العلماء المحققين الموسوعيين في القرن الثامن الهجري، كالذهبي وابن القيم وابن كثير،
এটি একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ যা কেবল প্রমাণের (দালাইল) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, যেমনটি শিরোনাম থেকে মনে হতে পারে; কারণ এটি নবুয়ত লাভ (মাবআস), যুদ্ধাভিযান (মাগাজি) এবং সিরাতের সকল পর্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

বায়হাকির পাশাপাশি পঞ্চম ও ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীতে একদল আলিম আবির্ভূত হন যারা স্বতন্ত্রভাবে সিরাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেমন আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি, বাগাওয়ি, তাইমি আল-আসফাহানি এবং পরবর্তীতে ইবনুল জাওজি। আর আন্দালুসে বেশ কয়েকজন আলিমের সীরাতুন্নবী বিষয়ক রচনাবলি প্রকাশ পায় যা এর ঐতিহাসিক পর্যায়গুলো বা এর বিভিন্ন দিক নিয়ে রচিত; যেমন ইবনে হাজমের 'জাওয়ামিউস সিরাত', ইবনে আবদুল বাররের 'আদ-দুরার' এবং কাজি আয়াজের (মৃত্যু: ৫৪৪ হিজরি) 'আশ-শিফা' (যা শামায়েল বিষয়ক)।

পূর্বাঞ্চলে বায়হাকি, বাগাওয়ি ও ইবনুল জাওজি এবং পশ্চিমাঞ্চল ও আন্দালুসে কাজি আয়াজ ও ইবনুল মুকরি আল-গারনাতির যুগ তথা পঞ্চম ও ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীতে সীরাতুন্নবী সম্পর্কে যা কিছু রচিত হয়েছে তার ওপর এক দ্রুত নজর বুলালে আমরা কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করি, যার মধ্যে রয়েছে: এই বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের অধিকাংশই ছিলেন সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ আলিম এবং তারা আছার ও সুন্নাহ সংকলনের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। এছাড়া আমরা সিরাত রচনার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যও লক্ষ্য করি; যেখানে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের ওপর বিশেষায়িত গ্রন্থের পাশাপাশি যেমন পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ পাওয়া যায়, তেমনি বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপমূলক গ্রন্থও পাওয়া যায়। তদুপরি, এই গ্রন্থগুলোর অধিকাংশের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল মাগাজি ও সিরাত বিশেষজ্ঞদের বর্ণনার সাথে সুন্নাহর মূল গ্রন্থসমূহ ও অন্যান্য হাদিস সংকলন ও জুজ-সমূহে ছড়িয়ে থাকা বর্ণনা ও সংবাদগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন।

সেই হাফেজ আলিমদের পরে অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে একদল গবেষক ও বিশ্বকোষীয় জ্ঞানসম্পন্ন আলিমের আগমন ঘটে, যেমন জাহাবি, ইবনুল কাইয়্যিম এবং ইবনে কাসির।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৩)
وقد تميزوا بقدرتهم العلمية القوية وعنايتهم بالحديث والأثر، وامتلاك الأدوات المنهجية والوعي النقدي مما هيأهم للقيام بجهد يتجاوز مجرد الجمع والتدوين إلى غربلة ما جمع من روايات وأخبار ومراجعتها وبناء فقه مستنبط من وقائع السيرة العطرة، وغير ذلك من سمات الإسهام النوعي المتميز في مجال كتابة السيرة النبوية، على صاحبها أفضل الصلاة وأتمّ التسليم.

ويلفت نظر الباحث في هذا الواقع الجهد الذي قام به ابن كثير في كتابه "السيرة النبوية"، حيث نرى عناية بجمع الروايات من مصادرها وعناية بالأسانيد ونقدها، واستيعاباً لجهد من سبقه من العلماء، هذا الجهد الجمعي اللافت للنظر في مراجعة ونقد متون المرويات التي يوردها في السيرة، هذا ما سوف تحاول هذه الدراسة الإجابة عنه.

ومن الله نستمد العون والتوفيق.
তাঁরা তাঁদের সুদৃঢ় পাণ্ডিত্যপূর্ণ সক্ষমতা এবং হাদীস ও আছারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছেন। এছাড়াও পদ্ধতিগত সরঞ্জাম ও সমালোচনামূলক সচেতনতার অধিকারী হওয়ার ফলে তাঁরা কেবল সংকলন ও লিপিবদ্ধকরণের গণ্ডি পেরিয়ে সংগৃহীত বর্ণনা ও সংবাদসমূহ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার প্রচেষ্টা চালাতে সক্ষম হয়েছেন। সুগন্ধিময় সীরাতের ঘটনাবলী থেকে উৎসারিত একটি প্রজ্ঞা বিনির্মাণ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত রচনার ক্ষেত্রে গুণগত ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অবদানের অন্যান্য দিকগুলোতেও তাঁরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন—যাঁর ওপর সর্বোত্তম দরূদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক।

এই বাস্তবতায় গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইবনে কাসীরের তাঁর "আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ" গ্রন্থে সম্পাদিত শ্রম, যেখানে আমরা মূল উৎস থেকে বর্ণনাগুলো সংগ্রহ করার ব্যাপারে বিশেষ যত্ন, সনদসমূহের প্রতি গুরুত্বারোপ ও সেগুলোর সমালোচনা এবং তাঁর পূর্ববর্তী আলিমদের প্রচেষ্টাসমূহকে আত্মস্থ করার প্রতিফলন দেখতে পাই। সীরাতের বর্ণনাসমূহের মূল পাঠ পর্যালোচনা ও সমালোচনার ক্ষেত্রে এই লক্ষণীয় সুসমন্বিত প্রচেষ্টা সম্পর্কেই বর্তমান গবেষণাটি উত্তর প্রদানের প্রয়াস পাবে।

আর আমরা আল্লাহর কাছেই সাহায্য ও তাওফীক কামনা করছি।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌ابن كثير والسيرة النبوية:

ليس ابن كثير فقيهاً مغموراً خامل الذكر، ولا هو ذاك المؤرخ غير المشهور الذي تجهل مكانته ولا تعرف مؤلفاته، ولا هو ممن يحيط به طوق الإهمال والنسيان، فنحن أمام عالم موسوعي جمع بين العديد من العلوم والفنون وذاعت بعض كتبه خاصة التفسير وكتاب "البداية والنهاية" بين المسلمين قديماً وحديثاً. كما كتب عنه عدد من الباحثين (2) ، مما يجعلنا نقتصدُ في الترجمة لهذا العلَم الموسوعي، والإمام المفسر المؤرخ.

--------------------------------------------

(2) ومنهم: إسماعيل سالم عبد العال: ابن كثير ومنهجه في التفسير، القاهرة.. ط4، 1984م، ص:39-84، مسعود الرحمن خان الندوي: الإمام ابن كثير سيرته ومؤلفاته ومنهجه في كتابة التاريخ، ص:13-38، مصطفى عبد الواحد: مقدمة تحقيق السيرة النبوية لابن كثير، بيروت، دار المعرفة، 1396هـ، 1/3-12.
ইবনে কাসীর ও সীরাতুন্নবী:

ইবনে কাসীর কোনো অখ্যাত বা অপরিচিত ফকিহ নন, আর না তিনি এমন কোনো অখ্যাত ইতিহাসবিদ যার মর্যাদা অজানা অথবা যার রচনাবলি অপরিচিত; আর না তিনি এমন কেউ যাকে অবহেলা ও বিস্মৃতির বেড়াজাল ঘিরে রেখেছে। বরং আমরা এমন এক বিশ্বকোষীয় পণ্ডিতের সামনে রয়েছি যিনি বহুবিধ জ্ঞান ও শিল্পকে একত্রিত করেছেন এবং তাঁর কিছু কিতাব, বিশেষ করে তাফসীর এবং "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া" গ্রন্থটি প্রাচীন ও আধুনিক কালের মুসলিমদের মাঝে ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেছে। এছাড়াও তাঁর সম্পর্কে অনেক গবেষক লিখেছেন (২), যা আমাদের এই বিশ্বকোষীয় মনীষী, ইমাম, মুফাসসির ও ইতিহাসবিদের জীবনী সংক্ষেপে তুলে ধরার ক্ষেত্রে পরিমিত হতে উৎসাহিত করে।

--------------------------------------------

(২) তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইসমাইল সালিম আব্দুল আল: ইবনে কাসীর ও তাঁর তাফসীর পদ্ধতি, কায়রো.. ৪র্থ সংস্করণ, ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দ, পৃষ্ঠা: ৩৯-৮৪; মাসউদ উর রহমান খান নদভী: ইমাম ইবনে কাসীর—তাঁর জীবনী, রচনাবলি ও ইতিহাস রচনার পদ্ধতি, পৃষ্ঠা: ১৩-৩৮; মুস্তফা আব্দুল ওয়াহিদ: ইবনে কাসীরের সীরাতুন্নবী-এর সম্পাদনার ভূমিকা, বৈরুত, দারুল মা'রিফা, ১৩৯৬ হিজরি, ১/৩-১২।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১৪)
ولد إسماعيل بن عمر بن كثير سنة سبعمائة أو بعدها بيسير، وقد عانى من اليتم منذ صغره حيث توفي والده سنة (703هـ) ، نشأ بدمشق (1) ، وتتلمذ على يد مجموعة من علمائها من أبرزهم:

ـ كمال الدين بن الزملكاني شيخ الشافعية بالشام (ت:727هـ) (2) .

ـ إبراهيم بن عبد الرحمن الفزاري (ت:729هـ) (3) .

ـ جمال الدين أبو الحجاج المزي (ت:742هـ) (4) .

ـ ابن تيمية تقي الدين أحمد بن عبد الحليم (ت:728هـ) (5) .

ورغم أن الغالب على الحياة العلمية والدراسات الدينية في بلاد الشام طابع التقليد ومحاكاة السابقين والعكوف على الشروح والمختصرات إلا أن تلك البلاد حظيت بوجود مدرسة حديثية جمعت بين الاتباع السلفي والعلم الراسخ والعقلية النقدية، مثلها شيخ الإسلام ابن تيمية والإمام المزي العالم المحدث ثم الذهبي وابن القيم وابن كثير نفسه، فتكوَّن رحمه الله في ظل هذه المدرسة التي أثرت في تكوينه العلمي واتجاهات البحث عنده.

--------------------------------------------

(1) البداية والنهاية، 18/42، ابن حجر، أحمد بن علي العسقلاني، الدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنة، تحقيق محمد سيد جاد الحق، القاهرة، دار الكتب الحديثة، 1/399-400.

(2) ابن كثير: البداية والنهاية 9/308.

(3) ابن كثير: البداية والنهاية 8/316.

(4) ابن كثير: المصدر نفسه، 18/427، وشمس الدين الداودي: طبقات المفسرين، بيروت، دار الكتب العلمية، ط1، 1403هـ 1/112.

(5) ابن حجر: الدرر الكامنة 1/399-400.
ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসীর সাতশ হিজরি সনে অথবা তার কিছুকাল পরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি পিতৃহীনতার কষ্ট ভোগ করেন, কেননা ৭০৩ হিজরি সনে তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। তিনি দামেস্কে লালিত-পালিত হন (১) এবং সেখানকার একদল আলিমের কাছে শিক্ষা লাভ করেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

— কামাল উদ্দিন ইবনুল জামলকানি, শামে শাফেয়ী মাজহাবের প্রধান (ওফাত: ৭২৭ হিজরি) (২)।

— ইব্রাহিম ইবনে আব্দুর রহমান আল-ফাজারি (ওফাত: ৭২৯ হিজরি) (৩)।

— জামাল উদ্দিন আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জি (ওফাত: ৭৪২ হিজরি) (৪)।

— ইবনে তাইমিয়া তাকি উদ্দিন আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম (ওফাত: ৭২৮ হিজরি) (৫)।

যদিও শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের ইলমি জীবন ও ধর্মীয় গবেষণায় অন্ধ অনুসরণ (তাকলিদ), পূর্ববর্তীদের অনুকরণ এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও সংক্ষিপ্তসারগুলোর ওপর নিবদ্ধ থাকার প্রবণতা প্রবল ছিল, তবুও এই ভূখণ্ডে এমন একটি হাদিস ভিত্তিক জ্ঞানধারার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় যা সালাফদের অনুসরণ, সুদৃঢ় ইলম এবং সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় ঘটিয়েছিল। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আল-মিজ্জি, অতঃপর আয-যাহাবি, ইবনুল কায়্যিম এবং স্বয়ং ইবনে কাসীর এই ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। ফলে তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই জ্ঞানধারার ছায়াতলে গড়ে ওঠেন, যা তাঁর ইলমি গঠন ও গবেষণার গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব বিস্তার করেছিল।

--------------------------------------------

(১) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৮/৪২; ইবনে হাজার, আহমদ ইবনে আলী আল-আসকালানি, আদ-দুরার আল-কামিনাহ ফি আয়ানিল মিআতিল সামিনাহ, সম্পাদনা: মুহাম্মদ সাইয়্যিদ জাদ আল-হক্ক, কায়রো, দারুল কুতুব আল-হাদিসাহ, ১/৩৯৯-৪০০।

(২) ইবনে কাসীর: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৯/৩০৮।

(৩) ইবনে কাসীর: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৮/৩১৬।

(৪) ইবনে কাসীর: একই উৎস, ১৮/৪২৭; এবং শামসুদ্দিন আদ-দাউদি: তাবাকাতুল মুফাসসিরিন, বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, ১ম প্রকাশ, ১৪০৩ হিজরি, ১/১১২।

(৫) ইবনে হাজার: আদ-দুরার আল-কামিনাহ ১/৩৯৯-৪০০।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১৫)
لازم ابن كثير والد زوجته الحافظ المزي (1) صاحب ابن تيمية والمحدث المشهور.

كما أخذ عن شيخه ابن تيمية وكانت له به خصوصية ومناضلة عنه واتباع له في كثير من آرائه (2) ، وفي كتابه "البداية والنهاية" يبدو ابن كثير معجباً بشيخه مسجلاً لكثير من مواقفه السياسية في حرب المغول، وكذلك مواقفه في المسائل الدينية وخصوماته الحادة بين المخالفين (3) ، ويذكر ابن قاضي شهبة (854هـ) أن ابن كثير كان يفتي برأي ابن تيمية في مسائل الطلاق وامتحن بسبب ذلك وأوذي (4) .

يُعَدُّ ابن كثير من فقهاء المذهب الشافعي، وكذلك شيخاه المزي والذهبي بخلاف صاحبه ابن القيم (كما يصفه بذلك) (5) .

وقد التفوا حول علَاّمة السنة في وقته (ابن تيمية 661-728هـ) مما أزعج المذهبيين المتمسكين بالمذهب على حساب السنة والأثر، يتجلى

--------------------------------------------

(1) ابن حجر العسقلاني: الدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنة، 1/399-400، ابن كثير: البداية والنهاية 18/428.

(2) أبو بكر بن شهبة (851هـ) : طبقات الشافعية، بيروت، مؤسسة الرسالة، 1408هـ، 2/238.

(3) البداية والنهاية، 18/23-26/51-53-64-95- مثلاً.

(4) ابن شهبة: طبقات الشافعية، 2/138.

(5) البداية والنهاية، 18-523.
ইবনে কাসীর তাঁর শ্বশুর হাফেজ আল-মিযযী (১) এর সান্নিধ্য গ্রহণ করেছিলেন, যিনি ছিলেন ইবনে তাইমিয়ার সঙ্গী এবং একজন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস।

তেমনিভাবে তিনি তাঁর শায়খ ইবনে তাইমিয়ার নিকট থেকেও শিক্ষা লাভ করেছেন এবং তাঁর সাথে তাঁর বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ছিল। তিনি তাঁর পক্ষ হয়ে লড়তেন এবং অনেক বিষয়ে তাঁর মতামতের অনুসরণ করতেন (২)। তাঁর গ্রন্থ "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া"-তে ইবনে কাসীরকে তাঁর শায়খের প্রতি অত্যন্ত মুগ্ধ দেখা যায়; সেখানে তিনি মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইবনে তাইমিয়ার অনেক রাজনৈতিক অবস্থান লিপিবদ্ধ করেছেন, পাশাপাশি ধর্মীয় বিষয়ে তাঁর অবস্থান এবং বিরোধীদের সাথে তাঁর তীব্র বাদানুবাদগুলোও উল্লেখ করেছেন (৩)। ইবনে কাদি শুহবাহ (৮৫৪ হিজরি) উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে কাসীর তালাকের মাসআলাসমূহে ইবনে তাইমিয়ার মতানুসারে ফতোয়া দিতেন এবং এই কারণে তাঁকে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছিল ও নির্যাতন করা হয়েছিল (৪)।

ইবনে কাসীরকে শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়, ঠিক যেমনটি তাঁর দুই শায়খ মিযযী এবং যাহাবীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; তবে তাঁর সহচর ইবনে আল-কাইয়্যিম (যাকে তিনি সেভাবেই বর্ণনা করেছেন) এর ব্যতিক্রম ছিলেন (৫)।

তাঁরা তাঁদের সময়ের সুন্নাহর মহান পণ্ডিত (ইবনে তাইমিয়া ৬৬১-৭২৮ হিজরি)-কে ঘিরে আবর্তিত হতেন, যা সুন্নাহ এবং আসার-এর পরিবর্তে কেবল মাযহাব আঁকড়ে থাকা মাযহাবপন্থীদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এটি ফুটে ওঠে...

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার আল-আসকালানী: আদ-দুরারুল কামিনাহ ফী আ'য়ানিল মিআতিস সামিনাহ, ১/৩৯৯-৪০০; ইবনে কাসীর: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৮/৪২৮।

(২) আবু বকর বিন শুহবাহ (৮৫১ হিজরি): তাবাকাতুশ শাফেয়্যিয়্যাহ, বৈরুত, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১৪০৮ হিজরি, ২/২৩৮।

(৩) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৮/২৩-২৬/৫১-৫৩-৬৪-৯৫- উদাহরণস্বরূপ।

(৪) ইবনে শুহবাহ: তাবাকাতুশ শাফেয়্যিয়্যাহ, ২/১৩৮।

(৫) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৮-৫২৩।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১৬)
ذلك في قول الشيخ عبد الوهاب السبكي (ت:683هـ) صاحب طبقات الشافعية: إن المزي والذهبي وكثيراً من أتباعهم أضرَّ بهم ابن تيمية (1) .

إن الخيط الذي جمع بين ابن تيمية وابن القيم الحنبليين والمزي والذهبي وابن كثير الشافعيين، ليس العامل الإقليمي، بل ارتباطهم بمدرسة الحديث والأثر التي ترى أن مصدر العقائد والأحكام هو الكتاب والسنة، وهذه المدرسة هي التي منحت الذهبي وابن كثير تلك المنزلة والمكانة بين المؤلفين في السيرة والتاريخ، فرأينا تميزاً نوعياً في التأليف ومعالجات نقدية للروايات والآراء.

مارس ابن كثير التدريس في الجامع الأموي بدمشق وفي المدرسة النورية وفي عدة مساجد في دمشق وتولى مشيخة دار الحديث الأشرفية كما مارس الإفتاء والخطابة (2) ، هذا إلى جانب النشاط التأليفي الذي يعدُّ الظاهرة الأهم في حياة ابن كثير، حيث ألف وجمع العديد من المصنفات التي يذكر بعض الباحثين أنها تربو على (60) كتاباً (3) . ومع كثرة مصنفاته إلا أن ما ناله من شهرة ومكانة إنما يرجع إلى كتابيه: "تفسير

--------------------------------------------

(1) طبقات الشافعية الكبرى، تحقيق عبد الفتاح الحلو ومحمود محمد الطناحي، القاهرة، 1385هـ، 10/400.

(2) البداية والنهاية، 18/699،719، 759 الداودي: طبقات المفسرين، 1/112.

(3) إسماعيل سالم عبد العال: ابن كثير ومنهجه في التفسير، ص:123.
এটি শেখ আব্দুল ওয়াহহাব আল-সুবকী (মৃ: ৬৮৩ হি.), 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ'-এর লেখকের এই বাণীতে স্পষ্ট: "নিশ্চয়ই আল-মিযযী, আয-যাহাবী এবং তাদের অনুসারীদের অনেকেরই ক্ষতি করেছেন ইবনে তাইমিয়া (১)।"

নিশ্চয়ই যে যোগসূত্রটি হাম্বলী মাযহাবের ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কায়্যিম এবং শাফিঈ মাযহাবের আল-মিযযী, আয-যাহাবী ও ইবনে কাসীরকে একত্রিত করেছে, তা কোনো আঞ্চলিক কারণ নয়; বরং তা হলো হাদিস ও আসারের (ঐতিহ্যের) ঘরানার সাথে তাদের সম্পৃক্ততা, যারা মনে করে যে আকিদাহ ও আহকামের উৎস হলো কিতাব ও সুন্নাহ। আর এই ঘরানাই আয-যাহাবী ও ইবনে কাসীরকে সীরাত ও ইতিহাসের লেখকদের মধ্যে সেই মর্যাদা ও স্থান দান করেছে, যার ফলে আমরা তাদের রচনাশৈলীতে গুণগত শ্রেষ্ঠত্ব এবং বর্ণনা ও মতামতের ক্ষেত্রে সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ দেখতে পাই।

ইবনে কাসীর দামেস্কের উমাইয়্যা জামে মসজিদ, আন-নূরিয়া মাদ্রাসা এবং দামেস্কের বেশ কয়েকটি মসজিদে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়ার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পাশাপাশি ফতোয়া প্রদান ও খুতবা প্রদানের কাজও করেছেন (২)। এর পাশাপাশি ছিল তার রচনা ও সংকলনমূলক কর্মকাণ্ড, যা ইবনে কাসীরের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত। তিনি অসংখ্য গ্রন্থ রচনা ও সংকলন করেছেন, যা সম্পর্কে কোনো কোনো গবেষক উল্লেখ করেছেন যে তা ৬০টিরও বেশি (৩)। তার অসংখ্য রচনাবলি থাকা সত্ত্বেও, তিনি যে খ্যাতি ও মর্যাদা লাভ করেছেন তা মূলত তার দুটি গ্রন্থের কারণে: "তাফসীর...

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা, তাহকীক: আব্দুল ফাত্তাহ আল-হুলু এবং মাহমুদ মুহাম্মদ আত-তানাহি, কায়রো, ১৩৮৫ হি., ১০/৪০০।

(২) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৮/৬৯৯, ৭১৯, ৭৫৯; আদ-দাউদি: তাবাকাতুল মুফাসসিরিন, ১/১১২।

(৩) ইসমাইল সালিম আব্দুল আল: ইবনে কাসীর ও তার তাফসির পদ্ধতি, পৃ: ১২৩।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১৭)
القرآن العظيم" و"البداية والنهاية". وبعد حياة حافلة بالعطاء والإنتاج توفي ابن كثير في موطنه دمشق عام (774هـ) (1) .

--------------------------------------------

(1) ابن حجر: أحمد بن علي العسقلاني: الدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنة، تحقيق محمد سيد جاد الحق، القاهرة، ج1، ص:399-400.
“আল-কুরআনুল আজিম” এবং “আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া”। এবং দান ও ইলমি অবদানে ভরপুর এক বর্ণাঢ্য জীবনের পর ইবনে কাসির তাঁর জন্মভূমি দামেস্কে ৭৭৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (১)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার: আহমাদ ইবনে আলি আল-আসকালানি: আদ-দুরারুল কামিনাহ ফি আয়ানিল মায়াতিল সামিনাহ, তাহকিক: মুহাম্মাদ সাইয়িদ জাদ আল-হক, কায়রো, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা: ৩৯৯-৪০০।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌السيرة النبوية عند ابن كثير:

تعد السيرة النبوية من الفنون الأساسية التي لا يستغني عن دراستها عالم أو فقيه، وفي نظر ابن كثير فإن الأيام النبوية مشتملة على علوم جمة، وفائدة مهمة، لا يستغني عنها عالم (1) .

وما ذاك إلا لأن موضوع السيرة الجوهري هو تاريخ حياة النبي صلى الله عليه وسلم ومعرفة مراحل دعوته وجهاده، وتعاليمه وهديه، ومعلوم أن الفقيه أو العالم يتعامل مع النصوص والأحكام التشريعية التي جاء بها محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، ومن مهامه ووظائفه، فهم الشريعة، وشرحها للناس، وإنزال الأحكام الشرعية على الوقائع المتجددة والمتغيرة، ومن الوسائل والأدوات المعينة على ذلك، فهم السيرة وواقعها التاريخي ومراحلها التي تزامنت مع نزول الأحكام والتشريعات.

فإذن لا غرابة أن يؤلف ابن كثير في السيرة النبوية، السيرة المطولة في "البداية والنهاية" والسيرة الموجزة وهي كتاب "الفصول في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم".

ومسألة أخرى حدت بابن كثير إلى الاهتمام بالسيرة والتوسع فيها وتقصي رواياتها في كتابه الضخم "البداية والنهاية" فالمؤلف يرى في

--------------------------------------------

(1) الفصول في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، تحقيق محمد الخطراوي، ومحيي الدين مستو، دمشق، دار الكلم الطيب، ط9، 1420هـ، ص:79.
ইবনে কাসীরের নিকট সীরাতুন্নবী:

সীরাতুন্নবী বা নবীজির জীবনী মৌলিক বিষয়সমূহের অন্যতম, যা অধ্যয়ন করা থেকে কোনো আলিম বা ফকীহ বিমুখ থাকতে পারেন না। ইবনে কাসীরের দৃষ্টিতে, নবীজির জীবনকাল বহু জ্ঞান এবং গুরুত্বপূর্ণ উপকারে পরিপূর্ণ, যা থেকে কোনো আলিম অমুখাপেক্ষী হতে পারেন না (১)।

আর এর কারণ এছাড়া আর কিছুই নয় যে, সীরাতের মূল বিষয়বস্তু হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন ইতিহাস এবং তাঁর দাওয়াত ও জিহাদের পর্যায়সমূহ, তাঁর শিক্ষা ও হিদায়াত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। এটি সুবিদিত যে, ফকীহ বা আলিম সেই সকল মূল পাঠ (নস) এবং শরয়ী আহকাম নিয়ে কাজ করেন যা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়ে এসেছেন। শরীয়ত উপলব্ধি করা, মানুষের কাছে তা ব্যাখ্যা করা এবং নতুন ও পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর শরয়ী আহকাম প্রয়োগ করা তাঁর অন্যতম দায়িত্ব ও কার্যাবলী। আর এই কাজে সহায়ক মাধ্যম ও উপকরণসমূহের একটি হলো সীরাত এবং এর ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও পর্যায়সমূহ অনুধাবন করা, যা আহকাম ও শরয়ী বিধান অবতীর্ণ হওয়ার সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল।

অতএব, ইবনে কাসীর কর্তৃক সীরাতুন্নবী বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করা কোনো আশ্চর্যজনক বিষয় নয়; তিনি "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া" গ্রন্থে বিস্তারিত সীরাত এবং "আল-ফুসুল ফি সিরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" নামে সংক্ষিপ্ত সীরাত রচনা করেছেন।

আরেকটি বিষয় ইবনে কাসীরকে তাঁর বিশাল গ্রন্থ "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া"-তে সীরাতের প্রতি গুরুত্বারোপ, এর বিস্তৃতি এবং এর বর্ণনাগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করেছে; কেননা লেখক মনে করেন...

--------------------------------------------

(১) আল-ফুসুল ফি সিরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাহকীক: মুহাম্মদ আল-খাতরাওয়ী এবং মুহিউদ্দিন মাস্তু, দামেস্ক, দারুল কালিম আত-তাইয়্যেব, ৯ম প্রকাশ, ১৪২০ হিজরী, পৃষ্ঠা: ৭৯।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ২০)
تاريخ السيرة واسطة عقد تاريخ الأمة المؤمنة التي يبدأ تاريخها منذ عهد آدم عليه السلام.

يضم كتاب ابن كثير "البداية والنهاية" سيرة مطولة، تضم السيرة بسياقها التاريخي المعروف ثم الشمائل والدلائل والفضائل والخصائص.

وقبل أن نبدأ في استعراض أهم عناصر هذه السيرة لا بد من الإشارة إلى أن "البداية والنهاية" هو عبارة عن موسوعة تاريخية شاملة تؤرخ لبدايات الخلق، ثم الأنبياء، ثم السيرة التي استغرقت نحواً من ستة أجزاء من الكتاب حسب طبعة مركز البحوث والدراسات العربية والإسلامية بدار هجر (1) ، التي تضم (21) جزءاً بما فيها جزء الفهارس والجزآن (19،20) وقد خُصِّصَا "للفتن والملاحم وأشراط الساعة".

وقد جاء الكتاب ثمرة عوامل أثرت في مكوناته واتجاهه الموسوعي وطابعه العام ومنهجه التاريخي والنقدي. ومن تلك العوامل:

--------------------------------------------

(1) وهذه الطبعة هي التي سوف نعتمد عليها في دراستنا هذه وقد حققها عبد الله بن عبد المحسن التركي، بالتعاون مع مركز البحوث والدراسات العربية والإسلامية بدار هجر، القاهرة، ط1، 1417هـ، وفي تقدير الباحث فإن هذه الطبعة قد عنيت بالكتاب خاصة قسم السيرة تحقيقاً وتخريجاً على نحو لم يتوافر في سابقاتها، ومن طبعات الكتاب السابقة طبعة دار السعادة بالقاهرة، 1348هـ، في (14) جزءاً، كما ظهرت طبعات أخرى للكتاب في بيروت، ومنها طبعة دار المعرفة بتحقيق، عبد الرحمن اللاذقي ومحمد غازي بيضون، ط1، 1416هـ، وطبعة المكتبة العصرية، بتحقيق عبد الحميد هنداوي، ط1، 1421هـ، للمزيد انظر: طبعات كتاب البداية والنهاية، في مقدمة تحقيق البداية والنهاية بدار هجر، ص:34-39.
সীরাতের ইতিহাস হলো মুমিন উম্মাহর ইতিহাসের মধ্যমণি, যার ইতিহাস শুরু হয়েছে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর যুগ থেকে।

ইবনে কাসীরের "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া" গ্রন্থটি একটি দীর্ঘ সীরাত অন্তর্ভুক্ত করে, যা সীরাতকে তার সুপরিচিত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরে, এরপর শামায়িল (আচরণ ও গুণাবলি), দালায়েল (নবুওয়াতের প্রমাণাদি), ফাজায়েল (মর্যাদা) এবং খাসায়েস (বৈশিষ্ট্যসমূহ) আলোচনা করে।

এই সীরাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো পর্যালোচনা শুরু করার আগে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া" হলো একটি ব্যাপক ঐতিহাসিক বিশ্বকোষ যা সৃষ্টির শুরু থেকে নবীগণের ইতিহাস এবং এরপর সীরাত পর্যন্ত লিপিবদ্ধ করেছে। দারু হাজার-এর আরবি ও ইসলামি গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্রের মুদ্রণ অনুযায়ী (১), সীরাতের অংশটি বইটির প্রায় ছয়টি খণ্ড জুড়ে বিস্তৃত। এই মুদ্রণটি সূচিপত্র এবং ১৯ ও ২০ নম্বর খণ্ডসহ মোট ২১টি খণ্ড নিয়ে গঠিত, যা "ফিতনা, মহাযুদ্ধ এবং কিয়ামতের আলামত"-এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

এই গ্রন্থটি এমন কিছু উপাদানের ফসল যা এর গঠন, বিশ্বকোষীয় ধারা, সাধারণ বৈশিষ্ট্য এবং ঐতিহাসিক ও সমালোচনামূলক পদ্ধতির ওপর প্রভাব ফেলেছে। সেই উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) এবং এই সংস্করণটিই আমরা আমাদের এই গবেষণায় ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করব, যা আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুহসিন আত-তুর্কী কর্তৃক দারু হাজার-এর আরবি ও ইসলামি গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্রের সহযোগিতায় সম্পাদিত হয়েছে (কায়রো, ১ম সংস্করণ, ১৪১৭ হিজরি)। গবেষকের মতে, এই সংস্করণটি বিশেষভাবে সীরাত অংশের তাহকীক (সম্পাদনা) এবং তাখরীজ (উৎস নির্দেশ)-এর ক্ষেত্রে এমন যত্ন সহকারে তৈরি করা হয়েছে যা আগের সংস্করণগুলোতে পাওয়া যায়নি। বইটির পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর মধ্যে রয়েছে কায়রোর দারুস সাআদাহ সংস্করণ (১৩৪৮ হিজরি), যা ১৪টি খণ্ডে প্রকাশিত। এছাড়াও বৈরুত থেকে বইটির অন্যান্য সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আবদুর রহমান আল-লাজিকি এবং মুহাম্মদ গাজী বাইদুন সম্পাদিত দারুল মা’রিফাহ সংস্করণ (১ম সংস্করণ, ১৪১৬ হিজরি), এবং আবদুল হামিদ হিন্দাবি সম্পাদিত মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ সংস্করণ (১ম সংস্করণ, ১৪২১ হিজরি)। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের সংস্করণসমূহ, দারু হাজার প্রকাশিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়ার ভূমিকা, পৃষ্ঠা: ৩৪-৩৯।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ২১)
ـ سعة اطلاع مؤلفه (ابن كثير) على كثير من المصادر، ومنها دواوين السنة وكتب السير والمغازي وكتب الدلائل وكتب التاريخ العام.

ـ تأثر ابن كثير بمنهج مؤرخي الإسلام الذين كتبوا في التاريخ العام كابن جرير وابن الأثير وابن الجوزي.

ـ انتماؤه إلى عصر ساد فيه النمط الموسوعي في التأليف.

ـ إيمان ابن كثير بوحدة الأمة الإسلامية وإدراكه لأثر الرسالة المحمدية في الحركة التاريخية لهذه الأمة.

ـ انتماء المؤلف إلى مدرسة الحديث والأثر، حيث يتضح أثر خلفية المؤلف في الحديث وعلومه في جانب من أقسام الكتاب ومنها السيرة النبوية وتاريخ الخلفاء الراشدين، وتراجم العلماء والأئمة وآرائه في الرجال والآراء والمذاهب.

افتتح ابن كثير، قسم السيرة في البداية والنهاية بهذا العنوان: "كتاب سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم وذكر أيامه وغزواته وسراياه والوفود إليه، وشمائله وفضائله ودلائله الدالة عليه" (1) .

فبدأ بالنسب النبوي، وقد سرد ابن كثير مروياته ومقتبساته من مصادره المختلفة وفق نظام عرض تاريخي متدرج فانتقل من المولد ومتعلقاته إلى المبعث الذي عنون له هكذا:

--------------------------------------------

(1) 3/353.
- এর লেখক (ইবনে কাসীর)-এর বহুবিধ উৎসের উপর গভীর পাণ্ডিত্য, যার মধ্যে রয়েছে সুন্নাহর সংকলনসমূহ, সীরাত ও মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) গ্রন্থসমূহ, দালাইল (নবুওয়তের প্রমাণাদি) গ্রন্থসমূহ এবং সাধারণ ইতিহাসের কিতাবসমূহ।

- ইবনে কাসীর সেই সকল ইসলামী ঐতিহাসিকদের পদ্ধতির দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন যারা সাধারণ ইতিহাস লিখেছেন, যেমন ইবনে জারীর, ইবনুল আসীর এবং ইবনুল জাওযী।

- এমন এক যুগের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা যাতে রচনার ক্ষেত্রে বিশ্বকোষীয় ধারা প্রাধান্য লাভ করেছিল।

- মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতি ইবনে কাসীরের বিশ্বাস এবং এই উম্মাহর ঐতিহাসিক পরিক্রমায় মুহাম্মাদী রিসালাতের প্রভাব সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি।

- লেখকের হাদীস ও আছার (ঐতিহ্য) ঘরানার সাথে সম্পৃক্ততা, যেখানে কিতাবটির বিভিন্ন অংশে—যার মধ্যে রয়েছে সীরাতুন নবী, খুলাফায়ে রাশেদীনের ইতিহাস, ওলামা ও ইমামগণের জীবনী এবং বর্ণনাকারী, মতামত ও মাযহাবসমূহ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে—লেখকের হাদীস ও হাদীসশাস্ত্রীয় জ্ঞানের পটভূমির প্রভাব সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ইবনে কাসীর ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থের সীরাত অংশটি এই শিরোনামে শুরু করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত এবং তাঁর দিনকাল, যুদ্ধাভিযান, সারিয়া (ছোট যুদ্ধাভিযান) ও তাঁর নিকট আগত প্রতিনিধি দল এবং তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি, শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁর নবুওয়তের প্রমাণাদি বিষয়ক কিতাব" (১)।

তিনি নববী বংশপরিচয় দিয়ে শুরু করেছেন। ইবনে কাসীর তাঁর বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা ও উদ্ধৃতিসমূহ একটি ধারাবাহিক ঐতিহাসিক উপস্থাপনা পদ্ধতি অনুযায়ী বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি জন্ম ও জন্ম সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি থেকে নবুওয়ত প্রাপ্তির অধ্যায়ের দিকে অগ্রসর হয়েছেন, যার শিরোনাম তিনি এভাবে দিয়েছেন:

--------------------------------------------

(১) ৩/৩৫৩।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ২২)
(كتاب مبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم وذكر شيء من البشارات بذلك) (1) ، ومما تناوله هنا أبواب بدء الوحي ومجادلة المشركين لرسول الله صلى الله عليه وسلم (2) ، وهجرة من هاجر من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم إلى الحبشة (3) ، كما تناول بدء إسلام الأنصار (4) ثم الهجرة من مكة إلى المدينة (5) ووقائع السنة الأولى الهجرية (6) .

وبعد ذلك انتقل إلى كتاب المغازي (7) في الأجزاء (5، 6، 7) وتلا ذلك كتاب الوفود (8) ، ثم كتاب حجة الوداع (9) ، وأخيراً تناول الآيات المنذرة بوفاة النبي صلى الله عليه وسلم (10) ، واحتضاره ووفاته عليه الصلاة والسلام، وأعقب ذلك أبواباً في زوجات النبي صلى الله عليه وسلم (11) ، وخدامه وكتابه (12) ، وأبواباً في آثار النبي صلى الله عليه وسلم وما اختص به من ثياب وسلاح (13) ، وهكذا سار ابن

--------------------------------------------

(1) 3/495.

(2) 4/5.

(3) 4/165.

(4) 4/371.

(5) 4/443.

(6) 4/510.

(7) 5/5.

(8) 7/232.

(9) 7/404.

(10) 8/61.

(11) 8/201.

(12) 8/301-321.

(13) 8/361.
(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত লাভ এবং এ সংক্রান্ত কিছু শুভ সংবাদের বর্ণনা সংবলিত কিতাব) (১), এবং এখানে তিনি ওহী শুরুর অধ্যায়সমূহ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মুশরিকদের বাদানুবাদ (২) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের হাবশায় হিজরতের (৩) বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন। যেমন তিনি আনসারদের ইসলাম গ্রহণের সূচনা (৪), অতঃপর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত (৫) এবং হিজরী প্রথম বর্ষের ঘটনাবলিও (৬) আলোচনা করেছেন।

এর পরে তিনি পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম খণ্ডে কিতাবুল মাগাযী (৭)-তে উপনীত হয়েছেন, যার অনুসরণে এসেছে কিতাবুল উফুদ (৮), এরপর কিতাবুল হাজ্জাতিল ওয়াদা (৯) এবং সবশেষে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের সতর্ক সংকেত প্রদানকারী নিদর্শনসমূহ (১০), তাঁর অন্তিম মুহূর্ত ও মৃত্যু (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আলোচনা করেছেন। এর পরপরই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নীগণ (১১), তাঁর সেবক ও লেখকগণ (১২) সংক্রান্ত অধ্যায়সমূহ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যবহৃত নিদর্শনসমূহ ও তাঁর বিশেষ পোশাক ও অস্ত্রশস্ত্রের (১৩) অধ্যায়সমূহ আলোচনা করেছেন। এভাবেই ইবনে...

--------------------------------------------

(১) ৩/৪৯৫।

(২) ৪/৫।

(৩) ৪/১৬৫।

(৪) ৪/৩৭১।

(৫) ৪/৪৪৩।

(৬) ৪/৫১০।

(৭) ৫/৫।

(৮) ৭/২৩২।

(৯) ৭/৪০৪।

(১০) ৮/৬১।

(১১) ৮/২০১।

(১২) ৮/৩০১-৩২১।

(১৩) ৮/৩৬১।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ২৩)
كثير في ترتيبه للموضوعات التاريخية من السيرة إلى نمط من سبقه كابن إسحاق والواقدي والطبري وابن الأثير، واستفاد من البيهقي في تنظيم الأبواب (1) ، علاوة على استفادته من مواده ونصوصه.

وفي الوقت الذي حافظ فيه على الوحدة الموضوعية لكل حادثة فإنه يُذَكِّر بالسنة التي تندرج فيها الأحداث التي يسوقها، وذلك في الأحداث التي وقعت بعد الهجرة (2) .

وبعد أن استعرض الموضوعات التاريخية والجوانب الأسرية في حياة النبي صلى الله عليه وسلم تناول ابن كثير ما سماه بـ (متعلقات السيرة) وهي في مفهومه (الشمائل، والدلائل، والفضائل، والخصائص) (3) ، ثم ساق رواياتها وأبوابها.

وقد أشار في مفتتح كتاب الشمائل إلى أنَّ أهمَّ المصادر المصنفة في هذا الجانب، كتاب الشمائل للترمذي (4) ، وعندما تناول الدلائل قسمها إلى دلائل معنوية ودلائل حسية.

فأما الدلائل المعنوية:

فتتمثل في القرآن الكريم (5) ، وأخلاق النبي صلى الله عليه وسلم وخلقه (6) .

--------------------------------------------

(1) البيهقي: دلائل النبوة، 2/56، ابن كثير، البداية والنهاية 3/466، مثلاً.

(2) انظر مثلاً: 6/495.

(3) 8/534.

(4) 8/385.

(5) 8/539.

(6) 8/549.
ইবনে কাসীর সীরাত থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক বিষয়সমূহ বিন্যাসের ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বসূরি ইবনে ইসহাক, ওয়াকিদী, তাবারী ও ইবনুল আসীরের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন এবং অধ্যায় বিন্যাসের ক্ষেত্রে তিনি বাইহাকী থেকে উপকৃত হয়েছেন (১), পাশাপাশি তাঁর বিষয়বস্তু ও পাঠ্যসমূহ থেকেও তিনি উপকৃত হয়েছেন।

তিনি প্রতিটি ঘটনার বিষয়ভিত্তিক ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি সেই বছরের কথাও উল্লেখ করেছেন যার অধীনে তিনি ঘটনাগুলো বর্ণনা করছেন; আর এটি ঐ সকল ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা হিজরতের পরে সংঘটিত হয়েছিল (২)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের ঐতিহাসিক বিষয়াবলি ও পারিবারিক দিকসমূহ পর্যালোচনার পর ইবনে কাসীর সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন যাকে তিনি ‘সীরাত সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ’ বলে অভিহিত করেছেন; তাঁর পরিভাষায় এগুলো হলো (শামায়েল বা গুণাবলি, দালায়েল বা প্রমাণাদি, ফাদায়েল বা শ্রেষ্ঠত্ব এবং খাসায়েস বা বৈশিষ্ট্যসমূহ) (৩), এরপর তিনি এ সংক্রান্ত বর্ণনা ও অধ্যায়গুলো উপস্থাপন করেছেন।

তিনি শামায়েল গ্রন্থের শুরুতে ইঙ্গিত করেছেন যে, এই বিষয়ে রচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো তিরমিযীর শামায়েল গ্রন্থ (৪)। আর যখন তিনি দালায়েল বা নবুওয়াতের প্রমাণাদি নিয়ে আলোচনা করেছেন, তখন সেগুলোকে আধ্যাত্মিক বা অর্থগত প্রমাণ এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা বস্তুগত প্রমাণে বিভক্ত করেছেন।

আধ্যাত্মিক প্রমাণসমূহ:

এগুলো পবিত্র কুরআন (৫) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র ও শারীরিক গঠনের (৬) মাঝে বিদ্যমান।

--------------------------------------------

(১) বাইহাকী: দালায়েলুন নুবুওয়াহ, ২/৫৬; ইবনে কাসীর: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/৪৬৬, উদাহরণস্বরূপ।

(২) দেখুন উদাহরণস্বরূপ: ৬/৪৯৫।

(৩) ৮/৫৩৪।

(৪) ৮/৩৮৫।

(৫) ৮/৫৩৯।

(৬) ৮/৫৪৯।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ২৪)
وهنا أحال على ما ذكره ابن تيمية في الجواب الصحيح من أن سيرة النبي صلى الله عليه وسلم وأخلاقه وأقواله وأفعاله من آياته أي من دلائل نبوته، ونقل منه ثمان صفحات حول هذا الموضوع (1) .

ثم انتقل إلى دلائل النبوة الحسية وقد قسمها إلى قسمين سماوية وأرضية، فمن الدلائل السماوية وأعظمها انشقاق القمر فرقتين (2) .

كذلك ذكر من آياته السماوية استسقاءه عليه الصلاة والسلام ربه لأمته (3) ، ثم تناول الدلائل الأرضية سواءً ما يتعلق بالجمادات أو الحيوانات (4) .

ثم تناول ابن كثير ما أخبر به صلى الله عليه وسلم من الكائنات المستقبلة في حياته وبعده فوقعت طبق ما أخبر به سواءً بسواء (5) ، وقد أورد أولاً ما جاء من هذا القبيل في القرآن، ثم انتقل إلى الأحاديث والآثار، ثم تناول الأخبار بالغيوب المستقبلة مورداً أخباراً كثيرة أيضاً تندرج تحت هذا الموضوع، ثم عقد ابن كثير باباً طويلاً عنوانه:

--------------------------------------------

(1) 8/549-557.

(2) 8/558.

(3) 8/589.

(4) 8/604.

(5) 9/144.
এখানে তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহ 'আল-জাওয়াবুস সহিহ' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তার দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত, তাঁর চরিত্র, তাঁর বাণী ও কার্যাবলী তাঁর নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণাদি। তিনি এই বিষয়ে সেখান থেকে আট পৃষ্ঠা উদ্ধৃত করেছেন (১)।

এরপর তিনি নবুওয়াতের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণাদির দিকে অগ্রসর হয়েছেন এবং সেগুলোকে আসমানি ও জমিনি—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। আসমানি প্রমাণাদির মধ্যে অন্যতম ও শ্রেষ্ঠ হলো চাঁদ দুই খণ্ডে বিদীর্ণ হওয়া (২)।

একইভাবে তিনি তাঁর আসমানি নিদর্শনাবলির মধ্যে তাঁর উম্মতের জন্য তাঁর রবের নিকট বৃষ্টির প্রার্থনা করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন (৩)। অতঃপর তিনি জমিনি প্রমাণাদি নিয়ে আলোচনা করেছেন, চাই তা জড়বস্তু সংক্রান্ত হোক বা প্রাণী সংক্রান্ত (৪)।

অতঃপর ইবনে কাসীর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনে ও তাঁর ইন্তেকালের পর ভবিষ্যতে ঘটবে এমন যেসব বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছিলেন তা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা ঠিক সেভাবেই বাস্তবায়িত হয়েছে যেভাবে তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন (৫)। তিনি প্রথমে কুরআনে এ সংক্রান্ত যা এসেছে তা বর্ণনা করেছেন, এরপর হাদীস ও আসারসমূহের দিকে অগ্রসর হয়েছেন। অতঃপর তিনি ভবিষ্যতের অদৃশ্যের সংবাদসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এই বিষয়ের অধীনে বহু বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন। এরপর ইবনে কাসীর একটি দীর্ঘ অধ্যায় রচনা করেছেন যার শিরোনাম হলো:

--------------------------------------------

(১) ৮/৫৪৯-৫৫৭।

(২) ৮/৫৫৮।

(৩) ৮/৫৮৯।

(৪) ৮/৬০৪।

(৫) ৯/১৪৪।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ২৫)
(التنبيه على ذكر معجزات لرسول الله صلى الله عليه وسلم مماثلة لمعجزات جماعة من الأنبياء قبله أو أعلى منها خارجاً عما اختص به من المعجزات العظيمة التي لم تكن لأحدٍ قبله منهم عليهم السلام .

ويقوم هذا الكتاب على الموازنة بين معجزات الأنبياء السابقين ومعجزات محمد صلى الله عليه وسلم ويعكس ذلك تأثره بكُتَّاب الدلائل النبوية كأبي نعيم الأصبهاني (1) وابن حامد: أبي محمد عبد الله بن حامد الفقيه صاحب كتاب "دلائل النبوة" (2) .

وأخيراً يختم ابن كثير سيرته بقصيدة لجمال الدين يحيى بن زكريا الصرصري (ت:656هـ) في الموازنة (3) بين معجزات الأنبياء السابقين ومعجزات محمد صلى الله عليه وسلم.

وفي ثنايا سيرة ابن كثير تلك ثمة مظاهر تكشف لنا عن طبيعة هذه السيرة وسماتها العامة ومن ذلك جمع الروايات من مصادر مختلفة وتقصي ما ورد في كل موضوع من موضوعات السيرة، وشمولية هيكل السيرة عنده، وعدم اقتصاره على الموضوعات التي شكلت الهيكل الأساس للسيرة عند كُتَّاب السير الأوائل.

--------------------------------------------

(1) انظر: دلائل النبوة: لأبي نعيم الأصبهاني، فصل ذكر موازاة الأنبياء في فضائلهم بفضائل نبينا ومقابلة ما أوتوا من الآيات، ج2، ص:587،وابن كثير: البداية والنهاية (باب التنبيه على ذكر معجزات لرسول الله صلى الله عليه وسلم مماثلة لمعجزات جماعة من الأنبياء قبله) 9/305.

(2) يصفه ابن كثير بأنه كتاب جليل حافل مشتمل على فوائد نفيسة اقتبس منه ابن كثير في أبواب الدلائل في عدة مواضع منها على سبيل المثال: 9/20-309-321-338-340-355.

(3) 9/411.
(আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন সব মুজিজার কথা উল্লেখ করার বিষয়ে আলোকপাত যা তাঁর পূর্ববর্তী একদল নবীর মুজিজার অনুরূপ অথবা তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ, সেই সব মহান মুজিজা ব্যতিরেকে যা কেবল তাঁর জন্যই বিশেষায়িত ছিল এবং যা তাঁর পূর্বে তাঁদের (আলাইহিমুস সালাম) মধ্য থেকে কারো জন্য ছিল না।

এই গ্রন্থটি পূর্ববর্তী নবীদের মুজিজা এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিজার মধ্যে তুলনামূলক আলোচনার ওপর ভিত্তি করে রচিত। এটি 'দালাইলুন নবুওয়াত' (নবুওয়াতের প্রমাণাদি) বিষয়ের লেখকদের দ্বারা তাঁর প্রভাবিত হওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত করে, যেমন আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি (১) এবং ইবনে হামিদ: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে হামিদ আল-ফকিহ, যিনি 'দালাইলুন নবুওয়াত' (২) গ্রন্থের রচয়িতা।

পরিশেষে ইবনে কাসীর তাঁর সিরাত গ্রন্থটি জামালুদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া আস-সরসরী (মৃত্যু: ৬৫৬ হিজরি) রচিত একটি কবিতার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন, যাতে পূর্ববর্তী নবীদের মুজিজা এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিজার মধ্যে তুলনা (৩) করা হয়েছে।

ইবনে কাসীরের এই সিরাত রচনার ধারার মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে যা এই সিরাত গ্রন্থের প্রকৃতি ও সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ আমাদের সামনে উন্মোচন করে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন উৎস থেকে বর্ণনা সংগ্রহ করা এবং সিরাতের প্রতিটি বিষয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করা, তাঁর নিকট সিরাত রচনার কাঠামোর ব্যাপকতা এবং তিনি কেবল সেই সব বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি যা প্রাথমিক যুগের সিরাত লেখকদের নিকট সিরাতের মূল কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হতো।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: দালাইলুন নবুওয়াত: আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি, নবীদের মর্যাদা ও ফযিলতের সাথে আমাদের নবীর মর্যাদা ও ফযিলতের সমান্তরাল আলোচনা এবং তাঁদেরকে প্রদত্ত নিদর্শনসমূহের তুলনামূলক বিবরণের অধ্যায়, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৮৭; এবং ইবনে কাসীর: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন সব মুজিজার কথা উল্লেখ করার অধ্যায় যা তাঁর পূর্ববর্তী নবীদের মুজিজার অনুরূপ) ৯/৩০৫।

(২) ইবনে কাসীর একে একটি সুমহান ও সমৃদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা মূল্যবান গবেষণালব্ধ তথ্যে পরিপূর্ণ। ইবনে কাসীর 'দালাইল' বা মুজিজার অধ্যায়সমূহে বিভিন্ন স্থানে এই গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, উদাহরণ স্বরূপ: ৯/২০-৩০৯-৩২১-৩৩৮-৩৪০-৩৫৫।

(৩) ৯/৪১১।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ২৬)
كما يظهر في سيرة ابن كثير نقد الأسانيد والمتون كأحد المظاهر المميزة لهذه السيرة (وسوف نتناول ذلك لاحقاً) .

لا يقتصر التأليف في السيرة عن ابن كثير على السيرة في "البداية والنهاية"، فهناك كتاب "الفصول في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم" وهو كتاب مختصر موجز قياساً إلى السيرة الواردة في "البداية والنهاية"، وقد صنفه لشعوره بحاجة أهل العلم لمعرفة الأيام النبوية والتواريخ الإسلامية، كما يبدو أن هذه السيرة جزءٌ من مشروع لعرض التاريخ الإسلامي بصورة موجزة، هذا ما يبدو لنا من قول ابن كثير: إنه لا يجمل بأولي العلم إهمال معرفة الأيام النبوية والتواريخ الإسلامية وهي مشتملة على علوم جمة وفوائد مهمة لا يستغني عنها عال ولا يعذر في العُرُوِّ منها، وقد أحببت أن أعلق تذكرة في ذلك لتكون مدخلاً إليه وأنموذجاً وعوناً له وعليه، وهي مشتملة على ذكر نسب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسيرته وأعلامه، وذِكر أعلام الإسلام بعده إلى يومنا هذا (1) .

لقد طبعت هذه السيرة في القاهرة سنة 1357هـ تحت عنوان (الفصول في اختصار سيرة الرسول) دون تحقيق، ثم طبع الكتاب بتحقيق الدكتور محمد العيد الخطراوي، ومحيي الدين مستو، بيروت، 1399هـ، ثم توالت طبعات هذا الكتاب.

--------------------------------------------

(1) الفصول في سيرة الرسول، ص: 79-80.
ইবনে কাসীরের সীরাত গ্রন্থে বর্ণনা সূত্র (সনদ) ও মূল পাঠের (মতন) সমালোচনা এই সীরাতের অন্যতম স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রকাশ পায় (এবং আমরা পরবর্তীতে এ বিষয়ে আলোচনা করব)।

ইবনে কাসীরের সীরাত রচনার পরিধি কেবল "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া"-তে বর্ণিত সীরাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং "আল-ফুসুল ফি সিরাতির রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)" নামেও তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে। "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া"-তে বর্ণিত সীরাতের তুলনায় এটি একটি সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ গ্রন্থ। আলেম ও জ্ঞানান্বেষীদের নিকট নবীজির দিনকাল ও ইসলামী ইতিহাস জানার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তিনি এটি সংকলন করেছেন। তেমনিভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এই সীরাতটি সংক্ষিপ্ত আকারে ইসলামী ইতিহাস উপস্থাপনের একটি প্রকল্পের অংশ। ইবনে কাসীরের উক্তি থেকে আমাদের কাছে এটাই স্পষ্ট হয়: "জ্ঞানান্বেষীদের জন্য নবীজির দিনকাল ও ইসলামী ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান লাভে অবহেলা করা শোভন নয়। এটি এমন ব্যাপক ইলম ও গুরুত্বপূর্ণ ফায়েদা সম্বলিত যা থেকে কোনো আলেম অমুখাপেক্ষী হতে পারেন না এবং এ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার কোনো ওজর থাকতে পারে না। আমি এ বিষয়ে একটি স্মারক সংকলন করতে চেয়েছি যেন এটি এই বিষয়ে প্রবেশের মাধ্যম, একটি আদর্শ এবং সহায়ক হতে পারে। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশপরিচয়, তাঁর সীরাত ও নিদর্শনসমূহ এবং তাঁর পরবর্তী সময় থেকে আমাদের বর্তমান কাল পর্যন্ত ইসলামের মহান ব্যক্তিত্বদের আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে (১)।"

এই সীরাত গ্রন্থটি ১৩৫৭ হিজরিতে কায়রোতে কোনো তাহকীক (সম্পাদনা) ছাড়াই "আল-ফুসুল ফি ইখতিসারি সিরাতির রাসুল" শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছিল। পরবর্তীতে বইটি ড. মুহাম্মদ আল-ঈদ আল-খাতরাউয়ি এবং মুহিউদ্দিন মিস্তু-এর তাহকীকে ১৩৯৯ হিজরিতে বৈরুত থেকে প্রকাশিত হয়। এরপর এই বইটির আরও অনেক সংস্করণ পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-ফুসুল ফি সিরাতির রাসুল, পৃষ্ঠা: ৭৯-৮০।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ২৭)
وأخرج عدد من الباحثين موضوعات الأنبياء بما فيها الشمائل من "البداية والنهاية" في كتب مستقلة.

فقد عمد مصطفى عبد الواحد إلى "البداية والنهاية" وحقق قسم السيرة في أربعة أجزاء، ويذكر أنه اتجه إلى نشر السيرة النبوية لابن كثير، وهي ذلك القسم الذي أفرده ابن كثير لأخبار العرب في الجاهلية، وسيرة النبي صلى الله عليه وسلم، وتاريخ دعوته حتى وفاته. على اعتبار أن هذا القسم هو السيرة النبوية (المطولة) التي أشار إليها ابن كثير في تفسيره (1) .

وفي رأي (إسماعيل عبد العال) فإن هذا الكتاب المحقق ليس هو الذي أفرده ابن كثير في السيرة، وعبارته واضحة حين قال: (أفردناه موجزاً وبسيطاً، وإذا كان الموجز منهما مستقلاً عن "البداية والنهاية" فإن البسيط يكون كذلك) (2) .

ونميل إلى القول بأن كتاب ابن كثير المفرد في السيرة والذي من سماته الإيجاز والتبسيط كما يقول ابن كثير (3) هو "الفصول في سيرة الرسول" ولعل مما يقوي ذلك أنه أورد في بعض طبعات التفسير المحققة قول ابن كثير: (الذي أفردناه موجزاً ومقتصاً) (4) ، والإيجاز والاقتصاص إنما ينطبقان فقط على كتاب الفصول وقد راجعت ثلاث طبعات

--------------------------------------------

(1) مقدمة تحقيق السيرة النبوية لابن كثير، ص:12-13.

(2) ابن كثير ومنهجه في التفسير، ص:52.

(3) تفسير القرآن العظيم، القاهرة، دار الحديث، 1415هـ، جزء 3، ص:460.

(4) تفسير القرآن العظيم، تحقيق: سامي محمد السلامة، الرياض، دار طيبة، 1420هـ، 6/398.
অনেক গবেষক 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' থেকে শামায়েলসহ নবীদের বিষয়বস্তুগুলো স্বতন্ত্র বই হিসেবে বের করেছেন।

মোস্তফা আব্দুল ওয়াহিদ 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' থেকে সীরাত অংশটি গ্রহণ করে চার খণ্ডে এর তাহকিক করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইবনে কাসীরের সীরাতুন নবী প্রকাশ করার দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন। এটি সেই অংশ যা ইবনে কাসীর জাহেলি যুগের আরবদের সংবাদ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত এবং তাঁর ওফাত পর্যন্ত দাওয়াতের ইতিহাসের জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন। এই বিবেচনায় যে, এই অংশটিই হলো সেই (বিস্তারিত) সীরাতুন নবী যার প্রতি ইবনে কাসীর তাঁর তাফসিরে (১) ইঙ্গিত করেছেন।

(ইসমাইল আব্দুল আল)-এর মতে, এই সম্পাদিত বইটি ইবনে কাসীরের সীরাত বিষয়ক সেই স্বতন্ত্র গ্রন্থ নয়। তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট যখন তিনি বলেছেন: (আমি একে সংক্ষিপ্ত ও সহজভাবে স্বতন্ত্র রূপ দিয়েছি। আর যদি তাদের মধ্যে সংক্ষিপ্তটি 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' থেকে স্বতন্ত্র হয়, তবে সহজবোধ্যটিও তেমনি হবে) (২)।

আমরা এই মতের প্রতি ঝুঁকেছি যে, ইবনে কাসীরের সীরাত বিষয়ক স্বতন্ত্র গ্রন্থ—যার বৈশিষ্ট্য হলো সংক্ষিপ্ততা ও সহজবোধ্যতা, যেমনটি ইবনে কাসীর (৩) বলেছেন—সেটি হলো "আল-ফুসুল ফি সিরাতির রাসূল"। সম্ভবত যা এই মতকে শক্তিশালী করে তা হলো, তাফসিরের কিছু সম্পাদিত সংস্করণে ইবনে কাসীরের এই উক্তিটি এসেছে: (যা আমি সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ আকারে স্বতন্ত্রভাবে লিখেছি) (৪)। আর সংক্ষিপ্ততা ও সারসংক্ষেপ কেবল 'আল-ফুসুল' বইটির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমি তিনটি সংস্করণ পর্যালোচনা করেছি।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীরের সীরাতুন নবীর তাহকিকের ভূমিকা, পৃষ্ঠা: ১২-১৩।

(২) ইবনে কাসীর ও তাঁর তাফসির পদ্ধতি, পৃষ্ঠা: ৫২।

(৩) তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, কায়রো, দারুল হাদিস, ১৪১৫ হিজরি, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪৬০।

(৪) তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, তাহকিক: সামি মুহাম্মদ আস-সালামাহ, রিয়াদ, দারু তাইবাহ, ১৪২০ হিজরি, ৬/৩৯৮।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ২৮)
للتفسير (1) إلا أنها لم تورد عبارة مطولة في وصف كتابه المفرد في السيرة وفي ثنايا كتاب "البداية والنهاية" وعندما يحيل ابن كثير إلى السيرة فمرادُه ذلك القسم من "البداية والنهاية"، ومن صور إحالاته عليه قوله: (كما سيأتي في بيان ذلك في السيرة) و (كما ذكرنا في السيرة وذكرنا بأسانيده في أول السيرة) و (تقدم بسطه وبيانه في أول السيرة) (2) .

كذلك نرجح أن يكون كتاب السيرة الذي خضع للإيجاز والاقتصاص هو كتاب السيرة الوارد في "البداية والنهاية" المتسم بطوله وجامعيته وشموله لجوانب السيرة كافة والمستوعب للروايات والآراء في مجال السيرة الجامع بين هيكل السيرة التاريخي وهيكلها عند كُتَّاب الشمائل والدلائل.

كذلك أخرج مصطفى عبد الواحد شمائل الرسول ودلائل نبوته وفضائله وخصائصه في كتاب مستقل (3) ، وكذلك فعل عبد القادر الأرناؤوط (4) ، وهناك باحثون ومحققون آخرون (5) ، أخرجوا أقساماً من

--------------------------------------------

(1) بالإضافة إلى الطبعتين المشار إليهما في الهامشين السابقين، طبعة بتحقيق محمد أنس الخن، بيروت، 1421هـ، مؤسسة الرسالة، ص:1053.

(2) 3/298، 9/329-385-405.

(3) طبع في القاهرة، 1967م.

(4) طبع في الرياض نشرته مكتبة العبيكان، ط1، 1422هـ.

(5) من هؤلاء: كنعان: محمد بن أحمد: السيرة النبوية والمعجزات والمغازي النبوية، بيروت، مؤسسة المعارف، 1417هـ، الهلاوي: محمد عبد العزيز: معجزات النبي للحافظ ابن كثير، القاهرة، 1419هـ، عبد الشافي: أحمد: السيرة النبوية، بيروت، دار الكتب العلمية (د، ت) هذا بالإضافة إلى مستخرجات أخرى من كتاب البداية والنهاية.
তাফসিরের জন্য (১) তবে এটি সিরাত বিষয়ক তাঁর স্বতন্ত্র কিতাবের বর্ণনায় অথবা "আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া" কিতাবের অভ্যন্তরে কোনো দীর্ঘ বর্ণনা প্রদান করেনি। যখন ইবনে কাসীর সিরাতের দিকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন, তখন তাঁর উদ্দেশ্য থাকে "আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া" এর সেই অংশটি। তাঁর উদ্ধৃতি প্রদানের কিছু ধরন হলো: (যেমনটি সিরাতে এর বর্ণনায় সামনে আসবে), এবং (যেমনটি আমরা সিরাতে উল্লেখ করেছি এবং সিরাতের শুরুতে এর সনদসহ বর্ণনা করেছি), এবং (সিরাতের শুরুতে এর বিস্তারিত বর্ণনা ও ব্যাখ্যা অতিবাহিত হয়েছে) (২)।

অনুরূপভাবে আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি যে, সিরাতের যে কিতাবটি সংক্ষেপণ ও কর্তনের শিকার হয়েছে, সেটি হলো "আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া" গ্রন্থে বর্ণিত সিরাত অংশটি; যা দীর্ঘতা, পূর্ণাঙ্গতা এবং সিরাতের সকল দিক অন্তর্ভুক্ত করার গুণে গুণান্বিত এবং যা সিরাত শাস্ত্রের বর্ণনা ও মতামতসমূহকে ধারণকারী। এটি সিরাতের ঐতিহাসিক কাঠামোর সাথে শামায়েল ও দালায়েল লেখকদের কাঠামোর সমন্বয়কারী।

তেমনিভাবে মুস্তফা আব্দুল ওয়াহিদ রাসূলের শামায়েল, দালায়েলে নবুওয়াত, ফাযায়েল এবং খাসায়েসকে একটি স্বতন্ত্র কিতাব হিসেবে প্রকাশ করেছেন (৩), এবং আব্দুল কাদির আল-আরনাউতও (৪) অনুরূপ করেছেন। এছাড়াও আরও অনেক গবেষক ও মুহাক্কিক রয়েছেন (৫), যারা এর বিভিন্ন অংশ প্রকাশ করেছেন

--------------------------------------------

(১) পূর্ববর্তী দুটি টীকায় উল্লেখিত দুটি সংস্করণ ছাড়াও, মুহাম্মাদ আনাস আল-খিন কর্তৃক সম্পাদিত একটি সংস্করণ, বৈরুত, ১৪২১ হিজরি, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, পৃষ্ঠা: ১০৫৩।

(২) ৩/২৯৮, ৯/৩২৯-৩৮৫-৪০৫।

(৩) কায়রোতে মুদ্রিত, ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ।

(৪) রিয়াদে মুদ্রিত, মাকতাবাতুল উবাইকান কর্তৃক প্রকাশিত, ১ম সংস্করণ, ১৪২২ হিজরি।

(৫) তাদের মধ্যে রয়েছেন: কানআন: মুহাম্মাদ বিন আহমাদ: আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াল মু'জিজাত ওয়াল মাগাজিন নাবাবিয়্যাহ, বৈরুত, মুয়াসসাসাতুল মাআরিফ, ১৪১৭ হিজরি; আল-হালাওয়ি: মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ: মু'জিজাতুন নবী লিল হাফিজ ইবনে কাসীর, কায়রো, ১৪১৯ হিজরি; আব্দুল শাফি: আহমাদ: আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ (তারিখ বিহীন); এটি ছাড়াও আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া কিতাব থেকে নেওয়া আরও অন্যান্য সংকলন রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ২৯)
السيرة والمعجزات من "البداية والنهاية" وتلك المستخرجات وغيرها تتفاوت في مدى عنايتها بالأخبار والروايات التي يوردها ابن كثير وفي مدى وفائها بمتطلبات المنهج العلمي المتبع في أعمال التحقيق ومدى تمكن أولئك المحققين من تجاوز المرحلة الأولية المطلوبة في التحقيق أي: تجاوز مجرد وضع المقدمات والفهارس العامة.
"আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া" থেকে গৃহীত সীরাত ও মোজেজা এবং এই নির্যাসসমূহ ও অন্যান্য রচনাগুলো ইবনে কাসির কর্তৃক উপস্থাপিত সংবাদ ও বর্ণনাগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়ার ক্ষেত্রে এবং তাহকিক বা গবেষণামূলক সম্পাদনার কাজে অনুসৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মানদণ্ড পূরণের ক্ষেত্রে পরস্পর থেকে ভিন্ন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট গবেষকগণ তাহকিকের প্রাথমিক ধাপ—অর্থাৎ কেবল ভূমিকা ও সাধারণ নির্ঘণ্ট সংকলনের পর্যায়—অতিক্রম করতে কতটুকু সক্ষম হয়েছেন, সেই বিচারেও এগুলোর মধ্যে তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১) মানহাজিয়্যাতুত তালিফ ফিস সীরাতি ইনদা ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌مراجعات ابن كثير ونقده:

يسير ابن كثير في سيرته على منهج جامعي الروايات من مختلف الموارد، أولئك الذين يروون في تصانيفهم جميع ما يروى في هذا الباب أو الموضوع.

وعند تشخيص أصول روايات ابن كثير نجد أنها تنتمي إلى مجموعة من المصادر المتنوعة فمنها مصادر عرفت بمنهجيتها الدقيقة وتمحيصها للروايات كالصحيحين للبخاري ومسلم، وفيها مصادر لا تخلو من روايات ضعيفة وأحاديث. قال بعض العلماء بوضعها كالمسند للإمام أحمد وهو من أهم مصادر ابن كثير (1) ، وهناك مصادر من كتب الدلائل (2) حملت روايات موضوعة واهية، ومثلها كتب الهواتف (3) وكتب الفتن (4) والملاحم.

--------------------------------------------

(1) انظر: مصطفى عبد الواحد، مقدمة تحقيق السيرة النبوية، 1/14.

(2) من أبرزها دلائل النبوة للبيهقي، انظر: 3/282-301 مثلاً، وانظر كذلك فهارس البداية والنهاية، ص:737-738-1244.

(3) مثل كتاب "هواتف الجان" لأبي بكر الخرائطي، البداية والنهاية 3/570.

(4) ومنها كتاب نعيم بن حماد الخزاعي: الفتن والملاحم، (9/172-184-210) .
ইবনে কাসীরের পর্যালোচনা ও সমালোচনা:

ইবনে কাসীর তাঁর সীরাত গ্রন্থে বিভিন্ন উৎস থেকে বর্ণনা সংগ্রহকারীদের পথ অনুসরণ করেছেন; যারা তাদের সংকলনে এই অধ্যায় বা বিষয়ে বর্ণিত সমস্ত কিছু বর্ণনা করেন।

ইবনে কাসীরের বর্ণনাসমূহের মূল উৎসগুলো শনাক্ত করতে গেলে আমরা দেখি যে, সেগুলো একগুচ্ছ বৈচিত্র্যময় উৎসের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে কিছু উৎস তাদের সূক্ষ্ম পদ্ধতি এবং বর্ণনা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরিচিত, যেমন বুখারী ও মুসলিমের 'সহীহাইন'। আবার এমন কিছু উৎসও রয়েছে যা দুর্বল বর্ণনা এবং এমন সব হাদীস থেকে মুক্ত নয় যেগুলোকে কোনো কোনো আলিম জাল হওয়ার কথা বলেছেন, যেমন ইমাম আহমদের 'মুসনাদ'; যা ইবনে কাসীরের অন্যতম প্রধান উৎস (১)। এছাড়া 'দালাইল' (২) বিষয়ক গ্রন্থগুলো থেকে নেওয়া এমন কিছু উৎস রয়েছে যেগুলো বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বর্ণনা বহন করে। অনুরূপভাবে 'হাওয়াতিফ' (৩) বিষয়ক গ্রন্থ এবং 'ফিতান' (৪) ও 'মালাহিম' বিষয়ক গ্রন্থসমূহও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুস্তফা আব্দুল ওয়াহিদ, সীরাতুন নববীয়্যাহ-এর তাহকীক-এর ভূমিকা, ১/১৪।

(২) এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো বায়হাকীর 'দালাইলুন নুবুওয়াহ', দেখুন: উদাহরণস্বরূপ ৩/২৮২-৩০১, এবং আরও দেখুন 'আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ'-এর নির্ঘণ্ট, পৃষ্ঠা: ৭৩৭-৭৩৮-১২৪৪।

(৩) যেমন আবু বকর আল-খারাইতির 'হাওয়াতিফুল জান' নামক গ্রন্থ, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৩/৫৭০।

(৪) এর মধ্যে নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ আল-খুজায়ীর গ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত: 'আল-ফিতান ওয়াল মালাহিম', (৯/১৭২-১৮৪-২১০)।