(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: -)
منهج شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب في التفسير القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: منهج شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب في التفسير
المؤلف: مسعد بن مساعد الحسيني
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 475
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাফসীর শাস্ত্রে শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের মানহাজ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: তাফসীর শাস্ত্রে শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের মানহাজ
লেখক: মুসআদ বিন মুসায়েদ আল-হুসাইনী
প্রকাশক: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭৫
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ١)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1 {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2 {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.
أما بعد4:
فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدى هدي محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
وإن الله عز وجل إنما خلق الخلق لعبادته وحده لا شريك له، ونصب لهم دلائل معرفته وتوحيده فأعطى الفطر والعقول، ثم بعث الرسل وأنزل الكتب {لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} 5.
وما من الأنبياء نبي إلا وقد أعطي من الآيات ما مثله آمن عليه البشر6 حتى كان نبينا صلى الله عليه وسلم الذي اختاره ربه وأجتباه ليرسله إلى أمة جعلها خير أمة أخرجت للناس. فكان الذي آتاه الله وحياً يتلى، ليخرج الناس به من الظلمات إلى النور كما قال تعالى: {الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ} 7.
--------------------------------------------
ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট হিদায়াত প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১ {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে এবং তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা বজায় রাখো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} ২ {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তাহলে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।} ৩।
অতঃপর ৪:
নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নব-আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সৃষ্টিজগতকে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন যার কোনো শরীক নেই। তিনি তাদের জন্য তাঁর পরিচয় ও তাওহীদের নিদর্শনসমূহ স্থাপন করেছেন; তাই তিনি তাদের ফিতরাত (সহজাত প্রকৃতি) ও বুদ্ধি দান করেছেন। অতঃপর তিনি রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন {যাতে রাসূলগণের আগমনের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে} ৫।
প্রত্যেক নবীকেই এমন কিছু নিদর্শন বা মুজিজা প্রদান করা হয়েছিল যার ওপর ভিত্তি করে মানুষ ঈমান এনেছিল ৬। অবশেষে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমন ঘটে, যাঁকে তাঁর প্রতিপালক নির্বাচন ও মনোনীত করেছেন যাতে তাঁকে এমন এক উম্মতের নিকট প্রেরণ করা হয় যাকে মানুষের কল্যাণের জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে বের করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁকে যা দান করেছেন তা হলো ওহী যা তিলাওয়াত করা হয়, যাতে তিনি এর মাধ্যমে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {আলিফ-লাম-রা; এটি একটি কিতাব যা আমি তোমার নিকট নাযিল করেছি যাতে তুমি মানুষের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনো পরাক্রমশালী প্রশংসিত সত্তার পথের দিকে।} ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٢)
فكان هذا الكتاب لهذه الأمة هو الحجة البالغة، والمعجزة الباهرة، والنعمة التامة فهو حبل الله المتين، والذكر الحكيم، والصراط المستقيم، وهو الذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسنة، ولا يشبع منه العلماء، ولا يخلق عن كثرة الرد، ولا تنقضي عجائبه، وهو الذي لم تنته الجن إذ سمعته أن قالوا: {إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآناً عَجَباً} 1. هو الذي من قال به صدق، ومن حكم به عدل، ومن عمل به أجر، ومن دعا إليه فقد هدى إلى صراط مستقيم.
ففتح الله به آذانا صما، وأعينا عميا، وقلوبا غلفا، وأمر بالاعتصام به، والاهتداء بهديه، وتدبر آياته، والعمل بما فيه، وتكفل لمن قرأ القرآن وعمل بما فيه ألا يضل فى الدنيا، ولا يشقى في الآخرة فقال: {فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدىً فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقَى} 2 وأتم النعمة بأن تكفل بحفظه فقال: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 3.
ولقد علم المسلمون أن هذا الكتاب العزيز هو مكمن قوتهم، ومصدر عزتهم، وسبب نجاتهم، وانبرى العلماء الأكفاء منهم لتفسير كتاب الله، وبيان ما يشتمل عليه من أنواع العلوم والهدى.
وكان الأسوة في ذلك البيان هو رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث كان "خلقه القرآن" تحليلاً لما أحل، وتحريماً لما حرم، وهدياً ومنهجاً، فكان ذلك من قبيل بيانه للناس الذي أمره الله به بقوله: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} 4.
ثم تأسى به أصحابه الكرام، أعلام الهدى، ومصابيح الدجى، وغرر الزمان الذين لم تكتحل عين الزمان بمثلهم أصحاباً. فأخذوا بالقرآن، واعتصموا به، وأقبلوا عليه تعلماً وتعليماً واهتداءً، فزكت نفوسهم، وتهذبت أخلاقهم، واستقامت أمورهم، ثم تلاهم في ذلك التابعون وتابعوهم بإحسان فنهجوا نهجهم وسلكوا سبيلهم وعكفوا على كتاب ربهم وسخروا العلوم لخدمته
--------------------------------------------
সুতরাং এই উম্মতের জন্য এই কিতাবটি হলো অকাট্য দলিল, উজ্জ্বল মুজিজা এবং পূর্ণাঙ্গ নিয়ামত। এটি আল্লাহর মজবুত রশি, প্রজ্ঞাপূর্ণ যিকির এবং সরল পথ। এটি এমন এক কিতাব যার প্রভাবে কুপ্রবৃত্তিগুলো বিপথগামী হয় না, জিহ্বাগুলো বিভ্রান্ত হয় না, আলেমগণ এর দ্বারা তৃপ্ত হন না (অর্থাৎ বারংবার পাঠেও তৃষ্ণা মেটে না), এটি অত্যধিক পুনরাবৃত্তিতে পুরনো হয় না এবং এর বিস্ময়কর বিষয়াবলি শেষ হয় না। এটি সেই কিতাব যা শোনার পর জিনেরা তা উপেক্ষা করতে পারেনি, বরং বলেছিল: {নিশ্চয়ই আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি} ১। এটি এমন এক কিতাব, যে এর ভিত্তিতে কথা বলে সে সত্য বলে, যে এর দ্বারা ফয়সালা করে সে ন্যায়বিচার করে, যে এর ওপর আমল করে সে পুরস্কৃত হয় এবং যে এর দিকে আহ্বান করে সে সরল পথের দিশা পায়।
আল্লাহ এর মাধ্যমে বধির কান, অন্ধ চক্ষু এবং মোহরযুক্ত অন্তরসমূহ খুলে দিয়েছেন। তিনি একে মজবুতভাবে ধারণ করার, এর হিদায়াতের মাধ্যমে পথ চলার, এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা করার এবং এতে যা আছে তা অনুযায়ী আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন। যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবে এবং সে অনুযায়ী আমল করবে, সে যেন দুনিয়াতে পথভ্রষ্ট না হয় এবং আখিরাতে দুর্ভাগা না হয়, আল্লাহ সেই জিম্মাদারি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন: {অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হিদায়াত আসবে, তখন যে আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না} ২। তিনি এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়ে নিয়ামত পূর্ণ করেছেন এবং বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমিই এই যিকির অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর রক্ষক} ৩।
মুসলিমগণ নিশ্চিতভাবে জানতেন যে, এই মহামান্বিত কিতাবই তাদের শক্তির আধার, সম্মানের উৎস এবং নাজাতের উপায়। তাই তাদের মধ্য থেকে যোগ্য আলেমগণ আল্লাহর কিতাবের তাফসির এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান ও হিদায়াত বর্ণনার কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।
সেই বর্ণনার ক্ষেত্রে আদর্শ ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কেননা তাঁর ‘চরিত্র ছিল কুরআন’—যা তিনি হালাল করেছেন তাকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করা, যা হারাম করেছেন তাকে হারাম হিসেবে মানা এবং একে হিদায়াত ও জীবনপদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমে। এটি ছিল মানুষের জন্য তাঁর সেই বর্ণনার অংশ যা আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে} ৪।
অতঃপর তাঁর অনুসরণ করেছেন তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ, যারা ছিলেন হিদায়াতের মিনার, অন্ধকারের প্রদীপ এবং জামানার শ্রেষ্ঠতম মানুষ, যাদের মতো সাথী পৃথিবী আর কখনও দেখেনি। তারা কুরআনকে গ্রহণ করেছেন, একে আঁকড়ে ধরেছেন এবং শিক্ষা গ্রহণ, শিক্ষা দান ও হিদায়াত লাভের উদ্দেশ্যে এর প্রতি মনোনিবেশ করেছেন। ফলে তাদের অন্তরসমূহ পরিশুদ্ধ হয়েছে, তাদের চরিত্র সুশোভিত হয়েছে এবং তাদের সকল বিষয় সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরপর উত্তমভাবে তাদের অনুসরণ করেছেন তাবেয়িগণ এবং তাবে-তাবেয়িগণ। তারা তাদের পথ ও পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তাদের রবের কিতাবের প্রতি একনিষ্ঠ হয়েছেন এবং এর খিদমতে জ্ঞান-বিজ্ঞানকে নিয়োজিত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٣)
وبذلوا جهدهم في تفسيره، وإيضاح دلالاته، واستنباط فوائده وأحكامه، وكلما ادلهمت عليهم الخطوب، وتكالبت الشرور، وجدوا في كتاب ربهم النجاة والمنعة، وصدق الله {بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ} 1.
وقد كان من العلماء الأعلام، أئمة الهدى الذين أعز الله بهم دينه، وأعلى بهم كلمته الإمام المجدد، شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله الذي ألهمه الله رشده، ونور بصيرته، وعرفه بكتابه فعمل به، ودعا إليه وبينه، واستنبط كثيراً من أحكامه، ولفت الأنظار إليه، وذم من أعرض عنه، وابتغى الهدى من غيره.
حيث نشأ رحمه الله في زمن انتشرت فيه الجهالة في كثير من الأنحاء، وبعد الناس عن كتاب ربهم، وتمسكوا بأقوال متبوعيهم غير المعصومين في حين أعرضوا عن كتاب الله زاعمين أنهم لا يستطيعون فهمه مباشرة، فضيقوا على أنفسهم، وحجروا على غيرهم تفسير كتاب الله، فإذا فسر لهم آية رمقته عيونهم، ومقتته قلوبهم، واشمأزت منه نفوسهم.
فقام الشيخ بكتاب الله يدعو إليه، ويبين معانيه وأحكامه، وما تضمنه من عقيدة وأحكام وعبر، ويستنبط منه الفوائد، ويؤلف في ذلك، ويدعم رسائله وفتاواه بنصوص الوحي المطهر، حتى ظهر دين الله، وارتفعت رايته، وثاب المسلمون إلى رشدهم، وعادوا إلى كتاب ربهم، ونهلوا من معينه، وطبقوه في واقع حياتهم، فكان منهج الشيخ في التفسير والاستنباط- ذلك المنهج الذي كان من ثمراته تلك الدعوة الإصلاحية المباركة التي ما زالت تؤتي ثمارها- جديرا بالاهتمام والدراسة.
ولذ ارأيت أن يكون موضع رسالتي في مرحلة الماجستير بعنوان "منهج شيخ الإسلام الشيخ محمد بن عبد الوهاب في تفسيره مع تحقيق جزء من تفسيره"- وذلك لما أراه من أهمية هذا الموضوع، وفائدته، وحيويته.
--------------------------------------------
তারা এর ব্যাখ্যায়, এর নিহিতার্থের স্পষ্টীকরণে এবং এর থেকে বিভিন্ন ফায়দা ও বিধিবিধান উদ্ঘাটনে নিজেদের শ্রম উৎসর্গ করেছেন। যখনই তাদের ওপর কোনো সংকট ঘনীভূত হয়েছে এবং অনিষ্টসমূহ চারপাশ থেকে চড়াও হয়েছে, তখনই তারা তাদের রবের কিতাবের মধ্যে মুক্তি ও আশ্রয় খুঁজে পেয়েছেন। আর আল্লাহর বাণী সত্য: "বরং আমি সত্যকে মিথ্যার ওপর নিক্ষেপ করি, ফলে তা একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা বিলুপ্ত হয়ে যায়।" ১।
বরেণ্য আলেমগণ ও হিদায়াতের সেসব ইমামদের অন্তর্ভুক্ত—যাদের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে সম্মানিত করেছেন এবং তাঁর কালামকে উচ্চকিত করেছেন—ছিলেন মুজাদ্দিদ ইমাম, শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)। আল্লাহ তাঁকে তাঁর হিদায়াত ও সঠিক পথ ইলহাম করেছেন, তাঁর অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করেছেন এবং তাঁকে তাঁর কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান দান করেছেন। ফলে তিনি তদানুযায়ী আমল করেছেন, এর প্রতি মানুষকে আহ্বান করেছেন এবং এর মর্ম ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি এর থেকে প্রচুর বিধিবিধান উদ্ঘাটন করেছেন, মানুষের দৃষ্টি এর প্রতি নিবদ্ধ করেছেন এবং যারা এটি থেকে বিমুখ হয়ে অন্য কিছুর মাধ্যমে হিদায়াত অন্বেষণ করত, তাদের নিন্দা করেছেন।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এমন এক যুগে বেড়ে উঠেছিলেন যখন অনেক জনপদে মূর্খতা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং মানুষ তাদের রবের কিতাব থেকে দূরে সরে গিয়েছিল। তারা তাদের অনুসরণীয় ব্যক্তিদের (যারা নিষ্পাপ ছিলেন না) কথাবার্তাকে আঁকড়ে ধরেছিল, অথচ তারা আল্লাহর কিতাব থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছিল এই অজুহাতে যে, তারা সরাসরি এটি বুঝতে সক্ষম নয়। ফলে তারা নিজেদের ওপর সংকীর্ণতা চাপিয়ে দিয়েছিল এবং অন্যের জন্য আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যা করাকে রুদ্ধ করে দিয়েছিল। তাই যখনই তাদের সামনে কোনো আয়াতের তাফসির করা হতো, তখনই তাদের চোখগুলো বিরাগ প্রকাশ করত, তাদের অন্তর তা ঘৃণা করত এবং তাদের আত্মা তা থেকে সংকুচিত হয়ে পড়ত।
অতঃপর শাইখ আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরে দণ্ডায়মান হলেন, এর দিকে আহ্বান জানাতে লাগলেন এবং এর অর্থ ও বিধিবিধান এবং এর অন্তর্ভুক্ত আকীদা ও শিক্ষা বর্ণনা করতে লাগলেন। তিনি তা থেকে বহু উপকারিতা উদ্ঘাটন করতেন এবং এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করতেন। তিনি তাঁর পত্রাবলি ও ফতোয়াগুলোকে পবিত্র ওহীর ভাষ্য দ্বারা সুসংহত করতেন। পরিশেষে আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী হলো, এর পতাকা সমুন্নত হলো এবং মুসলিমগণ তাদের সঠিক চেতনার দিকে ফিরে এল। তারা তাদের রবের কিতাবের কাছে ফিরে এল এবং এর উৎস থেকে পরিতৃপ্ত হলো এবং তাদের বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করল। তাফসির ও মাসআলা উদ্ঘাটনে শাইখের এই যে মানহাজ বা পদ্ধতি—যা ছিল সেই বরকতময় সংস্কারবাদী দাওয়াতের অন্যতম ফলশ্রুতি যা আজও ফল দান করে চলেছে—তা বিশেষ মনোযোগ ও গবেষণার দাবি রাখে।
এই কারণে আমি আমার মাস্টার্স পর্যায়ের থিসিসের বিষয়বস্তু হিসেবে নির্ধারণ করেছি: "শাইখুল ইসলাম শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের তাফসিরের মানহাজ এবং তাঁর তাফসিরের একাংশের তাহকীক"—এই বিষয়টি আমি বেছে নিয়েছি এর গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা এবং প্রাণবন্ততার কারণে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٤)
هذا وتتلخص أسباب اختيار الموضوع فيما يلي:
1- خدمة لكتاب الله عز وجل ببيان منهج من المناهج القويمة في فهم كتاب الله وتفسيره والاستنباط منه والاهتداء بهديه.
2- رغبة في إلقاء الضوء على جانب مهم من جوانب حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب العلمية، وهو الجانب التفسيري ذلكم الجانب الذي لم يلق العناية اللازمة من الباحثين مع أصالته وأهميته بالرغم من كثرة ما كتب فيما يتعلق ببيان جوانب مشرقة من حياة الشيخ.
3- قيمة تفسير الشيخ العلمية.
وإنما تظهر قيمه لما تميز به من ميزات قد ذكرتها في موضع آخر وألخصها هنا فيما يلي:
1- سلفية الشيخ ومنهجه القويم في الاعتقاد والتفسير، ومعلوم ذلكم التلازم الوثيق بين استقامة هذين الجانبين.
ولذا اصطبغ تفسيره بالصبغة السلفية فلا تحريف ولا تأويل، وإنما تمش مع النصوص وإجراء لها على ظواهرها مع الأيمان بمعانيها والاستفادة العلمية والعملية منها. فكان موضع ثقة وقبول من أهل الاعتقاد الصحيح.
2- اهتمامه في تفسيره واستنباطاته بالربط بين الواقع وبين المعاني المفهومة من الآيات فى سبيل إصلاح المجتمع وعلاجه من أدوائه، وربط الناس بكتاب الله ليأخذوا منه مباشرة ويهتدوا بهداه. وقد ظهر هذا الجانب في تفسيره ومنهجه نصاً واستقراء ومن ذلك قوله: اعلم أن الله سبحانه عالم بكل شيء يعلم ما يقع على خلقه، وأنزل هذا الكتاب المبارك الذي جعله تبياناً لكل شيء وتفصيلاً لكل شيء وجعله هدى لأهل القرن الثاني عشر ومن بعدهم، كما جعله هدى لأهل القرن الأول ومن بعدهم1.
--------------------------------------------
এই বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ নিম্নোক্ত বিষয়াবলিতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১- আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র কিতাবের সেবা করা; আল্লাহর কিতাব বোঝা, এর তাফসির করা, এ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং এর হিদায়াতের মাধ্যমে পথপ্রদর্শনের ক্ষেত্রে একটি সঠিক মানহাজ বা পদ্ধতি বর্ণনা করার মাধ্যমে।
২- শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের ইলমি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের ওপর আলোকপাত করার আকাঙ্ক্ষা; আর তা হলো তাফসির সংক্রান্ত দিকটি। শায়খের জীবনের উজ্জ্বল দিকগুলো বর্ণনা করার ক্ষেত্রে অনেক লেখালেখি হলেও গবেষকদের নিকট থেকে এই দিকটি তার মৌলিকত্ব ও গুরুত্ব সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় মনোযোগ পায়নি।
৩- শায়খের তাফসিরের ইলমি মূল্য ও গুরুত্ব।
এর মূল্য ও গুরুত্ব মূলত সেই বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে প্রকাশ পায় যা দ্বারা এটি স্বতন্ত্র; আমি অন্য স্থানে সেগুলো উল্লেখ করেছি এবং এখানে তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি:
১- শায়খের সালাফিয়্যাত এবং আক্বিদা ও তাফসিরের ক্ষেত্রে তার সঠিক মানহাজ বা পদ্ধতি। আর এটি জানা কথা যে, এই দুটি দিকের সঠিক হওয়ার মাঝে এক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।
তাই তার তাফসির সালাফি রঙে রঞ্জিত, যেখানে কোনো বিকৃতি বা রূপক ব্যাখ্যা নেই। বরং এখানে নস বা দলিলের অনুসরণ করা হয়েছে এবং সেগুলোকে সেগুলোর প্রকাশ্য অর্থের ওপর রাখা হয়েছে, পাশাপাশি এগুলোর অর্থের প্রতি ঈমান রাখা হয়েছে এবং এগুলো থেকে ইলমি ও আমলি ফায়দা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে এটি সঠিক আক্বিদার অনুসারীদের নিকট নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
২- সমাজ সংস্কার ও সমাজের ব্যাধিগুলোর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাস্তব জীবনের সাথে আয়াতের বোধগম্য অর্থসমূহের সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে তার তাফসির ও ইস্তিনবাতসমূহে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা; এবং মানুষকে আল্লাহর কিতাবের সাথে এমনভাবে সম্পৃক্ত করা যাতে তারা সরাসরি তা থেকে শিক্ষা নিতে পারে এবং এর হিদায়াতের মাধ্যমে পথ চলতে পারে। তার তাফসির ও মানহাজে এই বিষয়টি সুস্পষ্ট বক্তব্য ও পর্যালোচনার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে তার এই উক্তি: "জেনে রেখো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সর্বজ্ঞাতা, তাঁর সৃষ্টির ওপর যা কিছু ঘটে তিনি তা জানেন। তিনি এই বরকতময় কিতাব নাজিল করেছেন যা তিনি সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা ও সবকিছুর বিস্তারিত ব্যাখ্যা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি একে দ্বাদশ শতাব্দীর এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য হিদায়াত স্বরূপ বানিয়েছেন, যেমনটি তিনি একে প্রথম শতাব্দীর এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য হিদায়াত স্বরূপ বানিয়েছিলেন।"১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٥)
3- الشمولية في استنباطاته بالتعرض لمعظم ما يذكر في الآية، وإن كان ذلك على وجه الاختصار أحياناً إذ الغرض هو التنبيه والإعلام، ولفت الأنظار إلى تلك المسائل المستنبطة والتي تتضمنها الآية.
كما أردت أن أحقق جزءاً من تفسير الشيخ واستنباطاته يشتمل على تفسير "سورة يوسف وسورة الحجر وسورة النحل" وذلك لتوالى هذه السور في المخطوطات التي بين يدي، ولتفسير الشيخ إياها كاملة. ليكون ذلك مثالاً قريباً لتفسيرات الشيخ واستنباطاته وليتبين من خلالها منهجه المتكامل.
لهذا كله أحببت أن أكتب في هذا الموضوع مستعيناً بالله ومتبرئاً من الحول والقوة ة إلا به.
وقد قسمت البحث إلى قسمين:
أولاً: قسم الدراسة.
ويشتمل على مقدمة وتمهيد وثلاثة أبواب:
أما المقدمة فهي هذه.
وأما التمهيد فقد بينت فيه ما يلي:
أولاً: البيئة من حول الشيخ.
ثانياً: اسم الشيخ ومولده وأسرته ونشأته.
ثالثاً: رحلاته العلمية.
رابعاً: نبذه عن دعوته الإصلاحية والمراحل التي مرت بها.
خامساً: علاقة دعوته بالقرآن وتفسيره.
سادساً: قيمة تفسيره العلمية.
سابعاً: مشائخه.
ثامناً: تلاميذه.
تاسعاً: مؤلفاته.
عاشراً: وفاته.
حادي عشر: ثناء العلماء عليه مفسراً.
وأما الأبواب فهي كما يلي:
الباب الأول: تفسير الشيخ القرآن بالمأثور.
ويشتمل على ثلاثة فصول:
৩- তাঁর মাসআলা উদ্ভাবনের (ইস্তিনবাত) ক্ষেত্রে ব্যাপকতা, যেখানে আয়াতের অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যদিও ক্ষেত্রবিশেষে তা সংক্ষেপে করা হয়েছে, কারণ এর উদ্দেশ্য হলো সচেতন করা ও জানানো এবং আয়াতের অন্তর্ভুক্ত সেই উদ্ভাবিত মাসআলাগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
আমি শাইখের তাফসির এবং তাঁর মাসআলা উদ্ভাবনের একটি অংশ তাহকিক বা সম্পাদনা করার ইচ্ছা পোষণ করেছি, যার মধ্যে "সূরা ইউসুফ, সূরা হিজর এবং সূরা নাহল"-এর তাফসির অন্তর্ভুক্ত। এর কারণ হলো আমার নিকট বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিগুলোতে এই সূরাগুলো ধারাবাহিকভাবে রয়েছে এবং শাইখ এগুলোর পূর্ণাঙ্গ তাফসির করেছেন। যাতে এটি শাইখের তাফসির ও মাসআলা উদ্ভাবনের একটি নিকটতর উদাহরণ হতে পারে এবং এর মাধ্যমে তাঁর পূর্ণাঙ্গ কর্মপন্থা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই সব কারণে আমি আল্লাহর সাহায্য নিয়ে এবং নিজের সকল উপায়-উপকরণ ও শক্তি সামর্থ্যের মায়া ত্যাগ করে কেবল তাঁর ওপর ভরসা করে এই বিষয়ে লেখার ইচ্ছা করেছি।
আমি এই গবেষণাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি:
প্রথমত: গবেষণা বিভাগ।
এটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা এবং তিনটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:
ভূমিকাটি হলো এই যা এখন উপস্থাপিত হচ্ছে।
আর উপক্রমণিকায় আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বর্ণনা করেছি:
প্রথমত: শাইখের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ।
দ্বিতীয়ত: শাইখের নাম, জন্ম, পরিবার এবং বেড়ে ওঠা।
তৃতীয়ত: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক সফরসমূহ।
চতুর্থত: তাঁর সংস্কারমূলক দাওয়াত এবং এর বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।
পঞ্চমত: কুরআনের সাথে এবং এর তাফসিরের সাথে তাঁর দাওয়াতের সম্পর্ক।
ষষ্ঠত: তাঁর তাফসিরের জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব।
সপ্তমত: তাঁর উস্তাদগণ।
অষ্টমত: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
নবমত: তাঁর রচনাবলী।
দশমত: তাঁর মৃত্যু।
একাদশতম: মুফাসসির হিসেবে তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।
আর অধ্যায়গুলো নিম্নরূপ:
প্রথম অধ্যায়: শাইখের বর্ণনাভিত্তিক তাফসির বা তাফসির বিল মাসুর।
এটি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٦)
الفصل الأول: تفسيره القرآن بالقرآن.
الفصل الثاني: تفسيره القرآن بالسنة.
الفصل الثالث: تفسيره القرآن بأقوال السلف من الصحابة والتابعين.
ويشتمل على ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: تفسيره القرآن بأقوال الصحابة.
المبحث الثاني: تفسيره القرآن بأقوال التابعين.
المبحث الثالث: موقفه من اختلاف السلف في التفسير.
الباب الثاني: التفسير بالرأي أو بالمعقول.
ويشتمل على خمسة فصول:
الفصل الأول: نظرته إلى العقل ومكانته من الشرع.
الفصل الثاني: نظرته إلى التفسير بالرأي.
الفصل الثالث: توفر أدوات التفسير بالرأي المحمود لديه.
ويشتمل على ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: معرفته باللغة ومدى اهتمامه بها في تفسيره.
المبحث الثاني: معرفته بالنحو والإعراب ومدى اهتمامه به في تفسيره.
المبحث الثالث: معرفته بالبلاغة ومدى اهتمامه بها في تفسيره.
الفصل الرابع: مظاهر التفسير بالرأي لدى الشيخ.
ويشتمل على ثلاثة مباحث.
المبحث الأول: التفسير الإفرادي.
المبحث الثاني: التفسير الإجمالي.
المبحث الثالث: الاستنباط المباشر من الآيات.
الفصل الخامس: السمات العامة لتفسيره بالرأي.
ويشتمل على مبحثين:
المبحث الأول: تمشيه مع روح الشريعة الإسلامية.
المبحث الثاني: تمشيه مع تفسيرات السلف وأقوالهم.
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন দ্বারা কুরআনের তাফসীর।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ দ্বারা কুরআনের তাফসীর।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবী ও তাবেয়ী তথা সালাফদের উক্তি দ্বারা কুরআনের তাফসীর।
এটি তিনটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: সাহাবীদের উক্তি দ্বারা কুরআনের তাফসীর।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাবেয়ীদের উক্তি দ্বারা কুরআনের তাফসীর।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাফসীরের ক্ষেত্রে সালাফদের মতভেদের বিষয়ে তাঁর অবস্থান।
দ্বিতীয় অধ্যায়: রায় (সুচিন্তিত অভিমত) বা বুদ্ধিভিত্তিক তাফসীর।
এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আকল বা বিবেকের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং শরীয়তে এর মাকাম বা অবস্থান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রায়-ভিত্তিক তাফসীরের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর নিকট প্রশংসনীয় রায়-ভিত্তিক তাফসীরের উপকরণসমূহের উপস্থিতি।
এটি তিনটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ভাষা বিষয়ে তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর তাফসীরে এর গুরুত্বের ব্যাপ্তি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নাহু (ব্যাকরণ) ও ইরাব (বাক্য বিশ্লেষণ) বিষয়ে তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর তাফসীরে এর গুরুত্বের ব্যাপ্তি।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিষয়ে তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর তাফসীরে এর গুরুত্বের ব্যাপ্তি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শায়খের নিকট রায়-ভিত্তিক তাফসীরের বহিঃপ্রকাশ।
এটি তিনটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত।
প্রথম অনুচ্ছেদ: শব্দভিত্তিক বিশ্লেষণধর্মী তাফসীর।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সামগ্রিক বা সারসংক্ষেপ তাফসীর।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আয়াতসমূহ থেকে সরাসরি বিধান বা মাসআলা উদ্ভাবন।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর রায়-ভিত্তিক তাফসীরের সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ।
এটি দুটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসলামী শরীয়তের প্রাণশক্তির সাথে এর সঙ্গতি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সালাফদের তাফসীর ও তাঁদের উক্তিগুলোর সাথে এর সঙ্গতি।
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٧)
الباب الثالث: أهم الأغراض التي تناولها الشيخ أو حققها من خلال تفسيره:
ويشتمل على ستة فصول:
الفصل الأول: التركيز على العقيدة من خلال تفسيره.
ويشتمل على ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: اهتمامه بالعقيدة من خلال تفسيره بصفة عامة.
المبحث الثاني: أهم المباحث العقدية التي بينها من خلال تفسيره.
المبحث الثالث: استنباطه جوانب حماية العقيدة من خلال تفسيره.
الفصل الثاني: اهتمامه في تفسيره بالردود على المخالفين.
الفصل الثالث: الاتجاه الإصلاحي في تفسيره.
الفصل الرابع: اهتمامه بالفقه والتأصيل في تفسيره.
ويشتمل على مبحثين:
المبحث الأول: اهتمامه بالفقه في تفسيره.
المبحث الثاني: اهتمامه بالتأصيل في تفسيره.
ويشتمل على مطلبين:
المطلب الأول: اهتمامه بالتأصيل العام في تفسيره.
المطلب الثاني: اهتمامه بأصول الفقه في تفسيره.
الفصل الخامس: القصص في تفسير الشيخ ومدى اهتمامه به.
ويشتمل على أربعة مباحث:
المبحث الأول: نظرته إلى القصص واهتمامه به.
المبحث الثاني: طريقته في دراسة القصص والاستنباط منها.
المبحث الثالث: المنهج الموضوعي في تفسير القصص عنده.
المبحث الرابع: موقفه من القصص الإسرائيلي.
الفصل السادس: ما ذكره من علوم القرآن في تفسيره.
واشتمل على ما يلي:
1- علم القراءات.
2- علم فضائل القرآن.
3- علم قصص القرآن.
4- علم أسباب النزول.
5- تعرضه للنسخ في القرآن الكريم.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শায়খ তাঁর তাফসীরের মাধ্যমে যে সকল প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেছেন বা যা অর্জন করেছেন:
এটি ছয়টি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:
প্রথম অধ্যায়: তাঁর তাফসীরের মাধ্যমে আকিদার (বিশ্বাস) উপর গুরুত্বারোপ।
এটি তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে তাঁর তাফসীরের মাধ্যমে আকিদার প্রতি তাঁর গুরুত্ব প্রদান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর তাফসীরের মাধ্যমে স্পষ্টকৃত প্রধান আকিদাগত বিষয়সমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর তাফসীরের মাধ্যমে আকিদা রক্ষার দিকগুলো বের করে আনা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর তাফসীরে বিরোধীদের খণ্ডন করার প্রতি গুরুত্ব প্রদান।
তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর তাফসীরে সংস্কারমূলক ধারা।
চতুর্থ অধ্যায়: তাঁর তাফসীরে ফিকহ এবং মূলনীতি নির্ধারণের প্রতি গুরুত্ব প্রদান।
এটি দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর তাফসীরে ফিকহের প্রতি গুরুত্ব প্রদান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর তাফসীরে মূলনীতি নির্ধারণের প্রতি গুরুত্ব প্রদান।
এটি দুটি উপ-পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁর তাফসীরে সাধারণ মূলনীতি নির্ধারণের প্রতি গুরুত্ব প্রদান।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁর তাফসীরে উসূলে ফিকহের (ফিকহের মূলনীতি) প্রতি গুরুত্ব প্রদান।
পঞ্চম অধ্যায়: শায়খের তাফসীরে কাহিনীসমূহ এবং এর প্রতি তাঁর গুরুত্বের মাত্রা।
এটি চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কাহিনীসমূহের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং এগুলোর প্রতি তাঁর গুরুত্ব প্রদান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কাহিনীসমূহ অধ্যয়ন এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর নিকট কাহিনীসমূহের তাফসীরে বিষয়ভিত্তিক পদ্ধতি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইসরাঈলী বর্ণনাসমূহের প্রতি তাঁর অবস্থান।
ষষ্ঠ অধ্যায়: তিনি তাঁর তাফসীরে কুরআনের যে সকল জ্ঞান (উলূমুল কুরআন) উল্লেখ করেছেন।
তা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
১- কিরাআত শাস্ত্র।
২- কুরআনের ফজিলত সংক্রান্ত জ্ঞান।
৩- কুরআনের কাহিনী সংক্রান্ত জ্ঞান।
৪- আসবাবুন নুযূল (নাজিলের প্রেক্ষাপট) সংক্রান্ত জ্ঞান।
৫- পবিত্র কুরআনে নাসখ (রহিতকরণ) বিষয়ে তাঁর আলোচনা।
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٨)
وقد التزمت في بحث كل جزئيه من الجزئيات أن أدلل عليها من تفسيرات الشيخ نصاً أو استقراء.
ثانياً: قسم التحقيق.
فقد قدمت له بمقدمة بينت فيها ما يلي:
أولاً: اسم الكتاب المحقق جزؤه وتوثيق نسبته إلى مؤلفه.
ثانياً: وصف النسخ المخطوطة.
ثالثاً: منهجي في التحقيق.
ثم شرعت فى تحقيق النص ويشتمل على تحقيق السور الثلاث "يوسف والحجر والنحل".
ثم ختمت البحت بخاتمة بينت فيها أهم نتائج البحث.
وذيلت الرسالة بعمل فهارس عامة على النحو التالي:-
1- فهرس الآيات القرآنية. وقد اكتفيت فيه بفهرس الآيات المستشهد بها أو الواردة في غير موضعها. أما الواردة في موضعها من التحقيق فلم أفهرسها لتسلسلها مع معرفة سورها.
2- فهرس الأحاديث والآثار.
3- فهرس الأعلام.
4- فهرس المراجع العامة.
5- فهرس الموضوعات.
هذا وقد بذلت جهدي لإظهار هذه الرسالة بالمظهر اللائق على اعتراف مني بالتقصير وحسبي أني لفت الأنظار إلى جانب مهم من جوانب حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب "رحمه الله".
فإن أصبت ووفقت فذلك من فضل الله فله الحمد والمنة، وإن أخطأت فمن نفسي وأستغفر الله.
هذا وفي الختام أشكر الله عز وجل أولاً وآخراً على ما من به من التوفيق والسداد والنعم العظيمة التي لا تحصى وأسأله المزيد والقبول.
ثم أشكر الجامعة الإسلامية التي كان لنا شرف الانتماء إليها وتلقي العلم الشرعي المستمد من كتاب الله وسنة رسوله على منهج السلف الصالح في أحضانها.
আমি প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় আলোচনার ক্ষেত্রে শাইখের তাফসীর থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি অথবা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন করতে সচেষ্ট হয়েছি।
দ্বিতীয়ত: তাহকীক (সম্পাদনা) অংশ।
আমি এর শুরুতে একটি ভূমিকা পেশ করেছি যেখানে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বর্ণনা করেছি:
প্রথমত: যে কিতাবটির অংশবিশেষ তাহকীক করা হয়েছে তার নাম এবং এর লেখকের প্রতি কিতাবটির সংশ্লিষ্টতার প্রামাণিকতা।
দ্বিতীয়ত: পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ।
তৃতীয়ত: তাহকীকের ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি।
এরপর আমি মূল পাঠের তাহকীক শুরু করেছি, যা তিনটি সূরা "ইউসুফ, হিজর এবং নাহল"-এর তাহকীক সংবলিত।
অতঃপর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে আমি আলোচনার সমাপ্তি টেনেছি।
এবং আমি থিসিসের শেষে নিম্নোক্তভাবে সাধারণ নির্ঘণ্টসমূহ যুক্ত করেছি:-
১- কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট। এতে আমি কেবল সেসকল আয়াতের নির্ঘণ্ট তৈরিতে সীমাবদ্ধ থেকেছি যা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে অথবা নিজ স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও উল্লেখিত হয়েছে। আর তাহকীকের নিজ স্থানে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখিত আয়াতসমূহের সূরা জানা থাকার কারণে আমি সেগুলোর নির্ঘণ্ট তৈরি করিনি।
২- হাদিস ও আসার (বর্ণনা)-সমূহের নির্ঘণ্ট।
৩- ব্যক্তিবর্গের নামের নির্ঘণ্ট।
৪- সাধারণ তথ্যসূত্রসমূহের নির্ঘণ্ট।
৫- বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট।
আমি নিজের ত্রুটি স্বীকার করে নিয়ে এই থিসিসটি যথাযথভাবে উপস্থাপন করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আমি শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছি।
যদি আমি সঠিক ও সফল হয়ে থাকি তবে তা আল্লাহর অনুগ্রহ, সুতরাং সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁরই। আর যদি ভুল করে থাকি তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
পরিশেষে, আমি সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি তাঁর তাওফীক, সঠিক পথনির্দেশ এবং অসংখ্য মহান নিআমতের জন্য এবং আমি তাঁর কাছে আরও অনুগ্রহ ও কবুলিয়ত কামনা করি।
অতঃপর আমি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যার সাথে যুক্ত হওয়ার এবং যার সান্নিধ্যে থেকে সালাফে সালেহীনের মানহাজ অনুযায়ী আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ থেকে আহরিত শরয়ি জ্ঞান অর্জনের সৌভাগ্য আমাদের হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٩)
وأسأل الله عز وجل لها مزيد التوفيق والثبات على منهجها السني.
كما أسأله أن يجزي كل من ساهم فى إنجاز هذه الرسالة أو كان له بها أي علاقة خير الجزاء.
وأسأله تعالى آن يلهمنا رشدنا ويقينا شرور أنفسنا ويختم بالصالحات أعمالنا.
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
الطالب
مسعد بن مساعد الحسيني
এবং আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট এর উত্তরোত্তর সাফল্য এবং সুন্নী মানহাজের ওপর অবিচল থাকার প্রার্থনা করছি।
অনুরূপভাবে আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই গবেষণাপত্রটি সম্পন্ন করতে যারা অবদান রেখেছেন অথবা এর সাথে যাদের কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তাদের সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।
এবং আমি সুউচ্চ মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের সঠিক পথের দিশা দান করেন, আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে আমাদের রক্ষা করেন এবং নেক আমলের মাধ্যমে আমাদের কর্মসমূহের পরিসমাপ্তি ঘটান।
আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর।
এবং আমাদের সর্বশেষ আহ্বান হলো, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ছাত্র
মুসআদ বিন মুসাঈদ আল-হুসাইনী
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٢)
ال
تمهيدتناول كثير من الباحثين دراسة جوانب عديدة من حياة الشيخ الخاصة والعامة فدرسوا بيئته ونشأته ودعوته الإصلاحية دراسات مستفيضة جلت جوانب كثيرة منها1، ولم تحظ أي دعوة إصلاحية في العصر الحديث بمثل ما حظيت به هذه الدعوة من الدراسة والتحليل، ولا نكاد نجد دراسة لأحوال جزيرة العرب في القرن الثاني عشر الهجري إلا وتعرضت لذكر هذه الدعوة والقائم بها.
فلا حاجة بي إذاً إلى الإفاضة في ذكر تلك الجوانب التي استبانت إذ لست هنا بمقام المؤرخ، وإنما أحببت أن أعطي القارئ إلمامه بهذا العلم الهمام، ونشأته، وأصل دعوته، وما يتعلق بذلك لتتبين له المنزلة العلمية لمن أنا بصدد دراسة منهجه في التفسير. مع الإحالة إلى بعض المراجع الموسعة لمن أحب التوسع والاستزادة.
فأقول وبالله التوفيق:-
--------------------------------------------
ভূমিকাঅনেক গবেষক শাইখের ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য জীবনের বহু দিক নিয়ে বিস্তৃত গবেষণা করেছেন। তাঁরা তাঁর পরিবেশ, বেড়ে ওঠা এবং সংস্কারমূলক দাওয়াত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যা তাঁর জীবনের অনেক দিককে উন্মোচিত করেছে। আধুনিক যুগে কোনো সংস্কারমূলক দাওয়াত এই দাওয়াতের মতো এতো বেশি গবেষণা ও বিশ্লেষণের সুযোগ পায়নি। আমরা হিজরি দ্বাদশ শতাব্দীতে আরব উপদ্বীপের অবস্থার ওপর এমন কোনো গবেষণা খুব কমই পাই, যেখানে এই দাওয়াত এবং এর প্রতিষ্ঠাতার উল্লেখ করা হয়নি।
সুতরাং, যে দিকগুলো ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন আমার নেই; কারণ আমি এখানে ঐতিহাসিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হইনি। বরং আমি কেবল এই মহান পণ্ডিত, তাঁর বেড়ে ওঠা, তাঁর দাওয়াতের মূল ভিত্তি এবং এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে পাঠককে একটি ধারণা দিতে চেয়েছি, যাতে তাঁর ইলমি মর্যাদা স্পষ্ট হয় যাঁর তাফসিরের মানহাজ (পদ্ধতি) নিয়ে আমি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছি। সাথে সাথে যাঁরা আরও বিস্তারিত জানতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য কিছু বিস্তৃত রেফারেন্সের বরাত দেওয়া হলো।
আমি বলছি, আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক কামনা করছি:-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٣)
أولاً: البيئة من حول الشيخ1:
درس كثير من الباحثين البيئة التي قام فيها الشيخ بدعوته، واتفق أهل التحقيق منهم على أن العصر الذي نشأ فيه قد انتشرت فيه الضلالة، وعمت الجهالة، وطمست فيه أنوار الهداية، وذلك بطمس أسها وملاكها وهو توحيد العبادة وعدم تحققه في قلوب كثير من العباد، حيث ارتكس كثير من الناس في أوحال الشرك، وارتدوا إلى الجاهلية، لغلبة الجهل عليهم وقلة أو عدم المرشد لديهم، واستعلاء ذوي الأهواء والضلال عليهم. فنبذوا كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وراء ظهورهم معرضين عن تدبرهما والاهتداء بهما متبعين لأهوائهم وما كان عليه آباؤهم وأجدادهم ولسان حالهم يقول: {إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ} 2.
فعدلوا عن عبادة رب العباد إلى عبادة العباد، إذ عدلوا إلى عبادة الأولياء والصالحين، وتقديسهم، والتبرك بهم، ودعائهم في تفريج الكربات وقضاء الحاجات، وتقديم القرابين والنذور لهم، وزين لهم الشيطان أعمالهم فصدهم عن السبيل ويحسبون أنهم مهتدون.
وكما عبد الأولياء والصالحون، فقد عبدت الأغوار والأشجار والأحجار في كثير من الأقطار.
ولم تكن غير نجد من البلدان بأحسن حالا منها، بل عمها طغيان الجهالة والضلالة، فنحو ما في نجد كان يوجد في سائر الأقطار والبلدان في جدة واليمن
--------------------------------------------
প্রথমত: শাইখের চারপাশের পরিবেশ১:
অনেক গবেষক সেই পরিবেশ সম্পর্কে অধ্যয়ন করেছেন যাতে শাইখ তাঁর দাওয়াত পরিচালনা করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে বিজ্ঞ তাত্ত্বিকগণ একমত হয়েছেন যে, তিনি যে যুগে বেড়ে উঠেছেন তাতে পথভ্রষ্টতা ছড়িয়ে পড়েছিল, মূর্খতা ব্যাপকতা লাভ করেছিল এবং হিদায়াতের নূর বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। এর মূল কারণ ছিল ইবাদতের তাওহীদের ভিত্তি ও মূল নির্যাস মিটে যাওয়া এবং অনেক বান্দার হৃদয়ে তা বাস্তবায়িত না হওয়া। ফলে অনেক মানুষ শিরকের পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল এবং জাহেলিয়াতের দিকে ফিরে গিয়েছিল। এর কারণ ছিল তাদের ওপর অজ্ঞতার আধিপত্য এবং তাদের মধ্যে পথপ্রদর্শকের অভাব বা স্বল্পতা এবং কুপ্রবৃত্তি ও পথভ্রষ্টদের প্রভাব। তারা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহকে পিঠের পেছনে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল এবং সে দুটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও হিদায়াত লাভে বিমুখ হয়ে নিজেদের খেয়াল-খুশি এবং তাদের বাপ-দাদাদের রীতিনীতির অনুসরণ করছিল। তাদের অবস্থা যেন বলছিল: {নিশ্চয়ই আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক মতাদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি} ২।
ফলে তারা বান্দার রবের ইবাদত পরিত্যাগ করে বান্দার ইবাদতের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। তারা ওলি ও নেককার বান্দাদের ইবাদত করা, তাদের পবিত্র জ্ঞান করা, তাদের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করা এবং বিপদ-আপদে ও প্রয়োজন পূরণে তাদের কাছে দুআ করা এবং তাদের উদ্দেশ্যে নজর-নিয়াজ ও কুরবানি পেশ করার দিকে ধাবিত হয়েছিল। শয়তান তাদের কাজগুলোকে তাদের সামনে সুশোভিত করে তুলেছিল, ফলে সে তাদের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করেছিল এবং তারা মনে করত যে তারা সুপথপ্রাপ্ত।
আর যেভাবে ওলি ও নেককার বান্দাদের ইবাদত করা হতো, একইভাবে অনেক দেশে গুহা, গাছপালা ও পাথরেরও পূজা করা হতো।
নজদ ব্যতীত অন্যান্য দেশগুলোর অবস্থাও নজদের চেয়ে ভালো ছিল না, বরং সেখানেও মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতার সীমালঙ্ঘন ছড়িয়ে পড়েছিল। নজদে যা বিদ্যমান ছিল, জেদ্দা ও ইয়েমেনসহ অন্যান্য সকল অঞ্চল ও দেশগুলোতেও প্রায় অনুরূপ অবস্থা বিদ্যমান ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٤)
وحضرموت وما جاورها، ومصر وصعيدها، والشام ونواحيها والموصل وبلاد الأكراد. كما لم يسلم الحرمان الشريفان من ذلك الطغيان، بل أصابها ما أصاب غيرها، فكان طوائف من الوفود والأعراب يأتون فيها من الفسوق والضلال والعصيان ما يملأ القلب أسى وحزناً إذ عبدت المآثر والقبور وارتكبت المحارم وانتهكت الحدود، ولا حول ولا قوة إلا بالله.
وأما العلماء فإنهم ما بين مقتصر على درسه وحلقته لا يتجاوزها إلى مجتمعه لعلاجه، أو متأسف عاجز، أو مجامل للعامة والرؤساء مشفق على مركزه خائف زواله بالإنكار عليهم، أو صاحب مصلحة في الضلالة كما يزين له الشيطان – والعياذ بالله- أو جاهل بأصل الدين وحقيقته.
فكان الناس في أمس الحاجة إلى عناية إلهية تنقذهم مما هم فيه من ضلال وغي وتعيدهم إلى رشدهم ودينهم القويم.
فتجلت تلك العناية الإلهية في ذلك المرشد الموفق، والمصلح المسدد، الذي ألهمه الله رشده ونور بصيرته وهو الشيخ محمد بن عبد الوهاب الذي عرف حقيقة التوحيد وأصله وأنه أعظم ما دعا إليه القرآن وهو الغاية من خلق الناس وبعث الرسل كما يتبين ذلك من القرآن في غير موضع كما قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْأِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} 1. وقال: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} 2. وقال: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} 3، وعرف ما عليه كثير من الناس من أعمال مضادة للتوحيد ومناقضة أو قادحة فيه، فقام بدعوته إلى الله، وبين للناس ولفت أنظارهم إلى ما تضمنه كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، من دلائل التوحيد، ونصب أعلامه وجاهد في سبيل ذلك حتى عاد للعقيدة نقاؤها وصفاؤها.
--------------------------------------------
এবং হাজরামাউত ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ, মিশর ও এর উচ্চভূমি, শাম ও এর প্রান্তিক এলাকাসমূহ এবং মসুল ও কুর্দিদের ভূখণ্ডসমূহ। এমনকি পবিত্র দুই হারামও সেই পাপাচার ও সীমালঙ্ঘন থেকে রেহাই পায়নি; বরং অন্যান্য স্থানের মতো সেখানেও দুর্যোগ আপতিত হয়েছিল। ফলে বিভিন্ন কাফেলা ও বেদুইনরা সেখানে এমন পাপাচার, পথভ্রষ্টতা ও অবাধ্যতায় লিপ্ত হতো যা অন্তরকে দুঃখ ও বিষাদে ভরিয়ে দেয়; কেননা তখন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও কবরসমূহের উপাসনা করা হতো, নিষিদ্ধ কাজসমূহ সংঘটিত হতো এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন করা হতো। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।
আর আলেমদের অবস্থা ছিল এই যে, তাদের কেউ কেউ কেবল নিজের পাঠদান ও পাঠচক্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন এবং সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে সেখান থেকে বের হতেন না। কেউবা ছিলেন আক্ষেপকারী ও অক্ষম। কেউ আবার সাধারণ মানুষ ও নেতাদের তোষামোদ করতেন, নিজের পদমর্যাদার প্রতি অত্যধিক যত্নশীল ছিলেন এবং তাদের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলে সেই পদ হারানোর ভয়ে ভীত থাকতেন। আবার কেউবা ছিলেন ভ্রষ্টতার মধ্যে স্বার্থান্বেষী, যেটিকে শয়তান তাদের সামনে সুশোভিত করেছিল—আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই—অথবা কেউ ছিলেন দ্বীনের মূলনীতি ও প্রকৃত রূপ সম্পর্কে অজ্ঞ।
ফলে মানুষ এক ঐশী অনুগ্রহের চরম মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছিল, যা তাদের এই পথভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতি থেকে উদ্ধার করবে এবং তাদের সঠিক পথ ও সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের দিকে ফিরিয়ে আনবে।
সেই ঐশী অনুগ্রহ সেই সফল দিকনির্দেশক এবং সুপথপ্রাপ্ত সংস্কারকের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, যাকে আল্লাহ সঠিক পথের দিশা দিয়েছিলেন এবং যার অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করেছিলেন। তিনি হলেন শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, যিনি তাওহীদের প্রকৃত রূপ ও এর মূল ভিত্তি অনুধাবন করেছিলেন এবং বুঝতে পেরেছিলেন যে, এটিই সেই মহান বিষয় যার দিকে কুরআন আহ্বান জানিয়েছে। আর এটিই মানুষ সৃষ্টি ও রাসূলদের প্রেরণের মূল লক্ষ্য, যা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্ট করা হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: “আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।” ১। তিনি আরও বলেন: “আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।” ২। তিনি আরও বলেন: “তোমার পূর্বে আমি যে রাসূলই পাঠিয়েছি, তার প্রতি এই ওহীই প্রেরণ করেছি যে, আমি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।” ৩। তিনি আরও লক্ষ্য করলেন যে, অনেক মানুষ এমন সব কাজে লিপ্ত যা তাওহীদের পরিপন্থী, বিরোধী বা এতে ত্রুটি উৎপন্নকারী। অতঃপর তিনি আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজ শুরু করেন এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত তাওহীদের প্রমাণাদির দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ও তা বর্ণনা করেন। তিনি এর ঝাণ্ডা উড্ডীন করেন এবং এই পথে সংগ্রাম করেন, যতক্ষণ না আকিদার শুভ্রতা ও স্বচ্ছতা পুনরায় ফিরে আসে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٥)
ثانياً:- نسب الشيخ ومولده وأسرته ونشأته.
نسبه:
هو الشيخ محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي بن محمد بن أحمد بن راشد بن بريد بن محمد بن بريد بن مشرف الوهيبي التميمي1.
وأما أمه فهي بنت محمد بن عزاز المشرفي الوهيبي التميمي. فهي من عشيرته الأدنين2.
مولده:
ولد الشيخ سنة "1115" خمس عشرة وألف ومائه من الهجرة النبوية في بلدة "العيينة" من بلدان نجد3.
أسرته ونشأته:
نشأ الشيخ في أسرة علمية دينية. وذلك أن "آل مشرف" الذين ينتمي إليهم الشيخ قد برز منهم علماء أفذاذ، وقضاة، كانت لهم المكانة العلمية الظاهرة.
والمتتبع للمصادر التاريخية يلحظ بوضوح أنه منذ القرن العاشر الهجري لمعت أسماء علماء من "آل مشرف" المذكورين، منهم القاضي: عبد القادر بن بريد المشرفي، وأحمد بن مشرف، تلميذ أبي النجا الحجاوي، مصنف الإقناع وزاد المستنقع وغيرهما4.
أما إذا انتقلنا إلى أسرته الأقربين فإنا نجد أن جده الشيخ سليمان بن علي قد تولى القضاء في روضة سدير، ثم في العيينة، وكان فقيهاً غزير المعرفة، علامة زمانه، ومرجع علماء نجد في زمنه. وقد ألف منسكا سماه "تحفة الناسك في أحكام المناسك" 5.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত:- শাইখের বংশপরিচয়, জন্ম, পরিবার এবং বেড়ে ওঠা।
তাঁর বংশপরিচয়:
তিনি হলেন শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে সুলায়মান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে রাশিদ ইবনে বারীদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বারীদ ইবনে মুশাররাফ আল-উহাইবী আত-তামীমী ১।
আর তাঁর মা হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আযযায আল-মুশাররাফী আল-উহাইবী আত-তামীমীর কন্যা। তিনি তাঁর নিকটাত্মীয় গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ২।
তাঁর জন্ম:
শাইখ হিজরি ১১১৫ (এক হাজার একশ পনেরো) সালে নজদ অঞ্চলের "আল-উয়ায়নাহ" জনপদে জন্মগ্রহণ করেন ৩।
তাঁর পরিবার ও বেড়ে ওঠা:
শাইখ একটি ইলমি ও ধর্মীয় পরিবারে বেড়ে ওঠেন। এর কারণ হলো "আল মুশাররাফ" পরিবার, যাদের সাথে শাইখ সম্পৃক্ত, তাদের মধ্য থেকে বহু অনন্য সাধারণ আলেম এবং বিচারক আত্মপ্রকাশ করেছিলেন, যাদের সুস্পষ্ট ইলমি মর্যাদা ছিল।
ঐতিহাসিক উৎসসমূহ অনুসন্ধানকারী স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করবেন যে, হিজরি দশম শতাব্দী থেকে উল্লিখিত "আল মুশাররাফ" পরিবারের আলেমদের নাম উজ্জ্বল হতে শুরু করে, যাদের মধ্যে রয়েছেন: কাজী আব্দুল কাদির ইবনে বারীদ আল-মুশাররাফী, এবং আহমাদ ইবনে মুশাররাফ, যিনি 'আল-ইকনা' ও 'যাদুল মুস্তাকনি' সহ অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা আবু নাজা আল-হাজ্জাবীর ছাত্র ছিলেন ৪।
আর যদি আমরা তাঁর নিকটবর্তী পরিবারের দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে দেখতে পাই যে তাঁর দাদা শাইখ সুলায়মান ইবনে আলী রওদাত সুদাইর এবং পরবর্তীতে আল-উয়ায়নাহ-তে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি অগাধ জ্ঞানের অধিকারী একজন ফকীহ এবং তাঁর সময়ের প্রখ্যাত আলেম ছিলেন, এমনকি সেই সময়ে তিনি নজদের আলেমদের প্রধান আশ্রয়স্থল ছিলেন। তিনি হজের বিধিবিধান বিষয়ে "তুহফাতুন নাসিক ফী আহকামিল মানাসিক" নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٦)
وأما أبوه الشيخ عبد الوهاب:-
فقد ولد في "العيينة" في كنف والده، فتلقى العلم والفقه على يديه كما تلقى عن غير من العلماء حتى تضلع في الفقه، فولي قضاء "العيينة" بعد أبيه، ثم أنتقل منها إلى "حريملاء" ونشأ الشيخ في بيت أبيه الذي كان من الطبيعي أن يكون ملتقى طلاب العلم وخواص العلماء الذين لا تخلو مجالسهم من مسائل علمية ومناقشات بصفته منزل القاضي فكان يحضر تلك المجالس، إضافة إلى قربه مما يعرض لأبيه من قضايا شرعية، وما يحكم به على مرأى منه ومسمع فكان لهذا الأثر في حياة الشيخ وشغفه بالعلم وتزوده منه1.
وأما عمه الشيخ إبراهيم بن سليمان:-
فكان على قدر من العلم والفقه، وقد تلقى عن والده، وكان كثير الإقامة مع أخيه عبد الوهاب قال البسام: وقد ولي القضاء في بلدة "أشيقر" ورأيت له حكماً في بعض عقاراتها2.
وفى هذه الأسرة الدينية العريقة ولد الشيخ ونشأ فأنبته الله نباتاً حسناً إذ ترعرع في كنف والده، فحفظ القرآن قبل بلوغه العاشرة من عمره، وكان حاد الفهم، وقاد الذهن، ذكيًا، سريع الكتابة والحفظ.
فقرأ على أبيه الفقه فبرز فيه.
وجد في طلب العلم وأدرك وهو في سن مبكرة حظاً وافراً من العلم، حتى إن والده كان يتوسم فيه مخايل النجابة والذكاء، ويتعجب من فهمه وإدراكه ويذكر أنه استفاد منه بعض الفوائد. وقد كتب إلى بعض إخوانه رسالة نوة فيها بشأن ابنه، وأثنى عليه، وعلى حفظه وفهمه وإتقانه، وذكر فيها أن ابنه بلغ الاحتلام قبل أن يكمل اثنتي عشرة سنة من عمره، وأنه رآه حينئذٍ أهلاً للصلاة بالجماعة لمعرفته بالأحكام فقدمه ليؤم الناس، وزوجه وهو
--------------------------------------------
আর তাঁর পিতা শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব:-
তিনি তাঁর পিতার সান্নিধ্যে "উয়াইনাহ"-তে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট ইলম ও ফিকহ অর্জন করেন, যেমনটি তিনি অন্যান্য আলেমদের কাছ থেকেও গ্রহণ করেছিলেন, এমনকি তিনি ফিকহ শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তাঁর পিতার পর তিনি "উয়াইনাহ"-র বিচারপতির (কাজীর) দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি সেখান থেকে "হুরায়মিলা"-তে স্থানান্তরিত হন। শায়খ তাঁর পিতার ঘরে বেড়ে ওঠেন, যা স্বাভাবিকভাবেই ইলম অন্বেষণকারী এবং বিশিষ্ট আলেমদের মিলনস্থল ছিল। কাজীর ঘর হওয়ার সুবাদে তাঁদের মজলিসগুলো বৈজ্ঞানিক মাসআলা এবং আলোচনা থেকে মুক্ত থাকতো না। তিনি সেই মজলিসগুলোতে উপস্থিত হতেন। এর পাশাপাশি তাঁর পিতার কাছে উপস্থাপিত শরয়ী বিষয়াদি এবং তাঁর চোখের সামনে ও শ্রুতির মধ্যে প্রদত্ত বিচারিক রায়গুলোর সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। শায়খের জীবনে, ইলমের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগে এবং তা অর্জনে এর বিশেষ প্রভাব ছিল।১
আর তাঁর চাচা শায়খ ইব্রাহিম বিন সুলায়মান:-
তিনি ইলম ও ফিকহের অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর পিতার কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করেছিলেন। তিনি তাঁর ভাই আব্দুল ওয়াহহাবের সাথে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতেন। আল-বাসসাম বলেন: তিনি "উশাইকির" জনপদে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং আমি সেখানে তাঁর কিছু ভূ-সম্পত্তি সংক্রান্ত রায় দেখেছি।২
এই সুপ্রাচীন দ্বীনি পরিবারে শায়খ জন্মগ্রহণ করেন এবং বেড়ে ওঠেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তমরূপে গড়ে তোলেন, কারণ তিনি তাঁর পিতার ছত্রছায়ায় লালিত-পালিত হন। তিনি দশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন। তিনি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী, প্রখর ধীসম্পন্ন, বুদ্ধিমান এবং দ্রুত লিখনে ও মুখস্থকরণে পারদর্শী ছিলেন।
তিনি তাঁর পিতার কাছে ফিকহ পাঠ করেন এবং তাতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।
তিনি ইলম অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং অল্প বয়সেই ইলমের বিশাল ভাণ্ডার অর্জন করেন। এমনকি তাঁর পিতা তাঁর মধ্যে আভিজাত্য ও বুদ্ধিমত্তার চিহ্ন দেখতে পেতেন এবং তাঁর বোধশক্তি ও উপলব্ধি দেখে বিস্মিত হতেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, তিনি তাঁর ছেলের কাছ থেকে কিছু ইলমি ফায়দাও লাভ করেছেন। তিনি তাঁর এক ভাইয়ের কাছে একটি পত্র লিখেছিলেন যেখানে তিনি তাঁর ছেলের উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং তাঁর মুখস্থশক্তি, বোধশক্তি ও পারদর্শিতার প্রশংসা করেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, তাঁর ছেলে বারো বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সাবালকত্ব লাভ করেছিল এবং তিনি তখন তাঁকে আহকাম বা বিধিবিধান সম্পর্কে জ্ঞান থাকার কারণে জামাতে সালাত আদায়ের যোগ্য মনে করেছিলেন। ফলে তিনি তাঁকে মানুষের ইমামতি করার জন্য সামনে এগিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁর বিবাহ দিয়েছিলেন যখন তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٧)
ابن اثنتي عشرة سنة بعد البلوغ.
ثم استأذن أباه في الحج فأذن له فحج ثم قصد مدينة الرسول "صلى الله عليه وسلم" وأقام فيها قرابة شهرين ثم عاد إلى نجد فلزم أباه، وأخذ في القراءة عليه في الفقه على مذهب الإمام أحمد1.
وكان "رحمه الله" في صغره كثير المطالعة في كتب التفسير والحديث وكلام العلماء في أصل الإسلام، فشرح الله صدره لمعرفة التوحيد وتحقيقه، ومعرفة نواقضه المضلة عن طريقه. وتبين له ما وقع فيه كثير من الناس من البدع والشركيات وتقديس الأشجار والأحجار والمشاهد وما إلى ذلك. فكان ينهى عن ذلك وينكره، ويستدل عليه بالآيات البينات، ويحث الناس على تدبرها وفهمها فاستحسنه منه كثير من الناس، إلا أنهم لم ينهوا عما فعل الجاهلون2.
فلما رأى أن القول لا يغني وحده صمم على مزيد من التزود بالعلم، الذي يكون معه سلاحاً في وجه قوى الشر والطغيان3، فلم تقف طموحه وآماله عند مجرد الأخذ عن أبيه في بلده بل رغب في الرحلة في طلب العلم.
--------------------------------------------
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বারো বছর বয়সে।
অতঃপর তিনি তাঁর পিতার কাছে হজ্জের অনুমতি চাইলেন, তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং তিনি হজ্জ পালন করলেন। এরপর তিনি রাসূলের শহরের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিকে যাত্রা করলেন এবং সেখানে প্রায় দুই মাস অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি নজদে ফিরে এলেন এবং তাঁর পিতার সান্নিধ্যে রইলেন এবং ইমাম আহমদের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ বিষয়ে তাঁর কাছে পড়াশোনা শুরু করলেন।১
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর বাল্যকালেই তাফসীর ও হাদীসের কিতাবসমূহ এবং ইসলামের মূলনীতি সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্যের প্রচুর অধ্যয়ন করতেন। ফলে আল্লাহ তাআলা তাওহীদ জানা ও তা বাস্তবায়নের জন্য এবং তাওহীদের পথ থেকে বিচ্যুতকারী বিভ্রান্তিকর বিষয়সমূহ চেনার জন্য তাঁর বক্ষ উন্মোচন করে দিলেন। আর অনেক মানুষ যেসব বিদআত, শিরক এবং গাছপালা, পাথর ও মাজার বা সমাধিস্থল পূজাসহ অন্যান্য যেসব বিষয়ে লিপ্ত ছিল, তা তাঁর কাছে সুস্পষ্ট হয়ে উঠল। তাই তিনি সেসব কাজ থেকে নিষেধ ও প্রতিবাদ করতেন এবং এর সপক্ষে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ থেকে দলিল পেশ করতেন। তিনি মানুষকে সেগুলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও বোঝার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। অনেক মানুষ তাঁর এই কাজকে পছন্দ করত, তবে তারা মূর্খদের কৃতকর্ম থেকে নিষেধ করত না।২
যখন তিনি দেখলেন যে কেবল মৌখিক কথা একাকী যথেষ্ট নয়, তখন তিনি আরও অধিক ইলম অর্জনের সংকল্প করলেন, যা অশুভ শক্তি ও অবাধ্যতার মোকাবিলায় তাঁর জন্য অস্ত্র হিসেবে কাজ করবে।৩ ফলে তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা কেবল নিজ শহরে পিতার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তিনি ইলম সন্ধানে দেশভ্রমণে আগ্রহী হলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٨)
ثالثاً- رحلاته العلمية:
بعد أن نهل الشيخ من منهل أبيه الذي يغلب عليه الجانب الفقهي تطلع إلى المزيد وذلك بالسير على منهج الأسلاف في الرحلة في طلب العلم الشرعي مهما كلف ذلك من مشقة وعناء.
فبدأ هذه الرحلات الميمونة بحج بيت الله الحرام، فلما قضى حجه سار إلى المدينة النبوية فقضى بها زمناً أخذ فيه العلم عن علمائها المشهورين في ذلك الزمان، ومنهم الشيخ عبد الله بن إبراهيم بن سيف النجدي ثم المدني، الذي أجازه من طريقين1، كما أجازه في كل ما حواه ثبت الشيخ عبد الباقي أبي المواهب الحنبلي قراءة وتعلماً وتعليماً من صحيح البخاري بسنده إلى مؤلفه، وكذا صحيح مسلم وشروح كل منهما، وسنن الترمذي وسنن أبى داود وسنن ابن ماجة وسنن النسائي الكبرى وسنن الدرامي وكتب القراءات واللغة
… إلى غير ذلك مما ثبت في ثبت الشيخ عبد الباقي2.
وكان أول ما سمع من الشيخ عبد الله بن إبراهيم النجدي من الحديث الحديث المسلسل بالأولية المروي عن عبد الله بن عمرو بن العاص قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الراحمون يرحمهم الرحمن، ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء" 3.
كما سمع منه مسلسل الحنابلة المروي عن ابن عدي عن حميد عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا أراد الله بعبده خيراً استعمله".
قالوا: كيف يستعمله؟
--------------------------------------------
তৃতীয়ত- তাঁর ইলমী সফরসমূহ:
শাইখ তাঁর পিতার জ্ঞানধারা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার পর—যাঁর শিক্ষার ওপর ফিকহী দিকটিই প্রবল ছিল—তিনি আরও উচ্চতর জ্ঞান লাভের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ইলমে শরয়ী অন্বেষণে পূর্বসূরীদের অনুসৃত পথ অবলম্বন করেন, যা ছিল অত্যন্ত কষ্ট ও শ্রমসাধ্য সফর।
তিনি এই বরকতময় সফরসমূহ শুরু করেন আল্লাহর ঘরের হজের মাধ্যমে। যখন তিনি হজ সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি মদিনা মুনাওয়ারার দিকে যাত্রা করেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় অবস্থান করে তৎকালীন প্রসিদ্ধ আলেমদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শাইখ আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফ আল-নাজদী অতঃপর আল-মাদানী, যিনি তাঁকে দুটি ধারায়১ অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেন। একইভাবে শাইখ আবদুল বাকী আবু আল-মাওয়াহিব আল-হাম্বলীর 'সাবাত' (সনদ গ্রন্থ)-এ যা কিছু ছিল, তার সবকিছুর ওপর তিনি তাঁকে পঠন, শিক্ষাগ্রহণ ও শিক্ষাদানের ইজাজত প্রদান করেন; যার মধ্যে ছিল সহীহ বুখারী—যা তাঁর সনদসহ মূল লেখকের পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে—তেমনি সহীহ মুসলিম এবং উভয়ের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, সুনান আত-তিরমিযী, সুনান আবী দাউদ, সুনান ইবনে মাজাহ, সুনানুন নাসায়ী আল-কুবরা, সুনানুদ দারেমী এবং ক্বিরাআত ও ভাষার কিতাবসমূহ
… এ ছাড়াও শাইখ আবদুল বাকীর সনদে প্রমাণিত অন্যান্য বিষয়াদি২।
শাইখ আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আন-নাজদীর নিকট থেকে তিনি হাদিসের মধ্যে সর্বপ্রথম যা শুনেছিলেন তা ছিল 'মুসালসাল বিল আওয়ালিয়্যাহ' (প্রথম শ্রবণকৃত হাদিস), যা আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দয়ালু ব্যক্তিদের ওপর পরম দয়াময় আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের ওপর দয়া করো, তবে যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের ওপর দয়া করবেন।" ৩
এছাড়াও তিনি তাঁর নিকট থেকে হাম্বলীদের 'মুসালসাল' হাদিস শুনেছেন, যা ইবনে আদি থেকে হুমাইদ হয়ে আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যখন তাঁর কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে কাজে নিয়োজিত করেন।"
তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন: তিনি তাকে কীভাবে কাজে নিয়োজিত করেন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٩)
قال: "يوفقه لعمل صالح قبل موته" 1.
ثم وصل الشيخ عبد الله بن إبراهيم النجدي حبل الشيخ بحبل المحدث الشيخ محمد حياة السندي وعرفه به وبأهله، فأقام الشيخ عنده وأخذ عنه، وتأثر به كثيراً2.
قال ابن بشر3: وحكي أن الشيخ محمداً وقف يوماً عند الحجرة النبوية عند أناس يدعون ويستغيثون عند حجرة النبي صلى الله عليه وسلم، فرآه محمد حياة فأتى إليه فقال الشيخ: ما تقول في هؤلاء؟ قال: {إِنَّ هَؤُلاءِ مُتَبَّرٌ مَا هُمْ فِيهِ وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} 4.
فأقام الشيخ في المدينة ما شاء الله يأخذ عن علمائها، ثم خرج منها إلى نجد، فقصد بلدة العيينة، وأقام بها قرابة سنة ثم تجهز إلى البصرة5.
وفي البصرة:
سمع الحديث والفقه من جماعة كثيرين، وقرأ بها النحو وأتقنه، وكتب الكثير من الحديث واللغة6.
وكان من أشهر من أخذ عنه الشيخ من علماء البصرة عالم يدعى الشيخ: "محمد المجموعي" 7.
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "মৃত্যুর আগে তিনি তাকে নেক আমল করার তাওফীক দান করেন।" 1.
অতঃপর শেখ আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-নাজদি শায়খের সাথে মুহাদ্দিস শেখ মুহাম্মদ হায়াত আল-সিন্ধির যোগাযোগ করিয়ে দেন এবং তাঁর সাথে ও তাঁর পরিবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। ফলে শায়খ তাঁর কাছে অবস্থান করেন এবং তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন এবং তাঁর দ্বারা অনেক প্রভাবিত হন। 2.
ইবন বিশর বলেন 3: বর্ণিত আছে যে, শেখ মুহাম্মদ একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হুজরার নিকট এমন কিছু লোকের কাছে দাঁড়িয়েছিলেন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হুজরার নিকট দুআ ও প্রার্থনা করছিল। মুহাম্মদ হায়াত তাঁকে দেখতে পেয়ে তাঁর কাছে আসলেন। তখন শায়খ জিজ্ঞেস করলেন: এদের ব্যাপারে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: {নিশ্চয় এরা যে কাজে লিপ্ত আছে তা ধ্বংস হবে এবং তারা যা করছে তা বাতিল} 4।
শায়খ মদিনায় যতদিন আল্লাহর ইচ্ছা ছিল অবস্থান করে সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করলেন। এরপর তিনি সেখান থেকে নজদের উদ্দেশে বের হলেন এবং উয়াইনা শহরের দিকে যাত্রা করলেন। সেখানে তিনি প্রায় এক বছর অবস্থান করার পর বসরার উদ্দেশে প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন 5।
এবং বসরায়:
তিনি অনেকের কাছ থেকে হাদিস ও ফিকহ শ্রবণ করেন এবং সেখানে নাহু (ব্যাকরণ) অধ্যয়ন করে তাতে পারদর্শী হন। তিনি প্রচুর পরিমাণে হাদিস ও ভাষা বিষয়ক পাণ্ডুলিপি লিখেন 6।
বসরার আলেমদের মধ্যে শায়খ যাঁর কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিলেন শেখ "মুহাম্মদ আল-মাজমুয়ি" নামক একজন আলেম 7।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وكان الشيخ في أثناء مقامه في البصرة ينكر ما يرى ويسمع من الشرك والبدع، ويحث على طريق الهدى والاستقامة، ويبين دلائل التوحيد، ويعلن للناس أن الدعوة كلها لله ولا يجوز صرف شيء منها لغير الله، ويبين لهم أن دعاء الصالحين ليس من محبتهم في شيء، وإنما محبتهم باتباعهم فيما كانوا عليه من الهدى والدين1.
وقد كان لدعوته قبول حسن لدى شيخه المجموعي، إذ قرر الشيخ له توحيد العبادة، ومعنى لا إله إلا الله، فانتفع شيخه بذلك حتى لقد قال ابن بشر:
أخبرني شيخنا القاضي عثمان بن منصور الناصري قال: أخبرني رجل في مجموعة البصرة بأن أولاد ذلك العالم الذي قرأ عليه الشيخ محمد هم أحسن أهل بلدهم بالصلاح، ومعرفة التوحيد، وهذا – والله أعلم- ببركة اجتماع بوالدهم2.
ثم رحل الشيخ إلى الأحساء:
قال الشيخ عبد الرحمن بن حسن: "ثم إن شيخنا "رحمه الله تعالى" بعد رحلته إلى البصرة رحل إلى الأحساء ثم رجع من الأحساء إلى البصرة" 3.
ومن العلماء الذين أخذ عنهم الشيخ في الأحساء الشيخ عبد الله بن محمد بن عبد اللطيف الشافعي الأحسائي، وأجازه بما في ثبت الشيخ عبد الباقي، كما لقي الشيخ عبد الله بن فيروز وغيرهم4.
--------------------------------------------
শায়খ বসরায় অবস্থানকালে যা কিছু শিরক ও বিদআত দেখতেন ও শুনতেন তার প্রতিবাদ করতেন এবং হেদায়েত ও ইস্তেকামাতের (অবিচলতার) পথের দিকে উৎসাহিত করতেন। তিনি তাওহীদের প্রমাণসমূহ স্পষ্ট করতেন এবং মানুষের কাছে ঘোষণা করতেন যে, সমস্ত দুআ (আহবান) একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং এর কোনো অংশই আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে করা বৈধ নয়। তিনি তাদের নিকট স্পষ্ট করতেন যে, নেককারদের নিকট দুআ করা তাদের প্রতি মহব্বত বা ভালোবাসার কোনো অংশ নয়, বরং তাদের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা হলো হেদায়েত ও দ্বীনের ক্ষেত্রে তারা যে আদর্শের ওপর ছিলেন তার অনুসরণ করা।১
তাঁর দাওয়াত তাঁর উস্তাদ মাজমুয়ী-র নিকট উত্তমরূপে গ্রহণীয় হয়েছিল; কারণ শায়খ তাঁর নিকট ইবাদতের তাওহীদ এবং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ সাব্যস্ত করেছিলেন। এতে তাঁর উস্তাদ উপকৃত হন, এমনকি ইবনে বিশর বলেন:
আমাদের শায়খ কাজী উসমান বিন মানসুর আন-নাসিরি আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: বসরার মাজমুআ-র একজন ব্যক্তি আমাকে বলেছেন যে, শায়খ মুহাম্মদ যে আলেমের কাছে পাঠ গ্রহণ করেছিলেন, তাঁর সন্তানরা তাদের শহরের লোকদের মধ্যে নেক আমল ও তাওহীদের জ্ঞানে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর এটি—আল্লাহই ভালো জানেন—তাদের পিতার সাথে শায়খের একত্রিত হওয়ার বরকতে হয়েছে।২
অতঃপর শায়খ আল-আহসায় সফর করেন:
শায়খ আব্দুর রহমান বিন হাসান বলেন: "অতঃপর আমাদের শায়খ 'রাহিমাহুল্লাহু তাআলা' বসরা সফরের পর আল-আহসায় সফর করেন, তারপর আল-আহসা থেকে পুনরায় বসরায় ফিরে আসেন।" ৩
আল-আহসায় শায়খ যাদের নিকট ইলম অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ আশ-শাফিয়ী আল-আহসায়ী। তিনি তাঁকে শায়খ আব্দুল বাকীর 'সাবাত'-এ বর্ণিত বিষয়াদির অনুমতি (ইজাযাহ) প্রদান করেন। এছাড়াও শায়খ আব্দুল্লাহ বিন ফিরোজ এবং অন্যদের সাথেও তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল।৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ١١)
ثم إن الشيخ في البصرة استمر على ما كان عليه من النصح والإرشاد، وبيان التوحيد الخالص، والتحذير مما يشو به من بدع وشركيات، مما لم يرق لأهل المصالح من علماء السوء وأعداء التوحيد الذين وشوا به عند ملأ البصرة وأعيانها فآذوه أشد الأذى وأخرجوه في وقت الهاجرة1.
قال ابن بشر: فلما خرج وتوسط في الدرب فيما بينها وبين بلد "الزبير" أدركه العطش، وأشرف على الهلاك، وكان ماشياً على رجليه وحده، فوافاه صاحب حمار مكارى يقال له أبو حميدان فسقاه وحمله على حماره حتى وصل "الزبير" 2.
ويذكر الشيخ عبد الرحمن بن حسن أن الشيخ خرج من البصرة إلى نجد قاصداً الحج فحج "رحمه الله"، فلما قضى حجه وقف في الملتزم وسأل الله أن يظهر هذا الدين بدعوته وأن يرزقه القبول من الناس، فخرج قاصداً المدينة مع الحجاج يريد الشام فعرض له بعض سراق الحجيج فضربوه وسلبوه، وأخذوا ما معه، وشجوا رأسه وعاقه ذلك عن مسيره مع الحجاج، فقدم المدينة بعد أن خرج الحاج منها ثم رجع منها إلى نجد3.
وعندما تيمم نجدا قصد بلدة حريملاء إذ كان أبوه قد انتقل إليها، فاستقر معه فيها بما حمله من علم سني جم من جراء تنقله خلال رحلاته العلمية، بين كثير من مراكز العلم في زمنه كالمدينة والبصرة والأحساء وغيرها.
وقبل هذه المرحلة وأثناءها أخذ الشيخ عن مشائخ فضلاء وعلماء أجلاء في نجد والمدينة والبصرة والأحساء، وحصل على إجازات منهم، وكتب كثيراً من كتب السنة وكتب ابن تيمية وابن القيم، وكان ينكر ما يراه مخالفاً للإسلام إنكاراً لفت الأنظار إليه، وجعله مستهدفاً بالأذى والإخراج
--------------------------------------------
অতঃপর শায়খ বসরায় নসিহত ও দিকনির্দেশনা প্রদান, বিশুদ্ধ তাওহীদের বর্ণনা এবং এর সাথে সংমিশ্রিত বিদআত ও শিরক সম্পর্কে সতর্ককরণের ওপর অবিচল থাকেন। এ বিষয়টি স্বার্থান্বেষী অসৎ আলেম এবং তাওহীদের শত্রুদের কাছে পছন্দনীয় হয়নি, যারা বসরার প্রভাবশালী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে। ফলে তারা তাঁকে চরমভাবে কষ্ট দেয় এবং দুপুরের তীব্র দাবদাহের সময় তাঁকে বের করে দেয়।
ইবনে বিশর বলেন: যখন তিনি সেখান থেকে বের হলেন এবং বসরা ও 'যুবায়ের' শহরের মধ্যবর্তী পথের মাঝামাঝি পৌঁছালেন, তখন তিনি ভীষণ তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায় মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে যান। তিনি পায়ে হেঁটে একাকী চলছিলেন। এমতাবস্থায় আবু হুমাইদান নামক একজন গাধার মালিক ও ভাড়াটে চালকের সাথে তাঁর দেখা হয়; তিনি তাঁকে পানি পান করান এবং নিজের গাধায় চড়িয়ে 'যুবায়ের' পর্যন্ত পৌঁছে দেন।
শায়খ আবদুর রহমান ইবনে হাসান উল্লেখ করেছেন যে, শায়খ বসরা থেকে নজদে হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এবং হজ্জ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) পালন করেন। হজ্জ শেষ করে তিনি মুলতাজামে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন আল্লাহ তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে এই দ্বীনকে বিজয়ী করেন এবং মানুষের কাছে তাঁকে গ্রহণযোগ্যতা দান করেন। এরপর তিনি হাজীদের সাথে মদিনার দিকে রওয়ানা হন এবং সিরিয়া যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। পথিমধ্যে হাজীদের ওপর আক্রমণকারী কিছু দস্যু তাঁর মুখোমুখি হয়; তারা তাঁকে মারধর করে, তাঁর মালামাল ছিনিয়ে নেয় এবং তাঁর মাথা জখম করে। এটি হাজীদের সাথে তাঁর পথচলায় বিঘ্ন ঘটায়। হাজীরা মদিনা ত্যাগ করার পর তিনি সেখানে পৌঁছান এবং এরপর সেখান থেকে নজদে ফিরে আসেন।
যখন তিনি নজদ অভিমুখে রওয়ানা হলেন, তখন হুরয়মিলা জনপদের দিকে মনস্থির করলেন; কারণ তাঁর পিতা সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। তিনি তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ সফরের মাধ্যমে অর্জিত প্রচুর সুন্নাহভিত্তিক ইলমসহ সেখানে তাঁর পিতার সাথে থিতু হন। সেই সময়ে তিনি মদিনা, বসরা, আল-আহসা এবং অন্যান্য জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রসমূহে সফর করেছিলেন।
এই পর্যায়ের আগে ও চলাকালীন সময়ে শায়খ নজদ, মদিনা, বসরা এবং আল-আহসার বহু ফযীলতপূর্ণ শায়খ ও মর্যাদাবান আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন এবং তাঁদের কাছ থেকে ইজাজত লাভ করেন। তিনি সুন্নাহর বহু কিতাব এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কাইয়্যিমের গ্রন্থাবলী লিপিবদ্ধ করেন। তিনি ইসলামের পরিপন্থী যা দেখতেন তার চরম প্রতিবাদ করতেন। তাঁর এই প্রতিবাদ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তাঁকে কষ্ট দেওয়া ও বহিষ্কারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ١٢)
كما حصل له في البصرة1.
وعندما استقر بالشيخ المقام في نجد لم تنقطع صلته بالعلم بل كان كما يذكر الشيخ عبد الرحمن بن عبد اللطيف يقرأ على والده، وبعد فراغه من القراءة يخلو بنفسه ويعكف على دراسة الكتاب والسنة وتفاسير علماء السلف الأجلاء وشروحهم بتدبر وإمعان، فبلغ رحمه الله الغاية القصوى، والطريقة المثلى في معرفة معاني الكتاب والسنة، واستنباط ما فيها من الأسرار الشرعية، والأحكام الدينية، وأكب معهما على مطالعة مؤلفات شيخ الإسلام ابن تيمية، وتلميذه ابن القيم، فأزداد بهما علماً وتحقيقاً وعرفاناً، وبصيرة في كتاب الله تعالى وإدراكاً لمعانيه وأسراره والاهتداء به في شئون الحياة2.
وفي هذه الفترة كان مستمراً على إنكار ما يفعله الجهال من البدعيات والشركيات في الأقوال والأفعال، حتى توفي والده سنة "1153" ثلاث وخمسين ومائه وألف من الهجرة النبوية. فحينئذ شمر عن ساعد الجد للقيام بدعوته الإصلاحية3.
--------------------------------------------
যেমনটি তাঁর ক্ষেত্রে বসরায় ঘটেছিল১।
যখন শায়খ নজদে স্থিতি লাভ করলেন, তখন ইলমের সাথে তাঁর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়নি। বরং শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল লতিফ যেমনটি উল্লেখ করেছেন, তিনি তাঁর পিতার নিকট পাঠ গ্রহণ করতেন। পাঠ সম্পন্ন করার পর তিনি একাকী নিভৃতে সময় কাটাতেন এবং গভীর অভিনিবেশ ও সূক্ষ্ম চিন্তার সাথে কুরআন, সুন্নাহ এবং বরেণ্য সালাফ উলামায়ে কেরামের তাফসীর ও ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ অধ্যয়নে নিমগ্ন হতেন। ফলে—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—তিনি কুরআন ও সুন্নাহর অর্থ অনুধাবনে এবং এগুলোর শরয়ী রহস্য ও দ্বীনী বিধানসমূহ উদ্ঘাটনে চরম শিখর ও সর্বোত্তম পদ্ধতিতে উপনীত হন। সেই সাথে তিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের রচনাবলী পাঠে একনিষ্ঠভাবে মনোনিবেশ করেন। এর ফলে তাঁর ইলম, তাহকীক, মা'রিফাত, মহান আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি, এর অর্থ ও রহস্য অনুধাবন এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে হিদায়াত লাভের দিশা আরও বৃদ্ধি পায়২।
এই সময়ে তিনি মূর্খদের দ্বারা সংঘটিত কথা ও কাজের অন্তর্ভুক্ত বিদআত ও শিরকসমূহের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন, যতক্ষণ না হিজরী ১১৫৩ সনে তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। সেই সময়ে তিনি তাঁর সংস্কারমূলক দাওয়াত পরিচালনার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেন৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ١٣)
رابعاً: نبذة عن سير دعوته والمراحل التى مرت بها:-
كان الشيخ "رحمه الله" في كل مكان حل فيه يبين التوحيد ودلائله من الكتاب والسنة وأقوال السلف لمن حوله وينكر ما يرى من الشركيات والبدع، وذلك لما علمه من منافاتها لما عليه سلف الأمة، ولما فيها من قدح في العقيدة الصحيحة أو منافاة لها.
ولما توفي والده استمر الشيخ في الدعوة إلى الله والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وجهر بذلك، وأخذ يقرره للعام والخاص، ويزجر من يرتكب شيئاً من المنكرات فذاع ذكره في جميع بلدان العارض، في حريملاء والعيينة والدرعية والرياض ومنفوحه، وصار له أنصار ومعارضون كما هي سنة الله تعالى الجارية في الصراع بين الحق والباطل1.
وكان في "حريملاء" عبيد كثر تعديهم وفسقهم، فأراد الشيخ أن يمنعوا، فتآمروا على قتله، وتسوروا عليه الجدار، فرآهم بعض أهل البلد فصاحوا بهم فهربوا ثم لما لم يجد الشيخ مناصرة ومؤازرة قوية توجه إلى "العيينة" وأميرها يومئذ عثمان بن حمد بن معمر فتلقاه بالإجلال والاحترام، فعرض عليه الشيخ دعوته، وبين له التوحيد، ورغبه فيه، فاتبعه وناصره، وألزم الخاصة والعامة أن يمتثلوا أمره2.
وكان في "العيينة" وما حولها كثير من القباب والمساجد والمشاهد المبنية على قبور الصحابة، وكثير من الأشجار التي يقدسونها ويتبركون بها.
فأمر الشيخ بتغيير تلك المنكرات، فخرج هو والأمير فقطعوا الأشجار، وهدموا المشاهد وعدلوا القبور على السنة3.
وهكذا استمرت الأمور على أحسن حال، فعلت كلمة الحق، وأحببت سنة المصطفى صلى الله عليه وسلم، وأقيمت الحدود وعاد للعقيدة صفاؤها وأثرها.
--------------------------------------------
চতুর্থত: তাঁর দাওয়াতি জীবন এবং এর পর্যায়সমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:-
শাইখ "রহিমাহুল্লাহ" যেখানেই অবস্থান করতেন, সেখানেই তাঁর চারপাশের মানুষের কাছে কিতাব, সুন্নাহ এবং সালাফদের বাণীর আলোকে তাওহিদ ও এর প্রমাণাদি বর্ণনা করতেন এবং যেসব শিরক ও বিদআত দেখতেন তা প্রতিহত করতেন। কারণ তিনি জানতেন যে এগুলো এই উম্মতের সালাফদের (পূর্বসূরিদের) পন্থার পরিপন্থী এবং সঠিক আকিদাহর জন্য ক্ষতিকর বা এর সাথে সাংঘর্ষিক।
যখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করলেন, শাইখ আল্লাহর পথে দাওয়াত এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ অব্যাহত রাখলেন এবং তা প্রকাশ্যে করতে লাগলেন। তিনি সাধারণ ও বিশিষ্ট সবার নিকট তাওহিদ প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করলেন এবং যারা কোনো অন্যায় কাজে লিপ্ত হতো তাদের কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। ফলে আরিজ অঞ্চলের সকল জনপদে তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল, যেমন: হুরয়মিলা, উয়াইনা, দিরইয়াহ, রিয়াদ এবং মানফুহায়। সত্য ও মিথ্যার চিরন্তন দ্বন্দ্বে মহান আল্লাহর শাশ্বত নিয়মানুযায়ী তাঁর যেমন অনেক সাহায্যকারী তৈরি হলো, তেমনি বিরোধিতাকারীও সৃষ্টি হলো।১
'হুরয়মিলা'-তে এমন অনেক ক্রীতদাস ছিল যাদের সীমালঙ্ঘন ও পাপাচার চরম আকার ধারণ করেছিল। শাইখ যখন তাদের এসব থেকে বিরত রাখতে চাইলেন, তখন তারা তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করল এবং দেয়াল টপকে তাঁর কাছে পৌঁছাল। কিন্তু এলাকার কিছু লোক তাদের দেখে চিৎকার শুরু করলে তারা পালিয়ে যায়। এরপর শাইখ যখন সেখানে জোরালো কোনো সাহায্য ও সমর্থন পেলেন না, তখন তিনি 'উয়াইনা'র দিকে রওয়ানা হলেন। সেখানকার তৎকালীন আমির উসমান ইবনে হামাদ ইবনে মুয়াম্মার তাঁকে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করলেন। শাইখ তাঁর নিকট দাওয়াত পেশ করলেন, তাওহিদ ব্যাখ্যা করলেন এবং এর প্রতি তাঁকে উদ্বুদ্ধ করলেন। ফলে তিনি শাইখের অনুসারী ও সাহায্যকারী হলেন এবং বিশিষ্ট ও সাধারণ সকল মানুষকে শাইখের আদেশ পালনে বাধ্য করলেন।২
'উয়াইনা' ও এর আশপাশে সাহাবীগণের কবরের ওপর নির্মিত অনেক গম্বুজ, মসজিদ ও মাজার ছিল এবং এমন অনেক গাছ ছিল যেগুলোকে তারা পবিত্র জ্ঞান করত এবং বরকত হাসিলের মাধ্যম মনে করত।
শাইখ সেসব অন্যায় ও বর্জনীয় কাজগুলো দূর করার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি ও আমির বের হলেন এবং গাছগুলো কেটে ফেললেন, মাজারগুলো ধ্বংস করলেন এবং সুন্নাহ অনুযায়ী কবরগুলোকে সমান করে দিলেন।৩
এভাবেই সবকিছু অত্যন্ত সুন্দরভাবে চলতে লাগল, সত্যের বাণী সমুন্নত হলো, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হলো, শরয়ি দণ্ডবিধি (হুদুদ) কায়েম হলো এবং আকিদাহ তার স্বচ্ছতা ও প্রভাব ফিরে পেল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ١٤)
وعاد الناس إلى كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وتدبرهما وتطبيقهما في واقع الحياة1.
فبم يرق ذلك لعلماء السوء وأرباب المصالح بل أنكرته قلوبهم، وما أنكرت إلا التوحيد وتطبيق القرآن، ولسان حالهم يقول: {أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهاً وَاحِداً إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} 2. فتألبوا على الإنكار عليه ومخاصمته ومحاربته، وإثارة الشبهات حول دعوته: {يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} 3. فكتبوا إلى علماء الأحساء والبصرة والحرمين يشوهون الحقائق، ويؤلبون على الشيخ ويغرون به العامة والخاصة، وخصوصاً الحكام، حتى وشوا به إلى حاكم الأحساء سليمان بن محمد بن غرير الحميدي4.
فكتب سليمان هذا إلى عثمان بن معمر يأمره بقتل الشيخ أو إجلائه عن بلده وشدد عليه، وهدده بقطع ما كان يبعث به إليه من خراج.
فلما ورد كتابه على عثمان عظم الأمر في عينه، وعز عليه مخالفة أمير الأحساء، فأمر الشيخ بالخروج من العيينة5.
فخرج الشيخ منها محفوفاً برعاية الله سنة سبع أو ثمان وخمسين ومائة وألف، وتوجه إلى الدرعية، حيث كان له أنصار وتلاميذ، فنزل أول ليلة على عبد الله بن سويلم ثم انتقل في اليوم التالي إلى دار تلميذه الشيخ: أحمد بن سويلم6.
--------------------------------------------
মানুষ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর দিকে এবং জীবনবাস্তবতায় সেগুলোর অনুধাবন ও প্রয়োগের দিকে ফিরে এল ১।
কিন্তু অসৎ আলেম ও স্বার্থান্বেষী মহলের কাছে তা কেন পছন্দনীয় হবে? বরং তাদের অন্তরসমূহ তা অস্বীকার করল। তারা তো কেবল তাওহীদ ও কুরআনের প্রয়োগকেই অস্বীকার করল। তাদের অবস্থা এমন ছিল যেন তারা বলছিল: {সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে এক উপাস্য নির্ধারণ করেছে? নিশ্চয়ই এটি এক আশ্চর্যজনক বিষয়!} ২। অতঃপর তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁর বিরোধিতা, শত্রুতা ও তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলো এবং তাঁর দাওয়াতের বিষয়ে নানাবিধ সংশয় ছড়াতে লাগল: {তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, আর আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করবেন, যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে} ৩। তারা আল-আহসা, বসরা ও হারামাইনের আলেমদের কাছে সত্যকে বিকৃত করে পত্র লিখল এবং শেখের বিরুদ্ধে প্ররোচনা দিতে লাগল। তারা সাধারণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের, বিশেষ করে শাসকদের তাঁর বিরুদ্ধে প্রলুব্ধ করল। এমনকি তারা আল-আহসার শাসক সুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন গুরইর আল-হুমাইদীর কাছে তাঁর নামে নালিশ করল ৪।
অতঃপর এই সুলাইমান উসমান বিন মুয়াম্মারের কাছে শেখকে হত্যা করার অথবা তাকে তার দেশ থেকে বহিষ্কার করার নির্দেশ দিয়ে পত্র লিখল। সে তার ওপর কঠোরতা আরোপ করল এবং তাকে যে খাজনা পাঠানো হতো তা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিল।
যখন উসমানের কাছে সেই পত্র পৌঁছাল, তখন বিষয়টি তার কাছে গুরুতর হয়ে দেখা দিল। আল-আহসার আমিরের বিরোধিতা করা তার কাছে দুঃসাধ্য মনে হলো। ফলে সে শেখকে উইয়াইনা থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিল ৫।
অতঃপর শেখ আল্লাহর বিশেষ হেফাজতে এক হাজার একশত সাতান্ন বা আটান্ন হিজরি সালে সেখান থেকে বের হলেন এবং দিরইয়ার অভিমুখে যাত্রা করলেন। সেখানে তাঁর অনেক সাহায্যকারী ও ছাত্র ছিল। প্রথম রাতে তিনি আব্দুল্লাহ বিন সুয়াইলামের নিকট অবস্থান করলেন, অতঃপর পরদিন তাঁর ছাত্র শেখ আহমদ বিন সুয়াইলামের বাড়িতে স্থানান্তরিত হলেন ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ١٥)
فلما سمع أميرها الإمام محمد بن سعود بذلك، وشرح الله صدره لنصرة التوحيد قام مسرعاً فأتى الشيخ في بيت أحمد بن سويلم فسلم عليه ورحب به وقال: أبشر ببلاد خير من بلادك، وأبشر بالعز والمنعة.
فقال الشيخ:- وأنا أبشرك بالعز والتمكين، وهذه كلمة "لا إله إلا الله" من تمسك بها، وعمل بها ونصرها ملك بها البلاد والعباد، وهي كلمة التوحيد، وأول ما دعت إليه الرسل من أولهم إلى آخرهم.
وبين له ما كان عليه الرسول "صلى الله عليه وسلم"، وما دعا إليه، وما كان عليه صحابته "رضي الله عنهم أجمعين" من بعده، وما أمروا به، وما نهوا عنه، وأن كل بدعة ضلاله، وما أمرهم الله به من الجهاد في سبيله وأغناهم به وجعلهم إخوانا.
ثم أخبره بما عليه أهل نجد في زمنه من مخالفة لشرع الله بالشرك به تعالى والبدع والاختلاف، وإعراض عن القرآن وتفهمه والعمل به.
فتحقق الإمام معرفة التوحيد، وعاهد الشيخ على النصرة والتأييد، فهيأ الله لهذه الدعوة المباركة قوة السنان والسلطان، كما هيأ لها قوة الإيضاح والبيان1.
فقام الشيخ بالدعوة إلى الله بلسانه وبيانه معلماً، وواعظاً، ومدرساً، وبقلمه مؤلفاً، ومكاتباً، وبنفسه مجاهداً في سبيل الله، نصرة لدينه وإعلاء لكلمته، يؤازره هذا الإمام الراشد وأعوانه حتى آتت هذه الدعوة المباركة ثمارها، وعاد للعقيدة صفاؤها ودورها في الحياة فاستبان الناس الحق ووضح لهم الصواب وانكشفت عنهم غياهب الجهل والشك والارتياب.
وعادوا إلى كتاب ربهم وسنة نبيهم صلى الله عليه وسلم قراءةً وتفهماً وتدبراً وإستنباطاً واستدلالاً واهتداءً بهما.
وما تزال هذه الدعوة المباركة تؤتي ثمارها كل حين بإذن ربها منتشرة
--------------------------------------------
যখন সেখানকার আমির ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সউদ এ সম্পর্কে শুনলেন এবং আল্লাহ তাওহিদকে সাহায্য করার জন্য তাঁর অন্তর উন্মুক্ত করে দিলেন, তখন তিনি দ্রুত পদক্ষেপে আহমদ ইবনে সুয়াইলামের বাড়িতে শাইখের নিকট আসলেন। তিনি তাঁকে সালাম দিলেন, স্বাগত জানালেন এবং বললেন: "আপনার নিজ ভূখণ্ডের চেয়েও উত্তম এক ভূখণ্ডের সুসংবাদ গ্রহণ করুন এবং সম্মান ও নিরাপত্তার সুসংবাদ নিন।"
শাইখ বললেন: "আমিও আপনাকে সম্মান ও প্রতিষ্ঠার সুসংবাদ দিচ্ছি। আর এটি হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই) বাণী; যে ব্যক্তি একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, এর ওপর আমল করবে এবং একে সাহায্য করবে, সে এর মাধ্যমে দেশ ও জাতির ওপর কর্তৃত্ব লাভ করবে। এটিই তাওহিদের বাণী এবং প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল রাসুল সর্বপ্রথম এরই দাওয়াত দিয়েছেন।"
তিনি তাঁর নিকট রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শ, তিনি যে দিকে দাওয়াত দিয়েছেন এবং তাঁর পরে সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) যে আদর্শের ওপর ছিলেন, তাঁরা যা আদেশ করেছেন ও যা নিষেধ করেছেন তা বর্ণনা করলেন। আর এও বর্ণনা করলেন যে, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা। এছাড়া আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর পথে জিহাদ করার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁদের অভাবমুক্ত করেছিলেন এবং তাঁদেরকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন, তাও বর্ণনা করলেন।
অতঃপর তিনি তাঁকে তাঁর সমসাময়িক নজদবাসীর অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করলেন—কিভাবে তারা মহান আল্লাহর সাথে শিরক, বিদআত ও অনৈক্যের মাধ্যমে আল্লাহর শরিয়তের বিরোধিতা করছিল এবং কুরআন পাঠ, অনুধাবন ও তার ওপর আমল করা থেকে বিমুখ ছিল।
ফলে ইমামের মধ্যে তাওহিদের যথার্থ জ্ঞান অর্জিত হলো এবং তিনি শাইখকে সাহায্য ও সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেন। আল্লাহ এই বরকতময় দাওয়াতের জন্য তলোয়ার ও ক্ষমতার শক্তি প্রস্তুত করে দিলেন, যেমন তিনি এর জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা ও ব্যাখ্যার শক্তিও তৈরি করে দিয়েছিলেন।১
অতঃপর শাইখ শিক্ষক, ওয়ায়েজ ও মুদাররিস হিসেবে তাঁর মুখ ও লেখনীর মাধ্যমে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের কাজ শুরু করলেন; লেখক ও পত্রপ্রেরক হিসেবে তাঁর কলম ব্যবহার করলেন এবং আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য ও তাঁর বাণীকে সমুন্নত করার লক্ষে আল্লাহর পথে স্বয়ং জিহাদে লিপ্ত হলেন। এই হেদায়েতপ্রাপ্ত ইমাম ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিলেন, যতক্ষণ না এই বরকতময় দাওয়াত ফলপ্রসূ হলো। এর ফলে আকিদাহ তার স্বচ্ছতা ও জীবনে তার ভূমিকা ফিরে পেল। মানুষ সত্যকে স্পষ্টভাবে চিনতে পারল, তাদের কাছে সঠিক পথ স্পষ্ট হয়ে উঠল এবং তাদের থেকে অজ্ঞতা, সন্দেহ ও সংশয়ের অন্ধকার দূরীভূত হলো।
তারা তাদের রবের কিতাব এবং তাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর দিকে পঠন, অনুধাবন, গবেষণা, মাসয়ালা উদ্ভাবন, দলিল গ্রহণ ও এ দুটির মাধ্যমে হেদায়েত লাভের উদ্দেশ্যে ফিরে আসল।
আর এই বরকতময় দাওয়াত তার রবের নির্দেশে সর্বদা তার ফল দান করে যাচ্ছে এবং সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ١٦)
في الأفاق، ملاقية القبول عند كل من عرف حقيقتها، وتجرد عن الهوى إذ ليست هي إلا الدعوة إلى دين الله الخالص الخالي من كل البدع والشوائب فالحمد لله على فضله وإحسانه، وجزى الله الدعاة إليها ومناصريهم وأتباعهم بإحسان خير الجزاء.
চতুর্দিকে এটি সেই প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে, যে এর প্রকৃত হাকিকত চিনেছে এবং প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত হয়েছে; কেননা এটি যাবতীয় বিদআত ও আবিলতা মুক্ত আল্লাহর খাঁটি দ্বীনের প্রতি আহ্বান ছাড়া আর কিছুই নয়। সুতরাং আল্লাহর অনুগ্রহ ও ইহসানের জন্য তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা; আর আল্লাহ এর দাঈগণ, তাঁদের সাহায্যকারীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ١٧)
خامساً:- علاقة دعوته بالقرآن الكريم وتفسيره 1:
إن علاقة دعوة الشيخ بالقرآن الكريم علاقة تلازم وارتباط، فلا يمكن أن تنفك عنه أبداً، وذلك أنها دعوة سلفية سنية، ومن المعلوم أنه من مقتضيات ذلك ولوازمه، بل من أساسياته ومما لا تكون الدعوة سلفية إلا به الاعتماد على كتاب الله تعالى، والإيمان به هدى وبياناً، ومنهجاً وبرهاناً، فهي دعوة نابعة من القرآن وداعية إليه. فلذا كتب لها البقاء والذيوع والانتشار لإيوائها إلى هذا الركن الشديد.
فيجد الناظر- بكل وضوح- أن حامل لواء هذه الدعوة ارحمه الله يحث دائماً على النظر في كتاب الله تعالى وتدبرّه، والاهتداء بهديه، والتزود منه والاعتماد عليه، وينزله المنزلة العظمى معتقداً ومنهجاً، جملة وتفصيلاً.
- ويرى أنه هدى يعتصم به من الضلالة، ورحمة يعتصم به من الهلكة، فلا يضل من اتبعه ولا يشقى، وأنه يفصل الأمور أي يبينها ويوضحها، وأنه كاف عما سواه من الكتب2، وقد ترجم في كتاب "فضل الإسلام" بـ "باب وجوب الاستغناء بمتابعته" يعني القرآن3.
فلذا كله- وغيره مما ذكر كثير من هذا القبيل- يحث على معرفة تفسيره وفهم معانيه وتدبره، وأن يكون أعظم ما عند المسلم في غير ما موضع. من تفسيره، وكتبه، وفتاواه، ورسائله يعرف ذلك من ألقى عليها نظرة ولو سطحية عابرة.
- فمن حثه على تأمل القرآن قوله: "فيجب على كل إنسان يخاف الله والنار أن يتأمل كلام ربه الذي خلقه، هل يحصل4 لأحد من الناس أن يدين الله بغير
--------------------------------------------
পঞ্চম:- পবিত্র কুরআন এবং এর তাফসিরের সাথে তাঁর দাওয়াতের সম্পর্ক ১:
শায়খের দাওয়াতের সাথে পবিত্র কুরআনের সম্পর্ক হলো অবিচ্ছেদ্য ও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত সম্পর্ক, যা কখনোই তা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। কারণ, এটি একটি সালাফি সুন্নি দাওয়াত। আর এটা সুবিদিত যে, এর অন্যতম দাবি ও আবশ্যকীয় শর্ত, বরং এর মৌলিক ভিত্তি হলো আল্লাহর কিতাবের ওপর নির্ভর করা—যার ওপর ভিত্তি না করলে দাওয়াত সালাফি হতে পারে না—এবং একে হিদায়াত ও সুস্পষ্ট বর্ণনা, জীবনপদ্ধতি ও দলিল হিসেবে বিশ্বাস করা। সুতরাং এটি কুরআন থেকে উৎসারিত এবং কুরআনের দিকেই আহ্বানকারী এক দাওয়াত। একারণেই এটি টিকে থাকার স্থায়িত্ব, ব্যাপক খ্যাতি এবং প্রচার লাভ করেছে, যেহেতু এটি এক সুদৃঢ় স্তম্ভের আশ্রয় গ্রহণ করেছে।
যে কেউ লক্ষ্য করলে স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন যে, এই দাওয়াতের পতাকাবাহী—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—সর্বদাই মহান আল্লাহর কিতাব পাঠ এবং এতে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা (তদাব্বুর) করার, এর হিদায়াত দ্বারা পথ প্রদর্শন করার, এ থেকে পাথেয় সংগ্রহ করার এবং এর ওপর নির্ভর করার জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি একে বিশ্বাস এবং কর্মপদ্ধতি হিসেবে সামগ্রিকভাবে ও বিস্তারিতভাবে সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন।
তিনি মনে করেন যে, এটি এমন এক হিদায়াত যা গোমরাহি থেকে রক্ষা করে এবং এমন এক রহমত যা ধ্বংস থেকে বাঁচায়। ফলে যে এর অনুসরণ করবে সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। এটি সকল বিষয়কে ফয়সালা করে অর্থাৎ তা বর্ণনা করে এবং সুস্পষ্ট করে দেয়। আর অন্যান্য কিতাব বাদ দিয়ে এটিই যথেষ্ট২। তিনি "ফাদলুল ইসলাম" গ্রন্থে "এর (অর্থাৎ কুরআনের) অনুসরণের মাধ্যমে অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী না হওয়া ওয়াজিব হওয়ার অধ্যায়" শিরোনাম দিয়েছেন৩।
এসব কারণে—এবং এই জাতীয় আরও অনেক কারণের জন্য—তিনি কুরআনের তাফসির জানা, এর অর্থ অনুধাবন করা এবং এতে চিন্তা-গবেষণা করার প্রতি এবং একজন মুসলিমের নিকট যেন এটিই সবচেয়ে মহান বিষয় হয়, সে বিষয়ে বিভিন্ন স্থানে উৎসাহিত করেছেন। তাঁর তাফসির, বইপত্র, ফতোয়া এবং চিঠিপত্র থেকে যে কেউ সামান্যতম চোখ বুলালেই তা জানতে পারবেন।
কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তার প্রতি তাঁর উৎসাহ প্রদানের অন্যতম উদাহরণ হলো তাঁর এই উক্তি: "আল্লাহকে এবং জাহান্নামকে ভয় করে এমন প্রত্যেক মানুষের জন্য উচিত তার রবের কালাম নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন। কোনো মানুষের পক্ষে কি এটা সম্ভব৪ যে সে আল্লাহকে মানবে অন্য কিছুর মাধ্যমে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ١٨)
دين النبي صلى الله عليه وسلم. لقوله تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى} الآية1، ودين النبي "صلى الله عليه وسلم" التوحيد، وهو معرفة "لا اله إلا الله محمد رسول الله" والعمل بمقتضاهما2.
- ومن ذلك أيضاً إشارته على من قبل نصيحته من إخوانه ألا يصير في قلبه أجل من كتاب الله، ويظن أن القراءة فيه أجل من قراءة القرآن3.
واعتماد الشيخ على القرآن في دعوته ظاهر جلي كما قلت تصريحاً واستقراء.
- ومن ذلك أنه يدعو من يخالفه إلى التحاكم لكتاب الله كقوله: وأنا أدعو من خالفني إلى أحد أربع: إما إلى كتاب الله، وإما إلى سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإما إلى إجماع أهل العلم، فإن عاند دعوته إلى المباهله
… 4.
- وقوله: والقائل إنه يطلب الشفاعة- أي من النبي صلى الله عليه وسلم مباشرة- بعد موته يورد علينا الدليل من كتاب الله أو من سنة رسول الله أو من إجماع الأمة والحق أحق أن يتبع5.
- ومن الأمثلة الظاهرة على ارتكاز الدعوة على القرآن، وفهم تفسيره ومعانيه، والتزود به، قول الشيخ في وصيته العامة إلى من يصل إليه من المسلمين: وقد يكون لأعداء التوحيد علوم كثيرة وكتب وحجج كما قال تعالى: {فَلَمَّا جَاءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَرِحُوا بِمَا عِنْدَهُمْ مِنَ الْعِلْمِ} 6، فإذا عرفت ذلك، وعرفت أن الطريق إلى الله لابد له من أعداء قاعدين عليه أهل فصاحة وعلم وحجج كما قال تعالى: {وَلا تَقْعُدُوا بِكُلِّ صِرَاطٍ تُوعِدُونَ وَتَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} الآية7
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দীন। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর যে ব্যক্তি তার নিকট হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরে যেতে চায়} আয়াত ১। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দীন হলো তাওহীদ, আর তা হলো "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ"-এর জ্ঞান অর্জন করা এবং এ দুটির দাবি অনুযায়ী আমল করা ২।
- এর মধ্যে আরও রয়েছে তাঁর সেই সকল ভাইদের প্রতি তাঁর ইঙ্গিত যারা তাঁর নসিহত গ্রহণ করেছেন, যেন তাদের অন্তরে আল্লাহর কিতাবের চেয়ে বড় অন্য কিছু না হয় এবং তারা যেন এমন মনে না করে যে, অন্য কিছু পাঠ করা কুরআনের পাঠের চেয়ে অধিক মহান ৩।
শাইখের দাওয়াতের ক্ষেত্রে কুরআনের ওপর তাঁর নির্ভরতা অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রকট, যেমনটি আমি বর্ণনা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে বলেছি।
- এর মধ্যে এটিও অন্তর্ভুক্ত যে, তিনি তাঁর বিরোধিতাকারীদের আল্লাহর কিতাবের ফয়সালার দিকে আহ্বান জানাতেন, যেমন তাঁর উক্তি: "আমি আমার বিরোধিতাকারীকে চারটি বিষয়ের যেকোনো একটির দিকে আহ্বান জানাই: হয় আল্লাহর কিতাবের দিকে, অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর দিকে, অথবা আহলুল ইলমের ইজমার (ঐক্যমতের) দিকে। যদি সে জেদ করে, তবে আমি তাকে মুবাহালার (পরস্পরকে অভিশাপ দেওয়ার) আহ্বান জানাই
... ৪।"
- এবং তাঁর উক্তি: "যে ব্যক্তি বলে যে সে শাফাআত প্রার্থনা করে—অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর সরাসরি তাঁর নিকট থেকে—সে যেন আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব থেকে বা রাসূলুল্লাহর সুন্নাহ থেকে বা উম্মতের ইজমা থেকে প্রমাণ উপস্থাপন করে। আর সত্যই অনুসরণযোগ্য হওয়ার অধিক যোগ্য ৫।"
- দাওয়াতের ভিত্তি হিসেবে কুরআনকে গ্রহণ করা, এর তাফসীর ও অর্থ অনুধাবন করা এবং এর দ্বারা পাথেয় সংগ্রহের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো সেই মুসলিমদের প্রতি শাইখের সাধারণ ওসিয়ত যেখানে এটি পৌঁছাবে: "কখনও কখনও তাওহীদের শত্রুদের কাছে অনেক জ্ঞান, কিতাব এবং দলীল থাকতে পারে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর যখন তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আসলেন, তখন তারা তাদের নিকট যে জ্ঞান ছিল তা নিয়ে উল্লাস করতে লাগল} ৬। আপনি যখন এটি জানবেন এবং এটিও জানবেন যে, আল্লাহর পথের দিকে অগ্রসর হতে গেলে অবশ্যই পথে বাগ্মীতা, জ্ঞান ও দলীলধারী শত্রুরা ওঁৎ পেতে থাকবে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং তোমরা প্রতিটি পথে এই ভয় দেখানোর জন্য এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেওয়ার জন্য বসে থেকো না} আয়াত ৭।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ١٩)
فالواجب عليك أن تعلم من دين الله ما يصير لك سلاحاً تقاتل به هؤلاء الشياطين الذين قال إمامهم ومقدمهم لربك عز وجل: {لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ ثُمَّ لَآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ} 1. ولكن إذا أقبلت على الله وأصغيت إلى حجج الله وبيناته فلا تخف ولا تحزن: {إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفاً} 2. والعامي من الموحدين يغلب ألفاً من علماء المشركين، كما قال تعالى: {وَإِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ} 3، فجند الله هم الغالبون بالحجة واللسان، كما أنهم الغالبون بالسيف والسنان، وإنما الخوف على الموحد الذي يسلك الطريق وليس معه سلاح، وقد من الله علينا بكتابه الذي جعله تبياناً لكل شيء وهدى ورحمة وبشرى للمسلمين، فلا يأتي صاحب باطل بحجة إلا وفي القرآن ما ينقضها ويبين بطلانها كما قال تعالى: {وَلا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيراً} 4، قال بعض المفسرين: هذه الآية عامة في كل حجة يأتي بها أهل الباطل إلى يوم القيامة.
ثم يقول: ومن أعجب ما جرى من الرؤساء المخالفين أني لما بينت لهم كلام الله وما ذكر أهل التفسير في قوله تعالى: {أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ} الآية5، وقوله: {وَيَقُولُونَ هَؤُلاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّه} 6، وقوله: {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} 7، وما ذكر الله من إقرار الكفار في قوله: {قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَمَّنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ} الآية8 وغير ذلك. قالوا القرآن لا يجوز العمل به لنا ولأمثالنا ولا بكلام الرسول ولا بكلام المتقدمين
… إلى آخر ما ذكر "رحمه الله" 9.
--------------------------------------------
অতএব আল্লাহর দ্বীন থেকে তোমার যা জানা আবশ্যক, তা তোমার জন্য এমন এক অস্ত্র হবে যার মাধ্যমে তুমি ঐসব শয়তানদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে, যাদের ইমাম ও নেতা তোমার মহান রবের উদ্দেশ্যে বলেছিল: "আমি অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে ওত পেতে বসে থাকব। অতঃপর আমি তাদের নিকট আসব তাদের সামনের দিক থেকে, তাদের পেছনের দিক থেকে, তাদের ডান দিক থেকে এবং তাদের বাম দিক থেকে; আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।" ১। কিন্তু তুমি যখন আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট হবে এবং আল্লাহর প্রমাণাদি ও উজ্জ্বল নিদর্শনাবলির প্রতি কর্ণপাত করবে, তখন তুমি ভয় পেয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না: "নিশ্চয়ই শয়তানের চক্রান্ত অত্যন্ত দুর্বল।" ২। আর একজন সাধারণ তাওহীদপন্থী ব্যক্তি হাজারো মুশরিক আলেমের ওপর বিজয়ী হতে পারে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর নিশ্চয়ই আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী।" ৩। সুতরাং আল্লাহর বাহিনীই দলীল ও বাচনিক যুদ্ধে বিজয়ী, যেমনটি তারা তলোয়ার ও বর্শার যুদ্ধেও বিজয়ী। ভয়ের কারণ কেবল সেই তাওহীদপন্থীর জন্য যে পথ চলে অথচ তার কাছে কোনো অস্ত্র নেই। আর আল্লাহ তাঁর কিতাবের মাধ্যমে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যাকে তিনি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ করেছেন। সুতরাং কোনো বাতিলপন্থী ব্যক্তি এমন কোনো দলীল নিয়ে আসতে পারে না, যার খণ্ডন ও অসারতা পবিত্র কুরআনে বিদ্যমান নেই; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "তারা তোমার কাছে এমন কোনো দৃষ্টান্তই নিয়ে আসে না, যার সঠিক সমাধান ও সুন্দরতম ব্যাখ্যা আমি তোমাকে দান করি না।" ৪। কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন: এই আয়াতটি কিয়ামত পর্যন্ত বাতিলপন্থীদের আনীত প্রতিটি দলীলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
অতঃপর তিনি বলেন: বিরোধী নেতাদের পক্ষ থেকে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, যখন আমি তাদের কাছে আল্লাহর কালাম এবং মুফাসসিরগণের বক্তব্য ব্যাখ্যা করলাম মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে: "তারা যাদেরকে আহ্বান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের রবের নৈকট্য লাভের মাধ্যম তালাশ করে যে, তাদের মধ্যে কে কত নিকটতর হতে পারে।" ৫, এবং তাঁর বাণী: "তারা বলে, এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী।" ৬, এবং তাঁর বাণী: "আমরা তো এদের ইবাদত কেবল এজন্যই করি যেন এরা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়।" ৭, এবং কাফেরদের স্বীকারোক্তি সম্পর্কে আল্লাহ যা উল্লেখ করেছেন এই বাণীতে: "আপনি বলুন, কে তোমাদের আসমান ও জমিন থেকে রিযিক দান করেন? অথবা শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির মালিক কে?" ৮ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়সমূহ। তারা বলল, কুরআন অনুযায়ী আমল করা আমাদের বা আমাদের মতো লোকদের জন্য বৈধ নয়, রাসূলের বাণী বা পূর্ববর্তী ইমামদের বাণী অনুযায়ীও নয়
... "আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন" কর্তৃক উল্লিখিত বর্ণনার শেষ পর্যন্ত ৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
- ومن حثه أيضاً على التمعن في كتاب الله، وفهم التوحيد منه قوله: "قيل: إن أول آية نزلت قوله سبحانه بعد إقرأ: {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنْذِرْ} 1 قف عندها ثم قف ثم قف ترى العجب العجيب، ويتبين لك ما أضاع الناس من أصل الأصول، وكذلك قوله تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً} الآية2، وكذلك قوله تعالى: {أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ} الآية3، وكذلك قوله تعالى: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَاباً مِنْ دُونِ اللَّهِ} الآية4، وغير ذلك من النصوص الدالة على حقيقة التوحيد
… 5.
- وبمقابل ذلك نجد أن الشيخ "رحمه الله" يذم فن يتبع غير كتاب الله ويعرض عنه فيقول عند قول الله تعالى: {وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُوا الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ} الآية6:كون أناس من أهل الكتاب إذا وقعت المسألة وأرادوا إقامة الدليل عليها تركوا كتاب الله7.
ويقول ذاماً لكتب علم الكلام:
… مع أنك إذا طالعت في كتاب من كتب الكلام مع كونه يزعم أن هذا- أي الإيمان بتوحيد الأسماء والصفات وتنزيه الله تعالى- واجب على كل أحد، وهو أصل الدين تجد الكتاب من أوله إلى آخره لا يستدل على مسألة منه بآية من كتاب الله ولا حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم اللهم إلا أن يذكره ليحرفه عن مواضعه8.
كما يذم ذماً بالغاً- في غير موضع- الذين يحجرون على أنفسهم ويعرضون عن القرآن بحجة أنه لا يفهمه إلا المجتهد، ولذا حرموا الهدى والعياذ بالله9.
وكل ما تقدم- وغيره كثير- إنما هو في بيان علاقة دعوته بالقرآن وتفسيره من خلال نصوصه وتصريحه، وأما إذا ما نظرت إلى كتبه ومؤلفاته
--------------------------------------------
- আল্লাহর কিতাব নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা এবং তা থেকে তাওহীদ বোঝার ব্যাপারে তাঁর উৎসাহ প্রদানের অন্যতম হলো তাঁর এই উক্তি: "বলা হয়েছে: 'ইকরা' পাঠের পর সর্বপ্রথম যে আয়াতটি নাজিল হয়েছে তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন এবং সতর্ক করুন} ১। এখানে থামুন, তারপর আবার থামুন, তারপর আরও একবার থামুন; আপনি বিস্ময়কর এক ব্যাপার দেখতে পাবেন এবং আপনার নিকট স্পষ্ট হবে যে, মানুষ 'মৌলিক বিষয়সমূহের মূল' (আসলুল উসুল) থেকে কী হারিয়েছে। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির মধ্যে একজন রাসূল পাঠিয়েছি...} ২, এবং তাঁর বাণী: {আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে?} ৩, এবং তাঁর বাণী: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সন্ন্যাসীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে} ৪, এবং তাওহীদের প্রকৃত স্বরূপ নির্দেশকারী এ জাতীয় অন্যান্য পাঠসমূহ
… ৫।
- এর বিপরীতে আমরা দেখতে পাই যে শায়খ 'রহিমাহুল্লাহ' সেই শাস্ত্রের নিন্দা করেছেন যা আল্লাহর কিতাব ছাড়া অন্য কিছুর অনুসরণ করে এবং তা থেকে বিমুখ থাকে। মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা তা অনুসরণ করেছিল যা শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বকালে পাঠ করত} ৬—এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন: আহলে কিতাবদের একদল লোকের অবস্থা এমন ছিল যে, যখন কোনো মাসআলা উপস্থিত হতো এবং তারা সে বিষয়ে প্রমাণ পেশ করতে চাইত, তখন তারা আল্লাহর কিতাব বর্জন করত ৭।
তিনি ইলমুল কালামের (তত্ত্বীয় ধর্মতত্ত্ব) কিতাবসমূহের নিন্দা করে বলেন:
… অথচ আপনি যদি ইলমুল কালামের কোনো কিতাব পাঠ করেন—যদিও লেখক দাবি করেন যে এটি তথা নাম ও গুণাবলীর তাওহীদের প্রতি ঈমান আনা এবং মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করা প্রত্যেকের জন্য ওয়াজিব এবং এটিই দ্বীনের মূল—তথাপি আপনি কিতাবটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো একটি মাসআলাতেও আল্লাহর কিতাবের কোনো আয়াত বা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করতে দেখবেন না। তবে হ্যাঁ, যদি তারা তা উল্লেখ করে তবে তা কেবল তার সঠিক অর্থ থেকে বিকৃত করার জন্যই করে ৮।
অনুরূপভাবে তিনি বিভিন্ন স্থানে তাদের কঠোর নিন্দা করেছেন যারা নিজেদের ওপর সংকীর্ণতা আরোপ করে এবং কুরআন থেকে বিমুখ থাকে এই অজুহাতে যে, 'মুজতাহিদ' ছাড়া কেউ এটি বুঝতে পারে না; আর এ কারণেই তারা হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হয়েছে, আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই ৯।
উপরে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে এবং এ ছাড়া আরও অনেক কিছু—তা মূলত তাঁর দাওয়াতের সাথে কুরআনের সম্পর্ক এবং তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে কুরআনের তাফসীর বর্ণনারই বহিঃপ্রকাশ। আর যদি আপনি তাঁর গ্রন্থ ও রচনাবলীর দিকে দৃষ্টিপাত করেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তাফসীর
(পৃষ্ঠা: ٢١)
واستقرأت موضوعاتها فإنك تجدها مليئة بالاستدلال بكتاب الله عز وجل وتفسيره.
فانظر مثلاً إلى أعظم مؤلفاته وهو "كتاب التوحيد" تجده مشحوناً بالاستدلال بالآيات القرآنية، بل بالترجمة بها أحياناً والاستنباط منها كما يظهر من المسائل في آخر كل باب وكذا الحال في بقية كتبه ورسائله كرسالة "كشف الشبهات" و "القواعد الأربع" إذ استدل على كل قاعدة منها بآية قرآنية وكذا الأصول الثلاثة وغيرها مما يتبين به حقيقة الأمر، وأن دعوته رحمه الله مرتكزة على كتاب الله ونابعة منه ومحيلة إليه وإلى تفسير السلف لمعانيه وبيان فوائده وأحكامه.
فلا غرو إذاً أن يهتم هو بتفسير بعض السور والآيات، ويركز جل اهتمامه على تفسير الآيات المتعلقة بالعقيدة مباشرة، وإن كان القرآن كله مقرراً للعقيدة ومبيناً لها.
আপনি যদি এর বিষয়বস্তুসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন, তবে সেগুলোকে মহামহিম আল্লাহর কিতাব এবং এর তাফসির থেকে নেওয়া দলিলাদিতে ভরপুর পাবেন।
উদাহরণস্বরূপ, তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ রচনা 'কিতাবুত তাওহীদ'-এর দিকে তাকালে দেখতে পাবেন যে এটি কুরআনের আয়াতসমূহের দলিলাদিতে ঠাসা; এমনকি কখনো কখনো আয়াতগুলোকেই অধ্যায়ের শিরোনাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেগুলো থেকে মাসআলা উদ্ভাবন করা হয়েছে, যেমনটি প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে উল্লিখিত মাসআলাগুলো থেকে স্পষ্ট হয়। তাঁর অন্যান্য কিতাব ও রিসালাহ যেমন 'কাশফুশ শুবুহাত' এবং 'আল-কাওয়ায়িদুল আরবা'-এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যেখানে তিনি প্রতিটি মূলনীতির সপক্ষে কুরআনের আয়াত থেকে দলিল পেশ করেছেন। অনুরূপভাবে 'আল-উসুলুস সালাসা' এবং অন্যান্য রচনার ক্ষেত্রেও এটি স্পষ্ট হয় যে, তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) দাওয়াত আল্লাহর কিতাবের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, তা থেকেই উৎসারিত এবং এটি আল্লাহর কিতাব ও তার অর্থসমূহের ক্ষেত্রে সালাফদের তাফসির এবং এর উপকারিতা ও বিধানাবলির ব্যাখ্যার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।
সুতরাং এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, তিনি কিছু সূরা ও আয়াতের তাফসিরের প্রতি গুরুত্বারোপ করবেন এবং তাঁর অধিকাংশ মনোযোগ সরাসরি আকিদাহ সম্পর্কিত আয়াতসমূহের ব্যাখ্যার ওপর নিবদ্ধ করবেন, যদিও পুরো কুরআনই আকিদাহ সাব্যস্তকারী এবং এর বর্ণনাকারী।