(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: -)
منهج شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب في التأليف القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: منهج شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب في التأليف
المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر
الناشر: *
الطبعة: الأولى، 1425هـ/2004م
عدد الصفحات: 46
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
গ্রন্থ রচনায় শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাবের পদ্ধতি বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: গ্রন্থ রচনায় শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাবের পদ্ধতি
লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বদর
প্রকাশক: *
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি/২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণের সাথে মিল রয়েছে]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ৩)
منهج شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب في التأليف
إعداد: عبد المحسن بن حمد العباد البدربسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله ربِّ العالَمين، وصلَّى الله وسلَّم وبارك على عبده ورسوله نبيِّنا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.
أمَّا بعد، فإنَّ الكتابةَ والتأليف عن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله جوانبها كثيرة متعدِّدة، وهذه المحاضرة عن جانب منها، وهو منهجه رحمه الله في التأليف1، وقبل الدخول في الموضوع أذكر بين يديه لَمحات قصيرة عن الشيخ رحمه الله ودعوته.
الأولى: الشيخ الإمام هو محمد بن عبد الوهاب ابن سليمان بن علي التميمي، وُلد في (1115هـ) ،
--------------------------------------------
শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের রচনা পদ্ধতি
প্রস্তুতকরণ: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বাদরপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য, এবং সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর।
অত:পর, শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে লেখা ও রচনার দিকগুলো অনেক ও বহুমুখী। এই বক্তৃতাটি তার একটি দিক সম্পর্কে, আর তা হলো রচনায় তাঁর পদ্ধতি (১)। মূল বিষয়ে প্রবেশের আগে আমি শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) এবং তাঁর দাওয়াত সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করব।
প্রথমত: ইমাম শায়খ হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে সুলাইমান ইবনে আলী আত-তামিমী, তিনি ১১১৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وتوفي سنة (1206) ، من قبيلة بني تميم الذين أخبر الرسول صلى الله عليه وسلم أنَّهم أشدُّ الناس على الدَّجَّال، أخرجه البخاري (2543) ، وهو دالٌّ على استمرار بقاء هذه القبيلة حتى زمن الدجَّال، وأنَّهم أشدُّ الناس عليه، وكما كانت هذه القبيلة في آخر الزمان أشدَّ الناس على الدجَّال الأعظم، فإنَّ شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب وأبناءه وأحفاده وتلاميذه وتلاميذهم وتلاميذ تلاميذهم من أشدِّ الناس على الدجَّالين الذين ظهروا في أزمانهم من أهل الزيغ والضلال.
الثانية: أنَّ الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله من الأئمَّة المجدِّدين الذين أظهر الله بهم الدِّين ونصر بهم الحقَّ في القرن الثاني عشر من الهجرة وما بعده، وهو نعمة من الله عز وجل، أنعم بها على الجزيرة العربية وغيرها، حيث قُضي في بلاد
তিনি ১২০৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তিনি বনু তামীম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা দাজ্জালের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে কঠোরতম হবে। ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (২৫৪৩)। এটি দাজ্জালের সময় পর্যন্ত এই গোত্রটির ধারাবাহিক অস্তিত্ব টিকে থাকার এবং তারা দাজ্জালের বিরুদ্ধে কঠোরতম হওয়ার একটি প্রমাণ। আর এই গোত্রটি শেষ যামানায় যেমন বড় দাজ্জালের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর হবে, তেমনি শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এবং তাঁর সন্তানাদি, পৌত্রগণ, ছাত্রবৃন্দ এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের ছাত্রগণ তাঁদের যুগে আবির্ভূত পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত দাজ্জালদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
দ্বিতীয়ত: শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) হলেন সেই সকল সংস্কারক ইমামদের অন্তর্ভুক্ত, যাঁদের মাধ্যমে আল্লাহ দ্বীনকে প্রকাশিত করেছেন এবং হিজরি দ্বাদশ শতাব্দী ও তৎপরবর্তী সময়ে সত্যকে সাহায্য করেছেন। তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক নিয়ামত স্বরূপ, যা তিনি আরব উপদ্বীপ ও অন্যান্য অঞ্চলের ওপর দান করেছেন, যেখানে ভূখণ্ডগুলোতে...
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ৫)
اليمامة وما تبعها من البلاد على مظاهر الشرك والبدع، وظهر فيها التوحيد، وقد كانت تلك البلاد قبل زمن الشيخ رحمه الله لا تختلف عن البلاد الأخرى، التي لا تزال مفتونة بأصحاب القبور ودعائهم وطلب الحاجات منهم، فجزاه الله عن الإسلام والمسلمين في هذه البلاد وغيرها أحسن جزاءٍ، وأثابه أتمَّ مثوبة.
الثالثة: دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله مبنيَّةٌ على اتِّباع الكتاب والسنَّة والسير على ما كان عليه سلف الأمَّة من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن تبعهم بإحسان، ولَم يأت بشيء جديد يخالف ذلك، ولهذا فلا توصَف دعوته ومَن استفاد منها بالوهابية؛ لأنَّ النِّسَب إلى الأشخاص إنَّما تكون لِمَن أتى بشيء جديد، وهو لَم يأت بشيء جديد، وإنَّما يلمزهم بالوهابية
ইয়ামামা এবং এর অনুগামী দেশসমূহ শিরক ও বিদআতের প্রাদুর্ভাবের ওপর নিমজ্জিত ছিল, অতঃপর সেখানে তাওহীদের প্রকাশ ঘটল। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ)-এর সময়ের পূর্বে এই দেশগুলো অন্যান্য জনপদের তুলনায় ভিন্ন ছিল না, যারা এখনও কবরবাসীদের প্রতি মোহগ্রস্ত এবং তাদের কাছে দুআ ও অভাব পূরণের প্রার্থনা করে থাকে। সুতরাং আল্লাহ তাকে ইসলাম ও এই দেশ ও অন্যান্য দেশের মুসলিমদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাকে পূর্ণ সওয়াব প্রদান করুন।
তৃতীয়ত: শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর দাওয়াত কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং উম্মতের সালাফ অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ ও যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন—তাঁদের মানহাজের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। তিনি এর পরিপন্থী নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আসেননি। এই কারণে তাঁর দাওয়াতকে এবং যারা তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন তাঁদেরকে ‘ওহাবী’ হিসেবে বিশেষায়িত করা সমীচীন নয়; কেননা কোনো ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধ করা তখনই হয় যখন সে নতুন কিছু নিয়ে আসে, অথচ তিনি নতুন কিছু নিয়ে আসেননি। বরং তাদেরকে ওহাবী বলে বিদ্রূপ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ৬)
بعض الذين لَم يُوفَّقوا لسلوك المسلك القويم والصراط المستقيم؛ تنفيراً من الاستفادة بهذه الدعوة المباركة، المبنيَّة على الكتاب والسنة وما كان عليه سلف الأمَّة.
الرابعة: ومن أعظم الآثار الحميدة لدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله المبنيَّة على الكتاب والسنة وما كان عليه سلف الأمَّة، قيام دولة على هذا الأساس، أول إمام فيها الإمام محمد بن سعود رحمه الله الذي ناصر الشيخ الإمام، وحكَّم شرعَ الله في ولايته، واستمرَّت الولاية في هذه الأسرة إلى عصرنا هذا، وقد مضى عليها ما يقرب من ثلاثة قرون، ومن المعلوم أنَّ استمرار هذا البقاء لهذه الدولة في تلك القرون سببُه القوي بتوفيق الله الاستفادة من هذه الدعوة المباركة المبنيَّة على تحكيم الشرع واتِّباع الكتاب
যারা সঠিক পথ এবং সরল পথে চলার তাওফিক লাভ করেনি, তাদের কেউ কেউ এই বরকতময় দাওয়াত থেকে উপকৃত হওয়া থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, যা কিতাব, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফদের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
চতুর্থত: শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর দাওয়াতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রশংসনীয় প্রভাব—যা কিতাব, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফদের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত—হলো এই ভিত্তির ওপর একটি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। এর প্রথম ইমাম ছিলেন ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ (রহিমাহুল্লাহ), যিনি শায়খ ইমামকে সাহায্য করেছিলেন এবং তার শাসনামলে আল্লাহর শরিয়ত কার্যকর করেছিলেন। এই শাসন এই বংশে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এর ওপর প্রায় তিন শতাব্দী অতিবাহিত হয়েছে। এটি সুপরিচিত যে, এই শতাব্দীগুলোতে এই রাষ্ট্রের টিকে থাকার শক্তিশালী কারণ হলো, আল্লাহর তৌফিকে এই বরকতময় দাওয়াত থেকে উপকৃত হওয়া, যা শরিয়তের প্রয়োগ এবং কিতাব অনুসরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ৭)
والسنَّة، وهو السبب الأقوى لاستمرارها في المستقبل، ثبَّتها الله على هذا الحقِّ، وأعانها على القيام به على الوجه الذي يرضيه سبحانه وتعالى.
ومن محاسن الدولة السعودية الحاضرة اهتمامها بالمشتغلين بالعلم من أحفاد الشيخ الإمام وإسناد ولايات الإفتاء والقضاء والدعوة والإرشاد إليهم.
وقد نشأت دعوات حديثة لم تقم على منهج صحيح وطريقة سليمة، اشتدَّ حرصُ أصحابها على الظفر بولاية ولم يفرحوا بها، بخلاف هذه الدولة التي مكَّنها الله في الأرض لِمَا قامت عليه من الحقِّ والهدى، {فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً وَأَمَّا مَا يَنْفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الأَرْضِ} ، وقد قال الله عز وجل: {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الأُمُورِ} .
...এবং সুন্নাহ। আর এটিই ভবিষ্যতে এর স্থায়িত্বের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী কারণ; আল্লাহ একে এই হকের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত রাখুন এবং একে সেই পন্থায় সম্পাদন করার তাওফিক দান করুন যা সুবহানাহু ওয়া তাআলা-কে সন্তুষ্ট করে।
বর্তমান সৌদি রাষ্ট্রের অন্যতম সৌন্দর্য হলো শায়খ ইমামের বংশধরদের মধ্য থেকে যারা ইলম বা জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত, তাদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা এবং তাদের ওপর ইফতা, বিচার ব্যবস্থা, দাওয়াত ও নির্দেশনার দায়িত্ব অর্পণ করা।
এমন কিছু আধুনিক আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে যা সঠিক মানহাজ এবং নির্ভুল পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। এগুলোর প্রবক্তারা ক্ষমতা লাভের জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করলেও তাতে সফল হতে পারেনি; এই রাষ্ট্রের ব্যতিক্রম, যাকে আল্লাহ পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করেছেন কারণ এটি সত্য ও হেদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত। "অতঃপর ফেনা তো নিঃশেষ হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকারে আসে তা পৃথিবীতে রয়ে যায়।" আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে; আর সকল কাজের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে।"
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الخامسة: أنَّ من الحاقدين على دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله مَن يحمل بعض الأحاديث الواردة في الفتن التي فيها أنَّ نجداً فيها الزلازل والفتن، وأنَّ منها يطلع قرنُ الشيطان، من الحاقدين مَن يحملها على اليمامة، التي اشتهرت في الأزمان المتأخرة باسم نجد؛ لصدِّ الناس عن الاستفادة من هذه الدعوة المباركة، وما يزعمونه من ذلك الحمل باطل؛ لأنَّه قد جاء في بعض الأحاديث وفي كلام أهل العلم ما يبين أنَّ المراد بها العراق، وقد ذكر الشيخ محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله في تخريجه أحاديث فضائل الشام ودمشق للرَّبَعي (ص:9 ـ 10) وفي السلسلة الصحيحة (2246) طرقاً لحديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما في ذلك، وفي بعضها ما يبيِّن المراد، وهو العراق، وقال في السلسلة الصحيحة:
পঞ্চম: শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর দাওয়াতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে, যারা ফিতনা সংক্রান্ত বর্ণিত সেই হাদিসগুলোকে—যেখানে উল্লেখ আছে যে নজদে ভূমিকম্প ও ফিতনা সংঘটিত হবে এবং সেখান থেকেই শয়তানের শিং উদিত হবে—ইয়ামামার ওপর প্রয়োগ করে, যা পরবর্তী সময়ে নজদ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; যাতে মানুষকে এই বরকতময় দাওয়াত থেকে উপকৃত হওয়া থেকে বিরত রাখা যায়। তাদের এই ব্যাখ্যা ও দাবি অসার; কারণ কিছু হাদিসে এবং বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্যে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইরাক। শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) রবাই রচিত 'ফাদায়িলুশ শাম ওয়া দামেস্ক' (পৃষ্ঠা: ৯-১০) এবং 'আস-সিলসিলাহ আস-সহিহাহ' (২২৪৬)-এ এ সংক্রান্ত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসের নানাবিধ সূত্র উল্লেখ করেছেন। সেগুলোর কোনো কোনো সূত্রে উদ্দেশ্যটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো ইরাক। তিনি 'আস-সিলসিলাহ আস-সহিহাহ'-এ বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ৯)
"وإنَّما أفضتُ في تخريج هذا الحديث الصحيح وذكر طرُقه وبعض ألفاظه؛ لأنَّ بعض المبتدعة المحاربين للسنَّة والمنحرفين عن التوحيد يطعنون في الإمام محمد بن عبد الوهاب مجدد دعوة التوحيد في الجزيرة العربية، ويحملون الحديث عليه باعتباره من بلاد نجد المعروفة اليوم بهذا الاسم، وجهلوا أو تجاهلوا أنَّها ليست هي المقصودة بهذا الحديث، وإنَّما هي العراق كما دلَّ عليه أكثرُ طرق الحديث، وبذلك قال العلماء قديماً، كالإمام الخطابي وابن حجر العسقلاني وغيرهم، وجهلوا أيضاً أنَّ كون الرجل من بعض البلاد المذمومة لا يستلزم أنَّه هو مذموم أيضاً إذا كان صالحاً في نفسه، والعكس بالعكس، فكم في مكة والمدينة والشام من فاسق وفاجر، وفي العراق من عالِم وصالح، وما أحكمَ قول سلمان الفارسي لأبي الدرداء حينما دعاه أن
আমি এই সহীহ হাদিসটির তাখরীজ (সূত্র বিশ্লেষণ), এর বিভিন্ন সনদ এবং এর কিছু শব্দের বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি; কারণ সুন্নাহর প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী এবং তাওহীদ থেকে বিচ্যুত কিছু বিদআতি আরব উপদ্বীপে তাওহীদের দাওয়াতের মুজাদ্দিদ ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সমালোচনা করে থাকে। তারা এই হাদিসটিকে তাঁর ওপর প্রয়োগ করে যেহেতু তিনি বর্তমান সময়ে এই নামে পরিচিত নজদ অঞ্চলের অধিবাসী। তারা এ বিষয়ে অজ্ঞ অথবা তারা জেনেশুনে এড়িয়ে যায় যে, হাদিসে এই অঞ্চলটিকে (বর্তমান নজদ) উদ্দেশ্য করা হয়নি; বরং তা হলো ইরাক, যেমনটি হাদিসের অধিকাংশ সনদ দ্বারা প্রমাণিত হয়। পূর্ববর্তী আলেমগণও অনুরূপ কথা বলেছেন, যেমন ইমাম খাত্তাবি, ইবনে হাজার আসকালানি এবং অন্যান্যরা। তারা এ বিষয়েও অজ্ঞ যে, কোনো ব্যক্তি কোনো নিন্দিত অঞ্চলের অধিবাসী হলেই সে নিজেও নিন্দিত হওয়া আবশ্যক নয়—যদি সে নিজে নেককার হয়; আর এর বিপরীত বিষয়টিও সত্য। কেননা মক্কা, মদিনা ও শামে কত কত ফাসেক ও পাপাচারী রয়েছে, আবার ইরাকে কত কত আলেম ও সৎকর্মশীল ব্যক্তি রয়েছেন। আর সালমান ফারসি যখন আবু দারদাকে আহ্বান করেছিলেন, তখন তাঁর কথাটি কতই না প্রজ্ঞাপূর্ণ ছিল যে...
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ১০)
يُهاجر من العراق إلى الشام: (أما بعد، فإنَّ الأرض المقدَّسة لا تُقدِّس احداً، وإنَّما يُقدِّسُ الإنسانَ عملُه") .
وقال ابن حجر في الفتح (13/47) بعد أن نقل كلاماً للخطابي: "وقال غيرُه: كان أهل المشرق يومئذ أهل كفر، فأخبر النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم أنَّ الفتنة تكون من تلك الناحية، فكان كما أخبر
… وأوَّل الفتن كان من قبل المشرق، فكان ذلك سبباً للفرقة بين المسلمين، وذلك مِمَّا يُحبُّه الشيطان ويفرح به، وكذلك البدع نشأت من تلك الجهة، وقال الخطابي: نجد من جهة المشرق، ومن كان بالمدينة كان نجْدُه باديةَ العراق ونواحيها، وهي مشرق أهل المدينة، وأصل النجد ما ارتفع من الأرض، وهو خلاف الغور، فإنَّه ما انخفض منها، وتهامة كلها من الغور، ومكة من تهامة".
ইরাক থেকে শামে হিজরতকারীর প্রতি: (অতঃপর, নিশ্চয়ই পবিত্র ভূমি কাউকে পবিত্র করে না, বরং মানুষকে তার আমলই পবিত্র করে)।
এবং ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে (১৩/৪৭) খাত্তাবির বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: "অন্যান্যরা বলেছেন: সেই যুগে পূর্বদিকের অধিবাসীরা কুফরিতে লিপ্ত ছিল, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছিলেন যে ফিতনা সেই দিক থেকে আসবে, আর তিনি যেমনটি বলেছিলেন তেমনটিই ঘটেছে
… এবং প্রথম ফিতনাসমূহ পূর্বদিক থেকেই প্রকাশিত হয়েছিল, যা মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর এটি এমন বিষয় যা শয়তান পছন্দ করে এবং এতে আনন্দিত হয়। অনুরূপভাবে বিদআতসমূহ সেই দিক থেকেই উদ্ভূত হয়েছে। আর খাত্তাবি বলেছেন: নজদ পূর্বদিকের একটি অঞ্চল। যারা মদীনায় ছিল, তাদের জন্য নজদ হলো ইরাকের মরুপ্রান্তর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা, যা মদিনাবাসীদের জন্য পূর্বদিক। নজদ মূলত ভূমির উচ্চাঞ্চলকে বলা হয়, যা 'গাওর' এর বিপরীত, কারণ গাওর হলো নিম্নভূমি। আর সমগ্র তিহামা অঞ্চল গাওরের অন্তর্ভুক্ত এবং মক্কা তিহামার অন্তর্গত।"
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقال قبل ذلك في الفتح (6/352) عند شرح حديث: "رأس الكفر نحو المشرق": "وفي ذلك إشارة إلى شدَّة كفر المجوس؛ لأنَّ مملكة الفرس ومن أطاعهم من العرب كانت من جهة المشرق بالنسبة إلى المدينة، وكانوا في غاية القسوة والتجبر، حتى مزَّق مَلِكُهم كتاب النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم كما سيأتي في موضعه، واستمرَّت الفتن من قِبَل المشرق كما سيأتي بيانه واضحاً في الفتن".
وقال النووي في شرح صحيح مسلم (2/34) : "والمراد بذلك اختصاص المشرق بمزيد من تسلط الشيطان ومن الكفر، كما قال في الحديث الآخر: (رأسُ الكفر نحو المشرق) ، وكان ذلك في عهده صلى الله عليه وسلم حين قال ذلك، ويكون حين يخرج الدجَّال من المشرق، وهو فيما بين ذلك منشأ الفتن العظيمة ومثار الكفرَة الترك الغاشمة العاتية الشديدة البأس".
এবং তিনি এর আগে আল-ফাতহ (৬/৩৫২) গ্রন্থে 'কুফরের মূল উৎস পূর্ব দিকে' হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এর মধ্যে মাজুসীদের কুফরের তীব্রতার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে; কারণ পারস্য সাম্রাজ্য এবং আরবদের মধ্যে যারা তাদের অনুগত ছিল, তারা মদীনার তুলনায় পূর্ব দিকে অবস্থিত ছিল। তারা অত্যন্ত কঠোর ও উদ্ধত ছিল, এমনকি তাদের সম্রাট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্র ছিঁড়ে ফেলেছিল, যা সামনে তার নিজ স্থানে আলোচিত হবে। আর পূর্ব দিক থেকেই ফিতনাসমূহ অব্যাহত রয়েছে, যা ফিতনা অধ্যায়ে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হবে।"
এবং ইমাম নববী শারহু সহীহ মুসলিম (২/৩৪) গ্রন্থে বলেছেন: "এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শয়তানের আধিপত্য ও কুফরের আধিক্যের ক্ষেত্রে পূর্ব দিকের বিশেষত্ব, যেমনটি অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: (কুফরের মূল উৎস পূর্ব দিকে)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এ কথা বলেছিলেন তখন যেমনটি ছিল, তেমনি দাজ্জাল যখন পূর্ব দিক থেকে বের হবে তখনও তাই হবে। আর এই সময়ের মধ্যবর্তীকালেও এটি বড় বড় ফিতনার উৎপত্তিস্থল এবং জালেম, অবাধ্য ও অত্যন্ত শক্তিশালী তুর্কি কাফেরদের উত্থানস্থল।"
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد مرَّ في كلام ابن حجر قريباً أنَّ ظهور البدع كان من تلك الجهة، أي جهة المشرق، ومن أمثلة ذلك أنَّ الخوارج والشيعة والقدرية والجهمية كان خروجهم من تلك الجهة، ومجيء التتار للقضاء على الخلافة العباسية وسقوط بغداد كان من المشرق، وفي آخر الزمان خروج الدجال من تلك الجهة، فإنَّه كما جاء في صحيح مسلم (2137) يخرج من خلة بين الشام والعراق، وفي صحيحه أيضاً (2944) : "يتبع الدجال من يهود أصبهان سبعون ألفاً عليهم الطيالسة".
وكما أنَّ تلك الجهة منشأ كثير من البدع، ومنها ظهور كثير من الشرور، فإنَّ فيها كثيرين من أهل العلم الذين ردُّوا على المبتدعة، ومنها محدِّثون وفقهاء كبار، ومن هؤلاء أصحاب الكتب الستة: محمد بن إسماعيل البخاري، ومسلم بن الحجاج
ইবনে হাজারের বক্তব্যে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, বিদআতসমূহের প্রকাশ সেই দিক থেকেই ছিল, অর্থাৎ পূর্ব দিক থেকে। এর উদাহরণ হলো খারেজি, শিয়া, কাদারিয়া ও জাহমিয়াদের আবির্ভাব সেই দিক থেকেই হয়েছিল। আব্বাসীয় খিলাফত নির্মূল করতে এবং বাগদাদের পতনের লক্ষ্যে তাতারদের আগমনও পূর্ব দিক থেকে হয়েছিল। শেষ জামানায় দাজ্জালের আবির্ভাবও সেই দিক থেকেই হবে। কেননা সহিহ মুসলিমে (২১৩৭) যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, সে শাম ও ইরাকের মধ্যবর্তী একটি পথ থেকে বের হবে। তাঁর সহিহ গ্রন্থে আরও বর্ণিত হয়েছে (২৯৪৪): "ইসফাহানের সত্তর হাজার ইহুদি দাজ্জালের অনুসরণ করবে, যাদের পরিধানে থাকবে তায়ালিসা চাদর।"
আর যেহেতু সেই দিকটি বহু বিদআতের উৎপত্তিস্থল এবং সেখান থেকেই বহু মন্দের আবির্ভাব ঘটেছে, তাই সেখানে এমন অনেক ইলমের অধিকারীও ছিলেন যারা বিদআতিদের প্রতিবাদ ও খণ্ডন করেছিলেন। তাদের মধ্যে প্রথিতযশা মুহাদ্দিস ও ফকিহগণ রয়েছেন। তাদের মধ্যে কুতুবে সিত্তার সংকলকগণও অন্তর্ভুক্ত: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ।
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
النيسابوري، وأبو داود السجستاني، وأبو عيسى الترمذي، وأبو عبد الرحمن النسائي، وابن ماجه القزويني، وقد ألَّف الشيخ محمد أشرف سندهو المتوفى سنة (1373هـ) رسالة أوضح فيها ما يتعلق بهذا الموضوع، سمَّاها: "أكمل البيان في شرح حديث نجد قرن الشيطان".
الأولويات في التأليف عند الشيخ الإمام
دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله مبنيَّةٌ على كتاب الله وسنَّة رسوله صلى الله عليه وسلم، وبيان العقيدة السليمة المستمدَّة من هذين الينبوعَين الصافيين، ولهذا كانت الأولويات في التأليف عنده في بيان العقيدة، والعناية بمعاني كلام الله عز وجل، ومعرفة أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم، وبيان الأحكام الفقهية المستندة إلى النصوص الشرعية، وكان أولى
নিসাপুরী, আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, আবু ঈসা আত-তিরমিজি, আবু আবদুর রহমান আন-নাসায়ী এবং ইবনে মাজাহ আল-কাজউইনি। শেখ মুহাম্মদ আশরাফ সান্ধু (মৃত্যু ১৩৭৩ হিজরি) একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন যাতে তিনি এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছেন, তিনি এর নামকরণ করেছেন: "আকমালুল বায়ান ফি শারহি হাদিস নাজদি করনুশ শয়তান"।
ইমাম শেখের নিকট রচনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারসমূহ
শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর দাওয়াত আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এটি এই দুটি স্বচ্ছ উৎস থেকে প্রাপ্ত সঠিক আকিদার বর্ণনা। এই কারণে রচনার ক্ষেত্রে তাঁর নিকট অগ্রাধিকার ছিল আকিদার বর্ণনা, মহান আল্লাহর বাণীর অর্থের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান, রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাদিসসমূহ অবগত হওয়া এবং শরয়ী দলিলের ওপর ভিত্তি করে ফিকহি বিধানসমূহ ব্যাখ্যা করা। এবং তাঁর নিকট সর্বাধিক অগ্রাধিকারযোগ্য ছিল...
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
اهتمامه وجلُّ عنايته في إيضاح توحيد العبادة الذي أُرسلَت الرسل وأُنزلت الكتبُ من أجله، كما قال الله عز وجل: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} ، وقال: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَاّ نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ أَنَا فَاعْبُدُونِ} ، فألَّف في التوحيد كتباً عديدة، أهمها كتاب التوحيد الذي هو حقُّ الله على العبيد، وكتاب الأصول الثلاثة وأدلتها، وكتاب كشف الشبهات.
منهجه في تأليف كتاب التوحيد
كتاب التوحيد الذي هو حق الله على العبيد، هو أهمُّ وأوسع كتب الشيخ رحمه الله في العقيدة، وقد اشتمل على ستة وستين باباً، أوَّلها: باب فضل التوحيد وما يُكفِّرُ من الذنوب،
তাঁর মনোযোগ ও অধিকাংশ যত্ন ব্যয় হয়েছে ইবাদাতের তাওহীদ সুস্পষ্ট করার ক্ষেত্রে, যার উদ্দেশ্যে রাসূলগণকে প্রেরণ করা হয়েছে এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করা হয়েছে, যেমন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির মধ্যে একজন রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো এবং তাগুত বর্জন করো", এবং তিনি আরও বলেছেন: "আর তোমার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার প্রতি এই ওহী অবতীর্ণ করিনি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, সুতরাং তোমরা কেবল আমারই ইবাদাত করো"। তিনি তাওহীদের বিষয়ে অনেকগুলো গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে প্রধান হলো ‘কিতাবুত তাওহীদ আল্লাযী হুয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ’, ‘কিতাবুল উসূলিস সালাসাত ওয়া আদিল্লাতুহা’ এবং ‘কিতাবু কাশফিশ শুবুহাত’।
কিতাবুত তাওহীদ রচনায় তাঁর পদ্ধতি
‘কিতাবুত তাওহীদ আল্লাযী হুয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ’ হলো আকীদাহর বিষয়ে শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তৃত গ্রন্থ। এটি ছেষট্টিটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত, যার প্রথমটি হলো: ‘তাওহীদের ফযীলত এবং যা গুনাহসমূহ মোচন করে’ সংক্রান্ত অধ্যায়।
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وآخرها: باب ما جاء في قول الله تعالى: {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالأَرْضُ جَمِيعاً قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ} الآية، وقبل الباب الأول ترجم بكتاب التوحيد، وأورد فيه خمس آيات وحديثاً وأثراً، وهذه الآيات هي قول الله عز وجل: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالأِنْسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُونِ} ، وقوله: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} ، وقوله: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَاّ تَعْبُدُوا إِلَاّ إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً} ، وقوله: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً} ، وقوله: {قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَاّ تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً} الآيات، وعقَّب الآيات من سورة الأنعام بأثر ابن مسعود رضي الله عنه بشأنها، ثم أورد حديث معاذ بن جبل رضي الله عنه المتفق على صحته في بيان حق الله على العباد وحق العباد على الله، ومن منهجه في تأليفه:
এবং এর শেষটি হলো: মহান আল্লাহর বাণী—"তারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি, অথচ কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয়" (আয়াত)—সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়। আর প্রথম অধ্যায়ের পূর্বে তিনি ‘কিতাবুত তাওহীদ’ শিরোনাম দিয়েছেন এবং এতে তিনি পাঁচটি আয়াত, একটি হাদীস এবং একটি আসার উল্লেখ করেছেন। এই আয়াতগুলো হলো পরাক্রমশালী মহান আল্লাহর বাণী: "আমি জিন এবং মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।" এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক জাতির নিকট রসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।" এবং তাঁর বাণী: "আপনার প্রতিপালক ফয়সালা করে দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে।" এবং তাঁর বাণী: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে অন্য কিছুকে শরীক করো না।" এবং তাঁর বাণী: "বলুন, এসো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন তা আমি তিলাওয়াত করি: তা হলো তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না" (আয়াতসমূহ)। তিনি সূরা আল-আনআমের আয়াতগুলোর পর সে বিষয়ে ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর একটি আসার যুক্ত করেছেন। অতঃপর তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন যাতে বান্দার ওপর আল্লাহর হক এবং আল্লাহর ওপর বান্দার হকের বর্ণনা রয়েছে। তাঁর গ্রন্থ রচনার পদ্ধতির মধ্য থেকে হলো:
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
1 ـ أنَّ الكتابَ من أوَّله إلى آخره يسوق فيه الشيخ الإمام آيات وأحاديث وآثاراً عن سلف هذه الأمَّة، من الصحابة ومن بعدهم مِمَّن سار على نهجهم وطريقتهم، وصنيعه هذا شبيه بصنيع الإمام البخاري رحمه الله في كتابه الجامع الصحيح، وعلى الأخصِّ كتاب التوحيد الذي هو آخر الكتب في صحيح البخاري، فإنَّ طريقةَ البخاري في ذلك أنَّه يورد آيات وأحاديث وآثاراً، وقد بلغت أبواب كتاب التوحيد من صحيح البخاري ثمانية وخمسين باباً، أوَّلها: باب ما جاء في دعاء النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم أمَّته إلى توحيد الله تبارك وتعالى، وقد أورد فيه حديث معاذ بن جبل رضي الله عنه في بيان حقِّ الله على العباد وحق العباد على الله، وعدة أبواب كتاب التوحيد عند الإمام البخاري وأبواب التوحيد عند الإمام محمد بن عبد الوهاب متقاربة، وهي في
১ - নিশ্চয়ই কিতাবটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শায়খ ইমাম এই উম্মতের সালাফ—সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী যারা তাঁদের পথ ও পদ্ধতির ওপর চলেছেন—তাঁদের থেকে বিভিন্ন আয়াত, হাদিস ও আছার বর্ণনা করেছেন। তাঁর এই কর্মপদ্ধতি ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তাঁর 'আল-জামে আস-সহীহ' গ্রন্থে কৃত পদ্ধতির সদৃশ, বিশেষ করে 'কিতাবুত তাওহীদ'-এর ক্ষেত্রে যা সহীহ বুখারীর সর্বশেষ কিতাব। বস্তুত সেই কিতাবে ইমাম বুখারীর পদ্ধতি হলো আয়াত, হাদিস ও আছারসমূহ পেশ করা। সহীহ বুখারীর 'কিতাবুত তাওহীদ'-এর অধ্যায় সংখ্যা আটান্নটি পর্যন্ত পৌঁছেছে, যার প্রথমটি হলো: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক তাঁর উম্মতকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার তাওহীদের দিকে দাওয়াত দেওয়ার বিবরণে অধ্যায়। তিনি সেখানে বান্দার ওপর আল্লাহর হক এবং আল্লাহর ওপর বান্দার হক বর্ণনায় মুআয বিন জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারীর নিকট 'কিতাবুত তাওহীদ'-এর অধ্যায় সংখ্যা এবং ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের নিকট তাওহীদের অধ্যায়সমূহ কাছাকাছি, আর সেগুলো হলো...
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الصحيح ثمانية وخمسون، وعند الإمام محمد بن عبد الوهاب ستة وستون.
2 ـ أنَّه عند إيراده الآيات والأحاديث والآثار يقدِّم الآيات ثم الأحاديث ثم الآثار، إلَاّ إذا كان الأثر متعلِّقاً بآية أو بحديث، فإنَّه يقدِّمه من أجل ذلك التعلق.
3 ـ هذا الكتاب مشتمل على الآيات والأحاديث والآثار، وبذلك علا قدرُ الكتاب وارتفعت منزلته، وليس للشيخ رحمه الله فيه كلام إلَاّ ما يورده في آخر كلِّ باب من مسائل مستنبطة من الآيات والأحاديث والآثار، وهي تدلُّ على قوة فهم الشيخ رحمه الله ودقَّة استنباطه، وفيها شحذ أذهان طلَاّب العلم في معرفة المواضع التي استنبطت منها هذه المسائل.
4 ـ أنَّ أبواب هذا الكتاب متضمِّنةٌ تقرير
সঠিক মতানুযায়ী আটান্নটি, আর ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের মতে ছেষট্টিটি।
২- তিনি যখন আয়াত, হাদীস এবং আসার (পূর্বসূরীদের বাণী) উল্লেখ করেন, তখন প্রথমে আয়াত, তারপর হাদীস এবং এরপর আসার উপস্থাপন করেন; তবে যদি কোনো আসার কোনো আয়াত বা হাদীসের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে সেই সংশ্লিষ্টতার কারণে তিনি তা পূর্বেই উল্লেখ করেন।
৩- এই গ্রন্থটি আয়াত, হাদীস এবং আসারের সমন্বয়ে গঠিত, যার ফলে গ্রন্থের মর্যাদা ও গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এই গ্রন্থে শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিজস্ব কোনো কথা নেই, কেবল প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে আয়াত, হাদীস এবং আসার থেকে আহরিত মাসআলাসমূহ (বিষয়সমূহ) উল্লেখ করেছেন। এগুলো শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রখর বুঝশক্তি এবং সূক্ষ্ম উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রমাণ বহন করে। আর এগুলো জ্ঞান অন্বেষণকারীদের মেধা শাণিত করে যাতে তারা বুঝতে পারে কোন স্থান থেকে এই মাসআলাগুলো আহরণ করা হয়েছে।
৪- এই গ্রন্থের অধ্যায়গুলো এমন বিষয়সমূহ প্রতিষ্ঠা করার অন্তর্ভুক্ত যা...
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
التوحيد، الذي هو إفراد الله بالعبادة، والتحذير مِمَّا يُنافي أصل التوحيد، وهو الشرك بالله، أو يُنافي كمالَه، وهو الشرك الأصغر والبدع، ومن أبواب كتاب التوحيد في تقرير التوحيد باب فضل التوحيد وما يُكفِّر من الذنوب، وباب من حقق التوحيد دخل الجنة بلا حساب ولا عذاب، وباب الدعاء إلى شهادة أن لا إله إلَاّ الله، وباب تفسير التوحيد وشهادة أن لا إله إلَاّ الله.
ومن الأبواب فيما يُنافي أصل التوحيد وهو الشرك، باب من الشرك أن يستغيث بغير الله أو يدعو غيره، وباب ما جاء في الذبح لغير الله، وباب من الشرك النذر لغير الله، وباب من الشرك الاستعاذة بغير الله، وباب قول الله تعالى: {أَيُشْرِكُونَ مَا لا يَخْلُقُ شَيْئاً وَهُمْ يُخْلَقُونَ} الآية، وباب قول الله تعالى: {فَلا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَاداً وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} .
তাওহীদ হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা, এবং তাওহীদের মূলের পরিপন্থী বিষয় অর্থাৎ আল্লাহর সাথে শিরক করা, অথবা তাওহীদের পূর্ণতার পরিপন্থী বিষয় অর্থাৎ ছোট শিরক ও বিদআত সম্পর্কে সতর্ক করা। কিতাবুত তাওহীদের তাওহীদ প্রতিষ্ঠা বিষয়ক অধ্যায়গুলোর মধ্যে রয়েছে—তাওহীদের ফজিলত এবং তা যেসব গুনাহ মোচন করে সেই সংক্রান্ত অধ্যায়; যে ব্যক্তি তাওহীদকে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করবে সে হিসাব ও আযাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে সেই সংক্রান্ত অধ্যায়; ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সাক্ষ্যের দিকে দাওয়াত দেওয়ার অধ্যায়; এবং তাওহীদ ও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সাক্ষ্যের ব্যাখ্যার অধ্যায়।
আর তাওহীদের মূলের পরিপন্থী বিষয় অর্থাৎ শিরক সংক্রান্ত অধ্যায়গুলোর মধ্যে রয়েছে—আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে উদ্ধার প্রার্থনা করা বা অন্য কাউকে ডাকা শিরক হওয়ার অধ্যায়; আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে যবাই করার বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়; আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে মানত করা শিরক হওয়ার অধ্যায়; এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা শিরক হওয়ার অধ্যায়; মহান আল্লাহর বাণী সংক্রান্ত অধ্যায়: “তারা কি এমন কিছুকে অংশীদার করে যারা কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্টি?” (আয়াত); এবং মহান আল্লাহর বাণী সংক্রান্ত অধ্যায়: “অতএব তোমরা জেনে-শুনে আল্লাহর জন্য সমকক্ষ সাব্যস্ত করো না।”
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ومن الأبواب فيما يُنافي كمال التوحيد وهو البدع والشرك الأصغر: باب ما جاء أنَّ سبب كفر بني آدم وتركهم دينهم هو الغلو في الصالحين، وباب ما جاء من التغليظ فيمَن عبَد اللهَ عند قبر رجل صالح، فكيف إذا عَبَدَه؟! وباب ما جاء أنَّ الغلوَّ في قبور الصالحين يصيِّرها أوثاناً تُعبد من دون الله، وباب ما جاء في حماية المصطفى صلى الله عليه وسلم جَناب التوحيد وسدّه كل طريق يوصل إلى الشرك، وباب قول: ما شاء الله وشئت.
منهجه في تأليف كتاب الأصول الثلاثة وأدلَّتها
الأصول الثلاثة التي هي موضوع هذا الكتاب هي معرفة العبد ربه ودينه ونبيّه محمداً صلى الله عليه وسلم، ولهذه الأصول الثلاثة أهميَّة كبرى؛ فإنَّها التي يُسأل عنها
তাওহীদের পূর্ণতার পরিপন্থী বিষয়সমূহ, যা বিদআত ও ছোট শিরক হিসেবে গণ্য, সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদগুলোর মধ্যে রয়েছে: বনী আদমের কুফরি ও দ্বীন ত্যাগের মূল কারণ নেককারদের ব্যাপারে অতিরঞ্জন—এ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ; কোনো নেককার ব্যক্তির কবরের নিকট আল্লাহর ইবাদতকারীর প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ—তাহলে যে ব্যক্তি সরাসরি কবরের ইবাদত করে তার পরিণাম কী হবে?! নেককারদের কবরের ব্যাপারে অতিরঞ্জন সেগুলোকে আল্লাহর পরিবর্তে ইবাদত করা হয় এমন মূর্তিতে রূপান্তর করে—এ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ; তাওহীদের মর্যাদা রক্ষায় এবং শিরকের প্রতিটি পথ বন্ধ করতে মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদক্ষেপ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ; এবং ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং আপনি যা চেয়েছেন’—এরূপ উক্তি বিষয়ক পরিচ্ছেদ।
‘তিনটি মূলনীতি ও তার প্রমাণাদি’ গ্রন্থটি রচনায় তাঁর পদ্ধতি
তিনটি মূলনীতি যা এই গ্রন্থের প্রধান বিষয়বস্তু, তা হলো—বান্দার নিজ প্রতিপালক, নিজ দ্বীন এবং নিজ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। এই তিনটি মূলনীতির গুরুত্ব অপরিসীম; কারণ কবরে এগুলো সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করা হবে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الميت في قبره، فقد روى الإمام أحمد (18534) بإسناد حسن عن البراء بن عازب رضي الله عنه حديثاً طويلاً وفيه: "فيأتيه ـ أي المؤمن ـ ملَكان فيجلسانه، فيقولان له: مَن ربُّك؟ فيقول: ربي الله، فيقولان له: ما دينك؟ فيقول: ديني الإسلام، فيقولان له: ما هذا الرجل الذي بُعث فيكم؟ فيقول: هو رسول الله صلى الله عليه وسلم"، وفيه: "ويأتيه ـ أي الكافر ـ مَلَكان فيُجلسانه، فيقولان له: مَن ربُّك؟ فيقول: هاه هاه لا أدري! فيقولان له: مَا دينك؟ فيقول: هاه هاه لا أدري! فيقولان له: مَا هذا الرجل الذي بُعث فيكم؟ فيقول: هاه هاه لا أدري! ".
وأيضاً فقد ورد ذكرُ هذه الثلاثة مجتمعة في بعض الأحاديث، منها ما يدلُّ على أنَّها من كمال الإيمان، وهو حديث العباس بن عبد المطلب في صحيح مسلم (56) أنَّه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم
কবরে মৃত ব্যক্তি; ইমাম আহমাদ (১৮৫৩৪) বারা ইবনে আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে হাসান সনদে একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: "অতঃপর তার —অর্থাৎ মুমিনের— নিকট দুইজন ফেরেশতা আসেন এবং তাকে বসান। তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন: তোমার রব কে? সে বলে: আমার রব আল্লাহ। তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন: তোমার দ্বীন কী? সে বলে: আমার দ্বীন ইসলাম। তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন: তোমাদের মাঝে প্রেরিত এই ব্যক্তিটি কে? সে বলে: তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।" এবং তাতে আরও রয়েছে: "আর তার —অর্থাৎ কাফিরের— নিকট দুইজন ফেরেশতা আসেন এবং তাকে বসান। তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন: তোমার রব কে? সে বলে: হায়! হায়! আমি জানি না! তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন: তোমার দ্বীন কী? সে বলে: হায়! হায়! আমি জানি না! তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন: তোমাদের মাঝে প্রেরিত এই ব্যক্তিটি কে? সে বলে: হায়! হায়! আমি জানি না!"
এছাড়াও কিছু হাদীসে এই তিনটি বিষয় একত্রে বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা প্রমাণ করে যে এগুলো ঈমানের পূর্ণতার অন্তর্ভুক্ত। আর তা হলো সহীহ মুসলিমের (৫৬) বর্ণিত আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের হাদীস যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন...
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
يقول: "ذاق طعم الإيمان مَن رضي بالله ربًّا، وبالإسلام ديناً، وبمحمد رسولاً"، وفي صحيح مسلم أيضاً (1884) عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "يا أبا سعيد! من رضي بالله ربًّا، وبالإسلام ديناً، وبمحمد نبيًّا، وجبت له الجنة" الحديث، وقد وردت أيضاً في أدعية الأذان في صحيح مسلم (386) عن سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنَّه قال: "من قال حين يسمع الأذان: أشهد أن لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له، وأنَّ محمداً عبده ورسوله، رضيتُ بالله ربًّا، وبمحمد رسولاً، وبالإسلام ديناً، غفر له ذنبه".
وهو كتاب نفيس، لا يستغني عنه الخاص والعام؛ لِمَا اشتمل عليه من بيان هذه الأصول الثلاثة وأدلتها، وقد قال فيه: "فإذا قيل لك: ما الأصول الثلاثة التي يجب على الإنسان معرفتها؟
তিনি বলেন: "সেই ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করেছে যে আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদকে রাসূল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছে।" এবং সহীহ মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় (১৮৮৪) আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে আবু সাঈদ! যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদকে নবী হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে।" (আল-হাদীস), এবং এটি সহীহ মুসলিমের (৩৮৬) আযানের দোয়া সংক্রান্ত বর্ণনায়ও এসেছে, যা সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আযান শোনার সময় বলবে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, মুহাম্মাদকে রাসূল হিসেবে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছি, তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
এটি একটি অমূল্য কিতাব, যা থেকে সাধারণ বা বিশিষ্ট কেউই বিমুখ থাকতে পারে না; কারণ এতে এই তিনটি মূলনীতির ব্যাখ্যা ও সেগুলোর প্রমাণাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আর তিনি এতে বলেছেন: "যদি তোমাকে জিজ্ঞেস করা হয়: সেই তিনটি মূলনীতি কী যা জানা মানুষের জন্য অপরিহার্য?
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فقل: معرفة العبد ربه ودينه ونبيَّه محمداً صلى الله عليه وسلم، فإذا قيل لك: مَن ربُّك؟ فقل: ربي الله الذي ربَّاني وربَّى جميع العالَمين بنعمه، وهو معبودي ليس لي معبود سواه، والدليل قوله تعالى: {الحمد لله رب العالمين} ، وكلُّ ما سوى الله عالَم، وأنا واحد من ذلك العالَم، فإذا قيل لك: بمَ عرفتَ ربَّك؟ فقل: بآياته ومخلوقاته، ومن آياته الليل والنهار والشمس والقمر، ومن مخلوقاته السموات السبع والأرضون السبع ومَن فيهنَّ وما بينهما"، واستدلَّ لذلك من القرآن، ثم قال: "والربُّ هو المعبود، والدليل قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشاً وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقاً لَكُمْ فَلا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَاداً وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} ، قال ابن كثير رحمه الله تعالى:
আপনি বলুন: বান্দার তার প্রতিপালক, তার দ্বীন এবং তার নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। সুতরাং আপনাকে যখন প্রশ্ন করা হবে: আপনার রব কে? তখন আপনি বলুন: আমার রব হলেন আল্লাহ, যিনি আমাকে এবং সকল সৃষ্টিজগতকে তাঁর নিআমতসমূহ দিয়ে লালন-পালন করেছেন। তিনিই আমার মা'বুদ, তিনি ছাড়া আমার অন্য কোনো মা'বুদ নেই। এর দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক}। আল্লাহ ব্যতীত যা কিছু আছে তা সবই জগত, আর আমি সেই জগতেরই একজন। সুতরাং আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়: কিসের মাধ্যমে আপনি আপনার রবকে চিনেছেন? তবে আপনি বলুন: তাঁর নিদর্শনসমূহ এবং তাঁর সৃষ্টিরাজির মাধ্যমে। তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। আর তাঁর সৃষ্টিরাজির মধ্যে রয়েছে সপ্ত আসমান ও সপ্ত জমিন এবং এগুলোর মধ্যে যারা আছে ও এ দুটির মাঝে যা কিছু রয়েছে। তিনি এর স্বপক্ষে কুরআন থেকে দলীল পেশ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: “আর রব হলেন তিনিই, যিনি ইবাদতের যোগ্য (মা'বুদ)।” এর দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত করো, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ বানিয়েছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, যার মাধ্যমে তোমাদের রিযিক হিসেবে ফলমূল উৎপাদন করেছেন। সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর সাথে কোনো সমকক্ষ স্থির করো না}। ইবনে কাসীর রহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি বলেন:
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
"الخالقُ لهذه الأشياء هو المستحقُّ للعبادة"، ثم ذكر جملة من أنواع العبادة وأدلتها، ثم قال: "الأصل الثاني: معرفة دين الإسلام بالأدلة، وهو الاستسلام لله بالتوحيد والانقياد له بالطاعة والبراءة من الشرك وأهله، وهو ثلاث مراتب: الإسلام والإيمان والإحسان، وكلُّ مرتبة لها أركان"، ثم ذكر أركان الإسلام الخمسة، وأركان الإيمان الستة، والركن الواحد للإحسان، وذكر الأدلة على ذلك.
ثم قال: " الأصل الثالث: معرفة نبيِّكم محمد صلى الله عليه وسلم، وهو محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم، وهاشم من قريش، وقريش من العرب، والعرب من ذرية إسماعيل بن إبراهيم الخليل عليه وعلى نبيِّنا أفضل الصلاة والسلام، وله من العمر ثلاث وستون سنة، منها أربعون قبل النبوة، وثلاث وعشرون نبيًّا ورسولاً، نبِّئَ بـ { (اقْرَأْ} ، وأُرسل
"এইসব জিনিসের স্রষ্টাই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য", অতঃপর তিনি ইবাদতের বিভিন্ন প্রকার ও সেগুলোর দলিলসমূহ উল্লেখ করেছেন। তারপর তিনি বলেন: "দ্বিতীয় মূলনীতি: দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আর ইসলাম হলো তাওহীদের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর অনুগত হওয়া এবং শিরক ও মুশরিকদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা। এটি তিনটি স্তরবিশিষ্ট: ইসলাম, ঈমান ও ইহসান। প্রতিটি স্তরের নির্দিষ্ট রুকন বা স্তম্ভ রয়েছে।" অতঃপর তিনি ইসলামের পাঁচটি রুকন, ঈমানের ছয়টি রুকন এবং ইহসানের একটি রুকন উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর সপক্ষে দলিলসমূহ বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর তিনি বলেন: "তৃতীয় মূলনীতি: তোমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশেম। আর হাশেম কুরাইশ বংশের অন্তর্ভুক্ত, কুরাইশ আরবের অন্তর্ভুক্ত এবং আরব জাতি ইবরাহিম খলিল আলাইহিস সালাম-এর পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালাম-এর বংশধর—তাঁদের উভয়ের ওপর এবং আমাদের নবীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর; যার মধ্যে চল্লিশ বছর ছিল নবুওয়াতের পূর্বে এবং তেইশ বছর নবী ও রাসূল হিসেবে। তাঁকে 'ইকরা' (পড়ো) সূরার মাধ্যমে নবুওয়াত প্রদান করা হয়েছে এবং তাঁকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে..."
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بالمدثر، وبلده مكة، وهاجر إلى المدينة، بعثه الله بالنذارة عن الشرك ويدعو إلى التوحيد"، ثم ذكر جُملاً أخرى تتعلَّق بالرسول صلى الله عليه وسلم ورسالته واستدلَّ على ذلك، وقد ذكر رحمه الله نسبَه الشريف على سبيل الإجمال، ويدلُّ لشرف نسبه صلى الله عليه وسلم ما رواه مسلم في صحيحه (2276) عن واثلة بن الأسقع رضي الله عنه قال: سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إنَّ الله اصطفى كنانة من ولد إسماعيل، واصطفى قريشاً من كنانة، واصطفى من قريش بني هاشم، واصطفاني من بني هاشم"، وقريش هم أولاد فهر بن مالك، وهو الأب الحادي عشر للرسول صلى الله عليه وسلم، وآباؤه صلى الله عليه وسلم إلى عدنان واحد وعشرون، وهو المتفق عليه في نسبه، وما وراءه مختلف فيه، وهو محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كِلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن
'আল-মুদ্দাসসির' (সূরা)-এর মাধ্যমে, তাঁর শহর হলো মক্কা, এবং তিনি মদীনায় হিজরত করেছেন। আল্লাহ তাঁকে শিরক সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য এবং তাওহীদের দিকে আহ্বান জানানোর জন্য প্রেরণ করেছেন। এরপর তিনি (লেখক) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর রিসালাত সম্পর্কিত আরও কিছু বাক্য উল্লেখ করেছেন এবং এর সপক্ষে দলিল পেশ করেছেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) সংক্ষেপে তাঁর সম্মানিত বংশপরিচয়ও উল্লেখ করেছেন। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশমর্যাদার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হলো যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (২২৭৬) ওয়াসিলা বিন আল-আসকা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনী হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনী হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।" কুরাইশ হলো ফিহর বিন মালিকের সন্তানাদি, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একাদশতম ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ। আদনান পর্যন্ত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পিতৃপুরুষের সংখ্যা হলো একুশ জন, যা তাঁর বংশপরম্পরার ক্ষেত্রে সর্বসম্মত; তবে এর পরবর্তী অংশ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আবদু মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন...
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مُدرِكَة بن إلياس بن مُضَر بن نزار بن مَعَدّ بن عدنان، وهذا النسب أورده الإمام البخاري في صحيحه في مطلع باب مبعث النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم في كتاب مناقب الأنصار، وأورد بعده الحديث (3851) عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: "أُنزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو ابن أربعين، فمكث بمكة ثلاث عشرة سنة، ثم أُمر بالهجرة، فهاجر إلى المدينة، فمكث بها عشر سنين، ثم توفي صلى الله عليه وسلم"، وانظر هذا النسب في الطبقات الكبرى لابن سعد (1/55) ، ففيه نسبة قريش إلى فهر بن مالك الأب الحادي عشر للرسول صلى الله عليه وسلم، وانظر ما قيل في نسبه صلى الله عليه وسلم من عدنان إلى إسماعيل في فتح الباري (6/538 ـ 539) .
والحاصل أنَّ كتاب الأصول الثلاثة وضعه الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله مختصراً
গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন আন-নাদর বিন কিনানাহ বিন খুযাইমাহ বিন মুদরিকাহ বিন ইলিয়াস বিন মুদার বিন নিযার বিন মা'আদ বিন আদনান। এই বংশলতিকা ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের ‘কিতাবুল মানাকিবুল আনসার’-এর অন্তর্ভুক্ত ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তি’ অধ্যায়ের শুরুতে উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে ৩৮৫১ নং হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যখন ওহী নাযিল হয় তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। তিনি মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেন, এরপর তাঁকে হিজরতের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে তিনি মদিনায় হিজরত করেন এবং সেখানে দশ বছর অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন।" এই বংশলতিকার জন্য ইবনে সা’দের ‘আত-তাবাকাতুল কুবরা’ (১/৫৫) দেখুন। সেখানে কুরাইশদের বংশধারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাদশতম পূর্বপুরুষ ফিহর বিন মালিক পর্যন্ত পৌঁছেছে। আদনান থেকে ইসমাঈল পর্যন্ত তাঁর বংশধারা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তার জন্য ‘ফাতহুল বারী’ (৬/৫৩৮-৫৩৯) দেখুন।
সারকথা হলো, ‘আল-উসুলুস সালাসাহ’ (তিনটি মূলনীতি) গ্রন্থটি শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) সংক্ষিপ্ত আকারে রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
واضح العبارات، مستدلاًّ لما يذكره بالكتاب والسنة، وهو من أوَّل ما ينبغي أن يُلقَّنه الصبيان، ويُعلَّمه العوام، ويستفيد منه الخاص والعام.
منهجه في تأليف كتاب كشف الشبهات
اسم الكتاب مُطابقٌ لموضوعه، فالشيخ رحمه الله أورد فيه الشبهات التي ذكرها أهلُ البدع، ملبِّسين بها على الدعوة إلى الحقِّ والصراط المستقيم، ومخالفين فيها لِما كان عليه سلف هذه الأمَّة من الصحابة ومَن سار على نهجهم، وذلك بتعلُّقهم بالأولياء والصالحين، وجعلهم وسائط بينهم وبين الله، يَدعونهم ويَستغيثون بهم، فجمع الشيخ رحمه الله جُملاً كبيرة من هذه الشُّبَه، فيذكر الشبهة ثم يذكر الجواب عليها، مستدلاًّ على ذلك بنصوص الكتاب والسنَّة وما كان عليه سلف
এর প্রকাশভঙ্গি প্রাঞ্জল, তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার স্বপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দলিল পেশ করেছেন। এটি এমন একটি বিষয় যা শিশুদেরকে প্রথমত শেখানো উচিত এবং সাধারণ মানুষদের জানানো আবশ্যক, আর তা থেকে বিশিষ্ট ও সাধারণ—উভয় শ্রেণীই উপকৃত হতে পারে।
'কাশফুশ শুবুহাত' গ্রন্থটি রচনার ক্ষেত্রে তাঁর কর্মপদ্ধতি
গ্রন্থের নামটি এর বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) এতে সেই সংশয়গুলো উল্লেখ করেছেন যা বিদআতীরা পেশ করে থাকে; যার মাধ্যমে তারা সত্যের দাওয়াত ও সঠিক পথের ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং এ ক্ষেত্রে তারা সাহাবী ও তাঁদের অনুসারী এই উম্মতের সালাফদের (পূর্বসূরীদের) মতাদর্শের বিরোধিতা করে। আর তা হলো—অলি ও নেককার বান্দাদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া এবং তাঁদেরকে নিজেদের ও আল্লাহর মাঝে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা; তাঁদের কাছে দোয়া করা এবং তাঁদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা। ফলে শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) এই সংশয়সমূহের একটি বড় অংশ একত্রিত করেছেন; তিনি প্রথমে সংশয়টি উল্লেখ করেন এবং এরপর কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফদের আদর্শ থেকে দলিল পেশ করে তার উত্তর প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الأمَّة، وكتابه هذا متمِّمٌ لكتبه الأخرى في العقيدة، التي أوضح فيها ما يجب اعتقاده وفقاً لنصوص الكتاب والسنَّة، فإنَّه بهذا الكتاب أجاب على ما يُورَد على العقيدة الصحيحة من شبهات، مبيِّناً بطلانها ومخالفتها للحقِّ والهدى الذي كان عليه سلف هذه الأمَّة.
منهجه في تفسير القرآن الكريم
ليس للشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله تفسير كامل للقرآن الكريم، وإنما وُجد له تفسير لبعض سُوَر القرآن، منها ما يكون تفسيراً لسورة كلِّها، مثل سورة الفاتحة وسورة الجن والفلق والناس، أو تفسيراً لبعض الآيات من السُّوَر، وهي إمَّا كثيرة مثل سورة يوسف، وإمَّا قليلة لا تتجاوز آية أو ثلاث آيات مثل سورة يونس وسورة المؤمنون.
উম্মাহ, এবং তাঁর এই গ্রন্থটি আকিদাহ বিষয়ক তাঁর অন্যান্য গ্রন্থসমূহের পরিপূরক, যাতে তিনি কিতাব ও সুন্নাহর নস অনুযায়ী যা বিশ্বাস করা ওয়াজিব তা স্পষ্ট করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি এই গ্রন্থের মাধ্যমে সঠিক আকিদাহর ওপর আপতিত সংশয়সমূহের জবাব দিয়েছেন এবং সেগুলোর অসারতা ও এই উম্মাহর সালাফগণ যে সত্য ও হিদায়াতের ওপর ছিলেন, তার পরিপন্থী হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট করেছেন।
আল-কুরআনুল কারিমের তাফসিরে তাঁর পদ্ধতি
শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর আল-কুরআনুল কারিমের কোনো পূর্ণাঙ্গ তাফসির নেই। বরং কুরআনের কিছু সূরার তাফসির তাঁর কাছে পাওয়া যায়, যার মধ্যে কোনোটি পূর্ণাঙ্গ সূরার তাফসির, যেমন—সূরা আল-ফাতিহা, সূরা আল-জিন, আল-ফালাক ও আন-নাস; অথবা কোনো কোনো সূরার কিছু আয়াতের তাফসির, যা কখনও অনেক বেশি যেমন—সূরা ইউসুফ, আবার কখনও সামান্য যা এক থেকে তিনটি আয়াতের বেশি নয় যেমন—সূরা ইউনুস ও সূরা আল-মুমিনুন।
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ومنهجه في الغالب مبنيٌّ على الاستنباط من الآية أو الآيات وذِكْر المسائل المستنبطة متسلسلة، مثل أول آية فسَّرها من سورة البقرة، وهي قوله: {وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُوا الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ} ، فقد استنبط منها إحدى وخمسين مسألة، وهو دالٌّ على قوَّة فهم الشيخ ودقَّة استنباطه وعنايته بالفقه في الدِّين، فقد ثبت في الصحيحين من حديث معاوية رضي الله عنه قوله صلى الله عليه وسلم: "مَن يُرد الله به خيراً يفقِّهه في الدِّين".
ومن الآيات ما يذكر المسائل المستنبطة منها بغير سرد، بل يقول: فيها كذا وفيها كذا، كما في قوله تعالى: {مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ} ، والآيات الثلاث التي بعدها، وأحياناً يأتي بتفسير الكلمات والجمل من السورة، كما في سورة الجن، وأحياناً يأتي بتفسير قصة من قصص الأنبياء
তাঁর পদ্ধতি সাধারণত আয়াত বা আয়াতসমূহ থেকে মাসআলা উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবিত মাসআলাগুলো ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যেমন সূরা আল-বাকারার প্রথম যে আয়াতটির তিনি তাফসীর করেছেন, সেটি হলো আল্লাহর বাণী: "আর শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বকালে যা পাঠ করত, তারা তারই অনুসরণ করেছিল।" তিনি এই আয়াত থেকে একান্নটি মাসআলা আহরণ করেছেন, যা শাইখের প্রখর বোধশক্তি, সূক্ষ্ম উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং দ্বীনের ফিকহ বা গভীর জ্ঞানের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্নের পরিচায়ক। কেননা সহীহাইন-এ মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী প্রমাণিত হয়েছে: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে তিনি দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।"
আবার কিছু আয়াতের ক্ষেত্রে তিনি আহরিত মাসআলাগুলো ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা না করে বরং বলেন: এতে এই রয়েছে এবং এতে ওই রয়েছে। যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "আল্লাহ কোনো মানুষকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করার পর তার জন্য এটা শোভনীয় নয় যে সে মানুষকে বলবে...", এবং এর পরবর্তী তিনটি আয়াত। আবার কখনো কখনো তিনি সূরার শব্দ ও বাক্যসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান করেন, যেমনটি সূরা আল-জিন্ন-এর ক্ষেত্রে করেছেন। আর কখনো কখনো তিনি নবীগণের কাহিনীসমূহ থেকে কোনো একটি কাহিনীর ব্যাখ্যা করেন।
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
في سورة، ثم يأتي بالكلام على القصة في سور أخرى، كما فعل في أول تفسير سورة القصص، فإنَّه تكلَّم على قصة موسى وهارون في هذه السورة، ثم ذكر بعدها الكلام على قصتهما في سور القرآن الأخرى.
وهذا مثال من أمثلة تفسير الشيخ واستنباطه المسائل من الآيات، قال رحمه الله في تفسير الآيات الثلاث من سورة المؤمنون: "قوله عز وجل: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحاً} الآيتين، فيه مسائل:
الأولى: أنَّ الله أمر الرسلَ بهذا مع اختلاف أزمنتهم وأمكنتهم، فيدلُّ على أنَّه من عظيم الأمور.
الثانية: أنَّ الرسلَ إذا أُمروا بذلك، فغيرهم أولى بالحاجة إلى ذلك، فأفاد أنَّ هذا يحتاج إليه أعلم
একটি সূরায়, এরপর তিনি অন্যান্য সূরায় সেই ঘটনার আলোচনা নিয়ে আসেন, যেমনটি তিনি সূরা আল-কাসাসের তাফসীরের শুরুতে করেছেন। তিনি এই সূরায় মূসা ও হারূনের কাহিনী নিয়ে আলোচনা করেছেন, তারপর কুরআনের অন্যান্য সূরায় তাঁদের কাহিনী সংশ্লিষ্ট আলোচনা উল্লেখ করেছেন।
এটি শাইখের তাফসীর এবং আয়াত থেকে মাসয়ালা উদ্ভাবনের একটি উদাহরণ। সূরা আল-মুমিনুনের তিনটি আয়াতের তাফসীরে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার বাণী: {হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং সৎকর্ম করো} এই দুই আয়াতে বেশ কিছু মাসয়ালা রয়েছে:
প্রথমত: আল্লাহ রাসূলগণকে তাঁদের সময় ও স্থানের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও এই নির্দেশ দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
দ্বিতীয়ত: রাসূলগণকে যখন এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তখন অন্যেরা এর মুখাপেক্ষী হওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি উপযুক্ত। ফলে এটি এই ফায়দা দেয় যে, এর প্রয়োজন রয়েছে সবচেয়ে বড় আলিমের...
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الناس حاجة شديدة.
الثالثة: إذا فُرض هذا على الرسل مع اختلاف الأزمنة والأمكنة، فكيف بأمَّة واحدة، نبيُّها واحد، وكتابها واحد؟!
الرابعة: أنَّ الخطاب للرسل عام للأمم، بدليل قوله: {فَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُمْ} .
الخامسة: الأمر بالأكل من الطيبات، ففيه ردٌّ على الغلاة الذين يمتنعون عنها، وفيه ردٌّ على الجفاة الذين لا يقتصرون عليها.
السادسة: الأمر بإصلاح العمل مع الأكل من الطيبات، ففيه ردٌّ على ثلاث طوائف:
أولهم: الآكلون الطيبات بلا شكر، والشكر هو العمل المرضي.
وثانيهم: من يعمل العمل غير الخالص، مثل المرائي وقاصد الدنيا.
মানুষের তীব্র প্রয়োজন রয়েছে।
তৃতীয়ত: যদি কাল ও স্থানের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও রাসূলদের ওপর এটি আবশ্যক করা হয়, তবে এমন এক উম্মতের ক্ষেত্রে তা কেমন হবে, যাদের নবী একজন এবং কিতাবও একটি?!
চতুর্থত: রাসূলদের প্রতি সম্বোধন উম্মতদের জন্যও সাধারণ, যার প্রমাণ হলো তাঁর বাণী: {অতঃপর তারা তাদের দ্বীনকে নিজেদের মধ্যে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে}।
পঞ্চমত: পবিত্র বস্তুসমূহ আহার করার নির্দেশ; এতে ওই সব বাড়াবাড়িকারীদের খণ্ডন রয়েছে যারা তা থেকে বিরত থাকে এবং ওই সব শিথিলকারীদেরও খণ্ডন রয়েছে যারা কেবল পবিত্র বস্তুর ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না।
ষষ্ঠত: পবিত্র বস্তুসমূহ আহারের সাথে সাথে আমল সংশোধন করার নির্দেশ; এতে তিনটি দলের প্রতি প্রত্যুত্তর রয়েছে:
তাদের প্রথমটি: যারা কৃতজ্ঞতা ছাড়াই পবিত্র বস্তুসমূহ আহার করে, আর কৃতজ্ঞতা হলো সন্তোষজনক আমল।
তাদের দ্বিতীয়টি: যারা অখাঁটি আমল করে, যেমন লোকদেখানো ইবাদতকারী এবং দুনিয়া অন্বেষণকারী।
(খণ্ড: ১)
মানহাজু শায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তালিফ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وثالثهم: الذي يعمل مخلصاً لكنه على غير الأمر.
السابعة: المسألة العظيمة التي سيق الكلام لأجلها، وهي فرض الاجتماع في المذهب وتحريم الافتراق، فإذا فرضه على الأنبياء مع اختلاف الأزمنة والأمكنة فكيف بأمَّة واحدة، ونبيُّها واحد، وكتابها ودينها واحد؟!
الثامنة: ذكره سبحانه فعلهم الذي صدر عنهم بعد ما عرفوا الوصية العظيمة بالاجتماع والنهي عن الافتراق، وأنَّهم تقطَّعوا أمرهم بينهم زبراً، كلُّ حزب بما لديهم فرحون، فذكر أنَّهم قابلوا الوصيَّةَ بعدما سمعوها بما يُضادُّها غاية المضادة، وهو أنَّهم تركوا الاجتماع وتفرَّقوا، ثم بعد ذلك كلُّ فرقة صنَّفت لها كتباً غير كتب الآخرين، ثمَّ كلُّ فرقة فرحت بما تركت من الهدى، وفرحت بما ابتدعته من الضلال، كما قال الشاعر:
আর তাদের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি: যে একনিষ্ঠভাবে আমল করে, কিন্তু তা নির্দেশের পরিপন্থী।
সপ্তম: সেই মহান বিষয়টি যার উদ্দেশ্যে এই আলোচনার অবতারণা করা হয়েছে, আর তা হলো—মাজহাবে (পথে) ঐক্যবদ্ধ থাকা ফরজ হওয়া এবং বিভেদ সৃষ্টি করা হারাম হওয়া। সুতরাং আল্লাহ যদি বিভিন্ন সময় ও স্থানের পার্থক্য সত্ত্বেও নবীদের ওপর এটি ফরজ করে থাকেন, তবে একটি একক উম্মতের ক্ষেত্রে তা কেমন হবে—যাদের নবী একজন, কিতাব একটি এবং দীনও একটি?!
অষ্টম: ঐক্যবদ্ধ থাকার মহান অসিয়ত এবং বিভেদ সৃষ্টির নিষেধাজ্ঞা জানার পর তাদের থেকে যে আচরণ প্রকাশ পেয়েছিল, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তা উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো—তারা তাদের বিষয়টিকে নিজেদের মধ্যে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলেছে; প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়েই আনন্দিত। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তারা সেই অসিয়ত শোনার পর তার চরম বিপরীতমুখী আচরণ করেছে; আর তা হলো—তারা ঐক্য ত্যাগ করেছে এবং বিভক্ত হয়েছে। এরপর প্রতিটি দল অন্যদের কিতাব বাদ দিয়ে নিজেদের জন্য আলাদা আলাদা কিতাব সংকলন করেছে। অতঃপর প্রতিটি দল হেদায়াতের যে অংশ তারা বর্জন করেছে তা নিয়ে এবং ভ্রষ্টতার যে অংশ তারা উদ্ভাবন করেছে তা নিয়েই উল্লসিত হয়েছে, যেমনটি কবি বলেছেন: