(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: -)
خلاصة التأصيل لعلم الجرح والتعديل - ط المعراج القسم: علوم الحديث
الكتاب: خلاصة التأصيل لعلم الجرح والتعديل
المؤلف: أ. د. الشريف حاتم بن عارف العوني
الناشر: دار المعراج للنشر والتوزيع - دمشق
العام: 1443 هـ - 2021 م
الطبعة: الأولى [لدار المعراج، وهي الثانية لأصل الكتاب]
عدد الصفحات: 69
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو الحجة 1444
জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের বিদ্যাতাত্ত্বিক ভিত্তির সারসংক্ষেপ - আল-মেরাজ সংস্করণ শাখা: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের বিদ্যাতাত্ত্বিক ভিত্তির সারসংক্ষেপ
লেখক: প্রফেসর ডক্টর শরিফ হাতিম বিন আরিফ আল-আওনি
প্রকাশক: দার আল-মেরাজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - দামেস্ক
বছর: ১৪৪৩ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সংস্করণ: প্রথম [দার আল-মেরাজ প্রকাশনীর জন্য, যা মূল গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ জিলহজ ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةالحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، وعلى آله وأصحابه ومن اتَّبعَ هَدْيَه واتَّقَى حَدَّه.
أمّا بعد: فهذه محاضراتٌ مختصرةٌ في علم الجرح والتعديل، أُلقيت في إحدى الدورات العلمية في مسجدٍ من مساجد البلد الحرام: مكة (زادها الله تشريفًا وتعظيمًا). ثم إني عُدت إليها تحريرًا واستيفاءً لأهم مسائل العلم؛ لتكون كالمتون العلمية من هذا الوجه.
ولحاجة كثير من طلبة العلم إلى مثل هذا المختصر، رأيتُ الخيرَ في طبعها أرجى، والنفعَ في نشرها أجدى. وهي أوراقٌ مختصرةٌ جدًا، تُيسِّرُ وتُعِينُ، ولا تكفي وحدها ولا تُغْني. ولكنها خرجت على المثل السائر: خير الكلام ما قَلَّ ودَلّ.
ومصادري في هذه الأوراق هي المصنفات القديمة والحديثة في علم الجرح والتعديل، مع ما عرفتُه عن قواعد هذا العلم ومسائِلِه من خلال الممارسة. وقد حرصتُ على تقليل أوراقها، واختصارِ عباراتها، تيسيرًا للمبتدئ وتذكيرًا للمنتهي، ولتكون أولَ متنٍ في علم الجرح والتعديل.
ভূমিকা (المقدمة)প্রশংসা কেবল একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পরে কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং যারা তাঁর প্রদর্শিত পথের অনুসরণ করেছে ও তাঁর বিধিবিধান মেনে চলেছে তাদের ওপর।
অতঃপর: এগুলো হচ্ছে জারহ ও তা'দিল বিদ্যা (علم الجرح والتعديل) সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত কিছু বক্তৃতা, যা পবিত্র নগরী মক্কার (আল্লাহ এর সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করুন) একটি মসজিদে আয়োজিত একটি ইলমি কোর্সে প্রদান করা হয়েছিল। অতঃপর আমি এই বিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালাগুলো (مسائل) পূর্ণাঙ্গরূপে সংকলন ও সম্পাদনার জন্য এগুলোতে পুনরায় দৃষ্টিপাত করেছি; যাতে এটি এই দিক থেকে ইলমি মতনগুলোর (المتون العلمية) ন্যায় হয়।
অনেক ইলম অন্বেষীর (طلبة العلم) নিকট এই ধরণের সংক্ষিপ্ত রচনার প্রয়োজনীয়তা থাকায় আমি এটি মুদ্রণ করাকে অধিক কল্যাণকর এবং এর প্রচারকে অধিক ফলপ্রসূ মনে করেছি। এগুলো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিছু পৃষ্ঠা, যা বিষয়টিকে সহজ ও সহায়তা করবে; তবে এটি এককভাবে যথেষ্ট বা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। বরং এটি এই প্রচলিত প্রবাদের ভিত্তিতে রচিত হয়েছে: ‘সেই কথাই উত্তম যা সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ’।
এই লেখাগুলোতে আমার উৎস হলো জারহ ও তা'দিল বিদ্যা (علم الجرح والتعديل) সংক্রান্ত প্রাচীন ও আধুনিক রচনাবলি, সেইসাথে এই বিদ্যার মূলনীতি (قواعد) ও মাসয়ালাসমূহ (مسائل) সম্পর্কে চর্চার মাধ্যমে আমি যা জেনেছি। আমি এর পৃষ্ঠা সংখ্যা কমাতে এবং এর বাক্যসমূহকে সংক্ষিপ্ত করতে সচেষ্ট হয়েছি, যেন তা শিক্ষার্থীর (مبتدئ) জন্য সহজবোধ্য এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তির (منتهي) জন্য স্মারক হয়, আর যেন এটি জারহ ও তা'দিল বিদ্যা (علم الجرح والتعديل)-এর ওপর প্রথম মতন (متن) হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولا أَشُكُّ أنه متنٌ يحتاج شرحًا، وضَرْبَ أمثلةٍ توضيحية، وهو ما أرجو أن يخرج قريبًا بإذن الله تعالى.
وقد طُبعت الطبعة الأولى من هذا الكتاب سنة 1421 هـ، ثم إني عدتُ إلى تلك الطبعة بالتنقيح والزيادة، بما تَمَّمَ مباحثَ عديدةً لم أكن قد ذكرتُها في الطبعة الأولى، أَوْجَبَ إضافتَها ما أرجوه من التمتين الشاملِ لأصول مسائل هذا العلم.
فأسأله تعالى أن ينفع بهذه الورقات، وأن يجعلها في موازين الحسنات؛ إنه سميع مجيب الدعوات.
আর আমি এতে কোনো সন্দেহ করি না যে, এটি এমন একটি মূল পাঠ (متن) যার ব্যাখ্যা এবং বিশ্লেষণমূলক উদাহরণের প্রয়োজন রয়েছে; আর আমি আশা করছি যে, আল্লাহর ইচ্ছায় তা শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।
এই গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণ ১৪২১ হিজরি সনে মুদ্রিত হয়েছিল। অতঃপর আমি সেই সংস্করণে পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করি, যার মাধ্যমে এমন অনেক আলোচনা (مباحث) পূর্ণতা লাভ করেছে যা প্রথম সংস্করণে আমি উল্লেখ করিনি। এই ইলমের মাসআলাগুলোর (مسائل) মূলনীতির (أصول) সামগ্রিক সুদৃঢ়করণের আকাঙ্ক্ষাই তা যোগ করা অপরিহার্য করে তুলেছে।
অতএব আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই পৃষ্ঠাগুলো দ্বারা ফায়দা দান করেন এবং একে নেক আমলের পাল্লায় গণ্য করেন; নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও দোয়ায় সাড়াদানকারী।
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৭)
التَّعريفُ بالعِلْم
تعريفُ الجرحِ والتعديل:تعريفُ الجرح:
لغةً: هو التأثيرُ في البدنِ بشقٍّ أو قَطع، واستُعِير في المعنويات بمعنى التأثير في الخُلُق والدِّين بوصفٍ يُناقِضُهما.
واصطلاحًا هو: وَصْفُ الراوي بما يقتضي رَدَّ روايتِه.
وتعريفُ التعديل:
لغةً: هو التقويمُ والتسوية، واستُعِيرَ في المعنويات بمعنى الثناء على الشخص بما يدل على دِينه القويم وخُلُقِهِ السَّوِيّ.
واصطلاحًا: وَصْفُ الراوي بما يقتضي قبولَ روايته.
فعِلمُ الجرح والتعديل النظريّ هو: القواعدُ التي تُبنَى عليها معرفةُ منازلِ الرواةِ من القبول وعدمه.
وعلمُ الجرح والتعديل التطبيقي هو: إنزالُ كل راوٍ منزلتَه التي يستحقُّها من القبول وعدمه.
শাস্ত্রের পরিচিতি
জারহ ও তাদীল (الجرح والتعديل)-এর সংজ্ঞা:জারহ (الجرح)-এর সংজ্ঞা:
আভিধানিকভাবে: এটি হচ্ছে ক্ষত বা কাটার মাধ্যমে শরীরে প্রভাব ফেলা। রূপকার্থে একে চরিত্র ও দ্বীনদারীর ক্ষেত্রে এমন বিষয়ের মাধ্যমে প্রভাব ফেলা বা দোষারোপ করা বোঝায় যা ওই দুই গুণের পরিপন্থী।
পারিভাষিকভাবে: বর্ণনাকারীকে (الراوي) এমন বিশেষণে বিশেষায়িত করা যা তার বর্ণনা (رواية) প্রত্যাখ্যান (رد) করার দাবি রাখে।
তাদীল (التعديل)-এর সংজ্ঞা:
আভিধানিকভাবে: এটি হচ্ছে সংশোধন ও সমতা বিধান করা। রূপকার্থে একে কোনো ব্যক্তির এমন প্রশংসা করা বোঝায় যা তার সঠিক দ্বীনদারী ও সুষম চরিত্রের প্রমাণ দেয়।
পারিভাষিকভাবে: বর্ণনাকারীকে (الراوي) এমন বিশেষণে বিশেষায়িত করা যা তার বর্ণনা (رواية) গ্রহণ (قبول) করার দাবি রাখে।
তাত্ত্বিক জারহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) শাস্ত্র হলো: সেই সব নিয়মাবলি যার ওপর ভিত্তি করে বর্ণনাকারীদের (الرواة) গ্রহণযোগ্যতা বা বর্জনীয়তার স্তরসমূহ নিরূপণের জ্ঞান অর্জিত হয়।
প্রয়োগিক জারহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) শাস্ত্র হলো: প্রত্যেক বর্ণনাকারীকে (الراوي) তার গ্রহণযোগ্যতা বা বর্জনীয়তা অনুযায়ী উপযুক্ত স্তরে স্থান দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الكلامُ عن العَدَالة• تعريفُ العدالة (على الإطلاق): مَلَكَةٌ تحمل صاحبَها على مُلازمةِ التقوى والمروءة.
شرحُ التعريف:
المَلَكَة: السَّجِيَّة.
وتعريف العدالة بتلك الملَكة ليس عليه انتقادٌ في نظري؛ لأن تعريفَ العدالة بذلك ليس هو تعريفَ العَدْلِ، فمن كانت له تلك الملَكة لا يلزم من اتِّصافِه بها أن يكون معصومًا، فقد يخالف صاحبُ الملَكةِ مَلَكَتَهُ أحيانًا، وقد يتجاوز ذو السَّجِيَّةِ سجِيَّتَهُ، وكما قيل في بيان ذلك: «لكلّ جوادٍ كَبْوَةٌ، ولكلّ سيفٍ نَبْوَةٌ». وعليه: فإنّي لا أرى أن هناك فرقًا بين تعريفِ العدل بصاحب تلك الملَكة وتعريفِه بأنه: من كان الغالبُ عليه فِعْلَ الطاعات وتَرْكَ المعاصي، أو بأنه: مَن غَلَبَ خيرُه شرَّه.
ثم إن الملَكاتِ (والسَّجايا) تتفاوت في القوة والتَّمَكُّنِ، فليس كل من كان الجودُ سجيتَه بلغ مبلغَ حاتم الطائي، ولا كل من كانت التقوى والمروءة ملكةً له بلغ مبلغ أبي بكر وعمر رضي الله عنهما. وهذا هو مقتضى اعتقاد أهل السنة والجماعة: بأن الإيمان يزيد وينقص، وأن أصحابه فيه متفاوتون.
বিশ্বস্ততা (العدالة) সংক্রান্ত আলোচনা• বিশ্বস্ততার (العدالة) সংজ্ঞা (সাধারণভাবে): এটি এমন একটি চারিত্রিক যোগ্যতা (ملكة), যা এর অধিকারীকে তাকওয়া (التقوى) ও মানবিক গুণাবলি (المروءة) আঁকড়ে ধরতে উদ্বুদ্ধ করে।
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
যোগ্যতা (الملكة): স্বভাবজাত গুণ (السجية)।
বিশ্বস্ততাকে (العدالة) এই 'যোগ্যতা' (الملكة) দ্বারা সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে আমার দৃষ্টিতে কোনো সমালোচনা বা আপত্তি নেই; কারণ বিশ্বস্ততার (العدالة) এই সংজ্ঞা আর 'বিশ্বস্ত রাবীর' (العدل) সংজ্ঞা এক নয়। সুতরাং যার মধ্যে এই যোগ্যতা (الملكة) বিদ্যমান, তাকে এই গুণ দ্বারা বিশেষায়িত করার অর্থ এই নয় যে তাকে নিষ্পাপ (معصوم) হতে হবে। কারণ যোগ্যতার (الملكة) অধিকারী ব্যক্তি কখনো কখনো তার যোগ্যতার (الملكة) পরিপন্থী কাজ করতে পারে, আবার স্বভাবজাত গুণের (السجية) অধিকারী ব্যক্তিও কখনো তার স্বভাবের ব্যতিক্রম ঘটাতে পারে। যেমনটি এই প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছে: «প্রত্যেক তেজস্বী ঘোড়ারই পদস্খলন হতে পারে এবং প্রত্যেক ধারালো তরবারিরই লক্ষ্যভ্রষ্টতা ঘটতে পারে»। অতএব, আমি মনে করি না যে বিশ্বস্ত রাবীকে (العدل) 'সেই যোগ্যতার (الملكة) অধিকারী' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা এবং তাকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করার মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে যে—'যার অধিকাংশ কাজই হলো আনুগত্য করা ও পাপ বর্জন করা' অথবা 'যার মঙ্গলের দিকটি মন্দের ওপর প্রবল'।
তদুপরি, চারিত্রিক যোগ্যতাগুলো (الملكات) [এবং স্বভাবজাত গুণাবলি (السجايا)] শক্তি ও দৃঢ়তার দিক থেকে তারতম্যপূর্ণ হয়ে থাকে। সুতরাং দানশীলতা যার স্বভাব (السجية), সে হাতেম তাঈ-এর পর্যায়ে পৌঁছে যাবে—এমনটি যেমন জরুরি নয়, তেমনি তাকওয়া (التقوى) ও মানবিক গুণাবলি (المروءة) যার যোগ্যতা (ملكة), সে আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পর্যায়ে পৌঁছে যাবে—এমনটিও নয়। আর এটিই হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদার দাবি যে, ঈমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায় এবং ঈমানদারগণ ঈমানের স্তরে একে অপরের থেকে ভিন্ন হয়ে থাকেন।
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৯)
- والتقوى: هي الدافع الإيماني الذي يجعل المتَّصِفَ به متقرِّبًا لله تعالى بفعل الطاعات وتَرْكِ المحرّمات وسرعةِ الأوبة بعد الغفلات.
وأما المُتَّقي: فهو من غَلَبَ أثرُ إيمانه على أعمال قلبه وجوارحه، فكان غالبُ حاله طاعةَ الله تعالى والتقرُّبَ إليه.
- والمقصود ب (المروءة) هنا معناها الخاص: وهي التزامُ صفات أهل العقل الراجح وسمات أهل التقوى التي تخضع للعُرْفِ المكاني والزماني.
إذِ الأمرُ قد يكون في أصله مباحًا أو صغيرةً من الصغائر التي لا تكفي وحدها لنفي العدالة، ورغم ذلك فقد يَخْرِمُ ذلك المباحُ أو الذنبُ الصغيرُ مروءةَ الشخص، ويمنع وَصْفَه بالعدالة، وذلك إذا ما كان ذلك المباحُ أو تلك الصغيرةُ من خصائص الفُسّاق أو من السمات الغالبة على أهل السَّفَهِ (نقص العقل) في عُرفٍ من الأعراف.
ولكي أُقرِّب المعنى للمعاصرين: تخيّل أنك رأيت موظَّفًا يَدخُل دائرةَ عملِه بإزارٍ فقط، لا يَستُر إلا ما بين السرة والركبة، فإنه سوف يغلب على ظني أن فاعلَ ذلك ليس من أهل المروءة، مع أنه لم يفعل محرّمًا، حيث إنه قد ستر عورته؛ لأن ذلك المظهر لا يفعله في عرفنا شخصٌ عاقل.
وأما تعريف (المروءة) بالمعنى العام: فهي التزامُ صفاتِ أهلِ العقلِ الراجِحِ وسِماتِ أهلِ التقوى، مطلقا.
فالمروءةُ (بمعناها العام) أعمُّ من التقوى، وخوارمُ المروءة
- তাকওয়া (التقوى): এটি হলো এমন এক ঈমানি প্রেরণা যা এর অধিকারী ব্যক্তিকে আনুগত্যপূর্ণ কাজ সম্পাদন, হারাম (محرمات) বর্জন এবং গাফেল হওয়ার পর দ্রুত আল্লাহর দিকে ফিরে আসার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভে ব্রতী করে।
আর মুত্তাকি (المتقي) হলেন তিনি, যাঁর অন্তরের আমল ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্মের ওপর ঈমানের প্রভাব প্রবল থাকে; ফলে তাঁর অধিকাংশ অবস্থা মহান আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর নৈকট্য লাভের মধ্যেই অতিবাহিত হয়।
- এখানে ব্যক্তিত্ববোধ (المروءة) বলতে এর বিশেষ অর্থ উদ্দেশ্য: আর তা হলো প্রখর বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন এবং খোদাভীরু (التقوى) ব্যক্তিদের গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যগুলো মেনে চলা, যা স্থান ও কালের প্রচলিত রীতিনীতির (العرف) ওপর নির্ভরশীল।
কারণ কোনো কাজ মূলত বৈধ (مباح) হতে পারে অথবা এমন কোনো ছোট গুনাহ (صغيرة) হতে পারে যা একা কোনো ব্যক্তির ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) নাকচ করার জন্য যথেষ্ট নয়; তা সত্ত্বেও সেই বৈধ কাজ বা ছোট গুনাহটি ব্যক্তির ব্যক্তিত্ববোধকে (المروءة) ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং তাকে ন্যায়পরায়ণ (العدالة) হিসেবে অভিহিত করতে বাধা দিতে পারে। এটি তখন ঘটে যখন সেই বৈধ কাজ বা ছোট গুনাহটি কোনো বিশেষ প্রচলিত রীতিনীতি (العرف) অনুযায়ী পাপাচারীদের (الفُسّاق) বৈশিষ্ট্য কিংবা নির্বোধদের (السفه) চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
বর্তমান সময়ের মানুষের কাছে অর্থটি সহজবোধ্য করার জন্য: কল্পনা করুন যে, আপনি একজন কর্মকর্তাকে দেখলেন যিনি তাঁর কর্মস্থলে কেবল একটি লুঙ্গি পরে প্রবেশ করছেন, যা কেবল নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ আবৃত করে রেখেছে। এমতাবস্থায় আমার প্রবল ধারণা হবে যে, এই কাজ সম্পাদনকারী ব্যক্তি ব্যক্তিত্ববোধসম্পন্ন (أهل المروءة) নন, যদিও তিনি কোনো হারাম (محرم) কাজ করেননি, যেহেতু তিনি তাঁর সতর (عورة) আবৃত করেছেন; কারণ আমাদের প্রচলিত রীতিনীতিতে (العرف) কোনো বুদ্ধিমান মানুষ এমন আচরণ করেন না।
আর সাধারণ অর্থে ব্যক্তিত্ববোধের (المروءة) সংজ্ঞা হলো: নিঃশর্তভাবে প্রখর বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন ও খোদাভীরু (التقوى) ব্যক্তিদের গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুসরণ করা।
সুতরাং সাধারণ অর্থে ব্যক্তিত্ববোধ (المروءة) বিষয়টি খোদাভীরুতা (التقوى) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক, আর ব্যক্তিত্ববোধ বিনষ্টকারী বিষয়গুলো (خوارم المروءة)
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১০)
أعمُّ من أسباب الفسق؛ فالمروءة بمعناها العام: يكون فيها كل مُفسِّقٍ خارمًا للمروءة
(1)، ولا يكون كل خارمٍ للمروءة مفسِّقًا بحكمٍ منصوص
(2).
فللمروءة إطلاقان: إطلاقٌ أخصُّ من إطلاق، والمراد هنا الأخصّ.
وإنما وجب اشتراط المروءة بالمعنى الخاص: للتأكيد على إخراج مَن يَغلِب على الظن أنه ليس بعدل، وإن لم يثبت عليه يقينًا أنه فاسق؛ وذلك لإتيانه بما الغالبُ على مَن يأتيه (عُرْفًا) بأنه من أهل الفسق أو من أهل السَّفَهِ (نَقْصِ العقل)، ونحن مطالبون عَقْلًا باعتبارِ غلبةِ الظنِّ والحكمِ بها، إذا لم يُعارِضْها يقينٌ، أو ظنٌّ أقوى منها في غلبةِ الظن.
ويظهر من كل ذلك: أن اشتراط المروءة إنما هو في الحقيقة للتثبُّتِ من سلامة العقل والدين، من خلال التَّنزُّهِ عن قوادحَ ظنيةٍ فيهما: فهي كفعلٍ مباحٍ أو ذنبٍ من الصغائر لكنهما من خصائص أهل الفسق أو السَّفَهِ عُرْفًا، فيغلب على الظن أن فاعله منهم.
فإذا علمتَ ذلك، تَبيَّنَ أنّ مَن أتى قادحًا ظنيًّا مما يقدح في المروءة غالبًا، لكننا نعلم يقينًا أنه سالمُ العقلِ والدِّين: فيجب أن نُقدِّمَ حينها يقينَنَا بعدالته على ظنِّنَا بعدمها، وأن نُرجِّحَ الحكمَ المقطوعَ بطريقِهِ على الحكم المظنونِ طريقُهُ: وهو العلامات
--------------------------------------------
এটি পাপাচারিতার (فسق) কারণসমূহের চেয়েও ব্যাপক; কারণ সাধারণ অর্থে মুরুআত (مروءة) বলতে এমন বিষয়কে বোঝায় যেখানে প্রত্যেকটি পাপাচার সাব্যস্তকারী (مفسق) কাজই মুরুআত ক্ষুণ্ণকারী (خارم للمروءة) হিসেবে গণ্য হয়
(১), তবে মুরুআত ক্ষুণ্ণকারী (خارم للمروءة) প্রতিটি কাজই কোনো সুস্পষ্ট বিধানের মাধ্যমে পাপাচার সাব্যস্তকারী (مفسق) হয় না
(২)।
সুতরাং মুরুআত (مروءة)-এর দুটি প্রয়োগ রয়েছে: একটির চেয়ে অন্যটি অধিকতর সুনির্দিষ্ট, আর এখানে সুনির্দিষ্ট অর্থটিই উদ্দেশ্য।
সুনির্দিষ্ট অর্থে মুরুআত (مروءة)-কে শর্ত করা ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো: এমন ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া নিশ্চিত করা যার সম্পর্কে প্রবল ধারণা (غلبة الظن) তৈরি হয় যে সে ন্যায়পরায়ণ (عدل) নয়, যদিও সে নিশ্চিতভাবে পাপাচারী (فاسق) হিসেবে প্রমাণিত নয়। এর কারণ হলো সে এমন কাজ করে যা সাধারণত (লোকাচার বা عرف অনুযায়ী) পাপাচারী (فاسق) বা নির্বোধদের (سفه) (যাদের বুদ্ধির ঘাটতি রয়েছে) বৈশিষ্ট্য। আর আমরা বিবেকপ্রসূতভাবেই প্রবল ধারণাকে (غلبة الظن) গ্রহণ করতে এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিতে আদিষ্ট, যদি তার বিপরীতে কোনো নিশ্চিত জ্ঞান (يقين) বা তার চেয়ে শক্তিশালী কোনো প্রবল ধারণা (غلبة الظن) না থাকে।
এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে: মুরুআত (مروءة) শর্ত করার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো বুদ্ধি ও দ্বীনের সুস্থতা নিশ্চিত করা, এবং সেগুলোতে প্রভাব বিস্তারকারী কোনো ধারণাপ্রসূত ত্রুটি (قادح) থেকে মুক্ত থাকা। যেমন কোনো বৈধ (مباح) কাজ বা ছোট গুনাহ (صغيرة) করা যা সাধারণত লোকাচার অনুযায়ী পাপাচারী (فاسق) বা নির্বোধদের (سفه) বৈশিষ্ট্য, ফলে প্রবল ধারণা (غلبة الظن) তৈরি হয় যে সম্পাদনকারী ব্যক্তি তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।
যখন আপনি এটি জানলেন, তখন স্পষ্ট হলো যে ব্যক্তি মুরুআত (مروءة) বিনষ্টকারী কোনো ধারণাপ্রসূত ত্রুটি (قادح) করে, কিন্তু আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে তার বুদ্ধি ও দ্বীন নিরাপদ: সেক্ষেত্রে আমাদের উচিত তার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পর্কে আমাদের নিশ্চিত জ্ঞানকে তার অনুপস্থিতি সংক্রান্ত ধারণার ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া। এবং যে বিষয়ের পথ বা উৎস অকাট্য, তাকে ওই বিষয়ের ওপর প্রাধান্য দেওয়া যার পথ কেবল ধারণাপ্রসূত: আর তা হলো বাহ্যিক লক্ষণসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১১)
والسِّمات. وبذلك لا نجرح الراوي الذي عرفناه يقينًا بالعدالة، وإن بدا منه خارمٌ للمروءة مما لا يستند في نقضه للمروءة إلا على الأعراف.
* * *
تعريفُ العَدْل:العَدْل: هو من كانت له مَلَكَةٌ تحمله على ملازمة التقوى والمروءة.
وهو: (1) المسلم، (2) العاقل، (3) البالغ، (4) السالم من أسباب الفسق، (5) والسالم من خوارم المروءة
(1).
والفسق نعني به هنا: رِقّةَ الدِّين وضعف الخوف من الله تعالى الذي لا يَزَعُ صاحبَه عن ارتكاب الكبيرة (كالكذب في الرواية).
والفاسق هو: من كان مستوى تَدَيُّنِه لا يمنعه عن تقحُّم الكبائر بحسب ما يظهر لنا.
ويُفسَّق المسلم - عند وجود الحاجة للحكم عليه بذلك - بواحدٍ من أمرين:
1 - بارتكاب كبيرة من كبائر الذنوب، من غير تَأوُّلٍ.
2 - بارتكاب صغيرةٍ أو صغائر إذا ما احتفَّ بارتكابها قرائنُ تدلُّ على استخفافٍ شديد وضعفٍ في الوازع كضعف الوازع
--------------------------------------------
এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ। এর মাধ্যমে আমরা এমন কোনো বর্ণনাকারী (راوي)-কে সমালোচনা বা ত্রুটিযুক্ত (جرح) করব না, যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পর্কে আমরা নিশ্চিতভাবে জানি, যদিও তার মধ্যে শিষ্টাচার পরিপন্থী (خارم للمروءة) কোনো বিষয় প্রকাশ পায় যা কেবল প্রচলিত প্রথার ওপর ভিত্তি করে শিষ্টাচার পরিপন্থী বলে গণ্য হয়।
* * *
ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির (عدل) সংজ্ঞা:ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি (عدل): তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যার মধ্যে এমন এক বিশেষ গুণ বিদ্যমান থাকে যা তাকে আল্লাহভীতি (تقوى) এবং শিষ্টাচার (مروءة) আঁকড়ে ধরতে উদ্বুদ্ধ করে।
আর তিনি হলেন: (১) মুসলিম, (২) বিবেকবান, (৩) প্রাপ্তবয়স্ক, (৪) পাপাচারের (فسق) কারণসমূহ থেকে মুক্ত, এবং (৫) শিষ্টাচার পরিপন্থী (خوارم المروءة) বিষয়াবলি থেকে মুক্ত
(১)।
আর পাপাচার (فسق) বলতে আমরা এখানে উদ্দেশ্য করছি: দ্বীনের শিথিলতা এবং মহান আল্লাহ তাআলার ভয়ের দুর্বলতা, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কবিরা গুনাহ (كبيرة) বা বড় গুনাহ (যেমন বর্ণনার ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা) করা থেকে বিরত রাখে না।
আর পাপাচারী (فاسق) হলেন: আমাদের নিকট যা প্রকাশ পায় সে অনুযায়ী যার ধর্মীয় স্তরের অবস্থা তাকে কবিরা গুনাহসমূহের (كبائر) লিপ্ত হওয়া থেকে বাধা প্রদান করে না।
আর একজন মুসলিমকে পাপাচারী (فسق) সাব্যস্ত করা হয়—যদি তার ওপর এ হুকুম প্রদানের প্রয়োজন দেখা দেয়—তবে তা দুটি বিষয়ের যেকোনো একটির কারণে হতে পারে:
১ - কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা (تأويل) ছাড়াই কবিরা গুনাহ বা বড় গুনাহসমূহের (كبائر) অন্তর্ভুক্ত কোনো অপরাধে লিপ্ত হওয়া।
২ - সগিরা গুনাহ (صغيرة) বা ছোট গুনাহে লিপ্ত হওয়া, যদি সেই গুনাহে লিপ্ত হওয়ার সাথে এমন কিছু আলামত যুক্ত হয় যা দ্বীনি সচেতনতার চরম অবজ্ঞা ও দুর্বলতাকে প্রকাশ করে যেমন সচেতনতার দুর্বলতা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১২)
المستفاد من ارتكاب أصغر الكبائر
(1).
فإن أعقبت ذلك توبةٌ ظاهرةٌ تدل على انصِلاح حاله وقوة إيمانه، حُكم له بالعدالة وقُبل (من هذه الجهة) حديثُه؛ إلا في الكذب على النبي صلى الله عليه وسلم، فمن ثبت عنه الكذب على النبي صلى الله عليه وسلم وتاب منه، تبقى روايته مردودة، وأما توبته بينه وبين الله تعالى فمقبولةٌ إن صدقت.
* * *
سببُ اشتراطِ العَدَالة:هو الاطمئنان إلى أن الراوي (أو الشاهد) لديه من التقوى والورع ما يمنعه عن تَعَمُّدِ الكذب. إذْ بغير قوّة مراقبة الله تعالى، واستحضار عِلْمِه سبحانه بكل شيء، مع خشية عقابه = لا يردعُ الإنسانَ عن الكذب شيءٌ، إذا كان له في الكذب مصلحةٌ، واطمأنّ إلى عدم افتضاحِهِ به عند الناس.
وهؤلاء العرب في الجاهلية كانوا من أَتْرَكِ الأُمم للكذب أَنَفَةً وتَكَرُّمًا؛ مع ذلك فهذا أبو سفيان بن حرب رضي الله عنه، لما سأله هرقل عن النبي صلى الله عليه وسلم، وجعل رِفاقًا لأبي سفيان خلفَ ظَهْرِهِ شُهودًا على ما يُجيب به، ليصدّقوه أو يكذِّبوه فيما يقول، وأبو سفيان حينها على دين قومه (لم يُسلم بعدُ) = فيقول أبو سفيان (كما في
--------------------------------------------
কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে ক্ষুদ্রতমটি করার ফলে যা সাব্যস্ত হয়
(১)।
অতঃপর যদি এর পেছনে এমন একটি প্রকাশ্য তাওবা থাকে যা তার অবস্থার সংশোধন এবং ঈমানের শক্তির প্রমাণ দেয়, তবে তার ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) হুকুম দেওয়া হবে এবং (এদিক থেকে) তার হাদিস কবুল করা হবে; তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপ করার বিষয়টি ব্যতীত। সুতরাং যার পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপ করা সাব্যস্ত হয়েছে এবং সে তা থেকে তাওবা করেছে, তবুও তার বর্ণনা (رواية) প্রত্যাখ্যাত (مردودة) হিসেবেই থেকে যাবে। আর তার ও মহান আল্লাহর মধ্যবর্তী তাওবার বিষয়টি যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে তা কবুলযোগ্য।
* * *
ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) শর্ত হওয়ার কারণ:তা হলো এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যে, বর্ণনাকারী (راوي) (অথবা সাক্ষী (شاهد))-এর মধ্যে এমন তাকওয়া (تقوى) ও পরহেজগারিতা (ورع) বিদ্যমান রয়েছে যা তাকে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা বলা থেকে বিরত রাখবে। কেননা মহান আল্লাহর নিরন্তর পর্যবেক্ষণের (مراقبة) শক্তি এবং সব বিষয়ে তাঁর সুমহান জ্ঞানের উপস্থিতি অনুধাবনের পাশাপাশি তাঁর শাস্তির ভয় ছাড়া কোনো কিছুই মানুষকে মিথ্যা বলা থেকে বিরত রাখে না—যদি মিথ্যার মধ্যে তার কোনো স্বার্থ থাকে এবং মানুষের কাছে তা প্রকাশ না পাওয়ার বিষয়ে সে নিশ্চিত থাকে।
জাহেলি যুগের আরবরা আত্মমর্যাদা ও মহানুভবতার কারণে মিথ্যা বর্জনে অন্য সব জাতির চেয়ে অগ্রগামী ছিল; তাসত্ত্বেও এই যে আবু সুফিয়ান ইবন হারব (রাযিয়াল্লাহু আনহু), যখন হিরাক্লিয়াস তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং আবু সুফিয়ানের পেছনে তার সঙ্গীদের সাক্ষী হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন যেন তারা তার উত্তরগুলো সত্যায়ন করে বা মিথ্যা সাব্যস্ত করে, আর আবু সুফিয়ান তখন তার কওমের দ্বীনের ওপর ছিলেন (তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি) = এমতাবস্থায় আবু সুফিয়ান বলেন (যেমনটি বর্ণিত হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الصحيح): «فوالله لولا الحياءُ من أن يَأْثِرُوا عليَّ كَذِبًا لكذبتُ». فهذا دليلٌ على أنّ تَرْكَ الكذب لغير الديانة لا يُؤمَن دوامُه عند تَعارُضِ الصدق مع المصلحة، وعند الاطمئنان من عدم حصول الفضيحة بالكذب، حتى في أكثرِ الرَّقَاباتِ المُجْتَمَعِيَّةِ التي تُشَدِّدُ في تقبيح الكذب أخلاقيًّا، لا دينيًّا، وتَعِيْبُ مَن عُرفَ به بأشنع الأوصافِ المُنفِّرَةِ، كمجتمع عرب الجاهلية.
* * *
•
حُكْمُ روايةِ المبتدع:ولما كان سبب اشتراط العدالة هو ما سبق: استثنينا ممن وُصف بالفسق فُسّاقَ التأويل
(1): كالمبتدع (غير المكفَّر ببدعته) المتأوِّل (غير المعاند)؛ لأن هؤلاء - وإن كنا نُغلِّظ عليهم بدعتهم ونردّها عليهم بكل قوّة ووضوح - متأوِّلُون، لم يَبتدعوا بسبب ضعف الوازع الديني، بل ربما كانت بدعتُه هي سببَ قوة وازعه الديني، لأن بدعته ربما كانت هي الغلو في التديّن (كالخوارج). فالتأوُّلُ هو سبب عدم تفسيق المبتدع، كما أنه هو سبب عدم تفسيق من فعل كبيرة متأوِّلًا حِلّها، كمن يشرب النبيذ على
--------------------------------------------
সহীহ-এ বর্ণিত): «আল্লাহর শপথ, যদি আমার ভয় না হতো যে তারা আমার নামে মিথ্যা (كذب) বর্ণনা করবে, তবে অবশ্যই আমি মিথ্যা বলতাম।» এটি এই বিষয়ের দলিল যে, ধর্মীয় কারণ ব্যতীত মিথ্যা বর্জন করলে তার স্থায়িত্বের বিষয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না যখন স্বার্থের সাথে সত্যের সংঘাত ঘটে এবং যখন মিথ্যার কারণে লাঞ্ছিত না হওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। এমনকি সেই সমস্ত সামাজিক নজরদারির ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য যারা মিথ্যাকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয় বরং নৈতিকভাবে চরম কদর্য মনে করে এবং মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিকে নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য বিশেষণে অভিযুক্ত করে, যেমন জাহেলি যুগের আরব সমাজ।
* * *
•
বিদআতীর (مبتدع) বর্ণনা (رواية) সংক্রান্ত বিধান:যেহেতু ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) শর্ত হওয়ার কারণ ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, তাই আমরা পাপাচার (فسق) গুণে অভিযুক্তদের মধ্য থেকে 'ব্যাখ্যাগত পাপাচারীদের' (১) (فساق التأويل) ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করব। যেমন: বিদআতী (مبتدع) (যার বিদআত তাকে কাফের সাব্যস্ত করার (تكفير) পর্যায়ভুক্ত নয়) এবং ব্যাখ্যাকারী (متأول) (যে সত্য বিমুখ বা একগুঁয়ে নয়); কারণ এরা—যদিও আমরা তাদের বিদআতের বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করি এবং তা পূর্ণ শক্তি ও স্বচ্ছতার সাথে প্রত্যাখ্যান করি—মূলত ব্যাখ্যাকারী (متأول)। তারা ধর্মীয় অনুপ্রেরণার দুর্বলতার কারণে বিদআতে লিপ্ত হয়নি, বরং সম্ভবত তাদের বিদআতই ছিল তাদের শক্তিশালী ধর্মীয় অনুপ্রেরণার কারণ, কেননা তাদের বিদআতটি হয়তো ছিল ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে চরমপন্থা (غلو) (যেমন খারিজি (خوارج) সম্প্রদায়)। সুতরাং, ব্যাখ্যা প্রদানই (تأول) হলো বিদআতীকে (مبتدع) পাপাচারী সাব্যস্ত না করার (تفسيق) কারণ, ঠিক যেমন এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও পাপাচারী সাব্যস্ত না করার (تفسيق) কারণ যে কোনো কবিরা গুনাহ (كبيرة) করে কিন্তু তার বৈধতার পক্ষে একটি ব্যাখ্যা (تأويل) রাখে, যেমন কেউ নাবিয পান করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مذهب أئمة الكوفة، فإنه لا يُفسَّق قطعًا بسبب هذا التأوّل، مع أنه عند جمهور الفقهاء مما يُفسَّق به غير المتأوّل؛ لأنه عندهم قد شرب الخمر.
والأصل في كل مبتدع أنه متأوّل، حتى يَثْبُتَ بيقينٍ أو بغلبةِ ظنٍّ أنه مُعاند، من خلال مناقشته وإقامة الحجة عليه، فعندها:
- قد يُفسَّق: إن غلب على الظن عِنادُه عند الناقد.
- وقد يُكفَّر: إن قام الدليل القاطع على نَقْضِه الشهادتين ببدعته
(1).
هذا هو منهج النُّقاد في زمن الرواية في التمييز بين المبتدع المتأوّل من غير المتأوّل (المعاند).
ولصعوبة ثُبوت العِناد: كان من النادر أن يُطعَنَ في الرُّواة الطعنَ الموجِبَ للردِّ بمجرَّدِ البدعة.
أما كيف يُميِّزُ العلماءُ المتأخرون بين المبتدع المتأوِّلِ والمبتدع المعاند:
- فإمّا بالتنصيص على عناده من ناقدٍ مُتقدم، ممن عنده أهلية الاطّلاع على تأوّل المبتدع أو عناده.
- وإما بأن نَجِدَ الراوي الموصوفَ بالبدعة قد وَثّقَهُ الإمامُ نفسُه الذي وصفه بها، أو وَثّقَهُ إمامٌ غيرُه مع شهرته بالبدعة أو مع بُعد خفاء كونه مبتدعا على الناقد الموثِّق. لأن توثيقهم له رغم تبديعه: قد دلّنا على عدم عناده، وأنه متأوّل؛ وإلا ما وثّقوه.
[وبهذا يتضح أن حكم رواية المبتدع المسلم المتأوِّل (غير المعاند): هو القبول؛ إلا أن يروي حديثًا منكرًا يؤيِّد البدعة.
هذا الحكم المتفق عليه بين المحدّثين وأئمة الاجتهاد من الفقهاء، ولا يصح وقوعُ اختلافٍ بينهم في ذلك، وأن المذاهب المحكيّة التي تذكر الاختلاف لا تنطبق على واقع موقف العلماء من رواية المبتدع، وقد حكى الإجماع على ذلك الإمام الشافعي والخطيب البغدادي.]
[*]* * *
--------------------------------------------
কুফার ইমামগণের মাযহাব অনুযায়ী, এই ব্যাখ্যার (التأوّل) কারণে তাকে নিশ্চিতভাবেই ফাসেক সাব্যস্ত (يُفسَّق) করা যাবে না; যদিও অধিকাংশ ফকিহদের (جمهور الفقهاء) নিকট অ-ব্যাখ্যাকারীদের এমন কাজ ফাসেক সাব্যস্ত হওয়ার কারণ; যেহেতু তাদের মতে সে মদ পান করেছে।
মূলনীতি হলো, প্রত্যেক বিদআতকারীই (مبتدع) একজন ব্যাখ্যাকারী (متأوّل), যতক্ষণ না আলোচনা ও তার বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠার (إقامة الحجة) মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে বা প্রবল ধারণার ভিত্তিতে এটি প্রমাণিত হয় যে সে একজন একগুঁয়ে (معاند)। সেক্ষেত্রে:
- তাকে ফাসেক সাব্যস্ত (يُفسَّق) করা যেতে পারে: যদি সমালোচকের (الناقد) নিকট তার একগুঁয়েমির বিষয়টি প্রবল ধারণা হয়।
- তাকে কাফের সাব্যস্ত (يُكفَّر) করা যেতে পারে: যদি তার বিদআতের মাধ্যমে কালিমা শাহাদাতদ্বয় ভঙ্গের বিষয়ে অকাট্য দলিল পাওয়া যায়
(১)।
বর্ণনার যুগে (زمن الرواية) ব্যাখ্যাকারী বিদআতকারী এবং অ-ব্যাখ্যাকারী (একগুঁয়ে) বিদআতকারীর মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে সমালোচকদের (النقاد) পদ্ধতি ছিল এটিই।
আর একগুঁয়েমি সাব্যস্ত হওয়া কঠিন হওয়ার কারণে: কেবল বিদআতের অজুহাতে বর্ণনাকারীদের (الرواة) ওপর প্রত্যাখ্যান (الرد) আবশ্যককারী কোনো সমালোচনা (الطعن) করা ছিল বিরল।
তবে পরবর্তী যুগের আলিমগণ ব্যাখ্যাকারী বিদআতকারী এবং একগুঁয়ে বিদআতকারীর মধ্যে কীভাবে পার্থক্য করবেন:
- হয় কোনো পূর্ববর্তী সমালোচকের (ناقد) স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে, যার বিদআতকারীর ব্যাখ্যা বা একগুঁয়েমি সম্পর্কে অবগতির যোগ্যতা রয়েছে।
- অথবা এমন বর্ণনাকারীকে পাওয়া যাবে যাকে বিদআতি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, অথচ তাকে সেই ইমামই নির্ভরযোগ্য (وثّقه) বলেছেন যিনি তাকে বিদআতি বলেছিলেন। অথবা অন্য কোনো ইমাম তাকে নির্ভরযোগ্য (وثّقه) বলেছেন তার বিদআতি হওয়ার প্রসিদ্ধি থাকা সত্ত্বেও, অথবা নির্ভরযোগ্য আখ্যাদানকারী সমালোচকের (الناقد) নিকট তার বিদআতি হওয়ার বিষয়টি গোপন না থাকা সত্ত্বেও। কারণ, তাকে বিদআতি বলা সত্ত্বেও তাদের নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (توثيق) আমাদের এই নির্দেশ করে যে, সে একগুঁয়ে ছিল না, বরং সে ছিল ব্যাখ্যাকারী (متأوّل); অন্যথায় তারা তাকে নির্ভরযোগ্য বলতেন না।
[এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, ব্যাখ্যাকারী (একগুঁয়ে নয় এমন) মুসলিম বিদআতকারীর বর্ণনার বিধান হলো: তা গ্রহণযোগ্য (القبول); যদি না সে এমন কোনো প্রত্যাখ্যাত (منكر) হাদিস বর্ণনা করে যা সেই বিদআতকে সমর্থন করে।
এই বিধানটি মুহাদ্দিসগণ (المحدثين) এবং ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ইজতিহাদকারী ইমামদের (أئمة الاجتهاد) মধ্যে সর্বসম্মত; এ বিষয়ে তাদের মাঝে মতভেদ হওয়া সঠিক নয়। আর যেসব মাযহাবের উদ্ধৃতি দিয়ে মতভেদের কথা উল্লেখ করা হয়, তা বিদআতকারীর বর্ণনার ব্যাপারে আলিমদের বাস্তব অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইমাম শাফিঈ এবং খতিব বাগদাদি এ বিষয়ে ইজমা (الإجماع) বর্ণনা করেছেন।]
[*]* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
•
قِسْما العدالة:- تعريفُ العدالةِ الظاهرة: الإسلامُ وعدمُ العلم بالمفسِّق.
وتُعرف من خلال الخبرة القصيرة أو السطحية.
- تعريفُ العدالةِ الباطنة: الإسلامُ والعلمُ بعدم المفسِّق.
وتُعرف من خلال الخبرة الطويلة أو القويّة.
وليس المقصود بالعدالة الباطنة خفايا القلوب وغَيْبُ النيّات، فهذه لا يعلمها إلا عالم ما في الصدور سبحانه وتعالى، ولذلك لم تثبت عدالةُ القلوب إلا للصحابة رضي الله عنهم؛ لأن الله تعالى قد عدّلهم في وَحْيَيهِ (الكتاب والسنة).
* * *
•
أقسامُ الرُّواة من جهةِ تَحقُّقِ العدالة (بِقِسْمَيها) فِيهم:1 - من عُرفت عدالته الباطنة (والظاهرة باللزوم): وهو العَدْل.
2 - من عُرفت عدالته الظاهرة (دون الباطنة): وهو المَسْتور (باصطلاح المتأخرين). وحُكمه: القبول في الرواة الذين تعذرت الخبرة الباطنة بأحوالهم، وخاصة طبقة التابعين، وكبارهم بالأخصّ، وطبقة المتأخرين من رواة النُّسَخِ.
3 - من جُهلت عدالتُه (الظاهرة والباطنة) لكن عُرفت عينُه (في النَّسَب أو الأدب أو الشِّعر أو أيّ علم آخر أو في
•
ন্যায়নিষ্ঠতার (عدالة) দুই প্রকার:- প্রকাশ্য ন্যায়নিষ্ঠার (العدالة الظاهرة) সংজ্ঞা: ইসলাম এবং পাপাচারী সাব্যস্তকারী কোনো বিষয় (مفسق) সম্পর্কে অবগত না থাকা।
এবং এটি স্বল্পকালীন বা ভাসাভাসা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানা যায়।
- অভ্যন্তরীণ ন্যায়নিষ্ঠার (العدالة الباطنة) সংজ্ঞা: ইসলাম এবং পাপাচারী সাব্যস্তকারী বিষয় (مفسق) না থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত জ্ঞান থাকা।
এবং এটি দীর্ঘকালীন বা গভীর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানা যায়।
আর অভ্যন্তরীণ ন্যায়নিষ্ঠা (العدالة الباطنة) দ্বারা অন্তরের গোপন রহস্য বা নিয়তের অদৃশ্য বিষয়াবলী উদ্দেশ্য নয়, কেননা অন্তরের বিষয়াবলী একমাত্র অন্তর্যামী আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত অন্য কেউ জানেন না। এই কারণে অন্তরের ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) কেবল সাহাবীগণের (رضي الله عنهم) ক্ষেত্রেই প্রমাণিত; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর উভয় ওহী (কিতাব ও সুন্নাহ) এর মাধ্যমে তাঁদের ন্যায়নিষ্ঠ সাব্যস্ত (تعديل) করেছেন।
* * *
•
ন্যায়নিষ্ঠার (عدالة) (উভয় প্রকার) উপস্থিতির দিক থেকে বর্ণনাকারীদের (رواة) বিভাগসমূহ:1 - যার অভ্যন্তরীণ ন্যায়নিষ্ঠা (العدالة الباطنة) জানা গেছে (এবং অনিবার্যভাবে প্রকাশ্যটিও): তিনি হলেন ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) বর্ণনাকারী।
2 - যার প্রকাশ্য ন্যায়নিষ্ঠা (العدالة الظاهرة) জানা গেছে (অভ্যন্তরীণটি নয়): পরবর্তী যুগের পরিভাষায় তিনি হলেন গুপ্ত (مستور)। তাঁর বিধান হলো: ঐ সকল বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা প্রদান করা যাদের অবস্থা সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, বিশেষত তাবেয়ী (تابعين) স্তর, বিশেষ করে তাঁদের মধ্যে যারা জ্যেষ্ঠ ছিলেন, এবং পাণ্ডুলিপি বর্ণনাকারী পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে।
3 - যার ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) (প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণ উভয়টিই) অজ্ঞাত, কিন্তু যার সত্তাগত পরিচয় (বংশপরম্পরা বা সাহিত্য বা কবিতা বা অন্য কোনো জ্ঞান অথবা...
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قيادة جيش أو إمارة أو غير ذلك مما يُذكر في التواريخ): فهو مجهول الحال. وحُكمه: التوقُّفُ عن قبول حديثه، ولا يحكم لحديثه بِخِفَّةِ ضعفٍ أو بشدةِ ضعفٍ بإطلاق، ولكن يُنظر في حديثه (إسناده ومتنه): فإن كان فيه نكارة، أو تبدو عليه علامات الوَضْع = حُكم عليه بما يقتضيه ذلك، وإلا فلا يُحكم عليه بشدة الضعف، ويبقى حينها في حَيِّزِ الاعتبار.
4 - من جُهلت عدالتُه (الظاهرة والباطنة)، وجُهلت عينُه أيضًا: فهو مجهول العين. وهو كالمُبْهَم (وهو الراوي المصرَّحُ بوجوده في السَّنَد من غير ذكره بمعرِّف). وحُكمه: حُكمُ سابقه، وقد يكون أبعدَ عن القبول من سابِقه.
5 - من عُرف بعدم العدالة: وهو الفاسق، والكافر (كالزنادقة والقرامطة وأمثالهم من الباطنية الكفار)، وغير المكلَّف: كالصغير والمجنون ومن في حُكمه (كالمغفّل غفلةً شديدة). وهو مردودٌ بالإجماع. وحديثُ غير العدل (فاسقا أو غير فاسق): شديدُ الضعف: لا يُعتبر به، كحديث الكذاب، والمتهم بالكذب، والمصرّ على رواية الخطأ عنادًا (لا نفيًا لوقوعه في الخطأ)، ومدلّسُ الحديثِ الموضوع مع العلم بوضعه لإيهام صحته.
* * *
সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব, প্রশাসনিক দায়িত্ব অথবা ইতিহাসের পাতায় বর্ণিত অনুরূপ বিষয়াবলি): তবে তিনি হলেন অজ্ঞাত অবস্থা (مجهول الحال) সম্পন্ন বর্ণনাকারী। তার বিধান হলো: তার হাদিস গ্রহণ করার ক্ষেত্রে স্থগিত থাকা (তাক্বাফ অবলম্বন করা); ঢালাওভাবে তার হাদিসকে সামান্য দুর্বল (ضعيف) বা অত্যন্ত দুর্বল (شديد الضعف) হিসেবে গণ্য করা হবে না। বরং তার বর্ণিত হাদিসের (সনদ ও মতন) দিকে লক্ষ্য করতে হবে: যদি তাতে কোনো অস্বাভাবিকতা (نكارة) থাকে অথবা তাতে হাদিস জালকরণের (الوضع) লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়, তবে পরিস্থিতি যা দাবি করে সেই অনুযায়ী তার ওপর হুকুম লাগানো হবে। অন্যথায় তাকে অত্যন্ত দুর্বল (شديد الضعف) বলে গণ্য করা হবে না এবং এমতাবস্থায় তা বিবেচনার (الاعتبار) স্তরে থাকবে।
4 - যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) (প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কোনোভাবেই) জানা যায়নি এবং যার পরিচয়ও অজ্ঞাত: তিনি হলেন অজ্ঞাত সত্তা (مجهول العين) সম্পন্ন বর্ণনাকারী। তিনি অস্পষ্ট (المبهم) বর্ণনাকারীর ন্যায় (আর অস্পষ্ট বর্ণনাকারী হলেন সেই ব্যক্তি যার অস্তিত্বের কথা সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু কোনো পরিচয় প্রদান করা হয়নি)। তার বিধান হলো: পূর্বোক্ত ব্যক্তির (মাজহুলুল হাল) অনুরূপ বিধান, তবে তিনি গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে পূর্বোক্ত ব্যক্তির তুলনায় আরও অধিক দূরবর্তী হতে পারেন।
5 - যিনি ন্যায়পরায়ণতাহীন (عدالة) হিসেবে পরিচিত: তিনি হলেন পাপাচারী (الفاسق), কাফির (যেমন: যিন্দিক, কারামিতা এবং তাদের ন্যায় অন্যান্য কাফির বাতেনি সম্প্রদায়) এবং শরয়ি দায়িত্বমুক্ত ব্যক্তি: যেমন শিশু, উন্মাদ ও তদ্রূপ ব্যক্তিগণ (যেমন: চরম পর্যায়ের অসতর্ক বা গাফেল ব্যক্তি)। ঐক্যমত্যের (الإجماع) ভিত্তিতে এমন ব্যক্তির বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত (مردود)। আর ন্যায়পরায়ণ নয় এমন ব্যক্তির হাদিস (সে পাপাচারী হোক বা না হোক) অত্যন্ত দুর্বল (شديد الضعف): যা বিবেচনার (الاعتبار) যোগ্য নয়; যেমন চরম মিথ্যুক (الكذاب), মিথ্যাচারের দায়ে অভিযুক্ত (المتهم بالكذب) এবং ভুল প্রকাশ পাওয়ার পরেও হঠকারিতাবশত ভুল বর্ণনা করার ওপর অটল থাকা ব্যক্তির হাদিস, অথবা এমন ব্যক্তির বর্ণনা যে জাল হাদিসকে (الحديث الموضوع) সঠিক হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে জাল হওয়ার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও তাতে তাদলিস (تدليس) বা প্রতারণার আশ্রয় নেয়।
* * *
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
•
كيفيّةُ إلحاقِ الرُّواةِ بواحدٍ من هذه الأقسامِ الخمسة:
1 - (العَدْل):أ - بالشهرة والاستفاضة، مثل أئمة السنة.
ب - بالتنصيص مِن مقبولٍ قولُه في الجرح والتعديل.
ت - بالتعديل الضِّمني (كالتصحيح والتحسين للراوي، ورواية من لا يروي إلا عن مقبول عنده). وتزداد قوة دلالة التعديل الضمني عند عدم وجود جرحٍ صريحٍ في ذلك الراوي، وإذا كانت من باب رواية الأكابر عن الأصاغر.
ومن التعديل الضمني: الاحتجاجُ بخبره، إذا غلب على الظن أن العالم إنما اعتمد في حكمه بمقتضى ذلك الخبر على رواية ذلك الراوي.
وهناك قرائنُ توثيقٍ: كشهرة الراوي، وكثرة الرواة عنه، وإكثاره من الرواية، وكونه له مصنَّفات متداولة معروفة، ورواية الأكابر عن الأصاغر، ورواية الأقران عنه = كل ذلك بشرط عدم وُرُودِ جرحٍ معتَبَرٍ فيه. وهي قرائنُ لا يكفي الواحد منها، لكنها قد تجتمع فتفيد، وقد تُرجِّح التوثيقَ الوارد، وقد تُقوِّي التوثيقَ المظنونَ أيضًا.
وليس من التعديل الضمني: السكوتُ عن الجرح، أو عدم وجود جرح في الراوي. لكن أن يكون ذلك من القرائن: فهو اعتبارٌ صحيح.
2 - (المستور):برواية عَدْلَين عنه، ويُكتفى بعدل واحد إذا
বর্ণনাকারীদের (الرواة) এই পাঁচটি শ্রেণির যেকোনো একটির অন্তর্ভুক্ত করার পদ্ধতি:
১ - ন্যায়পরায়ণ (العَدْل):ক - প্রসিদ্ধি ও ব্যাপক পরিচিতির (الاستفاضة) মাধ্যমে, যেমন সুন্নাহর ইমামগণ।
খ - সমালোচনা ও গুণগান (الجرح والتعديل) শাস্ত্রে যার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য (مقبول), তার স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে।
গ - পরোক্ষ গুণগানের (التعديل الضمني) মাধ্যমে (যেমন কোনো বর্ণনাকারীর হাদিসকে সহিহ (صحيح) বা হাসান (حَسَن) সাব্যস্ত করা, এবং এমন ব্যক্তির বর্ণনা করা যিনি কেবল তার নিকট গ্রহণযোগ্য (مقبول) ব্যক্তির থেকেই বর্ণনা করেন)। উক্ত বর্ণনাকারীর ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট সমালোচনা (جرح صريح) না থাকলে এবং বিষয়টি বড়দের পক্ষ থেকে ছোটদের থেকে বর্ণনার (رواية الأكابر عن الأصاغر) অন্তর্ভুক্ত হলে পরোক্ষ গুণগানের (التعديل الضمني) প্রমাণের শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়।
পরোক্ষ গুণগানের (التعديل الضمني) অন্তর্ভুক্ত হলো: তার বর্ণিত সংবাদকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করা, যদি প্রবল ধারণা হয় যে আলেম তার হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে মূলত ওই বর্ণনাকারীর বর্ণনার ওপরই নির্ভর করেছেন।
নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের (توثيق) কিছু সংকেত (قرائن) রয়েছে: যেমন বর্ণনাকারীর প্রসিদ্ধি, তার থেকে বর্ণনাকারীদের আধিক্য, তার বর্ণনার প্রাচুর্য, তার প্রচলিত ও পরিচিত সংকলন থাকা, বড়দের পক্ষ থেকে ছোটদের থেকে বর্ণনা (رواية الأكابر عن الأصاغر) হওয়া এবং সমসাময়িকদের পক্ষ থেকে তার থেকে বর্ণনা (رواية الأقران) করা; এই সব কিছুই তখন গ্রহণযোগ্য হবে যখন তার ব্যাপারে কোনো গ্রহণযোগ্য সমালোচনা (جرح معتبر) না থাকে। এগুলো এমন কিছু সংকেত (قرائن) যার একটি মাত্র যথেষ্ট নয়, তবে এগুলো একত্রে মিলিত হলে ফলদায়ক হয়। এটি কখনো বর্ণিত নির্ভরযোগ্যতাকে (توثيق) অগ্রাধিকার দেয়, আবার কখনো ধারণাপ্রসূত নির্ভরযোগ্যতাকেও (توثيق) শক্তিশালী করে।
সমালোচনা (الجرح) থেকে নীরব থাকা অথবা বর্ণনাকারীর ব্যাপারে কোনো সমালোচনার (جرح) অনুপস্থিতি পরোক্ষ গুণগানের (التعديل الضمني) অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে এগুলোকে সংকেতগুলোর (قرائن) অন্তর্ভুক্ত করা একটি সঠিক বিবেচনা।
২ - মাসতুর (المستور):তার থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدلين) ব্যক্তির বর্ণনার মাধ্যমে; তবে একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিই যথেষ্ট হয় যখন...
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
كان من الأئمة والحفاظ.
3 - (مجهول الحال):برواية راوٍ واحد (عدلًا كان أو ليس بعدل، فإن كان الراوي عنه ليس بعدل فهو أضعف لحاله ولحديثه).
4 - (مجهول العين):كسابقه، وإنما فارق بينهما العلم بعين الراوي والجهل بها.
تنبيهٌ: يجب أن تَعلم أن إطلاقات الأئمة المتقدمين ل (المجهول) لم تلتزم بهذه الحدود، وأنها كانت أقربَ للاستعمال اللغوي (وهو أوسع من الإطلاقات الاصطلاحية). فلربما أطلق الناقدُ منهم وَصْفَ المجهول على (الصحابي) عنده وعلى من يوثِّقه هو نفسُه، بمعنى: أنه غير مشهور، أو أن أخباره قليلة، لا على معنى عدم العلم بعدالته.
5 - (الفاسق والكافر):أ -بالشهرة والاستفاضة: كمحمد بن سعيد المصلوبِ بالزندقة، ومحمد بن السائب الكلبي. يقول النسائي: «الكذابون المعروفون بوضع الحديث على رسول الله صلى الله عليه وسلم أربعة: ابنُ أبي يحي بالمدينة، والواقدي ببغداد، ومقاتل بن سليمان بخراسان، ومحمد بن سعيد بالشام».
ب -بالتنصيص من مقبولٍ قولُه في الجرح.
ت -بالتضعيف الضِّمني (كالتَّرك المتعمَّد للرواية عنه وتَقَصُّدِ الإعراض عن حديثه، وكتضعيف الحديث الذي ليس فيه ما يقتضي التضعيف إلا ذلك الراوي، وكترك العمل
তিনি ইমাম ও হাফেজদের (الحفاظ) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
৩ - (অজ্ঞাত অবস্থা (مجهول الحال)):একজন বর্ণনাকারীর বর্ণনার মাধ্যমে (তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدلًا) হোন বা না হোন; আর যদি তার থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ (عدل) না হন, তবে সেটি তার অবস্থা এবং তার হাদিসের জন্য আরও বেশি দুর্বল (أضعف) সাব্যস্ত হয়)।
৪ - (অজ্ঞাত ব্যক্তি (مجهول العين)):এটি পূর্ববর্তীদের মতো, তবে দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো বর্ণনাকারীর সত্তা সম্পর্কে জ্ঞাত থাকা এবং অজ্ঞাত থাকা।
সতর্কতা (تنبيهٌ): আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যে, পূর্বসূরি ইমামগণ 'অজ্ঞাত (المجهول)' পরিভাষাটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই সীমানাগুলো মেনে চলতেন না; বরং এটি শাব্দিক ব্যবহারের অধিক নিকটবর্তী ছিল (যা পারিভাষিক ব্যবহারের চেয়ে ব্যাপক)। ফলে অনেক সময় তাদের মধ্য থেকে কোনো সমালোচক 'অজ্ঞাত (المجهول)' পরিভাষাটি এমন কোনো সাহাবীর (الصحابي) ক্ষেত্রেও ব্যবহার করতেন যাঁর সম্পর্কে তিনি নিজেই নির্ভরযোগ্যতা (يوثقه) প্রদান করেছেন। এর অর্থ হলো: তিনি সুপরিচিত নন অথবা তার বর্ণিত সংবাদ খুবই কম; এটি তার ন্যায়পরায়ণতা (عدالته) সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব অর্থে ব্যবহৃত হতো না।
৫ - (ফাসেক (الفاسق) এবং কাফের (والكافر)):ক - প্রসিদ্ধি ও ব্যাপক পরিচিতির মাধ্যমে: যেমন যিন্দিক (بالزندقة) হওয়ার দায়ে শূলে চড়ানো মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ এবং মুহাম্মদ ইবনে সাইব আল-কালবী। ইমাম নাসাঈ বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর হাদিস জাল (بوضع) করার জন্য সুপরিচিত মিথ্যাবাদী (الكذابون) চারজন: মদিনায় ইবনে আবি ইয়াহইয়া, বাগদাদে ওয়াকিদি, খোরাসানে মুকাতিল ইবনে সুলাইমান এবং সিরিয়ায় মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ।»
খ - জারহ (الجرح) বা সমালোচনা গ্রহণীয় এমন ব্যক্তির সুস্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে।
গ - পরোক্ষভাবে দুর্বল (بالتضعيف) সাব্যস্তকরণের মাধ্যমে (যেমন: তার থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত বর্জন (كالتَّرك) এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার হাদিস থেকে বিমুখ থাকা, এবং এমন হাদিসকে দুর্বল (كتضعيف) বলা যাতে সেই বর্ণনাকারী ছাড়া দুর্বলতার অন্য কোনো কারণ নেই, এবং আমল বর্জন করা...
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بمقتضى حديثه مع غلبة الظن أن ترك العمل به لم يكن لسبب آخر؛ إلا أنه من رواية ذلك الراوي)، لكن هذا التضعيف قد يرجع إلى طعن في العدالة، فيكون داخلا في وسائل معرفة غير العدل، وقد يرجع إلى طعنٍ في الضبط فقط.
ث -بروايته للمنكرات والموضوعات بالأسانيد النظيفة التي تكون سبب افتضاحه بأنه هو الذي جاءت مِن قِبَلِهِ تلك النكارةُ الدالّةُ على عدم العدالة أو هو الذي وضع ذلك الإسنادَ أو المتنَ.
(তাঁর হাদিসের দাবিনুযায়ী প্রবল ধারণার ভিত্তিতে যে, সেই হাদিস অনুযায়ী আমল বর্জন করা অন্য কোনো কারণে ছিল না; বরং তা কেবল সেই বর্ণনাকারীর (راوي) বর্ণনার (رواية) কারণে ছিল), তবে এই দুর্বল সাব্যস্তকরণ (تضعيف) কখনো ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) ত্রুটির কারণে হতে পারে, ফলে তা ন্যায়পরায়ণতাহীনতা চেনার উপায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়; আবার কখনো তা কেবল স্মৃতিশক্তির (ضبط) ত্রুটির কারণেও হতে পারে।
থ - পরিচ্ছন্ন সনদ (إسناد) সহকারে বর্জনীয় (منكر) এবং বানোয়াট (موضوع) হাদিস বর্ণনার (رواية) মাধ্যমে, যা তার স্বরূপ উন্মোচিত হওয়ার কারণ হয় যে, সে-ই হলো সেই ব্যক্তি যার পক্ষ থেকে সেই বর্জনযোগ্যতা (نكارة) এসেছে যা ন্যায়পরায়ণতাহীনতার (عدم العدالة) পরিচায়ক, অথবা সে নিজেই সেই সনদ (إسناد) বা মূল পাঠ (متن) জাল করেছে।
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الكَلامُ عن الضَّبطما سبق هو العَدْل في الشهادة، أما العَدْل في الرواية فيُشترط فيه مع العدالة الدينية أن يكون ضابطًا.
- تعريف الضبط: نَقْلُ المرويِّ كما تَلقّاهُ الراوي (لفظًا أو معنى).
- تعريف الضابط: هو من كان نَقْلُه للمَرْويِّ مُطابقًا لما تَلقّاهُ عن شيخه (لفظًا أو معنى).
هذا التعريف هو تعريف الضابط حال كونه ضابطًا لما رَوى، وأما تعريف الراوي الضابط مطلقًا: فهو من غَلَب على الظن أن نَقْلَه موافقٌ لما تلقّاه، أو هو: من كان احتمالُ صوابه أكبرَ من احتمال خطئه.
وكونُ الراوي ضابطا لا يعني قبول حديثه مطلقا، ولا يعني أنه لا يخطئ أبدًا، وإنما يعني أن الأصل قبول حديثه، بشرط أن لا يَظهر ما يستدعي الشّكَّ في ضبطه حديثًا معيّنًا:
o إما بسبب أنه خالف ما هو أَوْلى منه ضَبْطًا: كقوة الضبط وكثرة العدد.
o وإما لأنه انفرد بأصلٍ (مَتْنِيٍّ أو إسناديّ) بما لا يَقَعُ في ضبطه وإتقانه ما يَجبُر تَفَرُّدَه.
সংরক্ষণ (ضبط) সংক্রান্ত আলোচনাইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা (عدل); তবে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা (عدل)-এর শর্ত হিসেবে ধর্মীয় সততার পাশাপাশি সংরক্ষণকারী (ضابط) হওয়া আবশ্যক।
- সংরক্ষণের (ضبط) সংজ্ঞা: বর্ণিত বিষয়কে ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করা যেভাবে বর্ণনাকারী (راوي) তা গ্রহণ করেছেন (শাব্দিকভাবে (لفظا) অথবা অর্থগতভাবে (معنى))।
- সংরক্ষণকারীর (ضابط) সংজ্ঞা: তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যার বর্ণিত বিষয়বস্তু তার শায়খ বা শিক্ষকের নিকট থেকে প্রাপ্ত বিষয়ের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ (শাব্দিকভাবে (لفظا) অথবা অর্থগতভাবে (معنى))।
এই সংজ্ঞাটি হলো কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনার ক্ষেত্রে একজন সংরক্ষণকারীর (ضابط) অবস্থা। আর সাধারণভাবে একজন সংরক্ষণকারী বর্ণনাকারীর (راوي ضابط) সংজ্ঞা হলো: এমন ব্যক্তি যার বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা জন্মে যে তা প্রাপ্ত বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ (موافق), অথবা: যার সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা ভুল করার সম্ভাবনার চেয়ে বেশি।
কোনো বর্ণনাকারী (راوي) সংরক্ষণকারী (ضابط) হওয়ার অর্থ এই নয় যে তার হাদিস নিঃশর্তভাবে গৃহীত হবে, আর এর অর্থ এটাও নয় যে তিনি কখনো ভুল করেন না; বরং এর অর্থ হলো মূলত তার হাদিস গ্রহণযোগ্য, তবে শর্ত হলো নির্দিষ্ট কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে তার সংরক্ষণের (ضبط) ব্যাপারে সন্দেহ উদ্রেককারী কোনো কিছু প্রকাশ পাবে না:
o হয় এই কারণে যে, তিনি এমন বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেছেন যিনি সংরক্ষণের (ضبط) ক্ষেত্রে তার চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য: যেমন সংরক্ষণের (ضبط) দৃঢ়তা কিংবা বর্ণনাকারীর সংখ্যাধিক্য।
o অথবা এই কারণে যে, তিনি এমন কোনো মূল বিষয়ের (মতন সংক্রান্ত (متني) অথবা সনদ সংক্রান্ত (إسنادي)) ক্ষেত্রে একক (انفرد) হয়ে গিয়েছেন, যেখানে তার সংরক্ষণ (ضبط) ও পারদর্শিতা (إتقان) এমন পর্যায়ে নেই যা তার এই একক বর্ণনার (تفرد) বিষয়টিকে নির্ভরযোগ্য করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২১)
والراوي غير الضابط: هو من كان احتمالُ خطئه أكبرَ من احتمال صوابه أو مساويًا له، إما بسبب كثرة أخطائه أو بسبب سوء الخطأ، مما شكّكَ في قدرته على الضبط (بتساوي الاحتمالين)، أو غلَّبَ الظنَّ بخطئه فيما يرويه (بكثرة احتمال خطئه على احتمال صوابه). فإن بلغ فُحْشُ الخطأ درجةَ بُعد احتمال وُقُوعِه إلا بسبب قادحٍ في العدالة: لغفلةٍ شديدةٍ تخالف شَرْطَ العقلِ في الراوي العدل، أو لورود احتمال تَعَمُّدِ الإخبار بخلاف الواقع (الكذب): فينتقل ذلك القادحُ من القَدْحِ في الضبط فقط إلى القَدْحِ الأشدّ، وهو القَدْحُ في العدالة.
واتِّصافُ الراوي بعدم الضبط قادحٌ خفيف يقبل التَّقَوِّي مطلقًا، على مراتب في ذلك بحسب درجة ضعف الضبط، ولا يبلغ الراوي درجةَ عدم الاعتبار؛ إلا إن تجاوز فحشُ الخطأ القدحَ في الضبط إلى القدح في العدالة (على ما بيّنّاه آنفًا)
(1).
وعدم الضبط قسمان:
- قائمٌ: وهو الذي يكون الراوي موصوفا به منذ عُرف بالرواية.
- وطارئٌ: وهو الراوي المختلِط، وهو من ساء حفظه بعد إتقان.
وحُكم الراوي المختلط: يُقبل في أربع حالات، ويُردّ في واحدة:
فيُقبل في الحالات التالية:
1 - ما رواه قبل الاختلاط (ويُعرف بتمييز من روى عنه قبل
--------------------------------------------
অসতর্ক বর্ণনাকারী (غير الضابط): তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যার ভুলের সম্ভাবনা তার সঠিক হওয়ার সম্ভাবনার চেয়ে বেশি বা সমান; হয় তার ভুলের আধিক্যের কারণে অথবা ভুলের জঘন্যতার কারণে, যা তার সংরক্ষণ সক্ষমতার (الضبط) ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করে (উভয় সম্ভাবনা সমান হওয়ার মাধ্যমে), অথবা তার বর্ণিত বিষয়ে ভুলের ধারণাকে প্রবল করে (সঠিক হওয়ার সম্ভাবনার চেয়ে ভুলের সম্ভাবনা বেশি হওয়ার মাধ্যমে)। যদি ভুলের জঘন্যতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তা ঘটা অসম্ভাব্য মনে হয় ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) পরিপন্থী কোনো কারণ ছাড়া: যেমন চরম অসতর্কতার কারণে যা একজন ন্যায়পরায়ণ (العدل) বর্ণনাকারীর জন্য বিচারবুদ্ধির শর্তের বিরোধী, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বাস্তব পরিপন্থী সংবাদ (মিথ্যা (الكذب)) প্রদানের সম্ভাবনা আসার কারণে: তখন সেই ত্রুটি কেবল সংরক্ষণ সক্ষমতার (الضبط) ত্রুটি থেকে স্থানান্তরিত হয়ে আরও কঠোর ত্রুটিতে পরিণত হয়, আর তা হলো ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) ক্ষেত্রে ত্রুটি।
বর্ণনাকারীর সংরক্ষণ সক্ষমতার অভাবের (عدم الضبط) বৈশিষ্ট্যটি একটি লঘু ত্রুটি যা সাধারণভাবে শক্তিশালী হওয়া (التقوي) গ্রহণ করে; সংরক্ষণ সক্ষমতার দুর্বলতার (ضعف الضبط) পর্যায় অনুযায়ী এর বিভিন্ন স্তর রয়েছে। বর্ণনাকারী অগ্রহণযোগ্যতার (عدم الاعتبار) স্তরে পৌঁছান না; যতক্ষণ না ভুলের জঘন্যতা সংরক্ষণ সক্ষমতার (الضبط) ত্রুটি অতিক্রম করে ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) ত্রুটির দিকে ধাবিত হয় (যা আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি)
(1)।
সংরক্ষণ সক্ষমতার অভাব (عدم الضبط) দুই প্রকার:
- স্থায়ী (قائم): এটি হলো যার দ্বারা বর্ণনাকারী বর্ণনার শুরু থেকেই বিশেষিত।
- আকস্মিক (طارئ): তিনি হলেন স্মৃতিভ্রষ্ট (المختلط) বর্ণনাকারী, যার মুখস্থশক্তি (الحفظ) সুদৃঢ়তা (إتقان) থাকার পর লোপ পেয়েছে।
স্মৃতিভ্রষ্ট (المختلط) বর্ণনাকারীর হুকুম: চারটি অবস্থায় তাকে গ্রহণ করা হয় এবং একটি অবস্থায় প্রত্যাখান করা হয়:
নিম্নোক্ত অবস্থায় তাকে গ্রহণ করা হয়:
1 - যা তিনি স্মৃতিভ্রমের (الاختلاط) পূর্বে বর্ণনা করেছেন (এবং এটি যারা তার থেকে পূর্বে বর্ণনা করেছেন তাদের পৃথককরণের মাধ্যমে জানা যায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الاختلاط ممن لا يتميّز بذلك).
2 - ما توبع عليه متابعةً تُثبت ضبطَه له.
3 - إن قُصد مِن وَصْفِه بالاختلاط: التغيّرُ اليسيرُ في الحفظ الذي لا يُنزل الراوي عن مرتبة القبول، وإن نزل به عن منزلته التي كان عليها قبل الاختلاط. فهذا ليس مختلطًا بالمعنى المبدوء بتعريفه، وإن وُصف بذلك.
4 - إن حُجب عن الرواة بعد الاختلاط، فلم يُؤخَذْ عنه حال اختلاطه.
ويُردُّ ما سوى ذلك من حديث المختلط.
* * *
•
قِسْما الضبط:
القسم الأول: ضَبطُ صَدْرٍ: هو القدرةُ على استحضار المرويِّ من الصدر، كما تلقَّاه الراوي (تَلَقِّيَ الإتقان)، دون الرجوع إلى الكتاب، مع شرط عدم إحالة المعنى فيما إذا ما روى بالمعنى.
وصحة الرواية بالمعنى تستوجبُ اجتماعَ أمرين، هما:
1 - فقهُ النَّفْس (وهي القدرة على إدراك مراد الشارع من الدليل الشرعي)، ومما يُعِين عليه: العلمُ بالفروع الفقهية، وبالاختلاف فيها، وبأدلة الاختلاف وأسبابه، وبأصول
মানসিক বিভ্রান্তি (اختلاط) এমন ব্যক্তি থেকে যার মাঝে এটি পৃথক করা যায় না)।
২ - যার অনুকূল বর্ণনা (متابعة) পাওয়া যায় এবং যা সেই বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তির দৃঢ়তা (ضبط) প্রমাণ করে।
৩ - যদি তাকে মানসিক বিভ্রান্তি (اختلاط) দ্বারা বিশেষিত করার মাধ্যমে মুখস্থ শক্তিতে সামান্য পরিবর্তন বোঝানো হয় যা বর্ণনাকারীকে গ্রহণযোগ্যতার স্তর (مرتبة القبول) থেকে নিচে নামিয়ে দেয় না, যদিও তার ফলে তিনি মানসিক বিভ্রান্তির (اختلاط) পূর্ববর্তী স্তরের চেয়ে নিচে নেমে যান। তবে তিনি সংজ্ঞায় বর্ণিত পরিভাষা অনুযায়ী মানসিকভাবে বিভ্রান্ত (مختلط) নন, যদিও তাকে সেই বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে।
৪ - যদি মানসিক বিভ্রান্তি (اختلاط) ঘটার পর তাকে বর্ণনাকারীদের থেকে দূরে রাখা হয়, ফলে তার বিভ্রান্ত অবস্থায় তার থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করা না হয়।
মানসিকভাবে বিভ্রান্ত (مختلط) ব্যক্তির হাদিস থেকে এছাড়া বাকি সব বর্জন (رد) করা হবে।
* * *
•
স্মৃতিশক্তির দৃঢ়তা বা সংরক্ষণের (ضبط) প্রকারভেদ:
প্রথম প্রকার: অন্তস্থ সংরক্ষণ (ضبط صدر): তা হলো কিতাব বা বইয়ের সাহায্য ছাড়া বর্ণনাকারী যেভাবে বর্ণনাটি গ্রহণ করেছিলেন (নিখুঁতভাবে গ্রহণ (تلقي الإتقان)), ঠিক সেভাবেই তা অন্তর থেকে উপস্থাপন করার সক্ষমতা রাখা; তবে শর্ত হলো যদি অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (رواية بالمعنى) করা হয়, তবে যেন অর্থের বিকৃতি না ঘটে।
অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনার (رواية بالمعنى) শুদ্ধতার জন্য দুটি বিষয়ের সমন্বয় হওয়া আবশ্যক, সেগুলো হলো:
১ - প্রজ্ঞা বা গভীর সমঝ (فقه النفس) (যা শরয়ি দলিল থেকে বিধানদাতার উদ্দেশ্য অনুধাবন করার ক্ষমতাকে বোঝায়); আর যা এই বিষয়ে সাহায্য করে তা হলো: ফিকহী শাখা-প্রশাখা, সেগুলোর মধ্যকার মতপার্থক্য, মতপার্থক্যসমূহের দলিল ও কারণসমূহ এবং মূলনীতি (أصول) সম্পর্কে জ্ঞান থাকা।
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفقه.
أو أن يَتلقَّى الراوي هذا الفقهَ ممن وُجدت فيه أهليتُه.
2 - والعلمُ باللغة الممكِّنُ للراوي بأن يحكي المعنى بغير لفظه.
مع العلم بأنّ من الأحاديث النبوية مالا تصحّ فيها الرواية بالمعنى، كالأدعية والأذكار المأثورة عن النبي صلى الله عليه وسلم، ومنها ما يُتعبَّد بألفاظها، وكالألفاظ التوقيفيّة (كأسماء الله تعالى وصفاته)، وكجَوَامع كلمه صلى الله عليه وسلم.
القسم الثاني: ضَبْطُ كتاب: وهو الروايةُ من كتابٍ فيه مرويَّاتِه التي تلقاها عن شيوخه كما تلقاها عنهم.
وشرطه:
1 - أن يكون المرويُّ مكتوبًا كتابةً صحيحةً تُمكِّن من القراءة الصحيحة منه.
2 - أن يكون محفوظًا من التغيير أو التلف أو الفقدان.
3 - وأن لا يُحدِّث صاحبُ هذا الضبط (إذا لم يكن لديه ضبط الصدر) إلا من كتابه هذا أو من نسخةٍ مطابقةٍ له.
* * *
ফিকহ (فقه)।
অথবা বর্ণনাকারী (راوٍ) এই ফিকহ (فقه) এমন ব্যক্তির কাছ থেকে গ্রহণ করবেন যার মধ্যে এর যোগ্যতা বিদ্যমান।
2 - এবং ভাষা সম্পর্কে এমন জ্ঞান থাকা যা বর্ণনাকারীকে (راوٍ) মূল শব্দের পরিবর্তে তার অর্থ (معنى) বর্ণনা করতে সক্ষম করে তোলে।
তবে এটি জ্ঞাত থাকা প্রয়োজন যে, নববী হাদিসসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যেগুলোর ক্ষেত্রে অর্থগত বর্ণনা (الرواية بالمعنى) সঠিক নয় (لا تصح), যেমন—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত দোয়া ও জিকরসমূহ; আবার এমন কিছু শব্দ যার মাধ্যমে ইবাদত করা হয়, এবং তৌকিফি বা অপরিবর্তনীয় শব্দাবলি (الألفاظ التوقيفية) (যেমন—আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলি), এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জাওয়ামিউল কালিম (جوامع الكلم)।
দ্বিতীয় প্রকার: লিখন-নির্ভুলতা (ضبط كتاب): আর তা হলো এমন একটি কিতাব থেকে বর্ণনা (رواية) করা যাতে তার বর্ণিত বিষয়সমূহ (مرويات) সংরক্ষিত রয়েছে, যা তিনি তার মাশায়েখদের (شيوخ) কাছ থেকে যেভাবে গ্রহণ করেছেন ঠিক সেভাবেই লিপিবদ্ধ আছে।
এর শর্ত (شرط):
1 - বর্ণিত বিষয় (مروي) বিশুদ্ধভাবে লিখিত হতে হবে যা থেকে সঠিকভাবে পাঠ করা সম্ভব হয়।
2 - তা পরিবর্তন, বিনষ্ট হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া থেকে সংরক্ষিত থাকতে হবে।
3 - এবং এই প্রকারের নির্ভুলতার অধিকারী ব্যক্তি (যদি তার স্মৃতিশক্তির নির্ভুলতা (ضبط الصدر) না থাকে) যেন তার এই কিতাব অথবা এর হুবহু অনুলিপি ছাড়া হাদিস বর্ণনা (يحدث) না করেন।
* * *
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
•
كيفيّةُ معرفةِ العلماء المتقدّمين لضبط الرواة:وقد كان للنُّقّاد وسائلُ عديدةٌ لمعرفة ضبط الرواة، منها:
1 - الإبدال عمدًا، للاختبار.
2 - سؤال الراوي عن حديثه في أزمانٍ متباعدة.
3 - النظر في أصوله وضبطِها، إن كان يروي من كتاب.
4 - مطالبتُه بأصله للتَّثَبُّت من حفظه، إذا ما حدّث من حفظه.
5 - الرجوع إلى كُتُب شيخِ الراوي، فَمَن فوقَه، أو جمعُ حديثِه.
6 - سَبْرُ حديث الراوي، وهي من أهمّ وأدَقّ وسائل معرفة ضبط الراوي:
وهذا السَّبر يتمُّ من خلال عمليّةٍ شاقّةٍ تستلزم حفظًا واسعًا وفهمًا ثاقبًا وإدراكًا كبيرًا لعلوم الحديث بجميع فنونها.
على أنه ليس كل الرواة يُمكن سَبْرُ حديثِهم: كالمجهول الذي لم يَرْوِ عنه إلا تلميذٌ ضعيف، أو لم يَرْوِ هو إلا عن شيخٍ ضعيف، أو أنه ما عُرف له حديثٌ إلا محاطًا بضعيفٍ من الجهتين: فكان شيخُه فيه ضعيفًا، وتلميذُه الراوي عنه ضعيفًا. إلا في حالة واحدة، يمكن فيها سَبْرُ حديث مثل هذا المجهول، وهي حالة أن تكون نكارة الحديث أشدّ من درجة ضَعْفِ الراوي الذي فوقه (الشيخ) والراوي الذي تحته (التلميذ)، مما ينتجُ عنه: أن درجةَ النكارة وشدّتَها لا تليق إلا بذلك المجهول.
وكذلك يجب التنبّه إلى أن هذا السَّبْرَ قد يَصعُبُ (ولا يستحيل) حتى على النُّقّاد: إذا لم يكن للراوي إلا رواياتٌ موقوفةٌ ومقطوعة،
পূর্ববর্তী আলেমগণের নিকট রাবিদের নির্ভুলতা (ضبط) যাচাইয়ের পদ্ধতি:রাবিদের নির্ভুলতা (ضبط) যাচাই করার জন্য হাদিস বিশারদগণের (نقاد) নিকট অনেকগুলো মাধ্যম ছিল, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
1 - পরীক্ষার (اختبار) উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে রাবিদের অদলবদল (إبدال) করা।
2 - রাবিকে তার বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে জিজ্ঞাসাবাদ করা।
3 - রাবি যদি কোনো কিতাব থেকে বর্ণনা করেন, তবে তার মূল পাণ্ডুলিপি (أصول) এবং তার নির্ভুলতা (ضبط) পর্যবেক্ষণ করা।
4 - রাবি যদি মুখস্থ শক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তবে তার হিফয বা মুখস্থের দৃঢ়তা নিশ্চিত করতে তার মূল পাণ্ডুলিপি (أصول) তলব করা।
5 - রাবির উস্তাদ এবং তার ঊর্ধ্বতনদের কিতাবসমূহের শরণাপন্ন হওয়া, অথবা তার বর্ণিত হাদিসসমূহ একত্রিত করা।
6 - রাবির বর্ণিত হাদিসসমূহকে গভীরভাবে যাচাই-বাছাই (سبر) করা; এটি রাবির নির্ভুলতা (ضبط) যাচাই করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্ম মাধ্যম:
এই যাচাই-বাছাই (سبر) প্রক্রিয়াটি একটি অত্যন্ত কঠিন পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যার জন্য প্রয়োজন ব্যাপক মুখস্থ শক্তি, তীক্ষ্ণ মেধা এবং হাদিস বিজ্ঞানের সকল শাখা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান।
তবে সকল রাবির হাদিস যাচাই-বাছাই (سبر) করা সম্ভব নয়: যেমন এমন অপরিচিত (مجهول) রাবি যার নিকট থেকে কেবল একজন দুর্বল (ضعيف) ছাত্র বর্ণনা করেছেন, অথবা তিনি নিজেও কেবল একজন দুর্বল (ضعيف) উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেছেন; অথবা এমন রাবি যার বর্ণিত হাদিস উভয় দিক থেকেই দুর্বলতা দ্বারা পরিবেষ্টিত: অর্থাৎ তার উস্তাদও দুর্বল (ضعيف) এবং তার থেকে বর্ণনাকারী ছাত্রটিও দুর্বল (ضعيف)। তবে কেবল একটি বিশেষ ক্ষেত্রে এই ধরণের অপরিচিত (مجهول) রাবির হাদিস যাচাই-বাছাই (سبر) করা সম্ভব; আর তা হলো যদি হাদিসটির অসংগতি (نكارة) তার ঊর্ধ্বস্থ উস্তাদ এবং নিম্নস্থ ছাত্রের দুর্বলতার (ضعف) স্তরের চেয়েও বেশি প্রকট হয়। এর ফলে এটি প্রমাণিত হয় যে, অসংগতির (نكارة) এই পর্যায় ও তীব্রতা কেবল সেই অপরিচিত (مجهول) রাবির সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অনুরূপভাবে এটিও লক্ষ্য রাখা জরুরি যে, এই যাচাই-বাছাই (سبر) প্রক্রিয়াটি হাদিস বিশারদগণের (نقاد) জন্যও কঠিন হতে পারে (তবে অসম্ভব নয়): যদি রাবির বর্ণনাসমূহ কেবল সাহাবীর বক্তব্য (موقوف) কিংবা তাবিঈর বক্তব্যের (مقطوع) অন্তর্ভুক্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أو مراسيل غير متصلة أصلا.
كما قد يصعب هذا السَّبرُ أيضًا (ولا يستحيل) عند إقلال الراوي جدًّا، كمن ليس له إلا الرواية الواحدة أو الروايتان، فيصعب غالبا على النُّقّاد سَبْرُ حديث المقلِّين، لكنه لا يمتنع دائمًا. وقد يتوقف فيه بعضهم، وقد يتنبّه غيرُهم لأسباب الحُكم فيه، فيحكمون عليه رُغمَ قِلّةِ حديثِ الراوي.
وعمليّةُ السَّبرِ هذه هي باختصار بالغ: تقوم على تقسيم حديث ذلك الراوي إلى قسمين:
- الأحاديث التي تَفرَّدَ بها.
- والأحاديث التي شُوْرِكَ في أصل روايتها.
فإن غلبت عليه المفاريد: كان ذلك دليلَ ضعفه، بل ربما كانت دليل وَضْعِه للحديث.
فإن لم تغلب عليه المفاريد، لكنها لم تزل في حيِّز الكثرة، وجب سَبْرُ ما شُورِك فيه وَحْدَهُ، ثم ما انفرد به وَحْدَهُ، ثم يُوازَنُ بين النظرَيْنِ، ليَخرج الناقدُ بالنتيجة.
فبالنظر إلى التّفرّدِ يجب أن تُلْحَظَ ملاحظُ دقيقةٌ جِدًّا، كالملاحظ التالية:
1 - قوّة تأثير المفاريد على دلالة إتقانِه المستنبَطِ مما لم ينفرد به من الحديث وشُورِكَ في أصل روايته:
o فقد يقع في ضبطه وإتقانه ما يَجبُر تفرُّدَه، وقد لا يقع فيه ما يَجبُره.
o وما لا يقع في إتقانه ما يَجبُره: قد تدلّ خِفّةُ درجةِ خطئه
অথবা এমন মুরসাল (مراسيل) হাদিস যা মূলত নিরবচ্ছিন্ন (متصلة) নয়।
তেমনিভাবে এই যাচাই-বাছাই (السبر) প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে (তবে অসম্ভব নয়) যখন রাবীর (الراوي) বর্ণনার সংখ্যা অত্যন্ত কম হয়। যেমন যার মাত্র একটি বা দুটি বর্ণনা রয়েছে। ফলে সমালোচকদের (النقاد) পক্ষে অল্প বর্ণনাকারী রাবীদের (المقلين) হাদিস যাচাই-বাছাই (سبر) করা সাধারণত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা সর্বদা অসম্ভব নয়। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে বিরত থাকেন (توقف), আবার অন্য কেউ হয়তো এতে হুকুম (الحكم) প্রদানের কারণগুলো সম্পর্কে সজাগ হয়ে ওঠেন; ফলে রাবীর (الراوي) হাদিসের স্বল্পতা সত্ত্বেও তাঁরা তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।
সংক্ষেপে এই যাচাই-বাছাই (السبر) প্রক্রিয়াটি হলো: সংশ্লিষ্ট রাবীর (الراوي) হাদিসকে দুই ভাগে বিভক্ত করা:
- যে হাদিসগুলো তিনি এককভাবে (تفرد) বর্ণনা করেছেন।
- এবং যে হাদিসগুলোর মূল বর্ণনায় অন্যরাও তাঁর সাথে শরিক (شورك) হয়েছেন।
যদি তাঁর বর্ণনায় একক বর্ণনাগুলোর (المفاريد) আধিক্য দেখা যায়, তবে তা তাঁর দুর্বলতার (ضعف) প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়, এমনকি তা অনেক সময় তাঁর হাদিস জালকরণের (وضع) প্রমাণও হতে পারে।
আর যদি তাঁর বর্ণনায় একক বর্ণনাগুলোর (المفاريد) আধিক্য না থাকে, কিন্তু তবুও তা সংখ্যায় বেশি হয়, তবে কেবল সেই বর্ণনাগুলো যাচাই (سبر) করা ওয়াজিব যাতে অন্যরা তাঁর সাথে শরিক (شورك) রয়েছেন। এরপর তিনি এককভাবে (انفرد) যা বর্ণনা করেছেন তা যাচাই করতে হবে। অতঃপর এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে, যাতে সমালোচক (الناقد) একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন।
সুতরাং একক বর্ণনার (التفرد) প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয় লক্ষ্য রাখা জরুরি, যেমন নিচের বিষয়গুলো:
1 - ঐ সকল হাদিস যেখানে তিনি একক (ينفرد) নন বরং অন্যরাও বর্ণনায় শরিক (شورك) হয়েছেন, সেগুলো থেকে প্রাপ্ত তাঁর নির্ভুলতার (إتقان) প্রমাণের ওপর তাঁর একক বর্ণনাগুলোর (المفاريد) প্রভাব কতটুকু তা দেখা:
o কেননা তাঁর স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতার (ضبط وإتقان) মধ্যে এমন কিছু থাকতে পারে যা তাঁর একক বর্ণনাকে (تفرد) সমর্থন যোগায়, আবার এমন কিছুও থাকতে পারে যা একে সমর্থন করে না।
o আর যাঁর নির্ভুলতার (إتقان) মধ্যে এমন কিছু নেই যা তাঁর একক বর্ণনাকে সমর্থন করে, সে ক্ষেত্রে তাঁর ভুলের সামান্য মাত্রাটি (خفة درجة خطئه) তাঁর দুর্বলতা প্রকাশ করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
على أنه مجرّدُ وَهَمٍ غيرِ مقصود، فلا يؤثّر في عدالة الراوي، وقد تَفْحُشُ درجةُ النكارةِ حتى يغلب على ظن الناقد أو يتيقّن أنّ تلك النكارة لا تقع من عَدْل (كما سيأتي).
2 - درجة غرابتها، حيث إن الغرابة درجات، وتَفَاوُتُ درجاتها يرجع إلى درجة توفُّر الدواعي لنَقْل الحديث قوةً وضعفا. ومع تَفاوُتِ الدرجات يجب أن يُلْحَظَ موطنُ التفرّد أيضًا: هل هو في المعنى، أم اللفظ، أم الإسناد:
o ففي المعنى: هل تفرّد الراوي بأصل؟ أم كان تَفرُّدُه مجرَّدَ تَفَرُّدٍ بلفظٍ لأصلٍ مشهورِ المعنى؟
o وفي اللفظ: هل اللفظ مما يُستنكر على اللفظ النبوي؟ أم هو مما يليق به؟
o وفي الإسناد: هل هناك تَفَرُّدٌ بأصلٍ إسناديٍّ يصل حَدَّ ما لا يصحّ أن يقع مثله أصلا، أو هو فقط ما لم يقع مثله قط، أم هو إسنادٌ معروف لكنه تفرّد بذلك المتن، فكل واحدة من صور التفرّد هذه أشدُّ غرابةً من الأخرى.
3 - طبقة الراوي الزمنية: فتفرُّدُ كبار التابعين أوْلى قبولًا من صغارهم، وكبار أتباع الأتباع وإن كانوا دون التابعين في احتمال التفرّد منهم: لكنّ تَفَرُّدَهم أقربُ احتمالا من صغار أتباع التابعين أيضًا.
4 - علاقة الراوي بمن تفرّد عنه: هل يَحتمِلُ التفرُّدَ عنه لشدّة ملازمته وقوة خبرته بحديثه، أم ليس كذلك.
এটি কেবল একটি অনিচ্ছাকৃত ভ্রান্তি (وهم) হিসেবে গণ্য, যা বর্ণনাকারীর (راوي) ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) ওপর প্রভাব ফেলে না। তবে অস্বীকৃতি বা আপত্তিকর হওয়ার (نكارة) মাত্রা এতটাই প্রকট হতে পারে যে, সমালোচকের (ناقد) প্রবল ধারণা হয় অথবা তিনি নিশ্চিত হন যে, এমন আপত্তিকর বর্ণনা কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির পক্ষ থেকে আসা সম্ভব নয় (যা সামনে আলোচনা করা হবে)।
2 - এর বিরলতার (غرابة) পর্যায়; কেননা বিরলতা (غرابة) বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে। আর এর স্তরের তারতম্য নির্ভর করে হাদিসটি বর্ণনার প্রেক্ষাপট বা প্রেরণা কতটা শক্তিশালী বা দুর্বল (ضعف) তার ওপর। স্তরের এই পার্থক্যের পাশাপাশি একক বর্ণনার (تفرد) ক্ষেত্রটির দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে: সেটি কি অর্থের ক্ষেত্রে, নাকি শব্দের ক্ষেত্রে, নাকি সনদের (إسناد) ক্ষেত্রে:
o অর্থের ক্ষেত্রে: বর্ণনাকারী (راوي) কি কোনো মৌলিক বিষয়ের বর্ণনায় একক (تفرد) হয়ে পড়েছেন? নাকি তার এই একক বর্ণনা (تفرد) কেবল কোনো প্রসিদ্ধ অর্থবোধক মূল পাঠের শব্দগত বর্ণনার ক্ষেত্রে হয়েছে?
o শব্দের ক্ষেত্রে: এই শব্দটি কি এমন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর জন্য অগ্রহণযোগ্য বা আপত্তিকর (يستنكر) মনে হয়? নাকি এটি তাঁর শানের জন্য উপযুক্ত?
o সনদের (إسناد) ক্ষেত্রে: সনদের (إسناد) মূলে কি এমন কোনো একক বর্ণনা (تفرد) রয়েছে যা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা মূলত সংঘটিত হওয়া সঠিক (يصح) নয়, অথবা এমন কিছু যা আগে কখনো ঘটেনি? নাকি এটি একটি পরিচিত সনদ (إسناد) কিন্তু তিনি কেবল এই মূল পাঠটি (متن) বর্ণনার ক্ষেত্রে একক (تفرد) হয়ে গেছেন? একক বর্ণনার (تفرد) এই প্রতিটি রূপই একটি অন্যটি অপেক্ষা অধিকতর বিরল (غرابة)।
3 - বর্ণনাকারীর (راوي) সমসাময়িক স্তর (طبقة): প্রবীণ তাবেয়ীদের (تابعين) একক বর্ণনা (تفرد) নবীনদের তুলনায় অধিক গ্রহণযোগ্য। আর প্রবীণ তাবে-তাবেয়ীরা (أتباع الأتباع) একক বর্ণনার (تفرد) সম্ভাবনার ক্ষেত্রে তাবেয়ীদের (تابعين) তুলনায় নিম্নস্তরের হলেও তাদের একক বর্ণনা (تفرد) নবীন তাবে-তাবেয়ীদের (أتباع التابعين) তুলনায় অধিকতর সম্ভবপর।
4 - যার থেকে এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করা হয়েছে তার সাথে বর্ণনাকারীর (راوي) সম্পর্ক: দীর্ঘ সান্নিধ্য এবং তার হাদিস সম্পর্কে গভীর অভিজ্ঞতার কারণে কি তার থেকে একক বর্ণনা (تفرد) গ্রহণযোগ্য হতে পারে, নাকি বিষয়টি তেমন নয়।
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فإن كانت المفاريد قليلةً ولم تصل حدّ التشكيك في عدالته، أو كانت المفاريد لا وجود لها في حديث الراوي، فهو مُشَارَكٌ في كل حديثه. نُظر إلى القسم الثاني من حديث الراوي، وهو ما شُورِكَ في أصل روايته. هل الغالب عليه فيه موافقةُ الثقات، وما هي نسبة مخالفته (فُحشًا وعددًا) بالنسبة لموافقته لهم.
فإن ظهر لنا بعد ذلك أنه ضابطٌ في الجملة، عُدنا مرة أخرى إلى مفاريده (إن وُجدت)، فنظرنا فيها: هل في ضبطه ما يقع جابرًا لما تفرّد به؟ هل يحتمل ضبطُه التَّفرُّدَ بما تَفَرَّدَ به؟ فإن كان فيها مالا يحتمله ضبطُه، نظرنا:
هل فيها منكراتٌ شديدة؟ فإن كان فيها شيءٌ من ذلك: ربما أسقطنا حديثه؛ فرُبّ حديثٍ واحدٍ أَسقطَ مائة ألف حديث (كما قال الدارقطني).
ولا يعني ذلك أن الناقد لا ينظر إلى هذا القسم (قِسْمِ ما شُورك فيه الراوي) إلا بعد قِسْمِ ما تَفرَّدَ به من حديثه، بل ربما كان الابتداء بقسم ما شُورِكَ فيه أصحّ، لأن الحكم على الراوي من خلاله قد يكون أسهل، وهو أقل عمقًا من سَبرِ المفاريد (مع عمقه أيضًا).
وكما أن ما يُردُّ من مفاريد الرواة مراتب (كما سبق)، فكذلك ما يُردُّ من جهة المخالفة مما شُورِكُوا في أصل روايته وتبيّنت فيه مرجوحيّةُ روايتهم، فهو أيضًا مراتب:
ومرجع ذلك إلى الموازنة بين درجة الغلط وحال الراوي من جهة العدالة:
যদি একক বর্ণনাসমূহ (المفاريد) পরিমাণে কম হয় এবং তা তার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) নিয়ে সন্দেহ জাগানোর পর্যায়ে না পৌঁছায়, অথবা যদি বর্ণনাকারীর (الراوي) হাদিসে একক বর্ণনার (المفاريد) কোনো অস্তিত্বই না থাকে, তবে তিনি তার সকল হাদিসে অংশীদারিত্ব সম্পন্ন (مشارك)। তখন বর্ণনাকারীর (الراوي) হাদিসের দ্বিতীয় ভাগের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয়, আর তা হলো মূল বর্ণনার ক্ষেত্রে যাতে তিনি অন্য বর্ণনাকারীদের সাথে অংশীদারিত্ব সম্পন্ন (شورك)। সেক্ষেত্রে দেখা হয় যে, অধিকাংশ বর্ণনায় তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণের (الثقات) সাথে ঐক্যমত পোষণ করেছেন কি না, এবং তাদের অনুকূলে বর্ণনার তুলনায় তার বিরোধিতার (مخالفة) হার (তীব্রতা ও সংখ্যা বিচারে) কতটুকু।
যদি এরপর আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে তিনি সামগ্রিকভাবে স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط), তবে আমরা পুনরায় তার একক বর্ণনাগুলোর (المفاريد) দিকে (যদি থাকে) ফিরে যাব এবং সেগুলো পর্যবেক্ষণ করব: তার স্মৃতিশক্তি (ضبط) কি এমন পর্যায়ের যা তার এককভাবে বর্ণিত বিষয়গুলোর পরিপূরক হতে পারে? তার স্মৃতিশক্তি (ضبط) কি এমন যে তার একক বর্ণনা (التفرد) গ্রহণ করা যেতে পারে? যদি তাতে এমন কিছু থাকে যা তার স্মৃতিশক্তির (ضبط) বিচারে গ্রহণযোগ্য নয়, তবে আমরা লক্ষ্য করি:
সেখানে কি অত্যন্ত আপত্তিকর বর্ণনা (منكرات) রয়েছে? যদি সেখানে এমন কিছু পাওয়া যায়, তবে সম্ভবত আমরা তার হাদিসকে বর্জনীয় (أسقطنا) ঘোষণা করব। কেননা, কখনো একটি হাদিস লক্ষাধিক হাদিসকে বাতিল করে দিতে পারে (যেমনটি দারাকুতনী বলেছেন)।
এর অর্থ এই নয় যে, সমালোচক (الناقد) বর্ণনাকারীর এই অংশটি (যাতে তিনি অংশীদারিত্ব সম্পন্ন) কেবল তার একক বর্ণনার (تفرد) অংশটি দেখার পরেই পর্যালোচনা করবেন; বরং অংশীদারিত্বমূলক বর্ণনার অংশটি দিয়ে শুরু করাই হয়তো অধিক সঠিক। কারণ এর মাধ্যমে বর্ণনাকারীর (الراوي) ওপর হুকুম প্রদান করা সহজতর হতে পারে এবং একক বর্ণনাসমূহের চুলচেরা বিশ্লেষণের (سبر) তুলনায় এটি কম জটিল (যদিও এটিও যথেষ্ট গভীর)।
আর বর্ণনাকারীদের একক বর্ণনার (مفاريد) মধ্যে যা প্রত্যাখ্যান করা হয় তার যেমন স্তরভেদ রয়েছে (যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে), তেমনি বর্ণনার মূল অংশে অংশীদারিত্ব থাকা সত্ত্বেও বিরোধিতার (مخالفة) কারণে যা প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং যাদের বর্ণনার দুর্বলতা প্রমাণিত হয়, তারও স্তরভেদ রয়েছে:
এর মূল ভিত্তি হলো ভুলের মাত্রা এবং ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) দিক থেকে বর্ণনাকারীর (الراوي) অবস্থার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
o فإن كانت درجةُ الغلط لا تفوقُ درجةَ متانةِ عدالتِه وقوةَ يقينِ الناقدِ منها: رُدّ غلطُه فقط، دون أن يُجرح الراوي.
o وإن كانت درجةُ النكارةِ تَفُوقُ ما عَرَفَهُ الناقدُ من عدالة الراوي: رُدَّ المرويُّ والراوي معًا، فجُرح الراوي بهذا الحديث.
وهذا كله فيما إذا كان الراوي مكثرًا من الرواية، أما إذا كان مُقِلًّا، بل ليس له إلا الحديثُ الواحد أو الحديثان ونحوها. فإن الحكم عليه بالضبط وعدمه قد يكون في غاية السهولة على النُّقّاد، وقد يكون في غاية الصعوبة عليهم:
- فإن كان جميع حديث ذلك الراوي المقلّ مما شُورِكَ في نقله: سَهُلَ الحكمُ عليه من خلال ذلك.
- وإن كان جميع حديثه مفاريدَ، أو فيها مفاريدُ مع ما شُورِك فيه منها، بل ربما لم يكن له إلا حديثٌ واحد تَفرّدَ به: ففي هذه الحالة قد يَصْعُبُ الحكمُ عليه جدًا على أئمة النقاد وجهابذة الحفاظ؛ لأنه وإن وافق الثقاتِ فيما شاركهم في روايته، إلا أن قِلّةَ حديثِه الذي شاركهم فيه أصلًا لا تكفي للحكم عليه بالضبط أو بعدمه، ولا بُدّ حينها من النظر في مفاريده أيضًا. والحكم على الراوي من خلال مفاريده القليلة (التي قد تكون حديثًا واحدًا) أمرٌ في غاية الصعوبة، خاصة عند عدم وجود نكارةٍ ظاهرةٍ في ذلك الحديث الفرْد، وعند احتمال طبقة ذلك الراوي للتفرّد (كالتابعين ثم أتباعهم).
- فإن كان في إسناد الحديث المدروس أكثر من راوٍ يُمكن أن
o যদি ভুলের মাত্রা তার আদল (عدالة) এর দৃঢ়তা এবং তা নিয়ে সমালোচকের (الناقد) নিশ্চিত বিশ্বাসের মাত্রাকে অতিক্রম না করে, তবে কেবল তার ভুলটিই প্রত্যাখ্যান করা হবে, বর্ণনাকারীকে (الراوي) জারহ (جرح) বা দোষারোপ করা হবে না।
o আর যদি মুনকার বা আপত্তিকর হওয়ার (نكارة) মাত্রা বর্ণনাকারীর আদল (عدالة) সম্পর্কে সমালোচকের জানাশোনাকে ছাড়িয়ে যায়, তবে বর্ণিত বিষয় এবং বর্ণনাকারী উভয়কেই প্রত্যাখ্যান করা হবে; ফলে এই হাদিসের কারণে বর্ণনাকারীকে জারহ (جرح) করা হবে।
এই সব কিছুই তখন প্রযোজ্য যখন বর্ণনাকারী অধিক বর্ণনাকারী (مكثر) হন। কিন্তু যদি তিনি স্বল্প বর্ণনাকারী (مقل) হন, এমনকি তার বর্ণিত হাদিস মাত্র একটি বা দুটি বা এই জাতীয় হয়, তবে তার দাবত (ضبط) বা মুখস্থশক্তির প্রখরতা থাকা বা না থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সমালোচকদের (النقاد) জন্য অত্যন্ত সহজও হতে পারে, আবার অত্যন্ত কঠিনও হতে পারে:
- যদি সেই স্বল্প বর্ণনাকারী (مقل) রাবীর বর্ণিত সকল হাদিস এমন হয় যেখানে অন্যরাও তার সাথে বর্ণনায় অংশীদার (شورك) হয়েছে, তবে এর মাধ্যমে তার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
- আর যদি তার বর্ণিত সকল হাদিসই একক বর্ণনা (مفاريد) হয়, অথবা অন্যদের সাথে বর্ণিত হাদিসের পাশাপাশি কিছু একক বর্ণনা (مفاريد) থাকে, এমনকি তার বর্ণনায় কেবল একটিই একক (تفرد) হাদিস থাকে, তবে এই অবস্থায় ইমাম ও হাফেজ পর্যায়ের দক্ষ সমালোচকদের জন্য তার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, যদিও তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের সাথে তাদের বর্ণিত হাদিসে ঐকমত্য পোষণ করেন, তবুও যে সকল হাদিসে তিনি অংশীদার হয়েছেন সেগুলোর স্বল্পতা তার দাবত (ضبط) থাকা বা না থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যথেষ্ট নয়। এমতাবস্থায় তার একক বর্ণনাগুলোর (مفاريد) দিকেও দৃষ্টি দেওয়া আবশ্যক। আর একজন বর্ণনাকারীর (الراوي) স্বল্পসংখ্যক একক বর্ণনার (مفاريد) মাধ্যমে (যা হতে পারে কেবল একটি হাদিস) তার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। বিশেষ করে যখন সেই একক (فرد) হাদিসটিতে কোনো স্পষ্ট মুনকার বা অস্বাভাবিকতা (نكارة) না থাকে এবং সেই বর্ণনাকারীর স্তরটি একক বর্ণনার (تفرد) উপযুক্ত হয় (যেমন তাবেয়ি এবং তাদের পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীগণ)।
- যদি পর্যালোচিত হাদিসের সনদ (إسناد) এর মধ্যে একাধিক এমন বর্ণনাকারী (راو) থাকেন যারা...
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تُلحق به نكارتُه أو غلطُه: أُلحقت بالأضعف، فإن احتملها عددٌ من الرواة المتشابهين في الضعف: توقّف الناقد عن إلحاق الغلط بأحدهم.
ومن ظن أن الراوي الذي ليس له إلا حديثٌ واحد لا يمكن الحكم عليه؛ لاستحالة ذلك في ظنّه، ولوجود عباراتٍ لابن عَدِيّ قد تُوهِمُ بذلك = فقد أخطأ ظنُّه وفهمُه، بدليل أن ابنَ عدي كثيرًا ما ذكر تلك العبارات في حقّ من تكلم فيهم غيرُه من النُّقّاد، فما توقّف فيه ابنُ عدي، كان قد توصّل غيرُه فيه إلى حكم.
ويدل على إمكان ذلك عددٌ من الأدلة، منها:
1 - وقوع ذلك مرات كثيرة: يقول أبو حاتم الرازي عن سعيد بن محمد الزهري: «ليس بمشهور، وحديثه مستقيم، إنما روى حديثًا واحدًا». مع أن حديثَه هذا قد استنكره غيرُه. وقال أبو حاتم الرازي عن عبد الرحمن بن حرملة عمّ القاسم بن حسان: «ليس بحديثه بأس»، رغم أن عليّ ابن المديني قال عن حديثٍ له: «لا أعلم رُوي عن عبد الرحمن بن حرملة هذا شيءٌ؛ إلا من هذا الطريق، ولا نعرفه في أصحاب عبد الله».
2 - وجود عبارات أخرى لابن عديّ تدل على إمكان ذلك أحيانًا.
3 - وقد نصَّ الخطيبُ على إمكان ذلك في (الكفاية).
* * *
তার অস্বীকৃতি (نكارة) অথবা ভুল (غلط) তার সাথে যুক্ত করা হয়: এটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল (الأضعف) বর্ণনাকারীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। আর যদি দুর্বলতার (الضعف) দিক থেকে সমপর্যায়ের একাধিক বর্ণনাকারী (الرواة) এর ভার বহন করে থাকেন, তবে সমালোচক (الناقد) তাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট একজনের দিকে ভুলটি সম্বন্ধযুক্ত করা থেকে বিরত থাকেন।
আর যে ব্যক্তি মনে করে যে, যে বর্ণনাকারীর মাত্র একটি হাদিস রয়েছে তার উপর হুকুম (الحكم) আরোপ করা সম্ভব নয়—তার ধারণা অনুযায়ী এটি অসম্ভব মনে হওয়ার কারণে এবং ইবনে আদীর কিছু উক্তি এমন যা ভুলবশত এই ধারণার উদ্রেক করতে পারে—তার এই ধারণা ও উপলব্ধি ভুল। এর প্রমাণ হলো, ইবনে আদী প্রায়ই সেই উক্তিগুলো এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন যাদের সম্পর্কে অন্য সমালোচকগণ (النقاد) মন্তব্য করেছেন। সুতরাং যে বিষয়ে ইবনে আদী বিরত থেকেছেন, অন্য সমালোচকগণ সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।
এর সম্ভাব্যতা অনেকগুলো দলিলে প্রমাণিত, তার মধ্যে রয়েছে:
1 - এটি অনেকবার সংঘটিত হয়েছে: আবু হাতিম আর-রাযী সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ আয-যুহরী সম্পর্কে বলেন: «তিনি প্রসিদ্ধ (مشهور) নন, তবে তার হাদিস সঠিক (مستقيم); তিনি মাত্র একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।» যদিও তার এই হাদিসটিকে অন্য সমালোচকগণ অস্বীকৃত (استنكره) সাব্যস্ত করেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী কাসেম ইবনে হাস্সানের চাচা আবদুর রহমান ইবনে হারমালা সম্পর্কে বলেন: «তার হাদিসে কোনো সমস্যা নেই (ليس بحديثه بأس)», অথচ আলী ইবনুল মাদীনী তার একটি হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: «এই সূত্র ছাড়া আবদুর রহমান ইবনে হারমালা থেকে কোনো কিছু বর্ণিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই; আর আব্দুল্লাহর অনুসারীদের মাঝে আমরা তাকে চিনি না।»
2 - ইবনে আদীর এমন আরও কিছু উক্তি বিদ্যমান রয়েছে যা কখনো কখনো এর সম্ভাব্যতা নির্দেশ করে।
3 - খতিব আল-বাগদাদি আল-কিফায়া গ্রন্থে এর সম্ভাব্যতা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ (نص) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
•
كيفيّةُ معرفةِ المتأخِّرِينَ والباحثينَ المعاصرينَ للضبط:من خلال طرائق معرفة العدالة نفسِها (الاستفاضة، والتنصيص، والتوثيق الضِّمني). وذلك لأن أحكام أئمة الجرح والتعديل جاءت لبيان ما إذا كان الرواة مُحْتجًّا بما رَوَوْه أو غير محتجٍّ به، وذلك لا يحصل إلا بالحكم عليهم من خلال عدالتهم وضبطهم جميعًا؛ ولهذا جاءت أحكام أئمة الجرح والتعديل متناولةً الرواة من هاتين الجهتين جميعًا: العدالة، والضبط.
أما طريقة السَّبر التي سار عليها المتقدمون فلا يمكن للمتأخرين الاعتماد عليها لمعرفة ضبط الرواة استقلالًا (أي دون أن يكونوا مسبوقين بنحو حكمهم من إمامٍ متقدّم)، إلا في حالتين خاصّتين بمن لم نَجِد فيه جرحًا أو تعديلًا (كالمجهولين وشبه المجهولين):
الحالة الأولى: أن نَجِدَ لهذا الراوي المجهول حديثًا ظاهرَ النكارةِ أو واضحَ البطلان، فأحكمُ على الراوي بالذي يليق بمقدار تلك النكارة من الضعف أو شدة الضعف أو الاتّهام بالكذب. وذلك بشرط أن يكون الإسناد الذي فيه ذلك المجهول والذي فيه تلك النكارة مقبولَ الرُّواة نظيفًا؛ إلا من ذلك المجهول. وهذه الطريقة سار عليها الذهبي في (الميزان)، فيمن استقل بتضعيفهم، والحافظ ابن حجر في (اللسان)، والعبد الفقير في (ذيل اللسان).
الحالة الثانية: وهي التي تكون نتيجتها الحكم بقبول
পরবর্তী ও সমসাময়িক গবেষকদের জন্য নির্ভুলতা বা স্মৃতিশক্তি (ضبط) যাচাইয়ের পদ্ধতি:এটি বিশ্বস্ততা (عدالة) যাচাইয়ের পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমেই জানা যায় (যেমন: প্রসিদ্ধি (استفاضة), সুনির্দিষ্ট উক্তি (تنصيص) এবং পরোক্ষ নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (توثيق ضمني))। কারণ জারহ ও তাদিলের (جرح وتعديل) ইমামগণের সিদ্ধান্তগুলো রাবিদের বর্ণিত হাদিস দলিলযোগ্য (محتج به) কি না, তা স্পষ্ট করার জন্যই এসেছে। আর এটি রাবিদের বিশ্বস্ততা (عدالة) এবং নির্ভুলতা বা স্মৃতিশক্তি (ضبط) উভয়টির ওপর হুকুম প্রদান ছাড়া সম্ভব নয়। এই কারণেই জারহ ও তাদিলের (جرح وتعديل) ইমামগণের সিদ্ধান্তগুলো রাবিদের এই উভয় দিককেই অন্তর্ভুক্ত করে: বিশ্বস্ততা (عدالة) এবং নির্ভুলতা বা স্মৃতিশক্তি (ضبط)।
পূর্ববর্তীগণ যাচাই-বাছাইয়ের (سبر) যে পদ্ধতি অবলম্বন করতেন, পরবর্তীগণের পক্ষে স্বতন্ত্রভাবে (অর্থাৎ পূর্ববর্তী কোনো ইমামের সিদ্ধান্তের সহায়তা ছাড়া) রাবিদের নির্ভুলতা বা স্মৃতিশক্তি (ضبط) জানার জন্য তার ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়; কেবল সেই সব রাবিদের দুটি বিশেষ অবস্থা ছাড়া যাদের ব্যাপারে আমরা কোনো জারহ (جرح) বা তাদিল (تعديل) খুঁজে পাই না (যেমন: অজ্ঞাত (مجهول) এবং প্রায় অজ্ঞাত রাবিগণ):
প্রথম অবস্থা: যদি আমরা এই অজ্ঞাত (مجهول) রাবির এমন কোনো হাদিস পাই যার অগ্রহণযোগ্যতা (نكارة) স্পষ্ট অথবা যার অসারতা বা বাতিল হওয়া সুনিশ্চিত, তবে উক্ত অগ্রহণযোগ্যতার (نكارة) মাত্রা অনুযায়ী আমি রাবির ওপর দুর্বল (ضعيف), চরম দুর্বল (شدة الضعف) অথবা মিথ্যাচারের অপবাদ (اتهام بالكذب) সংক্রান্ত উপযুক্ত হুকুম প্রদান করব। তবে শর্ত হলো, সেই অজ্ঞাত (مجهول) রাবি ও সেই অগ্রহণযোগ্যতা (نكارة) সম্বলিত হাদিসটির সনদ (إسناد) যেন অন্যান্য রাবিদের দিক থেকে গ্রহণযোগ্য ও ত্রুটিমুক্ত (نظيف) হয়। এই পদ্ধতিটি ইমাম যাহাবি মিযান গ্রন্থে তাদের ক্ষেত্রে অবলম্বন করেছেন যাদের তিনি স্বতন্ত্রভাবে দুর্বল সাব্যস্ত (تضعيف) করেছেন, এবং হাফেজ ইবনে হাজার লিসান গ্রন্থে এবং এই নগণ্য বান্দা যাইলুল লিসান গ্রন্থে তা অনুসরণ করেছেন।
দ্বিতীয় অবস্থা: যার ফলাফল হলো গ্রহণের (قبول) হুকুম প্রদান...
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
حديث الراوي، وهي أشق من الأولى وأصعب. ولا يمكن ذلك إلا في حالة ما إذا كان الراوي مقلًّا، ويُنصّ على إقلاله، أو أَجِدُ ما يشهد لإقلاله من الحديث، بل قد يَنصُّ العلماءُ على عدد ما روى؛ ثم أقف على أحاديثه، وأستقصي في البحث؛ فيمكن حينها للعالم المتأخر صاحب الفهم الدقيق والممارسة الطويلة أن يحكم بالقبول إذا ظهرت له علاماتُه. خاصة إن وجد قرائن تؤيّد نتيجة سَبرِه هذا، من مثل كون الراوي من التابعين، أو روى عنه جمع، أو وَجَدَ قرائن تشهد لقبول المتقدمين له، مثل أن يوجد حديثُه في بعض أمهات السنة التي الأصل في أحاديثها الانتقاء، ك (السنن) لأبي داود (دون أن يُصَحَّحَ له؛ لأن التصحيح توثيقٌ ضمني، لا يحتاج معه الراوي إلى هذا السَّبر غالبًا).
أما الرُّواة المكثرون: فلو قَدَّرْنا عدمَ وجود جرح أو تعديل فيهم، فلا يمكن - مع كثرة حديثهم وانتشاره - أن يُحكم عليهم بالقبول؛ إذ يُحتمل - احتمالًا قويًا - أن يكون فيما سيفوت المتأخر (حتمًا) مِن حديثهم ما يَسْقُطُ به حديثُهم (ورُبَّ حديثٍ واحد أسقط مائة ألف حديث).
ولا يعني ذلك أن سَبْرَ المتأخرين من المتأهلين لذلك عديمُ الفائدة إلا في هاتين الحالتين، بل هو مفيدٌ حتى في غير هاتين الحالتين.
فالراوي الذي اشتدّ فيه الاختلاف جرحًا وتعديلًا، يمكن الاستفادة من سَبْرِ حديثه - سواءٌ أكان مكثرًا أم مقلًّا، وسواءٌ
বর্ণনাকারীর হাদিস যাচাই-বাছাই করা, যা প্রথম পদ্ধতির চেয়ে অধিকতর কঠিন ও জটিল। আর এটি কেবল তখনই সম্ভব যখন বর্ণনাকারী স্বল্প বর্ণনাকারী (مقل) হন এবং তার এই স্বল্পতার কথা স্পষ্টভাবে বর্ণিত থাকে, অথবা আমি এমন কিছু পাই যা তার হাদিসের স্বল্পতার সাক্ষ্য দেয়। বরং কখনও কখনও আলেমগণ তার বর্ণিত হাদিসের সংখ্যাও উল্লেখ করেন; এরপর আমি তার হাদিসগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করি এবং গবেষণায় গভীর মনোনিবেশ করি। তখন সূক্ষ্ম বুঝ ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পরবর্তী যুগের (المتأخر) আলেমদের পক্ষে গ্রহণের (القبول) ফয়সালা দেওয়া সম্ভব হয়, যদি তার নিকট এর লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়। বিশেষ করে যদি তিনি তার এই অনুসন্ধানের (سبر) ফলাফলকে সমর্থন করে এমন কোনো আলামত খুঁজে পান, যেমন—বর্ণনাকারী একজন তাবেয়ি (التابعين) হওয়া, অথবা তার থেকে একদল বর্ণনাকারী হাদিস বর্ণনা করা, অথবা পূর্ববর্তী আলেমদের (المتقدمين) নিকট তার গ্রহণযোগ্যতার সাক্ষ্য দেয় এমন কোনো আলামত পাওয়া। যেমন—সুনান গ্রন্থসমূহের মতো হাদিসের মূল কিতাবগুলোর কোনোটিতে তার হাদিস থাকা, যেগুলোতে সাধারণত হাদিস বাছাই করে সংকলন করা হয়; যেমন আবু দাউদের সুনান (তবে শর্ত হলো তার হাদিসকে সহিহ বলা (تصحيح) হবে না; কারণ সহিহ বলা হলো পরোক্ষ নির্ভরযোগ্যতা দান (توثيق), যার ফলে বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে সাধারণত এই অনুসন্ধানের (سبر) আর প্রয়োজন পড়ে না)।
পক্ষান্তরে অধিক হাদিস বর্ণনাকারীদের (المكثرون) ক্ষেত্রে: যদি আমরা ধরেও নেই যে তাদের ব্যাপারে কোনো সমালোচনা (جرح) বা প্রশংসা (تعديل) নেই, তবুও তাদের হাদিসের আধিক্য ও ব্যাপকতার কারণে তাদেরকে গ্রহণের (القبول) হুকুম দেওয়া সম্ভব নয়; কেননা এতে এক জোরালো সম্ভাবনা থেকে যায় যে, পরবর্তী যুগের (المتأخر) আলেমদের নিকট (অবশ্যই) তাদের এমন কিছু হাদিস অজানা থেকে যাবে যার কারণে তাদের হাদিস বাতিল হয়ে যেতে পারে (আর অনেক সময় একটি হাদিসই এক লক্ষ হাদিসকে বাতিল করে দেয়)।
আর এর অর্থ এই নয় যে, যোগ্য আলেমদের দ্বারা পরবর্তী যুগে সম্পাদিত এই অনুসন্ধান (سبر) কেবল এই দুটি ক্ষেত্রেই ফলপ্রসূ, বরং এই দুটি ক্ষেত্র ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রে এটি উপকারী।
সুতরাং যে বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সমালোচনা (جرح) ও প্রশংসা (تعديل) নিয়ে তীব্র মতভেদ রয়েছে, তার হাদিস যাচাই-বাছাই (سبر) থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব—তিনি অধিক হাদিস বর্ণনাকারী (مكثر) হোন কিংবা স্বল্প বর্ণনাকারী (مقل), এবং চাই তিনি...
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أكانت نتيجة سَبْرِ حديثِه القبول أم الرد - في الترجيح بين تلك الأقوال المختلفة. فيكون السَّبر حينها للوصول إلى مرجِّحٍ فقط، لا إلى حُكمٍ اسْتِقْلاليّ.
تنبيهٌ: الضبطُ هو (غالبًا) سببُ تباين مراتب الرواة في مراتب الجرح والتعديل، أما القدحُ في العدالة (غير فِسْق المتأوّل فيه) فهو مرتبةٌ واحدةٌ إجمالًا، هي مرتبةُ شِدّةِ الضعفِ ممن لا يُعتبر بحديثهم من الرواة. أما من لم يُقدح في عدالته (بكذبٍ أو اتّهامٍ به أو فسقٍ أو جنون أو غفلةٍ شديدة تُنزَّل منزلةَ الجنون) فهو معتبَرٌ به، مهما اشتدّ ضعفُه في الضبط؛ إلا فيما تبيَّن أنه قد وَهِمَ فيه، فوَهْم الثقات لا يُعتبَر به أيضًا. إلا إن بَلَغت نكارةُ وَهْمِه درجةَ التشكيكِ في عدالته، على ما سبق بيانه.
وتنبيهٌ ثانٍ: أنّ الرواةَ الضعفاءَ الذين يُعتبَرُ بحديثهم هم أيضًا درجاتٌ ومراتب، فليس من اختُلف في قبوله وفي ردّه من الضعفاء كمن اختُلف في الاعتبار به وفي عدم الاعتبار.
* * *
•
أئمّةُ الجرحِ والتعديلشروط المعدِّل والجارح: يقول الذهبي في الموقظة: «الكلام في الرواة يحتاج إلى ورعٍ تامٍّ، وبراءةٍ مِن الهوى والميْل، وخبرةٍ كاملةٍ بالحديث وعِلَلِه ورجاله».
তার হাদিস পর্যালোচনার (سبر) ফলাফল কি গ্রহণ (القبول) নাকি বর্জন (الرد) হবে—তা এই ভিন্নধর্মী মতামতগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণের (الترجيح) ক্ষেত্রে বিবেচ্য। সেক্ষেত্রে এই পর্যালোচনা (سبر) কেবল একটি অগ্রাধিকার প্রদানকারী প্রমাণ (مرجح) অর্জনের জন্য হবে, কোনো স্বতন্ত্র সিদ্ধান্তের (حكم استقلالي) জন্য নয়।
সতর্কতা: সংরক্ষণ ক্ষমতা (الضبط) হলো (সাধারণত) জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) এর স্তরসমূহে বর্ণনাকারীদের মর্যাদার পার্থক্যের কারণ। পক্ষান্তরে নির্ভরযোগ্যতায় (العدالة) ত্রুটি (ভুল ব্যাখ্যাদানকারীর পাপাচার (فسق) ব্যতীত) সামগ্রিকভাবে একটি স্তরের অন্তর্ভুক্ত, আর তা হলো বর্ণনাকারীদের মধ্যে যাদের হাদিস ধর্তব্য নয় তাদের চরম দুর্বলতার (شدة الضعف) স্তর। কিন্তু যার নির্ভরযোগ্যতা (العدالة) নিয়ে (মিথ্যা (كذب), মিথ্যার অভিযোগ (اتهাম), পাপাচার (فسق), উম্মাদনা (جنون) অথবা উম্মাদনার সমপর্যায়ের চরম গাফিলতি (غفلة شديدة) দ্বারা) প্রশ্ন তোলা হয়নি, সে ধর্তব্য (معتبر); তার সংরক্ষণ ক্ষমতার (الضبط) দুর্বলতা যতই প্রকট হোক না কেন। তবে যে বিষয়ে তার ভ্রম (وهم) প্রকাশ পেয়েছে সেটি ব্যতীত; কারণ নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তিদের ভ্রমও (وهم) ধর্তব্য নয়। অবশ্য যদি তার ভ্রমের অসারতা (نكارة) তার নির্ভরযোগ্যতা (العدالة) নিয়ে সন্দেহ করার পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় সতর্কতা: দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী যাদের হাদিস ধর্তব্য (معتبر), তারাও বিভিন্ন স্তর ও মর্যাদার হয়ে থাকেন। সুতরাং যেসব দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীদের গ্রহণযোগ্যতা (القبول) ও বর্জনের (الرد) বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তারা সেইসব বর্ণনাকারীদের মতো নন যাদের হাদিস ধর্তব্য (الاعتبار) হওয়া না হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
* * *
•
জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) এর ইমামগণতাদিলকারী (المعدل) ও জারহকারীর (الجارح) শর্তাবলি: ইমাম যাহাবি আল-মুকিজাহ গ্রন্থে বলেন: "বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আলোচনার জন্য পূর্ণ পরহেজগারি (ورع), প্রবৃত্তি ও পক্ষপাতিত্ব থেকে মুক্ত থাকা এবং হাদিস, এর সুপ্ত ত্রুটিসমূহ (علل) ও বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে পূর্ণ অভিজ্ঞতার প্রয়োজন।"
(খণ্ড: ১)
খুলাসাতুত তাসীলি লিইলমিল জারহি ওয়াত তা'দীল - ত. আল-মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
كيف نعرف من وُجدت فيه هذه الشروط:
1 - من خلال الكتب المصنّفة في ذلك:
أ - وأَوّلُ هذه الكتب: كتاب (الجرح والتعديل) لابنِ أبي حاتم (ت 327 هـ)، فقد صرّح ابنُ أبي حاتم في مقدمة كتابه أنه لن يَنقُل إلا كلامَ من كان يستحقّ الاعتمادَ عليه عنده في الجرح والتعديل
(1).
ولذلك فقد جمع أسماءَ هؤلاء الأئمة الدكتور هشام بن عبد العزيز الحلَّاف في كتاب سمّاه (المزكُّون لرواة الأخبار عند ابن أبي حاتم)، ورتَّبهم على حروف المعجم.
ب - كتاب الأربعين المرتَّبة على طبقات الأربعين: لعليّ بن المفضَّل المقدسي (ت 611 هـ).
ت - (ذِكْرُ من يُعتمَدُ قولُه في الجرح والتعديل): للذهبي (ت 748 هـ).
ث - (المتكلِّمون في الرجال): للسَّخاوي (ت 902 هـ).
2 - من خلال ترجمته وما تتضمَّنُه الترجمةُ من وصفٍ بالحفظ والإمامة والنقد.
تنبيهٌ: يُقبل الجرح والتعديل من إمام واحدٍ إذا تحقّقت فيه شروطُ أهليّة الكلام في الرواة.
* * *
--------------------------------------------
এই শর্তগুলো কার মধ্যে পাওয়া যায় তা আমরা কীভাবে জানব:
১ - এ বিষয়ে সংকলিত গ্রন্থাবলির মাধ্যমে:
ক - এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো: ইবনে আবি হাতিম (মৃত্যু ৩২৭ হি.)-এর কিতাব (আল-জারহ ওয়াত তাদিল)। ইবনে আবি হাতিম তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি কেবল তাদের বক্তব্যই উদ্ধৃত করবেন যারা তাঁর কাছে সমালোচনা ও গুণাবলি বর্ণনা (الجرح والتعديل)-এর ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য হওয়ার যোগ্য
(১)।
আর এই কারণেই ডক্টর হিশাম বিন আব্দুল আজিজ আল-হাল্লাফ এই সকল ইমামদের নাম একটি কিতাবে সংগ্রহ করেছেন, যার নাম দিয়েছেন (আল-মুজাক্কুনা লি-রুওয়াতিল আখবার ইনদা ইবনি আবি হাতিম), এবং তিনি তাঁদেরকে বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছেন।
খ - কিতাবুল আরবাঈন আল-মুরাত্তাবাহ আলা তাবাকাতিল আরবাঈন: আলী বিন আল-মুফাদদাল আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬১১ হি.)-এর রচিত।
গ - (ধিকরু মান ইয়ুতামাদু কওলুহু ফিল জারহি ওয়াত তাদিল): ইমাম যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হি.)-এর রচিত।
ঘ - (আল-মুতাকাল্লিমুনা ফির রিজাল): সাখাভি (মৃত্যু ৯০২ হি.)-এর রচিত।
২ - তাঁর জীবনী এবং জীবনীর অন্তর্ভুক্ত হেফজ বা স্মৃতিশক্তি (الحفظ), ইমামত বা নেতৃত্ব (الإمامة) ও সমালোচনা (النقد)-এর বর্ণনার মাধ্যমে।
সতর্কবার্তা: সমালোচনা ও গুণাবলি বর্ণনা (الجرح والتعديل) কেবল একজন ইমামের পক্ষ থেকেও গ্রহণযোগ্য হবে যদি তাঁর মধ্যে বর্ণনাকারীদের (الرواة) বিষয়ে কথা বলার যোগ্যতার শর্তাবলি বিদ্যমান থাকে।
* * *
--------------------------------------------