(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: -)
إجماع السلف في الاعتقاد كما حكاه حرب الكرماني   (حرب الكرماني)

القسم: العقيدة


الكتاب: إجماع السلف في الاعتقاد كما حكاه الإمام حرب بن إسماعيل الكرماني

تحقيق وتعليق: أسعد بن فتحي الزعتري

تقديم: الدكتور محمد بن هادي المدخلي

الناشر: دار الإمام أحمد، القاهرة - جمهورية مصر العربية

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 125

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الآخر 1442

আকিদাহর ক্ষেত্রে সালাফদের ইজমা যেমনটি বর্ণনা করেছেন হারব আল-কিরমানি   (হারব আল-কিরমানি)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: আকিদাহর ক্ষেত্রে সালাফদের ইজমা যেমনটি বর্ণনা করেছেন ইমাম হারব বিন ইসমাইল আল-কিরমানি

তাহকিক ও তালীক: আসআদ বিন ফাতহি আয-যা'তারি

উপস্থাপনা: ডক্টর মুহাম্মদ বিন হাদি আল-মাদখালি

প্রকাশক: দারুল ইমাম আহমাদ, কায়রো - মিশর আরব প্রজাতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আখির ১৪৪২

(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ১)
إجْمَاعُ السَّلَفِ فِي الاعْتِقَادِ كَمَا حَكَاهُ الإمَامُ حَرْبُ بنُ إسْمَاعِيِلَ ألكِرمَانيِّ

تَقْدِيمُ فَضِيْلَةِ الشَّيْخِ الدكتُور محمّد بْن هَادي المدخلي

تَحْقِيقُ وتَعْلِيقُ أسْعَد بْن فتحي الزعتري

دَارُ الإمام أحمَد
ইমাম হারব ইবনে ইসমাইল আল-কিরমানি কর্তৃক বর্ণিত আকিদাহ বিষয়ে সালাফদের ঐক্যমত

ফযিলাতুশ শায়খ ডক্টর মুহাম্মদ বিন হাদি আল-মাদখালির উপস্থাপনা

আসআদ ইবনে ফাতহি আয-যা’তারির সম্পাদনা ও টীকা

দারুল ইমাম আহমাদ
(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ৩)
جميع حقوق الطبع محفوظة للمؤلف ويحظر طبع أو تصوير أو إعادة تنضيد الكتاب كاملًا أو مجزأ إلا بموافقة خطية من الدار ومن يتعدى على حقوق الدار أو المؤلف فسوف يتم اتخاذ كافة الإجراءات القانونية معه وعند الله تلتقي الخصوم

جَميع الحقُوق محْفُوظَة لِلمؤلّف

الطبعة الاولى

دار الإمام أحمد

1432 هـ - 2011 م

رقم الايداع بدار الكتب المصرية: 24693/ 2010

رقم الايداع الدولي: 9 - 49 - 5004 - 977 - 978

الإمام أحمد 6 شارع عزيز فانوس من منشية التحرير من جسر السويس -القاهرة- جمهورية مصر العربية تليفون/ 0020222414248 تليفاكس/ 0020226365638 جوال/ 0020106014978

www.DarAlemamAhmad.com

فرع الأزهر: 11 أدرب الاتراك - خلف الجامع الأزهر

جوال: 0020105264020 هاتف: 002022510297

E.MALL: DAR-ALEMAM-AHMAD@YAHOO.COM
মুদ্রণের সকল স্বত্ব লেখকের জন্য সংরক্ষিত এবং প্রকাশনীর লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই বইটির পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক মুদ্রণ, অনুলিপি করা বা পুনরায় বিন্যাস করা নিষিদ্ধ। যে ব্যক্তি প্রকাশনী বা লেখকের স্বত্ব লঙ্ঘন করবে, তার বিরুদ্ধে যাবতীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আল্লাহর নিকটই বিবাদীদের সাক্ষাৎ ঘটবে।

সকল স্বত্ব লেখকের জন্য সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

দারুল ইমাম আহমাদ

১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

মিশরীয় জাতীয় গ্রন্থাগারে জমার নম্বর: ২৪৬৯৩/ ২০১০

আন্তর্জাতিক জমার নম্বর: ৯ - ৪৯ - ৫০০৪ - ৯৭৭ - ৯৭৮

আল-ইমাম আহমাদ, ৬ আজিজ ফানুস স্ট্রিট, মানশিয়াতুত তাহরির, জিসরুস সুয়েজ - কায়রো - মিশর আরব প্রজাতন্ত্র। টেলিফোন/ ০০২০২২২৪১৪২৪৮ টেলিফ্যাক্স/ ০০২০২২৬৩৬৫৬৩৮ মোবাইল/ ০০২০১০৬০১৪৯৭৮

www.DarAlemamAhmad.com

আজহার শাখা: ১১ আদরাব আল-আতরাক - আল-আজহার মসজিদের পিছনে

মোবাইল: ০০২০১০৫২৬৪০২০ ফোন: ০০২০২২৫১০২৯৭

ই-মেইল: DAR-ALEMAM-AHMAD@YAHOO.COM
(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ৪)
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تقديم فضيلة الشيخ الدكتور محمد بن هادي المدخلي

الحمد لله وحده، والصَّلاة والسَّلام على من لا نبيَّ بعده، وعلى آله وصحبه.

أمَّا بعد:

فقد دفع إليَّ الأخ الكريم: الشيخ أسعد بن فتحي الزعتري تحقيقه لـ: "إجماع السلف في الاعتقاد"، الذي حكاه ونقله عنهم الإمام حرب بن إسماعيل الكرماني -رحمه الله تعالى- صاحب الإمام أحمد رضي الله عنه في "مسائله" المشهورة، والتي هي من أنفس كتب الحنابلة -كما قال ذلك الإمام الذهبي رحمه الله تعالى-.

فوجدت هذا التحقيق عملًا جميلًا وجُهدًا طيبًا مباركًا قام به الشيخ أسعد -جزاه الله خيرًا- حيث تعب في سبيل إخراج النصِّ بعد تقويمه وإصلاح ما يحتاج إلى إصلاحٍ، وذلك بمقابلة نصِّ هذا الاعتقاد على نسخةٍ خطيَّةٍ وحيدة -ومعروف ما في ذلك من الصعوبة-.
শ্রদ্ধেয় শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন হাদি আল-মাদখালীর উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যাঁর পর আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের প্রতি।

অতঃপর:

পরম শ্রদ্ধেয় ভাই শাইখ আসআদ বিন ফাতহি আল-যা'তারি তাঁর সম্পাদিত "ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ" (আকিদার ক্ষেত্রে সালাফদের ঐক্যমত) গ্রন্থটি আমার নিকট পেশ করেছেন। এটি বর্ণনা ও উদ্ধৃত করেছেন ইমাম আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সঙ্গী ইমাম হারব বিন ইসমাইল আল-কিরমানি (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) তাঁর সুপ্রসিদ্ধ "মাসাইল" গ্রন্থে। ইমাম আয-যাহাবি (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) যেমনটি বলেছেন— এটি হাম্বলি মাযহাবের অত্যন্ত মূল্যবান গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

আমি এই সম্পাদনা কর্মটিকে একটি চমৎকার কাজ এবং উত্তম ও বরকতময় প্রচেষ্টা হিসেবে পেয়েছি যা শাইখ আসআদ সম্পন্ন করেছেন— আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন। তিনি মূল পাঠটি পরিমার্জন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে প্রকাশের লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তিনি এই আকিদার পাঠটিকে একটিমাত্র পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সম্পাদনা করেছেন— আর এটি যে কতটা কঠিন কাজ তা সবারই জানা।
(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ৬)
واستعان بما جاء في "طبقات الحنابلة" لابن أبي يعلى الحنبلي، وكذلك قابله بالجزء الذي نقله الإمام العَلَم ابن قيِّم الجوزية في آخر كتابه "حادي الأرواح"، ومن ابن القيم استمدَّ تسميته له بهذا الاسم.

وكذلك قام بالتعليق على ما يحتاج إلى تعليقٍ من تخريج حديث أو توضيح كلمة تحتاج إلى توضيح، أو تعريفٍ بفرقةٍ، أو بيان لمذهبٍ من المذاهب الفاسدة المنحرفة عن طريق السلف الصالح -فجزاه الله خيرًا وزاده علمًا وتوفيقًا-؛ حيث أخرج هذا الاعتقاد مستقلًّا لينتفع به المسلمون في وقتٍ هُم فيه في أمسِّ الحاجة إلى مثل هذه الكتب لاسيما وقد كثرت البدع وكثر أهلها -لا كثَّرهم الله- في هذا الزمان وزادوا على ما كان في عهد سلفنا الصالح من البدع بدعًا أخرى.

ولا أعلم أحدًا سبق الأخ أسعد -جزاه الله خيرًا- إلى إخراج هذا الاعتقاد إخراجًا مستقلًّا -في حدود اطلاعي-.

وفي الختام، أوصيه ونفسي بتقوى الله عز وجل والثبات على طريق السلف الصالح -رحمهم الله تعالى-.

كما أوصيه بالحرص على التدقيق والمراجعة للكتاب بعد طبعه وقبل خروجه الخروج النهائي، وأسأل الله تعالى أن يرزقنا وإياه العلم النافع والعمل الصالح.
তিনি ইবন আবি ইয়ালা আল-হাম্বলীর "তাবাকাতুল হানাবিলা"-তে যা বর্ণিত হয়েছে তার সাহায্য নিয়েছেন এবং একইভাবে তিনি এটিকে প্রখ্যাত ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ তাঁর কিতাব "হাদিউল আরওয়াহ"-এর শেষে যা উদ্ধৃত করেছেন সেই অংশের সাথে মিলিয়ে দেখেছেন; আর ইবনুল কায়্যিম থেকেই তিনি এই কিতাবটির এই নামকরণ গ্রহণ করেছেন।

একইভাবে তিনি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হাদিসের উৎস বর্ণনা (তাখরিজ), কোনো অস্পষ্ট শব্দের ব্যাখ্যা, কোনো দলের পরিচয় প্রদান, অথবা সালাফে সালেহীনের পথ থেকে বিচ্যুত ভ্রান্ত মতবাদসমূহের বর্ণনার মাধ্যমে টীকা প্রদান করেছেন—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর ইলম ও তাওফিক বৃদ্ধি করুন—; যেহেতু তিনি এই আকিদাটিকে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ করেছেন যাতে মুসলমানরা এমন এক সময়ে এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে যখন তারা এই জাতীয় কিতাবসমূহের চরম মুখাপেক্ষী, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন বিদআত ও বিদআতিদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে—আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি না করুন—এবং আমাদের সালাফে সালেহীনের যুগে যেসব বিদআত ছিল তার সাথে তারা আরও নতুন নতুন বিদআত যোগ করেছে।

আর আমার জানা মতে ভাই আসআদ—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন—এর আগে এই আকিদাটিকে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আর কেউ অগ্রণী হয়েছেন বলে আমি জানি না।

পরিশেষে, আমি তাঁকে এবং নিজেকে মহান আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন এবং সালাফে সালেহীনের—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন—পথের ওপর অটল থাকার অসিয়ত করছি।

সেই সাথে কিতাবটি মুদ্রণের পর এবং এর চূড়ান্ত প্রকাশের পূর্বে সতর্কতার সাথে নিরীক্ষণ ও পর্যালোচনার জন্য তাঁকে অসিয়ত করছি; আর আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এবং তাঁকে উপকারী ইলম ও নেক আমল দান করেন।
(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ৭)
وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد وعلى آله وأصحابه وأتباعه بإحسان.

والحمد لله رب العالمين.

 

وكتبه محمد بن هادي المدخلي

المدينة النبوية

8/ 2/ 1429 هـ
আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের উপর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।

আর সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।

 

এটি লিখেছেন মুহাম্মদ বিন হাদী আল-মাদখালী

মদীনা আন-নাবাবিয়া

৮/ ২/ ১৪২৯ হিজরী
(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة التحقيق

إن الحمد لله؛ نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله؛ فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

أما بعد: فإن الله سبحانه وتعالى فضل هذه الأمة وميّزها على غيرها من سائر الأمم بخصائص كثيرة ليست لغيرها، ومن ذلك أن تكفل سبحانه وتعالى بنفسه حفظَ هذا الدين من عبث العابثين، قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ}(1)، فأنزل الله هذا الدين على نبيه الأمين صلى الله عليه وسلم كاملًا مكملًا، لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه.

فامْتَثَلَهُ الصحابة الكرام الذين لم تكن نفوسهم الصحيحة إلى شيء أشوق منها إلى معرفة هذا الدين وتلقيه عن نبيها الكريم صلى الله عليه وسلم، فعاشوا في أفضل زمان وأزهى حال.

ثم بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم تحمل الصحابة الكرام عبأ هذه الأمانة وبلغوها

--------------------------------------------

(1) سورة الحجر: آية رقم 9.

তাহকিকের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর: নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই উম্মতকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং অন্যান্য সমস্ত উম্মতের ওপর এমন অনেক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে স্বতন্ত্র করেছেন যা অন্যদের নেই। এর মধ্যে অন্যতম হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা স্বয়ং এই দ্বীনকে বিকৃতকারীদের অপতৎপরতা থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমিই জিকির (উপদেশ) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী}(১)। অতঃপর আল্লাহ এই দ্বীনকে তাঁর বিশ্বস্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর পূর্ণাঙ্গরূপে অবতীর্ণ করেছেন, যার সামনে কিংবা পেছন থেকে কোনো বাতিল আসতে পারে না।

সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম এর ওপর আমল করেছেন, যাঁদের সুস্থ অন্তরসমূহ তাঁদের সম্মানিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে এই দ্বীন সম্পর্কে জানা এবং তা গ্রহণ করার চেয়ে অন্য কোনো কিছুর প্রতি অধিক ব্যাকুল ছিল না। ফলে তাঁরা সর্বশ্রেষ্ঠ যুগে এবং অত্যুজ্জ্বল অবস্থায় জীবনযাপন করেছেন।

অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম এই আমানতের গুরুভার বহন করেন এবং তা পৌঁছে দেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হিজর: আয়াত নম্বর ৯।

(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ১০)
للناس، وتصدوا لكل عابث وسواس، فحفظوا كتاب الله وسنة نبيه، وجاهدوا في سبيل الله لتكون كلمة الله هي العليا.

وقد قال صلى الله عليه وسلم: "النجوم أمنة للسماء، فإذا ذهبت النجوم أتى السماء ما توعد، وأنا أمنة لأصحابي، فإذا ذهبت أتى أصحابي ما يوعدون، وأصحابي أمنة لأمتي، فإذا ذهب أصحابي أتى أمتي ما يوعدون"(1).

حتى أتى مَن بعدهم وهم التابعون لهم بإحسان، فانتشرت البدع والمحدثات في زمانهم أكثر مما كانت عليه من قبل، فقمعوها بالحجة والبرهان، وحاربوها بالسيف والبنان.

وهكذا صار من سار خلفهم من أئمة الدين وحراس العقيدة ينفون عنه تحريف المبطلين، اقتداءً بأسلافهم الماضين، وقبل ذلك امتثالًا لأمر رب العالمين في الذبِّ عن حياض دعوة خير المصطفين صلى الله عليه وسلم، كما قال تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ}(2).

وما أحسن ما قاله الإمام أحمد بن حنبل في خطبة كتابه "الرد على الجهمية والزنادقة": "الحمد لله الذي جعل في كلِّ زمان فترة من الرسل بقايا من أهل العلم، يدْعونَ من ضلَّ إلى الهدى، ويصبرون منهم على الأذى،

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في صحيحه، ك: فضائل الصحابة رضي الله تعالى عنهم، باب بيان أن بقاء النبي صلى الله عليه وسلم أمان لأصحابه وبقاء أصحابه أمان للأمة، ح (رقم 2531).

(2) سورة آل عمران: آية رقم 187.

মানুষের জন্য, এবং তারা প্রত্যেক বিদ্রূপকারী ও কুমন্ত্রণাদাতার মোকাবেলা করেছেন। ফলে তাঁরা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহকে সংরক্ষণ করেছেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছেন যাতে আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ হয়।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নক্ষত্ররাজি আসমানের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ; সুতরাং যখন নক্ষত্ররাজি বিলীন হয়ে যাবে, তখন আসমানের ওপর তা-ই আসবে যার প্রতিশ্রুতি তাকে দেওয়া হয়েছে। আর আমি আমার সাহাবীদের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ; সুতরাং যখন আমি চলে যাব, তখন আমার সাহাবীদের ওপর তা-ই আসবে যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছে। আর আমার সাহাবীগণ আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ; সুতরাং যখন আমার সাহাবীগণ চলে যাবেন, তখন আমার উম্মতের ওপর তা-ই আসবে যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছে"(১)।

পরিশেষে তাঁদের পরবর্তীগণ অর্থাৎ নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ আসলেন। তাঁদের যুগে বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ পূর্বের তুলনায় অধিকতর ছড়িয়ে পড়ল। অতঃপর তাঁরা দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে সেগুলোকে দমন করলেন এবং তলোয়ার ও শক্তি দিয়ে সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করলেন।

এভাবেই তাঁদের উত্তরসূরি দ্বীনের ইমামগণ এবং আকিদার প্রহরীগণ পথ চলেছেন; তাঁরা বাতিলপন্থীদের বিকৃতি থেকে একে রক্ষা করেছেন। তাঁরা তাঁদের পূর্বসূরি সালাফদের অনুসরণ করেছেন এবং তার আগে রাব্বুল আলামীনের আদেশের আনুগত্য করেছেন—শ্রেষ্ঠ মনোনীত নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাওয়াতের চত্বর রক্ষা করার ক্ষেত্রে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যখন আল্লাহ ওই সব লোকদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল যে, তোমরা অবশ্যই তা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না}(২)।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর "আর-রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যিনাদিকাহ" (জাহমিয়্যাহ ও নাস্তিকদের খণ্ডন) গ্রন্থের ভূমিকায় কতই না সুন্দর বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রাসূলদের বিরতিকালীন প্রতিটি যুগে ইলমওয়ালাদের মধ্য হতে কিছু অবশিষ্ট অংশকে রেখেছেন, যারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করেন...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাব: সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম) মর্যাদা, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অবস্থান তাঁর সাহাবীদের জন্য নিরাপত্তা এবং সাহাবীদের অবস্থান উম্মতের জন্য নিরাপত্তা নির্দেশক পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২৫৩১।

(২) সূরা আল-ইমরান: আয়াত নং ১৮৭।

(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ১১)
يُحيون بكتاب الله الموتى، ويُبَصرون بنور الله أهلَ العمى، فكم من قتيل لإبليس قد أحيوه، وكم من ضالٍّ تائه قد هدوه، فما أحسن أثرهم على الناس، وأقبح أثر الناس عليهم، ينفون عن كتاب الله تحريف الغالين وانتحال المبطلين وتأويل الجاهلين، الذين عقدوا ألوية البدعة وأطلقوا عقال الفتنة، فهم مختلفون في الكتاب، مخالفون للكتاب، مجمعون على مفارقة الكتاب، يقولون على الله وفي الله وفي كتاب الله بغير علم، يتكلَّمون بالمتشابه من الكلام، ويخدعون جهال الناس بما يشبهون عليهم، فنعوذ بالله من فتن المضلِّين" اهـ.

وكان من أولئك الأئمة الذين نشروا العقيدة السلفية الناصعة وحاربوا الأهواء الفاسدة الكاسدة الإمام حرب بن إسماعيل الكرماني صاحب الإمام أحمد وتلميذه، فألَّف هذا الاعتقاد العظيم مودعًا فيه ما أجمع عليه سلف الأمة وما اتفقت عليه الأئمة في أصول الدين.

وقد أورد الإمام حرب الكرماني هذا الاعتقاد ضمن كتابه: "مسائل الإمام أحمد وإسحاق بن راهويه" تحت عنوان: باب القول بالمذهب، الذي ذكرَ فيه عقيدة أهل السنة والجماعة، مأخوذة عن أئمة الإسلام كالإمام أحمد، وإسحاق بن راهويه، وعبد الله بن الزبير الحميدي، وسعيد بن منصور وغيرهم من علماء أهل العراق والحجاز والشام.

فهذا الباب يعد بمثابة حكاية إجماع السلف لِمَا يجب أن يعتقده المرء
তারা আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে মৃতদের জীবন দান করেন এবং আল্লাহর নূরের মাধ্যমে অন্ধদের চক্ষুদান করেন। ইবলিসের শিকারে পরিণত হওয়া কত মৃতকে তারা জীবন দান করেছেন এবং কত লক্ষ্যভ্রষ্ট পথহারাকে তারা সঠিক পথ দেখিয়েছেন! মানুষের ওপর তাদের প্রভাব কতই না চমৎকার, আর তাদের ওপর মানুষের আচরণ কতই না কদর্য! তারা আল্লাহর কিতাব থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করেন; যারা বিদআতের ঝাণ্ডা উড্ডীন করেছে এবং ফিতনার লাগাম ছেড়ে দিয়েছে। তারা কিতাব বিষয়ে মতভেদকারী, কিতাবের বিরোধী এবং কিতাব বর্জনের বিষয়ে একমত। তারা আল্লাহ সম্পর্কে, আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে এবং আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়াই কথা বলে। তারা দ্ব্যর্থবোধক পরিভাষা ব্যবহার করে এবং মানুষকে সংশয়ে ফেলে ধোঁকা দেয়। আমরা বিভ্রান্তিকারীদের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।" সমাপ্ত।

সেই সকল ইমামদের অন্যতম ছিলেন ইমাম হারব ইবনে ইসমাইল আল-কিরমানি—যিনি ইমাম আহমদের সঙ্গী ও ছাত্র ছিলেন। তিনি উজ্জ্বল সালাফি আকিদা প্রচার করেছেন এবং কলুষিত ও অসার প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তিনি এই মহান আকিদাহটি সংকলন করেছেন, যাতে তিনি উম্মতের সালাফগণের ঐকমত্য এবং দ্বীনের মূলনীতিসমূহে ইমামগণের সর্বসম্মত বিষয়গুলো সন্নিবেশিত করেছেন।

ইমাম হারব আল-কিরমানি এই আকিদাহটি তাঁর গ্রন্থ ‘মাসাইলুল ইমাম আহমদ ওয়া ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ’-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন ‘বাবুল কওল বিল মাজহাব’ শিরোনামের অধীনে। এতে তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ উল্লেখ করেছেন যা ইসলামের ইমামগণ—যেমন ইমাম আহমদ, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর আল-হুমাইদি, সাঈদ ইবনে মানসুর এবং ইরাক, হিজাজ ও শামের অন্যান্য আলেমদের থেকে গৃহীত।

সুতরাং এই অধ্যায়টি একজন মানুষের যা বিশ্বাস করা আবশ্যক, সে বিষয়ে সালাফদের ঐকমত্যের বর্ণনা হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ১২)
ويدين به.

وقد أثنى العلماء على ما صنعه حرب الكرماني من إيراد هذا الباب الجامع لمجمل اعتقاد السلف رحمهم الله ونقلوا عنه وارتضوه، ومنهم شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن قيم الجوزية(1).

يقول ابن القيم رحمه الله: "ونحن نحكي إجماعهم كما حكاه حرب(2)، صاحب الإمام أحمد بلفظه.

ثم بعد أن نقل جملة كبيرة مما ذكره حرب، قال: "قلت: حرب هذا صاحب أحمد وإسحاق، وله عنهما مسائل جليلة، وأخذ عن سعيد بن منصور، وعبد الله بن الزبير الحميدي وهذه الطبقة، وقد حكى هذه المذاهب عنهم، واتفاقهم عليها، ومن تأمل المنقول عن هؤلاء وأضعاف أضعافهم من أئمة السنة والحديث، وجده مطابقًا لِمَا نقله حرب(3) ".

--------------------------------------------

(1) انظر درء التعارض (1/ 249)، وشرح العقيدة الأصفهانية (ص 51 - 52)، ومجموع الفتاوى (5/ 393، 577)، ومنهاج السنة (7/ 244)، وبيان تلبيس الجهمية (1/ 429)، ودرء التعارض (2/ 7)، واقتضاء الصراط المستقيم (1/ 420)، والاستقامة (1/ 73)، واجتماع الجيوش الإسلامية لابن القيم (ص 176)، وحادي الأرواح له (2/ 826 - 842) فقد نقل جملة كبيرة منه، والدرر السنية (1/ 345 - 355).

(2) لذا سميته "إجماع السلف في الاعتقاد كما حكاه الإمام حرب بن إسماعيل الكرماني".

(3) حادي الأرواح (2/ 843).

এবং এর মাধ্যমেই তিনি আনুগত্য প্রকাশ করেন।

সালাফদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) সামগ্রিক আকিদাহ সম্বলিত এই পূর্ণাঙ্গ অধ্যায়টি হারব আল-কিরমানি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, উলামায়ে কেরাম তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁরা তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে গ্রহণ করে নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ(১)।

ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: "আমরা তাঁদের ঐকমত্য বর্ণনা করছি যেভাবে ইমাম আহমাদের সাথী হারব(২) তাঁর শব্দেই বর্ণনা করেছেন।"

অতঃপর হারব যা উল্লেখ করেছেন তার একটি বড় অংশ বর্ণনা করার পর তিনি বলেন: "আমি বলছি: এই হারব হলেন আহমাদ এবং ইসহাকের সাথী। তাঁদের থেকে তাঁর বর্ণিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা রয়েছে। তিনি সাঈদ বিন মানসুর, আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের আল-হুমাইদি এবং এই স্তরের ব্যক্তিবর্গের থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁদের থেকে এই মাজহাবসমূহ এবং এগুলোর ওপর তাঁদের ঐকমত্যের কথা বর্ণনা করেছেন। আর যারা এই সুন্নাহ ও হাদিসের ইমামগণ এবং তাঁদের চেয়েও বহুগুণ বেশি ইমামদের থেকে বর্ণিত বিষয়াদি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে, সে এগুলোকে হারব(৩) যা বর্ণনা করেছেন তার হুবহু অনুরূপ পাবে।"

--------------------------------------------

(১) দেখুন: দারউত তাআরুদ (১/ ২৪৯), শারহুল আকিদাতিল আসফাহানিয়্যাহ (পৃ. ৫১-৫২), মাজমুউল ফাতাওয়া (৫/ ৩৯৩, ৫৭৭), মিনহাজুস সুন্নাহ (৭/ ২৪৪), বায়ানু তালবিসিল জাহমিয়্যাহ (১/ ৪২৯), দারউত তাআরুদ (২/ ৭), ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম (১/ ৪২০), আল-ইসতিকামাহ (১/ ৭৩), ইবনুল কাইয়্যিমের ইজতিমাউল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ (পৃ. ১৭৬), তাঁর হাদিউল আরওয়াহ (২/ ৮২৬-৮৪২)—এতে তিনি এর একটি বড় অংশ বর্ণনা করেছেন—এবং আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ (১/ ৩৪৫-৩৫৫)।

(২) একারণেই আমি এর নামকরণ করেছি "আকিদাহর বিষয়ে সালাফদের ঐকমত্য যেমনটি বর্ণনা করেছেন ইমাম হারব বিন ইসমাইল আল-কিরমানি"।

(৩) হাদিউল আরওয়াহ (২/ ৮৪৩)।

(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ১৩)
ويقول رحمه الله في نونيته "الكافية الشافية":

وانظر إلى حرب وإجماع حكى … للَّه درّك من فتى كرمان(1)

ويجدر أن ننبه على أمر مهم، وهو أن "باب القول بالمذهب" وما جاء فيه من حكاية اعتقاد السلف، جاء أيضًا منسوبًا إلى الإمام أحمد بن حنبل وهو ما يعرف برسالة أحمد بن جعفر الاصطخري عن الإمام أحمد، وقد روى هذه العقيدة كاملة ابن أبي يعلى في "طبقات الحنابلة" عند ترجمة الاصطخري.

وقد بيَّن شيخ الإسلام ابن تيمية عدم صحة نسبة هذه الرسالة إلى الإمام أحمد فقال: "وليست هذه العقيدة ثابتة عن الإمام أحمد بألفاظها، فإني تأملت لها ثلاثة أسانيد مظلمة، برجال مجاهيل، والألفاظ هي ألفاظ حرب بن إسماعيل، لا ألفاظ الإمام أحمد، ولم يذكرها المعنيون بجمع كلام الإمام أحمد، كأبي بكر الخلال في كتاب السنة وغيره من العراقيين العالمين بكتاب أحمد، ولا رواها المعروفون بنقل كلام الإمام لاسيما مثل هذه الرسالة الكبيرة وإن كانت راجت على كثير من المتأخرين"(2).

وقد أنكر الحافظ الذهبي أيضًا نسبة هذه الرسالة إلى الإمام أحمد(3).

--------------------------------------------

(1) الكافية الشافية (ص 116).

(2) الاستقامة (1/ 73).

(3) انظر السير (11/ 286 - 287)، وتاريخ الإسلام حوادث ووفيات (241 - 250) (ص 136).

এবং তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর নুনিয়া কাব্যগ্রন্থ "আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ"-তে বলেন:

"আর হারব এবং তাঁর বর্ণিত ইজমার (ঐক্যমত) প্রতি লক্ষ্য করো... হে কিরমানের যুবক, আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন।"(১)

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন, আর তা হলো "বাবুল কাওলি বিল মাযহাব" এবং এতে সালাফদের আকিদা বর্ণনার যে বিবরণ এসেছে, সেটি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের প্রতিও সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে; যা ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত আহমাদ বিন জাফর আল-ইস্তখরি-এর রিসালাহ হিসেবে পরিচিত। ইবনে আবি ইয়ালা "তাবাকাতুল হানাবিলাহ" গ্রন্থে আল-ইস্তখরির জীবনী বর্ণনার সময় এই আকিদাটি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ইমাম আহমাদের প্রতি এই রিসালাহটির সম্বন্ধের অসারতা স্পষ্ট করে বলেছেন: "এই আকিদাটি এর শব্দসহ ইমাম আহমাদ থেকে প্রমাণিত নয়। আমি এর তিনটি অন্ধকার সনদ (সূত্র) নিয়ে গবেষণা করেছি যার বর্ণনাকারীরা অজ্ঞাত, আর এর শব্দগুলো মূলত হারব বিন ইসমাইলের শব্দ, ইমাম আহমাদের নয়। ইমাম আহমাদের বক্তব্য সংগ্রহে যারা নিয়োজিত ছিলেন—যেমন 'কিতাবুস সুন্নাহ'-এর লেখক আবু বকর আল-খাল্লাল এবং ইমাম আহমাদের কিতাব সম্পর্কে অভিজ্ঞ অন্যান্য ইরাকি পণ্ডিতগণ—তাঁরা এটি উল্লেখ করেননি। এমনকি ইমামের কথা বর্ণনার জন্য যারা সুপরিচিত ছিলেন তাঁরাও এটি বর্ণনা করেননি, বিশেষ করে এই ধরনের বড় একটি রিসালাহ হওয়া সত্ত্বেও; যদিও এটি পরবর্তীকালের অনেক আলিমের কাছে প্রসিদ্ধি পেয়েছে।"(২)।

হাফিজ আয-যাহাবিও ইমাম আহমাদের প্রতি এই রিসালাহটির সম্বন্ধ হওয়াকে অস্বীকার করেছেন(৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ (পৃষ্ঠা ১১৬)।

(২) আল-ইস্তিকামাহ (১/ ৭৩)।

(৩) দেখুন: আস-সিয়ার (১১/ ২৮৬ - ২৮৭), এবং তারিখুল ইসলাম, ঘটনা ও মৃত্যু (২৪১ - ২৫০) (পৃষ্ঠা ১৩৬)।

(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ১৪)
فهذا كله يدل على صحة نسبة هذه العقيدة إلى الإمام حرب بن إسماعيل الكرماني(1).

فرأيت أن إخراجها وتحقيقها وضبط ألفاظها خدمةٌ عظيمة للسنة.

وأتقدم بالشكر بعد شكر الله تعالى لكل من أبدى لي مساعدة في إخراج هذه العقيدة على هذا النحو.

سائلًا المولى عز وجل أن يجعل عملي خالصًا لوجهه الكريم.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

وكتب أبو همام أسعد بن فتحي الزعتري

13 شوال 1428 هـ

المدينة النبوية

--------------------------------------------

(1) أيضًا مما يدل على نسبة هذه العقيدة للإمام حرب ما جاء في أولها: "قال أبو القاسم: حدثنا أبو محمد حرب بن إسماعيل قال: هذا مذهب أئمة العلم. . .".

সুতরাং এই সবকিছুই ইমাম হারব ইবনে ইসমাইল আল-কিরমানীর প্রতি এই আকিদার সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে(১)।

তাই আমি মনে করেছি যে, এটি প্রকাশ করা, তাহকিক করা এবং এর শব্দবিন্যাস করা সুন্নাহর এক মহান খিদমত।

আল্লাহ তাআলার শুকরিয়ার পর আমি সেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা এই আকিদাটি এভাবে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আমাকে সহযোগিতা করেছেন।

আমি মহান রবের নিকট প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমার এই কাজটিকে কেবল তাঁর মহিমান্বিত চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন।

আর আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

লিখেছেন: আবু হাম্মাম আসআদ বিন ফাতহি আল-জা'তারি

১৩ শাওয়াল ১৪২৮ হিজরি

মদিনা নববী

--------------------------------------------

(১) ইমাম হারবের প্রতি এই আকিদার সম্বন্ধের প্রমাণ সমূহের মধ্যে আরও একটি হলো যা এর শুরুতে এসেছে: "আবু কাসিম বলেন: আবু মুহাম্মাদ হারব ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: এটিই হলো ইলমের ইমামদের মাজহাব..."।

(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ترجمة حرب بن إسماعيل الكرماني
হারব ইবনে ইসমাঈল আল-কিরমানীর জীবনী
(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌اسمه ومولده ونشأته:

هو حرب بن إسماعيل بن خلف الحنظلي الكرماني، أبو محمد، وقيل: أبو عبد الله، الفقيه الحافظ صاحب الإمام أحمد(1).

ولم تعرف السنة التي ولد فيها حرب الكرماني، إلا أن الذهبي ذكر في ترجمته أنه مات في سنة ثمانين ومائتين قال بعد ذلك: "وقد عُمّر وقارب التسعين"(2). فيكون مولده تقريبًا في أواخر المائة الثانية.

وقد نشأ الإمام حرب الكرماني في عصر ازدهرت فيه العلوم الإسلامية، فكان كغيره من الأئمة، محبًّا للعلم، حريصًا على تحصيله، مجدًّا في أخذه عن أهله، فرحل في طلب العلم، وطوف البلاد، وأخذ عن خلق كثير، وسمع من الإمام أحمد بن حنبل وسجل عنه وعن إسحاق بن راهويه مسائل كثيرة متنوعة، والتي قد حفظها قبل أن يقدم إلى الإمام أحمد، وذكر أنها في حدود أربعة آلاف مسألة(3).

--------------------------------------------

(1) انظر السنة للخلال (1/ 192)، والجرح والتعديل (3/ 253)، طبقات الحنابلة (1/ 388)، تذكرة الحفاظ (2/ 613).

(2) سير أعلام النبلاء (13/ 254).

(3) طبقات الحنابلة (1/ 388 - 389).

‌তাঁর নাম, জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

তিনি হলেন হারব বিন ইসমাইল বিন খালাফ আল-হানজালি আল-কিরমানি, আবু মুহাম্মদ, এবং বলা হয়েছে: আবু আবদুল্লাহ; তিনি ছিলেন ফকিহ, হাফেজ এবং ইমাম আহমদের সহচর(১)।

হারব আল-কিরমানি যে বছর জন্মগ্রহণ করেছিলেন তা জানা যায়নি, তবে আয-যাহাবি তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে তিনি ২৮০ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেছেন। এরপর তিনি বলেন: "তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এবং নব্বই বছরের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন"(২)। সুতরাং তাঁর জন্ম আনুমানিক দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর শেষভাগে।

ইমাম হারব আল-কিরমানি এমন এক যুগে বেড়ে উঠেছেন যখন ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল। অন্যান্য ইমামদের ন্যায় তিনিও ছিলেন জ্ঞানানুরাগী, জ্ঞান অর্জনে অতিশয় আগ্রহী এবং উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিকট থেকে তা গ্রহণে একনিষ্ঠ। ফলশ্রুতিতে তিনি ইলম অন্বেষণে সফরে বের হন, দেশ-দেশান্তর ভ্রমণ করেন এবং অসংখ্য ব্যক্তির নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর থেকে ও ইসহাক বিন রাহওয়াইহ থেকে অনেক বৈচিত্র্যময় মাসআলা লিপিবদ্ধ করেছেন, যা তিনি ইমাম আহমদের কাছে আসার পূর্বেই মুখস্থ করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে তার সংখ্যা ছিল প্রায় চার হাজার মাসআলা(৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-খলাল রচিত আস-সুন্নাহ (১/১৯২), আল-জারহ ওয়াত-তাদিল (৩/২৫৩), তাবাকাতুল হানাবিলাহ (১/৩৮৮), তাযকিরাতুল হুফফাজ (২/৬১৩)।

(২) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৫৪)।

(৩) তাবাকাতুল হানাবিলাহ (১/৩৮৮ - ৩৮৯)।

(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ১৮)
وهكذا نجد الإمام حرب بن إسماعيل الكرماني قد طاف البلاد وتعب في طلب العلم، ولم يألُ جهدًا في ذلك، فكان من نتائج هذا الجهد الطيب وهذه العناية الفائقة، أن جَمَعَ للأمة الإسلامية مسائل كثيرة مهمة في مواضع شتى(1).

 

‌‌ذكر بعض شيوخه:

لقد كان الإمام حرب الكرماني حريصًا على لقاء العلماء والأخذ عنهم وسماع حديثهم، غير أنه تأخر في الطلب، فلم يتقدم في السماع(2).

ومن شيوخه الذين أخذ عنهم:

* أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني، أبي عبد الله أحد الأئمة، ثقة، حافظ، فقيه، حجة، وهو رأس الطبقة العاشرة مات سنة إحدى وأربعين(3).

* زيد بن يزيد الثقفي، أبي معن الرقاشي البصري، من الطبقة الحادية عشرة(4).

--------------------------------------------

(1) انظر مقدمة مسائل الإمام أحمد بن حنبل الفقهية رواية حرب بن إسماعيل الكرماني (1/ 29). التقريب (ص 23)، والسير (11/ 177).

(2) طبقات الحنابلة (1/ 389).

(3) التقريب (ص 23)، والسير (11/ 177 - 182).

(4) التقريب (ص 165)، والتهذيب (1/ 672).

এভাবে আমরা ইমাম হারব ইবনে ইসমাইল আল-কিরমানিকে দেখতে পাই যে, তিনি দেশ-দেশান্তর ভ্রমণ করেছেন এবং ইলম অন্বেষণে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো ত্রুটি করেননি। তাঁর এই উত্তম প্রচেষ্টা এবং গভীর মনোযোগের অন্যতম সুফল ছিল যে, তিনি উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা একত্রিত করেছেন(১)।

 

‌‌তাঁর কতিপয় শিক্ষকের বর্ণনা:

ইমাম হারব আল-কিরমানি আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করতে, তাঁদের থেকে ইলম গ্রহণ করতে এবং তাঁদের হাদিস শুনতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন; তবে তিনি ইলম অন্বেষণে কিছুটা দেরিতে আত্মনিয়োগ করেছিলেন, ফলে হাদিস শ্রবণের ক্ষেত্রে (পূর্ববর্তী উচ্চ পর্যায়ের বর্ণনাকারীদের তুলনায়) তিনি অগ্রবর্তী হতে পারেননি(২)।

যাঁদের নিকট থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

* আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল আশ-শাইবানি, আবু আব্দুল্লাহ; তিনি অন্যতম ইমাম, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), হাফেজ, ফকিহ এবং হুজ্জাহ (প্রমাণস্বরূপ); তিনি দশম স্তরের প্রধান ব্যক্তি, তিনি দুইশত একচল্লিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন(৩)।

* যায়িদ ইবনে ইয়াযিদ আস-সাকাফি, আবু মা’ন আর-রাকাশি আল-বাসরি, তিনি একাদশ স্তরের অন্তর্ভুক্ত(৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাসাইলুল ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল আল-ফিকহিয়্যাহ, হারব ইবনে ইসমাইল আল-কিরমানির বর্ণনা, ভূমিকা (১/২৯)। আত-তাকরীব (পৃ. ২৩), এবং আস-সিয়ার (১১/১৭৭)।

(২) তাবাকাতুল হানাবিলাহ (১/৩৮৯)।

(৩) আত-তাকরীব (পৃ. ২৩), এবং আস-সিয়ার (১১/১৭৭-১৮২)।

(৪) আত-তাকরীব (পৃ. ১৬৫), এবং আত-তাহজীব (১/৬৭২)।

(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ১৯)
* سعيد بن منصور بن شعبة أبي عثمان الخراساني، صاحب السنن ت سنة (227 هـ)(1)

* عبد الله بن الزبير بن عيسى القرشي أبي بكر الحميدي ت سنة (219 هـ)(2).

* القاسم بن سلام أبي عبيد البغدادي ت سنة (224 هـ)(3).

* هشام بن عبد الملك الباهلي، مولاهم البصري، أبي الوليد الطيالسي ت سنة (227 هـ)(4)، وغيرهم كثير.

 

تلاميذه:

بعد أن رحل الإمام حرب الكرماني إلى مراكز العلم ومحاضن العلماء وسمع الحديث، وتحصل لديه علم غزير، اتَّجه لديه طلبة العلم من كل مكان، فكان منهم:

* أحمد بن محمد بن الحجاج، أبو بكر المرُّوذي ت سنة (275 هـ)،

--------------------------------------------

(1) التقريب (ص 181)، والسير (13/ 245).

(2) التقريب (ص 246)، والسير (13/ 245).

(3) التقريب (ص 386)، والسير (13/ 245).

(4) التقريب (ص 504)، والسير (13/ 245).

* সাঈদ বিন মানসুর বিন শু'বাহ আবু উসমান আল-খুরাসানি, আস-সুনান গ্রন্থের রচয়িতা, মৃত্যু বছর (২২৭ হি.)(১)

* আবদুল্লাহ বিন আল-জুবায়ের বিন ঈসা আল-কুরাশি আবু বকর আল-হুমায়দি, মৃত্যু বছর (২১৯ হি.)(২).

* আল-কাসিম বিন সাল্লাম আবু উবাইদ আল-বাগদাদি, মৃত্যু বছর (২২৪ হি.)(৩).

* হিশাম বিন আব্দুল মালিক আল-বাহিলি, তাদের মুক্তদাস, আল-বাসরি, আবু আল-ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি, মৃত্যু বছর (২২৭ হি.)(৪), এবং আরও অনেকে।

 

তাঁর ছাত্রগণ:

ইমাম হারব আল-কিরমানি ইলমের কেন্দ্রসমূহ এবং আলেমদের সূতিকাগারগুলোতে সফর করার এবং হাদিস শ্রবণ করার পর, যখন তাঁর নিকট প্রচুর জ্ঞান অর্জিত হলো, তখন সব স্থান থেকে জ্ঞানপিপাসুরা তাঁর দিকে মনোনিবেশ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন:

* আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাজ্জাজ, আবু বকর আল-মাররুজি, মৃত্যু বছর (২৭৫ হি.),

--------------------------------------------

(১) আত-তাকরিব (পৃ. ১৮১), এবং আস-সিয়ার (১৩/ ২৪৫)।

(২) আত-তাকরিব (পৃ. ২৪৬), এবং আস-সিয়ার (১৩/ ২৪৫)।

(৩) আত-তাকরিব (পৃ. ৩৮৬), এবং আস-সিয়ার (১৩/ ২৪৫)।

(৪) আত-তাকরিব (পৃ. ৫০৪), এবং আস-সিয়ার (১৩/ ২৪৫)।

(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ২০)
وكان حرب يكتب له بخطه مسائل سمعها من أبي عبد الله(1).

* أحمد بن محمد بن هارون، أبو بكر الخلال ت سنة (311 هـ)(2).

* عبد الرحمن بن أبي حاتم محمد بن إدريس الرازي ت سنة (327)(3)

* عبد الله بن يعقوب بن إسحاق الكرماني(4).

* القاسم بن محمد الكرماني نزيل طرسوس(5).

* محمد بن إدريس أبو حاتم الرازي ت سنة (277 هـ)(6) وغيرهم.

 

‌‌ثناء العلماء عليه:

لقد أثنى العلماء على الإمام حرب بن إسماعيل الكرماني، وشهدوا له بالإمامة في العلم والفضل.

* قال أبو زرعة الدمشقي: قدم علينا من نبلاء الرجال يعقوب بن

--------------------------------------------

(1) طبقات الحنابلة (1/ 177، 388 - 389).

(2) سير أعلام النبلاء (13/ 245).

(3) المصدر السابق (2/ 390).

(4) المصدر السابق.

(5) المصدر السابق.

(6) الجرح والتعديل (3/ 253).

হারব তাঁর নিজের হাতের লেখায় এমন সব মাসআলা লিপিবদ্ধ করতেন যা তিনি আবু আব্দুল্লাহর নিকট থেকে শ্রবণ করেছিলেন(১).

* আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হারুন, আবু বকর আল-খাল্লাল, মৃত্যু (৩১১ হিজরি)(২).

* আব্দুর রহমান বিন আবি হাতিম মুহাম্মাদ বিন ইদ্রিস আর-রাজি, মৃত্যু (৩২৭ হিজরি)(৩)

* আব্দুল্লাহ বিন ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-কিরমানি(৪).

* আল-কাসিম বিন মুহাম্মাদ আল-কিরমানি, যিনি তারসুসে বসবাস করতেন(৫).

* মুহাম্মাদ বিন ইদ্রিস আবু হাতিম আর-রাজি, মৃত্যু (২৭৭ হিজরি)(৬) এবং অন্যান্যরা।

 

‌‌তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা:

নিশ্চয়ই আলেমগণ ইমাম হারব বিন ইসমাইল আল-কিরমানির প্রশংসা করেছেন এবং জ্ঞান ও ফযিলতের ক্ষেত্রে তাঁর ইমামতের সাক্ষ্য দিয়েছেন।

* আবু যুরআ আদ-দিমাশকি বলেছেন: আমাদের নিকট শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে ইয়াকুব বিন...

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুল হানাবিলাহ (১/ ১৭৭, ৩৮৮ - ৩৮৯)।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৩/ ২৪৫)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (২/ ৩৯০)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস।

(৬) আল-জারহু ওয়াত তা'দিল (৩/ ২৫৩)।

(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ২১)
سفيان يعجز أهل العراق أن يروا مثله والثاني حرب بن إسماعيل وهو ممن كتب عني(1).

* وقال ابن أبي حاتم: أبو محمد رفيق أبي بالشام كتب عنه أبي بدمشق(2).

* وقال ابن أبي يعلى: وكان -يعني حرب- فقيه البلد، وكان السلطان قد جعله على أمر الحكم وغيره في البلد(3).

* وقال عنه أبو بكر الخلال: رجل جليل، حثني أبو بكر المرُّوذي على الخروج إليه(4).

* وقال الحافظ الذهبي: الإمام، العلامة، أبو محمد، حرب بن إسماعيل الكرماني، الفقيه، تلميذ أحمد بن حنبل، رحل وطلب العلم(5).

* وقال الإمام ابن القيم في "نونيته":

وانظر إلى حرب وإجماع حكى … لله درّك من فتى كرمان(6)

--------------------------------------------

(1) تذكرة الحفاظ (2/ 582).

(2) الجرح والتعديل (3/ 253).

(3) طبقات الحنابلة (1/ 389).

(4) طبقات الحنابلة (1/ 388).

(5) السير (13/ 244 - 245).

(6) الكافية الشافية (ص 116).

সুফিয়ান, ইরাকবাসীরা তাঁর সমকক্ষ কাউকে দেখতে অক্ষম হবে, আর দ্বিতীয়জন হলেন হারব ইবনে ইসমাঈল, তিনি আমার থেকে (হাদিস) লিপিবদ্ধ করেছেন(১)।

* ইবনে আবি হাতিম বলেন: আবু মুহাম্মদ সিরিয়ায় আমার পিতার সফরসঙ্গী ছিলেন, আমার পিতা দামেস্কে তাঁর থেকে (হাদিস) লিখেছেন(২)।

* ইবনে আবি ইয়ালা বলেন: তিনি—অর্থাৎ হারব—ছিলেন শহরের ফকিহ, আর সুলতান তাঁকে বিচারকার্য ও শহরের অন্যান্য বিষয়ের দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন(৩)।

* আবু বকর আল-খাল্লাল তাঁর সম্পর্কে বলেন: এক মহান ব্যক্তি, আবু বকর আল-মাররুজি আমাকে তাঁর কাছে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন(৪)।

* হাফেজ আয-যাহাবি বলেন: ইমাম, আল্লামা, আবু মুহাম্মদ হারব ইবনে ইসমাঈল আল-কিরমানি, ফকিহ, আহমাদ ইবনে হাম্বলের ছাত্র, তিনি দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং ইলম অন্বেষণ করেছেন(৫)।

* ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর "নুনিয়া" কাব্যে বলেন:

তুমি হারব এবং তাঁর বর্ণিত ইজমার (ঐক্যমত) প্রতি লক্ষ করো … আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য কতই না কল্যাণ রয়েছে হে কিরমানের যুবক!(৬)

--------------------------------------------

(১) তাযকিরাতুল হুফফাজ (২/ ৫৮২)।

(২) আল-জারহু ওয়াত-তাদিল (৩/ ২৫৩)।

(৩) তবাকাতুল হানাবিলা (১/ ৩৮৯)।

(৪) তবাকাতুল হানাবিলা (১/ ৩৮৮)।

(৫) আস-সিয়ার (১৩/ ২৪৪ - ২৪৫)।

(৬) আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া (পৃ. ১১৬)।

(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ২২)
* وقال المرداوي: حرب من كبار أئمة الأصحاب(1).

 

‌‌مؤلفاته:

* كتاب المسائل عن الإمامين أحمد وإسحاق (وهو مطبوع)(2).

* كتاب التاريخ الذي أملاه عليه الإمام أحمد(3).

* كتاب السنة(4).

 

‌‌وفاته:

بعد أن قضى الإمام حرب بن إسماعيل الكرماني حياة عامرة بطلب العلم والعمل به ونشره للناس أدركته المنية، فتوفي في سنة ثمانين ومائتين للهجرة(5).

--------------------------------------------

(1) الإنصاف (2/ 523).

(2) إلا أنه ناقص، وقد أخرج إخراجًا سيئًا، يكثر فيه التحريف والتصحيف، والله المستعان.

(3) انظر كتاب الإرشاد في معرفة علماء الحديث (2/ 597).

(4) ذكره الحافظ ابن حجر في الفتح (5/ 226)، ويبدو أنه نفس الكتاب الذي نحن بصدد تحقيقه.

(5) تذكرة الحفاظ (2/ 613).

* এবং আল-মারদাবি বলেছেন: হারব ছিলেন (হাম্বলি) মাযহাবের বড় ইমামদের অন্তর্ভুক্ত(১).

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

* কিতাবুল মাসায়েল আনিল ইমামাইন আহমাদ ওয়া ইসহাক (এটি মুদ্রিত)(২).

* কিতাবুত তারিখ, যা ইমাম আহমাদ তাঁকে লিখিয়েছিলেন(৩).

* কিতাবুস সুন্নাহ(৪).

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

ইমাম হারব ইবনে ইসমাঈল আল-কিরমানি ইলম অর্জন, সে অনুযায়ী আমল এবং মানুষের মাঝে তা প্রচারের মাধ্যমে এক কর্মচঞ্চল জীবন অতিবাহিত করার পর মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করেন; তিনি হিজরি দুইশত আশি সালে মৃত্যুবরণ করেন(৫).

--------------------------------------------

(১) আল-ইনসাফ (২/ ৫২৩)।

(২) তবে এটি অসম্পূর্ণ, এবং এটি অত্যন্ত নিম্নমানের উপায়ে প্রকাশিত হয়েছে, যাতে প্রচুর বিকৃতি ও ভুল রয়েছে। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

(৩) দেখুন: কিতাবুল ইরশাদ ফি মা’রিফাতি উলামাউল হাদিস (২/ ৫৯৭)।

(৪) হাফেজ ইবনে হাজার ‘আল-ফাতহ’ গ্রন্থে (৫/ ২২৬) এর উল্লেখ করেছেন; আর প্রতীয়মান হয় যে, এটি সেই কিতাবই যা আমরা বর্তমানে সম্পাদনা করছি।

(৫) তাজকিরাতুল হুফফাজ (২/ ৬১৩)।

(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ২৩)
قال الذهبي: عُمّر وقارب التسعين(1).

* * *

--------------------------------------------

(1) السير (13/ 245).

ইমাম যাহাবি বলেন: তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এবং নব্বই বছরের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন(1).

* * *

--------------------------------------------

(1) আস-সিয়ার (১৩/ ২৪৫)।

(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌عملي في المخطوط

* اعتمدت في تحقيق هذه العقيدة على نسخة وحيدة، وهي نسخة المسائل الموجودة بمعهد البحوث العلمية بكلية الشريعة بجامعة أم القرى بمكة المكرمة، برقم (32 - فقه حنبلي)، وقد قمت بتصويرها، ورمزت لها بالحرف (ق)، وقابلت الجزء المتعلق بالعقيدة منها بالمطبوع من رسالة الاصطخري التي أوردها ابن أبي يعلى في كتابه "طبقات الحنابلة"(1)، ورمزت لها بالحرف (ط)، وكذلك بما نقله ابن القيم في كتابه "حادي الأرواح"(2)، ورمزت لهذا الجزء بالحرف (ح).

* وهذا الجزء يقع في إحدى عشرة صفحة، وعدة لوحاتها ست لوحات تقريبًا، في كلِّ صحيفة منها خمسة وعشرون سطرًا بمتوسط اثنتي عشرة كلمة للسطر الواحد.

--------------------------------------------

(1) تحقيق: عبد الرحمن بن سليمان العثيمين، طبعة الأمانة العامة للاحتفال بمرور مائة عام ط 1419 هـ، والرسالة في الجزء الأول (ص 55 - ص 74).

(2) تحقيق: زائد بن أحمد النشيري، دار عالم الفوائد، الطبعة الأولى 1428 هـ، ويبدأ النقل من الجزء الثاني (ص 827 - ص 842) حيث نقل ابن القيم أكثر من نصفها.

পাণ্ডুলিপি সম্পাদনায় আমার কর্মপদ্ধতি

* এই আকিদা সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি একটি মাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, আর তা হলো মক্কা মুকাররমার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইনস্টিটিউটে সংরক্ষিত ‘আল-মাসায়েল’-এর অনুলিপি, যার নম্বর (৩২ - হাম্বলি ফিকহ)। আমি সেটির ছবি তুলেছি এবং একে (ক্বাফ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি। আমি এর আকিদা সংশ্লিষ্ট অংশটিকে আল-ইস্তাখরি-এর রিসালার মুদ্রিত পাঠের সাথে মিলিয়েছি যা ইবন আবি ইয়ালা তাঁর ‘তাবাকাতুল হানাবিলাহ’(১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং একে (ত্ব'আ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি। একইভাবে ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘হাদিউল আরওয়াহ’(২) গ্রন্থে যা উদ্ধৃত করেছেন তার সাথেও মিলিয়েছি এবং এই অংশটিকে (হা) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

* এই অংশটি এগারোটি পৃষ্ঠা জুড়ে বিস্তৃত এবং এর ফলক সংখ্যা প্রায় ছয়টি। এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় পঁচিশটি করে লাইন এবং প্রতি লাইনে গড়ে বারোটি করে শব্দ রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সম্পাদনা: আবদুর রহমান বিন সুলাইমান আল-উসাইমিন, শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সাধারণ সচিবালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম সংস্করণ ১৪১৯ হিজরি। রিসালাটি প্রথম খণ্ডে (পৃষ্ঠা ৫৫ - পৃষ্ঠা ৭৪) রয়েছে।

(২) সম্পাদনা: জায়েদ বিন আহমদ আল-নাশিরি, দারু আলমিল ফাওয়ায়িদ, প্রথম সংস্করণ ১৪২৮ হিজরি। উদ্ধৃতিটি দ্বিতীয় খণ্ড (পৃষ্ঠা ৮২৭ - পৃষ্ঠা ৮৪২) থেকে শুরু হয়েছে, যেখানে ইবনুল কাইয়্যিম এর অর্ধেকেরও বেশি অংশ উদ্ধৃত করেছেন।

(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ২৬)
* أثبت الفروق بين النسخة الخطية وبين ما جاء في رسالة الاصطخري وحادي الأرواح في الحواشي.

* عزوت الآيات القرآنية وخرجت الأحاديث الواردة، مع بيان درجتها الصحة أو الضعف.

* علقت على بعض المواضع، مما رأيت أنه يحتاج إلى تعليق.

* وضعت فهارس للكتاب.

* * *
* আমি পাণ্ডুলিপি এবং আল-ইস্তাখরির রিসালাহ ও হাদি আল-আরওয়াহ-তে যা এসেছে, তার মধ্যবর্তী পার্থক্যসমূহ পাদটীকায় উল্লেখ করেছি।

* আমি কুরআনের আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি এবং বর্ণিত হাদিসসমূহের তাখরিজ করেছি, সাথে সেগুলোর বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতার মানও বর্ণনা করেছি।

* আমি কিছু স্থানে ব্যাখ্যা প্রদান করেছি, যেগুলোকে আমার নিকট ব্যাখ্যার প্রয়োজন বলে মনে হয়েছে।

* আমি বইটির জন্য নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি।

* * *
(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌باب القول بالمذهب

* قال أبو القاسم(1): حدثنا أبو محمد حرب بن إسماعيل(2) قال(3): هذا مذهب(4) أئمة(5) العلم، وأصحاب الأثر، وأهل السنة [المتمسكين بعروقها](6) المعروفين(7) بها، المقتدى بهم [فيها](8)، [من لدن أصحاب النَّبي صلى الله عليه وسلم إلى يومنا هذا](9)، وأدركت مَن أدركت مِن علماء أهل [العراق](10)

--------------------------------------------

(1) هو القاسم بن محمد الكرماني نزيل طرسوس، تلميذ الإمام حرب الكرماني. انظر: سير أعلام النبلاء (13/ 245).

(2) تقدمت ترجمته.

(3) ما سبق لا يوجد في (ط) و (ح).

(4) في (ط): مذاهب.

(5) في (ط): أهل.

(6) من (ط) و (ح).

(7) في (ح): المتمسكين دون (بعروقها).

(8) لا توجد في (ح).

(9) من (ط) و (ح).

(10) لا توجد في (ط) و (ح).
মাযহাব (মতাদর্শ) বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়

* আবুল কাসিম(১) বলেছেন: আবু মুহাম্মাদ হারব ইবনে ইসমাইল(২) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন(৩): এটি হলো ইলমের ইমামগণ, আসহাবুল আছার (হাদিসের অনুসারী) এবং আহলুস সুন্নাহর মাযহাব(৪) [যারা সুন্নাহর মূল ভিত্তিগুলো দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে আছেন](৬), যারা এর মাধ্যমে সুপরিচিত(৭) এবং [এ বিষয়ে](৮) যাদেরকে অনুসরণ করা হয়, [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের যুগ থেকে আমাদের এই দিন পর্যন্ত](৯)। আর আমি [ইরাক](১০) অঞ্চলের আলেমদের মধ্যে যাদের সান্নিধ্য লাভ করেছি...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ আল-কিরমানি, তারসুসের অধিবাসী এবং ইমাম হারব আল-কিরমানির ছাত্র। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৩/ ২৪৫)।

(২) তাঁর জীবনী পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

(৩) পূর্বোক্ত অংশটুকু (ত) এবং (হা) পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৪) (ত) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: মাযহাবসমূহ।

(৫) (ত) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: আহল (অধিবাসী/অনুসারী)।

(৬) (ত) এবং (হা) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৭) (হা) পাণ্ডুলিপিতে 'দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেন' আছে, তবে 'মূল ভিত্তিগুলো' অংশটি নেই।

(৮) (হা) পাণ্ডুলিপিতে এটি নেই।

(৯) (ত) এবং (হা) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(১০) (ত) এবং (হা) পাণ্ডুলিপিতে এটি নেই।
(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
والحجاز والشام وغيرهم [عليها](1)، فمن خالف شيئًا من هذه المذاهب، أو طعن فيها، أو عاب قائلها، فهو [مخالفٌ](2)، مبتدعٌ، خارجٌ [من](3) الجماعة، زائل عن منهج السنة وسبيل الحق.

[قال](4): [وهو مذهب أحمد(5) وإسحاق بن إبراهيم بن مخلد(6)، وعبد الله بن الزبير الحميدي(7)، وسعيد بن منصور(8)، وغيرهم ممن جالسنا

--------------------------------------------

(1) لا توجد في (ح).

(2) من (ح).

(3) في (ح): عن.

(4) من (ح).

(5) أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد الشيباني، المروزي، نزيل بغداد، أبو عبد الله، أحد الأئمة، ثقة، حافظ، فقيه، حجة، وهو رأس الطبقة العاشرة، مات سنة (241) وله سبع وسبعون سنة. التقريب (ص 23)، والسير (11/ 177).

(6) إسحاق بن إبراهيم بن مخلد الحنظلي، أبو محمد بن راهويه المروزي، ثقة، حافظ، مجتهد، قرين أحمد بن حنبل، مات سنة (238) وله اثنتان وسبعون سنة. التقريب (ص 39)، والسير (11/ 358).

(7) عبد الله بن الزبير بن عيسى القرشي الأسدي الحميدي المكي، أبو بكر ثقة، حافظ، فقيه، أجل أصحاب ابن عيينة، من العاشرة، مات بمكة سنة (219) وقيل بعدها، قال الحاكم: كان البخاري إذا وجد الحديث عند الحميدي لا يعدوه إلى غيره. التقريب (ص 246)، والسير (10/ 616).

(8) سعيد بن منصور بن شعبة أبو عثمان الخراساني، نزيل مكة، ثقة، مصنف، وكان لا يرجع=
এবং হিজায, শাম ও অন্যান্যরা [এর উপরেই ছিলেন](১)। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাযহাব বা মতাদর্শগুলোর কোনো কিছুর বিরোধিতা করল, অথবা তাতে কটাক্ষ করল, কিংবা এর প্রবক্তাকে দোষারোপ করল, সে [বিরোধী](২), বিদআতী এবং জামাআত [থেকে](৩) বিচ্যুত, সে সুন্নাহর আদর্শ ও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত।

[তিনি বললেন](৪): [আর এটিই হলো আহমাদ(৫), ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন মাখলাদ(৬), আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের আল-হুমাইদী(৭), সাঈদ বিন মানসুর(৮) এবং আমাদের সাথে বসা অন্যান্যদের মাযহাব (মতাদর্শ)]

--------------------------------------------

(১) (হা) পাণ্ডুলিপিতে এটি নেই।

(২) (হা) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৩) (হা) পাণ্ডুলিপিতে: 'আন' (থেকে)।

(৪) (হা) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৫) আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ আশ-শায়বানী, আল-মারওয়াযী, বাগদাদে বসবাসকারী, আবু আব্দুল্লাহ, অন্যতম ইমাম, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), হাফিয, ফকিহ, হুজ্জাহ বা অকাট্য প্রমাণ, তিনি দশম স্তরের প্রধান ব্যক্তি, ২৪১ হিজরীতে ৭৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। আত-তাকরীব (পৃ. ২৩), আস-সিয়ার (১১/১৭৭)।

(৬) ইসহাক বিন ইবরাহিম bin মাখলাদ আল-হানযালী, আবু মুহাম্মাদ বিন রাহাওয়াই আল-মারওয়াযী, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), হাফিয, মুজতাহিদ, আহমাদ বিন হাম্বলের সমসাময়িক, ২৩৮ হিজরীতে ৭২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। আত-তাকরীব (পৃ. ৩৯), আস-সিয়ার (১১/৩৫৮)।

(৭) আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের বিন ঈসা আল-কুরাশী আল-আসাদী আল-হুমাইদী আল-মাক্কী, আবু বকর, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), হাফিয, ফকিহ, ইবনে উয়াইনাহর প্রধান শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত, দশম স্তরের, ২১৯ হিজরীতে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন, কেউ কেউ এর পরে বলেছেন। হাকিম বলেন: বুখারী যখন হুমাইদীর নিকট কোনো হাদীস পেতেন, তখন তা ছেড়ে অন্যের দিকে যেতেন না। আত-তাকরীব (পৃ. ২৪৬), আস-সিয়ার (১০/৬১৬)।

(৮) সাঈদ বিন মানসুর বিন শু'বাহ, আবু উসমান আল-খুরাসানী, মক্কায় বসবাসকারী, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), গ্রন্থকার, এবং তিনি (নিজের পাণ্ডুলিপি ছাড়া অন্যের কথায়) ফিরে আসতেন না=
(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وأخذنا عنهم العلم](1)، فكان من(2) قولهم:

*‌‌ الإيمان(3). قول وعمل، ونية، وتمسك بالسنة.

* و‌‌الإيمان يزيد وينقص.

* و‌‌الاستثناء في الإيمان سنة ماضية عن(4) العلماء.

* [قال](5): وإذا(6) سُئِل الرجل: أمؤمن أنت؟ فإنه يقول: أنا مؤمن إن شاء الله، أو مؤمن أرجو، أو يقول: آمنت بالله وملائكته وكتبه ورسله.

* و‌‌من زعم أن الإيمان قول بلا عمل؛ فهو مرجئ(7).

--------------------------------------------

= عما في كتابه لشدة وثوقه به، مات سنة (227) وقيل بعدها، من العاشرة. التقريب (ص 181)، والسير (10/ 586).

(1) لا توجد في (ط).

(2) لا توجد في (ط).

(3) في (ط) و (ح): إن الإيمان.

(4) في (ط) و (ح): ويستثنى في الإيمان غير ألَّا يكون الاستثناء شكًّا، إنما هي سنة ماضية عند العلماء.

(5) من (ط).

(6) في (ح): فإذا.

(7) والمعنيّ بهذا القول: هم مرجئة الفقهاء، وإن كان قد اشتهر عند المتأخرين أنه قول الكرامية، فقول الكرامية إنما حدث متأخرًا.
এবং আমরা তাদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছি](১), সুতরাং তাদের বক্তব্যসমূহের(২) অন্তর্ভুক্ত ছিল:

*‌‌ঈমান(৩) হলো মৌখিক স্বীকৃতি, আমল, নিয়ত এবং সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা।

* এবং ঈমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়।

* এবং ঈমানের ক্ষেত্রে ইস্তিসনা (ইনশাআল্লাহ বলা) আলেমদের থেকে বর্ণিত একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ(৪)।

* [তিনি বলেন](৫): এবং যখন(৬) কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হয়: আপনি কি মুমিন? তখন সে বলবে: আমি মুমিন ইনশাআল্লাহ, অথবা বলবে: আমি মুমিন হওয়ার আশা রাখি, অথবা সে বলবে: আমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান এনেছি।

* এবং যে ব্যক্তি দাবি করে যে ঈমান কেবল আমলবিহীন মৌখিক স্বীকৃতি; সে হলো মুরজিআ(৭)।

--------------------------------------------

= তার কিতাবে যা ছিল তা থেকে, তার প্রতি তার প্রগাঢ় আস্থার কারণে। তিনি ২২৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, কারো মতে এর পরে। তিনি দশম স্তরের অন্তর্ভুক্ত। আত-তাকরীব (পৃ. ১৮১), এবং আস-সিয়ার (১০/৫৮৬)।

(১) (ত্বা) পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(২) (ত্বা) পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৩) (ত্বা) এবং (হা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: নিশ্চয়ই ঈমান।

(৪) (ত্বা) এবং (হা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: এবং ঈমানের ক্ষেত্রে ইস্তিসনা করা হবে, তবে শর্ত হলো ইস্তিসনা যেন সন্দেহের কারণে না হয়; বরং এটি আলেমদের নিকট একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ।

(৫) (ত্বা) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৬) (হা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: অতঃপর যখন।

(৭) এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য হলো: মুরজিআতুল ফুকাহা। যদিও পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট এটি কাররামিয়্যাহদের বক্তব্য হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, তবে কাররামিয়্যাহদের বক্তব্য মূলত পরবর্তীকালে উদ্ভূত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
* ومن زعم أن الإيمان هو القول، والأعمال شرائع؛ فهو مرجئ.

* [وإن زعم أن الإيمان لا يزيد ولا ينقص فهو مرجئ](1).

* وإن قال(2): إن الإيمان يزيد ولا ينقص(3)، فقد قال بقول المرجئة.

--------------------------------------------

(1) لا توجد في (ط) و (ح).

(2) في (ط) و (ح): ومن زعم.

(3) القول بزيادة الإيمان مع الجزم بعدم نقصانه هو مما اشتهر عن الغسانية أتباع غسان المرجئ، كما نسبه إليهم غير واحد من أصحاب كتب المقلات. انظر: التبصير في الدين للإسفراييني (ص 98)، والفرق بين الفرق للبغدادي (ص 191)، وبعضهم نسب هذا القول إلى الحسين بن محمد النجار. انظر: مقالات الإسلاميين للأشعري (ص 88).

وقد أخطأ الزبيدي لما نقل قول أبي حنيفة رحمه الله من طريق غسان وجماعة أنه قال: "الإيمان يزيد ولا ينقص"، ثم قال الزبيدي: "وهذا الذي حكاه غسان وجماعة عنه هو بعينه قول مالك". إتحاف السادة المتقين (2/ 256).

وهذا لا شك فيه خطأٌ بيِّن إذ إنَّ الإمام مالكًا رحمه الله إنما جاء عنه أنه توقف في القول بنقصان الإيمان ولم يجزم بعدم نقصانه، وفرق بين التوقف في النقصان وبين الجزم بأنه لا ينقص، ومما يقطع هذا الأمر ثبوت النقل عن الإمام مالك بالجزم بالزيادة والنقصان وعدوله عن القول الأول، فقد روى عبد الله بن أحمد في السنة (1/ 342)، والآجري في الشريعة (2/ 606)، واللالكائي في شرح الاعتقاد (5/ 1028)، كلهم من طرق عن سلمة بن شبيب عن عبد الرزاق الصنعاني، قال: "سمعت مَعْمَرًا وسفيان الثوري ومالك بن أنس وابن جريج وسفيان بن عيينة يقولون: الإيمان قول وعمل، يزيد وينقص". وإسناده صحيح.=
যে ব্যক্তি দাবি করে যে ঈমান হলো কেবল মৌখিক স্বীকৃতি আর আমলসমূহ হলো আনুষঙ্গিক বিধান; সে একজন মুরজিয়া।

[আর যদি সে দাবি করে যে ঈমান বৃদ্ধি পায় না এবং হ্রাসও পায় না, তবে সে একজন মুরজিয়া](১)।

আর সে যদি বলে(২): ঈমান বৃদ্ধি পায় কিন্তু হ্রাস পায় না(৩), তবে সে মুরজিয়াদের ন্যায় কথা বলল।

--------------------------------------------

(১) (ত্বা) ও (হা) পাণ্ডুলিপিতে এটি নেই।

(২) (ত্বা) ও (হা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "এবং যে ব্যক্তি দাবি করে"।

(৩) ঈমান বৃদ্ধি পাওয়ার কথার সাথে সাথে তা হ্রাস না পাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়তা ব্যক্ত করা হলো গাসসানিয়্যাহদের থেকে প্রসিদ্ধ হওয়া একটি বিষয়, যারা মুরজিয়া গাসসানের অনুসারী; যেমনটি মাযহাব ও মতবাদ বিষয়ক একাধিক গ্রন্থকার তাদের দিকে এটি নিসবত করেছেন। দেখুন: আল-ইসফারায়িনির আত-তাবসির ফিদ-দীন (পৃ. ৯৮), আল-বাগদাদির আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক (পৃ. ১৯১)। কেউ কেউ এই মতটিকে আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আন-নাজ্জারের দিকে নিসবত করেছেন। দেখুন: আল-আশআরির মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন (পৃ. ৮৮)।

যুবাইদি ভুল করেছেন যখন তিনি গাসসান ও একদল বর্ণনাকারীর সূত্রে ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "ঈমান বৃদ্ধি পায় কিন্তু হ্রাস পায় না", অতঃপর যুবাইদি বলেছেন: "গাসসান ও একদল বর্ণনাকারী যা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তা হুবহু ইমাম মালিকের উক্তি"। ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন (২/২৫৬)।

এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি একটি সুস্পষ্ট ভুল। কারণ ইমাম মালিক রহ. থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো তিনি ঈমান হ্রাস পাওয়ার ব্যাপারে মৌনতা অবলম্বন করেছিলেন, তিনি এটি নিশ্চিত করেননি যে ঈমান হ্রাস পায় না। আর হ্রাসের ব্যাপারে মৌনতা অবলম্বন করা এবং এটি নিশ্চিতভাবে বলা যে ঈমান হ্রাস পায় না—উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এবং যা এই বিষয়টি চূড়ান্ত করে দেয় তা হলো ইমাম মালিক থেকে ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়ার বর্ণনার দৃঢ়তা প্রমাণিত হওয়া এবং তাঁর পূর্বের বক্তব্য থেকে ফিরে আসা। যেমনটি বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আস-সুন্নাহ গ্রন্থে (১/৩৪২), আল-আজুরি আশ-শারিয়াহ গ্রন্থে (২/৬০৬) এবং আল-লালকাই শারহু উসুলি ইতিকাদ গ্রন্থে (৫/১০২৮)। তারা সকলেই সালামাহ বিন শাবিবের সূত্রে আব্দুর রাজ্জাক আস-সানআনি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মা'মার, সুফিয়ান সাওরি, মালিক বিন আনাস, ইবনু জুরাইজ এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনাকে বলতে শুনেছি: ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়।" এবং এর সনদ সহিহ।=
(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= وروى أبو داود السجستاني في المسائل (ص 365 - رقم 1767)، وعبد الله بن أحمد في السنة (1/ 317)، والآجري في الشريعة (2/ 608)، وابن بطة في الإبانة -القسم الأول- (2/ 812 رقم 1111)، واللالكائي في شرح الاعتقاد (5/ 1031)، والخلال في السنة (3/ 608 رقم 1082) من طرق عن سريج بن النعمان عن عبد الله بن نافع قال: كان مالك يقول: "الإيمان قول وعمل، يزيد وينقص" وإسناده صحيح.

وقال اللالكائي في شرح الاعتقاد (5/ 1031 رقم 1743): أخبرنا محمد بن الحسن بن محمد الوراق، قال: نا أحمد بن خلف، قال: أنا أبو إسماعيل -يعني: الترمذي- قال: سمعت إسحاق بن محمد، يقول: "كنت عند مالك بن أنس، فسمعت حماد بن أبي حنيفة، يقول لمالك: يا أبا عبد الله، إن لنا رأيًا نعرضه عليك، فإن رأيته حسنًا مضينا عليه، وإن رأيته غير ذلك كففنا عنه، قال: وما هو؟ قال: يا أبا عبد الله، لا نكفر أحدًا بذنب، الناس كلهم مسلمون عندنا، قال: ما أحسن هذا، ما بهذا بأس، فقام إليه داود بن أبي زنبر، وإبراهيم بن حبيب، وأصحاب له، فقاموا إليه، فقالوا: يا أبا عبد الله، إن هذا يقول بالإرجاء، قال: ديني مثل دين الملائكة المقربين، وديني مثل دين جبريل وميكائيل والملائكة المقربين، قال: لا والله، الإيمان يزيد وينقص: {لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ}، وقال إبراهيم: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِنْ قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي} فطمأنينة قلبه زيادة في إيمانه".

وقال أبو الوليد محمد بن رشد في "المقدمات" (1/ 37): "وقد روي عن مالك رحمه الله أنه كان يطلق القول بزيادة الإيمان وكف عن إطلاق نقصانه، إذ لم ينص الله تعالى إلا على زيادته، فروي عنه أنه قال عند موته لابن نافع وقد سأله عن ذلك: قد أبرمتموني إني تدبرت هذا الأمر فما من شيء يزيد إلا وينقص، وهو الصحيح، والله سبحانه وتعالى أعلم.

وللمزيد حول تصريح الإمام مالك بن أنس بزيادة الإيمان ونقصانه، انظر المراجع التالية: السنة للخلال (ح 1014)، والسنن للبيهقي (10/ 206)، والحلية لأبي نعيم (6/=
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এবং আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি 'আল-মাসায়িল' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৩৬৫ - নম্বর ১৭৬৭), আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে (১/ ৩১৭), আল-আজুরি 'আশ-শরীয়াহ' গ্রন্থে (২/ ৬০৮), ইবনে বাত্তাহ 'আল-ইবানাহ' -প্রথম খণ্ড- গ্রন্থে (২/ ৮১২ নম্বর ১১১১), আল-লালকায়ি 'শারহু উসুলি ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ' গ্রন্থে (৫/ ১০৩১), এবং আল-খাল্লাল 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে (৩/ ৬০৮ নম্বর ১০৮২) বিভিন্ন সূত্রে সুরাইজ ইবনুন নুমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে নাফি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মালিক বলতেন: "ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়" এবং এর সনদ সহিহ।

আল-লালকায়ি 'শারহু উসুলি ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ' গ্রন্থে (৫/ ১০৩১ নম্বর ১৭৪৩) বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে খালাফ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসমাঈল -অর্থাৎ: আত-তিরমিজি- তিনি বলেন: আমি ইসহাক ইবনে মুহাম্মদকে বলতে শুনেছি: "আমি মালিক ইবনে আনাসের নিকট ছিলাম, তখন হাম্মাদ ইবনে আবি হানিফাকে মালিককে বলতে শুনলাম: হে আবু আবদুল্লাহ, আমাদের একটি মতামত রয়েছে যা আমরা আপনার নিকট পেশ করতে চাই, যদি আপনি তা উত্তম মনে করেন তবে আমরা তার ওপর অটল থাকব, আর যদি অন্য কিছু মনে করেন তবে আমরা তা থেকে বিরত থাকব। তিনি বললেন: তা কী? তিনি বললেন: হে আবু আবদুল্লাহ, আমরা কোনো পাপের কারণে কাউকে কাফের বলি না, আমাদের নিকট সকল মানুষই মুসলিম। মালিক বললেন: এটি কতই না উত্তম, এতে কোনো সমস্যা নেই। তখন দাউদ ইবনে আবি যানবার, ইব্রাহিম ইবনে হাবিব এবং মালিকের অন্যান্য সঙ্গীরা দাঁড়িয়ে তার নিকট গেলেন। তারা বললেন: হে আবু আবদুল্লাহ, এ ব্যক্তি তো ইরজা’র (ঈমান বাড়ে না-কমে না এমন মতবাদ) কথা বলছে। তিনি বললেন: আমার দ্বীন তো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের দ্বীনের মতো, আমার দ্বীন তো জিবরাঈল, মিকাইল এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের দ্বীনের মতো। মালিক বললেন: না, আল্লাহর শপথ, ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়: {যাতে তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি করে নেয়}, এবং ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন: {আর যখন ইব্রাহিম বলল: হে আমার রব, আমাকে দেখান আপনি কীভাবে মৃতকে জীবিত করেন। তিনি বললেন: তবে কি তুমি বিশ্বাস করোনি? সে বলল: অবশ্যই, তবে আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য}। সুতরাং তার হৃদয়ের প্রশান্তি লাভ করা তার ঈমানেরই বৃদ্ধি।"

আবু ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে রুশদ 'আল-মুকাদ্দিমাত' গ্রন্থে (১/ ৩৭) বলেন: "মালিক (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ঈমান বৃদ্ধির কথা স্পষ্টভাবে বলতেন এবং তা হ্রাস পাওয়ার কথা বলা থেকে বিরত থাকতেন, যেহেতু মহান আল্লাহ কেবল ঈমান বৃদ্ধির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এরপর বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মৃত্যুর সময় ইবনে নাফিকে বলেছিলেন - যখন তিনি এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করেছিলেন: তোমরা আমাকে অনেক পীড়াপীড়ি করেছ, আমি এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেছি এবং দেখেছি যে, কোনো জিনিস বৃদ্ধি পায় না যদি না তা হ্রাস পায়। আর এটাই সঠিক মত, এবং মহান আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

ইমাম মালিক ইবনে আনাস কর্তৃক ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার বিষয়ে আরও জানতে নিম্নোক্ত উৎসগুলো দেখুন: আল-খাল্লালের 'আস-সুন্নাহ' (হাদিস ১০১৪), আল-বায়হাকির 'আস-সুনান' (১০/ ২০৬), আবু নুআইমের 'আল-হিলয়াহ' (৬/=
(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
* و‌‌من لم ير الاستثناء في الإيمان؛ فهو مرجئ.

* و‌‌من زعم أن إيمانه كإيمان جبريل أو(1) الملائكة(2) فهو مرجئ [وأخبث من المرجئ فهو كاذب.

* و‌‌من زعم أن الناس لا يتفاضلون في الإيمان فقد كذب](3).

--------------------------------------------

= 327)، والتمهيد لابن عبد البر (9/ 205، 252)، وترتيب المدارك وتقريب المسالك للقاضي عياض (2/ 43)، والفتاوى لشيخ الإسلام (7/ 331)، وزيادة الإيمان ونقصانه للدكتور عبد الرزاق البدر (ص 296 - 301).

وكذا الأمر بالنسبة للإمام عبد الله بن المبارك، فقد اشتهر عنه القول بأن: الإيمان يتفاضل، إلا أنه ثبت عنه أيضًا التصريح بالزيادة والنقصان، فقد روى أبو بكر أحمد بن النجاد في "الرد على من يقول القرآن مخلوق" (ص 54) قال: حدثنا أحمد قال ثنا عبد الله ابن أحمد بن حنبل قال: حدثني أحمد بن شبويه أبو عبد الرحمن قال: سمعت علي بن الحسن بن شقيق، قال: سمعت عبد الله بن المبارك يقول: الإيمان قول وعمل يزيد وينقص".

وروى إسحاق بن راهويه في مسنده (3/ 172) قال: أخبرنا محمد بن أعين قال: قال ابن المبارك وذُكر له الإيمان، فقال: قوم يقولون إيماننا مثل جبريل وميكائيل، أما فيه زيادة؟ ! أما فيه نقصان؟ ! هو مثله سواء؟ ! وجبريل ربما صار مثل الوضع من خوف الله تعالى. وذكر أشباه ذلك".

(1) في (ح): والملائكة.

(2) في (ط): كإيمان جبريل وميكائيل والملائكة.

(3) لا توجد في (ط) و (ح).
* এবং যে ব্যক্তি ঈমানের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ বলা (ব্যতিক্রম) সমর্থন করে না; সে একজন মুরজিয়া।

* এবং যে ব্যক্তি দাবি করে যে তার ঈমান জিবরাঈল অথবা(১) ফেরেশতাদের(২) ঈমানের মতো, তবে সে মুরজিয়া [বরং সে মুরজিয়াদের চেয়েও নিকৃষ্ট এবং সে একজন মিথ্যাবাদী।

* এবং যে ব্যক্তি দাবি করে যে ঈমানের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে কোনো তারতম্য বা কম-বেশি হয় না, সে অবশ্যই মিথ্যা বলেছে](৩)।

--------------------------------------------

= ৩২৭), এবং ইবনে আব্দুল বার-এর আত-তামহীদ (৯/ ২০৫, ২৫২), এবং কাজী ইয়াজ-এর তারতীবুল মাদারিক ওয়া তাকরীবুল মাসালিক (২/ ৪৩), এবং শাইখুল ইসলামের ফাতাওয়া (৭/ ৩৩১), এবং ড. আব্দুর রাজ্জাক আল-বাদর-এর যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু (পৃ. ২৯৬ - ৩০১)।

অনুরূপভাবে ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকের বিষয়টিও। তাঁর থেকে এটি প্রসিদ্ধ যে: ঈমানের স্তরে তারতম্য হয়, তবে তাঁর থেকে বৃদ্ধি ও হ্রাসের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে সাব্যস্ত হয়েছে। আবু বকর আহমদ ইবনুন নাজ্জাদ 'আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আল-কুরআনু মাখলুক' (পৃ. ৫৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন, আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে শাবওয়াইহ আবু আব্দুর রহমান আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকীককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি যে: "ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়।"

এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ তাঁর মুসনাদ (৩/ ১৭২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারকের নিকট ঈমানের কথা উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন: একদল লোক বলে আমাদের ঈমান জিবরাঈল ও মিকাইলের মতো; এতে কি কোনো বৃদ্ধি নেই?! এতে কি কোনো হ্রাস নেই?! এটা কি হুবহু তাদের মতোই?! অথচ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর ভয়ে কখনও কখনও ক্ষুদ্র পাখির মতো হয়ে যেতেন। তিনি এর সদৃশ আরও কিছু উল্লেখ করেছেন।

(১) (হা) পাণ্ডুলিপিতে: এবং ফেরেশতাগণ।

(২) (ত্বা) পাণ্ডুলিপিতে: জিবরাঈল, মিকাইল এবং ফেরেশতাগণের ঈমানের মতো।

(৩) (ত্বা) এবং (হা) পাণ্ডুলিপিতে এটি নেই।
(খণ্ড: ১) ইজমাউস সালাফ ফিল ইতিকাদ কামা হাকাহু হারবুল কিরমানী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
* ومن زعم أن المعرفة تنفع(1) في القلب وإن لم يتكلم(2) بها فهو جهمي(3).

* [و‌‌من زعم أنه مؤمن عند الله مستكمل الإيمان، فهذا من أشنع قول المرجئة وأقبحه](4).

* [قال](5): والقدر(6) خيره وشره، وقليله وكثيره، وظاهره وباطنه، وحلوه ومره، ومحبوبه ومكروهه، وحسنه وسيئه، وأوله وآخره من الله [تبارك وتعالى](7)، قضاءٌ قضاه [على عباده](8). وقدرٌ(9) قدّره عليهم، لا يعدو أحد(10)

--------------------------------------------

(1) في (ح): تقع، وأشار المحقق أن في النسخ الأخرى (تنفع).

(2) في (ط): لا يتكلم.

(3) في (ط) و (ح): فهو مرجئ.

(4) لا توجد في (ط) و (ح).

(5) من (ط).

(6) هو الإيمان بأن الله علم مقادير الأشياء وأزمان وقوعها، وكتب ذلك في اللوح المحفوظ، ثم أوجدها بقدرته تعالى ومشيئته على وفق ما سبق به علمه. انظر شرح النووي (1/ 109)، وشرح العقيدة الواسطية للشيخ صالح الفوزان -حفظه الله- (ص 12).

(7) لا توجد في (ط)، وفي (ح): عز وجل.

(8) لا توجد في (ط).

(9) في (ط): وقدرًا.

(10) في (ط): واحد.
* আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, অন্তরের পরিচয় (মারেফাত) উপকারে আসে(১) যদিও সে তা মুখে উচ্চারণ না করে(২), তবে সে একজন জাহমি(৩)।

* [আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, সে আল্লাহর নিকট মুমিন এবং পূর্ণ ঈমানের অধিকারী, তবে এটি মুরজিয়াদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও কুৎসিত কথাগুলোর একটি](৪)।

* [তিনি বলেছেন](৫): আর তাকদির(৬)—তার ভালো ও মন্দ, অল্প ও অধিক, প্রকাশ্য ও গোপন, মিষ্টি ও তিক্ত, প্রিয় ও অপ্রিয়, উত্তম ও অনুত্তম এবং তার শুরু ও শেষ সবই আল্লাহর [তাবারাকা ওয়া তায়ালা](৭) পক্ষ থেকে। এটি এমন এক ফয়সালা যা তিনি [তাঁর বান্দাদের ওপর](৮) ধার্য করেছেন। এবং এমন এক তাকদির(৯) যা তিনি তাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন, যা কেউ লঙ্ঘন করতে পারে না(১০)

--------------------------------------------

(১) 'হা' পাণ্ডুলিপিতে: 'সংঘটিত হয়' এসেছে, এবং মুহাক্কিক ইশারা করেছেন যে অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে 'উপকারে আসে' রয়েছে।

(২) 'ত্ব' পাণ্ডুলিপিতে: 'সে কথা বলে না' রয়েছে।

(৩) 'ত্ব' এবং 'হা' পাণ্ডুলিপিতে: 'তবে সে একজন মুরজিয়ি' রয়েছে।

(৪) এটি 'ত্ব' এবং 'হা' পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৫) 'ত্ব' পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৬) এটি হলো এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ সবকিছুর পরিমাণ এবং সেগুলো সংঘটিত হওয়ার সময় সম্পর্কে জানেন এবং তা লাওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর শক্তি ও ইচ্ছার মাধ্যমে তাঁর পূর্ববর্তী জ্ঞান অনুযায়ী সেগুলো সৃষ্টি করেছেন। দেখুন: শরহে নববী (১/১০৯), এবং শাইখ সালেহ আল-ফাওজান—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—এর শরহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ (পৃ. ১২)।

(৭) 'ত্ব' পাণ্ডুলিপিতে নেই, আর 'হা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'আযযা ওয়া জাল্লা'।

(৮) 'ত্ব' পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৯) 'ত্ব' পাণ্ডুলিপিতে: 'তাকদিরান' (নসব অবস্থায়) রয়েছে।

(১০) 'ত্ব' পাণ্ডুলিপিতে: 'এক জনও' রয়েছে।