(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: -)
مناسك الحج والعمرة   (ناصر الدين الألباني)

القسم: الفقه العام


الكتاب: مناسك الحج والعمرة

المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)

الناشر: مكتبة المعارف

الطبعة: الأولى

عدد الصفحات: 61

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হজ ও উমরার নিয়মাবলি   (নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: হজ ও উমরার নিয়মাবলি

লেখক: আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, বিন আল-হাজ্জ নূহ বিন নাজাতি বিন আদম, আল-আশকুদারী আল-আলবানি (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ

সংস্করণ: প্রথম

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

أما بعد فقد دعت الرغبة في تيسير العلم لعامة الناس إلى تبسيط مناسك الحج وذلك باستخلاصها من كتابي حجة النبي صلى الله عليه وسلم كما رواها عنه جابر رضي الله عنه، على النحو الذي جريت عليه في رسالتي تلخيص صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم، غير أنني زدت فيه زيادات هامة استدركت بها ما لم يرد ذكره من المناسك في حجة النبي صلى الله عليه وسلم ولا في التعليق عليها وقد عنيت خاصة بتخريج هذه الزيادات وكذلك الفوائد الأخرى التي أوردتها فيه على النحو الذي جرينا عليه في سائر كتبنا من ذكر مرتبة الحديث ومصدره لكن على طريقة الاختصار مع الإحالة في غالب الأحيان إلى كتبي الأخرى ما طبع منها وما لم يطبع وأما ما كان في كتاب الحجة فلم أعن بتخريجه اكتفاء بأنه متوفر بين أيدي القراء الكرام فمن شاء منهم التثبت من شيء منه فمن الميسور أن يراجعه وإليه الإشارة عند الإحالة عليه بكلمة "الأصل" وإتماما للفائدة نقلنا عنه بشيء من الاختصار الملحق الخاص ببدع الحج والزيارة.

وسميته مناسك الحج والعمرة في الكتاب والسنة وآثار السلف.
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

অতঃপর, সাধারণ মানুষের জন্য দ্বীনি জ্ঞান অর্জন সহজ করার আকাঙ্ক্ষা আমাকে হজের নিয়মাবলিকে সহজতর করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে। আমি এটি জাবির (রা.) কর্তৃক বর্ণিত বর্ণনার আলোকে রচিত আমার 'হিজজাতুন নবী' গ্রন্থ থেকে সারসংক্ষেপ হিসেবে প্রস্তুত করেছি, যেভাবে আমি আমার 'তালখিসু সিফাতু সালাতিন নবী' নামক পুস্তিকাটিতে করেছিলাম। তবে আমি এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বৃদ্ধি করেছি এবং হজের এমন কিছু নিয়মাবলি যুক্ত করেছি যা 'হিজজাতুন নবী' মূল গ্রন্থে বা এর টীকায় উল্লিখিত হয়নি। আমি বিশেষভাবে এই অতিরিক্ত অংশগুলো এবং এতে উল্লিখিত অন্যান্য ফায়দাগুলোর তথ্যসূত্র যাচাই ও বিশ্লেষণ (تخريج) করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি, যেমনটি আমি আমার অন্যান্য কিতাবসমূহে হাদিসের মান (مرتبة الحديث) ও এর উৎস উল্লেখ করার ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছি। তবে এখানে সংক্ষেপ করার পদ্ধতি অবলম্বন করেছি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমার অন্যান্য কিতাবসমূহের হাওয়ালা দিয়েছি, যার কিছু মুদ্রিত হয়েছে আবার কিছু এখনো হয়নি। আর যা 'হিজজাতুন নবী' গ্রন্থে রয়েছে, তার নতুন করে তথ্যসূত্র বিশ্লেষণ (تخريج) করার প্রয়োজন মনে করিনি, কারণ তা পাঠকদের কাছে সহজলভ্য। সুতরাং কেউ যদি কোনো বিষয়ে নিশ্চিত হতে চান, তবে তিনি সহজেই তা দেখে নিতে পারবেন। রেফারেন্স প্রদানের সময় সেই মূল গ্রন্থের দিকে 'আসল' (الأصل) শব্দ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর বিষয়বস্তুর পূর্ণতার জন্য আমি সেই গ্রন্থ থেকে হজ ও জিয়ারত সংক্রান্ত বিদআতগুলোর বিশেষ পরিশিষ্টটি সংক্ষেপে এখানে উদ্ধৃত করেছি।

আমি এর নামকরণ করেছি 'মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাতি ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাতি ওয়া আসারিস সালাফ'।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
والله تبارك وتعالى أسأل أن يجعل عملي كله صالحا وأن يجعله لوجهه خالصا ولا يجعل لأحد فيه شيئا.

دمشق 21 شعبان سنة 1395 هـ

محمد ناصر الدين الألباني

* * *
আমি মহান বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার সকল আমলকে সৎকর্ম হিসেবে কবুল করেন এবং তা একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত করেন এবং এতে অন্য কারো জন্য কোনো অংশ না রাখেন।

দামেস্ক, ২১ শাবান, ১৩৯৫ হিজরি

মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী

* * *
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌نصائح بين يدي الحج:

وهذه نصائح وفوائد أقدمها إلى إخواننا الحجاج بين يدي الحج:

أولا: على الحاج أن يتقي ربه ويحرص طاقته أن لا يقع فيما حرم الله عليه لقوله تعالى: {الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلا رَفَثَ وَلا فُسُوقَ وَلا جِدَالَ فِي الْحَجِّ} وقوله صلى الله عليه وسلم:

"من حج فلم يرفث ولم يفسق رجع من ذنوبه كيوم ولدته أمه"، فإنه إن فعل ذلك كان حجه مبرورا ورسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:

"الحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة" 1. فلا بد من التحذير مما ابتلي به بعضهم لجهلهم أو ضلالهم:

أ- الإشراك بالله تعالى فقد رأينا كثيرا منهم يقعون في الشرك كالاستغاثة بغير الله والاستعانة بالأموات من الأنبياء أو الصالحين ودعائهم من دون الله والحلف بهم تعظيما لهم فيبطلون بذلك حجهم، قال تعالى: {لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ} .

ب- تزين بعضهم بحلق اللحية فإنه فسق فيه مخالفات أربع مذكورة في "الأصل".

ج- تختم الرجال بالذهب فإنه حرام لا سيما ما كان منه من النوع الذي يسمى اليوم بـ"خاتم الخطبة"، فإن فيه أيضا تشبها بالنصارى.

ثانيا: على كل من أراد الحج ممن لم يسق الهدي2، أن ينوي

--------------------------------------------

1 أخرجه الشيخان وغيرهما من حديث أبي هريرة رضي الله عنه وهو مخرج في سلسلة الأحاديث الصحيحة رقم "1200" والإرواء "769".

2 كما هو شأن عامة الحجاج اليوم فإنه من النادر أن يسوق أحدهم هديه من الحل كما فعل النبي صلى الله عليه وسلم، فمن فعله فلا إنكار عليه أما من لم يسق الهدي وقرن أو أفرد فقد خالف فعله صلى الله عليه وسلم وأمره وإن رغم الناس كما قال ابن عباس. رواه مسلم "4 / 58" وأحمد "1 / 278 و342".
‌‌হজের প্রাক্কালে কিছু উপদেশ:

নিচে আমাদের হজযাত্রী ভাইদের জন্য হজের প্রাক্কালে কিছু উপদেশ ও উপকারিতা পেশ করছি:

প্রথমত: হজযাত্রীর উচিত তার প্রতিপালকের তাকওয়া অবলম্বন করা এবং নিজের সাধ্যমতো আল্লাহ যা হারাম করেছেন তাতে লিপ্ত না হওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা। মহান আল্লাহর বাণী: {হজ হয় কতিপয় নির্দিষ্ট মাসে। সুতরাং যে এই মাসগুলোতে নিজের ওপর হজ অবধারিত করে নেয়, সে যেন হজের সময় কোনো অশ্লীলতা, কোনো পাপাচার এবং কোনো ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত না হয়।} আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী:

"যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করল এবং তাতে কোনো অশ্লীলতা ও পাপাচার করল না, সে তার গুনাহসমূহ থেকে এমনভাবে ফিরে আসবে যেন আজই তার মা তাকে প্রসব করেছেন।" যদি সে এমনটি করতে পারে, তবে তার হজ কবুলকৃত হবে। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

"কবুলকৃত হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।" ১। সুতরাং কতিপয় হজযাত্রী তাদের অজ্ঞতা বা ভ্রষ্টতার কারণে যেসব বিষয়ে লিপ্ত হন, সে ব্যাপারে সতর্ক করা আবশ্যক:

ক- আল্লাহর সাথে শিরক করা: আমরা তাদের অনেককেই শিরকের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোতে লিপ্ত হতে দেখেছি, যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে ফরিয়াদ জানানো, মৃত নবী বা নেককার ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের কাছে দোয়া করা এবং তাদের সম্মানে তাদের নামে কসম করা। এর মাধ্যমে তারা তাদের হজ বাতিল করে ফেলেন। মহান আল্লাহ বলেন: {যদি তুমি শিরক কর, তবে তোমার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যাবে।}।

খ- কারো কারো দাড়ি মুণ্ডন করে সৌন্দর্য অবলম্বন করা: এটি একটি পাপাচার, যার মধ্যে চারটি লঙ্ঘন বিদ্যমান যা "আল-আসল" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

গ- পুরুষদের স্বর্ণের আংটি পরিধান করা: এটি হারাম, বিশেষ করে বর্তমানে যাকে "বাগদানের আংটি" বলা হয়; কারণ এতে খ্রিস্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা হয়।

দ্বিতীয়ত: হজের ইচ্ছা পোষণকারী যে ব্যক্তি সাথে করে হাদি বা কোরবানির পশু নিয়ে আসেনি, তার নিয়ত করা উচিত...

--------------------------------------------

১ এটি উভয় শাইখ (আল-বুখারি ও মুসলিম) এবং অন্যান্যরা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা, নম্বর ১২০০ এবং আল-ইরওয়া, নম্বর ৭৬৯-এ সংকলিত (مخرج) হয়েছে।

২ যেমনটি বর্তমানে সাধারণ হজযাত্রীদের অবস্থা; কেননা বর্তমানে হিল (হারাম এলাকার বাইরের স্থান) থেকে সাথে করে হাদি বা কোরবানির পশু নিয়ে আসা বিরল, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন। সুতরাং কেউ যদি তা করে তবে তার ওপর কোনো আপত্তি নেই। তবে যে ব্যক্তি সাথে পশু আনেনি, অথচ কিরান বা ইফরাদ হজ পালন করছে, তার এই কাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল ও আদেশের পরিপন্থী হবে, যদিও মানুষ তা অপছন্দ করুক—যেমনটি ইবনে আব্বাস বলেছেন। এটি মুসলিম (৪ / ৫৮) এবং আহমাদ (১ / ২৭৮ ও ৩৪২) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
حج التمتع لأمر النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه به آخر الأمر ولغضبه على أصحابه الذين لم يبادروا إلى امتثال أمره بفسخ الحج إلى العمرة ولقوله:

"دخلت العمرة في الحج إلى يوم القيامة". ولما قال له بعض الصحابة: أرأيت متعتنا هذه لعامنا هذا أم للأبد؟ شبك النبي صلى الله عليه وسلم أصابعه واحدة في أخرى وقال:

"دخلت العمرة في الحج إلى يوم القيامة لا بل لأبد أبد لا بل لأبد أبد" 1. من أجل ذلك أمر صلى الله عليه وسلم السيدة فاطمة وأزواجه رضي الله عنهن جميعا بالتحلل بعد عمرة الحج ولذلك كان ابن عباس يقول:

"من طاف بالبيت فقد حل، سنة نبيكم وإن رغمتم" 2 فعلى كل من لم يسق الهدي أن يلبي بالعمرة في أشهر الحج الثلاثة فمن لبى بالحج مفردا أوقارنا ثم بلغه أمر الرسول صلى الله عليه وسلم بالفسخ فينبغي أن يبادر إليه ولو بعد قدوم مكة وطوافه بين الصفا والمروة فيتحلل ثم يلبي بالحج يوم التروية يوم الثامن. {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ} 3.

ثالثا: إياك أن تدع البيات في منى ليلة عرفة، فإنه واجب فعله رسول الله صلى الله عليه وسلم وأمر به في قوله:

"خذوا عني مناسككم … ".

--------------------------------------------

1 أنظر صحيح أبي داود "1568 و1571".

2 وسنده في ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: إن الله قد أدخل في حجكم هذا عمرة فإذا قدمتم فمن تطوف بالبيت وبين الصفا والمروة فقد حل إلا من كان معه هدي "صحيح أبي داود 1573 و1580".

3 ولا ينافي ذلك ما روي عن عمر وغيره مما يدل على أن الحج المفرد أفضل كما ذكرته في الأصل. ثم رأيت شيخ الإسلام ابن تيمية يتأول ذلك بأنه أراد إفراد العمرة في سفرة والحج في سفرة فراجعه في المجلد 26 من مجموع الفتاوى فإنه مهم.
হজ্জে তামাত্তু (حج التمتع) উত্তম হওয়ার কারণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনের শেষ দিকে সাহাবীগণকে এর নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সেই সব সাহাবীদের ওপর রাগান্বিত হয়েছিলেন যারা হজ্জকে উমরাতে রূপান্তর (فسخ الحج إلى العمرة) করার মাধ্যমে তাঁর আদেশ পালনে ত্বরান্বিত হননি। এবং তাঁর এই বাণীর কারণে:

"কিয়ামত পর্যন্ত উমরা হজ্জের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছে।" যখন কিছু সাহাবী তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কি মনে করেন আমাদের এই তামাত্তু (متعة) কি কেবল এই বছরের জন্য নাকি চিরস্থায়ী? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক হাতের আঙ্গুল অন্য হাতের আঙ্গুলের মধ্যে প্রবেশ করালেন এবং বললেন:

"কিয়ামত পর্যন্ত উমরা হজ্জের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছে; না, বরং চিরকালের জন্য, না, বরং চিরকালের জন্য।" ১। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাইয়িদা ফাতিমা এবং তাঁর সকল সহধর্মিণীগণকে (রা.) হজ্জের উমরা পালনের পর ইহরাম ত্যাগ করে হালাল হওয়ার (تحلل) নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর এই কারণেই ইবনে আব্বাস (রা.) বলতেন:

"যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করল সে হালাল হয়ে গেল; এটি তোমাদের নবীর সুন্নাত, যদিও তোমরা তা অপছন্দ করো।" ২। সুতরাং যার সাথে কোরবানির পশু (هدي) নেই, তার উচিত হজ্জের মাসগুলোতে উমরার ইহরাম বাঁধা। আর যে ব্যক্তি হজ্জে ইফরাদ (مفرد) অথবা হজ্জে কিরান (قارن) এর নিয়ত করেছে, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজ্জ বাতিলের (فسخ) আদেশ সম্পর্কে জানতে পেরেছে, তবে তার উচিত দ্রুত তা পালন করা। এমনকি মক্কায় আসার পর এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পরও সে হালাল (تحلل) হয়ে যাবে, অতঃপর জিলহজ মাসের অষ্টম দিন অর্থাৎ তারবিয়ার দিনে পুনরায় হজ্জের ইহরাম বাঁধবে। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আহ্বানে সাড়া দাও, যখন তিনি তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদের জীবন দান করে} ৩।

তৃতীয়ত: আরাফার রাতে মিনায় রাত যাপন করা পরিহার করা থেকে সতর্ক থাকো। কারণ এটি একটি ওয়াজিব (واجب), যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে করেছেন এবং নির্দেশ দিয়ে বলেছেন:

"তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজ্জের নিয়মাবলী (مناسك) শিখে নাও..."।

--------------------------------------------

১ দেখুন সহীহ আবু দাউদ "১৫৬৮ ও ১৫৭১"।

২ এ বিষয়ে তাঁর প্রমাণ (سند) হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের এই হজ্জের মধ্যে উমরাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুতরাং তোমরা যখন আসবে, তখন যারা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার সাঈ করবে তারা হালাল হয়ে যাবে, তবে যার সাথে কোরবানির পশু (هدي) আছে সে ব্যতীত। "সহীহ আবু দাউদ ১৫৭৩ ও ১৫৮০"।

৩ উমর (রা.) ও অন্যদের থেকে বর্ণিত হজ্জে ইফরাদ (مفرد) উত্তম হওয়ার বর্ণনার সাথে এটি সাংঘর্ষিক নয়, যেমনটি আমি মূল গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। অতঃপর আমি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ-কে এটি ব্যাখ্যা করতে দেখেছি যে, তিনি মূলত এক সফরে উমরা এবং অন্য সফরে হজ্জ পৃথকভাবে পালন করাকে উদ্দেশ্য করেছেন। তাই মাজমুউল ফাতাওয়া-এর ২৬তম খণ্ডটি দেখে নিন, কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وعليك البيات أيضا في المزدلفة حتى تصلي الصبح فإن فاتك البيات فلا يفوتك أداء الصلاة فيها فإنه واجب منه بل هو ركن من أركان الحج على القول الأرجح عند المحققين من العلماء إلا للنساء والضعفة. فإنه يجوز لهم الانصراف بعد نصف الليل كما سيأتي.

رابعا: واحذر ما استطعت أن تمر بين يدي أحد من المصلين في المسجد الحرام فضلا عن غيره من المساجد وغيرها لقوله صلى الله عليه وسلم:

"لو يعلم المار بين يدي المصلي ماذا عليه لكان أن يقف أربعين خيرا له من أن يمر بين يديه".

فهذا نص عام يشمل كل مار ومصل ولم يصح حديث استثناء المار في المسجد الحرام وعليك أن تصلي فيه كغيره إلى سترة لعموم الأحاديث الواردة في ذلك وفيه آثار خاصة عن بعض الصحابة مذكورة في "الأصل".

خامسا: على أهل العلم والفضل أن يعلموا الحجاج حيثما التقوا بهم مناسك الحج وأحكامه وفق الكتاب والسنة وأن لا يشغلهم ذلك عن الدعوة إلى التوحيد الذي هو أصل الإسلام ومن أجله بعث الرسل وأنزلت الكتب فإن أكثر من لقيناهم حتى بعض من ينتمي إلى العلم وجدناهم في جهل بالغ بحقيقة توحيد الله وصفاته كما أنهم في غفلة تامة عن ضرورة رجوع المسلمين على اختلاف مذاهبهم وكثرة أحزابهم إلى توحيد كلمتهم وجمع صفوفهم على أساس الكتاب والسنة في العقائد والأحكام والمعاملات والأخلاق والسياسة والاقتصاد وغير ذلك من شؤون الحياة وأن يتذكروا أن أي صوت يرتفع وأي إصلاح يقوم على غير هذا الأصل القويم والصراط المستقيم فسوف لا يجني المسلمون منه إلا تفرقة وضعفا وخزيا وذلا والواقع أكبر شاهد على ذلك. والله المستعان.
আপনার ওপর মুজদালিফায় রাত যাপন করাও আবশ্যক যতক্ষণ না আপনি ফজরের সালাত আদায় করেন। যদি রাত যাপন করা আপনার ছুটেও যায়, তবে সেখানে সালাত আদায় করা যেন হাতছাড়া না হয়। কারণ এটি হজের একটি ওয়াজিব (واجب) অংশ, বরং গবেষক আলেমদের নিকট অধিকতর বিশুদ্ধ মত (القول الأرجح) অনুযায়ী এটি হজের অন্যতম রুকন (ركن), তবে নারী ও দুর্বলদের জন্য শিথিলযোগ্য। কেননা তাদের জন্য মধ্যরাতের পর চলে যাওয়া বৈধ, যেমনটি সামনে বর্ণিত হবে।

চতুর্থত: মসজিদুল হারামে কোনো মুসল্লির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা থেকে যথাসম্ভব সতর্ক থাকুন, অন্য মসজিদের কথা তো বলাই বাহুল্য। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী যদি জানত এতে কী পরিমাণ পাপ রয়েছে, তবে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ (দিন/মাস/বছর) দাঁড়িয়ে থাকা তার জন্য উত্তম হতো।"

এটি একটি সাধারণ (عام) দলীল যা প্রতিটি অতিক্রমকারী ও সালাত আদায়কারীকে অন্তর্ভুক্ত করে। মসজিদুল হারামে অতিক্রমকারীর জন্য ব্যতিক্রমধর্মী কোনো হাদিস সহিহ (صحيح) প্রমাণিত নয়। তাই এ সংক্রান্ত সাধারণ হাদিসসমূহের ব্যাপকতার ভিত্তিতে অন্যান্য স্থানের মতো সেখানেও আপনার সুতরাহ (سترة) সামনে রেখে সালাত আদায় করা উচিত। এ বিষয়ে কিছু সাহাবীর বিশেষ আছার (آثار) রয়েছে যা মূল গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

পঞ্চমত: আলেম ও গুণী ব্যক্তিবর্গের কর্তব্য হলো, হাজিদের সাথে যেখানেই দেখা হোক না কেন, তাদের কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী হজের নিয়মাবলী ও বিধানসমূহ শিক্ষা দেওয়া। তবে এটি যেন তাদের তাওহিদের দাওয়াত থেকে বিমুখ না করে, যা ইসলামের মূল ভিত্তি এবং যার জন্যই রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন ও কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ যাদের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে, এমনকি ইলমের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মাঝেও আমরা আল্লাহর তাওহিদ ও তাঁর সিফাত (صفات) সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা লক্ষ্য করেছি। তদ্রূপ তারা এ বিষয়েও সম্পূর্ণ গাফেল যে, মুসলমানদের বিভিন্ন মাযহাব ও দলের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আকিদাহ (عقائد), আহকাম (أحكام), মুয়ামালাত (معاملات), চরিত্র, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং কাতারবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু। তাদের মনে রাখা উচিত যে, এই মজবুত মূলনীতি ও সিরাতুম মুস্তাকিম (الصراط المستقيم) ব্যতীত অন্য কোনো ভিত্তির ওপর যদি কোনো আওয়াজ ওঠে বা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়, তবে মুসলমানরা তা থেকে বিভেদ, দুর্বলতা, লাঞ্ছনা ও অপমান ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে পারবে না। বর্তমান বাস্তবতা এর সবচেয়ে বড় সাক্ষী। আর আল্লাহই সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
ولا بأس من المجادلة بالتي هي أحسن حين الحاجة فإن الجدال المحظور في الحج إنما هو الجدال بالباطل المنهي عنه في غير الحج أيضا كالفسق المنهي عنه في الحج أيضا فهو غير الجدال المأمور به في مثل قوله تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} . ومع ذلك فإنه ينبغي على الداعية أن يلاحظ أنه إذا تبين له أنه لا جدوى من المجادلة مع المخالف لتعصبه لمذهبه أو رأيه وأنه إذا صابره في الجدال فلربما ترتب عليه ما لا يجوز أنه من الخير له حينئذ أن يدع الجدال معه لقوله صلى الله عليه وسلم:

"أنا زعيم ببيت في ربض الجنة لمن ترك المراء وإن كان محقا … " الحديث1.

--------------------------------------------

1 وهو حديث حسن وهو بتمامه في صحيح الجامع الصغير في الجزء الثاني رقم "1477" طبع المكتب الإسلامي.
প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উত্তম পন্থায় বিতর্ক করাতে কোনো দোষ নেই। কেননা হজের সময় যে বিতর্ক নিষিদ্ধ তা মূলত বাতিল বা অনর্থক বিতর্ক, যা হজ ব্যতীত অন্য সময়েও নিষিদ্ধ; যেমন পাপাচার, যা হজের সময়ও নিষিদ্ধ। সুতরাং এটি সেই নির্দেশিত বিতর্কের পর্যায়ভুক্ত নয় যা আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {তোমার রবের পথের দিকে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো অত্যন্ত উত্তম পন্থায়}। তা সত্ত্বেও একজন দাওয়াত প্রদানকারীর লক্ষ্য রাখা উচিত যে, যখন তার নিকট স্পষ্ট হয়ে যায় যে প্রতিপক্ষের সাথে তাদের মাযহাব বা মতামতের গোঁড়ামির কারণে বিতর্কে কোনো লাভ নেই এবং যদি সে বিতর্কে লিপ্ত থাকে তবে এমন কিছু বিষয় প্রকাশ পেতে পারে যা শরিয়তে অনুমোদনযোগ্য নয়, তখন তার জন্য বিতর্ক বর্জন করাই কল্যাণকর। কেননা রাসূলুল্লাহ সালلة আল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"আমি জান্নাতের পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি গৃহের যামিন হচ্ছি সেই ব্যক্তির জন্য, যে সত্যের ওপর থাকা সত্ত্বেও ঝগড়া-বিবাদ ত্যাগ করে … " — হাদিসের অবশিষ্টাংশ (الحديث) ১।

--------------------------------------------

১ এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস এবং এটি পূর্ণাঙ্গভাবে সহিহুল জামে আস-সগিরের দ্বিতীয় খণ্ডের ১৪৭৭ নম্বর হাদিসে রয়েছে, যা মাকতাব আল-ইসলামী কর্তৃক মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
لا حرج لا حرج

ومما ينبغي على الداعية أن يلتزمه التيسير على الناس عامة وعلى الحجاج خاصة لأن التيسير أصل من أصول الشريعة السمحة كما هو معلوم ما دام أنه لا نص على خلافه فإذا جاء النص لم يجز التيسير بالرأي. وهذا هو الموقف الوسط العدل الذي يجب على كل داعية أن يلتزمه ولا عبرة بعد ذلك بأقوال الناس واعتراضاتهم وقولهم: شدد أو سهل؟.

وثمة أمور جائزة اعتاد بعض الحجاج أن يتحرجوا منها لفتاوى صدرت من بعضهم منافية للأصل المشار إليه آنفا رأيت التنبيه عليها:
কোনো সংকীর্ণতা নেই, কোনো সংকীর্ণতা নেই

একজন দায়ী (দ্বীনের আহ্বায়ক)-এর জন্য যে বিষয়টি মেনে চলা আবশ্যক তা হলো সাধারণভাবে মানুষের জন্য এবং বিশেষভাবে হাজীদের জন্য বিষয়গুলোকে সহজ করা। কেননা এটি সুবিদিত যে, সহজীকরণ করা হলো মহানুভব শরীয়তের মূলনীতিসমূহের (أصول) একটি মৌলিক নীতি (أصل), যতক্ষণ পর্যন্ত এর বিপরীতে কোনো অকাট্য দলীল (نص) না থাকে। সুতরাং যখন কোনো অকাট্য দলীল (نص) পাওয়া যায়, তখন ব্যক্তিগত মতের (رأي) ভিত্তিতে সহজ করার কোনো অবকাশ থাকে না। আর এটিই হলো সেই ইনসাফপূর্ণ মধ্যমপন্থা যা প্রত্যেক দায়ী বা আহ্বায়কের অনুসরণ করা কর্তব্য। এরপর মানুষের কথাবার্তা, তাদের আপত্তি কিংবা তাদের এই মন্তব্যের কোনো গুরুত্ব নেই যে: "তিনি কি কঠোরতা করলেন নাকি শিথিল করলেন?"

এমন কিছু বৈধ (جائز) বিষয় রয়েছে যেগুলোর ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে উল্লেখিত মূলনীতির (أصل) পরিপন্থী কিছু ফতোয়া প্রদান করার কারণে অনেক হাজী সেগুলোতে লিপ্ত হতে দ্বিধা-সংকোচ বোধ করেন; আমি সেই বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা সমীচীন মনে করছি:
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
1- الاغتسال لغير احتلام ولو بدلك الرأس لثبوت ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم في "الصحيحين" وغيرهما من حديث أبي أيوب رضي الله عنه1.

2- حك الرأس ولو سقط منه بعض الشعر لحديث أبي أيوب الذي أشرت إليه آنفا، وبه قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى.

3- الاحتجام ولو بحلق الشعر مكان الحجم لاحتجامه صلى الله عليه وسلم وسط رأسه وهو محرم ولا يمكن ذلك إلا مع حلق الشعر وهو قول ابن تيمية أيضا وبه قالت الحنابلة لكنهم أوجبوا عليه الفدية ولا دليل لهم بل هو مردود باحتجامه صلى الله عليه وسلم، فإنه لو فدى لنقله عنه الراوي فاقتصاره على ذكر احتجامه دون الفدية دليل على أنه لم تقع منه فدية فالصواب قول ابن تيمية رحمه الله تعالى.

4- شم الريحان وطرح الظفر إذا انكسر وفي ذلك آثار مذكورة في "الأصل".

5- الاستظلال بالخيمة أو بثوب مرفوع لثبوت ذلك عنه صلى الله عليه وسلم. ونحوه الاستظلال بالمحمل قديما وبالمظلة "الشمسية"، والسيارة ولومن داخلها حديثا وإيجاب الفدية على ذلك تشدد لا دليل عليه بل النظر السليم لا يفرق بين الاستظلال بالخيمة الثابت في السنة والاستظلال بالمحمل وما في معناه وهو رواية عن الإمام أحمد كما في منار السبيل "1/ 246". فما تفعله بعض الطوائف من إزالة سقف السيارة تنطع في الدين لم يأذن به رب العالمين.

6- شد المنطقة والحزام على الإزار، وعقده عند الحاجة والتختم كما جاء في بعض الآثار. ومثله وضع ساعة اليد والنظارة ومحفظة النقود على العنق.

كل هذه الأمور داخلة تحت الأصل المذكور مع تأيد بعضها بأحاديث مرفوعة وآثار موقوفة والله عز وجل يقول: {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} . والحمد لله رب العالمين.

--------------------------------------------

1 وهو في الأصل بتمامه "ص 28" وقد خرجته في "إرواء الغليل" برقم "1019" وصحيح أبي داود "1613".
1- স্বপ্নদোষ ব্যতীত গোসল করা, যদিও তা মাথা ঘষে হয়; কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি সাব্যস্ত (ثبوت) হওয়ার বিষয়টি আবু আইয়ুব রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস থেকে 'সহিহাইন' এবং অন্যান্য কিতাবে প্রমাণিত হয়েছে।১

2- মাথা চুলকানো, যদিও এর ফলে কিছু চুল পড়ে যায়; আবু আইয়ুব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই হাদিসের কারণে যার দিকে আমি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ তাআলাও এই মত পোষণ করেছেন।

3- শিঙা লাগানো, যদিও শিঙা লাগানোর স্থানে চুল মুণ্ডন করতে হয়; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মাথার মাঝখানে শিঙা লাগিয়েছিলেন এবং চুল মুণ্ডন করা ব্যতীত তা সম্ভব ছিল না। এটি ইবনে তাইমিয়ারও অভিমত এবং হাম্বলিগণও এমনটি বলেছেন, তবে তারা এতে ফিদয়া ওয়াজিব করেছেন। কিন্তু তাদের সপক্ষে কোনো দলিল নেই, বরং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিঙা লাগানোর আমল দ্বারা প্রত্যাখ্যাত (مردود)। কেননা তিনি যদি ফিদয়া দিতেন, তবে বর্ণনাকারী (راوي) অবশ্যই তা বর্ণনা করতেন। বর্ণনাকারীর কেবল শিঙা লাগানোর কথা উল্লেখ করা এবং ফিদয়ার কথা উল্লেখ না করা একথারই প্রমাণ যে, তাঁর পক্ষ থেকে কোনো ফিদয়া প্রদান করা হয়নি। সুতরাং ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ তাআলার অভিমতটিই সঠিক।

4- সুগন্ধি ফুলের ঘ্রাণ নেওয়া এবং নখ ভেঙে গেলে তা ফেলে দেওয়া। এ বিষয়ে মূল কিতাবে বিভিন্ন আসার (آثار) বর্ণিত হয়েছে।

5- তাবু অথবা ঝুলানো কাপড়ের মাধ্যমে ছায়া গ্রহণ করা; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি সাব্যস্ত (ثبوت) হয়েছে। একইভাবে প্রাচীনকালের হাওদা এবং বর্তমান সময়ের ছাতা ও গাড়ির ভেতর থেকে ছায়া গ্রহণ করাও এর অন্তর্ভুক্ত। এর ওপর ফিদয়া ওয়াজিব করা একটি কঠোরতা যার কোনো দলিল নেই। বরং সঠিক বিচার-বুদ্ধি সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত (ثابت) তাবুর ছায়া এবং হাওদা বা এই জাতীয় জিনিসের ছায়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা (رواية) এভাবেই বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি 'মানারুস সাবিল' (১/২৪৬) গ্রন্থে উল্লেখ আছে। সুতরাং কিছু দল গাড়ির ছাদ অপসারন করে যা করে, তা দ্বীনের মধ্যে চরমপন্থা ছাড়া আর কিছুই নয়, যার অনুমতি রাব্বুল আলামীন দেননি।

6- তহবন্দের ওপর কোমরবন্ধনী বা বেল্ট বাঁধা এবং প্রয়োজনে তাতে গিঁট দেওয়া, আর আংটি পরিধান করা যেমনটি কিছু আসার (آثار)-এ বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে হাতঘড়ি ও চশমা ব্যবহার এবং ঘাড়ের সাথে মানিব্যাগ ঝুলিয়ে রাখাও এর অন্তর্ভুক্ত।

এই সকল বিষয় উল্লিখিত মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত, যার অনেকগুলো মারফু (مرفوع) হাদিসসমূহ এবং মাওকুফ (موقوف) আসার (آثار) দ্বারা সমর্থিত। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেন: "আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কঠিনতা চান না।" আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

--------------------------------------------

১ এটি মূল কিতাবের ২৮ পৃষ্ঠায় পূর্ণাঙ্গভাবে রয়েছে। আমি এটি 'ইরওয়াউল গালীল' (১০১৯ নং) এবং 'সহিহ আবু দাউদ' (১৬১৩ নং) গ্রন্থে তাখরিজ (تخريج) করেছি।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌بين يدي الإحرام

1- يستحب لمن عزم على الحج أو العمرة المفردة أن يغتسل للإحرام ولو كانت حائضا أو نفساء.

2- ثم يلبس الرجل ما شاء من الألبسة التي لم تفصل على قدر الأعضاء وهي المسماة عند الفقهاء ب "غير المخيط" فيلبس الإزار والرداء ونحوهما والنعلين وهما كل ما يلبس على الرجلين لوقايتهما مما لا يستر الكعبين.

3- ولا يلبس القلنسوة والعمامة ونحوهما مما يستر الرأس مباشرة. هذا للرجل.

وأما المرأة فلا تنزع شيئا من لباسها المشروع إلا أنها لا تشد على وجهها النقاب1 والبرقع أو اللثام أو المنديل ولا تلبس القفازين2 وقد قال صلى الله عليه وسلم:

"لا يلبس المحرم القميص ولا العمامة ولا البرنس ولا السراويل ولا ثوبا مسه ورس ولا زعفران ولا الخفين إلا أن

--------------------------------------------

1 هو القناع على مازن الأنف وهو على وجوه: إذا أدنت المرأة نقابها إلى عينها فتلك الوصوصة، أو البرقع فإن أنزلته إلى المحجر فهو النقاب فإن كان على طرف الأنف فهو اللكفام. وسمي نقاب المرأة لأنه يستر نقابها أي لونها بلون النقاب. انتهى ملخصا من لسان العرب "2 / 265 266".

2 قال شيخ الإسلام ابن تيمية في منسكه "ص 365": "والقفازات غلاف يصنع لليد كما يفعله حملة البزاة. والبزاة جمع باز. وهونوع من الصقور يستخدم في الصيد.
‌‌ইহরামের প্রাক্কালে

১- যে ব্যক্তি হজ বা একক উমরাহ পালনের সংকল্প করেন, তার জন্য ইহরামের উদ্দেশ্যে গোসল করা মুস্তাহাব; যদিও তিনি ঋতুবতী বা নিফাসগ্রস্ত অবস্থায় থাকেন।

২- অতঃপর পুরুষ তার পছন্দমতো এমন পোশাক পরিধান করবেন যা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আকৃতি অনুযায়ী তৈরি করা হয়নি, যাকে ফকিহগণ ‘সেলাইবিহীন’ বলে অভিহিত করেন। সুতরাং তিনি লুঙ্গি, চাদর ও এই জাতীয় পরিধেয় এবং এক জোড়া জুতা পরিধান করবেন। জুতা বলতে এমন সব পাদুকাকে বোঝায় যা পায়ের সুরক্ষার জন্য পরিধান করা হয় এবং যা টাখনুদ্বয়কে আবৃত করে না।

৩- আর তিনি টুপি, পাগড়ি এবং এই জাতীয় কোনো বস্তু পরিধান করবেন না যা সরাসরি মাথা ঢেকে ফেলে। এটি পুরুষের জন্য।

আর নারীর ক্ষেত্রে কথা হলো, তিনি তার শরয়ি পোশাকের কোনো কিছুই ত্যাগ করবেন না; তবে তিনি তার মুখে নিকাব, বোরকা, নেকাব বা রুমাল বাঁধবেন না এবং হাতমোজা পরিধান করবেন না। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"মুহরিম ব্যক্তি কামিজ, পাগড়ি, টুপিযুক্ত লম্বা আলখাল্লা, পায়জামা পরিধান করবে না এবং এমন কোনো কাপড় পরিধান করবে না যাতে ওয়ারাস বা জাফরানের স্পর্শ লেগেছে, আর মোজা পরিধান করবে না; তবে যদি..."

--------------------------------------------

১ এটি নাকের বাঁশির ওপরের আবরণ এবং এর বিভিন্ন রূপ রয়েছে: নারী যদি তার নিকাব চোখের কাছাকাছি নিয়ে আসে তবে তা ‘ওয়াসওয়াসাহ’, অথবা বোরকা; আর যদি তা চোখের কোটর পর্যন্ত নামিয়ে আনে তবে তা হলো ‘নিকাব’; আর যদি নাকের অগ্রভাগ পর্যন্ত হয় তবে তা ‘লাফাম’। নারীর এই আবরণকে নিকাব বলা হয় কারণ এটি তার ‘নিকাব’ অর্থাৎ গায়ের রঙকে আবৃত করে ফেলে। ‘লিসানুল আরব’ (২/২৬৫-২৬৬) এর সারসংক্ষেপ।

২ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়য়াহ তার ‘মানাসিক’ (পৃ. ৩৬৫) গ্রন্থে বলেন: "হাতমোজা হলো হাতের জন্য তৈরি একটি আবরণ, যেমনটি বাজপাখি পালনকারীরা করে থাকে। আর ‘বুজাত’ হলো ‘বাজ’-এর বহুবচন, যা শিকারের জন্য ব্যবহৃত এক প্রকার শিকরা পাখি।"
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
لا يجد نعلين [فيلبس الخفين] 1. وقال:

"لا تنتقب المرأة المحرمة ولا تلبس القفازين" 2.

ويجوز للمرأة أن تستر وجهها بشيء كالخمار أو الجلباب تلقيه على رأسها وتسدله على وجهها وإن كان يمس الوجه على الصحيح ولكنها لا تشده عليها كما قال ابن تيمية رحمه الله تعالى.

4- وله أن يلبس الإحرام قبل الميقات ولوفي بيته كما فعله رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه. وفي هذا تيسير على الذين يحجون بالطائرة ولا يمكنهم لبس الإحرام عند الميقات فيجوز لهم أن يصعدوا الطائرة في لباس الإحرام ولكنهم لا يحرمون إلا قبل الميقات بيسير حتى لا يفوتهم الميقات وهم غير محرمين.

5- وأن يدهن ويتطيب في بدنه بأي طيب شاء له رائحة ولا لون له إلا النساء. فطيبهن ما له لون ولا رائحة له وهذا كله قبل أن ينوي الإحرام عند الميقات وأما بعده فحرام.

الإحرام ونيته:

6- فإذا جاء ميقاته وجب عليه أن يحرم ولا يكون ذلك بمجرد ما في قلبه من قصد الحج ونيته فإن القصد ما زال في القلب منذ خرج من بلده بل لا بد من قول أو عمل يصير به محرما فإذا لبى قاصدا للإحرام انعقد إحرامه اتفاقا.

7- ولا يقول بلسانه شيئا بين يدي التلبية مثل قولهم:

--------------------------------------------

1 قال شيخ الإسلام ابن تيمية في منسكه: "وليس عليه أن يقطعهما دون الكعبين فإن النبي صلى الله عليه وسلم أمر بالقطع أولا ثم رخص بعد ذلك في عرفات في لبس السراويل لمن لم يجد إزارا ورخص في لبس الخفين لمن لم يجد نعلين هذا أصح قولي العلماء".

2 متفق عليه صحيح أبي داود "1600".
যদি সে জুতো না পায় [তবে সে মোজা (খুফফাইন) পরিধান করবে] ১। এবং তিনি (সা.) বলেছেন:

"ইহরাম অবস্থায় নারী নেকাব পরিধান করবে না এবং হাতমোজা পরিধান করবে না" ২।

এবং নারীর জন্য ওড়না বা জিলবাব জাতীয় কোনো বস্তু দ্বারা তার মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা বৈধ, যা সে তার মাথার ওপর থেকে ছেড়ে দেবে এবং তা তার মুখমণ্ডলের ওপর ঝুলে থাকবে; যদিও সঠিক (صحيح) মত অনুযায়ী তা মুখমণ্ডল স্পর্শ করে, তবুও সে তা মুখমণ্ডলের সাথে শক্ত করে বেঁধে রাখবে না, যেমনটি ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন।

৪- এবং তার জন্য মিকাতে পৌঁছানোর পূর্বেই ইহরামের পোশাক পরিধান করা বৈধ, এমনকি তা নিজ বাড়িতে হলেও; যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবীগণ করেছিলেন। এতে বিমানে ভ্রমণকারী হাজীদের জন্য সহজতা রয়েছে যাদের জন্য মিকাতের স্থানে ইহরামের পোশাক পরা সম্ভব হয় না। সুতরাং তাদের জন্য ইহরামের পোশাকে বিমানে আরোহণ করা জায়েজ, তবে তারা মিকাতের সামান্য আগে ছাড়া ইহরামের নিয়ত করবে না, যাতে মিকাত অতিক্রম করার সময় তারা ইহরাম বিহীন অবস্থায় না থাকে।

৫- এবং সে তার শরীরে নিজের ইচ্ছামতো এমন সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারে যার ঘ্রাণ আছে কিন্তু রঙ নেই। তবে নারীদের বিষয়টি ভিন্ন; তাদের সুগন্ধি হবে এমন যার রঙ আছে কিন্তু ঘ্রাণ নেই। আর এ সব কিছুই মিকাতে ইহরামের নিয়ত করার আগে; আর নিয়ত করার পর তা হারাম।

ইহরাম এবং তার নিয়ত:

৬- অতঃপর যখন সে মিকাতে পৌঁছাবে, তখন তার ওপর ইহরাম করা ওয়াজিব হবে। আর তা কেবল হজের সংকল্প ও নিয়ত যা অন্তরে থাকে তার দ্বারা সম্পন্ন হবে না; কারণ নিজ দেশ থেকে বের হওয়ার সময় থেকেই তো অন্তরে সেই সংকল্প বিদ্যমান থাকে। বরং এমন কোনো কথা বা কাজের প্রয়োজন যার মাধ্যমে সে মুহরিম হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং সে যখন ইহরামের উদ্দেশ্যে তালবিয়াহ পাঠ করবে, তখন সর্বসম্মত (اتفاقا) ভাবেই তার ইহরাম শুরু হয়ে যাবে।

৭- এবং সে তালবিয়াহ পাঠ করার আগে মুখে কিছু উচ্চারণ করবে না, যেমন তাদের বক্তব্য:

--------------------------------------------

১ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর মানাসিক গ্রন্থে বলেছেন: "আর তার ওপর মোজা দুটি টাখনুর নিচ থেকে কেটে ফেলা আবশ্যক নয়। কারণ নবী (সা.) প্রথমে কাটার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এরপর আরাফাতে অবস্থানকালে যে ব্যক্তি লুঙ্গি পাবে না তার জন্য পায়জামা পরার এবং যে ব্যক্তি জুতো পাবে না তার জন্য মোজা পরার অনুমতি (رخصة) দিয়েছিলেন। এটিই আলেমদের দুটি মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মত।"

২ সর্বসম্মত (متفق عليه), সহিহ আবু দাউদ "১৬০০"।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
اللهم إني أريد الحج أو العمرة فيسره لي وتقبله مني … لعدم وروده عن النبي صلى الله عليه وسلم، وهذا مثل التلفظ بالنية في الطهارة والصلاة والصيام فكل ذلك من محدثات الأمور ومن المعلوم قوله صلى الله عليه وسلم:

" … فإن كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار".
হে আল্লাহ! আমি হজ অথবা উমরার সংকল্প করছি, সুতরাং আপনি তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন … নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর কোনো বর্ণনা (ورود) না থাকার কারণে; আর এটি পবিত্রতা, সালাত এবং সিয়ামের ক্ষেত্রে মুখে নিয়ত উচ্চারণের মতোই। কেননা এগুলোর প্রতিটিই নবউদ্ভাবিত বিষয় (محدثات الأمور) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি সুবিদিত:

" … নিশ্চয়ই প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা (ضلالة), এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।"
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌المواقيت:

8- والمواقيت خمسة: ذو الحليفة والجحفة وقرن المنازل ويلملم وذات عرق هن لأهلن ولمن مر عليهن من غير أهلهن ممن يريد الحج أو العمرة ومن كان منزله دونهن فمهله من منزله حتى أهل مكة يهلون من مكة.

و"ذو الحليفة" مهل أهل المدينة وهي قرية تبعد عنها ستة أميال أو سبعة وهي أبعد المواقيت عن مكة بينهما عشر مراحل أو أقل أو أكثر بحسب اختلاف الطرق فإن منها إلى مكة عدة طرق كما قال شيخ الإسلام ابن تيمية وتسمى وادي العقيق ومسجدها يسمى مسجد الشجرة وفيها بئر تسميها جهال العامة: بئر علي لظنهم أن عليا قاتل الجن بها وهو كذب.

"والجحفة" قرية بينها وبين مكة نحو ثلاث مراحل وهي ميقات أهل الشام ومصر وأهل المدينة أيضا إذا اجتازوا من الطريق الآخر قال ابن تيمية:

هي ميقات من حج من ناحية المغرب كأهل الشام ومصر وسائر المغرب وهي اليوم خراب ولهذا صار الناس يحرمون قبلها من المكان الذي يسمى "رابغا".

و"قرن المنازل" ويسمى قرن الثعالب تلقاء مكة على يوم وليلة وهو ميقات أهل نجد.

و"يلملم" موضع على ليلتين من مكة بينهما ثلاثون ميلا وهو ميقات أهل اليمن.

و"ذات عرق" مكان بالبادية وهو الحد الفاصل بين نجد وتهامة بينه وبين مكة اثنان وأربعون ميلا وهو ميقات أهل العراق.
‌‌মীকাতসমূহ (المواقيت):

৮- মীকাত (المواقيت) পাঁচটি: যুল হুলাইফাহ, আল-জুহফাহ, কারনুল মানাজিল, ইয়ালামলাম এবং যাতু ইর্ক। এগুলো ঐসব অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য এবং যারা হজ্জ (حج) বা উমরাহ (عمرة) করার উদ্দেশ্যে ঐ পথ দিয়ে অতিক্রম করবে তাদের জন্য। আর যারা এই মীকাতগুলোর সীমানার ভেতরে বসবাস করে, তাদের ইহরামের স্থান (مهل) হলো তাদের নিজ নিজ আবাসস্থল; এমনকি মক্কাবাসীরা মক্কা থেকেই ইহরাম (إهلال) বাঁধবে।

“যুল হুলাইফাহ” হলো মদিনাবাসীদের ইহরামের স্থান (مهل)। এটি মদিনা থেকে ছয় বা সাত মাইল দূরে অবস্থিত একটি গ্রাম। এটি মক্কা থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী মীকাত (المواقيت)। এই দুই স্থানের দূরত্ব রাস্তার ভিন্নতা অনুযায়ী দশ মঞ্জিল (مراحل) বা তার কিছু কম-বেশি। কেননা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ যেমনটি বলেছেন, মদিনা থেকে মক্কায় যাওয়ার বেশ কয়েকটি পথ রয়েছে। একে ওয়াদিয়ে আকীক বলা হয় এবং এর মসজিদকে মাসজিদুশ শাজারা বলা হয়। সেখানে একটি কূপ রয়েছে যাকে অজ্ঞ সাধারণ মানুষ “বীরে আলী” (আলীর কূপ) বলে ডাকে; তাদের ধারণা যে, আলী (রা.) সেখানে জিনের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন, যা একটি মিথ্যা (كذب)।

“আল-জুহফাহ” মক্কা থেকে প্রায় তিন মঞ্জিল (مراحل) দূরের একটি গ্রাম। এটি সিরিয়া, মিসর এবং মদিনাবাসীদের মীকাত (ميقات), যদি তারা অন্য পথ দিয়ে অতিক্রম করে। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন:

এটি সিরিয়া, মিসর ও সমগ্র মাগরিবের বাসিন্দাদের মতো যারা পশ্চিম দিক থেকে হজ্জ (حج) করতে আসেন তাদের মীকাত (ميقات)। বর্তমানে এটি জনশূন্য ও পরিত্যক্ত, তাই মানুষ এখন এর পূর্বের “রাবেগ” নামক স্থান থেকে ইহরাম (إحرام) গ্রহণ করে।

“কারনুল মানাজিল” একে কারনুল সা’আলিব-ও বলা হয়। এটি মক্কার অভিমুখে একদিন ও একরাতের দূরত্বে অবস্থিত। এটি নজদবাসীদের মীকাত (ميقات)।

“ইয়ালামলাম” মক্কা থেকে দুই রাতের দূরত্বে অবস্থিত একটি স্থান, যার দূরত্ব তিরিশ মাইল। এটি ইয়েমেনবাসীদের মীকাত (ميقات)।

“যাতু ইর্ক” মরুভূমির (بادية) একটি স্থান, যা নজদ ও তিহামার মধ্যবর্তী সীমানা। মক্কা থেকে এর দূরত্ব বিয়াল্লিশ মাইল। এটি ইরাকবাসীদের মীকাত (ميقات)।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌أمره صلى الله عليه وسلم بالتمتع:

9- فإذا أراد الإحرام فإن كان قارنا قد ساق الهدي قال: لبيك اللهم بحجة وعمرة وإن لم يسق الهدي وهو الأفضل لبى بالعمرة وحدها ولا بد فقال: "لبيك اللهم بعمرة" فإن كان لبى بالحج وحده فسخه وجعله عمرة لأمر النبي صلى الله عليه وسلم بذلك وقوله:

"دخلت العمرة في الحج إلى يوم القيامة" وشبك صلى الله عليه وسلم بين أصابعه. وقوله:

"يا آل محمد من حج منكم فليهل بعمرة في حجة" 1. وهذا هو التمتع بالعمرة إلى الحج.

--------------------------------------------

1 انظر تخريجه في الأحاديث الصحيحة "2469".
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তামাত্তু (تمتع) করার নির্দেশ:

৯- অতঃপর যখন তিনি ইহরাম (إحرام) বাঁধার ইচ্ছা করবেন, তখন তিনি যদি কিরান (قران)কারী হন এবং সাথে পশুবলি (هدي) নিয়ে আসেন, তবে বলবেন: "লব্বাইকা আল্লাহুম্মা বি-হাজ্জাতিঁ ওয়া উমরাহ" (হে আল্লাহ, আমি হজ ও উমরার জন্য উপস্থিত)। আর যদি তিনি পশুবলি (هدي) সাথে না আনেন—যা অধিক উত্তম—তবে তিনি অবশ্যই শুধুমাত্র উমরার জন্য তালবিয়া (تلبية) পাঠ করবেন এবং বলবেন: "লব্বাইকা আল্লাহুম্মা বি-উমরাহ" (হে আল্লাহ, আমি উমরার জন্য উপস্থিত)। আর যদি তিনি কেবল হজের জন্য ইহরাম (إحরাম) করে থাকেন, তবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশ অনুযায়ী তিনি তা বাতিল (فسخ) করবেন এবং উমরায় রূপান্তরিত করবেন। এবং তাঁর বাণী:

"কিয়ামত দিবস পর্যন্ত উমরা হজের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছে" এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর আঙুলসমূহ পরস্পরের মাঝে প্রবিষ্ট করালেন। এবং তাঁর বাণী:

"হে মুহাম্মাদ-এর পরিবার! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজ করবে, সে যেন হজের ইহরামের সাথে উমরার ইহরামও (إحরাম) গ্রহণ করে।" ১। আর এটিই হলো হজের সাথে উমরার তামাত্তু (تمتع)।

--------------------------------------------

১ আল-আহাদিস আস-সহিহাহ "২৪৬৯"-এ এর হাদিসের উৎস অনুসন্ধান (تخريج) দেখুন।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الاشتراط:

10- وإن أحب قرن مع تلبيته الاشتراط على ربه تعالى خوفا من العارض من مرض أو خوف فيقول كما جاء في تعليم الرسول صلى الله عليه وسلم: "اللهم محلي حيث حبستني" 2، فإنه إن فعل ذلك فحبس أو مرض جاز له التحلل من حجة أو عمرته وليس عليه دم وحج من قابل إلا إذا كانت حجة الإسلام فلا بد من قضائها.

11- للإحرام صلاة تخصه لكن إن أدركته الصلاة قبل إحرامه، فصلى ثم أحرم عقب صلاته كان له أسوة برسول الله صلى الله عليه وسلم حيث أحرم بعد صلاة الظهر.

--------------------------------------------

2 متفق عليه. انظر صحيح أبي داود "1557".
শর্তারোপ (الاشتراط):

১০- আর তিনি চাইলে তাঁর তালবিয়াহ পাঠের সময় রোগ-ব্যাধি বা ভীতির মতো কোনো আকস্মিক প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কায় তাঁর মহান রবের নিকট শর্তারোপ (الاشتراط) করতে পারেন। এমতাবস্থায় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা অনুযায়ী বলবেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যেখানে আটকে দেবেন, সেখানেই আমার ইহরাম খোলার স্থান।" অতঃপর তিনি যদি এমনটি করেন এবং পরবর্তীতে কোনো প্রতিবন্ধকতা বা অসুস্থতার কারণে আটকে যান, তবে তাঁর জন্য হজ বা উমরা থেকে হালাল হওয়া (التحلل) বৈধ হবে। এক্ষেত্রে তাঁর ওপর কোনো দণ্ডমূলক কোরবানি (دم) আবশ্যক হবে না এবং পরবর্তী বছর হজ করাও জরুরি নয়; তবে সেই হজটি যদি ফরয হজ (حجة الإسلام) হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই তার কাযা (قضاء) আদায় করতে হবে।

১১- ইহরামের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সালাত নেই; তবে ইহরাম বাঁধার পূর্বে যদি সালাতের সময় উপস্থিত হয় এবং তিনি সালাত আদায়ের পর ইহরাম বাঁধেন, তবে এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ হবে, যেহেতু তিনি যোহরের সালাতের পর ইহরাম বেঁধেছিলেন।

--------------------------------------------

২. সর্বসম্মত (متفق عليه)। দেখুন: সহিহ আবু দাউদ "১৫৫৭"।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الصلاة بوادي العقيق:

12- من كان ميقاته ذا الحليفة استحب له أن يصلي فيها لا لخصوص الإحرام وإنما لخصوص المكان وبركته فقد روى البخاري عن عمر رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم بوادي العقيق يقول:

"أتاني الليلة آت من ربي فقال: صل في هذا الوادي المبارك وقل: عمرة في "وفي رواية: عمرة و" حجة".

وعن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم:

"أنه رئي "وفي رواية: أري" وهو معرس1 بذي الحليفة ببطن الوادي قيل له: إنك ببطحاء مباركة"2.

--------------------------------------------

1 من التعريس وهو نزول المسافر آخر الليل نزلة للنوم والاستراحة. نهاية.

2 صحيح أبي داود "1579". ومختصر صحيح البخاري بقلمي "رقم 761 762" يسر الله تمام طبعه. قال الحافظ في الفتح "3 / 311": "في الحديث فضل العقيق كفضل المدينة وفضل الصلاة فيه … "
আকিক উপত্যকায় সালাত আদায়:

১২- যার মিকাত যুল হুলাইফা, তার জন্য সেখানে সালাত আদায় করা মুস্তাহাব। এটি কেবল ইহরামের বিশেষত্বের জন্য নয়, বরং স্থানটির বিশেষত্ব ও বরকতের কারণে। কেননা ইমাম বুখারি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আকিক উপত্যকায় বলতে শুনেছি:

“আজ রাতে আমার রবের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক আমার নিকট এসে বললেন: এই বরকতময় উপত্যকায় সালাত আদায় করুন এবং বলুন: উমরাহ হজের অন্তর্ভুক্ত...” অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: “উমরাহ এবং হজ।”

ইবনে উমর (রা.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বর্ণিত যে:

“তাঁকে দেখা গিয়েছে (অন্য এক বর্ণনায়: তাঁকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে) যে তিনি যুল হুলাইফায় উপত্যকার গভীর অংশে শেষ রাতে বিশ্রামের জন্য যাত্রা বিরতি করছেন। তাঁকে বলা হলো: নিশ্চয়ই আপনি এক বরকতময় প্রান্তরে রয়েছেন।”

--------------------------------------------

১. এটি ‘াত-তা’রিস’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো মুসাফিরের রাতের শেষ ভাগে ঘুমানো ও বিশ্রামের উদ্দেশ্যে কোথাও অবতরণ করা। (নিহায়া)।

২. সহিহ আবু দাউদ (১৫৭৯)। এবং আমার সংকলিত মুখতাসার সহিহ বুখারি (নম্বর ৭৬১, ৭৬২), আল্লাহ এর মুদ্রণ সম্পন্ন করা সহজ করে দিন। হাফিজ (الحافظ) ফাতহুল বারীতে (৩/৩১১) বলেছেন: “হাদিসে মদিনার মর্যাদার ন্যায় আকিকের শ্রেষ্ঠত্ব এবং সেখানে সালাত আদায়ের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে … ”
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌التلبية ورفع الصوت بها:

13- ستقبل القبلة قائما3 ثم يلبي بالعمرة أو الحج والعمرة كما تقدم ويقول: اللهم هذه حجة لا رياء ولا سمعة4.

14- ويلبي بتلبية النبي صلى الله عليه وسلم:

أ- "لبيك اللهم لبيك، لبيك لا شريك لك لبيك إن الحمد والنعمة لك والملك لا شريك لك". وكان لا يزيد عليها.

--------------------------------------------

3 البخاري معلقا والبيهقي موصولا بسند صحيح.

4 رواه الضياء بسند صحيح.
তালবিয়াহ পাঠ করা এবং উচ্চস্বরে তা আদায় করা:

13- তিনি দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হবেন 3 এরপর উমরা অথবা হজ ও উমরার তালবিয়াহ পাঠ করবেন যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে এবং বলবেন: হে আল্লাহ! এটি এমন এক হজ যাতে কোনো লৌকিকতা নেই এবং যশের আকাঙ্ক্ষা নেই 4।

14- তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তালবিয়াহর মাধ্যমে তালবিয়াহ পাঠ করবেন:

ক- "লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক।" তিনি এর অতিরিক্ত কিছু পাঠ করতেন না।

--------------------------------------------

3. বুখারি এটি ঝুলন্ত (معلق) হিসেবে এবং বাইহাকি এটি সংযুক্ত (موصول) হিসেবে বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (سند) সহ বর্ণনা করেছেন।

4. আদ-দিয়া এটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (سند) সহ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ب- وكان من تلبيته صلى الله عليه وسلم: "لبيك إله الحق".

15- والتزام تلبيته صلى الله عليه وسلم أفضل وإن كانت الزيادة عليها جائزة لإقرار النبي صلى الله عليه وسلم الناس الذين كانوا يزيدون على تلبيته قولهم: "لبيك ذا المعارج، لبيك ذا الفواضل".

وكان ابن عمر يزيد فيها: "لبيك وسعديك، والخير بيديك، والرغباء إليك والعمل"1.

16- ويؤمر الملبي بأن يرفع صوته بالتلبية لقوله صلى الله عليه وسلم:

"أتاني جبريل فأمرني أن آمر أصحابي ومن معي أن يرفعوا أصواتهم بالتلبية" 2 وقوله:

"أفضل الحج العج والثج" 3 ولذلك كان أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم في حجته يصرخون بها صراخا ولذلك قال أبو حاز: إذا أحرموا لم يبلغوا "الروحاء" حتى تبح أصواتهم4 وقوله صلى الله عليه وسلم:

"كأني أنظر إلى موسى عليه السلام هابطا من الثنية له جوار إلى الله تعالى بالتلبية" 5.

17- والنساء في التلبية كالرجال لعموم الحديثين السابقين فيرفعن أصواتهن ما لم يخش الفتنة ولأن عائشة كانت ترفع صوتها حتى يسمعها الرجال فقال أبو عطية: سمعت عائشة تقول: إني لأعلم كيف

--------------------------------------------

1 متفق عليه. أنظر صحيح أبي داود "1590".

2 "رواه أصحاب السنن وغيرهم. أنظر صحيح أبي داود "1592"

3 حديث حسن صحيح الجامع الصغير وزيادته "1112". و "العج": رفع الصوت بالتلبية و "الثج": سيلان دماء الهدي والأضاحي.

4 رواه سعيد بن منصور كما في المحلى "7 / 94" بسند جيد ورواه ابن أبي شيبة بإسناد صحيح عن المطلب بن عبد الله كما في الفتح "3 / 324" وهو مرسل.

5 رواه مسلم أنظر الصحيحة "2023".
খ- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তালবিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল: "লাব্বাইকা ইলাহাল হাক্ক" (আমি উপস্থিত, হে সত্য ইলাহ)।

১৫- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তালবিয়া যথাযথভাবে আঁকড়ে থাকা উত্তম, যদিও এর সাথে অতিরিক্ত কিছু বৃদ্ধি করা বৈধ। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সমস্ত লোকদের কাজ অনুমোদন করেছিলেন যারা তাঁর তালবিয়ার সাথে "লাব্বাইকা যাল মাআরিজ, লাব্বাইকা যাল ফাওয়াযিল" শব্দগুলো বৃদ্ধি করত।

ইবনে উমর এতে আরও যোগ করতেন: "লাব্বাইকা ওয়া সা'দাইকা, ওয়াল খাইরু বিয়াদাইকা, ওয়ার রাগবা-উ ইলাইকা ওয়াল আমালু।"১

১৬- তালবিয়া পাঠকারীকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যেন সে তালবিয়া পাঠের সময় তার কণ্ঠস্বর উচ্চ করে, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"আমার নিকট জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আসলেন এবং আমাকে নির্দেশ দিলেন যেন আমি আমার সাহাবীগণ এবং আমার সাথে যারা আছে তাদেরকে তালবিয়া পাঠের সময় কণ্ঠস্বর উচ্চ করার নির্দেশ দিই।" ২ এবং তাঁর বাণী:

"সর্বোত্তম হজ হলো উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা (আল-আজ্জু) এবং কোরবানির পশুর রক্ত প্রবাহিত করা (আস-সাজ্জু)।" ৩ এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ তাঁর হজের সফরে অত্যন্ত উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করতেন। এ কারণেই আবু হাযিম বলেছেন: যখন তারা ইহরাম বাঁধতেন, তারা "রাওহা" নামক স্থানে পৌঁছানোর আগেই তাদের কণ্ঠস্বর ভেঙে যেত। ৪ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী:

"আমি যেন মূসা আলাইহিস সালাম-কে গিরিপথ থেকে অবতরণরত অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি, তিনি তালবিয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে উচ্চস্বরে ফরিয়াদ করছেন।" ৫

১৭- তালবিয়া পাঠের ক্ষেত্রে মহিলারাও পুরুষদের মতো, যেহেতু পূর্বোক্ত দুটি হাদিস সাধারণ। সুতরাং ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে তারাও তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চ করবেন। কারণ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করতেন যাতে পুরুষরা তা শুনতে পেত। আবু আতিয়্যা বলেন: আমি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলতে শুনেছি: আমি অবশ্যই জানি কীভাবে...

--------------------------------------------

১ সর্বসম্মত (متفق عليه)। দেখুন: সহিহ আবু দাউদ "১৫৯০"।

২ এটি সুনান গ্রন্থকারগণ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। দেখুন: সহিহ আবু দাউদ "১৫৯২"

৩ হাদিসটি হাসান (حسن), সহিহুল জামি আস-সাগির ওয়া যিয়াদাতুহূ "১১১২"। "আল-আজ্জু" অর্থ তালবিয়া পাঠের সময় কণ্ঠস্বর উচ্চ করা এবং "আস-সাজ্জু" অর্থ হাদি ও কোরবানির পশুর রক্ত প্রবাহিত করা।

৪ সাঈদ ইবনে মানসুর এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি আল-মুহাল্লা (৭/৯৪) গ্রন্থে রয়েছে, এটি একটি উত্তম (جيد) সনদে বর্ণিত। ইবন আবি শাইবা এটি একটি সহিহ (صحيح) সনদে মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যেমনটি আল-ফাতহ (৩/৩২৪) গ্রন্থে রয়েছে, এবং এটি একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা।

৫ মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। দেখুন: আস-সহিহাহ "২০২৩"।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
كانت تلبية رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم سمعتها تلبي بعد ذلك: "لبيك اللهم لبيك … " إلخ1.

وقال القاسم بن محمد: خرج معاوية ليلة النفر فسمع صوت تلبية فقال: من هذا؟ قيل: عائشة أم المؤمنين اعتمرت من التنعيم.

فذكر ذلك لعائشة فقالت: لو سألني لأخبرته2.

18- ويلتزم التلبية لأنها "من شعائر الحج"3، ولقوله صلى الله عليه وسلم:

"ما من ملب يلبي إلا لبى ما عن يمينه وعن شماله من شجر وحجر حتى تنقطع الأرض من هنا وهنا يعني عن يمينه وشماله" 4. وبخاصة كلما علا شرفا أو هبط واديا للحديث المتقدم قريبا: "كأني أنظر إلى موسى عليه السلام هابطا من الثنية له جوار إلى الله تعالى بالتلبية". وفي حديث آخر:

"كأني أنظر إليه إذا انحدر في الوادي يلبي" 5.

19- وله أن يخلطها بالتلبية والتهليل لقول ابن مسعود رضي الله عنه:

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري "769 مختصره" والطيالسي "1513" وأحمد "6 / 32 و100 و180 و243".

2 رواه ابن أبي شيبة كما في المحلى "7 / 94 95" وسنده صحيح وقال شيخ الإسلام في منسكه: "والمرأة ترفع صوتها بحيث تسمع رفيقاتها ويستحب الإكثار منها عند اختلاف الأحوال … ".

3 هو جزء من حديث صحيح مخرج في الصحيحة "828" بلفظ: أمرني جبريل برفع الصوت في الإهلال فإنه من شعائر الحج".

4 رواه ابن خزيمة والبيهقي بسند صحيح كما في تخريج الترغيب والترهيب "2 / 118".

5 رواه البخاري مختصري للبخاري "60 الأنبياء 8 باب" قال الحافظ: "وفي الحديث أن التلبية في بطون الأودية من سنن المرسلين وأنها تتأكد عند الهبوط كما تتأكد عند الصعود".
এটি ছিল আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর তালবিয়াহ, এরপর আমি তাঁকে এভাবে তালবিয়াহ পাঠ করতে শুনেছি: "লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক..." ইত্যাদি।১

কাসেম ইবনে মুহাম্মদ বলেন: মুয়াবিয়া (রা.) মিনাহ ত্যাগের রাতে বের হলেন এবং তালবিয়াহ পাঠের শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: ইনি কে? বলা হলো: উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.), তিনি তানঈম থেকে উমরা পালন করছেন।

আয়েশা (রা.)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন: তিনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন, তবে আমি তাঁকে তা জানিয়ে দিতাম।২

১৮- তালবিয়াহ পাঠ আঁকড়ে ধরা বা নিয়মিত করা আবশ্যক, কারণ এটি "হজ্বের নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত"৩, এবং আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর বাণীর কারণে:

"যখনই কোনো তালবিয়াহ পাঠকারী তালবিয়াহ পাঠ করে, তখন তার ডানে ও বামে থাকা গাছপালা ও পাথরও তার সাথে তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকে, এমনকি তার ডান ও বাম দিক থেকে পৃথিবীর শেষ সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত সকল বস্তু এতে শামিল হয়"।৪ বিশেষ করে যখনই সে কোনো উচ্চস্থানে আরোহণ করে কিংবা কোনো উপত্যকায় অবতরণ করে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "আমি যেন মূসা (আ.)-কে পাহাড়ের পথ দিয়ে অবতরণ করতে দেখছি, তিনি উচ্চস্বরে আল্লাহর উদ্দেশ্যে তালবিয়াহ পাঠ করছেন"। অন্য একটি হাদিসে এসেছে:

"আমি যেন তাঁকে দেখছি যখন তিনি উপত্যকায় অবতরণ করছেন তখন তালবিয়াহ পাঠ করছেন"।৫

১৯- তালবিয়াহর সাথে তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) মিশ্রিত করার অবকাশ রয়েছে, কারণ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর বক্তব্য হলো:

--------------------------------------------

১ এটি বুখারি (সংক্ষিপ্ত বুখারি ৭৬৯), তায়ালিসি (১৫১৩) এবং আহমাদ (৬/৩২, ১০০, ১৮০ ও ২৪৩) বর্ণনা করেছেন।

২ এটি ইবনে আবি শাইবাহ বর্ণনা করেছেন যেমনটি আল-মুহাল্লা (৭/৯৪-৯৫) গ্রন্থে রয়েছে এবং এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح)। শায়খুল ইসলাম তাঁর মানাসিক গ্রন্থে বলেন: "নারী তার আওয়াজ এমনভাবে উচ্চ করবে যাতে তার সঙ্গিনীরা শুনতে পায় এবং অবস্থার পরিবর্তনের সময় অধিক পরিমাণে তালবিয়াহ পাঠ করা মুস্তাহাব..."।

৩ এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস-এর অংশ যা আস-সহিহাহ (৮২৮) গ্রন্থে এই শব্দে সংকলিত হয়েছে: "জিবরাঈল (আ.) আমাকে ইহরামের সময় উচ্চস্বরে তালবিয়াহ পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, কেননা এটি হজ্বের নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।"

৪ ইবনে খুযাইমা ও বাইহাকী এটি সহিহ (صحيح) সনদ (سند)-এ বর্ণনা করেছেন, যেমনটি তাখরিজুত তারগিব ওয়াত তারহিব (২/১১৮)-এ বর্ণিত হয়েছে।

৫ বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (সংক্ষিপ্ত বুখারি, ৬০ আম্বিয়া, ৮ অনুচ্ছেদ)। হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: "এই হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, উপত্যকার অভ্যন্তরে তালবিয়াহ পাঠ করা নবী-রাসূলগণের অন্যতম সুন্নত (سنن) এবং আরোহণের সময় যেমন এটি গুরুত্ব পায়, অবতরণের সময়ও তেমনি এটি সুনিশ্চিত বা তাকিদপ্রাপ্ত হয়।"
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
خرجت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فما ترك التلبية حتى رمى جمرة العقبة إلا أن يخلطها بتلبية أو تهليل1.

20- فإذا بلغ الحرم المكي ورأى بيوت مكة أمسك عن التلبية2، ليتفرغ للاشتغال بغيرها مما يأتي.

--------------------------------------------

1 رواه أحمد "1 / 417" بسند جيد وصححه الحاكم والذهبي كما في الحج الكبير.

2 رواه البخاري "779 مختصري" والبيهقي وأنظر المجمع "3 / 225 و239.
আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বের হলাম; তিনি জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ বন্ধ করেননি, তবে তিনি এর সাথে তালবিয়া অথবা তাহলীল যুক্ত করতেন ১।

২০- অতঃপর যখন তিনি মক্কার হারামে পৌঁছালেন এবং মক্কার ঘরবাড়ি দেখতে পেলেন, তখন তিনি তালবিয়া পাঠ বন্ধ করলেন, যাতে পরবর্তী কার্যাবলীতে মনোনিবেশ করতে পারেন ২।

--------------------------------------------

১ আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন "১ / ৪১৭" উত্তম (جيد) সনদে (سند) এবং হাকিম ও যাহাবী একে সহিহ (صححه) বলে সাব্যস্ত করেছেন, যেমনটি আল-হাজ্জুল কাবীর গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

২ বুখারি "৭৭৯ মুখতাসার" ও বাইহাকী এটি বর্ণনা করেছেন এবং দেখুন আল-মাজমা "৩ / ২২৫ ও ২৩৯"।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الاغتسال لدخول مكة:

21- ومن تيسر له الاغتسال قبل الدخول فليغتسل وليدخل نهارا أسوة برسول الله صلى الله عليه وسلم3.

22- وليدخل من الناحية العليا التي فيها اليوم باب المعلاة فإنه صلى الله عليه وسلم دخلها من الثنية العليا "كداء"4 المشرفة على المقبرة ودخل المسجد من باب بني شيبة فإن هذا أقرب الطرق إلى الحجر الأسود.

23- وله أن يدخلها من أي طريق شاء لقوله صلى الله عليه وسلم:

"كل فجاج مكة طريق ومنحر". وفي حديث آخر:

"مكة كلها طريق: يدخل من ههنا ويخرج من ههنا" 5.

24- فإذا دخلت المسجد فلا تنس أن تقدم رجلك اليمنى6 وتقول:

"اللهم صل على محمد وسلم اللهم افتح لي أبواب رحمتك"7.

--------------------------------------------

3 رواه البخاري "779 مختصري" وصحيح أبي داود "1630".

4 رواه البخاري "780 مختصري" وصحيح أبي داود "1929".

5 رواه الفاكهي بسند حسن.

6 فيه حديث حسن مخرج في الصحيحة "2478".

7 أنظر الكلم الطيب لشيخ الإسلام ابن تيمية بتحقيقي "ص 51 و52".
মক্কায় প্রবেশের জন্য গোসল:

২১- যার জন্য সহজসাধ্য হয়, সে যেন প্রবেশের পূর্বে গোসল করে নেয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণে দিনের বেলা প্রবেশ করে।

২২- আর সে যেন উচ্চতর দিক থেকে প্রবেশ করে যেখানে বর্তমানে বাব আল-মুয়াল্লা অবস্থিত; কেননা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চতর গিরিপথ "কাদা" দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন যা কবরস্থানের দিকে অবস্থিত এবং তিনি বনু শায়বা দরজা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করেছিলেন, কারণ এটি হাজরে আসওয়াদের নিকটতম পথ।

২৩- তার জন্য যেকোনো পথ দিয়ে প্রবেশের অবকাশ রয়েছে, কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"মক্কার প্রতিটি গিরিপথই পথ এবং কুরবানি করার স্থান।" অন্য একটি হাদিসে এসেছে:

"মক্কার পুরোটা একটি পথ: এখান দিয়ে প্রবেশ করা যায় এবং ওখান দিয়ে বের হওয়া যায়।"

২৪- সুতরাং যখন তুমি মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন তোমার ডান পা আগে দিতে ভুলো না এবং বলো:

"হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।"

--------------------------------------------

৩ বুখারি (৭৭৯ সংক্ষেপিত) এবং সহিহ আবু দাউদ (১৬৩০) বর্ণনা করেছেন।

৪ বুখারি (৭৮০ সংক্ষেপিত) এবং সহিহ আবু দাউদ (১৯২৯) বর্ণনা করেছেন।

৫ আল-ফাকিহি এটি হাসান (حسن) সনদ (سند) সহ বর্ণনা করেছেন।

৬ এতে একটি হাসান (حسن) হাদিস রয়েছে যা আস-সহিহাহ (২৪৭৮)-এ উদ্ধৃত হয়েছে।

৭ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ-র 'আল-কালিম আত-তায়্যিব' দেখুন, যা আমার দ্বারা সম্পাদিত (تحقيقي) "পৃষ্ঠা ৫১ ও ৫২"।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
أو:

"أعوذ بالله العظيم وبوجهه الكريم وسلطانه القديم من الشيطان الرجيم" 1.

25- فإذا رأى الكعبة رفع يديه إن شاء لثبوته عن ابن عباس2.

26- ولم يثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم هنا دعاء خاص فيدعو بما تيسر له وإن دعا بدعاء عمر: "اللهم أنت السلام ومنك السلام فحينا ربنا بالسلام" فحسن لثبوته عنه رضي الله عنه3.

--------------------------------------------

1 رواه ابن أبي شيبة بسند صحيح عنه ورواه غيره مرفوعا وإسناده ضعيف كما هو مبين في الضعيفة "1054".

2 رواه البيهقي "5 / 72" بسند حسن عن سعيد بن المسيب قال: سمعت من عمر كلمة ما بقي أحد من الناس سمعها غيري سمعته يقول إذا رأى البيت: فذكره. ورواه بإسناد آخر أيضا عن سعيد بن المسيب أنه كان يقول ذلك ورواه ابن أبي شيبة "4 / 97" عنهما.

3 وقول بعض الأفاضل في تعليقه على المناسك والزيارات: إنه لم ينقل عن النبي صلى الله عليه وسلم. وهم منه وقد حققت القول في صحته في الإرواء "1112" وقد يسر الله طبعه. فله الحمد والمنة.
অথবা:

"আমি মহান আল্লাহর নিকট, তাঁর সুমহান চেহারার উসিলায় এবং তাঁর অনাদি রাজত্বের উসিলায় বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" ১.

২৫- অতঃপর যখন তিনি কাবা দেখবেন, চাইলে হাত উত্তোলন করতে পারেন; যেহেতু এটি ইবনে আব্বাস থেকে প্রমাণিত (ثبوت) হয়েছে। ২.

২৬- আর এখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো বিশেষ দুআ প্রমাণিত (ثابت) হয়নি, তাই যা সহজসাধ্য হয় তা দিয়েই দুআ করবেন। তবে যদি উমর (রা.)-এর বর্ণিত দুআটি পড়েন: "হে আল্লাহ! আপনিই সালাম (শান্তি), আপনার থেকেই শান্তি বর্ষিত হয়, হে আমাদের রব! আমাদের শান্তির সাথে জীবিত রাখুন"—তবে তা উত্তম (حسن); কারণ এটি তাঁর থেকে প্রমাণিত (ثبوت) হয়েছে। ৩.

--------------------------------------------

১. এটি ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর থেকে সহিহ (صحيح) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন। অন্য বর্ণনাকারীগণ এটি মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف), যেমনটি আদ-দাইফাহ "১০৫৪" এ স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

২. বায়হাকি "৫ / ৭২" হাসান (حسن) সনদে (سند) সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উমর (রা.) থেকে এমন একটি বাণী শুনেছি যা আমি ছাড়া উপস্থিত লোকদের আর কেউ শোনেনি। আমি তাঁকে বাইতুল্লাহ দেখার সময় এটি বলতে শুনেছি... অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন। এটি অন্য একটি সনদেও (إسناد) সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তা বলতেন। ইবনে আবি শাইবাহ "৪ / ৯৭" তাঁদের উভয় থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

৩. আর কোনো কোনো বিজ্ঞ ব্যক্তির মন্তব্য তাঁর 'মানাসিক ওয়া যিয়ারাত' এর টিকায় যে: "এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়নি"—তা তাঁর একটি ভুল। আমি ইরওয়াউল গালিল "১১১২" এ এর বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাই করেছি এবং আল্লাহ তায়ালা এর মুদ্রণ সহজ করে দিয়েছেন। সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁরই প্রাপ্য।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌طواف القدوم

27- ثم يبادر إلى الحجر الأسود فيستقبله استقبالا فيكبر والتسمية قبله صحت عن ابن عمر موقوفا ووهم من ذكره مرفوعا.

28- ثم يستلمه بيده ويقبله بفمه ويسجد عليه أيضا فقد فعله رسول الله صلى الله عليه وسلم وعمر وابن عباس4.

29- فإن لم يمكنه تقبيله استلمه بيده ثم قبل يده.

30- فإن لم يمكنه الاستلام أشار إليه بيده.

--------------------------------------------

4 أخرجه الشافعي وأحمد وغيرهما وهو حديث قوي كما بينته في "الحج الكبير".
তাওয়াফ আল-কুদুম

২৭- অতঃপর তিনি হাজারে আসওয়াদের দিকে দ্রুত অগ্রসর হবেন এবং এর মুখোমুখি হয়ে তাকবির পাঠ করবেন। এর পূর্বে 'তাসমিয়াহ' (বিসমিল্লাহ) বলা ইবনে উমর (রা.) থেকে মাওকুফ (موقوف) হিসেবে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে; আর যিনি একে মারফু (مرفوع) হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি বিভ্রান্তির (وهم) শিকার হয়েছেন।

২৮- অতঃপর তিনি হাত দিয়ে তা স্পর্শ করবেন এবং মুখ দিয়ে চুম্বন করবেন এবং এর ওপর সিজদাও করবেন; কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), উমর ও ইবনে আব্বাস (রা.) এরূপ করেছেন।

২৯- যদি চুম্বন করা সম্ভব না হয়, তবে হাত দিয়ে তা স্পর্শ করবেন এবং এরপর নিজ হাতে চুম্বন করবেন।

৩০- আর যদি স্পর্শ করাও সম্ভব না হয়, তবে হাতের মাধ্যমে ইশারা করবেন।

--------------------------------------------

৪. শাফিঈ, আহমাদ এবং অন্যরা এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি শক্তিশালী (قوي) হাদিস, যেমনটি আমি 'আল-হাজ্জুল কাবীর' গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
31- ويفعل ذلك في كل طوفة.

32- ولا يزاحم عليه لقوله صلى الله عليه وسلم:

"يا عمر إنك رجل قوي فلا تؤذ الضعيف وإذا أردت استلام الحجر فإن خلا لك فاستلمه وإلا فاستقبله وكبر" 1.

33- ولاستلام الحجر فضل كبير لقوله صلى الله عليه وسلم:

"ليبعثن الله الحجر يوم القيامة وله عينان يبصر بهما، ولسان ينطق به ويشهد على من ستلمه بحق. وقال:

"مسح الحجر الأسود والركن اليماني يحطان الخطايا حطا" 2.

وقال:

"الحجر الأسود من الجنة وكان أشد بياضا من الثلج حتى سودته خطايا أهل الشرك" 3.

34- ثم يبدأ بالطواف حول الكعبة يجعلها عن يساره فيطوف من وراء الحجر سبعة أشواط من الحجر إلى الحجر شوط يضطبع4 فيها كلها ويرمل في الثلاثة الأول منها من الحجر إلى الحجر ويمشي في سائرها.

35- ويستلم الركن اليماني بيده في كل طوفة ولا يقبله فإن لم يتمكن من استلامه لم تشرع الإشارة إليه بيده.

--------------------------------------------

1 صححه الترمذي وابن خزيمة وابن حبان والحاكم والذهبي وهو مخرج في المصدر السابق.

2 حسنه الترمذي وصححه ابن حبان والحاكم والذهبي.

3 صححه الترمذي وابن خزيمة.

4 الاضطباع: أن يدخل الرداء من تحت أبطه الأيمن ويرد طرفه على يساره ويبدي منكبه الأيمن ويغطي الأيسر وهو بدعة قبل هذا الطواف وبعده.
31- এবং তিনি প্রতিটি চক্করে তা করবেন।

32- এবং এর জন্য ভিড় করবেন না, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"হে ওমর! তুমি একজন শক্তিশালী লোক, সুতরাং তুমি দুর্বলকে কষ্ট দিও না। যখন তুমি পাথরটি (হাজরে আসওয়াদ) স্পর্শ করতে চাও এবং তা ফাঁকা পাও, তবে তা স্পর্শ করো; অন্যথায় তার অভিমুখী হও এবং তাকবীর বলো।" ১।

33- আর হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার মহান ফযিলত রয়েছে, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ কিয়ামতের দিন পাথরটিকে এমন অবস্থায় পুনরুত্থিত করবেন যে, তার দুটি চোখ থাকবে যা দিয়ে সে দেখবে এবং একটি জিহ্বা থাকবে যা দিয়ে সে কথা বলবে এবং যে ব্যক্তি যথাযথভাবে তাকে স্পর্শ করেছে তার সপক্ষে সে সাক্ষ্য দেবে।" এবং তিনি বলেছেন:

"হাজরে আসওয়াদ এবং রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ করা গুনাহসমূহকে পুরোপুরিভাবে মিটিয়ে দেয়।" ২।

এবং তিনি বলেছেন:

"হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, যা বরফের চেয়েও অধিক সাদা ছিল, অবশেষে মুশরিকদের পাপরাশি একে কালো করে দিয়েছে।" ৩।

34- অতঃপর কাবার চারদিকে তওয়াফ শুরু করবেন এবং কাবাকে নিজের বাম পাশে রাখবেন। এরপর হিজরে ইসমাইলের পেছন দিয়ে হাজরে আসওয়াদ থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত সাতটি চক্কর তওয়াফ করবেন। এর প্রতিটিতে তিনি ইজতিবা (اضطباع) করবেন এবং প্রথম তিন চক্করে হাজরে আসওয়াদ থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত রমল (رمل) করবেন এবং অবশিষ্ট চক্করগুলোতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন। ৪।

35- এবং তিনি প্রতিটি চক্করে রুকনে ইয়ামানি হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন কিন্তু তা চুম্বন করবেন না। যদি তা স্পর্শ করা সম্ভব না হয়, তবে হাত দিয়ে ইশারা করা বিধিবদ্ধ (مشروع) নয়।

--------------------------------------------

১. তিরমিজি, ইবনে খুজাইমা, ইবনে হিব্বান, হাকেম এবং জাহাবি একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন এবং এটি পূর্বোক্ত উৎসে সংকলিত হয়েছে।

২. তিরমিজি একে হাসান (حسن) বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান, হাকেম ও জাহাবি একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন।

৩. তিরমিজি ও ইবনে খুজাইমা একে সহিহ (صحيহ) সাব্যস্ত করেছেন।

৪. ইজতিবা (اضطباع): চাদরকে ডান বগলের নিচ দিয়ে নিয়ে তার এক প্রান্ত বাম কাঁধের ওপর ফেলে রাখা, যাতে ডান কাঁধ উন্মুক্ত থাকে এবং বাম কাঁধ আবৃত থাকে। এই তওয়াফের আগে এবং পরে এটি করা বিদআত (بدعة)।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
36- ويقول بينهما: "ربنا آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار" 1.

37- ولا يستلم الركنين الشاميين اتباعاً للنبي صلى الله عليه وسلم2.

--------------------------------------------

1 أخرجه أبو داود وغيره وصححه جمع. صحيح أبي داود "1653".

2 قال شيخ الإسلام ابن تيمية: والاستلام هو مسحه باليد وأما سائر جوانب البيت ومقام إبراهيم وسائر ما في الأرض من المسجد وحيطانها ومقابر الأنبياء والصالحين كحجرة نبينا صلى الله عليه وسلم ومغارة إبراهيم ومقام نبينا صلى الله عليه وسلم الذي كان يصلي فيه وغير ذلك من مقابر الأنبياء والصالحين وصخرة بيت المقدس فلا تستلم ولا تقبل باتفاق الأئمة. وأما الطواف بذلك فهو من أعظم البدع المحرمة ومن اتخذه دينا يستتاب فإن تاب وإلا قتل.

وما أحسن ما روى عبد الرزاق "8945" وأحمد والبيهقي عن يعلى بن أمية قال: طفت مع عمر بن الخطاب "وفي رواية مع عثمان" رضي الله عنه فلما كنت عند الركن الذي يلي الباب مما يلي الحجر أخذت بيده ليستلمه فقال: أما طفت مع رسول الله؟ قلت: بلى قال: فهل رأيته يستلمه؟ قلت: لا قال: فانفذ عنك فإن لك في رسول الله صلى الله عليه وسلم أسوة حسنة.
৩৬- এবং তিনি সেই দুইয়ের (রুকন) মাঝে বলবেন: "হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন আর আমাদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।" ১।

৩৭- এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণে শামি রুকনদ্বয় স্পর্শ করবেন না। ২।

--------------------------------------------

১ এটি আবু দাউদ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং একদল (মুহাদ্দিস) একে সহিহ (صحيح) বলে আখ্যায়িত করেছেন। সহিহ আবু দাউদ "১৬৫৩"।

২ শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: ইস্তিলাম (স্পর্শ করা) হলো হাত দিয়ে মুছে দেওয়া। পক্ষান্তরে কাবার অন্যান্য দিক, মাকামে ইব্রাহিম এবং যমীনের উপর অবস্থিত মসজিদের অন্যান্য অংশ, এর দেয়ালসমূহ, নবীগণ ও নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহ যেমন—আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হুজরা মোবারক, ইব্রাহিম (আ.)-এর গুহা, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে স্থানে নামাজ পড়তেন তা এবং নবীগণ ও নেককার ব্যক্তিদের অন্যান্য কবরসমূহ এবং বাইতুল মাকদিসের পাথরের কোনো কিছুই আইম্মায়ে কেরামের (ইমামগণের) সর্বসম্মতিক্রমে স্পর্শ করা যাবে না এবং চুম্বন করা যাবে না।

আর এসব জিনিসের চারদিকে তাওয়াফ করা সবচেয়ে বড় হারাম বিদআত (بدعة)-এর অন্তর্ভুক্ত। আর যে ব্যক্তি একে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করবে, তাকে তওবা করতে বলা হবে; যদি সে তওবা করে (তবে ভালো), অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে।

আবদুর রাজ্জাক (৮৯৪৫), আহমদ এবং বায়হাকি ইয়ালা ইবনে উমাইয়্যাহ থেকে কতই না উত্তম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওমর ইবনুল খাত্তাব (অন্য বর্ণনায় ওসমানের সাথে) রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে তাওয়াফ করছিলাম। যখন আমি হাতীমের দিকের দরজার পাশের রুকনের কাছে পৌঁছলাম, তখন আমি তাঁকে স্পর্শ করানোর জন্য তাঁর হাত ধরলাম। তখন তিনি বললেন: তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাওয়াফ করোনি? আমি বললাম: হ্যাঁ, করেছি। তিনি বললেন: তুমি কি তাঁকে এটি স্পর্শ করতে দেখেছ? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তবে তুমিও তা থেকে বিরত থাকো; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝেই তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌التزام ما بين الركن والباب:

38- وله أن يلتزم ما بين الركن والباب فيضع صدره ووجهه وذراعيه عليه3.

--------------------------------------------

3 روي ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم من طريقين يرتقي الحديث بهما إلى مرتبة الحسن ويزداد قوة بثبوت العمل به عن جمع من الصحابة منهم ابن عباس رضي الله عنه وقال: هذا الملتزم بين الركن والباب وصح من فعل عروة بن الزبير أيضا وكل ذلك مخرج في الأحاديث الصحيحة "2138"

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية في منسكه "ص 387":

وإن أحب أن يأتي الملتزم – وهو ما بين الحجر الأسود والباب فيضع عليه صدره ووجهه وذراعيه وكفيه ويدعو ويسأل الله تعالى حاجته - فعل ذلك. وله أن يفعل ذلك قبل طواف الوداع فإن هذا الالتزام لا فرق بين أن يكون حال الوداع أو غيره والصحابة كانوا يفعلون ذلك حين يدخلون مكة … ولو وقف عند الباب ودعا هناك من غير التزام للبيت كان حسنا فإذا ولى لا يقف ولا يلتفت ولا يمشي القهقرى.
রুকন ও দরজার মধ্যবর্তী স্থানে চিপটে লেগে থাকা (ইলতিজাম):

৩৮- এবং তার জন্য রুকন ও দরজার মধ্যবর্তী স্থানে চিপটে লেগে থাকার অবকাশ রয়েছে; এমতাবস্থায় সে সেখানে তার বুক, মুখমণ্ডল এবং দুই বাহু রাখবে।৩

--------------------------------------------

৩ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দুটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যার মাধ্যমে হাদিসটি হাসান (حسن) স্তরে উন্নীত হয়। আর একদল সাহাবী থেকে এর ওপর আমল প্রমাণিত হওয়ার মাধ্যমে এটি আরও শক্তিশালী হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অন্যতম। তিনি বলেন: "এটিই হলো রুকন ও দরজার মধ্যবর্তী মুলতাজাম।" এবং এটি উরওয়াহ বিন যুবাইর-এর আমল থেকেও সহিহ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত। এই সব কিছুই 'আল-আহাদিস আস-সহিহা' (২১৩৮) গ্রন্থে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর 'মানাসিক' (পৃ. ৩৮৭) গ্রন্থে বলেছেন:

আর যদি সে মুলতাজামে আসতে পছন্দ করে—যা হাজরে আসওয়াদ এবং দরজার মধ্যবর্তী স্থান—সেখানে তার বুক, মুখমণ্ডল, দুই বাহু ও দুই হাতের তালু রাখে এবং দোয়া করে ও মহান আল্লাহর কাছে তার প্রয়োজন প্রার্থনা করে—তবে সে তা করতে পারে। তার জন্য বিদায়ী তাওয়াফের আগেও এটি করার সুযোগ রয়েছে; কারণ এই ইলতিজামের ক্ষেত্রে বিদায়ের সময় হওয়া বা অন্য সময়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সাহাবীগণ যখন মক্কায় প্রবেশ করতেন তখন এটি করতেন … আর যদি সে ঘরের সাথে লেগে না থেকে দরজার নিকট দাঁড়িয়ে দোয়া করে, তবে সেটিও উত্তম (حسن) হবে। অতঃপর যখন সে ফিরে যাবে, তখন সে আর দাঁড়াবে না, পেছনে ফিরে তাকাবে না এবং উল্টো পায়ে হাঁটবে না।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
39- وليس للطواف ذكر خاص. فله أن يقرأ من القرآن أو الذكر ما شاء لقوله صلى الله عليه وسلم:

"الطواف بالبيت صلاة ولكن الله أحل فيه النطق فمن نطق فلا ينطق إلا بخير" وفي رواية: "فأقلوا فيه الكلام" 1.

40- ولا يجوز أن يطوف بالبيت عريان ولا حائض لقوله صلى الله عليه وسلم:

"لا يطوف بالبيت عريان" 2.

وقوله لعائشة حين قدمت معتمرة في حجة الوداع:

"افعلي كما يفعل الحاج غير أن لا تطوفي بالبيت [ولا تصلي] حتى تطهري" 3.

41- فإذا انتهى من الشوط السابع غطى كتفه الأيمن وانطلق إلى مقام إبراهيم، وقرأ: {وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلّىً} .

42- وجعل المقام بينه وبين الكعبة وصلى عنده ركعتين.

43- وقرأ فيهما: {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} و {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} .

44- وينبغي أن لا يمر بين يدي المصلي هناك ولا يدع أحدا يمر

--------------------------------------------

1 رواه الترمذي وغيره والرواية الأخرى للطبراني وهو حديث صحيح كما حققته في الإرواء "21". قال شيخ الإسلام:

وليس فيه ذكر محدود عن النبي صلى الله عليه وسلم لا بأمره ولا بقوله ولا بتعليمه بل يدعو فيه بسائر الأدعية الشرعية وما يذكره كثير من الناس من دعاء معين تحت الميزاب ونحو ذلك فلا أصل له.

2 متفق عليه من حديث أب هريرة ورواه الترمذي من حديث علي وابن عباس وهو مخرج في الإرواء "1102".

3 متفق عليه من حديث عائشة والبخاري من حديث جابر والزيادة له وهو مخرج في المصدر السابق "191".
39- তওয়াফের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো জিকির নেই। সুতরাং তওয়াফকারী কুরআন থেকে অথবা জিকির থেকে যা ইচ্ছা পাঠ করতে পারে, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"বাইতুল্লাহর তওয়াফ সালাত স্বরূপ, তবে আল্লাহ এতে কথা বলাকে বৈধ করেছেন; সুতরাং যে কথা বলবে, সে যেন উত্তম কথা ছাড়া অন্য কিছু না বলে।" আর অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "এতে তোমরা কথা কম বলো।" ১।

40- কোনো বিবস্ত্র ব্যক্তি বা ঋতুবতী নারীর জন্য বাইতুল্লাহ তওয়াফ করা বৈধ নয়, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"কোনো বিবস্ত্র ব্যক্তি যেন বাইতুল্লাহ তওয়াফ না করে।" ২।

আর বিদায় হজে আয়েশা (রা.) যখন উমরাহ পালনকারিণী হিসেবে এসেছিলেন, তখন তাঁকে উদ্দেশ্য করে তাঁর (রাসূলের) উক্তি:

"তুমি করো যা একজন হাজি করে থাকে, তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তুমি বাইতুল্লাহ তওয়াফ করো না [এবং সালাত আদায় করো না]।" ৩।

41- যখন সে সপ্তম চক্কর শেষ করবে, তখন সে তার ডান কাঁধ ঢেকে নেবে এবং মাকামে ইবরাহিমের দিকে অগ্রসর হবে এবং পাঠ করবে: {আর তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো}।

42- এবং সে মাকামকে নিজের এবং কাবার মাঝখানে রাখবে এবং তার নিকট দুই রাকাত সালাত আদায় করবে।

43- এবং উক্ত দুই রাকাতে পাঠ করবে: {বলুন, হে কাফিরগণ} এবং {বলুন, তিনি আল্লাহ এক}।

44- সেখানে মুসল্লির সামনে দিয়ে কারো অতিক্রম করা উচিত নয় এবং সে-ও কাউকে অতিক্রম করতে দেবে না।

--------------------------------------------

১ তিরমিজি ও অন্যরা এটি বর্ণনা করেছেন এবং অপর বর্ণনাটি (رواية) তাবারানি কর্তৃক বর্ণিত। এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস যেমনটি আমি ইরওয়া গ্রন্থে "২১" যাচাই করেছি। শাইখুল ইসলাম বলেন:

এতে (তওয়াফে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো জিকির নেই—না তাঁর নির্দেশে, না তাঁর উক্তিতে, আর না তাঁর শিক্ষায়। বরং তওয়াফকারী এতে শরিয়তসম্মত যেকোনো দোয়া করতে পারে। আর অনেক মানুষ মিজাবের নিচে বা অনুরূপ স্থানে যে নির্দিষ্ট দোয়ার কথা উল্লেখ করে থাকে, তার কোনো ভিত্তি নেই।

২ আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)। আলি ও ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি ইরওয়া গ্রন্থে "১১০২" সংকলিত হয়েছে।

৩ আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه) এবং জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন এবং অতিরিক্ত অংশটুকু তাঁরই। এটি পূর্বোক্ত উৎস গ্রন্থে "১৯১" সংকলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
بين يديه وهو يصلي لعموم الأحاديث الناهية عن ذلك وعدم ثبوت استثناء المسجد الحرام منها بله مكة كلها! 1.

45- ثم إذا فرغ من الصلاة ذهب إلى زمزم فشرب منها وصب على رأسه فقد قال صلى الله عليه وسلم:

"ماء زمزم لما شرب له" 2، وقال:

"إنها مباركة وهي طعام طعم، [وشفاء سقم] " 3. وقال:

"خير ماء على وجه الأرض ماء زمزم فيه طعام الطعم وشفاء السقم" 4.

46- ثم يرجع إلى الحجر الأسود فيكبر ويستلم على التفصيل المتقدم.

--------------------------------------------

1 راجع المقدمة والأصل "ص 21 و23 و135".

2 حديث صحيح كما قال جمع من الأئمة وقد خرجته وتكلمت على طرقه في إرواء الغليل "1123" وأحدها في الصحيحة "883".

3 حديث صحيح رواه الطيالسي وغيره وهو مخرج في الصحيحة تحت حديث "1056" وغيرها.

4 أخرجه الضياء في المختارة وغيره وهو مخرج في المصدر السابق "1056".
তাঁর সামনে দিয়ে যখন তিনি সালাত আদায় করছেন, কারণ এমনটি করতে নিষেধকারী হাদিসসমূহের ব্যাপকতা এবং এ থেকে মসজিদে হারামকে বাদ দেওয়ার কোনো প্রমাণ সাব্যস্ত হওয়া (ثبوت) না থাকা, বরং সমগ্র মক্কার ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য! ১।

৪৫- এরপর যখন তিনি সালাত শেষ করবেন, তখন জমজমের নিকট যাবেন এবং তা থেকে পান করবেন ও নিজের মাথায় পানি ঢালবেন। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করে।" ২, এবং তিনি বলেছেন:

"নিশ্চয়ই এটি বরকতময় এবং এটি তৃপ্তিদায়ক খাদ্য, [এবং রোগের প্রতিষেধক]।" ৩। এবং তিনি আরও বলেছেন:

"ভূপৃষ্ঠের সর্বোত্তম পানি হলো জমজমের পানি; এতে রয়েছে তৃপ্তিদায়ক খাদ্য এবং রোগের প্রতিষেধক।" ৪।

৪৬- এরপর তিনি হাজারে আসওয়াদ-এর দিকে ফিরে আসবেন এবং পূর্বের বিস্তারিত বর্ণনা অনুযায়ী তাকবির পাঠ করবেন ও ইস্তিলাম (স্পর্শ) করবেন।

--------------------------------------------

১ ভূমিকা এবং মূল গ্রন্থ "পৃষ্ঠা ২১, ২৩ এবং ১৩৫" দ্রষ্টব্য।

২ এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস, যেমনটি একদল ইমাম বলেছেন। আমি ইরওয়াউল গালিল (১১২৩)-এ এর তাখরিজ করেছি এবং এর বর্ণনাসূত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি, যার একটি আস-সহিহাহ (৮৮৩)-তে রয়েছে।

৩ এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস যা তায়ালিসি এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। আস-সহিহাহ-এর ১০৫৬ নম্বর হাদিসের অধীনে এবং অন্যান্য স্থানে এর তাখরিজ করা হয়েছে।

৪ এটি দিয়া আল-মাকদিসি আল-মুখতারাহ-তে এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। পূর্বোক্ত উৎস (১০৫৬)-তে এর তাখরিজ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌السعي بين الصفا والمروة

47- ثم يعود أدراجه ليسعى بين الصفا والمروة فإذا دنا من الصفا قرأ قوله تعالى: {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْراً فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ} . ويقول:

"نبدأ بما بدأ الله به".
সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ি

৪৭- অতঃপর তিনি সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ি করার জন্য ফিরে যাবেন। যখন তিনি সাফার নিকটবর্তী হবেন, তখন মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করবেন: {নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি কাবা ঘরে হজ অথবা উমরা সম্পন্ন করবে, তার জন্য এ দুটির মাঝে সায়ি করায় কোনো গুনাহ নেই। আর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো কল্যাণকর কাজ করবে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ গুণগ্রাহী ও সর্বজ্ঞ।} এবং বলবেন:

"আমরা তা দিয়েই শুরু করছি যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন।"
(খণ্ড: ১) মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
48- ثم يبدأ بالصفا فيرتقي عليه حتى يرى الكعبة1.

49- فيستقبل الكعبة فيوحد الله ويكبره فيقول: الله أكبر الله أكبر الله أكبر "ثلاثا".

لا إله إلا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد يحيي ويميت وهو على كل شيء قدير،

لا إله إلا الله وحده لا شريك له أنجز وعده ونصر عبده وهزم الأحزاب وحده2. يقول ذلك ثلاث مرات.

ويدعو بين ذلك3.

50- ثم ينزل ليسعى بين الصفا والمروة وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اسعوا فإن الله كتب عليكم السعي" 4.

51- فيمشي إلى العلم "الموضوع" عن اليمين واليسار وهو المعروف بالميل الأخضر ثم يسعى منه سعيا شديدا إلى العلم الآخر الذي بعده. وكان في عهده صلى الله عليه وسلم واديا أبطح فيه دقاق الحصا وقال صلى الله عليه وسلم:

"لا يقطع الأبطح إلا شدا" 5.

--------------------------------------------

1 ليس من السهل الآن رؤية البيت إلا في بعض الأماكن من الصفا فإنه يراه من خلال الأعمدة التي بني عليها الطابق الثاني من المسجد فمن تيسر له ذلك فقد أصاب السنة وإلا فليجتهد ولا حرج

2 زاد في الأذكار: لا إله إلا الله ولا نعبد إلا إياه … الخ ولم أر هذه الزيادة في شيء من طرق الحديث عند مسلم وغيره ممن أخرج وهو من حديث جابر الطويل خلافا لما يوهمه قول المعلق عليه: أخرجه مسلم و … "

3 أي بين التهليلات بما شاء من الدعاء بما فيه خير الدنيا والآخرة والأفضل أن يكون مأثورا عن النبي صلى الله عليه وسلم أو السلف الصالح.

4 وهو حديث صحيح خلافا لمن وهم وهو مخرج في الإرواء "1072".

5 أخرجه النسائي وغيره وهو مخرج في "الحج الكبير". =
48- এরপর তিনি সাফা পাহাড় থেকে শুরু করবেন এবং তার ওপর আরোহণ করবেন যতক্ষণ না তিনি কাবা দেখতে পান ১।

49- অতঃপর তিনি কাবার দিকে মুখ করবেন এবং আল্লাহর একত্ব ঘোষণা করবেন ও তাঁর মহিমা বর্ণনা করবেন। তিনি বলবেন: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার "তিনবার"।

আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, রাজত্ব কেবল তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দান করেন এবং তিনি সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান।

আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সকল শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করেছেন ২। তিনি এটি তিনবার বলবেন।

এবং এর মধ্যবর্তী সময়ে তিনি দোয়া করবেন ৩।

50- এরপর তিনি সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করার জন্য নিচে নামবেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সায়ী করো, কেননা আল্লাহ তোমাদের ওপর সায়ী করা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন" ৪।

51- অতঃপর তিনি ডানে ও বামে স্থাপিত চিহ্নের দিকে হেঁটে যাবেন—যা 'সবুজ স্তম্ভ' নামে পরিচিত—এরপর সেখান থেকে পরবর্তী চিহ্নের দিকে দ্রুতগতিতে দৌড়াবেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে এটি ছিল একটি বালুকাময় উপত্যকা যেখানে ছোট ছোট কাঁকর ছিল। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"দ্রুত দৌড়ানো ছাড়া এই উপত্যকা অতিক্রম করা যাবে না" ৫।

--------------------------------------------

১ বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু স্থান ব্যতীত সাফা থেকে (পবিত্র) ঘরটি দেখা সহজ নয়। মসজিদের দ্বিতীয় তলা যে স্তম্ভগুলোর ওপর নির্মিত হয়েছে, তার ফাঁক দিয়ে ঘরটি দেখা যায়। যার পক্ষে এটি সম্ভব হবে তিনি সুন্নাহ অনুসরণ করলেন, অন্যথায় সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন, এতে কোনো অসুবিধা নেই।

২ আল-আযকার গ্রন্থে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করি... ইত্যাদি"। আমি মুসলিম এবং অন্য যারা হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তাদের হাদিসের কোনো সূত্রসমূহে (طرق) এই বর্ধিত অংশটুকু দেখিনি। এটি জাবিরের বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসের অংশ, যা ভাষ্যকারের উক্তি "এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং..." যে ধারণার জন্ম দেয় তার বিপরীত।

৩ অর্থাৎ তাহলিলসমূহের মাঝখানে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনায় নিজের ইচ্ছামতো দোয়া করবেন। এক্ষেত্রে দোয়াটি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিংবা সালফে সালেহীন থেকে বর্ণিত (مأثور) হওয়া উত্তম।

৪ এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস, যে ব্যক্তি বিভ্রান্তিবশত এর বিপরীত ধারণা পোষণ করেছেন তাঁর বক্তব্য সঠিক নয়। এটি ইরওয়াউল গালিল (১০৭২) গ্রন্থে উদ্ধৃত (مخرج) হয়েছে।

৫ নাসাঈ এবং অন্যরা এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি আল-হাজ্জুল কাবীর গ্রন্থে উদ্ধৃত (مخرج) হয়েছে। =