(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: -)
تيسير الودود بتراجم رجال منتقى ابن الجارود   (أبو الطيب نايف المنصوري)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: تيسير الودود بتراجم رجال منتقى ابن الجارود

المؤلف: أبو الطيب نايف بن صلاح بن علي المنصوري

تقديم: عبد الله بن عبد الرحمن السعد

الناشر: دار العاصمة للنشر والتوزيع، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1436 هـ - 2015 م

عدد الصفحات: 425

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو الحجة 1444

তাইসীরুল ওয়াদুদ বি-তারাজিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারুদ   (আবু আল-তাইয়িব নায়েফ আল-মানসুরি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমষ্টি


বই: তাইসীরুল ওয়াদুদ বি-তারাজিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারুদ

লেখক: আবু আল-তাইয়িব নায়েফ বিন সালাহ বিন আলী আল-মানসুরি

উপস্থাপনা: আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আস-সা'দ

প্রকাশক: দারুল আসিমাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন، রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৬ হিজরি - ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ যিলহজ ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ١)
سلسلة تقريب رواة السنة بين يدي الأمة: المجموعة الثانية:

إتحاف البررة بتراجم من ليس في التهذيب من رجال كتب إتحاف المهرة: (5)

 

تيسير الودود بتراجم رجال منتقى ابن الجارود

 

تأليف

أبي الطيب نايف بن صلاح بن علي المنصوري

 

تقديم

فضيلة الشيخ المحدث

عبد الله بن عبد الرحمن السعد

 

دار العاصمة
উম্মাহর সামনে সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের পরিচিতি সহজীকরণ ধারাবাহিকতা: দ্বিতীয় সংকলন:

ইতহাফুল বারারা: ‘ইতহাফুল মাহারা’ কিতাবসমূহের সেই সকল বর্ণনাকারীদের জীবনী যারা ‘আত-তহজীব’ গ্রন্থে নেই: (৫)

 

তাইসীরুল ওয়াদুদ: ‘মুনতাকা ইবনুল জারূদ’-এর বর্ণনাকারীদের জীবনী

 

রচনায়

আবু আল-তৈয়িব নায়েফ বিন সালাহ বিন আলী আল-মানসুরী

 

উপস্থাপনায়

সম্মানিত শায়খ, মুহাদ্দিস

আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আস-সাদ

 

দারুল আসিমা
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌مُقَدِّمَةُ المُحدِّث الشَّيْخ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَن السَّعْد (1)

إِنَّ الحَمْدَ لله نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِيْنُهُ، مَنْ يَهْدِهِ الله فَلا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلُ فَلَا

--------------------------------------------

(1) وَصَلَتْنِي هَذِهِ المُقَدِّمَة فِي (15/ شوال/ 1434 هـ)، بَعْدَ أَنْ أرْسَلْتُ بِكِتَابِي هَذَا للطِّبَاعَةِ. وَذَلِكَ أَنِّي لمَّا انْتَهَيْتُ مِنْ تَبْيِيْضِ كِتَابِي هَذَا تَوَاصَلْتُ مَعَ أخِي الحَبِيْبِ وَالطَّالِبِ النَّجِيْبِ أَبِي خَالِدِ وَلِيْدِ بْنِ بَدْرِ الدِّيْنِ أَحْمَدَ آل صَلَاح الحُبَيْشِيِّ -حَفِظَهُ الله تَعَالَى-، وَعَرَضْتُ عَلَيْهِ فِكْرَةَ عَرْض مَا تَمَّ طِبَاعَتهُ مِنْ أَعْدَادِ المَجْمُوْعَةِ الأُوْلَى مِنْ "سِلْسِلَةِ تَقْرِيْبِ رُوَاةِ السَّنْةِ بَيْنَ يَدَي الأُمَّةِ" عَلَى فَضِيْلَةِ الشَّيْخِ المُحَدِّثِ عَبْدِ الله السَّعْدِ -حَفِظَهُ الله تَعَالَى-؛ وَذَلِكَ لِعِلْمِي بِاهْتِمَامِ الشَّيْخِ بِدِرَاسَةِ الأَسَانِيْدَ وَمَعْرِفَةِ أحْوَالَ الرُّوَاةِ، فَمَا كَانَ مِنَ الأَخِ الكَرِيْمِ إِلَّا أنْ لَبَّى طَلَبِي، وَاسْتَوْجَه فِكْرَتِي، فَبَعَثْتُ لَهُ بِجَمِيْعِ كُتُبِي الَّتِي تَمَّ طِبَاعَتُهَا مِنَ المَجْمُوْعَةِ الأَوْلَى، وَأَرْفَقْتُ ذَلِكَ بِرِسَالَةٍ شَرَحْتُ فِيْهَا مَنْهَجِي فِي السِّلْسِلَةِ عَلَى وَجْهِ العُمُوْمِ، وَفِي المَجْمُوْعَةِ الثَّانِيَةِ عَلَى وَجْهِ الخُصُوْصِ، وَطَلَبْتُ مِنْهُ أَنْ يُسَلِّمَهَا لِلشَّيْخِ عَبْدِ الله السَّعْدِ، وَمِنْ ثَمَّ يَأْخُذُ وجهِة نَظَرِه مِنْ خَلَالِ مَا وَصَلَهُ مِن اعْدَادِهَا، وَفَعَلَ -جَزَاهُ الله خَيْرًا- ذَلِكَ. وَأَخْبَرَنِي أَنَّ الشَّيْخَ لمَّا قَرَأَ رِسَالَتِي المُرْفَقَة مَعَ الكُتُبِ أَثْنَاء عَلَى السِّلْسِلَةِ ثَنَاءً حَسَنًا، وَقَالَ: "إِنَّ مِثْلَ هَذِهِ المَشَارِيْعِ الجَبَّارة قَدْ قَصُرَتْ عَنْهَا الهِمَم".

وَلمَّا عَلِمْتُ أَنَّ الشَّيْخَ كَانَ قَدْ شَرَعَ فِي شَرْحِ كِتَابِ "المُنْتَقَى"، طَلَبْتُ مِنْ أَخِي الوَفِيّ وَلَيْدِ -حَفِظَهُ الله تَعَالَى- أنْ يُخْبِرَ الشَّيْخَ: بِأَنِّي أَرْغَبُ فِي كِتَابَةِ مُقَدِّمَةً لِكِتَابِي "تَيْسَيْر الوَدُوْد" هَذَا، فَأَخْبَرَ الشَّيْخَ بِذَلِكَ، فَقَالَ لَهُ الشَّيْخُ: لَيْسَ عِنْدِي مَانِعٌ مِنْ ذَلِكَ، فَأَرْسَلْتُ بَعْدَ ذَلِكَ بِنُسْخَةٍ كَامِلَةٍ مِنْ كِتَابِي هَذَا للشَّيْخِ، فَأَعْطَاهَا الشَّيْخَ، وَلَكِنْ تَأَخَّرَتْ مُقَدِّمَةُ الشَّيْخ -حَفِظَهُ الله تَعَالَى- حَتَّى يَئِسْتُ مِنْهَا، وَبَعْدَ أَنْ أَرْسَلْتُ بِكِتَابِي للطِّبَاعَةِ، تَوَاصَلَ مَعِي الأَخُ النَّبِيْلُ وَلِيْدٌ -حَفِظَهُ الله تَعَالَى- وَأخْبَرَنِيّ بِأَنَّهُ مَرَّ عَلَى الشَّيْخِ، وَأَنَّ الشَّيْخَ اعْتَذَرَ عَنْ تَأَخّرِهِ فِي كِتَابَةِ المُقَدِّمَة، وَذَلِكَ لِكَثْرَةِ مَشَاغِلِهِ العِلْمِيَّةِ وَالدَّعَوِيَّة، وَذَكَرَ أَنَّهُ قَالَ لَهُ: مُرّ عَلَيَّ بَعْدَ كَذَا يَوْم وَسَتَجِدهَا جَاهِزَة، وَفِعْلًا مَرَّ عَلَيْهِ وَوَجَدَهَا جَاهِزَةً.

كَلِمَةُ شُكْرٍ

وَلا يَسَعُنِي فِي مَقَامِي هَذَا إِلَّا أَنْ أَشْكُرَ لِفَضِيْلَةِ الشَّيْخِ المُحَدِّثِ عَبْدِ الله السَّعْدِ -حَفِظَهُ اللهُ تَعَالَى- عَلَى تَفَرُّغِهِ لِقِرَاءَةِ الكِتَاب، وَمِنْ ثَمَّ كِتَابَة مُقَدِّمَة لَهُ، فَجَزَاهُ اللهُ عَلَى مَا بَذَلَ وَكتَبَ خَيْرَ الجَزَاء. =
মুহাদ্দিস শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আস-সা'দের ভূমিকা (১)

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই...

--------------------------------------------

(১) এই ভূমিকাটি আমার কাছে পৌঁছেছে (১৫/ শাওয়াল/ ১৪৩৪ হিজরি) তারিখে, যখন আমি আমার এই বইটি ছাপার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। এর কারণ হলো, যখন আমি আমার এই কিতাবটির অনুলিপি তৈরির কাজ শেষ করি, তখন আমি আমার প্রিয় ভাই এবং মেধাবী ছাত্র আবু খালিদ ওয়ালিদ ইবনে বদরুদ্দিন আহমদ আল সালাহ আল হুবাইশি —আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাযত করুন— এর সাথে যোগাযোগ করি। আমি তাঁর কাছে প্রস্তাব করি যে, "সিলসিলাতু তাকরিব রুবাতিল সুন্নাহ বাইনা ইয়াদিল উম্মাহ" (উম্মাহর সামনে সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের সহজবোধ্য করার ধারাবাহিকতা) এর প্রথম সংকলনের যে খণ্ডগুলো ছাপা হয়েছে, তা যেন সম্মানিত মুহাদ্দিস শাইখ আবদুল্লাহ আস-সা'দ —আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাযত করুন— এর সামনে উপস্থাপন করা হয়। এর কারণ ছিল শাইখের সনদসমূহ অধ্যয়ন এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে জানার বিষয়ে গভীর আগ্রহের কথা আমি জানতাম। ফলে সেই সম্মানিত ভাই আমার অনুরোধে সাড়া দেন এবং আমার পরিকল্পনাটিকে পছন্দ করেন। অতঃপর আমি প্রথম সংকলনের যে বইগুলো ছাপা হয়েছিল তার সবকটি তাঁর কাছে পাঠাই এবং এর সাথে একটি চিঠি সংযুক্ত করি, যেখানে আমি সাধারণভাবে এই ধারাবাহিকের এবং বিশেষভাবে দ্বিতীয় সংকলনের মূলনীতি ব্যাখ্যা করি। আমি তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম যেন তিনি বইগুলো শাইখ আবদুল্লাহ আস-সা'দের কাছে পৌঁছে দেন এবং শাইখ যা পড়েছেন তার ওপর ভিত্তি করে তাঁর মতামত গ্রহণ করেন। তিনি —আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন— তা-ই করলেন। তিনি আমাকে জানান যে শাইখ যখন বইগুলোর সাথে পাঠানো আমার চিঠিটি পাঠ করলেন, তখন তিনি এই সিরিজের ভূয়সী প্রশংসা করলেন এবং বললেন: "এ ধরনের বিশাল প্রকল্পগুলোর কাছে সংকল্পসমূহও তুচ্ছ হয়ে পড়ে।"

আর যখন আমি জানতে পারলাম যে শাইখ "আল-মুনতাকা" কিতাবটির ব্যাখ্যা করা শুরু করেছেন, তখন আমি আমার বিশ্বস্ত ভাই ওয়ালিদ —আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাযত করুন— এর কাছে অনুরোধ করলাম যেন তিনি শাইখকে জানান: আমি আমার এই "তাইসির আল-ওয়াদুদ" কিতাবটির জন্য একটি ভূমিকা প্রত্যাশা করছি। তিনি শাইখকে বিষয়টি জানালে শাইখ তাঁকে বললেন: "এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।" এরপর আমি শাইখের কাছে আমার এই কিতাবটির একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি পাঠাই। তিনি তা শাইখকে প্রদান করেন, কিন্তু শাইখ —আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাযত করুন— এর ভূমিকাটি পেতে বিলম্ব হয়ে গেল, এমনকি আমি এ ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েছিলাম। অবশেষে বইটি ছাপার জন্য পাঠানোর পর মহৎ ভাই ওয়ালিদ —আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাযত করুন— আমার সাথে যোগাযোগ করেন এবং জানান যে তিনি শাইখের সাথে দেখা করেছেন। শাইখ তাঁর ইলমি ও দাওয়াতি কাজের ব্যস্ততার কারণে ভূমিকাটি লিখতে দেরি হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে শাইখ তাঁকে বলেছিলেন: "কয়দিন পর আমার কাছে এসো, এটি তৈরি পাবে।" সত্যিই তিনি পরে তাঁর কাছে গেলেন এবং সেটি তৈরি পেলেন।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

এই মুহূর্তে আমি সম্মানিত মুহাদ্দিস শাইখ আবদুল্লাহ আস-সা'দ —আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাযত করুন— এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে পারছি না, কারণ তিনি বইটি পড়ার জন্য সময় দিয়েছেন এবং এর জন্য একটি ভূমিকা লিখেছেন। তিনি যা প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং লিখেছেন তার জন্য আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। =
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٦)
هَادِي لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلا الله وَحْدَهُ لا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ صلى الله عليه وسلم.

أَمَّا بَعْدُ:

فَإِنَّ كِتَابَ "المُنْتَقَى مِنَ السُّنَنِ المُسْنَدَةِ عَنْ رِسُوْلِ الله صلى الله عليه وسلم" لِأَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الله بْنِ عَلِيِّ بْنِ الجَارُوْدٍ النَّيْسَابُوْرِيِّ (ت 307 هـ) مِنَ الكُتُبِ المُهِمَّةِ فِي السُّنَّةِ، وَلَهُ مِيْزَات وَخَصَائِص، وَلَذَا أَثْنَى عَلَيْهِ جَمْعٌ مِنْ أَهْلِ العِلْمِ كَأَبِي مُحَمَّدِ بْنِ حَزْمٍ، وَابْنِ عَبْدِ الهَادِيِّ وَغَيْرِهِمَا.

 

‌‌فَمِنْ مِيْزَات هَذَا الكِتَاب:

أَوّلًا: أَنَّهُ مُخْتَصَرٌ، وَكَمَا سَمَّاهُ مُصَنِّفهُ أَنَّهُ "مُنْتَقَى"، وَقَدْ بَلَغَ عَدَد أَحَادِيْثِهِ نَحْو (1114 حَدِيْثًا).

ثَانِيًا: مَعَ كَوْنِ هَذَا الكِتَاب مُخْتَصَرٌ، فَإِنَّهُ شَامِلٌ لِكَثِيْرٍ مِنْ أَبْوَابِ الشَّرِيْعَةِ.

ثَالِثًا: أنَّهُ اقْتَصَر عَلَى أَحَادِيْث الأَحْكَام، وَيُعْتَبرُ مِنْ أَوَائِلِ المُصَنَّفَاتِ المُخْتَصَرَة فِي هَذَا البَابِ، وَمِنَ المَعْلُوْمِ أَهَمِّيَة أَحَادِيْث الأَحْكَام.

وَلِذَا، لَمْ يَذْكُرْ فِي هَذَا الكِتَابِ مَا يَتَعَلَّقُ بِالفَضَائِلِ، سِوَاءً كَانَ فَضَائِل الأَعْمَالَ أَوْ الصَّحَابَة وَالقَبَائِل وَالبُلْدَان، وَلا فِي الزُّهْدِ أَوِ التَّفْسِيْرِ، وَلا فِيْمَا يَتَعَلَّقُ بِأُمُوْرِ الاعْتِقَادِ، وَمَا شَابَه هَذِهِ الأَبْوَابِ.

--------------------------------------------

= كَمَا أَنِّي أَتَقَدَّمُ بِالشُّكْرِ لِأَخِي وَحَبِيْبِي الفَاضِلِ الوَفِيّ أَبِي خَالِدٍ وَلِيْدِ بْنِ بَدْرِ الدِّيْنِ الحُبَيْشِيِّ عَلَى مَا قَامَ بِهِ مِنْ جُهْدٍ، وَمُتَابَعَةٍ فِي سَبِيْلِ ذَلِكَ، وَهَذَا إِنْ دَلَّ فَإِنَّمِا يَدُلَّ عَلَى سُمُوِّ هِمَّتِهِ، وُعُلُّوِّ مَكَارِمِهِ، فَجَزَاهُ الله عَنِّي خَيْرَ الجَزَاء، وَبَارَكَ فِيْهِ وَفِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ ..
...কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল।

অতপর:

আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আলী বিন আল-জারুদ আন-নিশাপুরী (মৃত্যু ৩০৭ হিজরী) সংকলিত "আল-মুনতাকা মিনাস সুনানিল মুসনাদাহ আন রাসুলিল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)" গ্রন্থটি সুন্নাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ কিতাব। এর অনেক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি রয়েছে। একারণে আবু মুহাম্মদ ইবনে হাযম, ইবনে আবদুল হাদি এবং তাঁদের মতো অনেক আলিম এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

 

‌‌এই কিতাবের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

প্রথমত: এটি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ, এবং এর লেখক নিজেই এর নামকরণ করেছেন "মুনতাকা" (নির্বাচিত), আর এর হাদিস সংখ্যা প্রায় (১১১৪টি)।

দ্বিতীয়ত: এটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও শরীয়তের বহু অধ্যায় এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তৃতীয়ত: এটি কেবল বিধিবিধান সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলোর (আহকাম) মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং এই বিষয়ে এটি অন্যতম প্রাথমিক সংক্ষিপ্ত সংকলন হিসেবে বিবেচিত। আর আহকামের হাদিসসমূহের গুরুত্ব সকলের জানা।

একারণে, এই কিতাবে ফজিলত সংক্রান্ত বিষয়াদি উল্লেখ করা হয়নি; চাই তা আমলের ফজিলত হোক কিংবা সাহাবী, গোত্র ও শহরের মর্যাদা হোক। এমনকি যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা), তাফসির কিংবা আকাইদ সংক্রান্ত বিষয় এবং এই জাতীয় অধ্যায়গুলোও এতে আনা হয়নি।

--------------------------------------------

= সেই সাথে আমি আমার শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় ভাই আবু খালিদ ওয়ালিদ বিন বদরুদ্দীন আল-হুবাইশিকে তাঁর প্রচেষ্টা এবং এই পথে তাঁর নিরলস তত্ত্বাবধানের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এটি তাঁর সুউচ্চ হিম্মত ও উন্নত চরিত্রের পরিচয় বহন করে। আল্লাহ তাআলা আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর ওপর ও তাঁর পরিবার ও ধন-সম্পদে বরকত দান করুন...
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٧)
وَيُلَاحَظُ: قِلَّة التَّبْوِيْب فِي الثُّلَثِ الثَّانِي مِنَ الكِتَابِ، فَكِتَابُ الزَّكَاةِ سَاقَهُ بِدُوْنِ تَبْوِيْبٍ، وَكَذَا الصِّيَامِ، وَالمَنَاسِكِ، وَأَمَّا فِي البُيُوْعِ فَقَدْ فَصَلَ فِي الأَبْوَابِ بَعْضَ الشَّيءِ، وَأَمَّا النِّكَاحُ فَلَمْ يَفْصلْ، وَأَمَّا الجِهَادُ وَمَا يَتَعَلَّقُ بِهِ فَأَطَالَ التَّفْصيْلَ فِي الأَبْوَابِ بَعْضَ الشَّيءِ.

رَابِعًا: أَنَّ الغَالِبَ عَلَى أَحَادِيْثِهِ الصِّحَّةَ، وَالدَّلِيْلُ عَلَى هَذَا مِنْ أَرْبَعَةِ أَوْجُهٍ:

الوَجْهُ الأَوَّل: تَسْمِيْةُ الكِتَاب، فَاسْمُهُ "المُنْتَقَى" وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ ابْنَ الجَارُوْدِ قَدِ انْتَقَاهُ مِنْ أَحَادِيْثَ كَثِيْرَة، فَلَيْسَ كُلُّ حَدِيْثٍ يَذْكُرْهُ فِيْهِ، بَلْ لَهُ شَرْطٌ فِي ذَلِكَ.

الوَجَهُ الثَّانِي: أَنَّ بَعْضَ أَهْلِ العِلْمِ قَدْ وَصَفَ أَحَادِيْثَهُ بِالصِّحَّةِ وَالقُوَّةِ.

قَالَ ابْنُ حَجَرٍ: "سَمَّاهُ ابْنُ عَبْدِ البَرِ وَغَيْرُهُ صَحِيْحًا"(1).

وَقَالَ الذَّهَبِي: "لا يَنْزِلُ فِيْهِ عَنْ رُتْبَةِ الحَسَنِ أَبدًا إِلَّا فِي النَّادِرِ، فِي أَحَادِيْثَ يَخْتَلِفُ فِيْهَا اجْتِهَادُ النُّقَادِ"(2).

وَقَالَ ابْنُ عَبْدِ الهَادِي: "وَهُوَ نَظِيْفُ الأَسَانِيْدِ"(3).

الوَجْهُ الثَّالِث: أَنَّ مَنْ تَتَبَّعَ أَحَادِيْث الكِتَاب يَظْهَرُ لَهُ هَذَا، وَأَنَّ الأَحَادِيْثَ الضَّعِيْفَة فِيْهِ قَلِيْلَةٌ، وَفِيْهِ أَحَادِيْث مَعْلَوْلَة.

--------------------------------------------

(1) "إِتْحَافُ المَهَرَة" (1/ 159).

(2) "سِيَرُ أَعْلام النُّبَلاء" (14/ 239).

(3) "الطَّبَقَاتُ" (2/ 469).
এবং লক্ষ্য করা যায়: গ্রন্থের দ্বিতীয় তৃতীয়াংশে অধ্যায় বিন্যাসের স্বল্পতা রয়েছে; যেমন যাকাত অধ্যায়টি তিনি কোনো উপ-অধ্যায় ছাড়াই বর্ণনা করেছেন, অনুরূপভাবে রোজা এবং হজের কার্যাবলীর (মানাসিক) ক্ষেত্রেও। আর ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তিনি অধ্যায়গুলোকে কিছুটা বিস্তারিত করেছেন। তবে বিবাহের ক্ষেত্রে তিনি বিস্তারিত করেননি। অন্যদিকে জিহাদ এবং এর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে তিনি অধ্যায় বিন্যাসে কিছুটা দীর্ঘ বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

চতুর্থত: এর হাদিসগুলোর অধিকাংশ হলো বিশুদ্ধ (সহিহ), এবং এর স্বপক্ষে চারটি প্রমাণ রয়েছে:

প্রথম প্রমাণ: কিতাবটির নামকরণ। এর নাম হলো "আল-মুনতাকা" (নির্বাচিত), যা নির্দেশ করে যে ইবনুল জারুদ এটিকে অনেক হাদিস থেকে নির্বাচন করেছেন। সুতরাং তিনি এতে প্রাপ্ত প্রতিটি হাদিস উল্লেখ করেননি, বরং এক্ষেত্রে তাঁর নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে।

দ্বিতীয় প্রমাণ: নিশ্চয়ই কতিপয় আলেম এর হাদিসগুলোকে বিশুদ্ধতা ও শক্তির বিশেষণে বিশেষিত করেছেন।

ইবনে হাজার বলেন: "ইবনে আব্দুল বার এবং অন্যান্যরা এটিকে 'সহিহ' নামে অভিহিত করেছেন"(১)।

আয-যাহাবি বলেন: "এতে থাকা হাদিসগুলো কদাচিৎ ক্ষেত্র ছাড়া কখনো হাসান স্তরের নিচে নামে না, যা এমন সব হাদিস যেখানে হাদিস বিশারদদের গবেষণামূলক মতপার্থক্য রয়েছে"(২)।

ইবনে আব্দুল হাদি বলেন: "এবং এর সনদগুলো পরিচ্ছন্ন"(৩)।

তৃতীয় প্রমাণ: যে ব্যক্তি এই কিতাবটির হাদিসগুলো অনুসন্ধান করবে তার নিকট বিষয়টি স্পষ্ট হবে। আর এতে দুর্বল হাদিস সংখ্যায় অত্যন্ত কম, তবে এতে কিছু ত্রুটিযুক্ত (মা’লুল) হাদিস রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) "ইতহাফুল মাহারা" (১/ ১৫৯)।

(২) "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৪/ ২৩৯)।

(৩) "আত-তাবাকাত" (২/ ৪৬৯)।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌فَمِنَ الأَحَادِيْثِ المَعْلَوْلَة الَّتِي فِيْهِ:

حَدِيْثُ (رقم: 2): عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيْهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "لَا وُضُوْءَ إِلَّا مِنْ صَوْتٍ أَوْ رِيْحٍ".

فَقَدْ أَعَلَّهُ أَبُوْ حَاتِمٍ الرَّازِيُّ، فَقَالَ فِي "العِلَلِ"(1): "هَذَا وَهْمٌ؛ اخْتَصَرَ شُعْبَةَ مَتْنَ الحَدِيْث؛ … ، وَرَوَاهُ أَصْحَابُ سُهَيْلٍ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيْهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَن صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاةِ، فَوَجَدَ رِيْحًا مِنْ نَفْسِهِ؛ فَلا يَخْرُجَنَّ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا، أَوْ يَجِدَ رِيْحًا".

وَمِنْهَا حَدِيْثُ (رقم: 7): فِيْهِ لَفْظَةٌ مَعْلَوْلَةٌ، وَهِي: "وَأُنْثَيَيْكَ" فَقَدْ رَوَاهُ ابْنُ مَهْدِيِّ، وَعَبْدِ الله بْنِ صَالِحٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ؛ وَلَمْ يَذْكُرَاهَا.

وَمِنْهَا: حَدِيْثُ (رقم: 24): عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ المُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ الله رضي الله عنه قَالَ: "كَانَ آخِرُ الأَمْرَيْنِ مِنْ رَسُوْل الله صلى الله عليه وسلم تَرْكُ الْوُضُوْءِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ".

هَذَا الحَدِيْثُ لَهُ عِلَّةٌ، وَهِي أَنَّ شُعَيْبَ بْنَ أَبِي حَمْزَةَ اخْتَصَرَ الحَدِيْثَ اخْتِصَارًا مِخُلًّا، وَأَتَى بِحُكْمٍ زَائِدٍ، وَتَفَرَّدَ شُعَيْبُ بِهَذَا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ المُنْكَدِرِ، وَرَوَاهُ أَصْحَابُ مُحَمَّدِ بْنِ المُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ:

"خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مَعهُ، فَدَخَلَ عَلَى امْرَأَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ، فَذَبَحَتْ لَهُ شَاةً، فَأَكَلَ، وَأَتَتْهُ بِقِنَاعٍ مِنْ رُطَبٍ فَأَكَلَ مِنْهُ، ثُمَّ تَوَضَّأَ لِلظُّهْرِ وَصَلَّى، ثُمَّ انْصَرَفَ، فَأَتَتْهُ بِعُلَالَةٍ مِنْ عُلَالَةِ الشَّاةِ، فَأَكَلَ، ثُمَّ صَلَّى العَصْرَ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ".

--------------------------------------------

(1) (برقم: 107).
‌এতে যে সকল ত্রুটিযুক্ত (মালুল) হাদিস রয়েছে তন্মধ্যে:

হাদিস (নম্বর: ২): শু'বাহ থেকে বর্ণিত, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "শব্দ বা গন্ধ পাওয়া ছাড়া অজু নেই।"

আবু হাতিম আর-রাজি একে ত্রুটিযুক্ত (মালুল) বলেছেন। তিনি 'আল-ইলাল' গ্রন্থে(১) বলেন: "এটি একটি ভ্রম; শু'বাহ হাদিসের মতন (মূল পাঠ) সংক্ষেপ করে ফেলেছেন; … , আর সুহাইলের অন্য সাথীবৃন্দ সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: 'তোমাদের কেউ যখন সালাতে থাকে এবং নিজের মধ্যে (বায়ু নির্গমনের) গন্ধ পায়, তবে সে যেন সালাত ছেড়ে বেরিয়ে না যায় যতক্ষণ না সে শব্দ শোনে অথবা গন্ধ পায়।'"

তন্মধ্যে হাদিস (নম্বর: ৭): এতে একটি ত্রুটিপূর্ণ শব্দ রয়েছে, আর তা হলো: "এবং তোমার অণ্ডকোষদ্বয়"। ইবনে মাহদি এবং আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ এটি মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাঁরা এ শব্দটি উল্লেখ করেননি।

তন্মধ্যে হাদিস (নম্বর: ২৪): শুআইব ইবনে আবি হামজা থেকে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সর্বশেষ দুটি বিষয়ের মধ্যে শেষটি ছিল আগুনের স্পর্শে রান্না করা খাবার খাওয়ার পর অজু ত্যাগ করা (অজু না করা)।"

এই হাদিসটির একটি ত্রুটি (ইল্লাত) রয়েছে, আর তা হলো শুআইব ইবনে আবি হামজা হাদিসটিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করে ফেলেছেন যা মূল অর্থের ক্ষতিসাধন করেছে এবং তিনি এতে একটি অতিরিক্ত বিধান নিয়ে এসেছেন। শুআইব এই বর্ণনায় মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে একক হয়ে গেছেন, অথচ মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদিরের অন্য সাথীবৃন্দ জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:

"নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হলেন এবং আমি তাঁর সাথে ছিলাম। তিনি জনৈক আনসারী মহিলার কাছে গেলেন। মহিলাটি তাঁর জন্য একটি বকরি যবেহ করল এবং তিনি তা আহার করলেন। এরপর মহিলাটি তাঁর কাছে এক ঝুড়ি তাজা খেজুর নিয়ে এল এবং তিনি তা থেকে আহার করলেন। এরপর তিনি যোহরের জন্য অজু করলেন ও সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি ফিরে আসলেন, তখন মহিলাটি বকরির অবশিষ্টাংশ নিয়ে এল, তিনি তা আহার করলেন এবং এরপর আসরের সালাত আদায় করলেন কিন্তু নতুন করে অজু করলেন না।"

--------------------------------------------

(১) (নম্বর: ১০৭)।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٩)
فَلَمْ يَذْكُروا مَا ذَكَرَهُ شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، فَدَلَّ عَلَى أَنَّ شُعَيْبًا اخْتَصَرَ الحَدِيْثَ اخْتِصارًا مُخِلًّا.

وَمِنْهَا: حَدِيْثُ (رقم: 35): "لَا يَبُوْلَنَّ أَحَدُكُم فِي مُغْتَسَلِهِ". وَالصَّوَابُ أَنَّهُ مَوْقُوْفٌ.

وَمِنْهَا: حَدِيْثُ (رقم: 51): فِيْهِ لَفْظَةُ "فَلْيُهْرِقْهُ"، وَقَدْ أَنْكَرَهَا ابْنُ عَبْدِ البَرِ، وَأَشَارَ النَّسَائِي إِلَى إِعْلَالِهَا، وَجَاءَتْ بِإِسْنَادٍ صَحِيْحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه مَوْقُوْفًا، وَهُوَ الصَّوَابُ.

 

‌‌وَمِنَ الأَحَادِيْثِ الضَّعِيْفَةِ:

حَدِيْثُ (رقم: 72): عَنْ عَامِرِ بْنِ شَقِيْقٍ، عَنْ شَقِيْقِ بْنِ سَلَمَةَ، قَالَ: رَأَيْتُ عُثْمَانَ رضي الله عنه تَوَضَّأَ … وَفِيْهِ: "وَمَسَحَ رَأْسَهُ وَأُذنَيْهِ ظَاهِرَهُمَا وَبَاطِنَهُمَا".

وَعَامِرُ بْنُ شَقِيْقِ بْنِ جَمْرَةَ تَكَلَّمَ فِيْهِ ابْنُ مَعِيْنٍ.

وَحَدِيْثُ عُثْمَانَ رضي الله عنه جَاءَ مِنْ طُرِقٍ، لَيْسَ فِيْهَا أَنَّهُ مَسَحَ أُذُنَيْهِ، أَوْ خَلَّلَ أَصْابِعَهُ، أَوْ خَلَّلَ لِحْيَتَهُ، وَلِهَذَا بَعْضُ الحُفَّاظِ ضَعَّفَ تَخْلِيْلَ اللِّحْيَةَ مُطْلَقًا كَالإِمَامِ أَحْمَدَ.

وَمِنْهَا: حَدِيْثُ (رقم: 89 - 90): "فِي الرَّجُلِ يَجِدُ البَلَلَ وَلا يَذْكُرُ الاحْتِلَامَ".

فِيْهِ عَبْدُ الله بْنُ عُمَرَ العُمَرِيُّ فِيْهِ ضَعْفٌ، وَقَدْ تَكَلَّمْتُ عَلَيْهِ بِشَكْلٍ مُوَسَّعٍ فِي مَوْضِعٍ آخَر.

وَمِنْهَا: حَدِيْثُ (رقم: 128): عَنِ الوَلِيْدِ بْنِ عُبَيْدِ الله بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، أَنَّ عَطَاءً حَدَّثَهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه .... حَدِيْث: "مَالهُمْ؟! قَتَلُوْهُ قَتَلهُمُ الله! ".

الوَلِيْدُ بْنُ عُبَيْدِ الله ضَعَّفَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ.
তারা শুয়াইব ইবনে আবি হামযা যা উল্লেখ করেছেন তা উল্লেখ করেননি, যা প্রমাণ করে যে শুয়াইব হাদীসটিকে এমনভাবে সংক্ষেপ করেছেন যা ত্রুটিযুক্ত।

এর মধ্যে রয়েছে: হাদীস (নং: ৩৫): "তোমাদের কেউ যেন তার গোসলের স্থানে প্রস্রাব না করে।" আর সঠিক কথা হলো এটি 'মাওকুফ'।

এর মধ্যে রয়েছে: হাদীস (নং: ৫১): এতে "সে যেন তা ঢেলে ফেলে" শব্দটুকু রয়েছে, যা ইবনে আব্দুল বার অস্বীকার করেছেন এবং নাসায়ী এর ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এটি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে সহীহ সনদে 'মাওকুফ' হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, আর সেটিই সঠিক।

 

‌‌দুর্বল হাদীসসমূহের অন্তর্ভুক্ত:

হাদীস (নং: ৭২): আমির ইবনে শাকীক থেকে, তিনি শাকীক ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উসমান (রা.)-কে দেখেছি তিনি ওযু করছেন … এবং এতে রয়েছে: "তিনি তার মাথা এবং তার কানের বহির্ভাগ ও অভ্যন্তরীণ ভাগ মাসেহ করলেন।"

আর আমির ইবনে শাকীক ইবনে জামরাহ সম্পর্কে ইবনে মাঈন সমালোচনা করেছেন।

আর উসমান (রা.)-এর হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যেগুলোর কোনোটিতে তিনি কান মাসেহ করেছেন, বা আঙুল খিলাল করেছেন, অথবা দাড়ি খিলাল করেছেন—এমনটি নেই। এই কারণেই কিছু হাফিযে হাদীস দাড়ি খিলাল করাকে সাধারণভাবে দুর্বল বলেছেন, যেমন ইমাম আহমাদ।

এর মধ্যে রয়েছে: হাদীস (নং: ৮৯ - ৯০): "সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যে আর্দ্রতা দেখতে পায় কিন্তু বীর্যপাতের কথা তার মনে নেই।"

এতে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-উমারী রয়েছেন যার মধ্যে দুর্বলতা আছে, এবং আমি অন্য স্থানে তার সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি।

এর মধ্যে রয়েছে: হাদীস (নং: ১২৮): ওয়ালীদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি রাবাহ থেকে বর্ণিত যে, আতা তাকে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন... হাদীস: "তাদের কী হয়েছে?! তারা তাকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন!"

ওয়ালীদ ইবনে উবাইদুল্লাহ-কে দারাকুতনী দুর্বল বলেছেন।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ١٠)
وَمِنْهَا حَدِيْثُ (رقم: 344): فِيْهِ خُصَيْفٌ الجَزَرِيُّ، سَيءُ الحِفْظِ.

وَمِنْهَا حَدِيْثُ (رقم: 418): عَنْ يَزِيْدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: كُنَّا مَعَ رَسُوْلِ الله صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ مُحْرِمُوْنَ .... الحَدِيْثَ.

وَالصَّوَابُ فِي هَذَا الخَبَرِ الوَقْف، وَأَنَّهَا قَدْ أَفْتَتْ مَنْ سَأَلَهَا بِذَلِكَ.

قَالَ الإِمَامُ أَحْمَدُ: ثَنَا هُشَيْمٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيْمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها: "تُسْدِلُ المُحْرِمَةُ جِلْبَابهَا مِنْ فَوْقِ رَأْسِهَا عَلَى وَجْهِهَا"(1).

وَرَوَاهُ سَعِيْدُ بْنُ مَنْصُوْرٍ، عَنْ هُشَيْمٍ بِهِ.

ذَكَرَهُ ابْنُ حَجَرٍ فِي "فَتْحِ البَارِي"(2).

وَرَوَى وَكِيْعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ يَزِيْدَ الرِّشْكِ، عَنْ مُعَاذَةَ العَدَوِيَّةِ قَالَتْ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ: مَا تَلْبَسُ المُحْرِمَة؟ فَقَالَتْ: "لَا تَنْتَقِبُ، وَلا تَتَلَثَّمُ، وَتُسْدِلُ الثَّوْبَ عَلَى وَجْهِهَا". انْتَهَى مِنَ "الصَّارِمِ".

وَقَدْ جَاءَ هَذَا عَنْ أُخْتِهَا أَسَمَاءَ رضي الله عنها:

أَخْرَجَهُ مَالِكٌ(3) عَنْ هِشَامِ، عَنْ فَاطِمَةَ قَالَتْ: "كُنَّا نُخَمِّرُ وجُوْهَنَا وَنَحْنُ مُحْرِمَاتُ، وَنَحْنُ مَعَ أَسْمَاءَ".

وَأَخْرَجَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ(4) مِنْ طَرِيْقِ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ حُمَيْدٍ، وَالحَاكِمُ(5) مِنْ طَرِيْقِ

--------------------------------------------

(1) "مَسَائِلُ الإِمَامِ أَحْمَدَ" رِوَايَة أَبِي دَاوُدَ (برقم: 731).

(2) (3/ 406).

(3) (برقم: 16).

(4) (برقم: 2690).

(5) (1/ 454).
এবং এর মধ্যে রয়েছে হাদিস (নং: ৩৪৪): এতে খুসাইফ আল-জাযারি রয়েছে, যার স্মৃতিশক্তি দুর্বল।

এবং এর মধ্যে রয়েছে হাদিস (নং: ৪১৮): ইয়াযিদ বিন আবি যিয়াদ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম এবং আমরা ইহরাম অবস্থায় ছিলাম .... হাদিসটি।

এই সংবাদের ক্ষেত্রে সঠিক হলো এটি মাওকুফ হওয়া (সাহাবীর বক্তব্য হওয়া), আর তিনি তাঁকে প্রশ্নকারীকে এ মর্মে ফতোয়া দিয়েছিলেন।

ইমাম আহমাদ বলেন: হুশাইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আ’মাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে, তিনি বলেন: আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: "ইহরাম গ্রহণকারী নারী তার মাথার উপর থেকে তার চেহারার ওপর জিলবাব ঝুলিয়ে দেবে"(১)।

সাঈদ বিন মানসুর এটি হুশাইম থেকে একই সনদে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে হাজার এটি "ফাতহুল বারী"-তে উল্লেখ করেছেন(২)।

ওয়াকি’ শু’বাহ থেকে, তিনি ইয়াযিদ আর-রিশক থেকে, তিনি মুআযাহ আল-আদাবিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আয়েশাকে জিজ্ঞাসা করলাম: ইহরাম গ্রহণকারী নারী কী পরিধান করবে? তিনি বললেন: "সে নেকাব পরবে না, এবং মুখে কাপড় বাঁধবে না, তবে সে কাপড়টি তার চেহারার ওপর ঝুলিয়ে দেবে।" "আস-সারিম" থেকে সমাপ্ত।

এটি তাঁর বোন আসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকেও বর্ণিত হয়েছে:

মালিক(৩) এটি হিশাম থেকে, তিনি ফাতিমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা আসমা (রা.)-এর সাথে থাকাকালীন ইহরাম অবস্থায় আমাদের চেহারা ঢেকে রাখতাম।"

ইবনে খুযাইমা(৪) এটি ইব্রাহিম বিন হুমাইদ-এর সূত্রে এবং হাকেম(৫) এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন:

--------------------------------------------

(১) "মাসাইলুল ইমাম আহমাদ", আবু দাউদের বর্ণনা (নং: ৭৩১)।

(২) (৩/ ৪০৬)।

(৩) (নং: ১৬)।

(৪) (নং: ২৬৯০)।

(৫) (১/ ৪৫৪)।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ١١)
عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ، كِلَاهُمَا عَنْ هِشَامٍ، عَنْ فَاطِمَةَ عَنْ أَسْمَاءَ قَالَتْ: "كُنَّا نُغَطِّي وجُوْهَنَا مِنَ الرِّجَالِ .... ".

وَمِنْهَا حَدِيْثُ (رقم: 636): فِيْهِ دَرَّاجُ أَبُوْ السَّمْحِ، وَلَكِنَّهُ لَمْ يخرِّجْ لَهُ عَنْ أَبِي الهَيْثَمِ.

وَمِنْهَا حَدِيْثُ (رقم: 686): وَهُوَ مِنْ رِوَايَةِ عَبْدِ الله بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيْلٍ، عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه رَفَعَهُ: "أَيُّمَا عَبْدٍ تَزَوَّجَ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوْلاهُ".

عَبْدُ الله بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيْلٍ لَا يُحْتَجُّ بِهِ.

وَمِنْهَا حَدِيْثُ (رقم: 769): فِيْهِ مَطَرُ الوَرَّاقُ، فِيْهِ ضَعْفٌ مِنْ جِهَةِ حِفْظِهِ.

وَمِنْهَا حَدِيْثُ (رقم: 774): فِيْهِ سُفْيَانُ بْنُ أَبِي العَوْجَاء السُّلَمِيُّ، قَالَ البُخَارِيُّ: "فِيْهِ نَظَرٌ". وَقَالَ أَبُوْ أَحْمَدَ الحَاكِمُ: "حَدِيْثُهُ لَيْسَ بِالقَائِمِ".

وَمِنْهَا حَدِيْثُ (رقم: 757، 772): فِيْهِ سَمِاكُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، وَقَدْ تُكُلِّمَ فِي رِوَايَةِ سِمَاكِ عَنْ عِكْرِمَةَ خَاصّةً.

وَمِنْهَا: أَثَرُ (رقم: 532): مِنْ طَرِيْقِ سَعِيْدٍ، عَنْ عُمَرَ. وَهُوَ مُنْقَطِعٌ، لَكِنْ جَاءَ عَنِ الإِمَامِ أَحْمَدَ أَنَّهُ يُقَوِّي رِوَايَةَ سَعِيْدٍ عَنْ عُمَرَ.

وَمِنْ هَذَا البَابِ: مَا أَخْرَجَهُ مِنْ طَرِيْقِ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِيْهِ، يُنْظَرُ: (رقم: 344، 364)، وَالحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، يُنْظَرُ: (رقم: 611، 622، 623، 673).

 

‌‌وَمِنَ الأَحَادِيْثِ المُنْقَطِعَةِ:

رِوَايَةُ مَسْرُوْقٍ، عَنْ مُعَاذٍ، يُنْظَرُ: (برقم: 343).

وَمِنْ أَنْكَرِ الأَحَادِيْثِ فِي كِتَابِ "المُنْتَقَى":
আলী ইবনে মুসহির, তারা উভয়েই হিশাম থেকে, তিনি ফাতিমা থেকে, তিনি আসমা থেকে বর্ণনা করেন, আসমা (রা.) বলেন: "আমরা পুরুষদের থেকে আমাদের চেহারা ঢেকে রাখতাম...।"

এবং তার মধ্যে একটি হলো হাদিস (নং ৬৩৬): এতে দাররাজ আবুস সামহ রয়েছেন, কিন্তু তিনি তার মাধ্যমে আবুল হায়সাম থেকে বর্ণনা করেননি।

এবং তার মধ্যে একটি হলো হাদিস (নং ৬৮৬): এটি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল জাবির (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যে গোলাম তার মনিবের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করবে..."।

আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নন।

এবং তার মধ্যে একটি হলো হাদিস (নং ৭৬৯): এতে মাতার আল-ওয়াররাক রয়েছেন, তার মুখস্থ রাখার ক্ষমতার দিক থেকে দুর্বলতা আছে।

এবং তার মধ্যে একটি হলো হাদিস (নং ৭৭৪): এতে সুফিয়ান ইবনে আবিল আওজা আস-সুলামী রয়েছেন, ইমাম বুখারি বলেন: "তার ব্যাপারে সংশয় আছে।" আর আবু আহমদ আল-হাকিম বলেন: "তার হাদিস মজবুত নয়।"

এবং তার মধ্যে একটি হলো হাদিস (নং ৭৫৭, ৭৭২): এতে সিমাক ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ বিশেষভাবে ইকরিমা থেকে সিমাকের বর্ণনার ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে।

এবং তার মধ্যে হলো একটি আছার (নং ৫৩২): যা সাঈদ উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন), তবে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি সাঈদ কর্তৃক উমরের বর্ণনাকে শক্তিশালী মনে করেন।

এবং এই পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত হলো: যা তিনি আবু উবায়দাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, দেখুন: (নং ৩৪৪, ৩৬৪); এবং হাসান সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন, দেখুন: (নং ৬১১, ৬২২, ৬২৩, ৬৭৩)।

 

‌এবং বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি) হাদিসগুলোর মধ্যে রয়েছে:

মাসরুকের বর্ণনা মুয়াজ (রা.) থেকে, দেখুন: (নং ৩৪৩)।

এবং "আল-মুনতাকা" গ্রন্থের সবচেয়ে বেশি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিসগুলোর মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ١٢)
حَدِيْثُ (رقم: 901): حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي الْعُشَرَاءِ، عَنْ أَبِيْهِ، قُلْتُ: يَا رَسُوْلَ الله أَمَا يَكُونُ الذَّكَاةُ إِلَّا فِي الحلْقِ وَاللَّبَّةِ؟ فَقَالَ: "لَوْ طَعَنْتَ فِي فَخِذِهَا لَأَجْزَأَ عَنْك" قَالَ ابْنُ مَهْدِيٍّ -أَي: عَبْد الرَّحْمَنِ-: هَذَا فِي مَا لَا يُقْدَرُ عَلَيْهِ، يُشْبِهُ التَّرَدِّيَ". اهـ.

قُلْتُ: هَذَا الحَدِيْثُ غَرِيْبٌ مُنْكَرٌ، وَقَدْ تَكلَّمَ فِيْهِ كِبَارُ الحُفَّاظِ.

قَالَ المَيْمُوْنِيُّ: سَأَلْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلَ عَنْ حَدِيْثِ أَبِي العُشَرَاءِ؟ فَقَالَ: "هُوَ عِنْدِيّ غَلَطٌ"(1).

وَقَالَ البُخَارِيُّ فِي تَرْجَمَةِ أَبِي العُشَرَاءِ وَذَكَرَ الحَدِيْثَ: "فِي حَدِيْثهِ، وَاسْمِهِ، وَسَمَاعِهِ مِنْ أَبِيْهِ نَظَرٌ".

وَقَالَ أَبُوْ عِيْسَى التِّرْمذِيُّ: "هَذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ لَا نَعْرِفْهُ إِلَّا مِنْ حَدِيْثِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، وَلَا نَعْرِفُ لِأَبِي العُشَرَاءِ عَنْ أَبِيْهِ غَيرَ هَذَا الحَدِيْثِ"(2).

وَقَالَ الذَّهَبِي فِي "المِيْزَانِ"(3): "لَا يُدْرَى مَنْ هُوَ وَلا مَنْ أَبُوْهُ، انْفَرَدَ عَنْهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ".

وَقَالَ ابْنُ حَجَرٍ فِي "التَّلْخِيْصِ"(4): "أَبُوْ العُشَرَاءِ لَا يُعْرَفُ حَالَهُ".

--------------------------------------------

(1) "تَهْذِيْبُ الكَمَالِ" للمِزِّيِّ (34/ 86).

(2) وينظر: "العِلَلُ الصَّغِيْر" (6/ 254). وَ"الكَبِيْرُ" (برقم 438) للتِّرْمِذِيِّ، وَكَلامُ ابْنِ عَدِي فِي "الكَامِلِ" (3/ 46 - 47).

(3) (4/ 556).

(4) (4/ 243).
হাদিস (নম্বর: ৯০১): হাম্মাদ ইবনে সালামাহ্, আবুল উশারা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! জবেহ কি কেবল কণ্ঠনালী ও নহরের (বুকের উপরিভাগের) মধ্যেই সীমাবদ্ধ? তিনি বললেন: "তুমি যদি এর উরুতেও আঘাত করতে, তবে তা তোমার জন্য যথেষ্ট হতো।" ইবনে মাহদী—অর্থাৎ আবদুর রহমান—বলেন: "এটি ঐ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাকে আয়ত্ত করা সম্ভব হয় না, যা গর্তে পড়ে যাওয়া পশুর সদৃশ।" সমাপ্ত।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই হাদিসটি গরিব ও মুনকার, এবং বড় হাফেজগণ এটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

মাইমুনি বলেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে আবুল উশারার হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: "এটি আমার নিকট ভুল"(১)।

ইমাম বুখারি আবুল উশারার জীবনীতে উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করে বলেন: "তার হাদিসে, তার নামে এবং তার পিতার নিকট থেকে তার শ্রবণ করার বিষয়ে আপত্তি রয়েছে।"

আবু ঈসা আত-তিরমিজি বলেন: "এই হাদিসটি গরিব, আমরা এটি কেবল হাম্মাদ ইবনে সালামাহ্-এর সূত্রে জানি এবং আমরা আবুল উশারার তার পিতা থেকে এই হাদিসটি ছাড়া অন্য কোনো বর্ণনা সম্পর্কে জানি না"(২)।

আয-যাহাবি 'আল-মিজান'-এ(৩) বলেন: "সে কে এবং তার পিতা কে তা জানা যায় না, কেবল হাম্মাদ ইবনে সালামাহ্ তার থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।"

ইবনে হাজার 'আত-তালখিস'-এ(৪) বলেন: "আবুল উশারার অবস্থা অজ্ঞাত।"

--------------------------------------------

(১) আল-মিজ্জি কৃত "তহজীবুল কামাল" (৩৪/ ৮৬)।

(২) আরও দেখুন: তিরমিজি কৃত "আল-ইলালুস সাগির" (৬/ ২৫৪) এবং "আল-কাবির" (হাদিস নং ৪৩৮), এবং "আল-কামিল" গ্রন্থে ইবনে আদির বক্তব্য (৩/ ৪৬ - ৪৭)।

(৩) (৪/ ৫৫৬)।

(৪) (৪/ ২৪৩)।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ١٣)
وَقَالَ فِي "النُّكَتِ الظِّرَافِ"(1): "وَجَاءَتْ عَنْ أَبِي العُشَرَاءِ، عَنْ أَبِيْهِ عِدَّةَ أَحَادِيْث، لَا يَثْبُتُ مِنْهَا شَيءٌ، جَمَعَهَا تَمَّامُ الرَّازِيُّ فِي جُزْءِ مُفْرَدٍ". اهـ.

قُلْتُ: وَتَوْجِيْهُ ابْنِ عَبْدِ الهَادِي لِهَذَا الحَدِيْثِ مِنْ أَجْلِ كَوْنِهِ مُشْكِلٌ.

قُلْتُ: ويُتَعَجَّبُ مِنَ المُصَنِّفِ كَيْفَ خَرَّجَ هَذَا الحَدِيْث وَلَكِنَّهُ أَحْسَنَ عِنْدَمَا نَقَلَ كَلَامَ ابْنِ مَهْدِيِّ.

وَمِنْهَا (رقم 1082): مَا رَوَاهُ مِنْ طَرِيْقِ الوَلِيْدِ بْنِ مُسْلِمٍ، قَالَ: ثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيْهِ، عَنْ جَدِّهِ رضي الله عنه، "أَنَّ رَسُوْلَ الله صلى الله عليه وسلم، وَأَبَا بَكْرٍ، وَعُمَرَ رضي الله عنهما ضَرَبُوا الْغَالَّ بِالسَّوْطِ، وَحَرَّقُوا مَتَاعَهُ، وَمَنَعُوهُ سَهْمَهُ".

قُلْتُ: هَذَا حَدِيْثٌ مُنْكَرٌ، وَقَدْ جَاءَ نَحْو هَذَا عَنْ عُرْوَةَ، وَالأَحَادِيْثُ الصَّحِيْحَةُ بِخِلَافِةِ.

قَالَ أَبُوْ عِيْسَى التِّرْمذِيُّ فِي "العِلَلِ الكَبِيْرِ"(2): "وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ يَعْنِي: حَدِيثَ صَالِحِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زَائِدَةَ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَنْ وَجَدْتُمُوهُ غَلَّ فَاحْرِقُوا مَتَاعَهُ". فَضَعَّفَ مُحَمَّدٌ هَذَا الْحَدِيثَ وَقَالَ: قَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غَيْرُ حَدِيثٍ خِلَافُ هَذَا. حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي قِصَّةِ مِدْعَمٍ. وَحَدِيثُ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ أَنَّ رَجُلًا غَلَّ خَرَزَاتٍ. وَذَكَرَ أَحَادِيثَ،

--------------------------------------------

(1) (11/ 223 تُحْفَه).

(2) (4/ 31). وَيُنْظَرُ: "الجَامِعُ الصَّحِيْح" (6/ 187) وَ"التَّارِيْخُ الكَبِيْر" (4/ 291) وَ"التَّارِيْخُ الأَوْسَط" للبُخَارِيِّ (3/ 508).
এবং তিনি "আন-নুকাতিয জিরাফ"(১) গ্রন্থে বলেছেন: "আবু আল-উশারা থেকে তার পিতার সূত্রে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার কোনোটিই প্রমাণিত নয়। তাম্মাম আর-রাযী এগুলোকে একটি পৃথক পুস্তিকায় একত্রিত করেছেন।" সমাপ্ত।

আমি বলছি: এই হাদিসের ব্যাপারে ইবনে আবদিল হাদীর ব্যাখ্যাটি মূলত হাদিসটি সমস্যাযুক্ত হওয়ার কারণে।

আমি বলছি: গ্রন্থকারের ব্যাপারে বিস্ময় জাগে যে তিনি কীভাবে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তবে ইবনে মাহদীর উক্তিটি উদ্ধৃত করে তিনি ভালো কাজ করেছেন।

এবং এর মধ্য থেকে (নং ১০৮২): যা তিনি ওয়ালীদ ইবনে মুসলিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহাইর ইবনে মুহাম্মদ, তিনি আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর এবং উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) গনিমতের মালামাল আত্মসাৎকারীকে চাবুক দিয়ে আঘাত করেছেন, তার আসবাবপত্র পুড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাকে তার প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করেছেন।"

আমি বলছি: এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস। উরওয়াহ থেকেও অনুরূপ বর্ণনা এসেছে, তবে সহিহ হাদিসসমূহ এর বিপরীত।

আবু ঈসা আত-তিরমিযী "আল-ইলালুল কাবীর"(২) গ্রন্থে বলেছেন: "আমি মুহাম্মাদকে এই হাদিসটি সম্পর্কে অর্থাৎ সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যায়িদাহ-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিস, যা সালিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'তোমরা যাকে গনিমতের মাল আত্মসাৎ করতে দেখবে, তার আসবাবপত্র পুড়িয়ে দাও।' এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে মুহাম্মাদ এই হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন এবং বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এর বিপরীত একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যেমন মিদআম-এর ঘটনায় আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস এবং যায়েদ ইবনে খালিদ বর্ণিত হাদিস যে, এক ব্যক্তি কিছু পুঁতি আত্মসাৎ করেছিল। এবং তিনি আরও কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন,"

--------------------------------------------

(১) (১১/ ২২৩ তুহফাহ)।

(২) (৪/ ৩১)। এবং দ্রষ্টব্য: "আল-জামি আস-সহিহ" (৬/ ১৮৭), "আত-তারিখুল কাবীর" (৪/ ২৯১) এবং বুখারীর "আত-তারিখুল আওসাত" (৩/ ৫০৮)।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ١٤)
فَلَمْ يَذْكُرْ فِي شَيْءٍ مِنْهَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ أَنْ يُحْرَقَ مَتَاعُ مَنْ غَلَّ".

وَقَالَ فِي "الجَامِعِ"(1): قَالَ مُحَمَّدٌ: "وَقَدْ رُوِي فِي غَيْرِ حَدِيْثٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الغَالِّ وَلَمْ يَأْمُرْ فِيْهِ بِحَرْقِ مَتَاعِهِ".

وَقَالَ البَيْهَقِيُّ، وَابْنُ عَبْدِ البَرِ نَحْوَ هَذَا(2).

 

‌‌وَهُنَاكَ أَحَادِيْثُ فِيْهَا ضَعْفٌ مُحْتَمَّلٌ:

فَمِنْهَا حَدِيْثُ (رقم: 40): عَنْ عُتْبةَ بْنِ أَبِي حَكِيْمٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ نَافِعٍ أَنَّهُ حَدَّثَهُ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُوْ أَيُّوْبَ، وَجَابِرُ بْنُ عَبْدِ الله، وَأَنَسُ بْنُ مَالِكٍ الأَنْصَارِيُّوْنَ رضي الله عنهم … فِي نُزُوْلِ قَوْلِهِ تَعَالَى: {فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ} [التَّوْبَةُ: 108].

عُتْبَةُ بْنُ أَبِي حَكِيْمٍ فِيهِ ضَعْفٌ.

وَمِنْهَا حَدِيْث (رقم: 186): عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مَيْمُوْنَ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم … حَدِيْث "لَا صَلاةَ إِلَّا بِفَاتِحَةِ القُرْآنِ فَمَا زَادَ".

جَعْفَرُ بْنُ مَيْمُوْنَ فِيْهِ ضَعْفٌ.

وَمِنْهَا حَدِيْثُ (رقم: 189): عَنْ إِبْرَاهِيْمَ السَّكْسَكِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى رضي الله عنه أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُوْلَ الله، عَلِّمْنِي شَيْئًا يُجْزِيْنِي عَنِ القُرْآنِ". الحَدِيْثَ.

إِبْرَاهِيْمُ السَّكْسَكِيُّ فِيْهِ ضَعْفٌ.

هَذِهِ أَمْثِلَةٌ، وَالخُلَاصَةُ أَنَّ الغَالِبَ عَلَى أَحَادِيْثَ الكِتَاب الصِّحَّة.

--------------------------------------------

(1) (3/ 113).

(2) "السُّنَنُ الكُبْرَى" (9/ 174)، "التَّمْهِيْدُ" لابْنِ عَبْدِ البَرِ (2/ 21).
তিনি এগুলোর কোনোটিতেই উল্লেখ করেননি যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমতের মাল আত্মসাৎকারীর আসবাবপত্র পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।

আর তিনি "আল-জামি"(১) গ্রন্থে বলেছেন: মুহাম্মদ বলেছেন: "গনীমতের মাল আত্মসাৎকারীর বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তিনি তাতে তার আসবাবপত্র পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেননি।"

বায়হাকী এবং ইবনে আব্দুল বার-ও অনুরুপ কথা বলেছেন(২)।

 

‌‌এবং সেখানে এমন কিছু হাদীস আছে যাতে সম্ভাব্য দুর্বলতা রয়েছে:

সেগুলোর মধ্যে একটি হলো হাদীস (নং: ৪০): উতবা বিন আবি হাকিম থেকে, তালহা বিন নাফে’ থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁকে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমাকে আবু আইয়ুব, জাবির বিন আব্দুল্লাহ এবং আনাস বিন মালিক আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) হাদীস বর্ণনা করেছেন … মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়ে: {সেখানে এমন লোক আছে যারা পবিত্র হওয়া পছন্দ করে এবং আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন} [আত-তাওবা: ১০৮]।

উতবা বিন আবি হাকিমের মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে হাদীস (নং: ১৮৬): জাফর বিন মাইমুন থেকে, আবু উসমান থেকে, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম … হাদীস "সূরা ফাতিহা এবং এর অতিরিক্ত কিছু (সূরা) ছাড়া কোনো সালাত নেই।"

জাফর বিন মাইমুনের মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে হাদীস (নং: ১৮৯): ইবরাহীম আস-সাকসাকী থেকে, ইবনে আবি আওফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বলল: "হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা আমার জন্য কুরআনের স্থলাভিষিক্ত হবে।" হাদীসটি।

ইবরাহীম আস-সাকসাকীর মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে।

এগুলো হলো উদাহরণ, আর সারকথা হলো এই যে, কিতাবটির অধিকাংশ হাদীসই বিশুদ্ধ।

--------------------------------------------

(১) (৩/ ১১৩)।

(২) "আস-সুনানুল কুবরা" (৯/ ১৭৪), ইবনে আব্দুল বারের "আত-তামহীদ" (২/ ২১)।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ١٥)
الوَجْهُ الرَّابِع: وَمِمَّا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ يَخْتَارُ الأَسَانِيْدَ النَّظِيْفَةَ وَالقَوِيَّةَ؛ أَنَّهُ يَسُوْقُ -فِي بَعْضِ الأَحْيَانِ- أَدِلَّةً وَقَرَائِنَ تَدُلُّ عَلَى قُوَّةِ الخَبَرِ الَّذِي خَرَّجَهُ.

وَمِنْ ذَلِكَ حَدِيْث (رَقم: 631، 632، 633): بَعْدَ أَنْ سَاقَهُ مِنْ طُرِقٍ عَنْ إِسْمَاعِيْلَ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ مُوْسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنْ رَسُوْلِ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: "أَيُّمَا رَجُلٍ بَاعَ سِلْعَةً فَأَدْرَكَ سِلْعَتَهُ بِعَيْنِهَا عِنْدَ رَجُلٍ أَفْلَسَ وَلَمْ يَقْبِضْ مِنْ ثَمَنِهَا شَيْئًا فَهِي لَهُ، فَإِنْ كَانَ قَضَاهُ مِنْ ثَمَنِهَا شَيْئًا فَمَا بَقِي فَهُوَ أُسْوَةُ الغُرَمَاءِ".

قَالَ ابْنُ الجَارُوْدِ: وَقَالَ ابْنُ يَحْيَى -قُلْتُ: يَعْنِي: مُحَمَّدَ بْنَ يَحْيَى الذُّهْلِيَّ-: "رَوَاهُ مَالِكٌ، وَصَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ، وَيُوْنُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ - يَعْنِي: ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُطْلَقٌ، -يَعْنِي مُرْسَلٌ- عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُمْ أَوْلَى بِالحَدِيْثِ، يَعْنِي: مِنْ طَرِيْقِ الزُّهْرِيِّ".

فَبَيَّنَ هُنَا أَنَّ الصَّوَابَ فِي الإِسْنَادِ الإِرْسَال عَنِ الزُّهْرِيِّ.

وَإِسْمَاعِيْلُ بْنُ عَيَّاشٍ رِوَايَتُهُ عَنِ الحِجَازِيِّيْن ضَعِيْفَةٌ.

قُلْتُ: وَلِذَا قَالَ أَبُوْ دَاوُدَ: "حَدِيْثُ مَالِكٌ أَصَحُّ". يَعْنِي: المُرْسَلَ.

وَتَقْيِيْدُ ذَلِكَ بِالزُّهْرِيِّ -أَي: إِرْسَال الحَدِيْث- مِنْ قِبَلِ ابْنِ الجَارُوْدِ مُهِمٌّ، أَرَادَ أَنْ يُبَيّنَ أَنَّ الحَدِيْثَ قَدْ صَحَّ مِنْ غَيْرِ هَذَا الطَّرِيْقِ، وَقَدْ سَاقَهُ قَبْلَ رِوَايَةِ إِسْمَاعِيْلَ بْنِ عَيَّاشٍ (برقم: 630)، مِنْ طَرِيْقِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ العَزِيْزِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه.

ثُمَّ سَاقَهُ ابْنُ الجَارُوْدِ -أَيْضًا- بَعْدَ حَدِيْثِ إِسمَاعِيْلَ بْنِ عَيَّاشٍ -مِنْ طَرِيْقٍ
চতুর্থ দিক: তিনি যে পরিচ্ছন্ন ও শক্তিশালী সনদসমূহ নির্বাচন করেন, তার অন্যতম প্রমাণ হলো—তিনি মাঝে মাঝে এমন কিছু দলিল ও আলামত পেশ করেন যা তার সংকলিত বর্ণনার শক্তিমত্তার প্রমাণ দেয়।

এর একটি উদাহরণ হলো হাদীস (নম্বর: ৬৩১, ৬৩২, ৬৩৩): তিনি এটি ইসমাঈল বিন আইয়াশ, তিনি মূসা বিন উকবা, তিনি যুহরী, তিনি আবু বকর বিন আব্দুর রহমান এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করার পর—যিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যদি কোনো ব্যক্তি কোনো পণ্য বিক্রি করে, অতঃপর সে তার সেই পণ্যটি হুবহু এমন এক ব্যক্তির কাছে পায় যে দেউলিয়া হয়ে গেছে এবং সে তার মূল্যের কোনো অংশই গ্রহণ করেনি, তবে সেটি তারই প্রাপ্য। আর যদি সে তার মূল্যের কিছু অংশ গ্রহণ করে থাকে, তবে অবশিষ্ট অংশের ক্ষেত্রে সে অন্যান্য পাওনাদারদের সমতুল্য হবে।"

ইবনুল জারুদ বলেন: ইবনে ইয়াহইয়া—আমি (গ্রন্থকার) বলছি: অর্থাৎ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলী—বলেছেন: "মালিক, সালিহ বিন কায়সান এবং ইউনুস এটি যুহরী থেকে, তিনি আবু বকর—অর্থাৎ ইবনে আব্দুর রহমান—থেকে সরাসরি (অর্থাৎ মুরসাল হিসেবে) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। যুহরীর সূত্র থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তারাই অধিকতর যোগ্য।"

এখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই সনদে যুহরী থেকে মুরসাল হওয়াই সঠিক।

আর হিজাজিদের থেকে ইসমাঈল বিন আইয়াশের বর্ণনা দুর্বল।

আমি বলছি: একারণেই আবু দাউদ বলেছেন: "মালিকের বর্ণিত হাদীসটি অধিকতর বিশুদ্ধ।" অর্থাৎ: মুরসাল বর্ণনাটি।

ইবনুল জারুদ কর্তৃক বিষয়টিকে যুহরীর সাথে সীমাবদ্ধ করা—অর্থাৎ হাদীসটি মুরসাল হওয়া—তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তিনি এর মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন যে হাদীসটি এই সূত্র ছাড়াও অন্য সূত্রে সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি এটি ইসমাঈল বিন আইয়াশের বর্ণনার পূর্বে (৬৩০ নম্বর হাদীসে) আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আমর বিন হাযম, তিনি উমর বিন আব্দুল আজিজ, তিনি আবু বকর বিন আব্দুর রহমান এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর ইবনুল জারুদ পুনরায় ইসমাঈল বিন আইয়াশের হাদীসের পর—একটি সূত্র থেকে...
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ١٦)
آخَرِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، وَكَأَنَّهُ يُرِيْدُ أَنْ يُؤَكِّدَ صِحَّةَ الحَدِيْث.

وَمِنْ ذَلِكَ حَدِيْثُ (رقم: 420): حَدِيْثُ عَائِشَةَ فِي قِصَّةِ ضُبَاعَةَ بِنْتِ الزُّبَيْرِ عِنْدَمَا أَرَادَتِ الحَجَّ، فَقَالَ لَهَا صلى الله عليه وسلم: "حُجِّي وَاشْتَرِطِيِّ".

فَقَدْ نَقَلَ عَنِ الذُّهْلِيِّ أَنَّهُ قَالَ: "حَدِيْثُ عَبْدِ الرَّزَّاقِ عِنْدَنَا مَحْفُوْظٌ فِي قِصَّةِ ضُبَاعَةَ رضي الله عنها، مُحْتَّجٌ بِهِ لِمَنْ أَرَادَ الشَّرْطَ فِي الحَجِّ".

وَقَدْ سَاقَهُ ابْنُ الجَارُوْدِ عَنِ الذُّهْلِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ بِهِ.

وَمِنْ ذَلِكَ حَدِيْثُ (رقم: 186): رَوَاهُ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ هَاشِمٍ، عَنْ يَحْيَى القَطَّانِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مَيْمُوْنَ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه.

قَالَ بَعْدَ ذَلِكَ: "جَعْفَرٌ هَذَا رَوَى عَنْهُ الثَّوْرِيُّ، وَعِيْسَى بْنُ يُوْنُسَ".

قُلْتُ: كَأَنَّهُ أَرَادَ أَنْ يُقَوِّيَ جَعْفَرَ بْنَ مَيْمُوْنَ أَوْ يُبَيِّنَ قُوَّته، وَذَلِكَ لِأَنَّهُ قَدْ تُكُلِّمَ فِي جَعْفَرٍ.

وَمِنْ ذَلِكَ حَدِيْثُ (رقم: 745): سَاقَهُ مِنْ طَرِيْقِ ابْنِ لِهَيْعَةَ مَقْرُوْنًا بِـ عَمْرِو بْنِ الحَارِثِ، وَعَمْرُو بْنُ الحَارِثِ ثِقَةٌ مَشْهُوْرٌ، وَابْنُ لِهَيْعَةَ مُتَكَلَّمٌ فِيْهِ، وَهَذَا مَا دَعَاهُ أَنْ يُقْرِنَهُ بِـ عَمْرِو بْنِ الحَارِثِ، وَلَا يَكْتَفِي بِابْنِ لِهَيْعَةَ.

وَمِنْ ذَلِكَ حَدِيْثُ أَبِي مُوْسَى الأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه: "لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ".

رَوَاهُ أَبُوْ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أبي مُوْسَى رضي الله عنه، وَقَدِ اخْتُلِفَ عَلَى أَبِي إِسْحَاقَ: فَبَعْضُهُمْ رَوَاهُ هَكَذَا مَوْصُوْلًا، وَبَعْضُهُمْ أَرْسَلَهُ. وَلِذَا عِنْدَمَا سَاقَهُ ابْنُ الجَارُوْدِ (برقم: 701 - 704) أكَّدَ أَنَّ الوَصْلَ مَحْفُوْظٌ، فَسَاقَهُ مِنْ طَرِيْقِ يُوْنُسَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، وَإِسْرَائِيْلَ، وَزُهَيْرِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، وَسُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، كُلُّهُمْ عَنْ أَبِي
আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত অন্যটি, এবং মনে হচ্ছে তিনি হাদিসটির বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন।

এর মধ্যে রয়েছে হাদিস (নং ৪২০): দুবাআ বিনতে যুবাইরের হজ্জ করার ইচ্ছা পোষণ করার ঘটনা সম্পর্কে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বলেছিলেন: "তুমি হজ্জ করো এবং শর্ত করো।"

নিশ্চয়ই যুহলী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমাদের নিকট দুবাআ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘটনার ক্ষেত্রে আব্দুর রাজ্জাকের হাদিসটি সংরক্ষিত, যা হজ্জের ক্ষেত্রে শর্তারোপ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য দলিল হিসেবে গণ্য।"

ইবনুল জারুদ এটি যুহলীর সূত্রে আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে হাদিস (নং ১৮৬): তিনি এটি আব্দুল্লাহ বিন হাশিম থেকে, তিনি ইয়াহইয়া আল-কাত্তান থেকে, তিনি জাফর বিন মাইমুন থেকে, তিনি আবু উসমান থেকে এবং তিনি আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।

এরপর তিনি বলেছেন: "এই জাফর থেকে সাওরী এবং ঈসা বিন ইউনুস বর্ণনা করেছেন।"

আমি বলছি: মনে হচ্ছে তিনি জাফর বিন মাইমুনকে শক্তিশালী করতে অথবা তার নির্ভরযোগ্যতা প্রকাশ করতে চেয়েছেন, কারণ জাফর সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে হাদিস (নং ৭৪৫): তিনি এটি ইবনে লাহিয়া-এর সূত্রে আমর বিন হারিসের সাথে যুক্ত করে বর্ণনা করেছেন; আমর বিন হারিস একজন প্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী, আর ইবনে লাহিয়া সমালোচিত বর্ণনাকারী। আর এটিই তাকে কেবল ইবনে লাহিয়ার ওপর নির্ভর না করে তাকে আমর বিন হারিসের সাথে যুক্ত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস: "অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।"

এটি আবু ইসহাক, আবু বুরদাহ থেকে এবং তিনি আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু ইসহাকের বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ হয়েছে: তাদের কেউ কেউ এটি এভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন, আবার কেউ কেউ এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই কারণে ইবনুল জারুদ যখন এটি বর্ণনা করেছেন (নং ৭০১ - ৭০৪), তিনি নিশ্চিত করেছেন যে নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনাটিই সংরক্ষিত। তাই তিনি এটি ইউনুস বিন আবু ইসহাক, ইসরাঈল, যুহাইর বিন মুয়াবিয়া এবং সুফিয়ান সাওরী—তাদের সবার সূত্রে আবু... থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ١٧)
إِسْحَاقَ مَوْصُوْلًا.

ثُمَّ قَالَ: "وَقَدْ وَصَلَهُ شَرِيْكٌ أَيْضًا وَأَسْنَدَهُ".

كُلُّ هَذَا تَأْكِيْدٌ عَلَى أَنَّ الوَصْلَ مَحْفُوْظٌ.

وَمِنْ ذَلِكَ حَدِيْثُ (رقم: 108، 109): سَاقَهُ مِنْ طَرِيْقِ وَهْبِ بْنِ جَرِيْرٍ، وَسَعِيْدِ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الحَمِيْدِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي الَّذِي يَأْتِي امْرَأَتَهُ حَائِضًا، قَالَ: "يَتَصَدَّقُ بِدِيْنَارٍ، أَوْ بِنِصْفِ دِيْنَارٍ".

قُلْتُ: قَدْ كَانَ شُعْبةُ يَرْفَعُ هَذَا الحَدِيْث، ثُمَّ بَعْدَ ذَلِكَ وَقَفَهُ، فَبَيَّنَ ابْنُ الجَارُوْدِ ذَلِكَ، فَسَاقَ مِنْ طَرِيْقِ سَعِيْدِ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ شُعْبَةَ أَنَّهُ قَالَ: "وزَعَمَ فُلانٌ وَفُلَانٌ أَنَّ الحَكَم كَانَ لَا يرفعُهُ، فَقِيْلَ لِشُعْبَةَ: حَدِّثْنَا بِمَا سَمِعْتَ وَدع قَوْلَ فُلَانٍ وَفُلَانٍ، فَقَالَ: مَا يَسُرُّنِي أن أُعَمَّرَ فِي الدُّنْيَا عُمُرَ نُوْحٍ، وَأَنِّي تَحَدَّثْتُ بِهَذَا أَوْ سَكَتُّ عَنْ هَذَا".

ثم ساقه ابن الجارود (برقم: 110) من طريق ابن مهدي، عن شعبة ولم يرفعه. فقال رجلٌ لشعبة: إنَّكَ كنتَ ترفَعهُ، قال: كُنْتُ مَجْنُوْنًا فَصَحَحْتُ.

قلْتُ: ثُمَّ سَاقَهُ مِنْ طَرِيْقٍ عَنْ غَيْرِ شُعْبَةَ مَرْفُوْعًا.

فَبَيَّنَ ابْنُ الجَارُوْدِ أَنَّ شُعْبَةَ رَجَعَ عَنِ الرَّفْعِ.

وَمِنْ ذَلِكَ حَدِيْثُ (رقم: 626): سَاقَهُ مِنْ طَرِيْقِ الشَّافِعِيِّ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيْهِ، عَنْ عَائِشَة رضي الله عنها ..

قُلْتُ: مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ هُوَ الزِّنْجِيُّ، لَا يُحْتَجُّ بِهِ.

وَلَعَلَّهُ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ سَاقَهُ مَرَّةً ثَانِيَةُ مِنْ طَرِيْقٍ آخَر (برقم: 627)، عَنِ
ইসহাকের সূত্রে সংযুক্ত হিসেবে।

তারপর তিনি বললেন: "শারীকও এটি সংযুক্ত করেছেন এবং এটিকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।"

এই সবই এই বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করছে যে, (হাদিসের) এই সংযোগটি সংরক্ষিত।

এর মধ্যে রয়েছে হাদিস (নম্বর: ১০৮, ১০৯): তিনি এটি বর্ণনা করেছেন ওয়াহাব বিন জারীর এবং সাঈদ বিন আমিরের সূত্রে, শু'বাহ থেকে, হাকাম থেকে, আব্দুল হামিদ থেকে, মিকসাম থেকে, ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাসকারীর বিষয়ে বলেছেন: "সে এক দিনার অথবা আধা দিনার সদকা করবে।"

আমি বলছি: শু'বাহ এই হাদিসটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করতেন, এরপর পরবর্তীতে তিনি এটিকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জারুদ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন, তিনি সাঈদ বিন আমিরের সূত্রে শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছিলেন: "অমুক এবং অমুক ব্যক্তি ধারণা করেছে যে হাকাম এটি মারফু করতেন না। তখন শু'বাহকে বলা হলো: আপনি যা শুনেছেন তা আমাদের কাছে বর্ণনা করুন এবং অমুক অমুকের কথা ছেড়ে দিন। তিনি বললেন: নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সমপরিমাণ হায়াত দুনিয়াতে পাওয়াও আমাকে আনন্দিত করবে না যদি আমি এই বিষয়টি বর্ণনা করি অথবা এ বিষয়ে চুপ থাকি।"

এরপর ইবনুল জারুদ এটি (১১০ নম্বর হাদিসে) ইবনে মাহদীর সূত্রে শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটিকে মারফু করেননি। তখন এক ব্যক্তি শু'বাহকে বললেন: আপনি তো এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করতেন। তিনি বললেন: "আমি পাগল ছিলাম, এখন সুস্থ হয়েছি।"

আমি বলছি: এরপর তিনি শু'বাহ ছাড়া অন্য সূত্রে হাদিসটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং ইবনুল জারুদ স্পষ্ট করে দিলেন যে শু'বাহ মারফু হিসেবে বর্ণনা করা থেকে ফিরে এসেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে হাদিস (নম্বর: ৬২৬): তিনি এটি ইমাম শাফেয়ীর সূত্রে, মুসলিম বিন খালিদ থেকে, হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তার পিতা থেকে, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন...

আমি বলছি: মুসলিম বিন খালিদ হলেন আয-যিনজি, তিনি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নন।

সম্ভবত এই কারণেই তিনি এটি দ্বিতীয়বার অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন (৬২৭ নম্বর হাদিসে), ... থেকে।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ١٨)
القَطَّانِ، عَنِ ابْنِ أبي ذِئْبٍ، عَنْ مَخْلَدِ بْنِ خُفَافٍ، عَنْ عُرْوَةَ بِهِ.

وَمِنْ ذَلِكَ حَدِيْثُ (رقم: 609): قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيْرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ: نَهَى رَسُوْلُ الله صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الحَيَوَانِ بِالحَيَوَانِ نَسِيْئَةً". وَهَذَا مُرْسَلٌ.

ثُمَّ سَاقَهُ (برقم: 610)، مِنْ طَرِيْقٍ آخَر عَنْ مَعْمَرٍ مَوْصُوْلًا.

ثُمَّ سَاقَ حَدِيْثًا آخَر (برقم: 611)، مِنْ حَدِيْثِ الحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ -رَفَعَهُ- بِنَفْسِ المَتْنِ.

ثُمَّ سَاقَ حَدِيْثًا (برقم: 612)، مِنْ طَرِيْقِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه أَنَّ صَفِيَّةَ رضي الله عنها وَقَعَتْ فِي سَهْمِ دِحْيَةَ الكَلْبِي، فَاشْتَرَاهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِسَبْعَةِ أَرْؤُسٍ.

ثُمَّ سَاقَهُ مِنْ طَرِيْقِ اللَّيْثِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اشْتَرَى عَبْدًا بِعَبْدَيْنِ أَسْوَدِيْنِ.

قُلْتُ: حَدِيْثُ أَنَسٍ، وَحَدِيْثُ جَابِرٍ حَدِيْثَان صَحِيْحَان، وَقَدْ خَرَّجَهُمَا مُسْلِمٌ أَيْضًا.

فكأَنَّهُ يُرِيْدُ ضَعْفَ مَا تَقَدَّمَ مِنَ الأَحَادِيْثِ، خَاصَّةً حَدِيْث ابْنِ عَبَّاسٍ سَاقَهُ مُرْسَلًا وَمَوْصُولًا، فَبَيَّنَ الاخْتِلَافَ الَّذِي وَقَعَ فِيْهِ.

أَوْ يُرِيْدُ أَنْ يُبَيَّنَ أَنَّ الصَّحِيْحَ مِنَ النَّاحِيَةِ الفِقْهِيَّةِ هُوَ جَوَازُ ذَلِكَ(1)، كَمَا فَعَلَ

--------------------------------------------

(1) وهذا من فقه المصنف. والكتاب فيه لفتات فقهية، ولذا في حديث (برقم: 416) ساق حديث ابن عمر وفيه الأمر بقطع الخفين لمن لم يجد النعلين، وذلك في الإحرام، وساق بعده حديث ابن =
আল-কাত্তান, ইবনে আবি যিব থেকে, মাখলাদ ইবনে খুফাফ থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো হাদীস (নং ৬০৯): তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাকিতে পশুর বিনিময়ে পশু বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। আর এটি একটি মুরসাল হাদীস।

অতঃপর তিনি এটি (৬১০ নং হাদীসে) মা’মার থেকে অন্য একটি সূত্রে সংযুক্ত (মাওসুল) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি হাসান থেকে এবং তিনি সামুরা থেকে অপর একটি হাদীস (৬১১ নং হাদীসে) - মারফূ হিসেবে - একই মূলপাঠসহ (মতন) উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহর সূত্রে, সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে একটি হাদীস (৬১২ নং হাদীসে) উল্লেখ করেছেন যে, সাফিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) দিহয়াহ আল-কালবীর অংশে পড়েছিলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে সাতটি প্রাণের (দাসের) বিনিময়ে ক্রয় করে নেন।

এরপর তিনি লায়সের সূত্রে, আবু যুবাইর থেকে এবং তিনি জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এটি উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুইজন কালো দাসের বিনিময়ে একজন দাস ক্রয় করেছিলেন।

আমি বলছি: আনাস এবং জাবিরের হাদীস দুটি সহীহ হাদীস এবং ইমাম মুসলিমও সেগুলো বর্ণনা করেছেন।

এতে মনে হচ্ছে তিনি ইতিপূর্বে উল্লেখিত হাদীসগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট করতে চেয়েছেন, বিশেষ করে ইবনে আব্বাসের হাদীসটি, যা তিনি মুরসাল ও মাওসুল উভয়ভাবেই উল্লেখ করেছেন এবং এতে যে মতভেদ ঘটেছে তা বর্ণনা করেছেন।

অথবা তিনি এটি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, ফিকহী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশুদ্ধ মত হলো এটি বৈধ(১), যেমনটি তিনি করেছেন

--------------------------------------------

(১) এটি গ্রন্থকারের ফিকহী প্রজ্ঞার অংশ। এই কিতাবে বিভিন্ন ফিকহী সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে, আর একারণেই (৪১৬ নং) হাদীসে তিনি ইবনে উমরের হাদীসটি এনেছেন যেখানে জুতা না পাওয়া ব্যক্তির জন্য ইহরাম অবস্থায় মোজা কেটে ফেলার নির্দেশ রয়েছে। এরপর তিনি ইবনে... এর হাদীস উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ١٩)
البُخَارِيُّ فِي كِتَابِهِ "الصَّحِيْحِ"، فَقَدْ بَوَّبَ عَلَى جَوَازِ هَذَا الشَّيءِ.

وَالكِتَابُ يَحْتَاجُ إِلَي زِيَادَةِ تَتَبُّعٍ حَتَّى يَتَبَيَّنَ بِشَكْلٍ أَوْضَحٍ مَنْهَج ابْنِ الجَارُوْدِ مِنْ حَيْثُ الصِّنَاعَةُ الحَدِيْثِيَّةِ، وَإِذَا ضُمَّ إِلَى هَذَا مَا نُقِلَ عَنْهُ مِنْ تَضْعِيْفٍ لِبَعْضِ الرُّوَاةِ فِي كِتَابِهِ "الضُّعَفَاءِ"، فَسَوْفَ يَكُوْنُ مَنْهَجُهُ أَكْثَرَ وُضُوْحًا.

وَقَدْ يَسَّرَ اللهُ تَعَالَى أَنْ شَرَعْتُ فِي شَرْحِ هَذَا الكِتَابِ(1)، وَكَانَ ذَلِكَ فِي (8/ 6/ 1423)، وَتَكَلَّمْتُ عَنْ مَنْهَجِ ابْنِ الجَارُوْدِ فِي كِتَابِهِ، وَعَنْ مَا يَتَعَلَّقُ بِرِجَالِهِ، وَكَانَتْ لِي نِيَّةٌ أَنْ أُصَنِّفَ كِتَابًا فِي رِجَالِهِ، أَسْأَلُ اللهَ تَعَالَى أَنْ يُيَسِّرَ ذَلِكَ.

وَهَذَا الكِتَابُ الَّذِي أُقدِّمُ لَهُ، هُوَ فِي رِجَالِ "مُنْتَقَى" ابْنِ الجَارُوْدِ مِمَّنْ لَمْ يُتَرْجَمْ لهُمْ فِي "التَّهْذِيْبِ"، وَهُوَ ضِمْنُ مَشْرُوْعٍ هُوَ "إِتْحَافُ البَرَرَه بِتَرَاجِمِ مَنْ لَيْسَ فِي التَّهْذِيْبِ مِنْ رِجَالِ كُتُبِ إِتْحَافِ المَهَرَه"، وَهُوَ عَمَلُّ فِي غَايَةٍ مِنَ الأَهَمِّيَّةِ؛ لِأَنَّ فَائِدَتَهُ عَظِيْمَةٌ كَمَا لَا يَخْفَى.

وَمِنَ المَعْلُوْمِ أَنَّ عِلْمَ الرِّجَالِ مِنْ أَهَمِّ عُلُوْمِ السُّنَّةِ النَّبَوِيَّةِ، فِيْهِ يُعْرَفُ الصَّحِيْحُ مِنَ الضَّعِيْفِ، وَالمَحْفُوْظُ مِنَ المَعْلُوْلِ، وَالقَوِيُّ مِنَ السَّقِيْمِ، وَتَعَلُّمُهُ مِنْ فُرُوْضِ الكِفَايَاتِ الَّتِي تَجِبُ عَلَى الأَمَّةِ.

أَخْرَجَ أَبُوْ مُحَمَّدٍ الرَّامَهُرْمُزِيُّ فِي كِتَابِهِ "المُحَدِّثِ الفَاصِلِ"(2)، وَأَبُوْ بَكْرٍ

--------------------------------------------

= عباس في نفس المسألة وليس فيه الأمر بقطع الخفين. قال: "لا أدري أي الحديثين نسخ الآخر".

(1) هُوَ شَرْحٌ صَوْتِيٌّ، وَلَمْ يُتِّمْ، يَسَّرَ الله تَعَالَى إِتْمَامَهُ.

(2) (ص: 320).
বুখারি তার ‘সহিহ’ গ্রন্থে এই বিষয়টির বৈধতার ওপর অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন।

হাদিসশাস্ত্রীয় পদ্ধতির (সিনায়াতুল হাদিস) দিক থেকে ইবনুল জারুদের মানহাজ আরও স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হওয়ার জন্য কিতাবটি আরও অধিক অনুসন্ধানের দাবি রাখে। আর এর সাথে যদি তাঁর ‘আদ-দুয়াফা’ গ্রন্থে বর্ণিত কিছু বর্ণনাকারীকে দুর্বল বলার বিষয়টি যোগ করা হয়, তবে তাঁর মানহাজ আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।

আল্লাহ তাআলা সহজ করেছেন যে, আমি এই কিতাবটির ব্যাখ্যা(১) শুরু করেছিলাম, এবং তা ছিল (৮/ ৬/ ১৪২৩) হিজরিতে। আমি ইবনুল জারুদের কিতাবে তাঁর মানহাজ এবং এর বর্ণনাকারীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আমার ইচ্ছা ছিল তাঁর কিতাবের বর্ণনাকারীদের ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করার; আমি আল্লাহ তাআলার কাছে সেটি সহজ করে দেওয়ার প্রার্থনা করি।

আমি যে কিতাবটির ভূমিকা লিখছি, তা হলো ইবনুল জারুদের ‘মুনতাকা’ গ্রন্থের সেই সব বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে যাদের জীবনী ‘আত-তাহজীব’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়নি। এটি একটি প্রকল্পের অংশ, যার নাম হলো—‘ইতহাফুল বারারা বি-তারাজিমি মান লাইসা ফিত তাহজীব মিন রিজালি কুতুবি ইতহাফিল মাহারা’। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ; কারণ এর উপকারিতা অপরিসীম, যা অস্পষ্ট নয়।

এটি সর্বজনবিদিত যে, ইলমুর রিজাল (বর্ণনাকারী শাস্ত্র) হলো সুন্নাহে নববিয়্যাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। এর মাধ্যমেই সহিহ ও জয়িফ (দুর্বল), মাহফুজ ও মালুল (ত্রুটিযুক্ত) এবং শক্তিশালী ও রুগ্ন বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করা যায়। এই শাস্ত্র শিক্ষা করা ‘ফরজে কেফায়া’র অন্তর্ভুক্ত, যা উম্মতের ওপর আবশ্যক।

আবু মুহাম্মাদ আর-রামাহুরমুজি তাঁর ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল’(২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এবং আবু বকর...

--------------------------------------------

= একই মাসআলায় আব্বাস থেকে বর্ণিত, তবে এতে মোজা কাটার নির্দেশ নেই। তিনি বলেছেন: "আমি জানি না এই দুটি হাদিসের কোনটি অন্যটিকে রহিত করেছে।"

(১) এটি একটি অডিও ব্যাখ্যা, যা এখনো সম্পন্ন হয়নি; আল্লাহ তাআলা এটি সম্পন্ন করা সহজ করে দিন।

(২) (পৃষ্ঠা: ৩২০)।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
الخَطِيْبُ البَغْدَادِيُّ فِي "الجَامِعِ"(1) كِلَاهُمَا مِنْ طَرِيْقِ أبي عَبْدِ الله البُخَارِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ المَدِيْنِيَّ يَقُوْلُ: "التَّفَقُهُ فِي مُعَادِ(2) الحَدِيْثِ نِصْفُ العِلْمِ، وَمَعْرِفَةُ الرِّجَالِ نِصْفُ العِلْمِ".

وَمَعْنَى كَلَامُ ابْنِ المَدِيْنِيِّ: -رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى-: أَنَّ النُّصُوْصَ الشَّرْعِيَّةَ نُقِلَتْ إِلَيْنَا بِوَاسِطَةِ الرِّجَالِ، وَلَا يُمْكِنُ العَمْلُ بِأَيِّ نَصٍ حَتَّى تُعْرَفُ ثِقَةَ النَّاقِل، فَعَلَى هَذَا تَكُوْنُ مَعْرِفَةُ الرِّجَالِ نِصْفُ العِلْمِ، وَالنِّصْفُ الآخَرِ هُوَ مُتُوْنُ النُّصُوْصِ الشَّرْعِيَّةِ المَنْقُوْلَةُ إِلَيْنَا بِالأَسَانِيْدِ.

وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ فِي مُقَدِّمَةِ "الجَرْحِ وَالتَّعْدِيْلِ"(3): "فَلَمَّا لَمْ نَجِدْ سَبِيْلًا إِلَى مَعْرِفَةِ شَيءٍ مِنْ مَعَانِي كِتَابِ الله، وَلَا مِنْ سُنَنِ رَسُوْلِ الله صلى الله عليه وسلم إِلَّا مِنْ جَهَةِ النَّقْلِ وَالرِّوَايَةِ وَجَبَ أَنْ نُميَّزَ بَيْنَ عُدُوْلِ النَّاقَلَةِ وَالرُّوَاةِ وَثقَاتِهِمْ، وَأَهْلِ الحِفْظِ وَالتَّثَبْتِ وَالإِتْقَانِ مِنْهُم، وَبَيْنَ أَهْلِ الغَفَلْةِ وَالوَهْمِ، وَسُوْءِ الحِفْظِ، وَالكَذِبِ، وَاخْتِرَاعِ الأَحَادِيْثِ الكَاذِبَةِ".

وَلِأَجْلِ هَذَهِ الأَهَمِّيَّةِ لِعِلْمِ الرِّجَالِ، اهْتَمَّ أَهْلُ العِلْمِ بِذَلِكَ، وَأَلَّفُوا فِيْهِ المُؤَلَّفَاتِ الكَثِيْرَة، كَمَا هُوَ مَعْلَوُمٌ.

أَقُوْلُ: اطَّلَعْتُ عَلَى كِتَابِ الأَخِ أَبِي الطِّيِّبِ نَايِفِ بْنِ صَلَاحِ المَنْصُوْرِيّ المُسَمَّى "تَيْسِيْرُ الوَدُوْد بِتَرَاجِمِ رِجَالِ مُنْتَقَى ابْنِ الجَارُوْد"، وَهُوَ كِتَابٌ مُفِيْدٌ،

--------------------------------------------

(1) (2/ 211).

(2) مِنَ الإِعَادَةِ: وَهِي تَكْرَارُ الحَدِيْث.

قُلْتُ: كَذَا فِي "الجَامِعِ"، وَفِي "المُحَدِّثِ الفَاصِلِ": "مَعَانِي الحَدِيْث". أَبُوْ الطَّيِّبِ.

(3) (1/ 5).
আল-খতিব আল-বাগদাদি "আল-জামি" গ্রন্থে(১) আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারির সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আলি ইবনুল মাদিনিকে বলতে শুনেছি: "হাদিসের পুনরাবৃত্তির(২) গভীর অনুধাবন হচ্ছে অর্ধেক জ্ঞান, আর বর্ণনাকারীদের পরিচিতি হচ্ছে অর্ধেক জ্ঞান।"

ইবনুল মাদিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—এর কথার অর্থ হলো: শরয়ি নসসমূহ আমাদের নিকট বর্ণনাকারীদের মাধ্যমেই পৌঁছেছে। আর কোনো নসের ওপর আমল করা ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয়, যতক্ষণ না বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে জানা যায়। সেই হিসেবে বর্ণনাকারীদের পরিচিতি হলো অর্ধেক জ্ঞান, আর বাকি অর্ধেক হলো শরয়ি নসসমূহের মূল পাঠ, যা সনদের মাধ্যমে আমাদের নিকট পৌঁছেছে।

আব্দুর রহমান ইবনু আবি হাতিম "আল-জারহু ওয়াত-তাদিল" গ্রন্থের(৩) ভূমিকায় বলেছেন: "যেহেতু আমরা আল্লাহর কিতাবের অর্থ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সম্পর্কে জানার জন্য বর্ণনা ও সূত্রের মাধ্যম ব্যতীত অন্য কোনো পথ খুঁজে পাই না, তাই আমাদের জন্য বর্ণনাকারী ও রাবিদের মধ্যে যারা ন্যায়পরায়ণ, নির্ভরযোগ্য এবং মুখস্থ ও দৃঢ়তায় দক্ষ, তাদের পৃথক করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি যারা অসতর্ক, ভ্রান্তিতে নিপতিত, দুর্বল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, মিথ্যাবাদী এবং বানোয়াট হাদিস রচয়িতা, তাদেরও পৃথক করা আবশ্যক।"

ইলমুর রিজালের এই গুরুত্বের কারণেই ইলম অন্বেষণকারীগণ এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা সর্বজনবিদিত।

আমি বলছি: আমি ভাই আবু তৈয়ব নায়েফ ইবনু সালাহ আল-মানসুরির রচিত "তৈসিরুল ওয়াদুদ বি-তারাজুমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারুদ" নামক গ্রন্থটি দেখেছি, এটি একটি উপকারী গ্রন্থ।

--------------------------------------------

(১) (২/ ২১১)।

(২) এটি 'ইআদাহ' (পুনরাবৃত্তি) থেকে উদ্ভূত: আর তা হলো হাদিসের পুনরাবৃত্তি করা।

আমি বলছি: "আল-জামি" গ্রন্থে এভাবেই এসেছে, আর "আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল" গ্রন্থে এসেছে: "হাদিসের অর্থসমূহ"। আবু তৈয়ব।

(৩) (১/ ৫)।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٢١)
وَقَدْ حَرَصَ مُؤَلِفُهُ -وَفَّقَهُ الله تَعَالَى- عَلَى التَّوْثِيْقِ وَالتَّحْقِيْقِ، وَالرُّجُوْعِ لِلْمَصَادِرِ الأَصْلِيَّةِ، وَاتَّبَعَ فِيْهِ طَرِيْقَةَ المِزِّيِّ فِي مُحَاوَلَةِ تَقَصِّي شُيُوْخِ الرَّاوِي وَتَلَامِيَذِهِ، وَجَعَلَ لهُمْ رُقُوْمًا يُعْرَفُ بِهَا فِي أَيِّ كِتَابٍ مِنْ كُتُبِ "إِتْحَافِ المَهَرَةِ" وَقَعْتْ رِوَايَتُهُ عَنْ ذَلِكَ الاسْمِ المَرْقُوْمِ عَلَيْهِ، وَرِوَايَةُ ذَلِكَ الاسْمِ المَرْقُوْمِ عَلَيْهِ عَنْهُ، وَهَكَذَا فِي مِيْزَاتٍ عِدَّةٍ لِهَذَا الكِتَابِ، وَيَلُوْحُ لِقَارِئِ الكِتَاب الجَهْدُ الكَبِيْرُ الَّذِي بَذَلَهُ فِيْهِ، فَجَزَاهُ اللهُ خَيْرًا وَنَفَعَ بِهِ وَبِمَا كَتَبَ.

إِلَّا أَنِّي أُنَبِّهُ عَلَى مَسْأَلَةٍ -أُحِبُّ أَنَّ المُؤَلِّفَ تَطَرَّقَ إِلَيْهَا- وَهِي أَنَّ ابْنَ الجَارُوْدِ كَانَ قَدْ أَخْرَجَ لِرِجَالٍ ضُعَفَاء، وَلِبَعْضِ المَجْهُوْلِيْن فِي كِتَابِهِ، فَمَا سَببُ تَخْرِيْجِ ابْنِ الجَارُوْدِ لَهُمْ(1)؟.

وَالجَوَابُ عَنْ هَذَا:

أَوَّلًا: أَنَّ ابْنَ الجَارُوْدِ لَمْ يَشْتَرِطْ الصِّحَّةَ، وَإِنَّمَا سَمَّى كِتَابَهُ "مُنْتَقَى".

ثَانِيًا: أَنَّ أَهْلَ العِلْمِ قَدْ يَتَسَاهَلُوْنَ فِي الاحْتِجَاجِ بِبَعْضِ الأَحَادِيْثِ الَّتِي فِيْهَا ضَعْفٌ، كَمَا يُعْلَمُ هَذَا مِنْ تَتَبُّعِ مَنَاهِجِهِمْ.

قَالَ أَبُوْ دَاوُدَ: "وَمَا كَانَ فِي كِتَابِي مِنْ حَدِيْثٍ فِيْهِ وَهْنٌ شَدِيْدٌ فَقَدْ بَيَّنْتُهُ، وَمِنْهُ مَا لَا يَصِحُّ سَنَدُهُ، وَمَا لَمْ أَذْكُرْ فِيْهِ شَيْئًا فَهُوَ صَالِحٌ، وَبَعْضُهَا أَصَحُّ مِنْ بَعْضٍ"(2).

فَقَوْلُ أَبِي دَاوُدَ: (صَالِحٌ) أَيّ: صَالِحٌ للاحْتِجَاجِ.

--------------------------------------------

(1) أَقُوْلَ: لَمْ أَتَطَرَّقْ لَهَا لِأَنَّهَا خَارِجُ عَمَلِيِّ، وَاللهُ المُسْتَعَان. أَبُوْ الطَّيِّبِ.

(2) "رِسَالَةُ أَبِي دَاوُدَ إِلَى أَهْلِ مَكَّةَ" (ص/ 27 - 28).
এর লেখক—আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাওফিক দান করুন—এর প্রামাণিকতা ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রতি এবং মূল উৎসসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তিনি এতে রাবীর শায়খ এবং তাঁর ছাত্রদের অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে আল-মিজ্জীর পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। তিনি তাদের জন্য এমন কিছু সংখ্যা বা চিহ্ন নির্ধারণ করেছেন যার মাধ্যমে জানা যায় যে, "ইতহাফুল মাহারা" গ্রন্থসমূহের কোন কিতাবে সেই চিহ্নিত নামের সূত্রে বর্ণনা এসেছে, অথবা সেই চিহ্নিত ব্যক্তির থেকে তাঁর বর্ণনা পাওয়া গেছে। এভাবেই এই কিতাবের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। এই কিতাবের পাঠকারীর কাছে লেখকের সেই বিশাল পরিশ্রম স্পষ্ট হয়ে ওঠে যা তিনি এর পেছনে ব্যয় করেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর মাধ্যমে ও তিনি যা লিখেছেন তার মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করুন।

তবে আমি একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—আমি পছন্দ করি যে লেখক সে বিষয়ে আলোচনা করবেন—তা হলো ইবনুল জারুদ তাঁর কিতাবে কিছু দুর্বল রাবী এবং কিছু অজ্ঞাত (মাজহুল) ব্যক্তিদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তো ইবনুল জারুদ কেন তাঁদের হাদিস বর্ণনা করেছেন?(১)।

এর উত্তর হলো:

প্রথমত: ইবনুল জারুদ (সব হাদিস) সহিহ হওয়ার শর্ত করেননি, বরং তিনি তাঁর কিতাবের নাম রেখেছেন "মুনতাকা" (নির্বাচিত)।

দ্বিতীয়ত: আলেমগণ এমন কিছু হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেন যেগুলোতে দুর্বলতা রয়েছে, যা তাঁদের কর্মপদ্ধতি পর্যালোচনার মাধ্যমে জানা যায়।

আবু দাউদ বলেন: "আমার কিতাবে যে হাদিসে অত্যন্ত দুর্বলতা রয়েছে আমি তা স্পষ্ট করে দিয়েছি। এর মধ্যে এমন কিছু আছে যার সনদ সহিহ নয়। আর যে হাদিস সম্পর্কে আমি কিছু উল্লেখ করিনি তা 'সলিহ' (গ্রহণযোগ্য), এবং কিছু হাদিস অন্যগুলোর চেয়ে অধিক সহিহ।"(২)।

আবু দাউদের উক্তি: (সলিহ) এর অর্থ হলো: দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য বা গ্রহণযোগ্য।

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: আমি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করিনি কারণ এটি আমার কাজের পরিধির বাইরে ছিল। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। আবু তাইয়িব।

(২) "মক্কাবাসীদের প্রতি আবু দাউদের পত্র" (পৃষ্ঠা/ ২৭ - ২৮)।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
وَقَالَ أَبُوْ عِيْسَى التِّرْمِذِيُّ: "جَمِيْعُ مَا فِي هَذَا الكِتَابِ مِنَ الحَدِيْثِ فَهُوَ مَعْمُوْلٌ بِهِ، وَقَدْ أَخَذَ بِهِ بَعْضُ أَهْلِ العِلْمِ مَا خَلَا حَدِيْثَيْنِ"(1).

وَالبَعْضُ الآخَر مِنْ أَهْلِ العِلْمِ لَا يَرَى العَمْل إِلَّا بِالحَدِيْثِ الصَّحِيْحِ.

وَالمَسْأَلَةُ تَحْتَاجُ إِلَى بَسْطٍ أَكْثَرَ، وَقَدْ تَكَلَّمْتُ عَلَيْهَا فِي غَيْرِ هَذَا المَوْضِعِ.

وَكُنْتُ -أَيْضًا- أُحِبُّ مِنَ المُؤَلِّفِ أَنْ يَجْمَعَ كُلَّ رِجَال ابْنِ الجَارُوْدِ الَّذِيْنَ خَرَّجَ لَهُمْ فِي "المُنْتَقَى"، وَيُرَتّبَهُمْ عَلَى حُرُوْفِ المُعْجَمِ، فَمَنْ كَانَ قَدْ تُرْجِمَ لَهُ فِي "التَّهْذِيْبِ" يُحِيْلُ عَلَى تَرْجَمَتِهِ فِي هَذَا الكِتَابِ، وَمَنْ لَمْ يُتَرْجَمْ لَهُ فِي "التَّهْذِيْبِ" يُبَيِّنُ تَرْجَمَتَهُ كَمَا فَعَلَ(2).

وَبِالله التَّوْفِيْقَ، وَاللهُ أَعْلَم، وَصَلَّى الله وَسَلَّم عَلَى عَبْدِ الله وَرَسُوْلِهِ مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ.

وَكَتَبَ أَبُوْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ الله بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّعْدِ

12/ 10/ 1434 هـ

--------------------------------------------

(1) "العِلَلُ الصَّغِيْر" -ابْن رَجَبٍ- (1/ 4).

(2) أَقُوْلُ: قَدْ بَيَّنْتُ وَجْهَةَ نَظَرِي فِي عَدَمِ التَّرْجَمَةِ لِمَنْ قُدْ تُرْجِمَ لَهُ فِي "التَّهْذِيْبِ" فِي مُقَدِّمَةِ الكِتَابِ، وَأَنَّ ذَلِكَ تَحْصِيْل حَاصِل، وَثَانِيًا: مِنَ المَعْلُوْمِ أَنَّ كِتَابِي هَذَا هُوَ أَحَدُ كُتُبِ المَجْمُوْعَةِ الثَّانِيَة: "إِتْحَافُ البَرَرَه بِتَرَاجِمِ مَنْ لَيْسَ فِي التَّهْذِيْبِ مِنْ رِجَالِ كُتُبِ "إِتْحَاف المَهَرَة"، وَقَدْ أَشَارَ إِلَى ذَلِكَ الشَّيْخُ نَفْسُهُ -حَفِظَهُ الله تَعَالَى- فِي ثَنَايَا مُقَدِّمَتِهِ هَذِهِ -جَزَاهُ اللهُ خَيْرُا- وَبِاللهِ التَّوْفِيْق. أَبُوْ الطِّيِّبِ.
আবু ঈসা আত-তিরমিজি বলেছেন: "এই কিতাবের সমস্ত হাদিসই আমলযোগ্য, এবং একদল আলেম এগুলোর ওপর আমল করেছেন, কেবল দুইটি হাদিস ব্যতীত।"(১).

আর আলেমদের অন্য একটি অংশ কেবল সহিহ হাদিস ছাড়া আমল করা সঙ্গত মনে করেন না।

এই বিষয়টি আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যার দাবি রাখে, এবং আমি এটি সম্পর্কে অন্য স্থানে আলোচনা করেছি।

আমি আরও পছন্দ করতাম যে, লেখক যদি ইবনুল জারুদের 'আল-মুনতাকা' গ্রন্থে বর্ণিত সকল বর্ণনাকারীকে একত্রিত করতেন এবং তাদেরকে বর্ণানুক্রমে সাজাতেন; অতঃপর যাদের জীবনী 'আত-তাহজিব' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই কিতাবে সেই জীবনীর বরাতে উল্লেখ করতেন, আর যাদের জীবনী 'আত-তাহজিব'-এ নেই, তাদের জীবনী বর্ণনা করতেন, যেমনটি তিনি করেছেন(২)।

আল্লাহর পক্ষ হতেই তাওফিক আসে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার এবং তাঁর সঙ্গীদের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

এটি লিখেছেন আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আস-সাদ

১২/ ১০/ ১৪৩৪ হিজরি

--------------------------------------------

(১) "আল-ইলালুস সাগির" -ইবনে রজব- (১/ ৪)।

(২) আমি বলছি: যাদের জীবনী 'আত-তাহজিব' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, তাদের জীবনী এখানে নতুন করে উল্লেখ না করার ব্যাপারে আমার দৃষ্টিভঙ্গি আমি কিতাবের ভূমিকায় স্পষ্ট করেছি; এবং তা কেবলই চর্বিতচর্বণ বা নিরর্থক পুনরাবৃত্তি। দ্বিতীয়ত: এটি সুপরিচিত যে, আমার এই কিতাবটি দ্বিতীয় সিরিজের বইগুলোর অন্তর্ভুক্ত একটি বই, যার নাম: "ইতহাফুল বারারাহ বি-তরাজিম মান লাইসা ফিত-তাহজিব মিন রিজালি কুতুবিত ইতহাফিল মাহারা"। শায়খ নিজে—আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন—তাঁর এই ভূমিকার মধ্যেই এ দিকে ইঙ্গিত করেছেন—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আল্লাহর পক্ষ হতেই তাওফিক আসে। ইতি—আবু তাইয়্যেব।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌مُقَدِّمَة المُؤَلِّف

بسم الله الرحمن الرحيم

إِنَّ الحَمْدَ لله، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِيْنُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوْذُ بِالله مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَا، وَسَيِّئاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ الله فَلا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلا هَادِيَ لَهُ. وَأَشْهَدُ أنْ لا إِلَه إِلا الله وَحْدَهُ لا شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشهدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُه. {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102]، {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1]، {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71].

وَبَعْدُ:

فَبَيْنَ يَدَيْكَ أَخِي القَارِئُ الكَرِيْم، وَالبَاحِثُ النَّبِيْل، الكِتَابُ الخَامِسُ مِنَ المَجْمُوْعَةِ الثَّانِيَةِ مِنْ "سِلْسِلَةِ تَقْرِيْبِ رُوَاةِ السُّنَّه بَيْنَ يَدَي الأُمَّه" المُسَمَّاةِ: "إِتْحَافُ البَرَرَه بِتَرَاجِمِ مَنْ لَيْسَ فِي التَّهْذِيْبِ مِنْ رِجَال كُتُب إِتْحَاف المَهَرَه".

وَالَّذِي أَسْمَيْتُهُ: بـ "تَيْسِيْر الوَدُوْد بِتَرَاجِم رِجَال مُنْتَقَى ابن الجَارُوْد".

جَمَعْتُ فِيْهِ جَمِيْعَ رِجَال أَحَد عُلَمَاء الإِسْلام، وَالمُجَاوِرِيْنَ لِبَيْتِ الله الحَرَام، أَبِي مُحَمَّد عَبْد الله بن عَلِي بن الجَارُوْد النَّيْسَابُوْرِيِّ الحَافِظ العَلَم الهُمَام، مِنْ كِتَابِهِ المَوْسُوْمِ بـ "المُنْتَقَى مِنَ السُّنَن المُسْنَدَة عَنْ رَسُوْل الله صَلّى الله عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ
লেখকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আলে ইমরান: ১০২], {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয়ের থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তা বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [আন-নিসা: ১], {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করবে} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর:

হে সম্মানিত পাঠক এবং মহৎ গবেষক ভাই! আপনার সম্মুখে পেশ করছি "সিলসিলাতু তাকরীবু রুওয়াতুস সুন্নাহ বাইনা ইয়াদাইল উম্মাহ" নামক ধারাবাহিকের দ্বিতীয় সংগ্রহের পঞ্চম কিতাব, যার নাম: "ইতহাফুল বারারাহ বি-তারাজিমি মান লাইসা ফিত তাহযীব মিন রিজালি কুতুবি ইতহাফুল মাহারাহ"।

যাকে আমি নামকরণ করেছি: "তায়সীরুল ওয়াদুদ বি-তারাজিমি রিজালি মুনতাক্বাবনি জারুদ" নামে।

এতে আমি ইসলামের অন্যতম আলেম এবং আল্লাহর পবিত্র ঘরের প্রতিবেশী, মহান হাফেজ ও নেতা আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনুল জারুদ আন-নাইসাবুরীর কিতাব "আল-মুনতাক্বা মিনাস সুনানিল মুসনাদাহ আন রাসূলিল্লাহ (তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)"-এর সকল বর্ণনাকারীকে একত্র করেছি।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَسَلَّم".

وَقَدْ أَفْرَدْتُ الكَلامَ عَلَى بَيَانِ المَنْهَجِ الَّذِي سِرْتُ عَلَيْهِ فِي كِتَابِي هَذَا بِفَصْلٍ مُسْتَقِلٍّ، ثُمَّ أَرْدَفْتُ ذَلِكَ بِتَرْجَمَةٍ مُطَوَّلَةٍ لإِمَامِنَا أَبِي مُحَمَّد ابنِ الجَارُوْد -رَحِمَهُ الله تَعَالَى-، وَأَسْمَيْتُهَا: "فَتْح الوَدُوْد بِتَرْجَمَةِ أبي مُحَمَّد ابنِ الجَارُوْد"، وَقَسَّمْتُهَا إِلَى فُصُوْلٍ وَمَبَاحِثَ، تَسْهِيْلًا للوُصُلِ إِلَى مَعْرِفَةِ مَا تَضَمَّنَتْهُ مِنْ فَوَائِدَ وَفَرَائِدَ كَشَفَتِ اللِّثَام، عَنْ مَنْزِلَةِ هَذَا الحَافِظِ الضِّرْغَام:

الفَصْلُ الأَوَّل: سِيْرَتُهُ الشَّخْصِيَّة:

وَقَدِ اشْتَمَلَ هَذَا الفَصْلُ عَلَى المَبَاحِثِ الآتِيَة:

1 - اسْمُهُ وَنَسَبُهُ:

2 - كُنْيَتُهُ.

3 - نِسْبَتُهُ.

4 - وِلادَتُهُ.

5 - أُسْرَتُهُ.

6 - وَفَاتُهُ.

الفَصْلُ الثَّانِي: رَحَلاتُهُ.

الفَصْلُ الثَّالِثُ: شُيُوْخُهُ.

وَقَدِ اشْتَمَلَ هَذَا الفَصْلُ عَلَى المَبَاحِثِ الآتِيَة:

المَبْحَثُ الَأوَّل: فِي ذِكْرِ مَنِ اعْتَنَى مِنَ العُلَمَاءِ وَالبَاحِثِيْن بِذِكْرِهِم.

المَبْحَثُ الثَّانِي: فِي ذِكْرِ أَقْدَمِ شُيُوْخِهِ.
এবং শান্তি বর্ষিত হোক।"

আমি আমার এই গ্রন্থে যে পদ্ধতির অনুসরণ করেছি তা বর্ণনা করার জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছি। অতঃপর আমি আমাদের ইমাম আবু মুহাম্মদ ইবনুল জারুদ -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- এর একটি বিস্তারিত জীবনী এর সাথে যুক্ত করেছি এবং এর নামকরণ করেছি: "ফাতহুল ওয়াদুদ বিতরজামাতি আবি মুহাম্মদ ইবনিল জারুদ"; এবং এতে যা কিছু জ্ঞানগর্ভ শিক্ষা ও দুর্লভ তথ্যাদি রয়েছে যা এই সিংহতুল্য হাফেজের সুউচ্চ মর্যাদা উন্মোচিত করেছে, তা সহজে জানার সুবিধার্থে আমি একে কয়েকটি পরিচ্ছেদ ও অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর ব্যক্তিগত জীবনী:

এই পরিচ্ছেদটি নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে:

১ - তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

২ - তাঁর উপনাম।

৩ - তাঁর নিসবত (বংশ বা স্থান ভিত্তিক সম্বন্ধ)।

৪ - তাঁর জন্ম।

৫ - তাঁর পরিবার।

৬ - তাঁর মৃত্যু।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সফরসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর উস্তাদগণ।

এই পরিচ্ছেদটি নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ঐ সকল আলেম ও গবেষকদের আলোচনায় যারা তাঁদের উল্লেখের প্রতি যত্নবান হয়েছেন।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর প্রাচীনতম উস্তাদদের আলোচনায়।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
المَبْحَثُ الثَّالِث: مَشْيَخَةُ ابنِ الجَارُوْد مِنْ خِللِ كِتَابِهِ "المُنْتَقَى"، وَغَيْرِهِ مِنْ كُتُبِ الحَدِيْث.

المَبْحَثُ الرَّابِع: فِي ذِكْرِ عَدَدِهِم فِي "كِتَابِ المُنْتَقَى".

المَبْحَثُ الخَامِس: فِي ذِكْرِ رُوَاة ذُكِرُوا فِي شُيُوْخِهِ وَهْمًا.

الفَصْلُ الرَّابِعُ: تَلامِذَتُهُ

الفَصْل الخَامِس: مُصَنَّفَاتُهُ

وَقَدِ اشْتَمَلَ هَذَا الفَصْلُ عَلَى بَابَيْن:

البَابُ الأَوّل: فِي ذِكْرِ مَا وَقَفْتُ عَلَيْهِ مِنْ مُصَنَّفَاتِهِ:

البَابُ الثَّانِي: كِتَابُ "المُنْتَقَى" وَعِنَايَةُ العُلَمَاء وَالبَاحِثِيْنَ بِهِ.

وَقَدِ اشْتَمَلَ هَذَا البَابُ عَلَى ثَمَانِيَةِ مَبَاحِث:

المَبْحَثُ الأَوَّل: اسْمُهُ.

المَبْحَثُ الثَّانِي: مُدِّةُ تَصْنِيفِهِ.

المَبْحَثُ الثَّالِثُ: عَدَدُ أَحَادِيْثِهِ.

المَبْحَثُ الرَّابِعُ: ثَنَاءُ العُلَمَاء عَلَيْهِ.

المَبْحَثُ الخَامِسُ: شَرْطُهُ فِيْهِ.

المَبْحَثُ السَّادِسُ: رُتْبَتُهُ عِنْدَ أَهْلِ العِلْم.

المَبْحَثُ السَّابِعُ: رُتْبَةُ رِجَالِهِ.

المَبْحَثُ الثَّامِنُ: عِنَايَةُ العُلَمَاء بِهِ.

أ- رُوَاتُهُ.

ب- نُسَخُهُ الخَطِّيَّة.
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর গ্রন্থ "আল-মুনতাকা" এবং অন্যান্য হাদিস গ্রন্থের আলোকে ইবনুল জারুদের উস্তাদগণের তালিকা।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: "কিতাবুল মুনতাকা"-তে তাঁদের সংখ্যার বর্ণনা।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: এমন কিছু বর্ণনাকারীর উল্লেখ যাদেরকে ভুলবশত তাঁর উস্তাদদের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়: তাঁর ছাত্রগণ

পঞ্চম অধ্যায়: তাঁর রচনাবলি

এই অধ্যায়টি দুটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর যে সকল রচনাবলি সম্পর্কে আমি অবহিত হয়েছি তার বর্ণনা:

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: "আল-মুনতাকা" গ্রন্থ এবং এর প্রতি আলেম ও গবেষকদের গুরুত্ব।

এই পরিচ্ছেদটি আটটি অনুচ্ছেদ সম্বলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এর নাম।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর সংকলনকাল।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এর হাদিস সংখ্যা।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: এর প্রতি আলেমদের প্রশংসা।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: এতে তাঁর শর্তাবলি।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: আলেমদের নিকট এর মর্যাদা।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: এর বর্ণনাকারীদের মর্যাদা।

অষ্টম অনুচ্ছেদ: এর প্রতি আলেমদের বিশেষ যত্ন।

ক- এর বর্ণনাকারীগণ।

খ- এর পাণ্ডুলিপিসমূহ।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
ج - التَّعْرِيْفُ بِرِجَالِهِ.

د - شُرُوْحُهُ.

هـ - أَطْرَافُهُ.

و- تَخْرِيْجُ أَحَادِيْثِهِ.

ز - طِبَاعَتُهُ.

ح - مَنْهَجُهُ فِيْهِ.

ط - انْتِقَاؤُهُ.

ي - زَوَائِدُهُ.

ك - المُسْتَخْرَجُ عَلَيْهِ.

الفَصْلُ السَّادِسُ: ثَنَاءُ العُلَمَاء عَلَيْهِ

الفَصْلُ السَّابِعُ: إِمَامَتُهُ فِي الجَرْحِ وَالتَّعْدِيْل، وَالتَّصْحِيْحِ وَالتَّعْلِيْل

وَقَدْ خَتَمْتُ عَمَلِي فِي كِتَابِي هَذَا بِأَرْبَعَةِ فَهَارِس:

فِهْرِس: للرُّوَاة المُتَرْجَمِ لَهُم فِيْهِ:

فِهْرِس: للنِّسَبِ المُعَرَّف بِهَا فِيْهِ:

فِهْرِس: لِمَصَادِرِ البَحْثِ الَّتِي نَقَلْتُ مِنْهَا، وَهِي عَلَى قِسْمَيْن:

- المَصَادِرُ المَطْبُوْعَة.

- والمَصَادِرُ المَخْطُوْطَة، أَوْ مَا هُوَ فِي حُكْمِهَا، كَالرَّسَائِل الجَامِعِيّةِ الَّتِي لَمْ تُطْبَعْ بَعْدُ.

فِهْرِس: المَوْضُوْعَات.
গ - এর বর্ণনাকারীদের পরিচিতি।

ঘ - এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ।

ঙ - এর আতরাফ (হাদিসের প্রথমাংশ সংগ্রহ) সমূহ।

চ - এর হাদিসসমূহের তাখরিজ (উৎস নির্দেশ)।

ছ - এর মুদ্রণ।

জ - এতে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি।

ঝ - তাঁর চয়ন বা নির্বাচন।

ঞ - এর যাওয়ায়েদ (অতিরিক্ত হাদিসসমূহ)।

ট - এর ওপর রচিত মুস্তাখরাজ।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রতি উলামায়ে কিরামের প্রশংসা

সপ্তম পরিচ্ছেদ: জারহ-ওয়াত তাদিল, তাসহিহ ও তালীলের ক্ষেত্রে তাঁর ইমামত (নেতৃত্ব)

আমি আমার এই গ্রন্থের কাজকে চারটি নির্ঘণ্টের (সূচি) মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি:

নির্ঘণ্ট: এতে যাদের জীবনী আলোচিত হয়েছে সেই বর্ণনাকারীদের জন্য:

নির্ঘণ্ট: এতে সংজ্ঞায়িত নিসবত বা সম্বন্ধসমূহের জন্য:

নির্ঘণ্ট: গবেষণার ঐসব উৎসসমূহের জন্য যা থেকে আমি উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছি, আর তা দুই প্রকার:

- মুদ্রিত উৎসসমূহ।

- পাণ্ডুলিপি উৎসসমূহ অথবা এর সমপর্যায়ভুক্ত বিষয়াদি, যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐসব থিসিস যা এখনো মুদ্রিত হয়নি।

বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
هَذَا مَا يَسَّرَ الله لِي بَيَانَهُ فِي مُقَدِّمَتِي هَذِهِ، وَصَلَّى الله وَسَلَّمَ وَبَارَك عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّد، وَعَلَى آلِهِ، وَصَحْبِهِ، وَالتَّابِعِيْنَ لَهْم بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْم الدِّيْن، وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الحَمْدُ لله رَبِّ العَالِمَيْن.

كَتَبَهُ العَبْدُ الفَقِيْرُ إِلَى عَفْو رَبِّهِ:

أَبُو الطِّيِّب نَايف بن صَلاح بن عَلِي المَنْصُوْرِي

بمَكْتَبَةِ دَار الحدِيْث الخَيْرِيَّةِ بمَأْرِب

البريد الإلكتروني/ naeef 1977@gmail.com

الهاتف / 00966777863561
আমার এই ভূমিকায় যা বর্ণনা করা আল্লাহ আমার জন্য সহজ করে দিয়েছেন তা এই পর্যন্তই। আর আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর। আর আমাদের সর্বশেষ প্রার্থনা হলো, সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।

এটি লিখেছেন তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী এক নগণ্য বান্দা:

আবু তায়্যিব নায়েফ ইবন সালাহ ইবন আলী আল-মানসুরী

মায়রিবস্থ দারুল হাদীস আল-খাইরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে

ইমেইল/ naeef 1977@gmail.com

ফোন / 00966777863561
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌فَصْلٌ: فِي بَيَانِ مَنْهَجِ عَمَلِي فِي هَذَا الكِتَاب

وَأَمَّا عَنْ مَنْهَجِي وَطَرِيْقَتِي فِي كِتَابِي هَذَا، وَفِي صِيَاغَةِ تَرَاجِمِهِ، فَقَدْ قُمْتُ بِتَرْتِيْبِ تَرَاجِمِهِ عَلَى حُرُوْفِ المُعْجَمِ، وَسَلَكْتُ فِي ذَلِكَ الطَّرِيْقَةَ الآتِيَة:

1 - قُمْتُ بِجَمْعِ جَمِيْعِ رِجَال الحَافِظ أبي مُحَمَّد عَبْد الله بن عَلِي بن الجَارُوْد النَّيْسَابُوْرِي مِنْ كِتَابِهِ "المُنْتَقَى" أَحَد كُتُب "إِتْحَاف المَهَرَة".

2 - رَمَزْتُ لِمَنْ تَرْجَمْتُ لَهُ مِنْ رِجَالِ "المُنْتَقَى" بـ (جَا).

3 - اعْتَمَدْتُ فِي اسْتِخْرَاجِ رِجَالِ "المُنْتَقَى" أَوَّلًا عَلَى طَبْعَةِ مُحِبّ السُّنَّة الشَّيْخ عَبْد الله بن هَاشِم اليَمَانِي، ثُمَّ لمَّا خَرَجَتْ طَبْعَة الشَّيْخ الحُوَيْنِي -حَفِظَهُ الله تَعَالَى- آثَرْتُ العَزْو إِلَيْهَا؛ لِكَوْنِهَا أَجْوَد طَبَعَاتِهِ المَوْجُوْدَة حَتَّى الآن.

4 - الاقْتِصَارُ عَلَى التَّرْجَمَةِ لِمَنْ لَمْ يُتَرْجَمْ لَهُ فِي "تَهْذِيْبِ التَّهْذِيْب"، أَوْ تَقْرِيْبِهِ، سَوَاءٌ كَانَ مِنْ رُوَاةِ الكُتُبِ السِّتَّةِ، أَوْ أَحَدِهَا، أَوْ كَانَ مِمَّنْ ذُكِرَ فِيْهِمَا تَمْيِيْزًا، كـ "عَبْد المَلِك بن مُحَمَّد بن أَبِي بَكْر بن مُحَمَّد بن عَمْرو بن حَزْم المَدَنِي، وَمُحَمَّد بن أبي خَالِد الصَّوْمَعِي الطَّبَرِيّ؛ لأَنَّ إِعَادَةَ مَا كُتِبَ وَشَاعَ، وَاشْتَهَرَ وَذَاعَ، يَسْتَلْزِمُ التَّشَاغُل بِغَيْرِ مَا هُوَ أَوْلَى، وَكِتَابَةَ مَا لَمْ يَشْتَهِرْ رُبَّمَا كَانَ أَعْظَم مَنْفَعَةً وَأَحْرَى، وَرِجَالُ الكُتُبِ السِّتَّةِ قَدْ جُمِعُوا فِي عِدَّةِ مُصَنَّفاتٍ، وَاشْتَهَرَتْ هَذِهِ الكُتُب قَدِيْمًا وَحَدِيْثًا(1)، وَمِنْ أَعْظَمِ هَذِهِ المُصَنَّفات خِدْمَةً لَهُم كِتَابا الحَافِظ: "التَهْذِيْبُ"، و"تَقْرِيْبُهُ"؛ فَهُمَا قَرِيْبا الوُصُوْل، سَهْلا المَنَال.

--------------------------------------------

(1) "تَعْجِيْل المَنْفَعَة" (1/ 241).
পরিচ্ছেদ: এই কিতাবে আমার কার্যপদ্ধতির বর্ণনায়

আমার এই কিতাবে এবং এর জীবনীসমূহ রচনায় আমার পদ্ধতি ও পথ সম্পর্কে বলতে গেলে—আমি এর জীবনীগুলোকে বর্ণানুক্রমিক (অভিধানের ক্রমানুসারে) সাজিয়েছি এবং এতে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

১ - আমি হাফেজ আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আলি বিন আল-জারুদ আন-নায়সাবুরি-এর কিতাব "আল-মুনতাকা" থেকে—যা "ইতহাফুল মাহারা" কিতাবগুলোর অন্তর্ভুক্ত—এর সকল বর্ণনাকারীকে সংগ্রহ করেছি।

২ - "আল-মুনতাকা"-এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে যাদের জীবনী আমি লিখেছি, তাদের ক্ষেত্রে (জা) চিহ্ন ব্যবহার করেছি।

৩ - "আল-মুনতাকা"-এর বর্ণনাকারীদের বের করার ক্ষেত্রে আমি প্রথমে মুহিব্বুস সুন্নাহ শেখ আব্দুল্লাহ বিন হাশিম আল-ইয়ামানি-এর সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি। অতঃপর যখন শেখ আল-হুওয়াইনি (আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাজত করুন)-এর সংস্করণটি প্রকাশিত হলো, তখন আমি সেটির উদ্ধৃতি দেওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছি; কারণ এটি এখন পর্যন্ত বিদ্যমান সংস্করণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উন্নত মানের।

৪ - যাদের জীবনী "তাহজিবুত তাহজিব" অথবা "তাকরিবুত তাহজিব"-এ বর্ণিত হয়নি, শুধু তাদের জীবনী রচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি; তারা কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি কিতাব) বা তার কোনো একটির বর্ণনাকারী হোন, অথবা এমন কেউ হোন যাদের নাম উক্ত কিতাবদ্বয়ে পার্থক্য (তাময়িয) করার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন: "আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আমর বিন হাজম আল-মাদানি" এবং "মুহাম্মদ বিন আবু খালিদ আস-সাওমায়ি আত-তাবারানি"। কারণ যা ইতোমধ্যেই লেখা হয়েছে এবং ব্যাপক প্রচার ও প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, তা পুনরায় লেখা মূলত অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেড়ে অন্য কাজে মশগুল হওয়া। আর যা প্রসিদ্ধ নয়, তা লেখা সম্ভবত অধিক উপকারী ও অধিক যুক্তিযুক্ত। কুতুবে সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে বেশ কিছু কিতাব সংকলিত হয়েছে এবং এই কিতাবগুলো প্রাচীন ও আধুনিক কালে সুপরিচিত(১)। তাদের সেবায় রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো হাফেজের (ইবনে হাজার আসকালানি) দুই কিতাব: "আত-তাহজিব" এবং "তাকরিবুত তাহজিব"; এ দুটি কিতাব অত্যন্ত সহজলভ্য ও সহজে আয়ত্তযোগ্য।

--------------------------------------------

(১) "তাজিলুল মানফায়াহ" (১/ ২৪১)।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
5 - اقْتَصَرْتُ عَلَى التَّرْجَمَةِ لِمَنْ لَمْ يَكُنْ صَحَابِيًّا، أَمَّا إِنْ كَانَ صَحَابِيًّا؛ فَإِنِّي لا أُتَرْجِمُ لَهُ، وَإِنْ كَانَ مِمَّنْ لَمْ يُتَرْجَمْ لَهُ فِي "التَهْذِيْب" أَوِ "التَّقْرِيْب"، كـ "أَبَان بن سَعِيْد بن العَاص"، وَغَيْرِهِ.

وَذَلِك لِعَدَالَتِهِم جَمِيْعًا؛ وَلاسْتِيْعَاب الحَافِظ ابن حَجَر لَهُم فِي كِتَابِهِ الفَذّ "الإِصَابَة".

6 - أَعْرَضْتُ عَنِ التَّرْجَمَةِ لِمَنْ ذُكِرَ فِيْهِ عَرَضًا كـ "زَيْد بن صُوْحَان"، و"شَهْر التَّاجِر"، وَ"طَلْحَة بن عُمَر"، وَ"عُمَر بن عُبَيْد الله بن مَعْمَر"، وَإِنْ كَانَ مِمَّنْ لَمْ يُتَرْجَمْ لَهُ فِي "التَهْذِيْب" أو "التَّقْرِيْب"، لِكَوْنِهِم لَيْسُوا مِنْ رِجَالِ الإِسْنَاد.

7 - قُمْتُ بِبَيَانِ مَنْ أَخْرَجَ لَهُم مِنْ أَصْحَابِ كُتُبِ "إِتْحَاف المَهَرَة" وَهِي: "مُوَطَّأ مَالِك"، و"مُسْنَد الشَّافِعِي"، و"مُسْنَد أَحْمَد"، و"سُنَن الدَّارِمِي"، و"مُنْتَقى ابن الجارُوْد"، و"صَحِيْح ابن خُزَيْمَة"، و"مُسْتَخْرَج أبي عَوَانَة"، و"شَرْح مَعَانِي الآثار" للطَّحَاوِي، و"صَحِيْح ابن حِبَّان"، و"سُنَن الدَّارَقُطْنِي"، و"المُسْتَدْرَك" لأَبِي عَبْد الله الحَاكِم.

وَقَدْ جَعَلْتُ لِكُلِّ مُصَنَّفٍ رَمْزًا؛ ليَعْرِفَ النَّاظِرُ إِلَيْهِ عِنْدَ وُقُوعِ نَظَرِهِ عَلَيْهِ مَنْ أَخْرَجَ لَهُ مِنْ هَؤُلاءِ الأَئِمَّةِ، وَفِي أَيِّ كِتَابٍ مِنْ هَذِهِ الكُتُب أَخْرَجُوا لَهُ، وَبَيَانُ هِذِهِ الرُّمُوْز كَمَا يَأتِي:

ط: "مُوَطَّأ مَالِك".

ش: "مُسْنَد الشَّافِعِي".
৫ - আমি কেবল তাদের জীবনী আলোচনা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি যারা সাহাবী নন। আর যদি কেউ সাহাবী হন, তবে আমি তাঁর জীবনী আলোচনা করিনি, যদিও তিনি এমন ব্যক্তি হন যাঁর জীবনী "তহজীব" বা "তাকরীব" গ্রন্থে আলোচিত হয়নি, যেমন- "আবান বিন সাঈদ বিন আল-আস" এবং অন্যান্য।

এর কারণ হলো তাঁদের সকলের ন্যায়পরায়ণতা; এবং হাফেয ইবনে হাজার তাঁর অনন্য গ্রন্থ "আল-ইসাবাহ"-তে তাঁদের সকলকে বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

৬ - আমি তাদের জীবনী আলোচনা করা থেকে বিরত থেকেছি যাদের নাম প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখিত হয়েছে, যেমন- "যায়েদ বিন সুহান", "শাহর আত-তাজির", "তালহা বিন উমর" এবং "উমর বিন উবাইদুল্লাহ বিন মা’মার"। যদিও তারা এমন ব্যক্তি হন যাদের জীবনী "তহজীব" বা "তাকরীব" গ্রন্থে বর্ণিত হয়নি, কারণ তারা সনদের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নন।

৭ - আমি "ইতহাফুল মাহারা" গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কিতাবসমূহের রচয়িতাদের মধ্যে কারা তাঁদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন তা স্পষ্ট করেছি। আর গ্রন্থগুলো হলো: "মুয়াত্তা মালেক", "মুসনাদে শাফেয়ী", "মুসনাদে আহমাদ", "সুনানে দারেমী", "মুনতাকা ইবনুল জারুদ", "সহিহ ইবনে খুযাইমাহ", "মুস্তাখরাজ আবি আওয়ানাহ", তাহাবীর "শারহু মাআনিল আসার", "সহিহ ইবনে হিব্বান", "সুনানে দারা কুতনী" এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের "আল-মুস্তাদরাক"।

আমি প্রতিটি গ্রন্থের জন্য একটি করে প্রতীক চিহ্ন নির্ধারণ করেছি; যাতে পাঠক তা দেখার সাথে সাথেই বুঝতে পারেন যে এই ইমামগণের মধ্যে কে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে কোন কিতাবে তাঁরা তা বর্ণনা করেছেন। এই প্রতীকগুলোর বর্ণনা নিম্নরূপ:

ত: "মুয়াত্তা মালেক"।

শ: "মুসনাদে শাফেয়ী"।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٣١)
حم: "مُسْنَد أَحْمَد".

مي: "سُنَن الدَّارِمِي".

جا: "مُنْتَقَى ابن الجَارُوْد".

خز: "صَحِيْح ابن خُزَيْمَة".

عه: "مُسْتَخْرَج أبي عَوانَة".

طح: شَرْح مَعانِي الآثار".

حب: "صَحِيْح ابن حِبَّان".

قط: "سُنَن الدَّارَقُطْنِي".

كم: "مُسْتَدْرَك الحاكم"(1).

8 - ذَكَرْتُ مَا وَقَعَ مِنَ اخْتِلافٍ فِي أَسْمَائِهِم أَوْ أَسْمَاء آباَئِهِم، مَعَ بَيَانِ الرَّاجِح فِي ذَلِكَ، كَمَا فِي تَرْجَمَةِ عُبَيْد بن جَنَّاد، وَمَعْرُوْف بن الحَسَن بن فَائِد الكِنَانِي، وَهِشَام بن الجُنَيْد القُوْمِسِيّ.

9 - ضَبَطْتُ مَا يُشْكِلُ مِنْ أَسْمَائِهِم، أَوْ أَسْمَاءِ أَجْدَادِهِم بِالحَرَكَات فِي الأَصْلِ، وَبِالحُرُوْفِ إِعْجَامًا وَإِهْمَالًا فِي الحَاشِيَة، كـ: إِبْرَاهِيْم بن أَحْمَد بن عَبْد الله بن يَعِيْش، وَعَبْد الله بن أَحْمَد بن شَبُويَه.

--------------------------------------------

(1) وَهَذَهِ الرُّقُوْم هِي رُقُوْم الحَافِظ لَهُم فِي كِتَابِهِ "إِتْحَاف المَهَرَة"، عَدَا الثَّلاثَة الأُوْلى: "مُوَطَّإِ" مَالِك، و"مُسْنَديِ الشَّافِعِي، وأَحْمَد؛ فَقَدْ ذَكَرَ أَنَّهُ يُفْصِحُ بِذِكْرِهِم عِنْدَ الإِحَالَةِ إِلَيْهِم، وَالله المُوَفِّق.
হাম: "মুসনাদ আহমাদ"।

মি: "সুনান আদ-দারিমি"।

জা: "মুনতাকা ইবনুল জারুদ"।

খুয: "সহিহ ইবনে খুযায়মাহ"।

আ: "মুস্তাখরাজ আবি আওয়ানাহ"।

তাহ: "শারহু মা’আনিল আসার"।

হাব: "সহিহ ইবনে হিব্বান"।

কত: "সুনান আদ-দারাকুতনি"।

কাম: "মুস্তাদরাক আল-হাকিম"(১)।

৮ - আমি তাদের নাম বা তাদের পিতাদের নামের ক্ষেত্রে যে সকল মতপার্থক্য ঘটেছে তা উল্লেখ করেছি, সাথে সেই বিষয়ে অগ্রগণ্য মতটি বর্ণনা করেছি; যেমনটি উবাইদ বিন জান্নাদ, মারূফ বিন হাসান বিন ফায়িদ আল-কিনানি এবং হিশাম বিন আল-জুনাইদ আল-কুমির্সি-এর জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে।

৯ - তাদের নাম বা তাদের দাদাদের নামের মধ্যে যা কিছু দুরূহ, তা মূল পাঠে হারাকাত (স্বরচিহ্ন) দ্বারা এবং পাদটীকায় নুকতাহযুক্ত ও নুকতাহবিহীন বর্ণের বিবরণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। যেমন: ইব্রাহিম বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইয়ায়িশ এবং আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন শাবুইয়াহ।

--------------------------------------------

(১) এই সংকেত চিহ্নগুলো হাফেজ (ইবনে হাজার) তাঁর 'ইতিহাফুল মাহারা' গ্রন্থে তাদের জন্য ব্যবহার করেছেন, কেবল প্রথম তিনটি ব্যতীত: মালিকের 'মুওয়াত্তা', এবং শাফি'য়ি ও আহমাদের 'মুসনাদ'; কারণ তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এগুলোর উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় তিনি স্পষ্টভাবে নাম উল্লেখ করেন। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
10 - بَيَّنْتُ مَا وَقَعَ مِنْ تَصْحِيْفَاتٍ أَوْ تَحْرِيْفَاتٍ لِمَنْ تَرْجَمْتُ لَهُم، سَوَاءٌ كَانَ ذَلِكَ فِي أَسْمَائِهِم كـ: زَيْد بن طَلْحَة بن عَبْد الله بن أَبِي مُلَيْكَة، وَسَعْد بن عَبْد الله بن عَبْد الحَكَم بن أَعْيَن المِصْرِي، وَسَعْدَان بن نَصْر الثَّقَفِي.

أَوْ فِي أَسْمَاء آبَائِهِم: كـ: سَعِيْد بن بَحْر القَرَاطِيْسِي، وَعَلِي بن الحَسَن الذُّهْلِي، وَمُحَمَّد بن هِشَام بن قَسِيْم بن مِلاس، وَالوَلِيْد بن عُبَيْد الله بن أَبِي رَبَاح المَكِّي.

أَوْ أَجْدَادِهِم كـ: مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن رَجَاء السِّنْدِي.

أَوْ فِي أَنْسَابِهِم كـ: سُلَيْمَان بن شُعَيْب بن سُلَيْمَان الكَيْسَانِي المِصْرِي، وَمُحَمَّد بن عَبْد الرَّحْمَن الهَرَوِي، وَمُحَمَّد بن عُمَر بن حَفْص القَصَبِي، وَمَعْرُوْف بن الحَسَن بن فَائِد الكِنَانِي.

وَقَدِ اسْتَعَنْتُ فِي مَعْرِفَةِ الصَّوَاب فِي ذَلِكَ بِأُمُوْرٍ، مِنْهَا:

أ- بالرُّجُوْعِ إِلَى النُّسْخَةِ الخَطِّيَّةِ فِي ذَلِك.

ب- بِالرُّجُوْعِ إِلَى كِتَابِ "إِتْحَافِ المَهَرَة".

ج- بِالرُّجُوْعِ إِلَى الكُتُبِ الَّتِي تُرْجِمَ لَهُ فِيْهَا.

د- بِالرُّجُوْعِ إِلَى مَنْ أَخْرَجَ حَدِيْثَهُ مِنْ طَرِيْقِ ابنِ الجَارُوْد.

هـ- بِالرُّجُوْعِ إِلَى مَنْ أَخْرَجَ حَدِيْثَهُ مِنْ غَيْرِ طَرِيْقِ ابنِ الجَارُوْد.

و- بِالرُّجُوْعِ إِلَى تَرْجَمَةِ شَيْخِهِ الَّذِي ذُكِرَ أَنَّهُ يَرْوِي عَنْهُ.

11 - التَّعْرِيْفُ بِالنِّسَبِ، وَضَبْطُهَا فِي الأَصْلِ بِالحَرَكَاتِ، وَفِي الحَاشِيَةِ بِالحُرُوْفِ،
১০ - যাদের জীবনী আমি আলোচনা করেছি, তাদের নামের ক্ষেত্রে যেসব বর্ণবিভ্রাট (তাসহিফ) বা বিকৃতি (তাহরিফ) ঘটেছে তা আমি বর্ণনা করেছি। চাই তা তাদের নিজেদের নামের ক্ষেত্রে হোক, যেমন: যায়িদ বিন তালহা বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি মুলাইকাহ, সা'দ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম বিন আ'য়ান আল-মিসরি এবং সা'দান বিন নাসর আস-সাকাফি।

অথবা তাদের পিতার নামের ক্ষেত্রে: যেমন: সাঈদ বিন বাহর আল-কারাতিসি, আলী বিন হাসান আদ-দুহলি, মুহাম্মাদ বিন হিশাম বিন কাসিম বিন মিলাস এবং আল-ওয়ালিদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আবি রাবাহ আল-মাক্কি।

অথবা তাদের দাদাদের নামের ক্ষেত্রে যেমন: মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন রাজা আস-সিন্দি।

অথবা তাদের বংশপরিচয়ের (নাসাব) ক্ষেত্রে যেমন: সুলাইমান বিন শুআইব বিন সুলাইমান আল-কাইসানি আল-মিসরি, মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-হারাউই, মুহাম্মাদ বিন উমর বিন হাফস আল-কাসাবি এবং মা'রুফ বিন হাসান বিন ফায়িদ আল-কিনানি।

এ বিষয়ে সঠিক পাঠ নির্ণয়ের জন্য আমি কয়েকটি বিষয়ের সাহায্য নিয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে:

ক- এ সংক্রান্ত পাণ্ডুলিপির শরণাপন্ন হওয়া।

খ- "ইতহাফুল মাহারা" গ্রন্থের সাহায্য নেওয়া।

গ- সেই সমস্ত গ্রন্থের সাহায্য নেওয়া যেখানে তাদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে।

ঘ- যারা ইবনুল জারুদের সূত্রে তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন তাদের অনুসন্ধান করা।

ঙ- যারা ইবনুল জারুদ ব্যতীত অন্য সূত্রে তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন তাদের অনুসন্ধান করা।

চ- তাঁর সেই উস্তাদের জীবনীর শরণাপন্ন হওয়া যার থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

১১ - নিসবত বা বংশপরিচয় সমূহের পরিচয় প্রদান এবং মূল পাঠে সেগুলোকে হরকত (স্বরচিহ্ন) দ্বারা ও টীকায় বর্ণের বিন্যাসের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করা,
(খণ্ড: ১) তায়সীরুল ওয়াদূদ বিতারাযিমি রিজালি মুনতাকা ইবনিল জারূদ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
فَإِنْ كَانَتْ إِلَى قَبِيْلَةٍ أَوْ حِرْفَةٍ أَوْ خِلْقَةٍ أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ قَدَّمْتُهَا عَلَى النِّسْبَةِ إِلَى بَلَدٍ، فَإِنْ نُسِبَ إِلَى بَلْدَتَيْنِ بَدَأْتُ بِأَعَمِّهِمَا، وَكَذَا إِنْ كَانَتْ إِلَى قَبِيْلَتَيْنِ.

قَالَ النَّوَوِي: "عَادَةُ الأَئِمَّةِ الحُذَّاقِ المُصَنِّفِيْن فِي الأَسْمَاءِ وَالأَنْسَابِ أَنْ يَنْسِبُوا الرَّجُل النَّسَب العَام ثُمَّ الخَاص؛ لِيَحْصُلَ فِي الثَّانِي فَائِدَة لَمْ تَكُنْ فِي الأَوّل." اهـ.

فَإِنْ كَانَتِ النِّسْبَةُ إِلَى بَلْدَتَيْنِ مُخْتَلِفَتَيْن بَدَأْتُ بِأَقْدَمِهِمَا، مَعَ بَيَانِ مَوْقِعِهَا جُغْرَافِيًّا فِي عَصْرِنَا الحَاضِر. وَقَدْ قُمْتُ بِعَمَلِ فِهْرِس للنِّسَبِ الَّتِي تَمَّ التَّعْرِيْفُ بِهَا، مَعَ بَيَانِ رَقْمِ التَّرْجَمَةِ الَّتِي ضُبِطَتْ فِيْهَا، وَفِي الغَالِب يَكُوْنُ ذَلِكَ عِنْدَ أَوَّلِ ذِكْرٍ لَهَا.

12 - اعْتَنَيْتُ بِذِكْرِ أَلْقَابِهِم، كَمَا فِي تَرْجَمَةِ: إِبْرَاهِيْم بن عَبْد الله بن سُلَيْمَان بن يَزِيْد السَّعْدِي، وَإِسْحَاق بن عَبْد الله بن مُحَمَّد بن رُزَيْن السُّلَمِي، وَالحَسَن بن أَحْمَد بن سُلَيْمَان بن رَبِيْعَة.

13 - قُمْتُ بِتَتَبُّعِ شُيُوْخِهِم وَتَلامِذَتِهِم مِن كُتُبِ "إِتْحَاف المَهَرَة" -الَّتِي سَبَقَ بَيَانُهَا-، وَجَعَلْتُ لَهُم رُمُوْزًا يُعْرَفُ بِهَا فِي أَيِّ كِتَابٍ مِنْ هَذِهِ الكُتُبِ وَقَعَتْ رِوَايَتُةُ عَنْ ذَلِكَ الاسْم المَرْمُوْز عَلَيْهِ، وَرُوَاة ذَلِكَ الاسْم المَرْمُوْز عَلَيْهِ عَنْهُ.

14 - حَرَصْتُ عَلَى ذِكْرِ كُلِّ مَنْ وَقَفْتُ عَلَيْهِ مِنْ شُيُوْخِ وَتَلامِذَةِ المُتَرْجَمِ لَهُ، مِنْ جَمِيْعِ مَصَادِرِ تَرْجَمَتِهِ، وَمِنْ بُطُوْنِ الكُتُبِ المُسْنَدَةِ كَالمَسَانِيْد، وَالجَوَامِعِ، وَالأَجْزَاء وَالفَوَائِد، وَالمَعَاجِمِ وَالمَشْيَخَاتِ وَغَيْرِ ذَلِكَ، مُوَثِّقَا ذَلِكَ فِي الحَاشِيَةِ، وَمُرَتِّبًا إِيَّاهُم عَلَى حُرُوْفِ المُعْجَمِ؛ لِتَسْهُلَ الاسْتِفَادَةُ مِنْهَا.
যদি তা কোনো গোত্র, পেশা, শারীরিক গঠন বা এজাতীয় কিছুর প্রতি নিসবত (সম্বন্ধ) হয়, তবে আমি তাকে শহরের নিসবতের আগে উল্লেখ করেছি। আর যদি ব্যক্তিটি দুটি শহরের দিকে নিসবতযুক্ত হন, তবে আমি তাদের মধ্যে যেটি অধিক ব্যাপক সেটি দিয়ে শুরু করেছি; একইভাবে যদি দুটি গোত্রের দিকে নিসবতযুক্ত হন তবেও তাই করেছি।

ইমাম নববী বলেছেন: "নাম ও বংশপরিচয় বিষয়ক দক্ষ গ্রন্থকার ইমামগণের রীতি হলো যে, তাঁরা ব্যক্তিকে প্রথমে সাধারণ নিসবত এবং পরে বিশেষ নিসবতের দিকে সম্বন্ধ করেন; যাতে দ্বিতীয়টিতে এমন কিছু উপকারিতা অর্জিত হয় যা প্রথমটিতে ছিল না।" সমাপ্ত।

আর যদি নিসবতটি দুটি ভিন্ন শহরের দিকে হয়, তবে আমি সেগুলোর মধ্যে প্রাচীনটি দিয়ে শুরু করেছি, সাথে বর্তমান যুগে সেটির ভৌগোলিক অবস্থানও স্পষ্ট করেছি। এবং আমি সেই নিসবতগুলোর একটি সূচি তৈরি করেছি যেগুলোর পরিচয় প্রদান করা হয়েছে, সাথে সেই জীবনী নম্বরটিও উল্লেখ করেছি যেটিতে তা নিরূপণ করা হয়েছে। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি প্রথমবারের মতো উল্লেখ করার সময়ই করা হয়েছে।

১২ - আমি তাদের উপাধিগুলো উল্লেখ করার ব্যাপারে যত্নবান হয়েছি, যেমন: ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে ইয়াজিদ আস-সাদি, ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে রুজাইন আস-সুলামি এবং আল-হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে সুলাইমান ইবনে রাবিআ-এর জীবনীতে।

১৩ - আমি ইতিপূর্বে বর্ণিত "ইতহাফুল মাহারা" গ্রন্থসমূহ থেকে তাদের উস্তাদ ও ছাত্রদের অনুসন্ধান করেছি এবং তাদের জন্য কিছু সংকেত চিহ্ন নির্ধারণ করেছি যার মাধ্যমে জানা যাবে যে, এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে কোনটিতে সেই সংকেতযুক্ত ব্যক্তির বর্ণনা রয়েছে এবং সেই সংকেতযুক্ত ব্যক্তি থেকে কারা বর্ণনা করেছেন।

১৪ - আমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জীবনীর সকল উৎস এবং মুসনাদ গ্রন্থসমূহের ভেতর থেকে যেমন: মুসনাদসমূহ, জামে'সমূহ, আজযা, ফাওয়াইদ, মু'জাম, মাশয়াখাত এবং অন্যান্য গ্রন্থ হতে যে সকল উস্তাদ ও ছাত্রদের সন্ধান পেয়েছি, তাদের সকলকে উল্লেখ করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি। আমি সেগুলোকে টীকায় তথ্যসূত্রসহ উদ্ধৃত করেছি এবং সেগুলোকে বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করেছি; যাতে সেগুলো থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়।