(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
النفحة المسكية فى الرحلة المكية القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: النفحة المسكية في الرحلة المكية
المؤلف: عبد الله بن حسين بن مرعي بن ناصر الدين البغدادي، أبو البركات السويدي (ت 1174هـ)
الناشر: المجمع الثقافي، أبو ظبي
عام النشر: 1424 هـ
عدد الصفحات: 357
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মক্কা সফরের কস্তুরীময় সুবাস বিভাগ: দেশ-দেশান্তর ও ভ্রমণকাহিনী
গ্রন্থ: মক্কা সফরের কস্তুরীময় সুবাস
লেখক: আবদুল্লাহ বিন হুসাইন বিন মারঈ বিন নাসেরুদ্দিন আল-বাগদাদী, আবু আল-বারাকাত আল-সুওয়াইদি (মৃত্যু ১১৭৪ হিজরি)
প্রকাশক: আল-মাজমাউস সাকাফি, আবুধাবি
প্রকাশকাল: ১৪২৪ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
عبد الله بن حسين السويدي البغدادي
عبد الله بن حسين السويدي البغدادي، ولد في بغداد سنة 1104 هـ / 1692 م.
حيث تلقوا -وعبد الله بينهم- مبادئ العلوم الدينية على يد الشيخ عبد الرحمن بن الشيخ محمود من أهل ما وراء النهر، فختموا عنده القرآن الكريم، وتلقوا عليه رسالة في التجويد، وتعلموا الكتابة.
وبعد الفراغ من تلقي مبادئ المعرفة، انتقلوا- وعبد الله بينهم- إلى المرحلة التالية، فشرعوا بتعلم الخط، على قواعده، وأصوله وفنونه، وثابر عبد الله على إتقان ضروبه، والتمهر فيه، على الرغم من ضيق وأحوال أسرته المادية آنذاك.
فما فيها من شيخ وعالم إلّا والتقى به وأخذ عنه، فضلا عن أن ثمة علوما لم يجد بين البغداديين في أيامه، من تخصص بها أصلا، وهكذا فقد استجمع أمره على الرحلة إلى الموصل لمواصلة دراسته على علمائها، كان عمره إذ ذاك قد تجاوز الثالثة والعشرين.
وفي سنة 1127 هـ / 1716 م سافر عبد الله إلى مدينة الموصل بهدف «تحصيل علم الحكمة والهيئة» ، ولكنه، ما إن وصلها، والتقى بشيوخها، حتى أخذ بإكمال سائر ما درسه من علوم أخرى وهو في بغداد، مثل النحو وعلوم العربية، والعلوم الشرعية والعقلية، كما درس الهيئة (الفلك) وتلقى الحديث الشريف على المشايخ، وقراءة القرآن وتجويده.
عودته إلى بغداد بين عامي 1128 و 1129 هـ / 1718- 1717 م.
استقراره الاجتماعي
عاد عبد الله إلى بغداد وقد حصل من العلم ما لم ينله غيره من معاصريه، فطار صيته، واشتهر أمره، ونال في هذه المرحلة من حياته لقبه الشهير (السويدي)
إذ تولى التدريس في مدرسة جامع الإمام أبي حنيفة النعمان، فكان ثاني من درّس فيها بعد إعادة افتتاحها في منتصف القرن الثاني عشر الهجري (18 م) ، كما تولى التدريس أيضا في المدرسة المرجانية التي سبق أن تلقى العلم فيها أيام الطلب وغادر بغداد في رحلة طويلة- بحسب مراحل طرق ذلك العصر- إلى مكة المكرمة زار خلالها العديد من المدن والقرى، والتقى في أثناء ذلك بالكثير من العلماء والأدباء والمشايخ، وهي التي جمع أخبارها في كتابه الذي عنونه (النفحة المسكية في الرحلة المكية) .
طارت شهرة السويدي وانتشر صيته بما حققه من مجد علمي، وما صنفه من مؤلفات تلقفتها أيدي الطلبة، وما رنّت بصوته المنابر وحلقات الدرس، فضلا عما حصل عليه من إجازات العلماء خارج العراق واقترن باسمه من توفيق في المهمة التي كلفه بها والي بغداد سنة 1156 هـ / 1743 م، فقصده الطلاب من كل حدب وصوب، آخذين عنه العلم،
وبعد عمر ناهز السبعين سنة قمرية، توفي الشيخ عبد الله السويدي في ضحوة يوم السبت الحادي عشر من شوال سنة 1174 هـ.
آثاره
وضع السويدي عددا من الكتب والرسائل في المجالات العلمية منها: شرح صحيح البخاري، أنفع الوسائل في شرح الدلائل، رسائل تتناول عدداً من المسائل العقائدية والفقهية، رسائل أخرى في الردود، رشف الضرب في شرح لامية العرب، إتحاف الحبيب على شرح مغني اللبيب، مقامة الأمثال السائرة، الجمانات في الاستعارات، فضال أهل بدر، النفحة المسكية في الرحلة المكية وغيرها.
আবদুল্লাহ বিন হুসাইন আল-সুওয়াইদী আল-বাগদাদী
আবদুল্লাহ বিন হুসাইন আল-সুওয়াইদী আল-বাগদাদী ১১০৪ হিজরি / ১৬৯২ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন।
সেখানে আবদুল্লাহসহ অন্যরা মা ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলের অধিবাসী শেখ মাহমুদের পুত্র শেখ আবদুর রহমানের কাছে দ্বীনি শিক্ষার প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁরা তাঁর কাছে পবিত্র কুরআন সমাপ্ত করেন, তাজভীদের উপর একটি পুস্তিকা অধ্যয়ন করেন এবং লেখা শিখেন।
প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন শেষ করার পর আবদুল্লাহ ও তাঁর সাথীরা পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হন। তাঁরা নির্দিষ্ট নিয়ম, মূলনীতি ও শৈল্পিক পদ্ধতিতে ক্যালিগ্রাফি বা হস্তলিপি শিখতে শুরু করেন। সে সময় তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা শোচনীয় থাকা সত্ত্বেও আবদুল্লাহ ক্যালিগ্রাফির বিভিন্ন ধরন আয়ত্ত করতে এবং এতে দক্ষতা অর্জনে অধ্যবসায়ী ছিলেন।
বাগদাদের এমন কোনো শায়খ বা আলেম ছিলেন না যার সাথে তিনি সাক্ষাৎ করেননি বা যার কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেননি। অধিকন্তু, তাঁর সময়ে বাগদাদিদের মধ্যে এমন কিছু জ্ঞানশাখা ছিল যাতে বিশেষজ্ঞ কেউ ছিল না। ফলে তিনি তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য মোসেলের আলেমদের কাছে সফরের সিদ্ধান্ত নেন। তখন তাঁর বয়স তেইশ বছর অতিক্রম করেছিল।
১১২৭ হিজরি / ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে আবদুল্লাহ 'হিকমত ও জ্যোতির্বিজ্ঞান' অর্জনের উদ্দেশ্যে মোসেল শহরে সফর করেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর শায়খদের সাথে সাক্ষাতের সাথে সাথেই তিনি বাগদাদে পড়া অন্যান্য বিষয়গুলো—যেমন নাহু, আরবি ভাষা সম্পর্কিত জ্ঞান, শরয়ী ও আকলী (বুদ্ধিবৃত্তিক) জ্ঞানসমূহ পূর্ণ করতে শুরু করেন। এছাড়াও তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান অধ্যয়ন করেন, মাশায়েখদের কাছ থেকে হাদিস শরীফ গ্রহণ করেন এবং পবিত্র কুরআন পাঠ ও তাজভীদ শিক্ষা করেন।
১১২৮ থেকে ১১২৯ হিজরি / ১৭১৭-১৭১৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তাঁর বাগদাদে প্রত্যাবর্তন।
সামাজিক স্থিতিশীলতা
আবদুল্লাহ এমন জ্ঞান অর্জন করে বাগদাদে ফিরে আসেন যা তাঁর সমসাময়িক অন্য কেউ লাভ করতে পারেনি। ফলে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি সুপরিচিত হয়ে ওঠেন। জীবনের এই পর্যায়ে তিনি তাঁর বিখ্যাত উপাধি 'সুওয়াইদী' লাভ করেন।
তিনি ইমাম আবু হানিফা আল-নুমান জামে মসজিদের মাদরাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন। দ্বাদশ হিজরি শতাব্দীর (১৮ খ্রিস্টাব্দ) মাঝামাঝি সময়ে এটি পুনরায় চালু হওয়ার পর তিনি ছিলেন সেখানকার দ্বিতীয় শিক্ষক। এছাড়াও তিনি মারজানিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন, যেখানে তিনি ছাত্রজীবনে শিক্ষা লাভ করেছিলেন। তিনি বাগদাদ থেকে মক্কা মুকাররমার উদ্দেশ্যে দীর্ঘ সফরে বের হন—সেই সময়ের যাতায়াত ব্যবস্থার পর্যায়ক্রম অনুযায়ী। এই সফরে তিনি বহু শহর ও গ্রাম ভ্রমণ করেন এবং অনেক আলেম, সাহিত্যিক ও শায়খের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরের ঘটনাবলী তিনি তাঁর 'আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ' গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
সুওয়াইদীর খ্যাতি এবং সুনাম তাঁর অর্জিত বৈজ্ঞানিক মর্যাদা ও তাঁর রচিত গ্রন্থাবলীর কারণে ছড়িয়ে পড়ে যা শিক্ষার্থীরা লুফে নিত। তাঁর কণ্ঠস্বর মিম্বর এবং পাঠচক্রগুলোতে প্রতিধ্বনিত হতো। এছাড়া তিনি ইরাকের বাইরের আলেমদের কাছ থেকে ইজাজত লাভ করেছিলেন। ১১৫৬ হিজরি / ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদের গভর্নর তাঁকে যে গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তাতে তাঁর সফলতার সাথে তাঁর নাম জড়িয়ে আছে। ফলে শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান অর্জনের জন্য সব দিক থেকে তাঁর কাছে ছুটে আসত।
প্রায় সত্তর চন্দ্র বছর বয়সে ১১৭৪ হিজরির ১১ই শাওয়াল শনিবার পূর্বাহ্নে শেখ আবদুল্লাহ আল-সুওয়াইদী মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর রচনাবলী
আল-সুওয়াইদী বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় বেশ কিছু গ্রন্থ ও পুস্তিকা রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: শারহু সহীহ আল-বুখারী, আনফাউল ওয়াসায়িল ফী শারহিদ দালায়িল, আকিদা ও ফিকহি মাসআলা সম্বলিত বেশ কিছু পুস্তিকা, খণ্ডনমূলক অন্যান্য পুস্তিকা, রাশফুল দারবি ফী শারহি লামিয়াতিল আরব, ইতহাফুল হাবীব আলা শারহি মুগনিল লাবীব, মাকামাতুল আমসালিস সায়িরাহ, আল-জুমানাত ফিল ইস্তিয়ারাতে, ফাদায়িলু আহলে বদর, আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المؤلف وكتابه
الفصل الأول سيرته
أسرته:منذ عهود غابرة لا يعلم مبتدأها، نشأت على كهف ذي صخور وحجارة في ضفة دجلة اليسرى، قرية صغيرة عرفت بالدور، وسرعان ما زهت هذه القرية وازدهرت بمن سكنها من قبائل العرب، حتى عرفت بدور عربايي، أو دور العرب، تمييزا لها عن قرى أخرى كانت تحمل اسم الدور أيضا. «1» وشهدت البلدة ذروة عزها في الحقبة التي انتقلت فيها الخلافة العباسية إلى سرّ من رأى، حيث لم تبعد هذه الحاضرة الفخمة عنها غير ثلاثين كيلومترا أو أقل، وبنمو سرّ من رأى واتساعها الهائل، أضحت (الدور) معدودة ضمن ضواحيها، وكثيرا ما ورد اسمها، في أخبار القرن الثالث الهجري (9 م) بوصفها جزءا من معالم الحاضرة نفسها «2» وعرفت يومذاك ب (دور سرّ من رأى) .
ونبغ فيها، في القرون التالية، عدد من أهل العلم والحديث، الذين لقوا من أهلها العناية والرعاية، واسترعى وجود هذه الحركة العلمية فيها اهتمام بعض أمراء الدولة، فأنشأ أحدهم مدرسة علمية فخمة ومسجدا عند ضريح الإمام محمد الدوري، الذي يظن أنه محمد بن موسى بن جعفر «وكان شيخا ظريفا يتعاهد الصوفية وأصحاب الحديث» وتوفي بعد سنة 300 بقليل. «3» وما تزال بقايا هذه المدرسة العلمية موجودة حتى اليوم، تذكّر الناس بما كان
লেখক ও তাঁর গ্রন্থপ্রথম অধ্যায়: তাঁর জীবনীতাঁর পরিবার:অতি প্রাচীনকাল থেকে, যার সূচনা কারো জানা নেই, দজলা নদীর বাম তীরে পাথর ও শিলাঘেরা এক গুহার ওপর একটি ছোট গ্রাম গড়ে উঠেছিল যা 'আদ-দূর' নামে পরিচিত ছিল। শীঘ্রই এই গ্রামটি সেখানে বসবাসকারী আরব গোত্রগুলোর মাধ্যমে সমৃদ্ধ ও বিকশিত হয়ে ওঠে, এমনকি অন্যান্য 'দূর' নামক গ্রামগুলো থেকে একে আলাদা করার জন্য এটি 'দূর আরবায়ী' বা 'আরবদের দূর' নামে পরিচিতি লাভ করে। «১» এই জনপদটি তার গৌরবের চরম শিখর প্রত্যক্ষ করেছিল সেই যুগে যখন আব্বাসীয় খিলাফত 'সুররা মান রাআ'-তে স্থানান্তরিত হয়েছিল। এই জাঁকজমকপূর্ণ রাজধানীটি সেখান থেকে মাত্র ত্রিশ কিলোমিটার বা তারও কম দূরত্বে অবস্থিত ছিল। 'সুররা মান রাআ'-এর ক্রমবিকাশ ও বিশাল বিস্তৃতির ফলে 'আদ-দূর' তার শহরতলীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর (৯ম খ্রিষ্টাব্দ) ইতিহাসে প্রায়ই এই জনপদটির নাম রাজধানীর অন্যতম অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে «২» এবং তৎকালীন সময়ে এটি 'দূর সুররা মান রাআ' নামে পরিচিত ছিল।
পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে এখানে বেশ কয়েকজন ইলম ও হাদিস বিশারদ খ্যাতি অর্জন করেন, যারা স্থানীয় অধিবাসীদের কাছ থেকে বিশেষ যত্ন ও পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিলেন। সেখানে এই ইলমি আন্দোলনের উপস্থিতি রাষ্ট্রের কয়েকজন আমিরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, ফলে তাদের একজন ইমাম মুহাম্মাদ আদ-দুরি-র মাজারের পাশে একটি জাঁকজমকপূর্ণ ইলমি মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয় যে, তিনি ছিলেন মুহাম্মাদ বিন মুসা বিন জাফর, "যিনি একজন মার্জিত শাইখ ছিলেন এবং সুফি ও হাদিস বিশারদদের তদারকি করতেন"। তিনি ৩০০ হিজরির কিছুকাল পরে ইন্তেকাল করেন। «৩» এই ইলমি মাদ্রাসার ধ্বংসাবশেষ আজও বিদ্যমান রয়েছে, যা মানুষকে অতীতের সেই গৌরবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
للبلدة من شأن علمي خطير في تلك العهود. «1» ولم تعدم البلدة، حتى في عهود التأخر التي رانت على البلاد، تميزها برعاية الحركة العلمية، فوردت إشارات مهمة إلى وجود «جوامع قديمة» و «معاهد علمية» «2» فيها، حتى عرفها بعضهم «بقرية العلماء» . «3»
إلّا أن ظروفا متنوعة قاسية أدّت إلى أن تفقد البلدة رونقها وعزّها، فأخذ بعض أسرها بالنزوح عنها إلى بغداد. ويذكر عبد الرحمن حلمي، وهو مؤرخ بغدادي دوري الأصل، إن من تلك الظروف «تحول النهر عنها، وبقاء أراضيهم لا يصعدها الماء غير صالحة للزرع والحراثة» . كما يذكر أنّ ما دعا أهلها إلى هجرها «ما لحقها أيضا من مظالم الحكام» فضلا عن غارات العشائر عليها وعلى ما يليها، إلى حد أنه «لم تبق حرفة لمحترف» «4» ، ولا يحدّد هذا المؤرخ، الذي وضع تاريخه في أواخر القرن الثالث عشر الهجري (19 م) زمن حدوث تلك الهجرة، ومن الراجح عندنا أنها بدأت بالحدوث منذ أوائل القرن التاسع الهجري (15 م) واستمرت حتى القرن الثاني عشر (18 م) . ويفهم مما ذكره الرحّالة الفرنسي تافرنييه الذي مرّ بالبلدة في منتصف القرن السابع عشر الميلادي، أنها لم تكن في أيامه إلا «مزارا» يؤمه الناس لزيارة ضريح دفينها الإمام محمد الدوري من أجل الدعاء والنذور» . «5»
সেই যুগে এই জনপদের এক বিশেষ জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা ছিল। «১» এমনকি অবক্ষয়ের যুগেও, যা সমগ্র ভূখণ্ডকে আচ্ছন্ন করেছিল, এই জনপদটি জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানে তার স্বাতন্ত্র্য হারায়নি। সেখানে «প্রাচীন জামে মসজিদ» এবং «শিক্ষা প্রতিষ্ঠান» «২» থাকার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এমনকি কেউ কেউ এটিকে «আলেমদের গ্রাম» হিসেবে অভিহিত করেছেন। «৩»
তবে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে জনপদটি তার জৌলুস ও মর্যাদা হারায়, যার ফলে এখানকার কিছু পরিবার বাগদাদে স্থানান্তরিত হতে শুরু করে। বাগদাদি ঐতিহাসিক আব্দুর রহমান হিলমি—যিনি মূলত দাউরি বংশোদ্ভূত ছিলেন—উল্লেখ করেন যে, সেই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ ছিল «নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করা এবং তাদের জমিতে পানি না পৌঁছানোয় তা চাষাবাদ ও লাঙল চালানোর অনুপযোগী হয়ে পড়া»। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অধিবাসীদের এটি ত্যাগের পেছনে আরও যা ভূমিকা রেখেছিল তা হলো «শাসকদের পক্ষ থেকে তাদের ওপর আপতিত হওয়া জুলুম», এছাড়া তাদের এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর ওপর গোত্রীয় হামলা তো ছিলই, যার ফলশ্রুতিতে «পেশাদারদের জন্য কোনো পেশা অবশিষ্ট ছিল না» «৪»। এই ঐতিহাসিক, যিনি হিজরি ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে (১৯শ শতাব্দী) তাঁর ইতিহাস গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন, এই হিজরতের নির্দিষ্ট সময়কাল নির্ধারণ করেননি। তবে আমাদের নিকট অধিকতর সঠিক মনে হয় যে, এটি নবম হিজরি শতাব্দীর শুরু (১৫শ শতাব্দী) থেকে আরম্ভ হয়ে দ্বাদশ শতাব্দী (১৮শ শতাব্দী) পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ফরাসি পর্যটক তাভার্নিয়ার, যিনি সপ্তদশ খ্রিষ্টীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এই জনপদটি অতিক্রম করেছিলেন, তার বর্ণনা থেকে বোঝা যায় যে, তাঁর সময়ে এটি কেবল একটি «মাজার» হিসেবেই অবশিষ্ট ছিল যেখানে মানুষ এখানকার সমাহিত ইমাম মুহাম্মদ দাউরির মাজার জিয়ারত করতে এবং দোয়া ও মানত করার উদ্দেশ্যে আসত। «৫»
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وفي بغداد اختار الدوريون النازحون إليها الإقامة في أقصى جانبها الغربي، بين علاوي الحلة وسوق العجمي «1» مؤلفين هناك محلة صغيرة نسبت إليهم «2» وتدريجيا، أمست هذه المحلة موئلا لكلّ أسرة دورية آثرت أن تقيم في بغداد على مدى القرون الثلاثة الأخيرة.
وكانت من الأسر العريقة في بلدة الدور، أسرة نبيلة تنتمي إلى السلالة العباسية، ولذا فقد اشتهرت بآل الخليفة «3» ثم عرفت بآل مدلل، نسبة إلى جد لها يدعى محمد بن الحسين، ويعرف بالمدلل، وهو لقب يدل على ما كانت عليه الأسرة في أيامه من عزّ وتقدير.
وعلى الرغم من عدم معرفتنا بتاريخ الأسرة في هذه الحقبة إلا أنّنا نرجح أن يكون محمد المدلّل هذا قد عاش في أواخر القرن الثامن الهجري (14 م) ، ولا نعلم ما إذا كان هو أول من أقام في (الدور) أم أن أسرته كانت موجودة فيها منذ عهد سابق وأن تلقب الأسرة كلها- فيما بعد- بلقبه (المدلّل) وربما رجح الرأي الأول، والله أعلم.
وعلى أية حال، فقد أنجب محمد ولدا سماه أحمد أو حمد. وأنجب الأخير ولدا دعاه علي، على اسم أبي جده، وكان لعلي ولد سماه حسينا، على اسم أبي جده أيضا، ويظهر أنه عاش في النصف الأول من القرن العاشر الهجري (6 م) ، وولد لحسين ولد دعاه بناصر الدين، «4» ولأمر ما، ربما اتصل بما ذكرناه من تدني الأحوال المعيشية والزمنية في (الدور) ، غادر ناصر الدين هذا موطن آبائه وأجداده في أواخر القرن المذكور، ميمما شطر مدينة
বাগদাদে, সেখানে স্থানান্তরিত দুরিগণ এর সুদূর পশ্চিম পার্শ্বে, আলাউয়ি আল-হিল্লাহ এবং সুক আল-আজামির মধ্যে বসবাস বেছে নিয়েছিলেন «১», সেখানে তারা একটি ছোট মহল্লা গড়ে তুলেছিলেন যা তাদের নামানুসারে পরিচিতি পায় «২»। ধীরে ধীরে, এই মহল্লাটি গত তিন শতাব্দী ধরে বাগদাদে বসবাস করতে আগ্রহী প্রতিটি দুরি পরিবারের জন্য একটি আবাসস্থলে পরিণত হয়।
আদ-দুর শহরের প্রাচীন পরিবারগুলোর মধ্যে আব্বাসীয় বংশোদ্ভূত একটি সম্ভ্রান্ত পরিবার ছিল। একারণে এটি 'আল-খলিফা' «৩» নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। পরবর্তীতে এটি 'আল-মুদাল্লাল' নামে পরিচিত হয়, যা তাদের মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন নামক একজন পূর্বপুরুষের সাথে সম্পর্কিত ছিল। তিনি 'আল-মুদাল্লাল' নামে পরিচিত ছিলেন, যা সেই সময়ে পরিবারের সম্মান ও মর্যাদার পরিচায়ক একটি উপাধি ছিল।
এই যুগে পরিবারের ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও, আমরা প্রবলভাবে মনে করি যে এই মুহাম্মদ আল-মুদাল্লাল অষ্টম হিজরি শতাব্দীর (১৪শ খ্রিষ্টাব্দ) শেষভাগে জীবিত ছিলেন। তিনি কি প্রথম ব্যক্তি যিনি (আদ-দুর)-এ বসবাস শুরু করেছিলেন, নাকি তাঁর পরিবার আগে থেকেই সেখানে ছিল এবং পরবর্তীতে পুরো পরিবার তাঁর উপাধি (আল-মুদাল্লাল) দ্বারা পরিচিত হয়েছিল, তা আমাদের জানা নেই। সম্ভবত প্রথম মতটিই অগ্রগণ্য, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
যা-ই হোক, মুহাম্মদ একটি পুত্রসন্তান লাভ করেন যার নাম তিনি রেখেছিলেন আহমাদ বা হামাদ। শেষোক্ত ব্যক্তি একটি পুত্রসন্তান লাভ করেন এবং তাঁর প্রপিতামহের নামানুসারে তাঁর নাম রাখেন আলী। আলীর একটি পুত্র ছিল যার নাম তিনি রেখেছিলেন হুসাইন, তিনিও তাঁর প্রপিতামহের নামানুসারে। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি দশম হিজরি শতাব্দীর (১৬শ খ্রিষ্টাব্দ) প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন। হুসাইনের একটি পুত্র জন্মগ্রহণ করে যার নাম তিনি রাখেন নাসিরুদ্দিন «৪»। কোনো এক কারণে, যা সম্ভবত (আদ-দুর)-এর জীবনযাত্রার মান ও সময়ের অবনতি সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে, এই নাসিরুদ্দিন উল্লিখিত শতাব্দীর শেষভাগে তাঁর পিতৃ-পুরুষের আবাসভূমি ত্যাগ করেন এবং শহরের অভিমুখে যাত্রা করেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
السلام بغداد. وكان أول ما فعله فيها، أن وثّق لدى نقيب أشرافها نسب أسرته، فكان على النحو الآتي:
ناصر الدين بن الحسين بن علي بن حمد بن محمد المدلل بن الحسين بن علي بن عبد الله ابن الحسين بن علي أبي بكر بن الفضل بن أحمد بن محمد بن عبد الله بن أحمد بن اسحاق ابن جعفر بن أحمد بن الموفق طلحة بن جعفر بن محمد بن الرشيد بن محمد بن عبد الله المنصور بن محمد بن علي بن عبد الله بن العباس بن عبد المطلب الهاشمي القرشي. «1»
وقد صادق النقيب والقاضي والمفتي وسائر العلماء على صحة هذا النسب ووضعوا تواقيعهم عليه، وبذلك أيضا وضعوا بداية مرحلة جديدة لتاريخ هذه الأسرة.
أقام ناصر الدين هذا في الكرخ ببغداد، مما دل على وجود محلة الدوريين في هذا الجانب منذ ذلك الحين على الأقل، وولد له فيها ولد ذكر سماه مرعي، فولد لهذا بدوره حسين، وقد عرف الأخير ب (الملا) مما دل على أنه كان يعمل بمهنة تعليمية دينية، ويظهر أنه حاز، وراثة أو اكتسابا، ثروة لا بأس بها، لكنه أنفقها كلها على مستلزمات مركزه الاجتماعي بوصفه رئيس عشيرته ومقدمها. يقول عبد الله السويدي «أما أبي حسين فكان من الأخيار الأجواد، ذا عقل رصين وشجاعة وبراعة، كبير قومه وعشيرته، يرجع أمرهم إليه.. وكان ذا مال غزير صرفه كله على الفقراء والضيوف والضعاف حتى افتقر آخر عمره، فكان يبيع من متاع البيت ويصرفه على الفقراء والضعاف حتى مات مدينا» . «2»
সালাম বাগদাদ। সেখানে তিনি সর্বপ্রথম যে কাজটি করেছিলেন তা হলো, সেখানকার নাকীবুল আশরাফ-এর নিকট তাঁর বংশপরম্পরা নথিবদ্ধ করা, যা ছিল নিম্নরূপ:
নাসিরুদ্দিন বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন হামদ বিন মুহাম্মাদ আল-মুদাল্লাল বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আলী আবু বকর বিন আল-ফাদল বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন ইসহাক বিন জাফর বিন আহমাদ বিন আল-মুওয়াফফাক তালহা বিন জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন আর-রশীদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আল-মানসুর বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আবদুল্লাহ বিন আল- Abbas বিন আব্দুল মুত্তালিব আল-হাশেমী আল-কুরাশী। «১»
নাকীব, কাযী, মুফতী এবং অন্যান্য সকল আলিম এই বংশমর্যাদার সঠিকতা সত্যায়ন করেছেন এবং এতে তাঁদের স্বাক্ষর প্রদান করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা এই পরিবারের ইতিহাসের এক নতুন পর্যায়ের সূচনা করেন।
এই নাসিরুদ্দিন বাগদাদের কারখ এলাকায় বসবাস করতেন, যা থেকে প্রমাণিত হয় যে অন্তত সেই সময় থেকেই এই পার্শ্বে 'দাওরিয়্যিন' মহল্লার অস্তিত্ব ছিল। সেখানে তাঁর একটি পুত্র সন্তান জন্মায় যার নাম তিনি রাখেন মারঈ। পরবর্তীতে মারঈর ঘরে হুসাইন জন্মলাভ করেন। শেষোক্ত জন 'মোল্লা' হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যা নির্দেশ করে যে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে বা উপার্জনের মাধ্যমে বেশ ভালোই সম্পদের অধিকারী হয়েছিলেন; কিন্তু তিনি তাঁর গোত্রের প্রধান ও নেতা হিসেবে তাঁর সামাজিক অবস্থানের প্রয়োজনে এর পুরোটাই ব্যয় করে ফেলেন। আবদুল্লাহ আস-সুওয়াইদী বলেন, «আমার পিতা হুসাইন ছিলেন পুণ্যবান ও দানশীল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্থির বুদ্ধিসম্পন্ন, সাহসী ও নিপুণ। তিনি নিজ কওম ও গোত্রের প্রধান ছিলেন, তাঁদের যাবতীয় বিষয় তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করত। তাঁর প্রচুর ধন-সম্পদ ছিল যা তিনি দরিদ্র, অতিথি ও অসহায়দের জন্য ব্যয় করতেন, এমনকি জীবনের শেষ দিকে তিনি দরিদ্র হয়ে যান। তিনি ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে দরিদ্র ও অসহায়দের পেছনে ব্যয় করতেন, এমনকি তিনি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।» «২»
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وتزوج حسين من امرأة من أسرة علمية أيضا، كانت تتولى المشيخة والخدمة في جامع الشيخ معروف الكرخي، القريب من محلة الدوريين، وقد اشتهر منهم الملّا أحمد بن سويد أخو زوجته المذكورة، الذي كان يتولى أوقاف جامع الشيخ معروف الكرخي.
طفولته وصباه:وفي إحدى ليالي سنة 1104 هـ/ 1692 م، ولد للملّا حسين طفل ذكر سموه مرتضى، وكانت تسميته هذه بسبب وفاة وليد سابق عليه، وما لبث شبح الموت أن داهم مرتضى أيضا، فمرض وهو ما زال رضيعا بعد، واشتد مرضه حتى بات «عظاما في جراب» ، «1» وصادف أن رأته إحدى نساء الجيران وهو على تلك الحال، فشبهته ببعض من تعرفه من مجاوريهم، وكان نحيفا في غاية النحافة، يدعى (عبد الله) فلم يكن إلا أن ذاع هذا التشبيه، ولأمر اختاره الله، عرف الطفل بهذا الاسم، ونسي اسمه السابق مرتضى، وسرعان ما اقتنعت الأسرة بمزايا الاسم الجديد «وذلك لأن الله تعالى خاطب نبيه صلى الله عليه وسلم في أشرف المقامات بالعبد فقال في مقام الوحي، فَأَوْحى إِلى عَبْدِهِ ما أَوْحى
…. «2»
ولم يلبث الطفل أن رزيء- وهو ما يزال في الخامسة من عمره- بوفاة أبيه، تاركا وراءه أطفاله الصغار، عبد الله ومرعي وموسى، وحليمة، وديونا لم يكن قد وفّاها لأصحابها، فاضطرت الأم إلى أن تعيل أسرتها وحدها، متحملة من المشاق أشدها، وكانت تنفق عليهم من بيع ما تقوم بغزله من قطن، ولم يكن ما تحصل عليه بكاف لسد حاجات الصغار الذي باتوا- على ما يذكر السويدي- «لحما على وضم، لا حال ولا مال» . وشاء سوء حظ الأسرة، أن يكون الخال أحمد بن سويد الصوفي، غائبا آنذاك في رحلة له إلى
হোসেন এমন এক নারীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন যিনি নিজেও এক আলিম পরিবারের সদস্য ছিলেন। সেই পরিবারটি দুরিইয়ীন মহল্লার নিকটবর্তী শায়খ মারূফ আল-কারখী জামে মসজিদের মাশায়েখগিরি ও সেবার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। তাঁদের মধ্যে উক্ত স্ত্রীর ভাই মোল্লা আহমদ বিন সুওয়াইদ প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন, যিনি শায়খ মারূফ আল-কারখী জামে মসজিদের ওয়াকফসমূহের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন।
তাঁর শৈশব ও কৈশোর:১১০৪ হিজরি / ১৬৯২ খ্রিস্টাব্দের কোনো এক রাতে মোল্লা হোসেনের ঘরে একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে, তাঁরা তার নাম রাখেন মুরতজা। তাঁর এই নামকরণের কারণ ছিল এর পূর্বে অন্য এক নবজাতকের মৃত্যু। কিছুকাল পরেই মৃত্যুর ছায়া মুরতজাকেও তাড়া করে; শিশুকালেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁর অসুস্থতা এতটাই তীব্র আকার ধারণ করে যে তিনি শেষ পর্যন্ত ‘চামড়ার থলিতে রাখা কঙ্কাল’-এ পরিণত হন। «১» ঘটনাক্রমে প্রতিবেশীদের এক নারী তাঁকে ওই অবস্থায় দেখতে পান এবং তিনি তাঁকে তাঁদের পরিচিত এক প্রতিবেশীর সাথে তুলনা করেন। আবদুল্লাহ নামক সেই প্রতিবেশীটি অত্যন্ত কৃশ ও রোগা ছিলেন। এই উপমাটি মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে এবং আল্লাহর নির্ধারিত কোনো এক ফয়সালার কারণে শিশুটি এই নামেই পরিচিতি লাভ করে এবং তাঁর পূর্বের নাম মুরতজা বিস্মৃত হয়ে যায়। অতি দ্রুত পরিবারটিও নতুন এই নামের মাহাত্ম্যে আশ্বস্ত হয়; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওহীর সুমহান মাকামে ‘আবদ’ বা বান্দা হিসেবে সম্বোধন করেছেন। যেমন ওহীর প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: ‘অতঃপর তিনি তাঁর বান্দার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন’...
. «২»
শিশুটির বয়স যখন মাত্র পাঁচ বছর, তখনই তিনি তাঁর পিতার ইন্তেকালের মাধ্যমে শোকাতুর হন। তাঁর পিতা তাঁর ছোট ছোট সন্তানদের—আবদুল্লাহ, মারঈ, মূসা ও হালিমাকে—রেখে যান এবং সেই সঙ্গে রেখে যান কিছু ঋণ যা তিনি তখনও পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে মাতা একাকী তাঁর পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে বাধ্য হন এবং চরম দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেন। তিনি তুলা থেকে সুতা কেটে তা বিক্রি করে সন্তানদের পেছনে ব্যয় করতেন। তবে তাঁর অর্জিত আয় সন্তানদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। সুওয়াইদীর বর্ণনা অনুযায়ী বাচ্চারা এমন এক অবস্থায় নিপতিত হয় যে, যেন ‘তারা কসাইয়ের তক্তার ওপর রাখা মাংসপিণ্ড, যাদের না আছে কোনো অবস্থা, না আছে কোনো সম্পদ’। পরিবারের দুর্ভাগ্যবশত সে সময় মামা আহমদ বিন সুওয়াইদ সুফী তাঁর এক সফরে অনুপস্থিত ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
القسطنطنية، فقضت- من ثم- أياما عصيبة- وربما شهورا- حتى عاد الخال من رحلته، ليجد أولاد أخته وهم «على آخر رمق» «1» فكفلهم وربّاهم وتعهدهم برعايته.
ولأنه كان مثقفا بحسب ثقافة ذلك العصر، ويعمل في إدارة أحد المرافق الدينية المهمة في المدينة، ويكسب رزقه من أوقافه، فإنّه أدرك ألا سبيل لأن يفوز من يرعاهم بتقدير المجتمع، وأن يضمنوا- بذلك- مستقبلهم، إلا بالاتجاه إلى طلب العلم، ومن هنا فقد أرسلهم إلى الكتّاب، حيث تلقوا- وعبد الله بينهم- مبادئ العلوم الدينية على يد الشيخ عبد الرحمن بن الشيخ محمود من أهل ما وراء النهر، فختموا عنده القرآن الكريم، وتلقوا عليه رسالة في التجويد، وتعلموا الكتابة.
ويتضح لنا مدى الأثر الذي تركه هذا الشيخ على الطفل عبد الله، مما أغدقه عليه من صفات، وما استنزله عليه من رحمات، إذ قال «شيخنا الصالح الناسك الورع التقي العالم..
رحمه الله رحمة واسعة في الدين والدنيا» .
وبعد الفراغ من تلقي مبادئ المعرفة، انتقلوا- وعبد الله بينهم- إلى المرحلة التالية، فشرعوا بتعلم الخط، على قواعده، وأصوله وفنونه، وثابر عبد الله على إتقان ضروبه، والتمهر فيه، على الرغم من ضيق وأحوال أسرته المادية آنذاك، يقول «إلى أن بقيت أسوّد مشقي على ضوء القمر» وما ذاك إلا لأنه عدم ضوء المصباح، ولعدم قدرته على دفع ثمن وقوده، ويظهر أن الظروف المعيشية للأسرة، هي التي دفعتها، في هذه المرحلة، إلى الاكتفاء بما نهله أبناؤها من أسباب المعرفة، فاشتغلوا بأعمال تزيد من دخل الأسرة وتخفف عن كاهل الأم وأخيها مؤونة الحياة وأعباءها.
متاعب الدرس:بيد أن رغبة عبد الله في مواضلة التعليم لم تكن اعتيادية، فقد ذاق حلاوة المعرفة،
কনস্টান্টিনোপল; ফলে তিনি সেখান থেকে কঠিন দিনগুলো—সম্ভবত কয়েক মাস—পার করেন, যতক্ষণ না মামা তাঁর সফর থেকে ফিরে আসেন। ফিরে এসে তিনি তাঁর ভাগনেদের মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান। তখন তিনি তাঁদের লালন-পালনের দায়িত্ব নেন এবং নিজের তত্ত্বাবধানে বড় করে তোলেন।
যেহেতু তিনি সেই যুগের সংস্কৃতি অনুযায়ী সুশিক্ষিত ছিলেন এবং মদিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় কর্মরত ছিলেন ও এর ওয়াকফ থেকে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, যাদের তিনি লালন-পালন করছেন, তাদের সমাজের শ্রদ্ধা অর্জন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য ইলম বা জ্ঞান অর্জন করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। এই কারণে তিনি তাদের মক্তবে পাঠান। সেখানে তারা—যাদের মধ্যে আবদুল্লাহও ছিলেন—মা-ওয়ারাউন নহর অঞ্চলের অধিবাসী শেখ আবদুর রহমান বিন শেখ মাহমুদের কাছে ধর্মীয় জ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো শিক্ষা করেন। তাঁরা তাঁর কাছে পবিত্র কুরআন সম্পন্ন করেন, তাজবিদ বিষয়ক একটি পুস্তিকা পাঠ করেন এবং লিখন পদ্ধতি শিক্ষা করেন।
শিশু আবদুল্লাহর ওপর এই শায়খের প্রভাব কতটা গভীর ছিল তা তাঁর প্রতি আবদুল্লাহর গুণকীর্তন এবং তাঁর জন্য রহমতের দোয়া থেকে স্পষ্ট হয়। তিনি বলেন, "আমাদের শায়খ ছিলেন সৎকর্মশীল, ইবাদতগুজার, পরহেজগার, খোদাভীরু এবং আলেম...
আল্লাহ তাঁকে দ্বীন ও দুনিয়ায় প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন।"
জ্ঞানের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর তারা—যাদের মাঝে আবদুল্লাহও ছিলেন—পরবর্তী ধাপে পদার্পণ করেন। তাঁরা নিয়ম-কানুন, মূলনীতি ও কলাকৌশল অনুযায়ী হস্তলিপি বিদ্যা শিখতে শুরু করেন। তৎকালীন পারিবারিক আর্থিক অসচ্ছলতা সত্ত্বেও আবদুল্লাহ বিভিন্ন প্রকারের হস্তলিপি আয়ত্ত করতে এবং তাতে দক্ষতা অর্জনে অধ্যবসায়ী ছিলেন। তিনি বলেন, "এমনকি আমি চাঁদের আলোয় আমার হস্তলিপির অনুশীলন করতাম।" প্রদীপের আলোর অভাব এবং এর জ্বালানি ক্রয়ের সামর্থ্য না থাকার কারণেই তিনি এমনটি করতেন। প্রতীয়মান হয় যে, পরিবারের জীবনযাত্রার পরিস্থিতির কারণেই তারা এই পর্যায়ে এসে সন্তানদের অর্জিত জ্ঞানেই সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হয়। ফলে তারা এমন কাজে লিপ্ত হয় যা পরিবারের আয় বৃদ্ধি করে এবং মা ও তাঁর ভাইয়ের ওপর থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় ও বোঝা লাঘব করে।
পাঠের কষ্টসমূহ:তবে শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আবদুল্লাহর আকাঙ্ক্ষা ছিল সাধারণের ঊর্ধ্বে, কারণ তিনি জ্ঞানের মিষ্টতা আস্বাদন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وأعجب بما تضفيه على رجالها من هيبة وسكينة، وتاقت نفسه إلى الاستزادة من علومهم، ولكن رغبته هذه لم تكن تلقى آذانا صاغية من أمه، التي كانت ترجو أن يتولى- بوصفه أكبر أبنائها- دوره في إعالة الأسرة. ويظهر أن أكثر من مشادة قد حدثت بين الابن الطموح والأم المحدودة الأفق حول جدوى العلم والتعلم، وقد سجل هو لنا بعض ما كان يدور بينهما فقال «وكانت والدتي- رحمها الله تعالى- بلهاء، وكان نساء المحلة يضحكن عليها، يقلن لها: ايش ينفعك العلم وأنت امرأة أرملة وابنك الكبير لا يساعدك في شيء فكانت رحمها الله تقول: يا ولدي نحن فقراء وأنتم أيتام، هب أن عمّك يطعمك فمن يكسوك؟ وأنا لا أصغي لها حتى ألّحت عليّ في ذلك وقطعت كسوتها عني، كل هذا نشأ عن بلهها، وإغواء نساء الجيران إياها، وإلا فهي في حد ذاتها مباركة رحمة الله عليها» . «1» وهكذا تحولت أيام الطلب إلى أيام معاناة وألم وصبر، بحيث لم يجد ما يشتري به شمعا أو شيرجا لمطالعة دروسه، فكان يطالعها على ضوء القمر، أو على سرج السوق، وبقي- كما يقول- مدة مديدة ما أكل فيها لحما، وكان يلبس الثوب فلا يخلعه حتى يتمزق لعدم حصوله على الصابون، ويطول شعر رأسه فلا يجد ما يحلقه به، يقول ملخّصا تلك المدة العصيبة من حياته «والحاصل أني وجدت أيام الطلب من المشاق والجوع والسهر والعري والإفلاس ما لا طاقة به لولا إسعاف الله ولطفه، وكنت مع هذه المشاق أجد للطلب لذة عظيمة» . ووجد عبد الله في خاله ما يعوضه عن موقف أمه غير المتفهم، فقد شجعه هذا على المضي في سبيل العلم، ومواصلة الأخذ عن الشيوخ، فبعد أن أنهى دراسته في كتّاب الشيخ عبد الرحمن، وأتقن الخط، أرسله خاله إلى عالم الكرخ يومذاك «الشيخ العالم النحرير والجهبذ الشهير، تذكرة السلف، وعمدة الخلف، زين الملة والدين، الشيخ حسين نوح الحديثي الحنفي «2» » وكان هذا العالم يتولى التدريس في المدرسة العمرية التي أنشأها له
তিনি তাদের (জ্ঞানের পথে বিচরণকারীদের) পুরুষদের মাঝে যে গাম্ভীর্য ও প্রশান্তি ফুটে উঠত, তাতে মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং তাদের জ্ঞান থেকে আরও আহরণ করার জন্য তাঁর প্রাণ ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তাঁর এই আকাঙ্ক্ষা তাঁর মায়ের কাছে কোনো সাড়া পায়নি, যিনি আশা করতেন যে—পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে—তিনি পরিবার ভরণপোষণে তাঁর ভূমিকা পালন করবেন। মনে হয় যে, জ্ঞান ও শিক্ষালাভের সার্থকতা নিয়ে উচ্চাভিলাষী পুত্র এবং সংকীর্ণমনা মায়ের মধ্যে একাধিকবার বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। তিনি তাঁদের মধ্যে যা ঘটত তার কিছু আমাদের জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন; তিনি বলেন: "আমার মা—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—অত্যন্ত সরলমনা ছিলেন। মহল্লার মহিলারা তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করত। তারা তাঁকে বলত: 'তোমার এই বিদ্যায় কী লাভ হবে যখন তুমি একজন বিধবা নারী আর তোমার বড় ছেলে তোমাকে কোনো কিছুতেই সাহায্য করছে না?' তখন তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—বলতেন: 'হে আমার পুত্র! আমরা দরিদ্র এবং তোমরা এতিম। মনে করো তোমার চাচা তোমাকে খাওয়ালেন, কিন্তু তোমাকে পোশাক পরাবে কে?' আমি তাঁর কথায় কান দিতাম না, যতক্ষণ না তিনি আমাকে এই বিষয়ে পীড়াপীড়ি করলেন এবং আমার পোশাক দেওয়া বন্ধ করে দিলেন। এই সবকিছুই তাঁর সারল্য এবং প্রতিবেশিনী মহিলাদের প্ররোচনার কারণে হয়েছিল। নতুবা তিনি স্বয়ং অত্যন্ত বরকতময় ছিলেন, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।" «১» এভাবেই জ্ঞানার্জনের দিনগুলো কষ্ট, বেদনা ও ধৈর্যের দিনগুলিতে পরিণত হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে, পাঠ্যবই অধ্যয়নের জন্য মোমবাতি বা তেল কেনার মতো কিছু তিনি খুঁজে পেতেন না। ফলে তিনি চাঁদের আলোতে অথবা বাজারের প্রদীপের আলোতে পড়াশোনা করতেন। তিনি যেমনটি বলেন, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছিল যখন তিনি কোনো মাংস খেতে পারেননি। তিনি একটি জামা পরতেন এবং সেটি ছিঁড়ে না যাওয়া পর্যন্ত তা খুলতেন না, কারণ সাবান জোগাড় করার সামর্থ্য তাঁর ছিল না। তাঁর মাথার চুল লম্বা হয়ে যেত, কিন্তু তা কামানোর মতো কোনো উপায় তিনি পেতেন না। তিনি তাঁর জীবনের সেই কঠিন সময়ের সারসংক্ষেপ করে বলেন: "সারকথা হলো, আমি জ্ঞানার্জনের দিনগুলোতে এমন সব কষ্ট, ক্ষুধা, বিনিদ্র রজনী, বস্ত্রহীনতা ও নিঃস্বতার সম্মুখীন হয়েছি যা সহ্য করার ক্ষমতা আমার থাকত না যদি না আল্লাহর সাহায্য ও করুণা থাকত। এতসব কষ্ট সত্ত্বেও আমি জ্ঞানার্জনের মাঝে এক বিশাল স্বাদ অনুভব করতাম।" আবদুল্লাহ তাঁর মামার মাঝে এমন একজনকে খুঁজে পেয়েছিলেন যিনি তাঁর মায়ের অবুঝ আচরণের বিপরীতে তাঁকে সাহস যুগিয়েছিলেন। তাঁর মামা তাঁকে জ্ঞানের পথে অগ্রসর হতে এবং শায়খদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করেছিলেন। শায়খ আবদুর রহমানের মক্তবে পড়াশোনা শেষ করার এবং হস্তলিপিতে পারদর্শিতা অর্জনের পর, তাঁর মামা তাঁকে সেই সময়ের কারখের আলেম "সুদক্ষ আলেম ও প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ, সালাফদের (পূর্বসূরিদের) স্মৃতিস্বরূপ এবং খালাফদের (উত্তরসূরিদের) নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ, দ্বীন ও মিল্লাতের অলঙ্কার, শায়খ হুসাইন নূহ আল-হাদিসী আল-হানাফী «২»"-এর নিকট প্রেরণ করেন। এই আলেম উমরিয়া মাদ্রাসায় অধ্যাপনার দায়িত্বে ছিলেন যা তাঁর জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
خصيصا والي بغداد عمر باشا 1090 هـ/ 1679 م، وتقع على كتف دجلة في الجانب الغربي شرقي جامع القمرية ملاصقة له، «1» فانتظم الشاب عبد الله في سلك طلبة المدرسة، وربما استعان ببعض مخصصاتها على مواصلة التفرغ للعلم، وساعده ذلك التفرغ، مع ما أوتي من مواهب، على النبوغ في دراسته والتفوق على الأقران، وامتثالا لتعليمات شيخه، فقد حفظ الأجر ومية متنا مع إعراب أمثلتها وأتقنها غاية الإتقان، وبات موضع اعتزاز شيخه وثنائه، وشجّعه ما حصل عليه من تقدير على الانتقال إلى شيوخ آخرين، يأخذ عنهم ويستفيد منهم، فتنقل بين مدارس بغداد الشهيرة يومذاك، ويبدو أنه ترك، في هذه المرحلة من حياته، الإقامة في بيت أمه نهائيا، وأمسى يبيت في المدرسة المرجانية في الجانب الشرقي من بغداد، وهي أكبر مدارس بغداد وأكثرها أهمية، ثم ما لبث أن انتقل للإقامة والدرس في المدرسة الأحسائية على شاطىء دجلة في الجانب الشرقي أيضا، وكانت هذه المدرسة تحتوي على غرف بعضها مطل على النهر، وبعضها في الجهة الشمالية، وهي تعد مجمع الزّهاد والمتقشفين. «2»
تاقت نفس عبد الله الكبيرة إلى الاستزادة من علوم عصره، ومواصلة رحلة الدرس والبحث، ويبدو أنه أدرك أن لا مزيد هناك إن هو أقام في بغداد وحدها، فما فيها من شيخ
বিশেষত বাগদাদের ওয়ালী উমর পাশা ১০৯০ হিজরি/ ১৬৭৯ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা দজলা নদীর তীরে পশ্চিম পার্শ্বে কুমরিয়া মসজিদের পূর্ব দিকে এর সাথে সংলগ্ন অবস্থায় অবস্থিত। «১» যুবক আবদুল্লাহ সেই মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত হলেন। সম্ভবত তিনি তাঁর জ্ঞানচর্চায় পূর্ণ মনোনিবেশ অব্যাহত রাখার জন্য মাদরাসার নির্দিষ্ট কিছু বৃত্তির সাহায্য গ্রহণ করেছিলেন। এই একাগ্রতা এবং তাঁর প্রাপ্ত মেধার সমন্বয় তাঁকে তাঁর পড়াশোনায় অনন্য প্রতিভা প্রদর্শন এবং সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে সহায়তা করে। তাঁর শায়খের নির্দেশ পালন করে তিনি আল-আজরুমিয়্যাহ গ্রন্থের মূল পাঠ এর উদাহরণসমূহের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণসহ মুখস্থ করেন এবং এতে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি তাঁর শায়খের অত্যন্ত গর্ব ও প্রশংসার পাত্রে পরিণত হন। এই প্রাপ্ত মূল্যায়ন তাঁকে অন্য শায়খদের কাছে যেতে উৎসাহিত করল, যাতে তিনি তাঁদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও উপকৃত হতে পারেন। ফলে তিনি তৎকালীন বাগদাদের প্রসিদ্ধ মাদরাসাগুলোতে যাতায়াত করতে থাকেন। প্রতীয়মান হয় যে, জীবনের এই পর্যায়ে তিনি স্থায়ীভাবে তাঁর মায়ের বাড়িতে বসবাস করা ছেড়ে দেন এবং বাগদাদের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত আল-মাদরাসা আল-মারজানিয়াতে রাত্রিযাপন করতে শুরু করেন; এটি ছিল বাগদাদের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ মাদরাসা। এরপর তিনি শীঘ্রই দজলা নদীর তীরে পূর্ব পার্শ্বেই অবস্থিত আল-মাদরাসা আল-আহসাইয়্যাহ-তে বসবাস ও পড়াশোনার জন্য স্থানান্তরিত হন। এই মাদরাসাটিতে বেশ কিছু কক্ষ ছিল যার কয়েকটি নদীর দিকে মুখ করা এবং কয়েকটি উত্তর দিকে অবস্থিত ছিল। এটি দুনিয়াত্যাগী ও সংযমী সাধকদের মিলনস্থল হিসেবে বিবেচিত হতো। «২»
আবদুল্লাহর উচ্চাভিলাষী মন তাঁর সমসাময়িক জ্ঞান-বিজ্ঞানে আরও সমৃদ্ধ হতে এবং অধ্যয়ন ও গবেষণার সফর অব্যাহত রাখতে ব্যাকুল হয়ে উঠল। প্রতীয়মান হয় যে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, শুধু বাগদাদে অবস্থান করলে তাঁর পক্ষে আর বেশি কিছু অর্জন সম্ভব নয়; কারণ সেখানে এমন কোনো শায়খ নেই যার কাছে তিনি আরও জ্ঞানার্জন করতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وعالم إلّا والتقى به وأخذ عنه، فضلا عن أن ثمة علوما لم يجد بين البغداديين في أيامه، من تخصص بها أصلا، وهكذا فقد استجمع أمره على الرحلة إلى الموصل لمواصلة دراسته على علمائها، كان عمره إذ ذاك قد تجاوز الثالثة والعشرين.
وفي سنة 1127 هـ/ 1716 م سافر عبد الله إلى مدينة الموصل بهدف «تحصيل علم الحكمة والهيئة» ، ولكنه، ما إن وصلها، والتقى بشيوخها، حتى أخذ بإكمال سائر ما درسه من علوم أخرى وهو في بغداد، مثل النحو وعلوم العربية، والعلوم الشرعية والعقلية، كما درس الهيئة (الفلك) وتلقى الحديث الشريف على المشايخ، وقراءة القرآن وتجويده. ولم تكن أحوال الشيخ في الموصل بأفضل مما كانت عليه في بغداد، فقد داهمه الجوع والبرد، وألفه الفقر، ولم يكن له في الموصل من معين، والظاهر لنا أنه كان يتقوت من مخصصات بعض المدارس هناك، وربما أقام فيها، يقول واصفا تلك المرحلة من حياته «والحاصل أني نلت في طلب العلم نهاية التعب وغاية النصب مع عدم المساعدة والمعين والناصر والظهير حتى حصلت على أكثر الفنون من سائر العلوم» «1» وقد استغرقت إقامته في الموصل ثلاثة عشر شهرا، فتكون عودته إلى بغداد بين عامي 1128 و 1129 هـ/ 1717- 1718 م.
استقراره الاجتماعي:عاد عبد الله إلى بغداد وقد حصل من العلم ما لم ينله غيره من معاصريه، فطار صيته، واشتهر أمره، ونال في هذه المرحلة من حياته لقبه الشهير (السويدي) الذي سيعرف به، وأولاده من بعده، أجيالا عديدة. وسبب تلقبه به، هو أن زميلا له في الدرس، يدعى الشيخ حسين بن عمر الراوي سافر ذات مرة إلى (راوة) بقصد زيارة أهله، فأخذ يراسل عبد الله من هناك على العنوان الآتي «يصل الكتاب إلى الملا عبد الله ابن أخت الملا أحمد بن سويد» ، ثم اختصر ذلك، في ما بعد، إلى (السويدي) فعرف به. وكانت أسرته تعرف قبلها بأولاد
...এবং এমন কোনো আলেম ছিলেন না যার সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটেনি এবং যার নিকট থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেননি। তাছাড়া এমন কিছু বিজ্ঞান ছিল যা নিয়ে তার সমসাময়িক বাগদাদীদের মধ্যে কেউই বিশেষজ্ঞ ছিল না। তাই তিনি মসুলে ভ্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন যাতে সেখানকার আলেমদের কাছে থেকে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। তখন তার বয়স তেইশ বছর অতিক্রম করেছিল।
১১২৭ হিজরি/১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে আবদুল্লাহ 'হিকমত ও হাইয়াত (দর্শন ও জ্যোতির্বিজ্ঞান) শিক্ষা' অর্জনের উদ্দেশ্যে মসুল শহরে ভ্রমণ করেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর এবং সেখানকার শায়খদের সাথে সাক্ষাতের পর পরই তিনি বাগদাদে অধ্যয়ন করা অন্যান্য বিজ্ঞানগুলোর পরিপূরক শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন, যেমন নাহু (ব্যাকরণ), আরবি সাহিত্য, শরয়ি বিজ্ঞান এবং আকলি (বুদ্ধিবৃত্তিক) বিজ্ঞান। তিনি হাইয়াত (জ্যোতির্বিজ্ঞান) অধ্যয়ন করেন এবং শায়খদের নিকট থেকে হাদিস শরিফ শ্রবণ করেন এবং কুরআন পাঠ ও তাজবিদ শিক্ষা করেন। মসুলে শায়খের অবস্থা বাগদাদের চেয়ে ভালো ছিল না; ক্ষুধা ও শীত তাকে গ্রাস করেছিল এবং দারিদ্র্য তার চিরসঙ্গী হয়ে গিয়েছিল। মসুলে তার কোনো সাহায্যকারী ছিল না। আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি সেখানকার কিছু মাদ্রাসার বরাদ্দকৃত খাবার খেয়ে জীবন ধারণ করতেন এবং সম্ভবত সেখানেই অবস্থান করতেন। তিনি তার জীবনের সেই পর্যায়ের বর্ণনা দিয়ে বলেন: "সারকথা হলো, কোনো সাহায্যকারী, সহযোগী বা পৃষ্ঠপোশকের অনুপস্থিতিতে জ্ঞান অন্বেষণে আমি চরম ক্লান্তি ও সীমাহীন কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি, যতক্ষণ না আমি প্রায় সকল শাস্ত্রের অধিকাংশ বিদ্যায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছি।" (১) মসুলে তার অবস্থান তেরো মাস স্থায়ী ছিল, তাই ১১২৮ থেকে ১১২৯ হিজরি/১৭১৭-১৭১৮ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে তিনি বাগদাদে ফিরে আসেন।
তার সামাজিক স্থিতিশীলতা:আবদুল্লাহ এমন জ্ঞান অর্জন করে বাগদাদে ফিরে আসলেন যা তার সমসাময়িক অন্য কেউ লাভ করতে পারেনি। ফলে তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল, তিনি প্রখ্যাত হলেন এবং জীবনের এই পর্যায়ে তিনি তার বিখ্যাত উপাধি (আল-সুওয়াইদি) লাভ করেন, যে নামে তিনি এবং তার পরবর্তী বংশধরগণ বহু প্রজন্ম ধরে পরিচিত হবেন। তার এই উপাধি লাভের কারণ ছিল এই যে, তার এক সহপাঠী, শেখ হুসাইন বিন ওমর আল-রাউয়ি নামক জনৈক ব্যক্তি একবার তার পরিবারের সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে (রাওয়া) সফরে যান। সেখান থেকে তিনি আবদুল্লাহর কাছে এই ঠিকানায় চিঠি পাঠাতেন: "মোল্লা আহমদ বিন সুওয়াইদের ভাগ্নে মোল্লা আবদুল্লাহর নিকট এই পত্রটি পৌঁছানো হোক"। পরবর্তীতে তিনি এটিকে সংক্ষিপ্ত করে (সুওয়াইদি) করে দেন, আর এভাবেই তিনি এই নামে পরিচিত হন। এর আগে তার পরিবার 'আওলাদ' (সন্তানগণ) নামে পরিচিত ছিল।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مرعي نسبة إلى جده، كما عرف هو- في أثناء إقامته في الموصل- بالبغدادي، على أن هذه الألقاب لم تشتهر شهرته بالسويدي.
ويبدو أن شيئا من التحسن أصاب أحواله المادية، فقد استطاع أن يتزوج من امرأة صالحة، تدعى فاطمة، شجعته على المضي في طلب العلم. ومنّ الله عليه منها بأولاد نابهين، ولد أولهم عبد الرحمن سنة 1134 هـ/ 1721 م، وولد ثانيهم محمد سعيد سنة 1141 هـ/ 1728 م، وولد ثالثهم إبراهيم سنة 1146 هـ/ 1733 م، وولد رابعهم أحمد في سنة 1153 هـ/ 1740 م وبابنتين هما سارة، ولدت سنة 1150 هـ/ 1737 م، وصفية، وقد ولدت سنة 1155 هـ/ 1742 م.
وانتقل عبد الله من مسكنه القديم في محلة الدوريين، إلى دار أخرى- يظهر أنها كانت أحسن حالا من سابقتها- في محلة خضر إلياس من محال الكرخ القديمة من بغداد، وكانت الدار قريبة من دجلة، مطلّة عليه، ومشرفة على الفضاء الواسع الذي يحيط بالكرخ آنذاك، والذي كان محط القبائل العربية النازلة للاكتيال، وكان هذا الحي يمتاز- على نحو واضح- بصبغته العربية الخاصة، حيث كان موطنا للأسر العربية الكبيرة النازحة إلى المدينة من البادية، أو من أطرافها، مثل آل الشاوي زعماء قبيلة العبيد القحطانية وكانت دورهم مجاورة تقريبا لدار أسرته، والآلوسيين الحسينيين الذين كانوا قد نزحوا من بلدتهم آلوس على الفرات منذ النصف الثاني من القرن الثامن عشر، «1» والعشاريين القحطانيين القادمين من نواحي الفرات الأعلى قبل ذلك، «2» وغير هؤلاء. وكانت إقامة تلك الأسر النازحة في حي واحد، وتعرضها إلى ظروف متشابهة، يساعد على خلق روح جماعية
মারয়ী নামটি তাঁর পিতামহের সাথে সম্পৃক্ত, ঠিক যেভাবে তিনি মোসেলে অবস্থানকালে ‘বাগদাদী’ নামে পরিচিত ছিলেন। তবে এই উপাধিগুলো তাঁর ‘আস-সুওয়াইদী’ উপাধির মতো তেমন প্রসিদ্ধি লাভ করেনি।
প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর আর্থিক অবস্থায় কিছুটা উন্নতি এসেছিল, যার ফলে তিনি ফাতিমা নামক এক পুণ্যবতী নারীকে বিবাহ করতে সক্ষম হন; যিনি তাঁকে ইলম অর্জনে অগ্রসর হতে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে তাঁকে কতিপয় মেধাবী সন্তান দান করেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম জন আব্দুর রহমান ১১৩৪ হিজরি/ ১৭২১ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন, দ্বিতীয় জন মুহাম্মদ সাঈদ ১১৪১ হিজরি/ ১৭২৮ খ্রিস্টাব্দে, তৃতীয় জন ইব্রাহিম ১১৪৬ হিজরি/ ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে এবং চতুর্থ জন আহমাদ ১১৫৩ হিজরি/ ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। এ ছাড়া তাঁর দুই কন্যা ছিল—সারা, যিনি ১১৫০ হিজরি/ ১৭৩৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং সাফিয়্যাহ, যিনি ১১৫৫ হিজরি/ ১৭৪২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
আব্দুল্লাহ আদ-দাওরীয়্যিন মহল্লার পুরাতন বাসস্থান থেকে অন্য একটি বাড়িতে স্থানান্তরিত হন—প্রতীয়মান হয় যে সেটি পূর্বের বাড়ির তুলনায় অধিকতর উন্নত ছিল—এটি বাগদাদের পুরাতন কারখ এলাকার খিজির ইলিয়াস মহল্লায় অবস্থিত ছিল। বাড়িটি দজলা নদীর সন্নিকটে ছিল, যেখান থেকে নদী দেখা যেত এবং তৎকালীন কারখের চারপাশের উন্মুক্ত প্রান্তর পরিলক্ষিত হতো, যা ছিল খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য আসা আরব গোত্রগুলোর কেন্দ্রস্থল। এই এলাকাটি তার স্বতন্ত্র আরবীয় বৈশিষ্ট্যের জন্য সুস্পষ্টভাবে পরিচিত ছিল। কারণ এটি ছিল মরুভূমি বা এর প্রান্তদেশ থেকে শহরে আসা বৃহৎ আরব পরিবারগুলোর আবাসস্থল। যেমন: কাহতানি উবাইদ গোত্রের নেতা আল-শাওয়ী পরিবার, যাদের বাড়িগুলো তাঁর পরিবারের বাড়ির প্রায় লাগোয়া ছিল; এবং আলূসী হুসাইনীগণ, যারা আঠারো শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ফোরাত নদীর তীরের আলূস শহর থেকে এখানে হিজরত করেছিলেন, «১» এবং কাহতানি আশশারীগণ যারা এর পূর্বেই উচ্চ ফোরাত অঞ্চল থেকে এসেছিলেন, «২» এবং আরও অনেকে। এই প্রবাসী পরিবারগুলোর একই মহল্লায় বসবাস এবং একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া একটি সামষ্টিক চেতনা তৈরিতে সহায়ক হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مترابطة، «1» وهي روح أثرت إلى حد عميق في شخصية السويدي، وابنه المؤرخ الأديب عبد الرحمن، إلى الحد الذي رشح الأول إلى تمثيل أهل بغداد في مؤتمر النجف سنة 1156 هـ/ 1743 م ودفع الثاني إلى تزعم أهل حيّه في عدد من المناسبات والظروف، وخاصة ما اتصل منها بفتنة عجم محمد سنة 1190 هـ/ 1776. «2»
دوره في الحياة العامة:وتزامن ذيوع شهرة عبد الله السويدي في بغداد، مع تولي أحمد باشا بن حسن باشا (1136- 1160 هـ/ 1723- 1747 م) الحكم. وسرعان ما اتصل نجمه بنجم أحمد باشا الصاعد، وكان الأخير يرغب في تقريب العلماء والأدباء إليه، رغبة منه في خلق مجتمع بغدادي مثقف، يسانده في مشاريعه وخططه، كما رأى فيه هؤلاء نموذجا جديدا لحاكم عراقي طموح لم تشهد البلاد مثله منذ أمد بعيد، فنشأت بين الباشا والشيخ صداقة وثيقة، كان من آثارها عدد من القصائد الطوال التي مدح بها الأخير واليه، وأرّخ فيها الأحداث العامة المهمة التي جرت في عهده «3» وجاء اندلاع الحرب العثمانية- الإيرانية سنة 1135 هـ/ 1732 م لتؤجج مشاعر العراقيين وتذكيها، فقد اندفعت قوات عراقية كبيرة، بقيادة والي بغداد حسن باشا، إلى داخل إيران مفتتحة كرمنشاه ومدنا إيرانية أخرى، منهية بذلك عهدا كاملا مليئا بأنواع الاعتداءات الإيرانية على أرض العراق، وكان تولي أحمد
পরস্পর সম্পর্কযুক্ত, «১» এবং এটি এমন একটি চেতনা যা সুওয়াইদীর ব্যক্তিত্বে এবং তাঁর পুত্র ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক আবদুর রহমানের ব্যক্তিত্বে অত্যন্ত গভীর প্রভাব ফেলেছিল; যার ফলে প্রথমজন ১১৫۶ হিজরী/ ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে নাজাফ সম্মেলনে বাগদাদবাসীর প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মনোনীত হন এবং দ্বিতীয়জন বিভিন্ন সময়ে ও পরিস্থিতিতে তাঁর এলাকার অধিবাসীদের নেতৃত্ব দিতে উদ্বুদ্ধ হন, বিশেষ করে ১১৯০ হিজরী/ ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দের আজাম মুহাম্মাদের ফিতনার সাথে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোতে। «২»
জনজীবনে তাঁর ভূমিকা:বাগদাদে আবদুল্লাহ সুওয়াইদীর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়া এবং আহমাদ পাশা বিন হাসান পাশার (১১৩৬-১১৬০ হিজরী/ ১৭২৩-১৭৪৭ খ্রিস্টাব্দ) ক্ষমতা গ্রহণের বিষয়টি সমসাময়িক ছিল। শীঘ্রই তাঁর ভাগ্য আহমাদ পাশার উদীয়মান ভাগ্যের সাথে যুক্ত হয়। আহমাদ পাশা আলিম ও সাহিত্যিকদের তাঁর ঘনিষ্ঠ করতে আগ্রহী ছিলেন, যাতে একটি শিক্ষিত বাগদাদী সমাজ গড়ে তোলা যায় যা তাঁর প্রকল্প ও পরিকল্পনাগুলোতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে, তাঁরাও তাঁর মাঝে একজন উচ্চাভিলাষী ইরাকি শাসকের নতুন মডেল দেখতে পেয়েছিলেন, যার মতো শাসক দেশ দীর্ঘকাল দেখেনি। ফলে পাশা এবং শায়খের মধ্যে একটি গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এর অন্যতম নিদর্শন হলো বেশ কিছু দীর্ঘ কাসিদা, যেগুলোর মাধ্যমে শায়খ তাঁর ওয়ালির প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর শাসনামলে ঘটা গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করেছেন। «৩» ১১৩৫ হিজরী/ ১৭৩২ খ্রিস্টাব্দে উসমানীয়-ইরান যুদ্ধের সূত্রপাত ইরাকিদের আবেগ ও চেতনাকে উদ্দীপ্ত ও প্রজ্বলিত করে। বাগদাদের ওয়ালি হাসান পাশার নেতৃত্বে এক বিশাল ইরাকি বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং কেরমানশাহসহ অন্যান্য ইরানি শহর জয় করে। এর মাধ্যমে ইরাকি ভূখণ্ডের ওপর ইরানি আগ্রাসনের নানাবিধ প্রকারের এক পূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটে। আর আহমাদ-এর ক্ষমতা গ্রহণ...
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
باشا، ولده، قيادة القوات المحاربة سنة 1136 هـ/ 1723 م ونجاحه في فتح همذان عاصمة الصفويين آنذاك، مدعاة لفخر العراقيين الذين أسهموا، بصيغ مختلفة، في تحقيق هذا النصر الباهر. وقد أبدى السويدي إعجابه بقابليات الوالي الشاب القيادية وتابع أخباره باهتمام شديد، وكانت له آراؤه فيما جرى يومذاك من أحداث، وقد نقل ابنه عبد الرحمن عنه آراء سديدة في تفسير ما تعرّض له الجيش العثماني من نكسات. «1»
وحينما حاصر نادر شاه بغداد صيف سنة 1145 هـ/ 1732 م لم يتخل السويدي وأسرته، عن دوره في الدفاع عنها، فقد كانت خطة المهاجمين تعتمد على إحداث حركة تطويق على الجانب الغربي من بغداد، وهو أمر أدى إلى قيام أهل هذا الجانب بتحصين جانبهم على عجل. ولما كانت دار السويدي تطل على الفضاء القريب، خارج السور، فقد خرج هو ورجال عشيرته لصد المهاجمين وإفشال تعرضهم على تلك الناحية، وشارك الجميع، بحماسة منقطعة النظير، في معركة دفاع باسلة، وصفها ابنه عبد الرحمن- فيما بعد- وكان شاهد عيان لها بقوله «كنت على علية في دارنا مشرفة على محل الوقعة، فانظر إلى الخيل تعثر في الرجال وإلى السيوف تخطف رؤوس الأبطال حتى صار العدو أضعافهم، وكثر فناؤهم فأبصرت خيل عسكرنا (يريد: العسكر العثماني النظامي) ولت على أدبارها، وجدّت في جريها لفرارها، وأبصرت رجالنا ثبتوا ثبات الرجال، وقارعت الأبطال منهم الأبطال، وقاتلوا قتال من لا يريد الحياة، وكثر الرهج من جميع الجهات» «2» فكانت تلك الملحمة مبعث ذكريات وطنية مشتركة ظلت تتردد في أفواه الناس أجيالا متعاقبة. ومن ناحية أخرى فإن فشل نادر شاه في اقتحام المدينة الصامدة، واضطراره إلى الانسحاب منها، كان بشير تحسن في أحوال السويدي نفسه، وإيذانا بتبدل أوضاعه المعيشية والاجتماعية، فقد لفتت شهرة الشيخ العلمية، وكفاءته الشخصية، انتباه أحمد
...পাশা, তাঁর পুত্র, ১১৩৬ হিজরি/ ১৭২৩ খ্রিস্টাব্দে যুদ্ধরত বাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ এবং তৎকালীন সাফাবি রাজধানী হামাদান বিজয়ে তাঁর সাফল্য ছিল ইরাকিদের জন্য এক গৌরবের বিষয়, যারা বিভিন্নভাবে এই উজ্জ্বল বিজয় অর্জনে অবদান রেখেছিল। সুওয়াইদি তরুণ ওয়ালির নেতৃত্বের যোগ্যতার প্রতি তাঁর প্রশংসা প্রকাশ করেন এবং অত্যন্ত আগ্রহের সাথে তাঁর সংবাদ অনুসরণ করেন। সে সময়কার ঘটনাবলি সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব মতামত ছিল। তাঁর পুত্র আবদুর রহমান উসমানীয় সেনাবাহিনী যে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল, তার ব্যাখ্যায় তাঁর কাছ থেকে সঠিক মতামত উদ্ধৃত করেছেন। «১»
যখন নাদির শাহ ১১৪৫ হিজরি/ ১৭৩২ খ্রিস্টাব্দের গ্রীষ্মকালে বাগদাদ অবরোধ করেন, তখন সুওয়াইদি এবং তাঁর পরিবার শহরটি রক্ষায় তাঁদের ভূমিকা থেকে পিছপা হননি। আক্রমণকারীদের পরিকল্পনা ছিল বাগদাদের পশ্চিম দিক থেকে একটি ঘেরাও অভিযান চালানো, যার ফলে ঐ এলাকার অধিবাসীরা তড়িঘড়ি করে তাঁদের এলাকাকে সুরক্ষিত করতে বাধ্য হয়েছিল। যেহেতু সুওয়াইদির বাড়িটি প্রাচীরের বাইরে নিকটস্থ খোলা জায়গার দিকে ছিল, তাই তিনি এবং তাঁর গোত্রের লোকেরা আক্রমণকারীদের প্রতিহত করতে এবং সেই দিক থেকে তাঁদের আক্রমণ ব্যর্থ করতে বেরিয়ে আসেন। সকলেই নজিরবিহীন উদ্দীপনার সাথে একটি বীরত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধে অংশ নেন। তাঁর পুত্র আবদুর রহমান—যিনি এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন—পরবর্তীতে এর বর্ণনা দিয়ে বলেন: «আমি আমাদের বাড়ির একটি উঁচু কামরায় ছিলাম যেখান থেকে ঘটনাস্থল দেখা যাচ্ছিল। আমি দেখলাম ঘোড়াগুলো মানুষের উপর আছড়ে পড়ছে এবং তলোয়ারগুলো বীরদের মস্তক ছিন্ন করছে, এমনকি শত্রু সংখ্যা তাঁদের বহুগুণ হয়ে গেল এবং তাঁদের ধ্বংস ব্যাপক হলো। আমি আমাদের সেনাবাহিনীর ঘোড়াগুলোকে (অর্থাৎ উসমানীয় নিয়মিত বাহিনী বুঝিয়েছেন) দেখলাম পিঠ দেখিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে এবং পালানোর জন্য দ্রুত দৌড়াচ্ছে। আর দেখলাম আমাদের লোকেরা প্রকৃত বীরদের মতো অটল রয়েছে, তাঁদের বীরেরা শত্রুর বীরদের সাথে লড়াই করছে। তারা এমনভাবে যুদ্ধ করেছিল যেন তারা জীবনের পরোয়া করে না, এবং চারদিক থেকে ধুলিকণা উড়ছিল» «২»। সেই মহাকাব্যিক সংগ্রামটি ছিল অভিন্ন জাতীয় স্মৃতির উৎস, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মানুষের মুখে মুখে ধ্বনিত হতে থাকে। অন্যদিকে, এই অটল শহরটি দখলে নাদির শাহের ব্যর্থতা এবং সেখান থেকে পিছু হঠতে বাধ্য হওয়া স্বয়ং সুওয়াইদির অবস্থার উন্নতির বার্তাবাহক হয়ে দাঁড়ায় এবং তাঁর জীবনযাত্রার মান ও সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তনের সূচনা করে। প্রকৃতপক্ষে, শায়খের পাণ্ডিত্যপূর্ণ খ্যাতি এবং ব্যক্তিগত দক্ষতা আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
باشا، صحيح أن السويدي سبق له أن اتصل به مهديا إياه بعض قصائده، إلا أن الأمر لم يزد يومذاك عما يدخل في نطاق صلات الأدباء بولاتهم، أما الآن، فإن نظرة الوالي إليه أخذت طابعا أكثر تقديرا وجدية. وما أن مضت مدة قصيرة، حتى أمر بتعيينه مفتيا في قصبتي النجف وكربلا، وهو منصب رفيع، ومهم، يومذاك، فغادر الشيخ وأسرته بغداد ليستقر- فيما ظهر- في قصبة كربلا، وليمضي هناك مدة ثلاثة شهور هانئة «مسرورين بقرب أولئك الأكابر، مغبوطين بأولي الشرف الظاهر» . «1»
على أن الأيام لم تمض هانئة سعيدة، إذ سرعان ما تواردت الأنباء بتعرض إيراني جديد على العراق، واضطر السويدي إلى مغادرة كربلا، مع متوليها، على عجل، صحبة القوات الخاصة بمدينة الحلة، وسلك طريق شفاثة الصحراوي، ليصل، بعد حين، إلى الموصل التي كانت تتمتع بظرف أكثر أمنا، بعد أن استطاعت قواها العسكرية المحلية سنة 1145 هـ/ 1732 م أن تلحق هزيمة منكرة بقوة إيرانية أرادت احتلالها. «2»
وبانتهاء الحركات العسكرية، وتقهقر الجيوش الإيرانية، عاد عبد الله السويدي إلى كربلاء ليتولى وظيفة فيها، ولكنه لم يلبث أن انتقل بأسرته إلى بغداد، ليستقر فيها بصفة نهائية.
وشهدت المدة التالية من حياته نشاطا كبيرا في مجال العلم والتعليم، بل في توجيه الحركة الفكرية في بغداد يومذاك، فقد تقلّد أرفع المناصب العلمية، إذ تولى التدريس في مدرسة جامع الإمام أبي حنيفة النعمان، «3» فكان ثاني من درّس فيها بعد إعادة افتتاحها في منتصف القرن الثاني عشر الهجري (18 م) ، «4» كما تولى التدريس أيضا في المدرسة
পাশা, এটা সত্য যে আস-সুওয়াইদী ইতিপূর্বে তাঁর সাথে যোগাযোগ করেছিলেন এবং তাঁকে তাঁর কিছু কবিতা উপহার দিয়েছিলেন, তবে সেই দিনগুলোতে বিষয়টি সাহিত্যিকদের সাথে তাদের শাসকদের সাধারণ সম্পর্কের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে ওয়ালীর তাঁর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি অধিকতর কদর ও গুরুত্বের রূপ পরিগ্রহ করল। অল্পকাল পরেই তিনি তাঁকে নাজাফ ও কারবালা শহরে মুফতি পদে নিয়োগের আদেশ দেন, যা তৎকালীন সময়ে একটি উচ্চমর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পদ ছিল। ফলে শায়খ ও তাঁর পরিবার বাগদাদ ত্যাগ করে—যা প্রতীয়মান হয়—কারবালা শহরে বসতি স্থাপন করেন এবং সেখানে তিনটি আনন্দময় মাস অতিবাহিত করেন। তাঁরা ছিলেন "সেই সকল মহামানবদের সান্নিধ্যে আনন্দিত এবং প্রকাশ্য মর্যাদাবান ব্যক্তিদের সাহচর্যে ঈর্ষণীয় সৌভাগ্যের অধিকারী।" «১»
তবে দিনগুলো সুখে-শান্তিতে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, কারণ দ্রুতই ইরাকের ওপর নতুন করে ইরানি আক্রমণের সংবাদ আসতে শুরু করে। আস-সুওয়াইদী কারবালার প্রশাসকের সাথে হিল্লাহ শহরের বিশেষ বাহিনীর পাহারায় দ্রুত কারবালা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তিনি শিফাথা মরুভূমির পথ ধরে এক সময় মসুলে পৌঁছান, যা তখন অধিকতর নিরাপদ অবস্থায় ছিল। কারণ ১১৪৫ হিজরি/১৭৩২ খ্রিস্টাব্দে মসুলের স্থানীয় সামরিক বাহিনী শহরটি দখলে উদ্যত একটি ইরানি বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিল। «২»
সামরিক তৎপরতা শেষ হলে এবং ইরানি বাহিনী পশ্চাদপসরণ করলে আব্দুল্লাহ আস-সুওয়াইদী কারবালায় ফিরে গিয়ে পুনরায় স্বীয় পদে বহাল হন। কিন্তু খুব শীঘ্রই তিনি সপরিবারে বাগদাদে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
তাঁর জীবনের পরবর্তী সময়ে জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে ব্যপক কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হয়, এমনকি তৎকালীন বাগদাদের বুদ্ধিবৃত্তিক গতিধারা পরিচালনায়ও তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। তিনি সর্বোচ্চ স্তরের ইলমি পদমর্যাদায় আসীন হন; তিনি ইমাম আবু হানিফা নুমান জামে মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসায় অধ্যাপনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। «৩» দ্বাদশ হিজরি শতাব্দীর (১৮শ খ্রি.) মধ্যভাগে এটি পুনরায় চালু হওয়ার পর তিনি সেখানে দ্বিতীয় শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। «৪» তদুপরি তিনি মাদ্রাসায় অধ্যাপনা করেন...
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المرجانية، «1» التي سبق أن تلقى العلم فيها أيام الطلب، وكان التدريس فيها معقودا «لأعلم أهل بغداد» . «2»
ثم أنه تولى سنة 1155 هـ/ 1742 م التدريس في مدرسة جامع الشيخ عبد القادر الكيلاني، بعد تجديدها، في المدة نفسها «3» «فانتفعت به الطلبة علما وعملا» . «4»
وجاء عدوان نادر شاه الجديد على العراق سنة 1156 هـ/ 1743 م ليلقي على كاهل السويدي، وقد بلغ الخمسين من العمر، مسئولية كبرى ومهمة صعبة، ففي ذلك العام قدم نادر شاه إلى العراق «بجحافل متواترة وجنود متوافرة عدد الرمل والحصى، وبث سراياه وعساكره في تلك الأراضي، فأبقى لحصار بغداد نحو سبعين ألفا «5» . وفي ظل ظروف حصار قاس طويل، وتحركات معادية مستمرة، انتدب السويدي للسفر- في مهمة شاقة وخطيرة- إلى معسكر نادر شاه، ممثلا للجانب العثماني، في المؤتمر المعقود هناك تحت ذريعة التوفيق بين المذاهب الإسلامية. وقد سجّل لنا السويدي نفسه، يوميات ذلك المؤتمر وما جرى فيه من جدال وحوار، وما انتهى إليه هو من نجاح في المهمة التي انتدب من أجلها. «6» ولا نشك في أن اختيار أحمد باشا للسويدي دون غيره من علماء بغداد المعاصرين كان دليلا على الشهرة العريضة التي حققها الأخير، والإجماع الذي انعقد عليه بوصفه أعلم أهل بغداد وأكثرهم كفاءة ومقدرة على رد الخصوم.
আল-মুরজানিয়া, «১» যেখানে তিনি তার ছাত্রজীবনে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন এবং সেখানে অধ্যাপনার দায়িত্ব 'বাগদাদের সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি'র জন্য নির্ধারিত ছিল। «২»
অতঃপর তিনি ১১৫৫ হিজরি/ ১৭4২ খ্রিস্টাব্দে শায়খ আব্দুল কাদির জিলানির জামে মসজিদের মাদ্রাসাটি সংস্কারের পর সেখানে একই সময়ে অধ্যাপনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন «৩», «ফলে ছাত্ররা তার নিকট থেকে ইলম ও আমল উভয় ক্ষেত্রেই উপকৃত হয়»। «৪»
১১৫৬ হিজরি/ ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের ওপর নাদির শাহের নতুন আগ্রাসন পঞ্চাশ বছর বয়সী সুয়াইদির কাঁধে এক বিশাল দায়িত্ব ও কঠিন কাজের ভার অর্পণ করে। সেই বছর নাদির শাহ ইরাকে «বালুকণা ও কাঁকরের ন্যায় অসংখ্য সৈন্য এবং বিশাল বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হন এবং সেই অঞ্চলে তার সেনাদল ও লস্কর ছড়িয়ে দেন; বাগদাদ অবরোধের জন্য তিনি প্রায় সত্তর হাজার সৈন্য রেখে যান «৫»। দীর্ঘ ও কঠোর অবরোধের পরিস্থিতিতে এবং শত্রুপক্ষের ক্রমাগত তৎপরতার মুখে, সুয়াইদিকে উসমানীয় পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নাদির শাহের শিবিরে এক অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ সফরে পাঠানো হয়। সেখানে ইসলামী মাযহাবসমূহের মধ্যে সমঝোতার অজুহাতে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সুয়াইদি নিজেই সেই সম্মেলনের রোজনামচা, সেখানে ঘটে যাওয়া বিতর্ক ও সংলাপ এবং যে সফলতার সাথে তিনি তার অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করেছিলেন তা আমাদের জন্য লিপিবদ্ধ করে গেছেন। «৬» এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আহমদ পাশা কর্তৃক সমসাময়িক বাগদাদের অন্যান্য আলেমদের বাদ দিয়ে সুয়াইদিকে নির্বাচিত করা ছিল তার সুদূরপ্রসারী খ্যাতির প্রমাণ। এটি ছিল বাগদাদের সবচেয়ে বড় আলেম এবং প্রতিপক্ষকে নিরস্ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যোগ্য ও সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার ওপর সকলের ঐকমত্যের বহিঃপ্রকাশ।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ويبدو أن شعورا غامرا من الرضا عمّ نفس السويدي- بعد فراغه من مهمته الخطيرة- ممتزجا بالحمد والامتنان لله الذي وفقه فيما فعل، فعزم على حج بيت الله الحرام. وما إن رفع الحصار عن بغداد في أواخر سنة 1156 هـ/ 1743 م حتى كتب- وفق التقليد السائد- طلبا إلى والي بغداد يستأذن فيه للسفر «لأن العادة في بغداد إذا كان لأحد جهة تدريس أو خطابة أو إمامه لا بد له أن يستأذن من والي بغداد» وقد افتتح طلبه بقصيدة دالية وصف فيها شوقه إلى بيت الله الحرام وإلى «تلك الأماكن الشريفة، والبقاع السامية المنيفة» . «1»
وبعد صدور الموافقة المرجوة، أوكل الشيخ عبد الله في تدريس مدرسة الشيخ عبد القادر الكيلاني ابنه الشاب النابه عبد الرحمن. وغادر بغداد في رحلة طويلة- بحسب مراحل طرق ذلك العصر- إلى مكة المكرمة زار خلالها العديد من المدن والقرى، والتقى في أثناء ذلك بالكثير من العلماء والأدباء والمشايخ، وهي التي جمع أخبارها في كتابه الذي عنونه (النفحة المسكية في الرحلة المكية) وهو الذي بين يدي القارئ الكريم.
عاد السويدي إلى مدينته بغداد، ليقضي فيها ما تبقى له من العمر، دون أن يغادرها إلى أي بلد فيما نعلم. ولسنا نعلم طبيعة المناصب العلمية التي تولاها بعد استقراره نهائيا في بغداد، وأغلب الظن أنه انصرف، خلال هذه السنين، إلى التدريس وكتابة بعض الرسائل وربما نظم الشعر أيضا.
شهرته العلمية:طارت شهرة السويدي وانتشر صيته بما حققه من مجد علمي، وما صنفه من مؤلفات تلقفتها أيدي الطلبة، وما رنّت بصوته المنابر وحلقات الدرس، فضلا عما حصل عليه من إجازات العلماء خارج العراق، واقترن باسمه من توفيق في المهمة التي كلفه بها والي بغداد سنة 1156 هـ/ 1743 م، فقصده الطلاب من كل حدب وصوب، آخذين عنه العلم،
ويبدو أن شعورا غامرا من الرضا عمّ نفس السويدي- بعد فراغه من مهمته الخطيرة- ممتزجا بالحمد والامتنان لله الذي وفقه فيما فعل، فعزم على حج بيت الله الحرام. وما إن رفع الحصار عن بغداد في أواخر سنة 1156 هـ/ 1743 م حتى كتب- وفق التقليد السائد- طلبا إلى والي بغداد يستأذن فيه للسفر «لأن العادة في بغداد إذا كان لأحد جهة تدريس أو خطابة أو إمامه لا بد له أن يستأذن من والي بغداد» وقد افتتح طلبه بقصيدة دالية وصف فيها شوقه إلى بيت الله الحرام وإلى «تلك الأماكن الشريفة، والبقاع السامية المنيفة» . «1»
প্রতীতি হয় যে, সুওয়াইদী—নিজের বিপদসংকুল দায়িত্ব সম্পন্ন করার পর—এক গভীর পরিতৃপ্তিবোধে আপ্লুত হয়েছিলেন, যার সাথে মিশে ছিল আল্লাহর প্রতি প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা, যিনি তাকে এই কাজে সফল করেছেন। ফলে তিনি আল্লাহর পবিত্র ঘর হজ্জ করার সংকল্প করলেন। ১১৫৬ হিজরী / ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে যখন বাগদাদের অবরোধ তুলে নেওয়া হলো, তখন তিনি—তৎকালীন প্রচলিত রীতি অনুযায়ী—বাগদাদের ওয়ালীর নিকট ভ্রমণের অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন লিখলেন। কারণ, "বাগদাদের নিয়ম ছিল যে, কারো যদি কোনো শিক্ষকতা, খুতবা বা ইমামতির দায়িত্ব থাকত, তবে তার জন্য বাগদাদের ওয়ালীর অনুমতি নেওয়া আবশ্যক ছিল।" তিনি তার আবেদনটি একটি 'দালিয়া' কবিতার মাধ্যমে শুরু করেন, যাতে তিনি আল্লাহর পবিত্র ঘর এবং "সেই সকল সম্মানিত স্থান ও সুউচ্চ পবিত্র ভূমি"র প্রতি তাঁর ব্যাকুলতা বর্ণনা করেন। (১)
وبعد صدور الموافقة المرجوة، أوكل الشيخ عبد الله في تدريس مدرسة الشيخ عبد القادر الكيلاني ابنه الشاب النابه عبد الرحمن. وغادر بغداد في رحلة طويلة- بحسب مراحل طرق ذلك العصر- إلى مكة المكرمة زار خلالها العديد من المدن والقرى، والتقى في أثناء ذلك بالكثير من العلماء والأدباء والمشايخ، وهي التي جمع أخبارها في كتابه الذي عنونه (النفحة المسكية في الرحلة المكية) وهو الذي بين يدي القارئ الكريم.
কাঙ্ক্ষিত অনুমতি লাভের পর, শেখ আবদুল্লাহ শেখ আবদুল কাদির জিলানীর মাদরাসায় পাঠদানের দায়িত্ব তাঁর মেধাবী তরুণ পুত্র আবদুর রহমানের ওপর ন্যস্ত করেন। তিনি বাগদাদ ত্যাগ করে সেই যুগের পথপরিক্রমার ধাপ অনুসারে মক্কা মুকাররমার অভিমুখে এক দীর্ঘ সফরে বের হন। এই সফরে তিনি বহু শহর ও গ্রাম ভ্রমণ করেন এবং অনেক আলেম, সাহিত্যিক ও মাশায়েখের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরের বিবরণই তিনি তাঁর 'আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফির রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ' নামক গ্রন্থে সংকলন করেছেন, যা বর্তমানে সম্মানিত পাঠকের সম্মুখে রয়েছে।
عاد السويدي إلى مدينته بغداد، ليقضي فيها ما تبقى له من العمر، دون أن يغادرها إلى أي بلد فيما نعلم. ولسنا نعلم طبيعة المناصب العلمية التي تولاها بعد استقراره نهائيا في بغداد، وأغلب الظن أنه انصرف، خلال هذه السنين، إلى التدريس وكتابة بعض الرسائل وربما نظم الشعر أيضا.
সুওয়াইদী তাঁর নিজ শহর বাগদাদে ফিরে আসেন এবং জীবনের অবশিষ্ট সময় সেখানেই অতিবাহিত করেন; আমাদের জানামতে তিনি এরপর আর অন্য কোনো দেশে যাননি। বাগদাদে স্থায়ীভাবে থিতু হওয়ার পর তিনি ঠিক কী ধরনের ইলমী পদমর্যাদায় আসীন ছিলেন সে সম্পর্কে আমরা অবগত নই। তবে প্রবল ধারণা এই যে, এই বছরগুলোতে তিনি পাঠদান, কিছু প্রবন্ধ রচনা এবং সম্ভবত কাব্যচর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।
তাঁর ইলমী খ্যাতি:সুওয়াইদীর ইলমী খ্যাতি ও সুখ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর অর্জিত ইলমী গৌরব এবং তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মাধ্যমে যা শিক্ষার্থীরা সানন্দে গ্রহণ করেছিল। এছাড়াও মিম্বর ও পাঠদান মজলিসসমূহ তাঁর কণ্ঠে মুখরিত হতো। অধিকন্তু, তিনি ইরাকের বাইরের আলেমদের নিকট থেকে যেসব ইজাজত লাভ করেছিলেন এবং ১১৫৬ হিজরী / ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদের ওয়ালী কর্তৃক অর্পিত গুরুদায়িত্ব পালনে যে সফলতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা তাঁর নামের সাথে যুক্ত হয়েছিল। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর সন্ধানে আসতে শুরু করে এবং তাঁর নিকট থেকে ইলম হাসিল করতে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
مستجيزين منه الإجازة، على وفق تقاليد ذلك العصر وأعرافه، ولم يكن مجلسه يخلو من أمثال أولئك الطالبين في كل حين. وفي هذا يقول واصفا منزلته الاجتماعية «وصرت- والحمد لله- بحيث يشار إلىّ بالبنان، ويوقّرني العامة والأعيان، وترفع محلي الولاة، وتتمنى رؤيتي القضاة، مسموع الكلمة، نافذ الأمر
… وكل هذا، أيها الواقف على هذه الرحلة- من بركات العلم» . «1»
نال السويدي تقدير معاصريه، فوصفه الأديب عصام الدين عثمان بن علي العمري الموصلي (ت 1184 هـ/ 1770 م) بأنه «ممن يجلّه الدهر، ويعظّمه العصر، ويقدمه الفخر.. صاحب الأمثال السائرة، والبديهة الغريبة النادرة، وهو النبيه النبيل، الذي ما للوصول إلى كماله سبيل. رجل العراق، وواحد الأدب على الإطلاق، شمس سماء ذلك البلد، الذي لا يدانيه في فضله أحد
… فهو من حسنات الزمان، وثمار الأمن والأمان..
الخ» «2» وتساءل الأديب محمد بن مصطفى الغلامي (ت 1186 هـ/ 1772 م) : «ماذا أقول في حقه وقد طارت أجنحة الأخبار بفضله في البلاد كما ملأت الدروب؟» «3» ووصفه المؤرخ محمد خليل المرادي الدمشقي (ت 1206 هـ/ 1791 م) بأنه «الشيخ الإمام العالم العلامة، الحبر المدقق الأديب الشاعر المفنن» . «4»
ومنهم من قصد بغداد خصيصا للأخذ عنه، والاستفادة من علمه، ذكر الشيخ عبد الرحمن بن عبد الكريم الأنصاري المدني (ت 1195 هـ/ 1781 م) في مقامة أدبية أنشأها على غرار مقامة الأمثال السائرة للسويدي، «5» أنه طرق سمعه- وهو في بلده- من يشدو
সেই যুগের প্রথা ও রীতিনীতি অনুযায়ী তাঁর কাছ থেকে ইজাযত (সনদ) লাভের আশায় তাঁরা আসতেন এবং কোনো সময়ই তাঁর মজলিস এ ধরনের জ্ঞানান্বেষীদের থেকে শূন্য থাকত না। নিজের সামাজিক অবস্থান বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন: "সকল প্রশংসা আল্লাহর, আমি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যে মানুষ আমাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, সাধারণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আমাকে শ্রদ্ধা করে, শাসকরা আমার পদমর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং বিচারকরা আমার সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। আমার কথা মান্য করা হয় এবং আমার নির্দেশ কার্যকর হয়
… হে এই সফরনামার পাঠক, এই সবই হচ্ছে ইলমের বরকত।" «১»
আস-সুওয়াইদী তাঁর সমসাময়িকদের শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। সাহিত্যিক ইসামুদ্দীন উসমান বিন আলী আল-উমারি আল-মাওসিলি (মৃত্যু ১১৮৪ হিজরী/ ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ) তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: "তিনি এমন একজন ব্যক্তিত্ব যাকে কাল সম্মান করে, যুগ মহিমান্বিত করে এবং গৌরব যাঁকে অগ্রবর্তী করে.. তিনি 'আল-আমসালুস সাইরাহ' (প্রচলিত প্রবাদমালা)-র রচয়িতা, অদ্ভুত ও বিরল তাৎক্ষণিক বুদ্ধিসম্পন্ন; তিনি এমন এক ধীশক্তিসম্পন্ন মহান ব্যক্তি, যাঁর পূর্ণতায় পৌঁছানোর কোনো পথ নেই। তিনি ইরাকের শ্রেষ্ঠ পুরুষ, সাহিত্যের একচ্ছত্র অধিপতি, সেই জনপদের আকাশের সূর্য, যাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কাছে কেউ পৌঁছাতে পারে না
… তিনি যামানার এক বিশেষ অবদান এবং শান্তি ও নিরাপত্তার ফসল..
ইত্যাদি" «২» সাহিত্যিক মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-গুলামী (মৃত্যু ১১৮৬ হিজরী/ ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দ) প্রশ্ন করেছেন: "তাঁর সম্পর্কে আমি কী বলব, যেখানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সংবাদ ডানা মেলে দিগন্তময় ছড়িয়ে পড়েছে এবং জনপথগুলোকে পূর্ণ করে দিয়েছে?" «৩» ঐতিহাসিক মুহাম্মদ খলিল আল-মুরাদি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ১২০৬ হিজরী/ ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দ) তাঁকে বর্ণনা করেছেন এভাবে: "তিনি হলেন শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক, সাহিত্যিক, কবি এবং বহু বিদ্যায় পারদর্শী।" «৪»
তাদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা বিশেষভাবে তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং তাঁর জ্ঞান থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য বাগদাদে আসতেন। শাইখ আবদুর রহমান বিন আব্দুল কারিম আল-আনসারী আল-মাদানী (মৃত্যু ১১৯৫ হিজরী/ ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দ) আস-সুওয়াইদীর 'আল-আমসালুস সাইরাহ'-এর ধাঁচে রচিত একটি সাহিত্যিক মাকামায় «৫» উল্লেখ করেছেন যে, নিজ দেশে থাকাকালীনই তাঁর কানে একজনের গুঞ্জন ভেসে এল—
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
«قصائد رائقة، ومدائح فائقة، دلائل الإعجاز تلوح من تراكيبها، ومخايل الإيجاز تضوع من أساليبها، أسرار البلاغة في تلخيص مبانيها، ومفتاح الفصاحة في إيضاح معانيها
… » فاعتقد أن صاحبها «من الفضلاء المتقدمين» . ولما حدثه بعض الثقات «ممن جاب البلاد» أن بغداد «مشحونة بالجهابذة النحارير، والفضلاء المشاهير» استنكر هذا القول، لأنه سبق أن أقام بها، وكان العلم فيها «اسما بلا مسمى» فقيل له إنّه «نبغ فيها جناب العالم النحرير، عديم المثيل والنظير، إن ذكر العلماء فله القدح المعلّى، أو عد الفضلاء كان التاج المحلّى، عضد الملة المحمدية، وناصر الشريعة الأحمدية، آراؤه صائبة، وأفكاره ثاقبة» يعني بذلك عبد الله السويدي، وقال إنه فرح حين تحقق صحة رواية من أخبره، وانطلق «قاصدا بذلك كعبة الآمال، يقطع الروابي والوهاد، والأغوار والأنجاد» حتى وصل مدينة السلام، ليأخذ على عالمها وليدرس على يديه، فإذا به «فوق ما يصفه الواصفون بكثير» .
وبعد عمر ناهز السبعين سنة قمرية، توفي الشيخ الجليل عبد الله السويدي في ضحوة يوم السبت الحادي عشر من شوال سنة 1174 هـ (17 مايس- مايو 1760 م) ، فدفن بإجلال يليق بحياته الثرة، وعطائه الجم، ومنزلته الرفيعة، في جوار مسجد الشيخ الزاهد، العارف بالله، معروف الكرخي، في مقبرته الكائنة بالجانب الغربي من بغداد. وقد ترك وراءه أربعة من كرام البنين، أحسن تربيتهم وتعليمهم، فضلا عما أورثهم من ذكاء فطري ونباهة، فبرز جميعهم في مجالات العلم والمعرفة، ولم تكن شهرة بعضهم بأقل من شهرة أبيهم، فعبد الرحمن، أبو الخير (المتوفّى سنة 1200 هـ/ 1786 م) كان مؤرخا فذا وفقيها وأديبا وشاعرا بارزا، بلغت مؤلفاته نحو اثنين وعشرين كتابا ورسالة، «1» ومحمد سعيد، أبو السعود (المتوفّى سنة 1223 هـ/ 1808 م) كان فقيها شاعرا أديبا، له مؤلفات ومحاورات شعرية، ونال إحدى إجازاته من العالم اللغوي البارع، الشيخ محمد مرتضى بن محمد
«মনোরম কবিতাসমূহ এবং উচ্চাঙ্গের প্রশংসাগীতি, যার গঠনশৈলী থেকে অলৌকিকত্বের প্রমাণ ফুটে ওঠে, এবং যার প্রকাশভঙ্গি থেকে সংক্ষিপ্তসার বা সংহতির আভা বিচ্ছুরিত হয়। এর মূল কাঠামোর সারসংক্ষেপে অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্যসমূহ নিহিত এবং এর অর্থ বিশদকরণে সাবলীল বাগ্মিতার চাবিকাঠি বিদ্যমান
… » ফলে তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে এর রচয়িতা «পূর্ববর্তী গুণীজনদের অন্তর্ভুক্ত»। যখন দেশভ্রমণকারী জনৈক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি তাঁকে জানালেন যে বাগদাদ «দক্ষ পণ্ডিতবর্গ ও প্রখ্যাত গুণীজনে পরিপূর্ণ», তখন তিনি এ কথাটি অস্বীকার করলেন। কারণ এর আগে তিনি সেখানে অবস্থান করেছিলেন এবং তখন সেখানে ইলম বা জ্ঞান ছিল «বাস্তবতাহীন একটি নামমাত্র»। তখন তাঁকে বলা হলো যে, «সেখানে এক প্রাজ্ঞ পণ্ডিতের আবির্ভাব ঘটেছে, যিনি অতুলনীয় ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। যদি আলেমদের আলোচনা করা হয় তবে তাঁর স্থান সবার উপরে, আর যদি গুণীজনদের গণনা করা হয় তবে তিনি যেন এক সুশোভিত মুকুট; তিনি মুহাম্মাদী মিল্লাতের বাহু এবং আহমাদী শরীয়তের সাহায্যকারী, যাঁর মতামত সঠিক এবং চিন্তাধারা সুতীক্ষ্ণ»। এর দ্বারা তিনি আব্দুল্লাহ আস-সুওয়াইদীকে বুঝিয়েছেন। তিনি বললেন যে, সংবাদদাতার বর্ণনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। এবং তিনি «আশা-আকাঙ্ক্ষার কাবার উদ্দেশ্যে উঁচু-নিচু ভূমি, উপত্যকা ও মালভূমি পাড়ি দিয়ে» যাত্রা শুরু করলেন যতক্ষণ না তিনি শান্তির শহর (বাগদাদ)-এ পৌঁছালেন, যেন এর বিজ্ঞ আলেমের নিকট ইলম অর্জন ও তাঁর তত্ত্বাবধানে অধ্যয়ন করতে পারেন। সেখানে গিয়ে তিনি তাঁকে পেলেন «বর্ণনাকারীদের বর্ণনার চেয়েও বহুগুণ শ্রেয়» হিসেবে।
প্রায় সত্তর চন্দ্রবছর বয়স অতিবাহিত হওয়ার পর, শনিবার চাশতের সময়, ১১ই শাওয়াল ১১৭৪ হিজরিতে (১৭ মে ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ) মহান শায়খ আব্দুল্লাহ আস-সুওয়াইদী ইন্তেকাল করেন। তাঁকে তাঁর সমৃদ্ধ জীবন, অঢেল অবদান এবং উচ্চ মর্যাদার যোগ্য সম্মানের সাথে বাগদাদের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত যাহিদ ও আরিফ বিল্লাহ শায়খ মা'রুফ আল-কারখীর কবরের পাশে তাঁরই কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি তাঁর পেছনে চারজন নেককার সন্তান রেখে যান, যাদের তিনি উত্তম শিক্ষা ও দীক্ষা দান করেছিলেন। এছাড়া তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে তাদের মাঝে সহজাত মেধা ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি দান করেছিলেন। ফলে তারা সকলেই জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং তাদের কারো কারো খ্যাতি পিতার খ্যাতির চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। যেমন আব্দুর রহমান আবু আল-খায়ের (মৃত্যু ১২০০ হিজরি/ ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দ), যিনি ছিলেন একজন অনন্য ইতিহাসবিদ, ফকিহ, সাহিত্যিক এবং প্রখ্যাত কবি। তাঁর রচিত গ্রন্থ ও পুস্তিকার সংখ্যা ছিল প্রায় বাইশটি। এবং মুহাম্মদ সাঈদ আবু আস-সুউদ (মৃত্যু ১২২৩ হিজরি/ ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দ), যিনি ছিলেন একজন ফকিহ, কবি ও সাহিত্যিক। তাঁর অনেক রচনা ও কাব্যিক সংলাপ রয়েছে। তিনি তাঁর অন্যতম ইজাজত বা সনদ অর্জন করেছিলেন প্রাজ্ঞ ভাষাবিদ শায়খ মুহাম্মদ মুরতাজা বিন মুহাম্মদের নিকট থেকে।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الحسيني الواسطي الزبيدي مؤلف معجم (تاج العروس في شرح جواهر القاموس) ، «1» وإبراهيم، أبو الفتوح (المتوفّى في الهند، ولم يعرف تاريخ وفاته) . وكان محدثا أديبا له تصانيف، وأحمد أبو المحامد (المتوفّى سنة 1210 هـ/ 1795 م) وهو الشاعر المؤلف في الأدب والتصوف وغير هما، «2» فكلهم كان مشهودا له بالفضل والأدب، معروفا بسعة العلم، وإليهم انتهت إجازات العديد من علماء العراق التالين، وعلى أيديهم تتلمذ كثير من الطلبة والدارسين، ووصفت أسرته بأنها «واحدة من تلك الأسر العربية الفاضلة التي حفظت لنا تقاليد العلوم الإسلامية القديمة في هذه العصور المظلمة بالنسبة للأدب العربي ومهّدت الطريق لنهضة ذلك الأدب في القرن التاسع عشر» . «3»
আল-হুসাইনি আল-ওয়াসিতি আল-জাবিদি, ‘তাজুল আরুস ফি শারহি জাওয়াহিরিল কামুস’ অভিধানের রচয়িতা, «১» এবং ইব্রাহিম আবু আল-ফুতুহ (যিনি ভারতে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং যাঁর মৃত্যুর তারিখ জানা যায়নি)। তিনি একজন মুহাদ্দিস ও সাহিত্যিক ছিলেন এবং তাঁর বহু রচনা রয়েছে; এবং আহমদ আবু আল-মাহামিদ (মৃত্যু ১২১০ হিজরি/ ১৭৯৫ খ্রিষ্টাব্দ), যিনি সাহিত্য, তাসাউফ ও অন্যান্য বিষয়ে কবি ও লেখক ছিলেন, «২» তাঁদের সকলেই শ্রেষ্ঠত্ব ও সাহিত্যের জন্য স্বীকৃত এবং জ্ঞানের বিশালতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। ইরাকের পরবর্তী বহু আলিমের ইজাজত তাঁদের নিকটেই শেষ হয়েছে এবং তাঁদের নিকট অনেক ছাত্র ও গবেষক শিক্ষা লাভ করেছেন। তাঁর পরিবারকে এই বলে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তাঁরা ছিলেন «সেইসব মহৎ আরব পরিবারগুলোর একটি, যারা আরবি সাহিত্যের এই অন্ধকার যুগে আমাদের জন্য প্রাচীন ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ঐতিহ্যসমূহকে সংরক্ষণ করেছে এবং ঊনবিংশ শতাব্দীতে সেই সাহিত্যের নবজাগরণের পথ প্রশস্ত করেছে»। «৩»
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل الثاني دوره في الحياة الفكرية
شيوخه وإجازاته العلمية:أخذ السويدي العلم عن عدد كبير من العلماء والشيوخ من الذين التقى بهم في بغداد والموصل ومدن بلاد الشام والحرمين الشريفين، ونال منهم إجازات عديدة بمروياتهم ومعارفهم، كما أجاز- هو- عددا كبيرا آخر من تلامذته. فأعاد بذلك الحياة إلى كثير من العلوم والمعارف التي كادت أن تندرس في العراق نتيجة ما توالى عليه من كوارث ومحن.
ووصل تلامذته في العراق بأهم أسانيد الرواية المتسلسلة لدى العلماء الآخرين من المعاصرين في خارجه، بعد أن كانت هذه الأسانيد تنقطع عند بلوغها حدا معينا من الرواة فلا تتجاوزه لقلة العلماء في العراق في القرون التي سبقت القرن الحادي عشر للهجرة (17 م) وتبعثر جهودهم العلمية. ومن ناحية أخرى، فإنه أسهم- إسهاما جادا- في تجديد الحياة الثقافية في العراق وفي توجيهها عن طريق إثارة اهتمام طلبته- وهم كثر- بالمصنفات المهمة، التي وضعها علماء الأمة في عصور خلت، ثم عزّت نسخها، أو فقدت في عصور الفوضى التالية.
ولا نشك في أن لرحلته الطويلة وإقامته، خلالها، في مدن عربية عديدة، وأخذه من علمائها، وروايته عنهم الكتب والرسائل، أثرا كبيرا في نقله مصنفات مهمة، ما كانت لتعرف في بغداد لولا جهوده تلك، ولا أدل على ذلك من أنه كان أول بغدادي في عصره أحيا علمين كانا قد أوشكا على الاندثار بين علماء مدينته، وهما الحكمة، ويعني بها الكيمياء غالبا، والهيئة، أي الفلك. وقد درسهما في الموصل على بعض من تبقى هناك من
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনে তাঁর ভূমিকাতাঁর শিক্ষকবৃন্দ ও ইলমি ইজাযতসমূহ:আস-সুওয়াইদি বাগদাদ, মসুল, শামের শহরসমূহ এবং হারামাইন শারীফাইন-এ সাক্ষাৎ হওয়া বিপুল সংখ্যক আলিম ও শায়খদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তিনি তাঁদের কাছ থেকে তাঁদের বর্ণিত বিষয়াদি ও জ্ঞানসমূহের ওপর অনেক ইজাযত লাভ করেন এবং তিনি নিজেও তাঁর বহু সংখ্যক ছাত্রকে ইজাযত প্রদান করেন। এর মাধ্যমে তিনি ইরাকের সেইসব বহুবিধ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রাণ ফিরিয়ে আনেন, যা দেশটিতে একের পর এক ঘটে যাওয়া বিপর্যয় ও পরীক্ষার ফলে প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছিল।
তিনি ইরাকে তাঁর ছাত্রদেরকে সমসাময়িক বহির্বিশ্বের অন্যান্য আলিমদের সাথে অবিচ্ছিন্ন বর্ণনাসূত্রের (আসানিদ) সাথে সংযুক্ত করেন। এর আগে এই বর্ণনাসূত্রগুলো একটি নির্দিষ্ট স্তরের বর্ণনাকারীর কাছে গিয়ে থেমে যেত, হিজরি একাদশ শতাব্দীর (১৭ খ্রিষ্টাব্দ) পূর্ববর্তী শতাব্দীসমূহে ইরাকে আলিমদের স্বল্পতা এবং তাঁদের ইলমি প্রচেষ্টাসমূহ বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ার কারণে তা আর এগোতে পারত না। অন্যদিকে, তিনি ইরাকের সাংস্কৃতিক জীবনকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং তাঁর অসংখ্য ছাত্রদেরকে উম্মাহর পূর্ববর্তী আলিমদের রচিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাদির প্রতি মনোযোগী করে তোলার মাধ্যমে একটি জোরালো অবদান রাখেন; যেসব গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি পরবর্তী বিশৃঙ্খলার যুগে দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছিল বা হারিয়ে গিয়েছিল।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর দীর্ঘ সফর এবং এর মধ্যে বিভিন্ন আরব শহরে অবস্থান, সেখানকার আলিমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন এবং তাঁদের সূত্রে কিতাব ও রিসালাহ বর্ণনা করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সংকলনসমূহ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছিল; তাঁর এই প্রচেষ্টা না থাকলে যা হয়তো বাগদাদে জানাই যেত না। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো যে, তিনি তাঁর সময়ের প্রথম বাগদাদি ছিলেন যিনি দুটি শাস্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন যা তাঁর শহরের আলিমদের মাঝে প্রায় বিলুপ্তির পথে ছিল; আর তা হলো হিকমত (যার দ্বারা তিনি সাধারণত রসায়ন বুঝিয়েছেন) এবং হাইআত (অর্থাৎ জ্যোতির্বিদ্যা)। তিনি এই দুটি শাস্ত্র মসুলে সেখানকার অবশিষ্ট আলিমদের কয়েকজনের নিকট অধ্যয়ন করেছিলেন যারা...
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
علمائها. وفي هذا يقول العزاوي بأنه «من أفاضل علماء بغداد، ومن أكبر الموجهين للحركة الثقافية» . «1»
وتكشف قائمة شيوخه وأساتيذه ومن أخذ عنهم، عن سعة معارفه وتنوع مآخذه، وغزارة ما نقله عن شيوخ زمانه إلى تلامذته من علوم وقد نوّه بأسماء العديد من هؤلاء الشيوخ والأساتيذ في ثنايا هذه الرحلة التي نقوم بتحقيقها، كما أشار إلى عنوانات الكتب والرسائل التي قرأها عليهم وأسانيد هم، فلم تبق ضرورة لإدراج هذه المعلومات في هذه الدراسة.
مؤلفاته:وضع السويدي عددا من الكتب والرسائل في المجالات العلمية التي عني بها، وتشمل علم القراءات والتفسير والحديث واللغة والنحو والأدب والشعر وغيرها. ولقد أشار مترجموه إلى «إن له مؤلفات عديدة» «2» ولكن أحدا منهم لم يحط بكل عنواناتها، لأننا وقفنا على آثار له لم تشر إليها مصادر ترجمته، وبالمقابل، فإن تلك المصادر نوهت بمؤلفات له فقدت، ولم نعلم ما آل إليه مصيرها، على أهمية موضوعاتها. وفيما يأتي بيان بآثاره العلمية:
أولا- في علوم القرآن:1- تعليقات على شرح المقدمة الجزرية في علم تجويد القرآن الكريم للشيخ محمد بن محمد الجزري المتوفّى سنة 833 هـ.
أولها «قوله افتتح فيه براعة استهلال كما لا يخفى، قوله أجزل أي كثّر وعظّم» .
علق فيها على الشرح المذكور تعليقات نافعة أبانت عن علمه بدقائق هذا الفن، وهو
এর আলেমগণ। এ প্রসঙ্গে আল-আযযাভী বলেন যে, তিনি "বাগদাদের শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্যতম এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পথপ্রদর্শক"। «১»
তাঁর শায়খ ও উস্তাদদের তালিকা এবং যাঁদের নিকট থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন, তা তাঁর জ্ঞানের পরিধি, উৎসের বৈচিত্র্য এবং তাঁর যুগের শায়খদের থেকে তাঁর ছাত্রদের কাছে স্থানান্তরিত ইলমের প্রাচুর্য প্রকাশ করে। আমরা যে সফরনামাটি সম্পাদনা করছি, তার মধ্যেই তিনি তাঁর এই বহু সংখ্যক শায়খ ও উস্তাদের নাম উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তিনি তাঁদের নিকট পঠিত বই ও রিসালার শিরোনাম এবং তাঁদের সনদসমূহও নির্দেশ করেছেন, তাই এই গবেষণায় এই তথ্যগুলো পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন অবশিষ্ট থাকেনি।
তাঁর রচনাবলি:আস-সুওয়াইদী তাঁর চর্চিত ইলমি ক্ষেত্রগুলোতে বেশ কিছু কিতাব ও রিসালা রচনা করেছেন, যার মধ্যে কিরাত, তাফসির, হাদিস, ভাষা, নাহু (ব্যাকরণ), আদব (সাহিত্য), কবিতা এবং অন্যান্য শাখা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁর জীবনীকারগণ উল্লেখ করেছেন যে, "তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে" «২», কিন্তু তাঁদের কেউ সবগুলোর শিরোনাম সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত করতে পারেননি। কারণ আমরা তাঁর এমন কিছু নিদর্শনের খোঁজ পেয়েছি যা তাঁর জীবনীর উৎসগুলোতে উল্লিখিত হয়নি। পক্ষান্তরে, সেই উৎসগুলো তাঁর এমন কিছু রচনার কথা উল্লেখ করেছে যা হারিয়ে গেছে এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর শেষ পরিণতি কী হয়েছে তা আমরা জানতে পারিনি। নিচে তাঁর ইলমি নিদর্শনসমূহের একটি বিবরণ দেওয়া হলো:
প্রথমত- উলূমুল কুরআনে:১- ৮৩৩ হিজরিতে ইন্তেকালকারী শেখ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-জাযারি রচিত কুরআনুল কারীমের তাজবিদ শাস্ত্রের ওপর 'আল-মুকাদ্দিমাতুল জাযারিয়্যাহ'-এর শারহ বা ব্যাখ্যার ওপর তালীকাত বা টীকা।
এর শুরুটি হলো: "তাঁর বক্তব্য: এতে চমৎকার প্রারম্ভিকা (বারাআতুল ইস্তিহলাল) দ্বারা শুরু করা হয়েছে যা অস্পষ্ট নয়; তাঁর বক্তব্য: 'আজযালা' অর্থাৎ বৃদ্ধি করেছেন ও মহান করেছেন।"
তিনি উক্ত শারহ বা ব্যাখ্যার ওপর এমন সব উপকারী টীকা প্রদান করেছেন যা এই শিল্পের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞানকে সুস্পষ্ট করে, আর তিনি হলেন
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
متوسط في التفصيل، ناقش فيه المؤلف وردّه أحيانا، وانتقد (أرباب التصريف) في بعض أقوالهم، وربما ردّهم أيضا. وتتسم التعليقات- بوجه عام- بالتركيز، والوضوح، والبعد عن الإطناب.
منها نسخة خطية ضمن مجموع في مكتبة الأوقاف المركزية ببغداد برقم (22811) كتبها محمد أمين بن عبد الرحمن بن محمد محسن الدوري [السهروردي] سنة 1275 هـ/ 1858 م. «1»
ثانيا: في الحديث الشريف:2- شرح صحيح البخاري، نوّه به محمود شكري الآلوسي ووصفه بأنه «شرح جليل» . «2»
ثالثا: في علم الكلام (العقائد) :3- شروح أو حواش في علم الكلام، أشار إليها الآلوسي.
رابعا: في الأذكار والأخلاق الدينية:4- أنفع الوسائل في شرح الدلائل. شرح فيه كتاب «دلائل الخيرات وشوارق الأنوار في ذكر الصلاة على النبي المختار «للشيخ محمد بن سليمان الجزولي المتوفّى سنة 854 هـ/ 1450 م.
أوله «الحمد لله الذي جعل الصلاة على نبيه رحمة للعالمين» نوّه به المرادي «3» والبغدادي، «4» ووقفنا على نقول منه في مجموعة خطية في مكتبة الأوقاف المركزية ببغداد برقم 3797 وموضوعها التشبيه الوارد في الصلاة عليه- عليه الصلاة والسلام الوارد في التشهد» .
বিস্তারিত বর্ণনায় এটি মাঝারি মানের; এতে লেখক আলোচনা করেছেন এবং মাঝে মাঝে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি (রূপতত্ত্বের পণ্ডিতদের) কিছু বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন এবং সম্ভবত সেগুলো খণ্ডনও করেছেন। সাধারণভাবে এই টীকাগুলো সংক্ষিপ্ততা, স্পষ্টতা এবং অনর্থক দীর্ঘসূত্রতা থেকে মুক্ত হওয়ার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
এর একটি পাণ্ডুলিপি বাগদাদের কেন্দ্রীয় আওকাফ লাইব্রেরিতে (২২৮১১) নম্বরযুক্ত একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; যা ১২৭৫ হিজরি/১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ আমিন বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ মহসিন আদ-দুরি [আস-সুহরাওয়ার্দী] লিখেছেন। «১»
দ্বিতীয়ত: হাদিস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে:২- শরহু সহিহিল বুখারি: মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি এর প্রশংসা করেছেন এবং একে একটি ‘মহান ব্যাখ্যাগ্রন্থ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। «২»
তৃতীয়ত: ইলমুল কালাম (আকাইদ) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে:৩- ইলমুল কালামের ওপর বিভিন্ন ব্যাখ্যাগ্রন্থ বা টীকা; যার প্রতি আল-আলুসি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
চতুর্থত: জিকির ও ধর্মীয় চরিত্রের ক্ষেত্রে:৪- আনফাউল ওয়াসায়েল ফি শরহিদ দালায়েল। এতে তিনি শেখ মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-জাজুলি (মৃত্যু ৮৫৪ হিজরি/১৪৫০ খ্রিস্টাব্দ) রচিত ‘দালায়েলুল খাইরাত ওয়া শাওয়ারিকুল আনওয়ার ফি জিকরিস সালাতি আলান নাবিয়্যিল মুখতার’ গ্রন্থটির ব্যাখ্যা করেছেন।
এর শুরু হয়েছে এভাবে: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর নবীর ওপর দরুদ পাঠকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।’ আল-মুরাদি ও আল-বাগদাদি এর গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন। আমরা বাগদাদের কেন্দ্রীয় আওকাফ লাইব্রেরিতে ৩৭৯৭ নম্বর পাণ্ডুলিপি সংকলনে এর কিছু উদ্ধৃতি পেয়েছি, যার বিষয়বস্তু হলো—তাশাহহুদে তাঁর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ওপর পঠিত দরুদের মধ্যে যে উপমা এসেছে তা নিয়ে আলোচনা।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
خامسا: في الردود:6- رسائل تتناول عددا من المسائل العقائدية والفقهية، استند فيها على الكتب المردودة وناقشها، وقد رتبها على مباحث، أفرد كلا منها لموضوع محدد.
وفي مكتبة الأوقاف المركزية ببغداد نسخة منها، ضمن مجموع رقمه (13785) ، وقد سقط شيء من أولها، وبدأ الموجود بقوله «ومن هفواتهم العظيمة، وزلاتهم الجسيمة قولهم» .
7- رسالة أخرى في الردود، ناقش فيها أحد المؤلفين، على طريقة (قال) و (أقول) ، واعتمد، في ذلك، على مصادر عديدة، وفي مكتبة الأوقاف المركزية ببغداد نسخة منها، في المجموع المذكور آنفا، وهي ناقصة من أولها، وليس عليها اسم المؤلف، سوى تعليقات على الهامش تشير إلى أن الرسالة من تأليفه، ويظهر أن الناسخ قد اختصر بعض مباحثه، بينما أبقى البعض الآخر بحروفه.
سادسا: في اللغة:8- رشف الضرب «1» في شرح لامية العرب، شرح فيه القصيدة اللامية للشنفرى شرحا دقيقا ذكيا، تناول فيه ما تتضمنه القصيدة من غريب اللفظ، وأعرب أبياتها، وبين المفنن.
أوله «الحمد لله الذي فتق بالفصاحة ألسنة العرب» .
وقد أوضح المؤلف، في خطبة كتابه، منهجه في الشرح، وطريقته في التأليف، فقال «لما كانت اللامية الموسومة بلامية العرب للشنفرى ثابت بن جابر الأزدي من غرر القصائد..
وكانت مبانيها مرتجة الأبواب، ومعانيها لا يهتدى فيها إلى الصواب، محتاجة إلى شرح يرفع عن وجوه مخدراتها نقابها، ويكشف عن خرائدها جلبابها. التمس مني من تضلع في اللغة العربية وتدرب.. أن أضع عليها شرحا يبين الغامض المشكل، ويوضّح الخافي المعضل، فأجبته إلى طلبه، مبادرا في إنجاز بغيته، فشرحتها شرحا، الاختصار إهابه، والاقتصار
পঞ্চম: খণ্ডন প্রসঙ্গে:৬- কতিপয় পত্রাবলি যা বেশ কিছু আকিদাগত এবং ফিকহী মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে তিনি খণ্ডনকৃত কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি এগুলোকে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছেন এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য নির্ধারিত করেছেন।
বাগদাদের কেন্দ্রীয় আওকাফ লাইব্রেরিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি (১৩৭৮৫) নম্বর সংকলনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর শুরুর দিক থেকে কিছু অংশ হারিয়ে গেছে এবং বিদ্যমান অংশটি তার এই উক্তি দিয়ে শুরু হয়েছে: "আর তাদের মহান বিচ্যুতিসমূহ এবং গুরুতর পদস্খলনসমূহের অন্যতম হলো তাদের এই কথা..."।
৭- খণ্ডন প্রসঙ্গে অন্য একটি রিসালা (পুস্তিকা), যাতে তিনি জনৈক লেখকের সাথে "সে বলেছে" এবং "আমি বলছি" পদ্ধতিতে আলোচনা করেছেন এবং এক্ষেত্রে তিনি অসংখ্য উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন। বাগদাদের কেন্দ্রীয় আওকাফ লাইব্রেরিতে পূর্বোক্ত সংকলনের মধ্যেই এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। এটিও শুরুর দিক থেকে অপূর্ণাঙ্গ এবং এতে লেখকের নাম নেই; কেবল পার্শ্বটীকাসমূহ ছাড়া, যা ইঙ্গিত দেয় যে রিসালাটি তারই রচনা। প্রতীয়মান হয় যে, অনুলিপিকারক এর কিছু পরিচ্ছেদ সংক্ষেপ করেছেন, আবার কিছু অংশ হুবহু অক্ষুণ্ণ রেখেছেন।
ষষ্ঠ: ভাষা প্রসঙ্গে:৮- 'রাশফু আদ-দারব ফি শারহি লামিয়াতিল আরব': এতে তিনি শানফারার 'লামিয়্যাহ' কাসিদাটির একটি সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাখ্যা করেছেন। এতে তিনি কাসিদাটির অন্তর্ভুক্ত দুর্লভ শব্দাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন, এর পঙক্তিগুলোর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ করেছেন এবং অলঙ্কারশৈলী বর্ণনা করেছেন।
এর শুরুটি হলো: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রাঞ্জলতার মাধ্যমে আরবদের জিহ্বাকে উন্মুক্ত করেছেন।"
লেখক তার কিতাবের ভূমিকার অংশে ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে তার পদ্ধতি ও রচনার ধারা স্পষ্ট করে বলেছেন: "যেহেতু শানফারা সাবিত ইবনে জাবির আল-আজদির 'লামিয়াতুল আরব' নামে পরিচিত লামিয়্যাহ কাসিদাটি শ্রেষ্ঠ কাসিদাসমূহের অন্তর্ভুক্ত..."
"এবং এর গঠনকাঠামোগুলো ছিল রুদ্ধদ্বার সদৃশ, আর এর অর্থসমূহের সঠিক দিশা পাওয়া যেত না; ফলে এটি এমন এক ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী ছিল যা এর অন্তরালে থাকা সৌন্দর্যগুলোর মুখমণ্ডল থেকে নেকাব সরিয়ে দেবে এবং এর চমৎকার বিষয়গুলো থেকে আবরণ উন্মোচন করবে। আরবি ভাষায় পারদর্শী ও অভিজ্ঞ এক ব্যক্তি আমার কাছে অনুরোধ করলেন... আমি যেন এর ওপর এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করি যা অস্পষ্ট ও জটিল বিষয়গুলোকে ফুটিয়ে তুলবে এবং লুক্কায়িত দুর্বোধ্য বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করবে। অতঃপর আমি তার আহবানে সাড়া দিলাম, তার আকাঙ্ক্ষা পূরণে সচেষ্ট হলাম। তাই আমি এটি এমন এক ব্যাখ্যা দ্বারা ব্যাখ্যা করলাম, যার বহিরাবরণ হলো সংক্ষিপ্তকরণ এবং সংক্ষেপণ..."
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
جلبابه، مجردا عن الإطناب والتطويل والإسهاب، وجعلته مشتملا على ثلاث تراجم، الأولى في تفسير اللغة الخفية، والثانية في إعرابه على أصح الأعاريب النحوية، والثالثة في حل معناه وكشف مغزاه، وذيلت هذه التراجم في الغالب، برابعة رائعة المطالب. ونفعها غير قليل، ولذا وسمتها بالتكميل، أتكلم فيها على دفع انتقاد، وتوضيح مراد، وفك مبنى، وسبك معنى، وغير ذلك من المطالب المفيدة، والمقاصد السديدة، فصارت كالشرح الثاني لما أعاني» .
ووصف المرحوم عباس العزاوي هذا الكتاب بأنه «يعد من الشروح المعتبرة» وإنه من الكتب المهمة في شرح اللغة وغريبها، ومراجعة بعض ألفاظها، وهو على اختصاره مفيد» . «1»
منه نسخة في كتب العزاوي أشار إليها، وذكر أنها بخط المؤلف، مع أنه ورد في آخرها «تم على يد الملّا علي بن عبد الله في آخر شهر المحرم ليلة الأربعاء عام 1164 للهجرة» فهي قد كتبت في حياة المؤلف لا بقلمه. ونسخة أخرى ذكر العزاوي أنها في مكتبة المرحوم ناجي القشطيني مقابلة من المؤلف على أصل مسوّدته، وذكر أيضا أن منه نسخة ثالثة في مكتبة المتحف العراقي، وليس في فهارس المكتبة المنشورة إشارة إليها» . «2»
وفي مكتبة الأوقاف المركزية ببغداد نسخة أخرى، بخط جيد، لكن ليس عليها اسم ناسخها، وهي برقم (85) وتقع في 66 ورقة.
سابعا- في النحو:9- إتحاف الحبيب على شرح مغني اللبيب: وهو حاشية ناقش فيها «شراح مغني اللبيب عن كتب الأعاريب» تأليف جمال الدين عبد الله بن هشام الأنصاري المتوفّى سنة
...তার জিলবাব, যা অতিশয়োক্তি, বাগাড়ম্বর ও দীর্ঘসূত্রতা বর্জিত; এবং আমি একে তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি: প্রথমটি দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যায়, দ্বিতীয়টি সর্বাধিক বিশুদ্ধ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ই'রাব) প্রসঙ্গে, এবং তৃতীয়টি এর অর্থ ও গূঢ় রহস্য উন্মোচনে। আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই পরিচ্ছেদগুলোর শেষে চতুর্থ একটি চমৎকার অংশ যুক্ত করেছি। এর উপকারিতা সামান্য নয়, তাই আমি এর নাম দিয়েছি 'তাকমিল' (পরিপূর্ণতা)। এতে আমি সমালোচনা খণ্ডন, উদ্দেশ্য স্পষ্টীকরণ, কাঠামোগত জটিলতা নিরসন ও অর্থের বিন্যাস এবং অন্যান্য হিতকর ও সঠিক লক্ষ্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি; ফলে এটি আমার সাধনার দ্বিতীয় ব্যাখ্যাগ্রন্থ সদৃশ হয়ে উঠেছে।
মরহুম আব্বাস আল-আজ্জাউয়ি এই গ্রন্থটিকে 'নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের অন্যতম' হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি ভাষাতত্ত্ব ও এর বিরল শব্দাবলীর ব্যাখ্যা এবং এর কিছু শব্দের পর্যালোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি কিতাব। সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এটি অত্যন্ত উপকারী। «১»
আল-আজ্জাউয়ি তাঁর সংগ্রহে থাকা একটি পাণ্ডুলিপির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে এটি লেখকের স্বহস্তে লিখিত। যদিও এর শেষে বর্ণিত হয়েছে: 'এটি ১১৬৪ হিজরি সনের মুহাররাম মাসের শেষ দিকে বুধবার রাতে মোল্লা আলী ইবনে আবদুল্লাহর হাতে সমাপ্ত হয়েছে'; সুতরাং এটি লেখকের জীবদ্দশায় লিখিত হলেও তাঁর নিজ হাতে লেখা নয়। আল-আজ্জাউয়ি আরও উল্লেখ করেছেন যে, মরহুম নাজি আল-কাশতিনী-র পাঠাগারে এর আরেকটি অনুলিপি রয়েছে যা লেখক তাঁর মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইরাকি জাদুঘর লাইব্রেরিতে এর তৃতীয় একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যদিও লাইব্রেরির প্রকাশিত নির্ঘণ্টে এর কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। «২»
বাগদাদের কেন্দ্রীয় ওয়াকফ লাইব্রেরিতে উন্নত হস্তাক্ষরে লিখিত আরেকটি অনুলিপি রয়েছে, তবে এতে অনুলিপিকারের নাম নেই; এর নম্বর ৮৫ এবং এটি ৬৬ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট।
সপ্তম- নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে:৯- ইতহাফুল হাবীব আলা শারহি মুগনিল লাবীব: এটি একটি পাদটীকা (হাশিয়া), যাতে তিনি জামালুদ্দিন আবদুল্লাহ বিন হিশাম আল-আনসারি (মৃত্যু ৭৬১ হি.) রচিত ‘মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আ’আরীব’-এর ব্যাখ্যাকারীদের মতামতের ওপর আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
761 هـ/ 1359 م، وهم:
أ- بدر الدين الدماميني (توفاه الله سنة 827 هـ/ 1424 م) في كتابه «تحف الغريب بشرح مغني اللبيب» .
ب- أحمد بن محمد الشمنّي (المتوفّى سنة 872 هـ/ 1467 م) في كتابه «المنصف من الكلام على مغني ابن هشام» .
ج- أحمد بن محمد المعروف بابن الملّا (المتوفّى سنة 1002 هـ/ 1594 م) في كتابه «منتهى أمل الأديب من الكلام على مغني اللبيب» .
د- ابن هشام نفسه، في شرحه المتن.
أوله «الحمد لله الذي أمر بالعدل والإنصاف ونهى عن الزيغ والانحراف» «1»
ولم نقف على أثر لهذا الكتاب فيما راجعناه من خزائن المخطوطات وفهارسها، وكان الأستاذ عز الدين علم الدين سبقنا في البحث عن نسخة منه، وانتهى إلى القول بأنه «لا يعرف اليوم مستقر هذه الحاشية المخطوطة التي تصبو- ولا ريب- إليها قلوب النحاة لما تنطوي عليه المحاكمة من النقد والتمحيص» . «2»
10- كتاب في إعراب آي الذكر الحكيم، لم يشر إليه مترجموه، لكن توجد منه فائدة منقولة، مذيلة باسمه، ضمن مجموعة فيها فوائد في إعراب القرآن وتفسيره، محفوظة في مكتبة الأوقاف المركزية ببغداد برقم (3797) .
11- فوائد متنوعة وأجوبة لمسائل في إعراب أحاديث شريفة وأبيات مختلفة، سأله الإجابة عنها علماء معاصرون له، موجودة في المجموعة المذكورة آنفا.
৭৬১ হিজরি/ ১৩৫৯ খ্রিস্টাব্দ, এবং তারা হলেন:
ক- বদরুদ্দিন আদ-দামামিনি (আল্লাহ তাঁকে ৮২৭ হিজরি/ ১৪২৪ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যু দান করেছেন) তাঁর রচিত «তুহাফুল গরিব বি-শারহি মুগনীল লাবিব» গ্রন্থে।
খ- আহমদ বিন মুহাম্মদ আশ-শামানি (মৃত্যু ৮৭২ হিজরি/ ১৪৬৭ খ্রিস্টাব্দ) তাঁর রচিত «আল-মুনসিফ মিনাল কালাম আলা মুগনী ইবনে হিশাম» গ্রন্থে।
গ- ইবনুল মুল্লা নামে পরিচিত আহমদ বিন মুহাম্মদ (মৃত্যু ১০০২ হিজরি/ ১৫৯৪ খ্রিস্টাব্দ) তাঁর রচিত «মুনতাহা আমালিল আদিব মিনাল কালাম আলা মুগনীল লাবিব» গ্রন্থে।
ঘ- ইবনে হিশাম নিজে, তাঁর মূল পাঠের ব্যাখ্যায়।
এর প্রারম্ভিক অংশ: «সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ন্যায় ও ইনসাফের আদেশ দিয়েছেন এবং সত্যচ্যুতি ও বিচ্যুতি থেকে নিষেধ করেছেন» «১»
আমরা যে সকল পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডার ও তালিকা পর্যালোচনা করেছি, তাতে এই গ্রন্থের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি। অধ্যাপক ইযযুদ্দিন আলামুদ্দিন আমাদের পূর্বে এটি অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছিলেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন যে, «বর্তমানে এই পাণ্ডুলিপিটির অবস্থান জানা নেই, যা নিঃসন্দেহে বৈয়াকরণদের হৃদয়কে ব্যাকুল করে, কারণ এতে সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ ও গঠনমূলক সমালোচনার সমন্বয় ঘটেছে»। «২»
১০- পবিত্র কুরআনের আয়াতের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (ইরাব) ওপর একটি গ্রন্থ, যার কথা তাঁর জীবনীকারগণ উল্লেখ করেননি। তবে তাঁর নামে উদ্ধৃত একটি টীকা পাওয়া যায়, যা কুরআনের ইরাব ও তাফসির বিষয়ক একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। এটি বাগদাদের কেন্দ্রীয় ওয়াকফ লাইব্রেরিতে (৩৭৯৭) নম্বর ক্রমিকে সংরক্ষিত আছে।
১১- হাদিস শরিফ এবং বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের নানাবিধ মাসআলার সমাধান ও উত্তর, যা তাঁর সমসাময়িক আলেমগণ তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন। এগুলো পূর্বে উল্লিখিত সংকলনে বিদ্যমান রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ثامنا- في الأدب:12- مقامة الأمثال السائرة المتضمنة للأحوال الموصلة للمقامات الآخرة.
وهي مقامة في (90) صفحة، ضمنّها مجموعة من الأمثال العربية، استخرج معظمها من الكتب الأدبية التي اطّلع عليها، وأورد فيها بعض الأمثال المتداولة على ألسنة معاصريه.
أولها «الحمد لله الذي رفع منار الأدب، وأعلى مقاماته، ونصب موائد فضائل العرب لمن رام ذلك في أسفاره ومقاماته.. وبعد، فيقول العبد الفقير إلى ألطاف مولاه الغني عبد الله ابن حسين بن مرعي بن ناصر الدين العباسي الشافعي الشهير بالسويدي: هذه مقامة الأمثال الناصعة السائرة في غابر الأزمان والمولدة المشهورة الدائرة بين أبناء هذا العصر والأوان» .
وقد جعل المقامة تدور على لسان شخصية ابتدعها، هي الحسن بن سهل، يروي فيها أخبار من يدعى السري العذري وضمنها شيئا من شعره.
منها نسخة في المكتبة العباسية في البصرة، وأخرى في مكتبة الدكتور محمود الجليلي في الموصل، وثالثة في مجموعة عيسى صفاء الدين البندنيجي وبخطه، وقد أشار إليها العزاوي، بوصفها من كتب خزانته.»
طبعت في مطبعة النيل بمصر، مصدّرة بترجمة المؤلف، ومذيلة بمقامة قصيرة للشيخ عبد الرحمن الأنصاري في مدح السويدي والثناء عليه.
مقامة أدبية.
13- أنشأها على لسان من سماه (قيس الشجون) يروي فيها أخبار (أبي الوله الغرام) .
أولها «حدثنا قيس الشجون، ونحن بثغر المجون، قال أنبأنا أبو الوله الغرام» . أدرجها في آخر كتابه (النفحة المسكية) وبيّن أسباب إنشائه إياها.
ومنها نسخة مستقلة في مكتبة الأوقاف المركزية ببغداد برقم (4/13785) وتقع في خمس أوراق.
অষ্টম- সাহিত্য বিষয়ক:১২- মাকামাতুল আমসালিস সাইরাহ আল-মুতাদাম্মিনাহ লিল-আহওয়ালিল মুসিলাহ লিল-মাকামাতিল আখিরাহ (পরকালীন স্তরে পৌঁছানোর অবস্থাসমূহ সম্বলিত প্রচলিত প্রবাদমালার মাকামাহ)।
এটি ৯০ পৃষ্ঠার একটি মাকামাহ, যাতে তিনি একগুচ্ছ আরবি প্রবাদ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এর অধিকাংশ তিনি তাঁর পাঠ করা সাহিত্যগ্রন্থগুলো থেকে সংগ্রহ করেছেন এবং এতে সমসাময়িকদের মুখে প্রচলিত কিছু প্রবাদও উল্লেখ করেছেন।
এর সূচনা হয়েছে এভাবে: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সাহিত্যের মিনারকে সমুন্নত করেছেন এবং এর মর্যাদাকে উচ্চ করেছেন। যারা সাহিত্য সফর ও মাকামাহর উচ্চাকাঙ্ক্ষা রাখে, তাদের জন্য তিনি আরবদের শ্রেষ্ঠত্বের দস্তরখান বিছিয়ে দিয়েছেন... অতঃপর, তাঁর মহান প্রতিপালকের করুণার মুখাপেক্ষী বান্দা আবদুল্লাহ ইবনে হুসাইন ইবনে মারয়ী ইবনে নাসিরুদ্দিন আল-আব্বাসী আশ-শাফিয়ী, যিনি আস-সুওয়াইদী নামে পরিচিত, তিনি বলেন: এটি অতীতকালের উজ্জ্বল ও প্রচলিত প্রবাদ এবং বর্তমান যুগের মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধ ও বহুল প্রচলিত প্রবাদসমূহের একটি মাকামাহ।"
তিনি এই মাকামাহটি তাঁরই উদ্ভাবিত একটি চরিত্র হাসান ইবনে সাহল-এর জবানিতে উপস্থাপন করেছেন। এতে তিনি আস-সারী আল-উধারী নামক এক ব্যক্তির সংবাদ বর্ণনা করেন এবং সেখানে তাঁর কিছু কবিতাও অন্তর্ভুক্ত করেন।
এর একটি পাণ্ডুলিপি বসরার মাকতাবাতুল আব্বাসিয়াতে, আরেকটি মসুলে ডক্টর মাহমুদ আল-জালিলীর পাঠাগারে এবং তৃতীয়টি ঈসা সাফা উদ্দিন আল-বানদানিজীর সংগ্রহে তাঁর স্বহস্তে লিখিত রয়েছে। আল-আজ্জাউয়ী এটিকে তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহশালার বই হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এটি মিশরের মাতবাআতুন নীলে মুদ্রিত হয়েছে। এর শুরুতে লেখকের জীবনী এবং শেষে সুওয়াইদীর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করে শেখ আবদুর রহমান আল-আনসারীর লেখা একটি সংক্ষিপ্ত মাকামাহ যুক্ত করা হয়েছে।
সাহিত্যিক মাকামাহ.
১৩- এটি তিনি 'কায়েস আশ-শুজন' নামক চরিত্রের জবানিতে রচনা করেছেন, যেখানে তিনি 'আবু আল-ওয়ালাহ আল-গারাম'-এর সংবাদ বর্ণনা করেন।
এর শুরু হয়েছে এভাবে: "কায়েস আশ-শুজন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, যখন আমরা ফাসেকদের সীমান্তে ছিলাম, তিনি বলেন, আবু আল-ওয়ালাহ আল-গারাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।" তিনি এটি তাঁর 'আন-নাফহাতুল মিসকিয়াহ' গ্রন্থের শেষে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এটি রচনার কারণসমূহ স্পষ্ট করেছেন।
বাগদাদের মাকতাবাতুল আওকাফ আল-মারকাজিয়াতে এর একটি স্বতন্ত্র পাণ্ডুলিপি রয়েছে যার নম্বর (৪/১৩৭৮৫) এবং এটি পাঁচটি পত্র বিশিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
تاسعا- في البلاغة:14- الجمانات في الاستعارات، نوّه به المرادي «1» وقال «ألّف متنا في الاستعارات جمع فيه فأوعى» .
15- شرح الجمانات في الاستعارات. قال المرادي «وشرحه شرحا حافلا» والواقع أنّه لم يشرح منه غير المقصد الأول، ثم كلف ابنه عبد الرحمن سنة 1168 هـ/ 1754 م بإتمام ما بدأ به، فأتمه الأخير وسماه (التبيان بشرح الجمان) . «2»
عاشرا- في التاريخ:15- فضائل أهل بدر رضوان الله عليهم.
أوله «الحمد لله الذي أمدّ أهل بدر بجنود الفتح» .
منه نسخة في مكتبة الأوقاف المركزية ببغداد، كتبت سنة 1162 هـ/ 1748 م، تحت العدد (3/4834) . «3» وأخرى في مكتبة أوقاف الموصل، كتبها عبد الهادي رؤوف بعدد (19) . «4»
نشرها إسماعيل الجيلاني البغدادي وطبعت في مطبعة بولاق سنة 1278 هـ/ 1298 م وصححها عبد الباقي الآلوسي. «5»
حادي عشر- في الرحلات:14- النفحة المسكية في الرحلة المكية. وهي هذا الكتاب.
নবম- অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত):১৪- আল-জুমানাত ফিল ইস্তি'আরাত, মুরাদী (১) এর প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, "তিনি ইস্তি'আরাত (রূপক বর্ণনা) বিষয়ে এমন এক মূলপাঠ রচনা করেছেন যাতে তিনি প্রয়োজনীয় সবকিছুই অত্যন্ত নিপুণভাবে একত্র করেছেন"।
১৫- শারহুল জুমানাত ফিল ইস্তি'আরাত। মুরাদী বলেন, "তিনি এর একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন"। তবে প্রকৃত বাস্তবতা হলো তিনি এর প্রথম পরিচ্ছেদ ব্যতীত অন্য অংশ ব্যাখ্যা করেননি। অতঃপর তিনি তাঁর পুত্র আবদুর রহমানকে ১১৬৮ হিজরী/ ১৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁর শুরু করা কাজ সমাপ্ত করার দায়িত্ব প্রদান করেন। ফলে তাঁর পুত্র এটি সমাপ্ত করেন এবং এর নাম দেন (আত-তিবইয়ান বি-শারহিল জুমান) (২)।
দশম- ইতিহাস:১৫- ফাযায়েলু আহলি বদর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।
এর শুরু হয়েছে এভাবে- "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বদরবাসীদের বিজয়ের বাহিনী দিয়ে সাহায্য করেছেন"।
এর একটি পাণ্ডুলিপি বাগদাদের কেন্দ্রীয় আওকাফ লাইব্রেরিতে ১১৬২ হিজরী/ ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে লিখিত অবস্থায় ৩/৪৮৩৪ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত আছে (৩)। অপর একটি পাণ্ডুলিপি মসুলে আওকাফ লাইব্রেরিতে রয়েছে, যা আব্দুল হাদী রাউফ ১৯ নম্বর ক্রমিকের অধীনে লিখেছেন (৪)।
ইসমাইল আল-জিলানি আল-বাগদাদী এটি প্রকাশ করেন এবং এটি ১২৭৮ হিজরী/ ১২৯৮ খ্রিস্টাব্দে বুলাক প্রেসে মুদ্রিত হয় এবং আব্দুল বাকী আল-আলুসি এটি সংশোধন করেন (৫)।
একাদশ- ভ্রমণকাহিনী:১৪- আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফির রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ। আর এটিই হলো বর্তমান এই গ্রন্থটি।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ثاني عشر- في الشعر:15- ديوان، نوّه به مترجموه، وكان يظن أنه من كتبه الضائعة ثم عثرنا على نسخة منه لدى بعض الفضلاء السويديين، أحفاد المؤلف. وفي خزانتنا نسخة مصورة منه. أوله «الحمد لله الذي نصب مآدب الأدب، وشرّف بالبلاغة من الصنف الإنساني صنف العرب، فخصهم بمزايا البيان، وفضلهم بفصاحة اللسان
… وبعد فيقول العبد الفقير إلى الله الغني عبد الله بن الحسين بن مرعي بن ناصر الدين الدوري الشافعي المعروف بالسويدي البغدادي: كنت في إبان عصر الشبية. وعنفوان الأوقات المستعذبة الرطيبة أتولع بالنظام، وآتي منه على حسب المرام
… وكان من شنشنتي المستمرة، وهجيراي المستقرة، أني لا أقيده بمجموع أو ديوان..
فذهب أدراج الرياح.. وذلك لاشتغالي بفنون العلم وأنواعها، وشغفي بالتقاط فرائد الفوائد واستجماعها، وهذا هو الأحرى والأولى، والأفخر الأنفس الأغلى لكن ناداني لسان الحال، وأفصح وقال: ما لا يدرك كله لا يترك كله، وإن الإتيان بالمستطاع أمر ترتاح له الطباع، فشرعت في التقاط ما تبدد، وقيد أوابد ما [ت] شرد، وهو بالنسبة إلى ما ضاع كقطرة في بحر..» .
والنسخة بخط الشيخ أحمد أبي المحامد، وهو ابن الناظم، وقد أضاف إليها قصائد عدة لأبيه لم ترد في أصل الديوان.
ثالث عشر- في موضوعات أخرى:16- رسالة فكاهية، جمع فيها بين كتابين زعم أنهما من الجن ألقى الواحد تلو الآخر في دار السيدة صفية بنت حسن باشا وجوابه عنها، ومدار ذلك النيل من القاضي والمفتي، وتاريخ الكتابة سنة 1163 هـ/ 1749 م، وتقع في 11 صفحة. «1»
شخصيته العلمية:لا تكمن أهمية ما قام به السويدي من شروح وحواش في أنه يسّر متونا تعليمية أساسية
দ্বাদশ- কবিতা প্রসঙ্গে:১৫- একটি দিওয়ান (কাব্যসংকলন), যার কথা তাঁর জীবনীকারগণ উল্লেখ করেছেন। ধারণা করা হতো এটি তাঁর হারিয়ে যাওয়া বইগুলোর একটি। অতঃপর আমরা লেখকের বংশধর সুওয়াইদী পরিবারের জনৈক গুণী ব্যক্তির নিকট এর একটি পাণ্ডুলিপির সন্ধান পাই। আমাদের সংগ্রহশালায় এর একটি ফটোকপি সংরক্ষিত আছে। এর শুরু এভাবে: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সাহিত্যের দস্তরখান বিছিয়েছেন এবং মানবজাতির মধ্যে আরবদের অলঙ্কারশাস্ত্রের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। তিনি তাদের বর্ণনার শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং বাকপটুতার মাধ্যমে তাদের মর্যাদা প্রদান করেছেন... অতঃপর আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা আবদুল্লাহ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মারয়ী ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দাওরি আশ-শাফেয়ী, যিনি সুওয়াইদী আল-বাগদাদী নামে পরিচিত, তিনি বলেন: আমি যখন যৌবনকালের শুরুতে এবং জীবনের সেই মনোরম ও সজীব সময়ের প্রারম্ভে ছিলাম, তখন আমি ছন্দবদ্ধ রচনার প্রতি আসক্ত ছিলাম এবং নিজের অভিলাষ অনুযায়ী কাব্য রচনা করতাম... আর এটিই আমার মজ্জাগত স্বভাব ও স্থায়ী অভ্যাস ছিল যে, আমি সেগুলোকে কোনো সংকলন বা দিওয়ানে লিপিবদ্ধ করতাম না...
ফলে সেগুলো বাতাসের সাথে বিলীন হয়ে গিয়েছে... এর কারণ ছিল বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় আমার নিমগ্নতা এবং দুর্লভ জ্ঞানসমূহ আহরণ ও সংকলনের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ। আর এটিই ছিল অধিকতর উপযুক্ত, প্রধান এবং অধিকতর গর্বের ও মূল্যবান বিষয়। কিন্তু পরিস্থিতির দাবি আমাকে আহ্বান করে স্পষ্টভাবে বলল: যা পূর্ণরূপে অর্জন করা সম্ভব নয়, তা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা উচিত নয়। আর সামর্থ্য অনুযায়ী কোনো কিছু সম্পাদন করা এমন একটি বিষয় যা মানুষের স্বভাবকে প্রশান্তি দেয়। ফলে আমি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রচনাগুলো সংগ্রহ করতে শুরু করলাম এবং যা হারিয়ে যাচ্ছিল তা লিপিবদ্ধ করলাম, যা বিলীন হয়ে যাওয়া অংশের তুলনায় সমুদ্রের এক ফোঁটা পানির সমতুল্য..."।
পাণ্ডুলিপিটি শায়খ আহমদ আবু আল-মাহামিদের হস্তলিপিতে লিখিত, যিনি মূল রচয়িতার পুত্র। তিনি এতে তাঁর পিতার বেশ কিছু কবিতা যুক্ত করেছেন যা মূল দিওয়ানে ছিল না।
ত্রয়োদশ- অন্যান্য বিষয়ে:১৬- একটি কৌতুকপ্রদ পুস্তিকা, যাতে তিনি এমন দুটি চিঠির সমন্বয় করেছেন যে সম্পর্কে তিনি দাবি করেছেন যে সেগুলো জিনদের পক্ষ থেকে এসেছে এবং একটির পর একটি সায়্যিদা সাফিয়া বিনতে হাসান পাশার ঘরে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, এবং সেগুলোর উত্তরও এতে রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন কাজী ও মুফতিকে সমালোচনা করা। এর রচনাকাল ১১৬৩ হিজরি / ১৭৪৯ খ্রিস্টাব্দ এবং এটি ১১ পৃষ্ঠা ব্যাপী। «১»
তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব:সুওয়াইদী যে সমস্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকা প্রণয়ন করেছেন তার গুরুত্ব কেবল এতেই সীমাবদ্ধ নয় যে তিনি মৌলিক পাঠ্যবইসমূহকে সহজতর করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নাফহাতুল মিসকিয়্যাহ ফিল রিহলাতিল মাক্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
لطلبته، أو للطلبة في عهده عامة، فأعمال كهذه لم تكن بعيدة عن أيدي الدارسين يومذاك، وإنما تكمن أهميتها في أنها احتوت، فيما احتوت، على روح نقدية جديدة لم نكن نلحظها لدى سابقيه، من مواطنيه في الأقل، وبشّرت بولادة اتجاه قوي له (موقف) مما في الكتب الموروثة التي اكتسبت قدسية خاصة لكثرة ما اعتمدها الشيوخ أولا، ثم مما كان يبرز في واقعهم نفسه من ظواهر اجتماعية مختلفة. ولنبدأ هنا بتوضيح المسألة الأولى، فعلى رغم أن السويدي قرّض شرح صحيح البخاري للشيخ إسماعيل العجلوني، وكان عالم دمشق ومحدثها، بناء على طلب مؤلفه، فإنه انتقده بقوة مستهدفا منهجه، إذ وصفه بأنه «مجرد نقول لا محاكمة فيه ولا تحرير معنى ولا ضبط مبنى، بل إنه ينقل عبارة بعض الشروح ثم يعقبها بعبارة شرح آخر، ويكون بين العبارتين مخالفة فما يرجّح أحد القولين على الآخر ولا يجمع بينهما، وتارة تكون العبارتان متفقتين فينقلهما فتؤول إلى التطويل من غير فائدة» وانتقد منهجه في تدريس الشرح بأنه يجري «من غير تقرير ولا تحرير ولا حل إشكال ولا فك تركيب» «1» فما انتقده هنا لم يكن كتابا بقدر ما كان منهجا بأكمله، ولم يكن العجلوني وحده الذي اختصّ بالتأليف وفق هذا المنهج، وإنما كان نهج العديد من المؤلفين قبله أيضا، فعبارة السويدي إذن كانت تحدد موقفا جديدا من مناهج معاصريه ومتقدميه من علماء القرون المتأخرة التي سبقته، وهم الذين عمدوا إلى شرح المتون والتحشية عليها دون أن يكون لهم (موقف) مما يكتبون. ولا شك في أن السويدي تلافى ما رآه نقصا منهجيا حين وضع شرحه على صحيح البخاري، ولكن من المؤسف أن هذا الشرح ضاع فيما ضاع من آثاره، وعلى أية حال فإن في وسعنا تتبع موقفه الفكري هذا في جميع أعماله المتبقية الأخرى، وها هو في شرحه للامية العرب للشنفرى يصرح بأنه تكلم فيها «على دفع انتقاد، وتوضيح مراد، وفك مبنى، وسبك معنى» وإن هذا العمل جاء مهما
তার ছাত্রদের জন্য, অথবা সাধারণভাবে তার সময়ের ছাত্রদের জন্য; কেননা এই ধরনের কাজগুলো সে সময়ের গবেষকদের নাগালের বাইরে ছিল না। বরং এগুলোর গুরুত্ব এখানে নিহিত যে, এগুলোতে একটি নতুন সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছিল যা অন্তত তার সমসাময়িক পূর্বসূরিদের মধ্যে দেখা যেত না। এটি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সেইসব কিতাবগুলোর ব্যাপারে একটি শক্তিশালী অবস্থানের (ভঙ্গি) জন্ম দিয়েছিল, যেগুলো শায়খদের অত্যধিক নির্ভরতার কারণে বিশেষ পবিত্রতা লাভ করেছিল। এছাড়া তাদের বাস্তব জীবনে বিদ্যমান বিভিন্ন সামাজিক প্রেক্ষাপটের ব্যাপারেও এটি নতুন বার্তা বহন করত। আমরা এখানে প্রথম বিষয়টি স্পষ্ট করার মাধ্যমে শুরু করি। যদিও সুওয়াইদী দামেস্কের আলেম ও মুহাদ্দিস শায়খ ইসমাইল আল-আজলুনীর অনুরোধে তার সহীহ বুখারীর শরহের (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) ওপর প্রশংসা লিখেছিলেন, তবুও তিনি তার পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি একে বর্ণনা করেছেন এভাবে যে, এটি «কেবল কিছু উদ্ধৃতির সমষ্টি মাত্র, যাতে কোনো বিচার-বিশ্লেষণ নেই, অর্থের কোনো সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা নেই এবং কাঠামোর কোনো সুনির্দিষ্ট বিন্যাস নেই; বরং তিনি কিছু শরহের ইবারত (পাঠ্য) উদ্ধৃত করেন এবং তার পরপরই অন্য একটি শরহের ইবারত যোগ করেন। দুই ইবারতের মধ্যে বৈপরীত্য থাকলেও তিনি একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেন না বা তাদের মধ্যে সমন্বয় করেন না। আবার কখনো দুটি ইবারত এক ও অভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও তিনি উভয়টিই উদ্ধৃত করেন, যা কোনো লাভ ছাড়াই কেবল দীর্ঘায়নের কারণ হয়»। তিনি শরহটি পড়ানোর পদ্ধতিরও সমালোচনা করে বলেন যে, এটি পরিচালিত হয় «কোনো উপস্থাপনা, বিশোধন, জটিলতা নিরসন এবং বাক্য বিশ্লেষণ ছাড়াই» «১»। এখানে তিনি যা সমালোচনা করেছেন তা কেবল একটি গ্রন্থ ছিল না, বরং ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি। কেবল আল-আজলুনীই এই পদ্ধতিতে গ্রন্থ রচনায় একক ছিলেন না, বরং তার আগের অনেক লেখকের পদ্ধতিও এমনই ছিল। সুতরাং, সুওয়াইদীর এই উক্তিটি মূলত তার সমসাময়িক এবং পূর্ববর্তী পরবর্তী যুগের আলেমদের পদ্ধতি সম্পর্কে একটি নতুন অবস্থানের পরিচয় দেয়, যারা কেবল মূল পাঠের (মতন) ব্যাখ্যা ও টীকা (হাশিয়া) লিখতেন কিন্তু তারা যা লিখছেন সে সম্পর্কে তাদের নিজস্ব কোনো (অবস্থান) ছিল না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুওয়াইদী যখন সহীহ বুখারীর ওপর নিজের শরহ লিখেছিলেন, তখন তিনি সেই পদ্ধতিগত ত্রুটিগুলো এড়িয়ে চলেছিলেন যা তিনি অন্যদের মধ্যে দেখেছিলেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, তার অন্যান্য হারানো নিদর্শনের মতো এই শরহটিও হারিয়ে গেছে। যাই হোক, আমরা তার অবশিষ্ট অন্যান্য কাজের মধ্যে তার এই বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থানের সন্ধান পেতে পারি। যেমন তিনি শানফারার ‘লামিয়াতুল আরব’-এর ব্যাখ্যায় স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তিনি সেখানে কথা বলেছেন «সমালোচনা প্রতিহত করতে, উদ্দেশ্য স্পষ্ট করতে, কাঠামোগত জটিলতা নিরসন করতে এবং অর্থের সঠিক ছাঁচ প্রদান করতে»। এই কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য হয়েছে...