(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: -)
من أصول الفقه على منهج أهل الحديث   (زكريا بن غلام قادر الباكستاني)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: من أصول الفقه على منهج أهل الحديث

المؤلف: زكريا بن غلام قادر الباكستاني

الناشر: دار الخراز

الطبعة: الطبعة الاولى 1423هـ-2002م

عدد الصفحات: 231

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আহলে হাদিসের মানহাজ অনুযায়ী উসুলুল ফিকহ থেকে   (যাকারিয়া বিন গোলাম কাদির আল-পাকিস্তানি)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


গ্রন্থ: আহলে হাদিসের মানহাজ অনুযায়ী উসুলুল ফিকহ থেকে

লেখক: যাকারিয়া বিন গোলাম কাদির আল-পাকিস্তানি

প্রকাশক: দারুল খাররাজ

সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪২৩ হিজরি-২০০২ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫)
ال‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

أما بعد:

فقد أخرج البخاري "71" ومسلم "1524" من حديث معاوية رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا تزال طائفة من أمتي قائمة بأمر الله، لا يضرهم من خذلهم أو خالفهم حتى يأتي أمر الله وهم ظاهرون على الناس".

وفي رواية للترمذي "2193" من حديث معاوية بن قرة عن أبيه مرفوعاً: "لا تزال طائفة من أمتي منصورين، لا يضرهم من خذلهم حتى تقوم الساعة".

وقد تتابعت كلمات الأئمة أن هذه الطائفة المنصورة هم أهل الحديث، قال أبو الفتوح الطائي الهمذاني في كتاب الأربعين "163 - مكتبة
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর:

ইমাম বুখারি (৭১) এবং মুসলিম (১৫২৪) মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর অবিচল থাকবে। যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চাইবে কিংবা তাদের বিরোধিতা করবে তারা আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, আর তারা মানুষের ওপর বিজয়ী থাকবে।"

তিরমিজির একটি বর্ণনায় (২১৯৩) মুয়াবিয়া ইবনে কুররা হতে তাঁর পিতার সূত্রে রাসুল পর্যন্ত উত্তোলিত (مرفوع) হাদিসে এসেছে: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত থাকবে। কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চাইবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।"

ইমামগণের বক্তব্যসমূহ নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, এই সাহায্যপ্রাপ্ত দলটি হলো আহলুল হাদিস। আবুল ফুতুহ আত-তাঈ আল-হামদানি তাঁর 'কিতাবুল আরবাঈন' (১৬৩ - মাকতাবা...
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬)
المعارف": نقل عن الجم الغفير والعدد الكثير من علماء الأمة، وأعيان الأئمة، مثل عبد الله بن المبارك، وأحمد بن حنبل، ويزيد بن هارون، وإبراهيم بن الحسن ديزيل الهمذاني أن المراد بالطائفة المذكورة في الحديث: هم أصحاب الحديث وأهل الآثار الذين نهجوا الدين القويم وسلكوا الصراط المستقيم، فتمسكوا بالسبيل الأقوم، والمنهاج الأرشد. انتهى.

وإذا كان أهل الحديث هم الطائفة المنصورة، فلا شك أنهم يكونون أفقه الناس وأصولهم أصح الأصول، لأن هذا من مقومات الطائفة المنصورة، وإنما يعيب أهل الحديث بقلة الفقه من لا يعرف الفقه الصحيح أولا يعرف أهل الحديث حق المعرفة، أو ما قرأ تبويبات البخاري في صحيحه، أو مسائل أحمد بن حنبل، أو الأم للشافعي، أو شرح السنة للبغوي، أو مجموع الفتاوى لابن تيمية أو غيرها من كتب أهل الحديث.

وقد ذكرت في هذا الكتاب ثناء الأئمة على فقه أهل الحديث وأصولهم، وذكرت أيضا على ماذا ينبني فقه أهل الحديث، وذكرت أيضا المسائل الأصولية على منهج أهل الحديث.

وأسأل الله عز وجل أن يحشرنا في زمرة أهل الحديث، وأن يوفقنا لما يحبه ويرضاه، إنه على كل شيء قدير.

وكتبه:

زكريا بن غلام قادر الباكستاني
'আল-মাআরিফ' গ্রন্থে উম্মাহর এক বিশাল জনগোষ্ঠী এবং বহু সংখ্যক আলেম ও শ্রেষ্ঠ ইমামগণ থেকে বর্ণিত হয়েছে, যেমন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আহমদ ইবনে হাম্বল, ইয়াযিদ ইবনে হারুন এবং ইব্রাহিম ইবনুল হাসান দিযীল আল-হামাদানি। তারা বলেছেন যে, হাদিসে উল্লেখিত দল (طائفة) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আহলে হাদিস এবং আহলে আসার (أهل الآثار), যারা সুদৃঢ় দ্বীনের পথ অনুসরণ করেছেন এবং সঠিক পথ অবলম্বন করেছেন; ফলে তারা সবচেয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত পথ এবং সঠিক আদর্শকে আঁকড়ে ধরেছেন। (সমাপ্ত)

আর যদি আহলে হাদিসরাই সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة) হয়ে থাকেন, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তারাই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ফকিহ এবং তাদের মূলনীতিসমূহ (أصول) সর্বাধিক সঠিক (أصح); কারণ এটি সাহায্যপ্রাপ্ত দলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মূলত যারা সঠিক ফিকহ সম্পর্কে অবগত নয় অথবা আহলে হাদিসদের সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান রাখে না, অথবা যারা সহিহ বুখারির অধ্যায় বিন্যাস (تبويبات), আহমদ ইবনে হাম্বলের মাসায়েলসমূহ, শাফেয়ির আল-উম্ম, বাগাউয়ির শারহুস সুন্নাহ, ইবনে তাইমিয়্যাহর মাজমুউল ফাতাওয়া অথবা আহলে হাদিসদের অন্যান্য কিতাবসমূহ পড়েনি, তারাই কেবল আহলে হাদিসদের ফিকহ-জ্ঞানের স্বল্পতা নিয়ে সমালোচনা করে।

আমি এই বইটিতে আহলে হাদিসদের ফিকহ ও তাদের মূলনীতির (أصول) ওপর ইমামগণের প্রশংসা উল্লেখ করেছি। আরও আলোচনা করেছি যে আহলে হাদিসদের ফিকহ কিসের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং আহলে হাদিসদের আদর্শ (منهج) অনুযায়ী উসুলি মাসায়েলসমূহ (المسائل الأصولية) বর্ণনা করেছি।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের আহলে হাদিসদের দলে অন্তর্ভুক্ত করে হাশর করেন এবং আমাদের সেইসব কাজ করার তাওফিক দান করেন যা তিনি ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

লেখক:

যাকারিয়া ইবনে গোলাম কাদির আল-পাকিস্তানি
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭)
ثناء الأئمة على فقه أهل الحديث

قال الخطيب البغدادي في كتاب شرف أصحاب الحديث "8": وقد جعل الله تعالى أهله "أي أهل الحديث" أركان الشريعة، وهدم بهم كل بدعة شنيعة، فهم أمناء الله من خليقته، والواسطة بين النبي صلى الله عليه وسلم وأمته، والمجتهدون في حفظ ملته، أنوارهم زاهرة، وفضائلهم سائرة، وآياتهم باهرة، ومذاهبهم ظاهرة، وحججهم قاهرة، وكل فئة تتخير إلى هوى ترجع إليه، أو تستحسن رأيا تعكف عليه، سوى أصحاب الحديث، فإن الكتاب عدتهم، والسنة حجتهم، والرسول فئتهم، وإليه نسبتهم، لا يعرجون على الأهواء، ولا يلتفتون إلى الآراء يقبل منهم ما رووا عن الرسول، وهم المأمونون عليه، حفظة الدين وخزنته، وأوعية العلم وحملته، وإذا اختلف في حديث كان إليهم الرجوع فما حكموا به فهو المقبول المسموع، ومنهم كل عالم فقيه، وإمام رفيع نبيه، وزاهد في قبيلة، ومخصوص بفضيلة، وقارئ متقن، وخطيب محسن، وهم الجمهور العظيم وسبيلهم السبيل المستقيم، وكل مبتدع باعتقادهم يتظاهر وهو على الإفصاح بغير مذاهبم لا يتجاسر، من كادهم قصمه الله، ومن عاندهم خذله الله، لا يضرهم من خذلهم، ولا يفلح من
আহলুল হাদিসের ফিকহের ওপর ইমামগণের প্রশংসা

আল-খতিব আল-বাগদাদি তাঁর শরাফ আসহাবিল হাদিস (৮) গ্রন্থে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে (অর্থাৎ আহলুল হাদিসদের) শরয়তের স্তম্ভ বানিয়েছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে প্রতিটি জঘন্য বিদআতকে সমূলে উৎপাটন করেছেন। তাঁরা সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর বিশ্বস্ত আমানতদার এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর উম্মতের মধ্যে সেতুবন্ধন। তাঁরা তাঁর দ্বীন সংরক্ষণে কঠোর পরিশ্রমী গবেষক (مجتهد)। তাঁদের নূর উজ্জ্বল, তাঁদের ফযিলত সুদূরপ্রসারী, তাঁদের নিদর্শনসমূহ স্পষ্ট, তাঁদের মাজহাবসমূহ প্রকাশ্য এবং তাঁদের দলিলসমূহ অকাট্য। আহলুল হাদিস ব্যতীত প্রতিটি দলই এমন প্রবৃত্তির অনুসরণ করে যার দিকে তারা ফিরে যায় অথবা কোনো ব্যক্তিগত মতামতকে (رأي) পছন্দ করে যা তারা আঁকড়ে ধরে থাকে। পক্ষান্তরে কুরআন হলো আহলুল হাদিসদের পাথেয়, সুন্নাহ তাঁদের দলিল এবং রাসুলই তাঁদের আশ্রয়স্থল এবং তাঁর দিকেই তাঁদের সম্পৃক্ততা। তাঁরা প্রবৃত্তির দিকে ঝোঁকেন না এবং নিজস্ব মতামতের (آراء) দিকে ভ্রুক্ষেপ করেন না। রাসুলের পক্ষ থেকে তাঁরা যা বর্ণনা (روى) করেন তা গ্রহণ করা হয় এবং তাঁরা এর ওপর আমানতদার ও বিশ্বস্ত। তাঁরা দ্বীনের রক্ষক ও এর ভাণ্ডার এবং ইলমের আধার ও বাহক। যখন কোনো হাদিস বিষয়ে মতভেদ দেখা দেয়, তখন তাঁদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হয়; সুতরাং তাঁরা যে ফয়সালা দেন তাই গ্রহণযোগ্য ও অনুসরণযোগ্য। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রত্যেক প্রাজ্ঞ ফকিহ (فقيه), উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন বিজ্ঞ ইমাম, গোত্রের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ সংসারবিরাগী (زاهد) এবং বিশেষ ফযিলতের অধিকারী ব্যক্তি, পারদর্শী (متقن) কারী এবং উত্তম খতিব। তাঁরাই হলো বিশাল জনসমষ্টি (جمهور) এবং তাঁদের পথই সরল পথ। প্রতিটি বিদআতি ব্যক্তিই তাঁদের আকিদার (اعتقاد) সাথে সংহতি প্রকাশ করে চলে, আর তাঁদের আদর্শের বাইরে অন্য কিছু স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার সাহস পায় না। যে তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে আল্লাহ তাকে চূর্ণ করবেন, যে তাঁদের সাথে শত্রুতা করবে আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করবেন; যারা তাঁদের সহায়তা করা ছেড়ে দিবে তারা তাঁদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এবং যে ব্যক্তি—
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৮)
اعتزلهم، المحتاط لدينه إلى إرشادهم فقير، وبصر الناظر بالسوء إليهم حسير، وإن الله على نصرهم لقدير.

وقال أيضا "ص - 10": فقد جعل رب العالمين الطائفة المنصورة حراس الدين، وصرف عنهم كيد المعاندين لتمسكهم بالشرع المتين، واقتفائهم آثار الصحابة والتابعين، فشأنهم حفظ الآثار، وقطع المفاوز والقفار، في اقتباس ما شرع المصطفى، لا يعرجون عنه إلى رأى ولا هوى، قبلوا شريعته قولاً وفعلاً، وحرسوا سنته حفظاً ونقلاً، حتى ثبَّتوا بذلك أصلها، وكانوا أحق بها وأهلها. انتهى.

وقال ابن قتيبة في تأويل مختلف الحديث "51": فأما أصحاب الحديث فإنهم التمسوا الحق من وجهته، وتتبعوا مظانه، وتقربوا من الله تعالى باتباعهم سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم وطلبهم لآثاره وأخباره براً وبحراً، وشرقاً وغرباً، يرحل الواحد منهم راجلاً مقوياً في طلب الخبر الواحد أو السنة الواحدة حتى يأخذها من الناقل لها مشافهة ثم لم يزالوا في التنقير عن الأخبار والبحث لها حتى فهموا صحيحها وسقيمها، وناسخها ومنسوخها، وعرفوا من خالفها من الفقهاء إلى الرأي فنبهوا على ذلك حتى نجم بعد أن كان عافياً، وبسق بعد أن كان دارساً، واجتمع بعد أن كان متفرقاً، وانقاد للسنن من كان عنها معرضا، وتنبه عليها من كان عنها غافلا. انتهى.

وقال ابن حبان في مقدمة صحيحه "1/34" بعد الثناء على الله عز
তাদের থেকে পৃথক থাকো; নিজের দ্বীনের ব্যাপারে যে সাবধানী সে তাদের নির্দেশনার মুখাপেক্ষী, আর তাদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপকারীর চোখ ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে পূর্ণ সক্ষম।

তিনি আরও বলেছেন (পৃষ্ঠা - ১০): "নিশ্চয়ই রব্বুল আলামিন সাহায্যপ্রাপ্ত দলকে দ্বীনের পাহারাদার বানিয়েছেন এবং সুদৃঢ় শরিয়তকে আঁকড়ে ধরার কারণে ও সাহাবী ও তাবেয়ীদের পদাঙ্ক অনুসরণের ফলে তাদের থেকে বিদ্বেষ পোষণকারীদের ষড়যন্ত্র হটিয়ে দিয়েছেন। তাদের কাজ হলো বর্ণনা (آثار) সংরক্ষণ করা এবং দুর্গম মরু ও প্রান্তর পাড়ি দেওয়া—মুস্তাফা (সা.) যা প্রবর্তন করেছেন তা আহরণের উদ্দেশ্যে। তারা সেখান থেকে বিচ্যুত হয়ে কোনো রায় (رأي) বা খেয়াল-খুশির দিকে যায় না। তারা তাঁর শরিয়তকে কথা ও কাজে গ্রহণ করেছে এবং তাঁর সুন্নাহকে মুখস্থ রাখা ও বর্ণনার মাধ্যমে রক্ষা করেছে; এমনকি এর মাধ্যমে তারা সুন্নাহর মূল ভিত্তি মজবুত করেছে এবং তারাই এর জন্য সর্বাধিক যোগ্য ও এর অধিকারী।" (সমাপ্ত)।

ইবনে কুতাইবা 'তাউইলু মুখতালিফিল হাদিস' (৫১) গ্রন্থে বলেছেন: "পক্ষান্তরে আসহাবে হাদিসগণ তো সত্যকে এর সঠিক উৎস থেকে অন্বেষণ করেছেন এবং এর প্রাপ্তিস্থানসমূহ তালাশ করেছেন। তারা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ এবং তাঁর বর্ণনা (آثار) ও সংবাদ (أخبار) জলপথে-স্থলপথে এবং পূর্বে-পশ্চিমে তালাশ করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেছেন। তাদের একেকজন পদব্রজে বা রিক্তহস্তে সফর করতেন মাত্র একটি সংবাদ (خبر) বা একটি সুন্নাহ সংগ্রহের জন্য, যতক্ষণ না তারা বর্ণনাকারীর কাছ থেকে সরাসরি তা গ্রহণ করতেন। অতঃপর তারা সংবাদের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানে রত থাকতেন, যে পর্যন্ত না তারা এর সঠিক (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) এবং রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করেছেন। তারা চিনে নিয়েছেন ঐসব ফকিহদের যারা সুন্নাহর বিপরীতে রায়ের (رأي) দিকে ঝুঁকেছিলেন এবং তারা এ বিষয়ে এমনভাবে সতর্ক করেছেন যে, তা বিলীন হওয়ার পর পুনরায় প্রকাশ পেয়েছে, স্তিমিত হওয়ার পর প্রস্ফুটিত হয়েছে এবং যা বিক্ষিপ্ত ছিল তা একত্রিত হয়েছে। ফলে যারা সুন্নাহ থেকে বিমুখ ছিল তারা এর প্রতি অনুগত হয়েছে আর যারা এ বিষয়ে গাফেল ছিল তারা সচেতন হয়েছে।" (সমাপ্ত)।

ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ-এর ভূমিকার (১/৩৪) শুরুতে মহান আল্লাহর মহিমা কীর্তনের পর বলেছেন—
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৯)
وجل قال:

ثم اختار طائفة لصفوته، وهداهم لزوم طاعته، من اتباع سبل الأبرار، في لزوم السنن والآثار، فزين قلوبهم بالإيمان، وأنطق ألسنتهم بالبيان من كشف أعلام دينه، واتباع سنن نبيه، بالدؤوب في الرحل والأسفار، وفراق الأهل والأوطار، في جمع السنن، ورفض الأهواء، والتفقه فيها بترك الآراء، فتجرد القوم للحديث وطلبوه ورحلوا فيه وكتبوه، وسألوا عنه وأحكموه، وذاكروا به ونشروه، وتفقهوا فيه، وأصلوه، وفرعوا عليه وبذلوه، وبينوا المرسل من المتصل، والموقوف من المنفصل، والناسخ من المنسوخ، والمحكم من المفسوخ، والمفسر من المجمل، والمستعمل من المهمل، والعموم من الخصوص، والدليل من المنصوص، والمباح من المزجور، والغريب من المشهور، والعرض من الإرشاد، والحتم من الإيعاد، والعدول عن المجروحين، والضعفاء من المتروكين، وكيفية المعمول، والكشف عن المجهول..، حتى حفظ الله بهم الدين على المسلمين، فصانه على ثلب القادحين، وجعلهم عند التنازع أئمة الهدى، وفي النوازل مصابيح الدجى، فهم ورثة الأنبياء، ومأنس الأصفياء، وملجأ الأتقياء، ومركز الأولياء. انتهى.

وقال السمعاني كما في صون المنطق "165 - 167": ومما يدل على أن أهل الحديث هم على الحق أنك لو طالعت جميع كتبهم المصنفة من أولهم إلى آخرهم، قديمهم وحديثهم، مع اختلاف بلدانهم ووزانهم،
মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহ বলেছেন:

অতঃপর তিনি তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য একদল লোককে মনোনীত করেছেন এবং পুণ্যবানদের পথ অনুসরণের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্যে অবিচল থাকার হিদায়াত দিয়েছেন, যা সুন্নাহ ও আছার (الآثار) আঁকড়ে ধরার অন্তর্ভুক্ত। তিনি ঈমানের মাধ্যমে তাদের অন্তরসমূহকে সুশোভিত করেছেন এবং তাঁর দ্বীনের নিদর্শনসমূহ উন্মোচন ও তাঁর নবীর সুন্নাহ অনুসরণের বর্ণনায় তাদের রসনা সচল করেছেন। আর তা সম্ভব হয়েছে সুন্নাহ সংগ্রহ এবং খেয়াল-খুশিকে বর্জন ও নিজস্ব মতামত পরিত্যাগ করে গভীর জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে অবিরত দেশভ্রমণ, সফর এবং পরিবার-পরিজন ও আপনজনদের বিচ্ছেদের মাধ্যমে। ফলে এই দলটি নিজেদেরকে হাদিসের জন্য উৎসর্গ করেছেন; তারা এটি অন্বেষণ করেছেন, এর জন্য সফর করেছেন এবং তা লিপিবদ্ধ করেছেন। তারা এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং একে সুসংহত করেছেন। তারা এটি নিয়ে মুজাকারা (ذاكروا) করেছেন এবং তা প্রচার করেছেন। তারা এতে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন, এর মূলনীতি নির্ধারণ (أصلوه) করেছেন এবং সেই অনুযায়ী শাখা-প্রশাখা বিন্যাস (فرعوا عليه) করেছেন ও তা বিলিয়ে দিয়েছেন। তারা পৃথক করেছেন বিচ্ছিন্ন (المرسل) থেকে সংযুক্ত (المتصل)-কে, স্থগিত (الموقوف) থেকে বিচ্ছিন্ন (المنفصل)-কে, রহিতকারী (الناسخ) থেকে রহিত (المنسوخ)-কে, সুদৃঢ় (المحكم) থেকে বাতিলকৃত (المفسوخ)-কে, বিস্তারিত ব্যাখ্যাত (المفسر) থেকে অস্পষ্ট (المجمل)-কে, আমলযোগ্য (المستعمل) থেকে পরিত্যক্ত (المهمل)-কে, সাধারণ (العموم) থেকে বিশেষ (الخصوص)-কে, প্রমাণ (الدليل) থেকে সরাসরি নির্দেশিত (المنصوص)-কে, বৈধ (المباح) থেকে নিষিদ্ধ (المزجور)-কে, বিরল (الغريب) থেকে প্রসিদ্ধ (المشهور)-কে, নিবেদন (العرض) থেকে নির্দেশনার (الإرشاد) পার্থক্য এবং অনিবার্য (الحتم) থেকে হুঁশিয়ারির (الإيعاد) পার্থক্য। তারা ন্যায়পরায়ণ (العدول) বর্ণনাকারীদেরকে সমালোচিত (المجروحين) বর্ণনাকারী থেকে এবং দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদেরকে পরিত্যক্ত (المتروكين) বর্ণনাকারী থেকে পৃথক করেছেন। তারা আমলের পদ্ধতি ও অজ্ঞাত (المجهول) বর্ণনাকারীদের পরিচয় উন্মোচন করেছেন...। অবশেষে আল্লাহ তাদের মাধ্যমে মুসলমানদের নিকট দ্বীনকে হেফাযত করেছেন। ফলে তিনি একে নিন্দুকদের নিন্দা থেকে রক্ষা করেছেন এবং বিবাদের সময় তাদেরকে হিদায়াতের ইমাম ও সংকটের মুহূর্তে অন্ধকারের প্রদীপ বানিয়েছেন। তারা হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী, মনোনীতদের সুহৃদ, খোদাভীরুদের আশ্রয়স্থল এবং ওলীদের কেন্দ্রবিন্দু। সমাপ্ত।

আস-সামআনী সাউনুল মানতিক (১৬৫-১৬৭) গ্রন্থে বলেছেন: এবং যা প্রমাণ করে যে আহলে হাদিসগণ সত্যের ওপর আছেন তা হলো, আপনি যদি তাদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এবং প্রাচীন থেকে আধুনিক—তাদের সকল রচিত গ্রন্থ অধ্যয়ন করেন, তবে দেখবেন যে তাদের দেশ ও মানদণ্ডের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও,
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১০)
وتباعد ما بينهم في الديار، وسكون كل واحد منهم قطراً من الأقطار وجدتهم في بيان الاعتقاد على وتيرة واحدة ونمط واحد، ويجرون فيه على طريقة لا يحيدون عنها، ولا يميلون فيها، قولهم في ذلك واحد، وفعلهم واحد.. إلى أن قال: وكان السبب في اتفاق أهل الحديث أنهم أخذوا الدين من الكتاب والسنة وطريقة النقل فأورثهم الاتفاق والائتلاف وأهل البدعة أخذوا الدين من المعقولات والآراء، فأورثهم الافتراق والاختلاف. انتهى.

وقال اللكنوي في كتابه إمام الكلام فيما يتعلق بالقراءة خلف الإمام "228": ومن نظر بنظر الإنصاف وغاص في بحار الفقه والأصول، متجنباً عن الإعتساف، يعلم علما يقيناً أن أكثر المسائل الفرعية والأصلية التي اختلف العلماء فيها، فمذهب المحدثين فيها أقوى من مذاهب غيرهم، وإني كلما أسير في شعب الاختلاف أجد قول المحدثين فيه قريبا من الإنصاف فلله دّرُّهُم، كيف لا وهم ورثة النبي حقاً ونُوَّاب شرعه صدقاً. انتهى.

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية كما في مجموع الفتاوى "34/113": موافقة أحمد للشافعي وإسحاق أكثر من موافقته لغيرهما، وأصوله بأصولهما أشبه منها بأصول غيرهما، وكان يثني عليهما ويعظمهما، ويرجح أصول مذهبهما على من ليست أصول مذاهبه كأصول مذاهبهما، ومذهبه أن أصول فقهاء الحديث أصح من أصول غيرهم، والشافعي
যদিয়ও তাঁদের বাসস্থানের দূরত্ব ছিল অনেক এবং তাঁরা পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তে বসবাস করতেন, তবুও আমি বিশ্বাস (اعتقاد) বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের সবাইকে একই ধারা ও অভিন্ন পদ্ধতিতে অবিচল পেয়েছি। তাঁরা এমন এক পথ অনুসরণ করেন যা থেকে তাঁরা বিচ্যুত হন না এবং তাতে কোনো প্রকার নমনীয়তাও প্রদর্শন করেন না। এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য অভিন্ন এবং কর্মও এক। ...তিনি আরও বলেন: আহলুল হাদিসগণের ঐক্যের কারণ হলো তাঁরা দ্বীন গ্রহণ করেছেন কিতাব, সুন্নাহ এবং বর্ণনার পদ্ধতির (طريقة النقل) মাধ্যমে; যা তাঁদের মাঝে ঐক্য ও সম্প্রীতি দান করেছে। পক্ষান্তরে বিদআতী সম্প্রদায় দ্বীন গ্রহণ করেছে যুক্তি (المعقولات) ও মতামতের (الآراء) ভিত্তিতে, যা তাঁদের মাঝে অনৈক্য ও মতভেদের জন্ম দিয়েছে। সমাপ্ত।

আল-লাখনবী তাঁর ইমামুল কালাম ফীমা ইয়াতায়াল্লাকু বিল কিরাআতি খালফাল ইমাম গ্রন্থে (২২৮) বলেছেন: যে ব্যক্তি ইনসাফের দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করবে এবং হঠকারিতা পরিহার করে ফিকহ ও মূলনীতির (الأصول) সমুদ্রে ডুব দেবে, সে নিশ্চিতভাবে জানতে পারবে যে, আলেমগণ যেসব শাখা-প্রশাখা ও মৌলিক মাসআলা নিয়ে মতভেদ করেছেন, সেগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের মাযহাব অন্যদের মাযহাব অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী। আমি যখনই মতভেদের পথে চলেছি, তখনই মুহাদ্দিসগণের বক্তব্যকে ন্যায়ের অধিক নিকটবর্তী পেয়েছি। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন; কেনই বা হবে না, অথচ তাঁরাই নবীজির প্রকৃত উত্তরসূরি এবং তাঁর শরীয়তের সত্যনিষ্ঠ প্রতিনিধি। সমাপ্ত।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ মাজমুউল ফাতাওয়া (৩৪/১১৩) গ্রন্থে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে: অন্যদের তুলনায় ইমাম আহমদের ঐকমত্য ইমাম শাফিঈ ও ইমাম ইসহাকের সাথে অধিক ছিল এবং তাঁর মূলনীতিসমূহ (أصول) অন্য সকলের চেয়ে তাঁদের দুজনের মূলনীতির সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি তাঁদের প্রশংসা ও সম্মান করতেন এবং যাঁদের মাযহাবের মূলনীতি তাঁদের মতো নয়, তাঁদের ওপর তিনি এই দুজনের মাযহাবের মূলনীতিকে (أصول) প্রাধান্য দিতেন। তাঁর অভিমত ছিল যে, হাদিস বিশারদ ফকীহগণের মূলনীতি (أصول) অন্যদের মূলনীতির চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ (أصح)। আর শাফিঈ...
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১১)
وإسحاق هما عنده من أجل فقهاء الحديث في عصرهما. انتهى.

وقال في كتاب علم الحديث "44": بعض أئمة أهل الكلام تكلموا في أهل الحديث، وذموهم بقلة الفهم، وأنهم لا يفهمون معاني الحديث، ولا يميزون بين صحيحه من ضعيفه، ويفتخرون عليهم بحذقهم ودقة فهمهم، ولا ريب أن هذا موجود في بعضهم، يحتجون بأحاديث موضوعة في مسائل الفروع والأصول، وآثار مفتعلة، وحكايات غير صحيحة، ويذكرون من القرآن والحديث ما لا يفهمون معناه، ولكنهم بالنسبة إلى غيرهم في ذلك كالمسلمين بالنسبة إلى بقية أهل الملل، فكل شرٍّ في بعض المسلمين فهو في غيرهم أكثر، وكل خير يكون في غيرهم فهو فيهم أعظم، وهكذا أهل الحديث بالنسبة إلى غيرهم. انتهى.

وقال شيخ الإسلام أيضا كما في مجموع الفتاوى "4/91": من المعلوم أن كل من كان بكلام المتبوع وأحواله وبواطن أموره وظواهرها أعلم وهو بذلك أقوم، كان أحق بالإختصاص به، ولا ريب أن أهل الحديث أعلم الأمة وأخصها بعلم رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلم خاصته مثل: الخلفاء الراشدين وسائر العشرة، ومثل أبي بن كعب، وعبد الله بن مسعود، ومعاذ بن جبل، وعبد الله بن سلام، وسلمان الفارسي، وأبي الدرداء، وعبادة بن الصامت، وأبي ذر الغفاري، وعمار بن ياسر، وحذيفة بن اليمان، ومثل سعد بن معاذ، وسعد بن عبادة، وسالم مولى أبي حذيفة، وغير هؤلاء ممن كان أخص الناس بالرسول، وأعلمهم
وইসহাক তাঁর নিকট তাঁদের যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাদিস ফকিহ হিসেবে গণ্য। সমাপ্ত।

তিনি ইলমুল হাদিস কিতাবের ৪৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন: কালাম শাস্ত্রের (ইলমুল কালাম) কিছু ইমাম আহলে হাদিসদের সমালোচনা করেছেন এবং সমঝের স্বল্পতার কারণে তাদের নিন্দা করেছেন। তারা দাবি করেন যে, আহলে হাদিসগণ হাদিসের অর্থ বোঝেন না এবং তারা হাদিসের সহিহ (صحيح) ও জয়িফ (ضعيف)-এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না। তারা তাদের নিজস্ব চতুরতা ও সূক্ষ্ম বোধশক্তির জন্য তাদের ওপর গর্ব করেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি (এই সীমাবদ্ধতা) তাদের কারো কারো মধ্যে বিদ্যমান; তারা ফুরু (শাখা) ও উসুল (মূল) মাসআলাসমূহে জাল (موضوع) হাদিস, বানোয়াট বর্ণনা (آثار) এবং অশুদ্ধ কিচ্ছা-কাহিনী দ্বারা দলিল পেশ করেন এবং কুরআন ও হাদিসের এমন বিষয় উল্লেখ করেন যার অর্থ তারা বোঝেন না। কিন্তু অন্যদের তুলনায় তাদের অবস্থা হলো অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের তুলনায় মুসলমানদের অবস্থার মতো। কেননা মুসলমানদের কারো মধ্যে যে মন্দ রয়েছে, তা অন্যদের মধ্যে আরও বেশি বিদ্যমান; আর অন্যদের মধ্যে যে কল্যাণ রয়েছে, তা মুসলমানদের মধ্যে আরও মহান স্তরে বিদ্যমান। আহলে হাদিসদের অবস্থাও অন্যদের তুলনায় ঠিক তেমনই। সমাপ্ত।

শাইখুল ইসলাম মাজমুউল ফাতাওয়া-এর ৪র্থ খণ্ডের ৯১ পৃষ্ঠায় আরও বলেছেন: এটি সুপরিচিত যে, অনুকরণীয় ব্যক্তির কথা, অবস্থা এবং তাঁর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিষয়াদি সম্পর্কে যিনি অধিক অবগত এবং সে অনুযায়ী অধিক অটল, তিনিই তাঁর সাথে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার অধিক যোগ্য। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আহলে হাদিসগণ উম্মতের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইলম এবং তাঁর বিশেষ সহাবীদের ইলম সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত এবং তাঁদের সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। যেমন: খুলাফায়ে রাশেদিন ও অবশিষ্ট আশারায়ে মুবাশশারা এবং উবাই ইবনে কাব, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, মুআজ ইবনে জাবাল, আবদুল্লাহ ইবনে সালাম, সালমান ফারসি, আবু দারদা, উবাদাহ ইবনে সামিত, আবু যার আল-গিফারি, আম্মার ইবনে ইয়াসির, হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান এবং সাদ ইবনে মুআজ, সাদ ইবনে উবাদাহ, আবু হুজাইফার মুক্তদাস সালিম এবং তাঁদের ন্যায় অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ যারা রাসূলুল্লাহর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১২)
بباطن أموره وأتبعهم لذلك. انتهى.

وقال في نقض المنطق "42": إنك تجد أهل الكلام أكثر الناس انتقالاً من القول إلى قول، وجزما بالقول في موضع، وجزما بنقيضه وتكفير قائله في موضع آخر، وهذا دليل على عدم يقين..، وأما أهل السنة والحديث فما يعلم أحد من علمائهم، ولا صالح عامتهم رجع قط عن قوله واعتقاده بل هم أعظم الناس صبراً على ذلك، وإن امتحنوا بأنواع المحن وفتنوا بأنواع الفتن، وهذه حال الأنبياء، وأتباعهم من المتقدمين، وكسلف هذه الأمة والصحابة والتابعين، وغيرهم من الأئمة، ومن صبر من أهل الأهواء على قوله، فذاك لما فيه من الحق، إذ لا بد في كل بدعة عليها طائفة كبيرة من الناس أن يكون فيها من الحق الذي جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم ويوافق عليه أهل السنة والحديث ما يوجب قبولها، إذ الباطل المحض لا يقبل بحال، وبالجملة: فالثبات والإسقرار في أهل الحديث والسنة أضعاف أضعاف ما هو عند أهل الكلام والفلسفة. انتهى.

وقال أيضا كما في مجموع الفتاوى "3/346": إن أحق الناس بأن تكون هي الفرقة الناجية: أهل الحديث والسنة، الذين ليس لهم متبوع يتعصبون له إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم وهم أعلم الناس بأقواله وأحواله، وأعظمهم تمييزاً بين صحيحها وسقيمها، وأئمتهم فقهاء فيها، وأهل معرفة بمعانيها، واتباعا لها تصديقاً وعملاً وحباً وموالاةً لمن والاها،
বিষয়ের অভ্যন্তরীণ দিক সম্পর্কে এবং সেই কারণে তাদের অনুসরণ করেন। সমাপ্ত।

তিনি নাকদ আল-মানতিক (পৃষ্ঠা ৪২)-এ বলেন: "আপনি ইলমুল কালামের অনুসারীদের দেখবেন যে, তারা এক মত থেকে অন্য মতে সবচেয়ে বেশি স্থানান্তরিত হয়। তারা এক স্থানে একটি মতের ওপর দৃঢ়তা প্রকাশ করে, আবার অন্য স্থানে তার বিপরীতটির ওপর দৃঢ়তা দেখায় এবং ওই মত পোষণকারীকে কাফের ঘোষণা করে। এটি তাদের নিশ্চিত বিশ্বাসের অভাবের প্রমাণ। পক্ষান্তরে আহলুস সুন্নাহ ও আহলুল হাদিসের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাঁদের আলেমদের মধ্যে কেউ অথবা তাঁদের সাধারণ পুণ্যবান ব্যক্তিদের কেউ কখনও নিজের বক্তব্য ও বিশ্বাস থেকে ফিরে আসেননি। বরং তাঁরা এর ওপর অটল থাকার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক ধৈর্যশীল, যদিও তাঁদের ওপর বিভিন্ন প্রকারের পরীক্ষা ও ফিতনা আপতিত হয়েছে। আর এটিই নবীগণ এবং তাঁদের পূর্ববর্তী অনুসারীদের অবস্থা, যেমনটি এই উম্মতের পূর্বসূরি (সালাফ), সাহাবী ও তাবেয়ী (تابعين) এবং অন্যান্য ইমামগণের অবস্থা ছিল। প্রবৃত্তিপূজারীদের মধ্য থেকে যারা নিজ মতের ওপর ধৈর্য ধারণ করে, তা মূলত ওই মতের মধ্যে যতটুকু সত্য রয়েছে তার কারণে। কারণ, এমন প্রত্যেক বিদআত (بدعة) যার ওপর এক বিশাল জনগোষ্ঠী নিবিষ্ট, তাতে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনীত এমন কিছু সত্য বিদ্যমান থাকে যার সাথে আহলুস সুন্নাহ ও আহলুল হাদিসও একমত পোষণ করেন এবং যা তা গ্রহণ করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, নিছক বাতিল কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হয় না। সারকথা হলো: আহলুল হাদিস ও আহলুস সুন্নাহর মাঝে যে স্থায়িত্ব ও অটলতা বিদ্যমান, তা ইলমুল কালাম ও দর্শনের অনুসারীদের তুলনায় বহুগুণ বেশি।" সমাপ্ত।

তিনি মাজমুউল ফাতাওয়া (৩/৩৪৬)-এ আরও বলেন: "মানুষের মধ্যে যারা মুক্তিপ্রাপ্ত দল (الفرقة الناجية) হওয়ার সর্বাধিক যোগ্য, তারা হলো আহলুল হাদিস ও আহলুস সুন্নাহ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত তাদের এমন কোনো অনুসরণীয় ব্যক্তি নেই যার প্রতি তারা অন্ধ পক্ষপাতিত্ব করে। তারাই তাঁর বাণী ও অবস্থা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত এবং তাঁর বাণীর বিশুদ্ধ (صحيح) ও দুর্বল (سقيم) বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ। তাদের ইমামগণ এ বিষয়ে ফকিহ এবং এর মর্মার্থ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। তাঁরা এর সত্যয়ন, আমল ও ভালোবাসার মাধ্যমে অনুসরণ করেন এবং যারা একে ভালোবাসে তাদের সাথে হৃদ্যতা বজায় রাখেন।"
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৩)
ومعاداة لمن عاداها، الذين يردون المقالات المجملة إلى ما جاء به الكتاب والحكمة، فلا ينصبون مقالة، ويجعلونها من أصول دينهم، وجمل كلامهم، إن لم تكن ثابتة فيما جاء به الرسول، بل يجعلون ما بعث به الرسول من الكتاب والحكمة هو الأصل الذي يعتقدونه ويعتمدونه. انتهى.

এবং যারা তার (সুন্নাহর) সাথে শত্রুতা পোষণ করে, তাদের বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করা; তারা হলো সেই সব লোক, যারা অস্পষ্ট (مجملة) বক্তব্যসমূহকে কিতাব ও হিকমাহ যা নিয়ে এসেছে তার দিকে ফিরিয়ে দেয়। তারা কোনো মতবাদ বা বক্তব্যকে দাঁড় করায় না এবং সেটিকে তাদের দ্বীনের মূলনীতি (أصول) ও তাদের সামগ্রিক আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে না, যদি না তা রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার মাধ্যমে প্রমাণিত (ثابتة) হয়। বরং রাসূল যে কিতাব ও হিকমাহ নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, তারা সেটাকেই মূল ভিত্তি (أصل) হিসেবে সাব্যস্ত করে, যার ওপর তারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নির্ভর করে। সমাপ্ত।

(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৪)
على ماذا يبني أهل الحديث فقههم؟

أهل الحديث يبنون فقههم على قواعد مأخوذة من الكتاب والسنة والصحيحة وعلى ما كان عليه السلف الصالح، قال شيخ الإسلام ابن تيمية كما في مجموع الفتاوى "10/362": بعد أن أثنى على أهل الحديث: فلا ينصبون مقالة، ويجعلونها من أصول دينهم، وجمل كلامهم، إن لم تكن تابعة فيما جاء به الرسول، بل يجعلون ما بعث به الرسول من الكتاب والحكمة هو الأصل الذي يعتقدونه ويعتمدونه.

وقال ابن رجب في كتاب فضل علم السلف: "57": ومن ذلك أعنى محدثات العلوم ما أحدثه فقهاء أهل الرأي من ضوابط وقواعد عقلية، ورد فروع الفقه إليها سواء خالفت السنة أم وافقتها، طرداً لتلك القواعد المتقررة، وإن كان أصلها مما تأولوه على نصوص الكتاب والسنة لكن بتأويلان يخالفهم غيرهم فيها، وهذا هو الذي أنكره أئمة الإسلام. انتهى.

وقال شيخ الإسلام كما في مجموع الفتاوى "10/362": فمن بنى الكلام في علم الأصول والفروع على الكتاب والسنة والآثار المأثورة عن السابقين فقد أصاب طريق النبوة. انتهى.
আহলে হাদিস কিসের ওপর ভিত্তি করে তাদের ফিকহ (فقه) গড়ে তোলেন?

আহলে হাদিস তাদের ফিকহ (فقه) কিতাব, সুন্নাহ (السنة) ও সহিহ (الصحيحة) দলিল এবং সালাফে সালেহীন (السلف الصالح) যে আদর্শের ওপর ছিলেন তা থেকে গৃহীত নীতিমালার (قواعد) ওপর ভিত্তি করে নির্মাণ করেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (১০/৩৬২) গ্রন্থে আহলে হাদিসের প্রশংসা করার পর বলেন: "তারা কোনো মতবাদকে দাঁড় করান না এবং সেটাকে তাদের দ্বীনের মূলনীতি (أصول) ও সামগ্রিক বক্তব্যের ভিত্তি বানান না, যদি তা রাসুল যা নিয়ে এসেছেন তার অনুসারী না হয়। বরং রাসুল কিতাব ও হিকমাহ থেকে যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, সেটাকেই তারা আসল (الأصل) হিসেবে গণ্য করেন যার ওপর তারা বিশ্বাস রাখেন এবং নির্ভর করেন।"

ইবনে রজব 'ফাদলু ইলমিস সালাফ' (৫৭) গ্রন্থে বলেন: "আর এর অন্তর্ভুক্ত—অর্থাৎ জ্ঞানের নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ (محدثات)—হলো আহলে রায়ের ফকিহগণ যে সকল বুদ্ধিভিত্তিক মানদণ্ড (ضوابط) ও নীতিমালা (قواعد) উদ্ভাবন করেছেন এবং ফিকহের শাখাসমূহকে (فروع) সেগুলোর দিকে ফিরিয়ে নিয়েছেন; চাই তা সুন্নাহর বিরোধী হোক বা অনুকূল হোক, কেবল সেই নির্ধারিত নীতিমালার অনুসরণের খাতিরে। যদিও সেগুলোর উৎস হয়তো তারা কিতাব ও সুন্নাহর নস (نصوص) থেকে ব্যাখ্যা করেছেন, কিন্তু এমন ব্যাখ্যার (تأويلان) মাধ্যমে যাতে অন্যরা তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। আর এটাই হলো সেই বিষয় যা ইসলামের ইমামগণ (أئمة) প্রত্যাখ্যান করেছেন।" সমাপ্ত।

শাইখুল ইসলাম 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (১০/৩৬২) গ্রন্থে আরও বলেন: "সুতরাং যে ব্যক্তি উসুল (أصول) এবং ফুরু (فروع) শাস্ত্রের আলোচনা কিতাব, সুন্নাহ এবং পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণিত আছার (الآثار) এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলে, সে নবুওয়তের পথ লাভ করেছে।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال ابن القيم في إعلام الموقعين "2/368": أما أن نقعد قاعدة ونقول هذا هو الأصل، ثم ترد السنة لأجل مخالفة تلك القاعدة، فلعمر الله، لهدم ألف قاعدة لم يؤصلها الله ورسوله أفرض علينا من ردَّ حديث واحد. انتهى.
ইবনুল কাইয়্যিম ‘ই’লামুল মুওয়াক্কিঈন’ "২/৩৬৮" গ্রন্থে বলেন: "আমরা কোনো একটি মূলনীতি (قاعدة) নির্ধারণ করব এবং বলব যে এটিই হলো ভিত্তি (أصل), অতঃপর সেই মূলনীতির পরিপন্থী হওয়ার কারণে সুন্নাহকে (سنة) প্রত্যাখ্যান (رد) করা হবে—আল্লাহর শপথ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা প্রবর্তন করেননি এমন হাজারো মূলনীতি (قاعدة) চূর্ণ করা আমাদের জন্য একটি হাদিস প্রত্যাখ্যান (رد) করার চেয়ে অনেক বেশি আবশ্যিক।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৬)
التنبيه على المسائل الدخيلة في أصول الفقه

أول من صنف في أصول الفقه هو الإمام الشافعي في كتابه الرسالة وهو من أنفع الكتب وأحسنها فقد بنى كتابه على الأدلة الشرعية والآثار السلفية، ثم كثرت التصانيف بعد ذلك، وكانت أكثر الكتب الأصولية أصحابها من الأشاعرة أو من المعتزلة فأفسدوا علم أصول الفقه فأدخلوا فيه علم الكلام، ومسائل لا ثمرة من ذكرها، ومسائل لا تعلق لها بأصول الفقه، وعقدوا العبارات وجعلوا اللغة هي الأصل، فانصرف الناس عن دراسة أصول الفقه بسبب هذه الأمور والتعقيدات التي دخلت في مسائل الأصول، قال العلامة طاهر الجزائري في كتاب توجيه النظر إلى أصول الأثر "237": وقد وقع في كتب أصول الفقه مسائل كثيرة مبنية على مجرد الفرض وهي ليست داخلة فيه وكثيراً ما أوجب ذلك حيرة المطالع النبيه حيث يطلب لها أمثلة فيرجع بعد الجد والاجتهاد ولم يحظ بمثال واحد فينبغي الانتباه لهذا الأمر ولما ذكره بعض العلماء وهو: أن كل مسألة تذكر في أصول الفقه ولا ينبني عليها فروع فقهية أو آداب شرعية أولا تكون عوناً في ذلك فهي غير داخلة في أصول الفقه، وذلك أن هذا العلم لم يختص بإضافته إلى الفقه إلا لكونه مفيداً له، ومحققاً
উসুলুল ফিকহের (أصول الفقه) অন্তর্ভুক্ত অপ্রাসঙ্গিক বিষয়াবলি সম্পর্কে সতর্কতা

উসুলুল ফিকহের (أصول الفقه) বিষয়ে সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেন ইমাম শাফেয়ী তাঁর ‘আর-রিসালাহ’ গ্রন্থে। এটি অত্যন্ত উপকারী এবং উৎকৃষ্ট কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কেননা তিনি তাঁর গ্রন্থটিকে শরয়ী দলীলসমূহ (الأدلة الشرعية) এবং সালাফদের আছার (آثار) তথা বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছেন। অতঃপর এর পরে গ্রন্থ রচনার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। উসুল শাস্ত্রের অধিকাংশ কিতাব রচয়িতাগণ ছিলেন আশআরি অথবা মুতাজিলা মতাদলম্বী। ফলে তাঁরা ইলমুল কালাম (علم الكلام) বা তাত্ত্বিক বিতর্কশাস্ত্র অনুপ্রবেশ করিয়ে উসুলুল ফিকহের (أصول الفقه) জ্ঞানকে কলুষিত করেন এবং এমন সব বিষয়ের অবতারণা করেন যা আলোচনার কোনো বিশেষ ফল নেই। এমন কিছু মাসআলা (مسائل) অন্তর্ভুক্ত করেন যার সাথে উসুলুল ফিকহের (أصول الفقه) কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা শব্দবিন্যাসকে জটিল করে তোলেন এবং ভাষাতত্ত্বকে মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করেন। ফলে উসুলের মাসআলাসমূহে (مسائل) প্রবেশ করা এই সব জটিলতা ও নানাবিধ বিষয়ের কারণে মানুষ উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) অধ্যয়ন থেকে বিমুখ হয়ে পড়ে। আল্লামা তাহের আল-জাজাইরি তাঁর ‘তাওজিহুন নাজর ইলা উসুলিল আসার’ গ্রন্থের ২৩৭ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "উসুলুল ফিকহের (أصول الفقه) কিতাবসমূহে এমন অনেক মাসআলা (مسائل) স্থান পেয়েছে যা নিছক ধারণার ওপর ভিত্তি করে রচিত এবং এগুলো এই শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়। এগুলো প্রায়শই সচেতন পাঠকের মনে বিভ্রান্তির উদ্রেক করে, কারণ তিনি যখন এগুলোর উদাহরণ খুঁজতে যান, তখন কঠোর পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার পরও একটি উদাহরণও খুঁজে পান না। সুতরাং এই বিষয়টি এবং উলামায়ে কিরাম যা উল্লেখ করেছেন সেদিকে লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। আর তা হলো: উসুলুল ফিকহে (أصول الفقه) বর্ণিত যে সকল মাসআলা (مسألة) থেকে কোনো ফিকহী শাখা (فروع فقهية) বা শরয়ী আদব উদ্ভাবিত হয় না কিংবা যা এসব ক্ষেত্রে সহায়ক নয়, তা উসুলুল ফিকহের (أصول الفقه) অংশ নয়। কারণ, এই জ্ঞানটি ফিকহের সাথে সম্পৃক্ত করার একমাত্র কারণ হলো এটি ফিকহের জন্য উপকারী এবং এর বিধানসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিতকারী।"
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৭)
للاجتهاد فيه فإذا لم يفد ذلك لم يكن أصلا له ويخرج على هذا كثير من المسائل التي تكلم عليها المتأخرون وأدخلوها فيه كمسائل ابتداء وضع اللغات ومسألة الإباحة هل هي تكليف أم لا؟ ومسألة أمر المعدوم؟ وكذلك كل مسألة ينبني عليها فقه إلا أنه لا يحصل من الخلاف فيها خلاف في فرع من فروع الفقه مثل مسألة الأمر بواحد مبهم من أشياء معينة كما في كفارة اليمين، فقيل: إن الأمر بذلك يوجب واحداً منها لا بعينه وقيل إنه يوجب الكل ويسقط الكل بفعل واحد منها، وقيل: إنه يوجب ما يختاره المكلف فإن فعل الكل فقيل الواجب أعلاها، وإن تركها فقيل يعاقب على أدناه فهذه المسألة وما أشبهها من المسائل التي فرضوها مما لا ثمرة له في الفقه غير داخله في أصوله. انتهى.

وقال الشوكاني في منتهى الأرب في أدب الطلب "174": ومن أسباب التعصب الحائلة بين من أصيب بها وبين المتمسك بالإنصاف: التباس ما هو من الرأي البحت بشيء من العلوم التي هي مواد الاجتهاد. وكثيراً ما يقع ذلك في أصول الفقه فإنه قد اختلط فيها المعروف بالمنكر والصحيح بالفاسد والجيد بالرديء، فربما يتكلم أهل هذا العلم على مسائل من مسائل الرأي ويحررونها ويقررونها، وليست منه في شيء ولا تعلق لها به بوجه. فيأتي الطالب لهذا العلم إلى تلك المسائل فيعتقد أنها منه فير إليها المسائل الفروعية، ويرجع إليها عند تعارض الأدلة. ويعمل بها في كثير من المباحث، زاعماً أنها من أصول الفقه. ذاهلاً عن كونها من علم الرأي. ولو علم بذلك لم يقع فيه ولا ركن إليه. فيكون هذا
ইজতিহাদ (اجتهاد) করার জন্য; যদি তা ইজতিহাদের উপকারে না আসে, তবে তা উসুল বা মূল (أصل) হিসেবে গণ্য হবে না। এই মানদণ্ডের ভিত্তিতে পরবর্তী যুগের আলেমদের (متأخرون) আলোচিত অনেক মাসআলা উসুল থেকে বাদ পড়ে যায়, যা তারা এর অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। যেমন ভাষার উৎপত্তি সংক্রান্ত মাসআলা এবং বৈধতা বা ইবাহাত (إباحة) সংক্রান্ত মাসআলা—এটি কি শরয়ি দায়িত্ব বা তাকলিফ (تكليف) নাকি নয়? এছাড়া অস্তিত্বহীনকে নির্দেশ (أمر المعدوم) দেওয়ার মাসআলা। তদ্রূপ এমন প্রতিটি মাসআলা যার ওপর ফিকহ নির্ভরশীল, কিন্তু সেই মাসআলার মতভেদ (خلاف) থেকে ফিকহের কোনো শাখাগত (فرع) বিষয়ে কোনো মতভেদ সৃষ্টি হয় না। যেমন নির্দিষ্ট কতগুলো বিষয়ের মধ্য থেকে কোনো একটি অস্পষ্ট বিষয় পালনের নির্দেশ দেওয়া, যা শপথের কাফফারার ক্ষেত্রে দেখা যায়। এ বিষয়ে বলা হয়েছে: এই নির্দেশটি সেই বিষয়গুলোর মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কোনো একটি নয় বরং যেকোনো একটি পালন করাকে আবশ্যিক (واجب) করে। আবার বলা হয়েছে: এটি সবগুলোকে আবশ্যিক (واجب) করে এবং যেকোনো একটি পালনের মাধ্যমে সবগুলোর আবশ্যকতা বিলুপ্ত হয়। আবার বলা হয়েছে: শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা মুকাল্লাফ (مكلف) যা নির্বাচন করবে, সেটিই আবশ্যিক (واجب) হবে। যদি সে সবগুলোই পালন করে, তবে বলা হয়েছে: এগুলোর মধ্যে যেটি সর্বোত্তম সেটিই ওয়াজিব (واجب) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি সে সব ছেড়ে দেয়, তবে বলা হয়েছে: তাকে সর্বনিম্নটির জন্য শাস্তি দেওয়া হবে। এই মাসআলা এবং এই জাতীয় অন্যান্য মাসআলা যা তারা অনুমান করেছেন, ফিকহের ক্ষেত্রে এগুলোর কোনো কার্যকর ফলাফল নেই এবং এগুলো উসুলের (أصول) অন্তর্ভুক্ত নয়। (সমাপ্ত)।

শাওকানি মুনতাহাল আরাব ফি আদাবিত তলাব (১৭৪) গ্রন্থে বলেন: "পক্ষপাতিত্ব বা গোঁড়ামির (تعصب) অন্যতম কারণ, যা আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠার (إنصاف) মধ্যে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, তা হলো—নিছক ব্যক্তিগত মত বা রায়কে (رأي) ইজতিহাদ (اجتهاد) এর উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত জ্ঞানসমূহের সাথে গুলিয়ে ফেলা। উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে প্রায়শই এমনটি ঘটে থাকে। কারণ এতে সুপরিচিত (معروف) বিষয়ের সাথে বর্জনীয় বা মুনকার (منكر) বিষয়, সঠিক (صحيح) বিষয়ের সাথে ভ্রান্ত বা ফাসিদ (فاسد) বিষয় এবং উৎকৃষ্ট (جيد) বিষয়ের সাথে নিকৃষ্ট (رديء) বিষয় মিশে গেছে। কখনো কখনো এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ ব্যক্তিগত মত বা রায় (رأي) সংক্রান্ত বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেন এবং সেগুলো সুবিন্যস্ত ও প্রতিষ্ঠিত করেন, অথচ উসুলুল ফিকহের সাথে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই এবং কোনোভাবেই তা এর সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। ফলে এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থী যখন সেই মাসআলাগুলো পড়ে, তখন সে সেগুলোকে উসুলের অংশ মনে করে বসে এবং শাখাগত মাসআলাগুলোকে সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তিত করে। এমনকি দলিলের পারস্পরিক বৈপরীত্যের (تعارض الأدلة) সময়ও সে এগুলোর শরণাপন্ন হয়। সে অনেক গবেষণায় এগুলো প্রয়োগ করে এই দাবিতে যে, এগুলো উসুলুল ফিকহের অংশ; অথচ সে এই বিষয়ে অসচেতন থাকে যে এগুলো মূলত রায় (رأي) বা ব্যক্তিগত মতের শাস্ত্র থেকে এসেছে। সে যদি বিষয়টি জানত, তবে এতে লিপ্ত হতো না এবং এর ওপর নির্ভরও করত না।"
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৮)
وأمثاله قد وقعوا في التعصب وفارقوا مسلك الإنصاف، ورجعوا إلى علم الرأي وهم لا يشعرون بشيء من ذلك ولا يفطنون به، بل يعتقدون أنهم متشبثون بالحق متمسكون بالدليل واقفون على الإنصاف خارجون عن التعصب. وقلَّ من يسلم من هذه الدقيقة وينجو من غبار هذه الأعاصير. بل هم أقل من القليل. وما أخطر ذلك وأعظم ضرره وأشد تأثيره وأكثر وقوعه وأسرع نفاقه على أهل الإنصاف وأرباب الاجتهاد.

فإن قلتَ: إذا كان هذا السبب كما زعمت من الغموض والدقة ووقوع كثير من المنصفين فيه وهم لا يشعرون فما أحقه بالبيان وأولاه بالإيضاح وأجدره بالكشف حتى يتخلص عنه الواقعون فيه وينجوا منه المتهافتون إليه؟

قلتُ: اعلم أن ما كان من أصول الفقه راجعاً إلى لغة العرب رجوعاً ظاهراً مكشوفاً كبناء العام على الخاص. وحمل المطلق على المقيد ورد المجمل إلى المبيَّن. وما يقتضيه الأمر والنهي ونحو هذه الأمور. فالواجب على المجتهد أن يبحث عن مواقع الألفاظ العربية. وموارد كلام أهلها وما كانوا عليه في مثل ذلك. فما وافقه فهو الأحق بالقبول والأولى بالرجوع إليه. فإذا اختلف أهل الأصول في شيء من هذه المباحث كان الحق بيد من هو أسعد بلغة العرب. هذا على فرض عدم وجود دليل شرعي يدل على ذلك. فإن وجد فهو المقدم"1" على كل

--------------------------------------------

"1 في "ب" المقدر.
এবং তাঁর মতো ব্যক্তিগণ গোঁড়ামিতে (تعصب) লিপ্ত হয়েছেন এবং ইনসাফের (إنصاف) পথ ত্যাগ করেছেন। তারা নিজেদের অজান্তেই রায়-নির্ভর বিদ্যায় (علم الرأي) ফিরে গেছেন অথচ তারা এ বিষয়ে বিন্দুমাত্রও সচেতন নন এবং এটি উপলব্ধি করতে পারছেন না। বরং তারা বিশ্বাস করেন যে, তারা সত্যকে আঁকড়ে ধরে আছেন, দলিলের (دليل) ওপর অবিচল আছেন, ইনসাফের (إنصاف) ওপর প্রতিষ্ঠিত আছেন এবং গোঁড়ামি (تعصب) থেকে মুক্ত রয়েছেন। খুব কম লোকই এই সূক্ষ্ম বিষয় থেকে নিরাপদ থাকে এবং এই ঝোড়ো হাওয়ার ধূলিকণা থেকে মুক্তি পায়; বরং তাদের সংখ্যা অতি নগণ্য। ইনসাফপন্থী এবং ইজতিহাদের (اجتهاد) অধিকারীদের জন্য এটি কতই না বিপজ্জনক, এর ক্ষতি কতই না ভয়াবহ, এর প্রভাব কতই না তীব্র, এর প্রাদুর্ভাব কতই না বেশি এবং এর বিভ্রান্তি কতই না দ্রুত বিস্তারকারী!

আপনি যদি প্রশ্ন করেন: এই কারণটি যদি আপনার দাবি অনুযায়ী এমনই অস্পষ্ট ও সূক্ষ্ম হয় এবং অনেক ইনসাফকারীও নিজেদের অজান্তে এতে পতিত হন, তবে এটি তো বর্ণনা ও স্পষ্টীকরণের সবচেয়ে বেশি দাবি রাখে এবং উন্মোচনের সবচেয়ে যোগ্য বিষয়, যাতে এতে নিপতিত ব্যক্তিরা তা থেকে নিষ্কৃতি পায় এবং যারা এতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে তারা রক্ষা পায়?

আমি বলব: জেনে রাখুন, উসুলুল ফিকহের (أصول الفقه) যেসব বিষয় সুস্পষ্টভাবে আরবি ভাষার সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন: আম-কে (عام) খাস-এর (خاص) ওপর ভিত্তি করা, মুতলাক-কে (مطلق) মুকাইয়াদ-এর (مقيد) ওপর প্রয়োগ করা, মুজমাল-কে (مجمل) মুবাইয়্যান-এর (مبين) দিকে ফিরিয়ে নেয়া, এবং নির্দেশ (أمر) ও নিষেধ (نهي) যা দাবি করে এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ—সেক্ষেত্রে মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য আবশ্যক হলো আরবি শব্দসমূহের প্রয়োগস্থল, ভাষাভাষীদের বাচনভঙ্গি এবং এ জাতীয় বিষয়ে তাদের পদ্ধতি সম্পর্কে অনুসন্ধান করা। সুতরাং যা এর সাথে সংগতিপূর্ণ হবে, তাই গ্রহণের অধিক যোগ্য এবং সেটির দিকেই প্রত্যাবর্তন করা শ্রেয়। সুতরাং যখন উসুলের (أصول) ইমামগণ এই সকল আলোচনার কোনো বিষয়ে দ্বিমত করবেন, তখন সত্য তাঁর পক্ষেই থাকবে যিনি আরবি ভাষায় অধিক পারদর্শী। এটি তখন প্রযোজ্য যখন এ বিষয়ে কোনো শরয়ি দলিল (دليل شرعي) বর্তমান না থাকে। কিন্তু যদি দলিল পাওয়া যায়, তবে সেটিই সবকিছুর ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য (مقدم) "১" ।

--------------------------------------------

"১" 'বা' পাণ্ডুলিপিতে 'নির্ধারিত' (المقدر) শব্দটি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৯)
شيء وإذا أردت الزيادة في البيان والكثير من الإيضاح بضرب من التمثيل وطرف من التصوير: فاعلم، أنه قد وقع الخلاف في أنه هل يُبنى العام على الخاص مطلقاً أو مشروطاً بشرط أن يكون الخاص متأخراً. ووقع الخلاف في أنه هل يُحمل المطلق على المقيّد مع اختلاف السبب أم لا. ووقع الخلاف في معنى الأمر الحقيقي هل هو الوجوب أو غيره. ووقع الخلاف في معنى النهي الحقيقي هل هو التحريم أو غيره. فإذا أردت الوقوف على الحق في بحث من هذه الأبحاث، فانظر في اللغة العربية واعمل على ما هو موافق لها مطابق لما كان عليه أهلها. واجتنب ما خالفها، فإن وجدت ما يدل على ذلك من أدلة الشرع كما ستقف عليه في الأدلة الشرعية من كون الأمر يفيد الوجوب والنهي يفيد التحريم فالمسألة أصولية لكونها قاعدة كلية شرعية لكون دليلها شرعياً كما أن ما يستفاد من اللغة من القواعد الكلية أصولية لغوية. فهذه المباحث وما يشابهها من مسائل النسخ ومسائل المفهوم والمنطوق الراجعة إلى لغة العرب المستفادة منها على وجه يكون قاعدة كلية هي مسائل الأصول. والمرجع لها الذي يعرف به راجحها من مرجوحها هو العلم الذي هي مستفادة منه مأخوذة من موارده ومصادره. وأما مباحث القياس فغالبها من بحث الرأي الذي لا يرجع إلى شيء مما تقوم به الحجة، وبيان ذلك أنهم جعلوا للعلة مسالك عشرة لا تقوم الحجة بشيء منها إلا ما كان راجعاً إلى الشرع. كمسلك النص على العلة. أو ما كان معلوماً من لغة العرب كالإلحاق بمسك إلغاء الفارق. وكذلك قياس الأولى المسمى عند

আপনি যদি বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিকতর স্পষ্টতা এবং উদাহরণ ও চিত্রায়নের মাধ্যমে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চান, তবে জেনে রাখুন: সাধারণ (عام) বিধানকে কি নিরঙ্কুশভাবে বিশেষ (خاص) বিধানের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োগ করা হবে, নাকি বিশেষ (خاص) বিধানটি পরে আসার শর্তে—এই বিষয়ে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে কারণ (سبب) ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও শর্তহীন (مطلق) বিধানকে শর্তযুক্ত (مقيد) বিধানের ওপর প্রয়োগ করা হবে কি না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। নির্দেশ (أمر)-এর প্রকৃত অর্থ কি আবশ্যকতা (وجوب) নাকি অন্য কিছু, এবং নিষেধ (نهي)-এর প্রকৃত অর্থ কি নিষিদ্ধতা (تحريم) নাকি অন্য কিছু—সে বিষয়েও মতভেদ দেখা দিয়েছে। সুতরাং আপনি যদি এই গবেষণাগুলোর কোনো একটিতে সত্যের সন্ধান পেতে চান, তবে আরবি ভাষার প্রতি দৃষ্টি দিন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করুন যা এই ভাষার সাথে সংগতিপূর্ণ এবং এর ভাষাবিদদের রীতির অনুরূপ। এবং যা এর পরিপন্থী তা পরিহার করুন। যদি আপনি শরয়ি দলিলসমূহ থেকে এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ পান—যেমনটি আপনি শরয়ি দলিলগুলোর আলোচনায় পাবেন যে নির্দেশ (أمر) দ্বারা আবশ্যকতা (وجوب) এবং নিষেধ (نهي) দ্বারা নিষিদ্ধতা (تحريم) বোঝায়—তবে বিষয়টি মূলনীতি সংক্রান্ত (أصولية), কারণ এটি একটি শরয়ি সামগ্রিক মূলনীতি (قاعدة كلية) এবং এর দলিলটিও শরয়ি। ঠিক যেমন ভাষা থেকে আহরিত সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ ভাষাগত উসুলি বিষয়। সুতরাং এই আলোচনাগুলো এবং রহিতকরণ (نسخ), ইঙ্গিতার্থ (مفهوم) ও শব্দার্থ (منطوق) সংক্রান্ত অনুরূপ বিষয়াবলি, যা আরবি ভাষার সাথে সম্পৃক্ত এবং যা থেকে সামগ্রিক মূলনীতি হিসেবে বিষয়গুলো গৃহীত হয়েছে, সেগুলোই মূলত উসুলের মাসআলা। আর এগুলোর জন্য এমন একটি মানদণ্ড প্রয়োজন যার মাধ্যমে অগ্রগণ্য (راجح) এবং বর্জনীয় (مرجوح) মতের পার্থক্য নিরূপণ করা যায়; আর তা হলো সেই জ্ঞান যেখান থেকে এই বিষয়গুলো আহরিত হয়েছে এবং যার উৎস ও মূল থেকে এগুলো গ্রহণ করা হয়েছে। আর অনুমাননির্ভর তুলনা (قياس)-এর আলোচনাগুলোর অধিকাংশই ব্যক্তিগত রায়ের গবেষণার অন্তর্ভুক্ত, যা এমন কোনো বিষয়ের দিকে ধাবিত করে না যার মাধ্যমে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এর ব্যাখ্যা হলো, তাঁরা হেতু (علة)-এর জন্য দশটি পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন, যার কোনোটির মাধ্যমেই প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না, কেবল সেই পদ্ধতিটি ছাড়া যা শরয়ি দলিলের দিকে প্রত্যাবর্তন করে; যেমন হেতু (علة)-এর ওপর সরাসরি অকাট্য পাঠ (نص) থাকা। অথবা যা আরবি ভাষা থেকে স্পষ্টভাবে জ্ঞাত, যেমন পার্থক্য বিলোপকরণ (إلغاء الفارق) পদ্ধতির মাধ্যমে সংযুক্ত করা। একইভাবে শ্রেষ্ঠতর অনুমান (قيাস الأولى), যা পরিচিত...

(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২০)
البعض بفحوى الخطاب. وأما المباحث التي يذكرها أهل الأصول في مقاصده كما فعلوه في مقصد الكتاب ومقصد السنة والإجماع. فما كان من تلك المباحث الكلية مستفاداً من أدلة الشرع فهو أصولي شرعي، وما كان مستفاداً من مباحث اللغة فهو أصولي لغوي. وما كان مستفاداً من غير هذين فهو من علم الرأي الذين كررنا عليك التحذير منه. ومن المقاصد المذكورة في الكتب الأصولية التي هي من محض الرأي الاستحسان والاستصحاب والتلازم.

وأما المباحث المتعلقة بالاجتهاد والتقليد وشرع من قبلنا والكلام على أقوال الصحابة، فهي شرعية فما انتهض عليه دليل الشرع منها فهو حق. وما خالفه فباطل.

وأما المباحث المتعلقة بالترجيح، فإن كان المرجح مستفاداً من الشرع فهو شرعي. وإن كان مستفاداً من علم من العلوم المدونة فالاعتبار بذلك العلم فإن كان له مدخل في الترجيح كعلم اللغة فإنه مقبول وإن كان لا مدخل له إلا لمجرد الدعوى كعلم الرأي فإنه مردود. انتهى.
কেউ কেউ বার্তার সারমর্ম (فحوى الخطاب) দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। আর উসুল শাস্ত্রবিদগণ (أهل الأصول) তাদের উদ্দেশ্যাবলীতে যে সকল বিষয় আলোচনা করেন, যেমনটি তারা কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমার (الإجماع) উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে করেছেন। সুতরাং সেই সামগ্রিক আলোচনাগুলোর মধ্যে যা শরীয়তের দলিল (أدلة الشرع) থেকে গৃহীত, তা শরয়ী উসুলি (أصولي شرعي); আর যা ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা থেকে গৃহীত, তা লোগাভী বা ভাষাতাত্ত্বিক উসুলি (أصولي لغوي)। আর যা এই দুটি ব্যতীত অন্য উৎস থেকে গৃহীত, তা ব্যক্তিগত মতের ইলম (علم الرأي) থেকে উদ্ভূত, যার ব্যাপারে আমি আপনাকে বারবার সতর্ক করেছি। উসুল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে উল্লিখিত উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে যা নিছক ব্যক্তিগত মতের অন্তর্ভুক্ত, তা হলো ইসতিহসান (الاستحসান), ইসতিসহাব (الاستصحاب) এবং তালাসুম (التلازم)।

আর ইজতিহাদ (الاجتهاد), তাকলিদ (التقليد), আমাদের পূর্ববর্তীদের শরীয়ত (شرع من قبلنا) এবং সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্য সংক্রান্ত আলোচনাগুলো শরীয়ত সংশ্লিষ্ট। সুতরাং এগুলোর মধ্যে যা শরীয়তের দলিল (دليل الشرع) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত তা সত্য, আর যা তার পরিপন্থী তা বাতিল (باطل)।

আর অগ্রাধিকার প্রদান (الترجيح) সংক্রান্ত আলোচনার ক্ষেত্রে, যদি অগ্রাধিকারের ভিত্তিটি শরীয়ত থেকে সংগৃহীত হয় তবে তা শরয়ী। আর যদি তা সংকলিত অন্যান্য জ্ঞানসমূহের কোনো একটি থেকে সংগৃহীত হয়, তবে সেই নির্দিষ্ট জ্ঞানের গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করতে হবে। যদি অগ্রাধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে তার কোনো ভূমিকা থাকে, যেমন ভাষাবিজ্ঞান, তবে তা গ্রহণযোগ্য (مقبول)। আর যদি নিছক দাবি করা ব্যতীত তার কোনো ভূমিকা না থাকে, যেমন ব্যক্তিগত মতের ইলম (علم الرأي), তবে তা প্রত্যাখ্যাত (مردود)। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الدليل

‌‌القاعدة الأولى: الدليل هو الأصل الذي تبنى عليه المسألة

…

الدليل

القاعدة الأولى: الدليل هو الأصل الذي تبنى عليه أو المسألة

قال شيخ الإسلام ابن تيمية كما في مجموع الفتاوى "30/269": قد ينص النبي صلى الله عليه وسلم نصاً يوجب قاعدة ويخفى النص على بعض العلماء حتى يوافقوا غيرهم على بعض أحكام تلك القاعدة، وينازعوا فيما لم يبلغهم فيه النص، مثل اتفاقهم على المضاربة ومنازعتهم في المساقاة والمزارعة وهما ثابتان بالنص، والمضاربة ليس فيها نص وإنما فيها عمل الصحابة رضي الله عنه، ولهذا كان فقهاء الحديث يؤصلون أصلاً بالنص، ويفرعون عليه، لا يتنازعون في الأصل المنصوص ويوافقون فيما لا نص فيه. انتهى.
দলিল (الدليل)

প্রথম নীতি: দলিল (الدليل) হলো সেই মূলভিত্তি (أصل) যার ওপর মাসআলা (مسألة) প্রতিষ্ঠিত হয়

…

দলিল (الدليل)

প্রথম নীতি: দলিল (الدليل) হলো সেই মূলভিত্তি (أصل) যার ওপর মাসআলা (مسألة) প্রতিষ্ঠিত হয়

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ যেমনটি মাজমুউল ফাতাওয়া "৩০/২৬৯"-এ বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো এমন কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) প্রদান করেন যা একটি মূলনীতি (قاعدة) সাব্যস্ত করে, কিন্তু সেই বর্ণনাটি (نص) কোনো কোনো আলেমের কাছে অস্পষ্ট থেকে যায়, যার ফলে তারা সেই মূলনীতির (قاعدة) কিছু বিধানের (أحكام) ক্ষেত্রে অন্যদের সাথে একমত হন, আর যে বিষয়ে তাদের কাছে সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) পৌঁছেনি সে বিষয়ে তারা বিবাদে লিপ্ত হন। যেমন মুদারাবাহ-এর বিষয়ে তাদের ঐক্যমত এবং মুসাকাত ও মুজারাআহ-এর বিষয়ে তাদের মতপার্থক্য, অথচ এ দুটি বিষয় সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) দ্বারা প্রমাণিত (ثابت); অন্যদিকে মুদারাবাহ-এর ক্ষেত্রে কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) নেই বরং এতে সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমল রয়েছে। এই কারণে হাদিসের ফকিহগণ সুস্পষ্ট বর্ণনার (نص) ভিত্তিতে একটি মূলনীতি (أصل) নির্ধারণ করতেন এবং তার ওপর ভিত্তি করে শাখা-প্রশাখা বের করতেন; তারা সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত (منصوص) মূলনীতির (أصل) বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হতেন না এবং যে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) নেই তাতে তারা ঐকমত্য পোষণ করতেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌القاعدة الثانية: الأحكام الشرعية تؤخذ من الحديث الصحيح ولا يجوز أخذها من الحديث الضعيف

لا يجوز في دين الله عز وجل أن يؤخذ فيه بحكم من الأحكام إلا من الحديث الصحيح، وأما الحديث الضعيف فيطرح ولا يعمل به، فقد ميَّز
দ্বিতীয় নীতি: শরয়ি বিধানসমূহ বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস থেকে গ্রহণ করা হয় এবং তা দুর্বল (ضعيف) হাদিস থেকে গ্রহণ করা বৈধ নয়

মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর দ্বীনে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস ব্যতীত কোনো বিধান গ্রহণ করা বৈধ নয়। আর দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্জন করা হবে এবং তা অনুযায়ী আমল করা হবে না; কেননা পার্থক্য করা হয়েছে
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২২)
الله عز وجل هذه الأمة بالإسناد، فالإسناد من قوام الدين فيجب العمل بالإسناد الصحيح ويترك الإسناد الضعيف، ولا يشرع لأي مسلم أن يأخذ حكما من حديث ما حتى ينظر فيه أولاً: هل صح سند ذلك الحديث أم لا؟ .

قال عبد الله بن أحمد بن حنبل "كما في إعلام الموقعين 4/179": سألت أبي عن الرجل يكون وعنده الكتب المصنفة فيها قول رسول الله صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين وليس للرجل بصر بالحديث الضعيف المتروك ولا الإسناد القوي عن الضعيف فيجوز أن يعمل بما شاء ويتخير منها فيفتي به ويعمل به؟ قال: لا يعمل حتى يسأل ما يؤخذ به منها فيكون يعمل على أمر صحيح، ويسأل عن ذلك أهل العلم. انتهى.

وقال الإمام مسلم صاحب الصحيح في كتاب التمييز "218": اعلم رحمك الله أن صناعة الحديث ومعرفة أسبابه من الصحيح والسقيم إنما هي لأهل الحديث خاصة، لأنهم الحفاظ لروايات الناس العارفين بها دون غيرهم إذ الأصل الذي يعتمدون لأديانهم: السنن والآثار المنقولة من عصر إلى عصر من لدن نبينا صلى الله عليه وسلم إلى عصرنا هذا.

وقال ابن رجب في فضل علم السلف "57": فأما الأئمة وفقهاء أهل الحديث فإنهم يتبعون الحديث الصحيح حيث كان.

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية كما في مجموع الفتاوى "1/250": لا يجوز أن يعتمد في الشريعة على الأحاديث الضعيفة التي ليست
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এই উম্মতকে ইসনাদ (الإسناد) দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, কেননা ইসনাদ (الإسنাদ) হলো দ্বীনের অন্যতম স্তম্ভ। সুতরাং সহিহ (صحيح) ইসনাদ অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব এবং দুর্বল (ضعيف) ইসনাদ বর্জন করা আবশ্যক। কোনো মুসলমানের জন্য কোনো হাদিস থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো বিধান গ্রহণ করা বৈধ নয়, যতক্ষণ না সে প্রথমে তাতে দৃষ্টিপাত করে যে: সেই হাদিসের সনদ (سند) কি সহিহ (صحيح) হয়েছে নাকি হয়নি?

আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন (যেমনটি ইলামুল মুয়াক্কিঈন ৪/১৭৯-এ রয়েছে): আমি আমার পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যার কাছে এমন কিছু সংকলিত গ্রন্থ রয়েছে যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবী ও তাবেয়ীদের বাণী বিদ্যমান; কিন্তু সেই ব্যক্তির দুর্বল (ضعيف) ও পরিত্যক্ত (متروك) হাদিস সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই এবং শক্তিশালী (قوي) ইসনাদ (إسناد) থেকে দুর্বল (ضعيف) ইসনাদ পৃথক করার মতোও কোনো অন্তর্দৃষ্টি নেই। এমতাবস্থায় তার জন্য কি নিজের ইচ্ছামতো আমল করা এবং সেখান থেকে পছন্দ করে ফতোয়া দেওয়া ও আমল করা বৈধ হবে? তিনি বললেন: সে আমল করবে না যতক্ষণ না সে জিজ্ঞাসা করে জেনে নেয় যে এর মধ্য থেকে কোনটি গ্রহণ করা হবে, যাতে সে একটি সহিহ (صحيহ) বিষয়ের ওপর আমল করতে পারে; আর এই বিষয়ে সে আহলে ইলম বা আলেমদের জিজ্ঞাসা করবে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

সহিহ গ্রন্থের সংকলক ইমাম মুসলিম কিতাবুত তাময়িজ (২১৮)-এ বলেন: জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, হাদিস শাস্ত্র এবং এর সহিহ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) হওয়ার কারণসমূহ চিহ্নিত করা কেবল হাদিস বিশারদদেরই বিশেষ কাজ। কারণ তারাই মানুষের বর্ণনাগুলো মুখস্থ রাখেন এবং অন্য কারো তুলনায় সেগুলো সম্পর্কে অধিক অবগত। যেহেতু তারা তাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে যে মূলভিত্তির ওপর নির্ভর করেন তা হলো: আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত যুগ পরম্পরায় বর্ণিত সুন্নাহ ও আসারসমূহ।

ইবনে রজব ফাদলু ইলমিস সালাফ (৫৭)-এ বলেন: পক্ষান্তরে ইমামগণ এবং হাদিস বিশারদ ফকিহগণ যেখানেই সহিহ (صحيহ) হাদিস প্রাপ্ত হন, সেখানেই তারা তার অনুসরণ করেন।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ যেমনটি মাজমুউল ফাতাওয়া (১/২৫০)-এ বলেছেন: শরিয়তের ক্ষেত্রে এমন দুর্বল (ضعيفة) হাদিসসমূহের ওপর নির্ভর করা বৈধ নয় যা...
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৩)
صحيحة ولا حسنه. انتهى.

وقال الأنصاري في فتح الباقي في شرح ألفية العراقي: من أراد الاحتجاج بحديث من السنن أو المسانيد إن كان متأهلاً لمعرفة ما يحتج به من غيره فلا يحتج به حتى ينظر في اتصال إسناده وأصول رواته، وإلا فإن وجد أحداً من الأئمة صححه أو حسنه فله تقليده، وإلا فلا يحتج به. انتهى.
বিশুদ্ধ (صحيح) নয় এবং হাসান (حسن)-ও নয়। সমাপ্ত।

আনসারি 'ফাতহুল বাকি ফি শারহি আলফিয়াতিল ইরাকি' গ্রন্থে বলেছেন: যে ব্যক্তি সুনান বা মুসনাদ গ্রন্থসমূহ থেকে কোনো হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجاج) করতে চায়, সে যদি দলিলযোগ্য ও অযোগ্য বর্ণনার পার্থক্য নিরূপণে যোগ্য হয়, তবে সে যেন ততক্ষণ পর্যন্ত তা দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجاج) না করে যতক্ষণ না সে এর সনদের (إسناد) নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) এবং বর্ণনাকারীদের (رواة) মৌলিক অবস্থা (أصول) পর্যবেক্ষণ করে। অন্যথায়, যদি সে ইমামগণের কাউকে পায় যিনি হাদিসটিকে বিশুদ্ধ (صحيح) বা হাসান (حسن) সাব্যস্ত করেছেন, তবে সে তাঁর অনুসরণ (تقليد) করতে পারে; নতুবা তা দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجاج) করা যাবে না। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌القاعدة الثالثة: لا فرق في عدم جواز العمل بالحديث الضعيف بين أن يكون في فضائل الأعمال أو في غير فضائل الأعمال

الأحكام التكليفية لا يشرع القول بها إلا بدليل صحيح، والاستحباب نوع من أنواع الحكم التكليفي، وعليه فلا يشرع استحباب شيء إلا بدليل صحيح، ففضائل الأعمال يجب إثباتها بالدليل الصحيح لأنها داخلة في الحكم التكليفي ألا وهو الاستحباب، والسلف الصالح ما كانوا يفرقون بين الحديث الوارد في فضائل الأعمال والحديث الوارد في بقية أمور الدين، ويوضح هذا أنهم تكلموا في التثبت في الأسانيد والتشديد في الأخذ بها والعمل بالصحيح منها، وما كانوا يستثنون من ذلك الحديث الوارد في فضائل الأعمال، ولا جاء عن أحد منهم في ذلك شيء قط، فإن قيل قد جاء عن الإمام أحمد وبعض الأئمة أنهم قالوا: إذا روينا في الأحكام والحلال والحرام تشدَّدنا، وإذا روينا في
তৃতীয় নীতি: আমলের ফজিলত (فضائل الأعمال) এবং অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বৈধতা না থাকার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই

শরিয়তের বিধিবিধান (الأحكام التكليفية) সম্পর্কে সহিহ (صحيح) দলিল ব্যতীত কোনো কথা বলা বৈধ নয়। আর মুস্তাহাব (الاستحباب) হওয়া হলো শরিয়তের বিধিবিধানের একটি প্রকার। সে অনুযায়ী, সহিহ (صحيح) দলিল ব্যতীত কোনো কিছু মুস্তাহাব (استحباب) হিসেবে সাব্যস্ত করা বৈধ নয়। অতএব, আমলের ফজিলতসমূহ (فضائل الأعمال) অবশ্যই সহিহ (صحيح) দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হতে হবে; কারণ তা শরিয়তের বিধিবিধানের অন্তর্ভুক্ত, আর তা হলো মুস্তাহাব (الاستحباب) হওয়ার বিধান। সালাফে সালেহীন আমলের ফজিলত (فضائل الأعمال) সংক্রান্ত হাদিস এবং দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ের হাদিসের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না। এটি এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, তারা সনদের (الأسانيد) সত্যতা যাচাই, তা গ্রহণে কঠোরতা অবলম্বন এবং কেবল সহিহ (صحيح) হাদিসের ওপর আমল করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তারা আমলের ফজিলত (فضائل الأعمال) সংক্রান্ত হাদিসকে এর থেকে ব্যতিক্রম মনে করতেন না এবং তাদের কারো থেকে এ বিষয়ে কখনোই অন্য কিছু বর্ণিত হয়নি। যদি বলা হয় যে, ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য কিছু ইমাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তারা বলেছেন: "যখন আমরা আহকাম (الأحكام) এবং হালাল ও হারাম (الحلال والحرام) বিষয়ে বর্ণনা করি তখন আমরা কঠোরতা অবলম্বন করি, আর যখন আমরা..."
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৪)
الفضائل والثواب والعقاب تساهلنا.

والجواب: أن المراد بهذا القول هو التساهل في الرواية وليس مشروعية العمل بذلك الضعيف في فضائل الأعمال، قال المعلمي في الأنوار الكاشفة "87": كان من الأئمة من إذا سمع الحديث لم يروه حتى يتبين له أنه صحيح أو قريب من الصحيح، أو يوشك أن يصح إذا وجد ما يعضده، فإذا كان دون ذلك لم يروه البتة ومنهم إذا وجد الحديث غير شديد الضعف وليس فيه حكم ولا سنة إنما هو في فضيلة عمل متفق عليه كالمحافظة على الصلوات ونحو ذلك لم يمتنع من روايته فهذا هو المراد بالتساهل في عبارتهم. انتهى.

وقد ذهب النووي إلى أن الحديث الضعيف في فضائل الأعمال يعمل به بالإجماع. وفي القول بالإجماع نظر، قال شيخ الإسلام ابن تيميه كما في مجموع الفتاوى "1/251": وذلك أن العمل إذا علم أنه مشروع بدليل شرعي، وروي في فضله حديث لا يعلم أنه كذب، جاز أن يكون الثواب حقاً، ولم يقل أحد من الأئمة: إنه يجوز أن يجعل الشيء واجباً أو مستحباً بحديث ضعيف، ومن قال هذا فقد خالف الإجماع. انتهى.

قلت: فقول شيخ الإسلام يدل على أن الإجماع على خلاف ما ادعاه النووي. والذي يظهر أن الخلاف حدث بعد العصور المتقدمة.

وقال شيخ الإسلام أيضا كما في مجموع الفتاوى "18/65":
ফযিলত, সওয়াব এবং শাস্তির বর্ণনায় আমরা শিথিলতা (تساهلنا) প্রদর্শন করেছি।

উত্তর হলো: এই উক্তির উদ্দেশ্য হলো বর্ণনার ক্ষেত্রে শিথিলতা (التساهل) অবলম্বন করা, আমলের ফযিলতের ক্ষেত্রে সেই দুর্বল (الضعيف) হাদিসের ওপর আমল করা শরয়িভাবে বৈধ হওয়া নয়। আল-মুয়াল্লিমী আল-আনওয়ারুল কাশিফাহ "৮৭" পৃষ্ঠায় বলেছেন: "আইম্মায়ে কেরামের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যারা কোনো হাদিস শুনলে তা বর্ণনা করতেন না যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হতো যে তা সহিহ (صحيح) বা সহিহ (الصحيح)-এর কাছাকাছি, অথবা সহিহ (يصح) হওয়ার উপক্রম হতো যদি এমন কিছু পাওয়া যায় যা তাকে শক্তিশালী করে। যদি বিষয়টি এর নিচে হতো তবে তিনি তা মোটেও বর্ণনা করতেন না। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ যখন দেখতেন যে হাদিসটি চরম দুর্বল (شديد الضعف) নয় এবং তাতে কোনো বিধান বা সুন্নাহ নেই, বরং তা কেবল সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়া বা এই জাতীয় কোনো সর্বসম্মত আমলের ফযিলত সম্পর্কে, তখন তিনি তা বর্ণনা করা থেকে বিরত হতেন না। তাদের পরিভাষায় শিথিলতা (التساهل) বলতে এটাই উদ্দেশ্য।" সমাপ্ত।

ইমাম নববী এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, আমলের ফযিলতের ক্ষেত্রে দুর্বল (الضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বিষয়টি সর্বসম্মত (بالإجماع) ভাবে স্বীকৃত। তবে এই ইজমার দাবির বিষয়ে আপত্তি রয়েছে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ যেমনটি মাজমুউল ফাতাওয়া "১/২৫১" গ্রন্থে বলেছেন: "আর তা হলো, যখন কোনো আমল শরয়ি দলিলের মাধ্যমে বিধিবদ্ধ বলে জানা যায় এবং তার ফযিলত সম্পর্কে এমন একটি হাদিস বর্ণিত হয় যা মিথ্যা (كذب) বলে জানা নেই, তবে সেই সওয়াব সত্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু ইমামগণের কেউই এমন কথা বলেননি যে, কোনো দুর্বল (ضعيف) হাদিসের মাধ্যমে কোনো বিষয়কে ওয়াজিব (واجباً) বা মুস্তাহাব (مستحباً) সাব্যস্ত করা জায়েয। যে ব্যক্তি এটি বলেছে, সে ইজমার বিরোধিতা করেছে।" সমাপ্ত।

আমি বলছি: শাইখুল ইসলামের এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, ইজমা ইমাম নববীর দাবির বিপরীতে। আর যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এই মতভেদ প্রারম্ভিক যুগসমূহের পরবর্তী সময়ে সৃষ্টি হয়েছে।

শাইখুল ইসলাম মাজমুউল ফাতাওয়া "১৮/৬৫" গ্রন্থে আরও বলেছেন:
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৫)
وكذلك ما عليه العلماء من العمل بالحديث الضعيف في فضائل الأعمال ليس معناه إثبات الاستحباب بالحديث الذي لا يحتج به، فإن الاستحباب حكم شرعي، فلا يثبت إلا بدليل شرعي، ومن خبر عن الله أنه يحب عملاً من الأعمال من غير دليل شرعي، فقد شرع في الدين مالم يأذن به الله، كما لو أثبت الإيجاب أو التحريم، ولهذا يختلف العلماء في الاستحباب كما يختلفون في غيره، بل هو أصل في الدين مشروع. انتهى.

وقال الشوكاني في وبل الغمام "1/54": وقد سوغ بعض أهل العلم العمل بالضعيف في ذلك مطلقا، وبعضهم منع من العمل بما لم تقم به الحجة مطلقاً، وهو الحق، لأن الأحكام الشرعية متساوية الأقدام، فلا يحل أن ينسب إلى الشرع مالم يثبت كونه شرعاً، لأن ذلك من التقول على الله بمالم يقل، وكان في فضائل الأعمال، إذ جعل العمل منسوبا إليه نسبة المدلول إلى الدليل، فلا ريب أن العامل به، وإن كان لم يفعل إلا الخير من صلاة أو صيام أو ذكر، لكنه مبتدع في ذلك الفعل من حيث اعتقاده مشروعيته بما ليس شرع، وأجر ذلك العمل لا يوازي وزر الابتداع، ولم يكن فعل مالم يثبت مصلحة خالصة، بل معه عرضة بمفسدة هي إثم البدعة، ودفع المفاسد أهم من جلب المصالح..، وقيل: إن كان ذلك العمل الفاضل الذي دل عليه الحديث الضعيف داخلاً تحت عموم صحيح يدل على فضله ساغ العمل بالحديث الضعيف في ذلك، وإلا فلا، مثلاً: لو ورد حديث ضعيف يدل على فضيلة صلاة ركعتين
অনুরূপভাবে ফাজায়েলে আমলের (فضائل الأعمال) ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বিষয়ে আলেমগণের যে রীতি রয়েছে, তার অর্থ এটি নয় যে, এমন হাদিস দ্বারা মুস্তাহাব (استحباب) হওয়া সাব্যস্ত করা হবে যা দলিল হিসেবে অযোগ্য (لا يحتج به)। কেননা মুস্তাহাব (استحباب) হওয়া একটি শারয়ি বিধান, যা শারয়ি দলিল ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না। যে ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ দেয় যে তিনি কোনো একটি কাজ পছন্দ করেন অথচ এর কোনো শারয়ি দলিল নেই, তবে সে দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু প্রবর্তন করল যার অনুমতি আল্লাহ দেননি; যেমনটি হয় ওয়াজিব (إيجاب) বা হারাম (تحريم) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে। এই কারণেই আলেমগণ মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিষয়েও মতভেদ করেন যেমনটি তারা অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে করেন; বরং এটি দ্বীনের একটি বিধিবদ্ধ মূলনীতি। সমাপ্ত।

শাওকানি ওয়াবালুল গামাম (১/৫৪) গ্রন্থে বলেন: "কিছু আহলে ইলম এ ক্ষেত্রে সাধারণভাবে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করা বৈধ বলেছেন, আবার কেউ কেউ যে বিষয়ে দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়নি তার ওপর আমল করাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছেন, আর এটিই সত্য। কারণ শারয়ি বিধানসমূহ সমমর্যাদার অধিকারী, তাই শরিয়ত হিসেবে যা প্রমাণিত নয় তাকে শরিয়তের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা বৈধ নয়। কারণ এটি আল্লাহর নামে এমন কিছু বলা যা তিনি বলেননি। যদিও তা ফাজায়েলে আমলের (فضائل الأعمال) ক্ষেত্রে হয়, কেননা আমলকে সেদিকে এমনভাবে সম্বন্ধ করা হয় যেমনটি কোনো বক্তব্যকে তার দলিলের দিকে করা হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমলকারী যদিও নামাজ, রোজা বা জিকিরের মতো ভালো কাজ ছাড়া আর কিছু করছে না, কিন্তু সে সেই কাজের ক্ষেত্রে বিদআতি (مبتدع) হিসেবে গণ্য হবে; কেননা সে একে শরিয়তসম্মত মনে করে আমল করছে অথচ এটি শরিয়ত নয়। আর সেই আমলের সওয়াব বিদআতের পাপের সমান হতে পারে না। যে বিষয়টি প্রমাণিত নয় তা পালন করা নিছক কোনো কল্যাণ নয়, বরং এর সাথে অনিষ্টের আশঙ্কা রয়েছে যা হলো বিদআতের গুনাহ। আর অনিষ্ট দূর করা কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এবং বলা হয়েছে: যদি সেই উত্তম আমলটি—যা দুর্বল (ضعيف) হাদিস দ্বারা নির্দেশিত—এমন কোনো সাধারণ সহিহ (صحيح) দলিলের অন্তর্ভুক্ত হয় যা তার ফজিলত নির্দেশ করে, তবেই সেই দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করা বৈধ হবে, অন্যথায় নয়। উদাহরণস্বরূপ: যদি কোনো দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণিত হয় যা দুই রাকাত নামাজের ফজিলত নির্দেশ করে...
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৬)
في غير وقت كراهة فلا بأس بصلاة تلك الركعتين لأنه قد دل الدليل العام على فضلية الصلاة مطلقا إلا ما خص. يقال: إن كان العمل بذلك العام الصحيح فلا ثمرة للاعتداد بالخاص الذي لم يثبت إلا مجرد الوقوع في البدعة، وإن كان العمل بالخاص عاد الكلام الأول؛ وإن كان العمل بمجموعهما كان فعل الطاعة مشوبا ببدعة، من حيث إثبات عبادة شرعية بدون شرع. انتهى.

وقال ابن حجر في تبيين العجب "22": لا فرق في العمل بالحديث في الأحكام أو الفضائل، إذ الكل شرع. انتهى.

وللعلامة الألباني رحمه الله تعالى تفصيل طويل رائع في هذه المسألة في مقدمة صحيح الترغيب والترغيب فليرجع إليه.
অপছন্দনীয় সময় (وقت كراهة) ব্যতীত অন্য সময়ে এই দুই রাকাত সালাত আদায়ে কোনো অসুবিধা নেই; কারণ সাধারণ দলিল (الدليل العام) সাধারণভাবে সালাতের ফযিলতের ওপর প্রমাণ পেশ করে, যা নির্দিষ্ট (خص) করা হয়েছে তা ব্যতীত। বলা হয়ে থাকে: যদি সেই সহিহ (صحيح) সাধারণ দলিলের ওপর আমল করা হয়, তবে এমন বিশেষ (الخاص) দলিলের ওপর নির্ভর করার কোনো সার্থকতা নেই যা সাব্যস্ত হয়নি, বরং এতে কেবল বিদআতে (بدعة) লিপ্ত হওয়া হয়। আর যদি বিশেষ (الخاص) দলিলের ওপর আমল করা হয়, তবে পূর্বোক্ত কথাটিই ফিরে আসে; আর যদি উভয়টির সমন্বয়ে আমল করা হয়, তবে আনুগত্যের কাজটি বিদআতে (بدعة) মিশ্রিত হয়—শরিয়ত ব্যতিরেকে কোনো ইবাদতকে শরিয়তসম্মত হিসেবে সাব্যস্ত করার কারণে। সমাপ্ত (انتهى)।

ইবনে হাজার তাবয়ীনুল আজাব গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ২২) বলেছেন: বিধি-বিধান (الأحكام) বা ফাজায়েলের (الفضائل) ক্ষেত্রে হাদিসের ওপর আমল করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, কেননা সবই শরিয়ত। সমাপ্ত (انتهى)।

আল্লামা আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) সহিহ আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব-এর ভূমিকায় এই বিষয়ে একটি দীর্ঘ ও চমৎকার বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, তাই পাঠকদের সেদিকে দৃষ্টিপাত করা উচিত।
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌القاعدة الرابعة: يجب فهم الدليل على ما فهمه السلف الصالح

السلف الصالح جاءت الأدلة بتزكيتهم واتباع طريقهم، قال الله تعالى في كتابه الكريم: {والسَّابِقُونَ الأوَّلُونَ مِنَ المُهَاجِرِينَ والأنْصَارِ والذِينَ اتَّبَعُوهم بإحْسَانٍ رَضِيَ الله عَنْهُم وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُم جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأنهَارُ خَالِدينَ فيهَا أبَدًا ذَلكَ الفوْزُ العَظِيمُ} [التوبة: 100] .

وعن ابن مسعود أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "خير الناس قرني ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم". أخرجه البخاري "6429" ومسلم "2535"
চতুর্থ নীতি: প্রমাণকে (الدليل) অবশ্যই সালাফে সালেহীন (السلف الصالح) যেভাবে বুঝেছেন সেভাবে বোঝা আবশ্যক

সালাফে সালেহীনের (السلف الصالح) গুণকীর্তন বা সংশাপত্র (تزكية) এবং তাঁদের পথ অনুসরণের ব্যাপারে বহু প্রমাণ (الأدلة) বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে ইরশাদ করেছেন: “আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি তাঁদের জন্য প্রস্তুত করেছেন এমন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরকাল থাকবে। এটাই মহা সাফল্য।” [আত-তাওবাহ: ১০০]।

ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের (قرن) লোকসকল, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী।” এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ‘৬৪২৯’ এবং মুসলিম ‘২৫৩৫’
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৭)
فهم القدوة وهم الأسوة، فيجب على كل مسلم اتباعهم فيما ذهبوا إليه من فهم أدلة الكتاب والسنة لأنهم أعلم الناس وأفهم الناس بدلالة النصوص الشرعية، فإذا أخذ المسلم بغير فهمهم فإنه يضلُّ عن الصراط المستقيم، لأنهم عن بصيرة وقفوا وبعلم ثاقب نظروا.

قال ابن أبي زيد القيرواني في الجامع "117": التسليم للسنن لا تعارض برأي ولا تدفع بقياس، وما تأوله منها السلف الصالح تأولناه، وما عملوا به عملناه، وما تركوه تركناه، ويسعنا أن نمسك عما أمسكوا، ونتبعهم فيما بينوا، ونقتدي بهم فيما استنبطوا ورأوه من الحديث، ولا نخرج عن جماعتهم فيما اختلفوا فيه أو تأويله، وكل ما قدمنا ذكره فهو قول أهل السنة وأئمة الناس في الفقه والحديث.

وقال السمعاني كما في صون المنطق "158": إنا أمرنا بالإتباع وندبنا إليه، ونهينا عن الإبتداع وزجرنا عنه، وشعار أهل السنة اتباعهم للسلف الصالح، وتركهم كل ما هو مبتدع محدث. انتهى.

وقال قوام السنة الأصبهاني في كتابة الحجة في بيان المحجة "2/437، 440": وليس العلم بكثرة الرواية وإنما هو الإتباع والاستعمال، يقتدي بالصحابة والتابعين، وإن كان قليل العلم، ومن خالف الصحابة والتابعين فهو ضال، وإن كان كثير العلم.. إلى أن قال: وذلك أنه تبين للناس أمر دينهم فعلينا الإتباع، لأن الدين إنما جاء، من قبل الله تعالى لم يوضع على عقول الرجال وآرائهم فقد بين الرسول صلى الله عليه وسلم السنة لأمته،
তারা হলেন আদর্শ এবং অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাই কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের (أدلة) ক্ষেত্রে তাদের বুঝ বা অনুধাবনের অনুসরণ করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। কারণ তারা শরীয়তের নস বা ভাষ্যের (النصوص الشرعية) মর্মার্থ অনুধাবনে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী ও বিজ্ঞ। যদি কোনো মুসলিম তাদের বুঝ ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করে, তবে সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হবে। কারণ তারা প্রজ্ঞার ভিত্তিতে অটল ছিলেন এবং সূক্ষ্ম জ্ঞানের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।

ইবনে আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানি আল-জামি (১১৭) গ্রন্থে বলেছেন: সুন্নাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে হবে; একে কোনো ব্যক্তিগত মত (رأي) দ্বারা বিরোধিতা করা যাবে না এবং কিয়াস বা অনুমান (قياس) দ্বারা প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। সালাফে সালেহীন (السلف الصالح) সুন্নাহর যে ব্যাখ্যা (تأويل) করেছেন আমরাও সেই ব্যাখ্যাই গ্রহণ করি, তারা যা আমল করেছেন আমরাও তা আমল করি এবং তারা যা বর্জন করেছেন আমরাও তা বর্জন করি। তারা যা থেকে বিরত থেকেছেন আমাদের জন্যও তা থেকে বিরত থাকা সমীচীন। তারা যা স্পষ্ট করেছেন আমরা তার অনুসরণ করি এবং হাদিসের মধ্য থেকে তারা যা ইস্তিম্বাত বা আহরণ (استنبطوا) করেছেন ও সঠিক মনে করেছেন তাতে আমরা তাদের অনুসরণ করি। তাদের মতভেদ কিংবা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমরা তাদের জামাত বা দল (جماعة) থেকে বিচ্যুত হই না। আমরা যা কিছু উল্লেখ করেছি তার সবই আহলে সুন্নাহ (أهل السنة) এবং ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণের বক্তব্য।

সামআনি সউনুল মানতিক (১৫৮) গ্রন্থে বলেন: আমাদের অনুসরণের (الإتباع) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এর প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে; আর আমাদের বিদআত বা নবউদ্ভাবন (الإبتداع) থেকে নিষেধ ও সতর্ক করা হয়েছে। আহলে সুন্নাহর বৈশিষ্ট্য হলো সালাফে সালেহীনের (السلف الصالح) অনুসরণ করা এবং সকল প্রকার বিদআতি ও নবউদ্ভাবিত (محدث) বিষয় বর্জন করা। সমাপ্ত।

কাওয়ামুস সুন্নাহ আল-আসবাহানি তার আল-হুজ্জাহ ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ (২/৪৩৭, ৪৪০) গ্রন্থে বলেন: অধিক বর্ণনা বা রেওয়ায়েত (رواية) করার নাম জ্ঞান নয়, বরং জ্ঞান হলো অনুসরণ (الإتباع) ও আমল করা। মানুষ সাহাবী ও তাবেয়ীগণের অনুসরণ করবে, যদিও তার জ্ঞান অল্প হয়। আর যে ব্যক্তি সাহাবী ও তাবেয়ীগণের বিরোধিতা করবে সে পথভ্রষ্ট (ضال), যদিও তার জ্ঞান অনেক বেশি হয়... তিনি আরও বলেন: মানুষের কাছে তাদের দ্বীনের বিষয়সমূহ স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, তাই আমাদের কর্তব্য হলো অনুসরণ (الإتباع) করা। কারণ দ্বীন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে, এটি মানুষের বিবেক-বুদ্ধি বা মতামতের (آراء) ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য সুন্নাহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৮)
وأوضحها لأصحابه، فمن خالف أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم في شيء من الدين فقد ضل. انتهى.

وقال ابن رجب في كتاب فضل علم السلف على علم الخلف "72": فالعلم النافع من هذه العلوم كلها ضبط نصوص الكتاب والسنة وفهم معانيها، والتقيد في ذلك بالمأثور عن الصحابة والتابعين وتابعهيم في معاني القرآن والحديث، وفيما ورد عنهم من الكلام في مسائل الحلال والحرام، والزهد والرقائق والمعارف وغير ذلك. انتهى.

وقال شيخ الإسلام في كتاب الإيمان "114": وقد عدلت المرجئة في هذا الأصل "يعني الإيمان" عن بيان الكتاب والسنة وأقوال الصحابة والتابعين لهم بإحسان، واعتمدوا على رأيهم وعلى ما تأولوه بفهمهم اللغة، وهذه طريقة أهل البدع، ولهذا كان الإمام أحمد يقول: أكثر ما يخطيء الناس من جهة التأويل والقياس، ولهذا نجد المعتزلة والمرجئة والرافضة وغيرهم من أهل البدع يفسرون القرآن برأيهم ومعقولهم، وما تأولوه من اللغة، ولهذا تجدهم لا يعتمدون على أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين وأئمة المسلمين، فلا يعتمدون على السنة ولا على إجماع السلف وآثارهم، إنما يعتمدون على العقل واللغة، ونجدهم لا يعتمدون على كتب التفسير المأثور، والحديث وآثار السلف.

وقال كما في مجموع الفتاوى "10/362": فالعلم المشروع والنسك المشروع مأخوذ عن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وأما ما جاء عمن
...এবং তিনি তা তাঁর সাহাবীদের (الصحابة) কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি দ্বীনের কোনো বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের (الصحابة) বিরোধিতা করল, সে নিশ্চিতভাবেই পথভ্রষ্ট হলো। সমাপ্ত।

এবং ইবনে রজব 'ফাদলু ইলমিস সালাফ আলা ইলমিল খালাফ' (পৃষ্ঠা ৭২) গ্রন্থে বলেছেন: "এই সকল বিদ্যার মধ্যে উপকারী ইলম হলো কিতাব ও সুন্নাহর মূল পাঠসমূহ (نصوص) যথাযথভাবে আয়ত্ত করা (ضبط) এবং সেগুলোর অর্থ অনুধাবন করা। আর এ ক্ষেত্রে কুরআন ও হাদিসের অর্থের ব্যাপারে এবং সাহাবী (الصحابة), তাবিঈ (التابعين) ও তাঁদের অনুসারীদের (أتباع التابعين) থেকে হালাল-হারাম, যুহদ (বিরাগ), হৃদয়ের কোমলতা দানকারী বিষয় (الرقائق) ও তত্ত্বজ্ঞান (المعارف) ইত্যাদি বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত (المأثور) হয়েছে, তার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা।" সমাপ্ত।

শাইখুল ইসলাম 'কিতাবুল ঈমান' (পৃষ্ঠা ১১৪) গ্রন্থে বলেছেন: "মুরজিয়া (المرجئة) সম্প্রদায় এই মূলনীতির (অর্থাৎ ঈমান) ক্ষেত্রে কিতাব, সুন্নাহ এবং সাহাবী (الصحابة) ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণের (التابعين) বর্ণনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তারা তাদের নিজস্ব রায় (মত) এবং ভাষা সম্পর্কে তাদের নিজস্ব বুঝ অনুযায়ী কৃত ব্যাখ্যার (التأويل) ওপর নির্ভর করেছে। আর এটিই হলো বিদআতিদের (أهل البدع) পথ। এই কারণেই ইমাম আহমাদ বলতেন: মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে ভুল করে, তা ব্যাখ্যা (التأويل) এবং কিয়াস (القيাস)-এর দিক থেকে হয়ে থাকে। এই কারণেই আমরা দেখি যে মুতাজিলা (المعتزلة), মুরজিয়া (المرجئة), রাফেজি (الرافضة) এবং অন্যান্য বিদআতিরা (أهل البدع) কুরআনকে তাদের নিজস্ব রায় ও বুদ্ধিবৃত্তিক বুঝের আলোকে এবং ভাষার যে ব্যাখ্যা (التأويل) তারা দাঁড়িয়েছে তার ভিত্তিতে তাফসির করে। এজন্যই আপনি তাদের দেখবেন যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহ এবং সাহাবী (الصحابة), তাবিঈ (التابعين) ও মুসলিম ইমামগণের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে না। তারা সুন্নাহ, সালাফদের ইজমা (إجماع) এবং তাঁদের আছার বা বর্ণনাগুলোর (آثار) ওপর নির্ভর করে না; বরং তারা কেবল বুদ্ধি ও ভাষার ওপর নির্ভর করে। আমরা তাদের আরও দেখি যে, তারা বর্ণনাভিত্তিক তাফসির (التفسير المأثور), হাদিস এবং সালাফদের আছার বা বর্ণনার (آثار) ওপর নির্ভর করে না।"

এবং তিনি 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (১০/৩৬২) গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন: "শরিয়তসম্মত ইলম (العلم المشروع) এবং শরিয়তসম্মত ইবাদত (النسك) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের (الصحابة) থেকে গৃহীত। আর তাঁদের পরবর্তী যাদের থেকে যা এসেছে..."
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৯)
بعدهم فلا ينبغي أن يجعل أصلاً، وإن كان صاحبه معذوراً، بل مأجوراً لاجتهاد أو تقليد، فمن بنى الكلام في علم الأصول والفروع على الكتاب والسنة والآثار المأثورة السابقين فقد أصاب طريق النبوة وكذلك من بنى الإرادة والعبادة والعمل والسماع المتعلق بأصول الأعمال وفروعها من الأحوال القلبية والأعمال البدنية على الإيمان والسنة والهدى الذي كان عليه محمد صلى الله عليه وسلم وأصحابه فقد أصاب طريق النبوة، وهذه طريق أئمة الهدى، تجد الإمام أحمد إذا ذكر أصول السنة قال: هي التمسك بما كان عليه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكتب التفسير المأثور عن النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين، وعلى ذلك يعتمد في أصوله العلمية وفروعه..، وكذلك في الزهد والرقائق والأحوال فإنه اعتمد في كتاب الزهد على المأثور على الأنبياء صلوات الله عليهم من آدم إلى محمد ثم على طريق الصحابة والتابعين ولم يذكر من بعدهم. انتهى.
তাঁদের পরবর্তী কাউকে মূল ভিত্তি (أصل) হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়, যদিও এর প্রবক্তা তাঁর গবেষণা (اجتهاد) বা অনুকরণের (تقليد) কারণে ক্ষমার যোগ্য, বরং সওয়াবের অধিকারী হন। সুতরাং যে ব্যক্তি দ্বীনের মূলনীতি (أصول) ও শাখা-প্রশাখা (فروع) সংক্রান্ত ইলমের আলোচনা কিতাব, সুন্নাহ এবং পূর্বসূরিদের বর্ণিত ঐতিহ্যের (الآثار المأثورة) ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলে, সে নবুওয়াতের পথ প্রাপ্ত হয়েছে। তদ্রূপ যে ব্যক্তি আমলের মূলনীতি (أصول) ও শাখা-প্রশাখা (فروع) সংক্রান্ত ইচ্ছা, ইবাদত, আমল এবং শ্রবণের বিষয়গুলো—যা অন্তরের অবস্থা এবং শারীরিক আমলের সাথে সম্পৃক্ত—ঈমান, সুন্নাহ এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ (صحابة) যে হিদায়াতের ওপর ছিলেন তার ভিত্তিতে গড়ে তোলে, সে নবুওয়াতের পথ প্রাপ্ত হয়েছে। আর এটিই হলো হিদায়াতের ইমামগণের পথ। আপনি ইমাম আহমাদকে দেখতে পাবেন, যখন তিনি সুন্নাহর মূলনীতি (أصول) উল্লেখ করতেন, তখন বলতেন: "এটি হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (صحابة) যে বিষয়ের ওপর ছিলেন তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা।" আর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সাহাবী (صحابة) এবং তাবেয়ীদের (تابعين) থেকে বর্ণিত তাফসীর (التفسير المأثور) সংকলন করেছেন এবং এর ওপরই তিনি তাঁর ইলমী মূলনীতি (أصول) ও শাখা-প্রশাখার (فروع) ক্ষেত্রে নির্ভর করতেন... তদ্রূপ দুনিয়াবিমুখতা (زهد), হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা (رقائق) এবং আধ্যাত্মিক অবস্থার ক্ষেত্রেও তিনি তাঁর কিতাবুজ যুহদ-এ আদম থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত আম্বিয়া কিরামের বর্ণিত ঐতিহ্যের (المأثور) ওপর এবং এরপর সাহাবী (صحابة) ও তাবেয়ীদের (تابعين) পথের ওপর নির্ভর করেছেন এবং তাঁদের পরবর্তী কারো কথা উল্লেখ করেননি। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মিন উসূলিল ফিকহ আলা মানহাজি আহলিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌القاعدة الخامسة: يجب الأخذ بظاهر الدليل وعدم تأويله

أهل الحديث وسط بين الذين بالغوا في الأخذ بالظاهر ولم يلتفتوا إلى معاني الأدلة وبين الذين فرطوا في الأخذ بالظاهر، فردوا ظاهر الدليل بأدنى شيء أو أولوا الحديث حتى يوفقوا بين الحديث وبين قول إمامهم، فأهل الحديث يمشون على ظاهر الدليل.

ولا يأولونه ويخرجونه عن ظاهره إلا بدليل يدل على صحة ذلك
পঞ্চম মূলনীতি: দলিলের (دليل) বাহ্যিক রূপ (ظاهر) গ্রহণ করা আবশ্যক এবং এর অপব্যাখ্যা (تأويل) না করা

আহলে হাদিসগণ ঐ সকল ব্যক্তিদের মাঝে মধ্যপন্থী যারা দলিলের বাহ্যিক রূপ (ظاهر) গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিশয়োক্তি করেছে এবং দলিলের মর্মার্থের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি, আর ঐ সকল ব্যক্তিদের মাঝেও যারা দলিলের বাহ্যিক রূপ গ্রহণের ক্ষেত্রে অবহেলা করেছে; ফলে তারা সামান্য অজুহাতে দলিলের বাহ্যিক অর্থকে (ظاهر) প্রত্যাখ্যান করেছে অথবা হাদিসকে এমনভাবে অপব্যাখ্যা (تأويل) করেছে যাতে তারা হাদিস ও তাদের ইমামের মতের মাঝে সমন্বয় সাধন করতে পারে। অতএব, আহলে হাদিসগণ দলিলের বাহ্যিক রূপের (ظاهر) অনুসারী।

এবং তারা এর অপব্যাখ্যা (تأويل) করেন না এবং একে এর বাহ্যিক রূপ থেকে বিচ্যুত করেন না, যদি না এমন কোনো দলিল (دليل) থাকে যা এর যথার্থতা নির্দেশ করে।