(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
من أخلاق الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم   (عبد المحسن العباد)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: من أخلاق الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم

المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر

الناشر: دار ابن خزيمة

الطبعة: الأولى، 1420هـ/2000م

عدد الصفحات: 91

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র থেকে   (আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


গ্রন্থ: সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র থেকে

লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বাদর

প্রকাশক: দার ইবনে খুযাইমাহ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২০ হিজরী/২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

…

من أخلاق الرسول صلى الله عليه وسلم

للشيخ: عبد المحسن العباد البدر

المدرس في الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله حمداً كثيراً طيبا مبارك فيه كما يحب ربنا ويرضى، نحمده سبحانه ولا نحصي ثناء عليه أرسل نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله فارتضى له الإسلام دينا، وجعل القرآن له خلقا، أمتن عليه بالصفات الفاضلة، ثم أثنى عليه قائلا: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} .ونشهد أن لا إ له إلا الله وحده لا شريك له، له الخلق والأمر وبيده الخير وهو على كل شيء قدير، يعطي من يشاء بفضله ويمنع من يشاء بعدله، قسم بينهم أخلاقهم كما قسم بينهم أرزاقهم فجعل نصيب المصطفى صلى الله عليه وسلم من الرزق كفافا ومن الأخلاق أكملها وأحسنها وأوفاها، {ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ}

ونشهد أن محمدا عبده ورسوله وخليله وخيرته من خلقه بعثه الله إلى أهل المعمورة ليجدد به صلة
ভূমিকা

…

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র থেকে

শায়খ: আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ আল-বাদর

মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময়, যেমনটি আমাদের রব পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আমরা তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা পূর্বক প্রশংসা করি এবং তাঁর প্রশংসার ব্যাপ্তি আমরা নিরূপণ করতে পারি না। তিনি তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে একে সকল দীনের উপর বিজয়ী করেন, আর তিনি তাঁর জন্য ইসলামকে দীন হিসেবে মনোনীত করেছেন। তিনি আল-কুরআনকে তাঁর চরিত্রে পরিণত করেছেন এবং তাঁকে শ্রেষ্ঠ গুণাবলী দ্বারা ধন্য করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন: "আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।" আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সৃষ্টি ও আদেশ তাঁরই এবং কল্যাণ আল্লাহর হাতে, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তিনি তাঁর অনুগ্রহে যাকে ইচ্ছা দান করেন এবং তাঁর ন্যায়বিচারের মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা বঞ্চিত করেন। তিনি মানুষের মাঝে তাদের চরিত্র বণ্টন করেছেন যেভাবে তাদের মাঝে তাদের রিজিক বণ্টন করেছেন। ফলে তিনি মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিজিকের অংশ করেছেন প্রয়োজন মাফিক এবং চরিত্রের অংশ করেছেন সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ, সুন্দর ও পরিপূর্ণ। "এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন, আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।"

আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, তাঁর খলীল এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত ব্যক্তি; আল্লাহ তাঁকে বিশ্ববাসীর কাছে প্রেরণ করেছেন যাতে তাঁর মাধ্যমে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করেন।
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৬)
السماء بالأرض، فأنزل عليه الكتاب مصدقا لما بين يديه من الكتاب ومهيمنا عليه، ختم به الرسل وختم بكتابه الكتب وجعله معجزته الخالدة، فهدى الناس به إلى الصراط المستقيم وحذرهم السبل التي تنتهي بهم إلى الجحيم، وأخرجهم به من الظلمات إلى النور، ومن وحشة القلوب وتقلباتها في أنواع المعبودات إلى انسها وثباتها على عبادة فاطر السموات والأرض، قد أعظم الله عليه المنة وأتم به وعليه النعمة إذ بعثه ليتم مكارم الأخلاق. اللهم صل وسلم وبارك على عبدك ورسولك نبينا محمد وعلى آله وأصحابه الذين اختارهم الله لصحبته ونشر سنته، فجعلهم طليعة الخيار، وصفوة الأبرار، وعلى من سلك سبيلهم وسار على منوالهم مترسما خطاهم، مقتفيا آثارهم، عامر القلب بحبهم، رطب اللسان بذكرهم بالجميل اللائق بهم بالثناء عليهم بما هم أهله والدعاء لهم بما علمنا الله في قوله: {رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالأِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي
আসমানের সাথে যমীনকে (সংযুক্ত করেছেন), অতঃপর তিনি তাঁর ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর তদারককারী। তাঁর মাধ্যমে তিনি রাসূলদের আগমনের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং তাঁর কিতাবের মাধ্যমে কিতাবসমূহের ধারা সমাপ্ত করেছেন এবং একে তাঁর চিরস্থায়ী মুজেযা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি মানুষকে সরল পথের দিশা দিয়েছেন এবং তাদের সেই সব পথ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন যা তাদের জাহান্নামে নিয়ে যায়। এর মাধ্যমে তিনি তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন এবং নানাবিধ উপাস্যের আবর্তে হৃদয়ের অস্থিরতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকে মুক্ত করে আসমান ও যমীনের স্রষ্টার ইবাদতে অবিচলতা ও প্রশান্তি দান করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর মহান অনুগ্রহ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে ও তাঁর ওপর নেয়ামত পূর্ণ করেছেন যেহেতু তিনি তাঁকে পাঠিয়েছেন সর্বোত্তম চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্য। হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সেই সাহাবীদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন, যাদের আল্লাহ তাঁর সাহচর্য ও সুন্নাহ প্রচারের জন্য মনোনীত করেছেন। ফলে তিনি তাঁদেরকে মনোনীতদের অগ্রসেনানি এবং পুণ্যবানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। এবং (সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক) তাঁদের ওপর যারা তাঁদের পথ অবলম্বন করেছে, তাঁদের আদর্শে পথ চলেছে, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে এবং তাঁদের চিহ্ন অনুসরণ করে চলেছে। যাদের অন্তর তাঁদের মহব্বতে আবাদ, যাদের জিহ্বা তাঁদের জন্য উপযুক্ত ও সুন্দর প্রশংসায় সিক্ত এবং তাঁদের জন্য সেভাবেই দোয়া করে যা আল্লাহ তাঁর বাণীতে আমাদের শিখিয়েছেন: "হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের আগে অতিক্রান্ত হয়েছেন এবং আমাদের অন্তরে..."
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৭)
قُلُوبِنَا غِلاً لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} .

أما بعد: فموضوع هذه المحاضرة موضوع حبيب إلى النفوس المؤمنة هو (أخلاق النبي صلى الله عليه وسلم قبل البعثة وبعدها) وكيف لا يكون حبيبا إلى النفوس الحديث عن أخلاق نبي بعثة الله رحمة للعالمين، نبي لا نكون مؤمنين حتى يكون أحب إلينا من أنفسنا ووالدينا والناس أجمعين، نبي لا يؤمن أحدنا حتى يكون هواه تبعا لما جاء به صلى الله عليه وسلم، نبي رغم أنف ثم رغم أنف ثم رغم أنف من ذكره عنده فلم يصل عليه صلى الله عليه وسلم وبارك عليه وعلى آله وأصحابه واتباعه إلى يوم الدين. وهذا الموضوع العظيم الذي اخترته وآثرت الحديث فيه اعتذر مقدما عن تقصيري في توفيته حقه واعتقد أن توفيته حقه على الحقيقة نادر إن لم يكن متعذرا لكن كما يقولون.. ما لا يدرك كثيرة لا يترك قليلة.

نعم إن جهد المقل أعرضه في هذه السوق التي أتاحت لي رئاسة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة أن أساهم فيها، وأسأل الله العظيم رب كل شئ ومليكه أن يوفقنا
...আমাদের অন্তরে মুমিনদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।} .

অতঃপর: এই আলোচনার বিষয়বস্তু মুমিনদের হৃদয়ের নিকট অত্যন্ত প্রিয় একটি বিষয়, আর তা হলো— (নবুওয়াতের আগে ও পরে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চরিত্র)। এমন একজন নবীর চরিত্র সম্পর্কে আলোচনা কেনই বা হৃদয়ের কাছে প্রিয় হবে না, যাকে আল্লাহ বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন; এমন একজন নবী, যাঁর প্রতি আমাদের ভালোবাসা আমাদের নিজেদের জীবন, পিতামাতা এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে বেশি না হওয়া পর্যন্ত আমরা মুমিন হতে পারি না; এমন একজন নবী, যাঁর আনীত বিধানের অনুসারী নিজের খেয়ালখুশি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কেউ পূর্ণ মুমিন হতে পারে না (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম); এমন একজন নবী, যাঁর নাম কারো নিকট উল্লেখ করা হলো অথচ সে তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করল না, তার নাক ধূলিমলিন হোক, তারপর তার নাক ধূলিমলিন হোক, অতঃপর তার নাক ধূলিমলিন হোক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)—তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর অনুসারীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমি যে মহান বিষয়বস্তুটি পছন্দ করেছি এবং যে বিষয়ে কথা বলাকে প্রাধান্য দিয়েছি, তার হক যথাযথভাবে আদায় করতে আমার ত্রুটির জন্য আমি আগেভাগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি যে, এই বিষয়ের হক বাস্তবে পুরোপুরি আদায় করা দুর্লভ, এমনকি অসম্ভবও হতে পারে। কিন্তু যেমনটি বলা হয়— যার পূর্ণ অংশ অর্জন করা সম্ভব নয়, তার সামান্যটুকুও বর্জন করা উচিত নয়।

হ্যাঁ, মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা কর্তৃপক্ষ আমাকে এই ইলমী বাজারে অবদান রাখার যে সুযোগ দিয়েছেন, সেখানে আমি আমার এই সামান্য সামর্থ্য পেশ করছি। আমি মহান আল্লাহ, যিনি সবকিছুর প্রতিপালক ও মালিক, তাঁর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের তাওফিক দান করেন।
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১১)
جميعا للتأدب بآداب هذا النبي الكريم صلوات الله وسلامه عليه، وأن يحينا على دين الإسلام الذي ارتضاه لنا دينا حتى يتوفانا عليه إنه ولي ذلك والقادر عليه ولا حول ولا قوة إلا به. وقبل الشروع في نفس الموضوع أرى أن أتحدث بين يديه إجمالا عن شدة الحاجة إلى بعثته صلى الله عليه وسلم، واختيار الله له واعتزاز المشركين على ذلك، والامتنان على الناس ببعثته، وضرب أمثلة للأمور والخصال التي حصلت بين يدي بعثته توطئة وتمهيدا لها.
আমরা সকলে যেন এই সম্মানিত নবীর শিষ্টাচারসমূহ অর্জনে সচেষ্ট হই—আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—এবং তিনি যেন আমাদের ইসলাম ধর্মের ওপর জীবিত রাখেন, যা তিনি আমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন, যতক্ষণ না তিনি আমাদের সেই অবস্থাতেই মৃত্যু দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান, আর আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই। মূল বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে আমি এর উপক্রমণিকা হিসেবে তাঁর প্রেরণের তীব্র প্রয়োজনীয়তা—তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—তাঁর প্রতি আল্লাহর নির্বাচন এবং এ নিয়ে মুশরিকদের অহমিকা, তাঁর প্রেরণের মাধ্যমে মানুষের প্রতি অনুগ্রহ এবং তাঁর প্রেরণের প্রাক্কালে এর ভূমিকা ও প্রস্তুতি হিসেবে সংঘটিত বিষয়াদি ও বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ প্রদান সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা সমীচীন মনে করছি।
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌شدة الحاجة إلى بعثته صلى الله عليه وسلم:

ما أكثر نعم الله على عباده وما أحوجهم دائما وأبداً إلى شكره سبحانه على هذه النعم التي أمتن عليهم بها في قوله: {وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لا تُحْصُوهَا}
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরণের তীব্র আবশ্যকতা:

বান্দাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতসমূহ কতই না অগণিত এবং এই সকল নেয়ামত—যা দিয়ে তিনি তাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন—সেজন্য সর্বদা ও চিরকাল তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য তারা কতই না মুখাপেক্ষী; যেমনটি তিনি তাঁর এই বাণীতে উল্লেখ করেছেন: "আর তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, তবে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯)
وقوله: {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ} وأعظم نعمة أنعم بها على هذه الأمة أن بعث فيها رسولها الكريم محمد صلى الله عليه وسلم ليرشد إلى كل نافع في الحاضر والمستقبل، ويحذر من كل ضار في العاجل والآجل، أرسله على حين فترة من الرسل، واند راس من الكتب في وقت انتشرت فيه الضلالة وعمت فيه الجهالة وبلغت البشرية منتهى الانحطاط في العقائد والعادات والأخلاق فانتشلهم به من هوة الضلالة ورفعهم إلى صرح العلم والهداية، فأزاح به عن النفوس تعلقها بغير خالقها وفاطرها سبحانه وتعالى، ووجهها إليه بقلبها وقالبها حتى لا يكون فيها محل لغيره سبحانه، بل تكون معمورة بحبة وخوفه ورجائه والتوكل عليه والإنابة إليه تستسلم لأوامره، وترعوي عن زواجره ونواهيه.

এবং তাঁর বাণী: {তোমাদের নিকট যে সমস্ত নিয়ামত রয়েছে তা আল্লাহরই পক্ষ থেকে}। আর এই উম্মতের প্রতি তিনি যে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত দান করেছেন তা হলো তাদের মাঝে তাঁর সম্মানিত রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ করা, যাতে তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যতের সকল কল্যাণকর বিষয়ের দিকে পথপ্রদর্শন করেন এবং ইহকাল ও পরকালের সকল অকল্যাণকর বিষয় থেকে সতর্ক করেন। তিনি তাঁকে এমন এক সময়ে প্রেরণ করেছেন যখন দীর্ঘকাল কোনো রাসূল প্রেরিত হননি এবং আসমানি কিতাবসমূহের শিক্ষা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল; এমন এক সময়ে যখন পথভ্রষ্টতা ছড়িয়ে পড়েছিল, মূর্খতা সর্বব্যাপী হয়েছিল এবং মানবজাতি বিশ্বাস, আচার-আচরণ ও নৈতিকতার চরম অবক্ষয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। অতঃপর তিনি তাঁর মাধ্যমে তাদেরকে পথভ্রষ্টতার অতল গহ্বর থেকে উদ্ধার করেছেন এবং জ্ঞান ও হিদায়াতের সুউচ্চ প্রাসাদে উন্নীত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি মানুষের আত্মা থেকে তাদের স্রষ্টা ও উদ্ভাবক (সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা) ব্যতীত অন্য সবকিছুর সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছেন এবং আত্মাকে কায়মনোবাক্যে তাঁর দিকেই নিবিষ্ট করেছেন, যাতে সেখানে তিনি ব্যতীত অন্য কারও স্থান না থাকে; বরং তা যেন তাঁর ভালোবাসা, ভয়, আশা, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে পরিপূর্ণ থাকে, যা তাঁর আদেশের আনুগত্য করবে এবং তাঁর নিষেধ ও ধমক থেকে বিরত থাকবে।

(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌شيء من أمراض القلوب التي انتشرت قبيل بعثته صلى الله عليه وسلم، وكيف عالجها صلوات الله وسلامه عليه: خلق الله الإنسان مركبا من شيئين بدون وروح، وجعل لكل منهما ما يغذيه وينميه، وأرشد إلى طرق العلاج التي يعالج بها كل منهما عندما يطرأ عليه مرض أو سقم فقد أغدق نعمه على عباده وقال: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً} . أما الروح فقد استحكمت أمراضها قبل بعثته صلوات الله وسلامه عليه حتى كانت من قبيل الأموات فأحياها الله بما بعث به نبيه صلى الله عليه وسلم من الهدى والنور: {أَوَمَنْ كَانَ مَيْتاً فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُوراً يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَنْ مَثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِنْهَا} . وأرشد سبحانه إلى أن شفاء أمراضها وجلاء أسقامها إنما هو بما أنزل الله على محمد صلى الله
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরণের অব্যবহিত পূর্বে বিস্তার লাভ করা অন্তরের কিছু ব্যাধি এবং সেগুলোর প্রতিকারে তাঁর (সা.) গৃহীত চিকিৎসা পদ্ধতি: আল্লাহ তাআলা মানুষকে দেহ ও আত্মার সমন্বয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং এই উভয়ের জন্যই এমন ব্যবস্থা রেখেছেন যা তাদের পুষ্টি যোগায় ও বিকশিত করে। যখনই এগুলোতে কোনো রোগ বা ব্যাধি আক্রমণ করে, তখনই তিনি তাদের উভয়ের চিকিৎসার পদ্ধতিও বাতলে দিয়েছেন। তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর নেয়ামতসমূহ অকাতরে বর্ষণ করেছেন এবং বলেছেন: "তিনিই সেই সত্তা, যিনি যমীনে যা কিছু আছে তার সবকিছুই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন।" পক্ষান্তরে আত্মার কথা বলতে গেলে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরণের পূর্বে এর রোগসমূহ এমনভাবে জেঁকে বসেছিল যে তা মৃতদের পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে প্রেরিত হিদায়াত ও নূরের মাধ্যমে একে পুনরায় জীবন দান করেছেন: "যে ব্যক্তি মৃত ছিল, যাকে আমি পরে জীবিত করেছি এবং তাকে এমন এক নূর দান করেছি যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো হতে পারে যে অন্ধকারে নিমজ্জিত এবং সেখান থেকে বের হতে পারছে না?" আর সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আত্মার ব্যাধিসমূহের আরোগ্য এবং গ্লানি থেকে মুক্তি কেবল তাতেই নিহিত রয়েছে যা আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিল করেছেন।
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১১)
عليه وسلم فقال سبحانه وتعالى: {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ} وقال: {قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدىً وَشِفَاءٌ} .

نعم لقد بعث الله نبيه صلى الله عليه وسلم في مجتمع انتشرت فيه الأمراض القلبية على اختلافها وتنوعها وأعظم هذه الأمراض على الإطلاق تعلق القلوب بغير الله وصرف خالص حقه سبحانه إلى غيره من مخلوقاته، فعالج صلى الله عليه وسلم هذا المرض الخطير والداء العضال باستئصاله وتطهير القلوب من أدرانه أولا، ثم شغلها وعمارتها بحب الله وخوفه ورجائه وإفراده بالعبادة وحده لا شريك له لكونه سبحانه المتفرد بالخلق والإيجاد، فهو بحق المستحق لأن يعبد وحده لا يعبد معه غيره كائنا ما كان، وقد لقي صلوات الله وسلامه عليه من المشركين في هذا السبيل ألوانا مختلفة من الإيذاء، فصبر حتى ظفر بنصر الله وتأييده وكانت العاقبة له صلى الله عليه وسلم وأنصاره {وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ}
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর, অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: "আমি কুরআন থেকে এমন কিছু অবতীর্ণ করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত" এবং তিনি বলেন: "বলুন, এটি মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও আরোগ্য।"

হ্যাঁ, আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন এক সমাজে প্রেরণ করেছেন যেখানে বিভিন্ন প্রকারের অন্তরের রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল। আর এই সমস্ত রোগের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় ব্যাধি হলো আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো সত্তার সাথে অন্তরের গভীর সম্পর্ক স্থাপন করা এবং আল্লাহর নিরঙ্কুশ প্রাপ্য অধিকার তাঁর সৃষ্টিজগতভুক্ত অন্যের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বিপজ্জনক ব্যাধি ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা করেছেন প্রথমে এর মূল উৎপাটন এবং অন্তরকে এর পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করার মাধ্যমে; এরপর অন্তরকে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, ভয় ও আশার সঞ্চার করে আবাদ করেছেন এবং ইবাদতকে একমাত্র তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যাঁর কোনো শরিক নেই, কারণ তিনিই সৃষ্টি ও অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে একক সত্তা। সুতরাং তিনিই প্রকৃত উপাস্য হওয়ার যোগ্য হকদার, তাঁর সাথে অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না, সে যেই হোক না কেন। এই পথে তিনি (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) মুশরিকদের পক্ষ থেকে নানা প্রকারের নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছেন, অতঃপর তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন যতক্ষণ না আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থন লাভ করেছেন এবং চূড়ান্ত শুভ পরিণাম ছিল তাঁর ও তাঁর সাহায্যকারীদের জন্য। "আর সকল সম্মান কেবল আল্লাহর, তাঁর রাসূলের এবং মুমিনদের জন্য।"
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১২)
{وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى} ، ولقي أيضا منهم ألوانا من المعارضة والتعنت أوضحها الله في كتابه العزيز في سورة الحجر والإسراء وغيرها من سور القرآن ومن ذلك ما ذكره الله عنهم في سورة ص {أَجَعَلَ الآلِهَةَ إِلَهاً وَاحِداً إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ وَانْطَلَقَ الْمَلأُ مِنْهُمْ أَنِ امْشُوا وَاصْبِرُوا عَلَى آلِهَتِكُمْ إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ يُرَادُ مَا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي الْمِلَّةِ الآخِرَةِ إِنْ هَذَا إِلَّا اخْتِلاقٌ أَأُنْزِلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ مِنْ بَيْنِنَا} . وقد حملهم على هذه المقالة الكبر والحسد، ومثل هذه المقالة التي حكاها الله عن كفار قريش ما ذكره الله سبحانه في سورة القمر عن قوم صالح بقوله: {كَذَّبَتْ ثَمُودُ بِالنُّذُرِ فَقَالُوا أَبَشَراً مِنَّا وَاحِداً نَتَّبِعُهُ إِنَّا إِذاً لَفِي ضَلالٍ وَسُعُرٍ أَأُلْقِيَ الذِّكْرُ عَلَيْهِ مِنْ بَيْنِنَا بَلْ هُوَ كَذَّابٌ أَشِرٌ} وأبرز الطرق التي عالج بها صلى الله عليه وسلم ذلك الداء الذي هو أعظم الأدواء على الإطلاق إلزام
{আর শুভ পরিণাম তো তাকওয়ার জন্যই}, এছাড়া তিনি তাদের পক্ষ থেকে নানা প্রকারের বিরোধিতা ও হঠকারিতার সম্মুখীন হয়েছেন, যা আল্লাহ তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে সূরা আল-হিজর, সূরা আল-ইসরা এবং কুরআনের অন্যান্য সূরায় সুস্পষ্ট করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো যা আল্লাহ সূরা সা’দ-এ তাদের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন: {সে কি বহু উপাস্যকে এক ইলাহে পরিণত করেছে? এটি তো এক বিস্ময়কর ব্যাপার! তাদের নেতৃবৃন্দ এই বলে প্রস্থান করল যে, তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের উপাস্যদের উপাসনায় অটল থাক। নিশ্চয় এটি একটি বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক বিষয়। আমরা পূর্ববর্তী ধর্মেও এমন কথা শুনিনি। এটি একটি মনগড়া কথা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের মধ্য থেকে কি কেবল তারই ওপর উপদেশ অবতীর্ণ হলো?}। অহংকার ও হিংসাই তাদের এ কথা বলতে প্ররোচিত করেছিল। কুরাইশ কাফেরদের সম্পর্কে আল্লাহ যা বর্ণনা করেছেন, ঠিক তেমনই মহান আল্লাহ সূরা আল-কামারে সালেহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় সম্পর্কে বলেছেন: {সামূদ জাতি সতর্ককারীদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। অতঃপর তারা বলল: আমরা কি আমাদের মধ্য থেকেই একজন সাধারণ মানুষের অনুসরণ করব? তাহলে তো আমরা অবশ্যই পথভ্রষ্টতা ও উন্মাদনার মধ্যে পড়ে যাব। আমাদের মধ্য থেকে কি কেবল তারই ওপর উপদেশ অবতীর্ণ হলো? বরং সে এক চরম মিথ্যাবাদী ও দাম্ভিক}। আর এই ব্যাধি—যা নিঃসন্দেহে সর্বাপেক্ষা গুরুতর ব্যাধি—তা নিরাময়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে সকল প্রধানতম পন্থা অবলম্বন করেছিলেন তা হলো বাধ্যতামূলক করা...
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
الكفار بأن يفردوا الله في العبادة لما كانوا معترفين بانفراده سبحانه بالربوبية، وأكتفي بالتمثيل لذلك بما ذكره الله سبحانه في سورة النمل من الآيات التي أوضحت تلك الطريقة غاية الإيضاح وذلك قوله سبحانه: {آللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ أَمَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَأَنْزَلَ لَكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنْبَتْنَا بِهِ حَدَائِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ مَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُنْبِتُوا شَجَرَهَا أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ يَعْدِلُونَ أَمَّنْ جَعَلَ الأَرْضَ قَرَاراً وَجَعَلَ خِلالَهَا أَنْهَاراً وَجَعَلَ لَهَا رَوَاسِيَ وَجَعَلَ بَيْنَ الْبَحْرَيْنِ حَاجِزاً أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْلَمُونَ أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الأَرْضِ أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ قَلِيلاً مَا تَذَكَّرُونَ أَمَّنْ يَهْدِيكُمْ فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَنْ يُرْسِلُ الرِّيَاحَ بُشْراً بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ تَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ أَمَّنْ يَبْدأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَمَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} . وبما ذكره الله سبحانه في سورة الحج من التصوير العجيب والتمثيل البليغ لعجز المعبودات التي
কাফেরদের বাধ্য করা যাতে তারা ইবাদতে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করে, যেহেতু তারা রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের ক্ষেত্রে তাঁর একত্বকে স্বীকার করত। এর উদাহরণ হিসেবে আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা আন-নামলে যে আয়াতগুলো উল্লেখ করেছেন তা দিয়েই যথেষ্ট মনে করছি, যা এই পদ্ধতিকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছে। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ কি শ্রেষ্ঠ নাকি তারা যাদেরকে এরা শরীক করে? নাকি তিনি, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর আমি তা দ্বারা মনোরম উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করেছি; তার গাছপালা জন্মানোর ক্ষমতা তোমাদের ছিল না। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা (সত্যের) সমকক্ষ নির্ধারণ করে। নাকি তিনি, যিনি জমিনকে বসবাসের যোগ্য করেছেন এবং তার মাঝে নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন এবং তার জন্য সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছেন এবং দুই সমুদ্রের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেছেন? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না। নাকি তিনি, যিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ দূর করেন এবং তোমাদেরকে জমিনের খলিফা বানান? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো। নাকি তিনি, যিনি তোমাদেরকে স্থলের ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ দেখান এবং যিনি তাঁর রহমতের সামনে সুসংবাদবাহী হিসেবে বায়ু প্রেরণ করেন? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তারা যা শরীক করে আল্লাহ তা থেকে অতি উচ্চ। নাকি তিনি, যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করবেন এবং যিনি তোমাদেরকে আসমান ও জমিন থেকে রিজিক দান করেন? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বলুন, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ করো’}। এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা আল-হাজ্জে সেই সকল উপাস্যদের অক্ষমতার যে বিস্ময়কর চিত্রায়ন ও প্রাঞ্জল উদাহরণ পেশ করেছেন যা...
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
أشركوها مع الله حيث قال سبحانه: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَنْ يَخْلُقُوا ذُبَاباً وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِنْ يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئاً لا يَسْتَنْقِذُوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ. مَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ..} .

ومن الأمراض التي عالجها صلى الله عليه وسلم بحكمته الظلم والجور، وازدراء المساكين، والتفاخر بالأحساب والأنساب. فنشر فيهم العدل، وعمهم الاطمئنان والاستقرار، وصار مقياس الفضل بينهم تقوى الله بدلا من اعتبار ذلك بالحسب والنسب، وقد أعلنها صلى الله عليه وسلم صريحة في حجة الوداع في أعظم جمع شاهده عليه الصلاة والسلام حيث قال: "ألا لا فضل لعربي على عجمي إلا بالتقوى، الناس لآدم، وآدم من تراب، إن أكرمكم عند الله اتقاكم" أو كما قال. ولما بلغه صلى الله عليه وسلم شأن المخزومية التي سرقت أمر بقطع يدها فراجعه أسامه بن زيد فأنكر صلى الله عليه وسلم عليه ذلك وقال صلى
তারা সেগুলোকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করেছিল যেখানে তিনি পবিত্র সত্তা বলেছেন: {হে লোকসকল, একটি উপমা পেশ করা হয়েছে, সুতরাং তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো; তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো, তারা কখনই একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা এর জন্য সকলে একত্রিত হয়। আর যদি মাছি তাদের থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা সেটি তার কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। অন্বেষণকারী এবং যার কাছে অন্বেষণ করা হয়েছে উভয়েই দুর্বল। তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা শক্তিশালী, পরাক্রমশালী...}।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হিকমত বা প্রজ্ঞা দ্বারা যেসব ব্যাধির চিকিৎসা করেছিলেন তার মধ্যে ছিল জুলুম ও অন্যায়, মিসকিনদের অবজ্ঞা করা এবং বংশমর্যাদা ও আভিজাত্য নিয়ে অহংকার করা। অতঃপর তিনি তাদের মাঝে ন্যায়বিচার ছড়িয়ে দিলেন এবং তাদের মধ্যে প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতা পরিব্যাপ্ত হলো। আর বংশ ও আভিজাত্যের পরিবর্তে তাদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড হয়ে দাঁড়াল আল্লাহর তাকওয়া। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দেখা সর্ববৃহৎ জনসমাবেশ অর্থাৎ বিদায় হজ্জের ভাষণে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিলেন: "জেনে রেখো, তাকওয়া ছাড়া কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; সকল মানুষই আদমের সন্তান, আর আদম মাটি থেকে সৃষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বাধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী", অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন। আর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে মাখজুমী বংশের সেই মহিলার বিষয় পৌঁছাল যে চুরি করেছিল, তখন তিনি তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। তখন উসামা ইবনে যায়িদ তাঁর কাছে এ ব্যাপারে কথা বললে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
الله عليه وسلم المقالة التي برهن بها عن مدى تحقيق العدالة: "وأيم الله لو أن فاطمة بنت محمد سرقت لقطعت يدها". وقد أشار صلى الله عليه وسلم في جوابه لأسامة ابن زيد بأن العدول عن العدل سبب هلاك الأمم المتقدمة حيث قال: "إنما هلك الذين من قبلكم أنهم كانوا إذا سرق فيهم الشريف تركوه، وإذا سرق فيهم الضعيف أقاموا عليه الحد.."

ولما قسم صلى الله عليه وسلم غنائم حنين وأكثر العطاء للمؤلفة قلوبهم وجد الأنصار رضي الله عنهم في أنفسهم شيئا إذا لم يصبهم ما أصاب الناس، فأتى إليهم صلى الله عليه وسلم وقال: "ألم آتكم ضلالا فهداكم الله بي، وكنتم متفرقين فألفكم بي، وعالة فأغناكم الله بي" وقد ذكرهم الله سبحانه في كتابه العزيز بهذه النعمة وأنها من أعظم النعم عليهم فقال: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعاً وَلا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই বক্তব্য পেশ করেছিলেন যার মাধ্যমে তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিসর প্রমাণ করেছেন: "আল্লাহর শপথ, যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামা ইবনে যায়দকে প্রদানকৃত উত্তরে এই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুত হওয়া পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ধ্বংসের কারণ। তিনি বলেছিলেন: "তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহ কেবল এ কারণেই ধ্বংস হয়েছিল যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি চুরি করত, তারা তাকে ছেড়ে দিত; আর যখন কোনো দুর্বল ব্যক্তি চুরি করত, তারা তার ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করত..."

আর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের যুদ্ধের গণিমত বণ্টন করলেন এবং যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা প্রয়োজন তাদের অধিক পরিমাণে দান করলেন, তখন আনসারগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) মনে মনে কিছুটা কষ্ট অনুভব করলেন যখন তারা অন্যদের মতো অংশ পেলেন না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট আসলেন এবং বললেন: "আমি কি তোমাদের পথভ্রষ্ট অবস্থায় পাইনি, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদের হেদায়াত দান করেছেন? তোমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন ছিলে, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন? তোমরা অভাবগ্রস্ত ছিলে, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদের অভাবমুক্ত করেছেন?" মহান আল্লাহ তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে এই নিআমতের কথা তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এবং এটি যে তাদের প্রতি অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিআমত তা উল্লেখ করে বলেছেন: {তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিআমতের কথা স্মরণ করো যখন...}
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَاناً وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا} . وقال سبحانه: {وَإِنْ يُرِيدُوا أَنْ يَخْدَعُوكَ فَإِنَّ حَسْبَكَ اللَّهُ هُوَ الَّذِي أَيَّدَكَ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِينَ وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعاً مَا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَلَّفَ بَيْنَهُمْ إِنَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} .

هذه بعض الأمراض التي انتشرت قبل بعثته صلى الله عليه وسلم، منّ الله سبحانه وتعالى على البشرية بإرسال رسوله الكريم محمد صلى الله عليه وسلم لينقلها من ذل عبادة المخلوق إلى عز طاعة الخالق جل وعلا، ومن الظلم والجور وسفك الدماء إلى ساحة العدل والأمن والاطمئنان، من الفرقة والاختلاف إلى الاجتماع والائتلاف، من التعاون على الإثم والعدوان إلى التعاون على البر والتقوى، من الأمر بالمنكر والنهي عن المعروف إلى الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، من الغش والخيانة إلى النصح والأمانة، من الجزع والهلع والاعتراض على
"তোমরা শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের অন্তরের মাঝে প্রীতি স্থাপন করলেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা ছিলে আগুনের গর্তের কিনারে, অতঃপর তিনি তোমাদের তা থেকে উদ্ধার করলেন।" এবং আল্লাহ সুবহানাহু বলেছেন: "আর তারা যদি তোমাকে প্রতারণা করতে চায়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার জন্য যথেষ্ট। তিনিই তোমাকে তাঁর সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। আর তিনি তাদের অন্তরের মাঝে প্রীতি ও হৃদ্যতা সৃষ্টি করেছেন। যদি তুমি পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ ব্যয় করতে, তবুও তাদের অন্তরের মাঝে এই হৃদ্যতা সৃষ্টি করতে পারতে না; কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে হৃদ্যতা সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।"

এগুলো ছিল সেইসব ব্যাধির কিয়দাংশ যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরিত হওয়ার পূর্বে বিস্তার লাভ করেছিল। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানবজাতির ওপর তাঁর মহিমান্বিত রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন, যাতে তিনি তাদেরকে সৃষ্টির দাসত্বের গ্লানি থেকে সুমহান স্রষ্টার আনুগত্যের মর্যাদার দিকে নিয়ে আসেন; এবং জুলুম, অবিচার ও রক্তপাত থেকে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও প্রশান্তির আঙিনায় নিয়ে আসেন; অনৈক্য ও বিবাদ থেকে ঐক্য ও সংহতির দিকে; পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা থেকে পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে সহযোগিতার দিকে; মন্দের নির্দেশ ও ভালো কাজে বাধা প্রদান থেকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের দিকে; প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা থেকে হিতাকাঙ্ক্ষা ও বিশ্বস্ততার দিকে; অস্থিরতা, আতঙ্ক ও (তাকদীরের প্রতি) আপত্তির দিক থেকে...
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
قضاء الله إلى الصبر والثبات والرضى بما قدره الله وقضاه، وفي الجملة: من كل ضار عاجلا وآجلا إلى كل نافع في الحال والمآل. وقد أرشد الله سبحانه إلى شكره على ذلك بعبادته وحده لا شريك له في قوله سبحانه: {لإِيلافِ قُرَيْشٍ إِيلافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَذَا الْبَيْتِ الَّذِي أَطْعَمَهُمْ مِنْ جُوعٍ وَآمَنَهُمْ مِنْ خَوْفٍ} .

আল্লাহর ফয়সালা ধৈর্য, অবিচলতা এবং আল্লাহ যা নির্ধারণ ও ফয়সালা করেছেন তার প্রতি সন্তুষ্টির দিকে (ধাবিত করে); এবং সংক্ষেপে: ইহকাল ও পরকালের প্রতিটি ক্ষতিকারক বিষয় হতে বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রতিটি কল্যাণকর বিষয়ের দিকে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এর শুকরিয়া স্বরূপ তাঁর একক ইবাদত করার প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন যার কোনো শরিক নেই, তাঁর এই বাণীতে: {কুরাইশদের আসক্তির কারণে, তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের আসক্তির কারণে। অতএব তারা যেন এই গৃহের রবের ইবাদত করে, যিনি তাদেরকে ক্ষুধা থেকে অন্ন দান করেছেন এবং ভয় থেকে নিরাপত্তা দিয়েছেন।}

(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌اختيار الله لنبيه صلى الله عليه وسلم:

يقول الله سبحانه: {وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ} . هذه الآية الكريمة تدل على أن الله سبحانه وتعالى منفرد بالخلق يقول للشيء الذي أراده كن فيكون، وتدل أيضا على أن تلك المخلوقات التي أوجدها من العدم لم يسوها أختار منها ما شاء وله الحكمة البالغة فخصه بالتفضيل، فقد اختار من
আল্লাহর তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি মনোনয়ন:

আল্লাহ সুবহানাহু বলেন: "আর আপনার প্রতিপালক যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন।" এই মহান আয়াতটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে একক; তিনি যে বিষয়টি ইচ্ছা করেন তাকে বলেন 'হও', অমনি তা হয়ে যায়। এটি আরও প্রমাণ করে যে, তিনি অনস্তিত্ব থেকে যেসকল সৃষ্টিকে অস্তিত্ব দান করেছেন, সেগুলোকে তিনি সমান করেননি; বরং তিনি সেখান থেকে যা চেয়েছেন তা মনোনীত করেছেন এবং এতে তাঁর সুগভীর প্রজ্ঞা রয়েছে, ফলে তিনি সেটিকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি মনোনীত করেছেন...
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
أرضه مكة حرسها الله فجعلها مقر بيته الحرام من دخله كان آمنا وصرف قلوب الناس إليه وأوجب على المستطيع منهم حجة، وحرم صيده، وقطع شجره، وضاعف الأعمال الصالحة فيه، وحذر من الخروج عن طاعته سبحانه وأشار إلى عقوبة إرادة السوء في الحرم بقوله سبحانه: {وَمَنْ يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ بِظُلْمٍ نُذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ} . ويلي ذلك مهاجر رسوله صلى الله عليه وسلم هذه المدينة المباركة حرم رسول الله صلى عليه وسلم "صلاة في مسجدي هذا خير من ألف صلاة فيما سواه إلا المسجد الحرام". واختار سبحانه من الشهور شهر رمضان ففضله على سائر الشهور، واختار منه ليلة القدر ففضلها على سائر الليالي، واختار من الأيام يوم عرفه فجعله أفضل الأيام، واختار من أيام الأسبوع يوم الجمعة فجعله أفضلها، وأختار من الملائكة جبريل وإسرافيل وميكائيل
তাঁর ভূখণ্ড হলো মক্কা, আল্লাহ একে রক্ষা করুন; তিনি একে তাঁর পবিত্র ঘরের কেন্দ্রভূমি বানিয়েছেন। যে কেউ সেখানে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ থাকবে। তিনি মানুষের অন্তরসমূহকে এর প্রতি আকৃষ্ট করেছেন এবং সামর্থ্যবানদের ওপর এখানে হজ করা ফরজ করেছেন। তিনি এর শিকার কাজ এবং গাছ কাটা হারাম করেছেন। এখানে তিনি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করেছেন। তিনি সুবহানাহু তাঁর আনুগত্য বর্জন করা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং হারামে মন্দ কাজের সংকল্প করার শাস্তির প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি সেখানে কোনো জুলুমের মাধ্যমে সত্য বিচ্যুত হওয়ার ইচ্ছা করবে, তাকে আমরা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাব।" এর পরেই হলো তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতভূমি, এই বরকতময় মদীনা; যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হারাম। "আমার এই মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য সব মসজিদের এক হাজার সালাতের চেয়েও উত্তম।" তিনি সুবহানাহু মাসসমূহের মধ্যে রমজান মাসকে মনোনীত করেছেন এবং একে অন্য সকল মাসের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তিনি এর মধ্য থেকে লাইলাতুল কদরকে বেছে নিয়েছেন এবং একে অন্য সকল রাতের ওপর মর্যাদা দিয়েছেন। দিনসমূহের মধ্য থেকে তিনি আরাফাতের দিনকে পছন্দ করেছেন এবং তাকে শ্রেষ্ঠ দিন বানিয়েছেন। সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্য থেকে তিনি জুমার দিনকে বেছে নিয়েছেন এবং একে শ্রেষ্ঠ দিন করেছেন। আর ফেরেশতাদের মধ্য থেকে তিনি জিবরাঈল, ইসরাফীল ও মিকাইলকে মনোনীত করেছেন।
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
فوكلهم بأسباب الحياة، واختار من البشر أنبياءه ورسله صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين ففضلهم على غيرهم وجعل أفضلهم أولي العزم منهم، واختار الخليلين إبراهيم ومحمدا صلوات الله وسلامه عليهما فجعلهما أفضلهم، وجعل محمدا صلى الله عليه وسلم أفضل الخليلين، وأمته خير الأمم فهو عليه الصلاة والسلام إمام المتقين وسيد المرسلين وخليل رب العالمين وخاتم النبيين، أقام الله به الحجة على الثقلين الجن والإنس، وأول قبر ينشق عند النفخ في الصور قبره، ولا يدخل الجنة أحد قبله، واختصه سبحانه بالمقام المحمود الذي يحمده فيه الأولون والآخرون وهو الشفاعة العظمى في فصل القضاء التي يتخلى عنها أولو العزم من الرسل كل واحد يقول نفسي نفسي أذهبوا إلى غيري حتى تنتهي إليه صلوات الله وسلامه عليه فيقول: "أنا لها" ثم يشفع فيشفعه الله وصدق الله العظيم حيث يقول: {ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ
সুতরাং তিনি তাদেরকে জীবন ধারণের উপকরণের ওপর ন্যস্ত করেছেন। আর তিনি মানবজাতির মধ্য থেকে তাঁর নবী ও রসূলগণকে মনোনীত করেছেন—তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর তিনি তাঁদেরকে অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে যারা 'উলুল আযম' (দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ রসূল), তাঁদেরকে শ্রেষ্ঠতর করেছেন। আর তিনি দুই খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) ইবরাহীম ও মুহাম্মদকে মনোনীত করেছেন—তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—অতঃপর তিনি তাঁদেরকে সকলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ করেছেন। এবং তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই দুই খলীলের মধ্যে শ্রেষ্ঠতর করেছেন। আর তাঁর উম্মত হলো সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত। অতএব তিনি—তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—মুত্তাকীদের ইমাম, রসূলগণের সর্দার, রব্বুল আলামীনের খলীল এবং সর্বশেষ নবী। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে জিন ও ইনসান—এই উভয় জাতির ওপর অকাট্য প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার সময় তাঁর কবরই সর্বপ্রথম বিদীর্ণ হবে। এবং তাঁর আগে কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে 'মাকামে মাহমুদ' (প্রশংসিত স্থান) দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন, যার জন্য আদি-অন্তের সকল মানুষ তাঁর প্রশংসা করবে। আর তা হলো বিচারকার্য নিষ্পত্তির সেই মহান সুপারিশ, যেখান থেকে 'উলুল আযম' রসূলগণও সরে দাঁড়াবেন; তাঁদের প্রত্যেকেই বলবেন, "আমার নফস! আমার নফস! তোমরা অন্য কারো কাছে যাও", শেষ পর্যন্ত তা তাঁর নিকট এসে পৌঁছাবে—আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—তখন তিনি বলবেন: "আমিই এর যোগ্য।" অতঃপর তিনি সুপারিশ করবেন এবং আল্লাহ তাঁর সুপারিশ কবুল করবেন। আর মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: "এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন; আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী।"
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২০)
الْعَظِيمِ} . وقد أشار سبحانه في كتابة العزيز إلى اختياره من يشاء بقوله سبحانه: {اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلائِكَةِ رُسُلاً وَمِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ} . وقد ثبت في صحيح مسلم وغيره أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن الله اصطفى قريشا من كنانة، واصطفى من قريش بني هاشم، واصطفاني من بني هاشم" فهو صلى الله عليه وسلم بنص هذا الحديث الشريف خلاصة خلاصة خلاصة باعتبار شرف النسب كما كان خلاصة باعتبار الفضل وعلو المنزلة عند الله.
মহা}। আল্লাহ সুবহানাহু তাঁর সম্মানিত কিতাবে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করার বিষয়ে ইঙ্গিত প্রদান করে বলেছেন: {আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা}। আর সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে এটি প্রমাণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কিনানা গোত্র থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।" সুতরাং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই হাদীস শরীফের ভাষ্য অনুযায়ী বংশীয় আভিজাত্যের বিবেচনায় ছিলেন শ্রেষ্ঠদের মাঝেও শ্রেষ্ঠতম এবং নির্যাস স্বরূপ, যেমনটি তিনি শ্রেষ্ঠত্ব এবং আল্লাহর নিকট উচ্চ মর্যাদার বিচারেও ছিলেন সর্বোত্তম।
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌اعتراض المشركين على اختيار الله له صلى الله عليه وسلم

ولما بعث الله رسوله صلى الله عليه وسلم إلى الناس كافة ليهديهم به إلى الصراط المستقيم قابله المشركون بما يستطيعونه من الأذى والمناوأة وتأليب الناس عليه وتحذيرهم منه، فوصفوه بأشنع الأوصاف فقالوا: "أنه ساحر" وقالوا: "أخرى أنه كاهن" وقالوا: "مجنون" هذا وهم أعلم الناس بماضيه المشرق الوضاء، ولكن الذي حملهم على ذلك الكبر والحسد. فقد أخبر الله عنهم في كتابه العزيز أنهم {أقسموا بالله جهد أيمانهم لئن جاءهم نذير ليكونن أهدى من إحدى الأمم، فلما جاءهم نذير مازا دهم إلا نفورا استكبارا في الأرض ومكر السيئ ولا يحيق المكر السيئ إلا بأهله} . وقال سبحانه وتعالى مخبرا عنهم: {وَعَجِبُوا أَنْ جَاءَهُمْ مُنْذِرٌ مِنْهُمْ وَقَالَ الْكَافِرُونَ هَذَا سَاحِرٌ كَذَّابٌ} .
তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর মনোনীত করার ব্যাপারে মুশরিকদের আপত্তি

আল্লাহ যখন তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সকল মানুষের নিকট প্রেরণ করলেন যাতে তাঁর মাধ্যমে তাদের সরল পথ প্রদর্শন করেন, তখন মুশরিকরা তাদের সাধ্যমতো কষ্ট প্রদান, বিরোধিতা, তাঁর বিরুদ্ধে মানুষকে উস্কে দেওয়া এবং তাঁকে এড়িয়ে চলতে সতর্ক করার মাধ্যমে তাঁর মোকাবিলা করল। তারা তাঁকে জঘন্যতম সব বিশেষণে বিশেষিত করল। তারা বলল: "সে তো এক জাদুকর", আবার বলল: "সে একজন গণক", এবং তারা এও বলল: "সে একজন পাগল"। অথচ তারা তাঁর উজ্জ্বল ও আলোকিত অতীত সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত ছিল। কিন্তু অহংকার ও হিংসাই তাদের একাজে প্ররোচিত করেছিল। আল্লাহ তাঁর মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে তাদের সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, তারা আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করে বলত যে, যদি তাদের কাছে কোনো সতর্ককারী আসে তবে তারা অন্য যে কোনো জাতির তুলনায় অধিকতর হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে। কিন্তু যখন তাদের কাছে সতর্ককারী এল, তখন তা কেবল তাদের বিমুখতাই বৃদ্ধি করল—পৃথিবীতে তাদের অহংকার এবং মন্দ চক্রান্তের কারণে। আর মন্দ চক্রান্ত কেবল তার হোতাকেই পরিবেষ্টন করে। মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে আরও বলেন: "তারা বিস্ময় প্রকাশ করল যে, তাদেরই মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী তাদের কাছে এল এবং কাফিররা বলল, এ তো এক জাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী।"
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২২)
إلى أن قال مشيرا إلى حسدهم له صلوات الله وسلامه عليه: {أَأُنْزِلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ مِنْ بَيْنِنَا} . وقال سبحانه وتعالى: {وَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ قَالُوا هَذَا سِحْرٌ وَإِنَّا بِهِ كَافِرُونَ} . ثم قال مخبرا عن اعتراضهم على الله في اختياره لهذا النبي الكريم صلى الله عليه وسلم: {وَقَالُوا لَوْلا نُزِّلَ هَذَا الْقُرْآنُ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ} . فأنكر عليهم ذلك وبين أن الأمر أمره، والخلق خلقه، والفضل فضله يؤتيه من يشاء فهو أعلم حيث يجعل رسالته فقال سبحانه: {أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَتَ رَبِّكَ نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضاً سُخْرِيّاً} . ونظير هذا قوله سبحانه: {وَكَذَلِكَ فَتَنَّا بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لِيَقُولُوا أَهَؤُلاءِ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنْ بَيْنِنَا أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَعْلَمَ بِالشَّاكِرِينَ} . وقال سبحانه: {وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ
অতঃপর তিনি তাঁর (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) প্রতি তাদের হিংসার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন: {আমাদের মধ্য থেকে কি কেবল তাঁর ওপরই উপদেশবাণী অবতীর্ণ করা হলো?}। এবং মহান আল্লাহ বললেন: {আর যখন তাদের কাছে সত্য এলো, তখন তারা বলল, এটি তো জাদু এবং আমরা একে অস্বীকারকারী।}। অতঃপর এই সম্মানিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মনোনীত করার বিষয়ে আল্লাহর ওপর তাদের আপত্তির কথা সংবাদ দিয়ে তিনি বললেন: {এবং তারা বলল, কেন এই কুরআন দুই জনপদের কোনো এক প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ করা হলো না?}। অতঃপর আল্লাহ তাদের এই আপত্তির প্রতিবাদ করলেন এবং স্পষ্ট করে দিলেন যে, আদেশ কেবল তাঁরই, সৃষ্টিও তাঁরই এবং অনুগ্রহও কেবল তাঁরই; তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। তিনি সর্বাধিক ভালো জানেন কোথায় তাঁর রিসালাত অর্পণ করতে হবে। সুতরাং মহান আল্লাহ বললেন: {তারা কি তোমার প্রতিপালকের রহমত বণ্টন করে? আমিই দুনিয়ার জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি এবং তাদের একজনকে অপরের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করি, যাতে একে অপরকে সেবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।}। এর সদৃশ হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর এভাবেই আমি তাদের একজনকে অন্যজনের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছি, যাতে তারা বলে, আমাদের মধ্য থেকে কি আল্লাহ এদের ওপরই অনুগ্রহ করেছেন? আল্লাহ কি কৃতজ্ঞদের সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত নন?}। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন...
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُمْ هَذَا سِحْرٌ مُبِينٌ. أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ - إلى أن قال- قُلْ مَا كُنْتُ بِدْعاً مِنَ الرُّسُلِ وَمَا أَدْرِي مَا يُفْعَلُ بِي وَلا بِكُم} . وقال: {أَكَانَ لِلنَّاسِ عَجَباً أَنْ أَوْحَيْنَا إِلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ أَنْ أَنْذِرِ النَّاسَ وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِنْدَ رَبِّهِمْ قَالَ الْكَافِرُونَ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ مُبِينٌ} وقد روى الحاكم بسند على شرط الشيخين أن أبا جهل قال للنبي صلى الله عليه وسلم: "إنا لا نكذبك ولكن نكذب ما جئت به" فأنزل الله {قَدْ نَعْلَمُ إِنَّهُ لَيَحْزُنُكَ الَّذِي يَقُولُونَ فَإِنَّهُمْ لا يُكَذِّبُونَكَ وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ} . وروي أن الأخنس بن شريق دخل على أبي جهل فقال: "يا أبا الحكم أخبرني عن محمد أصادق هو أم كاذب؟ فإنه ليس ههنا من قريش غيري وغيرك يسمع كلامنا" فقال أبو جهل: "ويحك والله إن محمدا لصادق،
যারা কুফরি করেছে তারা সত্য যখন তাদের নিকট এল তখন তার সম্পর্কে বলল, ‘এটি এক স্পষ্ট জাদু।’ অথবা তারা কি বলে যে, ‘সে এটি মিথ্যা রচনা করেছে?’ — এই পর্যন্ত যে তিনি বললেন — ‘বলুন, আমি রাসুলদের মধ্যে কোনো অভিনব কেউ নই এবং আমি জানি না আমার সাথে কী করা হবে আর তোমাদের সাথেই বা কী করা হবে।’ এবং তিনি বলেছেন: {মানুষের নিকট কি এটি বিস্ময়কর হয়েছে যে, আমি তাদের মধ্য থেকেই একজনের নিকট ওহি পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, আপনি মানুষকে সতর্ক করুন এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের সুসংবাদ দিন যে, তাদের রবের নিকট তাদের জন্য রয়েছে সত্যের সুউচ্চ মর্যাদা। কাফিররা বলল, নিশ্চয়ই এটি এক স্পষ্ট জাদুকর।} আর হাকেম শাইখাইনের শর্তানুযায়ী একটি সনদে বর্ণনা করেছেন যে, আবু জাহল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেছিল: "নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে মিথ্যাবাদী বলছি না, বরং আপনি যা নিয়ে এসেছেন আমরা তাকেই অস্বীকার করছি।" তখন আল্লাহ নাজিল করলেন {আমি অবশ্যই জানি যে, তারা যা বলে তা নিশ্চয়ই আপনাকে ব্যথিত করে। আসলে তারা আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে না, বরং জালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকেই অস্বীকার করছে।}। এবং বর্ণিত হয়েছে যে, আখ নাস ইবনে শারিক আবু জাহলের নিকট প্রবেশ করে বলল: "হে আবুল হাকাম! আমাকে মুহাম্মদ সম্পর্কে বলুন, সে কি সত্যবাদী না কি মিথ্যাবাদী? কারণ এখানে আমাদের কথা শোনার মতো কুরাইশদের মধ্যে আমি আর আপনি ছাড়া আর কেউ নেই।" তখন আবু জাহল বলল: "আফসোস তোমার প্রতি! আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই মুহাম্মদ সত্যবাদী,"
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
وما كذب محمد قط، ولكن إذا ذهبت بنو قصي بالسقاية والحجابة والنبوة فماذا يكون لسائر قريش"، وقال: "تنازعنا نحن وبنو عبد مناف الشرف، أطعموا فأطعمنا، وحملوا فحملنا، وأعطوا فأعطينا، حتى إذا تجاثينا على الركب وكنا كفرسي رهان قالوا منا نبي ينزل عليه الوحي من السماء فمتى ندرك هذه، والله لا نؤمن به ولا نصدقه". وهكذا يبلغ الكبر والحسد بهؤلاء القوم الذين دعاهم رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى ما فيه سعادتهم في الدنيا والآخرة، حملهم ذلك على تجاهل الحقيقة وإبداء خلاف المستقر في القلوب، يقولون بأفواههم ما ليس في قلوبهم متبعين في ذلك إمامهم في الضلال والحسد إبليس اللعين حيث فسق عن أمر ربه له بالسجود لآدم كبرا وحسدا استنادا منه لعنة الله على أنه أفضل منه على زعمه، لكونه خلق من نار وآدم عليه الصلاة والسلام خلق من طين.
মুহাম্মদ কখনোই মিথ্যা বলেননি, কিন্তু বনু কুসাই যদি হাজীদের পানি পান করানো, কাবার রক্ষণাবেক্ষণ এবং নবুওয়াত—সবই নিয়ে যায়, তবে অবশিষ্ট কুরাইশদের জন্য আর কী বাকি থাকবে? তিনি আরও বললেন: "আমরা এবং বনু আবদ মানাফ আভিজাত্যের লড়াই করেছি; তারা অন্নদান করেছে আমরাও অন্নদান করেছি, তারা দায়িত্ব বহন করেছে আমরাও করেছি, তারা দান করেছে আমরাও দান করেছি। অবশেষে যখন আমরা হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে বসলাম এবং আমরা প্রতিযোগিতার দুই ঘোড়ার মতো হলাম, তখন তারা বলল—আমাদের মধ্য থেকে একজন নবী রয়েছেন যার কাছে আসমান থেকে ওহী নাজিল হয়। আমরা কখন এই মর্যাদা লাভ করব? আল্লাহর কসম, আমরা কখনোই তার ওপর ঈমান আনব না এবং তাকে সত্য বলে স্বীকার করব না।" এভাবেই অহংকার ও হিংসা সেই কওমকে আচ্ছন্ন করেছিল যাদেরকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্যের দিকে আহ্বান করেছিলেন। এটি তাদেরকে সত্যকে উপেক্ষা করতে এবং তাদের অন্তরে যা বদ্ধমূল ছিল তার বিপরীত প্রকাশ করতে বাধ্য করেছিল। তারা মুখে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই; এ ক্ষেত্রে তারা তাদের গোমরাহি ও হিংসার ইমাম অভিশপ্ত ইবলিসকে অনুসরণ করে, যে অহংকার ও হিংসার বশবর্তী হয়ে আদমকে সেজদা করার ব্যাপারে তার রবের আদেশ অমান্য করেছিল। আল্লাহর লানত তার ওপর—তার দাবি ছিল যে সে আদমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যেহেতু তাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আদম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌امتنان الله على الثقلين برسالته صلى الله عليه وسلم

…

امتنان الله سبحانه على الثقلين برسالته صلى الله عليه وسلم

من رحمة الله سبحانه بعباده أن أرسل فيهم رسله يبشرون وينذرون كلما ذهب نبي خلفه نبي حتى ختمهم نبي الرحمة محمدا صلى الله عليه وسلم. وفي ذلك يقول سبحانه: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلالَة} . ولقد اختار منهم سيدهم وإمامهم فجعله خاتم النبيين واختصه بخصائص ومزايا لم يشاركه فيها أحد منهم، كما اختص أمته بخصائص ليست لغيرهم من الأمم السالفة، ومن تلك المزايا التي أمتاز بها على غيره من المرسلين صلوات الله وسلامه عليه وعليهم أجمعين أن بعثه إلى الأسود والأحمر بل إلى الجن والإنس جميعا
উভয় জগতের (মানুষ ও জিন) প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাতের মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহ

...

উভয় জগতের প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাতের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অনুগ্রহ

বান্দাদের প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার রহমতের অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, তিনি তাদের নিকট তাঁর রাসূলগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। যখনই একজন নবী প্রস্থান করেছেন, অন্য একজন নবী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, যতক্ষণ না তিনি তাঁদের সমাপ্তি টেনেছেন রহমতের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন: "আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো। অতঃপর তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল যাদেরকে আল্লাহ হেদায়েত দান করেছেন এবং তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল যাদের ওপর পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়েছিল।" আর তিনি তাঁদের মধ্য থেকে তাঁদের নেতা ও ইমামকে মনোনীত করেছেন এবং তাঁকে শেষ নবী করেছেন। তিনি তাঁকে এমন কিছু বিশেষ গুণ ও মর্যাদা দান করেছেন যাতে অন্য কেউ তাঁর অংশীদার নয়; যেমন তিনি তাঁর উম্মতকেও এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দান করেছেন যা পূর্ববর্তী অন্য কোনো উম্মতের ছিল না। আর সকল রাসূলগণের (তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) ওপর তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠত্ব হলো এই যে, তাঁকে কালো ও লাল বর্ণের মানুষের নিকট, বরং জিন ও মানুষ—উভয় জাতির নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
كما قال الله سبحانه عن الجن الذين استمعوا لقراءته صلى الله عليه وسلم ثم ولوا إلى قومهم منذرين: {يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ وَمَنْ لا يُجِبْ دَاعِيَ اللَّهِ فَلَيْسَ بِمُعْجِزٍ فِي الأَرْضِ وَلَيْسَ لَهُ مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءُ أُولَئِكَ فِي ضَلالٍ مُبِينٍ} . وقال صلى الله عليه وسلم في الحديث المتفق على صحته: "أعطيت خمسا لم يعطهن أحد من الأنبياء قبلي -فذكر من بينها- وكان النبي يبعث إلى قومه خاص وبعثت إلى الناس عامة". وفي ذلك يقول سبحانه: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيراً وَنَذِيراً} ويقول: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعاً} . وقد أوضح ذلك صلوات الله وسلامه عليه في الحديث الذي رواه مسلم في صحيحة حيث قال: "والذي نفس محمد بيده لا يسمع بي أحد من هذه الأمة

যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেইসব জিনদের সম্পর্কে বলেছেন যারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিরাত শ্রবণ করেছিল, অতঃপর তারা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গিয়েছিল: {হে আমাদের সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দাও এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনো; তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেবে না, সে পৃথিবীতে আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না এবং তিনি ছাড়া তার কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। এরাই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।}

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহীহ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যপূর্ণ একটি হাদিসে বলেছেন: "আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে যা আমার পূর্ববর্তী কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি -অতঃপর তিনি সেগুলোর মধ্য থেকে উল্লেখ করেছেন- আগেকার নবীগণ কেবল তাঁদের নিজ সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরিত হতেন, আর আমি সকল মানুষের নিকট সাধারণভাবে প্রেরিত হয়েছি।"

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপেই প্রেরণ করেছি।} এবং তিনি বলেন: {আপনি বলুন, হে মানবজাতি! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল।}

আর আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক, তিনি সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে এ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে, এই উম্মতের যে কেউ আমার কথা শুনবে..."

(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
يهودي ولا نصراني ثم يموت ولا يؤمن بالذي أرسلت به إلا كان من أصحاب النار.." قال سعيد بن جبير رحمه الله مصداق ذلك في كتاب الله عز وجل قال الله سبحانه: {وَمَنْ يَكْفُرْ بِهِ مِنَ الأَحْزَابِ فَالنَّارُ مَوْعِدُهُ} . ولا شك أن أعظم نعمة أنعم الله بها على أهل الأرض هي إرسال هذا النبي الكريم الذي أكمل الله به الدين وجعله حجة على الناس أجمعين. وقد أخبر الله في كتابه العزيز عن إبراهيم بأدعية من بينها: {رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولاً مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} .وقد أجاب الله دعائه فبعث في الأمين وفي غيرهم محمدا صلى الله عليه وسلم أرسله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وتلك النعمة العظمى والمنة الجسيمة نوه الله بها في معرض الثناء

...কোনো ইহুদি হোক বা খ্রিস্টান, এরপর সে যদি মৃত্যুবরণ করে এবং আমি যা দিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার ওপর ঈমান না আনে, তবে সে অবশ্যই জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মহান আল্লাহর কিতাবে এর সত্যতার প্রমাণ রয়েছে; মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর বিভিন্ন দলের মধ্য থেকে যারা তাঁকে অস্বীকার করবে, জাহান্নামই হবে তাদের নির্ধারিত স্থান।} আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহ পৃথিবীবাসীর ওপর যে সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত দান করেছেন, তা হলো এই সম্মানিত নবীকে প্রেরণ করা, যার মাধ্যমে আল্লাহ দ্বীনকে পূর্ণতা দিয়েছেন এবং তাঁকে সকল মানুষের ওপর দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আল্লাহ তাঁর মহান কিতাবে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর দুআসমূহ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে: {হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে এমন একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন, তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} আল্লাহ তাঁর দুআ কবুল করেছেন এবং উম্মীদের মাঝে ও অন্যদের কাছে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। আর এই মহান নেয়ামত ও বিশাল অনুগ্রহের কথা আল্লাহ প্রশংসার সাথে উল্লেখ করেছেন।

(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
على نفسه سبحانه في آيات كثيرة منها قوله تعالى: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الأُمِّيِّينَ رَسُولاً مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ وَآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ} . ومنها قوله تعالى: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولاً مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ} . ومنها قوله: {كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولاً مِنْكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلا تَكْفُرُونِ} . ومنها قوله سبحانه: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} .
সুবহানাহু ওয়া তাআলা অনেক আয়াতে নিজের ওপর (অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন), তন্মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: {তিনিই সেই সত্তা যিনি উম্মীদের (নিরক্ষরদের) মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; অথচ ইতঃপূর্বে তারা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিল। আর তাদের অন্যান্যদের জন্যও (এই রাসূল প্রেরিত হয়েছেন), যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী।}। আর তন্মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীও রয়েছে: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের ওপর বড়ই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও ইতঃপূর্বে তারা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিল।}। আর তন্মধ্যে তাঁর এই বাণীও রয়েছে: {যেভাবে আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তোমাদেরকে পবিত্র করেন, তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন এবং তোমাদেরকে এমন সব বিষয় শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না। সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো এবং আমার অকৃতজ্ঞ হয়ো না।}। আর তন্মধ্যে সুবহানাহু ওয়া তাআলার এই বাণীও রয়েছে: {অবশ্যই তোমাদের নিকট তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল এসেছেন। তোমাদের যে কষ্ট হয় তা তাঁর ওপর অত্যন্ত পীড়াদায়ক, তিনি তোমাদের মঙ্গলাকামী, আর মুমিনদের প্রতি তিনি অত্যন্ত স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।}।
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
وإنما كان إرساله صلى الله عليه وسلم إلى الناس أعظم منة أمتن بها على عباده لأن في ذلك تخليص من وفقه الله وهداه منهم من العذاب السرمدي بسبب الإيمان بالله ورسوله صلى الله عليه وسلم، والابتعاد عن الشرك الذي لا يغفره الله كما قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} . وقال: {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ} .
বস্তুত মানুষের নিকট তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরণ করা ছিল তাঁর বান্দাদের প্রতি আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ। কারণ এর মাধ্যমেই আল্লাহ যাদের তাওফীক ও হিদায়াত দান করেছেন, তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনয়ন এবং শিরক থেকে দূরে থাকার উসিলায় অনন্তকালের শাস্তি থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে—যে শিরক আল্লাহ ক্ষমা করেন না। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না, আর তিনি এর নিম্নপর্যায়ের সবকিছু যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" এবং তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।"
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌التمهيد لبعثته صلى الله عليه وسلم

ومن حكمة الله وفضله أن هيأ لنبيه صلى الله عليه وسلم قبل أن يبعثه جميع أسباب الشرف والرفعة وعلو المنزلة، ووفر فيه جميع الخصال التي تؤهله للقيام بأعباء الرسالة العظمى التي اصطفاه واختاره لها صلوات الله وسلامه عليه، وفيما يلي أذكر على سبيل المثال بعض تلك الأسباب والخصال وأبين كيف
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরণের উপক্রমণিকা

আল্লাহর হিকমত ও তাঁর অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, তিনি তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরণের পূর্বেই তাঁর জন্য সম্মান, মর্যাদা ও সুউচ্চ অবস্থানের সকল উপকরণ সুসংহত করেছিলেন। আর তাঁর মাঝে এমন সকল গুণাবলীর সমাবেশ ঘটিয়েছিলেন যা তাঁকে সেই মহান রিসালাতের গুরুভার বহনের যোগ্য করে তুলেছিল, যার জন্য তিনি তাঁকে মনোনীত ও নির্বাচিত করেছিলেন—তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। নিম্নে আমি উদাহরণস্বরূপ সেই সকল কারণ ও বৈশিষ্ট্যের কিছু উল্লেখ করছি এবং বর্ণনা করছি কীভাবেওতুকুতু সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মিন আখলাকির রাসূলিল কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
كانت توطئة وتقدمة لبعثته صلى الله عليه وسلم:

أولا: أن الله سبحانه جعله عريق النسب، كريم المنبت، اصطفاه من أشرف قبائل العرب قبيلة قريش التي شهد لها غيرها بالسيادة والقيادة، وهذه سنة الله في رسله كما جاء ذلك في سؤال هرقل ملك الروم لأبي سفيان عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث قال يعني رسول الله صلى الله عليه وسلم: "كيف نسبه فيكم" قال أبو سفيان: "هو فينا ذو نسب" ثم قال هرقل عند ذلك: "الرسل تبعث في نسب قومها" وإنما كانت هذه سنة الله في رسله ليسد على أعدائهم باب القدح فيهم والتنقيص لهم، فلا يجد أعداؤهم سبيلا إلى إلصاق العيوب بهم.

ثانيا: أنه صلى الله عليه وسلم نشأ فقيرا يتيما في كفالة جده عبد المطلب ثم عمه أبي طالب وذلك من أسباب التواضع والتحلي بالصفات
এগুলো ছিল তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াতের প্রারম্ভিকা ও ভূমিকা:

প্রথমত: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে সুউচ্চ বংশমর্যাদা ও সম্মানিত বংশোদ্ভূত করেছেন। তিনি তাঁকে আরবদের সর্বশ্রেষ্ঠ গোত্র কুরাইশ থেকে মনোনীত করেছেন, যাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্বের সাক্ষ্য অন্যরাও প্রদান করেছে। আর এটিই ছিল তাঁর রাসূলদের ব্যাপারে আল্লাহর নীতি, যেমনটি রোম সম্রাট হেরাক্লিয়াস কর্তৃক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে আবু সুফিয়ানকে করা প্রশ্নের মধ্যে এসেছে। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "তোমাদের মাঝে তাঁর বংশমর্যাদা কেমন?" আবু সুফিয়ান উত্তরে বললেন: "তিনি আমাদের মধ্যে অত্যন্ত উচ্চবংশীয়।" তখন হেরাক্লিয়াস বললেন: "রাসূলগণ তাঁদের জাতির উচ্চবংশীয়দের থেকেই প্রেরিত হয়ে থাকেন।" মূলত রাসূলদের ক্ষেত্রে এটি আল্লাহর একটি নীতি ছিল যাতে তাঁদের শত্রুদের জন্য তাঁদের নিন্দা ও অবমাননা করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং শত্রুরা তাঁদের ওপর কোনো দোষারোপ করার পথ খুঁজে না পায়।

দ্বিতীয়ত: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পিতামহ আব্দুল মুত্তালিব এবং পরবর্তীতে তাঁর চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে একজন দরিদ্র ও এতিম হিসেবে বেড়ে উঠেছেন। এটি ছিল বিনয় অর্জন এবং গুণাবলিতে ভূষিত হওয়ার অন্যতম কারণ।