(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مقدمة في أصول التفسير لابن تيمية القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: مقدمة في أصول التفسير
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
الناشر: دار مكتبة الحياة، بيروت، لبنان
الطبعة: 1490هـ/ 1980م
عدد الصفحات: 53
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে তাইমিয়ার মুকাদ্দিমাহ ফি উসুলিত তাফসির বিভাগ: উলূমুল কুরআন এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)
বই: মুকাদ্দিমাহ ফি উসুলিত তাফসির
লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আবদুল হালিম ইবনে আবদুল সালাম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবুল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (ওফাত ৭২৮ হিজরি)
প্রকাশক: দারু মাকতাবাতিল হায়াত, বৈরুত, লেবানন
সংস্করণ: ১৪৯০ হিজরি/ ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩
[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وقال شيخ الإسلام:
بسم الله الرحمن الرحيم
رب يسر وأعن برحمتك
الحمد لله، نستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم تسليما.
أما بعد: فقد سألني بعض الإخوان أن أكتب له
مقدمة تتضمن قواعد كلية، تعين على فهم القرآن ومعرفة تفسيره ومعانيه، والتمييز في منقول ذلك ومعقوله بين الحق وأنواع الأباطيل، والتنبيه على الدليل الفاصل بين الأقاويل؛ فإن الكتب المصنفة في التفسير مشحونة بالغَثِّ والسمين، والباطل الواضح والحق المبين.
والعلم أما نقل مصدق عن معصوم، وأما قول عليه دليل معلوم، وما سوى هذا فإما مزيف مردود، وأما موقوف لا يعلم أنه بهرج ولا منقود.
وحاجة الأمة ماسة إلى فهم القرآن الذي هو حبل الله المتين، والذكر الحكيم، والصراط المستقيم، الذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسن، ولا يَخْلَق عن كثرة الترديد، ولا تنقضي عجائبه، ولا يشبع منه العلماء، من قال به صدق، ومن عمل به أجر، ومن حكم به عدل،
শায়খুল ইসলাম বলেন:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আমার প্রতিপালক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; তাঁর ওপর আল্লাহর অসংখ্য দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর: আমার জনৈক দ্বীনি ভাই আমাকে অনুরোধ করেছেন যেন আমি তাঁর জন্য একটি
ভূমিকা (مقدمة) লিখে দিই, যাতে এমন কিছু সামগ্রিক মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে যা কুরআন বুঝতে এবং এর তাফসির ও অর্থ উপলব্ধি করতে সহায়ক হবে। এটি বর্ণিত বিষয়াদির মধ্যে যা যৌক্তিক তার সত্যতা ও মিথ্যার প্রকারভেদ নিরূপণে এবং বিভিন্ন মতামতের মধ্য হতে চূড়ান্ত দলিলের প্রতি সজাগ করতে সাহায্য করবে। কেননা, তাফসিরের কিতাবগুলো অসার ও সারগর্ভ, স্পষ্ট বাতিল এবং সুস্পষ্ট সত্য—উভয় দিয়েই পরিপূর্ণ।
আর জ্ঞান হলো—হয় মাসুম (নিষ্পাপ) সত্তার নিকট হতে প্রাপ্ত কোনো সত্য বর্ণনা, অথবা এমন কোনো বক্তব্য যার পেছনে জানা দলিল রয়েছে। এ ছাড়া যা কিছু আছে তা হয় মেকি ও প্রত্যাখ্যাত (مردود), অথবা স্থগিত (موقوف) যার সঠিক বা বেঠিক হওয়ার বিষয়টি অবগত নয়।
আর উম্মাহর জন্য কুরআনের উপলব্ধি অত্যন্ত প্রয়োজন; যা আল্লাহর মজবুত রজ্জু, প্রজ্ঞাময় যিকির এবং সরল পথ; যাকে প্রবৃত্তি বিচ্যুত করতে পারে না, কোনো ভাষা একে অস্পষ্ট করতে পারে না, বারবার পাঠেও এর নতুনত্ব শেষ হয় না, এর বিস্ময়কর দিকগুলো নিঃশেষ হয় না এবং উলামাগণ এর থেকে তৃপ্ত হন না। যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে কথা বলে সে সত্য বলে, যে ব্যক্তি এর ওপর আমল করে সে প্রতিদানপ্রাপ্ত হয়, আর যে এর দ্বারা বিচার করে সে ন্যায়বিচার করে।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ومن دعا إليه هدى إلى صراط مستقيم، ومن تركه من جبار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى في غيره أضله الله.
قال تعالى: {فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنتُ بَصِيرًا قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنسَى} [طه: 123 126] ، وقال تعالى: {قَدْ جَاءكُم مِّنَ اللهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ يَهْدِي بِهِ اللهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَه سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُم مِّنِ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ} [المائدة: 15، 16] ، وقال تعالى: {الَر كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ اللهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ} [إبراهيم: 1، 2] ، وقال تعالى: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِّنْ أَمْرِنَا مَا كُنتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ وَلَكِن جَعَلْنَاهُ نُورًا نَّهْدِي بِهِ مَنْ نَّشَاء مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ أَلَا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الأمُورُ} [الشورى: 52، 53]
وقد كتبت هذه المقدمة مختصرة بحسب تيسير الله تعالى من إملاء الفؤاد، والله الهادي إلى سبيل الرشاد.
যে ব্যক্তি এর দিকে আহ্বান জানাবে তাকে সরল সঠিক পথের দিশা দান করা হবে। যে কোনো উদ্ধত ব্যক্তি একে বর্জন করবে, আল্লাহ তাকে চূর্ণ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি এটি ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত অন্বেষণ করবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন।
মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর তোমাদের কাছে যখন আমার পক্ষ থেকে কোনো হিদায়াত আসবে, তখন যে আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জীবন হবে সংকীর্ণ এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, 'হে আমার রব! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেন? আমি তো আগে দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ছিলাম।' তিনি বলবেন, 'এভাবেই তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; তদ্রূপ আজ তোমাকে বিস্মৃত করা হবে'।" [ত্বহা: ১২৩-১২৬], মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক নূর ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ ওই ব্যক্তিদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং স্বীয় নির্দেশে তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদেরকে সরল সঠিক পথের দিকে হিদায়াত দান করেন।" [আল-মায়েদাহ: ১৫, ১৬], মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন—পরাক্রমশালী ও সর্বপ্রশংসিত আল্লাহর পথের দিকে। সেই আল্লাহ, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব যাঁর।" [ইবরাহিম: ১, ২], মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে একটি রুহ (অহি) পাঠিয়েছি। আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী। কিন্তু আমি একে নূর বানিয়েছি, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। আর আপনি তো অবশ্যই সরল সঠিক পথের দিকে হিদায়াত দান করছেন—সেই আল্লাহর পথ, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব যাঁর। জেনে রেখো, সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়।" [আশ-শুরা: ৫২, ৫৩]
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সহজ করার তৌফিক অনুযায়ী আমি আমার অন্তরের প্রেষণা থেকে এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকাটি লিখেছি। আর আল্লাহই সঠিক পথের দিশারি।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة في أصول التفسير
التأليف: أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن تيمية الحراني
بسم الله الرحمن الرحيم
فصل
[في عناية الصحابة والتابعين بمعاني القرآن]يجب أن يعلم أن النبي صلى الله عليه وسلم بَيَّنَ لأصحابه معاني القرآن كما بين لهم ألفاظه، فقوله تعالى: {لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: 44] يتناول هذا وهذا، وقد قال أبو عبد الرحمن السلمي: حدثنا الذين كانوا يقرئوننا القرآن كعثمان بن عفان، وعبد الله بن مسعود وغيرهما أنهم كانوا إذا تعلموا من النبي صلى الله عليه وسلم عشر آيات لم يجاوزوها حتى يتعلموا ما فيها من العلم والعمل، قالوا: فتعلمنا القرآن والعلم والعمل جميعا. ولهذا كانوا يبقون مدة في حفظ السورة. وقال أنس: كان الرجل إذا قرا البقرة وأل عمران جَلَّ في أعيننا. وأقام ابن عمر على حفظ البقرة عدة سنين، قيل: ثماني سنين، ذكره مالك.
وذلك أن الله تعالى قال: {كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ} [ص: 29] ، وقال: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ} [النساء: 82،محمد: 24] ، وقال: {أَفَلَمْ يَدَّبَّرُوا الْقَوْلَ} [المؤمنون: 68] ، وتدبر الكلام بدون فهم معانيه لا يمكن، وكذلك قال تعالى: {إِنَّا أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} [يوسف: 2] وعقل الكلام متضمن لفهمه.
তাফসিরের মূলনীতি বিষয়ক ভূমিকা
রচয়িতা: আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
পরিচ্ছেদ
[কুরআনের অর্থের প্রতি সাহাবী ও তাবিঈগণের গুরুত্বারোপ প্রসঙ্গে]অবশ্যই জানা থাকা আবশ্যক যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিকট কুরআনের শব্দাবলি বর্ণনা করার পাশাপাশি তার অর্থসমূহও ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেন, যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে} [আন-নাহল: ৪৪] — এই নির্দেশটি শব্দ ও অর্থ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী বলেছেন: আমাদের নিকট যারা কুরআন পাঠ করাতেন, যেমন উসমান বিন আফফান, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ এবং অন্যান্যরা, তারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তারা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে দশটি আয়াত শিক্ষা গ্রহণ করতেন, তখন ততক্ষণ পর্যন্ত তা অতিক্রম করতেন না যতক্ষণ না তাতে বিদ্যমান ইলম (জ্ঞান) ও আমল (প্রয়োগ) শিখে নিতেন। তারা বলতেন: "আমরা কুরআন, ইলম ও আমল সবই একত্রে শিখেছি।" একারণেই তারা কোনো একটি সূরা হিফজ করতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতেন। আনাস (রা.) বলেন: "যখন কোনো ব্যক্তি সূরা আল-বাকারা ও আলে ইমরান পাঠ করত (আয়ত্ত করত), তখন আমাদের দৃষ্টিতে তার মর্যাদা অনেক বৃদ্ধি পেত।" আর ইবনে উমর (রা.) সূরা আল-বাকারা হিফজ করতে দীর্ঘ কয়েক বছর অতিবাহিত করেছিলেন; বলা হয়ে থাকে আট বছর, ইমাম মালিক এটি উল্লেখ করেছেন।
আর এটি একারণে যে, মহান আল্লাহ বলেছেন: {এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গবেষণা করে} [সোয়াদ: ২৯]। তিনি আরও বলেছেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না?} [আন-নিসা: ৮২, মুহাম্মদ: ২৪]। তিনি আরও বলেছেন: {তবে কি তারা এই বাণী নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেনি?} [আল-মুমিনুন: ৬৮]। আর অর্থ অনুধাবন করা ব্যতীত কোনো বাণী নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা সম্ভব নয়। তদ্রূপ মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআন হিসেবে নাযিল করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো} [ইউসুফ: ২]। আর কোনো কথা বা বাণী অনুধাবন করার বিষয়টি তার অর্থ বোঝার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومن المعلوم أن كل كلام فالمقصود منه فهم معانيه دون مجرد ألفاظه، فالقرآن أولى بذلك. وأيضا، فالعادة تمنع أن يقرآ قوم كتابا في فن من العلم كالطب والحساب ولا يستشرحوه، فكيف بكلام الله الذي هو عصمتهم، وبه نجاتهم وسعادتهم، وقيام دينهم ودنياهم؟ ولهذا كان النزاع بين الصحابة في تفسير القرآن قليلا جدا، وهو وإن كان في التابعين أكثر منه في الصحابة، فهو قليل بالنسبة إلى من بعدهم، وكلما كان العصر أشرف كان الاجتماع والائتلاف والعلم والبيان فيه أكثر. ومن التابعين من تلقى جميع التفسير عن الصحابة، كما قال مجاهد: عرضت المصحف على ابن عباس أوقفه عند كل آية منه وأسأله عنها؛ ولهذا قال الثوري: إذا جاءك التفسير عن مجاهد فحسبك به؛ ولهذا يعتمد على تفسيره الشافعي والبخاري وغيرهما من أهل العلم، وكذلك الإمام أحمد وغيره ممن صنف في التفسير يكرر الطرق عن مجاهد أكثر من غيره.
والمقصود أن التابعين تلقوا التفسير عن الصحابة، كما تلقوا عنهم
এটি সুবিদিত যে, প্রতিটি বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্যই হলো তার নিছক শব্দমালার পরিবর্তে সেটির মর্মার্থ অনুধাবন করা; সুতরাং পবিত্র কুরআন এ বিষয়ে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। তদুপরি, স্বভাবজাত প্রথা এটি অস্বীকার করে যে, কোনো সম্প্রদায় চিকিৎসা কিংবা গণিতের ন্যায় কোনো শাস্ত্রের কোনো কিতাব পাঠ করবে অথচ সেটির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করবে না; তাহলে আল্লাহর বাণীর ক্ষেত্রে তা কীভাবে সম্ভব, যা তাঁদের রক্ষাকবচ এবং যার মধ্যেই নিহিত তাঁদের মুক্তি ও সৌভাগ্য এবং তাঁদের দ্বীন ও দুনিয়ার সামগ্রিক ভিত্তি? এই কারণেই কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরাম (الصحابة)-গণের মধ্যে মতভেদ ছিল অত্যন্ত নগণ্য। যদিও তাবিঈগণ (التابعين)-এর যুগে তা সাহাবায়ে কেরাম (الصحابة)-গণের যুগের তুলনায় কিছুটা অধিক ছিল, তথাপি পরবর্তী প্রজন্মের তুলনায় তা ছিল সামান্য। যুগ যত বেশি শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ ছিল, সেখানে ঐক্য, সংহতি, জ্ঞান এবং সুস্পষ্ট বর্ণনা তত বেশি বিদ্যমান ছিল। তাবিঈগণ (التابعين)-এর মধ্যে এমন ব্যক্তিবর্গ ছিলেন যারা সাহাবায়ে কেরাম (الصحابة)-গণের নিকট থেকে পূর্ণাঙ্গ তাফসির গ্রহণ করেছেন। যেমন মুজাহিদ বলেছেন: 'আমি ইবনে আব্বাসের নিকট পূর্ণ কুরআন পেশ করেছি; আমি প্রতিটি আয়াতের নিকট তাঁকে থামাতাম এবং সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতাম।' এই কারণেই সাওরি বলেছেন: 'যখন মুজাহিদের পক্ষ থেকে তোমার কাছে কোনো তাফসির পৌঁছে, তখন সেটিই তোমার জন্য যথেষ্ট।' এ কারণেই ইমাম শাফিঈ, বুখারি এবং অন্যান্য বিজ্ঞ আলেমগণ তাঁর তাফসিরের ওপর নির্ভর করেছেন। একইভাবে ইমাম আহমদ এবং তাফসির সংকলনকারী অন্যান্য মনীষীগণ অন্যান্যদের তুলনায় মুজাহিদ থেকে বর্ণিত সূত্রসমূহ (الطرق) অধিক পুনরাবৃত্তি করেছেন।
মূল উদ্দেশ্য হলো এই যে, তাবিঈগণ (التابعين) সাহাবায়ে কেরাম (الصحابة)-গণের নিকট থেকে তাফসির গ্রহণ করেছেন, যেমনটি তাঁরা তাঁদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
علم السنة، وإن كانوا قد يتكلمون في بعض ذلك بالاستنباط والاستدلال، كما يتكلمون في بعض السنن بالاستنباط والاستدلال.
সুন্নাহর শাস্ত্র (علم السنة), যদিও তাঁরা এর কিছু বিষয়ে উদ্ভাবন (استنباط) ও দলিল উপস্থাপনের (استدلال) মাধ্যমে আলোচনা করে থাকেন, যেমনটি তাঁরা কিছু সুন্নাহর ক্ষেত্রে উদ্ভাবন (استنباط) ও দলিল উপস্থাপনের (استدلال) মাধ্যমে আলোচনা করেন।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
فصل
[في اختلاف السلف في التفسير اختلاف تنوع]الخلاف بين السلف في التفسير قليل، وخلافهم في الأحكام أكثر من خلافهم في التفسير، وغالب ما يصح عنهم من الخلاف يرجع إلى اختلاف تنوع لا اختلاف تضاد، وذلك صنفان:
أحدهما: أن يعبر كل واحد منهم عن المراد بعبارة غير عبارة صاحبه، تدل على معنى في المسمى غير المعنى الآخر مع اتحاد المسمى بمنزلة الأسماء المتكافئة التي بين المترادفة والمتباينة كما قيل في اسم السيف: الصارم والمهند، وذلك مثل أسماء الله الحسنى، وأسماء رسوله صلى الله عليه وسلم وأسماء القرآن، فإن أسماء الله كلها تدل على مسمى واحد، فليس دعاؤه باسم من أسمائه الحسنى مضادا لدعائه باسم آخر، بل الأمر كما قال تعالى: {قُلِ ادْعُواْ اللهَ أَوِ ادْعُواْ الرَّحْمَنَ أَيًّا مَّا تَدْعُواْ فَلَهُ الأَسْمَاء الْحُسْنَى} [الإسراء: 110] .
وكل اسم من أسمائه يدل على الذات المسماة، وعلى الصفة التي تضمنها الاسم، كالعليم يدل على الذات والعلم، والقدير يدل على الذات والقدرة، والرحيم يدل على الذات والرحمة. ومن أنكر دلالة أسمائه على صفاته ممن يدعي الظاهر، فقوله من جنس قول غلاة الباطنية القرامطة الذين يقولون: لا يقال: هو حي، ولا ليس بحي، بل ينفون عنه النقيضين؛ فإن أولئك القرامطة الباطنية لا ينكرون اسما هو علم محض كالمضمرات، وإنما ينكرون ما في أسمائه الحسنى من صفات الإثبات، فمن وافقهم على مقصودهم كان مع دعواه الغلو
পরিচ্ছেদ
[তাফসিরের ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের (سلف) মতভেদ বৈচিত্র্যগত হওয়া প্রসঙ্গে]তাফসিরের ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের (سلف) মধ্যকার মতভেদ খুবই সামান্য। তবে বিধিবিধানের (أحكام) ক্ষেত্রে তাদের মতভেদ তাফসিরের তুলনায় অধিক। তাদের থেকে যা কিছু বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত, তার অধিকাংশই বৈচিত্র্যগত মতভেদ (اختلاف تنوع), বিরোধপূর্ণ মতভেদ (اختلاف تضاد) নয়। আর তা দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: তাদের প্রত্যেকেই উদ্দিষ্ট বিষয়টিকে এমন শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেন যা তার অন্য সঙ্গীর ব্যবহৃত শব্দ থেকে ভিন্ন। এটি মূলত একই সত্তার একটি বিশেষ অর্থের ওপর নির্দেশ করে যা অন্য অর্থ থেকে ভিন্ন, যদিও সত্তাটি এক ও অভিন্ন। এটি সমার্থক (مترادفة) ও ভিন্নার্থক (متباينة) শব্দের মধ্যবর্তী 'সমপর্যায়ের নামসমূহের' (الأسماء المتكافئة) মতো। যেমন তলোয়ারের বিভিন্ন নাম: আস-সারিম ও আল-মুহান্নাদ। এটি আল্লাহ তাআলার সুন্দর নামসমূহ (أسماء الله الحسنى), তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামসমূহ এবং কুরআনের নামসমূহের মতোই। আল্লাহর সকল নামই মূলত এক সত্তার ওপর নির্দেশ করে। সুতরাং তাঁর কোনো একটি সুন্দর নামে তাঁকে আহ্বান করা অন্য নামে আহ্বান করার পরিপন্থী নয়। বরং বিষয়টি তেমনই যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো, যে নামেই ডাকো না কেন, সকল সুন্দর নাম তো তাঁরই} [আল-ইসরা: ১১০] ।
তাঁর প্রতিটি নামই নামধারী সত্তা (ذات) এবং ওই নামের অন্তর্ভুক্ত গুণের (صفة) ওপর নির্দেশ করে। যেমন: ‘আল-আলিম’ শব্দটি সত্তা (ذات) ও জ্ঞান (علم) উভয়টির ওপর নির্দেশ করে, ‘আল-কাদির’ শব্দটি সত্তা (ذات) ও ক্ষমতা (قدرة) নির্দেশ করে এবং ‘আর-রাহিম’ শব্দটি সত্তা (ذাত) ও দয়া (رحمة) নির্দেশ করে। যারা নিজেদেরকে প্রকাশ্য রূপের (الظاهر) অনুসারী বলে দাবি করেন, তাদের মধ্য থেকে যারা আল্লাহর নামসমূহ তাঁর গুণের (صفة) ওপর নির্দেশ করার বিষয়টি অস্বীকার করে, তাদের বক্তব্য চরমপন্থী বাতিনিয়্যাহ (الباطنية) কারামিতাহদের বক্তব্যের পর্যায়ভুক্ত। তারা বলে: আল্লাহকে ‘জীবন্ত’ বলা যাবে না, আবার ‘জীবন্ত নন’ সেটিও বলা যাবে না; বরং তারা তাঁর ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী উভয় বিষয়কেই অস্বীকার করে। মূলত ওই কারামিতাহ বাতিনিয়্যাহরা (الباطنية) সর্বনামের (المضمرات) মতো কেবল নিছক নামবাচক শব্দকে অস্বীকার করে না, বরং তারা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত ইতিবাচক গুণাবলি (صفات الإثبات) অস্বীকার করে। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের মূল উদ্দেশ্যের সাথে একমত হবে, সে নিজের চরমপন্থার দাবি সত্ত্বেও তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
في الظاهر موافقا لغلاة الباطنية في ذلك، وليس هذا موضع بسط ذلك.
وإنما المقصود أن كل اسم من أسمائه يدل على ذاته، وعلى ما في الاسم من صفاته، ويدل أيضا على الصفة التي في الاسم الآخر بطريق اللزوم، وكذلك أسماء النبي صلى الله عليه وسلم، مثل محمد، وأحمد، والماحي، والحاشر، والعاقب. وكذلك أسماء القرآن: مثل القرآن، والفرقان، والهدى، والشفاء، والبيان، والكتاب، وأمثال ذلك.
فإذا كان مقصود السائل تعيين المسمى عبرنا عنه بأي اسم كان إذا عرف مسمى هذا الاسم، وقد يكون الاسم علما وقد يكون صفة كمن يسأل عن قوله: {وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي} [طه: 124] ما ذكره؟ فيقال له: هو القرآن مثلا، أو هو ما أنزله من الكتب. فإن الذكر مصدر، والمصدر تارة يضاف إلى الفاعل وتارة إلى المفعول. فإذا قيل ذكر الله بالمعني الثاني كان ما يذكر به مثل قول العبد: سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله، والله أكبر. وإذا قيل بالمعنى الأول كان ما يذكره هو وهو كلامه، وهذا هو المراد في قوله: {وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي} ؛ لأنه قال قبل ذلك: {فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى} [طه: 123] وهَداه هو ما أنزله من الذكر، وقال بعد ذلك: {قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنتُ بَصِيرًا قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا} [طه: 125، 126] .
والمقصود أن يعرف أن الذكر هو كلامه المنزل، أو هو ذكر العبد له،
বাহ্যিকভাবে এটি এ বিষয়ে চরমপন্থী বাতেনি (غلاة الباطنية) সম্প্রদায়ের মতবাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তবে এই বিষয়টি এখানে বিস্তারিত আলোচনার ক্ষেত্র নয়।
বরং উদ্দেশ্য হলো—তাঁর (আল্লাহর) প্রতিটি নামই তাঁর সত্তাকে (ذات) নির্দেশ করে এবং ওই নামের অন্তর্ভুক্ত তাঁর গুণাবলিকেও (صفات) নির্দেশ করে। একইভাবে তা অনিবার্যতার সূত্রে (طريق اللزوم) অন্য নামের অন্তর্ভুক্ত গুণকেও নির্দেশ করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামগুলোর ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ, যেমন—মুহাম্মাদ, আহমাদ, আল-মাহিন, আল-হাশির এবং আল-আকিব। তেমনিভাবে কুরআনের বিভিন্ন নাম: যেমন—কুরআন, আল-ফুরকান, আল-হুদা, আল-শিফা, আল-বায়ান, আল-কিতাব এবং এজাতীয় অন্যান্য।
সুতরাং প্রশ্নকর্তার উদ্দেশ্য যদি নামধারী সত্তাকে নির্দিষ্ট করা হয়, তবে আমরা তা যেকোনো নাম দিয়েই প্রকাশ করতে পারি, যদি ওই নামের দ্বারা নামধারী সত্তাটি পরিচিত হয়। সেই নামটি কখনো সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য (علم) হতে পারে, আবার কখনো তা গুণবাচক (صفة) হতে পারে। যেমন কেউ যদি আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে: "আর যে আমার স্মরণ (ذكر) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে" [ত্বহা: ১২৪]—এখানে তাঁর 'স্মরণ' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? তখন তাকে বলা হবে: উদাহরণস্বরূপ এটি হলো কুরআন, অথবা এটি হলো তাঁর নাজিলকৃত কিতাবসমূহ। কারণ 'জিকির' শব্দটি একটি ক্রিয়ামূল (مصدر)। আর ক্রিয়ামূল (مصدر) কখনো কর্তার (فاعل) দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, আবার কখনো কর্মের (مفعول) দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়। যদি দ্বিতীয় অর্থে 'আল্লাহর জিকির' বলা হয়, তবে এর অর্থ হবে যার মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করা হয়; যেমন বান্দার উক্তি: 'সুবহানাল্লাহ', 'আলহামদুলিল্লাহ', 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং 'আল্লাহু আকবার'। আর যদি প্রথম অর্থে বলা হয়, তবে এর অর্থ হবে যা তিনি স্মরণ বা উল্লেখ করেছেন এবং তা হলো তাঁর কালাম (বাণী)। "আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে"—এই আয়াতে এটিই উদ্দেশ্য; কারণ এর আগে তিনি বলেছেন: "অতঃপর আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হেদায়েত আসলে যে আমার হেদায়েত অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না" [ত্বহা: ১২৩]। আর তাঁর হেদায়েত হলো তাই, যা তিনি জিকির হিসেবে নাজিল করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন: "সে বলবে—হে আমার রব! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেন? অথচ আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম। তিনি বলবেন—অনুরূপভাবেই তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে" [ত্বহা: ১২৫, ১২৬]।
মূল উদ্দেশ্য হলো এটি জানা যে, 'জিকির' বলতে তাঁর নাজিলকৃত কালাম বা বাণী বোঝায়, অথবা বান্দা কর্তৃক তাঁর স্মরণ করাকে বোঝায়।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فسواء قيل: ذكري كتابي أو كلامي أو هداي أو نحو ذلك، كان المسمى واحدًا.
وإن كان مقصود السائل معرفة ما في الاسم من الصفة المختصة به، فلابد من قدر زائد على تعيين المسمى، مثل أن يسأل عن القدوس السلام المؤمن، وقد علم أنه الله، لكن مراده ما معنى كونه قدوسا سلاما مؤمنا ونحو ذلك.
إذا عرف هذا، فالسلف كثيرا ما يعبرون عن المسمى بعبارة تدل على عينه، وإن كان فيها من الصفة ما ليس في الاسم الآخر، كمن يقول: أحمد هو الحاشر والماحي والعاقب. والقدوس هو الغفور، والرحيم، أي أن المسمى واحد، لا أن هذه الصفة هي هذه الصفة. ومعلوم أن هذا ليس اختلاف تضاد كما يظنه بعض الناس، مثال ذلك: تفسيرهم للصراط المستقيم:
فقال بعضهم: هو القرآن، أي أتباعه؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم في حديث علي الذي رواه الترمذي، ورواه أبو نعيم من طرق متعددة: " هو حبل الله المتين، وهو الذكر الحكيم، وهو الصراط المستقيم ". وقال بعضهم: هو الإسلام؛ لقوله صلى الله عليه وسلم في حديث النواس ابن سمعان الذي رواه الترمذي وغيره: " ضرب الله مثلا صراطا مستقيما، وعلى جنبتي الصراط سُورَان، وفي السورين أبواب مفتحة، وعلى الأبواب ستور مرخاة، وداع يدعو من فوق الصراط، وداع يدعو على رأس الصراط "، قال: " فالصراط المستقيم هو الإسلام، والسوران حدود الله، والأبواب المفتحة محارم الله، والداعي على رأس الصراط كتاب الله، والداعي فوق الصراط واعظ الله في قلب كل مؤمن "،
সুতরাং 'আমার স্মরণ', 'আমার কিতাব', 'আমার কালাম' কিংবা 'আমার হিদায়াত' অথবা এই জাতীয় যা-ই বলা হোক না কেন, নির্দেশিত সত্তা (المسمى) মূলত একই।
আর যদি প্রশ্নকারীর উদ্দেশ্য হয় নামের অন্তর্ভুক্ত কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য (الصفة) সম্পর্কে জানা, তবে নির্দেশিত সত্তাকে (المسمى) নির্দিষ্ট করার বাইরে অতিরিক্ত কিছু জানার প্রয়োজন হবে। যেমন—কেউ যদি 'আল-কুদ্দুস', 'আস-সালাম', 'আল-মুমিন' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, অথচ সে জানে যে এই সত্তাটি আল্লাহ; কিন্তু তার উদ্দেশ্য হলো পবিত্র (কুদ্দুস), শান্তিদাতা (সালাম) বা নিরাপত্তা দানকারী (মুমিন) হওয়ার তাৎপর্য কী এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো জানা।
যখন এটি জানা হলো, তখন দেখা যায় যে, সালফগণ প্রায়শই নির্দেশিত সত্তাকে (المسمى) এমন শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেন যা সেই মূল সত্তাকেই নির্দেশ করে, যদিও সেই শব্দে এমন কোনো বৈশিষ্ট্য (الصفة) থাকে যা অন্য নামে নেই। যেমন কারো কথা: 'আহমাদ'-ই হলেন 'হাশির' (একত্রকারী), 'মাহি' (মিটিয়ে দেওয়া ব্যক্তি) এবং 'আকিব' (সর্বশেষ আগমনকারী)। আর 'আল-কুদ্দুস'-ই হলেন 'আল-গাফুর' (ক্ষমাশীল) ও 'আর-রাহিম' (পরম দয়ালু)। অর্থাৎ, নির্দেশিত সত্তা (المسمى) এক ও অভিন্ন; এমন নয় যে এই বৈশিষ্ট্যটি (الصفة) হুবহু অন্য বৈশিষ্ট্যেরই নামান্তর। এটি সুপরিচিত যে, এটি কোনো বৈপরীত্যমূলক মতভেদ (اختلاف تضاد) নয়, যেমনটি কিছু মানুষ মনে করে থাকে। এর উদাহরণ হলো: 'সরল পথ' (الصراط المستقيم) এর ক্ষেত্রে তাঁদের তাফসির:
তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: এটি হলো কুরআন, অর্থাৎ তার অনুসরণ করা। কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীর বর্ণিত সেই হাদিসে বলেছেন, যা তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং আবু নুআইম বহু সূত্রের (طرق) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন: "তা হলো আল্লাহর মজবুত রশি, তা প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং তা-ই সরল পথ (الصراط المستقيم)"। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি হলো ইসলাম। কারণ নওয়াস ইবনে সামআন বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যা তিরমিজি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ তাআলা একটি সরল পথের (الصراط المستقيم) উদাহরণ দিয়েছেন। সেই পথের দুই পাশে দুটি প্রাচীর রয়েছে এবং প্রাচীর দুটিতে অনেকগুলো খোলা দরজা রয়েছে। আর দরজাগুলোতে পর্দা ঝোলানো রয়েছে। পথের উপর থেকে একজন আহ্বানকারী ডাকছেন এবং পথের মাথায় একজন আহ্বানকারী ডাকছেন।" তিনি বললেন: "সরল পথ (الصراط المستقيم) হলো ইসলাম, দুই পাশের প্রাচীর হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা (حدود الله), খোলা দরজাগুলো হলো আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ (محارم الله), পথের মাথায় অবস্থানকারী আহ্বানকারী হলো আল্লাহর কিতাব এবং পথের উপরের আহ্বানকারী হলো প্রত্যেক মুমিনের অন্তরে আল্লাহর পক্ষ থেকে থাকা উপদেশদাতা।"
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فهذان القولان متفقان؛ لأن دين الإسلام هو إتباع القرآن، ولكن كل منهما نبه على وصف غير الوصف الآخر، كما أن لفظ " صراط " يشعر بوصف ثالث، وكذلك قول من قال: هو السنة والجماعة. وقول من قال: هو طريق العبودية. وقول من قال: هو طاعة الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، وأمثال ذلك، فهؤلاء كلهم أشاروا إلى ذات واحدة، لكن وصفها كل منهم بصفة من صفاتها.
الصنف الثاني: أن يذكر كل منهم من الاسم العام بعض أنواعه على سبيل التمثيل، وتنبيه المستمع على النوع لا على سبيل الحد المطابق للمحدود في عمومه وخصوصه، مثل سائل أعجمي سأل عن مسمى [لفظ الخبز] فأرى رغيفًا، وقيل له: هذا، فالإشارة إلى نوع هذا لا إلى هذا الرغيف وحده مثال ذلك: ما نقل في قوله: {ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِّنَفْسِهِ وَمِنْهُم مُّقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتِ} [فاطر: 32]
فمعلوم أن الظالم لنفسه يتناول المضيع للواجبات، والمنتهك للمحرمات، والمقتصد يتناول فاعل الواجبات وتارك المحرمات، والسابق يدخل فيه من سبق فتقرب بالحسنات مع الواجبات، فالمقتصدون هم أصحاب اليمين {وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ أُوْلَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ} [الواقعة: 10، 11]
ثم إن كلا منهم يذكر هذا في نوع من أنواع الطاعات، كقول القائل: السابق الذي يصلي في أول الوقت، والمقتصد الذي يصلي في أثنائه، والظالم لنفسه الذي يؤخر العصر إلى الاصفرار، ويقول الآخر: السابق والمقتصد والظالم قد ذكرهم في آخر سورة البقرة، فإنه ذكر
এই বক্তব্যদ্বয় সংগতিপূর্ণ; কারণ ইসলাম ধর্ম হলো কুরআনের অনুসরণ। তবে তাঁদের প্রত্যেকেই এমন একটি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সচেতন করেছেন যা অন্যটির চেয়ে ভিন্ন, ঠিক যেমন ‘সিরাত’ (صراط) শব্দটি একটি তৃতীয় বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। অনুরূপভাবে তাঁদের বক্তব্য যাঁরা বলেছেন: এটি হলো সুন্নাহ ও জামাত। আবার যাঁরা বলেছেন: এটি দাসত্বের (عبودية) পথ। আর যাঁরা বলেছেন: এটি হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য এবং এই জাতীয় অন্যান্য বক্তব্য। তাঁরা সকলে একটি একক সত্তার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তবে তাঁদের প্রত্যেকেই সেটিকে তার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কোনো একটির মাধ্যমে বিশেষিত করেছেন।
দ্বিতীয় শ্রেণি: তাঁদের প্রত্যেকেই কোনো সাধারণ নামের কিছু প্রকারকে উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করেন এবং শ্রোতাকে সেই প্রকার সম্পর্কে সচেতন করেন। এটি তার ব্যাপকতা ও বিশেষত্বের দিক থেকে সংজ্ঞায়িত বিষয়ের হুবহু পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা (حد) প্রদানের উদ্দেশ্যে নয়। যেমন একজন অনারব ব্যক্তি ‘রুটি’ [لفظ الخবز] শব্দের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তাকে একটি রুটি দেখানো হলো এবং বলা হলো: "এটি"। এখানে ইঙ্গিতটি এই জাতীয় প্রকারের প্রতি, শুধুমাত্র এই একটি নির্দিষ্ট রুটির প্রতি নয়। এর উদাহরণ হলো যা এই বাণীর ক্ষেত্রে বর্ণিত (نقل) হয়েছে: {অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাঁদের আমি মনোনীত করেছি; তবে তাঁদের মধ্যে কেউ নিজের প্রতি অবিচারকারী (ظالم لنفسه), কেউ মধ্যমপন্থী (مقتصد) এবং কেউ কল্যাণের কাজে অগ্রগামী (سابق بالخيرات)} [ফাতির: ৩২]
সুতরাং এটি সুবিদিত যে, নিজের প্রতি অবিচারকারী (ظالم لنفسه) বলতে তাঁকে বোঝায় যে ওয়াজিবসমূহ বর্জন করে এবং হারামসমূহে লিপ্ত হয়। মধ্যমপন্থী (مقتصد) বলতে তাঁকে বোঝায় যে ওয়াজিবসমূহ পালন করে এবং হারামসমূহ বর্জন করে। আর অগ্রগামী (سابق) বলতে তাঁকে বোঝায় যে ওয়াজিব পালনের পাশাপাশি নফল ইবাদতের মাধ্যমে নৈকট্য লাভ করে অগ্রগামী হয়। সুতরাং মধ্যমপন্থীরা হলো ডানদিকের দল (أصحاب اليمين), আর {অগ্রগামীগণ তো অগ্রগামীই, তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত} [ওয়াকিআ: ১০, ১১]
অতঃপর তাঁদের প্রত্যেকেই আনুগত্যের বিভিন্ন প্রকারের মধ্য থেকে একেকটি প্রকারের ক্ষেত্রে এটি উল্লেখ করেন। যেমন কেউ বলেন: অগ্রগামী (سابق) সে, যে ওয়াক্তের শুরুতে সালাত আদায় করে; মধ্যমপন্থী (مقتصد) সে, যে ওয়াক্তের ভেতরে সালাত আদায় করে; আর নিজের প্রতি অবিচারকারী (ظالم لنفسه) সে, যে আসরের সালাত সূর্য হলুদ হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করে। অন্যজন বলেন: অগ্রগামী (سابق), মধ্যমপন্থী (مقتصد) ও অবিচারকারী (ظالم) এর কথা সূরা আল-বাকারার শেষে উল্লেখ করা হয়েছে, কেননা সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المحسن بالصدقة، والظالم بأكل الربا، والعادل بالبيع. والناس في الأموال أما محسن، وأما عادل، وإما ظالم، فالسابق المحسن بأداء المستحبات مع الواجبات. والظالم آكل الربا أو مانع الزكاة. والمقتصد الذي يؤدي الزكاة المفروضة، ولا يأكل الربا، وأمثال هذه الأقاويل.
فكل قول فيه ذكر نوع داخل في الآية ذكر لتعريف المستمع بتناول الآية له وتنبيهه به على نظيره، فإن التعريف بالمثال قد يسهل أكثر من التعريف بالحد المطلق، والعقل السليم يتفطن للنوع، كما يتفطن إذا أشير له إلى رغيف، فقيل له: هذا هو الخبز.
وقد يجيء كثيرا من هذا الباب قولهم: هذه الآية نزلت في كذا، لاسيما إن كان المذكور شخصا؛ كأسباب النزول المذكورة في التفسير، كقولهم: إن آية الظهار نزلت في امرأة اوس بن الصامت، وإن آية اللعان نزلت في عويمر العَجْلاني أو هلال بن أمية، وإن آية الكلالة نزلت في جابر بن عبد الله، وإن قوله: {وَأَنِ احْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنزَلَ اللهُ} [المائدة: 49] نزلت في بني قُرَيْظَة والنَّضِير، وأن قوله: {وَمَن يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَه} [الأنفال: 16] نزلت في بَدْر، وأن قوله: {شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ} [المائدة: 106] نزلت في قضية تَمِيم الداري وَعديّ بن بَدَّاء، وقول أبي أيوب إن قوله: {وَلَا تُلْقُواْ بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} [البقرة: 195] : نزلت فينا معشر الأنصار، الحديث. ونظائر هذا كثير مما يذكرون أنه نزل في قوم من المشركين بمكة، أو في قوم من أهل الكتاب اليهود والنصارى، أو في قوم من المؤمنين.
فالذين قالوا ذلك لم يقصدوا أن حكم الآية مختص
সদকার মাধ্যমে ইহসানকারী (محسن), সুদের মাধ্যমে জালিম (ظالم) এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণ (عادل)। সম্পদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষ হয় ইহসানকারী (محسن), নয়তো ন্যায়পরায়ণ (عادل), অথবা জালিম (ظالم)। এক্ষেত্রে অগ্রগামী (السابق) হলেন সেই ইহসানকারী, যিনি ওয়াজিব কাজের পাশাপাশি মুস্তাহাব আমলসমূহও আদায় করেন। আর জালিম (ظالم) হলেন সুদখোর অথবা জাকাত প্রদানে বিরত থাকা ব্যক্তি। আর পরিমিতিবাদী (المقتصد) হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি কেবল ফরজ জাকাত আদায় করেন এবং সুদ গ্রহণ করেন না; এ জাতীয় অন্যান্য বক্তব্যসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং প্রতিটি উক্তি যেখানে কোনো আয়াতের অন্তর্ভুক্ত বিশেষ কোনো প্রকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা মূলত শ্রোতাকে এটি অবগত করার জন্য যে আয়াতটি উক্ত বিষয়টিকে শামিল করে এবং এর মাধ্যমে তাকে এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের প্রতিও সচেতন করা হয়। কেননা উদাহরণ প্রদানের মাধ্যমে সংজ্ঞা প্রদান করা নিরঙ্কুশ সংজ্ঞার (الحد المطلق) চেয়ে অনেক সময় সহজতর হয়। আর সুস্থ বিবেক কোনো বিশেষ শ্রেণী বা প্রকারকে সহজেই অনুধাবন করতে পারে, যেমনটি তাকে একটি রুটির টুকরো দেখিয়ে বললে সে বুঝতে পারে যে, এটিই হলো রুটি।
এই পরিচ্ছেদে প্রায়শই তাদের এই বক্তব্যটি পাওয়া যায় যে: "এই আয়াতটি অমুক বিষয়ে নাজিল হয়েছে," বিশেষ করে যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়; যেমন তাফসিরে বর্ণিত শানে নুযূল বা নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) সংক্রান্ত আলোচনা। উদাহরণস্বরূপ তাদের এই বক্তব্য: যিহারের (الظهار) আয়াত আউস ইবনে সামিত-এর স্ত্রীর ব্যাপারে নাজিল হয়েছে, লিআনের (اللعান) আয়াত উয়াইমির আল-আজলানি অথবা হিলাল ইবনে উমাইয়ার ব্যাপারে নাজিল হয়েছে, কালালাহ (الكلالة) সংক্রান্ত আয়াত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর ব্যাপারে নাজিল হয়েছে, আর আল্লাহর বাণী: {আর আপনি তাদের মধ্যে ফয়সালা করুন আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তার মাধ্যমে} [আল-মায়িদাহ: ৪৯] বনু কুরাইজা ও বনু নাদীরের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে। অনুরূপভাবে আল্লাহর বাণী: {আর সেদিন যে ব্যক্তি তাদের দিকে পিঠ ফেরাবে} [আল-আনফাল: ১৬] বদর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছে, এবং আল্লাহর বাণী: {তোমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন তোমাদের মধ্যে সাক্ষ্য গ্রহণ} [আল-মায়িদাহ: ১০৬] তামীম আদ-দারি ও আদি ইবনে বাদ্দার ঘটনার প্রেক্ষিতে নাজিল হয়েছে। আবার আবু আইয়ুব (রা.)-এর এই উক্তি যে, আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা নিজেদের হাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না} [আল-বাকারা: ১৯৫] আমাদের আনসারদের জামাতের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে— হাদিস। মক্কার কোনো মুশরিক গোষ্ঠী, অথবা আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কোনো দল, কিংবা মুমিনদের কোনো দল সম্পর্কে আয়াত নাজিল হওয়া সংক্রান্ত যেসব বর্ণনা তারা উল্লেখ করে থাকেন, তার দৃষ্টান্ত অনেক।
যারা এসব কথা বলেছেন, তারা মূলত এটি উদ্দেশ্য করেননি যে আয়াতের বিধানটি কেবলমাত্র তাদের জন্যই সুনির্দিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بأولئك الأعيان دون غيرهم، فإن هذا لا يقوله مسلم ولا عاقل على الإطلاق، والناس وإن تنازعوا في اللفظ العام الوارد على سبب هل يختص بسببه أم لا؟ فلم يقل أحد من علماء المسلمين: إن عمومات الكتاب والسنة تختص بالشخص المعين، وإنما غاية ما يقال: إنها تختص بنوع ذلك الشخص فيعم ما يشبهه، ولا يكون العموم فيها بحسب اللفظ.
والآية التي لها سبب معين، إن كانت أمرا ونهيا فهي متناولة لذلك الشخص ولغيره ممن كان بمنزلته، وإن كانت خبرًا بمدح أو ذم فهي متناولة لذلك الشخص وغيره ممن كان بمنزلته أيضًا.
ومعرفة سبب النزول يعين على فهم الآية؛ فإن العلم بالسبب يورث العلم بالمسبب؛ ولهذا كان أصح قولي الفقهاء: أنه إذا لم يعرف ما نواه الحالف، رجع إلى سبب يمينه وما هيجها وأثارها.
وقولهم: نزلت هذه الآية في كذا، يراد به تارة أنه سبب النزول، ويراد به تارة أن ذلك داخل في الآية وإن لم يكن السبب، كما تقول: عني بهذه الآية كذا.
وقد تنازع العلماء في قول الصاحب [أى الصحابى] : نزلت هذه الآية في كذا، هل يجري مجرى المسند كما يذكر السبب الذي أنزلت لأجله، أو يجري مجرى التفسير منه الذي ليس بمسند؟
فالبخاري يدخله في المسند وغيره لا يدخله في المسند.
وأكثر المساند على هذا الاصطلاح كمسند أحمد وغيره، بخلاف ما إذا ذكر سببا نزلت عقبة، فإنهم كلهم يدخلون مثل هذا في المسند.
وإذا عرف هذا، فقول أحدهم: نزلت في كذا، لا ينافي قول الآخر: نزلت في كذا، إذا كان اللفظ يتناولهما، كما ذكرناه في التفسير بالمثال، وإذا ذكر أحدهم لها سببا نزلت لأجله وذكر الآخر
কেবল সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য এবং অন্য কারো জন্য নয়—এমন কথা কোনো মুসলিম বা বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তি একেবারেই বলতে পারেন না। কোনো নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ সাধারণ শব্দের (اللفظ العام) ক্ষেত্রে সেটি কি কেবল সেই বিশেষ প্রেক্ষাপটেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি থাকবে না—এ নিয়ে মানুষ মতপার্থক্য করলেও মুসলিম আলেমদের কেউ এ কথা বলেননি যে, কুরআন ও সুন্নাহর সাধারণ নির্দেশনাবলি (العمومات) কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্যই প্রযোজ্য। বরং বড়জোর এ কথা বলা যেতে পারে যে, তা সেই ব্যক্তির শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য, ফলে তার অনুরূপ সকলকেই তা অন্তর্ভুক্ত করবে; এবং সেক্ষেত্রে সাধারণতা কেবল শব্দের বাহ্যিক রূপের ভিত্তিতে হবে না।
আর যে আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট (سبب النزول) রয়েছে, সেটি যদি আদেশ বা নিষেধ হয়, তবে তা সেই ব্যক্তি এবং তার সমপর্যায়ের অন্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। আর যদি তা প্রশংসা বা নিন্দামূলক কোনো সংবাদ হয়, তবে তাও সেই ব্যক্তি এবং তার সমপর্যায়ের অন্যদের অন্তর্ভুক্ত করবে।
আর শানে নুযুল (سبب النزول) বা অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জ্ঞান আয়াত অনুধাবনে সহায়তা করে; কেননা কারণ (السبب) সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে কার্যকারণ (المسبب) সম্পর্কেও জ্ঞান অর্জিত হয়। এই কারণেই ফকিহগণের দুটি মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ মতটি হলো: যখন শপথকারীর নিয়ত জানা না থাকে, তখন তার শপথের কারণ এবং কী তাকে শপথ করতে উদ্বুদ্ধ ও তাড়িত করেছে, সেদিকে প্রত্যাবর্তন করা হবে।
আর তাঁদের কথা— 'এই আয়াতটি অমুক বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে'—দ্বারা কখনো শানে নুযুল (سبب النزول) বা অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট উদ্দেশ্য হয়, আবার কখনো উদ্দেশ্য হয় যে বিষয়টি উক্ত আয়াতের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তা অবতীর্ণ হওয়ার কারণ নয়। যেমন বলা হয়— 'এই আয়াত দ্বারা অমুক বিষয়টিকে বুঝানো হয়েছে'
সাহাবির [অর্থাৎ সাহাবিবৃন্দ] এই উক্তি— 'এই আয়াতটি অমুক বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে'—এর ব্যাপারে আলেমগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন যে, এটি কি মুসনাদ এর পর্যায়ভুক্ত হবে যেমনটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ উল্লেখ করার ক্ষেত্রে হয়, নাকি এটি তাঁর পক্ষ থেকে এমন তাফসির হিসেবে গণ্য হবে যা মুসনাদ নয়?
ইমাম বুখারি একে মুসনাদ এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং অন্যরা একে মুসনাদ এর অন্তর্ভুক্ত করেননি।
আর অধিকাংশ মুসনাদ গ্রন্থ এই পরিভাষার উপর ভিত্তি করেই রচিত, যেমন মুসনাদ আহমাদ ও অন্যান্য। তবে যদি এমন কোনো কারণ উল্লেখ করা হয় যার প্রেক্ষাপটে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে, তবে তাঁরা সকলেই এই জাতীয় বর্ণনাকে মুসনাদ এর অন্তর্ভুক্ত করেন।
আর যখন বিষয়টি জানা গেল, তখন একজনের উক্তি— 'এটি অমুক বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে'—অন্যের এই উক্তির— 'এটি অমুক বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে'—পরিপন্থী নয়, যদি শব্দ উভয়কেই শামিল করে; যেমনটি আমরা উদাহরণসহ তাফসিরের আলোচনায় উল্লেখ করেছি। আর যখন তাঁদের কেউ কোনো আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার একটি কারণ উল্লেখ করেন এবং অন্যজন...
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
سببا، فقد يمكن صدقهما بأن تكون نزلت عقب تلك الأسباب، أو تكون نزلت مرتين، مرة لهذا السبب ومرة لهذا السبب.
وهذان الصنفان اللذان ذكرناهما في تنوع التفسير، تارة لتنوع الأسماء والصفات، وتارة لذكر بعض أنواع المسمى وأقسامه، كالتمثيلات هما الغالب في تفسير سلف الأمة الذي يظن أنه مختلف.
ومن التنازع الموجود عنهم ما يكون اللفظ فيه محتملا للأمرين؛ إما لكونه مشتركًا في اللفظ كلفظ {قَسْوَرَةٍ} الذي يراد به الرامي، ويراد به الأسد، ولفظ {عَسْعَسَ} الذي يراد به إقبال الليل وإدباره، وإما لكونه متواطئا في الأصل، لكن المراد به أحد النوعين أو أحد الشيئين، كالضمائر في قوله: {ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّى فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى} [النجم: 8، 9] ، وكلفظ {وَالْفَجْرِ وَلَيَالٍ عَشْرٍ وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرٌِ} [الفجر: 1-3] وما أشبه ذلك.
فمثل هذا قد يجوز أن يراد به كل المعاني التي قالها السلف، ووقد لا يجوز ذلك، فالأول إما لكون الآية نزلت مرتين فأريد بها هذا تارة وهذا تارة، وإما لكون اللفظ المشترك يجوز أن يراد به معنياه؛ إذ قد جوز ذلك أكثر الفقهاء المالكية، والشافعية، والحنبلية وكثير من أهل الكلام، وإما لكون اللفظ متواطئا فيكون عاما، إذا لم يكن لتخصيصه موجب، فهذا النوع إذا صح فيه القولان كان من الصنف الثاني.
ومن الأقوال الموجودة عنهم ويجعلها بعض الناس اختلافا أن يعبروا عن المعاني بألفاظ متقاربة لا مترادفة؛ فإن الترادف في اللغة قليل، وأما في ألفاظ القرآن فإما نادر وإما معدوم، وقَلَّ أن يعبر عن لفظ واحد بلفظ واحد يؤدي جميع معناه، بل يكون فيه تقريب لمعناه، وهذا من أسباب إعجاز القرآن. فإذا قال القائل: {يَوْمَ تَمُورُ السَّمَاء
...একটি কারণ; হতে পারে উভয়টিই সত্য, এভাবে যে আয়াতটি সেই সকল কারণের পরপরই অবতীর্ণ হয়েছে, অথবা সেটি দুইবার অবতীর্ণ হয়েছে—একবার এই কারণে এবং আরেকবার ওই কারণে।
তাফসিরের বৈচিত্র্য সম্পর্কে আমরা যে দুই প্রকারের কথা উল্লেখ করেছি—কখনো নাম ও গুণাবলির বৈচিত্র্যের কারণে এবং কখনো নামাঙ্কিত বিষয়ের কিছু প্রকার ও অংশ উল্লেখ করার কারণে (যেমন উদাহরণস্বরূপ পেশ করা)—উম্মতের সালাফগণের তাফসিরের ক্ষেত্রে এগুলোই প্রধান, যেগুলোকে মতভেদপূর্ণ বলে ধারণা করা হয়।
তাঁদের থেকে বর্ণিত বিদ্যমান বিরোধগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যেখানে শব্দটি উভয় অর্থই বহন করতে পারে; হয় শব্দটি যুগ্মার্থবোধক (مشترك) হওয়ার কারণে, যেমন ‘কাসওয়ারা’ শব্দটি দ্বারা শিকারি উদ্দেশ্য হতে পারে আবার সিংহও উদ্দেশ্য হতে পারে, এবং ‘আসআসা’ শব্দটি দ্বারা রাতের আগমন ও প্রস্থান উভয়ই উদ্দেশ্য হতে পারে; অথবা শব্দটি মূলে সাধারণ (متواطئ) হওয়ার কারণে, কিন্তু তা দ্বারা কোনো এক প্রকার বা কোনো একটি জিনিসকে বোঝানো হয়েছে, যেমন আল্লাহর বাণী: “অতঃপর তিনি নিকটবর্তী হলেন এবং ঝুলে গেলেন, ফলে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রইল অথবা তারও কম” [আন-নাজম: ৮, ৯]-এর সর্বনামসমূহ, এবং “শপথ ফজরের, শপথ দশ রাতের, শপথ জোড় ও বেজোড়ের” [আল-ফজর: ১-৩]-এর শব্দসমূহ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।
এই ধরনের ক্ষেত্রে সালাফগণ কর্তৃক বর্ণিত সকল অর্থ উদ্দেশ্য হওয়া বৈধ হতে পারে, আবার কখনো তা বৈধ নাও হতে পারে। প্রথম ক্ষেত্রটি হয় আয়াতটি দুইবার অবতীর্ণ হওয়ার কারণে—ফলে একবার এটি এবং অন্যবার ওটি উদ্দেশ্য করা হয়েছে; অথবা যুগ্মার্থবোধক (مشترك) শব্দ দ্বারা এর উভয় অর্থ উদ্দেশ্য করা বৈধ হওয়ার কারণে—যেহেতু অধিকাংশ মালিকি, শাফিঈ, হাম্বলি ফকিহগণ এবং ইলমুল কালামের অনেক পন্ডিত একে বৈধ বলেছেন; অথবা শব্দটি সাধারণ (متواطئ) হওয়ার কারণে সেটি ব্যাপক (عام) অর্থ প্রকাশ করে, যদি তা নির্দিষ্ট (تخصيص) করার কোনো কারণ না থাকে। সুতরাং এই প্রকারে যদি উভয় অভিমত সহিহ (صحيح) হয়, তবে তা দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে।
তাঁদের থেকে বর্ণিত এমন কিছু উক্তি রয়েছে যেগুলোকে কিছু মানুষ মতভেদ হিসেবে গণ্য করে, অথচ সেগুলো হলো অর্থের ভাবপ্রকাশের ক্ষেত্রে নিকটতর শব্দের ব্যবহার, পুরোপুরি সমার্থক (مترادف) শব্দ নয়। কেননা ভাষাতত্ত্বে সমার্থকতা (ترادف) খুবই কম, আর কুরআনের শব্দাবলিতে তা হয় দুর্লভ নয়তো অনুপস্থিত। একটি শব্দের পরিবর্তে এমন একটি শব্দ ব্যবহার করা খুব কমই সম্ভব যা তার পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে, বরং সেখানে অর্থের একটি নিকটবর্তী রূপ থাকে মাত্র; আর এটিই কুরআনের মুজিজার অন্যতম কারণ। যেমন যদি কেউ বলে: “যেদিন আকাশ আন্দোলিত হবে...
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
مَوْرًا} [الطور: 9] : إن المور هو الحركة كان تقريبا؛ إذ المور حركة خفيفة سريعة.
وكذلك إذا قال: الوحي: الإعلام، أو قيل: {أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ} [النساء: 163] : أنزلنا إليك، أو قيل: {وَقَضَيْنَا إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ} [الإسراء: 4] أي: أعلمنا، وأمثال ذلك، فهذا كله تقريب لا تحقيق؛ فإن الوحي هو إعلام سريع خفي، والقضاء إليهم أخص من الإعلام؛ فإن فيه إنزالا إليهم وإيحاء إليهم.
والعرب تُضَمِّنُ الفعل معنى الفعل وتعديه تعديته، ومن هنا غلط من جعل بعض الحروف تقوم مقام بعض، كما يقولون في قوله: {لَقَدْ ظَلَمَكَ بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ إِلَى نِعَاجِهِ} [ص: 24] أي: مع نعاجه و {مَنْ أَنصَارِي إِلَى اللَّهِ} [الصف: 14] أي: مع الله ونحو ذلك. والتحقيق ما قاله نحاة البصرة من التضمين، فسؤال النعجة يتضمن جمعها وضمها إلى نعاجه، وكذلك قوله: {وَإِن كَادُواْ لَيَفْتِنُونَكَ عَنِ الَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ} [الإسراء: 73] ضمن معنى يزيغونك ويصدونك، وكذلك قوله: {وَنَصَرْنَاهُ مِنَ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا} [الأنبياء: 77] ، ضمن معنى نجيناه وخلصناه، وكذلك قوله: {يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ} [الإنسان: 6] ضمن يروى بها، ونظائره كثيرة.
ومن قال: {لاريب} : لا شك، فهذا تقريب، وإلا فالريب فيه اضطراب وحركة، كما قال: " دع ما يريبك إلى ما لا يريبك "، وفي الحديث أنه مر بظبي حاقف [أي: نائم قد انحنى في نومه] فقال: " لا يريبه أحد "، فكما أن اليقين ضمن السكون والطمأنينة فالريب ضده ضمن الاضطراب والحركة. ولفظ [الشك] وإن قيل: إنه يستلزم هذا المعنى، لكن لفظه لا يدل عليه.
وكذلك إذا قيل: {ذَلِكَ الْكِتَابُ} : هذا القرآن، فهذا
{তীব্রভাবে ঘূর্ণন} [তূর: ৯] : ‘মাওর’ এর অর্থ ‘গতি’ বলাটা মূলত একটি নিকটবর্তী অর্থ প্রদান মাত্র; কারণ ‘মাওর’ হলো এক প্রকার হালকা ও দ্রুত গতি।
একইভাবে যখন বলা হয়: ‘অহি’ অর্থ ‘সংবাদ প্রদান করা’ (জ্ঞাপন করা), অথবা বলা হয়: {আমি আপনার প্রতি অহি পাঠিয়েছি} [নিসা: ১৬৩] : অর্থাৎ ‘আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি’, অথবা বলা হয়: {আমি বনী ইসরাঈলকে জানিয়ে দিয়েছি} [ইসরা: ৪] অর্থাৎ: ‘অবহিত করেছি’, এবং এই জাতীয় যা কিছু রয়েছে—এসবই হলো নিকটবর্তী অর্থ বর্ণনা মাত্র, প্রকৃত তাৎপর্য বিশ্লেষণ নয়; কারণ ‘অহি’ হলো দ্রুত ও গোপন সংবাদ আদান-প্রদান। আর তাদের প্রতি ‘কদা’ (সিদ্ধান্ত জ্ঞাপন) করা ‘ইলাম’ (অবহিতকরণ) অপেক্ষা আরও বিশিষ্ট অর্থ বহন করে; কেননা এতে অবতীর্ণকরণ ও অহি প্রেরণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আর আরবরা এক ক্রিয়ার মধ্যে অন্য ক্রিয়ার অর্থ অন্তর্ভুক্ত করে এবং সেই অনুযায়ী তাকে অন্য ক্রিয়ার ন্যায় ব্যবহার (তাদিয়া) করে। এখান থেকেই তাদের ভুল হয়েছে যারা মনে করেন যে, কিছু হরফ (অব্যয়) অন্য হরফের স্থলাভিষিক্ত হয়। যেমন তারা মহান আল্লাহর বাণীতে বলেন: {সে তোমার একটি দুম্বাকে তার দুম্বাগুলোর সাথে যুক্ত করার দাবি করে তোমার প্রতি জুলুম করেছে} [সোয়াদ: ২৪] এখানে ‘ইলা’ অর্থ ‘মা’আ’ অর্থাৎ ‘সাথে’; এবং {আল্লাহর পথে কারা আমার সাহায্যকারী হবে?} [সফ: ১৪] এখানেও ‘ইলা’ অর্থ ‘মা’আ’ অর্থাৎ ‘সাথে’ ইত্যাদি। তবে সঠিক বিশ্লেষণ হলো যা বসরার ব্যাকরণবিদগণ ক্রিয়ার অর্থ-অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কে বলেছেন। সুতরাং দুম্বার আবেদনের মধ্যে সেটি সংগ্রহ করা এবং নিজের দুম্বাগুলোর সাথে যুক্ত করার অর্থ নিহিত রয়েছে। একইভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {তারা আপনাকে যে অহি আমি আপনার প্রতি করেছি তা থেকে বিচ্যুত করার জন্য প্রায় প্রলুব্ধ করেছিল} [ইসরা: ७৩] এখানে ‘বিচ্যুত করা’ ও ‘ফিরাইয়া দেওয়া’র অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনুরূপভাবে: {এবং আমি তাকে সেই সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করেছি যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল} [আম্বিয়া: ৭৭], এখানে ‘নাজাত দেওয়া’ ও ‘মুক্ত করা’র অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তেমনিভাবে: {যা থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করবে} [ইনসান: ৬], এখানে ‘তৃপ্ত হওয়া’র অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এরুপ দৃষ্টান্ত আরও অনেক রয়েছে।
আর যারা বলেন: {কোনো সন্দেহ নেই} অর্থ ‘সন্দেহ নেই’, এটি একটি নিকটবর্তী অর্থ মাত্র। অন্যথায় ‘রাইব’ শব্দের মধ্যে এক প্রকার অস্থিরতা ও নড়াচড়া বিদ্যমান থাকে, যেমনটি হাদিসে বলা হয়েছে: “যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে তা ত্যাগ করে তাতে মনোনিবেশ করো যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে না।” আর হাদিসে এসেছে যে, তিনি একটি কুঁকড়ে শুয়ে থাকা হরিণের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: “কেউ যেন একে চঞ্চল (বিচলিত) না করে।” সুতরাং যেভাবে ‘ইয়াকীন’ বা ধ্রুব বিশ্বাসের মধ্যে স্থিরতা ও প্রশান্তি নিহিত থাকে, তেমনি ‘রাইব’ বা সংশয় তার বিপরীতে অস্থিরতা ও চঞ্চলতার অর্থ ধারণ করে। যদিও ‘শাক’ (সন্দেহ) শব্দটির ক্ষেত্রে বলা হয় যে এটি এই অর্থকে অপরিহার্য করে তোলে, কিন্তু এর শাব্দিক গঠন সেই অর্থের ওপর সরাসরি প্রমাণ বহন করে না।
একইভাবে যখন বলা হয়: {সেই কিতাব} : অর্থাৎ ‘এই কুরআন’, তখন এটি...
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تقريب؛ لأن المشار أليه وإن كان واحدا، فالإشارة بجهة الحضور غير الإشارة بجهة البعد والغيبة، ولفظ [الكتاب] يتضمن من كونه مكتوبا مضمونا ما لا يتضمنه لفظ القرآن من كونه مقروءا مظهرا باديا. فهذه الفروق موجودة في القرآن. فإذا قال أحدهم: {أَن تُبْسَلَ} : أي تحبس، وقال الآخر: ترتهن، ونحو ذلك، لم يكن من اختلاف التضاد، وإن كان المحبوس قد يكون مرتهنا وقد لا يكون، إذ هذا تقريب للمعنى كما تقدم، وجمع عبارات السلف في مثل هذا نافع جدا، فإن مجموع عباراتهم أدل على المقصود من عبارة أو عبارتين، ومع هذا فلابد من اختلاف محقق بينهم، كما يوجد مثل ذلك في الأحكام.
ونحن نعلم أن عامة ما يضطر إليه عموم الناس من الاختلاف معلوم بل متواتر عند العامة أو الخاصة، كما في عدد الصلوات ومقادير ركوعها ومواقيتها، وفرائض الزكاة ونصبها، وتعيين شهر رمضان، والطواف والوقوف، ورمي الجمار، والمواقيت وغير ذلك.
ثم اختلاف الصحابة في الجد والإخوة وفي المشركة ونحو ذلك، لا يوجب ريبًا في جمهور مسائل الفرائض، بل ما يحتاج إليه عامة الناس هو عمود النسب من الآباء والأبناء، والكلالة من الأخوة والأخوات، ومن نسائهم كالأزواج؛ فإن الله أنزل في الفرائض ثلاث آيات مفصلة، ذكر في الأولى الأصول والفروع، وذكر في الثانية الحاشية التي ترث بالفرض كالزوجين وولد الأم، وفي الثالثة الحاشية الوارثة بالتعصيب
এটি একটি নিকটবর্তী ব্যাখ্যা (تقريب); কারণ যদিও ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি একই, তবুও উপস্থিতির প্রেক্ষিতে ইঙ্গিত করা আর দূরত্ব বা অনুপস্থিতির প্রেক্ষিতে ইঙ্গিত করা এক নয়। আবার ‘কিতাব’ শব্দটি লিখিত ও সংরক্ষিত হওয়ার যে অর্থ অন্তর্ভুক্ত করে, ‘কুরআন’ শব্দটি পঠিত ও প্রকাশিত হওয়ার দিক থেকে তা অন্তর্ভুক্ত করে না। কুরআনে এ জাতীয় পার্থক্যসমূহ বিদ্যমান। সুতরাং যদি তাদের কেউ {أَن تُبْسَلَ} এর ব্যাখ্যায় বলে: ‘আবদ্ধ হওয়া’, আর অন্য কেউ বলে: ‘বন্ধক রাখা’ বা অনুরূপ কিছু, তবে এটি বৈপরীত্যমূলক মতভেদ (اختلاف التضاد) নয়। যদিও যাকে বন্দি করা হয়েছে সে কখনো বন্ধক হিসেবে থাকতে পারে আবার কখনো নাও থাকতে পারে; কারণ এটি পূর্বোক্ত আলোচনার ন্যায় অর্থের নিকটবর্তী করা (تقريب) মাত্র। এই জাতীয় ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের (السلف) বক্তব্যসমূহ একত্রে সংকলন করা অত্যন্ত উপকারী। কেননা একটি বা দুটি বক্তব্যের চেয়ে তাদের সকল বক্তব্যের সমষ্টি কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যের ওপর অধিকতর শক্তিশালী প্রমাণ দেয়। তবে তা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে কিছু বাস্তব মতভেদ অবশ্যই রয়েছে, যেমনটি বিধানের (الأحكام) ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়।
আর আমরা জানি যে, সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোর অধিকাংশেরই সমাধান জানা আছে, বরং সাধারণ বা বিশিষ্ট আলেমদের নিকট তা সন্দেহাতীতভাবে নিরবচ্ছিন্ন (متواتر) হিসেবে সুপরিচিত। যেমন—নামাযের সংখ্যা, রুকুর পরিমাণ ও সময়সূচি, যাকাতের ফরজসমূহ ও নিসাব, রমজান মাস নির্ধারণ, তাওয়াফ, উকুফ, জামরায় পাথর নিক্ষেপ এবং হজের সময় ও স্থান নির্ধারণ ইত্যাদি।
অতঃপর দাদা ও ভাইদের উত্তরাধিকার এবং ‘মুশাররাকা’ মাসআলা ইত্যাদি বিষয়ে সাহাবীগণের মতভেদ উত্তরাধিকার বা ফরায়েয শাস্ত্রের অধিকাংশ মাসআলার ক্ষেত্রে কোনো সংশয়ের সৃষ্টি করে না। বরং সাধারণ মানুষের যা প্রয়োজন তা হলো বংশপরম্পরার মূল ভিত্তি অর্থাৎ পিতা ও সন্তান এবং পিতা-পুত্রহীন উত্তরাধিকারী (كلالة) যেমন ভাই ও বোন এবং তাদের স্ত্রীদের মধ্য থেকে স্বামী বা স্ত্রী। কেননা আল্লাহ তাআলা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধানে তিনটি বিস্তারিত আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। প্রথম আয়াতে তিনি মূল বা ঊর্ধ্বস্থ (أصول) এবং শাখা বা নিম্নস্থ (فروع) উত্তরাধিকারীদের কথা উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় আয়াতে পার্শ্বস্থ আত্মীয়দের কথা উল্লেখ করেছেন যারা নির্ধারিত অংশ (فرض) অনুযায়ী উত্তরাধিকার লাভ করে, যেমন স্বামী-স্ত্রী এবং মায়ের দিকের সন্তান (ভাই-বোন)। আর তৃতীয় আয়াতে সেই পার্শ্বস্থ আত্মীয়দের কথা উল্লেখ করেছেন যারা অবশিষ্টাংশভোগী (تعصيب) হিসেবে উত্তরাধিকারী হয়।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وهم الأخوة لأبوين أو لأب، واجتماع الجد والأخوة نادر؛ ولهذا لم يقع في الإسلام إلا بعد موت النبي صلى الله عليه وسلم؛ والاختلاف قد يكون لخفاء الدليل أو لذهول عنه، وقد يكون لعدم سماعه، وقد يكون للغلط في فهم النص، وقد يكون لاعتقاد معارض راجح، فالمقصود هنا التعريف بجمل الأمر دون تفاصيله.
তারা হলেন সহোদর ভাই অথবা বৈমাত্রেয় ভাই; আর দাদা ও ভাইদের একত্রে উত্তরাধিকার লাভের বিষয়টি বিরল (نادر)। একারণেই ইসলামে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের আগে এটি সংঘটিত হয়নি। আর মতভেদ (اختلاف) কখনও দলিলের (دليل) অস্পষ্টতার কারণে অথবা তা থেকে অমনোযোগিতার কারণে হতে পারে। আবার কখনও তা শুনতে না পাওয়ার কারণে, অথবা নস (نص) অনুধাবনে ভুলের কারণে হতে পারে, কিংবা অধিক গ্রহণযোগ্য (راجح) কোনো বিপরীত (معارض) প্রমাণের বিশ্বাসের কারণেও হতে পারে। এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো বিস্তারিত বর্ণনা ছাড়াই বিষয়টির সামগ্রিক রূপ সম্পর্কে পরিচয় প্রদান করা।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
فصل
[في نوعي الاختلاف في التفسير]
النوع الأول: الخلاف الواقع في التفسير من جهة النقلالاختلاف في التفسير على نوعين: منه ما مستنده النقل فقط، ومنه ما يعلم بغير ذلك؛ إذ العلم إما نقل مصدق وإما استدلال محقق، والمنقول إما عن المعصوم وإما عن غير المعصوم، والمقصود بأن جنس المنقول سواء كان عن المعصوم أو غير المعصوم، وهذا هو النوع الأول منه ما يمكن معرفة الصحيح منه والضعيف، ومنه ما لا يمكن معرفة ذلك فيه. وهذا القسم الثاني من المنقول؛ وهو ما لاطريق لنا إلى الجزم بالصدق منه عامته مما لا فائدة فيه، فالكلام فيه من فضول الكلام.
وأما ما يحتاج المسلمون إلى معرفته، فإن الله نصب على الحق فيه دليلا، فمثال ما لا يفيد ولا دليل على الصحيح منه: اختلافهم في لون كلب أصحاب الكهف، وفي البعض الذي ضرب به موسى من البقرة،
فصل
[তাফসীরের ক্ষেত্রে মতভেদের দুই প্রকার প্রসঙ্গে]
প্রথম প্রকার: বর্ণনার (نقل) দিক থেকে তাফসীরে বিদ্যমান মতভেদতাফসীরের ক্ষেত্রে মতভেদ দুই প্রকার: এর মধ্যে কিছু রয়েছে যার ভিত্তি কেবল বর্ণনা (نقل), আর কিছু রয়েছে যা এছাড়া অন্যভাবে জানা যায়। কারণ জ্ঞান হয় সত্যায়িত বর্ণনা (نقل مصدق), না হয় সুনিশ্চিত গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (استدلال محقق)। আর বর্ণিত (منقول) বিষয়াদি হয় নিষ্পাপ (معصوم) কারো পক্ষ থেকে, অথবা নিষ্পাপ নন এমন কারো পক্ষ থেকে। উদ্দেশ্য হলো বর্ণনার (منقول) ধরন—তা নিষ্পাপ কারো পক্ষ থেকে হোক বা অন্য কারো পক্ষ থেকে। আর এটিই হলো প্রথম প্রকার, যার মধ্য থেকে সহিহ (صحيح) এবং জয়িফ (ضعيف) নিরূপণ করা সম্ভব, আবার এমন কিছুও আছে যা নিরূপণ করা সম্ভব নয়। বর্ণনার (منقول) এই দ্বিতীয় অংশটি এমন যে, এর সত্যতা নিশ্চিতভাবে জানার কোনো পথ আমাদের নেই এবং এর অধিকাংশেরই কোনো বিশেষ প্রয়োজনীয়তা নেই; তাই এ নিয়ে আলোচনা করা অনর্থক আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।
আর মুসলমানদের যা জানা প্রয়োজন, আল্লাহ তাআলা সে বিষয়ে সত্যের সপক্ষে দলিল (دليل) উপস্থাপন করেছেন। সুতরাং যা কোনো উপকারে আসে না এবং যার মধ্য থেকে সহিহ (صحيح) কোনটি তা জানার কোনো দলিল (دليل) নেই, তার উদাহরণ হলো: আসহাবে কাহাফের কুকুরের রঙ নিয়ে তাদের মতভেদ এবং গাভীর কোন অংশ দিয়ে (মৃত ব্যক্তিকে) আঘাত করা হয়েছিল তা নিয়ে মতভেদ।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وفي مقدار سفينة نوح وما كان خشبها، وفي اسم الغلام الذي قتله الخضر، ونحو ذلك. فهذه الأمور طريق العلم بها النقل، فما كان من هذا منقولاً نقلا صحيحا عن النبي صلى الله عليه وسلم كاسم صاحب موسى أنه الخضر فهذا معلوم، وما لم يكن كذلك بل كان مما يؤخذ عن أهل الكتاب كالمنقول عن كعب ووهب ومحمد بن إسحاق وغيرهم ممن يأخذ عن أهل الكتاب فهذا لا يجوز تصديقه ولا تكذيبه إلا بحجة، كما ثبت في الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: " إذا حدثكم أهل الكتاب فلا تصدقوهم ولا تكذبوهم، فإما أن يحدثوكم بحق فتكذبوه، وإما أن يحدثوكم بباطل فتصدقوه ".
وكذلك ما نقل عن بعض التابعين، وإن لم يذكر أنه أخذه عن أهل الكتاب، فمتى اختلف التابعون لم يكن بعض أقوالهم حجة على بعض، وما نقل في ذلك عن بعض الصحابة نقلا صحيحا فالنفس إليه
নূহ (আ.)-এর নৌকার পরিমাপ ও তার কাঠ কী ধরনের ছিল, খিজির (আ.) যে বালককে হত্যা করেছিলেন তার নাম এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি—এসব বিষয় সম্পর্কে জানার মাধ্যম হলো বর্ণনা (نقل)। সুতরাং এগুলোর মধ্যে যা নবি (সা.) থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনার মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, যেমন মুসা (আ.)-এর সঙ্গীর নাম খিজির হওয়া, তবে তা সুনিশ্চিত বিষয়। আর যা এরূপ নয়, বরং তা আহলে কিতাবদের থেকে গ্রহণ করা হয়েছে—যেমন কাব, ওয়াহাব, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত বিষয়াবলি যারা আহলে কিতাবদের থেকে তথ্য গ্রহণ করতেন—তবে তা কোনো দলিল (حجة) ব্যতীত সত্য বলে বিশ্বাস করা বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করা বৈধ নয়। যেমনটি সহিহ গ্রন্থে নবি (সা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আহলে কিতাবরা যখন তোমাদের নিকট কোনো কথা বর্ণনা করে, তখন তোমরা তাদের সত্য মনে করো না এবং মিথ্যাও বলো না। কারণ হতে পারে তারা কোনো সত্য কথা বলছে আর তোমরা তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করছ, অথবা তারা কোনো মিথ্যা কথা বলছে আর তোমরা তা সত্য বলে গ্রহণ করছ।"
তদ্রূপ যা কোনো কোনো তাবেয়ি (تابعين) থেকে বর্ণিত হয়েছে, যদিও তা তারা আহলে কিতাবদের থেকে গ্রহণ করেছেন বলে উল্লিখিত হয়নি; যখন তাবেয়িগণ (تابعين) মতভেদ করেন তখন তাদের কারো কথা অন্যের জন্য দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হয় না। আর এই বিষয়ে সাহাবিদের (صحابة) পক্ষ থেকে যা বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনার মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, মন সেদিকেই আশ্বস্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أسكن مما نقل عن بعض التابعين؛ لأن احتمال أن يكون سمعه من النبي صلى الله عليه وسلم أو من بعض من سمعه منه أقوى؛ ولأن نقل الصحابة عن أهل الكتاب أقل من نقل التابعين، ومع جزم الصاحب فيما يقوله، فكيف يقال: إنه أخذه عن أهل الكتاب وقد نهوا عن تصديقهم؟
والمقصود أن مثل هذا الاختلاف الذي لا يعلم صحيحه، ولا تفيد حكاية الأقوال فيه، هو كالمعرفة لما يروي من الحديث الذي لا دليل على صحته وأمثال ذلك.
وأما القسم الأول، الذي يمكن معرفة الصحيح منه، فهذا موجود فيما يحتاج إليه ولله الحمد، فكثيرا ما يوجد في التفسير والحديث والمغازي أمور منقولة عن نبينا صلى الله عليه وسلم وغيره من الأنبياء صلوات الله عليهم وسلامه والنقل الصحيح يدفع ذلك، بل هذا موجود فيما مستنده النقل، وفيما قد يعرف بأمور أخرى غير النقل.
فالمقصود أن المنقولات التي يحتاج إليها في الدين قد نصب الله الأدلة على بيان ما فيها من صحيح وغيره، ومعلوم أن المنقول في التفسير أكثره كالمنقول في المغازي والملاحم؛ ولهذا قال الإمام أحمد: ثلاثة أمور ليس لها إسناد: التفسير، والملاحم، والمغازي. ويروي: ليس لها أصل، أي إسناد؛ لأن الغالب عليها المراسيل، مثل ما يذكره عروة بن الزبير، والشعبي، والزهري، وموسى بن عقبة، وابن إسحاق، ومن بعدهم،
এটি কিছু তাবেয়ী (تابعين) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার তুলনায় অধিক নির্ভরযোগ্য; কারণ তিনি এটি সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিংবা যারা তাঁর থেকে শুনেছেন তাদের কারো থেকে শুনেছেন—এমন সম্ভাবনা প্রবল। তাছাড়া আহলে কিতাব থেকে সাহাবীদের (صحابة) বর্ণনা করার হার তাবেয়ীদের (تابعين) তুলনায় অনেক কম। আর কোনো বিষয়ে যখন একজন সাহাবী (صحابي) নিশ্চিতভাবে কিছু বলেন, তখন কীভাবে বলা যেতে পারে যে, তিনি এটি আহলে কিতাব থেকে গ্রহণ করেছেন অথচ তাদের (আহলে কিতাবকে) সত্য বলে গণ্য করতে নিষেধ করা হয়েছে?
মূল উদ্দেশ্য হলো, এ জাতীয় মতভেদ যার সঠিকতা (صحيح) জানা যায় না এবং এতে বিভিন্ন মতামত উদ্ধৃত করাও কোনো উপকারে আসে না, তা এমন হাদিস সম্পর্কে জানার সমতুল্য যার বিশুদ্ধতার (صحة) কোনো প্রমাণ নেই এবং তদ্রূপ অন্যান্য বিষয়।
আর প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে, যেখান থেকে সঠিক (صحيح) বিষয়টি জানা সম্ভব, আলহামদুলিল্লাহ, তা প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। তাফসির, হাদিস এবং মাগাজি-র (যুদ্ধাভিযান) বর্ণনায় প্রায়শই আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং অন্যান্য নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) কাছ থেকে বর্ণিত এমন অনেক বিষয় পাওয়া যায়, যা সঠিক বর্ণনা (نقل صحيح) দ্বারা খণ্ডন করা হয়। বরং এটি এমন ক্ষেত্রেও বিদ্যমান যার ভিত্তি হচ্ছে বর্ণনা (نقل), এবং যা বর্ণনা ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ের মাধ্যমে জানা সম্ভব।
মূল কথা হলো, দ্বীনের জন্য প্রয়োজনীয় বর্ণনাসমূহের মধ্যে কোনটি সঠিক (صحيح) আর কোনটি নয়, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার জন্য আল্লাহ তাআলা দলিল-প্রমাণাদি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এটি সুবিদিত যে, তাফসিরের অধিকাংশ বর্ণনাই মাগাজি এবং মালাহিম-এর (মহাযুদ্ধ) বর্ণনাসমূহের মতো। এই কারণেই ইমাম আহমাদ বলেছেন: তিনটি বিষয়ের কোনো সনদ (إسناد) নেই: তাফসির, মালাহিম এবং মাগাজি। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: এগুলোর কোনো ভিত্তি (أصل) নেই—অর্থাৎ কোনো সনদ (إسناد) নেই; কারণ এগুলোর অধিকাংশ বর্ণনা হলো মুরসাল (مراسيل) প্রকৃতির, যেমন উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর, আশ-শা'বী, আজ-জুহরি, মুসা ইবনে উকবা, ইবনে ইসহাক এবং তাদের পরবর্তীগণ যা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
كيحيى بن سعيد الأموي، والوليد بن مسلم، والواقدي، ونحوهم في المغازي؛ فإن أعلم الناس بالمغازي أهل المدينة، ثم أهل الشام، ثم أهل العراق، فأهل المدينة أعلم بها لأنها كانت عندهم، وأهل الشام كانوا أهل غزو وجهاد، فكان لهم من العلم بالجهاد والسير ما ليس لغيرهم؛ ولهذا عظم الناس كتاب أبي إسحاق الفزاري الذي صنفه في ذلك، وجعلوا الأوزاعي أعلم بهذا الباب من غيره من علماء الأمصار.
যেমন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-উমাওয়ী, ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম, আল-ওয়াকিদি এবং যুদ্ধাভিযান (المغازي) শাস্ত্রে তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ; কেননা যুদ্ধাভিযান (المغازي) সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী হলেন মদিনার অধিবাসীগণ, অতঃপর সিরিয়ার অধিবাসীগণ এবং এরপর ইরাকের অধিবাসীগণ। মদিনার অধিবাসীগণ এ বিষয়ে অধিক জ্ঞানী কারণ এগুলো তাদের নিকটেই সংঘটিত হয়েছিল। আর সিরিয়ার অধিবাসীগণ ছিলেন যুদ্ধ ও জিহাদের লোক, ফলে জিহাদ ও জীবনচরিত (السير) সম্পর্কে তাদের এমন জ্ঞান ছিল যা অন্যদের ছিল না। এ কারণেই মানুষ আবু ইসহাক আল-ফাজারি এ বিষয়ে যে কিতাবটি সংকলন করেছেন সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তারা ইমাম আওযায়ীকে বিভিন্ন জনপদের অন্যান্য আলেমদের তুলনায় এই অধ্যায়ে অধিক জ্ঞানী বলে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وأما التفسير فإن أعلم الناس به أهل مكة؛ لأنهم أصحاب ابن عباس، كمجاهد وعطاء ابن أبي رباح، وعكرمة مولى ابن عباس وغيرهم من أصحاب أبن عباس، كطاوس، وأبي الشعثاء، وسعيد بن جبير وأمثالهم، وكذلك أهل الكوفة من أصحاب ابن مسعود، ومن ذلك ما تميزوا به على غيرهم، وعلماء أهل المدينة في التفسير مثل زيد بن أسلم الذي أخذ عنه مالك التفسير، وأخذه عنه أيضا ابنه عبد
আর তাফসিরের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী হলেন মক্কাবাসী; কেননা তাঁরা ছিলেন ইবনে আব্বাসের সঙ্গী (أصحاب), যেমন মুজাহিদ, আতা ইবনে আবি রাবাহ, ইবনে আব্বাসের মুক্ত দাস (مولى) ইকরিমা এবং ইবনে আব্বাসের অন্যান্য সঙ্গী (أصحاب), যেমন তাউস, আবু আশ-শা’সা, সাঈদ ইবনে জুবায়ের ও তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। একইভাবে ইবনে মাসউদের সঙ্গী (أصحاب) কুফাবাসীগণ; আর এটিই সেই বিষয় যার মাধ্যমে তাঁরা অন্যদের ওপর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়েছেন। আর তাফসিরের ক্ষেত্রে মদিনার আলেমদের উদাহরণ হলেন যায়দ ইবনে আসলাম, যাঁর নিকট থেকে মালিক তাফসির গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে তাঁর পুত্র আবদ-ও তা গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الرحمن، وأخذه عن عبد الرحمن عبد الله بن وهب.
والمراسيل إذا تعددت طرقها وخلت عن المواطأة قصدًا أو الاتفاق بغير قصد كانت صحيحة قطعا، فان النقل إما أن يكون صدقا مطابقا للخبر، وإما أن يكون كذبا تعمد صاحبه الكذب، أو أخطأ فيه، فمتى سلم من الكذب العمد والخطأ كان صدقا بلا ريب.
فإذا كان الحديث جاء من جهتين أو جهات، وقد علم أن المخبرين لم يتواطئا على اختلاقه، وعلم أن مثل ذلك لا تقع الموافقة فيه اتفاقًا بلا قصد علم أنه صحيح، مثل شخص يحدث عن واقعة جرت، ويذكر تفاصيل ما فيها من الأقوال والأفعال، ويأتي شخص آخر قد علم أنه لم يواطئ الأول، فيذكر مثل ما ذكره الأول من تفاصيل الأقوال والأفعال، فيعلم قطعا أن تلك الواقعة حق في الجملة؛ فإنه لو كان كل منهما كذبها عمدا أو خطأ، لم يتفق في العادة أن يأتي كل منهما بتلك التفاصيل التي تمنع العادة اتفاق الاثنين عليها بلا مواطأة من أحدهما لصاحبه، فإن الرجل قد يتفق أن ينظم بيتا وينظم الآخر مثله، أو يكذب كذبة ويكذب الآخر مثلها، أما إذا أنشأ قصيدة طويلة ذات فنون على قافية ورَوِيٍّ فلم تجر العادة بأن غيره ينشئ مثلها لفظا ومعني مع الطول المفرط، بل يعلم بالعادة أنه أخذها منه، وكذلك إذا حدث حديثا طويلا فيه فنون، وحدث آخر بمثله، فإنه إما أن يكون واطأه عليه أو أخذه منه، أو يكون الحديث صدقا، وبهذه الطريق يعلم صدق عامة ما تتعدد جهاته المختلفة على هذا الوجه من المنقولات، وإن لم يكن أحدها كافيا إما لإرساله وإما لضعف ناقله، لكن مثل هذا لا تضبط به الألفاظ والدقائق التي لا تعلم بهذه الطريق فلا يحتاج
...আর-রহমান, এবং আব্দুর রহমানের নিকট থেকে তা গ্রহণ করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব।
বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসসমূহ যখন একাধিক সূত্র (طرق) থেকে বর্ণিত হয় এবং ইচ্ছাকৃত যোগসাজশ অথবা অনিচ্ছাকৃত কাকতালীয় মিল থেকে মুক্ত থাকে, তখন তা নিশ্চিতভাবে সহিহ (صحيحة) হিসেবে গণ্য হয়। কেননা কোনো বর্ণনা হয় সংবাদের সাথে সংগতিপূর্ণ সত্য হবে, অন্যথায় তা বর্ণনাকারী কর্তৃক ইচ্ছাকৃত মিথ্যা হবে অথবা তাতে সে ভুল করবে। সুতরাং যখন এটি ইচ্ছাকৃত মিথ্যা এবং ভুল থেকে মুক্ত থাকে, তখন তা নিঃসন্দেহে সত্য।
অতএব, হাদিসটি যখন দুই বা ততোধিক দিক থেকে বর্ণিত হয় এবং এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে বর্ণনাকারীগণ এটি উদ্ভাবনের বিষয়ে কোনো যোগসাজশ করেননি, আর এটিও জানা যায় যে এরূপ মিল অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটা সম্ভব নয়, তখন তা সহিহ (صحيح) বলে প্রমাণিত হয়। যেমন কোনো ব্যক্তি একটি ঘটিত ঘটনা সম্পর্কে বর্ণনা করছে এবং তাতে থাকা কথা ও কাজের বিস্তারিত বিবরণ দিচ্ছে। অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি আসলো যার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সে প্রথম ব্যক্তির সাথে কোনো যোগসাজশ করেনি, কিন্তু সেও প্রথম ব্যক্তির বর্ণনার মতোই বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করল। এমতাবস্থায় নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, উক্ত ঘটনাটি সামগ্রিকভাবে সত্য। কেননা যদি তাদের প্রত্যেকে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলত বা ভুল করত, তবে সাধারণত এমনটি ঘটা সম্ভব হতো না যে, তাদের প্রত্যেকেই এমন সব পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ প্রদান করবে যা একে অপরের সাথে কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ব্যতিরেকে মিলে যাওয়া অভ্যাসগতভাবে অসম্ভব। মানুষ হয়তো একটি পঙক্তি রচনা করতে পারে এবং অন্যজনও তার মতো করে তা রচনা করে ফেলতে পারে, অথবা একজন একটি মিথ্যা বলল এবং অন্যজনও তদ্রূপ একটি মিথ্যা বলল—এমনটি হতে পারে। কিন্তু যখন কেউ ছন্দ ও অন্ত্যমিল বিশিষ্ট বৈচিত্র্যময় দীর্ঘ কোনো কবিতা রচনা করে, তখন সাধারণত অপর কেউ তদ্রূপ শব্দ ও অর্থ সংবলিত অতি দীর্ঘ কবিতা রচনা করতে পারে না; বরং স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায় যে সে এটি তার কাছ থেকেই গ্রহণ করেছে। অনুরূপভাবে যখন কেউ বৈচিত্র্যপূর্ণ কোনো দীর্ঘ হাদিস বর্ণনা করে এবং অন্যজনও তদ্রূপ বর্ণনা করে, তবে হয় সে তার সাথে যোগসাজশ করেছে অথবা তার কাছ থেকে তা গ্রহণ করেছে, অন্যথায় হাদিসটি সত্য। আর এভাবেই বর্ণিত বিষয়াবলির মধ্য থেকে যেগুলোর একাধিক ভিন্ন ভিন্ন সূত্র রয়েছে সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়; যদিও সেগুলোর কোনো একটি এককভাবে যথেষ্ট নয়—হয় তার বিচ্ছিন্নতা (إرسال)-র কারণে অথবা তার বর্ণনাকারীর দুর্বলতা (ضعف)-র কারণে। তবে এ জাতীয় পন্থায় এমন শব্দাবলি ও সূক্ষ্ম বিষয়গুলো সংরক্ষিত হয় না যা এই পদ্ধতিতে জানা সম্ভব নয়, ফলে তার প্রয়োজন পড়ে না।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ذلك إلى طريق يثبت بها مثل تلك الألفاظ والدقائق؛ ولهذا ثبتت بالتواتر غزوة بَدْر وأنها قبل أُحُد، بل يعلم قطعا أن حمزة وعليًا وعبيدة برزوا إلى عُتْبَةَ وَشَيْبَةَ والوليد، وأن عليا قتل الوليد، وأن حمزة قتل قرنه، ثم يشك في قرنه هل هو عتبة أو شيبة.
وهذا الأصل ينبغي أن يعرف؛ فإنه أصل نافع في الجزم بكثير من المنقولات في الحديث والتفسير والمغازي، وما ينقل من أقوال الناس وأفعالهم وغير ذلك.
ولهذا إذا روى الحديث الذي يتأتى فيه ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم من وجهين، مع العلم بأن أحدهما لم يأخذه عن الآخر، جزم بأنه حق، لا سيما إذا علم أن نَقَلَتَه ليسوا ممن يتعمد الكذب، وإنما يخاف على أحدهم النسيان والغلط؛ فإن من عرف الصحابة كابن مسعود وأبي بن كعب، وابن عمر، وجابر، وأبي سعيد، وأبي هريرة وغيرهم علم يقينا أن الواحد من هؤلاء لم يكن ممن يتعمد الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فضلا عمن هو فوقهم، كما يعلم الرجل من حال من جربه وخبره خبره باطنة طويلة أنه ليس ممن يسرق أموال الناس، ويقطع الطريق، ويشهد بالزور ونحو ذلك.
وكذلك التابعون بالمدينة ومكة، والشام والبصرة، فإن من عرف مثل أبي صالح السمان، والأعرج، وسليمان بن يسار، وزيد بن أسلم وأمثالهم، علم قطعا أنهم لم يكونوا ممن يتعمد الكذب في الحديث،
এটি এমন একটি পদ্ধতির দিকে ধাবিত করে যার মাধ্যমে এ ধরনের শব্দাবলি ও সূক্ষ্ম বিষয়াদি প্রমাণিত হয়; আর এই কারণেই নিরবচ্ছিন্ন (تواتر) ধারায় বদর যুদ্ধ এবং এটি ওহুদ যুদ্ধের পূর্বে সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত। বরং এটি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, হামযা, আলী এবং উবায়দাহ (রা.) সম্মুখ সমরে উতবাহ, শায়বাহ এবং ওয়ালীদের মোকাবিলা করেছিলেন। আলী (রা.) ওয়ালীদকে হত্যা করেছিলেন এবং হামযা (রা.) তাঁর প্রতিপক্ষকে হত্যা করেছিলেন, তবে তাঁর প্রতিপক্ষ উতবাহ নাকি শায়বাহ ছিল তা নিয়ে পরবর্তীতে সংশয় দেখা দেয়।
এই মূলনীতিটি জেনে রাখা উচিত; কেননা হাদিস, তাফসির, মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) এবং মানুষের কথা ও কাজসহ বর্ণিত বিভিন্ন বিষয়ের ক্ষেত্রে দৃঢ় নিশ্চয়তা লাভের জন্য এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর মূলনীতি।
এই কারণেই যদি নবী (সা.) থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণিত হয় যা দুটি ভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, অথচ এটি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে তাঁদের একজন অপরজনের কাছ থেকে তা গ্রহণ করেননি, তবে তা সত্য বলে সুনিশ্চিত হওয়া যায়। বিশেষ করে যখন এটি জানা থাকে যে এর বর্ণনাকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা (كذب) আরোপকারী নন, বরং তাদের ক্ষেত্রে কেবল বিস্মৃতি বা ভুলের আশঙ্কা থাকে। কেননা যারা ইবনে মাসউদ, উবাই ইবনে কাব, ইবনে উমর, জাবির, আবু সাঈদ এবং আবু হুরায়রা (রা.)-এর মতো সাহাবীগণকে চেনেন, তারা নিশ্চিতভাবে জানেন যে তাঁদের কেউ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা (كذب) আরোপকারী ছিলেন না। আর তাঁদের ঊর্ধ্বস্তরের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তো এ কথা আরও বেশি প্রযোজ্য। যেমন একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কারো অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারে যে সে মানুষের সম্পদ লুণ্ঠনকারী, ডাকাত বা মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী নয়।
একইভাবে মদিনা, মক্কা, শাম ও বসরার তাবিঈগণের (التابعون) বিষয়টিও। যারা আবু সালেহ আস-সাম্মান, আল-আরাজ, সুলায়মান ইবনে ইয়াসার, যায়েদ ইবনে আসলাম এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানেন, তারা সুনিশ্চিতভাবে জানেন যে তাঁরা হাদিসের বর্ণনায় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা (كذب) আরোপকারী ছিলেন না।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فضلا عمن هو فوقهم، مثل محمد بن سيرين، والقاسم بن محمد، أو سعيد بن المسيب، أو عبيدة السلماني، أو عَلْقَمة، أو الأسود أو نحوهم. وإنما يخاف على الواحد من الغلط؛ فإن الغلط والنسيان كثيرا ما يعرض للإنسان، ومن الحفاظ من قد عرف الناس بعده عن ذلك جدا، كما عرفوا حال الشعبي والزهري وعروة وقتادة والثوري وأمثالهم، لا سيما الزهري في زمانه، والثوري في زمانه، فإنه قد يقول القائل: أن ابن شهاب الزهري لا يعرف له غلط، مع كثرة حديثه وسعة حفظه.
তদুপরি যাঁরা তাঁদের চেয়েও উচ্চ পর্যায়ের, যেমন: মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, কাসেম ইবনে মুহাম্মদ, অথবা সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, অথবা উবাইদাহ আস-সালমানি, অথবা আলকামা, অথবা আসওয়াদ বা তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। মূলত একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভুল (الغلط) করার আশঙ্কা থাকে; কেননা মানুষের ক্ষেত্রে প্রায়শই ভুল (الغلط) ও বিস্মৃতি (النسيان) ঘটে থাকে। আর হাফেজদের (الحفاظ) মধ্যে এমন ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন যাঁদের এই জাতীয় ত্রুটি থেকে সুদূর অবস্থান সম্পর্কে মানুষ সম্যক অবগত, যেমনটি তাঁরা আশ-শা’বি, আজ-জুহরি, উরওয়াহ, কাতাদাহ, আস-সাওরি এবং তাঁদের সমসাময়িকদের অবস্থা সম্পর্কে জানতেন। বিশেষ করে নিজ নিজ সময়ে আজ-জুহরি এবং আস-সাওরি; এমনকি কোনো কোনো বক্তা হয়তো বলেন যে: ইবনে শিহাব আজ-জুহরির কোনো ভুল (غلط) পরিলক্ষিত হয়নি, অথচ তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা প্রচুর এবং তাঁর হেফজ (حفظ) বা স্মৃতিশক্তির পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والمقصود أن الحديث الطويل إذا روي مثلا من وجهين مختلفين، من غير مواطأة امتنع عليه أن يكون غلطا، كما امتنع أن يكون كذبا؛ فإن الغلط لا يكون في قصة طويلة متنوعة، وإنما يكون في بعضها، فإذا روى هذا قصة طويلة متنوعة ورواها الآخر مثلما رواها الأول من غير مواطأة امتنع الغلط في جميعها، كما امتنع الكذب في جميعها من غير مواطأة.
ولهذا إنما يقع في مثل ذلك غلط في بعض ما جرى في القصة، مثل حديث اشتراء النبي صلى الله عليه وسلم البعير من جابر؛ فإن من تأمل طرقه علم قطعا أن الحديث صحيح، وإن كانوا قد اختلفوا في مقدار الثمن. وقد بين ذلك البخاري في صحيحه، فإن جمهور ما في البخاري ومسلم مما يقطع بأن النبي صلى الله عليه وسلم قاله؛ لأن غالبه من هذا النحو؛ ولأنه قد تلقاه أهل العلم بالقبول والتصديق، والأمة لا تجتمع على خطأ، فلو كان الحديث كذبا في نفس الأمر، والأمة مصدقة له قابلة له، لكانوا قد أجمعوا على تصديق ما هو في نفس الأمر كذب، وهذا إجماع على الخطأ وذلك ممتنع، وإن كنا نحن بدون الإجماع نجوز الخطأ أو الكذب على الخبر، فهو كتجويزنا قبل أن نعلم الإجماع على العلم الذي ثبت بظاهر أو قياس ظني أن يكون الحق في الباطن، بخلاف ما اعتقدناه، فإذا أجمعوا على الحكم جزمنا بأن الحكم ثابت باطنا وظاهرا.
ولهذا كان جمهور أهل العلم من جميع الطوائف على أن " خبر الواحد " إذا تلقته الأمة بالقبول تصديقا له أو عملا به أنه يوجب العلم، وهذا هو الذي ذكره المصنفون في أصول الفقه، من أصحاب أبي حنيفة، ومالك، والشافعي، وأحمد، إلا فرقة قليلة من المتأخرين اتبعوا في ذلك طائفة من أهل الكلام أنكروا ذلك، ولكن كثيرا من أهل الكلام أو أكثرهم يوافقون الفقهاء، وأهل الحديث والسلف على ذلك، وهو قول أكثر
উদ্দেশ্য হলো যে, একটি দীর্ঘ হাদিস যদি উদাহরণস্বরূপ দুটি ভিন্ন সূত্র থেকে কোনো পূর্ব-সমঝোতা ছাড়াই বর্ণিত হয়, তবে তা ভুল (غلط) হওয়া অসম্ভব, যেমনটি তা মিথ্যা (كذب) হওয়া অসম্ভব। কারণ ভুল (غلط) সাধারণত দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় কোনো গল্পের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ঘটে না, বরং কেবল তার কোনো কোনো অংশে ঘটে থাকে। সুতরাং, যখন একজন একটি দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় গল্প বর্ণনা করেন এবং অন্যজনও প্রথমজনের মতোই কোনো পূর্ব-সমঝোতা ছাড়াই তা বর্ণনা করেন, তখন সেই গল্পের সকল অংশে ভুল (غلط) থাকা যেমন অসম্ভব, তেমনি কোনো পূর্ব-সমঝোতা ছাড়া সকল অংশে মিথ্যা (كذب) থাকাও অসম্ভব।
এই কারণেই এই ধরণের ক্ষেত্রে কেবল গল্পের কোনো কোনো অংশে ভুল (غلط) ঘটে থাকে, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক জাবির (রা.)-এর নিকট থেকে উট ক্রয়ের হাদিসটি। যে ব্যক্তি এর বর্ণনাসূত্রগুলো (طرق) পর্যবেক্ষণ করবেন, তিনি নিশ্চিতভাবে জানতে পারবেন যে হাদিসটি সহিহ (صحيح), যদিও তারা মূল্যের পরিমাণের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। মূলত সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের অধিকাংশ হাদিসই এমন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন বলে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত; কারণ এর অধিকাংশ এই পর্যায়ের। আর যেহেতু আলেম সমাজ একে গ্রহণ ও সত্যায়নের মাধ্যমে কবুল করে নিয়েছেন, আর উম্মত কখনও ভুলের (خطأ) ওপর ঐক্যবদ্ধ হয় না। সুতরাং বিষয়টি যদি বাস্তবে মিথ্যা (كذب) হতো এবং উম্মত একে সত্যায়ন ও গ্রহণ করে নিত, তবে তারা বাস্তবে যা মিথ্যা (كذب) তার ওপর ঐকমত্য পোষণ করত। আর এটি ভুলের (خطأ) ওপর ঐকমত্য হওয়া বোঝায়, যা অসম্ভব। যদিও আমরা ঐকমত্য ছাড়া কোনো সংবাদের ক্ষেত্রে ভুল (خطأ) বা মিথ্যার (كذب) সম্ভাবনা রাখি, তবে এটি ঐকমত্য জানার আগে জাহিরি দলিল বা ধারণাভিত্তিক কিয়াসের মাধ্যমে প্রমাণিত জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রকৃত সত্যটি অভ্যন্তরীণভাবে আমাদের বিশ্বাসের বিপরীতে হওয়ার সম্ভাবনা রাখার মতো। কিন্তু যখন তারা কোনো বিধানের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেন, তখন আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে সেই বিধানটি প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে সাব্যস্ত।
এই কারণেই সকল দলের অধিকাংশ আলেমদের অভিমত হলো, একক সংবাদ (خبر الواحد) যখন উম্মত সত্যায়ন করে বা সে অনুযায়ী আমল করে গ্রহণ করে নেয়, তখন তা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। এটিই উসুল আল-ফিকহ শাস্ত্রের রচয়িতাগণ উল্লেখ করেছেন, যারা আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ এবং আহমাদের অনুসারী। তবে পরবর্তী যুগের অল্প কয়েকজন যারা ইলমুল কালামের একদলের অনুসরণ করেছেন তারা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। কিন্তু ইলমুল কালামের অধিকাংশ বা অনেকেই ফকিহ, হাদিস বিশারদ এবং সালাফদের সাথে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন এবং এটিই অধিকাংশের মত।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الأشعرية، كأبي إسحاق وابن فُورَك، وأما ابن الباقلاني فهو الذي أنكر ذلك، وتبعه مثل أبي المعالي وأبي حامد وابن عقيل وابن الجوزي وابن الخطيب والآمدي ونحو هؤلاء، والأول هو الذي ذكره الشيخ أبوحامد وأبو الطيب وأبو إسحاق وأمثاله من أئمة الشافعية، وهو الذي ذكره القاضي عبد الوهاب وأمثاله من المالكية، وهو الذي ذكره أبو يعلي وأبو الخطاب، وأبو الحسن ابن الزاغوني، وأمثالهم من الحنبلية، وهو الذي ذكره شمس الدين السرخسي وأمثاله من الحنفية، وإذا كان الإجماع على تصديق الخبر موجبا للقطع به، فالاعتبار في ذلك بإجماع أهل العلم بالحديث، كما أن الاعتبار في الإجماع على الأحكام بإجماع أهل العلم بالأمر والنهي والإباحة.
والمقصود هنا أن تعدد الطرق مع عدم التشاعر أو الاتفاق في العادة، يوجب العلم بمضمون المنقول، لكن هذا ينتفع به كثيرا في علم أحوال الناقلين. وفي مثل هذا ينتفع برواية المجهول والسيئ الحفظ، وبالحديث المرسل ونحو ذلك؛ ولهذا كان أهل العلم يكتبون مثل هذه الأحاديث، ويقولون: إنه يصلح للشواهد والاعتبار ما لا يصلح لغيره. قال أحمد: قد أكتب حديث الرجل لأعتبره، ومثل هذا بعبد الله بن لَهِيعة قاضي مصر؛ فإنه كان من أكثر الناس حديثا ومن خيار الناس، لكن بسبب احتراق كتبه وقع في حديثه المتأخر غلط، فصار يعتبر بذلك ويستشهد به، وكثيرًا ما يقترن هو والليث بن سعد والليث حجة ثَبْت إمام.
وكما أنهم يستشهدون ويعتبرون بحديث الذي فيه سوء حفظ، فإنهم أيضا يضعفون من حديث الثقة الصدوق الضابط أشياء تبين لهم أنه غلط فيها بأمور يستدلون بها، ويسمون هذا " علم علل الحديث "،
আশআরিগণ, যেমন আবু ইসহাক এবং ইবনে ফুরাক; তবে ইবনুল বাকিলানি এটি অস্বীকার করেছেন এবং আবু আল-মাআলি, আবু হামিদ, ইবনে আকিল, ইবনুল জাওজি, ইবনুল খাতিব, আল-আমিদি এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিরা তাঁর অনুসরণ করেছেন। আর প্রথম মতটি উল্লেখ করেছেন শেখ আবু হামিদ, আবু আল-তৈয়ব, আবু ইসহাক এবং শাফেয়ি মাজহাবের ইমামগণের মধ্যে তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ; এটিই বর্ণনা করেছেন কাজী আব্দুল ওয়াহহাব এবং মালেকি মাজহাবের সমপর্যায়ের বিদ্বানগণ; এটিই উল্লেখ করেছেন আবু ইয়ালা, আবু আল-খাত্তাব, আবু আল-হাসান ইবনে আল-জাগুনি এবং হাম্বলি মাজহাবের তাঁদের সমপর্যায়ের বিদ্বানগণ; আর এটিই উল্লেখ করেছেন শামস আল-দিন আল-সারাকসি এবং হানাফি মাজহাবের তাঁর সমপর্যায়ের বিদ্বানগণ। কোনো সংবাদ সত্য হওয়ার ব্যাপারে যখন ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তা অকাট্য (قطع) জ্ঞান প্রদান করে; আর এক্ষেত্রে হাদিস বিশারদগণের ঐকমত্যই (إجماع) ধর্তব্য, যেমন বিধিবিধানের ক্ষেত্রে আদেশ, নিষেধ এবং বৈধতা বিষয়ক শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের ঐকমত্য (إجماع) ধর্তব্য।
আর এখানে উদ্দেশ্য হলো, পারস্পরিক যোগসাজশ বা সাধারণ অভ্যাসবশত মিল থাকা ছাড়াই বর্ণনার সূত্রের আধিক্য বর্ণিত বিষয়ের জ্ঞান নিশ্চিত করে। তবে এটি বর্ণনাকারীদের অবস্থা বা জীবনী সংক্রান্ত বিদ্যায় অনেক বেশি ফলদায়ক হয়। এই ধরনের ক্ষেত্রে অজ্ঞাত (مجهول) ও দুর্বল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (سيئ الحفظ) ব্যক্তির বর্ণনা এবং বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস ও অনুরূপ বর্ণনা থেকে উপকার গ্রহণ করা হয়। একারণেই বিজ্ঞ আলিমগণ এ জাতীয় হাদিসগুলো লিপিবদ্ধ করতেন এবং বলতেন: এটি সমর্থক বর্ণনা (شواهد) ও যাচাই-পর্যালোচনার (اعتبار) জন্য উপযুক্ত, যা অন্য ক্ষেত্রে উপযুক্ত নয়। ইমাম আহমাদ বলেছেন: "আমি কোনো ব্যক্তির হাদিস লিখে রাখি কেবল তা যাচাই-পর্যালোচনার (اعتبار) জন্য।" মিশরের বিচারক আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়া এর একটি উদাহরণ; তিনি ছিলেন অধিক হাদিস বর্ণনাকারী এবং সর্বোত্তম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু তাঁর কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়ার কারণে তাঁর পরবর্তী সময়ের হাদিসগুলোতে ভুল প্রকাশ পায়। ফলে সেগুলো কেবল যাচাই-পর্যালোচনা (اعتبار) ও সমর্থক বর্ণনা (شواهد) হিসেবে গণ্য হতে থাকে। প্রায়শই তাঁর বর্ণনা লাইস ইবনে সা'দ-এর বর্ণনার সাথে যুক্ত হয়ে আসে; আর লাইস হলেন একজন দলিলযোগ্য (حجة), অত্যন্ত সুদৃঢ় (ثبت) ইমাম।
আর তারা যেমন দুর্বল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির হাদিসকে সমর্থক বর্ণনা (شواهد) ও যাচাই-পর্যালোচনার (اعتبار) জন্য গ্রহণ করেন, তেমনিভাবে তারা নির্ভরযোগ্য (ثقة), সত্যবাদী (صدوق) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারীর হাদিসকেও অনেক সময় দুর্বল (ضعيف) বলে গণ্য করেন, যখন বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের নিকট স্পষ্ট হয় যে বর্ণনাকারী তাতে ভুল করেছেন। আর একে তাঁরা "হাদিসের সুপ্ত ত্রুটি বিষয়ক বিদ্যা (علل الحديث)" বলে অভিহিত করেন।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وهو من أشرف علومهم، بحيث يكون الحديث قد رواه ثقة ضابط وغلط فيه، وغلطة فيه عرف؛ إما بسبب ظاهر، كما عرفوا أن النبي صلى الله عليه وسلم تزوج ميمونة وهو حلال. وأنه صلى في البيت ركعتين. وجعلوا رواية ابن عباس لتزوجها حرامًا؛ ولكونه لم يصل مما وقع فيه الغلط، وكذلك أنه اعتمر أربع عمر. وعلموا أن قول ابن عمر: إنه اعتمر في رجب، مما وقع فيه الغلط، وعلموا أنه تمتع وهو آمن في حجة الوداع، وأن قول عثمان لعلي: كنا يومئذ خائفين، مما وقع فيه الغلط، وإن ما وقع في بعض طرق البخاري " أن النار لا تمتلئ حتى ينشئ الله لها خلقا آخر " مما وقع فيه الغلط وهذا كثير.
والناس في هذا الباب طرفان:
طرف من أهل الكلام ونحوهم، ممن هو بعيد عن معرفة الحديث وأهله، لا يميز بين الصحيح والضعيف، فيشك في صحة أحاديث، أو في القطع بها، مع كونها معلومة مقطوعا بها عند أهل العلم به.
وطرف ممن يدعي اتباع الحديث والعمل به كلما وجد لفظا في حديث قد رواه ثقة أو رأي حديثا بإسناد ظاهره الصحة، يريد أن يجعل ذلك من جنس ما جزم أهل العلم بصحته، حتى إذا عارض الصحيح المعروف أخذ يتكلف له التأويلات الباردة، أو يجعله دليلاً له في مسائل العلم، مع أن أهل العلم بالحديث يعرفون أن مثل هذا غلط.
وكما أن على الحديث أدلة يعلم بها أنه صدق وقد يقطع بذلك، فعليه أدلة يعلم بها أنه كذب ويقطع بذلك، مثل ما يقطع بكذب ما يرويه الوضاعون من أهل البدع والغلو في الفضائل، مثل حديث يوم عاشوراء وأمثاله مما فيه أن من صلى ركعتين كان له كأجر كذا وكذا
এটি তাদের (মুহাদ্দিসগণের) অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইলম, যেখানে কোনো হাদিস এমন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যাতে তিনি ভুল করেছেন, আর তার সেই ভুলটি চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি হয় কোনো স্পষ্ট কারণে, যেমন তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমুনা (রা.)-কে ইহরামমুক্ত অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন এবং তিনি কাবার অভ্যন্তরে দুই রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন। তাঁরা ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা—যেখানে বলা হয়েছে তিনি মুহরিম অবস্থায় তাঁকে বিবাহ করেছিলেন এবং তিনি সালাত আদায় করেননি—সেটিকে ভুল হিসেবে গণ্য করেছেন। একইভাবে তিনি চারবার ওমরাহ করেছিলেন। তাঁরা জেনেছেন যে ইবনে ওমর (রা.)-এর এই উক্তি যে, তিনি রজব মাসে ওমরাহ করেছিলেন, তা ভুলের অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা আরও জেনেছেন যে তিনি বিদায় হজে নিরাপদ অবস্থায় তামাত্তু হজ করেছিলেন এবং উসমান (রা.) আলীকে (রা.) যা বলেছিলেন যে, 'আমরা সেই দিন ভীত ছিলাম', তা ভুলের অন্তর্ভুক্ত। আর সহীহ বুখারীর কিছু সূত্রে যা বর্ণিত হয়েছে যে, 'জাহান্নাম পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না আল্লাহ তার জন্য নতুন এক সৃষ্টি তৈরি করবেন', তা-ও ভুলের অন্তর্ভুক্ত; আর এমন উদাহরণ প্রচুর।
এই বিষয়ে মানুষ দুই প্রান্তে বিভক্ত:
একদল হলো ইলমুল কালামের অনুসারী ও তাদের সমমনা ব্যক্তিরা, যারা হাদিস এবং এর বিশেষজ্ঞগণ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থেকে দূরে। তারা সঠিক (صحيح) এবং দুর্বল (ضعيف)-এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, ফলে তারা হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে অথবা সেগুলোর অকাট্যতার বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে, অথচ এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট সেগুলো সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত।
অন্য দলটি হলো তারা যারা হাদিসের অনুসরণ ও এর ওপর আমল করার দাবি করে। তারা যখনই কোনো হাদিসের শব্দ পায় যা একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন অথবা এমন কোনো হাদিস দেখে যার সনদ বাহ্যিকভাবে সঠিক (صحيح), তখন তারা সেটিকে সেই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত করতে চায় যেগুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এমনকি যখন এটি কোনো সুপরিচিত সহিহ (صحيح) হাদিসের প্রতিকূলে যায়, তখন তারা সেটির নিরর্থক অপব্যাখ্যা করতে শুরু করে অথবা ইলমি মাসআলায় সেটিকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করে, অথচ হাদিস বিশারদগণ জানেন যে এটি একটি ভুল।
আর হাদিস যেমন সত্য হওয়ার জন্য এমন কিছু প্রমাণাদি থাকে যার দ্বারা সেটি নিশ্চিতভাবে জানা যায়, তেমনি এটি মিথ্যা হওয়ার সপক্ষেও এমন কিছু প্রমাণ থাকে যার মাধ্যমে তা নিশ্চিতভাবে বুঝা যায়। যেমন বিদআতি ও ফযিলতের বর্ণনায় অতিরঞ্জনকারীদের মতো মিথ্যা আরোপকারীদের (الوضاعون) বর্ণিত হাদিসগুলো নিশ্চিতভাবে মিথ্যা বলে প্রমাণিত। উদাহরণস্বরূপ, আশুরার দিনের হাদিস এবং এই জাতীয় অন্যান্য বর্ণনা যেখানে বলা হয়েছে যে, কেউ যদি দুই রাকাত সালাত আদায় করে তবে সে এত এত সওয়াব পাবে।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
نبيًا. وفي التفسير من هذه الموضوعات قطعة كبيرة، مثل الحديث الذي يرويه الثعلبي والواحدي والزمخشري في فضائل سور القرآن سورة سورة، فإنه موضوع باتفاق أهل العلم.
والثعلبي هو في نفسه كان فيه خير ودين، وكان حاطب ليل، ينقل ما وجد في كتب التفسير من صحيح وضعيف وموضوع، والواحدي صاحبه كان أبصر منه بالعربية، لكن هو أبعد عن السلامة واتباع السلف، والبغوي تفسيره مختصر من الثعلبي، لكنه صان تفسيره عن الأحاديث الموضوعة والآراء المبتدعة.
والموضوعات في كتب التفسير كثيرة، مثل الأحاديث الكثيرة الصريحة في الجهر بالبسملة، وحديث على الطويل في تصدقه بخاتمه في الصلاة، فإنه موضوع باتفاق أهل العلم، ومثل ما روي في قوله: {وَلِكُلِّ قَوْمٍ هَادٍ} [الرعد: 7] أنه علي {وَتَعِيَهَا أُذُنٌ وَاعِيَةٌ} [الحاقة: 12] أذنك يا علي.
...নবী হিসেবে। আর তাফসিরের ক্ষেত্রে এ ধরনের বানোয়াট (موضوعات) বিষয়ের একটি বিশাল অংশ রয়েছে, যেমন সেই হাদিস যা আস-সা'লাবি, আল-ওয়াহিদি এবং আয-যামাখশারি কুরআনের প্রতিটি সূরার ফজিলত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন; প্রকৃতপক্ষে আলেমদের ঐকমত্যে এটি বানোয়াট (موضوع)।
আস-সা'লাবি ব্যক্তিগতভাবে ভালো ও ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন, তবে তিনি ছিলেন বাছবিচারহীন সংগ্রাহক (حاطب ليل), তিনি তাফসিরের কিতাবসমূহে যা পেতেন—বিশুদ্ধ (صحيح), দুর্বল (ضعيف) কিংবা বানোয়াট (موضوع)—সবই উদ্ধৃত করতেন। তাঁর সহযোগী আল-ওয়াহিদি আরবি ভাষায় তাঁর চেয়ে অধিক পারদর্শী ছিলেন, তবে তিনি সঠিক পথ ও পূর্বসূরিদের (السلف) অনুসরণের দিক থেকে অনেক দূরে ছিলেন। অন্যদিকে আল-বাগাওয়ির তাফসির মূলত আস-সা'লাবির তাফসিরেরই সংক্ষেপিত রূপ, তবে তিনি তাঁর তাফসিরকে বানোয়াট (موضوع) হাদিস এবং বিদআতি (مبتدعة) মতবাদ থেকে সুরক্ষিত রেখেছেন।
তাফসিরের কিতাবসমূহে বানোয়াট (موضوعات) বর্ণনা প্রচুর রয়েছে, যেমন: উচ্চৈঃস্বরে বিসমিল্লাহ পাঠের ব্যাপারে বর্ণিত অনেকগুলো সুস্পষ্ট হাদিস এবং নামাজের মধ্যে আলী (রা.)-এর আংটি সদকা করার দীর্ঘ হাদিসটি; অথচ আলেমদের ঐকমত্যে এটি বানোয়াট (موضوع)। অনুরূপভাবে আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে যা বর্ণিত হয়েছে: {আর প্রত্যেক কওমের জন্য রয়েছে পথপ্রদর্শক} [রা'দ: ৭] যে, তিনি হলেন আলী; এবং {যাতে তোমাদের কান তা সংরক্ষণ করে} [হাক্কাহ: ১২] আপনার কান, হে আলী!
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
[النوع الثاني: في الاختلاف في التفسير باختلاف طرق الاستدلال]وأما النوع الثاني من مستندي الاختلاف، وهو ما يعلم بالاستدلال لا بالنقل، فهذا أكثر ما فيه الخطأ من جهتين حدثتا بعد تفسير الصحابة والتابعين وتابعيهم بإحسان؛ فإن التفاسير التي يذكر فيها
[দ্বিতীয় প্রকার: দলীলভিত্তিক উদ্ভাবন (استدلال) পদ্ধতির ভিন্নতার কারণে তাফসিরের ক্ষেত্রে মতভেদ প্রসঙ্গে]আর মতভেদের দুই প্রকার ভিত্তির মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো তা, যা বর্ণনা (نقل)-এর মাধ্যমে নয় বরং দলীলভিত্তিক উদ্ভাবন (استدلال)-এর মাধ্যমে জানা যায়। সাহাবী (صحابة), তাবিঈ (تابعين) এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের তাফসিরের পরবর্তী যুগে উদ্ভূত হওয়া দুটি দিকের কারণে এই প্রকারের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ভুল সংঘটিত হয়। কেননা যেসব তাফসির গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়—
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমা ফী উসূলিত তাফসীর লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
كلام هؤلاء صرفا لا يكاد يوجد فيها شيء من هاتين الجهتين، مثل تفسير عبد الرزاق، ووَكِيع، وعبد بن حُمَيد، وعبد الرحمن بن إبراهيم دحيم. ومثل تفسير الإمام أحمد، وإسحاق بن راهويه، وبَقِيّ بن مُخَلَّد، وأبي بكر ابن المنذر، وسفيان بن عيينة، وسُنَيْد، وابن جرير، وابن أبي حاتم، وأبي سعيد الأشج، وأبي عبد الله بن ماجه، وابن مردويه:
এই সকল ব্যক্তিবর্গের বর্ণনাগুলো একান্তই নিরেট, যাতে উল্লিখিত এই দুই প্রকারের কোনো কিছুই প্রায় পাওয়া যায় না। যেমন: আবদুর রাজ্জাক, ওয়াকি, আবদ ইবনে হুমাইদ এবং আবদুর রহমান ইবনে ইবরাহিম দুহাইম-এর তাফসির। অনুরূপভাবে ইমাম আহমাদ, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, বাকি ইবনে মাখলাদ, আবু বকর ইবনুল মুনজির, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, সুনাইদ, ইবনে জারির, ইবনে আবি হাতিম, আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ, আবু আবদুল্লাহ ইবনে মাজাহ এবং ইবনে মারদুওয়াইহ-এর তাফসির: