(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: -)
مقدمات في علم مقالات الفرق القسم: العقيدة
الكتاب: مقدمات في علم مقالات الفرق
المؤلف: محمد بن خليفة بن علي التميمي
الناشر: غر اس، الكويت
الطبعة: الأولى 1423هـ/2002م
عدد الصفحات: 54
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভিন্ন ফিরকার মতবাদ সংক্রান্ত ইলমের ভূমিকা বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: বিভিন্ন ফিরকার মতবাদ সংক্রান্ত ইলমের ভূমিকা
লেখক: মুহাম্মদ বিন খলীফা বিন আলী আত-তামীমী
প্রকাশক: গেরাস, কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম ১৪২৩ হি/২০০২ খ্রি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২)
مقدمات في علم مقالات الفرق
تأليف د/ محمد بن خليفة التميمي
يسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمة:إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون} [آل عمران 102] .
{يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالاً كثيراً ونساءً واتقوا الله الذي تسآلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيباً} [النساء 1] .
{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولاً سديداً يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزاً عظيماً} [الأحزاب 70-71] .
أما بعد:
فإن أصدق الحديث كلام الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة.
وبعد، فإن لكل علم من العلوم خصائصه ومقوماته وحدوده التي تميزه عن غيره من العلوم، ولذلك فلابد لكل علم من مقدمات توضح شيئاً من جوانبه المتعلقة بتعريفه وبيان أهميته وذكر بعض أصوله وضوابطه وقواعده وحدوده، ومسالك تأليف أهل ذلك الفن ومؤلفاتهم فيه، وغير ذلك من المسائل التي يحسن بالدارس أن يحيط بها علماً عند تناوله لذلك
বিভিন্ন ফিরকার মতবাদ বিষয়ক শাস্ত্রের ভূমিকা
রচনা: ড. মুহাম্মদ বিন খলিফা আত-তামিমী
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা
:নিশ্চয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল-ইমরান: ১০২]।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।} [আন-নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তাহলে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহযাব: ৭০-৭১]।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।
এরপর কথা হলো, প্রতিটি শাস্ত্রেরই কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, উপাদান এবং সীমারেখা রয়েছে যা তাকে অন্যান্য শাস্ত্র থেকে পৃথক করে। এই কারণে প্রতিটি শাস্ত্রেরই কিছু ভূমিকা থাকা আবশ্যক যা তার সংজ্ঞা প্রদান, গুরুত্ব বর্ণনা এবং এর কিছু মূলনীতি, মানদণ্ড, নিয়ম ও পরিসীমা সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করে। পাশাপাশি উক্ত বিষয়ের পণ্ডিতবর্গের রচনাশৈলী এবং তাঁদের রচিত গ্রন্থসমূহ ও এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে এই শাস্ত্রটি আলোচনার সময় সম্যক অবগত হওয়া সমীচীন।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৩)
العلم بالدراسة والتحصيل.
وعلم "مقالات الفرق" هو أحد العلوم التي لقيت عناية كبيرة قديماً وحديثاً تأليفاً وتدريساً، ففي عصرنا الحاضر يعتبر تدريس هذا العلم في الكليات والأقسام الشرعية من الأمور الأساسية، فأحببت أن أدلي بدلوي فأعرف ببعض المقدمات الضرورية المتعلقة بهذا العلم ليستعين بها المطلع على جوانب هذا الفن، لعلها تفيده وتيسر له الإلمام بأساسياته. وليس غرضي من هذه المقدمات إعطاء معلومات تتعلق بمحتوى المادة العلمية لهذا العلم فهذا الجانب قد تناولته دراسات عديدة، وإنما الذي أهدف له هنا هو تقديم دراسة تتعلق بالجوانب العامة لهذا العلم، وقد سرت في ذلك وفق الخطة التالية:
المبحث الأول: التعريف بالمقالة واستعمالها في كلام أهل العلم. وفيه مطلبان
المطلب الأول: تعريف المقالة في اللغة والاصطلاح
المطلب الثاني: استعمال العلماء لمصطلح المقالة
المبحث الثاني: أهمية علم المقالات. وفيه مطلبان
المطلب الأول: أهمية علم المقالات في القرآن والسنة.
المطلب الثاني: أهمية علم المقالات عموماً.
المبحث الثالث: مناهج التأليف في علم المقالات والمؤلفات فيه. وفيه ثلاثة مطالب.
المطلب الأول: مناهج التأليف في علم المقالات
المطلب الثاني: الكتب المؤلفة في هذا العلم
المطلب الثالث: أشهر الكتب المؤلفة في علم المقالات ومناهج مؤلفيها
জ্ঞান অর্জন হয় অধ্যয়ন ও সাধনার মাধ্যমে।
আর "বিভিন্ন দলের মতবাদ" (মাকালাতুল ফিরাক) বিষয়ক জ্ঞান হলো এমন এক শাস্ত্র যা প্রাচীন ও বর্তমান উভয় সময়েই রচনা ও পাঠদানের ক্ষেত্রে ব্যাপক গুরুত্ব লাভ করেছে। বর্তমান যুগে শরয়ী অনুষদ ও বিভাগগুলোতে এই শাস্ত্রের পাঠদানকে একটি মৌলিক বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই আমি আমার সাধ্যমতো অবদান রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছি এবং এই শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট কিছু প্রয়োজনীয় ভূমিকার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছি, যাতে এই বিষয়ের পাঠকরা এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সাহায্য লাভ করতে পারে; সম্ভবত এটি তাদের উপকারে আসবে এবং এই শাস্ত্রের মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত করা সহজ করে দেবে। এই ভূমিকাগুলোর উদ্দেশ্য এই শাস্ত্রের বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তু সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করা নয়, কারণ এই দিকটি নিয়ে ইতোমধ্যে অসংখ্য গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। বরং আমার লক্ষ্য হলো এই শাস্ত্রের সাধারণ দিকগুলো নিয়ে একটি পর্যালোচনা উপস্থাপন করা। আর আমি এই ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: 'মাকালা' (মতবাদ)-এর পরিচয় এবং বিদগ্ধজনদের বক্তব্যে এর ব্যবহার। এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে 'মাকালা'-এর সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: 'মাকালা' পরিভাষাটির ব্যবহারে আলিমগণের রীতি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: 'মাকালা' শাস্ত্রের গুরুত্ব। এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে 'মাকালা' শাস্ত্রের গুরুত্ব।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে 'মাকালা' শাস্ত্রের গুরুত্ব।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: 'মাকালা' শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার পদ্ধতি এবং এই বিষয়ের গ্রন্থসমূহ। এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: 'মাকালা' শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার পদ্ধতিসমূহ।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: এই শাস্ত্রে রচিত গ্রন্থসমূহ।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: 'মাকালা' শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলি এবং সেগুলোর লেখকদের অনুসৃত পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৪)
الخاتمة: في أهمية التأليف في علم المقالات استقلالاً.
وبعد، فهذا جهد المقل أضعه بين يدي القارئ الكريم، وقد بذلت فيه قصارى جهدي، وغاية وسعي، فما كان فيه من صواب وحق فالحمد لله على توفيقه، وذلك من فضله ومنه، وما كان فيه من خطل، أو زلل، أو خلل، فأستغفر الله من كل ذنب وخطيئة.
وأستميح القارئ الكريم عذراً إذا ما وجد في عملي هذا تقصيراً، فهذا جهد البشر، فأرجو من كل من اطلع على خطأ أو قصور أن يبادرني النصيحة مشكوراً مأجوراً.
والله أسأل أن ينفع بهذا العمل ويبارك فيه، وأن يجعله عملاً صالحاً ولوجهه خالصاً، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
উপসংহার: স্বতন্ত্রভাবে ইলমুল মাক़ালাত (মতবাদ বিজ্ঞান) বিষয়ে গ্রন্থ রচনার গুরুত্ব প্রসঙ্গে।
অতঃপর, এটি এক নগণ্য প্রচেষ্টা যা আমি সম্মানিত পাঠকের সামনে পেশ করছি। আমি এতে আমার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা ও শ্রম ব্যয় করেছি। এর মধ্যে যা কিছু সঠিক ও সত্য রয়েছে, তা আল্লাহর তাওফীক এবং তাঁরই অনুগ্রহ ও দান। আর যা কিছু ভুল, বিচ্যুতি বা ত্রুটি রয়েছে, তার জন্য আমি আল্লাহর কাছে সকল গুনাহ ও অপরাধ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
আমার এই কাজে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে আমি সম্মানিত পাঠকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, কারণ এটি মানুষেরই প্রচেষ্টা। তাই যে কেউ কোনো ভুল বা সীমাবদ্ধতা দেখতে পাবেন, তাঁর কাছে অনুরোধ থাকবে তিনি যেন আমাকে দ্রুত নসিহত প্রদান করেন; যার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা ও সওয়াবের অধিকারী হবেন।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে উপকারী করেন এবং এতে বরকত দান করেন। তিনি যেন একে একটি নেক আমল হিসেবে কবুল করেন এবং শুধুমাত্র তাঁর চেহারার জন্য খালেস (একনিষ্ঠ) করেন। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الأول: التعريف بالمقالة واستعمالها في كلام أهل العلم
المطلب الأول: تعريف المقالة في اللغة والاصطلاح…المطلب الأول: تعريف المقالة في اللغة والاصطلاح:
أولاً: التعريف اللغوي:
ا - أصل الكلمة وتصريفها:
المقالة: مصدر على وزن (مَفْعَلَة) بفتح الميم، وإسكان الفاء، وفتح العين، بعدها لام مفتوحة فتاء، مأخوذة من القول، يقال: قال، يَقُولُ، قَوْلاً، وقِيلاً، وقَوْلَةً، ومَقَالاً، ومَقَالةً 1.
والمقالة بالتاء والمقال بدونها بمعنى واحد2.
قال الفيروزآبادي: "القول: في الخير، والقال والقيل والقالة: في الشر، أو القول مصدر، والقيل والقال اسمان له، أو قال قولاً وقيلاً وقولة ومقالة ومقالاً"3.
ب - معناها:
قال صاحب اللسان: "القول: الكلام على الترتيب، وهو عند المحقِّق كل لفظ قال به اللسان تاما كان أو ناقصا"4.
ثم قال: "
… فأما تجوزهم في تسميتهم الاعتقادات والآراء قَوْلاً، فلأن الاعتقاد يخفى فلا يعرف إلا بالقول، أو بما يقوم مقام القول من
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: 'মাকালাহ' (বক্তব্য/মতবাদ)-এর পরিচয় এবং আলেমগণের বক্তব্যে এর ব্যবহারপ্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে 'মাকালাহ'-এর পরিচয়...প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে 'মাকালাহ'-এর পরিচয়:
প্রথমত: আভিধানিক পরিচয়:
ক - শব্দের মূল ও রূপান্তর:
'মাকালাহ' শব্দটি 'মাফআলাহ' (মীমে যবর, ফা-তে জযম, আইনে যবর এবং এরপর যবরযুক্ত লাম ও তা) এর ওজনে একটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল। এটি 'কাউল' (বলা) থেকে উদ্ভূত। বলা হয়ে থাকে: কালা, ইয়াকুলু, কওলান, ক্বিলান, কওলাতান, মাক্বালান এবং মাকালাতান ১।
শেষে 'তা' যুক্ত 'মাকালাহ' এবং 'তা' বিহীন 'মাক্বাল' উভয়ই একই অর্থবোধক ২।
ফিরোজাবাদী বলেন: "কাউল শব্দটি ভালো কথার ক্ষেত্রে এবং ক্বল, ক্বিল ও ক্বলাহ শব্দগুলো মন্দ কথার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। অথবা 'কাউল' হলো মাসদার, আর 'ক্বিল' ও 'ক্বল' হলো এর দুটি বিশেষ্য। অথবা বলা হয়: কালা কওলান, ক্বিলান, কওলাতান, মাকালাতান এবং মাক্বালান" ৩।
খ - এর অর্থ:
'লিসান' (লিসানুল আরব) প্রণেতা বলেন: "কাউল হলো সুশৃঙ্খল বক্তব্য। গবেষকদের মতে, জিহ্বা দ্বারা উচ্চারিত প্রতিটি শব্দই কাউল, তা পূর্ণাঙ্গ হোক বা অপূর্ণাঙ্গ" ৪।
এরপর তিনি বলেন: "
... আর মানুষের বিশ্বাস ও মতামতকে 'কাউল' (বক্তব্য) হিসেবে নামকরণ করাটা রূপক বা আলঙ্কারিক প্রয়োগ। কারণ বিশ্বাস বা আকিদা মনে গোপন থাকে, যা বক্তব্য ছাড়া কিংবা বক্তব্যের স্থলাভিষিক্ত কোনো মাধ্যম ছাড়া জানা সম্ভব হয় না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৬)
شاهد الحال، فلما كانت لا تظهر إلا بالقول إذ كانت سبباً له، وكان القول دليلاً عليها، كما يُسمَّى الشيئ باسم غيره إذا كان ملابساً له وكان القول دليلا عليه"1.
ثانياً: التعريف الاصطلاحي:
جاء في المعجم الوسيط: "المقالة: القول، والمذهب، وبحث قصير2 في العلم أو الأدب أو السياسة أو الاجتماع ينشر في صحيفة أو مجلة"3.
وهذا يعني أن لهذه الكلمة استعمالان:
أحدهما: استعمالها في فن العقيدة، وهو ما أشار إليه هنا بقوله: (المقالة: القول والمذهب) .
والثاني: استعمالها في فن الأدب، وهو ما أشار إليه هنا بقوله: (بحث قصير في العلم أو الأدب........إلخ) .
والذي يعنينا هنا هو الاستعمال الأول.
وأما تعريف علم مقالات الفرق: فقد قال طاش كبري زاده في تعريفه:
"علم مقالات الفرق 4: هو علم باحث عن ضبط المذاهب الباطلة المتعلقة بالاعتقادات الإلهية، وهي على ما أخبر به نبينا محمد صلى الله عليه وسلم عن هذه الأمة، اثنتان وسبعون فرقة. وموضوعه وغايته وغرضه ومنفعته ظاهرة
--------------------------------------------
বর্তমান অবস্থা প্রত্যক্ষদর্শী; সুতরাং যেহেতু এটি কথা ব্যতীত প্রকাশিত হয় না কারণ এটি কথার কারণ ছিল, আর কথা ছিল এর প্রমাণ, যেমন কোনো বস্তুকে অন্যের নামে নামকরণ করা হয় যখন সেটি তার সাথে সম্পৃক্ত থাকে এবং কথাটি এর ওপর দলীল বা প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।"১
দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক সংজ্ঞা:
আল-মু'জামুল ওয়াসীত-এ এসেছে: "মাকালাহ: কথা, মাযহাব (মতবাদ) এবং বিজ্ঞান, সাহিত্য, রাজনীতি বা সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক সংক্ষিপ্ত গবেষণা যা কোনো পত্রিকা বা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।"৩
এর অর্থ হলো এই শব্দটির দুটি ব্যবহার রয়েছে:
একটি হলো: আকীদা শাস্ত্রে এর ব্যবহার; যার দিকে তিনি এখানে ইঙ্গিত করেছেন এই কথা দ্বারা: (মাকালাহ: কথা এবং মাযহাব)।
দ্বিতীয়টি হলো: সাহিত্য শিল্পে এর ব্যবহার; যার দিকে তিনি এখানে ইঙ্গিত করেছেন এই কথা দ্বারা: (বিজ্ঞান বা সাহিত্যে সংক্ষিপ্ত গবেষণা... ইত্যাদি)।
এখানে আমাদের উদ্দেশ্য হলো প্রথম ব্যবহারটি।
আর ইলমু মাকালাতিল ফিরাক (উপদলসমূহের মতবাদ সংক্রান্ত বিদ্যা)-এর সংজ্ঞার ব্যাপারে তাশ কুবরি জাদাহ তার সংজ্ঞায় বলেছেন:
"ইলমু মাকালাতিল ফিরাক ৪: এটি এমন একটি বিদ্যা যা ঐশ্বরিক বিশ্বাস সংক্রান্ত ভ্রান্ত মতবাদসমূহ লিপিবদ্ধ করা নিয়ে আলোচনা করে। আর এই উম্মত সম্পর্কে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা সংবাদ দিয়েছেন, তা হলো বাহাত্তরটি উপদল। এর বিষয়বস্তু, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং উপকারিতা সুস্পষ্ট।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৭)
جداً."1.
وهذا التعريف حدد معالم هذا الفن من فنون العلم في ثلاثة معالم بارزة هي:
أولاً: قوله عن هذا العلم إنه: (علم باحث عن ضبط المذاهب الباطلة) .
ثانياً: قوله: (المتعلقة بالاعتقادات الإلهية) .
ثالثاً: قوله: (وهي على ما أخبر به نبينا محمد صلى الله عليه وسلم عن هذه الأمة، اثنتان وسبعون فرقة)
فحدود هذا الفن هي البحث عن ضبط المذاهب الباطلة، فيما يتعلق بمسائل الاعتقاد، عند الفرق المنتسبة لهذه الأمة.
فهذا العلم يعنى بالخلاف الواقع في مسائل الاعتقاد ولا يبحث في المسائل الأخرى من أبواب الدين التي حصل فيها خلاف كمسائل الفقه والتفسير وغيرها.
وفي نظري أن التعريف جيد ويعطي صورة عن مضمون هذا العلم ومحتواه.
وأما تسميته لهذا العلم بـ "علم مقالات الفرق" فإن في هذا تمييزاً له عن "علم الأديان" الذي يعنى بمقالات الأمم الأخرى غير المسلمة، بينما اختص هذا العلم بمقالات الفرق المنتسبة إلى الإسلام.
فالمقالات عموماً تنقسم إلى قسمين:
القسم الأول: المقالات الواقعة في هذه الأمة.
--------------------------------------------
অত্যন্ত।"১.
এবং এই সংজ্ঞাটি জ্ঞানের এই শাখার বৈশিষ্ট্যসমূহকে তিনটি প্রস্ফুটিত বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত করেছে, আর সেগুলো হলো:
প্রথমত: এই ইলম সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য যে: (এটি এমন একটি ইলম যা ভ্রান্ত মতবাদসমূহ নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনা করে)।
দ্বিতীয়ত: তাঁর বক্তব্য: (যা ঐশ্বরিক আকিদা সংক্রান্ত)।
তৃতীয়ত: তাঁর বক্তব্য: (আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই উম্মত সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন সেই অনুযায়ী তা বাহাত্তরটি ফেরকা)
সুতরাং এই বিষয়ের পরিসর হলো আকিদাগত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট এই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর ভ্রান্ত মতবাদসমূহ নির্ধারণের বিষয়ে অনুসন্ধান করা।
অতএব, এই ইলমটি আকিদাগত বিষয়ে সংঘটিত মতপার্থক্য নিয়ে কাজ করে এবং দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ের মতভেদ নিয়ে আলোচনা করে না, যেমন ফিকহ, তাফসীর বা অন্যান্য বিষয়সমূহ।
এবং আমার দৃষ্টিতে এই সংজ্ঞাটি চমৎকার এবং এটি এই ইলমের বিষয়বস্তু ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করে।
আর এই ইলমকে "ইলমুল মাকালাতিল ফিরাক" (দলসমূহের মতবাদ সংক্রান্ত জ্ঞান) হিসেবে নাম দেওয়ার মধ্য দিয়ে "ইলমুল আদইয়ান" (ধর্মতত্ত্ব) থেকে একে পৃথক করা হয়েছে, যা অন্যান্য অমুসলিম জাতিগোষ্ঠীর মতবাদ নিয়ে আলোচনা করে। অপরদিকে, এই ইলমটি শুধুমাত্র ইসলামের অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর মতবাদের জন্য নির্দিষ্ট।
সুতরাং মতবাদসমূহ সাধারণভাবে দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথম বিভাগ: এই উম্মতের মধ্যে সংঘটিত মতবাদসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৮)
القسم الثاني: مقالات الأمم الأخرى.
ولذلك لما ألف أبو الحسن الأشعري في علم المقالات، ألف كتاباً سماه "مقالات الإسلاميين" وكتاباً آخر سماه "مقالات غير الإسلاميين".
ولكن الذي استقر عليه الحال في الوقت الحاضر هو الفصل بين هذين النوعين من المقالات، بتسمية مقالات غير الإسلاميين بـ "علم الأديان، وتسمية مقالات الإسلاميين بـ " علم الفرق".
ومن المعلوم أنه في العصر الراهن شققت بعض العلوم وفرع عنها عدة علوم ومن ذلك علم المقالات الذي تفرع إلى العلوم التالية:
1 - علم الفرق
2 - علم الأديان
3 ـ علم المذاهب المعاصرة
كما هو الحال في المقررات التعليمية وبخاصة في المراحل الجامعية.
দ্বিতীয় অংশ: অন্যান্য জাতির মতবাদসমূহ।
আর এই কারণেই যখন আবুল হাসান আল-আশআরী মতবাদ বিষয়ক বিদ্যায় গ্রন্থ রচনা করেন, তখন তিনি একটি গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দেন "মুসলিমদের মতবাদসমূহ" এবং অন্য একটি গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দেন "অমুসলিমদের মতবাদসমূহ"।
তবে বর্তমান সময়ে যে বিষয়ের ওপর স্থির হওয়া গেছে তা হলো মতবাদসমূহের এই দুই প্রকারের মধ্যে পার্থক্য করা; যেখানে অমুসলিমদের মতবাদসমূহকে "ধর্মতত্ত্ব" এবং মুসলিমদের মতবাদসমূহকে "উপদল বিষয়ক বিদ্যা" হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।
আর এটি সুবিদিত যে, বর্তমান যুগে কিছু জ্ঞান-বিজ্ঞান বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়েছে এবং তা থেকে একাধিক বিদ্যার উদ্ভব হয়েছে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মতবাদ বিষয়ক বিদ্যা, যা নিম্নোক্ত শাখাগুলোতে বিভক্ত হয়েছে:
১ - উপদল বিষয়ক বিদ্যা
২ - ধর্মতত্ত্ব
৩ — সমকালীন মতবাদ বিষয়ক বিদ্যা
যেমনটি শিক্ষা কারিকুলামে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৯)
المطلب الثاني: استعمال العلماء لمصطلح المقالة:لاشك أن استعمال هذا المصطلح أعني "المقالات" أمر شائع وكثير في كتب المتقدمين، فكتب العلماء الأوائل ورد فيها استعمال هذا المصطلح بشكل كبير، حتى إنه من الصعب والمتعذر حصر تلك المواطن وجمعها، ولذلك فلا عبرة بما نحن عليه اليوم من ندرة استعمال هذا المصطلح وقلة استخدامه، ووجود الوحشة في أذهان بعض الدارسين عند سماعه، نظراً لذيوع استعمال مصطلح "الفرق" مكانه.
وسأورد بعض النماذج لاستعمال هذا المصطلح في كلام أهل العلم للتأكيد على صحة ما أقول.
1 - قيل لأبي حنيفة (150 هـ) : "ما تقول فيما أحدث الناس من الكلام في الأعراض والأجسام؟ قال: مقالات الفلاسفة، عليك بالأثر وطريقة السلف، وإياك وكل محدثة، فإنها بدعة"1.
2 - وقال أبو الحسن الأشعري (324هـ) : "فإنه لابد لمن أراد معرفة الديانات والتمييز بينها، من معرفة المذاهب والمقالات، ورأيت الناس في حكاية ما يحكون من ذكر المقالات، ويصنفون في النحل والديانات
… فحداني ما رأيت من ذلك على شرح ما التمست شرحه من المقالات واختصار ذلك وترك الإطالة والإكثار"2.
ثم سرد مقالات مختلف الفرق مفتتحا الكلام على كل فرقة كبيرة بقوله مثلا: "مقالات الخوارج"3، "مقالات المرجئة"4، "مقالات
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আলেমগণের ‘মাকালা’ পরিভাষার ব্যবহার:নিঃসন্দেহে এই পরিভাষা অর্থাৎ "মাকালাত" এর ব্যবহার পূর্ববর্তী আলেমদের কিতাবসমূহে অত্যন্ত প্রচলিত এবং অধিক। প্রাথমিক যুগের আলেমদের রচিত কিতাবসমূহে এই পরিভাষাটির ব্যবহার এত ব্যাপকভাবে এসেছে যে, সেই সকল স্থানসমূহ চিহ্নিত করা ও একত্রিত করা অত্যন্ত কঠিন ও দুঃসাধ্য। সুতরাং বর্তমানে এই পরিভাষাটির ব্যবহারের বিরলতা কিংবা এটি শোনার পর কোনো কোনো শিক্ষার্থীর মনে যে জড়তা বা শঙ্কা তৈরি হয়, তার কোনো গুরুত্ব নেই; কারণ বর্তমানে এর স্থলে "ফিরকাহ" (দল) পরিভাষাটির ব্যবহার বহুল প্রচলিত হয়ে পড়েছে।
আমার বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য আলেমগণের বক্তব্যের মধ্য থেকে এই পরিভাষাটি ব্যবহারের কিছু নমুনা আমি নিম্নে উপস্থাপন করছি।
১ - ইমাম আবু হানিফাহ (১৫০ হিজরী)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "মানুষ ‘আরাজ’ (আকস্মিক গুণাবলী) এবং ‘জিসম’ (দেহ) নিয়ে ইলমুল কালামের যে নতুন উদ্ভব ঘটিয়েছে, সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: এগুলো দার্শনিকদের মতবাদ (মাকালাত)। তুমি আসার (বর্ণনা) এবং সালাফদের (পূর্বসূরি) পথ আঁকড়ে ধরো, আর প্রতিটি নতুন বিষয় থেকে দূরে থাকো, কারণ তা বিদআত।"১।
২ - আবুল হাসান আল-আশআরী (৩২৪ হিজরী) বলেছেন: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে চায়, তার জন্য বিভিন্ন মাজহাব ও মতবাদ (মাকালাত) সম্পর্কে জানা অপরিহার্য। আমি মানুষকে বিভিন্ন মতবাদ বর্ণনা করতে এবং বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের উপর গ্রন্থ রচনা করতে দেখেছি... তাদের সেই কাজগুলোই আমাকে সেই সকল মতবাদের (মাকালাত) ব্যাখ্যা প্রদান এবং তা সংক্ষেপে বর্ণনা করতে উদ্ধুদ্ধ করেছে যা আমি ব্যাখ্যা করতে চেয়েছি, যাতে দীর্ঘ আলোচনা ও বাহুল্য বর্জন করা যায়।"২।
এরপর তিনি বিভিন্ন দলের মতবাদসমূহ বর্ণনা করেছেন, যেখানে প্রতিটি বড় দলের আলোচনা এভাবে শুরু করেছেন: যেমন "খারেজীদের মতবাদসমূহ"৩, "মুরজিয়াদের মতবাদসমূহ"৪, "মতবাদসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১০)
المعتزلة"1 وهكذا
…3 - وقال عبد القاهر البغدادي (429 هـ) : "وقد علم كل ذي عقل من أصحاب المقالات المنسوبة إلى الإسلام
… " 2.
وقال: "فأما الفرقة الثالثة والسبعون فهي أهل السنة والجماعة
… كلهم متفقون على مقالة واحدة في توحيد الصانع وصفاته
… " 3.
وقال: "الباب الثالث من أبواب هذا الكتاب في بيان تفصيل مقالات فرق أهل الأهواء"4.
ثم شرع في بيان هذه الفرق فيقول "الفصل كذا في بيان مقالات فرق كذا
… "5.
4 - وقال ابن حزم (ت 456 هـ) : "فإن كثيرا من الناس كتبوا في افتراق الناس في ديانتهم ومقالاتهم كتبا كثيرة جدا،
… وأضرب عن كثير من قويّ معارضات أصحاب المقالات فكان في ذلك غير منصف لنفسه
… "6.
وقال أيضاً: "وقد أفردنا في نقض هذه المقالة (وهي قول المجوس أن مدبر العالم أكثر من واحد) كتاباً
… "7.
5 - وقال الشهرستاني (ت 548 هـ) : "لما وفقني الله تعالى إلى
--------------------------------------------
মুতাযিলা"১ এবং এভাবে
…৩ - এবং আব্দুল কাহের আল-বাগদাদী (৪২৯ হি.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত মতবাদসমূহের অনুসারীদের মধ্য হতে প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিই অবগত হয়েছেন যে
… " ২।
এবং তিনি বলেছেন: "আর তেহাত্তরতম দলটি হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত
… তারা সকলেই স্রষ্টার একত্ববাদ এবং তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে একটি অভিন্ন বক্তব্যের ওপর একমত
… " ৩।
এবং তিনি বলেছেন: "এই কিতাবের অধ্যায়সমূহের মধ্যে তৃতীয় অধ্যায়টি হলো প্রবৃত্তি পূজারী দলগুলোর মতবাদের বিস্তারিত বিবরণে" ৪।
অতঃপর তিনি এই দলগুলোর বর্ণনায় প্রবৃত্ত হয়ে বলেন "অমুক পরিচ্ছেদ অমুক দলগুলোর মতবাদের বিবরণে
… " ৫।
৪ - এবং ইবনে হাজম (মৃত্যু ৪৫৬ হি.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই অনেক মানুষ মানুষের ধর্মীয় বিভক্তি এবং তাদের মতবাদ সম্পর্কে বহু সংখ্যক গ্রন্থ রচনা করেছেন,
… এবং মতবাদসমূহের অনুসারীদের অনেক শক্তিশালী আপত্তির বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছেন, ফলে তিনি এ বিষয়ে নিজের প্রতি ইনসাফ করতে পারেননি
… " ৬।
এবং তিনি আরও বলেছেন: "আমরা এই মতবাদের খণ্ডনে (আর তা হলো অগ্নিপূজকদের বক্তব্য যে জগতের পরিচালক একের অধিক) একটি কিতাব নির্দিষ্ট করেছি
… " ৭।
৫ - এবং শাহরাস্তানি (মৃত্যু ৫৪৮ হি.) বলেছেন: "যখন আল্লাহ তাআলা আমাকে তাওফিক দান করলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১১)
مطالعة مقالات أهل العالم من أرباب الديانات والملل وأهل الأهواء والنحل
… " 1.
وقال أيضا: "فأهل الأهواء ليست تنضبط مقالاتهم في عدد معلوم
… " 2.
6 - وقال أبو محمد اليمني (من علماء القرن السادس الهجري) : "فمن هذا الباب دخل أهل البدع والأهواء على ضعفاء الناس في إفساد أديانهم، والاحتجاج بمقالتهم لا سيما على من جهل غموضه (أي القرآن) ومسلكه ومتشابهه"3.
وبعد المقدمة شرع في ذكر الفرق فرقة فرقة ويفتتح الكلام على كل فرقة بقوله المقالة في ذكر كذا، نحو قوله في (1/18) : "المقالة في ذكر فرقهم ـ أي الخوارج ـ"4.
7 - وقال شيخ الإسلام ابن تيمية (728 هـ) : "فهذه المقالات التي نقلت في التشبيه والتجسيم....." إلى أن قال "فأقوال أئمتهم دائرة بين التعطيل والتمثيل، لم تعرف لهم مقالة متوسطة بين هذا وهذا"5.
وقال أيضاً: "فلا يعرف في المقالات المشهورة في العلم الإلهي مقالة أبعد عن الحق من مقالتهم، فإن مقالة اليهود والنصارى في العلم الإلهي
--------------------------------------------
বিশ্বের ধর্মাবলম্বী, বিভিন্ন জাতি এবং খেয়ালখুশি ও মতবাদের অনুসারীদের মতাদর্শ অধ্যয়ন করা
… " ১।
তিনি আরও বলেন: "খেয়ালখুশি অনুসারীদের বক্তব্যগুলো কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করা যায় না
… " ২।
৬ - আবু মুহাম্মদ আল-ইয়ামানি (ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর অন্যতম আলেম) বলেছেন: "এই পথ দিয়েই বিদআত ও খেয়ালখুশি অনুসারীরা সাধারণ দুর্বল মানুষের দ্বীন নষ্ট করার জন্য এবং তাদের বক্তব্যকে দলিল হিসেবে পেশ করার জন্য প্রবেশ করেছে; বিশেষ করে যারা কোরআনের গূঢ় রহস্য, কর্মপন্থা এবং অস্পষ্ট (মুতাশাবিহ) বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ।" ৩।
ভূমিকা শেষ করে তিনি প্রতিটি ফেরকার কথা একে একে উল্লেখ করতে শুরু করেন। তিনি প্রতিটি ফেরকা সম্পর্কে আলোচনার শুরুতে বলেন: "অমুক বিষয়ে আলোচনা", যেমন (১/১৮) পৃষ্ঠায় তার উক্তি: "তাদের দলগুলোর আলোচনা—অর্থাৎ খারিজিদের সম্পর্কে—"। ৪।
৭ - শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (৭২৮ হি.) বলেছেন: "সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ) এবং দেহবিশিষ্টকরণ (তাজসিম) সম্পর্কে যে সকল বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে..." এরপর তিনি বলেন, "তাদের ইমামদের বক্তব্যসমূহ আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার (তাতিল) এবং সৃষ্টির সাথে তুলনা (তামসিল)-এর মধ্যেই ঘুরপাক খায়। এ দুয়ের মাঝামাঝি কোনো মধ্যপন্থা তাদের বক্তব্যে জানা যায় না।" ৫।
তিনি আরও বলেন: "ইলাহি বিজ্ঞান বা ধর্মতত্ত্বের সুপরিচিত বক্তব্যগুলোর মধ্যে তাদের বক্তব্যের চেয়ে সত্য থেকে দূরে আর কোনো বক্তব্য জানা যায় না। কেননা ধর্মতত্ত্বের বিষয়ে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বক্তব্য..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১২)
خير من مقالتهم، ومقالات أهل البدع الداخلين في الملل، حتى الجهمية والمعتزلة ونحوهم من الطوائف التي تذمها أئمة أهل الملل هي خير من مقالتهم، وأعني بذلك مقالة أرسطو وأتباعه، وأما ما نقل عن الأساطين قبله فقولهم أقرب إلى الحق من قوله"1.
وبهذه النماذج من أقوال العلماء يتضح مدى شيوع استعمال هذا المصطلح في كلامهم وجريانه في تعبيراتهم.
--------------------------------------------
...তাদের বক্তব্যের চেয়ে উত্তম। এমনকি মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত বিদআতপন্থীদের বক্তব্য—যেমন জাহমিয়া, মুতাজিলা এবং এই জাতীয় অন্যান্য দল যাদেরকে মিল্লাতের ইমামগণ নিন্দা করেছেন—তাও তাদের (অ্যারিস্টটলীয়দের) বক্তব্যের চেয়ে উত্তম। আমি এর দ্বারা অ্যারিস্টটল এবং তার অনুসারীদের বক্তব্যকে বোঝাচ্ছি। আর তার পূর্ববর্তী প্রধান দার্শনিকদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তাদের কথা তার কথার চেয়ে সত্যের অধিক নিকটবর্তী।"১।
আলেমদের বক্তব্যের এই নমুনাগুলো দ্বারা তাঁদের কথায় এই পরিভাষাটির ব্যবহারের ব্যাপকতা এবং তাঁদের অভিব্যক্তিতে এর প্রয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الثاني: أهمية علم المقالات
المطلب الأول: أهمية علم المقالات في القرآن والسنة…المطلب الأول: أهمية هذا العلم في القرآن والسنة
المتأمل في نصوص القرآن الكريم والسنة النبوية يجد أن هناك عناية بجانب المقالات الباطلة، فقد أوردت النصوص عدداً من المقالات المخالفة لمنهج الحق وبينت زيفها، وحذرت منها، وذمت أصحابها، ومن ذلك على سبيل المثال لا الحصر
أولاً: ما جاء في القرآن الكريم:
ا - ما جاء عن مقالات اليهود
قوله تعالى {لقد سمع الله قول الذين قالوا إن الله فقير ونحن أغنياء سنكتب ما قالوا وقتلهم الأنبياء بغير حق} 1.
وقال تعالى {وقالت اليهود يد الله مغلولة غلت أيديهم ولعنوا بما قالوا} 2.
وقال تعالى {وقالت اليهود عزير ابن الله} 3
ب - ما جاء عن مقالات النصارى
قال تعالى {وقالت النصارى المسيح ابن الله ذلك قولهم بأفواههم يظاهئون قول الذين كفروا من قبل} 4
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইলমুল মাকালাতের গুরুত্বপ্রথম অনুচ্ছেদ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইলমুল মাকালাতের গুরুত্ব…প্রথম অনুচ্ছেদ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই ইলমের গুরুত্ব
পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় যে, সেখানে বাতিল মতবাদসমূহের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই ভাষ্যসমূহ সত্যের পথের পরিপন্থী বেশ কিছু মতবাদ উপস্থাপন করেছে এবং সেগুলোর অসারতা স্পষ্ট করেছে, সে সব থেকে সতর্ক করেছে এবং সেই মতবাদগুলোর অনুসারীদের নিন্দা জ্ঞাপন করেছে। উদাহরণস্বরূপ সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু নিচে উল্লেখ করা হলো:
প্রথমত: পবিত্র কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে:
ক - ইহুদিদের মতবাদসমূহ সম্পর্কে যা এসেছে:
মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন যারা বলেছিল যে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ দরিদ্র আর আমরা ধনী’। তারা যা বলেছে এবং তাদের অন্যায়ভাবে নবীদের হত্যা করার বিষয়টি আমি লিখে রাখব।} ১।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {ইহুদিরা বলে, ‘আল্লাহর হাত আবদ্ধ’। তাদের হাতই আবদ্ধ হোক এবং তাদের উক্তির কারণে তাদের ওপর অভিশাপ দেওয়া হয়েছে।} ২।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {ইহুদিরা বলে, ‘উজাইর আল্লাহর পুত্র’।} ৩
খ - খ্রিস্টানদের মতবাদসমূহ সম্পর্কে যা এসেছে:
মহান আল্লাহ বলেন: {খ্রিস্টানরা বলে, ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এটি তাদের মুখের কথা। তারা তাদের পূর্ববর্তী কাফিরদের কথার অনুকরণ করে।} ৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال تعالى {لقد كفر الذين قالوا إن الله هو المسيح ابن مريم} 1
وقال تعالى {لقد كفر الذين قالوا إن الله ثالث ثلاثة} 2
وقال تعالى {يا أهل الكتاب لا تغلوا في دينكم ولا تقولوا على الله إلا الحق إنما المسيح عيسى ابن مريم رسول الله وكلمته ألقاها إلى مريم ورح منه فآمنوا بالله ورسله ولا تقولوا ثلاثة انتهوا خيراً لكم إنما الله إله واحد سبحانه أن يكون له ولد له ما في السموات وما في الأرض وكفى بالله وكيلاً} 3
ج - ما جاء عن مقالات منكري البعث
وقال تعالى {وضرب لنا مثلاً ونسي خلقه قال من يحيي العظام وهي رميم قل يحييها الذي أنشأها أول مرة وهو بكل خلق عليم} 4.
وقال تعالى {وقالوا ما هي إلا حياتنا الدنيا نموت ونحيا وما يهلكنا إلا الدهر وما لهم بذلك من علم إن هم إلا يظنون} 5.
د - ما جاء في مقالات منكري وجود الله
قال تعالى {ألم تر إلى الذي حاج إبراهيم في ربه أن آتاه الله الملك إذ قال إبراهيم ربي الذي يحي ويميت قال أنا أحي وأميت قال إبراهيم فإن الله يأتي بالشمس من المشرق فأتي بها من المغرب فبهت الذي كفر والله لايهدي القوم الظالمين} 6
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "নিশ্চয়ই তারা কুফরি করেছে যারা বলেছে যে, আল্লাহই হলেন মারইয়াম-পুত্র মাসিহ।" ১
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "নিশ্চয়ই তারা কুফরি করেছে যারা বলেছে যে, আল্লাহ তিনের তৃতীয় জন।" ২
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর ওপর সত্য ব্যতীত কিছু বলো না। মারইয়াম-পুত্র মাসিহ ঈসা তো কেবল আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর কালেমা, যা তিনি মারইয়ামের নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান আনো এবং বলো না যে, (ইলাহ) তিনজন। তোমরা বিরত হও, তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। আল্লাহ তো কেবল একমাত্র ইলাহ; তিনি অত্যন্ত পবিত্র এ থেকে যে, তাঁর কোনো সন্তান হবে। আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।" ৩
গ - পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের বক্তব্য সম্পর্কে যা এসেছে
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "সে আমার সম্পর্কে উদাহরণ পেশ করে অথচ সে নিজের সৃষ্টির কথা ভুলে যায়। সে বলে, 'কে এই হাড়গুলোকে জীবিত করবে যখন সেগুলো জরাজীর্ণ হয়ে যাবে?' আপনি বলুন, 'তিনিই সেগুলোকে জীবিত করবেন যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছিলেন এবং তিনি প্রতিটি সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত'।" ৪।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "এবং তারা বলে, 'আমাদের এই দুনিয়ার জীবনই তো সব; আমরা মরি ও বাঁচি এবং মহাকালই কেবল আমাদের ধ্বংস করে।' এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, তারা কেবল ধারণা করে থাকে।" ৫।
ঘ - আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকারকারীদের বক্তব্য সম্পর্কে যা এসেছে
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "আপনি কি সেই ব্যক্তির কথা ভেবে দেখেননি যে ইব্রাহিমের সাথে তার প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল এজন্য যে, আল্লাহ তাকে রাজত্ব দিয়েছিলেন? যখন ইব্রাহিম বললেন, 'আমার প্রতিপালক তিনি যিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান', সে বলল, 'আমিও জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই'। ইব্রাহিম বললেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন, অতএব তুমি তা পশ্চিম দিক থেকে উদিত করো'। তখন সেই কাফির হতভম্ব হয়ে গেল। আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়েত দেন না।" ৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ثانياً: ما جاء في السنة النبوية:
1 - عن عائشة رضي الله عنها قالت: لما اشتكى النبي صلى الله عليه وسلم ذكرت بعض نسائه كنيسة رأينها بأرض الحبشة يقال لها مارية - وكانت أم سلمة وأم حبيبة رضي الله عنهما أتتا أرض الحبشة - فذكرتا من حسنها وتصاوير فيها.
فرفع رأسه فقال: "أولئك إذا مات منهم الرجل الصالح بنوا على قبره مسجداً ثم صوروا فيه تلك الصور، أولئك شرار الخلق عند الله" 1
2 - وعن جندب بن عبد الله رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل أن يموت بخمس وهو يقول: "وإن من كان قبلكم كانوا يتخذون قبور أنبيائهم وصالحيهم مساجد، ألا فلا تتخذوا القبور مساجد فإني أنهاكم عن ذلك" 2
3 - وعن عائشة وعن ابن عباس رضي الله عنهما قالا: "لما نزل برسول الله صلى الله عليه وسلم طفق يطرح خميصة له على وجهه فإذا اغتم كشفها عن وجهه فقال وهو كذلك "لعنة الله على اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد" يحذر ما صنعوا 3
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: যা নবীজির সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে:
১ - আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলেন, তখন তাঁর জনৈকা স্ত্রী আবিসিনিয়া দেশে দেখা একটি গির্জার কথা উল্লেখ করলেন, যাকে 'মারিয়া' বলা হত—আর উম্মু সালামাহ ও উম্মু হাবিবা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা আবিসিনিয়া দেশে গিয়েছিলেন—তাঁরা গির্জাটির সৌন্দর্য এবং তাতে থাকা ছবিগুলোর কথা আলোচনা করলেন।
তখন তিনি মাথা তুললেন এবং বললেন: "ওরা এমন লোক যে, তাদের মধ্যে কোনো নেককার লোক মারা গেলে তারা তার কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করত এবং সেখানে সেই ছবিগুলো অঙ্কন করত। আল্লাহর নিকট তারা সৃষ্টির নিকৃষ্টতম।" ১
২ - জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ইন্তেকালের পাঁচ দিন আগে বলতে শুনেছি: "জেনে রেখো, তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করত। সাবধান! তোমরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করো না। আমি তোমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করছি।" ২
৩ - আয়েশা ও ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম হতে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: "যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু যাতনা শুরু হলো, তখন তিনি তাঁর একটি চাদর নিজের চেহারার ওপর দিতে লাগলেন। যখন তিনি অস্থির হয়ে পড়তেন, তখন তা চেহারা থেকে সরিয়ে নিতেন। এমতাবস্থায় তিনি বললেন: 'ইয়াহুদি ও নাসারাদের ওপর আল্লাহর লানত (অভিশাপ), তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে'।" তাঁরা যা করেছিল তা থেকে তিনি সতর্ক করছিলেন। ৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৬)
4 - وعن ابن عباس: سمع عمر رضي الله عنه يقول على المنبر: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "لاتطروني كما أطرت النصارى ابن مريم فإنما أنا عبده فقولوا: عبد الله ورسوله" 1
5 - وعن أبي واقد الليثي قال خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى حنين ونحن حدثاء عهد بكفر، وللمشركين سدرة يعكفون عندها وينوطون بها أسلحتهم، يقال لها ذات أنواط، فمررنا بسدرة، فقلنا: يارسول الله اجعل لنا ذات أنواط كما لهم ذات أنواط. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم "الله أكبر، إنها السنن، قلتم والذي نفسي بيده كما قالت بنوا إسرائيل لموسى {اجعل لنا آلهة كما لهم آلهة بل أنتم قوم تجهلون} 2 لتركبن سنن من كان قبلكم" 3
تلك بعض الإشارات عما حواه كتاب الله عز وجل وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم من ذكر مقالات اليهود والنصارى والمشركين وغيرهم من أهل الباطل مما يؤكد ضرورة الاهتمام بتلك المقالات بقصد بيان زيغها وفسادها والرد عليها والتحذير منها ومن الوقوع فيها.
--------------------------------------------
৪ - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি উমরকে (রা.) মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমরা আমার অতিরিক্ত প্রশংসা করো না, যেভাবে খ্রিস্টানরা মরিয়ম-পুত্রের অতিরিক্ত প্রশংসা করেছিল। আমি তো কেবল তাঁর বান্দা; সুতরাং তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।" ১
৫ - আবু ওয়াকিদ আল-লায়ছি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হুনায়নের উদ্দেশ্যে বের হলাম, আর তখন আমরা কুফর ছেড়ে নতুন ইসলামে প্রবেশ করেছি। মুশরিকদের একটি কুল গাছ ছিল যার নিকট তারা অবস্থান করত এবং তাতে তাদের অস্ত্র ঝুলিয়ে রাখত, যাকে 'জাতু আনওয়াত' বলা হতো। আমরা একটি কুল গাছের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্যও একটি 'জাতু আনওয়াত' নির্ধারণ করে দিন যেমন তাদের একটি 'জাতু আনওয়াত' রয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "আল্লাহু আকবার! নিশ্চয়ই এগুলো হলো পূর্ববর্তীদের নীতি ও পথ। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা ঠিক তেমনই বলেছ যেমন বনী ইসরাঈল মূসাকে বলেছিল: {আমাদের জন্য একজন ইলাহ বানিয়ে দিন যেমন তাদের জন্য অনেক ইলাহ রয়েছে; তিনি বললেন, তোমরা তো এক মূর্খ জাতি}। ২ অবশ্যই তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে।" ৩
এগুলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহয় বর্ণিত ইহুদি, খ্রিস্টান, মুশরিক এবং অন্যান্য বাতিলপন্থীদের বক্তব্যের কিছু ইঙ্গিত। যা ঐ সকল বক্তব্যের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে জোরালো করে, যাতে তাদের পথভ্রষ্টতা ও অসারতা বর্ণনা করা যায়, তাদের খণ্ডন করা যায় এবং তা থেকে ও তাতে নিপতিত হওয়া থেকে সতর্ক করা যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المطلب الثاني: أهمية علم المقالات عموماًلعلم المقالات أهميته البالغة ومنفعته العظيمة باعتباره أحد العلوم المهمة التي أولاها العلماء اهتمامهم وتناولوها بالبحث والدراسة والتصنيف، وترجع أهمية هذا العلم لعوامل متعددة من أهمها مايلي:
أولاً:- رصد وكشف المذاهب المنحرفة عن الصراط المستقيم فذلك من الأمور المهمة التي ينبغي الاهتمام الجاد بدراستها، وإعطائها حقها من المتابعة والبحث، تحقيقاً لقول الله تعالى {وكذلك نفصل الآيات ولتستبين سبيل المجرمين} 12،
قال الإمام ابن القيم رحمه الله: "العالمون بالله وكتابه ودينه، عرفوا سبيل المؤمنين معرفة تفصيلية، وسبيل المجرمين معرفة تفصيلية، فاستبانت لهم السبيلان، فهؤلاء أعلم الخلق وأنفعهم للناس، وأنصحهم لهم، وهم الأدلاء الهداة، وبذلك برز الصحابة على جميع من أتى بعدهم إلى يوم القيامة، فإنهم نشأوا في سبيل الضلال والكفر والشرك والسبل الموصلة إلى الهلاك وعرفوها مفصلة، ثم جاء الرسول صلى الله عليه وسلم فأخرجهم من الظلمة الشديدة إلى النور التام، ومن الظلم إلى العدل، فعرفوا مقدار ما نالوه وظفروا به، ومقدار ما كانوا فيه، فإن الضد يظهر حسنه الضد، وإنما تتبين الأشياء بأضدادها، فازدادوا رغبة ومحبة فيما انتقلوا إليه، ونفرة وبغضاً لما انتقلوا عنه
… "3.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সাধারণভাবে মতবাদ বিষয়ক বিদ্যার গুরুত্বমতবাদ বিষয়ক বিদ্যার (ইলমুল মাকালাত) গুরুত্ব অপরিসীম এবং এর উপকারিতা অত্যন্ত মহান। একে উলামায়ে কেরাম অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্ঞান হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এর ওপর গভীর গবেষণা ও গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে বিশেষ মনোযোগ প্রদান করেছেন। এই শাস্ত্রের গুরুত্ব বহুবিধ কারণে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নরূপ:
প্রথমত: সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত ভ্রান্ত মতবাদসমূহ শনাক্ত ও উন্মোচন করা। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যার যথাযথ চর্চা, গবেষণা ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ঐকান্তিক গুরুত্ব প্রদান করা উচিত। আর এটি মহান আল্লাহর এই বাণীরই বাস্তবায়ন: {আর এভাবেই আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি, যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে যায়} ১।
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল্লাহ, তাঁর কিতাব এবং তাঁর দ্বীন সম্পর্কে প্রাজ্ঞ আলেমগণ মুমিনদের পথ এবং অপরাধীদের পথ বিস্তারিতভাবে জানেন। ফলে তাদের নিকট উভয় পথই সুষ্পষ্ট হয়ে যায়। এই ব্যক্তিরাই সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেম এবং মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী ও হিতাকাঙ্ক্ষী। তাঁরাই হলেন সঠিক পথপ্রদর্শক। এ কারণেই সাহাবীগণ কিয়ামত পর্যন্ত আগত পরবর্তী সকল মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। কেননা তাঁরা গোমরাহি, কুফরি ও শিরকের পথসমূহ এবং ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া পথগুলোর মধ্যে বেড়ে উঠেছিলেন এবং সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আগমন করলেন এবং তাদেরকে চরম অন্ধকার থেকে পূর্ণ আলোর দিকে এবং অন্যায় থেকে ন্যায়ের দিকে বের করে আনলেন। ফলে তাঁরা যা লাভ করেছেন এবং যাতে সফল হয়েছেন তার মর্যাদা যেমন বুঝতে পেরেছিলেন, তেমনি তাঁরা যে অন্ধকারের মাঝে ছিলেন তার অবস্থাও উপলব্ধি করেছিলেন। কেননা বিপরীত বিষয়ের মাধ্যমেই অন্যটির সৌন্দর্য ফুটে ওঠে এবং সবকিছু তার বিপরীতের মাধ্যমেই স্পষ্টভাবে বুঝা যায়। ফলে তাঁরা যে সত্যের পথে ফিরে এসেছিলেন তার প্রতি তাঁদের অনুরাগ ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পেয়েছিল, আর যে ভ্রান্ত পথ ত্যাগ করেছিলেন তার প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ তীব্র হয়েছিল
… " ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وهذا المفهوم يجليه قول عمر الفاروق رضي الله عنه: "إنما تنقض عرى الإسلام عروة عروة إذا نشأ في الإسلام من لا يعرف الجاهلية" 1
ثانياً: الرد على أهل الأهواء والبدع حتى تنقطع شبهتهم ويزول عن المسلمين ضررهم، فتلك مرتبة عظيمة من منازل الجهاد باللسان، فقد صح من حديث أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "جاهدوا المشركين بأموالكم وأنفسكم وألسنتكم" 2
وقال الإمام ابن تيمية: "فالراد على أهل البدع مجاهد، حتى كان يحي ابن يحي يقول: الذب عن السنة أفضل من الجهاد"3.
وقال أيضاً: "وإذا كان النصح واجباً في المصالح الدينية الخاصة والعامة: مثل نقلة الحديث الذين يغلطون ويكذبون، ومثل أئمة البدع من أهل المقالات المخالفة للكتاب والسنة، فإن بيان حالهم وتحذير الأمة منهم واجب باتفاق المسلمين، حتى قيل لأحمد بن حنبل: الرجل يصوم ويصلي ويعتكف أحب إليك أو يتكلم في أهل البدع؟ فقال: إذا قام وصلَّى واعتكف فإنما هو انفسه، وإذا تكلم في أهل البدع فإنما هو للمسلمين، هذا أفضل. فبين أن نفع هذا عام للمسلمين في دينهم من جنس الجهاد في سبيل الله؛ إذ تطهير سبيل الله ودينه ومنهاجه وشرعته ودفع بغي هؤلاء وعدوانهم على ذلك واجب على الكفاية باتفاق المسلمين، ولولا من يقيمه الله لدفع ضرر هؤلاء، لفسد الدين، وكان فساده أعظم من فساد استيلاء
--------------------------------------------
এই ধারণাটি ওমর আল-ফারুক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই উক্তি দ্বারা সুস্পষ্ট হয়: "ইসলামের রশিগুলো একটি একটি করে ছিঁড়ে যাবে যখন ইসলামে এমন লোক বেড়ে উঠবে যারা জাহেলিয়াত সম্পর্কে জানে না।" ১
দ্বিতীয়ত: প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতিদের প্রত্যুত্তর প্রদান করা যাতে তাদের সংশয়গুলো খণ্ডন হয় এবং মুসলিমদের থেকে তাদের ক্ষতি দূরীভূত হয়। এটি রসনার জিহাদের স্তরসমূহের মধ্যে একটি মহান স্তর। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের সম্পদ, প্রাণ ও যবান দ্বারা জিহাদ করো।" ২
ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ বলেছেন: "বিদআতিদের প্রতিবাদকারী একজন মুজাহিদ। এমনকি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া বলতেন: সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করা জিহাদের চেয়েও উত্তম।" ৩
তিনি আরও বলেছেন: "যখন দ্বীনী বিশেষ ও সাধারণ স্বার্থে নসীহত করা ওয়াজিব: যেমন সেই হাদীস বর্ণনাকারীরা যারা ভুল করে ও মিথ্যা বলে, এবং কিতাব ও সুন্নাহ বিরোধী মতাদর্শের বিদআতের ইমামগণ, তখন তাদের অবস্থা স্পষ্ট করা এবং উম্মতকে তাদের সম্পর্কে সতর্ক করা মুসলিমদের সর্বসম্মতিক্রমে ওয়াজিব। এমনকি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: একজন ব্যক্তি রোজা রাখে, নামাজ পড়ে ও ইতিকাফ করে—এটি আপনার কাছে বেশি প্রিয়, নাকি সে বিদআতিদের বিরুদ্ধে কথা বলবে? তিনি বললেন: যখন সে নামাজ পড়ে ও ইতিকাফ করে, তা কেবল তার নিজের জন্য। আর যখন সে বিদআতিদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তা মুসলিমদের জন্য; এটিই উত্তম। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এর উপকারিতা মুসলিমদের দ্বীনের জন্য ব্যাপক এবং এটি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহর পথ, তাঁর দ্বীন, তাঁর মানহাজ ও তাঁর শরীয়তকে পবিত্র রাখা এবং এগুলোর ওপর তাদের বিদ্রোহ ও সীমালঙ্ঘন প্রতিহত করা মুসলিমদের ঐকমত্যে ওয়াজিবুল কিফায়া। আল্লাহ যদি এদের ক্ষতি দূর করার জন্য কাউকে নিযুক্ত না করতেন, তবে দ্বীন কলুষিত হয়ে যেত। আর দ্বীনের এই বিপর্যয় শত্রুদের আধিপত্য বিস্তারের চেয়েও ভয়াবহ হতো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
العدو من أهل الحرب؛ فإن هؤلاء إذا استولوا لم يفسدوا القلوب وما فيها من الدين إلا تبعاً، وأما أولئك فهم يفسدون القلوب ابتداءً"1.
ثالثاً: أن الدعوة إلى عقيدة أهل السنة والجماعة والاجتماع عليها وبيان فساد ما خالفها وشذ عنها والتحذير منهم فيه تكثير للفرقة الناجية المعتصمة بالحق، وفيه أمر بالمعروف، قال ابن تيمية رحمه الله: "ولا يقال: فإذا كان الكتاب والسنة قد دلا على وقوع ذلك ـ الافتراق بين المسلمين ـ فما فائدة النهي عنه؟
لأن الكتاب والسنة أيضاً قد دلا على أنه لا يزال في هذه الأمة طائفة متمسكة بالحق الذي بعث به محمد صلى الله عليه وسلم إلى قيام الساعة وأنها لا تجتمع على ضلالة.
ففي النهي عن ذلك تكثير هذه الطائفة المنصورة وتثبيتها وزيادة إيمانها فنسأل الله المجيب أن يجعلنا منها"2.
رابعاً: إن دراسة مقالات الفرق من باب معرفة الشر لتوقيه وتحذير الناس من الفرق المبتدعة التي تكاثرت وتكاتفت فتعددت السبل وكثرت المشتبهات، وفي ذلك نهي عن المنكر.
وقد كان حذيفة بن اليمان رضي الله عنه يقول: "كان الناس يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير، وكنت أسأله عن الشر مخافة أن يدركني"3.
--------------------------------------------
যুদ্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট শত্রু; কারণ তারা যখন জয়ী হয় বা আধিপত্য বিস্তার করে, তখন তারা মানুষের অন্তর এবং তাতে বিদ্যমান দ্বীনকে কেবল আনুষঙ্গিকভাবেই নষ্ট করে। কিন্তু ওই সব বিদআতি দলগুলো প্রাথমিকভাবেই অন্তরকে কলুষিত করে।"১।
তৃতীয়ত: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদার দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া, আর এর বিরুদ্ধাচরণকারী ও সত্যচ্যুতদের ভ্রষ্টতা বর্ণনা করা এবং তাদের ব্যাপারে সতর্ক করার মাধ্যমে হকের ওপর অটল থাকা 'নাজাতপ্রাপ্ত দল' বা মুক্তিপ্রাপ্ত দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এর মাঝে সৎ কাজের আদেশের (আমর বিল মা'রুফ) বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এটা বলা যাবে না যে: যদি কুরআন ও সুন্নাহ মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি ঘটার ইঙ্গিত দিয়ে থাকে, তবে তা থেকে নিষেধ করার ফায়দা কী?
কারণ কুরআন ও সুন্নাহ ইহাও প্রমাণ করে যে, কিয়ামত পর্যন্ত এই উম্মতের মধ্যে সর্বদা একটি দল সত্যের ওপর অটল থাকবে যা নিয়ে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরিত হয়েছেন এবং এই উম্মত কখনো ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না।
সুতরাং বিভেদ থেকে নিষেধ করার মাধ্যমে এই সাহায্যপ্রাপ্ত দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তাদের দৃঢ়তা আসে এবং তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়। আমরা প্রার্থনা কবুলকারী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।"২।
চতুর্থত: বিভিন্ন ভ্রান্ত ফেরকার মতবাদগুলো অধ্যয়ন করা মন্দকে চেনার অন্তর্ভুক্ত যাতে তা থেকে বেঁচে থাকা যায়, এবং মানুষকে সেই সব বিদআতি দলগুলো থেকে সতর্ক করা যায় যা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সংহত হয়েছে, ফলে পথ বহুমুখী হয়েছে এবং সন্দেহপূর্ণ বিষয়গুলো বেড়ে গেছে। আর এর মাধ্যমে মন্দ কাজে নিষেধ করার (নাহি আনিল মুনকার) দায়িত্ব পালিত হয়।
হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: "মানুষ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এই ভয়ে যে তা আমাকে পেয়ে বসবে কি না।"৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২০)
قال ابن تيمية ـ في تعليقه على أحاديث النهي عن التفرق ـ: "وهذا المعنى محفوظ عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير وجه، يشير إلى أن التفرق والاختلاف لا بد من وقوعهما في الأمة، وكان يحذر أمته منه لينجو من الوقوع فيه من شاء الله له السلامة"1.
خامساً: بيان صلة الفرق الضالة والآراء المنحرفة المعاصرة بجذورها الخبيثة من الفرق القديمة أهل الأهواء والبدع وكشف حقيقتها وتلبيساتها على الناس، فإن تغيير الأسماء مع بقاء المسميات والمعاني من أساليب الخداع والمكر عند اليهود والزنادقة وأعداء الإسلام.
قال ابن القيم رحمه الله بعد كلامه عن التحيل الباطل ـ: "وإنما غرضه التوصل بها إلى ما هو ممنوع منه، فجعلها سترة وجنَّة يتستر بها من ارتكب ما نهي عنه فأخرجه في قالب الشرع.
كما أخرج الجهمية التعطيل في قالب التنزيه.
وأخرج المنافقون النفاق في قالب الإحسان والتوفيق والعقل المعيشي.
وأخرج الظلمة الفجرة الظلم والعدوان في قالب السياسة وعقوبة الجناة.
وأخرج الروافض الإلحاد والكفر والقدح في سادات الصحابة وحزب رسول الله صلى الله عليه وسلم وأوليائه وأنصاره في قالب محبة أهل البيت والتعصب لهم وموالاتهم.
وأخرج فسقة المنتسبين إلى الفقر والتصوف بدعهم وشطحهم في قالب الفقر والزهد والأحوال والمعارف ومحبة الله ونحو ذلك.
وأخرجت الاتحادية أعظم الكفر والإلحاد في قالب التوحيد وأن
--------------------------------------------
ইবনে তাইমিয়া—অনৈক্য থেকে নিষেধকারী হাদীসসমূহের ওপর তাঁর মন্তব্যে—বলেন: "এই অর্থটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিভিন্নভাবে সংরক্ষিত রয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে উম্মতের মধ্যে অনৈক্য ও মতভেদ ঘটা অনিবার্য। আর তিনি তাঁর উম্মতকে এ বিষয়ে সতর্ক করতেন যাতে আল্লাহ যার জন্য নিরাপত্তা চান সে যেন এতে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা পায়।"১।
পঞ্চম: সমসাময়িক পথভ্রষ্ট দল এবং বিচ্যুত মতাদর্শগুলোর সাথে প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতি প্রাচীন দলগুলোর অশুভ শেকড়ের সম্পর্ক বর্ণনা করা এবং মানুষের কাছে তাদের প্রকৃত রূপ ও বিভ্রান্তি উন্মোচন করা। কারণ, মূল বিষয় ও অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নাম পরিবর্তন করা ইহুদি, জিন্দিক ও ইসলামের শত্রুদের প্রতারণা ও চাতুর্যের অন্যতম কৌশল।
ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বাতিল হিলা (কূটকৌশল) সম্পর্কে আলোচনার পর বলেন: "তার উদ্দেশ্য কেবল এর মাধ্যমে নিষিদ্ধ বিষয়ে পৌঁছানো। তাই সে একে একটি পর্দা ও ঢাল বানিয়ে নিয়েছে যার মাধ্যমে নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত ব্যক্তি নিজেকে আড়াল করে এবং বিষয়টিকে শরীয়তের ছাঁচে উপস্থাপন করে।
যেমন জাহমিয়ারা আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকার করাকে পবিত্রতা বর্ণনার ছাঁচে উপস্থাপন করেছে।
মুনাফিকরা নিফাককে সদাচরণ, সমঝোতা এবং জাগতিক বুদ্ধিবৃত্তির ছাঁচে উপস্থাপন করেছে।
পাপাচারী জালেমরা জুলুম ও সীমালঙ্ঘনকে রাজনীতি এবং অপরাধীদের শাস্তির ছাঁচে উপস্থাপন করেছে।
রাফেযীরা ধর্মদ্রোহিতা, কুফর এবং শ্রেষ্ঠ সাহাবী তথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দল, তাঁর বন্ধু ও সাহায্যকারীদের বিষোদগার করাকে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা, তাদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব এবং আনুগত্যের ছাঁচে উপস্থাপন করেছে।
ফকীরি ও তাসাউউফের সাথে সম্পৃক্ত ফাসেকরা তাদের বিদআত ও প্রলাপোক্তিকে ফকীরি, দুনিয়া বিমুখতা, আধ্যাত্মিক অবস্থা, মারিফাত এবং আল্লাহর ভালোবাসা ইত্যাদির ছাঁচে উপস্থাপন করেছে।
ইত্তিহাদিয়ারা চরম কুফর ও ধর্মদ্রোহিতাকে তাওহীদের ছাঁচে উপস্থাপন করেছে এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২১)
الوجود واحد لا اثنان وهو الله وحده فليس هاهنا وجودان خالق ومخلوق ولا رب ولا عبد بل الوجود واحد وهو حقيقة الرب.
وأخرجت القدرية إنكار عموم قدرة الله تعالى على جميع الموجودات، أفعالها وأعيانها في قالب العدل، وقالوا: لو كان الرب قادراً على أفعال عباده لزم أن يكون ظالماً لهم فأخرجوا تكذيبهم بالقدر في قالب العدل.
وأخرجت الخوارج قتال الأئمة والخروج عليهم بالسيف في قالب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
وأخرج أرباب البدع جميعهم بدعهم في قوالب متنوعة بحسب تلك البدع، فكل صاحب باطل لا يتمكن من ترويج باطله إلا بإخراجه في قالب حق
… "1.
سادساً: إن عدم دراسة الفرق والرد عليها وإبطال الأفكار المخالفة للحق، فيه إفساح المجال للفرق المبتدعة أن تفعل ما تريد، وأن تدعو إلى كل ما تريد من بدع وخرافات دون أن تجد من يتصدى لها بالدراسة والنقد2.
ولهذه العوامل وغيرها تبدو الضرورة ملحة لوجود هذا العلم واعتناء أهل العلم به، وهذا هو الواقع الملموس من تتبع جهود العلماء قديماً وحديثاً عبر القرون المختلفة، قال طاش كبري زاده في معرض تعريفه لعلم المقالات "وموضوعه وغايته وغرضه ومنفعته ظاهرة جداً."3
--------------------------------------------
অস্তিত্ব এক, দুই নয় এবং তা একমাত্র আল্লাহ। সুতরাং এখানে সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টি কিংবা রব ও বান্দা হিসেবে দুটি পৃথক অস্তিত্ব নেই, বরং অস্তিত্ব এক এবং তা-ই রবের হাকিকত।
আর কাদারিয়া সম্প্রদায় সমস্ত বিদ্যমান বস্তু, তাদের কার্যাবলি ও সত্তার ওপর আল্লাহ তাআলার সর্বব্যাপী ক্ষমতার অস্বীকারকে ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের মোড়কে উপস্থাপন করেছে। তারা বলেছে: যদি রব তাঁর বান্দাদের কর্মের ওপর ক্ষমতাবান হতেন, তবে তা তাদের প্রতি জুলুম করা সাব্যস্ত হতো। এভাবেই তারা তাকদিরের প্রতি তাদের মিথ্যাচারকে ইনসাফের মোড়কে প্রকাশ করেছে।
আর খারিজিরা ইমামদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং তাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে বিদ্রোহ করাকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের মোড়কে উপস্থাপন করেছে।
এবং সমস্ত বিদআতপন্থীরা তাদের বিদআতগুলোকে সেই বিদআত অনুযায়ী বিভিন্ন মোড়কে উপস্থাপন করেছে। কেননা প্রত্যেক বাতিলপন্থীর পক্ষেই তার বাতিলকে প্রচার করা সম্ভব হয় না যতক্ষণ না সে তাকে হকের মোড়কে পেশ করে
… ১।
ষষ্ঠত: বিভিন্ন ফিরকা সম্পর্কে অধ্যয়ন না করা, তাদের জবাব না দেওয়া এবং সত্যের পরিপন্থী চিন্তা-ধারাকে বাতিল না করার ফলে বিদআতি ফিরকাগুলোর জন্য তাদের ইচ্ছামতো কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে তারা কোনো প্রকার অধ্যয়ন বা সমালোচনামূলক বাধার সম্মুখীন না হয়েই তাদের কাঙ্ক্ষিত বিদআত ও কুসংস্কারের দিকে দাওয়াত দেওয়ার পথ পেয়ে যায় ২।
এসব এবং অন্যান্য কারণে এই শাস্ত্রের অস্তিত্ব এবং এর প্রতি আলেমদের মনোযোগের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন যুগে প্রাচীন ও আধুনিক আলেমদের প্রচেষ্টাসমূহ অনুসরণ করলে এই বাস্তবতাই প্রতীয়মান হয়। তাশ কুবরি জাদাহ মাকালাত শাস্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, "এর বিষয়বস্তু, উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও উপকারিতা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।" ৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الثالث: مناهج التأليف في علم المقالات والمؤلفات فيه
المطلب الأول: مناهج التأليف في علم المقالات…المطلب الأول: مناهج التأليف في علم المقالات:
سلك أصحاب كتب المقالات طريقان في ترتيب هذا الفن وفي ذلك يقول الشهرستاني: "ولأصحاب كتب المقالات طريقان في الترتيب:
أحدهما: أنهم وضعوا المسائل أصولاً ثم أوردوا في كل مسألة مذهب طائفة طائفة وفرقة فرقة.
والثاني: أنهم وضعوا الرجال وأصحاب المقالات أصولاً ثم أوردوا مذاهبهم في مسألة مسألة" 1.
ولا شك أن أغلب المصنفين سلك المسلك الثاني. ومنهم الشهرستاني الذي علل ذلك بقوله: "لأني وجدتها أضبط للأقسام وأليق بأبواب الحساب" 2.
ومنهم عبد القاهر البغدادي في الفرق بين الفرق، حيث جعل أصحاب الآراء وزعماء الفرق أصولاً، ثم يورد آراء كل منهم في كل مسألة، كما قال: "
… ونذكر في الباب الذي يليه تفصيل مقالة كل فرقة من فرق أهل الأهواء الذين ذكرناهم إن شاء الله عز وجل
… "3.
وممن جمع بين الطريقتين أبو الحسن الأشعري في كتابه مقالات الإسلاميين فقد تميز كتابه بالجمع بين الطريقتين في عرض آراء الفرق،
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মাখালাত বিজ্ঞানের রচনা পদ্ধতি এবং এই বিষয়ক গ্রন্থসমূহ
প্রথম অনুচ্ছেদ: মাখালাত বিজ্ঞানের রচনা পদ্ধতিসমূহ…প্রথম অনুচ্ছেদ: মাখালাত বিজ্ঞানের রচনা পদ্ধতিসমূহ:
মাখালাত বিষয়ক গ্রন্থকারগণ এই শাস্ত্র বিন্যাসের ক্ষেত্রে দুটি পথ অনুসরণ করেছেন। এই সম্পর্কে শাহরাস্তানী বলেন: "মাখালাত বিষয়ক গ্রন্থকারদের বিন্যাসের ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি রয়েছে:
প্রথমটি: তাঁরা মাসআলা বা বিষয়গুলোকে মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, এরপর প্রতিটি বিষয়ে প্রতিটি গোষ্ঠী ও দলের মতবাদ একে একে উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয়টি: তাঁরা ব্যক্তি এবং মতবাদ প্রবক্তাদের মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, এরপর প্রতিটি বিষয়ে তাঁদের মতবাদগুলো তুলে ধরেছেন।" ১
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অধিকাংশ রচয়িতা দ্বিতীয় পদ্ধতিটিই অনুসরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে শাহরাস্তানীও রয়েছেন, যিনি এর কারণ হিসেবে বলেছেন: "কারণ আমি একে শ্রেণিবিভাগের জন্য অধিকতর সুসংহত এবং বিন্যাসের জন্য অধিকতর উপযুক্ত পেয়েছি।" ২
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন 'আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক' গ্রন্থে আব্দুল কাহের আল-বাগদাদী; যেখানে তিনি মতাদর্শের প্রবক্তা এবং দলনেতাদের মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, এরপর প্রতিটি বিষয়ে তাঁদের প্রত্যেকের মতামত উল্লেখ করেছেন। যেমন তিনি বলেছেন: " … এবং আমরা এর পরবর্তী পরিচ্ছেদে আমাদের উল্লিখিত সেই সমস্ত প্রবৃত্তিপূজারী দলগুলোর প্রত্যেকের মতবাদের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করব, ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা চান) … " ৩
আর যিনি এই দুই পদ্ধতির সমন্বয় করেছেন, তিনি হলেন আবুল হাসান আল-আশআরী তাঁর 'মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন' গ্রন্থে। তাঁর গ্রন্থটি বিভিন্ন দলের মতামত উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এই দুই পদ্ধতির সমন্বয়ের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فالجزء الأول معظمه كان وفق الطريقة الثانية، وهي جعل أصحاب المذاهب أصولاً.
أما الجزء الثاني فهو وفق الطريقة الأولى، وهي جعل المسائل أصولاً، ثم إيراد في كل مسألة مذهب طائفة طائفة وفرقة فرقة.
ومنهج الأشعري هذا جعل كتابه بمثابة كتابين مختلفين ضم أحدهما إلى الآخر، فمن أراد آراء الفرق في مسألة ما، أمكنه ذلك، ومن أراد آراء فرقة ما، أمكنه ذلك، وقد اقتضى منه ذلك شيئاً من التكرار الملاحظ لآراء الأشخاص في أكثر من موضع.
وممن وافق الأشعري في طريقته هذه ابن حزم في كتابه الفصل في الملل والأهواء والنحل، حيث جمع بين الطريقتين، مع استعماله الطريقة الأولى، وهي جعل المسائل أصولاً أكثر.
ومنهم أيضاً أبو محمد اليمني في كتابه عقائد الثلاث والسبعين فرقة حيث جمع بين الطريقتين الأولى، والثانية.
وإذا ماخرجنا عن كتب المقالات فإنا نجد كتب الردود قد اعتمدت الطريقة الأولى، وهي جعل المسائل أصولاً، فهي تعنى ببيان الحق في مسألة من مسائل العقيدة والرد على المخالفين فيها، ومن ذلك على سبيل المثال:
الرد على الجهمية للإمام أحمد، والرد عى الجهمية لعثمان بن سعيد الدارمي، والرد على الجهمية لابن منده، والرد على بشر المريسي للدارمي، والرد على البكري، وعلى الأخنائي، كلاهما لشيخ الإسلام ابن تيمية، والصارم المنكي في الرد على السبكي لابن عبد الهادي.
والملاحظ أن الغالب اليوم في طريقة عرض هذه المادة عند من يقوم بتدريسها هو استعمال الطريقة الثانية وهي وضع الرجال وأصحاب المذاهب أصولاً ثم إيراد مذاهبهم.
প্রথম অংশের অধিকাংশ ছিল দ্বিতীয় পদ্ধতি অনুযায়ী, আর তা হলো মাযহাবের প্রবক্তাদের মূল হিসেবে গণ্য করা।
অন্যদিকে দ্বিতীয় অংশটি ছিল প্রথম পদ্ধতি অনুযায়ী, আর তা হলো মাসআলাসমূহকে মূল হিসেবে গণ্য করা, অতঃপর প্রতিটি মাসআলায় প্রতিটি দল ও উপদলের মতবাদ উল্লেখ করা।
আশআরীর এই পদ্ধতিটি তাঁর বইটিকে দুটি ভিন্ন বইয়ের সমতুল্য করেছে, যার একটিকে অপরটির সাথে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কেউ যদি কোনো নির্দিষ্ট মাসআলায় দলগুলোর মতামত জানতে চায়, তবে তার পক্ষে তা সম্ভব; আবার কেউ যদি কোনো নির্দিষ্ট দলের মতামত জানতে চায়, তবে তার পক্ষেও তা সম্ভব। আর এর ফলে একাধিক স্থানে ব্যক্তিদের মতামতের কিছুটা পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা গেছে।
এই পদ্ধতিতে আশআরীর সাথে যারা একমত হয়েছেন তাদের মধ্যে ইবনে হাজম তাঁর 'আল-ফাসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল' গ্রন্থে অন্যতম, যেখানে তিনি উভয় পদ্ধতির সমন্বয় করেছেন, তবে তিনি প্রথম পদ্ধতি অর্থাৎ মাসআলাসমূহকে মূল হিসেবে গণ্য করার বিষয়টিই বেশি ব্যবহার করেছেন।
তাদের মধ্যে আবু মুহাম্মদ আল-ইয়ামানিও রয়েছেন তাঁর 'আকাইদুত সালাসি ওয়া সাবয়িনা ফিরকাহ' গ্রন্থে, যেখানে তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় পদ্ধতির সমন্বয় করেছেন।
আর আমরা যদি মাকালাত (মতবাদ সংক্রান্ত) বইগুলোর বাইরে যাই, তবে দেখতে পাব যে রদ্দ (খণ্ডনমূলক) বইগুলো প্রথম পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, যা হলো মাসআলাসমূহকে মূল হিসেবে গণ্য করা। এ বইগুলো আকিদার কোনো মাসআলায় সত্য উপস্থাপন এবং সে বিষয়ে বিরোধীদের খণ্ডন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে। উদাহরণস্বরূপ:
ইমাম আহমদের 'আর-রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ', উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি-এর 'আর-রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ', ইবনে মানদাহ-এর 'আর-রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ', দারিমি-এর 'আর-রদ্দু আলা বিশর আল-মারিসি', শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর 'আর-রদ্দু আলাল বাকরি' এবং 'আর-রদ্দু আলাল আখনাঈ', এবং ইবনে আব্দুল হাদি-এর 'আস-সারিমুল মুনকি ফির রদ্দি আলাস সুবকি'।
লক্ষণীয় যে, বর্তমানে যারা এই বিষয়টি পাঠদান করেন তাদের উপস্থাপনা পদ্ধতিতে সাধারণত দ্বিতীয় পদ্ধতিটিই বেশি ব্যবহৃত হয়, আর তা হলো ব্যক্তি ও মাযহাবের প্রবক্তাদের মূল হিসেবে স্থাপন করা এবং অতঃপর তাদের মতবাদগুলো উল্লেখ করা।
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المطلب الثاني: الكتب المؤلفة في علم المقالات…لمطلب الثاني: الكتب المؤلفة في هذا العلم
من الكتب المؤلفة في هذا العلم:
1-المقالات1: زفر بن الهذيل صاحب أبي حنيفة (158هـ) 2.
2-المقالات والفرق: سعد بن عبد الله الأشعري القمي الرافضي (300هـ) 3.
3-المقالات4: عبد الله بن أحمد بن محمود الكعبي البلخي المعتزلي (319هـ) 5.
4-المقالات في أصول الديانات: المسعودي أبو الحسن علي بن الحسين (346هـ) شيعي معتزلي6.
5-المسائل والعلل في المذاهب والملل: له أيضاً.
6-الآراء والديانات 7 للحسن بن موسى بن الحسن النوبختي الفارسي شيعي معتزلي 8 (310هـ) 9.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইলমুল মাকালাত (মতবাদ বিষয়ক জ্ঞান) এর ওপর রচিত গ্রন্থাবলি...দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই শাস্ত্রের ওপর রচিত গ্রন্থাবলি
এই শাস্ত্রে রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১-আল-মাকালাত ১: যুফার ইবনুল হুযাইল, আবু হানিফার ছাত্র (১৫৮ হি.) ২।
২-আল-মাকালাত ওয়াল ফিরাক: সা'দ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আশআরি আল-কুম্মি আর-রাফিযি (৩০০ হি.) ৩।
৩-আল-মাকালাত ৪: আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মাহমুদ আল-কা'বি আল-বালখি আল-মু'তাযিলি (৩১৯ হি.) ৫।
৪-আল-মাকালাত ফি উসুলিদ দিয়ানাত: আল-মাসউদি আবুল হাসান আলি ইবনুল হুসাইন (৩৪৬ হি.) শিয়া মু'তাযিলি ৬।
৫-আল-মাসায়িল ওয়াল ইলাল ফিল মাযাহিব ওয়াল মিলাল: এটিও তাঁর রচিত।
৬-আল-আরা' ওয়াদ দিয়ানাত ৭: হাসান ইবনে মুসা ইবনুল হাসান আন-নওবাখতি আল-ফারিসি, শিয়া মু'তাযিলি ৮ (৩১০ হি.) ৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২৫)
7-جمل المقالات1: لأبي الحسن علي بن إسماعيل الأشعري (324هـ) 2.
8-مقالات الإسلاميين: له أيضاً.
9-مقالات غير الإسلاميين3: له أيضا.
10-التنبيه والرد على أهل الأهواء والبدع: أبو الحسين محمد بن أحمد الملطي الشافعي (377هـ) 4.
11-الملل والنحل5: أبو بكر محمد بن الطيب الباقلاني (403هـ) 6.
12-الملل والنحل7: أبو منصور عبد القاهر البغدادي (429هـ) 8.
13-الفرق بين الفرق: له أيضاً.
14-تحقيق ما للهند من مقولة مقبولة في العقل أو مرذولة: لأبي
--------------------------------------------
৭-জুমালুল মাকালাত ১: আবুল হাসান আলী বিন ইসমাইল আল-আশআরী (৩২৪ হিজরী) ২।
৮-মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন: তাঁরই (রচিত)।
৯-মাকালাতু গাইরিল ইসলামিয়্যীন ৩: তাঁরই (রচিত)।
১০-আত-তাম্বীহ ওয়ার-রাদ্দু আলা আহলিল আহওয়ায়ি ওয়াল বিদা: আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মালাতি আশ-শাফেয়ী (৩৭৭ হিজরী) ৪।
১১-আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল ৫: আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আত-তাইয়িব আল-বাকিলানি (৪০৩ হিজরী) ৬।
১২-আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল ৭: আবু মনসুর আব্দুল কাহির আল-বাগদাদি (৪২৯ হিজরী) ৮।
১৩-আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: তাঁরই (রচিত)।
১৪-তাহকীকু মা লিল-হিন্দ মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাহ: আবু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الريحان محمد بن أحمد البيروني (440هـ) 1.
15-المقالات والآراء والديانات2: له أيضاً
16-الفصل في الملل والأهواء والنحل: لأبي محمد علي بن أحمد بن حزم الأندلسي (456هـ) 3.
17-الملل والنحل: محمد بن عبد الكريم الشهرستاني (548هـ) 4.
18-عقائد الثلاث والسبعين فرقة5: لأبي محمد اليمني (من علماء القرن السادس الهجري) 6.
19-اعتقدات فرق المسلمين والمشركين: فخر الدين محمد بن عمر الرازي (606هـ) 7.
20-البرهان في معرفة عقائد أهل الأديان: لأبي الفضل عباس بن منصور التريني السكسكي اليمني (683هـ) 8.
21-المقالات9: علاء الدولة أحمد بن محمد السمناني الصوفي (736هـ) 10.
--------------------------------------------
আল-রায়হান মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-বিরুনী (৪৪০ হি.) ১।
১৫-আল-মাকালাত ওয়াল আরা ওয়াল দিয়ানা: এটিও তাঁর ২।
১৬-আল-ফাসলু ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল: আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমাদ বিন হাযম আল-আন্দালুসী (৪৫৬ হি.) ৩।
১৭-আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম আশ-শাহরাস্তানি (৫৪৮ হি.) ৪।
১৮-আকাইদুত সালাসি ওয়াস সাবঈন ফিরকাহ ৫: আবু মুহাম্মদ আল-ইয়ামানি (ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর আলেমদের একজন) ৬।
১৯-ইতি'কাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন ওয়াল মুশরিকিন: ফখরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন উমর আল-রাযী (৬০৬ হি.) ৭।
২০-আল-বুরহান ফি মারিফাতি আকাইদি আহলিদ দিয়ান: আবুল ফযল আব্বাস বিন মানসুর আল-তারিনী আল-সাকসাকি আল-ইয়ামানি (৬৮৩ হি.) ৮।
২১-আল-মাকালাত ৯: আলাউদ্দৌলা আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-সিমনানি আল-সুফি (৭৩৬ হি.) ১০।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
22-المنية والأمل في شرح الملل والنحل: أحمد بن يحي بن المرتضى اليماني الزيدي المعتزلي (840هـ) 1.
23-الملل والنحل2: له أيضاً.
24-شارع النجاة3: أحمد بن علي بن عبد القادر المقريزي (845هـ) 4.
25-وجيزة المقال في بيان ملل الضلال5: أحمد بن السيد عثمان الدمشقي الحنفي (كان حيا سنة 1163هـ) 6.
والملاحظ على هذه المؤلفات أن جلها لاتحمل عقيدة أهل السنة والجماعة، فإذا ما استثنينا كتاب "التنبيه والرد" للملطي، وكتاب "عقائد الثلاث والسبعين فرقة" لأبي محمد اليمني، وكتب "مقالات الإسلاميين" لأبي الحسن الأشعري (على ما عليه من ملاحظات سيأتي بيانها) ، نجد أن باقي الكتب تمثل تياراً مخالفاً بل إنه في بعض الأحيان شديد المخالفة كالاعتزال أوالرفض.
ولكن لكون أكثر هذه الكتب تعتمد منهج النقل المجرد للمقالات دون تدخل في مناقشتها، فإنه قد يستفاد منها في هذا الوجه، أو قد يستفاد منها من وجه آخر كما قال شيخ الإسلام ابن تيمية "ومع هذا فيستفاد من كلامهم نقض بعضهم على بعض وبيان فساد قوله، فإن
--------------------------------------------
২২-আল-মানিয়া ওয়াল আমাল ফি শারহিল মিলাল ওয়ান নিহাল: আহমাদ ইবন ইয়াহইয়া ইবনুল মুরতাদা আল-ইয়ামানি আজ-জাইদি আল-মুতাজিলি (৮৪০ হি.) ১।
২৩-আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ২: এটিও তাঁর রচিত।
২৪-শারিন নাজাত ৩: আহমাদ ইবন আলী ইবন আব্দুল কাদির আল-মাকরিজি (৮৪৫ হি.) ৪।
২৫-ওয়াজিযাতুল মাকাল ফি বায়ানি মিলালিদ দলাল ৫: আহমাদ ইবন আস-সায়্যিদ উসমান আদ-দিমাশকি আল-হানাফি (যিনি ১১৬৩ হিজরি সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন) ৬।
এই গ্রন্থগুলোর ক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, এগুলোর অধিকাংশ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা ধারণ করে না। আল-মালাতির "আত-তানবিহ ওয়ার রাদ্দ" এবং আবু মুহাম্মাদ আল-ইয়ামানির "আকাইদুত সালাসি ওয়াস সাবয়িনা ফিরকাহ" গ্রন্থ দুটি এবং আবুল হাসান আল-আশআরির "মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন" (যার ওপর কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে যা সামনে বর্ণনা করা হবে) বাদ দিলে আমরা দেখতে পাই যে, অবশিষ্ট বইগুলো একটি ভিন্ন মতাদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে, বরং কিছু ক্ষেত্রে তা চরম বিরোধী, যেমন মুতাজিলাবাদ বা রাফিযিবাদ।
কিন্তু যেহেতু এই বইগুলোর অধিকাংশ কেবল বিভিন্ন মতামতের সরাসরি উদ্ধৃতি প্রদানের পদ্ধতি অবলম্বন করেছে এবং সেগুলোর আলোচনায় হস্তক্ষেপ করেনি, সেহেতু এদিক থেকে এগুলো থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব। অথবা অন্য কোনো দিক থেকেও এগুলো ফলপ্রসূ হতে পারে যেমনটি শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া বলেছেন: "তা সত্ত্বেও তাদের বক্তব্য থেকে একে অপরের মত খণ্ডন এবং অন্যের বক্তব্যের অসারতা প্রকাশের ক্ষেত্রে ফায়দা হাসিল করা যায়, কারণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المختلفين كل كلامهم فيه شيء من الباطل، وكل طائفة تقصد بيان بطلان قول الأخرى، فيبقى الإنسان عنده دلائل كثيرة تدل على فساد قول كل طائفة من الطوائف المختلفين في الكتاب." 1
--------------------------------------------
“মতভেদকারীদের সকল কথার মধ্যেই কিছু না কিছু অসারতা রয়েছে; এবং প্রতিটি দলই অন্য দলের বক্তব্যের অসারতা বর্ণনা করার উদ্দেশ্য পোষণ করে। ফলে মানুষের নিকট এমন অনেক প্রমাণাদি বিদ্যমান থাকে, যা কিতাব (আল্লাহর কিতাব) বিষয়ে মতবিরোধকারী প্রতিটি দলের বক্তব্যের ভ্রান্তি বা অসারতা নির্দেশ করে।” ১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المطلب الثالث: أشهر الكتب المؤلفة في علم المقالات ومناهج مؤلفيها…المطلب الثالث: أشهر الكتب المؤلفة في المقالات ومناهج مؤلفيها.
من الحقائق التي يجهلها الكثير من الدارسين لهذا العلم أن أشهر الكتب التي يكثر تداولها بين أيديهم عند دراسة هذا العلم وهي "كتاب مقالات الإسلاميين لأبي الحسن الأشعري، كتاب الفصل لابن حزم، وكتاب الملل والنحل للشهرستاني، والفرق بين الفرق للبغدادي" لا تمثل عقيدة أهل السنة والجماعة، فهذه الكتب يصدق فبها قول شيخ الإسلام ابن تيمية "فالكتب المصنفة في مقالات الطوائف التي صنفها هؤلاء ليس فيها ما جاء به الرسول وما دل عليه القرآن، لا في المقالات المجردة، ولا في المقالات التي يذكر فيها الأدلة فإن جميع هؤلاء دخلوا في الكلام المذموم الذي عابه السلف وذموه."1.
وقوله أيضاً: "ثم إن غالب كتب أهل الكلام والناقلين للمقالات، ينقلون في أصول الملل والنحل من المقالات ما يطول وصفه. ونفس ما بعث الله به رسوله، وما يقوله أصحابه والتابعون لهم في ذلك الأصل، الذي حكوا فيه أقوال الناس، لا ينقلونه لا تعمداً منهم لتركه، بل لأنهم لم يعرفوه، بل ولا سمعوه، لقلة خبرتهم بنصوص الرسول وأصحابه والتابعين.".2.
ومن أجل ذلك أحببت التنبيه على ما حوته هذه المؤلفات من مناهج، مع بيان عقائد أصحابها وسمات تلك المؤلفات، وذلك على النحو
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইলমুল মাকালাত (বিভিন্ন মতবাদ সংক্রান্ত জ্ঞান) বিষয়ে রচিত বিখ্যাত গ্রন্থসমূহ এবং সেগুলোর লেখকদের পদ্ধতি...তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মাকালাত বিষয়ে রচিত বিখ্যাত গ্রন্থসমূহ এবং সেগুলোর লেখকদের পদ্ধতি।
এই শাস্ত্রের অনেক শিক্ষার্থীর নিকট অজ্ঞাত একটি সত্য হলো এই যে, এই শাস্ত্রটি অধ্যয়নের সময় তাদের হাতে বহুল প্রচলিত বিখ্যাত গ্রন্থসমূহ—যথা আবুল হাসান আল-আশআরীর 'মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন', ইবনে হাজমের 'আল-ফাসল', শাহরাস্তানির 'আল-মিলাল ওয়ান নিহাল' এবং বাগদাদীর 'আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক'—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার প্রতিনিধিত্ব করে না। এই বইগুলোর ক্ষেত্রে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর এই উক্তিটি যথার্থ: "বিভিন্ন উপদলের মতবাদ সম্পর্কে এঁদের রচিত গ্রন্থগুলোতে রাসূল যা নিয়ে এসেছেন এবং কুরআন যা নির্দেশ করেছে তা বিদ্যমান নেই; না কেবল মতবাদগুলোর বিবরণে, আর না সেই মতবাদগুলোতে যেখানে দলিল উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা এঁরা সকলেই সেই নিন্দিত 'কালাম' শাস্ত্রে প্রবেশ করেছেন যা পূর্বসূরিগণ (সালাফ) দোষারোপ ও নিন্দা করেছেন।" ১।
তাঁর আরও একটি উক্তি: "অধিকন্তু, ইলমুল কালামের অনুসারী এবং মতবাদ বর্ণনাকারীদের অধিকাংশ কিতাবে তারা ধর্মীয় মূলনীতি ও বিভিন্ন দল-উপদলের বর্ণনায় এমন সব মতবাদ উদ্ধৃত করেন যার বিবরণ দীর্ঘ। কিন্তু আল্লাহ তাঁর রাসূলকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন এবং সেই মূলনীতির বিষয়ে তাঁর সাহাবী ও তাবেয়ীগণ যা বলেছেন—যেই মূলনীতিতে তারা মানুষের কথা উদ্ধৃত করেছেন—তা তারা বর্ণনা করেন না। এটি তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করার জন্য করেন না, বরং তারা তা জানেন না এবং শোনেনওনি। কারণ রাসূল, সাহাবী ও তাবেয়ীদের নস (দলিল)-এর ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে।" ২।
একারণেই আমি এই গ্রন্থগুলোতে অন্তর্ভুক্ত পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে সতর্ক করতে এবং সেই সাথে গ্রন্থকারদের আকিদা ও এই রচনাবলির বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্ট করতে চেয়েছি, যা নিম্নরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুকাদ্দিমাত ফি ইলমি মাকালাতিল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৩০)
التالي:
أولاً: كتاب مقالات الإسلاميين لأبي الحسن الأشعري "260 -324".
ا - عقيدته:
يعتبر أبو الحسن الأشعري امتداداً للمذهب الكلابي فأبو الحسن الأشعري الذي عاش في الفترة ما بين (260هـ -324هـ) كان معتزلياً إلى سن الأربعين، حيث عاش في بيت أبي علي الجبائي شيخ المعتزلة في البصرة، ثم رجع عن مذهب المعتزلة وسلك طريقة ابن كلاب وتأثر بها لفترة طويلة، ولعل السبب في ذلك أنه وجد في كتب ابن كلاب وكلامه بغيته من الرد على المعتزلة وإظهار فضائحهم وهتك أستارهم، وكان ابن كلاب قد صنف مصنفات رد فيها على الجهمية والمعتزلة وغيرهم. ولكن فات الأشعري أن ابن كلاب وإن رد على المعتزلة وكشف باطلهم وأثبت لله تعالى الصفات اللازمة، إلا أنه وافقهم في إنكار الصفات الاختيارية التي تتعلق بمشيئته تعالى وقدرته، فنفى كما نفت المعتزلة أن الله يتكلم بمشيئته وقدرته. كما نفى أيضاً الصفات الاختيارية مثل الرضى، والغضب، والبغض، والسخط وغيرها.
وقد مضى الأشعري في هذا الطور نشيطاً يؤلف ويناظر ويلقى الدروس في الرد على المعتزلة سالكاً هذه الطريقة.
ثم التقى بزكريا بن يحي الساجي فأخذ عنه ما أخذ من أصول أهل السنة والحديث،1 وكان الساجي شيخ البصرة وحافظها2 ثم لما قدم
--------------------------------------------
পরবর্তী অংশ:
প্রথমত: আবুল হাসান আল-আশআরীর (২৬০-৩২৪ হিজরী) 'মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন' গ্রন্থ।
১. তাঁর আকিদা:
আবুল হাসান আল-আশআরীকে কুল্লাবী মাযহাবের একটি সম্প্রসারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আবুল হাসান আল-আশআরী (যিনি ২৬০ হিজরী থেকে ৩২৪ হিজরী পর্যন্ত জীবিত ছিলেন) চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত মুতাজিলা মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন। তিনি বসরার মুতাজিলা প্রধান আবু আলী আল-জুব্বায়ীর ঘরে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মুতাজিলা মাযহাব থেকে ফিরে আসেন এবং ইবনে কুল্লাবের পথ অনুসরণ করেন এবং দীর্ঘকাল তার দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। সম্ভবত এর কারণ ছিল এই যে, তিনি ইবনে কুল্লাবের গ্রন্থসমূহ ও তাঁর বক্তব্যের মধ্যে মুতাজিলাদের খণ্ডন করার এবং তাদের কেলেঙ্কারি ও গোপন বিষয়গুলো ফাঁস করার কাঙ্ক্ষিত উপকরণ খুঁজে পেয়েছিলেন। ইবনে কুল্লাব এমন কিছু গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যেখানে তিনি জাহমিয়্যাহ, মুতাজিলা এবং অন্যদের রদ বা খণ্ডন করেছিলেন। কিন্তু আল-আশআরী এই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন যে, ইবনে কুল্লাব যদিও মুতাজিলাদের খণ্ডন করেছেন, তাদের বাতিল মতবাদ উন্মোচন করেছেন এবং মহান আল্লাহর জন্য অপরিহার্য গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন, তবে তিনি মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও কুদরতের সাথে সংশ্লিষ্ট ঐচ্ছিক গুণাবলি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তাদের সাথে একমত ছিলেন। ফলে তিনি মুতাজিলাদের মতোই অস্বীকার করেছেন যে আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা ও কুদরত অনুযায়ী কথা বলেন। তেমনিভাবে তিনি সন্তুষ্টি, ক্রোধ, ঘৃণা, অসন্তুষ্টি ইত্যাদির মতো ঐচ্ছিক গুণাবলিও অস্বীকার করেছেন।
আল-আশআরী এই স্তরে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং এই পদ্ধতি অনুসরণ করে মুতাজিলাদের খণ্ডন করে বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা, বিতর্ক এবং দরস প্রদান করেছেন।
এরপর তিনি জাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আস-সাজীর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর নিকট থেকে আহলে সুন্নাহ ও হাদিসের মূলনীতিসমূহ গ্রহণ করেন। সাজী ছিলেন বসরার শায়খ এবং হাফেজ। এরপর যখন তিনি আগমন করলেন...
--------------------------------------------