(খণ্ড: ১) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: -)
تحفة الغريب بتراجم رجال معجمي الحافظ الطبراني الأوسط والصغير ممن ليس في التهذيب   (توفيق الزنتاني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: تحفة الغريب بتراجم رجال معجمي الحافظ الطبراني الأوسط والصغير ممن ليس في التهذيب

ويليه: جزء التعليقات على معجم الطبراني الأوسط المطبوع

المؤلف: توفيق بن عبد الله بن مسعود الزنتاني

الناشر: مكتبه ابن عباس للنشر والتوزيع - مصر

الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م

عدد الأجزاء: 3 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو الحجة 1444

হাফেজ তাবারানির আল-মু'জাম আল-আওসাত এবং আস-সাগিরের সেই সকল রাবিদের জীবনী সম্বলিত 'তুহফাতুল গারিব' যারা আত-তাহযিব গ্রন্থে নেই   (তাওফিক আল-যিনতানি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: হাফেজ তাবারানির আল-মু'জাম আল-আওসাত এবং আস-সাগিরের সেই সকল রাবিদের জীবনী সম্বলিত 'তুহফাতুল গারিব' যারা আত-তাহযিব গ্রন্থে নেই

এবং এর সাথে রয়েছে: মুদ্রিত মু'জাম আত-তাবারানি আল-আওসাতের উপর টীকা সংবলিত অংশ

লেখক: তাওফিক বিন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ আল-যিনতানি

প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে আব্বাস প্রকাশনী ও পরিবেশনা - মিশর

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৩ (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত)

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ যিলহজ ১৪৪৪

(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

(الْحمدُ لله الَّذي شَرَحَ صُدُور أهلِ الإسلامِ للسُّنة، فانقادت لاتِّباعها، وارتاحت لسماعِها، وأمات نُفُوس أهل الطُّغيان بالبدعةِ بعد أن تمادت في نِزاعِها، وتغالت في ابتداعِها، وأشهد أن لا إله إلا الله وحدهُ لا شريك له، العالم بانقياد الأفئدة وامتناعها، المُطلع على ضمائرِ القلوب في حالتَي افتراقها واجتماعها، وأشهدُ أن محمدًا عَبده ورسوله الذي انخفضت بحقه كلمة الباطل بعد ارتفاعها، واتصلت بإرساله أنوار الهُدى، وظهرت حجتها بعد انقطاعها، صلى الله عليه وسلم ما دامت السماء والأرض؛ هذه في سمُوها وهذه في اتساعها، وعلى آله وصحبه الذين كسروا جُيُوش المَرَدَة، وفتحوا حُصون قلاعها، وهجروا في محبة داعيهم إلى الله الأوطار، والأوطان، ولم يعاودها بعد وداعها، وحفظوا على أتباعهم أقواله، وأفعاله وأحواله، حتى أمنت بهم السنن الشريفة من ضياعها.

أما بعد: فإنَّ أوْلَى ما صُرفت فيه نفَائس الأيام، وأعْلى ما خُصَّ بمزيد الاهتمام الاشتغال بالعلوم الشرعية، المتلقاة عن خير البرية، ولا يرتاب عاقل في أن مدارها على كتاب الله المقتفى، وسنّة المصطفى)(1).

ذلك الكتاب الكريم، والذّكر الحكيم، الذىِ فيه خبر من قبلنا، ونبأ من بعدنا، وفصْل ما بيننا، قولٌ فصلٌ، ليس بالهزل، من قال به صدق، ومن عمل به أُجر، ومن دعى إليه فقد دعى إلى صراطٍ مُستقيمٍ، محفُوظٌ من عند ربنا تعالى،

--------------------------------------------

(1) من مقدمة "هدي الساري" للحافظ ابن حجر.
উপস্থাপনা

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

(সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আহলে ইসলামের অন্তরসমূহকে সুন্নাহর জন্য প্রশস্ত করেছেন, ফলে তারা এর অনুসরণে অনুগত হয়েছে এবং এটি শ্রবণে প্রশান্তি লাভ করেছে; এবং তিনি বিদআতের মাধ্যমে সীমালঙ্ঘনকারীদের নফসকে নিস্তেজ করে দিয়েছেন, যখন তারা তাদের হঠকারিতায় অবিচল ছিল এবং বিদআত সৃষ্টিতে চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; তিনি অন্তরের আনুগত্য ও বিমুখতা সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং হৃদয়ের গোপন বিষয়সমূহ সম্পর্কে পরিজ্ঞাত—তা বিচ্ছেদ কিংবা মিলন যে কোনো অবস্থাতেই হোক না কেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁর আনীত সত্যের মাধ্যমে বাতিলের প্রভাব উচ্চ হওয়ার পর অবনমিত হয়েছে, এবং যাঁর প্রেরণের মাধ্যমে হিদায়াতের নূরসমূহ প্রজ্জ্বলিত হয়েছে এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর এর দলিলসমূহ সুস্পষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন যতকাল আসমান ও জমিন বিদ্যমান থাকবে—একটি তার উচ্চতায় এবং অন্যটি তার বিশালতায়; এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবৃন্দের ওপর রহমত বর্ষিত হোক, যারা উদ্ধত বাহিনীকে পরাস্ত করেছেন এবং তাদের সুদৃঢ় দুর্গসমূহ জয় করেছেন। তারা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ভালোবাসায় নিজেদের কামনা-বাসনা ও স্বদেশ ত্যাগ করেছিলেন এবং বিদায় জানানোর পর পুনরায় সেখানে ফিরে যাননি। তারা তাঁদের অনুসারীদের জন্য তাঁর বাণী, কর্ম ও অবস্থাসমূহ সুসংরক্ষিত রেখেছেন, যার ফলে তাঁদের মাধ্যমে পবিত্র সুন্নাহসমূহ বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।

অতঃপর: জীবনের মহামূল্যবান সময় ব্যয় করার জন্য সর্বোত্তম বিষয় এবং অধিক মনোযোগের জন্য সর্বোচ্চ কাজ হলো সেই শরয়ী ইলম অর্জনে ব্যাপৃত থাকা, যা সৃষ্টির সেরা মানব থেকে প্রাপ্ত। কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ পোষণ করেন না যে, এর মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর অনুসৃত কিতাব এবং মুস্তফার সুন্নাহ।)(১)।

এটি সেই সম্মানিত কিতাব এবং প্রজ্ঞাময় উপদেশ, যাতে রয়েছে আমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, পরবর্তীদের খবর এবং আমাদের মধ্যকার বিচার্য বিষয়সমূহ। এটি চূড়ান্ত ফয়সালা, কোনো কৌতুক নয়। যে ব্যক্তি এর ভিত্তিতে বলবে সে সত্য বলবে, যে এর ওপর আমল করবে সে প্রতিদান পাবে, আর যে এর দিকে আহ্বান করবে সে সরল পথের দিকেই আহ্বান করবে। এটি আমাদের সুমহান রবের পক্ষ থেকে সুসংরক্ষিত।

--------------------------------------------

(১) হাফেজ ইবনে হাজার রহ.-এর 'হাদিউস সারি' গ্রন্থের ভূমিকা থেকে সংকলিত।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٦)
وكفى بالله حفيظًا: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ (9)} [الحجر: 9].

والسنة المُطهرة التي هي الحِكمة المُنزلة من الرّب جلّ وعلا، من أطاع صاحبها عليه الصلاة والسلام دخل الجنّة، ومن عصاه فقد أبي؛ من تمسك بها نجا، ومن تركها ضل وغوى.

أسعدُ الناس بها، وأعظمهم أجرًا، وأرفعهم قدرًا من كان عنها منافحًا، ولصدِّ ما قد أُدخل فيها باع نفسه لله وتَجرَّدا.

نصرةً للدّين واحتسابًا، وطمعًا فيما أعدّه الله تعالى لعبَّاده المتقين نُزلًا ومآبًا {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ} [آل عمران: 187].

فلكلِّ ما قد ذُكر قام الأئمةُ الأجلاءُ الفحولُ الأقوياءُ في وجه المبطلين، فصنّفوا في ذلك مصنفات عدة؛ بيّنُوا فيها أحوال رواة أحاديث المصطفى، -لا يخافون في الله لومة لائم- فعدَّلوا خلقًا وجرَّحوا أُممًا.

نصرةً لدينِ ربِّ العَالمَينَ، وحمايةً لسُنَّة سيِّد المرسلِينَ، حتى صَفِي الكثير ولم يبق إلا النزر اليسير، فلم يحابُوا في دِينهِم ابنًا، ولا أخًا، بل ولا أبًا، فضلًا عمن بَعُدَ نسبا.

جرَّد الأئمةُ في ذلك الأقلامَ، -فضلًا عن اللسان-، فوقعتْ لهم مُصنفات -على فنونٍ متعددةٍ-، منها:

* ما كان كلامُهم فيها على الرّواة مجردًا.

* وأخرى اقتصر مصنفُوها على ترجمة رواة أسانيد كُتبِ مشتهرة.

* ومنها من اشتغل فيها مصنفوها بطبقة شيوخِ أحدِ الأعلام النّبلاء.
আর আল্লাহ রক্ষাকর্তা হিসেবেই যথেষ্ট: {নিশ্চয় আমিই এ যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী (৯)} [হিজর: ৯]।

এবং সেই পবিত্র সুন্নাহ যা মহান রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হিকমাহ স্বরূপ; এর অধিকারীর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে অনুসরণ করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে তাঁর অবাধ্য হলো সে অস্বীকার করল; যে একে আঁকড়ে ধরল সে মুক্তি পেল এবং যে তা ছেড়ে দিল সে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত হলো।

মানুষের মধ্যে তারাই সবচেয়ে সৌভাগ্যবান, পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ এবং মর্যাদায় সুউচ্চ যারা এর পক্ষে প্রতিরক্ষা করে এবং এর মধ্যে অনুপ্রবেশ করানো অপতৎপরতা রুখতে নিজেদের জীবনকে আল্লাহর কাছে সঁপে দিয়েছে এবং একনিষ্ঠ হয়েছে।

দ্বীনের সাহায্যের জন্য এবং সওয়াবের আশায়, আর আল্লাহ তাআলা তাঁর মুত্তাকী বান্দাদের জন্য আতিথেয়তা ও প্রত্যাবর্তনস্থল হিসেবে যা প্রস্তুত রেখেছেন তার লোভে {আর স্মরণ করো যখন আল্লাহ কিতাবপ্রাপ্তদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, তোমরা অবশ্যই তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না} [আল ইমরান: ১৮৭]।

উল্লেখিত এই সমস্ত কারণেই মহান, বিদগ্ধ ও শক্তিশালী ইমামগণ বাতিলপন্থীদের মোকাবেলায় দাঁড়িয়েছিলেন; তাঁরা এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন; যেখানে তাঁরা মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীস বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন -তাঁরা আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করেননি- ফলে তাঁরা অগণিত বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা সাব্যস্ত করেছেন এবং বহু বর্ণনাকারীকে প্রত্যাখ্যাত করেছেন।

রাব্বুল আলামীনের দ্বীনের সাহায্যার্থে এবং সাইয়্যিদুল মুরসালিনের সুন্নাহর সুরক্ষার্থে; ফলে অনেক কিছুই স্বচ্ছ হয়ে গেছে এবং কেবল সামান্য কিছু অবশিষ্ট রয়েছে। তাঁরা তাঁদের দ্বীনের ব্যাপারে কোনো সন্তান, কোনো ভাই এমনকি কোনো পিতার প্রতিও পক্ষপাতিত্ব করেননি, আত্মীয়তার দিক থেকে যারা দূরে তাদের কথা তো বলাই বাহুল্য।

ইমামগণ এ উদ্দেশ্যে জবানের পাশাপাশি কলমকেও উৎসর্গ করেছিলেন, ফলে বিভিন্ন শাস্ত্রের ওপর তাঁদের অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:

* যেখানে বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে তাঁদের আলোচনা ছিল স্বতন্ত্র।

* অন্যগুলো এমন যেখানে সংকলকগণ কেবল প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের সনদে থাকা রাবীদের জীবনীর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন।

* আবার এমন কিছু আছে যেখানে সংকলকগণ কোনো একজন বরেণ্য ইমামের উস্তাদদের স্তরের ওপর কাজ করেছেন।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٧)
قال الحافظُ ابن حجر رحمه الله في "نزهة النظر" (ص: 199): (ومن المُهم في هذا الفنّ معرفةُ الأسماء المُجرّدة، وقد جمعها جماعةٌ من الأئمة، فمنهم من جمعها بغير قيد … ، ومنهم من أفرد الثقات بالذكر … ، ومنهم من أفرد المجروْحين … ، ومنهم من تقيّد بكتاب مخصوص، … ).

فنظرًا لهذا وذاكَ، بدأتُ العمل مستعينًا بالله جلّ وعلا بترجمةِ رواةِ أسانيدِ الأحاديثِ والأثارِ من كتابٍ عظيمٍ، جليلٍ مفيدٍ، يُعدُّ مرجعٌ من مراجعِ السنة الكبارِ، يَنقُلُ منهُ المحدِّث والخبري، والفقيهُ العالي، كتابٍ فيه كلّ عزيزٍ وفريدٍ.

أَلَا وَهُوَ: معاجِمُ الإمامِ الحافظُ الرّحالةِ أَبِي القاسِم أحمدَ بن سليمَان الطَّبراني رحمه الله وغفر له-.

مُقتفيًا في تأليفي هذا آثار من سَلَفَ، غير مبتدعِ بدعةً لم يعرفها من قَدِم، بل بحذْوِهم احتذيْتُ، وقد (فعلناهُ لما رَجوْنا فيه من منفعةِ النَّاس، لأنّا وجدنا غير واحدٍ من الأئمةِ تكلّفُوا من التّصنيف ما لم يُسبقُوا إليه، منْهم هشام بن حسان، وعَبد الملك بن عَبد العزيز بن جُريج، وسعيد بن أبي عروبة، ومالك بن أنس، وعَبد الله بن المبارك، ويحيى بن زكريا بن أبي زائدة، ووكيع بن الجراح، وغيرهم من أهل العلم والفضل، صنفُوا فجعل الله في ذلك منفعة كثيرة فنرجُوا لهم بذلك الثواب الجزيل عند الله لما نفع اللهُ به المسلمين، فبهم القُدوة فيما صنفُوا.

وقد عاب بعضُ من لا يفهم على أهل الحديثِ الكلام في الرّجال، وقد وَجَدْنا غير واحد من الأئمة من التابعين قد تكلموا في الرّجال؛ منهم الحسن البصري، وطاووس تكلما في معْبد الجهني، وتكلم سعيد بن جبير في طَلْقِ بن
হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'নুজহাতুন নাজার' (পৃষ্ঠা: ১৯৯) গ্রন্থে বলেছেন: (এই শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একক নামসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া। একদল ইমাম তা সংগ্রহ করেছেন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ কোনো শর্ত ছাড়াই তা সংকলন করেছেন … , আবার কেউ কেউ কেবল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করে একক গ্রন্থ রচনা করেছেন … , কেউ কেউ কেবল বিতর্কিত বা দুর্বল বর্ণনাকারীদের আলাদা করেছেন … , আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট কোনো গ্রন্থের ভিত্তিতে সীমাবদ্ধ থেকেছেন, … )।

সুতরাং এই বিষয়গুলো বিবেচনা করে, আমি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার সাহায্য নিয়ে একটি মহান, মহিমান্বিত ও উপকারী গ্রন্থের হাদীস এবং আছারসমূহের সনদে বিদ্যমান বর্ণনাকারীদের জীবনবৃত্তান্ত রচনার কাজ শুরু করেছি। গ্রন্থটি সুন্নাহর অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত, যা থেকে মুহাদ্দিস, ইতিহাসবিদ এবং উচ্চপর্যায়ের ফকিহগণ উদ্ধৃতি প্রদান করেন; এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে প্রতিটি দুষ্প্রাপ্য ও অনন্য বিষয় বিদ্যমান।

আর সেই গ্রন্থটি হলো: ইমাম হাফেজ ও পর্যটক আবু আল-কাসিম আহমাদ বিন সুলাইমান আত-তাবারানী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন)-এর 'মুজাম'সমূহ।

আমার এই সংকলনে আমি পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি; এমন কোনো নতুন বিষয় উদ্ভাবন করিনি যা পূর্ববর্তীগণ জানতেন না। বরং তাদের পদাঙ্কই আমি অনুসরণ করেছি। আর (আমি এটি করেছি মানুষের উপকারের আশায়, কারণ আমরা দেখেছি যে ইমামদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি এমন সব সংকলনের কষ্ট স্বীকার করেছেন যার উদাহরণ আগে ছিল না। তাঁদের মধ্যে হিশাম বিন হাসসান, আব্দুল মালিক বিন আব্দুল আজিজ বিন জুরাইজ, সাঈদ বিন আবি আরুবা, মালিক বিন আনাস, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, ইয়াহইয়া বিন জাকারিয়া বিন আবি যাইদাহ, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ এবং অন্যান্য ইলম ও ফজিলতের অধিকারীগণ রয়েছেন। তাঁরা গ্রন্থ সংকলন করেছেন এবং আল্লাহ তাতে প্রভূত কল্যাণ নিহিত রেখেছেন। তাই আমরা এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে মহাপুরস্কারের আশা রাখি, যেহেতু আল্লাহ এর দ্বারা মুসলিমদের উপকৃত করেছেন। সুতরাং তাঁদের রচিত সংকলনসমূহের ক্ষেত্রে তাঁরাই হলেন অনুসরণীয় আদর্শ।

আর যারা বুঝতে অক্ষম, তাদের কেউ কেউ হাদীস বিশারদদের বিরুদ্ধে বর্ণনাকারীদের দোষ-গুণ নিয়ে আলোচনা করার বিষয়ে দোষারোপ করেছেন। অথচ আমরা তাবেয়ীদের মধ্য থেকে একাধিক ইমামকে বর্ণনাকারীদের বিষয়ে আলোচনা করতে দেখেছি; তাঁদের মধ্যে হাসান বসরী ও তাউস—তাঁরা দুজনেই মাবাদ আল-জুহানী সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন, এবং সাঈদ বিন জুবাইর তালক বিন... এর বিষয়ে সমালোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٨)
حبيب، وتكلم إبراهيم النخعي وعامر الشعبي في الحارث الأعور، وهكذا روي عن أيوب السختياني، وعَبد الله بن عون، وسليمان التيمي، وشعبة بن الحجاج، وسفيان الثوري، ومالك بن أنس، والأوزاعي، وعَبد الله بن المبارك، ويحيى بن سعيد القطان، ووكيع بن الجراح، وعَبد الرّحمن بن مهدي، وغيرهم من أهل العلم أنهم تكلموا في الرّجال، وضعفوا؛ وإنما حملهم على ذلك عندنا -والله أعلم- النّصيحة للمسلمين لا ظَنًا بهم أنهم أرادوا الطّعن على الناس، أو الغيبة، إنّما أرادُوا عندنا أن يُبينُوا ضِعْفَ هؤلاء لكي يُعْرَفُوا، لأن بعضهم من الذين ضُعِفُوا كان صاحب بدعة، وبعضهم كان متهمًا في الحديث، وبعضهم كانوا أصحاب غفلة وكثرة خطأ، فأراد هؤلاء الأئمة أن يُبيّنُوا أحوالَهم شفقةً على الدَّين وتثبيتًا، لأن الشّهادة في الدّين أحقُّ أن يُتثَبّتَ فيها من الشّهادة في الحُقوق والأموال … )(1).

قال مقيده عفا الله عنه: استُنكِارَ الكلامُ في ذَا البابِ على أهلِهِ حَاصلٌ من بعض الأولين، وما أشدَّ استنكارهِ اليومَ مِن أَغْلَبِ المتأخِرِينَ.

فلغُربَةِ الحَديثِ وأهلِهِ بينَ أوْساطِ كثيرٍ مِنَ العَالَمِينَ، فَقَدْ أَسْمَيْتُهُ بِـ:

تُحفةُ الْغَرِيبِ بتراجمِ رِجَالِ مُعجمَيّ الطَّبرانيَّ الَأوْسَطِ وَالصَّغِيرِ مِمَّنْ ليْسَ فِي التَّهْذِيبِ

--------------------------------------------

(1) "علل الترمذي".
হাবিব; আর ইব্রাহিম আন-নাখায়ি এবং আমির আশ-শাবি হারিস আল-আওয়ার সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। একইভাবে আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি, আবদুল্লাহ বিন আউন, সুলাইমান আত-তাইমি, শুবা বিন হাজ্জাজ, সুফিয়ান আস-সাওরি, মালিক বিন আনাস, আল-আওজায়ি, আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক, ইয়াহইয়া বিন সাইদ আল-কাত্তান, ওকি বিন আল-জাররাহ, আবদুর রহমান বিন মাহদি এবং অন্যান্য ইলম অন্বেষী বিদ্বানদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করেছেন এবং তাঁদের দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। আমাদের মতে—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—তাঁদেরকে এই কাজে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো মুসলিমদের প্রতি সদুপদেশ প্রদান, এমন ধারণা থেকে নয় যে তাঁরা মানুষের প্রতি কটাক্ষ বা গীবত করতে চেয়েছিলেন। বরং আমাদের দৃষ্টিতে তাঁরা এই বর্ণনাকারীদের দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট করতে চেয়েছিলেন যাতে তাঁদের চিনে রাখা যায়; কারণ যাঁদেরকে দুর্বল বলা হয়েছে তাঁদের কেউ ছিলেন বিদআতি, কেউ হাদিস বর্ণনায় অভিযুক্ত, আবার কেউ ছিলেন অসতর্ক ও অধিক ভুলকারী। তাই এই ইমামগণ দ্বীনের প্রতি মমতা এবং তা সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই তাঁদের অবস্থা বর্ণনা করতে চেয়েছিলেন। কেননা পার্থিব অধিকার ও ধন-সম্পদ সংক্রান্ত সাক্ষ্যের চেয়ে দ্বীনি বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান অধিকতর যাচাই-বাছাই ও নিশ্চিত হওয়ার দাবি রাখে … )(১).

এর সংকলক (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেন: এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের এই ধরনের আলোচনার ওপর আপত্তি করা পূর্বসূরিদের কারও কারও মধ্যে পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে বর্তমান সময়ের অধিকাংশ উত্তরসূরিদের পক্ষ থেকে এর ওপর আপত্তি ও অস্বীকৃতি কতই না তীব্র!

বিশ্বের বহু মানুষের মাঝে হাদিস এবং আহলে হাদিসদের এই অপরিচিত ও নিঃসঙ্গ অবস্থার কারণে আমি এই গ্রন্থটির নামকরণ করেছি:

তুহফাতুল গারিব বি-তারাজিমি রিজালি মুজামাই আত-তাবারানি আল-আওসাত ওয়াস-সগির মিম্মান লাইসা ফিত-তাহজিব (তাহজিব গ্রন্থে নেই এমন তাবারানির মুজামে আওসাত ও মুজামে সগিরের বর্ণনাকারীদের জীবনী সম্বলিত আগন্তুকের উপহার)

--------------------------------------------

(১) "ইলালুত তিরমিজি"।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌السبب الدّاعي لاختيار الموضُوع:

كان السببُ الباعثُ لهذا العمل هو ما رأيتُهُ -بنفسي- ويراه كل باحث مُباشر لفن البحث، -تخريجًا وتحقيقًا- في الأحاديث النبوية، والآثار السلفية من فائدة كُبرى تُجتَنَى كل يوم من كِتابَيّ شيخنا العلامة المحدِّث مُقبل بن هادي الوادعي رحمه الله وغفرله- "تراجم رجال الحاكم في مُستدركه"(1)، و "تراجم رجال الدَّارقطني في سننه".

وليس عمل شيخنا رحمه الله في هذين الكتابين مُقتصرا على رجال الدارقطني والحاكم فقط، فإن في طيَّاتِهما تراجمًا لرجال كتب أخرى كالبيقي وأبي نعيم

--------------------------------------------

(1) وللفائدة فإن لشيخنا في هذا الكتاب شرطًا أخبرني به، قال: (إن شرطي في الكتاب أن أثبت أن الرّاوي الذي جاء في "المستدرك" قد ترجم له فقط ولا التزم بذكر الجرح والتعديل فيه، وإنما اقتصر على المصدر الذي وجد فيه ذكر تلميذه وشيخه اللذين ذكرا عندي في السند، وأسوق سنة وفاته، وبذلك أكون قد أثبتُّ أن هذا الرّاوي مترجم له ..

وأما معرفة حاله جرحًا وتعديلًا، فليس بمقصود عندي، إن جاء فيها، وإلا فابحث عنه.

فقُلتُ له: الذي عليه العمل هو الجرح والتعديل فلو طلبت من أخ أن يقوم بذلك؟.

فقال رحمه الله: نفعل إن شاء الله.

أقول: وقد نحا نحوه -من قبلُ- الشَّيخ العلامة الأنصاري في "بلغة القاصي والداني".

ووُجد ذلك في كتب بعض العلماء الأوليين.

انظر: "أخبار أصبهان"، وقارنه بـ "طبقات محدَّثي أصبهان".

وقد أشار شيخنا رحمه الله لهذا الشرط في مقدمة "تراجم رجال الدَّارقطني"، - وأغفله في مقدمة كتابه تراجم رجال الحاكم، فكن منه على ذكر، ولا التفات لكلام ابن السلوم؛ فإن فيه تعجل، وعدم إنصاف.

فلينظر: "إتحاف المهرة" (1/ 131)، و"الجواهر والدرر" (2/ 659/ ط ابن حزم).
বিষয়বস্তু নির্বাচনের কারণ:

এই কাজের চালিকাশক্তি ছিল যা আমি নিজে প্রত্যক্ষ করেছি এবং যা নবীজির হাদীস ও সালাফদের আছারের তাহরীজ ও তাহকীক—অর্থাৎ গবেষণার শিল্পে—সরাসরি নিয়োজিত প্রত্যেক গবেষক প্রত্যক্ষ করে থাকেন; আর তা হলো আমাদের শাইখ, আল্লামা মুহাদ্দিস মুকবিল বিন হাদী আল-ওয়াদিঈ (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন এবং ক্ষমা করুন)-এর দুটি গ্রন্থ ‘মুসতাদরাক-এ হাকিমের বর্ণনাকারীদের জীবনী’(১) এবং ‘সুনানে দারা কুতনীর বর্ণনাকারীদের জীবনী’ থেকে প্রতিদিন অর্জিত মহান উপকারিতা।

এই দুটি গ্রন্থে আমাদের শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাজ কেবল দারা কুতনী এবং হাকিমের বর্ণনাকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এগুলোর ভাঁজে ভাঁজে বায়হাকী ও আবু নুআইমের মতো অন্যান্য কিতাবের বর্ণনাকারীদের জীবনীও বিদ্যমান রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) উপকারের জন্য উল্লেখ্য যে, এই কিতাবে আমাদের শাইখের একটি শর্ত ছিল যা তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন; তিনি বলেন: ‘এই কিতাবে আমার শর্ত হলো এটি প্রমাণ করা যে, ‘মুসতাদরাক’-এ আগত বর্ণনাকারীর কেবল জীবনী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং আমি সেখানে ‘জারহ ও তাদীল’ (দোষ-গুণ বিচার) উল্লেখ করতে বাধ্য নই। বরং আমি কেবল সেই উৎসের ওপর সীমাবদ্ধ থাকি যেখানে তাঁর সেই ছাত্র ও উস্তাদের উল্লেখ পাওয়া যায় যারা আমার কাছে সনদে উল্লিখিত হয়েছেন, এবং আমি তাঁর মৃত্যুর বছর উল্লেখ করি। এর মাধ্যমে আমি এটি প্রমাণ করি যে, এই বর্ণনাকারীর জীবনী লিপিবদ্ধ রয়েছে...

আর তাঁর অবস্থা জারহ ও তাদীলের মানদণ্ডে কেমন, তা জানা আমার উদ্দেশ্য নয়। যদি তা সেখানে উল্লেখ থাকে (তবে ভালো), অন্যথায় সেটি আপনি খুঁজে নিন।’

অতঃপর আমি তাঁকে বললাম: বাস্তব ক্ষেত্রে যেটির ওপর আমল করা হয় তা হলো জারহ ও তাদীল; সুতরাং আপনি যদি কোনো ভাইকে এটি করার দায়িত্ব দিতেন?

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বললেন: আমরা ইনশাআল্লাহ তা করব।

আমি বলছি: ইতোপূর্বে শাইখ আল্লামা আনসারী ‘বুলগাতুল কাসী ওয়াদ দানী’ গ্রন্থে তাঁর অনুরূপ পথই অনুসরণ করেছেন।

আর পূর্ববর্তী কিছু আলিমদের গ্রন্থেও এর নজির পাওয়া যায়।

দেখুন: ‘আখবারু আসবাহান’ এবং একে ‘তাবাকাতু মুহাদ্দিসি আসবাহান’-এর সাথে তুলনা করুন।

আমাদের শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) ‘সুনানে দারা কুতনীর বর্ণনাকারীদের জীবনী’-র ভূমিকায় এই শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তাঁর ‘মুসতাদরাক-এ হাকিমের বর্ণনাকারীদের জীবনী’ কিতাবের ভূমিকায় তা উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন। সুতরাং আপনি বিষয়টি স্মরণে রাখুন এবং ইবনে আস-সাল্লুমের কথার দিকে ভ্রুক্ষেপ করবেন না; কারণ তাতে তাড়াহুড়ো ও ইনসাফহীনতা রয়েছে।

দেখুন: ‘ইতহাফুল মাহারা’ (১/১৩১) এবং ‘আল-জাওয়াহির ওয়াদ দুরার’ (২/৬৫৯/ ইবনুল হাযম সংস্করণ)।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ١٠)
وغيرهما.

ولقد كنتُ في أثناء دراستي وعملي عند شيخي الفاضل أبي الحسن السليماني -حفظهُ الله تعالى ونفع به- ضمن أبحاثه النافعة الماتعة(1) أتعبُ أحيانًا في الترجمة لبعض الرّواة، إما لنزُول طبقة رواة الإسناد، أو لنسبة، أو لتصحيف واقع خرج به عمّا عليه الاعتماد، فأرى أنه قد تُرجم له في "رجال الحاكم في مُستدركه" وقد قُرِّبَ بذلك للباحث أَيُّمَا تقريب.

رأيتُ هذا وتذكرتُ كلمة شيخنا رحمه الله التي كان يكررها علينا عند تدريسه للمستدرك: (إننا نرى كثيرًا من الباحثينَ المعاصرينَ يعجزون عن الترجمة لأصحاب الطَّبقة النازلة كشيخ الحاكم وشيخه، بل ترى في عبارات بعضِهِم التملصُ والانسلال، فكم من راو حكمُوا عليه بأنه لم يُترجم له وهو في كتبٍ سهلة المنَال، معرُوفة المجال، ولكن الهيبة، بل أحيانا العجز والكسل).

فنحمُدُهُ سُبحانه أن سخّر لنا مثل هذه الكُتب، وقد كان مثل هذا في عمل الأئمة السالفين تُقرَّب للباحثين ما بَعُد، وتُسهل ما صَعُب.

وما الفوائد المُجتناة من مثل كتاب "تعجيل المنفعة بزوائد الأئمة الأربعة" للحافظ ابن حجر رحمه الله، وكتاب "مغاني الأخيار بتراجم رجال معاني الآثار" للعيني رحمه الله، وغيرهما إلا مثالًا يُقتدى به لاعتناء الأئمة من قديم بمثل هذا الفن الجليل؛ فما كان اعتناؤُهم -يا أُخَيَّ- بذلك من فراغِ!!!، بل هو من تسديدٍ واقتناعٍ بأهميته وبحاجة الباحث المفيد إلى أن يروي منه نهمتَهُ.

--------------------------------------------

(1) وقد لازمت شيخنا في العديد منها؛ فكان لي فيها -منه- نفع الله به - الخير الكثير.
এবং অন্যান্য।

এবং আমি আমার সম্মানিত শায়খ আবু আল-হাসান আস-সুলায়মানী—আল্লাহ তাআলা তাকে হেফাযত করুন এবং তার দ্বারা উপকার করুন—তার সান্নিধ্যে আমার পড়াশোনা এবং কাজের সময়, তার উপকারী ও চিত্তাকর্ষক গবেষণাসমূহের(১) অন্তর্ভুক্ত থাকাকালীন কখনো কখনো কিছু বর্ণনাকারীর পরিচিতি খুঁজে পেতে ক্লান্ত হয়ে পড়তাম। এটি কখনো সনদের বর্ণনাকারীদের স্তর নিম্নগামী হওয়ার কারণে হতো, কখনো বা বংশীয় নিসবতের কারণে, আবার কখনো এমন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দের বিকৃতির (তাসহিফ) কারণে হতো যা তাকে নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড থেকে বিচ্যুত করে দিত। এমতাবস্থায় আমি দেখতে পেতাম যে, "রিজালুল হাকিম ফি মুস্তাদরাকিহি" গ্রন্থে তার জীবনী বর্ণিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে একজন গবেষকের জন্য কাজটিকে অনেক বেশি সহজসাধ্য করে দেওয়া হয়েছে।

আমি এটি প্রত্যক্ষ করলাম এবং আমাদের শায়খের (রাহিমাহুল্লাহ) সেই কথাটি স্মরণ করলাম যা তিনি 'আল-মুস্তাদরাক' পড়ানোর সময় আমাদের কাছে বারবার বলতেন: (আমরা সমসাময়িক অনেক গবেষককে দেখি যারা নিম্ন স্তরের বর্ণনাকারীদের জীবনী—যেমন আল-হাকিমের শায়খ এবং তার শায়খদের জীবনী—খুঁজে পেতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন। এমনকি আপনি তাদের কারো কারো বক্তব্যে পাশ কাটিয়ে যাওয়া এবং এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখতে পাবেন। কত বর্ণনাকারী এমন আছেন যাদের সম্পর্কে তারা এই রায় দিয়ে বসেন যে তাদের কোনো জীবনী পাওয়া যায়নি, অথচ তারা সহজলভ্য ও সুপরিচিত ক্ষেত্রের কিতাবসমূহের মধ্যেই বিদ্যমান। কিন্তু এটি মূলত ভীতি, বরং কখনো কখনো অক্ষমতা ও অলসতার কারণে হয়ে থাকে।)

অতএব আমরা সেই মহান সত্তার প্রশংসা করি যে তিনি আমাদের জন্য এই ধরণের কিতাবসমূহ সহজলভ্য করে দিয়েছেন। পূর্ববর্তী ইমামগণের কর্মপদ্ধতি এমনই ছিল যা গবেষকদের জন্য দূরবর্তী বিষয়কে নিকটবর্তী এবং কঠিন বিষয়কে সহজ করে দিত।

হাফেজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর "তা’জিলুল মানফায়াহ বি যাওয়াইদিল আইম্মাতিল আরবা’আহ" এবং আইনী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর "মাগাউনীল আখইয়ার বি তারাজিমি রিজালি মা’আনিল আসার" এবং এ জাতীয় অন্যান্য কিতাব থেকে অর্জিত সুফলগুলো মূলত এই মহান শিল্পের প্রতি প্রাচীনকাল থেকেই ইমামগণের বিশেষ যত্ন ও গুরুত্ব প্রদানের এক অনুসরণীয় উদাহরণ। হে আমার প্রিয় ভাই! তাদের এই বিশেষ যত্ন তো কোনো কারণ ছাড়া ছিল না!!! বরং তা ছিল সঠিক দিকনির্দেশনা এবং এর গুরুত্ব ও একজন গবেষকের এর দ্বারা নিজের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণের প্রয়োজনীয়তার প্রতি তাদের গভীর প্রত্যয় থেকে উদ্ভূত।

--------------------------------------------

(১) আমি এগুলোর অনেকগুলোতে আমার শায়খের সান্নিধ্যে ছিলাম; সেখানে তার কাছ থেকে—আল্লাহ তার দ্বারা কল্যাণ করুন—আমার অনেক কল্যাণ অর্জিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ١١)
فحثني ذلك كلّه على الإرسال لشيخِنا رحمه الله وغفر له-، وذلك لأنني كنتُ مقيما عند شيخنا أبي الحسن -حفظهُ الله- بدار الحديث بِمأْرب -أعزها الله بعزه-، برسالة أطلبُ فيها منه رحمه الله التَّوجِيه في ذلك، والإرشاد بالعمل في كتابٍ يُشبه عمله في رجال الحاكم.

واقترحتُ عليه -وقتئذٍ- العميل في رجال الدَّارقطني، -ولم أكن يومئذ أعلم بعمله فيه-، وكانت الرّسالة مرسلة إليه برفقة الأخ: صالح بن محمد الفرجاني -جزاه الله خيرًا-، فتكلم مع الشَّيخ، وأبان له الموضوع، وقرأ عليه رسالتي، وشرح له بعض الأمور من ناحيتي، فوافق الشَّيخ -جزاه الله خيرًا-، وأرسل الأخ إليَّ برسالة جاء فيها:

( … قد تكلمت مع الشَّيخ وشرحتُ له … فقال لي بالحرف الواحد "عندي موضوع كنتُ أفكرُ فيه؛ ولكن سنؤثرُهُ به، قُلتُ: ما هو يا شيخ؟، قال: صحيحُ ابن حبّان وكذلك المعاجم الثلاثة للطبراني … ).

ومن أول يوم وصلتني فيه الرّسالة باشرتُ العمل مبتدئا بالمعجم الصغير.

فأسال الله تعالى أن يكون هذا العمل -وغيره- خالصًا لوجهه الكريم، وأسأله سبحانه أن يوفقني لإتمامه على خير.

وقد تولى الترجمة لرجال ابن حبَّان في "صحيحه" الأخ العزيز: أبو الحسين القاسمي الغرياني -نزيل رأس الخيمة- وفقهُ الله تعالى لكل خير.
এই সবকিছু আমাকে আমাদের শায়খের—আল্লাহ তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন—কাছে বার্তা পাঠাতে উৎসাহিত করল। এর কারণ ছিল আমি আমাদের শায়খ আবু আল-হাসান—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন—এর কাছে মা’রিবের দারুল হাদিসে অবস্থান করছিলাম—আল্লাহ একে তাঁর সম্মানে সম্মানিত করুন। আমি সেই বার্তায় তাঁর কাছে—আল্লাহ তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন—এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা এবং আল-হাকিমের বর্ণনাকারীদের (রিজাল) ওপর তাঁর কাজের অনুরূপ কোনো কিতাবে কাজ করার পরামর্শ চেয়েছিলাম।

তখন আমি তাঁর কাছে আদ-দারাকুতনীর বর্ণনাকারীদের নিয়ে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম—সে সময় আমি এতে তাঁর কাজের কথা জানতাম না। বার্তাটি ভাই সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-ফারজানী—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন—এর মাধ্যমে তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছিল। তিনি শায়খের সাথে কথা বললেন এবং তাঁর কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করলেন। তিনি শায়খকে আমার পত্রটি পড়ে শোনালেন এবং আমার পক্ষ থেকে কিছু বিষয় ব্যাখ্যা করলেন। ফলে শায়খ—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন—সম্মত হলেন এবং ভাইটি আমার কাছে একটি পত্র পাঠালেন যাতে লেখা ছিল:

( … আমি শায়খের সাথে কথা বলেছি এবং তাঁকে বুঝিয়ে বলেছি … তখন তিনি আমাকে অক্ষরে অক্ষরে বললেন, "আমার কাছে একটি বিষয় আছে যা নিয়ে আমি ভাবছিলাম; তবে আমরা তাকেই এর জন্য অগ্রাধিকার দেব।" আমি বললাম, "সেটি কী হে শায়খ?" তিনি বললেন, "সহীহ ইবনে হিব্বান এবং তদ্রূপ তাবারানীর তিনটি মু’জাম … )।

যেদিন থেকে পত্রটি আমার কাছে পৌঁছাল, সেদিন থেকেই আমি 'আল-মু’জাম আস-সাগীর' দিয়ে কাজ শুরু করলাম।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন এই কাজ—এবং অন্য কাজগুলোও—একমাত্র তাঁর মহান চেহারার জন্য হয়, এবং আমি তাঁর পবিত্র সত্তার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে এটি উত্তমভাবে সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেন।

আর ইবনে হিব্বানের 'সহীহ'-এর বর্ণনাকারীদের জীবনী রচনার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রিয় ভাই আবু আল-হুসাইন আল-কাসিমী আল-গুরিয়ানী—রাস আল-খাইমার বাসিন্দা—মহান আল্লাহ তাঁকে সকল কল্যাণের তাওফিক দান করুন।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ١٢)
هذا وقد انتهيتُ من معجمي الطَّبراني الأوسط والصغير، وأما الكبير فقد عَملتُ في مواضع منه ثُم أتى ما انشَغل به البال، وفارقنا به دُور العلم، وصِرْنا إلى أضعف حال فالله المستعان، وعليه التكلان.

وإنّني عازم على إكماله؛ ولو بعد حين، فأسأله سبحانه أن يحيطني بمعيته -الخاصة- لعبَّاده المؤمنين، وأن يحفظني من الفتن، والمصائب في الدِّين.

آمين يا ربّ العالمين.

* * *
এখানে আমি তাবারানির আল-মু'জামুল আওসাত এবং আস-সাগির সমাপ্ত করেছি। আর আল-মু'জামুল কাবিরের ব্যাপারে কথা হলো, আমি এর কিছু অংশে কাজ করেছি, অতঃপর এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হলো যা মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলল, যার কারণে আমরা ইলমের কেন্দ্রসমূহ ছেড়ে প্রস্থান করলাম এবং আমরা অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় উপনীত হলাম। সুতরাং আল্লাহর সাহায্যই কাম্য এবং তাঁর ওপরই নির্ভরতা।

আমি এটি সম্পন্ন করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, যদিও তা কিছুকাল পরেই হোক। আমি সুবহানাহুর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাকে তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য নির্ধারিত -বিশেষ- সান্নিধ্য দিয়ে বেষ্টন করে রাখেন এবং আমাকে দ্বীনের ফিতনা ও বিপদাপদ থেকে রক্ষা করেন।

আমীন, হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক।

* * *
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌أهمية الموضوع

‌‌أ - غزارة المادة العلمية في المعجمين.

احتوت معاجم الطَّراني على عِلمٍ غزيرٍ من الأحاديث النّبوية، والآثار السلفية، وحِكَمٍ وعْظية، وقِصِصٍ زُهدية، وفوائد إسنادية، فقصد وُجهتها المحدِّثون والقراء، والأئمة الفُقهاء، وأهل الزُّهد والوعظ النُّبهاء، فارتَوَى منها كل واحد منْهم على ما أراد وانتهى، (قد عَلِمَ كُلُّ أُناسٍ مشربَهُم)(1).

 

‌‌ب - صُعوبة البحث في رجال الطَّبراني.

تعرضتُّ في هذا البحث إلى العديد من الصُّعوبات التي استطعتُ بفضلٍ من الله تعالى ورحمته أن أتغلب على العديد منها، وهي:

 

‌‌1 - التَّصحيفات:

فهي كثيرة جدًّا في النُّسخة(2) التي كنت قد اعتمدتُ عليها قبلُ من "المُعجم الصغير"، والنّاظر -المقارن- بين نسختي الجديدة(3) وبينها يرى عجبًا من كثرة التَّصحيفات.

مع أنّ المُحقق -حفظهُ الله- ذكر أنه عرض الكتاب على نُسخة من المخطوطات!!.

--------------------------------------------

(1) انظر في ذلك ما سيأتي من كلام الحافظُ الذَّهبي، والعلامة الألباني رحمهم الله.

(2) وهي نسخة "الروض الداني"، تحقيق: الشيخ شكور -حفظه الله-.

(3) انظر الكلام عليها، وذكر مزايها، في مقدمة تحقيقي لها.
বিষয়ের গুরুত্ব

ক - অভিধানদ্বয়ে (মুজামদ্বয়ে) ইলমি বিষয়বস্তুর প্রাচুর্য।

তাবারানির অভিধানসমূহ (মুজামসমূহ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস, সালাফদের আসার (বাণী ও কর্ম), উপদেশমূলক প্রজ্ঞা, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) বিষয়ক কাহিনী এবং সনদ সংক্রান্ত অসংখ্য ফায়দা বা তথ্যে সমৃদ্ধ ছিল। ফলে মুহাদ্দিসগণ, ক্বারিগণ, ইমাম-ফকিহগণ এবং প্রখর মেধাসম্পন্ন ওয়ায়েজ ও যাহিদগণ একে নিজেদের লক্ষ্যস্থল বানিয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেই যা চেয়েছিলেন তা থেকে তৃপ্ত হয়েছেন এবং উদ্দেশ্য পূর্ণ করেছেন, (প্রত্যেক দলই নিজ নিজ পানের স্থান চিনে নিয়েছে)(১)।

 

খ - তাবারানির বর্ণনাকারীদের (রিজাল) গবেষণায় কাঠিন্য।

আমি এই গবেষণায় অনেকগুলো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, যা আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ ও রহমতে আমি অনেকগুলো কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। সেগুলো হলো:

 

১ - বর্ণাশুদ্ধি (তাসহিফাত):

"আল-মুজামুস সাগির"-এর যে সংস্করণের ওপর আমি ইতিপূর্বে নির্ভর করেছিলাম, তাতে এটি অত্যন্ত বেশি ছিল(২)। যে ব্যক্তি আমার নতুন সংস্করণ(৩) এবং পূর্বেরটির মধ্যে তুলনা করবেন, তিনি বর্ণাশুদ্ধির আধিক্য দেখে বিস্মিত হবেন।

যদিও মুহাক্কিক (গবেষক) -আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন- উল্লেখ করেছেন যে, তিনি গ্রন্থটি পাণ্ডুলিপির একটি কপির সাথে মিলিয়ে দেখেছেন!!।

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে হাফেজ যাহাবি এবং আল্লামা আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সামনে আসা বক্তব্যগুলো দেখুন।

(২) তা হলো "আর-রওযুদ দানি" সংস্করণ, সম্পাদনা: শায়খ শাকুর -আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন-।

(৩) এ বিষয়ে আলোচনা এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে আমার করা সম্পাদনার ভূমিকায় দেখুন।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ١٤)
فما أدري ما وصف هذا المخطوط(1)؟! والعرض المبثُوت؟!!.

* قال العلامة الألباني رحمه الله-في "السلسلة الضَّعيفة"- (برقم: 3332): (أحمد بن إبراهيم النّرمقي كما جاء هكذا منسُوبًا في حديث آخر له في "المعجم الصغير"، ولكن وقع فيه محرفًا إلى (الزّمعي)، حتى في الطّبعة الجديدة منه؛ تحقيق: الشَّيخ محمد شكور (2/ 131)، ولم يُعلّق عليه بشيء كما هي عادته … ).

وكذا المُعجم الأوسط العمل فيه لدى الباحثين على نسختين أحدهما:

نسخة الدّكتور الطّحان، وقد وقعت فيها أغلاط كثيرة بل كبيرة، يُستغرَب أن تقع مثلها من مثل محققِهِ.

قال العلامة الألباني -كما- في "الضَّعيفة" (برقم: 6216): (وقع في مخطوط الأوْسط مكان (ربها) … (زوجها)، وهذا خطأ فاحش غفل عنه الدّكتور الطّحان في مطبوعه الأوسط التي زعم أنه قام على تحقيقها، وفيها أخطاء كثيرة، وكبيرة، منها: سقوط أحاديث منها؛ بل وصفحات، وقد نبهتُ على شيء من ذلك في غير ما موضع والله المستعان)(2).

وانظر: إلى كثيرٍ -ولا أقولُ قليل- من الأمثلة لما قُلتُهُ في عمل الدّكتور مقدمة إخواننا للمعجم الأوسط طبعة دار الحرمين.

--------------------------------------------

(1) وقد ذكر -حفظه الله- أن عمله قائم على نسخة مخطوطة كُتبت عام 1217 هـ! موجودة بالمكتبة السعدية بحيدر آباد الدكن، وفي المدينة المنورة صورة عنها برقم 40، كما في أم القرى مصورة برقم 2587.

(2) وانظر: "الضعيفة" (6855).
সুতরাং আমি জানি না এই পাণ্ডুলিপির বিবরণ কী(১)?! এবং এই ছড়িয়ে থাকা উপস্থাপনা?!!.

* আল্লামা আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) 'সিলসিলাতুদ দাঈফাহ'-তে (ক্রমিক নং: ৩৩৩২) বলেছেন: (আহমদ বিন ইবরাহিম আন-নারমাকি, যেভাবে তাঁর অন্য একটি হাদিসে 'আল-মু'জাম আস-সাগীর'-এ সম্বন্ধিত হয়ে এসেছে; কিন্তু তাতে এটি বিকৃত হয়ে 'আয-যামঈ' হিসেবে এসেছে, এমনকি এর নতুন সংস্করণেও; যা শায়খ মুহাম্মাদ শাক্কুর (২/ ১৩১) কর্তৃক সম্পাদিত। আর তিনি এর ওপর কোনো মন্তব্য করেননি, যেমনটি তাঁর অভ্যাস... )।

একইভাবে 'আল-মু'জাম আল-আওসাত'-এর ক্ষেত্রে গবেষকদের নিকট দুটি সংস্করণ প্রচলিত রয়েছে, যার একটি হলো:

ডক্টর তাহহানের সংস্করণ, যাতে অনেক বরং বড় বড় ভুল সংঘটিত হয়েছে; তাঁর মতো একজন মুহাক্কিকের পক্ষ থেকে এমনটি ঘটা বিস্ময়কর।

আল্লামা আলবানী 'আদ-দাঈফাহ'-তে (ক্রমিক নং: ৬২১৬) যেমনটি বলেছেন: (আওসাতের পাণ্ডুলিপিতে 'তার প্রতিপালক'-এর স্থলে... 'তার স্বামী' এসেছে, এবং এটি একটি জঘন্য ভুল যা ডক্টর তাহহান তাঁর মুদ্রিত আওসাত সংস্করণে লক্ষ্য করেননি, যেটিকে তিনি তাহকীক করেছেন বলে দাবি করেছেন। এতে অনেক ও বড় বড় ভুল রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: হাদিস বাদ পড়া, এমনকি অনেক পৃষ্ঠাও বাদ পড়া। আমি বিভিন্ন স্থানে এ সম্পর্কে সতর্ক করেছি এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি)(২)।

ডক্টরের কাজ সম্পর্কে আমি যা বলেছি, তার অনেক—আমি অল্প বলব না—উদাহরণ দেখুন দারুল হারামাইন সংস্করণের 'আল-মু'জাম আল-আওসাত'-এ আমাদের ভাইদের লিখিত ভূমিকায়।

--------------------------------------------

(১) তিনি (হাফিজাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর কাজটি ১২১৭ হিজরীতে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে সম্পাদিত হয়েছে! যা হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্যের মাকতাবাতুস সা'দিয়া-তে সংরক্ষিত আছে। মদিনা মুনাওয়ারায় এর একটি প্রতিলিপি (নং ৪০) এবং উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রতিলিপি (নং ২৫৮৭) হিসেবে রয়েছে।

(২) আরও দেখুন: 'আদ-দাঈফাহ' (৬৮৫৫)।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ١٥)
لذا فقد أعرضتُّ -تمامًا- على نسخة الدّكتور، واعتمدتُ على نسخة كانت جيدة من حيث المخطُوط، وازدات نقاوةً بما حَضِيت به من تعليقِ إخوة أفاضل تراه عليها مَزبُور مبثُوت.

وإن كان فيها أخطأ وأغلاط إلا أنها قليلة جدًا بالنّسبة إلى عملهم فيها، -وفقهمُ الله لكل خير-. وهذه النُّسخة هي التي صدرت عن دار الحرمين، بإشراف الأخويين: أبي معاذ طارق عوض الله، وأبي الفضل الحُسيني، -وجَمْع من إخوانِهم- وافقهمُ الله تعالى.

وإني أحمدُ الله عز وجل أن وفقني من أول أمري لهذه النُّسخة، فإِنَّني أعتبرها رحمة من الله تعالى وفضلٍ ومنّة.

فأتوجهُ -بالنِّداء- إلى إخواني الباحثين أن يُركزوا اهتمامهم عليها، -في عملهم- والزّيادة -على ما بُذل فيها- بالتّنقيح، والتّصحيح، مع التّدليل على الصّحيح.

وأطلبُ من إخواني -طلبة العلم- من وقف على شيء يحتاج إلى تعديل أو تصحيح ولم أذكُرُه أن يُرسله إلي -أو إليهم-، وجزاه الله خيرًا، فإن بمثل هذه الجُهود تُنقح كُتب أهل العلم على مرَّ العُهود.

 

‌‌تنبيهٌ هامٌ جدًّا:

وقع لإخواننا في نسخة دار الحرمين أخطاء استدركوها في آخر الجزء التاسع، يا حبذا لو وُضعت في مَواضِعها من الكتاب، فإن موضعها الحالي قلَّ من يتنبّهُ له؛ بل -وهو في موضعه الآن- كان حقا عليهم أن يُشيروا إليه بلاصق على الغلاف؛ فالله أعلم بعذرهم في مثل هذا الخلاف.
তাই আমি ডক্টরের পাণ্ডুলিপিটি পুরোপুরি বর্জন করেছি এবং এমন একটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি যা পাণ্ডুলিপি হিসেবে বেশ ভালো ছিল। এর শুদ্ধতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে কিছু সম্মানিত ভাইয়ের টীকা ও মন্তব্যের মাধ্যমে, যা আপনি এর ওপর স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ ও বিস্তারিত দেখতে পাবেন।

যদিও এতে কিছু ভুল ও ভ্রান্তি রয়েছে, তবুও তাঁদের কাজের তুলনায় তা খুবই সামান্য—আল্লাহ তাঁদের সকল কল্যাণের তৌফিক দান করুন। এই পাণ্ডুলিপিটি সেইটি যা দারুল হারামাঈন থেকে প্রকাশিত হয়েছে দুই ভাই: আবু মুয়ায তারিক আওয়াদুল্লাহ এবং আবু ফজল আল-হুসাইনি—এবং তাঁদের একদল ভাইদের তত্ত্বাবধানে—আল্লাহ তাআলা তাঁদের সহায় হোন।

আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি যে তিনি আমার কাজের শুরুতেই আমাকে এই পাণ্ডুলিপিটি পাওয়ার তৌফিক দিয়েছেন। আমি এটিকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক রহমত, অনুগ্রহ ও দান হিসেবে গণ্য করি।

সুতরাং আমি আমার গবেষক ভাইদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেন তাঁরা তাঁদের কাজে এর প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং এতে যে শ্রম ব্যয় করা হয়েছে তার ওপর পরিমার্জন, সংশোধন এবং সঠিক বিষয়ের দলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে আরও কাজ করেন।

আর আমি আমার ইলম অন্বেষণকারী ভাইদের কাছে অনুরোধ করছি, কেউ যদি এমন কিছুর সন্ধান পান যার সংশোধন বা পরিমার্জন প্রয়োজন এবং যা আমি উল্লেখ করিনি, তবে তিনি যেন তা আমার কাছে অথবা তাঁদের কাছে পাঠিয়ে দেন; আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন। কারণ এই ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমেই যুগ যুগ ধরে আলেমদের কিতাবসমূহ পরিমার্জিত হয়ে আসছে।

 

‌‌অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:

দারুল হারামাঈনের পাণ্ডুলিপিতে আমাদের ভাইদের কিছু ভুল হয়েছে যা তাঁরা নবম খণ্ডের শেষে সংশোধন করেছেন। কতই না ভালো হতো যদি সেগুলো কিতাবের নিজ নিজ স্থানে স্থাপন করা হতো, কারণ বর্তমান স্থানে থাকায় খুব কম মানুষই সেদিকে লক্ষ্য করে। বরং এটি এখন যে স্থানে আছে, তাতে তাদের উচিত ছিল মলাটের ওপর একটি স্টিকার দিয়ে তা নির্দেশ করা; এই বিচ্যুতির ক্ষেত্রে তাঁদের ওজর সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ١٦)
‌‌2 - اختلاف النِّسبة.

قد يكون الرّاوي عند الإمام الطَّبراني رحمه الله في معاجمه مذكورًا بنسبة لم تَرِد في الكُتب التي ترجمت له - ومنها المطولات! -ممّا وقفتُ عليه-، لذا أقف أحيانا في الجزم بأنه فلان المراد في الإسناد.

فقد يأت مثلًا في السند: فلانا المُؤذن، وأقفُ على ترجمته -، وقد يُذكر فيها شيخه وتلميذه اللذان عندي في الإسناد -في مصادر عدة-، وهذا عندي مما يُقوي الاحتمال، ويرفع الإشكال، - إلا أنهم لم يذكروا أنه مُؤذن -كما هو أمامي في الإسناد-، وإنما فيها -مثلًا- المُقرئ أو الإمام أو الصُّواف، وغير ذلك من الأوصاف، بل قد يُوردونه خالٍ من كل تلك المعالم والأوصاف.

وأيضا يَحدث ذلك بالنسبة للبُلدان فقد يأتي في السند: البصري، وأقفُ على ترجمته -بمثل ما تقدم- وفيها البغدادي أو الكوفي، -ولذلك وُجوهٌ- بدون ذكر للبصرة فيها -لا من قريبٍ ولا من بعيدٍ-، لرفْع الاحتمال، بل قد يُذكر بما يَتباعد به البلدان.

وعملي في هذا أني أعمل بقول الله عز وجل: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16] بمقارنة ما في السند بما في كُتب الطَّبراني الأخرى -لاحتمال التَّصحيف-، وكُتب من اعتنى بكتب الطَّبراني، والرّجوع لكُتب التخاريج -وغيرها- في نقلهم من المعاجم -، وغيرها مراعيا في كل ذلك لَمِخْرَجِ طريق الإسناد، فكن على علم من ذلك لتهتدي للصواب.

وأكثر ما يحصل -ويَقْوى عندي- احتمال كونهم واحدًا أن يُذكر ببلد قريب من تلك البلاد -التي تُرجم بها-، أو يُنسب إلى قبيلة داخلة في عموم
২ - নিসবত বা সম্বন্ধসূচক নামের ভিন্নতা।

ইমাম তাবারানি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর মু'জাম গ্রন্থাবলিতে কখনও কখনও কোনো বর্ণনাকারীকে এমন এক নিসবত বা সম্বন্ধসূচক নামে উল্লেখ করেন, যা তাঁর জীবনীমূলক গ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায় না—এমনকি আমি যেসকল বিস্তারিত জীবনীগ্রন্থ দেখেছি সেগুলোতেও নেই। এ কারণে কখনও কখনও আমি নিশ্চিতভাবে বলতে দ্বিধাবোধ করি যে, তিনিই সনদে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কি না।

যেমন ধরা যাক, সনদে এসেছে: 'অমুক মুয়াজ্জিন'। আমি তাঁর জীবনী তালাশ করে পেলাম—এবং সেখানে তাঁর উস্তাদ ও ছাত্রের নামও উল্লেখ আছে যারা আমার কাছে থাকা সনদে (একাধিক উৎসে) বিদ্যমান। এটি আমার নিকট সম্ভাবনাকে প্রবল করে এবং সংশয় দূর করে। কিন্তু সমস্যা হলো, জীবনীকারগণ তাঁকে 'মুয়াজ্জিন' হিসেবে উল্লেখ করেননি—যেমনটা আমার সামনের সনদে রয়েছে—বরং সেখানে হয়তো আছে 'মুকারি' (ক্বারি), 'ইমাম' অথবা 'সুওয়াফ' (পশম বিক্রেতা) কিংবা এই জাতীয় অন্য কোনো গুণাবলি। এমনকি অনেক সময় তাঁরা তাঁকে এই জাতীয় সকল পরিচয় বা বৈশিষ্ট্য ছাড়াই উল্লেখ করে থাকেন।

অনুরূপভাবে ভৌগোলিক নিসবতের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে থাকে। যেমন সনদে হয়তো এসেছে: 'বসরি' (বসরার অধিবাসী), কিন্তু আমি তাঁর জীবনীতে পূর্বোল্লিখিত নিয়মে তালাশ করে হয়তো পেলাম 'বাগদাদি' বা 'কুফি'। সেখানে বসরার কোনো উল্লেখই নেই—নিকটবর্তী বা দূরবর্তী কোনোভাবেই না—সংশয় নিরসনের জন্য। এমনকি কখনও কখনও এমন দুটি শহরের নিসবত দেওয়া হয় যেগুলোর দূরত্ব অনেক বেশি।

এই ক্ষেত্রে আমার কর্মপন্থা হলো, আমি মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর আমল করি: {অতএব তোমরা যথাসম্ভব আল্লাহকে ভয় করো} [আত-তাগাবুন: ১৬]। আমি সনদে যা আছে তা ইমাম তাবারানির অন্যান্য কিতাবসমূহের সাথে তুলনা করি—যাতে 'তাসহিফ' (লিপিকর প্রমাদ)-এর সম্ভাবনা যাচাই করা যায়। পাশাপাশি যারা ইমাম তাবারানির কিতাবসমূহ নিয়ে কাজ করেছেন তাঁদের কিতাবসমূহ, এবং 'তাখরিজ' ও অন্যান্য কিতাবের সাহায্য নেই যেখানে তাঁরা 'মু'জাম'গুলো থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এই সবকিছুর ক্ষেত্রে আমি সনদের মূল উৎসের (মাখরাজ) প্রতি লক্ষ রাখি। সুতরাং আপনি এই বিষয়ে অবগত থাকুন যাতে সঠিক পথ পেতে পারেন।

আমার নিকট এই সম্ভাবনা তখনই প্রবল হয় এবং সবচেয়ে বেশি ঘটে যখন তাঁকে এমন কোনো শহরের নিসবতে উল্লেখ করা হয় যা তাঁর জীবনীতে উল্লিখিত শহরের নিকটবর্তী, অথবা তাঁকে এমন কোনো গোত্রের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় যা সাধারণ কোনো...
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ١٧)
ناحية منها.

وكذا يحصل ذلك عند كونه من أهل حرفة داخلة في عموم بعض الحرف.

 

*‌‌ مثال ما تقدم:

* قال الحافظُ ابن حجر رحمه الله في "التهذيب": (الحسن بن عُمر بن شقيق بن أسماء الجرمي أبو علي البصري، سكن الرّي وكان يتّجر إلى بلخ فعُرف بالبلخي).

* وقال رحمه الله في "اللسان": (عروة بن مروان العرقي، وعرقة قرية من عمل طرابلس الشام أبو عَبد الله … ، قُلتُ: ويقال له أيضًا الرّقي لسكناه الرّقة مدة، ومنهم من فصلهما وجعلهما اثنين، بل هما واحد).

* وقال العلامة الألباني رحمه الله في "الضَّعيفة" (برقم: 6253): (ويمكن أن يكون آفة الحديث هشام بن هشام الكوفي … ، ويمكن أن يكون الذي في "الثقات" (9/ 234): (هشام بن علي بن هشام السيرافي أبو علي سكن البصرة … )، فإن يكن هو؛ فقد نُسب إلى جده، ولا يُنافي ذلك أنه بصري أن المترجم له كوفي، كما لا مُنافاة بين هذا وبين كونه سيرافيًّا نسبة إلى سيراف من بلاد فارس وأصله منها ثُم انتقل إلى البصرة والكوفة، والله أعلم).

* وقال الحافظ ابن الملقن رحمه الله في "البدر المنير" (2/ 333): (حديث: اتقوا الملاعن … من طريق عيسى ابن أبي عيسى الخياط. يقال: الخياط، والحناط، والخباط كان أول أمره خياطا، ثُم صار حناطًا يبيع الحنطة، ثُم صار خباطًا يبيع الخبط).
এর কোনো এক দিক।

অনুরূপভাবে এটি ঘটে যখন তিনি এমন কোনো পেশার অন্তর্ভুক্ত হন যা নির্দিষ্ট কোনো সাধারণ পেশার আওতাভুক্ত।

 

*‌‌ পূর্বে যা আলোচিত হয়েছে তার উদাহরণ:

* হাফেজ ইবনে হাজার রহিমাণুল্লাহ "আত-তাহজিব" গ্রন্থে বলেছেন: (হাসান ইবনে উমর ইবনে শাকিক ইবনে আসমা আল-জারমি আবু আলী আল-বাসরি, তিনি রাই শহরে বসবাস করতেন এবং বালখ শহরে ব্যবসা করতেন, ফলে তিনি আল-বালখি নামে পরিচিতি লাভ করেন)।

* তিনি (রহিমাণুল্লাহ) "আল-লিসান" গ্রন্থে বলেছেন: (উরওয়া ইবনে মারওয়ান আল-ইর্কি, আর 'ইর্কা' হলো শামের ত্রিপোলির অন্তর্গত একটি গ্রাম, আবু আবদুল্লাহ ..., আমি বলি: তাকে 'আর-রাক্কি'-ও বলা হয় যেহেতু তিনি দীর্ঘকাল রাক্কায় বসবাস করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই দুই ব্যক্তিকে আলাদা করেছেন এবং দুই জন সাব্যস্ত করেছেন, অথচ তারা মূলত একজনই)।

* আল্লামা আলবানী রহিমাণুল্লাহ "আদ-দাঈফাহ" গ্রন্থে (৬২৫৩ নং) বলেছেন: (সম্ভবত এই হাদিসের ত্রুটি হিশাম ইবনে হিশাম আল-কুফি ..., আর এটাও সম্ভব যে তিনি সেই ব্যক্তি যিনি "আস-সিকাত" (৯/২৩৪) গ্রন্থে আছেন: [হিশাম ইবনে আলী ইবনে হিশাম আস-সিরাফি আবু আলী, তিনি বসরায় বসবাস করতেন ...]। যদি তিনিই হন, তবে তাকে তার দাদার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বসরার নিবাসী হওয়া সত্ত্বেও তাকে কুফি হিসেবে উল্লেখ করার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, যেমনটি তার 'সিরাফি' হওয়ার সাথেও কোনো বৈপরীত্য নেই যা পারস্যের 'সিরাফ' শহরের সাথে সম্পর্কিত, এবং তার আদি নিবাস সেখানেই ছিল, অতঃপর তিনি বসরা ও কুফায় স্থানান্তরিত হন। আল্লাহই ভালো জানেন)।

* হাফেজ ইবনে আল-মুলাক্কিন রহিমাণুল্লাহ "আল-বাদরুল মুনির" গ্রন্থে (২/৩৩৩) বলেছেন: (হাদিস: তোমরা অভিশপ্ত হওয়ার বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো ... এটি ঈসা ইবনে আবু ঈসা আল-খাইয়াত-এর সূত্র থেকে বর্ণিত। তাকে আল-খাইয়াত, আল-হান্নাত এবং আল-খাব্বাত বলা হয়; শুরুতে তিনি দর্জি (খাইয়াত) ছিলেন, এরপর তিনি গমের বিক্রেতা (হান্নাত) হন এবং পরবর্তীতে তিনি 'খাবত' (গাছের পাতা) বিক্রেতা (খাব্বাত) হয়েছিলেন)।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ١٨)
انظر للفائدة: "مقدمة ابن الصلاح" (ص: 371) -مع "التقييد"- و"الأمالي المطلقة" للحافظ رحمه الله (ص: 205).

 

‌‌3 - النسبة إلى الجد.

قد أتعبُ في البحث عن المترجم له وبعدها يتّضحُ أنه قد نُسب إلى جدّ له -وقد يكون أبعد-، وهذه بالنسبة إلى ما تقدّم يمكن التغلب عليها بأمور معلُومة، منها -وهو الأكثر وأسهلها- النّظر في ترجمة التلميذ والشَّيخ للمترجم له فيتضحُ المراد.

سؤال: قد يكون الرّاوي منسُوبا إلى جدّ له في السند ولا يُوقف له على ذِكر ولا أثر في ترجمة التلميذ ولا الشَّيخ فلماذا؟.

الجواب: إن لذلك عند الأئمة حالات:

1 - أن يكون قد وقع سقط في أصل الكتاب، وأن شيخه في ظاهر السند، وكذا تلميذه ليسوا كذلك -في حقيقة الأمر- لوُجود سقط ونحوه في النُّسخة، والله المستعان

2 - أن يكون هذا الرّاوي ليس عليه رقم، بل هو مجهول لا يُعرف، -كأن لا يكون له ذكر إلا في هذا الإسناد فلذلك يُهمل.

 

*‌‌ وشواهد ذلك من صنيع أهل العلم:

* قال الحافظُ ابن حجر رحمه الله في "مُقدمة التهذيب": (ثُم إن الشَّيخ(1) رحمه الله

--------------------------------------------

(1) أي الحافظ المزي رحمه الله.
উপকারের জন্য দেখুন: "মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ" (পৃষ্ঠা: ৩৭১) -সাথে "আত-তাকয়ীদ"- এবং হাফিজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর "আল-আমালি আল-মুতলাকাহ" (পৃষ্ঠা: ২০৫)।

 

‌‌৩ - দাদার দিকে সম্বন্ধ করা।

যে ব্যক্তির জীবনী আলোচনা করা হচ্ছে, তাকে অনুসন্ধান করতে গিয়ে আমি অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ি। পরবর্তীতে স্পষ্ট হয় যে তাকে তার দাদার দিকে—কখনও কখনও আরও দূরের পূর্বপুরুষের দিকে—সম্বন্ধ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে সে তুলনায় এই সমস্যাটি কিছু পরিচিত বিষয়ের মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তার মধ্যে অন্যতম—যা অধিক প্রচলিত ও সহজ—হলো উক্ত ব্যক্তির ছাত্র এবং শিক্ষকের জীবনী পর্যালোচনা করা; এতেই উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যায়।

প্রশ্ন: অনেক সময় সনদে বর্ণনাকারীকে তার দাদার দিকে সম্বন্ধ করা হয়, অথচ ছাত্র কিংবা শিক্ষকের জীবনীতে তার কোনো উল্লেখ বা চিহ্ন পাওয়া যায় না, এর কারণ কী?

উত্তর: ইমামগণের নিকট এর কয়েকটি অবস্থা বা কারণ রয়েছে:

১ - হতে পারে মূল কিতাবে কোনো অংশ বাদ পড়ে গেছে। ফলে সনদের বাহ্যিক দৃষ্টিতে যাকে শিক্ষক মনে হচ্ছে, কিংবা যাকে ছাত্র মনে হচ্ছে—প্রকৃতপক্ষে পাণ্ডুলিপিতে কোনো অংশ বিচ্যুতি বা অনুরূপ কোনো কারণে তারা তেমনটি নন। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

২ - হতে পারে এই বর্ণনাকারীর কোনো ক্রমিক নম্বর নেই, বরং তিনি অজ্ঞাত—যাকে চেনা যায় না। যেমন হতে পারে এই সনদটি ছাড়া আর কোথাও তার কোনো উল্লেখ নেই, তাই তাকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

 

*‌‌ বিদ্বানগণের কর্মপদ্ধতি থেকে এর প্রমাণসমূহ:

* হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) "মুকাদ্দিমাতুত তাহযীব"-এ বলেছেন: (অতঃপর শায়খ(১) রহিমাহুল্লাহ...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ হাফিজ মিযযী (রহিমাহুল্লাহ)।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ١٩)
قصد استيعاب شيوخ صاحب الترجمة، واستيعاب الرّواة عنه، ورتّب ذلك على حروف المعجم في كل ترجمة وحصل من ذلك على الأكثر لكنه شيء لا سبيل إلى استيعابه ولا حصره … ، فاقتصرتُ من شيوخ الرّجل ومن الرّواة عنه إذا كان مكثرا على الأشهر والأحفظ والمعروف، فإن كانت الترجمة قصيرة لم أحذف منها شيئا في الغالب، وإن كانت متوسطة اقتصرتُ على ذكر الشيوخ والرّواة الذين عليهم رَقْمٌ في الغالب).

* وقال الحافظ ابن عَبد الهادي رحمه الله في "الصارم المنكي" (ص: 72): (هذا إسناد مظلمٌ ضعيف جدا واللَيْث ابن ابنة اللَيْث بن أبي سليم مجهولٌ لم يُشتهر حاله عند أهل العلم بما يُوجب قبول روايته، ولا يُعرف له ذكر في غير هذا الحديث).

* وقال الحافظُ رحمه الله في "نتائج الأفكار" (1/ 123): (صُبيح بن عُمر السيرافي لا يُعرف إلا في هذا)

* وقال الدَّارقطني رحمه الله في "العلل" (أحمد بن يعقوب الرّمذي لا أعرفه إلا في هذا، ويُشبه أن يكون ضعيفًا).

* وقال الحافظُ ابن حجر رحمه الله في "موافقة الخبر" (1/ 180): (زكريا بن أبي طلحة بن مسلم الحضرمي عن أبيه عن جده لا يُعرفون إلا في هذا الإسناد).

* وقال رحمه الله في "التعجيل": (أبو كعب عن مولاه على عن عَبد الله بن عبَّاس رضي الله عنها وعنه ثعلبة بن مسلم الخثعمي وغيره، فيه جهالة. قال أبو زرعة: لا
জীবনীকারের শায়খদের এবং তার থেকে বর্ণনাকারীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের সংকল্প করা হয়েছে এবং প্রতিটি জীবনীর ক্ষেত্রে তা বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো হয়েছে। এর মাধ্যমে অধিকাংশ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে, তবে এটি এমন একটি বিষয় যা সম্পূর্ণ আয়ত্ত করা বা সীমাবদ্ধ করার কোনো পথ নেই … , তাই শায়খ ও বর্ণনাকারীদের সংখ্যা যদি অনেক বেশি হয়, তবে আমি কেবল প্রসিদ্ধতম, প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন এবং সুপরিচিতদের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থেকেছি। জীবনীটি যদি সংক্ষিপ্ত হয় তবে আমি সাধারণত তা থেকে কিছুই বাদ দিইনি, আর যদি মাঝারি মানের হয় তবে আমি সাধারণত সেই সকল শায়খ ও বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি যাদের নামের ওপর সাধারণত সংকেত চিহ্ন রয়েছে।

* হাফিজ ইবনে আব্দুল হাদী (রাহিমাহুল্লাহ) "আস-সারিমুল মুনকি" গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ৭২) বলেছেন: (এটি একটি অত্যন্ত অন্ধকারাচ্ছন্ন ও অত্যন্ত দুর্বল সনদ। লাইস বিন ইবনাতু লাইস বিন আবি সুলাইম একজন অপরিচিত (মাজহুল) ব্যক্তি; জ্ঞানীদের নিকট তার অবস্থা এমনভাবে প্রসিদ্ধ নয় যা তার বর্ণনা গ্রহণ করাকে আবশ্যক করে এবং এই হাদিসটি ছাড়া অন্য কোথাও তার কোনো উল্লেখ জানা নেই)।

* হাফিজ (রাহিমাহুল্লাহ) "নাতাইজুল আফকার" গ্রন্থে (১/ ১২৩) বলেছেন: (সুবাইহ বিন উমর আস-সিরাফী এই হাদিসটি ছাড়া অন্য কোথাও পরিচিত নয়)।

* ইমাম দারা কুতনী (রাহিমাহুল্লাহ) "আল-ইলাল" গ্রন্থে বলেছেন: (আহমাদ বিন ইয়াকুব আর-রামযী-কে আমি এই হাদিসটি ছাড়া চিনি না এবং সে দুর্বল হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি)।

* হাফিজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) "মুওয়াফাকাতুল খাবার" গ্রন্থে (১/ ১৮০) বলেছেন: (যাকারিয়া বিন আবি তালহা বিন মুসলিম আল-হাদরামী, তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে—তারা এই সনদটি ছাড়া আর কোথাও পরিচিত নন)।

* তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) "আত-তাজিল" গ্রন্থে বলেছেন: (আবু কাব তার মওলা আলীর সূত্রে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে; সা’লাবাহ বিন মুসলিম আল-খাসআমি ও অন্যান্যদের বর্ণনায় জাহালাত (অপরিচিতি) রয়েছে। আবু যুরআ বলেছেন: না...
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٢٠)
يُسمى ولا يُعرف إلا في هذا الحديث)(1).

* وقال الشَّيخ الألباني رحمه الله في "الضَّعيفة" (برقم: 6213): (أم سليمة بنت أبي حكيم لم أعرفها إلا في هذا الحديث الإسناد الواهي عنها).

* وقال رحمه الله في "الضَّعيفة" -أيضًا - (برقم: 4472): (بشر بن عُبيد صاحب طاووس هو في عِدَادِ المجهولين، ولعله لا يُعرف إلا في هذا الإسناد).

3 - أن يكون في السند إليه من لا يُحتج به -عمومًا- فكان: ذِكرُهُ وهْمًا

 

*‌‌ مثاله:

* قال الحافظُ ابن حجر رحمه الله في "موافقة الخبر" (1/ 242): (ولم أر له في تاريخ البخاري، ولا في كتاب ابن أبي حاتم ذِكرا، ولا للراوي عنه).

* وقال الحافظ الذَّهبي رحمه الله في "تلخيصه لعلل ابن الجوزي" (برقم: 570): (سنده مظلم إلى غزيل بن سنان الموصلي، ولا يُعرف).

* وقال الشَّيخ الألباني رحمه الله في "الضَّعيفة" (برقم: 6213): (أم سليمة بنت أبي حكيم لم أعرفها إلا في هذا الحديث بالإسناد الواهي عنها).

* وقال رحمه الله في "الضَّعيفة" (برقم: 2295): (محمد ذكره ابن حبَّان في ثقات التابعين، وابنه يحيى لم أجد له ترجمة، وسَلمة بن شُريح الرّاوي عنه قال عنه الذَّهبي: مجهول).

وانظر: "الضَّعيفة" (برقم: 6659).

--------------------------------------------

(1) وانظر: "الأمالي المطلقة" (ص: 161).
নাম উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু এই হাদিস ছাড়া তাকে চেনা যায় না)(১).

* এবং শাইখ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) "আদ-দাইফাহ"-তে (নম্বর: ৬২১৩) বলেছেন: (উম্মু সালিমা বিনতে আবি হাকিমকে আমি এই হাদিস এবং তার সম্পর্কে বর্ণিত এই দুর্বল সনদ ছাড়া চিনি না)।

* এবং তিনি (রহিমাহুল্লাহ) "আদ-দাইফাহ"-তেও (নম্বর: ৪৪৭২) বলেছেন: (তাউসের সঙ্গী বিশর বিন উবাইদ অজ্ঞাতদের অন্তর্ভুক্ত, এবং সম্ভবত এই সনদ ছাড়া তাকে চেনা যায় না)।

৩ - তার সনদ পরম্পরায় এমন কেউ থাকা যার বর্ণনা সাধারণত দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয় না - ফলে তার উল্লেখ করাটি ছিল একটি ভুল ধারণা (ওয়াহম)

 

*‌‌ উদাহরণ:

* হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) "মুয়াফাকাতুল খবর"-এ (১/ ২৪২) বলেছেন: (আমি বুখারীর তারিখ-এ এবং ইবনে আবি হাতিমের কিতাবে তার কোনো উল্লেখ দেখিনি, এমনকি তার থেকে বর্ণনাকারীরও কোনো উল্লেখ পাইনি)।

* হাফিজ আয-যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) ইবনুল জাওযীর "আল-ইলাল"-এর সারসংক্ষেপে (নম্বর: ৫৭০) বলেছেন: (গুজাইল বিন সিনান আল-মাওসিলি পর্যন্ত এর সনদটি অন্ধকারাচ্ছন্ন, এবং তাকে চেনা যায় না)।

* এবং শাইখ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) "আদ-দাইফাহ"-তে (নম্বর: ৬২১৩) বলেছেন: (উম্মু সালিমা বিনতে আবি হাকিমকে আমি এই হাদিস এবং তার সম্পর্কে বর্ণিত দুর্বল সনদ ছাড়া চিনি না)।

* এবং তিনি (রহিমাহুল্লাহ) "আদ-দাইফাহ"-তে (নম্বর: ২২৯৫) বলেছেন: (মুহাম্মদকে ইবনে হিব্বান নির্ভরযোগ্য তাবিঈদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন, তবে তার ছেলে ইয়াহইয়ার কোনো জীবনী আমি পাইনি, এবং তার থেকে বর্ণনাকারী সালামাহ বিন শুরাইহ সম্পর্কে আয-যাহাবী বলেছেন: তিনি অজ্ঞাত)।

এবং দেখুন: "আদ-দাইফাহ" (নম্বর: ৬৬৫৯)।

--------------------------------------------

(১) এবং দেখুন: "আল-আমালি আল-মুতলাকাহ" (পৃষ্ঠা: ১৬১)।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٢١)
بل قد يكون ذِكرُهُ جاء اختلاقا!!

* قال الحافظ الذَّهبي رحمه الله في "الميزان": (يونس بن سابق الكوفي لا يُعرف من هو.

قال الدَّارقطني: كان أبو العبَّاس ابن عقدة إذا ضاق عليه مخرج حديث في مستخرجه على صحيح البخاري أخرجه عن يونس بن سابق، وهذا يونس لا يُعرف في الدُّنيا، ولا يُدري من هو).

* قال الحافظُ ابن حجر رحمه الله في "اللسان": (ز: علي بن الحسين الرّقي الوزان شيخ زعم عَبد الله بن الحسين السامري أنه أسند له القراءة عن السوسي وعن قنبل وغيرهما ذكره الداني. قال: هذا شيخ مجهول ما ذكره إلا السامري وليس بعمدة).

* وقال رحمه الله: (علي بن الحسين بن عثُمان بن سعيد الغضائري المُقرئ ذكره الأهوازي أنه حمل عنه القراءات في سنة ثُمان وسبعين وثلاث مائة وأسند له عن أبي هاشم الزعفراني وغيره وهو أقدم شيخ للأهوازي إن صدق، وهو بغدادي مجهول لا يعرف إلا من جهة الأهوازي).

* قال الإمام ابن أبي حاتم رحمه الله في "العلل" برقم (919): (سألت أبي حديث رواه الشاذكوني علي بن إدريس عن أبيه عن أبي إسحاق عن سعيد بن جبير عن ابن عبَّاس أن النبي صلى الله عليه وسلم كان له فرس يُقال له: المرتجز.

قال أبي: روى هذا الحديث الهيثُم بن عدي عن إدريس فأخذه الشاذكوني فَقَلَبَهُ علي ابن إدريس).
বরং তার উল্লেখ হয়তো বানোয়াটভাবেই এসেছে!!

* হাফিজ আয-যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-মিযান' গ্রন্থে বলেছেন: (ইউনুস ইবনে সাবিক আল-কুফি, সে কে তা জানা যায় না।

আদ-দারা কুতনী বলেন: আবু আল-আব্বাস ইবনে উকদাহ যখন সহীহ বুখারীর ওপর রচিত তার মুস্তাখরাজ গ্রন্থে কোনো হাদীসের সূত্র খুঁজে পেতে সংকটে পড়তেন, তখন তিনি তা ইউনুস ইবনে সাবিক থেকে বর্ণনা করতেন। অথচ এই ইউনুস দুনিয়াতে অপরিচিত এবং সে কে তা জানা যায় না)।

* হাফিজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-লিসান' গ্রন্থে বলেছেন: (য: আলি ইবনুল হুসাইন আর-রাক্কি আল-ওয়ায্যান নামক জনৈক শাইখ, যার ব্যাপারে আব্দুল্লাহ ইবনুল হুসাইন আস-সামিরী দাবি করেছেন যে তিনি তার কাছে সুসি, কুনবুল এবং অন্যান্যদের মাধ্যমে কিরাআতের সনদ বর্ণনা করেছেন। দানি এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: এই শাইখটি মাজহুল (অজ্ঞাত), আস-সামিরী ছাড়া কেউ তার কথা উল্লেখ করেনি এবং সে নির্ভরযোগ্য নয়)।

* এবং তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আলি ইবনুল হুসাইন ইবনে উসমান ইবনে সাঈদ আল-গাযাইরি আল-মুকরি, আহওয়াযী তার কথা উল্লেখ করেছেন যে তিনি তিনশ আটাত্তর হিজরীতে তার থেকে কিরাআত গ্রহণ করেছেন এবং তিনি তার মাধ্যমে আবু হাশিম আয-যা’ফরানী ও অন্যদের থেকে সনদ বর্ণনা করেছেন। যদি আহওয়াযী সত্য বলে থাকেন, তবে সে তার প্রবীণতম শাইখ। সে একজন বাগদাদী মাজহুল (অজ্ঞাত) ব্যক্তি, আহওয়াযীর সূত্র ছাড়া তাকে চেনা যায় না)।

* ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-ইলাল' গ্রন্থে (৯১৯ নং) বলেছেন: (আমি আমার পিতাকে একটি হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যা শাযকুনী বর্ণনা করেছেন আলি ইবনে ইদরীস থেকে, তিনি তার পিতার মাধ্যমে আবু ইসহাক থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের 'আল-মুরতাজিজ' নামক একটি ঘোড়া ছিল।

আমার পিতা বললেন: এই হাদীসটি হাইসাম ইবনে আদি ইদরীস থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর শাযকুনী তা গ্রহণ করে আলি ইবনে ইদরীসের নামে উল্টে দিয়েছেন)।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٢٢)
* وقال الشَّيخ الألباني رحمه الله في "الضَّعيفة" (11/ 309): (أبو عَبد الله الحمصي يغلب على ظني أنه محمد ابن سعيد الأسدي المصلوب الكذّاب الوضّاع … ، فلا أستبعد أن يقول فيه ذاك المتهم مسَلمة بن علي الحمص، ويُحتمل أنه أبو عَبد الله الحمصي المُسمى مرزوقا فقد أورده الدولابي هكذا، وهو من رجال التهذيب، ولكنهم لم يذكرُوا له رواية عن نافع بخلاف المصلُوب والله أعلم).

وانظر: "الضَّعيفة" (برقم: 6213).

 

‌‌4 - قلة المصادر.

هناك كُتبٌ لم تطولها يدي، بعضُها مخطُوط لم يُطبع، وبعضُها لم يتوفر لديّ -وإن كان قد مرّ على طبعه أعواما وسنين-.

وثمَّة علة أخرى وهي: النّقصُ الموجود في بعض المراجع -وبخاصة المراجع الجامعة الكِبَارِ- كما في "تاريخ دمشق" لابن عساكر رحمه الله، و"تاريخ حلب" لابن العديم رحمه الله، والظنُّ عندي نفسه "بتاريخ بغداد"!. فتنبه.

 

‌‌5 - عدم وجود الفهارس العلمية الصّحيحة لبعض الكتب.

تُوجد بالمَكتبةِ كُتب يَصعُبُ الوقُوف فيها على الترجمة المرادة لخُلُوِها من وجود الترتِيب المعروف، وتُعدم لها الفهارس النّافعة الدّقيقة المعهُودة، كما في بعض كُتب الوفيات، والسؤالات.

وأكبرُ صدمة للباحث وجود السقط، والتَّصحيف، بل وُجد التّحريف، في فهارس بعض الكتب، وأوضح مثال لذلك فهارس "تاريخ بغداد"!! -للشيخ زغلول- … فإيّاك وإيّاها.
এবং শেখ আলবানি (রহিমাহুল্লাহ) "আদ-দাইফাহ" (১১/ ৩০৯) গ্রন্থে বলেছেন: (আবু আবদুল্লাহ আল-হিমসি সম্পর্কে আমার প্রবল ধারণা এই যে, তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবন সাইদ আল-আসাদি আল-মাসলুব—যিনি চরম মিথ্যুক ও জাল হাদিস রচনাকারী … , তাই সেই অভিযুক্ত মাসলামাহ ইবন আলি আল-হিমসি তার সম্পর্কে এমনটি বলবেন তা আমি অসম্ভব মনে করি না। আবার এটিও হতে পারে যে, তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ আল-হিমসি যাকে মারজুক নামে ডাকা হয়; কেননা আদ-দুলাবি তাকে এভাবেই উল্লেখ করেছেন এবং তিনি তাহজিব-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তবে তারা আল-মাসলুবের বিপরীতে নাফে'-এর সূত্রে তার কোনো বর্ণনা উল্লেখ করেননি। আর আল্লাহই ভালো জানেন)।

এবং দেখুন: "আদ-দাইফাহ" (নম্বর: ৬২১৩)।

 

‌‌৪ - উৎসের স্বল্পতা।

এমন কিছু বই রয়েছে যা আমার নাগালে আসেনি; যার কিছু পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে যা এখনো মুদ্রিত হয়নি, আর কিছু আমার নিকট উপলব্ধ নেই—যদিও তা মুদ্রিত হওয়ার পর বহু বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে।

আর আরেকটি ত্রুটি হলো: কিছু তথ্যসূত্রে বিদ্যমান অসম্পূর্ণতা—বিশেষ করে বৃহৎ সংকলন গ্রন্থগুলোতে—যেমন ইবনে আসাকির (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "তারিখু দিমাস্ক", ইবনুল আদিম (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "তারিখু হালাব", এবং আমার ধারণা "তারিখু বাগদাদ"-এর ক্ষেত্রেও একই রূপ! সুতরাং এ ব্যাপারে সতর্ক হোন।

 

‌‌৫ - কিছু বইয়ের সঠিক জ্ঞানতাত্ত্বিক নির্ঘণ্টের অনুপস্থিতি।

লাইব্রেরিতে এমন কিছু বই রয়েছে যাতে কাঙ্ক্ষিত জীবনী খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন, কারণ তাতে সুপরিচিত বিন্যাসের অভাব রয়েছে এবং সেগুলোতে প্রচলিত ও নির্ভুল উপকারী নির্ঘণ্টও অনুপস্থিত; যেমনটি মৃত্যু-তারিখ বিষয়ক কিছু গ্রন্থে (উফায়াত) এবং প্রশ্নোত্তরমূলক (সুয়ালাত) গ্রন্থে দেখা যায়।

একজন গবেষকের জন্য সবচাইতে বড় ধাক্কা হলো কিছু বইয়ের নির্ঘণ্টে শব্দ বাদ পড়া, বর্ণ বিপর্যয় বা ভুল বানান, এমনকি বিকৃতি ঘটার উপস্থিতি। এর স্পষ্ট উদাহরণ হলো "তারিখু বাগদাদ"-এর নির্ঘণ্টসমূহ!! —শেখ জাঘলুলের সম্পাদিত— … অতএব এ থেকে সাবধান থাকুন।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٢٣)
ولي مستدرك على بعض كُتب السؤالات جَمعتُ فيه قدر (150) ترجمة ما بين ساقطٍ من فهرس وتصحيف!!.

 

‌‌6 - كثرة الغرائب في المعاجم.

فهو الإمام الحافظُ الرّحالة الجوّال، بقي في الارتحال ولُقِي الرّجال ستة عشر عاما، فكان ذلك سببًا في وُجود مثل هذه التّراجم، فكم من شيخ لم يُترجم إلا برواية الإمام الطَّبراني عنه.

* قال الحافظُ الذَّهبي رحمه الله: (المعجم الأوسط على مشائخه المُكثرين، وغرائب عن كل واحد … وفيه كل نفيسٍ وعزيزٍ، ومنكرٍ).

وأرى أنّ ممّا يزيدُ الأمرَ تعقيدًا أنَّ الإمام الطَّبراني عالي الإسناد -بالنسبة لغيره- فإن من مشائخه من هو مترجم في التهذيب والتقريب!!.

مثاله: أرطاة بن ثور بن هبيرة (12) وهو: والد حجاج بن أرطأة … المشهور.

لم أقف له على عينٍ ولا أثر؛ ولا ذُكر -حسب بحثي- في غير هذا الإسناد والأثر وأما حجاج فهو حجاج، والله يغفر لنا وله.

 

‌‌ج - كثرة المشائخ والرّواة.

* قال الحافظُ الذَّهبي رحمه الله: (حدَّث الطَّبراني عن ألف شيخ أو يزيدون).

قال مقيده عفا الله عنه: عنى بقوله (أو) (بل) أي: بل يزيدون -وهو الواقع- فلقد كان الإمام الطَّبراني رحالًا جوالًا، لَقِي في رحلته من المشائخ من لم يُعرف إلا به -، فكم من شيخ حدَّث عنه ولم يعرفه أهل تلك البلاد-
সুয়ালাত (প্রশ্নোত্তর) বিষয়ক কিছু কিতাবের উপর আমার একটি 'মুস্তাদরাক' (পরিপূরক) রয়েছে, যেখানে আমি প্রায় ১৫০টি জীবনচরিত সংগ্রহ করেছি, যা হয় সূচিপত্র থেকে বাদ পড়েছে অথবা বিকৃত হয়েছে!!

 

‌‌৬ - মুজামসমূহে বিরল বর্ণনার আধিক্য।

তিনি হলেন ইমাম, হাফেজ, দেশভ্রমণকারী এবং পর্যটক; তিনি ষোলো বছর যাবত সফরেরত ছিলেন এবং মনীষীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। এটিই এ ধরনের জীবনচরিতগুলো থাকার কারণ। কত শাইখ রয়েছেন যাদের জীবনী ইমাম তাবারানীর বর্ণনা ব্যতীত অন্য কোথাও সংকলিত হয়নি।

* হাফেজ যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আল-মুজামুল আওসাত তাঁর বহুসংখ্যক শাইখদের বর্ণনা এবং প্রত্যেকের থেকে প্রাপ্ত বিরল বর্ণনাগুলোর উপর ভিত্তি করে রচিত … এতে মূল্যবান, দুর্লভ এবং মুনকার সব ধরনের বর্ণনা রয়েছে)।

আমি মনে করি যে বিষয়টি জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দেয় তা হলো ইমাম তাবারানী—অন্যদের তুলনায়—উচ্চ সনদের অধিকারী; এমনকি তাঁর শাইখদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যার জীবনী তাহযীব এবং তাক্বরীব-এ বর্ণিত হয়েছে!!

উদাহরণস্বরূপ: আরতাহ বিন সাওর বিন হুবাইরাহ (১২), যিনি হলেন: প্রসিদ্ধ হাজ্জাজ বিন আরতাহ-এর পিতা …।

আমি তাঁর কোনো চিহ্ন বা অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি; আমার অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই সনদ এবং বর্ণনাটি ছাড়া আর কোথাও তাঁর উল্লেখ নেই। আর হাজ্জাজ তো হাজ্জাজ-ই, আল্লাহ আমাদের এবং তাঁকে ক্ষমা করুন।

 

‌‌জ - শাইখ ও বর্ণনাকারীদের আধিক্য।

* হাফেজ যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (তাবারানী এক হাজার বা তারও বেশি শাইখ থেকে বর্ণনা করেছেন)।

এর সংকলক (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেন: তাঁর 'অথবা' শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'বরং'; অর্থাৎ: বরং তারা সংখ্যায় আরও বেশি—আর বাস্তবে এটাই সত্য। কেননা ইমাম তাবারানী ছিলেন একজন পরিব্রাজক ও পর্যটক, তিনি তাঁর সফরে এমন সব শাইখদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন যারা কেবল তাঁর মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করেছেন; কত শাইখ রয়েছেন যারা তাঁর কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন অথচ সেই অঞ্চলের লোকেরাও তাঁকে চিনত না।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٢٤)
*‌‌ مثاله:

* أحمد بن عَبد الله اللحياني العكاوي.

* قال الإمام الذَّهبي رحمه الله في "تاريخ الإسلام" وفيات (280 - ص: 322): (أحمد بن عَبد الله اللُّحياني العكاوي، سمع آدم بن أبي إياس، لقيه الطَّبراني بعكا سنة 75، وهذا لم يذكره ابن عساكر في تاريخه).

* أحمد بن عَبد القاهر بن الخبيري اللخمي الدمشقي

قال الذَّهبي في "تاريخ الإسلام" وفيات (281 - ص: 70): (شيخ لا يُعرف، روى عن منبه بن عثُمان، وعنه الطَّبراني، لم يعرفه ابن عساكر إلا بهذا).

فأسانيده -كثير منها- غرائب وأفراد.

وقد تحصَّل لديّ قدر خمسة آلاف راوِ ما بين شيخ وغيره، ممن لم يُترجم له في التهذيب -على ما هو شرطي في هذا الكتاب-، ومثل هؤلاء يحتاجون إلى وقت طويل للترجمة لهم، لما وقع فيهم من قلبٍ، وتصحيفٍ، ونحوه في أسمائهم وأنسابهم، وغيرها.

وهؤلاء المشائخ والرّواة يكثر ذكرهم في كثير من كتب السنة، فالعلم بِحالهم ليس مُقتصرا على المعاجم فحسب؛ بل وغيرها كثير، وجدُّ كثير.

 

‌‌د - خُلُو المكتبة الإسلامية من مثل هذا العمل.

فإِني بدأتُ العمل في كتابي ولا أعرفُ -بعد البحث والسؤال- مُؤلفا جمع في ذلك؛ إلا ما ذكرهُ السخاوي رحمه الله في "الضياء اللامع" (8/ 17): (أنّ له كتابا في ترتيب أسماء مشائخ الطَّبراني).
এর উদাহরণ:

* আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-লুহইয়ানি আল-আক্কাউয়ি।

* ইমাম আয-যাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'তারিখুল ইসলাম' গ্রন্থে (মৃত্যু ২৮০ - পৃষ্ঠা: ৩২২)-এ বলেন: (আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-লুহইয়ানি আল-আক্কাউয়ি, তিনি আদম ইবনে আবি ইয়াস থেকে হাদিস শুনেছেন, ২৭৫ হিজরিতে আক্কায় আত-তাবারানি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন, আর ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাসে তাঁর কথা উল্লেখ করেননি)।

* আহমাদ ইবনে আব্দুল কাহির ইবনুল খাবিরি আল-লাখমি আদ-দিমাশকি

আয-যাহাবি 'তারিখুল ইসলাম' গ্রন্থে (মৃত্যু ২৮১ - পৃষ্ঠা: ৭০)-এ বলেন: (তিনি একজন অজ্ঞাত শায়খ, তিনি মুনাব্বিহ ইবনে উসমান থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে আত-তাবারানি বর্ণনা করেছেন; ইবনে আসাকির কেবল এই উদ্ধৃতি ছাড়া তাঁকে চিনতে পারেননি)।

ফলে তাঁর অনেক সনদই—যার অধিকাংশই—বিরল (গারিব) এবং একক (আফরাদ) পর্যায়ের।

আমার নিকট প্রায় পাঁচ হাজার বর্ণনাকারী সংগৃহীত হয়েছে—যাদের মধ্যে শায়খ ও অন্যান্যরা রয়েছেন—যাদের জীবনী 'আত-তাহজিব' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়নি (যা এই কিতাবে আমার অনুসৃত শর্ত)। এই ধরনের ব্যক্তিদের জীবনী রচনার জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন, কারণ তাঁদের নাম, বংশপরিচয় এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ওলটপালট (কালব), বর্ণবিভ্রাট (তাশহিফ) এবং এই জাতীয় বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়েছে।

এই সকল শায়খ ও বর্ণনাকারীদের কথা সুন্নাহর অনেক কিতাবেই প্রচুর পরিমাণে বর্ণিত হয়েছে। তাই তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ কেবল অভিধানসমূহের (মু'জাম) মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং অন্যান্য অনেক উৎসও রয়েছে, যা সংখ্যায় অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

 

‌ঘ - ইসলামি গ্রন্থাগার এই জাতীয় কাজ থেকে শূন্য হওয়া।

আমি যখন আমার কিতাবের কাজ শুরু করি, তখন অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদের পর এমন কোনো লেখকের কথা খুঁজে পাইনি যিনি এ বিষয়ে কিছু সংকলন করেছেন; কেবল আস-সাখাভি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আদ-দিয়া আল-লামি' গ্রন্থে (৮/ ১৭) যা উল্লেখ করেছেন তা ছাড়া: (যেখানে তিনি বলেন যে, আত-তাবারানির শায়খদের নামের বিন্যাস নিয়ে তাঁর একটি কিতাব রয়েছে)।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وهنا سؤال: هل كتابه هو تراجم بذكر مصادر؟ أم جَمْعٌ وَسَرْد لهم في الدّفاتر؟.

قد يُشير السياق إلى الأخير، ولم أقف على من ذكره -أنه بمكان كذا- ولو مخطُوطًا -فضلًا عن أن يكون مطبُوعًا-.

قال الشَّيخ العلامة الوالد حماد الأنصاري رحمه الله: (ولم يذكرطريقة عمله فيه وهو في عِدَادِ المفقُود حسْب علْمِي … ).

قلتُ: وهذا في المشائخ فقط كما ترى.

 

‌‌هـ - تسهيل المهمة أمام طالب العلم في تحقيق أمنية محدَّث الأمة.

قال الشَّيخ الهُمام شيخ مشائِخنا الإمام محمد ناصر الدّين الألباني -عليه رحمة الله ورضوانه- في "السلسلة الصحيحة" (برقم: 2616) حول المعجم الأوسط للطَّبراني: (لعلَّ أحدا من القراء الكرام ممن يُشاركنا في هذا العلم يُوجد لديه فراغٌ من الوقت يسْعى إلى تحقيقه، وإخراجه إلى عالم المطبُوعات، فإنه غزيرُ المادة جدًا.

ثُم علَّق في الهامش قائلًا: ثُم طُبع بعد نحو من عشرِ سنواتٍ من كتابة ما تقدّم في عشر مجلداتٍ دُون أي تخريجٍ، أو تحقيقٍ حديثي!).

 

‌‌بعض الكتب المؤلفة في هذا الباب.

مع أني لم أر -ولم أسمع- من سبقني في جمع ما أرشدني إليه شيخنا رحمه الله فإن هناك كُتبًا اهتمت بالترجمة لمشائخ الإمام الطَّبراني رحمه الله فقط، وأخرى في خدمة كتاب معينٍ -فقط- من كُتب هذا الإمام، وغيرها قام محققُوها بالتّرجمة لرجال كُتب اعتنت بكُتب الطَّبراني الهُمام، فمن هذه الكتب على سبيل السرد لا
এখানে একটি প্রশ্ন: তাঁর কিতাবটি কি উৎসসমূহ উল্লেখসহ জীবনচরিত? নাকি খাতাসমূহে তাদের সংকলন ও বর্ণনা?

প্রসঙ্গের ইঙ্গিত সম্ভবত শেষেরটির দিকে, আর আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এটি উল্লেখ করেছেন - যে এটি অমুক স্থানে আছে - এমনকি পাণ্ডুলিপি হিসেবেও নয়, মুদ্রিত হওয়ার বিষয়টি তো পরের কথা।

শাইখ আল্লামা আল-ওয়ালিদ হাম্মাদ আল-আনসারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (আর তিনি এতে তাঁর কাজের পদ্ধতি উল্লেখ করেননি এবং আমার জানামতে এটি হারিয়ে যাওয়া বইগুলোর অন্তর্ভুক্ত … )।

আমি বলছি: যেমনটি আপনি দেখছেন এটি শুধুমাত্র মাশায়েখদের (শিক্ষকগণের) ক্ষেত্রে।

 

‌‌ঙ - উম্মাহর মুহাদ্দিসের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ইলম অন্বেষণকারীর সামনে কাজ সহজীকরণ।

আমাদের শাইখদের শাইখ মহান ইমাম মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী -তার ওপর আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক- তাবারানীর "আল-মু'জাম আল-আওসাত" সম্পর্কে "আস-সিলসিলাতুস সাহিহা"-তে (নম্বর: ২৬১৬) বলেছেন: (সম্ভবত সম্মানিত পাঠকদের মধ্য থেকে যারা এই ইলমে আমাদের অংশীদার, তাদের কারও কাছে অবসর সময় আছে যা দিয়ে তিনি এটি তাহকীক করতে এবং মুদ্রণ জগতে নিয়ে আসতে সচেষ্ট হবেন, কারণ এটি অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ কিতাব।

অতঃপর তিনি টীকায় মন্তব্য করে বলেছেন: এরপর যা আগে লেখা হয়েছে তার প্রায় দশ বছর পর কোনো প্রকার তাখরীজ বা হাদিসতাত্ত্বিক তাহকীক ছাড়াই দশ খণ্ডে এটি মুদ্রিত হয়েছে!)।

 

‌‌এই বিষয়ে রচিত কিছু কিতাব।

যদিও আমি দেখিনি -এবং শুনিওনি- যে আমাদের শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) আমাকে যে বিষয়ের দিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তা সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে আমার আগে কেউ কাজ করেছেন, তবে সেখানে এমন কিছু কিতাব আছে যা শুধুমাত্র ইমাম তাবারানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাশায়েখদের জীবনচরিত বর্ণনায় গুরুত্ব দিয়েছে, আবার অন্যগুলো শুধুমাত্র এই ইমামের নির্দিষ্ট কোনো কিতাবের সেবায় নিয়োজিত, এবং অন্যান্যগুলোর গবেষকরা এমন সব কিতাবের বর্ণনাকারীদের জীবনচরিত বর্ণনা করেছেন যা মহান তাবারানীর কিতাবসমূহের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। সুতরাং বিস্তারিত তালিকা নয় বরং স্রেফ বর্ণনার খাতিরে এই কিতাবগুলোর মধ্যে রয়েছে...
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٢٦)
الجرد.

* ترتيب أسماء شيوخ الطَّبراني للحافظ السخاوي ذكره في "الضياء اللامع" وقد تقدمت الإشارة إليه.

* بُلغة القاصي والدّاني بتراجم شيوخ الطَّبراني للشيخ الوالد العلامة حماد الأنصاري رحمه الله

* الرّوض الصغير بترجمهَ شيوخ الطَّبراني في المعجم الصّغير(1) للفلاتي وفقهُ الله.

* إرشاد القاصي والدّاني إلى تراجم شيوخ الطَّبراني لأخينا أبي الطيب نايف المنصوري، وفقهُ الله(2).

* ما جمعه الشَّيخ محمد البخاري، وفقهُ الله، في تحقيقه لكتاب "الدُّعاء" للطبراني، كما في الجزء الأول منه(3).

* ما علقه الشَّيخ محمد شكور، وفقهُ الله، في تحقيقه لـ "مجمع البحرين في زوائد المعجمين" للهيثُمي رحمه الله.

وقد اسْتفدتُّ في مواضع من عَملِى من بعضِهم فجزاهُمُ الله خيرًا.

* * *

--------------------------------------------

(1) ولي عليه تقرير كتبته في صفر عام 1420 هـ بطلب من شيخنا العلامة أبي عبد الرحمن -يرحمهُ الله-، ومن التقرير نسختان أحدهما: مع نسخة الشَّيخ من أصل الكتاب، والأخرى: معي محفوظة، ولي عليها زيادات.

(2) وقد فاته قدر شيخين أو ثلاث، رأيته استدرك بعضا منهم في نسخته من المطبوع.

(3) وللشّيخ أبي الأشبال الباكستاني استدراك عليه ضمَّنه جزءه "المستدرك".
আল-জারদ (তালিকাকরণ)।

* হাফেজ সাখাভী কর্তৃক তাবারানির শাইখদের নামের বিন্যাস, যা তিনি 'আদ-দিয়াউল লামি' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং ইতিপূর্বে সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

* শাইখ পিতা আল্লামা হাম্মাদ আল-আনসারী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত 'বুলগাতুল কাসি ওয়াদ-দানি বি-তারাজিমি শুয়ুখিত তাবারানি'।

* ফাল্লাতী (আল্লাহ তাকে তাওফিক দিন) রচিত 'আর-রাওদুস সাগির বি-তারজামাতি শুয়ুখিত তাবারানি ফিল মু'জামিস সাগির'(১)।

* আমাদের ভাই আবু তাইয়িব নায়েফ আল-মানসুরি (আল্লাহ তাকে তাওফিক দিন) রচিত 'ইরশাদুল কাসি ওয়াদ-দানি ইলা তারাজিমি শুয়ুখিত তাবারানি'(২)।

* শাইখ মুহাম্মাদ আল-বুখারি (আল্লাহ তাকে তাওফিক দিন) তাবারানির 'আদ-দুআ' গ্রন্থের তাহকীকে যা সংগ্রহ করেছেন, যা এর প্রথম খণ্ডে রয়েছে(৩)।

* শাইখ মুহাম্মাদ শাকুন (আল্লাহ তাকে তাওফিক দিন) হাইসামি (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'মাজমাউল বাহরাইন ফি যাওয়ায়িদিল মু'জামাইন' গ্রন্থের তাহকীকে যে টীকা প্রদান করেছেন।

আমি আমার কাজের বিভিন্ন স্থানে তাদের কারো কারো থেকে উপকৃত হয়েছি, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

* * *

--------------------------------------------

(১) আমাদের শাইখ আল্লামা আবু আবদুর রহমান (রহিমাহুল্লাহ)-এর অনুরোধে ১৪২০ হিজরির সফর মাসে আমি এর উপর একটি প্রতিবেদন লিখেছি। প্রতিবেদনটির দুটি অনুলিপি রয়েছে; একটি মূল গ্রন্থের সাথে শাইখের কপির সাথে, এবং অন্যটি আমার নিকট সংরক্ষিত, যাতে আমার কিছু পরিবর্ধন রয়েছে।

(২) এতে দুই বা তিনজন শাইখের আলোচনা বাদ পড়েছিল, আমি দেখেছি যে তিনি মুদ্রিত কপির স্বীয় কপিতে তাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তির তথ্য সংযোজন করেছেন।

(৩) শাইখ আবুল আশবাল আল-পাকিস্তানি এর ওপর একটি সংযোজনী করেছেন যা তিনি তার 'আল-মুস্তাদরাক' অংশে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٢٧)
*‌‌ فائدة:

قال الشَّيخ المحقق الفاضل حمدي بن عَبد المجيد السلفي -حفظه الله- في مقدمة "المعجم الكبير" -الذي قام بتحقيقه-: "أما عملنا في الكتاب فهو: …

خامسًا: وضعنا فهرسا لشيوخ الطَّبراني، ينشر في آخر الكتاب، نذكر فيه درجتهم من الجرح والتعديل، إن عثرنا عليهم، أو بيض إن لم نعثر عليهم.

سادسًا: فهرسًا بأسماء الرّجال الذين ورد ذكرهم في المعجم، كذلك، ما عدا الذين أوردهم الحافظُ ابن حجر في "تقريب التهذيب"، فإن بإمكان القاري الكريم الأخذ منه.

وبذلك سيعرف درجة أسانيد روايات الطَّبراني". اهـ

قال مقيده -عفا الله عنه-: ولم أره نوَّه بعمله -هذا- في موضع آخر -من تحقيقاته- وكذا لم أقف على من أشاذ به -مع شدة الحاجة إليه- وقد اتصلت -هاتفيا- بالشَّيخ العلامة مشهور بن حسن آل سليمان -حفظه الله- في يوم 17/ من شهر ذي القعدة سنة 1421 هـ؛ وأخبرته بمشروعي هذا، وسألته عن عمل الشَّيخ حمدي -حفظه الله- فقال لي: (إنه لم يشتغل فيه)، أو نحو من هذا، وحثني -حفظه الله- على إكمال عملي فيه، وكان مما قال لي:

"ليكن عملك فيه يُشبه العمل في تراجم رجال الحاكم".
একটি ফায়দা:

মুহাক্কিক ও বিদগ্ধ শাইখ হামদি বিন আবদুল মাজিদ আস-সালাফি —আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন— তাঁর তাহকীককৃত ‘আল-মুজামুল কাবীর’-এর ভূমিকায় বলেছেন: “এই কিতাবে আমাদের কাজ হলো: …

পঞ্চম: আমরা তাবারানির উস্তাদগণের একটি সূচিপত্র তৈরি করেছি, যা কিতাবের শেষে প্রকাশ করা হবে। এতে আমরা জারহ ও তা‘দীল (যাচাই-বাছাই) অনুযায়ী তাদের মান উল্লেখ করেছি, যদি আমরা তাদের সম্পর্কে তথ্য পেয়ে থাকি; অন্যথায় তথ্য না পেলে আমরা তা খালি রেখেছি।

ষষ্ঠ: একইভাবে এই মুজামে যেসব বর্ণনাকারীর নাম এসেছে তাদের একটি সূচিপত্র (প্রস্তুত করেছি), তবে হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর ‘তাকরীবুত তাহযীব’ গ্রন্থে যাদের উল্লেখ করেছেন তারা এর অন্তর্ভুক্ত নন; কেননা সম্মানীত পাঠক সেখান থেকেই তথ্য গ্রহণ করতে পারবেন।

আর এর মাধ্যমেই তাবারানির বর্ণনাগুলোর সনদের মান জানা সম্ভব হবে।” সমাপ্ত।

এটি সংকলনকারী —আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন— বলেন: আমি তাকে তাঁর অন্য কোনো তাহকীক কর্মে এই কাজের ব্যাপারে কোনো উল্লেখ করতে দেখিনি, আর এর তীব্র প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এর প্রশংসা করেছেন। আমি ১৪২১ হিজরী সনের ১৭ই জিলকদ তারিখে আল্লামা শাইখ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান —আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন— এর সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করি এবং তাঁকে আমার এই প্রজেক্ট সম্পর্কে অবহিত করি। তখন আমি তাঁকে শাইখ হামদি —আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন— এর কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে বলেন: “তিনি এতে কাজ করেননি”, অথবা এই জাতীয় কিছু। অতঃপর তিনি —আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন— আমাকে এই কাজটি সম্পন্ন করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন এবং তিনি আমাকে যা বলেছিলেন তার মধ্যে এটিও ছিল:

“এক্ষেত্রে তোমার কাজটি যেন হাকেমের বর্ণনাকারীদের জীবনী সংক্রান্ত কাজের অনুরূপ হয়।”
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٢٨)
*‌‌ المنهج الذي انتهجتُه في التّراجم

فأقول وبالله التوفيق: قد حرصتُّ على أن أسوق فقرات هذا المنهج -الذي سرتُ فيه- معتمدا في كل فقرة منه على مثال أو نص -فأكثر- سواء كان ذلك النصُ أو المثال من عملي، أو من عمل الأئمة من قبلي -وهو الغالب(1) -.

[1] اعتمدتُّ في عملي بالنّسبة للمعجم الصغير على نسختي الخاصة الجديدة وهي مخطوط(2)، وأما النُّسخ الأخرى المتداولة ففيها أسماء غير ما في نسختي المعتمدة! فتنبه.

 

*‌‌ مثاله:

* محمد بن العبَّاس الأخرم (904) غ، شيخ للطَّبراني.

كذا -وقع- في نسختي، وجاء في غيرها: محمد بن السائب الأخرم، لذا أدخلتُه عندي: محمد بن العبَّاس، ولم أذكره في محمد بن السائب، فإِني لا أترك الصّواب -الذي عندي- وأتتبعُ الخطأ! -من نسخ الكتاب-.

وكذا في (78) غ: عيسى بن يونس عن عوف الأعرابي، ووقع في نسخة من المطبوع: يونس بن عقيل، وهو خطأ، وغيرها كثير جدا.

--------------------------------------------

(1) وقد كان قد طلب مني بعض الأخوان أن أدون بعض القواعد والطرق التي تُعينُ الباحث في الكشف عن أحوال الرّواة الذين يصعب العثور عليهم -وما أكثرهم عندي-، وكنت أتمنى ذلك لو كانت هذه الفكرة من أول العمل، لطرح أمثلة على كل قاعدة، مما يقابلني، ولكن قدر الله وما شاء فعل، وأسأله سبحانه أن ييسر ذلك في مرة أخرى، والحمد لله رب العالمين.

(2) وقد انتهيت من تحقيقه، وتنقيحه.
‌ জীবনী রচনার ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি

সুতরাং আমি আল্লাহর তাওফিকে বলছি: আমি যে পদ্ধতির ওপর চলেছি, তার প্রতিটি অনুচ্ছেদ একটি বা একাধিক উদাহরণ বা উদ্ধৃতির ওপর ভিত্তি করে উপস্থাপন করতে সচেষ্ট হয়েছি—চাই সেই উদ্ধৃতি বা উদাহরণটি আমার নিজের কাজ থেকে হোক অথবা আমার পূর্ববর্তী ইমামগণের কাজ থেকে হোক (আর এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটেছে)(১)—।

[১] 'আল-মু'জাম আস-সাগীর' সংক্রান্ত আমার কাজে আমি আমার নিজস্ব নতুন সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি যা একটি পাণ্ডুলিপি(২)। আর অন্যান্য প্রচলিত কপিগুলোতে এমন সব নাম রয়েছে যা আমার নির্ভরযোগ্য কপিতে নেই! সুতরাং এ বিষয়ে সজাগ থাকুন।

 

*‌‌ উদাহরণ:

* মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস আল-আখরাম (৯০৪), তাবারানির একজন শিক্ষক।

আমার কপিতে এভাবেই এসেছে, অথচ অন্য কপিগুলোতে এসেছে: মুহাম্মাদ ইবনুস সাইব আল-আখরাম। তাই আমি একে আমার এখানে 'মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস' এর অধীনেই অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং 'মুহাম্মাদ ইবনুস সাইব' এর অধীনে তা উল্লেখ করিনি। কারণ, আমার কাছে যা সঠিক তা ছেড়ে আমি কিতাবের অন্যান্য কপির ভুল অনুসরণ করি না!

অনুরূপভাবে (৭৮)-এ রয়েছে: ঈসা ইবনু ইউনুস, আউফ আল-আরাবি থেকে বর্ণনা করেছেন। অথচ মুদ্রিত একটি কপিতে এসেছে: ইউনুস ইবনু আকিল, যা একটি ভুল। এ রকম আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) কিছু দ্বীনি ভাই আমাকে এমন কিছু উসূল ও পদ্ধতি লিখে দিতে অনুরোধ করেছিলেন যা গবেষককে সেই সব বর্ণনাকারীদের অবস্থা খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে যাদের পাওয়া কঠিন—আর আমার কাছে এমন বর্ণনাকারীর সংখ্যা অনেক—। আমি কামনা করেছিলাম যে এই চিন্তাটি যদি কাজের শুরুতেই আসত, তবে সামনে আসা উদাহরণগুলো থেকে প্রতিটি উসূলের জন্য দৃষ্টান্ত পেশ করতে পারতাম। কিন্তু আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি অন্য কোনো সময়ে এটি সহজ করে দেন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

(২) আমি এর তাহকীক ও পরিমার্জনের কাজ শেষ করেছি।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٢٩)
فلا أُعولُ على مثل هذا -وذاك-، ولا يُقال لِمَا لم يُترجم له -عندي!! - أو أنه لم يصححه! -وقد فاته!! وو … - لماذا؟

أقول في هذا كله: لأنه وَرَدَ في نُسختي على الصَّواب، وتتبع مثل ذلك مما يطُول به الكتاب، ولا يُجدي بدون ارتياب.

وكذا كان العمل -أيضًا- في المعجم الأوسط قائما فيه على نسخة: ط/ دار الحرمين.

 

*‌‌ تنبيه:

تقدم أن قُلت أن لإخواننا -بطبعة دار الحرمين- تصويبات ألحقوها في آخر الجزء التاسع فاُحب هنا أن أنبه على أني قد اعتمت كل تلك التّعليقات في كلا الكتابين -التراجم، والتعليقات-.

قُلتُ هذا حتى لا يقال: كيف فاتته هذه الترجمة! أو قد فاته هذا التصويب!.

[2] راعيتُ في ترتيب أسماء الرّواة الترتيب المعهُود، وهو ترتيب التَّقريب، وأصله التَّهذيب، لسهولة ذلك بكثرة الممارسة من الباحثين، ومثله معروف معهود.

* قال الشَّيخ المعلمي رحمه الله في رسالته "علم الرّجال": (أما ترتيب التراجم فمعروف، وأجوده طريقة التهذيب، وفروعه؛ فإنه على ترتيب حروف الهجاء، باعتبار اسم الرّاوي، وجميع حروفه، وكذا باعتبار اسم أبيه، وجده؛ فصاعدا).

* قال الإمام ابن أبي حاتم رحمه الله في مقدمة "الجرح والتعديل": (ليسهُل على الطَّالب إصابة ما يُريد .. ، ويتَّجه لموضع الحاجة إليها إن شاء الله).
তাই আমি এই বা ঐ ধরনের বিষয়ের ওপর নির্ভর করি না; আর আমার নিকট যার জীবনী আলোচনা করা হয়নি অথবা যা তিনি শুদ্ধ করেননি—অথচ তা তাঁর দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে!! ইত্যাদি—এমনটি কেন বলা হবে না?

আমি এই সবকিছুর ক্ষেত্রে বলছি: কারণ এটি আমার কাছে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিতে সঠিকভাবে এসেছে। আর এ ধরনের বিষয়ের বিস্তারিত অনুসরণ কিতাবকে দীর্ঘায়িত করে, যা কোনো সন্দেহ ছাড়াই ফলপ্রসূ হবে না।

একইভাবে 'আল-মু'জামুল আওসাত'-এর কাজও দারুল হারামাইন সংস্করণের পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়েছে।

 

*‌‌ সতর্কবার্তা:

আমি ইতিপূর্বে বলেছি যে, দারুল হারামাইন সংস্করণে আমাদের ভাইয়েরা নবম খণ্ডের শেষে কিছু সংশোধনী যুক্ত করেছেন। তাই আমি এখানে অবহিত করতে চাই যে, আমি উভয় কিতাব—জীবনী এবং টীকা—উভয় ক্ষেত্রেই সেই সকল টীকা-মন্তব্যের ওপর নির্ভর করেছি।

আমি এটি একারণে বলেছি যাতে এমনটি বলা না হয়: কীভাবে এই জীবনীটি তাঁর দৃষ্টি এড়িয়ে গেল! অথবা এই সংশোধনীটি তাঁর দৃষ্টি এড়িয়ে গেল!

[২] আমি বর্ণনাকারীদের নামের বিন্যাসের ক্ষেত্রে সুপরিচিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, যা হলো 'তাকরীব'-এর বিন্যাস, যার মূল হলো 'তাহযীব'। গবেষকদের অধিক অনুশীলনের কারণে এটি সহজবোধ্য হওয়ার দরুন এমনটি করা হয়েছে এবং এটি একটি সুপরিচিত ও প্রচলিত পদ্ধতি।

* শাইখ মুয়াল্লিমি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'ইলমুর রিজাল' শীর্ষক রিসালায় বলেছেন: (জীবনীর বিন্যাসের বিষয়টি সুপরিচিত, আর এর মধ্যে সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো 'তাহযীব' এবং এর শাখাগুলোর পদ্ধতি; কেননা এটি বর্ণনাকারীর নাম এবং তাঁর নামের প্রতিটি অক্ষর, এবং একইভাবে তাঁর পিতা ও পিতামহ এবং তাঁর ঊর্ধ্বতনদের নাম বিবেচনায় নিয়ে বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যাস করা হয়েছে)।

* ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-জারহু ওয়াত তা'দীল'-এর ভূমিকায় বলেছেন: (যাতে শিক্ষার্থীর জন্য তার কাঙ্ক্ষিত বিষয় খুঁজে পাওয়া সহজ হয়... এবং ইনশাআল্লাহ সে যেন তার প্রয়োজনীয় স্থানে সরাসরি পৌঁছাতে পারে)।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٣٠)
* وقال الحافظُ الذَّهبي رحمه الله في مقدمة "الميزان": (فقد استخرتُ الله عز وجل في عمل هذا المصنف ورتبتُهُ على حُروف المعجم حتى في الإباء ليقرُب تناوله).

* وقال الحافظُ ابن حجر رحمه الله في مقدمة "الإيثار بمعرفة رواة الآثار": (رتبتُهُ على حُروف المُعجم في الأسماء، ثُم الكُنى، ثُم المُبهم).

[3] أذكرُ الرّاوي على ما جاء في المعجم، وإذا ذُكر في موضع آخر بكنيته -فقط- أو كان منسُوبًا فيه إلى جدٍّ له أو إلى نِسبة أعدتُهُ، وأقولُ: هو فلان بن فلان. تقدم في كذا، أو سيأتي في كذا.

 

*‌‌‌‌ مثاله:

* أبو بهز الرّازي.

هو: محمد بن إسحاق بن أيوب. تقدم.

* إبراهيم بن متويه الأصفهاني.

هو: إبراهيم بن محمد بن الحسن بن أبي الحسن الأصبهاني. سيأتي.

[4] إذا كان لإخواننا في "المعجم الأوسط" تعليق له تعلقٌ بالرّاوي -المُترجم له عندي- أشرت إلي ذلك بنجمة أمام رقم الحديث .. هكذا * ( … )، لِيَسهُل بذلك الرّجوع إليه؛ للاستفادة من تعليقاتهم -حفظهم الله-.

 

* مثاله:

* إبراهيم بن حبيب الكوفي * (8127).

ولي على بعض تلك التعليقات إتمام واستدراك. انظره في: جزء التّعليقات.

[5] إذا وقع تصحيفٌ أو قلبٌ في الاسم ذكرتُهُ -كذلك- بالاسم الموجُود
এবং হাফেজ যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-মিজান'-এর ভূমিকায় বলেন: (আমি এই গ্রন্থটি রচনার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং এটি বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করেছি, এমনকি পিতাদের নামের ক্ষেত্রেও, যাতে এটি ব্যবহার করা সহজ হয়)।

এবং হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-ঈসার বি-মা'রিফাতি রুওয়াতিল আসার'-এর ভূমিকায় বলেন: (আমি এটি নামের বর্ণানুসারে সাজিয়েছি, এরপর উপনাম (কুনিয়া), এরপর যাদের নাম অস্পষ্ট)।

[৩] আমি বর্ণনাকারীকে মু'জামে যেভাবে এসেছে সেভাবেই উল্লেখ করি। যদি অন্য কোনো স্থানে কেবল তার উপনামে উল্লেখ করা হয়, অথবা তার দাদার দিকে কিংবা কোনো নিসবতের (বংশের বা স্থানের) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে উল্লেখ করা হয়, তবে আমি তা পুনরায় উল্লেখ করি এবং বলি: তিনি হলেন অমুকের পুত্র অমুক। অমুক স্থানে এটি অতিক্রান্ত হয়েছে, অথবা অমুক স্থানে সামনে আসবে।

 

*‌‌‌‌ উদাহরণ:

* আবু বাহয আর-রাজি।

তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন আইয়ুব। আগে অতিক্রান্ত হয়েছে।

* ইব্রাহিম বিন মাত্তাওয়াইহ আল-আসবাহানি।

তিনি হলেন: ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আবিল হাসান আল-আসবাহানি। সামনে আসবে।

[৪] যদি 'আল-মু'জামুল আওসাত'-এ আমাদের ভাইদের কোনো মন্তব্য থাকে যা সংশ্লিষ্ট বর্ণনাকারীর সাথে সম্পর্কিত—যার জীবনী আমি এখানে উল্লেখ করছি—তবে আমি হাদিস নম্বরের সামনে একটি তারকা চিহ্ন দিয়ে সেদিকে ইঙ্গিত করি.. এভাবে * ( … )। যাতে সেখানে প্রত্যাবর্তন করা সহজ হয় এবং তাদের মন্তব্য থেকে উপকৃত হওয়া যায়—আল্লাহ তাদের হিফাজত করুন।

 

* উদাহরণ:

* ইব্রাহিম বিন হাবিব আল-কুফি * (৮১২৭)।

আর ওই সব মন্তব্যের কয়েকটির ওপর আমার কিছু পরিমার্জন ও সংযোজন রয়েছে। তা দেখুন: মন্তব্য খণ্ডে।

[৫] যদি নামের মধ্যে কোনো বর্ণবিভ্রাট বা ওলটপালট ঘটে থাকে, তবে আমি সেটি বিদ্যমান নামেই উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٣١)
في المعجم مُصحفًا كان أو مقلوبًا، ذاكِرًا عنده رقم حديثه الذي وقع فيه التَّصحيف.

 

*‌‌ ولذلك عندي حالات:

(أ) - إذا كان الرّاوي ورد ذِكرهُ في "المُعجم الصغير" فقط، فقد حررت كل ذلك في نسختي الجديدة.

(ب) - إذا كان الرّاوي ورد في "المعجم الأوسط" فقط، ذكرتُهُ كما، وقع في المُعجم جاعلًا الخطأ منه بين قوسين، واذكرُ رقم حديثِهِ كذلك بين قوسين.

 

*‌‌ مثاله:

* أحمد بن (أحمد) الدورقي (3595).

ثم أذكر تحته الوجه الصواب وأترجم له في موضعه.

(ج) - إذا كان الرّاوي ورد ذكره في كلا المعجمين.

فقد تقدم أني أشرت في "الصغير" إلى الوجه الصواب -فهو بعيد من هذه الفقرة بلا ارتياب-

وفي هذه الحالة أقدم ذكر الصواب، وألحق به الخطأ بين قوسين مع ذكر رقمه المراد.

ثُم أقول - في كل ذلك:

صوابه: كذا، انظر: "جزء التعليقات"(1). وفيه يتم تحرره.

--------------------------------------------

(1) فإذا كان في "الأوسط" فعنده رقم الحديث فقط، وإذا كان من "الصغير" أضفت عنده رمز (غ) -إشارة إليه-، وقلت: انظر: التعليقات، والمقصود: بها ما في حاشية المعجم، وإذا كان في كليهما كتبت الرقمين -من المعجمين- ملاحظا الرمز - (غ) - وتحريره قد يكون في التعليقات أو في جزء التعليقات.
অভিধানে সেটি ভুল বানানযুক্ত হোক বা উল্টানো হোক, সেখানে আমি তার হাদিস নম্বর উল্লেখ করেছি যাতে সেই ভুলটি ঘটেছে।

 

*‌‌ আর সে কারণে আমার নিকট কিছু অবস্থা রয়েছে:

(ক) - যদি বর্ণনাকারীর উল্লেখ কেবল "আল-মু'জাম আস-সাগীর"-এ এসে থাকে, তবে আমি আমার নতুন পাণ্ডুলিপিতে সেগুলোর সবগুলি সংশোধন করেছি।

(খ) - যদি বর্ণনাকারীর উল্লেখ কেবল "আল-মু'জাম আল-আওসাত"-এ এসে থাকে, তবে আমি তাকে অভিধানে যেভাবে এসেছে সেভাবেই উল্লেখ করেছি, আর ভুলটি বন্ধনীতে রেখেছি এবং একইভাবে তার হাদিস নম্বরটিও বন্ধনীতে উল্লেখ করেছি।

 

*‌‌ এর উদাহরণ:

* আহমদ বিন (আহমদ) আদ-দাওরাকী (৩৫৯৫)।

এরপর আমি তার নিচে সঠিক রূপটি উল্লেখ করি এবং তার যথাযোগ্য স্থানে তার জীবনী আলোচনা করি।

(গ) - যদি বর্ণনাকারীর উল্লেখ উভয় অভিধানেই এসে থাকে।

তবে পূর্বেই অতিবাহিত হয়েছে যে, আমি "সাগীর"-এ সঠিক রূপটির দিকে ইঙ্গিত করেছি—তাই নিঃসন্দেহে তা এই অনুচ্ছেদের আওতাভুক্ত নয়—

আর এই অবস্থায় আমি সঠিক রূপটি আগে উল্লেখ করি এবং তার সাথে কাঙ্ক্ষিত নম্বরসহ ভুলটি বন্ধনীতে যুক্ত করি।

এরপর আমি—এই সবকিছুর ক্ষেত্রে—বলি:

সঠিক রূপ হলো: এটি, দেখুন: "জুযউত তালীকাত" (টীকা অংশ)(১)। আর সেখানেই এর চূড়ান্ত সংশোধন সম্পন্ন হয়।

--------------------------------------------

(১) যদি সেটি "আওসাত"-এ থাকে তবে তার পাশে কেবল হাদিস নম্বরটি থাকে, আর যদি সেটি "সাগীর" থেকে হয় তবে আমি তার পাশে (গাইন) প্রতীকটি যুক্ত করেছি—তার দিকে ইঙ্গিত স্বরূপ—এবং বলেছি: দেখুন: তালীকাত (টীকা), আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অভিধানের পাদটীকায় যা রয়েছে। আর যদি উভয়টিতে থাকে তবে আমি প্রতীকটি—(গাইন)—বিবেচনায় রেখে উভয় অভিধানের নম্বর দুটি লিখেছি, আর এর সংশোধন কখনও তালীকাতে (পাদটীকায়) অথবা কখনও জুযউত তালীকাতে (টীকা অংশে) হতে পারে।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٣٢)
ثُم أسُوقُ ترجمته من مصادر التّرجمة -كما هو معهُود-.

وهذا -كله- ما لم يكن التَّصحيف، أو القلب واقع في الاسم، أو اسم الأب، أو الجد.

فإن كان كذلك ذكرتُ كل وجه جاء به عند مكانه -من الترتيب المعهُود- مع كتابة رقم حديثه.

ثُم أقول: صوابه: كذا …

وأذكر ترجمته عند الاسم الصّواب -إن كان على شرطي المراد-.

 

*‌‌ مثاله:

* أبو هبيرة (الوليد بن محمد) الدمشقي (695) غ.

صوابه: محمد بن الوليد الدمشقي.

ثُم أُترجم له في: محمد بن الوليد -إن كان من شرط الكتاب-.

أما إن كان -التَّصحيف أو القلب- واقع في النّسبة، أو الكنية، أو اللقب -، مما ليس له كبير تأثير في الترتيب- فهو على ما تقدم.

 

*‌‌ تنبيهات:

1 - بعض الرّواة قد يتحصل بالتتبع ذكرهم عندي بعدة وجوه: إما من مصادر الحديث، أو من مصادر الترجمة، ويجتمع مع ذلك -أحيانًا- أني لم أقف له على ترجمة لمعرفة الصحيح -فيهم- من تلك الوجوه.

فإِني -عندها- اكتُبُه عند كل اسم ورد به من تلك الوجوه، مع رقم حديثه أو مصدره، وأعزو تلك الوجوه لأحدها، وعنده يتم تحرير المراد.
অতঃপর আমি প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী জীবনীগ্রন্থের উৎসসমূহ হতে তার জীবনবৃত্তান্ত উপস্থাপন করব।

আর এই সমস্ত কিছু ততক্ষণ পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে, যতক্ষণ না নাম, পিতার নাম কিংবা দাদার নামের মধ্যে কোনো ধরনের শব্দগত বিকৃতি (তাসহিফ) কিংবা ওলট-পালট (কাল্ব) ঘটে থাকে।

যদি তেমনটি হয়, তবে প্রচলিত ক্রমানুযায়ী তার নির্দিষ্ট স্থানে যে কয়টি রূপে তা বর্ণিত হয়েছে, তার হাদিস নম্বরসহ আমি প্রতিটি রূপ উল্লেখ করেছি।

অতঃপর আমি বলব: এর সঠিক রূপ হলো: অমুক …

এবং আমি সঠিক নামটির অধীনে তার জীবনী উল্লেখ করব—যদি তা আমার নির্ধারিত শর্তের অনুকূলে হয়।

 

*‌‌ এর উদাহরণ:

* আবু হুবায়রা (আল-ওয়ালিদ ইবনে মুহাম্মাদ) আদ-দিমাশকি (৬৯৫) গাইন।

এর সঠিক রূপ: মুহাম্মাদ ইবনে আল-ওয়ালিদ আদ-দিমাশকি।

অতঃপর আমি ‘মুহাম্মাদ ইবনে আল-ওয়ালিদ’ শিরোনামে তার জীবনী লিখব—যদি তা গ্রন্থের শর্তাধীন হয়।

কিন্তু যদি শব্দগত বিকৃতি বা ওলট-পালট নিসবাত (বংশ বা স্থান), কুনিয়াত (উপনাম) অথবা উপাধির ক্ষেত্রে ঘটে—যা বিন্যাসে তেমন কোনো বড় প্রভাব ফেলে না—তবে বিষয়টি পূর্বোক্ত নিয়ম অনুযায়ীই হবে।

 

*‌‌ সতর্কতাসমূহ:

১ - অনুসন্ধানের মাধ্যমে দেখা যায় যে, কোনো কোনো রাবি (বর্ণনাকারী) আমার কাছে কয়েকভাবে উল্লিখিত হয়েছেন: হয় হাদিসের উৎস হতে, না হয় জীবনীর উৎস হতে। এর সাথে কখনো এমনও ঘটে যে, ওই বিভিন্ন রূপের মধ্য হতে সঠিকটি যাচাইয়ের জন্য আমি তার কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি।

এমতাবস্থায়, আমি সেই সকল রূপের প্রত্যেকটির অধীনে বর্ণিত নামানুসারে তাকে উল্লেখ করব এবং সেই সঙ্গে হাদিস নম্বর অথবা তার উৎস প্রদান করব। অতঃপর আমি ওই রূপগুলোকে তাদের মধ্য হতে একটির দিকে নির্দেশ করব, যেখানে কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি স্পষ্টভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
(খণ্ড: ١) তুহফাতুল গারীব বিতারাযিমি রিজালি মু'জামায়িল হাফিযিত তবারানী আল-আওসাত্বি ওয়াস সগীর মিম্মান লাইসা ফিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ٣٣)
*‌‌‌‌ مثاله:

* محمد بن كروان الحريري (848) غ.

انظر: محمد بن بكر بن كروان.

* محمد بن بكر بن كروان الجريري (6086).

انظر: ما حررته تحت الرقم المذكور من جزء التعليقات.

وإن كان أحد تلك الوُجوه -المذكورة- من خارج نسختي المعجمين -المعتمدتين- أشرت إلى ذلك بـ:

1 - (ن) أي: أنه من نسخة أخرى -غير ذات الاعتماد-.

2 - (ك) أي: أنه من كتاب آخر وقع فيه ذلك الرّاوي المراد.

وقُلتُ: انظره في: كذا

 

* مثاله:

* محمد بن بُكير بن كردان الحريري (ن).

انظره في: محمد بن بكر بن كروان.

وبالرّجوع -في كل ما تقدم- إلى حاشية المعجم -أشرح وجوه وروده مُفصلا.

2 - بعض الرّواة يكون ذكرهم في المعجم على الصواب، وإنما يحصل الخطأ في مصادر الترجمة .. ، فعندها أنبه على ذلك.

[6] طريقة سياق مصادر التّرجمة للرُّواة سِرْتُ فيها على نحو طريقة الحافظُ ابن حجر رحمه الله في كتبه الخاصة بالتَّراجم، وبعض تخريجاته المعروفة، وكذا على
*‌‌‌‌ এর উদাহরণ:

* মুহাম্মদ বিন কারওয়ান আল-হারীরী (৮৪৮) গাইন।

দেখুন: মুহাম্মদ বিন বকর বিন কারওয়ান।

* মুহাম্মদ বিন বকর বিন কারওয়ান আল-জারীরী (৬০৮৬)।

দেখুন: টীকা অংশের উল্লিখিত নম্বরের অধীনে আমি যা লিপিবদ্ধ করেছি।

আর যদি সেই (উল্লিখিত) রূপগুলোর কোনো একটি আমাদের (নির্ভরযোগ্য) দুটি মু'জাম পাণ্ডুলিপির বাইরে থেকে হয়, তবে আমি সেটিকে এভাবে নির্দেশ করেছি:

১ - (ন) অর্থাৎ: এটি অন্য একটি পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া—যা মূল নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি নয়।

২ - (ক) অর্থাৎ: এটি অন্য কোনো গ্রন্থ থেকে নেওয়া যেখানে উক্ত বর্ণনাকারীর উল্লেখ এসেছে।

এবং আমি বলেছি: এটি অমুক স্থানে দেখুন।

 

* এর উদাহরণ:

* মুহাম্মদ বিন বুকাইর বিন কুরদান আল-হারীরী (ন)।

এটি দেখুন: মুহাম্মদ বিন বকর বিন কারওয়ান-এ।

আর পূর্বোক্ত সকল বিষয়ে ‘মু’জাম’-এর টীকা অনুসরণ করলে—আমি সেখানে এর আসার ধরণসমূহ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছি।

২ - কিছু বর্ণনাকারীর উল্লেখ ‘মু’জাম’-এ সঠিকভাবে রয়েছে, কিন্তু ভুল ঘটেছে জীবনীর উৎসসমূহে... তখন আমি সে বিষয়ে সতর্ক করেছি।

[৬] বর্ণনাকারীদের জীবনীর উৎসসমূহ উপস্থাপনের পদ্ধতিতে আমি হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনীগ্রন্থসমূহ এবং তাঁর কিছু প্রসিদ্ধ তাখরিজ গ্রন্থে অনুসৃত পদ্ধতির অনুরূপ পথ অবলম্বন করেছি, এবং একইভাবে...