(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: -)
مقالة التعطيل والجعد بن درهم   (محمد بن خليفة التميمي)

القسم: العقيدة


الكتاب: مقالة التعطيل والجعد بن درهم

المؤلف: محمد بن خليفة بن علي التميمي

الناشر: أضواء السلف، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1418هـ/1997م

عدد الصفحات: 204

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাকালাতুত তা'তীল ওয়া আল-জা'দ বিন দিরহাম   (মুহাম্মদ বিন খলিফা আত-তামিমী)

বিভাগ: আকীদা


বই: মাকালাতুত তা'তীল ওয়া আল-জা'দ বিন দিরহাম

লেখক: মুহাম্মদ বিন খলিফা বিন আলী আত-তামিমী

প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরী/১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৪

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ৩)
مَقَالَةُ الْتَّعْطِيْلِ

تأليف الدكتور: مُحَمَّد بْنُ خَلِيْفَة الْتَّمِيْمِيّ

ال‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَأَيّهَا الّذِينَ آمَنُواْ اتّقُواْ اللهَ حَقّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنّ إِلاّ وَأَنْتُمْ مّسْلِمُونَ} الآية 102 من سورة آل عمران {يَأَيّهَا النّاسُ اتّقُواْ رَبّكُمُ الّذِي خَلَقَكُمْ مّن نّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَآءً وَاتّقُواْ اللهَ الّذِي تَسَآءَلُونَ بِهِ وَالأرْحَامَ إِنّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} الآية 1 من سورة النساء {يَأَيّهَا الّذِينَ آمَنُواْ اتّقُواْ اللهَ وَقُولُواْ قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} الآيتان 71 - 72 من سورة الأحزاب.

أما بعد:

فإن الصراع بين الحق والباطل قائم إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها، فأهل الباطل يسعون قديماً وحديثاً لطمس نور الحق الذي أنزله الله لعباده، ولكن الله عز وجل حفظ هذا النور لتقوم الحجة على العباد
তআতীল (আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকার) বিষয়ক প্রবন্ধ

রচনা: ডক্টর মুহাম্মাদ বিন খলীফা আত-তামীমী

ভূমিকা

নিশ্চয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১০২)। “হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১)। “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য অর্জন করবে।” (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭১-৭২)।

অতঃপর:

নিশ্চয় সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার লড়াই ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও তার ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হবেন। সুতরাং বাতিলের অনুসারীরা প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সেই সত্যের নূরকে নিভিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য নাযিল করেছেন। কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এই নূরকে সংরক্ষণ করেছেন যাতে বান্দাদের ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত থাকে।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ৪)
وقد قال عز من قائل {وَمَنْ أَظْلَم مِمّن افْتَرَىْ عَلَى اللهِ الكَذِبَ وَهُو يُدْعَى إِلَى الإسْلامِ وَاللهُ لَا يَهْدِي القَوْمَ الظّالمِين يُرِيْدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللهِ بِأَفْوَاهِهِم وَاللهُ مُتمّ نُورِه وَلَو كَرِه الكَافِرُون هُوَ الذِي أَرْسَلَ رَسُوْلَهُ بِالهُدَى وَدِيْنِ الحَقّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدّينِ كُلّهِ وَلَوْ كَرِهَ المُشْرِكُوْنَ} الآيات 7-8-9 من سورة الصف.

فهذه الآيات جسدت حقيقة الصراع القائم وأوضحت وكشفت بجلاء عن محاولات أهل الباطل لصد الناس عن الحق وسعيهم الحثيث في إطفاء نوره.

ومن بين حلقات الصراع الدائر بين أهل الحق وخصومهم ما يتعلق بأهم مسائل الدين وقضاياه ألا وهي مسألة الإيمان بالله عز وجل.

فقد سعى أعداء هذا الدين من اليهود والمجوس والمشركين في طمس الحقائق الشرعية التي وردت بها النصوص، وأخذ ذلك السعي أنماطاً مختلفة ومن بين تلك الأنماط والأشكال ما يسمى عند أهل العلم بمقالة التعطيل التي أخذ أصحابها الأوائل1 على عاتقهم الكيد والدس والكذب والافتراء على الله في هذا الأصل العظيم من أصول هذا الدين، وقصدهم في ذلك حجب العباد عن المعرفة الصحيحة بالله عز وجل التي جاءت بها نصوص الوحي.

وتعد مقالة التعطيل من أكثر المقالات خطورة نظراً لأبعادها الخطيرة التي تشكلها على الإسلام وأهله:

فالبعد الأول الذي يدلل على خطورة هذه المقالة كونها تمس أعظم جوانب هذا الدين وأكبر مسائله ألا وهو الإيمان بالله عز وجل الذي هو أول أركان الإيمان وأعظم مبانيه.

فأصحاب هذه المقالة الأوائل سعوا في صد الناس عن هذا الدين من طريق الوقوف على

--------------------------------------------

1- قال شيخ الإسلام ابن تيمية: (ثم أصل هذه المقالة -مقالة التعطيل للصفات- إنما هو مأخوذ عن تلامذة اليهود والمشركين وضلال الصابئين … ) ، انظر الفتوى الحموية الكبرى ص46-47.
মহান সত্তা বলেছেন: {আর তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথচ তাকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানানো হয়? আর আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দেন না। তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, আর আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করবেন যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। তিনিই তাঁর রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে} সূরা আস-সাফ-এর ৭-৮-৯ নং আয়াত।

এই আয়াতগুলো চলমান সংগ্রামের বাস্তবতাকে মূর্ত করেছে এবং বাতিলপন্থীদের পক্ষ থেকে মানুষকে সত্য থেকে বিচ্যুত করার প্রচেষ্টা ও আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে ফেলার নিরন্তর চেষ্টাকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ ও উন্মোচিত করেছে।

সত্যপন্থী এবং তাদের বিরোধীদের মধ্যে চলমান সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে একটি হলো দ্বীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও প্রসঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানের বিষয়টি।

নিশ্চয়ই এই দ্বীনের শত্রু ইহুদি, মাজুসি ও মুশরিকরা দলীলসমূহে বর্ণিত শরয়ী সত্যগুলোকে মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সেই প্রচেষ্টা বিভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করেছে, আর সেই সকল রূপ ও প্রকারের মধ্যে একটি হলো সেটি যাকে আহলে ইলমগণ 'তাতীল' (গুণাবলি অস্বীকার) এর মতবাদ হিসেবে অভিহিত করেন। এর আদি প্রবক্তারা১ এই দ্বীনের মহান মূলনীতিসমূহের মধ্য হতে এই মহান মূলনীতির ব্যাপারে আল্লাহর ওপর চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র, মিথ্যাচার ও অপবাদ আরোপের দায়িত্ব নিজেদের ঘাড়ে তুলে নিয়েছিল। এর মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য ছিল ওহীর দলীলসমূহে মহান আল্লাহ সম্পর্কে যে সঠিক পরিচিতি এসেছে তা থেকে বান্দাদের বঞ্চিত রাখা।

ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর এর বিপজ্জনক প্রভাবের কারণে 'তাতীল' বা গুণাবলি অস্বীকারের মতবাদকে অন্যতম বিপজ্জনক মতবাদ হিসেবে গণ্য করা হয়:

প্রথম দিকটি যা এই মতবাদের ভয়াবহতাকে নির্দেশ করে তা হলো, এটি এই দ্বীনের মহানতম দিক এবং এর সবচেয়ে বড় বিষয়কে স্পর্শ করে, আর তা হলো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান; যা ঈমানের প্রথম রোকন এবং এর মহান ভিত্তি।

সুতরাং এই মতবাদের আদি প্রবক্তারা মানুষকে এই দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করেছে এমন এক পথে যার ভিত্তি হলো...

--------------------------------------------

১- শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ বলেছেন: (অতঃপর এই মতবাদের মূল—অর্থাৎ গুণাবলি অস্বীকারের মতবাদ—মূলত ইহুদি, মুশরিক এবং পথভ্রষ্ট সাবেয়ীদের শিষ্যদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে... ) দেখুন: আল-ফাতওয়া আল-হামাবিয়্যাহ আল-কুবরা, পৃষ্ঠা: ৪৬-৪৭।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ৫)
بابه الذي يدخل منه، ذلك لأن من عرف الله عرف ما سواه، ومن جهل ربه فهو لما سواه أجهل. فأرادوا بتعطيلهم لأسماء الله وصفاته قطع الطريق من أوله.

ولله در سليمان التيمي (143هـ) إذ قال: "ليس قوم أشد نقضاً للإسلام من الجهمية والقدرية، وأما الجهمية فقد بارزوا الله؛ وأما القدرية فقد قالوا في الله عز وجل"1

وأما البعد الثاني في خطورة هذه المقالة فهو كونها أول مقالة تعارض الوحي بالعقل، فلم تكن المقالات السابقة لهذه المقالة تطعن في الدين من هذا الجانب، فالخوارج والشيعة والقدرية والمرجئة عند ظهورهم لم يدع أحد منهم أن عنده عقليات تعارض النصوص، وإنما أتوا من سوء الفهم للنصوص والاستبداد بما ظهر لهم منها دون من قبلهم، فكانوا ينتحلون النصوص ويستدلون بها على قولهم، ولا يدعون أنهم عندهم عقليات تعارض النصوص.

فأصحاب مقالة التعطيل هم الذين فتحوا هذا الباب العظيم من أبواب الشر إذ طعنوا في نصوص الوحي وقدموا شبههم العقلية عليها.

وأما البعد الثالث لهذه المقالة فهو ما أفرزته هذه المقالة من الفرق والآراء المنحرفة، فقد تولد عن هذه المقالة أنماط مختلفة وطروحات غريبة عن جوهر الإسلام وصفائه.

وضربت هذه المقالة أطنابها في الفكر الإسلامي، ولا يتصور مدى الضرر الذي الحقته بحياة المسلمين وعقيدتهم.

--------------------------------------------

1- السنة لعبد الله بن الإمام أحمد 1/104،105 رقم (8) .
এটিই সেই তোরণ যার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহকে চিনেছে, সে তাঁর ব্যতীত অন্য সব কিছুকেই চিনেছে; আর যে তার প্রতিপালক সম্পর্কে অজ্ঞ থেকেছে, সে অন্য সব বিষয়ে আরও অধিক অজ্ঞ। তাই তারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলি অস্বীকার করার (তাতিল) মাধ্যমে এই পথের শুরুতেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চেয়েছে।

সুলায়মান আত-তাইমি (১৪৩ হি.) কতই না চমৎকার বলেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: "জাহমিয়া ও কাদারিয়াদের চেয়ে ইসলামের ভিত্তিমূল বিনষ্টকারী আর কোনো দল নেই; জাহমিয়ারা তো সরাসরি আল্লাহর বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে, আর কাদারিয়ারা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সম্পর্কে (অশোভন) উক্তি করেছে।"১

এই মতবাদের ভয়াবহতার দ্বিতীয় দিকটি হলো, এটিই প্রথম মতবাদ যা ওহির বিপরীতে যুক্তিকে (আকল) দাঁড় করিয়েছে। এর পূর্ববর্তী কোনো মতবাদ এই দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বীনকে আক্রমণ করেনি। খাওয়ারিজ, শিয়া, কাদারিয়া এবং মুরজিয়ারা যখন আত্মপ্রকাশ করেছিল, তখন তাদের কেউ ওহির ভাষ্যের (নুসুস) বিপরীতে কোনো যৌক্তিক প্রমাণের দাবি করেনি। বরং তাদের বিচ্যুতি ঘটেছিল ওহির ভাষ্যগুলোর ভুল উপলব্ধি এবং তাদের পূর্ববর্তীদের বাদ দিয়ে নিজেদের মনগড়া ব্যাখ্যার ওপর অটল থাকার কারণে। তারা ওহির ভাষ্যসমূহকেই গ্রহণ করত এবং সেগুলো দিয়েই নিজেদের মতের সপক্ষে দলিল পেশ করত; তারা ওহির ভাষ্যবিরোধী কোনো যুক্তির দাবি করত না।

সুতরাং আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারী (তাতিল) মতবাদের অনুসারীরাই অনিষ্টের এই বিশাল দ্বার উন্মোচন করেছে, যেহেতু তারা ওහির ভাষ্যসমূহকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং সেগুলোর ওপর নিজেদের সংশয়পূর্ণ যুক্তিসমূহকে প্রাধান্য দিয়েছে।

এই মতবাদের তৃতীয় দিকটি হলো, এই মতবাদ থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন বিভ্রান্ত দল ও মতামত। এই মতবাদ থেকে এমন সব বিচিত্র ধারা ও প্রস্তাবনার জন্ম হয়েছে যা ইসলামের মূল চেতনা ও বিশুদ্ধতার জন্য একেবারেই বিজাতীয়।

এই মতবাদটি ইসলামি চিন্তাধারায় গভীরভাবে শেকড় গেড়েছে এবং এটি মুসলিমদের জীবন ও আকিদাহর যে পরিমাণ ক্ষতি সাধন করেছে তা কল্পনা করাও অসম্ভব।

--------------------------------------------

১- আব্দুল্লাহ ইবনুল ইমাম আহমাদের 'আস-সুন্নাহ', ১/১০৪, ১০৫, নম্বর (৮)।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ৬)
فالتيار الفلسفي والكلامي بتفرعاته ومدارسه وطوائفه إنما هو نتاج هذه المقالة الخبيثة التي تولى كبر إظهارها شيخ المعطلة النفاة الجعد بن درهم، وتبعه في ذلك تلميذه الجهم بن صفوان ثم توالت طوائف الباطل تذكى نار هذه المقالة وتنفث من خلالها سمومها إلى أن وصلت إلى ما وصلت إليه.

ونظراً لهذه الأبعاد الخطيرة لهذه المقالة، فقد أحببت أن أطلع القارئ الكريم من خلال هذا الطرح العلمي على مضامين هذه المقالة وبدء ظهورها والنشأة التاريخية والأطوار التي مرت بها، وكذا التعريف بطوائفها ومسالكها، مع تسليط الضوء على أول من أظهرها وبذرها.

فهذه الجوانب لم تنل حظها وحقها من الدراسة مع كونها جديرة بالعناية والإهتمام لأنها تمد الدارس لباب الأسماء والصفات وتزوده بمعلومات مهمة عن هذه المسألة وبالأخص في جانبيها التاريخي والمقالي بالإضافة إلى كونها تساعده في فهم وتصور جوانب الخلاف العقدي الدائر في هذه القضية.

وقد سرت في عرضي لجوانب هذه الدراسة وفق الترتيب التالي:

قسمت الموضوع إلى بابين:

الباب الأول: التعريف بالتعطيل وأطواره

وفيه فصلان

الفصل الأول: تعريف التعطيل ودرجاته.

وفيه مبحثان:

المبحث الأول: تعريف التعطيل وأنواعه.

وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف التعطيل
দার্শনিক ও কালামতাত্ত্বিক ধারা তার বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা, মাযহাব এবং দল-উপদলসহ মূলত এই নিকৃষ্ট মতবাদেরই ফসল, যার বহিঃপ্রকাশের মূল দায়ভার গ্রহণ করেছিলেন অস্বীকারকারী মুয়াত্তিলাদের প্রধান জা'দ বিন দিরহাম। এই পথে তাকে অনুসরণ করেছিলেন তার ছাত্র জাহম বিন সাফওয়ান। এরপর বাতিলের দলগুলো একের পর এক এই মতবাদের আগুনকে প্রজ্বলিত করতে থাকে এবং এর মাধ্যমে তাদের বিষ ছড়াতে থাকে, যে পর্যন্ত না এটি বর্তমান অবস্থায় এসে পৌঁছেছে।

এই মতবাদের এই বিপজ্জনক মাত্রাগুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখে আমি এই ইলমি উপস্থাপনার মাধ্যমে সম্মানিত পাঠককে এই মতবাদের বিষয়বস্তু, এর প্রকাশের সূচনা, ঐতিহাসিক বিকাশ এবং এটি যেসব পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, সে সম্পর্কে অবহিত করতে চেয়েছি। সেই সাথে এর বিভিন্ন দল ও তাদের কর্মপন্থা সম্পর্কে পরিচয় করানোর পাশাপাশি যারা প্রথম এটি প্রকাশ ও রোপণ করেছিল তাদের ওপর আলোকপাত করতে চেয়েছি।

এই দিকগুলো গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের প্রাপ্য গুরুত্ব ও অধিকার পায়নি, অথচ এগুলো বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য। কারণ এটি আল্লাহর নাম ও গুণাবলি অধ্যায়ের গবেষককে সমৃদ্ধ করে এবং তাকে এই বিষয়ে, বিশেষ করে এর ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক দিকগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। এর পাশাপাশি এটি এই বিষয়ে বিদ্যমান আকিদাগত বিরোধের দিকগুলো বুঝতে ও অনুধাবন করতে তাকে সাহায্য করে।

আমি এই গবেষণার দিকগুলো উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ক্রম অনুসরণ করেছি:

আমি বিষয়টিকে দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি:

প্রথম অধ্যায়: তা'তিল (আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করা)-এর পরিচয় ও এর পর্যায়সমূহ

এতে রয়েছে দুটি পরিচ্ছেদ

প্রথম পরিচ্ছেদ: তা'তিলের সংজ্ঞা ও এর স্তরসমূহ।

এতে রয়েছে দুটি অনুচ্ছেদ:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তা'তিলের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ।

এতে রয়েছে দুটি উপ-অনুচ্ছেদ:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: তা'তিলের সংজ্ঞা
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ৭)
المطلب الثاني: أنواع التعطيل.

المبحث الثاني: درجات التعطيل.

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: درجات التعطيل في باب الأسماء والصفات عموماً.

المطلب الثاني: درجات التعطيل في باب الأسماء الحسنى.

المطلب الثالث: درجات التعطيل في باب صفات الله العلى.

الفصل الثاني: أطوار مقالة التعطيل.

وفيه مبحثان:

المبحث الأول: المقالات السابقة لمقالة التعطيل.

وفيه خمسة مطالب:

المطلب الأول: مقالة الخوارج.

المطلب الثاني: مقالة الشيعة.

المطلب الثالث: مقالة القدرية.

المطلب الرابع: مقالة المعتزلة.

المطلب الخامس: مقالة المرجئة.

المبحث الثاني: نشأة التعطيل وأطواره.

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: خطورة مقالة التعطيل.
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাতীলের (আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার) প্রকারভেদ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাতীলের স্তরসমূহ।

এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সাধারণভাবে নাম ও গুণাবলি অধ্যায়ে তাতীলের স্তরসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আসমাউল হুসনা অধ্যায়ে তাতীলের স্তরসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহর সুউচ্চ গুণাবলি অধ্যায়ে তাতীলের স্তরসমূহ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: তাতীল মতবাদের পর্যায়সমূহ।

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাতীল মতবাদের পূর্ববর্তী মতবাদসমূহ।

এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: খারিজিদের মতবাদ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শিয়াদের মতবাদ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কাদারিয়াদের মতবাদ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মুতাজিলাদের মতবাদ।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: মুরজিয়াদের মতবাদ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাতীলের উদ্ভব ও পর্যায়সমূহ।

এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাতীল মতবাদের ভয়াবহতা।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ১১)
المطلب الثاني: مراحل التعطيل الأولى.

المطلب الثالث: مراحل اتساع دائرة التعطيل.

الباب الثاني: الجعد بن درهم

وفيه فصلان:

الفصل الأول: تاريخ الجعد بن درهم.

وفيه مبحثان:

المبحث الأول: نسبه ونشأته.

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: اسمه ونسبه.

المطلب الثاني: أصول الجعد.

المطلب الثالث: مولده وموطنه.

المبحث الثاني: بدء ظهوره وقصة قتله.

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: بدء ظهور مقالة الجعد.

المطلب الثاني: مقتل الجعد.

المطلب الثالث: موقف خلفاء بني أمية من أهل البدع.

الفصل الثاني: بدع الجعد ومقالاته والرد على بعض الشبه والمغالطات التي تثار حوله.
দ্বিতীয় শাখা: তআতিলের প্রাথমিক পর্যায়সমূহ।

তৃতীয় শাখা: তআতিলের পরিধি বিস্তৃতির পর্যায়সমূহ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: জা’দ ইবন দিরহাম

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: জা’দ ইবন দিরহামের ইতিহাস।

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর বংশ পরিচয় ও বেড়ে ওঠা।

এতে তিনটি শাখা রয়েছে:

প্রথম শাখা: তাঁর নাম ও বংশ।

দ্বিতীয় শাখা: জা’দের উৎস।

তৃতীয় শাখা: তাঁর জন্ম ও আবাসস্থল।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর আত্মপ্রকাশের সূচনা এবং তাঁকে হত্যার ঘটনা।

এতে তিনটি শাখা রয়েছে:

প্রথম শাখা: জা’দের মতবাদের আত্মপ্রকাশের সূচনা।

দ্বিতীয় শাখা: জা’দের হত্যাকাণ্ড।

তৃতীয় শাখা: বিদআতপন্থীদের প্রতি উমাইয়া খলিফাদের অবস্থান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জা’দের বিদআত ও তাঁর মতবাদসমূহ এবং তাঁকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত কিছু সংশয় ও বিভ্রান্তির খণ্ডন।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ১২)
وفيه مبحثان:

المبحث الأول: بدع الجعد ومقالته.

وفيه مطلبان:

المطلب الأول: أقول العلماء فيه.

المطلب الثاني: بدعه ومقالاته.

المبحث الثاني: الردود على بعض الشبه والمغالطات التي أثيرت حول الجعد بن درهم.

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: المغالطة الأولى.

المطلب الثاني: المغالطة الثانية.

المطلب الثالث: المغالطة الثالثة.

وبعد: فقد بذلت قصارى جهدي وغاية وسعي في توضيح المسائل السالفة الذكر، وهناك جوانب أخرى للموضوع سوف استوفى الحديث عنها في دراسة أخرى بإذن الله تعالى.

والله أسأل أن ينفع بهذا العمل ويبارك فيه وأن يجعله عملاً صالحاً ولوجهه خالصاً.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

حرر في 25/رمضان/1417هـ

كتبه: د/محمد بن خليفة التميمي

الأستاذ المشارك بقسم العقيدة بكلية الدعوة وأصول الدين

بالجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: জা'দের বিদআতসমূহ এবং তার মতবাদ।

এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: তার সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্যসমূহ।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: তার বিদআতসমূহ ও মতবাদসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জা'দ বিন দিরহাম সম্পর্কে উত্থাপিত কিছু সংশয় ও বিভ্রান্তির জবাবসমূহ।

এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: প্রথম বিভ্রান্তি।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় বিভ্রান্তি।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: তৃতীয় বিভ্রান্তি।

অতঃপর: আমি উল্লিখিত বিষয়গুলো স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সামর্থ্য ব্যয় করেছি। এই বিষয়ের আরও কিছু দিক রয়েছে যা আল্লাহর ইচ্ছায় অন্য কোনো গবেষণায় পূর্ণাঙ্গভাবে আলোচনা করা হবে।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটির মাধ্যমে উপকার করেন, এতে বরকত দান করেন এবং এটিকে একটি নেক আমল ও শুধুমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন।

আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

লিখিত হয়েছে: ২৫/রমজান/১৪১৭ হিজরি

লেখক: ড. মুহাম্মদ বিন খলিফা আত-তামিমি

সহযোগী অধ্যাপক, আক্বিদা বিভাগ, দাওয়াহ ও উসুলুদ্দিন অনুষদ

মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الباب الأول: تعريف مقالة التعطيل وأطواره

‌‌الفصل الأول: التعريف بالتعطيل وأطواره

‌‌المبحث الأول: تعريف التعطيل وأنواعه

‌‌المطلب الأول: تعريف التعطيل

…

المطلب الأول: تعريف التعطيل

ا- التعطيل لغة مأخوذ من مادة (عطل)

قال ابن فارس: (عطل) العين والطاء واللام أصل صحيح واحد يدل على خلوٍّ وفراغ. تقول عطِّلت الدارُ، ودار معطلة. ومتى تركت الإبل بلا راع فقد عطِّلت. وكذلك البئر إذا لم تُورَدْ ولم يُستق منها. قال الله تبارك وتعالى: {وَبِئْر مُعَطَّلة} 1. وقال تعالى: {وَإِذَاْ العِشَارُ عُطِّلَتْ} 2. وكل شيء خلا من حافظ فقد عطل. من ذلك تعطيل الثغور وما أشبهها. ومن هذا الباب العَطَل وهو العُطُول، يقال امرأة عاطل، إذا كانت لا حلي لها، والجمع عواطل. وقوس عُطُلٌ: لا وتر عليها. وخيل أعطال: لا قلائد لها.3

وقال الخليل بن أحمد: (امرأة عاطل بغير هاء: لا حليّ عليها وقوس عُطُل: لا وتر عليها. والأعطال من الخيل التي لا أرسان عليها. وإذا ترك الثغر بلا حام يحميه فقد عطل. والمواشي إذا أهملت بلا راع فقد عطلت، وكذلك الرعية إذا لم يكن لها والٍ يسوسها فهم معطلون، وقد عطلوا: أي أهملوا. وبئر معطلة لا يستقى منها ولا ينتفع بمائها. وتعطيل الحدود ألا تقام على من وجبت عليه، وعطلت الغلات والمزارع إذا لم تعمر ولم تحرث. وسمعت العرب تقول

--------------------------------------------

1- الآية 45 من سورة الحج.

2- الآية 4 من سورة التكوير.

3- معجم مقاييس اللغة 4/351.
প্রথম অধ্যায়: তাতিল (আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার) মতবাদের সংজ্ঞা ও এর পর্যায়সমূহ

‌প্রথম পরিচ্ছেদ: তাতিলের পরিচয় ও এর পর্যায়সমূহ

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: তাতিলের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ

‌প্রথম পরিপাঠ্য: তাতিলের সংজ্ঞা

…

প্রথম পরিপাঠ্য: তাতিলের সংজ্ঞা

ক- আভিধানিক অর্থে তাতিল: এটি (আইন-ত্ব-লাম) মূলধাতু থেকে উদ্ভূত।

ইবনে ফারিস বলেন: (আ-ত-লা) আইন, ত্ব এবং লাম একটি সহীহ মূলধাতু যা কোনো কিছু খালি বা শূন্য হওয়াকে নির্দেশ করে। আপনি যখন বলেন 'বাড়িটি তাত্তিলাত', এর অর্থ বাড়িটি জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং বাড়িটি 'মুয়াত্তলাহ' অর্থাৎ পরিত্যক্ত। যখন উটকে রাখাল ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন বলা হয় 'তাত্তিলাত' বা অবহেলিত হয়েছে। তেমনিভাবে কূপের ক্ষেত্রেও এই শব্দ ব্যবহৃত হয় যখন সেখানে কেউ উপস্থিত হয় না এবং সেখান থেকে পানি তোলা হয় না। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেন: {এবং পরিত্যক্ত কূপ} ১। তিনি তায়ালা আরও বলেন: {এবং যখন পূর্ণগর্ভা উষ্ট্রীসমূহ পরিত্যক্ত হবে} ২। যে জিনিসেরই কোনো রক্ষক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী থাকে না, তাকেই 'উত্তিলা' বা পরিত্যক্ত বলা হয়। এখান থেকেই সীমান্ত এলাকা বা অনুরূপ স্থানকে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখার (তাতিল) বিষয়টি এসেছে। এই মূলধাতু থেকেই 'আল-আতাল' শব্দটি এসেছে যার অর্থ অলঙ্কারহীন হওয়া। যেমন বলা হয় অলঙ্কারহীন নারীকে 'ইমরাআতুন আতিল', এর বহুবচন হলো 'আওয়াতিল'। ছিল্লাবিহীন ধনুককে বলা হয় 'কাওসুন উতুল'। আর 'খাইলুন আ’তাল' হলো সেই ঘোড়া যার গলায় কোনো পটি বা হার নেই। ৩

খলীল বিন আহমাদ বলেন: (অলঙ্কারহীন নারীকে 'ইমরাআতুন আতিল' বলা হয় 'হা' বর্ণ ব্যতিরেকে। আর 'কাওসুন উতুল' হলো ছিল্লাবিহীন ধনুক। ঘোড়াদের মধ্যে 'আ’তাল' হলো সেই ঘোড়া যার কোনো লাগাম নেই। যখন কোনো সীমান্ত এলাকা রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রহরী ছাড়া রাখা হয়, তখন তা 'উত্তিলা' বা অরক্ষিত হয়ে পড়ে। গবাদি পশুকে যদি রাখাল ছাড়া ছেড়ে দেওয়া হয় তবে তা 'উত্তিলা' বা অবহেলিত। তেমনিভাবে প্রজাদের যদি কোনো শাসক না থাকে যে তাদের পরিচালনা করবে, তবে তারা 'মুয়াত্তালুন' অর্থাৎ বিশৃঙ্খল বা অভিভাবকহীন; বলা হয় 'আতত্ত্বালু' অর্থাৎ তারা অবহেলিত হয়েছে। 'বি’রুন মুয়াত্তলাহ' হলো সেই কূপ যেখান থেকে পানি তোলা হয় না এবং যার পানি দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় না। 'তাতিলুল হুদুদ' (দণ্ডবিধি স্থগিত করা) অর্থ হলো যার ওপর দণ্ড কার্যকর করা আবশ্যক তার ওপর তা প্রয়োগ না করা। শস্যক্ষেত্র ও খামারগুলো যখন আবাদ করা হয় না বা চাষ করা হয় না তখন বলা হয় 'উত্তিলাত'। আমি আরবদের বলতে শুনেছি...

--------------------------------------------

১- সুরা আল-হজ্জ, আয়াত: ৪৫।

২- সুরা আত-তাকভীর, আয়াত: ৪।

৩- মু'জাম মাকায়িসুল লুগাহ ৪/৩৫১।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
فلان ذو عطلة إذا لم تكن له صنعة يمارسها. ودلو عَطِلَة إذا تَقَطع وذَمُها فتعطلت من الاستقاء بها) 1.

وقال ابن سيده: (التعطيل: التَّفريغ، وعطّل الدار: أخلاها. وكل ما ترك ضياعاً مُعَطَّلٌ ومُعْطَل.) 2.

فمن خلال هذه النقول عن بعض كبار أئمة اللغة يتضح لك أن مدار كلمة التعطيل في اللغة على الخلو والفراغ والترك. وهذا ما فسر به بعض السلف قوله تعالى: {وَبِئْر مُعَطَّلة} .

قال ابن عباس رضي الله عنهما في تفسيرها: "التي تركت"3

وقال قتادة: "أعطلها أهلها، وتركوها"4.

وكذا قوله تعالى:: {وإذا العشار عطلت} قال أبي بن كعب: "إذا أهملها أهلها.5. وقال مجاهد: "سيبت وتركت".6

وهذه المعاني اللغوية للتعطيل هي المستعملة في الاصطلاح كما سيأتي.

ب- التعطيل إصطلاحاً:

يختلف تعريف التعطيل باختلاف صوره فهناك:

--------------------------------------------

1- تهذيب اللغة 2/165.

2- المحكم 1/338، 339.

3- تفسير الطبري 17/180.

4- تفسير الطبري 17/180.

5- تفسير الطبري 30/66.

6- تفسير الطبري 30/66.
অমুক ব্যক্তি কর্মহীন, যখন তার করার মতো কোনো পেশা বা কাজ থাকে না। আর কোনো বালতি অকেজো হয়ে যায় যখন তার রশি ছিঁড়ে যায় এবং এর দ্বারা পানি তোলা বন্ধ হয়ে যায়। ১।

ইবন সীদাহ বলেন: (তাতীল অর্থ: খালি করা। আর বাড়ি তাতীল করা অর্থ: বাড়িকে জনশূন্য করা। যা কিছু বিনষ্ট হওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়, তা-ই মুয়াত্তাল এবং মু’তাল।) ২।

ভাষাবিজ্ঞানের কতিপয় বড় ইমামদের এই উদ্ধৃতিগুলো থেকে আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আভিধানিক অর্থে তাতীল শব্দটি শূন্যতা, খালি হওয়া এবং পরিত্যাগ করার অর্থের ওপর আবর্তিত হয়। আর সালাফগণের কেউ কেউ মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা এভাবেই করেছেন: {এবং পরিত্যক্ত কূপ}।

ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর ব্যাখ্যায় বলেন: "যা পরিত্যাগ করা হয়েছে" ৩।

কাতাদাহ বলেন: "এর অধিবাসীরা একে অকেজো করেছে এবং বর্জন করেছে" ৪।

অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন গর্ভবতী উষ্ট্রীসমূহ পরিত্যক্ত হবে}, উবাই ইবন কাব বলেন: "যখন এর মালিকরা একে অবহেলা করবে।" ৫। মুজাহিদ বলেন: "মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং বর্জন করা হবে।" ৬।

তাতীলের এই আভিধানিক অর্থগুলোই পারিভাষিক সংজ্ঞায় ব্যবহৃত হয়, যা সামনে আসবে।

খ- পারিভাষিক অর্থে তাতীল:

তাতীলের রূপভেদে এর সংজ্ঞায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, যেমন সেখানে রয়েছে:

--------------------------------------------

১- তাহযীবুল লুগাহ ২/১৬৫।

২- আল-মুহকাম ১/৩৩৮, ৩৩৯।

৩- তাফসীরে তাবারী ১৭/১৮০।

৪- তাফসীরে তাবারী ১৭/১৮০।

৫- তাফসীরে তাবারী ৩০/৬৬।

৬- তাফসীরে তাবারী ৩০/৬৬।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
1- التعطيل المحض أو الكلي: وهو إنكار الخالق وإنكار كلامه ودينه، وإنكار عبادته وشرائعه.

قال ابن القيم: (وأهل التعطيل المحض عطلوا الشرائع وعطلوا المصنوع عن الصانع وعطلوا الصانع عن صفات كماله، وعطلوا العالم عن الحق الذي خلق له وبه، فعطلوه عن مبدئه ومعاده وعن فاعله وغايته) 1.

وأهل هذا التعطيل هم الملاحدة الدهرية الطبائعية الذين ينكرون ما سوى هذا الوجود الذي يشاهده الناس ويحسونه، وهو وجود الأفلاك وما فيها2 وقالوا: "إن العالم دائم لم يزل ولا يزال، ولا يتغير ولا يضمحل، وإن الأشياء ليس لها أول البتة.3

2- أما تعطيل الأسماء والصفات: فهو نفي الصفات الإلهية عن الله وإنكار قيامها بذاته أو إنكار بعضها.4

أو: نفي الأسماء والصفات أو بعضها.

فتوحيد الأسماء والصفات له ضدان هما:

1- التعطيل.2- التمثيل.

فمن نفى صفات الرب عز وجل وعطلها، فقد كذب تعطيله توحيده. ومن شبهه بخلقه ومثله بهم، فقد كذب تشبيهه وتمثيله توحيده.5

--------------------------------------------

1- إغاثة اللهفان 2/268.

2- درء تعارض العقل والنقل 5/168.

3- إغاثة اللهفان 2/256.

4- الكواشف الجلية عن معاني الواسطية ص87.

5- اجتماع الجيوش الإسلامية ص36.
১- বিশুদ্ধ বা পূর্ণাঙ্গ অস্বীকারকরণ (তাতিল): আর তা হলো স্রষ্টাকে অস্বীকার করা এবং তাঁর বাণী ও তাঁর দ্বীনকে অস্বীকার করা, এবং তাঁর ইবাদত ও তাঁর শরীয়তসমূহকে অস্বীকার করা।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: (আর পূর্ণাঙ্গ অস্বীকারকারীরা শরীয়তসমূহকে অকার্যকর করেছে, সৃষ্টিকে স্রষ্টা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং স্রষ্টাকে তাঁর পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি হতে শূন্য করেছে। তারা বিশ্বজগতকে সেই সত্য উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করেছে যার জন্য এবং যার মাধ্যমে এটি সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে তারা জগতকে এর শুরু ও শেষ এবং এর কর্তা ও লক্ষ্য হতে বিচ্ছিন্ন করেছে) ১।

আর এই অস্বীকারের অন্তর্ভুক্ত হলো সেই নাস্তিক ও বস্তুবাদী প্রকৃতিবাদীরা যারা মানুষের দেখা ও অনুভব করা জগতের বাইরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে; আর তা হলো মহাকাশ ও এর মধ্যস্থিত বস্তুসমূহের অস্তিত্ব। ২ তারা বলে: "নিশ্চয়ই জগৎ চিরস্থায়ী, এটি অনাদি ও অনন্ত, এর কোনো পরিবর্তন বা বিনাশ নেই এবং বস্তুর কোনো শুরু নেই।" ৩

২- নাম ও গুণাবলি অস্বীকার করা: আর তা হলো আল্লাহর সত্তা থেকে তাঁর ঐশ্বরিক গুণাবলিকে নাকচ করা এবং তাঁর সত্তার সাথে সেগুলোর বিদ্যমান থাকাকে অস্বীকার করা অথবা তার কিছু অংশ অস্বীকার করা। ৪

অথবা: নাম ও গুণাবলি অথবা এর কিছু অংশ অস্বীকার করা।

সুতরাং নাম ও গুণাবলির একত্ববাদের (তাওহীদ) দুটি বিপরীত দিক রয়েছে, তা হলো:

১- অস্বীকার করা (তাতিল)। ২- সাদৃশ্য প্রদান করা (তামসিল)।

সুতরাং যে ব্যক্তি মহান রবের গুণাবলিকে নাকচ করল এবং সেগুলোকে অস্বীকার করল, তার এই অস্বীকার তার একত্ববাদকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। আর যে ব্যক্তি তাঁকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল এবং সাদৃশ্য দিল, তার এই তুলনা ও সাদৃশ্য দান তার একত্ববাদকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। ৫

--------------------------------------------

১- ইগাসাতুল লাহফান ২/২৬৮।

২- দারউ তাআরুদিল আকল ওয়ান নাকল ৫/১৬৮।

৩- ইগাসাতুল লাহফান ২/২৫৬।

৪- আল-কাওয়াশিফুল জালিইয়্যাহ আন মাআনিল ওয়াসিতিয়্যাহ, পৃ. ৮৭।

৫- ইজতিমাউল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ৩৬।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
والتعطيل في هذا الباب على قسمين:

القسم الأول: التعطيل المحض التام أو الكلي، وهو الذي عليه الجهمية والفلاسفة من إنكار جميع الأسماء والصفات.

والقسم الثاني: التعطيل الجزئي وهو نوعان:

النوع الأول: إثبات الأسماء ونفي الصفات وهو الذي عليه المعتزلة ومن وافقهم.

النوع الثاني: نفي بعض الصفات دون بعض وهو الذي عليه الكلابية والأشاعرة والماتريدية.

والتعطيل هنا في هذا الباب يدخل فيه تعطيل الباري سبحانه وتعالى عن أسمائه وصفاته.

ويدخل فيه أيضاً تعطيل نصوص الأسماء والصفات الذي هو إنكار حقائقها وما دلت عليه وما تضمنته من المعاني.

3- تعطيل النبوات: وهو إنكار النبوات، كما هو حال البراهمة القائلين بحدوث العالم المثبتين للصانع ولكنهم ينكرون النبوات أصلاً. فالخلاف مع الخارجين عن الملة على ثلاثة أضرب:

1- الخلاف مع المنكرين للصانع والقائلين بقدم العالم.

2- وخلاف مع القائلين بحدوث العالم المثبتين للصانع المنكرين للنبوات أصلاً كالبراهمة.

3- خلاف مع القائلين ببعض النبوات المنكرين لنبوة محمد صلى الله عليه وسلم.1

--------------------------------------------

1- نقض تأسيس الجهمية 1/140.
এই অধ্যায়ে তা'তীল (অকার্যকরণ/অস্বীকার করা) দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: নিরঙ্কুশ পূর্ণাঙ্গ বা সামগ্রিক তা'তীল, আর এটি জাহমিয়া ও দার্শনিকদের অনুসৃত পথ, যা সমস্ত নাম ও গুণাবলী অস্বীকার করার নামান্তর।

দ্বিতীয় প্রকার: আংশিক তা'তীল এবং তা দুই ধরণের:

প্রথম ধরণ: নামসমূহ সাব্যস্ত করা এবং গুণাবলী অস্বীকার করা, আর এটি মু'তাযিলা এবং তাদের অনুসারীদের অভিমত।

দ্বিতীয় ধরণ: কিছু গুণাবলী অস্বীকার করা এবং কিছু সাব্যস্ত করা, আর এটি কুল্লাবিয়া, আশআরিয়া এবং মাতুরিদিয়াদের অভিমত।

এই অধ্যায়ে তা'তীলের মধ্যে সৃষ্টিকর্তা সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে তাঁর নাম ও গুণাবলী থেকে মুক্ত বা শূন্য করা অন্তর্ভুক্ত।

এর মধ্যে নাম ও গুণাবলী সম্পর্কিত দলিলসমূহের (নসুস) কার্যকারিতা রহিত করাও অন্তর্ভুক্ত, যা মূলত সেগুলোর বাস্তবতা, সেগুলোর নির্দেশিত বিষয় এবং সেগুলোর অর্থের প্রকৃত তাৎপর্যকে অস্বীকার করা।

৩- নবুওয়াত অস্বীকার করা: আর এটি হলো নবুওয়াতকে অস্বীকার করা, যেমনটি ব্রাহমানদের অবস্থা, যারা জগতের সৃষ্টি বা নতুনত্ব স্বীকার করে এবং স্রষ্টাকে সাব্যস্ত করে, কিন্তু তারা মূলত নবুওয়াতকে অস্বীকার করে। সুতরাং মিল্লাত (দ্বীন) বহির্ভূতদের সাথে বিরোধ তিন প্রকার:

১- স্রষ্টাকে অস্বীকারকারী এবং জগতকে অনাদি মনে করা লোকদের সাথে বিরোধ।

২- ঐ সকল লোকদের সাথে বিরোধ যারা জগতের সৃষ্টির কথা স্বীকার করে এবং স্রষ্টাকে সাব্যস্ত করে, কিন্তু মূলত নবুওয়াতকে অস্বীকার করে, যেমন ব্রাহমানরা।

৩- ঐ সকল লোকদের সাথে বিরোধ যারা কিছু নবুওয়াতকে স্বীকার করে কিন্তু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতকে অস্বীকার করে।১

--------------------------------------------

১- নাকদু তাসিসিল জাহমিয়া ১/১৪০।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ২০)
قال ابن حزم: (ذهبت البراهمة وهم قبيلة بالهند فيهم أشراف الهند وهم يقولون بالتوحيد على نحو قولنا إلا أنهم أنكروا النبوات) 1.

--------------------------------------------

1- الفصل 1/69.
ইবনু হাজম বলেন: (ব্রাহ্মণরা—যারা ভারতের একটি গোত্র এবং যাদের মধ্যে ভারতের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন—তারা আমাদের মতের ন্যায় তাওহীদের প্রবক্তা, তবে তারা নবুওয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে) ১।

--------------------------------------------

১- আল-ফাসাল ১/৬৯।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المطلب الثاني: أنواع التعطيل في توحيد الله

ينقسم التعطيل في باب التوحيد إلى ثلاثة أقسام هي:

1- التعطيل في توحيد الربوبية

2- التعطيل في توحيد الألوهية

3- التعطيل في توحيد الأسماء والصفات.

فالتوحيد كما هو معلوم ضده الشرك، والشرك والتعطيل متلازمان، فكل مشرك معطل وكل معطل مشرك، لكن الشرك لا يستلزم أصل التعطيل، بل قد يكون المشرك مقراً بالخالق سبحانه وصفاته ولكنه عطل حق التوحيد، وأصل الشرك وقاعدته التي يرجع إليها هو التعطيل.1

أما القسم الأول: فهو تعطيل توحيد الربوبية

والمقصود به إنكار وجود الخالق سبحانه وتعالى ومن صور هذا القسم وأمثلته:

1- شرك الملاحدة القائلين بقدم العالم وأبديته، وإنه لم يكن معدوماً أصلاً، بل لم يزل ولا يزال، والحوادث بأسرها مستندة عندهم إلى أسباب ووسائط اقتضت إيجادها يسمونها بالعقول والنفوس.2

2- شرك طائفة أهل وحدة الوجود الذين يقولون ما ثم خالق ومخلوق، ولا

--------------------------------------------

1- الجواب الكافي ص153.

2- الجواب الكافي ص153.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর তাওহীদে তা'তীল (অস্বীকার/নিষ্ক্রিয়করণ)-এর প্রকারভেদ

তাওহীদের অধ্যায়ে তা'তীল তিন ভাগে বিভক্ত, সেগুলো হলো:

১- তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ-তে তা'তীল

২- তাওহীদে উলুহিয়্যাহ-তে তা'তীল

৩- তাওহীদে আসমা ওয়াস-সিফাত (নাম ও গুণাবলী)-এ তা'তীল।

যেমনটি জানা আছে যে, তাওহীদের বিপরীত হলো শিরক; আর শিরক ও তা'তীল একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্য। সুতরাং প্রত্যেক মুশরিকই মুয়াত্তিল (অস্বীকারকারী) এবং প্রত্যেক মুয়াত্তিলই মুশরিক। তবে শিরক মানেই মূল তা'তীল হওয়া আবশ্যক নয়; বরং কোনো মুশরিক স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলা ও তাঁর গুণাবলীর স্বীকৃতি দিতে পারে, কিন্তু সে তাওহীদের হকের ক্ষেত্রে তা'তীল করেছে। শিরকের মূল ও ভিত্তি যার দিকে এটি প্রত্যাবর্তন করে তা হলো তা'তীল।১

প্রথম প্রকার: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ-তে তা'তীল

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলার অস্তিত্ব অস্বীকার করা। এই প্রকারের কিছু রূপ ও উদাহরণ হলো:

১- সেইসব নাস্তিকদের শিরক যারা মহাবিশ্বের অনাদিত্ব ও অনন্তকাল স্থায়ী হওয়ার কথা বলে; এবং যারা মনে করে মহাবিশ্ব কখনো অনস্তিত্ব ছিল না, বরং তা অনাদিকাল থেকে আছে ও অনন্তকাল থাকবে। তাদের মতে জগতের সকল ঘটনা কিছু কারণ ও মাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল যা এগুলোর অস্তিত্বকে আবশ্যক করে তুলেছে; তারা এগুলোকে 'আকল' (বুদ্ধি) ও 'নফস' (আত্মা) নামে অভিহিত করে।২

২- ওহদাতুল ওজুদ (সর্বেশ্বরবাদ) পন্থীদের শিরক যারা বলে যে, সেখানে স্রষ্টা ও সৃষ্টি বলতে আলাদা কিছু নেই, এবং না...

--------------------------------------------

১- আল-জওয়াবুল কাফী, পৃষ্ঠা ১৫৩।

২- আল-জওয়াবুল কাফী, পৃষ্ঠা ১৫৩।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ২২)
هاهنا شيئان، بل الحق المنزه هو عين الخلق المشبه.1

3- شرك فرعون إذ قال: {وَمَا رَبُّ العَالَمِين} 2 وقال تعالى مخبراً عنه أنه قال لهامان {وقَالَ فِرْعَون يَا هَامَان ابن لِي صرْحاً لَعَلي أبلُغ الأَسْبَابَ أسبابَ السَّمَاوَاتِ فأطَّلعَ إلَى إلهِ مُوسَى وَإني لأَظنُّهُ كَاذباً} 3

القسم الثاني: التعطيل في توحيد الألوهية

قال ابن القيم في تعريفه هو: تعطيل معاملته عما يجب على العبد من حقيقة التوحيد 4.

(ومن صوره ما يفعله بعض غلاة المتصوفة من إسقاط العبادات عنهم وعن أتباعهم، وزعمهم أن الكمال في فناء العبد عن حظوظه -أي الفناء في توحيد الربوبية- حيث يعلنون أن العارف الذي يشهد هذا المقام “لا يستحسن حسنة ولا يستقبح سيئة" ويجعلون هذا غاية العرفان) .5

القسم الثالث: التعطيل في توحيد الأسماء والصفات

وهو نفي أسماء الله وصفاته أو بعضها. ومن صوره ما يعتقده غلاة الجهمية والقرامطة الذين لم يثبتوا لله اسماً ولا صفة، فعطلوا أسماء الرب تعالى وأوصافه وأفعاله، بل جعلوا المخلوق أكمل منه إذ كمال الذات بأسمائها وصفاتها.6

وهذا القسم من أقسام التعطيل هو ما سأتناوله في هذه الدراسة بشكل مفصل وموسع.

--------------------------------------------

1- الجواب الكافي ص153.

2- الآية 23 من سورة الشعراء.

3- الآيتان 36،37 من سورة غافر.

4- الجواب الكافي (ص153) .

5- التصوف وابن تيمية للدكتور مصطفى حلمي ص390.

6- الجواب لكافي ص153.
এখানে দুটি বিষয় রয়েছে, বরং পবিত্র সত্য হলেন উপমিত সৃষ্টিরই সত্তা।১

৩- ফেরাউনের শিরক যখন সে বলেছিল: {আর জগতসমূহের রব কে?} ২ এবং মহান আল্লাহ তার সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন যে, সে হামানকে বলেছিল {এবং ফেরাউন বলল, হে হামান! তুমি আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যাতে আমি অবলম্বনসমূহ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি—আকাশমন্ডলীর অবলম্বনসমূহ—অতঃপর আমি মূসার ইলাহকে উঁকি দিয়ে দেখতে পারি, আর নিশ্চয়ই আমি তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি।} ৩

দ্বিতীয় বিভাগ: তাওহিদে উলুহিয়্যাতের ক্ষেত্রে তাতিল (অস্বীকার বা নিষ্ক্রিয়করণ)

ইবনুল কাইয়্যিম এর সংজ্ঞায় বলেছেন: এটি হলো তাওহিদের হাকিকত বা বাস্তবতা থেকে বান্দার উপর যা ওয়াজিব, সে অনুযায়ী আল্লাহর সাথে আচরণকে রহিত করা ৪।

(এর একটি রূপ হলো যা চরমপন্থী সুফীদের কেউ কেউ করে থাকে, যেমন নিজেদের এবং তাদের অনুসারীদের থেকে ইবাদতসমূহ বিলুপ্ত করে দেয়া; এবং তাদের দাবি যে, পূর্ণতা নিহিত রয়েছে বান্দার স্বীয় কামনা-বাসনা থেকে ফানা (বিলীন) হওয়ার মধ্যে—অর্থাৎ তাওহিদে রুবুবিয়্যাতের মধ্যে ফানা হওয়া—যেখানে তারা ঘোষণা করে যে, যে আরেফ এই মাকাম প্রত্যক্ষ করেন তিনি “কোনো ভালো কাজকে ভালো মনে করেন না এবং কোনো মন্দ কাজকে মন্দ মনে করেন না” এবং তারা একেই মারেফাতের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করে)। ৫

তৃতীয় বিভাগ: তাওহিদুল আসমা ওয়াস-সিফাতের (নাম ও গুণাবলির তাওহিদ) ক্ষেত্রে তাতিল

আর তা হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবলি অথবা এর অংশবিশেষকে অস্বীকার করা। এর একটি রূপ হলো চরমপন্থী জাহমিয়া ও কারামিতাদের বিশ্বাস, যারা আল্লাহর জন্য কোনো নাম বা গুণ সাব্যস্ত করে না। ফলে তারা মহান রবের নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলিকে অস্বীকার করেছে; বরং তারা সৃষ্টিকে তাঁর চেয়েও বেশি পূর্ণাঙ্গ সাব্যস্ত করেছে, যেহেতু সত্তার পূর্ণতা তার নাম ও গুণাবলির মাধ্যমেই হয়ে থাকে।৬

তাতিলের প্রকারসমূহের মধ্যে এই বিভাগটিই আমি এই গবেষণায় বিস্তারিত ও বিশদভাবে আলোচনা করব।

--------------------------------------------

১- আল-জওয়াবুল কাফি, পৃ. ১৫৩।

২- সূরা আশ-শুয়ারা, আয়াত ২৩।

৩- সূরা গাফির, আয়াত ৩৬, ৩৭।

৪- আল-জওয়াবুল কাফি (পৃ. ১৫৩)।

৫- আত-তাসাউউফ ওয়া ইবনু তাইমিয়া, ডক্টর মুস্তফা হিলমি, পৃ. ৩৯০।

৬- আল-জওয়াবুল কাফি, পৃ. ১৫৩।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌المبحث الثاني: درجات التعطيل

‌‌المطلب الأول: درجات التعطيل في باب الأسماء والصفات عموماً

…

المطلب الأول: درجات التعطيل في باب الأسماء والصفات عموماً

من سبر أقوال أهل التعطيل يجدها من حيث العموم تنقسم إلى ثلاثة أقسام:

القسم الأول: نفي جميع الأسماء والصفات.

وهذا قول الجهمية أتباع جهم بن صفوان1، والفلاسفة، سواء كانوا أصحاب فلسفة محضة كالفارابي2، أو فلسفة باطنية إسماعيلية قرمطية كابن سينا3، أو فلسفة صوفية اتحادية كابن عربي وابن سبعين وابن الفارض.

قال شيخ الإسلام ابن تيميه: (والتحقيق أن التجهم المحض وهو نفي الأسماء والصفات، كما يُحكي عن جهم والغالية من الملاحدة ونحوهم من نفي أسماء الله الحسنى، كفر بين مخالف لما علم بالاضطرار من دين الرسول)

القسم الثاني: نفي الصفات دون الأسماء.

وهذا قول المعتزلة، ووافقهم عليه ابن حزم الظاهري5. والزيدية، والرافضة الإمامية، والإباضية. فالمعتزلة يجمعون على تسمية الله بالاسم ونفي الصفة عنه.

--------------------------------------------

1- مجموع الفتاوى 6/135، 5/355، 13/131، درء تعارض العقل والنقل 3/367.

2- منهاج السنة 2/523، 524.

3- شرح العقيدة الأصفهانية ص76.

4- النبوات ص198.

5- درء تعارض العقل والنقل 5/249، 250.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তা’তীলের (গুণাবলি অস্বীকারের) পর্যায়সমূহ

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: সাধারণভাবে নাম ও গুণাবলির অধ্যায়ে তা’তীলের পর্যায়সমূহ

…

প্রথম অনুচ্ছেদ: সাধারণভাবে নাম ও গুণাবলির অধ্যায়ে তা’তীলের পর্যায়সমূহ

যারা তা’তীলপন্থীদের (আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারীদের) বক্তব্যসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, তারা দেখতে পাবেন যে সাধারণভাবে এগুলো তিন ভাগে বিভক্ত:

প্রথম বিভাগ: আল্লাহর সকল নাম ও গুণাবলি অস্বীকার করা।

এটি হলো জহম বিন সাফওয়ানের অনুসারী জাহমিয়া সম্প্রদায় এবং দার্শনিকদের মত। তারা চাই আল-ফারাবীর মতো বিশুদ্ধ দর্শনের অনুসারী হোক, কিংবা ইবনে সিনার মতো বাতেনী ইসমাইলি কারামাতি দর্শনের অনুসারী হোক, অথবা ইবনুল আরাবী, ইবনে সাবঈন এবং ইবনুল ফারিদ-এর মতো সর্বেশ্বরবাদী (ইত্তিহাদি) সুফি দর্শনের অনুসারী হোক।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: (সঠিক বিশ্লেষণ হলো, বিশুদ্ধ জাহমিয়্যা মতবাদ—যা হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবলি অস্বীকার করা, যেমনটি জহম এবং নাস্তিক উগ্রপন্থীদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যারা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ অস্বীকার করে—তা একটি স্পষ্ট কুফর, যা রাসুলের দ্বীনের অকাট্য ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ের পরিপন্থী।)

দ্বিতীয় বিভাগ: নাম স্বীকার করা কিন্তু গুণাবলি অস্বীকার করা।

এটি মুতাযিলাদের মত, আর ইবনে হাজম জাহেরি, যায়দিয়া, রাফেযি ইমামিয়া এবং ইবাদিয়াগণ এ বিষয়ে তাদের সাথে একমত হয়েছেন। মুতাযিলাগণ আল্লাহকে নামে অভিহিত করার ক্ষেত্রে একমত হলেও তাঁর থেকে গুণাবলিকে অস্বীকার করেন।

--------------------------------------------

১- মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/১৩৫, ৫/৩৫৫, ১৩/১৩১; দারউ তাআরুদিল আকল ওয়ান নাকল ৩/৩৬৭।

২- মিনহাজুস সুন্নাহ ২/৫২৩, ৫২৪।

৩- শারহুল আকিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৭৬।

৪- আন-নুবুওয়াত, পৃষ্ঠা ১৯৮।

৫- দারউ তাআরুদিল আকল ওয়ান নাকল ৫/২৪৯, ২৫০।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
يقول ابن المرتضى المعتزلي: "فقد أجمعت المعتزلة على أن للعالم مُحدثاً قديماً قادراً عالماً حياًّ لا لمعان....."1

القسم الثالث: إثبات الأسماء وبعض الصفات ونفي البعض الآخر.

وهذا قول الكلابية والأشاعرة والماتريدية.

فالكلابية وقدماء الأشاعرة: يثبتون الأسماء والصفات ما عدا صفات الأفعال الاختيارية2 (أي التي تتعلق بمشيئته واختياره) فهم إما يؤولونها أو يثبتونها على اعتبار أنها أزلية وذلك خوفاً منهم على حد زعمهم من حلول الحوادث بذات الله3 أو يجعلونها من صفات الفعل المنفصلة عن الله التي لا تقوم به.4

وأما الأشاعرة المتأخرون ومعهم الماتريدية فهم يثبتون الأسماء وسبعاً من الصفات هي (الحياة، العلم، القدرة، السمع، البصر، الإرادة، الكلام) ويزيد بعض الماتريدية صفة ثامنة هي (التكوين) .5 وينفون باقي الصفات ويؤولون النصوص الواردة فيها ويحرفون معانيها.

--------------------------------------------

1- كتاب باب ذكر المعتزلة من كتاب المنيه والأمل ص6.

وانظر شرح الأصول الخمسة ص151، ومقالات الإسلاميين ص164،165، مجموع الفتاوى 5/355.

2- مجموع الفتاوى 13/131.

3- موقف ابن تيمية من الأشاعرة 2/506.

4- المصدر السابق 2/544.

5- انظر تحفة المريد ص63، وإشارات المرام ص107، 114، وكتاب الماتريدية دراسة وتقويم ص239، وكتاب الماتريدية وموقفهم من توحيد الأسماء والصفات 2/430، ومنهج أهل السنة والجماعة ومنهج الأشاعرة في توحيد الله ص401.
ইবনুল মুরতাদা আল-মুতাজিলি বলেন: "মুতাজিলারা একমত পোষণ করেছেন যে, মহাবিশ্বের একজন অনাদি, ক্ষমতাধর, সর্বজ্ঞ ও জীবন্ত স্রষ্টা রয়েছেন, তবে তা কোনো (স্বতন্ত্র) অর্থের কারণে নয়....."১

তৃতীয় বিভাগ: নামসমূহ ও কিছু গুণাবলির স্বীকৃতি এবং অন্য কিছু গুণাবলি অস্বীকার।

আর এটি হলো কুলাবিয়্যাহ, আশআরী ও মাতুরিদীদের বক্তব্য।

কুলাবিয়্যাহ ও প্রাচীন আশআরীরা: তারা আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলি সাব্যস্ত করে, তবে ঐচ্ছিক কর্মবাচক গুণাবলি২ (অর্থাৎ যা তাঁর ইচ্ছা ও নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত) ব্যতীত। তারা এগুলোর হয় ব্যাখ্যা (তাওয়িল) করে অথবা এই বিবেচনায় সাব্যস্ত করে যে সেগুলো অনাদি। তাদের দাবি অনুযায়ী, তারা এটি করে আল্লাহর সত্তায় নতুন কিছুর সঞ্চারের (হুলুল আল-হাওয়াদ্দিস) আশঙ্কায়৩ অথবা তারা সেগুলোকে আল্লাহর সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন এমন কর্মবাচক গুণাবলি হিসেবে গণ্য করে যা তাঁর সত্তার সাথে প্রতিষ্ঠিত নয়।৪

পক্ষান্তরে পরবর্তীকালের আশআরী এবং তাদের সাথে মাতুরিদীরা আল্লাহর নামসমূহ এবং সাতটি গুণাবলি সাব্যস্ত করেন, যেগুলো হলো (জীবন, জ্ঞান, ক্ষমতা, শ্রবণ, দর্শন, ইচ্ছা, কথা বলা)। কোনো কোনো মাতুরিদী অষ্টম একটি গুণ বৃদ্ধি করেন যা হলো (তাকওয়ীন)।৫ তারা অবশিষ্ট গুণাবলি অস্বীকার করেন এবং এ সংক্রান্ত দলিলগুলোর ব্যাখ্যা (তাওয়িল) করেন ও সেগুলোর অর্থের বিকৃতি ঘটান।

--------------------------------------------

১- কিতাবুল মুনইয়া ওয়াল আমাল গ্রন্থের 'মুতাজিলাদের আলোচনার পরিচ্ছেদ' অংশ, পৃষ্ঠা ৬।

এবং দেখুন শারহুল উসুলিল খামসাহ পৃষ্ঠা ১৫১, মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন পৃষ্ঠা ১৬৪, ১৬৫, মাজমু আল-ফাতাওয়া ৫/৩৫৫।

২- মাজমু আল-ফাতাওয়া ১৩/১৩১।

৩- আশআরীদের সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়ার অবস্থান ২/৫০৬।

৪- পূর্বোক্ত উৎস ২/৫৪৪।

৫- দেখুন তুহফাতুল মুরিদ পৃষ্ঠা ৬৩, ইশারাতুল মারাম পৃষ্ঠা ১০৭, ১১৪, কিতাবুল মাতুরিদিয়্যাহ: দিরাসাহ ওয়া তাকওয়িম পৃষ্ঠা ২৩৯, কিতাবুল মাতুরিদিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুহুম মিন তাওহিদিল আসমা ওয়াস সিফাত ২/৪৩০, এবং মানহাজু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ ওয়া মানহাজুল আশাইরাহ ফি তাওহিদিল্লাহ পৃষ্ঠা ৪০১।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المطلب الثاني: درجات التعطيل في باب الأسماء الحسنى.

القول الأول: من يقول إن الله لا يسمى بشيء.

وهذا قول الجهمية أتباع جهم بن صفوان، والغالية من الملاحدة كالقرامطة الباطنية والفلاسفة.

وهؤلاء المعطلة لهم في تعطيلهم لأسماء الله أربعة مسالك هي:

المسلك الأول: الاقتصار على نفي الإثبات فقالوا: لا يسمى بإثبات.

المسلك الثاني: أنه لا يسمى بإثبات ولا نفي.

المسلك الثالث: السكوت عن الأمرين الإثبات والنفي.

المسلك الرابع: تصويب جميع الأقوال بالرغم من تناقضها.

فهذا الصنف من المعطلة اتفقوا على إنكار الأسماء جميعها، ولكن تنوعت مسالكهم في الإنكار.

1- فأصحاب المسلك الأول: اقتصروا على قولهم: بأنه ليس له اسم كالحي والعليم ونحو ذلك. وشبهتهم في ذلك:

ا- أنه إذا كان له اسم من هذه الأسماء لزم أن يكون متصفا بمعنى الاسم كالحياة والعلم، فإن صدق المشتق -أي الاسم كالعليم- مستلزم لصدق المشتق منه -أي الصفة كالعلم- وذلك محال عندهم.

ب- ولأنه إذا سمي بهذه الأسماء فهي مما يسمى به غيره. والله منزه عن
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আসমাউল হুসনার ক্ষেত্রে তা’তীলের স্তরসমূহ.

প্রথম মত: যারা বলেন যে, আল্লাহকে কোনো নামে অভিহিত করা যাবে না।

এটি জাহম বিন সাফওয়ানের অনুসারী জাহমিয়াদের এবং ক্বারামিতা বাতেনী ও দার্শনিকদের মতো চরমপন্থী নাস্তিকদের অভিমত।

আল্লাহর নামসমূহ অস্বীকার করার ক্ষেত্রে এই মুআত্তিলাদের চারটি পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো হলো:

প্রথম পদ্ধতি: কেবল সাব্যস্তকরণকে অস্বীকার করা; তারা বলেন: সাব্যস্তকরণের মাধ্যমে কোনো নামকরণ করা যাবে না।

দ্বিতীয় পদ্ধতি: সাব্যস্তকরণ বা নেতিকরণ—কোনোভাবেই আল্লাহর নামকরণ করা যাবে না।

তৃতীয় পদ্ধতি: সাব্যস্তকরণ এবং নেতিকরণ উভয় বিষয়েই নীরবতা অবলম্বন করা।

চতুর্থ পদ্ধতি: পরস্পরবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও সকল মতবাদকে সঠিক বলে গণ্য করা।

এই শ্রেণীর মুআত্তিলারা আল্লাহর সমস্ত নাম অস্বীকার করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, তবে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তাদের পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন।

১- প্রথম পদ্ধতির অনুসারীগণ: তারা কেবল এই কথাটির ওপর সীমাবদ্ধ যে, আল্লাহর কোনো নাম নেই, যেমন—আল-হাইয়্যু (চিরঞ্জীব), আল-আলীম (সর্বজ্ঞ) ইত্যাদি। এ বিষয়ে তাদের সংশয় হলো:

ক- যদি আল্লাহর জন্য এই নামগুলোর কোনো একটি থাকত, তবে নামের অর্থ তথা জীবন ও জ্ঞান দ্বারা তাঁর গুণান্বিত হওয়া অপরিহার্য হতো। কেননা, যদি কোনো মুশতাক্ব (উৎপন্ন শব্দ) সত্য হয়—যেমন ‘আল-আলীম’—তবে তা মুশতাক্ব মিনহু (মূল ধাতু) সত্য হওয়াকে আবশ্যক করে—যেমন ‘আল-ইলম’ (জ্ঞান)। আর তাদের মতে এটি অসম্ভব।

খ- কারণ তাঁকে যদি এই নামসমূহ দ্বারা অভিহিত করা হয়, তবে এগুলো এমন সব নাম হবে যা দ্বারা অন্যদেরকেও নামকরণ করা হয়। অথচ আল্লাহ তাআলা পবিত্র...
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
مشابهة الغير.1

فهؤلاء المعطلة المحضة -نفاة الأسماء- يسمون من سمى الله بأسمائه الحسنى مشبهاً. فيقولون: إذا قلنا حي عليم فقد شبهناه بغيره من الأحياء العالمين وكذلك إذا قلنا هو سميع بصير فقد شبهناه بالإنسان السميع والبصير، وإذا قلنا رؤوف رحيم فقد شبهناه بالنبي الرؤوف الرحيم، بل قالوا إذا قلنا موجود فقد شبهناه بسائر الموجودات لاشتراكهما في مسمى الوجود)

وهذا المسلك ينسب لجهم بن صفوان، قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "جهم كان ينكر أسماء الله تعالى فلا يسميه شيئاً لا حيا ولا غير ذلك إلا على سبيل المجاز"3. وهو قول الباطنية من الفلاسفة والقرامطة فهم يقولون لا نسميه حيًّا ولا عالماً ولا قادراً ولا متكلماً إلا مجازاً بمعنى السلب والإضافة: أي هو ليس بجاهل ولا عاجز.4 وهذا كذلك قول ابن سينا وأمثاله.5

2- وأما أصحاب المسلك الثاني: فقد زادوا في الغلو فقالوا: لا يسمى بإثبات ولا نفي، ولا يقال موجود ولا لا موجود ولا حي ولا لاحي. لأن في الإثبات تشبيهاً بالموجودات، وفي النفي تشبيهاً له بالمعدومات.

--------------------------------------------

1- انظر مجموع الفتاوى 6/35، 3/100، ودرء تعارض العقل والنقل 3/367، وكتاب الصفدية 1/88-89، 96-97.

2- منهاج السنة 2/523، 534.

3- مجموع الفتاوى 12/311.

4- مجموع الفتاوى 5/355.

5- الصفدية 1/299-300.
১. অন্যের সাদৃশ্য।

এই বিশুদ্ধ মুআত্তিলাগণ—যারা আল্লাহর নামসমূহ অস্বীকারকারী—তারা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ দ্বারা তাঁকে নামকরণকারীদের ‘মুসাব্বিহ’ (সাদৃশ্য দানকারী) বলে অভিহিত করে। তারা বলে: যদি আমরা বলি যে তিনি ‘হাই’ (চিরঞ্জীব) ও ‘আলিম’ (সর্বজ্ঞ), তবে আমরা তাঁকে অন্যান্য জীবিত ও জ্ঞানীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করলাম। অনুরূপভাবে, যদি আমরা বলি তিনি ‘সামি’ (সর্বশ্রোতা) ও ‘বাসির’ (সর্বদ্রষ্টা), তবে আমরা তাঁকে শ্রবণকারী ও দর্শনকারী মানুষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করলাম। আর যদি আমরা বলি তিনি ‘রাউফ’ (অত্যন্ত দয়ালু) ও ‘রাহিম’ (পরম করুণাময়), তবে আমরা তাঁকে ‘রাউফ ও রাহিম’ গুণের অধিকারী নবীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করলাম। এমনকি তারা বলেছে, যদি আমরা তাঁকে ‘মওজুদ’ (অস্তিত্বমান) বলি, তবে অস্তিত্বশীল হওয়ার নামকরণে অংশীদার হওয়ার কারণে আমরা তাঁকে অন্যান্য সকল অস্তিত্বশীল বস্তুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করলাম।

এই পথটি জাহম বিন সাফওয়ানের দিকে নিসবত করা হয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: "জাহম মহান আল্লাহর নামসমূহ অস্বীকার করতেন, ফলে তিনি তাঁকে রূপক অর্থ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে চিরঞ্জীব বা অন্য কিছু বলে নামকরণ করতেন না।" এটি দার্শনিক ও কারামিতা বাতিনিদেরও মত। তারা বলে, আমরা তাঁকে রূপক অর্থ ছাড়া চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান বা কথা বলাকারী হিসেবে নামকরণ করি না, যা নেতিবাচকতা এবং সম্পর্কের অর্থে ব্যবহৃত হয়: অর্থাৎ তিনি মূর্খ নন এবং অক্ষম নন। এটি ইবনে সিনা এবং তার অনুসারীদেরও অভিমত।

২- আর দ্বিতীয় পথের অনুসারীরা: তারা চরমপন্থায় আরও অগ্রবর্তী হয়েছে। তারা বলেছে: ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনোভাবেই তাঁর নামকরণ করা যাবে না। তাঁকে অস্তিত্ববানও বলা যাবে না, আবার অস্তিত্বহীনও বলা যাবে না; জীবিতও বলা যাবে না, আবার মৃতও বলা যাবে না। কারণ, ইতিবাচক সাব্যস্ত করার মধ্যে অস্তিত্ববানদের সাথে সাদৃশ্য বিদ্যমান, আর নেতিবাচক অস্বীকার করার মধ্যে অস্তিত্বহীনদের সাথে সাদৃশ্য বিদ্যমান।

--------------------------------------------

১- দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/৩৫, ৩/১০০; দাউরু তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি ৩/৩৬৭ এবং কিতাবুস সাফাদিয়্যাহ ১/৮৮-৮৯, ৯৬-৯৭।

২- মিনহাজুস সুন্নাহ ২/৫২৩, ৫৩৪।

৩- মাজমুউল ফাতাওয়া ১২/৩১১।

৪- মাজমুউল ফাতাওয়া ৫/৩৫৫।

৫- সাফাদিয়্যাহ ১/২৯৯-৩০০।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وكل ذلك تشبيه. وهذا المسلك ينسب لغلاة المعطلة من القرامطة الباطنية والمتفلسفة.1

3- وأما أصحاب المسلك الثالث فيقولون: نحن لا نقول ليس بموجود ولا معدوم، ولا حي ولا ميت، فلا ننفي النقيضين، بل نسكت عن هذا وهذا، فنمتنع عن كل من المتناقضين، لا نحكم بهذا ولا بهذا، فلا نقول ليس بموجود ولا معدوم، ولكن لا نقول هو موجود ولا نقول هو معدوم.

ومن الناس من يحكى هذا عن الحلاج، وحقيقة هذا القول هو الجهل البسيط والكفر البسيط، الذي مضمونه الإعراض عن الإقرار بالله ومعرفته وحبه وذكره وعبادته ودعائه.2

وأصحاب هذا المسلك هم المتجاهلة اللاأدرية.

وأصحاب المسلك الثاني هم المتجاهلة الواقفة الذين يقولون لا نثبت ولا ننفي.

وأصحاب المسلك الأول هم المكذبة النفاة.

والملاحظ أن كل فريق من هؤلاء يهدم ما بناه من قبله فلما اقتصر أصحاب المسلك الأول على النفي وامتنعوا عن الإثبات بحجة أن في الإثبات تشبيهاً له بالموجودات جاء أصحاب المسلك الثاني فزادوا في الغلو وزعموا أن في النفي كذلك تشبيهاً له بالجمادات فمنعوا النفي أيضا ثم جاء أصحاب المسلك الثالث فاتهموا أصحاب المسلك الثاني بأنهم شبهوه بالممتنعات لأن قولهم يقوم على نفي النقيضين وهذا ممتنع.

--------------------------------------------

1- مجموع الفتاوى 6/35، 3/100، شرح الأصفهانية ص76، 80.

2- كتاب الصفدية 1/96-98، شرح الأصفهانية ص84.
এবং এ সবই হলো তুলনা (তশবিহ)। আর এই মতবাদটি বাতেনি কারামিতা এবং দার্শনিকদের চরমপন্থী মুয়াত্তিলাদের (অস্বীকারকারী) সাথে সম্পৃক্ত।১

৩- আর তৃতীয় মতবাদের অনুসারীরা বলেন: আমরা এ কথা বলি না যে তিনি বিদ্যমান নন, আবার এ কথাও বলি না যে তিনি অবিদ্যমান; তিনি জীবিত নন, আবার মৃতও নন। সুতরাং আমরা দুটি বিপরীত বিষয়কে অস্বীকার করি না, বরং আমরা উভয়টি সম্পর্কেই মৌনতা অবলম্বন করি। অতএব আমরা পরস্পরবিরোধী উভয় বিষয় থেকেই বিরত থাকি, আমরা এর কোনোটির ব্যাপারেই ফয়সালা করি না। তাই আমরা বলি না যে তিনি বিদ্যমান নন কিংবা অবিদ্যমান, আবার এও বলি না যে তিনি বিদ্যমান অথবা তিনি অবিদ্যমান।

মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এই মতবাদটি হাল্লাজ সম্পর্কে বর্ণনা করেন। আর এই বক্তব্যের প্রকৃত রূপ হলো নিরেট মূর্খতা এবং নিরেট কুফর, যার মূল কথা হলো আল্লাহকে স্বীকার করা, তাঁকে চেনা, তাঁকে ভালোবাসা, তাঁর জিকির, ইবাদত এবং তাঁর কাছে দোয়া করা থেকে বিমুখ হওয়া।২

আর এই মতবাদের অনুসারীরা হলো সংশয়বাদী অজ্ঞতাপ্রবণ সম্প্রদায় (লা-আদরিয়্যাহ)।

এবং দ্বিতীয় মতবাদের অনুসারীরা হলো স্থগিতকারী অজ্ঞতাপ্রবণ সম্প্রদায় (ওয়াকেফাহ), যারা বলে যে আমরা (আল্লাহর গুণাবলি) সাব্যস্তও করি না আবার অস্বীকারও করি না।

আর প্রথম মতবাদের অনুসারীরা হলো মিথ্যা প্রতিপন্নকারী অস্বীকারকারী সম্প্রদায় (নুফাত)।

লক্ষণীয় যে, এদের প্রতিটি দলই তাদের পূর্ববর্তীদের তৈরি করা ভিত্তি ধ্বংস করে। প্রথম মতবাদের অনুসারীরা যখন কেবল অস্বীকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল এবং এই অজুহাতে সাব্যস্ত করা থেকে বিরত রইল যে, সাব্যস্ত করার মধ্যে বিদ্যমান বস্তুসমূহের সাথে আল্লাহর তুলনা (তশবিহ) হয়ে যায়; তখন দ্বিতীয় মতবাদের অনুসারীরা এসে চরমপন্থা আরও বাড়িয়ে দিল এবং দাবি করল যে, অস্বীকার করার মধ্যেও একইভাবে জড় পদার্থের সাথে আল্লাহর তুলনা হয়ে যায়, ফলে তারা অস্বীকার করা থেকেও বিরত থাকল। এরপর তৃতীয় মতবাদের অনুসারীরা এসে দ্বিতীয় মতবাদের অনুসারীদের এই বলে অভিযুক্ত করল যে, তারা আল্লাহকে অসম্ভব বিষয়সমূহের সাথে তুলনা করেছে, কারণ তাদের বক্তব্য দুটি বিপরীত বিষয়কে একসাথে অস্বীকার করার ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর এটি অসম্ভব।

--------------------------------------------

১- মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/৩৫, ৩/১০০; শারহুল আসফাহানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৭৬, ৮০।

২- কিতাবুস সাফাদিয়্যাহ ১/৯৬-৯৮; শারহুল আসফাহানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৮৪।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
4- وهناك مسلك رابع: وهو مسلك أصحاب وحدة الوجود الذين يعطون أسماءه سبحانه لكل شيء في الوجود، إذ كان وجود الأشياء عندهم هو عين وجوده ما ثمت فرق إلا بالإطلاق والتقييد.1

وهذا منتهى قول طوائف المعطلة.2 وغاية ما عندهم في الإثبات قولهم هو: (وجود مطلق) أي وجود خيالي في الذهن، أو وجود مقيد بالأمور السلبية،3

القول الثاني: أن الله يسمى باسمين فقط هما: "الخالق" و " القادر"

وهذا القول منسوب للجهم بن صفوان.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "كان الجهم وأمثاله يقولون: إن الله ليس بشيء، وروى عنه أنه قال: لا يسمى باسم يسمى به الخلق، فلم يسمه إلا "بالخالق" و"القادر" لأنه كان جبريا يرى أن العبد لا قدرة له."4

وقال رحمه الله: "ولهذا نقلوا عن جهم أنه لا يسمى الله بشيء، ونقلوا عنه أنه لا يسميه باسم من الأسماء التي يسمى بها الخلق: كالحي، والعالم، والسميع، والبصير، بل يسميه قادراً خالقاً، لأن العبد عنده ليس بقادر، إذ كان هو رأس الجهمية الجبرية"5

--------------------------------------------

1- شرح القصيدة النونية للهراس 2/126.

2- الصفدية 1/98، 99.

3- الصفدية 1/116، 117.

4- منهاج السنة 2/526، 527، الانساب للسمعاني 2/133.

5- درء تعارض العقل والنقل 5/187، مجموع الفتاوى 8/460.
৪- এবং এখানে চতুর্থ একটি পথ রয়েছে: আর তা হলো ওয়াহদাতুল ওজুদ (অস্তিত্বের অদ্বৈতবাদ) পন্থীদের পথ, যারা সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামসমূহ অস্তিত্বের প্রতিটি বস্তুর জন্য প্রদান করে। কেননা তাদের নিকট বস্তুনিচয়ের অস্তিত্বই হলো তাঁর সত্তাগত অস্তিত্ব; সেখানে ব্যাপকতা ও সীমাবদ্ধতা ব্যতীত আর কোনো পার্থক্য নেই।১

আর এটিই হলো মুয়াত্তিলা (গুণাবলি অস্বীকারকারী) দলগুলোর বক্তব্যের চরম সীমা।২ এবং (গুণাবলি) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাদের সর্বোচ্চ বক্তব্য হলো: (পরম অস্তিত্ব) অর্থাৎ মস্তিষ্কের একটি কাল্পনিক অস্তিত্ব, অথবা নেতিবাচক বিষয়াদির মাধ্যমে সীমাবদ্ধ কোনো অস্তিত্ব।৩

দ্বিতীয় মত: আল্লাহকে কেবল দুটি নামে অভিহিত করা যাবে, তা হলো: "সৃষ্টিকর্তা" (আল-খালিক) এবং "ক্ষমতাবান" (আল-কাদির)।

আর এই মতটি জাহম বিন সাফওয়ানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত।

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়াহ বলেন: "জাহম ও তার সমমনা ব্যক্তিরা বলত: নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো বস্তু নন। তার থেকে বর্ণিত হয়েছে যে সে বলেছে: আল্লাহকে এমন কোনো নামে নামকরণ করা যাবে না যা দ্বারা সৃষ্টিকে নামকরণ করা হয়। তাই সে তাঁকে কেবল 'সৃষ্টিকর্তা' ও 'ক্ষমতাবান' নামেই অভিহিত করত, কারণ সে ছিল জাবরিয়াহ পন্থী এবং মনে করত যে বান্দার কোনো ক্ষমতা নেই।"৪

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: "এই কারণেই তারা জাহম থেকে বর্ণনা করেছেন যে সে আল্লাহকে কোনো 'বস্তু' হিসেবে অভিহিত করত না। তারা তার থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, সে আল্লাহকে এমন কোনো নামে ডাকত না যা দিয়ে সৃষ্টিকে ডাকা হয়: যেমন চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা; বরং সে তাঁকে ক্ষমতাবান ও সৃষ্টিকর্তা নামে ডাকত। কারণ তার নিকট বান্দা ক্ষমতাবান নয়, যেহেতু সে ছিল জাবরিয়াহ জাহমিয়্যাহদের প্রধান।"৫

--------------------------------------------

১- হাররাস রচিত শারহুল কাসিদাতিন নূনিইয়াহ ২/১২৬।

২- আস-সাফাদিয়্যাহ ১/৯৮, ৯৯।

৩- আস-সাফাদিয়্যাহ ১/১১৬, ১১৭।

৪- মিনহাজুস সুন্নাহ ২/৫২৬, ৫২৭, সামআনি রচিত আল-আনসাব ২/১৩৩।

৫- দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি ৫/১৮৭, মাজমুউল ফাতাওয়া ৮/৪৬০।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
القول الثالث: إثبات الأسماء مجردة عن الصفات.

وهذا قول المعتزلة ووافقهم عليه ابن حزم الظاهري. وتبع المعتزلة على ذلك الزيدية، والرافضة الإمامية، وبعض الخوارج.

فالمعتزلة يجمعون على تسمية الله بالاسم ونفي الصفة عنه. يقول ابن المرتضى المعتزلي: "فقد أجمعت المعتزلة على أن للعالم مُحدثاً قديماً، قادراً، عالماً، حياًّ لا لمعان"1

وابن حزم وافق المعتزلة في ذلك فهو يرى أن الأسماء الحسنى كالحي، والعليم، والقدير، بمنزلة أسماء الأعلام التي لا تدل على حياة ولا علم، ولا قدرة، وقال لا فرق بين الحي وبين العليم في المعنى أصلاً"2

والمعتزلة لهم في نفيهم لتضمن الأسماء للصفات مسلكان:

المسلك الأول: من جعل الأسماء كالأعلام المحضة المترادفة التي لم توضع لمسماها باعتبار معنى قائم به. فهم بذلك ينظرون إلى هذه الأسماء على أنها أعلام محضة لا تدل على صفة. و (المحضة) الخاصة الخالية من الدلالة على شيء آخر، فهم يقولون: إن العليم والخبير والسميع ونحو ذلك أعلام لله ليست دالة على أوصاف، وهي بالنسبة إلى دلالتها على ذات واحدة هي مترادفة، وذلك مثل تسميتك ذاتاً واحدة (بزيد وعمرو ومحمد وعلي) فهذه الأسماء مترادفة وهي أعلام خالصة لا تدل على صفة لهذه الذات المسماة بها.3

--------------------------------------------

1- كتاب ذكر المعتزلة ص6، شرح الأصول الخمسة ص151. مقالات الإسلاميين ص164-165.

2-الفصل 2/161، شرح الأصفهانية ص76. درء تعارض العقل والنقل 5/249-250.

3- التحفة المهدية شرح الرسالة التدمرية 1/46.
তৃতীয় মত: গুণাবলি বর্জিত কেবল নামসমূহ সাব্যস্ত করা।

এটি মুতাযিলাদের অভিমত এবং তাদের সাথে এ বিষয়ে ইবনে হাযম আল-জাহিরী একমত পোষণ করেছেন। এ বিষয়ে মুতাযিলাদের অনুসরণ করেছে যায়দিয়া, রাফিযি ইমামিয়া এবং কিছু খারেজী।

মুতাযিলারা আল্লাহকে নির্দিষ্ট নামে নামকরণ করার ব্যাপারে এবং তাঁর থেকে গুণাবলি অস্বীকার করার ব্যাপারে একমত। মুতাযিলি ইবনুল মুরতাদা বলেন: "মুতাযিলারা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে যে, জগতের একজন অনাদি সৃষ্টিকর্তা আছেন, যিনি সক্ষম, জ্ঞানী ও জীবিত—তবে কোনো (অতিরিক্ত) অর্থের কারণে নয়।"১

ইবনে হাযম এ বিষয়ে মুতাযিলাদের সাথে একমত হয়েছেন। তিনি মনে করেন যে, আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ—যেমন জীবিত, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান—এগুলো নিছক সংজ্ঞাবাচক নামের স্থলাভিষিক্ত, যা জীবন, জ্ঞান বা সক্ষমতার কোনো গুণের প্রমাণ দেয় না। তিনি বলেছেন, মূল অর্থের দিক থেকে 'জীবিত' এবং 'সর্বজ্ঞ' নাম দুটির মধ্যে আদতেই কোনো পার্থক্য নেই।২

আর আল্লাহর নামসমূহ যে গুণাবলিকেও অন্তর্ভুক্ত করে, তা অস্বীকার করার ক্ষেত্রে মুতাযিলাদের দুটি পন্থা রয়েছে:

প্রথম পন্থা: যারা নামসমূহকে নিছক সমার্থক সংজ্ঞাবাচক নাম হিসেবে গণ্য করে, যা সেই সত্তার মধ্যে বিদ্যমান কোনো গুণের ভিত্তিতে তাঁর জন্য নির্ধারণ করা হয়নি। তারা এই নামগুলোকে নিছক সংজ্ঞাবাচক নাম হিসেবে বিবেচনা করে যা কোনো গুণের প্রতি নির্দেশ করে না। এখানে 'নিছক' বলতে এমন বিশেষ বিষয়কে বোঝানো হয়েছে যা অন্য কোনো কিছুর অর্থের প্রতিফলন থেকে মুক্ত। তারা বলে: সর্বজ্ঞ, সম্যক অবগত, সর্বশ্রোতা এবং এই জাতীয় শব্দগুলো আল্লাহর জন্য কেবল সংজ্ঞাবাচক নাম, যা কোনো গুণের পরিচয় দেয় না। একটি মাত্র সত্তার ওপর নির্দেশিত হওয়ার কারণে এগুলো পরস্পর সমার্থক। উদাহরণস্বরূপ, যেমন আপনি একই ব্যক্তিকে 'যায়দ, আমর, মুহাম্মদ ও আলী' নামে ডাকেন; এই নামগুলো যেমন সমার্থক এবং এগুলো নিছক সংজ্ঞাবাচক নাম যা এই ব্যক্তির কোনো গুণের পরিচয় দেয় না (বরং কেবল ব্যক্তিটিকে চেনায়), আল্লাহর নামগুলোও তাদের নিকট সেরূপ।৩

--------------------------------------------

১- কিতাবু যিকরিল মুতাযিলা, পৃষ্ঠা ৬; শারহুল উসুলিল খামসাহ, পৃষ্ঠা ১৫১; মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন, পৃষ্ঠা ১৬৪-১৬৫।

২- আল-ফাসল ২/১৬১; শারহুল আসফাহানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৭৬; দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি ৫/২৪৯-২৫০।

৩- আত-তুহফাতুল মাহদিয়্যাহ শারহুর রিসালাতিত তাদমুরিয়্যাহ ১/৪৬।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
والمسلك الثاني: من يقول منهم إن كل علم منها مستقل، فالله يسمى عليماً وقديراً، وليست هذه الأسماء مترادفة، ولكن ليس معنى ذلك أن هناك حياة أو قدرة.1 ولذلك يقولون عليم بلا علم، قدير بلا قدرة، سميع بلا سمع بصير بلا بصر.

القول الرابع: إثبات الأسماء الحسنى مع إثبات معاني البعض وتحريف معاني البعض الآخر.

وهذا قول الكلابية والأشاعرة والماتريدية.

فهؤلاء وإن كانوا يوافقون أهل السنة والجماعة في إثبات ألفاظ الأسماء الحسنى لكنهم يخالفونهم في إثبات بعض معاني تلك الأسماء.

فمن المعلوم أن كل اسم من أسماء الله متضمن لصفة. وللكلابية والأشاعرة والماتريدية قول في الصفات يخالف قول أهل السنة والجماعة. فالكلابية وقدماء الأشاعرة ينفون صفات الأفعال الاختيارية وبالتالي لا يثبتون الصفات التي تضمنتها الأسماء إذا كانت من هذا القبيل كالخالق والرزاق ونحوها، على تفصيل سيأتي ذكره عند الحديث عن موقفهم من الصفات.

وأما المتأخرون من الأشاعرة ومعهم الماتريدية، فإنهم لا يثبتون من الصفات سوى سبع صفات هي (العلم، القدرة، الحياة، السمع، البصر، الإرادة، الكلام) ويزيد بعض الماتريدية صفة ثامنة هي (التكوين) . فالاسم عندهم إن دل على ما أثبتوه من الصفات، أثبتوا ما دل عليه من المعنى، وإن كان دالاً على خلاف ما أثبتوه صرفوه عن حقيقته وحرفوا معناه.

--------------------------------------------

1- التحفة المهدية 1/46.
দ্বিতীয় পন্থা: তাদের মধ্যে যারা বলেন যে, এগুলোর প্রতিটি জ্ঞান স্বতন্ত্র। ফলে আল্লাহকে সর্বজ্ঞ (আলিম) ও সর্বশক্তিমান (কাদির) হিসেবে নামকরণ করা হয়, এবং এই নামগুলো সমার্থক নয়; তবে এর অর্থ এই নয় যে সেখানে জীবন বা ক্ষমতা রয়েছে। ১ এই কারণেই তারা বলে: জ্ঞানহীন সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাহীন সর্বশক্তিমান, শ্রবণহীন সর্বশ্রোতা এবং দৃষ্টিহীন সর্বদ্রষ্টা।

চতুর্থ মত: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ (আসমাউল হুসনা) সাব্যস্ত করা, সেই সাথে কিছু নামের অর্থ সাব্যস্ত করা এবং অন্যগুলোর অর্থ বিকৃত করা।

আর এটি কুল্লাবিয়া, আশআরিয়া ও মাতুরিদিয়াদের বক্তব্য।

তারা যদিও আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের শব্দগুলো সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সাথে একমত পোষণ করে, কিন্তু সেই নামগুলোর কিছু অর্থ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতা করে।

এটা সুবিদিত যে, আল্লাহর প্রতিটি নাম একটি গুণের ধারক। আর গুণাবলির (সিফাত) ক্ষেত্রে কুল্লাবিয়া, আশআরিয়া ও মাতুরিদিয়াদের এমন বক্তব্য রয়েছে যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বক্তব্যের পরিপন্থী। কুল্লাবিয়া এবং প্রাচীন আশআরিয়াগণ আল্লাহর ঐচ্ছিক কার্যাবলীর গুণসমূহ অস্বীকার করেন। ফলে তারা সেই নামগুলোর অন্তর্ভুক্ত গুণাবলি সাব্যস্ত করেন না যা এই প্রকারের অন্তর্গত, যেমন: সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা এবং এই জাতীয় নামসমূহ। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ গুণাবলি সম্পর্কে তাদের অবস্থানের আলোচনায় সামনে আসবে।

আর পরবর্তী যুগের আশআরিয়া এবং তাদের সাথে মাতুরিদিয়াগণ সাতটি গুণ ব্যতীত অন্য কোনো গুণ সাব্যস্ত করেন না। সেগুলো হলো: (জ্ঞান, ক্ষমতা, জীবন, শ্রবণ, দৃষ্টি, ইচ্ছা, কথা)। কোনো কোনো মাতুরিদি অষ্টম একটি গুণ বৃদ্ধি করেন, তা হলো (সৃষ্টি করা)। তাদের নিকট কোনো নাম যদি তাদের সাব্যস্তকৃত গুণাবলির ওপর প্রমাণ বহন করে, তবে তারা সেই নামের অর্থ সাব্যস্ত করেন। আর যদি তা তাদের সাব্যস্তকৃত বিষয়ের বিপরীতে প্রমাণ বহন করে, তবে তারা সেটিকে তার প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত করেন এবং এর অর্থ বিকৃত করেন।

--------------------------------------------

১- আত-তুহফাতুল মাহদিয়্যাহ ১/৪৬।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
ومعلوم أنه لم يرد في باب الأسماء من تلك الصفات التي ذكروها إلا خمسة فقط وهي (العليم) و (القدير) و (الحي) و (السميع) و (البصير) فهذه الخمسة يثبتون معانيها وإن كان هناك من يرجع صفتي (السمع) و (البصر) إلى (العلم) ولكن جمهورهم على خلاف ذلك.1

وأما بقية الأسماء التي لا تتفق مع ما أثبتوه من الصفات، فإنهم لا يثبتون ما دلت عليه من المعاني، بل يحرفونها كتحريفهم لمعنى (الرحمة) في اسمه (الرحمن) إلى إرادة الثواب أو إرادة (الإنعام) و (الود) في (الودود) بـ (إرادة إيصال الخير) .2

--------------------------------------------

1- لباب العقول للمكلاتي ص213،214، شرح الأصفهانية ص445، المسايرة لابن الهمام ص67، الماتريدية دراسة وتقويم ص264، الماتريدية وموقفهم من توحيد الأسماء والصفات 2/413، منهج أهل السنة ومنهج الأشاعرة في التوحيد ص409.

2- شرح الأسماء الحسنى للرازي ص287
এটা সুবিদিত যে, তারা যে সকল গুণের কথা উল্লেখ করেছেন, নামসমূহের অধ্যায়ে তার মধ্যে কেবল পাঁচটিই বর্ণিত হয়েছে; সেগুলো হলো: (সর্বজ্ঞ), (সর্বশক্তিমান), (চিরঞ্জীব), (সর্বশ্রোতা) এবং (সর্বদ্রষ্টা)। তারা এই পাঁচটির অর্থ সাব্যস্ত করেন, যদিও কেউ কেউ 'শ্রবণ' ও 'দর্শন' গুণ দুটিকে 'জ্ঞান'-এর দিকে ফিরিয়ে নেন, তবে তাদের অধিকাংশ এর বিপরীত অবস্থানে রয়েছেন।১

আর অবশিষ্ট নামগুলো যা তাদের সাব্যস্তকৃত গুণাবলির সাথে মেলে না, সেগুলোর অর্থ তারা সাব্যস্ত করেন না। বরং তারা সেগুলোর অপব্যাখ্যা করেন; যেমন 'আর-রহমান' নামের মধ্যে বিদ্যমান 'দয়া' গুণের অর্থকে সওয়াব প্রদানের ইচ্ছা বা 'অনুগ্রহ' করার ইচ্ছা এবং 'আল-ওয়াদুদ' নামের ক্ষেত্রে 'ভালোবাসা'-কে 'কল্যাণ পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছা' হিসেবে অপব্যাখ্যা করা।২

--------------------------------------------

১- আল-মাকাল্লাতি রচিত লুবাবুল উকূল, পৃষ্ঠা ২১৩, ২১৪; শারহুল আসফাহানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪৪৫; ইবনুল হুমাম রচিত আল-মুসায়ারাহ, পৃষ্ঠা ৬৭; আল-মাতুরিদিইয়্যাহ: দিরাসাতুন ওয়া তাকভীম, পৃষ্ঠা ২৬৪; আল-মাতুরিদিইয়্যাহ ওয়া মাওকিফুহুম মিন তাওহিদিল আসমা ওয়াস সিফাত ২/৪১৩; মানহাজু আহলিস সুন্নাহ ওয়া মানহাজুল আশায়িরাহ ফিত তাওহিদ, পৃষ্ঠা ৪০৯।

২- রাজি রচিত শারহুল আসমাউল হুসনা, পৃষ্ঠা ২৮৭
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌المطلب الثالث: درجات التعطيل في باب صفات الله تعالى.

القول الأول: نفاة جميع الصفات

وهذا قول الغلاة من المعطلة، ومنهم الجهمية أتباع جهم والفلاسفة سواء كانوا أهل فلسفة محضة كالفارابي أو فلسفة باطنية رافضية إسماعيلية كابن سينا وإخوان الصفا أو فلسفة صوفية اتحادية كابن عربي وابن سبعين. وهذا القول بنفي الصفات هو قول المعتزلة ومن تبعهم كالزيدية والرافضة الإمامية والخوارج الإباضية وكذلك هو قول النجارية والضرارية.

فهؤلاء جميعاً لا يثبتون الصفات لله تعالى، وقد تنوعت أساليب تعطيلهم وطرق إنكارهم لها، ويمكن تصنيفهم إلى صنفين:

1- غلاة المعطلة2- المعتزلة ومن وافقهم.

1- فغلاة المعطلة يمنعون الإثبات بأي حال من الأحوال ولهم في النفي درجات:

الدرجة الأولى: درجة المكذبة النفاة.

وهي التي عليها الجهمية وطائفة من الفلاسفة1 وهو كذلك قول ابن سينا وأمثاله.2.

فهم يصفون الله بالصفات السلبية على وجه التفصيل ولا يثبتون له إلا

--------------------------------------------

1- مجموع الفتاوى 3/7-8.

2- الصفدية 1/299، 300.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার সিফাত বা গুণাবলির ক্ষেত্রে ‘তাতিল’ (গুণাবলি অস্বীকার করা)-এর স্তরসমূহ.

প্রথম মত: সকল সিফাত বা গুণাবলি অস্বীকারকারী

এটি চরমপন্থী মুআত্তিলাদের মত; যাদের অন্তর্ভুক্ত হলো জহমের অনুসারী জাহমিয়া সম্প্রদায় এবং দার্শনিকগণ—তারা চাই আল-ফারাবীর মতো নিছক দর্শনের অনুসারী হোক, কিংবা ইবনে সিনা ও ইখওয়ান আস-সাফা-এর মতো বাতিনি রাফেজি ইসমাইলি দর্শনের অনুসারী হোক, অথবা ইবনুল আরাবি ও ইবনে সাবইনের মতো সুফি ‘ইতিহাদিয়া’ (স্রষ্টা ও সৃষ্টির অভিন্নতা) দর্শনের অনুসারী হোক। সিফাত অস্বীকার করার এই মতটি মুতাজিলা এবং তাদের অনুসারীদেরও মত, যেমন: যায়দিয়া, রাফেজি ইমামিয়া এবং খারেজি ইবাদিয়া। একইভাবে এটি নাজারিয়া ও দিরারিয়া সম্প্রদায়েরও মত।

তারা সকলেই আল্লাহ তাআলার জন্য কোনো সিফাত সাব্যস্ত করেন না। তাদের ‘তাতিল’ করার পদ্ধতি ও অস্বীকার করার পথগুলো নানাবিধ। তাদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা সম্ভব:

১- চরমপন্থী মুআত্তিলা ২- মুতাজিলা এবং যারা তাদের সাথে একমত হয়েছে।

১- চরমপন্থী মুআত্তিলারা যেকোনো অবস্থাতেই (আল্লাহর গুণাবলি) সাব্যস্ত করা থেকে বিরত থাকে এবং অস্বীকারের ক্ষেত্রে তাদের কয়েকটি স্তর রয়েছে:

প্রথম স্তর: মিথ্যারোপকারী ও অস্বীকারকারীদের স্তর।

এটি এমন এক পথ যার ওপর রয়েছে জাহমিয়া এবং দার্শনিকদের একটি গোষ্ঠী ১ এবং একইভাবে এটি ইবনে সিনা ও তার সমমনাদের মত ২।

তারা আল্লাহকে বিস্তারিতভাবে নেতিবাচক গুণাবলিতে বিশেষিত করে এবং তাঁর জন্য কেবল... সাব্যস্ত করে

--------------------------------------------

১- মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/৭-৮।

২- আস-সাফাদিয়্যাহ ১/২৯৯, ৩০০।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وجوداً مطلقاً لا حقيقة له عند التحصيل وإنما يرجع إلى وجود في الأذهان، يمتنع تحققه في الأعيان1 فهؤلاء وصفوه بالسلوب والإضافات دون صفات الإثبات وجعلوه هو الوجود المطلق بشرط الإطلاق، وقد علم بصريح العقل أن هذا لا يكون إلا في الذهن، لا فيما خرج عنه من الموجودات.2

الدرجة الثانية: المتجاهلة الواقفة

الذين يقولون لا نثبت ولا ننفي، وهذه الدرجة تنسب لغلاة المعطلة من القرامطة الباطنية المتفلسفة.3

فهؤلاء هم غلاة الغلاة4 لأنهم يسلبون عنه النقيضين فيقولون: لا موجود، ولا معدوم، ولا حي ولا ميت، ولا عالم ولا جاهل، لأنهم يزعمون أنهم إذا وصفوه بالإثبات شبهوه بالموجودات، وإذا وصفوه بالنفي شبهوه بالمعدومات فسلبوا النقيضين، وهذا ممتنع في بداهة العقول؛ وحرفوا ما أنزل الله من الكتاب وما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم، فوقعوا في شر مما فروا منه، فإنهم شبهوه بالممتنعات إذ سلب النقيضين كجمع النقيضين، كلاهما من الممتنعات.5

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: (فالقرامطة الذين قالوا لا يوصف بأنه حي ولا ميت، ولا عالم ولا جاهل، ولا قادر ولا عاجز، بل قالوا لا يوصف بالإيجاب ولا بالسلب، فلا يقال حي عالم ولا ليس بحي عالم، ولا يقال هو

--------------------------------------------

1- مجموع الفتاوى 3/7، شرح الأصفهانية ص51،52.

2- مجموع الفتاوى 3/8.

3- شرح العقيدة الأصفهانية ص76.

4- مجموع الفتاوى 3/100.

5- مجموع الفتاوى 3/7-8.
একটি পরম অস্তিত্ব যার অনুসন্ধানে কোনো বাস্তব সত্তা নেই, বরং তা কেবল মনের ধারণায় পর্যবসিত হয়, যা বাস্তব জগতে অস্তিত্ব লাভ করা অসম্ভব।১ সুতরাং তারা তাঁকে ইতিবাচক গুণাবলি (সিফাতুল ইসবাত) ছাড়াই কেবল নেতিবাচক ও আপেক্ষিক বৈশিষ্ট্য দ্বারা বর্ণনা করেছে এবং তাঁকে পরম শর্তহীনতার শর্তে 'পরম অস্তিত্ব' হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। অথচ সুস্থ বুদ্ধির দ্বারা এটি সুনিশ্চিতভাবে জানা গেছে যে, এটি কেবল মনের জগতেই সম্ভব, বাস্তব জগতের বিদ্যমান কোনো সত্তার ক্ষেত্রে নয়।২

দ্বিতীয় স্তর: অজ্ঞ স্থগিতকারী সম্প্রদায়

যারা বলে যে, আমরা (আল্লাহর জন্য কোনো কিছু) সাব্যস্তও করি না আবার অস্বীকারও করি না। এই স্তরটি বাতিনিয়া কারামিতা ও দার্শনিক চরমপন্থী নাস্তিবাদীদের (মুয়াত্তিলা) প্রতি সম্পৃক্ত করা হয়।৩

এরাই হলো অতি-চরমপন্থী৪ কারণ তারা তাঁর সত্তা থেকে পরস্পরবিরোধী উভয় বিষয়কেই নাকচ করে দেয়। তারা বলে: তিনি বিদ্যমান নন, আবার অবিদ্যমানও নন; তিনি জীবিত নন, আবার মৃতও নন; তিনি জ্ঞানী নন, আবার মূর্খও নন। কেননা তারা দাবি করে যে, যদি তারা তাঁকে ইতিবাচক কোনো গুণে গুণান্বিত করে তবে তাঁকে বিদ্যমান বস্তুসমূহের সাথে তুলনা করা হবে, আর যদি নেতিবাচক গুণে গুণান্বিত করে তবে তাঁকে অবিদ্যমান বস্তুসমূহের সাথে তুলনা করা হবে। তাই তারা পরস্পরবিরোধী উভয় বিষয়কেই নাকচ করে দিয়েছে, যা সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানেই অসম্ভব। তারা আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তাতে বিকৃতি ঘটিয়েছে। ফলে তারা যে অবস্থা থেকে পলায়ন করতে চেয়েছিল, তার চেয়েও জঘন্য অবস্থায় নিপতিত হয়েছে। কারণ তারা তাঁকে অসম্ভব বিষয়াবলির সাথে তুলনা করেছে; কেননা পরস্পরবিরোধী দুই বিষয়কে নাকচ করা আর দুই বিপরীত বিষয়কে একত্রিত করা—উভয়ই অসম্ভবের অন্তর্ভুক্ত।৫

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: (কারামিতারা—যারা বলেছিল যে আল্লাহকে জীবিত বা মৃত, জ্ঞানী বা মূর্খ, সক্ষম বা অক্ষম কোনোভাবেই বর্ণনা করা যাবে না; বরং তারা বলেছিল যে তাঁকে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনোভাবেই বিশেষিত করা যাবে না। তাই বলা যাবে না যে তিনি 'জীবিত ও জ্ঞানী', আবার বলা যাবে না যে 'তিনি জীবিত ও জ্ঞানী নন'। এমনকি বলা যাবে না যে তিনি

--------------------------------------------

১- মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/৭, শারহুল আসফাহানিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৫১, ৫২।

২- মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/৮।

৩- শারহুল আকিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৭৬।

৪- মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/১০০।

৫- মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/৭-৮।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
عليم قدير ولا يقال ليس بقدير عليم، ولا يقال هو متكلم مريد، ولا يقال ليس بمتكلم مريد، قالوا لأن في الإثبات تشبيهاً بما تثبت له هذه الصفات، وفي النفي تشبيه له بما ينفي عنه هذه الصفات)

الدرجة الثالثة: المتجاهلة اللاأدرية.

الذين يقولون: نحن لا نقول ليس بموجود ولا معدوم ولا حي ولا ميت، فلا ننفي النقيضين، بل نسكت عن هذا وهذا، فنمتنع عن كل من المتناقضين، لا نحكم بهذا ولا بهذا، فلا نقول: ليس بموجود ولا معدوم ولكن لا نقول هو موجود ولا نقول هو معدوم.

ومن الناس من يحكي نحو هذا عن الحلاج، وحقيقة هذا القول هو الجهل البسيط والكفر البسيط، الذي مضمونه الإعراض عن الإقرار بالله ومعرفته وحبه وذكره وعبادته ودعائه.2

الدرجة الرابعة: أهل وحدة الوجود

الذين لا يميزون الخالق بصفات تميزه عن المخلوق، ويقولون بأن وجود الخالق هو وجود المخلوق. فعلى سبيل المثال هم يقولون بأن الله هو المتكلم بكل ما يوجد من الكلام وفي ذلك يقول ابن عربي:

ألا كل قول في الوجود كلامه … سواء علينا نثره ونظامه

يعم به أسماع كل مكون … فمنه إليه بدؤه وختامه3

--------------------------------------------

1- شرح العقيدة الأصفهانية ص76.

2- الصفدية 1/96،98.

3- الفتوحات المكية 4/141 ط: دار صادر، بيروت.
সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান এবং এমনটি বলা যাবে না যে তিনি সর্বশক্তিমান বা সর্বজ্ঞ নন। আবার এও বলা যাবে না যে তিনি কথা বলেন বা ইচ্ছা পোষণ করেন, এবং এমনটিও বলা যাবে না যে তিনি কথা বলেন না বা ইচ্ছা পোষণ করেন না। তারা বলে, কারণ ইতিবাচক কিছু সাব্যস্ত করার মধ্যে ওই সমস্ত সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য তৈরি হয় যাদের জন্য এই গুণাবলি সাব্যস্ত করা হয়; আর নেতিবাচক কিছু বলার মধ্যে ওই সমস্ত জিনিসের সাথে সাদৃশ্য তৈরি হয় যাদের থেকে এই গুণাবলি অস্বীকার করা হয়।

তৃতীয় স্তর: অজ্ঞাতা-অজ্ঞেয়বাদী।

যারা বলে: আমরা বলি না যে তিনি বিদ্যমান নন আবার অবর্তমানও নন, জীবিতও নন আবার মৃতও নন। সুতরাং আমরা দুটি বিপরীত বিষয়কে অস্বীকার করি না, বরং উভয় বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করি। আমরা দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের কোনোটিই করি না, এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দিই না। তাই আমরা বলি না যে তিনি বিদ্যমান নন বা অবর্তমান নন, কিন্তু আমরা এও বলি না যে তিনি বিদ্যমান কিংবা আমরা এও বলি না যে তিনি অবর্তমান।

কিছু লোক হাল্লাজ সম্পর্কে অনুরূপ কথা বর্ণনা করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে এই বক্তব্যের হাকিকত হলো সাধারণ অজ্ঞতা এবং সাধারণ কুফর, যার মূল কথা হলো আল্লাহর স্বীকৃতি প্রদান, তাঁর পরিচয় জানা, তাঁকে ভালোবাসা, তাঁর স্মরণ করা, তাঁর ইবাদত করা এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করা থেকে বিমুখ হওয়া।

চতুর্থ স্তর: ওয়াহদাতুল উজুদ (অস্তিত্বের একত্ববাদ) পন্থী।

যারা সৃষ্টিকর্তাকে এমন কোনো গুণের মাধ্যমে আলাদা করেন না যা তাঁকে সৃষ্টি থেকে পৃথক করে। তারা বলে যে, সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বই হলো সৃষ্টির অস্তিত্ব। উদাহরণস্বরূপ, তারা বলে যে আল্লাহ তাআলাই বিদ্যমান সকল কথার বক্তা। এ প্রসঙ্গে ইবন আরাবি বলেন:

জেনে রেখো, অস্তিত্বে বিদ্যমান প্রতিটি কথাই তাঁর কথা … আমাদের কাছে তা গদ্য হোক কিংবা পদ্য সমান কথা।

তা প্রতিটি অস্তিত্বশীল সত্তার শ্রবণেন্দ্রিয়কে পরিব্যাপ্ত করে … তাঁর নিকট থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর নিকটেই এর সমাপ্তি।

--------------------------------------------

১- শারহুল আকিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৭৬।

২- আস-সাফাদিইয়্যাহ, ১/৯৬, ৯৮।

৩- আল-ফুতুহাতুল মাক্কিইয়্যাহ, ৪/১৪১, প্রকাশনী: দার সাদির, বৈরুত।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فيزعمون أنه هو المتكلم على لسان كل قائل. ولا فرق عندهم بين قول فرعون: {أنا ربُّكم الأعلى} 1 {وما علمت لكم من إله غيري} 2 وبين القول الذي يسمعه موسى {إنني أنا الله لا إله إلا أنا فاعبدني وأقم الصلاة لذكري} 3. بل يقولون: إنه الناطق في كل شيء، فلا يتكلم إلا هو، ولا يسمع إلا هو، حتى قول مسيلمة الكذاب، والدجال، وفرعون، يصرحون بأن أقوالهم هي قوله)

وهذا قول أصحاب وحدة الوجود كابن عربي، وابن سبعين وابن الفارض، والعفيف التلمساني.

وأصل مذهبهم: أن كل واحد من وجود الحق، وثبوت الخلق يساوى الآخر ويفتقر إليه وفي هذا يقول ابن عربي:

فيعبدني وأعبده … ويحمدني وأحمده5

ويقول: إن الحق يتصف بجميع صفات العبد المحدثات، وإن المحدث يتصف بجميع صفات الرب، وإنهما شيء واحد إذ لا فرق في الحقيقة بين الوجود والثبوت6 فهو الموصوف عندهم بجميع صفات النقص والذم والكفر والفواحش والكذب والجهل، كما هو الموصوف عندهم بصفات المجد

--------------------------------------------

1- الآية 24 من سورة النازعات.

2- الآية 28 من سورة القصص.

3- الآية 14 من سورة طه.

4- بغية المرتاد ص349.

5- فصوص الحكم 1/83.

6- بغية المرتاد ص397، 398.
তারা দাবি করে যে, তিনিই প্রত্যেক বক্তার ভাষায় কথা বলেন। তাদের নিকট ফেরাউনের উক্তি: {আমিই তোমাদের সুউচ্চ রব} ১ এবং {আমি তোমাদের জন্য আমি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ আছে বলে জানি না} ২ এর সাথে মুসা যে কথা শুনেছিলেন: {নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই; অতএব আমারই ইবাদত করো এবং আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো} ৩ এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বরং তারা বলে: তিনিই সবকিছুর মধ্য দিয়ে কথা বলেন, ফলে তিনি ছাড়া কেউ কথা বলে না এবং তিনি ছাড়া কেউ শোনে না। এমনকি মুসাইলামা আল-কাযযাব, দাজ্জাল এবং ফেরাউনের কথার ক্ষেত্রেও তারা স্পষ্টভাবে বলে যে, তাদের কথাগুলোই হলো আল্লাহর কথা।

আর এটি হলো ইবনুল আরাবি, ইবনু সাবইন, ইবনুল ফারীয এবং আফিফ আত-তিলিমসানির মতো ওয়াহদাতুল উজুদপন্থীদের বক্তব্য।

তাদের মতবাদের মূল ভিত্তি হলো: সত্যের (আল্লাহর) অস্তিত্ব এবং সৃষ্টির বাস্তবতা—এই দুটির প্রতিটিই অপরটির সমান এবং একে অপরের মুখাপেক্ষী। এই প্রসঙ্গে ইবনুল আরাবি বলেন:

অতঃপর তিনি আমার ইবাদত করেন আর আমি তাঁর ইবাদত করি … এবং তিনি আমার প্রশংসা করেন আর আমি তাঁর প্রশংসা করি ৫

তিনি বলেন: নিশ্চয়ই সত্য (আল্লাহ) বান্দার সমস্ত নবসৃষ্ট গুণের অধিকারী হন, আর নবসৃষ্ট (সৃষ্টি) রবের সমস্ত গুণের অধিকারী হয়। আর তারা উভয়ই এক ও অভিন্ন সত্তা; যেহেতু হাকিকত বা প্রকৃত বিচারে অস্তিত্ব এবং বাস্তবতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই ৬। ফলে তাদের নিকট তিনি (আল্লাহ) সমস্ত দোষ-ত্রুটি, নিন্দা, কুফরি, অশ্লীলতা, মিথ্যা ও মূর্খতার গুণে গুণান্বিত, ঠিক যেভাবে তাদের নিকট তিনি মাহাত্ম্যের গুণাবলিতেও গুণান্বিত।

--------------------------------------------

১- সূরা আন-নাযিআত, আয়াত ২৪।

২- সূরা আল-কাসাস, আয়াত ২৮।

৩- সূরা ত্বহা, আয়াত ১৪।

৪- বুগইয়াতুল মুরতাদ, পৃষ্ঠা ৩৪৯।

৫- ফুসুসুল হিকাম ১/৮৩।

৬- বুগইয়াতুল মুরতাদ, পৃষ্ঠা ৩৯৭, ৩৯৮।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ৩৭)
والكمال فهو العالم والجاهل، والبصير والأعمى، والمؤمن والكافر، والناكح والمنكوح، والصحيح والمريض، والداعي والمجيب، والمتكلم والمستمع، وهو عندهم هوية العالم ليس له حقيقة مباينة للعالم، وقد يقولون لا هو العالم ولا غيره، وقد يقولون: هو العالم أيضا وهو غيره، وأمثال هذه المقالات التي يجمع فيها في المعنى بين النقيضين مع سلب النقيضين.1

وهؤلاء الاتحادية يجمعون بين النفي العام والإثبات العام فعندهم أن ذاته لا يمكن أن ترى بحال وليس له اسم ولا صفة ولا نعت، إذ هو الوجود المطلق الذي لا يتعين، وهو من هذه الجهة لا يرى ولا اسم له.

ويقولون: إنه يظهر في الصور كلها، وهذا عندهم هو الوجود الاسمي لا الذاتي، ومن هذه الجهة فهو يرى في كل شيء، ويتجلى في كل موجود، لكنه لا يمكن أن ترى نفسه، بل تارة يقولون كما يقول ابن عربي: ترى الأشياء فيه، وتارة يقولون يرى هو في الأشياء وهو تجليه في الصور، وتارة يقولون كما يقول ابن سبعين:

"عين ما ترى ذات لا ترىوذات لا ترى عين ما ترى".

وهم مضطربون لأن ما جعلوه هو الذات عدم محض، إذ المطلق لا وجود له في الخارج مطلقاً بلا ريب، لم يبق إلا ما سموه مظاهر ومجالي، فيكون الخالق عين المخلوقات لا سواها، وهم معترفون بالحيرة والتناقض مع ما هم فيه من التعطيل والجحود.2

--------------------------------------------

1- بغية المرتاد ص408.

2- بغية المرتاد ص473.
...এবং পূর্ণতা; তিনিই জ্ঞানী ও অজ্ঞ, দৃষ্টিবান ও অন্ধ, মুমিন ও কাফির, বিবাহকারী ও বিবাহিতা, সুস্থ ও অসুস্থ, আহ্বানকারী ও উত্তরদাতা, এবং বক্তা ও শ্রোতা। তাদের নিকট তিনি হলেন জগতের মূল সত্তা, জগতের থেকে পৃথক তাঁর কোনো বাস্তবতা নেই। তারা কখনো বলে: তিনি জগতও নন, আবার জগত ব্যতীত অন্য কিছুও নন। আবার কখনো বলে: তিনি জগতও বটে, আবার জগত ছাড়াও অন্য কিছু। এই জাতীয় বক্তব্যগুলোর মাধ্যমে তারা অর্থের দিক থেকে দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়কে যেমন একত্র করে, তেমনি আবার উভয়কেই নাকচ করে দেয়।১

আর এই ইত্তিহাদিয়া গোষ্ঠী সাধারণ নেতিবাচকতা ও সাধারণ ইতিবাচকতার সমন্বয় ঘটায়। তাদের মতে, কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর সত্তাকে দেখা সম্ভব নয় এবং তাঁর কোনো নাম, গুণ বা বৈশিষ্ট্য নেই। কারণ তিনি হচ্ছেন এমন এক পরম অস্তিত্ব যাকে নির্দিষ্ট করা যায় না; আর এই দিক থেকে তাঁকে দেখা সম্ভব নয় এবং তাঁর কোনো নামও নেই।

তারা বলে: তিনি সকল আকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করেন, আর তাদের নিকট এটি হলো নামীয় অস্তিত্ব, সত্তাগত অস্তিত্ব নয়। এই দিক থেকে প্রতিটি বস্তুর মধ্যেই তিনি দৃশ্যমান হন এবং প্রতিটি বিদ্যমান সত্তায় তিনি প্রতিফলিত হন, কিন্তু তাঁর নিজ সত্তাকে দেখা সম্ভব নয়। বরং তারা কখনো ইবনুল আরাবীর মতো বলে থাকে: তাঁর মধ্যেই বস্তুসমূহকে দেখা যায়। আবার কখনো বলে: বস্তুসমূহের মধ্যেই তাঁকে দেখা যায় এবং এটিই হলো বিভিন্ন অবয়বে তাঁর আত্মপ্রকাশ। আবার কখনো তারা ইবনে সাবঈনের মতো বলে থাকে:

"তুমি যা দেখছো তা-ই হলো সেই সত্তা যাকে দেখা যায় না, আর যে সত্তাকে দেখা যায় না তা-ই হলো যা তুমি দেখছো।"

তারা বিভ্রান্তিতে লিপ্ত, কারণ তারা যেটিকে 'সত্তা' হিসেবে গণ্য করেছে তা নিছক শূন্যতা ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা সন্দেহাতীতভাবে পরম অস্তিত্বের বাহ্যিক কোনো সত্তা নেই। ফলে তাদের পরিভাষায় যাকে তারা প্রকাশস্থল বা প্রতিফলনস্থল বলে, তা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। এমতাবস্থায় স্রষ্টা আর সৃষ্টি এক ও অভিন্ন হয়ে যায়, সৃষ্টি ব্যতীত স্রষ্টার আলাদা কোনো অস্তিত্ব থাকে না। তারা একদিকে যেমন বিভ্রান্তি ও বৈপরীত্যের কথা স্বীকার করে, তেমনি অন্যদিকে তারা আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যানের মাঝে নিমজ্জিত।২

--------------------------------------------

১- বুগইয়াতুল মুরতাদ, পৃষ্ঠা ৪০৮।

২- বুগইয়াতুল মুরতাদ, পৃষ্ঠা ৪৭৩।
(খণ্ড: ১) মাকালাতুত তাতীল ওয়াল জাদ বিন দিরহাম (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وفي هذا يقول ابن عربي:

فإن قلت بالتنزيه كنت مقيداً … وإن قلت بالتشبيه كنت محدداً

وإن قلت بالأمرين كنت مسدداً … وكنت إماماً في المعارف سيداً

فمن قال بالإشفاع كان مشركاً … ومن قال بالإفراد كان موحداً

فإياك والتشبيه إن كنت ثانياً … وإياك والتنزيه إن كنت مفرداً

فما أنت هو بل أنت هو وتراه … في عين الأمور مسرحا ومقيداً1

خلاصة أقوال غلاة المعطلة

كلام غلاة المعطلة المتقدم ذكره يدور على أحد أصلين:

1- الأصل الأول:

النفي والتعطيل الذي يقتضي عدمه، بأن جعلوا الحق لا وجود له، ولا حقيقة له في الخارج أصلاً وإنما هو أمر مطلق في الأذهان. وهذا الذي عليه المكذبة النفاة، والمتجاهلة الواقفة، والمتجاهلة اللاأدرية.

2- الأصل الثاني:

أن يجعلوا الحق عين وجود المخلوقات، فلا يكون للمخلوقات خالق غيرها أصلاً، ولا يكون رب كل شيء ولا مليكه. وهذا الذي عليه حال أهل وحدة الوجود الاتحادية في أحد حاليهم فهذا حقيقة قول القوم وإن كان بعضهم لا يشعر بذلك.

ولذلك كان الغلاة من القرامطة والباطنية والفلاسفة والاتحادية نسخة للجهمية الذين تكلم فيهم السلف والأئمة، مع كون أولئك كانوا أقرب إلى

--------------------------------------------

1- بغية المرتاد ص527.
আর এ বিষয়ে ইবনুল আরাবী বলেন:

তুমি যদি পবিত্রতা (তানযীহ) বর্ণনা করো তবে তুমি সীমাবদ্ধ করলে … আর যদি সাদৃশ্য (তাশবীহ) প্রদান করো তবে তুমি পরিসীমিত করলে

আর যদি উভয় কথা বলো তবে তুমি সঠিক পথপ্রাপ্ত হলে … এবং মারেফাতের ইমাম ও নেতা হলে

যে ব্যক্তি দ্বৈততার কথা বলে সে মুশরিক … আর যে একত্বের কথা বলে সে মুওয়াহহিদ (একত্ববাদী)

সাদৃশ্যারোপ থেকে বেঁচে থেকো যদি তুমি দ্বিতীয় হও … আর পবিত্রতা ঘোষণা থেকে বেঁচে থেকো যদি তুমি একক হও

তুমি তিনি নও বরং তুমিই তিনি এবং তুমি তাঁকে দেখতে পাও … বিষয়ের মূল তত্ত্বে মুক্ত ও সীমাবদ্ধ অবস্থায়১

চরমপন্থী মুআত্তিলাদের বক্তব্যের সারাংশ

চরমপন্থী মুআত্তিলাদের পূর্বে উল্লেখিত বক্তব্যসমূহ দুটি মূলনীতির ওপর আবর্তিত হয়:

১- প্রথম মূলনীতি:

অস্বীকার ও নিষ্ক্রিয়করণ (তা'তীল) যা তাঁর অনস্তিত্বকে আবশ্যক করে তোলে, এভাবে যে তারা সত্যকে (আল্লাহকে) অস্তিত্বহীন সাব্যস্ত করেছে এবং বাহ্যিক জগতে তাঁর কোনো বাস্তবতা নেই; বরং তিনি কেবল মনের কল্পনাপ্রসূত একটি বিমূর্ত বিষয়। এটিই মিথ্যা প্রতিপন্নকারী অস্বীকারকারী, সত্যবিমুখ দ্বিধান্বিত এবং অজ্ঞেয়বাদীদের পথ।

২- দ্বিতীয় মূলনীতি:

তারা সত্যকে (আল্লাহকে) সৃষ্টির অস্তিত্বের হুবহু সত্তা বানিয়ে ফেলে। ফলে সৃষ্টিজগতের জন্য নিজেদের ছাড়া অন্য কোনো স্রষ্টা থাকে না এবং তিনি সবকিছুর রব ও মালিক হিসেবে থাকেন না। এটিই ওয়াহদাতুল উজুদ পন্থী ইত্তিহাদিয়াদের অবস্থা তাদের দুই অবস্থার একটিতে। মূলত এটিই এই গোষ্ঠীর বক্তব্যের হাকীকত, যদিও তাদের কেউ কেউ তা উপলব্ধি করতে পারে না।

এ কারণেই কারামিতা, বাতিনিয়া, দার্শনিক এবং ইত্তিহাদিয়াদের চরমপন্থীরা জাহমিয়াদেরই সংস্করণ, যাদের ব্যাপারে সালাফ এবং ইমামগণ সমালোচনা করেছেন; যদিও তারা এর অধিকতর নিকটবর্তী ছিল—

--------------------------------------------

১- বুগইয়াতুল মুরতাদ, পৃষ্ঠা ৫২৭।