(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: -)
معطية الأمان من حنث الأيمان   (ابن العماد الحنبلي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: معطية الأمان من حنث الأيمان

المؤلف: عبد الحي بن أحمد بن محمد ابن العماد العَكري الحنبلي، أبو الفلاح (ت 1089هـ)

المحقق: عبد الكريم بن صنيتان العمري

الناشر: المكتبة العصرية الذهبية، جدة، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1416هـ/1996م

عدد الصفحات: 329

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মু’তিয়াতুল আমান মিন হানসিল আইমান   (ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি)

বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল (আইনতত্ত্বীয় বিষয়াবলী)


বই: মু’তিয়াতুল আমান মিন হানসিল আইমান

লেখক: আব্দুল হাই বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ ইবনুল ইমাদ আল-আকারি আল-হাম্বলি, আবু আল-ফালাহ (মৃত্যু ১০৮৯ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুল কারিম বিন সানিতান আল-উমারি

প্রকাশক: আল-মাকতাবাহ আল-আসরিয়্যাহ আদ-দাহাবিয়্যাহ, জেদ্দা, সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হিজরি/১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

…

معطية الأمان من حنث الأيمان

تأليف العلامة أبي الفلاح عبد الحي بن أحمد ابن العماد الحنبلي المتوفى سنة 1089هـ

حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه أ. د/ عبد الكريم بن صنيتان العمري الأستاذ بكلية الشريعة بالجامعة الإسلامي بالمدينة المنورة

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن سيدنا ونبينا محمدا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وأتباعه بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليما كثيرا.

أما بعد: فإن مذهب الإمام أحمد – رحمه الله تعالى – يعتبر من أكثر المذاهب الفقهية التي خدمت في مجال التأليف والتصنيف، فلقد اعتنى الحنابلة بمذهبهم عناية فائقة، وأولوه اهتماما خاصا وفريدا في هذا الشأن، ابتداء من تلاميذ الإمام الذين دونوا عنه كثيرا من المسائل الفقهية التي أخذوها عنه مباشرة، فأفردوها بمصنفات مستقلة عرفت بـ (المسائل) ، حتى وصلت إلينا مهذبة منقحة، كمسائل ولديه عبد الله وصالح، ومسائل أبي داود، وابن هانئ وغيرهم. ثم دون المجتهدون في المذهب – بعد ذلك – مصنفات أخرى مستقلة على طريقة الفقهاء، شملت جميع أبواب الفقه، وذلك بذكر أقوال الإمام في المسألة، ونقل الروايات المتعددة عنه، وذكر الصحيح المعتمد منها، مع النص على أقوال مجتهدي المذهب في بقية المسائل الأخرى التي لم ينقل فيها عن الإمام قول.

فكان نتيجة لذلك أن دونت في المذهب المصنفات المطولة والمختصرة على اختلاف طريقتها، فمنها ما اقتصر فيه مصنفوه على ذكر الأقوال وأدلتها في المذهب فقط، ومنها ما شمل غيره من المذاهب الفقهية الأخرى، مع الإشارة إلى أقوال الصحابة والتابعين وغيرهم من الفقهاء المبرزين.
‌ভূমিকা

…

মু’তিয়াতুল আমান মিন হানসিল আইমান

আল্লামা আবুল ফালাহ আব্দুল হাই ইবন আহমদ ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী (মৃত্যু ১০৮৯ হিজরি) কর্তৃক রচিত

এটি সম্পাদনা করেছেন, এর উপর টীকা প্রদান করেছেন এবং এর হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج) করেছেন প্রফেসর ড. আব্দুল কারিম বিন সুনায়তান আল-উমারি, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের অধ্যাপক

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের সকলের উপর অসংখ্য দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর: ইমাম আহমদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাজহাবকে এমন একটি ফিকহি মাজহাব হিসেবে গণ্য করা হয়, যার স্বপক্ষে গ্রন্থ রচনা ও সংকলনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক খেদমত করা হয়েছে। হাম্বলীগণ তাঁদের মাজহাবের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন এবং এ বিষয়ে তাঁরা বিশেষ ও অনন্য গুরুত্বারোপ করেছেন। এর সূচনা হয়েছিল ইমামের সেই সকল ছাত্রদের মাধ্যমে, যারা তাঁর কাছ থেকে সরাসরি প্রাপ্ত অসংখ্য ফিকহি মাসায়েল লিপিবদ্ধ করেছিলেন এবং সেগুলোকে স্বতন্ত্র সংকলন হিসেবে সাজিয়েছিলেন যা ‘আল-মাসায়েল’ নামে পরিচিত। শেষ পর্যন্ত তা আমাদের কাছে সুবিন্যস্ত ও পরিমার্জিত আকারে পৌঁছেছে, যেমন তাঁর দুই পুত্র আব্দুল্লাহ ও সালেহ-এর মাসায়েল, এবং আবু দাউদ, ইবন হানি ও অন্যান্যদের মাসায়েল। এরপর মাজহাবের মুজতাহিদ (مجتهدون) ইমামগণ ফকিহদের পদ্ধতিতে অন্যান্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেন, যা ফিকহ শাস্ত্রের সকল অধ্যায়কে শামিল করে। সেখানে কোনো মাসআলায় ইমামের বক্তব্য উল্লেখ করা হতো, তাঁর থেকে বর্ণিত বিভিন্ন বর্ণনা (روايات) উদ্ধৃত করা হতো এবং সেগুলোর মধ্য থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) ও নির্ভরযোগ্য (معتمد) বর্ণনাটি চিহ্নিত করা হতো। পাশাপাশি মাজহাবের অন্যান্য মাসায়েল যেগুলোতে ইমাম থেকে কোনো বক্তব্য বর্ণিত হয়নি, সেগুলোতে মাজহাবের মুজতাহিদদের (مجتهدون) বক্তব্যও উল্লেখ করা হতো।

এরই ফলশ্রুতিতে এই মাজহাবে বিভিন্ন পদ্ধতির বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত গ্রন্থাদি সংকলিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু এমন ছিল যেখানে গ্রন্থকারগণ শুধুমাত্র মাজহাবের বক্তব্য এবং সেগুলোর দলিল বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন। আবার কিছু গ্রন্থ এমন ছিল যা অন্যান্য ফিকহি মাজহাবকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে, সাথে সাথে সাহাবী, তাবিঈ এবং অন্যান্য প্রথিতব্যশা ফকিহদের বক্তব্যের প্রতিও ইঙ্গিত প্রদান করেছে।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ৬)
فكثرت المصنفات في مذهب الحنابلة وتفاوتت بين الاختصار والتوسع ابتداء من زمن الإمام أحمد – رحمه الله – إلى يومنا هذا.

واشتهرت مصنفاتهم ونالت قصب السبق، واحتلت مكانة مرموقة بين كتب المذاهب الأخرى كمؤلفات ابن قدامة رحمه الله تعالى، ومؤلفات شيخ الإسلام ابن تيمية، وتلميذه ابن القيم رحمهما الله تعالى.

لذلك اهتم علماء الحنابلة بمؤلفات متقدميهم، وعملوا على نشرها وإظهارها، وتقديمها للقارئ للاستفادة منها، والاعتماد عليها في معرفة أقوال الإمام، والنظر في آراء مجتهدي المذهب في كثير من المسائل التي يحتاج إليها الباحث.

وكان من بين متأخري فقهاء الحنابلة الذين أسهموا إسهاما بارزا في تدوين فقه الإمام أحمد – رحمه الله تعالى – الفقيه والمؤرخ الشهير عبد الحي بن أحمد بن محمد ابن العماد الحنبلي المتوفى سنة (1089هـ) ، والذي اشتهر من خلال كتابه (شذرات الذهب) .

حيث صنف كتابا خاصا في مسائل الأيمان والطلاق، دون فيه أهم المسائل الفقهية في هذين البابين، وحررها على مذهب الإمام أحمد رحمه الله تعالى، وهو كتابه هذا الذي أقدمه إليك أيها القارئ الكريم، وعنوانه:

[معطية الأمان من حنث الأيمان] ، ولم يقتصر فيه ابن العماد – رحمه الله – على ذكر مذهب الحنابلة فقط، بل أورد فيه أقوال الأئمة الثلاثة الآخرين، مع ذكر الأدلة في غالب المسائل التي دونها في كتابه هذا، وعرج على ذكر أقوال الصحابة والتابعين وغيرهم من الفقهاء المشهورين.

وهو كتاب جامع لأهم المسائل الفقهية، والفرعيات الجزئية في كتابي الأيمان والطلاق، حرره ابن العماد بأسلوب سهل، وعبارات جزلة دقيقة، يسهل على
হাম্বলি মাযহাবে গ্রন্থ রচনার প্রাচুর্য দেখা যায় এবং ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এগুলোর পরিধি সংক্ষিপ্তকরণ ও বিস্তারিত বর্ণনার মধ্যে বৈচিত্র্যময়।

তাঁদের গ্রন্থগুলো খ্যাতি অর্জন করেছে এবং শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে পৌঁছেছে। অন্যান্য মাযহাবের গ্রন্থাবলির মাঝেও এগুলো এক মর্যাদাপূর্ণ স্থান দখল করে আছে; যেমন ইবনে কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর রচনাবলি এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ও তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর রচনাবলি।

এ কারণেই হাম্বলি আলেমগণ তাঁদের পূর্বসূরিদের রচনাবলির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। তাঁরা এগুলো প্রচার, প্রকাশ এবং পাঠকদের উপকারের জন্য পেশ করার লক্ষ্যে কাজ করেছেন, যাতে ইমামের বক্তব্যসমূহ জানা যায় এবং গবেষকদের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক মাসয়ালায় মাযহাবের মুজতাহিদ (مجتهدين)-দের মতামতের ওপর নির্ভর করা সম্ভব হয়।

হাম্বলি মাযহাবের পরবর্তী প্রজন্মের (متأخرين) ফকিহদের মধ্যে, যাঁরা ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ফিকহ সংকলনে অসামান্য অবদান রেখেছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন প্রখ্যাত ফকিহ ও ঐতিহাসিক আব্দুল হাই বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি (মৃত্যু: ১০৮৯ হিজরি), যিনি তাঁর 'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থের মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন।

তিনি শপথ ও তালাক সংক্রান্ত মাসয়ালার ওপর একটি বিশেষ গ্রন্থ রচনা করেছেন। এতে তিনি এই দুই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি মাসয়ালাসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন এবং ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব অনুযায়ী তা সুবিন্যস্ত করেছেন। হে সম্মানিত পাঠক, এটিই সেই গ্রন্থ যা আমি আপনার সামনে পেশ করছি, যার শিরোনাম:

[মুতিয়াতুল আমান মিন হুনসিল আইমান]। ইবনুল ইমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) এতে কেবল হাম্বলি মাযহাবের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং এতে অন্য তিনজন ইমামের মতামতও উল্লেখ করেছেন। সেই সঙ্গে তাঁর গ্রন্থে লিপিবদ্ধ অধিকাংশ মাসয়ালার ক্ষেত্রে তিনি দলিল (أدلة) উপস্থাপন করেছেন এবং সাহাবী, তাবিঈ (تابعين) ও অন্যান্য প্রখ্যাত ফকিহদের বক্তব্যও আলোচনা করেছেন।

এটি শপথ ও তালাক অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি মাসয়ালা ও খুঁটিনাটি শাখা-প্রশাখার (فرعيات جزئية) একটি সংকলিত গ্রন্থ। ইবনুল ইমাদ এটি অত্যন্ত সহজ শৈলী এবং সাবলীল ও নির্ভুল শব্দচেনে সুবিন্যস্ত করেছেন, যা সহজ করে...
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ৭)
القارئ فهمها، ويجد فيه الباحث بغيته من المسائل المتعلقة بهذين البابين.

لذا أحببت أن أسهم إسهاما متواضعا في إخراج هذا الكتاب إلى حيز الوجود، ليستفيد منه طلاب العلم، وليكون إضافة جديدة ونافعة إلى قائمة مصادر كتب الفقه الحنبلي التي تزخر بها المكتبة الإسلامية.

والله أسأل أن يجعل هذا العمل خالصا لوجهه الكريم، وأن يرزقنا حسن النية في القول والعمل، وأن لا يؤاخذنا بزلات اللسان، وسقطات الكلام، وأن يوفقنا لما فيه الخير والفلاح في الدنيا والآخرة، إنه ولي ذلك والقادر عليه وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

وكتبه:

أفقر العباد إلى الملك الجواد

أبو وائل: عبد الكريم بن صنيتان العمري

أستاذ بكلية الشريعة بالجامعة الإسلامية

بالمدينة المنورة
পাঠকের পক্ষে এটি অনুধাবন করা সহজ হবে এবং গবেষকগণ এই দুটি অধ্যায় সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ থেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য খুঁজে পাবেন।

তাই আমি এই গ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি বিনম্র অবদান রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছি, যাতে ইলম অন্বেষণকারীগণ এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন এবং এটি ইসলামি গ্রন্থাগারসমূহে বিদ্যমান হাম্বলী ফিকহের উৎসগ্রন্থসমূহের তালিকায় একটি নতুন ও উপকারী সংযোজন হতে পারে।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন, আমাদের কথা ও কাজে উত্তম নিয়ত দান করেন, জিহ্বার পদস্খলন ও বাক্যের ভুলত্রুটির জন্য আমাদের পাকড়াও না করেন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে যা কিছু কল্যাণ ও সাফল্যের কারণ হয়, আমাদের সেটির তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

এটি লিখেছেন:

মহান দাতা প্রতিপালকের নিকট সর্বাপেক্ষা মুখাপেক্ষী বান্দা

আবু ওয়ায়েল: আব্দুল কারীম বিন সানীতান আল-উমারি

প্রফেসর, শরীয়াহ অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

মদিনা মুনাওয়ারাহ
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ৮)
اسمه ونسبه: هو العالم، الأديب، المؤرخ، الفقيه، أبو الفلاح عبد الحي بن أحمد بن محمد ابن العماد، الدمشقي، العكري1، الحنبلي.2

ولادته ونشأته العلمية:

ولد المصنف – ابن العماد الحنبلي – بمدينة دمشق، يوم الأربعاء، الثامن من شهر رجب سنة اثنتين وثلاثين وألف من الهجرة النبوية.3

وكانت دمشق – إذ ذاك – تزخر بأفذاذ العلماء، وكبار المشايخ، الذين كان لهم نشاط كبير في نشر العلوم والمعارف، وذلك بإقامة الحلقات الدراسية في المساجد، والمدارس التي انتشرت بكثرة في تلك الفترة.

فنشأ المصنف وترعرع بها، وأولع بطلب العلم منذ صغره، فابتدأ يحفظ القرآن الكريم، ثم شمر عن ساعد الجد والاجتهاد، وانخرط في تلك المدارس، فلازم كبار علماء دمشق واستفاد منهم، وقرأ عليهم الفقه وغيره.4

ولما نبغ وارتوى عوده، أجازه كبار علماء دمشق، ثم واصل مسيرته العلمية، فرحل إلى القاهرة5، وأقام بها، وأخذ عن أبرز مشايخها، ولما رأى في نفسه

--------------------------------------------

1 في النعت الأكمل: (العكري) بضم العين، وقال الزركلي: وفي التاج ما يؤخذ منه احتمال ضبط (العكري) هنا، بفتح الكاف مخففة أو مع التشديد، إلا أن (بيت العكر) معروفون في دمشق إلى اليوم: بفتح وسكون الكاف.

وانظر: النعت الأكمل: 240، تاج العروس: 13/121، الأعلام: 3/290.

2 خلاصة الأثر: 2/340، النعت الأكمل: 240، السحب الوابلة: 192.

3 المصادر السابقة.

4 المصادر السابقة.

5 خلاصة الأثر: 2/340.
নাম ও বংশপরিচয়: তিনি হলেন আলিম, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক, ফকিহ (فقيه), আবু আল-ফালাহ আবদুল হাই বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ ইবনুল ইমাদ, আদ-দিমাশকি, আল-আকরি, আল-হাম্বলি। ১

জন্ম ও শিক্ষা জীবন:

গ্রন্থকার – ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি – হিজরি ১০৩২ সালের ৮ই রজব, বুধবার দামেস্ক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ৩

তৎকালীন সময়ে দামেস্ক ছিল অনন্য সাধারণ আলিম ও প্রথিতযশা মাশায়েখদের পদচারণায় মুখরিত, যারা জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রসারে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তাঁরা সে সময় বিপুল সংখ্যায় গড়ে ওঠা মসজিদ ও মাদরাসাগুলোতে শিক্ষামূলক মজলিস বা হালকাহ (حلقة) পরিচালনার মাধ্যমে এই কাজ সম্পাদন করতেন।

গ্রন্থকার সেখানেই বেড়ে ওঠেন এবং শৈশব থেকেই ইলম অন্বেষণে অনুরাগী হন। তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করার মাধ্যমে শিক্ষা জীবন শুরু করেন, অতঃপর পূর্ণ উদ্যম ও প্রচেষ্টার সাথে সেই মাদরাসাগুলোতে যুক্ত হন। তিনি দামেস্কের বড় বড় আলিমদের সান্নিধ্যে অবস্থান করেন এবং তাঁদের থেকে উপকৃত হন। তিনি তাঁদের নিকট ফিকহ (فقه) ও অন্যান্য শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। ৪

যখন তিনি পারদর্শী হয়ে উঠলেন এবং তাঁর ইলমি ভিত্তি সুদৃঢ় হলো, তখন দামেস্কের শীর্ষস্থানীয় আলিমগণ তাঁকে ইজাজত (إجازة) প্রদান করেন। এরপর তিনি তাঁর ইলমি সফর অব্যাহত রেখে কায়রো পাড়ি জমান এবং সেখানে অবস্থান করেন। তিনি সেখানকার বিশিষ্ট মাশায়েখদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। যখন তিনি নিজের মধ্যে উপলব্ধি করলেন...

--------------------------------------------

১ আন-নাতুল আকমাল গ্রন্থে আছে: (আল-আকরি) ‘আইন’ বর্ণে যম্মাহ (পেশ) যোগে। আয-যিরিকলি বলেন: তাজুল আরুস গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে এখানে (আল-আকরি) শব্দটির ‘কাফ’ বর্ণে ফাতহা (যবর) সহ লঘু বা তাশদিদযুক্ত উচ্চারণের সম্ভাবনা পাওয়া যায়। তবে ‘বায়তুল আকর’ পরিবারটি আজ পর্যন্ত দামেস্কে ‘কাফ’ বর্ণে ফাতহা ও সুকুনসহ পরিচিত।

আরও দেখুন: আন-নাতুল আকমাল: ২৪০, তাজুল আরুস: ১৩/১২১, আল-আলাম: ৩/২৯০।

২ খুলাসাতুল আসার: ২/৩৪০, আন-নাতুল আকমাল: ২৪০, আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ: ১৯২।

৩ পূর্বোক্ত উৎসসমূহ।

৪ পূর্বোক্ত উৎসসমূহ।

৫ খুলাসাতুল আসার: ২/৩৪০।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ৯)
القدرة على الجلوس مجالس العلماء، وإمكان بثه للعلم ونشره له، بدأ في ذلك، فأنشأ لنفسه حلقات علمية درس فيها أنواع العلوم من فقه، ونحو، وصرف، وغير ذلك، فعمد إليه الطلبة من كل مكان، ولازموه، واستفادوا منه، وكان لا يمل ولا يفتر من المذاكرة والاشتغال بالتدريس والتعليم.

وبالإضافة إلى انشغاله بالتدريس، كان يقوم بنسخ الكثير من الكتب العلمية المفيدة بخطه، الذي وصفه معاصروه بأنه كان خطا جميلا بديعا.

يقول عنه تلميذه المحبي:1

"وكتب الكثير بخطه الحسن المضبوط، وكان خطه حسنا بين الضبط حلو الأسلوب والتناسب."

وكان المصنف – أيضا – من الأدباء البارزين في ذلك الوقت، وكان يميل إلى نظم الشعر، ونسب إليه بعض الأبيات.2

وبالجملة فقد كان يتمتع بذاكرة عجيبة – كما وصفه معاصروه – وفكر وقاد، وكان شخصية علمية شهيرة، واستطاع – بما وهبه الله من ذكاء – أن يظهر نفسه في ذلك الوقت، وأن يكون من الأعلام البارزين الموصوفين بالذكاء والفطنة، والقدرة الفائقة على التحرير والتصنيف والكتابة، ويتضح ذلك كله من خلال قراءة مصنفاته وآثاره العلمية.

شيوخه:

1- أحمد بن أحمد بن سلامة القليوبي، الشافعي، أشهر فقهاء الشافعية في القرن الحادي عشر، كان عارفا بالميقات، والحساب، والطب، وله

--------------------------------------------

1 خلاصة الأثر: 2/340.

2 المصدر السابق، والنعت الأكمل: 242.
আলেমদের মজলিসে বসার সামর্থ্য এবং ইলম প্রচার ও প্রসারের সক্ষমতা অর্জিত হওয়ার পর তিনি তা শুরু করেন। তিনি নিজের জন্য ইলমি হালকাসমূহ (পাঠচক্র) প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে তিনি ফিকহ (فقه), নাহু, সরফ ও অন্যান্য বিভিন্ন শাস্ত্রের পাঠ দান করতেন। ফলে সব জায়গা থেকে ছাত্ররা তাঁর কাছে আসতে শুরু করে এবং তারা তাঁর সান্নিধ্য গ্রহণ করে তাঁর থেকে উপকৃত হয়। তিনি মুজাকারা (مذاكرة) এবং পাঠদান ও শিক্ষাদানের কাজে কখনও ক্লান্তি বা শিথিলতা বোধ করতেন না।

পাঠদানে ব্যস্ত থাকার পাশাপাশি তিনি নিজ হাতে অনেক উপকারী ইলমি কিতাব অনুলিপি করতেন। তাঁর সমসাময়িকরা তাঁর হস্তলিপিকে অত্যন্ত সুন্দর ও চমৎকার বলে অভিহিত করেছেন।

তাঁর ছাত্র আল-মুহিব্বী তাঁর সম্পর্কে বলেন:১

"তিনি তাঁর সুন্দর ও নির্ভুল (ضبط) হস্তাক্ষরে অনেক কিছু লিখেছেন। তাঁর হস্তলিপি নির্ভুলতার (ضبط) সাথে অত্যন্ত সুন্দর, চমৎকার শৈলী ও সুসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।"

গ্রন্থকার সেই সময়ের একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিকও ছিলেন এবং তিনি কাব্যচর্চার প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তাঁর প্রতি কিছু কবিতা বা পঙ্ক্তি সম্বন্ধ করা হয়।২

সংক্ষেপে বলতে গেলে, তিনি এক বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন—যেমনটি তাঁর সমসাময়িকরা বর্ণনা করেছেন—এবং প্রখর চিন্তাশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি একজন প্রসিদ্ধ ইলমি ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং আল্লাহ প্রদত্ত মেধার মাধ্যমে সেই সময়ে নিজেকে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি প্রখর বুদ্ধি ও বিচক্ষণতায় ভূষিত এবং সম্পাদনা, গ্রন্থরচনা ও লিখনে অনন্য দক্ষতার অধিকারী বরেণ্য মনীষীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পেরেছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলী ও জ্ঞানগর্ভ নিদর্শনসমূহ পাঠ করলে এ সবকিছুই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তাঁর উস্তাদগণ:

১- আহমদ বিন আহমদ বিন সালামাহ আল-কালিউবি, আশ-শাফেয়ি; তিনি একাদশ শতাব্দীর শাফেয়ি ফকিহদের (فقهاء) মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি মিকাত (সময় নির্ধারণ শাস্ত্র), গণিত এবং চিকিৎসা শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং তাঁর ছিল...

--------------------------------------------

১ খুলাসাতুল আসার: ২/৩৪০।

২ পূর্বোক্ত উৎস, এবং আন-নাতুল আকমাল: ২৪২।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ১০)
العديد من المصنفات، منها (مناسك الحج – خ) 1، و (الهداية من الضلالة في معرفة الوقت والقبلة من غير آلة – ط) ، (التذكرة في الطب) ، (النبذة اللطيفة في بيان مقاصد الحجاز ومعالمه الشريفة) وغير ذلك، مات سنة (1069هـ) وقيل غير ذلك.2

2- أيوب بن أحمد بن أيوب الحنفي، الخلوتي، الصالحي، ولد بدمشق سنة (994هـ) واشتغل بأنواع العلوم. ومات بدمشق سنة (1071هـ)

3- رجب بن حسين بن علوان الحموي، الشافعي، كان متمكنا في العلوم الرياضية كالحساب والفلك، ماهرا بالفرائض، مات بدمشق سنة (1087هـ)

4- سلطان بن أحمد بن سلامة المزاجي، الأزهري، الشافعي، من كبار الفقهاء والقراء، وكان عابدا ورعا، ولد سنة (985هـ) ، صنف الكثير من الكتب، منها: (حاشية على شرح المنهج) ، (مؤلف في القراءات) ، مات بالقاهرة سنة (1075هـ) .5

5- عبد الباقي بن عبد القادر البعلي، الأزهري، الحنبلي، مفتي الحنابلة بدمشق، كان عالما بالفقه والحديث والقراءات، ولد سنة (1005هـ) ، من مصنفاته: (العين والأثر في عقائد أهل الأثر) ،

--------------------------------------------

1 اطلعت على ثلاث نسخ منه في دار الكتب بالقاهرة.

2 خلاصة الأثر: 1/175، هدية العارفين: 1/161، الأعلام: 1/92.

3 خلاصة الأثر: 1/428، الأعلام: 2/37، معجم المؤلفين: 3/30.

4 خلاصة الأثر:2/162، الأعلام: 3/180.

5 خلاصة الأثر: 2/210، هدية العارفين: 1/394، الأعلام: 3/108.
অনেকগুলো রচনা রয়েছে, যার মধ্যে (মানাসিকুল হাজ্জ – পাণ্ডুলিপি (خ)) ১, এবং (আল-হিদায়াতু মিনাদ দলালাহ ফি মা’রিফাতি আল-ওয়াক্তি ওয়াল-কিবলাতি মিন গইরি আ’লাহ – মুদ্রিত (ط)) , (আত-তাযকিরাতু ফিত তিব্ব) , (আন-নুবজাতুল লাতিফাহ ফি বায়ানি মাকাসিদিল হিজায ওয়া মা’আলিমীহিশ শারিফাহ) এবং আরও অন্যান্য। তিনি ১০৬৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং মতান্তরে অন্য সময়ের কথাও বলা হয়েছে।২

2- আইয়ুব বিন আহমদ বিন আইয়ুব আল-হানাফি, আল-খালওয়াতি, আস-সালিহি। তিনি ৯৯৪ হিজরি সনে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন প্রকারের জ্ঞানচর্চায় (علوم) লিপ্ত হন। তিনি ১০৭১ হিজরি সনে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন।

3- রজব বিন হুসাইন বিন আলওয়ান আল-হামাউয়ি, আশ-শাফিয়ি। তিনি গণিতশাস্ত্রে যেমন হিসাব ও জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন এবং ফারায়েজ শাস্ত্রে (উত্তরাধিকার আইন) দক্ষ ছিলেন। ১০৮৭ হিজরি সনে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন।

4- সুলতান বিন আহমদ বিন সালামাহ আল-মাযজি, আল-আযহারি, আশ-শাফিয়ি। তিনি শীর্ষস্থানীয় ফকিহ (فقيه) এবং ক্বারিগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ইবাদতগুজার ও পরহেজগার (ورع) ছিলেন। তিনি ৯৮৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং অনেক কিতাব রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: (হাশিয়া আলা শারহিল মানহাজ) , (মুআল্লাফ ফিল কিরাআত) এবং ১০৭৫ হিজরি সনে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন।৫

5- আব্দুল বাকি বিন আব্দুল কাদির আল-বালি, আল-আযহারি, আল-হাম্বলি। তিনি দামেস্কে হাম্বলি মাযহাবের মুফতি (مفتي) ছিলেন। তিনি ফিকহ (فقه), হাদিস এবং কিরাআত শাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন। তিনি ১০০৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো: (আল-আইন ওয়াল আসার ফি আকাইদি আহলিল আসার) ,

--------------------------------------------

১ কায়রোতে দারুল কুতুবে আমি এর তিনটি পাণ্ডুলিপি দেখেছি।

২ খুলাসাতুল আসার: ১/১৭৫, হাদিয়াতুল আরিফিন: ১/১৬১, আল-আলাম: ১/৯২।

৩ খুলাসাতুল আসার: ১/৪২৮, আল-আলাম: ২/৩৭, মু’জামুল মুয়াল্লিফিন: ৩/৩০।

৪ খুলাসাতুল আসার: ২/১৬২, আল-আলাম: ৩/১৮০।

৫ খুলাসাতুল আসার: ২/২১০, হাদিয়াতুল আরিফিন: ১/৩৯৪, আল-আলাম: ৩/১০৮।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ১৩)
القسم الدراسي

أولا: ((دراسة حياة المصنف))

((ترجمة المصنف))

مصادر ترجمته:

خلاصة الأثر في أعيان القرن الحادي عشر: 2/340-341

نفحات الأسرار المكية ورشحات الأفكار الذهبية:61/ب-63/أ (خ) .

النعت الأكمل لأصحاب الإمام أحمد بن حنبل: 240-249

السحب الوابلة على ضرائح الحنابلة: 192-194.

إيضاح المكنون في الذيل على كشف الظنون: 2/42، 570

هدية العارفين، أسماء المؤلفين وآثار المصنفين: 1/508.

الدر المنضد في أسماء كتب مذهب الإمام أحمد: 59.

المدخل إلى مذهب الإمام أحمد بن حنبل: 443.

الفكر السامي في تاريخ الفقه الإسلامي: 2/370.

مختصر طبقات الحنابلة: 124-125.

المختصر من كتاب نشر النور والزهر: لعبد الله مرداد 195-196.

الأعلام: 3/290.

معجم المؤلفين: 5/107.
গবেষণা অংশ

প্রথমত: ((গ্রন্থকারের জীবনচরিত পর্যালোচনা))

((গ্রন্থকারের জীবনী (ترجمة)))

তাঁর জীবনী (ترجمة) সংক্রান্ত উৎসসমূহ:

খুলাসাতুল আসার ফি আইয়ানিল করনিল হাদি আশার: ২/৩৪০-৩৪১

নাফাহাতুল আসরারিল মাক্কিয়্যাহ ওয়া রাশাহাতুল আফকারিজ জাহাবিয়্যাহ: ৬১/খ-৬৩/ক (পাণ্ডুলিপি)

আন-নাতুল আকমাল লি আসহিবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল: ২৪০-২৪৯

আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ আলা যারা-ইখিল হানাবিলাহ: ১৯২-১৯৪

ঈযাহুল মাকনুন ফিয যায়লি আলা কাশফিয যুনুন: ২/৪২, ৫৭০

হাদিয়্যাতুল আরিফিন, আসমাউল মুআল্লিফিন ওয়া আসারুল মুসান্নিফিন: ১/৫০৮

আদ-দুররুল মুনাদ্দাদ ফি আসমায়ি কুতুবি মাযহাবিল ইমাম আহমাদ: ৫৯

আল-মাদখাল ইলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল: ৪৪৩

আল-ফিকরুস সামি ফি তারিখিল ফিকহিল ইসলামি: ২/৩৭০

মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ: ১২৪-১২৫

আল-মুখতাসারু মিন কিতাবি নাশরিন নূর ওয়ায যাহর: আবদুল্লাহ মিরদাদ প্রণীত ১৯৫-১৯৬

আল-আলাম: ৩/২৯০

মুজামুল মুআল্লিফিন: ৫/১০৭
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ১৪)
(رياض أهل الجنة في آثار أهل السنة) ، (شرح صحيح البخاري) وغير ذلك، مات بدمشق سنة (1071هـ) .1

6- علي بن إبراهيم بن علي القبردي، أبو الحسن الصالحي الدمشقي الشافعي، ولد سنة (984هـ) ، أحد العلماء المشهورين المحققين في شتى الفنون، تولى التدريس والإفتاء بالجامع الأموي بدمشق، وكف بصره في آخر حياته، ومات سنة (1060هـ) .2

7- علي بن علي، نور الدين الشبراملسي، الشافعي، من فقهاء الشافعية بمصر، ولد سنة (997هـ) ، كان دقيق الفهم، جيد النظر، له العديد من المصنفات منها (حاشية على نهاية المحتاج) 3، (حاشية على شرح الورقات) في أصول الفقه، (حاشية على المواهب اللدنية للقسطلاني) ، مات بالقاهرة سنة (1087هـ) .4

8- محمد بن بدر الدين بن عبد القادر بن محمد، أبو عبد الله شمس الدين البلباني، البعلي، الحنبلي، أحد كبار فقهاء الحنابلة بالشام، كان عابدا زاهدا، يدرس الفقه على المذاهب الأربعة، له العديد من المصنفات، منها: (كافي المبتدي من الطلاب) مطبوع مع شرحه (الروض الندي) ، و (أخصر المختصرات) مطبوع مع شرحه (كشف المخدرات) ، و (عقيدة التوحيد) ، و (بغية المستفيد في التجويد)

--------------------------------------------

1 النعت الأكمل: 223، السحب الوابلة: 183، مختصر طبقات الحنابلة: 120.

2 خلاصة الأثر: 3/124.

3 مطبوع بأعلى صحائف نهاية المحتاج للرملي.

4 خلاصة الأثر: 3/174، هدية العارفين: 1/761، الأعلام: 4/314.
(রিয়াদ আহলে জান্নাহ ফি আসার আহলে সুন্নাহ), (শারহু সহিহিল বুখারি) এবং অন্যান্য; তিনি ১০৭১ হিজরিতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। ১

৬- আলি বিন ইবরাহিম বিন আলি আল-কুবর্দি, আবুল হাসান আস-সালিহি আদ-দিমাশকি আশ-শাফেয়ি, ৯৮৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী প্রসিদ্ধ ও গবেষক (محقق) আলেমদের অন্যতম ছিলেন। তিনি দামেস্কের উমাইয়া জামে মসজিদে অধ্যাপনা ও ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন। জীবনের শেষ দিকে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং ১০৬০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। ২

৭- আলি বিন আলি, নুরুদ্দিন আশ-শুবরামালসি, শাফেয়ি; মিশরের শাফেয়ি ফকিহদের (فقهاء) অন্তর্ভুক্ত। ৯৯৭ হিজরিতে তাঁর জন্ম। তিনি তীক্ষ্ণ বোধসম্পন্ন ও গভীর অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী ছিলেন। তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: (হাশিয়া আলা নিহায়াতুল মুহতাজ) ৩, উসুলুল ফিকহ বিষয়ে (হাশিয়া আলা শারহিল ওয়ারাকাত) এবং (হাশিয়া আলাল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়াহ লিল কাসতালানি)। তিনি ১০৮৭ হিজরিতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন। ৪

৮- মুহাম্মদ বিন বদরুদ্দিন বিন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ, আবু আব্দুল্লাহ শামসুদ্দিন আল-বালবানি, আল-বালি, আল-হাম্বলি; তিনি শামের হাম্বলি ফকিহদের (فقهاء) অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার ও দুনিয়াবিমুখ (زاهد) ছিলেন এবং চার মাজহাব অনুযায়ী ফিকহ শিক্ষা দিতেন। তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: (কাফি আল-মুবতাদি মিনাত তুল্লাব) যা এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (আর-রাওদুন নাদি)-সহ মুদ্রিত, (আখসারুল মুখতাসারাত) যা এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (কাশফুল মুখাদ্দারাত)-সহ মুদ্রিত, (আকিদাতুত তাওহিদ) এবং (বুগইয়াতুল মুস্তাফিদ ফিত তাজবিদ)।

--------------------------------------------

১ আন-না'তুল আকমাল: ২২৩, আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ: ১৮৩, মুখতাসার তাবাকাতিল হানাবিলাহ: ১২০।

২ খুলাসাতুল আসার: ৩/১২৪।

৩ রামলির রচিত নিহায়াতুল মুহতাজ গ্রন্থের পৃষ্ঠার উপরিভাগে মুদ্রিত।

৪ খুলাসাতুল আসার: ৩/১৭৪, হাদিয়াতুল আরিফিন: ১/৭৬১, আল-আ'লাম: ৪/৩১৪।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ১৫)
مات بدمشق سنة (1083هـ) .1

9- محمد بن علاء الدين البابلي، شمس الدين الشافعي، أحد الأعلام في الحديث والفقه، وهو من أحفظ أهل عصره لمتون الأحاديث، ومن أعرف الناس بالجرح والتعديل وكان زاهدا ورعا، من مصنفاته (الجهاد وفضائله) ، مات بالقاهرة سنة (1077هـ) .2

10- محمد بن كمال الدين بن محمد بن حسين الحنفي، من علماء التفسير والحديث والأدب، عارفا بفقه الحنفية، من مصنفاته (حاشية على شرح الألفية لابن الناظم) ، (التحريرات على الهداية) ، (البيان والتعريف في أسباب ورود الحديث الشريف/ط) ، مات بدمشق سنة (1085هـ) .3

تلاميذه:

لم يذكر المترجمون له عدد تلاميذه، ولا أسمائهم، مما دعاني إلى القيام بقراءة واستقراء لتراجم المعاصرين له، واللاحقين بعده، فاستعرضت كتب التراجم للفترة التي عاش بها، ومصنفات القرن الثاني عشر التي اهتمت بالحوادث التاريخية وتدوين سيرة العلماء والمبرزين في تلك الفترة الزمنية، فكان أن خرجت بأسماء عدد من تلاميذه، وهم:

--------------------------------------------

1- إبراهيم بن محمد بن إبراهيم بن عبد الكريم السفرجلاني، الشافعي،

1 النعت الأكمل: 231، السحب الوابلة: 373، مختصر الطبقات: 122.

2 خلاصة الأثر: 4/39، هدية العارفين: 2/290، الأعلام: 6/270.

3 خلاصة الأثر: 4/124، الأعلام: 7/15، معجم المؤلفين: 11/163.
১. ১০৮৩ হিজরি সনে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন।

৯- মুহাম্মদ বিন আলাউদ্দিন আল-বাবিলি, শামসুদ্দিন আশ-শাফিয়ি; হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের অন্যতম ইমাম। তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে হাদিসের মূল পাঠসমূহ (متون الأحاديث) মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য ছিলেন এবং জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ (زاهد) ও পরহেজগার (ورع)। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে 'আল-জিহাদ ওয়া ফাদায়িলুহু'। তিনি ১০৭৭ হিজরি সনে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন।

১০- মুহাম্মদ বিন কামালুদ্দিন বিন মুহাম্মদ বিন হুসাইন আল-হানাফি; তিনি তাফসির, হাদিস ও সাহিত্যের আলেম ছিলেন এবং হানাফি ফিকহ সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে 'হাশিয়া আলা শারহিল আলফিয়্যাহ লি-ইবনিন নাজিম', 'আত-তাহরীরাত আলাল হিদায়াহ' এবং 'আল-বায়ান ওয়াত তারিফ ফি আসবাবি উরুদিন হাদিসিশ শরিফ'। তিনি ১০৮৫ হিজরি সনে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

জীবনীকারগণ (المترجمون) তাঁর ছাত্রদের সংখ্যা বা তাঁদের নাম উল্লেখ করেননি। এ কারণে আমি তাঁর সমসাময়িক এবং পরবর্তী প্রজন্মের জীবনীসমূহ পাঠ ও বিশ্লেষণমূলক অনুসন্ধানের (استقراء) উদ্যোগ গ্রহণ করি। আমি তাঁর সমসাময়িক জীবনীগ্রন্থগুলো এবং দ্বাদশ শতাব্দীর সংকলনসমূহ পর্যালোচনা করেছি, যা ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং সেই সময়ের আলেম ও প্রথিতযশা ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিল। এর মাধ্যমে আমি তাঁর বেশ কয়েকজন ছাত্রের নাম উদ্ধার করতে পেরেছি, তাঁরা হলেন:

--------------------------------------------

১- ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল কারিম আস-সাফারজালানি, আশ-শাফিয়ি,

১ আন-না'ত আল-আকমাল: ২৩১, আস-সুবুহ আল-ওয়াবিলাহ: ৩৭৩, মুখতাসারুত তাবাকাত: ১২২।

২ খুলাসাতুল আসার: ৪/৩৯, হাদিয়াতুল আরিফিন: ২/২৯০, আল-আলাম: ৬/২৭০।

৩ খুলাসাতুল আসার: ৪/১২৪, আল-আলাম: ৭/১৫, মু'জামুল মুয়াল্লিফিন: ১১/১৬৩।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ১৬)
ولد سنة (1055هـ) ، كان أديبا شاعرا، برع في الرياضيات، وله ديوان شعر، مات بدمشق سنة (1112هـ) .1

2- سعدي بن عبد الرحمن بن محمد الحنفي، الدمشقي، محدث من أهل الشام، كان ماهرا بالفرائض، عارفا بعلم الهندسة والحساب والمساحة، مات بدمشق سنة (1132هـ) .2

3- عبد الرحمن بن محمد بن عبد الرحمن الذهبي، الدمشقي، المعروف بابن شاشة، أديب أهل دمشق، من مصنفاته (نفحات الأسرار المكية ورشحات الأفكار الذهبية) ، و (الفوائد المكية والروائح المسكية) ولكل منهما نسخة في مكتبة عارف حكمت بالمدينة المنورة، مات بدمشق سنة (1128هـ) .3

4- عبد الرحيم بن مصطفى بن أحمد الشافعي الدمشقي، له عناية بالتاريخ والتراجم، وكان خطيبا واعظا، له كتاب (المنتخب) اختصر به كتاب شيخه (شذرات الذهب) ، مات بدمشق سنة (1160هـ) .4

5- عثمان بن أحمد بن سعيد بن عثمان النجدي، من فقهاء الحنابلة، ولد في بلدة (العيينة) قرب الرياض، ورحل إلى دمشق فأخذ عن علمائها من مصنفاته: (هداية الراغب في شرح عمدة الطالب- ط) ، و (حاشية على منتهى الإرادات) (نجاة الخلف في اعتقاد السلف) ، (قطع

--------------------------------------------

1 سلك الدرر: 1/15، هدية العارفين: 1/37، الأعلام: 1/68.

2 سلك الدرر: 2/156-158.

3 سلك الدرر: 2/318، هدية العارفين: 1/552، الأعلام: 3/332.

4 سلك الدرر: 3/5، معجم المؤلفين: 5/214.
(১০৫৫ হিজরিতে) জন্মগ্রহণ করেন, তিনি একজন সাহিত্যিক ও কবি ছিলেন, গণিতে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন এবং তাঁর একটি দিওয়ান (কাব্যগ্রন্থ) রয়েছে। তিনি ১১১২ হিজরিতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। ১

২- সাদি বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-হানাফি, আদ-দিমাশকি; তিনি শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের একজন হাদিস বিশারদ (محدث) ছিলেন। তিনি ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে অত্যন্ত দক্ষ এবং জ্যামিতি, গণিত ও ভূমি পরিমাপ বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি ১১৩২ হিজরিতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। ২

৩- আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আজ-জাহাবি, আদ-দিমাশকি, যিনি ইবনে শাশাহ নামে পরিচিত। তিনি দামেস্কের একজন সাহিত্যিক ছিলেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: (নাফহাতুল আসরার আল-মাক্কিয়্যাহ ওয়া রাশহাতুল আফকার আজ-জাহাবিয়্যাহ) এবং (আল-ফাওয়াইদুল মাক্কিয়্যাহ ওয়ার রাওয়াইহুল মিসকিয়্যাহ)। এই দুটি গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি মদিনা মুনাওয়ারার আরিফ হিকমত লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। তিনি ১১২৮ হিজরিতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। ৩

৪- আব্দুর রহিম বিন মুস্তাফা বিন আহমদ আশ-শাফিঈ আদ-দিমাশকি; ইতিহাস এবং জীবনী সাহিত্যের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল। তিনি একজন খতিব ও ওয়ায়েজ (ধর্মোপদেশক) ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'আল-মুনতাখাব', যাতে তিনি তাঁর শায়খের রচিত 'শাযারাতুজ জাহাব' গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করেছেন। তিনি ১১৬০ হিজরিতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। ৪

৫- উসমান বিন আহমদ বিন সাঈদ বিন উসমান আন-নাজদি; তিনি হাম্বলি মাজহাবের ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি রিয়াদের নিকটবর্তী (উয়াইনা) শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং দামেস্কে সফর করে সেখানকার ওলামাদের নিকট জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: (হিদায়াতুর রাগিব ফি শারহি উমদাতিত তালিব - মুদ্রিত), (হাশিয়া আলা মুনতাহাল ইরাদাত) এবং (নাজাতুল খালাফ ফি ইতিকাদিস সালাফ), (কাত্...

--------------------------------------------

১ সিলকুদ দুরার: ১/১৫, হাদিয়্যাতুল আরিফিন: ১/৩৭, আল-আলাম: ১/৬৮।

২ সিলকুদ দুরার: ২/১৫৬-১৫৮।

৩ সিলকুদ দুরার: ২/৩১৮, হাদিয়্যাতুল আরিফিন: ১/৫৫২, আল-আলাম: ৩/৩৩২।

৪ সিলকুদ দুরার: ৩/৫, মুজামুল মুআল্লিফিন: ৫/২১৪।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ১৭)
النزاع في تحريم الرضاع- خ) 1، مات بالقاهرة سنة (1097هـ) .2

عبد القادر بن أحمد بن علي بن ميمي البصري، الحنفي، كان فقيها، أديبا، فاضلا، من مصنفاته (يتيمة العصر في المد والجزر) ، و (رسالة في المنطق) ، وأخرى في (العروض) ، مات بالبصرة سنة (1085هـ) .3

7- محمد بن فضل الله بن محب الله المحبي، الحموي، الحنفي، المؤرخ الشهير، ولد بدمشق سنة (1061هـ) ، وقرأ على علمائها، وبرع في فنون كثيرة، واعتنى بتراجم أهل عصره، فصنف كتابه: (خلاصة الأثر في أعيان القرن الحادي عشر) ، وله أيضا: (نفحة الريحانة) خصصه لتراجم الأدباء، (قصد السبيل بما في اللغة من الدخيل) و (الأمثال) وغير ذلك.4

وقد تتلمذ على المصنف، وقال أثناء ترجمته له5: "وكنت في عنفوان عمري تلمذت له، وأخذت عنه، وكنت أرى لقيته فائدة أكتسبها، وجملة فخر لا أتعداها، فلزمته حتى قرأت عليه الصرف والحساب، وكان يتحفني بفوائد جليلة، ويلقيها علي … "

8- مصطفى بن فتح الله الشافعي، الحموي، المكي، مؤرخ، أديب، من مصنفاته: (فوائد الارتحال ونتائج السفر، في أخبار أهل القرن الحادي عشر- خ) ،

--------------------------------------------

1 اطلعت على نسخة من هذه الرسالة في جامعة الملك سعود، وأخرى في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية.

2 النعت الأكمل: 253، السحب الوابلة: 282، الأعلام: 4/202.

3 خلاصة الأثر: 2/469، النعت الأكمل: 249، الأعلام: 6/36.

4 سلك الدرر: 4/86، هدية العارفين: 2/307، الأعلام: 6/41.

5 خلاصة الأثر: 2/341.
দুগ্ধপান হারাম হওয়ার বিষয়ে বিতর্ক - পাণ্ডুলিপি (خ)। ১, তিনি ১০৯৭ হিজরি সনে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন। ২

আবদুল কাদির বিন আহমদ বিন আলী বিন মিমি আল-বাসরি, আল-হানাফি; তিনি একজন ফকিহ (فقيه), সাহিত্যিক ও বিদগ্ধ (فاضل) ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: (ইয়াতিমাতুল আসর ফিল মাদ্দি ওয়াল জাযর), (রিসালা ফিল মানতিক) এবং 'আরুজ' শাস্ত্রের ওপর আরেকটি গ্রন্থ। তিনি ১০৮৫ হিজরি সনে বসরায় মৃত্যুবরণ করেন। ৩

৭- মুহাম্মদ বিন ফজলুল্লাহ বিন মুহিব্বুল্লাহ আল-মুহিব্বি, আল-হামাউয়ি, আল-হানাফি। তিনি একজন প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক (مؤرخ) ছিলেন। ১০৬১ হিজরি সনে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানকার ওলামাদের কাছে শিক্ষা লাভ করেন। তিনি বহু শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং নিজ সমসাময়িক ব্যক্তিদের জীবনীর (تراجم) প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তাঁর 'খুলাসাতুল আসার ফি আইয়ানিল কারনিল হাদি আশার' গ্রন্থটি রচনা করেন। তাঁর আরও রয়েছে: (নাফহাতুর রাইহানা) যা তিনি সাহিত্যিকদের জীবনীর জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, (কাসদুস সাবিল বিমা ফিল লুগাতি মিনাদ দাখিল), (আল-আমসাল) এবং অন্যান্য গ্রন্থ। ৪

তিনি গ্রন্থকারের নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেন ৫: "আমি আমার জীবনের প্রারম্ভে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করি এবং তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করি। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়াকে আমি অর্জনযোগ্য এক মহা উপকার এবং এমন এক গর্বের বিষয় মনে করতাম যা আমি অতিক্রম করতে পারতাম না। আমি তাঁর সান্নিধ্যে থেকে সারফ (الصرف) এবং গণিত শাস্ত্র পাঠ করি। তিনি আমাকে চমৎকার সব তত্ত্ব উপহার দিতেন এবং সেগুলো আমাকে শোনাতেন … "

৮- মোস্তফা বিন ফাতহুল্লাহ আশ-শাফিয়ি, আল-হামাউয়ি, আল-মাক্কি; ঐতিহাসিক (مؤرخ) ও সাহিত্যিক। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: (ফাওয়াইদুল ইরতিহাল ওয়া নাতাইজুস সাফার, ফি আখবারি আহলিল কারনিল হাদি আশার - পাণ্ডুলিপি (خ)),

--------------------------------------------

১ আমি এই রিসালাটির একটি পাণ্ডুলিপি কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং অন্যটি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি।

২ আন-নাতুল আকমাল: ২৫৩, আস-সুহুবুল ওয়াবিলা: ২৮২, আল-আলাম: ৪/২০২।

৩ খুলাসাতুল আসার: ২/৪৬৯, আন-নাতুল আকমাল: ২৪৯, আল-আলাম: ৬/৩৬।

৪ সিলকুদ দুরার: ৪/৮৬, হাদিয়াতুল আরিফিন: ২/৩০৭, আল-আলাম: ৬/৪১।

৫ খুলাসাতুল আসার: ২/৩৪১।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ১৮)
ثلاثة مجلدات في دار الكتب المصرية، مات باليمن سنة (1123هـ) .1

9- فضل الله بن علي بن محمد بن محمد الاسطواني، الحنفي، كان رئيس الكتاب في المحكمة الكبرى، وعاش سخيا، متنعما، وجمع من نفائس الكتب ما لم يجتمع عند أحد من أبناء عصره، مات سنة (1100هـ) .2

10- يونس بن أحمد المحلي، الأزهري، الشافعي، فقيه اشتهر بقوة الحفظ، وطلاقة العبارة، والاستحضار التام، ولد بالمحلة الكبرى بمصر سنة (1029هـ) ، وأخذ عن علمائها، ثم التحق بالأزهر، ورحل من ثم إلى دمشق، وأخذ بها عن المصنف وغيره، ودرس الحديث في الجامع الأموي بها، مات سنة (1120هـ) بدمشق.3

كما أن الناسخ لنسخة (أ) وهو: محمد بن أحمد المحيوي الحنبلي، قد ذكر في آخر النسخة أنه تلميذ للمصنف، حيث قال: "تأليف شيخنا العلامة أبي الفلاح عبد الحي بن أحمد ابن العماد" ولم أقف على ترجمة له.

--------------------------------------------

1 سلك الدرر: 4/178، النعت الأكمل: 249، الأعلام: 7/238.

2 خلاصة الأثر: 3/275.

3 سلك الدرر: 4/266، الأعلام: 8/260، معجم المؤلفين: 13/346.
মিশরীয় দারুল কুতুবে তিনটি খণ্ডে সংরক্ষিত রয়েছে, তিনি ১১২৩ হিজরি সনে ইয়ামেনে মৃত্যুবরণ করেন। ১

৯- ফজলুল্লাহ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-উস্তুওয়ানি, আল-হানাফি; তিনি প্রধান আদালতের প্রধান করণিক ছিলেন এবং তিনি দানশীল ও সচ্ছল জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি এমন সব দুর্লভ কিতাব সংগ্রহ করেছিলেন যা তার সমসাময়িক আর কারো কাছে একত্রিত হয়নি। তিনি ১১০০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। ২

১০- ইউনুস বিন আহমদ আল-মাহাল্লি, আল-আযহারি, আশ-শাফিঈ; তিনি একজন ফকিহ (فقيه) ছিলেন যিনি প্রখর মুখস্থ শক্তি, সাবলীল বাকপটুতা এবং পূর্ণ উপস্থিত স্মৃতির জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি মিশরের মাহাল্লাতুল কুবরায় ১০২৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর তিনি আল-আযহারে যোগদান করেন এবং সেখান থেকে দামেস্কে সফর করেন। সেখানে তিনি গ্রন্থকার ও অন্যদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং সেখানকার উমাইয়া মসজিদে হাদিস পাঠ দান করেন। তিনি ১১২০ হিজরি সনে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। ৩

অনুরূপভাবে 'আলিফ' পাণ্ডুলিপির অনুলিপিকারক—যিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মুহাইউয়ি আল-হাম্বলি—পাণ্ডুলিপির শেষে উল্লেখ করেছেন যে তিনি গ্রন্থকারের ছাত্র। সেখানে তিনি বলেছেন: "এটি আমাদের শাইখ আল্লামা আবুল ফালাহ আব্দুল হাই বিন আহমদ ইবনুল ইমাদের রচনা।" আমি তার কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি।

--------------------------------------------

১ সিলকুদ দুরার: ৪/১৭৮, আন-নাতুল আকমাল: ২৪৯, আল-আলাম: ৭/২৩৮।

২ খুলাসাতুল আসার: ৩/২৭৫।

৩ সিলকুদ দুরার: ৪/২৬৬, আল-আলাম: ৮/২৬০, মুজামুল মুআল্লিফিন: ১৩/৩৪৬।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ১৯)
مصنفاته:

لعل أول مصدر تاريخي يخطر ببال أي باحث عند إرادته معرفة تاريخ حادثة من الحوادث، أو ترجمة علم من الأعلام، هو ذلك المصدر التاريخي الشهير (شذرات الذهب) الذي ارتبط ارتباطا وثيقا باسم مؤلفه ابن العماد الحنبلي، ولا يخفى على أحد أهمية هذا المصدر التاريخي، الذي يعد موسوعة تاريخية حافلة، اشتملت على أهم الحوادث والوفيات التي وقعت خلال القرون العشرة الأولى من الهجرة النبوية.

وهذا المصدر الضخم بمجلداته العشرة هو أبرز وأهم مصنفات أبي الفلاح ابن العماد الحنبلي، ولو لم يكن له إلا هذا الكتاب لكفى.

وقد نسب إليه مصنفات أخرى، لا يزال بعضها مخطوطا، في حين لا يعرف شيء عن بقية مصنفاته سوى أسماء عناوينها، وفيما يلي بيان لمصنفات ابن العماد وأماكن وجودها:

1- أسباب الخلاص بسورة الإخلاص.

اطلعت على نسختين له:

الأولى: محفوظة بمركز الملك فيصل بالرياض ضمن مجموع رقمه (2865/13) ، وعدد أوراقها ست عشرة ورقة من (129-144) .1

والثانية: في دار الكتب المصرية بالقاهرة، تحت رقم (19952ب) ، في ثلاث عشرة ورقة.2

--------------------------------------------

1 فهرس مخطوطات مركز الملك فيصل بالرياض: 7/150.

2 فهرس دار الكتب المصرية: 3/78.
তাঁর রচনাবলি:

কোনো গবেষক যখন কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ জানতে চান অথবা কোনো প্রথিতযশা ব্যক্তির জীবনী (ترجمة) অনুসন্ধান করতে চান, তখন সম্ভবত তাঁর মনে সর্বপ্রথম যে ঐতিহাসিক উৎসের কথা উদয় হয়, তা হলো সেই বিখ্যাত ঐতিহাসিক উৎস শাজারাতুজ জাহাব, যা এর লেখক ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলীর নামের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই ঐতিহাসিক উৎসের গুরুত্ব কারো কাছেই অজানা নয়, যা একটি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক বিশ্বকোষ হিসেবে বিবেচিত; এটি হিজরি প্রথম দশ শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুসংবাদ ও জীবনবৃত্তান্ত (الوفيات) অন্তর্ভুক্ত করেছে।

দশ খণ্ডে বিন্যস্ত এই বিশাল উৎসটি আবুল ফালাহ ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলীর সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ রচনা। যদি তাঁর কেবল এই একটি গ্রন্থই থাকত, তবে তা (তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য) যথেষ্ট হতো।

তাঁর প্রতি আরও কিছু রচনার সম্বন্ধ করা হয়েছে, যার কিছু এখনও পাণ্ডুলিপি (مخطوط) আকারে বিদ্যমান, আর বাকিগুলোর শিরোনাম ব্যতীত অন্য কিছু জানা যায় না। নিচে ইবনুল ইমাদের রচনাবলি এবং সেগুলোর অবস্থানস্থলের বিবরণ দেওয়া হলো:

১- আসবাবুল খালাস বি-সুরাতিল ইখলাস।

আমি এর দুটি অনুলিপি বা পাণ্ডুলিপি (نسخة) দেখেছি:

প্রথমটি: রিয়াদের কিং ফয়সাল সেন্টারে একটি সংকলনের (مجموع) অধীনে সংরক্ষিত, যার নম্বর (২৮৬৫/১৩) এবং এর পত্রসংখ্যা ১২৯ থেকে ১৪৪ পর্যন্ত মোট ১৬টি পত্র।১

দ্বিতীয়টি: কায়রোর দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে, (১৯৯৫২ ব) নম্বরের অধীনে, ১৩টি পত্রে।২

--------------------------------------------

১. রিয়াদের কিং ফয়সাল সেন্টারের পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগ বা তালিকা (فهرس): ৭/১৫০।

২. দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর ক্যাটালগ বা তালিকা (فهرس): ৩/৭৮।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ২০)
2- بغية أولي النهى في شرح المنتهى.1

وهو شرح لمتن (منتهى الإرادات) في الفقه الحنبلي لمؤلفه تقي الدين محمد بن أحمد بن عبد العزيز الفتوحي، الشهير بابن النجار (ت 672هـ)

وقد نسب هذا الشرح – للمصنف – المحبي3، وابن حميد4، وإسماعيل باشا5، والثعالبي6، والزركلي7، وكحالة8.

3- ثبت9. ذكر فيه مشايخه الذين لقيهم وروى عنهم.

4- حاشية على أنوار التنزيل.

وهي حاشية كتبها على تفسير سورة (يس) من تفسير البيضاوي القاضي عبد الله بن عمر بن محمد البيضاوي (ت 685هـ) المسمى بـ (أنوار التنزيل وأسرار التأويل) 10.

--------------------------------------------

1 هدية العارفين: 1/508.

2 السحب الوابلة: 347-348.

3 خلاصة الأثر: 2/340.

4 السحب الوابلة: 193، الدر المنضد: 59.

5 إيضاح المكنون: 2/570، هدية العارفين: 1/508.

6 الفكر السامي في تاريخ الفقه الإسلامي: 2/370.

7 الأعلام: 3/290.

8 معجم المؤلفين: 5/106.

9 النعت الأكمل: 241، مختصر طبقات الحنابلة: 124.

10 شذرات الذهب: 7/685، الأعلام: 4/110.
২- বুগয়াত উলি আন-নুহা ফি শারহিল মুনতাহা।১

এটি হলো তাকীউদ্দীন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আব্দুল আজিজ আল-ফুতুহী, যিনি ইবনুন নাজ্জার (মৃত্যু ৬৭২ হিজরি) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত হাম্বলি ফিকহ শাস্ত্রের মূল পাঠ (متن) 'মুনতাহাল ইরাদাত'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح)।

মুহিব্বী৩, ইবন হুমাইদ৪, ইসমাইল পাশা৫, সা’লাবি৬, যারকালী৭ এবং কাহহালা৮ এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে (شرح) গ্রন্থকারের দিকেই সম্পৃক্ত (نسبة) করেছেন।

৩- সাবাত (ثبت)৯। এতে তিনি তাঁর সেই সকল মাশায়েখদের (مشايخ) কথা উল্লেখ করেছেন যাদের সাথে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন এবং যাদের নিকট থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন।

৪- আনওয়ারুত তানজিল-এর ওপর হাশিয়া (حاشية)।

এটি হলো কাজী আব্দুল্লাহ ইবন উমর ইবন মুহাম্মদ আল-বায়যাভী (মৃত্যু ৬৮৫ হিজরি) রচিত 'আনওয়ারুত তানজিল ওয়া আসরারুত তাওয়ীল' নামক তাফসীর গ্রন্থের সূরা ইয়াসিনের ওপর রচিত একটি হাশিয়া (حاشية)১০।

--------------------------------------------

১ হাদিয়্যাতুল আরিফীন: ১/৫০৮।

২ আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ: ৩৪৭-৩৪৮।

৩ খুলাসাতুল আসার: ২/৩৪০।

৪ আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ: ১৯৩, আদ-দুররুল মানযুদ: ৫৯।

৫ ঈযাহুল মাকনুন: ২/৫৭০, হাদিয়্যাতুল আরিফীন: ১/৫০৮।

৬ আল-ফিকরুস সামী ফি তারিখিল ফিকহিল ইসলামী: ২/৩৭০।

৭ আল-আলাম: ৩/২৯০।

৮ মুজামুল মুয়াল্লিফীন: ৫/১০৬।

৯ আন-নাতুল আকমাল: ২৪১, মুখতাসার তাবাকাতুল হানাবিলাহ: ১২৪।

১০ শাযারাতুয যাহাব: ৭/৬৮৫, আল-আলাম: ৪/১১০।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ২১)
وقد سمى هذه الحاشية بـ (نزهة العماد) ، وفرغ من تأليفها سنة خمس وستين وألف للهجرة كما ذكر ذلك في مقدمته لهذه الحاشية.

وهي تقع في (49) ورقة، في كل ورقة (23) سطرا، كتبت بخط نسخ دقيق، محفوظة بالمكتبة الظاهرية بدمشق، تحت رقم (5542- علوم القرآن) .1

5- رسائل وتحريرات، في موضوعات ومسائل مختلفة.2

6- شذرات الذهب في أخبار من ذهب.3

وهو أشهر مصنفاته، وأشهر من أن يعرف به، وقد ذكر فيه ما وقع من الحوادث المختلفة المشهورة، وتراجم الأعيان ووفياتهم، مرتبا على السنين حسب الوفيات، لا على الأسماء، ابتدأ فيه من الهجرة إلى سنة (1000هـ) منها، وقد ذكر في مقدمته الهدف من تأليفه، فقال4: " … أردت أن أجعله دفترا جامعا لوفيات أعيان الرجال، وبعض ما اشتملوا عليه من المآثر والسجايا والخلال، فإن حفظ التاريخ أمر مهم، ونفعه من الدين بالضرورة علم، لاسيما وفيات المحدثين والمتحملين لأحاديث سيد المرسلين، فإن معرفة السند لا تتم إلا بمعرفة الرواة، وأجل ما فيها تحفظ السيرة والوفاة.

هذا وقد طبع الكتاب طبعات كثيرة، غير أن الكتاب لم يسلم من الأخطاء والتحريفات والتصحيفات، حتى قام –أخيرا- الأستاذ محمود الأرناؤوط بتحقيق الكتاب تحقيقا علميا، وعلق عليه، ووثق التراجم الواردة من

--------------------------------------------

1 فهرس مخطوطات الظاهرية (علوم القرآن) 314-315.

2 النعت الأكمل: 241، السحب الوابلة: 193، الفكر السامي: 2/370.

3 المصادر السابقة، ومصادر ترجمة المصنف ص (10) .

4 شذرات الذهب: 1/111.
তিনি এই টীকাগ্রন্থটির নামকরণ করেছেন (নুজহাতুল ইমাদ), এবং এর রচনা সমাপ্ত করেছেন হিজরি এক হাজার পঁয়ষট্টি সালে, যেমনটি তিনি এই টীকাগ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন।

এটি (৪৯)টি পৃষ্ঠার সমন্বয়ে গঠিত, প্রতি পৃষ্ঠায় (২৩)টি লাইন রয়েছে, যা সূক্ষ্ম নাসখ লিপিতে লিখিত। এটি দামেস্কের যাহিরিয়া লাইব্রেরিতে (৫৫৪২- উলুমুল কুরআন) নম্বরে সংরক্ষিত আছে। .1

5- বিভিন্ন বিষয় ও মাসআলা সম্পর্কিত পত্রাবলী ও গবেষণাপত্র।2

6- শাজারাতুয যাহাব ফি আখবার মান যাহাব।3

এটি তাঁর সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ রচনা এবং এতটাই সুপরিচিত যে এর নতুন করে পরিচিতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এতে তিনি বিভিন্ন বিখ্যাত ঘটনাপ্রবাহ, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী (تراجم) ও তাদের মৃত্যুসন উল্লেখ করেছেন। এটি নামের ক্রমানুসারে নয় বরং মৃত্যুসন অনুযায়ী বছরভিত্তিকভাবে সাজানো হয়েছে। তিনি হিজরত থেকে শুরু করে ১০০০ হিজরি সাল পর্যন্ত সময়কাল এতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি এর ভূমিকায় এটি রচনার উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন4: " … আমি চেয়েছি একে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুসনের এবং তাদের কার্যাবলী, স্বভাব ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের একটি পূর্ণাঙ্গ সংকলন হিসেবে তৈরি করতে। কেননা ইতিহাস সংরক্ষণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং দ্বীনের প্রয়োজনে এর উপকারিতা স্বতঃসিদ্ধ; বিশেষ করে হাদিস বিশারদ (المحدثون) এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস বহনকারীদের মৃত্যুসন সংরক্ষণ করা। কেননা বর্ণনাকারীদের (الرواة) পরিচয় জানা ব্যতীত সনদ (السند) সম্পর্কে জ্ঞান পূর্ণতা পায় না, আর ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জীবনী ও মৃত্যুসন সংরক্ষণ করা।

এই গ্রন্থটি অনেকবার মুদ্রিত হয়েছে, তবে বইটি ভুলভ্রান্তি, বিকৃতি (تحريفات) এবং লিপির প্রমাদ (تصحيفات) থেকে মুক্ত ছিল না। অবশেষে উস্তাদ মাহমুদ আল-আরনাউত বইটির একটি বৈজ্ঞানিক সম্পাদনা (تحقيق) সম্পন্ন করেছেন, এর ওপর টিকা প্রদান করেছেন এবং এতে বর্ণিত জীবনীসমূহ (تراجم) প্রামাণ্যভাবে যাচাই করেছেন।

--------------------------------------------

1 যাহিরিয়া পাণ্ডুলিপি সূচী (উলুমুল কুরআন) ৩১৪-৩১৫।

2 আন-নাতুল আকমাল: ২৪১, আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ: ১৯৩, আল-ফিকরুস সামি: ২/৩৭০।

3 পূর্বোক্ত উৎসসমূহ, এবং গ্রন্থকারের জীবনী (ترجمة) বিষয়ক উৎসসমূহ, পৃষ্ঠা (১০)।

4 শাজারাতুয যাহাব: ১/১১১।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ২২)
مصادرها، وقام والده الشيخ عبد القادر بتخريج الأحاديث الواردة في الكتاب، فخرج هذا المصدر الهام في عشرة أجزاء بطبعة منقحة وإخراج جيد له.

7- شرح بديعية ابن حجة.1

وهذه البديعية لناظمها أبي بكر بن علي بن عبد الله الحموي، الشهير بتقي الدين ابن حجة (837هـ) .2

ولشرح لمصنف عدة نسخ خطية، منها:

1- نسخة بدار الكتب القطرية، بقلم محمد قناوي الأزهري، وهي نسخة جيدة بقلم معتاد، في سبع وثلاثين ورقة، بمعدل أربعة عشرا سطرا في الصفحة الواحدة، محفوظة تحت رقم (257) بالدار المذكورة بالدوحة.3

2- نسخة بدار الكتب الظاهرية، تحت رقم (8772) .4

8- شرح5 على (غاية المنتهى في الجمع بين الإقناع والمنتهى) ، من تأليف العلامة مرعي بن يوسف الكرمي الحنبلي (ت1003هـ) 6.

قال ابن بدران في المدخل7: "وقد تصدى لشرحه –أي غاية المنتهى-

--------------------------------------------

1 هدية العارفين: 1/508، الأعلام: 3/290.

2 الشذرات: 9/319.

3 فهرس دار الكتب القطرية: 2/591.

4 فهرس مخطوطات دار الكتب الظاهرية (الأدب) 1/333-334.

5 النعت الأكمل: 240، المدخل: 443ن مختصر الطبقات: 124.

6 خلاصة الأثر: 4/358، هدية العارفين: 2/426.

7 المدخل: 443.
এর উৎসসমূহ, এবং তাঁর পিতা শায়খ আবদুল কাদির কিতাবটিতে বর্ণিত হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج) সম্পন্ন করেছেন। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসটি একটি পরিমার্জিত সংস্করণ ও উত্তম বিন্যাসে দশ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।

৭- ইবন হিজ্জাহ-এর বাদী'ইয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح)।১

আর এই বাদী'ইয়্যাহর রচয়িতা হলেন আবু বকর ইবন আলী ইবন আবদুল্লাহ আল-হামাভী, যিনি তাকিউদ্দিন ইবন হিজ্জাহ (৮৩৭ হি.) নামে প্রসিদ্ধ।২

গ্রন্থকারের উক্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح)-এর বেশ কিছু হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি (نسخة خطية) রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১- কাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে (দারুল কুতুব আল-কাতারিইয়্যাহ) সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة), যা মুহাম্মদ কানাওয়ী আল-আজহারীর হস্তাক্ষরে লিখিত। এটি সাধারণ হস্তাক্ষরে লিখিত একটি উত্তম পাণ্ডুলিপি (نسخة), যা সাঁইত্রিশটি পত্রে (ورقة) বিন্যস্ত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় গড়ে চৌদ্দটি করে লাইন রয়েছে। এটি দোহায় অবস্থিত উক্ত গ্রন্থাগারে (২৫৭) নম্বর অধীনে সংরক্ষিত।৩

২- জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে (দারুল কুতুব আজ-জাহিরিয়্যাহ) সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة), যা (৮৭৭২) নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত।৪

৮- আল্লামা মারঈ ইবন ইউসুফ আল-কারমী আল-হাম্বলী (মৃত ১০০৩ হি.) রচিত 'গায়াতুল মুনতাহা ফি জাময়ি বাইনাল ইকনাই ওয়াল মুনতাহা'-এর ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح)।৫

ইবন বাদরান 'আল-মাদখাল'-এ বলেন:৭ "তিনি এর ব্যাখ্যা (شرح) করার উদ্যোগ নিয়েছেন—অর্থাৎ গায়াতুল মুনতাহা-এর—"

--------------------------------------------

১ হাদিইয়াতুল আরিফীন: ১/৫০৮, আল-আলাম: ৩/২৯০।

২ আশ-শাযারাত: ৯/৩১৯।

৩ কাতার জাতীয় গ্রন্থাগারের সূচিপত্র: ২/৫৯১।

৪ জাহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির সূচিপত্র (সাহিত্য): ১/৩৩৩-৩৩৪।

৫ আন-নাতুল আকমাল: ২৪০, আল-মাদখাল: ৪৪৩, মুখতাসারুত তাবাকাত: ১২৪।

৬ খুলাসাতুল আসার: ৪/৩৫৮, হাদিইয়াতুল আরিফীন: ২/৪২৬।

৭ আল-মাদখাল: ৪৪৩।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ২৩)
العلامة الفقيه الأديب أبو الفلاح عبد الحي بن محمد ابن العماد، فشرحه شرحا لطيفا دل على فقهه وجودة قلمه لكنه لم يتمه".

وقد ذكر البعض1 أن المصنف –ابن العماد- شرح (غاية المنتهى) للشيخ مرعي، وذكر آخرون أنه إنما شرح (منتهى الإرادات) لابن النجار.

قلت: لا يمنع أن يكون قد شرح الكتابين. والله أعلم.

9- معطية الأمان من حنث الأيمان.

وهو هذا الكتاب المحقق، وسيأتي الكلام عليه فيما بعد إن شاء الله تعالى.2

--------------------------------------------

1 انظر مصادر ترجمة المصنف ص (10) .

2 انظر ص 28 من هذا الكتاب.
আল্লামা, ফকিহ (فقيه) ও সাহিত্যিক আবুল ফালাহ আব্দুল হাই ইবন মুহাম্মদ ইবনুল ইমাদ; তিনি এটি একটি চমৎকার ব্যাখ্যা (شرح) করেছেন যা তার গভীর পাণ্ডিত্য (فقه) ও চমৎকার লেখনীর প্রমাণ দেয়, কিন্তু তিনি তা সমাপ্ত করতে পারেননি।"

কেউ কেউ১ উল্লেখ করেছেন যে, গ্রন্থকার (مصنف) — ইবনুল ইমাদ — শায়খ মারঈ রচিত গায়াতুল মুনতাহা ব্যাখ্যা করেছেন; আবার অন্যরা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মূলত ইবনু নাজ্জার রচিত মুনতাহাল ইরাদত ব্যাখ্যা করেছেন।

আমি বলছি: তিনি উভয় গ্রন্থের ব্যাখ্যা (شرح) করেছেন হতে পারে, এতে কোনো বাধা নেই। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

৯- মু'তিয়াতুল আমান মিন হানসিল আইমান।

আর এটিই সেই সম্পাদিত (محقق) গ্রন্থ, যার সম্পর্কে ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আলোচনা করা হবে।২

--------------------------------------------

১. গ্রন্থকারের জীবনী (ترجمة)-র উৎসসমূহ দেখুন, পৃষ্ঠা (১০)।

২. এই গ্রন্থের ২৮ পৃষ্ঠা দেখুন।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ২৪)
وفاته:1

في سنة (1089هـ) قصد المصنف مكة المكرمة لأداء فريضة الحج، وبعد أن قضى تفثه، وأتم مناسك حجه، وشارك الحجاج في أداء هذه الشعيرة العظيمة، أقام بمكة يلتمس شيئا من الراحة، فأتاه اليقين، وطواه الموت، فرحل العلم الذي دون حياة الأعلام، وسجل التاريخ الحافل بأشهر الوقائع والأيام، وسطر بمداد قلمه انتصارات هذه الأمة، وتغلبها على أعدائها في الخطوب المدلهمة.

وكانت وفاته في اليوم السادس عشر من شهر ذي الحجة سنة تسع وثمانين وألف من الهجرة النبوية، وكان عمره عند موته سبعا وخمسين سنة وخمسة أشهر وثمانية أيام، ودفن بمقبرة المعلاة بالحجون في مكة المكرمة رحمنا الله وإياه رحمة واسعة.

ثناء العلماء عليه:

أثنى المترجمون للمصنف من المؤرخين وغيرهم عليه، وأبرزوا شخصية ابن العماد العلمية، كواحد من أبرز الرجال الذين قدموا للأجيال اللاحقة بعده عملا علميا استحق عليه الإشادة والثناء والتقدير.

يقول عنه تلميذه المحبي2: "الشيخ، العالم، الهمام، المصنف، الأديب، المتفنن، الطرفة، الأخباري، العجيب الشأن في التجول في المذاكرة،

--------------------------------------------

1 خلاصة الأثر: 2/341، النعت الأكمل: 248-249، السحب الوابلة: 149، مختصر طبقات الحنابلة: 125.

2 خلاصة الأثر: 2/341.
তাঁর ইন্তেকাল:১

১০৮৯ হিজরি সালে গ্রন্থকার হজের ফরজ ইবাদত পালনের উদ্দেশ্যে মক্কাতুল মোকাররমায় গমনের ইচ্ছা করেন। হজের যাবতীয় কার্যাবলি ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর এবং হাজিদের সাথে এই মহান ইবাদত পালনের পর তিনি মক্কায় কিছুকাল বিশ্রামের জন্য অবস্থান করেন। সেখানেই তাঁর সুনিশ্চিত মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং তিনি ইন্তেকাল করেন। ফলে সেই ইলম বিদায় নিল যা প্রথিতযশা ব্যক্তিদের জীবনচরিত লিপিবদ্ধ করেছিল এবং ইতিহাসের পাতায় পাতায় স্মরণীয় সব ঘটনা ও দিনগুলো নথিভুক্ত করেছিল; যিনি আপন কলমের কালিতে এই উম্মতের বিজয়গাথা এবং ঘোর বিপদে শত্রুদের ওপর তাদের বিজয়ের ইতিহাস লিখেছিলেন।

তাঁর ইন্তেকাল হয়েছিল হিজরি এক হাজার ঊননব্বই সালের জিলহজ মাসের ১৬ তারিখ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৫৭ বছর ৫ মাস ৮ দিন। তাঁকে মক্কাতুল মোকাররমার হাজুন এলাকায় অবস্থিত মুআল্লা কবরস্থানে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের এবং তাঁর ওপর প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন।

তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:

ঐতিহাসিক এবং অন্যান্য জীবনীকারগণ গ্রন্থকারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং ইবনে ইমাদের ইলমি ব্যক্তিত্বকে এমন একজন অগ্রগণ্য মনীষী হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছেন, যিনি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এমন এক তাত্ত্বিক কাজ পেশ করেছেন যার জন্য তিনি প্রশংসা ও মূল্যায়নের যোগ্য।

তাঁর ছাত্র আল-মুহিব্বি তাঁর সম্পর্কে বলেন২: "তিনি ছিলেন শায়খ, আলিম, মহানুভব, গ্রন্থকার, সাহিত্যিক, বহুবিদ্যায় পারদর্শী (المتفنن), অনন্য প্রতিভার অধিকারী, ইতিহাসবিদ (الأخباري), এবং জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিস্ময়কর পারঙ্গমতার অধিকারী..."

--------------------------------------------

১ খুলাসাতুল আসার: ২/৩৪১, আন-না’তুল আকমাল: ২৪৮-২৪৯, আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ: ১৪৯, মুখতাসার তাবাকাতুল হানাবিলাহ: ১২৫।

২ খুলাসাতুল আসার: ২/৩৪১।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ২৫)
ومداخلة الأعيان، والتمتع بالخزائن العلمية، وتقييد الشوارد من كل فن، وكان من أدأب الناس، وأعرفهم بالفنون المتكاثرة، وأغزرهم إحاطة بالآثار، وأجودهم مساجلة، وأقدرهم على الكتابة والتحرير".

وقال الغزي1:

"انتفع به كثير من أبناء عصره، وكان لا يمل ولا يفتر من المذاكرة والاشتغال، وكتب الكثير بخطه الحسن المضبوط، وكان خطه حسنا بين الضبط، حلو الأسلوب والتناسب".

وقال عنه عبد الرحمن الذهبي2:

"أحيا فقه ابن حنبل، وأتقن الحديث، وأحسن الرواية والتحديث، وكان معرضا عن موجبات القيل والقال، إلا أنه كالشمس لا يخفى".

وقال عنه ابن بدران3:

"وقد تصدى لشرح كتاب (غاية المنتهى) العلامة، الفقيه، الأديب، أبو الفلاح عبد الحي بن محمد ابن العماد، فشرحه شرحا لطيفا، دل على فقهه وجودة قلمه".

وقال الثعالبي4:

"العالم، الهمام، المصنف، الأديب، المتفنن، الأخباري، أعرف من كان في عصره بالفنون المتكاثرة".

--------------------------------------------

1 النعت الأكمل: 241.

2 نفحات الأسرار المكية ورشحات الأفكار الذهبية: 61/ب.

3 المدخل إلى مذهب الإمام أحمد بن حنبل: 443.

4 الفكر السامي في تاريخ الفقه الإسلامي: 2/370.
"...এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশা করা, ইলমি ভাণ্ডারসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া এবং প্রতিটি বিদ্যার দুর্লভ বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করা। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে অত্যন্ত পরিশ্রমী, বিভিন্ন বিদ্যায় সর্বাধিক পারদর্শী, হাদিস ও পূর্বসূরিদের বাণীর (بالآثار) বিষয়ে গভীর ও ব্যাপক জ্ঞানসম্পন্ন, জ্ঞানতাত্ত্বিক বিতর্কে শ্রেষ্ঠ এবং লিখন ও সম্পাদনায় অত্যন্ত পারদর্শী।"

আল-গাজ্জি বলেন:

"তাঁর সমসাময়িক বহু মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। তিনি মুজাকারা (আলোচনা) ও জ্ঞানচর্চায় কখনো ক্লান্ত বা শিথিল হতেন না। তিনি তাঁর সুন্দর ও নির্ভুল (المضبوط) হস্তাক্ষরে প্রচুর লিখেছেন। তাঁর হাতের লেখা ছিল সুস্পষ্ট ও নির্ভুলতার সমন্বয়ে চমৎকার, সুন্দর শৈলী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।"

আবদুর রহমান আয-যাহাবি তাঁর সম্পর্কে বলেন:

"তিনি ইবনে হাম্বলের ফিকহকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, হাদিসে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং উত্তমরূপে বর্ণনা (الرواية) ও হাদিস পরিবেশন (التحديث) করেছেন। তিনি বৃথা আলাপ-আলোচনার কারণসমূহ থেকে বিমুখ থাকতেন, তবে তিনি ছিলেন সূর্যের মতো যা গোপন থাকে না।"

ইবনে বদরান তাঁর সম্পর্কে বলেন:

"আল্লামা, ফকিহ (الفقيه), সাহিত্যিক আবু আল-ফালাহ আব্দুল হাই বিন মুহাম্মদ ইবনুল ইমাদ 'গায়াতুল মুনতাহা' গ্রন্থটির ব্যাখ্যা প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি এটির একটি চমৎকার ব্যাখ্যা লিখেছিলেন, যা তাঁর ফিকহী প্রজ্ঞা ও উন্নত লেখনীশৈলীর পরিচয় দেয়।"

আস-সাআলবি বলেন:

"তিনি ছিলেন মহাজ্ঞানী, মহানুভব, গ্রন্থকার (المصنف), সাহিত্যিক, বহুবিদ্যায় পারদর্শী এবং ইতিহাসবিদ (الأخباري); তিনি ছিলেন নিজ যুগের বহুবিধ বিদ্যায় সর্বাধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তি।"

--------------------------------------------

১. আন-নাতুল আকমাল: ২৪১।

২. নাফাহাতুল আসরারিল মাক্কীয়্যাহ ওয়া রাশাহাতুল আফকারিল জাহাবীয়্যাহ: ৬১/বি।

৩. আল-মাদখাল ইলা মাজহাবি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল: ৪৪৩।

৪. আল-ফিকরুস সামি ফি তারিখিল ফিকহিল ইসলামি: ২/৩৭০।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ২৮)
ثانيا ((دراسة الكتاب))

((نسبة الكتاب إلى المصنف))

هذا الكتاب المحقق، والمسمى بـ[معطية الأمان من حنث الأيمان] ، هو أحد مصنفات العلامة الفقيه المؤرخ عبد الحي بن أحمد ابن العماد الحنبلي، ونسبة هذا الكتاب إليه ثابتة، لا يتطرق إليها احتمال، ولا يعتريها أدنى شك، فنسبته إليه مؤكدة كنسبة كتاب (الشذرات) إليه.

وقد أثبت عنوان الكتاب منسوبا إلي المصنف على غلاف النسخ الثلاث هكذا: "كتاب معطية الأمان من حنث الأيمان، تأليف الفقير إلى الله تعالى أبي الفلاح عبد الحي بن أحمد بن محمد ابن العماد غفر الله تعالى له".

كما أثبته المصنف في آخر كتابه، فنسبه إلى نفسه بقوله: "وكان الفراغ من نسخها على يد مؤلفها الحقير عبد الحي بن أحمد بن محمد ابن العماد الحنبلي … ".

كما نسبه إليه كل من:

إسماعيل باشا في: هدية العارفين: 1/508.

والزركلي في: الأعلام: 3/290.

وعمر كحالة في: معجم المؤلفين: 5/107.

وقد ورد عنوان الكتاب منسوبا إلى المصنف بنفس العنوان المثبت أعلاه، إلا أنه ورد في نسخة (ب) زيادة: "هذه رسالة في اختلاف الأئمة الأربعة في الطلاق، تأليف الإمام الشيخ عبد الحي بن أحمد ابن العماد الحنبلي الخلوتي وسماها: معطية الأمان من حنث الأيمان".
দ্বিতীয়ত: ((গ্রন্থ পর্যালোচনা))

((গ্রন্থকারের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধ বা নিসবত))

এই সম্পাদিত (المحقق) গ্রন্থটি, যার নাম হলো [মু'তিয়াতুল আমান মিন হানসিল আইমান], আল্লামা ফকিহ ও ইতিহাসবিদ আব্দুল হাই বিন আহমদ ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলীর অন্যতম একটি রচনা। এই গ্রন্থটি তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابتة), যাতে কোনো প্রকার সংশয়ের অবকাশ নেই এবং এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। সুতরাং তাঁর প্রতি এই গ্রন্থের নিসবত বা সম্বন্ধ নিশ্চিত, যেমনটি নিশ্চিত তাঁর প্রতি শাজারাত গ্রন্থের নিসবত বা সম্বন্ধ।

তিনটি পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদেই গ্রন্থটির শিরোনাম গ্রন্থকারের নামের সাথে এভাবে যুক্ত রয়েছে: "কিতাব মু'তিয়াতুল আমান মিন হানসিল আইমান, সংকলনে: আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী আবুল ফালাহ আব্দুল হাই বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ ইবনুল ইমাদ, আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করুন।"

অনুরূপভাবে গ্রন্থকার নিজেও তাঁর গ্রন্থের শেষে এটি প্রমাণ করেছেন এবং নিজের দিকে নিসবত করে বলেছেন: "এর অনুলিপি সম্পন্ন হয়েছে এর তুচ্ছ গ্রন্থকার আব্দুল হাই বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলীর হাতে … "।

এছাড়াও গ্রন্থটিকে তাঁর দিকে নিসবত করেছেন:

ইসমাইল পাশা: হাদিয়াতুল আরিফিন: ১/৫০৮ গ্রন্থে।

আল-যিরিকলি: আল-আলাম: ৩/২৯০ গ্রন্থে।

ওমর কাহহালা: মুজামুল মুয়াল্লিফিন: ৫/১০৭ গ্রন্থে।

গ্রন্থটির শিরোনাম উপরে উল্লিখিত নামেই গ্রন্থকারের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে, তবে পাণ্ডুলিপি (খ)-তে একটি অতিরিক্ত অংশ রয়েছে: "এটি তালাক বিষয়ে চার ইমামের মতভেদ নিয়ে একটি রিসালাহ বা পুস্তিকা, যার রচয়িতা হলেন ইমাম শায়খ আব্দুল হাই বিন আহমদ ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী আল-খালওয়াতী এবং তিনি এর নামকরণ করেছেন: মু'তিয়াতুল আমান মিন হানসিল আইমান।"
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ২৯)
((موضوع الكتاب))

أوضح المصنف في مقدمته موضوع كتابه هذا، وأنه خاص بمسائل الأيمان والطلاق التي فشت وانتشرت بين الناس.

يقول رحمه الله: " … ولما كثر على الألسنة الأيمان والطلاق، جمعت من ذلك مسائل مهمة في هذه الأوراق … ".

فابتدأ كتابه بمقدمة ذكر فيها أن الحلف بالله تعالى، والحنث فيه يعتري كلا منهما الأحكام التكليفية الخمسة: الوجوب، والندب، والإباحة، والكراهة، والحرمة. ثم ذكر حكم تكرار الحلف، والأدلة على حكمه من الكتاب والسنة والآثار، وحكم إبرار المقسم، والإقسام بوجه الله تعالى، وحكم إجابة السائل بالله عز وجل.

ثم وضع عنوانا سماه [كتاب الأيمان] ابتدأ فيه بتعريف اليمين، والأصل في مشروعيتها، ومن تصح يمينه، ثم ذكر حروف القسم ومثل لها، وكيفية إجابة القسم والنية عند الحلف، ثم بين صيغة اليمين الموجبة للكفارة.

وأعقب ذلك بعقد (فصل) أوضح فيه حكم الحلف بغير الله تعالى، وأردفه بذكر (فصل) بين فيه حكم تحريم الحلال، ومن حلف بملة غير الإسلام، وأيمان البيعة، ويمين الطلاق، والحلف بالنذر ونحو ذلك.

ثم ذكر شروط وجوب الكفارة، ومثل لكل شرط، وحكم يمين المكره، ثم أتبع ذلك بذكر أحكام الاستثناء في اليمين والطلاق، وشروط صحته، ث ذكر أمثلة للأيمان المؤقتة بزمن محدد وأحكامها، ونماذج للحلف على السكنى والخروج ونحو ذلك، وحكم يمين الفور عند الفقهاء.

عقب ذلك عقد بابا بعنوان [باب جامع الأيمان] بين فيه المرجع في الأيمان
((গ্রন্থের বিষয়বস্তু))

লেখক তাঁর ভূমিকায় এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু স্পষ্ট করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এটি বিশেষ করে শপথ ও তালাক সংক্রান্ত মাসআলাগুলোর জন্য নিবেদিত, যা মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: " … যেহেতু মানুষের মুখে মুখে শপথ ও তালাকের ছড়াছড়ি বেড়ে গেছে, তাই আমি এই পাতাগুলোতে এ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা একত্রিত করেছি … "।

অতঃপর তিনি একটি ভূমিকা দিয়ে গ্রন্থটি শুরু করেছেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলার নামে শপথ করা এবং তা ভঙ্গ করা—উভয় ক্ষেত্রেই শরিয়তের পাঁচটি বিধান (ওয়াজিব, মুস্তাহাব, মুবাহ, মাকরূহ এবং হারাম) প্রযোজ্য হতে পারে। এরপর তিনি বারবার শপথ করার বিধান এবং কুরআন, সুন্নাহ ও আসার (الآثار) থেকে এর বিধানের দলিলসমূহ বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি কসমকারীর শপথ পূর্ণ করা, আল্লাহর পবিত্র সত্তার দোহাই দিয়ে শপথ করা এবং আল্লাহর দোহাই দিয়ে সাহায্যপ্রার্থীর ডাকে সাড়া দেওয়ার বিধান উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি একটি শিরোনাম দিয়েছেন [শপথ অধ্যায়], যেখানে তিনি শপথের সংজ্ঞা, এর বৈধতার মূল ভিত্তি এবং কার শপথ শুদ্ধ হয় তা দিয়ে শুরু করেছেন। অতঃপর তিনি শপথের অব্যয়সমূহ ও তার উদাহরণ, এবং শপথের উত্তর ও শপথের সময় নিয়তের বিষয়সমূহ আলোচনা করেছেন। তারপর তিনি কাফফারা ওয়াজিবকারী শপথের শব্দমালা বর্ণনা করেছেন।

এর পরপরই তিনি একটি (পরিচ্ছেদ) যুক্ত করেছেন যাতে আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করার বিধান স্পষ্ট করেছেন। এরপর তিনি আরেকটি (পরিচ্ছেদ) এনেছেন যেখানে হালালকে হারাম করার বিধান, ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্মের নামে শপথ করা, বাইয়াতের শপথ, তালাকের শপথ, মানতের শপথ এবং এ জাতীয় বিষয়গুলো বর্ণনা করেছেন।

এরপর তিনি কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার শর্তসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং প্রতিটি শর্তের উদাহরণ ও বাধ্য হওয়া ব্যক্তির শপথের বিধান বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি শপথ ও তালাকের ক্ষেত্রে 'ইস্তিসনা' বা ইনশাআল্লাহ বলার বিধান এবং এর শুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলি বর্ণনা করেছেন। পরে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ শপথের উদাহরণ ও তার বিধানাবলি এবং কোথাও বসবাস বা বের হওয়া ইত্যাদি বিষয়ের ওপর শপথ করার নমুনা এবং ফুকাহাদের নিকট তাৎক্ষণিক শপথের বিধান উল্লেখ করেছেন।

এর পরে তিনি [শপথের বিবিধ মাসআলা] শিরোনামে একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত করেছেন, যেখানে তিনি শপথের ক্ষেত্রে মূল রেফারেন্স বা ভিত্তির বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ৩০)
وألفاظها، والتعريض باليمين، وأمثلة للحلف على الأكل والشرب واللبس والشم ونحو ذلك، وبين أقل ما يحنث به الحالف.

ثم عقد (فصلا) لبيان أحكام الطلاق: ذكر في مقدمته تعريفه، ومتى يباح ومتى يحرم وحالات وجوبه، ومن يصح طلاقه ومن لا يصح، والتوكيل في الطلاق، وتفويض الطلاق إلى الزوجة، وطلاق السنة والبدعة، وحكم طلاق الثلاث واختلاف الفقهاء فيه، وأطال الكلام على هذه المسألة.

ثم عقد (فصلا) بين فيه ألفاظ صريح الطلاق وكنايته وأحكام ذلك كله، وحكم تحريم الزوجة، وما يختلف به عدد الطلاق، وما تخالف به المدخول بها غيرها، وتعليق الطلاق بالشروط، ثم ذكر المسألة السريجية وما قاله العلماء فيها، وحكم الردة من الزوجين أو أحدهما.

بعد ذلك عقد (فصلا) ذكر فيه أحكام كفارة اليمين، والأصل فيها، وبيان خصال الكفارة، ومقدار المخرج في كل منها وكيفيته، ومن يستحق هذه الخصال، ثم ذكر أحكام تكرار اليمين على الشيء الواحد، أو على أجناس مختلفة، وكيفية تكفير العبد عن يمينه.

ثم ختم الكتاب ببيان مقدار الصاع والمد، وحكم إخراج القيمة في الكفارات.

فالكتاب بين فيه مصنفه معظم الأحكام المتعلقة بالأيمان والطلاق التي يكثر وقوعها بين الناس على مذهب الإمام أحمد، ويذكر أقوال الأئمة الثلاثة الآخرين في معظم المسائل، كما أنه يورد أقوال الصحابة والتابعين وغيرهم من الفقهاء الآخرين في بعض المسائل.
...এবং এর শব্দাবলি, শপথের ইশারা-ইঙ্গিত, পানাহার, পরিধান ও ঘ্রাণ নেওয়া এবং এই জাতীয় বিষয়ের ওপর শপথ করার উদাহরণসমূহ এবং শপথকারী ব্যক্তির শপথ ভঙ্গের ন্যূনতম পর্যায় বর্ণনা করেছেন।

এরপর তিনি তালাকের বিধানাবলি বর্ণনার জন্য একটি (পরিচ্ছেদ) নির্ধারণ করেছেন: এর ভূমিকায় তিনি এর সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন, আর কখন এটি বৈধ হয়, কখন হারাম হয় এবং এর ওয়াজিব হওয়ার অবস্থাসমূহ আলোচনা করেছেন। সেই সাথে কার তালাক কার্যকর হবে আর কার তালাক কার্যকর হবে না, তালাকের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিয়োগ, স্ত্রীর নিকট তালাকের ক্ষমতা অর্পণ, সুন্নাহ ও বিদআতি তালাক এবং তিন তালাকের বিধান ও এই বিষয়ে ফকীহগণের মতভেদ আলোচনা করেছেন। তিনি এই মাসআলার ওপর দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

এরপর তিনি একটি (পরিচ্ছেদ) সংকলন করেছেন যাতে তিনি তালাকের সুস্পষ্ট শব্দ এবং ইঙ্গিতবাহী শব্দ ও এই সবকিছুর বিধানাবলি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া স্ত্রীকে হারাম করার বিধান, তালাকের সংখ্যার ভিন্নতার কারণসমূহ, বাসর সম্পন্ন হওয়া স্ত্রী ও অন্যদের মধ্যে পার্থক্য এবং শর্তের সাথে তালাককে ঝুলিয়ে রাখা ইত্যাদি আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি মাসআলায়ে সুরাইজিয়্যাহ ও এ বিষয়ে আলেমগণের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন এবং স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজন বা উভয়ের ধর্মত্যাগের বিধান বর্ণনা করেছেন।

এরপর তিনি একটি (পরিচ্ছেদ) সাজিয়েছেন যাতে তিনি শপথের কাফফারার বিধানাবলি, এর মূল ভিত্তি, কাফফারার প্রকারভেদ, প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে আদায়ের পরিমাণ ও পদ্ধতি এবং কারা এই হকের অধিকারী হবে তা উল্লেখ করেছেন। এরপর একই বিষয়ের ওপর বারবার শপথ করা বা ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের ওপর শপথ করার বিধান এবং দাসের পক্ষ থেকে তার শপথের কাফফারা আদায়ের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন।

এরপর তিনি সা' ও মুদ-এর পরিমাণ এবং কাফফারার ক্ষেত্রে মূল্য প্রদানের বিধান বর্ণনার মাধ্যমে কিতাবটি সমাপ্ত করেছেন।

সুতরাং এই কিতাবে গ্রন্থকার ইমাম আহমদের মাযহাব অনুযায়ী মানুষের মধ্যে সচরাচর ঘটে যাওয়া শপথ ও তালাক সংক্রান্ত অধিকাংশ বিধান স্পষ্ট করেছেন। তিনি অধিকাংশ মাসআলায় অপর তিন ইমামের বক্তব্যও উল্লেখ করেছেন, যেমনটি তিনি কিছু মাসআলায় সাহাবী (صحابة), তাবেঈ (تابعين) এবং অন্যান্য ফকীহগণের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ৩১)
((منهج المصنف في الكتاب))

افتتح المصنف كتابه هذا بحمد الله تعالى والثناء عليه، ثم بالصلاة والسلام على الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم.

بعد ذلك بين السبب الباعث له على تأليف هذا الكتاب، وأوضح أن شيوع ألفاظ الأيمان والطلاق وانتشارها بين الناس أدى إلى الكتابة في هذه المسائل، وذكر أنه جمع من ذلك الأحكام المهمة التي يحتاج إليها في الأيمان والطلاق.

وبعد معايشتي للكتاب، وقراءته من خلال تحقيقه، اتضح لي أن المصنف دون الأحكام المتعلقة بالبابين السابقين وسار على الطريقة الآتية:

أولا: اقتصر على ذكر أشهر المسائل في بابي الأيمان والطلاق، سواء المتفق عليها، أو ما فيها خلاف بين الفقهاء.

ثانيا: أحسن ترتيب كتابه هذا، من حيث التبويب والتقسيم، حيث ذكر مقدمة بين فيها حكم الحلف والحنث فيه.

ثم عند بيانه لأحكام المسائل وجزئياتها التابعة لها، يضع عنوانا مختصرا لما سيذكره من الأحكام تحت العنوان، وقبل أن يضع العنوان يقول: (فصل) في كذا.

ثالثا: بعد بيانه للمسألة وأحكامها، والأدلة الواردة فيها يختم الباب أو الفصل في بعض الأحيان بذكره لفظة (تذنيب) أو (تتمة) ، يذكر تحتهما زيادة توضيح للمسألة، أو فرعية تابعة لها، كما يتبع بعض الفصول بذكر (فائدة) قد يرى أنها تتميم للمسألة.

رابعا: يبين حكم المسألة عند الحنابلة، ثم يتبعها بذكر الأقوال في المذاهب الثلاثة الأخرى وهذا ليس في جميع المسائل التي أوردها في الكتاب،
((গ্রন্থে গ্রন্থকারের অনুসৃত পদ্ধতি))

গ্রন্থকার তাঁর এই গ্রন্থটি মহান আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও গুণকীর্তন এবং অতঃপর দয়ালু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করার মাধ্যমে শুরু করেছেন।

এরপরে তিনি এই গ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, মানুষের মাঝে শপথ ও তালাকের শব্দাবলির ব্যাপক ব্যবহার ও বিস্তারের ফলে এই মাসআলাগুলো নিয়ে লেখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এখানে তিনি শপথ ও তালাক সংক্রান্ত এমন সব গুরুত্বপূর্ণ বিধান সংকলন করেছেন যা মানুষের প্রয়োজন হয়।

গ্রন্থটি নিবিড়ভাবে পাঠ এবং এর সম্পাদনা সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতায় আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, গ্রন্থকার পূর্বোক্ত অধ্যায় দুটির বিধানসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন এবং নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন:

প্রথমত: তিনি শপথ ও তালাক অধ্যায়ের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মাসআলাগুলোর বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থেকেছেন; চাই তা ঐকমত্যপূর্ণ বিষয় হোক কিংবা ফকিহদের মাঝে মতভেদপূর্ণ বিষয় হোক।

দ্বিতীয়ত: তিনি অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ বিন্যাসের ক্ষেত্রে গ্রন্থটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সাজিয়েছেন। তিনি একটি ভূমিকা উল্লেখ করেছেন যেখানে শপথ করা এবং তা ভঙ্গের বিধান বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর মাসআলার বিধান ও এর আনুষঙ্গিক খুঁটিনাটি বর্ণনার সময় তিনি একটি সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ব্যবহার করেছেন এবং শিরোনাম প্রদানের আগে তিনি 'অমুক বিষয়ে পরিচ্ছেদ' কথাটি ব্যবহার করেছেন।

তৃতীয়ত: মাসআলা, এর বিধান এবং সংশ্লিষ্ট দলিলসমূহ আলোচনার পর তিনি অনেক সময় অধ্যায় বা পরিচ্ছেদটি 'সংযোজনী' অথবা 'পরিশিষ্ট' শব্দের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন; যার অধীনে মাসআলার অধিকতর ব্যাখ্যা বা কোনো উপ-শাখা বর্ণনা করেছেন। এছাড়া কোনো কোনো পরিচ্ছেদের শেষে তিনি 'বিশেষ জ্ঞাতব্য' উল্লেখ করেছেন যা তিনি সংশ্লিষ্ট মাসআলার পূর্ণতা দানকারী হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

চতুর্থত: তিনি হাম্বলি মাযহাব অনুসারে মাসআলার বিধান বর্ণনা করেন এবং এরপর অবশিষ্ট তিন মাযহাবের মতামত উল্লেখ করেন; তবে এটি গ্রন্থে বর্ণিত সকল মাসআলার ক্ষেত্রে করা হয়নি।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ৩২)
وإنما يورد الخلاف في بعض المسائل، كما يشير إلى مذهب الظاهرية في بعض الأحيان.

خامسا: يشير أحيانا إلى أقوال الصحابة رضي الله عنهم، والتابعين رحمهم الله، عند ذكر حكم المسألة، كما يذكر الإجماع الوارد في بعض المسائل.

سادسا: يستدل للمسائل بالآيات القرآنية الكريمة والأحاديث النبوية الشريفة، ويشير إلى من خرج الأحاديث في بعض الأحيان.

سابعا: يذكر الروايات المنقولة عن الإمام أحمد – رحمه الله – في المسألة، ومن نقلها من تلاميذه، ثم يبين الرواية المعتمدة في المذهب وما عليه العمل.

ثامنا: نص على اختيارات شيخ الإسلام ابن تيمية، وتلميذه ابن القيم رحمهما الله تعالى، وذكر ذلك في كثير من المسائل التي أوردها.

تاسعا: نقل المصنف معظم الأحكام والمسائل والأدلة التي أوردها في كتابه من المصادر الرئيسة في مذهب الحنابلة، كما سيأتي بيانه في المبحث التالي.
তিনি কেবল কিছু মাসআলায় মতভেদ উল্লেখ করেন, যেমন তিনি মাঝেমধ্যে জাহেরি মাজহাবের অভিমতের দিকেও ইঙ্গিত করেন।

পঞ্চমতঃ কোনো মাসআলার বিধান (حكم) আলোচনার সময় তিনি মাঝেমধ্যে সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাবেয়ীগণের (রাহিমাহুমুল্লাহ) উক্তি উল্লেখ করেন; তেমনিভাবে কিছু বিষয়ে বর্ণিত সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) সম্পর্কেও তিনি আলোকপাত করেন।

ষষ্ঠতঃ তিনি মাসআলাগুলোর সপক্ষে পবিত্র কুরআনের আয়াত এবং হাদিসসমূহ দ্বারা দলিল পেশ করেন এবং মাঝে মাঝে হাদিসের উৎস নির্দেশকারী (تخريج) মুহাদ্দিসদের কথা উল্লেখ করেন।

সপ্তমতঃ তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية) এবং তাঁর ছাত্রদের মধ্যে কারা তা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেন। অতঃপর তিনি মাজহাবের নির্ভরযোগ্য (معتمد) বর্ণনা এবং যার ওপর আমল করা হয় তা স্পষ্ট করেন।

অষ্টমতঃ তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুমাল্লাহ)-এর গবেষণালব্ধ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ (اختيارات) স্পষ্টভাবে বিবৃত করেছেন এবং তাঁর আলোচিত অনেক মাসআলাতেই তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

নবমতঃ লেখক তাঁর গ্রন্থে উপস্থাপিত অধিকাংশ বিধান (أحكام), মাসআলা ও দলিলসমূহ হাম্বলি মাজহাবের প্রধান উৎসসমূহ থেকে উদ্ধৃত করেছেন, যা পরবর্তী পরিচ্ছেদে বিস্তারিত বর্ণিত হবে।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
((موارد المصنف في كتابه))

يعد المصنف – رحمه الله تعالى – أحد فقهاء الحنابلة المتأخرين، حيث عاش في القرن الحادي عشر الهجري، وقد سبقه العشرات من كبار فقهاء الحنابلة وجهابذتهم، كأبي الخطاب، وأبي يعلى، وابن قدامة، وابن تيمية، وابن القيم، والمرداوي، وابن النجار وغيرهم رحمهم الله تعالى، ممن أسهموا إسهاما بارزا في تدوين فقه الإمام أحمد رحمه الله، وتقديمه للقارئ موثقا بالنقولات المعتمدة، ومقرونا بالأدلة الشرعية، من خلال مصنفاتهم المتعددة، وكتبهم التي اشتهرت وأصبحت متداولة ومعروفة لدى القارئ، فكانت هي المصادر الرئيسة – بعد الكتاب والسنة – التي يعتمد عليها الباحثون في تدوين بحوثهم ومؤلفاتهم، والمورد الذي يستقون منه قول الإمام أحمد، وآراء مجتهدي المذهب في أي مسألة من المسائل الفقهية.

ومن خلال إلقاء نظرة متأنية على أبواب هذا الكتاب ومباحثه، يظهر لنا أن المصنف – رحمه الله – قد اعتمد اعتمادا كبيرا على تلك المؤلفات التي دونت في فقه الحنابلة، فنقل منها معظم المسائل التي أوردها في كتابه هذا، حيث نقل عن أشهر الكتب المعتمدة في المذهب، كما نقل عن كثير من كتب المذاهب الأخرى، حيث اقتصر على بعض المصنفات في كل مذهب، وأخذ منها الأقوال المعتمدة عندهم، ويختلف منهج المؤلف في النقل، فنجده - أحيانا – ينقل المسألة بنصها، وفي بعض الأحيان ينقلها بشيء من التصرف والتغيير في بعض الألفاظ.

وعلى كل فقد استفاد المصنف ي كتابه هذا من كثير من المصادر التي سبقته سواء ما دون منها في فقه الحنابلة أو فقه لمذاهب الأخرى، وكذلك
((গ্রন্থকারের রচনার উৎসসমূহ))

গ্রন্থকার — আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন — পরবর্তী যুগের হাম্বলি ফকিহদের অন্যতম, যেহেতু তিনি হিজরি একাদশ শতাব্দীতে বসবাস করতেন। তাঁর পূর্বে হাম্বলি মাযহাবের বহু প্রথিতযশা ফকিহ ও বিশেষজ্ঞ অতিবাহিত হয়েছেন, যেমন: আবুল খাত্তাব, আবু ইয়ালা, ইবনে কুদামা, ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়্যিম, আল-মারদাওয়ি, ইবনুন নাজ্জার এবং আরও অনেকে (আল্লাহ তাআলা তাঁদের সবার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন)। তাঁরা ইমাম আহমদের (রহ.) ফিকহ সংকলনে এবং নির্ভরযোগ্য (المعتمدة) বর্ণনাসমূহের মাধ্যমে তা পাঠকের কাছে উপস্থাপনে অনন্য অবদান রেখেছেন। তাঁরা তাঁদের বিভিন্ন রচনার মাধ্যমে শরয়ি দলিলের (الأدلة) আলোকে এই ফিকহকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁদের এই গ্রন্থসমূহ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং পাঠকদের কাছে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ও পরিচিত হয়েছে। ফলে কুরআন ও সুন্নাহর পর এগুলোই গবেষকদের জন্য তাঁদের গবেষণা ও রচনার প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো ফিকহি মাসআলায় ইমাম আহমদের বক্তব্য এবং মাযহাবের মুজতাহিদদের (مجتهدي) মতামত গ্রহণের ক্ষেত্রে এগুলোই মূল আধার হিসেবে গণ্য হয়।

এই গ্রন্থের অধ্যায় ও বিষয়বস্তুগুলোর ওপর গভীর দৃষ্টিপাত করলে স্পষ্ট হয় যে, গ্রন্থকার (রহ.) হাম্বলি ফিকহ বিষয়ক সেই পূর্ববর্তী রচনাগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছেন। তিনি তাঁর এই গ্রন্থে উল্লিখিত অধিকাংশ মাসআলা সেখান থেকেই গ্রহণ করেছেন। তিনি মাযহাবের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য (المعتمدة) গ্রন্থসমূহ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। একইভাবে তিনি অন্যান্য মাযহাবের অনেক কিতাব থেকেও বর্ণনা করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি প্রতিটি মাযহাবের নির্দিষ্ট কিছু রচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং সেগুলোর নির্ভরযোগ্য (المعتمدة) মতামতসমূহ গ্রহণ করেছেন। উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে লেখকের পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে; কখনো দেখা যায় তিনি মাসআলাটি হুবহু (بنصها) উদ্ধৃত করেন, আবার কখনো মূল শব্দগুলোতে কিছুটা পরিবর্তন বা পরিমার্জন করে বর্ণনা করেন।

মোটের ওপর, গ্রন্থকার তাঁর এই কিতাবে পূর্ববর্তী অসংখ্য উৎস থেকে উপকৃত হয়েছেন, চাই সেগুলো হাম্বলি ফিকহের ওপর রচিত হোক বা অন্য মাযহাবের ফিকহের ওপর। তেমনিভাবে...
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ৩৪)
اعتمد على بعض كتب التفسير.

ولاشك أن هذا يعتبر شيئا مألوفا في استفادة اللاحق من أعمال السابق في مجال التأليف والكتابة.

وفيما يلي بيان لأهم المصادر التي نقل عنها المصنف واستفاد منها في تأليف كتابه هذا، مرتبة حسب أسبقية وفيات مؤلفيها:

1- الهداية في فقه الإمام أحمد.

تأليف العلامة أبي الخطاب محفوظ بن أحمد الكلوذاني الحنبلي (ت 510هـ) .

2- المغني.

تأليف: موفق الدين عبد الله بن أحمد ابن قدامة المقدسي الحنبلي (ت 620هـ) وقد نقل عنه معظم المسائل التي أوردها في هذا الكتاب.

3- روضة الطالبين وعمدة المفتين.

تأليف العلامة أبي زكريا يحي بن شرف النووي الشافعي (ت 676هـ)

4- الشرح الكبير على متن المقنع.

تأليف عبد الرحمن بن أبي عمر محمد بن أحمد ابن قدامة المقدسي الحنبلي (ت 682هـ) وقد أكثر النقل عنه، ويذكره أحيانا بعنوانه هذا أو يقول: "قال الشارح".

5- إعلام الموقعين عن رب العالمين.

تأليف العلامة أبي عبد الله محمد ابن أبي بكر الشهير بابن قيم الجوزية (ت 751هـ) وقد نقل عنه فصولا كاملة تجاوزت في بعض الأحيان الورقة ونصف الورقة.
তিনি কিছু তাফসির গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন।

নিঃসন্দেহে এটি রচনা ও সংকলনের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের কাজ থেকে পরবর্তীদের উপকৃত হওয়ার একটি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

নিম্নে সেই গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো যেখান থেকে গ্রন্থকার উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন এবং এই গ্রন্থটি রচনায় উপকৃত হয়েছেন; এগুলো লেখকদের মৃত্যু তারিখের অগ্রগণ্যতা অনুসারে বিন্যস্ত করা হয়েছে:

1- আল-হিদায়াহ ফি ফিকহিল ইমাম আহমাদ।

রচনায়: আল্লামা আবু আল-খাত্তাব মাহফুজ বিন আহমদ আল-কালওয়াজানি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৫১০ হি.)।

2- আল-মুগনি।

রচনায়: মুওয়াফফাকুদ্দিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৬২০ হি.)। এই গ্রন্থে বর্ণিত অধিকাংশ মাসআলা তিনি এই কিতাব থেকেই গ্রহণ করেছেন।

3- রওদাতুত তালিবিন ওয়া উমদাতুল মুফতিয়িন।

রচনায়: আল্লামা আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন শরাফ আন-নববী আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ৬৭৬ হি.)।

4- আশ-শারহুল কাবির আলা মাতনিল মুকনি।

রচনায়: আবদুর রহমান বিন আবি উমর মুহাম্মদ বিন আহমদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৬৮২ হি.)। তিনি এটি থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং কখনো কখনো একে এই শিরোনামে উল্লেখ করেছেন অথবা বলেন: "ব্যাখ্যাকার বলেছেন"।

5- ই'লামুল মুওয়াক্কি'ইন আন রাব্বিল আলামিন।

রচনায়: আল্লামা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর, যিনি ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়াহ (মৃত্যু ৭৫১ হি.) নামে পরিচিত। তিনি এটি থেকে পূর্ণাঙ্গ কিছু পরিচ্ছেদ উদ্ধৃত করেছেন, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেড় পৃষ্ঠারও বেশি।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ৩৫)
6- الفروع في فقه الإمام أحمد بن حنبل.

تأليف محمد بن مفلح المقدسي الحنبلي (ت 7636هـ) .

وهذا من المصادر التي اعتمد عليها المصنف اعتمادا كبيرا وخاصة في نقله للروايات واختيارات شيخ الإسلام ابن تيمية.

7- قوت المحتاج في شرح المنهاج.

تأليف شهاب الدين أحمد بن حمدان بن أحمد الأذرعي الشافعي (ت 783هـ) ، وقد نقل عنه المصنف في عدة مواضع ويذكره باسم (شرح المنهاج) .

8- الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف على مذهب الإمام أحمد.

تأليف علي بن سليمان المرداوي الحنبلي (ت 885هـ) .

9- جامع الرموز في شرح النقاية.

تأليف محمد القهستاني الحنفي (ت 953هـ) .

وقد نقل عنه في عدة مواضع باسم (شرح النقاية) أو (قال القهستاني) .

10- ملتقى الأبحر.

تأليف إبراهيم بن محمد بن إبراهيم الحلبي الحنفي (ت 956هـ) .

11- الإقناع في فقه الإمام أحمد بن حنبل.

تأليف شرف الدين موسى الحجاوي الحنبلي (ت 968هـ) .

12- منتهى الإرادات في جمع المقنع مع التنقيح وزيادات.

تأليف تقي الدين محمد بن أحمد الفتوحي الحنبلي، الشهير بابن النجار (ت 972هـ) أكثر المصنف النقل عنه وإن لم يشر إليه باسمه ولا باسم مؤلفه في أكثر من المواضع.
6- ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের ফিকহ শাস্ত্রের ওপর আল-ফুরু।

রচনায়: মুহাম্মদ বিন মুফলিহ আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি (মৃত ৭৬৩৬ হিজরি)।

এটি সেই সকল মূল উৎসের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর গ্রন্থকার ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছেন, বিশেষ করে বর্ণনা (روايات) এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ (اختيارات) উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে।

7- কুতুল মুহতাজ ফি শারহিল মিনহাজ।

রচনায়: শিহাব উদ্দিন আহমাদ বিন হামদান বিন আহমাদ আল-আদরায়ি আশ-শাফিয়ি (মৃত ৭৮৩ হিজরি)। গ্রন্থকার বিভিন্ন স্থানে এটি থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন এবং একে (শারহুল মিনহাজ) নামে উল্লেখ করেছেন।

8- আল-ইনসাফ ফি মা’রিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ আলা মাযহাবি আল-ইমাম আহমাদ।

রচনায়: আলী বিন সুলাইমান আল-মারদাউয়ি আল-হাম্বলি (মৃত ৮৮৫ হিজরি)।

9- জামিউর রুমুজ ফি শারহিন নুকাইয়াহ।

রচনায়: মুহাম্মদ আল-কুহিস্তানি আল-হানাফি (মৃত ৯৫৩ হিজরি)।

গ্রন্থকার বিভিন্ন স্থানে এটি থেকে 'শারহুন নুকাইয়াহ' নামে অথবা 'কুহিস্তানি বলেছেন' হিসেবে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।

10- মুলতাকাল আবহুর।

রচনায়: ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-হালাবি আল-হানাফি (মৃত ৯৫৬ হিজরি)।

11- ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের ফিকহ শাস্ত্রের ওপর আল-ইকনা।

রচনায়: শারাফ উদ্দিন মুসা আল-হিজ্জাউয়ি আল-হাম্বলি (মৃত ৯৬৮ হিজরি)।

12- মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকিহ ওয়া যিয়াদাত।

রচনায়: তাকি উদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-ফুতুহি আল-হাম্বলি, যিনি ইবনে নাজ্জার (মৃত ৯৭২ হিজরি) নামে সমধিক পরিচিত। গ্রন্থকার এটি থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, যদিও অধিকাংশ স্থানে তিনি কিতাবের নাম কিংবা লেখকের নাম উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ৩৬)
13- تنوير الأبصار وجامع البحار.

تأليف شمس الدين محمد بن عبد الله التمرتاشي الحنفي (ت 1004هـ) .

وهو أكثر كتاب نقل عنه أقوال المذهب الحنفي.

14- شرح منتهى الإرادات.

تأليف منصور بن يونس البهوتي الحنبلي (ت 1051هـ) .
13- তানভীরুল আবসার ওয়া জামিউল বিহার।

রচনা: শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তিমিরতাশি আল-হানাফি (মৃত্যু ১০০৪ হি.)।

এটি হানাফি মাজহাবের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে সর্বাধিক ব্যবহৃত কিতাব।

14- শারহু মুনতাহাল ইরাদাত।

রচনা: মানসুর ইবনে ইউনুস আল-বুহুতি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ১০৫১ হি.)।
(খণ্ড: ১) মুতিয়াতুল আমান মিন হুনছিল আইমান (পৃষ্ঠা: ৩৭)
((وصف النسخ الخطية))

اجتمع لدي ثلاث نسخ لتحقيق هذا الكتاب، وكانت أول نسخة عثرت عليها في دار الكتب المصرية بالقاهرة، ولما قرأتها وتصفحتها رأيت أنه من المناسب إخراج هذا الكتاب الفقهي المهم، لاسيما وأن ابن العماد الحنبلي قد اشتهر عنه أنه أديب ومؤرخ، ولم يعرف بأنه فقيه، ففي إظهار كتابه هذا وتحقيقه إبراز لشخصية ابن العماد كفقيه من خلال تصنيفه لكتابه هذا [معطية الأمان من حنث الأيمان] .

ثم بدأت رحلة البحث والتنقيب عن نسخ أخرى للكتاب، وخاصة وأنه عند رجوعي لترجمة ابن العماد في كتاب (الأعلام) وجدت أن الزركلي قد نسب إليه عدة مصنفات وقال: "منها معطية الأمان من حنث الأيمان بخطه عندي"، فانصب جهدي على الحصول على هذه النسخة، لكن كيف الطريق إليها وقد تبعثرت مكتبة الزركلي بعد وفاته، فبعضها في جامعة الملك سعود بالرياض، وبعضها في القاهرة، والبعض الآخر في بيروت، وبعد سؤال المختصين في تلك الأماكن لم أجد إجابة شافية، ولم أتمكن من الوقوف عليها.

ولكن الله تعالى وفقني وهداني إليها في وقت كنت فيه أبحث عن كتاب آخر غيرها، فلم أشعر إلا وبطاقتها أمامي برقمها وعدد أوراقها، وذلك في قسم المخطوطات بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض، وبعد اطلاعي عليها، رأيت ختم مكتبة الزركلي قد كتب على غلافها الخارجي، وكذا توقيعه عليها، فحمدت الله حمدا كثيرا على هذا العون والتوفيق.

ثم حصلت على نسخة ثالثة ضمن كتب المجاميع في دار الكتب المصرية بالقاهرة، فاجتمع لدي ثلاث نسخ للكتاب، إحداها نسخة المؤلف، وإليك وصفا شاملا للنسخ الثلاث:
((হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিগুলোর (نسخة خطية) বিবরণ))

এই গ্রন্থটি সম্পাদনার (تحقيق) লক্ষ্যে আমার নিকট তিনটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) সংগৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পাণ্ডুলিপিটি আমি কায়রোর দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহতে পেয়েছিলাম। যখন আমি সেটি পাঠ ও পর্যালোচনা করলাম, তখন দেখলাম যে এই গুরুত্বপূর্ণ ফিকহশাস্ত্রীয় গ্রন্থটি প্রকাশ করা অত্যন্ত সমীচীন হবে। বিশেষ করে ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বালি একজন সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও তিনি যে একজন ফকিহ (فقيه) ছিলেন তা সচরাচর জানা যায় না। তাই তার এই গ্রন্থ [মু'তিয়াতুল আমান মিন হুনসিল আইমান] সম্পাদনা (تحقيق) ও প্রকাশের মাধ্যমে ফকিহ (فقيه) হিসেবে ইবনুল ইমাদ-এর প্রকৃত পাণ্ডিত্য ও ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠবে।

অতঃপর আমি এই গ্রন্থের অন্যান্য পাণ্ডুলিপি (نسخة) অনুসন্ধানের কাজ শুরু করি। বিশেষ করে, ‘আল-আ‘লাম’ গ্রন্থে ইবনুল ইমাদের জীবনী (ترجمة) পর্যালোচনার সময় আমি লক্ষ্য করলাম যে আল-জিরিকলি তার বেশ কিছু রচনার কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "তার মধ্যে ‘মু'তিয়াতুল আমান মিন হুনসিল আইমান’ গ্রন্থটি লেখকের স্বহস্তে লিখিত (بخطه) আমার নিকট সংরক্ষিত আছে।" ফলে আমি এই পাণ্ডুলিপিটি (نسخة) সংগ্রহের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করি। কিন্তু আল-জিরিকলির মৃত্যুর পর তার ব্যক্তিগত পাঠাগারটি বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত হয়ে যাওয়ায় তা পাওয়ার পথ অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছিল; যার কিছু অংশ রিয়াদের কিং সউদ ইউনিভার্সিটিতে, কিছু কায়রোতে এবং কিছু অংশ বৈরুতে ছিল। সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে পাণ্ডুলিপি বিশেষজ্ঞদের নিকট জিজ্ঞাসা করেও আমি কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাইনি এবং পাণ্ডুলিপিটি (نسخة) খুঁজে পেতে সক্ষম হইনি।

তবে আল্লাহ তাআলা আমাকে এমন এক সময়ে সেটির দিশা দান করলেন যখন আমি অন্য একটি কিতাব খুঁজছিলাম। হঠাৎ করেই রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ ইবন সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি (مخطوطات) বিভাগে আমার সামনে এর তথ্য সম্বলিত কার্ডটি ভেসে ওঠে, যাতে পাণ্ডুলিপিটির নম্বর ও পত্রসংখ্যা ছিল। সেটি দেখার পর আমি পাণ্ডুলিপির (نسخة) মলাটের ওপর আল-জিরিকলির লাইব্রেরির সিলমোহর এবং তার স্বাক্ষর দেখতে পাই। এই মহান সাহায্য ও তাওফিকের জন্য আমি আল্লাহর অশেষ প্রশংসা জ্ঞাপন করছি।

অতঃপর আমি কায়রোর দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহতে সংকলিত সংগ্রহগুলোর (مجاميع) মধ্য থেকে তৃতীয় একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) সংগ্রহ করি। এভাবে আমার নিকট গ্রন্থটির মোট তিনটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) একত্রিত হলো, যার মধ্যে একটি ছিল স্বয়ং লেখকের মূল পাণ্ডুলিপি (نسخة المؤلف)। নিচে উক্ত তিনটি পাণ্ডুলিপির (نسخة) বিস্তারিত বিবরণ পেশ করা হলো: