(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: -)
معتقد أهل السنة والجماعة في أسماء الله الحسنى   (محمد بن خليفة التميمي)

القسم: العقيدة


الكتاب: معتقد أهل السنة والجماعة في أسماء الله الحسنى

المؤلف: محمد بن خليفة بن علي التميمي

الناشر: أضواء السلف، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1419هـ/1999م

عدد الصفحات: 395

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা   (মুহাম্মদ বিন খলিফা আল-তামিমী)

বিভাগ: আকিদা


গ্রন্থ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা

লেখক: মুহাম্মদ বিন খলিফা বিন আলী আল-তামিমী

প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ, সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি/১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৫)
معتقد أهل السنة والجماعة في أسماء الله الحسنى

تأليف: د/محمد بن خليفة التميمي

ال‌‌مقدمة

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هاديا له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الأسماء الحسنى والصفات العلى.

وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، أرسله الله بالهدى ودين الحق، فبلغ الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح الأمة وتركها على مثل البيضاء، وجاهد في الله حق جهاده، وعبد ربه حتى أتاه اليقين من ربه، صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليما كثيرا.

أما بعد: فهذه الدراسة الثانية من سلسلة "دراسات في مباحث توحيد الأسماء والصفات وهي بعنوان: "معتقد أهل، السنة والجماعة في أسماء الله الحسنى"، وقد سبقها بحمد الله وفضله الدراسة الأولى وهي بعنوان: "معتقد أهل السنة والجماعة في توحيد الأسماء والصفات"، وسيتبع ذلك بإذن الله ومشيئته الدراسات التالية:

الدراسة الثالثة: "معتقد أهل السنة والجماعة في صفات الله العلى".

الدراسة الرابعة: "قواعد أهل السنة والجماعة في نصوص الأسماء

والصفات".

الدراسة الخامسة: "مقالة التعطيل وموقف أهل السنة والجماعة منها"

الدراسة السادسة: " مقالة التشبيه وموقف أهل السنة والجماعة منها"
আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা

রচনায়: ড. মুহাম্মদ বিন খলিফা আত-তামিমি

ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ দেখান তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তাঁর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলি।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাকে হেদায়াত ও সত্য দ্বীন দিয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং তাদের এক স্বচ্ছ শুভ্র পথের ওপর ছেড়ে গিয়েছেন। তিনি আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন এবং তাঁর রবের ইবাদত করেছেন যতক্ষণ না তাঁর রবের পক্ষ থেকে নিশ্চিত মৃত্যু তাঁর নিকট এসেছে। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর অফুরন্ত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর: এটি "আসমা ওয়াস সিফাতের তাওহিদ সংক্রান্ত গবেষণামালা" সিরিজের দ্বিতীয় গবেষণা। এর শিরোনাম: "আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা"। আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে এর পূর্বে প্রথম গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে যার শিরোনাম ছিল: "আসমা ওয়াস সিফাতের তাওহিদের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা"। আল্লাহর ইচ্ছায় ও অভিপ্রায়ে এর পরে নিম্নোক্ত গবেষণাসমূহ আসবে:

তৃতীয় গবেষণা: "আল্লাহর সুউচ্চ গুণাবলির ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা"।

চতুর্থ গবেষণা: "আসমা ওয়াস সিফাতের দলিলের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মূলনীতিসমূহ"।

পঞ্চম গবেষণা: "তাতিল (আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করা) মতবাদ এবং এর বিরুদ্ধে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অবস্থান"

ষষ্ঠ গবেষণা: "তাশবিহ (সাদৃশ্যদান) মতবাদ এবং এর বিরুদ্ধে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অবস্থান"
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৬)
وكنت قد بينت في الدراسة الأولى معتقد أهل السنة في هذا الباب على وجه الإجمال، وفي هذه الدراسة سأتناول بالبحث مسألة أسماء الله على وجه التفصيل، وقد تطرقت للمباحث المهمة المتعلقة بهذه المسألة، فبذلت طاقتي وجهدي في جمع ما تفرق منها في بطون الكتب، وحرصت على ترتيب ذلك وصياغته.

وقد سرت في هذه الدراسة وفق الخطة التالية:

الأولى: التمهيد: واستعرضت فيه مواقف الطوائف من أسماء الله الحسنى.

ثانيا: الفصل الأول: في ثبوت الأسماء وتعيينها.

وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: في معرفة ضابط الأسماء الحسنى.

وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: أهمية معرفة ضابط الأسماء الحسنى.

المطلب الثاني: تحديد ضابط الأسماء الحسنى.

المطلب الثالث: في الشرط الأول للأسماء الحسنى، وهو ورود النص بذلك الاسم.

المطلب الرابع: في الشرط الثاني الأسماء الحسنى، وهو أن تقتضي الأسماء المدح والثناء بنفسها.

المبحث الثاني: مناهج الناس في عدد الأسماء الحسنى

وفيه مطلبان:

المطلب الأول: منهج القائلين بأن أسماء الله غير محصورة بعدد معين.

المطلب الثاني: منهج القائلين بأن الأسماء الله محصورة بعدد معين.
আমি প্রথম গবেষণায় এই অধ্যায়ে আহলুস সুন্নাহর আকিদা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছিলাম। এই গবেষণায় আমি আল্লাহর নামসমূহের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। আমি এই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি এবং বইয়ের পাতায় ছড়িয়ে থাকা তথ্যগুলো সংগ্রহ করতে আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এবং সেগুলো বিন্যস্ত ও সংকলন করার ব্যাপারে যত্নশীল হয়েছি।

আমি এই গবেষণায় নিম্নলিখিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হয়েছি:

প্রথম: ভূমিকা: এতে আমি আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ সম্পর্কে বিভিন্ন দল ও উপদলের অবস্থান বর্ণনা করেছি।

দ্বিতীয়: প্রথম অধ্যায়: নামসমূহের সাব্যস্তকরণ এবং নির্ধারণ প্রসঙ্গে।

এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের নীতিমালা জানা প্রসঙ্গে।

এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের নীতিমালা জানার গুরুত্ব।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের নীতিমালা নির্ধারণ করা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের প্রথম শর্ত প্রসঙ্গে, আর তা হলো সেই নামের স্বপক্ষে দলিল বিদ্যমান থাকা।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের দ্বিতীয় শর্ত প্রসঙ্গে, আর তা হলো নামগুলো স্বয়ং প্রশংসা ও গুণগানের দাবিদার হওয়া।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের সংখ্যার ক্ষেত্রে মানুষের মতাদর্শসমূহ।

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: যারা মনে করেন যে আল্লাহর নামসমূহ কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, তাদের মতাদর্শ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: যারা মনে করেন যে আল্লাহর নামসমূহ একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ, তাদের মতাদর্শ।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৭)
معتقد أهل السنة والجماعة في أسماء الله الحسنى

المبحث الثالث: مناهج الناس في تعيين الأسماء الحسنى.

وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: منهج المعتمدين على العد الوارد في بعض روايات حديث الأسماء.

المطلب الثاني: منهج المقتصرين على ما ورد بصورة الاسم.

المطلب الثالث: منهج المتوسعين.

المطلب الرابع: منهج المتوسطين.

المبحث الرابع: جهود أهل العلم في جمع الأسماء الحسنى.

وفيه ستة مطالب:

المطلب الأول: نماذج لإجتهادات أهل العلم في جمع الأسماء الحسنى.

المطلب الثاني: الأسماء التي ورد إطلاقها في النصوص وأدلتها ومن ذكرها من أهل العلم ومن أسقطها.

المطلب الثالث: الأسماء التي لم ترد في النصوص بصورة الاسم وإنما أخذت بالاشتقاق.

المطلب الرابع: الأسماء المضافة.

المطلب الخامس: الأسماء المزدوجة.

المطلب السادس: الأسماء التي يرجح عدم ثبوتها إما لعدم ورود النص أو لعدم صحة الإطلاق.

ثالثا: الفصل الثاني: أحكام الأسماء الحسنى.

وفيه أربعة مباحث:
আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ নির্ধারণে মানুষের অনুসৃত পদ্ধতিসমূহ।

এতে চারটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: নামের হাদিসের কিছু বর্ণনায় বর্ণিত গণনার ওপর নির্ভরশীলদের পদ্ধতি।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: শুধুমাত্র সরাসরি নাম হিসেবে যা বর্ণিত হয়েছে তাতে সীমাবদ্ধদের পদ্ধতি।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: অধিক নাম গ্রহণকারীদের পদ্ধতি।

চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: মধ্যপন্থীদের পদ্ধতি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ সংকলনে আহলে ইলম বা বিদ্বানদের প্রচেষ্টা।

এতে ছয়টি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ সংকলনে আহলে ইলমদের ইজতিহাদের নমুনা।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: ওই সকল নাম যা মূল পাঠ বা দলীলসমূহে সরাসরি প্রয়োগ করা হয়েছে, সেগুলোর প্রমাণাদি এবং আহলে ইলমদের মধ্যে কারা সেগুলো উল্লেখ করেছেন ও কারা বর্জন করেছেন।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: ওই সকল নাম যা দলীলসমূহে সরাসরি নাম হিসেবে আসেনি, বরং গুণ বা ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত করা হয়েছে।

চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: সম্বন্ধযুক্ত নামসমূহ।

পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: জোড়া নামসমূহ।

ষষ্ঠ উপ-পরিচ্ছেদ: ওই সকল নাম যা সাব্যস্ত না হওয়া অধিক যুক্তিসঙ্গত, হয়তো দলীলে না থাকার কারণে অথবা প্রয়োগ বিশুদ্ধ না হওয়ার কারণে।

তৃতীয়ত: দ্বিতীয় অধ্যায়: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের বিধানাবলী।

এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الأول: أسماء الله غير مخلوقة، أو ما يعرف بمسألة "الاسم والمسمى".

وفيه مدخل، ومطلبان:

المدخل: في التعريف بهذه المسألة.

المطلب الأول: الجانب اللغوي للمسألة.

المطلب الثاني: الجانب العقدي للمسألة.

المبحث الثاني: أسماء الله كلها حسنى.

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: الأدلة على كون أسماء الله كلها حسنى.

المطلب الثاني: وجه الحسن في أسماء الله.

المطلب الثالث: الأحكام المستفادة من كون أسماء الله حسنى.

المبحث الثالث: أسماء الله الحسن أعلام وأوصاف.

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأولى: بيان معتقد أهل السنة في المسألة.

المطلب الثاني: الأدلة على أن أسماء الله أعلام وأوصاف.

المطلب الثالث: الأحكام المستفادة من هذه المسألة.

المبحث الرابع: إحصاء أسماء الله الحسنى.

وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: الحث على إحصاء أسماء الله الحسنى والمقصود بذلك. المطلب الثاني: مراتب الإحصاء.

المطلب الثالث: ثمرات الإحصاء.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নামসমূহ সৃষ্টি নয়, অথবা যা "নাম ও নামী" সংক্রান্ত মাসআলা হিসেবে পরিচিত।

এতে একটি ভূমিকা এবং দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

ভূমিকা: এই মাসআলার পরিচিতি প্রসঙ্গে।

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: এই মাসআলার ভাষাতাত্ত্বিক দিক।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: এই মাসআলার আকিদাগত দিক।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সকল নামই অত্যন্ত সুন্দর।

এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সকল নাম সুন্দর হওয়ার সপক্ষে দলিলসমূহ।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নামসমূহের সৌন্দর্যের দিক।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নামসমূহ সুন্দর হওয়ার বিষয়টি থেকে লব্ধ বিধানসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ সত্তাবাচক ও গুণবাচক।

এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় আহলুস সুন্নাহর আকিদার বর্ণনা।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নামসমূহ সত্তাবাচক ও গুণবাচক হওয়ার সপক্ষে দলিলসমূহ।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: এই মাসআলা থেকে লব্ধ বিধানসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ গণনা করা।

এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ গণনার প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য। দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: গণনার স্তরসমূহ।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: গণনার সুফলসমূহ।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১২)
الخاتمة: في التحذير من الإلحاد في أسماء الله الحسنى

وبعد: فمما لاشك فيه أن هذا الباب شأنه عظيم والزلل فيه خطير، فأرجو أن أكون قد وفقت في عرض الموضوع على الوجه المطلوب، وعملي هذا جهد بشر، والمرء يستحضر قول القائل: "إني رأيت أنه لا يكتب إنسان كتابا في يوم إلا قال في غدة: لو غير هذا لكان أحسن، ولو زيد كذا لكان يستحسن، ولو قدم هذا لكان أفضل، ولو ترك هذا لكان أجمل. وهذا من أعظم العبر، وهو دليل على استيلاء النقص على جملة البشر".

فأرجو ممن يقف على خلل أو خطأ في هذا الكتاب أن يبادرني النصيحة، وأسأل الله عز وجل أن يبارك هذا العمل وأن يتقبله مني، وأن يجعله عملا صالحا ولوجهه خالصا، وألا يجعل لأحد فيه شيئا، وأن ينفع به قارئيه.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

د. محمد بن خليفة التميمي
উপসংহার: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ক্ষেত্রে ইলহাদ (বিচ্যুতি) সম্পর্কে সতর্কীকরণ প্রসঙ্গে

অতঃপর: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে পদস্খলন খুবই বিপজ্জনক। অতএব, আমি আশা করি যে বিষয়টি যথাযথভাবে উপস্থাপনে সক্ষম হয়েছি। আমার এই কাজ একজন মানুষের প্রচেষ্টা মাত্র। আর মানুষের উচিত সেই প্রবচনটি স্মরণ করা: "আমি দেখেছি যে, কোনো মানুষ একদিনে কোনো কিতাব লেখে না যা সম্পর্কে সে পরের দিন বলে না যে: যদি এটি পরিবর্তন করা হতো তবে আরও ভালো হতো, যদি এতে এমন কিছু বৃদ্ধি করা হতো তবে তা পছন্দনীয় হতো, যদি একে আগে আনা হতো তবে উত্তম হতো, আর যদি এটি বাদ দেওয়া হতো তবে তা আরও সুন্দর হতো। এটি এক মহান শিক্ষা এবং এটি মানবজাতির সামগ্রিক অপূর্ণতারই প্রমাণ।"

অতএব, যারা এই কিতাবে কোনো ত্রুটি বা ভুল দেখতে পাবেন, তাদের প্রতি অনুরোধ যে তারা যেন আমাকে দ্রুত নসিহত প্রদান করেন। আমি পরাক্রমশালী মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজে বরকত দান করেন এবং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করেন; তিনি যেন একে একটি সৎকর্ম হিসেবে কবুল করেন যা কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই একনিষ্ঠ হবে, এবং এতে যেন অন্য কারো কোনো অংশ না রাখেন, আর এর পাঠকদের জন্য একে উপকারী করে তোলেন।

আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

ড. মুহাম্মদ বিন খলিফা আত-তামিমি
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৮)
ال‌‌تمهيد

استعراض مواقف الطوائف من أسماء الله الحسنى

إن من فضل الله ونعمته على أهل السنة أن وفقهم للعمل بكتابه وسنة رسوله صلى الله صلى، فالهداية والنور والحق إنما هي في الكتاب والسنة، فالله يقول في شأن كتابه: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} 1 وقال: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحاً مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلا الأِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُوراً نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَأنا} 2 وقال تعالى: {وَالَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ الْحَقّ} 3.

وقال في شأن رسوله صغ: {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} 4، وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِداً وَمُبَشِّراً وَنَذِيراً وَدَاعِياً إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجاً مُنِيراً} 5، وقال تعالى: {رَسُولاً يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِ اللَّهِ مُبَيِّنَاتٍ لِيُخْرِجَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ} 6.

فكل إنسان لا يمكنه أن يخرج من ظلمات الجهل والشرك والكفر والشك إلى نور العلم والتوحيد والإيمان واليقين إلا بالكتاب والسنة، ففيهما بحمد الله

--------------------------------------------

1 الآية 9 من سورة الإسراء.

2 الآية 52 من سورة الشورى.

3الآية 1 من سورة الرعد.

4 الآية 52 من سورة الشورى.

5الآيتان 45، 46 من سورة الأحزاب

6 الآية 11 من سورة الطلاق.
প্রারম্ভিকা

আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের ব্যাপারে বিভিন্ন ফেরকার অবস্থানের পর্যালোচনা

আহলে সুন্নাতের প্রতি আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ ও নেয়ামত হলো যে, তিনি তাদের তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেছেন। কেননা হিদায়াত, নূর এবং সত্য কেবলমাত্র কিতাব ও সুন্নাহর মধ্যেই নিহিত। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাব সম্পর্কে বলেন: {নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা সবচেয়ে সরল} ১ এবং তিনি বলেন: {আর এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে রূহ (ওহী) প্রেরণ করেছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী, কিন্তু আমি একে একটি নূর করেছি যা দিয়ে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি} ২। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা সত্য} ৩।

তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে বলেন: {আর নিশ্চয় আপনি সরল পথের দিকে হিদায়াত দান করেন} ৪। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে} ৫। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এমন একজন রাসূল, যিনি আপনাদের কাছে আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করেন যাতে তিনি মুমিন ও সৎকর্মশীলদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন} ৬।

কাজেই কোনো মানুষের পক্ষেই মূর্খতা, শিরক, কুফর ও সন্দেহের অন্ধকার থেকে বের হয়ে জ্ঞান, তাওহীদ, ঈমান ও ইয়াকীনের আলোর দিকে আসা সম্ভব নয় কিতাব ও সুন্নাহ ব্যতীত। কারণ আল্লাহর প্রশংসায় এই দুটির মধ্যেই রয়েছে

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৯।

২ সূরা আশ-শুরা, আয়াত ৫২।

৩ সূরা আর-রাদ, আয়াত ১।

৪ সূরা আশ-শুরা, আয়াত ৫২।

৫ সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৪৫, ৪৬।

৬ সূরা আত-তালাক, আয়াত ১১।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৯)
طريق الهدى وسبيل الرشاد، وضياء النفوس وشفاء الصدور، وبصائر القلوب، والتذكرة لمن كان له قلب أو ألقى السمع وهو شهيد، ومعلوم أن كل من سلك إلى الله عز وجل علما وعملا بطريق ليست مشروعة موافقة للكتاب والسنة وما كان عليه سلف الأمة وأئمتها فلابد أن يقع في بدعة قولية أو عملية، فإن السائر إذا سار على غير الطريق المهيع فلابد أن يسلك بنيات الطريق، بخلاف الطريق المشروعة في العلم والعمل؟ فإنها أقوم طريق ليس فيها عوج، فعن عبد الله بن مسعود قال: خط رسول صلى الله عليه وسلم خطا وخط خطوطا عن يمينه وشماله ثم قال: "هذه سبيل الله وهذه سبل، على كل سبيل منها شيطان يدعو منها، ثم قرأ {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِه} 1

(ومعلوم أن الضلال والتهوك إنما استولى على كثير من المتأخرين بنبذهم كتاب الله وراء ظهورهم وإعراضهم عما بعث به الله محمدا صلى الله عليه وسلم من البينات والهدى، وتركهم البحث عن طريقة السابقين من الصحابة والتابعين وتابعي التابعين، والتماسهم علم معرفة الله ممن لم يعرف الله)

ولقد كان من نتاج ذلك البعد والإعراض الذي وقع فيه هؤلاء المبتدعة- إلحادهم في أسماء الله الحسنى، بنوعيه الجلي الواضح والخفي غير المباشر معاندة ومشاقة لقوله تعالى: {وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَأنه سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} 3.

فمسألة أسماء الله مع وضوحها وجلأنها في النصوص، مع ذلك لم تسلم

--------------------------------------------

1 الآية 153 من سورة الأنعام

2 الفتوى الحموية ص 6.

3 الآية 185 من سورة الأعراف.
হেদায়েতের পথ ও সত্যের মার্গ, নফসের জ্যোতি ও বক্ষের নিরাময়, হৃদয়ের অন্তর্দৃষ্টি এবং সেই ব্যক্তির জন্য উপদেশ যার অন্তর রয়েছে অথবা যে একাগ্রচিত্তে শ্রবণ করে। আর এটি সুবিদিত যে, যে ব্যক্তি জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লার দিকে এমন পথে পরিচালিত হয় যা কিতাব ও সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফ ও ইমামগণ যে বিষয়ের ওপর ছিলেন তার সাথে সংগতিপূর্ণ ও শরীয়তসম্মত নয়, সে অবশ্যই বাচনিক অথবা প্রায়োগিক বিদআতে পতিত হবে। কেননা পথিক যদি প্রশস্ত ও স্পষ্ট পথ ব্যতীত অন্য পথে চলে, তবে সে অবশ্যই আঁকাবাঁকা পথে উপনীত হবে; পক্ষান্তরে জ্ঞান ও কর্মের শরীয়তসম্মত পথটি সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ এটি হচ্ছে সরলতম পথ যাতে কোনো বক্রতা নেই। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি রেখা অঙ্কন করলেন এবং এর ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা অঙ্কন করলেন, অতঃপর বললেন: "এটি আল্লাহর পথ এবং এগুলো অন্যান্য পথ, যার প্রতিটি পথে একটি করে শয়তান রয়েছে যে সেদিকে আহ্বান করছে।" এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।" ১

(আর এটি সুবিদিত যে, পরবর্তী প্রজন্মের অনেকের ওপর পথভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তি কেবল এজন্যই আধিপত্য বিস্তার করেছে যে, তারা আল্লাহর কিতাবকে তাদের পিঠের পেছনে ছুড়ে ফেলেছে এবং আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে সুস্পষ্ট নিদর্শন ও হেদায়েত দিয়ে পাঠিয়েছেন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও তারা সাহাবী, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীদের মতো অগ্রবর্তীদের তরীকা অনুসন্ধান করা পরিত্যাগ করেছে এবং যারা আল্লাহকে চেনে না তাদের নিকট আল্লাহর পরিচয় বিষয়ক জ্ঞান অন্বেষণ করেছে।) ২

আর এই বিদআতিরা যে দূরত্ব ও বিমুখতায় পতিত হয়েছে, তারই একটি ফল হলো আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের ক্ষেত্রে তাদের ইলহাদ বা বিকৃতি, যা স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ অথবা অস্পষ্ট ও পরোক্ষ—উভয় প্রকারেরই হয়ে থাকে। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর বিরুদ্ধে একগুঁয়েমি ও বিবাদ স্বরূপ: "আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো এবং তাদেরকে বর্জন করো যারা তাঁর নামসমূহের বিকৃতি ঘটায়; তারা যা করত অচিরেই তার প্রতিফল তাদেরকে দেওয়া হবে।" ৩

সুতরাং আল্লাহর নামসমূহের বিষয়টি দালিলিক প্রমাণে সুস্পষ্ট ও প্রোজ্জ্বল হওয়া সত্ত্বেও তা রেহাই পায়নি...

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আনআমের ১৫৩ নম্বর আয়াত।

২. আল-ফাতওয়া আল-হামাউয়িয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৬।

৩. সূরা আল-আরাফের ১৮৫ নম্বর আয়াত।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৪)
أهل السنة ومخالفتهم، بل أن يعلم مقالة كل فريق على حقيقتها.

ثم إن العرض لهذه الأقوال المخالفة، مع إتباع ذلك بعرض قول أهل السنة هو من باب إظهار حسن الشيء بذكر ضده، وكما قيل: "الضد يظهر حسنه الضد" و"بضدها تتميز الأشياء"، والقصد من ذلك أن يتبين للقارىء الكريم معالم معتقد أهل السنة في باب الأسماء الحسنى وما تميز واختص به من بين سائر الأقوال الأخرى، الأمر الذي يساعد على تصور وفهم ما سيعرض في هذه الدراسة من مسائل ومباحث لها صلة وعلاقة بما أظهرته تلك الطوائف من مقالات فاسدة في باب أسماء الله الحسنى.

وإليك عرض تلك الأقوال المخالفة، وهي أربعة أقوال، ثم أتبعها بذكر القول الخامس وهو قول أهل السنة والجماعة:

القول الأول: من يقول: إن الله لا يسمى بشيء:

وهذا قول الجهمية أتباع جهم بن صفوان، والغالية من الملاحدة كالقرامطة والفلاسفة.

وهؤلاء المعطلة نفاة الأسماء لهم في تعطيلهم لأسماء الله أربعة مسالك

المسلك الأول: الاقتصارعلى نفي الإثباب فقالوا: لا يسقى بإثبات.

المسلك الثاني: أنه لا يسمى بإثباب ولا نفي.

المسلك الثالث: السكوت عن الأمرين، الإثبات والتفي.

المسلك الرابع: تصويب جميع الأقوال بالرغم من تناقضها.

فهم بذلك اتفقوا على إنكار الأسماء جميعا، ولكن تنوعت مسالكهم في الإنكار.
আহলুস সুন্নাহ এবং তাদের বিরোধীদের সম্পর্কে জানা, বরং প্রতিটি দলের বক্তব্যের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে অবগত হওয়া।

অতঃপর, আহলুস সুন্নাহর মতামতের উপস্থাপনের পাশাপাশি এই বিরোধী মতামতগুলো উপস্থাপন করার উদ্দেশ্য হলো কোনো বিষয়ের সৌন্দর্যকে তার বিপরীত বিষয়ের উল্লেখের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা। যেমনটি বলা হয়েছে: "বিপরীত বস্তুর মাধ্যমেই তার সৌন্দর্য প্রকাশ পায়" এবং "বিপরীতের মাধ্যমেই বিষয়গুলো পৃথক করা যায়।" এর উদ্দেশ্য হলো সম্মানিত পাঠকের নিকট 'আসমাউল হুসনা' (আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ) অধ্যায়ে আহলুস সুন্নাহর আকিদার বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং অন্যান্য মতবাদের মধ্যে এটি কী কী বৈশিষ্ট্যে অনন্য ও বিশেষায়িত তা স্পষ্ট করা। এটি এই গবেষণায় উপস্থাপিত সেই সকল মাসআলা ও বিষয়বস্তু বুঝতে ও কল্পনা করতে সাহায্য করবে, যা এই দলগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ক্ষেত্রে প্রচারিত ভ্রান্ত মতবাদগুলোর সাথে সম্পৃক্ত।

নিচে সেই বিরোধী মতামতগুলো উপস্থাপন করা হলো, যা সংখ্যায় চারটি। এরপর পঞ্চম মতামতটি উল্লেখ করা হবে, যা হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অভিমত:

প্রথম মত: যারা বলে যে, আল্লাহর কোনো নাম রাখা যাবে না:

এটি হলো জাহম বিন সাফওয়ানের অনুসারী জাহমিয়াদের এবং ক্বারামিতা ও দার্শনিকদের মতো চরমপন্থী নাস্তিকদের অভিমত।

আল্লাহর নাম অস্বীকারকারী এই মুআত্তিলাদের আল্লাহর নামসমূহ অস্বীকার করার ক্ষেত্রে চারটি পদ্ধতি রয়েছে:

প্রথম পদ্ধতি: সাব্যস্ত করার বিষয়টিকে সরাসরি অস্বীকার করা। তারা বলে: সাব্যস্ত করার মাধ্যমে আল্লাহর কোনো নাম রাখা যাবে না।

দ্বিতীয় পদ্ধতি: সাব্যস্ত করা কিংবা অস্বীকার করা—কোনোভাবেই আল্লাহর নাম রাখা যাবে না।

তৃতীয় পদ্ধতি: সাব্যস্তকরণ ও অস্বীকারকরণ—উভয় বিষয়েই নীরবতা অবলম্বন করা।

চতুর্থ পদ্ধতি: পরস্পর বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও সকল মতবাদকেই সঠিক বলে গণ্য করা।

এভাবে তারা আল্লাহর সকল নাম অস্বীকার করার ক্ষেত্রে একমত হয়েছে, তবে তাদের অস্বীকার করার পদ্ধতিগুলো ভিন্ন ভিন্ন।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৫)
ا- فأصحاب المسلك الأول: اقتصروا على قولهم: بأنه ليس له اسم كالحي والعليم ونحو ذلك.

وشبهتهم في ذلك:

أ- أنه إذا كان له اسم من هذه الأسماء لزم أن يكون متصقا بمعنى الاسم كالحياة والعلم فإن صدق المشتق- أي الإسم كالعليم- مستلزم لصدق المشتق منه- أي الصفة كالعلم-، وذلك محال عندهم.

ب- ولأنه إذا سمي بهذه الأسماء فهي مما يسمى به غيره. والله منزه عن مشابهة الغير1.

(فهؤلاء المعطلة المحضة- نفاة الأسماء- يسمون من سمى الله بأسمأنه الحسنى مشبها. فيقولون: إذا قلنا حي عليم فقد شبهناه بغيره من الأحياء العالمين، وكذلك إذا قلنا هو سميع بصير فقد شبهناه بالإنسان السميع البصير، وإذا قلنا رؤوف رحيم فقد شبهناه بالنبي الرؤوف الرحيم، بل قالوا: إذا قلنا إنه موجود فقد شبهناه بسائر الموجودات لاشتراكهما في مسمى الوجوب)

وهذا المسلك ينسب لجهم بن صفوان، قال شيخ الإسلام ابن تيمية:

"جهم كان ينكر أسماء الله تعالى فلا يسميه شيئا لا حيا ولا غير ذلك إلا على سبيل المجاز"3.

--------------------------------------------

1 انظر: مجموع الفتاوى 6/ 35، 3/100، ودرء تعارض العقل والنقل 3/ 367، وكتاب الصفدية 88/1- 89، 96- 97.

2 منهاج السنة 523/2، 524.

3 مجموع الفتاوى 12/ 311.
১- প্রথম মতাবলম্বীগণ: তারা কেবল এই কথাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে যে, আল্লাহর কোনো নাম নেই, যেমন ‘আল-হাই’ (চিরঞ্জীব), ‘আল-আলিম’ (সর্বজ্ঞ) এবং এই জাতীয় কিছু।

এক্ষেত্রে তাদের সংশয় হলো:

ক- যদি তাঁর জন্য এই নামগুলোর মধ্য হতে কোনো নাম থাকে, তবে আবশ্যক হয়ে পড়ে যে তিনি উক্ত নামের অর্থের সাথে বিশেষিত হবেন, যেমন জীবন ও জ্ঞান। কারণ উদ্ভূত শব্দের (মুশতাক)—অর্থাৎ নাম, যেমন ‘সর্বজ্ঞ’—সত্যায়ন অনিবার্যভাবে উহার মূল শব্দের (মুশতাক মিনহু)—অর্থাৎ গুণ, যেমন ‘জ্ঞান’—সত্যায়নকে দাবি করে; আর এটি তাদের নিকট অসম্ভব।

খ- এবং যেহেতু তাঁকে যদি এই নামসমূহ দ্বারা নামকরণ করা হয়, তবে এগুলো এমন সব বিষয় যা দ্বারা অন্যকেও নামকরণ করা হয়ে থাকে। অথচ আল্লাহ অন্য কারো সদৃশ হওয়া থেকে পবিত্র।১

(সুতরাং এই নিরেট অস্বীকারকারীগণ—যারা নামসমূহকে অস্বীকার করে—তারা ঐ ব্যক্তিকে ‘সাদৃশ্যদানকারী’ বলে অভিহিত করে, যে আল্লাহকে তাঁর সুন্দর নামসমূহ দ্বারা অভিহিত করে। তারা বলে: আমরা যদি বলি তিনি চিরঞ্জীব ও সর্বজ্ঞ, তবে আমরা তাঁকে অন্যান্য জীবিত ও জ্ঞানীদের সাথে সদৃশ করলাম। তেমনিভাবে আমরা যদি বলি তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, তবে আমরা তাঁকে শ্রবণকারী ও দর্শনকারী মানুষের সাথে সদৃশ করলাম। আর যদি বলি তিনি অত্যন্ত স্নেহশীল ও দয়ালু, তবে আমরা তাঁকে স্নেহশীল ও দয়ালু নবীর সাথে সদৃশ করলাম। এমনকি তারা বলেছে: আমরা যদি বলি যে তিনি বিদ্যমান, তবে আমরা তাঁকে অন্যান্য সকল বিদ্যমান বস্তুর সাথে সদৃশ করলাম, যেহেতু বিদ্যমান নামকরণের ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে অংশীদারিত্ব রয়েছে।)

আর এই মতটি জাহম বিন সাফওয়ানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন:

"জাহম মহান আল্লাহর নামসমূহকে অস্বীকার করত, ফলে সে তাঁকে কোনো নামেই অভিহিত করত না—না চিরঞ্জীব, না অন্য কিছু—কেবল রূপক হিসেবে ছাড়া।"৩।

--------------------------------------------

১ দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/৩৫, ৩/১০০; এবং দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি ৩/৩৬৭; এবং কিতাবুস সাফাদিয়্যাহ ১/৮৮-৮৯, ৯৬-৯৭।

২ মিনহাজুস সুন্নাহ ২/৫২৩, ৫২৪।

৩ মাজমুউল ফাতাওয়া ১২/৩১১।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৬)
وهو كذلك قول ابن سينا وأمثاله1.

2- وأما أصحاب المسلك الثاني: فقد زادوا في الغلو فقالوا: لا يسمى بإثباب ولا نفي، ولا يقال موجود ولا لا موجود، ولا حي ولا لا حي، لأن في الإثبات تشبيها بالموجودات، وفي النفي تشبيها له بالمعدومات، وكل ذلك تشبيه2.

والمسلك الثاني: ينسب لغلاة المعطلة من القرامطة الباطنية والمتفلسفة. قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "فالقرامطة الذين قالوا لا يوصف بأنه حي ولا ميت، ولا عالم ولا جاهل، ولا قادر ولا عاجز، بل قالوا لا يوصف بالإيجاب ولا بالسلب، فلا يقال حي عالم ولا يقال ليس بحي عالم، ولا يقال هو عليم قدير، ولا يقال ليس بقدير عليم، ولا يقال هو متكلم مريد، ولا يقال ليس بمتكلم مريد قالوا: لأن في الإثبات تشبيها بما تثبت له هذه الصفات، وفي النفي تشبيه له بما ينفى عنه هذه الصفات"3

3- وأما أصحاب المسلك الثالث فيقولون: نحن لا نقول ليس بموجود ولا معدوم ولا حي ولا ميت، فلا ننفي النقيضين، بل نسكت عن هذا وهذا، فنمتنع عن كل من المتناقضين، لا نحكم لا بهذا ولا بهذا، فلا نقول: ليس بموجود ولا معدوم، ولكن لا نقول: هو موجود، ولا نقول هو معدوم.

ومن الناس من يحكي نحو هذا عن الحلاج، وحقيقة هذا القول هو الجهل

--------------------------------------------

1 الصفدية 1/ 299- 300

2 مجموع الفتاوى 6/ 35، 3/ 150.

3 شرح العقيدة الأصفهانية ص 76.
এবং এটি ইবনে সিনা ও তাঁর সমমনাদের বক্তব্য১।

২- আর দ্বিতীয় মতাদর্শের অনুসারীরা: তারা চরমপন্থায় এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেছে যে, তাঁকে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো নামেই অভিহিত করা যাবে না। বলা যাবে না যে তিনি বিদ্যমান, আবার বিদ্যমান নন এমনটিও বলা যাবে না। একইভাবে তিনি চিরঞ্জীব অথবা চিরঞ্জীব নন—এর কোনোটিই বলা যাবে না। কারণ, ইতিবাচক গুণে গুণান্বিত করার অর্থ হলো বিদ্যমান বস্তুর সাথে সাদৃশ্য করা, আর নেতিবাচক করার অর্থ হলো অবিদ্যমান বা শূন্যের সাথে সাদৃশ্য করা; আর এ সবই হলো সাদৃশ্য স্থাপন২।

দ্বিতীয় মতাদর্শটি বাতেনি কারামিতা এবং দার্শনিকদের মধ্যকার চরমপন্থী নাস্তিবাদী বা মুয়াত্তিলাদের দিকে নিসবত করা হয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "কারামিতারা যারা বলেছিল যে, আল্লাহকে জীবিত বা মৃত, জ্ঞানী বা মূর্খ, সক্ষম বা অক্ষম—কোনোটি দ্বারাই বিশেষিত করা যাবে না। বরং তারা বলেছিল, তাঁকে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনোটি দ্বারাই গুণান্বিত করা যাবে না। সুতরাং বলা যাবে না তিনি চিরঞ্জীব-সর্বজ্ঞানী, আবার বলা যাবে না তিনি চিরঞ্জীব-সর্বজ্ঞানী নন। বলা যাবে না তিনি মহাজ্ঞানী-মহাশক্তিশালী, আবার বলা যাবে না তিনি মহাজ্ঞানী-মহাশক্তিশালী নন। বলা যাবে না তিনি কথা বলেন এবং ইচ্ছা পোষণ করেন, আবার বলা যাবে না তিনি কথা বলেন না এবং ইচ্ছাও পোষণ করেন না। তারা বলেছিল: এর কারণ হলো ইতিবাচক গুণে গুণান্বিত করার মধ্যে ওই সকল বস্তুর সাথে সাদৃশ্য তৈরি হয় যাদের জন্য এসব গুণাবলী সাব্যস্ত, আর নেতিবাচক গুণের ক্ষেত্রে ওই সকল বস্তুর সাথে সাদৃশ্য তৈরি হয় যাদের থেকে এসব গুণাবলী অস্বীকার করা হয়েছে"৩

৩- আর তৃতীয় মতাদর্শের অনুসারীরা বলে: আমরা বলব না যে তিনি বিদ্যমান নন, আবার অবিদ্যমানও নন, জীবিত নন, আবার মৃতও নন। সুতরাং আমরা দুটি বিপরীত ধর্মী বিষয়কে অস্বীকার করি না, বরং উভয় বিষয়ে মৌনতা অবলম্বন করি। আমরা পরস্পরবিরোধী প্রতিটি বিষয় থেকে বিরত থাকি; আমরা এটির পক্ষেও রায় দিই না, আবার ওটির পক্ষেও রায় দিই না। সুতরাং আমরা বলব না যে তিনি বিদ্যমান নন বা অবিদ্যমান নন, তবে আমরা এও বলব না যে তিনি বিদ্যমান, আবার এও বলব না যে তিনি অবিদ্যমান।

মানুষের মধ্যে কেউ কেউ হাল্লাজ সম্পর্কে অনুরূপ কথা বর্ণনা করে থাকে, আর এই বক্তব্যের প্রকৃত রূপ হলো মূর্খতা।

--------------------------------------------

১ আস-সাফাদিয়্যাহ ১/ ২৯৯- ৩০০

২ মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/ ৩৫, ৩/ ১৫০।

৩ শারহুল আকিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৭৬।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৭)
البسيط والكفر البسيط، الذي مضمونه الإعراض عن الإقرار بالله ومعرفته وحبه وذكره وعبادته ودعأنه1.

وأصحاب المسلك الثالث هم المتجاهلة اللاأدرية.

وأصحاب المسلك الثاني هم المتجاهلة الواقفة الذين يقولون لا نثبت ولا ننفي. وأصحاب المسلك الاول هم المكذبة النفاة.

4- وهناك مسلك رابع، يقول بتصويب كل واحد من القائلين للأقوال المتناقضة، كما يقوله من يقوله من أصحاب الوحدة، كابن عربى ونحوه الذي يقول بأن كل من اعتقد في الله عقيدة فهو مصيب فيها، حتى قال:

عقدالخلائق في الإله عقائدا وأنا أعتقد جميع ما عقدوه

فأصحاب وحدة الوجود يعطون أسماءه سبحانه لكل شيء في الوجود، إذ كان وجود الأشياء عندهم هو عين وجوده ما ثمت فرق إلا بالإطلاق والتقييد2

وهذا منتهى قوله طوائف المعطلة.

وغاية ما عندهم في الإثبات قولهم هو (وجود مطلق) أي وجود خيالي في الذهن، أو وجود مقيد بالأمور السلبية، وقالوا: لا نقول موجود ولا معدوم، أو قالوا: هو لا موجود ولا معدوم3.

حكم القول بنفي الأسماء:

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "والتحقيق أن التجهم المحض- وهو نفي

--------------------------------------------

1 الصفدية 1/ 96- 98.

2 شرح القصيدة النونية للهراس 2/ 126. الصفدية 1/ 98- 99.

3 الصفدية 116/1- 117.
সরল এবং সরল কুফর, যার বিষয়বস্তু হলো আল্লাহর প্রতি স্বীকৃতি প্রদান, তাঁর পরিচয় লাভ, তাঁর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর জিকির, তাঁর ইবাদত এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করা থেকে বিমুখ হওয়া।১।

আর তৃতীয় পথের অনুসারীরা হলো অজ্ঞতাবাদী বা সংশয়বাদী (লা-আদরিয়্যাহ)।

আর দ্বিতীয় পথের অনুসারীরা হলো অজ্ঞতা প্রকাশকারী স্থবির দল (ওয়াকিফিয়া), যারা বলে: আমরা সাব্যস্তও করি না, আবার অস্বীকারও করি না। আর প্রথম পথের অনুসারীরা হলো মিথ্যাপ্রতিপন্নকারী অস্বীকারকারী।

৪- এবং সেখানে চতুর্থ একটি পথ রয়েছে, যা পরস্পরবিরোধী মত পোষণকারীদের প্রত্যেকের বক্তব্যকেই সঠিক বলে গণ্য করে। যেমনটি ওয়াহদাতুল উজুদ (অস্তিত্বের অদ্বৈতবাদ) পন্থীরা বলে থাকে, যেমন ইবনুল আরাবি ও তার সমমনারা, যারা বলে যে, আল্লাহ সম্পর্কে যে ব্যক্তি যে বিশ্বাসই পোষণ করুক না কেন, সে তাতে সঠিক। এমনকি সে বলেছে:

সৃষ্টিজগত ইলাহ সম্পর্কে বিভিন্ন আকিদা পোষণ করেছে, আর তারা যা কিছু বিশ্বাস করেছে আমি তার সবটুকুই বিশ্বাস করি।

সুতরাং অস্তিত্বের অদ্বৈতবাদে বিশ্বাসীরা অস্তিত্বমান প্রত্যেকটি জিনিসের জন্যই মহান আল্লাহর নামসমূহ আরোপ করে। কেননা তাদের নিকট বস্তুর অস্তিত্ব আর তাঁর অস্তিত্ব অভিন্ন; সেখানে কেবল ব্যাপকতা ও সীমাবদ্ধতা ব্যতীত আর কোনো পার্থক্য নেই।২।

আর এটিই হলো আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারী (মুয়াত্তিলা) দলগুলোর বক্তব্যের চরম পর্যায়।

আর গুণাবলি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাদের সর্বোচ্চ দাবি হলো, তারা বলে তিনি (নিরঙ্কুশ অস্তিত্ব) অর্থাৎ কেবল মস্তিষ্কের কাল্পনিক অস্তিত্ব, অথবা নেতিবাচক বিষয়াবলি দ্বারা সীমাবদ্ধ কোনো অস্তিত্ব। তারা বলে: আমরা বলি না যে তিনি বিদ্যমান, আবার বলি না যে তিনি অবিদ্যমান; অথবা তারা বলে: তিনি বিদ্যমানও নন, আবার অবিদ্যমানও নন।৩।

(আল্লাহর) নামসমূহ অস্বীকার করার বক্তব্যের বিধান:

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বিশুদ্ধ জাহমিয়্যাবাদ—যা হলো অস্বীকার করা—

--------------------------------------------

১ আস-সাফাদিয়্যাহ ১/ ৯৬- ৯৮।

২ শারহুল কাসিদাতুন নুনিয়্যাহ, আল-হাররাস ২/ ১২৬; আস-সাফাদিয়্যাহ ১/ ৯৮- ৯৯।

৩ আস-সাফাদিয়্যাহ ১/ ১১৬- ১১৭।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৮)
الأسماء والصفات، كما يحكى عن جهم والغالية من الملاحدة ونحوهم، من نفي الأسماء الحسنى- كفر بين مخالف لما علم بالاضطرار من دين الرسول صلى الله عليه وسلم"1.

القول الثاني: إن الله يسمى بالخالق القادر فقط:

وهذا القول منسوب كذلك للجهم بن صفوان.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "كان الجهم وأمثاله يقولون: إن الله ليس بشي، وروي عنه أنه قال: لا يسمى باسم يسمى به الخلق فلم يسمه إلا بالخالق القادر، لأنه كان جبريا يرى أن العبد لا قدرة له2

وقال أيضا: "ؤلهذا نقلوا عن جهم أنه لا يسمي الله بشيء، ونقلوا عنه أنه لا يسميه باسم من الأسماء التي يسمي بها الخلق: كالحي، والعالم، والسميع، والبصير، بل يسميه قادرا خالقا لأن العبد عنده ليس بقادر، إذ كان هؤ رأس الجهمية الجبرية"3

القول الثالث: إثبات الأسماء مجردة عن الصفات:

وهذا قول المعتزلة، فهم يجمعون على تسمية الله بالاسم ونفي الصفة عنه، يقول ابن المرتضى المعتزلي: "فقد أجمعت المعتزلة على أن للعالم محدثا قديما قادرا عالما حيا لآلمعان.."4.

--------------------------------------------

1 النبوات ص 198.

2 منهاج السنة 2/ 526- 527، وانظر الأنساب للسمعاني 2/ 133.

3 درء تعارض العقل والنقل 5/ 187، مجموع الفتاوى 8/ 5 46.

4 كتاب باب ذكر المعتزلة من كتاب المنية والأمل، في شرح كتاب الملل والنحل لأحمد بن يحيى بن المرتضى ص 6، ط: دار صادر بيروت، شرح الأصول الخمسة ص 151 للقاضي عبد الجبار، مقالات الإسلاميين ص 164- 165.
নাম ও গুণাবলি, যেমনটি জাহম ও চরমপন্থী মুলহিদ এবং তাদের সমগোত্রীয়দের থেকে বর্ণিত হয়েছে—আল্লাহর সুন্দর নামসমূহকে অস্বীকার করা; এটি একটি সুস্পষ্ট কুফরি যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দ্বীনের অকাট্য ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ের পরিপন্থী।"১.

দ্বিতীয় মত: আল্লাহকে কেবল স্রষ্টা ও সর্বশক্তিমান নামেই অভিহিত করা যাবে:

এই মতটিও একইভাবে জাহম ইবনে সাফওয়ানের দিকে নিসবত করা হয়।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "জাহম ও তার সমমনা অনুসারীরা বলত: আল্লাহ কোনো বস্তু নন। তার থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলতেন: আল্লাহকে এমন কোনো নামে অভিহিত করা যাবে না যার মাধ্যমে সৃষ্টিকে অভিহিত করা হয়। তাই তিনি তাঁকে কেবল খালেক (স্রষ্টা) ও কাদির (শক্তিমান) নামেই অভিহিত করতেন; কারণ তিনি ছিলেন জাবরিয়া মতাবলম্বী এবং মনে করতেন যে বান্দার কোনো ক্ষমতা নেই।"২

তিনি আরও বলেন: "এ কারণেই তারা জাহম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহকে কোনো কিছু বলেই নামকরণ করতেন না। তারা তাঁর থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহকে এমন কোনো নামে অভিহিত করতেন না যা দ্বারা সৃষ্টিকে অভিহিত করা হয়; যেমন: চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। বরং তিনি তাঁকে কাদির (শক্তিমান) ও খালেক (স্রষ্টা) বলতেন, কারণ তাঁর মতে বান্দা কোনো ক্ষমতার অধিকারী নয়; যেহেতু তিনি ছিলেন জাবরিয়া জাহমিয়াদের প্রধান ব্যক্তি।"৩

তৃতীয় মত: গুণাবলি ব্যতিরেকে কেবল নামসমূহ সাব্যস্ত করা:

এটি মুতাযিলাদের অভিমত। তারা আল্লাহর জন্য নাম সাব্যস্ত করার ব্যাপারে একমত হলেও তাঁর থেকে গুণাবলি অস্বীকার করে। মুতাযিলি ইবনুল মুর্তজা বলেন: "মুতাযিলারা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে যে, জগতের একজন অনাদি সৃষ্টিকর্তা আছেন, যিনি সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ ও চিরঞ্জীব; তবে কোনো অর্থের (গুণাবলির) সাব্যস্তকরণ ছাড়াই..."৪.

--------------------------------------------

১ আন-নুবুওয়াত, পৃষ্ঠা ১৯৮।

২ মিনহাজুস সুন্নাহ ২/ ৫২৬-৫২৭, আরও দেখুন সামআনির আল-আনসাব ২/ ১৩৩।

৩ দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি ৫/ ১৮৭, মাজমুউল ফাতাওয়া ৮/ ৪৫৬।

৪ আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-মুর্তজা রচিত কিতাবু বাবু যিকরিল মুতাযিলা মিন কিতাবিল মুনিয়া ওয়াল আমাল, ফি শারহি কিতাবিল মিলাল ওয়ান নিহাল, পৃষ্ঠা ৬, বৈরুত: দার সাদির; আল-কাদি আব্দুল জব্বার রচিত শারহুল উসুলিল খামসাহ, পৃষ্ঠা ১৫১; মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন, পৃষ্ঠা ১৬৪-১৬৫।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৯)
ولهم في ذلك الئفي مسلكان:

المسلك الأول: من جعل الأسماء كالأعلام المحضة المترادفة1 التي لم توضع لمسماها باعتبار معنى قائم به. فهم بذلك ينظرون إلى هذه الأسماء على أنها أعلام خالصة لا تدل على صفة، و (المحضة) : الخالصة الخالية من الدلالة على شيء آخر، فهم يقولون: إن العليم والخبير والسميع ونحو ذلك على لم دالة ليست دالة على أوصاف، وهي بالنسبة إلى دلالتها على ذات واحدة هي: مترادفة، وذلك مثل تسميتك ذاتا واحدة ب"زيد - وعمرو- ومحمد – وعلي"، فهذه الأسماء مترادفة وهي أعلام خالصة لا تدل على صفة لهذه الذات المسماة بها2

المسلك الثاني: من يقول منهم: إن كل علم منها مستقل، فالله يسمى عليما وقديرا، وليست هذه الأسماء مترادفة، ولكن ليس معنى ذلك أن هناك حياة أو قدرة3 ولذلك يقولون: عليم بلا علم، قدير بلا قدرة، سميع بلا سمع، بصير بلا بصر.

وقول المعتزلة وإن كان دون قول الجهمية، لكنه عظيم أيضا4

--------------------------------------------

1 المترادفة: أي اختلفت في ألفاظها واتحدت في مدلولها (فالرحمن والقدير والعزيز) اختلفت في ألفاظها واتحدت في دلالتها على مسمى الله.

فأسماء الله الحسنى كلها متفقة في الدلالة على نفسه المقدسة، ثم كل اسم يدل على معنى من صفاته ليس هو المعنى الذي دل عليه الاسم الآخر.

انظر: كتاب الإيمان لابن تيمية ص 175.

2 التحفة المهدية شرح الرسالة التدمرتة 1/ 46.

3 التحفة المهدية شرح الرسالة التدمرتة 1/ 46.

4 النبوات ص 198.
এ বিষয়ে তাদের দুটি পথ রয়েছে:

প্রথম পথ: যারা নামসমূহকে নিছক সমার্থক বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করে, যা এর নামকরণের ক্ষেত্রে সত্তার সাথে বিদ্যমান কোনো অর্থের ভিত্তিতে গঠন করা হয়নি। ফলে তারা এই নামগুলোকে এমন বিশুদ্ধ বিশেষ্য হিসেবে দেখে যা কোনো গুণের ওপর নির্দেশ করে না। ‘নিছক’ (মুহদাহ) অর্থ হলো বিশুদ্ধ, যা অন্য কোনো কিছুর ওপর প্রমাণ বহন করা থেকে মুক্ত। তারা বলে: ‘সর্বজ্ঞ’, ‘সুপরিজ্ঞাত’, ‘সর্বশ্রোতা’ এবং এই জাতীয় নামগুলো গুণের ওপর প্রমাণ বহনকারী নয়। এগুলো একটি মাত্র সত্তার ওপর নির্দেশক হওয়ার বিচারে পরস্পর সমার্থক। এটি অনেকটা একজন ব্যক্তিকে ‘যায়েদ, আমর, মুহাম্মদ ও আলী’ নামে ডাকার মতো। এই নামগুলো সমার্থক এবং এগুলো নিছক বিশেষ্য মাত্র, যা নামধারী সত্তার কোনো গুণের ওপর নির্দেশ করে না।

দ্বিতীয় পথ: তাদের মধ্যে যারা বলে: প্রতিটি নামই স্বতন্ত্র বিশেষ্য। ফলে আল্লাহকে সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান নামে অভিহিত করা হয় এবং এই নামগুলো সমার্থক নয়। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, সেখানে কোনো ‘জীবন’ বা ‘ক্ষমতা’ বিদ্যমান আছে। আর এ কারণেই তারা বলে: জ্ঞান ছাড়াই তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতা ছাড়াই তিনি সর্বশক্তিমান, শ্রবণশক্তি ছাড়াই তিনি সর্বশ্রোতা এবং দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই তিনি সর্বদ্রষ্টা।

মুতাজিলাদের এই বক্তব্য যদিও জাহমিয়াদের বক্তব্যের চেয়ে কম তীব্র, তবুও এটি অত্যন্ত ভয়াবহ।

--------------------------------------------

১ সমার্থক: অর্থাৎ যেগুলোর শব্দ ভিন্ন কিন্তু নির্দেশিত অর্থ এক (যেমন দয়াময়, সর্বশক্তিমান ও মহা-পরাক্রমশালী); এগুলোর শব্দ ভিন্ন হলেও আল্লাহর সত্তার ওপর নির্দেশক হওয়ার ক্ষেত্রে এগুলো অভিন্ন। আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ তাঁর পবিত্র সত্তার ওপর নির্দেশক হওয়ার ক্ষেত্রে সকলেই একমত, আবার প্রতিটি নাম আল্লাহর এমন একটি গুণের ওপর নির্দেশ করে যা অন্য নামের অর্থের চেয়ে ভিন্ন। দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহ-র কিতাবুল ঈমান, পৃষ্ঠা ১৭৫।

২ আত-তুহফাতুল মাহদিয়্যাহ শারহুর রিসালাতিত তাদমুরিয়্যাহ ১/ ৪৬।

৩ আত-তুহফাতুল মাহদিয়্যাহ শারহুর রিসালাতিত তাদমুরিয়্যাহ ১/ ৪৬।

৪ আন-নুবুওয়াত, পৃষ্ঠা ১৯৮।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২০)
قال أبو الحسن الأشعري: "وزعمت الجهمية- يعني المعتزلة- أن الله عر وجل لا علم له ولا قدرة ولا حياة ولا سمع ولا بصر له وأرادوا أن ينفوا أن الله عالم قادر حي سميع بصير، فمنعهم خوف السيف من إظهارهم نفي ذلك، فأتوا بمعناه لأنهم إذا قالوا: لا علم لله ولا قدرة له، فقد قالوا: إنه ليس بعالم ولا قادر، ووجب ذلك عليهم، وهذا إنما أخذوه عن أهل الزندقة والتعطيل لأن الزنادقة قال كثير منهم: إن الله ليس بعالم ولا قادر ولا حي ولا سميع ولا بصير، فلم تقدر المعتزلة أن تفصح بذلك، فأتت بمعناه، وقالت: إن الله عالم قادر حي سميع بصير من طريق التسمية من غير أن يثبتوا له حقيقة العلم والقدرة والسمع والبصر"1

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: "إن المعتزلة لما رأوا الجهمية قد نفوا أسماء الله الحسنى استعظموا ذلك لما فيه من تكذيب القرآن تكذيبا ظاهر الخروج عن العقل، فأقروا بالأسماء ونفوا الصفات، فصاروا هم كذلك متناقضين، فإن إثبات حي عليم قدير حكيم سميع بصير، بلا حياة، ولا علم، ولا قدرة، ولا حكمة، ولا سمع، ولابصر، مكابرة للعقل كإثبات مصل بلا صلاة، وصائم بلا صيام، وقائم بلا قيام، ونحو ذلك من الأسماء المشتقة كأسماء الفاعلين والصفات المعدولة عنها"2.

وقد ضم المعتزلة إلى بدعتهم هذه بدعا أخرى منها:

1- قولهم بأن أسماء الله مخلوقة3.

--------------------------------------------

1 الإبانة عن أصول الديانة ص 107- 108، الناشر: مكتبة دار البيان

2 النبوات ص 63- 64 (بتصرف) .

3 لوامع الأنوار البهية 1/ 122.
আবুল হাসান আল-আশআরী বলেছেন: "জাহমিয়ারা—অর্থাৎ মুতাজিলারা—দাবি করেছে যে, মহান আল্লাহর কোনো জ্ঞান, ক্ষমতা, জীবন, শ্রবণ ও দৃষ্টি নেই। তারা মূলত আল্লাহ যে জ্ঞানী, ক্ষমতাবান, চিরঞ্জীব, শ্রবণকারী ও সর্বদ্রষ্টা—তা অস্বীকার করতে চেয়েছিল। কিন্তু তলোয়ারের ভয় তাদেরকে সরাসরি এই অস্বীকৃতি প্রকাশ করা থেকে বিরত রেখেছে। তাই তারা পরোক্ষভাবে এর অর্থ নিয়ে এসেছে। কারণ তারা যখন বলে যে, আল্লাহর কোনো জ্ঞান বা ক্ষমতা নেই, তখন মূলত তারা এটাই বলে যে তিনি জ্ঞানী বা ক্ষমতাবান নন এবং তাদের ওপর এটাই সাব্যস্ত হয়। তারা মূলত এটি জিন্দিক ও নাস্তিকদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছে। কারণ অনেক জিন্দিকই বলেছিল: আল্লাহ জ্ঞানী, ক্ষমতাবান, জীবিত, শ্রবণকারী ও সর্বদ্রষ্টা নন। মুতাজিলারা সরাসরি এটি প্রকাশ করতে না পেরে এর অর্থ নিয়ে এসেছে এবং বলেছে: আল্লাহ জ্ঞানী, ক্ষমতাবান, জীবিত, শ্রবণকারী ও সর্বদ্রষ্টা—এটি কেবল নাম দেওয়ার খাতিরে (তাসমিয়াহ), কিন্তু তারা তাঁর জন্য জ্ঞান, ক্ষমতা, শ্রবণ ও দৃষ্টির প্রকৃত সত্য সাব্যস্ত করেনি।"১

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "মুতাজিলারা যখন দেখল যে জাহমিয়ারা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ অস্বীকার করেছে, তখন তারা বিষয়টিকে অনেক বড় অপরাধ মনে করল। কারণ এতে কুরআনের এমন সরাসরি মিথ্যায়ন রয়েছে যা বিবেক-বুদ্ধি বহির্ভূত। ফলে তারা আল্লাহর নামসমূহ স্বীকার করল কিন্তু গুণাবলি অস্বীকার করল। এর মাধ্যমে তারাও একইভাবে স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হলো। কারণ জীবন, জ্ঞান, ক্ষমতা, প্রজ্ঞা, শ্রবণ ও দৃষ্টি ছাড়াই তাঁকে জীবিত, জ্ঞানী, ক্ষমতাবান, প্রজ্ঞাবান, শ্রবণকারী ও সর্বদ্রষ্টা হিসেবে সাব্যস্ত করা বিবেক-বুদ্ধির সাথে একগুঁয়েমি করার শামিল; যেমন—সালাত ছাড়াই কাউকে সালাত আদায়কারী, সিয়াম ছাড়াই কাউকে সিয়াম পালনকারী এবং দাঁড়ানো ছাড়াই কাউকে দণ্ডায়মান সাব্যস্ত করা, এবং এ জাতীয় অন্যান্য কর্তৃবাচক বিশেষ্য ও গুণাবলির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।"২.

মুতাজিলারা তাদের এই বিদআতের সাথে আরও কিছু বিদআত যোগ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১- আল্লাহর নামসমূহ সৃষ্টি—এ মর্মে তাদের দাবি।৩

--------------------------------------------

১ আল-ইবানাহ আন উসুল আদ-দিয়ানাহ, পৃষ্ঠা ১০৭-১০৮, প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল বায়ান।

২ আন-নুবুওয়াত, পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪ (সংক্ষেপিত)।

৩ লাওয়ামিউল আনওয়ারিল বাহিয়্যাহ, ১/১২২।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২১)
2- قول بعضهم بأن أسماء الله ليست توقيفية1

أما قولهم بأن أسماء الله مخلوقة، فلأنهم يقولون: الاسم غير المسمى، وأسماء الله غيره، وما كان غيره فهو مخلوق.

ويقولون: إن كلام الله مخلوقا، وأسماؤه مخلوقة، وهو نفسه لم يتكلم بكلام يقوم بذاته ولا سمى نفسه باسم هو المتكلم به، بل قد يقولون: إنه تكلم به، وسمى نفسه بهذه الأسماء بمعنى أنه خلقها في غيره لا بمعنى أنه نفسه تكلم بها كلام القائم به. فالقول في أسمأنه هو نوع من القول في كلامه.

وقد ذم السلف المعتزلة بقولهم هذا، وغلظوا فيهم القول لأن أسماء الله من كلامه وكلام الله غير مخلوق، بل هو المتكلم به، وهو المسمى لنفسه بما فيه من الأسماء.

ولهذا يروى عن الشافعي والأصمعى وغيرهما أنه قال: إذا سمعت الرجل يقول: الاسم غير المسمى فاشهد عليه بالزندقة2

وقال الإمام أحمد: "من قال: أسماء الله تعالى مخلوقة فقد كقر"3.

وأما بدعتهم الثالثة في أسماء الله: فهي قولهم بأن أسماء الله غيرتوقيفية.

فقد نقل البغدادي عن المعتزلة البصرية أنهم أجازوا إطلاق الأسماء على الله بالقياس4

وقال أبو الحسن الأشعري: "واختلفت المعتزلة هل يجوز أن يسمى

--------------------------------------------

1 لوامع الأنوار البهية 1/ 125.

2 انظر: مجموع الفتاوى 6/ 85 1- 87 1 (باختصار) .

3 لوامع الأنوار البهية 1/ 19 1، طبقات الحنابلة 2/ 199.

4 الفرق بين الفرق ص 337.
২- কিছু লোকের বক্তব্য যে আল্লাহর নামসমূহ তওকিফী (শরীয়ত নির্ধারিত) নয়১

আল্লাহর নামসমূহ সৃষ্টি হওয়ার ব্যাপারে তাদের বক্তব্য হলো, যেহেতু তারা বলে: নাম এবং নামধারী (যাঁর নাম রাখা হয়েছে) ভিন্ন বস্তু, আর আল্লাহর নামসমূহ তিনি নিজে নন; আর যা তাঁর সত্তা থেকে ভিন্ন, তা-ই সৃষ্টি।

তারা বলে: আল্লাহর কালাম (বাণী) সৃষ্টি এবং তাঁর নামসমূহও সৃষ্টি। তিনি নিজে এমন কোনো কালাম দ্বারা কথা বলেননি যা তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান, কিংবা তিনি নিজেকে এমন কোনো নামে নামকরণ করেননি যার বক্তা তিনি নিজে। বরং তারা কখনো বলে: তিনি কথা বলেছেন এবং নিজেকে এই নামগুলোতে নামাঙ্কিত করেছেন এই অর্থে যে, তিনি এগুলো অন্য কিছুর মধ্যে সৃষ্টি করেছেন; এই অর্থে নয় যে তিনি স্বয়ং সেই কালাম দ্বারা কথা বলেছেন যা তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং আল্লাহর নামসমূহ সম্পর্কে তাদের এই বক্তব্য তাঁর কালাম সম্পর্কে তাদের বক্তব্যেরই একটি রূপ।

সালাফগণ মুতাজিলাদের এই বক্তব্যের কারণে তাদের নিন্দা করেছেন এবং তাদের ব্যাপারে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন। কারণ আল্লাহর নামসমূহ তাঁর কালামের অন্তর্ভুক্ত, আর আল্লাহর কালাম সৃষ্টি নয়; বরং তিনি স্বয়ং এর বক্তা এবং তিনিই নিজেকে এতে বিদ্যমান নামসমূহের দ্বারা নামকরণ করেছেন।

এই কারণেই ইমাম শাফি'ঈ, আসমা'ঈ এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তাঁরা বলেছেন: যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে বলতে শুনবে যে, 'নাম এবং নামধারী ভিন্ন', তখন তার ব্যাপারে যিনদিক (ধর্মত্যাগী) হওয়ার সাক্ষ্য দাও২

ইমাম আহমাদ বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলবে আল্লাহ তাআলার নামসমূহ সৃষ্টি, সে কুফরী করল"৩।

আর আল্লাহর নামসমূহের ব্যাপারে তাদের তৃতীয় বিদআত হলো: তাদের এই দাবি যে আল্লাহর নামসমূহ তওকিফী নয়।

আল-বাগদাদী বসরার মুতাজিলাদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমান) ভিত্তিতে আল্লাহর ওপর নাম প্রয়োগ করা বৈধ মনে করত৪

আবুল হাসান আল-আশআরী বলেছেন: "মুতাজিলাগণ এই বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, আল্লাহর এমন কোনো নাম রাখা কি বৈধ হবে..."

--------------------------------------------

১ লাওয়ামি'উল আনোয়ার আল-বাহিয়্যাহ ১/১২৫।

২ দেখুন: মাজমু'উল ফাতাওয়া ৬/৮৫-৮৭ (সংক্ষেপে)।

৩ লাওয়ামি'উল আনোয়ার আল-বাহিয়্যাহ ১/১১৯, তাবাকাতুল হানাবিলাহ ২/১৯৯।

৪ আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃষ্ঠা ৩৩৭।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২২)
البارئ عالما من استدل على أنه عالم بظهور أفعاله عليه وإن لم يأته السمع من قبل الله سبحانه بأن يسميه بهذا الاسم أم لا؟ على مقالتين:

فزعمت الفرقة الأولى منهم أنه جائز أن يسمى الله سبحانه عالما قادرا حيا سميعا بصيرا من استدل على معنى ذلك أنه يليق بالله وإن لم يأت به رسول. وزعمت الفرقة الثانية أنه لا يجوز أن. يسمى الله سبحانه بهذه الأسماء من دله العقل على معناها، إلا أن يأتيه بذلك، رسول من قبل الله سبحانه يأمره بتسميته بهذه الأسماء"1

موافقة ابن حزم للمعتزلة في مسألة نفي معاني الأسماء:

هذا القول بإثبات الأسماء ونفي الصفات به أيضا بعض متكلمة الظاهرية2 كابن حزم الذي قال: "إن أسماءه الحسنى كالحي والعليم والقدير بمنزلة أسماء الأعلام التي لا تدل على حياة ولا علم ولا قدرة، وقال: لا فرق بين الحي وبين العليم وبين القدير في المعنى أصلا"3.

وهذا القول لابن حزم وأمثاله من الظاهرية في باب الصفات هو بعينه مسلك المعتزلة في الصفات كما سبق وأن بيناه. ومثل هذه المقالات إنما هي في الحقيقة سفسطة في العقليات وقرمطة في، السمعيات، وسيأتي تفصيل الرد عليها في ثنايا الدراسة بإذن الله.

--------------------------------------------

1 مقالات الإسلاميين ص 197.

2 إمام الظاهرية: "داود الظاهري "، وأكابر أصحابه كانوا من المثبتين للصفات على مذهب أهل السنة والحديث، ولكن من أصحابه طائفة سلكت مسلك المعتزلة ووافقوهم في مسائل الصفات، وإن خالفوهم في القدر والوعيد.

شرح الأصفهانية ص 77- 78.

3 شرح الأصفهانية ص 76. والفصل 2/ 161.
স্রষ্টাকে কি সেই ব্যক্তি 'আলিম' (জ্ঞানী) বলতে পারবে, যে ব্যক্তি তাঁর কার্যাবলির প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর জ্ঞানবান হওয়ার স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করেছে, যদিও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে এই নামে ডাকার ব্যাপারে কোনো বর্ণনা (দলিল) তার নিকট না পৌঁছে থাকে? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:

তাদের মধ্যে প্রথম দলটির দাবি হলো, যে ব্যক্তি প্রমাণের মাধ্যমে এ সবের অর্থের ব্যাপারে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে এটি আল্লাহর জন্য শোভনীয়, তার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে আলিম (সর্বজ্ঞ), কাদির (সর্বশক্তিমান), হাই (চিরঞ্জীব), সামি (সর্বশ্রোতা) ও বাসির (সর্বদ্রষ্টা) নামে অভিহিত করা জায়েজ, যদিও কোনো রাসুল তা নিয়ে না আসেন। আর দ্বিতীয় দলটি দাবি করেছে যে, যার বিবেক তাকে এই নামগুলোর অর্থের দিকে পরিচালিত করে, তার জন্যও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে এই নামগুলোতে অভিহিত করা জায়েজ নয়, যতক্ষণ না আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে কোনো রাসুল তার নিকট আগমন করেন এবং তাকে এই নামগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর নামকরণ করার নির্দেশ প্রদান করেন।১

নামের অর্থ অস্বীকার করার মাসআলায় মুতাজিলাদের সাথে ইবনে হাজমের ঐকমত্য:

নামসমূহ সাব্যস্ত করা এবং গুণাবলি (সিফাত) অস্বীকার করার এই মতটি জাহিরি মতবাদের কিছু কালামশাস্ত্রবিদও পোষণ করেন, যেমন ইবনে হাজম। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই তাঁর সুন্দর নামসমূহ যেমন হাই, আলিম ও কাদির—এমন সব ব্যক্তিবাচক নামের (Proper Names) স্তরে অবস্থান করে যা কোনো জীবন, জ্ঞান বা ক্ষমতার প্রমাণ দেয় না। তিনি আরও বলেন: অর্থের দিক থেকে হাই, আলিম ও কাদিরের মধ্যে আদতে কোনো পার্থক্য নেই।"৩

সিফাতের অধ্যায়ে ইবনে হাজম এবং তাঁর মতো জাহিরিদের এই বক্তব্যটি হুবহু মুতাজিলাদের সিফাত বিষয়ক মাযহাব বা পথ, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। এ জাতীয় বক্তব্যগুলো মূলত বুদ্ধিভিত্তিক বিষয়ে কুতর্ক এবং শ্রুতিজাত বা শরয়ি বিষয়ে বিকৃতি বৈ কিছু নয়। ইনশাআল্লাহ, অচিরেই এই গবেষণার মাঝখানে এগুলোর বিস্তারিত খণ্ডন আসবে।

--------------------------------------------

১ মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন, পৃষ্ঠা ১৯৭।

২ জাহিরি মাযহাবের ইমাম হলেন "দাউদ জাহিরি", এবং তাঁর প্রধান অনুসারীরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল হাদিসের মাযহাব অনুযায়ী সিফাত বা গুণাবলি সাব্যস্তকারী ছিলেন। তবে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে একটি দল মুতাজিলাদের পথ অবলম্বন করে এবং সিফাতের মাসআলাগুলোতে তাদের সাথে একমত পোষণ করে, যদিও তাকদির এবং পরকালীন শাস্তির প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তারা তাদের বিরোধিতা করেছেন।

শারহুল আসফাহানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৭৭-৭৮।

৩ শারহুল আসফাহানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৭৬ এবং আল-ফাসাল ২/১৬১।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৩)
القول الرابع: إثبات الأسماء الحسنى مع إثبات مكاني بعضها وتحريف معاني البعض الأخر:

وهذا قول الكلابية والأشاعرة والماتريدية ومن وافقهم.

ورأيهم في هذه المسألة مبني على قولهم في صفات الله تعالى.

فالكلابية وقدماء الأشاعرة ينفون الصفات الاختيارية وبالتالي لا يثبتون معاني الأسماء التي اشتقت من الصفات الاختيارية على الوجه الصحيح.

وأما المتأخرون من الأشاعرة ومعهم الماتريدية، فإنهم لا يثبتون من الصفات سوى سبع صفاب هي: (العلم، القدرة، الحياة، الجمع، البصر، الإرادة، الكلام) ، ويزيد بعض الماتريدية صفة ثامنة هي (التكوين) 1 فالاسم عندهم إن دل على ما أثبتوه من الصفات، أثبتوا ما دل عليه من المعنى، وإن كان دالا على خلاف ما أثبتوه صرفوه عن حقيقته وحرفوا معناه. ومعلوم أنه لم يرد في باب الأسماء من تلك الصفات التي ذكروها إلا خمسة فقط، وهي: (العليم) و (القدير) و (الحي) و (السميع) و (البصير) فهذه الخمسة يثبتون معانيها وإن كان هناك من يرجع صفتي (السمع) و (البصر) إلى (العلم) ، ولكن جمهورهم على خلاف ذلك2

--------------------------------------------

1 انظر: تحفة المريد ص 63، وإشارات المرام ص 157- 114، وكتاب "الماتريدية دراسة وتقويم" ص 239، وكتاب "الماتريدية وموقفهم من توحيد الأسماء والصفات " 2/ 430، ورسالة "منهج أهل السنة ومنهج الأشاعرة في توحيد الله " لخالد عبد اللطيف ص 401.

2 انظر: لباب العقول للمكلاتي ص 213، 214، شرح الأصفهانية ص 445، والمسايرة لابن الهمام ص 67، وكتاب "الماتريدية دراسة وتقويم " ص 264، وكتاب "الماتريدية وموقفهم من توحيد الأسماء والصفات " 2/ 431، ورسالة "منهج أهل السنة ومنهج الأشاعرة في توحيد الله " ص 490
চতুর্থ মত: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের স্বীকৃতি প্রদান, তবে সেগুলোর কিছু অংশের অর্থ সাব্যস্ত করা এবং অন্য কিছু অংশের অর্থ বিকৃত করা:

এটি হলো কুল্লাবিয়্যাহ, আশআরী, মাতুরিদী এবং যারা তাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন তাদের বক্তব্য।

এই মাসআলায় তাদের অভিমত মহান আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সম্পর্কে তাদের মতবাদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

কুল্লাবিয়্যাহ এবং প্রাচীন আশআরীগণ ঐচ্ছিক গুণাবলিকে (সিফাতে ইখতিয়ারিয়্যাহ) অস্বীকার করেন, ফলে তারা ঐচ্ছিক গুণাবলি থেকে উদ্ভূত নামসমূহের অর্থও সঠিক পদ্ধতিতে সাব্যস্ত করেন না।

আর পরবর্তী যুগের আশআরী এবং তাদের সাথে মাতুরিদীগণ সাতটি সিফাত ছাড়া অন্য কোনো সিফাত সাব্যস্ত করেন না, সেগুলো হলো: (জ্ঞান, ক্ষমতা, জীবন, শ্রবণ, দর্শন, ইচ্ছা, কথা), এবং কোনো কোনো মাতুরিদী অষ্টম একটি সিফাত বৃদ্ধি করেন যা হলো (সৃষ্টি করা/তাকউইন)। ১ সুতরাং তাদের নিকট কোনো নাম যদি তাদের সাব্যস্তকৃত সিফাতসমূহের কোনো একটিকে নির্দেশ করে, তবে তারা তার অর্থ সাব্যস্ত করেন। আর যদি নামটির অর্থ তাদের সাব্যস্তকৃত সিফাতসমূহের বিপরীত কিছু নির্দেশ করে, তবে তারা একে তার প্রকৃত অর্থ থেকে সরিয়ে দেন এবং এর অর্থ বিকৃত করেন। আর এটি জানা কথা যে, তারা যে সিফাতসমূহের উল্লেখ করেছেন সেগুলোর মধ্য থেকে নামসমূহের অধ্যায়ে মাত্র পাঁচটি এসেছে, সেগুলো হলো: (সর্বজ্ঞ), (সর্বশক্তিমান), (চিরঞ্জীব), (সর্বশ্রোতা) এবং (সর্বদ্রষ্টা)। এই পাঁচটি নামের অর্থ তারা সাব্যস্ত করেন, যদিও এমন লোকও আছেন যারা শ্রবণ ও দর্শনের গুণদ্বয়কে জ্ঞানের দিকেই ফিরিয়ে নেন। তবে তাদের অধিকাংশের অভিমত এর বিপরীত। ২

--------------------------------------------

১ দেখুন: তুহফাতুল মুরিদ, পৃষ্ঠা ৬৩; ইশারাতুল মারাম, পৃষ্ঠা ১৫৭-১১৪; 'আল-মাতুরিদিয়্যাহ দিরসাতুন ওয়া তাকউইম' কিতাব, পৃষ্ঠা ২৩৯; 'আল-মাতুরিদিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুহুম মিন তাওহিদুল আসমা ওয়াস সিফাত' ২/৪৩০ এবং খালিদ আব্দুল লতিফের রিসালাহ 'মানহাজু আহলিস সুন্নাহ ওয়া মানহাজুল আশা'ইরাহ ফি তাওহিদুল্লাহ', পৃষ্ঠা ৪০১।

২ দেখুন: মাকলাতির লুবাবুল উকুল, পৃষ্ঠা ২১৩, ২১৪; শারহুল আসফাহানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪৪৫; ইবনুল হুমামের আল-মুসায়ারা, পৃষ্ঠা ৬৭; 'আল-মাতুরিদিয়্যাহ দিরসাতুন ওয়া তাকউইম' কিতাব, পৃষ্ঠা ২৬৪; 'আল-মাতুরিদিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুহুম মিন তাওহিদুল আসমা ওয়াস সিফাত' ২/৪৩১ এবং 'মানহাজু আহলিস সুন্নাহ ওয়া মানহাজুল আশা'ইরাহ ফি তাওহিদুল্লাহ' রিসালাহ, পৃষ্ঠা ৪৯০।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأما بقية الأسماء التي لا تتقق مع ما أثبتوه من الصفات، فإنهم لايثبتون مادلت عليه من المعاني، بل يحرفونها كتحريفهم لمعنى (الرحمة) في اسمه (الرحمن) إلى (إرادة الثواب، أو إرادة الإنعام) و (الود) في (الودود) ب (إرادة إيصال الخير)

ومن المخالفات التي وقع فيها بعض هؤلاء بالإضافة إلى ما تقدم:

1- قولهم بأن في الأسماء الله غير مشتق.

2- قول بعضهم بأن أسماء الله ليست توقيفية.

3- مسألة الاسم والمسمى.

وأما بالنسبة لما يتعلق بالمسألة الأولى، فإن بعض الأشاعرة يقسمون الأسماء إلى قسمين:

القسم الأول: أسماء مشتقة.

القسم الثاني: أسماء غير مشتقة.

قال البغدادي: "جملة أسمأنه قسمان لا مشتق وغير مشتق"2.

فيجعلون اسم "الله" غير مشتق أي لا يدل على معنى فيعاملونه معاملة الأسماء الجامدة، وهذا مخالفة لمذهب أهل السنة الذين يعتقدون بأن أسماء الله جميعها متصفة لمعاني وليس فيها اسم جامد لا يدل على معنى.

وأما المسألة الثانية وهي كون أسماء الله توقيفية.

فإن الماتريدية وجمهور الأشاعرة يوافقون أهل السنة في هذه المسألة،

--------------------------------------------

1 شرح الأسماء الحسنى للرازي ص 287.

2 أصول الدين للبغدادي ص 118.
আর অবশিষ্ট নামসমূহের ব্যাপারে যা তাদের সাব্যস্তকৃত গুণাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলোর অর্থ যা নির্দেশ করে তা তারা সাব্যস্ত করে না। বরং তারা এগুলোর অপব্যাখ্যা করে, যেমন তারা আল্লাহর নাম ‘আর-রহমান’-এর মধ্যে ‘রহমত’ (দয়া)-এর অর্থের অপব্যাখ্যা করে ‘সওয়াব প্রদানের ইচ্ছা’ বা ‘নিয়ামত প্রদানের ইচ্ছা’ হিসেবে এবং ‘আল-ওয়াদুদ’ নামের ক্ষেত্রে ‘উদ্দ’ (ভালোবাসা)-এর অপব্যাখ্যা করে ‘কল্যাণ পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছা’ হিসেবে।

পূর্বে যা অতিবাহিত হয়েছে তা ছাড়াও এদের কেউ কেউ যেসব বিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:

১- আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে কিছু নাম অ-উদ্ভূত (অজাত) বলে তাদের দাবি করা।

২- তাদের কারো কারো এই কথা বলা যে, আল্লাহর নামসমূহ তওকিফিয়্যাহ (শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত) নয়।

৩- নাম (ইসম) ও নামধারী (মুসাম্মা) সংক্রান্ত মাসআলা।

প্রথম মাসআলার সাথে যা সংশ্লিষ্ট তার ব্যাপারে বলা যায়, কিছু আশআরি নামসমূহকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন:

প্রথম প্রকার: উদ্ভূত নামসমূহ।

দ্বিতীয় প্রকার: অ-উদ্ভূত (অজাত) নামসমূহ।

আল-বাগদাদি বলেন: "তাঁর নামসমূহের সমষ্টি দুই প্রকার: উদ্ভূত এবং অ-উদ্ভূত।" ২

তারা "আল্লাহ" নামটিকে অ-উদ্ভূত হিসেবে গণ্য করেন, অর্থাৎ এটি কোনো নির্দিষ্ট অর্থের দিকে নির্দেশ করে না; ফলে তারা এর সাথে জড় বা স্থবির নামের ন্যায় আচরণ করেন। এটি আহলুস সুন্নাহর মাজহাবের পরিপন্থী, যারা বিশ্বাস করেন যে আল্লাহর নামসমূহের সবকটিই নির্দিষ্ট অর্থের গুণমণ্ডিত এবং এর মধ্যে এমন কোনো নাম নেই যা অর্থহীন (জড়) এবং কোনো অর্থের দিকে নির্দেশ করে না।

আর দ্বিতীয় মাসআলাটি হলো আল্লাহর নামসমূহ তওকিফিয়্যাহ (শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত) হওয়া প্রসঙ্গে।

মাতুরিদিগণ এবং জুমহুর (অধিকাংশ) আশআরিগণ এই মাসআলায় আহলুস সুন্নাহর সাথে একমত পোষণ করেন,

--------------------------------------------

১. আর-রাজি রচিত শারহুল আসমাউল হুসনা, পৃষ্ঠা ২৮৭।

২. আল-বাগদাদি রচিত উসুলুদ দ্বীন, পৃষ্ঠা ১১৮।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৫)
ولكن القاضي الباقلاني من الأشاعرة لا يشترط أن يكون توقيف من الكتاب والسنة في أسماء الله، واشترط أمرين:

ا- أن يدل على معنى ثابت لله تعالى.

2- ألا يكون إطلاقه موهما لما لا يليق بالله تعالى1

وتوقف الجويني في هذه المسألة2

وأما المسألة الثالثة وهي مسألة الاسم والمسمى:

فإن قول الأشاعرة والماتريدية فيها واحد، فهم يقولون: "الاسم عين المسمى"3

وحقيقة هذه العبارة عندهم أن المسمى- أي "الله" - غير مخلوق، وأما التسميات فهي مخلوقة.

فهم وافقوا الجهمية والمعتزلة في المعنى، وإن أظهروا أنهم موافقون لأهل السنة في اللفظ بقولهم: "إن أسماء الله غير مخلوقة".

ومرادهم بذلك أن الله غير مخلوق. وهذا مما لا تنازع فيه الجهمية والمعتزلة4

وسيأتي تفصيل قولهم في المسألة في مبحث الاسم والمسمى.

--------------------------------------------

1 شرح المقاصد للتفتازاني 4/ 344، 345، لوامع الأنوار للسفاريني 1/ 124.

2 الإرشادص 136- 137.

3 أصول الدين للبغدادي ص 114، 115، وتبصرة الأدلة ص 198.

4 مجموع الفتاوى 6/ 195- 196.
কিন্তু আশআরিদের অন্তর্ভুক্ত কাজি আল-বাকিল্লানি আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর সরাসরি বর্ণনা (তাওকিফ) থাকাকে শর্ত মনে করেন না, বরং তিনি দুটি শর্তারোপ করেছেন:

১- তা যেন আল্লাহ তাআলার জন্য সাব্যস্ত কোনো অর্থের ওপর নির্দেশ করে।

২- তার প্রয়োগ যেন আল্লাহ তাআলার শানের পরিপন্থী কোনো ধারণার উদ্রেক না করে।১

আল-জুওয়াইনি এই মাসআলায় কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।২

আর তৃতীয় মাসআলাটি হলো নাম (ইসিম) এবং নামধারী (মুসাম্মা) সংক্রান্ত মাসআলা:

এ বিষয়ে আশআরি এবং মাতুরিদিদের বক্তব্য অভিন্ন, তারা বলেন: "নাম হচ্ছে স্বয়ং নামধারীই"।৩

তাদের নিকট এই বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ হলো, নামধারী—অর্থাৎ "আল্লাহ"—অমুখলুক (সৃষ্ট নন), কিন্তু নামগুলো (তাসমিয়াত) হলো মুখলুক (সৃষ্ট)।

ফলে তারা অর্থের দিক থেকে জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের সাথে একমত হয়েছে, যদিও তারা "আল্লাহর নামসমূহ অমুখলুক" বলার মাধ্যমে বাহ্যিক শব্দে আহলে সুন্নাহর সাথে একমত হওয়ার প্রকাশ ঘটান।

তাদের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ অমুখলুক (অসৃষ্ট)। আর এ বিষয়ে জাহমিয়া ও মুতাজিলাদেরও কোনো মতবিরোধ নেই।৪

নাম ও নামধারী সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে এই মাসআলায় তাদের বক্তব্যের বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।

--------------------------------------------

১ শারহুল মাকাসিদ, তাফতাযানী ৪/ ৩৪৪, ৩৪৫; লাওয়ামিউল আনওয়ার, সাফারিনী ১/ ১২৪।

২ আল-ইরশাদ, পৃষ্ঠা ১৩৬- ১৩৭।

৩ উসুলুদ্দীন, বাগদাদী পৃষ্ঠা ১১৪, ১১৫; এবং তাবসিরাতুল আদিলাহ পৃষ্ঠা ১৯৮।

৪ মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/ ১৯৫- ১৯৬।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৬)
القول الخامس: إثبات الأسماء الحسنى مع إثبات معانيها جميعا وإثبات ما يتعلق بها من الحكام والمقتضيات:

وهذا قول أهل السنة والجماعة، واعتقادهم يمكن إجماله في النقاط التالية:

1- الإيمان بثبوت الأسماء الحسنى الواردة في القرآن والسنة من غير زيادة ولا نقصان.

2- الإيمان بأن الله هو الذي يسمي نفسه، ولا يسميه أحد من خلقه، فالله عز وجل هو الذي تكلم بهذه الأسماء، وأسماؤه منه، وليست محدثة مخلوقة كما يزعم الجهمية والمعتزلة والكلابية والأشاعرة والماتريدية.

3- الإيمان بأن هذه الأسماء دالة على معاني في غاية الكمال، فهي أعلام وأوصاف، وليست كالأعلام الجامدة التي لم توضع باعتبار معناها، كما يزعم المعتزلة.

4- احترام معاني تلك الأسماء وحفظ مالها من حرمة في هذا الجانب وعدم التعرض لتلك المعاني بالتحريف والتعطيل كما هو شأن أهل الكلام.

5- الإيمان بما تقتضيه تلك الأسماء من الآثار وما ترتب عليها من الأحكام.

وبالجملة فإن أهل السنة يؤمنون بأسماء الله إيمانا صحيحا وفق ما أمرت به نصوص القرآن والسنة ووفق ما كان عليه فهم سلف الأمة، بخلاف أهل الباطل الذين أنكروا ذلك وعطلوه، فألحدوا في أسماء الله إلحادا كليا أو جزئيا، كما سبق وأن بيناه خلال عرض الأقوال الأربعة السابقة

وفي العموم فإن فصولا الدراسة التي بين يديك، ستوضح لك بإذن الله
পঞ্চম মত: আসমাউল হুসনা (আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ) সাব্যস্ত করার পাশাপাশি সেগুলোর সকল অর্থ এবং এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধান ও দাবিগুলো সাব্যস্ত করা:

এটিই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের অভিমত এবং তাদের বিশ্বাসকে নিচের পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা যেতে পারে:

১- কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত আসমাউল হুসনা বা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ কোনো ধরনের হ্রাস-বৃদ্ধি ব্যতিরেকে সাব্যস্ত হওয়ার ওপর ঈমান রাখা।

২- এই ঈমান রাখা যে, আল্লাহ নিজেই নিজের নামকরণ করেছেন, তাঁর সৃষ্টির কেউ তাঁর নাম রাখেনি। সুতরাং আল্লাহ তাআলাই এই নামগুলো উচ্চারণ করেছেন এবং তাঁর নামসমূহ তাঁর থেকেই এসেছে; এগুলো নতুন সৃষ্টি নয় যেমনটি জাহমিয়াহ, মুতাজিলাহ, কুল্লাবিয়াহ, আশআরী ও মাতুরিদী সম্প্রদায় দাবি করে থাকে।

৩- এই ঈমান রাখা যে, এই নামসমূহ চূড়ান্ত পূর্ণতার অর্থের ওপর প্রমাণ করে; এগুলো একইসাথে নাম এবং গুণ। এগুলো এমন কোনো নির্জীব নাম নয় যা অর্থের বিবেচনা ছাড়াই রাখা হয়েছে, যেমনটি মুতাজিলাহরা দাবি করে থাকে।

৪- ঐ সকল নামের অর্থসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং এই ক্ষেত্রে সেগুলোর যে মর্যাদা রয়েছে তা রক্ষা করা; আর ঐ অর্থগুলোকে তাহরিফ (বিকৃতি) ও তা'তিল (অস্বীকার)-এর শিকার না করা, যেমনটি ইলমুল কালামপন্থীদের বৈশিষ্ট্য।

৫- ঐ নামগুলোর দাবি অনুযায়ী সেগুলোর আছার (প্রভাব) এবং এগুলোর ওপর বর্তানো বিধানসমূহের প্রতি ঈমান রাখা।

পরিশেষে, আহলুস সুন্নাহ আল্লাহর নামসমূহের প্রতি সঠিক ঈমান পোষণ করেন কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ এবং উম্মতের সালাফদের বুঝ অনুযায়ী। এটি বাতিলপন্থীদের সম্পূর্ণ বিপরীত, যারা এগুলোকে অস্বীকার ও নিষ্ক্রিয় করেছে; ফলে তারা আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে ইলহাদ (বিচ্যুতি) অবলম্বন করেছে, যেমনটি ইতিপূর্বে চারটি মত বর্ণনার সময় আমরা ব্যাখ্যা করেছি।

সামগ্রিকভাবে, আপনার সামনে থাকা এই গবেষণার অধ্যায়গুলো আল্লাহর ইচ্ছায় আপনার কাছে বিষয়গুলো স্পষ্ট করে তুলবে।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৭)
معتقد أهل السنة على وجه التفصيل، وستبين كذلك عور أهل الباطل وما عندهم من مزاعم فاسدة في هذا الباب، وما هم عليه من بعد عن الكتاب والسنة وفهم سلف الأمة
আহলুস সুন্নাহর আকিদা বিস্তারিতভাবে; এবং একইভাবে বাতিলপন্থীদের ত্রুটি এবং এই বিষয়ে তাদের নিকট বিদ্যমান ভ্রান্তর দাবিগুলো স্পষ্ট হবে, আর কিতাব, সুন্নাহ ও উম্মাহর সালাফদের বুঝ থেকে তারা যে কতটা দূরে রয়েছে তাও ফুটে উঠবে।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الفصل الأول: في ثبوت الأسماء وتعيينها

‌‌المبحث الأول: في معرفة ضابط الأسماء الحسنى

‌‌المطلب الأول: في أهمية معرفة ضابط الأسماء الحسنى

…

المطلب الأول: في أهمية معرفة ضابط الأسماء الحسنى

إن من أهم ما ينبغي أن يعنى به الدارس لباب الأسماء الحسنى هو معرفة ضابط الأسماء الحسنى وحدها، وذلك لما يحويه هذا الأمر من أهمية وفائدة عظيمة، فإن تحديد ضابط للأسماء الحسنى يكون مستكملا لمقومات التعريف المعلومة (وهي أن يكون جامعا مانعا) - يعد أمرا مهما للغاية، وخاصة إذا علم أن هذا الباب قد تعددت فيه المناهج في عد الأسماء واختلفت في تعيينها، فالدارس بحاجة إلى حد يميز فيه الصواب من تلك المناهج ليعرف الحكم الصحيح فيها، وخاصة في باب خطير كهذا الباب، فإن الخطأ في أسماء الله لاشك جليل.

وحري بهذه المسألة أن تعطى حقها من الاهتمام، وأن يقف الباحث عندها وقفة ليوفيها حقها من الدراسة والبحث، فكثير من الباحثين المعاصرين يغفل هذا الأمر ويهمله، فترى أكثرهم يسارع إلى الدخول في عد الأسماء وشرحها دون نظر في الضابط الذي اعتمده في ذلك الجمع والعد. وصنيعهم هذا يعد أمرا سلبيا، فهو يساعد على تعقيد المسألة وخفإنها ويزيد من كثرة الاختلافات الحاصلة فيها ويضيف لها عبأ ثقيلا يتعب الدارسين ويزيد من حيرتهم واضطرابهم، ولكأن لسان حالهم يقول: هذا يجمع وذاك يجمع، ولا نعلم أئ هؤلاء أولى بالصواب.

فتصحيحا لهذا الوضع الحاصل، وتأكيدا على ضرورة معرفة ضابط
প্রথম অধ্যায়: নামসমূহ সাব্যস্তকরণ ও নির্ধারণ প্রসঙ্গে

প্রথম পরিচ্ছেদ: আসমাউল হুসনার মানদণ্ড জানা প্রসঙ্গে

প্রথম অনুচ্ছেদ: আসমাউল হুসনার মানদণ্ড জানার গুরুত্ব প্রসঙ্গে

…

প্রথম অনুচ্ছেদ: আসমাউল হুসনার মানদণ্ড জানার গুরুত্ব প্রসঙ্গে

আসমাউল হুসনার অধ্যায় অধ্যয়নকারীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টির প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত, তা হলো আসমাউল হুসনার নির্দিষ্ট মানদণ্ড সম্পর্কে অবগত হওয়া। কারণ এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব ও মহান উপকারিতা বহন করে। কেননা আসমাউল হুসনার জন্য এমন একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করা—যা সংজ্ঞায়নের সুপরিচিত বৈশিষ্ট্যসমূহ (অর্থাৎ যা হবে সর্বব্যাপী ও অন্যবর্জক) পূর্ণরূপে ধারণ করবে—তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশেষ করে যখন এটি জানা যায় যে, নামসমূহ গণনা এবং সেগুলো নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই অধ্যায়ে পদ্ধতিসমূহ বহুমুখী এবং এগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। ফলে অধ্যয়নকারীর জন্য এমন একটি সীমারেখা প্রয়োজন যার মাধ্যমে তিনি এই পদ্ধতিগুলোর মধ্য থেকে সঠিকটি পৃথক করতে পারবেন, যাতে তিনি এই বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি জানতে পারেন। বিশেষ করে এই অধ্যায়ের মতো একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে; কারণ আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে ভুল করা নিঃসন্দেহে এক গুরুতর বিষয়।

এই বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে এবং গবেষকের উচিত এখানে থমকে দাঁড়ানো, যাতে তিনি অধ্যয়ন ও গবেষণার মাধ্যমে এর পূর্ণ হক আদায় করতে পারেন। কারণ অনেক সমকালীন গবেষক এই বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং একে অবহেলা করেন। দেখা যায় যে, তাদের অধিকাংশই নামসমূহ গণনা এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা করার দিকে দ্রুত অগ্রসর হন, কিন্তু সেই সংগ্রহ ও গণনার ক্ষেত্রে তিনি কোন মানদণ্ডের ওপর নির্ভর করেছেন সেদিকে লক্ষ্য করেন না। তাদের এই কর্মপন্থা একটি নেতিবাচক বিষয় হিসেবে বিবেচিত। এটি বিষয়টিকে জটিল ও অস্পষ্ট করে তুলতে সাহায্য করে এবং এতে বিদ্যমান মতপার্থক্যের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। এটি এই শাস্ত্রের ওপর এমন এক ভারী বোঝা চাপিয়ে দেয় যা অধ্যয়নকারীদের ক্লান্ত করে এবং তাদের সংশয় ও অস্থিরতা বৃদ্ধি করে। যেন তাদের বর্তমান অবস্থা একথাই বলছে: ইনিও সংগ্রহ করছেন, উনিও সংগ্রহ করছেন, আর আমরা জানি না এদের মধ্যে কে সঠিক হওয়ার অধিক যোগ্য।

সুতরাং বিদ্যমান এই পরিস্থিতি সংশোধনকল্পে এবং মানদণ্ড জানার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে...
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الأسماء قبل الدخول في تعيينها، عقدت، هذا المبحث لتوضيح وإبراز قيمة هذا الضابط من جهة، ولبيانه وشرح شروطه من جهة أخرى.

وتبرز أهمية هذا الضابط في جانبين رئيسين هما:

الجانب الأول:

تحديد العلاقة التي تربط باب الأسماء بباب الصفات وباب الإخبار، فلابد من معرفة نوع العلاقة بين الأبواب الثلاثة وفهم ما بينها من عموم وخصوص.

فباب الأسماء أخص من البابين الآخرين، وبالتالي هما أوسع منه فباب الصفات أوسع من باب الأسماء، وباب الإخبار أوسع من باب الصفات.

1- فكل ما صح اسما صح أن يدل على الصفة وصح الإخباربه.

2- وكل ما صح صفة صح خبرا، ولكن ليس شرطا أن يصح اسما، فقد يصح وقد لا يصح، ولذلك كان باب الصفات أوسع من باب الأسماء.

فالله يوصف بصفات كالكلام، والإرادة، والاستواء، ولا يشتق له منها أسماء، فلا يسمى بالمتكلم، والمريد، والمستوي. وفي المقابل هناك صفات ورد إطلاق الأسماء منها كالعلم، والعلو، والرحمة، فمن أسمأنه العليم، والعلي، والرحيم.

3- وما صح خبرا فليس شرطا أن يصح اسما أو صفة، فإن الله يخبر عنه بالاسم ويخبر عنه بالصفة، (ويخبر عنه ما ليس باسم ولا صفة بشرط ألا يكون معناه سئيا) 1، فالله يخبر عنه بأنه شيء، ومذكور، ومعلوم وغير ذلك، ولكته لا يسمى ولا يوصف بذلك، ولهذا كان باب الإخبار أوسع من البابين الآخرين.

--------------------------------------------

1 مجموع الفتاوى 6/ 142.
নামসমূহ নির্ধারণে প্রবেশের পূর্বে, আমি এই পরিচ্ছেদটি একদিক থেকে এই মানদণ্ডের গুরুত্ব স্পষ্ট ও তুলে ধরার জন্য এবং অন্যদিক থেকে এটি বর্ণনা ও এর শর্তসমূহ ব্যাখ্যা করার জন্য প্রস্তুত করেছি।

এই মানদণ্ডের গুরুত্ব প্রধানত দুটি দিক থেকে প্রকাশ পায়, সেগুলো হলো:

প্রথম দিক:

নাম, গুণাবলী এবং সংবাদ প্রদান বিষয়ক অধ্যায়গুলোর মধ্যকার সম্পর্ক নির্ধারণ করা। সুতরাং এই তিনটি অধ্যায়ের মধ্যকার সম্পর্কের ধরন জানা এবং তাদের মধ্যে সাধারণ ও বিশেষ হওয়ার বিষয়টি বোঝা অপরিহার্য।

নামের অধ্যায় অন্য দুটি অধ্যায়ের তুলনায় অধিকতর বিশেষ, ফলশ্রুতিতে ঐ দুটি অধ্যায় এর চেয়ে বেশি প্রশস্ত। সুতরাং গুণাবলীর অধ্যায় নামের অধ্যায়ের চেয়ে প্রশস্ত এবং সংবাদ প্রদানের অধ্যায় গুণাবলীর অধ্যায়ের চেয়েও প্রশস্ত।

১- যা কিছু নাম হিসেবে সাব্যস্ত হবে, তা গুণের প্রমাণ হিসেবে এবং সংবাদ প্রদানের বিষয় হিসেবেও সঠিক হবে।

২- যা কিছু গুণ হিসেবে সাব্যস্ত হবে, তা সংবাদ হিসেবেও সঠিক হবে, তবে সেটি নাম হিসেবে সাব্যস্ত হওয়া শর্ত নয়; কখনও সঠিক হতে পারে আবার কখনও না-ও হতে পারে। একারণেই গুণাবলীর অধ্যায় নামের অধ্যায়ের চেয়ে প্রশস্ত।

আল্লাহ কথা বলা, ইচ্ছা এবং উপরে উঠার মতো গুণাবলীতে গুণান্বিত হন, কিন্তু তাঁর জন্য এগুলো থেকে নাম গ্রহণ করা হয় না; সুতরাং তাঁকে কথা বলনেওয়ালা, ইচ্ছাকারী বা উপরে উঠনেওয়ালা হিসেবে নামকরণ করা হয় না। পক্ষান্তরে এমন কিছু গুণ রয়েছে যা থেকে নামের প্রয়োগ বর্ণিত হয়েছে, যেমন: জ্ঞান, উচ্চতা এবং দয়া। সুতরাং তাঁর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো আল-আলিম, আল-আলী এবং আর-রাহীম।

৩- যা সংবাদ হিসেবে সঠিক হবে, সেটি নাম বা গুণ হওয়া শর্ত নয়। কেননা আল্লাহর ব্যাপারে তাঁর নাম ও গুণের মাধ্যমে সংবাদ দেওয়া যায়, (আবার এমন কিছুর মাধ্যমেও সংবাদ দেওয়া যায় যা নামও নয় গুণও নয়, তবে শর্ত হলো তার অর্থ যেন মন্দ না হয়) ১। সুতরাং আল্লাহর ব্যাপারে সংবাদ দেওয়া যায় যে তিনি একটি সত্তা, স্মৃত, জ্ঞাত ইত্যাদি, কিন্তু তাঁকে এসকল নামে ডাকা হয় না বা এসকল গুণে গুণান্বিত করা হয় না। একারণেই সংবাদ প্রদানের অধ্যায় অন্য দুটি অধ্যায়ের চেয়ে অধিক প্রশস্ত।

--------------------------------------------

১ মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/ ১৪২।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فإذا كان الحال كذلك فلابد من معرفة ضابط الأسماء الحسنى من أجل أن تحفظ لهذا الباب خصوصيته فلا يدخل فيه ما ليس منه.

والجانب الثاني:

الاستفادة من هذا الضابط في تعيين الأسماء الحسنى وتحديد ما يصح وما لا يصح مما يورده أهل العلم في كتبهم، أو مما يشيع على ألسنة الناس. فالمناهج التي سار عليها العلماء في جمعهم للأسماء الحسنى مختلفة إلى حد ما عددا وطريقة، فمن حيث الكم هناك من اقتصر على التسعة والتسعين، وهناك من قصر عن ذلك، وهناك من زاد.

ومن حيث الطريقة التي ساروا عليها في جمع تلك الأسماء هناك أربعة مناهج وقفت عليها من خلال استقراء جهودهم في هذا المجال، أوردها لك على النحو التالي:

المنهج الأول:

الاعتماد على العد الوارد في روايات حديث أبي هريرة رضي الله عنه، وبالأخص طريق الوليد بن مسلم، عند الترمذي وغيره، وذلك (لاعتقادهم بصحة حديث الأسماء وتعدادها على مذهب المتساهلين في التصحيح وعدم النظر في العلل الواردة فيه)

المنهج الثاني:

الاقتصار على ما ورد من الأسماء بصورة الاسم فقط، أي ما ورد إطلاقه.

وهذا منهج ابن حزم في عد الأسماء2

--------------------------------------------

1 العواصم والقواصم 7/ 207.

2 1لمحلى 31/8.
যখন বিষয়টি এমন, তখন আসমাউল হুসনা বা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মানদণ্ড জানা আবশ্যক, যাতে এই অধ্যায়ের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সংরক্ষিত থাকে এবং যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় তা যেন এতে প্রবেশ না করে।

দ্বিতীয় দিক:

আসমাউল হুসনা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই মানদণ্ড থেকে উপকৃত হওয়া এবং আলেমগণ তাদের কিতাবসমূহে যা উল্লেখ করেছেন অথবা মানুষের মুখে যা প্রচলিত রয়েছে, তার মধ্য থেকে কোনটি সঠিক এবং কোনটি সঠিক নয় তা চিহ্নিত করা। আসমাউল হুসনা একত্রিত করার ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরাম যে সকল পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন তা সংখ্যা এবং পদ্ধতির দিক থেকে কিছুটা ভিন্ন ভিন্ন। পরিমাণের দিক থেকে কেউ কেউ কেবল নিরানব্বইটি নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন, কেউ তার চেয়ে কম করেছেন, আবার কেউ বৃদ্ধি করেছেন।

এই নামসমূহ সংগ্রহের ক্ষেত্রে তারা যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, এই ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টাসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে আমি চারটি পদ্ধতি পেয়েছি, যা আপনার নিকট নিম্নোক্তভাবে উপস্থাপন করছি:

প্রথম পদ্ধতি:

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের বর্ণনাগুলোতে যে গণনা এসেছে তার ওপর নির্ভর করা, বিশেষ করে তিরমিযী ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত ওয়ালিদ বিন মুসলিমের সূত্রের ওপর। আর তা (হাদিস বিশারদদের মধ্যে যারা হাদিস সহীহ করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেন তাদের মতানুসারে আসমাউল হুসনার হাদিস ও তার গণনার বিশুদ্ধতার ওপর বিশ্বাস রাখার কারণে এবং হাদিসটিতে বিদ্যমান ত্রুটি বা ইল্লতগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত না করার কারণে)।

দ্বিতীয় পদ্ধতি:

কেবল সেই নামগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা যা সরাসরি বিশেষ্য বা নাম হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, অর্থাৎ যা একক ও স্পষ্টভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।

আর এটিই নাম গণনার ক্ষেত্রে ইবনে হাজমের পদ্ধতি।

--------------------------------------------

১. আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ৭/২০৭।

২. আল-মুহাল্লা ৮/৩১।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
قال عنه ابن حجر: "فإنه- أي ابن- حزم - اقتصر على ما ورد فيه بصورة الاسم لا ما يؤخذ من الاشتقاق كالباقي من قوله: {وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ} 1 ولا ما ورد مضافا كالبديع من قوله: {بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ} 2" 3.

المنهج الثالث:

منهج المتوسطين الذين اشتقوا من كل صفة وفعل اسما ولم يفرقوا بين البابين- أي باب الأسماء وباب الصفات- بل إنهم يدخلون ما يتعلق بباب الإخبار أحيانا.

ومن هؤلاء ابن العربي المالكي وابن المرتضى اليماني والشرباصي.

المنهج الرابع:

منهج المتوسطين الذين توسطوا بين أصحاب المنهج الثاني والمنهج الثالث، فلا هم الذين حجروا تحجر ابن حزم، ولا هم الذين توسعوا توسع ابن العربى وأمثاله.

وهذا المنهج هو الأشهر والأكثر تطبيقا عند أهل العلم، فهم حافظوا على خاصية هذا الباب، وبالتالي جعلوا شروطا لاشتقاق الاسم من الصفة، وهذه الشروط دلت عليها النصوص، وسيأتي تفصيلها في المطلب الثالث والرابع من هذا المبحث.

وليس الغرض هنا تفصيل تلك المناهج وبيان ما لها وما عليها، فإن لذلك مبحثه المستقل، ولكن المقصود هنا هو الإشارة إلى أن هذا الاختلاف الحاصل بين المناهج الأربعة السابقة الذكر يؤكد ضرورة تحديد ضابط

--------------------------------------------

1 الآية 27 من سورة الرحمن.

2 الآية 117 من سورة البقرة.

3 فتح الباري 217/11.
ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "নিশ্চয়ই তিনি—অর্থাৎ ইবনে হাজম—কেবল সেগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন যা সুনির্দিষ্টভাবে নাম হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, বুৎপত্তি (ইশতিকাক) থেকে গৃহীত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে নয়; যেমন তাঁর বাণী: {এবং আপনার রবের চেহারা অবশিষ্ট থাকবে} ১ থেকে তিনি 'আল-বাকি' নাম গ্রহণ করেননি, আর যা সম্বন্ধসূচক (মুদাফ) হিসেবে এসেছে তাও নয়, যেমন তাঁর বাণী: {আসমান ও যমীনের অনন্য উদ্ভাবক} ২ থেকে 'আল-বাদি' নাম গ্রহণ করেননি।" ৩

তৃতীয় মানহাজ (পদ্ধতি):

এমন মধ্যপন্থীদের মানহাজ যারা প্রত্যেক সিফাত (গুণ) ও ফেল (ক্রিয়া) থেকে নাম আহরণ করেছেন এবং উভয় অধ্যায়ের—অর্থাৎ নাম ও গুণের অধ্যায়ের—মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি; বরং তারা কখনো কখনো সংবাদ প্রদানের (ইখবার) পরিমণ্ডলভুক্ত বিষয়গুলোকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুল আরাবি আল-মালিকি, ইবনুল মুরতাদা আল-ইয়ামানি এবং আশ-শারবাসি।

চতুর্থ মানহাজ (পদ্ধতি):

এমন মধ্যপন্থীদের মানহাজ যারা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় মানহাজের অনুসারীদের মাঝামাঝি অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তারা ইবনে হাজমের মতো কঠোরভাবে সীমাবদ্ধও করেননি, আবার ইবনুল আরাবি ও তাঁর সমমনাদের মতো অত্যধিক প্রসারিতও করেননি।

আলেমদের নিকট এই মানহাজটিই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ এবং সবচেয়ে বেশি অনুসৃত। তারা এই অধ্যায়ের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখেছেন এবং ফলশ্রুতিতে সিফাত থেকে নাম আহরণের ক্ষেত্রে কিছু শর্তারোপ করেছেন। এই শর্তগুলো বিভিন্ন দলিল (নুসুস) দ্বারা নির্দেশিত, যার বিস্তারিত বিবরণ এই পরিচ্ছেদের তৃতীয় ও চতুর্থ অনুচ্ছেদে আসবে।

এখানে উদ্দেশ্য এই মানহাজগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা কিংবা সেগুলোর পক্ষে-বিপক্ষের যুক্তি তুলে ধরা নয়, কারণ সেটির জন্য স্বতন্ত্র আলোচনার স্থান রয়েছে। বরং এখানে উদ্দেশ্য হলো এই ইঙ্গিত প্রদান করা যে, উল্লিখিত চারটি মানহাজের মধ্যে বিদ্যমান এই মতপার্থক্য একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তাকে সুনিশ্চিত করে।

--------------------------------------------

১ সূরা আর-রাহমান, আয়াত: ২৭।

২ সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১১৭।

৩ ফাতহুল বারি, ১১/২১৭।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩৭)
للأسماء الحسنى يعين على معرفة الراجح منها.

فلعل هذا التوضيح يكون كافيا في شرح أهمية هذا الضابط، وهذا أوان الشروع في المقصود.
আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ক্ষেত্রে কোনটি সর্বাধিক সঠিক তা জানার জন্য এটি সাহায্য করে।

সম্ভবত এই মূলনীতিটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে এই স্পষ্টীকরণ যথেষ্ট হবে এবং এটাই মূল বিষয়ে প্রবেশের উপযুক্ত সময়।
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌المطلب الثاني: تحديد ضابط الأسماء الحسنى

لعل أنسب تعريف للأسماء الحسنى، هو قول شيخ الإسلام ابن تيمية فيها: "الأسماء الحسنى المعروفة: هي التي يدعى الله بها، وهي التي جاءت في الكتاب والسنة، وهي التي تقتضي المدح والثناء بنفسها"1.

وهذا التعريف في اعتقادي هو أصلح وأفضل تعريف للأسماء الحسنى وذلك:

أولا: لموافقته للنص الشرعي، ولعل شيخ الإسلام ابن تيمية استقاه من قوله تعالى: {وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} 2.

فقوله في التعريف: "هي التي يدعى بها" مأخوذ من قوله تعالى: {فَادْعُوهُ بِهَا} .

وقوله: "هي التي وردت في الكتاب والسنة" مأخوذ من قوله: {الأَسْمَاءُ} (فالألف واللام هنا للعهد، فالأسماء بذلك، تكون معهودة ولا معروف في ذلك إلا ما نص الله عليه في كتابه أوسنة رسوله صلى الله عليه وسلم 3.

وقوله: (وهي التي تقتضي المدح والثناء بنفسها) مأخوذ من قوله تعالى: {الْحُسْنَى} فالحسنى تأنيث الأحسن، والمعنى أن أسماء الله أحسن الأسماء

--------------------------------------------

1 شرح العقيدة الأصفهانية ص 5

2 الآية 180 من سورة الأعراف

3 المحلى لابن حزم 29/1
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আসমাউল হুসনার মানদণ্ড নির্ধারণ

সম্ভবত আসমাউল হুসনা বা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের সবচেয়ে উপযুক্ত সংজ্ঞা হলো এই বিষয়ে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর উক্তি: "পরিচিত সুন্দর নামসমূহ হলো সেগুলো, যার মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকা হয়, যা কিতাব ও সুন্নাহয় বর্ণিত হয়েছে এবং যা নিজস্বভাবেই প্রশংসা ও স্তুতির দাবি রাখে"১।

আর আমার বিশ্বাস মতে, আসমাউল হুসনার জন্য এটিই সবচেয়ে সঠিক ও উত্তম সংজ্ঞা, কারণ:

প্রথমত: এটি শরয়ি দলিলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সম্ভবত শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এটি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গ্রহণ করেছেন: "আর আল্লাহর জন্যই সুন্দর নামসমূহ রয়েছে, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো"২।

সংজ্ঞায় তাঁর উক্তি: "যার মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকা হয়" কথাটি মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো" থেকে নেওয়া হয়েছে।

এবং তাঁর উক্তি: "যা কিতাব ও সুন্নাহয় বর্ণিত হয়েছে" কথাটি "নামসমূহ" শব্দ থেকে গৃহীত। (কেননা এখানে 'আলিফ' ও 'লাম' নির্দিষ্টকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে নামগুলো সুনির্দিষ্ট হবে। আর এক্ষেত্রে আল্লাহ তাঁর কিতাবে বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহয় যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, তা ছাড়া অন্য কিছু পরিচিত নেই)৩।

আর তাঁর উক্তি: (এবং যা নিজস্বভাবেই প্রশংসা ও স্তুতির দাবি রাখে) কথাটি মহান আল্লাহর বাণী "সুন্দরতম" (আল-হুসনা) থেকে নেওয়া হয়েছে। 'হুসনা' শব্দটি 'আহসান' (সর্বোত্তম সুন্দর) এর স্ত্রীলিঙ্গ, আর এর অর্থ হলো আল্লাহর নামসমূহ হলো সর্বোত্তম নাম।

--------------------------------------------

১ শারহুল আকিদাহ আল-আাসফাহানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৫

২ সূরা আল-আরাফের ১৮০ নম্বর আয়াত

৩ ইবনে হাজম রচিত আল-মুহাল্লা ১/২৯
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وأكملها، (فما كان مسماه منقسما إلى كمال ونقص وخير وشر لم يدخل اسمه في الأسماءالحسنى) 1.

وبهذا يتضح لك أن ما ذكره شيخ الإسلام ابن تيمية في تعريف الأسماء الحسنى هو مطابق لما ذكره الله في كتابه العزيز. وهذا وحده يكفي في اختيار هذا التعريف.

ثانيا: مما يؤكد صحة هذا التعريف اشتماله على شرطين للاسم هما:

الشرط الأول: ورود النص من القرآن أو السنة بذلك الاسم.

والشرط الثاني: صحة الإطلاق، وذلك أن يقتضي الاسم المدح والثناء بنفسه.

وهذان الشرطان يحققان للتعريف مقوماته بأن يكون جامعا لجوانب الشيء ومانعا من دخول غيره فيه، فالشرط الأول يؤكد على كون أسماء الله توقيفية، وأنه لا يجوز استعمال القياس فيها.

والشرط الثاني يؤكد على خاصية باب الأسماء وأنه أخص من باب الصفات وباب الإخبار.

وتوضيح هذين الشرطين هو ما سأضمنه في المطلب الثالث والرابع، ولذلك فإن شرح هذا الضابط سيأتي هناك لارتباطه بالشرطين، فلا حاجة لذكره هنا تحاشيا للتكرار والإطالة

--------------------------------------------

1 مدارج السالكين 3/ 415، 416
এবং তা সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ। (অতঃপর যা দ্বারা নামাঙ্কিত সত্তা পূর্ণতা ও অপূর্ণতা এবং কল্যাণ ও অকল্যাণে বিভক্ত হয়, তার নাম আসমাউল হুসনা বা সুন্দরতম নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয় না) ১।

এর মাধ্যমেই আপনার নিকট স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আসমাউল হুসনার সংজ্ঞায় শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ যা উল্লেখ করেছেন, তা আল্লাহ তাআলা তাঁর মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে যা উল্লেখ করেছেন তার সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এই সংজ্ঞাটি গ্রহণ করার জন্য এই একটি কারণই যথেষ্ট।

দ্বিতীয়ত: এই সংজ্ঞার বিশুদ্ধতা যা সুনিশ্চিত করে তা হলো এতে নামের দুটি শর্তের সমাবেশ ঘটেছে, যা নিম্নরূপ:

প্রথম শর্ত: কুরআন অথবা সুন্নাহর দালিলিক ভাষ্যে সেই নামটি বর্ণিত হওয়া।

দ্বিতীয় শর্ত: প্রয়োগের শুদ্ধতা, আর তা হলো নামটি স্বয়ং প্রশংসা ও গুণগানকে আবশ্যক করে।

আর এই দুটি শর্ত সংজ্ঞার এমন সব উপাদান নিশ্চিত করে যার ফলে এটি বিষয়বস্তুর সকল দিককে শামিল করে এবং অন্য কিছুকে এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বাধা প্রদান করে। সুতরাং প্রথম শর্তটি একথার ওপর গুরুত্বারোপ করে যে, আল্লাহর নামসমূহ 'তাওকিফিয়্যাহ' (অর্থাৎ ওহীর প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল), এবং এক্ষেত্রে কিয়াস বা অনুমানের ব্যবহার বৈধ নয়।

আর দ্বিতীয় শর্তটি নামসমূহের অধ্যায়ের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যকে সুনিশ্চিত করে এবং এটি যে গুণাবলি (সিফাত) ও সংবাদ প্রদানের (ইখবার) অধ্যায় থেকে অধিকতর সুনির্দিষ্ট, তাও স্পষ্ট করে।

এই দুটি শর্তের বিশদ ব্যাখ্যা আমি তৃতীয় ও চতুর্থ অনুচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত করব। তাই এই মূলনীতির ব্যাখ্যা সেখানেই আসবে যেহেতু এটি শর্ত দুটির সাথে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং পুনরাবৃত্তি ও দীর্ঘায়ন এড়ানোর লক্ষ্যে এখানে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।

--------------------------------------------

১. মাদারিজুস সালিকিন ৩/৪১৫, ৪১৬
(খণ্ড: ১) মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌المطلب الثالث: في الشرط الأول للأسماء الحسنى وهو ورود النص بذلك الإسم " فأسماء الله توقيفية"

من الأمور المتقررة في عقيدة أهل السنة في باب أسماء الله الحسنى أن من ضابط أسماء الله الحسنى ورود النص بذلك، الاسم فلا يسمى الله إلا بما سمى به نفسه في كتابه أو على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم.

أ- فمعنى كون أسماء الله توقيفية:

أي يجب الوقوف في أسماء الله على ما ورد ذكره في نصوص القرآن الكريم والسنة النبوية الصحيحة لا نزيد على ذلك ولا ننقص منه.

ولذلك يرى السلف أن من أحكام باب الأسماء ما يلي:

1- إثبات ما أثبته الله لنفسه من الأسماء الحسنى الواردة قي نصوص القرآن والسنة الصحيحة.

2- ألا ننفي عن الله ما سمى به نفسه في كتابه أو على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم

3- ألا نسمي الله بما لم يسم به نفسه في كتابه أو على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم.

وذلك لأنه لا طريق إلى معرفة أسماء الله تبارك وتعالى إلا من طريق واحد هو طريق الخبر (أي الكتاب والسنة) .

ب- ومن أقوال أهل العلم في تقرير هذه المسألة مايلي:

قال ابن القيم رحمه الله: (أسماء الله تعالى هي أحسن الأسماء وأكملها، فليس في الأسماء أحسن منها ولا يقوم غيرها مقامها ولايؤدي معناها. وتفسير
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আসমাউল হুসনার প্রথম শর্ত প্রসঙ্গে, আর তা হলো সেই নামের স্বপক্ষে দলিল থাকা "আল্লাহর নামসমূহ ওহীর ওপর নির্ভরশীল (তাওকিফিয়্যাহ)"

আহলুস সুন্নাহর আকিদায় আসমাউল হুসনার অধ্যায়ে সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মানদণ্ড হলো সেই নামের স্বপক্ষে নস (দলিল) থাকা। সুতরাং আল্লাহকে কেবল সেই নামেই নামকরণ করা হবে যা তিনি স্বয়ং নিজের কিতাবে বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানে ব্যক্ত হয়েছে।

ক- আল্লাহর নামসমূহ 'তাওকিফিয়্যাহ' (ওহীর ওপর নির্ভরশীল) হওয়ার অর্থ:

অর্থাৎ আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহর দলিলে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক; আমরা এতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করব না এবং এ থেকে কোনো কিছু হ্রাস করব না।

এ কারণেই সালাফগণ মনে করেন যে, নামসমূহের অধ্যায়ের বিধিবিধানগুলো নিম্নরূপ:

১- পবিত্র কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহর দলিলে বর্ণিত যে সকল সুন্দর নাম আল্লাহ নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন, তা সাব্যস্ত করা।

২- আল্লাহ নিজের কিতাবে অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানে নিজেকে যে নামে নামকরণ করেছেন, তা অস্বীকার না করা।

৩- আল্লাহকে এমন কোনো নামে নামকরণ না করা যার মাধ্যমে তিনি নিজের কিতাবে অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানে নিজেকে নামকরণ করেননি।

আর তা এই কারণে যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার নামসমূহ জানার কোনো পথ নেই একটি পথ ব্যতীত, আর তা হলো সংবাদের পথ (অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ)।

খ- এই বিষয়টি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আলেমগণের উক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে নিম্নোক্তগুলো:

ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: (আল্লাহ তায়ালার নামসমূহ হলো সর্বোত্তম এবং সবচেয়ে পরিপূর্ণ নাম। নামসমূহের মধ্যে এর চেয়ে সুন্দর আর কোনো নাম নেই, অন্য কোনো শব্দ এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না এবং এর সঠিক অর্থও প্রদান করতে পারে না। আর এর ব্যাখ্যা...