(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: -)
معاجم معاني ألفاظ القرآن الكريم القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: معاجم معاني ألفاظ القرآن الكريم
المؤلف: فوزي يوسف الهابط
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 82
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-কুরআনের শব্দাবলির অর্থ-অভিধানসমূহ বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি
গ্রন্থ: আল-কুরআনের শব্দাবলির অর্থ-অভিধানসমূহ
লেখক: ফাওজি ইউসুফ আল-হাবিত
প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত পবিত্র মুসহাফ মুদ্রণের জন্য কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮২
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة…معاجم معاني ألفاظ القرآن الكريم
أ. د. فوزي يوسف الهابط
بين يدي البحث
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين.
وبعد: فقد كان منهجي - في هذا البحث المتواضع - محاولة الاطِّلاع على كل ما قيل في غريب القرآن، وجمْع عناوين كل ما أُلف في هذا المجال، لأحصر معاجمه، وأقف على حركة التأليف فيه.
وكان من ضمن شواغلي: الاطلاع على كتب الغريب القرآني - المتاح لي الاطلاع عليها - لأتبين صدق وصفها، ولأتأكد من مسايرة مناهجها، لمناهج كتب الغريب.
ونتيجة لذلك: فقد استبعدت من الكتب، ما هو بعيد عن منهج غريب القرآن، على الرغم من أن بعض المراجع - التي اهتمت بمؤلفات الغريب - قد سلكتها ضمنها!
ومن أمثلة ذلك: كتاب غرائب القرآن ورغائب الفرقان - للحسَين ابن محمد، القمي، النيسابوري (ت728هـ) فقد أدرجه معجم مصنفات القرآن الكريم (3/299) ضمن كتب غريب القرآن.
وحين اطلعت على النسخة المطبوعة، رأيت صاحبه يشير - في مقدمته - إلى أن تفسيره: ملخص لتفسير الرازي، وأنه ضَم إليه، ما وجده من اللطائف المهمات، في تفسير الكشاف، وفي سائر التفاسير.
ثم اطلعت على باقي الكتاب، فوجدته أبعد ما يكون عن كتب غريب القرآن، ولذلك لم أدرجه ضمنها.
وإلى جوار ذلك: فهناك كتب شَكَكْتُ في أنها من غريب القرآن، ولكن لم تتح لي فرصة الاطلاع عليها، ومن ثم فقد بينت وجهة نظري فيها.
ভূমিকা…পবিত্র কুরআনের শব্দাবলির অর্থ-অভিধানসমূহ
প্রফেসর ড. ফাওযী ইউসুফ আল-হাবিত
গবেষণার প্রারম্ভে
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতমের প্রতি।
অতঃপর: আমার এই বিনম্র গবেষণায় আমার কর্মপদ্ধতি ছিল—পবিত্র কুরআনের অপরিচিত বা অস্পষ্ট (غريب) শব্দাবলি সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে তা পর্যালোচনার চেষ্টা করা এবং এই ক্ষেত্রে রচিত সকল গ্রন্থের শিরোনাম সংকলন করা, যাতে এর অভিধানগুলোকে চিহ্নিত করা যায় এবং এই বিষয়ক গ্রন্থ রচনার ধারা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা যায়।
আমার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল: কুরআনের অপরিচিত বা অস্পষ্ট (غريب) শব্দাবলি বিষয়ক গ্রন্থসমূহ—যা আমার আয়ত্তে ছিল—সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা, যাতে সেগুলোর বর্ণনার যথার্থতা যাচাই করা যায় এবং সেগুলোর পদ্ধতি এই শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহের পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
এর ফলে: আমি এমন কিছু গ্রন্থকে বর্জন করেছি যা কুরআনের অপরিচিত বা অস্পষ্ট (غريب) শব্দাবলি বিষয়ক পদ্ধতির সাথে সংগতিপূর্ণ নয়, যদিও কিছু উৎসগ্রন্থ—যা এই শাস্ত্রের রচনাবলির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে—সেগুলোকে এর অন্তর্ভুক্ত করেছিল!
এর একটি উদাহরণ হলো: হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-কুম্মী আন-নাইসাবুরীর (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরী) 'গারাইবুল কুরআন ওয়া রাগাইবুল ফুরকান' গ্রন্থটি। 'মু'জামু মুসান্নাফাতিল কুরআনিল কারীম' (৩/২৯৯) গ্রন্থটি এটিকে কুরআনের অপরিচিত বা অস্পষ্ট (غريب) শব্দাবলি বিষয়ক গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছে।
কিন্তু যখন আমি এর মুদ্রিত কপিটি অধ্যয়ন করলাম, তখন দেখলাম লেখক এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে—তাঁর এই তাফসিরটি হলো ইমাম রাজীর তাফসিরের সারসংক্ষেপ এবং এর সাথে তিনি তাফসিরে কাশশাফ ও অন্যান্য তাফসির থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ যুক্ত করেছেন।
এরপর আমি গ্রন্থটির বাকি অংশ পর্যালোচনা করলাম এবং এটিকে কুরআনের অপরিচিত বা অস্পষ্ট (غريب) শব্দাবলি বিষয়ক গ্রন্থসমূহ থেকে যোজন যোজন দূরে দেখতে পেলাম। তাই আমি একে এর অন্তর্ভুক্ত করিনি।
পাশাপাশি এমন কিছু গ্রন্থ রয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে আমার সন্দেহ রয়েছে যে সেগুলো কুরআনের অপরিচিত বা অস্পষ্ট (غريب) শব্দাবলি বিষয়ক কি না, কিন্তু সেগুলো বিস্তারিত দেখার সুযোগ আমার হয়নি। ফলে আমি সেগুলোর ব্যাপারে আমার দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২)
ومثال ذلك، كتاب: تفسير الغريب في الجامع الصغير - للأرْمَيُوني (ت958هـ) .
وقد اقتضى منهج البحث العلمي: أن أرجع إلى كثير من المصادر، والمراجع، التي دارت حول كتب الغريب، واهتمت بها، وذلك: للتوثيق والتأكيد.
وعلى الرغم من ذلك: فإنني لم أقيد - منها - قرين كل كتاب، إلا ما دعت إليه الحاجة، واقتضته ضرورة المنهج، ولذلك: ذكرت - من هذه المصادر وتلك المراجع- أقدمها، أو أكثرها إيفاء بالمعلومات المسوقة، وضربت صفحاً عن ذكر الباقي، خوفاً من الإطالة.
وقد احتوى هذا البحث ما يلي:
مقدمة (بين يدي البحث) ، وتمهيداً، ثم خمسة مباحث، تدور حول ما يلي:
المبحث الأول: الغريب اللغوي، والغريب القرآني.
والمبحث الثاني: غريب القرآن، وبداية المعجم العربي.
والمبحث الثالث: نمو الحاجة إلى تفسير غريب القرآن.
والمبحث الرابع: اختلافات في تآليف الغريب.
والمبحث الخامس: مسرد معاجم الغريب، مرتبة حسب وفيات أصحابها.
ويلي ذلك: ثَبْتُ بالمصادر والمراجع، التي أعانتني على القيام بواجبات البحث، ثم: فهرس ألفبائي، لكتب غريب القرآن، وختام ذلك: فهرس لموضوعات البحث.
এর একটি উদাহরণ হলো আল-আরমায়ুনি (মৃত্যু ৯৫৮ হিজরি) রচিত কিতাব: তাফসীরুল গারিব ফীল জামিউস সগির।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতির দাবি ছিল এই যে, আমি এমন অনেক উৎস ও তথ্যসূত্রের শরণাপন্ন হব যা বিরল শব্দ (الغريب) বিষয়ক কিতাবসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে এবং সেগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে; আর এটি করা হয়েছে প্রামাণিকতা ও নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য।
তা সত্ত্বেও, আমি প্রতিটি কিতাবের বর্ণনার সাথে কেবল ততটুকুই তথ্য লিপিবদ্ধ করেছি যতটুকু প্রয়োজন ছিল এবং গবেষণা পদ্ধতির অপরিহার্যতা দাবি করেছে। এই কারণে, আমি এসব উৎস ও তথ্যসূত্রের মধ্যে প্রাচীনতম অথবা উপস্থাপিত তথ্যের ক্ষেত্রে অধিক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থগুলো উল্লেখ করেছি এবং দীর্ঘায়িত হওয়ার ভয়ে অবশিষ্টগুলো এড়িয়ে গিয়েছি।
এই গবেষণাটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে:
একটি ভূমিকা (গবেষণার প্রারম্ভিক কথা), একটি উপক্রমণিকা, অতঃপর পাঁচটি পরিচ্ছেদ যা নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ নিয়ে আবর্তিত হয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ভাষাগত বিরল শব্দ (الغريب) এবং কুরআনের বিরল শব্দ (الغريب)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের বিরল শব্দ (الغريب) এবং আরবি অভিধানের সূচনা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের বিরল শব্দ (الغريب)-এর ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তার ক্রমবিকাশ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিরল শব্দ (الغريب) বিষয়ক রচনাসমূহের ভিন্নতা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বিরল শব্দ (الغريب) বিষয়ক অভিধানসমূহের তালিকা, যা গ্রন্থকারদের মৃত্যুসন অনুযায়ী ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে।
এর পরে রয়েছে উৎস ও তথ্যসূত্রের তালিকা, যা আমাকে গবেষণার দায়িত্ব পালনে সহায়তা করেছে; তারপর কুরআনের বিরল শব্দ (الغريب) বিষয়ক কিতাবসমূহের একটি বর্ণানুক্রমিক সূচি এবং পরিশেষে গবেষণার বিষয়বস্তুর সূচিপত্র।
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৩)
وقد بذلت - في كل ذلك - غاية الجهد الذي منَّ الله عليّ به، فإن أصبت: فذلك بتوفيقه تعالى وعونه، وإن كانت الأخرى: فحسبي أني اجتهدت، ولكل مجتهد نصيب!
وختاماً: أدعو الله العلي القدير، أن يتقبل هذا العمل المتواضع، وأن يجعله في سجل حسناتي، وسجل حسنات والديّ (يرحمهما الله) .
وآخر دعوانا: أن الحمد لله رب العالمين،،،
د. فوزي يوسف الهابط
13 من ذي الحجة 1420هـ /19 من مارس 2000م
এই সবকিছুর ক্ষেত্রে আমি আমার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি যা আল্লাহ তাআলা আমাকে অনুগ্রহপূর্বক দান করেছেন; সুতরাং যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি, তবে তা মহান আল্লাহর তাওফিক ও তাঁর সাহায্যের মাধ্যমেই হয়েছে। আর যদি বিষয়টি অন্যথা (ভুল) হয়, তবে আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে আমি গবেষণা (اجتهاد) করেছি, আর প্রত্যেক গবেষণাকারীর (مجتهد) জন্য নির্দিষ্ট প্রতিদান রয়েছে!
পরিশেষে: আমি মহামহিম ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই বিনীত কর্মটি কবুল করেন এবং একে আমার নেক আমলের আমলনামায় ও আমার পিতামাতার (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন) নেক আমলের আমলনামায় শামিল করেন।
আমাদের সর্বশেষ কথা হলো: সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য...
ড. ফাওজি ইউসুফ আল-হাবিত
১৩ই জিলহজ ১৪২০ হিজরি / ১৯শে মার্চ ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৪)
تمهيد:المعاجم اللغوية - عامة -: هي التي تحصر ألفاظ اللغة، وترتبها ترتيبا خاصا، يساعد الباحث في العثور على اللفظ، والتعرف عليه بشرح مدلوله.
أو تيسر له: وسيلة العثور على مجموعة من الألفاظ، التي يجمعها موضوع واحد (1) .
والمعجم الكامل:"هو الذي يضم كل كلمة في اللغة [على قدر الإمكان] مصحوبة بشرح معناها، واشتقاقها، وطريقة نقطها، وشواهد تبين مواضع استعمالها". (2)
وهناك معاجم خاصة، تهتم بألفاظ موضوعات خاصة، وليست عامة، ومنها: معاجم غريب القرآن، التي نحن بصدد الحديث عنها.
--------------------------------------------
ভূমিকা:ভাষাগত অভিধানসমূহ - সাধারণ অর্থে -: হলো সেই গ্রন্থসমূহ যা ভাষার শব্দাবলীকে সংকলিত করে এবং সেগুলোকে একটি বিশেষ ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করে, যা গবেষককে কোনো শব্দ খুঁজে পেতে এবং তার অর্থের ব্যাখ্যার মাধ্যমে তা বিস্তারিতভাবে জানতে সাহায্য করে।
অথবা এটি গবেষকের জন্য সহজ করে দেয়: এমন একগুচ্ছ শব্দ খুঁজে পাওয়ার মাধ্যম, যা একটি নির্দিষ্ট বিষয় (১) দ্বারা একত্রিত করা হয়েছে।
আর পূর্ণাঙ্গ অভিধান হলো: "তা যা ভাষার প্রতিটি শব্দকে [সাধ্যানুযায়ী] অন্তর্ভুক্ত করে, যার সাথে থাকে তার অর্থের ব্যাখ্যা, শব্দের বুৎপত্তি (اشتقاق), উচ্চারণ বা স্বরচিহ্ন প্রদান পদ্ধতি এবং এর প্রয়োগস্থল নির্দেশকারী প্রমাণসমূহ"। (২)
এছাড়াও কিছু বিশেষ অভিধান রয়েছে, যা সাধারণ বিষয়ের পরিবর্তে বিশেষ বিশেষ বিষয়ের শব্দাবলীর প্রতি গুরুত্বারোপ করে; যেমন: কুরআনের বিরল বা অপরিচিত শব্দাবলী (غريب القرآن) সংক্রান্ত অভিধানসমূহ, যা নিয়ে আমরা বর্তমানে আলোচনা করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الأول: الغريب اللغوي والغريب القرآنيالغريب اللغوي:
كل ما ورد في مادة (غ ر ب) يفيد البُعد، ومنه: رجل غريب: بعيد عن أهله، ليس من سائر القوم.
ومنه: كلمة غريبة: أي بعيدة عن الفهم (1) .
وذكر الخطَّابِي (2) (ت 388هـ) أن الغريب - من الكلام - يقال به على وجهين: أحدهما: أن يُراد به: بعيد المعنى، غامضه، لا يتناوله الفهم إلا عن بُعد، ومعاناة فكر.
والآخر: أن يراد به: كلام من بَعُدت به الدار، من شواذِّ قبائل العرب، فإذا وقعت إلينا الكلمة من لغاتهم: استغربناها! وإنما هي كلام القوم وبيانهم.
ويزيد الزجّاجي (ت377هـ) أمر الغريب اللغوي وضوحاً، حين يُعرِّفه بأنه (3) : "ما قل استماعه من اللغة، ولم يَدُرْ في أفواه العامّة، كما دار في أفواه الخاصّة، كقولهم: صَمَكْتُ الرجُل، أي: لَكَمْتُه، وقولهم للشمس: يُوحُ" (4)
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ভাষাগত গরিব (الغريب) এবং কুরআনিক গরিব (الغريب)ভাষাগত গরিব (الغريب اللغوي):
(غ ر ب) মূল ধাতু থেকে আগত প্রতিটি শব্দই দূরবর্তিতা অর্থ প্রদান করে। আর তা থেকেই এসেছে: প্রবাসী ব্যক্তি (رجل غريب): যে তার পরিবার থেকে দূরে থাকে এবং সে জনপদের সাধারণ অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
আর এর থেকেই এসেছে: দুর্বোধ্য শব্দ (كلمة غريبة): অর্থাৎ যা অনুধাবন করা কঠিন (১)।
খাত্তাবি (২) (মৃত্যু ৩৮৮ হি.) উল্লেখ করেছেন যে, কথাবার্তার ক্ষেত্রে গরিব (الغريب) শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: প্রথমটি হলো: এর দ্বারা এমন শব্দ উদ্দেশ্য যার অর্থ দূরবর্তী ও অস্পষ্ট, যা দীর্ঘ চিন্তা ও গভীর অভিনিবেশ ব্যতীত সহজে বোধগম্য হয় না।
আর অন্যটি হলো: এর দ্বারা এমন ব্যক্তির কথা উদ্দেশ্য যার আবাসস্থল অনেক দূরে, অর্থাৎ আরবদের বিরল (شواذ) গোত্রসমূহের ভাষা। ফলে যখন তাদের ভাষা থেকে কোনো শব্দ আমাদের কাছে পৌঁছায়, তখন আমরা সেটিকে অপরিচিত বা গরিব (استغربناها) মনে করি; অথচ তা মূলত সেই গোত্রেরই ভাষা ও প্রকাশভঙ্গি।
জুজ্জাজি (মৃত্যু ৩৭৭ হি.) ভাষাগত গরিবের (الغريب اللغوي) বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন যখন তিনি এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন (৩): "ভাষার ওই সকল শব্দ যা শ্রবণে কম আসে এবং যা সাধারণ মানুষের মুখে সেভাবে প্রচলিত নয় যেভাবে তা বিদগ্ধজনদের মুখে প্রচলিত। যেমন তাদের উক্তি: 'সমাকতুর্ রাজুলা' (صَمَكْتُ الرجُل), অর্থাৎ: 'আমি লোকটিকে ঘুসি মেরেছি', এবং সূর্যের ক্ষেত্রে তাদের উক্তি: 'ইউহু' (يُوحُ)" (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬)
ثم ينبهنا إلى أنه "ليس كل العرب يعرفون اللغة كلها، غريبها وواضحها، ومستعملها وشاذها، بل هم - في ذلك - طبقات، يتفاضلون فيها، كما أنه: ليس كلهم يقول الشعر، ويعرف الأنساب كلها، وإنما هو في بعض دون بعض"! (1)
وقريب من هذا: ما ذهب إليه ابن الأثير (ت606هـ) حين قسَّم الألفاظ المفردة إلى قسمين (2) : أحدهما: خاص، والآخر: عام.
أما العام: فهو ما يشترك في معرفته، جمهور أهل اللسان العربي، مما يدور بينهم في الخطاب، فهم - في معرفته - سواء، أو قريب من السواء، تناقلوه فيما بينهم، وتداولوه، وتلقفوه من حال الصغر - لضرورة التفاهم - وتعلموه.
وأما الخاص: فهو ما ورد فيه من الألفاظ اللغوية، والكلمات الغريبة الحوشيّة، التي لا يعرفها إلا من عُني بها، وحافظ عليها، واستخرجها من مظانها، وقليل ما هم!
وذهب ابن الهائم (ت 815هـ) إلى "أن الغريب يقابله المشهور، وهما أمران نِسبِيَّان، فربَّ لفظ يكون غريباً عند شخص، مشهورا عند آخر" (3) .
--------------------------------------------
এরপর তিনি আমাদের সতর্ক করে দেন যে, "সকল আরব সমগ্র ভাষা সম্পর্কে অবগত নয়—তার দুর্লভ (غريب) ও স্পষ্ট অংশ, এবং প্রচলিত ও বিরল (شاذ) শব্দাবলি সম্পর্কেও নয়। বরং এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত, যেখানে তাদের মধ্যে যোগ্যতার তারতম্য রয়েছে। ঠিক যেমন তারা সবাই কবিতা রচনা করে না এবং সকল বংশপরম্পরা সম্পর্কে জানে না; বরং এটি কেবল কারো কারো ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অন্যদের ক্ষেত্রে নয়!" (১)
এর সমজাতীয় একটি মত ইবনুল আসীর (মৃত্যু ৬০৬ হি.) পোষণ করেছেন, যখন তিনি একক শব্দসমূহকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন (২): একটি বিশেষ এবং অপরটি সাধারণ।
সাধারণের ক্ষেত্রে: এটি সেই শব্দ যার জ্ঞানে আরবি ভাষাভাষী জনসাধারণের অধিকাংশ অংশীদার, যা তাদের পারস্পরিক কথোপকথনে ব্যবহৃত হয়। এর জ্ঞানে তারা সমান অথবা সমানের কাছাকাছি; তারা একে অপরের মাধ্যমে এটি স্থানান্তর করেছে, চর্চা করেছে এবং শৈশব থেকেই—পারস্পরিক যোগাযোগের প্রয়োজনে—তা গ্রহণ ও শিক্ষা করেছে।
আর বিশেষের ক্ষেত্রে: এটি সেই সকল ভাষাগত শব্দ এবং দুর্লভ (غريب) ও অপ্রচলিত শব্দাবলি যা কেবলমাত্র তারাই জানে যারা এ বিষয়ে নিবিষ্ট হয়েছে, তা সংরক্ষণ করেছে এবং তার উপযুক্ত উৎসস্থল থেকে তা আহরণ করেছে; আর তারা সংখ্যায় অতি নগণ্য!
ইবনুল হাইম (মৃত্যু ৮১৫ হি.) এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, "দুর্লভ (غريب) এর বিপরীত হলো প্রসিদ্ধ (مشهور), এবং এ দুটি আপেক্ষিক বিষয়। ফলে কোনো শব্দ একজনের নিকট দুর্লভ (غريب) হতে পারে, আবার অন্যজনের নিকট তা প্রসিদ্ধ (مشهور) হতে পারে।" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৭)
الغريب القرآني:
أما الغريب في القرآن الكريم: فهو الألفاظ القرآنية، التي يُبْهَم معناها على القارئ، والمفسر وتحتاج إلى توضيح معانيها، بما جاء في لغة العرب، وكلامهم (1) .
وذلك: لأن ألفاظ القرآن - أو لغاته، كما يقول أبو حيان الأندلسي (ت745هـ) – "على قسمين (2) :
قسم: يكاد يشترك في معناه، عامة المستعربة، وخاصتهم، كمدلول السماء، والأرض، وفوق، وتحت.
وقسم: يختص بمعرفته، من له اطلاع وتبحُّر في اللغة العربية، وهو الذي صَنّف أكثر الناس فيه، وسمَّوه: غريب القرآن".
أهمية معرفة غريب القرآن:
ومعرفة غريب القرآن - بالنسبة للمفسر - من أهم أدواته، لأنها من أوائل المُعَاوِن، لمن يريد أن يدرك معانيه، كتحصيل اللَّبِنِ، في كونه من أول المُعاوِن، في بناء ما يريد أن يبنيَه.
وليس ذلك نافعاً في علم القرآن فقط، بل هو نافع في كل علم من علوم الشرع! فألفاظ القرآن: هي لُبُّ كلام العرب، وزُبْدتُه، وكرائمُه، وعليها اعتماد الفقهاء، والحُكام في أحكامهم، وحِكَمِهم، وإليها مفزع حُذّاق الشعر، والبلغاء، في نظمهم وشعرهم، وما عداها - وعدا الألفاظ المتفرعات
--------------------------------------------
কুরআনের অপরিচিত বা দুর্লভ (غريب) শব্দাবলি:
পবিত্র কুরআনের অপরিচিত বা দুর্লভ (غريب) শব্দাবলি বলতে বোঝায়: সেই সকল কুরআনিক শব্দাবলি, যার অর্থ সাধারণ পাঠক ও ব্যাখ্যাকারক (مفسر)-এর নিকট অস্পষ্ট থাকে এবং সেগুলোর অর্থ স্পষ্ট করার জন্য আরবদের ভাষা ও তাদের বাচনভঙ্গি থেকে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় (১)।
আর এটি এ কারণে যে: কুরআনের শব্দাবলি — অথবা এর ভাষাসমূহ, যেমনটি আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি (মৃত্যু: ৭৪৫ হি.) বলেছেন — "দুই প্রকার (২):
এক প্রকার: যার অর্থ বুঝতে সাধারণ আরবীকৃত (مستعربة) এবং বিশেষজ্ঞ শ্রেণি উভয়েই প্রায় সমানভাবে অংশীদার, যেমন: আকাশ, পৃথিবী, উপর এবং নিচ শব্দগুলোর অর্থ।
অন্য প্রকার: যার জ্ঞান কেবল তাদের জন্য নির্দিষ্ট যাদের আরবি ভাষায় গভীর পাণ্ডিত্য ও ব্যুৎপত্তি রয়েছে। অধিকাংশ লেখক এই বিষয়ের ওপরই গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: 'গারিবুল কুরআন' বা কুরআনের অপরিচিত শব্দাবলি"।
কুরআনের অপরিচিত বা দুর্লভ (غريب) শব্দাবলি জানার গুরুত্ব:
একজন ব্যাখ্যাকারক (مفسر)-এর জন্য কুরআনের অপরিচিত বা দুর্লভ (غريب) শব্দাবলি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা তার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। কারণ, যারা কুরআনের অর্থ অনুধাবন করতে চান, তাদের জন্য এটি প্রাথমিক সহায়িকাগুলোর অন্তর্ভুক্ত; যেমন কোনো স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে ইট সংগ্রহ করা একটি প্রাথমিক ও অপরিহার্য কাজ।
এটি কেবল কুরআন বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেই উপকারী নয়, বরং শরিয়তের প্রতিটি শাখার জন্য ফলপ্রসূ! কারণ কুরআনের শব্দাবলি হলো আরবদের বাকরীতির মজ্জা, নির্যাস এবং শ্রেষ্ঠতম অংশ। ফকিহগণ (فقهاء) ও বিচারকগণ (حكام) তাদের বিধিবিধান ও প্রজ্ঞাপূর্ণ সিদ্ধান্তে এগুলোর ওপরই নির্ভর করেন। দক্ষ কবি ও অলঙ্কারবিদগণ (بلغاء) তাদের ছন্দ ও কাব্য রচনায় একেই আশ্রয়স্থল হিসেবে গ্রহণ করেন, আর এগুলো ছাড়া যা আছে — এবং এর থেকে উদ্ভূত শব্দাবলি ছাড়া —
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৮)
عنها، والمشتقات منها - هو - بالإضافة إليها - كالقشور والنوى، بالإضافة إلى أطايب الثمرة، وكالحثالة والتبن، بالإضافة إلى لُبوب الحنطة! (1)
ومن أجل ذلك: فقد نبه الزركشي (2) (ت794هـ) إلى ضرورة معرفة الغريب، والإحاطة باللغة، بالنسبة للمفسر، وساق - في هذا المجال - قول الإمام مالك بن أنس (ت179هـ) : "لا أُوتَى برجل يفسّر كتاب الله، غيرَ عالم بلغة العرب، إلا جعلته نكالا"
ثم قولَ مجاهد (3) (ت104هـ) : "لا يحل لأحد- يُؤمن بالله واليوم الآخر – أن يتكلم في كتاب الله، إذا لم يكن عالماً بلغات العرب".
كما ذكر (الزركشي) (4) : أن الكاشف عن معاني القرآن، يحتاج “إلى معرفة علم اللغة: اسما، وفعلاً، وحرفاً، فالحروف - لقلتها - تكلم النحاة على معانيها، وأما الأسماء والأفعال: فيؤخذ ذلك من كتب اللغة“.
تفاوت نظرة المفسرين إلى الغريب:
ولم ينظر علماء اللغة، والمهتمون بأمر غريب القرآن، إلى ذلك الغريب، نظرة واحدة، بل تفاوتت نظراتهم إليه، فما يعده بعضهم غريباً، قد يكون عند غيره: غير غريب!
ولذلك: لم تتفق كتب الغريب، فيما أوردته من ألفاظه، فبعضها: يذكر ألفاظا على أنها من الغريب، وبعضها: يُهمل بعض هذه الألفاظ، ويذكر ألفاظاً أخرى، هي - في رأي مصنفي تلك الكتب - من الغريب! (5)
--------------------------------------------
...তা থেকে এবং তা থেকে নির্গত শব্দাবলি - এর তুলনায় - ফলের শাঁসের তুলনায় খোসা ও বীজের মতো, এবং গমের দানার শাঁসের তুলনায় তুচ্ছ আবর্জনা ও খড়কুটোর মতো! (১)
আর এই কারণেই, ইমাম যারকাশি (২) (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরি) মুফাসসিরের (কুরআন ব্যাখ্যাকারীর) জন্য অপ্রচলিত শব্দ (غريب) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা এবং ভাষার ওপর পূর্ণ দখল থাকার প্রয়োজনীয়তার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি এই প্রসঙ্গে ইমাম মালিক ইবনে আনাস (মৃত্যু ১৭৯ হিজরি)-এর উক্তি উদ্ধৃত করেছেন: "আল্লাহর কিতাবের তাফসির করে এমন কোনো ব্যক্তিকে যদি আমার কাছে আনা হয় যে আরবি ভাষায় পণ্ডিত নয়, তবে আমি তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেব।"
এরপর তিনি মুজাহিদ (৩) (মৃত্যু ১০৪ হিজরি)-এর উক্তি উল্লেখ করেন: "আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে কথা বলা বৈধ নয়, যদি সে আরবি ভাষা সম্পর্কে অভিজ্ঞ না হয়।"
ইমাম যারকাশি (৪) আরও উল্লেখ করেছেন যে: কুরআনের অর্থ উদ্ঘাটনকারীর জন্য ভাষাবিজ্ঞান (ইলমুল লুগাহ) সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন: বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয় হিসেবে। অব্যয়সমূহ সংখ্যায় কম হওয়ায় ব্যাকরণবিদগণ এগুলোর অর্থ নিয়ে আলোচনা করেছেন, আর বিশেষ্য ও ক্রিয়ার অর্থের ক্ষেত্রে অভিধানের কিতাবসমূহের সাহায্য নিতে হবে।
অপ্রচলিত শব্দ (غريب) সম্পর্কে মুফাসসিরদের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা:
ভাষাবিদগণ এবং কুরআনের অপ্রচলিত শব্দাবলি নিয়ে যারা কাজ করেন, তারা এই অপ্রচলিত শব্দ (غريب) বিষয়টিকে একই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেননি; বরং তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা রয়েছে। ফলে যা একজনের কাছে অপ্রচলিত (غريب) মনে হয়, তা অন্যের কাছে অপ্রচলিত (غريب) নাও হতে পারে!
আর এই কারণেই, অপ্রচলিত শব্দের (غريب) বিষয়ের গ্রন্থসমূহ তাদের সংকলিত শব্দাবলির ক্ষেত্রে একমত হতে পারেনি। কোনো কোনো গ্রন্থে কিছু শব্দকে অপ্রচলিত (غريب) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার কোনো কোনো গ্রন্থে এগুলোর কিছু শব্দ বাদ দিয়ে অন্য কিছু শব্দকে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট গ্রন্থকারদের দৃষ্টিতে অপ্রচলিত (غريب) ছিল! (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৯)
وهذا مما يتفق مع ما قاله ابن الهائم (1) : "لا شك أن الغريب يقابله المشهور، وهما أمران نسبيان، فربّ لفظ يكون غريباً عند شخص، مشهوراً عند آخر".
وقد ظهر ذلك واضحاً، في الكتب الأوائل، التي ألفت في الغريب، حيث كان صغر حجمها، وقلة موادها، لافتاً للنظر!
ويتجلى ذلك: في وصف حاجي خليفة (ت1067هـ) لكتاب أبي عبيدة (ت210هـ) في الغريب، حيث أخبر (2) : أنه جمع كتاباً صغيراً، ثم استدرك قائلاً: "ولم تكن قلته لجهله بغيره، وإنما ذلك لأمرين:
أحدهما: أن كل مبتدئ بشيء لم يُسبق إليه يكون قليلاً ثم يكثر.
والآخر: أن الناس كان فيهم - يومئذ- بقية، وعندهم معرفة، فلم يكن الجهل قد عمّ".
ومن أجل ذلك أقول: إن حركة التأليف في غريب القرآن، قد تطورت تطوراً كبيراً، من بدايتها، إلى عصرنا الحاضر، وسيظهر هذا واضحاً جلياً، عندما نستعرض مؤلفات غريب القرآن.
ولكن السمين الحلبي (ت756هـ) لم يفطن إلى هذه الحقيقة العلمية، التي تتعلق بتفاوت نظرات أهل الغريب، إلى الغريب، ولذلك نجده قد أخذ على الراغب الأصفهاني (ت في حدود: 425هـ) إغفاله بعض ألفاظ الغريب القرآني، في كتابه: (مفرادات ألفاظ القرآن) حيث قال (السمين الحلبي) (3) :
--------------------------------------------
এটি ইবনুল হায়িম (১) এর বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ: "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে বিরল (غريب) এর বিপরীত হলো প্রসিদ্ধ (مشهور), এবং এই দুটি আপেক্ষিক বিষয়। কারণ কোনো শব্দ একজনের কাছে বিরল (غريب) হতে পারে, আবার অন্যজনের কাছে প্রসিদ্ধ (مشهور) হতে পারে।"
এটি সেই প্রাথমিক বইগুলোতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যা বিরল (غريب) শব্দের ওপর রচিত হয়েছিল, যেখানে সেগুলোর ক্ষুদ্র আয়তন এবং উপকরণের স্বল্পতা ছিল দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো!
এটি স্পষ্ট হয় হাজি খলিফা (মৃ. ১০৬৭ হি.) কর্তৃক বিরল (غريب) শব্দের ওপর আবু উবায়দাহ (মৃ. ২১০ হি.)-এর গ্রন্থের বর্ণনায়, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন (২): তিনি একটি ছোট গ্রন্থ সংকলন করেছিলেন। এরপর তিনি সংশোধন করে বলেন: "এর স্বল্পতা অন্য বিষয়ে তাঁর অজ্ঞতার কারণে ছিল না, বরং তা ছিল দুটি কারণে:
এক: যে কেউ কোনো বিষয়ে নতুন কাজ শুরু করেন যা আগে করা হয়নি, তা প্রথমে অল্প থাকে এবং পরে বৃদ্ধি পায়।
দুই: সে সময় মানুষের মধ্যে (ভাষাগত যোগ্যতার) অবশিষ্টাংশ ছিল এবং তাদের জ্ঞান ছিল, ফলে অজ্ঞতা তখনও সর্বব্যাপী হয়ে ওঠেনি।"
একারণেই আমি বলি: কুরআনের বিরল (غريب) শব্দের ওপর গ্রন্থ রচনার ধারা এর সূচনা থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ব্যাপকভাবে বিকশিত হয়েছে এবং যখন আমরা কুরআনের বিরল (غريب) শব্দের ওপর রচিত গ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করব, তখন এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।
কিন্তু আস-সামীন আল-হালাবি (মৃ. ৭৫৬ হি.) এই বৈজ্ঞানিক সত্যটি অনুধাবন করতে পারেননি, যা বিরল (غريب) শাস্ত্রের পণ্ডিতদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের সাথে সম্পর্কিত। এই কারণেই আমরা দেখতে পাই যে, তিনি আর-রাগিব আল-আসফাহানি (মৃ. আনুমানিক ৪২৫ হি.)-এর ওপর আপত্তি তুলেছেন যে তিনি তাঁর 'মুফরাদাত আলফাজ আল-কুরআন' গ্রন্থে কুরআনের কিছু বিরল (غريب) শব্দ বাদ দিয়েছেন। সেখানে আস-সামীন আল-হালাবি (৩) বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১০)
(قد أغفل في كتابه ألفاظاً كثيرة، لم يتكلم عليها، ولا أشار في تصنيفه إليها، مع شدة الحاجة إلى معرفتها، وشرح معناها، ولغتها) ثم أورد بعض المواد التي أغفلها الأصفهاني (1) .
وأعتقد - في ضوء ما عرفنا، من تفاوت نظرات أهل الغريب إلى الغريب - أن ما أخذه السمين الحلبي، على الراغب الأصفهاني، ليس مأخذا يلتفت إليه، لأن المسافة الزمنية بينهما، أو بين عصريهما: طويلة، حيث تزيد على ثلاثة قرون، وهذه المسافة الزمنية: كفيلة بتغير اللغة، والعلم بها، حتى إنه ما كان معروفا في عصر الأصفهاني (القرن الخامس الهجري) ولا يحتاج إلى تفسير، أضحى مجهولاً في عصر السمين (القرن الثامن الهجري) ويحتاج إلى تفسير!
--------------------------------------------
(তিনি তাঁর গ্রন্থে বহু শব্দকে উপেক্ষা করেছেন, সেগুলোর বিষয়ে কোনো আলোচনা করেননি এবং তাঁর বিন্যাসে সেগুলোর প্রতি কোনো ইঙ্গিতও প্রদান করেননি; অথচ সেগুলোর পরিচিতি এবং সেগুলোর অর্থ ও ভাষাতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা জানার অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল।) অতঃপর তিনি আল-ইসফাহানি কর্তৃক উপেক্ষিত কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন (১)।
আমি মনে করি—অপ্রচলিত শব্দাবলি (الغريب) বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণের দৃষ্টিভঙ্গির যে ভিন্নতা আমাদের জানা আছে, তার আলোকে—সামিন আল-হালাবি, রাঘিব আল-ইসফাহানির প্রতি যে সমালোচনা করেছেন, তা তেমন কোনো গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে না। কারণ তাঁদের উভয়ের মাঝে কিংবা তাঁদের যুগের মাঝে সময়ের ব্যবধান অনেক দীর্ঘ, যা তিন শতাব্দীরও বেশি। আর এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ভাষা ও ভাষা বিষয়ক জ্ঞানের পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট; এমনকি আল-ইসফাহানির যুগে (পঞ্চম হিজরি শতাব্দী) যা সুপরিচিত ছিল এবং যার কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল না, সামিনের যুগে (অষ্টম হিজরি শতাব্দী) এসে তা অজ্ঞাত (مجهول) হয়ে পড়েছে এবং ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী হয়েছে!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الثاني: غريب القرآن وبداية المعجم العربيارتبطت بداية المعجم العربي، بغريب القرآن، ارتباطاً وثيقاً!
فقد أوجَدَتْها: الحاجة إلى تفسير ألفاظ قرآنية، خفيت على بعض العرب، الذين لم يكن لهم عهد بها! ربما لأنها لم تكن من لغة قبائلهم، فالقرآن عربي، ونزل بلغة العرب عامة، ولكن: كانت فيه ألفاظ خاصة ببعض القبائل، دون بعضها الآخر (1) ، فاحتاج الأمر: إلى أن تُفَسّر هذه الألفاظ، حتى لا يظل - في القرآن - لفظ غامض، على أحد من العرب المسلمين.
فقد وردت أخبار، تداولها الرواة، حتى سُجّلت، ووصلت إلينا، وعرفنا منها: أن "الصحابة - وهم العرب العرباء، وأصحاب اللغة الفصحى، ومن نزل القرآن عليهم، وبلغتهم - توقفوا في ألفاظ، لم يعرفوا معناها، فلم يقولوا فيها شيئاً.
فـ[قد] أخرج أبو عبيد – في الفضائل – عن إبراهيم التيمي، أن أبا بكر الصديق رضي الله عنه سُئل عن قوله تعالى: {وَفَاكِهَةً وَأَبّاً} (عبس: 31) فقال: أي سماء تُظِلني، وأي أرض تُقِلّني، إن قلت: في كتاب الله ما لا أعلم؟!
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গরিবুল কুরআন (غريب القرآن) এবং আরবি অভিধানের সূচনাআরবি অভিধানের সূচনা 'গরিবুল কুরআন' (غريب القرآن)-এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত!
মূলত কুরআনের এমন কিছু শব্দের ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এর উদ্ভব হয়েছে, যা কিছু আরবের নিকট অস্পষ্ট ছিল এবং যাদের ঐ শব্দগুলো সম্পর্কে কোনো পূর্বজ্ঞান ছিল না! সম্ভবত এর কারণ ছিল শব্দগুলো তাদের নিজ গোত্রের ভাষার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কারণ কুরআন আরবি ভাষায় এবং সাধারণভাবে আরবদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, তবে এতে এমন কিছু শব্দ ছিল যা নির্দিষ্ট কিছু গোত্রের জন্য বিশেষায়িত ছিল, অন্যদের জন্য নয় (১)। ফলে এই শব্দগুলো ব্যাখ্যা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, যাতে কোনো মুসলিম আরবের কাছে কুরআনের কোনো শব্দ অস্পষ্ট থেকে না যায়।
এমন কিছু সংবাদ (أخبار) বর্ণিত হয়েছে যা বর্ণনাকারীগণ (رواة) পরস্পরের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং পরবর্তীতে তা লিপিবদ্ধ হয়ে আমাদের নিকট পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে: "সাহাবিগণ—যাঁরা ছিলেন খাঁটি আরব, বিশুদ্ধ ভাষার অধিকারী এবং যাঁদের ওপর তাঁদের ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে—তাঁরা এমন কিছু শব্দের ক্ষেত্রে থেমে যেতেন যেগুলোর অর্থ তাঁদের জানা ছিল না, ফলে তাঁরা সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতেন না।
আবু উবাইদ তাঁর 'ফাদায়িল' গ্রন্থে ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-কে মহান আল্লাহর বাণী: {ফলমূল ও চারণভূমি} (আবাসা: ৩১) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন: "কোন আকাশ আমাকে ছায়া দেবে আর কোন জমিন আমাকে ধারণ করবে, যদি আমি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে এমন কিছু বলি যা আমি জানি না?"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأَخرَجَ عن أنَسٍ رضي الله عنه أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قرأ على المنبر: {وَفَاكِهَةً وَأَبّاً} (عبس: 31) فقال: هذه الفاكهة قد عرفناها، فما الأبّ؟ ثم رجع إلى نفسه فقال: إن هذا هو الكَلَفُ يا عمر!
وأخرج - عن طريق مجاهد- عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: كنت لا أدري ما {فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ} (فاطر: 1) حتى أتاني أعرابيان، يختصمان في بئر، فقال أحدهما: أنا فطرتُها، يقول: أنا ابتدأتها.
وأخرج ابن جرير عن سعيد بن جُبير، أنه سُئل عن قوله [تعالى] : {وَحَنَاناً مِنْ لَدُنَّا} (مريم: 13) فقال: سألت عنها ابن عباس، فلم يُجِب فيها شيئاً! " (1)
وهذا - إن دل على شيء، فإنما - يدل على أن هذه الألفاظ - التي توقف أمامها، بعض كبار الصحابة رضي الله عنهم كانت غريبة على بيئتهم الحجازية، وإن لم تكن غريبة على بعض البيئات العربية الأخرى، بدليل نزولها في القرآن الكريم (2) .
ومما يؤكد هذا الأمر، ويزيده وضوحاً: تلك الرواية، التي ذكرها القرطبي (3) ، إسناداً إلى سعيد بن المسيب، الذي قال: بينما عمر بن الخطاب رضي الله عنه على المنبر، قال: يا أيها الناس: ما تقولون في قول الله عز وجل: {أَوْ يَأْخُذَهُمْ عَلَى تَخَوُّفٍ} (النحل: 47) ؟ فسكت الناس، فقال شيخ من هذيل: هو لُغتنا يا أمير المؤمنين، التخوّف: التنقُّص. فقال عمر رضي الله عنه: أتعرفُ العربُ ذلك في أشعارهم؟ قال: نعم، قال شاعرنا، أبو كبير الهُذَلي - يصف ناقة تنقَّصَ السَّيْر سَنامَها، بعد تمْكه (4) واكتنازه -:
تَخَوَّف الرَّحْلُ مِنْهَا تَامِكاً قَرِدا
… كما تَخوَّفَ عُودَ النَّبْعَةِ السَّفَنُ (5)
--------------------------------------------
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মিম্বরে দাঁড়িয়ে পাঠ করলেন: {وَفَاكِهَةً وَأَبّاً} (সূরা আবাসা: ৩১)। এরপর তিনি বললেন: "এই 'ফাকিহা' (ফল) তো আমরা জানি, কিন্তু 'আব' (তৃণলতা) কী?" এরপর তিনি নিজের দিকে ফিরে বললেন: "হে উমর! এটিই তো অনর্থক গভীর অনুসন্ধান বা অহেতুক পাণ্ডিত্য প্রদর্শন (كلف)!"
মুজাহিদ-এর সূত্র থেকে বর্ণিত—ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি জানতাম না যে {فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ} (সূরা ফাতির: ১) এর অর্থ কী, যতক্ষণ না আমার কাছে দুজন বেদুইন একটি কূপ নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়ে আসল। তখন তাদের একজন বলল: 'আমি এটি ফাতারতু-হা (فطرتها)', অর্থাৎ: 'আমি এটি শুরু করেছি'।"
ইবনে জারীর সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাকে মহান আল্লাহর বাণী: {وَحَنَاناً مِنْ لَدُنَّا} (সূরা মারইয়াম: ১৩) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: "আমি ইবনে আব্বাসকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কিন্তু তিনি এই বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি!" (১)
এটি যদি কোনো বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত দেয়, তবে তা এই বিষয়ের দিকেই ইঙ্গিত দেয় যে—এই শব্দগুলো, যা নিয়ে বড় বড় সাহাবীগণের (صحابة) কেউ কেউ থমকে দাঁড়িয়েছিলেন, তা তাদের হিজাজি পরিবেশের জন্য অপরিচিত বা বিরল (غريب) ছিল; যদিও তা অন্যান্য আরব পরিবেশের জন্য অপরিচিত ছিল না। এর প্রমাণ হলো পবিত্র কুরআনে এই শব্দগুলোর অবতারণা হওয়া (২)।
এই বিষয়টিকে যা জোরালো এবং আরও স্পষ্ট করে, তা হলো কুরতুবী (৩) বর্ণিত সেই বর্ণনাটি, যা সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের প্রতি সনদ (إسناد) সহকারে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) যখন মিম্বরে বসা ছিলেন, তখন তিনি বললেন: "হে লোকসকল! মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে তোমরা কী বল: {أَوْ يَأْخُذَهُمْ عَلَى تَخَوُّفٍ} (সূরা আন-নাহল: ৪৭)?" লোকেরা নিশ্চুপ রইল। তখন হুযাইল গোত্রের এক বৃদ্ধ বললেন: "হে আমীরুল মুমিনীন! এটি আমাদের উপভাষা; 'তাকাউউফ' (التخوف) মানে হলো 'তানাক্কুস' (التنقص) বা ক্রমে হ্রাস পাওয়া।" উমর (রা.) বললেন: "আরবরা কি তাদের কবিতায় এই শব্দের ব্যবহার জানে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আমাদের কবি আবু কাবীর আল-হুযালী একটি উটনীর বর্ণনা দিতে গিয়ে—যার পিঠের কুঁজ দীর্ঘ পথচলার কারণে শুকিয়ে বা কমে গিয়েছিল, অথচ তা পূর্বে মাংসল ও হৃষ্টপুষ্ট ছিল—বলেছেন (৪):
পালানটি উটনীর মাংসল ও শক্ত কুঁজ থেকে অংশ হ্রাস করে দিল (تخوَّف)... যেমন কাঠ-খোদাই করার যন্ত্র (السَّفَن) নাবা গাছের কাঠকে ক্রমে ছিলে চিকন করে ফেলে (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فقال عمر رضي الله عنه: "يا أيها الناس: عليكم بديوانكم، شِعْر الجاهلية، فإن فيه تفسير كتابكم، ومعاني كلامكم (1) .
ورأْيُ أمير المؤمنين هذا: اتفق تماماً مع رأي حَبْر الأمة، عبد الله بن عباس رضي الله عنه الذي قال: (2)
"الشعر ديوان العرب، فإذا خفى علينا الحرف من القرآن - الذي أنزله الله بلغة العرب - رجعنا إلى ديوانها، فالتمسنا معرفة ذلك منه".
ولم يكتف بذلك، بل دل الناس، على الطريق الذي يفسر لهم ما غمض من ألفاظ القرآن الكريم، حين قال (3) : "إذا سألتموني عن غريب القرآن: فالتمسوه في الشعر، فإن الشعر ديوان العرب".
ويبدو أن هذا الرأي، كان له صدًى عند كثير من العرب، الذين يعرفون أسرار العربية، في ذلك الزمان الباكر من العصر الإسلامي.
فها هو نافع بن الأزرق (4) ، ورفيقه: نَجْدة بن عُوَيمر (5) ، قد أثارهما أن ابن عباس رضي الله عنهما كان جالساً بفناء الكعبة، وحوله الناس يسألونه عن تفسير القرآن، فقال نافع لنجدة: قُم بنا إلى هذا الذي يجترئ على تفسير القرآن بما لا علم له! فقاما إليه، فقالا: إنا نريد أن نسألك عن أشياء من كتاب الله تعالى، فتفسرها لنا، وتأتينا بمصادقة من كلام العرب، فإن الله تعالى، إنما أنزل القرآن بلسان عربي مبين.
--------------------------------------------
উমর (রা.) বললেন: "হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের সংকলনের (ديوان) তথা জাহেলি যুগের কবিতার প্রতি মনোনিবেশ করো; কারণ এতে তোমাদের কিতাবের (কুরআনের) ব্যাখ্যা এবং তোমাদের কথাবার্তার অর্থ নিহিত রয়েছে।" (১)
আমিরুল মুমিনীনের এই অভিমত উম্মতের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়, যিনি বলেছিলেন: (২)
"কবিতা হলো আরবদের সংকলন; সুতরাং আল্লাহর নাজিলকৃত কুরআনের—যা তিনি আরবদের ভাষায় অবতীর্ণ করেছেন—কোনো শব্দের অর্থ যদি আমাদের কাছে অস্পষ্ট হয়, তবে আমরা তাদের সেই কাব্যের সংকলনের দিকে ফিরে যাই এবং সেখান থেকে এর জ্ঞান অন্বেষণ করি।"
তিনি কেবল এতেই ক্ষান্ত হননি, বরং পবিত্র কুরআনের শব্দাবলির মধ্য থেকে যা কিছু অস্পষ্ট ছিল তা ব্যাখ্যার পদ্ধতিও তিনি মানুষের সামনে বাতলে দিয়েছেন, যখন তিনি বলেছিলেন (৩): "তোমরা যখন আমাকে কুরআনের বিরল (غريب) শব্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, তখন তা কবিতার মধ্যে তালাশ করো; কারণ কবিতা হলো আরবদের সংকলন।"
প্রতীয়মান হয় যে, এই অভিমতটি সেই সকল আরবদের মাঝে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল, যারা ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরবি ভাষার গূঢ় রহস্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
এই তো নাফে ইবনুল আজরাক (৪) এবং তার সঙ্গী নাজদাহ ইবনে উওয়াইমির (৫); আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) কাবার চত্বরে বসে থাকা অবস্থায় লোকজন তাকে কুরআনের তাফসির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিল—এই বিষয়টি তাদের উত্তেজিত করে তুলল। নাফে নাজদাহকে বললেন: "চলো আমরা সেই ব্যক্তির কাছে যাই যে পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়াই কুরআনের তাফসির করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে!" অতঃপর তারা তার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং বললেন: "আমরা আপনাকে আল্লাহর কিতাবের কিছু বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাই; আপনি আমাদের কাছে সেগুলো ব্যাখ্যা করবেন এবং আরবদের কথা (কবিতা) থেকে এর প্রমাণ উপস্থাপন করবেন। কেননা আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআন সুষ্পষ্ট আরবি ভাষায় নাজিল করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فقال ابن عباس: سلاني عما بدا لكما.
فقال نافع: أخبرني عن قوله تعالى: {عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ عِزِينَ} (المعارج: 37)
قال: العِزُون: حلَقُ الرِّفَاقِ.
قال: وهل تعرف العرب ذلك؟
قال: نعم، أما سمعت عبيد بن الأبرص، وهو يقول:
فجاؤوا يُهرَعون إِلَيْه حَتَّى
… يكونوا حَوْلَ مِنْبَرِه عِزينا؟
إلخ ذلك من الأسئلة والإجابات، التي احتلت في الإتقان صفحات كثيرة (1) .
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাস বললেন: তোমাদের মনে যা উদিত হয় সে সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করো।
নাফি‘ বললেন: আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন: {ডান ও বাম দিক থেকে দলে দলে} (আল-মাআরিজ: ৩৭)
তিনি বললেন: ‘ইজীন’ হলো সাথীদের বৃত্ত বা দল।
তিনি বললেন: আরবরা কি সে সম্পর্কে জানত?
তিনি বললেন: হ্যাঁ, তুমি কি উবায়েদ বিন আল-আবরাসের কবিতাটি শোনোনি, যেখানে তিনি বলেছেন:
অতঃপর তারা তার দিকে দ্রুতবেগে আসতে থাকল, যতক্ষণ না
… তারা তার মিম্বরের চারপাশে দলে দলে সমবেত হলো?
এরূপ আরও অনেক প্রশ্ন ও উত্তর রয়েছে, যা আল-ইতকান গ্রন্থের অনেকগুলো পৃষ্ঠা জুড়ে স্থান পেয়েছে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الثالث: نمو الحاجة إلى تفسير غريب القرآنكان العرب المسلمون، في أيام رسول الله صلى الله عليه وسلم يلجأون إليه، للسؤال عما غمض عليهم.
فقد ورد: أنه صلى الله عليه وسلم كان يرد على التساؤلات، التي كانت تدور حول ألفاظ القرآن الكريم، وغيرها.
ومن ذلك: ماروي من أنه سئل صلى الله عليه وسلم عن تفسير قوله تعالى: {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ} (يونس: 26) .
فقال - فيما يرويه عنه أنس رضي الله عنه: "للذين أحسنوا العمل في الدنيا: لهم الحُسنَى، وهي الجنة، والزيادة: النظر إلى وجه الله تعالى" ((1) .
ولم تكن أسئلتهم له صلى الله عليه وسلم حول غريب القرآن الكريم كثيرة، لأنهم كانوا يعرفون أكثر ما يقوله، حيث كان اللسان العربي، ما يزال صحيحاً، محروساً، لا يتداخله الخلل، ولا يتطرق إليه الزلل (2) .
وبعد لحاق الرسول صلى الله عليه وسلم بالرفيق الأعلى: كان الناس يتجهون إلى أهل العلم باللغة، من كبار الصحابة رضي الله عنهم فيسألونهم عما غمض عليهم في كتاب الله تعالى.
وكان أهل العلم هؤلاء: يؤدون عمل المعاجم (3) ، التي لم تكن قد ابتكرت عربياً بعد، حيث كانوا يجيبون الناس إجابات، مستوحاة مما يحفظون
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের দুর্লভ শব্দাবলির (غريب القرآن) ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তার বিকাশরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আরব মুসলমানরা তাদের কাছে যা অস্পষ্ট মনে হতো, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য তাঁর শরণাপন্ন হতেন।
বর্ণিত আছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র কুরআনের শব্দাবলি এবং অন্যান্য বিষয়ে উদ্ভূত প্রশ্নাবলির উত্তর প্রদান করতেন।
এর মধ্যে একটি হলো: বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে মহান আল্লাহর বাণী: {যারা কল্যাণকর কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং আরও অধিক} (ইউনুস: ২৬) এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।
তখন তিনি বললেন—যা তাঁর থেকে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা (يرويه) করেছেন: "যারা দুনিয়াতে নেক আমল করেছে তাদের জন্য রয়েছে হুসনা (কল্যাণ), আর তা হলো জান্নাত; আর ‘জিয়াদাহ’ (অধিক) হলো মহান আল্লাহর চেহারার দিকে তাকানো।" ((1) ।
পবিত্র কুরআনের দুর্লভ শব্দাবলি (غريب القرآن) সম্পর্কে তাঁর কাছে তাঁদের প্রশ্ন খুব বেশি ছিল না; কারণ তিনি যা বলতেন তার অধিকাংশ তারা বুঝতেন। কেননা তখন পর্যন্ত আরবি ভাষা ছিল বিশুদ্ধ ও সংরক্ষিত, যাতে কোনো বিচ্যুতি প্রবেশ করেনি এবং কোনো ভুল-ভ্রান্তি দেখা দেয়নি (2) ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর মানুষ ভাষাজ্ঞানে পারদর্শী প্রবীণ সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) দিকে মুখাপেক্ষী হতেন এবং মহান আল্লাহর কিতাবে যা তাঁদের কাছে অস্পষ্ট লাগত সে সম্পর্কে তাঁরা জিজ্ঞাসা করতেন।
এই আলেমগণ অভিধানের (المعاجم) কাজ আঞ্জাম দিতেন (3), যা তখনও আরবি ভাষায় উদ্ভাবিত হয়নি। তাঁরা তাঁদের মুখস্থ স্মৃতি থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মানুষকে উত্তর প্রদান করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
من شعر، أو يعون من نثر، حيث كان الشعر - المحفوظ رواية - يعد ديوان العرب، الذي يراجعونه، حين يخفى عليهم معنى، أو لفظ في القرآن الكريم.
ابن عباس يقوم بدور المعجم المفسر.
وقد كان عبد الله بن عباس رضي الله عنهما (3 ق. هـ-68هـ) - بما وهبه الله من العلم -: أبرز من قام بهذا الدور، في صدر الإسلام، بعد وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم.
ولذلك: كان يجلس في فناء الكعبة، ليسأله الناس عما غمض عليهم، في كتاب الله تعالى (1) .
وأشهر المسائل التي رد عليها: هي مسائل نافع بن الأزرق - التي سبق الحديث عنها - والتي بلغت: مائة وتسعين مسألة (2) ، أجاب عنها رضي الله عنه مفسراً، ومستشهداً على ما يقوله - في تفسيرها - بالأشعار!!
ولا عجب في ذلك! فقد دعا له النبي صلى الله عليه وسلم قائلاً: "اللهم فقّهه في الدين، وعلّمه التأْوِيل" (3) .
وقال عنه عبد الله بن مسعود رضي الله عنه "نِعم ترجمان القرآن: ابن عباس" (4)
--------------------------------------------
কবিতা বা গদ্য থেকে সংগ্রহ করা হতো, যেখানে বর্ণনা (رواية) হিসেবে সংরক্ষিত কবিতাকে আরবদের সংকলন (দেওয়ান) হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যেটির দিকে তারা প্রত্যাবর্তন করত যখন পবিত্র কুরআনের কোনো অর্থ বা শব্দ তাদের কাছে অস্পষ্ট হতো।
ইবনে আব্বাস ব্যাখ্যাকারী অভিধানের ভূমিকা পালন করতেন।
আর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) (৩ হি.পূ. - ৬৮ হি.) - আল্লাহ তাঁকে যে জ্ঞান দান করেছিলেন তার মাধ্যমে - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের পর ইসলামের প্রাথমিক যুগে এই ভূমিকা পালনকারীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রখ্যাত ছিলেন।
এই কারণে, তিনি কাবার প্রাঙ্গণে বসতেন যাতে মহান আল্লাহর কিতাবের যেসব বিষয় মানুষের কাছে অস্পষ্ট লাগত সে সম্পর্কে তারা তাঁকে প্রশ্ন করতে পারে (১)।
এবং তিনি যেসব মাসআলার উত্তর দিয়েছিলেন তার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো নাফে বিন আল-আজরাকের মাসআলাসমূহ - যা নিয়ে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে - যার সংখ্যা ছিল একশত নব্বইটি (২)। তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সেগুলোর উত্তর দিয়েছিলেন ব্যাখ্যা সহকারে এবং সেগুলোর তাফসিরে তিনি যা বলতেন তার সপক্ষে কাব্যিক পঙক্তি থেকে প্রমাণ উপস্থাপন করতেন!!
এবং এতে আশ্চর্যের কিছু নেই! কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য এই বলে দুআ করেছিলেন: "হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা (فقه) দান করুন এবং তাকে ব্যাখ্যা (تأويل) শিক্ষা দিন" (৩)।
এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, "কুরআনের কতই না চমৎকার ভাষ্যকার ইবনে আব্বাস" (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقال أبيّ بن كعب رضي الله عنه وكان ابن عباس عنده، فقام: "هذا يكون حَبْر هذه الأمة" (1) .
ولذلك: وُصف بأنه» الرائد الجريء، في البحث عن غريب القرآن، والتنقير عن معانيه، والاستشهاد عليه بالأشعار، والتصدّي لإجابة السائلين فيما جهلوه منه، بسعة معرفة، ورحابة صدر « (2) .
اجتهادات ابن عباس: باكورة معاجم تفسير الغريب.
ومن هنا: فإنه تُعد اجتهادات ابن عباس رضي الله عنهما التي رواها عنه أصحابه، والآخذون عنه - أول باكورة في معاجم تفسير غريب القرآن الكريم، فقد "ورد عنهم: ما يستوعب تفسير غريب القرآن، بالأسانيد الصحيحة" (3) .
ولهذه التفاسير الباكرة قيمتها اللغوية، والتفسيرية، وذلك لأنها "تقف من يدرُس القرآن، على معاني ألفاظه عند العرب، حين أوحاه الله، إلى رسوله صلى الله عليه وسلم.
فكثيراً ما تتغير قِيَم الألفاظ، وإن لم تتغير معانيها تغيُّرا أساسياً، ونحن أحوج ما نكون، إلى معرفة القِيَم التي كانت لكل لفظ من ألفاظ القرآن الكريم حين نزوله.
صحيح أن المفسرين شرحوا لنا مراقي هذه الألفاظ، ومعانيها، لكن هؤلاء المفسرين: جاءوا بعد قرون من نزول الكتاب الكريم، وبعد أن كانت قيم الألفاظ، قد ازدادت قوتها، أو نقصت!
--------------------------------------------
উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন—আর ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলেন—অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে বললেন: "তিনি হবেন এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত (حبر)" (১)।
এজন্যই তাঁকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে: "তিনি আল-কুরআনের কঠিন ও অপরিচিত শব্দাবলি (غريب القرآن) অনুসন্ধানে সাহসী অগ্রপথিক, এর নিগূঢ় অর্থ উদ্ঘাটনে নিবিড় গবেষক, প্রাচীন কবিতার মাধ্যমে এর প্রমাণ উপস্থাপক এবং মানুষের অজানা বিষয়সমূহের উত্তর প্রদানে প্রশস্ত জ্ঞান ও উদার হৃদয়ের অধিকারী" (২)।
ইবনে আব্বাসের ইজতিহাদসমূহ: আল-কুরআনের কঠিন শব্দের অভিধান রচনার প্রথম পদক্ষেপ।
এখান থেকেই বুঝা যায় যে, ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সেই ইজতিহাদসমূহ—যা তাঁর ছাত্র ও অনুসারীরা বর্ণনা করেছেন—তা আল-কুরআনের কঠিন শব্দের অর্থ সংবলিত অভিধানের আদি উৎস হিসেবে গণ্য হয়। কেননা "তাঁদের থেকে সহিহ (صحيحة) সনদসমূহের (الأسانيد) মাধ্যমে এমন সব বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে, যা কুরআনের কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যাকে পরিপূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত করে" (৩)।
এই প্রাথমিক তাফসিরগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক ও ব্যাখ্যামূলক বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এগুলো কুরআন অধ্যয়নকারীকে সেই শব্দগুলোর অর্থের সাথে পরিচিত করে তোলে, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ওহি অবতীর্ণ হওয়ার সময় আরবদের নিকট প্রচলিত ছিল।
কেননা অনেক সময় শব্দের মূল অর্থের মৌলিক পরিবর্তন না হলেও তার প্রায়োগিক তাৎপর্য পরিবর্তিত হয়; অথচ নাজিল হওয়ার সময় কুরআনের প্রতিটি শব্দের যে তাৎপর্য ছিল, তা জানা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
এটা সত্য যে, মুফাসসিরগণ আমাদের জন্য এই শব্দগুলোর স্তর ও অর্থসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন, কিন্তু এই মুফাসসিরগণ পবিত্র কিতাব অবতীর্ণ হওয়ার কয়েক শতাব্দী পরে এসেছেন, যখন শব্দগুলোর প্রায়োগিক গুরুত্ব হয় বৃদ্ধি পেয়েছে নতুবা হ্রাস পেয়েছে!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فلابد للباحث في كتاب الله - ليكون بحثه علمياً دقيقاً - من أن يقف على القيم الدقيقة لهذه الألفاظ حين نزولها، حتى يبلغ الغاية من الدقة المرجوّة" (1) .
وقفة مع ما أُثر عن ابن عباس في تفسير غريب القرآن
نسبت إلى ابن عباس رضي الله عنهما تفاسير عديدة، لغريب القرآن الكريم، وبَعد نظرة متأملة إلى هذا الذي نسب إليه: نجد بعضه جيداً، يُطمأن إليه، ويوثق بما قيل فيه.
وبعضه منحول إليه، ولم يصح - رواية - عنه!
ومن أصح الروايات المنسوبة إليه في تفسير الغريب القرآني:
1- رواية علي بن أبي طلحة، الهاشمي بالولاء (ت143هـ) (2) أو صحيفته، التي دوّن فيها: مارواه عن مجاهد، أو سعيد بن جبير عن ابن عباس، والتي قال فيها الإمام أحمد بن حنبل (ت241هـ) : "بمصر صحيفة - في التفسير- رواها علي بن أبي طلحة، لو رَحَل رجل فيها إلى مصر - قاصداً - ما كان كثيراً" (3) .
وقال عنها السيوطي (4) : "إنها من أصح الطرق عن ابن عباس، وعليها اعتمد البخاري - في صحيحه - مرتباً على السور".
--------------------------------------------
আল্লাহর কিতাব নিয়ে কোনো গবেষকের গবেষণা যদি বৈজ্ঞানিক ও সূক্ষ্ম হতে হয়, তবে তার জন্য আবশ্যক হলো এই শব্দগুলো অবতীর্ণ হওয়ার সময়কার সঠিক তাৎপর্য অনুধাবন করা, যাতে তিনি কাঙ্ক্ষিত সূক্ষ্মতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন। (১)
আল-কুরআনের দুর্লভ শব্দাবলির (غريب) তাফসির সম্পর্কে ইবনে আব্বাস থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সে বিষয়ে একটি পর্যালোচনা
আল-কুরআনুল কারিমের দুর্লভ শব্দাবলির (غريب) ক্ষেত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর দিকে বহু তাফসির সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে সেগুলোর ওপর গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখি যে: এর কিছু অংশ উত্তম (جيد), যা নির্ভরযোগ্য (يوثق) এবং যার ওপর আস্থা রাখা যায়।
আর এর কিছু অংশ তাঁর নামে জাল (منحول) করা হয়েছে, এবং বর্ণনার (رواية) দিক থেকে তা তাঁর থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে প্রমাণিত নয়!
কুরআনের দুর্লভ শব্দাবলির (غريب) তাফসিরে তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত অত্যন্ত বিশুদ্ধ (أصح) বর্ণনাগুলোর (رواية) মধ্যে রয়েছে:
১- আলী বিন আবি তালহা আল-হাশেমী আল-ওয়ালা (মৃত্যু ১৪৩ হি.)-এর বর্ণনা (رواية) (২) অথবা তাঁর সহিফা, যাতে তিনি মুজাহিদ অথবা সাঈদ ইবনে জুবায়ের-এর মাধ্যমে ইবনে আব্বাস থেকে যা বর্ণনা (روى) করেছেন তা লিপিবদ্ধ করেছেন। এটি সম্পর্কে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (মৃত্যু ২৪১ হি.) বলেছেন: "মিসরে তাফসিরের একটি সহিফা রয়েছে যা আলী বিন আবি তালহা বর্ণনা (رواية) করেছেন; যদি কোনো ব্যক্তি এর উদ্দেশ্যে মিসরে সফর করেন, তবে তা বৃথা হবে না।" (৩)।
সুয়ূতী (৪) এটি সম্পর্কে বলেছেন: "এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধতম (أصح) সূত্রগুলোর (طرق) একটি, এবং এর ওপরই বুখারি তাঁর সহিহ বুখারি-তে সুরা অনুযায়ী বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে নির্ভর করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد ذكر السيوطي محتويات هذه الصحيفة، في الإتقان (1) .
وهذه الصحيفة: لم تكن خاصة بغريب القرآن فقط، بل كان فيها تفسير تام لبعض الآيات، وفيها ذكر للناسخ والمنسوخ من الآيات، كما تعرضت لأسباب النزول (2) .
2- مسائل نافع بن الأزرق، التي سبقت الإشارة إليها، والتي رواها: حُميد الأعرج، وعبد الله بن أبي بكر بن محمد عن أبيه (3) .
وقد نشرها - محققة- د. إبراهيم السامرائي، تحت عنوان: مسائل نافع بن الأزرق، في غريب القرآن، وطبع تحقيقه في بغداد: 1969م (4) .
أما أوْهَى التفاسير، المنسوبة إلى ابن عباس رضي الله عنهما، فهو التفسير المسمى: (تنوير المقباس من تفسير ابن عباس) وهو من طريق: محمد ابن مروان (السّدّى الصغير) عن الكلبي، عن أبي صالح، عن ابن عباس (5) .
وقد جمعه الفيروزآبادي (محمد بن يعقوب - ت 817 هـ) صاحب القاموس المحيط (6) ، من كتب التفاسير، التي أدخل أصحابها هذا الطريق، في تفاسيرهم، كالثعلبي، والواحدي.
--------------------------------------------
সুয়ূতী এই সহীফার বিষয়বস্তু আল-ইতকান (১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
আর এই সহীফাটি কেবল আল-কুরআনের অপরিচিত শব্দাবলি (غريب القرآن)-এর জন্যই নির্দিষ্ট ছিল না, বরং এতে কিছু আয়াতের পূর্ণাঙ্গ তাফসীর বিদ্যমান ছিল এবং এতে আয়াতের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়গুলো উল্লেখ ছিল। এর পাশাপাশি এতে শানে নুযূল বা অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) আলোচনা করা হয়েছে (২)।
২- নাফি ইবনুল আজরাকের মাসআলাসমূহ, যেগুলোর দিকে পূর্বে ইশারা করা হয়েছে এবং যা বর্ণনা (رواية) করেছেন: হুমাইদ আল-আরাজ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ তাঁর পিতার সূত্রে (৩)।
ড. ইবরাহীম আস-সামাররাঈ এটি তাহকীককৃত (تحقيق) অবস্থায় প্রকাশ করেছেন যার শিরোনাম ছিল: 'মাসাইলু নাফি ইবনুল আজরাক ফি গারীবিল কুরআন'। তাঁর এই তাহকীকটি ১৯৬৯ সালে বাগদাদে মুদ্রিত হয়েছে (৪)।
আর ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত তাফসীরগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা দুর্বল (أوهى) হলো 'তানবীরুল মিকবাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস' নামক তাফসীরটি। এটি মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ান (আস-সুদ্দী আস-সাগীর)-এর সূত্র (طريق) থেকে বর্ণিত, যিনি কালবী থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন (৫)।
আর 'আল-কামূসুল মুহীত'-এর রচয়িতা ফিরোযাবাদী (মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব - মৃত্যু ৮১৭ হিজরী) (৬) এটি সেই সব তাফসীর গ্রন্থ থেকে সংকলন করেছেন যেগুলোর রচয়িতাগণ এই সূত্রকে (طريق) তাদের তাফসীরে স্থান দিয়েছেন, যেমন: সা'লাবী এবং ওয়াহিদী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২০)
وهذا التفسير: لا يُعتمد عليه، ولا تصح نسبته إلى ابن عباس (1) ، لأنه - كما قال السيوطي (2) (ت911هـ) - من أوهى طرق التفسير، المروية عن ابن عباس، كما وَصَف سلسلة روايته، بأنها: سلسلة الكذب (3) .
ولعل سبب كثرة هذه الروايات المختلقة، المنسوبة إلى ابن عباس رضي الله عنهما: أن أصحابها كانوا يتقربون بروايتها، إلى الخلفاء العباسيين، أحفاد عبد الله بن عباس رضي الله عنه، كما أكثروا منها: رفعاً لقدره العلمي.
ولذلك: فقد روى عنه: ما لا يُحصى كثرة، بحيث لا تخلو آية من آيات القرآن، إلا ولابن عباس فيها قول، أو أقوال، قد يكون بعضها مناقضاً للآخر (4) !
زيادة الحاجة إلى تفسير غريب القرآن
ولما كثرت الفتوح الإسلامية، ودخل الناس في دين الله أفواجا، واختلط العرب بالعجم: امتزجت الألسنة، وتداخلت اللغات، ونشأت أجيال: تعلمت من اللسان العربي: مالابُد لها في الخطاب منه فقط، وحفظت من اللغة: ما لا غِنَى لها في المحاورة عنه، وتركت ما عدا ذلك، لعدم الحاجة إليه! وأهملته، لقلة الرغبة في الباعث عليه (5) .
--------------------------------------------
এবং এই তাফসির: এর ওপর নির্ভর করা যায় না এবং ইবনে আব্বাসের (১) প্রতি এর সম্বন্ধ সহিহ নয় (لا تصح), কারণ এটি - যেমনটি সুয়ূতী (২) (মৃ. ৯১১ হিজরী) বলেছেন - ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত তাফসিরের দুর্বলতম সূত্রগুলোর (أوهى طرق) অন্তর্ভুক্ত; যেমনটি তিনি এর বর্ণনাসূত্রকে (سلسلة) 'মিথ্যার শিকল' (سلسلة الكذب) (৩) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত এই জালকৃত (المختلقة) বর্ণনাগুলোর (روايات) প্রাচুর্যের কারণ সম্ভবত এই যে: এগুলোর সংকলনকারীরা আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর আব্বাসীয় খলিফাদের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এগুলো বর্ণনা করত; পাশাপাশি তাঁর ইলমি মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যও তারা এগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি করেছিল।
এই কারণে, তাঁর থেকে অগণিত বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে, এমনকি কুরআনের এমন কোনো আয়াত নেই যেখানে ইবনে আব্বাসের কোনো বক্তব্য বা একাধিক বক্তব্য নেই, যার কিছু কিছু আবার অন্যটির স্ববিরোধী (৪)!
কুরআনের অপ্রচলিত শব্দের (غريب) তাফসিরের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি
যখন ইসলামি বিজয় বৃদ্ধি পেল এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে লাগল, আর আরব ও অনারবদের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটল: তখন ভাষাগুলো মিশ্রিত হয়ে গেল এবং বিভিন্ন ভাষার অনুপ্রবেশ ঘটল। ফলে এমন প্রজন্মের উদ্ভব হলো যারা আরবি ভাষা থেকে কেবল ততটুকুই শিখল যা তাদের কথোপকথনের জন্য অপরিহার্য ছিল, এবং ভাষা থেকে কেবল ততটুকুই আয়ত্ত করল যা যোগাযোগের জন্য একান্ত প্রয়োজন ছিল; আর এর বাইরে বাকি সবকিছু বর্জন করল যেহেতু সেগুলোর প্রয়োজন ছিল না! এবং তারা সেগুলোকে অবহেলা করল যেহেতু ভাষা চর্চার প্রেরণা ও আগ্রহের অভাব ছিল (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২১)
وحينئذ ظهرت حاجة المسلمين الشديدة، إلى تفسير ما لا يعرفون معناه، في كتاب الله تعالى، فاجتهد التابعون في تكميل هذا النقص، وجَدَّ من جاءوا بعدهم - في ذلك- حتى أكملوا تفسير ما يحتاج إلى تفسير، في الآيات جميعها
وكان اعتمادهم - في ذلك- على ما عُرف من لغة العرب، وأساليبهم، وما ورد - في التاريخ - من الأحداث، التي حدثت في عصر النبي صلى الله عليه وسلم (1) .
--------------------------------------------
আর তখনই মহান আল্লাহর কিতাবের যে অংশগুলোর অর্থ মুসলিমদের জানা ছিল না, তা ব্যাখ্যা করার তীব্র প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ফলে তাবিঈগণ (التابعون) এই অপূর্ণতা পূরণে সচেষ্ট হন এবং তাঁদের পরবর্তীগণও এ বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম করেন; শেষ পর্যন্ত তাঁরা সকল আয়াতের মধ্য থেকে যেগুলোর ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল, তার সংকলন সম্পন্ন করেন।
এক্ষেত্রে তাঁদের নির্ভরতা ছিল আরবী ভাষা ও তার প্রয়োগরীতি এবং ইতিহাসে বর্ণিত নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির ওপর (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الرابع: اختلافات في تأليف الغريباختلف مؤلفو كتب الغريب القرآني - بينهم وبين بعضهم، وبينهم وبين غيرهم- في مسائل كثيرة، من أبرزها ما يلي:
أولاً: اختلافهم في مناهج الترتيب لغريب القرآن:
تعد حركة التأليف، في غريب القرآن الكريم: الحركة العلمية الأولى في الإسلام، وقد نشأت - في هذا الوقت - للحاجة إليها، كما أسلفت القول، ولذلك بدأت في عصر مبكر، لا يعدو النصف الأول من القرن الأول للهجرة (1) ، على هيئة روايات، كالروايات المنسوبة لابن عباس رضي الله عنهما، ثم دونت عقب هذا التاريخ بقليل.
والملاحظ: أن الباكورة الأولى - في هذا المجال - لم تسر على طريق معين، من طرق التأليف، لأنه لم يُقصد فيها التأليف لذاته، وإنما قُصد فيها سد حاجة الناس، إلى تفسير ما يعسر عليهم فهمه، من ألفاظ القرآن الكريم.
ومن أوضح الأمثلة لذلك: ماروى عن ابن عباس رضي الله عنهما في مسائل نافع بن الأزرق، المذكورة سابقاً، فإنها لم تتبع ترتيباً معيناً (2) . وإن كانت بعض مرويات ابن عباس رضي الله عنهما التفسيرية - وبخاصة تلك
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: 'গরীব' (الغريب) গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে মতপার্থক্যকুরআনের 'গরীব' (الغريب) বা অপ্রচলিত শব্দ বিষয়ক গ্রন্থপ্রণেতারা নিজেদের মধ্যে এবং অন্যদের সাথে অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিম্নরূপ:
প্রথমত: কুরআনের 'গরীব' (الغريب) শব্দাবলীর বিন্যাস পদ্ধতির ক্ষেত্রে তাদের মতপার্থক্য:
পবিত্র কুরআনের 'গরীব' (الغريب) শব্দের ওপর গ্রন্থ রচনার ধারাকে ইসলামের প্রথম তাত্ত্বিক ও ইলমি আন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছি, সেই সময়ে এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ার কারণেই এই ধারার উদ্ভব হয়েছিল। তাই এটি হিজরি প্রথম শতাব্দীর প্রথমার্ধের মধ্যেই একটি প্রাথমিক রূপ লাভ করে (১), যা মূলত বর্ণনা (روايات) আকারে ছিল; যেমন ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত বর্ণনা (روايات) সমূহ। এর কিছুকাল পরেই তা সংকলন (تدوين) করা হয়।
লক্ষণীয় বিষয় এই যে, এই ক্ষেত্রে প্রাথমিক কাজগুলো রচনার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে গড়ে ওঠেনি। কারণ তখন গ্রন্থ রচনার সংকল্প নিয়ে কাজ শুরু হয়নি, বরং পবিত্র কুরআনের যে শব্দগুলোর মর্ম অনুধাবন করা মানুষের জন্য কঠিন ছিল, সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজন পূরণ করাই ছিল মূল লক্ষ্য।
এর স্পষ্ট উদাহরণ হলো নাফে বিন আজরাকের প্রশ্নের জবাবে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে এবং ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে; কারণ সেখানে কোনো নির্দিষ্ট বিন্যাস পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি (২)। যদিও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর তাফসির সংক্রান্ত কিছু বর্ণনার ক্ষেত্রে - বিশেষ করে সেগুলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
التي رواها: علي بن أبي طلحة، في صحيفته - قد نُقحت، ورُتبت، حسب السور في القرآن الكريم، ثم روعي فيها: ترتيب الآيات في كل سورة.
فمثلاً: فُسر الغريب في سورة آل عمران، كما يلي (1) :
1- {مُتَوَفِّيكَ} [آية 55] : مُمِيتُك.
2- {رِبِّيُّونَ} [آية 146] : جُموُعٌ.
ولم يفسر غيرهما في هذه السورة.
ثم فُسر الغريب في سورة النساء، كما يلي:
1- {حُوباً كَبِيراً} [آية 2] : إثماً عظيماً.
2- {نِحْلَةً} [آية 4] : مَهْراً.
3- {وَابْتَلُوا الْيَتَامَى} [آية 6] : اختبروا. الخ.
وقد بلغت تفسيراته للغريب، في هذه السورة: 37 تفسيراً (2) .
ولم يكن هذا الترتيب من صنع ابن عباس رضي الله عنهما ولكنه كان من صنع صاحب الصحيفة: علي بن أبي طلحة، لأنها نسبت إليه، ولم تنسب إلى ابن عباس.
ثم: إن من ترجموا لابن عباس رضي الله عنهما لم ينسبوا إليه كتاباً ألفه، وإنما نسبوا إليه أقوالاً كثيرة، في التفسير وحده، وكانت مروية، لا مدونة (3) .
وحين تطور التأليف في غريب القرآن، وأصبح مقصوراً لذاته: سار فيه المؤلفون على طرق مختلفة (4) ، وصلت إلى أربعة طرق:
--------------------------------------------
যা আলী ইবনে আবি তালহা তাঁর সহিফা (صحيفة)-য় বর্ণনা করেছেন—তা পবিত্র কুরআনের সূরা অনুযায়ী পরিমার্জিত ও বিন্যস্ত করা হয়েছে এবং সেখানে প্রতিটি সূরার আয়াতের ক্রম বিবেচনা করা হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ: সূরা আল-ইমরানের অপরিচিত শব্দ (غريب) সমূহের ব্যাখ্যা নিম্নোক্তভাবে করা হয়েছে (১):
১- {মুতায়াফফিকা} [আয়াত ৫৫]: আপনার মৃত্যু দানকারী।
২- {রিব্বিয়্যুন} [আয়াত ১৪৬]: অনেক দল বা গোষ্ঠী।
এবং এই সূরায় এই দুটি ছাড়া অন্য কিছুর ব্যাখ্যা করা হয়নি।
এরপর সূরা আন-নিসায় অপরিচিত শব্দ (غريب) সমূহের ব্যাখ্যা করা হয়েছে নিম্নোক্তভাবে:
১- {হুবান কাবিরা} [আয়াত ২]: মহাপাপ।
২- {নিহলাহ} [আয়াত ৪]: মোহরানা।
৩- {ওয়াবতালুল ইয়াতামা} [আয়াত ৬]: পরীক্ষা করো... ইত্যাদি।
এই সূরায় অপরিচিত শব্দ (غريب) সমূহের ব্যাখ্যার সংখ্যা ৩৭টিতে পৌঁছেছে (২)।
এই বিন্যাস ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কৃত ছিল না, বরং এটি ছিল সহিফার লেখক আলী ইবনে আবি তালহার কাজ; কারণ এটি তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, ইবনে আব্বাসের দিকে নয়।
অধিকন্তু, যারা ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জীবনী রচনা করেছেন, তারা তাঁর রচিত কোনো গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেননি, বরং শুধুমাত্র তাফসীর শাস্ত্রেই তাঁর থেকে অনেক উক্তি উদ্ধৃত করেছেন, যা ছিল বর্ণিত (مروية), সংকলিত (مدونة) নয় (৩)।
যখন কুরআনের অপরিচিত শব্দ (غريب) বিষয়ক রচনাশৈলী বিকশিত হলো এবং এটি একটি স্বতন্ত্র বিষয়ে পরিণত হলো, তখন লেখকরা এতে বিভিন্ন পদ্ধতি (৪) অনুসরণ করেন, যা চারটি পদ্ধতি পর্যন্ত পৌঁছেছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الطريق الأول: ترتيب الكلمات الغريبة المفسرة، وفقاً للسور، ثم وفقاً للآيات داخل كل سورة، مثل ما حدث في المثال الذي سقته آنفاً، من صحيفة علي بن أبي طلحة، عن ابن عباس رضي الله عنهما.
وهذا الترتيب: يُعد أقدم نظام في حركة التأليف، في غريب القرآن الكريم، وقد سار على دربه كثير من المؤلفين فيه، ومنهم:
1- الفرّاء (ت207هـ) في: معاني القرآن.
2- ابن قتيبة (ت276 هـ) في: غريب القرآن.
3- الزجاج (ت311هـ) في: معاني القرآن.
4- المارديني (ت750هـ) في: بهجة الأريب في تفسير الغريب.
5- ابن الهائم (ت815هـ) في: التبيان في غريب القرآن.
الطريق الثاني: ترتيب الألفاظ المفسرة، حسب ترتيب الحروف الألفبائية، فما يبدأ بحرف الهمزة: يوضع في باب الهمزة، وما يبدأ بحرف الباء: يوضع في باب الباء، وهكذا إلى باب الياء.
وقد بدأ هذا النظام عند العُزَيْزِي (ت330هـ) في كتابه: نزهة القلوب في تفسير غريب القرآن.
ولم يكن نظامه هذا مثالياًّ، لأنه فصل بين الكلمات التي تبدأ بحرف واحد، بسبب حركاتها! فما كان مفتوحاً: جعله في ناحية، وما كان مضموماً: جعله في ناحية، وما كان مكسوراً جعله في ناحية أخرى!
كما أنه لم يفرق - في الحرف الأول - بين الأصلي والزائد!
وإن كان - عدم تفريقه بينهما - مُسِّهلا لكثير من الناس، الوصول إلى طلبتهم في الكتاب، حيث لم يكن هذا النظام قد عُرف حتى على مستوى المعاجم اللغوية العربية.
প্রথম পদ্ধতি: ব্যাখ্যাত অপরিচিত শব্দসমূহ (الكلمات الغريبة), সুরা অনুযায়ী এবং প্রতিটি সুরার অন্তর্গত আয়াতসমূহের ক্রম অনুযায়ী বিন্যাস করা; যেমনটি আমি ইতিপূর্বে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত আলী ইবনে আবি তালহার সহীফা (صحيفة) এর উদাহরণে উল্লেখ করেছি।
এই বিন্যাসপদ্ধতিটি ‘গারিবুল কুরআন’ বিষয়ক গ্রন্থ রচনার ধারায় প্রাচীনতম পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত এবং অনেক গ্রন্থকারই এই পথ অনুসরণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
1- আল-ফাররা (মৃ. ২০৭ হি.) তাঁর ‘মাআনিল কুরআন’ গ্রন্থে।
2- ইবনে কুতায়বাহ (মৃ. ২৭৬ হি.) তাঁর ‘গারিবুল কুরআন’ গ্রন্থে।
3- আয-যাজ্জাজ (মৃ. ৩১১ হি.) তাঁর ‘মাআনিল কুরআন’ গ্রন্থে।
4- আল-মারদিনী (মৃ. ৭৫০ হি.) তাঁর ‘বাহজাতুল আরীব ফি তাফসিরিল গারীব’ গ্রন্থে।
5- ইবনে আল-হাইম (মৃ. ৮১৫ হি.) তাঁর ‘আত-তিবইয়ান ফি গারিবিল কুরআন’ গ্রন্থে।
দ্বিতীয় পদ্ধতি: ব্যাখ্যাত শব্দসমূহকে বর্ণমালার (الألفبائية) ক্রম অনুযায়ী বিন্যাস করা। ফলে যে শব্দ হামজা বর্ণ দিয়ে শুরু হয় তা হামজা অধ্যায়ে রাখা হয়, যা বা বর্ণ দিয়ে শুরু হয় তা বা অধ্যায়ে রাখা হয় এবং এভাবে ইয়া অধ্যায় পর্যন্ত।
এই পদ্ধতির সূচনা হয় আল-উযাইযী (মৃ. ৩৩০ হি.) এর হাত ধরে তাঁর ‘নুযহাতুল কুলুব ফি তাফসিরি গারিবিল কুরআন’ গ্রন্থে।
তবে তাঁর এই পদ্ধতিটি আদর্শ ছিল না; কারণ তিনি একই বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া শব্দগুলোর মধ্যে তাদের হরকত (حركات) বা স্বরচিহ্নের কারণে পার্থক্য তৈরি করেছিলেন। ফলে তিনি যবরযুক্ত (مفتوح) শব্দগুলোকে এক পাশে, পেশযুক্ত (مضموم) শব্দগুলোকে অন্য পাশে এবং যেরযুক্ত (مكسور) শব্দগুলোকে আরেক পাশে বিন্যস্ত করেছিলেন!
তদুপরি, তিনি শব্দের প্রথম বর্ণের ক্ষেত্রে মূল (أصلي) এবং অতিরিক্ত (زائد) বর্ণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি!
যদিও এই পার্থক্য না করার বিষয়টি অনেক মানুষের জন্য কিতাবটিতে তাদের কাঙ্ক্ষিত শব্দ খুঁজে পাওয়া সহজতর করেছিল; কারণ সেই সময় পর্যন্ত এমনকি আরবি অভিধানসমূহের ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতিটি সুপরিচিত ছিল না।
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقد وصل هذا النظام إلى قمته: عند الراغب الأصفهاني (ت في حدود: 425هـ) في كتابه: مفردات ألفاظ القرآن حيث قسم هذا الكتاب إلى كتب، بدأها بكتاب الألف (الهمزة) وحشاه بالكلمات التي تبدأ بحرف الهمزة، ثم رتبها داخل الباب، مراعياً ترتيب الحرف الأول، ثم الثاني، ثم الثالث غالباً (1) .
ثم ثنى بكتاب الباء (2) ، ثم بكتاب التاء (3) ، وهكذا إلى: كتاب الياء (4) .
وممن ساروا على منهجه هذا: العراقي (ت806هـ) في كتابه: ألفية في تفسير ألفاظ القرآن، والسمين الحلبي (ت756هـ) في عمدة الحفاظ (5) .
الطريق الثالث: ترتيب الكلمات حسب أواخرها أولاً، ثم حسب أوائلها، كطريقة الجوهري (ت في حدود 400هـ) في ترتيبه لمعجم: الصحاح (تاج اللغة وصحاح العربية) .
حيث قُسم الكتاب إلى أبواب حسب أواخر الكلمات، ثم قسم كل باب إلى فصول، حسب أوائل هذه الكلمات.
وقد اتبع الرازي (ت بعد 666 هـ) هذا النظام، في كتابه: روضة الفصاحة في غريب القرآن (6) .
الطريق الرابع: ترتيب الألفاظ حسب حرفها الأول، ثم الأخير، دون مراعاة لترتيب الحشو، ودونما اعتبار للحروف الزائدة (7) .
--------------------------------------------
এই পদ্ধতিটি তার চরম উৎকর্ষে পৌঁছেছে: রাগিব আল-ইসফাহানি (মৃত্যু (ت) আনুমানিক: ৪২৫ হিজরি (هـ)) এর নিকট তাঁর মুফরাদাতু আলফাজিল কুরআন গ্রন্থে; যেখানে তিনি এই গ্রন্থটিকে বিভিন্ন কিতাবে (كتب) বিভক্ত করেছেন। তিনি এটি শুরু করেছেন 'আলিফ' (হামজাহ) কিতাব (كتاب) দিয়ে এবং একে হামজাহ বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া শব্দ দ্বারা পূর্ণ করেছেন। এরপর তিনি অধ্যায়ের (الباب) অভ্যন্তরে শব্দগুলোকে বিন্যস্ত করেছেন প্রথম বর্ণের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে, এরপর দ্বিতীয় বর্ণ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তৃতীয় বর্ণের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে (১)।
এরপর তিনি দ্বিতীয়ত 'বা' কিতাব (كتاب) (২), তারপর 'তা' কিতাব (كتاب) (৩) এবং এভাবে 'ইয়া' কিতাব (كتاب) (৪) পর্যন্ত বিন্যস্ত করেছেন।
যাঁরা তাঁর এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আল-ইরাকি (মৃত্যু (ت) ৮০৬ হিজরি (هـ)) তাঁর আলফিয়াহ ফি তাফসিরি আলফাজিল কুরআন গ্রন্থে এবং আস-সামিন আল-হালাবি (মৃত্যু (ت) ৭৫৬ হিজরি (هـ)) তাঁর উমদাতুল হুফফাজ গ্রন্থে (৫)।
তৃতীয় পদ্ধতি: শব্দগুলোকে প্রথমে তাদের শেষ বর্ণের ভিত্তিতে এবং এরপর প্রথম বর্ণের ভিত্তিতে বিন্যাস করা; যেমনটি আল-জাওহারি (মৃত্যু (ت) আনুমানিক ৪০০ হিজরি (هـ)) তাঁর অভিধান: আস-সিহাহ (তাজুল লুগাহ ওয়া সিহাহুল আরাবিয়্যাহ) বিন্যাসে করেছেন।
সেখানে গ্রন্থটিকে শব্দের শেষ বর্ণের ভিত্তিতে বিভিন্ন অধ্যায়ে (أبواب) বিভক্ত করা হয়েছে, এরপর প্রতিটি অধ্যায়কে শব্দের প্রথম বর্ণের ভিত্তিতে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে (فصول) বিভক্ত করা হয়েছে।
আর রাজি (মৃত্যু (ت) ৬৬৬ হিজরি (هـ) এর পর) এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন তাঁর রাওদাতুল ফাসাহাহ ফি গারিবিল কুরআন গ্রন্থে (৬)।
চতুর্থ পদ্ধতি: শব্দগুলোকে তাদের প্রথম বর্ণ এবং এরপর শেষ বর্ণের ভিত্তিতে বিন্যাস করা, মধ্যবর্তী বর্ণগুলোর বিন্যাস বিবেচনা না করে এবং অতিরিক্ত বর্ণসমূহকে (الحروف الزائدة) গণ্য না করে (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقد سار على هذا الطريق: أبو حيان الأندلسي (ت745هـ) في كتابه: تحفة الأريب بما في القرآن من الغريب.
فقد ذكر - في حرف الشين (1) - مواده، حسب الترتيب التالي:
شنأ - شطأ
شوب - شعب - شهب - شرب - شيب.
شمت - شتت.
شحح، ثم: شمخ، ثم: شرد - شدد - شيد.
شكر - شطر - شجر - شعر.
وهكذا، إلى آخر مواد الشين (2) .
وقد كان نظامه هذا: نظاماً غريباً، لم يَرُقْ أحداً ممن جاءوا بعده، ولذلك لم ينسج أحد منهم على منواله.
ثانياً: اختلاف أهل الغريب في معالجتهم وشرحهم لألفاظه:
واختلف أهل غريب القرآن الكريم - فيما بينهم - اختلافا بيّنا، في شرح اللفظ القرآني الغريب، وسوق المعلومات عنه!.
فمنهم: من مال إلى الاختصار الشديد، مثل أبي حيان الأندلسي، في كتابه: تحفة الأريب بما في القرآن من الغريب، حيث اقتصر على الشرح اللغوي السريع، للفظ القرآني، دون أن يبين الآية التي ورد فيها، أو يذكر
--------------------------------------------
এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন: আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৭৪৫ হি.) তাঁর গ্রন্থ: তুহফাতুল আরিব বিমা ফিল কুরআনি মিনাল গারিব-এ।
তিনি শীন বর্ণের অধীনে (১) এর শব্দমূলগুলো নিম্নোক্ত বিন্যাস অনুযায়ী উল্লেখ করেছেন:
শান-আ — শাত-আ
শাওয়াব — শা'ব — শিহাব — শারাব — শায়াব।
শামাত — শাতাত।
শুহহ, অতঃপর: শামখ, অতঃপর: শারাাদ — শাদাদ — শায়াদ।
শাকার — শাতর — শাজার — শা'আর।
এবং এভাবেই শীন বর্ণের মূল শব্দগুলোর শেষ পর্যন্ত (২)।
তাঁর এই পদ্ধতিটি ছিল একটি অদ্ভুত (غريب) পদ্ধতি, যা তাঁর পরবর্তী কারো কাছেই সমাদৃত হয়নি; ফলে তাঁদের কেউ তাঁর এই পদ্ধতি অনুসরণ করেননি।
দ্বিতীয়ত: দুর্লভ (غريب) শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের মাঝে শব্দাবলির বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মতপার্থক্য:
কুরআনুল কারিমের অপরিচিত (غريب) শব্দাবলির ব্যাখ্যা এবং সে সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে উক্ত শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ নিজেদের মধ্যে সুস্পষ্টভাবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ চরম সংক্ষিপ্তকরণের দিকে ঝুঁকেছেন, যেমন আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি তাঁর 'তুহফাতুল আরিব বিমা ফিল কুরআনি মিনাল গারিব' গ্রন্থে; যেখানে তিনি কুরআনের শব্দের দ্রুত ভাষাগত ব্যাখ্যার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, সেই শব্দটি কোন্ আয়াতে এসেছে তা বর্ণনা না করেই অথবা উল্লেখ না করেই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
السورة التي احتوته، أو يذكر أحداً من اللغويين أو المفسرين، أو يستشهد بأية شواهد (1) .
وإليك نموذجاً من تفسيره المختصر، يوضح لك صدق ما قيل حوله:
من حرف الميم (2) :
ملأ: {الْمَلأِ} (البقرة: 246) : الأشراف.
مقت: {مَقْتاً} (الصف: 3) : بغُضاً
مشج: {أَمْشَاجٍ} (الإنسان: 2) : أخلاط، واحدها: مَشَجٌ، ومَشِيجٌ ومِشْجٌ، وهو هنا: اختلاط النطفة بالدم.
مرج: {مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ} (الفرقان: 53) : خلَّى بينهما / مرجْت الدابّة: خليتها ترعى.
وقيل: خلطهما.
{مَرِيجٍ} (ق: 5) : مختلط.
ومنهم من مال إلى الإطالة، وجمع المادة العلمية، عن اللفظ القرآني المفسر، حتى أضحى كتابه "موسوعة علمية صغيرة، فقد حوى: اللغة، والنحو، والصرف، والتفسير، والقراءات، والفقه، والمنطق، والحكمة، والأدب، والنوادر، وأصول الفقه، والتوحيد" (3) .
ورأْس هذا الاتجاه: هو الراغب الأصفهاني (الحسين -ت: في حدود 425هـ على الأرجح) (4) . في كتابه: مفردات ألفاظ القرآن.
--------------------------------------------
যে সূরাটি তাকে ধারণ করেছে, অথবা কোনো ভাষাবিদ বা মুফাসসিরের কথা উল্লেখ করেন, অথবা কোনো উদ্ধৃতি (শাওয়াহিদ) পেশ করেন (১)।
আর এখানে তাঁর সংক্ষিপ্ত তাফসিরের একটি নমুনা দেওয়া হলো, যা তাঁর সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার সত্যতা আপনার কাছে স্পষ্ট করবে:
মিম (ম) অক্ষর থেকে (২):
মালাআ: {আল-মালা’} (বাকারা: ২৪৬): সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ।
মাকত: {মাকতান} (আস-সাফ: ৩): ঘৃণা বা বিদ্বেষ।
মাশাজ: {আমশাজিন} (আল-ইনসান: ২): সংমিশ্রণসমূহ, এর একবচন হলো: মাশাজুন, মাশিজুন এবং মিশজুন; আর এখানে এটি হলো: রক্ত ও বীর্যের সংমিশ্রণ।
মারাজা: {মারাজাল বাহরাইন} (আল-ফুরকান: ৫৩): তিনি দুটির মাঝখানে ছেড়ে দিয়েছেন / ‘মারাজতুদ দাব্বাহ’ অর্থ: আমি পশুটিকে চারণভূমিতে ছেড়ে দিয়েছি।
এবং বলা হয়েছে: তিনি উভয়কে মিশ্রিত করেছেন।
{মারীজিন} (ক্বাফ: ৫): মিশ্রিত।
আর তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিস্তারিত আলোচনার দিকে ঝুঁকেছেন এবং ব্যাখ্যাত কুরআনিক শব্দাবলির ইলমি উপাদানসমূহ সংগ্রহ করেছেন, যার ফলে তাঁর গ্রন্থটি একটি "ক্ষুদ্র ইলমি বিশ্বকোষে পরিণত হয়েছে; কেননা এটি ভাষা, নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (রূপতত্ত্ব), তাফসির, ক্বিরাআত, ফিকহ, মানতিক (তর্কশাস্ত্র), হিকমাহ (প্রজ্ঞা), সাহিত্য, বিরল বিষয়াবলি (নাওয়াদির), উসুলুল ফিকহ এবং তাওহিদকে অন্তর্ভুক্ত করেছে" (৩)।
আর এই ধারার প্রধান হলেন: রাগেব আল-ইসফাহানি (হুসাইন - মৃত্যু: সম্ভবত ৪২৫ হিজরির দিকে) (৪)। তাঁর গ্রন্থ: মুফরাদাতু আলফাযিল কুরআন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وعلى الرغم من هذا الإسهاب، وهذا الإطناب: فقد عده بعض المعجميين (1) قمة التأليف في غريب القرآن الكريم، من حيث الترتيب والعلاج، واعتبره رائداً - في ترتيبه وعلاجه - لم يجد من يسير خلفه (2) !
ولكني - بعد البحث والتنقيب- وجدت من يحتذيه، ويسير على منهجه، ويتخذه مثالا، بل وينقل عنه، ويعتمد على مواده اعتماداً كلياً!
وقد تمثل ذلك في السمين الحلبي (ت756هـ) في كتابه: عمدة الحفاظ في تفسير أشرف الألفاظ (3) .
وإليك نموذجاً من كتاب المفردات للراغب الأصفهاني، تلمس منه صدق ما وصف به الكتاب:
في مادة (مرد) قال (4) :
قال الله تعالى: {وَحِفْظاً مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ مَارِدٍ} (الصافات: 7)
والمارد، والمَرِيد - من شياطين الإنس والجن - المتعرِّى من الخيرات، من قولهم: شجرٌ أمْرَد، إذا تَعَرَّى من الورق.
ومنه قيل: رَمْلَةٌ مَرْداء: لم تُنْبِت شيئا.
ومنه: الأمَرَد، لتجرُّده عن الشَّعْرِ.
ورُوِى: "أَهْلُ الجَنَّة مُرْدٌ" فقيل: حُمِلَ على ظاهِرِه، وقيل معناه: مُعْرَوْن من الشَّوَائب، والقَبَائِح.
--------------------------------------------
এই সুদীর্ঘ বর্ণনা এবং বিশদ ব্যাখ্যা সত্ত্বেও, কিছু অভিধানতত্ত্ববিদ (১) বিন্যাস ও বিশ্লেষণের দিক থেকে একে আল-কুরআনের বিরল শব্দাবলির (গরীবুল কুরআন) ওপর রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করেছেন। তারা এর বিন্যাস ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একে এমন এক অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করেছেন, যার পদাঙ্ক অনুসরণ করার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি (২)!
কিন্তু আমি—অনুসন্ধান ও গবেষণার পর—এমন একজনকে খুঁজে পেয়েছি যিনি একে অনুসরণ করেছেন, এর পদ্ধতিতে অগ্রসর হয়েছেন এবং একে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন; এমনকি এর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন এবং এর বিষয়বস্তুর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করেছেন!
এর উদাহরণ হলেন আস-সামিন আল-হালাবি (মৃত্যু: ৭৫৬ হিজরি), যা তার 'উমদাতুল হুফফাজ ফি তাফসির আশরাফিল আলফাজ' (৩) নামক গ্রন্থে প্রতিফলিত হয়েছে।
রাগিব আল-ইসফাহানির 'আল-মুফরাদাত' গ্রন্থ থেকে একটি নমুনা নিচে দেওয়া হলো, যা থেকে গ্রন্থটি সম্পর্কে করা বর্ণনার সত্যতা পরখ করা সম্ভব:
মাদদাহ বা মূল ধাতু (مرد) প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন (৪):
মহান আল্লাহ বলেন: {এবং প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে সুরক্ষার জন্য} (আস-সাফফাত: ৭)
'আল-মারেদ' ও 'আল-মারিদ'—মানুষ ও জিন শয়তানদের মধ্যে—বলতে তাকেই বোঝায় যে কল্যাণ থেকে রিক্ত বা শূন্য; যেমন বলা হয়: 'শাজারুন আমরাদ', যখন কোনো গাছ পাতাশূন্য হয়ে যায়।
এ থেকেই বলা হয়: 'রামলাতুন মারদা', অর্থাৎ এমন বালুময় ভূমি যা কোনো কিছু উৎপন্ন করে না।
এ থেকেই বলা হয়: 'আল-আমরাদ', যার মুখমণ্ডল লোম বা দাড়িহীন হওয়ার কারণে শূন্য।
বর্ণিত হয়েছে (روي): "জান্নাতবাসীরা হবে দাড়িহীন (মুরুদ)।" কেউ বলেছেন, এটি এর বাহ্যিক অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন, এর অর্থ হলো তারা সকল কলুষতা ও কুৎসিত বিষয় থেকে মুক্ত থাকবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মায়াজিমু মাআনি আলফাজিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومنه قيل: مَرَدَ فُلَانٌ عن القبائِح، ومَرَدَ عن المحاسِنِ، وعن الطاعة، قال تعالى: {وَمِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مَرَدُوا عَلَى النِّفَاقِ} (التوبة: 101) ، أي: ارْتَكَسُوا عن الخير، وهم على النفاق.
وقوله: {مُمَرَّدٌ مِنْ قَوَارِيرَ} (النمل: 44) أي: مُمَلَّسٌ، من قولهم: شجرة مَرْداء، إذا لم يكن عليها ورق، وكأن المُمرّد: إشارة إلى قول الشاعر:
في مَجْدَلٍ شُيِّدَ بُنْيانُه
… يَزِل عَنْه ظُفُرُ الظَّافِرِ
ومَارِدٌ: حِصُن معروف.
وفي الأمثال: تمرّدَ مارِدٌ، وعَزَّ الأَبْلَقُ، قاله مَلِكٌ امتنع عليه هذان الحِصْنَان.
ومنهم: من توسط بين الأمرين - حيث عَدل عن الاختصار الشديد، وتجاوز الإطالة-:ومثال ذلك: ابن قتيبة (ت276هـ) في كتابه: تفسير غريب القرآن.
فعلى الرغم من أن منهجه وُصف (1) بأنه "خليط من منهجي كتب اللغة وكتب التفسير، فهو يضم ظواهرهما معاً، فبينما يفسر الألفاظ لغوياً، ويستشهد عليها كثيراً، بالأشعار، والأحاديث، وأقوال العرب، ويبين وزنها حيناً يفسرها قرآنياً، فيبين - في السور- المدني، والمكي، أحياناً، ويقتبس أقوال مشهوري المفسرين".
على الرغم من هذا الوصف فإنني أذهب إلى أن ابن قتيبة كان معتدلاً في تفسير غريبه، ولم يحدث منه توسع إلا في بابين ساقهما في أول الكتاب:
الباب الأول: اشتقاق أسماء الله الحسنى، وصفاته، وإظهار معانيها [صفحة6-20]
--------------------------------------------
এখান থেকেই বলা হয়: অমুক ব্যক্তি মন্দ কাজ থেকে বিরত হয়েছে, এবং সে কল্যাণ ও আনুগত্য থেকে বিমুখ হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর মদিনাবাসীদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা মুনাফিকিতে সিদ্ধহস্ত} (আত-তাওবাহ: ১০১), অর্থাৎ তারা কল্যাণ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং তারা মুনাফিকিতে লিপ্ত রয়েছে।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {কাঁচ নির্মিত মসৃণ প্রাসাদ} (আন-নামল: ৪৪) অর্থাৎ মসৃণ। এটি আরবদের কথা ‘পত্রহীন বৃক্ষ’ (শাজারাহ মারদা) থেকে এসেছে, যখন তাতে কোনো পাতা থাকে না। যেন ‘মুমাররাদ’ শব্দটি কবির এই বাণীর দিকে ইঙ্গিত করছে:
এমন এক সুউচ্চ দুর্গে যার ভিত্তি সুদৃঢ় করা হয়েছে
… বিজয়ীর নখরও তা থেকে পিছলে যায়।
আর ‘মারিদ’ হলো একটি সুপরিচিত দুর্গ।
প্রবাদে আছে: ‘মারিদ বিদ্রোহী হয়েছে এবং আবলাক অজেয় হয়েছে।’ এটি এক রাজা বলেছিলেন যখন এই দুটি দুর্গ জয় করা তাঁর জন্য দুঃসাধ্য হয়েছিল।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ দুই বিষয়ের মধ্যে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন—যেখানে তিনি চরম সংক্ষিপ্তকরণ বর্জন করেছেন এবং অতি দীর্ঘ আলোচনা পরিহার করেছেন। এর উদাহরণ হলো: ইবনে কুতাইবাহ (মৃত্যু ২৭৬ হি.) তাঁর ‘তাফসীর গারীবুল কুরআন’ গ্রন্থে এটি করেছেন।
যদিও তাঁর কর্মপদ্ধতিকে বর্ণনা করা হয়েছে (১) এভাবে যে, "এটি ভাষাতত্ত্বের কিতাব ও তাফসীরের কিতাব—উভয় পদ্ধতির এক মিশ্রণ; তিনি এতে উভয় শাস্ত্রের বৈশিষ্ট্যকে একত্রিত করেছেন। একদিকে যেমন তিনি শব্দাবলিকে ভাষাতাত্ত্বিকভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং এর সপক্ষে কবিতা, হাদিস ও আরবদের উক্তির প্রচুর উদ্ধৃতি দেন এবং মাঝে মাঝে শব্দের ওজন বর্ণনা করেন, তেমনি অন্যদিকে তিনি কোরআনি আঙ্গিকে ব্যাখ্যা প্রদান করেন—অর্থাৎ কখনো কখনো বিভিন্ন সূরার মাদানি (مدني) ও মক্কি (مكي) হওয়ার বিষয় স্পষ্ট করেন এবং প্রখ্যাত মুফাসসিরগণের বক্তব্য উদ্ধৃত করেন।"
এই বর্ণনা সত্ত্বেও আমার অভিমত হলো যে, ইবনে কুতাইবাহ তাঁর অপরিচিত শব্দ (غريب) ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ ছিলেন এবং গ্রন্থের শুরুতে উপস্থাপিত দুটি অধ্যায় ছাড়া অন্য কোথাও তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেননি:
প্রথম অধ্যায়: আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলির ব্যুৎপত্তি এবং সেগুলোর অর্থ প্রকাশ [পৃষ্ঠা ৬-২০]
--------------------------------------------