(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: -)
مصطلحات في كتب العقائد   (محمد بن إبراهيم الحمد)

القسم: العقيدة


الكتاب: مصطلحات في كتب العقائد

المؤلف: محمد بن إبراهيم بن أحمد الحمد

الناشر: درا بن خزيمة

الطبعة: الاولى

عدد الصفحات: 267

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আকিদার কিতাবসমূহের পরিভাষা   (মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল-হামাদ)

বিভাগ: আকিদা


বই: আকিদার কিতাবসমূহের পরিভাষা

লেখক: মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন আহমদ আল-হামাদ

প্রকাশক: দার ইবনে খুজাইমাহ

সংস্করণ: প্রথম

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৭

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ই জিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরী

(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৩)
ال‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه.

وبعد:

فإن شرف العلم بشرف المعلوم، وإن علم العقيدة أشرف العلوم، وأعظمها وأجلها؛ إذ موضوعه العلم بالله، وما ينبغي له من الجلال والتعظيم والحب والرجاء.aq، وسلامتها من التناقض، والاضطراب، واللبس والغموض.

فألفاظها سهلة، ومعانيها بينة؛ فأدلتها مستقاة من الكتاب والسنة تسبق إلى الأفهام ببادئ الرأي، وأول النظر، ويشترك كافة الخلق في إدراكها، فيفهمها العالم والعامي، والصغير والكبير؛ فهي مثل الغذاء ينتفع به كل إنسان، بل كالماء الذي جعل الله منه كل شيء حي؛ فينتفع به الصبي والرضيع، والرجل القوي والضعيف؛ فأدلة الكتاب والسنة سائغة جلية تقنع العقول، وتسكِّن النفوس، وتغرس الاعتقاداتِ الجازمةَ في القلوب1.

ولقد أدرك ذلك جيل الصحابة؛ لقرب العهد، ومباشرة التلقي من مشكاة

--------------------------------------------

1_ أشار إلى هذا المعنى ابن الوزير اليماني، انظر كتابه: ترجيح أساليب القرآن على أساليب اليونان ص348.
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও যারা তাঁদের অনুসারী হয়েছেন তাঁদের ওপর।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই বিষয়ের মর্যাদার ওপরই ইলমের মর্যাদা নির্ভর করে। আর আকিদা শাস্ত্র হলো সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ, মহান ও শ্রেষ্ঠ ইলম; কেননা এর আলোচ্য বিষয় হলো আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান এবং তাঁর জন্য যা কিছু মহিমা, সম্মান, ভালোবাসা ও আশা থাকা সমীচীন তা নিয়ে আলোচনা। আর আকিদা শাস্ত্র বৈপরীত্য, বিশৃঙ্খলা, অস্পষ্টতা ও জটিলতা থেকে মুক্ত হওয়া দ্বারা বিশেষিত।

এর শব্দাবলি সহজ এবং অর্থসমূহ সুস্পষ্ট; এর দলিলগুলো কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সংগৃহীত যা প্রাথমিক চিন্তা ও প্রথম দৃষ্টিতেই বোধগম্য হয়। সর্বস্তরের মানুষ এটি অনুধাবনে অংশীদার হতে পারে; ফলে আলেম ও সাধারণ মানুষ, ছোট ও বড়—সবাই এটি বুঝতে পারে। এটি খাদ্যের ন্যায় যা দ্বারা প্রতিটি মানুষ উপকৃত হয়, বরং এটি সেই পানির ন্যায় যা দিয়ে আল্লাহ প্রতিটি প্রাণবান বস্তুকে জীবিত রেখেছেন; ফলে শিশু, দুগ্ধপোষ্য বাচ্চা এবং শক্তিশালী ও দুর্বল ব্যক্তি—সকলেই এর দ্বারা উপকৃত হয়। কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ সহজবোধ্য ও সুস্পষ্ট যা বুদ্ধিকে সন্তুষ্ট করে, আত্মাকে প্রশান্ত করে এবং হৃদয়ে দৃঢ় বিশ্বাস গেঁথে দেয়।১

সাহাবীগণের প্রজন্ম এটি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন; কারণ তারা সেই যুগের কাছাকাছি ছিলেন এবং সরাসরি নবুওয়াতের দীপাধার থেকে ইলম গ্রহণ করেছিলেন।

--------------------------------------------

১_ ইবনুল উজির ইয়ামানী এই অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, দেখুন তাঁর গ্রন্থ: তারজিহু আসালিবিল কুরআনি আলা আসালিবিল ইউনান, পৃ. ৩৪৮।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৪)
النبوة التي هي مظهر كل نور، ومنبع كل خير، وأساس كل هدى؛ فكانوا أسلم الناس فطرة، وأقلهم تكلفاً، وأعظمهم إيماناً، وأزكاهم نفوساً.

ثم سلك أثرهم التابعون لهم بإحسان؛ فاقتفوا طريقهم، واهتدوا بهداهم، ودعوا إلى ما دعوا إليه، ومضوا إلى ما كانوا عليه.

ثم بعد ذلك دب في هذه الأمة داء الأمم، فركبت سنن من كان قبلها؛ فدخلت فلسفاتُ اليونانِ والهندِ وفارس، وضلالاتُ أهلِ الكتابِ بلادَ المسلمين، وحدث انقلاب في كثير من الاعتقادات، وجرت محاولات التوفيق بين الدين والفلسفة، وتسلط سيف التأويل على نصوص الشريعة؛ فحدثت بدع، وشاعت ألفاظ دخيلة، وتكدر وجه الحق بشوائب الباطل، وخفيت بعض معالم الهدى بسبب ما أُحدث من مصطلحات غريبة الوجه واليد واللسان عن دين الإسلام، ولغة القرآن.

لذا هبَّ علماء الإسلام والسنة _ على وجه الخصوص _ لمنازلة المخالفين، والرد عليهم بالحجة والبينة والعدل والرحمة، واضطروا إلى التنزل ومخاطبة المخالفين بأساليبهم، ومصطلحاتهم؛ فنشأ من خلال ذلك _ في بعض الأحيان _ صعوبةٌ في فهم كلامهم، واستغلاقٌ للمعاني التي يريدون الوصول إليها وإن كان ذلك نسبياً وليس قاعدة مطردة.

ومن هنا يظن بعض من يقرأ مؤلفات العلماء في العقيدة أنها صعبة المرتقى، بعيدة المنال، وهذا الظن ليس في محله؛ لأن العلماء إذا كتبوا العقيدة الإسلامية مجردة من الردود صاغوها بأسلوب ميسر واضح.
নবুওয়াত, যা হলো সকল আলোর বহিঃপ্রকাশ, সকল কল্যাণের উৎস এবং সকল হিদায়াতের ভিত্তি। ফলে তারা ছিলেন স্বভাবজাত প্রবৃত্তি বা ফিতরাতের দিক থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ, কৃত্রিমতা প্রদর্শনে সবচেয়ে কম, ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে মহান এবং আত্মার দিক থেকে সবচেয়ে পবিত্র।

অতঃপর যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছেন সেই তাবেয়ীগণ তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন; তারা তাদের পথ অবলম্বন করেছেন, তাদের হিদায়াত দ্বারা পরিচালিত হয়েছেন, তারা যেদিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন সেদিকেই দাওয়াত দিয়েছেন এবং তারা যে আদর্শের ওপর ছিলেন তার ওপরই অটল থেকেছেন।

এরপর এই উম্মতের মধ্যে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের রোগ প্রবেশ করল, ফলে তারা তাদের পূর্বসূরিদের রীতিনীতি অনুসরণ করতে লাগল। মুসলিম দেশগুলোতে গ্রিক, ভারতীয় ও পারস্য দর্শন এবং আহলে কিতাবদের বিভ্রান্তি প্রবেশ করল। অনেক আকিদাগত বিশ্বাসে পরিবর্তন দেখা দিল, ধর্ম ও দর্শনের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা চালানো হলো এবং শরিয়তের দলীলসমূহের ওপর ব্যাখ্যার খড়্গ চেপে বসল। ফলে বিদআত সৃষ্টি হলো, বিজাতীয় শব্দাবলি ছড়িয়ে পড়ল এবং বাতিলের আবর্জনায় সত্যের চেহারা মলিন হয়ে গেল। ইসলাম ধর্ম ও কুরআনের ভাষা থেকে চেহারা, হাত ও জিহ্বার দিক থেকে অপরিচিত এমন সব পরিভাষা উদ্ভাবনের কারণে হিদায়াতের কিছু নিদর্শন আড়ালে পড়ে গেল।

একারণে ইসলামের আলেমগণ এবং বিশেষ করে সুন্নাহর অনুসারী আলেমগণ বিরোধীদের মোকাবিলা করার জন্য এবং দলিল, প্রমাণ, ন্যায়বিচার ও করুণার সাথে তাদের জবাব দেওয়ার জন্য সজাগ হলেন। তারা বিরোধীদের সাথে তাদের নিজস্ব পদ্ধতি ও পরিভাষায় কথা বলতে বাধ্য হলেন। এর ফলে মাঝেমধ্যে তাদের কথা বোঝার ক্ষেত্রে কঠিনতা এবং তারা যে অর্থে পৌঁছাতে চেয়েছিলেন তা অনুধাবনে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে, যদিও তা আপেক্ষিক বিষয় এবং কোনো ধ্রুব নিয়ম নয়।

এখান থেকেই আকিদা বিষয়ে আলেমদের রচিত গ্রন্থসমূহ পাঠকারী কেউ কেউ মনে করেন যে, এগুলো অনুধাবন করা অত্যন্ত কঠিন ও আয়ত্তের বাইরে। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়; কারণ আলেমগণ যখন কেবল ইসলামী আকিদা বিষয়ে লেখেন এবং তাতে কোনো খণ্ডনমূলক আলোচনা থাকে না, তখন তারা তা অত্যন্ত সহজ ও স্পষ্ট পদ্ধতিতে রচনা করেন।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৫)
ولقد كان يمرّ بي أثناء قراءة بعض الكتب، أو تدريسها كثير من المصطلحات التي يستبهم معها المعنى.

ومن الأمثلة على ذلك ما ألاحظه في تدريس مادة العقيدة في المستوى السابع والثامن في كلية الشريعة وأصول الدين في جامعة القصيم _ الإمام سابقاً _ حيث يلقى الطلاب عنتاً ومشقة من جراء فهم الكتاب المقرر وهو الرسالة التدمرية لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله.

ومن هنا نشأت فكرة تدوين بعض تلك المصطلحات؛ فشرعت في جمعها إما من خلال ما كتبته في حواشي بعض الكتب التي أقرؤها، أو أشرحها، أو من خلال بعض ما هو مبثوث في بعض الكتب التي ألَّفتها؛ فطبعت، ونشرت، وزدت على ذلك جملة من المصطلحات والجمل التي تحتاج إلى إيضاح؛ فاجتمع لي من جراء ذلك سوادٌ لا بأس به؛ فرغبت في نشره؛ رجاء عموم النفع به، ورغبة في أن يكون سبباً لإيضاح مشكل، أو فك مستغلق.

ولقد كان الحرص قائماً على تقريب ما يتلاءم من المصطلحات إلى نظيره أو ما يقرب منه.

ووضعت في النهاية فهرساً أبجدياً، وفهرساً عاماً؛ ليسهل الوصول إلى المراد.

وهذه المصطلحات ليست كلها مقتصرة على كتب العقائد فحسب، بل قد ترد في بعض كتب التفسير، والأصول، والفقه، والحديث، واللغة، والمنطق، وغيرها.

وهذا الكتاب ليس محيطاً، ولا مستقصياً؛ إذ هو ليس معجماً شاملاً، وإنما هو
কিছু কিতাব পাঠ করার সময় অথবা তা পড়ানোর সময় আমার সামনে এমন অনেক পরিভাষা আসত, যার ফলে অর্থ অস্পষ্ট হয়ে যেত।

এর একটি উদাহরণ হলো আল-কাসিম ইউনিভার্সিটি—যা পূর্বে ইমাম (মুহাম্মাদ ইবনে সউদ ইউনিভার্সিটি) নামে পরিচিত ছিল—এর শরীয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদের সপ্তম ও অষ্টম স্তরে আকীদা বিষয় পড়ানোর সময় আমি যা লক্ষ্য করি; সেখানে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচিত নির্ধারিত পাঠ্যবই 'আর-রিসালাতুত তাদমুরিয়্যাহ' বোঝার ক্ষেত্রে ছাত্ররা বেশ কষ্ট ও সমস্যার সম্মুখীন হয়।

এখান থেকেই সেই পরিভাষাগুলোর মধ্য থেকে কিছু পরিভাষা লিপিবদ্ধ করার চিন্তা তৈরি হয়। ফলে আমি সেগুলো সংগ্রহ করতে শুরু করি; কখনো আমার পঠিত বা ব্যাখ্যা করা বইয়ের টীকা (হাশিয়া) থেকে, আবার কখনো আমার নিজের লেখা এবং মুদ্রিত ও প্রকাশিত বইগুলোতে ছড়িয়ে থাকা বিষয়াবলি থেকে। এর সাথে আমি আরও কিছু পরিভাষা ও বাক্য যুক্ত করেছি যেগুলোর ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল। এভাবে আমার কাছে বেশ ভালো পরিমাণ উপাদান একত্রিত হয়ে যায়। অতঃপর আমি তা প্রকাশের ইচ্ছা পোষণ করি, যেন এর মাধ্যমে ব্যাপক কল্যাণ সাধিত হয় এবং এটি কোনো জটিল বিষয় স্পষ্ট করার বা কোনো দুর্বোধ্য বিষয় উন্মোচনের মাধ্যম হয়।

সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিভাষাগুলোকে তার সদৃশ বা নিকটবর্তী পরিভাষার কাছাকাছি নিয়ে আসার ব্যাপারে সর্বদা সচেষ্ট ছিলাম।

কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি সহজে খুঁজে পাওয়ার জন্য শেষে একটি বর্ণানুক্রমিক সূচি এবং একটি সাধারণ সূচি যুক্ত করেছি।

এই পরিভাষাগুলো কেবল আকীদার কিতাবসমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এগুলো তাফসীর, উসুল, ফিকহ, হাদীস, ভাষা, যুক্তিবিদ্যাসহ অন্যান্য কিতাবেও আসতে পারে।

এই বইটি সবকিছুর পরিবেষ্টনকারী বা পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানকারী নয়; কেননা এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ অভিধান নয়, বরং এটি...
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৬)
مصطلحات يسر الله جمعها، وكتابتها.

ثم إن هذه المصطلحات ليست على وتيرة واحدة من جهة وضوحها، أو إشكالها، وإنما هي متفاوتة، ويمكن إجمالها بما يلي:

1_ مصطلحات واضحة وتحتاج إلى مزيد تحليل وإيضاح.

2_ مصطلحات مشكلة مبهمة وتحتاج إلى فك وإزالة إبهام.

3_ مصطلحات غامضة داخلة في سياق ولا يفهم السياق إلا بفهمها.

4_ مصطلحات واضحة وتفهم إذا كانت مفردة، لكنها إذا دخلت في سياق استغلق المعنى؛ فيُحْتَاج معها إلى شرح وتحليل.

ثم إن الشرح والتحليل يختلف بسطاً، واختصاراً من مصطلح إلى مصطلح، ومن سياق إلى سياق؛ فتارة يطول، وتارة يقصر، وهكذا …

وأخيراً أسأل الله _ بأسمائه الحسنى وصفاته العلى _ أن ينفع بهذا العمل، وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم.

وآمل من القارئ أن يمدني بملحوظاته، وله جزيل الشكر، وخالص الدعاء.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
পরিভাষাগুলো আল্লাহ তাআলা সংগ্রহ এবং সংকলন করা সহজ করে দিয়েছেন।

অতঃপর, এই পরিভাষাগুলো তাদের স্পষ্টতা বা অস্পষ্টতার দিক থেকে একই স্তরের নয়, বরং এগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্তরের। সংক্ষেপে এগুলো নিম্নরূপ:

১_ এমন কিছু পরিভাষা যা স্পষ্ট, তবে অধিকতর বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যার প্রয়োজন।

২_ এমন কিছু পরিভাষা যা জটিল ও অস্পষ্ট, যার জট খোলা এবং অস্পষ্টতা দূর করা প্রয়োজন।

৩_ এমন কিছু পরিভাষা যা রহস্যময় ও প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত এবং সেগুলো না বুঝে প্রাসঙ্গিক অর্থ বোঝা অসম্ভব।

৪_ এমন কিছু পরিভাষা যা এককভাবে থাকলে স্পষ্ট এবং বোধগম্য, কিন্তু প্রসঙ্গের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলে অর্থ জটিল হয়ে যায়; ফলে সেক্ষেত্রে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন পড়ে।

এরপর, পরিভাষা ও প্রসঙ্গের ভিন্নতা ভেদে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের ব্যাপ্তি বা সংক্ষিপ্ততা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে; ফলে কখনো তা দীর্ঘ হয়, আবার কখনো সংক্ষিপ্ত হয়, এভাবেই …

পরিশেষে, আমি আল্লাহর নিকট—তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির উসিলায়—প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই কাজটিকে উপকারী করেন এবং একে একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত হিসেবে কবুল করেন।

আমি পাঠকের কাছে আশা রাখি যেন তারা আমাকে তাদের পর্যবেক্ষণ বা মতামত প্রদান করেন; তাদের জন্য রইল অশেষ ধন্যবাদ এবং আন্তরিক দোয়া।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الإلحاد

يرد هذا المصطلح كثيراً في كتب العقائد خصوصاً في باب الأسماء والصفات؛ ذلك أن الإلحاد يضاد توحيد الأسماء والصفات، ويدخل في الإلحاد: التعطيلُ، والتمثيلُ، والتكييف، والتفويض، والتحريف، والتأويل، وفيما يلي نبذة عن الإلحاد، وما يدخل تحته من مصطلحات.

الإلحاد: الإلحاد في اللغة هو: الميل، ومنه اللحد في القبر، ومنه قول عمرو ابن معدي كرب الزبيدي:

كم من أخ كان لي ماجدٍ … ألحدته في يديَّ الثرى

وقول جرير:

دعوت الملحدين أبا خبيب … جماحاً هل شفيت من الجماح1

ويقصد بالملحدين: المائلين عن الحق.

أما في الاصطلاح: فهو العدول عما يجب اعتقاده أو عمله2.

والإلحاد في أسماء الله هو: العدول بها وبحقائقها ومعانيها عن الحق الثابت لها.

أنواع الإلحاد في أسماء الله وصفاته3:

1_ أن ينكر شيئاً مما دلت عليه من الصفات كفعل المعطلة.

2_ أن يجعلها دالة على تشبيه الله بخلقه، كفعل أهل التمثيل.

--------------------------------------------

1_ ديوان جرير ص74.

2 _ انظر فتح ربِّ البرية بتلخيص الحموية، ص18.

3_ انظر المرجع السابق، ص19.
ইলহাদ (বিচ্যুতি)

আকিদার কিতাবসমূহে এই পরিভাষাটি প্রায়ই আসে, বিশেষ করে আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলি) অধ্যায়ে; কারণ ইলহাদ হলো আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের পরিপন্থী। আর ইলহাদের অন্তর্ভুক্ত হলো: তা'তীল (গুণাবলি অস্বীকার করা), তামসীল (সাদৃশ্য দেওয়া), তাকয়ীফ (ধরন নির্ধারণ করা), তাফউয়ীদ (অর্থ সোপর্দ করা), তাহরীফ (বিকৃতি করা) এবং তাবী’ল (ব্যাখ্যা করা)। নিচে ইলহাদ এবং এর অন্তর্ভুক্ত পরিভাষাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো।

ইলহাদ: আভিধানিক অর্থে ইলহাদ হলো: বিচ্যুতি বা ঝুঁকে পড়া। কবরের 'লাহদ' (বগলী কবর) শব্দটি এখান থেকেই এসেছে। এ প্রসঙ্গে আমর ইবন মা'দী কারিব আয-যুবাইদী বলেন:

আমার কতই না মহৎ ভাই ছিল … যাদেরকে আমি নিজ হাতে মাটির কবরে শায়িত করেছি

এবং জরীরের উক্তি:

হে আবু খুবাইব, আমি অবাধ্য সত্যবিচ্যুতদের ডেকেছি … তারা কি তাদের অবাধ্যতা থেকে মুক্তি পেয়েছে?১

এখানে 'মুলহিদীন' (সত্যবিচ্যুত) বলতে উদ্দেশ্য হলো: যারা সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

আর পারিভাষিক অর্থে ইলহাদ হলো: যা বিশ্বাস করা বা পালন করা আবশ্যক, তা থেকে বিচ্যুত হওয়া।২

আল্লাহর নামের ক্ষেত্রে ইলহাদ হলো: আল্লাহর নামসমূহ এবং সেগুলোর বাস্তবতা ও অর্থসমূহকে তার জন্য সাব্যস্ত হওয়া ধ্রুব সত্য থেকে সরিয়ে দেওয়া।

আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে ইলহাদের প্রকারভেদ:৩

১_ নামসমূহ যে সকল গুণাবলি নির্দেশ করে তার কোনো কিছু অস্বীকার করা; যেমন মুয়াত্তিলা সম্প্রদায়ের কর্মকাণ্ড।

২_ নামসমূহকে আল্লাহর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সাব্যস্ত করা; যেমন আহলুত তামসীল সম্প্রদায়ের কর্মকাণ্ড।

--------------------------------------------

১_ দিওয়ান জরীর, পৃষ্ঠা ৭৪।

২ _ দ্রষ্টব্য: ফাতহ রাব্বিল বারিয়্যাহ বিতালখীসিল হামাউইয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৮।

৩_ দ্রষ্টব্য: পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৯।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৮)
3_ أن يُسمى الله بما لم يُسمِّ به نفسه؛ لأن أسماء الله توقيفية، كتسمية النصارى له أباً وتسمية الفلاسفة إياه علة فاعلة أو تسميته بـ: مهندس الكون أو العقل المدبر أو غير ذلك.

4_ أن يشتق من أسمائه أسماء للأصنام، كاشتقاق اللات من الإله والعُزَّى من العزيز.

5_ وصفه _ تعالى _ بما لا يليق به، وبما ينزه عنه، كقول اليهود: بأن الله تَعِبَ من خلق السموات والأرض، واستراح يوم السبت، أو قولهم: إن الله فقير.

ويدخل تحت الإلحاد كل انحراف في ذلك الباب، وسيرد تفصيل لذلك في الصفحات التالية.
৩_ আল্লাহকে এমন নামে অভিহিত করা যা দিয়ে তিনি নিজেকে অভিহিত করেননি; কারণ আল্লাহর নামসমূহ ওহীর ওপর নির্ভরশীল (তাওকিফিয়্যাহ), যেমন খ্রিস্টানদের তাঁকে ‘পিতা’ বলা এবং দার্শনিকদের তাঁকে ‘কার্যকর কারণ’ বলে অভিহিত করা অথবা তাঁকে ‘মহাবিশ্বের প্রকৌশলী’ বা ‘মহাপরিকল্পনাকারী’ বা এই জাতীয় অন্য কিছু বলা।

৪_ তাঁর নামসমূহ থেকে মূর্তিদের জন্য নাম উদ্ভূত করা, যেমন ‘ইলাহ’ থেকে ‘লাত’ এবং ‘আজিজ’ থেকে ‘উযযা’ বের করা।

৫_ আল্লাহ তাআলাকে এমন গুণাবলীতে ভূষিত করা যা তাঁর শানের উপযোগী নয় এবং যা থেকে তিনি পবিত্র, যেমন ইহুদিদের উক্তি: আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টির কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং শনিবার বিশ্রাম নিয়েছেন, অথবা তাদের দাবি: আল্লাহ অভাবগ্রস্ত।

এই বিষয়ের প্রতিটি বিচ্যুতিই ‘ইলহাদ’ বা সত্যবিচ্যুতির অন্তর্ভুক্ত এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌التعطيل، والتمثيل، والتشبيه، والتكييف

1_ التعطيل: التعطيل في اللغة: مأخوذ من العطل، الذي هو الخلو والفراغ والترك، ومنه قوله _ تعالى _: {وَبِئْرٍ مُعَطَّلَةٍ} [الحج: 45] ، أي: أهملها أهلها، وتركوا وردها 1.

وفي الاصطلاح: هو إنكار ما يجب لله _ تعالى _ من الأسماء والصفات، أو إنكار بعضه، وهو نوعان:

أ_تعطيل كلي: كتعطيل الجهمية الذين أنكروا الصفات، وغلاتهم ينكرون الأسماء _ أيضاً _.

ب_تعطيل جزئي: كتعطيل الأشعرية الذين ينكرون بعض الصفات دون بعض، وأول من عرف بالتعطيل من هذه الأمة الجعد بن درهم2.

2_ التمثيل: وهو في اللغة: إثبات مثيل للشيء.

وفي الاصطلاح: اعتقاد أن صفات الله أو ذاته مثل صفات المخلوقين أو ذواتهم.

3_ التشبيه: إثبات مشابه للشيء.

وفي الاصطلاح: اعتقاد أن صفات الله أو ذاته تشبه صفات المخلوقين أو ذواتهم.

--------------------------------------------

1_ شرح العقيدة الواسطية، للهراس ص67.

2_ انظر فتح رب البرية، ص15_16.
তাতীল, তামসীল, তাশবীহ এবং তাকয়ীফ

১_ তাতীল: আভিধানিক অর্থে: তাতীল শব্দটি ‘আতল’ থেকে গৃহীত, যার অর্থ শূন্যতা, রিক্ততা ও পরিত্যাগ করা। এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {এবং পরিত্যক্ত কূপ} [আল-হাজ: ৪৫], অর্থাৎ: এর বাসিন্দারা এটিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছে এবং এর থেকে পানি গ্রহণ করা বন্ধ করে দিয়েছে। ১

পারিভাষিক অর্থে: আল্লাহ তাআলার জন্য সাব্যস্ত করা ওয়াজিব এমন নাম ও গুণাবলিকে অস্বীকার করা, অথবা এর আংশিক অস্বীকার করা। এটি দুই প্রকার:

ক_ পূর্ণ তাতীল: যেমন জাহমিয়্যাদের তাতীল, যারা আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করে; এমনকি তাদের চরমপন্থীরা নামসমূহকেও অস্বীকার করে।

খ_ আংশিক তাতীল: যেমন আশআরীয়াদের তাতীল, যারা কিছু গুণাবলি অস্বীকার করে এবং কিছু সাব্যস্ত করে। এই উম্মতের মধ্যে সর্বপ্রথম যার পক্ষ থেকে তাতীলের মতবাদ প্রকাশ পায় সে হলো জা’দ ইবনে দিরহাম। ২

২_ তামসীল: আভিধানিক অর্থে এটি হলো: কোনো বস্তুর হুবহু সমতুল্য সাব্যস্ত করা।

পারিভাষিক অর্থে: এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহর গুণাবলি বা তাঁর সত্তা সৃষ্টির গুণাবলি বা সত্তার মতো।

৩_ তাশবীহ: কোনো বস্তুর সাদৃশ্য সাব্যস্ত করা।

পারিভাষিক অর্থে: এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহর গুণাবলি বা তাঁর সত্তা সৃষ্টির গুণাবলি বা সত্তার সদৃশ।

--------------------------------------------

১_ শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ, আল-হাররাস, পৃষ্ঠা ৬৭।

২_ দেখুন ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৫-১৬।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১০)
والفرق بين التمثيل والتشبيه أن التمثيل مساواة من كل وجه، أما التشبيه فمساواة في بعض الصفات.

وقد يطلق أحدهما على الآخر.

4_التكييف: حكاية كيفية الصفة كقول القائل: يد الله أو نزوله إلى الدنيا كذا وكذا، أو يده طويلة، أو غير ذلك، أو أن يسأل عن صفات الله بكيف.
তামসিল এবং তাশবিহ-এর মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে, তামসিল হলো সর্বতোভাবে সমতা বিধান করা, আর তাশবিহ হলো কিছু বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে সমতা বিধান করা।

কখনও কখনও একটিকে অন্যটির অর্থেও ব্যবহার করা হয়।

৪_তাকিয়িফ: গুণের ধরণ বর্ণনা করা, যেমন কোনো বক্তার উক্তি: আল্লাহর হাত কিংবা দুনিয়ার আকাশে তাঁর নেমে আসা এমন এমন, অথবা তাঁর হাত লম্বা, অথবা অন্য কিছু; কিংবা আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে ‘কেমন’ বলে প্রশ্ন করা।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌التفويض

التفويض داخل ضمن الإلحاد في أسماء الله وأفرد ههنا لأن فيه مزيد حديث، وفيما يلي خلاصة عنه.

1_ التفويض في اللغة يدور حول عدة معان منها: الرد إلى الشيء، والتحكيم فيه، والتوكيل.

وفي باب الأسماء والصفات: هو الحكم بأن معاني نصوص الصفات مجهولة غير معقولة، لا يعلمها إلا الله.

أو هو إثبات الصفات، وتفويض المعنى والكيفية.

2_ القائلون بالتفويض صنفان:

أ_ صنف يزعمون: أن ظواهر النصوص تقتضي التمثيل، فيحكمون بأن المراد خلاف ظاهرها، وأنه غير مراد.

ب_ وصنف يقولون: تُجرى على ظاهرها، ولها تأويلٌ يخالف الظاهر لا يعلمه إلا الله، وهؤلاء متناقضون.

3_ ظهور مقالة التفويض:

ظهرت بوادر التفويض في مطلع القرن الرابع لأسباب منها:

أ_ الفهم الخاطئ لمذهب السلف؛ حيث ظن أهل التفويض أن السلف يفوضون المعنى والكيفية مع أن السلف يثبتون المعنى، ويفوضون الكيفية.

ب_ الاعتماد على الأصول الفلسفية اليونانية في تقرير الأسماء والصفات، واستعمال مصطلحاتهم كالجسم، والحيِّز.
তাফওয়িদ (অর্পণ করা)

তাফওয়িদ আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে ইলহাদ বা বিচ্যুতি-বিকৃতির অন্তর্ভুক্ত এবং এখানে একে স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। নিম্নে এর একটি সংক্ষিপ্তসার প্রদান করা হলো।

১_ আভিধানিক অর্থে তাফওয়িদ শব্দটি কয়েকটি অর্থের চারপাশে আবর্তিত হয়, যেমন: কোনো কিছুকে (মূলের দিকে) ফিরিয়ে দেওয়া, কোনো বিষয়ে ফয়সালা করার অধিকার প্রদান করা এবং প্রতিনিধি নিযুক্ত করা।

আর আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর (আসমা ওয়া সিফাত) অধ্যায়ে এর পরিভাষিক অর্থ হলো: গুণাবলী সম্পর্কিত দলিলসমূহের অর্থ অজ্ঞাত ও অবোধগম্য বলে ফয়সালা দেওয়া, যা আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানেন না।

অথবা এটি হলো আল্লাহর গুণাবলী সাব্যস্ত করা এবং এর অর্থ ও ধরণ (কাইফিয়াত) উভয়টির ভার আল্লাহর ওপর অর্পণ করা।

২_ তাফওয়িদ মতবাদে বিশ্বাসীরা দুই প্রকার:

ক_ এক প্রকার লোক দাবি করে যে: দলিলসমূহের বাহ্যিক অর্থ সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য স্থাপনের দাবি রাখে, তাই তারা হুকুম দেয় যে এর উদ্দেশ্য বাহ্যিক অর্থের বিপরীত এবং বাহ্যিক অর্থটি এখানে উদ্দেশ্য নয়।

খ_ অন্য প্রকার লোক বলে থাকে: এগুলোকে বাহ্যিক অর্থের ওপরই বহাল রাখা হবে, তবে এগুলোর এমন এক ব্যাখ্যা (তাউয়িল) রয়েছে যা বাহ্যিক অর্থের পরিপন্থী এবং আল্লাহ ছাড়া কেউ তা জানেন না; এই শ্রেণির লোকেরা স্ববিরোধী।

৩_ তাফওয়িদ মতবাদের উদ্ভব:

চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর প্রারম্ভে কিছু কারণে তাফওয়িদ মতবাদের প্রাথমিক লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়, তন্মধ্যে রয়েছে:

ক_ সালাফদের মাজহাব বা মতাদর্শ সম্পর্কে ভুল উপলব্ধি; যেখানে তাফওয়িদপন্থীরা ধারণা করেছিল যে সালাফগণ গুণের অর্থ ও ধরণ উভয়টিই আল্লাহর ওপর সোপর্দ করতেন, অথচ সালাফগণ অর্থ সাব্যস্ত করতেন এবং কেবল ধরণের (কাইফিয়াত) ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিতেন।

খ_ আল্লাহর নাম ও গুণাবলী নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রিক দার্শনিক মূলনীতির ওপর নির্ভর করা এবং তাদের ব্যবহৃত পরিভাষা যেমন দেহ (জিসম) ও স্থান (হাইয়িজ) ইত্যাদি ব্যবহার করা।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১২)
جـ _ دعوى الخوف على عقائد العوام.

4_ أمور ساعدت على ظهور مقالة التفويض:

ساعد على ظهور مقالة التفويض أمور منها:

أ_ وقوعها من بعض الأئمة المشهورين برواية الحديث كالخطابي، والبيهقي، وأبي يعلى.

ب_ انحياز أحد أئمة التأويل _ وهو أبو المعالي الجويني _ إلى التفويض في آخر حياته.

جـ _ الفتيا بإلزام العوام بمذهب التفويض وأنه لا يسعهم إلا ذلك.

د_ استفاضة نسبة التفويض إلى السلف، وتقرير ذلك في كتب المقالات والملل.

5_ عمدة أهل التفويض في استدلالهم على مذهبهم بالقرآن هو الوقف على قوله _ تعالى _: {وَمَاْ يَعْلَمُ تَأْوِيْلَهُ إِلَاّ الله} فبنوا شبهتهم على مقدمتين:

أ_ أن آيات الصفات من المتشابه.

ب_أن التأويل الذي في الآية يُقصد به صرف اللفظ عن ظاهره إلى معنى يخالف الظاهر.

والنتيجة: أن لآيات الصفات معنىً يخالف الظاهر لا يعلمه إلا الله.

ولقد غلطوا في المقدمتين؛ فآيات الصفات من المحكم معناه، المتشابه في كيفيته وحقيقته.

والتأويل في الآية له قراءتان مشهورتان عن السلف؛ فعلى الوقف يكون بمعنى الحقيقة والكيفية، وعلى قراءة الوصل يكون التأويل بمعنى التفسير.
গ- সাধারণ মানুষের আকিদা সম্পর্কে আশঙ্কার দাবি।

৪_ তাফবীদ মতবাদ আবির্ভূত হওয়ার পেছনে সহায়তাকারী বিষয়সমূহ:

তাফবীদ মতবাদ আবির্ভূত হওয়ার পেছনে বেশ কিছু বিষয় সাহায্য করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

ক- হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সুপরিচিত কিছু ইমামদের থেকে এর প্রকাশ পাওয়া, যেমন খাত্তাবী, বায়হাকী এবং আবু ইয়ালা।

খ- তাবীল (ব্যাখ্যা) এর অন্যতম ইমাম—যিনি হলেন আবুল মাআলী আল-জুওয়াইনী—তার জীবনের শেষ দিকে তাফবীদের দিকে ঝুঁকে পড়া।

গ- সাধারণ মানুষকে তাফবীদ মাযহাব গ্রহণে বাধ্য করার ব্যাপারে ফতোয়া প্রদান এবং এটি ব্যতীত তাদের জন্য অন্য কোনো অবকাশ নেই বলে সাব্যস্ত করা।

ঘ- সালাফদের দিকে তাফবীদের নিসবত (সম্পর্কযুক্তকরণ) করার ব্যাপকতা এবং বিভিন্ন মতবাদ ও ধর্মতত্ত্বের (মাকালাত ও মিলাল) কিতাবসমূহে এর স্বীকৃতি দান।

৫_ কুরআন থেকে নিজেদের মাযহাবের সপক্ষে দলীল পেশ করার ক্ষেত্রে আহলে তাফবীদের মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর থামা: {এবং তার তা'বীল আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না}। তারা তাদের এই সংশয়কে দুটি ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে দাড় করিয়েছে:

ক- সিফাত বা গুণাবলী সম্পর্কিত আয়াতসমূহ মুতাশাবিহ এর অন্তর্ভুক্ত।

খ- আয়াতে উল্লিখিত 'তা'বীল' শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শব্দকে তার প্রকাশ্য অর্থ থেকে সরিয়ে এমন এক অর্থের দিকে নিয়ে যাওয়া যা প্রকাশ্য অর্থের বিপরীত।

ফলাফল: সিফাতের আয়াতসমূহের এমন এক অর্থ আছে যা প্রকাশ্য অর্থের বিপরীত এবং যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।

অথচ তারা উভয় ভূমিকাতেই ভুল করেছে; কারণ সিফাতের আয়াতসমূহ অর্থের দিক থেকে সুস্পষ্ট (মুহকাম), কিন্তু এর ধরণ (কাইফিয়্যাত) এবং প্রকৃত স্বরূপের (হাকীকত) দিক থেকে মুতাশাবিহ।

আয়াতে বর্ণিত 'তা'বীল' এর ব্যাপারে সালাফদের থেকে দুটি প্রসিদ্ধ পঠনরীতি রয়েছে; থামার (ওয়াকফ) সূরতে এর অর্থ হবে প্রকৃত স্বরূপ ও ধরণ, আর মিলিয়ে পড়ার (ওয়াসল) রীতি অনুযায়ী তা'বীল এর অর্থ হবে ব্যাখ্যা (তাফসীর)।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
والتأويل في كلٍّ من القراءتين ليس بمعنى التأويل المُحْدَث الذي هو صرف اللفظ عن ظاهره إلى معنى يخالف الظاهر.

6_ لوازم على مذهب التفويض:

يلزم على مذهب التفويض لوازم باطلة لا محيد عنها، منها القدح في حكمة الرب، والوقوع في تعطيل دلالة النصوص، وسد باب التدبر، والطعن في بيان القرآن، وتجهيل الأنبياء، وسلف الأمة.

7_ التفويض مصادم للنقل والعقل 1.

وسيرد مزيد حديث عن التفويض عند الحديث عن التأويل.

--------------------------------------------

1_ إذا أردت التفصيل فارجع إلى كتاب: مذهب أهل التفويض في نصوص الصفات د. أحمد القاضي
উভয় কিরাআতের (পাঠের) ক্ষেত্রেই তাবিল বলতে সেই আধুনিক উদ্ভাবিত তাবিল বোঝানো হয়নি, যা শব্দকে তার বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে বাহ্যিক অর্থের বিপরীত কোনো অর্থের দিকে নিয়ে যায়।

৬_ তাফবীদ মতবাদের অনিবার্য পরিণামসমূহ:

তাফবীদ মতবাদের ওপর এমন কিছু অসার বিষয় অনিবার্য হয়ে পড়ে যা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার কোনো পথ নেই। তার মধ্যে রয়েছে রবের হিকমতের (প্রজ্ঞার) প্রতি অপবাদ দেওয়া, দলিলসমূহের অর্থবোধকতাকে অকার্যকর করে ফেলার মধ্যে নিপতিত হওয়া, অনুধাবনের পথ রুদ্ধ করা, কুরআনের স্পষ্ট বর্ণনার ওপর দোষারোপ করা এবং নবীগণ ও উম্মতের সালাফদের (পূর্বসূরিদের) অজ্ঞ প্রতিপন্ন করা।

৭_ তাফবীদ বর্ণনা (নাকল) এবং বিবেক-বুদ্ধির (আকল) সাথে সাংঘর্ষিক ১।

তাবিল সম্পর্কে আলোচনার সময় তাফবীদ প্রসঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

--------------------------------------------

১_ আপনি যদি বিস্তারিত জানতে চান তবে ড. আহমদ আল-কাদি রচিত 'মাযহাবু আহলিত তাফবীদ ফী নুসুইসিস সিফাত' নামক কিতাবটি দেখুন।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌التأويل

يرد مصطلح التأويل كثيراً في كتب العقائد خصوصاً في باب الأسماء والصفات، وفيما يلي نبذة وتفصيل عن هذا المصطلح.

تعريف كلمة التأويل في اللغة: أصل هذه الكلمة مادة أول.

وهذه المادة تدور حول معاني الرجوع، والعاقبة، والمصير، والتفسير.

وهذا يعني أن تأويل الكلام هو الرجوع به إلى مراد المتكلم، وإلى حقيقة ما أخبر به.

معاني التأويل في الاصطلاح: صار لفظ التأويل _ بتعدد الاصطلاحات _ مستعملاً في ثلاثة معانٍ 1:

أحدها: صرف اللفظ عن الاحتمال الراجح إلى الاحتمال المرجوح لدليل يقترن به.

وذلك مثل تأويل معنى يد الله بـ: النعمة، أو القدرة.

ومثل تأويل استواء الله على عرشه بـ: الاستيلاء، وهكذا …

وهذا المعنى من معاني التأويل هو اصطلاح كثير من المتأخرين المتكلمين في الفقه وأصوله، وهو الذي عناه أكثر من تكلم من المتأخرين في تأويل نصوص الصفات، وترك تأويلها، وهل هذا محمود أو مذموم، وحق أو باطل؟

قال ابن حزم رحمه الله في هذا المعنى من معاني التأويل: التأويل نقل اللفظ عما

--------------------------------------------

1_ انظر التدمرية لابن تيمية ص91_95.
তাবিল (ব্যাখ্যা)

'তাবিল' পরিভাষাটি আকিদাহর গ্রন্থসমূহে অনেক বেশি ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে আসমা ওয়া সিফাত (আল্লাহর নাম ও গুণাবলি) অধ্যায়ে। নিচে এই পরিভাষাটি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও বিস্তারিত আলোচনা দেওয়া হলো।

অভিধানে 'তাবিল' শব্দের সংজ্ঞা: এই শব্দটির মূল উপাদান বা ধাতু হলো 'আ-ওয়া-লা'।

এই ধাতুটি মূলত ফিরে আসা, পরিণতি, গন্তব্য এবং ব্যাখ্যার অর্থকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।

এর অর্থ হলো, কোনো কথার 'তাবিল' করা মানে হলো সেই কথাকে বক্তার উদ্দেশ্য এবং তিনি যে সংবাদ দিয়েছেন তার হাকিকত বা বাস্তবতার দিকে ফিরিয়ে নেওয়া।

পারিভাষিক অর্থে 'তাবিল'-এর অর্থসমূহ: পরিভাষার ভিন্নতা অনুযায়ী 'তাবিল' শব্দটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয় ১:

প্রথমটি: কোনো দলিলে বা প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো শব্দকে তার প্রবল বা প্রকাশ্য অর্থ থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল বা অপ্রকাশ্য অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া।

যেমন 'আল্লাহর হাত'-এর অর্থকে 'নিয়ামত' বা 'ক্ষমতা' দ্বারা তাবিল করা।

এবং আরশের উপর আল্লাহর উঠা-এর তাবিলকে 'কর্তৃত্ব গ্রহণ' দ্বারা করা, এবং এই জাতীয় আরও উদাহরণ... …

তাবিল-এর এই অর্থটি পরবর্তী যুগের ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রের অনেক মুতাকাল্লিমিনের (কালামশাস্ত্রবিদ) পরিভাষা। পরবর্তী যুগের যারা সিফাত বা গুণাবলি বিষয়ক নصوص বা বর্ণনাগুলোর তাবিল করা বা না করা নিয়ে আলোচনা করেছেন, এবং এটি কি প্রশংসনীয় না নিন্দনীয়, সত্য না কি মিথ্যা—সে বিষয়ে কথা বলেছেন, তাদের অধিকাংশের উদ্দেশ্য ছিল এই অর্থটিই।

ইমাম ইবনে হাজম রহিমাহুল্লাহ তাবিলের এই অর্থের ক্ষেত্রে বলেন: তাবিল হলো কোনো শব্দকে তার নির্ধারিত অর্থ থেকে সরিয়ে...

--------------------------------------------

১_ দেখুন ইবনে তাইমিয়্যাহর আত-তাদমুরিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৯১-৯৫।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
اقتضاه ظاهره، وعما وضع له في اللغة إلى معنى آخر؛ فإن كان نقله قد صح ببرهان، وكان ناقِلُه واجبَ الطاعة _ فهو حق.

وإن كان نقله بخلاف ذلك اطُّرح، ولم يلتفت إليه، وحُكم لذلك النقل بأنه باطل 1.

شروط التأويل الصحيح: يشترط لصحة التأويل بمعناه عند المتأخرين شروط هي:

1_ أن يكون اللفظ المرادُ تأويله يحتمله المعنى المؤول لغة أو شرعا؛ فلا يصح _على هذا_ تأويلات الباطنية التي لا مستند لها في اللغة أو الشرع، بل ولا العقل.

2_ أن يكون السياق محتملاً، مثل لفظ النظر فهو يَحْتَمل معانيَ في اللغة، ولكنه إذا عدِّي بـ: إلى لا يحتمل إلا الرؤية.

3_ أن يقوم الدليل على أن المراد هو المعنى المؤول.

4_ أن يسلم دليل التأويل من معارض أقوى؛ فإذا اختل شرط من الشروط فهو تأويل فاسد.

مثال للتأويل الصحيح:

قال الله _ عز وجل _: {نَسُواْ اللهَ فَنَسِيَهُمْ} [التوبة: 67] .

فقد ثبت عن ابن عباس _ رضي الله عنهما _ أن النسيان هنا هو الترك.

وقد دل على هذا التأويل تصريحاً قوله _ تعالى _: {وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيّاً} [مريم: 64] .

--------------------------------------------

1_ الإحكام لابن حزم 1/43.
যা এর বাহ্যিক অর্থ দাবি করে এবং আভিধানিক ব্যবহার থেকে সরিয়ে অন্য অর্থে পরিবর্তন করা; যদি এই পরিবর্তন দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় এবং এর প্রবক্তা আনুগত্যযোগ্য কেউ হন, তবে তা সত্য।

আর যদি এই পরিবর্তন এর বিপরীত হয় তবে তা বর্জন করা হবে এবং এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে না, আর সেই বর্ণনাকে বাতিল বলে রায় দেওয়া হবে ১।

সঠিক ব্যাখ্যার (তাবিল) শর্তাবলি: পরবর্তী আলিমদের পরিভাষায় ব্যাখ্যার বিশুদ্ধতার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে, সেগুলো হলো:

১_ যে শব্দটির ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, আভিধানিক বা শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে সেই ব্যাখ্যাটি গ্রহণ করার সম্ভাবনা ওই শব্দের মধ্যে থাকতে হবে; সুতরাং এই ভিত্তিতে বাতিনিয়াদের ওইসব ব্যাখ্যা সঠিক নয় যার কোনো ভিত্তি ভাষা, শরয়ি বিধান এমনকি যুক্তিতেও নেই।

২_ প্রেক্ষাপটটি সেই অর্থের অনুকূলে হতে হবে, যেমন 'দৃষ্টিপাত' (নাজর) শব্দটি; এটি ভাষায় বিভিন্ন অর্থ বহন করে, কিন্তু যখন এটি 'দিকে' (ইলা) অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি সরাসরি দেখা ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ বহন করে না।

৩_ ব্যাখ্যাকৃত অর্থটিই এখানে উদ্দেশ্য—এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দলিল থাকতে হবে।

৪_ ব্যাখ্যার দলিলটি যেন এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো বিরোধী দলিল থেকে মুক্ত থাকে; যদি এসব শর্তের কোনো একটির ব্যত্যয় ঘটে তবে তা ভ্রান্ত ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য হবে।

সঠিক ব্যাখ্যার উদাহরণ:

মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে, ফলে তিনিও তাদের ভুলে গিয়েছেন} [আত-তাওবাহ: ৬৭]।

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে প্রমাণিত যে, এখানে 'ভুলে যাওয়া' অর্থ হলো 'পরিত্যাগ করা'।

আর এই ব্যাখ্যার সপক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণীটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ পেশ করে: {এবং আপনার প্রতিপালক বিস্মৃত হওয়ার নন} [মারইয়াম: ৬৪]।

--------------------------------------------

১_ ইবনে হাজম কৃত আল-ইহকাম ১/৪৩।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقوله: {فِي كِتَابٍ لا يَضِلُّ رَبِّي وَلا يَنسَى} [طه: 52] 1.

حكم التأويل بمعناه الحادث عند المتأخرين:

1_ قد يكون صحيحاً إذا اجتمعت فيه الشروط _ كما مر _.

2_ قد يكون خطأ كتأويلات بعض العلماء الذين أخطأوا في تأويل بعض نصوص الصفات.

3_ قد يكون بدعة كتأويلات الأشاعرة، والمعتزلة.

4_ قد يكون كفراً كتأويلات الباطنية.

سبب ظهور مصطلح التأويل:

يبدو أن ذلك كان إبان ظهور القول بالمجاز الذي هو قسيم الحقيقة.

ومن هنا فإن مصطلحي: التأويل والمجاز متلازمان.

المعنى الثاني من معاني التأويل: التفسير:

التفسير في اللغة: أصل هذه الكلمة مادة: فسر.

وهذه المادة تدور في لغة العرب حول معنى البيان، والكشف، والوضوح2.

التفسير في الاصطلاح: هو بيان المعنى الذي أراده الله بكلامه 3.

وعرفه ابن جُزي رحمه الله بقوله: "معنى التفسير: شرح القرآن، وبيان معناه، والإفصاح عما يقتضيه بنصه، أو إشارته" 4.

--------------------------------------------

1_ انظر إرشاد الفحول للشوكاني ص177، والتوضيحات الأثرية على متن الرسالة التدمرية للشيخ فخر الدين المحيسي ص185.

2_ انظر معجم مقاييس اللغة لابن فارس 4/504.

3_ انظر مفهوم التفسير والتأويل د. مساعد الطيار ص54.

4_ التسهيل لعلوم التنزيل لابن جزي 1/6.
এবং তাঁর বাণী: {এক কিতাবে সংরক্ষিত, আমার রব ভুল করেন না এবং তিনি বিস্মৃত হন না} [ত্বহা: ৫২] ১।

পরবর্তী আলেমদের নিকট এর নব উদ্ভাবিত অর্থে তাবিলের (ব্যাখ্যার) বিধান:

১_ এটি সঠিক হতে পারে যদি এতে শর্তাবলি পূর্ণ হয় — যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

২_ এটি ভুল হতে পারে, যেমন সেই সমস্ত আলেমদের ব্যাখ্যা যারা সিফাত বা গুণাবলি সম্পর্কিত কিছু দলিলের ব্যাখ্যায় ভুল করেছেন।

৩_ এটি বিদআত হতে পারে, যেমন আশআরি এবং মুতাজিলাদের ব্যাখ্যা।

৪_ এটি কুফর হতে পারে, যেমন বাতেনি ফের্কার ব্যাখ্যা।

তাবিল পরিভাষাটি প্রকাশের কারণ:

দৃশ্যত এটি রূপক (মাজায)-এর ধারণার আবির্ভাবের সময় ঘটেছিল, যা প্রকৃত অর্থ (হাকিকত)-এর সমান্তরাল।

এখান থেকেই তাবিল এবং মাজায পরিভাষা দুটি পরস্পর অবিচ্ছেদ্য হয়ে পড়েছে।

তাবিলের দ্বিতীয় অর্থ: তাফসির:

অভিধানে তাফসির: এই শব্দটির মূল উপাদান বা ধাতু হলো: ফা-সিন-রা।

আরবি ভাষায় এই ধাতুটি বর্ণনা করা, উন্মোচন করা এবং স্পষ্ট করার অর্থের চারপাশে আবর্তিত হয় ২।

পারিভাষিক অর্থে তাফসির: এটি হলো আল্লাহ তাঁর কালাম দ্বারা যে অর্থ উদ্দেশ্য করেছেন তার বর্ণনা ৩।

ইবনে জুযাই (রহিমাহুল্লাহ) একে সংজ্ঞায়িত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "তাফসিরের অর্থ হলো: কুরআনের ব্যাখ্যা করা, এর অর্থ বর্ণনা করা এবং এর সুস্পষ্ট পাঠ (নস) বা ইশারা যা দাবি করে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা" ৪।

--------------------------------------------

১_ দেখুন শাওকানি রচিত ইরশাদুল ফুহুল পৃষ্ঠা ১৭৭, এবং শায়খ ফখরুদ্দীন আল-মুহাইসি রচিত আত-তাওদিহাত আল-আছারিয়া আলা মাতনির রিসালাতিত তাদমুরিয়্যাহ পৃষ্ঠা ১৮৫।

২_ দেখুন ইবনে ফারিস রচিত মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ ৪/৫০৪।

৩_ দেখুন ড. মুসাঈদ আত-তাইয়ার রচিত মাফহুমুত তাফসির ওয়াত তাবিল পৃষ্ঠা ৫৪।

৪_ ইবনে জুযাই রচিত আত-তাসহিল লি উলূমিত তানজিল ১/৬।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وعرفه الزركشي رحمه الله بقوله: "علم يعرف به فهم كتاب الله المنزل على نبيه صلى الله عليه وسلم" وبيان معانيه، واستخراج حكمه وأحكامه" 1.

وهذا المعنى من معاني التأويل معنى صحيح معروف عند السلف.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في معرض حديث له عن أنواع التأويل: والثاني: أن التأويل بمعنى التفسير.

وهذا هو الغالب على اصطلاح مفسري القرآن كما يقول ابن جرير وأمثاله من المصنفين في التفسير: واختلف علماء التأويل.

ومجاهد إمام المفسرين، قال الثوري: إذا جاء التفسير عن مجاهد فحسبك به، وعلى تفسيره يعتمد الشافعي، وأحمد بن حنبل، والبخاري، وغيرهم؛ فإذا ذكر أنه يعلم تأويل المتشابه فالمراد به معرفة تفسيره2.

والنصوص الواردة عن العلماء في هذا الصدد كثيرة لا تكاد تحصر، ومنها قول الشافعي في كتابه الأم في أكثر من موضع: "وذلك _ والله أعلم _ بيِّن في التنزيل مستغنىً به عن التأويل" 3.

المعنى الثالث من معاني التأويل:

الحقيقة التي يؤول إليها الكلام: كما قال _ تعالى _: {هَلْ يَنظُرُونَ إِلَاّ تَأْوِيلَهُ يَوْمَ يَأْتِي تَأْوِيلُهُ يَقُولُ الَّذِينَ نَسُوهُ مِن قَبْلُ قَدْ جَاءتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ} [الأعراف: 53] .

--------------------------------------------

1_ البرهان للزركشي 1/13.

2_ التدمرية ص92.

3_ الأم للشافعي 7/319، وانظر 2/28 و 4/242.
ইমাম যারকাশী (রহিমাহুল্লাহ) এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "এটি এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর কিতাবের মর্মার্থ অনুধাবন করা যায়, এর অর্থসমূহ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যায় এবং এর হিকমত ও বিধানসমূহ আহরণ করা যায়।" ১।

আর তাবিলের অর্থসমূহের মধ্য থেকে এই অর্থটি সালাফদের নিকট একটি সঠিক ও পরিচিত অর্থ।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) তাবিলের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করার সময় বলেছেন: দ্বিতীয় প্রকার হলো: তাবিল অর্থ তাফসির।

আর কুরআন মফাসসিরগণের পরিভাষায় এটিই সচরাচর ব্যবহৃত হয়, যেমন ইবনে জারীর ও তাফসির শাস্ত্রের অন্যান্য সংকলকগণ বলে থাকেন: "তাবিল বিশেষজ্ঞগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন।"

আর মুজাহিদ হলেন মুফাসসিরদের ইমাম; সুফিয়ান ছাওরী বলেছেন: যখন মুজাহিদের পক্ষ থেকে কোনো তাফসির আসে, তবে তোমার জন্য সেটিই যথেষ্ট। আর তাঁর তাফসিরের ওপর ইমাম শাফেয়ী, আহমাদ বিন হাম্বল, বুখারী এবং অন্যান্যরা নির্ভর করেন। সুতরাং যখন উল্লেখ করা হয় যে তিনি মুতাশাবিহাতের তাবিল জানেন, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেটির তাফসির জানা। ২।

এ প্রসঙ্গে উলামায়ে কিরামের বর্ণিত উক্তি বা নসসমূহ এত অধিক যে তা গণনা করা প্রায় অসম্ভব। তন্মধ্যে ইমাম শাফেয়ী তাঁর কিতাবুল উম্ম-এ একাধিক স্থানে বলেছেন: "আর এটি—আল্লাহই ভালো জানেন—কুরআনে এতই স্পষ্ট যে তা তাবিলের মুখাপেক্ষী নয়।" ৩।

তাবিলের অর্থসমূহের মধ্যে তৃতীয় অর্থ:

কোনো কথার চূড়ান্ত বাস্তবতা যার দিকে কথাটি পর্যবসিত হয়; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "তারা কি কেবল এর পরিণামের প্রতীক্ষা করছে? যেদিন এর পরিণাম আসবে, সেদিন যারা ইতিপূর্বে একে ভুলে গিয়েছিল তারা বলবে: আমাদের রবের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন।" [সূরা আল-আরাফ: ৫৩]

--------------------------------------------

১- যারকাশী প্রণীত আল-বুরহান ১/১৩।

২- আত-তাদমুরিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৯২।

৩- শাফেয়ীর আল-উম্ম ৭/৩১৯, এবং দেখুন ২/২৮ ও ৪/২৪২।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وهو معنى شرعي معروف عند السلف.

وهذا النوع من التأويل: هو عين ما هو موجود في الخارج، أي أن حقيقة الشيء الموجودة في الخارج _ أي الواقع _ هي تأويله خبراً كان أم إنشاءاً.

والكلام ينقسم إلى خبر أو إنشاء، وتأويل كلٍّ منهما يختلف عن الآخر _ كما سيأتي في الفقرة التالية _.

تفصيل معنى التأويل بمعنى الحقيقة إذا كان خبراً أو إنشاءاً:

قبل الدخول في ذلك يحسن بيان معنى الخبر والإنشاء بإيجاز.

فالكلام ينقسم باعتبار دلالته _ عند المتكلمين، والأصوليين، واللغويين، وأهل المعاني من البلاغيين وغيرهم _ إلى خبر وإنشاء، وبعضهم يقول: خبر وطلب.

وذلك إذا تكلموا على دلالات الألفاظ.

تعريف الخبر: هو ما احتمل الصدق والكذب لذاته بقطع النظر عمن أضيف إليه؛ فإذا أضيف إلى الله ورسوله صلى الله عليه وسلم قطع بصدقه.

والخبر يدور بين الإثبات مثل قوله _تعالى_: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5] .

والنفي مثل قوله _تعالى_: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى: 11] .

ومن أمثلة الخبر في الإثبات جاء زيد، وفي النفي ما جاء زيد، وهكذا …

تعريف الطلب أو الإنشاء: هو ما لا يحتمل الصدق والكذب لذاته.

وذلك لأنه ليس لمدلول لفظه قبل النطق به وجود خارجي يطابقه أو لا يطابقه.
এটি সালাফদের নিকট একটি পরিচিত শরয়ী অর্থ।

আর এই প্রকারের তাবিল হলো বাস্তব জগতে যা বিদ্যমান হুবহু তাই। অর্থাৎ, বাস্তব জগতে বিদ্যমান জিনিসের হাকিকত বা বাস্তবতা — অর্থাৎ যা বাস্তব — সেটিই এর তাবিল, চাই তা সংবাদ হোক বা নির্দেশ।

কথা খবর (সংবাদ) অথবা ইনশা (নির্দেশ) এই দুই ভাগে বিভক্ত, এবং এদের প্রত্যেকের তাবিল একে অপরের থেকে ভিন্ন — যেমনটি পরবর্তী অনুচ্ছেদে আসবে —।

খবর বা ইনশা হলে হাকিকত অর্থে তাবিলের সংজ্ঞার বিস্তারিত বিবরণ:

এতে প্রবেশের পূর্বে সংক্ষেপে খবর এবং ইনশা-এর অর্থ বর্ণনা করা সমীচীন।

মুতাকাল্লিমিন, উসুলবিদ, ভাষাবিদ এবং বালাগাত শাস্ত্রের পণ্ডিত ও অন্যান্যদের নিকট অর্থের নির্দেশনার বিচারে কথা খবর এবং ইনশাতে বিভক্ত, এবং কেউ কেউ বলেন: খবর এবং তলব।

এটি তখনই যখন তারা শব্দের নির্দেশনার বিষয়ে আলোচনা করেন।

খবরের সংজ্ঞা: এটি এমন বিষয় যা স্বয়ং নিজের বিচারে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, যার দিকে একে সম্পৃক্ত করা হয়েছে তাকে বিবেচনা না করে; তবে যখন একে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়, তখন এর সত্যতা নিশ্চিত হয়ে যায়।

খবর ইতিবাচক বর্ণনার মধ্যে আবর্তিত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫] ।

এবং নেতিবাচক বর্ণনার মধ্যে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়} [শুরা: ১১] ।

ইতিবাচক খবরের উদাহরণ হলো "যায়েদ এসেছে", এবং নেতিবাচক খবরের উদাহরণ হলো "যায়েদ আসেনি", এবং এভাবেই …

তলব বা ইনশার সংজ্ঞা: এটি এমন বিষয় যা স্বয়ং নিজের বিচারে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না।

এর কারণ হলো, তা উচ্চারণের পূর্বে তার শব্দের অর্থের কোনো বাহ্যিক অস্তিত্ব থাকে না যার সাথে তা সংগতিপূর্ণ হবে বা হবে না।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ويدخل تحت الإنشاء أو الطلب أنواع عديدة أشهرها: الأمر، والنهي، والاستفهام، والتمني، والنداء.

فإذا قلت: قم، أو لا تقم، أو هل أنت قائم، أو ليتك تقوم، أو يا قائم _ كان كلامك كله داخلاً في باب الإنشاء؛ لأنه لا يحتمل الصدق والكذب لذاته.

بخلاف ما إذا قلت: جاء زيد، أو ما جاء؛ فذلك داخل في باب الخبر.

هذا وإن أشهر أنواع الإنشاء والطلب: الأمر والنهي.

هذه نبذة ميسرة عن الخبر والإنشاء والطلب، وللتفصيل موضع آخر سيأتي.

وبعد هذا نأتي إلى التأويل بمعنى الحقيقة إذا كان خبراً أو طلباً.

التأويل بمعنى الحقيقة إذا كان خبراً: تأويل الأخبار: هو حقيقتها، ونفس وجودها.

فتأويل ما أخبر الله به عن نفسه المقدسة الغنية بما لها من حقائق الأسماء والصفات هو حقيقة نفسه المقدسة المتصفة بما لها من حقائق الأسماء والصفات.

وتأويل ما أخبر الله به من الوعد والوعيد هو نفس ما يكون من الوعد والوعيد.

وتأويل قيام الساعة، وما أخبر به في الجنة من الأكل والشرب، والنكاح، هو الحقائق الموجودة أنفسها 1.

وتأويل رؤيا يوسف _عليه السلام_ هو وقوعها في الخارج، وتحققها، وهكذا …

--------------------------------------------

1_ انظر التدمرية ص96، والفتوى الحموية الكبرى لابن تيمية تحقيق د. عبد المحسن التويجري ص290.
ইনশা (নির্মাণমূলক) বা তলব (অনুরোধমূলক)-এর অধীনে অনেক প্রকার অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো: আমর (আদেশ), নাহি (নিষেধ), ইস্তিফহাম (জিজ্ঞাসা), তামান্নি (আকাঙ্ক্ষা) এবং নিদা (আহ্বান)।

সুতরাং আপনি যদি বলেন: 'দাঁড়াও', অথবা 'দাঁড়িও না', অথবা 'তুমি কি দাঁড়িয়ে আছো?', অথবা 'হায়, তুমি যদি দাঁড়াতে!', অথবা 'হে দণ্ডায়মান ব্যক্তি'—তবে আপনার এই সমস্ত কথা 'ইনশা' অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ এটি স্বত:সিদ্ধভাবে সত্য বা মিথ্যার সম্ভাবনা রাখে না।

পক্ষান্তরে আপনি যখন বলেন: 'জায়েদ এসেছে', অথবা 'সে আসেনি'; তবে তা 'খবর' (সংবাদ) অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

এটি জেনে রাখা উচিত যে, ইনশা এবং তলব-এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ প্রকার হলো: আমর (আদেশ) ও নাহি (নিষেধ)।

এটি খবর, ইনশা এবং তলব সম্পর্কে একটি সহজ সংক্ষিপ্ত বর্ণনা, আর বিস্তারিত আলোচনার জন্য অন্য একটি স্থান সামনে আসবে।

এরপর আমরা 'হাকিকত' (বাস্তব সত্য) অর্থে 'তাবিল' (পরিণতি) প্রসঙ্গে আসছি, যখন তা খবর বা তলব হিসেবে হবে।

বাস্তব সত্য অর্থে তাবিল যখন খবর (সংবাদ) হয়: সংবাদের তাবিল হলো তার হাকিকত বা বাস্তবতা এবং তার অস্তিত্বলাভ।

সুতরাং আল্লাহ তাঁর পবিত্র অমুখাপেক্ষী সত্তা সম্পর্কে তাঁর নাম ও গুণাবলির যে হাকিকতসহ সংবাদ দিয়েছেন, তার তাবিল হলো তাঁর সেই পবিত্র সত্তার বাস্তবতা যা তাঁর নাম ও গুণাবলির হাকিকতসহ বিশেষিত।

আর আল্লাহ যে পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি (ওয়াদ) এবং শাস্তির হুঁশিয়ারি (ওয়াইদ) দিয়েছেন, তার তাবিল হলো সেই পুরস্কার ও শাস্তির সরাসরি সংঘটন।

আর কিয়ামত কায়েম হওয়া এবং জান্নাতের পানাহার ও বিবাহ সম্পর্কে যা সংবাদ দেওয়া হয়েছে তার তাবিল হলো সেই বিদ্যমান বাস্তবতাগুলো নিজেই ১।

এবং ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর স্বপ্নের তাবিল হলো বাস্তবে সেটির সংঘটন ও বাস্তবায়ন, এবং এভাবেই সবকিছুর ক্ষেত্রে ...

--------------------------------------------

১_ দেখুন: আত-তাদমুরিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৯৬; এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত আল-ফাতওয়া আল-হামাউইয়্যাহ আল-কুবরা, ড. আব্দুল মুহসিন আত-তুওয়াইজারি কর্তৃক সম্পাদিত, পৃষ্ঠা ২৯০।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২০)
إلى غير ذلك من الأمثلة التي يصعب حصرها.

فهذا هو التأويل بمعنى الحقيقة إذا كان خبراً.

التأويل بمعنى الحقيقة إذا كان طلباً: الطلب: إما أن يكون أمراً، وإما أن يكون نهياً؛ فالأمر: طلب الفعل، والنهي: طلب الكف.

فإذا كان الطلب أمراً فتأويله: هو نفس الفعل المأمور به، أي امتثاله، والعمل به.

وإذا كان الطلب نهياً فتأويله: هو نفس اجتناب المنهي عنه، أي تركه.

أمثلة لتأويل الأمر:

1_ قالت عائشة _ رضي الله عنها _: كان النبي يقول في ركوعه، وسجوده: "سبحانك اللهم ربنا وبحمدك، اللهم اغفر لي يتأول القرآن 1.

وتعني بذلك قوله _تعالى_: {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّاباً} [النصر:3] .

وتريد بذلك أنه يعمل بأوامر القرآن، ويفعل ما أمر به فيه؛ حيث أمر في آخر حياته أن يسبح بحمد ربه ويستغفره، فكان يتأول القرآن، أي يعمل به، ويطبقه؛ فنفس فعله هذا هو تأويل الأمر، وهو قوله _عز وجل_: {فَسَبِّحْ} و {اسْتَغْفِرْهُ} .

2_ وعن سعيد بن جبير رحمه الله عن ابن عمر _ رضي الله عنهما _: أنه كان يصلي حيث توجهت به راحلته، ويذكر أن رسول الله كان يفعل ذلك، ويتأول هذه الآية: {فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ اللهِ} [البقرة: 115] 2.

--------------------------------------------

1_ رواه البخاري 817 ومسلم 484.

2_ تفسير الطبري 2/530.
এই ধরণের আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে যা গণনা করা কঠিন।

সুতরাং এটি হলো হাকীকত বা প্রকৃত বাস্তবতা অর্থে তাবীল, যখন তা কোনো সংবাদ হয়।

হাকীকত বা প্রকৃত বাস্তবতা অর্থে তাবীল যখন তা তলাব (দাবি) হয়: তলাব হয় আদেশসূচক হবে, নতুবা নিষেধসূচক হবে। আদেশ হলো কোনো কাজ করার দাবি, আর নিষেধ হলো কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার দাবি।

সুতরাং তলাব যদি আদেশসূচক হয়, তবে তার তাবীল হলো: যে কাজের আদেশ দেওয়া হয়েছে সেই কাজটিই করা, অর্থাৎ তার অনুসরণ করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা।

আর তলাব যদি নিষেধসূচক হয়, তবে তার তাবীল হলো: যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে নিজেকে দূরে রাখা, অর্থাৎ তা বর্জন করা।

আদেশের তাবীলের উদাহরণসমূহ:

১_ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রুকু ও সিজদায় বলতেন: "হে আল্লাহ, আমাদের রব! আপনার প্রশংসার সাথে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।" এর মাধ্যমে তিনি কুরআনের তাবীল করতেন।

আর এর দ্বারা তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী উদ্দেশ্য করেছেন: {অতএব আপনি আপনার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি অত্যন্ত তওবা কবুলকারী।} [আন-নাসর: ৩]

এর মাধ্যমে তিনি (আয়েশা) বুঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি কুরআনের আদেশ অনুযায়ী আমল করতেন এবং তাতে যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করতেন; যেহেতু তাঁর জীবনের শেষ ভাগে তাঁকে তাঁর রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করতে এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তাই তিনি কুরআনের তাবীল করতেন, অর্থাৎ তার ওপর আমল করতেন এবং তা প্রয়োগ করতেন। তাঁর এই কাজই হলো আদেশের তাবীল, যা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {পবিত্রতা ঘোষণা করুন} এবং {ক্ষমা প্রার্থনা করুন}।

২_ সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর সওয়ারি যেদিকে মুখ করত সেদিকেই সালাত আদায় করতেন এবং উল্লেখ করতেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনটি করতেন এবং এই আয়াতের তাবীল করতেন: {সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান।} [আল-বাকারা: ১১৫]

--------------------------------------------

১_ বুখারী ৮১৭ এবং মুসলিম ৪৮৪।

২_ তাবারীর তাফসীর ২/৫৩০।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২১)
ومعنى قوله: يتأول: أي يطبق ويمتثل.

3_ ومن الأمثلة على ذلك ما روي عن الثوري رحمه الله أنه بلغه أن أم ولد الربيع ابن خثيم قالت: "كان الربيع إذا جاءه السائل يقول لي: يا فلانة أعطي السائل سُكَّراً؛ فإن الربيع يحب السُّكَّر".

قال سفيان: "يتأول قوله _ عز وجل _: {لَن تَنَالُواْ الْبِرَّ حَتَّى تُنفِقُواْ مِمَّا تُحِبُّونَ} [آل عمران: 92] " 1.

أي يمتثل أمر الله _ عز وجل _ في الإنفاق مما يحبه الإنسان.

والأمثلة على ذلك كثيرة جداً مثل قوله _ تعالى _: {وَأَقِيمُواْ الصَّلَاةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ} [البقرة: 43] .

فتأويل ذلك إقامة الصلاة وإيتاء الزكاة، وهكذا …

فهذا _ إذاً _ هو تأويل الأمر بمعنى حقيقته.

أمثلة لتأويل النهي:

1_ قال الله _ تعالى _: {وَلَا تَقْرَبُواْ الزِّنَى} [الإسراء: 32] .

فتأويل ذلك البعد عن قربان الزنا.

2_ وقل مثل ذلك في قوله _ عز وجل _: {وَلَا تَقْرَبُواْ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلَا تَقْتُلُواْ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلَاّ بِالْحَقِّ} [الأنعام: 151] .

وهكذا …

مثال يجمع بين تأويل الأمر والنهي والخبر: قال الله _ تعالى _ مخاطباً أم

--------------------------------------------

1_ الجامع لأحكام القرآن للقرطبي 4/133.
এবং তাঁর কথার অর্থ: ‘তাবিল করা’: অর্থাৎ প্রয়োগ করা এবং পালন করা।

৩_ এর একটি উদাহরণ হলো যা সাওরি (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে রাবি' ইবনে খুসাইম-এর সন্তানের মা বলেছেন: "রাবি'-এর কাছে যখন কোনো সাহায্যপ্রার্থী আসত, তখন তিনি আমাকে বলতেন: হে অমুক! সাহায্যপ্রার্থীকে চিনি দাও; কারণ রাবি' চিনি পছন্দ করে।"

সুফিয়ান বলেন: "তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর তাবিল (বাস্তবায়ন) করতেন: {তোমরা কক্ষনো পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তা হতে ব্যয় করো যা তোমরা ভালোবাসো} [আল ইমরান: ৯২]" ১।

অর্থাৎ মানুষ যা ভালোবাসে তা থেকে ব্যয় করার ব্যাপারে মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন করা।

আর এর উদাহরণ অনেক রয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো} [আল-বাকারা: ৪৩]।

সুতরাং এর তাবিল হলো সালাত কায়েম করা এবং জাকাত প্রদান করা, আর এভাবেই …

অতএব, এটাই হলো নির্দেশের তাবিল তার প্রকৃত বাস্তব রূপ অনুযায়ী।

নিষেধের তাবিলের উদাহরণসমূহ:

১_ মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না} [আল-ইসরা: ৩২]।

সুতরাং এর তাবিল হলো ব্যভিচারের নিকটবর্তী হওয়া থেকে দূরে থাকা।

২_ অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রেও বলো: {তোমরা অশ্লীল কাজের নিকটবর্তী হয়ো না, চাই তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন, এবং আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে সংগত কারণ ছাড়া হত্যা করো না} [আল-আনআম: ১৫১]।

আর এভাবেই …

আদেশ, নিষেধ এবং সংবাদের তাবিলকে একত্রিত করে এমন একটি উদাহরণ: মহান আল্লাহ সম্বোধন করে বলেছেন...

--------------------------------------------

১_ আল-জামি' লি-আহকামিল কুরআন, কুরতুবি ৪/১৩৩।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২২)
موسى _عليه السلام_: {وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلا تَخَافِي وَلا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنْ الْمُرْسَلِينَ} [القصص:7] .

فهذه الآية الكريمة اشتملت على أمرين، ونهيين، وخبرين؛ فالأمران في قوله _تعالى_: {أَرْضِعِيهِ} ، وقوله: {فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ} .

وتأويل الأمرين إرضاعها لموسى، وإلقاؤه في اليم.

والنهيان في قوله _ تعالى _: {وَلا تَخَافِي وَلا تَحْزَنِي} .

وتأويلهما ترك الخوف، وترك الحزن.

وقد فعلت ما تستطيع وإن كان فؤادها قد أصبح فارغاً، وكادت أن تبدي به لولا أن ربط الله على قلبها.

والخبران في البشارتين في قوله _ تعالى _: {إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنْ الْمُرْسَلِينَ} .

وتأويل هذين الخبرين وقوعهما في الخارج؛ حيث عاد موسى إلى أمه، وصار من المرسلين.

الفرق بين تأويل الخبر، وتأويل الطلب:

الفرق هو أن الخبر لا يلزم من تأويله _أي وقوعه_ العلم به؛ فهو واقع وإن لم يُعْلم به؛ فأشراط الساعة وأحوالها ستقع وإن لم يُعْلم بها.

وكذلك حقائق أسماء الله وصفاته هي حقيقة وإن لم يُعْلم بها.

فلا يلزم _إذاً_ من تأويل الخبر العلم به.
মূসা (আলাইহিস সালাম): {আর আমি মূসার মাতাকে প্রত্যাদেশ করলাম যে, তাকে দুধ পান করাও। তারপর যখন তুমি তার ব্যাপারে আশঙ্কা করবে, তখন তাকে নদীতে নিক্ষেপ করো এবং ভয় পেয়ো না ও দুশ্চিন্তা করো না। নিশ্চয়ই আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করব।} [আল-কাসাস: ৭]।

এই মহিমান্বিত আয়াতটি দুটি আদেশ, দুটি নিষেধ এবং দুটি সংবাদকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। মহান আল্লাহ তাআলার বাণীতে আদেশ দুটি হলো: {তাকে দুধ পান করাও} এবং {তাকে নদীতে নিক্ষেপ করো}।

আর এই আদেশ দুটির বাস্তব রূপ (তাউয়ীল) হলো মূসাকে তাঁর দুধ পান করানো এবং তাঁকে নদীতে নিক্ষেপ করা।

আর মহান আল্লাহ তাআলার বাণীতে নিষেধ দুটি হলো: {ভয় পেয়ো না এবং দুশ্চিন্তা করো না}।

আর এই নিষেধ দুটির বাস্তব রূপ হলো ভয় ও দুশ্চিন্তা বর্জন করা।

তিনি তাঁর সাধ্যমতো তা পালন করেছিলেন, যদিও তাঁর অন্তর ব্যাকুল হয়ে পড়েছিল এবং তিনি তা প্রকাশ করে দেওয়ার উপক্রম করেছিলেন, যদি না আল্লাহ তাঁর অন্তরে দৃঢ়তা দান করতেন।

আর মহান আল্লাহ তাআলার বাণীতে সুসংবাদ সম্বলিত খবর দুটি হলো: {নিশ্চয়ই আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করব}।

আর এই খবর দুটির বাস্তব রূপ হলো বাস্তবে তাদের সংঘটিত হওয়া; যেখানে মূসা তাঁর মায়ের কাছে ফিরে এসেছিলেন এবং রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন।

সংবাদের (খবর) বাস্তব রূপ এবং নির্দেশের (তলাব) বাস্তব রূপের মধ্যে পার্থক্য:

পার্থক্যটি হলো, সংবাদের বাস্তব রূপ—অর্থাৎ এর সংঘটিত হওয়ার জন্য—তা আগে থেকে জানা থাকা আবশ্যক নয়; বরং তা অজানাসারেও সংঘটিত হতে পারে। কিয়ামতের আলামত ও এর অবস্থাসমূহ সংঘটিত হবে যদিও তা সম্পর্কে অবগত হওয়া না যায়।

একইভাবে আল্লাহর নাম ও আল্লাহর গুণাবলির প্রকৃত স্বরূপ একটি বাস্তবতা, যদিও তা (মানুষের জ্ঞানের পরিমণ্ডলে) না আসে।

সুতরাং, কোনো সংবাদের বাস্তব রূপের জন্য তা সম্পর্কে আগে থেকে জ্ঞান থাকা আবশ্যক নয়।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
أما الطلب فلابد في تأويله من معرفته والعلم به؛ ليُفعل أو يُجتنب؛ فإن كان الطلب أمراً فلابد في إيقاعه وفعله وامتثاله من معرفة العلم به سواء كان واجباً كإقامة الصلاة، أو مستحباً كالسواك.

وإن كان الطلب نهياً فلابد من معرفته والعلم به؛ ليجتنب سواء كان النهي للتحريم أو الكراهة.

توجيه قراءتي آية آل عمرآن:

قال الله _ عز وجل _: {هُوَ الَّذِيَ أَنزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُّحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ في قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاء الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاء تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَاّ اللهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِّنْ عِندِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَاّ أُوْلُواْ الألْبَابِ} [آل عمران: 7] .

قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "وجمهور سلف الأمة وخلفها على أن الوقف عند قوله: {وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَاّ اللهُ} .

وهذا هو المأثور عن أُبَي بن كعب وابن مسعود وابن عباس وغيرهم.

وروي عن ابن عباس أنه قال: "التفسير على أربعة أوجه:

تفسير تعرفه العرب1من كلامها، وتفسير لا يعذر أحد بجهالته2، وتفسير

--------------------------------------------

1_ هو تفسير مفردات اللغة كمعرفة القرء، والنمارق، والناس، والليل، والنهار، والشمس، والقمر وغيرها.

2_ هو تفسير الآيات المكلف بها اعتقاداً كمعرفة الله، وتوحيده، واليوم الآخر، والإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وعملاً كمعرفة الطهارة، وكيفية الصلاة، وغيرها.
পক্ষান্তরে তলব বা চাহিদার ক্ষেত্রে, তার মর্মোদ্ধার ও জ্ঞান থাকা আবশ্যক; যাতে তা পালন করা যায় অথবা বর্জন করা যায়। যদি তলব বা চাহিদাটি আদেশসূচক হয়, তবে তা কার্যকর করা, সম্পাদন করা এবং আনুগত্য করার জন্য সে সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অপরিহার্য; চাই তা ওয়াজিব হোক—যেমন সালাত কায়েম করা, অথবা মুস্তাহাব হোক—যেমন মিসওয়াক করা।

আর যদি তলব বা চাহিদাটি নিষেধসূচক হয়, তবে তা বর্জন করার জন্য সে সম্পর্কে জানা ও জ্ঞান থাকা আবশ্যক; চাই সেই নিষেধ তাহরিমি (হারাম) হোক অথবা কারাহাত (মাকরূহ) হোক।

সূরা আল-ইমরানের আয়াতের দুই প্রকার কিরাআত বা পাঠরীতির বিশ্লেষণ:

মহান আল্লাহ বলেন: {তিনিই আপনার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার কিছু আয়াত ‘মুহকাম’ (সুস্পষ্ট), সেগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো ‘মুতাশাবিহ’ (অস্পষ্ট বা রূপক)। অতএব যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহ আয়াতগুলোর অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে, 'আমরা এতে ঈমান এনেছি, এ সমস্তই আমাদের রবের পক্ষ থেকে আগত।' আর বুদ্ধিমানগণ ছাড়া অন্য কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।} [আল-ইমরান: ৭] ।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: "উম্মতের অধিকাংশ সালাফ ও খালাফ এই মত পোষণ করেন যে, বিরতি বা থামা হবে আল্লাহর এই বাণীর নিকট: {আর আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না}।

আর এটিই উবাই ইবনে কাব, ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে।

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "তাফসীর চার প্রকার:

এমন তাফসীর যা আরবরা তাদের ভাষার মাধ্যমে জানে১, এমন তাফসীর যা না জানার ক্ষেত্রে কারো কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়২, এবং এমন তাফসীর...

--------------------------------------------

১_ এটি হলো ভাষার শব্দার্থের ব্যাখ্যা, যেমন ‘কুরউ’, ‘নামারিক’, ‘নাস’, ‘লাইল’, ‘নাহার’, ‘শামস’, ‘কামার’ এবং অন্যান্য শব্দের অর্থ জানা।

২_ এটি হলো সেই সকল আয়াতের ব্যাখ্যা যা মানুষের আকিদা ও আমলের ক্ষেত্রে পালনীয়; আকিদাগতভাবে যেমন আল্লাহর পরিচয়, তাঁর তাওহীদ, পরকাল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনা; আর আমলগতভাবে যেমন পবিত্রতা অর্জন, সালাত আদায়ের পদ্ধতি এবং অন্যান্য বিষয়।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
يعلمه العلماء1، وتفسير لا يعلمه إلا الله2 من ادعى علمه فهو كاذب".

وقد روي عن مجاهد وطائفة أن الراسخين في العلم يعلمون تأويله، وقد قال مجاهد: عرضت المصحف على ابن عباس من فاتحته إلى خاتمته أقف عند كل آية فأسأله عن تفسيرها.

ولا منافاة بين القولين عند التحقيق"3.

ويعني بالقولين القراءتين: الوقف على قوله: {إِلَاّ اللهُ} والوصل.

وقال في موضع آخر موجهاً كلتا القراءتين: "وكلا القولين حق باعتبار كما قد بسطناه في مواضع أُخَر، ولهذا نقل عن ابن عباس هذا وهذا وكلاهما حق"4.

وخلاصة القول في توجيه القراءتين: أنه على قراءة الوقف يكون التأويل بمعنى الحقيقة التي يؤول إليها الشيء، وعلى قراءة الوصل يكون التأويل بمعنى التفسير؛ فمن قال: إنه لا يعلم تأويله إلا الله أراد الحقيقة، ومن قال: إنه يُعلم تأويله أراد التفسير.

وعلى قراءة الوقف تكون الواو في قوله: {وَالرَّسِخُوْنَ … } ابتدائية استئنافية.

وعلى قراءة الوصل تكون عاطفة.

--------------------------------------------

1_ هو مما يخفى على غير العلماء، مما يمكن الوصول إلى معرفته، كمعرفة أسباب النزول، والناسخ والمنسوخ، والمحكم والمتشابه، والعام والخاص، والمطلق والمقيد.

2_ هو حقائق ما أخبر الله به عن نفسه، وعن اليوم الآخر؛ فهذه الأشياء تفهم بمعناها، ولا تدرك حقيقة ما هي عليه في الواقع.

3_ التدمرية ص90_91.

4_ الفتوى الحموية الكبرى ص290.
যা আলেমগণ জানেন ১, এবং এমন তাফসির যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না ২; যে ব্যক্তি তা জানার দাবি করে সে মিথ্যাবাদী।"

মুজাহিদ এবং একদল আলেম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ইলমে পারদর্শীগণ এর তাবিল জানেন। মুজাহিদ বলেছেন: "আমি ইবনে আব্বাসের নিকট মুসহাফের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পেশ করেছি, আমি প্রতিটি আয়াতের নিকট থামতাম এবং তাঁকে এর তাফসির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম।"

গভীরভাবে পর্যালোচনার পর এই দুই মতের মাঝে কোনো বৈপরীত্য নেই ৩।

আর দুই মত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুই পঠনরীতি (কিরাত): "আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না" অংশের ওপর থামা এবং পরবর্তী অংশের সাথে মিলিয়ে পড়া।

অন্য এক স্থানে উভয় পঠনরীতির সমন্বয় করে তিনি বলেছেন: "বিবেচনাভেদে উভয় মতই সত্য যেমনটি আমরা অন্যান্য স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, এ কারণেই ইবনে আব্বাস থেকে এটি এবং ওটি উভয়টিই বর্ণিত হয়েছে এবং উভয়টিই সত্য ৪।"

উভয় পঠনরীতির সমন্বয়ের সারকথা হলো: থামা বা ওয়াকফ করে পড়ার ক্ষেত্রে তাবিল অর্থ হবে বস্তুর সেই হাকিকত বা বাস্তবতা যার দিকে বিষয়টি পর্যবসিত হয়। আর মিলিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে তাবিল অর্থ হবে তাফসির। সুতরাং যিনি বলেন যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ এর তাবিল জানে না, তিনি হাকিকত বা বাস্তবতা বুঝিয়েছেন। আর যিনি বলেন যে, এর তাবিল জানা যায়, তিনি তাফসির বুঝিয়েছেন।

থামা বা ওয়াকফ করে পড়ার ক্ষেত্রে তাঁর এই বাণীতে: {এবং যারা পারদর্শী … } "এবং" বর্ণটি প্রারম্ভিক হবে।

আর মিলিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে তা সংযোজক অব্যয় হবে।

--------------------------------------------

১_ এটি এমন বিষয় যা আলেম ব্যতীত অন্যদের কাছে অস্পষ্ট, কিন্তু যা জানার উপায় রয়েছে। যেমন শানে নুযুল, নাসিখ ও মানসুখ, মুহকাম ও মুতাশাবিহ, আম ও খাস এবং মুতলাক ও মুকাইয়্যাদ সম্পর্কে জ্ঞান।

২_ এটি হলো সেই হাকিকত বা বাস্তবতা যা আল্লাহ নিজের সম্পর্কে এবং পরকাল সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন; এই বিষয়গুলো এগুলোর শাব্দিক অর্থের মাধ্যমে বোঝা যায়, কিন্তু বাস্তবে তা কেমন তার প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করা যায় না।

৩_ আত-তাদমুরিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৯০-৯১।

৪_ আল-ফাতওয়া আল-হামাবিয়্যাহ আল-কুবরা, পৃষ্ঠা ২৯০।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌التأويل الباطني

لون من ألوان الصد عن الإسلام، ووسيلة خبيثة لصرف الناس عنه، وغاية يُسعى من خلالها لطمس معالمه، وستر جماله، ويسره، ووضوحه.

فالإسلام دين واضح ميسور، وأدلته المستقاة من الكتاب والسنة تسبق إلى الأفهام ببادئ الرأي، وأول النظر؛ فهي سائغة جلية تقنع العقول، وتسكن النفوس، وتغرس الاعتقادات الصحيحة الجازمة الملائمة للفطرة في القلوب.

والتأويل الباطني يخالف ذلك، وينبذه وراء ظهره.

والحديث عن التأويل الباطني سيكون حول المسائل التالية:

أولاً: تعريف التأويل الباطني:

أ_ تعريفه في اللغة: هذا المصطلح يتركب من كلمتين التأويل: ومعناه يدور حول التفسير، والمصير، والعاقبة وغيرها من المعاني.

والباطني: وأصل هذه الكلمة مادة بَطْن، وهو خلاف الظهر، والباطن: اسم فاعل وهو ضد الظاهر1.

ب_ المعنى الاصطلاحي للتأويل الباطني: هو الزعم بأن لنصوص الشرع ظاهراً وباطناً.

هذا تعريف مختصر، وهناك تعريفات أوسع وأشمل تبين معنى ذلك، وسبب الأخذ به، ومنها تعريف من يقول إنه: "تفسير الكتب المقدسة تفسيراً رمزياً أو مجازياً يكشف عن معانيها.

--------------------------------------------

1_ انظر لسان العرب 13/53_54.
বাতিনি তাবিল (আভ্যন্তরীণ ব্যাখ্যা)

ইসলাম থেকে মানুষকে বাধা প্রদানের এটি একটি পন্থা এবং মানুষকে দ্বীন থেকে বিমুখ করার এক ঘৃণ্য মাধ্যম। এটি এমন এক লক্ষ্য যার মাধ্যমে ইসলামের নিদর্শনসমূহকে মিটিয়ে ফেলার এবং এর সৌন্দর্য, সহজতা ও স্বচ্ছতাকে আড়াল করার অপচেষ্টা চালানো হয়।

কেননা ইসলাম একটি স্বচ্ছ ও সহজবোধ্য ধর্ম। কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আহরিত এর প্রমাণাদি সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান ও প্রথম দৃষ্টিতেই মানুষের বোধগম্য হয়; এগুলো অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সুস্পষ্ট যা বিবেককে আশ্বস্ত করে, আত্মাকে প্রশান্তি দেয় এবং হৃদয়ে ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সঠিক ও দৃঢ় বিশ্বাস রোপণ করে।

আর বাতিনি তাবিল এর বিরোধিতা করে এবং একে নিজের পেছনে নিক্ষেপ করে।

বাতিনি তাবিল সংক্রান্ত আলোচনা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর আবর্তিত হবে:

প্রথমত: বাতিনি তাবিলের সংজ্ঞা:

ক. আভিধানিক সংজ্ঞা: এই পরিভাষাটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত— 'তাবিল': এর অর্থ ব্যাখ্যা, গন্তব্য, পরিণতি এবং অন্যান্য অর্থের চারপাশে আবর্তিত হয়।

এবং 'বাতিনি': এই শব্দের মূল হলো 'বাতন', যা পিঠের বিপরীত। আর 'বাতিন' হলো কর্তৃবাচক বিশেষ্য যা 'জাহির' বা প্রকাশ্যের বিপরীত ১।

খ. বাতিনি তাবিলের পারিভাষিক অর্থ: এটি হলো এই দাবি করা যে, শরয়ি দলীলসমূহের একটি প্রকাশ্য রূপ এবং একটি গোপন বা বাতিনি রূপ রয়েছে।

এটি একটি সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা। তবে আরও বিস্তারিত ও ব্যাপক সংজ্ঞা রয়েছে যা এর অর্থ এবং এটি গ্রহণের কারণ স্পষ্ট করে। সেগুলোর মধ্যে একটি সংজ্ঞা হলো: "পবিত্র গ্রন্থসমূহের এমন রূপক বা আলঙ্কারিক ব্যাখ্যা করা যা এর গূঢ় অর্থ উন্মোচন করে।"

--------------------------------------------

১_ দেখুন: লিসানুল আরব ১৩/৫৩-৫৪।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
فالشريعة _ كما يقول بعضهم _ مشتملة على ظاهر وباطن؛ لاختلاف فطر الناس، وتباين قرائحهم في التصديق؛ فكان لا بد من إخراج النص من دلالته الظاهرية إلى دلالته الباطنية بطريق التأويل؛ فالظاهر هو الصور والأمثال المضروبة للمعاني، والباطن هو المعاني الخفية التي لا تتجلى إلا لأهل البرهان؛ فالتأويل _في نظرهم_ هو الطريقة المؤدية إلى رفع التعارض بين ظاهر الأقاويل وباطنها"1.

ثانياً: سبب التسمية: لعل التعريفين السابقين قد بينا سبب التسمية؛ فالباطنية سميت بذلك لأخذهم بالتفسير أو التأويل الباطني.

فكل من أخذ به سمي باطنياً، وكل طائفة أخذت به دخلت في مسمى الفرق الباطنية.

ثالثاً: طوائف الباطنية: الباطنية مسمى واسع، ويدخل تحته فرق كثيرة، وتكاد تنحصر في طائفتين، ويدخل تحت كل طائفة فرق عديدة.

الطائفة الأولى: باطنية تتظاهر بحب آل البيت، وتبطن الكفر، وتزعم أن للنصوص ظاهراً علمه الرسول صلى الله عليه وسلم لأمته، وباطناً علمه علياً رضي الله عنه وبلغه علي سراً إلى الأئمة من بعده.

ويدخل تحت هذه الطائفة فرق عديدة كالشيعة الإمامية، والإسماعيلية، والنصيرية، والدروز، والبابية، والبهائية، وسائر الفرق الباطنية التي انبثقت من الشيعة الاثني عشرية.

الطائفة الثانية: وهي التي تتظاهر بحب النبي صلى الله عليه وسلم وهم غلاة الصوفية القائلين بتقسيم الدين إلى حقيقة وشريعة.

--------------------------------------------

1_ المعجم الفلسفي د. جميل صليبا 1/234، وانظر الحركات الباطنية د. محمد الخطيب ص30.
শরীয়ত—যেমনটি তাদের কেউ কেউ বলেন—জাহির (বাহ্যিক) এবং বাতিন (অভ্যন্তরীণ) বিষয়ের ওপর مشتمل; কারণ মানুষের প্রকৃতি ভিন্ন এবং সত্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের মেধা ও বিচারবুদ্ধিতে পার্থক্য রয়েছে। তাই তাবিলের (ব্যাখ্যার) মাধ্যমে পাঠ্যের বাহ্যিক অর্থ থেকে বের করে অভ্যন্তরীণ অর্থের দিকে নিয়ে যাওয়া অনিবার্য ছিল। সুতরাং বাহ্যিক রূপ হলো অর্থের জন্য উপস্থাপিত চিত্র ও উদাহরণসমূহ, আর অভ্যন্তরীণ হলো সেই গোপন অর্থ যা কেবল অকাট্য প্রমাণের অধিকারীদের (আহলে বুরহান) কাছেই প্রকাশিত হয়। তাদের মতে, তাবিল হলো এমন একটি পদ্ধতি যা বক্তব্যের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ রূপের মধ্যকার দ্বন্দ্ব দূর করতে পরিচালিত করে"১।

দ্বিতীয়ত: নামকরণের কারণ: সম্ভবত পূর্ববর্তী দুটি সংজ্ঞা নামকরণের কারণ স্পষ্ট করেছে; কেননা বাতেনিয়াদের এই নামে নামকরণ করা হয়েছে তাদের বাতিনী (অভ্যন্তরীণ) তাফসির বা তাবিল গ্রহণ করার কারণে।

অতএব, যে কেউ এটি গ্রহণ করেছে তাকে 'বাতিনী' বলা হয় এবং যে দলই এটি গ্রহণ করেছে তারা বাতেনি ফিরকা সমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

তৃতীয়ত: বাতেনিয়াদের উপদলসমূহ: বাতেনিয়া একটি বিস্তৃত নাম, যার অধীনে অনেক দল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং তা প্রধানত দুটি মূল গোষ্ঠীতে সীমাবদ্ধ, আর প্রতিটি গোষ্ঠীর অধীনে অনেক উপদল রয়েছে।

প্রথম গোষ্ঠী: এমন বাতেনিয়া যারা আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে কিন্তু কুফরি গোপন রাখে। তারা দাবি করে যে, পাঠ্যসমূহের (নসুস) একটি বাহ্যিক দিক রয়েছে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে শিখিয়েছেন এবং একটি অভ্যন্তরীণ দিক রয়েছে যা তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে শিখিয়েছেন এবং আলী গোপনে তাঁর পরবর্তী ইমামদের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন।

এই গোষ্ঠীর অধীনে অনেক দল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যেমন— শিয়া ইমামিয়া, ইসমাইলিয়া, নুসাইরিয়া, দ্রুজ, বাবিয়া, বাহায়িয়া এবং শিয়া ইতনা আশারিয়া থেকে উদ্ভূত অন্যান্য সকল বাতেনি দলসমূহ।

দ্বিতীয় গোষ্ঠী: এরা হলো তারা যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করে এবং তারা হলো চরমপন্থী সূফী যারা দ্বীনকে হাকিকত ও শরীয়ত—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রবক্তা।

--------------------------------------------

১- আল-মুজাম আল-ফালসাফি, ড. জামিল সালিবা ১/২৩৪; এবং দেখুন, আল-হারাকাত আল-বাতিনিয়্যাহ, ড. মুহাম্মদ আল-খাতিব, পৃষ্ঠা ৩০।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
فالشريعة عندهم: أحكام الدين الظاهرة، أو الأحكام التكليفية.

والحقيقة: هي ما وراء هذه الأحكام من إشارات وأسرار؛ فإذا وصل العابد إلى الحقيقة لم يحتج معها إلى القيام بأمور الشرع.

هاتان هما طائفتا التأويل الباطني على وجه الإجمال، وسيأتي مزيد بيان وأمثلة على ذلك.

رابعاً: هدفهم من القول بالتأويل الباطني: قد تبين فيما مضى شيء من ذلك، ويمكن إجماله فيما يلي:

1_ إبطال الشرائع.

2_ ترويج الباطل.

3_ إضفاء الصبغة الشرعية على ما يقولون، وإيهام الناس أن آراءهم متفقة مع نصوص الشرع.

وبذلك صارت تلك الطوائف تأخذ بالتأويل الباطني لنصوص القرآن.

وتزعم أن من تقاعد عَقْلُه عن الغوص في الخفايا والأسرار، والبواطن والأغوار، وقنع بظواهرها _ كان تحت الآصار والأغلال.

وأرادوا بالأغلال: التكاليف الشرعية؛ لأن من ارتقى إلى علم الباطن _بزعمهم_ سقطت عنه التكاليف، واستراح من أعبائها1.

ومن هنا جاؤوا بتأويلات باطلة لا تستند إلى شرع، ولا عقل، ولا عرف، ولا لغة، بل إنها تخالف ذلك كله _كما سيأتي بيان ذلك_.

--------------------------------------------

1_ انظر فضائح الباطنية لأبي حامد الغزالي ص11_12، والحركات الباطنية ص30.
তাদের নিকট শরীয়ত হলো: দ্বীনের প্রকাশ্য বিধানাবলি, অথবা তাকলিফি (শারীরিক ও আমলি) বিধানাবলি।

আর হাকিকত হলো: এই বিধানাবলির আড়ালে থাকা ইঙ্গিত ও রহস্যসমূহ; সুতরাং ইবাদতকারী যখন হাকিকতে পৌঁছে যায়, তখন তার জন্য শরীয়তের কার্যাদি সম্পাদন করার আর প্রয়োজন থাকে না।

সংক্ষেপে এই দুটি হলো বাতেনি তাবিলের (আভ্যন্তরীণ ব্যাখ্যার) দলসমূহ, আর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা ও উদাহরণ সামনে আসবে।

চতুর্থত: বাতেনি তাবিলের প্রবক্তাদের উদ্দেশ্য: ইতোপূর্বে এই বিষয়ে কিছু স্পষ্ট হয়েছে, এবং তা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সংক্ষেপে বর্ণনা করা যেতে পারে:

১_ শরীয়তের বিধানাবলি বাতিল করা।

২_ বাতিলের প্রচার-প্রসার ঘটানো।

৩_ তারা যা বলে তাতে শরয়ী রূপ দান করা এবং মানুষের মনে এই বিভ্রান্তিকর ধারণা দেওয়া যে তাদের মতামতগুলো শরীয়তের দলিলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এর মাধ্যমে সেই দলগুলো কুরআনের নসসমূহের (বাণীর) ক্ষেত্রে বাতেনি তাবিল গ্রহণ করতে শুরু করে।

তারা দাবি করে যে, যার বুদ্ধি গোপন রহস্য ও গভীর বাতেনি অর্থের গভীরে ডুব দিতে অক্ষম হলো এবং কেবল বাহ্যিক অর্থের ওপর তুষ্ট থাকল—সে বোঝা ও শিকলে বন্দী রইল।

আর শিকল বলতে তারা শরীয়তের তাকলিফ (বাধ্যবাধকতা) উদ্দেশ্য নিয়েছে; কারণ তাদের দাবি অনুযায়ী, যে ব্যক্তি বাতেনি ইলমের স্তরে উন্নীত হয়, তার থেকে শরীয়তের বাধ্যবাধকতাগুলো উঠে যায় এবং সে এর বোঝা থেকে মুক্তি পায়।১

এখান থেকেই তারা এমন সব বাতিল ব্যাখ্যা নিয়ে এসেছে যা শরীয়ত, বিবেক, প্রথা বা ভাষা—কোনোটির ওপরই নির্ভরশীল নয়; বরং এগুলো সবকিছুর পরিপন্থী—যেমনটি সামনে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

--------------------------------------------

১_ দেখুন আবু হামিদ আল-গাজালির ফাদাইহুল বাতিনিয়্যাহ পৃষ্ঠা ১১-১২, এবং আল-হারাকাতুল বাতিনিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৩০।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
خامساً: مصادر الفكر الباطني: مصادر الفكر الباطني ليست من الإسلام في شيء، وإنما هي أفكار دخيلة على عقائد الإسلام؛ فهي مستقاة من الفلسفة اليونانية والهندية، ومن الديانات المجوسية، واليهودية، والنصرانية، وغيرها.

وقد تستر أصحابها بحب آل البيت تارة، وبحب النبي صلى الله عليه وسلم تارة.

وأرادوا من ذلك هدم المجتمع الإسلامي، وزعزعة أمنه، وإفساد عقيدته.

والمجال لا يتسع لتفصيل ذلك1.

سادساً: بطلان القول بالتأويل الباطني: لا شك أن للقرآن العظيم أسرارَه العظيمةَ، ولفتاتِهِ الباهرةَ، وإيماءاتِه، وإيحاءاتِه.

ولا ريب أنه بحر عظيم لا تنفد كنوزه، ولا تنقضي عجائبه، ولا يشبع منه العلماء.

ولكن ذلك كله منوط بما يتسع له اللفظ، ويشهد له الدليل الصحيح، ولا يخرج عن إطار المعنى العام، وأن يكون ذلك عن علم وبصيرة لا عن تخرص وهوى.

ولكن دعوى أولئك الباطنيين بعيدة كل البعد عن هذا المقصد؛ فهي تأويلات _كما سيأتي_ لا تتصل بمدلول الألفاظ، ولا بمفهومها، ولا بالسياق القرآني.

بل هي مخالفة للنص القرآني تماماً، باحثة في كتاب الله عن أصل تتشبث به؛ ليؤيد شذوذهم، وغاياتهم في الصد عن كتاب الله ودينه.

وحاصل هذا الاتجاه الباطني في تأويل نصوص الشريعة هو الانحلال عن الدينِ.

--------------------------------------------

1_ انظر الحركات الباطنية ص36_45.
পঞ্চম: বাতেনি চিন্তাধারার উৎসসমূহ: বাতেনি চিন্তাধারার উৎসসমূহের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই; বরং এগুলো ইসলামি আকিদাহর ওপর প্রক্ষিপ্ত বা বহিরাগত চিন্তা। এগুলো গ্রিক ও ভারতীয় দর্শন এবং অগ্নিপূজক, ইহুদি, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্ম থেকে সংগৃহীত।

এর প্রবক্তারা কখনো আহলে বাইতের ভালোবাসার আবরণে, আবার কখনো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ভালোবাসার আবরণে আত্মগোপন করেছে।

এর মাধ্যমে তারা ইসলামি সমাজ ধ্বংস করা, এর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং এর আকিদাহ কলুষিত করতে চেয়েছিল।

এখানে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই১।

ষষ্ঠ: বাতেনি ব্যাখ্যার অসারতা: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহান কুরআনের মহান রহস্য, চমৎকার দৃষ্টিভঙ্গি, ইঙ্গিত ও অনুপ্রেরণা রয়েছে।

এতে কোনো সংশয় নেই যে, এটি একটি বিশাল সমুদ্র যার ধনভাণ্ডার কখনো শেষ হয় না, এর বিস্ময়কর দিকগুলো ফুরায় না এবং আলেমগণ তা থেকে কখনো তৃপ্ত হন না।

কিন্তু এ সবকিছুই শব্দের ব্যাপ্তির সাথে সংশ্লিষ্ট, যার পক্ষে সঠিক দলিল বিদ্যমান থাকে, যা সাধারণ অর্থের কাঠামোর বাইরে যায় না এবং যা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে হয়—অনুমান বা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে নয়।

কিন্তু ঐসব বাতেনিপন্থীদের দাবি এই উদ্দেশ্য থেকে বহু দূরে; এগুলো এমন সব ব্যাখ্যা—যেমনটি সামনে আসবে—যার সাথে শব্দের অর্থ, এর ধারণা বা কুরআনি প্রসঙ্গের কোনো সম্পর্ক নেই।

বরং এগুলো কুরআনি পাঠের সম্পূর্ণ পরিপন্থী, যা আল্লাহর কিতাবের মধ্যে এমন কোনো ভিত্তি খোঁজে যা আঁকড়ে ধরে তারা তাদের বিচ্যুতি এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর দ্বীন থেকে মানুষকে বিমুখ করার উদ্দেশ্যকে সমর্থন করতে পারে।

শরিয়তের পাঠসমূহের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এই বাতেনি প্রবণতার সারকথা হলো দ্বীন থেকে বিচ্যুতি।

--------------------------------------------

১_ দেখুন: আল-হারাকাতুল বাতিনিয়্যাহ, পৃ. ৩৬-৪৫।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وعمومُ البشر على اختلاف لغاتهم يعدون ظاهر الكلام هو العمدة في المعنى.

وأما أسلوب التعمية والإلغاز فلا وجود له إلا في الفكر الباطني.

ولو اتُّخِذ هذا الأسلوبُ قاعدةً لما أمكن التفاهم بحال، ولما حصل الثقة بمقال؛ لأن المعاني الباطنية لا ضابط لها ولا نظام.

هذا في الكلام عموماً؛ فكيف بكلام الله المنزل، الذي وصفه الله _ عز وجل _ بأنه "بيان للناس".

وفي الناس عالمون، وجاهلون، ومنهم أميون، وكاتبون قارئون.

ولكن الله جعله بياناً لهم جميعاً، مُيَسَّراً للذكر؛ ليعبد الناس ربهم على بصيرة.

والمتأمل لمقالة التأويل الباطني يدرك خطورتها في تفسير القرآن، وأنها تقتضي بطلان الثقة بالألفاظ، وتسقط الانتفاع بكلام الله ورسوله، ويصير ما يسبق إلى الفهم لا يوثق به.

وبهذا الطريق يحاول الباطنية التوصل إلى هدم الشريعة بتأويل ظواهرها، وتنزيلها على رأيهم دون ضابط، أو رادع.

ولو كانت تلك التأويلات الباطنية هي معاني القرآن ودلالاته لما تحقق الإعجاز، ولكان من قبيل الإلغاز1.

--------------------------------------------

1_ انظر فتح الباري لابن حجر 1/216، وهذه هي الصوفية ص70_71، وأصول مذهب الشيعة د. ناصر القفاري 1/153_154.
সাধারণ মানুষ তাদের ভাষার ভিন্নতা সত্ত্বেও শব্দের বাহ্যিক অর্থকেই অর্থের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করে।

আর অস্পষ্টতা ও ধাঁধার শৈলীর কোনো অস্তিত্ব বাতেনি চিন্তাচেতনা ব্যতীত অন্য কোথাও নেই।

আর যদি এই শৈলীকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হতো, তবে কোনোভাবেই পারস্পরিক বোঝাপড়া সম্ভব হতো না এবং কোনো বক্তব্যের ওপর আস্থা অর্জিত হতো না; কারণ বাতেনি অর্থসমূহের কোনো সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি বা শৃঙ্খলা নেই।

এটি সাধারণভাবে মানুষের কথার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; তাহলে আল্লাহর অবতীর্ণ কালামের ক্ষেত্রে তা কেমন হবে, যাকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা "মানুষের জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা" হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আর মানুষের মধ্যে জ্ঞানী রয়েছেন, অজ্ঞ রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে নিরক্ষরও রয়েছেন, আবার লেখক ও পাঠকও রয়েছেন।

কিন্তু আল্লাহ একে তাদের সবার জন্যই সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং উপদেশের জন্য সহজ করেছেন; যাতে মানুষ সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের রবের ইবাদত করতে পারে।

বাতেনি অপব্যাখ্যার প্রবক্তাদের বক্তব্যের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাতকারী কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রে এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারেন। এটি শব্দের ওপর আস্থা নষ্ট করাকে অনিবার্য করে তোলে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কালাম থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ বিলুপ্ত করে দেয় এবং যা প্রথমে বুঝে আসে তার ওপর আর বিশ্বাস রাখা যায় না।

এই পথেই বাতেনিপন্থীরা শরীয়তের বাহ্যিক বিষয়গুলোকে অপব্যাখ্যা করার মাধ্যমে এবং কোনো নিয়ম-নীতি বা বাধা ছাড়াই সেগুলোকে নিজেদের মতানুসারে প্রয়োগ করে শরীয়তকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে।

আর যদি এই বাতেনি অপব্যাখ্যাগুলোই কুরআনের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য হতো, তবে কুরআনের অলৌকিকত্ব প্রমাণিত হতো না এবং এটি একটি ধাঁধার পর্যায়ে পর্যবসিত হতো১।

--------------------------------------------

১_ দেখুন: ইবনে হাজারের ফাতহুল বারি ১/২১৬, হাযিহি হিয়াস সুফিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৭০-৭১ এবং ড. নাসির আল-কুফারির উসুলু মাযহাবিাশ শিয়া ১/১৫৩-১৫৪।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
سابعاً: نماذج من التأويلات الباطنية عند الشيعة: كما انحرف الشيعة في القرآن، وقالوا إنه بُدِّل وحُرِّف انحرفوا في تأويله وتفسيره؛ حيث تضمنت كتب التفسير عند الشيعة _ والتي يزعمون تلقيها عن آل البيت _ تأويلاتٍ باطنيةً لآيات القرآن، وتلك التأويلات لا تتصل بمدلولات الألفاظ، ولا بالسياق القرآني، ولا بمفهوم اللغة العربية.

ومن العجيب أن تُسند هذه الأكاذيب إلى آل البيت، ويُسند معظمُها إلى جعفر الصادق رحمه الله.

وهي في حقيقة الأمر طعن مُبَطَّن في الآل، كما أنها إلحاد في آيات الله، وصد عن سبيله، ولكنهم أسندوها لآل البيت؛ لينخدع بها الأغرار1.

"وهذه التأويلات مدونة في تفاسيرهم المعتبرة عندهم، كتفسير القمي، وتفسير العياشي، وتفسير البرهان، وتفسير الصافي، كما أن كتبهم في الحديث قد أخذت من تلكم التأويلات بقسط وافر، وعلى رأسها أصول الكافي للكليني، والبحار للمجلسي، وغيرهما.

ويرى بعض الباحثين أن أول كتاب وضع الأساس الشيعي في التفسير هو تفسير القرآن الذي وضعه في القرن الثاني للهجرة جابر الجعفي ت128هـ.

فكان هذا نواةً لتفسير شيعي سرعان ما اتسع وأغرق في باطنيته"2.

--------------------------------------------

1_ انظر مسألة التقريب 1/214.

2_ مسألة التقريب 1/215.
সপ্তম: শিয়াদের নিকট বাতিনি (গুহ্য) ব্যাখ্যার কিছু নমুনা: শিয়ারা যেভাবে কুরআনের ব্যাপারে বিচ্যুত হয়েছে এবং দাবি করেছে যে এটি পরিবর্তিত ও বিকৃত হয়েছে, ঠিক তেমনি তারা এর ব্যাখ্যা ও তাফসিরের ক্ষেত্রেও বিচ্যুত হয়েছে; যেহেতু শিয়াদের তাফসির গ্রন্থগুলো—যা তারা আহলে বাইত থেকে প্রাপ্ত বলে দাবি করে—কুরআনের আয়াতসমূহের এমন কিছু বাতিনি (গুহ্য) ব্যাখ্যা ধারণ করে, যেসব ব্যাখ্যার সাথে শব্দের অর্থ, কুরআনের প্রেক্ষাপট বা আরবি ভাষার ধারণার কোনো সম্পর্ক নেই।

আর আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, এই মিথ্যাচারগুলোকে আহলে বাইতের দিকে সম্বন্ধ করা হয় এবং এর অধিকাংশকেই জাফর আস-সাদিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়।

প্রকৃতপক্ষে এগুলো আহলে বাইতের প্রতি এক প্রকার প্রচ্ছন্ন অপবাদ, ঠিক যেমন এগুলো আল্লাহর আয়াতসমূহের বিকৃতি এবং তাঁর পথ থেকে বিমুখ করার নামান্তর। তবে তারা এগুলোকে আহলে বাইতের দিকে সম্বন্ধ করেছে যেন সরলমনা মানুষরা এর দ্বারা প্রতারিত হয়১।

"আর এই ব্যাখ্যাগুলো তাদের নিকট নির্ভরযোগ্য তাফসির গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে, যেমন: তাফসিরে কুম্মি, তাফসিরে আইয়াশি, তাফসিরে বুরহান এবং তাফসিরে সাফি। একইভাবে তাদের হাদিস গ্রন্থগুলোও এই ব্যাখ্যাসমূহ থেকে একটি বড় অংশ গ্রহণ করেছে, যার শীর্ষে রয়েছে কুলাইনির উসুলুল কাফি, মাজলিসির বিহার এবং অন্যান্য গ্রন্থ।

কোনো কোনো গবেষক মনে করেন যে, তাফসিরের ক্ষেত্রে শিয়াদের ভিত্তি স্থাপনকারী প্রথম গ্রন্থটি হলো হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে জাবির আল-জুফি (মৃত্যু ১২৮ হি.) কর্তৃক সংকলিত কুরআনের তাফসির।

ফলে এটিই ছিল শিয়া তাফসিরের মূল বীজ, যা দ্রুত প্রসারিত হয় এবং বাতিনি বা গুহ্য ব্যাখ্যার অতলে নিমজ্জিত হয়"২।

--------------------------------------------

১_ দেখুন: মাসআলাতুত তাকরিব ১/২১৪।

২_ মাসআলাতুত তাকরিব ১/২১৫।
(খণ্ড: ১) মুসতালাহাত ফি কুতুবিল আকাইদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وفيما يلي من أسطر أمثلة وشواهد لبعض تلك التأويلات1:

1_ ما ورد في كتاب الله من آيات تتحدث عن القرآن يفسرونها بالأئمة:

فقوله _ سبحانه _: {فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالنُّورِ الَّذِي أَنزَلْنَا} [التغابن: 8] .

يقولون: "النور: نور الأئمة".

ويفسرون قوله _ سبحانه _: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يِهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} [الإسراء: 9] .

بقولهم: يهدي إلى الإمام.

2_ يفسرون ما ورد في الآيات من لفظ النور ونحوه بالأئمة بلا أدنى دلالة.

يروي الكليني عن أبي عبد الله _ جعفر الصادق _ في قوله _ تعالى _: {اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ مَثَلُ نُورِهِ كَمِشْكَاةٍ} [النور: 35] : فاطمة _عليها السلام_ {فِيهَا مِصْبَاحٌ} : الحسن {الْمِصْبَاحُ فِي زُجَاجَةٍ} : الحسين {الزُّجَاجَةُ كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ} : فاطمة كوكب دري بين نساء أهل الدنيا {يُوقَدُ مِن شَجَرَةٍ مُّبَارَكَةٍ} : إبراهيم _ عليه السلام _ {زَيْتُونِةٍ لا شَرْقِيَّةٍ وَلا غَرْبِيَّةٍ} : لا يهودية ولا نصرانية {يَكَادُ زَيْتُهَا يُضِيءُ} : يكاد العلم ينفجر بها {وَلَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارٌ نُّورٌ عَلَى نُورٍ} : إمام بعد إمام {يَهْدِي اللَّهُ لِنُورِهِ مَن يَشَاءُ} : يهدي الله للأئمة من يشاء.

{وَمَن لَّمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُوراً} النور: 40: إماماً من ولد فاطمة _ عليها السلام _ {فَمَا لَهُ مِن نُّورٍ} : إمام يوم القيامة.

--------------------------------------------

1_ انظر منهاج السنة 7/244_296، ومسألة التقريب 1/214_246، وأصول مذهب الشيعة 1/150_199.
নিম্নে বর্ণিত পংক্তিগুলোতে এই ধরনের কিছু অপব্যাখ্যার উদাহরণ ও প্রমাণ উল্লেখ করা হলো ১:

১_ আল্লাহর কিতাবে এমন অনেক আয়াত রয়েছে যেগুলোতে কুরআন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, কিন্তু তারা সেগুলো ইমামদের দ্বারা ব্যাখ্যা করে থাকে:

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং সেই নূরের প্রতি যা আমি অবতীর্ণ করেছি} [আত-তাগাবুন: ৮]।

তারা বলে: "নূর হলো: ইমামদের নূর"।

আর তারা মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথ দেখায় যা অধিকতর সরল} [আল-ইসরা: ৯]-এর ব্যাখ্যা প্রদান করে:

এই বলে যে: এটি ইমামের দিকে পথ দেখায়।

২_ আয়াতগুলোতে 'নূর' বা এ জাতীয় যে সকল শব্দ এসেছে, কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়াই তারা সেগুলোকে ইমামদের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে।

আল-কুলাইনী আবু আব্দুল্লাহ (জাফর আস-সাদিক) থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ আসমান ও জমিনের নূর। তাঁর নূরের উদাহরণ একটি দীপাধারের মতো} [আন-নূর: ৩৫]-এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন: ফাতেমা (আলাইহাস সালাম)। {তাতে একটি প্রদীপ রয়েছে}: হাসান। {প্রদীপটি একটি কাঁচের পাত্রে সংরক্ষিত}: হুসাইন। {কাঁচের পাত্রটি যেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র}: ফাতেমা ইহকালের নারীদের মধ্যে উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ। {তা প্রজ্বলিত হয় বরকতময় বৃক্ষ থেকে}: ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)। {যা যয়তুন বৃক্ষ, না পূর্বের আর না পশ্চিমের}: ইয়াহুদী বা নাসারা নয়। {তার তৈল যেন এখনই প্রজ্বলিত হয়ে উঠবে}: এর মাধ্যমে জ্ঞান যেন এখনই বিচ্ছুরিত হবে। {যদিও আগুন তাকে স্পর্শ না করে, নূরের ওপর নূর}: একেকজন ইমামের পর অপর ইমাম। {আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর নূরের দিকে পথ প্রদর্শন করেন}: আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ইমামদের দিকে পরিচালিত করেন।

{আল্লাহ যাকে কোনো নূর দান করেন না} [আন-নূর: ৪০]: ফাতেমা (আলাইহাস সালাম)-এর বংশের কোনো ইমাম। {তার জন্য কোনো নূর নেই}: কিয়ামতের দিন কোনো ইমাম নেই।

--------------------------------------------

১_ দেখুন: মিনহাজুস সুন্নাহ ৭/২৪৪-২৯৬, মাসআলাতুত তাকরীব ১/২১৪-২৪৬ এবং উসূলু মাযহাবিশ শি'আ ১/১৫০-১৯৯।