(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: -)
من أعلام المجددين   (صالح الفوزان)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: من أعلام المجددين

المؤلف: صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان

الناشر: دار المؤيد

الطبعة: الأولى 1421هـ - 2001م

عدد الصفحات: 104

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সংস্কারক ব্যক্তিত্বদের মধ্য হতে   (সালেহ আল-ফাওজান)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: সংস্কারক ব্যক্তিত্বদের মধ্য হতে

লেখক: সালেহ বিন ফাওজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওজান

প্রকাশক: দারুল মুয়াইয়্যাদ

সংস্করণ: প্রথম ১৪২১ হিজরী - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي جعل في كل زمان فترة من الرسل بقايا من أهل العلم يدعون من ضل إلى الهدى، ويصبرون منهم على الأذى، يحيون بكتاب الله عز وجل الموتى، ويبصرون بنور الله أهل العمى، فكم من قتيل لإبليس قد أحيوه، وكم من ضال تائه قد هدوه.

فما أحسن أثرهم على الناس وأقبح أثر الناس عليهم، ينفون عن كتاب الله تحريف الغالين وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين الذين عقدوا ألوية البدعة وأطلقوا عنان الفتنة، فهم مختلفون في الكتاب، مخالفون للكتاب، مجمعون على مفارقة الكتاب، يقولون على الله وفي الله وفي كتاب الله بغير علم، يتكلمون بالمتشابه من الكلام، ويخدعون جهال الناس بما يشبهون عليهم، فنعوذ بالله من فتن المضلين1، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وبعد:

فمن المعلوم أنه كلما تأخر الزمان وبعد الناس عن آثار الرسالة حدثت البدع، والخرافات وفشا الجهل واشتدت غربة الدين، وظن الناس أن ما وجدوا عليه آباءهم هو الدين وإن كان بعيداً عنه، ولكن الله سبحانه لا يخلى الأرض من قائم لله بحجة. وقد أخبر الرسول صلى الله عليه وسلم بأن طائفة من المسلمين لا تزال على الحق لا يضرهم من خذلهم ولا

--------------------------------------------

1 هذه خطبة الإمام أحمد في كتاب الرد على الجهمية رأينا مناسبتها للموضوع فقدمناه بها.
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রত্যেক রাসূলের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ইলম অন্বেষণকারীদের অবশিষ্ট অংশ রেখেছেন, যারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করেন। তারা মহান আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে মৃতদের (অন্তরকে) জীবিত করেন এবং আল্লাহর নূরের মাধ্যমে অন্ধদের দৃষ্টি দান করেন। ইবলিসের হাতে নিহত কত মানুষকে তারা পুনর্জীবিত করেছেন এবং কত বিভ্রান্ত পথহারাকে তারা সঠিক পথ দেখিয়েছেন।

মানুষের ওপর তাদের প্রভাব কতই না সুন্দর, আর তাদের ওপর মানুষের আচরণ কতই না জঘন্য! তারা আল্লাহর কিতাব থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং জাহিলদের অপব্যাখ্যা দূর করেন—যারা বিদআতের ঝাণ্ডা গেড়েছে এবং ফিতনার লাগাম ছেড়ে দিয়েছে। তারা কিতাব সম্পর্কে মতভেদকারী, কিতাবের বিরুদ্ধাচরণকারী এবং কিতাব বর্জন করার বিষয়ে একমত। তারা আল্লাহ সম্পর্কে, আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে এবং আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়াই কথা বলে। তারা অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থবোধক কথা বলে এবং মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলে জাহিলদের প্রতারিত করে। আমরা পথভ্রষ্টকারীদের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল; তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:

এটি সুপরিচিত যে, সময় যত অতিবাহিত হয় এবং মানুষ নবুওয়াতের শিক্ষা থেকে যত দূরে সরে যায়, ততই বিদআত ও কুসংস্কারের উদ্ভব ঘটে, অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্বীনের অসহায়ত্ব প্রকট হয়। মানুষ মনে করে যে, তারা তাদের বাপ-দাদাদের যা করতে দেখেছে সেটিই দ্বীন, যদিও তা প্রকৃত দ্বীন থেকে অনেক দূরে হয়। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জমিনকে এমন ব্যক্তি থেকে শূন্য করেন না, যিনি আল্লাহর পক্ষে দলিল-প্রমাণ নিয়ে দণ্ডায়মান থাকেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, মুসলিমদের একটি দল সর্বদা হকের ওপর অটল থাকবে; যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চাইবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এবং...

--------------------------------------------

১. এটি ইমাম আহমাদের ‘আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ’ কিতাবের খুতবা। আমরা বিষয়বস্তুর সাথে এর প্রাসঙ্গিকতা দেখে এটিকে এখানে ভূমিকা হিসেবে পেশ করেছি।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ৪)
من خالفهم حتى يأتي أمر الله تعالى، كما أخبر صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي رواه أبو داود وصححه الحاكم وغيره حيث قال: "إن الله يبعث لهذه الأمة على رأس كل مائة سنة من يجدد لها دينها"، قال المناوي في فيض القدير: (2/281-282) أي يقيض لها (على رأس كل مائة سنة) من الهجرة أو غيرها، والمراد الرأس تقريباً (من) أي رجلاً أو أكثر (يجدد لها دينها) أي يبين السنة من البدعة ويكثر العلم وينصر أهله ويكسر أهل البدعة ويذلهم –قالوا ولا يكون إلا عالماً بالعلوم الدينية الظاهرة والباطنة، قال ابن كثير: قد ادعى كل قوم في إمامهم أنه المراد بهذا الحديث والظاهر أنه يعم جملة من العلماء من كل طائفة وكل صنف من مفسر ومحدث وفقيه ونحوي ولغوي وغيرهم /انتهى.

وقد وقع مصداق ما أخبر به النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث فلا يزال –والحمد لله- فضل الله على هذه الأمة يتوالى بظهور المجددين عند اشتداد الحاجة إليهم، ومن هؤلاء المجددين الإمام بن حنبل في القرن الثالث، وشيخ الإسلام ابن تيمية في آخر القرن السابع وأول الثامن، وشيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب في القرن الثاني عشر، وقد أحببت في هذه العجالة أن أقدم بعض المعلومات عن هؤلاء الأئمة، وما قاموا به من تجديد هذا الدين مما لا تزال آثاره باقية في هذه الأمة ولله الحمد والمنة، والقصد من ذلك تعريف من يجهل مجهود هؤلاء الأئمة والتنبيه للانتفاع بآثارهم والاقتداء بهم، والله الهادي إلى سواء السبيل …
যারা তাদের বিরোধিতা করবে তাদের ওপর তারা বিজয়ী থাকবে যতক্ষণ না মহান আল্লাহর নির্দেশ আসে, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম ও অন্যান্যরা সহীহ বলেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি একশ বছরের মাথায় এমন কাউকে পাঠাবেন যিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে সংস্কার করবেন।" আল-মুনাভী ফয়দুল কাদির গ্রন্থে বলেছেন: (২/২৮১-২৮২) অর্থাৎ আল্লাহ তাদের জন্য নির্ধারণ করবেন (প্রতি একশ বছরের মাথায়) হিজরী বা অন্য কোনো গণনায়, আর মাথা বলতে এখানে প্রায় সময় বা নিকটবর্তী সময় বোঝানো হয়েছে। (কাউকে) অর্থাৎ একজন ব্যক্তি বা একাধিক ব্যক্তি (যিনি তাদের দ্বীনকে সংস্কার করবেন) অর্থাৎ যিনি বিদআত থেকে সুন্নাহকে পৃথক করবেন, ইলম বৃদ্ধি করবেন, ইলমের অনুসারীদের সাহায্য করবেন এবং বিদআতপন্থীদের চূর্ণ ও লাঞ্ছিত করবেন। উলামায়ে কেরাম বলেছেন—তিনি অবশ্যই জাহিরি (প্রকাশ্য) ও বাতিনি (অপ্রকাশ্য) দ্বীনি ইলমসমূহে পারদর্শী একজন আলেম হবেন। ইবনে কাসীর বলেছেন: প্রতিটি গোষ্ঠীই তাদের ইমামের ব্যাপারে দাবি করেছে যে তিনিই এই হাদীসের উদ্দেশ্য, তবে স্পষ্ট বিষয় হলো এটি প্রতিটি দল ও শ্রেণির একদল আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকীহ, নাহুবিদ, ভাষাবিদ এবং অন্যান্যরা। সমাপ্ত।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই হাদীসে যা সংবাদ দিয়েছেন তার সত্যতা বাস্তবায়িত হয়েছে, ফলে এই উম্মতের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—অব্যাহতভাবে বর্ষিত হচ্ছে এবং যখনই সংস্কারকদের প্রয়োজন তীব্র হয়েছে তখনই তাদের আবির্ভাব ঘটেছে। এই সংস্কারকদের মধ্যে রয়েছেন তৃতীয় শতাব্দীতে ইমাম ইবনে হাম্বল, সপ্তম শতাব্দীর শেষ ও অষ্টম শতাব্দীর শুরুতে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং দ্বাদশ শতাব্দীতে শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব। আমি এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে এই ইমামদের সম্পর্কে কিছু তথ্য এবং তারা দ্বীনের যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছেন—যার প্রভাব এই উম্মতের মধ্যে এখনও বিদ্যমান রয়েছে—তা উপস্থাপন করতে চেয়েছি, আর আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ। এর উদ্দেশ্য হলো যারা এই ইমামদের প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবগত নন তাদের জানানো এবং তাদের রেখে যাওয়া অবদানসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া ও তাদের অনুসরণ করার বিষয়ে সচেতন করা। আল্লাহই সঠিক পথের দিশারী। …
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ৫)
1-‌‌الإمام أحمد بن حنبل

1-نسبه:

هو أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد بن إدريس بن عبد الله بن حيان بن عبد الله بن أنس بن عوف بن قاسط بن مازن بن شيبان بن ذهل بن ثعلبة بن عكابة بن صعب بن علي بن بكر بن وائل بن قاسط بن هنب بن أفصى بن دعمي بن جديلة بن أسد بن ربيعة بن نزار بن معد بن عدنان1.

2-نشأته وتعلمه:

قدم به والده من مرو وهو حمل، فوضعته أمه ببغداد في ربيع الأول من سنة أربع وستين ومائة وتوفي أبوه وهو ابن ثلاث سنين فكفلته أمه، وقد كان في حداثته يختلف إلى مجلس القاضي أبي يوسف، ثم ترك ذلك وأقبل على سماع الحديث، وكان سنه ست عشرة سنة، ثم حج عدة مرات وجاور بمكة مرتين، ثم سافر إلى عبد الرزاق في اليمن وكتب عنه، وقد طاف في البلاد والآفاق وسمع من مشايخ العصر وكانوا يجلونه ويحترمونه2.

قال ابن الجوزي: ابتدأ أحمد رضي الله عنه في طلب العلم من شيوخ بغداد ثم رحل إلى الكوفة والبصرة ومكة والمدينة واليمن والشام والجزيرة، وكتب عن علماء كل بلد، ثم ذكر أسماء من لقي من كبار العلماء وروى عنهم مرتبين على حروف المعجم من الألف إلى الياء،

--------------------------------------------

1 مناقب الإمام أحمد بن حنبل لابن الجوزي ص 38.

2 البداية والنهاية لابن كثير 10/369.
1-‌‌ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল

1-তাঁর বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল ইবনে হিলাল ইবনে আসাদ ইবনে ইদরিস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাইয়ান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আনাস ইবনে আউফ ইবনে কাসিত ইবনে মাযিন ইবনে শায়বান ইবনে যুহল ইবনে সা'লাবা ইবনে উকাবা ইবনে সা'ব ইবনে আলী ইবনে বকর ইবনে ওয়াইল ইবনে কাসিত ইবনে হানাব ইবনে আফসা ইবনে দামি ইবনে জাদিলা ইবনে আসাদ ইবনে রাবি'আ ইবনে নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান১।

2-তাঁর বেড়ে ওঠা ও শিক্ষালাভ:

তাঁর পিতা তাঁকে মারভ থেকে গর্ভস্থ অবস্থায় নিয়ে এসেছিলেন, অতঃপর তাঁর মা ১৬৪ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে বাগদাদে তাঁকে জন্ম দেন। তাঁর বয়স যখন তিন বছর তখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর মা তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কৈশোরে তিনি কাজী আবু ইউসুফের মজলিসে যাতায়াত করতেন, পরবর্তীতে তা ছেড়ে দিয়ে হাদীস শ্রবণের দিকে মনোনিবেশ করেন; তখন তাঁর বয়স ছিল ষোল বছর। এরপর তিনি কয়েকবার হজ করেন এবং দুইবার মক্কায় অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি ইয়েমেনে আব্দুর রাজ্জাকের নিকট সফর করেন এবং তাঁর থেকে হাদীস লিপিবদ্ধ করেন। তিনি বিভিন্ন দেশ ও দিগন্তে পরিভ্রমণ করেছেন এবং সমসাময়িক যুগের বরেণ্য শায়খদের থেকে হাদীস শুনেছেন; তাঁরা তাঁকে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন২।

ইবনুল জাওযী বলেন: আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বাগদাদের শায়খদের নিকট থেকে ইলম অন্বেষণ শুরু করেন, এরপর তিনি কুফা, বসরা, মক্কা, মদিনা, ইয়েমেন, শাম ও জাজিরায় সফর করেন এবং প্রতিটি জনপদের আলেমদের থেকে ইলম লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর তিনি (ইবনুল জাওযী) যেসব বরেণ্য আলেমদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে এবং যাদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন, তাদের নাম আলিফ থেকে ইয়া পর্যন্ত বর্ণানুক্রমে উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

১. ইবনুল জাওযী রচিত মানাকিবে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, পৃষ্ঠা ৩৮।

২. ইবনে কাসীর রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১০/৩৬৯।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ৬)
ثم ذكر من روى عنهم ممن عرف بكنيته ولم يتحقق عنده اسمه، ثم ذكر من روى عنهن من النساء1 وقد ذكر خلقاً كثيراً من شيوخه.

3-غزارة علمه:

قال إبراهيم الحربي: رأيت أحمد بن حنبل فرأيت كأن الله جمع له علم الأولين والآخرين من كل صنف يقول ما شاء ويمسك ما شاء، وقال أحمد بن سعيد الرازي: ما رأيت أسود الرأس أحفظ لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا أعلم بفقهه ومعانيه من أبي عبد الله أحمد بن حنبل.

وقال أبو عاصم: ليس ثمة ببغداد إلا ذلك الرجل يعني أحمد بن حنبل ما جاءنا من ثم أحد مثله يحسن الفقه، وقال الخلال: كان أحمد قد كتب كتب الرأي وحفظها ثم لم يلتفت إليها.

وكان إذا تكلم في الفقه تكلم كلام رجل قد انتقد العلوم فتكلم عن معرفة، وقال أبو زرعة كان أحمد بن حنبل يحفظ ألف ألف حديث2 فقيل له وما يدريك، قال ذاكرته فأخذت عليه الأبواب3.

وقال ابن الجوزي: وقد كان أحمد يذكر الجرح والتعديل من حفظه إذا سئل عنه كما يقرأ الفاتحة –ومن نظر في كتاب العلل لأبي بكر الخلال عرف ذلك، ولم يكن هذا لأحد من بقية الأئمة، وكذلك

--------------------------------------------

1 مناقب الإمام أحمد في الصفحات 46، 58، 81.

2 يعني مليون حديث.

3 نفس المصدر: 85، 89، 90.
এরপর তিনি তাদের বর্ণনা করেছেন যারা তাদের কুনিয়াত (উপনাম) দ্বারা পরিচিত ছিলেন কিন্তু তিনি তাদের নামের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেননি। এরপর তিনি নারীদের মধ্য থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর উস্তাদদের মধ্য থেকে অসংখ্য লোকের কথা উল্লেখ করেছেন।

৩-তাঁর ইলমের গভীরতা:

ইবরাহিম আল-হারবি বলেন: আমি আহমাদ ইবন হাম্বলকে দেখেছি; আমি দেখেছি যেন আল্লাহ তাঁর মধ্যে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল প্রকারের জ্ঞান একত্রিত করে দিয়েছেন। তিনি যা ইচ্ছা বলেন এবং যা ইচ্ছা গোপন রাখেন। আহমাদ ইবন সাঈদ আর-রাজি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস হিফজ করার ক্ষেত্রে এবং এর ফিকহ ও অর্থ সম্পর্কে আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবন হাম্বলের চেয়ে অধিক পারদর্শী কোনো মানুষকে দেখিনি।

আবু আসিম বলেন: বাগদাদে সেই ব্যক্তি অর্থাৎ আহমাদ ইবন হাম্বল ছাড়া আর কেউ নেই। সেখান থেকে তাঁর মতো ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী আর কেউ আমাদের কাছে আসেনি। আল-খলাল বলেন: আহমাদ রায়ের (ব্যক্তিগত অভিমতের) কিতাবসমূহ লিখেছিলেন এবং তা হিফজ করেছিলেন, এরপর তিনি সেদিকে আর ফিরেও তাকাননি।

আর যখন তিনি ফিকহ নিয়ে কথা বলতেন, তখন এমন ব্যক্তির মতো কথা বলতেন যিনি জ্ঞানসমূহকে সুক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, ফলে তিনি গভীর প্রজ্ঞার সাথে কথা বলতেন। আবু যুরআ বলেন: আহমাদ ইবন হাম্বল দশ লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি তা কীভাবে জানলেন? তিনি বললেন, আমি তাঁর সাথে আলোচনা করেছি এবং বিষয়ভিত্তিক অধ্যায়গুলো যাচাই করেছি।

ইবনুল জাওযি বলেন: আহমাদকে যখন জারাহ ও তা'দিল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি তা তাঁর স্মৃতি থেকে এমনভাবে বর্ণনা করতেন যেমন কেউ সূরা ফাতিহা পাঠ করে—আর আবু বকর আল-খলালের কিতাবুল ইলাল পাঠ করলে যে কেউ তা জানতে পারবে। অবশিষ্ট ইমামদের মধ্যে আর কারো ক্ষেত্রে এমনটি ছিল না। আর অনুরুপভাবে...

--------------------------------------------

১ মানাকিবুল ইমাম আহমাদ, পৃষ্ঠা ৪৬, ৫৮, ৮১।

২ অর্থাৎ দশ লক্ষ হাদিস।

৩ একই উৎস: ৮৫, ৮৯, ৯০।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ৭)
إنفراده في علم النقل بفتاوي الصحابة وقضاياهم وإجماعهم واختلافهم لا ينازع في ذلك، وأما علم العربية فقد قال أحمد كتبت من العربية أكثر مما كتب أبو عمرو الشيباني، وأما القياس فله من الاستنباط ما يطول شرحه1، قال الإمام ابن الجوزي: واعلم أنا نظرنا في أدلة الشرع وأصول الفقه، وسبرنا أحوال الأعلام المجتهدين فرأينا هذا الرجل أوفرهم حظاً من تلك العلوم، فإنه كان من الحافظين لكتاب الله عز وجل، قال أبو بكر بن حمدان القطيعي: قرأت على عبد الله بن أحمد بن حنبل قال لقنني أبي أحمد بن حنبل القرآن كله باختياره، وقرأ ابن حنبل على يحيى بن آدم وعبيد بن الصباح وإسماعيل بن جعفر وغيرهم بإسنادهم.

وكان أحمد لا يميل شيئاً في القرآن ويروى الحديث: "أنزل مفخماً ففخموه"، وكان لا يدغم شيئاً من القرآن إلا (اتخذتم) وبابه كأبى بكر، ويمد مداً متوسطاً وكان رضي الله عنه من المصنفين في فنون العلم من التفسير والناسخ والمنسوخ والمقدم والمؤخر إلى غير ذلك، وأما النقل فقد سلم الكل له إنفراده فيه بما لم ينفرد به سواه من الأئمة من كثرة محفوظه منه ومعرفة صحيحه من سقيمه وفنون علومه، وقد ثبت أنه ليس في الأئمة الأعلام قبله من له حظ في الحديث كحظ مالك. ومن أراد معرفة مقام أحمد في ذلك مقام مالك فلينظر فرق ما بين المسند والموطأ2.

--------------------------------------------

1 المدخل للشيخ عبد القادر بن بدران ص 105.

2 مناقب الإمام أحمد لابن الجوزي ص 599-600.
সাহাবীগণের ফতোয়া, তাঁদের বিচার-মীমাংসা, তাঁদের ঐক্যমত (ইজমা) এবং তাঁদের মতভেদ সংক্রান্ত ইলমুন নাকল (বর্ণিত জ্ঞান)-এ তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। আর আরবী ভাষার জ্ঞানের ব্যাপারে আহমদ বলেছেন, "আমি আবু আমর আশ-শায়বানী অপেক্ষা আরবী ভাষার বিষয়ে অধিক লিখেছি।" আর কিয়াস (তর্কশাস্ত্রীয় অনুমান)-এর ক্ষেত্রে তাঁর এমন ইস্তিনবাত (বিধান আহরণ) রয়েছে যার ব্যাখ্যা দীর্ঘ হবে।১ ইমাম ইবনুল জাওযী বলেন: "জেনে রাখুন, আমরা শরীয়তের দলিলসমূহ এবং উসুলুল ফিকহ নিয়ে গবেষণা করেছি এবং শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদগণের অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। এরপর আমরা এই ব্যক্তিকে (আহমদ) সেই সকল বিদ্যায় তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অংশীদার হিসেবে পেয়েছি। কারণ তিনি মহান আল্লাহর কিতাবের হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।" আবু বকর বিন হামদান আল-কাতিয়ী বলেন: "আমি আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বলের কাছে পাঠ করেছি, তিনি বলেছেন: আমার পিতা আহমদ বিন হাম্বল তাঁর পঠনরীতির মাধ্যমে আমাকে সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ করিয়েছেন। আর ইবনে হাম্বল ইয়াহইয়া বিন আদম, উবাইদ বিন আল-সাব্বাহ, ইসমাইল বিন জাফর এবং তাঁদের সনদসহ আরও অনেকের কাছে কিরাত পাঠ করেছেন।"

আহমদ কুরআনের কোনো কিছুতে ইমালা (স্বরের ঝোঁক) করতেন না এবং তিনি হাদিস বর্ণনা করতেন যে: "কুরআন গম্ভীর স্বরে (তাফখীম) অবতীর্ণ হয়েছে, সুতরাং তোমরা তা গম্ভীর স্বরে পাঠ করো।" তিনি আবু বকরের (কিরাতের) ন্যায় 'ইত্তাখাযতুম' এবং এর সমজাতীয় শব্দসমূহ ব্যতীত কুরআনের অন্য কোথাও ইদগাম (বর্ণের সন্ধি) করতেন না, এবং তিনি মধ্যম মাত্রায় মদ্দ (দীর্ঘস্বর) করতেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) ইলমের বিভিন্ন শাখায় গ্রন্থকারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যেমন—তাফসীর, নাসিখ ও মানসুখ (রহিতকারী ও রহিতকৃত), মুকাদ্দাম ও মুয়াখখার (অগ্রবর্তী ও পশ্চাৎবর্তী) সহ আরও অনেক বিষয়। আর নকল (বর্ণিত জ্ঞান)-এর ক্ষেত্রে সকলে তাঁর অনন্যতা স্বীকার করেছেন, যা অন্য কোনো ইমামের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। এর কারণ হলো তাঁর মুখস্থবিদ্যার প্রাচুর্য এবং সহীহ (বিশুদ্ধ) ও সাকীম (ত্রুটিযুক্ত) বর্ণনার পার্থক্য ও এর বিভিন্ন শাখার ইলম সম্পর্কে তাঁর প্রগাঢ় জ্ঞান। এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, তাঁর পূর্বে কোনো প্রসিদ্ধ ইমামের হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম মালিকের ন্যায় অংশ ছিল না। তবে কেউ যদি এই ক্ষেত্রে ইমাম মালিকের তুলনায় আহমদের মর্যাদা জানতে চায়, তবে সে যেন 'মুসনাদ' ও 'মুওয়াত্তা'-এর মধ্যবর্তী পার্থক্যটি লক্ষ্য করে।২

--------------------------------------------

১ আল-মাদখাল, শেখ আব্দুল কাদির বিন বাদরান, পৃষ্ঠা ১০৫।

২ মানাকিবুল ইমাম আহমদ, ইবনুল জাওযী, পৃষ্ঠা ৫৯৯-৬০০।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ৮)
قال ابن بدران في كتاب المدخل1 في ذكر مؤلفاته: والمسند وهو ثلاثون ألف حديث، وكان يقول لابنه عبد الله: احتفظ بهذا المسند فإنه سيكون للناس إماماً، وقال عبد الله قرأ علينا أبي المسند وما سمعه منه غيرنا، وقال لنا: هذا كتاب قد جمعته وانتقيته من أكثر من سبعمائة ألف حديث.. انتهى.

وهذا يدل على غزارة علمه بالحديث وتميزه فيه وقوة نقده. وهكذا من يتعلم العلم من مصادره الأصيلة: كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، وتتلمذ على حملته من جهابذة العلماء مع النية الصادقة والعمل به، فإنه حري أن يوفق لتحمل العلم النافع ويكون إماماً في الدين، كما كان الإمام أحمد وغيره من أئمة الإسلام وحملة الشريعة. فعسى أن يكون في هذا حافزاً لشباب المسلمين اليوم وقد توفرت لهم وسائل التعلم ليهبوا لحمل هذا العلم الذي به عزهم وشرفهم في الدنيا والآخرة –نرجو ذلك.

4-علمه وأخلاقه:

من المعلوم أن العلم وسيلة للعمل ومصحح له، فالغاية المطلوبة هي العمل الصالح والعلم وسيلة لتلك الغاية –وفي الحكمة المأثورة: "علم بلا عمل كشجر بلا ثمر"، والله تعالى يقول: {وَاتَّقُوا اللَّهَ وَيُعَلِّمُكُمُ اللَّهُ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} 2.

--------------------------------------------

1 ص 104.

2 الآية 282 من سورة البقرة.
ইবনে বদরান তাঁর 'আল-মাদখাল' কিতাবে ইমাম আহমদের গ্রন্থসমূহ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন: আর 'আল-মুসনাদ', যা ত্রিশ হাজার হাদীস সম্বলিত। তিনি তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে বলতেন: এই মুসনাদটি সংরক্ষণ করো, কেননা অচিরেই এটি মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক (ইমাম) হিসেবে গণ্য হবে। আর আবদুল্লাহ বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট মুসনাদ পাঠ করেছেন এবং আমরা ব্যতীত আর কেউ তাঁর থেকে এটি সরাসরি শোনেনি। তিনি আমাদের বলতেন: এটি এমন একটি কিতাব যা আমি সাত লক্ষেরও অধিক হাদীস থেকে সংগ্রহ ও নির্বাচন করেছি... সমাপ্ত।

আর এটি হাদীস শাস্ত্রে তাঁর জ্ঞানের গভীরতা, বিশেষত্ব এবং তাঁর বলিষ্ঠ সমালোচনামূলক শক্তির পরিচয় দেয়। একইভাবে যারা মূল উৎসসমূহ—অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ—থেকে ইলম অর্জন করে এবং নিষ্ঠাপূর্ণ নিয়ত ও সেই অনুযায়ী আমলের সাথে বিজ্ঞ আলেমদের সান্নিধ্যে থেকে জ্ঞানার্জন করে, তারা মূলত উপকারী জ্ঞান বহনের তাওফীক পাওয়ার এবং দ্বীনের ইমাম হওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠে, যেমনটি ছিলেন ইমাম আহমদ এবং ইসলামের অন্যান্য ইমাম ও শরীয়তের বাহকগণ। অতএব আশা করা যায় যে, বর্তমান সময়ের মুসলিম যুবকদের জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণা হবে, যখন তাদের কাছে শিক্ষার মাধ্যমসমূহ সহজলভ্য হয়েছে; যাতে তারা এই জ্ঞান বহনের জন্য সচেষ্ট হয় যার মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সম্মান ও মর্যাদা নিহিত রয়েছে—আমরা সেই কামনাই করি।

৪-তাঁর ইলম ও আখলাক:

এটি সুপরিজ্ঞাত যে, ইলম হলো আমলের মাধ্যম এবং তা সংশোধনকারী। সুতরাং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হলো নেক আমল এবং ইলম হলো সেই লক্ষ্যের একটি মাধ্যম মাত্র। হিকমতপূর্ণ প্রসিদ্ধ উক্তিতে রয়েছে: "আমলহীন ইলম ফলহীন বৃক্ষের ন্যায়।" আর আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং আল্লাহ তোমাদের শিক্ষা দেবেন; আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত} ২।

--------------------------------------------

১. পৃষ্ঠা ১০৪।

২. সূরা আল-বাকারাহর ২৮২ নম্বর আয়াত।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ৯)
والصحابة رضي الله عنهم يقول قائلهم: ما كنا نتجاوز عشر آيات حتى نتعلم معانيهن والعمل بهن، قالوا فتعلمنا العلم والعمل جميعاً، وكان سلفنا الصالح على هذه الصفة، ومنهم الإمام أحمد فقد اتصف بالعلم الغزير والعمل الصالح والأخلاق الفاضلة.

ذكر ابن الجوزي في صفة الصفوة1 قال: وعن عبد الله بن أحمد قال كان أبي أصبر الناس على الوحدة، لم يره أحد إلا في مسجد أو حضور جنازة أو عيادة مريض، وكان يكره المشي في الأسواق.

وعنه قال: كان أبي يصلي في كل يوم وليلة ثلاثمائة ركعة، فلما مرض من تلك الأسواط2 أضعفته فكان يصلي في كل يوم وليلة مائة وخمسين ركعة، وقد كان قرب من الثمانين وكان يقرأ في كل يوماً سبُعاً يختم في كل سبعة أيام، وكانت له ختمة في كل سبع ليال سوى صلاة النهار، وكان ساعة يصلي عشاء الآخرة ينام نومة خفيفة، ثم يقوم إلى الصباح يصلي ويدعو، وحج أبي خمس حجات، ثلاث حجج ماشياً واثنتين راكباً، وأنفق في بعض حجاته عشرين درهما، وعنه قال: كنت أسمع أبي كثيراً يقول في دبر الصلاة: اللهم كما صنت وجهي عن السجود لغيرك صنه عن المسألة لغيرك، وقال صالح بن أحمد بن حنبل: ورد كتاب علي بن الجهم: أن أمير المؤمنين (يعني المتوكل) قد وجه إليك يعقوب المعروف بقوصرة ومعه جائزة ويأمرك بالخروج، فالله الله أن تستعفي أو ترد المال فيتسع القول لمن يبغضك، فلما كان من

--------------------------------------------

1 ص 197 جـ2.

2 يعني الأسواط التي ضربها بسبب امتناعه من القول بخلق القرآن في عهد المعتصم.
সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)—তাঁদের মধ্য থেকে কেউ কেউ বলতেন: আমরা দশটি আয়াতের অধিক অতিক্রম করতাম না যতক্ষণ না আমরা সেগুলোর অর্থ এবং তদানুযায়ী আমল করা শিখতাম। তাঁরা বলতেন: এভাবে আমরা জ্ঞান ও আমল উভয়ই একত্রে শিক্ষা করেছি। আমাদের নেককার পূর্বসূরিগণ এই বৈশিষ্ট্যের ওপরই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইমাম আহমাদ অন্যতম, যিনি অগাধ পাণ্ডিত্য, নেক আমল এবং শ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।

ইবনুল জাওযী 'সিফাতুস সাফওয়াহ'১ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন আহমাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—আমার পিতা নির্জনতায় সর্বাপেক্ষা ধৈর্যশীল মানুষ ছিলেন। মসজিদ, জানাযায় উপস্থিতি অথবা অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া ব্যতীত কেউ তাঁকে দেখত না। তিনি বাজারে চলাচল করা অপছন্দ করতেন।

তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পিতা প্রতি দিন ও রাতে তিনশ রাকাত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর যখন সেই চাবুকের আঘাতজনিত২ অসুস্থতা তাঁকে দুর্বল করে দিল, তখন তিনি প্রতি দিন ও রাতে দেড়শ রাকাত সালাত আদায় করতেন। সে সময় তাঁর বয়স আশির কাছাকাছি ছিল। তিনি প্রতিদিন কুরআনের এক সপ্তমাংশ তিলাওয়াত করতেন এবং প্রতি সাত দিনে একবার খতম সম্পন্ন করতেন। দিনের সালাত ব্যতীত প্রতি সাত রাতে তাঁর একটি খতমের নিয়ম ছিল। এশার সালাত আদায়ের পর তিনি কিছুক্ষণ হালকা ঘুমিয়ে নিতেন, অতঃপর সকাল পর্যন্ত দাঁড়িয়ে সালাত ও দোয়ায় রত থাকতেন। আমার পিতা পাঁচবার হজ সম্পাদন করেছেন—তিনবার পায়ে হেঁটে এবং দুইবার সওয়ারিতে আরোহণ করে। তাঁর কোনো এক হজে তিনি মাত্র বিশ দিরহাম ব্যয় করেছিলেন। তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে সালাতের শেষে প্রায়ই বলতে শুনতাম: হে আল্লাহ! যেভাবে আপনি আমার চেহারাকে অন্য কারো নিকট সিজদাহ করা থেকে রক্ষা করেছেন, তদ্রূপ একে অন্য কারো নিকট যাচ্ঞা করা থেকেও রক্ষা করুন। সালিহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল বলেন: আলী বিন জাহামের পক্ষ থেকে একটি পত্র এল যে—আমীরুল মুমিনীন (অর্থাৎ মুতাওয়াক্কিল) আপনার নিকট 'কাওসারা' নামে পরিচিত ইয়াকুবকে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর সাথে উপঢৌকন পাঠিয়েছেন, আর আপনাকে বের হয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব আল্লাহর দোহাই, আপনি অব্যাহতি প্রার্থনা করা কিংবা অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন, অন্যথায় যারা আপনাকে ঘৃণা করে তাদের অপবাদের সুযোগ প্রশস্ত হবে। অতঃপর যখন...

--------------------------------------------

১ পৃষ্ঠা ১৯৭, খণ্ড ২।

২ অর্থাৎ মুতাসিমের শাসনামলে কুরআনকে 'সৃষ্টি' (মাখলুক) বলার অস্বীকৃতির কারণে তাঁকে যে চাবুক মারা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ১০)
الغد ورد يعقوب فدخل عليه فقال: يا أبا عبد الله أمير المؤمنين يقرئك السلام، ويقول قد أحببت أن آنس بقربك وأن أتبرك بدعائك –وقد وجهت إليك عشرة آلاف درهم معونة على سفرك وأخرج صرة فيها بدرة نحو مائتي دينار والباقي دراهم صحاح، فلم ينظر إليها ثم شدها يعقوب، وقال له أعود غداً حتى أبصر ما تعزم عليه، وانصرف فجئت بإجانة خضراء فكببتها على البدرة، فلما كان عند المغرب قال: يا صالح خذ هذا فصيره عندك، فصيرتها عند رأسي فوق البيت، فلما كان سحراً إذا هو ينادي يا صالح فقمت فصعدت إليه فقال: ما نمت ليلتي هذه فقلت: لم يا أبت؟ فجعل يبكي وقال: سلمت من هؤلاء حتى إذا كان في آخر عمري بليت بهم، قد عزمت على أن أفرق هذا الشيء إذا أصبحت فقلت ذاك إليك، فلما أصبح قال: جئني يا صالح بميزان، وقال: وجهوا إلي أبناء المهاجرين والأنصار. ثم قال: وجه إلى آل فلان، فلم يزل يفرقها كلها ونفضت الكيس ونحن في حالة الله تعالى بها عليم، وكتب صاحب البريد أنه قد تصدق بالدراهم من يومه حتى تصدق بالكيس، قال علي بن الجهم فقلت يا أمير المؤمنين قد علم الناس أنه قد قبل منك، وما يصنع أحمد بالمال وإنما قوته رغيف، فقال لي صدقت يا علي –وبهذه النقولات عن ابني الإمام وقد عايشا أباهما معايشة خاصة أكبر دليل على مدى صلاح الإمام أحمد وتقواه وزهده وورعه.

وأما تواضعه:

فقد قال ابن الجوزي1 بلغني عن أبي الحسين بن المنادي قال

--------------------------------------------

1 مناقب الإمام أحمد الصفحات: 277، 280، 281.
পরের দিন ইয়াকুব আসলেন এবং তাঁর কাছে প্রবেশ করে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, আমিরুল মুমিনিন আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং বলেছেন, আমি আপনার সান্নিধ্যে ধন্য হতে এবং আপনার দোয়ার বরকত হাসিল করতে চেয়েছি - আর আমি আপনার সফরের সাহায্য হিসেবে দশ হাজার দিরহাম পাঠিয়েছি। তিনি একটি থলি বের করলেন যাতে প্রায় দুইশ দিনারের একটি পুটলি ছিল এবং বাকিগুলো ছিল সঠিক মানের দিরহাম। তিনি সেদিকে ফিরেও তাকালেন না, তারপর ইয়াকুব সেটি বাঁধলেন এবং তাঁকে বললেন, আমি আগামীকাল পুনরায় আসব যাতে আপনি কী সিদ্ধান্ত নেন তা দেখতে পারি। এরপর তিনি চলে গেলেন। আমি একটি সবুজ গামলা নিয়ে আসলাম এবং সেটি পুটলিটির ওপর উপুড় করে ঢেকে দিলাম। যখন মাগরিবের সময় হলো, তখন তিনি বললেন: হে সালেহ, এটি নাও এবং তোমার কাছে রাখো। আমি সেটি ঘরের ওপর আমার মাথার কাছে রাখলাম। যখন শেষ রাত হলো, তখন তিনি ডাকছিলেন, হে সালেহ! আমি উঠে তাঁর কাছে গেলাম। তিনি বললেন: আমি এই রাতে ঘুমাতে পারিনি। আমি বললাম: কেন হে পিতা? তিনি কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন: আমি এই লোকদের থেকে নিরাপদে ছিলাম, অবশেষে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাদের দ্বারা পরীক্ষায় পতিত হলাম। আমি সংকল্প করেছি যে, সকাল হলেই আমি এই সম্পদ বণ্টন করে দেব। আমি বললাম, সেটি আপনার ইচ্ছা। সকাল হলে তিনি বললেন: হে সালেহ, আমার কাছে একটি পাল্লা নিয়ে এসো। তিনি বললেন: মুহাজির ও আনসারদের সন্তানদের আমার কাছে পাঠাও। তারপর বললেন: অমুক বংশের লোকদের কাছে লোক পাঠাও। এভাবে তিনি তার সবটুকুই বণ্টন করে দিলেন এবং আমি থলিটি ঝেড়ে ফেললাম, অথচ আমরা তখন এমন অবস্থায় ছিলাম যা আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন। ডাক বিভাগের কর্মকর্তা লিখে পাঠালেন যে, তিনি সেদিনই সব দিরহাম দান করে দিয়েছেন, এমনকি থলিটিও দান করে দিয়েছেন। আলী ইবনুল জাহাম বলেন, আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন, মানুষ জেনেছে যে তিনি আপনার নিকট থেকে তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু আহমদ সম্পদ দিয়ে কী করবেন? তাঁর খাদ্য তো কেবল একটি রুটি। তিনি আমাকে বললেন: হে আলী, তুমি সত্যই বলেছ। ইমামের দুই পুত্রের পক্ষ থেকে বর্ণিত এই উদ্ধৃতিগুলো, যারা তাদের পিতার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জীবন অতিবাহিত করেছেন, ইমাম আহমদের সততা, তাকওয়া, দুনিয়াবিমুখতা এবং পরহেজগারির ব্যাপ্তির সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

আর তাঁর বিনয় সম্পর্কে:

ইবনুল জাওজি ১ উল্লেখ করেছেন, আবুল হুসাইন ইবনুল মুনাদি থেকে আমার কাছে পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন

--------------------------------------------

১ মানাকিবুল ইমাম আহমদ, পৃষ্ঠা: ২৭৭, ২৮০, ২৮১।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ১১)
سمعت جدي يقول: كان أحمد من أحب الناس وأكرمهم نفساً وأحسنهم عشرة وأدباً، كثير الإطراق، معرضاً عن القبيح واللغو، لا يسمع منه إلا المذاكرة بالحديث، وذكر الصالحين والزهاد في وقار وسكون ولفظ حسن، وإذا لقيه إنسان بش به وأقبل عليه، وكان يتواضع للشيوخ تواضعاً شديداً وكانوا يكرمونه ويعظمونه، قال الخلال: وأخبرني محمد بن الحسين أن أبا بكر المروذي –حدثهم قال: كان أبو عبد الله لا يجهل، وإن جهل عليه احتمل وحلم، ويقول: يكفى الله، ولم يكن بالحقود ولا العجول، ولقد وقع بين عمه وجيرانه منازعة فكانوا يجيئون إلى أبي عبد الله فلا يظهر لهم ميله مع عمه ولا يغضب لعمه، ويتلقاهم بما يعرفون من الكرامة، وكان كثير التواضع يحب الفقراء، لم أر الفقير في مجلس أعز منه في مجلسه، مائلاً إليهم مقصراً عن أهل الدنيا، تعلوه السكينة والوقار، إذا جلس في مجلسه بعض العصر للفتيا لا يتكلم حتى يسأل، وإذا خرج إلى مسجده لم يتصدر يقعد حيث انتهى به المجلس، وكان لا يمد قدمه في المجلس ويكرم جليسه، وكان حسن الخلق، دائم البشر، لين الجانب، ليس بفظ ولا غليظ، وكان يحب في الله ويبغض في الله، وكان إذا أحب رجلاً أحب له ما يحب لنفسه، وكره له ما يكره لنفسه ولم يمنعه حبه إياه أن يأخذ على يديه ويكفه عن ظلم وإثم أو مكروه إن كان منه، وكان إذا بلغه عن شخص صلاح أو زهد أو قيام بحق أو اتباع للأمر سأل عنه وأحب أن يجري بينه وبينه معرفة. وأحب أن يعرف أحواله، وكان رجلاً فطناً. إذا كان شيء لا يرضاه اضطرب لذلك، ويغضب لله ولا يغضب لنفسه فلا ينتصر لها، فإذا كان في أمر من الدين اشتد له غضبه حتى كأنه ليس هو، لا تأخذه في الله لومة لائم، وكان حسن الجوار، يؤذى فيصبر ويحتمل الأذى من الجار … انتهى.
আমি আমার দাদাকে বলতে শুনেছি: আহমাদ ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে উন্নত আত্মার অধিকারী এবং মেলামেশা ও শিষ্টাচারে সর্বোত্তম। তিনি অধিকাংশ সময় নিভৃতে চিন্তামগ্ন থাকতেন, কদর্য ও অসার কাজ থেকে বিমুখ থাকতেন। তাঁর কাছ থেকে হাদীস চর্চা এবং গাম্ভীর্য, প্রশান্তি ও সুন্দর ভাষায় নেককার ও দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তিদের আলোচনা ছাড়া আর কিছুই শোনা যেত না। কোনো ব্যক্তি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি হাসিমুখে তাঁর দিকে মনোনিবেশ করতেন। তিনি প্রবীণদের প্রতি অত্যন্ত বিনয় প্রদর্শন করতেন এবং তাঁরাও তাঁকে সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করতেন। আল-খাল্লাল বলেন: আমাকে মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু বকর আল-মারওয়াযী তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম আহমাদ) কারো সাথে মূর্খের মতো আচরণ করতেন না; আর যদি কেউ তাঁর সাথে মূর্খের মতো আচরণ করত, তবে তিনি তা ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে সহ্য করতেন এবং বলতেন: ‘আল্লাহই যথেষ্ট’। তিনি বিদ্বেষপরায়ণ বা তাড়াহুড়োকারী ছিলেন না। তাঁর চাচা ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিবাদ দেখা দিলে তারা আবু আব্দুল্লাহর কাছে আসত; কিন্তু তিনি তাদের সামনে চাচার প্রতি তাঁর পক্ষপাত প্রকাশ করতেন না এবং চাচার পক্ষ হয়ে রাগান্বিত হতেন না। তিনি তাঁদের সাথে এমনভাবে সাক্ষাৎ করতেন যাতে তাঁরা তাঁর মহানুভবতা উপলব্ধি করতে পারত। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন এবং অভাবী-দরিদ্রদের ভালোবাসতেন। আমি কোনো অভাবী ব্যক্তিকে তাঁর মজলিসের চেয়ে অন্য কোথাও অধিক সম্মানিত হতে দেখিনি। তিনি তাঁদের প্রতি ঝুঁকে থাকতেন এবং দুনিয়াদারদের থেকে বিমুখ থাকতেন। তাঁর ওপর প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য ছেয়ে থাকত। যখন তিনি আসরের পর ফতোয়া দেওয়ার জন্য তাঁর মজলিসে বসতেন, তখন জিজ্ঞাসিত হওয়ার আগে কথা বলতেন না। যখন তিনি তাঁর মসজিদে যেতেন, তখন সামনে এগিয়ে বসতেন না, বরং মজলিস যেখানে শেষ হতো সেখানেই বসতেন। তিনি মজলিসে তাঁর পা প্রসারিত করতেন না এবং তাঁর পাশে বসা ব্যক্তিকে সম্মান করতেন। তিনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল থাকতেন, অমায়িক ছিলেন; রুক্ষ বা কঠোর স্বভাবের ছিলেন না। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসতেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ঘৃণা করতেন। তিনি যখন কোনো ব্যক্তিকে ভালোবাসতেন, তখন নিজের জন্য যা পছন্দ করতেন তার জন্যও তাই পছন্দ করতেন এবং নিজের জন্য যা অপছন্দ করতেন তার জন্যও তাই অপছন্দ করতেন। তাঁর প্রতি ভালোবাসা তাঁকে সেই ব্যক্তির হাত ধরে জুলুম, গুনাহ বা অপছন্দনীয় কাজ থেকে বিরত রাখা থেকে বাধা দিত না, যদি তার দ্বারা এমন কিছু সংঘটিত হতো। যখন তাঁর কাছে কোনো ব্যক্তির নেক আমল, দুনিয়াবিমুখতা, হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা বা নির্দেশ পালনের সংবাদ পৌঁছাত, তখন তিনি তাঁর সম্পর্কে খোঁজ নিতেন এবং তাঁর সাথে পরিচিত হতে ও তাঁর অবস্থা জানতে পছন্দ করতেন। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন। যদি এমন কিছু ঘটত যা তিনি পছন্দ করতেন না, তবে তিনি বিচলিত হয়ে পড়তেন। তিনি আল্লাহর জন্য রাগান্বিত হতেন, কিন্তু নিজের জন্য রাগান্বিত হতেন না এবং নিজের জন্য প্রতিশোধ নিতেন না। কিন্তু যখন দ্বীনি কোনো বিষয়ের প্রশ্ন আসত, তখন তাঁর রাগ এতটাই তীব্র হতো যে মনে হতো তিনি সেই ব্যক্তি নন। আল্লাহর ব্যাপারে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না। তিনি উত্তম প্রতিবেশী ছিলেন; কষ্ট দেওয়া হলেও তিনি ধৈর্য ধারণ করতেন এবং প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে আসা কষ্ট সহ্য করে নিতেন … সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ১২)
هذه أخلاق الإمام أحمد. علم وعمل وتواضع وصبر واحتمال، وجدير بمن تربى على الكتاب والسنة وتتلمذ على العلماء العاملين وخالط الصالحين أن يكون كذلك، بخلاف من يتربى على نظريات الفلاسفة وأفكار الغرب فإنه يتأثر بها ويتخلق بها، فيجب على المسلمين أن يوجهوا أولادهم إلى الكتاب والسنة وأخلاق السلف الصالح، ليتربوا التربية الصحيحة، ويتوجهوا الوجهة السليمة ويتركوا استيراد النظريات التربوية من الكفار وفلاسفة الغرب.

5-محنته وصلابته في الحق:

قال الحافظ ابن كثير رحمه الله1 باب ذكر ما جاء في محنة أبي عبد الله أحمد بن حنبل / في أيام المأمون ثم المعتصم ثم الواثق بسبب القرآن العظيم. وما أصابه من الحبس الطويل والضرب الشديد والتهديد بالقتل بسوء العذاب وأليم العقاب وقلة مبالاته بما كان منهم من ذلك إليه وصبره عليه وتمسكه بما كان عليه من الدين القويم والصراط المستقيم، وكان أحمد عالماً بما ورد بمثل حاله من الآيات المتلوة والأخبار المأثورة. وبلغه بما أوصي به في المنام واليقظة فرضي وسلم إيماناً واحتساباً –وفاز بخير الدنيا ونعيم الآخرة، وهيأه الله بما آتاه من ذلك لبلوغ أعلى منازل أهل البلاء في الله من أوليائه، ثم قال ابن كثير رحمه الله: وقد ذكرنا فيما تقدم أن المأمون كان قد استحوذ عليه جماعة من المعتزلة فأزاغوه عن طريق الحق إلى الباطل، وزينوا له القول بخلق القرآن ونفي الصفات عن الله عز وجل قال البيهقي: ولم يكن في الخلفاء قبله من بني أمية وبني العباس خليفة إلا على مذهب

--------------------------------------------

1 البداية والنهاية الصفحات: 374، 376، 378، 379.
এগুলো ইমাম আহমদের চরিত্র। জ্ঞান ও আমল, বিনয় ও ধৈর্য এবং সহনশীলতা। যারা কিতাব ও সুন্নাহর ওপর লালিত-পালিত হয়, আমলকারী আলেমদের নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করে এবং সৎকর্মশীলদের সাথে মেলামেশা করে, তাদের এমনই হওয়া উচিত। এটি তাদের বিপরীত যারা দার্শনিকদের মতবাদ এবং পশ্চিমাদের চিন্তাধারার ওপর বেড়ে ওঠে, ফলে তারা সেগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং সেই অনুযায়ী চরিত্র গঠন করে। তাই মুসলিমদের কর্তব্য হলো তাদের সন্তানদের কিতাব, সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের চরিত্রের দিকে পরিচালিত করা, যাতে তারা সঠিক শিক্ষা লাভ করে এবং সঠিক পথের দিশা পায়। আর তারা যেন কাফের ও পশ্চিমা দার্শনিকদের থেকে শিক্ষাতত্ত্ব আমদানিকরণ বর্জন করে।

৫-তাঁর পরীক্ষা এবং সত্যের ওপর তাঁর দৃঢ়তা:

হাফেজ ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ)১ বলেছেন: অধ্যায়: আল-কুরআনে কারীম (সৃষ্টি হওয়া) সংক্রান্ত ফিতনার কারণে মামুন, অতঃপর মুতাসিম এবং এরপর ওয়াসিকের যুগে আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বলের ওপর যে পরীক্ষা এসেছিল তার বর্ণনা। দীর্ঘ কারাবাস, কঠোর প্রহার এবং নিকৃষ্ট যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির মাধ্যমে হত্যার হুমকির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও এগুলোর প্রতি তাঁর ভ্রূক্ষেপহীনতা, ধৈর্য ধারণ এবং তাঁর সুদৃঢ় দ্বীন ও সিরাতুল মুস্তাকিমের ওপর অবিচল থাকার বর্ণনা। আহমদ তাঁর অনুরূপ অবস্থায় তিলাওয়াতকৃত আয়াতসমূহ এবং বর্ণিত হাদীসসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। ঘুমের ঘোরে এবং জাগ্রত অবস্থায় তাঁকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তা তাঁর নিকট পৌঁছেছিল, ফলে তিনি ঈমান ও সাওয়াবের আশায় তাতে সন্তুষ্ট ও সমর্পিত ছিলেন—এবং তিনি ইহলৌকিক কল্যাণ ও পারলৌকিক নিয়ামত লাভে ধন্য হন। আল্লাহ তাঁকে যা দান করেছিলেন তার মাধ্যমে তাঁকে আল্লাহর পথে পরীক্ষায় নিপতিত তাঁর ওলীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদায় পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। অতঃপর ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, মামুনের ওপর মুতাজিলাদের একটি দল কর্তৃত্ব বিস্তার করেছিল, ফলে তারা তাকে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করে বাতিলের দিকে নিয়ে গিয়েছিল এবং তারা তার কাছে কুরআন সৃষ্টি হওয়ার দাবি এবং মহান আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার বিষয়টিকে সুশোভিত করেছিল। বায়হাকী বলেন: তাঁর পূর্বে উমাইয়া ও আব্বাসী খলিফাদের মধ্যে এমন কোনো খলিফা ছিলেন না যিনি (সঠিক) মাযহাবের ওপর ব্যতীত অন্য কিছুতে ছিলেন।

--------------------------------------------

১ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, পৃষ্ঠা: ৩৭৪, ৩৭৬, ৩৭৮, ৩৭৯।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ১৩)
السلف ومنهاجهم، فلما ولي الخلافة اجتمع به هؤلاء فحملوه على ذلك، وزينوا له، واتفق خروجه إلى طرسوس لغزو الروم فكتب إلى نائبه ببغداد –إسحاق بن إبراهيم بن مصعب- يأمره أن يدعو الناس إلى القول بخلق القرآن، واتفق له ذلك آخر عمره قبل موته بشهور من سنة ثماني عشرة ومائتين، فلما وصل الكتاب كما ذكرنا استدعى جماعة من أئمة الحديث فدعاهم إلى ذلك فامتنعوا فتهددهم بالضرب وقطع الأرزاق فأجاب أكثرهم مكرهين، واستمر على الامتناع من ذلك الإمام أحمد بن حنبل ومحمد بن نوح الجند يسابورى، فحملا على بعير وسيرا إلى الخليفة عن أمره بذلك. وهما مقيدان متعادلان في محمل على بعير واحد –فلما اقتربا من جيش الخليفة ونزلوا دونه بمرحلة جاء خادم وهو يمسح دموعه بطرف ثوبه ويقول: يعز علي يا أبا عبد الله أن المأمون قد سل سيفاً لم يسله قبل ذلك، وأنه يقسم بقرابته من رسول الله صلى الله عليه وسلم لئن لم تجبه إلى القول بخلق القرآن ليقتلنك بذلك السيف، قال فجثى الإمام أحمد على ركبتيه ورمق بطرفه إلى السماء وقال سيدي غر حلمك هذا الفاجر حتى تجرأ على أوليائك بالضرب والقتل، اللهم فإن يكن القرآن كلامك غير مخلوق فاكفنا مؤنته، قال فجاءهم الصريخ بموت المأمون في الثلث الأخير من الليل، قال أحمد ففرحنا ثم جاء الخبر بأن المعتصم قد ولي الخلافة، وقد انضم إليه أحمد بن أبي دؤاد وأن الأمر شديد، فردونا إلى بغداد في سفينة مع بعض الأسرى ونالني منهم أذى كثير، وكان في رجليه القيود ومات صاحبه محمد بن نوح في الطريق وصلى عليه أحمد –فلما رجع أحمد إلى بغداد دخلها في رمضان فأودع السجن نحواً من ثمانية وعشرين شهراً وقيل نيفاً وثلاثين شهراً، ثم أخرج إلى الضرب بين يدي المعتصم، وكان أحمد وهو في
সালাফ এবং তাঁদের মানহাজ। যখন তিনি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন এই লোকগুলো তাঁর সাথে সমবেত হলো এবং তাঁকে সেই কাজে প্ররোচিত করল ও তাঁর সামনে বিষয়টিকে সুশোভিত করল। রোমানদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য তাঁর তারসুস অভিমুখে যাত্রার সময় এই ঘটনা ঘটে; তখন তিনি বাগদাদে তাঁর প্রতিনিধি—ইসরাক বিন ইব্রাহিম বিন মুসআব—এর নিকট এই মর্মে পত্র লিখলেন যে, তিনি যেন মানুষকে কুরআন সৃষ্টির (মাখলুক) মতবাদ গ্রহণ করার আহ্বান জানান। তাঁর জীবনের শেষ ভাগে, ২১৮ হিজরি সালে তাঁর মৃত্যুর কয়েক মাস পূর্বে এটি সংঘটিত হয়। আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি, পত্রটি পৌঁছানোর পর তিনি একদল হাদিস বিশারদ ইমামকে তলব করলেন এবং তাঁদেরকে সেই মতবাদ গ্রহণের আহ্বান জানালেন; কিন্তু তাঁরা অস্বীকার করলেন। তখন তিনি তাঁদেরকে প্রহার এবং জীবিকা কর্তনের হুমকি দিলেন, ফলে তাঁদের অধিকাংশ বাধ্য হয়ে তাতে সাড়া দিলেন। তবে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল এবং মুহাম্মাদ বিন নুহ আল-জুন্দায়সাবুরি এ মতবাদ গ্রহণে অস্বীকৃতির ওপর অটল থাকলেন। ফলে তাঁদেরকে একটি উটের পিঠে চড়ানো হলো এবং খলিফার নির্দেশে তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। তাঁরা দুজনে একই উটের ওপর হাওদার দুই পাশে ভারসাম্য বজায় রাখা অবস্থায় শিকলবদ্ধ ছিলেন। যখন তাঁরা খলিফার সেনাবাহিনীর নিকটবর্তী হলেন এবং তাঁদের থেকে এক মঞ্জিল দূরে অবতরণ করলেন, তখন এক খাদেম তাঁর পরিধেয় বস্ত্রের কোণ দিয়ে অশ্রু মুছতে মুছতে এসে বললেন: "হে আবু আব্দুল্লাহ, আমার নিকট এটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক যে, আল-মামুন এমন এক তলোয়ার কোষমুক্ত করেছেন যা তিনি ইতিপূর্বে কখনো করেননি। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর আত্মীয়তার কসম খেয়ে বলছেন যে, যদি আপনি কুরআন সৃষ্টির মতবাদ মেনে না নেন, তবে তিনি অবশ্যই আপনাকে ওই তলোয়ার দিয়ে হত্যা করবেন।" তিনি বলেন: তখন ইমাম আহমাদ দুই হাঁটু গেড়ে বসলেন এবং আকাশের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললেন, "হে আমার রব, আপনার ধৈর্য এই পাপিষ্ঠকে বিভ্রান্ত করেছে, ফলে সে আপনার বন্ধুদের ওপর প্রহার ও হত্যার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। হে আল্লাহ, কুরআন যদি আপনার কালাম এবং অ-সৃষ্ট হয়ে থাকে, তবে আপনি আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর অনিষ্টের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।" তিনি বলেন: অতঃপর রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল-মামুনের মৃত্যুর সংবাদ নিয়ে এক চিৎকারকারী তাঁদের নিকট এল। আহমাদ বলেন: "আমরা আনন্দিত হলাম। এরপর সংবাদ এল যে, আল-মুতাসিম খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং আহমাদ বিন আবি দুয়াদ তাঁর সাথে যোগ দিয়েছেন এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।" তখন তাঁরা আমাদের কিছু যুদ্ধবন্দীর সাথে নৌকায় করে বাগদাদে ফেরত পাঠালেন এবং তাঁদের পক্ষ থেকে আমি অনেক কষ্ট সহ্য করলাম। তাঁর দুই পায়ে শিকল ছিল এবং তাঁর সাথী মুহাম্মাদ বিন নুহ পথিমধ্যে ইন্তেকাল করলেন এবং আহমাদ তাঁর জানাজা পড়ালেন। যখন আহমাদ বাগদাদে ফিরলেন, তখন তিনি রমজান মাসে প্রবেশ করেন এবং তাঁকে প্রায় আটাশ মাস, মতান্তরে ত্রিশ মাসের কিছু বেশি সময় কারাগারে রাখা হলো। এরপর আল-মুতাসিমের সম্মুখে প্রহার করার জন্য তাঁকে বের করা হলো। আহমাদ তখন থাকাবস্থায়...
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ১৪)
السجن هو الذي يصلي في أهل السجن والقيود في رجليه، ولما أحضره المعتصم من السجن زاد في قيوده، قال أحمد: فلم أستطع أن أمشي بها –فربطتها في التكة وحملتها بيدي، ثم جاءوني بدابة فحملت عليها فكدت أن أسقط على وجهي من ثقل القيود. وليس معي أحد يمسكني فسلم الله حتى جئنا دار المعتصم فأدخلت في بيت وأغلق علي. وليس عندي سراج فأردت الوضوء فمددت يدي فإذا إناء فيه ماء فتوضأت منه ثم قمت ولا أعرف القبلة فلما أصبحت إذا أنا على القبلة ولله الحمد –ثم دعيت فأدخلت على المعتصم-.

وذكر ابن كثير رحمه الله المناظرة التي دارت بينه وبين خصومه بحضرة المعتصم في موضوع خلق القرآن –إلى أن قال: ثم لم يزالوا يقولون له يا أمير المؤمنين إنه ضال مضل كافر، فأمر بي فقمت بين العقابين وجيء بكرسي فأقمت عليه، وأمرني بعضهم أن آخذ بيدي بأي الخشبتين فلم أفهم فتخلعت يداي وجيء بالضرابين ومعهم السياط فجعل أحدهم يضربني سوطين –ويقول له -يعني المعتصم- شد قطع الله يدك- ويجيء الآخر فيضربني سوطين ثم الآخر كذلك، فضربوني أسواطاً فأغمي علي وذهب عقلي مراراً –فإذا سكن الضرب يعود علي عقلي –وقام المعتصم إلي يدعوني إلى قولهم فلم أجبه- وجعلوا يقولون: ويحك الخليفة على رأسك فلم أقبل. فأعادوا الضرب ثم عاد إلي فلم أجبه، فأعادوا الضرب ثم جاء الثالثة فدعاني فلم أعقل ما قال من شدة الضرب، ثم أعادوا الضرب فذهب عقلي فلم أحس بالضرب، وأرعبه ذلك من أمري وأمر بي فأطلقت ولم أشعر إلا وأنا في حجرة من بيت وقد أطلقت الأقياد من رجلي، ثم أمر الخليفة بإطلاقه إلى أهله، وكان جملة ما ضرب نيفاً وثلاثين سوطاً، وقيل ثمانين
কারাগারে তিনিই কয়েদিদের নামাজ পড়াতেন অথচ তাঁর পায়ে তখন বেড়ি ছিল। যখন আল-মু’তাসিম তাকে কারাগার থেকে নিয়ে এল, সে তাঁর শেকল আরও বাড়িয়ে দিল। আহমাদ বলেন: আমি সেগুলো পরে হাঁটতে পারছিলাম না – তাই আমি সেগুলো পাজামার ফিতার সাথে বাঁধলাম এবং আমার হাতে করে বহন করলাম। এরপর তারা আমার জন্য একটি সওয়ারি আনল এবং আমি তার উপরে আরোহণ করলাম, কিন্তু শেকলের ভারে আমি প্রায় উপুড় হয়ে পড়ে যাচ্ছিলাম। আমাকে ধরে রাখার মতো কেউ ছিল না, কিন্তু আল্লাহ রক্ষা করেছেন যতক্ষণ না আমরা মু’তাসিমের প্রাসাদে পৌঁছালাম। এরপর আমাকে একটি ঘরে প্রবেশ করানো হলো এবং আমার ওপর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলো। আমার কাছে কোনো চেরাগ ছিল না। আমি ওযু করতে চাইলাম এবং হাত বাড়াতেই পানির একটি পাত্র পেলাম। আমি তা দিয়ে ওযু করলাম। তারপর আমি দাঁড়ালাম কিন্তু কিবলা চিনতে পারছিলাম না। যখন ভোর হলো, আমি দেখলাম যে আমি কিবলার দিকেই মুখ করে আছি, আল্লাহরই সকল প্রশংসা – এরপর আমাকে ডাকা হলো এবং মু’তাসিমের সামনে উপস্থিত করা হলো।

এবং ইবনে কাসির (রহিমাহুল্লাহ) সেই বিতর্কের কথা উল্লেখ করেছেন যা কুরআন সৃষ্টির বিষয়ে মু’তাসিমের উপস্থিতিতে তাঁর এবং তাঁর বিরোধীদের মাঝে হয়েছিল – যতক্ষণ না তিনি বলেন: এরপর তারা অনবরত তাকে বলতে লাগল, হে আমিরুল মুমিনীন! সে পথভ্রষ্ট, পথভ্রষ্টকারী এবং কাফির। তখন তিনি আমার ব্যাপারে আদেশ দিলেন এবং আমি চাবুক মারার দুই খুঁটির মাঝখানে দাঁড়ালাম। একটি চেয়ার আনা হলো এবং আমি তার ওপর দাঁড়ালাম। তাদের কেউ কেউ আমাকে আদেশ করল দুই কাঠের যেকোনোটি যেন আমি হাত দিয়ে ধরি, কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম না, ফলে আমার দুই হাত মচকে গেল। এরপর কশাঘাতকারীদের আনা হলো এবং তাদের সাথে চাবুক ছিল। তাদের একজন আমাকে দুটি চাবুক মারল – এবং মু’তাসিম তাকে বলছিল – আরও জোরে মারো, আল্লাহ তোমার হাত কেটে দিন – এরপর অন্যজন এসে আমাকে দুটি চাবুক মারল, তারপর অন্যজনও একইভাবে। তারা আমাকে অনেকগুলো চাবুক মারল ফলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম এবং বারবার আমার চেতনা চলে যাচ্ছিল – যখন মার থামত তখন আমার চেতনা ফিরে আসত – আর মু’তাসিম আমার দিকে এগিয়ে এসে আমাকে তাদের মতবাদ গ্রহণ করার আহ্বান জানাত কিন্তু আমি তাকে কোনো উত্তর দিতাম না – এবং তারা বলতে লাগল: দুর্ভোগ তোমার! খলিফা স্বয়ং তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু আমি তা গ্রহণ করলাম না। তারা পুনরায় মার শুরু করল, এরপর সে আবার আমার কাছে ফিরে এল কিন্তু আমি তাকে উত্তর দিলাম না। তারা পুনরায় মার শুরু করল, এরপর সে তৃতীয়বার এসে আমাকে ডাকল কিন্তু প্রচণ্ড মারের কারণে সে কী বলেছিল তা আমি বুঝতে পারলাম না। এরপর তারা আবার মার শুরু করল এবং আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম, ফলে আমি আর প্রহার অনুভব করতে পারছিলাম না। আমার এই অবস্থা দেখে সে ভীত হয়ে পড়ল এবং আমার ব্যাপারে আদেশ দিল, ফলে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হলো। আমি তখন কিছুই টের পাচ্ছিলাম না, হঠাৎ দেখলাম আমি একটি কক্ষের ভেতর আছি এবং আমার পা থেকে শেকল খুলে দেওয়া হয়েছে। এরপর খলিফা তাকে তাঁর পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার আদেশ দিলেন। তাঁকে মোট ত্রিশের অধিক চাবুক মারা হয়েছিল, আর কেউ কেউ বলেন আশিটি।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ১৫)
سوطاً ولكن كان ضرباً مبرحاً شديداً جداً، ولما رجع إلى منزله جاء الجراح فقطع لحماً ميتاً من جسده وجعل يداويه، ولما شفاه الله بالعافية بقى مدة وإبهاماه يؤذيهما البرد –وجعل كل من آذاه في حل إلا أهل البدعة، وكان يتلو في ذلك قوله تعالى: {وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا} الآية، ويقول ماذا ينفعك أن يعذب أخوك المسلم بسببك، انتهى باختصار.

وهكذا ثبت الإمام أحمد رحمه الله على الحق، وصبر على السجن والضرب ولم تأخذه في الله لومة لائم، ولم ترهبه السلطة والجبروت، فكانت العاقبة والعقوبة لأعدائه، ومع هذا يعفو ويصفح عن خصومه ويجعلهم في حل ما عدا المبتدعة –لأن المبتدعة انتهكوا محارم الله ولم تكن إساءتهم قاصرة عليه، إنه الإيمان الراسخ والتربية النافعة المستمدة من الكتاب والسنة يصنعان الرجال، ويبعثان على الثبات في مواقف الفتن والأهوال، وهكذا تكون مواقف الأبطال.

6-مميزات مذهبه والأصول التي بناه عليها:

مذاهب أهل السنة كلها مذاهب حق لا سيما مذاهب الأئمة الأربعة –أبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد، وكل مذهب من هذه المذاهب السنية له مميزات، ويمتاز مذهب الإمام أحمد من بينها بقربه من النصوص1 وفتاوي الصحابة.

قال الإمام ابن القيم رحمه الله2: رويت فتاويه ومسائله وحدث بها قرناً بعد قرن، فصارت إماماً وقدوة لأهل السنة على اختلاف

--------------------------------------------

1 ولهذا يعتبر الإمام أحمد من فقهاء المحدثين.

2 أعلام الموقعين 1/28-29.
চাবুক দিয়ে নয়, বরং এটি ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং অত্যন্ত কঠোর প্রহার। যখন তিনি তাঁর বাড়িতে ফিরলেন, তখন একজন শল্যচিকিৎসক এসে তাঁর দেহ থেকে মৃত মাংস কেটে ফেললেন এবং তাঁর চিকিৎসা করতে লাগলেন। যখন আল্লাহ তাঁকে আরোগ্য দান করলেন, তখন দীর্ঘকাল পর্যন্ত শীতের সময় তাঁর দুই বৃদ্ধাঙ্গুলিতে ব্যথা অনুভূত হতো। যারা তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল, বিদয়াতিরা ছাড়া তাদের সবাইকে তিনি মার্জনা করে দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে তিনি মহান আল্লাহর বাণী তেলাওয়াত করতেন: {তারা যেন ক্ষমা করে এবং মার্জনা করে} আয়াতটি, এবং তিনি বলতেন, 'তোমার কারণে তোমার মুসলিম ভাই শাস্তি পেলে তোমার কী লাভ হবে?' সংক্ষেপে সমাপ্ত।

এভাবেই ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) হকের ওপর অটল ছিলেন এবং কারাবরণ ও প্রহারের ওপর ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। আল্লাহর পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করেননি এবং কোনো ক্ষমতা ও প্রতাপ তাঁকে ভীত করতে পারেনি। পরিণাম ও বিজয় তাঁরই হলো এবং শাস্তি হলো তাঁর শত্রুদের জন্য। তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর বিরোধীদের ক্ষমা ও মার্জনা করতেন এবং বিদয়াতিরা ছাড়া সবাইকে মার্জনা করে দিয়েছিলেন—কেননা বিদয়াতিরা আল্লাহর পবিত্র সীমাসমূহ লঙ্ঘন করেছিল এবং তাদের অনিষ্ট কেবল তাঁর ব্যক্তির ওপর সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রকৃতপক্ষে সুদৃঢ় ঈমান এবং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত ফলপ্রসূ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণই প্রকৃত মানুষ গড়ে তোলে এবং ফিতনা ও ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অটল থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। বীরদের অবস্থান এমনই হয়ে থাকে।

৬-তাঁর মাযহাবের বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং যে সকল মূলনীতির ওপর তা প্রতিষ্ঠিত:

আহলে সুন্নাতের সকল মাযহাবই সত্য মাযহাব, বিশেষ করে চার ইমামের মাযহাব—আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ এবং আহমাদ। এই সুন্নি মাযহাবগুলোর প্রতিটিরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং ইমাম আহমাদের মাযহাব এগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হলো দলিলসমূহ১ এবং সাহাবায়ে কেরামের ফতোয়াসমূহের অত্যন্ত নিকটবর্তী হওয়ার কারণে।

ইমাম ইবনুল কায়্যিম (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) বলেন:২ তাঁর ফতোয়া ও মাসয়ালাগুলো যুগের পর যুগ ধরে বর্ণিত হয়েছে এবং মানুষ তা বর্ণনা করেছে। ফলে তা বিভিন্ন স্তরের আহলে সুন্নাতের জন্য আদর্শ ও অনুকরণীয় ইমামে পরিণত হয়েছে...

--------------------------------------------

১ এ কারণেই ইমাম আহমাদকে ফকিহ মুহাদ্দিসগণের অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয়।

২ ইলামুল মুওয়াক্কিঈন ১/২৮-২৯।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ১৬)
طبقاتهم حتى إن المخالفين لمذهبه بالاجتهاد والمقلدين لغيره يعظمون نصوصه وفتاواه ويعرفون لها حقها وقربها من النصوص وفتاوي الصحابة، ومن تأمل فتاواه وفتاوي الصحابة رأى مطابقة كل منهما على الأخرى، ورأى الجميع كأنها تخرج من مشكاة واحدة، حتى إن الصحابة إذا اختلفوا على قولين جاء عنه في المسألة روايتان، وكان تحريه لفتاوي الصحابة كتحري أصحابه لفتاويه ونصوصه بل أعظم، حتى إنه ليقدم فتاويهم على الحديث المرسل.

أصول مذهبه:

كان مذهبه مبنياً على خمسة أصول وهي:

1- النصوص، فإذا وجد نصاً أفتى بموجبه ولم يلتفت إلى ما خالفه ولا من خالفه.

2- ما أفتى به الصحابة –فإذا وجد لأحدهم فتوى لا يعرف له مخالف منهم فيها لم يعدها إلى غيرها، ولم يقل إن ذلك إجماع- بل من ورعه في العبارة يقول: لا أعلم شيئاً يدفعه أو نحو هذا.

3- إذا اختلف الصحابة في المسألة تخير من أقوالهم ما كان أقربها إلى الكتاب والسنة ولم يخرج عن أقوالهم، فإن لم يتبين له موافقة أحد الأقوال للدليل حكى الخلاف ولم يجزم بقول.

4- الأخذ بالمرسل والحديث الضعيف إذا لم يكن في الباب شيء يدفعه ويرجح ذلك على القياس، والمراد بالحديث الضعيف عند قسيم الصحيح، وقسم من أقسام الحسن، وليس المراد بالضعيف عنده الباطل والمنكر ولا ما في روايته متهم.

5- فإذا لم يكن هناك نص ولا قول للصحابة أو أحدهم ولا أثر مرسل أو ضعيف عدل إلى القياس فاستعمله للضرورة.
তাদের স্তরসমূহ এমন যে, এমনকি যারা ইজতিহাদের ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাবের বিরোধী এবং যারা অন্যদের অনুসারী, তারাও তাঁর বক্তব্য ও ফাতাওয়াসমূহকে সম্মান করে এবং সেগুলোর যথাযোগ্য মর্যাদা এবং কুরআন-সুন্নাহর বক্তব্য ও সাহাবায়ে কিরামের ফাতাওয়ার সাথে সেগুলোর নৈকট্য সম্পর্কে অবগত। আর যে ব্যক্তি তাঁর ফাতাওয়াসমূহ এবং সাহাবায়ে কিরামের ফাতাওয়াসমূহ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে, সে এগুলোর একটির সাথে অন্যটির পূর্ণ মিল দেখতে পাবে। সে সবগুলোকে এমনভাবে দেখতে পাবে যেন সেগুলো একই প্রদীপাধার থেকে নির্গত হয়েছে। এমনকি সাহাবায়ে কিরাম যদি কোনো বিষয়ে দুটি মতে বিভক্ত হতেন, তবে তাঁর থেকেও সে বিষয়ে দুটি বর্ণনা পাওয়া যেত। সাহাবায়ে কিরামের ফাতাওয়ার অনুসন্ধানে তাঁর সতর্কতা ছিল ঠিক সেরকম, যেমনটি তাঁর অনুসারীদের সতর্কতা ছিল তাঁর ফাতাওয়া ও বক্তব্যের ব্যাপারে, বরং তার চেয়েও বেশি। এমনকি তিনি তাঁদের ফাতাওয়াকে মুরসাল হাদীসের ওপর প্রধান্য দিতেন।

তাঁর মাযহাবের মূলনীতিসমূহ:

তাঁর মাযহাব পাঁচটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, সেগুলো হলো:

১- নুসুস (কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট বক্তব্য): যখন তিনি কোনো নাস (দলিল) পেতেন, তখন সেই অনুযায়ী ফাতাওয়া দিতেন এবং এর বিপরীত কোনো কিছুর দিকে বা কেউ এর বিরোধিতা করলে তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করতেন না।

২- সাহাবায়ে কিরাম যা ফাতাওয়া দিয়েছেন: যখন তিনি তাঁদের কারো কোনো ফাতাওয়া পেতেন এবং তাঁদের মধ্যে তার কোনো বিরোধিতাকারী সম্পর্কে জানা থাকত না, তখন তিনি তা ছেড়ে অন্য দিকে যেতেন না। তবে তিনি একে 'ইজমা' (সর্বসম্মত ঐক্য) বলতেন না, বরং শব্দ চয়নে সতর্কতার কারণে বলতেন: "আমি এমন কিছু জানি না যা একে খণ্ডন করে" অথবা এই জাতীয় কিছু।

৩- যদি সাহাবায়ে কিরাম কোনো বিষয়ে মতভেদ করতেন, তবে তিনি তাঁদের মতামতসমূহের মধ্য থেকে যেটি কুরআন ও সুন্নাহর নিকটতর মনে করতেন সেটি গ্রহণ করতেন এবং তাঁদের মতামতের বাইরে যেতেন না। আর যদি কোনো একটি মতের পক্ষে দলিলের স্পষ্ট সমর্থন তাঁর কাছে প্রতিভাত না হতো, তবে তিনি মতভেদটি উল্লেখ করতেন এবং কোনো একটি মতের ওপর অটল সিদ্ধান্ত দিতেন না।

৪- মুরসাল এবং যয়ীফ (দুর্বল) হাদীস গ্রহণ করা, যদি সে বিষয়ে অন্য কোনো খণ্ডনকারী দলিল না থাকে; তিনি একে কিয়াসের (অনুমাননির্ভর যুক্তি) ওপর প্রাধান্য দিতেন। তাঁর নিকট যয়ীফ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা সহীহ হাদীসের পরবর্তী স্তর এবং যা হাসানের একটি প্রকার; তাঁর কাছে যয়ীফ অর্থ বাতিল বা মুনকার (পরিত্যক্ত) হাদীস নয় এবং এমন হাদীসও নয় যার বর্ণনাকারী অভিযুক্ত।

৫- যখন সেখানে কোনো নাস (দলিল), সাহাবায়ে কিরামের বা তাঁদের কারো কোনো বক্তব্য এবং কোনো মুরসাল বা যয়ীফ আসার (বর্ণনা) থাকত না, তখন তিনি কিয়াসের দিকে অগ্রসর হতেন এবং অত্যন্ত প্রয়োজনে তা ব্যবহার করতেন।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ১৭)
فهذه الأصول الخمسة هي أصول مذهبه –وقد يتوقف في الفتوى لتعارض الأدلة عنده، أو لاختلاف الصحابة فيها، أو لعدم اطلاعه فيها على أثر أو قول أحد من الصحابة والتابعين، وكان شديد الكراهة والمنع للإفتاء بمسألة ليس فيها أثر عن السلف-كما قال لبعض أصحابه: إياك أن تتكلم في مسألة ليس لك فيها إمام1. أي لم يسبق أن قال فيها أحد من الأئمة بشيء.

7-مؤلفاته:

قال الإمام ابن القيم2: كان الإمام أحمد رحمه الله شديد الكراهة لتصنيف الكتب، وكان يحب تجريد الحديث، ويكره أن يكتب كلامه ويشتد عليه جداً، فعلم الله حسن نيته وقصده فكتب من كلامه وفتواه أكثر من ثلاثين سفراً، ومنّ الله سبحانه علينا بأكثرها فلم يفتنا منها إلا القليل، وجمع الخلال نصوصه في الجامع الكبير فبلغ نحو عشرين سفراً أو أكثر، ورويت فتاويه ومسائله وحدث بها قرناً بعد قرن، فصارت إماماً وقدوة لأهل السنة على اختلاف طبقاتهم، وقال ابن الجوزي: كان الإمام أحمد رضي الله عنه لا يرى وضع الكتب، وينهى أن يكتب عنه كلامه ومسائله ولو رأى ذلك لكانت تصانيفه كثيرة، ولنقلت عنه كتب3 واقتصر الإمام أحمد على التصنيف في النقول –أي الأحاديث والآثار وهذه بعض مؤلفاته:

1) المسند في الحديث، وكان يقول لابنه عبد الله: احتفظ بهذا المسند فإنه سيكون للناس إماماً4.

--------------------------------------------

1 أعلام الموقعين لابن القيم 1/29/32.

2 نفس المصدر 1/28.

3 مناقب الإمام أحمد لابن الجوزي 248.

4 وجملة أحاديث المسند ثلاثون ألف حديث انتقاها من سبعمائة ألف حديث.
এই পাঁচটি মূলনীতিই হলো তাঁর মাযহাবের মূল ভিত্তি। কখনও কখনও তাঁর নিকট দলীলের পারস্পরিক বিরোধের কারণে, অথবা এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের মতভেদের কারণে, অথবা এ বিষয়ে সাহাবী ও তাবিঈগণের কোনো বর্ণনা বা উক্তি তাঁর জানা না থাকার ফলে তিনি ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে বিরত থাকতেন। সালাফ বা পূর্বসূরিদের কোনো বর্ণনা নেই এমন বিষয়ে ফতোয়া প্রদানকে তিনি অত্যন্ত অপছন্দ ও নিষেধ করতেন—যেমন তিনি তাঁর কিছু সঙ্গীকে বলেছিলেন: "এমন কোনো বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকো যে বিষয়ে তোমার কোনো ইমাম নেই।"১ অর্থাৎ, ইতিপূর্বে ইমামগণের মধ্যে কেউ সে বিষয়ে কিছু বলেননি।

৭-তাঁর রচনাবলি:

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম২ বলেন: ইমাম আহমদ রহ. কিতাব সংকলন করাকে অত্যন্ত অপছন্দ করতেন। তিনি কেবল হাদীস সংকলনকে ভালোবাসতেন এবং তাঁর কথা লিখে রাখাকে অপছন্দ করতেন ও এ বিষয়ে তিনি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তবে আল্লাহ তাঁর সদ্বিশ্বাস ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতেন, ফলে তাঁর কথা ও ফতোয়া থেকে ত্রিশটিরও বেশি বড় খণ্ড সংকলিত হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এগুলোর অধিকাংশই আমাদের নিকট পৌঁছে দিয়ে অনুগ্রহ করেছেন এবং খুব সামান্যই আমাদের হাতছাড়া হয়েছে। আল-খাল্লাল তাঁর বক্তব্যসমূহকে ‘আল-জামেউল কাবীর’ নামক গ্রন্থে সংকলন করেছেন, যা প্রায় বিশ খণ্ড বা তারও বেশি হয়েছে। তাঁর ফতোয়া ও মাসয়ালাসমূহ বর্ণিত হয়েছে এবং যুগ যুগ ধরে তা আলোচিত হয়ে আসছে। ফলে তা আহলে সুন্নাতের সকল স্তরের মানুষের নিকট অনুসরণীয় ও আদর্শে পরিণত হয়েছে। ইবনুল জাওযী বলেন: ইমাম আহমদ রাযিয়াল্লাহু আনহু কিতাব রচনা করা সমীচীন মনে করতেন না এবং তাঁর কথা ও মাসয়ালাসমূহ লিখে রাখতে নিষেধ করতেন। তিনি যদি তা অনুমোদন করতেন তবে তাঁর রচনাবলি হতো অসংখ্য এবং তাঁর থেকে বহু গ্রন্থ বর্ণিত হতো।৩ ইমাম আহমদ কেবল উদ্ধৃতিমূলক বিষয়সমূহ—অর্থাৎ হাদীস ও আসার—সংকলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। নিম্নে তাঁর কিছু রচনাবলি উল্লেখ করা হলো:

১) হাদীস শাস্ত্রে 'আল-মুসনাদ'; তিনি তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে বলতেন: "এই মুসনাদকে সংরক্ষণ করো, কারণ এটি অচিরেই মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হবে।"৪

--------------------------------------------

১ ইবনুল কাইয়্যিম রচিত আলামুল মুওয়াক্কিঈন ১/২৯/৩২।

২ একই উৎস ১/২৮।

৩ ইবনুল জাওযী রচিত মানাকিবুল ইমাম আহমদ ২৪৮।

৪ মুসনাদের মোট হাদীস সংখ্যা ত্রিশ হাজার, যা তিনি সাত লক্ষ হাদীস থেকে নির্বাচন করেছেন।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ১৮)
2) التفسير –وهو مائة ألف وعشرون ألفاً- يعني من الأحاديث والآثار.

3) الناسخ والمنسوخ.

4) التاريخ.

5) المقدم والمؤخر في القرآن.

6) جوابات القرآن.

7) المناسك الكبير والصغير.

8) الزهد.

9) الرد على الجهمية.

8- وفاته:

مرض في أول شهر ربيع الأول من سنة أحدى وأربعين ومائتين، وتوفي ليلة الجمعة وهي ليلة الثاني عشر من هذا الشهر، ولم حضرته الوفاة أشار إلى أهله أن يوضؤه فجعلوا يوضؤنه وهو يشير إليهم أن خللوا أصابعي وهو يذكر الله عز وجل في جميع ذلك، فلما أكملوا وضوءه توفي رحمه الله ورضي عنه، فغسلوه وكفنوه بثوب كان قد غزلته جاريته، وخرج الناس بنعشه والخلائق حوله ما لم يعلم عددهم إلا الله، ثم صلي عليه وأعيدت الصلاة عليه عند القبر. ثم أعيدت الصلاة أيضاً على القبر بعد دفنه، ولم يستقر في قبره رحمه الله إلا بعد العصر وذلك لكثرة الخلق الذين حضروا. وقد قدر عدد الذين صلوا عليه وشيعوه إلى قبره بألف ألف، وفي رواية وسبعمائة ألف –أي مليون وسبعمائة ألف –رحم الله الإمام أحمد رحمة واسعة وجزاه عن الإسلام والمسلمين خيراً، وجعله مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين وحسن أولئك رفيقاً. والحمد لله رب العالمين، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
2) আত-তাফসির – আর তা হলো এক লক্ষ বিশ হাজার – অর্থাৎ হাদীস ও আছারসমূহ থেকে।

3) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ।

4) আত-তারিখ।

5) আল-মুকাদ্দাম ওয়াল মুয়াখখার ফিল কুরআন।

6) জওয়াবাতুল কুরআন।

7) আল-মানাসিকুল কাবীর ওয়াস সাগীর।

8) আজ-জুহদ।

9) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ।

8- তাঁর মৃত্যু:

তিনি দুইশত একচল্লিশ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে অসুস্থ হন এবং জুমার রাতে ইন্তেকাল করেন, যা ছিল এই মাসের বারো তারিখের রাত। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তিনি তাঁর পরিবারকে ইশারা করলেন যেন তারা তাঁকে ওযু করিয়ে দেয়। তারা তাঁকে ওযু করাতে শুরু করল এবং তিনি তাদের দিকে ইশারা করছিলেন যেন তারা তাঁর আঙ্গুলগুলো খিলাল করে দেয়; আর এই পুরো সময় জুড়ে তিনি মহান আল্লাহর যিকর করছিলেন। যখন তারা তাঁর ওযু সম্পন্ন করল, তখন তিনি ইন্তেকাল করলেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন। অতঃপর তারা তাঁকে গোসল দিল এবং এমন এক কাপড়ে কাফন দিল যা তাঁর এক দাসী সুতা কেটে তৈরি করেছিল। লোকেরা তাঁর জানাজা নিয়ে বের হলো এবং তাঁর চারপাশে এত বিপুল সংখ্যক সৃষ্টি ছিল যে আল্লাহ ছাড়া কেউ তাদের সংখ্যা জানেন না। এরপর তাঁর জানাজার নামাজ পড়া হলো এবং কবরের কাছে পুনরায় জানাজার নামাজ আদায় করা হলো। অতঃপর দাফনের পর কবরের ওপরও পুনরায় নামাজ পড়া হলো। উপস্থিত মানুষের আধিক্যের কারণে আসরের আগে তিনি তাঁর কবরে শায়িত হতে পারেননি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তাঁর জানাজায় অংশগ্রহণকারী এবং কবরের দিকে অনুগমনকারীদের সংখ্যা দশ লক্ষ (এক মিলিয়ন) বলে অনুমান করা হয়; অন্য এক বর্ণনায় সতের লক্ষ—অর্থাৎ এক মিলিয়ন সাত লক্ষ। আল্লাহ ইমাম আহমাদকে প্রশস্ত রহমত দান করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আর তাঁকে সেই সব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করুন যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ (সিদ্দিক), শহীদগণ এবং নেককার বান্দাগণ; আর তারা কতই না চমৎকার সঙ্গী! সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর সালাত (রহমত) বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌شيخ الاسلام أحمد بن تيمية

…

-شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية

نبذة عن حياته وجهاده وثمرات دعوته والرد على الشبهات التي أثيرت حوله
শাইখুল ইসলাম আহমাদ বিন তাইমিয়্যাহ

…

-শাইখুল ইসলাম আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন তাইমিয়্যাহ

তাঁর জীবন, সংগ্রাম, দাওয়াতের সুফল এবং তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সংশয়সমূহের খণ্ডন সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ২১)
أولاً: التعريف بشيخ الإسلام ابن تيمية:

هو شيخ الإسلام الحافظ المجتهد تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله ابن أبي القاسم بن الخضر بن محمد بن تيمية الحراني الحنبلي.

ولد بحران يوم الإثنين عاشر ربيع الأول سنة إحدى وستين وستمائة، وقدم به والده وبأخويه عند استيلاء التتار على البلاد إلى دمشق سنة 667هـ.

مشائخه وتحصيله:

أخذ الفقه والأصول عن والده وسمع عن خلق كثير منهم الشيخ شمس الدين والشيخ زين الدين ابن المنجا والمجد بن عساكر، وقرأ العربية على ابن عبد القوي، ثم أخذ كتاب سيبويه فتأمله وفهمه، وعني بالحديث وسمع الكتب الستة والمسند مرات، وأقبل على تفسير القرآن الكريم فبرز فيه، وأحكم أصول الفقه والفرائض والحساب والجبر والمقابلة، وغير ذلك من العلوم، ونظر في الكلام والفلسفة وبرز في ذلك ورد على أكابر المتكلمين والفلاسفة، وتأهل للفتوى والتدريس وله دون العشرين من السنين، وتضلع في علم الحديث وحفظه، وكان سريع الحفظ قوي الإدراك آية في الذكاء رأساً في معرفة الكتاب والسنة والاختلاف بحر في النقليات، وكان له باع طويل في معرفة مذاهب الصحابة والتابعين.

اشتغاله في التدريس:

كان والده من كبار أئمة الحنابلة فلما مات خلفه في وظائفه وكان عمره تسع عشرة سنة، فاشتهر أمره وبعد صيته في العالم، وأخذ في
প্রথমত: শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ-এর পরিচিতি:

তিনি হলেন শাইখুল ইসলাম, হাফিজ, মুজতাহিদ তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবন আব্দুল হালীম ইবন আব্দুল সালাম ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবিল কাসিম ইবন খিদর ইবন মুহাম্মাদ ইবন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বলী।

তিনি ৬৬১ হিজরী সালের ১০ই রবিউল আউয়াল সোমবার হাররানে জন্মগ্রহণ করেন। ৬৬৭ হিজরীতে যখন তাতাররা দেশ দখল করে নেয়, তখন তাঁর পিতা তাঁকে এবং তাঁর দুই ভাইকে নিয়ে দামেস্কে আগমন করেন।

তাঁর শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষা অর্জন:

তিনি তাঁর পিতার নিকট ফিকহ ও উসুল শিক্ষা করেন এবং শাইখ শামসুদ্দীন, শাইখ যাইনুদ্দীন ইবনুল মানজা এবং মাজদ ইবন আসাকিরসহ অসংখ্য আলিমের নিকট ইলম শ্রবণ করেন। তিনি ইবন আব্দুল কাওভীর নিকট আরবি ভাষা পাঠ করেন, অতঃপর সিবওয়াইহ-এর কিতাব নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করেন এবং তা অনুধাবন করেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রের প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং কুতুবে সিত্তা ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহ বহুবার পাঠ করেন। তিনি কুরআনুল কারিমের তাফসিরের প্রতি মনোযোগী হন এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি উসুলে ফিকহ, ফারায়িয, গণিত, বীজগণিত ও মুকাবিলাসহ অন্যান্য বিদ্যায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি ইলমুল কালাম ও দর্শনে গভীর দৃষ্টিপাত করেন এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন করে বড় বড় মুতাকাল্লিম ও দার্শনিকদের খণ্ডন করেন। বিশ বছর বয়সের পূর্বেই তিনি ফতোয়া প্রদান ও পাঠদানের যোগ্যতা অর্জন করেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য ও হিফয অর্জন করেন। তিনি দ্রুত মুখস্থকরণ ও প্রখর বোধশক্তির অধিকারী এবং মেধার এক অনন্য নিদর্শন ছিলেন। কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞান এবং মতভেদ নিরসনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব এবং বর্ণনাভিত্তিক বিদ্যাসমূহের এক অকুল সমুদ্র। সাহাবী ও তাবিঈগণের মাজহাব সম্পর্কেও তাঁর গভীর জ্ঞান ও পাণ্ডিত্য ছিল।

তাঁর পাঠদানে আত্মনিয়োগ:

তাঁর পিতা ছিলেন হাম্বলী মাযহাবের অন্যতম বড় ইমাম। যখন তিনি ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন; তখন তাঁর বয়স ছিল উনিশ বছর। ফলে তাঁর খ্যাতি ও সুখ্যাতি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি শুরু করেন...
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ২২)
تفسير القرآن الكريم أيام الجمع من حفظه –قال عنه الحافظ أبو حفص عمر بن علي البزار وكان من معاصريه1: لقد كان إذا قريء في مجلسه آيات من القرآن العظيم شرع في تفسيرها فينقضي المجلس بجملته والدرس بزمنه وهو في تفسير بعض آية منها، وقد منحه الله تعالى معرفة اختلاف العلماء ونصوصهم وكثرة أقوالهم واجتهادهم في المسائل، وما روي عن كل واحد منهم من راجح ومرجوح ومقبول ومردود، حتى كان إذا سئل عن شيء من ذلك كأن جميع المنقول عن الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه والعلماء فيه من الأولين والآخرين متصور مسطور بإزائه، وهذا قد اتفق عليه كل من رآه أو وقف على شيء من علمه ممن لم يغلظ عقله الجهل والهوى … انتهى.

وقال أيضاً: وأما ذكر دروسه فقد كنت في حال إقامتي بدمشق لا أفوتها، وكان لا يهيئ شيئاً من العلم ليلقيه ويورده، بل يجلس بعد أن يصلي ركعتين فيحمد الله ويثني عليه ويصلي على رسوله صلى الله عليه وسلم على صفة مستحسنة مستعذبة لم أسمعها من غيره، ثم يشرع فيفتح الله عليه إيراد علوم وغوامض ولطائف ودقائق وفنون ونقول واستدلالات بآيات وأحاديث وأقوال العلماء، ونقد بعضها وتبيين صحته أو تزييف بعضها وبإيضاح حجته واستشهاد بأشعار العرب وربما ذكر ناظمها، وهو مع ذلك يجري كما السيل ويفيض كما يفيض البحر، من غير تعجرف ولا توقف ولا لحن، بل فيض إلهي حتى يبهر كل سامع وناظر، فلا يزال كذلك إلى أن يصمت، ويقع عليه إذ ذاك من المهابة ما يرعد

--------------------------------------------

1 الأعلام العلية في مناقب شيخ الإسلام ابن تيمية ص 23، 25، 28، 30.
শুক্রবার দিনগুলোতে তাঁর স্মৃতি থেকে মহাগ্রন্থ কুরআনের তাফসির করা – তাঁর সমসাময়িক হাফেজ আবু হাফস উমর বিন আলী আল-বাযযার (১) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: যখনই তাঁর মজলিসে মহাগ্রন্থ কুরআনের কোনো আয়াত পাঠ করা হতো, তিনি সেটির তাফসির শুরু করতেন এবং পুরো মজলিস বা পাঠের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যেত অথচ তিনি সেই আয়াতের মাত্র কিছু অংশের তাফসিরে মগ্ন থাকতেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে আলেমদের মতভেদ, তাঁদের মূল পাঠসমূহ এবং মাসআলাসমূহে তাঁদের বহুবিধ উক্তি ও ইজতিহাদ সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান দান করেছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের থেকে বর্ণিত শক্তিশালী, দুর্বল, গ্রহণযোগ্য এবং বর্জনীয় বক্তব্য সম্পর্কেও তিনি সম্যক অবগত ছিলেন। এমনকি যখনই তাঁকে এ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের থেকে বর্ণিত সমস্ত উদ্ধৃতি যেন তাঁর সামনে চিত্রায়িত ও লিপিবদ্ধ অবস্থায় থাকত। যারা তাঁকে দেখেছেন অথবা তাঁর ইলমের সান্নিধ্য পেয়েছেন, তাদের মধ্যে যাদের বুদ্ধি মূর্খতা ও প্রবৃত্তির কারণে স্থবির হয়ে পড়েনি, তারা সকলেই এ বিষয়ে একমত … সমাপ্ত।

তিনি আরও বলেছেন: তাঁর পাঠদানের বর্ণনায় আমি বলব, দামেস্কে অবস্থানকালে আমি তা কখনও মিস করতাম না। তিনি আগে থেকে কোনো ইলমি বিষয় প্রস্তুত করে আসতেন না। বরং তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করার পর বসতেন, অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করতেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এমন এক উত্তম ও সুমধুর পদ্ধতিতে দরুদ পাঠ করতেন যা আমি অন্য কারো কাছ থেকে শুনিনি। অতঃপর তিনি শুরু করতেন এবং আল্লাহ তাঁর জন্য বিভিন্ন জ্ঞান, রহস্য, সূক্ষ্ম তত্ত্ব, শিল্প, উদ্ধৃতি এবং কুরআনের আয়াত, হাদিস ও আলেমদের বাণীর মাধ্যমে দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনের পথ খুলে দিতেন। তিনি সেগুলোর সমালোচনা করতেন, কোনোটির বিশুদ্ধতা স্পষ্ট করতেন অথবা কোনোটির অসারতা প্রমাণের মাধ্যমে তা প্রত্যাখ্যান করতেন এবং আরবদের কবিতা দ্বারা উদ্ধৃতি পেশ করতেন, কখনো কখনো কবির নামও উল্লেখ করতেন। এসবের মাঝে তিনি প্লাবনের ন্যায় প্রবহমান থাকতেন এবং সমুদ্রের ন্যায় উথলে উঠতেন; কোনো প্রকার তোতলামি, জড়তা বা ভাষাগত ত্রুটি ছাড়াই। বরং এটি ছিল এক খোদায়ী দান যা প্রত্যেক শ্রোতা ও দর্শককে অভিভূত করত। তিনি নীরব না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই চলত, আর তখন তাঁর ওপর এমন এক গাম্ভীর্য ও প্রভাব পরিলক্ষিত হতো যা প্রকম্পিত করে দিত।

--------------------------------------------

১ আল-আ'লামুল আলিয়্যাহ ফী মানাকিবি শায়খিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৩, ২৫, ২৮, ৩০।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ২৩)
القلوب ويحير الأبصار والعقول –وكان لا يذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم قط إلا ويصلي ويسلم عليه، ولا والله ما رأيت أحداً أشد تعظيماً لرسول الله صلى الله عليه وسلم ولا أحرص على اتباعه ونصر ما جاء به منه، حتى إذا كان أورد شيئاً من حديثه في مسألة ويرى أنه لم ينسخه شيء غيره من حديثه يعمل به، ويقضي ويفتي بمقتضاه، ولا يلتفت إلى قول غيره من المخلوقين كائناً من كان، وقال رضي الله عنه: كل قائل إنما يحتج لقوله لا به إلا رسول الله، وكان إذا فرغ من درسه يقبل على الناس بوجه طلق بشيش وخلق دمث كأنه لقيهم حينئذ، وربما اعتذر إلى بعضهم من التقصير في المقال مع ذلك الحال، ولقد كان درسه الذي يورده حينئذ قدر عدة كراريس. وهذا الذي ذكرته من أحوال درسه أمر مشهور يوافقني عليه كل حاضريه وهم بحمد الله خلق كثير لم يحصر عددهم علماء ورؤساء وفضلاء من القراء والمحدثين والفقهاء والأدباء وغيرهم من عوام المسلمين … انتهى كلام البزار في كتابه الأعلام العلية.

مؤلفاته:

لشيخ الإسلام ابن تيمية مؤلفات قيمة ضخمة ورسائل وفتاوى بلغ الموجود منها مجلدات ضخمة وعديدة، طبع منها الآن حسب علمي ما يقارب أربعة وثمانين مجلداً، وهي:

1) مجموع الفتاوى خمسة وثلاثون مجلداً، وقد طبع عدة مرات ووزع في كثير من الأقطار الإسلامية، وانتفع به المسلمون لما يحتويه من علم غزير في العقائد والفقه والتفسير والحديث والأصول.

2) موافقة صحيح المنقول لصريح المعقول، وقد طبع في عشر مجلدات.
হৃদয়সমূহ এবং চোখ ও বুদ্ধিকে বিমোহিত করত। তিনি যখনই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা উল্লেখ করতেন, তখনই তাঁর ওপর সালাত ও সালাম পাঠ করতেন। আল্লাহর শপথ, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁর চেয়ে বেশি সম্মান প্রদর্শনকারী এবং তাঁর অনুসরণে ও তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার সাহায্যে তাঁর চেয়ে বেশি আগ্রহী আর কাউকে দেখিনি। এমনকি যদি তিনি কোনো বিষয়ে তাঁর কোনো হাদীস বর্ণনা করতেন এবং দেখতেন যে অন্য কোনো হাদীস দ্বারা তা রহিত হয়নি, তবে তিনি সে অনুযায়ী আমল করতেন এবং সেই অনুযায়ী ফয়সালা ও ফতোয়া প্রদান করতেন। তিনি অন্য কোনো সৃষ্টির কথার দিকে ভ্রুক্ষেপ করতেন না, সে যেই হোক না কেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বলতেন: প্রত্যেক বক্তার কথার স্বপক্ষেই দলীল পেশ করতে হয়, কেবল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত (যাঁর কথা নিজেই দলীল)। যখন তিনি তাঁর পাঠদান শেষ করতেন, তখন তিনি হাস্যোজ্জ্বল মুখে এবং নম্র স্বভাবে মানুষের দিকে এমনভাবে এগিয়ে আসতেন যেন এইমাত্র তাদের সাথে তাঁর দেখা হয়েছে। অনেক সময় তিনি সেই অবস্থার মধ্যে বক্তব্যে কোনো ত্রুটি হয়ে থাকলে কারো কারো কাছে ক্ষমা চাইতেন। সে সময় তিনি যে পাঠদান করতেন, তার পরিমাণ ছিল কয়েক পুস্তিকা সমপরিমাণ। তাঁর পাঠদানের যে অবস্থার কথা আমি উল্লেখ করলাম, তা একটি সুপরিচিত বিষয় এবং সেখানে উপস্থিত সকলেই আমার সাথে একমত হবেন। আল্লাহর প্রশংসায় তারা সংখ্যায় অনেক—উলামা, নেতৃবৃন্দ, ক্বারীগণ, মুহাদ্দিসগণ, ফকীহগণ, সাহিত্যিকগণ এবং সাধারণ মুসলিমদের মধ্য থেকে গুণী ব্যক্তিবর্গ যাদের সংখ্যা গণনা করা সম্ভব নয় … আল-বাজজারের কিতাব 'আল-আ'লামুল আলিয়্যাহ' থেকে তাঁর কথা সমাপ্ত হলো।

তাঁর রচনাবলী:

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর অনেক মূল্যবান ও বিশাল গ্রন্থ, রিসালাহ এবং ফতোয়া রয়েছে, যার বর্তমান বিদ্যমান অংশ অনেক বিশাল ও অসংখ্য খণ্ডে পৌঁছেছে। আমার জানামতে বর্তমানে এর প্রায় চুরাশিটি খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে, সেগুলো হলো:

১) মাজমুউল ফাতাওয়া পঁয়ত্রিশ খণ্ড। এটি অনেকবার মুদ্রিত হয়েছে এবং অনেক মুসলিম দেশে বিতরণ করা হয়েছে। আকিদাহ, ফিকহ, তাফসীর, হাদীস এবং উসূল শাস্ত্রে এতে বিদ্যমান বিশাল ইলমের কারণে মুসলিমরা এর দ্বারা উপকৃত হয়েছে।

২) মুওয়াফাকাতু সহীহিল মানকুল লি-সারীহিল মাকুল, এটি দশ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ২৪)
1) الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح (رد على شبه النصارى) ، وقد طبع في أربع مجلدات.

2) منهاج السنة النبوية في الرد على الشيعة والقدرية، وقد طبع في ثمانية مجلدات محققة.

3) الفتاوى المصرية، وقد طبعت في خمس مجلدات.

4) الاختيارات الفقهية، وقد طبعت في مجلد.

5) القواعد النورانية الفقهية، وقد طبعت في مجلد.

6) نقض منهاج التأسيس، وقد طبع الموجود منه في مجلدين1.

7) إقامة الدليل على إبطال التحليل، وقد طبع في مجلد.

8) شرح العقيدة الأصفهانية، وقد طبع في مجلد.

9) الصفدية وقد طبع المجلد الأول منها، والبقية في الطريق إن شاء الله.

10) الاستقامة، وقد طبع المجلد الأول منه والبقية في الطريق إن شاء الله.

11) كتاب الإيمان، وقد طبع في مجلد.

12) كتاب نقض المنطق، وقد طبع في مجلد.

13) كتاب النبوات، وقد طبع في مجلد.

14) اقتضاء الصراط المستقيم مخالفة أصحاب الجحيم، مجلد.

هذا ولا يزال الكثير من كتبه ورسائله وفتاويه مفقوداً ويعثر بين حين وآخر على شيء منه فيبادر من وجده إلى نشره للانتفاع به، وقد لمعت كتبه في هذا العصر وانتفع بها الخلق الكثير لما تحويه من العلم

--------------------------------------------

1 وقد وجدت منه نسخة كاملة والحمد لله وتقوم جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بتحقيقه وإعداده للطبع وربما على عشر مجلدات.
১) আল-জওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ (খ্রিস্টানদের সংশয়ের খণ্ডন), এটি চার খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

২) মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফী রাদ্দি আলাশ শীআতি ওয়াল কাদরিয়্যাহ, এটি তাহকীককৃত আটটি খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

৩) আল-ফাতাওয়া আল-মিসরিয়্যাহ, এটি পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

৪) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ, এটি এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

৫) আল-কাওয়াইদুন নূরানিয়্যাহ আল-ফিকহিয়্যাহ, এটি এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

৬) নাকদু মিনহাজিত তাসিস, এর বর্তমান অংশটুকু দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।১

৭) ইকামাতুদ দালীল আলা ইবতালিত তাহলীল, এটি এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

৮) শারহুল আকিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ, এটি এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

৯) আস-সাফাদিয়্যাহ, এর প্রথম খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে এবং বাকি অংশ ইনশাআল্লাহ প্রকাশের পথে।

১০) আল-ইস্তিকামাহ, এর প্রথম খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে এবং বাকি অংশ ইনশাআল্লাহ প্রকাশের পথে।

১১) কিতাবুল ঈমান, এটি এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

১২) কিতাবুন নাকদিল মানতিক, এটি এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

১৩) কিতাবুন নুবুওয়াত, এটি এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

১৪) ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম মুখালাফাতু আসহাবিল জাহিম, এক খণ্ড।

উল্লেখ্য যে, এখনও তাঁর অনেক কিতাব, রিসালাহ এবং ফাতাওয়া নিখোঁজ রয়েছে। মাঝে মাঝে এর কোনো কোনোটি খুঁজে পাওয়া যায় এবং যিনি তা পান তিনি মানুষের উপকারের লক্ষ্যে তা প্রকাশের উদ্যোগ নেন। বর্তমান যুগে তাঁর কিতাবসমূহ প্রোজ্জ্বল হয়েছে এবং এর মাঝে নিহিত ইলমের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

--------------------------------------------

১. আলহামদুলিল্লাহ, এর একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এর তাহকীক ও মুদ্রণের কাজ সম্পন্ন করছে, যা সম্ভবত দশ খণ্ডে প্রকাশিত হবে।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ২৫)
العزيز والتحقيق والتدقيق والأصالة، وقد شهد بذلك كل من اطلع عليها ممن لم تأخذه العصبية الجاهلية والتقليد الأعمى.

ثناء العلماء عليه:

قال الحافظ ابن كثير في البداية والنهاية (14/118-119) وقل أن سمع شيئاً إلا حفظه ثم اشتغل بالعلوم وكان ذكياً كثير المحفوظ، فصار إماماً في التفسير وما يتعلق به عارفاً بالفقه، فيقال إنه كان أعرف بفقه المذاهب من أهلها الذين كانوا في زمانه وغيره، وكان عالماً باختلاف العلماء عالماً في الأصول والفروع والنحو واللغة وغير ذلك من العلوم النقلية والعقلية، وما قطع في مجلس ولا تكلم معه فاضل في فن من الفنون إلا ظن أن ذلك الفن فنه ورآه عارفاًبه متقناً له، وأما الحديث فكان حامل رايته حافظاً له مميزاً بين صحيحه وسقيمه عارفاً برجاله متضلعاً من ذلك، وله تصانيف كثيرة وتعاليق مفيدة في الأصول والفروع … انتهى.

وقال الحافظ المزي في الثناء عليه1: ما رأيت مثله ولا رأى هو مثل نفسه، وما رأيت أحداً أعلم بكتاب الله وسنة رسوله ولا اتبع لهما منه، وقال الحافظ ابن دقيق العيد: لما اجتمعت بابن تيمية رأيت رجلاً كل العلوم بين عينيه، يأخذ ما يريد ويدع ما يريد، وقال الشيخ إبراهيم الرقى: إن ابن تيمية يؤخذ عنه ويقلد في العلوم، فإن طال عمره ملأ الأرض علماً وهو على الحق، ولا بد من أن يعاديه الناس، لأنه وارث علم النبوة، وقال قاضي القضاة ابن الحريري: إن لم يكن ابن تيمية شيخ الإسلام فمن هو؟

--------------------------------------------

1 حياة شيخ الإسلام ابن تيمية ص 21 لمحمد بهجة البيطار.
মর্যাদাপূর্ণ, যাচাই-বাছাই, সূক্ষ্মতা ও মৌলিকত্ব। যারা জাহেলি গোঁড়ামি এবং অন্ধ অনুকরণের শিকার হননি, তাদের মধ্যে যারা এগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন তারা সবাই এর সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:

হাফেজ ইবনে কাসীর 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (১৪/১১৮-১১৯) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি খুব কমই এমন কিছু শুনেছেন যা তিনি মুখস্থ করেননি। এরপর তিনি জ্ঞানচর্চায় মগ্ন হন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী এবং প্রচুর বিষয়ের হাফেজ। ফলে তিনি তাফসীর এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াবলীতে ইমামে পরিণত হন এবং ফিকহ শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি তাঁর সমসাময়িক বা অন্যদের তুলনায় মাযহাবগুলোর ফিকহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী ছিলেন। তিনি আলেমদের মতভেদ সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং উসুল (মূলনীতি), ফুরু (শাখা-প্রশাখা), নাহু (ব্যাকরণ), ভাষা এবং অন্যান্য যৌক্তিক ও বর্ণনাভিত্তিক বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। কোনো মজলিসে কেউ তাঁর যুক্তি খণ্ডন করতে পারেনি, আর কোনো বিষয়ের কোনো বিশেষজ্ঞ তাঁর সাথে আলোচনা করলে তিনি মনে করতেন যে এটিই হয়তো তাঁর মূল বিশেষত্বের বিষয় এবং তিনি তাঁকে সে বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষ ও নিপুণ দেখতে পেতেন। আর হাদীসের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এর পতাকাবাহী ও হাফেজ; এর সহীহ ও যয়ীফের মধ্যে পার্থক্যকারী এবং এর বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী। উসুল ও ফুরু শাস্ত্রে তাঁর বহু রচনা ও উপকারী টীকা রয়েছে … সমাপ্ত।

হাফেজ মিযযী তাঁর প্রশংসায় ১ বলেছেন: আমি তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি এবং তিনিও তাঁর নিজের মতো কাউকে দেখেননি। আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর চেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং এই দুটির অনুসরণে তাঁর চেয়ে একনিষ্ঠ ব্যক্তি আমি আর কাউকে দেখিনি। হাফেজ ইবনে দাকীক আল-ঈদ বলেন: যখন আমি ইবনে তায়মিয়াহর সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তখন এমন একজন ব্যক্তিকে দেখলাম যার দুই চোখের সামনে সমস্ত জ্ঞান হাজির রয়েছে; তিনি সেখান থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করেন এবং যা ইচ্ছা বর্জন করেন। শেখ ইব্রাহিম আর-রক্কী বলেন: নিশ্চয়ই ইবনে তায়মিয়াহর কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করা হবে এবং জ্ঞানের বিষয়ে তাঁকে অনুসরণ করা হবে। যদি তিনি দীর্ঘজীবী হন তবে তিনি পৃথিবীকে জ্ঞানে পরিপূর্ণ করে দেবেন, আর তিনি হকের (সত্যের) ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর মানুষ অবশ্যই তাঁর সাথে শত্রুতা করবে, কারণ তিনি নবুওয়াতের জ্ঞানের উত্তরাধিকারী। কাযিউল কুযাত ইবনে আল-হারীরী বলেছেন: ইবনে তায়মিয়াহ যদি শায়খুল ইসলাম না হন, তবে শায়খুল ইসলাম আর কে?

--------------------------------------------

১. মুহাম্মাদ বাহজাত আল-বাইতার রচিত 'হায়াতু শায়খিল ইসলাম ইবনে তায়মিয়াহ', পৃষ্ঠা ২১।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ২৬)
نقل هذه الأقوال عن هؤلاء الأئمة في الثناء على شيخ الإسلام ابن تيمية الشيخ مرعي بن يوسف الحنبلي في كتابه: الكواكب الدرية.

رد الشبهات التي وجهت في حق الشيخ:

لقد ضاق خصومه قديماً وحديثاً به ذرعاً ووجهوا ضده الاتهامات:

1) من ذلك ما افتراه الرحالة ابن بطوطة حيث قال في رحلته (في حق شيخ الإسلام ابن تيمية: وكنت إذ ذلك بدمشق فحضرته يوم الجمهة وهو يعظ الناس على منبر الجامع ويذكرهم فكان من جملة كلامه أن قال: إن الله ينزل إلى سماء الدنيا كنزولي هذا. ونزل درجة من درج المنبر) . وقد رد على هذه الفرية الشيخ العلامة محمد بهجة البيطار1 بما يلي:

1- أن ابن بطوطة لم يسمع من ابن تيمية ولم يجتمع به إذ كان وصوله إلى دمشق يوم الخميس التاسع عشر من شهر رمضان المبارك عام ستة وعشرين وسبعمائة (726هـ) وكان سجن شيخ الإسلام في قلعة دمشق أوائل شهر شعبان من ذلك العام، ولبث فيه إلى أن توفاه الله تعالى ليلة الإثنين لعشرين من ذي القعدة عام ثمانية وعشرين وسبعمائة هجرية، فكيف رآه ابن بطوطة يعظ على منبر الجامع وهو إذ ذاك في السجن.

2- لم يكن شيخ الإسلام ابن تيمية يعظ الناس على منبر الجامع، وإنما كان يجلس على كرسي، قال الحافظ الذهبي عنه: وقد اشتهر أمره

--------------------------------------------

1 حياة شيخ الإسلام ابن تيمية ص 47-48.
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রশংসায় এই ইমামদের থেকে উক্ত বক্তব্যগুলো শায়খ মারঈ বিন ইউসুফ আল-হাম্বলী তাঁর 'আল-কাওয়াকিব আদ-দুররিয়্যাহ' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।

শায়খের ব্যাপারে উত্থাপিত সংশয়সমূহের খণ্ডন:

অতীত ও বর্তমানের বিরোধীরা তাঁর কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল এবং তারা তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপবাদ আরোপ করেছে:

১) এর মধ্যে একটি হলো পর্যটক ইবনে বতুতার মিথ্যাচার, যেখানে তিনি তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে (শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ব্যাপারে) বলেছেন: "আমি তখন দামেস্কে ছিলাম এবং জুমার দিন আমি তাঁর মজলিসে উপস্থিত হলাম। তিনি জামে মসজিদের মিম্বারে দাঁড়িয়ে মানুষকে উপদেশ ও নসিহত করছিলেন। তাঁর কথার মধ্যে এটিও ছিল যে তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন আমার এই নামার মতো।' এরপর তিনি মিম্বারের একটি ধাপ নিচে নামলেন।" আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ বাহজাত আল-বিতার এই মিথ্যার জবাবে যা বলেছেন তা নিম্নরূপ:

১- ইবনে বতুতা ইবনে তাইমিয়্যাহর কাছ থেকে কিছুই শোনেননি এবং তাঁর সাথে দেখাও করেননি। কারণ তিনি দামেস্কে পৌঁছেছিলেন ৭২৬ হিজরির ১৯শে রমজান বৃহস্পতিবার, অথচ শায়খুল ইসলামকে সেই বছরের শাবান মাসের শুরুতে দামেস্কের কেল্লায় বন্দি করা হয়েছিল। তিনি সেখানে ৭২৮ হিজরির ২০শে জিলকদ সোমবার রাত পর্যন্ত ছিলেন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। সুতরাং ইবনে বতুতা কীভাবে তাঁকে মসজিদের মিম্বারে নসিহত করতে দেখলেন যখন তিনি সেই সময়ে কারাগারে ছিলেন?

২- শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ মসজিদের মিম্বারে দাঁড়িয়ে মানুষকে নসিহত করতেন না, বরং তিনি একটি চেয়ারে বসে নসিহত করতেন। হাফেজ আজ-জাহাবি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তাঁর বিষয়টি সুপরিচিত ছিল

--------------------------------------------

১ হায়াতে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৪৭-৪৮।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ২৭)
وبعد صيته في العالم وأخذ في تفسير الكتاب العزيز أياك الجمع على كرسي من حفظه.

3- أن هذا الذي ذكره ابن بطوطة يخالف ما ذكره الشيخ في جميع كتبه من أنه يجب إثبات أسماء الله وصفاته إثباتاً بلا تشبيه وتنزيهها عن مشابهة صفات المخلوقين تنزيهاً بلا تعطيل، وهذا الذي ذكره ابن بطوطة تشبيه ينهى عنه شيخ الإسلام ويحذر منه غاية التحذير.

4- لشيخ الإسلام ابن تيمية في موضوع النزول كتاب مستقل اسمه شرح حديث النزول وهو مطبوع ومتداول وليس فيه ما ذكره ابن بطوطه، بل فيه ما يرد عليه ويبطله من أصله والحمد لله رب العالمين.

2- قالوا عنه إنه يخالف الإجماع، وقد أجاب عن هذه الشبهة الشيخ محمد1 بهجة البيطار بقوله: اشتهر ابن تيمية بمسائل أثرت عنه وظن كثير من الناس أنه انفرد بها عن غيره، بل ظنوا أنه خالف في بعضها الإجماع، وهي أمور اجتهادية يقع في مثلها الخلاف بين العلماء، ومن المفروغ منه أن ابن تيمية قد بلغ رتبة الاجتهاد في الأحكام الشرعية، وأنه كان يفتي الناس بما أدى إليه اجتهاده2، وأنه موافق في فتاواه بعض الصحابة أو التابعين أو أحد الأئمة الأربعة أو غيرهم ممن عاصرهم أو جاء قبلهم أو بعدهم، وقد قال العلامة برهان الدين بن الإمام محمد المعروف بابن قيم الجوزية: لا نعرف مسألة خرق فيها الإجماع، ومن ادعى ذلك فهو إما جاهل وإما كاذب، ولكن ما نسب إليه الانفراد به ينقسم إلى أربعة أقسام: الأول: ما يستغرب جداً فينسب إليه أنه خالف فيه الإجماع لندور القائل به وخفائه على الناس لحكاية بعضهم

--------------------------------------------

1 حياة شيخ الإسلام ابن تيمية ص 54-55.

2 أي أنه الراجح من الأقوال
এবং বিশ্বে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে একটি কুরসিতে বসে মহান কিতাবের তাফসীর শুরু করেন।

৩- ইবনে বতুতা যা উল্লেখ করেছেন তা শাইখ তাঁর সকল কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন তার বিপরীত। তিনি বলেছেন যে, আল্লাহর নাম ও গুণাবলিকে কোনো প্রকার সাদৃশ্য (তাশবিহ) ছাড়াই সাব্যস্ত করা এবং সৃষ্টিজগতের গুণাবলির সাদৃশ্য হতে কোনো প্রকার অস্বীকার (তা’তিল) ছাড়াই পবিত্র রাখা আবশ্যক। আর ইবনে বতুতা যা উল্লেখ করেছেন তা হলো সাদৃশ্য প্রদান, যা থেকে শাইখুল ইসলাম নিষেধ করেছেন এবং এ ব্যাপারে চূড়ান্তভাবে সতর্ক করেছেন।

৪- ‘নুযুল’ (অবতরণ) প্রসঙ্গে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর একটি স্বতন্ত্র কিতাব রয়েছে যার নাম ‘শারহু হাদিসিন নুযুল’। এটি মুদ্রিত এবং প্রচলিত। সেখানে ইবনে বতুতা যা উল্লেখ করেছেন তা নেই; বরং তাতে এমন বিষয় রয়েছে যা তার বক্তব্যকে খণ্ডন করে এবং গোড়া থেকেই বাতিল করে দেয়। সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য।

২- তারা তাঁর সম্পর্কে বলেছে যে তিনি ইজমার (ঐকমত্যের) বিরোধিতা করেন। শাইখ মুহাম্মদ১ বাহজাত আল-বিতার এই সংশয়ের উত্তর দিয়ে বলেছেন: ইবনে তাইমিয়্যাহ এমন কিছু মাসআলার জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন যা তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং অনেক মানুষ মনে করে যে তিনি এসবে একক মত পোষণ করেছেন। এমনকি তারা মনে করে যে তিনি এগুলোর কোনো কোনোটিতে ইজমার বিরোধিতা করেছেন। অথচ এগুলো ইজতিহাদি বিষয় যেগুলোতে আলেমদের মধ্যে মতভেদ হয়ে থাকে। এটি সর্বজনস্বীকৃত যে, ইবনে তাইমিয়্যাহ শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছেছিলেন এবং তিনি মানুষকে সেই অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন যা তাঁর ইজতিহাদ২ তাঁকে পৌঁছে দিত। তিনি তাঁর ফতোয়াসমূহে কোনো কোনো সাহাবী, তাবেয়ী, চার ইমামের একজন অথবা তাদের সমসাময়িক বা তাদের পূর্ববর্তী কিংবা পরবর্তী কারো না কারো মতের অনুকূলে ছিলেন। আল্লামা বুরহানুদ্দিন বিন ইমাম মুহাম্মদ, যিনি ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ নামে পরিচিত, তিনি বলেছেন: "আমরা এমন কোনো মাসআলা জানি না যেখানে তিনি ইজমা লঙ্ঘন করেছেন; আর যে ব্যক্তি এমনটি দাবি করবে সে হয় অজ্ঞ অথবা মিথ্যুক।" তবে তাঁর দিকে যা একক মত হিসেবে সম্বন্ধ করা হয় তা চার ভাগে বিভক্ত: প্রথম: যা অত্যন্ত বিস্ময়কর মনে হয়, ফলে তাঁর দিকে ইজমা লঙ্ঘনের সম্বন্ধ করা হয় কারণ সেই মতের প্রবক্তা বিরল এবং কারো কারো বর্ণনার কারণে মানুষের কাছে তা অস্পষ্ট ছিল...

--------------------------------------------

১ হায়াতু শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫।

২ অর্থাৎ এটি মতামতগুলোর মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ২৮)
الإجماع على خلافه. الثاني: ما هو خارج عن مذاهب الأئمة الأربعة، وقال بعض الصحابة أو التابعين أو السلف به والخلاف فيه محكي. الثالث: ما اشتهرت نسبته إليه مما هو خارج عن مذهب الإمام رضي الله عنه لكن قد قال به غيره من الأئمة وأتباعهم. الرابع: ما أفتى به واختاره مما هو خلاف المشهور في مذهب أحمد وإن كان محكياً عنه، وعن بعض أصحابه. انتهى من كتاب حياة شيخ الإسلام ابن تيمية للشيخ محمد بهجة البيطار ص 54/55.

قلت: وبهذا يعلم أن شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله لم ينفرد بقول لم يقم عليه دليل من الكتاب والسنة ولم يقل به أحد من الأئمة من الصحابة والتابعين ومن بعدهم، ومن أراد الحق في هذا فلينظر في مجموع فتاواه الكبير الذي بلغ خمسة وثلاثين مجلداً وطبع عدة مرات ووزع على نظاق واسع في العالم الإسلامي، ولا يصدق ما أشاعه منه المغرضون. فإن قول الخصم غير مقبول على خصمه –وإنما يرجع إلى كلام الشخص نفسه ويحكم عليه بموجبه، واليوم والحمد لله كتب شيخ الإسلام وفتاواه قد انتشرت واشتهرت وهي تدحض ما افتراه عليه خصومه من الأكاذيب، ومن رجع إلى هذه المؤلفات القيمة أدرك أنه مفترى عليه ووجد في هذه المؤلفات العلم الغزير الموروث عن النبي صلى الله عليه وسلم، ولا يسع المنصف الخالي من التعصب الأعمى إلا أن يقر له بالعلم والفضل والاستقامة على الحق.

3- قالوا إنه أفتى بفتاوى الأئمة أهل السنة والجماعة، وهذا من الكذب على شيخ الإسلام ابن تيمية، فهو لم ينفرد بقول يخالف به الأئمة جميعاً سواء الأئمة الأربعة أو أئمة السلف الذين هم قبل
এর বিপরীতে ইজমা বিদ্যমান। দ্বিতীয়ত: যা চার ইমামের মাযহাবের বাইরে, তবে কোনো সাহাবী, তাবিঈ বা সালাফগণ তা বলেছেন এবং এ বিষয়ে মতভেদ বর্ণিত হয়েছে। তৃতীয়ত: তাঁর দিকে যা সম্পৃক্ত হওয়া প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যা ইমামের (আহমাদ) মাযহাবের বহির্ভূত, কিন্তু অন্য ইমামগণ ও তাঁদের অনুসারীগণ তা বলেছেন। চতুর্থত: তিনি এমন সব বিষয়ে ফতোয়া দিয়েছেন ও নির্বাচন করেছেন যা ইমাম আহমদের মাযহাবের মশহুর (প্রসিদ্ধ) মতের পরিপন্থী, যদিও তা তাঁর থেকে এবং তাঁর কোনো কোনো অনুসারী থেকে বর্ণিত হয়েছে। শায়খ মুহাম্মদ বাহজাত আল-বিতার রচিত ‘হায়াতু শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ’ গ্রন্থ থেকে সমাপ্ত, পৃষ্ঠা ৫৪/৫৫।

আমি বলছি: এর দ্বারা জানা গেল যে, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) এমন কোনো বিষয়ে একক মত পোষণ করেননি যার স্বপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর কোনো দলীল নেই এবং সাহাবী, তাবিঈ ও পরবর্তী ইমামগণের কেউ তা বলেননি। যে ব্যক্তি এ বিষয়ে সত্যের সন্ধান চায়, সে যেন তাঁর পঁয়ত্রিশ খণ্ডের বিশাল ফাতাওয়া সংকলন (মাজমুউল ফাতাওয়া) দেখে, যা বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং মুসলিম বিশ্বে ব্যাপকভাবে বণ্টিত হয়েছে; আর সে যেন কুচক্রী মহলের ছড়ানো কথায় কর্ণপাত না করে। কেননা প্রতিপক্ষের কথা তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য নয়—বরং ব্যক্তির নিজের বক্তব্যের দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হয় এবং তার আলোকেই ফয়সালা করতে হয়। আজ আলহামদুলিল্লাহ শাইখুল ইসলামের কিতাবসমূহ ও ফাতাওয়াগুলো ছড়িয়ে পড়েছে ও প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, যা তাঁর শত্রুরা তাঁর বিরুদ্ধে যে সব মিথ্যাচার রটনা করেছিল তা ধূলিসাৎ করে দেয়। যে ব্যক্তি এই মূল্যবান রচনাবলির দিকে ফিরে তাকাবে সে উপলব্ধি করতে পারবে যে তাঁর প্রতি মিথ্যা আরোপ করা হয়েছে এবং সে এসব কিতাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রাপ্ত অগাধ জ্ঞান খুঁজে পাবে। অন্ধ গোঁড়ামি মুক্ত কোনো ইনসাফপ্রিয় ব্যক্তির পক্ষে তাঁর ইলম, ফযীলত এবং সত্যের ওপর অবিচলতার স্বীকৃতি না দিয়ে কোনো উপায় নেই।

৩- তারা বলে যে, তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমামদের পরিপন্থী ফতোয়া দিয়েছেন। এটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ওপর একটি অপবাদ। তিনি এমন কোনো একক মত পোষণ করেননি যা সমস্ত ইমামদের বিরোধী, চাই তারা চার ইমাম হোন বা তাঁদের পূর্ববর্তী সালাফ ইমামগণ হোন।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ২৯)
الأربعة، كما سبق بيانه، فلم يقل قولاً إلا وله سلف فيه من الأئمة وأهل السنة والجماعة، اللهم إلا أن يريد هذا القائل بأن أهل السنة والجماعة جماعة الأشاعرة والماتريدية –فهذا اصطلاح خاطئ، لأن المراد بأهل السنة والجماعة حقاً من كان على طريقة الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه، وهم الفرقة الناجية، وهذا الوصف لا ينطبق إلا على الصحابة والتابعين ومن سار على نهجهم واتبع طريقهم، والأشاعرة والماتريدية خالفوا الصحابة والتابعين والأئمة الأربعة في كثير من المسائل الاعتقادية وأصول الدين، فلم يستحقوا أن يلقبوا بأهل السنة والجماعة. وهؤلاء لم يخالفهم شيخ الإسلام ابن تيمية وحده، بل خالفهم عامة الأئمة والعلماء الذي ساروا على نهج السلف. وهذه الفتاوى التي نسبوها كذباً للشيخ، وقالوا إن الشيخ خالف فيها فتاوى الأئمة أهل السنة والجماعة، هي قولهم:

1- أنه يرى جلوس الله على العرش كجلوسه هو، وأنه قال ذلك على المنبر في مسجد بني أمية مراراً في دمشق وفي مصر.

ونقول: هذا من الكذب الواضح على شيخ الإسلام ابن تيمية، فشيخ الإسلام في هذه المسألة يثبت ما أثبته الله لنفسه، من أنه استوى على العرش استواء يليق بجلاله سبحانه بلا تكييف ولا تمثيل ولا تشبيه –كما قال الإمام مالك وغيره: الاستواء معلوم والكيف مجهول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة، وإليك ما قاله رحمه الله في هذه المسألة من إثبات. استواء الله على عرشه مع نفي مشابهة المخلوقين في ذلك حيث قال رحمه الله (ولله تعالى استواء على عرشه حقيقة، وللعبد استواء على الفلك حقيقة، وليس استواء الخالق كاستواء المخلوقين.
চার ইমামের কথা, যা ইতিপূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি এমন কোনো কথা বলেননি যাতে আইম্মাহ ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মধ্য থেকে তাঁর কোনো পূর্বসূরি ছিল না। তবে যদি এই বক্তা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বলতে আশআরি ও মাতুরিদি গোষ্ঠীকে বোঝাতে চান—তাহলে এটি একটি ভুল পরিভাষা। কেননা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের প্রকৃত অর্থ হলো তারা, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের পদ্ধতির ওপর রয়েছেন, আর তারাই হলো মুক্তিপ্রাপ্ত দল। এবং এই বৈশিষ্ট্য কেবল সাহাবী, তাবেয়ী এবং যারা তাদের আদর্শের ওপর চলেছেন ও তাদের পথ অনুসরণ করেছেন, তাদের উপরেই প্রযোজ্য হয়। আর আশআরি ও মাতুরিদিগণ অনেক আকিদাগত বিষয় এবং দ্বীনের মূলনীতিতে সাহাবী, তাবেয়ী ও চার ইমামের বিরোধিতা করেছেন, ফলে তারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত উপাধিতে ভূষিত হওয়ার যোগ্য নন। এবং এদের বিরোধিতা কেবল শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া একাই করেননি, বরং সেই সকল সাধারণ ইমাম ও আলেমগণও করেছেন যারা সালাফদের আদর্শের ওপর চলেছেন। আর এই ফতোয়াগুলো যা তারা মিথ্যাভাবে শাইখের প্রতি আরোপ করেছে এবং বলেছে যে শাইখ এতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমামদের ফতোয়ার বিরোধিতা করেছেন, সেগুলো হলো তাদের এই বক্তব্য:

১- তিনি মনে করেন যে আরশের ওপর আল্লাহর বসা তাঁর নিজের বসার মতো, এবং তিনি দামেস্কের বনু উমাইয়া মসজিদে এবং মিসরে মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে বারবার এ কথা বলেছেন।

আমরা বলি: এটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার ওপর একটি সুস্পষ্ট মিথ্যাচার। কারণ শাইখুল ইসলাম এই মাসআলায় আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা-ই সাব্যস্ত করেন, আর তা হলো—তিনি আরশের ওপর উঠেছেন এমনভাবে যা তাঁর মহানুভবতার উপযোগী, কোনো ধরন নির্ধারণ করা, দৃষ্টান্ত প্রদান করা বা সাদৃশ্য করা ছাড়াই—যেমনটি ইমাম মালেক ও অন্যরা বলেছেন: [আরশে] উঠা বিষয়টি জানা, এর ধরন অজানা, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত। সৃষ্টির সাদৃশ্য অস্বীকার করে আল্লাহর আরশের ওপর উঠার বিষয়টি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) যা বলেছেন তা আপনার সামনে পেশ করা হলো, যেখানে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (আল্লাহ তাআলার জন্য তাঁর আরশের ওপর উঠা বিষয়টি বাস্তব, আর বান্দার জন্য নৌযানের ওপর উঠা বিষয়টিও বাস্তব; কিন্তু স্রষ্টার উঠা সৃষ্টির উঠার মতো নয়)।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ৩০)
فإن الله لا يفتقر إلى شيء ولا يحتاج إلى شيء، بل هو الغني عن كل شيء) انظر مجموع فتاوى الشيخ (5/199) ، فقال رحمه الله: (لله استواء) ولم يقل لله جلوس، وفرق بين استواء الله واستواء الخلق.

2- قالوا إنه يقول: (نزول الله إلى سماء الدنيا كل ليلة كنزوله هو من المنبر) ، وهذا من الكذب على شيخ الإسلام ومما افتراه عليه ابن بطوطة، وقد بينا كذبه في ذلك ولله الحمد.

ونحن نسوق عبارة الشيخ في هذه المسألة لما سئل عن حديث النزول فكان من جوابه: (لكن من فهم من هذا الحديث وأمثاله ما يجب تنزيه الله عنه كتمثيله بصفات المخلوقين ووصفه بالنقص المنافي لكماله الذي يستحقه فقد أخطأ في ذلك. وإن أظهر ذلك منع منه. وإن زعم أن هذا الحديث يدل على ذلك ويقتضيه فقد أخطأ أيضاً في ذلك) انظر مجموع الفتاوى (5/323) .

وقال أيضاً: (من قال إنه ينزل فيتحرك وينتقل كما ينزل الإنسان من السطح إلى أسفل الدار كقول من يقول إنه يخلو منه العرش، فيكون نزوله تفريغاً لمكان وشغلاً لآخر، فهذا باطل يجب تنزيه الرب عنه) . انظر المجموع (5/578) .

3-قالوا إنه يحرم زيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم، ونقول هذا أيضاً من الكذب الواضح، فإن شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله لم يحرم زيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم ولا زيارة غيره من القبور إذا وقعت هذه الزيارة وفق الأدلة الشرعية بأن يكون الزائر رجلاً والقصد من هذه الزيارة التذكر والاعتبار
কারণ আল্লাহ কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী নন এবং তাঁর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই, বরং তিনি সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী। শেখের মাজমুউল ফাতাওয়া (৫/১৯৯) দেখুন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (আল্লাহর জন্য উঠা সাব্যস্ত), তিনি আল্লাহর জন্য বসা বলেননি। আর আল্লাহর উঠা এবং সৃষ্টির উঠার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

২- তারা বলে যে, তিনি বলেন: (প্রতি রাতে আল্লাহর দুনিয়ার আসমানে নামা হচ্ছে মিম্বর থেকে তাঁর নামার মতো)। এটি শাইখুল ইসলামের ওপর একটি মিথ্যাচার এবং ইবনে বতুতা তাঁর ওপর যে অপবাদারোপ করেছেন তার অন্তর্ভুক্ত। আমরা এর মিথ্যা হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছি, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

এই বিষয়ে যখন তাঁকে (আল্লাহর) নামার হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তখন আমরা শেখের বক্তব্য উদ্ধৃত করছি; তাঁর উত্তর ছিল: (তবে যে ব্যক্তি এই হাদিস এবং এর অনুরূপ হাদিসগুলো থেকে এমন কিছু বোঝে যা থেকে আল্লাহকে পবিত্র রাখা ওয়াজিব—যেমন তাঁকে সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা করা অথবা তাঁকে এমন কোনো ত্রুটির গুণে গুণান্বিত করা যা তাঁর প্রাপ্য পূর্ণতার পরিপন্থী—তবে সে এক্ষেত্রে ভুল করেছে। আর যদি সে তা প্রকাশ করে তবে তাকে তা থেকে বাধা দেওয়া হবে। আর যদি সে দাবি করে যে এই হাদিসটি এর প্রতি নির্দেশ করে এবং এটিই দাবি করে, তবে সেও এক্ষেত্রে ভুল করেছে)। মাজমুউল ফাতাওয়া (৫/৩২৩) দেখুন।

তিনি আরও বলেছেন: (যে ব্যক্তি বলে যে, তিনি নামেন ফলে তিনি নড়াচড়া করেন এবং স্থানান্তরিত হন যেভাবে মানুষ ছাদ থেকে ঘরের নিচের তলায় নামে, যেমন তাদের কথা যারা বলে যে এতে আরশ তাঁর থেকে শূন্য হয়ে যায়, ফলে তাঁর নামা হবে এক স্থান খালি করা এবং অন্য স্থান পূর্ণ করা; তবে এটি বাতিল কথা, যা থেকে রবকে পবিত্র রাখা ওয়াজিব)। মাজমুউল ফাতাওয়া (৫/৫৭৮) দেখুন।

৩- তারা বলে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবর জিয়ারত করা হারাম মনে করেন। আমরা বলি এটিও একটি স্পষ্ট মিথ্যা। কেননা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবর জিয়ারত কিংবা অন্য কোনো কবর জিয়ারত হারাম করেননি, যদি সেই জিয়ারত শরয়ি দলিলের আলোকে হয়—যেমন জিয়ারতকারী ব্যক্তি পুরুষ হওয়া এবং জিয়ারতের উদ্দেশ্য হওয়া পরকাল স্মরণ ও উপদেশ গ্রহণ করা।
(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ৩১)
والدعاء للموتى من المسلمين بالرحمة والمغفرة. وكانت هذه الزيارة بدون سفر، فإن كانت زيارة القبور بقصد التبرك بها وطلب المدد وقضاء الحوائج وتفريج الكربات من الموتى، أو كانت هذه الزيارة تحتاج إلى سفر. أو الزائر من النساء، فشيخ الإسلام ليس وحده الذي يمنع من هذه الزيارة، بل يمنع منها كل المحققين من علماء السلف والخلف، لأنها زيارة شركية أو بدعية، قد جاءت الأدلة من الكتاب والسنة بمنعها وإليك ما قاله في هذه المسألة- قال رحمه الله: (فإن زيارة القبور على وجهين: وجه شرعي ووجه بدعي، فالزيارة الشرعية مقصودها السلام على الميت والدعاء له سواء كان نبياً أو غير نبي، ولهذا كان الصحابة إذا زاروا النبي صلى الله عليه وسلم يسلمون عليه ويدعون له ثم ينصرفون ولم يكن أحد منهم يقف عند قبره ليدعو لنفسه، ولهذا كره مالك وغيره ذلك وقالوا: إنه من البدع المحدثة، ولهذا قال الفقهاء: إذا سلم المسلم عليه وأراد الدعاء لنفسه لا يستقبل القبر، بل يستقبل القبلة، وتنازعوا وقت السلام عليه هل يستقبل القبلة أو يستقبل القبر. فقال أبو حنيفة: يستقبل القبلة، وقال مالك والشافعي: يستقبل القبر- وهذا لقوله صلى الله عليه وسلم: " اللهم لا تجعل قبري وثناً يعبد"، وقوله صلى الله عليه وسلم: " لا تتخذوا قبري عيداً"، وقوله صلى الله عليه وسلم: " لعن الله اليهود والنصاري اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد يحذر ما فعلوا"، وقوله صلى الله عليه وسلم: " إن من كان قبلكم كانوا يتخذون القبور مساجد، ألا فلا تتخذوا القبور مساجد فإني أنهاكم عن ذلك "، ولهذا اتفق السلف على أنه لا يستلم قبراً من قبور الأنبياء وغيرهم، ولا يتمسح به ولا يستحب الصلاة عنده ولا قصده للدعاء عنده أو به، لأن هذه الأمور كانت من أسباب الشرك وعبادة الأوثان، كما قال تعالى: {وَقَالُوا لا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلا تَذَرُنَّ وَدّاً

এবং মুসলিম মৃতদের জন্য রহমত ও মাগফিরাতের দোয়া করা। আর এই যিয়ারত ছিল সফর (ভ্রমণ) ছাড়া। তবে কবর যিয়ারত যদি বরকত হাসিল করা, সাহায্য প্রার্থনা করা, হাজত পূরণ করা এবং মৃতদের নিকট থেকে বিপদ মুক্তির কামনায় হয়, অথবা যদি এই যিয়ারতের জন্য সফরের প্রয়োজন হয়, কিংবা যিয়ারতকারী নারী হয়, তবে শাইখুল ইসলাম একাই এই যিয়ারত থেকে নিষেধ করেননি, বরং পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী উলামাদের মধ্য থেকে সকল মুহাক্কিকগণ এটি থেকে নিষেধ করেছেন। কারণ এটি একটি শিরকপূর্ণ অথবা বিদআতি যিয়ারত; কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এটি নিষিদ্ধ হওয়ার দলীলসমূহ এসেছে। এই বিষয়ে তিনি যা বলেছেন তা নিম্নরূপ-

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: (কবর যিয়ারত দুই প্রকার: শারঈ পদ্ধতি ও বিদআতি পদ্ধতি। শারঈ যিয়ারতের উদ্দেশ্য হলো মৃত ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া এবং তার জন্য দোয়া করা, চাই তিনি নবী হোন বা নবী ছাড়া অন্য কেউ। একারণেই সাহাবীগণ যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যিয়ারত করতেন, তখন তাঁরা তাঁকে সালাম দিতেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করতেন, তারপর ফিরে যেতেন। তাঁদের কেউ নিজের জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যে তাঁর কবরের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতেন না। এই কারণে ইমাম মালিক ও অন্যান্যগণ এটিকে অপছন্দ করেছেন এবং বলেছেন: এটি উদ্ভাবিত বিদআতের অন্তর্ভুক্ত। এই কারণে ফকীহগণ বলেছেন: যখন কোনো মুসলিম তাঁকে সালাম দেয় এবং নিজের জন্য দোয়া করার ইচ্ছা করে, তখন সে কবরের দিকে মুখ করবে না, বরং কিবলার দিকে মুখ করবে। তবে সালাম দেওয়ার সময় কিবলার দিকে মুখ করবে নাকি কবরের দিকে মুখ করবে, তা নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: কিবলার দিকে মুখ করবে। আর ইমাম মালিক ও শাফেঈ বলেছেন: কবরের দিকে মুখ করবে- আর এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে: "হে আল্লাহ, আপনি আমার কবরকে এমন মূর্তিতে পরিণত করবেন না যার ইবাদত করা হয়", এবং তাঁর বাণী: "তোমরা আমার কবরকে উৎসবের স্থানে পরিণত করো না", এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ ইহুদি ও নাসারাদের ওপর লানত করেছেন, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছিল।" তারা যা করেছিল সে ব্যাপারে তিনি সতর্ক করেছেন। এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করত। সাবধান! তোমরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করো না, নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে তা থেকে নিষেধ করছি।" একারণেই সালাফগণ একমত হয়েছেন যে, নবীদের কবর বা অন্য কারো কবরের কোনো অংশ স্পর্শ করা যাবে না, তাতে গা ঘষা যাবে না, তার নিকট সালাত আদায় করা মুস্তাহাব নয় এবং তার নিকট দোয়া করার বা তার অসিলায় দোয়া করার উদ্দেশ্য করা যাবে না। কারণ এই বিষয়গুলো ছিল শিরক ও মূর্তিপূজার অন্যতম কারণ, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তারা বলেছিল, তোমরা তোমাদের উপাস্যদের বর্জন করো না, আর বর্জন করো না 'ওয়াদ'কে...

(খণ্ড: ১) মিন আলামিল মুজাদ্দিদিন (পৃষ্ঠা: ৩২)
وَلا سُوَاعاً وَلا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْراً} ، قال طائفة من السلف هؤلاء كانوا قوماً صالحين من قوم نوح، فلما ماتوا عكفوا على قبورهم ثم صوروا تماثيلهم فعبدوهم. وهذه الأمور ونحوها هي من الزيارة البدعية. وهي من جنس دين النصاري والمشركين. وهو أن يكون قصد الزائر أن يستجاب دعاؤه عند القبر، أو أن يدعو الميت ويستغيث به ويطلب منه أو يقسم به على الله في طلب حاجاته وتفريج كرباته، فهذه كلها من البدع) انتهى من مجموع التفاوى (27/31-32) . وبه يتضح رأي الشيخ في زيارة القبور وأنه يتمشى مع الأدلة الشرعية فيجيز ما أجازته، ويمنع ما منعته من الزيارة الشركية والبدعية.

4- قالوا إنه يقول إن التوسل في الدعاء كفر أو شرك، وهذا أيضاً من الكذب الصريح على شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، فإنه لم يحكم على التوسل بأنه كفر أو شرك، وإنما كان يفصل في ذلك بين التوسيل المشروع والتوسل الممنوع، وإليك عبارته في ذلك –يقول رحمه الله: (فلفظ التوسل يراد بن ثلاثة معان: أحدها: التوسل بطاعته (يعني النبي صلى الله عليه وسلم فهذا فرض لا يتم الإيمان إلا به. والثاني: التوسل بدعائه وشفاعته –وهذا كان في حياته. ويكون يوم القيامة يتوسلون بشفاعته. والثالث: التوسل به بمعنى الإقسام على الله بذاته والسؤال بذاته فهذا هو الذي لم تكن الصحابة يفعلونه في الاستسقاء ونحوه لا في حياته ولا بعد مماته، لا عند قبره ولا غير قبره، ولا يعرف هذا في شيء من الأدعية المشهورة بينهم، وإنما ينقل شيء من ذلك في أحاديث ضعيفه مرفوعة وموقوفة، أو عن من ليس قوله حجة، وهذا هو الذي قال أبو حنيفة وأصحابه إنه لا يجوز ونهوا عنه حيث قالوا: (لا يسأل بمخلوق
"এবং না সুওয়া'কে, না ইয়াগূসকে, না ইয়াঊককে এবং না নাসরকে।" সালাফদের একটি দল বলেছেন: এরা ছিলেন নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায়ের কিছু নেককার লোক। যখন তারা মারা গেলেন, তখন লোকেরা তাদের কবরে অবস্থান করতে শুরু করল, এরপর তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করল এবং পরবর্তীতে তাদের ইবাদত শুরু করল। আর এসব এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো বিদআতী যিয়ারতের অন্তর্ভুক্ত। এটি খ্রিষ্টান ও মুশরিকদের ধর্মের সদৃশ। আর তা হলো যিয়ারতকারীর উদ্দেশ্য এমন হওয়া যে, কবরের নিকট তার দুআ কবুল হবে, অথবা মৃত ব্যক্তিকে ডাকা, তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা, তার কাছে কিছু চাওয়া অথবা নিজের প্রয়োজন পূরণ ও বিপদ মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে তার দোহাই দেওয়া; এগুলো সবই বিদআতের অন্তর্ভুক্ত। (মাজমুউল ফাতাওয়া: ২৭/৩১-৩২ থেকে সমাপ্ত)। এর মাধ্যমে কবর যিয়ারত সম্পর্কে শায়খের অভিমত স্পষ্ট হয় যে, তা শরয়ী দলীলসমূহের অনুসারী। সুতরাং শরীয়ত যা বৈধ করেছে তিনি তা বৈধ বলেছেন এবং যা নিষিদ্ধ করেছে—যেমন শিরকী ও বিদআতী যিয়ারত—তিনি তা নিষিদ্ধ করেছেন।

৪- তারা বলে যে, তিনি বলেছেন দুআর মধ্যে তাওয়াসসুল করা কুফর বা শিরক। এটিও শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ওপর একটি সুস্পষ্ট মিথ্যাচার। কেননা তিনি তাওয়াসসুলকে কুফর বা শিরক বলে হুকুম দেননি, বরং তিনি এ ক্ষেত্রে শরীয়তসম্মত তাওয়াসসুল ও নিষিদ্ধ তাওয়াসসুলের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য নিম্নরূপ—তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (তাওয়াসসুল শব্দ দ্বারা তিনটি অর্থ উদ্দেশ্য হতে পারে: প্রথমটি: তাঁর (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) আনুগত্যের মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা; এটি একটি ফরয কাজ যা ব্যতীত ঈমান পূর্ণ হয় না। দ্বিতীয়টি: তাঁর দুআ ও শাফায়াতের মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা—এটি তাঁর জীবদ্দশায় ছিল। আর কিয়ামতের দিন মানুষ তাঁর শাফায়াতের মাধ্যমে তাওয়াসসুল করবে। তৃতীয়টি: তাঁর সত্তার কসম দিয়ে বা তাঁর সত্তার দোহাই দিয়ে আল্লাহর কাছে চাওয়া অর্থে তাওয়াসসুল করা। এটি এমন বিষয় যা সাহাবায়ে কেরাম বৃষ্টি প্রার্থনার সময় বা অন্য কোনো সময় করেননি—না তাঁর জীবদ্দশায়, না তাঁর মৃত্যুর পর; না তাঁর কবরের কাছে, না অন্য কোথাও। তাদের মাঝে প্রচলিত কোনো প্রসিদ্ধ দুআতেও এটি জানা যায় না। বরং এ সম্পর্কিত কিছু বর্ণনা যঈফ মারফূ ও মাওকূফ হাদীসে পাওয়া যায় অথবা এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যার কথা দলীল হিসেবে গণ্য নয়। আর এটিই সেই বিষয় যা ইমাম আবু হানীফা ও তাঁর সাথীবর্গ নাজায়েয বলেছেন এবং তা থেকে নিষেধ করেছেন, যেখানে তারা বলেছেন: (সৃষ্টির দোহাই দিয়ে প্রার্থনা করা যাবে না)