(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: -)
مباحث العقيدة في سورة الزمر القسم: العقيدة
الكتاب: مباحث العقيدة في سورة الزمر
المؤلف: ناصر بن علي عايض حسن الشيخ
الناشر: مكتبة الرشد، الرياض، المملكة العربية السعودية،
الطبعة: الأولى، 1415هـ/1995م
عدد الصفحات: 741
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সূরা আয-যুমারে আকীদাহর আলোচ্য বিষয়সমূহ বিভাগ: আকীদাহ
গ্রন্থ: সূরা আয-যুমারে আকীদাহর আলোচ্য বিষয়সমূহ
লেখক: নাসির বিন আলী আইদ হাসান আশ-শাইখ
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ، রিয়াদ، সৌদি আরব রাজতন্ত্র،
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৫ হিজরী/১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৪১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمةإن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونستغفره، ونستهديه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فهو المهتدي، ومن يضلل الله فلن تجد له ولياً مرشداً، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصحابه ومن سلك سبيله، واهتدى بهداه وسلم تسليماً كثيراً. أما بعد:
فإن أحق ما يشتغل به الباحثون، وأفضل ما يتسابق فيه المتسابقون، وأجل ما يتنافس فيه المتنافسون هو دراسة كتاب الله تعالى، ومواصلة البحث فيه، والتعمق في الكشف عن علومه وحقائقه، وإظهار إعجازه، وتجلية محاسنه والدفاع عنه بنفي الشكوك، والريب فيه.
فالقرآن الكريم بحر لا يدرك غوره، ولا تنفذُ درره ولا تنقضي عجائبه فما أحق الأعمار أن تفنى فيه، والأزمان أن تشغل به، وكل ساعة يقضيها الباحث في النظر في كتاب الله، والتأمل فيه، أو في البحث فيما يتصل به فهو في سبيل الله ونصرة لدينه.
والقرآن الكريم هو كتاب الله المنزل على خاتم الأنبياء والمرسلين محمد صلى الله عليه وسلم بلفظه ومعناه نقل إلينا بالتواتر المفيد للقطع واليقين، أحكمه فأتقن إحكامه، وفصّله فأحسن تفصيله كما قال تعالى: {كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ} 1 لا يتطرق إليه نقض ولا باطل. قال تعالى: {وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ * لا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} 2.
والقرآن العظيم هو المعجزة العظمى التي أوتيها نبينا صلى الله عليه وسلم، وهو الحجة البالغة
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই, তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে হিদায়াত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য আপনি কোনো পথপ্রদর্শক বা সাহায্যকারী পাবেন না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন ও তাঁর হিদায়াত দ্বারা পরিচালিত হয়েছেন, তাদের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
গবেষকদের জন্য যা নিয়ে ব্যস্ত থাকা সবচেয়ে বেশি সমীচীন, প্রতিযোগীদের জন্য যার প্রতি প্রতিযোগিতা করা সর্বাপেক্ষা উত্তম এবং প্রতিযোগীদের জন্য যার ব্যাপারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সর্বাপেক্ষা মর্যাদাপূর্ণ বিষয় হলো—আল্লাহ তাআলার কিতাব অধ্যয়ন করা, এতে নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা চালিয়ে যাওয়া, এর বিভিন্ন জ্ঞান ও সত্য উদ্ঘাটনে গভীর মনোনিবেশ করা, এর অলৌকিকত্ব প্রকাশ করা, এর সৌন্দর্যসমূহ পরিস্ফুটিত করা এবং সকল প্রকার সন্দেহ ও সংশয় নিরসনের মাধ্যমে একে রক্ষা করা।
কেননা কুরআনুল কারীম এমন এক সমুদ্র যার গভীরতা পরিমাপ করা সম্ভব নয়, যার মুক্তাসমূহ নিঃশেষ হয় না এবং যার বিস্ময়কর বিষয়গুলো শেষ হয় না। তাই জীবন এর মাঝেই ব্যয় করা এবং সময়কে এর সাথেই ব্যস্ত রাখা কতই না যথার্থ! আল্লাহর কিতাব নিয়ে চিন্তা-গবেষণা বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধানে গবেষক যে সময়টুকু ব্যয় করেন, তা আল্লাহর পথেই ব্যয় হয় এবং তাঁর দ্বীনের সাহায্য হিসেবেই গণ্য হয়।
আর কুরআনুল কারীম হলো আল্লাহর কিতাব, যা সর্বশেষ নবী ও রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এর শব্দ ও অর্থসহ নাজিল করা হয়েছে। এটি আমাদের নিকট মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্ন) সূত্রে পৌঁছেছে, যা অকাট্য জ্ঞান ও নিশ্চিত বিশ্বাসের দাবি রাখে। তিনি একে সুদৃঢ় করেছেন এবং এর দৃঢ়তাকে নিখুঁত করেছেন। একে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এবং এর বিশদ বর্ণনাকে উত্তম করেছেন, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করা হয়েছে, অতঃপর প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।" ১ এতে কোনো অসংলগ্নতা বা বাতিল প্রবেশ করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয় এটি এক সম্মানিত কিতাব। বাতিল এর সামনে থেকেও আসতে পারে না, পেছন থেকেও নয়; এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" ২
আর মহান কুরআন হলো সেই শ্রেষ্ঠ মুজিজা যা আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রদান করা হয়েছে, এবং এটিই অকাট্য দলিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ৮)
الباقية على مر الدهور والعصور تحدى الإنس والجن أن يأتوا بمثله، أو ببعضه فباؤوا بالعجز.
والقرآن الكريم هو هداية الله لخلقه، وشريعته في أرضه، وهو الكتاب الذي اشتمل على كل ما يحتاج إليه البشر في أمور دينهم ودنياهم في العقائد والأخلاق، وفي العبادات والمعاملات وهو في كل ذلك حكيم كل الحكمة لا يعتريه خلل ولا اختلاف، ولا تناقض قال تعالى: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً} 1.
فلا عجب إذن أن كانت السعادة الحقة لا تنال إلا بالإهتداء بهديه والإلتزام بما جاء به، ولا عجب أن كان مصدراً لشفاء الأمراض التي تعتري النفوس والمجتمعات، فاهتدت به القلوب بعد ضلال وأبصرت العيون بعد عمى، واستنارت به العقول بعد جهالة، واستضاءت به الدنيا بعد ظلمات {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْراً كَبِيراً وَأَنَّ الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِالآخِرَةِ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَاباً أَلِيماً} 2 {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَاراً} 3.
{قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} 4.
والقرآن الكريم هو الكتاب الذي بين الله فيه وفي سنة رسوله صلى الله عليه وسلم للناس، ما يجب له على عباده من إفراده بجميع أنواع العبادة، وإخلاص الدين له وحده لا شريك له أنزله الله ليتمسك العباد بما فيه من أوامر ويجتنبوا الأمور التي نهى عنها، فيجب عليهم الإلتزام بما فيه عقيدة وسلوكاً قولاً وعملاً، ظاهراً وباطناً.
وهو الكتاب الذي بين الله فيه العقيدة الصحيحة بأسلوب سهل يفهمه جميع الناس على اختلاف مستوياتهم، فقد فهم الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين "ما وصف الله به
--------------------------------------------
যা যুগ যুগ ধরে এবং মহাকালব্যাপী টিকে আছে। তিনি মানুষ ও জিন জাতিকে এর অনুরূপ কিছু অথবা এর অংশবিশেষ নিয়ে আসার জন্য চ্যালেঞ্জ করেছেন, কিন্তু তারা অক্ষমতা নিয়ে ফিরে এসেছে।
আর কুরআনুল কারীম হলো তাঁর সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর হেদায়াত এবং তাঁর জমিনে তাঁর প্রবর্তিত শরীয়ত। এটি এমন এক কিতাব যা মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার যাবতীয় প্রয়োজনীয় বিষয়—আকিদাহ, আখলাক, ইবাদত এবং লেনদেন—সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সবকিছুর ক্ষেত্রে এটি চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ, যাতে কোনো ত্রুটি, মতভেদ বা বৈপরীত্য নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ দেখতে পেত।} ১।
সুতরাং এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, প্রকৃত সুখ কেবল এর হেদায়াত গ্রহণ এবং এতে যা এসেছে তা মেনে চলার মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে। এতেও আশ্চর্যের কিছু নেই যে, এটি মানুষের আত্মা ও সমাজের উপর আপতিত ব্যাধিগুলোর নিরাময়ের উৎস। ফলে এর মাধ্যমে পথভ্রষ্টতার পর হৃদয়গুলো হেদায়াত পেয়েছে, অন্ধত্বের পর চক্ষুগুলো দৃষ্টিশক্তি পেয়েছে, মূর্খতার পর বিবেকগুলো আলোকিত হয়েছে এবং অন্ধকারের পর পৃথিবী এর মাধ্যমে জ্যোতি পেয়েছে। {নিশ্চয়ই এই কুরআন সেই পথের দিশা দেয় যা সর্বাপেক্ষা সরল এবং মুমিনদের সুসংবাদ দেয় যারা সৎকর্ম করে যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমরা প্রস্তুত রেখেছি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।} ২ {আর আমরা কুরআনের এমন কিছু নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, আর তা জালিমদের জন্য কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।} ৩।
{অবশ্যই তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক জ্যোতি ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজের ইচ্ছায় তাদের অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদের সরল পথে পরিচালিত করেন।} ৪।
আর কুরআনুল কারীম হলো সেই কিতাব যাতে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর মাধ্যমে মানুষের জন্য বর্ণনা করেছেন তাঁর প্রতি তাঁর বান্দাদের কী কী আবশ্যিক কর্তব্য রয়েছে—যেমন সমস্ত প্রকার ইবাদতে তাঁকে একক হিসেবে গণ্য করা এবং শিরকমুক্ত হয়ে একমাত্র তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করা। আল্লাহ এটি নাযিল করেছেন যাতে বান্দারা এতে থাকা নির্দেশনাসমূহ আঁকড়ে ধরে এবং যে বিষয়গুলো তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে দূরে থাকে। অতএব, আকিদাহ ও আচরণে, কথায় ও কাজে, প্রকাশ্য ও গোপনে এর ওপর অটল থাকা তাদের জন্য অপরিহার্য।
এটি এমন এক কিতাব যাতে আল্লাহ সঠিক আকিদাহ অত্যন্ত সহজ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন, যা সর্বস্তরের মানুষ বুঝতে সক্ষম। ফলে সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) বুঝতে পেরেছিলেন আল্লাহ তাঁর যে সকল গুণ বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ৯)
نفسه الكريمة في كتابه العزيز الذي نزل به على قلبه صلى الله عليه وسلم الروح الأمين، وبما أوحى إليه ربه تعالى فلم يسأله صلى الله عليه وسلم أحد من العرب بأسرهم قرويهم وبدويهم عن معنى شيء من ذلك كما كانوا يسألونه صلى الله عليه وسلم عن أمر الصلاة والزكاة والصيام والحج وغير ذلك مما لله فيه ـ سبحانه ـ أمر ونهي، وكما سألوه صلى الله عليه وسلم عن أحوال القيامة والجنة والنار إذ لو سأله إنسان منهم عن شيء من الصفات الإلهية لنقل، كما نقلت الأحاديث الواردة عنه صلى الله عليه وسلم في أحكام الحلال والحرام، وفي الترغيب والترهيب وأحوال القيامة، والملاحم والفتن ونحو ذلك مما تضمنته كتب الحديث معاجمها ومسانيدها وجوامعها، ومن أمعن النظر في دواوين الحديث النبوي ووقف على الآثار السلفية علم أنه لم يرد قط من طريق صحيح، ولا سقيم عن أحد من الصحابة رضي الله عنهم على اختلاف طبقاتهم، وكثرة عددهم أنه سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن معنى شيء مما وصف ـ الرب سبحانه ـ نفسه الكريمة في القرآن الكريم، وعلى لسان نبيه محمد صلى الله عليه وسلم، بل كلهم فهموا معنى ذلك وسكتوا عن الكلام في الصفات نعم، ولا فرّق أحد منهم بين كونها صفة ذات أو صفة فعل، وإنما أثبتوا له تعالى صفات أزلية من العلم والقدرة والحياة والإرادة، والسمع والبصر، والكلام، والجلال والإكرام والجود والإنعام والعزة والعظمة، وساقوا الكلام سوقاً واحداً.
وهكذا أثبتوا رضي الله عنهم بلا تشبيه، ونزهوا من غير تعطيل ولم يتعرض مع ذلك أحد منهم إلى تأويل شيء من هذا، ورأوا بأجمعهم إجراء الصفات كما وردت. ولم يكن عند أحد منهم ما يستدل به على وحدانية الله تعالى، وعلى إثبات نبوة محمد صلى الله عليه وسلم سوى كتاب الله، ولا عرف أحد منهم شيئاً من الطرق الكلامية ولا مسائل الفلسفة فمضى عصر الصحابة رضي الله عنهم على هذا1.
ونتيجة لتلقي الصحابة العقيدة الصافية النقية من مصدريها الكتاب والسنة، وتمسكهم بها كانوا خير أمة أخرجت للناس، وكانوا مضرب الأمثال في الإيمان والإخاء والعدل والوفاء، والوفاق والوئام، وصاروا علماء حكماء رحماء، وسادة قادة في الحكم والحرب والسيادة لم يوجد لهم من بعدهم مثيل كما أنه لم يوجد قبلهم بعد الأنبياء والمرسلين من يماثلهم، فقد نعم العالم في زمنهم برغد العيش والأمن والسلام حقباً من الزمان في ظل العقيدة الإسلامية، وكانت دولة الإسلام في عهدهم دولة مرهوبة.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত সত্তার বর্ণনা দিয়েছেন তাঁর সুমহান কিতাবে, যা তিনি রূহুল আমীনের মাধ্যমে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হৃদয়ে অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁর প্রতি তাঁর মহান রবের ওহী করা বার্তার মাধ্যমে। অথচ শহর বা মরুভূমির কোনো আরবই তাঁকে এগুলোর কোনোটির অর্থ সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করেনি, যেভাবে তারা তাঁকে সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ এবং আল্লাহর অন্যান্য আদেশ-নিষেধ—যাতে মহান আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ রয়েছে—সে সম্পর্কে প্রশ্ন করত। একইভাবে তারা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিয়ামতের অবস্থা এবং জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কেও প্রশ্ন করত। যদি তাদের কোনো ব্যক্তি ঐশ্বরিক গুণাবলি (সিফাত) সম্পর্কে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করত, তবে তা অবশ্যই বর্ণিত হতো, যেভাবে তাঁর থেকে বর্ণিত হালাল-হারামের বিধান, উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন (তারগীব ও তারহীব), কিয়ামতের অবস্থা এবং মহাযুদ্ধ ও ফিতনা সংক্রান্ত হাদিসসমূহ হাদিসের কিতাবসমূহে—মুজাম, মুসনাদ ও জামে গ্রন্থগুলোতে—সংরক্ষিত রয়েছে। যে ব্যক্তি নববী হাদিসের সংকলনসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং সালাফদের বর্ণিত আসারসমূহের ওপর অবগত হবে, সে জানতে পারবে যে, সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) স্তরের ভিন্নতা এবং তাঁদের বিপুল সংখ্যা থাকা সত্ত্বেও কোনো সাহাবী থেকে সহীহ বা জয়ীফ কোনো সূত্রেই এমনটি বর্ণিত হয়নি যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মহান রব তাঁর পবিত্র কুরআনে এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানে নিজের সম্মানিত সত্তার যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তার কোনোটির অর্থ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন। বরং তাঁরা সকলে এর অর্থ বুঝে নিয়েছিলেন এবং সিফাতের বিষয়ে কোনো রূপ বিতর্ক করা থেকে নিশ্চুপ ছিলেন। হ্যাঁ, তাঁদের কেউ সত্তাগত গুণ এবং কর্মগত গুণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। বরং তাঁরা মহান আল্লাহর জন্য তাঁর অনাদি গুণাবলি—যেমন জ্ঞান, ক্ষমতা, জীবন, ইচ্ছা, শ্রবণ, দর্শন, কথা, মহিমা, সম্মান, বদান্যতা, নেয়ামত দান, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁরা এই বর্ণনাগুলোকে একই ধারায় গ্রহণ করেছেন।
আর এভাবেই তাঁরা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কোনো সাদৃশ্য প্রদান ছাড়াই গুণাবলি সাব্যস্ত করতেন এবং কোনো অকার্যকর করা ছাড়াই পবিত্রতা ঘোষণা করতেন। এর পাশাপাশি তাঁদের কেউ এগুলোর কোনোটির অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিতেন না এবং তাঁরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে সিফাতসমূহকে যেভাবে এসেছে সেভাবেই বহাল রাখার বিষয়ে একমত ছিলেন। মহান আল্লাহর একত্ববাদ এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত প্রমাণের ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাব ছাড়া তাঁদের কাছে অন্য কোনো দলিল ছিল না। তাঁদের কেউ কালামশাস্ত্রীয় পদ্ধতি কিংবা দর্শনের কোনো মাসআলা সম্পর্কে জানতেন না। এভাবেই সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যুগ অতিবাহিত হয়েছে।
কিতাব ও সুন্নাহ—এই দুই উৎস থেকে সাহাবায়ে কিরামের স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ আকিদা গ্রহণ এবং তা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার ফলে তাঁরা ছিলেন মানবজাতির জন্য প্রেরিত শ্রেষ্ঠ জাতি। ঈমান, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার, বিশ্বস্ততা, ঐক্য ও সম্প্রীতির ক্ষেত্রে তাঁরা ছিলেন উদাহরণস্বরূপ। তাঁরা পরিণত হয়েছিলেন প্রজ্ঞাবান আলেম, দয়ালু ব্যক্তি এবং শাসন, যুদ্ধ ও নেতৃত্বে শীর্ষস্থানীয় নেতায়। তাঁদের পরে তাঁদের সমতুল্য কাউকেই পাওয়া যায়নি, যেমনটি নবীদের পর তাঁদের পূর্বে তাঁদের মতো আর কাউকে পাওয়া যায়নি। তাঁদের সময়ে বিশ্ব দীর্ঘকাল ধরে ইসলামি আকিদার ছায়াতলে সচ্ছল জীবন, নিরাপত্তা ও শান্তির স্বাদ গ্রহণ করেছে এবং তাঁদের যুগে ইসলামি রাষ্ট্র ছিল এক প্রতাপশালী রাষ্ট্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ১০)
الجانب ذل لها كل عدو للإسلام والمسلمين، وكانت تلك الدولة الإسلامية تستمد قوتها من تمسكها بعقيدة التوحيد النقية التي لم تندس بالفلسفة اليونانية، والطرق الكلامية فكانت عقيدتهم صافية نقية كما أخذوها من الكتاب المبين.
ومن السنة النبوية الصحيحة التي أوحاها الله إلى نبيه محمد صلى الله عليه وسلم فقويت شوكة الإسلام وسيطر سلطان العقيدة على أرجاء المعمورة.
ولما حدثت الطرق الكلامية والمذاهب الفلسفية تمزقت الأمة وانقسمت فرقاً وأحزاباً1، فأخذ الضعف ينخر في أمة الإسلام فشيئاً فشيئاً حتى تدهورت العقيدة من نفوس المسلمين، واهتز الإيمان في قلوبهم، وكان لضعف العقيدة عند المسلمين الأثر السيئ في جميع نواحي الحياة، ولقد فهم أعداء المسلمين أن مصدر قوة المسلمين إنما هو في تمسكهم بعقيدتهم، والتزامهم بما في كتاب ربهم فأخذوا يبعدونهم عما في هذا الكتاب من الخير الدنيوي والأخروي بالدعوة إلى عدم تحكيمه واستبداله بقوانين البشر الطاغوتية فكانت حالة المسلمين على ما ترى!! ضعفوا عن الوصول إلى غاياتهم من قيادة الأمم، وهداية الشعوب، يتنازعهم أعداؤهم من جميع الجهات، ويسعون جاهدين لإضعافهم وإذلالهم نتيجة لتخليهم عن هذا الكتاب الذي هو مصدر قوة عقيدتهم، وعزهم، ورفع رايتهم وجمع كلمتهم، فأصبحوا فريسة لأعدائهم ضعفاء مهزومين متذللين لهم ينظرون إليهم بعين الإكبار والإجلال، وهذه الهوة وقع فيها أكثر المسلمين إلا من رحم الله تعالى ولا يمكن أن يعود للمسلمين عزهم ومجدهم إلا بالعودة للتمسك بعقيدتهم المستمدة من القرآن الكريم والسنة النبوية الصحيحة إذ لا تصفو عقيدة المسلمين بما طرأ عليها من شوائب الشرك والبدع إلا بالرجوع إلى هذين المصدرين اللذين صلحت بهم الدنيا، وحينئذٍ يعود للمسلمين شأنهم وكما كان للسلف الصالحين الذين حملوا راية الإسلام، وسعوا جاهدين في نشر العقيدة الإسلامية الصافية النقية حتى عمت معظم الكرة الأرضية فنعم الناس في ظلها بالأمن والرخاء والسعادة.
فالكتاب العزيز اشتمل على بيان العقيدة الصحيحة وتجليتها، والناظر فيه يجد أن معانيه "دائرة على التوحيد وبراهينه والعلم بالله وما له من أوصاف الكمال، وما ينزه عنه من
--------------------------------------------
সেই প্রতাপের কাছে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতিটি শত্রু লাঞ্ছিত হয়েছিল। সেই ইসলামি রাষ্ট্রটি তার শক্তি লাভ করেছিল নিখুঁত তাওহিদি আকিদাকে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে, যা গ্রিক দর্শন এবং কালামি পদ্ধতির দ্বারা কলুষিত হয়নি। ফলে তাদের আকিদা ছিল স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ, যেমনটি তারা সুস্পষ্ট কিতাব থেকে গ্রহণ করেছিল।
এবং সহিহ সুন্নাহ থেকে যা আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর প্রতি ওহি করেছিলেন। ফলে ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং আকিদার প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।
কিন্তু যখন কালামি পদ্ধতি ও দার্শনিক মতবাদসমূহের উদ্ভব হলো, তখন উম্মাহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল এবং বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ল১। ফলে ইসলামি উম্মাহর মধ্যে ধীরে ধীরে দুর্বলতা জেঁকে বসতে শুরু করল, এমনকি মুসলিমদের মন থেকে আকিদা বিচ্যুত হতে থাকল এবং তাদের হৃদয়ে ঈমান প্রকম্পিত হলো। মুসলিমদের আকিদার এই দুর্বলতা জীবনের সকল ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলল। মুসলিমদের শত্রুরা বুঝতে পেরেছিল যে, মুসলিমদের শক্তির উৎস হলো তাদের আকিদাকে আঁকড়ে ধরা এবং তাদের রবের কিতাবের বিধান মেনে চলা। তাই তারা মুসলিমদেরকে এই কিতাবের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা শুরু করল। তারা এই কিতাবের শাসন বর্জন করার এবং এর পরিবর্তে মানুষের তৈরি তাগুতি আইন গ্রহণ করার আহ্বান জানাল। ফলে মুসলিমদের অবস্থা আজ আপনার চোখের সামনেই!! তারা জাতিসমূহের নেতৃত্ব প্রদান এবং জনগণের হিদায়াতের লক্ষ্য অর্জনে অক্ষম হয়ে পড়েছে। শত্রুরা তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেছে এবং তাদের দুর্বল ও লাঞ্ছিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এটি ঘটেছে সেই কিতাবকে পরিত্যাগ করার কারণে, যা ছিল তাদের আকিদাগত শক্তি, সম্মান, বিজয়ের পতাকা উত্তোলন এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মূল উৎস। এর ফলে তারা তাদের শত্রুদের শিকারে পরিণত হলো—দুর্বল, পরাজিত এবং লাঞ্ছিত হয়ে তাদের দিকে বড়ত্ব ও সম্মানের দৃষ্টিতে তাকাতে শুরু করল। মহান আল্লাহ যাদের ওপর দয়া করেছেন তারা ছাড়া অধিকাংশ মুসলিমই এই গভীর গর্তে পতিত হয়েছে। মুসলিমদের সম্মান ও গৌরব ততক্ষণ পর্যন্ত ফিরে আসবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ থেকে উৎসারিত আকিদাকে আঁকড়ে ধরবে। কারণ শির্ক ও বিদআতের যেসব আবর্জনা মুসলিমদের আকিদায় অনুপ্রবেশ করেছে, তা এই দুই উৎস ব্যতীত পরিষ্কার হওয়া সম্ভব নয়, যার মাধ্যমে দুনিয়া সংশোধন হয়েছিল। আর তখনই মুসলিমদের সেই মর্যাদা ফিরে আসবে যা সেই সালাফে সালেহিনদের ছিল, যারা ইসলামের পতাকা বহন করেছিলেন এবং বিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ ইসলামি আকিদা প্রচারে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, ফলে তা পৃথিবীর অধিকাংশ স্থানে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং মানুষ এর ছায়াতলে নিরাপত্তা, সচ্ছলতা ও সুখ লাভ করেছিল।
সুতরাং এই মহাগ্রন্থ সঠিক আকিদার বর্ণনা ও তা স্পষ্ট করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতে গভীরভাবে দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি দেখতে পাবেন যে, এর অর্থসমূহ তাওহিদ ও তার প্রমাণাদি, আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান এবং তাঁর যেসব নিখুঁত গুণাবলি রয়েছে আর যা থেকে তিনি পবিত্র...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ১১)
سمات النقص، وعلى الإيمان بالرسل وذكر براهين صدقهم، وأدلة صحة نبوتهم، والتعريف بحقوقهم، وحقوق مرسلهم، وعلى الإيمان بملائكته، وهم رسله في خلقه وأمره، وتدبيرهم الأمور بإذنه ومشيئته، وما جعلوا عليه من أمر العالم العلوي والسفلي، وما يختص بالنوع الإنساني منه من حين يستقر في رحم أمه إلى يوم يوافي ربه، ويقدم عليه، وعلى الإيمان باليوم الآخر، وما أعد الله فيه لأوليائه من دار النعيم المطلق التي لا يشعرون فيها بألم ولا نكد وتنغيص، وما أعد لأعدائه من دار العقاب الوبيل التي لا يخالطها سرور، ولا رخاء، ولا راحة، ولا فرح وفصَّل ذلك أتم تفصيل وأبينه، كما اشتمل على تفاصيل الأمر والنهي والشرع والقدر، والحلال والحرام، والمواعظ والعبر، والقصص والأمثال، والأسباب والحكم، والمبادئ والغايات في خلقه وأمره"1.
وهكذا اشتمل القرآن العظيم على بيان وحدانية الخالق وتفرده بصفات الكمال والجلال، والإيمان بالملائكة والكتب والرسل الكرام، وحث الناس على الإيمان بالبعث والمعاد.
ووجه العقول والأنظار إلى النظر في الأنفس وما فيها من عجائب وأسرار {وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلا تُبْصِرُونَ} 2 كما وجهها إلى النظر في الآفاق والآيات الكونية علويها وسفليها، ظاهرها وخفيها وعما تنطوي عليه من حكمٍ، وما أودع الله فيها من خواص وسنن وأفاض في ذلك في غير ما آية وسورة {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنْفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ مَاءٍ فَأَحْيَا بِهِ الأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ لَآياتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ} 3 {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآياتٍ ِلأُولِي الأَلْبَابِ} 4 {وَفِي الأَرْضِ قِطَعٌ مُتَجَاوِرَاتٌ وَجَنَّاتٌ مِنْ أَعْنَابٍ وَزَرْعٌ وَنَخِيلٌ صِنْوَانٌ وَغَيْرُ صِنْوَانٍ5 يُسْقَى بِمَاءٍ وَاحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ فِي الأُكُلِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآياتٍ
--------------------------------------------
খুঁত ও ত্রুটির বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে (পবিত্রতা বর্ণনা), এবং রাসূলগণের ওপর ঈমান আনা এবং তাঁদের সত্যতার প্রমাণসমূহ ও তাঁদের নবুওয়াতের বিশুদ্ধতার দলীলসমূহ উল্লেখ করা, এবং তাঁদের অধিকার ও তাঁদের প্রেরণকারীর অধিকারের পরিচয় প্রদান করা, এবং তাঁর ফেরেশতাদের ওপর ঈমান আনা—যারা তাঁর সৃষ্টি ও আদেশের ক্ষেত্রে তাঁর রাসূল এবং তাঁর অনুমতি ও ইচ্ছায় বিষয়সমূহ পরিচালনা করেন, এবং ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতের যে সকল বিষয়ে তাঁদের নিয়োজিত করা হয়েছে, আর তার মধ্যে মানবজাতির সাথে যা বিশিষ্ট যা তার মায়ের জরায়ুতে স্থির হওয়া থেকে শুরু করে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁর নিকট উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত বিস্তৃত। এবং পরকালের ওপর ঈমান আনা, এবং আল্লাহ তাতে তাঁর বন্ধুদের জন্য পরম নিআমতের যে ঘর প্রস্তুত করেছেন যেখানে তারা কোনো কষ্ট, ক্লান্তি বা বিঘ্ন অনুভব করবে না, এবং তাঁর শত্রুদের জন্য যে কঠোর শাস্তির ঘর প্রস্তুত করেছেন যেখানে কোনো আনন্দ, সচ্ছলতা, প্রশান্তি বা সুখের সংমিশ্রণ থাকবে না—সেসবের পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্টতম বর্ণনা (কুরআনে রয়েছে)। যেমন এটি আদেশ-নিষেধ, শরিয়ত, তাকদির, হালাল-হারাম, ওয়াজ-উপদেশ ও শিক্ষা, ঘটনাপ্রবাহ ও দৃষ্টান্ত, এবং তাঁর সৃষ্টি ও আদেশের কারণ, হিকমত, সূচনা ও পরিণতির বিস্তারিত বিবরণ ধারণ করে।"১।
এভাবে মহান কুরআন স্রষ্টার একত্ববাদ এবং তাঁর পূর্ণতা ও মহিমার গুণাবলীতে তাঁর একক হওয়ার বর্ণনা, এবং ফেরেশতা, কিতাব ও সম্মানিত রাসূলগণের ওপর ঈমান আনার বিবরণ এবং পুনরুত্থান ও পরকালের ওপর ঈমান আনার প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এটি বিবেক ও দৃষ্টিকে মানুষের নিজের মধ্যে এবং তাতে নিহিত বিস্ময় ও রহস্যের প্রতি নিবদ্ধ করার পথ দেখিয়েছে: {এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও, তোমরা কি দেখবে না?} ২ যেমন এটি দিগন্তসমূহ এবং ঊর্ধ্ব ও নিম্ন জগতের মহাজাগতিক নিদর্শনসমূহ—প্রকাশ্য ও গোপন—এবং তার মাঝে নিহিত হিকমতসমূহ এবং আল্লাহ তাতে যে সকল বৈশিষ্ট্য ও নিয়ম গচ্ছিত রেখেছেন তার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে এবং একাধিক আয়াত ও সূরায় তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছে: {নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের আবর্তনে, মানুষের উপকারে যা লাগে তা নিয়ে সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজসমূহে, আকাশ থেকে আল্লাহ যে পানি বর্ষণ করেছেন যার মাধ্যমে তিনি পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর জীবিত করেছেন এবং তাতে সব ধরনের জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন, আর বায়ুর গতি পরিবর্তন এবং আসমান ও যমীনের মাঝে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালার মধ্যে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে} ৩ {নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে অবশ্যই জ্ঞানবানদের জন্য নিদর্শন রয়েছে} ৪ {আর যমীনে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন ভূখণ্ড, আঙুরের বাগান, শস্য এবং খেজুর গাছ—যার কিছু একই মূল থেকে উৎপন্ন এবং কিছু ভিন্ন ভিন্ন মূল থেকে৫ যা একই পানি দ্বারা সেচিত হয়, এবং স্বাদে আমি সেগুলোর একটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিই। নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ১২)
لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ} 1 إلى غير ذلك من الآيات التي لا يحصيها العد.
وبالجملة فكتاب الله قد اشتمل على كل ما يسعد الإنسان ويحتاج إليه في أمر دينه ودنياه، وما من مشكلة تعرض للأمة الإسلامية إلا وقد وضع لها حلاً وعلاجاً يتناسب معها، ولكن المسلمين لما أعرضوا عنه وجعلوه وراء ظهورهم، وقفوا أمام مشكلاتهم حائرين مع أن هذا الكتاب المبين قد أبان لهم كل خير، ووضع لهم جميع أسباب النجاة وأعظم سبب يكفل لهم سعادتهم في الدنيا والآخرة هو تمسكهم بالعقيدة السلفية الصحيحة وإخلاصهم العبادة له ـ وحده لا شريك له ـ إذ هي الغاية التي خلق الله الخليقة من أجلها: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالأِنْسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُونِ} 2 ومن أجلها أرسل الله الرسل وأنزل الكتب، فالرسل عليهم الصلاة والسلام جميعهم من لدن نوح إلى نبينا محمد صلى الله عليه وسلم دعوا أقوامهم إلى توحيد الله عز وجل {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَاّ نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ أَنَا فَاعْبُدُونِ} 3.
{وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} 4 فالتوحيد هو العماد الأول في حياة الإنسان ولذلك زخر القرآن بآياته وسوره بالدعوة إلى عقيدة التوحيد وإخلاصها لله ـ وحده لا شريك له ـ فلا نجاة ولا سعادة، ولا فوز ولا فلاح لأحد من العباد إلا بتحقيق عقيدة التوحيد طبقاً لما في الكتاب المبين وسنة نبيه الأمين صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين.
وقد اخترت أن يكون موضوع رسالتي لنيل درجة "العالمية الماجستير" مباحث العقيدة في {سورة: الزمر} .
سبب اختياري لهذا الموضوع:
إن سبب اختياري لسورة "الزمر" لتكون موضوع رسالتي هذه ذلك لأنها من أكثر سور القرآن شمولاً لكثير من مباحث العقيدة الإسلامية، وهي من السور المكية5 التي
--------------------------------------------
সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা অনুধাবন করে} ১ এছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, আল্লাহর কিতাব এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে যা মানুষকে সৌভাগ্যবান করে এবং তার দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে যার প্রয়োজন হয়। মুসলিম উম্মাহর সামনে এমন কোনো সমস্যাই আসেনি যার সমাধান ও নিরাময় এতে যথাযথভাবে রাখা হয়নি। কিন্তু মুসলমানরা যখন এটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং একে তাদের পেছনে ফেলে রাখল, তখন তারা তাদের সমস্যার সামনে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল; অথচ এই সুস্পষ্ট কিতাব তাদের কাছে সকল কল্যাণ বর্ণনা করেছে এবং তাদের জন্য মুক্তির সমস্ত উপায় প্রদান করেছে। আর দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সৌভাগ্য নিশ্চিত করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো সঠিক সালাফী আকিদাকে আঁকড়ে ধরা এবং একমাত্র তাঁরই—যাঁর কোনো শরিক নেই—ইবাদতে একনিষ্ঠ হওয়া। কারণ এটিই সেই লক্ষ্য যার জন্য আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} ২ এবং এই লক্ষ্যেই আল্লাহ রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন ও কিতাবসমূহ নাজিল করেছেন। নূহ থেকে শুরু করে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত সকল রাসূলই তাঁদের সম্প্রদায়কে মহান আল্লাহর তাওহীদের দিকে আহ্বান করেছেন: {আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার কাছে আমি এই ওহী পাঠাইনি যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; অতএব আপনারা আমারই ইবাদত করুন} ৩।
{আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} ৪ সুতরাং তাওহীদ হলো মানুষের জীবনের প্রধান স্তম্ভ। এই কারণেই কুরআন এর আয়াত ও সূরাসমূহে তাওহীদের আকিদার দাওয়াত এবং এক আল্লাহর জন্য—যাঁর কোনো শরিক নেই—ইবাদতকে একনিষ্ঠ করার বিষয়ে ভরপুর। বান্দাদের মধ্য থেকে কারো জন্যই মুক্তি, সৌভাগ্য, বিজয় বা সফলতা সম্ভব নয় এই সুস্পষ্ট কিতাব এবং তাঁর বিশ্বস্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি আজমাঈন)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী তাওহীদের আকিদা বাস্তবায়ন করা ছাড়া।
আমি আমার "আল-আলামিয়্যাহ তথা মাস্টার্স" ডিগ্রি অর্জনের জন্য থিসিসের বিষয় হিসেবে {সূরা আয-যুমার}-এর আকিদাগত আলোচনাগুলোকে নির্বাচন করেছি।
এই বিষয় নির্বাচনের কারণ:
আমার এই গবেষণাপত্রের বিষয় হিসেবে "সূরা আয-যুমার" নির্বাচনের কারণ হলো, এটি কুরআনের সেই সূরাগুলোর অন্যতম যা ইসলামি আকিদার অনেক আলোচনার ক্ষেত্রে অধিকতর ব্যাপক। আর এটি মক্কী সূরাগুলোর ৫ অন্তর্ভুক্ত যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
عالجت قضايا العقيدة على سبيل التفصيل، فقد تناولت الحديث عن التوحيد بأنواعه الثلاثة: توحيد الأسماء والصفات وذلك بذكر الكثير من صفات الله تعالى وإثباتها له كما يليق بجلاله، وتوحيد الألوهية: وذلك بذكر الكثير من أنواع العبادة التي لا يستحقها إلا الله تعالى، وتوحيد الربوبية: وذلك بذكر الكثير من دلائله المحسوسة التي يلمسها العباد ويشاهدونها في حياتهم، واشتملت أيضاً: على بيان ما يناقض التوحيد وينافيه وهو الشرك بالله العظيم، وذلك بذكر الفرق بين المشرك والموحد وأصل الشرك في بني الإنسان، وذم الإنسان الذي يجعل لله أنداداً، وبيان أن الشرك محبط للعمل وأن صاحبه من الخاسرين.
ثم انتقل الحديث فيها إلى وجوب الإيمان بالملائكة، والكتب والأنبياء والرسل، كما تناولت الحديث عن الإيمان بالقدر بذكر مراتبه الأربع، ثم ختم الحديث فيها عن وجوب الإيمان باليوم الآخر الذي يكون فيه المصير النهائي للمؤمنين والكافرين حيث بين الله في خاتمتها أن الجنة دار المتقين، وأن النار دار الكافرين الذين عبدوا غير الله وأشركوا معه غيره في العبادة فهي دارهم وبئس المصير.
ومن هذا يعلم أن السورة تكاد تكون مقصورة من أولها إلى آخرها على الإهتمام بالإيمان بالله تعالى وأنه المعبود بحق دون سواه، وأنه المتفرد بصفات الكمال والجلال، والإيمان بالملائكة والكتب والرسل عليهم الصلاة والسلام، والإيمان بالقدر والبعث والمعاد، وأن هناك حياة أخرى خيراً من هذه الحياة فإذا ما آمن العباد بهذه العقائد سهل عليهم بعد تلقي تعاليم الشريعة الغراء والإلتزام بها علماً وعملاً وسلوكاً فمن أجل هذه المباحث المتقدمة التي عرضت لها "سورة: الزمر" أحببت أن تكون موضوعاً لرسالتي هذه، ولأن من أجل الأعمال وأفضلها الإشتغال بدراسة كتاب الله تعالى وفهم معانيه وتدبر آياته، وذلك من أحب الأعمال إلى الرب جل وعلا وأعظمها أجراً لأنه كلام الله، وكل عمل يتصل بهذا الكتاب من أجل خدمته وتبيينه للناس ليعملوا به فهو قربة يتقرب به إلى الله تعالى، فإنه ليس شيء أنفع للعباد في معاشهم ومعادهم وأقرب إلى نجاتهم من الإلتزام بما في هذا الكتاب المبين عقيدة وعملاً.
এটি আকীদার বিষয়াবলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছে, এতে তাওহীদের তিনটি প্রকার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে: তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত, আর তা হলো আল্লাহ তাআলার অনেক গুণাবলি উল্লেখ করার মাধ্যমে এবং তাঁর মর্যাদার সাথে যেভাবে মানানসই সেভাবে তা সাব্যস্ত করার মাধ্যমে; এবং তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ: আর তা হলো ইবাদতের এমন অনেক প্রকার উল্লেখ করার মাধ্যমে যা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারো প্রাপ্য নয়; এবং তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ: আর তা হলো তাঁর এমন অনেক দৃশ্যমান নিদর্শনাদি উল্লেখ করার মাধ্যমে যা বান্দারা তাদের জীবনে স্পর্শ করে এবং প্রত্যক্ষ করে। তাছাড়া এতে তাওহীদের পরিপন্থী ও এর সাথে সাংঘর্ষিক বিষয় অর্থাৎ মহান আল্লাহর সাথে শিরক করার বর্ণনাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে; আর তা হলো মুশরিক ও মুওয়াহহিদের (একত্ববাদী) মধ্যে পার্থক্য এবং মানবজাতির মধ্যে শিরকের মূল ভিত্তি উল্লেখ করার মাধ্যমে, এবং সেই ব্যক্তির নিন্দা করার মাধ্যমে যে আল্লাহর জন্য সমকক্ষ স্থির করে, এবং শিরক যে আমল বিনষ্টকারী এবং শিরককারী যে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত তা বর্ণনার মাধ্যমে।
এরপর এতে ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, নবীগণ এবং রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনার আবশ্যকতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তেমনিভাবে তকদীরের চারটি স্তর উল্লেখ করার মাধ্যমে তকদীরের প্রতি ঈমান আনার বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে। অতঃপর আখেরাতের প্রতি ঈমান আনার আবশ্যকতা বর্ণনার মাধ্যমে এর আলোচনা সমাপ্ত করা হয়েছে, যেখানে মুমিন ও কাফেরদের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারিত হবে; যেখানে আল্লাহ তাআলা এর শেষে বর্ণনা করেছেন যে, জান্নাত হলো মুত্তাকীদের আবাসস্থল এবং জাহান্নাম হলো সেই সব কাফেরদের আবাসস্থল যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করত এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে অন্যকে শরিক করত; সুতরাং এটিই তাদের আবাস এবং কতই না নিকৃষ্ট সেই প্রত্যাবর্তনস্থল।
এর থেকে জানা যায় যে, এই সূরাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমানের গুরুত্ব এবং তিনি ব্যতীত আর কেউ সত্য মাবুদ নয়—এই বিষয়ের ওপরই সীমাবদ্ধ। এবং তিনিই যে পরিপূর্ণ ও মহান গুণাবলিতে একক, আর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ এবং রাসূলগণের (তাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) প্রতি ঈমান আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে; এবং তকদীর, পুনরুত্থান ও পরকালের প্রতি ঈমান এবং এই জীবনের চেয়ে উত্তম অন্য একটি জীবন যে রয়েছে তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। অতএব, বান্দারা যখন এই আকীদাগুলোর প্রতি ঈমান আনবে, তখন তাদের জন্য উজ্জ্বল শরীয়তের শিক্ষা গ্রহণ করার পর জ্ঞান, আমল এবং আচরণের ক্ষেত্রে তা মেনে চলা সহজ হবে। উল্লিখিত এই বিষয়গুলো 'সূরা আজ-জুমার'-এ উপস্থাপিত হওয়ার কারণেই আমি একে আমার এই থিসিসের বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করতে চেয়েছি। আর যেহেতু মহান আল্লাহর কিতাব অধ্যয়ন, এর অর্থ উপলব্ধি এবং আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণায় আত্মনিয়োগ করা অন্যতম মহান ও শ্রেষ্ঠ আমল; আর এটি পালনকর্তা মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয় এবং সওয়াবের দিক থেকে সুমহান কাজ, কারণ এটি আল্লাহর কালাম। এবং এই কিতাবের খিদমত এবং মানুষের কাছে তা স্পষ্ট করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল কাজ—যাতে তারা সে অনুযায়ী আমল করতে পারে—তা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। কেননা বান্দাদের ইহকাল ও পরকালের জন্য এই সুস্পষ্ট কিতাবের আকীদা ও আমল অনুসরণের চেয়ে বেশি উপকারী এবং নাজাতের অধিক নিকটবর্তী আর কিছুই নেই।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
منهج البحث:
إن المنهج الذي اتبعته في إعداد رسالتي هذه هو كالآتي:
أولاً: حصرت مباحث العقيدة التي اشتملت عليها "سورة: الزمر" وجمعت الآيات التي تتعلق بكل مبحث على حدة، وجعلت لها عنواناً يتناسب مع ما تدل عليه، ثم بينت وجه دلالتها على المسألة الإعتقادية مستعيناً في ذلك بأقوال أهل العلم الذين لهم جهود في توضيح العقيدة الإسلامية من علماء التوحيد من سلفنا الصالح كما استعنت بأقوال بعض المفسرين المتقدمين والمتأخرين وشراح الحديث.
ثانياً: أحياناً أكرر الآية الواحدة من "سورة: الزمر" تحت أكثر من عنوان وذلك لاشتمالها على أكثر من مسألة من مسائل العقيدة فأضطر إلى إعادتها، وتكرارها في مباحث كثيرة من مباحث الرسالة.
ثالثاً: أذكر القول الحق في المسألة الإعتقادية وأذكر ما يخالفه غالباً مع بيان الرد عليه.
رابعاً: رتبت الموضوعات التي وردت في هذه الرسالة على حسب ترتيب أركان الإيمان الستة الواردة في حديث عمر بن الخطاب والمشهور بحديث جبريل الطويل1 ولم أرتبها على حسب ورودها في السورة غير أنني قدمت موضوع الإيمان بالقدر على الإيمان باليوم الآخر لأن من المناسب موضوعياً أن يكون اليوم الآخر هو نهاية المطاف في هذه الرسالة.
خامساً: التزمت عند النقل من أي مرجع، أو الاستفادة منه الإشارة إلى رقم جزئه وصفحته بالإضافة إلى ذكر طبعات المراجع في الفهرست.
سادساً: بينت مواضع الآيات التي وردت في الرسالة من غير "سورة: الزمر" بذكر اسم السورة ورقمها في الهامش أما آيات "سورة: الزمر" فلم أذكر رقمها وإنما أذكر عقب الآيات الواردة في كل مبحث أنها من "سورة: الزمر".
--------------------------------------------
গবেষণার পদ্ধতি:
আমার এই অভিসন্দর্ভ (রিসালাহ) প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা নিম্নরূপ:
প্রথমত: আমি "সূরা আয-জুমার"-এর অন্তর্ভুক্ত আকীদা বিষয়ক আলোচনাগুলোকে চিহ্নিত করেছি এবং প্রতিটি আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোকে পৃথকভাবে একত্রিত করেছি। অতঃপর সেগুলোর অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিরোনাম প্রদান করেছি। এরপর আকীদা বিষয়ক মাসআলার ক্ষেত্রে আয়াতগুলোর দালালাত বা প্রমাণের দিকটি স্পষ্ট করেছি। এক্ষেত্রে আমি আমাদের সালাফে সালেহীন বা নেককার পূর্বসূরি তাওহীদপন্থী আলেমদের বক্তব্য দ্বারা সহযোগিতা গ্রহণ করেছি, যারা ইসলামী আকীদা সুস্পষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। পাশাপাশি আমি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মুফাসসির এবং হাদীস ব্যাখ্যাকারীদের বক্তব্য থেকেও সহায়তা নিয়েছি।
দ্বিতীয়ত: কখনও কখনও আমি "সূরা আয-জুমার"-এর একটি আয়াতকে একাধিক শিরোনামের অধীনে পুনরাবৃত্তি করেছি। কারণ তাতে আকীদার একাধিক মাসআলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাই অভিসন্দর্ভের বিভিন্ন আলোচনায় তা পুনরায় উল্লেখ করতে আমি বাধ্য হয়েছি।
তৃতীয়ত: আমি আকীদা বিষয়ক মাসআলায় সঠিক মতটি উল্লেখ করি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার বিপরীত মতটিও খণ্ডনসহ উল্লেখ করি।
চতুর্থত: এই অভিসন্দর্ভে বর্ণিত বিষয়সমূহকে আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বর্ণিত এবং 'দীর্ঘ জিবরীল (আ.)-এর হাদীস' হিসেবে পরিচিত হাদীসে উল্লিখিত ঈমানের ছয়টি রুকনের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি। আমি সূরাটিতে আয়াত আসার ক্রম অনুযায়ী সাজাইনি; তবে আমি তাকদীরের প্রতি ঈমানের বিষয়টি পরকাল বা শেষ দিবসের প্রতি ঈমানের আগে নিয়ে এসেছি। কারণ বিষয়বস্তু হিসেবে শেষ দিবসকে এই অভিসন্দর্ভের সমাপ্তি হিসেবে রাখাই অধিক উপযুক্ত।
পঞ্চমত: কোনো তথ্যসূত্র থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ বা তা থেকে উপকৃত হওয়ার সময় আমি খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করার ব্যাপারে যত্নশীল হয়েছি। এছাড়া গ্রন্থপঞ্জিতে মূল গ্রন্থগুলোর মুদ্রণ সংস্করণও উল্লেখ করেছি।
ষষ্ঠত: অভিসন্দর্ভে "সূরা আয-জুমার" ব্যতীত অন্যান্য যে সকল সূরা থেকে আয়াত এসেছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে টীকায় সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করেছি। তবে "সূরা আয-জুমার"-এর আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে আমি নম্বর উল্লেখ করিনি, বরং প্রতিটি পরিচ্ছেদে উদ্ধৃত আয়াতগুলোর শেষে এটি যে "সূরা আয-জুমার"-এর অন্তর্ভুক্ত, তা উল্লেখ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
سابعاً: عزوت الأحاديث التي أوردتها في الرسالة إلى مصادرها الأصلية من كتب السنة المعتمدة بذكر الجزء والصفحة في الهامش مع بيان درجة الحديث من خلال أقوال المحدثين إن كان الحديث من غير الصحيحين في الغالب.
ثامناً: ترجمت للأعلام الذين جرى نقل شيء من كلامهم في الرسالة.
تاسعاً: شرحت المفردات الغريبة التي وردت في بعض الأحاديث مستعيناً في ذلك بكتب غريب الحديث ومعاجم اللغة، وشروح الحديث ثم ختمت الرسالة بالفهارس الآتية:
فهرس الأعلام المترجم لهم مرتبة ترتيباً هجائياً.
فهرس المصادر والمراجع مرتبة كذلك.
فهرس الموضوعات.
خطة البحث:
لقد قسمت البحث إلى مقدمة، وثلاث أبواب، وخاتمة، وتشتمل المقدمة على بيان اشتمال القرآن على كل ما يسعد الإنسان في دنياه وأخراه، وعلى بيان اهتمام القرآن بالتوحيد والعقيدة الإسلامية كما تشتمل على سبب اختياري لهذا الموضوع، والمنهج الذي سرت عليه في البحث، وهذه الخطة التي بني عليها هذا البحث.
الباب الأول
دلالة السورة على الإيمان بالله تعالى
وفيه أربعة فصول:
الفصل الأول: دلالة السورة على توحيد الأسماء والصفات ويشتمل على المباحث الآتية:
المبحث الأول: تعريف توحيد الأسماء والصفات.
المبحث الثاني: إثبات صفة العلو والفوقية.
المبحث الثالث: القرآن كلام الله منزل غير مخلوق.
সপ্তম: আমি গবেষণাপত্রে উদ্ধৃত হাদিসগুলোকে নির্ভরযোগ্য সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ থেকে তাদের মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধ করেছি, পাদটীকায় খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করার সাথে সাথে; এবং হাদিসটি যদি সাধারণত সহীহায়নের বাইরের হয়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের বক্তব্যের আলোকে হাদিসের মান বর্ণনা করেছি।
অষ্টম: এই গবেষণাপত্রে যাদের কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে, সেই সকল ব্যক্তিবর্গের জীবনী আমি উল্লেখ করেছি।
নবম: হাদিসের অপরিচিত শব্দাবলির গ্রন্থসমূহ, অভিধান এবং হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থের সাহায্যে আমি কিছু হাদিসে আসা কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা করেছি। অতঃপর নিম্নোক্ত সূচিপত্রগুলোর মাধ্যমে গবেষণাপত্রটি সমাপ্ত করেছি:
বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো জীবনীভুক্ত ব্যক্তিবর্গের সূচি।
একইভাবে সাজানো উৎস ও তথ্যসূত্র সমূহের সূচি।
বিষয়সূচি।
গবেষণা পরিকল্পনা:
আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি। ভূমিকাটি মানুষের ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য লাভের সকল উপকরণের ব্যাপারে কুরআনের ব্যাপকতা এবং তাওহীদ ও ইসলামী আকিদার প্রতি কুরআনের গুরুত্ব প্রদানের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। তদুপরি এতে এই বিষয়টি নির্বাচনের কারণ, গবেষণায় আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি এবং যে কাঠামোর ওপর এই গবেষণাটি নির্মিত হয়েছে, তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রথম অধ্যায়
মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়নের ক্ষেত্রে সূরার প্রমাণসমূহ
এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: নাম ও গুণাবলির তাওহীদের ক্ষেত্রে সূরার প্রমাণসমূহ এবং এটি নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: নাম ও গুণাবলির তাওহীদের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহর উচ্চতা ও উর্ধ্বমুখিতার গুণাবলি সাব্যস্তকরণ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কুরআন আল্লাহর কালাম, এটি অবতীর্ণ, সৃজিত নয়।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الرابع: إثبات صفة العزة.
المبحث الخامس: إثبات صفة الحكمة.
المبحث السادس: تنزيه الله تعالى من نسبة الولد إليه.
المبحث السابع: إثبات صفتي الوحدانية والقهر.
المبحث الثامن: إثبات صفتي الرحمة والمغفرة.
المبحث التاسع: إثبات صفة الغنى لله تعالى.
المبحث العاشر: إثبات صفة الرضا.
المبحث الحادي عشر: إثبات صفة العلم.
المبحث الثاني عشر: بيان معنى اسمه تعالى "الوكيل".
المبحث الثالث عشر: إثبات صفة اليدين.
الفصل الثاني: دلالة السورة على توحيد العبادة.
ويشتمل على المباحث الآتية:
المبحث الأول: تعريف توحيد العبادة.
المبحث الثاني: وجوب إفراد الله تعالى بتوحيد العبادة.
المبحث الثالث: أهمية الإخلاص في توحيد العبادة.
المبحث الرابع: عبودية الدعاء.
المبحث الخامس: عبودية الخوف.
المبحث سادس: عبودية الرجاء.
المبحث السابع: انقسام العبودية إلى عامة، وخاصة.
المبحث الثامن: الإسلام دين جميع الأنبياء والرسل.
المبحث التاسع: بيان الطاغوت الذي أوجب الله على عباده أن يجتنبوه.
المبحث العاشر: عبودية الإنابة.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইজ্জত (মর্যাদা) গুণটি সাব্যস্তকরণ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: হিকমত (প্রজ্ঞা) গুণটি সাব্যস্তকরণ।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহকে সন্তান গ্রহণের সম্বন্ধ থেকে পবিত্র ঘোষণা করা।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: একত্ববাদ ও আধিপত্য (কাহর) গুণদ্বয় সাব্যস্তকরণ।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: রহমত ও ক্ষমা গুণদ্বয় সাব্যস্তকরণ।
নবম পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর জন্য অমুখাপেক্ষিতা (গিনা) গুণটি সাব্যস্তকরণ।
দশম পরিচ্ছেদ: সন্তুষ্টি গুণটি সাব্যস্তকরণ।
একাদশ পরিচ্ছেদ: জ্ঞান (ইলম) গুণটি সাব্যস্তকরণ।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর নাম "আল-ওয়াকিল" এর অর্থের বর্ণনা।
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর দুই হাত গুণটি সাব্যস্তকরণ।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ইবাদতে তাওহীদের ওপর সূরার নির্দেশনা।
যা নিম্নলিখিত পরিচ্ছেদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবাদতে তাওহীদের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবাদতে তাওহীদের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করার আবশ্যকতা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইবাদতে তাওহীদের ক্ষেত্রে ইখলাসের গুরুত্ব।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: দোয়ার ইবাদত।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ভীতির ইবাদত।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: আশার ইবাদত।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: ইবাদত বা দাসত্বের সাধারণ ও বিশেষ প্রকারে বিভক্ত হওয়া।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: ইসলাম সকল নবী ও রাসূলের দ্বীন।
নবম পরিচ্ছেদ: ঐ তাগুতের বর্ণনা যা বর্জন করা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর আবশ্যক করেছেন।
দশম পরিচ্ছেদ: ইনাবত (আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন) এর ইবাদত।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الحادي عشر: عبودية التوكل.
المبحث الثاني عشر: الشفاعة نوعان منفية، ومثبتة.
المبحث الثالث عشر: الرسل بعثوا للدعوة إلى توحيد الله بتوحيد العبادة.
الفصل الثالث: دلالة السورة على توحيد الربوبية:
ويشتمل على المباحث الآتية:
المبحث الأول: تعريف توحيد الربوبية.
المبحث الثاني: دلائل توحيد الربوبية من السورة.
المبحث الثالث: إقرار المشركين الذين بعث فيهم الرسول صلى الله عليه وسلم بوجود الله تعالى.
المبحث الرابع: الإقرار بتوحيد الربوبية يستلزم الإقرار بتوحيد الألوهية.
الفصل الرابع: ما جاء في السورة بشأن الشرك ويشتمل على المباحث الآتية:
المبحث الأول: تعريف الشرك.
المبحث الثاني: أنواع الشرك.
المبحث الثالث: أصل الشرك في بني الإنسان.
المبحث الرابع: ذم الإنسان على جعله أنداداً لله تعالى.
المبحث الخامس: الفرق بين المشرك والموحد.
المبحث السادس: التحذير من الشرك وبيان أنه محبط للعمل.
الباب الثاني
دلالة السورة على الإيمان بالملائكة والكتب، والرسل، والقدر
وفيه أربعة فصول:
الفصل الأول: دلالة السورة على الإيمان بالملائكة وفيه مبحثان:
المبحث الأول: تعريف الملائكة، ومن أي شيء خلقوا؟.
একাদশ পরিচ্ছেদ: তাওয়াক্কুলের ইবাদাত।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: শাফায়াত দুই প্রকার: প্রত্যাখ্যাত ও সাব্যস্তকৃত।
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: রাসূলগণকে ইবাদাতের তাওহিদের মাধ্যমে আল্লাহর তাওহিদের দিকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
তৃতীয় অধ্যায়: তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহর (প্রভুত্বের একত্ববাদ) ওপর সূরার প্রমাণসমূহ:
এবং এটি নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহর সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সূরা থেকে তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহর প্রমাণাদি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে মুশরিকদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন, আল্লাহর অস্তিত্বের ব্যাপারে তাদের স্বীকৃতি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহর স্বীকৃতি তাওহিদুল উলুহিয়্যাহর (উপাসনার একত্ববাদ) স্বীকৃতিকে অপরিহার্য করে।
চতুর্থ অধ্যায়: শিরক প্রসঙ্গে সূরায় যা বর্ণিত হয়েছে এবং এটি নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: শিরকের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিরকের প্রকারভেদ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মানবজাতির মধ্যে শিরকের উৎস।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর জন্য সমকক্ষ নির্ধারণ করার কারণে মানুষের নিন্দা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মুশরিক ও মুওয়াহহিদের (একত্ববাদী) মধ্যে পার্থক্য।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: শিরক থেকে সতর্কীকরণ এবং এটি আমল বিনষ্টকারী হওয়ার বর্ণনা।
দ্বিতীয় খণ্ড
ফেরেশতামণ্ডলী, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ এবং তাকদীরের ওপর ঈমানের বিষয়ে সূরার প্রমাণসমূহ
এবং এতে চারটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: ফেরেশতাদের ওপর ঈমানের বিষয়ে সূরার প্রমাণ এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাদের সংজ্ঞা এবং তারা কী থেকে সৃষ্টি?
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث الثاني: ذكر بعض أعمال الملائكة.
الفصل الثاني: دلالة السورة على الإيمان بالكتب وفيه مبحثان:
المبحث الأول: كيفية الإيمان بالكتب السابقة.
المبحث الثاني: كيفية الإيمان بالقرآن.
الفصل الثالث: دلالة السورة على الإيمان بالأنبياء والرسل وفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: تعريف النبي والرسول والفرق بينهما.
المبحث الثاني: كيفية الإيمان بالأنبياء السابقين.
المبحث الثالث: كيفية الإيمان بمحمد صلى الله عليه وسلم.
المبحث الرابع: ما يجب للرسل، وما يجوز عليهم.
المبحث الخامس: موضوع الرسالات السماوية.
الفصل الرابع: دلالة السورة على الإيمان بالقدر ويشتمل على المباحث الآتية:
المبحث الأول: تعريف القضاء والقدر، ومعنى الإيمان به.
المبحث الثاني: بيان المبتدعة الذين نازعوا في القدر والرد عليهم.
المبحث الثالث: مراتب القدر.
المبحث الرابع: ما يتعلق بالهداية والضلال.
الباب الثالث
دلالة السورة على الإيمان باليوم الآخر
وفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأول: مباحث في اليوم الآخر قبل دخول الجنة، أو النار وهي:
المبحث الأول: النفخ في الصور.
المبحث الثاني: بعث الموتى من قبورهم.
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ফেরেশতাদের কিছু কর্মের বর্ণনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিতাবসমূহের প্রতি ঈমানের বিষয়ে সূরার প্রমাণাদি এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনার পদ্ধতি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কুরআনের প্রতি ঈমান আনার পদ্ধতি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবী ও রাসূলগণের প্রতি ঈমানের বিষয়ে সূরার প্রমাণাদি এবং এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: নবী ও রাসূলের সংজ্ঞা এবং তাঁদের উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পূর্ববর্তী নবীগণের প্রতি ঈমান আনার পদ্ধতি।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান আনার পদ্ধতি।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: রাসূলগণের ক্ষেত্রে যা আবশ্যক এবং যা তাঁদের ক্ষেত্রে হওয়া সম্ভব।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: আসমানী রিসালাতসমূহের বিষয়বস্তু।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাকদিরের প্রতি ঈমানের বিষয়ে সূরার প্রমাণাদি এবং এটি নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কাজা ও কদরের সংজ্ঞা এবং এর প্রতি ঈমান আনার অর্থ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাকদির বিষয়ে বিরোধিতাকারী বিদআতিদের বর্ণনা এবং তাদের খণ্ডন।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাকদিরের স্তরসমূহ।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: হেদায়াত ও গোমরাহী সংক্রান্ত বিষয়াদি।
তৃতীয় অধ্যায়
পরকালের প্রতি ঈমানের বিষয়ে সূরার প্রমাণাদি
এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: জান্নাত বা জাহান্নামে প্রবেশের পূর্বে পরকাল সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমূহ, আর সেগুলো হলো:
প্রথম অনুচ্ছেদ: শিঙ্গায় ফুঁৎকার।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কবর থেকে মৃতদের পুনরুত্থান।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الثالث: عناية القرآن بإثبات البعث.
المبحث الرابع: أرض المعشر.
المبحث الخامس: كتاب الأعمال.
المبحث السادس: جزاء الأعمال يوم القيامة.
الفصل الثاني: النار دار الكافرين ويشتمل على المباحث الآتية:
المبحث الأول: كيفية دخول أهل النار النار.
المبحث الثاني: أبواب جهنم.
المبحث الثالث: خزنة جهنم.
المبحث الرابع: إحاطة النار بأهلها وشدة عذابها.
المبحث الخامس: صفات أهل النار.
المبحث السادس: أبدية النار ودوام عذابها.
الفصل الثالث: الجنة دار المتقين ويشتمل على المباحث الآتية:
المبحث الأول: كيفية دخول أهل الجنة الجنة.
المبحث الثاني: أبواب الجنة.
المبحث الثالث: خزنة الجنة.
المبحث الرابع: أرض الجنة.
المبحث الخامس: صفات أهل الجنة.
المبحث السادس: غرف الجنة، وقصورها، وأنهارها.
المبحث السابع: أبدية الجنة ودوام نعيمها.
المبحث الثامن: وجوب الإيمان بالعرش وهو سقف الجنة.
وأما الخاتمة: فقد ضمنتها أهم النتائج التي توصلت إليها في الرسالة.
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: পুনরুত্থান প্রমাণে কুরআনের গুরুত্ব।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: হাশরের ময়দান।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: আমলনামা।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: কিয়ামত দিবসে আমলের প্রতিদান।
দ্বিতীয় অধ্যায়: জাহান্নাম কাফেরদের আবাসস্থল এবং এটি নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: জাহান্নামীদের জাহান্নামে প্রবেশের পদ্ধতি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জাহান্নামের দরজাসমূহ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জাহান্নামের রক্ষীবাহিনী।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: জাহান্নামীদের ওপর আগুনের বেষ্টনী এবং এর আজাবের তীব্রতা।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: জাহান্নামের চিরস্থায়িত্ব এবং এর আজাবের নিরবচ্ছিন্নতা।
তৃতীয় অধ্যায়: জান্নাত মুত্তাকীদের আবাসস্থল এবং এটি নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশের পদ্ধতি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জান্নাতের দরজাসমূহ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জান্নাতের রক্ষীবাহিনী।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: জান্নাতের ভূমি।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: জান্নাতীদের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: জান্নাতের কক্ষসমূহ, প্রাসাদসমূহ এবং নদীসমূহ।
সপ্তম অনুচ্ছেদ: জান্নাতের চিরস্থায়িত্ব এবং এর নিয়ামতের নিরবচ্ছিন্নতা।
অষ্টম অনুচ্ছেদ: আরশের প্রতি ঈমান আনার আবশ্যকতা, যা জান্নাতের ছাদ।
আর উপসংহার: এতে আমি এই গবেষণাপত্রে প্রাপ্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الباب الأول: دلالة السورة على الإيمان بالله تعالى
الفصل الأول: دلالة السورة على توحيد الأسماء والصفات
المبحث الأول: تعريف توحيد الأسماء والصفات…المبحث الأول: تعريف توحيد الأسماء والصفات
هو: أن يعتقد العبد اعتقاداً جازماً أن ما أخبر الله في كتابه من أوصافه العليا، وأسمائه الحسنى، وكذا ما جاءت به الأحاديث الصحيحة من أسمائه وصفاته هي على ما يليق بجلاله وعظمته وكبريائه.
جاء في لوامع الأنوار: "وتوحيد الصفات أن يوصف الله ـ تعالى ـ بما وصف به نفسه وبما وصفه به نبيه صلى الله عليه وسلم نفياً، وإثباتاً فيثبت له ما أثبته لنفسه وينفي عنه ما نفاه عن نفسه، وقد علم أن طريقة سلف الأمة وأئمتها إثبات ما أثبته من الصفات من غير تكييف ولا تمثيل، ومن غير تحريف ولا تعطيل. وكذلك ينفون عنه ما نفاه عن نفسه ـ ويثبتون له ـ ما أثبته من الصفات من غير إلحاد في الأسماء ولا في الآيات، فإنه تعالى ذم الملحدين في أسمائه وآياته" أ. هـ 1.
ولا يعرف الإنسان ربه إلا بمعرفته بصفاته وأسمائه، فإذا ما تم له معرفة ذلك عرف ـ ربه جل وعلا ـ وحينئذ يسأل ربه ويدعوه بأسمائه الحسنى كما أمر الله بذلك في محكم كتابه حيث قال: ـ عز شأنه ـ: {وَللهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} 2.
وقال تعالى: {قُلِ ادْعُوا اللهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيّاً مَا تَدْعُوا فَلَهُ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} 3 وقال تعالى: {اللهُ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ لَهُ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} 4.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি ঈমানের ব্যাপারে সূরার নির্দেশনা
প্রথম অনুচ্ছেদ: আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের ব্যাপারে সূরার নির্দেশনা
প্রথম পাঠ: আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের সংজ্ঞা…প্রথম পাঠ: আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের সংজ্ঞা
এটি হলো: বান্দা দৃঢ়ভাবে এই বিশ্বাস পোষণ করবে যে, আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাঁর যেসব সুউচ্চ গুণাবলি এবং সুন্দর নামসমূহের সংবাদ দিয়েছেন, এবং অনুরূপভাবে সহীহ হাদীসসমূহে তাঁর যেসব নাম ও গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে, তা তাঁর মর্যাদা, মহিমা ও গাম্ভীর্যের সাথে যেভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঠিক সেভাবেই বিদ্যমান।
'লাওয়ামেউল আনওয়ার' গ্রন্থে এসেছে: "সিফাতের (গুণাবলির) তাওহীদ হলো আল্লাহ তাআলাকে সেই সমস্ত গুণে গুণান্বিত করা, যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং যার মাধ্যমে তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে গুণান্বিত করেছেন—অস্বীকার করা বা সাব্যস্ত করা উভয় ক্ষেত্রেই। সুতরাং তিনি নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, তা তাঁর জন্য সাব্যস্ত করা হবে এবং তিনি নিজের থেকে যা অস্বীকার করেছেন, তা তাঁর থেকে অস্বীকার করা হবে। এটি সুবিদিত যে, এই উম্মতের সালাফ এবং ইমামগণের অনুসৃত পদ্ধতি হলো আল্লাহ যেসব গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন তা কোনো ধরনের ধরন নির্ধারণ (তাকয়ীফ) ব্যতিরেকে, কোনো সদৃশ (তামসীল) করা ব্যতিরেকে, এবং কোনো বিকৃতি (তাহরীফ) ও অর্থহীন (তাতীল) করা ব্যতিরেকেই সাব্যস্ত করা। অনুরূপভাবে তারা আল্লাহর সত্তা থেকে সেসব বিষয় অস্বীকার করেন যা তিনি নিজের থেকে অস্বীকার করেছেন—এবং তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেন—সেসব গুণ যা তিনি সাব্যস্ত করেছেন, নামসমূহ বা আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে কোনো বিচ্যুতি (ইলহাদ) ব্যতিরেকে। কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁর নাম ও আয়াতসমূহের মধ্যে বিচ্যুতি সৃষ্টিকারীদের নিন্দা করেছেন।" সমাপ্ত। ১
মানুষ তার প্রতিপালককে চিনতে পারে না তাঁর গুণাবলি ও নামসমূহ জানা ব্যতীত। যখনই তার এই জ্ঞান অর্জন সম্পন্ন হয়, তখন সে তার প্রতিপালক—যিনি অতি মহান ও শ্রেষ্ঠ—তাঁকে চিনতে পারে। আর তখনই সে তার প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করে এবং তাঁর সুন্দর নামসমূহ ধরে তাঁকে ডাকে, যেমনটি আল্লাহ তাঁর সুদৃঢ় কিতাবে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন—তাঁর মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ—: {আর আল্লাহর জন্য রয়েছে অতি সুন্দর নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো} ২।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {বলুন, তোমরা 'আল্লাহ' নামে ডাকো কিংবা 'রহমান' নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্যই তো রয়েছে অতি সুন্দর নামসমূহ} ৩ এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর জন্যই রয়েছে অতি সুন্দর নামসমূহ} ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد عرف السلف ربهم ومعبودهم عن طريق معرفة أسمائه الحسنى وصفاته العلى التي أثبتها لنفسه في كتابه ـ العزيز ـ وأثبته له رسوله صلى الله عليه وسلم في سنته الشريفة.
قال الصابوني1: مبيناً عقيدة السلف في أسماء الله ـ تعالى ـ وصفاته "أصحاب الحديث حفظ الله أحياءهم ورحم أمواتهم يشهدون لله ـ تعالى ـ بالوحدانية وللرسول صلى الله عليه وسلم بالرسالة والنبوة ويعرفون ربهم عز وجل بصفاته التي نطق بها وحيه وتنزيله، أو شهد له بها رسوله صلى الله عليه وسلم على ما وردت الأخبار الصحاح به، ونقلته العدول الثقات عنه، ويثبتون له ـ جلّ وعلا ـ ما أثبته لنفسه في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، ولا يعتقدون تشبيهاً لصفاته بصفات خلقه فيقولون: إنه خلق آدم بيده كما نص ـ سبحانه ـ وتعالى عليه في قوله عز من قائل: {قَالَ يَا إِبْلِيسُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} 2 ولا يحرفون الكلام عن مواضعه بحمل اليدين على النعمتين، أو القوتين ولا يكيفونهما بكيف أو تشبيههما بأيدي المخلوقين، وقد أعاذ الله أهل السنة من التحريف والتكييف، ومنَّ عليهم بالتعريف، والتفهيم حتى سلكوا سبل التوحيد والتنزيه وتركوا القول بالتعطيل والتشبيه واتبعوا قول الله عز وجل {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} 3.
وكذلك يقولون في جميع الصفات التي نزل بذكرها القرآن ووردت بها الأخبار الصحاح. من السمع والبصر والعين والوجه والعلم والقوة والقدرة والعزة والعظمة والإرادة والمشيئة، والقول والكلام والرضا والسخط والحياة واليقظة والفرح والضحك وغيرها من غير تشبيه لشيء من ذلك بصفات المربوبين المخلوقين، بل ينتهون فيها إلى ما قاله الله ـ تعالى ـ وقاله رسوله صلى الله عليه وسلم من غير زيادة عليه ولا إضافة إليه ولا تكييف له ولا تشبيه ولا تحريف ولا تبديل" أ. هـ4.
--------------------------------------------
সালাফগণ তাঁদের প্রতিপালক ও উপাস্যকে চিনেছেন তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলির মাধ্যমে, যা তিনি তাঁর সম্মানিত কিতাবে নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পবিত্র সুন্নাহতে তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন।
আস-সাবুনী (১) মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে সালাফদের আকিদা বর্ণনা করে বলেছেন: "হাদীসপন্থীরা — আল্লাহ তাঁদের জীবিতদের রক্ষা করুন এবং মৃতদের প্রতি রহম করুন — মহান আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেন এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালাত ও নবুওয়াতের সাক্ষ্য দেন। তাঁরা তাঁদের পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত প্রতিপালককে চেনেন তাঁর ঐ সকল গুণের মাধ্যমে যার কথা তাঁর ওহী ও অবতীর্ণ কিতাব বলেছে, অথবা তাঁর জন্য তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাক্ষ্য দিয়েছেন যেমনটি সহীহ সংবাদসমূহে এসেছে এবং নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজের জন্য তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূলের জবানে যা সাব্যস্ত করেছেন, তা তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেন। তাঁরা তাঁর গুণাবলিকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মনে করেন না। সুতরাং তাঁরা বলেন: নিশ্চয়ই তিনি আদমকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বাণীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন: {হে ইবলিস! আমি আমার দুই হাত দিয়ে যা সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাবনত হতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?} (২)। তাঁরা শব্দকে তার স্থান থেকে বিচ্যুত করেন না ‘দুই হাত’ শব্দটিকে ‘দুই নিয়ামত’ বা ‘দুই শক্তি’ অর্থে গ্রহণ করার মাধ্যমে। তাঁরা এগুলোর কোনো ধরণ নির্ধারণ করেন না কিংবা সৃষ্টির হাতের সাথে এগুলোর সাদৃশ্য দেন না। আল্লাহ আহলে সুন্নাহকে শব্দের বিকৃতি (তাহরীফ) ও ধরণ নির্ধারণ (তাকয়ীফ) থেকে রক্ষা করেছেন এবং তাঁদের ওপর সঠিক পরিচয় ও উপলব্ধির অনুগ্রহ দান করেছেন, যার ফলে তাঁরা তাওহীদ ও পবিত্রতা ঘোষণার পথে চলেছেন এবং গুণাবলি অস্বীকার (তা'তীল) ও সাদৃশ্য দেওয়ার (তাশবীহ) মতবাদ বর্জন করেছেন এবং মহান আল্লাহর বাণী অনুসরণ করেছেন: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} (৩)।
তেমনিভাবে তাঁরা ঐ সকল গুণাবলির ক্ষেত্রেও একই কথা বলেন যা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে এবং সহীহ হাদীসসমূহে এসেছে। যেমন: শ্রবণ, দর্শন, চোখ, মুখমণ্ডল, জ্ঞান, শক্তি, ক্ষমতা, মর্যাদা, মাহাত্ম্য, ইচ্ছা, অভিপ্রায়, কথা বলা, বাক্য, সন্তুষ্টি, অসন্তুষ্টি, জীবন, জাগ্রত অবস্থা, আনন্দ, হাসি ইত্যাদি। এসবের কোনো কিছুকেই তাঁরা সৃষ্টি ও পালিত জগতের গুণাবলির সাথে সাদৃশ্য দেন না। বরং তাঁরা এ বিষয়ে সেখানে গিয়েই থেমে যান যা মহান আল্লাহ বলেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন; এতে কোনো কিছু বৃদ্ধি না করে, অতিরিক্ত কিছু যোগ না করে, কোনো ধরণ নির্ধারণ না করে, কোনো সাদৃশ্য না দিয়ে এবং কোনো বিকৃতি বা পরিবর্তন না ঘটিয়ে।" সমাপ্ত। (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ومن قبل الصابوني قال الإمام عثمان بن سعيد الدارمي1 مقرراً عقيدة السلف في صفات الله ـ تعالى ـ:
"الحمد لله الذي له ما في السماوات وما في الأرض وما بينهما وما تحت الثرى.
{عَالِمِ الْغَيْبِ لا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلا فِي الأَرْضِ} 2.
يعلم سر خلقه وجهرهم ويعلم ما يكسبون، نحمده بجميع محامده، ونصفه بما وصف به نفسه ووصف به الرسول فهو الله، الرحمن الرحيم قريب مجيب مريد {فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ} 3 الأول قبل كل شيء والآخر بعد كل شيء له الأمر من قبل ومن بعد و {لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} 4 {لَهُ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} 5 يسبح له ما في السموات والأرض وهو العزيز الحكيم، يقبض ويبسط ويتكلم ويرضى، ويسخط ويغضب، ويحب ويبغض، ويكره ويضحك، ويأمر وينهى. ذو الوجه الكريم، والسمع السميع والبصر البصير، والكلام المبين، واليدين والقبضتين، والقدرة والسلطان والعظمة والعلم الأزلي، لم يزل كذلك ولا يزال، استوى على عرشه فبان من خلقه لا تخفى عليه منهم خافية علمه بهم محيط وبصره بهم نافذ {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} 6.
فبهذا الرب نؤمن وإياه نعبد وله نصلي ونسجد فمن قصد بعبادته إلى إله بخلاف هذه الصفات فإنما يعبد غير الله وليس معبوده بإله كفرانه لا غفرانه" أ. هـ7.
هذا هو منهج السلف في تعرفهم على ربهم وهو معرفته لهم عن طريق معرفة أسمائه وصفاته التي أتصف بها كما نطق بها كتابه الكريم ونطقت بها سنة رسوله الأمين صلى الله عليه وسلم، يدعونه ـ تعالى ـ بها ويتعبدونه بذكرها.
--------------------------------------------
সাবুনীর পূর্বে ইমাম উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি (১) আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সম্পর্কে সালফদের আকিদা নির্ধারণ করতে গিয়ে বলেছেন:
"সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, যা তাদের মাঝে আছে এবং মাটির নিচে যা আছে তা তারই।
{তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত, আসমান ও জমিনের অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নেই} (২)।
তিনি তাঁর সৃষ্টির গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় জানেন এবং তারা যা অর্জন করে তাও জানেন। আমরা তাঁর সকল প্রশংসার মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করি, এবং তিনি নিজেকে যে গুণে গুণান্বিত করেছেন এবং রাসূল (সা.) তাঁকে যে গুণে গুণান্বিত করেছেন, আমরা তাঁকে সেভাবেই বর্ণনা করি। তিনি আল্লাহ, পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, নিকটবর্তী, কবুলকারী, ইচ্ছাকারী {তিনি যা চান তা-ই করেন} (৩)। তিনি সবকিছুর পূর্বে আদি এবং সবকিছুর পরে অন্ত। পূর্বের ও পরের সকল নির্দেশ তাঁরই এবং {সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই, জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ বরকতময়} (৪)। {তাঁরই জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ} (৫)। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। তিনি মুষ্টিবদ্ধ করেন ও প্রসারিত করেন, কথা বলেন ও সন্তুষ্ট হন, অসন্তুষ্ট হন ও ক্রোধান্বিত হন, ভালোবাসেন ও ঘৃণা করেন, অপছন্দ করেন ও হাসেন, এবং আদেশ দেন ও নিষেধ করেন। তিনি সম্মানিত চেহারার অধিকারী, শ্রবণ ও শ্রবণকারী, দৃষ্টি ও প্রত্যক্ষকারী, স্পষ্ট বাণীর অধিকারী, তাঁর দুই হাত ও দুই মুষ্টি রয়েছে, তিনি সক্ষমতা, রাজত্ব, মহিমা ও অনাদি জ্ঞানের অধিকারী। তিনি সর্বদা এমনই ছিলেন এবং থাকবেন। তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন, ফলে তিনি তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক; তাদের কোনো গোপন বিষয়ই তাঁর কাছে গোপন নয়, তাদের বিষয়ে তাঁর জ্ঞান পরিবেষ্টনকারী এবং তাদের প্রতি তাঁর দৃষ্টি সুদূরপ্রসারী। {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} (৬)।
সুতরাং আমরা এই প্রতিপালকের প্রতিই ঈমান আনি, তাঁরই ইবাদত করি এবং তাঁর জন্যই সালাত আদায় করি ও সিজদা করি। যে ব্যক্তি এই গুণাবলির বিপরীত কোনো উপাস্যের ইবাদতের সংকল্প করল, সে আল্লাহ ছাড়া অন্যেরই ইবাদত করল এবং তার উপাস্য কোনো ইলাহ নয়; এটি তার কুফরি, ক্ষমা নয়।" সমাপ্ত (৭)।
এটিই হলো তাঁদের প্রতিপালককে চেনার ক্ষেত্রে সালফদের মানহাজ বা পদ্ধতি। আর তা হলো তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁকে চেনা, যেগুলোতে তিনি গুণান্বিত হয়েছেন; যেভাবে তাঁর সম্মানিত কিতাব বর্ণনা করেছে এবং তাঁর বিশ্বস্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ বর্ণনা করেছে। তাঁরা আল্লাহ তাআলা-কে এগুলোর মাধ্যমেই ডাকেন এবং এগুলোর স্মরণের মাধ্যমেই তাঁর ইবাদত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وهناك أمور ينبغي أن تعلم نحو أسمائه تبارك وتعالى:
الأمر الأول:
أن أسماءه ـ تعالى ـ لا تدخل تحت حصر ولا يحويها عدد1 لحديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "ما أصاب أحد قط هم ولا حزن فقال: اللهم إني عبدك وابن عبدك وابن أمتك ناصيتي بيدك ماض فيَّ حكمك عدل فيَّ قضاؤك أسألك بكل اسم هو لك سميت به نفسك أو أنزلته في كتابك، أو علمته أحداً من خلقك، أو استأثرت به في علم الغيب عندك أن تجعل القرآن العظيم ربيع قلبي، ونور صدري، وجلاء حزني، وذهاب همي، إلا أذهب الله حزنه وأبدله مكانه فرجاً" 2.
وأما ما ورد في الحديث الصحيح أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن لله تسعاً وتسعين اسماً ـ مائة إلا واحدة ـ من أحصاها دخل الجنة" 3 فليس المراد منه حصر الأسماء وإنما المراد الإخبار بأن من أحصى هذه الأسماء دخل الجنة، وقد اختلف العلماء في معنى الإحصاء، وأقرب الأقوال إلى الصواب أن المراد بالإحصاء حفظها مع اعتقاد ما دلت عليه والعمل بذلك"4.
الأمر الثاني:
إن من أسماء الله ـ تعالى ـ ما لا يطلق على الرب ـ سبحانه ـ إلا مقترناً بمقابله، إذ لو أطلق عليه وحده أوهم نقصاً ـ تعالى الله عن ذلك ـ فمن تلك الأسماء المانع يذكر مع المعطي، والضار يذكر مع النافع، والقابض يذكر مع الباسط، والمذل يذكر مع المعز، والخافض يذكر مع الرافع، فمثل هذه الأسماء تطلق على الله مع ذكر مقابلها5.
الأمر الثالث:
هناك بعض الأفعال أطلقها ـ البارئ سبحانه ـ على نفسه وهي تدل على صفات الله تعالى تليق به، ولا يجوز أن يشتق له أسماء من تلك الصفات.
--------------------------------------------
তাঁর (তাবারাকা ওয়া তাআলা) নামসমূহের বিষয়ে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা জানা আবশ্যক:
প্রথম বিষয়:
আল্লাহ তাআলার নামসমূহ কোনো নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং কোনো সংখ্যা দ্বারা তা পরিবেষ্টিত নয়।১ এর দলিল হলো আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "কোনো ব্যক্তি যখনই কোনো দুশ্চিন্তা বা দুঃখে আক্রান্ত হয় এবং বলে: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার বান্দা, আপনার এক বান্দার সন্তান এবং আপনার এক বাঁদির সন্তান। আমার কপাল আপনার হাতে, আমার ওপর আপনার হুকুম কার্যকর, আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালা ইনসাফপূর্ণ। আমি আপনার কাছে আপনার সেই প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি, যে নাম আপনি নিজের জন্য রেখেছেন, অথবা আপনার কিতাবে নাজিল করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন, অথবা আপনার কাছে অদৃশ্যের জ্ঞানে নিজের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন; আপনি মহান কুরআনকে আমার হৃদয়ের বসন্ত, আমার বক্ষের নূর, আমার দুঃখের অপসারক এবং দুশ্চিন্তা দূরকারী বানিয়ে দিন; তবে আল্লাহ অবশ্যই তার দুঃখ দূর করে দেবেন এবং তার পরিবর্তে তাকে স্বস্তি দান করবেন।" ২
আর সহিহ হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে—এক কম একশ—যে ব্যক্তি সেগুলো গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে" ৩, এর উদ্দেশ্য নামসমূহকে সীমাবদ্ধ করা নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো সংবাদ দেওয়া যে, যে ব্যক্তি এই নামগুলো গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ওলামায়ে কেরাম 'ইহসা' (গণনা করা) শব্দের অর্থের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। তবে সঠিকের নিকটবর্তী মত হলো—'ইহসা' বলতে বুঝায় নামগুলো মুখস্থ করা, সেই নামগুলো যা নির্দেশ করে তার ওপর বিশ্বাস রাখা এবং সে অনুযায়ী আমল করা।৪
দ্বিতীয় বিষয়:
আল্লাহ তাআলার নামসমূহের মধ্যে এমন কিছু নাম রয়েছে যা রব্ব সুবহানাহু-র ওপর প্রয়োগ করা হয় না যতক্ষণ না সেটির বিপরীত নামের সাথে যুক্ত করা হয়। কারণ, যদি কেবল একটি নাম ব্যবহার করা হয়, তবে তা ত্রুটির ইঙ্গিত দিতে পারে—আল্লাহ তা থেকে বহু ঊর্ধ্বে। এই নামগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'আল-মানি' (প্রতিবন্ধক) যা 'আল-মু'তি' (দানকারী)-র সাথে উল্লেখ করতে হয়, 'আদ-দার' (ক্ষতিকারক) যা 'আন-নাফি' (উপকারী)-র সাথে উল্লেখ করতে হয়, 'আল-কাবিদ' (সংকোচনকারী) যা 'আল-বাসিত' (প্রসারণকারী)-র সাথে উল্লেখ করতে হয়, 'আল-মুজিল্ল' (লাঞ্ছিতকারী) যা 'আল-মুয়িজ' (সম্মানদানকারী)-র সাথে উল্লেখ করতে হয় এবং 'আল-খাফিদ' (অবনমনকারী) যা 'আর-রাফি' (উন্নীতকারী)-র সাথে উল্লেখ করতে হয়। সুতরাং এই ধরনের নামগুলো আল্লাহর ওপর প্রয়োগ করার সময় তার বিপরীতটিসহ উল্লেখ করতে হবে।৫
তৃতীয় বিষয়:
স্রষ্টা সুবহানাহু নিজের ওপর এমন কিছু ক্রিয়া প্রয়োগ করেছেন যা আল্লাহ তাআলার এমন কিছু গুণের (সিফাত) প্রমাণ দেয় যা তাঁর শানের উপযোগী। তবে সেই সিফাতগুলো থেকে তাঁর জন্য নাম উদ্ভাবন করা জায়েজ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مثل قوله تعالى: {إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ} 1. ومثل قوله تعالى: {وَمَكَرُوا وَمَكَرَ الله} 2 ومثل قوله تعالى: {وإِذَا خَلَوْا إِلَى شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ* اللهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ} 3. ونحو ذلك من الآيات فهذه الصفات تتضمن مدحاً وكمالاً ـ للبارئ سبحانه ـ لكن لا يجوز أن يقال: الله مخادع، ماكر، مستهزئ، ولا يقال: الله يستهزئ، ويخادع ويمكر على سبيل الإطلاق دون ذكر الاستهزاء والمخادعة، والمكر بأعدائه4.
الأمر الرابع:
أن دلالة أسمائه ـ تعالى ـ حق على حقيقتها مطابقة، وتضمناً والتزماً، فدلالة اسمه "الرحمن" على ذاته عز وجل مطابقة وعلى صفة الرحمة تضمناً، وعلى الحياة وغيرها التزاماً وهكذا سائر أسمائه ـ تعالى ـ فإن الله تبارك وتعالى هو الإله وما سواه عبيد، وهو الرب وما سواه مربوب، وهو الخالق وما سواه مخلوق فلو كانت أسماء الله ـ تعالى ـ غيره، كما زعم ذلك أهل الأهواء لكانت مخلوقة مربوبة محدثة معرضة للفناء، إذ كل ما سواه ـ سبحانه ـ فانٍ.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: في معرض بطلان قول القائلين بأن صفات الله ـ تعالى ـ غيره لأن مسمى اسم "الله" يدخل فيه صفاته بخلاف مسمى الذات فإنه لا يدخل فيه الصفات.
ولهذا لا يقال: "صفات الله زائدة عليه سبحانه وتعالى، وإن قيل: الصفات زائدة على الذات لأن المراد زائدة على ما أثبته المثبتون من الذات المجردة، والله هو الذات الموصوفة بصفاته اللازمة فليس "اسم الله" متناولاً لذات مجردة عن الصفات أصلاً، ولا يمكن وجود ذلك، ولهذا قال أحمد5 رحمه الله في
مناظرة الجهمية6 لا
--------------------------------------------
যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে, আর তিনিও তাদের সাথে প্রতারণা করেন।} ১। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা ষড়যন্ত্র করেছিল, আর আল্লাহও কৌশল করেছিলেন।} ২। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যখন তারা তাদের শয়তানদের (নেতাদের) সাথে একান্তে মিলিত হয়, তখন তারা বলে: নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের সাথে আছি, আমরা তো কেবল উপহাসকারী। আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন।} ৩। এবং এই জাতীয় আয়াতসমূহ; এই গুণাবলিগুলো সৃষ্টিকর্তা সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য প্রশংসা ও পূর্ণতা অন্তর্ভুক্ত করে। তবে এটি বলা জায়েজ নেই যে: আল্লাহ প্রতারক, ষড়যন্ত্রকারী বা উপহাসকারী। আবার নিরঙ্কুশভাবে—আল্লাহর শত্রুদের সাথে উপহাস, প্রতারণা বা কৌশলের কথা উল্লেখ করা ব্যতীত—এভাবেও বলা যাবে না যে: আল্লাহ উপহাস করেন, প্রতারণা করেন বা কৌশল করেন। ৪।
চতুর্থ বিষয়:
মহান আল্লাহর নামসমূহের দ্যোতনা বা অর্থ নির্দেশ করা তার প্রকৃত অর্থেই সত্য, যা পূর্ণ অর্থ নির্দেশক (মুতাবাক্বাহ), অন্তর্ভুক্তিকরণ (তাদাম্মুন) এবং অপরিহার্যতা (ইলতিযাম) হিসেবে গণ্য। সুতরাং তাঁর নাম ‘আর-রাহমান’ এর অর্থ তাঁর সত্তার ওপর নির্দেশ করা হলো পূর্ণ অর্থ নির্দেশক (মুতাবাক্বাহ), দয়ার গুণের ওপর নির্দেশ করা হলো অন্তর্ভুক্তিকরণ (তাদাম্মুন) এবং জীবন ও অন্যান্য গুণের ওপর নির্দেশ করা হলো অপরিহার্যতা (ইলতিযাম)। মহান আল্লাহর অন্যান্য সমস্ত নামের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা হলেন ইলাহ বা উপাস্য এবং তিনি ব্যতীত যা কিছু আছে সবই তাঁর দাস। তিনি হলেন রব বা প্রতিপালক এবং তিনি ব্যতীত বাকি সবকিছুই প্রতিপালিত। তিনি হলেন স্রষ্টা এবং তিনি ব্যতীত সবকিছুই সৃষ্টি। সুতরাং ভ্রান্ত মতাবলম্বীরা যেমন দাবি করে যে, আল্লাহর নামসমূহ তাঁর সত্তা থেকে ভিন্ন কিছু, বিষয়টি যদি তেমনই হতো তবে আল্লাহর নামগুলো হতো সৃষ্টি, প্রতিপালিত, নতুনভাবে উদ্ভূত এবং ধ্বংসশীল; যেহেতু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত সবকিছুই নশ্বর বা ধ্বংসশীল।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) ঐ সকল ব্যক্তিদের বক্তব্যের অসারতা বর্ণনায় বলেন যারা মনে করে যে আল্লাহর গুণাবলি তাঁর সত্তা থেকে ভিন্ন; কারণ ‘আল্লাহ’ নামটির যা মুসাম্মা (যাকে নামকরণ করা হয়েছে) তার মধ্যে তাঁর গুণাবলিও অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা নিছক ‘সত্তা’ (জাত) শব্দটির বিপরীত, কারণ ‘সত্তা’ শব্দটির মধ্যে গুণাবলি অন্তর্ভুক্ত থাকে না।
এই কারণেই এভাবে বলা হয় না যে: ‘আল্লাহর গুণাবলি মহান আল্লাহর ওপর অতিরিক্ত কিছু’, যদিও বলা হয়ে থাকে যে: ‘গুণাবলি সত্তার ওপর অতিরিক্ত’। কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যারা কেবল একটি বিমূর্ত বা নিরাকার সত্তা সাব্যস্ত করেছে, গুণাবলি সেই সত্তার ওপর অতিরিক্ত। অথচ আল্লাহ হলেন এমন এক সত্তা যা তাঁর অপরিহার্য গুণাবলি দ্বারা গুণান্বিত। সুতরাং ‘আল্লাহ’ শব্দটি গুণাবলি বর্জিত কোনো বিমূর্ত সত্তাকে মোটেও বোঝায় না এবং বাস্তব জগতে সেরকম কিছুর অস্তিত্ব সম্ভবও নয়। এই কারণেই ইমাম আহমাদ ৫ (রহিমাহুল্লাহ) জাহমিয়াদের ৬ সাথে বিতর্কে বলেছিলেন যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
نقول: الله وعلمه، والله وقدرته والله ونوره، ولكن نقول: الله بعلمه وقدرته ونوره هو إله واحد"1.
--------------------------------------------
আমরা বলি: আল্লাহ ও তাঁর জ্ঞান, এবং আল্লাহ ও তাঁর ক্ষমতা, এবং আল্লাহ ও তাঁর নূর; কিন্তু আমরা বলি: আল্লাহ তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও নূরসহ একক ইলাহ"১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث الثاني: إثبات صفة العلو والفوقيةإن أول ما افتتحت به "سورة: الزمر" هو إثبات صفة العلو والفوقية ـ للباري جل وعلا ـ وذلك في خمس آيات منها:
قال تعالى {تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ. إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللهِ مُخْلِصاً لَهُ الدِّينَ} .
وقال تعالى: {اللهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَاباً مُتَشَابِهاً مَثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللهِ ذَلِكَ هُدَى اللهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُضْلِلِ اللهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ} .
وقال تعالى {إِنَّا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ لِلنَّاسِ بِالْحَقِّ فَمَنِ اهْتَدَى فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا وَمَا أَنْتَ عَلَيْهِمْ بِوَكِيلٍ} .
وقال تعالى: {وَاتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ بَغْتَةً وَأَنْتُمْ لا تَشْعُرُونَ} . ففي هذه الآيات الخمس دلالة واضحة على إثبات علو الله ـ تعالى ـ وأنه فوق المخلوقات جميعها، لأن نزول الشيء يكون من أعلى إلى أسفل.
فالآية الأولى: من تلك الآيات المتقدمة هي قوله تعالى: {تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ} فيها إخبار منه ـ تعالى ـ بأن مبدأ تنزيل القرآن كائن منه ـ جل وعلا ـ ومن عنده تبارك وتعالى.
وأما الآية الثانية: فهي قوله تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ
… } الآية.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: 'উলু' (উচ্চতা) ও 'ফাওকিয়্যাহ' (উর্ধ্বে থাকা) এর গুণ সাব্যস্তকরণনিশ্চয়ই "সূরা আয-যুমার" যা দিয়ে শুরু হয়েছে তা হলো মহান স্রষ্টা আল্লাহ তা'আলার জন্য 'উলু' ও 'ফাওকিয়্যাহ'র গুণ সাব্যস্তকরণ; আর তা এর পাঁচটি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে:
আল্লাহ তা'আলা বলেন: "এই কিতাব অবতীর্ণকরণ মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয় আমি আপনার নিকট সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি; অতএব আপনি আল্লাহর ইবাদত করুন তাঁরই আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।"
এবং আল্লাহ তা'আলা বলেন: "আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী অবতীর্ণ করেছেন, যা একটি কিতাব, যার আয়াতসমূহ সাদৃশ্যপূর্ণ ও বারবার পঠিত। এতে তাদের চামড়া শিউরে ওঠে যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, অতঃপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে কোমল হয়। এটিই আল্লাহর হিদায়াত, তিনি এর মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।"
এবং আল্লাহ তা'আলা বলেন: "নিশ্চয় আমি মানুষের জন্য আপনার নিকট সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি। অতএব যে সৎপথ অবলম্বন করে সে নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে, আর যে পথভ্রষ্ট হয় সে নিজের ক্ষতির জন্যই পথভ্রষ্ট হয়। আর আপনি তাদের উপর কোনো কর্মবিধায়ক নন।"
এবং আল্লাহ তা'আলা বলেন: "তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তোমরা তার সর্বোত্তম অনুসরণ করো, তোমাদের নিকট আকস্মিকভাবে শাস্তি আসার পূর্বেই—যখন তোমরা টেরও পাবে না।" সুতরাং এই পাঁচটি আয়াতে মহান আল্লাহর উচ্চতা সাব্যস্তকরণের সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং এটিও যে তিনি সকল সৃষ্টির উপরে; কারণ কোনো কিছুর অবতরণ উপর থেকে নিচের দিকেই হয়ে থাকে।
সুতরাং পূর্বোক্ত আয়াতসমূহের মধ্যে প্রথম আয়াতটি হলো আল্লাহ তা'আলার এই বাণী: "এই কিতাব অবতীর্ণকরণ মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে।" এতে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এই সংবাদ রয়েছে যে, কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সূচনা তাঁর মহান সত্তা থেকেই হয়েছে এবং তা বরকতময় আল্লাহর নিকট থেকেই এসেছে।
আর দ্বিতীয় আয়াতটি হলো আল্লাহ তা'আলার এই বাণী: "নিশ্চয় আমি আপনার নিকট সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি..."
... আয়াতাংশ।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أخبر تعالى بأنه أنزل الكتاب الذي هو القرآن على نبيه صلى الله عليه وسلم من عنده بالحق الذي لا مرية فيه ولا شك.
وأما الآية الثالثة فهي قوله تعالى: {اللهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَاباً مُتَشَابِهاً مَثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ
… } الآية فقد دلت على علو الله ـ تعالى ـ لأن التنزيل يكون من أعلى إلى أسفل كما تضمنت وصف القرآن المنزل من عنده ـ تعالى ـ بثلاثة صفات هي: كونه متشابهاً أي: يشبه بعضه بعضاً في الكمال والجودة ويصدق بعضه بعضاً في المعنى ويماثله وكونه "مثاني" حيث ثنى الله فيه الأنباء والأخبار والقضاء والأحكام.
قال قتادة1 "ثنى الله فيه الفرائض والقضاء والحدود"2.
وكونه تقشعر منه جلود الذين يخشون ربهم أي: تقشعر منه جلود الأبرار الذين يخشون ربهم لما يفهمون منه من الوعد والوعيد والتخويف والتهديد.
وأما الآية الرابعة فهي قوله تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ لِلنَّاسِ بِالْحَقِّ
… } الآية.
فقد بين تعالى بأنه أنزل كتابه على رسوله من عنده ـ تعالى ـ فالآية دلت على علوه ـ تعالى ـ كما دلت أيضاً: أنه ـ تعالى ـ أنزل هذا الكتاب لجميع الخلق من الجن والإنس لينذرهم به، وأن من اهتدى منهم فإنما يعود نفع ذلك إلى نفسه، ومن ضل فإنما يعود وبال ضلاله عليه، وأن الرسول صلى الله عليه وسلم ليس بموكل على هدايتهم، وإنما هو نذير عليه البلاغ، وعلى الله الحساب.
وأما الآية الخامسة: وهي قوله تعالى: {وَاتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ
… } الآية.
فقد تضمنت أمراً من الله ـ جل وعلا ـ لجميع عباده بأن يتبعوا ما أمرهم به ـ تعالى ـ في كتابه الذي أنزله على رسوله صلى الله عليه وسلم، وبذلك دليل على علوه ـ سبحانه ـ.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর নিকট থেকে তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর সত্য সহকারে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যাতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই।
আর তৃতীয় আয়াতটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বারবার পঠিত; এতে তাদের চামড়া শিউরে ওঠে যারা তাদের রবকে ভয় করে...} আয়াতটি মহান আল্লাহর উচ্চতার (ঊর্ধ্বে হওয়ার) প্রমাণ দেয়, কারণ কোনো কিছু অবতীর্ণ করা কেবল উপর থেকে নিচের দিকেই হয়ে থাকে। যেমন এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কুরআনের তিনটি বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা ধারণ করেছে: প্রথমত, এটি ‘মুতাশাবিহ’ তথা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ, অর্থাৎ এর এক অংশ অন্য অংশের সাথে পূর্ণতা ও উৎকর্ষে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং এর এক অংশ অন্য অংশের অর্থকে সত্যায়ন ও সমর্থন করে। দ্বিতীয়ত, এটি ‘মাসানি’ তথা বারবার পঠিত বা পুনরাবৃত্ত, যেখানে আল্লাহ সংবাদ, কাহিনী, ফয়সালা এবং বিধানসমূহ বারবার বর্ণনা করেছেন।
কাতাদাহ ১ বলেন, "আল্লাহ এতে ফরজ বিধান, ফয়সালা এবং দণ্ডবিধি বারবার বর্ণনা করেছেন" ২।
তৃতীয়ত, এটি এমন যা থেকে তাদের চামড়া শিউরে ওঠে যারা তাদের রবকে ভয় করে; অর্থাৎ সেই সব পুণ্যবানদের চামড়া শিউরে ওঠে যারা তাদের রবকে ভয় করে, যখন তারা এর মধ্য থেকে প্রতিশ্রুত পুরস্কার, শাস্তি, ভীতিপ্রদর্শন এবং সতর্কবাণীসমূহ বুঝতে পারে।
আর চতুর্থ আয়াতটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি আপনার ওপর মানুষের জন্য সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি...} আয়াত।
মহান আল্লাহ এখানে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর নিকট থেকে তাঁর রাসূলের ওপর তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং আয়াতটি মহান আল্লাহর উচ্চতার প্রমাণ দেয়, যেমনটি এটি আরও প্রমাণ দেয় যে: মহান আল্লাহ এই কিতাব সমস্ত সৃষ্টির জন্য তথা জিন ও ইনসানের জন্য অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি তাদেরকে এর মাধ্যমে সতর্ক করতে পারেন। আর তাদের মধ্যে যে হেদায়েত প্রাপ্ত হবে, তার সুফল তার নিজের জন্যই হবে; আর যে পথভ্রষ্ট হবে, তার পথভ্রষ্টতার দায়ভার তার ওপরই বর্তাবে। আর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের হেদায়েতের জন্য দায়বদ্ধ নন, বরং তিনি কেবল একজন সতর্ককারী যার দায়িত্ব হলো পৌঁছে দেওয়া, আর হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর।
আর পঞ্চম আয়াতটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা অনুসরণ করো তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার মধ্য থেকে সর্বোত্তম বিষয়ের...} আয়াত।
এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সকল বান্দার প্রতি একটি নির্দেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যে, তারা যেন সেই বিষয়ের অনুসরণ করে যা তিনি তাঁর কিতাবে নির্দেশ দিয়েছেন, যা তিনি তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর অবতীর্ণ করেছেন। আর এতে মহান আল্লাহর উচ্চতার প্রমাণ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال العلامة ابن جرير1: "فإن قال قائل: ومن القرآن شيء أحسن من شيء قيل له: القرآن كله حسن وليس معنى ذلك ما توهمت، وإنما معناه: واتبعوا مما أنزل إليكم ربكم من الأمر والنهي والخبر والمثل والقصص والجدل والوعد والوعيد أحسنه، وأحسنه أن تأتمروا لأمره وتنتهوا عما نهى عنه، لأن النهي مما أنزل في الكتاب، فلو عملوا بما نهوا عنه كانوا عاملين بأقبحه ـ أي العمل ـ فذلك وجهه" أ. هـ2.
فهذه الآيات الخمس من الآيات المحكمة التي أثبتت علو ـ الباري سبحانه ـ على جميع خلقه وأنه جل جلاله في السماء أي: "العلو" لا كما يزعمه أهل الباطل من الجهمية المعطلة من أنه ـ تعالى ـ في أسفل الأرضين، بل هو ـ تعالى ـ في السماء كما أخبر بذلك عن نفسه في مواضع كثيرة من كتابه، وأكد ذلك رسوله صلى الله عليه وسلم في سنته المطهرة.
قال ابن خزيمة3 ـ رحمه الله تعالى ـ: "إن الرب ـ جل وعلا ـ في السماء لا كما قالت الجهمية المعطلة أنه في أسفل الأرضيين فهو في السماء" أ. هـ4.
وقد وردت آيات كثيرة في الكتاب العزيز كلها تدل دلالة قطعية على إثبات علوه ـ تعالى ـ على خلقه وأنه ليس تحت الأرض ولا في كل مكان كما يزعم ذلك أهل الزيغ والباطل ومن تلك الآيات ما يلي:
أحدها: أنه سبحانه وتعالى صرح بفوقيته المقترنة بأداة "من" المعينة للفوقية بالذات. قال تعالى: {وَللهِ يَسْجُدُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ وَالْمَلائِكَةُ وَهُمْ لا يَسْتَكْبِرُونَ. يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} 5.
--------------------------------------------
আল্লামা ইবনে জারীর১ বলেছেন: "যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: কুরআনের কি কোনো অংশ অন্য অংশ থেকে উত্তম? তবে তাকে বলা হবে: কুরআন সম্পূর্ণই উত্তম এবং এর অর্থ তা নয় যা তুমি ধারণা করেছ। বরং এর অর্থ হলো: তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে অর্থাৎ আদেশ, নিষেধ, সংবাদ, দৃষ্টান্ত, কাহিনী, বিতর্ক, প্রতিশ্রুতি ও ধমক—তার মধ্য থেকে যা উত্তম তা অনুসরণ করো। আর তার মধ্যে উত্তম হলো তোমরা তাঁর আদেশ পালন করবে এবং যা তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকবে। কারণ নিষেধসমূহও কিতাবে অবতীর্ণ করা হয়েছে, সুতরাং তারা যদি নিষিদ্ধ কাজগুলো করত তবে তারা নিকৃষ্টতম আমল বা কাজ করত—আর এটিই হলো এর সঠিক ব্যাখ্যা।"—সমাপ্ত২।
এই পাঁচটি আয়াত হলো সেই সকল মুহকাম (সুস্পষ্ট) আয়াতের অন্তর্ভুক্ত যা মহান স্রষ্টার তাঁর সমস্ত সৃষ্টির উপরে সমুন্নত হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করে এবং এটিও সাব্যস্ত করে যে, তিনি—তাঁর প্রতাপ মহিমান্বিত হোক—আসমানের উপরে, অর্থাৎ "উচ্চতায়" অবস্থিত। বাতিলপন্থী জাহমিয়া মুয়াত্তালা সম্প্রদায় যেমনটি দাবি করে যে তিনি—মহান—জমিনের সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছেন, বিষয়টি তেমন নয়। বরং তিনি আসমানে (উচ্চতায়) রয়েছেন যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবের অনেক স্থানে নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর পবিত্র সুন্নাতে তা নিশ্চিত করেছেন।
ইবনে খুযাইমাহ৩ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: "নিশ্চয়ই প্রতিপালক—যাঁর মহিমা মহান ও সুউচ্চ—আসমানের উপরে, জাহমিয়া মুয়াত্তালা সম্প্রদায় যেমনটি বলে যে তিনি জমিনের সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছেন তেমনটি নয়, বরং তিনি আসমানের উপরেই রয়েছেন"—সমাপ্ত৪।
সম্মানিত কিতাবে এমন অনেক আয়াত বর্ণিত হয়েছে যা সৃষ্টির উপরে মহান আল্লাহর সমুন্নত হওয়ার প্রমাণের ওপর অকাট্য দলীল পেশ করে এবং এটিও সাব্যস্ত করে যে তিনি জমিনের নিচে নন এবং সর্বত্র বিরাজমানও নন যেমনটি পথভ্রষ্ট ও বাতিলপন্থীরা দাবি করে। সেই আয়াতগুলোর মধ্য থেকে কিছু নিচে দেওয়া হলো:
প্রথমত: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্টভাবে তাঁর "উপরে হওয়া" (ফাওকিয়্যাত) ব্যক্ত করেছেন যা "মিন" (থেকে) অব্যয়ের সাথে যুক্ত হয়ে সত্তাগতভাবে উপরে হওয়াকে নির্দিষ্ট করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আসমানসমূহ ও জমিনে যত বিচরণশীল প্রাণী ও ফেরেশতা রয়েছে তারা সবাই আল্লাহকেই সিজদাহ করে এবং তারা অহংকার করে না। তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে যিনি তাদের উপরে রয়েছেন এবং তাদের যা আদেশ করা হয় তারা তাই করে।} ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ففي الآية الثانية إعلام من الله ـ تعالى ـ بأنه فوق ملائكته، وفوق ما في السموات وما في الأرض من دابة، وأخبرنا بأن ملائكته يخافون ربهم الذي فوقهم والمعطلة يزعمون أن المعبود ـ سبحانه ـ تحت الملائكة تعالى الله عن ذلك علواً كبيراً.
ثانياً: ذكره تعالى الفوقية مجردة عن الأداة:
قال تعالى: {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ} 1 وهذه الآية فيها الإخبار منه ـ تعالى ـ بأنه فوق جميع عباده من الجن والإنس والملائكة الذين هم سكان السموات.
ثالثاً: إخباره تعالى بعروج الملائكة والروح إليه.
قال تعالى: {تَعْرُجُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ} 2 فقد أخبرنا ـ تعالى ـ في هذه الآية بأن الملائكة تعرج إليه، والعرج يكون من الأسفل إلى الأعلى.
رابعاً: التصريح منه ـ تعالى ـ بالصعود إليه:
قال تعالى: {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ} 3.
والمفهوم من هذه الآية أن الرب جل جلاله فوق من يتكلم بالكلمة الطيبة فتصعد إلى الله كلمته، لا كما تزعمه المعطلة الجهمية أنه تهبط إليه الكلمة الطيبة كما تصعد إليه وتأويلهم هذا يدل على تردي عقولهم وسوء فهمها لكتاب الله ـ تعالى ـ.
خامساً: تصريحه تعالى برفع بعض المخلوقات إليه كرفعه لعيسى عليه الصلاة والسلام.
قال تعالى: {بَلْ رَفَعَهُ اللهُ إِلَيْهِ وَكَانَ اللهُ عَزِيزاً حَكِيماً} 4 فمن المستحيل أن يهبط الإنسان من ظهر الأرض إلى بطنها، أو إلى أي مكان أخفض وأنزل فيقال: رفعه الله إليه، لأن الرفع في لغة العرب الذين بلغتهم خاطبنا الله لا يكون إلا من أسفل إلى أعلى وفوق.
سادساً: تصريحه ـ تعالى ـ بعلوه المطلق الدال على جميع مراتب العلو ذاتاً، وقدراً، وقهراً قال تعالى: {وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ} 5.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এই সংবাদ রয়েছে যে, তিনি তাঁর ফেরেশতাদের উপরে এবং আসমান ও জমিনে বিচরণকারী যা কিছু আছে তাদের উপরে। আর তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে, তাঁর ফেরেশতারা তাঁদের রবের ভয় করে যিনি তাঁদের উপরে রয়েছেন। অথচ মুআত্তিলাগণ (আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারী) ধারণা করে যে, মাবুদ (সুবহানাহু) ফেরেশতাদের নিচে; আল্লাহ তাদের এই বক্তব্য থেকে অনেক উর্ধ্বে।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা কোনো অনুসর্গ ছাড়াই তাঁর উপরে থাকার (ফাউকিয়্যাহ) কথা উল্লেখ করেছেন:
আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তিনি তাঁর বান্দাদের উপর প্রবল প্রতাপশালী।" ১। এই আয়াতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, তিনি তাঁর সমস্ত বান্দা—জিন, মানুষ এবং আসমানসমূহের অধিবাসী ফেরেশতাদের উপরে।
তৃতীয়ত: ফেরেশতা এবং রূহ (জিবরীল)-এর তাঁর দিকে আরোহণের সংবাদ দান।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "ফেরেশতা এবং রূহ তাঁর দিকে আরোহণ করে।" ২। আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে আমাদের জানিয়েছেন যে, ফেরেশতারা তাঁর দিকে আরোহণ করে; আর আরোহণ কেবল নিচ থেকে উপরের দিকেই হয়ে থাকে।
চতুর্থত: তাঁর দিকে কোনো কিছু উত্থিত হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বর্ণনা:
আল্লাহ তাআলা বলেন: "পবিত্র বাক্যসমূহ তাঁরই দিকে উত্থিত হয় এবং সৎকর্ম তাকে উন্নীত করে।" ৩।
এই আয়াত থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো—রব জাল্লা জালালুহু সেই ব্যক্তির উপরে যিনি পবিত্র বাক্য উচ্চারণ করেন, ফলে তার বাক্যটি আল্লাহর দিকে উত্থিত হয়। জাহমিয়া-মুআত্তিলাগণ যা ধারণা করে তা সঠিক নয়—তারা বলে যে, পবিত্র বাক্য আল্লাহর দিকে যেমন উঠে, তেমনি তাঁর দিক থেকে নিচেও নামে। তাদের এই ব্যাখ্যা তাদের বুদ্ধিহীনতা এবং আল্লাহ তাআলার কিতাব সম্পর্কে তাদের মন্দ উপলব্ধির প্রমাণ দেয়।
পঞ্চমত: কোনো কোনো সৃষ্টিকে তাঁর দিকে উঠিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাঁর সুস্পষ্ট বর্ণনা, যেমন ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে তাঁর দিকে উঠিয়ে নেওয়া।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "বরং আল্লাহ তাকে নিজের দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন এবং আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" ৪। কোনো মানুষ পৃথিবীর উপরিভাগ থেকে তার অভ্যন্তরে বা কোনো নিচু স্থানে নেমে গেলে তাকে "আল্লাহ তাকে নিজের দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন" বলা অসম্ভব। কারণ আরবি ভাষায়—যে ভাষায় আল্লাহ আমাদের সম্বোধন করেছেন—'উঠানো' (রাফ'উন) কেবল নিচ থেকে উপরে উঠার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।
ষষ্ঠত: তাঁর নিরঙ্কুশ উচ্চতা (উলুউ) সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা, যা সত্তাগত উচ্চতা, মর্যাদা ও ক্ষমতার উচ্চতা—সব ধরনের উচ্চতাকে নির্দেশ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তিনি সমুচ্চ, সুমহান।" ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقوله تعالى: {وَهُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ} 1.
وقوله ـ عزَّ شأنه ـ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى} . 2
فالعلي: هو الذي له العلو المطلق من جميع الوجوه.
علو الذات: كونه فوق جميع المخلوقات.
علو القدر: فله من كل صفات الكمال أعلاها.
علو القهر: فهو القاهر فوق عباده وهو الحكيم الخبير3.
"وإذا كانت صفة العلو والفوقية صفة كمال لا نقص فيها ولا تستلزم نقصاً ولا توجب محذوراً ولا تخالف كتاباً ولا سنة ولا إجماعاً فنفي حقيقتها يكون عين الباطل، والمحال الذي لا تأتي به شريعة أصلاً فكيف إذا كان لا يمكن الإقرار بوجوده وتصديق رسله والإيمان بكتابه وبما جاء به رسوله إلا بذلك فكيف إذا انضم إلى ذلك شهادة العقول السليمة والفطرة المستقيمة، والنصوص الواردة المتنوعة المحكمة الدالة على علو الله على خلقه وكونه فوق عباده"4.
سابعاً: تخصيصه بعض المخلوقات بأنها عنده وأن بعضها أقرب إليه من بعض.
قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ عِنْدَ رَبِّكَ لا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيُسَبِّحُونَهُ وَلَهُ يَسْجُدُونَ} 5.
وقال تعالى: {وَلَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ عِنْدَهُ لا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَلا يَسْتَحْسِرُونَ} 6 ففرَّق ـ سبحانه ـ في هاتين الآيتين بين من له عموماً وبين من عنده من ملائكته وعبيده خصوصاً.
ثامناً: تصريحه تعالى بأنه في السماء:
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি সমুচ্চ, মহান} ১।
এবং তাঁর সুমহান মর্যাদা সম্পর্কে বাণী: {আপনার সুমহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন} ২।
সুতরাং 'আল-আলী' (সমুচ্চ): তিনি এমন সত্তা যার জন্য সকল দিক থেকে নিরঙ্কুশ উচ্চতা রয়েছে।
সত্তাগত উচ্চতা: তা হলো সকল সৃষ্টির উপরে তাঁর অবস্থান।
মর্যাদাগত উচ্চতা: সকল পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির মধ্যে সর্বোচ্চটি তাঁর জন্য সাব্যস্ত।
আধিপত্যের উচ্চতা: কেননা তিনি তাঁর বান্দাদের উপরে মহা-পরাক্রমশালী এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, সম্যক অবহিত ৩।
"আর যেহেতু উচ্চতা এবং উপরিভাগে থাকার বিষয়টি একটি পূর্ণাঙ্গ গুণ যাতে কোনো ত্রুটি নেই, যা কোনো ত্রুটিকে আবশ্যক করে না, কোনো নিষিদ্ধ বিষয়কে অবধারিত করে না এবং যা কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমার পরিপন্থী নয়, তাই এর হাকীকতকে অস্বীকার করা হবে স্পষ্ট বাতিল বিষয়। এটি এমন এক অসম্ভব বিষয় যা কোনো শরীয়ত কখনোই নিয়ে আসে না। তবে কীভাবে সম্ভব হবে যখন তাঁর অস্তিত্বের স্বীকৃতি দেওয়া, তাঁর রাসূলদের সত্যায়ন করা এবং তাঁর কিতাব ও রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর ঈমান আনা এর (উচ্চতার গুণ) ব্যতিরেকে সম্ভব নয়? তদুপরি যখন এর সাথে সুস্থ বিবেক, সঠিক ফিতরাত এবং বিভিন্ন প্রকার সুস্পষ্ট দলিল যুক্ত হয়েছে যা আল্লাহর সৃষ্টির ঊর্ধ্বে হওয়া এবং বান্দাদের উপরে থাকার প্রমাণ বহন করে" ৪।
সপ্তম: কিছু সৃষ্টিকে বিশেষভাবে তাঁর নিকটবর্তী হিসেবে উল্লেখ করা এবং কোনোটি কোনোটির চেয়ে তাঁর অধিক নিকটবর্তী হওয়া।
মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় যারা তোমার প্রতিপালকের সান্নিধ্যে রয়েছে, তারা তাঁর ইবাদত করতে অহংকার করে না এবং তারা তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে আর তাঁরই প্রতি সিজদাবনত হয়} ৫।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সব তাঁরই। আর যারা তাঁর সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তাঁর ইবাদতে অহংকার করে না এবং ক্লান্তও হয় না} ৬। সুতরাং তিনি —সুবহানাহু— এই দুটি আয়াতে সাধারণভাবে তাঁর মালিকানাধীন সৃষ্টি এবং বিশেষভাবে তাঁর সান্নিধ্যে থাকা ফেরেশতা ও বান্দাদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন।
অষ্টম: মহান আল্লাহর স্পষ্ট ঘোষণা যে, তিনি আসমানে রয়েছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
قال تعالى: {أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ * أَمْ أَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِباً فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ} 1.
فهاتان الآيتان صريحتان في أن الله ـ تعالى ـ في السماء فلا تقبلان جدلاً ولا تأويلاً لأن "من" فيهما لا يمكن أن يراد بهما سوى ـ الرب جل شأنه ـ لا ملكه ولا أمره كما يزعم ذلك المعطلة النفاة.
وفي في الآيتين إما أن تكون بمعنى الظرفية، ويكون المراد بالسماء العلو.
وإما أن يراد بها معنى "على" ويكون المراد بالسماء المبنية.
وليس في هذا خلاف عند أهل الحق من أهل السنة والجماعة، ولا يجوز الحمل على غير ذلك.
تاسعاً: تصريحه تعالى بأنه يدبر الأمر من السماء إلى الأرض ثم يعرج إليه. قال تعالى: {يُدَبِّرُ الأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ} 2.
واللغة العربية التي خاطبنا الله بها وفهمها العرب الفصحاء تبين بأن تدبير أمر السماء إلى الأرض إنما يدبره المدبر وهو في السماء لا في الأرض والمعروف عند العرب أن المعارج هي المصاعد.
عاشراً: إخباره ـ تعالى ـ عن فرعون أنه حاول الصعود إلى السماء ليطلع إلى إله موسى فيكذبه فيما أخبره به ممن أنه ـ سبحانه ـ فوق السموات قال تعالى حكاية عن فرعون: {يَا هَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحاً لَعَلِّي أَبْلُغُ الأَسْبَابَ * أَسْبَابَ السَّمَاوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لأَظُنُّهُ كَاذِباً} 3.
فالذي ينفي العلو من الجهمية فهو فرعوني، والذي أثبته فهو موسوي محمدي.
قال الإمام عثمان بن سعيد الدارمي:
"ففي هذه الآية بيان بين، ودلالة ظاهرة أن موسى كان يدعو فرعون إلى معرفة الله بأنه
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরা কি তাঁর থেকে নিরাপদ হয়ে গেছ যিনি আকাশে আছেন, যে তিনি তোমাদেরকে জমিনসহ ধসিয়ে দেবেন না? এমতাবস্থায় তা প্রকম্পিত হতে থাকবে। নাকি তোমরা তাঁর থেকে নিরাপদ হয়ে গেছ যিনি আকাশে আছেন, যে তিনি তোমাদের ওপর পাথর বর্ষণকারী ঝঞ্ঝাবায়ু পাঠাবেন না? তখন তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে আমার সতর্কবাণী কেমন ছিল।" ১।
এই আয়াত দুটি আল্লাহ তাআলা আকাশে থাকার ব্যাপারে সুস্পষ্ট; সুতরাং এগুলো কোনো বিতর্ক কিংবা ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না। কারণ এই আয়াত দুটিতে 'যিনি' (মান) বলতে মহান রব ছাড়া অন্য কাউকে বোঝানো সম্ভব নয়—তাঁর কোনো ফেরেশতা বা তাঁর কোনো নির্দেশ এখানে উদ্দেশ্য নয়, যেমনটি গুণাবলি অস্বীকারকারী মুয়াত্তিলাগণ দাবি করে থাকে।
আর এই আয়াত দুটিতে 'আকাশে' (ফি) শব্দটি হয় আধার বা স্থান অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, সেক্ষেত্রে আকাশ বলতে উচ্চতা বোঝানো হয়েছে।
অথবা এটি 'উপরে' (আলা) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে আকাশ বলতে সুউচ্চ আকাশসমূহকে বোঝানো হয়েছে।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সত্যপন্থীদের নিকট এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই এবং এটি ছাড়া অন্য কোনো অর্থে গ্রহণ করা বৈধ নয়।
নবমত: আল্লাহ তাআলার সুস্পষ্ট ঘোষণা যে, তিনি আকাশ থেকে জমিন পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর দিকেই আরোহণ করে। মহান আল্লাহ বলেন: "তিনি আকাশ থেকে জমিন পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর দিকেই আরোহণ করে।" ২।
আরবি ভাষা, যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের সম্বোধন করেছেন এবং যা বিশুদ্ধ ভাষী আরবরা বুঝেছেন, তা স্পষ্ট করে দেয় যে আকাশ থেকে জমিন পর্যন্ত বিষয়াবলি তিনিই পরিচালনা করেন যিনি আকাশে আছেন, জমিনে নন। আর আরবদের নিকট সুপরিচিত যে 'মাআরিজ' মানে হলো ওপরে ওঠার সিঁড়ি বা সোপান।
দশমত: মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরাউন সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া যে, সে আকাশে ওঠার চেষ্টা করেছিল যাতে মূসার ইলাহকে দেখতে পায় এবং মূসা তাঁকে (আল্লাহকে) আকাশমন্ডলীর উপরে হওয়ার ব্যাপারে যা সংবাদ দিয়েছিলেন তাতে তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করতে পারে। আল্লাহ তাআলা ফেরাউনের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন: "হে হামান, আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ তৈরি করো, হয়তো আমি পৌঁছাতে পারব সেই সব পথে—আকাশমন্ডলীর পথসমূহে, যাতে আমি উঁকি দিয়ে দেখতে পারি মূসার ইলাহকে; তবে আমি তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি।" ৩।
সুতরাং জাহমিয়াদের মধ্যে যারা আল্লাহর উচ্চতাকে অস্বীকার করে, তারা ফেরাউনের অনুসারী; আর যারা তা সাব্যস্ত করে, তারা মূসা ও মুহাম্মাদী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদর্শের অনুসারী।
ইমাম উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি বলেন:
"এই আয়াতে সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং প্রকাশ্য দলিল রয়েছে যে, মূসা ফেরাউনকে আল্লাহর পরিচয় সম্পর্কে এই দাওয়াত দিচ্ছিলেন যে তিনি—"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فوق السماء فمن أجل ذلك أمر ببناء الصرح ورام الإطلاع وكذلك نمروذ فرعون إبراهيم، اتخذ التابوت والنسور ورام الإطلاع إلى الله لما كان يدعو إبراهيم إلى معرفته في السماء"1.
الحادي عشر: من الأدلة الدالة على علوه تعالى إخباره ـ تعالى ـ بأنه استوى على عرشه الذي هو أعلى مخلوقاته وقد ذكر هذه الصفة في كتابه في مواضع سبعة من كتابه، ومن العجيب أن الله ـ تعالى ـ ما يذكر هذه الصفة إلا وهي مقرونة بما ببهر العقول من صفات جلاله وكماله فهي صفة من صفات المدح التي مدح الله بها نفسه ـ سبحانه ـ وإليك المواضع التي ذكرت فيها صفة الاستواء الدالة على علوه ـ تعالى ـ.
1ـ قال تعالى: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثاً وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلا لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} 2.
فهل لأحد أن يتجرأ وينفي هذه الصفة التي دلت على الجلال والكمال اللهم إلا من كان من أهل الزيغ والضلال.
2ـ قوله تعالى: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الأَمْرَ مَا مِنْ شَفِيعٍ إِلَاّ مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ} 3.
3ـ قال تعالى: {الله الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأجَلٍ مُسَمّىً} 4.
4ـ قال تعالى: {طه * مَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَى * إِلَاّ تَذْكِرَةً لِمَنْ يَخْشَى * تَنْزِيلاً مِمَّنْ خَلَقَ الأَرْضَ وَالسَّمَاوَاتِ الْعُلَى * الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} 5.
5 ـ قال تعالى: {وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لا يَمُوتُ وَسَبِّحْ بِحَمْدِهِ وَكَفَى بِهِ بِذُنُوبِ
--------------------------------------------
আসমানের উপরে। আর সেই কারণেই তিনি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং উঁকি দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। একইভাবে ইব্রাহিমের ফেরাউন নমরুদও সিন্দুক ও ইগল পাখি গ্রহণ করেছিল এবং আল্লাহর দিকে উঁকি দিয়ে দেখতে চেয়েছিল যখন ইব্রাহিম তাকে আসমানে তাঁর পরিচয়ের দিকে আহ্বান করছিলেন।"১
একাদশ: মহান আল্লাহর উচ্চতা সাব্যস্তকারী দলীলসমূহের মধ্যে রয়েছে তাঁর এই সংবাদ প্রদান যে, তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন, যা তাঁর মাখলুকাতের মধ্যে সর্বোচ্চ। তিনি তাঁর কিতাবে সাতটি স্থানে এই সিফাতটি উল্লেখ করেছেন। এটি আশ্চর্যের বিষয় যে, আল্লাহ তায়ালা যখনই এই সিফাতটি উল্লেখ করেছেন, তখনই তাঁর মহিমা ও পূর্ণতার এমন সব গুণাবলির সাথে মিলিয়ে উল্লেখ করেছেন যা জ্ঞানকে অভিভূত করে দেয়। এটি প্রশংসামূলক গুণাবলির একটি যার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নিজের প্রশংসা করেছেন। নিম্নে ঐ স্থানগুলো উল্লেখ করা হলো যেখানে আরশের উপরে উঠার গুণের কথা বলা হয়েছে যা তাঁর সুউচ্চ হওয়ার প্রমাণ দেয়।
১- মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর আরশের উপর উঠেছেন। তিনি রাতকে দিন দিয়ে ঢেকে দেন, যা দ্রুতগতিতে এর অনুসরণ করে। আর সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্ররাজি তাঁরই আদেশের অনুগত। জেনে রেখো, সৃষ্টি করা ও আদেশ দেওয়া কেবল তাঁরই কাজ। জগতসমূহের রব আল্লাহ বরকতময়।} ২
তবে কি এমন কেউ আছে যে সাহস করে এই গুণটিকে অস্বীকার করবে যা মহিমা ও পূর্ণতা নির্দেশ করে? কেবল পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত লোকেরা ছাড়া কেউ এমনটা করবে না।
২- মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর আরশের উপর উঠেছেন। তিনি সব কাজ পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করার মতো কেউ নেই।} ৩
৩- মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহই আকাশমন্ডলীকে খুঁটি ছাড়াই উচ্চে স্থাপন করেছেন যা তোমরা দেখছ, এরপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন এবং সূর্য ও চাঁদকে নিয়মাধীন করেছেন; প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবর্তন করবে।} ৪
৪- মহান আল্লাহ বলেন: {ত্বা-হা। আমি আপনার প্রতি কুরআন এই জন্য নাযিল করিনি যে আপনি কষ্ট পাবেন। বরং তাদের জন্য উপদেশস্বরূপ যারা ভয় করে। এটি তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ যিনি জমিন ও সুউচ্চ আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন। পরম দয়াময় আরশের উপর উঠেছেন।} ৫
৫ - মহান আল্লাহ বলেন: {আর আপনি সেই চিরঞ্জীবের ওপর ভরসা করুন যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না এবং তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন। বান্দাদের গোনাহ সম্পর্কে তিনিই যথেষ্ট...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
عِبَادِهِ خَبِيراً * الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَنُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيراً} 1.
6 ـ وقال تعالى: {اللهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ مَا لَكُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلا شَفِيعٍ أَفَلا تَتَذَكَّرُونَ} 2.
7 ـ وقال تعالى: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} 3.
فهذه سبعة مواضع في كتاب الله ـ تعالى ـ أثبت الله ـ تعالى ـ لنفسه فيها صفة الاستواء، وهي تدل دلالة واضحة وصريحة على علوه تعالى فوق جميع مخلوقاته، كما تدل على أنه ـ تعالى ـ مستو على عرشه استواءً يليق بجلاله من غير تكييف، ولا تمثيل، ولا تحريف ولا تعطيل.
قال العلامة ابن القيم4 رحمه الله تعالى: " واستواءه وعلوه على عرشه سلام من أن يكون محتاجاً إلى ما يحمله، أو يستوي عليه، بل العرش محتاج إليه، وحملته محتاجون إليه فهو الغنى عن العرش وعن حملته وعن كل ما سواه، فهو استواء وعلو لا يشوبه حصر ولا حاجة إلى عرش ولا غيره ولا إحاطة شيء به ـ سبحانه ـ وتعالى، بل كان ـ سبحانه ـ ولا عرش، ولم يكن به حاجة إليه وهو الغني الحميد بل استواؤه على عرشه واستيلاؤه على خلقه من موجبات ملكه وقهره من غير حاجة إلى عرش ولا غيره بوجه ما"5. أ. هـ
--------------------------------------------
তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত। যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি পরম করুণাময়; সুতরাং তাঁর সম্পর্কে যিনি অবগত তাকে জিজ্ঞেস করো।} ১.
৬ — এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ তিনি, যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই। তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?} ২.
৭ — এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তিনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশের উপর উঠেছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে নির্গত হয়, আর যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় এবং যা তাতে আরোহণ করে। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন। আর তোমরা যা কিছু করো, আল্লাহ তা দেখেন।} ৩.
আল্লাহ তাআলার কিতাবে এই সাতটি স্থান রয়েছে যেখানে আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য ‘আরশের উপর উঠার’ গুণটি সাব্যস্ত করেছেন। এই আয়াতগুলো সমস্ত সৃষ্টির উপরে আল্লাহ তাআলার উচ্চমর্যাদার ওপর সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য প্রমাণ বহন করে। এর দ্বারা আরও প্রমাণিত হয় যে, তিনি তাঁর আরশের ওপর এমনভাবে উঠেছেন যা তাঁর মহান সত্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; কোনো ধরণ-প্রকৃতি নির্ধারণ, সাদৃশ্য প্রদান, বিকৃতি বা অস্বীকার ব্যতিরেকে।
আল্লামা ইবনুল কায়্যিম ৪ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আরশের ওপর তাঁর উঠা এবং সুউচ্চ হওয়া এমন যে, তিনি এর দ্বারা কোনো বহনকারীর প্রতি বা যার ওপর উঠেছেন তার প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। বরং আরশই তাঁর মুখাপেক্ষী এবং আরশ বহনকারীরাও তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি আরশ, এর বহনকারী এবং অন্য সবকিছু থেকেই অমুখাপেক্ষী। সুতরাং এটি এমন এক উঠা এবং উচ্চতা যার মধ্যে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, আরশের প্রতি বা অন্য কিছুর প্রতি কোনো মুখাপেক্ষিতা নেই এবং কোনো কিছু তাঁকে পরিবেষ্টন করে নেই—তিনি পবিত্র ও মহান। বরং তিনি অনাদি কাল থেকেই আছেন যখন আরশ ছিল না এবং আরশের প্রতি তাঁর কোনো প্রয়োজনও ছিল না। তিনি অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত। মূলত তাঁর আরশের ওপর উঠা এবং তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর কর্তৃত্ব তাঁর রাজত্ব ও প্রতাপের অনিবার্য দাবি, যা কোনোভাবেই আরশ বা অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী হওয়া ছাড়াই সাব্যস্ত।" ৫. সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وقال عثمان بن سعيد الدارمي بعد أن ساق كثيراً من الآيات الدالة على علو الله ـ تعالى ـ راداً على الجهمية ومبيناً بطلان مذهبهم في إنكار صفة العلو: " أقرت هذه العصابة ـ يعني الجهمية ـ بهذه الآيات بألسنتها وادعوا الإيمان بها، ثم نقضوا دعواهم بدعوى غيرها، فقالوا: الله في كل مكان لا يخلو منه مكان قلنا قد نقضتم دعواكم بالإيمان باستواء الرب على عرشه إذا ادعيتم أنه في كل مكان فقالوا: تفسيره عندنا: أنه استولى عليه وعلاه. قلنا فهل من مكان لم يستول عليه ولم يعله حتى خص العرش من بين الأمكنة بالاستواء عليه؟.
وكرر ذكره في مواضع كثيرة من كتابه فأي معنى إذاً لخصوص العرش إذا كان عندكم مستوياً على جميع الأشياء وكاستوائه على العرش تبارك وتعالى هذا محال وباطل في الكلام"1. أ. هـ.
فلو كان ـ الباري سبحانه وتعالى في كل مكان على حسب زعم الجهمية لجعل كل شيء دكاً فإنه حين سأله كليمه موسى عليه السلام أن يريه ينظر إليه قال له: {قَالَ لَنْ تَرَانِي وَلَكِنِ انْظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكّاً وَخَرَّ مُوسَى صَعِقاً فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ} 2.
قال ابن خزيمة في معنى هذه الآية "أفليس العلم محيطاً يا ذوي الألباب أن الله عز وجل لو كان في كل موضع ومع كل بشر وخلق كما زعمت ـ الجهمية ـ المعطلة لكان متجلياً لجميع أرضه سهلها ووعرها وجبالها وبراريها ومفاوزها ومدنها وقراها وعمارتها وخرابها وجميع ما فيها من نبات وبناء لجعلها دكاً كما جعل الله الجبل الذي تجلى له دكاً" أ. هـ3.
وبالجملة فظاهر القرآن يدل على إثبات علو الله تبارك وتعالى وأنه على عرشه الذي هو أعلى المخلوقات وهو ـ سبحانه ـ بائن من خلقه ويغنينا في ذلك التنزيل ولا حاجة لنا إلى تأويل المكذبين به في أنفسهم ويتسترون عن ذلك باسم التأويل وليس هو تأويلاً، وإنما هو تحريف وتعطيل وتبديل.
--------------------------------------------
ওসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি আল্লাহর উচ্চতার (উলুউ) প্রমাণকারী অনেক আয়াত উল্লেখ করার পর এবং জাহমিয়্যাহদের প্রতিবাদে ও আল্লাহর উচ্চতার গুণ অস্বীকার করার বিষয়ে তাদের মতবাদের অসারতা বর্ণনা করে বলেন: “এই দলটি — অর্থাৎ জাহমিয়্যাহরা — তাদের জিহ্বা দিয়ে এই আয়াতগুলো স্বীকার করেছে এবং এগুলোর প্রতি ঈমানের দাবি করেছে, অতঃপর তারা অন্য দাবির মাধ্যমে তাদের সেই দাবিকে বাতিল করেছে। তারা বলল: আল্লাহ সব জায়গায় আছেন, কোনো স্থানই তাঁর থেকে খালি নয়। আমরা বললাম: যখন আপনারা দাবি করলেন যে তিনি সব জায়গায় আছেন, তখন আপনারা রবের আরশের ওপর ওঠার (ইস্তিওয়া) প্রতি ঈমানের দাবিকে ভঙ্গ করেছেন। তারা বলল: আমাদের নিকট এর ব্যাখ্যা হলো: তিনি এর ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছেন এবং এর উপরে উঠেছেন। আমরা বললাম: তবে এমন কোনো জায়গা কি আছে যার ওপর তিনি আধিপত্য বিস্তার করেননি এবং যার উপরে ওঠেননি, যার কারণে তিনি সকল স্থানের মধ্য থেকে আরশের ওপর ওঠাকে নির্দিষ্ট করলেন?
এবং তিনি তাঁর কিতাবের অনেক স্থানে এর পুনরাবৃত্তি করেছেন। তবে আরশকে নির্দিষ্ট করার অর্থ কী থাকল, যদি আপনাদের নিকট তিনি সবকিছুর ওপর সমভাবে উঠে থাকেন যেমনটি তিনি আরশের ওপর উঠেছেন? আল্লাহ বরকতময় ও সুউচ্চ, এটি কথাবার্তায় অসম্ভব ও বাতিল।” ১. সমাপ্ত।
সুতরাং স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলা যদি জাহমিয়্যাহদের দাবি অনুযায়ী সব জায়গায় থাকতেন, তবে তিনি সবকিছুকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতেন। কারণ যখন তাঁর সাথে কথোপকথনকারী মূসা আলাইহিস সালাম তাঁকে দেখার এবং তাঁর দিকে তাকানোর প্রার্থনা করেছিলেন, তখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন: {তুমি আমাকে কখনোই দেখতে পাবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও; যদি তা নিজ জায়গায় স্থির থাকে তবে তুমি আমাকে দেখতে পাবে। অতঃপর যখন তাঁর রব পাহাড়ের ওপর জ্যোতি প্রকাশ করলেন, তখন তিনি পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে এল তখন তিনি বললেন: আপনি অতি পবিত্র, আমি আপনার কাছে তওবা করছি এবং আমিই মুমিনদের মধ্যে প্রথম।} ২.
এই আয়াতের অর্থ সম্পর্কে ইবনে খুজায়মাহ বলেন: “হে বিবেকবানগণ! জ্ঞান কি একথা পরিবেষ্টন করে নেই যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যদি সব স্থানে এবং প্রত্যেক মানুষ ও সৃষ্টির সাথে থাকতেন — যেমনটি অস্বীকারকারী জাহমিয়্যাহরা দাবি করে — তবে তিনি তাঁর সমস্ত জমিন, সমতল ও বন্ধুর পথ, পাহাড়, মরুভূমি, প্রান্তর, শহর, গ্রাম, আবাদি ও জনশূন্য এলাকা এবং তাতে যা কিছু গাছপালা ও দালানকোঠা আছে তার সবকিছুর ওপর প্রকাশ পেতেন এবং সেই সবকিছুকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতেন, যেমনটি আল্লাহ সেই পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছিলেন যার ওপর তিনি জ্যোতি প্রকাশ করেছিলেন।” সমাপ্ত। ৩.
মোদ্দাকথা হলো, কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার উচ্চতা প্রমাণের ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং এটিই নির্দেশ করে যে তিনি তাঁর আরশের ওপরে আছেন যা সকল সৃষ্টির ঊর্ধ্বে। আর তিনি — সুবহানাহু — তাঁর সৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। এ বিষয়ে ওহীই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং যারা মনে মনে একে অস্বীকার করে তাদের অপব্যাখ্যার আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। তারা একে ব্যাখ্যার নামে চালিয়ে দেয় অথচ তা ব্যাখ্যা নয়, বরং তা হলো বিকৃতি, গুণ অস্বীকার করা এবং পরিবর্তন সাধন করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিসুল আকিদাহ ফী সূরাতিয যুমার
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
والقاري للكتب التي ألفت في أسباب نزول آيات القرآن يجد أن الصحابة الذين فسروا كتاب الله ـ تعالى ـ وبينوا أحكامه، وفرائضه وحدوده، يقولون: نزلت آية كذا في كذا، ونزلت سورة كذا في مكان كذا ولم ينقل عن أحد منهم أنه قال: طلعت من تحت الأرض، ولا جاءت من أمام، ولا من خلف بل كل الآيات والسور يذكرون أنها نزلت من فوق لا من تحت الأرض، ولا خرجت منها.
وقد بين النبي صلى الله عليه وسلم في أحاديث كثيرة أن الله ـ تعالى ـ متصف بصفة العلو والفوقية ومن تلك الأحاديث ما يلي:
1 ـ حديث معاوية بن الحكم السلمي قال: "كانت لي غنم بين أحد والجوانية1 فيها جارية لي، فأطلعتها ذات يوم فإذا الذئب قد ذهب منها بشاة ـ وأنا رجل من بني آدم ـ فصككتها، فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم فذكرت ذلك له، فعظَّم ذلك عليّ فقلت يا رسول الله أفلا أعتقها؟ قال: ادعها: فدعوتها فقال لها أين الله؟ قالت في السماء. قال: من أنا؟ قالت: رسول الله. قال: اعتقها فإنها مؤمنة"2.
فهذا الحديث من أنصع الأدلة وضوحاً على إبطال مذهب الجهمية وهو صفعة قوية لأهل التعطيل على رؤوسهم حيث شهد الرسول صلى الله عليه وسلم للجارية بالإيمان حين وجّه لها سؤالين اختبر بهما إيمانها، ولما نجحت في الإجابة عليهما، وبالأخص السؤال الأول حيث أجابت بأن الله ـ تعالى ـ في السماء فرضي عليه الصلاة والسلام إجابتها وأقرها عليها وشهد لها بالإيمان، وفي الحقيقة أن إجابة تلك الجارية لا يستطيع أن يجيب بها جهمي، ومن يدور في ركابه لما حل في قلبه من الإعتقاد الفاسد لأنه يعتقد أن الله ـ جل وعلا ـ في كل مكان ولو سألت معطلاً وقلت له أين الله؟ لقال: لا يسأل عن الله بأين. قال عثمان بن سعيد الدارمي بعد سياقه لحديث معاوية بن الحكم السلمي:"ففي حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا دليل على أن الرجل إذا لم يعلم أن الله في السماء دون الأرض فليس بمؤمن ولو كان عبداً فأعتق لم يجز في رقبة مؤمنة إذ لا يعلم أن الله في السماء"3. أ. هـ.
لو كان الله في الأرض كما يدعيه ضلال الجهمية لأنكر عليها الرسول صلى الله عليه وسلم وعلّمها،
--------------------------------------------
কুরআনের আয়াতের শানে নুযূল (অবতরণের প্রেক্ষাপট) সম্পর্কে রচিত গ্রন্থাবলির পাঠক দেখতে পাবেন যে, সাহাবীগণ—যারা মহান আল্লাহর কিতাবের তাফসীর করেছেন এবং এর বিধান, ফরয ও সীমাগুলো বর্ণনা করেছেন—তারা বলেন: অমুক আয়াত অমুক বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, অমুক সূরা অমুক স্থানে অবতীর্ণ হয়েছে। তাদের কারো থেকে এমনটি বর্ণিত হয়নি যে তিনি বলেছেন: এটি জমিনের নিচ থেকে উদিত হয়েছে, কিংবা সামনে বা পেছন থেকে এসেছে। বরং তারা সকল আয়াত ও সূরার ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তা উপর থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, জমিনের নিচ থেকে নয় এবং তা সেখান থেকে বেরও হয়নি।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বহু হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা উচ্চতা ও উপরিত্বের গুণে গুণান্বিত। সেই হাদীসগুলোর মধ্যে নিম্নোক্তটি অন্তর্ভুক্ত:
১ — মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রা.)-এর হাদীস, তিনি বলেন: "উহুদ ও জাওয়ানিয়্যাহর১ মাঝে আমার কিছু বকরি ছিল এবং সেখানে আমার একজন দাসী ছিল। একদিন আমি তাকে দেখতে গেলাম এবং দেখলাম যে নেকড়ে বাঘ সেখান থেকে একটি বকরি নিয়ে গেছে—আর আমি তো আদম সন্তানদেরই একজন মানুষ (তাই রাগের মাথায়)—আমি তাকে একটি চড় মারলাম। অতঃপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বিষয়টি তাঁকে জানালাম। তিনি বিষয়টিকে আমার জন্য গুরুতর (অন্যায়) হিসেবে গণ্য করলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাকে মুক্ত করে দেব না? তিনি বললেন: তাকে ডাকো। আমি তাকে ডাকলাম, তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহ কোথায়? সে বলল: আকাশে। তিনি বললেন: আমি কে? সে বলল: আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: একে মুক্ত করে দাও, কেননা সে একজন মুমিনাহ (ঈমানদার নারী)।"২
এই হাদীসটি জাহমিয়া মতবাদ বাতিলের ক্ষেত্রে সুস্পষ্টতম প্রমাণসমূহের অন্যতম এবং এটি আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারীদের (আহলুত তা’তীল) মস্তকে একটি শক্তিশালী চপেটাঘাত। কেননা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই দাসীর ঈমানের সাক্ষ্য দিয়েছেন যখন তিনি তাকে দুটি প্রশ্ন করেছিলেন যার মাধ্যমে তার ঈমান পরীক্ষা করা হয়েছিল। যখন সে এগুলোর উত্তর দিতে সফল হলো, বিশেষ করে প্রথম প্রশ্নটি—যেখানে সে উত্তর দিয়েছিল যে আল্লাহ তাআলা আকাশে—তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার উত্তরে সন্তুষ্ট হলেন, তা সমর্থন করলেন এবং তার ঈমানের সাক্ষ্য দিলেন। প্রকৃতপক্ষে, সেই দাসীর দেওয়া উত্তরের মতো উত্তর কোনো জাহমি বা তার অনুসারীরা দিতে পারবে না, কারণ তাদের অন্তরে ভ্রান্ত আকিদা বাসা বেঁধেছে। কেননা সে বিশ্বাস করে যে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা সর্বত্র বিরাজমান। আপনি যদি কোনো গুণ অস্বীকারকারীকে জিজ্ঞেস করেন, 'আল্লাহ কোথায়?', তবে সে বলবে: 'আল্লাহর ব্যাপারে কোথায় দিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না।' মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামীর হাদীসটি উল্লেখ করার পর উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারেমী বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই হাদীসে এ কথার প্রমাণ রয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি না জানে যে আল্লাহ জমিনে নন বরং আকাশে, তবে সে মুমিন নয়। আর যদি সে ক্রীতদাস হয় এবং তাকে মুক্ত করা হয়, তবে মুমিন দাস মুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট হবে না, যেহেতু সে জানে না যে আল্লাহ আকাশে।"৩ সমাপ্ত।
আল্লাহ যদি জমিনেই হতেন যেমনটি পথভ্রষ্ট জাহমিয়ারা দাবি করে, তবে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবশ্যই তাকে নিষেধ করতেন এবং তাকে সঠিক শিক্ষা দিতেন,
--------------------------------------------