(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: -)
دلائل الإعجاز ت شاكر   (عبد القاهر الجرجاني)

القسم: البلاغة


الكتاب: دلائل الإعجاز في علم المعاني

المؤلف: أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن بن محمد الفارسي الأصل، الجرجاني الدار (ت 471 هـ)

المحقق: محمود محمد شاكر أبو فهر

الناشر: مطبعة المدني بالقاهرة - دار المدني بجدة

الطبعة: الثالثة 1413 هـ - 1992 م

عدد الصفحات: 684

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 ذو القعدة 1432

দালায়েলুল ইজায (শাখের সংস্করণ)   (আবদুল কাহের আল-জুরজানি)

বিভাগ: বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র)


গ্রন্থ: ইলমুল মা’আনিতে দালায়েলুল ইজায

লেখক: আবু বকর আবদুল কাহের বিন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ, মূলত পারস্য বংশোদ্ভূত এবং জুরজানের অধিবাসী (মৃত্যু ৪৭১ হিজরি)

সম্পাদক: মাহমুদ মুহাম্মদ শাখের আবু ফাহর

প্রকাশক: মাতবাআতুল মাদানি, কায়রো - দারুল মাদানি, জেদ্দা

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ যিলকদ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: -)
ـ[دلائل الإعجاز في علم المعاني]ـ

المؤلف: أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن بن محمد الفارسي الأصل، الجرجاني الدار (المتوفى: 471هـ)

المحقق: محمود محمد شاكر أبو فهر

الناشر: مطبعة المدني بالقاهرة - دار المدني بجدة

الطبعة: الثالثة 1413هـ - 1992م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[অর্থবিজ্ঞানে অলৌকিকত্বের প্রমাণসমূহ]

লেখক: আবু বকর আব্দুল কাহির বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-ফারিসি আল-আসলি, আল-জুরজানি আদ-দারি (মৃত্যু: ৪৭১ হিজরি)

সম্পাদক: মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির আবু ফিহর

প্রকাশক: মাতবাআ আল-মাদানি, কায়রো - দার আল-মাদানি, জেদ্দা

সংস্করণ: তৃতীয় সংস্করণ ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি টীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ৩)
- أ -

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة

تبارَكَ الَّذِى نزَّل الفُرْقَانَ على عَبْدِه لِيكونَ للعالمينَ نَذِيرا، والحمدُ لله الذى هدانَا بِه وأخْرجَنا من الظلُماتِ إلى النُّورِ، وصلَّى الله على نبينا محمّد الذى نَزَل القرآنُ العظيمُ بلسانِه لسانا عربيًّا مُبِيناً، لا يأتِيه الباطِلُ من بَيْن يَدَيه ولا من خَلْفه، اللهمَّ صَلِّ على محمّدٍ وعلى أبَويْه إبرهيِمَ وإسماعيلَ وسلِّم تسليما كثيراً. اللهمَّ اغْفِرْ لنا وارحَمنا وأنتَ خيرُ الراحمين.

وبعدُ فمنذ دهر بعيد، حين شققتُ طريقى إلى تذوُّق الكلام المكتوب، منظومه ومنثوره، كان من أوائل الكتب التى عكفتُ على تذوُّقها كتاب " دلائل الإعجاز"، للشيخ الإمام " أبى بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن الجرجانى "، الأديبِ النحوي، والفقيهِ الشافعى، والمُتكلِّمِ الأشعرىِّ [توفى سنة 471 هـ، أو سنة 474 هـ]، ويومئذٍ تنبَّهتُ لأربعة أمور:

الأوّل: أنه بدَا لىَ أن عبد القاهر كان يريدُ أن يؤسس بكتابه هذا علما جديداً استدرَكَهُ على من سبقه من الأئمة الذين كتبُوا فى " البلاغة " وفى " إعجاز القرآن "، ولكن كان غريباً عندى أشدَّ الغرابة، أنه لم يَسِرْ في بناءِ كتابه سيرةَ من من يؤسس علماً جديداً، كالذى فعله سيبويه فى كتابه العظيم، أو ما فعله أبو الفتح ابن جِنى فى كتابه " الخصائص "، أو كالذى فعله عبد القاهر نفسُه فى كتابه " أسرار البلاغة "، بل كانَ عملُه وهو يؤسس هذا العلمَ الجديد، مَشُوباً بحميَّة جارفةٍ لا تعرف الأناةَ فى التبويب والتقسيم والتصنيف، وكأنه كانَ في عَجَلةٍ من أمره، وكأنّ منازعا كان يُنازعُهُ عند كُلّ فكرةٍ يريدُ أن يُجَلّيَها ببراعته وذكائه وسُرعة لَمْحه، وبقوّةِ حُجَّته ومضاءِ رأيه.
- অ -

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

মহা মহিমান্বিত সেই সত্তা, যিনি তাঁর দাসের ওপর সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী কিতাব (ফুরকান) অবতীর্ণ করেছেন, যেন তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এর মাধ্যমে আমাদের পথপ্রদর্শন করেছেন এবং আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন। আর আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যাঁর জবানিতে মহান কুরআন সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না। হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মাদ এবং তাঁর দুই পূর্বপুরুষ ইব্রাহিম ও ইসমাইলের ওপর দরুদ ও প্রচুর সালাম বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন, আর আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।

অতঃপর, দীর্ঘকাল আগে, যখন আমি লিখিত বক্তব্যের স্বাদ আস্বাদনের পথে—তা কাব্য হোক বা গদ্য—যাত্রা শুরু করেছিলাম, তখন যেসব প্রাথমিক কিতাব আমি গভীর মনোযোগের সাথে আস্বাদন করেছি, তার মধ্যে অন্যতম ছিল শায়খ ইমাম "আবু বকর আব্দুল কাহির ইবনে আব্দুর রহমান আল-জুরজানি"-এর কিতাব "দালাইলুল ই'জায"। তিনি ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, ব্যাকরণবিদ, শাফিঈ ফকিহ এবং আশআরি ধর্মতাত্ত্বিক [মৃত্যু: ৪৭১ হিজরি অথবা ৪৭৪ হিজরি]। সে সময় আমি চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করি:

প্রথমত: আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, আব্দুল কাহির তাঁর এই কিতাবের মাধ্যমে একটি নতুন শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করতে চেয়েছিলেন, যা তিনি তাঁর পূর্ববর্তী ইমামদের ওপর সংযোজন হিসেবে পেশ করেছেন, যারা "বালাগাত" (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও "ই'জাজুল কুরআন" (কুরআনের অলৌকিকত্ব) বিষয়ে লিখেছিলেন। কিন্তু আমার কাছে বিষয়টি চরম বিস্ময়কর মনে হয়েছে যে, নতুন শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপনকারীদের মতো তিনি তাঁর কিতাবটির বিন্যাসে চলেননি; যেমনটি সিবওয়াইহ তাঁর মহান কিতাবে করেছেন, অথবা আবুল ফাতহ ইবনে জিননি তাঁর "আল-খাসায়েস" কিতাবে করেছেন, কিংবা স্বয়ং আব্দুল কাহির তাঁর "আসরারুল বালাগাত" কিতাবে করেছেন। বরং এই নতুন শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপনের সময় তাঁর কাজটি ছিল এক প্রবল আবেগে ভরপুর, যা অধ্যায় বিন্যাস, বিভাজন ও শ্রেণিকরণে কোনো ধীরস্থিরতা জানত না। যেন তিনি অত্যন্ত তড়িঘড়ি ছিলেন, এবং প্রতিটি চিন্তা—যা তিনি তাঁর দক্ষতা, মেধা ও প্রখর অন্তর্দৃষ্টি এবং প্রমাণের শক্তি ও মতামতের দৃঢ়তা দিয়ে স্পষ্ট করতে চেয়েছিলেন—তা উপস্থাপনের সময় যেন কোনো প্রতিপক্ষ তাঁর সাথে বিতর্কে লিপ্ত ছিল।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ৪)
-ب -

 

الثاني: أني وقفت في كتابه على أقوال كثيرة لم ينسبها بصريح البيان إلى أصحابها، حتى نتبين من يكون هؤلاء؟ وكان من أعظم ما حيرني قولان رددهما في مواضع كثيرة من كتابه؛ بل إن الكتاب كله يدور على رد هذين القولين وإبطال معناها؛ الأول قول القائل: "إنَّ المعاني لا تَتزايد، وإِنما تتزايدُ الألفاظُ"، [دلائل الإعجاز: 63، 395] = الثاني، قول القائل: "إنَ الفصاحةَ لا تَظْهرُ في أفرادِ الكلماتِ، ولكن تظهر بالضم على طريقة مخصوصة"، [دلائل الإعجاز: 394، 466، 467].

الثالث: أن عبد القاهر جمع هذين القولين في فصل واحد، [ص: 394، 395]، وجمع معهما قوله: "ثم إن هذه الشائعات التي تقدَّمَ ذِكْرُها، تَلزَمُ أصحابَ الصَّرْفة"، أيضاً" [ص: 390]، والقول بالصرفة من أقوال المعتزلة، فبدا لي يومئذ أن بين هذين القولين وأصحاب "الصرفة" من المعتزلة نسبًا، ولكني لم أقف على ما يرضيني إن ذهبت هذا المذهب.

الرابع: أن عبد القاهر في مواضع متناثرة كثيرة، قد دأب على التعريض بأصحاب "اللفظ"، وبالذين يقولون: "بالضم على طريقة مخصوصة"، وأوهموا أنه "النظم" الذي ذكره الجاحظ في صفة القرآن [دلائل الإعجاز: 251]، وهو أيضًا "النظم" الذي عليه مدار علم عبد القاهر الذي أسسه، فكان مما شغلني، أطول كلام من تعريضه بهم، وهو ما جاءني في أواخر كتابه "دلائل الإعجاز"، وهو قوله:

"واعلمْ أَن القولَ الفاسِدَ والرأيَ المدخولَ إِذا كان صَدَرَه عن قوم لهم نَباهةٌ وصيتٌ وعلوٌّ منزلةٍ في نوع من أنواع العلوم غير العمل الذي قالوا ذلك القولَ فيه، ثم وقَعَ في الأَلْسُن، فتداولتْه ونَشرَتْه، وفشَا وظَهَر، وكَثُرَ الناقلون له والمشيدون بذكره صار وترك النظر فيه سنة، والتقليد دينا ..... ،لربما -بل كلَّما- ظنوا أنه لم يَشِعْ ولم يتسع ولم يروه خلف عن سلف إلا لأنَّ له أصْلاً صحيحاً، وأنه أُخذَ من معْدِن صدقٍ، واشتُقَّ من نَبْعةٍ كريمةٍ، وأَنه لو كان
-খ -

 

দ্বিতীয়ত: আমি তাঁর কিতাবে এমন অনেক উক্তির সন্ধান পেয়েছি যেগুলোকে তিনি স্পষ্টভাবে তাদের প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধ করেননি, যাতে আমরা নিশ্চিত হতে পারি তারা কারা? আমাকে সবচাইতে বেশি বিভ্রান্ত করেছে দুটি উক্তি যা তিনি তাঁর কিতাবের অনেক জায়গায় পুনরাবৃত্তি করেছেন; বরং পুরো কিতাবটিই আবর্তিত হয়েছে এই দুটি উক্তিকে খণ্ডন করা এবং এগুলোর অর্থের অসারতা প্রমাণের ওপর। প্রথমটি হলো প্রবক্তার এই কথা: "নিশ্চয়ই অর্থ বৃদ্ধি পায় না, কেবল শব্দেরই আধিক্য ঘটে।" [দালাইলুল ই'জায: ৬৩, ৩৯৫] = দ্বিতীয়টি হলো প্রবক্তার এই কথা: "নিশ্চয়ই সাবলীলতা একক শব্দের মধ্যে প্রকাশ পায় না, বরং একটি বিশেষ পদ্ধতিতে অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।" [দালাইলুল ই'জায: ৩৯৪, ৪৬৬, ৪৬৭]।

তৃতীয়ত: আব্দুল কাহির এই দুটি উক্তিকে একটি পরিচ্ছেদে [পৃষ্ঠা: ৩৯৪, ৩৯৫] একত্রিত করেছেন এবং সেগুলোর সাথে তাঁর এই কথাটিও যোগ করেছেন: "অতঃপর ইতিপূর্বে উল্লিখিত এই প্রচারগুলো 'সারফা' (বিমুখতা) মতবাদে বিশ্বাসীদের ওপরও বর্তায়।" [পৃষ্ঠা: ৩৯০]। আর 'সারফা'র মতটি মুতাযিলাদের অন্যতম মতবাদ। ফলে সেদিন আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছিল যে, এই দুটি উক্তি এবং মুতাযিলাদের মধ্য থেকে 'সারফা'র প্রবক্তাদের মাঝে কোনো যোগসূত্র রয়েছে, কিন্তু আমি যদি এই পথে এগোতাম তবে তাতে এমন কিছু খুঁজে পাইনি যা আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারে।

চতুর্থত: আব্দুল কাহির বহু বিক্ষিপ্ত স্থানে ক্রমাগত 'শব্দ'-পন্থীদের প্রতি এবং যারা বলে: "বিশেষ পদ্ধতিতে সংযোজনের মাধ্যমে (সাবলীলতা অর্জিত হয়)" তাদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তারা ধারণা দিয়েছিল যে, এটিই সেই 'নাযম' (বিন্যাস) যা আল-জাহিজ কুরআনের বৈশিষ্ট্যের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন [দালাইলুল ই'জায: ২৫১]। অথচ এই 'নাযম'-ই হলো আব্দুল কাহিরের প্রতিষ্ঠিত ইলমের মূল ভিত্তি। তাঁর এই ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যের দীর্ঘ অংশটি আমাকে ব্যস্ত করে রেখেছিল, যা তাঁর 'দালাইলুল ই'জায' কিতাবের শেষ দিকে এসেছে, আর তা হলো তাঁর এই উক্তি:

"জেনে রেখো যে, কোনো ভ্রান্ত উক্তি এবং ত্রুটিপূর্ণ মতামত যদি এমন এক দলের পক্ষ থেকে আসে যাদের খ্যাতি, সুখ্যাতি এবং কোনো বিশেষ বিদ্যায় উচ্চ মর্যাদা রয়েছে—যে বিদ্যায় তারা সেই কথাটি বলেনি—অতঃপর তা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা তা গ্রহণ ও প্রচার করে, আর তা জানাজানি ও প্রকাশ হয়ে পড়ে, এবং তার বর্ণনাকারী ও প্রশংসাকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তবে সেটির ব্যাপারে বিচার-বিশ্লেষণ বর্জন করা একটি নিয়মে পরিণত হয় এবং তার অন্ধ অনুকরণ দ্বীনের রূপ নেয়... সম্ভবত—বরং সর্বদা—তারা মনে করে যে, এটি যথাযথ ভিত্তি থাকা ছাড়া এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে গৃহীত হওয়া ছাড়া এবং কোনো উন্নত মূল থেকে উদ্ভূত হওয়া ছাড়া এতোটা ব্যাপকতা ও বিস্তার লাভ করেনি এবং উত্তরসূরিরা পূর্বসূরিদের থেকে তা বর্ণনা করেনি। আর এটি যদি"
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ৫)
-جـ -

 

مَدْخولاً لظَهَر الدَّخَلُ الذي فيه على تَقادُم الزمان وكرورِ الأيام. وكمْ من خَطإٍ ظاهرٍ ورأْيٍ فاسدٍ حظيَ بهذا السبَبِ عندَ الناس … ولَوْلَا سلطانُ هذا الذي وصفتُ على الناس، وأَنَّ له أُخْذَةً تَمنَعُ القلوبَ عن التدبُّر، وتقطعُ عن دواعيَ التفكُّر لمَا كان لهذا الذي ذَهَب إليه القومُ في أمرِ "اللفظِ" هذا التمكُّنُ وهذه القوة وكيف لا يكونُ في إسارِ الأُخْذَةِ، ومَحُولاً بينهم وبين الفكرة، ومن يُسلِّمُ أنَّ الفصاحةَ لا تَكونُ في أفرادِ الكلمات، وإنما تَكُونُ فيها إذا ضُمَّ بعضُها إلى بعْضٍ، ثم لا يَعْلَم أنَّ ذلك يَقْتضي أنْ تكونَ وصْفاً لها مِن أجْلِ معانيها، لا مِنْ أَجْل أَنفُسِها، ومِنْ حَيثُ هي ألفاظٌ ونطق لسان؟ " [دلائل الإعجاز: 464 - 467]. وقد اختصرت الكلام هنا، ولكن ينبغي أن تقرأه بطوله في المكان الذي أشرت إليه.

من يكون هؤلاء القوم الذين لهم نباهة صيت وعلو منزلة في نوع من أنواع العلوم، غير علم "الفصاحة" الذي قالوا ذلك القول فيه، وتداولته الألسن ونشرته حتى فشا وظهر، وتمكنت أقوالهم المدخولة هذا التمكن، ورسخت في النفوس هذا الرسوخ، وتشعبت عروقها هذا التشعب، مع ما فيها من التهافت والسقوط وفحش الغلط، والتي إذا نظرت فيها لم تر باطِلاً فيه شَوْبٌ من الحقِّ، وزَيْفاً فيه شيءٌ من الفِضَّة، ولكنْ تَرى الغشَّ بَحْتاً، والغيظ صرفًا؟، كما يقول عبد القاهر [دلائل الإعجاز: 465، 466] والأمران الثاني والرابع، كان موضع اهتمامي يومئذ، وينبغي أن يكونا موضع اهتمام كل أحد.

وفتشت ونقبت، فلم أظفر بجواب أطمئن إليه، وتناسيت الأمر كله إلا قليلًا، نحوًا من ثلاثين سنة.

حتى كانت سنة 1381 هـ "1961 م"، وطبع كتاب "المغني" للقاضي "أبي الحسن عبد الجبار بن أحمد بن عبد الجبار الهمذاني الأسداباذي"،
-গ- -

 

ত্রুটিপূর্ণ হলে সময়ের বিবর্তন ও দিনাতিপাতের সাথে সাথে তার ভেতরের ত্রুটি প্রকাশ পেয়ে যেত। মানুষের কাছে এই কারণে কতই না স্পষ্ট ভুল ও ভ্রান্ত মতবাদ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে … মানুষের উপর যদি আমি যা বর্ণনা করেছি তার প্রভাব না থাকত, এবং যদি এতে এমন এক সম্মোহনী শক্তি না থাকত যা অন্তরকে অনুধাবনে বাধা দেয় এবং চিন্তার পথকে রুদ্ধ করে দেয়, তবে 'শব্দ' (lafz) সম্পর্কে এই দলটি যে মত গ্রহণ করেছে তা এতটা আধিপত্য ও শক্তি লাভ করত না। আর কীভাবেই বা সে সেই সম্মোহনের বন্দিত্বে থাকবে না এবং চিন্তার অন্তরায় হবে না, যে ব্যক্তি স্বীকার করে যে বাগ্মিতা (fasahah) একক শব্দের মধ্যে থাকে না, বরং তা তখনই হয় যখন শব্দসমূহকে একটির সাথে অন্যটি যুক্ত করা হয়, অথচ সে জানে না যে এটি দাবি করে যে সেই গুণটি হবে অর্থের কারণে, শব্দের নিজস্ব সত্তার কারণে নয়, এবং তা নিছক শব্দ ও জিহ্বার উচ্চারণ হওয়ার কারণেও নয়? " [দালাইলুল ই'জায: ৪৬৪ - ৪৬৭]। আমি এখানে কথা সংক্ষেপ করেছি, তবে আমি যে স্থানের নির্দেশ দিয়েছি সেখানে আপনার এটি বিস্তারিত পড়া উচিত।

কারা এই লোকগণ যাদের সুখ্যাতি এবং সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে এমন এক ধরণের জ্ঞানে, যা 'বাগ্মিতা' (fasahah) শাস্ত্র ব্যতীত অন্য কিছু, যে শাস্ত্র সম্পর্কে তারা এই কথা বলেছে এবং যা মুখে মুখে প্রচারিত ও প্রসারিত হয়ে অবশেষে প্রকাশ পেয়েছে? তাদের এই ত্রুটিপূর্ণ কথাগুলো এতটা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, অন্তরে এতটা গভীরভাবে বদ্ধমূল হয়েছে এবং এর শিকড়গুলো চারদিকে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, অথচ এর মধ্যে রয়েছে অসারতা, পতন ও জঘন্য ভুল। যার মধ্যে আপনি দৃষ্টিপাত করলে এমন কোনো বাতিল দেখতে পাবেন না যাতে হকের সামান্য সংমিশ্রণ আছে, কিংবা এমন কোনো কৃত্রিম বস্তু দেখবেন না যাতে সামান্য রূপা আছে, বরং আপনি দেখতে পাবেন এটি নিছক প্রতারণা ও বিশুদ্ধ ভ্রষ্টতা? যেমনটি আব্দুল কাহের বলেছেন [দালাইলুল ই'জায: ৪৬৫, ৪৬৬]। দ্বিতীয় ও চতুর্থ বিষয়টি সেদিন আমার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, এবং তা প্রত্যেকের মনোযোগের বিষয় হওয়া উচিত।

আমি অনুসন্ধান ও গবেষণা করেছি, কিন্তু এমন কোনো উত্তরে উপনীত হতে পারিনি যাতে আমি আশ্বস্ত হতে পারি। এরপর আমি প্রায় ত্রিশ বছর পর্যন্ত সামান্য কিছু বাদে পুরো বিষয়টি ভুলে ছিলাম।

অবশেষে ১৩৮১ হিজরি (১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ) সাল এলো এবং কাজী "আবুল হাসান আব্দুল জব্বার ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল জব্বার আল-হামদানি আল-আসাদাবাদি"র "আল-মুগনি" বইটি মুদ্রিত হলো।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ৬)
- د -

 

الفقيه الشافعي، المتكلم المعتزلي [توفي سنة 415]، وكان إمام أهل الاعتزال في زمانه، وعمر دهرًا طويلًا، وكثر أصحابه، وبعد صيته، ورحل إليه طلاب العلم.

في تلك السنة صدر الجزء السادس عشر من كتاب "المغني"، فإذا هو يتضمن فصولًا طويلة في الكلام على "ثبوت نبوة محمد صلى الله عليه وسلم، وفي أعجاز القرآن، وسائر المعجزات الظاهرة عليه صلى الله عليه وسلم"، [المغني 16 - 143 - 433]، فلما قرأته ارتفع كل شك، وسقط النقاب عن كل مستتر، وإذا التعريض الذي ذكره عبد القاهر حين قال: "واعلمْ أَن القولَ الفاسِدَ والرأيَ المدخولَ، إِذا كان صدره عن قوم لهم نَباهةٌ وصيتٌ وعلوٌّ منزلةٍ في نوع من أنواع العلوم غيرِ العِلْم الذي قالوا ذلك القولَ فيه … " [انظر ما مضى]، لا يعني بهذا التعريض وبهذه الصفة أحدًا سوى قاضي القضاة المعتزلي عبد الجبار، فهو المعتزلي النابه الذكر، البعيد الصيت، العالي المنزلة في علم الكلام والأصول، بيد أنه هو الخامل الذكر، الخالي الوفاض من علم "البلاغة" و "الفصاحة" و "البيان"، ولكنه بهذه البضاعة المزجاة من علم "الفصاحة"، جاء يتكلم في الوجوه التي يقع بها التفاضل في فصاحة الكلام، [المغني: 16: 197 - 199 وما بعدها]، وفي "إعجاز القرآن" عامة!!

والدليل الساطع، هو أن الأقوال التي ذكرتها آنفًا، وقلت: إن عبد القاهر لم يصرح بنسبتها إلى أحد، هي أقوال القاضي عبد الجبار في كتابه المغني بنصها ولفظها، فهو يقول:

"إن الفصاحة لا تظهر في أفراد الكلام، وإنما تظهر بالضم على طريقة مخصوصة … "، ثم يقول بعد ذلك: "إن المعاني لا يقع فيها تزايد، وإذن فيجب أن يكون التزايد عنه الألفاظ كما ذكرناه … "، [المغني16: 199، 200] وهذا القولان هما اللذان يدور كتاب "دلائل الإعجاز" على ردهما وإبطال معناهما. هذا فضلًا عن أقوالٍ أخر ذكرها عبد القاهر، ووجدتها مائلة بنصها
- দ -

 

শাফেয়ী ফকিহ, মুতাজিলা কালামশাস্ত্রবিদ [মৃত্যু ৪১৫ হিজরি], তিনি তাঁর সময়ের মুতাজিলাদের ইমাম ছিলেন। তিনি দীর্ঘকাল বেঁচে ছিলেন, তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ছিল অনেক, তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল এবং ইলম অন্বেষণকারীরা তাঁর কাছে সফর করে আসতেন।

সেই বছর "আল-মুগনি" কিতাবের ষোড়শ খণ্ড প্রকাশিত হয়; দেখা যায় এটি "মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের প্রমাণ, কুরআনের অলৌকিকতা (ইজায) এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর প্রকাশিত অন্যান্য প্রকাশ্য মুজিযা" সংক্রান্ত দীর্ঘ আলোচনার পরিচ্ছেদসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছে [আল-মুগনি ১৬ - ১৪৩ - ৪৩৩]। যখন আমি এটি পড়লাম, তখন সকল সন্দেহ দূর হয়ে গেল এবং প্রতিটি গোপন বিষয়ের ওপর থেকে পর্দা সরে গেল। আর আব্দুল কাহির যখন বলেছিলেন: "জেনে রেখো, কোনো ভ্রান্ত কথা এবং ত্রুটিযুক্ত অভিমত যদি এমন একদল লোকের পক্ষ থেকে আসে যাদের কোনো নির্দিষ্ট শাস্ত্রে বিশেষ খ্যাতি, নামডাক ও উচ্চ মর্যাদা রয়েছে—যা সেই শাস্ত্র নয় যে বিষয়ে তারা উক্ত কথাটি বলেছে … " [পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা দেখুন], তখন তিনি এই ইঙ্গিত এবং এই গুণাবলির দ্বারা মুতাজিলা কাযিল কুযাত (প্রধান বিচারপতি) আব্দুল জব্বার ব্যতীত আর কাউকে বোঝাননি। তিনিই হলেন সেই খ্যাতিমান মুতাজিলা ব্যক্তিত্ব, যাঁর সুদূরপ্রসারী নামডাক এবং ইলমে কালাম ও উসুলে উচ্চ মর্যাদা রয়েছে; তবে তিনি "বালাগাত" (অলঙ্কারশাস্ত্র), "ফাসাহাত" (সাবলীলতা) এবং "বায়ান" (বিবৃতি) শাস্ত্রে স্বল্পখ্যাত এবং রিক্তহস্ত ছিলেন। কিন্তু "ফাসাহাত" শাস্ত্রের এই নগণ্য পুঁজি নিয়েই তিনি সেই সব দিক নিয়ে আলোচনা করতে এসেছেন যার মাধ্যমে বক্তব্যের সাবলীলতায় শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয় [আল-মুগনি: ১৬: ১৯৭ - ১৯৯ এবং পরবর্তী অংশ], এবং সাধারণভাবে "কুরআনের অলৌকিকতা" বিষয়ে কথা বলতে এসেছেন!!

এর সুস্পষ্ট প্রমাণ হলো এই যে, আমি ইতিপূর্বে যেসব বক্তব্য উল্লেখ করেছি এবং বলেছি যে আব্দুল কাহির এগুলো কারো দিকে স্পষ্টভাবে সম্বন্ধ করেননি, সেগুলো মূলত কাযি আব্দুল জব্বারের তাঁর 'আল-মুগনি' কিতাবের হুবহু শব্দ ও ভাষ্য। তিনি বলেন:

"নিশ্চয়ই শব্দের একাকী অবস্থায় সাবলীলতা প্রকাশ পায় না, বরং তা একটি বিশেষ পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করার মাধ্যমেই প্রকাশ পায় … "। এরপর তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই অর্থের মধ্যে কোনো আধিক্য ঘটে না; সুতরাং আধিক্য অবশ্যই শব্দসমূহের মধ্যেই হতে হবে যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি … "। [আল-মুগনি ১৬: ১৯৯, ২০০] এই দুটি বক্তব্যই হলো সেই কথা যার খণ্ডন এবং অর্থ বাতিল করার বিষয়কে কেন্দ্র করেই "দালাইলুল ইজায" কিতাবটি আবর্তিত হয়েছে। এছাড়া আব্দুল কাহির কর্তৃক বর্ণিত আরও অন্যান্য উক্তি রয়েছে, যেগুলো আমি তাঁর হুবহু পাঠে বিদ্যমান পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ৭)
- هـ -

 

أيضًا في هذا الموضع الذي ذكر فيه القاضي المعتزلي "إعجاز القرآن"، كالقول في "جزالة اللفظ"، حيث يقول القاضي: "ولذلك لا يصح عندنا أن يكون اختصاص القرآن بطريقة في النظم دون الفصاحة، التي هي جزالة اللفظ وحسن المعنى" [المغني16: 198 وما قبله]، فيذكرها عبد القاهر في كتابه ثم يقول: "وأمَّا الأَخيرُ، فهو أَنَّا لم نَرَ العقلاءَ قد رضُوْا مِن أَنفُسِهم في شيءٍ من العلوم أن يحفظوا كلامًا للأولين ويتدارسونه، ويُكلِّمَ به بعضُهم بعضاً مِنْ غَير أن يعرِفوا له معنى، ويقفوا منه على غرَضٍ صحيحٍ، ويكونَ عندهم، إن يُسألوا عنه، بيانٌ وتفسير إلا "علم الفصاحة" .... فمِنْ أقْرَبِ ذلك أَنك تَراهم يقولون إذا هُمْ تكلَّموا في مزيَّةِ كلامٍ على كلامٍ: "إن ذلك يكون بجزالة اللفظ" وإذا هم تكلَّموا في زيادةِ نظمٍ على نظمٍ: "إنَّ ذلك يكونُ لوقُوعِهِ على طريقةٍ مخصوصةٍ، وعلى وجهٍ دونَ وجهٍ"، ثمّ لا تَجدُهَم يُفسِّرون "الجزالة" بشيء"، [دلائل الإعجاز: 456].

ولم أرد بهذا الاستقصاء، ولكني أردت أن أنبه إلى علاقة لا ينبغي إغفالها أو التهاون فيها، وهي هذه العلاقة بين كلام عبد القاهر، وكلام القاضي عبد الجبار، ذلك أن عبد القاهر منذ بدأ في شق طريقه إلى هذا العلم الجديد الذي أسسه، كان كل همه أن ينقض كلام القاضي في "الفصاحة"، وأن يكشف عن فساد أقواله في مسألة "اللفظ"، بالمعنى المؤقت المحدد في كلامه في كتابه "المغني"، دون المعنى المطلق لِلَّفْظِ من حيثُ هو لفظٌ ونطْقُ لسانٍ. وإغفال هذه العلاقة يؤدي -أو قد أدى- إلى غلط فاحش في فهم مسألة "اللفظ" و "المعنى" عند عبد القاهر في كتابه هذا. فلا "اللفظ" فهم على حقيقته عند عبد القاهر، ولا "المعنى" أيضًا عرف على حقيقته عنده.

وأنا أرجح أن عبد القاهر كتب كتابه هذا في أواخر حياته، بدليل ما هدتنا إليه النسخة المخطوطة من "الدلائل"، التي رمزت إليها بالحرف "ج"، كما سأبينه فيما بعد، وأنه كان يوشك أن يعيد النظر في كتابه؛ ليجعله تصنيفًا في
- হ -

 

অনুরূপভাবে এই স্থানেও, যেখানে মুতাযিলী কাজী 'কুরআনের অলৌকিকত্ব' (ইজাযুল কুরআন) আলোচনা করেছেন, যেমন 'শব্দের বলিষ্ঠতা' (জাযালাতুল লাফয) প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: "আর একারণেই আমাদের নিকট এটি সঠিক নয় যে, আল-কুরআনের বৈশিষ্ট্য কেবল অলংকারিক বিন্যাস বা প্রনয়নভঙ্গির (নাযম) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, প্রাঞ্জলতা (ফাসাহাত) ব্যতিরেকে; যা মূলত শব্দের বলিষ্ঠতা এবং অর্থের চমৎকারিত্বের নাম।" [আল-মুগনী ১৬: ১৯৮ এবং এর পূর্ববর্তী অংশ]। আবদুল কাহের তার গ্রন্থে এটি উল্লেখ করে বলেন: "আর শেষ বিষয়টি হলো এই যে, আমরা কোনো জ্ঞানশাখায় বুদ্ধিমানদের এমনটা করতে দেখিনি যে, তারা পূর্ববর্তীদের কথা মুখস্থ করবে এবং তা পরস্পরে পঠন-পাঠন করবে, আর একে অপরের সাথে তা দিয়ে কথা বলবে—অথচ তারা এর অর্থ জানবে না, কোনো সঠিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত হবে না, এবং এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলে তাদের কাছে কোনো ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ থাকবে না—কেবল 'প্রাঞ্জলতা বিষয়ক জ্ঞান' (ইলমুল ফাসাহাত) ব্যতীত।... এর নিকটতর উদাহরণ হলো, আপনি দেখবেন তারা যখন একটি কথার ওপর অন্য কথার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আলোচনা করে, তখন বলে: 'এটি শব্দের বলিষ্ঠতার (জাযালাতুল লাফয) কারণে হয়েছে'। আর যখন তারা এক বিন্যাসের ওপর অন্য বিন্যাসের আধিক্য বা শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কথা বলে, তখন বলে: 'এটি ঘটেছে একটি বিশেষ পদ্ধতি ও বিশেষ পন্থায় হওয়ার কারণে'। অথচ এরপর আপনি তাদের পাবেন না যে তারা এই 'বলিষ্ঠতা'র (জাযালা) কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছে।" [দালায়েলুল ইজায: ৪৫৬]।

এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য এটি নয় (যে বিস্তারিত জরিপ করা), বরং আমি এমন একটি সম্পর্কের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি যা উপেক্ষা করা বা যে বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করা অনুচিত। আর তা হলো আবদুল কাহেরের বক্তব্যের সাথে কাজী আবদুল জব্বারের বক্তব্যের এই নিবিড় সম্পর্ক। কারণ আবদুল কাহের যখন থেকে তার প্রতিষ্ঠিত এই নতুন জ্ঞানবিজ্ঞানের পথে যাত্রা শুরু করেন, তখন তার মূল লক্ষ্যই ছিল 'প্রাঞ্জলতা' (ফাসাহাত) বিষয়ে কাজীর বক্তব্য খণ্ডন করা এবং 'শব্দ' (লাফয) প্রসঙ্গে তার বক্তব্যের অসারতা প্রকাশ করা—তার 'আল-মুগনী' গ্রন্থে বর্ণিত সাময়িক ও নির্দিষ্ট সংজ্ঞার আলোকে, কেবল সাধারণ উচ্চারণ বা জিহ্বার বুলি হিসেবে 'শব্দ'-এর নিরঙ্কুশ অর্থের প্রেক্ষিতে নয়। এই সম্পর্কটি উপেক্ষা করার ফলে আবদুল কাহেরের এই গ্রন্থে 'শব্দ' ও 'অর্থ'-এর বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে একটি মারাত্মক ভুলের সৃষ্টি হয়েছে—বা হতে পারে। ফলে আবদুল কাহেরের নিকট 'শব্দ' যেমন তার প্রকৃতরূপে বোঝা সম্ভব হয়নি, তেমনি 'অর্থ'-কেও তার স্বরূপ অনুযায়ী জানা যায়নি।

আমি মনে করি যে, আবদুল কাহের তার জীবনের শেষভাগে এই গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন। এর প্রমাণ হিসেবে আমরা 'দালায়েল'-এর সেই পাণ্ডুলিপিটিকে পাই যেটিকে আমি 'জ' অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি, যা আমি পরবর্তীতে ব্যাখ্যা করব। তিনি তার গ্রন্থটি পুনরায় পর্যালোচনা করার উপক্রম করেছিলেন, যাতে তিনি একে একটি বিধিবদ্ধ শ্রেণিবিন্যাস হিসেবে রূপ দিতে পারেন...
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ৮)
- و -

 

علم جديد اهتدى إليه، واستدركه على من سبقه، وشق له الطريق ومهده، ولكن اخترمته المنية قبل أن يحقق ما أراد. وأرجح أيضًا أن السر في العجلة التي صرفته عن التبويب والتقسيم والتصنيف، وأوجبت أن يبنى الكتاب هذا البناء العجيب، هو فيما أظن، أن طائفة من المعتزلة، من أهل العلم، في بلدته جرجان وفي زمانه، كان لهم شغف ولجاجة وشغب وجدال ومناظرة في مسألة "إعجاز القرآن"، واتكأوا في جدالهم على أقوال القاضي عبد الجبار التي جاءت في كتابه "المغني"، والتي ذكرت مواضعها آنفًا، وشققوا الكلام فيها، وكانوا كما وصفهم عبد القاهر بقوله: "فإِن أردتَ الصدقَ، فإِنَّك لا تَرى في الدنيا أَعْجبَ من شأنِ الناسِ مع "اللَّفظِ"، ولا فساد رأي مازج النفوس وخامرها واستحكم منها وصار كإحدى طبائعها، من رأيهم في "اللفظ". فقد بلغ من ملكيته لهم وقُوَّتهِ عليهم، أنْ تَرَكهم، وكأنَّهم إذا نُوظِروا فيه أخذَوا عن أنفُسِهم، وغيَّبوا عن عقولهم، وحِيلَ بينَهم وبينَ أنْ يكونَ لهم فيما يَسْمعونَه نَظَرٌ، ويُرى لهم إيرادُ في الإصغاء ولا صدر، فلستَ تَرَى إلَاّ نفوساً قد جَعلَتْ تَرْكَ النظرِ دأْبَها، ووَصَلَتْ بالهُوينا أَسبابَها، فهي تَغْتَرُّ بالأضاليلِ، وتَتباعَدُ عن التحصيلِ، وتُلْقي بأيديها إلى الشبه، وتسرع إلى القول المموه"، [دلائل الإعجاز: 458].

ومن الدليل أيضًا على العلاقة الوثيقة بين كتاب عبد القاهر، وأقوال القاضي عبد الجبار في كتابه "المغني"، أي بين كتابه وبين المعتزلة، أن كتابه خلا من ذكر "الصرفة"، وهي أشهر أقوال المعتزلة؛ لأنها من اختراع شيخهم القديم النظَّام، إلا في موضع واحد من الكتاب كله [دلائل الإعجاز: 390]؛ وذلك لأن القاضي عبد الجبار نفسه، وهو إمام المعتزلة في زمانه، رد مقالة "الصرفة" ونقضها في كتابه [المغني: 16: 323 - 328]، فأغفلها عبد القاهر أيضًا، وخصهم برسالته "الرسالة الشافية" الخارجة من كتاب دلائل الإعجاز، والتي نشرتها ملحقة بالكتاب.
- ও -

 

এটি একটি নতুন জ্ঞান যা তিনি লাভ করেছিলেন এবং তাঁর পূর্বসূরিদের ওপর তা সংশোধন করেছিলেন; তিনি এর পথ উন্মোচন ও সুগম করেছিলেন, কিন্তু তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের পূর্বেই মৃত্যু তাঁকে ছিনিয়ে নেয়। আমি আরও প্রবলভাবে মনে করি যে, যে তাড়াহুড়ো তাঁকে এই কিতাবটির অধ্যায় বিন্যাস, পরিচ্ছেদ বিভাজন ও সুশৃঙ্খল শ্রেণিবিভাগ থেকে বিরত রেখেছিল এবং কিতাবটিকে এই অদ্ভুত কাঠামোতে গড়ে তুলতে বাধ্য করেছিল, তার রহস্য হলো—আমার ধারণায়—তাঁর নিজ শহর জুরজানে তাঁর সমসাময়িক একদল মুতাজিলা আলিম 'কুরআনের অলৌকিকত্ব' (ই'জাযুল কুরআন) বিষয়ে অত্যন্ত আসক্ত, নাছোড়বান্দা, কলহপ্রিয় ও বিতর্কে লিপ্ত ছিল। তারা তাদের বিতর্কে কাযী আব্দুল জাব্বারের 'আল-মুগনী' কিতাবের বক্তব্যের ওপর ভরসা করত, যার উদ্ধৃতিগুলো আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি এবং তারা এ বিষয়ে দীর্ঘ বাকবিতণ্ডা করত। তারা ছিল ঠিক তেমন, যেমন আব্দুল কাহের তাদের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: "যদি তুমি সত্য জানতে চাও, তবে তুমি পৃথিবীতে 'শব্দ' (লফয) নিয়ে মানুষের আচরণের চেয়ে অদ্ভুত আর কিছু দেখবে না; আর আত্মার সাথে মিশে যাওয়া, একে আচ্ছন্ন করা এবং এর ওপর জেঁকে বসে মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির মতো হয়ে যাওয়া কোনো ভ্রান্ত মতবাদই 'শব্দ' সম্পর্কে তাদের মতের চেয়ে বেশি অনিষ্টকর নয়। এটি তাদের ওপর এমনভাবে আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং তাদের ওপর এর প্রভাব এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, যখন তাদের সাথে এ বিষয়ে বিতর্ক করা হতো, তখন মনে হতো তারা আত্মহারা হয়ে পড়েছে এবং তাদের বুদ্ধি লোপ পেয়েছে। তাদের সামনে যা পরিবেশন করা হতো সে বিষয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা তাদের থেকে হরণ করা হয়েছিল। কোনো কথা শোনার ক্ষেত্রে তাদের কোনো যৌক্তিক প্রবেশ বা প্রস্থান দেখা যেত না। তুমি কেবল এমন সব আত্মাকেই দেখবে যারা চিন্তা-গবেষণা পরিত্যাগ করাকে তাদের স্বভাবে পরিণত করেছে এবং শৈথিল্যের সাথে নিজেদের সম্পর্ক যুক্ত করেছে; ফলে তারা বিভ্রান্তিতে প্রতারিত হয়, সত্য অর্জন থেকে দূরে সরে যায়, সন্দেহের দিকে নিজেদের ঠেলে দেয় এবং চাকচিক্যময় অসার কথার দিকে ধাবিত হয়।" [দালাইলুল ই'জায: ৪৫৮]।

আব্দুল কাহেরের কিতাব এবং কাযী আব্দুল জাব্বারের 'আল-মুগনী'—অর্থাৎ তাঁর কিতাব ও মুতাজিলাদের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কের আরেকটি প্রমাণ হলো, তাঁর কিতাবে 'সারফাহ' প্রসঙ্গের উল্লেখ নেই, যা মুতাজিলাদের অন্যতম বিখ্যাত মতবাদ; কারণ এটি তাদের প্রাচীন গুরু নাযযামের উদ্ভাবন। পুরো কিতাবে মাত্র একটি স্থান ছাড়া এর উল্লেখ নেই [দালাইলুল ই'জায: ৩৯০]। এর কারণ হলো, খোদ কাযী আব্দুল জাব্বার, যিনি তাঁর সময়ের মুতাজিলাদের ইমাম ছিলেন, তিনি তাঁর 'আল-মুগনী' কিতাবে 'সারফাহ' মতবাদকে প্রত্যাখ্যান ও খণ্ডন করেছেন [আল-মুগনী: ১৬: ৩২৩ - ৩২৮]। ফলে আব্দুল কাহের নিজেও একে উপেক্ষা করেছেন এবং তাদের জন্য 'আর-রিসালাতুশ শাফিয়াহ' নামক পৃথক একটি পুস্তিকা উৎসর্গ করেছেন, যা দালাইলুল ই'জায কিতাব বহির্ভূত এবং আমি তা এই কিতাবের পরিশিষ্ট হিসেবে প্রকাশ করেছি।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ৯)
- ز -

 

هذا ما أردت أنبه إليه؛ ليعيد الدارسون النظر في كتاب عبد القاهر، وفي قضية "اللفظ" و "المعنى" التي اختلط الأمر فيها اختلاطًا شديدًا أدى إلى فساد كبير في زماننا هذا، وبالله التوفيق.

والآن، أنصرف إلى القول في النسخ التي اعتمدت عليها في قراءة كتاب "دلائل الإعجاز"، وفي التعليق عليه تعليقًا مختصرًا، وجعلت همي أن يكون قارئ الكتاب ماضيًا في قراءته دون أن يتعثر أو يتلفت تلفتًا يعوقه عن المضي في قراءته، فأعنته بتقسيمه إلى فقر مرقمة، ودللته على سياق كلام عبد القاهر؛ فإن كلامه ربما شق على كثير من أهل زماننا، حين كتب عليهم أن يهجروا كتب أسلافهم من الفحول الأفذاذ.

• النسخة المخطوطة الأولى "ج": وهي من مكتبة "حسين جلبي معاني، بتركية، وعدد أوراقها: 203 ورقة"، ليس فيها اسم ناسخها، ولكن تمت كتابتها في أواسط شهر ربيع الأول سنة ثمانٍ وستين وخمسمائة (568 هـ)، أي بعد وفاة عبد القاهر بنحو سبع وتسعين سنة، [دلائل الإعجاز: 557]، ونص كاتبها في أحد الفصول الملحقة بالكتاب أن "هذا آخر ما وجد على سواد الشيخ من هذا الكتاب، كتب في شعبان المبارك سنة ثنتين وسبعين وخمسمائة"، "572 هـ" [دلائل الإعجاز: 568]، ثم يذكر في صدر فصل آخر بعده: "هذا مما نقل من مسودته بخطه بعد وفاته رحمه الله"، [دلائل الإعجاز: 539]، فدلنا هذا على أنه نقل ما نقل من خط عبد القاهر.

ولكني بقي شيء آخر، هو أن علي هذه المخطوطة في هامشها تعليقات بخط كاتبها، استظهرت -وأنا أقرأ الكتاب عند الطبع- أنها من تعليق عبد القاهر نفسه، حتى جاءت مواضع تقطع قطعًا مبينًا أنها تعليقات عبد القاهر على
- যা -

 

এটিই সেই বিষয় যা আমি নির্দেশ করতে চেয়েছিলাম; যেন গবেষকগণ আব্দুল কাহিরের কিতাব এবং "শব্দ" ও "অর্থ" সংক্রান্ত বিষয়ে পুনরায় দৃষ্টিপাত করেন, যে বিষয়ে বিষয়টি অত্যন্ত গোলমেলে হয়ে গেছে এবং যা আমাদের এই যুগে বড় ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। আর আল্লাহর নিকটই তাওফীক প্রার্থনা করছি।

এখন, আমি সেই পাণ্ডুলিপিগুলো সম্পর্কে আলোচনায় প্রবৃত্ত হব যেগুলোর ওপর আমি "দালাইলুল ই'জায" কিতাবটি পাঠ করতে এবং এতে সংক্ষিপ্ত টীকা প্রদান করতে নির্ভর করেছি। আমি চেষ্টা করেছি যেন এই কিতাবের পাঠক তার পাঠে সাবলীলভাবে অগ্রসর হতে পারে, কোনো হোঁচট না খেয়ে কিংবা এমনভাবে অন্যমনস্ক না হয়ে যা তাকে পাঠ চালিয়ে যেতে বাধাগ্রস্ত করে। তাই আমি কিতাবটিকে নম্বরযুক্ত অনুচ্ছেদে বিভক্ত করার মাধ্যমে তাকে সাহায্য করেছি এবং আব্দুল কাহিরের বক্তব্যের প্রসঙ্গের দিকে তাকে পথপ্রদর্শন করেছি; কারণ আমাদের সময়ের অনেকের কাছেই তার বক্তব্য হয়তো কঠিন মনে হতে পারে, যেহেতু তাদের ভাগ্যে জুটেছে তাদের অনন্য ও কৃতি পূর্বসূরীদের কিতাবসমূহ বর্জন করা।

• প্রথম পাণ্ডুলিপি "জীম": এটি তুরস্কের "হুসাইন চালাবি মাআনী" লাইব্রেরির অন্তর্ভুক্ত, এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ২০৩। এতে অনুলিপিকারীর নাম নেই, তবে এটি ৫৬৮ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের মাঝামাঝি সময়ে লেখা সম্পন্ন হয়েছে, অর্থাৎ আব্দুল কাহিরের মৃত্যুর প্রায় সাতানব্বই বছর পর [দালাইলুল ই'জায: ৫৫৭]। কিতাবের সাথে সংযুক্ত একটি অধ্যায়ে এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে, "শায়খের এই কিতাবের খসড়ায় যা পাওয়া গেছে এটিই তার শেষ অংশ, এটি মুবারক শাবান মাস ৫৭২ হিজরিতে লেখা হয়েছে" [দালাইলুল ই'জায: ৫৬৮]। এরপর পরবর্তী অন্য একটি অধ্যায়ের শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে: "এটি এমন অংশ যা তাঁর মৃত্যুর (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) পর তাঁর নিজ হাতের খসড়া থেকে নকল করা হয়েছে" [দালাইলুল ই'জায: ৫৩৯]। এটি আমাদের নির্দেশ করে যে, লেখক যা কিছু নকল করেছেন তা আব্দুল কাহিরের হস্তলিপি থেকেই করেছেন।

তবে আরও একটি বিষয় অবশিষ্ট রয়েছে, আর তা হলো এই পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকাগুলোতে এর অনুলিপিকারীর হাতের লেখায় কিছু মন্তব্য রয়েছে। মুদ্রণের সময় কিতাবটি পড়ার সময় আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এগুলো স্বয়ং আব্দুল কাহিরেরই মন্তব্য। এমনকি এমন কিছু স্থান এসেছে যা অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে এগুলো আব্দুল কাহিরের মন্তব্য যা তিনি...
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ১০)
- حـ -

 

نسخته، فدل هذا، والذي قبله، على أن هذه النسخة منقولة من نسخة عبد القاهر التي كتبها بخطه في آخر حياته، وهذا بيان بأكثر المواضع التي جاءت فيها الحواشي مسلسلة، وفيها الدلالة على ذلك:

ص: 20، تعليق: 2/ 27، تعليق: 5/ 31، تعليق: 2/ 152: تعليق: 4، وفي صدره: "قال عبد القاهر، / 159، تعليق: 4 وهو أسلوب عبد القاهر/ 162، تعليق: 1/ 165، تعليق: 2/ 195، تعليق: 1/ 210، تعليق: 3/ 216، تعليق: 4، وهو أسلوب عبد القاهر/ 230، تعليق: 1/ 264، تعليق: 2، أسلوب عبد القاهر/ 276، تعليق: 1/ 288، 289، تعليق: 4، أسلوب عبد القاهر/ 290، تعليق: 1 أسلوب عبد القاهر/ 301، تعليق: 2/ 310، تعليق: 4/ 313، تعليق: 1/ 318 تعليق: 1/ 340 - 243 تعليق: 2، وكتب الناسخ، "حاشية"، ثم كتب فوقها: "هذه الحاشية مؤخرة في أماليه المدونة"، فهذا نص يقطع بأن جمع الحواشي منقولة من نسخة عبد القاهر، وأيضًا؛ فإن هذه الحاشية نفسها ستأتي في نص كلام عبد القاهر بعد قليل في رقم: 405/ 356، تعليق: 2/ 367، تعليق: 1/ 373، تعليق: 2/ 374، تعليق: 2/ 380، تعليق: 2/ 383، تعليق: 1، ونص الحاشية: "هذا تعليل لقولي: لم يلزم من إثبات الآلهة"، وهو نص قاطع بأن هذه الحواشي نسخة عبد القاهر/ 447، تعليق: 2/ 499، تعليق، 2، وهو بلا شبهة من كلام عبد القاهر: 502، تعليق: 1

وقد فاتتني حواش أخر كتبها عبد القاهر على هذه النسخة، ولكني لم أحسن قراءتها، فلم أثبت منها شيئًا. والذي ذكرته آنفًا قاطع كما ترى، بأن ناسخ "ج"، إنما نسخها من نسخة عبد القاهر نفسه، وزاد: فائدة خلت منها جميع النسخ، ولهذا جعلتها هي الأصل الأول الذي اعتمدت عليه.

أما ترتيب هذه النسخة "ج"، فهو كما يلي:

1 - من ص: 1، إلى ص: 307، نص كتاب "دلائل الإعجاز"، كما دلت على النسخة الأخرى "س"، كما سأبينه، ثم ترك بياضًا بين الكلامين وكتب: "بسم الله الرحمن الرحيم"، وهذا القسم يقع في مطبوعتنا من ص: 1 إلى ص: 478.
- হা -

 

তাঁর পাণ্ডুলিপি; ফলে এটি এবং এর পূর্ববর্তী অংশ প্রমাণ করে যে, এই পাণ্ডুলিপিটি আবদুল কাহিরের সেই পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে যা তিনি তাঁর জীবনের শেষভাগে নিজ হাতে লিখেছিলেন। আর এখানে অধিকাংশ সেই স্থানগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো যেখানে টীকাগুলো ধারাবাহিকভাবে এসেছে এবং যেগুলোতে এর প্রমাণ বিদ্যমান:

পৃষ্ঠা: ২০, টীকা: ২/ ২৭, টীকা: ৫/ ৩১, টীকা: ২/ ১৫২: টীকা: ৪, এবং এর শুরুতে রয়েছে: "আবদুল কাহির বলেন, / ১৫৯, টীকা: ৪ এবং এটি আবদুল কাহিরের শৈলী/ ১৬২, টীকা: ১/ ১৬৫, টীকা: ২/ ১৯৫, টীকা: ১/ ২১০, টীকা: ৩/ ২১৬, টীকা: ৪, এবং এটি আবদুল কাহিরের শৈলী/ ২৩০, টীকা: ১/ ২৬৪, টীকা: ২, আবদুল কাহিরের শৈলী/ ২৭৬, টীকা: ১/ ২৮৮, ২৮৯, টীকা: ৪, আবদুল কাহিরের শৈলী/ ২৯০, টীকা: ১ আবদুল কাহিরের শৈলী/ ৩০১, টীকা: ২/ ৩১০, টীকা: ৪/ ৩১৩, টীকা: ১/ ৩১৮ টীকা: ১/ ৩৪০ - ২৪৩ টীকা: ২, এবং অনুলিপিকারক লিখেছেন, "টীকা", এরপর তার উপরে লিখেছেন: "এই টীকাটি তাঁর লিপিবদ্ধ আমালি-তে পরবর্তীতে রয়েছে", সুতরাং এটি একটি অকাট্য পাঠ্য যা প্রমাণ করে যে টীকাগুলোর সংকলন আবদুল কাহিরের পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে। এছাড়াও, এই একই টীকাটি সামনে আবদুল কাহিরের বক্তব্যের মূল পাঠ্যে ৪০৫ নম্বরের পরে আসবে/ ৩৫৬, টীকা: ২/ ৩৬৭, টীকা: ১/ ৩৭৩, টীকা: ২/ ৩৭৪, টীকা: ২/ ৩৮০, টীকা: ২/ ৩৮৩, টীকা: ১, এবং টীকার পাঠ্য হলো: "এটি আমার এই বক্তব্যের কারণ দর্শানো: বহু উপাস্য সাব্যস্ত করা থেকে এটি আবশ্যক হয় না", যা একটি চূড়ান্ত প্রমাণ যে এই টীকাগুলো আবদুল কাহিরের পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া/ ৪৪৭, টীকা: ২/ ৪৯৯, টীকা: ২, যা কোনো সন্দেহ ছাড়াই আবদুল কাহিরের বক্তব্য: ৫০২, টীকা: ১

আবদুল কাহির এই পাণ্ডুলিপিতে আরও কিছু টীকা লিখেছিলেন যা আমার নজর এড়িয়ে গেছে, তবে আমি সেগুলো সঠিকভাবে পড়তে পারিনি, তাই সেগুলোর কিছুই আমি এখানে অন্তর্ভুক্ত করিনি। আর আমি উপরে যা উল্লেখ করেছি তা আপনার সামনে স্পষ্ট প্রমাণ যে, "জ" পাণ্ডুলিপির অনুলিপিকারক এটি মূলত আবদুল কাহিরের নিজস্ব পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করেছেন এবং তিনি এমন কিছু তাত্ত্বিক তথ্য যোগ করেছেন যা অন্য সব পাণ্ডুলিপিতে নেই। একারণেই আমি এটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি যার ওপর আমি নির্ভর করেছি।

আর এই "জ" পাণ্ডুলিপির বিন্যাস নিম্নরূপ:

১ - পৃষ্ঠা: ১ থেকে পৃষ্ঠা: ৩০৭ পর্যন্ত, "দালাইলুল ই'জায" গ্রন্থের মূল পাঠ্য, যেমনটি অন্য পাণ্ডুলিপি "স" এর মাধ্যমেও নির্দেশিত হয়েছে এবং যা আমি পরে স্পষ্ট করব। এরপর তিনি দুটি বক্তব্যের মাঝে কিছুটা ফাঁকা জায়গা ছেড়েছেন এবং লিখেছেন: "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম"। এই অংশটি আমাদের মুদ্রিত সংস্করণের ১ থেকে ৪৭৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ১১)
- ط -

 

2 - من ص: 307 - 332، ويبدأ فصل آخر، وهو موجود بهذا الترتيب في مطبوعة رشيد رضا، وهو في مطبوعتنا من ص: 481 - 524.

3 - من ص: 333 - 343، فصل آخر، موجود في نسخة رشيد رضا، وهو في مطبوعتنا من ص: 525 - 538.

4 - من ص: 343 - 351، موجود في نسخة رشيد رضا. مؤخرُا عن موضعه في المخطوطة، وهو فيها من ص: 393، إلى آخر مطبوعته ص: 402، واتبعته في ذلك، فهو في مطبوعتنا مؤخر أيضًا، وهو فيها من ص: 546 إلى ص: 557.

5 - من ص: 352 - 356، موجود في نسخة رشيد رضا مقدمًا عن موضعه في المخطوطة، وهو فيها من ص: 389، إلى ص 393، واتبعته أيضًا فهو في مطبوعتنا من ص: 539 - إلى ص: 545.

6 - من أوسط ص: 356، إلى آخر ص: 360، فصول ومسائل ملحقة بالكتاب، ليست في نسخة رشيد رضا، وهي في مطبوعتنا من ص: 561، إلى ص: 569.

7 - من ص: 361 إلى ص: 366، وبعدها ص: 367، 368 ورقة بيضاء فاصلة: "المدخل في دلائل الإعجاز من إملائه"، وقد قدمها رشيد رضا في أول كتاب "دلائل الإعجاز" وأحسن، فاتبعته وقدمتها في اول هذه المطبوعة أيضًا.

8 - من ص: 369 - 405، "الرسالة الشافية في الإعجاز، هذه الرسالة خارجة من كتابه الموسوم بدلائل الإعجاز"، وقد نشرت من قبل كما سأذكر ذلك، ونشرتها أيضًا، وهي في مطبوعتنا من ص: 573 إلى ص: 628 فهذه هي النسخة التي جعلتها أصلًا أول؛ لنفاستها وعتقها، ولأنها
- ত্ব -

 

২ - ৩০৭ থেকে ৩৩২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত; এখানে অন্য একটি পরিচ্ছেদ শুরু হয়েছে। এটি রশীদ রিযার মুদ্রিত সংস্করণে এই ক্রমেই বিদ্যমান। আর আমাদের মুদ্রিত সংস্করণে এটি ৪৮১ থেকে ৫২৪ পৃষ্ঠা পর্যন্ত রয়েছে।

৩ - ৩৩৩ থেকে ৩৪৩ পৃষ্ঠা পর্যন্ত আরেকটি পরিচ্ছেদ। এটি রশীদ রিযার কপিতে বিদ্যমান এবং আমাদের মুদ্রিত সংস্করণে এটি ৫২৫ থেকে ৫৩৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত রয়েছে।

৪ - ৩৪৩ থেকে ৩৫১ পৃষ্ঠা পর্যন্ত; এটি রশীদ রিযার কপিতে বিদ্যমান। পাণ্ডুলিপিতে এটি যে স্থানে ছিল তার থেকে পেছনে রাখা হয়েছে। পাণ্ডুলিপিতে এটি ৩৯৩ পৃষ্ঠা থেকে শুরু করে তাঁর মুদ্রিত সংস্করণের শেষ ৪০২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ছিল। আমি এ ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছি। তাই আমাদের মুদ্রিত সংস্করণেও এটি পেছনে রাখা হয়েছে এবং সেখানে এটি ৫৪৬ থেকে ৫৫৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত রয়েছে।

৫ - ৩৫২ থেকে ৩৫৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত; এটি রশীদ রিযার কপিতে পাণ্ডুলিপির নির্ধারিত স্থানের চেয়ে আগে আনা হয়েছে। পাণ্ডুলিপিতে এটি ৩৮৯ থেকে ৩৯৩ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ছিল। আমি এটিও অনুসরণ করেছি, তাই আমাদের মুদ্রিত সংস্করণে এটি ৫৩৯ থেকে ৫৪৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত রয়েছে।

৬ - ৩৫৬ পৃষ্ঠার মাঝখান থেকে ৩৬০ পৃষ্ঠার শেষ পর্যন্ত; এগুলো বইটির সাথে সংযুক্ত কিছু পরিচ্ছেদ ও মাসআলা, যা রশীদ রিযার কপিতে নেই। আমাদের মুদ্রিত সংস্করণে এগুলো ৫৬১ থেকে ৫৬৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত রয়েছে।

৭ - ৩৬১ পৃষ্ঠা থেকে ৩৬৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত; এরপর ৩৬৭ ও ৩৬৮ পৃষ্ঠা হলো পৃথককারী সাদা পাতা: "তাঁর শ্রুতিলিপি থেকে দালায়েলুল ইজায-এর ভূমিকা"। রশীদ রিযা এটিকে "দালায়েলুল ইজায" বইয়ের শুরুতে নিয়ে এসেছেন এবং এটিই উত্তম হয়েছে। তাই আমিও তাঁকে অনুসরণ করেছি এবং এই মুদ্রণের শুরুতেও এটি নিয়ে এসেছি।

৮ - ৩৬৯ থেকে ৪০৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত; "আল-রিসালাতুশ শাফিয়া ফিল ইজায; এই রিসালাটি দালায়েলুল ইজায নামক তাঁর কিতাবের বহির্ভূত অংশ।" এটি আগেও প্রকাশিত হয়েছে যেমনটি আমি পরে উল্লেখ করব, এবং আমিও এটি প্রকাশ করেছি। আমাদের মুদ্রিত সংস্করণে এটি ৫৭৩ থেকে ৬২৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত রয়েছে। এটিই সেই পাণ্ডুলিপি যাকে আমি প্রথম মূল উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছি; এর অনন্যতা ও প্রাচীনত্বের কারণে এবং কারণ এটি...
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ১২)
- ى -

 

منقولة من خطّ الشيخ رحمه الله، وعليها حواشيه بخَطّه، ولم تخلُ من بعض العيوب، أشرت إليها فى تعليقى على الكتاب.

• النسخة المخطوطة الثانية " س"، وهى من مكتبة أسعد أفندى 3004، بتركية، وليسَ فيها اسم ناسخها ولا تاريخ كتابتها، والأرجح أنها من خطوط القرن السادس أيضاً أو القرن السابع. وهى نسخة نفيسة دقيقة مضبوطة ضبطاً كاملاً، مع بعض العيوب التى تتخللها، والتى أشرت إليها فى تعليقى على الكتاب، وهى خالية من كُلّ حاشية، وهى التى دلَّتنى على آخرِ كتاب " دلائل الاعجاز "، وأن ما بعد ذلك فى نسخة " ج "، إنما هو " رسائل وتعليقات " نقلها كاتب "ج " من خَطّ عبد القاهر بعد وفاته رحمه الله، والموجودة أيضاً فى الأصول التى طبعت عنها نسخة رشيد رضا. وهى تقع فى مطبوعتنا من أول الكتاب ص: 1، إلى ص: 478، ونص كاتبها أنه بهذه النهاية تم كتاب " دلائل الاعجاز ".

فهاتان هما النسختان النفيستان اللتان جعلتُهمَا اصلاً لقراءتى وتعليقى.

• مطبوعة الشيخ محمد رشيد رضا رحمه الله سنة 1321، وهى أولُ مطبوعة صدرت، من كتاب " دلائل الِإعجاز"، فكتب فى آخر الكتاب كلمةً ذكر فيها أنه نشر كتاب "أسرار البلاغة " لعبد القاهر فى أول سنة 1320، ثم قال: " لما هاجرت إلى مصرَ لإنشاء مجلة " المنار " الِإسلامى فى سنة 1315، وجدتُ الأستاذ الامام الشيخ محمد عبده، رئيس جمعية إحياء العلوم العربية، ومفتى الديار المصرية، مُشتغِلاً بتصحيح كتاب " دلائل الِإعجاز، وقد استحضر نسخةً من المدينة المنورة، ومن بغداد، ليقابلها على النسخة التى عنده. وأزيدُ الآن، أنه قد عُنى بتصحيحه أتم عناية، وأشرك معه فيها إمامَ اللغة وآدابها فى هذا العصر، الشيخ محمد محمود التركزىَّ الشِّنْقِيطى، ونَاهيك بكتابٍ اجتمعَ على تصحيح أصله علاّمتا المعقول والمنقول".
-

 

শায়খের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) হাতের লেখা থেকে এটি অনুলিপি করা হয়েছে এবং এতে তাঁর নিজ হস্তাক্ষরে টীকা রয়েছে। এটি কিছু ত্রুটিমুক্ত নয়, যা আমি বইটির ওপর আমার মন্তব্যে উল্লেখ করেছি।

• দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি সংস্করণ "সীন", যা তুরস্কের আস'আদ এফেন্দি লাইব্রেরি ৩০০৪ থেকে সংগৃহীত। এতে লিপিকারের নাম বা এটি রচনার তারিখ নেই। তবে এটিও ষষ্ঠ বা সপ্তম হিজরি শতাব্দীর হস্তাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান, নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পাদিত পাণ্ডুলিপি, যদিও এর মধ্যেও কিছু ত্রুটি রয়েছে যা আমি বইটির ওপর আমার মন্তব্যে উল্লেখ করেছি। এই সংস্করণটি সব ধরনের টীকা মুক্ত। এটিই আমাকে "দালাইলুল ই'জাজ" বইটির সমাপ্তি নির্দেশ করতে সহায়তা করেছে। আর "জীম" সংস্করণে এর পরে যা কিছু আছে, তা মূলত "পত্র ও মন্তব্য", যা আব্দুল কাহিরের মৃত্যুর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) পর তাঁর হস্তাক্ষর থেকে "জীম" সংস্করণের লেখক নকল করেছিলেন। এগুলো সেই মূলে বিদ্যমান যার ওপর ভিত্তি করে রশিদ রিদার সংস্করণটি মুদ্রিত হয়েছিল। আমাদের মুদ্রিত সংস্করণে এটি বইয়ের শুরু ১ পৃষ্ঠা থেকে ৪৭৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর লিপিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই সমাপ্তির মাধ্যমেই "দালাইলুল ই'জাজ" বইটি শেষ হয়েছে।

এই দু’টিই হলো সেই মূল্যবান সংস্করণ যা আমি আমার পাঠ ও মন্তব্যের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি।

• ১৩২১ হিজরিতে প্রকাশিত শায়খ মুহাম্মদ রশিদ রিদার (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সংস্করণ। এটিই "দালাইলুল ই'জাজ" বইটির সর্বপ্রথম মুদ্রিত সংস্করণ। তিনি বইটির শেষে একটি মন্তব্য লিখেছিলেন যেখানে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ১৩২০ হিজরির শুরুতে আব্দুল কাহিরের "আসরারুল বালাগাহ" বইটি প্রকাশ করেছিলেন। অতঃপর তিনি বলেন: "যখন আমি ১৩১৫ হিজরিতে ইসলামি সাময়িকী 'আল-মানার' প্রতিষ্ঠার জন্য মিশরে হিজরত করি, তখন আমি উস্তাদ ইমাম শায়খ মুহাম্মদ আবদুকে (যিনি 'জামঈয়্যাহ ইহয়াউল উলূম আল-আরাবিয়্যাহ'-এর সভাপতি এবং মিশরের মুফতি ছিলেন) 'দালাইলুল ই'জাজ' বইটি সংশোধনের কাজে ব্যস্ত দেখি। তিনি মদিনা মুনাওয়ারা এবং বাগদাদ থেকে পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছিলেন যাতে সেগুলোকে তাঁর নিকট থাকা সংস্করণের সাথে মিলিয়ে দেখতে পারেন। আমি এখন আরও যোগ করছি যে, তিনি এটি সংশোধনে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন এবং বর্তমান যুগের ভাষা ও সাহিত্যের ইমাম শায়খ মুহাম্মদ মাহমুদ আত-তারকুজি আশ-শিনকিতিকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আর এমন একটি বই সম্পর্কে আপনার ধারণা কী হতে পারে, যার মূল পাণ্ডুলিপি সংশোধনে যুক্তি ও বর্ণনা (আকলি ও নাকলি) উভয় শাস্ত্রের দুই প্রাজ্ঞ পণ্ডিত একত্রিত হয়েছেন।"
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ১৩)
- ك-

 

فهذه المطبوعة إذنْ، لها ثلاثة أصولٍ مخطوطةٍ لا أعرفُ عنْها شيئاً، ولكن لما لها من منزلة التقدم، ولأن الذين تولَّوْا نشرها ثلاثة من كبار علمائنا فى هذا العصر، فقد جعلتُها أصلاً ثالثاً، واتبعتُ ترتيبَها، حتى لا تَخْتَلَّ معرفة الناس بهذا الكتاب الجليل الذى بقى فى أيديهم على صورته هذه أكثر من ثمانين سنة. ولكن لابُدَّ من الاشارة هنا إلى أن الخطوطتين"ج " و "س" قد صححتَا خَلَلاً شديداً كان فى بضعة مواضع من الكتاب، وكان شَرها وأبشعها ما وقع فى هذه المطبوعة فى ص: 390، 391 وهو واقع فى مطبوعتنا ص: 540 تعليق: 4، فقد كان كلاماً لا يُعْقَل ولا يُهْتَدَى إلى صوابه، ولا أدرى كيف وقع هذا الخلل. وعندما بدأت قراءة الكتاب ونشره، كانت نيَّتى أن استبقى جميع تعليقات الشيخ رشيد رحمه الله، ففعلتُ ذلك فى أوائل الصفحات، ثم أضربتُ عنْ ذلك، لقلة فائدة هذه الحواشى، ولكيلا يختلطَ عملى بعمل غيرى، ولكنّى لم أخلِ تعليقاتى من الإشارة إلى تعليقاته رحمه الله.

فهذه المطبوعة، إذنْ، كأنها اعتمدت على خمس مخطوطات: مخطوطة " ج " و " س"، ثم مخطوطة المدينة، ومخطوطة بغداد، ومخطوطة الشيخ محمد عبده، وهى ثلاثة لا أعرف عنها شيئًا، إلا ثِقة منِّى بعمل الشيخ رشيد رضا رحمه الله، وغفر لنا وله.

بقى شىء واحد، وهو أنى وضعت فى هامش الكتاب أرقام صفحات المخطوطة " ج" برسم الأعداد العربية المألوف فى بلادنا، وأرقام صفحات الخطوطة " س " برسم الأعداد التى كتب بها الأعاجم أعدادهم، وأما صفحات مطبوعة الشيخ رشيد، فقد وضعت أرقام صفحاتها فى دائرة O هكذا، وهى فاصلة فى سياق الكلام، وآثرت ذلك، لأنّ هذه المطبوعة بقيت دهراً طويلاً فى أيدى العلماء، وأحالوا إلى صفحاتها فى حواشيهم، لأنها أجودُ نسخةٍ طبعت من كِناب " دلائل الاعجاز" حتى تم طبعُ نسختنا هذه.

 

সুতরাং এই মুদ্রিত সংস্করণটির তিনটি পাণ্ডুলিপি উৎস রয়েছে যা সম্পর্কে আমি কিছু জানি না; কিন্তু এর অগ্রগণ্য মর্যাদার কারণে এবং যেহেতু বর্তমান যুগের আমাদের বড় বড় তিনজন আলেম এর প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই আমি একে তৃতীয় মূল উৎস হিসেবে গণ্য করেছি এবং এর ক্রম অনুসরণ করেছি, যাতে এই মহান কিতাব সম্পর্কে মানুষের জানাশোনায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে যা তাদের হাতে এই আকারেই আশি বছরেরও বেশি সময় ধরে রয়েছে। কিন্তু এখানে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে যে, "জ" ও "স" পাণ্ডুলিপি দুটি কিতাবটির বেশ কিছু স্থানের গুরুতর ত্রুটি সংশোধন করেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও কুৎসিত ত্রুটিটি ছিল এই মুদ্রণের ৩৯০ ও ৩৯১ পৃষ্ঠায়, যা আমাদের মুদ্রণের ৫৪০ পৃষ্ঠার ৪ নম্বর টীকায় রয়েছে। সেটি ছিল এক অবোধগম্য কথা যার সঠিক পাঠ উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না, এবং আমি জানি না এই ত্রুটি কীভাবে ঘটেছিল। যখন আমি বইটি পড়া ও প্রকাশের কাজ শুরু করি, তখন আমার নিয়ত ছিল শেখ রশিদ (রহ.)-এর সকল টীকা রেখে দেওয়ার; তাই আমি শুরুর পৃষ্ঠাগুলোতে তা-ই করেছিলাম। এরপর আমি সেই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসি, এই টীকাগুলোর উপকারিতা কম হওয়ার কারণে এবং যাতে আমার কাজ অন্য কারও কাজের সাথে মিশে না যায়। তবে আমি আমার টীকাগুলোতে তাঁর (রহ.) টীকাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া থেকে বিরত থাকিনি।

সুতরাং এই মুদ্রিত সংস্করণটি যেন পাঁচটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছে: "জ" ও "স" পাণ্ডুলিপি, এরপর মদীনার পাণ্ডুলিপি, বাগদাদের পাণ্ডুলিপি এবং শেখ মুহাম্মদ আবদোহ-এর পাণ্ডুলিপি—এ তিনটি সম্পর্কে আমি কিছু জানি না, কেবল শেখ রশিদ রেদা (রহ.)-এর কাজের ওপর আমার আস্থার কারণে (তা গ্রহণ করেছি)। আল্লাহ আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করুন।

একটি বিষয় অবশিষ্ট রয়ে গেল, আর তা হলো—আমি কিতাবের পার্শ্বটীকায় "জ" পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা নম্বরগুলো আমাদের দেশে প্রচলিত আরবি সংখ্যার আদলে বসিয়েছি এবং "স" পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা নম্বরগুলো অনারবরা যে লিপিতে সংখ্যা লেখে সেই রূপে বসিয়েছি। আর শেখ রশিদের মুদ্রিত সংস্করণের পৃষ্ঠা নম্বরগুলো আমি একটি বৃত্তের O ভেতরে এভাবে বসিয়েছি, যা মূল পাঠের মধ্যে একটি বিভাজক হিসেবে কাজ করবে। আমি এটি পছন্দ করেছি কারণ এই মুদ্রিত সংস্করণটি দীর্ঘকাল ধরে আলেমদের হাতে সমাদৃত ছিল এবং তাঁরা তাঁদের টীকায় এর পৃষ্ঠা নম্বরগুলোর হাওয়ালা দিয়েছেন; কারণ এটিই ছিল "দালাইলুল ইজায" কিতাবটির সবচেয়ে উন্নত সংস্করণ, যতক্ষণ না আমাদের এই সংস্করণটির মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ১৪)
- ل -

 

• أما " الرسالة الشافية" المثبتة فى آخر نسخة "ج "، فقد نص الناسخ على أنها " خارجة من كتابه الموسم بدلائل الإعجاز "، وقد نشرها من قبل الأستاذان " محمد خلف الله أحمد " و " محمد زغلول سلام "، فى مجموعة ذخائر العرب، ضمن كتاب بعنوان: " ثلاث رسائل فى إعجاز القرآن، للرُّمَّاني، والخَطَّابى، وعبد القاهر الجرجانى "، عن نسختنا "ج " نفسها. وقد آثرت أن أعيد نَشْرَها، لأنها قطعة من النسخة "ج " التى جعلتُها أصلاً معتمداً للنشر، ثم للسبب الذى ذكرته آنفاً من أن عبد القاهر، كان ينقضُ بكتابه قول الطائفة التى اتبعت القاضى عبد الجبار من المعتزلة، وقالت بقوله وردَّدته، ولم يذكر فيه القائلين من المعتزلة بقول شيخهم القديم النظام فى " الصرفة "، وأفرد لهم هذه " الرسالة الشافية "، ففيها الردّ على أهل " الصرفة " وغيرهم من المعتزلة. وكانت أيضاً هذه المطبوعة الأولى، غير مطابقة كل المطابقة لما فى المخطوطة، كما أشرت إليه فى التعليق عليها، وأرجو أن كون قد أحسنتُ.

والحمدُ لله أوَّلاً وآخراً على توفيقه وعظيم إنعامِه علىَّ، بٍأن أتولَّى قراءةَ هذا السفر الجليل والتعليقَ عليه، مُقِرًّا بالعَجْزِ والتقصير، ضارعا إليه أن يَغْفر لى ما أسأتُ فيه، وأسألهُ أن يُعيننى على مَا أُقْحِم نفسى فيه من عَمَل أريدُ به وجهَهُ سبحانه، ثُمَّ ما أضمرُهُ من خدمة هذه اللُّغة الشريفة النبيلة التى شرفَها الله وكرَّمها بتنزيل كتابه بلسانٍ عربىّ مبين، وصلَّى الله على النبىّ الأمِّىِّ صلاة تُزْلِفُنا عنده، صلى الله عليه وسلم، وصلَّى الله على أبويه الكريمين إبْراهيم وإسْماعيل وعلى سائر أنبيائه ورُسُله. اللهمَّ اغفر لنا وارحمنا ويسِّر لنا كُل عسِير.

 

الثلاثاء: 5 جمادى الأولى سنة 1404

7 فبراير سنة 1984

مصر الجديدة/ 3 شارع الشيخ حسين المرصفى

 

أبو فهر

محمود محمد شاكر
- ল -

 

• 'জ' পান্ডুলিপির শেষে অন্তর্ভুক্ত 'আর-রিসালাহ আশ-শাফিয়াহ' সম্পর্কে কথা হলো, অনুলিপিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে এটি তাঁর 'দালাইলুল ইজায' নামক গ্রন্থের বহির্ভূত অংশ। এটি ইতিপূর্বে জনাব 'মুহাম্মদ খালাফাল্লাহ আহমদ' এবং 'মুহাম্মদ যাগলুল সালাম' 'যাখাইরুল আরব' সংগ্রহে 'কুরআনের অলৌকিকত্ব বিষয়ে তিনটি রিসালাহ: রুম্মানি, খাত্তাবি এবং আব্দুল কাহের জুরজানি রচিত' শিরোনামের বইয়ের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে আমাদের এই 'জ' পান্ডুলিপি থেকেই প্রকাশ করেছেন। আমি এটি পুনরায় প্রকাশ করাকে শ্রেয় মনে করেছি, কারণ এটি 'জ' পান্ডুলিপিরই একটি অংশ যেটিকে আমি প্রকাশের জন্য মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। এছাড়া পূর্বে উল্লিখিত কারণটিও রয়েছে যে, আব্দুল কাহের তাঁর এই কিতাবের মাধ্যমে মুতাজিলাদের সেই দলের মতকে খণ্ডন করেছেন যারা কাজী আব্দুল জাব্বারের অনুসরণ করেছিল এবং তাঁর মত ব্যক্ত ও পুনরাবৃত্তি করেছিল। তিনি এতে সেই মুতাজিলাদের কথা উল্লেখ করেননি যারা তাদের প্রাচীন শাইখ নাজ্জামের 'সরফাহ' (বিমুখকরণ) মতবাদ গ্রহণ করেছিল। তিনি তাদের জন্য এই 'আর-রিসালাহ আশ-শাফিয়াহ' স্বতন্ত্রভাবে রচনা করেছেন, এতে 'সরফাহ' পন্থী এবং অন্যান্য মুতাজিলাদের খণ্ডন রয়েছে। তাছাড়া এই প্রথম মুদ্রণটি পাণ্ডুলিপির সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না, যেমনটি আমি এর ওপর প্রদত্ত টিকায় ইঙ্গিত করেছি। আমি আশা করি যে আমি এটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।

শুরুতে ও শেষে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাঁর তাওফিক এবং আমার প্রতি তাঁর মহান অনুগ্রহের জন্য যে, আমি এই মহান গ্রন্থটি পাঠ ও এর ওপর টীকা রচনার দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। আমি নিজের অক্ষমতা ও ত্রুটি স্বীকার করছি এবং তাঁর কাছে বিনম্র প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করেন। আমি তাঁর কাছে সাহায্য চাইছি যেন তিনি আমাকে সেই কাজে সাহায্য করেন যার মাধ্যমে আমি কেবল তাঁরই সন্তুষ্টি কামনা করি। এরপর আমার অন্তরে এই মহৎ ও সম্মানিত ভাষার খেদমত করার যে ইচ্ছা রয়েছে—যাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবকে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করে সম্মানিত ও মর্যাদাবান করেছেন। উম্মি নবীর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, এমন রহমত যা আমাদের তাঁর নিকটবর্তী করবে, তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক। তাঁর দুই সম্মানিত পূর্বপুরুষ ইব্রাহিম ও ইসমাইল এবং অন্যান্য সকল নবী ও রাসূলগণের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের ওপর দয়া করুন এবং আমাদের সকল কঠিন কাজ সহজ করে দিন।

 

মঙ্গলবার: ৫ জমাদিউল উলা, ১৪০৪ হিজরি

৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ

মিসর আল-জাদিদাহ/ ৩ শেখ হুসাইন আল-মারসাফি সড়ক

 

আবু ফাহর

মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: -)
دلائل الإعجاز ت شاكر   (عبد القاهر الجرجاني)

القسم: البلاغة


الكتاب: دلائل الإعجاز في علم المعاني

المؤلف: أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن بن محمد الفارسي الأصل، الجرجاني الدار (ت 471 هـ)

المحقق: محمود محمد شاكر أبو فهر

الناشر: مطبعة المدني بالقاهرة - دار المدني بجدة

الطبعة: الثالثة 1413 هـ - 1992 م

عدد الصفحات: 684

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 ذو القعدة 1432

দালাইলুল ই'জায, তাহকিক: শাকের   (আব্দুল কাহের আল-জুরজানি)

বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)


বই: ইলমুল মা'আনি বিষয়ে দালাইলুল ই'জায

লেখক: আবু বকর আব্দুল কাহের ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ, মূলগতভাবে পারস্যীয়, আবাসস্থলে জুরজানি (মৃত্যু ৪৭১ হিজরি)

তাহকিককারী: মাহমুদ মুহাম্মদ শাকের আবু ফাহর

প্রকাশক: কায়রোর আল-মাদানি প্রেস - জেদ্দার দার আল-মাদানি

সংস্করণ: তৃতীয় ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌فاتحة المصنف في مكانة العلم:

حسبي ربي 1:

خطبة الكتاب:

الحمدُ للَّهِ ربَّ العالمين حمْدَ الشاكرين، نَحمدُه على عظيمِ نَعْمائه، وجميلِ بَلائه، ونَستكفيهِ نوائبَ الزَّمان، ونوازلَ الحدَثان، ونَرغبُ إليه في التَّوفيقِ والعِصْمة، ونَبْرأ إليه منَ الحَوْل والقوَّة، ونسألهُ يقيناً يملأُ الصدرَ، ويَعْمر القلبَ، ويَستولي على النَّفس، حتى يكُفَّها إذا نَزغت، وَيرُدَّها إذا تطلَّعتْ، وثقةً بأنه عز وجل الوَزَر، والكالئ والرَّاعي والحافظُ، وأنَّ الخيرَ والشرَّ بيدهِ، وأنَّ النِّعَم كلَّها من عنِده، وأنْ لا سلطانَ لأحدٍ معَ سُلطانهِ، نُوجِّه رغباتِنا إليه2، ونُخْلص نيَّاتِنا في التوكلُّ عَليه، وأن يَجْعلنا مِمَّنْ هَمُّه الصدقُ، وبُغْيَتُه الحقُّ3، وغرَضُه الصَّواب، وما تُصححه العقولُ وتَقْبله الألبابُ، ونعوذُ به مَن أنْ ندَّعيَ العلمَ بشيءٍ لا نَعلمه4، وأَنْ نُسَدِّيَ قولاً لا نُلحمه، وأنْ نكونَ ممَّن يَغُرُّه الكاذبُ منَ الثَّناء5، ويَنْخدعَ للمتجوِّز في الإطراء، وأن يكونَ سبيلُنا سبيلَ مَنْ يُعْجبه أنْ يُجادل بالباطلِ6، ويُموِّه على السامع، ولا يبالي إذا

--------------------------------------------

1 في "س": "رب يسر وأعن".

2 في "س": "رغبتنا"، وفي الهامش "رغباتنا" عن نسخة أخرى.

3 في "س"، و "يقينه"، وفي الهامش: "وبغيته": عن نسخة أخرى.

4 "العلم"، سقطت في "ج".

5 في "س": "وأن يغرنا الكاذب من الثناء".

6 في س "وأن نكون ممن يعجبه … ".
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ইলমের মর্যাদা সম্পর্কে লেখকের ভূমিকা:

আমার জন্য আমার প্রতিপালকই যথেষ্ট ১:

গ্রন্থের ভূমিকা:

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যা শোকরকারী বান্দাদের প্রশংসার অনুরূপ। আমরা তাঁর প্রশংসা করি তাঁর মহান নিয়ামতরাজির জন্য এবং তাঁর সুন্দর পরীক্ষার জন্য। আমরা তাঁর কাছে সময়ের দুর্যোগ ও আকস্মিক বিপদাপদ থেকে রক্ষার প্রার্থনা করি। আমরা তাঁর কাছে তাওফিক ও পাপ থেকে সুরক্ষা কামনা করি এবং আমরা আমাদের নিজস্ব শক্তি ও সামর্থ্যের দাবি থেকে মুক্ত হয়ে কেবল তাঁরই মুখাপেক্ষী হই। আমরা তাঁর কাছে এমন ইয়াকিন বা দৃঢ় বিশ্বাস প্রার্থনা করি যা বক্ষকে পূর্ণ করে দেয়, অন্তরকে আবাদ করে এবং নফসের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে; যাতে এটি নফসের প্ররোচনার সময় তাকে নিবৃত্ত করে এবং যখন নফস কোনো মন্দ দিকে লালায়িত হয় তখন তাকে ফিরিয়ে রাখে। আর এ বিশ্বাস যেন এমন আস্থার সাথে হয় যে, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহই হলেন আশ্রয়দাতা, রক্ষণাবেক্ষণকারী, অভিভাবক ও হিফাজতকারী; আর সকল কল্যাণ ও অকল্যাণ তাঁরই হাতে, সমস্ত নিয়ামত তাঁরই পক্ষ থেকে এবং তাঁর সার্বভৌমত্বের সাথে আর কারও কোনো কর্তৃত্ব নেই। আমরা আমাদের সকল আকুতি তাঁরই অভিমুখী করি ২, এবং তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করার ক্ষেত্রে আমাদের নিয়তকে একনিষ্ঠ করি। আর তিনি যেন আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাদের মূল চিন্তা হলো সত্যনিষ্ঠতা, অন্বেষণ হলো সত্য ৩ এবং লক্ষ্য হলো সঠিক পথ ও পদ্ধতি; আর যা বুদ্ধি দ্বারা সমর্থিত এবং বিবেক দ্বারা গৃহীত। আমরা তাঁর কাছে আশ্রয় চাই এমন কোনো বিষয়ে জ্ঞানের দাবি করা থেকে যা আমরা জানি না ৪, এবং এমন কথা বলা থেকে যার কোনো ভিত্তি নেই। আমরা যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই যাদের মিথ্যা প্রশংসা প্রতারিত করে ৫ এবং অতিরঞ্জিত তোষামোদকারীর দ্বারা বিভ্রান্ত হয়। আর আমাদের পথ যেন তাদের পথ না হয় যারা মিথ্যার আশ্রয়ে বিতর্ক করা পছন্দ করে ৬ এবং শ্রোতার কাছে সত্যকে আড়াল করে বিভ্রান্তি ছড়ায়, আর সে পরোয়া করে না যখন...

--------------------------------------------

১. 'সীন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "হে প্রতিপালক, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।"

২. 'সীন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আমাদের আকাঙ্ক্ষা" (একবচন), এবং পার্শ্বটীকায় অন্য সংস্করণ থেকে "আমাদের আকাঙ্ক্ষাসমূহ" (বহুবচন) হিসেবে উল্লেখ আছে।

৩. 'সীন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তার দৃঢ় বিশ্বাস", এবং পার্শ্বটীকায় অন্য সংস্করণ থেকে "তার অন্বেষণ" হিসেবে উল্লেখ আছে।

৪. "জ্ঞান" শব্দটি 'জীম' পাণ্ডুলিপিতে বাদ পড়েছে।

৫. 'সীন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "এবং মিথ্যা প্রশংসা যেন আমাদের প্রতারিত না করে।"

৬. 'সীন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "এবং আমরা যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত হই যাদের পছন্দ হয়..."।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ৪)
راجَ عنه القولُ أن يكونَ قد خلَط فيه، ولم يُسدَّدْ في معانيه، ونَستأنفُ الرغبةَ إليهِ عز وجل في الصَّلاة على خَيْر خَلْقه، والمُصطفى مِن بَريَّته، محمّدٍ سيّدِ المُرسلينَ، وعلى أصحابهِ الخُلفاءِ الراشدين، وعلى آلهِ الأخيارِ من بعدهم أجمعين.

بيان فضل العلم:

1 - وبعدُ فإنَّا إذا تصفَّحْنا الفضائلَ لنَعرفَ منازلَها في الشَّرف، ونتبيَّنَ مواقِعَها مِن العِظَم؛ ونَعلم أيٌّ أحقٌّ منها بالتّقَديم، وأسبقُ في استيجابِ التعَّظيم، وجَدْنا العِلمَ أَولاها بذلك، وأوَّلُها هنالك؛ إذ لا شَرفَ إلَاّ وهو السّبيلُ إليه، ولا خيرَ إلَاّ وهو الدَّليلُ عليه، ولا مَنْقَبةَ إلَاّ وهو ذُروتها وسَنامها، ولا مَفْخرةَ إلَاّ وبهِ صحَّتُها وتمَامُها، ولا حسنةَ إلَاّ وهو مِفتاحُها؛ ولا مَحْمَدةَ إلا ومنه يَتَّقدُ مصباحُها، وهو الوفيُّ إذا خانَ كلُّ صاحبٍ، والثقةُ إذا لم يُوثَق بناصحٍ، لولاهُ لَما بانَ الإنسانُ من سائِرِ الحيوانِ إلا بتخطيط صُورتِه، وهيئةِ جسمِهِ وبُنيته، لا، ولا وجَدَ إلى اكتسابِ الفضلِ طريقاً، ولا وجَد بشيءٍ منَ المحاسنِ خليقاً. ذاكَ لأنَّا وإنْ كنَّا لا نصلُ إلى اكتسابِ فضيلةٍ إِلا بالفعلِ، وكانَ لا يكونُ فعْلٌ إلَاّ بالقُدرة، فإنَّا لم نَرَ فعلاً زانَ فاعِلَه وأوجبَ الفضلَ له، حتى يكونَ عنِ العلم صَدَرُهُ، وحتى يتتبين ميسمه عليه وأثره، ولم نر قدرةقط كَسبتْ صاحَبَها مَجْداً وأفادتْه حَمْداً، دونَ أن يكونَ العلمُ رائدَها فيما تَطْلُب، وقائدَها حيث يؤم ويذهب، ويكُونَ المُصرِّفَ لعِنَانها؛ والمقلِّبَ لها في مَيْدانِها. فهي إذاً مفتقِرة في أن تكونَ فضيلةٌ إليه، وعيالٌ في استحقاقِ هذا الاسم عليه، وإذا هيَ خلتْ منَ العِلم أو أبَتْ أن تمتثل أمره؛ وتقتفي أثره ورسمه1،

--------------------------------------------

1 في "ج" والمطبوعة: "وتقتفي رسمه".
তাঁর সম্পর্কে এই কথাটি প্রচলিত হয়েছে যে, তিনি এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন এবং এর অর্থ অনুধাবনে সঠিক পথে পরিচালিত হননি। আমরা মহামহিম আল্লাহর নিকট তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, তাঁর সৃষ্টিজগতের মধ্য হতে মনোনীত, রাসূলগণের সরদার মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদীন ও তাঁর সকল নেককার বংশধরের ওপর দরূদ পাঠের আকাঙ্ক্ষা পুনরায় ব্যক্ত করছি।

ইলমের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা:

১ - অতঃপর, যখন আমরা বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ গুণের ওপর দৃষ্টিপাত করি যাতে আমরা সম্মানের ক্ষেত্রে সেগুলোর স্থান ও মাহাত্ম্যের ক্ষেত্রে সেগুলোর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারি; এবং বুঝতে পারি যে সেগুলোর মধ্যে কোনটি অগ্রাধিকার পাওয়ার অধিক যোগ্য এবং কোনটি সম্মান প্রাপ্তিতে অগ্রগামী; তখন আমরা ইলমকে (জ্ঞানকে) এ বিষয়ে সবচেয়ে উপযুক্ত এবং সেখানে প্রথম সারিতে দেখতে পাই। কেননা, এমন কোনো সম্মান নেই যার পথ ইলম নয়, এবং এমন কোনো কল্যাণ নেই যার পথপ্রদর্শক ইলম নয়। এমন কোনো মহৎ গুণ নেই যার চূড়া ও শিখর ইলম নয়, এমন কোনো গৌরবের বিষয় নেই যার বিশুদ্ধতা ও পূর্ণতা ইলম ব্যতীত অর্জিত হয়, এবং এমন কোনো পুণ্য নেই যার চাবিকাঠি ইলম নয়। এমন কোনো প্রশংসনীয় কাজ নেই যার প্রদীপ ইলম হতে প্রজ্জ্বলিত হয় না। যখন সকল সঙ্গী বিশ্বাসঘাতকতা করে তখন ইলমই বিশ্বস্ত থাকে, আর যখন কোনো নসিহতকারীর ওপর আস্থা রাখা যায় না তখন এটিই নির্ভরযোগ্য হয়। যদি ইলম না থাকত, তবে মানুষ অন্যান্য প্রাণী থেকে কেবল তার অবয়বের চিত্রায়ন এবং শারীরিক গঠন ও কাঠামোর দ্বারাই পৃথক হতো। না, মানুষ মর্যাদা অর্জনের কোনো পথ খুঁজে পেত না এবং কোনো প্রকার উত্তম গুণের যোগ্য হতে পারত না। এর কারণ হলো, যদিও আমরা কর্ম ব্যতীত কোনো মর্যাদা অর্জন করতে পারি না, আর সক্ষমতা ব্যতীত কোনো কর্ম সম্পাদিত হয় না, তবুও আমরা এমন কোনো কর্ম দেখি না যা তার সম্পাদনকারীকে অলঙ্কৃত করেছে এবং তার জন্য শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত করেছে, যতক্ষণ না সেই কর্মটি ইলম থেকে উৎসারিত হয় এবং যতক্ষণ না তার ওপর ইলমের চিহ্ন ও প্রভাব প্রকাশ পায়। আমরা এমন কোনো সক্ষমতা কখনও দেখিনি যা তার অধিকারীকে গৌরব এনে দিয়েছে এবং তাকে প্রশংসিত করেছে, যদি না ইলম তার উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগামী এবং তার গন্তব্যে যাওয়ার পথে চালক না হয় এবং ইলম তার লাগাম নিয়ন্ত্রণকারী ও তার ময়দানে তাকে বিচরণকারী না হয়। সুতরাং, কোনো গুণ বা বৈশিষ্ট্য 'মর্যাদা' হিসেবে গণ্য হওয়ার ক্ষেত্রে ইলমের প্রতি মুখাপেক্ষী এবং এই নামের যোগ্য হওয়ার জন্য ইলমের ওপর নির্ভরশীল। আর যখন তা ইলম থেকে শূন্য হয় অথবা তার আদেশ মানতে অস্বীকার করে এবং তার পদাঙ্ক ও চিহ্ন অনুসরণ করতে বিমুখ হয়১,

--------------------------------------------

১. 'জিম' পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: "এবং তার চিহ্ন অনুসরণ করে"।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ৫)
آلتْ ولا شيءَ أحْشدُ للذَّمِّ على صاحبِها منها1. ولا شَيْنَ أشَيْنُ مِن إعمالِه لها2.

2 - فهذا من فضلِ العلم لا تَجد عاقلاً يُخالفك فيه، ولا تَرى أحداً يدَفعُه أو يَنْفيهِ، فأمَّا المفاضلةُ بينَ بعضِه وبعضٍ، وتقديمُ فنٍّ منهُ على فَنّ، فإنَّك تَرى الناسَ فيه على آراءٍ مُختلفة، وأهواءٍ مُتعادية، تَرى كُلاًّ منهم لِحُبِّه نفسَه، وإيثارهِ أن يَدْفعَ النقصَ عنها، يُقدِّم ما يُحْسِن من أنواعِ العلمِ على ما لا يُحْسِن، ويحاولُ الزِّرايةَ على الذي لم يَحْظَ به3 والطعنَ على أهلهِ والغَضَّ منهم. ثم تتفاوتُ أحوالهُم في ذلك، فمِن مغمورٍ قد استهلكَهُ هَواهُ، وبَعُدَ في الجَوْر مَداه، ومِنْ مُترجِّح فيه بينَ الإِنصافِ والظُّلمْ4، يجورُ تارة ويَعْدل أخرى في الحُكْم، فأمَّا مَن يَخلُص في هذا المعنى من الحَيْف حتى لا يقضيَ إلاّ بالعدلِ، وحتى يَصْدُر في كلَّ أمرِه عنِ العقلِ، فكالشّيءِ الممتنعِ وجودُه. ولم يكنْ ذلك كذلك، إلَاّ لِشَرفِ العِلم وجليلِ محلِّه، وأنَّ محبَّتَه مركوزةٌ في الطِّباع، ومُرَكَّبة في النُّفوس، وأن الغَيْرة عليه لازمةٌ للجِبِلَّة، وموضوعةٌ في الفِطرة، وأنه لا عيبَ أعيْبُ عندَ الجميعِ مِن عَدَمه، ولا ضَعةَ أوْضعُ من الخلُوِّ عنه، فلم يُعادَ إذن إلا من فَرْط المحبةَّ، ولم يُسمح به إلا لشدة الضن.

علم البيان:

3 - ثم إنك لا تَرى عِلْماً هو أرسَخُ أصلاً، وأَبْسَق فَرعاً، وأَحلى جَنىً، وأَعذبُ ورْداً، وأكرمُ نِتاجاً، وأنْورُ سراجاً، مِن عِلْم البَيان، الذي لولاه لم تر

--------------------------------------------

1 "أحشد" اسم تفضيل من "الحشد"، وهو الجمع.

2 في المطبوعة: "ولا شيء أشين"، و "الشين"، العيب.

3 "زرى عمله عليه يزريه زراية وزريًا"، عابه عليه.

4 "المترجح"، المتذبذب بميل مرة إلى هنا ثم إلى هنا.
পরিণত হয়েছে, আর এর চেয়ে বড় নিন্দার বিষয় এর অধিকারীর জন্য আর কিছুই নেই১। আর এর ব্যবহারের চেয়ে বড় কোনো ত্রুটি আর নেই২।

২ - এটি ইলমের শ্রেষ্ঠত্বের অন্তর্ভুক্ত, যে বিষয়ে আপনি কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে আপনার বিরোধিতা করতে দেখবেন না এবং আপনি এমন কাউকে দেখবেন না যে একে প্রতিরোধ বা অস্বীকার করবে। তবে ইলমের এক অংশের ওপর অন্য অংশের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান এবং এর এক শাস্ত্রকে অন্য শাস্ত্রের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনি মানুষকে বিভিন্ন মত ও পরস্পরবিরোধী প্রবৃত্তির ওপর দেখতে পাবেন। আপনি তাদের প্রত্যেককে দেখবেন—নিজের প্রতি ভালোবাসার কারণে এবং নিজের থেকে ত্রুটি দূর করার প্রচেষ্টায়—সে ইলমের যে শাখাগুলো ভালো জানে সেগুলোকে সেগুলোর ওপর প্রাধান্য দিচ্ছে যা সে ভালো জানে না। আর সে চেষ্টা করে সেই বিষয়কে অবজ্ঞা করতে যা সে অর্জন করতে পারেনি৩, এবং সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের পণ্ডিতদের ওপর অপবাদ দিতে ও তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে। অতঃপর এ বিষয়ে তাদের অবস্থার ভিন্নতা রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ তো নিমজ্জিত, যাকে তার প্রবৃত্তি ধ্বংস করে দিয়েছে এবং অন্যায়ের পথে যার ব্যাপ্তি অনেক দূর পর্যন্ত। আবার কেউ ইনসাফ ও জুলুমের মাঝে দোদুল্যমান৪; বিচারে সে কখনো অন্যায় করে, আবার কখনো ইনসাফ করে। তবে যে ব্যক্তি এই বিষয়ে পক্ষপাতিত্ব থেকে মুক্ত থেকে কেবল ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করে এবং তার প্রতিটি কাজে কেবল বিবেকের নির্দেশনা অনুসরণ করে, তার অস্তিত্ব প্রায় অসম্ভব। আর এটি এমনটি হয়েছে কেবল ইলমের সম্মান ও উচ্চ মর্যাদার কারণে। আর একারণেই এর প্রতি ভালোবাসা স্বভাবজাতভাবে মানুষের প্রকৃতিতে গেঁথে দেওয়া হয়েছে এবং আত্মার গহীনে প্রোথিত করা হয়েছে। আর এর প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ সৃষ্টির অবিচ্ছেদ্য অংশ ও ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত। আর সকলের কাছে এর অনুপস্থিতির চেয়ে বড় কোনো দোষ নেই, এবং এটি থেকে রিক্ত হওয়ার চেয়ে বড় কোনো হীনতা নেই। সুতরাং এর প্রতি শত্রুতা পোষণ করা হয় কেবল ভালোবাসার আতিশয্যের কারণে, আর একে ছেড়ে দেওয়া হয় কেবল তীব্র কৃপণতার কারণে।

ইলমুল বায়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র):

৩ - অতঃপর আপনি এমন কোনো ইলম বা শাস্ত্র পাবেন না যার মূল অধিকতর সুদৃঢ়, শাখা অধিকতর সমুন্নত, ফল অধিকতর সুমিষ্ট, উৎস অধিকতর সুপেয়, ফলাফল অধিকতর সম্মানিত এবং প্রদীপ অধিকতর উজ্জ্বল—ইলমুল বায়ানের চেয়ে; যা না থাকলে আপনি দেখতে পেতেন না

--------------------------------------------

১ "আহশাদ" হলো "আল-হাশদ" থেকে সংগৃহীত একটি আধিক্যবাচক নাম, যার অর্থ একত্রিত করা বা সংগ্রহ করা।

২ মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: "আর কোনো কিছুই অধিক ত্রুটিযুক্ত নয়", আর "শাইন" শব্দের অর্থ হলো দোষ বা ত্রুটি।

৩ এই বাক্যাংশটির অর্থ হলো কোনো বিষয়কে মন্দ বলা বা তার নিন্দা করা।

৪ "মুতারাজজিহ" অর্থ দোদুল্যমান, যা একবার এদিকে আবার ওদিকে ঝোঁকে।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ৬)
لساناً يَحُوك الوشيَ، ويصَوغ الحَلْيَ، وَيلفِظ الدرَّ، وينفثُ السِّحرَ، ويَقْري الشَّهْدَ1، ويُريكَ بدائعَ منَ الزهر، ويحنيك الحلو اليانع من التمر، والذي لولا تحفيه بالعوم، وعنايتهِ بها، وتصويرهُ إياها، لبقيتْ كامنةً مستورة، ولمَا استبنْتَ لها يدَ الدهرِ صورةً2، ولاستمرَّ السِّرارُ بأهلَّتها3، واسْتَولى الخَفَاءُ على جُملتِها، إلى فوائدَ لا يُدركها الإحصاءُ، ومحاسنَ لا يَحْصرُها الاستقصاء.

ما لحق علم البيان من الضيم والخطأ:

إلَاّ أنك لن تَرى على ذلك نوعاً من العلم قد لقيَ من الضَّيْم ما لَقِيَهُ، ومُنيَ مِنَ الحَيْف بِما مُنِيَ به4، ودَخلَ على الناسِ منَ الغلَط في مَعْناهُ ما دخَلَ عليهم فيهِ، فقد سبقتْ إلى نُفوسهم اعتقاداتٌ فاسِدةٌ وظنونٌ رديَّةٌ، ورَكبهُم فيه جهلٌ عظيمٌ وخطأٌ فاحشٌ، تَرى كثيراً منهم لا يَرى له معنىً أكثرَ ممَّا يرَى للإشارةِ بالرأس والعين، وما يَجدُه لِلخط والعَقْد5، يقولُ: إنَّما هو خبرٌ واستخبارٌ، وأمْر ونهيٌ، ولكلِّ مِن ذلك لفظٌ قد وُضع له، وجُعل دليلاً عليه، فكلُّ مَنْ عَرفَ أوضاعَ لغةٍ منَ اللغات، عربيةً كانت أو فارسية، وعرَفَ المغْزى من كلَّ لفظةٍ، ثم ساعدَه اللسانُ على النُّطق بها، وعلى تَأديةِ أجراسِها وحُروفِها، فهو بيِّن في تلك اللّغةِ، كاملُ الأداةِ، بالغٌ منَ البيانِ المبلغَ الذي لا مزيدَ عليه، مُنْتَه إلى الغايةِ التي لا مذهبَ بعدها يسمع الفصاحة والبلاغة

--------------------------------------------

1 "يقريه"، يجمعه.

2 يقولون: "لا أفعله يد الدهر"، أي لا أفعله أبدًا.

3 "السرار" بالكسر، اختفاء القمر في آخر ليلة في الشهر.

4 "مني"، ابتلى وأصيب.

5 يريد بالعقد التفاهم بعقد الأصابع
এমন এক ভাষা যা কারুকার্যময় বস্ত্র বুনন করে, অলঙ্কার গড়ে তোলে, মুক্তা উদ্গিরণ করে, যাদু বিস্তার করে এবং মধু সংগ্রহ করে১। যা আপনাকে পুষ্পের চমৎকার সব নিপুণতা দেখায় এবং খেজুরের পরিপক্ক মিষ্টতা প্রদান করে। যদি এটি (জ্ঞানের) গভীরে অবগাহন না করত, এর প্রতি যত্নশীল না হতো এবং একে চিত্রিত না করত, তবে তা সুপ্ত ও গোপনই থেকে যেত। আপনি চিরকালের জন্য২ এর কোনো রূপ দেখতে পেতেন না। এর উদীয়মান চাঁদসমূহ শেষ রাতের অন্ধকারেই৩ নিমজ্জিত থাকত এবং এর সামগ্রিক বিষয়ের ওপর অস্পষ্টতা ছেয়ে থাকত। এর এমন সব উপকারিতা রয়েছে যা গণনা করে শেষ করা যায় না এবং এমন সব সৌন্দর্য রয়েছে যা অনুসন্ধান করে পরিবেষ্টন করা সম্ভব নয়।

অলঙ্কারশাস্ত্রের (ইলমুল বয়ান) প্রতি যে অবিচার ও ভুল করা হয়েছে:

তথাপি আপনি কোনো বিদ্যাকেই এমন অবিচারের শিকার হতে দেখবেন না যেমনটি এটি হয়েছে, এবং এমন জুলুমের সম্মুখীন হতে দেখবেন না যেমনটি এটি হয়েছে৪। মানুষ এর অর্থ অনুধাবনে যেমন ভ্রান্তিতে পড়েছে, অন্য কিছুতে তেমনটি পড়েনি। তাদের অন্তরে এটি সম্পর্কে অনেক ভ্রান্ত বিশ্বাস ও মন্দ ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেছে। এটি সম্পর্কে তারা এক চরম অজ্ঞতা ও জঘন্য ভুল ধারণার বশবর্তী হয়েছে। আপনি তাদের অনেককেই দেখবেন যারা এর অর্থকে মাথা ও চোখের ইশারার চেয়ে বেশি কিছু মনে করে না এবং লিখনী ও আঙুলের ইশারার মাধ্যমে৫ যা পাওয়া যায় তার অতিরিক্ত কিছু পায় না। সে বলে: এটি তো কেবল সংবাদ প্রদান, সংবাদ জিজ্ঞাসা, আদেশ ও নিষেধ মাত্র; আর এর প্রত্যেকটির জন্য তো একটি করে শব্দ নির্ধারিত রয়েছে যা তার প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো ভাষার শব্দ গঠন সম্পর্কে জানল—তা আরবি হোক বা ফারসি—এবং প্রতিটি শব্দের উদ্দেশ্য বুঝতে পারল, এরপর তার জিহ্বা তা উচ্চারণে এবং সেই সব ধ্বনি ও বর্ণ আদায়ে পারঙ্গম হলো, তবে সে উক্ত ভাষায় প্রাঞ্জলভাষী, পূর্ণ যোগ্যতাসম্পন্ন এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে সেই চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যার ঊর্ধ্বে আর কিছু নেই এবং এমন এক গন্তব্যে পৌঁছেছে যার পরে আর কোনো পথ নেই—এমন ব্যক্তিই বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের কথা শোনে।

--------------------------------------------

১ "ইয়াকরিহি" এর অর্থ হলো তা সংগ্রহ করা।

২ তারা বলে: "আমি তা যুগের হাত পর্যন্ত করব না", অর্থাৎ আমি তা কখনোই করব না।

৩ "সিরার" (সীন বর্ণে কাসরা সহ) অর্থ মাসের শেষ রাতে চাঁদের অদৃশ্য হওয়া।

৪ "মুনিয়া" অর্থ সে পরীক্ষায় পতিত হয়েছে বা আক্রান্ত হয়েছে।

৫ তিনি "আকদ" দ্বারা আঙুলের ইশারার মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়াকে বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ৭)
والبراعةَ فلا يَعرف لها معنىً سوى الإِطْنابِ في القول، وأنْ يكونَ المتكلمُ في ذلك جهيرَ الصَّوْت، جاريَ اللسان، لا تَعترضه لُكْنه، ولا تقفُ بهِ حُبْسة1، وأنْ يَستعمل اللفظَ الغريبَ، والكلمةَ الوَحشيَّةَ، فإِنِ اسْتظهرَ للأَمر وبالغَ في النظر، فأَنْ لا يُلْحِنَ فيرفع في موضع النصب، أو يُخطئَ فيَجيء باللفظةِ على غيرِ ما هيَ عليه في الوَضْعِ اللُّغويِّ، وعلى خلافِ ما ثَبتتْ به الروايةُ عنِ العرب.

وجملةُ الأمر أنَّه لا يَرى النقصَ يَدْخلُ على صاحبهِ في ذلك2 إلا من جهةِ نقصِه في علم اللغة، لا يعلم أن ههنا دقائق وأسرار طريق العلم بها الروية والفكر، لطائف مُسْتقاها العَقلُ، وخصائصَ معانٍ ينفردُ بها قومٌ قد هُدُوا إليها، ودُلُّوا عليها، وكُشِف لهم عنها، ورُفعتِ الحُجُب بينَهُم وبينَها3، وأنها السَّببُ في أنْ عرضتِ المزيَّةُ في الكلامِ، ووجبَ أن يفضُلَ بعضُه بعضاُ، وأن يبعدَ الشأوُ في ذلك، وتمتدَّ الغايةُ، وَيعلوَ المُرتقَى، ويعزَّ المطلبُ، حتى ينتهيَ الأمرُ إلى الإعجازِ، وإلى أن يخرج من طوق البشر.

من ذم الشعر وعلم الإعراب:

4 - ولمَّا لم تعرفْ هذه الطائفةُ هذهِ الدقائقَ، وهذهِ الخواصَّ واللطائفَ، لم تَتعرضْ لها ولم تَطلبها، ثمَّ عَنَّ لها بسوء الاتفاقِ رأيٌ صارَ حجازاً بينَها وبينَ العلم بها4، وسَدّاً دونَ أن تصلَ إِليها وَهوَ أَنْ ساءَ اعتقادُها في الشَّعر الذي هو مَعْدنها، وعليه المعوَّلُ فيها، وفي علمِ الإِعرابِ الذي هو لها

--------------------------------------------

1 "الحبسة"، بالضم، اسم احتباس الكلام أي تعذره عنده إرادته. و "اللكنة"، العي والعجز عن القول.

2 في "س" "في ذلك الأمر".

3 في "ج" و "س": و "رفع الحجب".

4 في "س": "حجابًا" مكان "حجازًا".
আর বাগ্মিতা বলতে তারা বাক্যে বাহুল্য বর্জন ছাড়া অন্য কিছু বোঝে না; আর বক্তার কণ্ঠস্বর উচ্চ হওয়া, জিভ সাবলীল হওয়া, কোনো জড়তা তাকে বাধা না দেওয়া এবং কোনো বাকরহিত অবস্থা তাকে থামিয়ে না দেওয়া।১ এবং বক্তা অদ্ভুত শব্দ ও দুর্লভ পদের ব্যবহার করবে। সে যদি এ ব্যাপারে আরও গভীর অনুসন্ধান ও গভীর দৃষ্টিপাত করে, তবে তার লক্ষ্য থাকে যেন সে ব্যাকরণগত ভুল না করে, যেমন নসব-এর স্থানে রাফা না করে, কিংবা এমন ভুল না করে যাতে ভাষাতাত্ত্বিক অবস্থান এবং আরবদের থেকে প্রমাণিত বর্ণনার পরিপন্থী কোনো শব্দ প্রয়োগ করে।

মোদ্দাকথা এই যে, সে মনে করে এক্ষেত্রে২ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ত্রুটি কেবল তার ভাষাতাত্ত্বিক জ্ঞানের অভাব থেকেই আসে। সে জানে না যে, এখানে এমন কিছু সূক্ষ্মতা ও রহস্য রয়েছে যা জানার পথ হলো গভীর চিন্তা ও গবেষণা; এমন কিছু সূক্ষ্ম বিষয় যার উৎস হলো বুদ্ধি, এবং অর্থের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য যা কেবল সেই বিশেষ একদল লোকই জানে যাদেরকে এর প্রতি হেদায়েত দেওয়া হয়েছে, এর দিশা দেওয়া হয়েছে, যাদের কাছে এটি উন্মোচিত হয়েছে এবং তাদের ও এর মধ্যকার পর্দা উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।৩ আর এগুলোই হলো সেই কারণ যার ফলে বাক্যে শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়, এক কথা অন্য কথার চেয়ে উত্তম হওয়া আবশ্যক হয়, এর উচ্চাকাঙ্ক্ষা সুদূরপ্রসারী হয়, লক্ষ্য বিস্তৃত হয়, আরোহণ করার স্থান সমুন্নত হয় এবং কাঙ্ক্ষিত বস্তু অত্যন্ত দুর্লভ হয়ে ওঠে; এমনকি শেষ পর্যন্ত বিষয়টি মোজেজা বা অলৌকিকত্বের পর্যায়ে পৌঁছে যায় এবং মানুষের সাধ্যাতীত হয়ে পড়ে।

কবিতা ও ব্যাকরণ শাস্ত্রের নিন্দা প্রসংগে:

৪ - যেহেতু এই গোষ্ঠীটি এই সব সূক্ষ্ম রহস্য, বিশেষ গুণাবলী ও নিগূঢ় তত্ত্বগুলো সম্পর্কে জানত না, তাই তারা এগুলোর সম্মুখীনও হয়নি এবং এগুলো অনুসন্ধানও করেনি। এরপর দুর্ভাগ্যবশত তাদের মাঝে এমন এক মতামতের উদয় হলো যা তাদের ও এই ইলমের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল৪ এবং এর নিকট পৌঁছানোর পথে এক সুউচ্চ প্রাচীর হয়ে গেল; আর তা হলো কবিতা সম্পর্কে তাদের মন্দ ধারণা—যা কি না এই ইলমের খনি এবং যার ওপর এ ক্ষেত্রে নির্ভর করা হয়—এবং ব্যাকরণ শাস্ত্র সম্পর্কেও তাদের নেতিবাচক ধারণা যা এর জন্য অপরিহার্য।

--------------------------------------------

১ "আল-হুবসাহ" (পেশ যোগে) অর্থ বাকরহিত অবস্থা, অর্থাৎ কথা বলতে চেয়েও বলতে না পারা। আর "আল-লুকনাহ" অর্থ হলো তোতলামি ও কথা বলতে অক্ষমতা।

২ 'সীন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "সেই বিষয়ে"।

৩ 'জীম' ও 'সীন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "পর্দা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে"।

৪ 'সীন' পাণ্ডুলিপিতে "হিজাযান" (অন্তরায়)-এর স্থলে "হিজাবান" (পর্দা) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ৮)
كالنّاسِبِ الذي يَنْميها إِلى أُصولها، ويُبَيِّنُ فاضلَها من مَفضولِها، فجعَلتْ تُظهر الزهدَ في كلِّ واحدٍ منَ النَّوعين، وتطرحُ كلاً منَ الصِّنفين، وترى التشاغلَ عنهُما أولى منَ الاشتغالِ بهما، والإعراضَ عن تدبُّرهما أصوبَ منَ الإِقبالِ على تعلمهما.

ذمهم للشعر:

5 - أما الشعرُ فَخُيِّلَ إليها أنه ليسَ فيه كثيرُ طائلٍ1، وأنْ ليس إِلا مُلْحةً أو فكاهة، أو بكاءَ منزلٍ أو وصْفَ طلَلٍ، أو نعْتَ ناقةٍ أو جَمل، أو إسرافَ قولٍ في مدحٍ أو هجاءٍ، وأنه ليسَ بشيءٍ تَمسُّ الحاجةُ إِليه في صلاحِ دينٍ أو دنيا.

ذمهم للنحو:

6 - وأما النّحوُ، فَظَّنتْه ضرْباً منَ التكلُّف، وباباً من التعسُّفِ، وشيئاً لا يَستند إِلى أصلٍ، ولا يعتمد يه على عقلٍ، وأنَّ ما زادَ منه على معرفةِ الرَّفعِ والنَّصبِ وما يتصلُ بذلك مما تجده في المبادئ، فهو فضلٌ لا يُجْدي نفعاً، ولا تَحصل منه على فائدةٍ، وضَرَبُوا له المثَل بالمِلْح كما عرفت، إِلى أشباهٍ لهذه الظُّنونِ في القَبِيلَيْن، وآراءٍ لو عَلموا مَغبَّتَها وما تقودُ إِليه، لتعوَّذوا باللهِ منها، ولأنِفُوا لأنفُسهم منَ الرضا بها، وذاك لأنَّهم بإِيثارِهم الجهلَ بذلك على العِلم، في معنى الصادِّ عن سَبيلِ الله، والمُبتغي إطفاءَ نور الله تعالى.

منزلة الشعر والنحو من إعجاز القرآن:

7 - وذاك أنَّا إذا كنَّا نَعلم أنَّ الجهةَ التي منها قامَتِ الحجةُ بالقُرآنِ وظهرتْ، وبانَتْ وبَهرت، هيَ أنْ كانَ على حَدٍّ منَ الفَصاحةِ تقصرُ عنه قُوى البشرِ، ومُنْتهياً إِلى غايةٍ لا يُطمَح إِليها بالفِكر، وكان مُحالاً أن يَعرف كونَه كذلك، إِلا مَنْ عَرفَ الشعرَ الذي هو ديوانُ العَرب، وعنوانُ الأدب،

--------------------------------------------

1 في "س": "كبير طائلي".
বংশবিদ যেমন বংশকে তার মূলের সাথে যুক্ত করেন এবং উত্তমকে অনুত্তম থেকে পৃথক করেন। ফলে তারা উভয় প্রকার বিদ্যার প্রতি অনীহা প্রকাশ করতে শুরু করে এবং উভয় শ্রেণীকেই বর্জন করে। তারা মনে করে এগুলোতে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে বিমুখ থাকাই উত্তম, এবং এগুলো শেখার প্রতি মনোযোগী হওয়ার চেয়ে এগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা থেকে বিরত থাকাই অধিকতর সঠিক।

কবিতা সম্পর্কে তাদের নিন্দা:

৫ - কবিতার ক্ষেত্রে তাদের ধারণা হলো এতে খুব একটা ফায়দা নেই, আর তা কৌতুক বা রগড়, অথবা পরিত্যক্ত আবাসের জন্য বিলাপ বা ধ্বংসাবশেষের বর্ণনা, কিংবা উষ্ট্রী বা উটের বর্ণনা, অথবা প্রশংসা বা নিন্দায় অতিরঞ্জন ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের মতে দ্বীন বা দুনিয়ার সংশোধনে এর কোনো প্রয়োজন নেই।

নাহু (ব্যাকরণ) সম্পর্কে তাদের নিন্দা:

৬ - আর নাহু সম্পর্কে তাদের ধারণা হলো এটি এক প্রকার কৃত্রিমতা এবং যথেচ্ছাচারিতার একটি পথ। এটি এমন একটি বিষয় যার কোনো মূল ভিত্তি নেই এবং যা কোনো যুক্তির ওপর নির্ভর করে না। প্রাথমিক পর্যায়ে রফ (পেশ) ও নসব (জবর) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে যা কিছু জানা যায়, তার অতিরিক্ত যা কিছু আছে তা অনর্থক; যা কোনো কাজে আসে না এবং তা থেকে কোনো উপকারও লাভ হয় না। আপনি যেমনটি জানেন, তারা এর উদাহরণ লবণের সাথে দিয়েছেন। উভয় বিষয়ের ক্ষেত্রে তাদের অনুরূপ ধারণা এবং এমন সব অভিমত রয়েছে যে, তারা যদি এর অশুভ পরিণাম এবং এটি যেদিকে ধাবিত করে তা জানত, তবে তারা তা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করত এবং নিজেদের জন্য এর প্রতি সন্তুষ্ট থাকাকে অসম্মানজনক মনে করত। কারণ, জ্ঞানের ওপর মূর্খতাকে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে তারা আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদানকারী এবং মহান আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চেষ্টাকারীর সমতুল্য হয়ে গেছে।

কুরআনের অলৌকিকত্বের ক্ষেত্রে কবিতা ও নাহুর মর্যাদা:

৭ - আর তা একারণে যে, আমরা যখন জানি যে, যে দিকটি থেকে কুরআনের মাধ্যমে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত ও প্রকাশিত হয়েছে এবং যা সুস্পষ্ট ও বিস্ময়কর হয়েছে, তা হলো—এটি বাগ্মিতার এমন এক স্তরে রয়েছে যেখানে মানুষের সক্ষমতা পৌঁছাতে ব্যর্থ এবং এটি এমন এক চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে যেখানে মানুষের চিন্তা পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষাও করতে পারে না। আর কুরআনের এই বৈশিষ্ট্য অনুধাবন করা অসম্ভব যদি না কেউ কবিতা সম্পর্কে জানে, যা হলো আরবদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ভাণ্ডার এবং সাহিত্যের পরিচায়ক।

--------------------------------------------

১. 'সীন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "বড় কোনো উপকার"।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ৯)
والذي لا يُشك أنه كانَ ميدانَ القومِ إِذا تجارَوْا في الفَصاحة والبيان، وتنازَعوا فيهما قَصَبَ الرَّهان، ثم بَحث عنِ العِلل التي بها كانَ التباينُ في الفَضْل، وزادَ بعضُ الشعر على بعضٍ1 كان الصادُّ عن ذلك صادَّاً عن أَن تُعرَف حجةُ الله تعالى، وكان مَثلُه مَثلَ مَن يتصدَّى للنّاسِ فيمنعُهم عَن أنْ يحفظوا كتابَ الله تعالى ويقوموا به ويتلوه ويقرِئُوه، ويصنعُ في الجملةِ صَنيعاً يؤدِّي إِلى أَنْ يَقلَّ حفَّاظُه والقائمونَ به والمُقرئون له. ذاك لأنَّا لم نتعبَّدْ بتلاوتِه وحِفْظه، والقيامِ بأَداء لفظهِ على النَّحو الذي أُنزل عليه، وحراستِه من أن يُغَيَّر ويُبدَّل، إلَاّ لتكونَ الحِجةُ بهِ قائمةً على وجهِ الدَّهر، تُعرَف في كل زمانٍ، ويتوصَّلُ إِليها في كلَّ أَوان، ويكونُ سبيلُها سبيلَ سائرِ العلوم التي يَرويها الخلَفُ عن السَّلف، ويأَثُرُها الثاني عن الأول، فمَنْ حال بيننا وبين ما له كانَ حفْظُنا إيْاهُ، واجتهادُنا في أن نؤدِّيَه ونَرعاه، كَان كَمن رامَ أن يُنْسيناه جُملةً ويُذْهبه من قلوبنا دَفعةً، فسواءٌ مَنْ منَعكَ الشيءَ الذي تنتزع منه الشاهدُ والدَّليلُ، ومَنْ منعَكَ السبيلَ إِلى انتزاعِ تلك الدَّلالةِ، والاطَّلاعِ على تلك الشَّهادةِ، ولا فرقَ بينَ مَن أعدمَك الدواءَ الذي تَسْتَشفي به من دائَك، وتَسْتبقي به حشاشةَ نَفْسك، وبينَ مَن أعدمَكَ العلْمَ بأنَّ فيه شفاءً، وأن لك فيه استبقاء.

الرد على حجج المعتزلة في الإعجاز:

8 - فإِنْ قال منهُم قائلٌ: إِنّك قد أغْفلتَ فيما رتَّبْت، فإنَّ لنا طريقاً إِلى إِعجازِ القرآنِ غيرَ ما قلتَ، وهو عِلْمُنا بعَجْز العرَب عن أن يأتوا بمثلِه وتَرْكِهم أن يعارضُوه، مع تكرارِ التّحدَّي عليهم، وطولِ التقَّريع لهم

--------------------------------------------

1 سياق الكلام من أول الفقرة: "وذاك أبا إذاكنا نعلم .... كان الصاد عن ذلك … ".
আর যা নিঃসন্দেহে সেই সম্প্রদায়ের প্রধান বিচরণক্ষেত্র ছিল যখন তারা বাকপটুতা ও প্রাঞ্জলতার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতো এবং তাতে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আরোহণের লড়াইয়ে লিপ্ত হতো; অতঃপর সেই সব কারণ নিয়ে আলোচনা করা যেগুলোর মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য সৃষ্টি হয় এবং কিছু কবিতা অন্যদের চেয়ে উৎকৃষ্ট হয়—তবে যে ব্যক্তি তা থেকে বাধা প্রদান করে, সে মূলত মহান আল্লাহর দলিল বা প্রমাণ অনুধাবন করা থেকেই বাধা প্রদান করল। আর তার উদাহরণ হলো এমন এক ব্যক্তির ন্যায়, যে মানুষের সামনে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় যেন তারা আল্লাহর কিতাব মুখস্থ করতে না পারে, তা অনুযায়ী আমল করতে না পারে, তা তিলাওয়াত করতে এবং অন্যকে শিক্ষা দিতে না পারে; পরিশেষে সে সামগ্রিকভাবে এমন এক আচরণ করে যা এর হাফেজ, আমলকারী এবং পাঠদানকারীদের সংখ্যা হ্রাসের দিকে ধাবিত করে। এটি একারণেই যে, আমরা এর তিলাওয়াত, হিফজ এবং যেভাবে এটি নাযিল হয়েছে ঠিক সেভাবে এর শব্দসমূহ আদায়ের মাধ্যমে ইবাদত করি এবং একে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন থেকে রক্ষা করি কেবল এজন্যই যেন এর মাধ্যমে পেশকৃত দলিল কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত থাকে, যা প্রতিটি যুগে পরিচিত হবে এবং প্রতিটি সময়েই তা অনুধাবন করা সম্ভব হবে; আর এর পদ্ধতি হবে অন্যান্য প্রচলিত ইলম বা জ্ঞানসমূহের ন্যায় যা পরবর্তী প্রজন্ম তাদের পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণনা করে এবং পরবর্তীরা পূর্বসূরিদের থেকে লাভ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি আমাদের এবং সেই উদ্দেশ্যের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল যার জন্য আমরা এটি সংরক্ষণ করেছিলাম এবং এটি আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম, সে যেন সেই ব্যক্তির ন্যায় যে এটি আমাদের সম্পূর্ণ ভুলিয়ে দিতে চাইল এবং এক নিমেষে আমাদের অন্তর থেকে তা মুছে ফেলতে চাইল। অতএব, যে ব্যক্তি আপনাকে সেই বস্তু থেকে বঞ্চিত করল যেখান থেকে আপনি প্রমাণ ও দলিল আহরণ করেন, আর যে ব্যক্তি আপনাকে সেই দলিল আহরণের পথ ও সেই সাক্ষ্যটি অবগত হওয়ার মাধ্যম থেকে বঞ্চিত করল—উভয়েই সমান। আর যে ব্যক্তি আপনাকে সেই ওষুধ থেকে বঞ্চিত করল যা দিয়ে আপনি আপনার রোগ থেকে মুক্তি পেতেন এবং আপনার প্রাণশক্তি রক্ষা করতেন, আর যে ব্যক্তি আপনাকে এই জ্ঞান থেকে বঞ্চিত করল যে এর মধ্যে আরোগ্য রয়েছে এবং এতেই আপনার টিকে থাকা নিহিত—তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

কুরআনের অলৌকিকত্ব (ইজায) বিষয়ে মুতাজিলাদের যুক্তির খণ্ডন:

৮ - যদি তাদের মধ্য থেকে কেউ বলে: আপনি আপনার বর্ণনায় একটি বিষয় উপেক্ষা করেছেন; কেননা কুরআনের অলৌকিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে আপনি যা বলেছেন তা ছাড়াও আমাদের কাছে ভিন্ন পথ রয়েছে। আর তা হলো আরবদের এর সমতুল্য কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের নিশ্চিত জ্ঞান এবং তাদের পক্ষ থেকে এর মোকাবিলা করা বর্জন করা, যদিও তাদের প্রতি বারবার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের কঠোরভাবে তিরস্কার করা হয়েছিল।

--------------------------------------------

১ অনুচ্ছেদের শুরু থেকে আলোচনার প্রেক্ষাপট: "আর এটিই তখন যখন আমরা জানি... যে ব্যক্তি তা থেকে বাধা প্রদান করল..."।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ১০)
بالعجزِ عنه. ولأنَّ الأمرَ كذلكَ، ما قامتْ به الحجةُ على العَجم قيامَها على العرب1 واستوى الناسُ قاطبة، فلم يَخْرج الجاهلُ بلسانِ العرب من أن يكونَ مَحْجوجاً بالقرآن.

قيلَ له: خبِّرنا عما اتفقَ عليه المُسلمون منِ اختصاص نبينا صلى الله عليه وسلم بأنْ كانتْ معجزتُه باقيةً على وجهِ الدَّهر، أتعرفُ له معنى غيرَ أنْ لا يزالُ البرهانُ منه لائحاً مُعرَّضاً لكلَّ من أرادَ العلمَ به، وطلبَ الوصولَ إِليه، والحجةُ فيه وبه ظاهرةً لمن أرادَها، والعلمُ بها ممكناً لمن التسمه؟ فإِذا كنتَ لا تشكُّ في أَنْ لا معنى لبقاءِ المُعجزة بالقرآن إلَاّ أنَّ الوصفَ الذي له كان معجزاً قائمٌ فيه أبداً، وأنَّ الطريقَ إِلى العلم به موجودٌ، والوصولَ إِليه ممكنٌ، فانظرْ أيَّ رجلٍ تكونُ إِذا أنتع زهدْتَ في أن تعرفَ حُجَّة الله تعالى، وآثرتَ فيه الجهلَ على العِلمِ، وعدمَ الاسْتبانةِ على وُجودِها، وكان التّقليدُ فيها أحبَّ إِليك، والتعويلُ على علمِ غيرِك آثرَ لديك، ونحِّ الهوى عنك، وراجح عقلك، واصدُقْ نفسك، يَبِنْ لك فُحشُ الغلطِ فيما رأيتَ، وقبْحُ الخطأ في الذي توهَّمتَ. وهل رأيتَ رأياً أعجزَ، واختياراً أقبحَ ممن كَرِهَ أَن تُعرفَ حجةُ الله تعالى منَ الجهةِ التي إِذا عُرفْت منها كانت أنْورَ وأبهرَ، وأقوى وأقهر، وآثرَ أَنْ لا يَقْوى سلطانُها على الشَّرْك كلَّ القوّة2، ولا تَعْلو على الكفر كلَّ العلو؟ والله المستعان.

--------------------------------------------

1 ما في قوله "ما قامت" مصدرية.

2 قوله "وآثر" معطوف على قوله "كره".
...এর প্রতি অক্ষমতার কারণে। আর বিষয়টি যেহেতু এরূপ, তাই অনারবদের বিরুদ্ধে এর মাধ্যমে দলিল ঠিক সেভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেভাবে তা আরবদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে১ এবং সকল মানুষই সমান পর্যায়ে উপনীত হয়েছে; ফলে আরবি ভাষা সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিও কুরআনের মাধ্যমে দলিল দ্বারা আবদ্ধ হওয়া থেকে বাদ পড়েনি।

তাকে বলা হলো: মুসলিমরা আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যে অনন্য বৈশিষ্ট্যের ওপর একমত হয়েছেন—তথা তাঁর মুজিযা মহাকালের পরিক্রমায় চিরস্থায়ী হওয়া—সে সম্পর্কে আমাদের বলুন; আপনি কি এর এমন কোনো অর্থ জানেন যে, এর মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রমাণ সর্বদা দেদীপ্যমান ও তাদের সম্মুখে উপস্থাপিত থাকবে যারা এটি জানতে চায় এবং এর সত্যতায় পৌঁছাতে চায়? এবং এর অন্তর্ভুক্ত ও এর দ্বারা সাব্যস্ত দলিল তাদের জন্য স্পষ্ট যারা তা অন্বেষণ করে, আর যে এটি অনুসন্ধান করে তার জন্য তা জানা সম্ভব? সুতরাং আপনার যদি এতে কোনো সন্দেহ না থাকে যে, কুরআনের মুজিযা চিরস্থায়ী হওয়ার অর্থ এটাই যে—যে বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি অলৌকিক হয়েছে তা এতে সর্বদা বিদ্যমান, এবং এটি জানার পথ বর্তমান ও এর কাছে পৌঁছানো সম্ভব—তবে ভেবে দেখুন আপনি কেমন মানুষ হবেন যদি আপনি মহান আল্লাহর দলিল জানতে অনাগ্রহী হন, এবং এক্ষেত্রে জ্ঞানের পরিবর্তে মূর্খতাকে ও এর উপস্থিতির স্পষ্ট প্রমাণের পরিবর্তে অস্পষ্টতাকে প্রাধান্য দেন, আর আপনার কাছে এক্ষেত্রে অন্ধ অনুসরণই অধিক প্রিয় হয় এবং অন্যের জ্ঞানের ওপর নির্ভর করাকেই আপনি শ্রেয় মনে করেন! আপনার কুপ্রবৃত্তি বর্জন করুন, বিচারবুদ্ধিকে প্রাধান্য দিন এবং নিজের প্রতি সত্যবাদী হোন; তবেই আপনার ধারণার জঘন্য ভুল এবং আপনার কল্পিত বিষয়ের কদর্য ভ্রান্তি আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আপনি কি এমন ব্যক্তির চেয়ে অধিক অক্ষম কোনো মত এবং অধিক কদর্য কোনো নির্বাচন দেখেছেন, যে মহান আল্লাহর দলিলকে এমন দিক থেকে জানা অপছন্দ করে যেখান থেকে জানলে তা হবে অধিক প্রোজ্জ্বল ও বিস্ময়কর এবং অধিক শক্তিশালী ও অপরাজেয়? আর সে এটাই পছন্দ করে যেন শিরকের ওপর এর প্রভাব পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর না হয়২ এবং কুফরের ওপর এটি পুরোপুরি বিজয়ী না হয়? আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

--------------------------------------------

১ "ما قامت" বাক্যাংশে "মা" শব্দটি মাসদারিয়া (ক্রিয়াবাচক)।

২ তাঁর উক্তি "وآثر" শব্দটি "كره" শব্দের সাথে অন্বিত।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الكلام في الشعر:

فصل: في الكلام على من زَهد في رواية الشعر وحِفْظهِ، وذمَّ الاشتغال بعلمه وتتبُعه

الرد على من ذم الشعر:

9 - لا يخلو مَن كان هذا رأيَهُ مِن أمورٍ:

أحدُها: أنْ يكون رفضُه له وذَمُّه إِيّاه من أجلِ ما يَجده فيه من هَزْلٍ أو سُخْف، وهجاءٍ وسَبٍّ وكَذِبٍ وباطلٍ على الجُملة.

والثاني: أنَ يذمَّه؛ لأنه موزون مُقفَّى، ويرى هذا بمجرَّده عيباً يقتَضي الزهدَ فيه والتنزُّهَ عنه.

والثالثُ: أنْ يتعلَّقَ بأحوالِ الشُّعراءِ وأنها غيرُ جميلةٍ في الأكثرِ ويقول: قد ذُمُّوا في التنَّزيل.

وأيٌّ كان مِنْ هذه رأياً لهُ، فهو في ذلكَ على خطأ ظاهرٍ وغَلَط فاحش، وعلى خلافِ ما يُوجِبه القياسُ والنَّظرُ، وبالضدِّ مما جاءَ به الأَثرُ، وصَحَّ به الخبر.

10 - أما مَن زَعَم أنَّ ذمَّه لهُ من أجْل ما يَجدُ فيه من هزلٍ وسُخف وكذبٍ وباطلٍ، فينبغي أن يذمَّ الكلامَ كلَّه، وأن يُفَضِّل الخرَسَ على النُّطق، والعيَّ على البيان، فمنثور كلامِ النّاسِ على كلَّ حالٍ أكثرُ من منظومِه، والذي زعمَ أنه ذمَّ الشَّعرَ من أجلهِ وعاداهُ بسببه فيه أكثر1؛

--------------------------------------------

1 في المطبوعة: "والذي زعمَ أنه ذمَّ الشعرَ بسببه وعاداه بنسبته إليه أكثر"، وهي عبارة سيئة، وفي "ج": " .... ذم الشعر بسببه وعاداه بسببه فيه أكثر" وهو سهو من الناسخ، والصواب ما أثبته من "س"، والضمير في "فيه" يعود إلى "منثور الكلام"، أي هو في المنثور أكثر.
কবিতা বিষয়ক আলোচনা:

পরিচ্ছেদ: যারা কবিতা বর্ণনা ও মুখস্থ করার প্রতি অনীহা প্রকাশ করেছেন এবং এর ইলম চর্চা ও অনুসন্ধানে নিয়োজিত থাকাকে নিন্দা করেছেন তাদের বিষয়ে আলোচনা

কবিতার নিন্দা পোষণকারীদের খণ্ডন:

৯ - যার অভিমত এমন, তিনি নিচের বিষয়গুলো থেকে মুক্ত নন:

প্রথমত: তার এই বর্জন এবং নিন্দা মূলত কবিতার ভেতরে পাওয়া কৌতুক, অসারতা, বিদ্রূপ, গালিগালাজ, মিথ্যা এবং সামগ্রিকভাবে বাতুলতার কারণে।

দ্বিতীয়ত: তিনি কবিতাকে নিন্দা করেন কারণ তা ছন্দোবদ্ধ ও মিলযুক্ত; আর তিনি একেই একটি দোষ হিসেবে গণ্য করেন, যা এর থেকে বিমুখ থাকা এবং পবিত্র থাকার দাবি রাখে।

তৃতীয়ত: কবিদের অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় নয়; আর তিনি বলেন: পবিত্র কুরআনে তাদের নিন্দা করা হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে যার যে মতই হোক না কেন, তিনি এক্ষেত্রে স্পষ্ট ভুল এবং মারাত্মক ভ্রান্তির ওপর আছেন; আর এটি যুক্তি ও চিন্তাপ্রসূত পদ্ধতির বিপরীত এবং বর্ণিত আসার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) ও সহীহ সংবাদের পরিপন্থী।

১০ - পক্ষান্তরে, যারা দাবি করেন যে তাদের এই নিন্দা কবিতার ভেতরে থাকা কৌতুক, অসারতা, মিথ্যা ও বাতুলতার কারণে, তাদের উচিত সমস্ত কথা বা বাক্যকেই নিন্দা করা; এবং কথা বলার চেয়ে বাকহীনতাকে এবং সাবলীল বর্ণনার চেয়ে বাকজড়তাকে প্রাধান্য দেওয়া। কারণ মানুষের গদ্য বা সাধারণ কথা সকল অবস্থাতেই পদ্য বা কবিতার চেয়ে বেশি; আর যে কারণে তিনি কবিতার নিন্দা ও বিরোধিতা করার দাবি করেছেন, সেই বিষয়গুলো গদ্যের মধ্যেই বেশি বিদ্যমান১;

--------------------------------------------

১ মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: "এবং যে কারণে তিনি কবিতার নিন্দা করেছেন এবং এর সাথে সম্পৃক্ততার কারণে শত্রুতা করেছেন তা-ই অধিক", এটি একটি দুর্বল বাক্য গঠন। 'জিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "...যে কারণে কবিতার নিন্দা করেছেন এবং যে কারণে এর শত্রুতা করেছেন তাতে তা অধিক", এটি অনুলিপিকারীর অসাবধানতা। সঠিক সেটিই যা আমি 'সীন' পাণ্ডুলিপি থেকে সাব্যস্ত করেছি; আর "তাতে" সর্বনামটি "গদ্য কথা"র দিকে নির্দেশ করছে, অর্থাৎ গদ্যের মধ্যেই তা অধিক।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ১২)
لأنَّ الشعراءَ في كلَّ عصرٍ وزمانٍ معدودون، والعامَّة ومَنْ لا يقولُ الشعرَ منَ الخاصَّةِ عديدة الرَّمل، ونحنُ نَعْلم أنْ لو كانَ منثورُ الكلام يُجمعُ كما يُجْمَع المنظومُ، ثم عمدَ عامدٌ فجمعَ ما قيلَ من جنْس الهَزْل والسُّخف نثراً في عصرٍ واحدٍ، لأَرْبى على جَميعِ ما قاله الشعراءُ نَظْماً في الأزمانِ الكثيرةِ1، ولغَمره حتى لا يظهرَ فيه.

ثم إِنك لو لم تَرْو من هذا الضربِ شيئاً قطُّ، ولم تَحْفَظْ إلَاّ الجِدَّ المحضَ، وإلَاّ ما لا مَعابَ عليكَ في روايته، وفي المحاضرةِ به، وفي نَسْخه وتَدوينهِ، لَكانَ في ذلك غِنًى ومندوحةٌ، ولوَجدْتَ طِلْبتَك ونِلْتَ مُرادك، وحصَل لك ما نحنُ ندعوكَ إِليه من عِلمِ الفصاحةِ، فاخترْ لنفسكَ، ودَعْ ما تَكْره إِلى ما تُحب.

11 - هذا، وراوي الشَّعر حاكٍ، وليس على الحاكي عَيبٌ، ولا عليه تَبعةٌ، إِذا هوَ لم يَقصدْ بحكايتهِ أن يَنْصر باطلاً، أو يَسُوء مسْلِماً، وقد حكى اللهُ تعالى كلامَ الكفار، فانظرْ إِلى الغرضِ الذي له رُويَ الشعرُ، ومِن أَجْلهِ أُريد، وله دُوِّن، تَعلمْ أنك قد زُغْت عن المنهج، وأنك مُسيءٌ في هذه العداوة، وهو العصبيّةِ منكَ على الشَّعر2. وقد استشهدَ العلماءُ لغريبِ القرآنِ وإِعرابهِ بالأبياتِ فيها الفحشُ، وفيها ذكْرُ الفعلِ القبيحِ، ثم لم يَعِبْهم ذلك، إذا كانوا لم يَقصدوا إِلى ذلك الفُحشِ ولم يريدوه، ولم يرووا الشعر من أجله.

--------------------------------------------

1 "نظمًا" سقطت من ناسخ "ج".

2 في المطبوعة: "وهي العصبية".
কারণ প্রতিটি যুগ ও সময়ে কবিরা সংখ্যায় সীমিত, আর সাধারণ মানুষ এবং বিশিষ্টজনদের মধ্যে যারা কবিতা রচনা করেন না, তাদের সংখ্যা বালুকণার মতো অগণিত। আমরা জানি যে, যদি গদ্যের কথাগুলো কবিতার মতো সংকলন করা হতো, আর কোনো সংকলক যদি কোনো একটি নির্দিষ্ট যুগের নিছক তামাশা ও অসার গদ্যকথাগুলো সংকলনের সংকল্প করতেন, তবে তা বহু যুগে কবিদের রচিত কবিতার পরিমাণের চেয়েও অনেক বেশি হতো এবং তা কবিতাকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলত যে তাতে কবিতার অস্তিত্বই আর প্রকাশ পেত না।

অতঃপর, আপনি যদি এই প্রকারের কোনো কিছুই বর্ণনা না করতেন এবং কেবল নিখাদ গুরুগম্ভীর বিষয়সমূহ এবং যেগুলোর বর্ণনা, আলোচনা, প্রতিলিপি তৈরি ও সংকলনে আপনার কোনো নিন্দা হতো না কেবল তা-ই মুখস্থ রাখতেন, তবে তাতেও আপনার জন্য পর্যাপ্ত সংস্থান ও অবকাশ থাকত। আপনি আপনার অন্বেষিত বিষয় খুঁজে পেতেন এবং উদ্দেশ্য সফল হতো; আর আমরা আপনাকে প্রাঞ্জলতার (ফাসাহাত) যে ইলম বা জ্ঞানের দিকে আহ্বান করছি, তাও আপনার অর্জিত হতো। সুতরাং নিজের জন্য (উত্তমটি) বেছে নিন এবং যা আপনার নিকট অপছন্দনীয় তা বর্জন করে যা পছন্দনীয় সেদিকে ধাবিত হোন।

১১ - তদুপরি, কবিতার বর্ণনাকারী মূলত একজন উপস্থাপনকারী মাত্র। আর কোনো উপস্থাপনকারীর ওপর দোষ বা দায় বর্তায় না, যদি না সে তার বর্ণনার মাধ্যমে কোনো বাতিল বা মিথ্যাকে সমর্থন করার অথবা কোনো মুসলিমের অনিষ্ট করার উদ্দেশ্য পোষণ করে। মহান আল্লাহ স্বয়ং কাফিরদের কথা বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যে উদ্দেশ্যে কবিতা বর্ণনা করা হয়েছে, যে কারণে তা চাওয়া হয়েছে এবং যে উদ্দেশ্যে তা সংকলন করা হয়েছে—তার প্রতি দৃষ্টিপাত করুন। (তাহলে) আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এবং কবিতার প্রতি আপনার এই বিদ্বেষ ও গোঁড়ামির কারণে আপনি ভুল পথে আছেন। উলামায়ে কিরাম কুরআনের বিরল শব্দাবলী ও এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের (ই’রাব) সপক্ষে এমন সব কবিতা দিয়ে প্রমাণ পেশ করেছেন যেগুলোর মধ্যে অশ্লীলতা কিংবা মন্দ কার্যাবলীর উল্লেখ রয়েছে। এরপরও তারা এতে দোষী হননি; কারণ তাদের উদ্দেশ্য সেই অশ্লীলতা ছিল না, তারা তা কামনাও করেননি এবং সেই অশ্লীলতার জন্য তারা সেই কবিতা বর্ণনা করেননি।

--------------------------------------------

১. "কবিতা আকারে" শব্দটি পাণ্ডুলিপি "জীম"-এর অনুলিপিকারক বাদ দিয়েছেন।

২. মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: "এবং তা হলো গোঁড়ামি"।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ১৩)
الحسن البصري وتمثله بالشعر:

قالوا: وكان الحسَنُ البصريُّ رحمه الله يتمثَّلُ في مَواعظِه بالأبياتِ من الشّعرِ، وكان من أوجعها عنده:

اليومَ عندكَ دَلُّها وحديثُها … وغَداً لِغيرك كَفُّها والمعصم1

تمثل عمر بن الخطاب بشعر:

13 - وفي الحديث عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، ذكره المرزباني، في كتابه بإِسنادٍ، عن عبد الملك بنِ عُميرٍ أنه قال: أتي عمر رضوان الله عليه يحلل منَ اليمنِ، فأتاهُ محمدُ بنُ جعفرِ بن أبي طالبٍ، ومحمدُ بنُ أبي بكر الصدَّيقُ، ومحمدُ بنُ طلحةَ بنِ عبيدِ الله، ومحمدُ بنُ حاطبٍ، فدخلَ عليه زيدُ بن ثابتٍ رضي الله عنه فقال: يا أميرَ المؤمنين، هؤلاء المحمودن بالبابِ يطلبون الكُسْوة. فقال: ائْذِنْ لهم يا غلام. فدعا بحلل، فأخذ زيد أجودها [حلة] 2 وقال: هذهِ لمحمّدِ بن حاطبٍ، وكانتْ أُمُّه عندَه، وهو من بني لؤيٍّ، فقال عمرُ رضي الله عنه: أيهاتَ أيهات! وتمثَّل بشعرِ عمارة بن الوليد:

أَسرَّكِ لما صُرِّع القومُ نشوةٌ … خروجيَ منها سَالِماً غَيْرَ غارِمِ

بَرِيئاً كأنَّي قبلُ لم أكُ منهمُ … وليسَ الخداعُ مرتَضًى في التَّنادُمِ

--------------------------------------------

1 من أبيات جياد في مذمته بعض النساء، يقول:

إن النساء وإن ذكرن بعفة … فيما يظاهر في الأمور ويكتم

لحم أطاف به سباع جوع … ما لا يذاد، فإنه يتقسم

لا تأمنن أنثى حياتك، واعلمن … أن النساء ومالهن مقسم

اليومَ عندكَ دَلُّها وحديثُها … وغَداً لِغيرك كَفُّها والمعصم

كالخان تسكنه وتصبح غاديًا … ويحل بعدك فيه من لا تعلم

"أمالي الشريف 1/ 160/ شرح الحماسة للتبريزي 3: 119".

2 الزيادة بين القوسين من "س".
আল-হাসান আল-বাসরী এবং তাঁর কবিতা আবৃত্তি:

তারা বলেন: হাসান আল-বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর নসিহতগুলোর মধ্যে কবিতার পঙক্তি আবৃত্তি করতেন, আর তাঁর কাছে সবচেয়ে মর্মস্পর্শী ছিল এই পঙক্তিটি:

আজ তার লাবণ্য ও আলাপচারিতা তোমার তরে … কাল অন্য কারো হবে তার হাতের তালু ও কবজি১

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) কর্তৃক কবিতা আবৃত্তি:

১৩ - উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে— আল-মারজুবানী তাঁর কিতাবে একটি সনদে আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: উমর (রা.)-এর কাছে ইয়ামেন থেকে কিছু পোশাক নিয়ে আসা হলো। তখন তাঁর কাছে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আবি তালিব, মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর সিদ্দীক, মুহাম্মদ ইবনে তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ এবং মুহাম্মদ ইবনে হাতিব এলেন। অতঃপর যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) তাঁর কাছে প্রবেশ করে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, এই প্রশংসিত ব্যক্তিবর্গ দরজায় দাঁড়িয়ে পোশাক প্রার্থনা করছেন। তিনি বললেন: হে বালক, তাদের ভেতরে আসতে দাও। তারপর তিনি পোশাকগুলো আনতে বললেন। যায়েদ সেখান থেকে সবচেয়ে উত্তমটি [একটি পোশাক] ২ গ্রহণ করলেন এবং বললেন: এটি মুহাম্মদ ইবনে হাতিবের জন্য, কারণ তাঁর মা তাঁর কাছে ছিলেন এবং তিনি বনু লুয়াই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তখন উমর (রা.) বললেন: অসম্ভব, অসম্ভব! এবং তিনি আম্মারা ইবনে ওয়ালিদের এই কবিতা আবৃত্তি করলেন:

কওমের লোকেরা যখন ধরাশায়ী হলো, তখন কি এক মত্ততা তোমাকে আনন্দিত করেছিল … যে আমি তা থেকে নিরাপদ ও অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে এসেছি?

নির্দোষ যেন আমি আগে কখনো তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না … আর বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে প্রতারণা কাম্য নয়।

--------------------------------------------

১ এটি কিছু নারীর নিন্দা জ্ঞাপক চমৎকার পঙক্তিগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তিনি বলেন:

নিশ্চয়ই নারীরা, যদিও তাদের সতীত্বের কথা উল্লেখ করা হয় … প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়াদির ক্ষেত্রে

যেন মাংস যা ক্ষুধার্ত হিংস্র পশুরা ঘিরে ধরেছে … যা প্রতিহত করা না হলে তা বন্টন হয়ে যায়

তোমার জীবনে কোনো নারীকে নিরাপদ মনে করো না এবং জেনে রেখো … নিশ্চয়ই নারীরা এবং তাদের সম্পদ বণ্টনযোগ্য

আজ তার লাবণ্য ও আলাপচারিতা তোমার তরে … কাল অন্য কারো হবে তার হাতের তালু ও কবজি

সরাইখানার মতো যাতে তুমি অবস্থান করো এবং ভোরে রওনা হয়ে যাও … আর তোমার পর সেখানে এমন কেউ অবস্থান করে যাকে তুমি চেনো না

"আমালি আশ-শরীফ ১/ ১৬০/ শারহুল হামাসাহ লিত-তিবরিযি ৩: ১১৯"।

২ বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু 'স' পাণ্ডুলিপি থেকে অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ১৪)
رُدَّها. ثم قالَ: ائْتني بثوبٍ فألقِهِ على هذهِ الحُلل. وقال: أدخلْ يدَكَ فخُذْ حُلَّة وأنتَ لا تَراها، فأَعْطِهمْ. قال عبدُ الملك: فلم أر قسمة أعدل منها1.

و"عمارة"، هذا هو "عمارةبن الوليد بنِ المُغيرةِ"، خطبَ امرأةً من قومه فقالت: لا أتزوجُك أو تترُكَ الشرابَ، فأبى، ثم اشتد وَجْدُه بها فحلَفَ لها أنْ لا يشرب، ثم مر بخمار عند شَرْبٌ يشربون، فدعَوْه فدخَلَ عليهم وقد أنْفَدوا ما عندهم، فنَحَر لهم ناقتَه وسَقاهم بِبُرْدَيْه، ومكَثوا أَياماً، ثم خرجَ فأتى أَهْلَه، فلمَّا رأتْه امرأتُه قالت: أَلم تَحْلِفْ أَنْ لا تَشْرب؟ فقال:

ولسنا بشَرْب أمَّ عمرو إِذا انْتَشَوْا … ثيابُ الندامى عِنْدَهُمْ كالغَنائم

ولكنّنا يا أمَّ عمروٍ نَديمُنا … بمنزلةٍ الريَّانِ ليسَ بعائمِ

أَسَّرك .... البيتين2

14 - فإذنْ رُبَّ هَزْلٍ صار أَداةً في جِدّ، وكلامٍ جَرى في باطلٍ ثم استُعينَ به على حَقّ، كما أنه رُبَّ شيءٍ خَسيس، تُوصِّلَ به إِلى شريفٍ، بأنْ ضُرِبَ مَثلاً فيه وجُعل مثالاً له، كما قال أبو تمام:

واللهُ قَدْ ضَربَ الأَقلَّ لنورِه … مَثَلاً منَ المشكاة والنبراس3

--------------------------------------------

1 الخبر والشعر في الأغاني: 18: 125، بنحو هذه القصة.

2 الخبر والشعر في الأغاني 18 - 123، ومعجم الشعراء للمرزباني: 247. و "الشرب"، جمع "شارب"، و "العائم" من قولهم: "عام الرجل إلى اللبن يعام ويعيم عيمًا وعيمة"، اشتدت شهوته للبن حتى لا يصبر عنه.

3 في هامش المخطوطة "ج"، ما نصه: "هو القطن، "يعني النبراس"، وأراد به الفتيلة ذكره الجوهري في الصحاح أن النبراس هو المصباح، وكذا .... والله أعلم". والبيت في ديوان أبي تمام.
এটি ফিরিয়ে দাও। এরপর তিনি বললেন: আমার কাছে একটি কাপড় নিয়ে এসো এবং সেটি এই পোশাকগুলোর ওপর ফেলে দাও। তিনি আরও বললেন: তোমার হাত প্রবেশ করাও এবং একটি পোশাক নাও এমতাবস্থায় যে তুমি সেটি দেখছ না, অতঃপর তাদের দিয়ে দাও। আব্দুল মালিক বললেন: আমি এর চেয়ে ন্যায়সঙ্গত বণ্টন আর দেখিনি।১

আর "উমারা", ইনি হলেন "উমারা ইবনে আল-ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরা", তিনি তার গোত্রের এক মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। তখন সে বলল: আমি তোমাকে বিয়ে করব না যতক্ষণ না তুমি মদ্যপান ত্যাগ করো। তিনি প্রথমে অস্বীকৃতি জানালেন, কিন্তু পরবর্তীতে তার প্রতি অনুরাগ তীব্র হলে তিনি তার কাছে শপথ করলেন যে তিনি আর পান করবেন না। এরপর তিনি এক মদ্যবিক্রেতার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একদল পানকারীকে পান করতে দেখলেন। তারা তাকে ডাকলে তিনি তাদের কাছে প্রবেশ করলেন, অথচ তখন তাদের কাছে যা ছিল তা তারা নিঃশেষ করে ফেলেছে। ফলে তিনি তাদের জন্য তার উষ্ট্রী জবাই করলেন এবং তার চাদর দুটির বিনিময়ে তাদের পান করালেন। তারা কয়েক দিন সেখানে অবস্থান করলেন। এরপর তিনি বের হয়ে তার পরিবারের কাছে এলেন। যখন তার স্ত্রী তাকে দেখল, তখন সে বলল: তুমি কি শপথ করোনি যে তুমি পান করবে না? তখন তিনি বললেন:

হে উম্মে আমর, আমরা এমন পানকারী নই যারা নেশাগ্রস্ত হলে … সঙ্গীদের কাপড় তাদের কাছে গনিমতের মালের মতো মনে হয়

বরং হে উম্মে আমর, আমাদের সঙ্গী … এমন তৃপ্ত ব্যক্তির মর্যাদায় থাকে যে দুধের জন্য ব্যাকুল নয়

আসসারাকা .... দুই কবিতা২

১৪ - সুতরাং অনেক সময় কৌতুকও গাম্ভীর্যের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, এবং এমন কথা যা বাতিলের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে পরবর্তীতে তা হকের স্বপক্ষে সহায়ক হয়। ঠিক যেমন কখনো কখনো কোনো তুচ্ছ জিনিসের মাধ্যমে কোনো সম্মানিত বিষয়ে পৌঁছানো যায়, যার দ্বারা কোনো উদাহরণ পেশ করা হয় এবং তাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করা হয়; যেমন আবু তামমাম বলেছেন:

আর আল্লাহ তাঁর নূরের জন্য ক্ষুদ্রতম বস্তুর উদাহরণ দিয়েছেন … দীপাধার এবং চেরাগের উদাহরণের মাধ্যমে৩

--------------------------------------------

১ আল-আঘানি গ্রন্থের সংবাদ ও কবিতা: ১৮: ১২৫, এই কাহিনীর অনুরূপ।

২ আল-আঘানি গ্রন্থের সংবাদ ও কবিতা ১৮ - ১২৩, এবং মারযুবানির মু'জামুশ শুআরা: ২৪৭। আর "আশ-শারব" হলো "শারিব" (পানকারী) শব্দের বহুবচন। আর "আল-আয়িম" এসেছে তাদের এই কথা থেকে: "লোকটি দুধের প্রতি অতিশয় লালায়িত হলো", অর্থাৎ দুধের প্রতি তার আকাঙ্ক্ষা এত তীব্র হলো যে সে তা ছাড়া ধৈর্য ধরতে পারছিল না।

৩ পাণ্ডুলিপি "জিম"-এর পার্শ্বটীকায় যা রয়েছে তার ভাষ্য হলো: "এটি হলো তুলা, (অর্থাৎ নিবরাস)", তিনি এর দ্বারা সলতে বুঝিয়েছেন। জাওহারি আস-সিহাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে নিবরাস হলো চেরাগ বা প্রদীপ, এবং অনুরূপ.... আল্লাহই সর্বজ্ঞ। কবিতাটি আবু তামমামের দিওয়ানে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ১৫)
وعلى العكس، فربَّ كلمةِ حَقٍّ أُريدَ بها باطلٌ، فاسْتُحِقَّ عليها الذمُّ، كما عرفتَ من خبر الخارجي مع علي راضون الله عليه1. ورُبَّ قولٍ حَسَنٍ لم يَحْسُنْ من قائِلِه حينَ تَسبَّبَ به إِلى قبيحٍ، كالذي حكى الجاحظ قال: "رجع طاوس يوماً عن مجلسِ مُحمّدِ بنِ يوسُفَ2، وهوَ يومئذٍ والي اليمنِ فقال: ما ظَننتُ أنَّ قول: "سبحان الله" يكون معصية لله تعالى حتى كانَ اليومُ، سمعتُ رجلاً أَبلغَ ابنَ يوسُفَ عن رجلٍ كلاماً، فقالَ رجلٌ من أهلِ المَجلس: "سبحانَ الله"، كالمستعظمِ لذلك الكلامِ، ليُغضِبَ ابنَ يوسف"3.

فبهذا ونحوِه فاعتبرْ، واجْعلْهُ حكمًا بينك وبين الشعر.

الدفاع عن الشَّعر:

15 - وبعدُ، فكيفَ وَضعَ منَ الشعرِ عندكَ، وكسبَهُ المقتَ منك، أنَّك وجدتَ فيه الباطلَ والكذبَ وبعضَ ما لا يَحْسنُ، ولم يَرفعْه في نفسِك، ولم يُوجِب له المحبَّةَ من قبلك، أنْ كانَ فيه الحقُّ والصدقُ والحكمةُ وفصْلُ الخِطاب، وأنْ كانَ مَجْنى ثمرِ العقولِ والألبابِ، ومجتمَعَ فِرَقِ الآدابِ، والذي قيَّد على النّاسِ المعاني الشريفةَ، وأفادَهُم الفوائدَ الجليلة، وترسَّل بينَ الماضي والغابرِ، يَنقل مكارمَ الأخلاق إِلى الولدِ عن الوالد، ويؤدِّي ودائعَ الشَّرف عن الغائب إِلى الشَاهد، حتى تَرى به آثارَ الماضين مخلَّدةً في الباقين، وعقول الأَوَّلين مردودةً في الآخرين، وتَرى لكلَّ مَن رَام الأدبَ،

--------------------------------------------

1 وذلك حين قال البرج بن مسهر الطائي الشاعر الخارجي، لعلي رضي الله عنه: "لا حكم إلا الله"، وهي شعار الخوارج، فقال علي: "كلمة حق أريد بها باطل، وإنما مذهبهم أن لا يكون أمير، ولا بد من أمير، برًا كان أو فاجرًا".

2 في هامش "ج": "هو أخو الحجاج"، يعني "محمد بن يوسف".

3 في البيان والتبيين 1: 395.
পক্ষান্তরে, অনেক সময় এমন সত্য কথা বলা হয় যার দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে বাতিল (অসৎ), ফলে তা নিন্দার যোগ্য হয়; যেমনটি আপনি খারেজি ও আলি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ঘটনা থেকে জেনেছেন।১ আর অনেক সময় কোনো সুন্দর কথা তার বক্তার পক্ষ থেকে সুন্দর বলে গণ্য হয় না যখন তা কোনো মন্দের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমনটি আল-জাহিজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "একদিন তাউস মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফের২ মজলিস থেকে ফিরে আসলেন—যিনি তখন ইয়েমেনের গভর্নর ছিলেন—অতঃপর বললেন: আমি ভাবতেও পারিনি যে 'সুবহানাল্লাহ' বলাও আল্লাহর অবাধ্যতা হতে পারে আজকের দিনটি আসার আগ পর্যন্ত। আমি শুনলাম এক ব্যক্তি ইবনে ইউসুফকে অন্য এক ব্যক্তির ব্যাপারে কোনো কথা পৌঁছাল, তখন মজলিসে উপস্থিত জনৈক ব্যক্তি সেই কথাটিকে আরও গুরুতর হিসেবে তুলে ধরার জন্য 'সুবহানাল্লাহ' বলে উঠল, যাতে ইবনে ইউসুফ রাগান্বিত হন।"৩

সুতরাং এটি এবং এর ন্যায় বিষয়গুলো দ্বারা আপনি শিক্ষা গ্রহণ করুন এবং একে আপনার ও কবিতার মধ্যে একটি মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করুন।

কবিতার প্রতিরক্ষা:

১৫ - এরপর কথা হলো, আপনার কাছে কবিতার মান কীভাবে নেমে গেল এবং কেনই বা আপনি একে অপছন্দ করতে শুরু করলেন এই কারণে যে আপনি এতে বাতিল, মিথ্যা এবং কিছু অসুন্দর বিষয় খুঁজে পেয়েছেন? অথচ এতে যে সত্য, সততা, প্রজ্ঞা এবং অকাট্য সিদ্ধান্ত রয়েছে তা কি আপনার মনে এর মর্যাদা বৃদ্ধি করল না কিংবা আপনার হৃদয়ে এর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করল না? অথচ কবিতা হলো জ্ঞান ও বুদ্ধির ফল আহরণের স্থান এবং বিবিধ শিষ্টাচারের মিলনস্থল। এটিই মানুষের জন্য মহৎ অর্থসমূহকে গেঁথে রেখেছে এবং তাদের সুমহান উপকার প্রদান করেছে। এটি অতীত ও আগামীর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে, পিতার কাছ থেকে পুত্রের কাছে উন্নত চরিত্র স্থানান্তর করে এবং অনুপস্থিতের পক্ষ থেকে উপস্থিতের কাছে সম্মানের আমানত পৌঁছে দেয়। এমনকি এর মাধ্যমেই আপনি পরবর্তীদের মধ্যে পূর্ববর্তীদের কীর্তিগাঁথা চিরস্থায়ী হতে দেখেন এবং পূর্ববর্তীদের প্রজ্ঞা পরবর্তীদের মধ্যে ফিরে আসতে দেখেন। এবং আপনি দেখেন যে ব্যক্তিই সাহিত্য অন্বেষণ করে...

--------------------------------------------

১ এটি তখনকার ঘটনা যখন বুর্জ ইবনে মুসহির আত-তাঈ নামক খারেজি কবি আলি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে বলেছিলেন: "আল্লাহ ছাড়া কারো বিধান নেই", যা ছিল খারেজিদের স্লোগান। তখন আলি বলেছিলেন: "এটি একটি সত্য কথা যার দ্বারা বাতিলের উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। তাদের মতবাদ হলো কোনো আমির (নেতা) থাকবে না, অথচ একজন আমির থাকা অপরিহার্য, তিনি পুণ্যবান হোন কিংবা পাপাচারী।"

২ 'জিম' পাণ্ডুলিপির টীকায় রয়েছে: "তিনি হাজ্জাজের ভাই", অর্থাৎ "মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ"।

৩ আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন ১: ৩৯৫।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ১৬)
وابتغَى الشرفَ، وطلبَ محاسنَ القولِ والفعْل، مناراً مرفوعاً، وعِلْماً مَنصوباً، وهادياً مُرْشداً، ومُعلماً مسدِّداً، وتجدُ فيه للنَّائي عن طَلبِ المآثر، والزّاهِدِ في اكتسابِ المحامدِ، داعياً، ومُحرَّضاً، وباعثاً ومحضَّضاً، ومذكرًا ومعرفًا، وواعظًا ومنفقًا. فلو كنت ممن يتصف كانَ في بعضِ ذَلك ما يُغيِّرُ هذا الرأيَ منك، وما يَحْدوكَ على روايةِ الشَّعر وطَلََبه، ويَمنعُكَ أنْ تَعيبَه أو تَعيبَ به، ولكنك أَبَيْتَ إلَاّ ظناً سبَقَ إِليكَ، وإِلاّ بادي رأيٍ عنَّ لك، فأقفلْتَ عليه قلْبَكَ، وسدَدْتَ عمَّا سِواهُ سَمْعَك، فَعيَّ الناصحُ بك1، وعَسُرَ على الصديق الخليط تنبيهك.

الأحاديث في ذم الشعر، ومدحه:

نعم، وكَيف رَويْتَ: "لأَنْ يمتلئَ جوفُ أَحدِكم قيحاً، فيَرِيَهُ، خيرٌ له من أَن يمتلئ شِعْراً" 2، ولهجتَ به، وترِكتَ قولَه صلى الله عليه وسلم: "إنَّ مِن الشعر لَحِكْمةً، وإنَّ مِن البيانِ لَسِحْرا"؟ 3 وكيف نَسِيتَ أَمرَه صلى الله عليه وسلم بقول الشعر، ووعده

--------------------------------------------

1 "عي"، عجز، أصله "عيي"، فأدغم.

2 حديث رواه أحمد والشيخان وأصحاب السنن وغيرهم عن أبي هريرة وعن غيره والرواية المشهورة فيه: "حتى يريه" أي يفسده وفي رواية بحذف: "حتى يريه" وفي أخرى حذف: "حتى" وقرأها بعضهم حينئذ "يريه" بالفتح، وبعضهم بالضم، ولم أر من رواه بالفاء فيريه" كما في نسخة المصنف، وفي رواية ابن عدي عن جابر: "لأن يمتلئ جوف الرجل قيحًا أو دمًا خير له من أن يمتلئ شعرًا مما هجيت به" "رشيد رضا"، قال أبو فهر: قد خرجته في تهذيب الآثار للطبري، في مسند عمر، فراجعه.

3 الحديث مشهور رواه أصحاب الصحاح وغيرهم، ورواية المصنف ملفقة من روايتين، فقد وردت كل جملة من طريق. وأما الجملتان معًا فقد جاءنا في حديث ابن عباس عند أحمد وابن ماجه هكذا: "إن من البيان سحرًا، وإن من الشعر حكمًا" وعند ابن عساكر من حديث علي باللام، وله تتمة وهي: "وإن من العلم لجهلًا، وإن من القول عيالًا"، "رشيد".
এবং তিনি মর্যাদা অন্বেষণ করেছেন এবং কথা ও কাজের সৌন্দর্য কামনা করেছেন, যা একটি সুউচ্চ আলোকবর্তিকা, একটি স্থাপিত নিশান, এক পথপ্রদর্শক দিশারি এবং এক সঠিক শিক্ষাদাতা। আর যারা গৌরবময় কীর্তি অর্জন থেকে দূরে থাকে এবং প্রশংসনীয় গুণাবলি লাভে অনীহা প্রকাশ করে, তাদের জন্য এর মধ্যে আপনি পাবেন এক আহ্বানকারী, এক উৎসাহদাতা, এক প্রেরণা প্রদানকারী, এক উদ্বুদ্ধকারী, এক স্মরণ করিয়ে দাতা, এক পরিচয় করিয়ে দাতা, এক উপদেশদাতা এবং এক দানকারীকে। আপনি যদি সেই গুণের অধিকারী হতেন, তবে এর মধ্যে এমন কিছু থাকত যা আপনার এই মতামত পরিবর্তন করে দিত, আপনাকে কবিতা বর্ণনা ও অন্বেষণে অনুপ্রাণিত করত এবং একে ত্রুটিযুক্ত বলতে বা এর মাধ্যমে কাউকে দোষারোপ করতে আপনাকে বাধা দিত। কিন্তু আপনি আপনার মনে গেঁথে যাওয়া এক পূর্বধারণা এবং আপনার কাছে আসা ভাসা-ভাসা মতামতের ওপর অটল থাকা ছাড়া আর সব কিছু অস্বীকার করেছেন। আপনি এর ওপর আপনার অন্তরকে তালাবদ্ধ করেছেন এবং তা ছাড়া অন্য সব কিছু থেকে আপনার শ্রবণশক্তি রুদ্ধ করেছেন। ফলে উপদেশদাতা আপনার বিষয়ে অক্ষম হয়ে পড়েছে এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুর পক্ষে আপনাকে সতর্ক করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কবিতার নিন্দা ও প্রশংসায় হাদিসসমূহ:

হ্যাঁ, আপনি কীভাবে এই বর্ণনাটি গ্রহণ করলেন যে: "তোমাদের কারো পেট যদি পুঁজে ভরে যায় এবং তা তাকে পচিয়ে ফেলে, তবে তা তার জন্য কবিতা দ্বারা পেট ভর্তি করার চেয়ে উত্তম"; আর আপনি এটিকে আঁকড়ে ধরলেন এবং সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী বর্জন করলেন: "নিশ্চয়ই কিছু কবিতার মধ্যে প্রজ্ঞা রয়েছে এবং নিশ্চয়ই কিছু বাগ্মিতার মধ্যে জাদু রয়েছে"? এবং আপনি কীভাবে কবিতা আবৃত্তি করার ব্যাপারে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি ভুলে গেলেন?

--------------------------------------------

১. 'আই' অর্থ অক্ষমতা, এর মূল রূপ ছিল 'আইয়ি', যা সন্ধি করা হয়েছে।

২. হাদিসটি আহমদ, শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম), সুনান গ্রন্থকারগণ এবং অন্যান্যরা আবু হুরায়রা ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। এর প্রসিদ্ধ বর্ণনা হলো: "যাতে তা তাকে পচিয়ে ফেলে" অর্থাৎ নষ্ট করে দেয়। একটি বর্ণনায় "যাতে তা তাকে পচিয়ে ফেলে" অংশটি বাদ দিয়ে এবং অন্যটিতে "পর্যন্ত" বাদ দিয়ে বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ একে জবর দিয়ে এবং কেউ পেশ দিয়ে পড়েছেন। আমি কোনো বর্ণনায় লেখকের পাণ্ডুলিপির মতো 'ফা' যোগে দেখিনি। ইবনে আদী জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন: "কোনো ব্যক্তির পেট পুঁজ বা রক্তে ভরে যাওয়া তার জন্য কবিতা দ্বারা ভরে যাওয়ার চেয়ে উত্তম যার দ্বারা আমাকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।" - রশীদ রিদা। আবু ফিহর বলেছেন: আমি তাবারির 'তাহজিবুল আসার'-এ ওমর-এর মুসনাদে এর তাখরিজ করেছি, সেখানে দেখে নিন।

৩. হাদিসটি প্রসিদ্ধ, সিহাহ সিত্তার সংকলকগণ এবং অন্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। লেখকের বর্ণনাটি দুটি বর্ণনা থেকে সংকলিত, কারণ প্রতিটি বাক্য আলাদা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আর উভয় বাক্য একত্রে ইবনে আব্বাস থেকে আহমদ ও ইবনে মাজাহ-তে এভাবে এসেছে: "নিশ্চয়ই কিছু বাগ্মিতায় জাদু রয়েছে এবং নিশ্চয়ই কিছু কবিতায় প্রজ্ঞা রয়েছে।" ইবনে আসাকিরের নিকট আলী-এর বর্ণনায় 'লাম' সহকারে এসেছে এবং এর শেষাংশ হলো: "নিশ্চয়ই কিছু জ্ঞানের মধ্যে অজ্ঞতা রয়েছে এবং নিশ্চয়ই কিছু কথার মধ্যে অপারগতা রয়েছে।" - রশীদ।
(খণ্ড: ১) দলাইলুল ইজায - তাহকীক শাকির (পৃষ্ঠা: ১৭)
عليه الجنَّةَ، وقوله لحسَّان: "قُلْ وروحُ القُدُس معك" 1، وسماعَه له، واستنشادَهُ إياه، وعِلْمهُ صلى الله عليه وسلم به، واستحسانَه له، وارتياحَه عند سماعه؟

أَمرَه صلى الله عليه وسلم بقول الشعر وسماعه:

16 - أَمّا أَمرُهُ به، فمنَ المعلوم ضَرورةً، وكذلك سَماعُه إِيّاه، فقد كان حسانٌ وعبدُ الله بنُ رَواحَة وكعبُ بن زُهير يمدحونَهُ، ويَسْمعُ منهم، ويُصغي إِليهم، ويأمرهم بالردِّ على المُشركين2 فيقولون في ذلك ويَعْرِضون عليه، وكان عليه السلام يَذكرُ لهم بعضَ ذلك، كالذي رُوي من أنه صلى الله عليه وسلم قال لكعبٍ: "ما نَسِيَ ربُّك، وما كان ربُّكَ نَسِيّاً، شعراً قلْتَه"، قال: وما هوَ يا رسولَ الله؟ قال: "أَنْشِدْه يا أبا بكر"، فأنشده أبو بكر رضوان الله عليه:

زعَمتْ سَخينةُ أنْ سَتَغلِبُ رَبَّها … ولَيُغْلَبَنَّ مُغَالِبُ الغلاب3

استنشاده الشعر:

17 - وأما استنشادُه إِيّاهُ فكثيرٌ، من ذلك الخبرُ المعروف استنشادهِ، حين اسْتَسقى فسُقيَ، قولَ أبي طالب:

--------------------------------------------

1 خرجته في تهذيب الآثار للطبري، وفي مسند عمر.

2 روى الخطيب وابن عساكر عن حسان، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له: "اهج المشركين وجبرائيل معك، إذا حارب أصحابي بالسلاح، فحارب أنت باللسان". وفي حديث جابر عند ابن جرير أنه قال يوم الأحزاب: "من يحمي أعراض المؤمنين؟ " قال كعب: أنا يا رسول الله. قال: "نعم، اهجهم أنت، فسيعينك روح القدس" "رشيد".

3 خرجت خبر كعب بن مالك في تذهيب الآثار، مسند عمر. والبيت في ديوان كعب بن مالك: 178 - 182، وانظر طبقات فحول الشعراء: رقم 305. و "سخينة"، لقب كانت تعير به قريش. و "السخينة"، طعام يتخذ من الدقيق، دون العصيدة في رقته وفوق الحساء، وإنما كانت نؤكل في شدة الدهر، وغلاء الأسعار، وهزال الأنعام، فعيروا بأكلها.
...তার জন্য জান্নাত (ওয়াজিব হওয়া), এবং হাসসানের প্রতি তাঁর উক্তি: "বলো, আর রুহুল কুদুস তোমার সাথে আছেন" ১, এবং তাঁর কবিতা শ্রবণ করা, তাঁর পক্ষ থেকে তাকে কবিতা আবৃত্তি করতে বলা, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সে সম্পর্কে অবগত থাকা, তা পছন্দ করা এবং তা শ্রবণের সময় তাঁর আনন্দিত হওয়া?

কবিতা বলা এবং তা শোনার ব্যাপারে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ:

১৬ - কবিতা বলার নির্দেশের বিষয়টি অকাট্যভাবে সুপরিচিত; অনুরূপভাবে তাঁর তা শোনার বিষয়টিও। হাসসান, আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা এবং কাব ইবনে যুহাইর তাঁর প্রশংসা করতেন, আর তিনি তাদের থেকে শুনতেন এবং তাদের প্রতি মনোযোগ দিতেন। তিনি তাদেরকে মুশরিকদের (কবিতার) উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দিতেন, ফলে তারা সে বিষয়ে কাব্য রচনা করতেন এবং তাঁর কাছে তা পেশ করতেন। নবী আলাইহিস সালাম তাদের কাছে এর কিছু বিষয় উল্লেখ করতেন, যেমন কাব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "তোমার রব ভুলে যাননি—আর তোমার রব বিস্মৃত হন না—এমন একটি কবিতা যা তুমি বলেছিলে।" সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, সেটি কী? তিনি বললেন: "হে আবু বকর, তুমি এটি আবৃত্তি করো।" তখন আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তা আবৃত্তি করলেন:

সাখিনা (কুরাইশরা) ধারণা করেছে যে তারা তাদের রবের ওপর বিজয়ী হবে … অথচ চূড়ান্ত বিজয়ীর সাথে যে লড়াই করে সে অবশ্যই পরাজিত হবে৩

কবিতা আবৃত্তি করতে বলা:

১৭ - আর তাঁর কবিতা আবৃত্তি করতে বলার বিষয়টিও প্রচুর। এর মধ্যে সুপরিচিত ঘটনা হলো—যখন তিনি বৃষ্টির প্রার্থনা করলেন এবং বৃষ্টি বর্ষিত হলো—তখন আবু তালিবের কাব্যটি আবৃত্তি করতে বলা:

--------------------------------------------

১ এটি আমি তাবারির তাহজিবুল আসার এবং মুসনাদে উমর-এ তাখরিজ করেছি।

২ খতিব এবং ইবনে আসাকির হাসসান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "তুমি মুশরিকদের নিন্দা করে কবিতা বলো এবং জিবরাঈল তোমার সাথে আছেন। যখন আমার সাহাবীরা অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করবে, তখন তুমি জবান দিয়ে যুদ্ধ করো।" আর ইবনে জারিরের নিকট জাবির থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি আহযাবের দিন বলেছিলেন: "কে মুমিনদের সম্মান রক্ষা করবে?" কাব বললেন: আমি হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তুমি তাদের নিন্দা করে কবিতা বলো, অচিরেই রুহুল কুদুস তোমাকে সাহায্য করবেন।" [রশিদ]

৩ আমি কাব ইবনে মালিকের বর্ণনাটি তাহজিবুল আসার, মুসনাদে উমর-এ তাখরিজ করেছি। কবিতাটি কাব ইবনে মালিকের দিওয়ানে রয়েছে: ১৭৮ - ১৮২; এবং দেখুন তাবাকাতু ফুহুলিশ শুআরা: নম্বর ৩০৫। "সাখিনা" ছিল একটি উপাধি যা দিয়ে কুরাইশদের বিদ্রূপ করা হতো। "সাখিনা" হলো আটা দিয়ে তৈরি একটি খাবার, যা ঘনত্বের দিক থেকে আসিদের চেয়ে পাতলা কিন্তু ঝোলের চেয়ে ঘন। এটি কেবল চরম সংকটকাল, উচ্চমূল্য এবং গবাদিপশু রুগ্ন হয়ে যাওয়ার সময় খাওয়া হতো, তাই এটি খাওয়ার কারণে তাদের বিদ্রূপ করা হতো।