(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: -)
السنة لابن أبي عاصم ومعها ظلال الجنة للألباني القسم: كتب السنة
الكتاب: كتاب السنة (ومعه ظلال الجنة في تخريج السنة بقلم: محمد ناصر الدين الألباني)
المؤلف: أبو بكر بن أبي عاصم وهو أحمد بن عمرو بن الضحاك بن مخلد الشيباني (ت 287هـ)
الناشر: المكتب الإسلامي
الطبعة: الطبعة الأولى، 1400هـ/ 1980م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবন আবি আসিম রচিত আস-সুন্নাহ এবং সাথে আলবানী রচিত যিলালুল জান্নাহ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: কিতাবুস সুন্নাহ (এবং সাথে মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী কর্তৃক সুন্নাহর তাখরিজ সংবলিত যিলালুল জান্নাহ)
গ্রন্থকার: আবু বকর ইবন আবি আসিম, তিনি হলেন আহমাদ ইবন আমর ইবন আদ-দাহহাক ইবন মাখলাদ আশ-শাইবানী (ওফাত ২৮৭ হি.)
প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামী
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ، ১৪০০ হি./ ১৯৮০ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ২
[কিতাবটির নম্বরসমূহ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৫)
المجلد الأول
مقدمة المؤلف…كتاب السنة
للحافظ أبي بكر عمرو بن أبي عاصم الضحاك بن مخلد الشيباني المتوفي 287 هـ
ومعه ظلال الجنه في تخريج السنة
بقلم: محمد ناصر الدين الألباني
مقدمة المؤلف
بسم الله الرحمن الرحيم
أخبرنا شيخنا العارف بالله صفي الدين أحمد بن محمد الأنصاري المدني قدس سره، أجازة عن الشمس محمد بن أحمد الرملي، إجازة عن الزين زكريا بن محمد الأنصاري، عن الحافظ أبي الفضل أحمد بن علي بن حجر، ومسند الديار المصرية العز عبد الرحيم بن محمد المعروف بابن الفرات، بروايتهما عن الصلاح محمد ابن أبي عمرو أبي الحسن علي بن محمد بن أبي المجد الدمشقي.
فالأول: عن الحافظ فخر الدين علي بن أحمد المعروف بابن البخاري، عن الحافظ ضياء الدين محمد بن عبد الواحد المقدسي.
والثاني: عن محمد بن يوسف بن المهتار المصري الأصل الدمشقي، عن الحافظ تقي الدين أبي عمرو بن أبي عمرو بن الصلاح الشهرزوري عن الحافظ عبد القادر الرهاوي، بروايته والضياء عن الحافظ تقي الدين، محمد عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي قال:
أنا الحافظ أبو موسى محمد بن عمر بن أحمد بن عمر بن أبي عيسى المديني الأصبهاني بها.
وأنا به عاليا شيخنا الإمام صفي الدين أحمد قدس سره بسنده
প্রথম খণ্ডলেখকের ভূমিকা…কিতাবুস সুন্নাহ
হাফেজ আবু বকর আমর ইবনে আবি আসিম আদ-দাহহাক ইবনে মাখলাদ আশ-শাইবানী (মৃত্যু ২৮৭ হি.) প্রণীত
এবং এর সাথে রয়েছে সুন্নাহর তাখরিজ বিষয়ে ‘জিলালুল জান্নাহ’
রচনায়: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী
লেখকের ভূমিকা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদেরকে আমাদের শাইখ, আরেফ বিল্লাহ সফিউদ্দিন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারী আল-মাদানি (আল্লাহ তাঁর মর্যাদা পবিত্র করুন) ইজাজত বা অনুমতি প্রদানের মাধ্যমে অবহিত করেছেন। তিনি শামস মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-রামলি থেকে ইজাজতের মাধ্যমে, তিনি জাইন জাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারী থেকে, তিনি হাফেজ আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার এবং মিসরীয় ভূখণ্ডের মুসনিদ আল-ইজ্জ আবদুর রহিম ইবনে মুহাম্মদ (যিনি ইবনুল ফুরাত নামে পরিচিত) থেকে; তাঁরা উভয়ে আস-সালাহ মুহাম্মদ ইবনে আবি আমর আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবুল মাজদ আদ-দিমাশকি থেকে বর্ণনা করেছেন।
প্রথমজন: হাফেজ ফখরুদ্দিন আলী ইবনে আহমদ (যিনি ইবনুল বুখারী নামে পরিচিত) থেকে, তিনি হাফেজ জিয়াউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর দ্বিতীয়জন: মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আল-মুহতার (মূলত মিসরীয়, পরে দামেস্কের বাসিন্দা) থেকে, তিনি হাফেজ তাকিউদ্দিন আবু আমর ইবনে আস-সালাহ আশ-শাহরাজুরি থেকে, তিনি হাফেজ আব্দুল কাদির আল-রাহাউয়ি থেকে; তিনি এবং জিয়াউদ্দিন উভয়েই হাফেজ তাকিউদ্দিন মুহাম্মদ আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আলী ইবনে সুরুর আল-মাকদিসি থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি বলেন:
হাফেজ আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে আহমদ ইবনে উমর ইবনে আবি ঈসা আল-মাদিনী ইসফাহানে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন।
এবং আমাদের শাইখ ইমাম সফিউদ্দিন আহমদ (আল্লাহ তাঁর মর্যাদা পবিত্র করুন) তাঁর উচ্চতর সনদের মাধ্যমে আমাকে তা অবহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৬)
إلى ابن الفرات عن أبي الثناء محمود بن خليفة المنبجي عن الحافظ شرف الدين عبد المؤمن بن خلف الدمياطي، عن الحافظ يوسف بن خليل بن عبد الله الدمشقي، بسماعه من أبي جعفر محمد بن أحمد بن نصر الصيدلاني قالا:
أنا أبو منصور مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بن محمد الصيرفي الأصبهاني1:
أنا أبو بكر مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شاذان الأعرج:
أنا أبو بكر عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ فورك القباب، أنا أبو بكر أحمد بن عمر بن أبي عاصم الضحاك بن مخلد الشيباني البصري قال:
--------------------------------------------
ইবনে আল-ফুরাত থেকে, তিনি আবুস সানা মাহমুদ বিন খলিফা আল-মানবিজি থেকে, তিনি হাফেজ শরাফ উদ্দিন আব্দুল মুমিন বিন খালাফ আদ-দামইয়াতি থেকে, তিনি হাফেজ ইউসুফ বিন খলিল বিন আব্দুল্লাহ আদ-দামেশকি থেকে, তাঁর শ্রবণের মাধ্যমে আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন নাসর আস-সাইদালানি থেকে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন:
আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আস-সাইরাফি আল-আসবাহানি ১:
আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন শাযান আল-আ'রাজ:
আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ফুরাক আল-কাব্বাব, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন আমর বিন আবি আসিম আদ-দাহহাক বিন মাখলাদ আশ-শাইবানি আল-বাসরি, তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
1-
ذِكْرُ الأَهْوَاءِ الْمَذْمُومَةِنَسْتَعْصِمُ اللَّهَ تعالى منها ونعوذ به من كل ما يوجب سخطه
1- أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارِ بْنِ نُصَيْرٍ أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ صَفْوَانِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ الأزهر ابن عبد الله الْحَرَازِيِّ عَنْ أَبِي عَامِرٍ الْهَوْزَنِيِّ عبد الله بْنِ لُحَيٍّ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
"يَكُونُ أَقْوَامٌ تَتَجَارَى بِهِمْ تِلْكَ الأَهْوَاءُ كَمَا يَتَجَارَى الْكَلْبُ بِصَاحِبِهِ فَلا يَبْقَى مِنْهُ مَفْصِلٌ إِلا دخله".
حديث صحيح بما بعده رجاله ثقات غير أن هشام بن عمار فيه ضعف لكنه قد توبع كما يأتي.
2- أَخْبَرَنَا ابْنُ مُصَفَّى ثنا بَقِيَّةُ عَنْ صَفْوَانِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ الأزهر بن عبد الله عَنْ أَبِي عَامِرٍ الْهَوْزَنِيِّ أَنَّهُ حَجَّ مَعَ مُعَاوِيَةَ فَسَمِعَهُ يَقُولُ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فَذَكَرَ:
"أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ قَبْلَكُمْ تَفَرَّقُوا عَلَى اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً فِي الأَهْوَاءِ أَلا وَإِنَّ هَذِهِ الأُمَّةَ سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثَلاثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً فِي الأَهْوَاءِ كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلا وَاحِدَةً وَهِيَ الْجَمَاعَةُ أَلا وَإِنَّهُ يَخْرُجُ فِي أُمَّتِي قَوْمٌ يَهْوُونَ هَوًى يَتَجَارَى بِهِمْ ذَلِكَ الْهَوَى كَمَا يَتَجَارَى الْكَلْبُ بِصَاحِبِهِ لا يَدَعُ مِنْهُ عِرْقًا وَلا مفصلا إلا دخله".
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
১-
নিন্দনীয় প্রবৃত্তিসমূহের বর্ণনাআমরা আল্লাহ তাআলার কাছে তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট ঐ সকল বিষয় থেকে পানাহ চাচ্ছি যা তাঁর অসন্তুষ্টির উদ্রেক করে।
১- হিশাম ইবনে আম্মার ইবনে নুসাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইসমাইল ইবনে আইয়াশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাফওয়ান ইবনে আমর থেকে, তিনি আজহার ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হারাজি থেকে, তিনি আবু আমির আল-হাওজানি আব্দুল্লাহ ইবনে লুহাই থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন:
"এমন কিছু কওমের আবির্ভাব ঘটবে যাদের মাঝে এই সব প্রবৃত্তি এমনভাবে সঞ্চারিত হবে যেমন জলাতঙ্ক রোগীর দেহে বিষ ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তার প্রতিটি জোড়ায় জোড়ায় তা প্রবেশ করে।"
হাদীসটি পরবর্তী রিওয়ায়াতের কারণে সহীহ, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে হিশাম ইবনে আম্মারের মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে যেমনটি আসবে, সে অনুযায়ী তাঁর অনুসরণ (তাবেউ) পাওয়া গেছে।
২- ইবনে মুসাফফা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন বাকিয়্যাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান ইবনে আমর থেকে, তিনি আজহার ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু আমির আল-হাওজানি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মুয়াবিয়ার সাথে হজ করেছিলেন এবং তাকে বলতে শুনেছেন যে, একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে আলোচনা করলেন:
"নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবগণ প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। জেনে রাখো, নিশ্চয়ই এই উম্মত অচিরেই তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে, যাদের সকলেই জাহান্নামী হবে কেবল একটি দল ব্যতীত, আর সেটি হলো ‘আল-জামাআহ’। সাবধান! নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে এমন এক কওমের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে যারা কুপ্রবৃত্তিকে অনুসরণ করবে, তাদের মাঝে সেই প্রবৃত্তি এমনভাবে ছড়িয়ে পড়বে যেমন জলাতঙ্ক রোগীর দেহে বিষ ছড়িয়ে পড়ে, যা তার কোনো শিরা বা জোড়াকে বাকি রাখে না বরং তাতে প্রবেশ করে।"
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৮)
حديث صحيح بما قبله رجاله ثقات غير أن ابن مصفى واسمه محمد الحمصي القرشي صدوق له أوهام وكان يدلس لكنه قد صرح بالتحديث ومثله بقية وهو ابن الوليد ولكنه صرح بالتحديث عند أبي داود في سننه رقم 4597: ثنا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ ثنا بقية قال حدثني صفوان وتابعه ابو المغيرة قال ثنا صفوان به أخرجه أبو داود وأحمد 4/102 فالإسناد صحيح.
3- حَدَّثَنَا ابْنُ مُصَفَّى حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنِي ابن دينار عن الخصيب عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
"مَا تَحْتَ ظِلِّ السَّمَاءِ إِلَهٌ يُعْبَدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ هَوًى مُتَّبَعٌ".
موضوع إسناده مسلسل بالمتروكين عيسى بن إبراهيم وهو ابن طهمان الهاشمي وابن دينار وهو الحسن بن دينار أبو سعيد التميمي والخصيب وهو ابن جحدر وهذا والذي قبله كذبهما جماعة.
والحديث قال الهيثمي في "مجمع الزوائد" 1/188: رواه الطبراني في الكبير وفيه الحسن ابن دينار وهو متروك الحديث.
4- حَدَّثَنَا ابْنُ مُصَفَّى ثنا بَقِيَّةُ ثنا شُعْبَةُ أَوْ غَيْرُهُ عَنْ مُجَالِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ شُرَيْحٍ عن عمر ابن الْخَطَّابِ رضي الله عنه أَنّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِعَائِشَةَ: "يَا عَائِشَةُ إِنَّ الَّذِينَ فَارَقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا إِنَّهُمْ أَصْحَابُ الْبِدْعَةِ وَالأَهْوَاءِ وَأَصْحَابُ الضَّلالَةِ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ يَا عَائِشَةُ إِنَّ لِكُلِّ صَاحِبِ ذَنْبٍ تَوْبَةً غَيْرَ أَصْحَابِ الأَهْوَاءِ وَالْبِدَعِ لَيْسَ لَهُمْ تَوْبَةٌ أَنَا مِنْهُمْ بَرِيءٌ وَهُمْ مِنِّي بُرَآءُ".
إسناده ضيعف رجاله موثوقون غير مجالد وهو ابن سعيد وليس بالقوى وبهذا الإسناد اخرجه الطبراني في المعجم الصغير ص لكنه لم يصرح بتحديث بقية ولذلك قال الهيثمي 1/188:
পূর্ববর্তী বর্ণনার কারণে হাদিসটি সহিহ, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য; তবে ইবনে মুসাফ্ফা (যার নাম মুহাম্মদ আল-হিমসি আল-কুরাশি) সত্যবাদী হলেও তার ভ্রম ঘটত এবং তিনি তাদলীস করতেন। কিন্তু তিনি এখানে স্পষ্টভাবে শ্রবণের কথা ব্যক্ত করেছেন। অনুরূপভাবে বাকিয়্যাহ (ইবনুল ওয়ালিদ) আবু দাউদে তার 'সুনান'-এর ৪৫৯৭ নম্বরে স্পষ্টভাবে শ্রবণের কথা উল্লেখ করেছেন: আমাদের নিকট আমর ইবনে উসমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বাকিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট সাফওয়ান বর্ণনা করেছেন এবং আবু আল-মুগীরা তার অনুসরণ করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সাফওয়ান এটি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ এবং আহমাদ (৪/১০২) এটি বর্ণনা করেছেন, সুতরাং সনদটি সহিহ।
৩- আমাদের নিকট ইবনে মুসাফ্ফা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বাকিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ঈসা ইবনে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট ইবনে দীনার খাসীব থেকে, তিনি রাশিদ ইবনে সাদ থেকে, তিনি আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"আকাশের নিচে আল্লাহ ব্যতীত এমন কোনো উপাস্য নেই যার ইবাদত করা হয়, যা আল্লাহর নিকট অনুসরণকৃত প্রবৃত্তির চেয়ে বড় (গুনাহের)।"
এটি একটি জাল হাদিস, এর সনদটি পরিত্যক্ত বর্ণনাকারীদের দ্বারা ধারাবাহিকভাবে গঠিত। ঈসা ইবনে ইব্রাহিম (তিনি ইবনে তাহমান আল-হাশিমী), ইবনে দীনার (তিনি হাসান ইবনে দীনার আবু সাঈদ আত-তামীমী) এবং খাসীব (তিনি ইবনে জাহদার)। একে এবং এর পূর্বের বর্ণনাকারীকে একদল মুহাদ্দিস মিথ্যাবাদী বলেছেন।
হাদিসটি সম্পর্কে হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (১/১৮৮) গ্রন্থে বলেছেন: এটি তাবারানি 'আল-কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন এবং এতে হাসান ইবনে দীনার রয়েছেন, যিনি হাদিস বর্ণনায় পরিত্যক্ত।
৪- আমাদের নিকট ইবনে মুসাফ্ফা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বাকিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট শুবা অথবা অন্য কেউ মুজালিদ থেকে, তিনি শাবী থেকে, তিনি শুরাইহ থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়েশা (রা.)-কে বলেছিলেন: "হে আয়েশা! যারা তাদের দ্বীনকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং দলে দলে বিভক্ত হয়েছে, তারা হলো এই উম্মতের বিদআত ও প্রবৃত্তির অনুসারী এবং পথভ্রষ্ট লোক। হে আয়েশা! প্রত্যেক অপরাধীর তওবা করার সুযোগ আছে, কিন্তু প্রবৃত্তির অনুসারী ও বিদআতিদের তওবা নেই। আমি তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার থেকে মুক্ত।"
এর সনদটি দুর্বল, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য তবে মুজালিদ (ইবনে সাঈদ) ব্যতীত, কারণ তিনি শক্তিশালী নন। তাবারানি এই একই সনদে 'আল-মুজাম আস-সাগীর'-এ এটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু সেখানে বাকিয়্যাহ স্পষ্টভাবে শ্রবণের বিষয়টি ব্যক্ত করেননি। এ কারণেই হাইসামি (১/১৮৮) বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৯)
رواه الطبراني في الصغير وفيه بقية ومجالد بن سعيد وكلاهما ضعيف وقال الحافظ ابن كثير هو حديث غريب ولا يصح رفعه ثم بين ذلك فراجعه في تفسير 2/196 وقد نقلته في "الروض النضير".
5- ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ثنا عَفَّانُ ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مليكة حدثني القاسم ابن مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَلا هَذِهِ الآيَةَ: {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ.....} حَتَّى فَرَغَ مِنْهَا قَالَ:
"قَدْ سَمَّاهُمُ اللَّهُ تبارك وتعالى فَإِذَا رأيتموهم فاحذروهم".
إسناده صحيح على شرط مسلم على كلام يسير في حماد بن سلمة وقد توبع فقال الدارمي في سننه 1/54: أخبرنا أبو الوليد الطيالسي ثنا حماد بن سلمة ويزيد بن إبراهيم عن عبد الله ابن أبي مليكة به وأخرجه البخاري 3/212 وأبو داود 4598 من طريق أخرى عن يزيد بن إبراهيم التستري به.
6- ثنا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: نَحْوَهُ لَيْسَ فِيهِ القاسم.
إسناده صحيح أيضا على شرط الشيخين إن كان ابن ابي مليكه واسمه عبد الله بن عبيد الله سمعه من عائشة فإن بينهما القاسم بن محمد كما في الرواية التي قبلها وهي أصح.
7- ثنا الْحَسَنُ بْنُ الْبَزَّارِ ثنا مُحْرِزُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَطَرٍ الشَّيْبَانِيُّ عَنْ عَبْدِ الْغَفُورِ عَنْ أَبِي بَصِيرٍ عَنْ أبي رجا الْعُطَارِدِيِّ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
"عَلَيْكُمْ بِلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَالاسْتِغْفَارِ فَأَكْثِرُوا مِنْهُمَا فَإِنَّ إِبْلِيسَ قَالَ: أَهْلَكْتُهُمْ بِالذُّنُوبِ وَأَهْلَكُونِي بِالاسْتِغْفَارِ فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ مِنْهُمْ أَهْلَكْتُهُمْ بِالأَهْوَاءِ فَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ مهتدون فلا يستغفرون".
এটি তাবারানি 'আস-সাগীর'-এ বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বাকিয়াহ এবং মুজালিদ বিন সাঈদ রয়েছেন এবং তারা উভয়েই দুর্বল। হাফেজ ইবনে কাসির বলেছেন, এটি একটি গরীব (অপ্রসিদ্ধ) হাদিস এবং এটি মারফু হিসেবে সহিহ নয়। অতঃপর তিনি এটি ব্যাখ্যা করেছেন, তাই তাফসিরের ২/১৯৬ পৃষ্ঠায় দেখে নিন। আমি এটি 'আর-রাওদুন নাদীর'-এ উদ্ধৃত করেছি।
৫- আবু বকর বিন আবু শাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন আবি মুলাইকাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, কাসিম বিন মুহাম্মদ আয়েশা (রা.) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {তিনিই আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার কিছু আয়াত মুহকাম (সুস্পষ্ট), সেগুলো কিতাবের মূল; আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট বা রূপক)। সুতরাং যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা যা মুতাশাবিহ তার অনুসরণ করে.....} তিনি এটি শেষ করা পর্যন্ত পাঠ করে বললেন:
"আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাদের নামকরণ করেছেন। সুতরাং তোমরা যখন তাদের দেখবে, তখন তাদের থেকে সতর্ক থাকবে।"
এর সনদ মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ, যদিও হাম্মাদ বিন সালামাহ সম্পর্কে সামান্য কথা আছে। তার সমর্থনে বর্ণনা রয়েছে, দারেমি তার সুনানে (১/৫৪) বলেছেন: আবুল ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ এবং ইয়াজিদ বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন আবি মুলাইকাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। বুখারি (৩/২১২) এবং আবু দাউদ (৪৫৯৮) ইয়াজিদ বিন ইব্রাহিম আত-তুস্তারি থেকে অন্য সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
৬- আবু রাবি আজ-জাহরানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন জাইদ আইয়ুব থেকে, তিনি ইবন আবি মুলাইকাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; এতে কাসিমের উল্লেখ নেই।
এর সনদও শায়খাইনের শর্ত অনুযায়ী সহিহ, যদি ইবন আবি মুলাইকাহ—যার নাম আবদুল্লাহ বিন উবাইদুল্লাহ—তা আয়েশা (রা.) থেকে সরাসরি শুনে থাকেন। কেননা তাদের উভয়ের মাঝে কাসিম বিন মুহাম্মদ রয়েছেন যেমনটি পূর্ববর্তী বর্ণনায় এসেছে, আর সেটিই অধিক বিশুদ্ধ।
৭- হাসান বিন আল-বাযযার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহরিজ বিন আউন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান বিন মাতার আশ-শাইবানি আমাদের নিকট আবদুল গাফুর থেকে, তিনি আবু বাসির থেকে, তিনি আবু রাজা আল-উতারিদি থেকে, তিনি আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"তোমরা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং ইস্তিগফারকে (ক্ষমা প্রার্থনা) আঁকড়ে ধরো এবং এ দুটি অধিক পরিমাণে করো। কারণ ইবলিস বলেছে: আমি তাদের গুনাহের মাধ্যমে ধ্বংস করেছি, আর তারা আমাকে ইস্তিগফারের মাধ্যমে ধ্বংস করেছে। যখন আমি তাদের পক্ষ থেকে এটি দেখলাম, তখন আমি তাদের কুপ্রবৃত্তির মাধ্যমে ধ্বংস করলাম। ফলে তারা মনে করে যে তারা হেদায়েতের ওপর আছে, তাই তারা ইস্তিগফার করে না।"
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১০)
إسناده موضوع آفته عبد الغفور وهو أبو الصباح الواسطي قال البخاري تركوه وقال ابن حبان كان ممن يضع الحديث وعثمان بن مطر ضعيف. وأبو بصير إن كان العبدي الكوفي فهو مقبول عند العسقلاني وإن كان غيره فلم أعرفه.
والحديث أخرجه أبو يعلى في مسنده 1/43 مصوره المكتب الاسلامي: حدثنا محرز بن عون به.
8- ثنا الْحَوْطِيُّ ثنا أَبُو الْيَمَانِ ثنا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ مَاعِزٍ التَّمِيمِيِّ عَنْ جَابِرِ بْنِ عبد الله عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
"إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ يَئِسَ أَنْ يَعْبُدَهُ الْمُصَلُّونَ وَلَكِنْ بالتحريش بينهم".
حديث صحيح رجال إسناده ثقات معروفون غير ماعز التميمي فلم يوثقه غير ابن حبان ولم يذكروا له راويا سوى صفوان لكن تابعه ابو سفيان وأبو الزبير كما بينته في "سلسلة الأحاديث الصحيحة" 1608 وطريق أبي سفيان عند مسلم وغيره.
والحوطي اسمه عبد الوهاب بن نجدة أبو عبد الله الشامي وقد تابعه أحمد بن حنبل في مسنده 3/354: حدثنا أبو اليمان به.
ذِكْرِ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: "بِئْسَ الْعَبْدُ عَبْدٌ هَوَاهُ يُضِلُّهُ".
9- ثنا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَالِدٍ الرَّقِّيُّ ثنا يَحْيَى بْنُ زِيَادٍ يُلَقَّبُ فهير ثنا طَلْحَةُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ شُرَيْحٍ عَنْ نُعَيْمِ بْنِ همار الْغَطَفَانِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "بِئْسَ الْعَبْدُ عَبْدٌ هَوَاهُ يُضِلُّهُ بِئْسَ الْعَبْدُ عَبْدٌ رَغْبٌ يُذِلُّهُ".
إسناده ضعيف جدا طلحة بن زيد متروك ومن طريقه أخرجه الطبراني لكن الحديث قطعة من حديث لأسماء بنت عميس أخرجه الترمذي وغيره بسند ضعيف كما بينته في تخريج "المشكاة" 5115- التحقيق الثاني وقد رواه المصنف مختصرا كما يأتي بعد.
10- ثنا الْحُلْوَانِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ قَالا: ثنا عَبْدُ
এর সনদ বানোয়াট (মাওজু)। এর ত্রুটি হলো আব্দুল গফুর, যিনি আবুস সাবাহ আল-ওয়াসিতি। ইমাম বুখারি বলেছেন, 'মুহাদ্দিসগণ তাকে পরিত্যাগ করেছেন।' ইবনে হিব্বান বলেছেন, 'তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা হাদিস জাল করত।' আর উসমান ইবনে মাতার দুর্বল (জঈফ)। আর আবু বসির যদি আল-আবদি আল-কুফি হন তবে ইবনে হাজার আল-আসকালানির নিকট তিনি গ্রহণযোগ্য (মাকবুল), আর যদি তিনি অন্য কেউ হন তবে আমি তাকে চিনি না।
হাদিসটি আবু ইয়ালা তার মুসনাদে (১/৪৩) বর্ণনা করেছেন, যা আল-মাকতাবুল ইসলামি থেকে মুদ্রিত: মুহরিজ ইবনে আউন আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন।
৮- আল-হাউতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাফওয়ান ইবনে আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মায়িজ আত-তামিমি থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:
"নিশ্চয়ই শয়তান নিরাশ হয়েছে যে মুসল্লিরা তার ইবাদত করবে, কিন্তু সে তাদের মধ্যে বিভেদ ও উসকানি সৃষ্টির বিষয়ে (নিরাশ হয়নি)।"
হাদিসটি সহিহ। এর সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য ও পরিচিত, শুধু মায়িজ আত-তামিমি ব্যতীত; যাকে ইবনে হিব্বান ছাড়া আর কেউ নির্ভরযোগ্য বলেননি এবং তারা সাফওয়ান ব্যতীত তার অন্য কোনো ছাত্রের কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু আবু সুফিয়ান এবং আবু যুবায়ের তার অনুসরণ (তাবে) করেছেন যেমনটি আমি 'সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা' (১৬০৮) গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছি। আর আবু সুফিয়ানের বর্ণনাটি মুসলিম ও অন্যদের কাছে বিদ্যমান।
আর আল-হাউতির নাম হলো আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে নাজদাহ আবু আব্দুল্লাহ আশ-শামি। আহমাদ ইবনে হাম্বল তার মুসনাদে (৩/৩৫৪) তার অনুসরণ করেছেন: আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর উল্লেখ: "সেই বান্দা কতই না মন্দ, যাকে তার প্রবৃত্তি পথভ্রষ্ট করে।"
৯- আবু বকর আব্দুর রহমান ইবনে খালিদ আর-রাক্কি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে জিয়াদ (যাকে ফুহায়র উপাধি দেওয়া হয়) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তালহা ইবনে জায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাওর ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে শুরাইহ থেকে, তিনি নুয়াইম ইবনে হাম্মার আল-গাতাফানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "সেই বান্দা কতই না মন্দ, যাকে তার প্রবৃত্তি পথভ্রষ্ট করে। সেই বান্দা কতই না মন্দ, যাকে লোভ-লালসা লাঞ্ছিত করে।"
এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। তালহা ইবনে জায়েদ পরিত্যক্ত (মাতরুক)। তাবারানি তার সূত্র থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে হাদিসটি আসমা বিনতে উমাইস-এর একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশবিশেষ, যা তিরমিজি ও অন্যান্যরা দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন যেমনটি আমি 'মিশকাত'-এর তাহরিজে (৫১১৫- দ্বিতীয় তাহকিক) বর্ণনা করেছি। আর গ্রন্থকার এটি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন যেমনটি সামনে আসছে।
১০- আল-হুলওয়ানি এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল কারিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা দুজনে বলেন: আব্দুল... আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ عَنْ هَاشِمٍ الْكُوفِيِّ ثنا زَيْدٌ الْخَثْعَمِيُّ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ الْخَثْعَمِيَّةِ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:
"بِئْسَ الْعَبْدُ عَبْدٌ هَوَاهُ يُضِلُّهُ".
إسناده ضعيف زيد الخثعمي مجهول وهاشم وهو ابن سعيد الكوفي ضعيف ومن هذا الوجه أخرجه الترمذي وضعفه بأتم منه وفيه بِئْسَ الْعَبْدُ عَبْدٌ رَغْبٌ يُذِلُّهُ انظر تعليقي على "المشكاة" 5115.
আস-সামাদ বিন আব্দুল ওয়ারিস হাশেম আল-কুফি থেকে, তিনি যায়েদ আল-খাসআমি থেকে, তিনি আসমা বিনতে উমাইস আল-খাসআমিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
"সেই বান্দা কতই না নিকৃষ্ট, যার প্রবৃত্তি তাকে পথভ্রষ্ট করে।"
এর সনদটি দুর্বল। যায়েদ আল-খাসআমি অপরিচিত এবং হাশেম—যিনি ইবনে সাঈদ আল-কুফি—তিনি দুর্বল। ইমাম তিরমিযী এই সূত্রেই এটি আরও পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন এবং একে দুর্বল বলেছেন; সেখানে বর্ণিত পাঠটি হলো: "সেই বান্দা কতই না নিকৃষ্ট, যার লোভ তাকে হীন করে।" 'মিশকাত'-এর ওপর আমার টীকা ৫১১৫ দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
2-
قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا رَضِيَ هَدْيَ الرَّجُلِ وَعَمَلُهُ فَإِنَّهُ مِثْلُهُ".
11- ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الضَّحَّاكِ ثنا ابن عياش عن ضمضم ابن زُرْعَةَ عَنْ شُرَيْحِ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا رَضِيَ هَدْيَ الرَّجُلِ وَعَمَلَهُ فَهُوَ مثله".
إسناده ضعيف جدا رجاله ثقات غير عبد الوهاب ابن الضحاك فإنه متروك. ومن طريقه أخرجه الطبراني وابن بطة كما خرجته في "الضعيفة" 2973 وتابعه عند المصنف محمد بن إسماعيل بن عباس وهو ضعيف كما يأتي.
12- ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ ثنا أَبِي عَنْ ضَمْضَمِ بْنِ زُرْعَةَ عَنْ شُرَيْحٍ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا رَضِيَ هَدْيَ الرجل وعمله فإنه مثله".
إسناده ضعيف مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ قال الحافظ في التقريب: عابوا عليه أنه حدث عن أبيه بغير سماع فقوله في هذا الحديث: ثنا أبي كأنه كذب وقد قال أبو حاتم: لم يسمع من أبيه شيئا حملوه على أن يحدث فحدث!
২-
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি যখন অন্য কোনো ব্যক্তির আদর্শ ও কর্মে সন্তুষ্ট হয়, তখন সে তার মতোই গণ্য হয়।".
১১- আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব ইবনুল দাহহাক, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবনে আইয়াশ, তিনি দমদম ইবনে জুরআহ থেকে, তিনি শুরাইহ ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি উকবা ইবনে আমের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি যখন অন্য কোনো ব্যক্তির আদর্শ ও কর্মে সন্তুষ্ট হয়, তখন সে তার মতোই।"
এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। আবদুল ওয়াহহাব ইবনুল দাহহাক ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য, তবে তিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক)। তাঁর সূত্রেই তাবারানি ও ইবনে বাত্তাহ এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আমি 'আদ-দঈফাহ' (২৯৭৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। আর গ্রন্থকারের নিকট একে সমর্থন (তাবে) করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আব্বাস, তবে তিনিও দুর্বল যেমনটি সামনে আসবে।
১২- আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আউফ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আইয়াশ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি দমদম ইবনে জুরআহ থেকে, তিনি শুরাইহ থেকে, তিনি উকবা ইবনে আমের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি যখন অন্য কোনো ব্যক্তির আদর্শ ও কর্মে সন্তুষ্ট হয়, তবে সে তার মতোই।"
এর সনদ দুর্বল। মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আইয়াশ সম্পর্কে হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন: তারা তাকে দোষারোপ করেছেন যে, তিনি শ্রবণ ব্যতিরেকেই তাঁর পিতার পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এই হাদিসে তাঁর উক্তি: 'আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন'—এটি যেন একটি মিথ্যা। আর আবু হাতেম বলেছেন: তিনি তাঁর পিতা থেকে কিছুই শ্রবণ করেননি; তাকে হাদিস বর্ণনা করতে বাধ্য করা হয়েছিল, তাই তিনি বর্ণনা করেছেন!
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
3- "
قَوْلُهُ عليه السلام: الاسْتِعَاذَةُ مِنَ الأهواء"
13- ثنا بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ثنا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ مِسْعَرٍ عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاقَةَ عَنْ عَمِّهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو بِهَؤُلاءِ الدَّعَوَاتِ: "اللَّهُمَّ جَنِّبْنِي مُنْكَرَاتِ الأَخْلاقِ وَالأَهْوَاءِ والأدواء".
إسناده صحيح وقد رواه اصحاب السنن وغيرهم وهو مخرج في "المشكاة" 2471.
৩- "
তাঁর (আলাইহিস সালাম) বাণী: প্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা"
১৩- ইবনে আবি শাইবাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু উসামাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মিসআর থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনে ইলাকাহ থেকে, তিনি তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুআগুলোর মাধ্যমে প্রার্থনা করতেন: "হে আল্লাহ! আমাকে মন্দ চরিত্র, কুপ্রবৃত্তি এবং ব্যাধি থেকে দূরে রাখুন।"
এর সনদ সহীহ এবং এটি সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং এটি "মিশকাত" ২৪৭১-এ উদ্ধৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
4- "
قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم فِي مُضِلاتِ الأَهْوَاءِ"
14- ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ أَبِي الأَشْهَبِ عَنْ أَبِي الْحَكَمِ الْبُنَانِيِّ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ مِمَّا أَخْشَى عَلَيْكُمْ بَعْدِي بُطُونَكُمْ وَفُرُوجَكُمْ وَمُضِلاتِ الأهواء".
إسناده صحيح وقد أخرجه أحمد أيضا والطبراني في الصغير وقد خرجته في ترتيبه "الروض النضير" برقم وأبو الحكم البناني اسمه علي بن الحكم.
৪- "
পথভ্রষ্টকারী প্রবৃত্তি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী"
১৪- আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াযীদ ইবনু হারুন থেকে, তিনি আবুল আশহাব থেকে, তিনি আবুল হাকাম আল-বুনানী থেকে, আর তিনি আবু বারযাহ আল-আসলামী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার পরে তোমাদের ব্যাপারে আমি যা সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো তোমাদের উদর ও লজ্জাস্থানের কামনা এবং পথভ্রষ্টকারী প্রবৃত্তি।"
এর সনদ সহীহ। ইমাম আহমাদ এবং তবারানী তাঁর 'আল-মুজামুস সাগীর' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। আমি আমার বিন্যাসকৃত গ্রন্থ 'আর-রওদুন নাযীর'-এ এটি নির্দিষ্ট নম্বরসহ উল্লেখ করেছি। আর আবুল হাকাম আল-বুনানীর নাম হলো আলী ইবনুল হাকাম।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
5- "
بَابُ مَا يَجِبُ أَنْ يَكُونَ هَوَى الْمَرْءِ تَبَعًا لِمَا جَاءَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم"
15- ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ أَبِي وَارَهٍ ثنا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ ثنا بَعْضُ مَشْيَخَتِنَا هِشَامٌ أَوْ غَيْرُهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ أَوْسٍ عن عبد الله بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَكُونَ هَوَاهُ تَبَعًا لِمَا جِئْتُ بِهِ".
إسناده ضعيف رجاله ثقات غير نعيم بن حماد ضعيف لكثرة خطئه وقد اتهمه بعضهم والحديث أخرجه الحسن بن سفيان في الأربعين له ق 65/1 وعنه السلفي في الأربعين البلدانية ق 32/2 وفي معجم السفر ق 192/1 والهروي في ذم الكلام
৫- "
অধ্যায়: মানুষের প্রবৃত্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার অনুসারী হওয়া আবশ্যক হওয়া প্রসঙ্গে"
১৫- আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন মুসলিম বিন আবু ওয়ারাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি নুআইম বিন হাম্মাদ থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী থেকে, তিনি আমাদের জনৈক শিক্ষক হিশাম অথবা অন্য কারো থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন সিরীন থেকে, তিনি উকবাহ বিন আউস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসারী হয়।"
এর সনদ দুর্বল। নুআইম বিন হাম্মাদ ব্যতীত এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য; তিনি তার অত্যধিক ভুলের কারণে দুর্বল এবং কেউ কেউ তাকে অভিযুক্ত করেছেন। হাদীসটি হাসান বিন সুফিয়ান তার 'আরবাঈন' গ্রন্থে (৬৫/১) বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে আস-সালাফী 'আরবাঈন আল-বুলদানিয়্যাহ' (৩২/২) ও 'মুজামুস সাফার' (১৯২/১) গ্রন্থে এবং আল-হারাভী 'যাম্মুল কালাম' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
2/40/2وابن بطة في الإيانة2/122/2 والقاسم بن عساكر في طرق الأربعين ق 59/2 كلهم عن نعيم به قال ابن عساكر وهو حديث غريب.
يعني ضعيف وقد كشفنا لك عن علته وذكر له الحافظ ابن رجب عللا أخرى في شرح الأربعين النووية فراجعه مع تعليقنا على "المشكاة" 167.
২/৪০/২ এবং ইবন বাত্তাহ 'আল-ইবানাহ' গ্রন্থে (২/১২২/২), এবং আল-কাসিম ইবন আসাকির 'তুরুকুল আরবাঈন' গ্রন্থের ৫৯/২ পৃষ্ঠায়; তারা সকলেই নুআইমের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবন আসাকির বলেছেন, এটি একটি গরীব হাদীস।
অর্থাৎ এটি যঈফ, এবং আমি আপনার নিকট এর ত্রুটি উন্মোচন করেছি। হাফিয ইবন রাজাব 'শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ' গ্রন্থে এর আরও কিছু ত্রুটি উল্লেখ করেছেন; তাই ‘আল-মিশকাত’ ১৬৭-এর ওপর আমাদের টীকা সহ তা দেখে নিন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
"
باب … " خط النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خطا أمامه وقال …...
6- "بَابٌ
… "
16- ثنا "أَبُو بَكْرِ" بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ثنا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ عَنْ مُجَالِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عن جابر بن عبد الله قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَخَطَّ خطا هذا أَمَامَهُ فَقَالَ:
"هَذَا سَبِيلُ اللَّهِ عز وجل" وَخَطَّ خَطًّا عَنْ يَمِينِهِ وَخَطَّ خَطًّا عَنْ شِمَالِهِ وَقَالَ: "هَذِهِ سُبُلُ الشَّيْطَانِ" ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ فِي الْخَطِّ الأَوْسَطِ ثُمَّ تَلا هَذِهِ الآيَةَ {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} .
حديث صحيح إسناده ضعيف رجاله ثقات غير مجالد وهو ابن سعيد فهو ضعيف لكنه قد توبع كما في الطريق التالية فالحديث بهما صحيح.
والحديث أخرجه محمد بن نصر في السنة ص 5 من هذا الوجه.
17- ثنا أَبُو الرَّبِيعِ ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أبي وائل عن عبد الله قَالَ: خَطَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثم ذكره نحوه.
إسناده حسن رجاله كلهم ثقات رجال الشيخين غير عاصم وهو ابن أبي النجود وهو حسن الحديث ومن طريقة أخرجه ابن نصر في السنة 5 والحاكم 2/318 وقال: صحيح الإسناد ووافقه الذهبي.
" تنبيه " كتب فوق أول الاسناد حرف "لا" وفوق لفط نحوه "إلى" وهو اصطلاح حديثي يشير إلى أن ما بين الحرفين ليس في السماع. وهذا من دقة المحدثين وأمانتهم في النقل. جزاهم الله عنا خير الجزاء.
অধ্যায় ... " নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সামনে একটি রেখা টানলেন এবং বললেন ......
৬- "অধ্যায়
... "
১৬- আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবু শায়বাহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু খালিদ আল-আহমার, তিনি মুজালিদ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসে ছিলাম, তখন তিনি তাঁর সামনে এরকম একটি রেখা টানলেন এবং বললেন:
"এটি মহান আল্লাহর পথ।" অতঃপর তিনি তাঁর ডান দিকে একটি রেখা এবং তাঁর বাম দিকে একটি রেখা টানলেন এবং বললেন: "এগুলো শয়তানের পথ।" এরপর তিনি তাঁর হাত মাঝখানের রেখাটির ওপর রাখলেন এবং এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।}।
হাদীসটি সহীহ, এর সনদটি দুর্বল। এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য, কেবল মুজালিদ ব্যতীত—তিনি হলেন ইবনে সাঈদ এবং তিনি দুর্বল; তবে পরবর্তী সনদে এর সমর্থনমূলক বর্ণনা (তাবে) পাওয়া যায়, ফলে উভয় সূত্র মিলে হাদীসটি সহীহ।
মুহাম্মদ ইবনে নাসর 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থের ৫ পৃষ্ঠায় এই সূত্র থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
১৭- আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু রাবী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যায়দ, তিনি আসিম থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি রেখা টানলেন... অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করলেন।
এর সনদটি হাসান। এর রাবীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য এবং শাইখাইনের (বুখারী ও মুসলিম) রাবী, কেবল আসিম ব্যতীত—তিনি হলেন ইবনে আবিদ নাজুদ এবং তিনি হাসান পর্যায়ের হাদীস বর্ণনাকারী। তাঁর সূত্র থেকে ইবনে নাসর 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থের ৫ পৃষ্ঠায় এবং আল-হাকিম ২/৩১৮ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: সনদটি সহীহ, আর ইমাম আয-যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
"সতর্কীকরণ": সনদের শুরুতে 'লা' অক্ষরটি এবং 'অনুরূপ' শব্দের উপরে 'ইলা' শব্দটি লেখা হয়েছে। এটি হাদীস শাস্ত্রের একটি পরিভাষা যা ইঙ্গিত দেয় যে, এই দুই চিহ্নের মধ্যবর্তী অংশ সরাসরি শ্রবণের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি মুহাদ্দিসগণের সূক্ষ্মতা এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের আমানতদারিতার বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহ তাঁদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
18- ثنا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ وَابْنُ مُصَفَّى: قَالا ثنا بَقِيَّةُ ثنا بحير ابن سَعْدٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ نَوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
"إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى ضَرَبَ مَثَلا صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا عَلَى جَنَبَتَيِ الصراط أبواب مفتحة لهما سوزان وَعَلَى الأَبْوَابِ سُتُورٌ وَدَاعِي اللَّهِ تَعَالَى يَدْعُو عَلَى الصِّرَاطِ مِنْ فَوْقِهِ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلامِ وَيَهْدِي مِنْ يَشَاءُ إِلَى صراط وَالأَبْوَابُ الَّتِي عَلَى جَنَبَتَيِ الصِّرَاطِ حُدُودُ اللَّهِ لا يَقَعُ أَحَدٌ فِي حُدُودِ اللَّهِ حَتَّى يَهْتِكَ سِتْرَ اللَّهِ وَالَّذِي يَدْعُو مِنْ فَوْقِهِ وَاعِظُ اللَّهِ عز وجل".
إسناده صحيح رجاله ثقات على ضعف في ابن مصفى ولكنه مقرون.
والحديث أخرجه الترمذي 2/140 وأحمد 4/183 وابن نصر 5 عن بقيه به إلا ان الترمذي لم يذكر تحديث بقية. وتابعه معاوية بن صالح أن عبد الرحمن بن جبير حدثه عن أبيه به. أخرجه أحمد 4/182-183 والحاكم 1/73 وقال: صحيح على شرط مسلم ووافقه الذهبي وهو كما قالا.
وللحديث شاهد من حديث ابن مسعود مرفوعا وموقوفا فراجعه في "المشكاة" 191 إن شئت.
19- ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ ثنا أَبُو صَالِحٍ ثنا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّوَّاسِ قَالَ: ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَثَلا صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا وَعَلَى جَنَبَتَيِ الصِّرَاطِ سُورٌ فِيهِ أَبْوَابٌ مُفَتَّحَةٌ وَعَلَى الأَبْوَابِ سُتُورٌ مُرْخَاةٌ وَعَلَى بَابِ الصِّرَاطِ دَاعٍ يَدْعُو: يَا أَيُّهَا النَّاسُ ادْخُلُوا إِلَيْهِ جَمِيعًا وَلا تَتَعَوَّجُوا وَالدَّاعِي يَدْعُو مِنْ فَوْقِ الصِّرَاطِ فَإِذَا فُتِحَ بَابٌ مِنْ تِلْكَ الأَبْوَابِ قَالَ: وَيْحَكَ لا تَفْتَحْهُ إِنْ تَفْتَحْهُ تَلِجْهُ وَالصِّرَاطُ: الإِسْلامُ وَالسُّتُورُ: حُدُودُ اللَّهِ وَالأَبْوَابُ الْمُفَتَّحَةُ: مَحَارِمُ اللَّهِ عَزَّ وجل
১৮- আমর ইবনে উসমান ও ইবনুল মুসাফফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: তাঁরা বলেন, আমাদের নিকট বাকিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বুহাইর ইবনে সা'দ থেকে, তিনি খালিদ ইবনে মা'দান থেকে, তিনি জুবাইর ইবনে নুফাইর থেকে, তিনি নাওয়াস ইবনে সামআন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা একটি সরল পথের উদাহরণ পেশ করেছেন, যার দুই পাশে খোলা দরজাসমূহ রয়েছে এবং দরজাগুলোর ওপর পর্দা ঝোলানো রয়েছে। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন আহ্বানকারী সেই পথের উপর থেকে আহ্বান করছেন। আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিশা দেন। আর পথের দুই পার্শ্বে থাকা দরজাসমূহ হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা; কোনো ব্যক্তি আল্লাহর সীমায় পতিত হয় না যতক্ষণ না সে আল্লাহর পর্দা ছিন্ন করে। আর যিনি উপর থেকে ডাকছেন তিনি হলেন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে উপদেশদাতা।"
এর সনদ সহীহ এবং বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, যদিও ইবনুল মুসাফফার মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা আছে তবে তিনি এক্ষেত্রে সমর্থিত।
হাদিসটি তিরমিজি (২/১৪০), আহমাদ (৪/১৮৩) এবং ইবনু নাসর (৫) বাকিয়্যাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে তিরমিজি বাকিয়্যাহর সরাসরি শ্রবণের কথা উল্লেখ করেননি। মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ এর অনুসরণ করেছেন যে, আব্দুর রহমান ইবনে জুবাইর তাঁর পিতা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি আহমাদ (৪/১৮২-১৮৩) এবং হাকেম (১/৭৩) বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম বলেছেন: এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। বিষয়টি তেমনই যেমন তাঁরা বলেছেন।
হাদিসটির স্বপক্ষে ইবনে মাসউদের মারফু ও মাওকুফ বর্ণনা রয়েছে, আপনি চাইলে 'মিশকাত' ১৯১ নং হাদিসে তা দেখে নিতে পারেন।
১৯- মুহাম্মাদ ইবনে আওফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু সালিহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে জুবাইর ইবনে নুফাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নাওয়াস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সরল পথের উদাহরণ পেশ করেছেন, যার দুই পাশে দেয়াল রয়েছে এবং তাতে উন্মুক্ত দরজাসমূহ আছে। দরজাগুলোর ওপর পর্দা ঝোলানো রয়েছে। আর পথের প্রবেশপথে একজন আহ্বানকারী ডাকছেন: হে লোকসকল, তোমরা সবাই এই পথে প্রবেশ করো এবং আঁকাবাঁকা পথে চলো না। আর একজন আহ্বানকারী পথের উপর থেকে ডাকছেন, যখনই কেউ সেই দরজাগুলোর কোনো একটি খুলতে চায়, তখন তিনি বলেন: তোমার দুর্ভোগ হোক! তুমি এটি খুলো না, কারণ তুমি যদি এটি খুলো তবে তাতে প্রবেশ করে ফেলবে। এখানে সরল পথটি হলো ইসলাম, পর্দাগুলো হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা এবং উন্মুক্ত দরজাগুলো হলো মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
حديث صحيح رجال إسناده ثقات رجال الصحيح غير أن أبا صالح واسمه عبد الله ابن صالح فيه ضعف لكنه قد توبع كما يأتي. والحديث أخرجه الحاكم 1/73 من طريق أخرى عن عبد الله ابن صالح به. ثم أخرجه هو من طريق ابن وهب وأحمد 4/182 من طريق ليث بن سعد كلاهما عن معاوية بن صالح به. وله طريق أخرى عن جبير بن نفير تقدم في الذي قبله.
20- ثنا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ ثنا أَبُو قُتَيْبَةَ مُسْلِمُ بْنُ قُتَيْبَةَ ثنا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي حَزْمٍ عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " {إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا} قَالَ: قَدْ قَالَهَا النَّاسُ ثُمَّ كَفَرُوا فَمَنْ مَاتَ عَلَيْهَا فَهُوَ ممن استقام".
إسناده ضعيف رجاله ثقات غير سهيل بن أبي حزم قال في التقريب ضعيف.
21- ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شيبة ثنا عبد الله بْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سُفْيَانَ ابن عبد الله الثَّقَفِيِّ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ: قُلْ لِي فِي الإِسْلامِ قَوْلا لا أَسْأَلُ عَنْهُ أَحَدًا بَعْدَكَ قَالَ: "قُلْ رَبِّيَ اللَّهُ ثم استقم".
إسناده صحيح على شرط الشيخين وقد أخرجه مسلم 1/48 بإسناد المصنف وغيره. وأخرجه الدارمي 2/298 وغيره بإسنادين آخرين عن سفيان بن عبد الله الثقفي. وله إسناده رابع وهو الآتي بعده.
22- ثنا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدٍ ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَاعِزٍ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عبد الله قَالَ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ نحوه.
حديث صحيح رجاله ثقات غير مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ماعز لم يرو عنه غير الزهري. والحديث أخرجه ابن ماجه 3972 وأحمد 3/413 من طرق أخرى عن إبراهيم بن سعد.
হাদিসটি সহিহ। এর সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং সহিহ (বুখারি ও মুসলিম) এর বর্ণনাকারী, তবে আবু সালেহ (তার নাম আব্দুল্লাহ ইবনে সালেহ) এর মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। কিন্তু তাকে অনুসরণ (তাবে’ করা) হয়েছে যেমন সামনে আসছে। হাদিসটি হাকিম (১/৭৩) অন্য সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে সালেহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি (হাকিম) ইবনে ওয়াহাব থেকে এবং আহমদ (৪/১৮২) লাইস ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন; তারা উভয়ে মুয়াবিয়া ইবনে সালেহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। জুবায়ের ইবনে নুফায়ের থেকে এর আরেকটি সূত্র রয়েছে যা পূর্বের হাদিসে অতিক্রান্ত হয়েছে।
২০- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আলি, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু কুতায়বা মুসলিম ইবনে কুতায়বা, তিনি সুহাইল ইবনে আবি হাযম থেকে, তিনি সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "{নিশ্চয় যারা বলেছে আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর তারা এর ওপর অবিচল থেকেছে}"। তিনি বললেন: "লোকেরা তা বলেছে, অতঃপর তারা কুফরি করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এর ওপর অবিচল অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে-ই তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা অবিচল থেকেছে।"
এর সনদ দুর্বল। সুহাইল ইবনে আবি হাযম ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। 'তাকরিব' গ্রন্থে তাকে দুর্বল বলা হয়েছে।
২১- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শাইবা, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর থেকে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সুফিয়ান ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে এমন একটি কথা বলে দিন, যার পরে আমি এ বিষয়ে অন্য কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করব না। তিনি বললেন: "বলো, আমার রব আল্লাহ, অতঃপর অবিচল থাকো।"
এর সনদ শায়খায়নের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ। মুসলিম (১/৪৮) গ্রন্থকার ও অন্যদের সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। দারেমি (২/২৯৮) ও অন্যান্যরা সুফিয়ান ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাকাফি থেকে আরও দুটি সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এর একটি চতুর্থ সনদও রয়েছে যা পরবর্তী হাদিসে আসছে।
২২- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে হুমাইদ, তিনি ইব্রাহিম ইবনে সাদ থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মায়েয থেকে, তিনি সুফিয়ান ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! (পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ)।
হাদিসটি সহিহ। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মায়েয ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য; যুহরি ব্যতীত কেউ তার থেকে বর্ণনা করেননি। হাদিসটি ইবনে মাজাহ (৩৯৭২) এবং আহমদ (৩/৪১৩) ইব্রাহিম ইবনে সাদ থেকে অন্যান্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
7- "
بَابٌ: فِي لُزُومِ السُّنَّةِ"
23- ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مَيْمُونٍ ثنا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ ثنا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ عَنْ صَالِحِ بْنِ رَاشِدٍ عَنْ أَبِي عَتِيكٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
"إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَسْتَحْيِي مِنْ ذِي الشَّيْبَةِ لُزُومًا لِلسُّنَّةِ أَنْ يَسْأَلَهُ شَيْئًا فَلا يعطيه".
إسناده ضعيف أبو عتيك لم أجد له ترجمة وصالح بن راشد إن كان القرشي فهو شامي لا يعرف كما قال الذهبي في "الميزان" وإن كان أبا عبد الله العبسي الراوي عن الحسن البصري فقد ترجمه ابن أبي حاتم 2/1/401 ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا. والحديث عزاه السيوطي لابن النجار عن أنس!
৭- "
পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা সম্পর্কে"
২৩- মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবনে আ’ইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিহ ইবনে রাশিদ থেকে, তিনি আবু আতিক থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সুন্নাহর অনুসারী কোনো শুভ্র কেশধারী (বৃদ্ধ) ব্যক্তির নিকট থেকে লজ্জা বোধ করেন যে, সে তাঁর কাছে কোনো কিছু চাইবে আর তিনি তাকে তা প্রদান করবেন না।"
এর সনদ দুর্বল। আবু আতিকের কোনো জীবনী আমি খুঁজে পাইনি। আর সালিহ ইবনে রাশিদ যদি কুরাইশী হন, তবে তিনি একজন শামী (সিরীয়), যাকে চেনা যায় না, যেমনটি যাহাবী 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলেছেন। আর যদি তিনি হাসান বসরী থেকে বর্ণনাকারী আবু আব্দুল্লাহ আল-আবসী হন, তবে ইবনে আবি হাতিম তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন (২/১/৪০১), কিন্তু তাঁর ব্যাপারে কোনো সমালোচনা বা প্রশংসা উল্লেখ করেননি। আর সুয়ূতী হাদিসটি আনাস (রা.)-এর সূত্রে ইবনে নাজ্জারের দিকে সম্বন্ধিত করেছেন!
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
8- "
باب ما ذكر زَجَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عن محادثات الأُمُورِ وَتَحْذِيرِهِ مِنْهَا".
24 - ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جابر بن عبد الله قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ النَّاسَ فَيَحْمَدُ اللَّهَ وَيُثْنِي عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ يَقُولُ: "مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلا هَادِيَ لَهُ وَخَيْرُ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ عز وجل وَخَيْرُ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَشَرُّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ".
إسناده صحيح على شرط مسلم وقد أخرجه في "صحيحه" 3/11 بإسناد المصنف ومن طرق أخرى عن جعفر بن محمد به.
25 حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِسْكِينٍ ثنا سَعِيدُ بْنُ الْحَكَمِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ عن عبد الله بْنِ مَسْعُودٍ أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
"إِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّ شَرَّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ
৮- "
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ সম্পর্কে যে নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কবাণী প্রদান করেছেন সেই সংক্রান্ত অধ্যায়".
২৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতেন, তাতে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করতেন যেভাবে তিনি তাঁর উপযুক্ত, এরপর বলতেন: "আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আর সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে মহান আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হচ্ছে দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত।"
এর সনদ ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ এবং তিনি এটি তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে ৩/১১ পৃষ্ঠায় গ্রন্থকারের সনদ এবং জাফর ইবনে মুহাম্মদের সূত্রে অন্যান্য পথে বর্ণনা করেছেন।
২৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মিসকিন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনুল হাকাম ইবনে আবি মারইয়াম, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"তোমরা নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, কেননা নিকৃষ্টতম বিষয় হচ্ছে নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং নিশ্চয়ই প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই...
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بِدْعَةٌ وَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلالَةٌ".
حديث صحيح رجال إسناده كلهم ثقات رجال مسلم غير ان أبا إسحاق وهو عمرو بن عبد الله السبيعي مدلس وكان اختلط. لكن الحديث يشهد له ما قبله وما بعده.
والحديث أخرجه ابن ماجه 46 من طريق اخرى عن محمد بن جعفر بن أبي كثير بن أتم منه مطولا فيه مواعظ.
26- ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ عبد الله ابن الْعَلاءِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي الْمُطَاعِ قَالَ سَمِعْتُ الْعِرْبَاضَ بْنَ سَارِيَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
"إِيَّاكُمْ وَالْمُحْدَثَاتِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ ضَلالَةٌ".
حديث صحيح رجاله ثقات لكن الوليد بن مسلم يدلس التسوية. لكن قد صرح بالتحديث كما يأتي وتقويه الطرق التي بعده وقد صححه ابن حبان 102 وغيره كما يأتي وراجع تعليقنا في "المشكاة" 165.
والحديث أخرجه ابن ماجه 42: حدثنا عبد الله بن أحمد بن ذاكون الدمشقي ثنا الوليد ابن مسلم: ثنا عبد الله بن العلاء يعني ابن زبر حدثني يَحْيَى بْنِ أَبِي الْمُطَاعِ قَالَ: سَمِعْتُ الْعِرْبَاضَ بْنَ سَارِيَةَ يَقُولُ: فذكره أتم منه وفيه قصة. قلت: وهذا إسناد صحيح متصل بالتحديث وابن ذكوان صدوق متقدم في القراءة. وتابعه عمرو بن أبي سلمة التنيسي أنبأ عبد الله بن العلاء بن زبر به. أخرجه الحاكم 1/97.
27- حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ ثنا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ عَنْ بَحِيرِ بْنُ سَعْدٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو السُّلَمِيِّ عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ "أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ" أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
"إِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّهَا ضلالة".
27 - حديث صحيح ورجاله ثقات لولا عنعنة بقية لكنه توبع كما يأتي.
والحديث أخرجه الترمذي 2678 من طريق أخرى عن بقية به أتم منه وقال: حديث حسن صحيح. وتابعه ثور بن يزيد قال: حدثني خالد بن معدان به. أخرجه أحمد 4/126-127 وعنه ابو داود 4607 والترمذي أيضا والدارمي 1/44-45 وابن حبان 102 والحاكم 1/95 وقال: صحيح ليس له علة.. ووافقه الذهبي وقرن هو وغيره مع عبد الرحمن بن عمرو والسلمي ابن حجر بن حجر
বিদআত এবং নিশ্চয়ই প্রতিটি বিদআত ভ্রষ্টতা।"
হাদিসটি সহিহ, এর সনদের রাবীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য এবং তারা ইমাম মুসলিমের রাবী; তবে আবু ইসহাক—যিনি আমর ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সুবাইয়ী—তিনি মুদাল্লিস ছিলেন এবং শেষ জীবনে তাঁর স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছিল। তবে হাদিসটির স্বপক্ষে এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বর্ণনাগুলো সাক্ষ্য দেয়।
হাদিসটি ইবনে মাজাহ (৪৬) অন্য সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আবি কাসির থেকে এর চেয়ে আরও পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘভাবে বর্ণনা করেছেন, যাতে উপদেশাবলী রয়েছে।
২৬- আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে নাজদাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল আলা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবিল মুতা থেকে, তিনি বলেন আমি ইরবাদ ইবনে সারিয়াকে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
"তোমরা নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলী থেকে বেঁচে থাকো, কেননা প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই ভ্রষ্টতা।"
হাদিসটি সহিহ, এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম 'তাদলিসুত তাসবিয়াহ' করতেন। কিন্তু তিনি এখানে স্পষ্টভাবে শ্রবণের কথা (তাহদিস) উল্লেখ করেছেন যেমন সামনে আসবে এবং পরবর্তী সূত্রগুলো একে শক্তিশালী করে। ইবনে হিব্বান (১০২) এবং অন্যরা একে সহিহ বলেছেন যেমন সামনে আসবে; এ বিষয়ে 'আল-মিশকাত' (১৬৫)-এ আমাদের টীকা দেখুন।
হাদিসটি ইবনে মাজাহ (৪২) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে জাকওয়ান আদ-দামেশকী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনুল আলা অর্থাৎ ইবনে জুবর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আবিল মুতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইরবাদ ইবনে সারিয়াকে বলতে শুনেছি... এরপর তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং তাতে একটি ঘটনা রয়েছে। আমি (আলবানী) বলছি: এই সনদটি সহিহ এবং সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে সংযুক্ত, আর ইবনে জাকওয়ান সত্যবাদী এবং কিরাআত শাস্ত্রে অগ্রগণ্য ছিলেন। আমর ইবনে আবি সালামা আত-তান্নীসীও আব্দুল্লাহ ইবনুল আলা ইবনে জুবর থেকে অনুরূপ বর্ণনা করে তাঁর অনুসরণ করেছেন। এটি হাকীম (১/৯৭) বর্ণনা করেছেন।
২৭- আমাদের নিকট আমর ইবনে উসমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন বাহীর ইবনে সাদ থেকে, তিনি খালিদ ইবনে মা’দান থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আমর আস-সুলামী থেকে, তিনি ইরবাদ ইবনে সারিয়া থেকে বর্ণনা করেন যে "তিনি তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন", নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
"তোমরা নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলী থেকে বেঁচে থাকো, কেননা তা ভ্রষ্টতা।"
২৭ - হাদিসটি সহিহ এবং এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য, যদি বাকিয়্যাহর 'আনআনা' (সরাসরি শ্রবণের শব্দ ব্যবহার না করা) না থাকত; তবে তাঁকে অনুসরণ করা হয়েছে যেমন সামনে আসবে।
হাদিসটি তিরমিজি (২৬৭৮) বাকিয়্যাহর অন্য সূত্রে এর চেয়েও পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদিসটি হাসান সহিহ। সাওরী ইবনে ইয়াজিদও তাঁর অনুসরণ করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট খালিদ ইবনে মা’দান এটি বর্ণনা করেছেন। এটি আহমাদ (৪/১২৬-১২৭) বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে আবু দাউদ (৪৬০৭), তিরমিজি এবং দারেমি (১/৪৪-৪৫), ইবনে হিব্বান (১০২) ও হাকীম (১/৯৫) বর্ণনা করেছেন। হাকীম বলেছেন: এটি সহিহ এবং এতে কোনো ত্রুটি নেই। জাহাবীও তাঁর সাথে একমত হয়েছেন এবং তিনি ও অন্যরা আব্দুর রহমান ইবনে আমর আস-সুলামীর সাথে ইবনে হাজর ইবনে হাজরকেও যুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الكلاعي وذكرهما ابن حبان في الثقات. والأول منهما اوثق والإسناد صحيح وقد أخرجه المصنف من طريقهما كما يأتي 27/30-33.
28- ثنا عِيسَى بْنُ خَالِدٍ ثنا أَبُو الْيَمَانِ ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ أَرْطَاةَ بْنِ الْمُنْذِرِ عَنِ الْمُهَاصِرِ بْنِ حَبِيبٍ عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
"إِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّهَا ضلالة".
حديث صحيح رجال إسناده ثقات غير عيسى بن خالد فلم أعرفه وليس هو عيسى بن خالد اليمامي المترجم في "الجرح والتعديل" 3/1/275 و "تاريخ ابن عساكر" 14/4/1-2 فإنه أعلى طبقة من المترجم يروي عن الإمام مالك والليث بن سعد ونحوهما لكنه قد توبع كما يأتي.
والمهاصر بن حبيب أخو ضمرة بن حبيب الزبيدي الشامي قال ابن أبي حاتم 4/1/440 عن أبيه: لا بأس به وذكر أنه روى عن أبي ثعلبة الخشنى فهو على هذا تابعي وأما ابن حبان فأورده في "ثقات أتباع التابعين" 2/280 والله أعلم.
29- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ ثنا أَبُو الْيَمَانِ عَنِ ابْنِ عَيَّاشٍ عن أرطاة ابن الْمُنْذِرِ عَنِ الْمُهَاصِرِ1 بْنِ حَبِيبٍ عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ: قال رسول الله. مثله.
إسناده صحيح رجاله كلهم ثقات ومحمد بن عوف وهو أبو جعفر الحمصي ثقة حافظ مات سنة 272. وانظر السند الذي قبله.
30- ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ ثنا أَبُو الْيَمَانِ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ.
سنده صحيح رجاله ثقات وقد مضى 27 من طريق أخرى عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو به. وخرجته هناك.
--------------------------------------------
আল-কালাঈ, এবং ইবনে হিব্বান তাদের উভয়কে 'আত-সিকাত'-এ উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রথমজন অধিক নির্ভরযোগ্য এবং এই সনদটি সহীহ। গ্রন্থকার তাদের সূত্র থেকে এটি সামনে ২৭/৩০-৩৩ এ বর্ণনা করেছেন।
২৮- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ঈসা বিন খালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ইয়ামান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আইয়াশ, আরতাত বিন আল-মুনজির থেকে, তিনি আল-মুহাসির বিন হাবীব থেকে, তিনি ইরবাদ বিন সারিয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"তোমরা (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলী থেকে বেঁচে থাকো, কারণ নিশ্চয়ই তা ভ্রষ্টতা।"
হাদিসটি সহীহ, এর সনদের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে ঈসা বিন খালিদ ব্যতীত, কারণ আমি তাকে চিনতে পারিনি। তিনি সেই ঈসা বিন খালিদ আল-ইয়ামামী নন যার জীবনী 'আল-জারহ ওয়াত-তাদীল' (৩/১/২৭৫) এবং 'তারিখ ইবনে আসাকির' (১৪/৪/১-২) এ বর্ণিত হয়েছে। কারণ তিনি আলোচ্য রাবীর চেয়ে উচ্চ স্তরের এবং ইমাম মালিক, লাইস বিন সা'দ ও তাদের সমপর্যায়ী ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করেন। তবে তার সমর্থক বর্ণনা (মুতাবায়াত) রয়েছে যা সামনে আসছে।
আর আল-মুহাসির বিন হাবীব হলেন দামরা বিন হাবীব আজ-জুবাইদী আশ-শামীর ভাই। ইবনে আবি হাতিম (৪/১/৪৪০) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন: "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই" এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি আবু সা'লাবা আল-খুশানি থেকে বর্ণনা করেছেন, সে হিসেবে তিনি একজন তাবিঈ। আর ইবনে হিব্বান তাকে 'সিকাত আতবাউত তাবিঈন' (২/২৮০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
২৯- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আউফ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ইয়ামান, ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি আরতাত বিন আল-মুনজির থেকে, তিনি আল-মুহাসির১ বিন হাবীব থেকে, তিনি ইরবাদ বিন সারিয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন। (অনুরূপ)।
এর সনদ সহীহ, এর সকল রাবী নির্ভরযোগ্য। আর মুহাম্মদ বিন আউফ—যিনি আবু জাফর আল-হিমসি—একজন নির্ভরযোগ্য হাফেজ, তিনি ২৭২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। এর পূর্ববর্তী সনদটিও দেখুন।
৩০- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আউফ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ইয়ামান, ইসমাইল বিন আইয়াশ থেকে, তিনি সুলাইমান বিন সুলাইম থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন জাবির থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আমর থেকে, তিনি ইরবাদ বিন সারিয়াহ থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এর সনদ সহীহ, রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। আব্দুর রহমান বিন আমরের সূত্রে অন্য পথে ২৭ নম্বরে এটি অতিবাহিত হয়েছে। আমি সেখানে এর তাখরীজ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
31- ثنا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ مُطَرِّفٍ الرواسي1 ثنا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
"إِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلالَةٌ".
إسناده صحيح أيضا رجاله كلهم ثقات وانظر الذي قبله وكذا الآتي برقم 54 فإنه أعاده هناك بهذا الإسناد أتم منه.
32 - ثنا حُسَيْنُ بْنُ حَسَنٍ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ ثنا ثَوْرُ بن يزيد عن خالد ابن مَعْدَانَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو السُّلَمِيِّ وَحُجْرِ بْنِ حُجْرٍ الكلاعي عن العرباض ابن سَارِيَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نحوه.
إسناده صحيح رجاله كلهم ثقات والحسين بن حسن هو ابن حرب السلمي المروزي نزيل مكة ثقة مات سنة 246. وانظر الحديث 27 وتابعه عبد الملك ابن الصباح المسمعي ثنا ثور بن يزيد به. أخرجه ابن ماجه 44.
33 - ثنا أبو مسعود ثنا عبد الله بْنُ صَالِحٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نحوه.
حديث صحيح رجاله كلهم ثقات لولا ان عبد الله بن صالح ويكنى بأبي صالح فيه ضعف لكنه لم يتفرد به كما يأتي فالحديث صحيح وأبو مسعود هو أحمد بن الفرات الضبي الرازي وهو ثقة حافظ مات سنة 258.
والحديث أخرجه الحاكم 1/96 من طريقين آخرين عن أبي صالح به. ولفظه: وعظنا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم موعظة ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا القلوب فقلنا: يا رسول الله إن هذا لموعظة مودع فماذا تعهد إلينا؟ قال: "قد تركتكم على الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا لا يَزِيغُ عنها بعدي إلا هالك. ومن يعش منكم فسيرى اختلافا كثيرا، فعليكم بما عرفتم من سنتي
--------------------------------------------
৩১- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রহীম বিন মুতাররিফ আল-রাওয়াসি, তিনি বর্ণনা করেছেন ঈসা বিন ইউনুস থেকে, তিনি সাওরি বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি খালিদ বিন মাদান থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আমর থেকে, তিনি ইরবাদ বিন সারিয়া থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:
"তোমরা নব উদ্ভাবিত বিষয়াদি থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি বিদয়াতই হলো ভ্রষ্টতা।"
এর সনদও সহীহ, এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত। এর পূর্ববর্তী হাদীসটি দেখুন, অনুরূপভাবে ৫৪ নম্বর হাদীসটিও দেখুন, কারণ সেখানে তিনি এই সনদে এটি আরও পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরায় উল্লেখ করেছেন।
৩২ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুসাইন বিন হাসান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ বিন মুসলিম, তিনি বর্ণনা করেছেন সাওরি বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি খালিদ বিন মাদান থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আমর আস-সুলামী ও হুজর বিন হুজর আল-কিলায়ী থেকে, তারা ইরবাদ বিন সারিয়া থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এর সনদ সহীহ, এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত। হুসাইন বিন হাসান হলেন ইবনুল হারব আস-সুলামী আল-মারওয়াযী, যিনি মক্কায় বসবাস করতেন। তিনি বিশ্বস্ত, ২৪৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন। ২৭ নম্বর হাদীসটি দেখুন। আব্দুল মালিক বিন আস-সাব্বাহ আল-মিসমায়ি তাঁর অনুসরণ করেছেন, তিনি আমাদের কাছে সাওরি বিন ইয়াজিদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন (৪৪)।
৩৩ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মাসউদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন সালিহ, তিনি মুয়াবিয়া বিন সালিহ থেকে, তিনি দামরা বিন হাবীব থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আমর থেকে, তিনি ইরবাদ বিন সারিয়া থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটি সহীহ, এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত, যদিও আবদুল্লাহ বিন সালিহ (যাঁর কুনিয়াহ আবু সালিহ) এর মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে, তবে তিনি এটি একাকী বর্ণনা করেননি যেমনটি সামনে আসবে, তাই হাদীসটি সহীহ। আবু মাসউদ হলেন আহমদ বিন আল-ফুরাত আদ-দব্বি আর-রাযি; তিনি বিশ্বস্ত ও হাফিয, ২৫৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন।
হাকেম ১/৯৬-এ আবু সালিহ থেকে অন্য দুটি সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এর শব্দগুলো হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এমন এক উপদেশ দিলেন যাতে চোখগুলো অশ্রুসজল হলো এবং অন্তরগুলো প্রকম্পিত হলো। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! এটি তো বিদায়ী ব্যক্তির উপদেশের মতো মনে হচ্ছে, আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: "আমি তোমাদেরকে এক পরিষ্কার শুভ্র পথের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো (উজ্জ্বল)। আমার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে বিচ্যুত হবে না। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। এমতাবস্থায় তোমাদের ওপর অপরিহার্য হলো আমার সুন্নাত সম্পর্কে তোমরা যা জেনেছ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২০)
وسنة الخلفاء المهديين الراشدين من بعدي وعليكم بالطاعة وإن عبدا حبشيا عضوا عليها بالنواجذ فإنما المؤمن كالجمل الأنف حيثما انقيد انقاد" ، وسيعيده المؤلف 48 بسند آخر عن ابن صالح.
وتابعه عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ ثنا معاوية بن صالح أخرجه أحمد 4/126 وعنه الحاكم وسنده صحيح وابن ماجه أيضا 43.
34 - ثنا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ شَيْبَةَ ثنا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ الْحِمْصِيِّ عَنْ شَعْوَذٍ الأَزْدِيِّ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنِ الْعِرْبَاضِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إياكم والبدع".
حديث حسن رجاله ثقات غير شعوذ وهو ابن عبد الرحمن أبو عبد الرحمن الأزدي أورده ابن أبي حاتم 2/1/390 برواية معاوية بن صالح أيضا عنه ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا.
وأبو حمزة هو ابن سليم العنسي قال ابن أبي حاتم 4/2/362 عن أبيه: لا يسمى وهو حمصي ثقة.
وهاشم بن القاسم بن شيبة هو أبو محمد الحراني ثقة ولكنه عاش إلى أن كبر وتغير مات سنة 260 والحديث مختصر الأحاديث المتقدمة في الباب.
"...এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাত। তোমাদের ওপর আনুগত্য আবশ্যক, যদিও সে একজন হাবশী ক্রীতদাস হয়। তোমরা একে মাড়ির দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে কামড়ে ধরো। কেননা মুমিন ব্যক্তি হলো লাগাম লাগানো উটের মতো, তাকে যেখানেই টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, সে সেখানেই অনুগত হয়ে যায়।" এবং লেখক এটি ৪৮ নম্বরে ইবনে সালিহ থেকে অন্য একটি সনদে পুনরায় উল্লেখ করবেন।
এবং আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী তার অনুসরণ করেছেন; মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। এটি আহমাদ ৪/১২৬ বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে হাকিমও বর্ণনা করেছেন, এর সনদ সহীহ। এছাড়াও ইবনে মাজাহ ৪৩ নম্বরে এটি বর্ণনা করেছেন।
৩৪ - হাশিম ইবনুল কাসিম ইবনে শাইবাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ঈসা ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি আবু হামযাহ আল-হিমসী থেকে, তিনি শা'ওয়ায আল-আযদী থেকে, তিনি খালিদ ইবনে মা'দান থেকে, তিনি জুবায়ের ইবনে নুফায়ের থেকে এবং তিনি ইরবাদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা বিদআত থেকে বেঁচে থাকো।"
হাদীসটি হাসান, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, কেবল শা'ওয়ায ব্যতীত। তিনি হলেন ইবনে আব্দুর রহমান আবু আব্দুর রহমান আল-আযদী। ইবনে আবি হাতিম (২/১/৩৯০) মুয়াবিয়া ইবনে সালিহের বর্ণনায় তার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তার ব্যাপারে কোনো জারাহ (সমালোচনা) বা তাদীল (প্রশংসা) উল্লেখ করেননি।
আর আবু হামযাহ হলেন ইবনে সুলাইম আল-আনসী। ইবনে আবি হাতিম ৪/২/৩৬২-তে তার পিতার সূত্রে বলেন: তার নাম উল্লেখ করা হয়নি, তিনি হিমসের অধিবাসী এবং নির্ভরযোগ্য।
এবং হাশিম ইবনুল কাসিম ইবনে শাইবাহ হলেন আবু মুহাম্মদ আল-হাররানী; তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে তিনি বার্ধক্য পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এবং তাঁর স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছিল। তিনি ২৬০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। এই হাদীসটি এই অধ্যায়ে পূর্বে বর্ণিত হাদীসসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২০)
"
باب … " حديث "صِنْفَانِ مِنْ أُمَّتِي لا تَنَالُهُمَا شفاعتي … "
…
9- "بَابٌ
… "
35- حَدَّثَنَا الْمُقَدَّمِيُّ ثنا الأَغْلَبُ بْنُ تَمِيمٍ ثنا الْمُعَلَّى بْنُ زِيَادٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
"صِنْفَانِ مِنْ أُمَّتِي لا تَنَالُهُمَا شَفَاعَتِي سُلْطَانٌ غَشُومٌ ظَالِمٌ وَغَالٍ فِي الدِّينِ يَشْهَدُ عَلَيْهِمْ ويبرأ منهم".
إسناده ضعيف جدا الأغلب بن تميم قال البخاري منكر الحديث وقال ابن معين ليس بشيء وسائر الرواة موثقون والمقدمي اسمه محمد بن أبي بكر أبو عبد الله الثقفي وهو ثقة من شيوخ الشيخين.
পরিচ্ছেদ … " হাদিস: আমার উম্মতের দুই শ্রেণীর লোক আমার শাফায়াত পাবে না " … "
…
৯- "পরিচ্ছেদ
… "
৩৫- মুকাদ্দামী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আগলাব ইবন তামীম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুআল্লা ইবন যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুআবিয়াহ ইবন কুররাহ থেকে, তিনি মা’কিল ইবন ইয়াসার থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:
"আমার উম্মতের দুই শ্রেণীর লোক আমার শাফায়াত পাবে না: অত্যাচারী জালিম শাসক এবং দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়িকারী, যে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় এবং তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে।"
এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। আগলাব ইবন তামীম সম্পর্কে বুখারি বলেছেন তিনি 'মুনকারুল হাদিস' (অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী)। ইবন মাঈন বলেছেন তিনি উল্লেখযোগ্য কেউ নন। অবশিষ্ট সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। মুকাদ্দামী-এর নাম হলো মুহাম্মদ ইবন আবু বকর আবু আব্দুল্লাহ আস-সাকাফী, তিনি একজন নির্ভরযোগ্য রাবী এবং শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২১)
وللحديث شاهد من حديث أبي امامة مرفوعا به دون قوله: في الدين وهو مخرج في "الصحيحة" 470.
এই হাদিসটির সমর্থনে আবু উমামাহ থেকে বর্ণিত একটি মারফূ বর্ণনা রয়েছে, যাতে "দীনের মধ্যে" কথাটি নেই এবং এটি "আস-সহীহাহ" গ্রন্থের ৪৭০ নম্বরে উদ্ধৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২১)
10- "
بَابُ ذِكْرِ الْبِدَعِ وَإِظْهَارِهَا".
36 - ثنا الْحَوْطِيُّ ثنا بَقِيَّةُ عَنْ عِيسَى بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُمَيْرٍ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
"الأَمْرُ الْمُفْظِعُ وَالْحِمْلُ الْمُضْلِعُ1 وَالشَّرُّ الَّذِي لا يَنْقَطِعُ إظهار البدع".
إسناده ضعيف جدا عيسى بن إبراهيم وهو ابن طهمان الهاشمي قال البخاري والنسائي منكر الحديث والحديث مخرج في "سلسلة الأحاديث الضعيفة" 757.
--------------------------------------------
১০- "
বিদআত আলোচনা এবং তা প্রকাশ করার অধ্যায়".
৩৬ - আল-হাউতী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ঈসা বিন ইবরাহীম থেকে, তিনি মূসা বিন আবি হাবীব থেকে, তিনি হাকাম বিন উমাইর থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"ভয়াবহ বিষয়, পাঁজরের হাড় ভেঙে ফেলার মতো গুরুভার এবং নিরবচ্ছিন্ন অনিষ্ট হলো বিদআত প্রকাশ করা।"
এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। ঈসা বিন ইবরাহীম, যিনি ইবন তহমান আল-হাশিমী। ইমাম বুখারী ও নাসাঈ তাকে 'মুনকারুল হাদীস' (পরিত্যক্ত হাদীস বর্ণনাকারী) বলেছেন। হাদীসটি 'সিলসিলাতুল আহাদীস আদ-দঈফাহ' ৭৫৭-তে উদ্ধৃত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২১)
11- "
بَابُ مَا ذُكِرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: "لَا يَقْبَلُ اللهُ عَمَلَ صاحب بدعة" ".
37- حدثنا أبن مصفا ثنا بَقِيَّةُ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنِي حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
"إِنَّ اللَّهَ حَجَزَ أَوْ قَالَ حَجَبَ التَّوْبَةَ عَنْ كُلِّ صَاحِبِ بِدْعَةٍ".
حديث صحيح إسناده ضعيف جدا محمد بن عبد الرحمن وهو القشيري الكوفي قال ابن عدي منكر الحديث وقال الدارقطني متروك الحديث.
قلت: لكن تابعه أبو حمزة عن حميد به.
وأبو ضمرة اسمه أنس بن عياض الليثي المدني ثقة من رجال الشيخين.
أخرجه أبو الشيخ في "تاريخ أصبهان" ص 259 وجمع غيره خرجتهم في "الصحيحة" 1620.
১১- "
পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ কোনো বিদআতির আমল কবুল করেন না"" ।
৩৭- ইবনে মুসাফ্ফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ আনাস (রা.) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিদআতির নিকট থেকে তওবাকে রুদ্ধ করে দিয়েছেন, অথবা তিনি বলেছেন: তওবাকে আড়াল করে দিয়েছেন।"
হাদিসটি সহীহ, তবে এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান, যিনি কুশাইরী আল-কুফী; ইবনে আদি তাকে ‘মুনকারুল হাদিস’ বলেছেন এবং দারাকুতনী তাকে ‘মাতরুকুল হাদিস’ বলেছেন।
আমি বলি: তবে আবু হামজা হুমাইদ থেকে এই সূত্রে তার অনুসরণ (তাবে) করেছেন।
আর আবু যামরাহ—যার নাম আনাস বিন ইয়াদ আল-লাইসী আল-মাদানী—তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) এবং শায়খায়নের (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
আবুশ শাইখ এটি ‘তারীখে আসবাহান’ (পৃষ্ঠা ২৫৯) এ এবং আরো অনেকে বর্ণনা করেছেন; আমি ‘আস-সহীহাহ’ (১৬২০) গ্রন্থে তাদের সংকলন করেছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২২)
38- ثنا ابن مصفا ثنا بَقِيَّةُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَوْ غَيْرُهُ عَنْ مُجَالِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عن شريح عن عمر ابن الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: إِنَّ لِكُلِّ صَاحِبِ ذَنْبٍ تَوْبَةً غَيْرَ أَصْحَابِ الأَهْوَاءِ وَالْبِدَعِ لَيْسَ لَهُمْ تَوْبَةٌ أَنَا مِنْهُمْ بَرِيءٌ وهو مني برآء.
إسناده ضعيف من أجل مجالد وهو ابن سعيد ليس بالقوي وسائر رجاله موثوقون.
39- ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عبد الله بْنُ سَعِيدٍ الأَشَجُّ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مَنْصُورٍ الْحَنَّاطُ عَنْ أَبِي زَيْدٍ عَنْ أَبِي الْمُغِيرَةِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
"أَبَى اللَّهُ أَنْ يَقْبَلَ عَمَلَ صَاحِبِ بِدْعَةٍ حَتَّى يَدَعَ بِدْعَتَهُ".
قَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَأَحْسَبُ الأَشَجَّ حدثني به.
إسناده ضعيف بشر وأبو زيد وأبو المغيرة ثلاثتهم مجهولون كما بينته في "الضعيفة" 1492.
والحديث أخرجه ابن ماجه 50 حدثنا عبد الله بن سعيد به إلا انه وقع فيه "الخياط" وهو تصحيف مطبعي.
40- ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الأَحْوَلُ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خالد عن عطاء بن السايب عن أبيه عن عبد الله بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
"الْخَيْرُ كَثِيرٌ وَمَنْ يَعْمَلُ بِهِ قليل".
إسناده ضعيف رجاله كلهم ثقات إلا أن عطاء بن السائب كان اختلط ولا يدري سمعه منه إسماعيل قبل الاختلاط أم بعده.
وحسين الأحول هو الحسين بن ذكوان المعلم البصري المكتب ثقة من رجال الشيخين. وكذلك الحسن بن علي وهو أبو علي الخلال.
وقد أخرجه جماعة من طريق أخرى عن أبي خالد الأحمر به نحوه. وقد خرجته في "الضعيفة" 1536.
৩৮- ইবন মুসাফফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ অথবা অন্য কেউ মুজালিদ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি শুরাইহ থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই প্রত্যেক পাপীর জন্য তওবার সুযোগ রয়েছে, তবে প্রবৃত্তির অনুসারী ও বিদআতিদের জন্য কোনো তওবা নেই। আমি তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার থেকে মুক্ত।"
এর সনদ দুর্বল, মুজালিদ অর্থাৎ ইবন সাঈদের কারণে, কারণ তিনি শক্তিশালী নন। তবে অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
৩৯- হাসান ইবন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ আল-আশাজ্জ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবন মানসুর আল-হান্নাত আবু যাইদ থেকে, তিনি আবু মুগিরাহ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"আল্লাহ কোনো বিদআতির আমল কবুল করতে অস্বীকার করেন যতক্ষণ না সে তার বিদআত ত্যাগ করে।"
আবু বকর বলেন: আমার ধারণা আশাজ্জ এটি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।
এর সনদ দুর্বল। বিশর, আবু যাইদ এবং আবু মুগিরাহ—এই তিনজনই অজ্ঞাত, যেমনটি আমি "আদ-দাইফাহ" ১৪৯২-তে বর্ণনা করেছি।
হাদিসটি ইবন মাজাহ (৫০) আবদুল্লাহ ইবন সাঈদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তবে সেখানে "আল-খাইয়াত" শব্দটি এসেছে যা একটি মুদ্রণজনিত ভুল।
৪০- হাসান ইবন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন আল-আহওয়াল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু খালিদ আল-আহমার ইসমাঈল ইবন আবি খালিদ থেকে, তিনি আতা ইবনুস সায়িব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"কল্যাণ অনেক, কিন্তু তার ওপর আমলকারী সামান্য।"
এর সনদ দুর্বল। এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য, তবে আতা ইবনুস সায়িবের স্মৃতিবিভ্রাট (ইখতিলাত) ঘটেছিল এবং ইসমাঈল তার নিকট থেকে স্মৃতিবিভ্রাটের আগে শুনেছেন না কি পরে, তা জানা যায় না।
হুসাইন আল-আহওয়াল হলেন হুসাইন ইবন জাকওয়ান আল-মুআল্লিম আল-বাসরি আল-মাকতাব, তিনি নির্ভরযোগ্য এবং শায়খাইনের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে হাসান ইবন আলীও, যিনি আবু আলী আল-খাল্লাল।
একদল বর্ণনাকারী আবু খালিদ আল-আহমারের সূত্রে অন্য পথে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আমি এটি "আদ-দাইফাহ" ১৫৩৬-তে বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
"
باب … " حديث "رجلان لا تنالهما شفاعتي...."
…
12- "بَابٌ
… "
41- ثنا أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا يَعْمُرُ بْنُ بِشْرٍ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنِي مَنِيعٌ حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنِ قُرَّةَ عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
"رَجُلانِ مَا تَنَالُهُمَا شَفَاعَتِي: إِمَامٌ ظَلُومٌ غَشُومٌ وَآخَرُ غَالٍ فِي الدِّينِ مارق منه".
حديث صحيح وإسناده ضعيف منيع هذا لا يعرف أورده ابن أبي حاتم 4/1/414 من هذه الرواية. ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا وسائر الرجال ثقات رجال الشيخين غير يعمر بن بشر أورده ابن أبي حاتم 4/2/313 من رواية ثقتين آخرين عنه ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا.
وقد مضى الحديث بإسناد آخر عن معاوية بن قرة ولكنه واه جدا كما تقدم 25 وإنما صححت الحديث لأن له شاهدا ذكرته هناك.
42- ثنا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدٍ ثنا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ عبد الله بْنِ أَبِي أَوْسٍ عَنْ كَثِيرِ بن عبد الله عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
"مَنِ ابْتَدَعَ بِدْعَةً لا يَرْضَاهَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ كَانَ عَلَيْهِ مِثْلُ أَوْزَارِ النَّاسِ". قَالَ إسماعيل: من آثام الناس.
إسناده ضعيف جدا كثير بن عبد الله وهو ابن عمرو بن عوف متروك كما قال الحافظ المنذري في "الترغيب" 1/46 وعزاه للترمذي وابن ماجه من هذا الوجه وكذلك أخرجه ابن وضاح في "البدع والنهي عنها" ص 38 وابن وهب في "المسند" 8/166/2 وإسحاق بن إسماعيل الرملي في حديث آدم بن أبي إياس 2/2.
পরিচ্ছেদ ... "দুই ব্যক্তি আমার সুপারিশ পাবে না" হাদিস....
...১২- "পরিচ্ছেদ
... "
৪১- আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়ামুর ইবনে বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মানী' আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মাকিল ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"দুই প্রকার ব্যক্তি আমার সুপারিশ লাভ করবে না: এক হচ্ছে অত্যাচারী ও নিপীড়ক শাসক, আর অন্যটি হচ্ছে দ্বীনের ব্যাপারে চরমপন্থী যে তা থেকে বের হয়ে গেছে।"
হাদিসটি সহিহ কিন্তু এর সনদ দুর্বল। এই মানী' নামক রাবি অপরিচিত। ইবনে আবি হাতিম ৪/১/৪১৪ পৃষ্ঠায় এই বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন। তিনি তার ব্যাপারে কোনো সমালোচনা (জারহ) বা প্রশংসা (তাদিল) উল্লেখ করেননি। অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনাকারী, তবে ইয়ামুর ইবনে বিশর ব্যতীত। ইবনে আবি হাতিম ৪/২/৩১৩ পৃষ্ঠায় অন্য দুজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর সূত্রে তার থেকে বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন এবং তিনিও তার ব্যাপারে কোনো সমালোচনা বা প্রশংসা উল্লেখ করেননি।
মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে অন্য সনদেও এই হাদিসটি অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু ২৫ নম্বর হাদিসে পূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্বল। আমি হাদিসটিকে সহিহ বলেছি কারণ এর স্বপক্ষে অন্য একটি সাক্ষী বর্ণনা রয়েছে যা আমি সেখানে উল্লেখ করেছি।
৪২- ইয়াকুব ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া এবং ইসমাইল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আউস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসীর ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি এমন কোনো বিদআত (নব-উদ্ভাবন) প্রবর্তন করবে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল পছন্দ করেন না, তার ওপর সে আমলকারী মানুষের পাপের অনুরূপ গুনাহ বর্তাবে।" ইসমাইল বলেছেন: মানুষের পাপসমূহের মধ্য হতে।
এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। কাসীর ইবনে আব্দুল্লাহ যিনি ইবনে আমর ইবনে আউফ হিসেবে পরিচিত, তিনি বর্জনীয় (মাতরুক), যেমনটি হাফিজ মুনজিরি 'আত-তারগীব' ১/৪৬ গ্রন্থে বলেছেন। তিনি এই সূত্রটি তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ-র দিকে নিসবত করেছেন। একইভাবে ইবনে ওয়াদদাহ 'আল-বিদা ওয়ান নাহয়ু আনহা' এর ৩৮ পৃষ্ঠায়, ইবনে ওয়াহাব তার 'আল-মুসনাদ' ৮/১৬৬/২ এ এবং ইসহাক ইবনে ইসমাইল আর-রামলি 'আদম ইবনে আবি ইয়াস' এর হাদিস সংকলনের ২/২ এ এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
"
باب" حديث "أَخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ ثَلاثٌ … "
…
13- "باب":
43- ثنا عِيسَى بْنُ يُونُسَ أَبُو مُوسَى الرَّمْلِيُّ ثنا ضَمْرَةُ عَنِ ابْنِ شَوْذَبٍ عَنْ مَطَرٍ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ مَعْدِي كَرِبَ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
"أَخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ ثَلاثٌ رَجُلٌ قَرَأَ كِتَابَ اللَّهِ حَتَّى إِذَا رُؤِيتْ عَلَيْهِ بَهْجَتُهُ وَكَانَ رِدْءًا لِلإِسْلامِ أَعَارَهُ اللَّهُ إِيَّاهُ اخْتَرَطَ سَيْفَهُ فَضَرَبَ بِهِ جَارَهُ وَرَمَاهُ بِالشِّرْكِ، قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ: الرَّامِي أَحَقُّ بِهَا أَمِ الْمَرْمِيُّ؟ قَالَ: الرَّامِي".
إسناده ضعيف من أجل شهر بن حوشب فإنه ضعيف لسوء حفظه ومثله مطر وهو ابن طهمان الوراق.
وضمرة هو ابن ربيعة الفلسطيني. وهو ثقة وكذلك سائر الرواة.
44- أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ الرَّازِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الْمَوَالِ عَنِ ابْنِ مَوْهَبٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "سِتَّةٌ لَعَنْتُهُمْ وَكُلُّ نَبِيٍّ مُجَابٌ الْمُسْتَحِلُّ مَحَارِمَ اللَّهِ وَالتَّارِكُ لِسُنَّتِي".
إسناده حسن لولا انه أعل بالإرسال كما يأتي رجاله ثقات رجال البخاري غير ابن موهب واسمه عبيد الله بن عبد الرحمن بن عبد الله بن موهب وهو مختلف فيه ولعل الأرجح أنه حسن الحديث كما هو قول ابن عدي فيه ولكنه اضطرب في إسناده فدل على أنه لم يحفظه كما يأتي بيانه.
والحديث أخرجه الترمذي 2/22-23 والحاكم 1/36 و2/525 و4/90 وابن حبان 52 من طرق أخرى عن عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ أبي الموال به. وقال الحاكم: "صحيح الإسناد" وزاد في مكان آخر "على شرط البخاري" وهو خطأ فإن ابن موهب لم يحتج به البخاري. ووافقه الذهبي في الموضع الأول! وقال في الموضع الآخر: قلت: إسحاق "بن محمد الفروي" وإن كان من شيوخ البخاري فإنه يأتي بطامات
… وعبيد الله فلم يحتج به أحد والحديث منكر بمرة. ولم يصب بإعلاله بإسحاق لأنه متابع عند المصنف كما ترى وعند الحاكم نفسه من قتيبة في الموضع الاول وقد ذكر ذلك الذهبي نفسه فيه ولكنه نسي! والعلة القادحة إنما هي ما أفاده الترمذي بقوله: هكذا روى عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ
পরিচ্ছেদ: "তোমাদের ওপর আমি যা সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো তিনটি বিষয়" হাদীস প্রসঙ্গে ......
১৩- "পরিচ্ছেদ":
৪৩- আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে ইউনুস আবু মুসা আর-রামলি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন দামরা, তিনি ইবনে শাওজাব থেকে, তিনি মাতার থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি মা'দী কারিব থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"তোমাদের ওপর আমি যা সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো তিনটি বিষয়; (তন্মধ্যে একটি হলো) এমন এক ব্যক্তি যে আল্লাহর কিতাব পাঠ করেছে, এমনকি যখন তার মধ্যে এর দীপ্তি দেখা গেল এবং সে ইসলামের সাহায্যকারী হলো যা আল্লাহ তাকে দান করেছিলেন, সে তখন তার তলোয়ার কোষমুক্ত করল এবং তার প্রতিবেশীকে আঘাত করল ও তাকে শিরকের অপবাদ দিল। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! অপবাদ দানকারী কি এর জন্য বেশি দায়ী নাকি যাকে অপবাদ দেওয়া হয়েছে সে? তিনি বললেন: অপবাদ দানকারীই।"
এর সনদটি শাহর ইবনে হাওশাবের কারণে দুর্বল, কেননা সে তার মুখস্থ রাখার দুর্বলতার কারণে দুর্বল এবং অনুরূপ মাতারও, যিনি হলেন ইবনে তাহমান আল-ওয়াররাক।
আর দামরা হলেন ইবনে রাবিআ আল-ফিলিস্তিনি। তিনি নির্ভরযোগ্য এবং অনুরূপ অন্যান্য বর্ণনাকারীগণও।
৪৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আলী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুয়াল্লা ইবনে মানসুর আর-রাজি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে আবিল মাওয়াল, ইবনে মাওহাব থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ছয় প্রকার ব্যক্তি যাদেরকে আমি লানত করেছি এবং প্রত্যেক নবীর দোয়া কবুল হয়; (তারা হলো) আল্লাহর হারামকৃত বিষয়সমূহকে হালালকারী এবং আমার সুন্নাত বর্জনকারী।"
এর সনদটি হাসান হতো যদি না এটি 'ইরসাল' (সূত্র বিচ্ছিন্নতা) এর কারণে ত্রুটিযুক্ত হতো যেমনটি সামনে আসবে। ইবনে মাওহাব ছাড়া এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং বুখারীর বর্ণনাকারী। তার নাম উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাওহাব, তাকে নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সম্ভবত সঠিক মত হলো যে তিনি 'হাসানুল হাদীস' (যার হাদীস হাসান পর্যায়ের), যেমনটি ইবনে আদি তার ব্যাপারে বলেছেন। কিন্তু তিনি এর সনদে ওলটপালট করেছেন, যা প্রমাণ করে যে তিনি এটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারেননি যেমনটি সামনে স্পষ্ট করা হবে।
হাদীসটি তিরমিযী (২/২২-২৩), হাকেম (১/৩৬, ২/৫২৫, ৪/৯০) এবং ইবনে হিব্বান (৫২) অন্য সূত্রে আব্দুর রহমান ইবনে যায়িদ ইবনে আবিল মাওয়াল থেকে বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেছেন: "সনদটি সহীহ" এবং অন্য স্থানে বৃদ্ধি করেছেন "বুখারীর শর্তানুসারে", যা ভুল; কেননা বুখারী ইবনে মাওহাবের মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করেননি। যাহাবী প্রথম স্থানে তার সাথে একমত হয়েছেন! এবং অন্য স্থানে বলেছেন: আমি বলছি: ইসহাক (ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারভি) যদিও বুখারীর শায়খদের একজন, তবে তিনি গুরুতর ভুল বর্ণনা নিয়ে আসেন... আর উবাইদুল্লাহর ব্যাপারে কেউ দলিল গ্রহণ করেননি এবং হাদীসটি অত্যন্ত মুনকার (অগ্রহণযোগ্য)। ইসহাককে কারণ হিসেবে দেখিয়ে একে ত্রুটিযুক্ত বলা সঠিক হয়নি, কারণ গ্রন্থকারের নিকট এর সমান্তরাল বর্ণনা (মুতাবায়াত) রয়েছে যেমনটি আপনি দেখছেন, এবং হাকেমের নিজের কাছেই প্রথম স্থানে কুতাইবা থেকে বর্ণনা রয়েছে। যাহাবী নিজেই তা সেখানে উল্লেখ করেছেন কিন্তু পরে ভুলে গেছেন! মূল ত্রুটিটি মূলত সেটিই যা তিরমিযী তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন: এভাবেই আব্দুর রহমান ইবনে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ লি ইবনি আবি আসিম ওয়া মাআহা জিলালুল জান্নাহ লিল আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أبي الموال هذا الحديث عن عبد الله بن عبد الرحمن بن مَوْهَبٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ورواه سفيان الثور وحفص بن غياث وغير واحد عن عبيد الله بن عبد الرحمن بن موهب عن علي بن حسين عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مرسلا وهذا أصح.
قلت: وقد رواه محمد بن يوسف الفريابي حدثني أبي ثنا سفيان عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرحمن بن عبد الله موهب قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ الْحُسَيْنِ يحدث عن ابيه عن جده رضي الله عنه مرفوعا.
أخرجه الحاكم ورجح إسناد ابن موهب الأول عليه. وأنا أرى أن هذا الاختلاف في إسناده إنما هو من ابن موهب الأمر الذي يدل على أنه لم يضبطه وقد تفرد به فالحديث ضعيف منكر كما قال الذهبي. والله أعلم. وسيأتي الحديث بهذا الإسناد تمامه برقم 337.
45- ثنا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدٍ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ عَنْ كَثِيرِ بن عبد الله عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ كُنَّا حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ عليه السلام بِالْوَحْيِ فَتَغَشَّى بِرِدَائِهِ ثُمَّ مَكَثَ طَوِيلا حَتَّى سُرِّيَ عَنْهُ ثُمَّ كُشِفَ عَنْهُ فَإِذَا هُوَ يَعْرَقُ عَرَقًا شَدِيدًا وَإِذَا هُوَ قَابِضٌ عَلَى شَيْءٍ فِي يَدِهِ فَقَالَ: "أَيُّكُمْ يَعْرِفُ كُلَّ مَا يَخْرُجُ مِنَ النَّخْلِ؟ " قَالَتِ الأَنْصَارُ: نَحْنُ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَعْرِفُ كُلَّ مَا يَخْرُجُ مِنَ النَّخْلِ. قَالَ: "مَا هَذِهِ؟ فَفَتَحَ يَدَهُ، قَالُوا: هَذِهِ نَوَاةٌ. فَقَالَ: "نَوَاةُ أَيِّ شَيْءٍ؟ " قَالُوا: نَوَاةُ سَنَةٍ. قَالَ: صَدَّقْتُمْ جَاءَكُمْ جِبْرِيلُ عليه السلام يَتَعَهَّدُ دِينَكُمْ لَتَسْلُكُنَّ سُبُلَ مَنْ قَبْلَكُمْ حذو النعل بالنعل فمثل أحدهم إن شبر فشبر فإن ذراع فذراع وإن باع فَبَاعٌ حَتَّى لَوْ دَخَلُوا فِي جُحْرِ ضَبٍّ لَدَخَلْتُمْ فِيهِ أَلا إِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ افْتَرَقَتْ عَلَى مُوسَى عَلَى سَبْعِينَ فِرْقَةً كُلُّهَا ضَلالَةٌ إِلا فِرْقَةٌ وَاحِدَةٌ الإِسْلامُ وَجَمَاعَتُهُمْ وَإِنَّهَا افْتَرَقَتْ عَلَى عِيسَى عليه السلام عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ فِرْقَةً كُلُّهَا ضَلالَةٌ إِلا فِرْقَةٌ الإِسْلامِ وَجَمَاعَتُهُمْ ثُمَّ إِنَّكُمْ تَفْتَرِقُونَ عَلَى اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً كُلُّهَا ضَلالَةٌ إِلا فِرْقَةُ الإِسْلامِ وَجَمَاعَتُهُمْ".
إسناده ضعيف جدا كثير بن عبد الله وهو ابن عمرو بن عوف المزني متروك ومن
আবু আল-মুওয়াল এই হাদিসটি আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন মাওহাব থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান আস-সাওরি, হাফস বিন গিয়াস এবং আরও অনেকে এটি উবায়দুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন মাওহাব থেকে, তিনি আলি বিন হুসাইন থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটিই অধিকতর সঠিক।
আমি বলছি: মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরয়াবি এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট উবায়দুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ মাওহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলি বিন হুসাইনকে তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা (রা.) থেকে মারফু হিসেবে হাদিসটি বর্ণনা করতে শুনেছি।
হাকিম এটি সংকলন করেছেন এবং এর ওপর ইবনে মাওহাবের প্রথম সনদটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আমি মনে করি, এর সনদে এই মতপার্থক্য মূলত ইবনে মাওহাবের পক্ষ থেকে হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে তিনি এটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারেননি এবং তিনি এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন; তাই হাদিসটি দুর্বল ও মুনকার (অগ্রহণযোগ্য), যেমনটি যাহাবি বলেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন। এই সনদেই পূর্ণাঙ্গ হাদিসটি ৩৩৭ নম্বরে আসবে।
৪৫- ইয়াকুব বিন হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন ফুলাইহ আমাদের নিকট কাসির বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা মসজিদে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চারপাশে ছিলাম, এমতাবস্থায় জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) ওহি নিয়ে তার নিকট আসলেন। তখন তিনি নিজের চাদর দিয়ে নিজেকে আবৃত করলেন এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করলেন যতক্ষণ না ওহি অবতীর্ণ হওয়ার অবস্থা শেষ হলো। এরপর তার থেকে চাদর সরানো হলো। তখন দেখা গেল তিনি প্রচণ্ড ঘামছেন এবং তিনি তার হাতে কোনো কিছু মুষ্ঠিবদ্ধ করে আছেন। তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে কে খেজুর গাছ থেকে উৎপন্ন হয় এমন সব কিছু চেনে?" আনসারগণ বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! খেজুর গাছ থেকে যা কিছু উৎপন্ন হয় আমরা তা সবই চিনি।" তিনি বললেন: "এটি কী?" অতঃপর তিনি তার হাত খুললেন। তারা বললেন: "এটি একটি খেজুরের আঁটি।" তিনি বললেন: "কিসের আঁটি?" তারা বললেন: "একটি শুষ্ক আঁটি।" তিনি বললেন: "তোমরা সত্য বলেছ। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তোমাদের নিকট তোমাদের দ্বীনের তত্ত্বাবধান করতে এসেছেন। তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ হুবহু অনুসরণ করবে; এমনকি তাদের একজন যদি এক বিঘত গিয়ে থাকে তবে তোমরাও এক বিঘত যাবে, যদি এক হাত গিয়ে থাকে তবে তোমরাও এক হাত যাবে, আর যদি এক বাম পরিমাণ গিয়ে থাকে তবে তোমরাও এক বাম পরিমাণ যাবে। এমনকি তারা যদি কোনো সাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে। জেনে রেখো, বনী ইসরাঈল মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সময়ে সত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, যার একটি দল ব্যতীত বাকি সবই পথভ্রষ্ট; আর সেই দলটি হলো ইসলাম ও তাদের জামাত। আর তারা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর সময়ে একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, যার একটি দল ব্যতীত বাকি সবই পথভ্রষ্ট; আর সেই দলটি হলো ইসলাম ও তাদের জামাত। অতঃপর তোমরা বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যার একটি দল ব্যতীত বাকি সবই পথভ্রষ্ট; আর সেই দলটি হলো ইসলাম ও তাদের জামাত।"
এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। কাসির বিন আবদুল্লাহ—যিনি হলেন ইবনে আমর বিন আউফ আল-মুযানী—পরিত্যক্ত এবং...