(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
قواطع الأدلة في الأصول القسم: أصول الفقه
الكتاب: قواطع الأدلة في الأصول
المؤلف: أبو المظفر، منصور بن محمد بن عبد الجبار ابن أحمد المروزى السمعاني التميمي الحنفي ثم الشافعي (ت 489هـ)
المحقق: محمد حسن محمد حسن اسماعيل الشافعي
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت، لبنان
الطبعة: الأولى، 1418هـ/1999م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
উসূল শাস্ত্রের অকাট্য প্রমাণাদি বিভাগ: উসূল আল-ফিকহ
বই: উসূল শাস্ত্রের অকাট্য প্রমাণাদি
লেখক: আবু আল-মুজাফফর, মানসুর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল জব্বার ইবনে আহমদ আল-মারওয়াযী আস-সামআনী আত-তামীমী আল-হানাফী অতঃপর আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৪৮৯ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ হাসান মুহাম্মদ হাসান ইসমাঈল আশ-শাফিঈ
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি/১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المجلد الأول
مقدمة المؤلف…قال الشيخ.
بسم الله الرحمن الرحيم1.
وهو حسبي وكفى رب يسر ولا تعسر.
الحمد لولي الحمد ومستحقه وصلواته على خيرته من خليقته محمد وآله.
أما بعد2 فإني رأيت الفقه أصل العلوم وأشرفها قال الله تعالى: {فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إذا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة: 122] أمر الله تعالى بالتفقه في الدين وجعله فرضا على فرق الناس قاطبة ليقوم طائفة من كل فرقة به وينتصبوا في قومهم منصب الانبياء في اممهم منذرين ومحذرين دعاة إلى الله تعالى قائمين بدينه ياتين سبيله موضحين للخلق نهجه فصار الفقهاء خلفاء الرسل انذارا وتحذيرا وارثى علومهم قياما به وحملا سالكى طريقتهم بثا ونشرا وهذه مرتبة لا توجد لفرقة من الفرق وناهيك بها من مرتبة ولأن علم الفقه علم على منهج الازدياد لأنه العلم بأحكام الحوادث ولا حصر ولا حد للحوادث ولا حصر ولا حد للعلم بأحكامها ومواجبها وعلم الأصول في الديانات وأن كان علما شريفا في نفسه وهو أصل الأصول وقاعدة كل العلوم ولكنه علم محصور مبناه لأنه معارف محصورة أمر الله تبارك وتعالى بها لا مزيد فيها ولا نقصان منها وأما علم الفقه فعلم.
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ড
লেখকের ভূমিকা
শায়খ বলেন।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। ১
তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই যথেষ্ট। হে রব! সহজ করুন এবং কঠিন করবেন না।
সকল প্রশংসা প্রশংসার মালিক ও তাঁর যোগ্য সত্তার জন্য এবং তাঁর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত ব্যক্তি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর।
অতঃপর, আমি লক্ষ্য করেছি যে ফিকহ হলো সকল ইলমের মূল এবং তাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসবে, তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যেন তারা সাবধান হতে পারে।} [আত-তাওবাহ: ১২২]। আল্লাহ তাআলা দ্বীনের গভীর জ্ঞান (তফাক্কুহ) অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং একে মানুষের প্রতিটি দলের ওপর আবশ্যিক করেছেন, যাতে প্রতিটি দল থেকে একটি গোষ্ঠী তা সম্পাদন করে এবং তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে আম্বিয়া আলাইহিস সালামগণ যেভাবে নিজ নিজ উম্মতের মাঝে যে অবস্থানে ছিলেন, সেভাবে সতর্ককারী ও ভীতি প্রদর্শনকারী হিসেবে তারা দণ্ডায়মান হন। তাঁরা হবেন আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী, তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠাকারী, তাঁর পথে পরিচালনাকারী এবং সৃষ্টির সামনে তাঁর জীবনপদ্ধতি স্পষ্টভাবে বর্ণনাকারী। ফলে ফকীহগণ ভীতি প্রদর্শন ও সতর্কীকরণের ক্ষেত্রে রাসূলগণের স্থলাভিষিক্ত এবং তাঁদের অর্জিত জ্ঞান ধারণ ও কায়েম রাখার ক্ষেত্রে তাঁদের উত্তরাধিকারী হয়েছেন; তাঁরা রাসূলগণের পথ অনুসরণ করে সেই জ্ঞান প্রচার ও প্রসারে আত্মনিয়োগ করেছেন। এটি এমন এক সুউচ্চ মর্যাদা যা অন্য কোনো দলের মাঝে পাওয়া যায় না এবং মর্যাদার দিক থেকে এটিই তোমার জন্য যথেষ্ট। আর যেহেতু ফিকহ শাস্ত্র হলো ক্রমাগত বৃদ্ধির ধারায় বহমান একটি জ্ঞান, কারণ এটি হলো নিত্যনতুন উদ্ভূত ঘটনাবলীর বিধান সম্পর্কিত জ্ঞান; আর ঘটনাবলীর কোনো সীমা বা পরিসীমা নেই, তেমনি সেগুলোর বিধান ও সংশ্লিষ্ট আবশ্যকতা সম্পর্কে জানারও কোনো শেষ বা সীমা নেই। আর দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত জ্ঞান (ইলমুল উসুল) যদিও তা নিজ সত্তায় একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান এবং তা সকল মূলের মূল ও সমস্ত বিজ্ঞানের ভিত্তি, তথাপি এর কাঠামো একটি সুনির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ। কারণ এটি এমন কিছু সুনির্দিষ্ট মারেফত বা পরিচয়ের সমষ্টি যার আদেশ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা দিয়েছেন, যাতে কোনো বৃদ্ধি বা ঘাটতি নেই। পক্ষান্তরে ফিকহ শাস্ত্র হলো এমন এক জ্ঞান—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
مستمر على ممر الدهور وعلى تقلب الاحوال والاطوار بالخلق لا انقضاء وانقطاع له وقد جعل الله تعالى اجتهاد الفقهاء في الحوادث في مدرج الوحى في زمان الرسل صلوات الله عليهم فقد كان الوحى هو المطلوب فى زمان الرسل عليهم السلام كشان أحكام الحوادث وحمل للخلق عليها فحين انقطع الوحى وانقضى زمانه وضع الله تبارك وتعالى الاجتهاد من الفقهاء فى موضع الوحى ليصدر منه بيان أحكام الله تعالى ويحمل الخلق عليها قبولا وعملا ولا مزيد على هذه المنقبة لا متجاوز عن هذه المرتبة:
شاء وزاد الله جنته سؤددا
… وذلك مجد يملأ الحجر واليدا
نعم وما يشبه الفقيه إلا بغواص في بحر در كلما غاص في بحر في بحر فطنته استخرج درا وغيره يستخرج بالخراز وطالب الزيادة في منهج الزيادة معان منصور مطالب الزيادة على مالايزيد عليه مبعد مخذول والله تعالى يفتح عين بصيرة من احب عباده بطوله وفضله ويعمى عين من يشاء بقهره وعدله وقد سبقت منى مصنفات في مسائل الخلاف التي هي بيننا وبين اصحاب الراي نبهت فيها على معاني الفقه واستخرجت لطالبيها قلائد1 وقرائد2 طالما كانوا في طلبها فاعتاصت عليهم إلى أن يسر الله ذلك وتمهدت له قواعدها وطابت لهم مشارعها ونسقت معاني الفقه نسوقا وتعرقت عروقا اظن أن لامزيد عليها ولامحيد للمحققين عنها وقد كان جماعة من اصحابي احسن الله تعالى لهم التولي والحياطة يطلبون مجموعا في أصول الفقه يستحكم لهم بها معانيه ويقوى افرعها ويجتمع اشدها وينسق فروعها ويرسخ أصولها فإن من لم يعرف أصول معاني الفقه لم ينج من مواقع التقليد وعد من جملة العوام وما زلت طول ايامي اطالع تصانيف الاصحاب في هذا الباب وتصانيف غيرهم فرأيت أكثرهم قد قنع بظاهر من الكلام ورائق من العبارة لم يداخل حقيقة الأصول على مايوافق معاني الفقه وقد رايت بعضهم قد اوغل وحلل وداخل غير أنه حاد عن محجة الفقهاء في كثير من المسائل3 وسلك طريق المتكلمين الذين هم أجانب عن الفقه ومعانيه بل لا.
--------------------------------------------
এটি যুগ-যুগান্তরের পরিক্রমায় এবং সৃষ্টিজগতের অবস্থা ও পর্যায়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকে, যার কোনো সমাপ্তি বা বিচ্ছেদ নেই। আর মহান আল্লাহ রাসূলগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) যুগে সংঘটিত ঘটনাবলীতে ফকীহগণের ইজতিহাদকে ওহীর ধারায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কেননা রাসূলগণের (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) যুগে নবলব্ধ ঘটনাবলীর বিধানাবলি বর্ণনা করা এবং সৃষ্টিজগতকে তা পালনে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে ওহী-ই ছিল মূল কাম্য। অতঃপর যখন ওহীর ধারা বন্ধ হলো এবং এর সময়কাল শেষ হলো, তখন বরকতময় ও মহান আল্লাহ ফকীহগণের ইজতিহাদকে ওহীর স্থলাভিষিক্ত করেছেন, যাতে এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর বিধানাবলির বর্ণনা প্রকাশিত হয় এবং সৃষ্টিজগতকে তা গ্রহণ ও অনুসরণের দিকে পরিচালিত করা যায়। এই মর্যাদার ঊর্ধ্বে আর কোনো মাহাত্ম্য নেই এবং এই স্তরের ঊর্ধ্বে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই:
তিনি ইচ্ছা করেছেন এবং আল্লাহ তাঁর জান্নাতকে শ্রেষ্ঠত্বের দ্বারা আরও বৃদ্ধি করুন
।
আর তা এমন এক গৌরব যা বক্ষদেশ ও হস্তদ্বয়কে পূর্ণ করে দেয়।
হ্যাঁ, ফকিহ বা আইনশাস্ত্রবিদের তুলনা কেবল মুক্তার সমুদ্রের এক ডুবুরির সাথে দেওয়া যায়; যখনই তিনি নিজের মেধার সমুদ্রে ডুব দেন, তখনই একটি মুক্তা আহরণ করেন, আর অন্য কেউ হয়তো কেবল সাধারণ পাথরের পুঁতিই সংগ্রহ করে। প্রবৃদ্ধির সঠিক পন্থায় যে প্রবৃদ্ধি অন্বেষণ করে, তাকে সাহায্য করা হয় এবং সে সফল হয়; আর যে এমন বিষয়ে অতিরিক্ত কিছু চায় যার অতিরিক্ত হওয়া সম্ভব নয়, সে প্রত্যাখ্যাত ও লাঞ্ছিত হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় তাঁর প্রিয় বান্দাদের মধ্যে যাঁর ইচ্ছা তাঁর অন্তর্দৃষ্টির চোখ খুলে দেন, আর যাঁর ইচ্ছা তাঁর কঠোরতা ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে তাঁর চোখ অন্ধ করে দেন। ইতিপূর্বে মতভেদপূর্ণ মাসআলাসমূহের ওপর আমার কিছু রচনা প্রকাশিত হয়েছে, যা আমাদের এবং আসহাবুর রায়ের মধ্যকার মতবিরোধ নিয়ে রচিত। সেখানে আমি ফিকহ বা আইনশাস্ত্রের সূক্ষ্ম অর্থসমূহ সম্পর্কে সতর্ক করেছি এবং জ্ঞানান্বেষীদের জন্য এমন সব অমূল্য রত্ন ও মণি-মুক্তা আহরণ করেছি, যা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘকাল তাদের মধ্যে ছিল কিন্তু তা ছিল তাদের জন্য দুঃসাধ্য; পরিশেষে আল্লাহ তা সহজ করে দিয়েছেন, এর মূলনীতিসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর উৎসসমূহ তাদের জন্য মনোরম হয়েছে। আমি ফিকহের মর্মার্থসমূহকে এমনভাবে সুবিন্যস্ত করেছি এবং এর শেকড়গুলোকে এমন গভীর করেছি যে, আমার বিশ্বাস এর ওপর আর কোনো সংযোজন সম্ভব নয় এবং প্রকৃত গবেষকদের পক্ষে তা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমার একদল সঙ্গী—আল্লাহ তাআলা তাদের উত্তম অভিভাবকত্ব ও হিফাজত দান করুন—উসূলুল ফিকহ বা আইনশাস্ত্রের মূলনীতির ওপর এমন একটি সংকলন প্রত্যাশা করছিলেন, যার মাধ্যমে এর অর্থসমূহ তাদের কাছে সুদৃঢ় হবে, এর শাখা-প্রশাখা শক্তিশালী হবে, এর শক্ত গাঁথুনিগুলো একত্রিত হবে, এর শাখাগুলো সুশৃঙ্খল হবে এবং এর মূলনীতিসমূহ প্রোথিত হবে। কারণ, যে ব্যক্তি ফিকহের অর্থগত মূলনীতিসমূহ জানে না, সে অন্ধ অনুকরণের হাত থেকে রক্ষা পায় না এবং তাকে সাধারণ জনগণের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। আমি সারা জীবন এই বিষয়ে আমার সাথীদের এবং অন্যদের রচনাবলি অধ্যয়ন করেছি। আমি দেখেছি যে, তাদের অধিকাংশ কেবল বাহ্যিক শব্দাবলি এবং আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গিতেই তুষ্ট ছিলেন; তারা ফিকহের মর্মার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূলনীতির প্রকৃত গভীরে প্রবেশ করেননি। আমি দেখেছি যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ গভীরে গিয়েছেন, বিশ্লেষণ করেছেন এবং বিস্তারিত আলোচনা করেছেন; তবে তিনি অনেক মাসআলার ক্ষেত্রেই ফকিহদের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এবং ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের পথ অনুসরণ করেছেন, যারা ফিকহ ও এর প্রকৃত মর্মার্থ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অপরিচিত, বরং নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قبيل لهم فيه ولا وفير ولا نقير ولا قطمير ومن تشبع بما لم يعطه فقد لبس ثوبى زور وعادة السوء قطاع لطريق الحق وصم عن سبيل الرشد واصابة الصواب فاستخرت الله تعالى عند ذلك وعمدت إلى مجموع مختصر في أصول الفقه اسلك فيه طريقة الفقهاء من غير زيغ عنه ولا حيد ولاميل ولا أرضى بظاهر من الكلام ومتكلف من العبارة معول على السامعين ويسبى قلوب الأعتام الجاهلين لكن اقصد لباب اللب وصفو الفطنة وزيدة الفهم وأنص على المعتمد عليه في كل مسألة وأذكر من شبه المخالفين بما عولوا عليها وأخص ما ذكره القاضي أبو زيد الدبوسي في تقويم الأدلة بالايراد وأتكلم بما تزاح معه الشبهة وينحل معه الاشكال بعون الله تعالى وأشير عند وصولي إلى المسائل المشتهرة بين الفريقين إلى بعض المسائل التي تتفرع لتكون عونا للناظر وحين أصل إلى باب القياس وما يتشعب منه من وجوه الكلام ومأخذ الحجة وطريقة الأسئلة والأجوبة ووجوه الأعتراض والأخذ الخصوم وتوقيف المجادلين على سواء الصراط وطلب ملازمة حدود النظر وسلوك الجدد وترك الحيد ومجانبة الزيغ والأخذ والمبين المحكم من مخاييل الظنيات وما تعلق به الاصحاب بمحض الاشتباه في كثير من المسائل ووجه صحة ذلك وفساده فسأشرح عند ذلك وأبسط زيادة بسط وشرح على حسب ما يسمح به الخاطر ويجود به الوقت والله المعين على ذلك والميسر له بمنه.
তাদের জন্য এতে কোনো সামান্য অংশ নেই, নেই কোনো প্রাচুর্য, অতি তুচ্ছ বা অতি নগণ্য কোনো কিছুই। আর যে ব্যক্তি নিজেকে এমন কিছু দিয়ে ভূষিত করতে চায় যা তাকে দেওয়া হয়নি, সে যেন মিথ্যার দুটি পোশাক পরিধান করল। আর মন্দ অভ্যাস হলো সত্যের পথ রুদ্ধকারী এবং সঠিক পথ ও নির্ভুলতা অর্জনের পথে এক প্রকার বধিরতা। তাই আমি সেই মুহূর্তে আল্লাহ তাআলার নিকট ইস্তিখারা করলাম এবং উসুলুল ফিকহ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন রচনার সংকল্প করলাম, যাতে আমি ফকিহগণের পদ্ধতি অনুসরণ করব, তা থেকে বিচ্যুত না হয়ে, না সরে গিয়ে আর না অন্য কোনো দিকে ঝুঁকে পড়ে। আমি বাহ্যিক অলংকারপূর্ণ কথা এবং কৃত্রিম প্রকাশভঙ্গিতে সন্তুষ্ট নই যা কেবল শ্রোতাদের ওপর নির্ভর করে এবং মূর্খ সাধারণ মানুষের হৃদয় হরণ করে; বরং আমি বিষয়ের মূল নির্যাস, মেধার স্বচ্ছতা এবং উপলব্ধির সারবস্তুকে উদ্দেশ্য করেছি। আমি প্রতিটি মাসআলায় নির্ভরযোগ্য মতটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করব এবং বিরোধীদের সংশয়সমূহ উল্লেখ করব যার ওপর তারা নির্ভর করে। বিশেষ করে কাজী আবু যায়েদ আদ-দাব্বুসী তার 'তাকভীমুল আদিলাহ' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, তা আমি উপস্থাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করব। আমি এমনভাবে আলোচনা করব যার দ্বারা সংশয় দূরীভূত হয় এবং আল্লাহ তাআলার সাহায্যে জটিলতা নিরসন হয়। আর যখন আমি উভয় পক্ষের মধ্যে প্রসিদ্ধ মাসআলাগুলোতে পৌঁছাব, তখন আমি কিছু শাখা-প্রশাখা বিষয়ক মাসআলার দিকে ইঙ্গিত করব যাতে তা পাঠকের জন্য সহায়ক হয়। আর যখন আমি কিয়াস (অনুমান) অধ্যায়ে পৌঁছাব এবং তা থেকে নির্গত আলোচনার দিকসমূহ, প্রমাণের উৎস, প্রশ্নোত্তর পদ্ধতি, আপত্তির ধরন, প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করা, তার্কিকদের সরল পথে পরিচালিত করা, গবেষণার সীমা বজায় রাখা, সঠিক পথে চলা, বিচ্যুতি পরিহার করা এবং ভ্রষ্টতা থেকে দূরে থাকা নিয়ে আলোচনা করব, আর যখন সংশয়পূর্ণ বিষয়াবলি থেকে সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় বিষয় গ্রহণ করা এবং অনেক মাসআলায় নিছক অস্পষ্টতার কারণে সাথীরা যা আঁকড়ে ধরেছে তার সঠিকতা ও অসারতার দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করব, তখন আমি বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বিশদ বর্ণনা প্রদান করব যেমনটা মনে সায় দেয় এবং সময় সুযোগ করে দেয়। আর আল্লাহই এ বিষয়ে সাহায্যকারী এবং তাঁর অনুগ্রহে একে সহজকারী।
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২০)
القول في مقدمات أصول الفقه.
اعلم أن أول ما نبدأ في هذا الفصل هو معرفة الفقه وأصوله ثم نبنى عليه ما يتشعب منه فنقول.
الفقه في اللغة من قولهم فقهت الشيء إذا ادركته وادراكك علم الشيء فقه1.
قال أبو الحسن بن فارس وقيل هو في اللغة المعرفة بقصد المتكلم يقول القائل فقهت كلامك أي عرفت قصدك به2.
وأما في عرف الفقهاء فهو العلم بأحكام الشريعة.
وقيل جملة من العلوم بأحكام شرعية.
فإن قال قائل أن في الفقه ظنيات كثيرة فكيف يسمى علما قلنا ما كان فيه من الظنيات فهى مستندة إلى العلميات ولأن الظن منى يسمى علما لأنه يؤدي إليه قال الله تعالى: {يَظُنُّونَ أَنَّهُمْ مُلاقُو رَبِّهِمْ} أي يعلمون.
وقيل أن الفقه هو أستنباط حكم المشكل من الواضح يقال فلان يتفقه إذا أستنبط علم الأحكام وتتبعها من طريق الأستدلال قال الله تعالى: {فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ.
--------------------------------------------
উসুলুল ফিকহের (ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি) ভূমিকা সংক্রান্ত আলোচনা
.
জেনে রাখুন, এই অধ্যায়ে আমরা যা দিয়ে শুরু করব তা হলো ফিকহ ও এর মূলনীতি সম্পর্কে জানা, এরপর আমরা এর থেকে শাখা-প্রশাখা হিসেবে যা নির্গত হয় তা আলোচনা করব। সুতরাং আমরা বলছি:
আভিধানিকভাবে ফিকহ শব্দটি আরবদের উক্তি ‘আমি বিষয়টি বুঝতে পেরেছি’ থেকে এসেছে, যখন আপনি কোনো কিছু অনুধাবন করেন। আর কোনো বিষয়ের জ্ঞান অনুধাবন করাই হলো ফিকহ।
আবুল হাসান বিন ফারিস বলেন, বলা হয়ে থাকে যে আভিধানিক অর্থে এটি হলো বক্তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া। বক্তা যখন বলেন ‘আমি আপনার কথা বুঝতে পেরেছি’, তার অর্থ হলো ‘আমি এর মাধ্যমে আপনার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছি’।
আর ফকিহগণের পরিভাষায় এটি হলো শরিয়তের বিধানাবলির জ্ঞান।
আবার বলা হয়েছে যে, এটি শরয়ি বিধান সংক্রান্ত কতিপয় জ্ঞানের সমষ্টি।
যদি কেউ প্রশ্ন করেন যে, ফিকহের মধ্যে অনেক ধারণা প্রসূত বা প্রবল ধারণানির্ভর বিষয় রয়েছে, তাহলে একে কীভাবে ‘ইলম’ বা ‘নিশ্চিত জ্ঞান’ বলা হয়? আমরা বলব যে, এতে যেসকল ধারণা প্রসূত বিষয় রয়েছে সেগুলো মূলত নিশ্চিত জ্ঞানমূলক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। আর অনেক সময় প্রবল ধারণাকে ‘ইলম’ বা জ্ঞান বলা হয় কারণ তা জ্ঞানের দিকেই ধাবিত করে। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা ধারণা করে যে তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে} অর্থাৎ তারা জানে বা নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে।
আরও বলা হয়েছে যে, ফিকহ হলো স্পষ্ট বিষয় থেকে জটিল বা অস্পষ্ট বিষয়ের বিধান আহরণ করা। বলা হয় অমুক ব্যক্তি ফিকহ চর্চা করছেন, যখন তিনি বিধানাবলির জ্ঞান আহরণ করেন এবং দলিলের মাধ্যমে সেগুলোর অনুসন্ধান করেন। মহান আল্লাহ বলেন: {কেন তাদের প্রতিটি দল থেকে একটি অংশ বের হয় না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২১)
طَائِفَةٌ} الآية والدليل على أن التفقه أصل الاستنباط والاستدلال على الشيء بغيره حديث زياد بن لبيد قال ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئا وقال ذلك أوان ذهاب العلم قلت: كيف يذهب العلم وكتاب الله عندنا نقرأه ونقرأه ابنائنا فقال: "ثكلتك أمك يا زياد أن كنت لأراك من فقهاء المدينة أو من افقه رجل بالمدينة أو ليس اليهود والنصارى يقرءون التوراة والأنجيل ولا يعلمون بشىء مما فيهما" 1 فدل قوله: "أن كنت اعدك من فقهاء المدينة" على أنه لما لم يستنبط علم ما اشكل عليه من ذهاب العلم مع بقاء الكتاب بما شاهده من زوال العلم عن اليهود والنصارى مع بقاء التوراة والأنجيل عندهم حرج عن الفقه فهذا يدل على ماذكرناه من أن الفقه هو استنباط حكم المشكل من الواضح وعلى هذا قوله صلى الله عليه وسلم: "رب حامل فقه غير فقيه" 2 أي غير مستنبط ومعناه أنه يحمل الرواية من غير أن يكون له أستدلال ولا أستنباط فيها.
"وأما أصول الفقه" فهي من حيث اللغة ما يتفرع عليه الفقه3 وعند الفقهاء هي طريق الفقه التي يؤدى الاستدلال بها إلى معرفة الأحكام الشرعية4 وهي تنقسم إلى قسمين إلى دلالة وإمارة فالدلالة ما أدى النظر الصحيح فيه إلى العلم5 والإمارة ما أدى النظر الصحيح فيه إلى غالب الظن6 ويقال في حد إلا صل ما ابتنى عليه غيره والفرع ما ابتنى على غيره.
وقيل الأصل مايقع التوصل به إلى معرفة ما وراءه والعبارتان مدخولتان لأن من أصول الشرع ما هو عقيم لا يقبل الفرع ولا يقع به التوصل إلى ما وراءه بحال مثل.
--------------------------------------------
...একটি দল} আয়াতটি এবং গভীর অনুধাবন যে উদ্ভাবন ও এক বস্তুর মাধ্যমে অন্য বস্তুর প্রমাণ আহরণের মূল ভিত্তি, তার দলিল হলো যিয়াদ ইবনে লাবীদ বর্ণিত হাদিস। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বিষয় উল্লেখ করলেন এবং বললেন: "এটি ইলম বা জ্ঞান বিলুপ্ত হওয়ার সময়।" আমি বললাম: কীভাবে জ্ঞান বিলুপ্ত হবে অথচ আমাদের নিকট আল্লাহর কিতাব রয়েছে, আমরা তা পাঠ করছি এবং আমাদের সন্তানদেরও তা পাঠ করাচ্ছি? তখন তিনি বললেন: "হে যিয়াদ! তোমার মা তোমাকে হারাক। আমি তো তোমাকে মদীনার ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত অথবা মদীনার সবচেয়ে বিজ্ঞ ফকীহ মনে করতাম। ইয়াহূদী ও নাসারারা কি তাওরাত ও ইঞ্জিল পাঠ করে না অথচ তাতে যা আছে তার কিছুই তারা অনুধাবন করে না?" ১ সুতরাং তাঁর এই উক্তি—"আমি তোমাকে মদীনার ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতাম"—একথাটি প্রমাণ করে যে, কিতাব থাকা সত্ত্বেও ইয়াহূদী ও নাসারাদের থেকে যেভাবে ইলম বিলুপ্ত হয়েছে তা প্রত্যক্ষ করার পর, কিতাব বিদ্যমান থাকা অবস্থায় কীভাবে ইলম চলে যাবে সেই অস্পষ্ট বিষয়টি যখন তিনি উদ্ভাবন (ইস্তিনবাত) করতে পারলেন না, তখন তিনি ফিকহের গণ্ডি থেকে বের হয়ে গেলেন। এটি আমাদের উল্লিখিত এই কথারই প্রমাণ দেয় যে, ফিকহ হলো স্পষ্ট বিষয় থেকে অস্পষ্ট বিষয়ের বিধান উদ্ভাবন করা। এই অর্থেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "অনেক ফিকহ বা জ্ঞান বহনকারী রয়েছে যারা নিজেরা ফকীহ নয়।" ২ অর্থাৎ সে উদ্ভাবনকারী নয়। এর অর্থ হলো, সে বর্ণনাটি বহন করে কিন্তু তাতে তার কোনো দলিল প্রয়োগ বা উদ্ভাবনী ক্ষমতা নেই।
"আর উসূলুল ফিকহ" আভিধানিক দিক থেকে তা এমন বিষয় যার ওপর ফিকহ শাখা হিসেবে গড়ে ওঠে ৩। আর ফকীহদের পরিভাষায় এটি হলো ফিকহ অর্জনের সেই পদ্ধতি যার মাধ্যমে দলিল প্রয়োগ করে শরঈ বিধানসমূহের জ্ঞান লাভ করা যায় ৪। এটি দুই ভাগে বিভক্ত—দালালাহ (নির্দেশক) ও ইমারাহ (লক্ষণ)। দালালাহ হলো তা-ই যার সঠিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত জ্ঞানের দিকে ধাবিত করে ৫। আর ইমারাহ হলো তা-ই যার সঠিক পর্যবেক্ষণ প্রবল ধারণার দিকে ধাবিত করে ৬। মূল (আসল)-এর সংজ্ঞায় বলা হয়—যার ওপর অন্য কিছু দাঁড়িয়ে থাকে; আর শাখা (ফাউ) হলো যা অন্য কিছুর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
এবং বলা হয়েছে, মূল (আসল) হলো এমন বিষয়, যার মাধ্যমে তার পরবর্তী বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। এই উভয় সংজ্ঞাই ত্রুটিপূর্ণ; কারণ শরীয়তের মূলনীতিসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা বন্ধ্যা, যা কোনো শাখাকে গ্রহণ করে না এবং যার মাধ্যমে কোনোভাবেই পরবর্তী কোনো বিষয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, যেমন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২২)
ماورد به الشرع من دية الجنين والقسامة وتحمل العقل فهذه أصول ليست لها فروع فالأولى أن يقال أن الأصل كل ما يثبت دليلا في ايجاد حكم من أحكام الدين وإذا حد هذا فيتناول ما جلب فرعا أو لم بجلبه ثم اختلفوا في عدد الأصول قال عامة الفقهاء الأصول أربعة الكتاب والسنة واجماع الأمة والعبرة واختصر بعضهم فقال دلائل الشرع قسمان أصل ومعقول الأصل فالأصل الكتاب والسنة والأجماع ومعقول الأصل هو القياس وأشار الشافعي رحمه الله أن جماع الأصول نص ومعنى فالكتاب والسنة والأجماع داخل تحت النص والمعنى هو القياس وقد ضم بعضهم العقل إلى هذه الأصول وجعله قسما خامسا.
وقال أبو العباس بن القاص الأصول سبعة الحس والعقل والكتاب والسنة والأجماع والعبرة واللغة والصحيح أن الأصول أربعة على ما قدمنا وأما العقل فليس بدليل يوجب شيئا وإنما يكون به درك الأمور فحسب أو هو آلة المعارف وأما الحس فلا يكون دليلا بحال والأمر فيه بين لأن الحس يقع فيه درك الأشياء الحاضرة فهي مالم يوجد كونا ولم يشاهد عينا فلا يكون للحس فيها تأثير وأما اللغة فهي مدرجة اللسان وفطنة لمعاني الكلام وأكثر ما فيها أنها عبارة عن الشيء باسمه تمييزا له عن غيره بوضعه ولاحظ لأمثال هذا في ايجاب شيء واثبات حكم وإذا عرفنا الفقه وأصوله فلا بد من معرفة العلم لأنا بينا أن الفقه هو العلم بأحكام الشريعة فنقول العلم على ضربين ضروري ومكتسب ونعنى به العلم الذي هو يحدث فأما العلم القديم الذي هو للباري عز اسمه فلا نوصفه بواحد منهما فأما علم الاضرار فضربان:
أحدهما: ما كان مبدئا في النفوس كالعلم بأن المسمى لا يخلو من وجود أو عدم وأن الموجود لا يخلو من حدوث أو قدم وأن من المستحيل اجتماع الضدين وكون الجسم في محلين وزيادة الواحد على الأثنين وعلى هذا علم الأنسان بأحوال من نفسه من صحة وسقم وقوة وضعف وشجاعة وجبن ونفور وميل وغير ذلك وهذا النوع من العلم يدرك ببديهة العقل من غير أن يقوم له سبب.
والضرب الثاني: ما كان واقعا عن درك الحواس كالاشخاص المدركة بالبعد والاصوات المدركة بالسمع والطعوم المدركة بالذوق والروائح المدركة بالشم والاجسام المدركة باللمس ويدخل في هذا الضرب العلم بالبلدان التي لم يحضرها والوقائع التي لم يشهدها وكذلك العلم بورود الرسل صلوات الله عليهم ودعائهم إلى الله عز وجل.
ভ্রূণের রক্তপণ, কাসামাহ (শপথ গ্রহণ) এবং আকলের (রক্তপণ) ভার বহন করার বিষয়ে শরিয়ত যা নিয়ে এসেছে, এগুলো এমন কিছু মূলনীতি যেগুলোর কোনো শাখা নেই। সুতরাং এটি বলাই অধিকতর সমীচীন যে, দ্বীনের কোনো বিধান প্রমাণের ক্ষেত্রে যা দলিল হিসেবে সাব্যস্ত হয়, তাকেই 'আসল' বা মূলনীতি বলা হয়। আর যখন একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, তখন এটি এমন বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে যা কোনো শাখাকে সংশ্লিষ্ট করে কিংবা করে না। অতঃপর মূলনীতির সংখ্যা নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। সাধারণ ফকিহগণ বলেছেন, মূলনীতি হলো চারটি: আল্লাহর কিতাব, সুন্নাহ, উম্মতের ইজমা এবং ইবরাত (কিয়াস)। তাঁদের কেউ কেউ সংক্ষেপ করে বলেছেন, শরিয়তের দলিলসমূহ দুই প্রকার: আসল (মূল) এবং মাকুল আল-আসল (মূলের যৌক্তিকতা)। 'আসল' হলো কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা এবং 'মাকুল আল-আসল' হলো কিয়াস। ইমাম শাফেয়ি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইঙ্গিত করেছেন যে, সকল মূলনীতির মূল ভিত্তি হলো নস (সুস্পষ্ট পাঠ) এবং মানা (অর্থ)। কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা 'নস'-এর অন্তর্ভুক্ত এবং 'মানা' হলো কিয়াস। আর কেউ কেউ এই মূলনীতিগুলোর সাথে আকলকেও (বিবেক) যুক্ত করেছেন এবং একে পঞ্চম প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন।
আবু আল-আব্বাস ইবনে আল-কাস বলেন, মূলনীতিসমূহ সাতটি: ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান, বিবেক, কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা, শিক্ষা এবং ভাষা। তবে সঠিক মত হলো, মূলনীতি চারটি যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আর বিবেক এমন কোনো দলিল নয় যা কোনো কিছুকে অবধারিত করে, বরং এর মাধ্যমে কেবল বিষয়াবলি অনুধাবন করা যায় মাত্র অথবা এটি জ্ঞানের একটি উপকরণ। আর ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান কোনো অবস্থাতেই দলিল হয় না এবং বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। কারণ ইন্দ্রিয় অনুভূতির মাধ্যমে কেবল উপস্থিত বিষয়গুলোকেই উপলব্ধি করা যায়। সুতরাং যা বাস্তবে অস্তিত্বশীল নয় এবং চাক্ষুষ দেখা যায় না, তাতে ইন্দ্রিয় অনুভূতির কোনো প্রভাব থাকে না। আর ভাষার বিষয়টি হলো তা জিহ্বার প্রয়োগ এবং কথার অর্থ অনুধাবনের সূক্ষ্ম বোধ। এর অধিকাংশ বিষয়ই হলো কোনো বস্তুকে তার নামের মাধ্যমে প্রকাশ করা যাতে নামকরণের মাধ্যমে তাকে অন্য বস্তু থেকে আলাদা করা যায়। কোনো কিছু অবধারিত করা বা হুকুম সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এ জাতীয় বিষয়ের কোনো অংশ নেই। যেহেতু আমরা ফিকহ এবং এর মূলনীতি সম্পর্কে জেনেছি, তাই ইলম বা জ্ঞান সম্পর্কে জানাও আবশ্যক। কারণ আমরা ব্যাখ্যা করেছি যে, ফিকহ হলো শরীয়তের বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান। আমরা বলি: জ্ঞান দুই প্রকার—অপরিহার্য এবং অর্জিত। আমরা এখানে কেবল সেই জ্ঞানকে উদ্দেশ্য করছি যা নব্য বা সৃষ্ট। আর মহান স্রষ্টার যে চিরন্তন জ্ঞান রয়েছে, তাকে আমরা এই দুই প্রকারের কোনোটি দিয়েই অভিহিত করি না। অপরিহার্য জ্ঞান আবার দুই প্রকার:
প্রথমটি: যা অন্তরে প্রারম্ভিক অবস্থায় বিদ্যমান থাকে, যেমন এই জ্ঞান যে—কোনো বিষয় অস্তিত্বশীল হওয়া অথবা অস্তিত্বহীন হওয়া থেকে মুক্ত নয়; এবং যা বিদ্যমান তা নতুন হওয়া অথবা চিরন্তন হওয়া থেকে মুক্ত নয়; এবং দুটি বিপরীত জিনিসের সহাবস্থান অসম্ভব, একটি বস্তু একই সাথে দুটি স্থানে থাকা অসম্ভব এবং একের মান দুইয়ের চেয়ে বেশি হওয়া অসম্ভব। অনুরূপভাবে মানুষের নিজের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান, যেমন—সুস্থতা ও অসুস্থতা, শক্তি ও দুর্বলতা, সাহসিকতা ও ভীরুতা, ঘৃণা ও অনুরাগ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এই প্রকারের জ্ঞান কোনো কারণ সাব্যস্ত হওয়া ছাড়াই বিবেকের স্বতঃস্ফূর্ত উপলব্ধির মাধ্যমে অর্জিত হয়।
দ্বিতীয় প্রকার হলো: যা ইন্দ্রিয়ানুভূতির মাধ্যমে লব্ধ হয়, যেমন দৃষ্টির মাধ্যমে অনুভূত ব্যক্তি বা বস্তুসমূহ, শ্রবণের মাধ্যমে অনুভূত শব্দসমূহ, স্বাদের মাধ্যমে অনুভূত স্বাদসমূহ, ঘ্রাণের মাধ্যমে অনুভূত ঘ্রাণসমূহ এবং স্পর্শের মাধ্যমে অনুভূত দেহসমূহ। এই প্রকারের মধ্যে ঐসব দেশ সম্পর্কে জ্ঞানও অন্তর্ভুক্ত যা সে প্রত্যক্ষ করেনি এবং ঐসব ঘটনাবলী যা সে নিজে দেখেনি। অনুরূপভাবে রাসূলগণের—তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক—আগমন এবং মহান আল্লাহর দিকে তাঁদের আহ্বান সংক্রান্ত জ্ঞানও এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وتكذيبهم وتصديقهم وأمثال هذا تكثر وضربى هذا العلم مدرك بغير نظر ولا استدلال وحده ما لا يمكن للعالم به نفيه عن نفسه بشك أو شبهة وأما العلم المكتسب فهو الواقع عن نظر واستدلال وهو على ضربين مسموع ومعقول فالمسموع ما أخذ عن توقيف صار به أصلا والمعقول ما أخذ عن اجتهاد صار به فرعا واختلفوا في حد العلم فقال بعضهم تبين المعلوم أو معرفة المعلوم أو درك المعلوم على ما هو به والأحسن هو اللفظ الأخير والذي قاله بعضهم أنه اثبات الشيء على ما هو به فاسد لأن المعدوم معلوم وهذا الحد يقتضى أن يكون شيئا وهو ليس بشيء عند أهل السنة والذي قاله بعضهم أنه اعتقاد الشيء على ما هو عليه باطل لأن الله تعالى مما لم يعلم على مانطق به الكتاب والسنة ولا نطلق عليه الاعتقاد بحال بل هو من صفات المخلوقين وإذا لم يكن الحد جامعا لم يكن صحيحا وهذا الحد حد المعتزلة وهم ضلال في كل ما ينفردون به وأما من حيث اللغة قال ابن فارس هو من قوله علمت الشيء وعلمت به وهو عرفانه على ما هو به يقال علمته علما قال وقد يكون اشتقاقه من العلم والعلامة وذلك لأن العلامة أمارة مما يميز بها الشيء عن غيره وكذلك العلم يميز به صاحبه عن غيره وعلى هذا قوله تعالى: {وَإِنَّهُ لَعِلْمٌ لِلسَّاعَةِ} [الزخرف: 61] أي نزول عيسى بن مريم به يعرف قرب الساعة وقراءة قوم: {وَإِنَّهُ لَعِلْمٌ لِلسَّاعَةِ} أي أمارة ودلالة.
"وأما الجهل" فهو اعتقاد المعلوم على خلاف ما هو به ولابأس بلفظ الاعتقاد في حد الجهل بخلاف العلم على ما سبق.
"وأما الشك" فهو الوقوف بين منزلتي الجهل والعلم وقيل تجويز أمرين لا مزية لأحدهما على الآخر فإذا ظهرت المزية لأحدهما على الآخر فهو ظن ويقال غلبه احد طرفي التجويز فإذا قوى سمى غالب الظن وقد ورد الظن بمعنى اليقين وقد ورد بمعنى الشك بدليل قوله تعالى: {إِنْ هُمْ إلا يَظُنُّونَ} [الجاثية: 24] أي يشكون فاليقين منه ما كان له سبب دل عليه والشك منه ماخطر بالقلب من غير سبب يدل عليه.
فإن قال قائل إنكم قلتم أن الفقه هو العلم بأحكام الشريعة فما أحكام الشريعة قلنا هي المنقسمة إلى كون الفعل واجبا ومندوبا إليه ومباحا ومحظورا ومكروها وليست الأحكام هي الأفعال بل هي مضافة إلى الأفعال يقال أحكام الأفعال والشيء لا يضاف إلى نفسه فالواجب مايثاب على فعله ويعاقب على تركه وهو في اللغة من.
তাদের অস্বীকার করা, তাদের বিশ্বাস করা এবং এ জাতীয় আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। এই প্রকারের ইলম বা জ্ঞান কোনো চিন্তা-গবেষণা বা দলিল-প্রমাণ ছাড়াই অর্জিত হয়। এর সংজ্ঞা হলো: এমন জ্ঞান যা অর্জনকারীর পক্ষে কোনো সন্দেহ বা সংশয়ের মাধ্যমে নিজের থেকে দূর করা সম্ভব নয়। আর অর্জিত জ্ঞান (ইলমে মুকতাসাব) হলো তা, যা চিন্তা-গবেষণা ও দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে অর্জিত হয়। এটি দুই প্রকার: শ্রুত এবং বুদ্ধিগত। শ্রুত জ্ঞান হলো তা, যা কোনো অকাট্য নির্দেশনার মাধ্যমে গৃহীত হয়ে মূলনীতিতে পরিণত হয়েছে। আর বুদ্ধিগত জ্ঞান হলো তা, যা গবেষণার মাধ্যমে গৃহীত হয়ে শাখাগত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
আলেমগণ ইলমের সংজ্ঞার বিষয়ে মতভেদ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন: ইলম হলো জ্ঞাত বিষয় স্পষ্ট হওয়া, অথবা জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে পরিচয় লাভ করা, অথবা জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থায় উপলব্ধি করা। এই শেষোক্ত বক্তব্যটিই অধিক উত্তম। আর কেউ কেউ যা বলেছেন—'ইলম হলো কোনো বস্তুকে তার প্রকৃত অবস্থায় সাব্যস্ত করা'—তা ত্রুটিপূর্ণ। কারণ অস্তিত্বহীন বিষয়ও (মা’দুম) জ্ঞাত হতে পারে, অথচ এই সংজ্ঞাটি দাবি করে যে তাকে অবশ্যই একটি 'বস্তু' হতে হবে, কিন্তু আহলে সুন্নাতের মতে অস্তিত্বহীন বিষয় কোনো বস্তু নয়। আর কেউ কেউ যা বলেছেন—'ইলম হলো কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থায় বিশ্বাস করা'—তা বাতিল। কারণ কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্য অনুযায়ী আল্লাহ তাআলার প্রকৃত স্বরূপ জানা সম্ভব নয়, আর আমরা তাঁর ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই 'বিশ্বাস' (ইতিকাদ) শব্দটি প্রয়োগ করি না; বরং এটি সৃষ্টির একটি বৈশিষ্ট্য। আর সংজ্ঞা যদি যথাযথ ও সর্বব্যাপী না হয়, তবে তা সঠিক হয় না। এই সংজ্ঞাটি মুতাজিলাদের দেওয়া, আর তারা যেসব বিষয়ে একক মত পোষণ করে, তার সবক্ষেত্রেই তারা পথভ্রষ্ট।
আর ভাষাতাত্ত্বিক দিক থেকে ইবনে ফারিস বলেন: এটি 'আমি বিষয়টি জেনেছি' এবং 'আমি তা সম্পর্কে অবগত হয়েছি' বাক্য থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থায় চেনা। বলা হয় 'আমি তা জ্ঞানত জেনেছি'। তিনি আরও বলেন, এর ব্যুৎপত্তি 'আলাম' (চিহ্ন) এবং 'আলামাহ' (নিদর্শন) থেকেও হতে পারে। কারণ নিদর্শন হলো এমন এক চিহ্ন যার মাধ্যমে এক বস্তুকে অন্য বস্তু থেকে পৃথক করা যায়। তদ্রূপ ইলমের মাধ্যমেও এর অধিকারী ব্যক্তি অন্যদের থেকে পৃথক ও বিশিষ্ট হয়। এই অর্থেই আল্লাহ তাআলার বাণী: "নিশ্চয় তা কিয়ামতের একটি জ্ঞান" [সূরা আয-যুখরুফ: ৬১], অর্থাৎ ঈসা ইবনে মারিয়ামের অবতরণ; যার মাধ্যমে কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার বিষয়টি জানা যায়। আর একদলের কিরাত অনুযায়ী শব্দটির অর্থ হলো: "নিশ্চয় তা কিয়ামতের একটি নিদর্শন", যার অর্থ হলো কিয়ামতের আলামত ও প্রমাণ।
"আর 'জাহল' (অজ্ঞতা) হলো কোনো জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতে বিশ্বাস করা। অজ্ঞতার সংজ্ঞায় 'বিশ্বাস' শব্দটি ব্যবহার করাতে কোনো অসুবিধা নেই, যা ইলমের (জ্ঞান) সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ভিন্ন ছিল যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
আর 'শক' (সন্দেহ) হলো অজ্ঞতা ও জ্ঞানের দুই স্তরের মধ্যবর্তী অবস্থানে অবস্থান করা। বলা হয়ে থাকে, এটি এমন দুটি বিষয়কে সম্ভাব্য হিসেবে গ্রহণ করা যার একটির ওপর অন্যটির কোনো প্রাধান্য নেই। সুতরাং যখন একটির ওপর অন্যটির প্রাধান্য প্রকাশ পায়, তখন তাকে 'যন' (ধারণা) বলা হয়। একে সম্ভাব্য দুই দিকের কোনো একটির প্রবল হওয়াও বলা হয়। যখন তা শক্তিশালী হয় তখন তাকে 'গালিবুয যন' (প্রবল ধারণা) বলা হয়। কখনো কখনো 'যন' শব্দটি 'ইয়াকিন' (নিশ্চয়তা) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, আবার কখনো তা সন্দেহ অর্থেও এসেছে, যার প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: "তারা কেবল ধারণাই করে" [আল-জাসিয়া: ২৪], অর্থাৎ তারা সন্দেহ করে। সুতরাং ইয়াকিন বা নিশ্চিত জ্ঞান হলো তা যার সপক্ষে নির্দেশক কারণ বা দলিল বিদ্যমান, আর সন্দেহ হলো তা যা কোনো নির্দেশক কারণ ছাড়াই অন্তরে উদিত হয়।
যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে যে, আপনারা বলেছেন ফিকহ হলো শরীয়তের বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, তাহলে শরীয়তের বিধানাবলি কী? আমরা বলব, তা হলো কোনো কাজ ওয়াজিব (আবশ্যক), মানদুব (পছন্দনীয়), মুবাহ (বৈধ), মাহযুর (নিষিদ্ধ) ও মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হিসেবে বিভক্ত হওয়া। আর বিধানগুলো স্বয়ং কোনো কাজ নয়, বরং তা কাজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। বলা হয়ে থাকে 'কাজের বিধানসমূহ', আর কোনো বস্তু নিজের সাথে নিজে সম্বন্ধযুক্ত হয় না। সুতরাং ওয়াজিব হলো তা, যা পালন করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং বর্জন করলে শাস্তির উপযোগী হতে হয়। আর আভিধানিকভাবে এটি এসেছে..."
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
السقوط1 قال الله تعالى: {فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا} [الحج: 36] أي سقطت فكأنه الشيء الذي سقط على المخاطب به فلزمه وأثقله كما يسقط عليه الشيء فلا يمكن دفعه عن نفسه والفرض مثل الواجب يقال فرضت عليك كذا أي اوجبته قال الله تعالى: {فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ} [البقرة: 197] أي أوجب على نفسه ومنه قيل لسهام الميراث فريضة.
وأما الندب: فهو ما فيه ثناء على فعله ولا يعاقب على تركه وأصله في اللغة هو المدعو له والمرغب فيه2 يقال ندبته لكذا فانتدب له والنفل قريب من الندب إلا أنه دونه في المنزلة والنافلة من حيث اللغة الزيادة بعد الواجب وأصله من النفل وهو العطاء ومنه قول لبيد أن تقوى ربنا خير نفل.
والجائز: ما لا ثواب في فعله ولا عقاب في في تركه وأصله من جزت المكان إذا عبرته كأنه الشيء إذا وقع جاز ومضى ولم يحبسه مانع.
والحلال: هو الموسع في إثباته.
وأما المحظور: فهو ممنوع فعله وأصل الحظرا المنع ومنه الحظيرة التي تفعل للدواب لجمعها ومنعها من التفرق وكذلك الحرام هو الممنوع من إتيانه ومنه المحروم وهو الذي منع سعة الرزق ويقال الحرام والمحظور ما يعاقب على فعله.
والمكروه: ما تركه اولى من فعله.
والصحيح: ما يتعلق به النفوذ ويتحصل به المقصود.
والفاسد: مالا يتعلق به النفوذ ولا يحصل به المقصود.
والصواب: [ما] 3 أصيب به المقصود بحكم الشرع.
والخطا: نقيض الصواب في اللغة معناه مخالفة القصد والعدول عنه إلى غيره.
والحق يستعمل على وجهين أحدهما بمعنى الصواب يقال حق عليك أن تفعل كذا أي واجب والطاعة4 مأخوذة من الطوع والأنقياد ومعناها تلقى الأمر بالقبول والمعصية ضد الطاعة.
--------------------------------------------
পতন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর যখন তাদের পার্শ্বদেশ মাটিতে পড়ে যায়" [আল-হাজ্জ: ৩৬]। অর্থাৎ তারা পড়ে গেল। যেন এটি এমন একটি বস্তু যা সম্বোধিত ব্যক্তির ওপর পতিত হলো, ফলে তা তাকে আঁকড়ে ধরল এবং তার ওপর ভারী হয়ে গেল, যেমন কোনো বস্তু কারো ওপর পড়লে সে তা নিজের থেকে সরাতে পারে না। 'ফারজ' ও 'ওয়াজিব' একই অর্থবোধক। বলা হয়: আমি তোমার ওপর এটি 'ফারজ' করেছি, অর্থাৎ 'ওয়াজিব' করেছি। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর যে ব্যক্তি এই মাসগুলোতে হজ্জ নিজের ওপর আবশ্যক (ফারজ) করে নিল" [আল-বাকারা: ১৯৭]। অর্থাৎ নিজের ওপর ওয়াজিব করে নিল। এ থেকেই মিরাসের নির্দিষ্ট অংশসমূহকে 'ফারিদাহ' বলা হয়।
আর 'মানদুব' (পছন্দনীয়) হলো: যার পালনে প্রশংসা রয়েছে কিন্তু বর্জনে কোনো শাস্তি নেই। ভাষাগতভাবে এর মূল অর্থ হলো আহূত বা যার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। বলা হয়: আমি তাকে অমুক কাজের জন্য আহ্বান করেছি, ফলে সে তাতে সাড়া দিয়েছে। 'নফল' মানদুবের কাছাকাছি, তবে এটি মর্যাদায় তার চেয়ে কিছুটা নিচে। ভাষাগত দিক থেকে 'নাফিলাহ' হলো ওয়াজিবের অতিরিক্ত। এর মূল শব্দ 'নাফল', যার অর্থ হলো দান। কবি লাবীদ-এর উক্তি এ থেকেই এসেছে: "নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালকের তাকওয়া সর্বোত্তম দান"।
আর 'জায়েজ' (বৈধ) হলো: যার পালনে কোনো সওয়াব নেই এবং বর্জনে কোনো শাস্তি নেই। এর মূল অর্থ কোনো স্থান অতিক্রম করা থেকে এসেছে। যেন বিষয়টি এমন যে, তা যখন সংঘটিত হয় তখন তা পার হয়ে যায় এবং চলে যায়, কোনো বাধা তাকে আটকে রাখে না।
আর 'হালাল' হলো: যার বিধানে প্রশস্ততা রয়েছে।
আর 'মাহযুর' (নিষিদ্ধ) হলো: যার কাজ নিষিদ্ধ। 'হাযর' শব্দের মূল অর্থ হলো বারণ করা। এ থেকেই 'হাযিরাহ' (পশুর খোঁয়াড়) শব্দটির উৎপত্তি, যা পশুদের একত্রিত করতে এবং বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে বাধা দিতে তৈরি করা হয়। তদ্রূপ 'হারাম' হলো তা-ই যার সম্পাদন নিষিদ্ধ। এ থেকেই 'মাহরূম' (বঞ্চিত) শব্দটি এসেছে, যাকে রিযিকের প্রশস্ততা থেকে বারণ করা হয়েছে। বলা হয়: হারাম ও মাহযুর হলো তা-ই যার পালনে শাস্তি পেতে হয়।
আর 'মাকরূহ' হলো: যার বর্জন পালনের চেয়ে উত্তম।
আর 'সহীহ' (সঠিক) হলো: যার সাথে কার্যকারিতা যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে উদ্দেশ্য অর্জিত হয়।
আর 'ফাসিদ' (অকার্যকর) হলো: যার সাথে কার্যকারিতা যুক্ত থাকে না এবং যার মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল হয় না।
আর 'সাওয়াব' (যথাযথ) হলো: শরঈ বিধান অনুযায়ী যার মাধ্যমে উদ্দেশ্য অর্জিত হয়।
ভুল বা ত্রুটি হলো সঠিকের বিপরীত; আভিধানিক পরিভাষায় এর অর্থ হলো সংকল্প বা উদ্দেশ্যের বিরোধিতা করা এবং তা থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য কিছুর দিকে ধাবিত হওয়া।
‘হক’ বা সত্য শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়; যার একটি হলো সঠিক বা নির্ভুল হওয়ার অর্থে। যেমন বলা হয়: ‘তোমার ওপর এটি করা হক’, অর্থাৎ এটি তোমার জন্য ওয়াজিব বা অবশ্যকরণীয়। আর ‘আনুগত্য’ শব্দটি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ ও বশ্যতা থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো কোনো নির্দেশকে কবুল বা গ্রহণের মাধ্যমে গ্রহণ করা; আর ‘অবাধ্যতা’ হলো আনুগত্যের বিপরীত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والحسن: كل فعل إذا فعله الفاعل لا يستحق الفاعل له ذما.
والقبح: كل فعل إذا فعله الفاعل استحق بفعله الذم.
واذا عرضنا انقسام أحكام الشرع فنقول العلم بأحكام الشريعة ضربان:
أحدهما: ما وجب فرض العلم به على الأعيان وهو ما لا يخلو مكلف من التزامه والعمل به من أفعال وتروك كالصوم والصلاة ووجوب الزكاة والحج لمن يجد المال وتحريم الزنا واباحة النكاح وتحريم الربا واباحة البيع وتحريم الخمر والقتل والسرقة وكذلك كل ما يكثر مواقعته من المحظورات ويجب على كل مكلف أن يعلم وجوبها عليه لاستدامة التزامها واختلفوا في عمله بوجوبها هل يجب أن يكون عن علمه بأصولها ودلائلها فذهب بعضهم إلى وجوب علمها بأصولها ودلائلها فيكون فرض العلم بأصولها على الأعيان كما كان فرض أحكامها على الأعيان وذهب بعضهم إلى أن فرض العلم بأصولها ساقط عنهم لأن الواجب عليهم العمل وأما العلم بالدلائل فيختص بها العلماء وهذا الوجه اوسع وأسهل وهو الأولى.
والضرب الثاني ما كان فرض العلم به على الكفاية وهو ما عدا النوعين من الأحكام التي تجوز أن يخلوالمكللف من التزامها ومعنى الفرض على الكفاية أنه يجب أن ينتدب لعلمه قوم في كل عصر فيرجع من يلزمه في حكمه إلى من يعلمه وإنما لم يجب على الأعيان لأن العلم بها لا يكون إلا مع الانقطاع إليها فإذا أوجبنا على كل ذلك اختل أمر المصالح التي هي مصالح الدنيا لأنهم إذا انقطعوا إلى العلم لم يتفرغوا للقيام بمصالح الدنيا فكان الواجب على الكفاية ليقوم به قوم والباقون يقومون بمصالح الدنيا فتنتظم على هذا الوجه مصالح الدين والدنيا جميعا ويجب أن يجتمع العلم بالأصول والأحكام في كل واحد من أهل الكفاية ولا يختص بكفاية العلم بالأحكام فريق وبكفاية العلم بالأصول فريق فإن تفرد بعلم الأحكام فريق وبعلم الأصول فريق لم تسقط بواحد منهما فرض الكفاية في الأحكام والأصول لأن الأحكام فروع الأصول والأصول موضوعة للفروع فلم يجز انفراد أحدهما عن الآخر.
وذهب من قال أن العالم يجوز له تقليد العالم إلى أنه لا يلزم الجمع بينهما ووأنه إذا انفرد بكل واحد من الأمرين جعل كاجتماعهما في الواحد وسقط بذلك فرض الكفاية واختلفوا بعد هذا في كيفية الوجوب في الواجب على الكفاية فذهبت طائفة من الفقهاء والأشعرية من المتكلمين إلى أنه واجب على كل واحد من أهل الفريضة بعينه.
এবং হাসান হলো: এমন প্রত্যেক কাজ যা সম্পাদন করলে সম্পাদনকারী নিন্দার যোগ্য হয় না।
এবং কুবহ হলো: এমন প্রত্যেক কাজ যা সম্পাদন করলে সম্পাদনকারী তার কাজের জন্য নিন্দার যোগ্য হয়।
আর যখন আমরা শরিয়তের বিধানসমূহের বিভাজন উপস্থাপন করব, তখন আমরা বলব যে, শরিয়তের বিধানসমূহের জ্ঞান দুই প্রকার:
তার মধ্যে একটি হলো: যার জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেকের ওপর ফরজে আইন হিসেবে ওয়াজিব। এটি এমন বিষয় যা পালন করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা (কর্ম সম্পাদন বা বর্জন) থেকে কোনো মুকাল্লাফ (শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) মুক্ত নয়। যেমন: রোজা, নামাজ, জাকাতের আবশ্যকতা, সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য হজ, ব্যভিচারের নিষিদ্ধতা, বিবাহের বৈধতা, সুদের নিষিদ্ধতা, ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতা এবং মদ পান, হত্যা ও চুরির নিষিদ্ধতা। অনুরূপভাবে নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের মধ্যে সচরাচর যা ঘটে থাকে সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। প্রত্যেক মুকাল্লাফের ওপর এগুলোর আবশ্যকতা সম্পর্কে জানা ওয়াজিব যাতে সে ধারাবাহিকভাবে তা মেনে চলতে পারে। আলেমগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, এই বিধানগুলো পালনের ক্ষেত্রে সেগুলোর মূলনীতি (উসুল) এবং দলিলসমূহ জানা কি ওয়াজিব কি না। তাদের কেউ কেউ মনে করেন যে, এগুলোর মূলনীতি ও দলিলসমূহ জানাও ওয়াজিব। ফলে বিধানগুলোর মূলনীতির জ্ঞান অর্জন করাও প্রত্যেকের ওপর ফরজে আইন হবে, যেমনটি বিধানগুলো পালন করা প্রত্যেকের ওপর ফরজ। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, এগুলোর মূলনীতির জ্ঞান অর্জনের আবশ্যকতা সাধারণদের ওপর থেকে রহিত, কারণ তাদের ওপর কেবল আমল করা ওয়াজিব। আর দলিল-প্রমাণের জ্ঞান রাখা আলেমদের কাজ। এই মতটিই অধিকতর প্রশস্ত ও সহজ এবং এটিই অগ্রগণ্য।
দ্বিতীয় প্রকার হলো সেই জ্ঞান যার অর্জন ফরজে কিফায়া। এটি সেই সব বিধান যা পূর্বোক্ত দুই প্রকারের বহির্ভূত, যা পালন করার বাধ্যবাধকতা থেকে মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তির অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফরজে কিফায়ার অর্থ হলো, প্রত্যেক যুগে একদল লোককে এই জ্ঞান অর্জনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে, যাতে যার কোনো বিধান জানার প্রয়োজন হয় সে যেন সেই জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির শরণাপন্ন হতে পারে। এটি ফরজে আইন বা প্রত্যেকের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ফরজ করা হয়নি এই কারণে যে, এ জাতীয় জ্ঞান অর্জন ঐ কাজে পূর্ণ নিবিষ্ট হওয়া ছাড়া সম্ভব নয়। যদি আমরা সবার ওপর এটি আবশ্যক করে দিতাম, তবে দুনিয়াবী জনকল্যাণমূলক কার্যাবলি বিঘ্নিত হতো; কারণ তারা যদি জ্ঞান অর্জনে নিমগ্ন হয়ে যেত, তবে তারা পার্থিব প্রয়োজন মেটানোর জন্য সময় পেত না। সুতরাং এটি ফরজে কিফায়া রাখা হয়েছে যাতে একদল লোক এটি আঞ্জাম দেয় এবং বাকিরা দুনিয়াবী কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারে। এর ফলে দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ের স্বার্থ সুসংহত হয়। ফরজে কিফায়া পালনকারী ব্যক্তিদের প্রত্যেকের মাঝে উসুল (মূলনীতি) এবং আহকাম (বিধান) উভয়ের জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এমন হওয়া চলবে না যে, একদল শুধু আহকামের জ্ঞানের জন্য এবং অন্য দল কেবল উসুলের জ্ঞানের জন্য নির্দিষ্ট হবে। যদি একদল কেবল আহকামের জ্ঞানে এবং অন্য দল কেবল উসুলের জ্ঞানে স্বতন্ত্র হয়ে যায়, তবে তাদের কারো মাধ্যমেই আহকাম ও উসুলের ফরজে কিফায়া আদায় হবে না। কারণ আহকাম হলো উসুলের শাখা, আর উসুল প্রণীতই হয়েছে শাখার জন্য। তাই একটিকে অন্যটি থেকে বিচ্ছিন্ন করা বৈধ নয়।
যারা মনে করেন যে একজন আলেমের জন্য অন্য আলেমের তাকলিদ করা জায়েজ, তারা মনে করেন যে এই উভয় জ্ঞানকে (উসুল ও আহকাম) একজনের মাঝে একত্রিত করা আবশ্যক নয়। বরং এই দুটি বিষয়ের প্রত্যেকটি আলাদাভাবে চর্চা করা হলেও তা একজনের মধ্যে দুই জ্ঞান একত্রিত থাকার মতোই গণ্য হবে এবং এর মাধ্যমে ফরজে কিফায়া আদায় হয়ে যাবে। এরপর তারা ফরজে কিফায়ার ওয়াজিব হওয়ার ধরণ নিয়ে মতভেদ করেছেন। একদল ফকীহ এবং মুতাকাল্লিমদের মধ্য থেকে আশআরিয়া সম্প্রদায় মনে করেন যে, এটি ফরজের অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগতভাবে ওয়াজিব।
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بشرط أن لم يقم به غيره1.
وذهب طائفة من الفقهاء والمعتزلة من المتكلمين إلى أنه غير واجب على احد بعينه إلا بشرط أن لا يقوم به غيره2 فيكون على الوجه الأول فرضا إلا أن يقوم به الغير.
--------------------------------------------
এই শর্তে যে অন্য কেউ তা পালন করেনি ১।
একদল ফকীহ এবং মুতাকাল্লিমদের মধ্য থেকে মুতাজিলাগণ এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, এটি নির্দিষ্টভাবে কারো ওপর ওয়াজিব নয়, তবে এই শর্তে যে অন্য কেউ তা পালন না করে ২। সুতরাং প্রথম দিক বিচারে এটি ফরজ হবে যদি না অন্য কেউ তা সম্পাদন করে।
--------------------------------------------
১. এটিই জমহুর উসুলবিদদের মাযহাব। ফলে একদলের কাজ তাদের প্রতি নির্দেশিত তলবকে রহিত করে দেয়, যেমনটি তা অন্যদের প্রতি নির্দেশিত তলবকেও রহিত করে। সুতরাং যে ব্যক্তি ধারণা করে বা নিশ্চিতভাবে জানে যে অন্য কেউ ওয়াজিবটি পালন করেছে, তার থেকে সেই দাবি রহিত হয়ে যায়।
তারা এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন:
প্রথমত: আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তাদের যেখানেই পাও হত্যা করো}। এখানে আল্লাহ তাআলা আক্রমণকারী কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন এবং যুদ্ধে সক্ষম সকল মুকাল্লাফ ব্যক্তির প্রতি এই সম্বোধন করেছেন। কেননা বহুবচনের 'ওয়াও' ব্যাপকতা প্রকাশের অন্যতম শব্দরূপ, আর ব্যাপক শব্দের মাধ্যমে এর অন্তর্গত প্রতিটি ব্যক্তির প্রতি সম্বোধন করা হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আক্রমণকারী কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ফরজে কিফায়া। সুতরাং যখন একদল তা পালন করে, তখন অবশিষ্টদের ওপর থেকে তা রহিত হয়ে যায়। অতএব, সম্বোধনটি সকলের প্রতি করা হয়েছে, অনির্দিষ্ট কোনো একদলের প্রতি নয়।
দ্বিতীয়ত: ফরজে কিফায়া সবাই মিলে বর্জন করলে সর্বসম্মতিক্রমে সকলেই গুনাহগার হয়। আর সকলের গুনাহগার হওয়া সকলের ওপর এটি অর্পিত হওয়ার প্রমাণ বহন করে। কারণ যে বিষয়ে কোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়নি, সে বিষয়ে তাকে পাকড়াও করা হয় না। সুতরাং সম্বোধনটি সকলের প্রতি করা হয়েছে। দেখুন: নিহায়াতুস সূল লিল-আসনাবী ১/১৯৫, ১৯৬; উসুলুল ফিকহ লি-শায়খ আবু নূর জুহাইর ১/১১৬।
২ এবং তারা এর সপক্ষে দলিল দিয়েছেন: প্রথমত, যদি সম্বোধনটি সকলের সাথে সংশ্লিষ্ট হতো, তবে কিছু লোকের পালনের মাধ্যমে তা সবার ওপর থেকে রহিত হতো না। কারণ যে সম্বোধন প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তার বৈশিষ্ট্য হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজে তা পালন না করা পর্যন্ত তা রহিত হয় না। কিন্তু কিছু লোকের পালনে সবার পক্ষ থেকে বিধান রহিত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সর্বসম্মত। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, সম্বোধনটি মূলত কিছু লোকের ওপর অর্পিত হয়েছে, আর এটিই আমাদের দাবি। এর উত্তর হলো: এখানে সম্বোধনের মাধ্যমে কর্ম সম্পাদনকারীর ব্যক্তিগত পরিচয় মুখ্য নয়, বরং সম্পাদনকারী যেই হোক না কেন, কর্মটি সম্পাদিত হওয়া এবং তার মাধ্যমে উদ্দিষ্ট কল্যাণ অর্জিত হওয়াই মূল উদ্দেশ্য।
তারা দ্বিতীয়ত মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল দিয়েছেন: {তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসলে তাদের সতর্ক করতে পারে, যেন তারা সাবধান হতে পারে}। দলিল গ্রহণের পদ্ধতি হলো এই যে, প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক কর্মের অতিরিক্ত জ্ঞান অর্জন করা ফরজে কিফায়ার অন্তর্ভুক্ত। আর এখানে সম্বোধনটি করা হয়েছে মুসলিমদের একটি অনির্দিষ্ট অংশের প্রতি। অতীতকালীন ক্রিয়ার পূর্বে ব্যবহৃত 'লাওলা' (لولا) শব্দটি ভর্ৎসনা ও অনুশোচনা প্রকাশ করে, যা কেবল ওয়াজিব ত্যাগের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এই দলটি তাদের ওপর অর্পিত একটি ওয়াজিব ত্যাগ করেছে আর তা হলো ইলম অন্বেষণ। সুতরাং এই বাধ্যবাধকতা কেবল তাদের সাথেই সংশ্লিষ্ট। এমতাবস্থায় এই সম্বোধনটি—যা ফরজে কিফায়া—তা কিছু অনির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি নির্দেশিত হয়েছে, আর এটিই আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য।
সমাধান হলো: কিতাবের ঐ সকল দলীলের সাথে বৈপরীত্য সৃষ্টি হওয়া যা সকলের প্রতি সম্বোধন নিবদ্ধ হওয়াকে সাব্যস্ত করে, এবং সেই বৈপরীত্য নিরসনে ব্যাখ্যার আশ্রয় গ্রহণ করা। আর তা হলো আয়াতটিকে এমন অর্থে গ্রহণ করা যে, এই বিশেষ জামাত বা দলের কর্ম সম্পাদনের দ্বারা সকল মুসলিমের ওপর থেকে ওয়াজিব কাজটির বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যায়। কেননা তাদের সেই কাজটির সম্পাদন সকলের ওপর থেকে শরীয়তের দাবি রহিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট। ফলে তা পরিত্যাগ করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করা সঠিক বা সংগত হয়। আর এটি এ কারণে যে, আয়াতসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হয়েছে। দেখুন: আল-আসনাবী প্রণীত নিহায়াতুস সুল ১/১৯৭; শাইখ মুহাম্মাদ আবু আন-নূর যুহাইর প্রণীত উসুলুল ফিকহ ১/১৭-১১৮।
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فيسقط وعلى القول الثاني غير فرض إلا أن لا يقوم به الغير فيجب.
وذهب بعضهم إلى أنه أن غلب على ظنه أن يقوم به غيره لا يجب عليه وأن غلب على ظنه أنه لا يقوم به احد وجب عليه وهذا وجه حسن والخلاف الأول محض صورة لاظهور فائدة فلا أرى له معنى1 واذ قد ذكرنا معنى العلم فلا بد أن نذكر معنى العقل وما قيل في حقيقته.
وقد قيل أنه أصل لكل علم وكان بعض أهل العلم يسميه أم العلم وقد اكثر الناس الخلاف فيه قبل الشرع وبعده ومن كثرة اختلاف الناس فيه قال بعضهم.
سل الناس أن كانوا لديك افاضلا
… عن العقل وانظر هل جوات2 محصل
وقد جعله المتقدمون جوهرة وقالوا: أنه جوهر لطيف يفصل به بين حقائق المعلومات قالوا: وهذا فاسد لانه لو كان جوهر لصح قيامه بذاته فجاز أن يكون عقل بلا عاقل كما جاز أن يكون جسم بغير عقل فحين لم يتصور ذلك دل أنه ليس بجوهر وأما عند كافة المسلمين فهو نوعا من العلم يدخل في جملة اقسامه واختلفوا في حقيقته على أقاويل شتى وقد روى عن الشافعي رحمه الله أنه قال آلة التمييز.
وقال بعضهم العقل بصر القلب وهو بمنزلة البصر من العين ندرك به المعلومات كادراك البصر المشاهدات قاله أبو الحسن عن ابن حمزة الطبري.
وقال بعضهم هو قوة يفصل بها بين حقائق المعلومات وقال بعضهم معنى العقل هو العلم لا فرق بينهما لانه لا فرق عند أهل اللغة وأرباب اللسان بين قولهم علمت وعقلت فيستعملون العلم والعقل على حد ولاحد في معنى واحد ويقولون هذا أمر.
--------------------------------------------
ফলে তা রহিত হয়ে যায় এবং দ্বিতীয় মতানুসারে এটি ফরয নয়, তবে যদি অন্য কেউ তা সম্পাদন না করে তবে তা ওয়াজিব হবে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, যদি তার প্রবল ধারণা হয় যে অন্য কেউ তা সম্পাদন করবে, তবে তার ওপর এটি ওয়াজিব নয়। আর যদি তার প্রবল ধারণা হয় যে কেউ তা সম্পাদন করবে না, তবে তার ওপর এটি ওয়াজিব হবে। এটি একটি উত্তম দৃষ্টিভঙ্গি। আর প্রথম মতপার্থক্যটি নিছক বাহ্যিক, যার কোনো স্পষ্ট উপকারিতা নেই, তাই আমি এর কোনো অর্থ দেখি না। যেহেতু আমরা ইলমের অর্থ উল্লেখ করেছি, তাই এখন আকলের (বুদ্ধিবৃত্তি) অর্থ এবং এর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা উল্লেখ করা আবশ্যক।
বলা হয়েছে যে, এটি প্রতিটি ইলমের মূল এবং কোনো কোনো আলিম একে ‘জ্ঞানের জননী’ বলে অভিহিত করতেন। শরীয়তের আগমনের পূর্বে ও পরে মানুষের মধ্যে এটি নিয়ে মতভেদের আধিক্য রয়েছে। এই বিষয়ে মানুষের মতপার্থক্যের আধিক্যের কারণে তাদের কেউ কেউ বলেছেন:
তোমার কাছে যদি মানুষরা শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য হয় তবে তাদের কাছে আকল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো এবং দেখো তুমি কোনো সঠিক উত্তর পাও কি না।
পূর্ববর্তীগণ একে ‘জওহর’ (সত্তা) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি একটি সূক্ষ্ম জওহর যার মাধ্যমে তথ্যের প্রকৃত স্বরূপের মাঝে পার্থক্য করা যায়। তারা বলেছেন: এটি ভ্রান্ত, কারণ এটি যদি জওহর হতো তবে তা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অবস্থান করা সম্ভব হতো। ফলে আকল অর্জনকারী ব্যক্তি ছাড়াও আকলের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব হতো, যেমন আকল ছাড়াও শরীর থাকা সম্ভব হয়। যখন বিষয়টি কল্পনা করা যায় না, তখন তা প্রমাণ করে যে এটি কোনো জওহর নয়। আর সকল মুসলিমের মতে, এটি এক প্রকার ইলম যা ইলমের প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এর প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে তারা বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। ইমাম শাফিয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একে পার্থক্যের সরঞ্জাম বলেছেন।
তাদের কেউ কেউ বলেছেন যে আকল হলো অন্তরের দৃষ্টি, এবং এটি চোখের দৃষ্টির সমতুল্য; যার মাধ্যমে আমরা তথ্যসমূহ উপলব্ধি করি যেমন করে চোখের দৃষ্টি দৃশ্যমান বস্তুসমূহকে উপলব্ধি করে। আবুল হাসান ইবনে হামজাহ আত-তাবারী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
এবং তাদের কেউ কেউ বলেছেন, এটি এমন একটি শক্তি যার মাধ্যমে তথ্যের প্রকৃত স্বরূপের মাঝে পার্থক্য করা হয়। আবার তাদের কেউ কেউ বলেছেন, আকল বা বুদ্ধির অর্থ হলো ইলম বা জ্ঞান, এই উভয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। কেননা ভাষাবিদ এবং ভাষা বিশারদদের নিকট তাদের এই উক্তি—'আমি জেনেছি' এবং 'আমি বুঝেছি'—এর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। ফলে তারা ইলম এবং আকল শব্দদ্বয়কে একই সীমারেখায় এবং একই অর্থে ব্যবহার করেন এবং তারা বলেন এটি একটি বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
معلوم ومعقول ويقولون اعلم ما تقول واعقل ماتقول وفي استعمال العلماء يقع على اسمه قدر من العلم يميز من قام به بين خير الخيرين وشر الشرين ويصح منه بحصوله به الاستشهاد بالشاهد على الغائب ويخرج به عن حد المجانين والمعتوهين ويصح معه التكليف والخطاب.
ويمكن أن يقال أنه قوة ضرورية للوجود بها يصح درك الأشياء ويتوجه تكليف الشرع وهو ما يعرفه كل انسان من نفسه ولا يستدل عليه بغيره لأن الاستدلال يفتقر إلى علم ينتظر فيه وأصل يعتمد عليه ولو كان غيره دليلا عليه لكان مكتسبا لا ضروريا ثم أن العقل تختلف مراتبه.
فأولها: إدراك مايدرك بديهة وعلم ما يعلم بأول الراي وأعلاها ادراك الغائبات بالوسائط واسم العقل منتفى عن الله تعالى لأن علمه احاط بالأشياء لا عن جهة الاستدلال ولا بالترقى إلى معرفتها بالاجتهاد ولأن الأصل في اسامي الرب تعالى هو التوقيف ولا توقيف في وصف الله تعالى بالعقل فلا يوصف به واعلم أن محله القلب لأن محل سائر العلوم القلب فكذلك هذا ايضا ولأن الله تعالى قال: {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى لِمَنْ كَانَ لَهُ قَلْبٌ} [قّ: 37] أي عقل دل أن محله القلب حيث عبر به عنه وقال بعض اصحاب ابي حنيفة أن محله الدماغ يقال فلان خفيف الدماغ أى ليس له عقل ولأنه إذا جن الدماغ ذهب العقل والأول اصح وقد قال جماعة أن العقل عقلان عقل غريزى وهو القوة المتهيئة لقبول العلم وهو من حيث القوة موجود في كل خليقة من الادميين وجوده في الطفل كوجود النخل في النواة والسمبل في الحبة.
والثاني: عقل مستفاد وهو الذي تتقوى به تلك القوة وقد يحصل باختيار من العبد ويحصل بغير اختيار منه قالوا: والعقل الغريزي بمنزلة البصر للجسد والمستفاد بمنزلة النور فكما أن المبصر لم يكن له نور من الجو لم يدرك بصره شيئا فكذلك العقل إذا لم يكن له نور من العلم المستفاد لم تعد بصيرة قال الله تعالى: {وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُوراً فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ} [النور: 40] وما ذكرناه أولا من باب الفقهاء وطريقتهم هي الأولى وإذا عرفنا العلم واقسامه فنقول قد بينا أن الأصول أربعة الكتاب والسنة والاجماع والقياس وقال بعض اصحابنا ومعقول أصل واستصحاب الحال وقالوا: دخل في معقول الأصل دليل الخطاب وفحوى الخطاب ولحسن الخطاب وفى استصحاب الحال خلاف سنذكره.
এটি সুবিদিত ও বুদ্ধিবৃত্তিক এবং তারা বলে থাকে, ‘তুমি যা বলছ তা জানো’ এবং ‘তুমি যা বলছ তা অনুধাবন করো’। আর আলেমদের পরিভাষায় এ নামটি ইলম বা জ্ঞানের এমন একটি মাত্রার ওপর প্রয়োগ করা হয়, যার মাধ্যমে এর অধিকারী ব্যক্তি দুটি কল্যাণের মধ্যে কোনটি উত্তম এবং দুটি মন্দের মধ্যে কোনটি অধিকতর মন্দ—তা পার্থক্য করতে পারে। এর মাধ্যমেই দৃশ্যমান বিষয়ের নিরিখে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে প্রমাণ উপস্থাপন করা শুদ্ধ হয় এবং এর দ্বারাই ব্যক্তি পাগল ও জড়বুদ্ধিসম্পন্নদের পর্যায় থেকে মুক্ত হয় এবং এর ভিত্তিতেই শারয়ী দায়বদ্ধতা ও সম্বোধন বৈধ হয়।
এবং এটিও বলা সম্ভব যে, এটি অস্তিত্বের জন্য একটি অপরিহার্য শক্তি যার মাধ্যমে বস্তুনিচয়ের অনুধাবন সঠিক হয় এবং শরীয়তের বিধিবিধান অর্পিত হয়; এটি এমন এক বিষয় যা প্রত্যেক মানুষ নিজের সত্তা থেকেই জানে এবং এর জন্য অন্য কিছুর দ্বারা প্রমাণের প্রয়োজন পড়ে না। কেননা, প্রমাণ পেশ করার প্রক্রিয়াটি এমন জ্ঞানের মুখাপেক্ষী যার জন্য অপেক্ষা করতে হয় এবং এমন মূলনীতির মুখাপেক্ষী যার ওপর নির্ভর করতে হয়। যদি অন্য কোনো কিছু এর অস্তিত্বের প্রমাণ হতো, তবে এটি অপরিহার্য না হয়ে বরং অর্জিত হতো। অধিকন্তু, আকল বা বুদ্ধির বিভিন্ন স্তর বিদ্যমান।
এর প্রথমটি হলো: স্বতঃস্ফূর্তভাবে যা উপলব্ধি করা যায় তা উপলব্ধি করা এবং প্রাথমিক চিন্তার মাধ্যমে যা জানা যায় তা জানা। আর এর সর্বোচ্চ স্তর হলো মাধ্যমসমূহের সাহায্যে অদৃশ্য বিষয়াবলি উপলব্ধি করা। এবং আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে 'আকল' (বিবেচনাশক্তি) নামটি প্রযোজ্য নয়, কারণ তাঁর জ্ঞান কোনো দলীল-প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল হওয়া ছাড়া কিংবা গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞানের স্তরে উন্নীত হওয়া ছাড়াই সমস্ত বিষয়কে পরিবেষ্টন করে আছে। এছাড়া মহান রবের নামসমূহের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো এটি 'তাওকীফী' (শরীয়ত নির্ধারিত)। আর আল্লাহ তাআলাকে 'আকল' দ্বারা গুণান্বিত করার ব্যাপারে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না, তাই তাঁকে এর মাধ্যমে গুণান্বিত করা যাবে না। জেনে রাখুন যে, এর স্থান হলো অন্তর; কারণ অন্যান্য সকল জ্ঞানের আধার হলো অন্তর, আর এটিও তদ্রূপ। এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার অন্তর আছে" [ক্বাফ: ৩৭], অর্থাৎ যার বিবেক আছে। এটি প্রমাণ করে যে এর স্থান হলো অন্তর, যেহেতু অন্তর শব্দটি দিয়ে বিবেককে বোঝানো হয়েছে। ইমাম আবু হানিফার কোনো কোনো অনুসারী বলেছেন যে, এর স্থান হলো মস্তিষ্ক। বলা হয়ে থাকে যে, অমুক ব্যক্তি 'মস্তিষ্ক হালকা' অর্থাৎ তার বিবেক নেই। আর মস্তিষ্ক যখন বিকৃত হয়ে যায় তখন বিবেক চলে যায়। তবে প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ। একদল আলিম বলেছেন যে, আকল হলো দুই প্রকার; একটি হলো সহজাত আকল, যা জ্ঞান গ্রহণের উপযুক্ত শক্তি। শক্তির দিক থেকে এটি প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যেই বিদ্যমান; শিশুদের মধ্যে এর অস্তিত্ব ঠিক তেমনই, যেমন বীজের মধ্যে খেজুর গাছ বা শস্যদানার মধ্যে শীষ লুকায়িত থাকে।
দ্বিতীয়টি হলো: অর্জিত বুদ্ধি, আর এটি হলো সেই মাধ্যম যার দ্বারা ঐ শক্তি সুদৃঢ় হয়। এটি কখনও বান্দার ইচ্ছায় অর্জিত হয়, আবার কখনও তার ইচ্ছা ছাড়াই অর্জিত হয়। তারা বলেন: সহজাত বুদ্ধি দেহের জন্য দৃষ্টিশক্তির সমতুল্য এবং অর্জিত বুদ্ধি আলোর সমতুল্য। সুতরাং দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তির জন্য যদি পরিপার্শ্ব থেকে কোনো আলো না থাকে, তবে তার দৃষ্টিশক্তি কোনো কিছুই উপলব্ধি করতে পারে না; ঠিক তেমনি বুদ্ধির নিকট যদি অর্জিত জ্ঞানের আলো না থাকে, তবে তা আর অন্তর্দৃষ্টি থাকে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আল্লাহ যার জন্য কোনো আলো রাখেননি, তার জন্য কোনো আলো নেই} [আন-নূর: ৪০]। আমরা প্রথমে যা উল্লেখ করেছি তা ফকীহগণের পরিভাষা অনুযায়ী এবং তাঁদের পদ্ধতিই শ্রেষ্ঠ। যখন আমরা জ্ঞান ও তার প্রকারভেদ সম্পর্কে জানলাম, তখন আমরা বলি যে, আমরা ইতিপূর্বেই বর্ণনা করেছি যে মূল উৎস চারটি: কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস। আমাদের কোনো কোনো সঙ্গী বলেছেন: মূলের যৌক্তিকতা এবং অবস্থার ধারাবাহিকতাও এর অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা বলেন: মূলের যৌক্তিকতার মধ্যে দলীলুল খিতাব, ফাহওয়াল খিতাব এবং লাহুনুল খিতাব অন্তর্ভুক্ত। আর ইস্তিশহাবুল হালের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে যা আমরা সামনে উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
"الكتاب" فأما الكتاب فهو أم الدلائل وقيم البيان لجميع الأحكام قال الله تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَاناً لِكُلِّ شَيْءٍ} [النحل: 89] وقال الله تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: 38] وقال تعالى: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ} [ابراهيم: 1] .
قال الشافعي رحمه الله ليست تنزل بأحد في الدين نازلة إلا وفي كتاب الله تعالى الدليل على سبيل الهدى فيها.
فإن قال قائل أن من الأحكام مايثبت لهذا بالسنة قلنا ذلك مأخوذ من كتاب الله في الحقيقة لان كتاب الله تعالى أوجب علينا اتباع الرسول صلوات الله عليه وفرض علينا الأخذ بقوله وحذرنا مخالفته قال الله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] وقال تعالى: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ} [التغابن: 12] وقال تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ} [النور: 63] .
قال الشافعي فما قيل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فعن الله قيل فإن قيل هيئات القبوض في البياعات وكيفية الاحراز في السرقة وغالب العقود في المعاملات ليس لها أصل في الكتاب ولا في السنة.
قلنا قد قال الله تعالى: {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ} [الأعراف:199] والعرف ما يعرفه الناس ويتعارفونه فيما بينهم معاملة فصار العرف في صفة القبوض والإحراز والنفوذ معتبرا بالكتاب فعلى هذا نقول أن الكتاب أمثل الدلائل والسنة ماخوذة منه والقياس مأخوذ من الكتاب والسنة والاجماع ماخوذ من الكتاب والسنة والقياس.
وكتاب الله تعالى هو المنقول إلينا بطريق التواتر على وجه يوجب العلم المقطوع الذي لا يخامره شك ولاشبهة وهو المثبت بين الدفتين فكل من عاين الرسول صلى الله عليه وسلم حصل العلم بالسماع وهو أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم أن هذا هو القران الذي انزله الله تعالى وهو كلامه ووحيه ومن لم يعاين الرسول حصل له العلم بالنقل المتواتر خلفا عن سلف وذلك العلم هو أنه ثبت عندنا أن محمدا صلى الله عليه وسلم بما اقام به الدليل وثبت أنه كان يقول: أن الكتاب الذي جاء به هو هذا القران وانه كلام الله عز وجل ووحيه ولا نقول انا علمنا أنه كلام الله بالاعجاز لانه يجوز أن يعجز الله الخلق عن الاتيان بمثل1.
--------------------------------------------
"আল-কিতাব" (পবিত্র কুরআন)। কিতাব হলো সকল দলিলের মূল এবং সমস্ত বিধানের সুস্পষ্ট বর্ণনার ভিত্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি যা সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা।} [আন-নাহল: ৮৯]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দেইনি।} [আল-আনআম: ৩৮]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এটি একটি কিতাব যা আমি আপনার প্রতি নাজিল করেছি যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন।} [ইবরাহিম: ১]।
ইমাম শাফেঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, দ্বীনের ক্ষেত্রে কারো ওপর এমন কোনো নতুন বিষয় বা সমস্যা আপতিত হয় না যার সঠিক পথের নির্দেশনা আল্লাহর কিতাবে বিদ্যমান নেই।
যদি কেউ বলে যে, কিছু বিধান তো সুন্নাহর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়, তবে আমরা বলব যে, তা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কিতাব থেকেই গৃহীত। কেননা আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর রাসুলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) অনুসরণ আবশ্যক করেছেন, তাঁর নির্দেশ গ্রহণ করাকে ফরজ করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করা থেকে আমাদের সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {রাসুল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} [আল-হাশর: ৭]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো।} [আত-তাগাবুন: ১২]। তিনি আরও বলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয়।} [আন-নূর: ৬৩]।
ইমাম শাফেঈ বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই বর্ণিত হয়েছে। এখন যদি বলা হয় যে, ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে হস্তান্তরের পদ্ধতি, চুরির ক্ষেত্রে মালামাল সংরক্ষণের ধরন এবং লেনদেনের অধিকাংশ চুক্তির কোনো মূল ভিত্তি কিতাব কিংবা সুন্নাহতে নেই।
আমরা বলি, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন, সৎকাজের নির্দেশ দিন এবং মূর্খদের এড়িয়ে চলুন} [আল-আরাফ: ১৯৯]। আর ‘উরফ’ (প্রথা) হলো তা, যা মানুষ চেনে এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে যা প্রচলিত রাখে। ফলে কবজা (দখল), সংরক্ষণ ও কার্যকারিতার বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে ‘উরফ’ কিতাব (কুরআন) অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য সাব্যস্ত হয়েছে। অতএব, এর ভিত্তিতে আমরা বলি যে, ‘কিতাব’ (কুরআন) হলো সর্বোত্তম দলিল, আর সুন্নাহ তা থেকে গৃহীত, কিয়াস কিতাব ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত এবং ইজমা কিতাব, সুন্নাহ ও কিয়াস থেকে গৃহীত।
আর আল্লাহ তাআলার কিতাব হলো তা, যা আমাদের নিকট তাওয়াতুর (অবিচ্ছিন্ন জনশ্রুতি) পদ্ধতিতে এমনভাবে বর্ণিত হয়েছে যা অকাট্য জ্ঞান দান করে, যার মধ্যে কোনো সন্দেহ বা সংশয়ের অবকাশ নেই। আর এটি দুই মলাটের মাঝখানে লিপিবদ্ধ রয়েছে। সুতরাং যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রত্যক্ষ করেছেন, তারা শ্রবণের মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করেছেন; অর্থাৎ তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছেন যে, এটিই সেই কুরআন যা আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেছেন এবং এটি তাঁর কালাম (বাণী) ও ওহী। আর যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রত্যক্ষ করেনি, তাদের নিকট পূর্বসূরিদের থেকে উত্তরসূরিদের মাঝে নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জিত হয়েছে। আর সেই জ্ঞানটি হলো—আমাদের নিকট এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দলিলের মাধ্যমে যা প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং এটিও প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলতেন: তিনি যে কিতাব নিয়ে এসেছেন তা হলো এই কুরআন এবং এটি মহান আল্লাহর কালাম ও তাঁর ওহী। আমরা এটি বলি না যে, আমরা মুজিজা বা অলৌকিকত্বের মাধ্যমে জেনেছি যে এটি আল্লাহর কালাম; কারণ এটি সম্ভব যে আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম করে দিয়েছেন১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
كلام لا يكون ذلك الكلام كلامه بل بالمعجزات عرفنا نبوة الرسول صلوات الله عليه ونقول عرفنا أن القرآن كلام الله عز وجل ونقول أن القران في نفسه معجز لا يجوز أن ياتي أحد بمثله في جزالته وفصاحته ونظمه وكذلك من حيث معانيه هو معجز الخلق عن الاتيان بمثله ومع تحدي الرسول صلوات الله عليه وسلم وطلبه اياهم أن ياتوا بمثله فعجزوا عنه ولا نقول كما قال بعض المبتدعة أن نفس القران ليس بمعجز فإن فصاحة بعض الفحول من شعراء الجاهلية لا تكون دون فصاحته وإنما الاعجاز في القران هو أن الله عز وجل منع الخلق عن الإتيان بمثله مع قدرتهم عليه وهذا قول باطل وزعم كاذب سمعت والدي رحمه الله يقول: أن هذا قول اخترعه الجاحظ ولم يسبقه إليه احد وقال بعده فاياه اتبع وعلى منواله نسج وهو في نفسه مستسمج مستهجر بالتامل في نظم القران وجزالته وفصاحته وعرضه على كل نظم عرف من اساليب كلام العرب وكل كلام فصيح عرف من كلامهم ثم امتيازه عن الكل بروائه وبهائه وطلاوته وحلاوته واعرافه وابتنائه واعجازه ظاهر لكل ذي لب من الناس لولا خذلان يلحق بعض القوم ونسال الله العصمة بمنه ولا يحتمل هذا الموضوع بيان وجوه الاعجاز في القران وقد كفينا مؤنة ذلك بحمد الله بمنه واعنى بذلك جماعة من علماء أهل السنة والله تعالى يشكر سعيهم ويرحمهم وإيانا بمنه.
والمصحف الامام: هو هذا المصحف الذي بين المسلمين جمع في زمان ابي بكر الصديق رضي الله عنه باجماع الصحابة واخرج في زمن عثمان رضي الله عنه ونسخ منه المصاحف وفرقت في البلدان وعليه الاتفاق.
وفي الباب خطب كبير واقتصرنا على هذا القدر وقد دل اتفاق المسلمين على أن ما بين الدفتين كلام الله تعالى وعلى أن التسمية من فاتحة الكتاب وكذلك هي من القران في كل موضع اثبت في المصاحف وقد اتينا على هذا الدليل في الخلافيات.
" السنة " وأما السنة: فهو الأصل الثاني وهو تلو الكتاب وهي عبارة عن كل ما شرعه الرسول صلى الله عليه وسلم لهذه الأمة قولا وفعلا.
قال أبو سليمان الخطابي هي الطريقة المسلوكة في الأمر المحمود وأصلها من قولهم سننت الشيء بالمسن إذا امررته عليه حتى يؤثر فيه تسنينا أي طرائق فإذا اطلقت السنة اريد بها الطريقة المحمودة وإذا قيدت كانت في الخير والشر لقوله صلى الله عليه وسلم: " من سن سنة حسنة فله اجرها واجر من عمل بها إلى يوم القيامة ومن سن سنة سيئة
এমন বাণী যা তাঁর (আল্লাহর) বাণী হবে না এমন নয়, বরং মুজিযাসমূহের মাধ্যমেই আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আমরা বলি যে, আমরা জেনেছি কুরআন মহান আল্লাহর বাণী। আমরা আরও বলি যে, কুরআন স্বয়ং একটি মুজিযা; এর গাম্ভীর্য, প্রাঞ্জলতা ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে কেউ এর সমতুল্য কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম নয়। অনুরূপভাবে এর অর্থগত দিক থেকেও এটি সৃষ্টিজগতকে এর সমতুল্য কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম করে দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চ্যালেঞ্জ এবং তাদের প্রতি এর সমতুল্য কিছু আনার দাবির মুখে তারা তা করতে অক্ষম হয়েছে। আমরা কিছু বিদআতির মতো বলি না যে, কুরআনের সত্তা মুজিযা নয়, বরং জাহেলি যুগের কতিপয় শ্রেষ্ঠ কবির প্রাঞ্জলতা কুরআনের প্রাঞ্জলতার চেয়ে কম ছিল না; এবং কুরআনের মুজিযা হওয়ার অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে এর অনুরূপ কিছু আনতে বাধা প্রদান করেছেন যদিও তারা তাতে সক্ষম ছিল—এটি একটি বাতিল কথা এবং মিথ্যা দাবি। আমি আমার পিতাকে (রহিমাহুল্লাহ) বলতে শুনেছি যে, এটি আল-জাহিয কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি কথা এবং তার আগে কেউ এমন কথা বলেনি। তার পরবর্তী লোকেরা তাকেই অনুসরণ করেছে এবং তার পথেই চলেছে। কুরআনের বিন্যাস, গাম্ভীর্য ও প্রাঞ্জলতার প্রতি গভীরভাবে চিন্তা করলে এবং আরবে প্রচলিত সকল বাকরীতি ও তাদের সকল প্রাঞ্জল বাণীর সাথে একে তুলনা করলে এটি স্পষ্ট হয় যে এই মতটি অত্যন্ত কদর্য ও পরিত্যক্ত। অতঃপর সকল বাণীর উপর এর সৌন্দর্য, উজ্জ্বলতা, মাধুর্য, মিষ্টতা, উচ্চমর্যাদা, গঠনশৈলী এবং এর মুজিযা হওয়ার বিষয়টি প্রত্যেক বুদ্ধিমান মানুষের নিকট সুস্পষ্ট, যদি না একদল লোকের ওপর লাঞ্ছনা নেমে আসত। আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহে সুরক্ষা প্রার্থনা করি। কুরআনের মুজিযা হওয়ার বিভিন্ন দিক বিস্তারিত বর্ণনা করার জন্য এই স্থানটি যথেষ্ট নয়। আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে আহলুস সুন্নাহর একদল উলামা আমাদের জন্য এই পরিশ্রম সম্পন্ন করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং তাঁর অনুগ্রহে তাদের ওপর ও আমাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
ইমাম মুসহাফ: এটি সেই মুসহাফ যা মুসলিমদের নিকট বিদ্যমান, যা আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে সাহাবায়ে কেরামের ঐকমত্যে সংকলিত হয়েছিল এবং উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে তা প্রকাশ করা হয়েছিল। তা থেকে আরও অনেক প্রতিলিপি তৈরি করে বিভিন্ন জনপদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং এর ওপরই সকলের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে, তবে আমরা এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকলাম। মুসলিমদের ঐকমত্য এই বিষয়ের ওপর প্রমাণ দেয় যে, দুই মলাটের মধ্যবর্তী সবকিছুই আল্লাহ তাআলার কালাম। আরও প্রমাণ দেয় যে, বিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহার অংশ এবং একইভাবে এটি কুরআনের অংশ সেই প্রতিটি স্থানে যেখানে এটি মুসহাফসমূহে সাব্যস্ত হয়েছে। আমরা খিলাফিয়্যাত গ্রন্থে এই দলিল বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।
সুন্নাহ: আর সুন্নাহর প্রসঙ্গে বলতে গেলে, এটি হলো দ্বিতীয় মূল উৎস এবং এটি কিতাবুল্লাহর অনুগামী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই উম্মতের জন্য কথা ও কাজের মাধ্যমে যা কিছু শরীয়ত হিসেবে প্রবর্তন করেছেন, সুন্নাহ হলো তারই নাম।
আবু সুলায়মান আল-খাত্তাবী বলেন, এটি হলো প্রশংসনীয় বিষয়ে অনুসৃত পথ। এর মূল বুৎপত্তি হলো আরবদের উক্তি 'আমি শাণপাথর দিয়ে বস্তুটিকে মসৃণ করলাম' থেকে, যখন তুমি কোনো বস্তুর ওপর তা বারবার পরিচালনা করো যাতে তাতে রেখাপাত বা তাসনীন তথা পথের সৃষ্টি হয়। সুতরাং সুন্নাহ শব্দটি যখন নিঃশর্তভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর দ্বারা প্রশংসনীয় পথই উদ্দেশ্য থাকে। আর যখন তা কোনো গুণের সাথে যুক্ত হয়, তখন তা ভালো ও মন্দ উভয় অর্থেই হতে পারে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: যে ব্যক্তি কোনো উত্তম পদ্ধতির সূচনা করবে, তার জন্য রয়েছে এর প্রতিদান এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা এর ওপর আমল করবে তাদের প্রতিদান। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ পদ্ধতির সূচনা করবে।
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فعليه وزرها ووزر من عمل بها إلى يوم القيامة" 1.
ويقال السنة عبارة عن السيرة قال الشاعر:
فلا تجزعن من سنة انت سرتها
… فأول راضى بسنة من يسير بها
معناه من سيرة انت سرتها فسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم هي الطريقة التي سلكها رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم لها مراتب ونقل بعضها يوجب العمل ونقل بعضها يوجب العلم وسيرد ذلك في باب الاخبار بعون الله تعالى.
وأما الملة: فهي عبارة عن شريعة الرسول صلى الله عليه وسلم.
وقيل هي عبارة عما يمله الملك على النبي صلى الله عليه وسلم من علم الوحى.
"الاجماع" وأما الأصل الثالث وهو الاجماع فهو حجة خلافا لبعض الناس وسنبين ذلك والاجماع في اللغة العزم على الأمر يقال اجمعت على الشيء وازمعت عليه بمعنى واحد ومنه قوله تعالى: {فَأَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ وَشُرَكَاءَكُمْ} [يونس: 71] أي اعرضوه فامضوه.
وقد قيل في عبارة أن الفقه استفاضة القول وانتشاره في الجماعة الذي نسب الاجماع اليهم وفي مسائل الاجماع كلام كثير وسياتي بيانه أن شاء الله.
" القياس " والأصل الرابع هو القياس وأصله في اللغه التقدير ولذلك يقال للميل الذي يسد به غور الجرح2 مقياس ومسيار.
قال الشماخ ودلج الليل مهاد قياس أي يصير بالطرق مقدر ليسير فيما يقضى بانتهائه إلى المقصد.
ويقال أنه حمل الشيء على الشيء في بعض أحكامه لنوع من الشبه وسياتي الكلام فيه على الاشباع ونذكر معنى العله والسبب والشرط والعرف والفرق بين هذه الاشياء لغة وفي عرف الفقهاء وإذا عرفت هذه الأصول فلا بد من النظر في هذه الأصول لتعرف أحكام الشريعة.
--------------------------------------------
তবে তার ওপর তার (সেই পাপের) বোঝা এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই কাজ করবে তাদের পাপের বোঝা চাপবে।
আর বলা হয় যে, সুন্নাহ হলো জীবনপদ্ধতির নামান্তর। জনৈক কবি বলেছেন:
তুমি সেই পদ্ধতির কারণে বিচলিত হয়ো না যা তুমি নিজেই প্রবর্তন করেছ
। কেননা কোনো পদ্ধতির ওপর প্রথম সন্তুষ্ট ব্যক্তি তো সেই যে তা নিজে অনুসরণ করে।
এর অর্থ হলো এমন এক জীবনপদ্ধতি যা তুমি নিজে অবলম্বন করেছ। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ হলো সেই পথ যা তিনি নিজে অনুসরণ করেছেন। অতঃপর এর বিভিন্ন স্তর রয়েছে। এর কিছু বর্ণনা আমল করা ওয়াজিব করে এবং কিছু বর্ণনা ইলম অর্জন করা ওয়াজিব করে। আল্লাহর সাহায্যে অচিরেই সংবাদের অধ্যায়ে এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে।
আর মিল্লাত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীয়তের নামান্তর।
কেউ কেউ বলেছেন, ফেরেশতা ওহীর জ্ঞান থেকে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি পাঠ করেন, তাই হলো মিল্লাত।
"ইজমা": আর তৃতীয় মূলনীতি হলো ইজমা। কিছু মানুষের ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও এটি একটি দলিল এবং আমরা অচিরেই তা স্পষ্ট করব। অভিধানে ইজমা অর্থ কোনো বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প করা। বলা হয়ে থাকে 'আমি অমুক বিষয়ে ইজমা করেছি' এবং 'আমি অমুক বিষয়ে দৃঢ় ইচ্ছা করেছি', যা মূলত একই অর্থ বহন করে। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা তোমাদের সিদ্ধান্ত ও তোমাদের শরীকদের সংহত করো} [ইউনুস: ৭১], অর্থাৎ এটি জনসমক্ষে পেশ করো এবং তা কার্যকর করো।
বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, ফিকহ হলো সেই জনসমষ্টির মধ্যে কোনো বক্তব্যের প্রসিদ্ধি ও ব্যাপক প্রচার লাভ করা যাদের প্রতি ইজমা সম্পৃক্ত করা হয়। ইজমার মাসআলাসমূহে অনেক দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ অচিরেই তার বর্ণনা আসবে।
"কিয়াস": আর চতুর্থ মূলনীতি হলো কিয়াস। অভিধানে এর মূল অর্থ হলো পরিমাপ করা। এই কারণে ক্ষতের গভীরতা নির্ণয় করার শলাকাকে 'মিকইয়াস' ও 'মিসইয়ার' বলা হয়।
শাম্মাখ বলেছেন, রাতের আঁধারে পথচলা হলো পরিমাপের শয্যা স্বরূপ। অর্থাৎ এটি এমন পথে পরিণত হয় যা গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পরিমিত।
আর বলা হয়ে থাকে যে, এক বস্তুকে অন্য বস্তুর ওপর এর কিছু বিধানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় এক প্রকার সাদৃশ্যের কারণে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে। আমরা ইল্লত (কার্যকারণ), সাবাব (কারণ), শর্ত ও উরফ (প্রথা) এর অর্থ এবং এগুলোর মধ্যকার আভিধানিক ও ফকিহগণের পরিভাষাগত পার্থক্য উল্লেখ করব। আর যখন আপনি এই মূলনীতিগুলো জানতে পারবেন, তখন শরীয়তের বিধানাবলি জানার জন্য এই মূলনীতিগুলোতে দৃষ্টিপাত করা আবশ্যক হয়ে পড়বে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
" النظر " فالنظر هو الفكر في حال المنظور إليه والتوصل بأدلته إلى المطلوب1.
يقال تناظر الرجلان إذا تقابلا بنظريهما ايهما المصيب وابهما المخطىء.
وقيل هو تصفح الادلة لاستخراج الأحكام وللنظر شروط.
أحدها أن يكون الناظر كامل الالة على ما نذكره في باب المعنى.
الثاني أن يكون نظره في دليل لا في شبهة.
والثالث أن يستوفى شروط الدليل وترتيبه على حقيقته بتقديم ما يجب تقديمه وتأخير مايجب تأخيره.
يجب أن يكون المطلوب هو علم الاكتساب لا علم الضرورة وفى الاجتهاد كلام كثير في بابه.
"الجدل" والجدل قريب معناه من النظر إلا أن النظر يكون من الناظر وحده والجدل إنما يكون بمنازعة غيره وأصله من الجدل [وهو الفتل] 2 كانه فتل صاحبه بالحجاج عن رايه ومذهبه إلى راى غيره3.
وقال بعضهم الجدل اكثره في الباطل والنظر في الحق.
" الدليل " وأما الدليل هو المرشد إلى المطلوب وقالوا: ايضا هو الدال على الشيء والهادي يقال دل على كذا فهو دال ودليل كما يقال عالم وعليم وقادر وقدير4.
والدلالة مصدر وقد يقال دليلي كذا أي دلالتي والمصدر يوضع موضع الأسماء5.
--------------------------------------------
"নজর" (তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ): নজর হলো যা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে তার অবস্থা নিয়ে চিন্তা করা এবং এর দলীলসমূহের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।
বলা হয়, দুজন ব্যক্তি বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে যখন তারা তাদের নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয় যে, তাদের মধ্যে কে সঠিক এবং কে ভ্রান্ত।
আরও বলা হয়েছে, এটি হলো বিধানসমূহ আহরণের উদ্দেশ্যে দলীলসমূহ পর্যালোচনা করা। আর নজরের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে।
এর একটি হলো, পর্যবেক্ষককে পূর্ণ যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে, যেমনটি আমরা 'মা'না' (অর্থ) বিষয়ক অধ্যায়ে আলোচনা করব।
দ্বিতীয়ত, তার পর্যবেক্ষণ হতে হবে দলীলনির্ভর, কোনো সংশয়ের ভিত্তিতে নয়।
তৃতীয়ত, দলীলের শর্তাবলি পূর্ণ করা এবং এর যথাযথ বিন্যাস বজায় রাখা; অর্থাৎ যা আগে আনা আবশ্যক তাকে আগে আনা এবং যা পরে রাখা আবশ্যক তাকে পরে রাখা।
আবশ্যক হলো কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি যেন অর্জিত জ্ঞান হয়, আবশ্যিক জ্ঞান নয়। আর ইজতিহাদ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
"জাদাল" (বিতর্ক): জাদালের অর্থ নজরের কাছাকাছি, তবে পার্থক্য হলো নজর কেবল একজন পর্যবেক্ষকের পক্ষ থেকে হতে পারে, কিন্তু জাদাল হতে হয় অন্যের সাথে বাদানুবাদের মাধ্যমে। এর মূল অর্থ হলো 'পাকানো' বা 'মোচড়ানো'; যেন সে তার প্রতিপক্ষকে দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে তার নিজস্ব মত ও মাযহাব থেকে বিচ্যুত করে অন্যের মতের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
কেউ কেউ বলেছেন, জাদালের প্রয়োগ অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসত্যের পক্ষে হয়, আর নজরের প্রয়োগ হয় সত্যের সন্ধানে।
"দলীল" (প্রমাণ): আর দলীলের পরিচয় হলো যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে পথপ্রদর্শক। উলামায়ে কিরাম আরও বলেন: এটি হলো কোনো বিষয়ের নির্দেশক ও পথপ্রদর্শক। যেমন বলা হয় 'অমুক বিষয়ের দিকে পথ দেখিয়েছে', অতএব সে পথপ্রদর্শক; যেমনটি বলা হয় ‘আলিম’ ও ‘আলীম’ এবং ‘কাদির’ ও ‘কাদীর’।
'দিললাত' হলো একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল)। কখনো কখনো বলা হয় ‘আমার দলীল হলো এটি’, যার অর্থ ‘আমার নির্দেশনা’। এখানে মাসদারটি বিশেষ্যের স্থলে ব্যবহৃত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقد قال اكثر المتكلمين وبعض الفقهاء لا يستعمل الدليل إلا فيما يؤدى إلى العلم فاما فيما يؤدى إلى الظن فلا يقال دليل وإنما يقال له امارة عند عامة الفقهاء أنه لا فرق بينهما لأن العرب لا تفرق في تسمية الدليل من ما يؤدى إلى العلم ويؤدى إلى الظن وأما الدال في ذكرنا إنما الدليل واحد.
وقيل هو الناصب للدليل وهو الله تعالى.
والمستدل: هو الطالب للدليل ويقع على السائل لانه يطلب الدليل من المسئول ويقع على المسئول لانه يطلب الدليل من الأصول1.
والمستدل عليه: هو الحكم الذي يطلب من التحليل والتحريم2.
والمستدل له: يقع على الحكم لانه يطلب له الدليل ويقع على السائل لانه يطلب الدليل3.
والاستدلال: طلب الدليل وقد يكون ذلك من السائل والمسئول جميعا4.
فان قال قائل قد ذكرتم الحد في هذه الاشياء فما معنى الحد الحد وحده قلنا هو اللفظ الوجيز المحيط بالمعنى5.
وقيل هو الجامع المانع6.
وقيل معناه أنه يجمع الشيء المقصود به ويمنع دخول غيره عليه7.
وقد قيل الحد هو النهاية التي إليها تمام المعنى وحدود الدار ماخوذة من هذا لانها نهايات الاملاك وكذلك حدود الله تعالى التي ضربها لفرائضه نهايات لها لئلا تتعدى.
--------------------------------------------
অধিকাংশ মুতাকাল্লিম এবং কিছু ফকিহ বলেছেন যে, 'দলিল' শব্দটি কেবল সেই বিষয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয় যা নিশ্চিত জ্ঞানের দিকে নিয়ে যায়। আর যা প্রবল ধারণার দিকে নিয়ে যায়, তাকে 'দলিল' বলা হয় না, বরং সাধারণ ফকিহদের মতে একে 'আমারাহ' (নিদর্শন) বলা হয়। তাদের মতে এ দুয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, কারণ আরবরা যা নিশ্চিত জ্ঞানের দিকে নিয়ে যায় এবং যা প্রবল ধারণার দিকে নিয়ে যায়, উভয়ের নামকরণে 'দলিল' শব্দের ব্যবহারে কোনো পার্থক্য করে না। আর আমাদের বর্ণনায় 'দাল' বা নির্দেশক বলতে দলিল কেবল একটিই।
এবং বলা হয়েছে, তিনি হলেন দলিলের স্থাপনকারী, আর তিনি হলেন মহান আল্লাহ।
মুস্তাদিল: তিনি হলেন দলিলের অন্বেষণকারী। এটি প্রশ্নকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় কারণ সে উত্তরদাতার কাছে দলিল প্রার্থনা করে, এবং এটি উত্তরদাতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয় কারণ সে মূল উৎসসমূহ থেকে দলিল অন্বেষণ করে।
মুস্তাদাল আলাইহি: এটি হলো সেই বিধান যা হালাল ও হারাম হওয়ার বিশ্লেষণ থেকে অন্বেষণ করা হয়।
মুস্তাদাল লাহু: এটি বিধানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় কারণ তার জন্য দলিল অন্বেষণ করা হয়, আবার এটি প্রশ্নকারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয় কারণ সে দলিল প্রার্থনা করে।
ইস্তিদলাল: এটি হলো দলিলের অন্বেষণ, যা প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতা উভয়ের পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে।
যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে যে, আপনারা এই বিষয়গুলোর সংজ্ঞা (হদ্দ) উল্লেখ করেছেন, তবে স্বয়ং 'হদ্দ' এর সংজ্ঞা কী? আমরা বলব, এটি হলো এমন সংক্ষিপ্ত শব্দ যা অর্থকে পরিপূর্ণভাবে পরিবেষ্টন করে।
এবং বলা হয়েছে, এটি হলো জামে (সংগ্রহকারী) ও মানে (প্রতিরোধকারী)।
এবং এর অর্থ বলা হয়েছে যে, এটি উদ্দিষ্ট বিষয়কে একত্রিত করে এবং তাতে অন্য কোনো বিষয়ের প্রবেশকে বাধা প্রদান করে।
আরও বলা হয়েছে যে, হদ্দ হলো সেই শেষ সীমা যেখানে অর্থের পূর্ণতা ঘটে। গৃহের সীমানা (হুদুদ) শব্দটিও এখান থেকেই গৃহীত হয়েছে, কারণ সেগুলো হলো মালিকানার শেষ সীমা। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর সীমাসমূহ, যা তিনি তাঁর ফরয বিধানগুলোর জন্য নির্ধারণ করেছেন, সেগুলো হলো সেই বিধানগুলোর শেষ সীমা যাতে তা কেউ অতিক্রম না করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وأصل الحد المنع ومنه تسمى النوار حدادا ومنه سمى الحديد حديدا لانه يمنع لابسه ومنه قيل للمحروم محدود لانه منع سعة الرزق وسميت العقوبات حدودا لانها تمنع وتردع وحدود الدار على هذا القول هي الموانع من وقوع الاشتراك في خاص الاملاك ولم نشبع القول في الحدود لانها تاتي في مواضعها من ابواب الكتاب أن شاء الله تعالى.
‘হাদ্দ’ শব্দের মূল অর্থ হলো বারণ বা বাধা প্রদান করা। এই অর্থ থেকেই শোকাতুরা নারীকে ‘হাদ্দাদ’ বলা হয়। লোহাকে ‘হাদিদ’ নামকরণ করা হয়েছে কারণ তা তার পরিধানকারীকে রক্ষা করে বা বাধা দেয়। এই অর্থ অনুসারেই রিযিকবঞ্চিত ব্যক্তিকে ‘মাহদুদ’ বলা হয়, কারণ তাকে রিযিকের প্রশস্ততা থেকে বঞ্চিত বা বাধা প্রদান করা হয়েছে। আর শারঈ দণ্ডবিধিকে ‘হুদুদ’ বলা হয় কারণ তা মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখে ও নিবৃত্ত করে। এই মতানুসারে ঘরের সীমানা বলতে সেই সব প্রতিবন্ধককে বোঝায় যা বিশেষ মালিকানাধীন সম্পত্তিতে অংশীদারিত্ব ঘটা থেকে বাধা দেয়। আমরা এখানে সীমা বা সংজ্ঞা সংক্রান্ত আলোচনা দীর্ঘায়িত করছি না, কারণ ইনশাআল্লাহ তাআলা কিতাবের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়গুলোতে যথাস্থানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
القول في اقسام الكلام ومعانى الحروف التي لابد من معرفتها في مسائل الفقه.
علم أن جميع ما يتلفظ به في مسائل الفقه قسمان مستعمل ومهمل.
والمهمل كل كلام لا يوضع لفائدة.
والمستعمل كل كلام وضع لفائدة ثم الكلام من جهة اللفظ مقسوم على ثلاثة اقسام اسم وفعل وحرف جاء لمعنى.
ومن جهة المعنى إلى أربعة أقسام أمر ونهى وخبر واستخبار قالوا: فالاسم ما دل على معنى منفرد وذلك المعنى يكون شخصا ويكون غير شخص فالشخص نحو رجل وفرس وحجر وغير الشخص فنحو الضرب والاكل والليل والنهار ونحو باقي الاشياء وإنما قيل ما دل على معنى منفرد ليفرقوا بينه وبين الفعل إذا كان الفعل يدل على معنى وزمان كقولك ضرب وقام ويضرب ويقوم وما اشبه ذلك يدل على زمان أما في الماضي وأما في المستقبل.
واما الحرف: اداة تفيد معنى في الكلام إذا ضم إليه قالوا: واقل ما يأتلف منه الكلام اسم واسم كقولك زيد قائم وكقولك الله الهنا أو اسم وفعل كقولك قام عمرو وضرب زيد ولا ياتلف الفعل ولا الحرف مع الحرف ولا الحرف مع الفعل ولا الحرف مع الاسم وياتلف الاسم والفعل والحرف [كقولك] 1 خرج عبد الله وهل ذهب زيد ونحو ذلك.
ثم الأسماء المعربة على أربعة أضرب:
اسم الجنس الذي بقتضيه من جنس آخر كقولك الحيوان والانسان والدينار والدرهم والاكل والصوت وجميع ما اردت به العموم والالف واللام يدخلان في هذا النوع لعهد.
--------------------------------------------
কালামের (বাক্যের) প্রকারভেদ এবং হরফের অর্থসমূহ যা ফিকহ শাস্ত্রের মাসআলাগুলো জানার ক্ষেত্রে একান্ত আবশ্যক - সে সম্পর্কিত আলোচনা।
.
জেনে রাখুন যে, ফিকহ শাস্ত্রের মাসআলাসমূহে যা কিছু উচ্চারণ করা হয়, তা দুই প্রকার: ব্যবহৃত এবং অব্যবহৃত।
অব্যবহৃত হলো এমন সব শব্দ যা কোনো অর্থ প্রদানের জন্য গঠন করা হয়নি।
আর ব্যবহৃত হলো এমন সব শব্দ যা কোনো অর্থ প্রদানের জন্য গঠন করা হয়েছে। এরপর শব্দের দিক থেকে কালাম (বাক্য বা শব্দ) তিন ভাগে বিভক্ত: ইসম (বিশেষ্য), ফেইল (ক্রিয়া) এবং কোনো নির্দিষ্ট অর্থের জন্য ব্যবহৃত হরফ (অব্যয়)।
আর অর্থের দিক থেকে কালাম চার প্রকার: আদেশ, নিষেধ, সংবাদ এবং জিজ্ঞাসা। তারা (ভাষাবিদগণ) বলেন: ইসম হলো যা কোনো স্বতন্ত্র অর্থের ওপর নির্দেশ করে। আর সেই অর্থ কোনো ব্যক্তি বা বস্তু হতে পারে, আবার ব্যক্তি বা বস্তু ছাড়াও অন্য কিছু হতে পারে। ব্যক্তি বা বস্তুর উদাহরণ যেমন: পুরুষ, ঘোড়া ও পাথর। আর ব্যক্তি বা বস্তু ছাড়া অন্য বিষয়ের উদাহরণ যেমন: প্রহার করা, আহার করা, রাত ও দিন এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ। একে 'স্বতন্ত্র অর্থবোধক' বলা হয়েছে এ কারণে যেন ইসম এবং ফেইলের (ক্রিয়া) মধ্যে পার্থক্য করা যায়। কেননা ফেইল এমন এক শব্দ যা একই সাথে অর্থ এবং কালের ওপর নির্দেশ করে। যেমন আপনার কথা: 'সে প্রহার করেছে', 'সে দাঁড়িয়েছে', 'সে প্রহার করছে', 'সে দাঁড়াচ্ছে' এবং এর অনুরূপ যা কিছু রয়েছে; এগুলো অতীত অথবা ভবিষ্যৎ সময়ের ওপর নির্দেশ করে।
আর হরফ হলো এমন একটি মাধ্যম যা বাক্যের অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হলে কোনো অর্থ প্রদান করে। তারা বলেন: একটি বাক্য গঠিত হওয়ার জন্য ন্যূনতম উপকরণ হলো ইসম এবং ইসম (দুটি বিশেষ্য), যেমন আপনার উক্তি: 'যায়েদ দণ্ডায়মান' এবং 'আল্লাহ আমাদের ইলাহ'। অথবা ইসম এবং ফেইল, যেমন আপনার উক্তি: 'আমর দাঁড়িয়েছে' এবং 'যায়েদ প্রহার করেছে'। ফেইলের সাথে ফেইল মিলে কোনো বাক্য গঠিত হয় না, না হরফের সাথে হরফ মিলে, না ফেইলের সাথে হরফ মিলে, আর না ইসমের সাথে হরফ মিলে। তবে ইসম, ফেইল ও হরফ একত্রে মিলেও বাক্য গঠিত হয়, যেমন আপনার উক্তি: 'আবদুল্লাহ বের হয়েছে' এবং 'যায়েদ কি চলে গেছে?' এবং এজাতীয় বাক্যসমূহ।
অতঃপর মু’রাব (পরিবর্তনশীল) ইসমসমূহ চার প্রকার:
জাতিবাচক বিশেষ্য যা অন্য কোনো প্রকার হতে পৃথক হওয়ার দাবি রাখে; যেমন আপনার উক্তি: প্রাণী, মানুষ, দিনার, দিরহাম, ভক্ষণ এবং শব্দ। এছাড়া ঐ সকল শব্দ যা দ্বারা আপনি ব্যাপকতা উদ্দেশ্য করেছেন। আর ‘আলিফ’ ও ‘লাম’ এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয় পূর্ব-পরিচিতি বা বিশেষায়িত (আহদ) করার উদ্দেশ্যে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الجنس لا التعريف.
الضرب الثاني: اسم الواحد من الجنس نحو رجل وفرس وبعير وحمار ودينار ودرهم وسمى هذا النوع الأسماء الموضوعة وهي تفيد المعرفة بذات الشيء فقط.
والضرب الثالث: ما اشتق لوصف من الجنس نحو ضارب مشتق من الضرب وعالم مشتق من العلم وحسن مشتق من الحسن وهذه الأسماء تسمى الأسماء المشتقة وهي تفيد المعرفة بذات الشيء وصفته وتخبر عن حقيقته وماهيته وقال الحسن بن هانىء اجمع هذا الاسم بين الأمرين:
أن اسم جنس لو جمعها صفة
… ولا أرى ذا لغيرها اجتمعا
وهي إذا سميت فقد وصفت
… فيجمع اللفظ المعنيين معا
والضرب الرابع: مالقب به شيء بعينه ليعرف من غيره نحو زيد وعمرو وما اشبه ذلك وتسمى الأسماء الأعلام وأسماء الألقاب والأسماء المنقولة لأنها منقولة من أصولها إلى غيرها على جهة الاصطلاح وإنما تفيد التشهير وتمييز الشخص من غيره وليس بحثه إلا هذا.
ثم أن الأسماء الموضوعة تنقسم إلى خمسة أقسام:
الأسماء المبهمة كقولك شيء وموجود وحيوان وسميت مبهمة لأنها لا تفيد المعرفة بعين من الأعيان خاص بل يستوى فيها ما تحتها من أنواع الاشياء والحيوانات والموجودات.
والقسم الثاني: في الأسماء المتضادة مثل القرء والجون1 فإن الطهر والحيض على تضادهما يتناولهما اسم القرء والبياض والسواد على تضادهما يتناولهما اسم الجون.
والقسم الثالث: الأسماء المترادفة كقولك ليث واسد وحجر وفهد وخمر وعقار وسائر ما تترادف عليه الأسماء المختلفة ذات العدد مع اتفاق المعنى.
والقسم الرابع الأسماء المشتركة مثل العين هي العين التي تبصر بها ولعين الماء ولعين الميزان وللمهر الكبير ومثل اللون ومثل العرض هو اسم للواحد من العروض لما هو خلاف الطول وعرض لسعة الشيء مثل قوله تعالى: {عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ
--------------------------------------------
জাতিগত শ্রেণি, নির্দিষ্টকরণ নয়।
দ্বিতীয় প্রকার: কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত একক সত্তার নাম, যেমন—মানুষ, ঘোড়া, উট, গাধা, দিনার ও দিরহাম। এই প্রকারকে মৌলিক নাম (আসমাউল মাওদুআহ) বলা হয় এবং এগুলো কেবল বস্তুর সত্তা সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান করে।
তৃতীয় প্রকার: যা কোনো শ্রেণিগত গুণ বা বৈশিষ্ট্য থেকে উৎপন্ন, যেমন—'আঘাতকারী' শব্দটি 'আঘাত' থেকে উৎপন্ন, 'জ্ঞানী' শব্দটি 'জ্ঞান' থেকে উৎপন্ন এবং 'সুন্দর' শব্দটি 'সৌন্দর্য' থেকে উৎপন্ন। এই নামগুলোকে ব্যুৎপন্ন নাম (আসমাউল মুশতাক্কাহ) বলা হয়। এগুলো বস্তুর সত্তা ও তার গুণ সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান করে এবং তার প্রকৃত স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত করে। হাসান ইবনে হানি বলেছেন, এই নাম দুটি বিষয়কে একত্রিত করেছে:
এটি একটি জাতিগত নাম যার সাথে গুণাবলীও যুক্ত হয়েছে এবং আমি মনে করি না এই বৈশিষ্ট্য অন্য কিছুর মাঝে একত্রে পাওয়া যায়।
যখনই একে নাম দেওয়া হয়, তখনই তার গুণ বর্ণনা করা হয়; ফলে এই শব্দটি উভয় অর্থকে একত্রে ধারণ করে।
চতুর্থ প্রকার: যা নির্দিষ্ট কোনো কিছুকে অন্যের থেকে আলাদা করে চেনার জন্য উপাধি হিসেবে দেওয়া হয়, যেমন—জায়েদ ও আমর এবং এই জাতীয় নামসমূহ। এগুলোকে নামবাচক বিশেষ্য, উপাধিবাচক নাম এবং স্থানান্তরিত নাম বলা হয়; কারণ এগুলো তাদের মূল উৎস থেকে পারিভাষিক কারণে অন্যের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে। এগুলো কেবল প্রসিদ্ধি এবং এক ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি থেকে পৃথক করার উপকার প্রদান করে এবং এর বাইরে এর কোনো আলোচনা নেই।
অতঃপর মৌলিক নামসমূহ পাঁচ ভাগে বিভক্ত:
অনির্ধারিত বা অস্পষ্ট নামসমূহ, যেমন আপনার বলা—বস্তু, বিদ্যমান ও প্রাণী। এগুলোকে অস্পষ্ট বলা হয় কারণ এগুলো বিশেষ কোনো সত্তার পরিচয় প্রদান করে না, বরং এর অন্তর্ভুক্ত সকল প্রকার বস্তু, প্রাণী ও অস্তিত্বশীল বিষয়ের ক্ষেত্রে এটি সমানভাবে প্রযোজ্য।
এবং দ্বিতীয় বিভাগ: বিপরীতধর্মী শব্দাবলীর বর্ণনায়, যেমন 'কুরউ' এবং 'জাওন' ১। কেননা পবিত্রতা ও ঋতুস্রাব—তাদের পারস্পরিক বৈপরীত্য সত্ত্বেও—উভয়কেই 'কুরউ' শব্দটি দ্বারা বুঝানো হয়; এবং শুভ্রতা ও কৃষ্ণতা—তাদের বৈপরীত্য সত্ত্বেও—উভয়কেই 'জাওন' শব্দটি দ্বারা বুঝানো হয়।
এবং তৃতীয় বিভাগ: সমার্থক শব্দাবলী, যেমন আপনার বলা 'লায়ছ', 'আসাদ', 'হাজার', 'ফাহাদ', 'খামর', 'আকার' এবং এমন অন্যান্য শব্দ, যেখানে অর্থের অভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও বহু সংখ্যক ভিন্ন ভিন্ন শব্দ সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এবং চতুর্থ বিভাগ: বহু-অর্থবোধক শব্দাবলী, যেমন 'আইন'; এটি সেই চোখ যা দিয়ে আপনি দেখেন, আবার পানির ঝর্ণা, দাঁড়িপাল্লার কাঁটা এবং উচ্চমূল্যের মোহর বা সম্পদের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়। তদ্রূপ 'লাওন' (রঙ) এবং 'আরাদ' (প্রস্থ বা আপতিক গুণ); এটি দৈর্ঘ্যের বিপরীত অর্থে একক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আবার কোনো বস্তুর প্রশস্ততা বুঝাতেও ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যার প্রশস্ততা আসমানসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَالْأَرْضُ} [آل عمران: 133] .
والقسم الخامس: الأسماء المختلفة وهي ما اختلفت اسمائها ومعانيها وهي اكثر الأسماء لانها موضوعة للدلالة على المسميات ومن شانها اختلافها في صورة بالفصل بينها وبين غيرها.
كقولك حمار وفرس وجدار وبعير وغيرها من الأسماء هكذا اورده أبو سليمان الخطابي على ما نقلته وهو ثقة فيما ينقله.
معاني بعض الحروف1.
ونذكر الان معاني الحروف التي تقع إليها الحاجة للفقهاء ولا يكون بد من معرفتها وتشتد فيها المنازعة بين أهل العلم فمنها حروف من حروف العطف2.
أولها الواو وقد ادعى جماعة من اصحابنا انها للترتيب واضافوا القول به إلى الشافعي رحمة الله عليه وقد حكى هذا المذهب عن بعض نحاة الكوفيين3.
واما عامة أهل اللغة فعلى خلاف ذلك وإنما هي عندهم للجمع4 واشتراك الثاني.
--------------------------------------------
এবং জমিন} [আলে ইমরান: ১৩৩]।
পঞ্চম প্রকার: ভিন্ন ভিন্ন বিশেষ্যসমূহ। এগুলো এমন যার নাম এবং অর্থ উভয়ই ভিন্ন এবং এই প্রকারের নামই সর্বাধিক। কারণ এগুলো মূলত নামধারী বস্তুসমূহকে নির্দেশ করার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এগুলোর বৈশিষ্ট্যই হলো একটিকে অন্যটি থেকে পৃথক করার মাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা।
যেমন আপনার বলা—গাধা, ঘোড়া, দেয়াল, উট এবং অন্যান্য নামসমূহ। আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি এভাবেই বিষয়টিকে উল্লেখ করেছেন যা আমি বর্ণনা করেছি এবং তিনি তার বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য।
কিছু অব্যয়ের অর্থসমূহ ১।
এখন আমরা সেইসব অব্যয়ের অর্থসমূহ উল্লেখ করব যেগুলোর প্রয়োজনীয়তা ফকিহগণের নিকট অনুভূত হয় এবং যা জানা অপরিহার্য। এগুলো নিয়ে আলেমগণের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য বিদ্যমান। তার মধ্যে কিছু হলো সংযোজক অব্যয় ২।
সেগুলোর প্রথমটি হলো ওয়াও। আমাদের একদল সাথী দাবি করেছেন যে এটি ধারাবাহিকতা বা ক্রমবিন্যাসের (তারতিব) জন্য ব্যবহৃত হয় এবং তারা এই অভিমতটিকে ইমাম শাফেয়ি (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন। এই মাযহাবটি কুফার কয়েকজন ব্যাকরণবিদের নিকট থেকেও বর্ণিত হয়েছে ৩।
পক্ষান্তরে সাধারণ ভাষাবিদগণ এর বিপরীত মত পোষণ করেন। তাদের নিকট এটি মূলত সমষ্টি এবং পরবর্তী অংশকে পূর্ববর্তীর সাথে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয় ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فيما دخل فيه الأول كقولك جاءني زيد وعمرو وليس فيهما دليل ايهما كان أولا قالوا: إنما يعرف وقوع الترتيب فيه بقرائن ودلائل.
قال الماوردى أبو الحسن الواو لها ثلاث مواضع حقيقة ومجاز ومختلف في حقيقته ومجازه فالحقيقة أن يستعمل في العطف للجمع والاشتراك كقولك جائني زيد وعمرو والمجاز أن تستعمل بمعنى أو كقوله تعالى: {فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلاثَ وَرُبَاعَ} [النساء: 3] والمختلف في حقيقته أن تستعمل في الترتيب لقوله تعالى: {فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ} [المائدة: 6] فذهب جمهور أهل اللغة واكثر الفقهاء انها تكون أن استعملت في الترتيب مجازا.
وذهب بعض اصحاب الشافعي إلى انها تكون حقيقة فيه فإذا استعملت في موضوع يحتمل الأمرين حملت على الترتيب دون الجمع لزيادة الفائدة1.
وقال الفراء تحمل على الجمع إذا احتملت الأمرين وعلى الترتيب إذا لم تحتمل غيره2.
وقد رايت بعض اصحابنا ادعى على اصحاب ابى حنيفة انهم يدعون أن الواو.
--------------------------------------------
যাতে প্রথমটি অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমন তোমার কথা: 'জায়েদ ও আমর আমার নিকট এসেছে'। এখানে তাদের মধ্যে কে আগে এসেছে সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ নেই। তারা (বিদ্বানগণ) বলেন: এতে পর্যায়ক্রম ঘটা কেবল বিভিন্ন লক্ষণ ও প্রমাণের মাধ্যমেই জানা যায়।
আবুল হাসান আল-মাওয়ার্দী বলেন: 'ওয়াও' অক্ষরের ব্যবহারের তিনটি ক্ষেত্র রয়েছে: প্রকৃত, রূপক এবং যার প্রকৃত ও রূপক হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এর প্রকৃত ব্যবহার হলো সংযোজনের ক্ষেত্রে একত্রীকরণ ও অংশীদারিত্ব বোঝানো, যেমন তোমার কথা: 'জায়েদ ও আমর আমার নিকট এসেছে'। আর রূপক ব্যবহার হলো একে 'অথবা' অর্থে ব্যবহার করা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নারীদের মধ্যে তোমাদের যাকে ভালো লাগে তাকে বিয়ে করো—দুই জন, অথবা তিন জন, অথবা চার জন} [আন-নিসা: ৩]। আর যার প্রকৃতি নিয়ে মতভেদ রয়েছে তা হলো একে পর্যায়ক্রমের অর্থে ব্যবহার করা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত ধৌত করো} [আল-মায়েদাহ: ৬]। অধিকাংশ ভাষাবিদ এবং অধিকাংশ ফকিহ মনে করেন যে, এটি পর্যায়ক্রমের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলে রূপক হিসেবে গণ্য হবে।
ইমাম শাফিঈর কোনো কোনো অনুসারী মনে করেন যে এটি পর্যায়ক্রমের ক্ষেত্রেও প্রকৃত অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যখন এটি এমন কোনো স্থানে ব্যবহৃত হয় যা উভয় অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে, তখন অতিরিক্ত ফায়দার কারণে একে কেবল একত্রীকরণের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমের ওপর প্রয়োগ করা হবে।
আল-ফাররা বলেন, যদি এটি উভয় বিষয়ের সম্ভাবনা রাখে তবে একে একত্রীকরণের ওপর প্রয়োগ করা হবে, আর যদি এটি অন্য কোনো সম্ভাবনা না রাখে তবে পর্যায়ক্রমের ওপর প্রয়োগ করা হবে।
আমি আমাদের কিছু সাথীকে ইমাম আবু হানিফার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এই দাবি করতে দেখেছি যে, তারা দাবি করেন 'ওয়াও' অক্ষরটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
للجمع على سبيل الإقران1 وأخذ يرد عليه كما يرد على من زعم انها للترتيب والتوالى من اصحابنا وليس ما ادعاه مذهب احد من اصحاب ابي حنيفة وإنما يدعون أن الواو للجمع من غير تعرض لاقران أو ترتيب2 فلا معنى للرد وأما دعوى الترتيب على الاطلاق فضعيفة جدا لان من قال رايت زيدا وعمرا وجاءني زيد وعمرو لا يفهم منه السامع ترتيبا بحال ويجوز أن يكون راى عمرا أولا ثم يقول: رايت زيدا وعمرا ويحسن منه ذلك ويقال ايضا رأيت زيدا وعمرا معا فلو كان للترتيب لكان هذا القول مناقضة.
ويدل عليه أن العرب استعملت الواو في باب الفاعل يقال تقابل زيد وعمرو ولو قال تقابل زيد ثم عمرو لم يكن صحيحا.
وأما ما استدل به بعض اصحابنا من أن الواو للترتيب بمسالة الطلاق وهي أنه لو قال لغير المدخول بها أنت طالق وطالق وطالق فانه لا يقع إلا طلقة واحدة فليس هذا لانها للترتيب بل لان الطلاق الأول سبق وقوعه فيصادفها الثاني وهي بائنة فلا يقع وإنما سبق لانه تكلم به على وجه الايقاع من غير أن يربطه برابط أو يعلقه بشيء ما3 وليس الواو بدليل على الاقران على ما سبق وإنما الموجود منه ثلاث ايقاعات متوالية من غير أن يكون للبعض تعلق بالبعض والواو حقها في هذا الموقع عطف الايقاع على الايقاع فصارت قضية الكلام الأول الموقوع وحين وجد من غير انتظار ولا مهلة وكما لو افرده بالذكر وإذا وقع فلا بد أن يكون الثاني والثالث قد صادفا المراة في حال الابانة فسارت الجملة في هذه المسالة أن دعوى كونها للترتيب خطا4.
--------------------------------------------
একত্রিতকরণের উদ্দেশ্যে এবং তিনি তার প্রত্যুত্তর দিতে শুরু করলেন যেমনটি আমাদের অনুসারীদের মধ্যে যারা একে ধারাবাহিকতা ও পর্যায়ক্রমিক হওয়ার দাবি করেন তাদের প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়। আর তিনি যা দাবি করেছেন তা ইমাম আবু হানিফার অনুসারীদের কারো মাযহাব নয়, বরং তারা দাবি করেন যে 'ওয়াও' বর্ণটি কোনো প্রকার সহাবস্থান বা ধারাবাহিকতার প্রসঙ্গ ছাড়াই কেবল একত্রিত করার অর্থ প্রদানের জন্য আসে। সুতরাং এই খণ্ডনের কোনো অর্থ নেই। আর নিরঙ্কুশভাবে ধারাবাহিকতার দাবিটি অত্যন্ত দুর্বল; কারণ যে ব্যক্তি বলে, "আমি যায়দ ও আমরকে দেখেছি" এবং "জায়দ ও আমর আমার নিকট এসেছে", শ্রোতা এর দ্বারা কোনো অবস্থাতেই কোনো ধারাবাহিকতা বা ক্রমিকতা বুঝতে পারে না। এটিও সম্ভব যে সে প্রথমে আমরকে দেখেছে এবং পরে বলেছে: "আমি যায়দ ও আমরকে দেখেছি", এবং তার পক্ষ থেকে এমন বলা ভাষাগতভাবে সঠিক। আরও বলা হয়ে থাকে, "আমি যায়দ ও আমরকে একসাথে দেখেছি"; যদি এটি ধারাবাহিকতার জন্য নির্ধারিত হতো তবে এই বাক্যটি স্ববিরোধী হতো।
এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো যে, আরবরা কর্তার আলোচনার ক্ষেত্রে 'ওয়াও' ব্যবহার করে থাকে; যেমন বলা হয়, "যায়দ ও আমর একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে"। যদি কেউ বলত "যায়দ অতঃপর আমর একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে", তবে তা সঠিক হতো না।
আর তালাকের মাসআলার মাধ্যমে আমাদের কোনো কোনো ফকিহ 'ওয়াও' অব্যয়টি ধারাবাহিকতার (তারতীব) অর্থ প্রদানের সপক্ষে যে দলিল পেশ করেছেন—অর্থাৎ যদি কেউ এমন স্ত্রীকে যার সাথে সহবাস হয়নি তাকে বলে: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা এবং তালাকপ্রাপ্তা এবং তালাকপ্রাপ্তা", তবে সেখানে কেবল একটি তালাকই কার্যকর হবে—তবে এটি এ কারণে নয় যে 'ওয়াও' ধারাবাহিকতা বুঝায়, বরং এ কারণে যে প্রথম তালাকটি কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রবর্তী হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় তালাকটি যখন তাকে স্পর্শ করে, তখন সে ইতিপূর্বেই বিচ্ছিন্ন (বায়িনা) হয়ে যাওয়ায় তা আর কার্যকর হয় না। আর এটি অগ্রবর্তী হয়েছে কারণ তিনি তালাক প্রদানের উদ্দেশ্যেই তা উচ্চারণ করেছেন, কোনো সংযোগকারীর মাধ্যমে একে আবদ্ধ করা কিংবা অন্য কিছুর সাথে ঝুলিয়ে রাখা ব্যতিরেকে৩। আর 'ওয়াও' অব্যয়টি যে একাধিক বিষয়কে একত্রে ঘটানোর দলিল নয়, তা পূর্বেই আলোচিত হয়েছে। বরং এখানে যা ঘটেছে তা হলো একে অপরের সাথে সংশ্লিষ্টতা বিহীন তিনটি ধারাবাহিক তালাক প্রদানের প্রয়াস মাত্র। আর এই ক্ষেত্রে 'ওয়াও'-এর ভূমিকা হলো কেবল এক তালাক প্রদানের সাথে অন্য তালাক প্রদানের সংযোজন ঘটানো। ফলে প্রথম বাক্যের বিষয়টি কার্যকর সাব্যস্ত হয়েছে, এবং যেহেতু এটি কোনো বিলম্ব বা প্রতীক্ষা ছাড়াই পাওয়া গেছে, তাই এটি এমন হয়েছে যেন তিনি একে পৃথকভাবেই উল্লেখ করেছেন। আর যখন তালাক কার্যকর হয়েছে, তখন অনিবার্যভাবেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালাক দুটি মহিলাটিকে তালাকপ্রাপ্তা (বায়িনা) অবস্থায় পেয়েছে। সুতরাং এই মাসআলার সারকথা হলো যে, 'ওয়াও' অব্যয়টি ধারাবাহিকতা (তারতীব) নির্দেশ করে বলে যে দাবি করা হয়, তা ভুল৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ونسبة ذلك للشافعي رحمه الله على الاطلاق لا تصح وإنما نهاية مانقل عنه أنه قال في الوضوء حين ذكر الاية ثم قال ومن خالف ذلك من الترتيب الذي ذكره الله تعالى لم يجز وضوؤه1.
وقد شنع عليه محمد بن داود وغيره في هذا اللفظ وقالوا: أنه خالف أهل اللغة اجمع وادعوا عليه الجهل بالنحو.
ووجه الجواب عن هذا أن الشافعي رحمه الله ما تعلق في اثبات الترتيب بالواو فقط وإنما دليل الترتيب من النظر في معنى الاية على ما ذكرنا في الخلاف بينه أن الوضوء عبادة على البدن وردت بلفظ لا ينفى الترتيب وراينا أن العبادات البدنية اشتملت على افعال مختلفة مترتبة في جميع المواضع مثل الصلاة والحج وراينا ورود هذه العبادات بلفظ صالح لمعنى الترتيب وأن كان غير مقتضى له بكل حال ووجدنا الفوائد مطلوبة من الالفاظ والترتيب نوع فائدة فعند اجتماع هذه الأشياء يقال اثبات الواو ظاهرها للترتيب في هذا الموضع فحمل عليه والظاهر حجة فهذا وجه الكلام لنصرة ما قاله الشافعي رحمه الله وقد اشار إليه أبو الحسن بن فارس.
وأما الفاء فمقتضاها التعطيف والترتيب من غير تراخ كقولك ضربت زيدا فعمرا ففيه أن عمرا مضروب عقيب زيد بلا تراخى ولهذا دخل في الجزاء المعلق على الشرط لان من حكم الجزاء تعلقه بالشرط من غير فصل2.
--------------------------------------------
ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি এই মতটি ঢালাওভাবে আরোপ করা সঠিক নয়; বরং তাঁর থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার সারকথা হলো—তিনি ওযুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আয়াতটি উল্লেখ করার সময় বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা যে ক্রমধারা (তারতীব) উল্লেখ করেছেন, কেউ যদি তার বিপরীতে ওযু করে, তবে তার ওযু জায়িয হবে না"১।
মুহাম্মদ ইবনে দাউদ এবং অন্যান্যরা এই শব্দের কারণে তাঁর কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন যে, তিনি সকল ভাষাবিদদের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন এবং তাঁরা তাঁর প্রতি ব্যাকরণ শাস্ত্রের অজ্ঞতার অপবাদ দিয়েছেন।
এর উত্তরের স্বরূপ এই যে, ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) ক্রমধারা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কেবল 'ওয়াও' অক্ষরের ওপর নির্ভর করেননি। বরং ক্রমধারার দলিল হলো আয়াতের অর্থের প্রতি দৃষ্টিপাত করা, যেমনটি আমরা তাঁর সাথে মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি যে—ওযু হলো শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন একটি ইবাদত যা এমন শব্দে বর্ণিত হয়েছে যা ক্রমধারাকে নাকচ করে না। আমরা দেখেছি যে, শারীরিক ইবাদতসমূহ সব ক্ষেত্রেই ভিন্ন ভিন্ন কার্যাবলীর সমষ্টি যা একটির পর একটি ধারাবাহিকভাবে পালিত হয়, যেমন সালাত ও হজ। আমরা আরও দেখেছি যে, এই ইবাদতগুলো এমন শব্দে বর্ণিত হয়েছে যা ক্রমধারার অর্থের জন্য উপযুক্ত, যদিও তা সকল অবস্থায় তা অপরিহার্য করে না। আমরা পেয়েছি যে, শব্দ থেকে বিভিন্ন অর্থগত বৈশিষ্ট্য তালাশ করা হয় আর ক্রমধারাও এক প্রকারের অর্থগত বৈশিষ্ট্য। সুতরাং যখন এই বিষয়গুলো একত্রে সমবেত হয়, তখন বলা হয় যে এই স্থানে 'ওয়াও'-এর বাহ্যিক রূপটি ক্রমধারার জন্য সাব্যস্ত হয়েছে এবং বিষয়টিকে এর ওপরই প্রয়োগ করা হয়েছে। আর বাহ্যিক অর্থই প্রমাণ হিসেবে গণ্য। ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে এটিই হলো আলোচনার দিক, এবং আবুল হাসান ইবনে ফারিসও এর প্রতি ইশারা করেছেন।
আর 'ফা' অক্ষরের দাবি হলো—কোনো বিলম্ব ছাড়াই সংযুক্তি ও ক্রমধারা প্রকাশ করা। যেমন আপনার কথা: "আমি যায়েদকে এবং এরপর (অব্যবহিত পরে) আমরকে প্রহার করেছি।" এর অর্থ হলো, আমরের প্রহারটি যায়েদের ঠিক পরেই কোনো বিলম্ব ছাড়াই ঘটেছে। এই কারণেই এটি শর্তের ওপর নির্ভরশীল প্রতিদানের (জাযা) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; কারণ প্রতিদানের বিধান হলো—কোনো বিচ্ছেদ ছাড়াই সেটি শর্তের সাথে যুক্ত হওয়া২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وأما حرف ثم فللتعقيب والتراخى1 كقولهم ضربت زيدا ثم عمرا فمقتضاه وجود مهلة بين الضربين ولا دليل على مقداره من جهة اللفظ وقد تستعمل في موضع الواو مجازا اذ قال الله عز وجل: {ثُمَّ اللَّهُ شَهِيدٌ عَلَى مَا يَفْعَلُونَ} 2 [يونس: 46] وكقوله عز وجل: {فَكُّ رَقَبَةٍ، أَوْ إِطْعَامٌ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ} [البلد: 13، 14] إلى أن قال تعالى: {ثُمَّ كَانَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا} [البلد: 17] ومعناه فكان من الذين امنوا.
واما بعد فهي اسم في معنى الحرف موضوع للترتيب ويحتمل الفور والتراخى ولا يختص [بالحرفية] 3.
واما مع فهو موضوع للجمع بين الشيئين نقول رايت زيدا مع عمرو واقتضى ذلك اجتماعها في رؤيته.
واما حرف أو فلها ثلاثة مواضع4 تكون لأحد الشيئين بخبر عنه عند شك المتكلم أو قصده أحدهما كقولك اتيت زيدا أو عمرا وجاءني رجل وأمراة هذا إذا شك.
فاما إذا قصد أحدهما فكقولك كل السمك أو اشرب اللبن أي لا تجمع بينهما ولكن اختر ايهما شئت وكقولك أعطني دينارا أو اكسني ثوبا.
والوجه الثالث أن تاتى للاباحة كقولك جالس الحسن أو ابن سيرين وائت المسجد أو السوق وهذا على الاذن فيهما جميعا.
وقد ورد في القران التخيير في الأمر مثل قوله تعالى: {فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ} [المائدة: 89] .
وقد ورد الجمع في النهى مثل قوله تعالى: {وَلا تُطِعْ مِنْهُمْ آثِماً أَوْ كَفُوراً} [الانسان: 24] .
--------------------------------------------
আর 'ছুম্মা' (অতঃপর) অব্যয়টি ধারাবাহিকতা ও বিলম্বের জন্য আসে; যেমন তাদের উক্তি: "আমি জায়েদকে প্রহার করেছি, অতঃপর আমরকে।" এর দাবি হলো দুই প্রহারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান থাকা। তবে শব্দের দিক থেকে এই সময়ের পরিমাণের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। এটি কখনও কখনও রূপকভাবে 'ওয়াও' (এবং)-এর স্থলে ব্যবহৃত হয়, যেমন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: "অতঃপর তারা যা করে আল্লাহ তার ওপর সাক্ষী" [ইউনুস: ৪৬]। এবং যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "দাসমুক্তি, অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান" [আল-বালাদ: ১৩, ১৪] থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: "অতঃপর সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হলো যারা ঈমান এনেছে" [আল-বালাদ: ১৭]; এখানে এর অর্থ হলো: "এবং সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হলো যারা ঈমান এনেছে।"
আর 'বাদু' (পরে) শব্দটি অব্যয়ের অর্থে ব্যবহৃত একটি বিশেষ্য যা ক্রমবিন্যাসের জন্য নির্ধারিত। এটি তাৎক্ষণিকতা ও বিলম্ব—উভয় সম্ভাবনা রাখে এবং এটি কেবল অব্যয় হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
আর 'মাআ' (সাথে) শব্দটি দুটি বিষয়ের একত্রীকরণের জন্য নির্ধারিত। আমরা বলি: "আমি আমরসহ জায়েদকে দেখেছি।" এটি দেখার ক্ষেত্রে উভয়ের একত্র হওয়াকে আবশ্যক করে।
আর 'আও' (অথবা) অব্যয়টির ব্যবহারের তিনটি ক্ষেত্র রয়েছে। এটি বক্তার সন্দেহের সময় সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে অথবা দুটির কোনো একটি নির্দিষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন আপনার উক্তি: "আমি জায়েদ অথবা আমরের কাছে এসেছি" এবং "আমার কাছে একজন পুরুষ অথবা একজন নারী এসেছে।" এটি হলো সন্দেহের ক্ষেত্রে।
আর যখন দুটির কোনো একটিকে উদ্দেশ্য করা হয়, তখন উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: "মাছ খাও অথবা দুধ পান করো।" অর্থাৎ এ দুটির মাঝে সমন্বয় করো না, বরং তুমি যেটি চাও সেটি বেছে নাও। এবং যেমন আপনার উক্তি: "আমাকে একটি দিনার দাও অথবা আমাকে একটি পোশাক পরিয়ে দাও।"
আর তৃতীয় প্রকারটি হলো এটি অনুমতির (ইবাহাত) জন্য আসে। যেমন আপনার উক্তি: "হাসান অথবা ইবনে সিরিনের মজলিসে বসো" এবং "মসজিদে অথবা বাজারে যাও।" এটি মূলত উভয়টির ব্যাপারেই অনুমতির অন্তর্ভুক্ত।
কুরআনে আদেশের ক্ষেত্রে পছন্দের সুযোগ প্রদানের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তার কাফফারা হলো দশজন অভাবগ্রস্তকে খাবার দান করা, যা তোমরা তোমাদের পরিবারকে যে মধ্যম মানের খাবার খাওয়াও তা থেকে, অথবা তাদের পোশাক প্রদান করা অথবা একজন দাস মুক্ত করা} [আল-মায়িদাহ: ৮৯]।
আর নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে একত্রিত করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাদের মধ্য হতে কোনো পাপী বা কাফিরের আনুগত্য করো না} [আল-ইনসান: ২৪]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وأما حرف بل فمعناه الاضراب عن الأول والإثبات للثاني1 كقولك ضربت زيدا بل عمرا وجاءني عبد الله بل أخوه.
واما حرف لكن فهى للاستدراك بعد النفى2 كقولك ما جاءني زيد لكن عمرو ما رأيت رجلا لكن امراة وقد يدخل النفى بعد اثبات كقولك حاءني زيد لكن عبد الله لم يات وقيل لترك قصة إلى قصة وفيه كلام كثير للنحاة.
واما حرف لو فيدل على امتناع الشيء لامتناع غيره3 تقول لو جئتنى لحييتك.
وأما لولا فتدل على امتناع الشىء لوقوع غيره4 نقول لولا أنك جئتنى لحييتك وقد تكون لو بمعنى أن قال الله تعالى: {وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ} [البقرة: 221] أي وأن اعجبتكم وقد تفيد معنى التقليل كقوله صلى الله عليه وسلم: "اتقوا الله ولو بشق تمرة" 5.
فأما الحروف اللازمة لعمل الجر وهي من وإلى وفي والباء واللام فنقول أما من فمعناها ابتداء الغاية6 يقال سرت من الكوفة إلى البصرة وهذا الكتاب من فلان إلى فلان وهذا باب من حديد يعنى ابتداء عمله من حديد قال سيبويه قد تكون للتبعيض مثل قولهم هذه الخرقة من الثوب وهذا الرجل من القوم وقال غيره من حيث وجدت كانت لابتداء الغاية وقوله أخذت من ماله فقد جعل ماله ابتداء غاية وأخذ وإنما دل على البعض من حيث أنه صار ما بقى انتهاء له فالأصل واحد وكذلك قوله أخذت منه درهما وهذا كلام النحويين فيما بينهم فاما الذي تعرفه الفقهاء فهو لابتداء الغاية والتبعيض جميعا7 وكل واحد في موضعه حقيقة وقد ورد مثله يقال ما جاءني من أحد قال الله تعالى: {يَغْفِرْ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ} [نوح: 4] .
--------------------------------------------
আর 'বাল' অব্যয়টির অর্থ হলো পূর্ববর্তী বক্তব্য থেকে বিমুখ হওয়া এবং পরবর্তী বক্তব্যকে সাব্যস্ত করা। যেমন তোমার উক্তি: "আমি জায়েদকে নয় বরং আমরকে মেরেছি" এবং "আমার কাছে আবদুল্লাহ নয় বরং তার ভাই এসেছে।"
আর 'লাকিন' অব্যয়টি না-বোধক বাক্যের পর সংশোধনের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন তোমার উক্তি: "আমার কাছে জায়েদ আসেনি বরং আমর এসেছে", "আমি কোনো পুরুষকে দেখিনি বরং একজন মহিলাকে দেখেছি।" আবার কখনো হ্যাঁ-বোধক বাক্যের পর না-বোধক অর্থ প্রকাশের জন্য এটি ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন তোমার উক্তি: "আমার কাছে জায়েদ এসেছে কিন্তু আবদুল্লাহ আসেনি।" কেউ কেউ বলেছেন, এটি এক প্রসঙ্গ ছেড়ে অন্য প্রসঙ্গে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়, আর এ বিষয়ে বৈয়াকরণদের অনেক আলোচনা রয়েছে।
আর 'লাউ' অব্যয়টি একটি বিষয় সংঘটিত না হওয়ার কারণে অন্য একটি বিষয় সংঘটিত না হওয়াকে নির্দেশ করে। তুমি বলবে: "তুমি যদি আমার কাছে আসতে, তবে আমি তোমাকে অভিবাদন জানাতাম।"
আর 'লাওলা' অব্যয়টি কোনো একটি বিষয় সংঘটিত হওয়ার কারণে অন্য একটি বিষয় সংঘটিত না হওয়াকে নির্দেশ করে। আমরা বলি: "তুমি যদি আমার কাছে না আসতে, তবে আমি তোমাকে অভিবাদন জানাতাম।" কখনো 'লাউ' অব্যয়টি 'আন' এর অর্থে ব্যবহৃত হয়; মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: "আর একজন মুমিন দাসী একজন মুশরিক নারীর চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে" অর্থাৎ "যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে"। আবার এটি স্বল্পতা বোঝাতেও ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যদিও তা একটি খেজুরের অর্ধাংশের বিনিময়ে হয়।"
অতঃপর জরের (শব্দের শেষে জের প্রদানকারী) আমল করার জন্য যে বর্ণগুলো আবশ্যক, আর সেগুলো হলো: 'মিন', 'ইলা', 'ফী', 'বা' এবং 'লাম'। তবে 'মিন' প্রসঙ্গে আমরা বলব যে, এর অর্থ হলো সীমানার শুরু হওয়া। যেমন বলা হয়: আমি কুফা থেকে বসরা পর্যন্ত ভ্রমণ করেছি। এবং এই কিতাবটি অমুকের পক্ষ থেকে অমুকের নিকট। আর এটি লোহার তৈরি একটি দরজা, অর্থাৎ এর তৈরির কাজ শুরু হয়েছে লোহা থেকে। সীবওয়াইহি বলেন, এটি আংশিকতা বোঝাতেও ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন তাদের কথা: এই ন্যাকড়াটি কাপড়ের অংশ এবং এই ব্যক্তিটি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। অন্যজন বলেন, 'মিন' যেখানেই পাওয়া যাক না কেন, তা সীমানার শুরুর জন্যই ব্যবহৃত হয়। আর তার বক্তব্য 'আমি তার সম্পদ থেকে গ্রহণ করেছি'—এখানে তার সম্পদকে গ্রহণের সীমানার শুরু হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আর এটি আংশিকতা নির্দেশ করে কেবল এই দিক থেকে যে, যা অবশিষ্ট রইল তা তার সমাপ্তি হিসেবে গণ্য হয়েছে; সুতরাং মূল বিষয়টি একই। তদ্রূপ তার কথা 'আমি তার নিকট থেকে এক দিরহাম নিয়েছি'। এটি ব্যাকরণবিদদের নিজেদের মধ্যকার আলোচনা। তবে ফকীহগণ যা জানেন তা হলো, এটি সীমানার শুরু এবং আংশিকতা—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয় এবং প্রতিটিই স্ব-স্ব স্থানে প্রকৃত অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর অনুরুপ উদাহরণ বর্ণিত হয়েছে, যেমন বলা হয়: 'আমার নিকট কেউ আসেনি'। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি তোমাদের পাপসমূহ থেকে তোমাদের ক্ষমা করবেন} [নূহ: ৪]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وقد ورد بمعنى على قال الله تعالى: {وَنَصَرْنَاهُ مِنَ الْقَوْمِ} [الانبياء: 77] أي على.
واما عن فيكون بمعنى من1 إلا في مواضع خاصة قالوا: من تكون للانفصال والتبعيض وعن لا تقتضى الفصل يقال أخذت من مال فلان ويقال أخذت من عمل فلان وقد اختصت الاسانيد بالعنعنة ولا تستعمل كلمة من في موضعه وقالوا: من لا يكون إلا حذفا وعن تكون اسما تدخل من عليه يقال أخذت من عن الفرس جله2.
واما من المفتوحة فلها ثلاثة مواضع:
أحدها للخبر كقولك جاءني من أحببت وأعجبني من رايت.
والثاني للشرط والجزاء كقولك من جاءني اكرمته ومن عصاني عاقبته3.
والثالث للاستفهام4 كقولك من عندك فتقول زيد أو عمرو.
واما إلى فلانتهاء الغاية5 يقال من كذا إلى كذا وقال سيبويه إذا قرن بمن اقتضى.
--------------------------------------------
এবং এটি 'আলা' (উপরে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি তাকে সেই সম্প্রদায়ের উপরে সাহায্য করেছি} [আল-আম্বিয়া: ৭৭] অর্থাৎ তাদের উপরে।
আর 'আন' অব্যয়টি বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত 'মিন' (থেকে) অর্থে ব্যবহৃত হয়। ভাষাবিদগণ বলেন: 'মিন' ব্যবহৃত হয় পৃথকীকরণ ও আংশিকত্ব বুঝাতে, কিন্তু 'আন' বিচ্ছেদ দাবি করে না। বলা হয়: 'আমি অমুকের সম্পদ থেকে (মিন) গ্রহণ করেছি' এবং বলা হয়: 'আমি অমুকের কাজ থেকে (মিন) গ্রহণ করেছি'। হাদীসের সনদসমূহ 'আন-আনা' (অমুক হতে অমুক) পদ্ধতির জন্য সুনির্দিষ্ট হয়েছে এবং এর স্থলে 'মিন' শব্দটি ব্যবহৃত হয় না। তারা আরও বলেন: 'মিন' কেবল উহ্য বা অব্যয় হিসেবেই থাকে, কিন্তু 'আন' বিশেষ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে যার পূর্বে 'মিন' যুক্ত হয়। যেমন বলা হয়: 'আমি ঘোড়ার পিঠের উপর থেকে (মিন আন) তার জীন বা আবরণ নিয়েছি'।
আর যবরযুক্ত 'মান' এর ব্যবহারের তিনটি ক্ষেত্র রয়েছে:
প্রথমটি: বর্ণনামূলক বা সংবাদের জন্য, যেমন আপনার উক্তি: 'আমার নিকট সে এসেছে যাকে আমি ভালোবাসি' এবং 'আমি যাকে দেখেছি সে আমাকে মুগ্ধ করেছে'।
দ্বিতীয়টি: শর্ত ও প্রতিদানের জন্য, যেমন আপনার উক্তি: 'যে আমার নিকট আসবে আমি তাকে সম্মানিত করব' এবং 'যে আমার অবাধ্য হবে আমি তাকে শাস্তি দেব'।
তৃতীয়টি: জিজ্ঞাসার জন্য, যেমন আপনার উক্তি: 'তোমার নিকট কে?' তখন উত্তরে বলা হয়: 'যায়েদ' অথবা 'আমর'।
আর 'ইলা' ব্যবহৃত হয় সীমার সমাপ্তি বুঝাতে। বলা হয়: 'এখান থেকে ওখান পর্যন্ত'। সিবওয়াইহ বলেন: যখন এটি 'মিন' এর সাথে যুক্ত হয়, তখন তা পূর্ণতা বা একটি নির্দিষ্ট অর্থ দাবি করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
للتحديد ولا يدخل الحد في المحدود تقول بعتك من هذه الشجرة إلى هذه الشجرة فلا يدخلان في البيع وإذا لم تقرن بمن يجوز أن تكون تحديدا ويجوز أن تكون بمعنى مع قال الله تعالى: {وَلا تَأْكُلُوا أَمْوَالَهُمْ إِلَى أَمْوَالِكُمْ} [النساء: 2] اى مع أموالكم وقال تعالى من أنصاري إلى الله اى مع الله وقال الله تعالى: {وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ} [المائدة: 6] اى مع المرافق1 وتقول العرب الذود إلى الذود ابل أي مع الذود فالأصل أنه لانتهاء الغاية على مقابلة من فانها لابتداء الغاية يقال من كذا إلى كذا قال سيبويه ويقول الرجل إنما اليك اى انت غايتي ويقول للرجل قم إلى فلان فتجعله منتهاك من مكانك هذا هو الحقيقة في اللغة وما سواه مجاز.
وأما حتى فهي للغاية2 ايضا قال الله تعالى: {وَلا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ} [البقرة: 222] وقال تعالى: {فَلا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجاً غَيْرَهُ} [البقرة: 230] ولأهل النحو في قوله اكلت السمكة حتى رأسها وتصريف ذلك ومعناه كلام كثير تركت ذكره وقد تذكر بمعنى إلى نقول لا أفارقك حتى تقضينى حقي3 يعنى إلى أن تقضينى حقي وبما في معناه الظرف تقول زيد في البيت يعنى أن البيت قد حواه وكذلك قوله أن المال في الكيس فإذا قلت: فلان عيب فانه على وجه المجاز والاتساع حيث جعلت فلانا مكانا للعيب وهو قولك اتيت فلانا وهو في عنفوان شبابه وأتيته وهو في أمره ونهيه يعنى اتيته وهذه الامور قد أحاطت به وهو طريق التشبيه والتمثيل.
وأما الباء فاللالصاق ويجوز أن يكون معه استعانة4 ويجوز أن لا يكون فاما الذي معه استعانة فكقولك كتبت بالقلم وكقولك عمل الصانع بالقدوم - فأما الذي.
--------------------------------------------
এটি সীমানা নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং সীমানাটি সীমাবদ্ধ বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হয় না। আপনি যখন বলেন, "আমি আপনার নিকট এই গাছ থেকে ওই গাছ পর্যন্ত বিক্রি করলাম", তখন গাছ দুটি বিক্রির অন্তর্ভুক্ত হয় না। আর যখন এটি 'মিন' (থেকে) শব্দের সাথে যুক্ত থাকে না, তখন তা সীমানা নির্ধারণের অর্থে হওয়া সম্ভব আবার 'মা'আ' (সাথে) অর্থে হওয়াও সম্ভব। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তোমরা তাদের ধন-সম্পদ তোমাদের ধন-সম্পদের সাথে গ্রাস করো না" [আন-নিসা: ২], অর্থাৎ তোমাদের ধন-সম্পদের সাথে। তিনি আরও বলেছেন: "আল্লাহর পথে কারা আমার সাহায্যকারী হবে?" অর্থাৎ আল্লাহর সাথে। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "এবং তোমাদের হাতগুলো কনুই পর্যন্ত" [আল-মায়িদাহ: ৬], অর্থাৎ কনুইয়ের সাথে। আর আরবরা বলে থাকে, "অল্প সংখ্যক উটের সাথে অল্প সংখ্যক উট যোগ করলে উটের পাল হয়", অর্থাৎ উটের সাথে। সুতরাং মূল বিষয়টি হলো, এটি 'মিন' শব্দের বিপরীতে সীমার সমাপ্তি বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, কারণ 'মিন' শব্দটি সীমার শুরু বোঝাতে আসে। বলা হয় 'এখান থেকে ওখান পর্যন্ত'। সিবওয়াইহি বলেন, মানুষ বলে থাকে "নিশ্চয়ই আমি তোমারই অভিমুখী", অর্থাৎ তুমিই আমার লক্ষ্য বা গন্তব্য। আবার কোনো ব্যক্তিকে বলা হয় "অমুকের দিকে ওঠো", এর মাধ্যমে তোমার বর্তমান স্থান থেকে তাকে তোমার গন্তব্যস্থল বানানো হয়। ভাষাগত দিক থেকে এটিই প্রকৃত অর্থ এবং এছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা রূপক।
আর 'হাত্তা' (পর্যন্ত) সম্পর্কে কথা হলো, এটিও শেষ সীমা নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা তাদের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়" [আল-বাকারা: ২২২]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "অতঃপর সে তার জন্য বৈধ হবে না যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে" [আল-বাকারা: ২৩০]। ব্যাকরণবিদদের নিকট "আমি মাছটি এর মাথা পর্যন্ত খেয়েছি" - এই বাক্যটির প্রয়োগ এবং এর অর্থ সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে যা আমি এখানে উল্লেখ করা পরিত্যাগ করেছি। এটি কখনও 'ইলা' (পর্যন্ত) অর্থেও ব্যবহৃত হয়; যেমন আমরা বলি: "আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না যতক্ষণ না তুমি আমার পাওনা পরিশোধ কর", অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি আমার প্রাপ্য বুঝিয়ে দাও। আর 'ফী' (মধ্যে) অব্যয়টি আধারের (স্থান বা কাল) অর্থ প্রদান করে; যেমন আপনি বলেন: "যায়েদ ঘরের মধ্যে আছে", যার অর্থ হলো ঘরটি তাকে পরিবেষ্টন করে আছে। অনুরূপভাবে বলা হয়: "সম্পদ থলের মধ্যে আছে"। আর যখন আপনি বলেন: "অমুক ব্যক্তি দোষযুক্ত", তখন এটি রূপক ও ব্যাপ্তির অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেখানে আপনি সেই ব্যক্তিকে দোষের একটি আধার বা স্থান হিসেবে গণ্য করেছেন। এটি আপনার এই কথার মতো: "আমি অমুকের কাছে এসেছি যখন সে তার টগবগে যৌবনে ছিল" এবং "আমি তার কাছে এসেছি যখন সে তার আদেশ ও নিষেধের (কর্তৃত্বের) মধ্যে ছিল"; অর্থাৎ আমি তার কাছে এমন অবস্থায় এসেছি যখন এই বিষয়গুলো তাকে পরিবেষ্টন করে ছিল, আর এটি হলো সাদৃশ্য ও উপমার একটি পদ্ধতি।
আর 'বা' (দিয়ে/সাথে) অক্ষরটি সংযুক্ত করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর সাথে সাহায্য গ্রহণের অর্থ থাকা সম্ভব, আবার নাও থাকতে পারে। যে ক্ষেত্রে সাহায্য গ্রহণের অর্থ বিদ্যমান থাকে, তার উদাহরণ হলো আপনার কথা: "আমি কলম দিয়ে লিখেছি" এবং "কারিগর কুড়াল দিয়ে কাজ করেছে"। আর যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কওয়াতিউল আদিল্লাতি ফিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
لا استعانة معه فكقولك مررت بزيد ونزلت بعبد الله وقد تزاد الباء في خبر النفى توكيدا كقولك ليس زيد بقائم وجاءت زائدة كقول الله تعالى: {وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيداً} [النساء: 166] وكقول الشاعر تضرب بالسيف وتزخر بالفرح وقد قال بعضهم أن الباء للتبعيض في قوله تعالى: {وَامْسَحُوا بِرُؤُوسِكُمْ} [المائدة: 6] وقالوا: غلط1 والباء هاهنا صلة لتعدية الفعل قاله الخطابي.
وقال الماوردى الباء موضوعة لالصاق الفعل بالمفعول كقولك مسحت يدى بالمنديل وكتبت بالقلم وقد تستعمل في التبعيض إذا امكن حذفها كقوله تعالى: {وَامْسَحُوا بِرُؤُوسِكُمْ} اى بعض رءوسكم قال وهو حقيقة في بعض اصحاب الشافعى مجاز في قول الأكثرين.
وأما لام الاضافة قال سيبويه معناه الملك واستحقاق الشيء تقول الغلام لي والثوب لفلان.
وقالوا: أن اللام لها ثلاثة مواضع:.
للتمليك2 من قوله تعالى: {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ} [التوبة: 60] .
والثاني للتعليل3 قال الله تعالى لئلا يكون للناس على الله حجة بعد الرسل والثالث للعاقبة قال الله تعالى: {فَالْتَقَطَهُ آلُ فِرْعَوْنَ لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوّاً وَحَزَناً} .
واعتذارا4 أن هذا على طريق التوسع والمجاز فإن هذا مثال لما زعمه المعتزلة من تأويل قوله تعالى: {وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيراً مِنَ الْجِنِّ وَالْأِنْسِ} 5 [الأعراف: 179] وقد أنكر.
--------------------------------------------
এখানে সাহায্য প্রার্থনার (ইসতিআনা) অর্থ নেই, যেমন আপনার কথা: "আমি যায়িদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি" এবং "আমি আব্দুল্লাহর কাছে অবতরণ করেছি"। কখনো কখনো 'বা' (بـ) হরফটি নেতিবাচক খবরের ক্ষেত্রে গুরুত্ব বা তাকিদ প্রদানের জন্য অতিরিক্ত (যায়েদা) হিসেবে আসে, যেমন আপনার কথা: "যায়িদ দণ্ডায়মান নয়"। এটি অতিরিক্ত হিসেবেও আসে যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট" [আন-নিসা: ১৬৬]। কবির কবিতার মতো: "তরবারির মাধ্যমে আঘাত করো এবং আনন্দে মেতে ওঠো"। কেউ কেউ বলেছেন যে, মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের মাথা মাসহ করো" [আল-মায়িদাহ: ৬]-তে 'বা' হরফটি আংশিকতা (তাবয়িয) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে তারা বলেছেন: এটি ভুল। ইমাম খাত্তাবি বলেছেন, এখানে 'বা' হরফটি ক্রিয়াকে কর্মের সাথে যুক্ত করার জন্য (সিলাহ) এসেছে।
ইমাম মাওয়ার্দি বলেছেন, 'বা' হরফটি ক্রিয়াকে কর্মের সাথে সংলগ্ন করার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমন আপনার কথা: "আমি রুমাল দিয়ে আমার হাত মুছেছি" এবং "আমি কলম দিয়ে লিখেছি"। কখনো কখনো এটি আংশিকতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয় যদি তা বিলুপ্ত করা সম্ভব হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের মাথা মাসহ করো" অর্থাৎ তোমাদের মাথার কিয়দংশ। তিনি বলেছেন, ইমাম শাফেয়ীর কিছু অনুসারীর মতে এটি এর প্রকৃত অর্থ, কিন্তু অধিকাংশের মতে এটি রূপক।
আর 'লামে ইযাফাত' (সম্বন্ধসূচক লাম) সম্পর্কে ইমাম সিবওয়াইহি বলেছেন, এর অর্থ হলো মালিকানা এবং কোনো জিনিসের উপযুক্ত হওয়া; যেমন আপনি বলেন: "বালকটি আমার" এবং "পোশাকটি অমুকের"।
তারা বলেছেন: 'লাম'-এর ব্যবহারের তিনটি ক্ষেত্র রয়েছে:
মালিকানা বুঝানোর জন্য, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "সাদাকা তো কেবল ফকীরদের জন্য" [আত-তাওবাহ: ৬০]।
দ্বিতীয়ত: কারণ দর্শানোর জন্য (তালিল), মহান আল্লাহ বলেন: "যাতে রাসূলদের প্রেরণের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে"। এবং তৃতীয়ত: পরিণাম বুঝানোর জন্য (আকিবাহ), মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর ফেরাউনের পরিবার তাকে কুড়িয়ে নিল, যাতে তিনি তাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হন"।
ব্যাখ্যা হিসেবে বলা যায় যে, এটি রূপক ও অর্থের প্রশস্ততার পথ অবলম্বনে বলা হয়েছে। কেননা এটি সেই উদাহরণ যা মুতাজিলাগণ মহান আল্লাহর এই বাণীর অপব্যাখ্যার ক্ষেত্রে দাবি করে: "আমি অনেক জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি" [আল-আরাফ: ১৭৯]। আর একে অস্বীকার করা হয়েছে।
--------------------------------------------