(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: -)
ضياء السالك إلى أوضح المسالك   (محمد عبد العزيز النجار)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: ضياء السالك إلى أوضح المسالك

وهو: «صفوة الكلام على توضيح ابن هشام»

المؤلف: محمد عبد العزيز النجار [كان حيا سنة 1397]

المفتش العام السابق للغة العربية والشئون الدينية بوزارة التربية والتعليم

الناشر: مؤسسة الرسالة، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আওদাহুল মাসালিকের প্রতি পথিকের আলোকবর্তিকা   (মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ আন-নাজ্জার)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


কিতাব: আওদাহুল মাসালিকের প্রতি পথিকের আলোকবর্তিকা

যা হলো: «ইবনে হিশামের তাওদিহ-এর ওপর চয়নকৃত আলোচনা»

লেখক: মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ আন-নাজ্জার [১৩৯৭ হিজরিতে তিনি জীবিত ছিলেন]

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরবি ভাষা ও ধর্মীয় বিষয়ক সাবেক সাধারণ পরিদর্শক

প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة :

الحمد لله على جزيل نعمه، وتواتر آلائه ومننه، والصلاة والسلام على النبي المرتضى والحبيب المرتجى؛ سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم النبي العربي، والرسول القرشي؛ صفوة الأنبياء، وأفصح البلغاء، وعلى آله وأصحابه وتابعيه، ومن نحا نحوهم، واهتدى بهديهم، وسلك سبيلهم، إلى يوم الجزاء.

"وبعد" فهذا مؤلف جديد، وتعليق فريد، على "أوضح المسالك إلى ألفية ابن مالك" للإمام الجليل جمال الدين بن هشام الأنصاري، يزيد على ما سبقه من الكتب في دقة نسجه، ويفوق ما تقدمه من التعليقات في بسط جوهره، وينفرد عن غيره من المؤلفات بعمق النظرة، ووضوح الفكرة.

تناولت فيه التعليق الوافي على متن فخر النحاة "ابن هشام"، وأوضحت باختصار معاني وإعراب ألفية "ابن مالك" الهمام. وكشفت عن خفي العبارات والتراكيب التي يصعب على الدارس فهمها، ويلتوي عليه وعيها وإدراكها. وشرحت ما فيه من أمثلة وشواهد، وأجملت معانيها، وذكرت إعراب الغامض منها، وموضع الشاهد فيها.

واستقصيت -في إيجاز- ما تمس الحاجة إليه من طرائف وفوائد في شتى الموضوعات، وعملت على تجديد وتنويع ما عرضت من الأسئلة والتطبيقات.

وأضفت -في المناسبات- الموضوعات الصرفية الهامة التي أغفلها "ابن هشام" كما أغفلها "ابن مالك" -وبخاصة تصريف الأفعال اكتفاء بكتابه لامية الأفعال- ليكون الكتاب مغنيًا بنفسه في القواعد النحوية والصرفية.

وعنيت بعرض تعريف مناسب لأئمة النحاة والقراء الذين وردت أسماؤهم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা :

আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা তাঁর অফুরন্ত নেয়ামত এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দানের ধারাবাহিকতার জন্য। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মনোনীত নবী এবং যাঁর শাফাআত আশা করা হয় সেই প্রিয়তমের ওপর; আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি আরবি নবী এবং কুরাইশ বংশীয় রাসুল; নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং অলঙ্কারবিদদের মধ্যে সবচেয়ে সাবলীল। এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, তাবিঈগণ এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁদের পথ অনুসরণ করবেন, তাঁদের হেদায়েত গ্রহণ করবেন এবং তাঁদের পথে চলবেন।

অতঃপর, এটি ইমাম জলীল জামালুদ্দিন ইবনে হিশাম আল-আনসারী রচিত "আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক"-এর ওপর এক নতুন রচনা এবং অনন্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা এর পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহ থেকে এর নিপুণ বিন্যাসে অনন্য, এর মূল বিষয়বস্তুর বিস্তারিত বিবরণে পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে এবং গভীর দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার স্বচ্ছতায় অন্যান্য রচনা থেকে স্বতন্ত্র।

এতে আমি ব্যাকরণবিদদের গৌরব "ইবনে হিশাম"-এর মূল পাঠের ওপর পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করেছি এবং মহিমান্বিত "ইবনে মালিক"-এর আলফিয়্যার অর্থ ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ সংক্ষেপে স্পষ্ট করেছি। আমি এমন সব অস্পষ্ট বাক্য ও গঠন উন্মোচন করেছি যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য বোঝা কঠিন এবং যা উপলব্ধি করা তার জন্য জটিল হয়ে পড়ে। আমি এতে বিদ্যমান উদাহরণ ও কাব্যিক সাক্ষ্যগুলো ব্যাখ্যা করেছি, সেগুলোর অর্থ সারসংক্ষেপ করেছি এবং সেগুলোর মধ্য থেকে জটিল শব্দগুলোর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্যের স্থান উল্লেখ করেছি।

আমি সংক্ষেপে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রয়োজনীয় ও চমৎকার তথ্যাবলি ও শিক্ষা অনুসন্ধান করেছি এবং উপস্থাপিত প্রশ্ন ও অনুশীলনীগুলোতে নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করেছি।

প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে আমি গুরুত্বপূর্ণ সারফ (শব্দরূপান্তর) বিষয়ক বিষয়গুলো যুক্ত করেছি যা ইবনে হিশাম এবং ইবনে মালিক উপেক্ষা করেছিলেন—বিশেষ করে ক্রিয়ার রূপান্তর, কারণ ইবনে মালিক তাঁর "লামিয়াতুল আফআল" গ্রন্থের ওপরই নির্ভর করেছিলেন—যাতে এই গ্রন্থটি ব্যাকরণ ও শব্দরূপান্তর শাস্ত্রের নিয়মাবলিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে।

আমি সেই সকল ইমাম, ব্যাকরণবিদ এবং ক্বারীগণের উপযুক্ত পরিচয় উপস্থাপনের যত্ন নিয়েছি যাদের নাম এতে উল্লেখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ৪)
في هذا السفر الجليل؛ ليكون الدارس على بصيرة بمنزلتهم العلمية، فيختار من آرائهم ما تطمئن إليه نفسه، ويهديه إليه درسه وبحثه.

وقد صدرت الكتاب بنبذة جامعة عن وضع النحو ونشأته، وسيره في طريق النمو والازدهار، حتى أينع وأثمر، واستتبع ذلك ذكر بعض رواده الأوائل، وجلة واضعيه الأماثل.

وأوضحت كيف نشأ المذهبان المعروفان لدى علماء النحو؛ وهما: المذهب البصري، والمذهب الكوفي، وأهم الفروق بينهما.

وقد أقبلت على وضع هذا المؤلف بعد أن سمح وقتي بتفرغي إليه، وقصر جهدي عليه، ومراجعة المصادر المختلفة التي تعين على توضيحه، وتساعد على إظهار مكنون أسراره، وقصدت بعملي هذا خدمة ذلك السفر العظيم، والتقرب إلى الله -الذي تعنو له الوجوه- بتيسير وفهم لغة كتابه الكريم.

وقد أسميته: "ضياء السالك إلى أوضح المسالك" سائلًا الله -جلت قدرته- أن يضيء به الطريق لقارئه، وينير السبيل أمام المطلع عليه، إنه سميع مجيب.

المؤلف
এই মহান গ্রন্থে; যাতে শিক্ষার্থী তাদের ইলমি মর্তবা সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করতে পারে এবং তাদের মতামতের মধ্য থেকে তা-ই গ্রহণ করতে পারে যার প্রতি তার মন আশ্বস্ত হয় এবং তার অধ্যয়ন ও গবেষণা তাকে সেই দিকেই পরিচালিত করে।

আমি এই কিতাবটি শুরু করেছি নাহু শাস্ত্রের বিন্যাস ও উৎপত্তির একটি বিস্তৃত সারসংক্ষেপ দিয়ে, এবং এর ক্রমবিকাশ ও উন্নতির গতিপথের বর্ণনা দিয়ে, যতক্ষণ না তা পরিপক্ক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। এর আনুষঙ্গিক হিসেবে আমি এর কতিপয় আদি পথপ্রদর্শক এবং এর প্রধান শ্রেষ্ঠ প্রবর্তকদের কথা উল্লেখ করেছি।

আর আমি স্পষ্ট করেছি যে, নাহুবিদদের নিকট পরিচিত মাযহাব দুটি কীভাবে গড়ে উঠেছে; আর তা হলো: বসরি মাযহাব ও কুফি মাযহাব এবং তাদের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যসমূহ।

সময় পাওয়ার পর আমি নিজেকে এই গ্রন্থ রচনায় নিয়োজিত করেছি এবং আমার প্রচেষ্টা এর পেছনেই ব্যয় করেছি। আমি বিভিন্ন উৎস গ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করেছি যা একে স্পষ্ট করতে এবং এর অন্তর্নিহিত রহস্য উন্মোচনে সহায়তা করে। এই কাজের মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো এই মহান কিতাবের খেদমত করা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা—যাঁর সামনে সকল চেহারা অবনত হয়—তাঁর সম্মানিত কিতাবের ভাষাকে সহজতর করা ও বোঝার মাধ্যমে।

আমি এর নাম দিয়েছি: "যিয়াউস সালিক ইলা আওযাহিল মাসালিক", আল্লাহর—যাঁর কুদরত মহান—নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর মাধ্যমে পাঠকের জন্য পথকে আলোকিত করেন এবং এর অধ্যয়নকারীর সামনে পথকে উদ্ভাসিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও কবুলকারী।

লেখক
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌ترجمة ابن هشام:

هو الإمام العلامة النحوي المشهور: أبو محمد عبد الله "جمال الدين" بن يوسف بن أحمد بن عبد الله بن هشام الأنصاري المصري، ولد بالقاهرة في ذي القعدة من عام 708 "ثمان وسبعمائة من الهجرة النبوية"، الموافق 1309 ميلادية.

وقد اشتغل منذ نشأته بالعربية، وتوافر على دراستها حتى أتقنها وبرز فيها، وقرأ على ابن السراج، وسمع من أبي حيان ديوان زهير بن أبي سلمى ولم يلازمه، وحضر دروس الشيخ تاج الدين التبريزي، وتفقه على مذهب الشافعي ثم تحنبل.

وقد فاق الأقران بل الشيوخ، وبز من تقدمه، وأعيا من أتى بعده، وتصدر للدرس، فنفع الطلاب وأفادهم كثيرًا، وأقبل الناس عليه من كل صوب، وكان كثير المخالفة لأبي حيان، شديد الانحراف عنه، هذا إلى صلاحه وورعه وشدة تواضعه. قال عنه شيخ الإسلام ابن حجر العسقلاني في كتابه "الدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنة: "لقد انفرد ابن هشام بالفوائد الغريبة، والمباحث الدقيقة، والاستدراكات العجيبة، والتحقيق البالغ، والاطلاع المفرط، والاقتدار على التصرف في الكلام، والملكة التي كان يتمكن بها من التعبير عن مقصوده بما يريد؛ مسهبًا وموجزا، مع التواضع والبر، والشفقة ودماثة الخلق، ورقة القلب".

وحسبك هذه الشهادة -الجامعة لأنواع الفضائل- من إمام جليل كابن حجر.
ইবনে হিশামের জীবনী:

তিনি হলেন প্রখ্যাত ইমাম, আল্লামা ও ব্যাকরণবিদ: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ "জামালুদ্দিন" বিন ইউসুফ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হিশাম আল-আনসারি আল-মিসরি। তিনি ৭০৮ হিজরি সনের (নবীজির হিজরতের সাতশত আট বছর) জিলকদ মাসে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন, যা ১৩০৯ খ্রিস্টাব্দের সমসাময়িক।

তিনি শৈশব থেকেই আরবি ভাষা চর্চায় মনোনিবেশ করেন এবং এর গবেষণায় নিজেকে পূর্ণরূপে নিয়োজিত করেন, যতক্ষণ না তিনি এতে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন। তিনি ইবনে সিরাজের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন এবং আবু হাইয়ানের নিকট জুহাইর বিন আবি সুলমার কাব্যগ্রন্থ শ্রবণ করেন, তবে তাঁর সান্নিধ্যে দীর্ঘকাল অতিবাহিত করেননি। তিনি শাইখ তাজউদ্দীন আত-তাবরিজির পাঠদানসমূহে উপস্থিত থাকতেন। তিনি প্রথমে শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, পরবর্তীতে হাম্বলী মাযহাব গ্রহণ করেন।

তিনি তাঁর সমসাময়িকদের এমনকি তাঁর শিক্ষকদেরও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনি পূর্বসূরিদের অতিক্রম করে যান এবং উত্তরসূরিদের জন্য তাঁকে স্পর্শ করা দুঃসাধ্য করে তোলেন। তিনি পাঠদানের আসনে আসীন হন এবং ছাত্রদের প্রভূত কল্যাণ ও উপকার সাধন করেন। চারদিক থেকে মানুষ তাঁর নিকট আসতে শুরু করে। তিনি অনেক ক্ষেত্রেই আবু হাইয়ানের মতের বিরোধিতা করতেন এবং তাঁর থেকে প্রবলভাবে ভিন্নমত পোষণ করতেন। এর পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত নেককার, মুত্তাকি ও অতিশয় বিনয়ী ছিলেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে হাজার আল-আসকালানি তাঁর "আদ-দুরারুল কামিনাহ ফি আয়ানিল মিআতিল সামিনাহ" গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "ইবনে হিশাম বিরল জ্ঞানগর্ভ তথ্য, সূক্ষ্ম গবেষণা, বিস্ময়কর সংশোধনী, চূড়ান্ত তাহকিক, অগাধ পাণ্ডিত্য এবং ভাষার প্রয়োগে অসামান্য দক্ষতার জন্য অনন্য ছিলেন। তাঁর এমন এক স্বভাবজাত প্রতিভা ছিল যার মাধ্যমে তিনি স্বীয় উদ্দেশ্যকে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী সংক্ষেপে বা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম হতেন। এর পাশাপাশি তাঁর মাঝে বিনয়, সদাচার, মমতা, চরিত্রের মাধুর্য ও হৃদয়ের কোমলতা বিদ্যমান ছিল।"

ইবনে হাজারের মতো একজন মহান ইমামের এই সাক্ষ্যই—যা সকল প্রকার শ্রেষ্ঠত্বের গুণাবলিকে ধারণ করে—আপনার জন্য যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ৬)
وقال عنه المؤرخ العلامة ابن خلدون: "ما زلنا ونحن بالمغرب نسمع أنه ظهر بمصر عالم بالعربية، يقال له ابن هشام، أنحى من سيبويه".

وذكره مرة أخرى بقوله: "إن ابن هشام على علم جم يشهد بعلو قدره في صناعة النحو: وكان ينحو في طريقته منحى أهل الموصل الذين اقتفوا أثر ابن جني، واتبعوا مصطلح تعاليمه، فأتى من ذلك بشيء عجيب يدل على قوة ملكته واطلاعه".

وقد صنف ابن هشام كثيرًا من الكتب النافعة التي تلوح منها أمارات التحقيق، وطول الباع في البحث والتدقيق، منها: "مغني اللبيب عن كتب الأعاجيب" وهو مشهور متداول، ومرجع هام للدارسين، وعليه شروح كثيرة. و"الروضة الأدبية في شواهد علوم العربية" وهو شرح لشواهد "اللمع لابن جني" و كتاب "رفع الخصاصة عن قراء الخلاصة" في أربع مجلدات … وغير ذلك. ومن كتبه المتداولة الآن: "شذور الذهب في معرفة كلام العرب"، و"قطر الندى وبل الصدى" وهما يدرسان في بعض المعاهد. و"شرح الجامع الصغير". وله عدة حواش على الألفية والتسهيل. وشرح قصيدتي: "بانت سعاد" و"البردة". أما "أوضح المسالك" الذي نحن بصدد التعليق عليه، فقد ذاع صيته، وانتشر في الآفاق ذكره، وهو مرجع هام في نحو اللغة العربية.

وكان رحمه الله خبيرًا بالشعر ونظمه. ومن شعره قوله:

ومن يصطبر للعلم يظفر بنيله … ومن يخطب الحسناء يصبر على البذل

ومن لا يذل النفس في طلب العلا … يسيرا يعش دهرا طويلا أخا ذل

وتوفي رحمه الله ليلة الجمعة، الخامس من ذي القعدة سنة 761 "إحدى وستين وسبعمائة هجرية"، الموافقة 1630 ميلادية. ودفن عند باب النصر بالقاهرة، وقبره معروف هنالك إلى الآن. رحمه الله وأسبغ على جدثه المغفرة والرضوان.
প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আল্লামা ইবনে খালদুন তার সম্পর্কে বলেছেন: "আমরা যখন মাগরিবে ছিলাম, তখন থেকেই শুনে আসছি যে মিশরে আরবি ভাষায় এমন এক পণ্ডিতের আবির্ভাব ঘটেছে, যাকে ইবনে হিশাম বলা হয়, যিনি সিবওয়াইহ-এর চেয়েও বড় ব্যাকরণবিদ।"

তিনি আবারও তার কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইবনে হিশাম এমন প্রভূত জ্ঞানের অধিকারী যা ব্যাকরণ শাস্ত্রে তার উচ্চ মর্যাদার সাক্ষ্য দেয়। তিনি তার পদ্ধতিতে মোসেলের অধিবাসীদের পথ অনুসরণ করতেন, যারা ইবনে জিন্নীর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিল এবং তার শিক্ষা পদ্ধতির পরিভাষাগুলো গ্রহণ করেছিল। ফলে তিনি এমন এক বিস্ময়কর বিষয় উপস্থাপন করেছেন যা তার প্রখর মেধা ও পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়।"

ইবনে হিশাম অনেক উপকারী কিতাব রচনা করেছেন, যেগুলোতে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং গবেষণা ও নিবিড় পর্যালোচনায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার নিদর্শন ফুটে ওঠে। তার মধ্যে রয়েছে: "মুগনী আল-লাবীব আন কুতুবিল আ'য়াজীব", এটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও বহুল পঠিত এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স, এর ওপর অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। এবং "আর-রাওদাতুল আদাবিয়্যাহ ফি শাওয়াতিদিল উলুমিল আরাবিয়্যাহ", যা ইবনে জিন্নীর "আল-লুমা" কিতাবের কাব্যিক উদাহরণগুলোর ব্যাখ্যা। এবং চার খণ্ডে সমাপ্ত "রাফউল খাসাসাহ আন কুররাউল খুলাসাহ" কিতাবটি … ইত্যাদি। বর্তমানে প্রচলিত তার কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে: "শুজুরুয যাহাব ফি মা'রিফাতি কালামিল আরব" এবং "কাতরুন নাদা ওয়া বাল্লুস সাদা", এই দুটি কিতাব বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। আরও রয়েছে "শরহুল জামিউস সাগীর"। আলফিয়্যাহ এবং আত-তাসহীল-এর ওপরও তার বেশ কিছু টীকা রয়েছে। এছাড়া তিনি "বানাত সুআদ" এবং "আল-বুরদাহ" কাসিদা দুটিরও ব্যাখ্যা লিখেছেন। আর "আওদাহুল মাসালিক", যার ওপর আমরা এখন টীকা লিখছি, সেটি তো জগৎজুড়ে খ্যাতি লাভ করেছে এবং এর চর্চা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এটি আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

আল্লাহ তার ওপর রহম করুন, তিনি কবিতা ও ছন্দশাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। তার কবিতার মধ্যে একটি হলো:

যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্য ধৈর্য ধারণ করে, সে তা লাভে সফল হয় … যেমন রূপবতী কনেকে বিয়ের প্রস্তাবকারীকে অঢেল ব্যয়ের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হয়।

যে ব্যক্তি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পথে নিজের নফসকে সামান্য সময়ের জন্য হলেও … তুচ্ছ করতে পারে না, সে দীর্ঘকাল লাঞ্ছিত অবস্থায় জীবন কাটায়।

তিনি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) ৭৬১ হিজরি (সাতশ একষট্টি হিজরি) সনের ৫ই জিলকদ শুক্রবার রাতে ইন্তেকাল করেন, যা ১৬৩০ খ্রিস্টাব্দের সমসাময়িক। তাকে কায়রোর বাবুন নাসর এলাকায় দাফন করা হয় এবং সেখানে তার কবর আজও পরিচিত। আল্লাহ তাকে রহম করুন এবং তার কবরের ওপর পূর্ণ ক্ষমা ও সন্তুষ্টি বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ৭)
وقد رثاه كثير من الشعراء، ومنهم ابن نباتة المصري بقوله:

سقى ابن هشام في الثرى نوء رحمة … يجر على مثواه ذيل غمام

سأروي له في سيرة المدح مسندا … فما زلت أروي سيرة ابن هشام
অনেক কবি তাঁর শোকগাথা রচনা করেছেন, আর তাঁদের মধ্যে ইবনে নুবাতাহ আল-মিসরি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে (শোক প্রকাশ করেছেন):

ইবনে হিশামের কবরের মাটিতে রহমতের বারিধারা বর্ষিত হোক … যা তাঁর শেষ শয়ানে মেঘের আঁচল টেনে আনবে

আমি তাঁর প্রশংসার জীবনীতে একটি সনদ বর্ণনা করব … ফলে আমি সর্বদা ইবনে হিশামের সীরাত বর্ণনা করতে থাকব
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌كلمة إجمالية عن نشأة النحو:

‌‌العرب وسيادة قريش:

1 - كان يسكن الجزيرة العربية شعبان عظيمان من شعوب الأمة العربية هما: العدنانيون، وكانوا يسكنون الحجاز بمكة وما والاها، ومنهم قريش. والقحطانيون، وكانت منازلهم باليمن. وكانت لغة الشعبين عربية فصيحة، غير أنهما يختلفان في مدلول بعض الألفاظ واللهجات، كما كان لكل من الشعبين لهجات تختلف باختلاف القبائل.

2 - وكان لقريش السيادة في الجاهلية، بسبب ما آل إليها من السقاية(1) والرفادة(2) والحجابة(3) والسدانة(4) في البيت الحرام. وكانت مكة مزارًا يحج إليها العرب جميعًا كل عام، وتقام فيها الأسواق التي كان من أشهرها: عكاظ(5)، ومجنة(6)، وذي المجاز(7)، والتي كان يحضرها الناس للتجارة، كما يحضرها الخطباء والشعراء من شتى الجهات؛ للتفاخر والتهاجي والتباري في الخطابة والشعر، ويحكم بينهم الحكام، والسعيد من حكم له بالسبق. فاجتمع

--------------------------------------------

(1) هي: سقاية الحجاج.

(2) ما كانت تخرجه قريش من المال لتشتري به طعامًا للحجيج.

(3) القيام على خدمة البيت. والحاجب: البواب، ووظيفته الحجابة.

(4) خدمة الكعبة المشرفة، يقال: سدن أي: خدم الكعبة.

(5) سوق بين نخلة والطائف، شهدها الرسول صلى الله عليه وسلم وبقيت حتى نصف القرن الثاني من الهجرة.

(6) موضع قرب مكة، وقد تكسر ميمها.

(7) سوق كانت على فرسخ من عرفة.
‌‌নাহু বা আরবী ব্যাকরণের উৎপত্তি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য:

‌‌আরব জাতি ও কুরাইশদের আধিপত্য:

১ - আরব উপদ্বীপে আরব জাতির দুটি মহান শাখা বসবাস করত, তারা হলো: আদনানিগণ, যারা মক্কার হিজাজ ও এর আশেপাশের এলাকায় বাস করত, আর কুরাইশরা ছিল তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। এবং কাহতানিগণ, যাদের আবাসস্থল ছিল ইয়ামেনে। উভয় জাতির ভাষাই ছিল প্রাঞ্জল আরবী, তবে কিছু শব্দের অর্থ ও উপভাষার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে পার্থক্য ছিল। তদুপরি উভয় জাতির প্রতিটি শাখার গোত্রভেদে ভিন্ন ভিন্ন উপভাষা বিদ্যমান ছিল।

২ - জাহেলী যুগে বাইতুল হারামের (পবিত্র কাবার) সিকায়া(১), রিফাদা(২), হিজাবা(৩) ও সিদানা(৪)-এর দায়িত্ব অর্পিত হওয়ার কারণে কুরাইশদের আধিপত্য ছিল। মক্কা ছিল একটি তীর্থস্থান যেখানে প্রতি বছর সমস্ত আরবরা হজ করতে আসত। সেখানে বাজার বসত, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: উকাজ(৫), মাজান্নাহ(৬) ও যুল-মাজায(৭)। মানুষ সেখানে ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসত, আর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাগ্মী ও কবিরা আসত নিজেদের বংশীয় শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে, অন্যের নিন্দা করতে এবং বাগ্মিতা ও কবিতায় একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতে। বিচারকরা তাদের মাঝে বিচার করতেন এবং সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান হিসেবে গণ্য হতো যার পক্ষে শ্রেষ্ঠত্বের রায় দেওয়া হতো। এভাবে সম্মিলিত হলো...

--------------------------------------------

(১) এটি হলো হাজীদের পানি পান করানো।

(২) হাজীদের জন্য খাবার কিনতে কুরাইশরা যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করত।

(৩) কাবার সেবা বা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করা। 'হাজিব' অর্থ দ্বাররক্ষী, আর তার কাজকে 'হিজাবা' বলা হয়।

(৪) পবিত্র কাবার সেবা করা। বলা হয়: 'সাদানা' অর্থাৎ সে কাবার সেবা করল।

(৫) নাখলা ও তায়েফের মধ্যবর্তী একটি বাজার, যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপস্থিত হয়েছিলেন এবং হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত এটি টিকে ছিল।

(৬) মক্কার নিকটবর্তী একটি স্থান, এর 'মীম' বর্ণটিতে কাছরা (জের) দিয়েও উচ্চারণ করা যায়।

(৭) আরাফা থেকে এক ফারসাখ দূরে অবস্থিত একটি বাজার।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ৮)
لقريش من ذلك كله زاد لغوي واسع، أضافته إلى لغتها الأصلية بعد أن تخيرت أعذبه جرسًا، وأخفه وقعًا، وأبلغه معنى. فأصبحت لغتها أغنى اللغات العربية، وأشملها، وأعذبها، وأقدرها على تصوير المعاني المختلفة. وتسابق الخطباء والشعراء في استعمال لغة قريش، ونقلوا كثيرا منها إلى قبائلهم، فانتشرت في الجزيرة العربية وسادت. فكان ذلك تمهيدًا وتهيئة لجو ملائم للرسالة المحمدية، ونزول القرآن الكريم بتلك اللغة المنتقاة.

3 - وكان العرب في هذه الآونة، يتكلمون العربية الصحيحة بالسليقة على اختلاف قبائلهم ولهجاتهم، وكانوا قليلي الاتصال بمن حولهم من الأعاجم، فكان بين الفرس وعرب الجزيرة، والروم وعرب الشام شيء من الاتصال، يدخل بعض هؤلاء الجزيرة العربية، ويتعلمون اللغة، وينطقونها تقليدًا.
কুরাইশদের এই সবকিছুর ফলে এক বিশাল ভাষাগত পাথেয় অর্জিত হয়েছিল, যা তারা তাদের মূল ভাষার সাথে যুক্ত করেছিল; তবে তা করেছিল তার ধ্বনিমাধুর্যের দিক থেকে সর্বাধিক সুমধুর, শ্রুতিতে সর্বাধিক স্বচ্ছন্দ এবং অর্থে সর্বাধিক প্রাঞ্জল অংশটুকু বেছে নেওয়ার পর। ফলে তাদের ভাষাটি আরবি ভাষাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ, ব্যাপক, সুমধুর এবং বিভিন্ন অর্থ ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে সর্বাধিক সক্ষম হয়ে উঠল। বক্তা ও কবিরা কুরাইশদের ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতো এবং তারা এর অনেক কিছু তাদের নিজ নিজ গোত্রে নিয়ে গিয়েছিল। ফলে তা আরব উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাধান্য লাভ করে। আর এটি ছিল মুহাম্মাদী রিসালাতের জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশের উপক্রমণিকা ও প্রস্তুতি এবং সেই মনোনীত ভাষায় পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করা।

৩ - আর আরবরা এই সময়ে তাদের বিভিন্ন গোত্র ও উপভাষা থাকা সত্ত্বেও সহজাত প্রবৃত্তিগতভাবেই বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় কথা বলত। তারা তাদের চারপাশের অনারবদের সাথে খুব কমই যোগাযোগ রাখত। তবে পারস্যবাসী ও আরব উপদ্বীপের আরবদের মাঝে এবং রোমান ও শাম অঞ্চলের আরবদের মাঝে কিছুটা যোগাযোগ ছিল; এদের কেউ কেউ আরব উপদ্বীপে প্রবেশ করত, ভাষা শিখত এবং অনুকরণ করে তা উচ্চারণ করত।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌ظهور اللحن:

1 - ولما جاء الإسلام وانتشر خارج الجزيرة العربية، اضطر العرب للاختلاط بغيرهم، وزاد اتصالهم بالأعاجم في سائر الأمصار، وتبادلوا معهم التجارة والمنافع؛ فأخذ الفساد يدب في تلك السليقة العربية، وظهر اللحن بين بعض العرب -علاوة على الدخلاء من الأعاجم- وساعد على ذلك أن اللغة العربية لغة مُعْربة، سرعان ما يتسرب إليها اللحن والفساد.

2 - وقد ظهر اللحن في عهد الرسول عليه السلام فقد روي أن رجلًا لحن بحضرته، فقال: "أرشدوا أخاكم فقد ضل". ومر عمر بن الخطاب على نفر يتمرنون على رمي السهام فوجدهم لا يحسنون، فأنبهم، فقالوا له: إنا قوم متعلمين، فأفزعه ذلك وقال: والله لخطؤكم في لسانكم أشد على من خطئكم في رميكم. وروي أن كاتبًا لأبي موسى الأشعري -وكان واليًا لسيدنا عمر على البصرة- كتب رسالة على لسان أبي موسى إلى سيدنا عمر: من أبو موسى الأشعري إلى .... ، فلما اطلع عمر عليها كتب إلى أبي موسى: عزمت عليك
‌ভাষাগত ভুলের আবির্ভাব:

১ - যখন ইসলাম আবির্ভূত হলো এবং আরব উপদ্বীপের বাইরে ছড়িয়ে পড়ল, আরবরা অন্যদের সাথে মেলামেশা করতে বাধ্য হলো এবং বিভিন্ন জনপদে অনারবদের সাথে তাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেল; তারা তাদের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পারস্পরিক স্বার্থ বিনিময় করল। ফলে সেই সহজাত আরবীয় ভাষাবোধে বিকৃতি প্রবেশ করতে শুরু করল এবং অনারব বহিরাগতদের পাশাপাশি কিছু আরবের মধ্যেও ভাষাগত ভুল (লাহন) প্রকাশ পেতে লাগল। এর পেছনে সহায়ক বিষয় ছিল এই যে, আরবি একটি বিভক্তিযুক্ত ভাষা, যাতে খুব দ্রুতই ভুল ও বিকৃতি অনুপ্রবেশ করতে পারে।

২ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগেই ভাষাগত ভুলের প্রকাশ ঘটেছিল। বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি তাঁর উপস্থিতিতে ব্যাকরণগত ভুল করেছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "তোমাদের ভাইকে সঠিক পথ দেখাও, কারণ সে পথভ্রষ্ট হয়েছে।" উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা তীর নিক্ষেপ অনুশীলন করছিল। তিনি দেখলেন যে তারা নিপুণ নয়, তখন তিনি তাদের তিরস্কার করলেন। তারা তাঁকে বলল: "ইন্না ক্বাওমুন মুতাআল্লিমীন" (আমরা শিক্ষার্থী জাতি)। এতে তিনি শঙ্কিত হয়ে বললেন: "আল্লাহর কসম, তোমাদের ভাষার ভুল আমার কাছে তোমাদের তীর নিক্ষেপের ভুলের চেয়েও অধিকতর গুরুতর।" বর্ণিত আছে যে, আবু মুসা আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু—যিনি বসরার গভর্নর হিসেবে সাইয়্যিদিনা উমরের নিযুক্ত ছিলেন—তার একজন লেখক আবু মুসার পক্ষ থেকে সাইয়্যিদিনা উমরের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন: "মিন আবু মুসা আল-আশআরী ইলা..."। যখন উমর এটি দেখলেন, তখন তিনি আবু মুসাকে লিখে পাঠালেন: "আমি তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছি যে..."
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ৯)
لما ضربت كاتبك سوطًا.

3 - وقد شاع اللحن بين أوساط الناس، وجرى على ألسنة العجم المستعربين فهال ذلك أولي الأمر، وخافوا أن يتسرب إلى القرآن الكريم والحديث الشريف، فأسرع المفكرون والعلماء إلى وضع قواعد يهتدى بها؛ لحفظ اللغة من هذا الخطر الداهم. وقد هداهم تفكيرهم إلى وضع علمي النحو واللغة.
যখন তুমি তোমার লেখককে চাবুক দ্বারা প্রহার করলে।

৩ - মানুষের মাঝে ভাষাগত ভুল (লাহন) ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তা আরবীয়করণকৃত অনারবদের জিহ্বায় জারি হয়েছিল। এটি দায়িত্বশীলদের আতঙ্কিত করে তুলেছিল এবং তারা আশঙ্কা করেছিলেন যে তা পবিত্র কুরআন ও সুমহান হাদীসে অনুপ্রবেশ করবে। ফলে চিন্তাবিদ ও আলিমগণ এই আসন্ন বিপদ থেকে ভাষাকে রক্ষা করার জন্য এমন কিছু নীতিমালা প্রণয়নে দ্রুত সচেষ্ট হলেন যা সঠিক পথ প্রদর্শন করবে। আর তাঁদের চিন্তাভাবনা তাঁদেরকে নাহু ও লুগাত (ভাষা) শাস্ত্র উদ্ভাবনের দিকে পরিচালিত করেছিল।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌وضع النحو:

1 - اختلفت الروايات عن المتقدمين فيمن أشار بوضع النحو، ومن ابتدأ وضعه. وكثر الحديث في ذلك؛ فمن قائل: إن علي بن أبي طالب أول من وضع النحو، وأنه دفع إلى أبي الأسود الدؤلي المتوفى سنة 67 هجرية بصحيفة فيها: بسم الله الرحمن الرحيم، الكلام كله اسم وفعل وحرف … إلخ. وأمره بتكميله. ومن قائل: إن أبا الأسود هو الذي ابتدأ هذا العمل بإشارة عمر رضي الله عنه وقيل بإشارة زياد بن أبيه -وكان أبو الأسود معلم أولاده- وهو والي العراق وقتئذ، وقد لحظ انتشار اللحن. ويرى فريق أن أبا الأسود هو الذي بدأ ذلك بنفسه حين قالت له ابنته: يا أبت ما أحسن السماء! فقال نجومها. فقالت له: لم أرد شيء منها أحسن؟ إنما تعجبت من حسنها. فقال لها: قولي إذن: ما أحسن السماء! ثم دفعه ذلك إلى التفكير في وضع النحو، وابتدأ بباب التعجب.

2 - ومهما قيل، فمن المؤكد -بعد البحث- أن أبا الأسود هو الذي بدأ هذا العمل، سواء كان بإشارة علي، أم عمر، أم زياد، أم بتفكيره هو، وأنه لم يبدأ بما قيل من تقسيم الكلمة إلى اسم وفعل وحرف، ولا بوضع باب التعجب أو غيره، فإن التأليف لم يكن معروفًا عند العرب، كما أن كلمة النحو كلمة دقيقة مبتكرة لا تأتي عفوا، والمنطق والعقل يوحيان بالتدرج في مثل هذا العمل المبتكر، والأقرب -كما قيل- أن أبا الأسود بدأ بوضع نقط فوق الحروف؛
নাহুশাস্ত্রের উদ্ভাবন:

১ - নাহুশাস্ত্রের (আরবি ব্যাকরণ) উদ্ভাবনের পরামর্শ কে দিয়েছিলেন এবং কে এর সূচনা করেছিলেন, তা নিয়ে প্রাচীন পণ্ডিতদের বর্ণনাসমূহে মতভেদ রয়েছে। এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা বিদ্যমান; কারও মতে, আলী ইবনে আবি তালিবই সর্বপ্রথম নাহুশাস্ত্র উদ্ভাবন করেন এবং তিনি ৬৭ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবু আসওয়াদ আদ-দুয়ালিকে একটি পত্র প্রদান করেছিলেন যাতে লেখা ছিল: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি, সমস্ত বাক্যই বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয় এর সমন্বয়ে গঠিত... ইত্যাদি। এবং তিনি তাকে এটি পূর্ণ করার আদেশ দেন। আবার কারও মতে, আবু আসওয়াদই উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নির্দেশে এই কাজ শুরু করেছিলেন। আবার কেউ বলেন, এটি যিয়াদ ইবনে আবিহির নির্দেশে হয়েছিল—যিনি সে সময় ইরাকের গভর্নর ছিলেন এবং আবু আসওয়াদ তার সন্তানদের শিক্ষক ছিলেন—তিনি যখন ভাষার মধ্যে অশুদ্ধি ছড়িয়ে পড়তে লক্ষ্য করলেন। অন্য এক দল মনে করেন, আবু আসওয়াদ নিজেই এই কাজ শুরু করেন যখন তার কন্যা তাকে বলেছিল: হে পিতা, আকাশের কোন জিনিসটি সবচেয়ে সুন্দর? তিনি উত্তরে বললেন: এর নক্ষত্ররাজী। তখন মেয়েটি বলল: আমি তো আকাশের কোন জিনিসটি সুন্দর তা জানতে চাইনি, বরং আমি এর সৌন্দর্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছি। তখন তিনি তাকে বললেন: তাহলে বল: আকাশ কতই না সুন্দর! এরপর এই ঘটনাটিই তাকে নাহুশাস্ত্র উদ্ভাবনের চিন্তার দিকে ধাবিত করে এবং তিনি বিস্ময়সূচক অধ্যায় দিয়ে কাজ শুরু করেন।

২ - যাই বলা হোক না কেন, গবেষণার পর এটি নিশ্চিত যে, আবু আসওয়াদই এই কাজ শুরু করেছিলেন; চাই তা আলী, উমর কিংবা যিয়াদের নির্দেশে হোক, অথবা তার নিজস্ব চিন্তার ফসল হোক। তবে তিনি শব্দকে বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয়ে বিভক্ত করার মাধ্যমে এই কাজ শুরু করেননি, কিংবা বিস্ময়সূচক অধ্যায় বা অন্য কিছু দিয়েও শুরু করেননি; কারণ সে সময় আরবদের মাঝে গ্রন্থ রচনার রীতি প্রচলিত ছিল না। তাছাড়া 'নাহু' শব্দটি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নব উদ্ভাবিত শব্দ যা আকস্মিকভাবে আসেনি। যুক্তি ও কাণ্ডজ্ঞান এই সাক্ষ্য দেয় যে, এ ধরণের একটি অভিনব কাজে পর্যায়ক্রমিক ধারা অনুসৃত হওয়াই স্বাভাবিক। যেমনটি বলা হয়েছে, অধিকতর সঠিক মত হলো—আবু আসওয়াদ অক্ষরের ওপর নোকতা বা বিন্দু প্রদানের মাধ্যমেই তার কাজ শুরু করেছিলেন;
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ১০)
لتقوم مقام الشكل الذي نعرفه اليوم، وبعض الضوابط التي تحفظ من الخطأ في كتاب الله، ثم تدرج العمل بعد.

3 - وقد كان أبو الأسود من القراء، لبقا ذكيا، حاضر البديهة، كما كان شاعرًا مفلقا. ولعل الذي هداه إلى ذلك أنه خالط الأعاجم في العراق مدة طويلة، وكانت اللغة السريانية -وهي شقيقة اللغة العربية؛ لأن كلتيهما لغة سامية- منتشرة في شمال العراق، ولها نحو فيه اصطلاحات وتقاسيم، وقد يكون أبو الأسود استفاد من ذلك، هو ومن عاصره وشاركه هذا العمل، ومن أتى بعده ممن عنوا بهذا العلم، ووضعوا أصوله وقواعده.

4 - وقد عاصر أبا الأسود، وأخذ عنه، وتدارس معه مسائل النحو كثيرون من العلماء؛ منهم: نصر بن عاصم الليثي المتوفى سنة 89 هجرية، أول من سبب النحو وفتق فيه القياس؛ حتى نسب بعضهم إليه أول وضعه. وعبد الرحمن بن هرمز، أول من نقل النحو إلى المدينة وتكلم فيه، وتوفي سنة 117 هـ، ودفن بالمدينة. ومنهم: يحيى بن يعمر المتوفى سنة 129 هـ، والذي بسط النحو وعين بعض أبوابه، وكان أظهر عمل هؤلاء أن أثاروا بعض مسائل مختلفة من النحو حول آيات من القرآن الكريم، وأبيات من الشعر العربي.

5 - وقد أخذ عن معاصري أبي الأسود أو تلاميذه كثيرون؛ منهم عبد الله بن إسحاق الحضرمي المتوفى سنة 117 هـ، أول من مد القياس وشرح العلل. وأبو عمرو بن العلاء، أوسع الناس علمًا بكلام العرب ولغتها وغريبها، ثم عيسى بن عمرو الثقفي المتوفى سنة 149 هـ، الذي تتلمذ عليه الخليل بن أحمد، وقد جمع ما أثاره أسلافه من المسائل المتفرقة، وقيل إنه ألف كتابين سمى أحدهما "الإكمال" والآخر "الجامع"، وقد قال فيهما الخليل:

بطل النحو جميعا كله … غير ما أحدث عيسى بن عمر

ذاك "إكمال" وهذا "جامع" … فهما للناس شمس وقمر
যাতে তা বর্তমানে আমাদের পরিচিত হরকতের (চিহ্নের) স্থলাভিষিক্ত হয় এবং আল্লাহর কিতাবে ভুল থেকে রক্ষা করার জন্য কিছু নিয়মনীতি হিসেবে কাজ করে, এরপর পর্যায়ক্রমে এ কাজ এগিয়ে চলে।

৩ - আবু আল-আসওয়াদ ছিলেন ক্বারীগণের অন্তর্ভুক্ত, তিনি ছিলেন মার্জিত, বুদ্ধিমান এবং প্রত্যুৎপন্নমতি। পাশাপাশি তিনি একজন শক্তিমান কবিও ছিলেন। সম্ভবত ইরাকে দীর্ঘকাল অনারবদের সাথে মেলামেশা করার কারণেই তিনি এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা পেয়েছিলেন। ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সুরিয়ানি (সিরিয়াক) ভাষা প্রচলিত ছিল—যা আরবি ভাষার সহোদরা, কারণ উভয়ই সামী (সেমেটিক) ভাষা—এবং সেই ভাষার ব্যাকরণ, পরিভাষা ও শ্রেণিবিন্যাস বিদ্যমান ছিল। আবু আল-আসওয়াদ এবং তাঁর সমসাময়িক যারা এ কাজে তাঁর অংশীদার ছিলেন, এবং পরবর্তীকালে যারা এ শাস্ত্র নিয়ে যত্নবান হয়েছেন এবং এর মূলনীতি ও নিয়মাবলি প্রণয়ন করেছেন, তারা হয়তো তা থেকে উপকৃত হয়েছেন।

৪ - অনেক আলেম আবু আল-আসওয়াদের সমসাময়িক ছিলেন, তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর সাথে ব্যাকরণের বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: নাসর ইবনে আসিম আল-লায়ছি (মৃত্যু ৮৯ হিজরি), যিনি প্রথম ব্যাকরণকে সুশৃঙ্খল করেন এবং এতে কিয়াস বা তুলনামূলক বিশ্লেষণের পথ উন্মোচন করেন; এমনকি কেউ কেউ ব্যাকরণ শাস্ত্রের প্রথম উদ্ভাবন তাঁর দিকেই নিসবত করেছেন। আব্দুর রহমান ইবনে হুরমুজ, যিনি সর্বপ্রথম মদিনায় ব্যাকরণ চর্চা নিয়ে যান এবং এ বিষয়ে কথা বলেন; তিনি ১১৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং মদিনায় সমাহিত হন। তাঁদের মধ্যে আরও আছেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর (মৃত্যু ১২৯ হিজরি), যিনি ব্যাকরণকে বিস্তৃত করেন এবং এর কিছু অধ্যায় নির্ধারণ করেন। তাঁদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল পবিত্র কুরআনের আয়াত এবং আরবি কবিতার চরণের আলোকে ব্যাকরণের বিভিন্ন মাসআলা উত্থাপন করা।

৫ - আবু আল-আসওয়াদের সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ বা তাঁর ছাত্রদের থেকে অনেকে শিক্ষা লাভ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ইসহাক আল-হাদরামি (মৃত্যু ১১৭ হিজরি), যিনি সর্বপ্রথম কিয়াস বা তুলনামূলক বিশ্লেষণকে সম্প্রসারিত করেন এবং ব্যাকরণিক কার্যकारण (ইল্লাত) ব্যাখ্যা করেন। আবু আমর ইবনুল আলা, যিনি আরবদের কথা, ভাষা এবং বিরল শব্দাবলি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন। এরপর ঈসা ইবনে আমর আস-সাকাফি (মৃত্যু ১৪৯ হিজরি), যাঁর কাছে খলিল ইবনে আহমদ শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের উত্থাপিত বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত মাসআলা একত্রিত করেছিলেন। বলা হয় যে, তিনি দুটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন, যার একটির নাম ‘আল-イকমাল’ এবং অন্যটির নাম ‘আল-জামি’। এই দুটি গ্রন্থ সম্পর্কে খলিল বলেছেন:

ব্যাকরণের সবকিছুই বিলুপ্ত হয়ে গেছে ... কেবল ঈসা ইবনে আমরের উদ্ভাবিত বিষয়গুলো ছাড়া

ঐটি ‘আল-ইকমাল’ এবং এটি ‘আল-জামি’ ... মানুষের জন্য এই দুটি যেন সূর্য ও চন্দ্র
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ১১)
ويقال: إن الجامع هو كتاب سيبويه، أضيف إليه كثير مما تلقاه عن الخليل بن أحمد وبعض أساتذته وعلماء عصره، وكل هؤلاء بصريون. وقد ظهر في زمنهم بالكوفة كثير من علمائها، منهم: معاذ الهراء أستاذ الكسائي، إمام الكوفيين في النحو واللغة. والرؤاسي أستاذ الفراء، وهو أول من ألف في النحو من الكوفيين، وكتابه يسمى "الفيصل".

6 - ثم جاء الخليل بن أحمد المتوفى سنة 175 هجرية، فعكف على دراسة هذا العلم، وأخذ يخترع ويستنبط الأصول من الفروع، وكان له الفصل الأول في إرساء قواعده ومسائله، ولم يؤلف في ذلك كتابا، وإنما أوحى بعلمه ونتائج بحوثه إلى تلميذه "سيبويه" المتوفى سنة 180 هـ، فجمع ذلك وضم إليه كثيرًا من أقوال علماء عصره، ومن سبقهم، وما سمعه بنفسه عن العرب، ورتبه وبوبه وبسطه على النحو الذي نعرفه الآن، وألف فيه كتابه المعروف، وقد حاز هذا الكتاب ثقة العلماء بعده، وتناولوه بالشرح والإيضاح، وأصبح لفظ "الكتاب" إذا أطلق لا ينصرف إلا إلى كتاب سيبويه. والواقع أن ما ألف بعده مبني عليه ومستمد منه، ولا يزال المرجع في كثير من مسائل النحو إلى الآن.
বলা হয়ে থাকে যে: আল-জামি‘ হলো সিবওয়াইহ-এর কিতাব; এতে এমন অনেক বিষয় যোগ করা হয়েছে যা তিনি খলীল ইবন আহমদ এবং তাঁর কতিপয় শিক্ষক ও সমসাময়িক আলেমদের নিকট থেকে লাভ করেছিলেন, আর তাঁরা সকলেই ছিলেন বসরার অধিবাসী। তাঁদের সময়ে কুফায় অনেক আলেম আবির্ভূত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন: মুয়ায আল-হাররা, যিনি নাহু ও ভাষা বিজ্ঞানে কুফাবাসীদের ইমাম কিসায়ীর শিক্ষক ছিলেন। আর রুআসী ছিলেন ফাররা-এর শিক্ষক, তিনি কুফাবাসীদের মধ্যে নাহু শাস্ত্রে সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেন এবং তাঁর কিতাবটির নাম হলো "আল-ফয়সাল"।

৬ - অতঃপর খলীল ইবন আহমদ (মৃত্যু ১৭৫ হিজরি) আসলেন এবং এই শাস্ত্রের গবেষণায় নিবিষ্ট হলেন। তিনি এর শাখা-প্রশাখা থেকে মূলনীতিসমূহ উদ্ভাবন ও নিরূপণ করতে শুরু করেন। এর নিয়মাবলি ও মাসআলাসমূহ সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাঁরই ছিল প্রথম ও প্রধান ভূমিকা, যদিও তিনি এ বিষয়ে কোনো স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেননি। বরং তিনি তাঁর জ্ঞান ও গবেষণালব্ধ ফলাফল তাঁর ছাত্র "সিবওয়াইহ"-কে (মৃত্যু ১৮০ হিজরি) প্রদান করেন। অতঃপর সিবওয়াইহ সেসব বিষয় সংগ্রহ করেন এবং এর সাথে তাঁর সমসাময়িক ও পূর্ববর্তী আলেমদের অনেক বক্তব্য এবং আরবদের নিকট থেকে সরাসরি যা শুনেছিলেন তা যুক্ত করেন। তিনি একে বর্তমানে আমাদের পরিচিত ব্যাকরণের পদ্ধতিতে সুবিন্যস্ত, পরিচ্ছেদবদ্ধ ও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং এ বিষয়ে তাঁর সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থটি রচনা করেন। এই গ্রন্থটি তাঁর পরবর্তী আলেমদের গভীর আস্থা অর্জন করেছে এবং তাঁরা এর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের কাজ করেছেন। এমনকি "আল-কিতাব" শব্দটি যখন নিরঙ্কুশভাবে বলা হয়, তখন তা কেবল সিবওয়াইহ-এর কিতাবকেই বোঝায়। বাস্তবতা হলো, এরপর যা কিছু রচিত হয়েছে তা এরই ওপর ভিত্তি করে এবং এটি থেকেই সংগৃহীত। আজ পর্যন্ত নাহু শাস্ত্রের অনেক মাসআলায় এটিই প্রধান নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مصادر النحو والصرف:

1 - اعتمد العلماء الأقدمون فيما جمعوه من المسائل والقواعد النحوية والصرفية على ما جمع من علوم اللغة والأدب؛ تلك العلوم التي كان من أهم مصادرها: القرآن الكريم، والحديث الشريف، والشعر العربي الموثوق بصحته، وعربية قائليه.

2 - كما اعتمدوا على مشافهة العرب والرحلة إليهم، حيث يقيمون في بواديهم النائية، أو الحواضر التي نزحوا إليها. وبذلوا في تتبع النصوص المختلفة المتنوعة جهدًا مضنيًا، وتحملوا كثيرًا من مشاق السفر والرحلة، وخشونة العيش؛ للاختلاط بالعرب. ثم أخذوا يستعرضون الجزئيات المختلفة
নাহু ও সরফের উৎসসমূহ:

১ - প্রাচীন আলেমগণ নাহু ও সরফ শাস্ত্রের যে সকল মাসআলা এবং নিয়মাবলী সংকলন করেছেন, সে ক্ষেত্রে তারা ভাষা ও সাহিত্যের সংগৃহীত জ্ঞানভাণ্ডারের ওপর নির্ভর করেছেন; যে সকল জ্ঞানের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল: পবিত্র কুরআন, হাদিস শরিফ, বিশুদ্ধতা ও নির্ভরযোগ্যতার নিরিখে প্রমাণিত আরবি কবিতা এবং এর বক্তাদের বিশুদ্ধ আরবি।

২ - তদ্রূপ তারা আরবদের সাথে সরাসরি কথোপকথন এবং তাদের নিকট সফরের ওপর নির্ভর করেছিলেন, যেথায় তারা তাদের দূরবর্তী মরুপ্রান্তর অথবা যে সকল নগরীতে তারা বসতি স্থাপন করেছিলেন সেখানে অবস্থান করতেন। তারা বিচিত্র ও নানাবিধ ভাষ্যসমূহ অনুসরণের ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং আরবদের সংস্পর্শে আসার জন্য ভ্রমণ ও সফরের নানাবিধ কষ্ট এবং রুক্ষ জীবনযাপন সহ্য করেছেন। অতঃপর তারা বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়সমূহ পর্যালোচনা করতে শুরু করেন।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ১২)
التي جمعوها، ويضعون لها الكليات، وأعملوا ذهنهم في استخراج القواعد المضبوطة الجامعة ما استطاعوا إلى ذلك سبيلًا.

3 - وبرغم ما أنفقوا من جهد ووقت ومال، وتحملوا من عناء ومشقة، جاءت القواعد التي وضعوها نتيجة استقراء ناقص؛ لأنه من المحال استيعاب جميع ما ورد عن العرب. يضاف إلى هذا: أن القبائل العربية لم تكن في مستوى واحد من الفصاحة، ولا من السلامة من اللحن؛ بسبب اختلاطها بغيرها من الأعاجم، وقرب بعضها من الحضر. ولذلك كان العلماء يتحرزون عند جمع اللغة، ويفضلون بعض القبائل على بعض، وأكثر القبائل العربية التي نقل عنها، وأخذت العربية الصحيحة منها هم: قيس، وتميم، وأسد، وهذيل، وبعض قبائل كنانة، وبعض الطائيين. واستبعدت قبائل: حمير، ولخم، وجذام، وقضاعة، وغسان، وإياد، وثقيف، وبني حنيفة، وعبد قيس؛ وذلك بسبب تسرب الخطأ إليهم، لقربهم من الأعاجم، ومخالطتهم لهم.

4 - وقد حمل ذلك العلماء واضطرهم إلى القياس النحوي في بعض المسائل، فأصبحت القواعد التي وضعت بعد الاستقراء والقياس الصحيح، هي المقياس لعلم النحو والصرف، وأهدر ما عدا ذلك من المصادر.
যা তারা সংগ্রহ করেছিলেন, এবং সেগুলোর জন্য তারা মূলনীতি নির্ধারণ করেন, এবং যতটুকু সম্ভব তারা সুসংবদ্ধ ও ব্যাপক নিয়মাবলী উদ্ভাবনে তাদের মেধা প্রয়োগ করেছিলেন।

৩ - তারা যে শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় করেছিলেন এবং যে ক্লেশ ও কষ্ট সহ্য করেছিলেন, তা সত্ত্বেও তাদের প্রণীত নিয়মাবলী একটি অসম্পূর্ণ আরোহী পদ্ধতির (ইসতিকরা) ফলাফল হিসেবেই এসেছে; কারণ আরবদের থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার সবকিছু আয়ত্ত করা অসম্ভব। এর সাথে আরও যুক্ত হয়েছে যে: আরব গোত্রগুলো প্রাঞ্জলতার (ফাসাহাত) দিক থেকে একই স্তরের ছিল না, এবং তারা ভাষাগত ভুল থেকেও মুক্ত ছিল না; কারণ অনারবদের সাথে তাদের সংমিশ্রণ ঘটেছিল এবং তাদের কিছু অংশ জনবসতির নিকটবর্তী ছিল। আর এই কারণেই ভাষাবিদগণ ভাষা সংগ্রহের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতেন এবং কিছু গোত্রকে অন্য গোত্রের ওপর প্রাধান্য দিতেন। যেসব আরব গোত্র থেকে অধিক বর্ণনা করা হয়েছে এবং বিশুদ্ধ আরবি গ্রহণ করা হয়েছে তারা হলো: কায়স, তামিমি, আসাদ, হুযাইল, কিনানা গোত্রের কিছু অংশ এবং তায়ি গোত্রের কিছু লোক। আর হিমইয়ার, লাখম, জুযাম, কুদাআহ, গাসসান, ইয়াদ, সাকিফ, বনু হানিফা এবং আবদে কায়স গোত্রগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছিল; কারণ অনারবদের সাথে তাদের নৈকট্য এবং তাদের সাথে মেলামেশার ফলে তাদের ভাষায় ত্রুটি প্রবেশ করেছিল।

৪ - এটিই আলেমদের কিছু বিষয়ে ব্যাকরণিক অনুমানের (কিয়াস) দিকে ধাবিত ও বাধ্য করেছিল। ফলে আরোহী পদ্ধতি ও সঠিক অনুমানের পর যে নিয়মগুলো প্রণীত হয়েছিল, সেগুলোই নাহু ও সরফ শাস্ত্রের মানদণ্ডে পরিণত হয় এবং এগুলো ব্যতীত অন্যান্য উৎসকে বর্জন করা হয়।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌أين نشأ النحو؟

المذهبان: البصري والكوفي

1 - العراق إقليم خصب يقع بين نهري دجلة والفرات، وهو من أقدم بقاع الأرض عمرانًا، وكان يسكنه كثيرون من الأمم والدول ذات العلوم والحضارة؛ كالبابليين، والآشوريين، والكلدانيين، والفرس، وغيرهم، وقد هاجر إليه كثيرون من القبائل العربية؛ منها قبيلتا ربيعة ومضر، ونزح إليه الأدباء والعلماء من سائر الجهات: لهذا كان أسبق البلاد إلى تدوين النحو والصرف، وساعد على ذلك حاجة أهل العراق الأعاجم إلى العناية بهذا العلم لتستقيم لغتهم الأعجمية بخلاف العرب، وقد أنشئت مدينة البصرة في الجنوب الغربي من
নাহু (ব্যাকরণ) কোথায় উদ্ভূত হয়েছে?

দুইটি মাযহাব: বসরি ও কুফি

১ - ইরাক একটি উর্বর অঞ্চল যা দজলা ও ফুরাত নদের মধ্যস্থলে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম জনবসতিপূর্ণ ভূখণ্ডগুলোর অন্যতম। এখানে বিজ্ঞান ও সভ্যতায় সমৃদ্ধ অনেক জাতি ও রাষ্ট্র বসবাস করত; যেমন ব্যাবিলনীয়, আসিরীয়, ক্যালডীয়, পারসিক এবং অন্যান্য। এখানে অনেক আরব গোত্র হিজরত করে এসেছিল; যাদের মধ্যে রাবিয়া ও মুদার গোত্র অন্যতম। এবং সব দিক থেকে সাহিত্যিক ও আলেমগণ এখানে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। এ কারণেই নাহু ও সরফ সংকলনের ক্ষেত্রে এটি ছিল অগ্রগামী দেশ। আর এক্ষেত্রে ইরাকের অনারব অধিবাসীদের এই বিদ্যার প্রতি মনোনিবেশ করার প্রয়োজনীয়তা সহায়ক হয়েছিল, যাতে আরবদের বিপরীতে তাদের অনারবীয় ভাষা (ভাষা প্রয়োগ) সঠিক হতে পারে। ইরাকের দক্ষিণ-পশ্চিমে বসরা শহরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ১৩)
العراق قريبًا من بادية "نجد" سنة (14) هـ، كما أنشئت مدينة الكوفة في الشمال منه سنة (17) هـ بعيدة عن البادية، وكلاهما في زمن الخليفة سيدنا عمر بن الخطاب.

2 - وكان بين أهل البصرة والكوفة تعصب قبلي، انقلب بعد إلى تعصب سياسي، ثم علمي. ولما كانت البصرة قريبة من بادية نجد، وعلى ثلاثة فراسخ من "المربد" -الذي كان في مبدأ أمره سوقًا للإبل، ثم صار متجرا يأتي إليه الناس من كل فج للبيع والشراء، ثم انقلب سوقا للشعر والأدب، والمناظرة بين العلماء- كان النحويون يقصدونها لتلقي الشعر من أفواه العرب، وقد ساعدهم ذلك على تحديد قواعد النحو ووضع رسومها.

3 - وقد هاجر إلى البصرة كثيرون من علماء الممالك المجاورة؛ ليتعلموا النحو على علمائها، وينقلوه إلى بلادهم. وبذلك انتشر المذهب البصري، وشجع عليه خلفاء بني أمية. وتعتبر البصرة أول مدينة عنيت بالنحو واللغة وتدوينها، ووضع القواعد لهما، وقد سبقت غيرها بنحو قرن من الزمان. ويعتبر "سيبويه" وكتابه على رأس المذهب النحوي البصري. ومن أشهر النحويين البصريين غير ما أسلفنا: الأخفش، ويونس بن حبيب، واليزيدي، والجرمي، والمازني، والمبرد، والزجاج، وابن السراج، وابن درستويه، والفارسي، والسيرافي … وغيرهم. ويقسم العلماء نحاة البصريين إلى عشر طبقات.

4 - أما الكوفة؛ فلبعدها عن البادية قل نزوح الأعراب الذين صحت لهجاتهم إليها، وكانت "الكناسة"(1) عندهم تقابل "المربد" في البصرة؛ حيث يجتمع فيها العرب، ويتنافسون في إلقاء الخطب وإنشاد الشعر .. إلخ. ولكن -على الرغم من هذا- لم يكن لها ما كان للمربد من أثر بعيد في اللغة.

--------------------------------------------

(1) موضع بالكوفة.
ইরাক "নজদ" মরুভূমির কাছে ১৪ হিজরিতে [বসরা শহরটি] প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তেমনি এর উত্তরে ১৭ হিজরিতে কুফা শহরটি মরুভূমি থেকে দূরে গড়ে তোলা হয়েছিল; আর এই উভয় শহরই খলিফা আমাদের নেতা উমর ইবনুল খাত্তাবের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

২ - বসরা ও কুফাবাসীদের মধ্যে গোত্রীয় গোঁড়ামি বিদ্যমান ছিল, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক এবং তারপর জ্ঞানতাত্ত্বিক গোঁড়ামিতে রূপ নেয়। যেহেতু বসরা নজদ মরুভূমির নিকটবর্তী ছিল এবং "মিরবাদ" থেকে তিন ফারসাখ দূরত্বে অবস্থিত ছিল—যা শুরুতে উটের বাজার ছিল, এরপর তা একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয় যেখানে সব প্রান্ত থেকে মানুষ কেনাবেচার জন্য আসত, অতঃপর তা কবিতা, সাহিত্য এবং আলেমদের মধ্যকার বিতর্কের বাজারে পরিণত হয়—তাই ব্যাকরণবিদগণ সরাসরি আরবদের মুখ থেকে কবিতা শ্রবণের উদ্দেশ্যে সেখানে যেতেন। আর এটিই তাদের ব্যাকরণের নিয়মাবলী নির্ধারণ এবং এর রূপরেখা প্রণয়নে সহায়তা করেছিল।

৩ - পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জনপদের অনেক আলেম বসরার আলেমদের কাছে ব্যাকরণ শিখতে এবং তা নিজ দেশে প্রচার করতে সেখানে হিজরত করেছিলেন। এর ফলে বসরী ব্যাকরণ ধারা ছড়িয়ে পড়ে এবং উমাইয়া খলিফাগণ একে উৎসাহিত করেন। বসরাকে প্রথম শহর হিসেবে গণ্য করা হয় যা ব্যাকরণ ও ভাষা সংকলন এবং এর নিয়মাবলী প্রণয়নে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে; আর এই কাজে এটি অন্যদের চেয়ে প্রায় এক শতাব্দী পূর্বে অগ্রসর হয়েছিল। "সিবওয়াইহি" এবং তাঁর রচিত গ্রন্থকে বসরী ব্যাকরণ ধারার শীর্ষস্থানে গণ্য করা হয়। আমরা ইতিপূর্বে যাদের নাম উল্লেখ করেছি তারা ছাড়াও প্রসিদ্ধ বসরী ব্যাকরণবিদদের মধ্যে রয়েছেন: আখফাশ, ইউনুস বিন হাবিব, ইয়াজিদি, জারমি, মাজিনি, মুবাররাদ, জাজ্জাজ, ইবনুস সাররাজ, ইবনে দুরুস্তওয়াইহি, ফারিসি, সিরাফি... প্রমুখ। আলেমগণ বসরী ব্যাকরণবিদদের দশটি স্তরে বিভক্ত করেছেন।

৪ - আর কুফার বিষয়টি হলো, মরুভূমি থেকে দূরে হওয়ার কারণে বিশুদ্ধ ভাষার অধিকারী বেদুইনদের সেখানে আগমনের হার কম ছিল। বসরার "মিরবাদ"-এর বিপরীতে তাদের নিকট ছিল "কুনাসাহ"; যেখানে আরবরা সমবেত হতো এবং ভাষণ প্রদান ও কবিতা আবৃত্তিতে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতো। তবে এতদসত্ত্বেও, ভাষার ক্ষেত্রে মিরবাদের মতো সুদূরপ্রসারী প্রভাব এর ছিল না।

--------------------------------------------

(১) কুফার একটি স্থান।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ১৪)
5 - وقد اتخذ الكوفيون لهم مذهبًا خاصا يضاهي مذهب البصريين وينافسه، واختلفوا معهم في كثير من المسائل؛ لأن بعض القواعد التي قعدها البصريون جاءت نتيجة استقراء ناقص؛ فقد كان الكوفيون أكثر رواية للشعر من البصريين. وعلى رأس المذهب الكوفي: أبو جعفر الرؤاسي، وتلميذاه: الكسائي والفراء، واشتهر من علمائهم: هشام بن معاوية الضرير، وابن السكيت، وابن الأعرابي، والطوال، وابن سعدان، وثعلب، وابن كيسان، والأنباري، ونفطويه .. إلخ. وينقسم نحاة الكوفة إلى ست طبقات.

6 - وقد حدثت بين أصحاب المذهبين مناقشات، وخلافات، ومنازعات ومناظرات(1)، ابتدأت هادئة بين الخليل من البصريين، والرؤاسي من الكوفيين، ثم اشتدت بين سيبويه والكسائي وأتباعهما. وقد كان لهذه العصبية العلمية التي نشأت عن العصبية السياسية أثر عظيم في خدمة العلم، والتسابق في تجليته. واستمر الخلاف إلى أواخر القرن الثالث الهجري، ثم خفت حدة النزاع والجدل، وتقارب المذهبان حين التقى الكوفيون بالبصريين في بغداد بعد قليل.

ثم جاء بعد ذلك من عرض المذهبين ونقدهما، واختار منهما مذهبًا خاصا، وعلى رأس هؤلاء: العالم الثقة، أبو محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدينوري الكوفي المتوفى سنة (296) هـ. فقد مزج المذهبين وإن كان إلى البصريين أميل.

--------------------------------------------

(1) - حدثت مناظرة بين سيبويه والكسائي أمام يحيى البرمكي، انتصر فيها الكسائي بالاتفاق مع بعض العرب في المسألة المعروفة بمسألة "العقرب" أو "المسألة الزنبورية"، وأخرى بين الكسائي وبين اليزيدي، انتصر فيها اليزيدي.
5 - কুফাবাসীগণ নিজেদের জন্য একটি স্বতন্ত্র মাযহাব বা মতবাদ গ্রহণ করেছিলেন যা বসরার পণ্ডিতদের মতবাদের সমকক্ষ ছিল এবং তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত। তারা অনেক বিষয়ে তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন; কারণ বসরার পণ্ডিতগণ যেসব মূলনীতি নির্ধারণ করেছিলেন তার কিছু ছিল অসম্পূর্ণ আরোহী অনুমানের ফল। আর কুফাবাসীগণ বসরার পণ্ডিতদের তুলনায় অধিক পরিমাণ কবিতা বর্ণনা করতেন। কুফি মাযহাবের শীর্ষে ছিলেন: আবু জাফর আল-রুআসি এবং তাঁর দুই ছাত্র: আল-কিসায়ি ও আল-ফাররা। তাঁদের পণ্ডিতদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন: হিশাম বিন মুয়াবিয়া আদ-দারির, ইবনুল সিক্কিত, ইবনুল আরাবি, আত-তুওয়াল, ইবনে সাদান, ছা’লাব, ইবনে কাইসান, আল-আনবারি এবং নাফতাওয়াইহ প্রমুখ। কুফার ব্যাকরণবিদগণ ছয়টি স্তরে বিভক্ত।

6 - এই দুই মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে নানাবিধ আলোচনা, মতভেদ, বিবাদ ও বিতর্ক সংঘটিত হয়েছে(১), যা বসরার আল-খলিল এবং কুফার আল-রুআসির মধ্যে শান্তভাবে শুরু হয়েছিল। অতঃপর সিবওয়াইহ এবং আল-কিসায়ি ও তাঁদের অনুসারীদের মধ্যে তা তীব্র রূপ ধারণ করে। রাজনৈতিক গোঁড়ামি থেকে উদ্ভূত এই জ্ঞানতাত্ত্বিক গোঁড়ামি ইলমের খিদমতে এবং একে প্রকাশ করার প্রতিযোগিতায় এক বিশাল প্রভাব ফেলেছিল। এই মতভেদ হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এরপর বিবাদ ও বিতর্কের তীব্রতা হ্রাস পায় এবং এর কিছুকাল পরে বাগদাদে যখন কুফাবাসী ও বসরার পণ্ডিতদের সাক্ষাৎ ঘটে, তখন এই দুই মাযহাবের মধ্যে নৈকট্য সৃষ্টি হয়।

অতঃপর এমন একদল পণ্ডিতের আবির্ভাব ঘটে যারা উভয় মাযহাবকে উপস্থাপন ও সমালোচনা করেছেন এবং সেখান থেকে একটি নিজস্ব পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁদের শীর্ষে ছিলেন: নির্ভরযোগ্য আলেম আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতাইবা আদ-দিনাওয়ারি আল-কুফি, যিনি ২৯৬ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি উভয় মাযহাবকে মিশ্রিত করেছিলেন, যদিও তিনি বসরার পণ্ডিতদের প্রতি অধিক ঝোঁক রাখতেন।

--------------------------------------------

(১) - ইয়াহইয়া আল-বারমাকির উপস্থিতিতে সিবওয়াইহ ও আল-কিসায়ির মধ্যে একটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যাতে আল-কিসায়ি কিছু আরবের সাথে যোগসাজশ করে জয়লাভ করেন। এই বিষয়টি 'আকরব' (বিচ্ছু) মাসআলা বা 'যানবুরিয়্যাহ' (বোলতা) মাসআলা হিসেবে পরিচিত। এছাড়া আল-কিসায়ি ও আল-ইয়াযিদির মধ্যে আরেকটি বিতর্ক হয়েছিল, যাতে আল-ইয়াযিদি জয়লাভ করেন।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌منهج المذهبين وسبب الخلاف بينهما:

1 - وضع البصريون قواعد عامة مستنبطة من الجزئيات التي تتبعوها في أكثر القبائل المشهورة، التي كانت بمنأى عن المواطن التي سرى فيها اللحن،
উভয় মাযহাবের কর্মপদ্ধতি এবং তাদের মধ্যকার মতভেদের কারণ:

1 - বসরার ভাষাবিদগণ এমন কিছু সাধারণ নিয়মাবলি প্রণয়ন করেছেন যা সেইসব খুঁটিনাটি বিষয় থেকে উদ্ভাবিত, যা তারা অধিকাংশ প্রসিদ্ধ গোত্রগুলোর মধ্যে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, যারা ভাষাগত ভুল বা বিকৃতি ছড়িয়ে পড়ার স্থানগুলো থেকে দূরে ছিল।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ১৫)
ورأوا التزام هذه القواعد، والسير عليها، بدون حيدة عنها. وتمسكوا بصواب ما ذهبوا إليه على الرغم من تعدد القبائل واختلافها اختلافًا بينًا في اللغات واللهجات. وشجعهم على ذلك قرب البصرة من البادية، وتمشيًا مع قواعدهم أخذوا يؤولون كل ما خرج عن هذه القواعد، ولو كان مرويا عن الشعراء الموثوق بعربيتهم وبسلامة لغتهم، ويتكلفون في التخريج شططًا ليوافق مذهبهم، وإذا أعجزهم التأويل قالوا: إنه شاذ يحفظ ولا يقاس عليه، أو ضرورة دعت إليها القافية، أو الوزن الشعري وأحيانًا يخطئون بعض العرب المعروفين بصواب القول وصدق العروبة؛ إذا جاء في أقوالهم ما يخالف قواعدهم. وقد نشأ عن ذلك إهدارهم لكثير من الاستعمالات العربية في بعض القبائل، واعتبروه خطأ أو شاذا، مع أنه في الواقع قد يكون غير ذلك، وما هو إلا لغة أو لهجة لهذه القبائل، وأحيانًا يصطنعون أبياتًا من الشعر للتدليل على آرائهم، وتمشيًا مع قواعدهم، وكانوا يرمون من وراء ذلك إلى تنظيم اللغة ولو بإهدار بعضها.

2 - أما الكوفيون فقد عنوا بكل ما سمعوا من شعر عربي، ورأوا احترام جميع ما ورد عن العرب، وأجازوا استعماله ولو لم يجر على تلك القواعد التي وضعها البصريون، وقد احتجوا بالشاهد الواحد، وبالشاهد المجهول قائله، وربما جعلوا من هذه الشواهد الفردية والشواذ أساسًا لقواعد أخرى. قيل إن الكسائي كان يسمع الشاذ الذي لا يجوز إلا في الضرورة، فيجعله أصلًا ويقيس عليه.

وقد كان الكوفيون أكثر رواية للشعر من البصريين، وكانوا يستنبطون بعض القواعد بالقياس النظري من غير حاجة إلى شاهد. أما البصريون فكانوا لا يستجيبون لكل مسموع، ولا يقيسون على الشاذ، ولهذا كانوا أصح قياسًا من الكوفيين. ومن هنا نشأ خلاف بين الفريقين في كثير من الفروع النحوية.
তারা এই নিয়মগুলো মেনে চলা এবং তা থেকে বিচ্যুত না হয়ে সে অনুযায়ী অগ্রসর হওয়া আবশ্যক মনে করতেন। বিভিন্ন গোত্রের আধিক্য এবং তাদের ভাষা ও উপভাষায় স্পষ্ট পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা নিজেদের গৃহীত মতের সঠিকতার ওপর অবিচল ছিলেন। মরুভূমির নিকটবর্তী হওয়া বসরীয়দের এই কাজে উৎসাহিত করেছিল। তাদের নিয়মাবলীর সাথে সংগতি রেখে তারা এমন সবকিছুকেই ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন যা এই নিয়মের বাইরে ছিল, যদিও তা এমন কবিদের থেকে বর্ণিত হতো যাদের আরব্য গুণাবলী ও ভাষার বিশুদ্ধতা ছিল নির্ভরযোগ্য। তারা তাদের মতবাদের সাথে মিল করার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও দূরূহ ব্যাখ্যা প্রদান করতেন। যখন তারা ব্যাখ্যা করতে অক্ষম হতেন, তখন বলতেন: এটি ‘শায’ বা বিরল, যা কেবল মুখস্থ রাখা হবে কিন্তু তার ওপর ভিত্তি করে অন্য কিছু পরিমাপ (কিয়াস) করা যাবে না; অথবা এটি এমন এক আবশ্যকতা যা অন্ত্যমিল কিংবা ছন্দের প্রয়োজনে সৃষ্টি হয়েছে। কখনও কখনও তারা বিশুদ্ধ ভাষী ও খাঁটি আরব হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের বক্তব্যে তাদের নিয়মের পরিপন্থী কিছু পেলে তাদের ভুল সাব্যস্ত করতেন। এর ফলে কিছু গোত্রের অনেক আরবি ভাষাগত প্রয়োগ তারা বর্জন করেন এবং সেগুলোকে ভুল বা বিরল হিসেবে গণ্য করেন, যদিও বাস্তবে তা ভিন্ন কিছু হতে পারত; যা ছিল কেবল সেই গোত্রগুলোর নিজস্ব ভাষা বা উপভাষা। কখনো কখনো তারা তাদের মতামতের সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে এবং তাদের নিয়মের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে কৃত্রিম কবিতা তৈরি করতেন। এর মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভাষাকে সুসংগঠিত করা, যদিও তার জন্য ভাষার কিছু অংশ বর্জন করতে হয়।

২ - পক্ষান্তরে কুফীয়রা যা কিছু আরবি কবিতা শুনতেন, তার প্রতিই গুরুত্ব দিতেন। আরবদের থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তার সবটুকুর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা তারা আবশ্যক মনে করতেন। বসরীয়দের প্রণীত নিয়ম অনুযায়ী না হলেও তারা সেগুলোর ব্যবহার বৈধ মনে করতেন। তারা একক উদ্ধৃতি এবং অজ্ঞাত কবির পঙক্তি দিয়েও দলিল পেশ করতেন; এমনকি কখনও কখনও এই একক ও বিরল উদাহরণগুলোকেই অন্যান্য নিয়মের ভিত্তি হিসেবে গণ্য করতেন। বলা হয়ে থাকে যে, ইমাম কিসায়ী এমন সব বিরল প্রয়োগ শুনতেন যা কেবল বিশেষ প্রয়োজনেই বৈধ, তবুও তিনি সেটিকে মূলনীতি বানিয়ে নিতেন এবং তার ওপর ভিত্তি করে কিয়াস করতেন।

কুফীয়রা বসরীয়দের তুলনায় অধিক কবিতা বর্ণনা করতেন এবং তারা কোনো চাক্ষুষ প্রমাণ ছাড়াই তাত্ত্বিক অনুমানের মাধ্যমে কিছু নিয়ম উদ্ভাবন করতেন। অন্যদিকে বসরীয়রা যা শুনতেন তার সবকিছুই গ্রহণ করতেন না এবং বিরল কোনো বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কিয়াস করতেন না। এই কারণে বসরীয়দের কিয়াস বা অনুমান কুফীয়দের তুলনায় অধিক সঠিক ছিল। এখান থেকেই ব্যাকরণের অনেক শাখায় দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ১৬)
ونستطيع أن نجمل الفروق الأساسية بين المذهبين فيما يأتي:

أ- البصريون حازمون متشددون في قبول ما يروى من الشعر، ولا يعترفون إلا ببعض القبائل الموثوق بشعرها، وقد ذكرناها، ويقل عندهم التجويز.

ب- البصريون صارمون، معتدون بأنفسهم، والثقة بروايتهم، ويخطئون ما عداها من الروايات، مهما كان مصدرها.

جـ- البصريون يؤولون ما يخالف قواعدهم، ولو كان عربيا صحيحًا، ويتكلفون في ذلك عنتًا، وإذا أعجزهم التأويل حكموا بشذوذه.

أما الكوفيون فمتسامحون؛ يقبلون كل ما ورد عن العرب، ويقيسون حتى على البيت الواحد، ويضعون لكل شيء قاعدة ولو كان شاذا.

وقد كان البصريون يتحرجون من الرواية عن علماء الكوفة؛ لأن اتصال هؤلاء بالخلفاء ببغداد، وتزاحمهم على أبوابهم -جعلهم يتزيدون فيما يعجب ويجري على الألسنة. أما الكوفيون فكانوا يأخذون عن البصريين؛ لثقتهم فيما يروونه.

والذي لا شك فيه أن البصريين كانوا أكثر استنباطًا وإنتاجًا، وأوثق رواية من الكوفيين؛ لما ذكرنا من أن الفصحاء من العرب كانوا يردون على البصرة أكثر من الكوفة لقرب الأولى منهم. وقد نضج النحو في البصرة قبل الكوفة بنحو مائة عام. وهذا لا يحول دون صواب رأي الكوفيين في كثير من المسائل.

ونشير هنا إلى أن تشجيع الخلفاء والأوامر من بني العباس للحركة العلمية -وبخاصة اللغة والنحو- كان له أكبر الأثر في الإقبال على تدوين هذا العلم، ووضع أصوله وقواعده. وقد أشرت إلى ما كان يحدث من مناظرات وغيرها.

ويعتبر ما وضعه الخليل بن أحمد معجزة الزمان، وما دونه سيبويه في كتابه، وأكمله العلماء والباحثون في ذلك العصر -أساسًا لكل ما وصل إلينا في
আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে দুই মাযহাবের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যগুলো সংক্ষেপ করতে পারি:

ক- বসরীয়গণ কাব্য-বর্ণনা গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ও দৃঢ়চেতা ছিলেন। তাঁরা ইতিপূর্বে উল্লিখিত নির্ভরযোগ্য কতিপয় গোত্রের কাব্য ব্যতীত অন্য কিছু স্বীকার করতেন না এবং তাঁদের নিকট (নিয়মবহির্ভূত বিষয়ের) অনুমোদন ছিল অতি সামান্য।

খ- বসরীয়গণ ছিলেন কঠোর ও আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন; তাঁরা নিজেদের বর্ণনার ওপর প্রগাঢ় আস্থা রাখতেন এবং এর উৎস যা-ই হোক না কেন, তাঁদের বর্ণনার বহির্ভূত অন্যান্য বর্ণনাকে ভ্রান্ত সাব্যস্ত করতেন।

গ- বসরীয়গণ তাঁদের নিয়মের পরিপন্থী বিষয়গুলোকে ব্যাখ্যা করতেন, যদিও তা বিশুদ্ধ আরবী হতো। এ ক্ষেত্রে তাঁরা বেশ কৃত্রিম কষ্টসাধ্য ব্যাখ্যার আশ্রয় নিতেন। আর যখন ব্যাখ্যা করতে অক্ষম হতেন, তখন সেটিকে বিরল বা 'শাজ' বলে রায় দিতেন।

পক্ষান্তরে কুফীয়গণ ছিলেন নমনীয়; আরবের নিকট থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাঁরা তার সবই গ্রহণ করতেন। এমনকি তাঁরা একটি মাত্র পঙ্ক্তির ভিত্তিতেও ব্যাকরণিক অনুমান বা কিয়াস করতেন এবং প্রতিটি বিষয়ের জন্যই নিয়ম প্রণয়ন করতেন, যদিও তা বিরল হতো।

বসরীয়গণ কুফীয় আলেমদের থেকে বর্ণনা গ্রহণে কুণ্ঠাবোধ করতেন; কারণ বাগদাদে খলিফাদের সাথে কুফীয়দের সংশ্লিষ্টতা এবং রাজদরবারে তাঁদের ভিড় জমানোর ফলে চমকপ্রদ ও লোকমুখে প্রচলিত হওয়ার আশায় বর্ণনায় অতিরঞ্জনের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল। অন্যদিকে, কুফীয়গণ বসরীয়দের বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতার কারণে তাঁদের থেকে তথ্য গ্রহণ করতেন।

এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, বসরীয়গণ কুফীয়দের তুলনায় অধিকতর উদ্ভাবনী ও উৎপাদনশীল ছিলেন এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিক নির্ভরযোগ্য ছিলেন। এর কারণ আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, আরবের বিশুদ্ধ ভাষী লোকরা কুফার চেয়ে বসরার অধিকতর নিকটবর্তী হওয়ায় সেখানে বেশি যাতায়াত করতেন। কুফার প্রায় একশ বছর পূর্বেই বসরায় ব্যাকরণ শাস্ত্র পূর্ণতা লাভ করেছিল। তবে এটি অনেক বিষয়ে কুফীয়দের মতামতের সঠিকতাকে নাকচ করে না।

আমরা এখানে ইঙ্গিত করছি যে, আব্বাসীয় খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের—বিশেষ করে ভাষা ও ব্যাকরণ—প্রতি তাঁদের নির্দেশাবলি এই শাস্ত্রের সংকলন এবং এর মূলনীতি ও নিয়মাবলি নির্ধারণে সর্বাপেক্ষা বড় প্রভাব বিস্তার করেছিল। ইতিপূর্বে আমি যেসব বিতর্ক ও অন্যান্য বিষয় ঘটেছিল সেদিকে ইঙ্গিত করেছি।

খলিল ইবনে আহমদ যা প্রণয়ন করেছেন তা সমসাময়িক কালের এক বিস্ময়কর নির্দশন হিসেবে গণ্য হয়। আর সিবাওয়াই তাঁর গ্রন্থে যা লিপিবদ্ধ করেছেন এবং সেই যুগের আলেম ও গবেষকগণ যা পূর্ণতা দান করেছেন—তা আমাদের নিকট যা কিছু পৌঁছেছে তার মূল ভিত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়...
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ১৭)
النحو والصرف. وما جد في العصور المتتالية وفي جميع الأمصار- إنما هو شرح وتفصيل وتنظيم وتكميل لهذا التراث العظيم. فجزاهم الله بما قدموا من عمل أحسن الجزاء.

وقد ألف أبو البقاء العكبري المتوفى سنة 616 هـ كتابًا أسماه: "التبيين في مسائل الخلاف بين البصريين والكوفيين". كما ألف الإمام الجليل كمال الدين أبو البركات عبد الرحمن بن محمد الأنباري النحوي المتوفى سنة 577 هـ كتابًا أسماه "الإنصاف في مسائل الخلاف بين النحويين البصريين والكوفيين" وهو كتاب فريد في بابه، ذكر فيه مائة وإحدى وعشرين مسألة.

ولعل من المفيد أن أعرض بعض أمثلة من هذه المسائل التي وقع فيها الخلاف، ليقف الدارس على وجهة نظر كل من الفريقين وما احتج به.

 

‌‌1 - العطف على موضع اسم "إن" بالرفع قبل تمام الخبر:

أجازه الكوفيون محتجين بالنقل، مثل قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئُونَ} بعطف {وَالصَّابِئُونَ} على موضع اسم إن بحسب الأصل قبل تمام الخبر وهو {مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ} وورد في كلام العرب: إنك وزيد ذاهبان. ذكر ذلك سيبويه في كتابه، والقياس لا يمنع العطف على الموضع قبل تمام الخبر مع "لا" فكذلك "إن" ويمنعه البصريون ويؤولون ما ورد من ذلك:

 

‌‌2 - وقوع الفعل الماضي حالًا:

أجازه الكوفيون محتجين بالنقل والقياس. أما النقل فقوله تعالى: {أَوْ جَاءُوكُمْ حَصِرَتْ صُدُورُهُمْ} فحصرت فعل ماض، وهو موضع الحال من جاءوكم. ويؤيد قراءة: "حَصِرَةً صُدُورُهُمْ" وقول الشاعر أبي صخر الهذلي:

وإني لتعروني لذكراك هزة … كما انتفض العصفور بلله القطر
নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)। পরবর্তী যুগসমূহে এবং সমস্ত জনপদে যা কিছু নতুন সংযোজিত হয়েছে, তা মূলত এই মহান ঐতিহ্যের ব্যাখ্যা, বিশদ বিবরণ, বিন্যাস ও পূর্ণতাদান মাত্র। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কাজের জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আর ৬১৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু আল-বাকা আল-উকবরি 'আত-তাবয়ীন ফি মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন' (বসরা ও কুফাবাসীদের মধ্যকার মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়সমূহের স্পষ্টীকরণ) নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। একইভাবে মহান ইমাম কামালুদ্দিন আবুল বারাকাত আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-আনবারি আন-নাহবি (মৃত্যু ৫৭৭ হি.) 'আল-ইনসাফ ফি মাসাইলিল খিলাফ বাইনান নাহবিয়্যিন আল-বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন' (বসরা ও কুফাবাসী ব্যাকরণবিদদের মধ্যকার মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়সমূহের নিরপেক্ষ বিচার) নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা এই বিষয়ে এক অনন্য কিতাব; এতে তিনি একশ একুশটি বিষয় উল্লেখ করেছেন।

সম্ভবত এই মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে কিছু উদাহরণ পেশ করা উপকারী হবে, যাতে শিক্ষার্থী উভয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের পেশকৃত দলীল সম্পর্কে অবগত হতে পারে।

 

‌‌১ - খবর পূর্ণ হওয়ার আগে 'ইন্না' (إن)-এর ইসিমের স্থলাভিষিক্ত শব্দের ওপর রফ' (পেশ) দিয়ে আতফ করা:

কুফাবাসীরা বর্ণনার (নকল) ভিত্তিতে একে বৈধ বলেছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে এবং সাবিঈনরা}। এখানে {সাবিঈনরা} শব্দটিকে খবর পূর্ণ হওয়ার আগে মূল অবস্থা অনুযায়ী 'ইন্না'-এর ইসিমের স্থানের ওপর আতফ করা হয়েছে; আর খবরটি হলো {যারা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে}। আর আরবদের কথায় এসেছে: "নিশ্চয়ই তুমি এবং জায়েদ প্রস্থানকারী"। সিবওয়াইহি তার কিতাবে এটি উল্লেখ করেছেন। আর 'লা' (لا)-এর ক্ষেত্রে খবর পূর্ণ হওয়ার আগে স্থানের ওপর আতফ করতে যুক্তি (কিয়াস) বাধা দেয় না, তেমনি 'ইন্না'-এর ক্ষেত্রেও। তবে বসরাবাসীরা এটি নিষিদ্ধ করেন এবং যা বর্ণিত হয়েছে তার ব্যাখ্যা প্রদান করেন:

 

‌‌২ - ফেল মাযি (অতীতকালীন ক্রিয়া) হাল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া:

কুফাবাসীরা বর্ণনা এবং যুক্তি (কিয়াস) উভয় মাধ্যমে একে বৈধ বলেছেন। বর্ণনার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তারা তোমাদের কাছে এমন অবস্থায় এল যে, তাদের অন্তর সংকীর্ণ হয়ে গেছে}। এখানে 'হাসিরাত' (সংকীর্ণ হওয়া) হলো ফেল মাযি এবং এটি 'জাউকুম' (তারা তোমাদের কাছে এল) থেকে হাল-এর স্থানে রয়েছে। আর "হাসিরাতান সু দুরুহুম" কিরাতটি একে সমর্থন করে। এবং কবি আবু সাখর আল-হুযালীর উক্তি:

তোমার স্মরণে আমাকে এমন এক শিহরণ আচ্ছন্ন করে … যেমন বৃষ্টিতে ভেজা চড়ুই পাখি গা ঝাড়া দেয়।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ১৮)
فـ "بَلَّلَهُ" فعل ماض، وهو في موضع الحال، والقياس: أن كل ما جاز أن يكون صفة للنكرة جاز أن يكون حالًا للمعرفة. والفعل الماضي يجوز وقوعه صفة للنكرة، فتقول: مررت برجل قعد، وغلام قام.

ومنعه البصريون، وأولوا ما ورد من أمثاله:

 

‌‌3 - إظهار "أن" المصدرية بعد "لكي":

أجازه الكوفيون، على أن تكون "أن" توكيدًا لكي، محتجين بقول الشاعر:

أردت لكيما أن تطير بقربتي … فتتركها شنًا ببيداء بلقع

ومنعه البصريون. ومثل "كي" "حتى".

 

‌‌4 - ترخيم المضاف:

أجازه الكوفيون، ويوقعون الترخيم في آخر الاسم المضاف إليه، محتجين بورود ذلك كثيرًا في الفصيح من كلام العرب، ومنه قول زهير بن أبي سلمى:

خذوا حظكم يا آل عكرم واحفظوا … أواصرنا والرحم بالغيب تذكر

أراد: "يا آل عكرمة" وهو عكرمة بن خصفة بن قيس عيلان، وحذف التاء للترخيم.

ومنعه البصريون؛ بحجة أنه لا توجد فيه شروط الترخيم، وهي: أن يكون الاسم منادى، مفردًا، معرفة … إلخ.

 

‌‌5 - إضافة اسم إلى آخر يوافقه في المعنى:

أجازه الكوفيون إذا اختلف اللفظان، محتجين بمثل قوله تعالى: {إِنَّ هَذَا لَهُوَ حَقُّ الْيَقِينِ}، {وَلَدَارُ الآخِرَةِ خَيْرٌ} فاليقين في المعنى نعت لحق، والنعت في المعنى هو المنعوت، وقد أضيف المنعوت إلى النعت وهما بمعنى واحد. والدار هي الآخرة وقد أضيفت إليها. وقولهم: "صلاة الأولى، ومسجد الجامع، وبقلة الحمقاء" فالأولى في المعنى هي الصلاة، والجامع هو المسجد، والبقلة هي الحمقاء.
সুতরাং "বাল্লালাহু" (সে তাকে সিক্ত করেছে) একটি অতীতকালীন ক্রিয়া, যা এখানে 'হাল' (অবস্থা) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নিয়ম হলো: যা কিছু অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকিরাহ) বিশেষণ হওয়া বৈধ, তা নির্দিষ্ট বিশেষ্যের (মারিফাহ) জন্য 'হাল' হওয়াও বৈধ। আর অতীতকালীন ক্রিয়া অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে; যেমন আপনি বলতে পারেন: আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যে বসা ছিল, এবং এমন এক বালকের পাশ দিয়ে যে দাঁড়িয়ে ছিল।

বসরার ব্যাকরণবিদগণ একে নিষিদ্ধ করেছেন এবং তারা এই জাতীয় উদাহরণগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

 

‌‌৩ - "লিকাই"-এর পরে মাসদারী "আন"-কে প্রকাশ করা:

কুফার ব্যাকরণবিদগণ একে বৈধ বলেছেন এই ভিত্তিতে যে, "আন" এখানে "কাই"-এর তাকিদ (দৃঢ়তা) হিসেবে এসেছে। তারা কবির এই উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:

আমি চেয়েছিলাম যাতে তুমি আমার মশক নিয়ে উড়ে যাও … অতঃপর সেটিকে এক বৃক্ষহীন মরুভূমিতে জীর্ণ চামড়ার পাত্র হিসেবে ফেলে রাখ

বসরীয়রা একে নিষিদ্ধ করেছেন। আর "কাই"-এর মতো "হাত্তা"-এর বিধানও অনুরূপ।

 

‌‌৪ - মুদাফ-এর তারখিম (শেষাংশ বিলোপ):

কুফীগণ একে বৈধ বলেছেন এবং তারা মুদাফ ইলাইহি-র শেষে তারখিম করে থাকেন। আরবদের বিশুদ্ধ বাকরীতিতে এর প্রচুর ব্যবহারের মাধ্যমে তারা দলিল পেশ করেছেন। এর মধ্যে যুহাইর ইবনে আবি সুলমার উক্তিটি অন্যতম:

হে ইকরিমের বংশধর, তোমরা তোমাদের প্রাপ্য গ্রহণ করো এবং আমাদের পারস্পরিক বন্ধনগুলো রক্ষা করো … আর অগোচরে আত্মীয়তার হক স্মরণ করা হয়

তিনি বুঝিয়েছেন: "হে ইকরিমার বংশধর"। তিনি ছিলেন ইকরিমা ইবনে খাসাফা ইবনে কায়স আইলান। এখানে তারখিমের উদ্দেশ্যে "তা" বর্ণটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

বসরীয়রা একে নিষিদ্ধ করেছেন এই যুক্তিতে যে, এখানে তারখিমের শর্তাবলি বিদ্যমান নেই। আর শর্তগুলো হলো: নামটিকে মুনাদা (আহ্বানকৃত), একক শব্দ এবং নির্দিষ্ট হতে হবে... ইত্যাদি।

 

‌‌৫ - সমার্থবোধক একটি বিশেষ্যকে অন্যটির দিকে ইযাফাত করা:

কুফীগণ শব্দ দুটি ভিন্ন হলে একে বৈধ বলেছেন। তারা মহান আল্লাহর বাণীর ন্যায় উদাহরণ দিয়ে দলিল পেশ করেছেন: {নিশ্চয় এটিই নিশ্চিত সত্য}, {আর পরকালীন নিবাসই উত্তম}। এখানে ইয়াকিন অর্থগতভাবে হাক্ক-এর বিশেষণ, আর অর্থগতভাবে বিশেষণই হলো বিশেষিত বস্তু। এখানে বিশেষিত বস্তুকে বিশেষণের দিকে ইযাফাত করা হয়েছে অথচ তারা উভয়ই একই অর্থ প্রকাশ করে। একইভাবে 'দার' হলো 'আখিরাত', যাকে সেটির দিকে ইযাফাত করা হয়েছে। এছাড়া তাদের বক্তব্য: "প্রথম সালাত, জামে মসজিদ এবং বোকা উদ্ভিদ"। এখানে অর্থের দিক দিয়ে 'উলা' বলতে সালাত, 'জামি' বলতে মসজিদ এবং 'বাকলা' বলতে সেই উদ্ভিদটিকেই বোঝানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ১৯)
ومنعه البصريون؛ بحجة أن الإضافة يراد بها التعريف أو التخصيص، والشيء لا يتعرف بنفسه، وأولوا ما ورد من ذلك، على نحو ما هو مبسوط في كتب النحو.

 

‌‌6 - إضافة النيف إلى العشرة:

أجازه الكوفيون؛ فيقولون: خمسة عشر، واحتجوا بورود ذلك في الشعر العربي. قال الشاعر:

كلف من عنائه وشقوته … بنت ثماني عشرة من حجته

ولأن النيف اسم مظهر كغيره من الأسماء المظهرة، فلا مانع من إضافة مثلها. ومنعه البصريون؛ لأنهم جعلوا اللفظين اسمًا واحدًا، ولا يضاف بعض الاسم إلى بعضه، وأنكروا البيت.

 

‌‌7 - العطف على الضمير المخفوض:

أجازه الكوفيون، تقول: مررت بك ومحمد، محتجين بوروده كثيرًا؛ في القرآن الكريم، وفي الكلام العربي. ومن ذلك قوله تعالى: {وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامِ} بخفض الأرحام على قراءة حمزة؛ عطفًا على الضمير في "به" وقوله: {وَصَدٌّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَكُفْرٌ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} بعطف المسجد على الهاء من "به". وقال الشاعر:

فاليوم قربت تهجونا وتشتمنا … فاذهب فما بك والأيام من عجب

يخفض الأيام على الكاف في "بك".

ومنعه البصريون؛ بحجة أن الجار مع المجرور كالشيء الواحد، والضمير إذا جر اتصل بالجار، ولهذا لا يكون إلا متصلًا، بخلاف ضمير المرفوع والمنصوب.
বসরাবাসীরা এটি নিষেধ করেছেন; এই যুক্তিতে যে, ইদাফাত (সম্বন্ধ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পরিচিতি বা বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ, আর কোনো বস্তু নিজের মাধ্যমে নিজে পরিচিত হতে পারে না। তারা এ সংক্রান্ত যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যেমনটি নাহু (ব্যাকরণ) গ্রন্থসমূহে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌৬ - দশে (দশকের সংখ্যার সাথে) অতিরিক্তের (১ থেকে ৯ পর্যন্ত সংখ্যার) সম্বন্ধ করা:

কুফাবাসীরা এটিকে বৈধ বলেছেন; ফলে তারা বলেন: পনেরো (সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায়), এবং তারা আরবি কবিতায় এর ব্যবহারের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। কবি বলেছেন:

সে তার কষ্ট ও দুর্ভাগ্যের কারণে আসক্ত হয়েছে … তার আঠারো বছরের মেয়ের প্রতি

আর কারণ হলো, অতিরিক্ত অংশটি (নায়িফ) অন্যান্য প্রকাশ্য বিশেষ্যের মতো একটি প্রকাশ্য বিশেষ্য, তাই এর মতো শব্দের সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। বসরাবাসীরা এটি নিষেধ করেছেন; কারণ তারা শব্দ দুটিকে একটি শব্দ হিসেবে গণ্য করেছেন, আর একটি শব্দের অংশকে তার অন্য অংশের সাথে সম্বন্ধ করা যায় না; এবং তারা কবিতাটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

 

‌‌৭ - সম্বন্ধযুক্ত সর্বনামের ওপর সংযোজন (আতফ):

কুফাবাসীরা এটি বৈধ বলেছেন, আপনি বলবেন: আমি তোমার এবং মুহাম্মদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি। তারা পবিত্র কুরআন এবং আরবি কথোপকথনে এর প্রচুর ব্যবহারের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়দের (অধিকার ক্ষুণ্ণ করা থেকে বেঁচে থাকো)} হামযাহ্-এর ক্বিরাত অনুযায়ী 'আরহাম' শব্দটিকে মাজরুর (জেরযুক্ত) পড়ে; 'তাতে' থাকা সর্বনামের ওপর আতফ করে। এবং আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর পথে বাধা দান করা, তাঁর সাথে কুফরি করা এবং মসজিদুল হারামে বাধা প্রদান করা} এখানে 'মসজিদ' শব্দটিকে 'তাতে' এর সর্বনাম 'হা'-এর ওপর আতফ করার মাধ্যমে। কবি বলেছেন:

আজ তুমি আমাদের নিন্দা ও গালিগালাজ করতে নিকটবর্তী হয়েছ … তবে চলে যাও, তোমার এবং দিনকালের ব্যাপারে আশ্চর্যের কিছু নেই

এখানে 'তোমার' এর 'কাফ' সর্বনামের ওপর ভিত্তি করে 'দিনকাল' শব্দটিকে মাজরুর করা হয়েছে।

বসরাবাসীরা এটি নিষেধ করেছেন; এই যুক্তিতে যে, অব্যয় (জার) ও অব্যয়-পরবর্তী শব্দ (মাজরুর) মিলে একটি জিনিসের মতো, আর সর্বনাম যখন মাজরুর হয় তখন তা অব্যয়ের সাথে মিশে যায়, এই কারণেই এটি কেবল যুক্ত সর্বনাম হিসেবেই আসে, যা মারফু এবং মানসুব সর্বনামের বিপরীত।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ২১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله رب العالمين(1)، والصلاة والسلام الأتمان الأكملان على سيدنا محمد خاتم النبيين، وإمام المتقين، وقائد الغر(2) المحجلين(3) وعلى آله وصحبه أجمعين صلاة وسلاما دائمين بدوام السموات والأرض.

أما بعد حمد الله مستحق الحمد وملهمه(4)، ومنشئ الخلق ومعدمه، والصلاة والسلام على أشرف الخلق وأكرمه(5)، المنعوت بأحسن الخلق وأعظمه(6)؛ محمد نبيه، وخليله وصفيه، وعلى آله وأصحابه وأحزابه وأحبابه. فإن(7) كتاب "الخلاصة


 

(1) الأرجح: أنه اسم جمع، أعرب إعراب الجمع، وليس جمعًا لعالم بفتح اللام كما قال بعضهم؛ لأنه يستلزم أن يكون المفرد أعم من الجمع؛ لأن العالم اسم لما سوى الله، والعالمين خاص بالعقلاء.

(2) جمع أغر من الغرة، وهي بياض في الجبهة، ورجل أغر: شريف كريم الأفعال واضحها.

(3) جمع محجل، وهو من الخيل الذي يرتفع البياض في قوائمه إلى الركبتين التي هي مواضع الأحجال؛ أي: الخلاخل والقيود. وفي هذه العبارة إشارة إلى قول الرسول صلى الله عليه وسلم: "أمتي الغر المحجلون"، والمراد الموسومون ببياض مواضع الوضوء؛ من الأيدي والوجه والأقدام، وهو كناية عن النور والوضاءة.

(4) ملقنه لعباده. والإلهام: شيء يلقيه الله في النفس، يبعث الملهم على الفعل أو الترك، وهو نوع من الوحي يخص الله به من يشاء من عباده.

(5) أي: الموصوف من النعت بمعنى الصفة.

(6) الخلق -بضم اللام وسكونها- الدين والسجية والطبيعة، وهو صورة الإنسان الباطنية لنفسه وأوصافها ومعانيها المختصة بها. كما أن الخلق صورته الظاهرة وأفعالها وأوصافها المختصة بها، ويجمع على أخلاق لا غير. وهو يشير إلى قوله تعالى: {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ}.

(7) هذا جواب أما، ولذلك قرن بالفاء، أي: فأنا أقول لك إن …
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য(১), এবং সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি নবীগণের মোহর, মুত্তাকীদের ইমাম এবং শুভ্র ললাট ও শুভ্র হাত-পা বিশিষ্টদের(২) (৩) নেতা এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর; এমন সালাত ও সালাম যা আসমান ও যমীনের স্থায়িত্বের সাথে চিরস্থায়ী হবে।

প্রশংসার যোগ্য এবং প্রশংসার অনুপ্রেরণাকারী(৪), সৃষ্টির উদ্ভাবক ও বিনাশকারী আল্লাহর প্রশংসার পর, এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক সম্মানিত সত্তার ওপর সালাত ও সালামের পর, যিনি সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী হিসেবে বিশেষিত(৫)(৬); (যিনি হলেন) মুহাম্মাদ—তাঁর নবী, তাঁর একান্ত বন্ধু ও মনোনীত বান্দা—এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ, তাঁর দলসমূহ ও তাঁর প্রিয়জনদের ওপর। নিশ্চয়ই(৭) 'আল-খুলাসাত' কিতাবটি...


 

(১) অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো: এটি একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (ইসমে জাম), যা বহুবচনের ন্যায় বিভক্তিপ্রাপ্ত হয়। এটি 'আলাম' (লাম বর্ণের ফাতহাহ যোগে) শব্দের বহুবচন নয় যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন; কারণ সেক্ষেত্রে একবচনটি বহুবচনের চেয়ে অধিক ব্যাপক হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে; যেহেতু 'আলাম' হলো আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুর নাম, আর 'আলামিন' শব্দটি কেবল বিবেকসম্পন্নদের জন্য নির্দিষ্ট।

(২) এটি 'গুররাহ' হতে 'আগার' শব্দের বহুবচন, আর 'গুররাহ' হলো ললাটের শুভ্রতা। আর 'আগার' ব্যক্তি বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝায় যিনি মর্যাদাবান, শ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী ও যার কার্যাবলী সুস্পষ্ট।

(৩) এটি 'মুহাজ্জাল' শব্দের বহুবচন, যা সেই ঘোড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার হাত-পায়ের হাঁটু পর্যন্ত শুভ্রতা উঠে যায় যা মূলত অলঙ্কার ও শিকল পরার স্থান। এই বাণীর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে: "আমার উম্মত হলো শুভ্র ললাট ও শুভ্র হাত-পা বিশিষ্ট (আল-গুররুল মুহাজ্জালুন)"; আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অজুর অঙ্গসমূহ যেমন হাত, মুখমণ্ডল ও পা-সমূহের শুভ্রতা দ্বারা চিহ্নিত থাকা। এটি জ্যোতি ও উজ্জ্বলতার একটি রূপক।

(৪) এর অর্থ হলো তাঁর বান্দাদেরকে তা শিখিয়ে দেওয়া। আর 'ইলহাম' হলো এমন বিষয় যা আল্লাহ অন্তরে নিক্ষেপ করেন, যা ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কোনো কাজ করতে বা বর্জন করতে উদ্বুদ্ধ করে। এটি এক প্রকার ওহী যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দান করেন।

(৫) অর্থাৎ: সিফাত বা গুণের অর্থ প্রকাশকারী নাত দ্বারা বিশেষিত।

(৬) 'খুলুক' (লাম বর্ণের পেশ বা সাকিন যোগে)—এর অর্থ হলো ধর্ম, স্বভাব ও প্রকৃতি। এটি মানুষের অভ্যন্তরীণ রূপ, তার সত্তা, তার বৈশিষ্ট্য এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট অর্থের প্রতিচ্ছবি। যেমন 'খালক' হলো তার বাহ্যিক অবয়ব, তার কর্ম এবং তার সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্য। এর বহুবচন কেবল 'আখলাক' হয়। এটি মহান আল্লাহর বাণীর দিকে ইঙ্গিত করে: {আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর রয়েছেন}।

(৭) এটি 'আম্মা' (অতঃপর)-এর উত্তর, একারণেই এর সাথে 'ফা' বর্ণটি যুক্ত হয়েছে, অর্থাৎ: আমি আপনাকে বলছি যে...
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ২২)
الألفية في علم العربية"(1) نظم الإمام العلامة جمال الدين أبي عبد الله محمد بن مالك الطائي رحمه الله(2) كتاب صغر حجمًا، وغزر علمًا(3)، غير أنه لإفراط(4)


 

(1) المراد هنا: النحو والصرف؛ لأن علم العربية -كما يقول الزمخشري- يطلق على اثني عشر علمًا. ويحد على هذا: بأنه قواعد تعرف بها أحوال الكلمات عند الإفراد والتركيب.

(2) هو إمام النحاة وحافظ اللغة: محمد بن عبد الله بن مالك الطائي الجياني الشافعي. ولد سنة 600 هـ بمدينة جيان بالأندلس، فنسب إليها. ورحل أهله إلى دمشق، فنشأ بها، وأخذ العربية عن علمائها وغيرهم، ثم صرف همته إليها فأتقنها حتى حاز فيها قصب السبق، وبلغ الغاية، وأربى على المتقدمين، وأصبح المرجع في غريب اللغة ووحشيها، وكان فوق ذلك إمامًا في القراءات وعللها. أما النحو والصرف فكان فيهما بحرًا لا يجارى، وحبرًا لا يبارى. وكان العلماء يعجبون من أشعار العرب التي يستشهد بها في النحو واللغة من أين جاء بها؟ وكان نظم الشعر عليه سهلًا؛ رجزه، وطويله، وبسيطه. وأكثر ما كان يستشهد بالقرآن، فإن لم يجد فيه شاهدًا عدل إلى الحديث، فإن لم يجد فيه ضالته تحول إلى أشعار العرب. هذا مع شدة تدينه، وصدق لهجته، وفصاحة لفظه وأسلوبه، وكمال عقله، ووقاره، وقد أقام بدمشق يصنف ويدرس. وقد تخرج به كثير من العلماء، وله تصانيف كثيرة تقرب من الثلاثين، وقد قدم القاهرة ثم عاد إلى دمشق، وقيل إنه قرأ على ثابت بن حيان، وسمع من أبي علي الشلوبين، وأخذ عن ابن يعيش الحلبي. وتوفي ابن مالك بدمشق في 12 من شعبان سنة 672 هـ، وقد رثاه العلماء كثيرًا، وقد جاء في مرثية الإمام شرف الدين الحصني:

يا لسان الأعراب يا جامع الإعـ … ـراب يا مفهمًا لكل مقال

يا فريد الزمان في النظم والنثـ … ـر وفي نقل مسندات العوالي

كم علوم بثثتها في أناس … علموا ما بثثت عند الزوال

(3) - أي: كثر علمه، والغزارة: الكثرة، وبابه ظرف.

(4) - الإفراط: مجاوزة الحد في الأمر. والإيجاز: الاختصار، يقال: أوجز الكلام: قصره وقلله، والمراد شدة الاختصار. أما التفريط فهو: التقصير والإهمال، يقال: فرط في الأمر -قصر فيه وضيعه حتى فات.
"আরবি ভাষা বিজ্ঞানে আলফিয়্যাহ"(১) ইমাম আল্লামা জামালুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মালিক আত-তায়ি (রাহিমাহুল্লাহ)(২)-এর একটি কাব্যগ্রন্থ; এটি আয়তনে ছোট অথচ জ্ঞানে সমৃদ্ধ(৩), তবে অত্যধিক সংক্ষিপ্তকরণের কারণে...(৪)


 

(১) এখানে উদ্দেশ্য হলো: নাহু (ব্যাকরণ) এবং সরফ (শব্দতত্ত্ব); কারণ আরবি ভাষা বিজ্ঞান—যেমনটি যামাখশারী বলেন—বারোটি বিজ্ঞানের ওপর প্রয়োগ করা হয়। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি এমন কিছু নিয়মাবলি যার মাধ্যমে একক ও যৌগিক অবস্থায় শব্দের অবস্থা জানা যায়।

(২) তিনি হলেন ব্যাকরণবিদদের ইমাম এবং ভাষা সংরক্ষণকারী: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিক আত-তায়ি আল-জাইয়ানি আশ-শাফিয়ি। হিজরি ৬০০ সনে আন্দালুসের জাইন শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং সেই শহরের দিকেই তাঁকে সম্বন্ধ করা হয়। তাঁর পরিবার দামেস্কে হিজরত করলে তিনি সেখানে বড় হন এবং সেখানকার উলামা ও অন্যদের নিকট থেকে আরবি ভাষা শিক্ষা করেন। অতঃপর তিনি সম্পূর্ণ মনোযোগ এর প্রতি নিবিষ্ট করেন এবং এতে বুৎপত্তি লাভ করেন, এমনকি তিনি শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আরোহণ করেন এবং পূর্ববর্তীদের ছাড়িয়ে যান। তিনি ভাষার বিরল ও জটিল শব্দাবলির ক্ষেত্রে প্রধান নির্ভরযোগ্য আধারে পরিণত হন। এর পাশাপাশি তিনি ক্বিরাআত এবং এর শাস্ত্রীয় কারণসমূহের ইমাম ছিলেন। নাহু ও সরফের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এমন এক সমুদ্র যার কোনো সমকক্ষ নেই এবং এমন এক মহাজ্ঞানী যার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। উলামায়ে কিরাম আরবি কবিতার সেই সব উদ্ধৃতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করতেন যা তিনি নাহু ও ভাষার প্রমাণ হিসেবে পেশ করতেন—তিনি এগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করতেন? তাঁর জন্য কবিতা রচনা করা ছিল অত্যন্ত সহজ; চাই তা রাজায, তবিল কিংবা বসিত ছন্দ হোক না কেন। তিনি সবচেয়ে বেশি পবিত্র কুরআন থেকে দলিল পেশ করতেন, যদি তাতে প্রমাণ না পেতেন তবে হাদিসের শরণাপন্ন হতেন, আর যদি সেখানেও কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি না পেতেন তবে আরবদের কবিতার দিকে ফিরে যেতেন। এই সবকিছুই ছিল তাঁর প্রগাঢ় ধার্মিকতা, সত্যনিষ্ঠ বক্তব্য, অলঙ্কৃত শব্দ ও শৈলী এবং পূর্ণ প্রজ্ঞা ও গাম্ভীর্যের সাথে। তিনি দামেস্কে অবস্থান করে গ্রন্থ রচনা এবং পাঠদান করতেন। তাঁর নিকট থেকে অনেক আলেম শিক্ষা লাভ করেছেন এবং তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ত্রিশটির কাছাকাছি। তিনি কায়রোতে আগমন করেছিলেন এবং পুনরায় দামেস্কে ফিরে যান। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি সাবিত বিন হাইয়ানের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন, আবু আলি আশ-শালুবিন থেকে শুনেছেন এবং ইবনে ইয়াইশ আল-হালাবি থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন। ইবনে মালিক ৬৭২ হিজরির ১২ই শাবান দামেস্কে ইন্তেকাল করেন। উলামায়ে কিরাম তাঁর মৃত্যুতে অনেক শোকগাথা রচনা করেছেন। ইমাম শরাফুদ্দিন আল-হিসনির শোকগাথায় বর্ণিত হয়েছে:

ওহে আরবদের ভাষা, ওহে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের সংকলক... ওহে প্রতিটি বাণীর বোধগম্যকারী!

কবিতা ও গদ্যে এবং উচ্চতর সনদ বর্ণনায় আপনি যুগের অদ্বিতীয়!

কতই না জ্ঞান আপনি মানুষের মাঝে প্রচার করেছেন... যা আপনার প্রস্থানের পর তারা অনুধাবন করেছে!

(৩) - অর্থাৎ: এর জ্ঞান অধিক বা প্রচুর। ‘গাযারাহ’ অর্থ প্রাচুর্য, এর ক্রিয়ামূল ‘যারুফা’।

(৪) - ইফরাত: কোনো কাজে সীমা অতিক্রম করা। ঈজায: সংক্ষিপ্তকরণ; বলা হয়: সে কথাকে সংক্ষেপ করেছে—অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত ও কম করেছে। এখানে উদ্দেশ্য হলো অত্যধিক সংক্ষিপ্তকরণ। আর তাফরিত হলো: অবহেলা ও ত্রুটি করা; বলা হয়: সে বিষয়ে তাফরিত করেছে—অর্থাৎ তাতে কমতি করেছে এবং অবহেলা করে তা নষ্ট করেছে এমনকি তা হাতছাড়া হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ২৩)
الإيجاز، قد كاد يعد من جملة الألغاز.(1) وقد أسعفت(2) طالبيه، بمختصر يدانيه،(3) وتوضيح يسايره(4) ويباريه(5)، أحل به ألفاظه(6)، وأوضح معانيه، وأحلل به تراكيبه(7)، وأنقح مبانيه(8)، وأعذب به موارده(9)، وأعقل به شوارده(10)، ولا أخلي(11) منه مسألة من شاهد(12) أو تمثيل، وربما أشير فيه إلى خلاف أو نقد أو تعليل. ولم آل جهدًا(13) في توضيحه وتهذيبه، وربما خالفته في تفصيله وترتيبه.


 

(1) جمع لغز "بالضم وبضمتين -وبالتحريك- وكصرد" وهو ما يعمى به ويصعب فهمه، يقال: ألغز الكلام وألغز فيه: عمى مراده وأضمره على خلاف ما أظهره. والألغوزة: ما يعمى به.

(2) ساعدت وعاونت، يقال: أسعفه بحاجته: قضاها له.

(3) يقاربه في مسائله وبحوثه.

(4) يسير على نهجه ويتبع طريقته.

(5) يسابقه ويفعل مثل فعله.

(6) أبين وأشرح مفرداته.

(7) أي: أفصلها وأوضحها.

(8) أهذب أصول موضوعاته. ومبنى الكتاب: ما تبنى عليه مسائله.

(9) الموارد: المناهل، واحدها مورد. والعذب: الماء الطيب، والمراد: أيسر مسائله، حتى تطيب وتحلو لدى طلابها.

(10) عقل البعير -من باب ضرب- ثنى وظيفه "مستدق ساقه" مع ذراعه وشدهما بالحبل؛ وهو العقال. والشارد: النافر، والمراد: أجمع مسائله المبعثرة، وأقيد المطلقة منها بأدلتها المحددة.

(11) لا أترك.

(12) أي: دليل من كلام عربي صحيح لإثبات القاعدة، والمثال: جزئي يذكر للإيضاح.

(13) لم أقصر في طاقتي ولم أدخر وسعًا، يقال: ألا -من باب عدا- قصر. والألو: التقصير. والجهد -بفتح الجيم وضمها- الطاقة والوسع.
সংক্ষিপ্ততা, যা প্রায় ধাঁধার অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছিল।(১) আর আমি এর অন্বেষণকারীদের সহায়তা করেছি(২) এমন এক সারসংক্ষেপের মাধ্যমে যা এর কাছাকাছি পৌঁছায়,(৩) এবং এমন এক ব্যাখ্যার মাধ্যমে যা এর সমান্তরালে চলে(৪) ও পাল্লা দেয়(৫); যার মাধ্যমে আমি এর শব্দাবলি বিশ্লেষণ করি(৬), এর অর্থসমূহ স্পষ্ট করি, এর গঠনশৈলী ব্যাখ্যা করি(৭), এর ভিত্তিগুলোকে পরিমার্জিত করি(৮), এর উৎসগুলোকে সুপেয় করি(৯) এবং এর জটিল ও বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে আয়ত্তে আনি(১০)। আমি এতে কোনো মাসআলাকেই প্রমাণ(১২) বা উদাহরণ ছাড়া ছেড়ে দিইনি(১১), এবং সম্ভবত এতে কখনো মতভেদ, সমালোচনা বা কারণ বর্ণনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর আমি এর বিশদ ব্যাখ্যা ও পরিমার্জনে কোনো প্রচেষ্টার ত্রুটি করিনি(১৩), এবং কখনো কখনো এর বিস্তারিত বর্ণনা ও বিন্যাসে মূল গ্রন্থের ভিন্নতা অবলম্বন করেছি।


 

(১) 'লুগজ' শব্দের বহুবচন, যা অস্পষ্ট এবং যার মর্ম অনুধাবন করা কঠিন। বলা হয়: সে কথাকে ধাঁধাময় করেছে, অর্থাৎ সে তার উদ্দেশ্যকে অস্পষ্ট রেখেছে এবং যা প্রকাশ করেছে তার বিপরীতে তা গোপন রেখেছে। আর 'আল-লুগুযাহ' হলো যার মাধ্যমে ধাঁধা তৈরি করা হয়।

(২) সাহায্য ও সহযোগিতা করেছি। বলা হয়: সে তার প্রয়োজনে সাহায্য করেছে অর্থাৎ সেটি পূর্ণ করে দিয়েছে।

(৩) এর মাসআলা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এর কাছাকাছি হয়।

(৪) এর পথ অনুসরণ করে এবং এর পদ্ধতি মেনে চলে।

(৫) এর সাথে প্রতিযোগিতা করে এবং এর অনুরূপ কাজ করে।

(৬) এর একক শব্দাবলিকে ব্যক্ত ও ব্যাখ্যা করি।

(৭) অর্থাৎ: সেগুলোকে পৃথক ও স্পষ্ট করি।

(৮) এর বিষয়বস্তুর মূলনীতিগুলোকে পরিমার্জিত করি। আর গ্রন্থের 'মাবনা' (ভিত্তি) হলো: যার ওপর এর মাসআলাগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়।

(৯) মাওয়ারিদ: পানপাত্র বা ঘাট, এর একবচন মাওরিদ। আর 'আযব' হলো সুপেয় পানি। উদ্দেশ্য হলো: এর মাসআলাগুলোকে সহজতর করা, যাতে তা শিক্ষার্থীদের কাছে মনোরম ও মধুর হয়।

(১০) উটের পা বাঁধা - এটি 'দারাবা' অধ্যায় থেকে এসেছে - উটের নলিকে তার বাহুর সাথে ভাঁজ করে রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা; আর এটিই হলো 'ইকাল' (বাঁধন)। শারীদ: পলায়নপর। উদ্দেশ্য হলো: এর বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলোকে একত্রিত করা এবং নিঃশর্ত বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্ট দলিলের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা।

(১১) আমি পরিত্যাগ করি না।

(১২) অর্থাৎ: কোনো নিয়ম প্রমাণের জন্য বিশুদ্ধ আরবি কালাম থেকে দলিল। আর উদাহরণ হলো: বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য উল্লেখিত আংশিক কোনো দৃষ্টান্ত।

(১৩) আমি আমার সামর্থ্যে কোনো কমতি করিনি এবং কোনো প্রচেষ্টা বাকি রাখিনি। বলা হয়: 'আলা' - যা 'আদা' অধ্যায় থেকে এসেছে - অর্থাৎ কমতি করা। আল-আলু: কমতি করা। আর 'জুহদ' (জিম বর্ণে ফাতহাহ বা দাম্মাহ যোগে): শক্তি ও সামর্থ্য।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ২৪)
وسميته: "أوضح المسالك إلى ألفية ابن مالك"، وبالله أعتصم(1)، وأسأله العصمة مما يصم(2)، لارب غيره(3)، ولا مأمول إلا خيره، عليه توكلت، وإليه أنيب.


 

(1) أمتنع من الخطأ بلطفه وحفظه. والعصمة: المنع والحفظ.

(2) أي: يشين ويعيب. والوصم: العيب والعار.

(3) "غير" صفة لرب على المحل، وخبر "لا" النافية محذوف، أي: لا غير الله يطلب منه شيء، وكذلك خبر "لا" الثانية محذوف. والمعنى: لا مأمول غير خير الله معتد به. ولا يصح أن يكون "غير" خبرا؛ لأن خبر "لا" الجنسية يكون منفيا عن جمع أفراد الاسم، وذلك يستلزم أن تكون مغايرة الله منفية عن كل رب، وليس كذلك.
আমি এর নামকরণ করেছি: "আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক", এবং আমি আল্লাহর মাধ্যমেই সুরক্ষা প্রার্থনা করছি(১), এবং তাঁর নিকট এমন সব বিষয় থেকে সুরক্ষা প্রার্থনা করছি যা কলঙ্কিত করে(২), তিনি ব্যতীত কোনো প্রতিপালক নেই(৩), এবং তাঁর কল্যাণ ব্যতীত অন্য কোনো প্রত্যাশা নেই, আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁরই অভিমুখী হচ্ছি।


 

(১) আমি তাঁর অনুগ্রহ ও হিফাজতের মাধ্যমে ভুলভ্রান্তি থেকে বিরত থাকছি। আর 'ইসমাত' অর্থ হলো: সুরক্ষা ও হিফাজত।

(২) অর্থাৎ: যা কলঙ্কিত ও দোষযুক্ত করে। আর 'ওয়াসাম' অর্থ হলো: দোষ ও লজ্জা।

(৩) 'গাইরু' শব্দটি স্থলের বিচারে (মাহাল্লান) 'রাব্ব' এর সিফাত বা বিশেষণ, আর না-বোধক 'লা' এর খবর এখানে উহ্য। অর্থাৎ: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট কিছু প্রার্থনা করা হয় না। একইভাবে দ্বিতীয় 'লা' এর খবরটিও উহ্য। এর অর্থ হলো: আল্লাহর কল্যাণ ব্যতীত অন্য কোনো প্রত্যাশা ধর্তব্য নয়। আর 'গাইরু' শব্দটি খবর হওয়া সঠিক নয়; কারণ 'লা' নাফিয়া লিল-জিনস এর খবর ইসিমের সকল সদস্য থেকে খবরটিকে নাকচ করা বোঝায়, যা আল্লাহ ব্যতীত ভিন্ন হওয়াকে প্রত্যেক রবের ক্ষেত্রে নাকচ করে দেয়, অথচ বিষয়টি তেমন নয়।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ২৫)
هذا‌‌ باب شرح الكلام، وشرح ما يتألف منه (1):

الكلام في اصطلاح النحويين:(2) عبارة عما اجتمع فيه أمران: اللفظ والإفادة.

والمراد باللفظ: الصوت المشتمل على بعض الحروف، تحقيقًا أو تقديرًا(3).

والمراد بالمفيد: ما دل على معنى يحسن السكوت عليه(4).

وأقل ما يتألف الكلام من اسمين؛ كـ"زيد قائم"(5)، ومن فعل واسم؛ كـ"قام زيد"، ومنه(6) "استقم"؛ فإنه من فعل الأمر المنطوق به، ومن ضمير المخاطب المقدر بـ"أنت".


 

هذا باب شرح الكلام، وشرح ما يتألف منه الكلام:

(1) - تشتمل الترجمة على قسمين: شرح الكلام؛ وقد بينه بقوله: "الكلام في اصطلاح النحويين .. إلخ" وشرح ما يتألف الكلام مه؛ وقد أوضحه بقوله: "وأقل ما يتألف الكلام من اسمين .. إلخ".

(2) أما عند اللغويين فهو القول وما كان مكتفيًا بنفسه في أداء المقصود منه؛ كالخط والإشارة والرمز. ويقول ابن عقيل: هو في اللغة: اسم لكل ما يتلفظ به، مفيدًا كان أو غير مفيد. وعند المتكلمين: هو المعنى القائم بالنفس.

(3) تحقيقًا: كمحمد وعلي، وتقديرًا: كالضمائر المستترة في نحو: اقرأ، تعلم، نشكر؛ فإنها ليست بحروف ولا أصوات، والتعبير عنها بالضمائر المنفصلة تقريبًا للفهم.

(4) أي: من المتكلم، بحيث يقتنع السامع ولا ينتظر مزيدًا من المخاطب، وهذا يستلزم أن يكون الكلام مركبًا مقصودًا، وعلى ذلك فلا حاجة لهذين القيدين، كما قال البعض.

(5) - هذان اسمان حكمًا؛ لأن الوصف مع مرفوعه المستتر في حكم الاسم المفرد. ومثال الاسمين حقيقة: الدب حيوان.

(6) - أي: ومما يتألف من فعل واسم. وهو بهذا يشير إلى أنه لا فرق بين أن يكون الجزآن مذكورين، أو أحدهما، ولا بين الخبر والإنشاء، هذا ويسمى الكلام "جملة".
এটি কালামের ব্যাখ্যা এবং যা দ্বারা তা গঠিত হয় তার বর্ণনার অধ্যায় (১):

ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় কালাম হচ্ছে:(২) এমন একটি বিষয় যাতে দুটি জিনিসের সমন্বয় ঘটে: শব্দ এবং অর্থবহতা।

শব্দ বলতে উদ্দেশ্য হলো: এমন ধ্বনি যা কিছু বর্ণের সমষ্টি, তা প্রকৃতগতভাবে হোক বা উহ্যভাবে।(৩)।

অর্থবহ বলতে উদ্দেশ্য হলো: যা এমন কোনো অর্থের ওপর নির্দেশ করে যার ওপর কথা শেষ করা সংগত হয়(৪)।

কালাম সর্বনিম্ন দুটি বিশেষ্য দ্বারা গঠিত হয়; যেমন- "জায়েদ দণ্ডায়মান"(৫), অথবা একটি ক্রিয়া ও একটি বিশেষ্য দ্বারা; যেমন- "জায়েদ দাঁড়াল", এবং এরই অন্তর্ভুক্ত হলো(৬) "তুমি সোজা হও"; কেননা এটি উচ্চারিত একটি আদেশসূচক ক্রিয়া এবং "তুমি" নামক উহ্য সম্বোধনমূলক সর্বনামের সমন্বয়ে গঠিত।


 

এটি কালামের ব্যাখ্যা এবং যা দ্বারা কালাম গঠিত হয় তার বর্ণনার অধ্যায়:

(১) - শিরোনামটি দুটি অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে: কালামের ব্যাখ্যা; যা তিনি এই কথা দ্বারা স্পষ্ট করেছেন: "ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় কালাম... ইত্যাদি" এবং কালাম কী কী নিয়ে গঠিত হয় তার ব্যাখ্যা; যা তিনি এই কথা দ্বারা পরিষ্কার করেছেন: "কালাম সর্বনিম্ন দুটি বিশেষ্য দ্বারা গঠিত হয়... ইত্যাদি"।

(২) আর ভাষাবিদদের নিকট এটি হলো কথা এবং যা তার উদ্দেশ্য আদায়ের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ; যেমন- লেখা, ইশারা ও সংকেত। ইবনে আকিল বলেন: এটি অভিধানে এমন সবকিছুর নাম যা উচ্চারিত হয়, চাই তা অর্থবহ হোক বা না হোক। আর কালামশাস্ত্রবিদদের নিকট: এটি হলো মনের মধ্যে বিদ্যমান অর্থ।

(৩) প্রকৃতগতভাবে: যেমন মুহাম্মদ ও আলী, এবং উহ্যভাবে: যেমন ‘পড়ো’, ‘শেখো’, ‘আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই’ ইত্যাদি বাক্যে বিদ্যমান উহ্য সর্বনামসমূহ; কেননা সেগুলো বর্ণ বা ধ্বনি নয়, বরং বোঝার সুবিধার্থে সেগুলোকে পৃথক সর্বনাম দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

(৪) অর্থাৎ: বক্তার পক্ষ থেকে এমনভাবে কথা বলা যাতে শ্রোতা তুষ্ট হয় এবং বক্তার কাছ থেকে আরও কিছু শোনার অপেক্ষায় না থাকে। এটি দাবি করে যে কালাম অবশ্যই সুসংবদ্ধ ও উদ্দেশ্যমূলক হতে হবে, আর সে কারণে অনেকের মতে এই দুটি শর্তের আলাদা কোনো প্রয়োজন নেই।

(৫) - এগুলো বিধানগতভাবে দুটি বিশেষ্য; কারণ কোনো গুণবাচক শব্দ তার পরবর্তী উহ্য বিশেষ্যসহ একক বিশেষ্যের বিধানে থাকে। আর বাস্তবে দুটি বিশেষ্যের উদাহরণ হলো: "ভালুক একটি প্রাণী"।

(৬) - অর্থাৎ: যা ক্রিয়া ও বিশেষ্য দ্বারা গঠিত হয়। এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, বাক্যের অংশ দুটি উল্লিখিত হওয়া বা তাদের কোনো একটি উহ্য থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, তেমনি সংবাদমূলক বাক্য ও ইচ্ছামূলক বাক্যের মধ্যেও কোনো পার্থক্য নেই। উল্লেখ্য যে, কালামকে "জুমলা" (বাক্য) বলা হয়।
(খণ্ড: ১) যিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক (পৃষ্ঠা: ২৬)
والكلم: اسم جنس جمعي(1)، واحدة كلمة، وهي: الاسم، والفعل، والحرف. ومعنى كونه اسم جنس جمعي: أنه يدل على جماعة(2) وإذا زيد على لفظه تاء التأنيث فقيل: "كلمة"، نقص معناه وصار دالا على الواحد، ونظيره: لبن ولبنة(3)، ونبق ونبقة.

وقد تبين بما ذكرناه في تفسير الكلام من أن شرطه الإفادة، وأنه من كلمتين، وبما هو مشهور من أن أقل الجمع ثلاثة، أن بين الكلام والكلم عمومًا وخصوصًا من وجه(4)،


 

(1) اسم الجنس: هو ما وضع للحقيقة من حيث هي: وينقسم بحسب الاستعمال قسمين:

أ- اسم جنس جمعي "أي: يفيد معنى الجمع"، وهو: ما يدل على أكثر من اثنين، ويفرق بينه وبين واحده؛ إما بالتاء المربوطة، وتكون في المفرد غالبًا كشجر وشجرة وعنب وعنبة، ومنه كلم وكلمة، ويندر أن تكون التاء في اسم الجمع مثل: كمء "الموحدة" وكمأة "للجمع" وجبء، وجبأة. والكمء: نوع من النبات الصحراوي. وفي الحديث: "الكمأة من المن وماؤها شفاء للعين". والجبء: الأحمر من الكمء. وإما بياء النسب المشددة في المفرد؛ كترك وتركي وزنج وزنجي وعرب وعربي. ولا يقال: إن بعض جموع التكسير يفرق بينه وبين واحده بالتاء؛ كمدية ومدى، فكيف نميز بينهما؟ لأنا نقول: جمع التكسير له أوزان معروفة، أما اسم الجنس فلا وزن له، ويرى بعضهم: أن هذا النوع من اسم الجنس من جموع التكسير.

ب- واسم جنس إفرادي، وهو ما يصدق على الكثير والقليل بلفظ واحد، فهو موضوع للحقيقة الذهنية لا بقيد قلة ولا كثرة، وذلك نحو: ماء، هواء، لبن، عسل … إلخ.

وهنالك نوع من اسم الجنس يسمى: اسم الجنس الآحادي، وهو ما يدل على الماهية "الحقيقة الذهنية" ممثلة في فرد منتشر غير معين من أفرادها، ولا يتصور العقل هذه الحقيقة إلا بتخيل ذلك الفرد، مثل "أسامة" فإن معنى هذا اللفظ لا يفهم إلا متمثلًا في فرد.

(2) أي: من الكلمات، وذلك ثلاثة فأكثر.

(3) هذا مثال لاسم الجنس الجمعي من المصنوعات الإنسانية، وما بعده مثال من المخلوقات التي ليس للإنسان دخل فيها. واللبنة الطوبة النيئة التي يبنى بها.

(4) ضابط هذه النسبة بين الأشياء: أن تجتمع في الصدق على شيء، وينفرد كل. وقد أوضح المصنف ذلك.
এবং কিলম: এটি একটি ইসমে জিনস জামঈ (বচনাত্মক জাতিবাচক বিশেষ্য)(১), এর একবচন হলো কালিমা। আর তা হলো: ইসিম (বিশেষ্য), ফেইল (ক্রিয়া) এবং হরফ (অব্যয়)। এর ইসমে জিনস জামঈ হওয়ার অর্থ হলো: এটি একটি সমষ্টিকে নির্দেশ করে(২) এবং যখন এর শব্দের সাথে গোল ‘তা’ (তা-য়ে তানিস) যুক্ত করে ‘কালিমাহ’ বলা হয়, তখন এর অর্থ সংকুচিত হয়ে যায় এবং তা একবচনকে নির্দেশ করে। এর উদাহরণ হলো: লাবান (দুগ্ধ) ও লাবানাহ (দুগ্ধখণ্ড)(৩), এবং নাবিক (কুলফল) ও নাবিকাহ (একটি কুলফল)।

আর আমরা কালামের ব্যাখ্যায় যা উল্লেখ করেছি যে, এর শর্ত হলো সার্থকতা (ইফাদাহ) এবং এটি দুটি শব্দ দ্বারা গঠিত হয়, আর যা সুপ্রসিদ্ধ যে বহুবচনের সর্বনিম্ন সংখ্যা হলো তিন—এসব থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, কালাম এবং কিলম-এর মধ্যে আংশিক সাধারণ ও আংশিক বিশেষ (উমুম ওয়া খুসুস মিন ওয়াজহিন) সম্পর্ক বিদ্যমান(৪)।


 

(১) ইসমে জিনস: যা কোনো হাকিকত বা সত্তার প্রকৃত স্বরূপের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যবহারের দিক থেকে এটি দুই প্রকার:

ক- ইসমে জিনস জামঈ (বচনাত্মক জাতিবাচক বিশেষ্য) "অর্থাৎ: যা বহুবচনের অর্থ প্রদান করে": এটি এমন শব্দ যা দুইয়ের অধিককে নির্দেশ করে এবং এর একবচনের সাথে এর পার্থক্য করা হয়; হয় গোল ‘তা’ (তা-য়ে মারবুতাহ) দ্বারা—যা সাধারণত একবচনের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যেমন: শাজার (গাছসমূহ) ও শাজারাহ (একটি গাছ), ইনাব (আঙুরসমূহ) ও ইনাবাহ (একটি আঙুর)। কিলম ও কালিমাহ এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। বিরল ক্ষেত্রে ‘তা’ যুক্ত শব্দটি বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেমন: কাম্-উ (একবচন) এবং কাম্-আহ (বহুবচন), জাব্-উ (একবচন) ও জাব্-আহ (বহুবচন)। কাম্-উ হলো এক প্রকার মরু উদ্ভিদ। হাদিসে এসেছে: "আল-কামআহ হলো ‘মান্ন’-এর অন্তর্ভুক্ত এবং এর পানি চোখের জন্য আরোগ্য।" আর জাব্-উ হলো লাল বর্ণের কামআহ। অথবা একবচনের শেষে তাশদিদযুক্ত ইয়ায়ে নিসবাহ (সম্পর্কবাচক ইয়া) যুক্ত করার মাধ্যমে; যেমন: তুর্ক (তুর্কি জাতি) ও তুর্কিউ (একজন তুর্কি), জাঞ্জ (জাঞ্জি জাতি) ও জাঞ্জিউ (একজন জাঞ্জি), আরব (আরব জাতি) ও আরাবিউ (একজন আরব)। এমন বলা যাবে না যে, কিছু জামে তাকসিরের (ভগ্ন বহুবচন) এবং তার একবচনের মধ্যেও গোল ‘তা’ দ্বারা পার্থক্য করা হয়; যেমন: মুদইয়াহ ও মুদা, তাহলে আমরা কীভাবে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করব? এর উত্তরে আমরা বলব: জামে তাকসিরের নির্দিষ্ট ও পরিচিত ওজন (ছাঁদ) রয়েছে, কিন্তু ইসমে জিনসের কোনো নির্দিষ্ট ওজন নেই। কেউ কেউ মনে করেন: এই প্রকারের ইসমে জিনসগুলো আসলে জামে তাকসিরেরই অন্তর্ভুক্ত।

খ- ইসমে জিনস ইফরাদি (একবচনাত্মক জাতিবাচক বিশেষ্য): এটি এমন শব্দ যা এক ও বহুর ক্ষেত্রে একই শব্দে ব্যবহৃত হয়। এটি মানসিক হাকিকত বা সত্তার জন্য নির্ধারিত, এতে কম বা বেশির কোনো শর্ত নেই। যেমন: পানি, বাতাস, দুধ, মধু... ইত্যাদি।

আর ইসমে জিনসের এমন একটি প্রকার রয়েছে যাকে ‘ইসমে জিনস আহাদি’ বলা হয়। এটি এমন মাহিয়্যত (মানসিক হাকিকত) বা সত্তাকে নির্দেশ করে যা কোনো অনির্দিষ্ট একক ব্যক্তির মাঝে বিদ্যমান থাকে। মস্তিষ্ক এই হাকিকতকে সেই একক ব্যক্তিকে কল্পনা করা ছাড়া চিন্তা করতে পারে না, যেমন: "উসামাহ" (সিংহ)। এই শব্দের অর্থ কোনো এককের মাঝে প্রতিফলিত হওয়া ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়।

(২) অর্থাৎ: শব্দসমূহের সমষ্টি, যা তিন বা ততোধিক।

(৩) এটি মানুষের তৈরি বস্তু থেকে ইসমে জিনস জামঈ-র উদাহরণ, আর তার পরবর্তীটি হলো এমন সৃষ্টির উদাহরণ যাতে মানুষের কোনো হাত নেই। আর লাবানাহ হলো কাঁচা ইট যা দিয়ে ঘর তৈরি করা হয়।

(৪) বিষয়গুলোর মধ্যকার এই সম্পর্কের মানদণ্ড হলো: কোনো একটির ক্ষেত্রে সত্য হওয়াতে উভয়ে একত্রিত হবে, আবার প্রতিটি এককভাবেও অবস্থান করবে। লেখক এটি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।