(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
طريق الهجرتين وباب السعادتين - ط الدار السلفية القسم: الرقائق والآداب والأذكار
الكتاب: طريق الهجرتين وباب السعادتين
المؤلف: محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد شمس الدين ابن قيم الجوزية (ت 751 هـ)
الناشر: الدار السلفية، القاهرة، مصر
الطبعة: الثانية، 1394 هـ
عدد الصفحات: 427
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সা'আদাতাইন - আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ সংস্করণ বিভাগ: আত্মশুদ্ধি, আদব ও যিকরসমূহ
বই: ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সা'আদাতাইন
লেখক: মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব বিন সাদ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি)
প্রকাশক: আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ، কায়রো، মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৩৯৪ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৭
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة طريق الهجرتين وباب السعادتين: للإمام العلامة شيخ الإسلام محمد بن أبى بكر بن سعد بن جرير الزرعى ابن قيم الجوزية
خطبة الكتاب للمؤلف
الحمد لله الذى نصب الكائنات على ربوبيته ووحدانيته حججاً، وحجب العقول والأَبصار أن تجد إلى تكييفه منهجاً وأَوجب الفوز بالنجاة لمن شهد له بالوحدانية شهادة لم يبغ لها عوجاً، وجعل لمن لاذ به واتقاه من كل ضائقة مخرجاً، وأَعقب من ضيق الشدائد وضنك الأَوابد لمن توكل عليه فرجاً، وجعل قلوب أَوليائه متنقلة من منازل عبوديته من الصبر والتوكل والإِنابة والتفويض والمحبة والخوف والرجا فسبحان من أَفاض على خلقه النعمة، وكتب على نفسه الرحمة، وضمن الكتاب الذى كتبه، أَن رحمته تغلب غضبه. أسبغ على عباده نعمه الفرادى والتوءام، وسخر لهم البر والبحر والشمس والقمر والليل والنهار والعيون والأَنهار والضياءَ والظلام، وأَرسل إليهم رسله وأَنزل عليهم كتبه يدعوهم إلى جواره فى دار السلام، {فَمَن يُرِدِ اللهُ أَن يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلإِسْلَامِ وَمَن يُرِدْ أَن يُضِلّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيّقاً حَرَجاً} [الأنعام: 125] ، فسبحان من {أَنْزَلَ عَلَىَ عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَل لّهُ عِوَجَا} [الكهف: 1] ، ورفع لمن ائتمَّ به فأَحلَّ حلالَهُ وحرَّمَ حرامَهُ وعمل بمحكمه وآمن بمتشابهه فى مراقى السعادة درجاً، ووضع قهره على من أَعرض عنه ولم يرفع به رأسه ونبذه وراءَ ظهره وابتغى الهدى من غيره، فجعله فى دركات الجحيم متولجاً، فإِنه الذكر الحكيم والصراط المستقيم والنبأُ العظيم وحبل الله المتين المديد بينه وبين خلقه، وعهده الذى من استمسك به فاز ونجا.
وأَشهد أن لا إِله إِلا الله وحده لا شريك له ولا سمى له ولا كفو له ولا صاحبة له ولا ولد ولا شبيه له ولا يحصى أَحد ثناءً عليه بل هو كما أَثنى على نفسه وفوق ما يثنى عليه خلقه، شهادة من أصبح قلبه بالإيمان بالله وأَسمائه وصفاته مبتهجاً، ولم يدع إلى شبه الجاحدين المعطلين معرجاً.
وأَشهد أَن محمداً عبده ورسوله، وخيرته من خلقه وأَمينه على وحيه وسفيره بينه وبين عباده، أَرسله رحمة للعالمين وقدوة للعاملين ومحجة للسالكين وحجة على العباد أجمعين. أَرسله على حين فترة من الرسل، فهدى به إلى أَقوم الطرق وأَوضح السبل
ভূমিকা হিজরতদ্বয়ের পথ এবং সৌভাগ্যের দুই দ্বার: ইমাম, আল্লামা, শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবন আবি বকর ইবন সা'দ ইবন জারির আয-যারয়ি ইবন কায়্যিম আল-জাওজিয়াহ-এর প্রণীত।
লেখকের পক্ষ হতে গ্রন্থের ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিজগতকে তাঁর রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের প্রমাণস্বরূপ স্থাপন করেছেন এবং মানুষের আকল ও দৃষ্টিশক্তিকে তাঁর স্বরূপ ও প্রকৃতি অনুসন্ধানের পথ থেকে অন্তরালে রেখেছেন। তিনি তাঁর একত্ববাদের এমন সাক্ষ্য দানকারীর জন্য সফলকাম হওয়া ও মুক্তি লাভ করা অবধারিত করেছেন, যে সাক্ষ্যের মধ্যে সে কোনো বক্রতা অন্বেষণ করেনি। আর যে ব্যক্তি তাঁর আশ্রয় নেয় ও তাঁকে ভয় করে, তিনি তার জন্য প্রতিটি সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ করে দেন; আর যে ব্যক্তি তাঁর ওপর ভরসা করে, তিনি তাকে কঠিন বিপত্তি ও দুঃসহ কষ্টের পর মুক্তি দান করেন। তিনি তাঁর প্রিয়জনদের (আওলিয়া) অন্তরসমূহকে তাঁর বন্দেগির বিভিন্ন সোপান—সবর, তাওয়াক্কুল, ইনাবাত, তাফউইয, মহব্বত, খাউফ ও রাজা-র মধ্যে বিচরণশীল করেছেন। অতএব অতি পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর সৃষ্টির ওপর নিয়ামত ঢেলে দিয়েছেন, নিজের ওপর রহমতকে লিখে নিয়েছেন এবং তাঁর স্বীয় কিতাবে এই নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, তাঁর রহমত তাঁর রাগের ওপর প্রবল হবে। তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর একক ও জোড়া নিয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন এবং তাদের কল্যাণে স্থলভাগ, জলভাগ, সূর্য, চন্দ্র, রাত, দিন, ঝরনাধারা, নদীসমূহ, আলো ও অন্ধকারকে নিয়োজিত করেছেন। তিনি তাদের নিকট তাঁর রাসুলগণকে পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি তাদের দারুস সালামে তাঁর নৈকট্যের দিকে আহ্বান করেন, {সুতরাং আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেওয়ার ইচ্ছা করেন, ইসলামের জন্য তার বক্ষ উন্মুক্ত করে দেন; আর যাকে পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তার বক্ষকে অতিশয় সংকীর্ণ ও সংকুচিত করে দেন} [আল-আনআম: ১২৫]। অতএব পবিত্র সেই সত্তা, যিনি {তাঁর বান্দার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি} [আল-কাহফ: ১]। যারা এই কিতাবের অনুসরণ করে, এর হালালকে হালাল ও হারামকে হারাম হিসেবে গ্রহণ করে, এর মুহকাম আয়াত অনুযায়ী আমল করে এবং এর মুতাশাবিহ আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনে, তাদের জন্য তিনি সৌভাগ্যের সোপানসমূহে উচ্চ মর্যাদা নির্ধারিত করেছেন। আর যে ব্যক্তি এ থেকে বিমুখ হয়েছে, একে গুরুত্ব দেয়নি, একে নিজের পেছনে ফেলে দিয়েছে এবং এটি ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত অন্বেষণ করেছে, আল্লাহ তাকে তাঁর পরাক্রমের অধীন করেছেন এবং তাকে জাহান্নামের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করেছেন। নিশ্চয়ই এটি প্রজ্ঞাপূর্ণ যিকির, সরল পথ, মহান সংবাদ এবং আল্লাহর সুদৃঢ় ও সুদীর্ঘ রশি যা তাঁর ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে প্রলম্বিত, এবং এটি এমন এক অঙ্গীকার যা যে ব্যক্তি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে, সে সফল হয় ও মুক্তি পায়।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তাঁর সমনামধারী কেউ নেই, তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই, তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই, কোনো সন্তান নেই এবং তাঁর সদৃশ কেউ নেই। কেউ তাঁর প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারবে না; বরং তিনি তেমনই, যেমন তিনি নিজের প্রশংসা নিজে করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টি তাঁর যে প্রশংসা করে, তিনি তারও ঊর্ধ্বে। এটি এমন এক ব্যক্তির সাক্ষ্য, যার অন্তর আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির প্রতি ঈমান আনার মাধ্যমে আনন্দিত হয়েছে এবং সে সত্য অস্বীকারকারী ও আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারীদের (মুয়াত্তিলা) সন্দেহের পথে পা বাড়ায়নি।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠতম মনোনীত ব্যক্তি, তাঁর ওহীর আমানতদার এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মধ্যে প্রেরিত দূত। আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে, আমলকারীদের জন্য আদর্শ হিসেবে, সত্যের পথে বিচরণকারীদের জন্য উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হিসেবে এবং সকল বান্দার বিরুদ্ধে দলিল হিসেবে পাঠিয়েছেন। তিনি তাঁকে রাসুলদের আগমনের এক দীর্ঘ বিরতির পর পাঠিয়েছেন, অতঃপর তাঁর মাধ্যমে তিনি সরলতম পথ ও সুস্পষ্টতম পন্থার দিকে হিদায়াত দান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وافترض على العباد طاعته ومحبته وتعزيره وتوقيره والقيام بحقوقه، وسدَّ إلى جنته جميع الطرق فلم يفتح لأَحد إلا من طريقه، فشرح له صدره، ورفع له ذكره، ووضع عنه وزره وجعل الذلة و [الصغار] على من خالف أَمره. فهدى به من الضلالة وعلَّم به من الجهالة. وكثَّر به بعد القلَّة، وَأعزَّ به بعد الذلَّة وأَغنى به بعد العَيْلَة، وبصَّر به من العمى، وأَرشد به من الغى وفتح برسالته أَعيناً [عمياً] وآذاناً صماً وقلوباً غلفا، فَبَلَّغ الرسالة وأَدَّى الأَمانة ونصح الأُمة وجاهد فى الله حق جهاده وعَبَدَ الله حتى أَتاه اليقين فلم يدع خيراً إلا دل أمته عليه ولا شراً إِلا حذر منه ونهى عن سلوك الطريق الموصلة إليه. ففتح القلوب بالإِيمان والقرآن، وجاهد أَعداءَ الله باليد والقلب واللسان. فدعا إلى الله على بصيرة، وسار فى الأُمة- بالعدل والإِحسان وخلقه العظيم- أَحسن سيرة، إلى أَن أَشرقت برسالته الأَرض بعد ظلماتها، وتأَلفت به القلوب بعد شتاتها. وسارت دعوته سير الشمس فى الأَقطار وبلغ دينه القيم ما بلغ الليل والنهار. واستجابت لدعوته الحق القلوب طوعاً وإذعاناً، وامتلأَت بعد خوفها وكفرها أَمناً وإِيماناً، فجزاه الله عن أُمته أَفضل الجزاءِ، وصلى عليه صلاة تملأُ أَقطار الأَرض والسماء، وسلم تسليماً كثيراً.
أَما بعد..
فإِن الله سبحانه غرس شجرة محبته ومعرفته وتوحيده فى قلوب من اختارهم لربوبيته، واختصهم بنعمته، وفضلهم على سائر خليقته، فهى {كَشَجَرةٍ طَيّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السّمَآءِ تُؤْتِيَ أُكُلَهَا كُلّ حِينٍ بِإِذْنِ رَبّهَا} [إبراهيم: 24-25] ، فَكَذَلِكَ شَجَرَةُ الإِيمان أَصلها ثابت فى القلب وفروعها الكلم الطيب والعمل الصالح فى السماءِ، فلا تزال هذه الشجرة تخرج ثمرها كل وقت بإِذن ربها من طيب القول وصالح العمل ما تقرُّ به عيون صاحب الأَصل وعيون حفظته وعيون أَهله وأَصحابه ومن قرب منه، فإِن من قرت عينه بالله سبحانه قرت به كل عين وأَنس به كل مستوحش وطاب به كل خبيث وفرح به كل حزين وأَمن به كل خائف وشهد به كل غائب، وذكرت رؤيته بالله، فإِذا رؤى ذكر الله فاطمأَن قلبه إلى الله وسكنت نفسه إلى الله وخلصت محبته لله وقصر خوفه على الله وجعل رجاءَه كله لله، فإِن سمع سمع بالله وإِن أَبْصر أَبصر بالله وإن بطش بطش بالله وإِن مشى مشى بالله، فبه يسمع وبه يبصر وبه يبطش وبه
বান্দাদের ওপর তাঁর আনুগত্য, ভালোবাসা, তাঁকে সাহায্য করা, তাঁকে সম্মান করা এবং তাঁর প্রাপ্য অধিকারসমূহ আদায় করা তিনি ফরজ করেছেন। তিনি তাঁর জান্নাতের দিকে যাওয়ার সকল পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন, ফলে তাঁর (রাসূলের) পথ ব্যতীত অন্য কারও জন্য তা উন্মুক্ত করেন না। তিনি তাঁর বক্ষ প্রশস্ত করেছেন, তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন এবং তাঁর বোঝা লাঘব করেছেন। আর যারা তাঁর নির্দেশের বিরোধিতা করবে তাদের জন্য লাঞ্ছনা ও অপমান নির্ধারণ করেছেন। তাঁর মাধ্যমে তিনি পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েত দান করেছেন এবং অজ্ঞতা থেকে শিক্ষা দিয়েছেন। অল্পতার পর তাঁর মাধ্যমে সংখ্যাধিক্য দান করেছেন, অপমানের পর মর্যাদা দান করেছেন এবং অভাবের পর সচ্ছলতা দান করেছেন। অন্ধত্বের পর তাঁর মাধ্যমে দৃষ্টি দান করেছেন, বিভ্রান্তির পর সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে অন্ধ চক্ষুসমূহ, বধির কানসমূহ এবং মোহরাঙ্কিত অন্তরসমূহ উন্মোচন করেছেন। অতঃপর তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন; আর আমৃত্যু (নিশ্চিত বিষয় আসা পর্যন্ত) আল্লাহর ইবাদত করেছেন। এমন কোনো কল্যাণ অবশিষ্ট রাখেননি যার দিকে তিনি তাঁর উম্মতকে পথপ্রদর্শন করেননি, আর এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি সতর্ক করেননি এবং সেখানে পৌঁছানোর পথ অনুসরণ করতে নিষেধ করেননি। ফলে তিনি ঈমান ও কুরআনের মাধ্যমে অন্তরসমূহ জয় করেছেন এবং আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে হাত, অন্তর ও জিহ্বা দিয়ে জিহাদ করেছেন। তিনি দূরদৃষ্টির সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন এবং উম্মতের মাঝে ইনসাফ, ইহসান ও তাঁর মহান চরিত্রের মাধ্যমে সর্বোত্তম আদর্শে পথ চলেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়ার পর আলোকিত হয়েছে এবং বিচ্ছিন্ন অন্তরসমূহ পুনরায় মিলিত হয়েছে। তাঁর দাওয়াত পৃথিবীর দিগন্তজুড়ে সূর্যের মতো ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত সুদৃঢ় দ্বীন সেখানে পৌঁছেছে যেখানে রাত ও দিন পৌঁছে। তাঁর সত্য দাওয়াতের প্রতি অন্তরসমূহ স্বেচ্ছায় ও আনুগত্যের সাথে সাড়া দিয়েছে এবং ভয় ও কুফরীর পর নিরাপত্তা ও ঈমানে পরিপূর্ণ হয়েছে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর ওপর এমন দরুদ বর্ষণ করুন যা পৃথিবী ও আকাশের দিগন্তসমূহ পূর্ণ করে দেয়, আর তাঁর ওপর অজস্র সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর...
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর মহব্বত, মারিফত ও তাওহিদের বৃক্ষকে সেই সব ব্যক্তিদের অন্তরে রোপণ করেছেন যাদের তিনি তাঁর প্রভুত্বের জন্য মনোনীত করেছেন, তাঁর নেয়ামতের জন্য বিশিষ্ট করেছেন এবং তাঁর সমস্ত সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। সেটি যেন "একটি পবিত্র বৃক্ষ, যার মূল সুদৃঢ় এবং যার শাখা আকাশে বিস্তৃত। তা তার রবের নির্দেশে প্রতি মুহূর্তে ফল দান করে।" [ইবরাহীম: ২৪-২৫]। ঈমানের বৃক্ষও তদ্রূপ, যার মূল অন্তরে প্রোথিত এবং যার শাখাগুলো—অর্থাৎ পবিত্র বাক্য ও নেক আমল—আকাশে বিস্তৃত। এই বৃক্ষটি তার রবের নির্দেশে সর্বদা পবিত্র কথা ও নেক আমলের ফল উৎপাদন করতে থাকে, যা মূল অধিকারীর চক্ষু, তার হেফাযতকারীদের চক্ষু, তার পরিবার ও সঙ্গী-সাথীদের চক্ষু এবং তার নিকটবর্তীদের চক্ষু শীতল করে। কেননা, যার চোখ মহান আল্লাহর মাধ্যমে শীতল হয়েছে, তার মাধ্যমে প্রতিটি চোখ শীতল হয়, প্রতিটি নিঃসঙ্গ ব্যক্তি তার মাধ্যমে শান্তি পায়, প্রতিটি অপবিত্র বিষয় তার মাধ্যমে পবিত্র হয়, প্রতিটি দুঃখী ব্যক্তি তার মাধ্যমে আনন্দিত হয়, প্রতিটি ভীত ব্যক্তি তার মাধ্যমে নিরাপত্তা পায় এবং প্রতিটি অনুপস্থিত ব্যক্তি তার মাধ্যমে সাক্ষ্য দেয়। তাকে দেখলেই আল্লাহর কথা স্মরণে আসে; তাকে দেখা মাত্রই আল্লাহর জিকির জাগ্রত হয়, ফলে তার অন্তর আল্লাহর প্রতি প্রশান্ত হয়, তার আত্মা আল্লাহর কাছে স্থির হয়, আল্লাহর প্রতি তার ভালোবাসা খাঁটি হয়, তার ভয় কেবল আল্লাহর ওপর সীমাবদ্ধ হয় এবং সে তার যাবতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষাকে কেবল আল্লাহর জন্য নিবেদিত করে। সে যদি শোনে তবে আল্লাহর সাহায্যেই শোনে, যদি দেখে তবে আল্লাহর সাহায্যেই দেখে, যদি কিছু ধরে (আঘাত করে) তবে আল্লাহর সাহায্যেই ধরে এবং যদি হাঁটে তবে আল্লাহর সাহায্যেই হাঁটে। সুতরাং তাঁর মাধ্যমেই সে শোনে, তাঁর মাধ্যমেই সে দেখে, তাঁর মাধ্যমেই সে ধরে এবং তাঁর মাধ্যমেই সে...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
يمشى، فإِذا أَحب فللَّه وإِذا أَبغض [أبغض] لله وإِذَا أَعطى فللَّه وإِذَا منع فللَّه، قد اتخذ الله وحده معبوده ومرجوه ومخوفه وغاية قصده ومنتهى طلبه، واتخذ رسوله وحده دليله وإِمامه وقائده وسائقه، فوحد الله بعبادته ومحبته وخوفه ورجائِهِ وإفراد رسوله بمتابعته والاقتداءِ به والتخلق بأَخلاقه والتأَدب بآدابه
فله فى كل وقت هجرتان: هجرة إلى الله بالطلب والمحبة والعبودية والتوكل والإِنابة والتسليم والتفويض والخوف والرجاءِ والإِقبال عليه وصدق اللجإِ والافتقار فى كل نفس إِليه، وهجرة إِلى رسوله فى حركاته وسكناته الظاهرة والباطنة، بحيث تكون موافقة لشرعه الذى هو تفصيل محابّ الله ومرضاته، ولا يقبل الله من أَحد ديناً سواه، وكل عمل سواه فعيش النفس وحظها لا زاد المعاد، وقال شيخ الطريقة وإِمام الطائفة الجنيد بن محمد قدّس الله روحه: الطرق كلها مسدودة إلا طريق من اقتفى آثار النبى صلى الله عليه وسلم، فإِن الله عز وجل يقول: "وَعِزَّتِى وَجَلالِى لَوْ أَتُونِى مِنْ كُلِّ طَرِيقٍ، وَاسْتَفْتَحُوا مِنْ كُلِّ بَابٍ، لَمَا فَتَحتُ لَهُمْ حَتَّى يَدخُلُوا خَلْفَكَ". وقال بعض العارفين: كل عمل بلا متابعة فهو عيش النفس.
ولما كانت السعادة دائرة- نفياً وإِثباتاً- مع ما جاءَ به كان جديراً بمن نصح نفسه أَن يجعل لحظات عمره وقفاً على معرفته وإِرادته مقصورة على محابه، وهذا أَعلى همة شمر إليها السابقون وتنافس فيها المتنافسون، فلا جرم ضمنَّا هذا الكتاب قواعد من سلوك الهجرة المحمدية، وسميناه طريق الهجرتين، وباب السعادتين، وابتدأناه بباب الفقر والعبودية؛ إذ هو باب السعادة [الأعظم] وطريقها الأَقوم الذى لا سبيل إلى دخولها إِلا منه، وختمناه بذكر طبقات المكلَّفين من الجن والإِنس فى [الدنيا و] الآخرة ومراتبهم فى دار السعادة والشقاوة. فجاءَ الكتاب غريباً فى معناه، عجيباً فى مغزاه لكل قوم منه نصيب، ولكل وارد منه مشرب [وما كان فيه من حق وصواب فمن الله هو المانّ به فإنما التوفيق بيده] وما كان فيه من [خطأ و] زلل فمنى ومن الشيطان، والله ورسوله منه براءٌ.
فيا أَيها القاريء له والناظر فيه، هذه بضاعة صاحبها المزجاة مسوقة إليك، وهذا فهمه وعقله معروض عليك، لك غنمه وعلى مؤلفه غرمه. ولك ثمرته، وعليه عائدته. فإن عدم منك حمداً وشكراً، فلا يعدم منك [مغفرة و] عذراً، وإِن أبيت إلا الملام فبابه
তিনি পথ চলেন; ফলে যখন তিনি ভালোবাসেন আল্লাহর জন্য ভালোবাসেন, যখন ঘৃণা করেন আল্লাহর জন্য ঘৃণা করেন, যখন দান করেন আল্লাহর জন্য দান করেন এবং যখন বিরত থাকেন আল্লাহর জন্যই বিরত থাকেন। তিনি একমাত্র আল্লাহকেই তাঁর মা'বুদ, তাঁর আশার স্থল, তাঁর ভয়ের আধার, তাঁর সংকল্পের লক্ষ্য এবং তাঁর অন্বেষণের পরম গন্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আর একমাত্র তাঁর রাসূলকেই তাঁর পথপ্রদর্শক, ইমাম, নেতা ও চালক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ফলে তিনি আল্লাহকে তাঁর ইবাদত, মহব্বত, ভয় ও আশায় একনিষ্ঠ করেছেন এবং একমাত্র রাসূলকেই তাঁর অনুসরণ, অনুকরণ, তাঁর চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া এবং তাঁর আদবে আদবপ্রাপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করেছেন।
তাঁর জন্য প্রতিটি মুহূর্তে দুটি হিজরত (যাত্রা) রয়েছে: একটি হিজরত আল্লাহর দিকে—অন্বেষণ, মহব্বত, দাসত্ব, তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা), ইনাবত (প্রত্যাবর্তন), আত্মসমর্পণ, সোপর্দ করা, ভয়, আশা, তাঁর দিকে মনোনিবেশ, কায়মনোবাক্যে আশ্রয় গ্রহণ এবং প্রতিটি নিঃশ্বাসে তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়ার মাধ্যমে। আর অপরটি হলো তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত—তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল চলন ও বলনে, যাতে তা তাঁর শরীয়তের অনুকূলে হয়, যা আল্লাহর প্রিয় ও সন্তোষজনক বিষয়সমূহের বিস্তারিত বিবরণ। আল্লাহ কারো কাছ থেকে এটি ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন কবুল করবেন না। এবং এর বাইরের প্রতিটি আমল নিছক নফসের তুষ্টি ও কামনাবাসনা মাত্র, পরকালের পাথেয় নয়। তরীকতের শায়খ এবং এই জামাতের ইমাম জুনাইদ ইবনে মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন) বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদাঙ্ক অনুসরণকারীর পথ ছাড়া বাকি সব পথ রুদ্ধ।" কেননা মহান আল্লাহ বলেন: "আমার ইজ্জত ও জালালিয়তের শপথ! তারা যদি প্রতিটি পথ দিয়ে আমার কাছে আসে এবং প্রতিটি দরজা দিয়ে প্রবেশের অনুমতি চায়, তবুও আমি তাদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করব না যতক্ষণ না তারা তোমার (রাসূলের) পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রবেশ করবে।" জনৈক আরিফ (আল্লাহভীরু) বলেছেন: "অনুসরণহীন প্রতিটি আমলই হলো নফসের বিলাসিতা।"
যেহেতু সৌভাগ্য—ইতিবাচক বা নেতিবাচক উভয় অর্থেই—রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার সাথেই আবর্তিত হয়, তাই নিজের কল্যাণকামী ব্যক্তির জন্য এটাই সমীচীন যে, সে তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে তাঁকে জানার জন্য ওয়াকফ করবে এবং নিজের ইচ্ছাকে তাঁর পছন্দের বিষয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখবে। আর এটাই হলো সেই সুউচ্চ হিম্মত যার দিকে অগ্রগামীরা অগ্রসর হয়েছেন এবং প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করেছেন। তাই অনিবার্যভাবে আমরা এই কিতাবে মুহাম্মাদী হিজরতের পথচলার মূলনীতিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং এর নামকরণ করেছি 'তারীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সা'দাতাইন' (দুই হিজরতের পথ ও দুই সৌভাগ্যের দ্বার)। আমরা এটি শুরু করেছি অভাবগ্রস্ততা (ফাকর) ও দাসত্বের (উবুদিয়্যাত) অধ্যায় দিয়ে; কেননা এটিই হলো সৌভাগ্যের [মহা] দ্বার এবং এমন সুদৃঢ় পথ যাতে প্রবেশ করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। আর আমরা এটি সমাপ্ত করেছি দুনিয়া ও আখিরাতে জিন ও ইনসানের মধ্য থেকে দায়িত্বপ্রাপ্তদের স্তরসমূহ এবং সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের আলয়ে তাদের মর্যাদাক্রম উল্লেখ করার মাধ্যমে। ফলে কিতাবটি তার অর্থের দিক থেকে অনন্য এবং উদ্দেশ্যের দিক থেকে বিস্ময়কর হয়ে উঠেছে, যেখানে প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য অংশ এবং প্রতিটি আগন্তুকের জন্য তৃষ্ণা নিবারণের উৎস রয়েছে। [আর এর মধ্যে যা কিছু সত্য ও সঠিক তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, তিনিই অনুগ্রহকারী; কেননা তাওফীক তাঁরই হাতে।] আর যা কিছু [ভুল ও] বিচ্যুতি রয়েছে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত।
হে পাঠক ও পর্যবেক্ষক! এটি এর লেখকের অতি সামান্য পুঁজি যা আপনার নিকট পেশ করা হয়েছে; এটিই তাঁর সমঝ ও বুদ্ধি যা আপনার সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর সুফল আপনার জন্য এবং এর দায়ভার লেখকের ওপর। এর ফল আপনার জন্য এবং এর জবাবদিহিতা তাঁর ওপর। যদি আপনার নিকট থেকে এটি প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা না পায়, তবে যেন [ক্ষমা ও] ওজর থেকে বঞ্চিত না হয়। আর আপনি যদি তিরস্কার করা ছাড়া আর কিছু করতে অস্বীকার করেন, তবে তার দ্বার...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
مفتوح، وقد:
استأْثر الله بالثناءِ وبالْحمـ
ـد وولى الملامة الرجلا
والله المسئول أَن يجعله لوجهه خالصاً، وينفع به مؤلفه وقارئه وكاتبه فى الدنيا والآخرة، إِنه سميع الدعاءِ، وأَهل الرجاءِ، وهو حسبنا ونعم الوكيل.
উন্মুক্ত, এবং বস্তুত:
আল্লাহ প্রশংসা ও স্তুতির বৈশিষ্ট্য কেবল নিজের জন্যই নির্দিষ্ট রেখেছেন
এবং মানুষের ওপর নিন্দার দায় অর্পণ করেছেন
আর আল্লাহর নিকট প্রার্থনা যেন তিনি একে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর দ্বারা এর লেখক, পাঠক ও লিপিকারকে ইহকাল ও পরকালে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও আশার স্থল, আর তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট ও কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
فصل: فى أن الله هو الغنى المطلق والخلق فقراء محتاجون إليهقال الله سبحانه: {يَأَيّهَا النّاسُ أَنتُمُ الْفُقَرَآءُ إِلَى اللهِ وَاللهُ هُوَ الْغَنِيّ الْحَمِيدُ} [فاطر: 15] ، بيَّن سبحانه فى هذه الآية أَن فقر العباد إِليه أَمر ذاتى لهم لا ينفك عنهم، كما أَن كونه غنياً حميداً [أمر] ذاتى له، فغناه وحمده ثابت له لذاته لا لأمر أَوجبه، وفقر من سواه إليه ثابت لذاته لا لأَمر أَوجبه، فلا يعلل هذا الفقر بحدوث ولا إِمكان، بل هو ذاتى للفقير: فحاجة العبد إِلى ربه لذاته لا لعلة أَوجبت تلك الْحاجة، كما أَن غنى الرب سبحانه لذاته لا لأَمر أَوجب غناه، كما قال شيخ الإسلام ابن تيمية:
والفقر لى وصفُ ذاتٍ لازم أبداً
… كما الغنى أبداً وصفٌ له ذاتي
فالخلق فقير محتاج إلى ربه بالذات لا بعلة، وكل ما يذكر ويقرر من أَسباب الفقر والحاجة فهى أدلة على الفقر والحاجة لا علل لذلك، إذ ما بالذات لا يعلل، فالفقير بذاته محتاج إلى الغنى بذاته، فما يذكر من إِمكان وحدوث واحتياج فهى أَدلة على الفقر لا أَسباب له، ولهذا كان الصواب فى مسأَلة علة احتياج العالم إلى الرب سبحانه غير القولين اللذين يذكرهما الفلاسفة والمتكلمون، فإن الفلاسفة قالوا: علة الحاجة الإمكان، والمتكلمون قالوا: علة الحاجة الحدوث، والصواب أن الإمكان والحدوث متلازمان، وكلاهما دليل الحاجة والافتقار، وفقر العالم إلى الله [عز وجل] أَمر ذاتى لا يعلل، فهو فقير بذاته إلى ربه الغنى بذاته، ثم يستدل بإِمكانه وحدوثه وغير ذلك من الأَدلة على هذا الفقر. والمقصود أنه سبحانه أَخبر عن حقيقة العباد وذواتهم بأَنها فقيرة إِليه [عز وجل] ، كما أَخبر عن ذاته المقدسة وحقيقته أَنه غنى حميد، فالفقر المطلق من كل وجه ثابت لذواتهم وحقائقهم من حيث هى، والغنى المطلق من كل وجه ثابت
পরিচ্ছেদ: আল্লাহই পরম অমুখাপেক্ষী এবং সৃষ্টিজগত তাঁর মুখাপেক্ষী ও অভাবীআল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: "হে মানুষ, তোমরা আল্লাহর মুখাপেক্ষী; আর আল্লাহ, তিনিই অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।" [ফাতির: ১৫]। তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই আয়াতে স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর প্রতি বান্দাদের মুখাপেক্ষিতা তাদের একটি সত্তাগত বিষয় যা তাদের থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না, যেমনটি তাঁর অমুখাপেক্ষী ও প্রশংসিত হওয়া তাঁর জন্য একটি সত্তাগত বিষয়। সুতরাং তাঁর অমুখাপেক্ষিতা ও প্রশংসা তাঁর নিজের সত্তার কারণেই সাব্যস্ত, অন্য কোনো বাহ্যিক কারণে নয়; আর তিনি ব্যতীত অন্য সবার তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষিতা তাদের নিজেদের সত্তার কারণেই সাব্যস্ত, অন্য কোনো বাহ্যিক কারণে নয়। ফলে এই অভাব বা মুখাপেক্ষিতার কারণ হিসেবে নতুনভাবে অস্তিত্ব লাভ করা (হুদুছ) বা সম্ভাব্যতাকে (ইমকান) দাঁড় করানো যাবে না, বরং এটি অভাবীর একটি সত্তাগত বিষয়। তাই রবের প্রতি বান্দার অভাব তাঁর সত্তার কারণেই, কোনো বাহ্যিক কারণের বশবর্তী হয়ে নয়; ঠিক যেমন রবের অমুখাপেক্ষিতা তাঁর সত্তাগত, অন্য কোনো কারণে নয়। যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন:
অভাব আমার জন্য একটি চিরস্থায়ী আবশ্যকীয় সত্তাগত গুণ
… যেমন অমুখাপেক্ষিতা সর্বদা তাঁর জন্য একটি সত্তাগত গুণ।
অতএব সৃষ্টিজগত সত্তাগতভাবেই তার রবের প্রতি অভাবী ও মুখাপেক্ষী, কোনো কারণবশত নয়। আর অভাব ও মুখাপেক্ষিতার যে সকল কারণ উল্লেখ বা সাব্যস্ত করা হয়, সেগুলো মূলত অভাব ও মুখাপেক্ষিতার প্রমাণস্বরূপ, তার প্রকৃত কারণ (ইল্লত) নয়; কারণ যা সত্তাগত, তা কোনো কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয় না। সুতরাং যে সত্তাগতভাবে অভাবী সে সত্তাগতভাবে অমুখাপেক্ষীর মুখাপেক্ষী। কাজেই সম্ভাব্যতা, নতুনত্ব (হুদুছ) এবং প্রয়োজন হিসেবে যা কিছু উল্লেখ করা হয়, তা অভাবের দলিল মাত্র, তার কারণ নয়। এই কারণে মহান রবের প্রতি জগতের মুখাপেক্ষিতার কারণ সম্পর্কিত মাসআলায় সঠিক মতটি হলো দার্শনিক ও কালাম শাস্ত্রবিদদের বর্ণিত দুটি মতের বাইরে। কেননা দার্শনিকরা বলেছেন: মুখাপেক্ষিতার কারণ হলো সম্ভাব্যতা (ইমকান), আর মুতাকাল্লিমরা বলেছেন: মুখাপেক্ষিতার কারণ হলো নতুনভাবে অস্তিত্ব লাভ করা (হুদুছ)। কিন্তু সঠিক কথা হলো সম্ভাব্যতা ও নতুনত্ব পরস্পর অবিচ্ছেদ্য এবং উভয়ই প্রয়োজন ও মুখাপেক্ষিতার দলিল। আর আল্লাহর প্রতি জগতের অভাব একটি সত্তাগত বিষয় যা কোনো কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না; বরং জগত সত্তাগতভাবেই তার রবের প্রতি অভাবী যিনি সত্তাগতভাবে অমুখাপেক্ষী। এরপর জগতের সম্ভাব্যতা, নতুনত্ব এবং অন্যান্য প্রমাণের মাধ্যমে এই অভাবের স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়। মূল উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বান্দাদের হাকিকত ও তাদের সত্তা সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা তাঁর প্রতি অভাবী; যেমন তিনি তাঁর পবিত্র সত্তা ও তাঁর হাকিকত সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি অমুখাপেক্ষী ও প্রশংসিত। সুতরাং সকল দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ অভাব ও মুখাপেক্ষিতা তাদের সত্তা ও হাকিকতের জন্য সাব্যস্ত, আর সকল দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ অমুখাপেক্ষিতা সাব্যস্ত...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
لذاته تعالى وحقيقته من حيث هى، فيستحيل أن يكون العبد إِلا فقيراً، ويستحيل أَن يكون الرب سبحانه إِلا غنياً، كما أَنه يستحيل أَن يكون العبد إلا عبداً والرب إِلا رباً.
إِذا عرف هذا فالفقر فقران: فقر اضطرارى، وهو فقر عام لا خروج لبرّ ولا فاجر عنه، وهذا لا يقتضى مدحاً ولا ذماً ولا ثواباً ولا عقاباً، بل هو بمنزلة كون المخلوق مخلوقاً ومصنوعاً. والفقر الثانى فقر اختيارى هو نتيجة علمين شريفين: أَحدهما معرفة العبد بربه، والثانى معرفته بنفسه. فمتى حصلت له هاتان المعرفتان أَنتجتا [له] فقراً هو عين غناه وعنوان فلاحه وسعادته، وتفاوت الناس فى هذا الفقر بحسب تفاوتهم فى هاتين المعرفتين، فمن عرف ربه بالغنى المطلق عرف نفسه بالفقر المطلق، ومن عرف ربه بالقدرة التامة عرف نفسه بالعجز التام، ومن عرف ربه بالعز التام عرف نفسه بالمسكنة التامة، ومن عرف ربه بالعلم التامّ والحكمة عرف نفسه بالجهل، فالله سبحانه أَخرج العبد من بطن أمه لا يعلم شيئاً ولا يقدر على شيء، ولا يملك شيئاً ولا يقدر على عطاءٍ ولا منع ولا ضر ولا نفع ولا شيء البتة، فكان فقره فى تلك الحال إلى ما به كما له أَمراً مشهوداً محسوساً لكل أَحد، ومعلوم أَن هذا له من لوازم ذاته، وما بالذات دائم بدوامها. وهو لم ينتقل من هذه الرتبة إِلى رتبة الربوبية والغنى، بل لم يزل عبداً فقيراً بذاته إِلى بارئه وفاطره. فلما أَسبغ عليه نعمته، وأَفاض عليه رحمته وساق إِليه أَسباب كمال وجوده ظاهراً وباطناً، وخلع عليه ملابس إِنعامه، وجعل له السمع والبصر والفؤاد، وعلمه وأَقدره وصرفه وحركه، ومكنه من استخدام بنى جنسه، وسخر له الخيل والإِبل، وسلطه على دواب الماءِ، واستنزال الطير من الهواء وقهر الوحش العادية، حفر الأَنهار، وغرس الأَشجار، وشق الأَرض، وتعلية البناءِ، والتحيل على مصالحه، والتحرز والتحفظ لما يؤذيه، ظن المسكين أَن له نصيباً من الملك، وادعى لنفسه ملكاً مع الله سبحانه، ورأى نفسه بغير تلك العين الأُولى، ونسى ما كان فيه من حالة الإِعدام والفقر والحاجة، حتى كأَنه لم يكن هو ذلك الفقير المحتاج، بل كأَن ذلك شخصاً آخرغيره كما روى الإِمام أَحمد فى مسنده من حديث بسر بن جحاش القرشى أَن رسول الله صلى الله عليه وسلم بصق يوماً فى كفه فوضع عليها إِصبعه ثم قال: "قال اللهُ تعالى: يَا ابن آدمَ أَنَّى تُعْجِزُنِى وَقَدْ خَلَقْتُكَ مِنْ مثْلِ هَذِهِ
মহান আল্লাহর সত্তা ও তাঁর প্রকৃত স্বরূপের প্রেক্ষিতে, বান্দা অভাবী ও মুখাপেক্ষী হওয়া ছাড়া অন্য কিছু হওয়া অসম্ভব, এবং মহান রব অভাবমুক্ত ও অমুখাপেক্ষী হওয়া ছাড়া অন্য কিছু হওয়া অসম্ভব। ঠিক যেমন অসম্ভব বান্দার জন্য বান্দা না হওয়া এবং রবের জন্য রব না হওয়া।
যখন এটি জানা গেল, তখন মুখাপেক্ষিতা দুই প্রকার: একটি হলো আবশ্যিক মুখাপেক্ষিতা। এটি এমন এক সাধারণ মুখাপেক্ষিতা যা থেকে কোনো নেককার বা পাপিষ্ঠ ব্যক্তিই মুক্ত নয়। এটি কোনো প্রশংসা বা নিন্দা, কিংবা সওয়াব বা শাস্তির দাবি রাখে না; বরং এটি সৃষ্টির সৃষ্টি হওয়ার এবং সৃজিত হওয়ার সমপর্যায়ের বিষয়। দ্বিতীয় প্রকার মুখাপেক্ষিতা হলো স্বেচ্ছাধীন মুখাপেক্ষিতা, যা দুটি মহান জ্ঞানের ফল: একটি হলো বান্দার নিজ রব সম্পর্কে জ্ঞান, এবং দ্বিতীয়টি হলো নিজের সম্পর্কে জ্ঞান। যখন কোনো বান্দার এই দুটি জ্ঞান অর্জিত হয়, তখন তা তার মাঝে এমন এক মুখাপেক্ষিতা সৃষ্টি করে যা-ই তার প্রকৃত ঐশ্বর্য এবং তার সফলতা ও সৌভাগ্যের পরিচায়ক। এই মুখাপেক্ষিতার ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে পার্থক্য হয় এই দুটি জ্ঞানের পার্থক্যের ভিত্তিতে। সুতরাং যে ব্যক্তি তার রবকে পূর্ণ অমুখাপেক্ষী হিসেবে চিনেছে, সে নিজেকে চরম মুখাপেক্ষী হিসেবে চিনেছে। যে তার রবকে পূর্ণ ক্ষমতাধর হিসেবে চিনেছে, সে নিজেকে চরম অক্ষম হিসেবে চিনেছে। যে তার রবকে পূর্ণ সম্মানিত হিসেবে চিনেছে, সে নিজেকে চরম হীন ও অসহায় হিসেবে চিনেছে। আর যে তার রবকে পূর্ণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী হিসেবে চিনেছে, সে নিজেকে অজ্ঞ হিসেবে চিনেছে। মহান আল্লাহ বান্দাকে তার মায়ের গর্ভ থেকে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে সে কিছুই জানত না, কোনো কিছুর ক্ষমতা রাখত না, কোনো কিছুর মালিক ছিল না এবং দান করা, বাধা দেওয়া, ক্ষতি করা বা উপকার করার কোনো শক্তিই তার ছিল না; এমনকি কোনো কিছুরই না। অতএব সেই অবস্থায় তার পূর্ণতা লাভের জন্য যে মুখাপেক্ষিতা ছিল, তা সবার কাছে দৃশ্যমান ও অনুভূত বিষয় ছিল। আর এটি জানা কথা যে, এই মুখাপেক্ষিতা তার সত্তাগত অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য, আর যা সত্তাগত তা সত্তা বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। সে এই স্তর থেকে প্রভুত্ব বা অমুখাপেক্ষিতার স্তরে উন্নীত হয়নি; বরং সে সর্বদা তার স্রষ্টা ও উদ্ভাবকের কাছে সত্তাগতভাবে অভাবী ও মুখাপেক্ষী বান্দাই রয়ে গেছে। অতঃপর যখন তিনি তার ওপর তাঁর নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করলেন, তার ওপর রহমত বর্ষণ করলেন এবং তার অস্তিত্বের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য পূর্ণতার উপকরণসমূহ তার কাছে পৌঁছে দিলেন, তাকে তাঁর অনুগ্রহের পোশাক পরালেন, তাকে শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ দান করলেন, তাকে জ্ঞান দিলেন, সক্ষম করলেন, তাকে পরিচালিত ও গতিশীল করলেন, নিজ স্বগোত্রীয়দের সেবায় নিয়োজিত করার সামর্থ্য দিলেন, তার জন্য ঘোড়া ও উটকে অনুগত করে দিলেন, জলজ প্রাণীদের ওপর আধিপত্য দান করলেন, আকাশ থেকে পাখি নামিয়ে আনার ও হিংস্র বন্যপশুদের দমনের ক্ষমতা দিলেন, নদী খনন, বৃক্ষ রোপণ, ভূমি চষার, অট্টালিকা নির্মাণের, নিজ স্বার্থসিদ্ধির কৌশল অবলম্বনের এবং ক্ষতিকারক বিষয় থেকে সতর্ক ও আত্মরক্ষার উপায় শিখিয়ে দিলেন; তখন এই অসহায় মানুষটি ধারণা করে বসল যে, রাজত্বে তারও কোনো অংশ আছে। সে মহান আল্লাহর পাশাপাশি নিজের জন্যও মালিকানা দাবি করে বসল। সে নিজেকে পূর্বের সেই দৃষ্টিতে না দেখে ভিন্নভাবে দেখতে লাগল এবং নিজের সেই শূন্যতা, অভাব ও মুখাপেক্ষিতার কথা ভুলে গেল। এমনকি মনে হতে লাগল যেন সে সেই অভাবী ব্যক্তিটি নয়, বরং সে অন্য কেউ। যেমনটি ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে বুসর ইবনে জাহাশ আল-কুরাশি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তাঁর তালুতে থুথু ফেললেন এবং তার ওপর আঙুল রেখে বললেন: "আল্লাহ তাআলা বলেন: হে আদম সন্তান! তুমি আমাকে কীভাবে অক্ষম করবে, অথচ আমি তোমাকে এই জিনিসের মতোই সৃষ্টি করেছি?"
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
حَتَّى إِذَا سَوَّيْتُكَ وَعَدَلْتُكَ مَشَيْتَ بَيْنَ بُرْدَيْنَ وَللأَرْضِ مِنْكَ وَئِيد، فَجَمَعْتَ وَمَنْعْتَ حَتَّى إِذَا بَلَغْتَ التَّراقى، قُلْتَ: أَتَصَدَّقُ، وَأَنَّى أَوَانُ الصَّدَقَةِ"، ومن هاهنا خذل من خذل ووفق من وفق، فحجب المخذول عن حقيقته ونسى نفسه فنسى فقره وحاجته وضرورته إلى ربه، فطغى [وبغا] وعتا فحقت عليه الشقوة، قال تعالى: {كَلاّ إِنّ الإِنسَانَ لَيَطْغَىَ أَن رّآهُ اسْتَغْنَىَ} [العلق: 6-7] ، وقال: {فَأَمّا مَنْ أَعْطَىَ وَاتّقَىَ وَصَدّقَ بِالْحُسْنَىَ فَسَنُيَسّرُهُ لِلْيُسْرَىَ وَأَمّا مَن بَخِلَ وَاسْتَغْنَىَ وَكَذّبَ بِالْحُسْنَىَ فَسَنُيَسّرُهُ لِلْعُسْرَىَ} [الليل: 5-10] ، فأَكمل الخلق أكملهم عبودية وأَعظمهم شهوداً لفقره وضرورته وحاجته إِلى ربه وعدم استغنائه عنه طرفة عين، ولهذا كان من دعائه صلى الله عليه وسلم: "أَصلح لى شأنى كله، ولا تكلنى إِلى نفسى طرفة عين ولا إِلى أَحد من خلقك"، وكان يدعو: "يا مقلِّب القُلُوبِ ثَبِّتْ قلبِى عَلَى دينك". يعلم صلى الله عليه وسلم أَن قلبه بيد الرحمن عز وجل لا يملك منه شيئاً، وأَن الله سبحانه يصرفه كما يشاءُ كيف وهو يتلو قوله تعالى: {وَلَوْلَا أَن ثَبّتْنَاكَ لَقَدْ كِدتّ تَرْكَنُ إِلَيْهِمْ شَيْئاً قَلِيلاً} [الإسراء: 74] ، فضرورته صلى الله عليه وسلم إِلى ربه وفاقته إِليه بحسب معرفته به، وحسب قربه منه ومنزلته عنده. وهذا أَمر إِنما بدا منه لمن بعده ما يرشح من ظاهر الوعاءِ، ولهذا كان أَقرَبَ الخلق إِلى الله وسيلة وأَعظمهم عنده جاهاً وأَرفعهم عنده منزلة، لتكميله مقام العبودية والفقر إِلى ربه عز وجل، وكان يقول لهم: "أَيهَا النَّاسُ، مَا أُحبُّ أَنْ تَرْفَعُونِى فَوْقَ مَنْزِلَتِى إِنَّمَا أنا عَبْدُ"، وكان يقول: "لا تُطْرونِى كَمَا أَطْرَتِ النصارى المسيح ابن مريم وإِنما أَنا عبد فقولوا عبد الله ورسوله".
وذكره الله سبحانه بسمة العبودية فى أَشرف مقاماته، مقام الإِسراءِ ومقام الدعوة ومقام التحدى، فقال: {سُبْحَانَ الّذِي أَسْرَىَ بِعَبْدِهِ لَيْلاً} [الإسراء:1] ، وقال: {وَأَنّهُ لّمَا قَامَ عَبْدُ اللهِ يَدْعُوهُ} [الجن: 19] ، وقال: {وَإِن كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مّمّا نَزّلْنَا عَلَىَ عَبْدِنَا} [البقرة: 23] ، وفى حديث الشفاعة: "إِنَّ الْمَسِيحَ يَقُولُ لَهُمْ [يوم القيامة] : اذْهَبُوا إِلَى مُحَمَّدٍ عَبْدٍ غَفَرَ اللهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ"، فنال ذلك المقام
পরিশেষে যখন আমি তোমাকে সুঠাম ও সুসামঞ্জস্যপূর্ণ করে তৈরি করলাম, তখন তুমি দুই চাদর পরিহিত অবস্থায় চলতে শুরু করলে এবং তোমার পদভারে জমিন প্রকম্পিত হতে লাগল। এরপর তুমি ধন-সম্পদ পুঞ্জীভূত করলে এবং তা দানে বিরত থাকলে। অবশেষে যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হলো, তখন তুমি বললে: ‘আমি এখন সদকা করব’, কিন্তু তখন কি আর সদকা করার সময় আছে? এখান থেকেই শুরু হয় কারো লাঞ্ছনা আর কারো তাওফিকপ্রাপ্তি। ফলে যে লাঞ্ছিত হলো, সে নিজ বাস্তবতা থেকে পর্দার আড়ালে পড়ে গেল এবং নিজেকে ভুলে গেল। এভাবে সে তার রবের প্রতি তার অকিঞ্চিৎকরতা, মুখাপেক্ষিতা ও চূড়ান্ত প্রয়োজনকে ভুলে গেল। ফলে সে সীমালঙ্ঘন করল, অবাধ্য হলো এবং ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করল, যার ফলে তার ওপর দুর্ভাগ্য অবধারিত হয়ে গেল। আল্লাহ তাআলা বলেন: "কখনো নয়, মানুষ অবশ্যই সীমালঙ্ঘন করে থাকে, যখন সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে।" [আলাক: ৬-৭]। তিনি আরো বলেন: "অতএব যে দান করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে, আর যা উত্তম তা সত্য বলে বিশ্বাস করে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ। আর যে কার্পণ্য করে এবং নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে, আর যা উত্তম তা অস্বীকার করে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব কঠিন পথ।" [লাইল: ৫-১০]। সৃষ্টির মধ্যে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ, যে দাসত্বে (উবুদিয়্যাত) সবচেয়ে পূর্ণ এবং যে নিজের অকিঞ্চিৎকরতা, রবের প্রতি অভাব ও মুখাপেক্ষিতা এবং এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর থেকে অমুখাপেক্ষী হতে না পারার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সজাগ। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম দুআ ছিল: "আপনি আমার যাবতীয় বিষয় সংশোধন করে দিন, এবং চোখের পলকের জন্যও আমাকে আমার নিজের কাছে কিংবা আপনার সৃষ্টির কারো কাছে সঁপে দেবেন না।" আর তিনি দুআ করতেন: "হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন।" তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন যে, তাঁর অন্তর পরম করুণাময় আল্লাহর হাতের মধ্যে রয়েছে, এর ওপর তাঁর নিজের কোনো ক্ষমতা নেই। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একে যেভাবে ইচ্ছা পরিচালনা করেন। কীভাবে এমনটি হবে না, অথচ তিনি আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করতেন: "আর আমি যদি তোমাকে অবিচল না রাখতাম, তবে তুমি তাদের দিকে কিছুটা হলেও ঝুঁকে পড়তে।" [ইসরা: ৭৪]। সুতরাং তাঁর রবের প্রতি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রয়োজনীয়তা ও অভাববোধ ছিল তাঁর মারিফাত (পরিচয়), নৈকট্য এবং আল্লাহর নিকট তাঁর মর্যাদাপ্রাপ্তির পরিমাণ অনুপাতে। এটি এমন এক বিষয় যা তাঁর পরে আগতদের কাছে তাঁর অন্তরের আধারের উপরিভাগ থেকে চুঁইয়ে পড়া যৎসামান্যই প্রকাশিত হয়েছে। এ কারণেই তিনি ছিলেন সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম, তাঁর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত এবং সুউচ্চ মর্যাদাবান; কারণ তিনি তাঁর রবের প্রতি দাসত্ব ও অকিঞ্চিৎকরতার মাকামকে পূর্ণতা দিয়েছিলেন। তিনি মানুষকে বলতেন: "হে লোকসকল! আমার যে মর্যাদা, তার ঊর্ধ্বে আমাকে তুলে ধরা আমি পছন্দ করি না। নিশ্চয়ই আমি একজন বান্দা মাত্র।" তিনি আরো বলতেন: "নাসারারা যেভাবে মরিয়ম-তনয় المسيح (মসীহ)-কে নিয়ে অতি প্রশংসা করেছে, তোমরা আমাকে নিয়ে তেমন অতিরঞ্জন কোরো না। আমি কেবলই একজন বান্দা। অতএব তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।"
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে তাঁর শ্রেষ্ঠ মাকামগুলোতে দাসত্বের বৈশিষ্ট্যে উল্লেখ করেছেন—যেমন ইসরার মাকাম, দাওয়াতের মাকাম এবং চ্যালেঞ্জ প্রদানের মাকাম। আল্লাহ বলেন: "পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন।" [ইসরা: ১]। তিনি আরো বলেন: "আর যখন আল্লাহর বান্দা তাঁকে ডাকার জন্য দাঁড়াল..." [জিন: ১৯]। এবং তিনি বলেন: "আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি, সে বিষয়ে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো..." [বাকারা: ২৩]। আর শাফাআতের হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই মসীহ কিয়ামতের দিন তাদেরকে বলবেন: তোমরা মুহাম্মাদের কাছে যাও, যিনি এমন এক বান্দা যার পূর্বাপর সমস্ত ত্রুটি আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।" ফলে তিনি সেই মাকাম লাভ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
بكمال عبوديته لله وبكمال مغفرة الله له، فتأَمل قوله تعالى فى الآية: {أَنْتُمُ الفُقَرَآءُ إِلَى اللهِ} [فاطر: 15] ، [فعلق الفقر إليه باسمه] دون اسم الربوبية ليؤذن بنوعى الفقر، فإِنه كما تقدم نوعان:
فقر إِلى ربوبيته وهو فقر المخلوقات بأَسرها، وفقر إِلى أُلوهيته وهو فقر أَنبيائه ورسله وعباده الصالحين، وهذا هو الفقر النافع والذى يشير إِليه القوم ويتكلمون عليه ويشيرون إِليه هو الفقر الخاص لا العام، وقد اختلفت عباراتهم عنه ووصفهم له، وكل أَخبر عنه بقدر ذوقه وقدرته على التعبير، قال شيخ الإِسلام الأَنصارى: "الفقر اسم للبراءَة من رؤية الملكة، وهو على ثلاث درجات: الدرجة الأُولى فقر الزهاد وهو نفض اليدين من الدنيا ضبطاً أَو طلباً، وإِسكات اللسان عنها ذماً أَو مدحاً، والسلامة منها طلباً أَو تركاً، وهذا هو الفقر الذى تكلموا فى شرفه. الدرجة الثانية: الرجوع إِلى السبق بمطالعة الفضل، وهو يورث الخلاص من رؤية الأَعمال، ويقطع شهود الأَحوال، ويمحص من أَدناس مطالعة المقامات. والدرجة الثالثة: صحة الاضطرار والوقوع فى يد التقطع الوحدانى والاحتباس فى بيداءِ قيد التجريد وهذا فقر الصوفية".
فقوله: "الفقر اسم للبراءَة من رؤية الملكة" يعنى أَن الفقير هو الذى يجرد رؤية الملك لمالكه الحق، فيرى نفسه مملوكة للَّه لا يرى نفسه مالكاً بوجه من الوجوه، ويرى أَعماله مستحقة عليه بمقتضى كونه مملوكاً عبداً مستعملاً فيما أَمره به سيده، فنفسه مملوكة، وأَعماله مستحقة بموجب العبودية، فليس مالكاً لنفسه ولا لشيء من ذراته ولا لشيء من أَعماله. بل كل ذلك مملوك عليه مستحق عليه، كرجل اشترى عبداً بخالص ماله ثم علّمه بعض الصنائع، فلما تعلمها قال له: اعمل وَأَدّ إِلى فليس لك فى نفسك ولا فى كسبك شيء، فلو حصل بيد هذا العبد من الأَموال والأَسباب ما حصل لم ير له فيها شيئاً، بل يراه كالوديعة فى يده، وأَنها أَموال أُستاذه وخزائنه ونعمه بيد عبده، مستودعاً متصرفاً فيها لسيده لا لنفسه، كما قال عبد الله ورسوله وخيرته من خلقه: "والله إِنى لا أَعطى أحداً ولا أَمنع أَحداً، وإِنما أَنا قاسم أَضع حيث أُمرت"، فهو متصرف فى تلك الخزائن الأَمر المحض تصرف العبد المحض
আল্লাহর প্রতি তাঁর দাসত্বের পূর্ণতা এবং তাঁর প্রতি আল্লাহর ক্ষমার পূর্ণতার মাধ্যমে; সুতরাং আয়াতে মহান আল্লাহর বাণীটি লক্ষ্য করুন: {তোমরা আল্লাহর মুখাপেক্ষী} [ফাতির: ১৫]। এখানে অভাব বা মুখাপেক্ষীতাকে তাঁর (আল্লাহর) বিশেষ নামের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্ববাচক নামের সাথে নয়, যাতে দুই প্রকারের মুখাপেক্ষীতার প্রতি ইঙ্গিত করা যায়। কেননা ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, এটি দুই প্রকার:
এক. তাঁর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের প্রতি মুখাপেক্ষীতা, যা সমগ্র সৃষ্টির সাধারণ মুখাপেক্ষীতা। দুই. তাঁর উলুহিয়্যাত বা উপাস্যত্বের প্রতি মুখাপেক্ষীতা, যা তাঁর নবী, রাসূল এবং নেককার বান্দাদের বৈশিষ্ট্য। আর এটিই হলো সেই উপকারী মুখাপেক্ষীতা যার প্রতি আধ্যাত্মিক সাধকগণ ইঙ্গিত করেন এবং এটি নিয়েই তারা আলোচনা করেন। এটি বিশেষ মুখাপেক্ষীতা, সাধারণ নয়। এ সম্পর্কে তাঁদের প্রকাশভঙ্গি ও বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে; প্রত্যেকেই তাঁর নিজস্ব আধ্যাত্মিক আস্বাদন ও প্রকাশের সক্ষমতা অনুযায়ী তা ব্যক্ত করেছেন। শাইখুল ইসলাম আনসারী বলেন: "ফকর বা মুখাপেক্ষীতা হলো মালিকানার বোধ থেকে মুক্ত হওয়ার নাম। এটি তিনটি স্তরে বিন্যস্ত: প্রথম স্তরটি হলো যাহিদ বা সংসারবিরাগীদের মুখাপেক্ষীতা, যা হলো দখল বা অন্বেষণ উভয় দিক থেকেই দুনিয়া থেকে হাত ঝেড়ে ফেলা; নিন্দা বা প্রশংসা উভয় দিক থেকেই দুনিয়া সম্পর্কে জিহ্বাকে নীরব রাখা; এবং দুনিয়া চাওয়া বা বর্জন করা—উভয় অবস্থাতেই তা থেকে নিরাপদ থাকা। এটিই সেই মুখাপেক্ষীতা যার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেছেন। দ্বিতীয় স্তর: আল্লাহর অনুগ্রহ অবলোকন করার মাধ্যমে অনাদি ফয়সালার দিকে প্রত্যাবর্তন করা। এটি আমল বা কাজের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া থেকে মুক্তি দেয়, আধ্যাত্মিক অবস্থার পর্যবেক্ষণকে ছিন্ন করে এবং মাকাম বা স্তরসমূহ অবলোকন করার কলুষতা থেকে পবিত্র করে। তৃতীয় স্তর: চরম নিরুপায় অবস্থার বিশুদ্ধতা অর্জন করা, একক বিচ্ছিন্নতার হাতে নিপতিত হওয়া এবং রিক্ততার মরুপ্রান্তরে আবদ্ধ হওয়া। এটিই হলো সূফীদের ফকর বা মুখাপেক্ষীতা।"
তাঁর উক্তি: "ফকর বা মুখাপেক্ষীতা হলো মালিকানার বোধ থেকে মুক্ত হওয়ার নাম"—এর অর্থ হলো, প্রকৃত অভাবী বা মুখাপেক্ষী সেই ব্যক্তি যে মালিকানাকে কেবলমাত্র প্রকৃত মালিকের জন্যই নির্দিষ্ট করে দেখে। সে নিজেকে আল্লাহর মালিকানাধীন মনে করে এবং কোনোভাবেই নিজেকে মালিক মনে করে না। সে তার আমল বা কাজগুলোকে নিজের ওপর অর্পিত আবশ্যিক দায়িত্ব হিসেবে দেখে, কারণ সে একজন দাসের ন্যায় যাকে তার মনিব যা নির্দেশ দিয়েছেন তা পালনে নিয়োজিত রাখা হয়েছে। সুতরাং তার সত্তা হলো মালিকানাধীন এবং তার আমলসমূহ দাসত্বের দাবি অনুযায়ী তার ওপর অবধারিত। সে তার নিজের সত্তার মালিক নয়, তার দেহের কোনো অণুর মালিক নয় এবং তার কোনো কাজেরও মালিক নয়। বরং এই সবকিছুই তার ওপর অন্যের মালিকানা এবং তার ওপর অর্পিত দায়। এটি এমন এক ব্যক্তির মতো যে নিজের নিছক অর্থ দিয়ে একজন দাস কিনল, তারপর তাকে কিছু শিল্প বা কাজ শেখাল। যখন সে তা শিখল, তখন মনিব তাকে বলল: "কাজ করো এবং আমাকে তা প্রদান করো; তোমার নিজের ওপর বা তোমার উপার্জনের ওপর তোমার কোনো অধিকার নেই।" এমতাবস্থায় সেই দাসের হাতে যত সম্পদ বা উপায়-উপকরণই আসুক না কেন, সে তাতে নিজের কোনো অংশ দেখে না। বরং সে সেগুলোকে তার হাতে গচ্ছিত আমানত হিসেবে দেখে। সে মনে করে যে এগুলো তার মনিবের সম্পদ, তাঁর ধনভাণ্ডার এবং তাঁরই নেয়ামত যা দাসের হাতে রয়েছে; সে কেবল একজন আমানতদার হিসেবে তার মনিবের জন্যই তা ব্যয় করে, নিজের জন্য নয়। যেমনটি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল এবং তাঁর সৃষ্টির সেরা ব্যক্তি বলেছেন: "আল্লাহর কসম, আমি কাউকে কিছু প্রদান করি না এবং কাউকে বঞ্চিতও করি না; আমি তো কেবল বণ্টনকারী মাত্র, যেখানে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয় সেখানেই আমি ব্যয় করি।" সুতরাং তিনি সেই ধনভাণ্ডারসমূহে কেবল আদেশের অনুগামী হয়ে একজন খাঁটি দাসের মতোই তা পরিচালনা করেন।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الذى وظيفته تنفيذ أَوامر سيده، فالله هو المالك الحق، وكل ما بيد خلقه هو من أَمواله وأَملاكه وخزائنه أَفاضها عليهم ليمتحنهم فى البذل والإِمساك، وهل يكون ذلك منهم على شاهد العبودية لله عز وجل، فيبذل أَحدهم الشيء رغبة فى ثواب الله ورهبة من عقابه وتقرباً إِليه وطلباً لمرضاته؟ أَم يكون البذل والإِمساك منهم صادراً عن مراد النفس وغلبة الهوى وموجب الطبع فيعطى لهواه ويمنع لهواه؟ فيكون متصرفاً تصرف المالك لا المملوك، فيكون مصدر تصرفه الهوى ومراد النفس، وغايته الرغبة فيما عند الخلق من جاه أَو رفعة أو منزلة أَو مدح أَو حظ من الحظوظ، أَو الرهبة من فوت شيء من هذه الأَشياء، وإِذا كان مصدر تصرفه وغايته هو هذه الرغبة والرهبة رأَى نفسه لا محالة مالكاً، فادعى الملك وخرج عن حد العبودية ونسى فقره، ولو عرف نفسه حق المعرفة لعلم أَنما هو مملوك ممتحن فى صورة ملك متصرف كما قال تعالى: {ثُمّ جَعَلْنَاكُمْ خَلَائِفَ فِي الأرْضِ مِن بَعْدِهِم لِنَنظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ} [يونس: 14] ، وحقيق بهذا الممتحن أَن يوكل إِلى ما ادعته نفسه من الحالات والمَلَكات مع المالك الحق سبحانه، فإِن من ادعى لنفسه حالة مع الله سبحانه وكل إِليها، ومن وكل إِلى شيء غير الله فقد فتح له باب الهلاك والعطب، وأَغلق عنه باب الفوز والسعادة، فإِن كل شيء ما سوى الله باطل، ومن وكل إِلى الباطل بطل عمله وضل سعيه ولم يحصل إِلا على الحرمان، فكل من تعلق [بشيء غير] الله انقطع به أَحوج ما كان إِليه، كما قال تعالى: {إِذْ تَبَرّأَ الّذِينَ اتّبِعُواْ مِنَ الّذِينَ اتّبَعُواْ وَرَأَوُاْ الْعَذَابَ وَتَقَطّعَتْ بِهِمُ الأسْبَابُ} [البقرة: 166] ،
فالأَسباب التى تقطعت بهم هى العلائق التى بغير الله ولغير الله، تقطعت بهم أَحوج ما كانوا إليها، وذلك لأَن تلك الغايات لما اضمحلت وبطلت اضمحلت أَسبابها وبطلت، فإِن الأَسباب تبطل ببطلان غاياتها وتضمحل باضمحلالها، وكل شيء هالك إِلا وجهه سبحانه، وكل عمل باطل إِلا ما أُريد به وجهه. وكل سعى لغيره باطل ومضمحل، وهذا كما يشاهده الناس فى الدنيا من اضمحلال السعى والعمل والكد والخدمة التى يفعلها العبد لمتولٍ أَو أَمير أَو صاحب منصب أَو مال، فإِذا زال ذلك الذى عمل له عدم ذلك العمل وبطل ذلك السعى ولم يبق فى يده سوى الحرمان، ولهذا يقول الله تعالى يوم
যার কাজ হলো তার মনিবের আদেশ বাস্তবায়ন করা; কারণ আল্লাহই প্রকৃত মালিক, আর তাঁর সৃষ্টির হাতে যা কিছু আছে তা তাঁরই ধন-সম্পদ, মালিকানা ও ভাণ্ডার থেকে; তিনি তা তাদের ওপর বর্ষণ করেছেন যাতে তিনি তাদের দান ও কৃপণতা করার বিষয়ে পরীক্ষা করতে পারেন। তাদের পক্ষ থেকে এই কাজ কি মহান আল্লাহর প্রতি দাসত্বের সাক্ষ্য হিসেবে সম্পন্ন হবে—যাতে তাদের কেউ আল্লাহর সওয়াবের আশায়, তাঁর শাস্তির ভয়ে, তাঁর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এবং তাঁর সন্তুষ্টির কামনায় দান করবে? নাকি তাদের দান ও কৃপণতা নফসের ইচ্ছা, প্রবৃত্তির আধিপত্য ও স্বভাবের তাড়না থেকে উৎসারিত হবে, যার ফলে সে তার প্রবৃত্তির চাহিদা মোতাবেক দান করবে অথবা বাধা দিবে? এতে করে সে দাসের মতো নয় বরং মালিকের মতো আচরণকারী হবে। তখন তার আচরণের উৎস হবে প্রবৃত্তি ও নফসের ইচ্ছা, আর তার লক্ষ্য হবে সৃষ্টির নিকট থাকা প্রভাব-প্রতিপত্তি, উচ্চ মর্যাদা, পদমর্যাদা, প্রশংসা বা অন্য কোনো পার্থিব স্বার্থের আকাঙ্ক্ষা, অথবা এই সবকিছুর কোনো একটি হারিয়ে ফেলার ভয়। আর যখন তার আচরণের উৎস ও লক্ষ্য হবে এই আকাঙ্ক্ষা ও ভয়, তখন সে অনিবার্যভাবে নিজেকে মালিক হিসেবে দেখবে। ফলে সে মালিকানা দাবি করবে এবং দাসত্বের সীমা থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে এবং নিজের অভাবগ্রস্ততার কথা ভুলে যাবে। যদি সে নিজেকে সঠিকভাবে চিনত, তবে সে অবশ্যই জানত যে, সে কেবল একজন মালিকের বেশে থাকা পরীক্ষাধীন দাস মাত্র; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর তাদের পর আমি তোমাদের পৃথিবীতে উত্তরাধিকারী বানিয়েছি, যাতে আমি দেখি তোমরা কীভাবে আমল করো} [ইউনুস: ১৪]। আর এই পরীক্ষাধীন ব্যক্তির জন্য এটাই সমীচীন যে, সে প্রকৃত মালিক সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাথে তার নফস যে সকল গরিমা ও গুণের দাবি করেছে, তাকে সেগুলোর হাতেই সঁপে দেওয়া হবে। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে নিজের জন্য কোনো বিশেষ অবস্থার দাবি করে, তাকে সেই অবস্থার ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়। আর যাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তার জন্য ধ্বংস ও বিপত্তির দ্বার উন্মোচিত হয় এবং তার জন্য সফলতা ও সৌভাগ্যের দ্বার রুদ্ধ হয়ে যায়। কারণ আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুই অসার। আর যাকে অসারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তার আমল নিষ্ফল হয়, তার প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং সে কেবল বঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই লাভ করে না। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর সাথে নিজেকে যুক্ত করে, যখন তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দেখা দেবে তখনই তা ছিন্ন হয়ে যাবে; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {যখন অনুসরিত ব্যক্তিরা অনুসারীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং তারা আজাব প্রত্যক্ষ করবে আর তাদের যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে} [আল-বাকারা: ১৬৬]।
এই সম্পর্কসমূহ যা ছিন্ন হয়ে যাবে, তা হলো আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য বা অন্যের সাথে কৃত সম্পর্ক; যখন তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল তখনই তা ছিন্ন হলো। এর কারণ হলো, যখন সেই লক্ষ্যগুলো বিলীন ও বাতিল হয়ে গেল, তখন সেগুলোর মাধ্যমগুলোও বিলীন ও বাতিল হয়ে গেল। কেননা উদ্দেশ্য বাতিল হওয়ার সাথে সাথে মাধ্যমগুলোও বাতিল হয়ে যায় এবং উদ্দেশ্য বিলীন হওয়ার সাথে সাথে সেগুলোও বিলীন হয়ে যায়। মহান আল্লাহর চেহারা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল, আর তাঁর চেহারার (সন্তুষ্টির) জন্য করা কাজ ছাড়া সকল আমলই বাতিল। তদ্রূপ তাঁর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য সব প্রচেষ্টা বাতিল ও বিলুপ্ত। এটি এমন এক বাস্তব সত্য যা মানুষ দুনিয়াতে প্রত্যক্ষ করে—যেমন কোনো ভৃত্য তার নিয়োগকর্তা, আমির, পদস্থ ব্যক্তি বা সম্পদশালীর জন্য যে শ্রম, কাজ, কষ্ট ও সেবা প্রদান করে তার বিলুপ্তি। যার জন্য সে কাজ করেছিল যখন সে নিজেই অপসারিত হয়, তখন সেই কাজও অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে এবং সেই প্রচেষ্টা নিরর্থক হয়ে যায়, আর তার হাতে বঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। আর একারণেই মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেন-
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
القيامة: "أليس عدلاً منى أَنى أُولى كل رجل منكم ما كان يتولى فى الدنيا"، فيتولى عباد الأصنام والأَوثان أَصنامهم وأَوثانهم فتتساقط بهم فى النار، ويتولى عابدو الشمس والقمر آلهتهم، فإِذا كوِّرت الشمس وانتثرت النجوم اضمحلت تلك العبادة وبطلت وصارت حسرة عليهم: {كَذَلِكَ يُرِيهِمُ اللهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنَ النّارِ} [البقرة: 167] ، ولهذا كان المشرك من أَخسر الناس صفقة وأغبنهم يوم معاده، فإِنه يحال على مفلس كل الإِفلاس بل على عدم، والموحد حوالته على المليء الكريم، فيا بُعدَ ما بين الحوالتين.
وقوله: "البراءَة من رؤية الملكة" ولم يقل من الملكة لأن الإِنسان قد يكون فقيراً لا ملكة له فى الظاهر وهو عرى عن التحقق بنعت الفقر الممدوح أَهله الذين لا يرون ملكة إلا لمالكها الحق ذى الملك والملكوت، وقد يكون العبد قد فوض إِليه من ذلك شيء وجعل كالخازن فيه، كما كان سليمان بن داود أُوتى ملكاً لا ينبغى لأَحد من بعده، وكذلك الخليل وشعيب والأَغنياءُ من الأَنبياءِ، [عليهم الصلاة والسلام] وكذلك أَغنياءُ الصحابة، فهؤلاء لم يكونوا بريئين من الملكة فى الظاهر وهم بريئون من رؤية الملكة لنفوسهم فلا يرون لها ملكاً حقيقياً، بل يرون ما فى أَيديهم لله عارية ووديعة فى أَيديهم ابتلاهم به لينظر هل يتصرفون فيه تصرف العبيد أَو تصرف الملاك الذين يعطون لهواهم ويمنعون لهواهم، فوجود المال فى يد الفقير ليس يقدح فى فقره، إِنما يقدح فى فقره رؤيته لملكته، فمن عوفى من رؤية الملكة لم يتلوث باطنه بأَوساخ المال وتعبه وتدبيره واختياره، وكان كالخازن لسيده الذى ينفذ أَوامره فى ماله، فهذا لو كان بيده من المال [مثال] جبال الدنيا لم يضره ومن لم يعاف من ذلك ادعت نفسه الملكة وتعلقت به النفس تعلقها بالشيء المحبوب المعشوق، فهو أَكبر همه ومبلغ علمه، إِن أعطى رضى، وإِن منع سخط، فهو عبد الدينار والدرهم، يصبح مهموماً ويمسى كذلك [فيبيت] مضاجعاً له، تفرح نفسه إذا ازداد وتحزن وتأَسف إِذا فات منه شيء، بل يكاد يتلف إِذا توهمت نفسه الفقر وقد يؤثر الموت على الفقر، والأَول مستغن بمولاه المالك الحق الذى بيده خزائن السموات والأَرض، وإِذا أَصاب المال الذى فى يده نائبة رَأَى أَن المالك الحق هو الذى أَصاب مال نفسه فما للعبد وما للجزع والهلع، وإِنما تصرف مالك المال فى ملكه الذى هو وديعة فى يد مملوكه، فله الحكم
কিয়ামত: "আমার পক্ষ থেকে কি এটি ন্যায়বিচার নয় যে, আমি তোমাদের প্রত্যেককে তারই দায়িত্বে অর্পণ করব যার আনুগত্য সে দুনিয়াতে করত?" ফলে প্রতিমা ও মূর্তিপূজারীরা তাদের মূর্তিদের অনুসরণ করবে এবং সেগুলোসহ তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। সূর্য ও চন্দ্রের পূজারীরা তাদের উপাস্যদের অনুসরণ করবে। অতঃপর যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে এবং নক্ষত্ররাজি ঝরে পড়বে, তখন সেই উপাসনা বিলুপ্ত ও বাতিল হয়ে যাবে এবং তাদের জন্য আফসোসের কারণ হবে: {এভাবেই আল্লাহ তাদের কর্মসমূহকে তাদের জন্য আক্ষেপ হিসেবে দেখাবেন এবং তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবে না} [আল-বাকারা: ১৬৭]। এ কারণেই মুশরিক ব্যক্তি তার বিনিময়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং তার প্রত্যাবর্তনের দিনে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত; কেননা তাকে নিঃস্ব, বরং অস্তিত্বহীন কিছুর কাছে সোপর্দ করা হয়। আর মুওয়াহহিদের (একত্ববাদী) সোপর্দকরণ হলো প্রাচুর্যময় দয়াময় সত্তার নিকট। এই দুই সোপর্দকরণের মধ্যে কতই না ব্যবধান!
এবং তাঁর উক্তি: "মালিকানার বোধ থেকে বিমুক্ত থাকা।" তিনি "মালিকানা থেকে বিমুক্ত থাকা" বলেননি, কারণ কোনো ব্যক্তি দৃশ্যত দরিদ্র হতে পারে যার কোনো মালিকানা নেই, অথচ সে সেই প্রশংসিত দারিদ্র্যের গুণে ভূষিত হওয়া থেকে বঞ্চিত—যাদের প্রশংসিত করা হয়েছে। তারা প্রকৃত মালিক, রাজত্ব ও সার্বভৌমত্বের অধিপতি ব্যতীত অন্য কারো জন্য কোনো মালিকানা দেখে না। আবার কোনো বান্দাকে এর কিছু অংশ অর্পণ করা হতে পারে এবং তাকে সেখানে কোষাধ্যক্ষের মতো রাখা হতে পারে, যেমন সুলাইমান ইবনে দাউদকে এমন রাজত্ব দান করা হয়েছিল যা তাঁর পরে আর কারো জন্য সমীচীন নয়। অনুরূপভাবে খলীল (ইবরাহিম), শুয়াইব এবং আম্বিয়াগণের [তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক] মধ্য থেকে যারা সম্পদশালী ছিলেন, এবং সাহাবায়ে কিরামের সম্পদশালীগণ। তাঁরা বাহ্যিক মালিকানা থেকে মুক্ত ছিলেন না, কিন্তু তাঁরা নিজেদের নফসের জন্য মালিকানা দেখার বোধ থেকে মুক্ত ছিলেন। ফলে তাঁরা এর জন্য কোনো প্রকৃত মালিকানা দেখেননি, বরং তাঁদের হাতে যা আছে তাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে ধার ও আমানত হিসেবে দেখেছেন যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁদের পরীক্ষা করেছেন; যাতে দেখা যায় তাঁরা কি দাসের মতো আচরণ করেন নাকি সেই মালিকদের মতো আচরণ করেন যারা নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো দান করেন বা বিরত থাকেন। সুতরাং দরিদ্র ব্যক্তির হাতে সম্পদ থাকা তার দারিদ্র্যের (আধ্যাত্মিক গুণ) হানি ঘটায় না, বরং মালিকানার বোধই তার দারিদ্র্যের হানি ঘটায়। যে ব্যক্তি মালিকানা দেখার ব্যাধি থেকে মুক্তি পেয়েছে, তার অন্তর সম্পদের পঙ্কিলতা, এর দুশ্চিন্তা, ব্যবস্থাপনা ও পছন্দের দ্বারা কলুষিত হয়নি। সে তার মুনিবের সেই কোষাধ্যক্ষের মতো যে তাঁর সম্পদের ক্ষেত্রে তাঁরই আদেশ পালন করে। এমন ব্যক্তির হাতে যদি দুনিয়ার পাহাড় সমপরিমাণ সম্পদও থাকে, তবে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না। আর যে ব্যক্তি তা থেকে মুক্তি পায়নি, তার নফস মালিকানার দাবি করে এবং তার সাথে নফসের আসক্তি তেমন হয় যেমনটা কোনো প্রিয় বস্তুর প্রতি হয়ে থাকে। ফলে এটিই হয় তার প্রধান চিন্তা এবং তার জ্ঞানের শেষ সীমা। যদি তাকে দেওয়া হয় তবে সে সন্তুষ্ট হয়, আর যদি না দেওয়া হয় তবে সে অসন্তুষ্ট হয়। সে দিনার ও দিরহামের দাসে পরিণত হয়। সে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় সকাল-সন্ধ্যা অতিবাহিত করে, এমনকি সেই সম্পদের চিন্তায় সে শয্যা গ্রহণ করে। সম্পদ বৃদ্ধি পেলে তার নফস আনন্দিত হয় এবং কিছু হাতছাড়া হলে সে ব্যথিত ও লজ্জিত হয়। এমনকি দারিদ্র্যের কল্পনায় সে প্রায় ধ্বংস হয়ে যায় এবং অনেক সময় দারিদ্র্যের ওপর মৃত্যুকে বেছে নেয়। আর প্রথমোক্ত ব্যক্তি তার প্রকৃত মালিক ও মাওলার মাধ্যমে অমুখাপেক্ষী, যাঁর হাতে আসমান ও জমিনের ভাণ্ডারসমূহ। যখন তার হাতের সম্পদের কোনো ক্ষতি হয়, সে দেখে যে প্রকৃত মালিক তাঁর নিজের সম্পদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন; সুতরাং বান্দার বিচলিত ও অস্থির হওয়ার কী আছে? সম্পদের মালিক তো তাঁর নিজ মালিকানাধীন বস্তুর মধ্যেই হস্তক্ষেপ করেছেন যা তাঁর দাসের হাতে গচ্ছিত ছিল। সুতরাং সমস্ত কর্তৃত্ব তাঁরই।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فى ماله: إِن شاءَ أَبقاه، وإِن شاءَ ذهب به وأَفناه، فلا يتهم مولاه فى تصرفه فى ملكه ويرى تدبيره هو موجب الحكمة فليس لقلبه بالمال تعلق ولا له به اكتراث، لصعوده عنه وارتفاع همته إِلى المالك الحق، فهو غنى به وبحبه ومعرفته وقربه منه عن كل ما سواه، وهو فقير إِليه دون ما سواه، فهذا هو البريء عن رؤية الملكة الموجبة للطغيان، كما قال تعالى: {كَلاّ إِنّ الإِنسَانَ لَيَطْغَىَ أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى} [العلق: 6-7] ، ولم يقل: إن استغنى، بل جعل الطغيان ناشئاً عن رؤية غنى نفسه، ولم يذكر هذه الرؤية فى سورة الليل بل قال: {وَأَمّا مَن بَخِلَ وَاسْتَغْنَىَ وَكَذّبَ بِالْحُسْنَىَ فَسَنُيَسّرُهُ لِلْعُسْرَىَ} [الليل: 8-10] ، وهذا- والله أَعلم لأَنه ذكر موجب طغيانه وهو رؤية غنى نفسه، وذكر فى سورة الليل موجب هلاكه وعدم تيسيره لليسرى، وهو استغناؤه عن ربه بترك طاعته وعبوديته، فإِنه لو افتقر إِليه لتقرب إِليه بما أَمره من طاعته، فعل المملوك الذى لا غنى له عن مولاه طرفة عين ولا يجد بداً من امتثال أَوامره، ولذلك ذكر معه بخله وهو تركه إِعطاء ما وجب عليه من الأَقوال والأَعمال وأداءِ المال، وجمع إِلى ذلك تكذيبه بالحسنى وهى التى وعد بها أَهل الإِحسان بقوله: {لّلّذِينَ أَحْسَنُواْ الْحُسْنَىَ وَزِيَادَةٌ} [يونس: 26] ، ومن فسرها بشهادة أَن لا إِله إِلا الله فلأَنها أَصل الإِحسان، وبها تنال الحسنى. ومن فسرها بالخلف فى الإِنفاق فقد هضم المعنى حقه وهو أَكبر من ذلك. وإِن كان الخلف جزءاً من أَجزاءِ الْحسنى، والمقصود أَن الاستغناءَ عن الله سبب هلاك العبد وتيسيره لكل عسرى، ورؤيته غنى نفسه سبب طغيانه، وكلاهما مناف للفقر والعبودية.
قوله: "الدرجة الأُولى فقر الزهاد، وهو نفض اليدين من الدنيا ضبطاً أَو طلباً، وإِسكات اللسان عنها ذماً أو مدحاً، والسلامة منها طلباً أَو تركاً، وهذا هو الفقر الذى تكلموا فى شرفه". فحاصل هذه الدرجة فراغ اليد والقلب من الدنيا والذهول عن الفقر منها والزهد فيها، وعلامة فراغ [اليد نفض اليدين من الدنيا ضبطاً أو طلباً فهو لا يضبط يده] مع وجودها شحاً وضناً بها، ولا يطلبها مع فقدها سؤالاً وإِلحافاً وحرصاً. فهذا الإعراض والنفض دال على سقوط منزلتها من القلب، إِذ لو كان لها فى القلب منزلة لكان الأَمر بضد ذلك، وكان يكون حاله الضبط مع الوجود لغناه بها، ولكان
তার মালের ক্ষেত্রে: তিনি চাইলে তা অবশিষ্ট রাখেন, আর চাইলে তা নিয়ে যান ও ধ্বংস করে দেন। সুতরাং সে তার মালিকের মালিকানাধীন বস্তুর ওপর তাঁর হস্তক্ষেপের ব্যাপারে কোনো অপবাদ দেয় না এবং সে তাঁর তদবির বা পরিচালনাকেই প্রজ্ঞার দাবি হিসেবে দেখে। ফলে মালের প্রতি তার হৃদয়ের কোনো আসক্তি থাকে না এবং এর প্রতি তার কোনো ভ্রুক্ষেপও থাকে না। কারণ সে তা থেকে ঊর্ধ্বে উঠে গেছে এবং তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকৃত মালিকের দিকে ধাবিত হয়েছে। ফলে সে আল্লাহকে পাওয়া, তাঁর ভালোবাসা, তাঁর মারিফাত এবং তাঁর নৈকট্যের মাধ্যমে অন্য সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যায়। সে অন্য সব কিছু ছেড়ে কেবল তাঁরই মুখাপেক্ষী হয়। এটিই হলো সেই ব্যক্তি যে নিজেকে মালিক ভাবার সেই বোধ থেকে মুক্ত যা অবাধ্যতা বা সীমালঙ্ঘন সৃষ্টি করে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "কখনোই নয়, মানুষ নিশ্চয়ই সীমালঙ্ঘন করে, যখন সে নিজেকে অমুখাপেক্ষী দেখে।" [আলাক: ৬-৭]। তিনি 'যদি সে অমুখাপেক্ষী হয়' বলেননি, বরং সীমালঙ্ঘনকে নিজের নিজেকে অমুখাপেক্ষী দেখার পরিণাম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি সূরা লাইল-এ এই 'দেখার' কথা উল্লেখ করেননি, বরং বলেছেন: "আর যে কার্পণ্য করল ও নিজেকে অমুখাপেক্ষী মনে করল এবং উত্তম বিষয়কে অস্বীকার করল, আমি তার জন্য কঠিন পথে চলা সহজ করে দেব।" [লাইল: ৮-১০]। আল্লাহই ভালো জানেন, এর কারণ হলো তিনি সেখানে তার সীমালঙ্ঘনের কারণ উল্লেখ করেছেন যা হলো নিজেকে অমুখাপেক্ষী দেখা; আর সূরা লাইলে তিনি তার ধ্বংসের এবং সহজ পথ লাভ না করার কারণ উল্লেখ করেছেন, যা হলো ইবাদত ও আনুগত্য ত্যাগের মাধ্যমে তার রবের থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া। কারণ সে যদি তাঁর মুখাপেক্ষী হতো, তবে সে তাঁর নির্দেশিত আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করত—ঠিক সেই দাসের মতো যে এক পলকের জন্যও তার মনিবের থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না এবং তার আদেশ পালন ছাড়া যার কোনো উপায় নেই। এই কারণেই এর সাথে তিনি কার্পণ্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যা হলো তার ওপর ওয়াজিব হওয়া কথা, কাজ এবং সম্পদ প্রদানের বিষয়গুলো বর্জন করা। এর সাথে তিনি উত্তম বিষয়কে অস্বীকার করাকেও যুক্ত করেছেন। আর 'উত্তম বিষয়' হলো সেই জান্নাত যার ওয়াদা তিনি ইহসানকারীদের দিয়েছেন এই বাণীর মাধ্যমে: "যারা ইহসান করেছে তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান (জান্নাত) এবং আরও অতিরিক্ত।" [ইউনুস: ২৬]। যারা এর ব্যাখ্যা 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'—এই সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে করেছেন, তা এ কারণে যে এটিই ইহসানের মূল ভিত্তি এবং এর মাধ্যমেই উত্তম প্রতিদান অর্জিত হয়। আর যারা এর ব্যাখ্যা ব্যয়ের বিপরীতে প্রতিদান লাভের দ্বারা করেছেন, তারা এর অর্থের হককে সংকুচিত করেছেন, অথচ এটি তার চেয়েও মহান। যদিও প্রতিদান লাভ উত্তম প্রতিদানের একটি অংশ মাত্র। সারকথা হলো, আল্লাহর থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া বান্দার ধ্বংসের এবং প্রতিটি কঠিন কাজ সহজ হওয়ার কারণ, আর নিজেকে অমুখাপেক্ষী দেখা তার সীমালঙ্ঘনের কারণ। এই উভয়টিই আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতা এবং দাসত্বের পরিপন্থী।
তার উক্তি: "প্রথম স্তর হলো দুনিয়াত্যাগীদের দারিদ্র্য। আর তা হলো দুনিয়া ধরে রাখা বা অন্বেষণ করা থেকে হাত ঝেড়ে ফেলা, দুনিয়ার নিন্দা বা প্রশংসা করা থেকে জিহ্বাকে বিরত রাখা, এবং তা অন্বেষণ করা বা বর্জন করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা লাভ করা। এটিই সেই দারিদ্র্য যার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে তারা আলোচনা করেছেন।" এই স্তরের সারমর্ম হলো হাত ও অন্তরকে দুনিয়া থেকে শূন্য করা এবং দুনিয়ার অভাব ও এতে অনাসক্তি রাখা থেকেও বিমুখ হওয়া। হাত শূন্য হওয়ার লক্ষণ হলো দুনিয়া ধরে রাখা বা অন্বেষণ করা থেকে হাত ঝেড়ে ফেলা। সুতরাং সে সম্পদ থাকা অবস্থায় কৃপণতা ও সংকীর্ণতা করে তা হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে থাকে না, আবার তা না থাকলে যাঞ্চা, অনুনয় ও লোভের সাথে তা অন্বেষণ করে না। এই বিমুখতা ও হাত ঝেড়ে ফেলা অন্তর থেকে দুনিয়ার মর্যাদা বিলুপ্ত হওয়ার প্রমাণ। কারণ অন্তরে যদি এর কোনো মর্যাদা থাকত, তবে বিষয়টি এর বিপরীত হতো। তখন সম্পদ থাকা অবস্থায় সে তা ধরে রাখত এর মাধ্যমে অমুখাপেক্ষী হওয়ার জন্য, এবং...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يطلبها مع فقدها لفقره إِليها. وأَيضاً من أَقسام الفراغ إِسكات اللسان عنها ذماً ومدحاً لأَن من اهتم بأَمر وكان له فى قلبه موقع اشتغل اللسان بما فاض على القلب من أَمره مدحاً أَو ذماً، فإنه إن حصلت له مدحها، وإِن فاتته ذمها. ومدحها وذمها علامة موضعها من القلب وخطرها فحيث اشتغل اللسان بذمها كان بذلك لخطرها فى القلب، لأَن الشيء إِنما يذم على قدر الاهتمام به، والاعتناءُ شفاءُ الغيظ منه بالذم. وكذلك تعظيم الزهد فيها إِنما هو على قدر خطرها فى القلب، إِذ لولا خطرها وقدرها لما صار للزهد فيها خطر، وكذلك مدحها دليل على خطرها وموقعها من قلبه، فإِن من أَحب شيئاً أَكثر من ذكره، وصاحب هذه الدرجة لا يضبطها مع وجودها ولا يطلبها مع عدمها ولا يفيض من قلبه على لسانه مدح لها يدل على محبتها، ولا يفيض من القلب على اللسان ذم يدل على موقعها وخطرها، فإِن الشيء إِذا صغر أَعرض القلب عنه مدحاً أَو ذماً، وكذلك صاحب هذه الدرجة سالم عن النظر إلى تركها وهو الذى تقدم من ذكر خطر الزهد فيها، لأَن نظر العبد إِلى كونه تاركاً لها زاهداً فيها تتشرف نفسه بالترك [وتتلذذ به دليل على شغله بها ولو على وجه الترك] ، وذلك من خطرها وقدرها. ولو صغرت فى القلب لصغر تركها والزهد فيها لو اهتم القلب بمهم من المهمات المطلوبة التى هى مذاقات أَهل القلوب والأَرواح لذهل عن النظر إِلى نفسه والترك بالزهد. فصاحب هذه الدرجة معافى من هذه الأَمراض كلها: من مرض الضبط، والطلب، والذم، والمدح، والترك. فهى بأَسرها، وإِن كان بعضها ممدوحاً فى العلم مقصوداً يستحق المتحقق به الثواب والمدح، لكنها آثار وأَشكال مشعرة بأَن صاحبها لم يذق حال الخلو والتجريد الباطن، فضلاً عن أَن يتحقق من الحقائق المتوقعة المتنافس فيها، فصاحب هذه الدرجة متوسط بين درجتى الداخل بكليته فى الدنيا قد ركن إِليها واطمأَن إِليها واتخذها وطناً وجعلها له سكناً، وبين من نفضها بالكلية من قلبه ولسانه، وتخلص من قيودها ورعونتها وآثارها، وارتقى إِلى ما يسر القلب ويحييه ويفرحه ويبهجه من جذبات العزة فهو فى البرزخ كالحامل المقرب ينتظر ولادة الروح والقلب صباحاً ومساءً، فإِن من لم تولد روحه وقلبه ويخرج من مشيمة نفسه ويتخلص من ظلمات طبعه وهواه وإِرادته فهو كالجنين فى بطن أُمه الذى لم ير الدنيا وما فيها. فهكذا هذا الذى بعد فى مشيمة النفس، والظلمات الثلاث هى: ظلمة النفس، وظلمة
সে নিজ অভাবের কারণে তা না থাকা সত্ত্বেও তা অনুসন্ধান করে। আবার চিত্তের নির্লিপ্ততার অন্যতম প্রকার হলো দুনিয়া সম্পর্কে প্রশংসা বা নিন্দা করার ক্ষেত্রে জিহ্বাকে নীরব রাখা। কারণ, যার অন্তরে কোনো বিষয়ের গুরুত্ব থাকে এবং সেখানে এর স্থান থাকে, সেই বিষয়ের যা কিছু অন্তরে উথলে ওঠে, জিহ্বা তা প্রশংসা বা নিন্দার মাধ্যমে প্রকাশ করতে সচেষ্ট হয়। যদি সে তা লাভ করে তবে প্রশংসা করে, আর যদি তা হারায় তবে নিন্দা করে। আর দুনিয়ার প্রশংসা ও নিন্দা করা হলো হৃদয়ে তার অবস্থান ও গুরুত্বের লক্ষণ। যখনই জিহ্বা এর নিন্দায় ব্যস্ত হয়, তা হৃদয়ে এর গুরুত্বের কারণেই হয়ে থাকে। কারণ, কোনো বিষয়ের প্রতি গুরুত্বের পরিমাণ অনুসারেই তার নিন্দা করা হয়; আর নিন্দা হলো সেই বিষয়ের প্রতি থাকা ক্রোধ নিবারণের মাধ্যম। অনুরূপভাবে, দুনিয়াবিমুখতাকে (যুহদ) বড় করে দেখা মূলত হৃদয়ে দুনিয়ার গুরুত্বের পরিমাণ অনুসারেই হয়ে থাকে। কারণ, দুনিয়ার গুরুত্ব ও মর্যাদা না থাকলে তার প্রতি বিমুখতার কোনো গুরুত্ব থাকত না। তেমনিভাবে, দুনিয়ার প্রশংসাও হৃদয়ে এর গুরুত্ব ও অবস্থানের প্রমাণ। কেননা, যে ব্যক্তি কোনো কিছুকে ভালোবাসে, সে তার আলোচনা বেশি করে। আর এই স্তরের অধিকারী ব্যক্তি দুনিয়া বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তা আঁকড়ে ধরে না এবং না থাকা অবস্থায় তা অনুসন্ধানও করে না। আর তার অন্তর থেকে জিহ্বায় এমন কোনো প্রশংসা প্রবাহিত হয় না যা এর প্রতি ভালোবাসা নির্দেশ করে, আবার এমন কোনো নিন্দাও প্রবাহিত হয় না যা এর গুরুত্ব বা অবস্থানের প্রমাণ দেয়। কেননা, কোনো বস্তু যখন তুচ্ছ হয়ে যায়, তখন অন্তর প্রশংসা বা নিন্দার মাধ্যমে তা থেকে বিমুখ হয়ে পড়ে। তেমনিভাবে, এই স্তরের অধিকারী ব্যক্তি দুনিয়া ত্যাগের বিষয়টি লক্ষ্য করা থেকে মুক্ত থাকেন—যা দুনিয়াবিমুখতার (যুহদ) গুরুত্ব সম্পর্কে পূর্বে আলোচিত হয়েছে। কারণ, বান্দা যখন নিজেকে দুনিয়া ত্যাগকারী বা দুনিয়াবিমুখ হিসেবে দেখে, তখন তার নফস সেই ত্যাগের কারণে গর্ববোধ করে [এবং তাতে আনন্দ লাভ করে, যা মূলত ত্যাগের আবরণে হলেও দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকারই প্রমাণ], আর এটি দুনিয়ার গুরুত্ব ও মর্যাদারই বহিঃপ্রকাশ। যদি হৃদয়ে দুনিয়া তুচ্ছ হতো, তবে তা ত্যাগ করা এবং তার প্রতি বিমুখ হওয়াও তুচ্ছ মনে হতো। যদি অন্তর এমন কোনো মহান উদ্দেশ্যে মশগুল হতো যা অন্তর ও রূহের অধিকারীদের কাঙ্ক্ষিত স্বাদ, তবে সে নিজের দিকে এবং ত্যাগের মাধ্যমে দুনিয়াবিমুখতার দিকে তাকানো থেকে উদাসীন হয়ে যেত। সুতরাং এই স্তরের অধিকারী ব্যক্তি এই সকল ব্যাধি থেকে মুক্ত: তা আঁকড়ে ধরার ব্যাধি, অন্বেষণের ব্যাধি, নিন্দার ব্যাধি, প্রশংসার ব্যাধি এবং দুনিয়া ত্যাগের (গর্বের) ব্যাধি। এ সবই—যদিও ইলমের দৃষ্টিতে এর কোনো কোনোটি প্রশংসনীয় ও কাঙ্ক্ষিত এবং এর অধিকারী ব্যক্তি সওয়াব ও প্রশংসার যোগ্য—তবুও এগুলো এমন কিছু আলামত ও রূপ যা ইঙ্গিত দেয় যে, এর অধিকারী ব্যক্তি অভ্যন্তরীণ একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতার (তাজরীদ) স্বাদ আস্বাদন করেনি; সেই কাঙ্ক্ষিত সত্যসমূহ (হাকীকত) অর্জন তো দূরের কথা যা লাভের জন্য মানুষ প্রতিযোগিতা করে। অতএব, এই স্তরের ব্যক্তি হলো এমন দুই স্তরের মধ্যবর্তী স্তরে অবস্থানকারী: এক স্তর হলো সেই ব্যক্তির যে পূর্ণাঙ্গভাবে দুনিয়ায় মগ্ন হয়েছে, এর ওপর ভরসা করেছে, এতে প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছে এবং একেই স্বদেশ ও আবাসস্থল বানিয়ে নিয়েছে। আর দ্বিতীয় স্তর হলো সেই ব্যক্তির যে দুনিয়াকে তার অন্তর ও জিহ্বা থেকে পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলেছে, এর শৃঙ্খল, অসারতা ও প্রভাব থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং সেই উচ্চতায় আরোহণ করেছে যা আল্লাহর মহিমার (ইজ্জত) আকর্ষণের মাধ্যমে অন্তরকে আনন্দিত করে, জীবন দান করে এবং উৎফুল্ল ও প্রফুল্ল করে। সে বারযাখে (মধ্যবর্তী অবস্থায়) এমন এক আসন্নপ্রসব গর্ভবতী নারীর মতো যে সকাল-সন্ধ্যা রূহ ও হৃদয়ের জন্মের প্রতীক্ষায় থাকে। কেননা যার রূহ ও হৃদয়ের জন্ম হয়নি এবং যে তার নফসের গর্ভফুল (placenta) থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি এবং তার স্বভাবজাত প্রবৃত্তি ও ইচ্ছার অন্ধকার থেকে মুক্তি পায়নি, সে মূলত মায়ের পেটে থাকা সেই ভ্রূণের ন্যায় যে দুনিয়া এবং এর ভেতরে যা কিছু আছে তা দেখেনি। ঠিক তেমনই হলো সেই ব্যক্তি যে এখনো নফসের গর্ভফুলে রয়ে গেছে। আর তিনটি অন্ধকার হলো: নফসের অন্ধকার, এবং...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الطبع، وظلمة الهوى. فلا بد من الولادة مرتين كما قال المسيح للحواريين: إِنكم لن تجلوا ملكوت السماءِ حتى تولدوا مرتين. ولذلك كان النبى صلى الله عليه وسلم أَباً للمؤمنين كما فى قراءَة أُبِى: "النبى أَولى بالمؤمنين من أَنفسهم وهو أَب لهم"، ولهذا تفرع على هذه الأبوة أَن جعلت أَزواجه أُمهاتهم، فإن أَرواحهم وقلوبهم ولدت به ولادة أُخرى غير ولادة الأُمهات، فإِنه أَخرج أَرواحهم وقلوبهم من ظلمات الجهل والضلال والغى إِلى نور العلم والإِيمان وفضاءِ المعرفة والتوحيد، فشاهدت حقائق أُخر وأُموراً لم يكن لها بها شعور قبله، قال تعالى: {الَر كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النّاسَ مِنَ الظّلُمَاتِ إِلَى النّورِ بِإِذْنِ رَبّهِمْ} [إبراهيم: 1] ، وقال: {هُوَ الّذِي بَعَثَ فِي الاُمّيّينَ رَسُولاً مّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكّيهِمْ وَيُعَلّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُواْ مِن قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مّبِينٍ} [الجمعة: 2] وقال: {لَقَدْ مَنّ اللهُ عَلَى الْمُؤمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولاً مّنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُواْ عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكّيهِمْ وَيُعَلّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُواْ مِن قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مّبِينٍ} [آل عمران: 164] ،
والمقصود أَن القلوب فى هذه الولادة ثلاثة: قلب لم يولد ولم يأْن له بل هو جنين فى بطن الشهوات والغى والجهل والضلال وقلب قد ولد وخرج إِلى فضاءِ التوحيد والمعرفة وتخلص من مشيمة الطباع وظلمات النفس والهوى، فقرت عينه بالله وقرت عيون به وقلوب، وأَنست بقربه الأَرواح، وذكرت رؤيته بالله، فاطمأَن بالله، وسكن إِليه، وعكف بهمته عليه، وسافرت هممه وعزائمه إِلى الرفيق الأَعلى، لا يقر بشيء غير الله، ولا يسكن إِلى شيء سواه، ولا يطمئن بغيره، يجد من كل شيء سوى الله عوضاً ومحبته وقوته، لا يجد من الله عوضاً أبداً، فذكره حياة قلبه ورضاه غاية مطلبه، ومحبته قوته، ومعرفته أَنيسه، عدوه من جدب قلبه ورضاه غاية مطلبه، ومحبته قوته، ومعرفته أَنيسه، عدوه من جذب قلبه عن الله: "وإِن كان القريب المصافيا". ووليه من رده إِلى الله وجمع قلبه عليه "وإن كان البعيد المناويا"، فهذان قلبان متباينان غاية التباين. وقلب ثالث فى البرزخ ينتظر الولادة صباحاً ومساءً، قد أَصبح على فضاءِ التجريد، وآنس من خلال الديار أَشعة التوحيد، تأْبى غلبات الحب والشوق إِلا تقرباً إِلى من السعادة كلها بقربه، والحظ كل الحظ فى طاعته وحبه، وتأْبى غلبات الطباع إِلا جذبه وإيقافه وتعويقه
প্রকৃতি এবং কুপ্রবৃত্তির অন্ধকার। তাই দুইবার জন্মগ্রহণ করা অপরিহার্য, যেমনটি মসীহ হাওয়ারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন: "তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত আসমানি রাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না দুইবার জন্মগ্রহণ করবে।" এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনদের পিতা ছিলেন, যেমনটি উবাই-এর কিরাআতে রয়েছে: "নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তিনি তাদের পিতা"। আর এই পিতৃত্বের শাখা হিসেবেই তাঁর পত্নীদের মুমিনদের মাতা বানানো হয়েছে। কেননা মুমিনদের রুহ ও অন্তর তাঁর মাধ্যমে এক নতুন জন্ম লাভ করেছে, যা মায়েদের গর্ভজাত জন্মের চেয়ে ভিন্ন। তিনি তাদের রুহ ও অন্তরকে মূর্খতা, পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহির অন্ধকার থেকে বের করে জ্ঞান ও ঈমানের আলো এবং মা'রিফাত ও তাওহীদের প্রশস্ত ময়দানে নিয়ে এসেছেন। ফলে তারা এমন কিছু সত্য ও বিষয় প্রত্যক্ষ করেছে, যার কোনো অনুভূতি তাঁর আগমনের পূর্বে তাদের ছিল না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আলিফ-লাম-রা; এটি একটি কিতাব যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষকে তাদের রবের নির্দেশক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন" [ইবরাহিম: ১]। এবং তিনি বলেন: "তিনিই উম্মীদের মধ্যে তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত ছিল" [জুমুআহ: ২]। এবং তিনি বলেন: "অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত ছিল" [আল-ইমরান: ১৬৪]।
উদ্দেশ্য হলো, এই জন্মের ক্ষেত্রে অন্তরসমূহ তিন প্রকার: এক প্রকার অন্তর যা এখনো জন্মগ্রহণ করেনি এবং তার জন্মের সময়ও আসেনি, বরং সে প্রবৃত্তি, গোমরাহি, মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতার গর্ভে থাকা এক ভ্রূণ মাত্র। দ্বিতীয় প্রকার হলো এমন অন্তর যা জন্মগ্রহণ করেছে এবং তাওহীদ ও মা'রিফাতের প্রশস্ততায় বেরিয়ে এসেছে এবং স্বভাবজাত আচরণের গর্ভফুল ও নফস ও কুপ্রবৃত্তির অন্ধকার থেকে মুক্তি পেয়েছে। ফলে আল্লাহর মাধ্যমে তার চক্ষু শীতল হয়েছে এবং তার মাধ্যমে অন্য অনেক চক্ষু ও অন্তর শীতল হয়েছে। তাঁর নৈকট্যে রুহসমূহ প্রশান্তি লাভ করেছে এবং তাকে দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। ফলে সে আল্লাহর মাধ্যমেই স্থির হয়েছে, তাঁর প্রতি শান্ত হয়েছে এবং তাঁর ওপরই নিজের একাগ্রতা নিবদ্ধ করেছে। তার সংকল্প ও অভিপ্রায় সর্বোচ্চ সঙ্গীর (আর-রফিক আল-আলা) দিকে সফর করেছে। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুতে সে স্থির হয় না, অন্য কোনো কিছুতে শান্তি পায় না এবং অন্য কিছুতে প্রশান্ত হয় না। সে আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুতেই বিকল্প বা বিনিময় খুঁজে পায়, কিন্তু আল্লাহর কোনো বিকল্প সে কখনো পায় না। সুতরাং আল্লাহর যিকিরই তার অন্তরের জীবন, তাঁর সন্তুষ্টিই তার চরম লক্ষ্য, তাঁর ভালোবাসাই তার শক্তি এবং তাঁর মা'রিফাতই তার পরম বন্ধু। তার শত্রু হলো সেই ব্যক্তি যে তার অন্তরকে আল্লাহ থেকে বিচ্যুত করে, "যদিও সে অন্তরঙ্গ নিকটজন হয়"। আর তার বন্ধু হলো সেই যে তাকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয় এবং তাঁর দিকে তার অন্তরকে নিবিষ্ট করে, "যদিও সে দূরবর্তী শত্রু হয়"। এই দুটি অন্তর একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর তৃতীয় এক প্রকার অন্তর যা বারযাখে (অন্তর্বর্তী অবস্থায়) অবস্থান করছে এবং সকাল-সন্ধ্যায় জন্মের প্রতীক্ষায় আছে। সে নির্লিপ্ততার ময়দানে উপনীত হয়েছে এবং জনপদের ভেতর থেকে তাওহীদের আলোকচ্ছটা প্রত্যক্ষ করেছে। প্রেম ও আকাঙ্ক্ষার আধিক্য তাকে কেবল তাঁরই নৈকট্যের দিকে ধাবিত করে যার সান্নিধ্যেই সকল সুখ নিহিত এবং যার আনুগত্য ও ভালোবাসাই প্রকৃত সৌভাগ্য। পক্ষান্তরে স্বভাবের প্রভাব তাকে কেবল টেনে ধরতে, থামিয়ে দিতে এবং বাধাগ্রস্ত করতে চায়।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فهو بين الدّاعين تارة وتارة قد قطع عقبات وآفات، وبقى عليه مفاوز وفلوات. والمقصود أَن صاحب هذا المقام إِذا تحقق به ظاهراً وباطناً، وسلم عن نظر نفسه إِلى مقامه واشتغاله به ووقوفه عنده، فهو فقير حقيقى، ليس فيه قادح من القوادح التى تحطه عن درجة الفقر.
واعلم أَنه يحسن إِعمال اللسان فى ذم الدنيا فى موضعين: أَحدهما موضع التزهيد فيها للراغب، والثانى عندما يرجع به داعى الطبع والنفس إِلى طلبها ولا يأْمن من إِجابة الداعى، فيستحضر فى نفسه قلة وفائها وكثرة جفائها وخسة شركائها، فإنه إن تم عقله وحضر رشده زهد فيها ولا بد.
তিনি কখনও আহ্বানকারীদের মধ্যে থাকেন, আবার কখনও বিভিন্ন বাধা ও আপদ অতিক্রম করে আসেন, তবে তাঁর সামনে আরও দুর্গম পথ ও মরুপ্রান্তর রয়ে যায়। আর উদ্দেশ্য হলো, এই স্তরের অধিকারী ব্যক্তি যখন বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে তা অর্জন করেন এবং নিজের মাকামের প্রতি দৃষ্টিপাত করা, তাতে নিমগ্ন হওয়া ও সেখানে থেমে যাওয়া থেকে মুক্ত থাকেন, তখন তিনি প্রকৃত ‘ফকির’। তাঁর মধ্যে এমন কোনো ত্রুটি নেই যা তাঁকে ফকরের স্তর থেকে নিচে নামিয়ে দেবে।
জেনে রাখুন, দুটি ক্ষেত্রে দুনিয়ার নিন্দায় জিহ্বা ব্যবহার করা কল্যাণকর: প্রথমটি হলো, দুনিয়ার প্রতি আসক্ত ব্যক্তির মনে বৈরাগ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। দ্বিতীয়টি হলো, যখন স্বভাবজাত প্রবৃত্তি ও নফসের তাড়না তাকে দুনিয়া লাভের দিকে আহ্বান করে এবং সে সেই আহ্বানে সাড়া দেওয়ার ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকে না। তখন সে তার অন্তরে দুনিয়ার অবিশ্বস্ততা, এর অধিকতর নিষ্ঠুরতা এবং এর অংশীদারদের হীনতা স্মরণ করবে। কেননা, যদি তার বুদ্ধি পূর্ণ থাকে এবং সঠিক বোধ জাগ্রত হয়, তবে সে অবশ্যই দুনিয়ার প্রতি বিরাগী হবে।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فصل: في تفسير الفقر ودرجاتهوقوله: "الدرجة الثانية: الرجوع إِلى السبق بمطالعة الفضل وهو يورث الخلاص من رؤية الأَعمال، ويقطع شهود الأَحوال ويمحص من أَدناس مطالعة المقامات"، فهذه الدرجة أَرفع من الأولى وأَعلى، والأُولى كالوسيلة إِليها، لأَن فى الدرجة الأولى يتخلى بفقره عن أَن يتأَله غير مولاه الحق، وأَن يضيع أَنفاسه فى غير مرضاته، وأَن يفرق همومه فى غير محابه، وأَن يؤثر عليه فى حال من الأَحوال. فيوجب له هذا الخلق وهذه المعاملة صفاء العبودية، وعمارة السر بينه وبين الله وخلوص [الوداد والمحبة] ، فيصبح ويمسى ولا هم له غير ربه، قد قطع همه بربه عنه جميع الهموم وعطلت إرادته جميع الإِرادات ونسخت محبته له من قلبه كل محبة لسواه، كما قيل:
لقدكان يسبى القلب فى كل ليلة
… ثمانون بل تسعون نفساً وأَرجح
يهيم بهذا ثم يأْلف غيره
… ويسلوهم من فوره حين يصبح
وقد كان قلبى ضائعاً قبل حبكم
… فكان بحب الخلق يلهو ويمرح
فلما دعا قلبى هواك أَجابه
… فلست أَراه عن خبائك يبرح
حرمت الأَمانى منك إِن كنت كاذباً
… وإِن كنت فى الدنيا بغيرك أَفرح
وإِن كان شيء فى الوجود سواكم
… يقرَّ به القلب الجريح ويفرح
إِذا لعبت أَيدى الهوى بمحبكم
… فليس له عن بابكم متزحزح
فإِن أَدركته غربة عن دياركم
… فحبكم بين الحشا ليس يبرح
পরিচ্ছেদ: ফকর (নিঃস্বতা) এর ব্যাখ্যা ও এর স্তরসমূহ প্রসঙ্গেতাঁর উক্তি: "দ্বিতীয় স্তর: অনুগ্রহ অবলোকনের মাধ্যমে পূর্ববর্তিতার (তকদিরের) দিকে প্রত্যাবর্তন করা; আর এটি আমল বা কর্ম দর্শনের হাত থেকে মুক্তি প্রদান করে, আধ্যাত্মিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ ছিন্ন করে এবং মাকাম বা উচ্চতর আধ্যাত্মিক অবস্থানসমূহ দর্শনের কলুষতা থেকে পবিত্র করে।" এই স্তরটি প্রথম স্তরের চেয়েও উচ্চতর এবং মহান। আর প্রথম স্তরটি এর জন্য মাধ্যম স্বরূপ। কেননা প্রথম স্তরে মানুষ তার নিঃস্বতা বা ফকর-এর মাধ্যমে তার সত্য মাওলা ব্যতীত অন্য কারো উপাসনা করা থেকে মুক্ত হয়, এবং তার নিশ্বাসসমূহ আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোনো কাজে ব্যয় করা থেকে বিরত থাকে, আর তার উদ্বেগসমূহ তাঁর ভালোবাসা ব্যতীত অন্য কোথাও বিক্ষিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায় এবং কোনো অবস্থাতেই অন্য কাউকে তাঁর ওপর প্রাধান্য দেয় না। এই চরিত্র এবং এই আচরণ তার জন্য দাসত্বের স্বচ্ছতা, তার এবং আল্লাহর মধ্যবর্তী গোপনীয়তার আবাদ এবং ভালোবাসার বিশুদ্ধতা আবশ্যক করে তোলে। ফলে তার সকাল-সন্ধ্যা অতিবাহিত হয় তার রব ব্যতীত অন্য কোনো চিন্তা ছাড়াই। রবের প্রতি তার একাগ্র চিন্তা তাকে অন্য সকল চিন্তা থেকে বিমুখ করে দিয়েছে, তাঁর ইচ্ছা তার সকল ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে বিলুপ্ত করে দিয়েছে এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা তার অন্তর থেকে অন্য সবার ভালোবাসাকে রহিত করে দিয়েছে, যেমনটি বলা হয়েছে:
প্রতি রাতে অন্তরকে বন্দি করে হরণ করত
… আশি জন, বরং নব্বই জন বা তারও অধিক ব্যক্তি
সে একজনের মোহে মত্ত থাকত অতঃপর অন্যের সাথে সখ্যতা গড়ত
… আর সকাল হতেই তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ভুলে যেত
তোমাদের ভালোবাসার পূর্বে আমার অন্তর ছিল লক্ষ্যহীন ও পথহারা
… তখন সৃষ্টির ভালোবাসায় সে খেলত এবং আমোদ-প্রমোদে মেতে থাকত
অতঃপর যখন তোমার প্রেম আমার অন্তরকে ডাকল, সে তাতে সাড়া দিল
… এখন আমি তাকে তোমার তাঁবু থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরতে দেখি না
আমি যদি মিথ্যাবাদী হই তবে তোমার পক্ষ হতে সকল আকাঙ্ক্ষা থেকে বঞ্চিত হই
… আর যদি আমি দুনিয়ায় তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে আনন্দিত হই
আর যদি অস্তিত্বে তোমরা ছাড়া এমন কিছু থাকত
… যার দ্বারা এই ক্ষতবিক্ষত অন্তর প্রশান্তি ও আনন্দ লাভ করত
যদি প্রবৃত্তির হাতগুলো তোমার প্রেমিককে নিয়ে খেলা করে
… তবুও তোমার দুয়ার থেকে তার সরে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই
যদি তোমাদের আবাসভূমি থেকে তার প্রবাসবাস বা বিচ্ছেদ দীর্ঘও হয়
… তবুও তোমাদের ভালোবাসা পাঁজরের হাড়ের মাঝখান থেকে কখনো সরে যায় না
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وكم مشتر فى الخلق قد سام قلبه
… فلم يره إِلا لحبك يصلح
هوى غيركم نار تلظى ومحبس
… وحبكم الفردوس أَو هو أَفسح
فيا ضيم قلب قد تعلق غيركم
… ويا رحمة مما يجول ويكدح
والله سبحانه لم يجعل لرجل من قلبين فى جوفه، فبقدر ما يدخل القلب من هم وإِرادة وحب يخرج منه هم وإِرادة وحب يقابله، فهو إِناءٌ واحد والأَشربة متعددة، فأَى شراب ملأَه لم يبق فيه موضع لغيره، وإِنما يمتليء الإناءُ بأَعلى الأَشربة إِذا صادفه خالياً، فأَما إِذا صادفه ممتلئاً من غيره لم يساكنه حتى يخرج ما فيه ثم يسكن موضعه، كما قال بعضهم:
أَتانى هواها قبل أَن أَعرف الهوى
… فصادف قلباً خالياً فتمكنا
ففقر صاحب هذه الدرجة تفريغه إِنائه من كل شراب غير شراب المحبة والمعرفة، لأَن كل شراب فمسكر ولا بد، و"ما أَسكر كثيره فقليله حرام"، وأَين سكر الهوى والدنيا من سكر الخمر، وكيف يوضع شراب التسليم-الذى هو أَعلى أَشربة المحبين-فى إِناءٍ ملآن بخمر الدنيا والهوى ولا يفيق من سكره ولا يستفيق، ولو فارق هذا السكر القلب لطار بأَجنحة الشوق إِلى الله والدار الآخرة، ولكن رضى المسكين بالدون، وباع حظه من قرب الله ومعرفته وكرامته بأَخس الثمن صفقة خاسر مغبون، فسيعلم أى حظ أَضاع إِذا فاز المحبون، وخسر المبطلون.
সৃষ্টির মধ্যে কত ক্রেতাই না তার হৃদয়ের মূল্য হেঁকেছে
… কিন্তু তিনি একে আপনার ভালোবাসা ছাড়া অন্য কিছুর জন্য উপযুক্ত দেখেননি।
আপনাদের ছাড়া অন্য কারো প্রতি আসক্তি এক লেলিহান অগ্নি এবং কারাগার
… আর আপনাদের প্রতি ভালোবাসা হলো ফিরদাউস অথবা তার চেয়েও প্রশস্ত।
হায় সেই হৃদয়ের আফসোস, যা আপনাদের ছাড়া অন্য কারো প্রতি আসক্ত হয়েছে
… আর সে যে অস্থিরতা ও পরিশ্রমে লিপ্ত, তা থেকে কতই না করুণা ও দয়া কাম্য।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কোনো মানুষের অভ্যন্তরে দুটি হৃদয় সৃষ্টি করেননি। তাই হৃদয়ে যতটা দুশ্চিন্তা, ইচ্ছা ও ভালোবাসা প্রবেশ করে, ঠিক সেই পরিমাণ দুশ্চিন্তা, ইচ্ছা ও ভালোবাসা সেখান থেকে বের হয়ে যায় যা তার বিপরীত। হৃদয় হলো একটি পাত্র আর পানীয় হলো বহুমুখী। যে পানীয় একে পূর্ণ করবে, তাতে অন্য কিছুর জন্য কোনো স্থান অবশিষ্ট থাকবে না। পাত্রটি সর্বোত্তম পানীয় দ্বারা তখনই পূর্ণ হয় যখন সেটি একে খালি অবস্থায় পায়। কিন্তু যদি তা অন্য কিছু দিয়ে পূর্ণ থাকে, তবে ভেতরের বস্তুগুলো বের না হওয়া পর্যন্ত এটি সেখানে বসতি স্থাপন করে না। যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন:
ভালোবাসা কী তা জানার আগেই তার প্রতি প্রেম আমার মাঝে এসেছিল
… ফলে তা এক শূন্য হৃদয় পেয়েছিল এবং সেখানেই দৃঢ়ভাবে আসন গেড়েছিল।
এই স্তরের অধিকারীর রিক্ততা বা অভাব হলো তার পাত্রটিকে মহব্বত ও মারেফাতের পানীয় ছাড়া অন্য সব পানীয় থেকে খালি করা। কারণ প্রতিটি পানীয়ই মত্ততা আনয়নকারী হতে বাধ্য, আর "যার অধিক পরিমাণ মত্ততা আনে, তার অল্পও হারাম"। শরাবের মত্ততার তুলনায় প্রবৃত্তি ও দুনিয়ার মত্ততা কতই না গভীর! আর আত্মসমর্পণের পানীয়—যা প্রেমিকদের সর্বোচ্চ পানীয়—কীভাবে এমন একটি পাত্রে রাখা সম্ভব যা দুনিয়া ও প্রবৃত্তির শরাবে পূর্ণ, যা থেকে সে কখনো জ্ঞান ফিরে পায় না এবং সচেতন হয় না? যদি এই মত্ততা হৃদয় থেকে বিদায় নিত, তবে তা আল্লাহ ও পরকালের দিকে আকুলতার ডানায় ভর করে উড়ে যেত। কিন্তু এই দুর্ভাগা নিকৃষ্ট বস্তুতে সন্তুষ্ট হয়েছে এবং আল্লাহর নৈকট্য, তাঁর মারেফাত ও সম্মানের অংশকে অতি তুচ্ছ মূল্যে এক লোকসানকারী ও প্রবঞ্চিতের ন্যায় বিক্রি করে দিয়েছে। যখন প্রেমিকরা সফল হবে এবং বাতিলপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তখন সে জানতে পারবে কোন মহা সম্পদ সে হারিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فصل: في أن حقيقة الفقر توجه العبد بجميع أحواله إلى اللهوإِذا كان التلوث بالأَعراض قيداً يقيد القلوب عن سفرها إِلى بلد حياتها ونعيمها الذى لا سكن لها غيره، ولا راحة لها إِلا فيه، ولا سرور لها إِلا فى منازله، ولا أَمن لها إِلا بين أَهله، فكذلك الذى باشر قلبه روح التألة، وذاق طعم المحبة، وآنس نار المعرفة، له أَعراض دقيقة حالية تقيد قلبه عن مكافحة صريح الحق، وصحة الاضطرار إِليه والفناءِ التام به، والبقاءِ الدائم بنوره الذى هو المطلوب من السير والسلوك، وهو الغاية التى شمر إِليها السالكون، والعلم الذى أَمَّه العابدون ودندن حوله العارفون، فجميع ما يحجب عنه أَو يقيد القلب نظره وهمه يكون حجاباً يحجب الواصل
পরিচ্ছেদ: দারিদ্র্যের (ফকর) প্রকৃত রূপ বান্দাকে তার সকল অবস্থায় আল্লাহর দিকে ধাবিত করেযদি ক্ষণস্থায়ী পার্থিব বিষয়াদির কলুষতা এমন এক শিকল হয় যা অন্তরকে তার জীবনের মূল আবাস ও নিআমতের ভূমির দিকে যাত্রা করতে বাধা দেয়, যেখানে ব্যতীত তার কোনো ঠিকানা নেই, যেখানে ছাড়া তার কোনো প্রশান্তি নেই, যার মঞ্জিলসমূহ ব্যতীত তার কোনো আনন্দ নেই এবং যার অধিবাসীদের সান্নিধ্য ছাড়া তার কোনো নিরাপত্তা নেই; তবে একইভাবে যার অন্তরে দাসত্বের ও উপাসনার প্রাণশক্তি সঞ্চারিত হয়েছে, যে প্রেমের স্বাদ আস্বাদন করেছে এবং মারেফাতের আগুনের সাথে পরিচিত হয়েছে, তারও কিছু সূক্ষ্ম ও সাময়িক অবস্থা থাকে যা তার অন্তরকে খাঁটি সত্যের মুখোমুখি হতে, তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষিতার সঠিক উপলব্ধি করতে, তাঁর মধ্যে পূর্ণ বিলীন হতে এবং তাঁর নূরের মাধ্যমে স্থায়ীত্ব লাভ করতে বাধা দেয়। অথচ এটিই হলো আধ্যাত্মিক পরিক্রমার (সাইর ও সুলুক) মূল উদ্দেশ্য এবং এটিই সেই লক্ষ্য যার দিকে আধ্যাত্মিক পথিকগণ ধাবিত হয়েছেন; এটিই সেই জ্ঞান ইবাদতকারীগণ যার সংকল্প করেছেন এবং তত্ত্বজ্ঞানীগণ যার চারপাশে বিচরণ করেছেন। সুতরাং যা কিছুই তাঁকে লাভ করার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে অথবা অন্তরের দৃষ্টি ও সংকল্পকে সীমাবদ্ধ করে দেয়, তা-ই সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য এক পর্দা বা হিজাব হয়ে দাঁড়ায়।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ويوقف السالك وينكس الطالب، فالزهد فيه على أَصحاب الهمم العلية متعين تعين الواجب الذى لا بد منه، وهو كزهد السالك إِلى الحج فى الظلال والمياه التى يمر بها فى المنازل، فالأَول مقيد عن الحقائق برؤية الأعراض، والثانى مقيد عن النهايات برؤية الأَحوال، فتقيد كل منهما عن الغاية المطلوبة، وترتب على هذا القيد عدم النفوذ، وذلك مؤخر مخلف.
وإذا عرف العبد هذا وانكشف له [علمه] تعين عليه الزهد فى الأَحوال والفقر منها، كما تعين عليه الزهد فى المال والشرف وخلو قلبه منهما. ولما كان موجب الدرجة الأولى من الفقر الرجوع إِلى الآخرة، فأَوجب الاستغراق فى هم الآخرة نفض اليدين من الدنيا ضبطاً أَو طلباً، وإِسكات اللسان عنها مدحاً أَو ذماً. وكذلك كان موجب هذه الدرجة الثانية الرجوع إِلى فضل الله [عز وجل] ومطالعة سبقه الأَسباب والوسائط، فبفضل الله ورحمته وجدت منه الأَقوال الشريفة، والمقامات العلية، وبفضله ورحمته وصلوا إِلى رضاه ورحمته، وقربه وكرامته وموالاته
وكان سبحانه هو الأَول فى ذلك كله كما أَنه الأَول فى كل شيء، وكان هو الآخر فى ذلك كما هو الآخر فى كل شيء، فمن عبده باسمه الأَول والآخر حصلت له حقيقة هذا الفقر، فإن انضاف إِلى ذلك عبوديته باسمه الظاهر والباطن فهذا هو العارف الجامع لمتفرقات التعبد ظاهراً وباطناً فعبوديته باسمه الأَول تقتضى التجرد من مطالعة الأسباب والوقوف عليها والالتفات إِليها، وتجريد النظر إِلى مجرد سبق فضله ورحمته، وأَنه هو المبتديء بالإِحسان من غير وسيلة من العبد، إِذ لا وسيلة له فى العدم قبل وجوده، وأَى وسيلة كانت هناك، وإِنما هو عدم محض، وقد أَتى عليه [حين] من الدهر لم يكن شيئاً مذكوراً، فمنه سبحانه الإِعداد ومنه الإِمداد وفضله سابق على الوسائل، والوسائل من مجرد فضله وجوده لم تكن بوسائل أُخرى. فمن نزَّل اسمه الأَول على هذا المعنى أَوجب له فقراً خاصاً وعبودية خاصة، وعبوديته باسمه الآخر تقتضى أيضاً [عدم ركونه ووثوقه بالأسباب والوقوف معها فإنها تعدم لا محالة وتنقضى] بالآخرية، ويبقى الدائم الباقى بعدها، فالتعلق بها تعلق بما يعدم وينقضى، والتعلق بالآخر عز وجل تعلق بالحى الذى لا يموت ولا يزول فالمتعلق به حقيق أَن لا يزول ولا ينقطع، بخلاف التعلق بغيره مما له
এটি পথিককে থামিয়ে দেয় এবং অন্বেষণকারীকে নিবৃত্ত করে। তাই উচ্চ হিম্মত সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এতে যুহদ বা অনাসক্তি অবলম্বন করা সেই ওয়াজিবের ন্যায় অবধারিত হয়ে যায়, যা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এটি হলো হজের পথিকের সেই ছায়া ও পানির প্রতি অনাসক্তির মতো, যা সে যাত্রাপথের মঞ্জিলগুলোতে অতিক্রম করে। প্রথম জন নিছক বাহ্যিক রূপ দর্শনের কারণে প্রকৃত সত্য থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, আর দ্বিতীয় জন আধ্যাত্মিক অবস্থা দর্শনের কারণে চূড়ান্ত লক্ষ্যের পথে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে তারা উভয়েই অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয় এবং এই সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, যা তাকে পেছনে ফেলে দেয় এবং বিমুখ করে রাখে।
বান্দা যখন এটি জানতে পারে এবং তার কাছে এর জ্ঞান উন্মোচিত হয়, তখন তার জন্য আধ্যাত্মিক অবস্থাগুলোর প্রতি অনাসক্তি এবং সেগুলো থেকে মুক্ত হওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে; ঠিক যেমনটি তার জন্য সম্পদ ও সম্মানের প্রতি অনাসক্তি এবং অন্তরকে এই দুটি থেকে মুক্ত রাখা অপরিহার্য ছিল। যেহেতু ফকরের প্রথম স্তরের দাবি হলো আখিরাতের দিকে প্রত্যাবর্তন করা, তাই আখিরাতের চিন্তায় নিমগ্ন হওয়া দুনিয়াকে নিয়ন্ত্রণ বা অন্বেষণ করা থেকে হাত ঝেড়ে ফেলা এবং দুনিয়ার প্রশংসা বা নিন্দা করা থেকে জিহ্বাকে বিরত রাখা আবশ্যক করে তোলে। অনুরূপভাবে, এই দ্বিতীয় স্তরের দাবি হলো আল্লাহর অনুগ্রহের দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং মাধ্যম ও উসিলাসমূহের ওপর তাঁর অনাদি শ্রেষ্ঠত্ব পর্যবেক্ষণ করা। সুতরাং আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় তাঁর পক্ষ থেকে মহৎ বাণীসমূহ এবং উচ্চতর মাকামসমূহ সৃষ্টি হয়েছে। আর তাঁরই অনুগ্রহ ও দয়ায় তারা তাঁর সন্তুষ্টি, রহমত, নৈকট্য, সম্মান ও বন্ধুত্বের স্তরে পৌঁছাতে পেরেছেন।
আর তিনি সুবহানাহু এই সবকিছুর ক্ষেত্রে যেমন প্রথম, তেমনি তিনি প্রতিটি জিনিসের ক্ষেত্রেও প্রথম। আর তিনি এই ক্ষেত্রে যেমন শেষ, তেমনি তিনি প্রতিটি জিনিসের ক্ষেত্রেও শেষ। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর প্রথম ও শেষ নামের মাধ্যমে ইবাদত করে, তার জন্য এই মুখাপেক্ষীহীনতার বাস্তবতা অর্জিত হয়। আর যদি এর সাথে তাঁর প্রকাশ্য ও গোপন নামের ইবাদত যুক্ত হয়, তবে তিনিই সেই তত্ত্বজ্ঞানী যিনি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ইবাদতের বিবিধ বিষয়কে একত্র করেছেন। আল্লাহর 'প্রথম' (আল-আউয়াল) নামের ইবাদত দাবি করে মাধ্যমসমূহ পর্যবেক্ষণ করা, সেগুলোর ওপর নির্ভর করা এবং সেগুলোর দিকে ভ্রুক্ষেপ করা থেকে মুক্ত হওয়া; এবং নিছক তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ার অগ্রগণ্য হওয়ার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা। আর তিনিই হলেন বান্দার কোনো মাধ্যম ছাড়াই অনুগ্রহের সূচনাকারী। কারণ অস্তিত্ব লাভের পূর্বে যখন বান্দা অনস্তিত্বে ছিল, তখন তার কোনো মাধ্যম ছিল না। সেখানে আর কী-ই বা মাধ্যম থাকতে পারে? তখন তো সে ছিল কেবলই নিছক অনস্তিত্ব। আর মহাকালের এমন এক সময় তার ওপর অতিবাহিত হয়েছে যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না। সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকেই হলো প্রস্তুতি এবং তাঁর পক্ষ থেকেই হলো সহায়তা। তাঁর অনুগ্রহ মাধ্যমসমূহের পূর্ববর্তী, আর মাধ্যমসমূহও নিছক তাঁর অনুগ্রহ ও দানেরই অংশ, যা অন্য কোনো মাধ্যমের দ্বারা সৃষ্টি হয়নি। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর 'প্রথম' নামটিকে এই অর্থের ওপর প্রয়োগ করবে, তা তার জন্য এক বিশেষ মুখাপেক্ষীহীনতা এবং বিশেষ ইবাদত সাব্যস্ত করবে। আর তাঁর 'শেষ' (আল-আখির) নামের ইবাদত এও দাবি করে যে, বান্দা মাধ্যমসমূহের ওপর নির্ভর করবে না এবং সেগুলোর ওপর আস্থা রেখে থেমে থাকবে না। কেননা শেষ পর্যন্ত সেগুলো অবশ্যই বিলীন ও নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর এরপর কেবল চিরঞ্জীব ও অবিনশ্বর সত্তাই অবশিষ্ট থাকবেন। সুতরাং সেগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া মানে এমন কিছুর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া যা ধ্বংস ও নিঃশেষ হয়ে যায়। আর 'শেষ' তথা মহান আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া মানে এমন চিরঞ্জীব সত্তার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া যিনি মৃত্যুবরণ করেন না এবং অপসৃত হন না। অতএব, তাঁর সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তি এই গুণের উপযুক্ত হয় যে, সে কখনো অপসৃত বা বিচ্ছিন্ন হবে না। পক্ষান্তরে অন্য কিছুর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি এর বিপরীত যা তাঁর জন্য নির্ধারিত।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
آخر يفنى به، كذا نظر العارف إِليه بسبق الأَولية حيث كان قبل الأَسباب كلها، فكذلك نظره إِليه ببقاء الآخرية حيث يبقى بعد الأسباب كلها، فكان الله ولم يكن شيء غيره، وكل شيء هالك إلا وجهه. فتأمل عبودية هذين الاسمين وما يوجبانه من صحة الاضطرار إِلى الله وحده ودوام الفقر إِليه دون كل شيءٍ سواه، وأَن الأَمر ابتدأَ منه وإِليه يرفع، فهو المبتديء بالفضل حيث لا سبب ولا وسيلة، وإِليه ينتهى الأمر حيث تنتهى الأَسباب والوسائل فهو أَول كل شيء وآخره، وكما أَنه رب كل شيء وفاعله وخالقه وبارئه، فهو إلهه وغايته التى لا صلاح له ولا فلاح ولا كمال إِلا بأَن يكون هو غايته كما أنه لا وجود له إلا بكونه وحده هو ربه وخالقه وكذلك لا كمال له ولا صلاح إلا بكونه تعالى وحده هو غايته وحده ونهايته ومقصوده، فهو الأَول الذى ابتدأَت منه المخلوقات، والآخر الذى انتهت إِليه عبوديتها وإِرادتها ومحبتها، فليس وراءَ الله شيء يقصد ويعبد ويتأَله كما أَنه ليس قبله شيء يخلق ويبرأَ، فكما كان واحداً فى إِيجادك فاجعله واحداً فى تأَلهك وعبوديتك، وكما ابتدأ وجودك وخلقك منه فاجعله نهاية حبك وإِرادتك وتأَلهك إِليه لتصح لك عبوديته باسمه الأَول والآخر، وأَكثر الخلق تعبدوا له باسمه الأَول، وإِنما الشأْن فى التعبد له باسمه الآخر فهذه عبودية الرسل وأَتباعهم، فهو رب العالمين وإِله المرسلين سبحانه وبحمده. وأَما عبوديته باسمه الظاهر فكما فسره النبى صلى الله عليه وسلم بقوله: "وأَنتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيء".
فإِذا تحقق العبد علوه المطلق على كل شيء بذاته، وأَنه ليس فوقه شيء البتة، وأَنه قاهر فوق عباده يدبر الأَمر من السماءِ إِلى الأَرض ثم يعرج إِليه {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطّيّبُ وَالْعَمَلُ الصّالِحُ يَرْفَعُهُ} [فاطر: 10] ، صار لقلبه [أَملاً] يقصده، ورباً يعبده، وإِلهاً يتوجه إِليه. بخلاف من لا يدرى أَين ربه فإِنه ضائع مشتت القلب ليس لقلبه قبلة يتوجه نحوها ولا معبود يتوجه إِليه قصده. وصاحب هذه الحال إِذا سلك وتأله وتعبد طلب قلبه إِلهاً يسكن إِليه ويتوجه إِليه، وقد اعتقد أَنه ليس فوق العرش شيء إِلا العدم، وأَنه ليس فوق العالم إِله يعبد ويصلى له ويسجد، وأَنه ليس على العرش من يصعد إِليه الكلم الطيب ولا يرفع إِليه العمل الصالح، جال قلبه فى الوجود جميعهُ فوقع فى الاتحاد ولا بد، وتعلق قلبه بالوجود المطلق السارى فى المعينات، فاتخذ إِلهه من دون الإِله الحق وظن أَنه قد وصل إِلى عين الحقيقة، وإِنما تأَله وتعبد لمخلوق مثله، أو لخيال نحته بفكره
অন্যটি যাতে সে নিঃশেষে হয়ে যায়। একইভাবে মারেফতপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত করেন অনাদি হওয়ার অগ্রবর্তীতার মাধ্যমে, যেহেতু তিনি সকল উপকরণের পূর্বে ছিলেন। অনুরূপভাবে তাঁর প্রতি তাঁর দৃষ্টি চিরস্থায়ী হওয়ার স্থায়িত্বের মাধ্যমে, যেখানে তিনি সকল উপকরণের পরেও বিদ্যমান থাকবেন। সুতরাং আল্লাহ ছিলেন এবং তিনি ছাড়া অন্য কিছু ছিল না, আর তাঁর চেহারা ছাড়া সবকিছুই ধ্বংসশীল। সুতরাং এই দুটি নামের বন্দেগি এবং এই নামদ্বয় আল্লাহ এককের প্রতি মুখাপেক্ষিতার সঠিকতা ও তিনি ছাড়া অন্য সবকিছু বাদ দিয়ে তাঁর প্রতি নিরন্তর নিঃস্বতা প্রদর্শনের যে দাবি রাখে, তা নিয়ে চিন্তা করুন। আর নিশ্চয়ই বিষয়টি তাঁর পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে এবং তাঁর দিকেই উন্নীত হয়। সুতরাং তিনি অনুগ্রহের মাধ্যমে শুরুকারী যখন কোনো উপকরণ বা মাধ্যম ছিল না, আর তাঁর কাছেই বিষয়টি পর্যবসিত হয় যখন সকল উপকরণ ও মাধ্যম শেষ হয়ে যায়। ফলে তিনি সবকিছুর শুরু এবং সবকিছুর শেষ। আর যেমন তিনি সবকিছুর রব, কর্তা, স্রষ্টা ও উদ্ভাবক, তেমনি তিনি সবকিছুর উপাস্য এবং লক্ষ্য, যার কোনো সংশোধন, সফলতা বা পূর্ণতা নেই তাঁকে লক্ষ্য বানানো ছাড়া; যেমন সৃষ্টির কোনো অস্তিত্ব নেই তিনি একা তার রব ও স্রষ্টা হওয়া ছাড়া। অনুরূপভাবে সৃষ্টির কোনো পূর্ণতা বা সংশোধন নেই মহান আল্লাহ একা তার লক্ষ্য, শেষ গন্তব্য ও উদ্দেশ্য হওয়া ছাড়া। সুতরাং তিনি হলেন সেই 'প্রথম' যাঁর থেকে মাখলুকাতের সূচনা হয়েছে, এবং সেই 'শেষ' যাঁর কাছে তাদের বন্দেগি, ইচ্ছা ও ভালোবাসা পর্যবসিত হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর ঊর্ধ্বে এমন কিছু নেই যাকে উদ্দেশ্য করা হবে, ইবাদত করা হবে বা উপাস্য বানানো হবে; যেমন তাঁর পূর্বে এমন কিছু নেই যা সৃষ্টি করে বা উদ্ভাবন করে। সুতরাং যেভাবে তিনি আপনার অস্তিত্ব দানে একক ছিলেন, সেভাবে তাঁকে আপনার উপাসনা ও বন্দেগিতেও একক করুন। আর যেভাবে আপনার অস্তিত্ব ও সৃষ্টির সূচনা তাঁর থেকে হয়েছে, সেভাবে তাঁকে আপনার ভালোবাসা, ইচ্ছা ও উপাসনার শেষ গন্তব্য বানান, যাতে আপনার জন্য তাঁর 'প্রথম' ও 'শেষ' নামের বন্দেগি সঠিক হয়। অধিকাংশ মাখলুক তাঁর 'প্রথম' নামের মাধ্যমে তাঁর বন্দেগি করেছে, তবে আসল গুরুত্ব হলো তাঁর 'শেষ' নামের মাধ্যমে তাঁর বন্দেগি করা; আর এটিই হলো রাসূলগণ ও তাঁদের অনুসারীদের বন্দেগি। তিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক এবং রাসূলগণের ইলাহ, তিনি পবিত্র এবং সকল প্রশংসা তাঁরই। আর তাঁর 'প্রকাশ্য' নামের বন্দেগি হলো যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন: "আর আপনি প্রকাশ্য, সুতরাং আপনার উপরে কিছু নেই। আর আপনি অপ্রকাশ্য, সুতরাং আপনার নিচে কিছু নেই।"
যখন বান্দা সবকিছুর ওপর তাঁর সত্তাগতভাবে নিরঙ্কুশ উচ্চতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়, এবং এই বিষয়ে যে তাঁর উপরে নিশ্চিতভাবেই কিছু নেই, এবং তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর পরাক্রমশালী, আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর দিকেই আরোহণ করে— "তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে এবং সৎকর্ম তাকে উন্নীত করে" [ফাতির: ১০]—তখন তার অন্তরের জন্য একটি লক্ষ্য তৈরি হয় যাকে সে উদ্দেশ্য করে, একজন রব যাকে সে ইবাদত করে এবং একজন ইলাহ যাঁর দিকে সে অভিমুখী হয়। এর বিপরীতে যে জানে না তার রব কোথায়, সে তো লক্ষ্যভ্রষ্ট ও বিক্ষিপ্ত হৃদয়ের অধিকারী; তার হৃদয়ের কোনো কিবলা নেই যার দিকে সে অভিমুখী হবে এবং কোনো মাবুদ নেই যার দিকে তার উদ্দেশ্য ধাবিত হবে। এই অবস্থার অধিকারী ব্যক্তি যখন পথ চলে, উপাসনা করে ও বন্দেগি করে, তখন তার অন্তর এমন একজন ইলাহকে খোঁজে যার কাছে সে প্রশান্তি পাবে এবং যাঁর দিকে অভিমুখী হবে; অথচ সে বিশ্বাস করে বসে আছে যে আরশের উপরে শূন্যতা ছাড়া আর কিছু নেই, এবং জগতের উপরে এমন কোনো ইলাহ নেই যাঁর ইবাদত করা হবে, যাঁর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করা হবে ও সিজদা দেওয়া হবে, এবং আরশের ওপর এমন কেউ নেই যাঁর দিকে পবিত্র বাক্য আরোহণ করবে কিংবা যাঁর কাছে সৎকর্ম উন্নীত করা হবে। ফলে তার অন্তর সমগ্র অস্তিত্বের মাঝে ঘুরে বেড়ায় এবং অনিবার্যভাবে সে 'ইত্তিহাদ' বা স্রষ্টা-সৃষ্টির একত্ববাদে পতিত হয়। তার অন্তর নির্দিষ্ট বস্তুসমূহের মাঝে প্রবহমান নিরঙ্কুশ অস্তিত্বের সাথে জুড়ে যায়। ফলে সে সত্য ইলাহকে বাদ দিয়ে নিজের ইলাহ গ্রহণ করে নেয় এবং ধারণা করে যে সে হাকিকতের মূল নির্যাস পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অথচ সে তো আসলে তার মতো কোনো মাখলুকের উপাসনা করেছে, অথবা নিজের চিন্তায় খোদাই করা কোনো কল্পনার বন্দেগি করেছে।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
واتخذه إِلهاً من دون الله سبحانه، وإِله الرسل وراءَ ذلك كله: {إِنّ رَبّكُمُ اللهُ الّذِي خَلَقَ السّمَاوَاتِ وَالأرْضَ فِي سِتّةِ أَيّامٍ ثُمّ اسْتَوَىَ عَلَى الْعَرْشِ يُدَبّرُ الأمْرَ مَا مِن شَفِيعٍ إِلاّ مِن بَعْدِ إِذْنِهِ ذَلِكُمُ اللهُ رَبّكُمْ فَاعْبُدُوهُ أَفَلَا تَذَكّرُونَ إِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعاً وَعْدَ اللهِ حَقّاً إِنّهُ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمّ يُعِيدُهُ لِيَجْزِيَ الّذِينَ آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصّالِحَاتِ بِالْقِسْطِ وَالّذِينَ كَفَرُواْ لَهُمْ شَرَابٌ مّنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُواْ يَكْفُرُونَ} [يونس: 3- 4] وقال تعالى: {اللهُ الّذِي خَلَقَ السّمَاوَاتِ وَالأرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتّةِ أَيّامٍ ثُمّ اسْتَوَىَ عَلَى الْعَرْشِ مَا لَكُمْ مّن دُونِهِ مِن وَلِيّ وَلَا شَفِيعٍ أَفَلَا تَتَذَكّرُونَ يُدَبّرُ الأمْرَ مِنَ السّمَآءِ إِلَى الأرْضِ ثُمّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مّمّا تَعُدّونَ ذَلِكَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشّهَادَةِ الْعَزِيزُ الرّحِيمُ الّذِيَ أَحْسَنَ كُلّ شَيْءٍ خَلَقَهُ وَبَدَأَ خَلْقَ الإِنْسَانِ مِن طِينٍ ثُمّ جَعَلَ نَسْلَهُ مِن سُلَالَةٍ مّن مّآءٍ مّهِينٍ ثُمّ سَوّاهُ وَنَفَخَ فِيهِ مِن رّوحِهِ وَجَعَلَ لَكُمُ السّمْعَ وَالأبْصَارَ وَالأفْئِدَةَ قَلِيلاً مّا تَشْكُرُونَ} [السجدة: 4- 9] .
فقد تعرف سبحانه إِلى عباده بكلامه معرفة لا يجحدها إِلا من أَنكره سبحانه، وإِن زعم أَنه مقربه. والمقصود أَن التعبد باسمه الظاهر يجمع القلب على المعبود، ويجعل له رباً يقصده وصمداً يصمد إِليه فى حوائجه وملجأً يلجأُ إِليه فإِذا استقر ذلك فى قلبه وعرف ربه باسمه الظاهر استقامت له عبوديته وصار له معقل وموئل يلجأُ إِليه ويهرب إِليه ويفر كل وقت إِليه. وأَما تعبده باسمه الباطن فأَمر يضيق نطاق التعبير عن حقيقته، ويكلّ اللسان عن وصفه، وتصطلم الإِشارة إِليه وتجفو العبارة عنه، فإِنه يستلزم معرفة بريئة من شوائب التعطيل مخلصة من فرث التشبيه، منزهة عن رجس الحلول والاتحاد وعبارة مؤدية للمعنى كاشفة عنه، وذوقاً صحيحاً سليماً من أَذواق أهل الانحراف. فمن رزق هذا فهم معنى اسمه الباطن وصح له التعبد به. وسبحان الله كم زلت فى هذا المقام أَقدام وضلت فيه أَفهام، ونظم فيه الزنديق بلسان الصديق، فاشتبه فيه إِخوان النصارى بالحنفاء المخلصين، لنبو الأَفهام عنه وعزة تخلص الحق من الباطل فيه، والتباس ما فى الذهن بما فى الخارج إِلا على من رزقه الله بصيرة فى
এবং তিনি তাঁকে আল্লাহ সুবহানাহু ব্যতীত ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছেন, অথচ রাসুলগণের ইলাহ তো এসবের ঊর্ধ্বে: {নিশ্চয়ই তোমাদের রব হলেন আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি সব বিষয় পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করার কেউ নেই। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব; সুতরাং তোমরা তাঁরই ইবাদত করো। তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? তাঁর কাছেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন; আল্লাহর ওয়াদা সত্য। নিশ্চয়ই তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেন, তারপর পুনরায় সৃষ্টি করবেন, যাতে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তাদেরকে ন্যায়বিচারের সাথে প্রতিদান দিতে পারেন। আর যারা কুফরি করেছে, তাদের জন্য রয়েছে অতি উত্তপ্ত পানীয় এবং যন্ত্রণাদায়ক আজাব, কারণ তারা কুফরি করত।} [ইউনুস: ৩-৪] এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহই তিনি, যিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই। তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সব বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর তা তাঁর দিকেই আরোহণ করে এমন এক দিনে যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় এক হাজার বছর। তিনিই দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত, মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। যিনি তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিকে উত্তম করেছেন এবং কাদা থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। তারপর তিনি তার বংশধারা সৃষ্টি করেছেন তুচ্ছ তরল পদার্থের নির্যাস থেকে। তারপর তিনি তাকে সুঠাম করেছেন এবং তাতে তাঁর পক্ষ থেকে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদের জন্য শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং অন্তঃকরণসমূহ দান করেছেন। তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।} [আস-সাজদাহ: ৪-৯] ।
অতএব আল্লাহ সুবহানাহু তাঁর কালামের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের কাছে নিজের এমন এক পরিচয় পেশ করেছেন যা কেবল সেই ব্যক্তিই অস্বীকার করে যে তাঁকে অস্বীকার করে, যদিও সে দাবি করে যে সে তাঁর নৈকট্যশীল। মূল উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর 'আয-যহির' (প্রকাশ্য) নামের মাধ্যমে ইবাদত করা অন্তরকে মা'বুদের প্রতি নিবদ্ধ করে এবং তাঁর জন্য এমন একজন রব সাব্যস্ত করে যার অভিমুখী তিনি হন, এবং এমন এক 'সামাদ' (অমুখাপেক্ষী) সত্তা যার কাছে তিনি নিজের প্রয়োজনে ধাবিত হন এবং এমন এক আশ্রয়স্থল যার কাছে তিনি আশ্রয় প্রার্থনা করেন। যখন এটি তাঁর অন্তরে স্থির হয় এবং তিনি তাঁর রবকে তাঁর 'আয-যহির' নামের মাধ্যমে চিনতে পারেন, তখন তাঁর দাসত্ব সঠিক পথে পরিচালিত হয় এবং তাঁর জন্য এক দুর্গ ও আশ্রয়স্থল তৈরি হয় যার কাছে তিনি আশ্রয় নেন, যার দিকে তিনি ধাবিত হন এবং প্রতিক্ষণ যার অভিমুখেই তিনি পলায়ন করেন। আর তাঁর 'আল-বাতিন' (অপ্রকাশ্য/গোপন) নামের মাধ্যমে ইবাদত করার বিষয়টি এমন যা এর প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনায় ভাষার পরিধিকে সংকীর্ণ করে দেয় এবং জিহ্বা এর বর্ণনায় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এর প্রতি ইঙ্গিত করতে গিয়ে জ্ঞান দিশেহারা হয় এবং বর্ণনা এর হক আদায়ে অক্ষম হয়ে পড়ে। কেননা এর জন্য প্রয়োজন এমন এক মারেফাত যা 'তা'তীল' (আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করা)-এর কলুষতা থেকে মুক্ত, 'তাশবীহ' (সৃষ্টজীবের সাথে তুলনা করা)-এর আবর্জনা থেকে পরিশুদ্ধ, এবং 'হুলুল' (সৃষ্টবস্তুতে আল্লাহর অনুপ্রবেশ) ও 'ইত্তিহাদ' (স্রষ্টা ও সৃষ্টির একীভূত হওয়া)-এর অপবিত্রতা থেকে পবিত্র; পাশাপাশি এমন এক অভিব্যক্তি যা অর্থের সঠিক প্রকাশ ঘটায় এবং বিচ্যুতিগ্রস্তদের রুচি থেকে মুক্ত এক সঠিক আধ্যাত্মিক স্বাদের পরিচয় দেয়। যাকে এই নেয়ামত দান করা হয়েছে, সে-ই আল্লাহর 'আল-বাতিন' নামের অর্থ বুঝতে পেরেছে এবং তার জন্য এর মাধ্যমে ইবাদত করা সঠিক হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! এই মকামে কত শত পা পিছলে গেছে এবং কত বুদ্ধি বিভ্রান্ত হয়েছে! এখানে যিন্দিকরা সিদ্দীকদের ভাষায় কথা বলেছে, ফলে খ্রিষ্টানদের ভাইরা (ভ্রান্তরা) একনিষ্ঠ হানিফদের সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে; কারণ এর গভীরতা বুঝতে সাধারণ বোধের অক্ষমতা, সত্য থেকে মিথ্যাকে পৃথক করার কাঠিন্য এবং মনের কল্পনা ও বহির্জগতের বাস্তবতার মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়া—কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যাকে আল্লাহ অন্তর্দৃষ্টি দান করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الحق، ونوراً يميز به بين الهدى والضلال، وفرقاناً يفرق به بين الحق والباطل، ورزق مع ذلك اطلاعاً على أَسباب الخطأْ وتفرق الطرق ومثار الغلط، فكان له بصيرة فى الحق والباطل، وذلك فضل الله يؤتيه من يشاءُ والله ذو الفضل العظيم.
وباب هذه المعرفة والتعبد هو معرفة إِحاطة الرب [تبارك وتعالى] بالعالم وعظمته، وأَن العوالم كلها فى قبضته، وأَن السموات السبع والأَرضين السبع فى يده كخردلة فى يد العبد، قال تعالى: {وَإِذْ قُلْنَا لَكَ إِنّ رَبّكَ أَحَاطَ بِالنّاسِ} [الإسراء: 60] ، وقال: {واللهُ مِنْ وَرَآئِهِمْ مُحِيطُ} [البروج: 20] ، ولهذا يقرن سبحانه بينَ هذين الاسمين الدالين على هذين المعنيين: اسم العلو الدال على أَنه الظاهر وأَنه لا شيء فوقه، واسم العظمة الدال على الإِحاطة وأَنه لا شيء دونه، كما قال تعالى: {وَهُوَ الْعَلِىُّ الْعَظِيمُ} [البقرة: 255] [الشورى: 4] ، وقال تعالى: {وَهُوَ الْعَلِىُّ الْكَبِيرُ} [سبأ: 23] ، وقال: {وَللهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلّواْ فَثَمّ وَجْهُ اللهِ إِنّ اللهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ} [البقرة: 115] ، هو تبارك وتعالى كما أَنه العالى على خلقه بذاته فليس فوقه شيء، فهو الباطن بذاته فليس دونه شيء، بل ظهر على كل شيء فكان فوقه، وبطن فكان أَقرب إِلى كل شيء من نفسه، وهو محيط به حيث لا يحيط الشيء بنفسه وكل شيء فى قبضته وليس شيء فى قبضة نفسه، فهذا أَقرب لإِحاطة العامة.
وأما القرب المذكور فى القرآن والسُّنَّة فقرب خاص من عابديه وسائليه وداعيه، وهو من ثمرة التعبد باسمه الباطن قال تعالى: {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنّي فَإِنّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدّاعِ إِذَا دَعَانِ} [البقرة: 186] ، فهذا قربه من داعيه، وقال تعالى: {إِنّ رَحْمَةَ اللهِ قَرِيبٌ مّنَ الْمُحْسِنِينَ} [الأعراف: 56] ، فوجد الخبر وهو قريب عن لفظ الرحمة وهى مؤنثة [إيذاناً] بقربه تعالى من المحسنين، فكأنه قال: إِن الله برحمته قريب من المحسنين. وفى الصحيح عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: "أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ"، و"أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الرَّبُّ مِنْ عَبْدِهِ فِى جَوْفِ اللَّيْلِ"، فهذا قرب خاص غير قرب الإِحاطة وقرب البطون. وفى الصحيح من حديث أَبى موسى أَنهم كانوا مع النبى صلى الله عليه وسلم فى سفر، فارتفعت أصواتهم بالتكبير فقال: "أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا
সত্য এবং এমন এক আলো যার মাধ্যমে তিনি হেদায়েত ও গোমরাহীর মধ্যে পার্থক্য করেন, আর এমন এক ফুরকান যার মাধ্যমে তিনি সত্য ও মিথ্যার মাঝে প্রভেদ করেন। এর পাশাপাশি তাঁকে ভুলের কারণসমূহ, পথের ভিন্নতা এবং বিভ্রান্তির উৎসসমূহ সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে। ফলে সত্য ও মিথ্যার বিষয়ে তাঁর এক গভীর অন্তর্দৃষ্টি লাভ হয়েছে। আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন; আর আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী।
এই মারেফাত (পরিচয়) ও ইবাদতের প্রবেশদ্বার হলো জগতসমূহের ওপর রবের [তিনি বরকতময় ও সুউচ্চ] পরিবেষ্টন এবং তাঁর মহত্ব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আর এটি জানা যে, সমস্ত জগত তাঁর মুঠোর মধ্যে এবং সাত আসমান ও সাত জমিন আল্লাহর হাতে এমন, যেমন বান্দার হাতে একটি সরিষার দানা। মহান আল্লাহ বলেন: "আর স্মরণ করুন, যখন আমি আপনাকে বলেছিলাম যে, নিশ্চয়ই আপনার রব মানুষকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন" [আল-ইসরা: ৬০]। তিনি আরও বলেন: "আর আল্লাহ তাদের পেছন থেকে পরিবেষ্টন করে আছেন" [আল-বুরূজ: ২০]। এই কারণে সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই দুটি অর্থের পরিচায়ক দুটি নামকে একত্রে উল্লেখ করেন: সুউচ্চতা (উলুউ) নির্দেশক নাম যা প্রমাণ করে যে তিনি প্রকাশ্য (আয-যহির) এবং তাঁর ওপরে কিছু নেই, আর মহত্ব (আযমা) নির্দেশক নাম যা পরিবেষ্টন (ইহাতা) প্রমাণ করে এবং তাঁর নিচে বা আড়ালে কিছু নেই। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর তিনি সুউচ্চ, মহান" [আল-বাকারা: ২৫৫] [আশ-শূরা: ৪]। তিনি আরও বলেন: "আর তিনি সুউচ্চ, অতি বড়" [সাবা: ২৩]। তিনি আরও বলেন: "আর পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ" [আল-বাকারা: ১১৫]। তিনি বরকতময় ও সুউচ্চ; যেভাবে তিনি স্বীয় সত্তাসহ তাঁর সৃষ্টির ওপরে সমুন্নত এবং তাঁর ওপরে কিছু নেই, তেমনি তিনি স্বীয় সত্তাসহ অতি নিকটবর্তী (আল-বাতিন) এবং তাঁর নিচে কিছু নেই। বরং তিনি সবকিছুর ওপর প্রকাশ্য হয়েছেন ফলে তিনি সবকিছুর ওপরে, আবার তিনি অতি নিভৃত হয়েছেন ফলে তিনি প্রত্যেক বস্তুর কাছে তার নিজের চেয়েও বেশি নিকটবর্তী। তিনি বস্তুকে এমনভাবে পরিবেষ্টন করে আছেন যেখানে বস্তু নিজেকে নিজে পরিবেষ্টন করতে পারে না এবং সবকিছুই তাঁর মুঠোর মধ্যে, অথচ কোনো কিছুই নিজের মুঠোর মধ্যে নেই। এটি হলো সাধারণ পরিবেষ্টনের নিকটতর অর্থ।
আর কুরআন ও সুন্নাহতে যে নৈকট্যের কথা বর্ণিত হয়েছে তা তাঁর ইবাদতকারী, যাঞ্চাকারী এবং আহ্বানকারীদের জন্য এক বিশেষ নৈকট্য। এটি মূলত আল্লাহর 'আল-বাতিন' নামের ইবাদতেরই ফসল। মহান আল্লাহ বলেন: "আর যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেই যখন সে আমাকে আহ্বান করে" [আল-বাকারা: ১৮৬]। এটি হলো তাঁর আহ্বানকারীর প্রতি নৈকট্য। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী" [আল-আরাফ: ৫৬]। এখানে 'রহমত' শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও খবর হিসেবে 'নিকটবর্তী' শব্দটি পুংলিঙ্গ হিসেবে এসেছে সৎকর্মশীলদের প্রতি আল্লাহর নৈকট্যের বিষয়টি জানান দেওয়ার জন্য। যেন তিনি বলছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর রহমতসহ সৎকর্মশীলদের অতি নিকটবর্তী। সহীহ হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "বান্দা তার রবের সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হয় যখন সে সিজদারত থাকে।" এবং "রাত যখন গভীর হয়, তখন রব তাঁর বান্দার সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হন।" এটি হলো বিশেষ নৈকট্য যা পরিবেষ্টনমূলক নৈকট্য এবং বাতেনী নৈকট্য থেকে ভিন্ন। আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে এসেছে যে, তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এক সফরে ছিলেন। তখন সাহাবীগণ উচ্চস্বরে তাকবীর দিতে শুরু করলেন। তখন তিনি বললেন: "হে লোকসকল! তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও..."
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عَلَى أَنْفُسكُمْ [فإنكم] لا تَدْعُونَ أَصمَّ وَلا غاَئِباً، إِنَّ الَّذِى تَدْعُونَهُ سَمِيعٌ قَرِيبٌ، أَقْرَبُ إِلَى أَحدِكُمْ مِنْ عُنُقِ رَاحِلَتِهِ"، فهذا قربه من داعيه وذاكره، يعنى فأى حاجة بكم إِلى رفع الأَصوات وهو لقربه يسمعها وإِن خفضت، كما يسمعها إِذا رفعت، فإِنه سميع قريب. وهذا القرب هو من لوازم المحبة فكلما كان الحب أَعظم كان القرب أَكثر، وقد استولت محبة المحبوب على قلب محبه بحيث يفنى بها عن غيرها، ويغلب محبوبه على قلبه حتى [كأنه يراه ويشاهده] . إن لم يكن عنده معرفه صحيحة بالله وما يجب له ويستحيل عليه وإِلا طرق باب الحلول إن لم يلجه، وسببه ضعف تمييزه وقوة سلطان المحبة، واستيلاءُ المحبوب على قلبه بحيث يغيب عن ملاحظة سواه، وفى مثل هذه الحال يقول: سبحانى، أَو: ما فى الجبة إِلا الله. ونحو هذا من الشطحات التى نهايتها أَن يغفر له ويعذر لسكره وعدم تمييزه فى تلك الحال. فالتعبد بهذا الاسم هو التعبد بخالص المحبة وصفو الوداد، وأَن يكون الإله أَقرب إِليه من كل شيء وأَقرب إِليه من نفسه، مع كونه ظاهراً ليس فوقه شيء، ومن كيف ذهنه وغلظ طبعه عن فهم هذا فليضرب عنه صفحاً إلى ما هو أَولى به، فقد قيل:
إِذا لَمْ تَسْتَطعْ شَيئاً فَدَعْه
… وجاوزه إِلى ما تستطيع
فمن لم يكن له ذوق من قرب المحبة، ومعرفة بقرب المحبوب من محبة غاية القرب، وإِن كان بينهما غاية المسافة- ولا سيما إِذا كانت المحبة من الطرفين، وهى محبة بريئة من العلل والشوائب والأَعراض القادحة فيها- فإِن المحب كثيراً ما يستولى محبوبه على قلبه وذكره ويفنى عن غيره ويرق قلبه وتتجرد نفسه، فيشاهد محبوبه كالحاضر معه القريب إِليه وبينهما من البعد ما بينهما، وفى هذه الحال يكون فى قلبه وجوده العلمى، وفى لسانه وجوده اللفظى، فيستولى هذا الشهود عليه ويغيب به، فيظن أَن فى عينه وجوده الخارجى للغلبة حكم القلب والروح، كما قيل:
خيالك فى عينى وذكرك فى فمى
… ومثواك فى قلبى فأَين تغيب
هذا ويكون ذلك المحبوب بعينه بينه وبين عدوه من البعد وما بينهما وإِن قربت الأَبدان وتلاصقت الديار. والمقصود أَن المثال العلمى غير الحقيقة الخارجية وإِن كان
(তোমরা) নিজেদের প্রতি কোমল হও, কারণ তোমরা কোনো বধির বা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না; বরং তোমরা যাঁর কাছে দোয়া করছ তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী। তিনি তোমাদের কারো কাছে তার সওয়ারির গলার চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। এটি হচ্ছে আহবানকারী ও যিকিরকারীর প্রতি তাঁর নৈকট্য। অর্থাৎ, উচ্চস্বরে আওয়াজ তোলার তোমাদের কী প্রয়োজন? অথচ তিনি তাঁর নৈকট্যের কারণে সেটি শুনতে পান যদিও তা নিচু স্বরে হয়, ঠিক যেভাবে তিনি তা শোনেন যখন তা উচ্চ স্বরে করা হয়; কেননা তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী। আর এই নৈকট্য হলো ভালোবাসার অনিবার্য দাবি; তাই ভালোবাসা যত মহান হয়, নৈকট্য তত বৃদ্ধি পায়। প্রিয়তমের ভালোবাসা প্রেমিকের হৃদয়ে এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করে যে, সে তার মাধ্যমে অন্য সবকিছু থেকে বিলীন হয়ে যায়। তার হৃদয়ে প্রিয়তম এমনভাবে জয়ী হয় যে, মনে হয় যেন সে তাঁকে দেখছে এবং প্রত্যক্ষ করছে। যদি তার কাছে আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান এবং তাঁর জন্য যা আবশ্যক ও যা অসম্ভব তা জানা না থাকে, তবে সে সত্তার সংমিশ্রণবাদের দরজায় করাঘাত করবে, যদি না তাতে প্রবেশ করে। এর কারণ হলো তার বিচক্ষণতার দুর্বলতা এবং ভালোবাসার প্রবল প্রতাপ; আর প্রেমিকের হৃদয়ে প্রিয়তমের এমন আধিপত্য যে সে অন্য কিছু পর্যবেক্ষণ করা থেকে অনুপস্থিত হয়ে যায়। এমন অবস্থায় সে বলে: "আমারই পবিত্রতা", অথবা: "এই জুব্বার ভেতরে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই।" এই জাতীয় উদভ্রান্ত উক্তি যার শেষ পরিণতি হলো তাকে ক্ষমা করে দেওয়া এবং সেই অবস্থার বিভোরতা ও বোধশক্তিহীনতার কারণে তাকে অপারগ গণ্য করা। অতএব, এই নামের মাধ্যমে ইবাদত করা হলো বিশুদ্ধ ভালোবাসা ও নির্মল অনুরাগের মাধ্যমে ইবাদত করা; এবং আল্লাহ যেন তার কাছে সবকিছুর চেয়ে অধিক নিকটবর্তী এবং তার নিজের চেয়েও বেশি নিকটবর্তী হন, অথচ তিনি প্রকাশ্য এবং তাঁর উপরে কোনো কিছুই নেই। যার চিন্তা ও স্থূল প্রকৃতি এটি বুঝতে অক্ষম, সে যেন এটি বাদ দিয়ে তার জন্য যা অধিক কল্যাণকর সেদিকে মনোনিবেশ করে। যেমন বলা হয়েছে:
যদি তুমি কোনো কিছু করতে সক্ষম না হও তবে তা ছেড়ে দাও
… এবং যা তুমি সক্ষম সেদিকে অগ্রসর হও
যার ভালোবাসার নৈকট্যের কোনো স্বাদ নেই এবং প্রেমিকের প্রতি প্রিয়তমের চরম নৈকট্য সম্পর্কে জ্ঞান নেই—যদিও তাদের মাঝে দূরত্বের শেষ সীমা থাকে—বিশেষ করে যদি ভালোবাসা উভয় পক্ষ থেকে হয় এবং তা ত্রুটি, কলুষতা ও ক্ষতিকর উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত হয়; তবে অনেক ক্ষেত্রেই প্রেমিকের হৃদয়ে ও স্মরণে প্রিয়তম আধিপত্য বিস্তার করেন এবং সে অন্য সবকিছু থেকে বিলীন হয়ে যায়। তার হৃদয় কোমল হয় এবং তার সত্তা মোহমুক্ত হয়, ফলে সে তার প্রিয়তমকে এমনভাবে সশরীরে উপস্থিত ও নিকটবর্তী প্রত্যক্ষ করে যেন তাদের মাঝে কোনো দূরত্ব নেই। এমতাবস্থায় তার হৃদয়ে থাকে তাঁর জ্ঞানগত অস্তিত্ব এবং তার জিহ্বায় থাকে তাঁর বাচনিক অস্তিত্ব। এই প্রত্যক্ষকরণ তার ওপর এমনভাবে জয়ী হয় যে সে তাতে বিলীন হয়ে যায়। ফলে হৃদয় ও রূহের আধিপত্যের কারণে সে মনে করে যে তার চাক্ষুষ দৃষ্টিতেও তাঁর বাহ্যিক অস্তিত্ব বিদ্যমান। যেমন বলা হয়েছে:
তোমার কল্পনা আমার চোখে আর তোমার যিকির আমার মুখে
… আর তোমার আবাস আমার হৃদয়ে, তবে তুমি কোথায় অনুপস্থিত হবে?
অথচ সেই একই প্রিয়তম তাঁর এবং তাঁর শত্রুর মাঝে অনেক দূরত্বের ব্যবধানে থাকেন, যদিও দেহগুলো কাছাকাছি থাকে এবং ঘরগুলো সংলগ্ন হয়। মূল উদ্দেশ্য হলো, জ্ঞানগত দৃষ্টান্ত বাহ্যিক বাস্তবতা থেকে ভিন্ন, যদিও...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مطابقاً لها لكن المثال العلمى محله القلب والحقيقة الخارجية محلها الخارج فمعرفة هذه الأَسماءِ الأَربعة وهى: الأَول، والآخر، والظاهر، والباطن هى أَركان العلم والمعرفة، فحقيق بالعبد أَن يبلغ فى معرفتها إِلى حيث ينتهى به قواه وفهمه.
واعلم أَن لك أَنت أولاً وآخراً وظاهراً وباطناً، بل كل شيء فله أَول وآخر وظاهر وباطن، حتى الخطرة واللحظة والنفس وأَدنى من ذلك وأكثر. فأَولية الله عز وجل سابقة على أَولية كل ما سواه، وآخريته ثابتة بعد آخرية كل ما سواه فأَوليته سبقه لكل شيء، وآخريته بقاؤه بعد كل شيء، وظاهريته سبحانه فوقيته وعلوه على كل شيء، ومعنى الظهور يقتضى العلو، وظاهر الشيء هو ما علا منه وأحاط بباطنه. وبطونه سبحانه إِحاطته بكل شيء [بحيث يكون أقرب إليه من نفسه وهذا قرب غير قرب المحب] من حبيبه، هذا لون وهذا لون. فمدار هذه الأَسماءِ الأَربعة [على الإحاطة وهى إحاطتان زمانيه ومكانيه فأحاطت] أَوليته وآخريته بالقبل والبعد، فكل سابق انتهى إِلى أَوليته وكل آخر انتهى إِلى آخريته فأَحاطت أَوليته وآخريته بالأَوائل والأَواخر، وأَحاطت ظاهريته وباطنيته بكل ظاهر وباطن، فما من ظاهر إلا والله فوقه، وما من باطن إِلا والله [دونه] [وما من أول إلا والله قبله وما من آخر إلا والله بعده] فالأَول قدمه، والآخر دوامه وبقاؤه والظاهر علوه وعظمته، والباطن قربه ودنوه. فسبق كل شيء بأَوليته وبقى بعد كل شيء بآخريته، وعلا على كل شيء بظهوره، ودنا من كل شيء ببطونه [فلا توارى منه سماء سماء ولا أرض أرضا] ، ولا يحجب عنه ظاهر باطن بل الباطن له ظاهر، والغيب عنده شهادة، والبعيد منه قريب، والسر عنده علانية، فهذه الأَسماءُ الأَربعة تشتمل على أَركان التوحيد، فهو الأَول فى آخريته والآخر فى أَوليته، والظاهر فى بطونه والباطن فى ظهوره، لم يزل أَولاً وآخراً وظاهراً وباطناً.
والتعبد بهذه الأَسماءِ رتبتان: الرتبة الأولى أَن تشهد الأَولية منه تعالى فى كل شيء والآخرية بعد كل شيء والعلو والفوقية فوق كل شيء والقرب والدنو دون كل شيء، فالمخلوق يحجبه مثله عما هو دونه فيصير الحاجب بينه وبين المحجوب، والرب جل جلاله ليس دونه شيء أَقرب إِلى الخلق منه والمرتبة الثانية من التعبد أَن يعامل كل اسم
এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে, তবে জ্ঞানগত দৃষ্টান্তের স্থান হলো অন্তর এবং বাহ্যিক বাস্তবতার স্থান হলো বহির্জগত। সুতরাং এই চারটি নাম তথা: প্রথম, শেষ, প্রকাশ্য এবং গোপন-এর পরিচয় হলো জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মূল স্তম্ভ। তাই বান্দার জন্য উচিত হলো এগুলোর পরিচয় লাভের ক্ষেত্রে তার শক্তি ও অনুধাবন যতটুকু সম্ভব সেই শেষ সীমা পর্যন্ত পৌঁছানো।
জেনে রেখো, তোমার নিজেরও শুরু, শেষ, প্রকাশ্য ও গোপন দিক রয়েছে; বরং প্রতিটি জিনিসেরই শুরু, শেষ, প্রকাশ্য ও গোপন দিক আছে। এমনকি মনের কল্পনা, মুহূর্তের দৃষ্টিপাত, প্রতিটি নিঃশ্বাস এবং তার চেয়েও ক্ষুদ্র কিংবা বৃহৎ সবকিছুর ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। সুতরাং মহান আল্লাহর 'প্রথম' হওয়া তাঁর সত্তা ব্যতীত অন্য সবকিছুর শুরুর পূর্ববর্তী। আর তাঁর 'শেষ' হওয়া তাঁর সত্তা ব্যতীত অন্য সবকিছুর সমাপ্তির পরেও সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁর 'প্রথম' হওয়া হলো সবকিছুর ওপর তাঁর অগ্রবর্তিতা এবং তাঁর 'শেষ' হওয়া হলো সবকিছুর অবসানের পর তাঁর স্থায়িত্ব। আর মহান আল্লাহর 'প্রকাশ্য' হওয়া হলো সবকিছুর ওপর তাঁর উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্ব। প্রকাশের অর্থই হলো শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চতা; আর কোনো জিনিসের বাহ্যিক দিক হলো যা তার ওপর শ্রেষ্ঠ থাকে এবং তার অভ্যন্তরীণ দিককে পরিবেষ্টন করে রাখে। আর মহান আল্লাহর 'গোপন' হওয়া হলো সবকিছুর ওপর তাঁর পরিবেষ্টন [এমনভাবে যে তিনি সেই জিনিসের নিজের চেয়েও তার নিকটবর্তী, আর এই নৈকট্য কোনো প্রেমিকের তার প্রিয়জনের সাথে নৈকট্যের মতো নয়]; এটি এক প্রকার এবং ওটি অন্য প্রকার। সুতরাং এই চারটি নামের মূল ভিত্তি হলো [পরিবেষ্টন করা। আর তা হলো দুই ধরণের পরিবেষ্টন: কালগত ও স্থানগত। সুতরাং তাঁর] 'প্রথম' হওয়া ও 'শেষ' হওয়া পূর্ব ও পরকে পরিবেষ্টন করে আছে। প্রতিটি অগ্রবর্তী বস্তু তাঁর 'প্রথম' হওয়াতে গিয়ে শেষ হয় এবং প্রতিটি শেষ বস্তু তাঁর 'শেষ' হওয়াতে গিয়ে সমাপ্ত হয়। সুতরাং তাঁর 'প্রথম' ও 'শেষ' হওয়া আদ্যন্ত সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। আর তাঁর 'প্রকাশ্য' ও 'গোপন' হওয়া প্রতিটি প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়কে পরিবেষ্টন করেছে। সুতরাং এমন কোনো প্রকাশ্য বস্তু নেই যার উপরে আল্লাহ নেই, এবং এমন কোনো গোপন বিষয় নেই যার সন্নিকটে আল্লাহ নেই। [আর এমন কোনো প্রথম নেই যার পূর্বে আল্লাহ নেই এবং এমন কোনো শেষ নেই যার পরে আল্লাহ নেই।] সুতরাং 'প্রথম' হলো তাঁর অনাদিত্ব, 'শেষ' হলো তাঁর চিরস্থায়িত্ব ও অমরত্ব, 'প্রকাশ্য' হলো তাঁর উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং 'গোপন' হলো তাঁর নৈকট্য ও ঘনিষ্ঠতা। তিনি তাঁর 'প্রথম' হওয়ার মাধ্যমে সবকিছুর অগ্রবর্তী হয়েছেন এবং তাঁর 'শেষ' হওয়ার মাধ্যমে সবকিছুর পরে অবশিষ্ট থাকেন। তিনি তাঁর 'প্রকাশ্য' হওয়ার মাধ্যমে সবকিছুর ঊর্ধ্বে সমুন্নত হয়েছেন এবং তাঁর 'গোপন' হওয়ার মাধ্যমে সবকিছুর নিকটবর্তী হয়েছেন। [ফলে কোনো আকাশ অন্য আকাশকে তাঁর থেকে আড়াল করতে পারে না এবং কোনো পৃথিবী অন্য পৃথিবীকে তাঁর থেকে লুকাতে পারে না।] কোনো প্রকাশ্য বস্তু তাঁর থেকে কোনো গোপন বস্তুকে আড়াল করতে পারে না, বরং গোপন বস্তুও তাঁর কাছে প্রকাশ্য। তাঁর কাছে অদৃশ্যের বিষয়ও উপস্থিত বা দৃশ্যমান। তাঁর কাছে দূরবর্তী বিষয়ও নিকটবর্তী এবং তাঁর কাছে রহস্যও প্রকাশ্য। সুতরাং এই চারটি নাম তাওহীদের মূল স্তম্ভগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি তাঁর 'শেষ' হওয়ার মাঝেও 'প্রথম' এবং 'প্রথম' হওয়ার মাঝেও 'শেষ'। তিনি তাঁর 'গোপন' হওয়ার মাঝেও 'প্রকাশ্য' এবং 'প্রকাশ্য' হওয়ার মাঝেও 'গোপন'। তিনি অনাদিকাল থেকেই প্রথম, শেষ, প্রকাশ্য ও গোপন এবং সর্বদা এমনই থাকবেন।
এই নামগুলোর মাধ্যমে ইবাদত বা দাসত্বের দুটি স্তর রয়েছে: প্রথম স্তর হলো—প্রতিটি বিষয়ে মহান আল্লাহর 'প্রথম' হওয়াকে প্রত্যক্ষ করা, সবকিছুর পরে তাঁর 'শেষ' হওয়াকে দেখা, সবকিছুর উপরে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও সমুন্নত হওয়াকে অবলোকন করা এবং সবকিছুর সন্নিকটে হওয়া তথা তাঁর নৈকট্য ও ঘনিষ্ঠতাকে অনুভব করা। কোনো সৃষ্টিকে তার মতো অন্য কোনো সৃষ্টি তার সন্নিকটস্থ বস্তু থেকে আড়াল করে ফেলে, ফলে আড়ালকারী বস্তুটি তার ও আড়ালকৃত বস্তুর মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু মহান রব—তাঁর মহিমা অত্যন্ত উচ্চ—এমন নন; সৃষ্টির নিকটবর্তী হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে অগ্রবর্তী বা তাঁর চেয়ে সন্নিকটবর্তী আর কিছুই নেই। আর ইবাদতের দ্বিতীয় স্তর হলো প্রতিটি নামের দাবি অনুযায়ী আমল করা...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بمقتضاه، فيعامل سبقه تعالى بأَوليته لكل شيء [وسبقه] بفضله وإِحسانه الأَسباب كلها بما يقتضيه ذلك من إِفراده وعدم الإِلتفات إِلى غيره والوثوق بسواه والتوكل على غيره، فمن ذا الذى شفع لك فى الأَزل حيث لم تكن شيئاً مذكوراً حتى سماك باسم الإسلام، ووسمك بسمة الإِيمان، وجعلك من أَهل قبضة اليمين، وأَقطعك فى ذلك الغيب عمالات المؤمنين، فعصمك عن العبادة للعبيد، وأَعتقك من التزام الرق لمن له شكل ونديد، ثم وجه وجهة قلبك إِليه [تبارك وتعالى] دون ما سواه، فاضرع إِلى الذى عصمك من السجود للصنم، وقضى لك بقدم الصدق فى القدم، أَن يتم عليك نعمة هو ابتدأَها وكانت أَوليتها منه بلا سبب منك، واسمُ بهمتك عن ملاحظة الاختيار ولا تركنن إِلى الرسوم والآثار، ولا تقنع بالخسيس الدون، وعليك بالمطالب العالية والمراتب السامية التى لا تنال إِلا [بطاعة الله. فإن الله عز وجل قضى أن لا ينال ما عنده إلا] بطاعته، ومن كان لله كما يريد كان الله له فوق ما يريد، فمن أَقبل إِليه تلقاه من بعيد ومن تصرف [بحوله] وقوته أَلان له الحديد، ومن ترك لأَجله أَعطاه فوق المزيد، ومن أَراد مراده الدينى أَراد ما يريد. ثم اسم بسرك إِلى المطلب، واقصر حبك وتقربك على من سبق فضله وإِحسانه إِليك كل سبب منك، بل هو الذى جاد عليك بالأسباب، وهيأَ لك وصرف عنك موانعها وأَوصلك بها إلى غايتك المحمودة. فتوكل عليه وحده وعامله وحده [وآثر رضاه وحده. وأجعل حبه ومرضاته هو كعبة قلبك التى لا تزال طائفاً بها. مستلماً لأركانها] ، واقفاً بملتزمها، فيا فوزك ويا سعادتك إِن اطلع سبحانه على ذلك من قلبك، ماذا يفيض عليك من ملابس نعمه وخلع أفضاله: "اللَّهُمَّ لا مانع لما أَعطيت ولا معطى لما منعت، ولا ينفع ذا الجد منك الجد سبحانك وبحمدك"، ثم تعبد له باسمه الآخر بأَن تجعله وحده غايتك التى لا غاية لك سواه، ولا مطلوب لك وراءَه فكما انتهت إِليه الأَواخر، وكان بعد كل آخر فكذلك اجعل نهايتك إِليه، فإِن إِلى ربك المنتهى، إِليه انتهت الأسباب والغايات فليس وراءَه مرمى ينتهى إِليه. وقد تقدم التنبيه على ذلك وعلى التعبد باسمه الظاهر. وأَما التعبد باسمه الباطن، فإِذا شهدت إِحاطته بالعوالم وقرب العبيد منه وظهور البواطن له وبدوِّ السرائر له وأَنه لا شيء بينه وبينها فعامله بمقتضى هذا الشهود، وطهر له سريرتك فإِنها عنده علانية
এর দাবি অনুযায়ী, সবকিছুর ওপর মহান আল্লাহর অনাদিত্ব এবং সকল উপকরণের ওপর তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ার অগ্রগণ্যতাকে এমনভাবে গ্রহণ করা উচিত, যা কেবল তাঁকে একক হিসেবে গণ্য করা, অন্য কারো দিকে ভ্রুক্ষেপ না করা, অন্য কারো ওপর ভরসা না করা এবং অন্য কারো ওপর নির্ভর না করার দাবি রাখে। অনাদিকাল থেকে আপনার জন্য কে সুপারিশ করেছিল যখন আপনি উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিলেন না? এমনকি তিনি আপনাকে ইসলামের নাম দিয়েছেন, ঈমানের চিহ্নে চিহ্নিত করেছেন, আপনাকে ডান হাতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং সেই অদৃশ্যে আপনাকে মুমিনদের কার্যাবলি বরাদ্দ করেছেন। অতঃপর তিনি আপনাকে বান্দাদের দাসত্ব করা থেকে রক্ষা করেছেন এবং যার সমকক্ষ ও সদৃশ রয়েছে তাদের গোলামি থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এরপর তিনি আপনার অন্তরের দিককে অন্য সবকিছু বাদ দিয়ে কেবল তাঁর (বরকতময় ও সুউচ্চ) দিকেই নিবদ্ধ করেছেন।
অতএব, যিনি আপনাকে মূর্তির সামনে সিজদা করা থেকে হেফাজত করেছেন এবং অনাদিকাল থেকেই আপনার জন্য সত্যের সুদৃঢ় অবস্থান নির্ধারণ করেছেন, তাঁর কাছেই আকুতি জানান যেন তিনি আপনার ওপর সেই নেয়ামত পূর্ণ করে দেন যা তিনি শুরু করেছিলেন এবং যার সূচনা হয়েছিল আপনার পক্ষ থেকে কোনো কারণ ছাড়াই কেবল তাঁর পক্ষ থেকে। আর আপনার সংকল্পকে নিজের পছন্দের ওপর নির্ভর করা থেকে উচ্চে তুলে ধরুন, বাহ্যিক রসম-রেওয়াজ ও নিদর্শনের ওপর ঝুঁকে পড়বেন না এবং তুচ্ছ ও হীন বিষয়ে সন্তুষ্ট হবেন না। আপনাকে উচ্চতর লক্ষ্য ও সুউচ্চ মর্যাদা অন্বেষণ করতে হবে, যা আল্লাহর আনুগত্য ছাড়া অর্জন করা সম্ভব নয়। কেননা মহান আল্লাহ ফয়সালা করেছেন যে, তাঁর কাছে যা রয়েছে তা কেবল তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমেই লাভ করা যাবে।
যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য সেরূপ হয়ে যায় যেরূপ তিনি চান, আল্লাহ তার জন্য তার আকাঙ্ক্ষার চেয়েও বেশি হয়ে যান। যে ব্যক্তি তাঁর দিকে অগ্রসর হয়, তিনি দূর থেকেই তাকে গ্রহণ করেন; আর যে ব্যক্তি তাঁর সামর্থ্য ও শক্তির মাধ্যমে কাজ করে, তিনি তার জন্য লোহাকে নরম করে দেন। যে ব্যক্তি তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কিছু ত্যাগ করে, তিনি তাকে অঢেল দান করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দ্বীনি উদ্দেশ্যকে নিজের উদ্দেশ্য বানিয়ে নেয়, আল্লাহ তা-ই করেন যা সেই বান্দা চায়। এরপর আপনার অন্তঃকরণকে মূল উদ্দেশ্যের দিকে উন্নীত করুন এবং আপনার ভালোবাসা ও নৈকট্যকে কেবল তাঁর জন্যই সীমাবদ্ধ রাখুন যাঁর অনুগ্রহ ও দয়া আপনার পক্ষ থেকে কোনো কারণ ঘটার আগেই আপনার কাছে পৌঁছেছে। বরং তিনিই আপনাকে উপকরণসমূহ দান করেছেন, আপনার জন্য সেগুলো প্রস্তুত করেছেন, সেগুলোর প্রতিবন্ধকতা দূর করেছেন এবং সেগুলোর মাধ্যমে আপনাকে আপনার প্রশংসিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছেন।
সুতরাং কেবল তাঁর ওপরই ভরসা করুন, কেবল তাঁর সাথেই লেনদেন করুন এবং কেবল তাঁর সন্তুষ্টিকেই অগ্রাধিকার দিন। তাঁর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টিকে আপনার অন্তরের কাবা বানিয়ে নিন, যাকে আপনি সর্বদা তওয়াফ করবেন, যার রুকনগুলো (কোণগুলো) স্পর্শ করবেন এবং যার মুলতাজামে দাঁড়িয়ে থাকবেন। আপনার কতই না সাফল্য ও সৌভাগ্য হবে যদি মহান আল্লাহ আপনার অন্তরে এই অবস্থা দেখতে পান! তখন তিনি আপনার ওপর তাঁর নেয়ামতের কতই না পোশাক এবং অনুগ্রহের কতই না চাদর বর্ষণ করবেন! "হে আল্লাহ! আপনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই। আর কোনো সম্পদশালীর সম্পদ আপনার পাকড়াও থেকে তাকে বাঁচাতে পারবে না। আপনি পবিত্র এবং আপনারই সমস্ত প্রশংসা।"
অতঃপর তাঁর 'আল-আখির' (সর্বশেষ) নামের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করুন এভাবে যে, কেবল তাঁকেই আপনার চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করবেন যাঁর পরে আর কোনো লক্ষ্য নেই এবং যাঁর ঊর্ধ্বে কোনো কাম্য নেই। যেভাবে সকল শেষ তাঁর কাছেই সমাপ্ত হয় এবং তিনি প্রতিটি শেষের পরেও বিদ্যমান থাকেন, তেমনিভাবে আপনার সমাপ্তিও তাঁর দিকেই নিবদ্ধ করুন। কেননা আপনার রবের কাছেই সবকিছুর সমাপ্তি। সকল কারণ ও উদ্দেশ্য তাঁর কাছেই শেষ হয়, তাঁর পরে পৌঁছানোর মতো আর কোনো লক্ষ্যস্থল নেই। এ বিষয়ে এবং তাঁর 'আয-যাহির' (প্রকাশ্য) নামের মাধ্যমে ইবাদত করার বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছে। আর তাঁর 'আল-বাতিন' (গোপন) নামের মাধ্যমে ইবাদত করার পদ্ধতি হলো—যখন আপনি প্রত্যক্ষ করবেন যে তিনি সমস্ত জগতকে পরিবেষ্টন করে আছেন, বান্দারা তাঁর অত্যন্ত নিকটে, সমস্ত গোপন বিষয় তাঁর কাছে প্রকাশ্য এবং সকল রহস্য তাঁর সামনে উন্মোচিত, আর তাঁর ও সেগুলোর মাঝে কোনো কিছুই আড়াল নেই; তখন আপনি এই প্রত্যক্ষ করার দাবি অনুযায়ী তাঁর সাথে আচরণ করুন এবং আপনার অন্তঃকরণকে তাঁর জন্য পবিত্র করুন। কারণ আপনার গোপন বিষয়গুলোও তাঁর কাছে প্রকাশ্য।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وأَصلح له غيبك فإِنه عنده شهادة وزكِّ له باطنك فإِنه عنده ظاهر.
فانظر كيف كانت هذه الأَسماءُ الأَربعة جماع المعرفة بالله، وجماع العبودية له. فهنا وقفت شهادة العبد مع فضل خالقه ومنته فلا يرى لغيره شيئاً إِلا به وبحوله وقوته، وغاب بفضل مولاه الحق عن جميع ما منه هو مما كان يستند إِليه أَو يتحلى به أَو يتخذه عقدة أَو يراه ليوم فاقته أَو يعتمد عليه فى [مهم] من مهماته، فكل ذلك من قصور نظره وانعكاسه عن الحقائق والأَصول إِلى الأَسباب والفروع كما هو شأَن الطبيعة والهوى وموجب الظلم والجهل، والإِنسان ظلوم جهول فمن جلى الله سبحانه صدأَ بصيرته وكمَّل فطرته وأوقفه على مبادئ الأُمور وغاياتها ومناطها ومصادرها ومواردها أَصبح كمفلس حقاً من علومه وأَعماله وأَحواله وأَذواقه يقول: أَستغفر الله من علمى ومن عملى، أَى من انتسابى إِليهما وغيبتى بهما عن فضل من ذكرنى بهما وابتدأَنى بإعطائهما من غير تقدم سبب منى يوجب ذلك. فهو لا يشهد غير فضل مولاه وسبق منته ودوامه، فيثيبه مولاه على هذه الشهادة العالية بحقيقة الفقر الأَوسط بين الفقرين الأَدنى والأَعلى ثوابين: أَحدهما الخلاص من رؤية الأَعمال حيث كان يراها ويمتدح بها ويستكثرها فيستغرق بمطالعة الفضل غائباً عنها ذاهباً عنها فانياً عن رؤيتها، الثواب الثانى أَن يقطعه عن شهود الأَحوال- أى عن شهود نفسه فيها متكثرة بها- فإِن الحال محله الصدر والصدر بيت القلب والنفس، فإِذا نزل العطاءُ فى الصدر للقلب وثبتت النفس لتأْخذ نصيبها من العطاءِ فتتمدح به وتدل به وتزهو وتستطيل وتقرر إِنيتها لأَنها جاهلة ظالمة وهذا مقتضى الجهل [والظلم] . فإِذا وصل إِلى القلب نور صفة المنة، وشهد معنى اسمه المنان، وتجلى سبحانه على قلب عبده بهذا الاسم مع اسمه الأَول، ذهل القلب والنفس به وصار العبد فقيراً إِلى مولاه بمطالعة سبق فضله الأَول، فصار مقطوعاً عن شهود أَمر أَو حال ينسبه إِلى نفسه بحيث يكون بشهادته لحاله مفصوماً مقطوعاً عن رؤية عزة مولاه وفاطره وملاحظة صفاته. فصاحب شهود الأَحوال منقطع عن رؤية منة خالقه وفضله ومشاهدة سبق الأَولية للأَسباب كلها، وغائب بمشاهدة عزة نفسه عن عزة مولاه، فينعكس هذا الأمر فى حق هذا العبد الفقير وتشغله رؤية عزة مولاه ومنته ومشاهدة سبقه بالأَولية عن حال يعتز بها العبد أَو يشرف بها. وكذلك الرجوع
আপনার অগোচর অবস্থাকে তাঁর জন্য সংশোধন করুন, কেননা তাঁর নিকট তা প্রত্যক্ষ; এবং আপনার অভ্যন্তরীণ সত্তাকে তাঁর জন্য পবিত্র করুন, কেননা তা তাঁর নিকট প্রকাশ্য।
সুতরাং লক্ষ্য করুন, কীভাবে এই চারটি নাম আল্লাহর মারেফাত (পরিচয়) এবং তাঁর ইবাদতের সারসংক্ষেপ। এখানে বান্দার অবলোকন তার স্রষ্টার অনুগ্রহ ও দানের সাথে সম্পৃক্ত হয়, ফলে সে অন্য কারো মাঝে কোনো কিছু দেখে না কেবল তাঁর সাহায্য এবং তাঁর শক্তি ও সামর্থ্য ব্যতীত। সে তার সত্য মওলার অনুগ্রহের কারণে নিজের সেই সব কিছু থেকে বিমুখ হয়ে যায় যার ওপর সে নির্ভর করত, অথবা যা দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করত, অথবা যাকে সে অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করত, কিংবা যা নিজের অভাবের দিনের জন্য সঞ্চিত মনে করত, অথবা যা সে তার গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে ভরসা করত। এসবই তার দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা এবং হাকিকত (মূল সত্য) ও মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হয়ে মাধ্যম ও শাখা-প্রশাখার দিকে ঝুঁকে পড়ার ফল, যেমনটি প্রবৃত্তি ও কামনার স্বভাব এবং যা জুলুম ও অজ্ঞতার দাবি; আর মানুষ তো অতিশয় জালিম ও জ্ঞানহীন। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যাঁর অন্তর্দৃষ্টির মরিচা দূর করে দেন, যাঁর ফিতরাতকে পূর্ণতা দান করেন এবং যাকে সকল বিষয়ের শুরু, শেষ, ভিত্তি, উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে অবগত করেন, সে তার ইলম (জ্ঞান), আমল (কর্ম), হাল (অবস্থা) ও রুচিবোধ থেকে প্রকৃত অর্থেই নিঃস্ব হয়ে যায়। সে বলতে থাকে: "আমি আমার ইলম ও আমল থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি," অর্থাৎ এ দুটিকে নিজের দিকে সম্বন্ধ করা থেকে এবং এ দুটির মোহে পড়ে সেই সত্তার অনুগ্রহ থেকে বিমুখ থাকা থেকে, যিনি আমাকে এগুলোর মাধ্যমে স্মরণ করেছেন এবং কোনো কারণ ছাড়াই প্রথমে আমাকে এগুলো দান করেছেন। সে তার মওলার অনুগ্রহ এবং তাঁর পূর্ববর্তী ও চিরস্থায়ী দান ছাড়া আর কিছুই অবলোকন করে না। ফলে তার মওলা তাকে এই উচ্চাঙ্গের অবলোকনের বিনিময়ে—যা নিম্নতর ও উচ্চতর অভাবের মাঝামাঝি প্রকৃত অভাব—দুটি প্রতিদান দান করেন। প্রথমটি হলো নিজের আমল বা কর্মের অবলোকন থেকে মুক্তি পাওয়া; যেখানে আগে সে নিজের আমল দেখত, তা নিয়ে নিজের প্রশংসা করত এবং সেটিকে অনেক বেশি মনে করত, এখন সে আল্লাহর অনুগ্রহ পর্যবেক্ষণে নিমগ্ন হয়ে তা থেকে বিমুখ হয়ে যায় এবং নিজের আমল দেখার বিষয়টি তার মধ্য থেকে বিলীন হয়ে যায়। দ্বিতীয় প্রতিদান হলো তাকে 'হাল' বা আধ্যাত্মিক অবস্থা অবলোকন করা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া—অর্থাৎ এই অবস্থার মাঝে নিজেকে আধিক্য অর্জনকারী হিসেবে দেখা থেকে মুক্ত করা। কারণ হালের স্থান হলো বক্ষ, আর বক্ষ হলো কলব (অন্তর) ও নফসের (প্রবৃত্তি) ঘর। সুতরাং যখন বক্ষে কলবের জন্য কোনো দান অবতীর্ণ হয় এবং নফস সেই দানের অংশ গ্রহণের জন্য স্থির হয়, তখন সে তার মাধ্যমে নিজের প্রশংসা করতে চায়, গর্ববোধ করে, অহংকার করে, নিজেকে বড় মনে করে এবং নিজের আমিত্বকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়; কেননা সে অজ্ঞ ও জালিম, আর এটাই হলো অজ্ঞতা ও জুলুমের দাবি। অতঃপর যখন কলবে অনুগ্রহের (মান্নাহ) গুণের নূর পৌঁছে এবং সে তাঁর 'মান্নান' (পরম দাতা) নামের তাৎপর্য অবলোকন করে এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর এই নামের সাথে তাঁর 'আউয়াল' (অনাদি) নামের তাজাল্লি বান্দার কলবে প্রকাশ করেন, তখন কলব ও নফস তাতে বিমুগ্ধ ও আত্মহারা হয়ে যায় এবং বান্দা তার মওলার আদি অনুগ্রহ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাঁর নিকট নিঃস্ব হয়ে পড়ে। ফলে সে এমন কোনো বিষয় বা হাল অবলোকন করা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যা সে নিজের দিকে সম্বন্ধ করত; কেননা নিজের হাল দেখার কারণে সে তার মওলা ও স্রষ্টার মহিমা প্রত্যক্ষ করা এবং তাঁর গুণাবলী পর্যবেক্ষণ করা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। সুতরাং যে ব্যক্তি কেবল নিজের 'হাল' প্রত্যক্ষ করে, সে তার স্রষ্টার দান ও অনুগ্রহ দেখা এবং সকল কার্যকারণের ঊর্ধ্বে তাঁর আদি অস্তিত্বের প্রমাণ প্রত্যক্ষ করা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে; সে নিজের নফসের মর্যাদা প্রত্যক্ষ করার কারণে মওলার ইজ্জত ও মহিমা থেকে বিমুখ থাকে। তখন এই অভাবী বান্দার ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টে যায় এবং তার মওলার মহিমা ও অনুগ্রহের অবলোকন এবং তাঁর অনাদি অস্তিত্বের প্রত্যক্ষকরণ তাকে এমন সকল হাল থেকে বিমুখ করে রাখে যা নিয়ে বান্দা গর্ব বা মর্যাদা বোধ করে। একইভাবে প্রত্যাবর্তনও...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
إلى السبق بمطالعة الفضل يمحص من أَدناس مطالعات المقامات، فالمقام ما كان راسخاً فيه، والحال ما كان عارضاً لا يدوم. فمطالعات المقامات [وشرفه] بها وكونه يرى نفسه صاحب مقام قد حققه وكمله فاستحق أَن ينسب إِليه ويوصف به مثل أَن يقال زاهد صابر خائف راج محب راض، فكونه يرى نفسه مستحقاً بأَن تضاف المقامات إِليه وبأَن يوصف بها- على وجه الاستحقاق لها- خروج عن الفقر إِلى الغنى، وتعد لطور العبودية، وجهل بحق الربوبية فالرجوع إِلى السبق بمطالعة الفضل يستغرق همة العبد ويمحصه ويطهره من مثل هذه الأَدناس، فيصير مصفَّى بنور الله [عز وجل] عن رذائل هذه الأَرجاس.
[الدرجة الثالثة من درجات الفقر]
قوله: "والدرجة الثالثة صحة الاضطرار، والوقوع فى يد التقطع الوحدانى، والاحتباس فى بدء قيد التجريد، وهذا فقر الصوفية". وهذه الدرجة فوق الدرجتين السابقتين عند أَرباب السلوك، وهى الغاية التى شمروا إِليها وحاموا حولها، فإِن الفقر الأَول فقر عن الأَعراض الدنيوية، والفقر الثانى فقر عن رؤية المقامات والأَقوال، وهذا الفقر الثالث فقر عن ملاحظة الموجود الساتر للعبد عن مشاهدة الوجود، فيبقى الوجود الحارث فى قبضة الحق عز وجل الهباء المنثور فى الهواءِ، يتقلب بتقليبه إِياه، ويسير فى شاهد العبد كما هو فى الخارج، فتمحو رؤية التوحيد عن العبد شواهد استبداده واستقلاله بأَمر من الأُمور، ولو فى النفس واللمحة والطرفة والهمة والخاطر والوسوسة، إِلا بإِرادة المريد الحق سبحانه وتدبيره وتقديره ومشيئته، فيبقى العبد كالكرة الملقاة بين صولجانات القضاءِ والقدر، تقلبها كيف شاءَت بصحة شهادة قيومية من له الخلق والأَمر وتفرده بذلك دون ما سواه. وهذا الأَمر لا يدرك بمجرد العلم، ولا يعرفه إِلا من تحقق به أَولاح له منه بارق، وربما ذهل صاحب هذا المشهد عن الشعور بوجوده لغلبة شهود وجود القيوم عليه، فهناك يصح من مثل هذا العبد الاضطرار إِلى الحى القيوم، وشهد فى كل ذرة من ذراته الظاهرة والباطنة فقراً تاماً إِليه من جهة كونه رباً ومن جهة كونه إلهاً معبوداً لا غنى له عنه كما لا وجود له بغيره. فهذا هو الفقر الأَعلى الذى دارت عليه رحى القوم، بل هو قطب تلك الرحى.
وإِنما يصح له هذا بمعرفتين لا بد منهما: معرفة حقيقة الربوبية والإلَهية، ومعرفة حقيقة النفس
অনুগ্রহের পূর্ববর্তিতার প্রতি দৃষ্টিদান মাকামাত বা আত্মিক স্তরসমূহের প্রতি নিবদ্ধ দৃষ্টির অপবিত্রতা থেকে পরিচ্ছন্ন করে। মাকাম হলো যা অন্তরে সুদৃঢ় হয়, আর হাল হলো যা আকস্মিক ও অস্থায়ী। মাকামাতের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করা, এর মাধ্যমে নিজের সম্মান দেখা এবং নিজেকে কোনো মাকামের অধিকারী মনে করা—যা সে অর্জন ও পূর্ণ করেছে এবং মনে করে যে সে এর যোগ্য, যেমন তাকে বলা হবে: সংসারবিরাগী, ধৈর্যশীল, ভীত, আশাবাদী, প্রেমিক বা সন্তুষ্ট—নিজেকে এই মাকামসমূহের যোগ্য মনে করা এবং এগুলোকে নিজের প্রতি সম্বন্ধ করা হলো অভাবহীনতার দাবি করা, যা ফকর বা মুখাপেক্ষীতা থেকে বিচ্যুতি, দাসত্বের সীমানা লঙ্ঘন এবং রুবুবিয়্যতের হক সম্পর্কে অজ্ঞতা। অতএব অনুগ্রহের পূর্ববর্তিতার প্রতি দৃষ্টিদানের দিকে ফিরে আসা বান্দার সংকল্পকে নিমগ্ন করে এবং তাকে এ জাতীয় অপবিত্রতা থেকে পরিশুদ্ধ করে। ফলে সে মহামহিম আল্লাহর নূরের মাধ্যমে এসব নোংরা কলুষতা থেকে মুক্ত ও স্বচ্ছ হয়ে যায়।
[ফকরের স্তরসমূহের মধ্যে তৃতীয় স্তর]
তাঁর উক্তি: "তৃতীয় স্তরটি হলো চরম নিরুপায় অবস্থার সঠিকতা, একত্ববাদী বিচ্ছিন্নতার হাতের মধ্যে নিপতিত হওয়া এবং রিক্ততার প্রাথমিক শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়া; আর এটাই হলো সুফিদের ফকর।" এই স্তরটি সুলুকপন্থীদের নিকট পূর্ববর্তী দুটি স্তরের ঊর্ধ্বে। এটিই সেই লক্ষ্য যার জন্য তারা কোমর বেঁধেছেন এবং যার চতুর্দিকে তারা প্রদক্ষিণ করেছেন। কারণ প্রথম ফকর হলো পার্থিব মোহমুক্ততা, দ্বিতীয় ফকর হলো মাকামাত ও আমলসমূহ প্রত্যক্ষ করা থেকে বিমুখতা। আর এই তৃতীয় ফকর হলো এমন বিদ্যমান বস্তুর পর্যবেক্ষণ থেকে বিমুখ হওয়া যা বান্দাকে প্রকৃত অস্তিত্বের অবলোকন থেকে আড়াল করে রাখে। ফলে নশ্বর অস্তিত্ব মহামহিম সত্যের হাতের মুঠোয় বাতাসের মধ্যে ধূলিকণার মতো হয়ে যায়, যা তাঁর পরিচালনার মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। এটি বান্দার সামনে বাহ্যিক জগতের মতোই প্রকাশিত হয়। অতঃপর তাওহীদের পর্যবেক্ষণ বান্দার মধ্য থেকে তার যেকোনো বিষয়ের স্বৈরতান্ত্রিক ও স্বাধীন সত্তার প্রকাশকে মিটিয়ে দেয়—তা নফস, মুহূর্ত, চোখের পলক, সংকল্প, চিন্তা বা কুমন্ত্রণা যা-ই হোক না কেন—সবই পবিত্র সত্তা মহান আল্লাহর ইচ্ছা, পরিচালনা, নির্ধারণ ও মাকসুদ ব্যতিরেকে অসম্ভব। তখন বান্দা ফয়সালা ও তকদীরের লাঠির সামনে নিক্ষিপ্ত একটি বলের মতো হয়ে যায়, যা মহান আল্লাহর চিরস্থায়ী রক্ষকসত্তা (কাইয়ূমিয়্যাত) এবং সৃষ্টি ও নির্দেশে তাঁর একত্বের সঠিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে তাঁর ইচ্ছামতো পরিচালিত হয়। এই বিষয়টি কেবল জ্ঞান দ্বারা উপলব্ধি করা যায় না। যে ব্যক্তি এর বাস্তবতা অর্জন করেছে অথবা যার কাছে এর সামান্য আলোকছটা প্রকাশিত হয়েছে, সে ব্যতীত আর কেউ এটি অনুধাবন করতে পারে না। অনেক সময় এই দৃশ্যের অধিকারী ব্যক্তি কাইয়ূমের অস্তিত্বের প্রাবল্যের কারণে নিজের অস্তিত্বের অনুভূতি থেকেও উদাসীন হয়ে যান। এমতাবস্থায় এই বান্দার পক্ষ থেকে চিরঞ্জীব ও রক্ষক সত্তার প্রতি চরম নিরুপায়তা ও অভাবগ্রস্ততা সঠিক হয়। সে তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য প্রতিটি অণু-পরমাণুতে প্রতিপালক এবং মাবুদ হিসেবে তাঁর প্রতি পূর্ণ মুখাপেক্ষীতা অনুভব করে, কারণ তাঁর অস্তিত্ব ব্যতিরেকে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। এটাই হলো সেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফকর যাকে কেন্দ্র করে এই জামাতের যাবতীয় কর্মকাণ্ড আবর্তিত হয়, বরং এটিই হলো সেই চক্রের মূল কেন্দ্র।
এটি কেবল দুটি অপরিহার্য পরিচয়ের মাধ্যমেই সঠিক হতে পারে: প্রতিপালকত্ব ও উপাস্যত্বের হাকীকত সম্পর্কে জানা এবং নিজের নফসের হাকীকত সম্পর্কে জানা।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والعبودية، فهنالك تتم له معرفة هذا الفقر، فإِن أعطى هاتين المعرفتين حقهما من العبودية اتصف بهذا الفقر حالاً، فما أَغناه حينئذ من فقير، وما أَعزه من ذليل، وما أَقواه من ضعيف، وما آنسه من وحيد. فهو الغنى بلا مال القوى بلا سلطان، العزيز بلا عشيرة، المكفى بلا عتاد. قد قرت عينه بالله [فقرت به كل عين، واستغنى بالله] فافتقر إِليه الأَغنياءُ والملوك. ولا يتم له ذلك إِلا بالبراءَة من فرث الجبر ودمه فإِنه إِن طرق باب الجبر انحل عنه نظام العبودية، وخلع ربقة الإِسلام من عنقه وشهد أَفعاله كلها طاعات للحكم القدرى الكونى وأَنشد:
أَصبحت منفعلاً لما يختاره
… منى، ففعلى كله طاعات
وإِذ قيل له: اتق الله ولا تعصه، يقول: إِن كنت عاصياً لأَمره، فأَنا مطيع لحكمه وإِرادته َ، فهذا منسلخ من الشرائع، بريء من دعوة الرسل، شقيق لعدو الله إِبليس بل وظيفة الفقير فى هذا [الموضع] ، وفى هذه الضرورة مشاهدة الأَمر والشرع، ورؤية قيامه بالأَفعال وصدورها منه كسباً واختياراً، وتعلق الأَمر والنهى بها طلباً وتركاً، وترتب الذم والمدح عليها شرعاً وعقلاً، وتعلق الثواب والعقاب بها آجلاً وعاجلاً، فمتى اجتمع له هذا الشهود الصحيح إِلى [شهود] الاضطرار فى حركاته وسكناته، والفاقة التامة إِلى مقلب القلوب ومن بيده أَزمة الاختيار ومن إِذَا شاءَ شيئاً وجب وجوده، وإِذا لم يشأْ امتنع وجوده، وأَنه لا هادى لمن أضله ولا مضل لمن هداه وأنه هو الذى يحرك [القلوب بالإرادات والجوارح بالأعمال وأنها مدبرة تحت] تسخيره مذللة تحت قهره، وأنها أعجز وأضعف من أَن تتحرك بدون [مشيئته، وأن] مشيئته نافذة فيها كما هى نافذة فى حركات الأفلاك والمياه والأَشجار وأَنه حرك كلا منها بسبب اقتضى تحريكه وهو خالق السبب المقتضى وخالق السبب خالق للمسبب، فخالق الإِرادة الحازمة التى هى سبب الحركة والفعل الاختيارى خالق لهما، وحدوث الإِرادة بلا خالق محدث محال، وحدوثها بالعبد بلا إِرادة منه محال، وإِن كان [بإرادته] فإِرادته للإِرادة كذلك ويستحيل بها التسلسل، فلا بد من فاعل أوجد تلك الإرادة التى هى سبب الفعل، فهنا يتحقق الفقر والفاقة والضرورة التامة إِلى مالك الإِرادات ورب القلوب ومصرفها كيف شاءَ، فما شاءَ أَن يزيغه منها أَزاغه، وما شاءَ أَن يقيمه منها أَقامه: {رَبّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ
এবং দাসত্ব; সেখানেই তার নিকট এই মুখাপেক্ষিতার (ফাকর) পরিচয় পূর্ণতা পায়। যদি সে এই দুই প্রকার পরিচয়কে দাসত্বের যথাযথ হক প্রদান করে, তবে সে তৎক্ষণাৎ এই মুখাপেক্ষিতার গুণে গুণান্বিত হয়। তখন সেই মুখাপেক্ষী ব্যক্তি কতই না অভাবমুক্ত, সেই বিনীত ব্যক্তি কতই না সম্মানিত, সেই দুর্বল ব্যক্তি কতই না শক্তিশালী এবং সেই নিঃসঙ্গ ব্যক্তি কতই না প্রফুল্ল! সে সম্পদ ছাড়াই ধনী, ক্ষমতা ছাড়াই শক্তিশালী, আত্মীয়-পরিজন ছাড়াই সম্মানিত এবং উপকরণ ছাড়াই পর্যাপ্ততা প্রাপ্ত। আল্লাহর মাধ্যমেই তার চক্ষু শীতল হয়েছে [তার কারণে অন্য সবার চক্ষুও শীতল হয় এবং আল্লাহর মাধ্যমেই সে অমুখাপেক্ষী হয়েছে], ফলে ধনী ও বাদশাহগণও তার মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছে। জাবর বা নিরঙ্কুশ বাধ্যবাধকতার পঙ্কিলতা ও রক্ত থেকে মুক্ত হওয়া ব্যতীত এটি তার জন্য পূর্ণতা পায় না। কেননা সে যদি জাবরের দরজায় কড়া নাড়ে, তবে তার দাসত্বের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে এবং সে তার ঘাড় থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলে। সে তখন তার সকল কর্মকে মহাজাগতিক তাকদিরি ফয়সালার প্রতি আনুগত্য হিসেবে দেখতে শুরু করে এবং আবৃত্তি করে:
তিনি আমার জন্য যা নির্বাচন করেছেন, আমি তারই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছি
… অতএব আমার সকল কর্মই আনুগত্য।
যখন তাকে বলা হয়: আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর অবাধ্য হয়ো না, তখন সে বলে: আমি যদি তাঁর নির্দেশের অবাধ্য হয়েও থাকি, তবুও আমি তাঁর ফয়সালা ও ইচ্ছার প্রতি অনুগত। এরূপ ব্যক্তি শরিয়ত থেকে বিচ্যুত, রাসুলগণের দাওয়াত থেকে মুক্ত এবং আল্লাহর শত্রু ইবলিসের সহোদর। বরং এই ক্ষেত্রে এবং এই চরম অবস্থায় মুখাপেক্ষী বান্দার দায়িত্ব হলো আল্লাহর আদেশ ও শরিয়তকে প্রত্যক্ষ করা এবং নিজের কর্মসমূহ সম্পাদন ও তা নিজের উপার্জন ও ইচ্ছার মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়াকে দেখা; সেই সাথে আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে সেগুলোর সাথে তলব (চাওয়ার) ও ত্যাগের সম্পর্ক থাকা, শরিয়ত ও বিবেকের দৃষ্টিতে তার ওপর প্রশংসা ও নিন্দা অর্পিত হওয়া এবং ইহকাল ও পরকালে তার ওপর সওয়াব ও আজাব সংশ্লিষ্ট হওয়াকে দেখা। যখনই তার এই সঠিক প্রত্যক্ষীকরণের সাথে তার নড়াচড়া ও স্থিরতায় চরম বাধ্যবাধকতার প্রত্যক্ষকরণ এবং অন্তরসমূহ পরিবর্তনকারী ও যাঁর হাতে ইচ্ছার চাবিকাঠি—যিনি কোনো কিছু চাইলে তার অস্তিত্ব আবশ্যক হয় এবং যা না চান তার অস্তিত্ব অসম্ভব হয়ে পড়ে—তাঁর প্রতি পূর্ণ অভাববোধের সমন্বয় ঘটবে; এবং এই বিশ্বাস থাকবে যে, তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই এবং তিনি যাকে পথপ্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই; এবং তিনিই সেই সত্তা যিনি ইচ্ছার মাধ্যমে অন্তরকে এবং কর্মের মাধ্যমে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পরিচালিত করেন এবং এ সবকিছুই তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন ও তাঁর পরাক্রমের অধীন; আর এ সকল বিষয় তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত চালিত হওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত অক্ষম ও দুর্বল। তাঁর ইচ্ছা এগুলোর ওপর তেমনই কার্যকর যেমনটি কার্যকর আসমানি কক্ষপথ, পানি ও বৃক্ষরাজির গতিবিধির ওপর। তিনি এগুলোর প্রত্যেকটিকে এমন কারণের মাধ্যমে সচল করেন যা তাকে সচল করাকে আবশ্যক করে। তিনি সেই আবশ্যিক কারণের স্রষ্টা এবং কারণের স্রষ্টাই কার্যফলের স্রষ্টা। সুতরাং সুদৃঢ় ইচ্ছা—যা নড়াচড়া ও ঐচ্ছিক কর্মের কারণ—তার স্রষ্টাই উক্ত কর্মসমূহের স্রষ্টা। স্রষ্টা ব্যতীত কোনো ইচ্ছার নতুন করে উদ্ভব হওয়া অসম্ভব এবং বান্দার পক্ষ থেকে কোনো ইচ্ছা ব্যতীতই তার মধ্যে কোনো ইচ্ছার উদ্ভব হওয়াও অসম্ভব। আর যদি তা বান্দার ইচ্ছায় হয়, তবে সেই ইচ্ছার জন্য আরেকটি ইচ্ছা প্রয়োজন হবে এবং এভাবে অসীম ধারাবাহিকতার সৃষ্টি হবে যা অসম্ভব। অতএব এমন একজন কর্তা অবশ্যই প্রয়োজন যিনি সেই ইচ্ছাকে অস্তিত্ব দান করেছেন যা কর্মের মূল কারণ। এখানেই ইচ্ছার মালিক, অন্তরের পালনকর্তা এবং অন্তরসমূহকে যেভাবে ইচ্ছা পরিবর্তনকারীর প্রতি চরম মুখাপেক্ষিতা ও অভাববোধ সত্য প্রমাণিত হয়। তিনি এগুলোর মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা বিচ্যুত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত রাখেন: {হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের অন্তরসমূহকে সত্যপথ প্রদর্শনের পর বিচ্যুত করবেন না...}
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لّدُنْكَ رَحْمَةً إِنّكَ أَنْتَ الْوَهّابُ} [آل عمران: 8] ، فهذا هو الفقر الصحيح المطابق للعقل والفطرة والشرع، ومن خرج عنه وانحرف إِلى أَحد الطرفين زاغ قلبه عن الهدى، وعطل مالك الملك الحق وانفراده بالتصرف والربوبية عن أَوامره وشرعه وثوابه وعقابه. وحكم هذا الفقير المضطر إِلى خالقه فى كل طرفة عين وكل نَفَس أَنه إِن حرك بطاعة أَو نعمة شكرها وقال: هذا من فضل الله ومنَّه وجوده فله الحمد. وإِن حرك بمباديء معصيته صرخ ولجأَ واستغاث وقال: "أَعوذ بك منك، يا مقلب القلوب ثبت قلبى على دينك يا مصرف القلوب صرف قلبى على طاعتك"، فإن تم تحريكه بالمعصية التجأَ التجاءَ أَسير قد أسره عدوه وهو يعلم أَنه لا خلاص له من أَسره إِلا بأَن يفكُّه سيده من الأَسر، ففكاكه فى يد سيده ليس فى يده منه شيء البتة، ولا يملك لنفسه ضراً ولا نفعاً ولا موتاً ولا حياة ولا نشوراً، فهو فى أَسر العدو ناظر إِلى سيده وهو قادر [على تخليصه] ، قد اشتدت ضرورته إِليه، وصار اعتماده كله عليه. قال سهل: إِنما يكون الالتجاءُ، على معرفة الابتلاء، يعنى وعلى قدر الابتلاءِ تكون المعرفة بالمبتلى ومن عرف قوله صلى الله عليه وسلم: "وأَعُوذ بك منك"، وقام بهذه المعرفة شهوداً وذوقاً، وأَعطاها حقها من العبودية، فهو الفقير حقاً، ومدار الفقر الصحيح على هذه الكلمة، فمن [زرق] فهم سر هذا [فهم سر] الفقر المحمدى، فهو سبحانه الذى ينجى من قضائه بقضائه، وهو الذى يعيذ بنفسه من نفسه، وهو الذى يدفع ما منه بمامنه، فالخلق كله له، والأَمر كله له والحكم كله له، وما شاءَ كان وما لم يشأْ لم يكن، وما شاءَ لم يستطع أَن يصرفه إِلا مشيئته، وما لم يشأْ لم يمكن أَن يجلبه إِلا مشيئته، فلا يأتى بالحسنات إِلا هو، ولا يذهب بالسيئات إِلا هو، ولا يهدى لأَحسن الأَعمال والأَخلاق إِلا هو، ولا يصرف سيئها إِلا هو: {وَإِن يَمْسَسْكَ اللهُ بِضُرّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلاّ هُوَ وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَآدّ لِفَضْلِهِ} [يونس: 107] ، والتحقق بمعرفة هذا يوجب صحة الاضطرار وكمال الفقر والفاقة، ويحول بين العبد وبين رؤية أَعماله وأَحواله والاستغناءِ بها والخروج عن رفقة العبودية إِلى دعوى ما ليس له. وكيف يدعى مع الله حالاً أَو ملكة أَو مقاماً من قلبه وإِرادته وحركاته الظاهرة والباطنة بيد ربه ومليكة لا يملك هو منها شيئاً، وإِنما هى بيد مقلب القلوب ومصرفها كيف يشاءُ فالإِيمان بهذا
আমাদেরকে হিদায়াত দেওয়ার পর এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা। [আলে ইমরান: ৮], এটিই হলো প্রকৃত অভাবগ্রস্ততা (ফকর), যা বুদ্ধি, বিবেক ও শরীয়তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যে ব্যক্তি এ থেকে বিচ্যুত হয় এবং দুই প্রান্তের কোনো এক দিকে ঝুঁকে পড়ে, তার অন্তর সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয় এবং সে সত্য অধিপতিকে তাঁর আদেশ, শরীয়ত এবং সওয়াব ও শাস্তির ক্ষেত্রে তাঁর কর্তৃত্ব ও প্রভুত্বে একক হওয়া থেকে অস্বীকার করে। আর তার স্রষ্টার প্রতি চোখের পলক ও প্রতিটি নিঃশ্বাসে মুখাপেক্ষী এই অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির বিধান হলো যে, সে যদি কোনো আনুগত্য বা নিআমতের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তবে সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং বলে: এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, করুণা ও দান; সুতরাং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য। আর যদি সে কোনো গুনাহের প্রারম্ভিকতার দিকে ধাবিত হয়, তবে সে আর্তনাদ করে, আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং সাহায্য চায় আর বলে: "আমি আপনার থেকে আপনারই নিকট আশ্রয় চাচ্ছি; হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন; হে অন্তরসমূহের বিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে দিন"। অতঃপর যদি তাকে পাপের দ্বারা পরিচালিত করা হয়, তবে সে এমন এক বন্দীর মতো আশ্রয় প্রার্থনা করে যাকে তার শত্রু বন্দী করেছে, আর সে জানে যে তার মনিব তাকে মুক্তি দেওয়া ছাড়া এই বন্দিদশা থেকে তার কোনো নিস্তার নেই। সুতরাং তার মুক্তি তার মনিবের হাতেই, তার নিজের হাতে এর কিছুই নেই। সে নিজের কোনো অপকার, উপকার, মৃত্যু, জীবন বা পুনরুত্থানের মালিক নয়। সে শত্রুর হাতে বন্দী হয়ে তার মনিবের দিকে তাকিয়ে থাকে, আর তিনি তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম। তাঁর প্রতি তার প্রয়োজন তীব্র হয়ে ওঠে এবং তার সমস্ত নির্ভরতা তাঁরই ওপর নিবদ্ধ হয়। সহল বলেন: আশ্রয় প্রার্থনা কেবল পরীক্ষার পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করেই হয়। অর্থাৎ পরীক্ষার মাত্রা অনুযায়ী পরীক্ষকের পরিচয় লাভ হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী—"এবং আমি আপনার থেকে আপনারই নিকট আশ্রয় চাচ্ছি"—চিনতে পেরেছে এবং এই জ্ঞানকে প্রত্যক্ষ দর্শন ও অনুভবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং দাসত্বের হক আদায় করেছে, সেই প্রকৃত অভাবগ্রস্ত। প্রকৃত অভাবগ্রস্ততার মূল ভিত্তি হলো এই বাক্যের ওপর। যাকে এই রহস্য বোঝার তাওফিক দেওয়া হয়েছে, সে মুহাম্মাদী ফকরের রহস্য বুঝতে পেরেছে। কেননা তিনি সুবহানাহু ওয়াতাআলা তাঁর ফয়সালা থেকে তাঁর ফয়সালার মাধ্যমেই মুক্তি দেন, তিনিই তাঁর সত্তা থেকে তাঁর সত্তার মাধ্যমেই আশ্রয় দেন এবং যা তাঁর পক্ষ থেকে আসে তা তাঁর মাধ্যমেই প্রতিহত করেন। সমস্ত সৃষ্টি তাঁরই, সমস্ত আদেশ তাঁরই এবং সমস্ত বিচার তাঁরই। তিনি যা চান তা হয়, আর যা চান না তা হয় না। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কোনো কিছুকে পরিবর্তন করার ক্ষমতা কারও নেই এবং তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কোনো কিছুকে আনয়ন করাও সম্ভব নয়। সুতরাং তিনি ছাড়া কেউ কল্যাণ নিয়ে আসতে পারে না, তিনি ছাড়া কেউ অমঙ্গল দূর করতে পারে না। তিনি ছাড়া কেউ উত্তম কাজ ও চরিত্রের দিকে হিদায়াত দিতে পারে না এবং তিনি ছাড়া কেউ মন্দ কাজ ও চরিত্রকে দূর করতে পারে না: {আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো কষ্টের ছোঁয়া দেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই; আর যদি তিনি তোমার জন্য কোনো কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই} [ইউনুস: ১০৭]। এই জ্ঞানের যথাযথ উপলব্ধি মুখাপেক্ষী হওয়ার বিশুদ্ধতা এবং অভাবগ্রস্ততার পূর্ণতা এনে দেয়। এটি বান্দাকে তার আমল ও অবস্থার ওপর দৃষ্টি দেওয়া এবং সেগুলোর মাধ্যমে অমুখাপেক্ষী মনে করা থেকে বিরত রাখে, এবং দাসত্বের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এমন কিছু দাবি করা থেকে রক্ষা করে যা তার নয়। কীভাবে একজন আল্লাহর সাথে কোনো অবস্থা, যোগ্যতা বা মাকামের দাবি করতে পারে, যার অন্তর, ইচ্ছা এবং প্রকাশ্য ও গোপন নড়াচড়া তার রব ও মালিকের হাতে, যার ওপর তার নিজের কোনো অধিকার নেই? বরং এ সবকিছুই অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী ও বিবর্তনকারীর হাতে, তিনি যেভাবে চান সেভাবে তা পরিচালনা করেন। সুতরাং এর ওপর ঈমান রাখা...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সাআদাতাইন - ত আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والتحقق به نظام التوحيد، ومتى من القلب انحل نظام التوحيد، فسبحان من لا يوصل إِليه إِلا به. ولا يطاع إِلا بمشيئته، ولا ينال ما عنده من الكرامة إِلا بطاعته ولا سبيل إِلى طاعته إِلا بتوفيقه ومعونته فعاد الأَمر كله إِليه كما ابتدأَ الأَمر كله منه، فهو الأَول والآخر وأن إِلى ربك المنتهى.
ومن وصل إِلى هذا الحال وقع فى يد التقطع والتجريد، وأَشرف على مقام التوحيد الخاص، فإِن التوحيد نوعان: عام وخاص، كما أَن الصلاة نوعان، والذكر نوعان، وسائر القرب كذلك خاصية وعامية، فالخاصية ما بذل فيها العامل نصحه وقصده بحيث يوقعها على أَحسن الوجوه وأكملها، والعامية ما لم يكن كذلك. فالمسلمون كلهم مشتركون فى إِتيانهم بشهادة أن لا إِله إِلا الله، وتفاوتهم فى معرفتهم بمضمون هذه الشهادة وقيامهم باطناً وظاهراً أَمر لا يحصيه إِلا الله عز وجل، وقد ظن كثير من الصوفية أَن التوحيد الخاص أَن يشهد العبد المحرك له ويغيب عن المتحرك وعن الحركة فيغيب بشهوده عن حركته، ويشهد نفسه شبحاً فانياً يجرى على تصاريف المشيئة، كمن غرق فى البحر فأَمواجه ترفعه طوراً وتخفضه طوراً، فهو غائب بها عن ملاحظة حركته فى نفسه، بل قد اندرجت حركته فى ضمن حركة الموج وكأَنه لا حركة له بالحقيقة، وهذا وإِن ظنه كثير من القوم غاية، وظنه بعضهم لازماً من لوازم التوحيد فالصواب أَن من ورائه ما هو أَجل منه، وغاية هذا الفناءِ فى توحيد الربوبية، وهو أَن لا يشهد رباً وخالقاً ومدبراً إِلا الله، وهذا هو الحق، ولكن توحيد الربوبية وحده لا يكفى فى النجاة فضلاً عن أَن يكون شهوده والفناءُ فيه هو غاية الموحدين ونهاية مطلبهم، فالغاية التى لا غاية وراءَها ولا نهاية بعدها الفناءُ فى توحيد الإلهية وهو أَن يفنى بمحبة ربه عن محبة كل ما سواه، وبتأَلهه عن تأَله ما سواه، وبالشوق إِليه وإِلى لقائه عن الشوق إِلى ما سواه، وبالذل [والفقر] له والفقر إِليه من جهة كونه معبوده وإِلهه ومحبوبه عن الذل إِلى كل ما سواه، وكذلك يفنى بخوفه ورجائه عن خوف ما سواه ورجائه، فيرى أَنه ليس فى الوجود ما يصلح له ذلك إِلا الله، ثم يتصف بذلك حاله وينصبغ به قلبه صبغة ثم يفنى بذلك عما سواه، فهذا هو التوحيد الخاص الذى شمر إِليه العارفون، والورد الصافى الذى حام حوله المحبون، ومتى وصل إليه العبد
তাওহীদের শৃঙ্খলা তাঁর মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়; আর যখন হৃদয় থেকে তাওহীদের শৃঙ্খলা শিথিল হয়ে যায় (তখনই পতন ঘটে)। সুতরাং সেই মহান সত্তা পবিত্র, যাঁর নিকট পৌঁছানো সম্ভব নয় তাঁরই সাহায্য ব্যতিরেকে। তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত তাঁর আনুগত্য করা যায় না এবং তাঁর আনুগত্য ব্যতীত তাঁর নিকট রক্ষিত সম্মান অর্জন করা সম্ভব নয়। আর তাঁর তাওফিক ও সাহায্য ব্যতীত তাঁর আনুগত্যের কোনো পথ নেই। সুতরাং সমস্ত বিষয় তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, যেমন সমস্ত বিষয়ের সূচনাও তাঁর থেকেই হয়েছিল। কারণ তিনিই আদি ও অন্ত এবং আপনার রবের নিকটেই রয়েছে চূড়ান্ত গন্তব্য।
যে ব্যক্তি এই অবস্থায় পৌঁছায়, সে বিচ্ছেদ ও নির্জনতার কবলে পতিত হয় এবং তাওহীদে খাস বা বিশেষ তাওহীদের মাকামে উপনীত হয়। কারণ তাওহীদ দুই প্রকার: সাধারণ এবং বিশেষ। যেমন সালাত দুই প্রকার, যিকির দুই প্রকার এবং অন্যান্য সকল নৈকট্যমূলক আমলও তেমনি বিশেষ ও সাধারণ। বিশেষ হলো সেটি যাতে আমলকারী তার একনিষ্ঠতা ও সংকল্প এমনভাবে ব্যয় করে যাতে সে আমলটিকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ রূপে সম্পাদন করতে পারে। আর সাধারণ হলো যা এমন নয়। সকল মুসলিমই আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—এই সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সমান অংশীদার, কিন্তু এই সাক্ষ্যের মর্ম উপলব্ধি এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে তা পালনের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যকার ব্যবধান এমন বিষয় যা মহান আল্লাহ ব্যতীত কেউ গণনা করতে পারে না। অনেক সূফী মনে করেছেন যে, বিশেষ তাওহীদ হলো বান্দা কেবল তার চালিকাশক্তিকে প্রত্যক্ষ করবে এবং চালিত বস্তু ও গতিবিধি থেকে বিমুখ থাকবে। ফলে সে স্বীয় দর্শনের মাধ্যমে নিজের নড়াচড়া থেকেও বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সে নিজেকে একটি নশ্বর ছায়া হিসেবে দেখবে যা কেবল ঐশ্বরিক ইচ্ছার বিবর্তনে পরিচালিত হয়। যেমন সমুদ্রে নিমজ্জিত ব্যক্তি, যার ঢেউ তাকে কখনো উপরে তুলে ধরে আবার কখনো নিচে নামিয়ে দেয়। সে তার মাঝে নিজের কোনো নড়াচড়া অনুভব করা থেকে বিমুখ থাকে, বরং তার গতিবিধি ঢেউয়ের গতির সাথে বিলীন হয়ে যায়, যেন প্রকৃতপক্ষে তার কোনো নিজস্ব গতি নেই। যদিও এই দলের অনেকে এটাকে চরম লক্ষ্য মনে করেছেন এবং কেউ কেউ একে তাওহীদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করেছেন, তবে সঠিক কথা হলো যে এর ঊর্ধ্বে আরও মহান বিষয় রয়েছে। এই বিলীন হওয়া বা ফানার চূড়ান্ত স্তর হলো তাওহীদে রুবুবিয়্যাত, আর তা হলো আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে প্রতিপালক, স্রষ্টা ও পরিচালক হিসেবে প্রত্যক্ষ না করা। এটি সত্য, তবে কেবল তাওহীদে রুবুবিয়্যাত নাজাতের জন্য যথেষ্ট নয়, এটাকে তাওহীদপন্থীদের চরম লক্ষ্য বা শেষ গন্তব্য হওয়া তো দূরের কথা। সুতরাং যে লক্ষ্যের পর আর কোনো লক্ষ্য নেই এবং যার পরে কোনো শেষ নেই, তা হলো তাওহীদে ইলাহিয়্যাতের মধ্যে বিলীন হওয়া। আর তা হলো রবের মহব্বতে লীন হয়ে অন্য সব কিছুর মহব্বত থেকে বিমুখ হওয়া, তাঁর উপাসনায় মগ্ন হয়ে অন্যের উপাসনা থেকে বিমুখ হওয়া, তাঁর প্রতি এবং তাঁর সাক্ষাতের প্রতি ব্যাকুলতায় অন্য সব কিছুর আকাঙ্ক্ষা থেকে বিমুখ হওয়া এবং একমাত্র মাবুদ, ইলাহ ও মাহবুব হিসেবে তাঁর নিকট হীনতা ও মুখাপেক্ষিতা প্রকাশের মাধ্যমে অন্যের নিকট হীনতা প্রকাশ থেকে বিমুখ হওয়া। একইভাবে তাঁর ভয় ও আশার মধ্যে লীন হয়ে অন্যের ভয় ও আশা থেকে বিমুখ হওয়া। ফলে সে দেখতে পায় যে, সমগ্র অস্তিত্বে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ এসকল গুণের যোগ্য নয়। অতঃপর তার অবস্থা এই গুণে গুণান্বিত হয় এবং তার হৃদয় এই রঙে রঞ্জিত হয় যে, সে এর মাধ্যমে অন্য সবকিছু থেকে বিলীন হয়ে যায়। এটাই হলো সেই বিশেষ তাওহীদ যার দিকে আরিফগণ ধাবিত হয়েছেন এবং এটাই সেই স্বচ্ছ প্রস্রবণ যার চারপাশে প্রেমিকগণ বিচরণ করেছেন। আর বান্দা যখন এই স্তরে পৌঁছায়...