(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح الكافية الشافية القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح الكافية الشافية
المؤلف: جمال الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن مالك الطائي الجياني
حققه وقدم له: عبد المنعم أحمد هريدي
الناشر: جامعة أم القرى مركز البحث العلمي وإحياء التراث الإسلامي كلية الشريعة والدراسات الإسلامية مكة المكرمة
الطبعة: الأولى، 1402 هـ - 1982 م
عدد الأجزاء: 5 (متسلسلة الترقيم) (الأخير فهارس)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শারহুল কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ বিভাগ: নাহু ও সরফ
কিতাব: শারহুল কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ
লেখক: জামালুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক আত-তাঈ আল-জিয়ানি
সম্পাদনা ও ভূমিকা: আব্দুল মুনিম আহমদ হারিদী
প্রকাশক: উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইসলামী ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কেন্দ্র, শরীয়াহ ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদ, মক্কা মুকাররমা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০২ হিজরী - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫ (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত) (শেষটি নির্ঘণ্ট)
[কিতাবের নম্বর মুদ্রণ সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديم:الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين والصلاة والسلام على نبينا الأمين، وعلى آله وصحبه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد:
فقد سعدت كثيرًا حين شرفني "مركز البحث العلمي، وتحقيق التراث" بجامعة أم القرى في مكة المكرمة بتحقيق كتاب "شرح الكافية الشافية" للإمام جمال الدين أبي عبد الله محمد بن عبد الله بن مالك، ذلك أن صحبتي لابن مالك ولمؤلفاته قديمة، ووثيقة.
فمؤلفات ابن مالك تعرفت عليها في سن مبكرة، وبالتحديد منذ بدأت حياتي العلمية حين كان حفظ الألفية، وغيرها من المتون -بجواز القرآن الكريم- عدة لا غنى عنها لطالب العلم.
وتعرفت على الشيخ حين بدأت دراساتي العليا، واتخذت من حياته وآثاره مجالًا لبحث حصلت به على درجة الماجستير.
وكان من بين الفصول التي تضمنها هذا البحث: الأصول التي بنى عليها ابن مالك آراءه النحوية، والموازنة بين آرائه في مختلف مؤلفاته.
ভূমিকা:সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম দয়ালু, অতিশয় মেহেরবান, বিচার দিবসের মালিক। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের বিশ্বস্ত নবী, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।
অতঃপর:
আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি যখন মক্কাতুল মুকাররমার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ কেন্দ্র' ইমাম জামালুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিকের রচিত "শারহু আল-কাফিয়াহ আল-শাফিয়াহ" গ্রন্থটি সম্পাদনার দায়িত্ব দিয়ে আমাকে সম্মানিত করেছে। এর কারণ হলো, ইবনে মালিক এবং তাঁর রচনাবলীর সাথে আমার সাহচর্য অনেক পুরনো ও নিবিড়।
ইবনে মালিকের রচনাবলীর সাথে আমার পরিচয় অল্প বয়সেই হয়েছিল, বিশেষ করে আমার জ্ঞানার্জনের জীবনের শুরু থেকে যখন আলফিয়্যাহ এবং অন্যান্য মূল পাঠসমূহ (মতন) মুখস্থ করা—পবিত্র কুরআনের পাশাপাশি—একজন জ্ঞানান্বেষীর জন্য অপরিহার্য পাথেয় ছিল।
আর শাইখের সাথে আমার গভীর পরিচয় হয়েছে যখন আমি উচ্চতর গবেষণা শুরু করি এবং আমি তাঁর জীবন ও কর্মকে আমার গবেষণার বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করি, যার মাধ্যমে আমি এম.এ (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেছি।
এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত অধ্যায়গুলোর মধ্যে ছিল: সেই সকল মূলনীতি যার ওপর ভিত্তি করে ইবনে মালিক তাঁর ব্যাকরণিক মতাদর্শ গড়ে তুলেছেন এবং তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত মতামতের মধ্যকার তুলনামূলক আলোচনা।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
واقتضى هذا -بطبيعة الحال- أن تكون تحت بصري، وبين يدي نسخ من مؤلفات الشيخ -وقد كانت في الغالب حينذاك مخطوطات- فسعيت إليها في مواقعها أنسخ منها بقلمي صورًا أحتفظ بها، وأقلب النظر بين صفحاتها من وقت لآخر.
وكلما مرت الليالي زادتني من ابن مالك قربًا، ولمصنفاته حبًا، فعقدت العزم على الإسهام في إحياء تراثه بالقدر الذي أستطيع.
فبدأت بمقدمته "عمدة الحافظ وعدة اللافظ" وشرحها فنشرتهما محققين (1).
وهأنذا أواصل المسيرة بتحقيق أرجوزته "الكافية الشافية" وشرحها.
والحق أن "الكافية الشافية" أرجوزة سهلة ميسرة، قل أن تسمح بمثلها القرائح، أو تطمح إلى النسخ على منوالها المطامح، فقد جمع فيها ناظمها مسائل النحو والصرف، وبسطها، ورتب الأبواب، وضبطها فغدت كما قال:
. . . . . . . . . . . مستوفية
… عن أكثر المصنفات مغنية
تكون للمبتدئين تبصرة
… وتظفر الذي انتهى بالتذكرة
أما شرحها، فقد التزم فيه المصنف رحمه الله منهجًا ارتضاه لنفسه، وأعلنه في المقدمة حين قال:
"سألني بعض الألباء، المعتنين بحقائق الأنباء أن أتلو "الكافية الشافية" بشرح تخف معه المئونة، وتحف به المعونة، ويكون به الغناء مضمونًا، والعناء مأمونًا. فأجبت دعوته".
--------------------------------------------
স্বাভাবিকভাবেই এটি দাবি করছিল যে, শাইখের রচনাবলির পাণ্ডুলিপিগুলো আমার দৃষ্টির সামনে এবং আমার হাতের নাগালে থাকবে—সে সময় এগুলোর অধিকাংশই ছিল পাণ্ডুলিপি—ফলে আমি সেগুলোর অবস্থানস্থলে গিয়ে নিজ কলমে সেগুলোর অনুলিপি তৈরি করার চেষ্টা করতাম যেন তা আমি সংরক্ষণ করতে পারি এবং সময়ে সময়ে সেগুলোর পাতা উল্টে দেখতে পারি।
দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে ইবন মালিকের প্রতি আমার নৈকট্য এবং তাঁর রচনাবলির প্রতি আমার ভালোবাসা বাড়তে থাকে; ফলে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার কাজে অবদান রাখার দৃঢ় সংকল্প করি।
সুতরাং আমি তাঁর ভূমিকা গ্রন্থ "উমদাতুল হাফিজ ওয়া উদদাতুল লাফিজ" এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ দিয়ে শুরু করি এবং সেগুলো আমি তাহকীকসহ প্রকাশ করি (১)।
আর এখন আমি তাঁর কাব্যগ্রন্থ "আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ" এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের তাহকীকের মাধ্যমে সেই পথচলা অব্যাহত রাখছি।
সত্য কথা হলো, "আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ" একটি সহজ ও প্রাঞ্জল পদ্যগ্রন্থ; মানুষের মেধা খুব কমই এই পর্যায়ের কাজ করতে সক্ষম হয় বা এর অনুকরণে কিছু করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। এর রচয়িতা এতে নাহু ও সরফের মাসআলাগুলো একত্র করেছেন, সেগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, অধ্যায়গুলো বিন্যস্ত করেছেন এবং সেগুলো সুসংহত করেছেন, ফলে এটি তেমন হয়ে উঠেছে যেমনটি তিনি বলেছেন:
. . . . . . . . . . . পরিপূর্ণ
… অধিকাংশ কিতাব থেকে অমুখাপেক্ষীকারী
এটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুস্পষ্ট জ্ঞান
… আর উন্নত পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্মারক লাভে সহায়তা করে
আর এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের ক্ষেত্রে, গ্রন্থকার (রহমতুল্লাহি আলাইহি) একটি পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন যা তিনি নিজের জন্য পছন্দ করেছেন এবং ভূমিকার শুরুতেই তা ব্যক্ত করেছেন যখন তিনি বলেন:
"সংবাদ ও তথ্যের হাকীকত অন্বেষী কিছু বুদ্ধিমান ব্যক্তি আমাকে অনুরোধ করেছেন যেন আমি 'আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ'-এর পরে এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখি যাতে কষ্ট লাঘব হয় এবং সহায়তা বেশি পাওয়া যায়; আর যার মাধ্যমে প্রয়োজন পূরণ হওয়া নিশ্চিত হয় এবং অহেতুক ক্লান্তি দূরীভূত হয়। তাই আমি তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
لذلك أقتصر في هذا الشرح على جلاء الغامض، وتيسير العسير، وضم المشتت وتقريب البعيد.
وهو إذا تحدث في موضوع ما تحدث حديثًا شاملًا، واستقصاه استقصاء كاملًا في تنسيق رائع، وأسلوب بديع مع دعم كلامه بما يحتاج إليه المقام من دليل وشاهد.
وبهذا صارت "الكافية الشافية" مع شرحها عنوانًا على عظمة ابن مالك، واقتداره وسعة إطلاعه.
وهناك أمر آخر يزيد من مكانه هذا الشرح، ذلك أن ما جاء في الألفية:
أحصي من الكافية الخلاصة .... . . . . . . . . . .
كما قال الناظم في الألفية.
وإذا كان ذلك كذلك كانت "الكافية الشافية" قد تضمنت ما في الألفين وزيادة.
وإذا كانت "الكافية الشافية" متضمنة ما في الألفية وزيادة، كان "شرح الكافية الشافية" شرحًا وافيًا للألفية بقلم ناظمها.
وبهذا ندرك السر في إهمال ابن مالك تأليف كتاب في شرح الألفية مخالفًا بذلك منهجه المعهود في التأليف، حيث كان يبدأ بالمصنفات الموجزة ثم يبسطها، وبالأراجيز ثم يشرحها.
كما يتضح السر في اعتماد كل شراح الألفية -بلا استثناء- على ما جاء في "شرح الكافية الشافية" لابن مالك.
ولقد حرصت في تحقيقي لهذا الكتاب أن أضع بين يدي القارئ الأصل الكامل لهذا الكتاب مضبوطًا، مقتصدًا في التعليق،
তাই আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে অস্পষ্ট বিষয়সমূহ স্পষ্ট করা, কঠিনকে সহজ করা, বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো একত্রিত করা এবং দূরবর্তী বিষয়গুলোকে নিকটবর্তী করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।
আর তিনি যখন কোনো বিষয়ে আলোচনা করেন, তখন অত্যন্ত ব্যাপক আলোচনা করেন এবং চমৎকার বিন্যাস ও অনুপম শৈলীর মাধ্যমে তা পূর্ণাঙ্গভাবে নিরূপণ করেন; সাথে সাথে সেই প্রসঙ্গের জন্য প্রয়োজনীয় দলীল ও প্রমাণের মাধ্যমে স্বীয় বক্তব্যকে সুদৃঢ় করেন।
এর মাধ্যমেই "আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ" এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইবন মালিকের শ্রেষ্ঠত্ব, সক্ষমতা এবং তাঁর পাণ্ডিত্যের ব্যাপকতার পরিচায়ক হয়ে উঠেছে।
এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের মর্যাদা বৃদ্ধি করার মতো আরও একটি বিষয় রয়েছে, আর তা হলো 'আলফিয়াহ'তে যা এসেছে:
'কাফিয়াহ' থেকে সারসংক্ষেপ চয়ন করা হয়েছে .... . . . . . . . . . .
যেমনটি গ্রন্থকার 'আলফিয়াহ'তে বলেছেন।
আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে "আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ" গ্রন্থটি 'আলফিয়াহ'তে যা আছে তা এবং অতিরিক্ত বিষয়াবলিকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে।
আর যেহেতু "আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ" গ্রন্থটি 'আলফিয়াহ'র বিষয়বস্তু ও অতিরিক্ত বিষয়াবলিকে ধারণ করে, সেহেতু "শারহু আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ" স্বয়ং গ্রন্থকারের লেখনীতে 'আলফিয়াহ'র একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
এর মাধ্যমেই আমরা ইবন মালিক কর্তৃক 'আলফিয়াহ'র জন্য পৃথক কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা না করার রহস্যটি বুঝতে পারি, যা তাঁর চিরচেনা রচনাশৈলীর পরিপন্থী ছিল; কেননা তিনি সাধারণত সংক্ষিপ্ত রচনা দিয়ে শুরু করতেন এবং পরবর্তীতে সেটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতেন এবং পদ্য রচনার পর তার ব্যাখ্যা প্রদান করতেন।
তেমনিভাবে 'আলফিয়াহ'র সকল ব্যাখ্যাকার—ব্যতিক্রমহীনভাবে—কেন ইবন মালিকের "শারহু আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ" এর ওপর নির্ভর করেছেন, তার রহস্যও স্পষ্ট হয়ে যায়।
আর আমি এই কিতাবটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে পাঠকের সামনে এর পূর্ণাঙ্গ মূল পাঠটি সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে সচেষ্ট হয়েছি এবং টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতা অবলম্বন করেছি।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
مقتصرًا على ما يحتاج إليه المقام دون إسراف أو حشو.
وسرت في التحقيق على النحو التالي:
1 - مقابلة النسخ المختلفة، والتنبيه في الحاشية على اختلاف النصوص.
2 - ضبط الآيات القرآنية الواردة في الكتاب، وبيان مواضعها في الكتاب العزيز.
3 - تتبع القراءات التي أشار إليها المصنف بالرجوع إلى كتب القراءات للتأكد منها، ومن صحة نسبتها إلى قائلها.
ومن الحق التنويه بدقة المصنف في استدلاله بالقراءات، ودقة نسبة القراءة -إذا نسبها- لصاحبها.
كما تجدر الإشارة إلى أن المصنف في استشهاده بآيات القرآن الكريم، كان يعتد بالقراءات المختلفة من غير تفريق بين قارئ وآخر.
4 - ضبط الأحاديث النبوية، وبيان مواقعها في الكتب الصحاح.
5 - ضبط الشواهد الشعرية ونسبتها إلى قائليها، وكشف الستار عن معاني الكلمات التي يكتنفها غموض، وبيان البحور الشعرية للأبيات.
واستكمالًا للفائدة ذيلت حديثي عن كل بيت بيان بعض المراجع، التي اعتمدت عليها. وكثيرًا ما كان يغفل المصنف ذكر قائل الشاهد، وكان اهتمامه بنسبة الشواهد لقائليها يزداد إذا استشهد بها لتأكيد رأيه في مسألة خلافية.
6 - تحقيق النصوص التي اقتبسها المصنف، وذلك بالرجوع إلى مصادرها.
অতিরিক্ত বিস্তার বা বাহুল্য বর্জন করে প্রসঙ্গের প্রয়োজনে যতটুকু প্রয়োজন তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।
আর আমি সম্পাদনার (তাহকিক) ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
১ - বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির মধ্যে পারস্পরিক তুলনা করা এবং পাঠ্যগত পার্থক্যের বিষয়ে টীকায় সতর্ক করা।
২ - কিতাবে উল্লিখিত কুরআনের আয়াতসমূহের শুদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে সেগুলোর অবস্থান নির্দেশ করা।
৩ - লেখক যে সকল কিরাআত বা পঠনরীতির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, সেগুলো যাচাই করার জন্য এবং কার দিকে কিরাআতটি সম্বন্ধযুক্ত তা নিশ্চিত করার জন্য কিরাআত শাস্ত্রের কিতাবসমূহের শরণাপন্ন হওয়া।
লেখক কিরাআতের মাধ্যমে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে এবং কিরাআতকে তার প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে যে সূক্ষ্মতা দেখিয়েছেন তা উল্লেখ করা যথাযথ হবে।
এখানে আরও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, লেখক পবিত্র কুরআনের আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করার সময় বিভিন্ন কিরাআতকে গ্রহণ করেছেন এবং এক্ষেত্রে একজন কারী ও অন্য কারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি।
৪ - হাদিসে নববীসমূহের শুদ্ধতা যাচাই করা এবং বিশুদ্ধ হাদিসগ্রন্থসমূহে সেগুলোর অবস্থান বর্ণনা করা।
৫ - কাব্যিক উদ্ধৃতিগুলোর বিন্যাস ঠিক করা এবং সেগুলো রচয়িতাদের দিকে সম্বন্ধ করা, অস্পষ্ট শব্দের অর্থসমূহ উন্মোচন করা এবং পঙক্তিগুলোর কাব্যিক ছন্দ বা বহর বর্ণনা করা।
আলোচনার পূর্ণতার লক্ষ্যে আমি প্রতিটি পঙক্তির শেষে কিছু তথ্যসূত্রের উল্লেখ করেছি, যার ওপর আমি নির্ভর করেছি। লেখক অনেক সময়ই কাব্যিক উদ্ধৃতির রচয়িতার নাম উল্লেখ করতে উপেক্ষা করেছেন; তবে কোনো মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়ে নিজের মতের সপক্ষে দলিল হিসেবে যখন তিনি উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তখন রচয়িতার নাম উল্লেখ করার প্রতি তার অধিক গুরুত্ব লক্ষ্য করা গেছে।
৬ - লেখক যেসব পাঠ্য উদ্ধৃত করেছেন, সেগুলো মূল উৎসের সাথে মিলিয়ে সম্পাদনা করা।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
7 - تحقيق الآراء التي نسبها المصنف لبعض العلماء، وذلك بالرجوع إلى ما حفظه الزمان من مؤلفاتهم، أو بالرجوع إلى ما كتبه السابقون الأولون عنهم.
8 - ضبط الكلمات التي أوردها المصنف في معرض التمثيل للقواعد أو الضيغ، وتفسير معناها، إذا كان لفظها يحتاج إلى ضبط، ومعناها يفتقر إلى تفسير.
9 - التعريف بالعلماء الذين ورد ذكرهم في ثنايا الكتاب.
هذا وقد قدمت للكتاب بمقدمة موجزة تحدثت فيها عن المؤلف، وعصره ثم عرفت بأرجوزة "الكافية الشافية" ووازنت بينها وبين "الدرة الألفية" لابن معط. وتلوت ذلك بالحديث عن "شرح الكافية الشافية"، وزمن تأليفه، وبينت بعض السمات البارزة فيه، وتحدثت بعد ذلك عن شخصية المؤلف في الكتاب، وعن بعض الأصول التي بنى عليها لامؤلف آراءه فيه.
ولقد رأيت في الكتاب أمورًا تثير الانتباه، فنبهت عليها.
وختمت المقدمة بالحديث عن النسخ التي اعتمدت عليها في التحقيق.
أما عن المصادر التي اعتمدت عليها فهي كثيرة ومتعددة. وإذا كان منها ما تيسرت لي سبل الحصول عليه، فإن منها ما هو عزيز ونادر، وطريق الوصول إليه صعب عسير، كما هو الحال في المخطوطات والمصورات، والمراجع التي نفدت طبعاتها.
وبعد:
فإنه لا يسعني إلا أن أتقدم بالشكر الوفر الجزيل إلى جميع
৭ - গ্রন্থকার কিছু আলিমের প্রতি যে সকল মতামত সম্বন্ধ করেছেন তার সঠিকতা যাচাই করা; আর তা করা হয়েছে কালের বিবর্তনে সংরক্ষিত তাঁদের রচিত গ্রন্থাবলি থেকে অথবা তাঁদের সম্পর্কে পূর্ববর্তী মনীষীগণ যা লিখে গেছেন তার ভিত্তিতে।
৮ - গ্রন্থকার ব্যাকরণিক নীতিমালা কিংবা শব্দের কাঠামোর উদাহরণ হিসেবে যে সকল শব্দ উল্লেখ করেছেন সেগুলোর যথাযথ উচ্চারণভঙ্গি নির্ধারণ এবং সেগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করা; যদি শব্দটির পাঠ নির্দিষ্ট উচ্চারণের মুখাপেক্ষী হয় এবং অর্থ ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা থাকে।
৯ - গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে যে সকল আলিমের উল্লেখ এসেছে তাঁদের পরিচয় প্রদান করা।
তদপরি আমি গ্রন্থের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা পেশ করেছি যেখানে লেখক ও তাঁর সমসাময়িক কাল নিয়ে আলোচনা করেছি। অতঃপর আমি 'আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ' কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে পরিচয় প্রদান করেছি এবং ইবনুল মু’তি-এর 'আদ-দুররাতুল আলফিয়াহ'-এর সাথে এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছি। এর অনুগামী হিসেবে আমি 'শারহুল কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ' ও এর রচনাকাল নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এতে বিদ্যমান কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট করেছি। এরপর আমি এই গ্রন্থে লেখকের ব্যক্তিত্ব এবং যেসব মৌলিক নীতির ওপর ভিত্তি করে তিনি তাঁর মতামতগুলো প্রদান করেছেন তা নিয়ে আলোকপাত করেছি।
আমি এই গ্রন্থে এমন কিছু বিষয় প্রত্যক্ষ করেছি যা বিশেষভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করে, তাই আমি সেগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
আমি সম্পাদনা কার্যে যে সকল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি সেগুলোর বর্ণনার মাধ্যমে ভূমিকাটির ইতি টেনেছি।
আমি যেসব উৎসের ওপর নির্ভর করেছি সেগুলো বহু এবং বিবিধ। সেগুলোর মধ্যে কিছু যেমন আমার জন্য অতি সহজে লভ্য হয়েছে, তেমনি এমন কিছু ছিল যা অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য ও বিরল এবং সেগুলো সংগ্রহ করা ছিল অত্যন্ত দুরূহ; যেমনটি হয়ে থাকে পাণ্ডুলিপি, অনুলিপি এবং সেই সকল আকর গ্রন্থের ক্ষেত্রে যেগুলোর মুদ্রণ এখন আর সহজলভ্য নয়।
অতঃপর:
আমার জন্য সকলের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও অকৃত্রিম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা ব্যতীত অন্য কোনো উপায় নেই।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
العاملين في مركز البحث العلمي، وإحياء التراث بمكة المكرمة وعلى رأسهم سعادة الدكتور ناصر الرشيد.
فجزى الله الجميع خير الجزاء، وجعل عملي هذا مفتتحًا بخلوص النية مختتمًا بحصول الأمنية، التي نسعى إليها وهي خدمة اللغة العربية وأبنائها.
والله المستعان.
وكتبه:
د/ عبد المنعم أحمد هريدي
الأستاذ المشارك في معهد اللغة العربية
جامعة أم القرى
মক্কা আল-মুকাররামার বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কেন্দ্রের সকল কর্মী এবং তাদের প্রধান মহামান্য ডক্টর নাসের আল-রশিদ।
আল্লাহ তাআলা সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, এবং আমার এই কাজটিকে নিষ্ঠাপূর্ণ নিয়তের মাধ্যমে শুরু এবং সেই আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে সমাপ্ত করার তৌফিক দিন, যার জন্য আমরা সচেষ্ট—আর তা হলো আরবি ভাষা ও এর সন্তানদের সেবা করা।
আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়।
লিখেছেন:
ড. আব্দুল মোনেম আহমেদ হারিদি
সহযোগী অধ্যাপক, আরবি ভাষা ইনস্টিটিউট
উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المقدمة:
تعريف بالمؤلف:لم تعن أسرة ابن مالك بتسجيل اليوم الذي ولد فيه طفلها، فظل هذا اليوم مجهولًا إلى الآن لدى مؤرخيه، وسوف يظل كذلك إلى الأبد.
ويبدو أن الأسرة التي انحدر منها المصنف لم تكن تطمع في جاه، ولم يكن لها أساس من مجد.
فلم يعرف التاريخ عن آبائه شيئًا، ولم يرد من النصوص ما يشير إلى ذلك من قريب أو بعيد، فالصمت مطبق حول أسرته.
ويظهر أن الشيخ كان يعرف ذلك. يعرف أنه نشأ في أسرة رقيقة الحال، فلم يشر إليها، أو يتحدث عنها.
ومن يدري. لعله لم يكن يجد من الحوادث المتعلقة بها ما يستحق الذكر، أو كان يجده، ولكن يؤلمه الحدث فيها.
وسكوت ابن مالك عن الحديث عن نفسه، وإمساكه عن الإشارة إلى ماضيه، وصمته عن كل ما يتصل بأهله، وعشيرته أعطى الفرصة السانحة للمؤرخين، فأهملوا الحديث عما يتعلق بذلك.
فقد درج المؤرخون في العصور القديمة والوسطى، وشطر من
ভূমিকা:
লেখকের পরিচিতি:ইবনে মালিকের পরিবার তাদের সন্তানের জন্মের দিনটি লিপিবদ্ধ করার গুরুত্ব প্রদান করেনি, ফলে তাঁর ইতিহাসবিদদের কাছে সেই দিনটি আজ অবধি অজ্ঞাত রয়ে গেছে এবং তা চিরকালই অজ্ঞাত থেকে যাবে।
এটি প্রতীয়মান হয় যে, গ্রন্থকার যে পরিবার থেকে এসেছেন, তারা কোনো উচ্চ পদের আকাঙ্ক্ষী ছিলেন না এবং তাদের গৌরবের কোনো সুদৃঢ় ভিত্তিও ছিল না।
ইতিহাস তাঁর পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে কিছুই জানে না এবং কোনো পাঠ্যেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সে সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না; ফলে তাঁর পরিবারকে ঘিরে পূর্ণ নীরবতা বিরাজমান।
এটি স্পষ্ট যে শাইখ বিষয়টি অবগত ছিলেন। তিনি জানতেন যে তিনি একটি অস্বচ্ছল পরিবারে বড় হয়েছেন, তাই তিনি সেদিকে কোনো ইঙ্গিত করেননি বা সে সম্পর্কে কোনো কথা বলেননি।
আর কেইবা জানে, হয়তো তিনি তাঁর পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কোনো ঘটনা খুঁজে পাননি যা উল্লেখ করার যোগ্য, অথবা হয়তো তিনি পেয়েছিলেন কিন্তু সেই স্মৃতি তাঁকে ব্যথিত করত।
নিজের সম্পর্কে ইবনে মালিকের এই নীরবতা, তাঁর অতীত সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়া থেকে বিরত থাকা এবং তাঁর পরিবার ও বংশের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে চুপ থাকা ইতিহাসবিদদের জন্য একটি সুযোগ এনে দিয়েছে, যার ফলে তাঁরাও এ সম্পর্কিত বিষয়গুলো আলোচনা করা পরিহার করেছেন।
কেননা প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাসবিদগণ এবং একটি অংশের ধারা ছিল যে...
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
العصور الحديثة على التأريخ للملوك، وأصحاب الجاه والسلطان، حتى كاد التاريخ في تلك الأيام يقتصر على الحكام والأعيان.
فإذا ما ولد طفل في قصر اهتم به المؤرخون منذ مولده -بل ربما قبل مولده- وأفاضوا في نسبه وحسبه، وعظيم مواهبه.
أما إذا كان مغمورًا، فإن إنسانًا واحدًا لا يكاد يشعر بقدومه، ولم يتعرض له كاتب أو مؤرخ.
فإذا أصاب من الدنيا نصيبًا حاول المؤرخون عندئذ سد الثغرة التي أحاطت بنشأته، فإذا أعوزتهم الحقائق لجئوا إلى نسج الخيال والأساطير.
وإن الناظر في كتب التاريخ في تلك العصور ليأخذه العجب حتى يرى معظمها ينصب على "وفيات الأعيان" و "تاريخ الملوك" أما الشعوب، أما عامة الناس فليس لهم فيها نصيب، وليس فيهم من يهم المؤرخ، أو يعني الكاتب، وإن وجد من المؤرخين في تلك الحقبة من يتعرض لواحد من المواطنين، فإنما يكون ذلك تلميحًا بقدر ما يحتاج إليه الموضوع الذي يتحدث فيه.
ولم يتورع بعض المؤرخين عن الجهر بذلك.
وها هوذا أبو المحاسن يقول في معرض حديثه عن أحد الأفراد (1):
"وقد أضربنا عن شرح ما حدث له؛ لأنه لم يكن من أعيان الناس لتشكر أفعاله أو تذم".
وأغلب الظن أن ابن مالك حرم في طفولته من كل عطف
--------------------------------------------
আধুনিক যুগগুলোতে ইতিহাস রচনার ধারা রাজা-বাদশাহ এবং প্রভাব-প্রতিপত্তিশালী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল, এমনকি তৎকালীন দিনগুলোতে ইতিহাস কেবল শাসক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল।
যদি কোনো প্রাসাদে কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করত, তবে ঐতিহাসিকগণ তার জন্মের সময় থেকেই—বরং সম্ভবত তার জন্মের পূর্ব থেকেই—তার প্রতি গুরুত্বারোপ করতেন এবং তার বংশপরিচয়, কৌলীন্য ও সুমহান প্রতিভা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতেন।
পক্ষান্তরে সে যদি সাধারণ বা অখ্যাত কেউ হতো, তবে তার আগমনের কথা কেউ টেরও পেত না এবং কোনো লেখক বা ঐতিহাসিক তাকে নিয়ে সামান্য আলোচনাও করতেন না।
এরপর সে যদি দুনিয়াবি কোনো সফলতা বা সৌভাগ্য লাভ করত, তখন ঐতিহাসিকগণ তার শৈশব বা বেড়ে ওঠার চারপাশের শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা করতেন। আর যদি বাস্তব তথ্যের অভাব হতো, তবে তারা কল্পনাপ্রসূত কাহিনী ও উপকথার আশ্রয় নিতেন।
সেই যুগের ইতিহাস গ্রন্থগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি বিস্ময়াভিভূত হবেন যখন তিনি দেখবেন যে, সেগুলোর অধিকাংশ কেবল "গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মৃত্যু" এবং "রাজা-বাদশাহদের ইতিহাস" কেন্দ্রিক। পক্ষান্তরে জাতিসমূহ বা সাধারণ মানুষের সেখানে কোনো অংশ ছিল না এবং তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল না যিনি ঐতিহাসিককে আগ্রহী করতেন অথবা লেখকের মনোযোগ কাড়তেন। সেই সময়কার ঐতিহাসিকদের মধ্যে যদি কেউ কোনো সাধারণ নাগরিকের কথা উল্লেখ করতেনও, তবে তা কেবল প্রাসঙ্গিক বিষয়ের প্রয়োজনে ইশারায় বা সংক্ষেপে আলোচনা করতেন।
এমনকি কিছু ঐতিহাসিক এ কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেননি।
এই যে আবু আল-মাহাসিন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন (১):
"তার সাথে কী ঘটেছিল তা ব্যাখ্যা করা থেকে আমরা বিরত থেকেছি; কারণ সে এমন কোনো গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিল না যার কর্মের প্রশংসা করা হবে অথবা নিন্দা করা হবে।"
প্রবল ধারণা এই যে, ইবনে মালিক তার শৈশবে যাবতীয় স্নেহ-মমতা থেকে বঞ্চিত ছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وحنان بل ربما كانت طفولته طفولة معذبة، منعه الحياء من الخوض فيها باللسان، أو بالقلم، فاكتفى بالصمت الذي هو أبلغ من كل بيان.
ورب ضارة نافعة، فالراجح أن هذا الحرمان كان السبب في التجاء الشيخ إلى الدرس، والتحصيل عله يجد في ذلك عوضًا عن بعض ما فاته.
ومهما يك من شيء فلا تكاد توجد وثيقة واحدة، أو مصدر مؤكد أو خبر عمن يوثق به يكشف شيئًا للباحث في طفولة هذا الرجل، أو علاقته بأسرته، أو صلاته بأخواته وإخواته -إن كان له إخوة أو أخوات- فجهل الناس كل ما يتصل بهؤلاء.
وليس من الحق الزعم بأن المصنف أمسك عن الحديث عن سيرة أحداده، وآبائه وإخوته وإخوانه، وأصداقاء طفولته وصباه، وعيشته في موطنه؛ لأنه ضرب من العبث واللغو لا يتفق مع ما شغل به من تحصيل للعلم، وخدمة لأهله.
فالرابطة الإنسانية رابطة عميقة الجذور، تجري في الدماء، وتتغلغل في النفوس، وهو أقرب الروابط إلى الإنسان، وأحبها إليه، وأعلقها بفؤاده.
وإذا كان ذلك كذلك فلا يمنع الإنسان عن الخوض فيها إلا أمر قاهر، ولن يكون العلم؛ لأن العلم أسمى من ذلك. فهو الذي يهذب النفوس، ويرهف العواطف فأولى به أن يقوي في الإنسان الشعور بالإنسانية، لا أن يجرده منها.
والذي يرجحه الباحث أن يكون ابن مالك نشأ وحيدًا لوالديه، وأن يكون افتقد أمه صغيرًا، وربما كان شأن أبيه شأن غيره من العرب
এবং মমতা; বরং সম্ভবত তাঁর শৈশব ছিল যন্ত্রণাদায়ক, লজ্জা তাঁকে সে বিষয়ে মুখে বা কলমে কোনো আলোচনা করা থেকে বিরত রেখেছিল, তাই তিনি নীরবতাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন, যা যেকোনো বর্ণনার চেয়ে অধিক বাগ্মী।
আর অনেক সময় ক্ষতিকর বিষয়ও কল্যাণকর হয়। প্রবল ধারণা এই যে, এই বঞ্চনাই ছিল শাইখের পাঠ ও জ্ঞানার্জনের দিকে ধাবিত হওয়ার কারণ, যাতে সম্ভবত তিনি যা হারিয়েছেন তার বিনিময়ে তিনি এতে কোনো বিকল্প খুঁজে পান।
যাই হোক না কেন, এমন একটি নথিপত্র, কোনো নিশ্চিত উৎস কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায় না যা গবেষকের কাছে এই ব্যক্তির শৈশব, তাঁর পরিবারের সাথে তাঁর সম্পর্ক, অথবা তাঁর বোন ও ভাইদের সাথে তাঁর যোগসূত্র সম্পর্কে কিছু প্রকাশ করতে পারে—যদি তাঁর কোনো ভাই বা বোন থেকে থাকে—ফলে মানুষ তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছু সম্পর্কে অজ্ঞ রয়ে গেছে।
আর এমন দাবি করা সঠিক নয় যে, গ্রন্থকার তাঁর পূর্বপুরুষ, পিতা, ভাই ও সুহৃদবৃন্দ, শৈশব ও কৈশোরের বন্ধু এবং নিজ বাসভূমির জীবন সম্পর্কে আলোচনা করা থেকে বিরত ছিলেন এই কারণে যে, এটি এক প্রকার অনর্থক ও অসার কাজ যা জ্ঞানার্জন এবং সংশ্লিষ্ট জ্ঞানীদের সেবায় তাঁর মগ্ন থাকার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
কেননা মানবিক সম্পর্ক হলো গভীর শিকড়যুক্ত একটি বন্ধন, যা রক্তে প্রবাহিত হয় এবং অন্তরে প্রবেশ করে। এটি মানুষের সবচেয়ে নিকটতম সম্পর্ক, তার কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং তার হৃদয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে কোনো বাধ্যকারী কারণ ছাড়া অন্য কিছু মানুষকে সে বিষয়ে আলোচনা করা থেকে বিরত রাখতে পারে না; আর তা কখনোই 'জ্ঞান' হতে পারে না, কারণ জ্ঞান এর চেয়েও ঊর্ধ্বে। জ্ঞানই আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং আবেগকে শাণিত করে, তাই মানুষের মাঝে মানবিকতাবোধকে শক্তিশালী করাই জ্ঞানের কাজ, তাকে মানবিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন করা নয়।
গবেষক যে বিষয়টিকে প্রবল মনে করেন তা হলো, ইবনে মালিক তাঁর পিতামাতার একমাত্র সন্তান হিসেবে বেড়ে উঠেছেন এবং তিনি শৈশবেই তাঁর মাকে হারিয়েছেন; আর সম্ভবত তাঁর পিতার অবস্থাও ছিল অন্যান্য আরবদের মতো
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الأندلسيين في ذلك الوقت جنديًا في الجيش، الذي أعده الأمير أبو عبد الله محمد بن يعقوب بن يوسف في مدينة جيان -مسقط رأس المصنف- لقتال الإدفنس سنة (609) هـ في موقعة العقاب.
فقد روى صاحب المعجب أن "أمير المؤمنين خرج من أشبيلية سنة (609) هـ، فسار حتى نزل "جيان" فأقام بها ينظر في أمره، ويعبئ عساكره، وخرج أمير المؤمنين من مدينة "جيان"، فالتقى هو والأدفنس بموضع يعرف بالعقاب بالقرب من حصن يدعى حصن سالم.
فعبأ الأدفنس جيوشه، ورتب أصحابه، ودهم المسلمين وهم على غير أهبة فانهزموا، وقتل خلق كثير.
وثبت أبو عبد الله -يقصد الأمير- في ذلك اليوم ثباتًا لم ير لملك قبله، ولولا ثباته لاستؤصلت تلك الجموع كلها قتلًا وأسرًا.
وكانت هذه الهزيمة الكبرى على المسلمين يوم الاثنين منتصف صفر سنة (609) هـ (1).
من هنا يعلم أن الأمر كان شديدًا على أهل الأندلس عامة، وعلى أهل جيان خاصة في بدء حياة الشيخ.
ولا يستبعد أن يكون والده -وهو ذلك الرجل العربي المسلم، الذي يتمتع بما يتصف به العرب والمسلمون من شجاعة، وشهامة انخرط في سلك الجندية. جنديًا مرتزقًا أو متطوعًا، ثم ذهب ولم يعد، فقد كانت موقعة العقاب -كما بينا من المواقع الفاصلة في التاريخ، وكانت الهزيمة فيها منكرة.
--------------------------------------------
সে সময়ে আন্দালুসীয়রা সেই সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যা আমির আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ জিয়ান শহরে—যা গ্রন্থকারের জন্মভূমি—প্রস্তুত করেছিলেন, ৬০৯ হিজরি সনে আল-উক্বাব-এর যুদ্ধে ইদফুন্স-এর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য।
'আল-মু'জিব' গ্রন্থের লেখক বর্ণনা করেছেন যে, "আমিরুল মুমিনীন ৬০৯ হিজরি সনে আশবিলিয়্যাহ থেকে বের হলেন এবং সফর করে জিয়ানে অবতরণ করলেন। সেখানে অবস্থান করে তিনি তাঁর বিষয়াদি পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন এবং নিজের সৈন্যদের সুসজ্জিত করলেন। এরপর আমিরুল মুমিনীন জিয়ান শহর থেকে বের হলেন এবং তিনি ও ইদফুন্স আল-উক্বাব নামক স্থানে একে অপরের মুখোমুখি হলেন, যা হিসনে সালিম নামক দুর্গের নিকটবর্তী ছিল।"
অতঃপর ইদফুন্স তার সেনাবাহিনী সুসজ্জিত করল এবং তার সঙ্গীদের বিন্যস্ত করল। তারা মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করল এমতাবস্থায় যে তারা অপ্রস্তুত ছিল, ফলে তারা পরাজিত হলো এবং বিশাল এক জনসমষ্টি নিহত হলো।
আর আবু আব্দুল্লাহ—অর্থাৎ আমির—সেই দিন এমন অবিচলতা প্রদর্শন করলেন যা ইতিপূর্বে কোনো রাজার ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। যদি তাঁর এই অবিচলতা না থাকত, তবে সেই বিশাল জনসমষ্টির সবাই নিহত কিংবা বন্দী হওয়ার মাধ্যমে সমূলে বিনাশ হয়ে যেত।
মুসলমানদের ওপর এই চরম পরাজয়টি আপতিত হয়েছিল ৬০৯ হিজরি সনের সফর মাসের মাঝামাঝি সময়ে, সোমবার দিন (১)।
এখান থেকে অবগত হওয়া যায় যে, শাইখের জীবনের শুরুর দিকে পরিস্থিতি সাধারণভাবে আন্দালুসবাসীদের জন্য এবং বিশেষভাবে জিয়ানবাসীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল।
আর এটি অসম্ভব নয় যে তাঁর পিতা—যিনি ছিলেন একজন আরব মুসলিম ব্যক্তি এবং আরব ও মুসলমানদের চিরচেনা সাহস ও বীরত্বের অধিকারী—সৈন্যবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। হয়তো তিনি একজন নিয়মিত সৈনিক হিসেবে বা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে গিয়েছিলেন এবং এরপর আর ফিরে আসেননি। কেননা আল-উক্বাবের যুদ্ধটি ছিল—যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি—ইতিহাসের অন্যতম চূড়ান্ত একটি যুদ্ধ এবং এতে পরাজয় ছিল অত্যন্ত শোচনীয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ولو صح هذا يكون المصنف فقد والده في فجر حياته، واستقبل الحياة وحيدًا في بلاد الأندلس، مما دعاه إلى هجرها إلى المشرق بعد أن أودع ثراها أعز ما يملك الإنسان وهو الذكرى.
مولده:
بالرجوع إلى أقوال الذين تحدثوا عن مولد المصنف -وهي أقوال كثيرة- يتضح أن ابن مالك توفي في سن عادية تتراوح بين الرابعة والستين، والخامسة والسبعين.
وبالموازنة بين هذه الأقوال يظهر أن أقربها إلى الواقع ذلك القول الذي ينادي بأنه ولد سنة (598) هـ.
ومن هؤلاء القائلين بذلك: المقري فقد حكى عن بعضهم أن المصنف ولد سنة ثمان وتسعين وخمسمائة (1).
وكأنما أراد أن يقوي هذا الرأي -وهو ثالث قول يورده في كتابه- عندما قال (2):
"وعليه عول شيخ شيوخنا ابن غازي" (3) في قوله:
قد خبع ابن مالك في خبعا
… وهو ابن عه كذا وعي من قد وعى
والبيت قصد به بيان تاريخ وفاة ابن مالك، وعمره.
فتاريخ وفاته يدل عليه قوله "خبعا" إذ الخاء: ستمائة، والدين سبعون والباء: ثنتان.
--------------------------------------------
যদি এটি সঠিক হয়, তবে লেখক তাঁর জীবনের ঊষালগ্নেই পিতাকে হারিয়েছেন এবং আন্দালুস ভূখণ্ডে একাকী জীবন শুরু করেছেন। এর ফলেই তিনি তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ অর্থাৎ স্মৃতিকে সেই মাটিতে সমাহিত করার পর প্রাচ্যের উদ্দেশ্যে হিজরত করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন।
তাঁর জন্ম:
লেখকের জন্ম সম্পর্কে যাঁরা আলোচনা করেছেন—এরূপ বক্তব্য সংখ্যায় অনেক—তাঁদের বক্তব্যের পর্যালোচনায় এটা স্পষ্ট হয় যে, ইবনে মালিক ৬৪ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে একটি স্বাভাবিক বয়সে ইন্তেকাল করেছেন।
এই বক্তব্যগুলোর মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, বাস্তবতার সবচেয়ে কাছাকাছি কথা হলো—তিনি ৫৯৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন।
যাঁরা এই মত পোষণ করেছেন তাঁদের মধ্যে আল-মাক্বরী অন্যতম। তিনি কোনো কোনো মনীষী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, লেখক পাঁচশত আটানব্বই (৫৯৮) হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন (১)।
মনে হয় তিনি এই মতটিকে শক্তিশালী করতে চেয়েছেন—আর এটি তাঁর গ্রন্থে উল্লিখিত তৃতীয় বক্তব্য—যখন তিনি বলেছেন (২):
"আমাদের শাইখদের শাইখ ইবনে গাজী (৩) এর ওপরই নির্ভর করেছেন" তাঁর এই উক্তিতে:
ইবনে মালিক 'খাবআ' সনে ইন্তেকাল করেছেন
… আর তাঁর বয়স ছিল 'আহ', সংরক্ষণকারীগণ এভাবেই তা সংরক্ষণ করেছেন।
এই কবিতাটির উদ্দেশ্য হলো ইবনে মালিকের ইন্তেকালের তারিখ এবং তাঁর বয়স বর্ণনা করা।
তাঁর ইন্তেকালের তারিখটি নির্দেশিত হয়েছে তাঁর "খাবআ" উক্তির মাধ্যমে; কেননা 'খা' বর্ণটি ছয়শত, 'আইন' বর্ণটি সত্তর এবং 'বা' বর্ণটি দুই নির্দেশ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أما عمره فيؤخذ من قوله: "عه"؛ لأن العين: سبعون، والهاء: خمسة.
وأيد هذا الرأي: الخضري في حاشيته على ابن عقيل (1)، والأشموني شارح الألفية (2).
والذي يرجع كفه هذا القول احتمال هجر المصنف أرض الأندلس عقب موقعه العقاب مباشرة، أو بعدها بزمن يسير.
وموقعه العقاب كانت سنة (609) هـ، ويتحتم أن يكون المصنف في ذلك الوقت في سن تسمح له بتحمل عناء السفر الطويل، ومشقات الاغتراب وحيدًا.
ولن تكون هذه السن أقل من اثنتي عشرة سنة، وهي سن تسمح لمثله في العبقرية، والذكاء أن يكون ملمًا بدروس في النحو واللغة، والشريعة، وغيرها في بيئة تموج بالعلم والعلماء.
نسبه:
تضاربت الأقوال والآراء في سلسلة نسب المصنف.
وإذا صح القول بأن بعضها يحتمل أن يكون مختصرًا من البعض الآخر يصبح في الإمكان حصر الخلاف في روايتين:
أولاهما: رواية الشيخ شمس الدين محمد بن علي بن طولون الصالحي، وهي التي تقول إنه: محمد بن عبد الله بن عبد الله بن عبد الله بن مالك.
وهذا صورة ما قاله ابن طولون في تعريفه بالشيخ (3).
--------------------------------------------
তাঁর বয়সের ব্যাপারে তাঁর উক্তি "আইন-হা" (عه) থেকে ধারণা নেওয়া হয়; কারণ 'আইন' অর্থ সত্তর এবং 'হা' অর্থ পাঁচ।
এবং এই মতটিকে সমর্থন করেছেন: আল-খুদারি ইবনে আকীলের ওপর তাঁর টীকায় (১), এবং আলফিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাকার আল-আশমুনি (২)।
আর যা এই মতের পাল্লাকে ভারী করে, তা হলো আল-উক্বাব যুদ্ধের পরপরই অথবা তার সামান্য কিছুকাল পরে লেখকের আন্দালুস ভূমি ত্যাগ করার সম্ভাবনা।
আল-উক্বাব যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল (৬০৯) হিজরি সনে, আর এটি আবশ্যক যে, লেখক তখন এমন এক বয়সে উপনীত ছিলেন যা তাঁকে দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি এবং একাকী প্রবাস জীবনের কষ্ট সহ্য করার সামর্থ্য যোগায়।
এই বয়স বারো বছরের কম হওয়ার কথা নয়, যা তাঁর মতো প্রতিভা ও মেধার অধিকারী ব্যক্তির জন্য এমন এক পরিবেশে নাহু, ভাষা, শরীয়াহ এবং অন্যান্য বিষয়ের পাঠে পারদর্শী হওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল যেখানে ইলম ও ওলামায়ে কেরামের জোয়ার ছিল।
তাঁর বংশপরিচয়:
লেখকের বংশলতিকার ব্যাপারে বিভিন্ন বক্তব্য ও মতামতে বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়।
আর যদি এই কথাটি সঠিক হয় যে, এগুলোর কিছু অংশ অন্য অংশের সংক্ষিপ্ত রূপ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তবে মতভেদকে দুটি বর্ণনায় সীমাবদ্ধ করা সম্ভব হয়:
প্রথমটি: শেখ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে তুলুন আস-সালিহী-এর বর্ণনা, যা বলছে যে তিনি হলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক।
আর এটিই হলো শায়খ সম্পর্কে ইবনে তুলুন যা বলেছেন তার প্রতিলিপি (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
"هو محمد بن عبد الله بن عبد الله بن عبد الله -ثلاثًا- ابن مالك".
ولم يسبق ابن طولون إلى التثليث في اسم والد ابن مالك "عبد الله"، ولا تابعه في ذلك أحد من العلماء أو المؤرخين.
وقد خشي ابن طولون أن يتوهم قارئ أن تكرار "عبد الله" للمرة الثالثة من قبيل الخطأ أو النسيان، فأبعد ذلك الوهم بقوله: "ثلاثًا" ليعلم أن تكرار "عبد الله مقصود؛ لأنه اسم أبيه، واسم جده، واسم جد أبيه.
الثانية: إن أسمه محمد بن عبد الله بن محمد بن عبد الله بن مالك. وهي التي اعتمدتها دائرة المعارف الإسلامية (1)، وذكرها بروكلمان (2)، وسار عليها الدماميني (3).
كنيته ولقبه:
أجمعت مصادر سيرة ابن مالك على أنه كان يكنى بأبي عبد الله، كما أجمعت على أن لقبه "جمال الدين".
وقد يتصرف في هذا اللقب كقول القسطلاني (4) "كان الجمال بن مالك".
وهنا لقب آخر له ذكره ابن طولون، وانفرد به وهو "جلا الأعلى"، فقد قال فيحديثه عنه (5):
--------------------------------------------
তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ -তিনবার- ইবনে মালিক।
ইবনে মালিকের পিতা 'আব্দুল্লাহ'-এর নামের ক্ষেত্রে এই তিনবার উল্লেখের ব্যাপারে ইবনে তুলুন-এর পূর্বে কেউ অগ্রসর হননি এবং আলেম বা ঐতিহাসিকদের মধ্যে কেউ এ বিষয়ে তাঁর অনুসরণও করেননি।
ইবনে তুলুন আশঙ্কা করেছিলেন যে, কোনো পাঠক হয়তো 'আব্দুল্লাহ' নামের তৃতীয়বার পুনরাবৃত্তিকে ভুল বা বিস্মৃতি মনে করতে পারেন; তাই তিনি 'তিনবার' বলার মাধ্যমে সেই সংশয় দূর করেছেন যাতে জানা যায় যে, 'আব্দুল্লাহ' শব্দের পুনরাবৃত্তি উদ্দেশ্যমূলক; কারণ এটি তাঁর পিতার নাম, তাঁর দাদার নাম এবং তাঁর পরদাদার নাম।
দ্বিতীয় মত: তাঁর নাম হলো মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক। আর এটিই ইসলামিক এনসাইক্লোপিডিয়া (১) গ্রহণ করেছে, ব্রোকলম্যান (২) এটি উল্লেখ করেছেন এবং দামামিনীও (৩) এর অনুসরণ করেছেন।
তাঁর কুনিয়ত ও লকব:
ইবনে মালিকের জীবনীগ্রন্থসমূহ এ বিষয়ে একমত যে তাঁর কুনিয়ত ছিল 'আবু আব্দুল্লাহ', যেমন তারা এ বিষয়েও একমত যে তাঁর লকব ছিল 'জামালুদ্দিন'।
কখনো কখনো এই উপাধিতে কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে, যেমন কাসতাল্লানি (৪) বলেছেন "তিনি ছিলেন আল-জামাল বিন মালিক"।
এখানে তাঁর আরও একটি উপাধি রয়েছে যা ইবনে তুলুন উল্লেখ করেছেন এবং তিনিই কেবল এটি বর্ণনা করেছেন, তা হলো 'জালা আল-আ'লা'। তিনি তাঁর সম্পর্কে আলোচনায় (৫) বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
"الشيخ جمال الدين، أبو عبد الله المشهور بـ "جلا الأعلى".
وهذا اللقب لم يذكره أحد ممن ترجموا ابن مالك -وهم كثير- ومع ذلك يزعم ابن طولون أنه مشهور بهذا اللقب، الذي لم يرد في غير كتابه.
موطن ولادته:
ليس غريبًا أن يختلف المؤرخون في تاريخ مولد المصنف، وإنما الغريب أن يختلفوا في موطن ولادته، وربما كان مرجع هذا الاختلاف إلى ما يلي:
أولًا: هجرة الشيخ وهو صغير، وتركه موطنه الأصلي في سن مبكرة.
ثانيًا: ذلك الغموض التام الذي أسدل ستارًا كثيفًا حول حياته في الأندلس، فأخفاها عن العين. وأدخلها في مجاهل الظن والتخمين.
ثالثًا: اقتران نبوغ الشيخ بدمشق مما غر بعض العلماء، فتوهموا أنه مولد فيها (1). وأكثر الذين ترجموا المصنف رأوا أنه ولد في "جيان الحرير"، وهي بلدة من مشاهير بلاد الأندلس، وأكثرهم زرعًا، وأصرمها أبطالًا، وأمنعها منعة (2)، وضواحيها جميلة (3).
ويضبطها ياقوت (4) بفتح الجيم، وتشديد الياء مع النون في
--------------------------------------------
শাইখ জামালুদ্দীন, আবু আবদুল্লাহ, যিনি "জালা আল-আলা" নামে পরিচিত।
যারা ইবনে মালিকের জীবনী লিখেছেন—আর তারা সংখ্যায় অনেক—তাদের কেউই এই উপাধিটি উল্লেখ করেননি। তা সত্ত্বেও, ইবনে তুলুন দাবি করেছেন যে তিনি এই উপাধিতে পরিচিত ছিলেন, যা তাঁর কিতাব ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।
তাঁর জন্মস্থান:
গ্রন্থকারের জন্ম তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো তাঁর জন্মস্থান নিয়ে তাঁদের মতভেদ করা। সম্ভবত এই মতভেদের কারণগুলো নিম্নরূপ:
প্রথমত: শাইখের শৈশবে হিজরত এবং অল্প বয়সেই তাঁর আদি জন্মভূমি ত্যাগ করা।
দ্বিতীয়ত: সেই চরম অস্পষ্টতা যা আন্দালুসে তাঁর জীবনের ওপর এক ঘন পর্দা টেনে দিয়েছে এবং তাকে লোকচক্ষুর আড়ালে ঠেলে দিয়েছে; ফলে তা নিছক ধারণা ও অনুমানের গহ্বরে নিমজ্জিত হয়েছে।
তৃতীয়ত: শাইখের প্রতিভার স্ফুরণ দামেস্কের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া, যা কিছু আলেমকে বিভ্রান্ত করেছে। ফলে তাঁরা ধারণা করেছেন যে তিনি সেখানেই জন্মগ্রহণ করেছেন (১)। গ্রন্থকারের জীবনী যারা লিখেছেন তাঁদের অধিকাংশেরই মত হলো, তিনি "জায়্যান আল-হারির"-এ জন্মগ্রহণ করেছেন, যা আন্দালুসের বিখ্যাত শহরগুলোর একটি। এটি কৃষি উৎপাদনে অত্যন্ত সমৃদ্ধ, বীরদের চারণভূমি এবং প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষায় অত্যন্ত সুদৃঢ় একটি অঞ্চল (২) এবং এর আশপাশের এলাকাগুলো অত্যন্ত মনোরম (৩)।
ইয়াকুত (৪) এর উচ্চারণ নির্ধারণ করেছেন জীম-এ ফাতহাহ (যবর) এবং ইয়া-তে তাশদীদ ও নুন-এর সাথে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
آخرها "جيان"، ويوافقه على هذا صاحب القاموس (1)، والمقري (2).
والراجح أن المصنف ولد في "جيان"، ويؤكد هذا ما كتبه بقلمه، إذ أنه كتب إجازتين علميتين لتلميذه ابن جعوان (3) في نهاية كتابه "إكمال الإعلام في تثليث الكلام".
وجاء في نهاية الإجازة الأولى: "وكتبه محمد بن عبد الله بن مالك الطائي الجياني".
وجاء في نهاية الثانية: "وكتبه الفقير إلى عفو الله، محمد بن عبد الله بن عبد الله بن مالك الطائي الجياني".
وتاريخ الإجازة الأولى يوم الثلاثاء السادس والعشرين من ذي الحجة من سنة أربع وستين وستمائة.
وتاريخ الثانية: يوم الخميس التاسع والعشرين من ربيع الأول من سنة سبع وستين وستمائة.
وإذا كان ابن مالك ولد في "جيان" وعاش في "دمشق"، فالثابت تاريخيًا أنه لم ينتقل من الأولى إلى الثانية دفعة واحدة، وإنما عرج في طريقه على القاهرة فقضى فيها وقتًا، قال المقري يتحدث عنه (4):
"وقدم رحمه الله القاهرة، ثم رحل إلى دمشق، وبهامات".
وقال الشيخ الملوي في حاشيته على المكودي، شارح الألفية متحدثًا عنه (5):
--------------------------------------------
এর শেষটি হলো "জাইয়্যান", এবং আল-কামুস প্রণেতা (১) ও আল-মাক্বরী (২) এ ব্যাপারে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
অধিকতর সঠিক মত হলো গ্রন্থকার "জাইয়্যান"-এ জন্মগ্রহণ করেছেন, এবং তিনি নিজ হাতে যা লিখেছেন তা একথাই নিশ্চিত করে। কারণ তিনি তাঁর গ্রন্থ "ইকমালুল ই'লাম ফি তাথলিথিল কালাম"-এর শেষে তাঁর ছাত্র ইবনে জা'ওয়ান (৩)-এর উদ্দেশ্যে দুটি ইলমী ইজাযত (সনদ) লিখেছিলেন।
প্রথম ইজাযতের শেষে এসেছে: "এটি লিখেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিক আত-ত্বায়ী আল-জাইয়্যানী।"
দ্বিতীয়টির শেষে এসেছে: "এটি লিখেছেন আল্লাহর ক্ষমার মুখাপেক্ষী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিক আত-ত্বায়ী আল-জাইয়্যানী।"
প্রথম ইজাযতটির তারিখ ছিল ৬৬৪ হিজরির ছাব্বিশে যিলহজ্জ, মঙ্গলবার।
দ্বিতীয়টির তারিখ ছিল ৬৬৭ হিজরির ঊনত্রিশে রবিউল আউয়াল, বৃহস্পতিবার।
ইবনে মালিক যদিও "জাইয়্যান"-এ জন্মগ্রহণ করেছেন এবং "দামেশক"-এ বসবাস করেছেন, তবে ঐতিহাসিকভাবে এটি সাব্যস্ত যে তিনি প্রথম স্থান থেকে দ্বিতীয় স্থানে সরাসরি স্থানান্তরিত হননি। বরং তিনি পথিমধ্যে কায়রোতে যাত্রাবিরতি করেন এবং সেখানে কিছু সময় অতিবাহিত করেন। আল-মাক্বরী তাঁর সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন (৪):
"তিনি (রহিমাহুল্লাহ) কায়রোতে আগমন করেন, অতঃপর দামেশকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।"
শায়খ আল-মাল্লাভী আলফিয়ার ব্যাখ্যাকার আল-মাকুদীর উপর তাঁর টীকাগ্রন্থে (হাশিয়া) তাঁর সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন (৫):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
"وقد تولى القضاء بالقاهرة، وتشفع بها، ثم رحل إلى الشام".
وليس من شك في قدوم ابن مالك إلى القاهرة، وإنما الشك كل الشك في توليه القضاء بها.
ذلك أن منصب القضاء من المناصب الخطيرة في الدول الإسلامية، والمصنف حين مروره بمصر كان صغير السن، ولم يكن حصل من العلم القدر الذي يؤهله -وهو غريب من الديار- لهذا المننصب الخطير.
هذا إلى أنه كان بمصر في ذلك الوقت من العلماء من يملأ منصب القضاء، إن أصبح الناس يومًا، ورأوا منصب القاضي شاغرًا.
منهم على سبيل المثال لا الحصر: عبد العظيم المنذري، وشهاب الدين القرافي، وابن الحاجب، وابن معط.
يضاف إلى هذا أن صاحب كتاب "حسن المحاضرة في أخبار مصر والقاهرة" تعرض لمن تولوا القضاء في مصر (1)، ولم يذكر فيهم ابن مالك.
ومهما يك من شيء فإن ابن مالك مر في طريقه إلى الشام على "مصر"، وأقام فيها ما شاء الله أن يقيم، ثم ارتحل إلى الأراضي المقدسة رغبة في الحج، ثم سافر إلى "دمشق"، وحضر فيها دروسًا على بعض علمائها، ثم انتقل إلى "حلب"، فأقام فيها أزمانًا يشتغل بالتدريس، ثم رحل إلى "حماة"، ومنها عاد غلى "دمشق"، فتصدر للتدريس فيها بجانب مهمة القراءة على التربة العادلية، وظل كذلك
--------------------------------------------
"তিনি কায়রোতে বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, সেখানে শাফেয়ী মাযহাব অবলম্বন করেছিলেন, অতঃপর শামে পাড়ি জমান।"
ইবনে মালিকের কায়রোতে আগমনের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, তবে সেখানে তার বিচারকের পদ গ্রহণের বিষয়েই সমস্ত সন্দেহ নিহিত।
এর কারণ হলো, ইসলামী রাষ্ট্রসমূহে বিচারকের পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর অন্তর্ভুক্ত, আর লেখক যখন মিসর অতিক্রম করছিলেন তখন তিনি অল্পবয়সী ছিলেন এবং এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য উপযুক্ত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত জ্ঞান তখনও অর্জন করেননি—বিশেষ করে যখন তিনি সেই ভূখণ্ডে একজন প্রবাসী ছিলেন।
এর পাশাপাশি সেই সময়ে মিসরে এমন অনেক আলেম বিদ্যমান ছিলেন যারা বিচারকের পদটি অলঙ্কৃত করার যোগ্য ছিলেন, যদি কোনোদিন মানুষ দেখত যে বিচারকের পদটি শূন্য হয়েছে।
তাদের মধ্যে উদাহরণস্বরূপ (তবে সীমাবদ্ধ নয়): আবদুল আজিম আল-মুনজিরি, শিহাব উদ্দিন আল-কারাফি, ইবনুল হাজিব এবং ইবনে মু'তি।
এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, 'হুসনুল মুহাদারা ফি আখবার মিসর ওয়াল কাহিরা' গ্রন্থের লেখক মিসরে যারা বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের আলোচনা করেছেন (১), কিন্তু তাদের মধ্যে ইবনে মালিকের নাম উল্লেখ করেননি।
যাই হোক না কেন, ইবনে মালিক শামে যাওয়ার পথে মিসর হয়ে গিয়েছিলেন এবং সেখানে আল্লাহ যতদিন চেয়েছিলেন অবস্থান করেছিলেন। এরপর তিনি হজের উদ্দেশ্যে পবিত্র ভূমির পানে যাত্রা করেন। এরপর তিনি দামেস্কে সফর করেন এবং সেখানকার কিছু আলেমের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। তারপর তিনি আলেপ্পোতে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে দীর্ঘকাল অধ্যাপনায় নিয়োজিত থাকেন। এরপর তিনি হামাতে গমন করেন এবং সেখান থেকে পুনরায় দামেস্কে ফিরে আসেন। সেখানে তিনি 'তুরবাতুল আদিলিয়া'তে পাঠদানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক হিসেবে আসীন হন এবং এভাবেই চলতে থাকেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
صابرًا محتسبًا حتى وافاه الأجل، فذهب وترك الناس من بعده يجهلون كل شيء عنه ويتساءلون:
متى ولد؟ أين ذهبت أسرته؟ متى هجر جيان؟ لم كان ذلك؟ كيف قضى عهد طفولته وصباه؟ متى قدم مصر؟ على من حضر فيها؟ لماذا غادرها، وهي قلب العروبة النابض منذ القدم؟ لماذا خص دمشق بالهجرة؟ لماذا فارقها؟ متى كان ذلك؟ لماذا ترك حلب بعد أن اختارها بديلًا لدمشق؟ كم أقام في حماة؟ ما الداعي لانتقاله إليها؟ ماذا قدر لأمره في تلك البلاد؟ ثم عاد إلى دمشق؟
لقد مضى في رحمة الله، وترك الناس من بعده يجهلون ذلك وغيره، ويقربون ذلك تقريبًا.
ثقافة ابن مالك:
نشأ رحمه الله ولوعًا بالعلم، محبًا للثقافة، مقبلًا على مؤلفات القدماء يلتهمها التهامًا، ويهضم ما فيها، متريثًا أمام نصوصها شأنه في ذلك شأن الطالب المعتمد على نفسه الذي يقرأ بفكر واع.
وقد جمع له الله -تعالى- الأسباب التي تؤهله، لأن يكون رجلًا عظيمًا "واحد عصره" (1) كما يقولون.
فهيأ له البيئة التي تموج بالعلم. وتدفع إليه دفعًا، ومنحه العقل المفكر، والذهن الألمعي، والحافظة الذاكرة، والرغبة الدافعة،
--------------------------------------------
ধৈর্যশীল ও নেকির আশাবাদী হয়ে তিনি শেষ সময় পর্যন্ত অবিচল ছিলেন, অবশেষে মৃত্যু তাকে গ্রাস করল। তিনি চলে গেলেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নিজের সম্পর্কে সবকিছুই অজানা রেখে গেলেন। তারা প্রশ্ন করতে লাগল:
তিনি কখন জন্মগ্রহণ করেছিলেন? তার পরিবার কোথায় চলে গেল? তিনি কখন জাইয়ান ত্যাগ করেছিলেন? কেন এমন হয়েছিল? কীভাবে তার শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত হয়েছিল? তিনি কখন মিশরে এসেছিলেন? সেখানে তিনি কার কাছে পাঠ গ্রহণ করেছিলেন? তিনি কেন মিশর ত্যাগ করেছিলেন, যা প্রাচীনকাল থেকেই আরবীয় চেতনার স্পন্দিত হৃদপিণ্ড ছিল? কেন তিনি হিজরতের জন্য দামেস্ককে বেছে নিয়েছিলেন? কেনই বা তিনি তা ত্যাগ করেছিলেন? সেটা কখন ছিল? দামেস্কের বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়ার পর কেন তিনি আলেপ্পো ত্যাগ করলেন? তিনি হামাতে কত দিন অবস্থান করেছিলেন? সেখানে স্থানান্তরের কারণ কী ছিল? সেই দেশগুলোতে তার ভাগ্যে কী নির্ধারিত ছিল? এরপর কি তিনি পুনরায় দামেস্কে ফিরে এসেছিলেন?
তিনি আল্লাহর রহমতের দিকে চলে গেছেন, আর পরবর্তী মানুষদের জন্য এই বিষয়গুলো ও অন্যান্য অনেক কিছু অজানা রেখে গেছেন; যা নিয়ে তারা এখন কেবল অনুমানই করতে পারে।
ইবনে মালিকের পাণ্ডিত্য:
তিনি (আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন) ইলম বা জ্ঞানের প্রতি গভীর অনুরাগী এবং পাণ্ডিত্যের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে বেড়ে উঠেছেন। তিনি প্রাচীনদের কিতাবগুলোর প্রতি এমনভাবে নিবিষ্ট ছিলেন যেন সেগুলো গোগ্রাসে গলধঃকরণ করছেন এবং সেগুলোর বিষয়বস্তু পুরোপুরি আত্মস্থ করছেন। তিনি সেগুলোর পাঠের সামনে ধীরস্থিরভাবে চিন্তা করতেন, ঠিক সেই স্বনির্ভর শিক্ষার্থীর মতো যে সচেতন মনে অধ্যয়ন করে।
আল্লাহ তাআলা তার জন্য এমন সব কারণ ও মাধ্যম একত্রিত করেছিলেন যা তাকে একজন মহান ব্যক্তি হিসেবে গড়ে ওঠার যোগ্য করেছিল, যাকে সমকালীনরা "যুগের অদ্বিতীয়" (১) বলে অভিহিত করতেন।
তিনি তার জন্য জ্ঞান-গরিমায় মুখরিত একটি পরিবেশের ব্যবস্থা করেছিলেন যা তাকে ইলমের দিকে ধাবিত করত। তিনি তাকে দান করেছিলেন চিন্তাশীল মস্তিষ্ক, প্রখর মেধা, শক্তিশালী মুখস্থ শক্তি এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
حتى يقال: "إنه حفظ يوم موته عدة أبيات حدها بعضهم بثمانية، لقنها إياه ابنه" (1)، وهو على فراش الموت.
ثم إن رحلته من المغرب إلى المشرق، وتنقله بين البلدان، ومن مكان إلى مكان، أتاح له الاتصال بكبار العلماء، فأفاد منهم ما استطاع، وما امتد وقته.
وما لم تمتد إليه يد الفناء من آثار ابن مالك ينبئ عن اتصال بنواح كثيرة من العلوم كاللغة والنحو، والصرف، والعروض، والحديث، والقراءات. فتنوعت دراساته حتى كادت تشمل أكثر علوم العربية في عصره.
وامتزاج الثقافات عنده ظاهر جلي، وقد ساعدته درايته باللغة، وإحاطته بالنحو والصرف، وإلمامه بالأدب على حل المشكلات التي تنشأ من الاختلاف في فهم النصوص.
وكان المشرف اليونيني يقرأ الحديث بين يدي شيخه ابن مالك، فإذا مر بهم لفظ يوهم ظاهره مخالفة قوانين العربية. سأله الشيخ: "هل الرواية فيه كذلك"؟
فإن أجاب بأنه منها شرع ابن مالك في توجيه الرواية، لتسير في ظلال القواعد العربية.
ومن ثم وضع كتابه المسمى "شواهد التوضيح، والتصحيح لمشكلات الجامع الصحيح" (2).
وقد حفظ التاريخ ما كتبه ابن مالك على الورقة الأولى من
--------------------------------------------
এমনকি এও বলা হয়: “তিনি তাঁর মৃত্যুর দিন মৃত্যুশয্যায় থাকা অবস্থায় বেশ কিছু পঙক্তি মুখস্থ করেছিলেন, যেগুলোর সংখ্যা কেউ কেউ আটটি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যা তাঁর পুত্র তাঁকে পাঠ করে শুনিয়েছিলেন” (১)।
অতঃপর মাগরিব (মরক্কো) থেকে মাশরিক (প্রাচ্য) পর্যন্ত তাঁর সফর এবং বিভিন্ন দেশ ও এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তাঁর পরিভ্রমণ তাঁকে বড় বড় আলেমদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ করে দিয়েছিল। ফলে তিনি তাঁদের থেকে যতটা সম্ভব এবং তাঁর সময় অনুযায়ী উপকৃত হয়েছিলেন।
ইবনে মালিকের যে সকল রচনা বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে, তা ভাষা, নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (শব্দতত্ত্ব), আরুজ (ছন্দতত্ত্ব), হাদিস এবং কিরাতসহ বিজ্ঞানের বহু শাখার সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতার জানান দেয়। তাঁর অধ্যয়ন ও গবেষণা এতোটাই বৈচিত্র্যময় ছিল যে, তা তাঁর সমসাময়িক যুগের অধিকাংশ আরবি বিজ্ঞানকে প্রায় অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছিল।
তাঁর মাঝে বিভিন্ন সংস্কৃতির সংমিশ্রণ অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রোজ্জ্বল ছিল। ভাষার ওপর তাঁর প্রজ্ঞা, নাহু ও সরফ বিষয়ে গভীর জ্ঞান এবং সাহিত্যের ওপর তাঁর দখল পাঠ্যবস্তুর (নসুস) মর্ম অনুধাবনে মতপার্থক্যজনিত কারণে উদ্ভূত সমস্যাগুলো সমাধানে তাঁকে সাহায্য করেছিল।
মুশরিফ আল-ইউনিনি তাঁর উস্তাদ ইবনে মালিকের সামনে হাদিস পাঠ করতেন। যখনই এমন কোনো শব্দ আসত যার বাহ্যিক রূপ আরবি ব্যাকরণের নিয়মের পরিপন্থী বলে প্রতীয়মান হতো, তখন উস্তাদ তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন: “বর্ণনাটি কি ঠিক এভাবেই এসেছে?”
যদি তিনি উত্তর দিতেন যে বর্ণনাটি এভাবেই এসেছে, তবে ইবনে মালিক সেই বর্ণনাটিকে আরবি ব্যাকরণের নিয়মের আলোকে ব্যাখ্যা করতে শুরু করতেন।
আর এখান থেকেই তিনি তাঁর “শাওয়াহিদুল তাওদিহ ওয়াত তাসহিহ লি-মুশকিলাতিল الجامع الصحيহ (সহিহ বুখারী)” (২) নামক গ্রন্থটি রচনা করেন।
ইতিহাস ইবনে মালিক কর্তৃক প্রথম পৃষ্ঠায় যা লিখিত হয়েছিল তা সংরক্ষণ করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الجزء الأخير من نسخة الشرف اليونيتي من صحيح البخاري، وهذا صورته:
"سمعت ما تضمنه هذا المجلد من صحيح البخاري رضي الله عنه بقراءة سيدنا الشيخ الإمام العالم، الحافظ المتفنن شرف الدين أبي الحسين علي بن محمد بن أحمد اليونيني رضي الله عنه وعن سلفه- وكان السماع بحضرة جماعة من الفضلاء، ناظرين في نسخ معتمد عليها، فكلما مر بهم لفظ ذو إشكال بينت فيه وجه الصواب، وضبطته على ما اقتضاه علمي بالعربية.
وما افتقر إلى بسط عبارة، وإقامة دلالة أخرت أمره إلى جزء أستوفي فيه الكلام مما يحتاج إليه من نظير وشاهد، ليكون الانتفاع به عامًا، والبيان تامًا -إن شاء الله تعالى- وكتبه محمد بن عبد الله بن مالك -حامدًا الله تعالى".
كما كتب الحافظ اليونيني على ظهر آخر ورقة من المجلد المذكور ما صورته:
"بلغت مقابلة وتصحيحًا، وإسماعًا بين يدي شيخنا شيخ الإسلام، حجة العرب، مالك أزمة الأدب العلامة أبي عبد الله بن مالك، الطائي، الجياني -أمد الله في عمره- في المجلس الحادي والسبعين، وهو يراعي قراءتي، ويلاحظ نطقي، فما اختاره ورجحه وأمر بإصلاحه أصلحته، وصححت عليه.
وما ذكر أنه يجوز فيه إعرابان، أو ثلاثة أعملت ذلك على ما أمر ورجح.
সহিহ বুখারীর শরফ আল-ইউনিনি পাণ্ডুলিপির শেষাংশ, এবং এর বর্ণনা হলো নিম্নরূপ:
"আমি আমাদের সাইয়িদি শেখ, ইমাম, আলিম এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হাফেজ শরফ উদ্দিন আবু আল-হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ইউনিনির (আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পূর্বসূরিদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) পাঠের মাধ্যমে সহিহ বুখারীর এই খণ্ডে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা শ্রবণ করেছি—এই শ্রবণ অনুষ্ঠানটি একদল গুণী ব্যক্তির উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছিল, যারা নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখছিলেন। যখনই কোনো জটিল শব্দ তাঁদের সামনে আসত, আমি সেটির সঠিক রূপ বর্ণনা করতাম এবং আরবি ভাষার ওপর আমার জ্ঞান অনুযায়ী তা সুসংহত করতাম।
আর যে বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং প্রমাণ উপস্থাপনের মুখাপেক্ষী ছিল, তা আমি এমন এক অংশের জন্য স্থগিত রেখেছি যেখানে অনুরূপ দৃষ্টান্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আলোচনা পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করব, যাতে এর উপকারিতা সর্বজনীন হয় এবং বর্ণনাটি পরিপূর্ণতা পায়—ইনশাআল্লাহ। এটি লিখেছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মালিক—আল্লাহ তাআলার প্রশংসা জ্ঞাপনপূর্বক।"
হাফেজ আল-ইউনিনি উক্ত খণ্ডের সর্বশেষ পৃষ্ঠার উল্টো পিঠে নিম্নোক্ত বক্তব্যটি লিখেছেন:
"আমাদের শেখ, শায়খুল ইসলাম, আরবদের হুজ্জাহ (প্রমাণ), সাহিত্যের লাগামধারী আল্লামা আবু আবদুল্লাহ বিন মালিক আল-তাঈ আল-জায়্যানির (আল্লাহ তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন) সামনে একাত্তরতম মজলিসে এই পাণ্ডুলিপির মোকাবিলা (মূলের সাথে তুলনা), সংশোধন এবং শ্রবণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আমার পাঠের প্রতি খেয়াল রাখছিলেন এবং আমার উচ্চারণের ওপর নজর দিচ্ছিলেন। তিনি যা নির্বাচন করেছেন, প্রাধান্য দিয়েছেন এবং সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন, আমি তা সংশোধন করেছি এবং তাঁর মাধ্যমে যাচাই করে নিয়েছি।
আর যে ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন যে এতে দুই বা তিন প্রকারের ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) হতে পারে, আমি তাঁর নির্দেশ ও অগ্রাধিকার অনুযায়ী তা কার্যকর করেছি।"
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وكتبه علي بن محمد الهاشمي اليونيني" (1).
وبهذا يثبت ما قاله المؤرخون "كان ابن مالك آية في الحديث" (2)، فهو سمعه وأرهف السمع ليضبط مشكله، ويخرج ما ظاهره البعد عن قياس العربية ثم صنف فيه، وبذا يكون حصل منه ما لم يحصله كثير من أمثاله.
ومن هنا يعلم السر في كثرة استشهاد الشيخ بما ورد في الحديث الشريف بصورة أفزعت كثيرا من العلماء على رأسهم أبو حيان، الذي أكثر من الاعتراض على المصنف كقوله في "التذييل والتكميل شرح التسهيل" (3).
"قد نهج هذا المصنف في تصانيفه كثيرا بالاستدلال بما وقع في إثبات القواعد الكلية في لسان العرب.
وما رأيت أحدًا من المتقدمين، ولا المتأخرين سلك هذه الطريقة غير هذا الرجل".
وكان المصنف رحمه الله أكثر ما يستشهد بالقرآن الكريم، وله في استحضار الآيات للاستدلال بها قوة وقدرة، فقد كان إمامًا في القراءات، وعالمًا بها، نظم فيها قصيدته الرائعة التي يعتبرها العلماء في قدر "الشاطبية" (4)، وإن كانت في نظر صاحبها أعظم وأجل، وأشمل وها هوذا يقول في مقدمتها (5):
--------------------------------------------
এবং এটি আলী বিন মুহাম্মদ আল-হাশেমি আল-ইউনিনি লিখেছেন (১)।
এর মাধ্যমে ঐতিহাসিকদের সেই কথাটিই প্রমাণিত হয় যে, "ইবনে মালিক হাদীসশাস্ত্রে এক বিস্ময়কর নিদর্শন ছিলেন" (২)। তিনি হাদীস শ্রবণ করতেন এবং অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তা শুনতেন যাতে এর জটিল বিষয়গুলো নিরসন করা যায় এবং বাহ্যত যা আরবী ব্যাকরণের নিয়মের বাইরে মনে হয় তা উদঘাটন করা যায়। অতঃপর তিনি এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন। এর মাধ্যমে তিনি এমন কিছু অর্জন করেন যা তাঁর সমসাময়িক অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়নি।
এখান থেকেই শাইখ কর্তৃক হাদীসে নববীর উদ্ধৃতি অধিকহারে ব্যবহারের রহস্যটি জানা যায়, যা আবু হাইয়ানের মতো অনেক আলেমকে বিচলিত করে তুলেছিল। আবু হাইয়ান গ্রন্থকারের ওপর অনেক আপত্তি তুলেছেন, যেমনটি তিনি "আত-তাযয়ীল ওয়াত-তাকমীল শারহুত তাসহীল" (৩) গ্রন্থে বলেছেন।
"এই গ্রন্থকার তাঁর সংকলনসমূহে আরবী ভাষার মৌলিক নিয়মাবলী প্রমাণের ক্ষেত্রে (হাদীসের) প্রয়োগ দ্বারা দলিল পেশ করার পদ্ধতিটি ব্যাপকভাবে অনুসরণ করেছেন।
আমি পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কারো মধ্যে এই ব্যক্তিকে ছাড়া আর কাউকে এই পথ অবলম্বন করতে দেখিনি।"
গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) সবচেয়ে বেশি পবিত্র কুরআন থেকে উদ্ধৃতি দিতেন। দলিল হিসেবে আয়াতের উপস্থাপনায় তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ও সক্ষমতা ছিল। তিনি কিরাআত শাস্ত্রের ইমাম ও পণ্ডিত ছিলেন এবং এ বিষয়ে তাঁর একটি চমৎকার কাসিদা (কবিতা) রচনা করেছেন, যাকে ওলামায়ে কেরাম "আশ-শাতিবিয়্যাহ" (৪)-এর সমতুল্য মনে করেন; যদিও তা এর লেখকের দৃষ্টিতে অধিক মহিমান্বিত, মহান ও ব্যাপক ছিল। তিনি এর ভূমিকায় (৫) বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وبعد فذا نظم وجيز قد احتوى
… على ما احتوى حرز الأماني وأزيدا
يريد بـ "حرز الأماني" القصيدة المشهورة بالشاطبية فاسمها "حرز الأماني ووجه التهاني".
وكان الشيخ إذا لم يجد في القرآن شاهدًا عدل إلى الحديث الشريف، يستخرج منه ما صحت روايته معتمدًا في ذلك على خبرته الواسعة، وممارسته كتب الحديث النبوي الموثوق بصحة ما فيها.
فإن لم يتيسر له العثور على ضالته المنشودة عرج على شعر العرب، وكلامهم.
ولعل كثرة اطلاعه على شعر القدماء، وسرعة حفظه لما يقع تحت بصره سهل له نظم الشعر، بل طبعه على قوله حتى عالجه في أصعب مسالكه، وهو نظم العلوم.
فلا شك أن هذا اللون من أشق ألوان النظم؛ لأن أفكاره محددة، وموضوعاته مفروضة، وعلى ناظم العلوم أن يستوفي ما أمامه من أراء وأفكار.
وقد يجمع المصنف في استدلالاته بين القرآن الكريم والحديث الشريف، والموثوق
به من الشعر وكلام العرب.
ولقد كان له في اللغة باع طويل.
قال الصفدي (1):
أخبرني أبو الثناء محمود (2) قال:
--------------------------------------------
এরপর, এটি একটি সংক্ষিপ্ত কাব্য যা ধারণ করেছে
… হিরজুল আমানি যা ধারণ করেছে এবং তার চেয়েও বেশি কিছু।
তিনি "হিরজুল আমানি" বলতে শাত্বিবিয়্যাহ নামে প্রসিদ্ধ কাসিদাকে বুঝিয়েছেন, যার মূল নাম হলো "হিরজুল আমানি ওয়া ওয়াজহুত তাহানি"।
শাইখ যখন পবিত্র কুরআনে কোনো প্রমাণ পেতেন না, তখন তিনি হাদিস শরিফের দিকে ধাবিত হতেন। তিনি সেখান থেকে সহিহ বা বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলো চয়ন করতেন; আর এক্ষেত্রে তিনি তাঁর ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থসমূহের গভীর চর্চার ওপর নির্ভর করতেন।
যদি তিনি সেখানেও তাঁর কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে না পেতেন, তবে তিনি আরবদের কবিতা ও বাকরীতির দিকে দৃষ্টি দিতেন।
সম্ভবত প্রাচীন কবিদের কাব্যসাহিত্যের ওপর তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য এবং কোনো বিষয়ের ওপর নজর পড়ামাত্রই তা দ্রুত মুখস্থ করার ক্ষমতা তাঁর জন্য কাব্য রচনাকে সহজ করে দিয়েছিল; বরং কাব্যচর্চা তাঁর স্বভাবে মিশে গিয়েছিল, এমনকি তিনি এর সবচেয়ে কঠিন শাখা তথা ইলমি বা জ্ঞানভিত্তিক কিতাবসমূহকে ছন্দে রূপ দেওয়ার কাজটিও সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছেন।
নিঃসন্দেহে কাব্য রচনার এই ধারাটি অত্যন্ত কঠিন; কারণ এর চিন্তাগুলো সুনির্দিষ্ট এবং বিষয়গুলো নির্ধারিত থাকে। আর ইলমি কাব্য রচয়িতাকে তাঁর সামনে থাকা সমস্ত মতামত ও চিন্তাকে পরিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করতে হয়।
গ্রন্থকার তাঁর দালিলিক প্রমাণের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন, হাদিস শরিফ এবং আরবদের কবিতা ও বাচনভঙ্গির নির্ভরযোগ্য অংশগুলোর সমন্বয় ঘটাতেন।
ভাষার ক্ষেত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও পারদর্শিতা ছিল।
সাফাদি (১) বলেন:
আমাকে আবুল সানা মাহমুদ (২) জানিয়েছেন, তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
"جلس ابن مالك يومًا، وذكر ما انفرد به صاحب المحكم (1) عن الأزهري (2) في اللغة".
وهذا -لا ريب- أمر عظيم؛ لأنه يحتاج إلى معرفة ما في الكتابين معرفة دقيقة، ثم الموازنة بين ما اشتملا عليه.
أما النحو والصرف، فقد كان فيهما بحرًا لا يشق لجه، حتى صار يضرب به المثل في دقائق النحو، وغوامض الصرف (3).
وفي هذا المجال عجب الفضلاء من فرط ذكائه، وسيلان ذهنه، وقوة حافظته واستحضاره لكل ما مر به، حتى أصبحوا في حيرة من أمره (4)، وانبري من بينهم من يقول:
"إن ابن مالك ما خلى للنحو حرمة" (5).
وسمع ابن مالك يقول (6) عن ابن الحاجب (7):
"إنه أخذ علمه عن صاحب المفصل، وصاحب المفصل نحوي صغيره".
--------------------------------------------
একদিন ইবনে মালিক বসলেন এবং ভাষার ক্ষেত্রে আল-আযহারী (২) থেকে আল-মুহকাম (১)-এর লেখকের স্বতন্ত্র বর্ণনাগুলো উল্লেখ করলেন।
আর এটি—নিঃসন্দেহে—একটি বিশাল ব্যাপার; কারণ এর জন্য উভয় কিতাবে যা রয়েছে তা সূক্ষ্মভাবে জানা এবং তারপর উভয়টি যা অন্তর্ভুক্ত করেছে তার মধ্যে তুলনা করার প্রয়োজন হয়।
আর নাহু (ব্যাকরণ) ও সরফ (রূপতত্ত্ব) এর ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এমন এক সমুদ্র যার কূল নেই, এমনকি নাহুর সূক্ষ্ম বিষয় এবং সরফের জটিল মাসআলাগুলোতেও তাঁর উদাহরণ দেওয়া হতো (৩)।
এই ক্ষেত্রে বিদ্বানগণ তাঁর প্রখর মেধা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা, শক্তিশালী স্মৃতিশক্তি এবং তাঁর পঠিত প্রতিটি বিষয় তাৎক্ষণিক উপস্থিত করার ক্ষমতা দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন, এমনকি তারা তাঁর ব্যাপারে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন (৪), এবং তাদের মধ্যে থেকে কেউ একজন বলে উঠলেন:
"নিশ্চয়ই ইবনে মালিক নাহুর জন্য কোনো মর্যাদা/গোপনীয়তা অবশিষ্ট রাখেননি" (৫)।
ইবনে মালিককে ইবনুল হাজিব (৭) সম্পর্কে বলতে শোনা গেছে (৬):
"নিশ্চয়ই তিনি আল-মুফাসসাল-এর লেখকের কাছ থেকে তাঁর জ্ঞান অর্জন করেছেন, আর আল-মুফাসসাল-এর লেখক একজন ছোট মাপের ব্যাকরণবিদ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وصاحب المفصل هو الزمخشري.
ولا يجرؤ على قول هذا على جار الله، إلا من بلغ القمة.
حياته:
ورد على كراريس من كتاب "تسهيل الفوائد، وتكميل المقاصد" بخط ابن مالك مؤلفه:
"صورة قصة رفعها -الفقير إلى رحمة ربه: محمد بن عبد الله بن مالك، يقبل الأرض، وينهي إلى السلطان -أيد الله جنوده، وأيد سعوده- إنه أعرف أهل زمانه بعلوم القراءات، والنحو، واللغة، وفنون الأدب.
وأمله أن يعينه نفوذ من سيد السلاطين، وسيد الشياطين -خلد الله ملكه، وجعل المشارق والمغراب ملكه- على ما هو بصدده من إفادة المستفيدين، وإرشاد المسترشدين، بصدقة تكفيه هم عياله، وتغنيه عن التسبب في صلاح حاله" (1).
وهذه الرسالة تعطي صورة واضحة المعالم لخشونة عيش المؤلف رحمه الله وتبين أن حياته كان فيها شيء غير قليل من العسر، الذي كان يستبد به أحيانًا فيطلب المعونة، ومن يدري لعله كانت تعوزه النفقة، ولا يجد من يمد له يد العون فيصبر قانعًا محتسبًا، مفضلًا مرارة العيش على ذلك الوظيفة وخدمة الولاة والسلاطين، مؤثرُا العزلة على الاختلاط بالمجتمع المتنافر من حوله.
لقد كان في استطاعة الشيخ تغيير أسلوب حياته، إن هو أقبل نحو الحكام متعاونًا. ولا ريب أنه أهل لمنصب لا بأس به، وكيف لا وقد كان قاضي القضاة يأتي مجلسه، ويتعلم منه، ويسأله (2).
--------------------------------------------
'আল-মুফাসসাল'-এর রচয়িতা হলেন আয-যামাখশারী।
যে ব্যক্তি জ্ঞানের চরম শিখরে পৌঁছেছেন, তিনি ব্যতীত আর কেউ 'জারুল্লাহ' সম্পর্কে এমন কথা বলার সাহস করেন না।
তাঁর জীবন:
তাঁর (ইবনে মালিকের) রচিত 'তাশহীলুল ফাওয়াইদ ওয়া তাকমিলুল মাকাসিদ' গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির পাতায় ইবনে মালিকের নিজ হাতে লেখা নিম্নোক্ত কথাটি পাওয়া যায়:
"একটি আরজির অনুলিপি যা পেশ করেছেন—তাঁর রবের রহমতের মুখাপেক্ষী দরিদ্র বান্দা: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক; তিনি ভূমি চুম্বন করেন এবং সুলতানের—আল্লাহ তাঁর বাহিনীকে সাহায্য করুন এবং তাঁর সৌভাগ্যকে সুসংহত করুন—দৃষ্টিগোচর করছেন যে, তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে কিরাআত, নাহু, লুগাত এবং সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় সর্বাধিক জ্ঞানী।
এবং তাঁর আশা হলো যে, সুলতানদের নেতা—আল্লাহ তাঁর রাজত্ব চিরস্থায়ী করুন এবং পূর্ব ও পশ্চিমকে তাঁর রাজত্বের অন্তর্ভুক্ত করুন—এর পক্ষ থেকে এমন এক প্রভাব তাঁকে সাহায্য করবে যাতে তিনি জ্ঞানান্বেষীদের উপকার করতে এবং হেদায়েতপ্রত্যাশীদের পথ দেখাতে পারেন; এমন একটি বৃত্তির মাধ্যমে যা তাঁর পরিবারের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তাঁকে নিজের বৈষয়িক অবস্থা সংশোধনের জন্য অন্য কোনো উপায় অন্বেষণ করা থেকে অভাবমুক্ত করবে।" (১)।
এই পত্রটি গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ)-এর কঠোর জীবনযাত্রার একটি স্পষ্ট চিত্র প্রদান করে এবং প্রকাশ করে যে, তাঁর জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অসচ্ছলতা ছিল, যা মাঝে মাঝে তাঁকে এতটাই পর্যুদস্ত করত যে তিনি সাহায্য প্রার্থনা করতেন। কে জানে, হয়তো তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় ব্যয়নির্বাহের অর্থ থাকত না এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো কাউকে পেতেন না, ফলে তিনি অল্পে তুষ্ট হয়ে এবং সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ করতেন। তিনি কোনো রাজকীয় পদ বা গভর্নর ও সুলতানদের খিদমত করার চেয়ে মানবেতর জীবনযাপনকেই শ্রেয় মনে করতেন এবং তাঁর চারপাশের বিবাদপূর্ণ সমাজে মেলামেশার চেয়ে নির্জনতাকেই বেছে নিতেন।
শেখ চাইলে তাঁর জীবনযাত্রার ধরন পরিবর্তন করতে পারতেন, যদি তিনি শাসকদের কাছে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি একটি উচ্চ পদের উপযুক্ত ছিলেন। কেনই বা হবেন না, যখন খোদ প্রধান বিচারপতি তাঁর মজলিসে আসতেন, তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করতেন এবং তাঁর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ولكن الاعتداد بالنفس الذي قضى عليه أن يلابس دهره كما شاء في الجملة، لا كما أراد بالتفصيل.
فضحك لجوانب الحياة المظلمة، وهزأ بما يراه غيره نعمة، ورضي من الزمان حلوه ومره، وقنع بالعيش يسره وعسره.
وفي الرضا والقناعة عزاء للنفس، وشفاء للروح.
أخلاقه:
حبا الله -تعالى- المصنف بأخلاق عالية، وطبعه على خلال حميدة، فغدا موضع الرضا والاحترام، والتكريم والتبجيل من كل من عرفه، أو اتصل به، ولم يسمع أن واحدًا من مريديه، أو المخالطين له أنكر عليه شيئًا رآه فيه.
وهو في نظر مؤرخيه كثير العبادة، حسن السمت، كامل العقل (1) مهذب ذو رزانة وحياء ووقار (2).
لا يرى إلا وهو يصلي، أو يتلو، أو يصنف، أو يقرئ، فله الدين المتين، والتقوى الراسخة (3)، والعفة (4).
ولعل أوضح أخلاق ابن مالك، وأبرزها وأخلدها على الزمان:
الترفع والإباء، والاعتداد بالنفس.
والاعتداد بالنفس صفة محمودة تصفي على صاحبها كمال
--------------------------------------------
কিন্তু আত্মমর্যাদাবোধ, যা তাঁকে সামগ্রিকভাবে তাঁর যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বাধ্য করেছিল যেভাবে তিনি চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিটি বিস্তারিত ক্ষেত্রে তেমনটি নয়।
ফলে তিনি জীবনের অন্ধকার দিকগুলো দেখে হেসেছেন, অন্যরা যেটিকে নেয়ামত মনে করে সেটিকে তিনি বিদ্রূপ করেছেন, যামানার মিষ্টতা ও তিক্ততায় সন্তুষ্ট থেকেছেন এবং জীবনের সচ্ছলতা ও অভাবকে হাসিমুখে গ্রহণ করেছেন।
আর সন্তুষ্টি ও অল্পে তুষ্টির মাঝে রয়েছে আত্মার প্রশান্তি এবং রুহের আরোগ্য।
তাঁর চরিত্র:
আল্লাহ তাআলা গ্রন্থকারকে উচ্চমর্যাদার চরিত্রের মাধ্যমে ভূষিত করেছেন এবং তাঁকে প্রশংসনীয় স্বভাবের ওপর সৃষ্টি করেছেন। ফলে তিনি তাঁকে চেনা বা তাঁর সংস্পর্শে আসা প্রত্যেকের নিকট সন্তুষ্টি, শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভক্তির পাত্রে পরিণত হয়েছেন। এমনটি শোনা যায়নি যে, তাঁর কোনো অনুসারী বা তাঁর সাথে মেলামেশা করা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ তাঁর মাঝে এমন কোনো কিছু অপছন্দ করেছেন যা তাঁরা তাঁর মধ্যে দেখেছেন।
তাঁর ইতিহাসবিদদের দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন অধিক ইবাদতকারী, উত্তম আচরণের অধিকারী, পূর্ণ জ্ঞানসম্পন্ন (১), মার্জিত এবং গাম্ভীর্য, লজ্জা ও মর্যাদাবোধের অধিকারী (২)।
তাঁকে কেবল সালাত আদায়রত, তিলাওয়াতরত, গ্রন্থ রচনা অথবা পাঠদানরত অবস্থায় দেখা যেত। তাঁর ছিল মজবুত দ্বীনদারি, সুদৃঢ় তাকওয়া (৩) এবং চারিত্রিক পবিত্রতা (৪)।
সম্ভবত ইবন মালিকের চরিত্রের সর্বাধিক স্পষ্ট, প্রধান এবং চিরস্থায়ী বৈশিষ্ট্য হলো:
উচ্চমনস্কতা ও আত্মসম্মান এবং আত্মমর্যাদাবোধ।
আর আত্মমর্যাদাবোধ এমন একটি প্রশংসনীয় গুণ যা তার অধিকারীর ওপর পূর্ণতা দান করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الرجولة إذا لم يؤيدها المكابرة، والتشبث والعناد، وهو ما برئ منه الشيخ.
ومن الصفات الجميلة التي طبع عليها: الرجوع إلى الحق، وهي من صفات العلماء الأجلاء.
روى صاحب "نفح الطيب" قال: (1)
لما سئل ابن مالك عن قول النبي صلى الله عليه وسلم: "أعوذ بالله من الحور بعد الكور" (2)، هل هو بالراء أم بالنون؟
أنكر النون.
فقيل له: "إن في الغريبين للهروي "رواية بالنون"، فرجع عن قوله الأول. وكان رحمه الله لا يكتب شيئًا من محفوظه حتى يراجعه في محله (3).
كما كان حريصًا على وقته، منظمًا له، لا ينفقه إلا فيما رهن نفسه به من اطلاع، أو تأليف، أو قراءة أو تعليم.
وهناك موقف صغير يحكي عنه يدل على مدى اهتمامه بوقته، واعتزازه به،
ذلك أنه خرج يومًا مع أصحابه للفرجة بدمشق، فلما بلغوا الموضع الذي أرادوه غفلوا عنه سويعة ثم طلبوه فلم يجدوه، وبعد البحث عنه وجدوه مكبًا على أوراق (4).
واشتهر ابن مالك رحمه الله على ضيق ذات يده بالسماحة
--------------------------------------------
পৌরুষত্ব যদি দম্ভ, একগুঁয়েমি ও হঠকারিতা দ্বারা কলুষিত না হয়, তবেই তা সার্থক; আর শায়খ (ইবনে মালিক) এসকল দোষ থেকে মুক্ত ছিলেন।
তাঁর স্বভাবজাত সুন্দর গুণাবলির মধ্যে একটি ছিল: সত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করা, যা বরেণ্য আলেমদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
"নাফহুত তীব" গ্রন্থের রচয়িতা বর্ণনা করেছেন: (১)
যখন ইবনে মালিককে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমি আল্লাহর কাছে প্রাচুর্যের পর সংকীর্ণতা থেকে আশ্রয় চাই" (২) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, শব্দটি কি 'রা' বর্ণ দিয়ে নাকি 'নুন' বর্ণ দিয়ে?
তিনি 'নুন' বর্ণ হওয়ার কথা অস্বীকার করলেন।
তখন তাঁকে বলা হলো: "হারাবীর 'আল-গারিবাইন' গ্রন্থে 'নুন' বর্ণ যোগে একটি বর্ণনা রয়েছে", তখন তিনি তাঁর আগের অবস্থান থেকে সরে আসলেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর মুখস্থ কোনো তথ্যই ততক্ষণ লিখতেন না যতক্ষণ না মূল উৎস থেকে তা যাচাই করে নিতেন (৩)।
এছাড়া তিনি সময়ের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন ও সুশৃঙ্খল ছিলেন। অধ্যয়ন, গ্রন্থ রচনা, পাঠ কিংবা শিক্ষা দান—যেসব কাজে তিনি নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন, তা ছাড়া অন্য কোনো কাজে তিনি সময় ব্যয় করতেন না।
তাঁর সম্পর্কে একটি ছোট ঘটনা বর্ণিত আছে যা সময়ের প্রতি তাঁর গুরুত্বারোপ ও একাগ্রতার প্রমাণ দেয়।
একদিন তিনি দামেস্কে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে তাঁর সঙ্গীদের সাথে বের হলেন। যখন তাঁরা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালেন, সঙ্গীরা কিছুক্ষণের জন্য তাঁর দিক থেকে অন্যমনস্ক হয়ে পড়লেন। পরে তাঁকে খুঁজতে গিয়ে দেখা গেল তিনি কাগজের ওপর ঝুঁকে পড়ে গভীর মনোযোগের সাথে মগ্ন হয়ে আছেন (৪)।
ইবনে মালিক (রহিমাহুল্লাহ) আর্থিক দৈন্যদশা সত্ত্বেও তাঁর মহানুভবতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والكرم، حتى غدت هذه الصفة من السمات المميزة له، وسمع من المؤرخين من يردد" (1).
"انفرد ابن مالك عن المغاربة بشيئين: الكرم، ومذهب الإمام الشافعي".
وفاته:
إن كان بعض المؤرخين ممن تحدثوا عن المصنف أغفل عام ولادته، فإن واحدًا منهم لم يغفل يوم وفاته:
ولكن المؤرخين ساروا في ثلاثة طرق:
الطريق الأول: وفيه سار الجمهور، وهو أنه توفي في يوم الأربعاء الثاني عشر من شعبان سنة (672) هـ.
الطريق الثاني: وسار فيه العلامة الشمني (2)، وهو أنه توفي في يوم الأربعاء الثاني عشر من شعبان سنة (671) هـ.
الطريق الثالث: وسار فيه العلامة العيني (3)، وهو أنه توفي في ليلة الأربعاء لاثنتي عشرة ليلة خلت من رمضان سنة (672) هـ.
ويؤيد رأي الجمهور ما كتبه تلميذه بقلمه في صدر كتابه "إكمال الأعلام في تثليث الكلام"، وهذه صورته:
"صنفه الشيخ، الإمام، العالم، الكامل، المحقق، فريد الدهر، وحيد العصر: جمال الدين أبو عبد الله بن مالك الطائي، الجياني، قدس الله روحه رواية مالكه، محمد بن أبي الفتح بن أبي الفضل، الحنبلي، إجازة عنه.
--------------------------------------------
...এবং মহানুভবতা; এমনকি এই গুণটি তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ঐতিহাসিকদের মধ্য থেকে শোনা গেছে যারা বলতেন (১):
"ইবনে মালিক মাগরেববাসীদের থেকে দুটি বিষয়ের মাধ্যমে অনন্য হয়ে গিয়েছিলেন: মহানুভবতা এবং ইমাম শাফেঈর মাযহাব।"
তাঁর মৃত্যু:
যদিও গ্রন্থকার সম্পর্কে আলোচনা করা কিছু ঐতিহাসিক তাঁর জন্মের বছরটি উল্লেখ করতে ভুল করেছেন, তবে তাঁদের মধ্যে কেউই তাঁর মৃত্যুর দিনটি উল্লেখ করতে ভুল করেননি:
তবে ঐতিহাসিকগণ তিনটি মতের দিকে গিয়েছেন:
প্রথম মত: অধিকাংশ আলিম এই মতটি গ্রহণ করেছেন। সেটি হলো, তিনি ৬৭২ হিজরি সালের ১২ই শাবান, বুধবার মৃত্যুবরণ করেন।
দ্বিতীয় মত: আল্লামা আশ-শুমনি (২) এই মতটি গ্রহণ করেছেন। সেটি হলো, তিনি ৬৭১ হিজরি সালের ১২ই শাবান, বুধবার মৃত্যুবরণ করেন।
তৃতীয় মত: আল্লামা আল-আইনি (৩) এই মতটি ব্যক্ত করেছেন। সেটি হলো, তিনি ৬৭২ হিজরি সালের রমজান মাসের ১২ তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর বুধবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন।
জুমহুর বা সংখ্যাধিক্যের মতকে সমর্থন করে যা তাঁর ছাত্র নিজ হাতে তাঁর "ইকমালুল আলাম ফি তাসলিসিল কালাম" গ্রন্থের শুরুতে লিখেছেন, আর তার বিবরণ নিম্নরূপ:
"এটি সংকলন করেছেন শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, পূর্ণতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, গবেষক, মহাকালের অনন্য ব্যক্তিত্ব, যুগের অদ্বিতীয় জন: জামালুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক আত-তায়ি আল-জাইয়ানি। আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন। এটি বর্ণনা করেছেন এর মালিক মুহাম্মদ বিন আবি আল-ফাতহ বিন আবি আল-ফাদল আল-হাম্বলি, তাঁর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অনুমতির ভিত্তিতে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
توفي مصنفه يوم الأربعاء ثاني عشر من شعبان سنة اثنتين وسبعين وستمائة".
ويوافق هذا التاريخ اليوم الحادي والعشرين من فبراير عام أربعة وسبعين، ومائتين وألف من ميلاد السيد المسيح عليه السلام (1).
ودفن بسفح جبل قاسيون، وقبره بالروضة شرقي قبر الشيخ موفق الدين ابن قدامة، وعند رأسه حجر من صوان أحمر (2).
عصر المؤلف:
ولد المصنف في الأندلس، وقضى زهرة شبابه وخريف حياته في الشام، ولكل من المواطنين أثر فيه، لذا كان لزامًا على من يتعرض لحياة الشيخ من قريب أو بعيد أن يعرض للحياة في الأندلس، وللحياة في الشام من النواحي السياسية والعلمية، والاجتماعية.
فالإنسان لا يمكن أن ينفصل عما يدور حوله في بلد يحيا فيه.
ولقد قضى المصنف الشطر الأول من حياته في الأندلس، حيث اشتدت فيها المعارك بين المسلمين والفرنجة، وتساقطت البلاد في تلك الحقبة في يد الأعداء تابعًا.
ولم تكن الفترة التي عاشها في الشام بأطيب من هذه الحال، فقد اضطربت المور هناك، وكان ما كان من هجوم الصليبيين، والتتار، فشاهد بعينيه آثار أفعال هؤلاء القوم، كما عاصر الدولة العباسية، وهي تجود بأنفاسها الأخيرة ثم تسقط، ورأى دولًا تسقط لتقوم على أنقاضها دول أخرى.
--------------------------------------------
এর রচয়িতা ৬৭২ হিজরির ১২ই শাবান, বুধবার ইন্তেকাল করেন।
এই তারিখটি ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মের ১২৭৪ খ্রিস্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারির সাথে মিলে যায় (১)।
তাকে কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে দাফন করা হয় এবং তার কবর রওজায় শায়খ মুওয়াফ্ফাকুদ্দীন ইবনে কুদামার কবরের পূর্ব দিকে অবস্থিত; তার মাথার কাছে লাল গ্রানাইট পাথরের একটি ফলক রয়েছে (২)।
লেখকের যুগ:
রচয়িতা আন্দালুসে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময় ও জীবনের শেষ ভাগ শামে অতিবাহিত করেন। এই উভয় ভূখণ্ডেরই তার ওপর প্রভাব ছিল। তাই যারা শায়খের জীবন সম্পর্কে নিকট বা দূর থেকে আলোচনা করেন, তাদের জন্য আন্দালুস ও শামের রাজনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক জীবনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা অপরিহার্য।
কারণ একজন মানুষ যে দেশে বসবাস করে, তার চারপাশে যা ঘটে তা থেকে সে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না।
রচয়িতা তার জীবনের প্রথম অংশ আন্দালুসে কাটিয়েছিলেন, যেখানে মুসলিম ও ক্রুসেডারদের মধ্যে যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছিল এবং সেই যুগে দেশগুলো একের পর এক শত্রুদের হাতে পতন হচ্ছিল।
তিনি শামে যে সময়টুকু কাটিয়েছিলেন তা-ও এই অবস্থার চেয়ে খুব একটা ভালো ছিল না। সেখানে পরিস্থিতি ছিল অস্থির, এবং ক্রুসেডার ও তাতারদের আক্রমণ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। তিনি নিজের চোখে এসব জাতির কর্মকাণ্ডের চিহ্ন প্রত্যক্ষ করেছেন। তেমনি তিনি আব্বাসীয় খেলাফতের শেষ সময়টিও দেখেছিলেন যখন এটি পতনোন্মুখ ছিল এবং অবশেষে পতন ঘটে। তিনি দেখেছিলেন কীভাবে একের পর এক রাষ্ট্র পতন হচ্ছে এবং সেগুলোর ধ্বংসাবশেষের ওপর গড়ে উঠছে নতুন নতুন রাষ্ট্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وهكذا أراد الله -تعالى- أن يمتلئ عصر ابن مالك بالأحداث الهامة في الخارج والخطيرة في الداخل، حيث اتسمت أساليب الحكم في البلاد، التي عاش فيها بشيء غير قليل من العوج، والتلذذ بمناظر الدم.
وعلى العكس من ذلك عاصر الشيخ رحمه الله نهضة علمية عارمة، في الأندلس حين أشرقت شمس اللغة العربية فأضاءت ما حولها، وبددت ظلمات الجهل عما يجاورها من البلاد الأوربية.
وفي المشرق الإسلامي حين أصبحت أرض الكنانة، وما يتبعها من أقاليم ملجأ للعلماء الفارين من المشرق، ومأوى للعلماء الراحلين من المغرب، وكانت فرصة سانحة لتكاتف العلماء لإنقاذ ما يمكن إنقاذه من التراث الثقافي الإسلامي، الذي كاد يجني عليه الجهل، والظلم، والتوحش.
وكان لإقبال الحكام، وأولي الأمر على العلم، وتقريبهم أساتذته، وتشجيعهم طلابه، وتيسيرهم سبل الحياة للراغبين فيه، ومعاونتهم بإقامة المكتبات، وتسابقهم في تشييد المدارس في مختلف أرجاء البلاد أثره الذي لا ينكر في ازدهار العلوم والفنون.
على أن الحركة العلمية في المشرق والمغرب كانت متقاربة، وتسير في اتجاه واحد، وساعد على هذا اتحاد المنبع الذي كان يروي غلة علماء العربية في كل مكان.
وهجرة العلماء من مكان إلى آخر، حيث كان الوطن الإسلامي كله كوادي النمل لا يخلو من جماعات تذهب، وجماعات تجيء.
وربما كان من أهم أسباب قرب الحركة العلمية في المغرب،
এভাবেই মহান আল্লাহ চেয়েছিলেন যে, ইবনে মালিকের যুগটি বহির্দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী এবং অভ্যন্তরীণ বিপজ্জনক পরিস্থিতির দ্বারা পরিপূর্ণ হোক; যেখানে তিনি যেসব দেশে বসবাস করেছিলেন সেখানকার শাসনব্যবস্থায় যথেষ্ট পরিমাণ বক্রতা এবং রক্তপাতের দৃশ্য উপভোগ করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হতো।
এর বিপরীতে, শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) আন্দালুসে এক বিশাল জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণ প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যখন সেখানে আরবি ভাষার সূর্য উদিত হয়ে চারপাশকে আলোকিত করেছিল এবং পার্শ্ববর্তী ইউরোপীয় দেশসমূহ থেকে মূর্খতার অন্ধকার দূরীভূত করেছিল।
আর ইসলামী প্রাচ্যে যখন কিনানা ভূমি (মিশর) এবং এর সংলগ্ন অঞ্চলসমূহ প্রাচ্য থেকে পলায়নরত এবং মাগরিব থেকে আগত আলেমদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল, তখন এটি আলেমদের জন্য ইসলামী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা রক্ষার নিমিত্তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছিল; যা মূর্খতা, জুলুম ও বর্বরতার শিকারে পরিণত হতে চলেছিল।
জ্ঞানচর্চার প্রতি শাসকদের ও উলুল আমরদের (কর্তৃপক্ষ) আগ্রহ, শিক্ষকদের সান্নিধ্য দান, শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান, জ্ঞানান্বেষীদের জীবনযাত্রার পথ সহজতর করা, পাঠাগার স্থাপনে সহযোগিতা এবং দেশের সর্বত্র বিদ্যালয় নির্মাণে তাদের প্রতিযোগিতা বিজ্ঞান ও কলার উৎকর্ষ সাধনে এমন প্রভাব ফেলেছিল যা অস্বীকার করার উপায় নেই।
তবে প্রাচ্য ও মাগরিবের জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন ছিল পরস্পর সদৃশ এবং একই অভিমুখে ধাবমান; আর এক্ষেত্রে মূল উৎসের অভিন্নতা সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল, যা সর্বত্র আরবি ভাষার আলেমদের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করত।
এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আলেমদের হিজরত বা পরিভ্রমণ; যার ফলে সমগ্র ইসলামী ভূখণ্ড ছিল একটি পিপীলিকা উপত্যকার ন্যায়, যেখানে সর্বদা একদল আলেম আসতেন এবং অন্যদল যেতেন।
আর সম্ভবত মাগরিবে জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের এই নৈকট্যের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল,
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাফিয়াতিশ শাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
من الحركة العلمية في المشرق أن العلماء المغرابة بدأوا حياتهم العلمية باقتفاء أثر العلماء المشارقة، وتتبعهم والسير في منهجهم، والنسج على منوالهم، ومن لم تمكنه ظروفه المعيشية من الرحلة إلى المشرق، لم يعدم أستاذًا عاش فيه، ليتأثر به.
هذا وقد كان المجتمع الذي ضم الشيخ بين أحضانه مجتمعًا مضربًا، اختلطت فيه الدماء والأجناس بالأحداث. فتميز أهله بالميل الشديد إلى الثورة، والانطباع على القسوة والغلظة، وحب القتل، والتلذذ بمناظر الدماء.
واختلف الناس في كل شيء: في الأخلاق، هي العادات، في التقاليد، في الأديان، كما اختلفوا في فهم الحياة، وألوان المعيشة، فانقسم المجتمع طبقات يعلو بعضها رقاب بعض.
وشاع الانحلال الخلقي، وتفشت الفاحشة في كل مكان، فظهر التعصب للدين، وللمذهب، وللجنس.
وكان كل هذا، بل بعضه داعيًا للشيخ، ولأمثاله من العلماء المخلصين إلى أن يعتزلوا المجتمع، ويبتعدوا عنه، منقطعين للعلم والعبادة، مؤثرين التمسك بأهداب الدين على الاختلاط المشبوه.
لذا لم يحفظ التاريخ بين سطوره أن ابن مالك شغل وظيفة هامة، أو تولى منصبًا ذا قيمة، بل قنع بأن يكون طول حياته قارئًا متواضعًا على التربة العادلية، وهمه في حياته: "الدين والعبادة، وكثرة النوافل" (1).
--------------------------------------------
প্রাচ্যের জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল যে, মাগরিবের (পশ্চিমাঞ্চলের) আলিমগণ তাঁদের জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন শুরু করতেন প্রাচ্যের আলিমদের পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে এবং তাঁদের পদ্ধতি ও পথ অনুসরণের মাধ্যমে। আর যাঁদের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি প্রাচ্য ভ্রমণের অনুকূলে ছিল না, তাঁরাও এমন কোনো উস্তাদ বা শিক্ষক থেকে বঞ্চিত হননি যিনি সেখানে বসবাস করেছেন, যাতে তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হওয়া যায়।
আর শাইখ যে সমাজে বেড়ে উঠেছিলেন তা ছিল একটি অস্থির সমাজ, যেখানে রক্ত এবং বিভিন্ন জাতিসত্তা নানা ঘটনার আবর্তে মিশে গিয়েছিল। ফলে সেখানকার অধিবাসীদের মধ্যে বিদ্রোহের তীব্র প্রবণতা, কঠোরতা ও রুক্ষতার ছাপ, হত্যার প্রতি অনুরাগ এবং রক্তপাতের দৃশ্য দেখে আনন্দ লাভের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছিল।
মানুষ প্রতিটি বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত ছিল: নৈতিকতা, অভ্যাস, প্রথা এবং ধর্মের ক্ষেত্রে। ঠিক তেমনি তারা জীবনবোধ এবং জীবনযাত্রার ধরন নিয়েও ভিন্নমত পোষণ করত। ফলে সমাজ এমন সব স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল যেখানে এক স্তর অন্য স্তরের ওপর চড়াও হতো।
নৈতিক অবক্ষয় ছড়িয়ে পড়েছিল এবং অশ্লীলতা সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছিল। এর ফলে ধর্ম, মাযহাব এবং বংশীয় গোঁড়ামি প্রকট হয়ে উঠেছিল।
এই সবকিছু, বরং এর কিয়দংশই শাইখ এবং তাঁর মতো একনিষ্ঠ আলিমদের সমাজ থেকে নির্জনতা অবলম্বন করার এবং তা থেকে দূরে থাকার জন্য যথেষ্ট ছিল। তাঁরা ইলম এবং ইবাদতে নিমগ্ন হয়ে যান এবং সন্দেহজনক মেলামেশার চেয়ে দ্বীনের আদর্শ আঁকড়ে ধরাকে প্রাধান্য দেন।
এই কারণে ইতিহাস তার পাতায় কোথাও এটি সংরক্ষণ করেনি যে, ইবন মালিক কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন বা কোনো উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বরং তিনি সারাজীবন 'তুরবাতুল আদিলিয়্যাহ'-তে একজন বিনয়ী পাঠক হিসেবে সন্তুষ্ট ছিলেন। তাঁর জীবনের মূল চিন্তা বা লক্ষ্য ছিল: "দ্বীন, ইবাদত এবং অধিক পরিমাণে নফল আমল" (১)।
--------------------------------------------